(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: -)
السيوف البواتر لمن يقدم صلاة الصبح على الفجر الآخر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: السِّيُوفُ البَواتِرُ لِمَنْ يُقَدِّمُ صَلَاةَ الصُّبْحِ عَلَى الفَجْرِ الآخِرِ
المؤلف: عبد الله بن عمر بن أبي بكر بن يحيى العلوي الحضرمي الشافعي (ت 1265هـ)
المحقق: صالح عبد الإله بلفقيه
الناشر: مركز تريم للدراسات والنشر - اليمن
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 361
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 صفر 1433
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিরু লিমান ইউকাদ্দিমু সালাতাস সুবহি আলাল ফাজরিল আখির বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিরু লিমান ইউকাদ্দিমু সালাতাস সুবহি আলাল ফাজরিল আখির
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইয়াহইয়া আল-আলাওয়ি আল-হাদরামি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১২৬৫ হি.)
সম্পাদক/গবেষক: সালিহ আব্দুল ইলাহ বিলফকিহ
প্রকাশনী: তারিম সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড পাবলিশিং - ইয়েমেন
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: -)
السيوف البواتر
لمن يُقدِّم صلاة الصبح على الفجر الآخر
تأليف العلامة الفقيه
عبد الله بن عمر بن أبي بكر بن يحيى
العلوي الحضرمي الشافعي
(1209هـ - 1265هـ)
تحقيق
صالح بن عبد اللاه بلفقيه
(1432هـ / 2011م)
আস্-সুয়ুফুল বাওয়াতিল (তীক্ষ্ণ তলোয়ারসমূহ)
তাদের জন্য যারা দ্বিতীয় ফজরের (সুবহে সাদিক) পূর্বে ফজরের সালাত আদায় করে
প্রখ্যাত আল্লামা ও ফকিহ কর্তৃক রচিত
আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইয়াহিয়া
আল-আলাওয়ি আল-হাদরামি আশ-শাফিয়ি
(১২০৯ হিজরি - ১২৬৫ হিজরি)
সম্পাদনা ও যাচাইকরণ
সালিহ বিন আবদিল্লাহ বালফকিহ
(১৪৩২ হিজরি / ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ)
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمد لله الذي أنزل الهدى وجعل له أعلاماً تدل عليه، وانتدب لشريعته حراساً أمناء ينفون عنها دعوى المبطلين، وبدع الغالين، ينافحون عن دين الله ولا يخافون في الله لوم اللائمين، ولا يخذلهم عن نصرته شبه المشككين، وتثبيط المتقاعسين، فلا يزالون على محجة الدين البيضاء وطريقته السمحاء، يردون إليها الزائغين، ويدعون إليها المتنَكبين، مقتفيين في ذلك سيرة إمام المتقين، وخيرة الدعاة العاملين، وسيد عباد الله الصالحين، محمد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد، فإني أضع بين يديك - أخي القارئ الكريم - رسالة أنشأَها مؤلفها ليردَّ أناساً إلى الجادة، بعد أن حادوا عن الرسم الذي خطه الشارع في ميقات صلاة الفجر وهو رؤية الفجر الصادق إلى اللهث خلف النجوم والمنازل طالعها ومتوسطها وغاربها، وأَلقوا على عاتقهم مشقةً لم يُؤْمروا بحملها فبعُدوا عن الحق، وانتهى بهم هذا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হিদায়াত নাযিল করেছেন এবং এর জন্য এমন সব নিদর্শন নির্ধারণ করেছেন যা তাঁর দিকে পথ দেখায়। তিনি তাঁর শরীয়তের জন্য এমন বিশ্বস্ত প্রহরী নিযুক্ত করেছেন যারা তা থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের বিদআত (بدعة) প্রতিহত করেন। তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না। সংশয়বাদীদের সংশয় এবং পশ্চাদপসরণকারীদের নিরুৎসাহ কোনো কিছুই তাঁদেরকে দ্বীনের সাহায্য করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। ফলে তাঁরা দ্বীনের উজ্জ্বল শুভ্র পথ ও এর উদার পন্থার ওপর অটল থাকেন; তাঁরা সত্যচ্যুতদের এর দিকে ফিরিয়ে আনেন এবং সত্যবিমুখদের এর দিকে আহ্বান করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা মুত্তাকীদের ইমাম, আমলকারী দাঈদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাঈন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সীরাত অনুসরণ করেন।
অতঃপর, হে সম্মানিত পাঠক ভাই! আমি আপনার সামনে এমন একটি রিসালাহ তুলে ধরছি যা এর লেখক রচনা করেছেন কিছু মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য, যারা ফজর নামাজের ওয়াক্তের ব্যাপারে শরীয়তপ্রদত্ত সেই পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে যা স্বয়ং শরীয়ত প্রণেতা নির্ধারণ করেছেন—আর তা হলো সুবহে সাদিক প্রত্যক্ষ করা। এর পরিবর্তে তারা নক্ষত্র ও সেগুলোর মানজিল বা অবস্থানের (উদয়স্থল, মধ্যগগন ও অস্তগমন) পেছনে হন্যে হয়ে ছুটেছে। তারা নিজেদের কাঁধে এমন এক কষ্টের বোঝা চাপিয়ে নিয়েছে যা বহন করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। ফলে তারা সত্য থেকে দূরে সরে গেছে এবং এর পরিণতিতে তারা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২)
الشطط إلى تقديم أذان الفجر على موعده، فصلى المصلي الفجر قبل طلوع الفجر الصادق، ومُنع الصائم من الطعام والنكاح، والقائم من القيام، وتمادوا في ذلك الخطأ بل وشنَّعوا على من أنكر فعلهم، وقد عمَّت هذه الفتنة الكثير من بلاد اليمن، وأشهر من تصدّى لها وكتب فيها - فيما أعلم - من اليمن الشيخ عبد الواسع بن يحيى الواسعي (1)، ومن حضرموت العلامة عيدروس بن أحمد بن شهاب (2) والمؤلف العلامة عبد الله بن عمر بن يحيى، وقد رأيت في كتاب ابن يحيى - الذي أضعه بين يديك - من الفوائد الفقهية والأصولية في باب المواقيت ما يستحق به الخروج من مكامن النسيان ورفوف الإهمال إلى أيدي الباحثين من حاسبين وفقهاء على وجه سواء، وسيوافق فيما أتوقع حاجة لديهم على اختلاف اهتماماتهم، لأن المؤلف تجاوز فيه حدود النصِّية الضيقة إلى أفق الاستنتاج
--------------------------------------------
ফজর আজানকে তার নির্ধারিত সময়ের পূর্বে এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছিল। ফলে মুসল্লিগণ সুবহে সাদিকের পূর্বেই ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং রোজাদারকে পানাহার ও দাম্পত্য মিলন থেকে এবং তাহাজ্জুদগুজারকে কিয়াম থেকে বিরত রাখা হতো। তারা এই ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল, এমনকি যারা তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করত তাদের বিরুদ্ধে তারা অপবাদও রটাত। এই ফিতনা ইয়েমেনের বহু জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার জানামতে, যারা এর মোকাবিলা করেছেন এবং এ বিষয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে ইয়েমেন থেকে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন শায়খ আব্দুল ওয়াসে ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়াসেয়ি (১), এবং হাদরামাউত থেকে আল্লামা আইদারুস ইবনে আহমাদ ইবনে শিহাব (২) এবং এই গ্রন্থের লেখক আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে ইয়াহইয়া। আমি ইবনে ইয়াহইয়ার এই কিতাবটিতে—যা আমি আপনার সম্মুখে পেশ করছি—ওয়াক্ত বা সময় নির্ধারণের অধ্যায়ে এমন সব ফিকহী ও মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولية) তাত্ত্বিক উপকারিতা দেখেছি, যার কারণে এটি বিস্মৃতির অন্তরাল ও অবহেলার তাক থেকে বেরিয়ে এসে গণনাবিদ এবং ফকিহ উভয় শ্রেণির গবেষকদের হাতে পৌঁছানোর দাবি রাখে। আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী এটি তাদের বিভিন্নমুখী প্রয়োজন পূরণ করবে; কারণ লেখক এতে নিছক বর্ণনাধর্মী সংকীর্ণ গণ্ডি অতিক্রম করে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنتاج) দিগন্তে পদার্পণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৩)
والتأصيل الفقهي، وإنني إذ أُسهم في نشر هذا الكتاب الذي يعالج خطأً وقع في زمن مضى ولا أظن أحداً يتمسك بهذا الخطأ في زماننا هذا، وأن المؤلف قد وضع بديلاً عنه اعتماد " ثُمُن الليل " حصة للفجر، وهذا أيضاً غير دقيق، ويُوقِع في خطأ التقديم الذي حذّر منه، لكنني وجدت في ما ورد في الكتاب من نصوص واستنتاجات وقواعد فقهية وأصولية في المواقيت كفيلة - كما أتصور - بتبصرة من يبحث عن الصواب في دخول وقت صلاة الفجر الذي تَبايَنَت فيه التَّقاويم المعاصرة المعمول بها في أقطار العالم الإسلامي أيَّما تباين، ولعلّي بهذا العمل أُسهم في تسليط الضوء على نتاج القُطر الحضرمي في علم الميقات والفلك والفقه، فالكتاب كثير المصادر، وفيه ذكر لمؤلفين وكتب أَزمعت على الرحيل إلى عالم النسيان وغياهب النكران، بل إن المؤلف وهو علم من أعلام قطره ولم ينأَ عنا عصره بعدُ نجد تخبطاً في تاريخ وفاته، وصعوبة في جمع آثاره، وتقصِّي أخباره، ولا تزال هناك العديد من الأعمال الحضرمية تنتظر إنقاذها من فك الإهمال والضياع.
এবং ফিকহী মূলনীতি নির্ধারণ; আমি এই গ্রন্থটি প্রকাশে অবদান রাখছি যা অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ভুল নিরসন করে। আমার মনে হয় না বর্তমান সময়ে কেউ এই ভুলটি আঁকড়ে ধরে আছে। লেখক এর বিকল্প হিসেবে 'রাত্রির এক-অষ্টমাংশ' (ثمن الليل)-কে ফজরের অংশ হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন, যা সঠিক নয়; বরং এটি সময়ের পূর্ববর্তিতার (تقديم) সেই ভুলের মধ্যেই নিপতিত করে যা থেকে তিনি সতর্ক করেছিলেন। তবে আমি এই গ্রন্থে নামাজের সময়ের (مواقيت) ব্যাপারে এমন কিছু মূল পাঠ (نصوص), নির্যাস এবং ফিকহী ও উসূলী মূলনীতি (قواعد) পেয়েছি যা—আমার ধারণা মতে—ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সঠিক সময় অনুসন্ধানকারীদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে যথেষ্ট, যে বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত বর্তমান ক্যালেন্ডারগুলোতে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। সম্ভবত এই কাজের মাধ্যমে আমি ইলমে মীকাত (সময়তত্ত্ব), জ্যোতির্বিদ্যা এবং ফিকহ শাস্ত্রে হাদরামি অঞ্চলের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের ওপর আলোকপাত করতে পারব। গ্রন্থটি প্রচুর উৎস-নির্ভর; এতে এমন অনেক লেখক ও গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে যা বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমনকি লেখক নিজে তাঁর অঞ্চলের একজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব (علم) হওয়া সত্ত্বেও এবং তাঁর যুগ আমাদের থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মৃত্যুসন নিয়ে বিভ্রান্তি এবং তাঁর রচনাবলি সংগ্রহ ও জীবনীমূলক তথ্যাদি (أخبار) অনুসন্ধানে জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। হাদরামি অঞ্চলের এমন আরও অনেক জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ এখনও অবহেলা ও বিনাশের হাত থেকে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد صدّرتُ الكتاب بمقدمة تضمنت ثلاثة فصول:
الفصل الأول: تعريفٌ بالمؤلف: (اسمهُ ونسبهُ، وكنيتهُ ولقبهُ، ونشأتهُ وطلبهُ للعلم، وشيوخُه، وبعضُ أقرانهِ وأصحابِهِ، ومذهبهُ العَقدي والفقهي، وطرفٌ من سيرته، وثناءُ الناس عليه، ومكانَتُه العلمية، وتلاميذُه، وأولاده، ومؤلفاتُه، ووفاتُه، وبعضُ الملامح السياسية والفكرية لعصره.
الفصل الثاني: تعريفٌ بالكتاب: (عنوانُ الكتاب، وتوثيقُ اسم الكتاب، ونسبتُه إلى المؤلف، وسببُ تأليفه، وموضوعاتُ الكتاب ونظامُ ترتيبه، ومنهجُ المؤلف وأسلوبُه في الكتاب، ومصادرُ الكتاب، وتقييمُ الكتاب وذكرُ محاسنه، ورسالةُ بلفقيه التي يرُدُّ عليها الكتاب، وعلاقةُ المؤلف ابن يحيى بمؤلفِ «الرسالة» بلفقيه، واستعراضُ رسالة بلفقيه الموسومة «السيف البتَّار لمن يقول بأفضليّة تأخير صلاة الصبح إلى الإِسفار»، والتعريفُ بابن شهاب مؤلف «الرسالة»
আমি তিনটি পরিচ্ছেদ (فصول) সম্বলিত একটি ভূমিকা দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি: (তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, তাঁর উপনাম (كنية) ও উপাধি (لقب), তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ, তাঁর শিক্ষকগণ (شيوخ), তাঁর কতিপয় সমসাময়িক (أقران) ও বন্ধুগণ, তাঁর আকিদাগত ও ফিকহী মাযহাব (مذهب), তাঁর জীবনীর অংশবিশেষ, তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা, তাঁর ইলমী মর্যাদা, তাঁর ছাত্রবৃন্দ, তাঁর সন্তানাদি, তাঁর রচনাবলি, তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর যুগের কিছু রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পরিচিতি: (গ্রন্থের শিরোনাম, গ্রন্থের নামের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق), লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততা (نسبة), এটি রচনার কারণ, গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও বিন্যাস পদ্ধতি, গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) ও শৈলী, গ্রন্থের উৎসসমূহ (مصادر), গ্রন্থের মূল্যায়ন ও এর গুণাবলি উল্লেখ, বিলফাকিহ-এর সেই রিসালাহ (رسالة) যার প্রত্যুত্তরে এই গ্রন্থটি রচিত, 'রিসালাহ' প্রণেতা বিলফাকিহ-এর সাথে লেখক ইবনে ইয়াহইয়ার সম্পর্ক, বিলফাকিহ-এর 'আস-সাইফুল বাত্তার লিমান ইয়াকুলু বি-আফদালিয়াতি তাখিরি সালাতিল সুবহি ইলাল ইসফার' শিরোনামের রিসালাহটির পর্যালোচনা এবং 'রিসালাহ' প্রণেতা ইবনে শিহাবের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৫)
التي يؤازرها الكتاب، واستعراض رسالة ابن شهاب «القول الصادق في بيان الفجر الصادق المعترض وإِدحاض كلام المعترض».
الفصل الثالث: وصفُ النسخة الخطية، وعملي في التحقيق.
واللهَ أَسأَل أن ينفع به الجميع، وهو سبحانه الهادي إلى سواء السبيل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، والحمد لله رب العالمين.
صالح بن عبد اللاه بن حسن بلفقيه
sabelfakih@yahoo.com
اليمن - حضرموت - تريم
29/صفر الخير 1429هـ
7/ 3/2008م
যা এই কিতাব দ্বারা সমর্থিত, এবং ইবনে শিহাবের রিসালাহ ‘আল-কাওলুস সাদিক ফি বায়ানিল ফাজরিস সাদিক আল-মু'তারিদ ওয়া ইদহাদ কালামিল মু'তারিদ’-এর পর্যালোচনা।
তৃতীয় অধ্যায়: পাণ্ডুলিপির (النسخة الخطية) বিবরণ এবং আমার সম্পাদিত (التحقيق) কাজ।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন; তিনি পবিত্র ও সুমহান, সঠিক পথের দিশারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিলফকীহ
sabelfakih@yahoo.com
ইয়ামেন - হাদরামাউত - তারিম
২৯ সফর আল-খায়ের ১৪২৯ হিজরি
৭/ ৩/ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول: التعريف بالمؤلف
اسمه ونسبههو عبدُ الله بن عمر بن أبي بكر بن عمر بن طه بن محمد بن شيخ بن أحمد بن يحيى بن حسن بن علي بن علوي بن محمد (مولى الدَّويلة) بن علي بن علوي بن محمد (الفقيه المقدم) بن علي بن محمد (صاحب مرباط) بن علي (خالع قَسَم) بن علوي بن محمد بن علوي بن عُبيدِ الله بن أحمد (المهاجر إلى الله) بن عيسى بن محمد بن علي (العُرَيْضِي) بن جعفر (الصادق) بن محمد (الباقِر) بن علي (زين العابدين) بن الحسين بن فاطمة (الزهراء) بنت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم (1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয়
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আবি বকর বিন উমর বিন তাহা বিন মুহাম্মদ বিন শায়খ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাসান বিন আলি বিন আলাউয়ি বিন মুহাম্মদ (মাওলা আদ-দাওয়াইলা) বিন আলি বিন আলাউয়ি বিন মুহাম্মদ (আল-ফকিহ আল-মুকাদ্দাম) বিন আলি বিন মুহাম্মদ (সাহিব মিরবাত) বিন আলি (খালি’ কাসাম) বিন আলাউয়ি বিন মুহাম্মদ বিন আলাউয়ি বিন উবায়দুল্লাহ বিন আহমদ (আল-মুহাজির ইলাল্লাহ) বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আলি (আল-উরাইদি) বিন জাফর (আস-সাদিক) বিন মুহাম্মদ (আল-বাকির) বিন আলি (জাইনুল আবিদিন) বিন আল-হুসাইন বিন ফাতিমা (আজ-জাহরা) বিনতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৭)
كنيته ولقبهلم أقف على كنيته، وابنه العلامة (عُمَر) أكثر أبناءه علماً وفضلاً، ويُلقَّب مؤلفنا (بصاحب البقرة) وستأتي قصة هذا اللقب، كما أنه أحد العَبادلة السبعة الحضرميين (1) الذين عاشوا في عصر عُرف في تاريخ حضرموت بهم (عصر العبادلة).
--------------------------------------------
তাঁর উপনাম (كنية) ও উপাধি (لقب)আমি তাঁর উপনাম (كنية) সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর পুত্র প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) উমর ইলম ও ফযিলতের দিক থেকে সর্বাধিক অগ্রগণ্য ছিলেন। আমাদের লেখক ‘সাহিবুল বাকারাহ’ (গাভীর মালিক) উপাধিতে (لقب) ভূষিত ছিলেন এবং অচিরেই এই উপাধির প্রেক্ষাপট বর্ণিত হবে। তদুপরি, তিনি হাজরামাউতের সেই সাত আব্দুল্লাহর (১) অন্যতম ছিলেন, যাঁদের সমসাময়িক কালটি হাজরামাউতের ইতিহাসে ‘আবাদিলাহ যুগ’ নামে সুপরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৮)
نشأتهُ وطلبهُ للعلموُلِدَ بقريةِ (المَسِيْلَةِ) التي يسميها البعض بـ (غُرَف آل شيخ) (1)، وتقع قرية (المَسِيْلَةُ) جنوب مدينة تريم بوادي حضرموت، وكان ميلاده بها ليلة الجمعة 20 جمادى الأولى سنة 1209هـ (2)، الذي يوافق 12 ديسمبر 1794م. ووالده السيد الصالح عمر بن أبي بكر بن
--------------------------------------------
তাঁর লালন-পালন ও ইলম অন্বেষণতিনি (আল-মাসিলা) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যাকে কেউ কেউ (গুরফ আলে শাইখ) (১) বলে অভিহিত করেন। আল-মাসিলা গ্রামটি হাধরামাউত উপত্যকার তারিম শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে তাঁর জন্ম হয়েছিল ১২০৯ হিজরির ২০শে জুমাদাল উলা রোজ শুক্রবার দিবাগত রাতে (২), যা ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ই ডিসেম্বরের সাথে মিলে যায়। তাঁর পিতা ছিলেন নেককার (صالح) সৈয়দ উমর ইবনে আবি বকর ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ৯)
عمر بن يحيى (1)، ووالدته السيدة الشجاعة خديجة بنت حسين بن طَاهِر (2)، وآل طَاهِر أخواله وأخوال أبيه، وقد تولى تربيتَهُ وتأديبَهُ وتعليمَهُ مع أبيه خالاه العالمان طاهر وعبد الله بن حسين بن طاهر، ولازال المؤلف مُنْصَاعاً لتوجيهاتِ خاليه حتى بَعْدَ أن صار كبيراً (3)، فمؤلفنا إذن تَرَعْرَعَ في ما يمكن أن نسميها (المدرسةَ الطَّاهِريَّةَ) التي كان يديرها خاله العلامة طاهر بن حسين بن طاهر (4)، ومن سمات هذه المدرسة: الجمع بين الخَلْفِيَّة الفقهية الشرعية والعقيدة
--------------------------------------------
উমর বিন ইয়াহইয়া (১), এবং তাঁর মাতা মহীয়সী ও সাহসী নারী খাদিজা বিনতে হুসাইন বিন তাহির (২), আর তাহির পরিবার ছিল তাঁর এবং তাঁর পিতার মাতুল কুল। তাঁর লালন-পালন, শিষ্টাচার শিক্ষা ও জ্ঞানদানের দায়িত্ব তাঁর পিতার পাশাপাশি তাঁর দুই মামা—দুই বিদগ্ধ আলেম তাহির ও আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন বিন তাহির গ্রহণ করেছিলেন। লেখক বড় হওয়ার পরেও তাঁর মামাদ্বয়ের নির্দেশনার প্রতি সদা অনুগত ছিলেন (৩)। অতএব, আমাদের লেখক এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন যাকে আমরা ‘তাহিরি মাদ্রাসা’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি, যা তাঁর মামা আল্লামা তাহির বিন হুসাইন বিন তাহির কর্তৃক পরিচালিত হতো (৪)। এই মাদ্রাসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল: শরয়ী ফিকহী পটভূমি ও আকিদাহর মাঝে সমন্বয় সাধন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১০)
السنية والرِّيادة السياسية والإِرادة الجَهَادية والاعتزازُ بالنسبة العَلَويَّة والزُّهد في الحياة الدنيوية، وقد تركت هذه المدرسة بصماتٍ واضحةً في شخصية المؤلف وسلوكه. وقد تحدث المؤلف عن اجتهاده زمن الطلب فقال: " كنتُ في أيام الصغر أقرأُ على خالي طاهر بن الحسين في «فتح الجَوَادِ شرح الإِرْشَاد» وأطالع عليه بقية شروحه المجتمعة عندي «كالإِمْداد» و «الإِسْعاد» و «التمشِيَة» وغيرها مع «التُّحفة» و «النهاية» و «المُغْنِي» وغيرها، وكنت أحفظ جميع ما يقرره ويتكلم به خالي طاهر في المدرس، في قراءتي وقراءة غيري من الطلبة وكنت أُدِيمُ المطالعةَ في الليل حتى اَسْتَوعِب الليلَ فيها، وقد تجيءُ بعض الأحيان الوالدةُ - رحمها الله - فتأخذ السراجَ من عندي قهراً شفقةً منها عليَّ من كثرةِ السهرِ ومواصلتِهِ " (1)،
وكان له في صغره مجاهدات، فكان كثير الصلاة يطيلها، مواظباً على قيام الليل (2).
--------------------------------------------
সুন্নাহর আদর্শ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জিহাদি সংকল্প, আলবীয় বংশের আভিজাত্যের প্রতি গর্ব এবং পার্থিব জীবনের প্রতি অনাসক্তি (زهد); এই শিক্ষা-ঘরানা লেখকের ব্যক্তিত্ব ও আচরণের ওপর সুস্পষ্ট ছাপ রেখেছিল। লেখক তাঁর ছাত্রজীবনের কঠোর সাধনা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: "শৈশবে আমি আমার মামা তাহির বিন আল-হুসাইনের কাছে ‘ফাতহুল জাওয়াদ শারহুল ইরশাদ’ পাঠ করতাম এবং আমার সংগ্রহে থাকা এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন— ‘আল-ইমদাদ’, ‘আল-ইসআদ’, ‘আত-তামশিয়াহ’ ও অন্যান্য কিতাব তাঁর কাছে অধ্যয়ন করতাম। সেইসাথে ‘আত-তুহফাহ’, ‘আন-নিহায়াহ’, ‘আল-মুগনি’ ও অন্যান্য গ্রন্থও পাঠ করতাম। মামা তাহির দরসগাহে যা কিছু আলোচনা ও সাব্যস্ত করতেন—তা আমার নিজের পাঠের সময় হোক বা অন্য ছাত্রদের পাঠের সময়—আমি তার সবকিছুই মুখস্থ করে নিতাম। আমি রাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করতাম, এমনকি পুরো রাতই তাতে নিমগ্ন থাকতাম। কখনো কখনো আমার মা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—অতিরিক্ত রাত জাগরণ ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে আমার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে প্রদীপটি নিয়ে যেতেন।" (১),
শৈশবে তাঁর বহু কৃচ্ছ্রসাধন ছিল; তিনি প্রচুর সালাত আদায় করতেন ও তা দীর্ঘ করতেন এবং নিয়মিত রাত্রিকালীন ইবাদতে (قيام الليل) মগ্ন থাকতেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১১)
شيوخهسمى المؤلفُ الكثيرَ من شيوخهِ (1) ومن هؤلاء المشايخ: والدِهِ، وخالَيْهِ طاهرٍ وعبدِ الله ابني حسين بن طاهر (في المَسِيْلَة) (2)، والعلامتين عمر وعلوي ابني أحمد بن حسن ابن العلامة عبد الله بن علوي الحَداد، والعلامة عبد الله بن أبي بكر بن سالم عَيْدِيْد (في تَريم)، والعلامة علوي بن سقاف بن محمد السقاف الصَّافي (في سَيئون)، والعلامة عبد الرحمن بن حامد بن عمر، والعلامة أحمد بن عمر بن سُمَيط (3)، والعلامة سقاف بن
--------------------------------------------
তাঁর শিক্ষকগণ (شيوخ)লেখক তাঁর বহুসংখ্যক শিক্ষকের (شيوخ) (১) নাম উল্লেখ করেছেন এবং এই শায়খদের (مشايخ) মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পিতা, তাঁর দুই মামা তাহির ও আবদুল্লাহ—যাঁরা হুসাইন বিন তাহিরের পুত্র (আল-মাসিলায়) (২), দুই মহামনীষী উমর ও আলাউয়ী—যাঁরা আহমাদ বিন হাসান বিন মহামনীষী আবদুল্লাহ বিন আলাউয়ী আল-হাদ্দাদের পুত্র, মহামনীষী আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন সালিম আইদাইদ (তারিমে), মহামনীষী আলাউয়ী বিন সাক্কাফ বিন মুহাম্মদ আস-সাক্কাফ আস-সাফী (সাইউনে), মহামনীষী আবদুর রহমান বিন হামিদ বিন উমর, মহামনীষী আহমাদ বিন উমর বিন সুমাইত (৩) এবং মহামনীষী সাক্কাফ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১২)
محمد الجِفْرِي (في تَرِيْس)، وسيد وادي حضرموت في زمانه (1) العلامة الحسن بن صالح البحر الجِفْرِي في (ذِي صَبَح) (2)، والعلامة الحسين بن حسن بن أحمد العيدروس (في الريضة)، والعلامة عبد الله بن أحمد باسَودَان (في دُوعَن) (3)، وعن العلامة حسن بن عبد الله العَمُودِي، والعلامة محمد بن سالم الجِفْري (ساكن قَسَم)، وعن العلامة علوي بن محمد بن سَهل (ساكن مليبار) (4)،
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আল-জিফরি (তারিস-এ), এবং তাঁর সময়ের হাজরামাউত উপত্যকার নেতা (১) আল্লামা হাসান বিন সলিহ আল-বাহর আল-জিফরি (যি সাবাহ-তে) (২), এবং আল্লামা আল-হুসাইন বিন হাসান বিন আহমাদ আল-আইদারুস (আর-রাইদাহ-তে), এবং আল্লামা আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বা-সাওদান (দু'আনে) (৩), এবং আল্লামা হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-আমউদি থেকে, এবং আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিম আল-জিফরি (কাসাম-এর বাসিন্দা), এবং আল্লামা আলাউয়ি বিন মুহাম্মদ বিন সাহল (মালাবার-এর বাসিন্দা) থেকে (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعن العلامة عبد الله بن سَعْد بن سُمِير (1)، وأخذ (في مكة) عن العلامة عقيل بن عمر بن يَحْيى، وعن العلامة عمر بن عبد الكريم بن عبد الرسول العطَّار (2)،
وفي (زبيد) أخذ عن العلامة عبد الرحمن بن سليمان الأَهْدل (3)، والعلامة يوسف بن محمد البطَّاح الأهدل (4).
--------------------------------------------
এবং আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে সুমাইর (১) থেকে বর্ণিত; আর তিনি (মক্কায়) আল্লামা আকিল ইবনে উমর ইবনে ইয়াহইয়া এবং আল্লামা উমর ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুর রাসূল আল-আত্তার (২) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন,
এবং (জাবিদে) তিনি আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান আল-আহদাল (৩) এবং আল্লামা ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাত্তাহ আল-আহদাল (৪) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وله غير هؤلاء من الشيوخ من أهل حضرموت واليمن والحرمين ومصر. وقد تلقَّى عن هؤلاء الشيوخ علم التفسير والحديث والفقه والتصوف وعلوم الآلة. وإلى جانب تلقِّيه عن هؤلاء الشيوخ الأجلاء، كان شغوفاً بالكتاب حريصاً على اقتناءِه كثيرَ القراءة (1) دائمَ المطالعةِ (2)، وقد مكَّنتهُ كثرةُ قراءته من تجاوزِ قيودِ عصره وبُعد موطنه والعوم بمهارة في بحور العلوم المختلفة، من تفسير وحديث
--------------------------------------------
তাঁর এদের ছাড়াও হাদরামাউত, ইয়েমেন, হারামাইন ও মিশরের অন্যান্য শায়খ বা শিক্ষক ছিলেন। এই শায়খদের নিকট থেকে তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, তাসাউফ এবং উপকরণ বিজ্ঞানের (علوم الآلة) জ্ঞান অর্জন করেন। এই মহান শায়খদের নিকট জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তিনি কিতাবের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, তা সংগ্রহে আগ্রহী ছিলেন এবং প্রচুর পাঠ (১) ও সর্বদা অধ্যয়নে (২) নিমগ্ন থাকতেন। তাঁর এই বিপুল পাঠ তাঁকে তাঁর যুগের সীমাবদ্ধতা ও স্বদেশের ভৌগোলিক দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে এবং তাফসির ও হাদিসসহ বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমুদ্রে দক্ষতার সাথে বিচরণ করতে সক্ষম করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفقه وفلك ولغة. ويَشْهدُ على سعةِ اطلاعهِ كثرةُ مراجعهِ وتنوعها، فمراجع هذه النُّبذة اللطيفة التي بين أيدينا تجاوزت المائة مرجعاً. وقد خلَّف وراءَه مكتبةً عظيمةً من المخطوطاتِ، - رغم ما أصابها من ضياعٍ - المحفوظ منها في مكتبة الأحقاف للمخطوطات بتريم يشكِّل أكبر المجموعات المكتبِيَّة التي تكونت منها مكتبة الأحقاف للمخطوطات، كما إن جزءاً من مخطوطات مكتبة المؤلف نُقلت من قصر (المنيصُورة) بتريم (1) إلى مركز النور للدراسات والأبحاث.
--------------------------------------------
এবং ফিকহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভাষা। তাঁর অধ্যয়নের ব্যাপকতার সাক্ষ্য দেয় তাঁর তথ্যসূত্রসমূহের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য; আমাদের হাতে থাকা এই চমৎকার সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটির তথ্যসূত্র সংখ্যা একশত অতিক্রম করেছে। তিনি পাণ্ডুলিপির এক বিশাল গ্রন্থাগার রেখে গেছেন—যার কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও—তারিমস্থ আল-আহকাফ পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত অংশটি উক্ত গ্রন্থাগারের সবচেয়ে বড় সংগ্রহগুলোর অন্যতম। এছাড়াও লেখকের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপির একটি অংশ তারিমস্থ (আল-মুনাইসুরাহ) প্রাসাদ (১) থেকে আল-নূর সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بعض أقرانه وأصحابهكانت للمؤلف مصاحبةً للسيدين محسن بن علوي السقاف (1)، ومحمد بن حسين بن عبد الله الحبشي (2)، والمطالع لمكاتبات وخطابات المؤلف المنثورة والمنظومة يجد أن للمؤلف علاقة حميمة بالسيد أحمد بن محمد المحضار بن الشيخ أبي بكر بن سالم (3) (صاحب دَوعَن)، والسيد حسين بن عبد الرحمن بن سهل (4)،
--------------------------------------------
তাঁর সমসাময়িক কিছু ব্যক্তি ও সহচরগণগ্রন্থকারের সাথে সাইয়্যিদ মুহসিন বিন আলাউয়ি আল-সাক্কাফ (১) এবং মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-হাবাশি (২) এর সহচর্য ছিল। আর গ্রন্থকারের গদ্য ও পদ্য আকারে সংকলিত পত্রাবলী ও ভাষণসমূহ পাঠকারী দেখতে পাবেন যে, সাইয়্যিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মিহদার বিন শেখ আবু বকর বিন সালিম (৩) (দাওয়ানের অধিবাসী) এবং সাইয়্যিদ হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন সাহল (৪) এর সাথে গ্রন্থকারের নিবিড় সম্পর্ক ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والسيد عمر بن علي بن هارون الجُنيد (1)، والسيد علوي بن محمد بن سَهْل، والعلامة أحمد بن عمر بن سميط، والسيد أبي بكر بن محمد المشهور، والشيخ سالم بن عبد الله بن سُمِير، والشيخ عبد الله بن زين بن هادي باسلامة.
مذهبه العقدي والفقهييُرغِّب المؤلف في وصاياه على حفظ متون من العقائد كجوهرة التوحيد، والعشرين صفة وأضدادها، وكان يرى في هجرة المهاجر أحمد بن عيسى بن محمد بن علي العُريضي من البصرة إلى حضرموت إنقاذٌ لفرع العترة الطاهرة من الوقوع في مستنقع الرَّفض، ويرى في هذه منَّة على العلويين لجدهم المهاجر أحمد بن عيسى (2). وكان المؤلف
--------------------------------------------
এবং সাইয়্যিদ ওমর বিন আলী বিন হারুন আল-জুনাইদ (১), এবং সাইয়্যিদ আলউই বিন মুহাম্মদ বিন সাহল, এবং আল্লামা আহমদ বিন ওমর বিন সুমাইত, এবং সাইয়্যিদ আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-মাশহুর, এবং শায়খ সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন সুমায়ের, এবং শায়খ আব্দুল্লাহ বিন জাইন বিন হাদি বা-সালামাহ।
তাঁর আকিদাহগত ও ফিকহী মাযহাবলেখক তাঁর অসিয়তসমূহে আকিদাহর কিছু মূলপাঠ (متون) মুখস্থ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন, যেমন জাওহারাতুত তাওহিদ এবং বিশটি গুণাবলি ও এর বিপরীতসমূহ। তিনি মনে করতেন যে, মুহাজির আহমদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-উরাইযীর বসরা থেকে হাজরামাউতে হিজরত করা ছিল পবিত্র বংশধারার শাখাকে রাফয (الرفض) এর পঙ্কিলতায় নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করা। তিনি এতে আলউইদের ওপর তাঁদের পূর্বপুরুষ মুহাজির আহমদ বিন ঈসার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুগ্রহ (منة) হিসেবে গণ্য করতেন (২)। লেখক ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৮)
شافعي المذهب كأهل حضرموت، وهو أحد مفتييها البارزين، وكثيراً ما يُحِيلُ في فتاواه إلى كتب الإمام النووي والشيخ زكريا الأنصاري وابن حجر الهيتمي، وكان يقول: " كلُّ مؤمن يلزمه أن يكون تحت إشارة الشرع كالميت بين يدي الغاسل، يعزل عن إشارة الشرع رأيه ورأي كل عاقل " (1). ويقول أيضاً: " الخير كله في الإتباع، والشر كله في الابتداع. " (2)، وكان له عناية بكتب السلوك ويوصي بقراءة «بداية الهداية» و «الإحياء» للغزالي، وكتب العلامة عبد الله بن علوي الحداد مثل: «النصائح الدينية» و «رسالة المذاكرة والمعاونة».
وكان عظيم المحبة لأهل البيت النبوي خاصة آل أبي علوي، مجتهداً في ضبط وحفظ أنسابهم وسيرهم داعياً لطريقتهم. (3)
--------------------------------------------
তিনি হাদরামাউতের অধিবাসীদের মতো শাফিঈ মাযহাবের (شافعي المذهب) অনুসারী ছিলেন এবং তিনি সেখানকার অন্যতম বিশিষ্ট মুফতি ছিলেন। তিনি তার ফতোয়াসমূহ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায়শই ইমাম নববী, শায়খ জাকারিয়া আনসারী এবং ইবনে হাজার হাইতামীর কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করতেন। তিনি বলতেন: "প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো শরিয়তের নির্দেশনার অধীনে থাকা, যেমন মৃত ব্যক্তি গোসলদাতার হস্তদ্বয়ের মাঝে থাকে। সে শরিয়তের নির্দেশনার মোকাবিলায় নিজের মতামত এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির মতামতকে বর্জন করবে।" (১)। তিনি আরও বলতেন: "সকল কল্যাণ রয়েছে অনুসরণের (الإتباع) মধ্যে এবং সকল অনিষ্ট রয়েছে নব উদ্ভাবনের (الابتداع) মধ্যে।" (২)। আধ্যাত্মিক সাধনার (السلوك) কিতাবসমূহের প্রতি তার বিশেষ মনোযোগ ছিল এবং তিনি গাজালীর ‘বিদায়াতুল হিদায়াহ’ ও ‘ইহয়া’ এবং আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আলাভী আল-হাদ্দাদের কিতাবসমূহ, যেমন: ‘আন-নাসাইহ আদ-দ্বীনিয়্যাহ’ এবং ‘রিসালাতুল মুজাকারাহ ওয়াল মুআওয়ানাহ’ পাঠের অসিয়ত করতেন।
তিনি নবী পরিবারের (أهل البيت), বিশেষ করে আল-আবি আলাওয়ী বংশের প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা পোষণ করতেন। তিনি তাদের বংশতালিকা এবং জীবনচরিত সুসংরক্ষিত ও হেফজ করার বিষয়ে অত্যন্ত পরিশ্রমী (مجتهد) ছিলেন এবং তাদের জীবন পদ্ধতির দিকে আহ্বানকারী ছিলেন। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
طرفٌ من سيرتهعاصر المؤلف في مطلع حياته الفوضى السياسية التي شهدتها حضرموت، حتى قسمت أحياء مدينة تريم بين سلاطين قبيلة يافع المتصارعين على حكم المدينة، وخاف الناس على أموالهم وأعراضهم، وتعطلت مصالحهم، وكان لا بد من سعي أهل الحل والعقد للخروج من هذه الفتنة، بإقامة دولة قوية توحِّد البلاد وتضْمن أَمْنها واستقرارَها، وكان من عادة العلويين النَّأْي بأنفسهم عن طلب الحُكم لأنفسهم، ولكن مع ازدياد الأوضاع سوءاً وضعف النَّد القبلي الذي يمكن أن يواجه قبائل يافع المتشرذمة والمُتَسلطة، كان خروجاً غير مألوف للعلويين بقيادة العلامة طاهر بن حسين بن طاهر (خال المؤلف)، فدعا المؤلف لمبايعة خاله أميراً للمؤمنين على حضرموت عام 1224هـ، وكان للمؤلف رغم حداثة سنة مشاركة فاعلة، وقد لمع اسمه بين قادة هذه الثورة، وهو من الموقعين على أول اتفاقية بين العلامة طاهر والسادة العلويين الحضارم الذين بايعوه على المؤازرة في
তাঁর জীবনীর একাংশলেখক তাঁর জীবনের প্রারম্ভে হাজরামাউতের সেই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সমসাময়িক ছিলেন যা ওই অঞ্চল প্রত্যক্ষ করেছিল। এমনকি তারিম শহরের পাড়াগুলো শহর শাসনের দ্বন্দ্বে লিপ্ত ইয়াফি গোত্রের সুলতানদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। মানুষ তাদের জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রুর ব্যাপারে শঙ্কিত ছিল এবং তাদের নাগরিক স্বার্থসমূহ বিঘ্নিত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় এই ফেতনা (فتنة) থেকে উত্তরণের জন্য 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (أهل الحل والعقد - যথাযথ কর্তৃপক্ষ) মহলের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবে এবং এর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। আলওয়ীগণের সাধারণ রীতি ছিল নিজেদের জন্য শাসনক্ষমতা চাওয়া থেকে দূরে থাকা; কিন্তু পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিশৃঙ্খল ও আধিপত্যকামী ইয়াফি গোত্রগুলোর মোকাবেলায় সক্ষম স্থানীয় গোত্রীয় শক্তির দুর্বলতার কারণে আল্লামা তাহির বিন হুসাইন বিন তাহির (লেখকের মামা)-এর নেতৃত্বে আলওয়ীদের পক্ষ থেকে এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। অতঃপর লেখক ১২২৪ হিজরীতে তাঁর মামাকে হাজরামাউতের আমীরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين) হিসেবে বাইয়াত (مبايعة) প্রদানের আহ্বান জানান। অল্প বয়স সত্ত্বেও এই বিপ্লবে লেখকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এবং এই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মাঝে তাঁর নাম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি আল্লামা তাহির এবং হাজরামি আলওয়ী সাদাতগণের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রথম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন, যারা তাঁকে সহযোগিতার ভিত্তিতে বাইয়াত (مبايعة) প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২০)
شهر ذي الحجة سنة 1225هـ (1). ورغم أن هذه الإمارة لم تستمر طويلاً إلا إنها أوقدت في نفس المؤلف وجوب حمل هَمَّ الأُمة، ومقارعة الحكام المستبدين وضرورة قيام العلماء بواجب المشاركة في الحياة السياسية، والنصيحة للحاكم، وبعد فشل الثورة ظل المؤلف مكافحاً للحكومة الظالمة، منافحاً عن أحكام الشريعة، يحرض بشعره ورسائله على الثورة ضد الحكام الظلمة من آل يافع في مثل قصيدته التي أسماها (إشعال القبس وتحميس من لا يحمس) والتي مطلعها:
إلى متى الدمعُ مسكوبٌ من البرحا
… والقلبُ من زفراتِ الحزنِ ما بَرِحَا (2)
همٌ وغمٌ وإذلالٌ ومنقصةٌ
… والدهرُ مازال سيفَ البَغْيِ مُتَّشِحا
وقد تعرض بسب ذلك للأذى والتهديد والوعيد، بل وتعرض لمحاولة اغتيال - كما سيأتي - مما اضطره للهجرة إلى مدينة
--------------------------------------------
১২২৫ হিজরি সনের জিলহজ মাস (১)। যদিও এই শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে এটি লেখকের অন্তরে উম্মাহর চিন্তা বহন করা, স্বৈরাচারী শাসকদের মোকাবিলা করা এবং রাজনৈতিক জীবনে আলেমদের অংশগ্রহণের আবশ্যকতা ও শাসককে সদুপদেশ প্রদানের প্রয়োজনীয়তার চেতনা জাগ্রত করেছিল। বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর লেখক জালিম সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন এবং শরিয়তের বিধানসমূহ রক্ষার পক্ষে সোচ্চার থাকেন। তিনি তাঁর কবিতা ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে ইয়াফি বংশের জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দিতেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘ইশআলুল ক্বাবাস ওয়া তাহমিসু মান লা ইউহামমিস’ নামক কবিতায় করেছেন, যার শুরুটা ছিল নিম্নরূপ:
কতকাল আর যন্ত্রণার আতিশয্যে অশ্রু বিসর্জিত হবে
… আর হৃদয়ে দুঃখের তপ্ত দীর্ঘশ্বাস বিরামহীন বইবে (২)
উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, লাঞ্ছনা ও অবমাননা
… আর কালচক্র এখনো অন্যায়ের তলোয়ারে সজ্জিত
এর ফলে তিনি নানা কষ্ট, হুমকি ও ভীতির সম্মুখীন হন, এমনকি তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়—যেমনটি সামনে আসবে—যা তাঁকে হিজরত করে... শহরে চলে যেতে বাধ্য করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২১)
الشحر في ساحل حضرموت سنة 1238هـ، وقد شق عليه فراق موطنه فأنشأ يقول وهو يحزم أمتعته:
رَعَى اللهُ رَبْعاً نَشَأْنَا بِهِ
… وَذُقْنَا حَلاوَةَ أَتْرَابِهِ (1)
ثم سافر إلى بيت الله الحرام لأداء مناسك الحج سنة 1240هـ (2)، وقد توالت أسفارُه فزار اليمن ومصر والشام والهند وجاوة وفي أشعاره ما يدل على انه كان في اندونيسيا سنة 1249هـ (3)، وكان سفره طلباً للعلم وللدعوة والعلاج، وكان يحب السياحة (4)، وقد كتب كثيراً من فتاويه في تلك البلاد، ودخل الإسلام على يديه خلق كثير، واشتهر في تلك الأقطار بأنه الفقيه الشجاع الذي لا يتردد في إنكار المنكر ولو كلَّفه ذلك حياته، وله في تلك الأسفار قصص وأخبار سنسوق طرفاً منها، ورغم كثرة أسفاره ظل مشدوداً إلى موطنه
--------------------------------------------
১২৩৮ হিজরি সনে হাজরামাউতের উপকূলবর্তী আশ-শিহর অঞ্চলে; স্বদেশের বিচ্ছেদ তাঁর নিকট অত্যন্ত কষ্টকর মনে হয়েছিল, তাই তিনি যখন তাঁর আসবাবপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন এই কবিতাটি রচনা করেন:
আল্লাহ সেই জনপদকে রক্ষা করুন যেখানে আমরা বেড়ে উঠেছি
… এবং যেখানে আমরা সমবয়সীদের সান্নিধ্যের স্বাদ আস্বাদন করেছি (১)
অতঃপর তিনি ১২৪০ হিজরি সনে হজের আহকাম পালনের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ হারামের দিকে যাত্রা করেন (২)। এরপর তাঁর ভ্রমণের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে এবং তিনি ইয়ামেন, মিশর, শাম, ভারত ও জাভা সফর করেন। তাঁর কবিতাসমূহে এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যা প্রমাণ করে যে তিনি ১২৪৯ হিজরি সনে ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন (৩)। তাঁর এই সফরগুলো ছিল জ্ঞান অর্জন, দাওয়াত এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এবং তিনি ভ্রমণ পছন্দ করতেন (৪)। তিনি ঐ সকল জনপদে তাঁর অনেক ফতোয়া লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর হাতে অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি ঐ সকল ভূখণ্ডে একজন সাহসী ফকিহ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যিনি অসৎ কাজের প্রতিবাদ (إنكار المنكر) করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না, যদিও তা তাঁর জীবনের বিনিময়ে হতো। ঐ সকল সফরে তাঁর এমন কিছু কাহিনী ও সংবাদ রয়েছে যার কিছু অংশ আমরা অচিরেই বর্ণনা করব। অত্যধিক সফর সত্ত্বেও তিনি সর্বদা তাঁর স্বদেশের প্রতি গভীর টান অনুভব করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذي يراه موطناً زاخراً بالصالحين والأخيار والزهاد وبيئة للعبادة والطاعة (1)، وكانت رسائل خاله عبد الله بن حسين بن طاهر التي يبعثها إليه من حضرموت تشدُّ حبل أسفاره إذا طال.
وظل المؤلف وفياً لأهله ووطنه ساعياً في إصلاحهما، فنجده في شهر ذي القعدة سنة 1251هـ يوقع مع السيدين العلويين محسن بن علوي بن سقاف السقاف ومحمد بن حسين بن عبد الله الحبشي ميثاق (تظاهر وموازرة) تَحالَفَ فيه الثلاثةُ على الدعوةِ إلى الله في وادي حضرموت عامة وبين صفوف العلويين خاصة، وإرشاد الناس إلى العلم والعمل بما جاء به الشارع، وأن يتحرُّوا في عاداتهم متابعته صلى الله عليه وسلم، وأن يمضُوا في هذا الأمر الشريف والمقصد المنيف، لا يصدهم عنه صادٌ ولا ذو عنادٍ إلى أن يلقوا رب العباد انتهى. (2)
--------------------------------------------
যাকে তিনি নেককার, সজ্জন ও সংসারবিরাগী (الزهاد) ব্যক্তিদের বিচরণভূমি এবং ইবাদত ও আনুগত্যের উপযুক্ত পরিবেশ হিসেবে মনে করতেন (১); আর তাঁর মামা আবদুল্লাহ বিন হোসেন বিন তাহেরের পক্ষ থেকে হাদরামাউত থেকে প্রেরিত পত্রাবলি তাঁর দীর্ঘ সফরকালে সংহতির বন্ধন হিসেবে কাজ করত।
লেখক তাঁর পরিবার ও স্বদেশের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং তাদের সংস্কারে সচেষ্ট ছিলেন। ১২৫১ হিজরির জিলকদ মাসে আমরা তাঁকে দুজন আলাভি সৈয়দ—মোহসেন বিন আলাভি বিন সাক্কাফ আস-সাক্কাফ এবং মুহাম্মদ বিন হোসেন বিন আবদুল্লাহ আল-হাবশি—এর সাথে একটি 'পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার' (تظاهر وموازرة) চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে দেখি। এতে তাঁরা তিনজন মিলে সাধারণভাবে সমগ্র হাদরামাউত উপত্যকায় এবং বিশেষভাবে আলাভিদের মাঝে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। এছাড়া মানুষকে ইলম (জ্ঞান) এবং শরিয়ত প্রবর্তক যা নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশনা প্রদান, নিজেদের অভ্যাস ও আচার-আচরণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ নিশ্চিত করা এবং এই মহান কাজ ও উচ্চতর লক্ষ্যে অবিচল থাকার শপথ করেন। কোনো বাধাদানকারী বা হঠকারী ব্যক্তি যেন তাঁদের এ পথ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে, যতক্ষণ না তাঁরা মহান রবের সাথে সাক্ষাত করেন—সমাপ্ত। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لم أعثر على التاريخ الذي عاد فيه إلى حضرموت، لكنه كان بحضرموت سنة 1261هـ (1)، ويظهر أنه لم يغادرها بعد هذا التاريخ، واشتغل بالفتوى الكتابة، وألف في هذه السنة - أي سنة 1261 هـ - الكتاب الذي بين أيدينا.
وظل يبذل ما في وسعه لاستقرار البلاد وصلاح أحوالها، فنجده يرعى في سنة 1662هـ اتفاق صلح بين حكام تريم المتصارعين من قبيلة آل يافع، وهم بنو الدُّولة آل عبد الله وعبد القوي غرامة، الذين خرجوا مع جماعة من سادة تريم، فيهم السيد الثري حسين بن عبد الرحمن بن سهل قاصدين المؤلف للصلح بين الحكام المتصارعين، فوفق الله المؤلف لذلك، وعاد الجَمْع إلى تريم يحملون شارات الفرح
--------------------------------------------
আমি হাজরামাউতে তাঁর ফিরে আসার সঠিক তারিখটি খুঁজে পাইনি, তবে ১২৬১ হিজরি (১) সালে তিনি হাজরামাউতে অবস্থান করছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, এই তারিখের পর তিনি আর সেখান থেকে প্রস্থান করেননি। তিনি ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং এই বছরই—অর্থাৎ ১২৬১ হিজরি সালে—আমাদের সম্মুখে থাকা এই কিতাবটি রচনা করেন।
তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ও অবস্থার সংশোধনের জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। আমরা দেখতে পাই যে, ১৬৬২ হিজরি সালে তিনি তারিমের ইয়াফে গোত্রের বিবদমান শাসকদের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি তদারকি করেন। তাঁরা ছিলেন বনু দাওলা আলে আবদুল্লাহ এবং আবদুল কাবি গারামাহ। তাঁরা তারিমের একদল সাইয়্যেদের সাথে বের হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে বিত্তবান সাইয়্যেদ হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাহলও ছিলেন; তাঁরা বিবদমান শাসকদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশ্যে লেখকের নিকট এসেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ লেখককে সেই কাজে সফল করেন এবং পুরো দলটি আনন্দের আমেজ নিয়ে তারিমে ফিরে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويرددون أهازيج الفرح (1). لكن الأحوال السياسية لم يطل استقرارها فاضطربت مرة أخرى، فكتب في 19 ذي الحجة سنة 1262هـ إلى السلطان غالب بن محسن الكثيري يحضه على كبح سلطة آل يافع المتشرذمة في تريم، وأن يصلح نيته في ذلك لنصرة الشريعة، وإنفاذ أحكامها في إزالة المنكرات، وإحياء السنن والواجبات، لينال بذلك أعلى المقامات في الدارين، وأن يتخذ له بطانة من أهل العلم والصلاح، وسمى له الشيخ الفاضل سالم بن عبد الله بن سُمِير (2). فأجابه السلطان إلى ما دعاه إليه، وكتب الله للسلطان النصر على يافع وضم تريم إلى السلطنة الكثيرية، وظل السلطان غالب وفياً للمؤلف ممتناً له على نصحه ودعمه، ويقول في ذلك: " أني لم أنَلْ ما نلتُه من الملكِ والولايةِ والسلطنة بعد تقدير الله إلا بواسطته " (3).
--------------------------------------------
এবং তারা আনন্দের গীতিসমূহ আবৃত্তি করছিল (১)। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, ফলে তা পুনরায় অস্থির হয়ে ওঠে। অতঃপর ১২৬২ হিজরি সনের ১৯ জিলহজ তিনি সুলতান গালিব বিন মুহসিন আল-কাসিরির নিকট পত্র লেখেন, যাতে তাকে তারিম অঞ্চলে ইয়াফি গোত্রের বিচ্ছিন্ন ক্ষমতা দমনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং শরিয়তের সাহায্যের জন্য তার নিয়ত সংশোধন করতে এবং গর্হিত কাজ (منكرات) দূরীকরণ ও সুন্নাতসমূহ (سنن) ও ওয়াজিবসমূহ (واجبات) পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে শরিয়তের বিধানসমূহ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন, যাতে তিনি উভয় জগতে সর্বোচ্চ মাকাম লাভ করতে পারেন। তিনি তাকে জ্ঞান ও নেককার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে অন্তরঙ্গ পারিষদ গ্রহণ করার কথা বলেন এবং তাঁর জন্য বিশিষ্ট শেখ ফাজিল সালিম বিন আবদুল্লাহ বিন সুমাইর-এর নাম উল্লেখ করেন (২)। সুলতান তাঁর আহবানে সাড়া দিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা ইয়াফিদের বিরুদ্ধে সুলতানকে বিজয় দান করলেন এবং তারিমকে কাসিরি সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত করলেন। সুলতান গালিব লেখকের প্রতি অনুগত রইলেন এবং তাঁর নসিহত ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "আল্লাহর নির্ধারিত তকদিরের পর আমি যা কিছু রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা লাভ করেছি, তা কেবল তাঁর মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبقي المؤلف رحمه الله في حضرموت يصابر المرض حتى توفاه الله سنة 1265هـ. ورغم قصر حياة المؤلف إلا أن حياته كانت حافلة بالإنجازات وظلت حكاياته ومواقفه حديث الناس زمنا، وقد ظفر بعضهم بحظٍ وافرٍ منها، مثل السيد علوي بن عبد الرحمن المشهور (1). وفيما يأتي طرفاً من أخباره وبعضاً من أحواله:
صاحب البقرةدخل المؤلف إلى الهند داعياً إلى الله ناشراً لدين الإسلام، وقد لقي في الهند ملوكَها وأعيانَها، فلقي منهم قبولاً، وقد عُرضت عليه أحوالُ بعضِ أهل الطرائقِ المقربين عند ملك حيدر أباد، فأنكرها وردَّها عليهم رد المفتي الذي يقف عند حدودِ الشَّرع لا يلتمس تأويلاً لأحد كائن من كان، لكن هذا السلوك التَّقي وتلك الفتاوى الجريئة
--------------------------------------------
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) হাদরামাউতে অবস্থান করে ব্যাধির সাথে লড়াই করতে থাকেন, অবশেষে ১২৬৫ হিজরিতে মহান আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটান। লেখকের জীবন সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তা বিভিন্ন সাফল্যে পরিপূর্ণ ছিল এবং তাঁর জীবনগাথা ও ঘটনাবলি দীর্ঘকাল মানুষের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ থেকে বড় অংশ লাভে ধন্য হয়েছেন, যেমন সাইয়্যেদ আলউই বিন আব্দুর রহমান আল-মাশহুর (১)। নিম্নে তাঁর সংবাদ ও অবস্থার কিঞ্চিৎ অংশ তুলে ধরা হলো:
গাভীওয়ালা (সাহিবুল বাকারা)লেখক আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং ইসলামের দ্বীন প্রচারকারী হিসেবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি ভারতের রাজা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে সমাদর লাভ করেন। হায়দ্রাবাদের রাজার নিকটবর্তী কতিপয় তরীকা পন্থীদের অবস্থা তাঁর নিকট পেশ করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান (رد) করেন এবং এমন একজন মুফতির ন্যায় তাঁদের জবাব দেন যিনি শরীয়তের সীমানায় অটল থাকেন এবং কোনো ব্যক্তির জন্যই কোনো প্রকার ব্যাখ্যার (تأويل) আশ্রয় নেন না। তবে এই তাকওয়াপূর্ণ আচরণ এবং সাহসী ফতোয়াসমূহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لم ترقْ لأولئك القوم، فكادُوا للعالم الداعية، ودسوا له سماً ناقعاً انتشر في جسمه وكاد أن يُؤدِي بحياته لولا رعاية الله ولطفه ثم عطْف ملِك (حَيْدَر أَبَاد) المضِيف، الذي سخَّر له حُذَّاق الأطباء الهنود الذين عكفوا على علاجه حتى مَنَّ الله عليه بالشفاء، وأَهْدَى له ملك حيدر أباد بقرة هندية فريدة، يقال إن الأطباء وصفوا له حليبها لطرح ما بقي من سُم في جسمه، ولعل المؤلف طلب البقرة أو قَبِلها هديةً لأن في حليبها غذاء وشراب يغنيه عن أكل وشرب ما يمكن أن تصل إليه أَيادِي الأعداء المتربصين به في تلك البلاد ريثما يغادرها، لكن البقرة المحظوظة ظلت تلازمه في أسفاره البرية والبحرية زمناً طويلاً، حتى نُسب إليها وعُرف في تلك الجهات بها (صاحب البقرة) (1).
--------------------------------------------
সেই লোকেদের কাছে বিষয়টি প্রীতিকর মনে হয়নি, ফলে তারা এই বিদগ্ধ দাঈ আলেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল এবং তাকে তীব্র বিষ পান করাল যা তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণা না থাকলে এটি প্রায় তার জীবন কেড়ে নিত। অতঃপর হায়দ্রাবাদের মেজবান রাজার সদয় দৃষ্টি পড়ল, যিনি তার জন্য দক্ষ ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়োজিত করলেন। তারা তার চিকিৎসায় একাগ্রভাবে নিয়োজিত থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন। হায়দ্রাবাদের রাজা তাকে একটি অনন্য ভারতীয় গাভী উপহার দিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, চিকিৎসকরা তার শরীরের অবশিষ্ট বিষ দূর করার জন্য তাকে এই গাভীর দুধ পানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সম্ভবত লেখক সেই গাভীটি চেয়েছিলেন অথবা উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন কারণ এর দুধই ছিল এমন খাদ্য ও পানীয় যা তাকে সেই দেশে অবস্থানকালে শত্রুদের নাগাল পেতে পারে এমন খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকে অমুখাপেক্ষী করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করেন। তবে সেই সৌভাগ্যবান গাভীটি দীর্ঘকাল জল ও স্থলপথের সফরে তার সঙ্গী ছিল, এমনকি সেই অঞ্চলসমূহে তিনি এই গাভীর নামে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে ‘গাভীওয়ালা (صاحب البقرة)’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
القوات الهولندية تحاصر المؤلف وتحاول أَسرهُ (قصة باكلنقان)ظلت روحُ الجهاد ومُقارعة الظلمةِ التي حملها من حضرموت تلازمهُ، فحين وطِئَت قدمُه جزيرة جاوة المحتلة من قبل الهولنديين لم يحتمل رؤية المحتل الهولندي، وهو يسرحُ ويمرحُ في أرض المسلمين، فذهب يُفتي بأن: لا حق للكفار في أرض المسلمين، وما إن بلغ قواتَ الاحتلال الهولندي نشاطُهُ التحريضي؛ حتى لاحقته وانتهى الأمر بمحاصرته في أحد البيوت المطلة على البحر سبعة أيام، لكن المؤلف استطاع بعَون الله أن ينجو بنفسه وصاحبه بأُعجوبة في الليل من جهة البحر باستخدام سفينة شراعية. (1)
وكان المؤلف قد تلقى بحضرموت
--------------------------------------------
ওলন্দাজ বাহিনী কর্তৃক লেখককে ঘেরাও এবং তাঁকে বন্দি করার প্রচেষ্টা (পাকলঙ্গানের কাহিনী)হাজরামাউত থেকে তিনি জিহাদ ও জুলুম প্রতিরোধের যে চেতনা বহন করে এনেছিলেন, তা সর্বদা তাঁর সাথে ছিল। ফলে যখন তিনি ওলন্দাজদের দ্বারা অধিকৃত জাভা দ্বীপে পদার্পণ করলেন, তখন মুসলিম ভূখণ্ডে ওলন্দাজ দখলদারদের অবাধ বিচরণ ও দাপট তিনি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি এই মর্মে ফতোয়া প্রদান করতে লাগলেন যে: মুসলিমদের ভূমিতে কাফিরদের (الكفار) কোনো অধিকার নেই। যখন ওলন্দাজ দখলদার বাহিনীর নিকট তাঁর এই উস্কানিমূলক তৎপরতার খবর পৌঁছাল, তখন তারা তাঁর পিছু নিল এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রতীরবর্তী একটি বাড়িতে সাত দিন ধরে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হলো। তবে আল্লাহর সাহায্যে লেখক রাতের বেলা একটি পালতোলা জাহাজে করে সমুদ্রপথে বিস্ময়করভাবে নিজের এবং তাঁর সঙ্গীর প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। (১)
লেখক হাজরামাউতে শিক্ষা লাভ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল বাওয়াতিল লিমান ইয়ুক্বাদ্দিমু সালাতাস সুবহে আলাল ফাজরিল আখির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
درساً مشابها لهذا، حين أرسل السلطان عبد الله بن عوض غرامة جنوده إليه ليأتوا به حياً أو ميتاً، وتوعَّدهم بالقتل إذا لم ينجحوا في مهمتهم، فدخلوا قرية المسيلة وضربوا حصاراً محكماً على بيت المؤلف
অনুরূপ একটি দৃষ্টান্ত ছিল সেই সময়ের, যখন সুলতান আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ গুরামা তাঁর নিকট নিজের সৈন্যদের প্রেরণ করেছিলেন তাঁকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরে আনার জন্য। তিনি তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, অভিযানে সফল হতে না পারলে তাদের হত্যা করা হবে। অতঃপর তারা আল-মাসিলা গ্রামে প্রবেশ করে এবং গ্রন্থকারের বাড়ির ওপর একটি কঠোর অবরোধ আরোপ করে।