(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: -)
تحفة الإخوان بما جاء في الموالاة والمعاداة والحب والبغض والهجران   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تحفة الإخوان بما جاء في الموالاة والمعاداة والحب والبغض والهجران

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: مؤسسة النور للطباعة والتجليد، الرياض

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 77

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433

তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাতা ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হাজরান   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরি)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাতা ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হাজরান

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুন নূর লিত-তিবাআ ওয়াল তাজলিদ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: -)
تحفة الإخوان بما جاء في

الموالاة والمعاداة

والحب والبغض والهجران …

 

للشيخ

حمود بن عبد الله التويجري

رحمه الله تعالى
তুহফাতুল ইখওয়ান: সেই সকল বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে

বন্ধুত্ব ও শত্রুতা

এবং ভালোবাসা, ঘৃণা ও সংশ্রব ত্যাগ …

 

শায়খ

হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজরি

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم لله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي منّ على أوليائه بالتأييد والإسعاد، وقضى على أعدائه بالخذلان والإبعاد، ونهى عباده عن التقرب إليهم بالموالاة والوداد، وشدد في ذلك وأبدى فيه وأعاد، أحمده تعالى على نعمه التي لا يحصى لها تعداد، وأشكره وكلما شكر زاد، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة أَدّخرها ليوم التناد، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صفوة العباد، أرسله الله رحمة للعالمين وحجة على أهل الشقاق والعناد، فبلغ الرسالة وأدى الأمانة ونصح الأمة وبالغ في البيان والإرشاد، اللهم صل على عبدك ورسولك محمد وعلى آله وأصحابه البررة الأمجاد، الذين جاهدوا في الله حق الجهاد، وصارموا أعداء الله وجالدوهم غاية الجلاد، حتى ملأ الإسلام مشارق الأرض ومغاربها رباها والوهاد، وعلى من تبعهم بإحسان من حاضر وباد، وسلم تسليما كثيرا،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রিয়জনদের সমর্থন ও সৌভাগ্য দ্বারা ধন্য করেছেন এবং তাঁর শত্রুদের জন্য লাঞ্ছনা ও বিচ্যুতি অবধারিত করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাদের সাথে মিত্রতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করতে নিষেধ করেছেন; এ বিষয়ে তিনি কঠোরতা আরোপ করেছেন এবং বারবার তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর এমন সব নিয়ামতের জন্য যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি তা আরও বৃদ্ধি করে দেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা আমি কিয়ামতের কঠিন দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল এবং বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম মনোনীত। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং বিরুদ্ধবাদী ও হঠকারীদের জন্য দলিল হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত রক্ষা করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং দ্বীনের বিশদ বর্ণনা ও সঠিক পথনির্দেশনায় চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ এবং তাঁর নেককার ও সম্মানিত পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং আল্লাহর শত্রুদের সংশ্রব ত্যাগ করে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রাম করেছেন, যতক্ষণ না ইসলাম পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে, পাহাড়ে ও উপত্যকায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা উত্তমরূপে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর অগণিত শান্তি ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৪)
أما بعد:

 

فهذه نبذة وجيزة في بيان تحريم موالاة أعداء الله من المرتدين والمنافقين واليهود والنصارى والمجوس وغيرهم من أصناف المشركين، والتحذير من موادتهم وتعظيمهم وبداءتهم بالسلام، وتقديمهم في المجالس وغير ذلك مما فيه تعظيم لهم، بالقول أو بالفعل.

 

دعاني إلى جمعها ما وقع فيه كثير من المسلمين في زماننا من تعظيم أعداء الله تعالى وموادتهم واتباع سننهم حذو النعل بالنعل، والمقصود من ذلك النصيحة للمسلمين وتحذيرهم من سوء عاقبة التذلل لأعداء الله تعالى وموالاتهم وموادتهم.

 

والله المسؤول أن يصلح حالي وأحوال المسلمين، وأن يوفقنا جميعا لما يحب ويرضى من الأقوال والأعمال، وأن يجنبنا طريق أهل الغي والضلال، إنه قريب مجيب.

 

فصل

 

وقد نهى الله سبحانه وتعالى عن موالاة أعدائه في مواضع كثيرة من القرآن، وأخبر أن موالاتهم تنافي الإيمان بالله وكتبه ورسله واليوم الآخر وأنها سبب للفتنة والفساد في الأرض، وأن من والاهم ووادهم فليس من الله في شيء وأنه من الظالمين الضالين عن سواء السبيل، وأنه مستوجب لسخط الله وأليم عقابه في الآخرة، والآيات في هذا كثيرة.

الأولى منها: قول الله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء تلقون إليهم بالمودة وقد كفروا بما جاءكم من
অতঃপর:

 

এটি মুরতাদ (مرتد), মুনাফিক (منافق), ইহুদি, নাসারা, অগ্নিপূজক এবং অন্যান্য শ্রেণীর মুশরিকদের (مشرك) মতো আল্লাহর শত্রুদের সাথে মিত্রতা (موالاة) করার নিষিদ্ধতা (تحريم) বর্ণনায় একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এছাড়া তাদের প্রতি হৃদ্যতা (موادة) পোষণ করা, তাদের সম্মান প্রদর্শন করা, তাদের প্রথমে সালাম প্রদান করা এবং সভা-মজলিসে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও কথা বা কাজের মাধ্যমে তাদের সম্মান হয় এমন অন্যান্য বিষয় থেকে সতর্ককরণ।

 

বর্তমান সময়ে অনেক মুসলমান আল্লাহর শত্রুদের সম্মান করা, তাদের সাথে হৃদ্যতা (موادة) পোষণ করা এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের রীতিনীতি অনুসরণের যে ব্যাধিতে লিপ্ত হয়েছে, তা-ই আমাকে এটি সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের কল্যাণকামিতা এবং আল্লাহর শত্রুদের সামনে হীনতা প্রদর্শন এবং তাদের সাথে মিত্রতা (موالاة) ও হৃদ্যতা (موادة) করার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা।

 

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমার এবং মুসলমানদের অবস্থার সংশোধন করেন এবং আমাদের সবাইকে এমন কথা ও কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যেন আমাদের বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে দূরে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং দুআ কবুলকারী।

 

পরিচ্ছেদ

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনের অনেক স্থানে তাঁর শত্রুদের সাথে মিত্রতা (موالاة) করতে নিষেধ করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের সাথে মিত্রতা রাখা আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি ঈমানের পরিপন্থী। আর এটি পৃথিবীতে ফিতনা (فتنة) ও বিপর্যয়ের কারণ। যে ব্যক্তি তাদের সাথে মিত্রতা (موالاة) ও হৃদ্যতা (موادة) রাখবে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। সে জালেম এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি সে আল্লাহর ক্রোধ ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির যোগ্য। এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক।

তন্মধ্যে প্রথমটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের প্রতি হৃদ্যতা (موادة) প্রকাশ করো, অথচ তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা তারা অস্বীকার করেছে...}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৫)
الحق} إلى قوله تعالى: {تسرون إليهم بالمودة وأنا أعلم بما أخفيتم وما أعلنتم ومن يفعله منكم فقد ضل سواء السبيل} ثم حث تبارك وتعالى عباده المؤمنين على متابعة خليله إبراهيم والتأسي به وبمن آمن معه في مصارمتهم لأعداء الله تعالى والتبري منهم ومما يعبدون من دون الله تعالى وإظهار العداوة لهم والبغضاء ما داموا على الكفر بالله، فقال الله تعالى: {قد كانت لكم أسوة حسنة في إبراهيم والذين معه إذ قالوا لقومهم إنّا برءاء منكم ومما تعبدون من دون الله كفرنا بكم وبدا بيننا وبينكم العداوة والبغضاء أبدا حتى تؤمنوا بالله وحده} ومن لم يتأسى بإبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام في مصارمة أعداء الله تعالى وإظهار العداوة والبغضاء لهم، فله من سفه النفس بقدر ما ترك من ملة إبراهيم الخليل، كما قال تعالى: {ومن يرغب عن ملة إبراهيم إلا من سفه نفسه}.

 

الآية الثانية: قوله تعالى: {إنما ينهاكم الله عن الذين قاتلوكم في الدين وأخرجوكم من دياركم وظاهروا على إخراجكم أن تولوهم ومن يتولهم فأولئك هم الظالمون}.

 

الآية الثالثة: قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا تتولوا قوما غضب الله عليهم قد يئسوا من الآخرة كما يئس الكفار من أصحاب القبور}.

 

الآية الرابعة: قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا اليهود والنصارى أولياء بعضهم أولياء بعض} ثم حذر تبارك وتعالى من موالاتهم بأبلغ التحذير وتوعد على ذلك بأشد الوعيد فقال تعالى: {ومن يتولهم منكم فإنّه منهم إن الله لا يهدي القوم الظالمين}
{সত্য...} থেকে মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: {তোমরা তাদের কাছে গোপনে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তোমরা যা গোপন করো এবং যা প্রকাশ করো তা আমি ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।} অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে তাঁর খলিল ইবরাহিম এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল, তাদের অনুসরণ ও অনুকরণ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন—আল্লাহর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষেত্রে, তাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তারা যা কিছুর ইবাদত করে তা থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করার ক্ষেত্রে, এবং যতক্ষণ তারা আল্লাহর প্রতি কুফরিতে লিপ্ত থাকে ততক্ষণ তাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের জন্য ইবরাহিম ও তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে এক চমৎকার আদর্শ রয়েছে; যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যার ইবাদত করো তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই; আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করলাম। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রকাশ পেল, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।} আর যে ব্যক্তি আল্লাহর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ এবং তাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রকাশের ক্ষেত্রে ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অনুকরণ করবে না, সে ইবরাহিমের আদর্শ থেকে যতটুকু বিমুখ হবে, সে নিজেকে ঠিক ততটুকুই নির্বুদ্ধিতায় নিমজ্জিত করবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যে নির্বোধ, সে ছাড়া আর কে ইবরাহিমের আদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে?}

 

দ্বিতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তো জালেম।}

 

তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ যে জাতির প্রতি রাগান্বিত, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা তো আখেরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, যেমন কাফেররা কবরে থাকা ব্যক্তিদের (পুনরুত্থান) সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে।}

 

চতুর্থ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু।} অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং এর ওপর কঠিনতম হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে সঠিক পথ দেখান না।}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৬)
قال بعض المفسرين: فيه زجر شديد عن إظهار صورة الموالاة لهم وإن لم تكن موالاة في الحقيقة.

 

قلت: وأقل الأحوال في هذه الآية أنها تقضي تحريم موالاة أعداء الله تعالى وإن كان ظاهرها يقتضي كفر من تولاهم، ولهذا روي عن حذيفة رضي الله عنه أنه قال: ليتق أحدكم أن يكون يهوديا أو نصرانيا وهو لا يشعر وتلا هذه الآية. وروى ابن أبي حاتم عن محمد بن سيرين قال: قال عبد الله بن عتبة: ليتق أحدكم أن يكون يهوديا أو نصرانيا وهو لا يشعر. قال: فظنناه يريد هذه الآية.

 

وروى الإمام أحمد بإسناد صحيح عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قلت لعمر رضي الله عنه إن لي كاتبا نصرانيا قال: مالك قاتلك الله أما سمعت الله يقول: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا اليهود والنصارى أولياء بعضهم أولياء بعض} ألا اتخذت حنيفا. قال: قلت يا أمير المؤمنين لي كتابته وله دينه. قال: لا أكرمهم إذا أهانهم الله ولا أعزهم إذا أذلهم الله ولا أدنيهم إذا أقصاهم الله.

وورد على عمر رضي الله عنه كتاب معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه: أما بعد يا أمير المؤمنين فإن في عملي كاتبا نصرانيا لا يتم أمر الخراج إلا به فكرهت أن أقلده دون أمرك. فكتب إليه: عافانا الله وإياك قرأت كتابك في أمر النصراني، أما بعد فإن النصراني قد مات، والسلام.
কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: এতে তাদের প্রতি বন্ধুত্বের ভাব প্রকাশ করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে, যদিও বাস্তবে তা প্রকৃত বন্ধুত্ব না হয়।

 

আমি বলি: এই আয়াতের নূ্যনতম দাবি হলো এটি আল্লাহ তাআলার শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব করা হারাম হওয়ার ফয়সালা দেয়, যদিও এর প্রকাশ্য অর্থ তাদের সাথে বন্ধুত্বকারীর কুফরের দাবি রাখে। এজন্যই হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অজান্তেই ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে না যায় সে বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা উচিত", এরপর তিনি এই আয়াতটি তেলাওয়াত করেন। ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উতবা বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অজান্তেই ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে না যায় সে বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা উচিত।" বর্ণনাকারী বলেন: আমরা ধারণা করলাম যে তিনি এই আয়াতটিই বুঝাতে চেয়েছেন।

 

ইমাম আহমাদ একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর (রা.)-কে বললাম যে, আমার একজন খ্রিস্টান লেখক আছে। তিনি বললেন: তোমার কী হলো? আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! তুমি কি আল্লাহর বাণী শোনোনি: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু।} তুমি কেন কোনো একনিষ্ঠ মুসলিমকে লেখক হিসেবে গ্রহণ করলে না? তিনি (আবু মুসা) বলেন: আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন! আমার জন্য তার লেখক হিসেবে কাজ আর তার জন্য তার ধর্ম। ওমর (রা.) বললেন: আল্লাহ যাদের লাঞ্ছিত করেছেন আমি তাদের সম্মানিত করব না, আল্লাহ যাদের অপদস্থ করেছেন আমি তাদের মর্যাদা দেব না এবং আল্লাহ যাদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন আমি তাদের নিকটবর্তী করব না।

ওমর (রা.)-এর কাছে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)-এর পক্ষ থেকে একটি চিঠি এলো: অতঃপর হে আমিরুল মুমিনিন! আমার প্রশাসনিক কাজে একজন খ্রিস্টান লেখক আছে, যাকে ছাড়া খরাজ (ভূমি কর) সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাই আপনার নির্দেশ ছাড়া তাকে এই পদে নিয়োগ দিতে আমি অপছন্দ করলাম। তখন তিনি (ওমর রা.) তাকে লিখে পাঠালেন: আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে নিরাপদ রাখুন; খ্রিস্টান লেখক সম্পর্কে আপনার চিঠি আমি পড়েছি। অতঃপর কথা হলো, সেই খ্রিস্টান মারা গেছে (অর্থাৎ তাকে মৃতবৎ গণ্য করে বর্জন করুন), আসসালাম।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৭)
يعني يقدر موت هذا النصراني فما كان معاوية صانعا بعد موته فليصنعه الآن، وهذا أمر من عمر رضي الله عنه لمعاوية رضي الله عنه بإبعاد النصراني وتولية غيره من المسلمين مكانه من غير مراجعة وإخبار له بأن المسلمين في غنية عن أعداء الله ولو كانوا في الحذق والضبط ما كانوا.

 

وفي قول عمر رضي الله عنه دليل على أنه لا يجوز للمسلمين أن يولوا في أعمالهم أحدا من أعداء الله تعالى لأن في ذلك إكراما لهم وإعزازا وإدناءا وهو خلاف ما شرعه الله من إهانتهم وإذلالهم وإقصائهم.

 

ثم قال تعالى: {فترى الذين في قلوبهم مرض يسارعون فيهم يقولون نخشى أن تصيبنا دائرة} قال ابن كثير رحمه الله تعالى: {فترى الذين في قلوبهم مرض} أي شك وريب ونفاق {يسارعون فيهم} أي يبادرون في مولاتهم ومودتهم في الباطن والظاهر {يقولون نخشى أن تصيبنا دائرة} أي يتأولون في مودتهم وموالاتهم أنهم يخشون أن يقع أمر من ظفر الكفار بالمسلمين فتكون لهم أياد عند اليهود والنصارى فينفعهم ذلك عند ذلك، قال الله تعالى: {فعسى الله أن يأتي بالفتح أو أمر من عنده فيصبحوا على ما أسروا في أنفسهم نادمين}.

 

الآية الخامسة: قوله تعالى: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا الذين اتخذوا دينكم هزوا ولعبا من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم والكفار أولياء واتقوا الله إن كنتم مؤمنين} وهذا نهي من الله تبارك وتعالى عن موالاة أعدائه من أهل
অর্থাৎ, তিনি এই খ্রিস্টানের মৃত্যু কল্পনা করতে বলছেন যে, তার মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া (রা.) যা করতেন, তিনি যেন এখনই তা করেন। এটি উমর (রা.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়া (রা.)-এর প্রতি সেই খ্রিস্টানকে অপসারণ করার এবং তার স্থলে অন্য কোনো মুসলিমকে নিযুক্ত করার একটি নির্দেশ ছিল, কোনো প্রকার আলোচনা বা পুনর্বিবেচনা ছাড়াই। আর তাকে অবহিত করা যে, মুসলিমরা আল্লাহর শত্রুদের থেকে অমুখাপেক্ষী, যদিও তারা কর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতায় (الضبط) যেমনই হোক না কেন।

 

আর উমর (রা.)-এর উক্তির মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, মুসলিমদের জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহে আল্লাহর শত্রুদের কাউকে নিযুক্ত করা বৈধ নয়; কারণ এতে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মর্যাদা দান এবং নৈকট্য প্রদান করা হয়, যা তাদের অবমাননা করা, লাঞ্ছিত করা এবং দূরে সরিয়ে রাখার বিষয়ে আল্লাহর শরীয়তপ্রদত্ত বিধানের পরিপন্থী।

 

অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আপনি দেখবেন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা তাদের সাথে (মিত্রতা করতে) দ্রুত ধাবিত হয়। তারা বলে, আমরা আশঙ্কা করছি যে কোনো বিপদ আমাদের গ্রাস করবে}। ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: {যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে} অর্থাৎ সন্দেহ, সংশয় এবং মুনাফিকি; {তারা তাদের সাথে দ্রুত ধাবিত হয়} অর্থাৎ তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও সখ্যতা স্থাপনে অগ্রণী হয়। {তারা বলে, আমরা আশঙ্কা করছি যে কোনো বিপদ আমাদের গ্রাস করবে} অর্থাৎ তারা তাদের সখ্যতা ও বন্ধুত্বের ব্যাপারে এই ব্যাখ্যা দেয় যে, তারা আশঙ্কা করে কাফিররা মুসলিমদের ওপর জয়ী হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, ফলে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট তাদের যেন কিছু অবদান থাকে যা সেই সময়ে তাদের উপকারে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং সম্ভবত আল্লাহ বিজয় দান করবেন অথবা তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো নির্দেশ দেবেন, ফলে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন করেছিল সেজন্য লজ্জিত হবে}।

 

পঞ্চম আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে উপহাস ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদেরকে এবং কাফিরদের তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও}। এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর শত্রুদের তথা আহলে কিতাবদের সাথে মিত্রতা করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা।

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৮)
الكتابين وغيرهم من سائر الكفار وإخبارا منه تعالى بأن موالاتهم تنافي الإيمان، ولهذا قال تعالى: {واتقوا الله إن كنتم مؤمنين} قال أبو جعفر بن جرير في تفسير هذه الآية: لا تتخذوهم أيها المؤمنون أنصارا وإخوانا وحلفاء فإنهم لا يألونكم خبالا وإن أظهروا لكم مودة وصداقة اهـ.

 

الآية السادسة: قوله تعالى: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا الكافرين أولياء من دون المؤمنين أتريدون أن تجعلوا لله عليكم سلطانا مبينا} قال ابن كثير رحمه الله تعالى في تفسيره: ينهى الله تعالى عباده المؤمنين عن اتخاذ الكافرين أولياء من دون المؤمنين يعني مصاحبتهم ومصادقتهم ومناصحتهم وإسرار المودة إليهم وإفشاء أحوال المؤمنين الباطنة إليهم ، وقوله: {أتريدون أن تجعلوا لله عليكم سلطانا مبينا} أي حجة عليكم في عقوبته إياكم اهـ.

وقال أبو جعفر بن جرير يقول: لا تعرّضوا لغضب الله بإيجابكم الحجة على أنفسكم في تقدمكم على ما نهاكم ربكم من موالاة أعدائه وأهل الكفر به اهـ.

الآية السابعة: قوله تعالى: {لا يتخذ المؤمنون الكافرين أولياء من دون المؤمنين ومن يفعل ذلك فليس من الله في شيء} وهذا زجر بليغ وتهديد شديد عن موالاة أعداء الله تعالى وموادتهم، فينبغي للمسلم أن يحذر أشد الحذر من أن يكون من الذين يحسبون أنهم على شيء وهو من الخاسرين الذين ليسوا من الله في شيء عياذا بالله من موجبات غضبه وأليم عقابه. قال المناوي في شرح الجامع الصغير: الإقبال على عدو الله
আহলে কিতাবদ্বয় এবং অন্যান্য সকল কাফিরদের (كفار) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাদের সাথে মিত্রতা করা ঈমানের (إيمان) পরিপন্থী। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন (مؤمنين) হও}। আবু জাফর বিন জারির এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: হে মুমিনগণ (مؤمنون)! তোমরা তাদেরকে সাহায্যকারী, ভাই ও মিত্র হিসেবে গ্রহণ করো না; কারণ তারা তোমাদের অনিষ্ট সাধনে কোনো ত্রুটি করবে না, যদিও তারা তোমাদের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

 

ষষ্ঠ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ (سلطانا مبينا) দিতে চাও?} ইবনে কাসির রহিমাহুল্লাহ তার তাফসিরে বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন (مؤمنين) বান্দাদের মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের (كافرين) অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন; অর্থাৎ তাদের সাথে সঙ্গদান, বন্ধুত্ব ও হিতাকাঙ্ক্ষা করা, তাদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা পোষণ করা এবং মুমিনদের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় বিষয়াদি তাদের কাছে ফাঁস করে দেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর তাঁর বাণী: {তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ (سلطانا مبيনা) দিতে চাও?} অর্থাৎ তোমাদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর স্বপক্ষে একটি স্পষ্ট দলিল (حجة)।

আবু জাফর বিন জারির বলেন: আল্লাহ তোমাদের যা নিষেধ করেছেন—অর্থাৎ তাঁর শত্রু ও কুফরি (كفر) পোষণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করা—তাতে লিপ্ত হয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়ো না।

সপ্তম আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুমিনগণ যেন মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না।} এটি আল্লাহর শত্রুদের সাথে মিত্রতা ও সৌহার্দ্য স্থাপনের বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত কঠোর ভর্ৎসনা এবং প্রবল হুমকি। সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সতর্ক থাকা আবশ্যক যাতে সে ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত না হয় যারা নিজেদের সঠিক পথে আছে বলে ধারণা করে, অথচ তারা সেই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহর ক্রোধ এবং তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণসমূহ থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল-মুনাউয়ি জামিউস সগির এর ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহর শত্রুর প্রতি ধাবিত হওয়া...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৯)
وموالاته توجب إعراضه عن الله ومن أعرض عنه تولاه الشيطان ونقله إلى الكفر اهـ. قال الزمخشري: وهذا أمر معقول فإن موالاة الولي وموالاة عدوه متنافيان اهـ.

 

ولقد أحسن العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى حيث في الكافية الشافية يقول:

أتحب أعداء الحبيب وتدعي حبا له ما ذاك في إمكان

وكذا تعادي جاهدا أحبابه … أين المحبة يا أخا الشيطان

 

وقال يزيد بن الحكم الثقفي:

 

تود عدوي ثم تزعم أنني … صديقك ليس الفعل منك بمستوي

 

وقال غيره:

 

تود عدوي ثم تزعم أنني … صديقك ليس النوك (1) عنك بعازب

 

ثم قال تبارك وتعالى: {إلا أن تتقوا منهم تقاة} قال البغوي رحمه الله تعالى في تفسيره معنى الآية: أن الله تعالى نهى المؤمنين عن موالاة الكفار ومداهنتهم ومباطنتهم، إلا أن يكون الكفار غالبين ظاهرين، أو يكون المؤمن في قوم كفار يخافهم فيداريهم باللسان وقلبه مطمئن بالإيمان دفعا عن نفسه من غير أن يستحل دما حراما أو مالا حراما أو يظهر الكفار على عورة المسلمين. والتقية لا تكون إلاّ مع خوف القتل وسلامة النية، قال الله تعالى: {إلاّ من أكره وقلبه مطمئن بالإيمان} ثم هذه رخصة فلو صبر حتى قتل فله أجر عظيم

--------------------------------------------

(1) * النوك: بضم النون وفتحها وهو الحمق.
এবং তার প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা আল্লাহর নিকট হতে বিমুখ হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট হতে বিমুখ হয়, শয়তান তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে এবং তাকে কুফরির দিকে ধাবিত করে। আল-জামাকশারি বলেন: এটি একটি যুক্তিসঙ্গত বিষয়, কারণ বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব রাখা এবং তার শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব রাখা পরস্পরবিরোধী।

 

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন, যেখানে তিনি তার ‘আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া’ নামক গ্রন্থে বলেন:

তুমি কি প্রিয়তমের শত্রুদের ভালোবাসো এবং আবার তাঁর প্রতি ভালোবাসা দাবি করো? এ তো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তেমনিভাবে তুমি তাঁর প্রিয়জনদের সাথে শত্রুতা পোষণে সচেষ্ট হও... হে শয়তানের ভাই! তোমার ভালোবাসা কোথায়?

 

ইয়াজিদ ইবনুল হাকাম আস-সাকাফি বলেছেন:

 

তুমি আমার শত্রুর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করো, আবার দাবি করো যে আমি তোমার বন্ধু? তোমার এই আচরণ মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

অন্য একজন কবি বলেছেন:

 

তুমি আমার শত্রুর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করো, আবার দাবি করো যে আমি তোমার বন্ধু? তোমার এই নির্বুদ্ধিতা (১) তো তোমার থেকে মোটেও দূরে নয়।

 

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: {তবে যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষা করতে চাও}। ইমাম আল-বাগাবি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসির গ্রন্থে এই আয়াতের অর্থ সম্পর্কে বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা, তোষামোদ করা এবং তাদের সাথে গভীর সখ্যতা বজায় রাখা থেকে নিষেধ করেছেন। তবে যদি কাফিররা প্রভাবশালী ও বিজয়ী হয়, অথবা কোনো মুমিন এমন কাফির সম্প্রদায়ের মধ্যে অবস্থান করে যাদেরকে সে ভয় পায়, তবে সে নিজের আত্মরক্ষার্থে মৌখিকভাবে তাদের সাথে সৌজন্যমূলক বা কৌশলী আচরণ (مداراة) করতে পারে, এমতাবস্থায় তার অন্তর ঈমানের ওপর অটল থাকবে। এটি হতে হবে কেবল নিজের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে, কোনো নিষিদ্ধ রক্তপাত বা অবৈধ সম্পদ ভোগকে হালাল না করে এবং মুসলিমদের কোনো দুর্বলতা বা গোপন বিষয় কাফিরদের সামনে প্রকাশ না করে। আর আত্মরক্ষণমূলক কৌশল (تقية) কেবল তখনই বৈধ যখন প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে এবং নিয়ত বিশুদ্ধ থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সে ব্যক্তি ব্যতিরেকে যাকে বাধ্য করা হয়েছে, অথচ তার অন্তর ঈমানের ওপর অবিচল}। তবে এটি একটি শিথিলতা (رخصة); এমতাবস্থায় যদি কেউ ধৈর্য ধারণ করে এমনকি নিহতও হয়, তবে তার জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।

--------------------------------------------

(১) * আন-নুক: নুন বর্ণের পেশ বা জবর যোগে, যার অর্থ হলো নির্বুদ্ধিতা বা মূর্খতা।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১০)
اهـ. وروى أبو نعيم في الحلية عن علي بن الحسين زين العابدين أنه قيل له ما التقاة؟، قال: أن يخاف جبارا عنيدا أن يفرط عليه أو أن يطغى.

 

وقال ابن القيم رحمه الله تعالى معلوم: أن التقاة ليست بموالاة ولكن لما نهاهم عن موالاة الكفار اقتضى ذلك معاداتهم، والبراءة منهم، ومجاهرتهم بالعدوان في كل حال إلا إذا خافوا من شرهم فأباح لهم التقية وليست التقية موالاة لهم اهـ.

 

وقوله: (ويحذركم الله نفسه) أي يخوفكم الله عقوبته على موالاة أعدائه وارتكاب نهيه ومخالفة أمره. قال أبو جعفر بن جرير يعني بذلك متى صرتم إليه وقد خالفتم ما أمركم به وأتيتم ما نهاكم عنه من اتخاذ الكافرين أولياء من دون المؤمنين نالكم من عقاب ربكم مالا قبل لكم به يقول فاتقوه واحذروه أن ينالكم ذلك منه فإنه شديد العقاب اهـ.

الآية الثامنة: قوله تعالى: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا آباءكم وإخوانكم أولياء إن استحبوا الكفر على الإيمان ومن يتولهم منكم فأولئك هم الظالمون} وهذا أمر من الله تعالى بمصارمة أعدائه ولو كانوا أقرب قريب كالآباء والأبناء والإخوان والعشيرة، وفي النص على الأقارب دليل على أن مصارمة من سواهم من الكفار مطلوبة بطريق الأولى والأحرى.

الآية التاسعة: قوله تعالى: {لا تجد قوما يؤمنون بالله واليوم الآخر يوادون من حاد الله ورسوله ولو كانوا آباءهم أو أبناءهم أو إخوانهم أو عشيرتهم}
সমাপ্ত। আবু নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে আলী ইবনুল হুসাইন যয়নুল আবিদীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আত্মরক্ষা (تقاة) কী? তিনি বললেন: "কোনো একগুঁয়ে স্বৈরশাসকের পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয় করা।"

 

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি সুপরিচিত যে, আত্মরক্ষা (تقاة) মানে বন্ধুত্ব (موالاة) নয়। তবে যখন তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব (موالاة) করতে নিষেধ করলেন, তখন এর দাবি হলো তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সব অবস্থায় তাদের অবাধ্যতার ঘোষণা দেওয়া। কিন্তু যখন তারা তাদের অনিষ্টের ভয় পায়, তখন আল্লাহ তাদের জন্য আত্মরক্ষা (تقية) বৈধ করেছেন। আর এই আত্মরক্ষা (تقية) তাদের সাথে বন্ধুত্ব (موالاة) নয়।"

 

আর তাঁর বাণী: "এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন"—এর অর্থ হলো, তাঁর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব (موالاة) করা, তাঁর নিষেধ অমান্য করা এবং তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। আবু জাফর ইবনে জারীর বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হলো—যখন তোমরা তাঁর কাছে ফিরে যাবে এবং এমন অবস্থায় থাকবে যে তোমরা তাঁর নির্দেশ অমান্য করেছ এবং মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের বন্ধু (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে তাঁর নিষিদ্ধ কাজ করেছ, তখন তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এমন শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করবে যা সহ্য করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। তিনি বলছেন: অতএব তোমরা তাঁকে ভয় করো এবং সতর্ক থাকো যেন তাঁর পক্ষ থেকে সেই শাস্তি তোমাদের ওপর আপতিত না হয়; নিশ্চয়ই তিনি কঠোর শাস্তিদাতা।

অষ্টম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধু (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরকে পছন্দ করে। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব (يتولهم) করবে, তারাই জালিম।} এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার একটি নির্দেশ, যদিও তারা নিকটাত্মীয় যেমন পিতা, সন্তান, ভাই বা গোত্রীয় লোক হয়। নিকটাত্মীয়দের বিষয়ে এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তাদের ছাড়া অন্যান্য কাফিরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা আরও বেশি জরুরি ও আবশ্যিক।

নবম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তাদের আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব (يوادون) করতে দেখবেন না—যদিও তারা তাদের পিতা, সন্তান, ভাই বা গোত্রীয় লোক হয়।}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১১)
قال البغوي رحمه الله تعالى: أخبر أن إيمان المؤمنين يفسد بموادة الكفار وأنّ من كان مؤمنا لا يوالي من كفر وإن كان من عشيرته اهـ. وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى: أخبر سبحانه وتعالى أنه لا يوجد مؤمن يواد كافرا فمن واد الكفار فليس بمؤمن اهـ.

 

ثم أثنى الله تبارك وتعالى على الذين يصارمون أعداءه ويتقربون إليه ببغضهم ومبايبنتهم وأثبت لهم الإيمان والتأييد منه ووعدهم الثواب الجزيل في الدار الآخرة مع الرضى عنهم فقال تعالى: {أولئك كتب في قلوبهم الإيمان وأيدهم بروح منه ويدخلهم جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها رضي الله عنهم ورضوا عنه أولئك حزب الله ألا إن حزب الله هم المفلحون} وقد أورد ابن كثير عند تفسير هذه الآية ما رواه نعيم بن حماد حدثنا محمد بن ثور عن يونس عن الحسن قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اللهم لا تجعل لفاجر ولا لفاسق عندي يدا ولا نعمة فيودّه قلبي فإني وجدت فيما أوحيته إليَّ: {لا تجد قوما يؤمنون بالله واليوم الآخر يوادّون من حاد الله ورسوله}).

 

الآية العاشرة: قوله تعالى: {ترى كثيرا منهم يتولون الذين كفروا لبئس ما قدمت لهم أنفسهم أن سخط الله عليهم وفي العذاب هم خالدون. ولو كانوا يؤمنون بالله والنبي وما أنزل إليه ما اتخذوهم أولياء ولكن كثيرا منهم فاسقون}
ইমাম বাগাউই (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: তিনি জানিয়েছেন যে, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের কারণে মুমিনদের ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং যে ব্যক্তি মুমিন সে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে না, যদিও সে তার বংশের লোক হয়। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়েছেন যে, এমন কোনো মুমিন পাওয়া যায় না যে কোনো কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব করে; সুতরাং যে ব্যক্তি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে মুমিন নয়।

 

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ঐ সমস্ত লোকদের প্রশংসা করেছেন যারা তাঁর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তাদের প্রতি ঘৃণা ও দূরত্বের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। তিনি তাদের জন্য ঈমান ও তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য সাব্যস্ত করেছেন এবং পরকালে তাঁর সন্তুষ্টিসহ বিশাল প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এরাই তারা, যাদের হৃদয়ে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।} ইমাম ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে সাওর, ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (হে আল্লাহ! কোনো পাপাচারী (فاجر) বা কোনো পাপিষ্ঠের (فاسق) পক্ষ থেকে আমার কাছে কোনো অনুগ্রহ বা নেয়ামত গচ্ছিত রেখো না যার কারণে আমার অন্তর তাকে ভালোবেসে ফেলে। কারণ আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর মধ্যে আমি পেয়েছি: {তুমি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে।})।

 

দশম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি তাদের অনেককেই দেখবেন কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে। তাদের নফস তাদের জন্য যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তা কতই না মন্দ; যার ফলে আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তারা আজাব ভোগ করবে চিরকাল। যদি তারা আল্লাহ, নবী ও তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস রাখত, তবে তারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের অধিকাংশই পাপিষ্ঠ (فاسق)।}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا إخبار من الله تبارك تعالى بأن موالاة الكفار تنافي الإيمان بالله ورسوله وكتابه، وتوجب سخط الله وأليم عقابه، وفي هذا أبلغ زجر وتحذير من موالاتهم وموادتهم.

 

قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى: بيّن سبحانه وتعالى أن الإيمان بالله والنبي وما أنزل إليه مستلزم لعدم ولايتهم فثبوت ولايتهم يوجب عدم الإيمان لأن عدم اللازم يقتضي عدم الملزوم اهـ.

 

الآية الحادية عشرة: قوله تعالى: {بشر المنافقين بأن لهم عذابا أليما الذين يتخذون الكافرين أولياء من دون المؤمنين أيبتغون عندهم العزة فإن العزة لله جميعا} وروى عبد الله بن الإمام أحمد في زوائد الزهد عن سعيد بن المسيب قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من اعتز بالعبد أذله الله).

 

الآية الثانية عشرة: قوله تعالى: {ودوا لو تكفرون كما كفروا فتكونون سواءً فلا تتخذوا منهم أولياء حتى يهاجروا في سبيل الله فإن تولوا فخذوهم واقتلوهم حيث وجدتموهم ولا تتخذوا منهم وليا ولا نصيرا}.

الآية الثالثة عشرة: قوله تعالى: {إن الذين آمنوا وهاجروا وجاهدوا بأموالهم وأنفسهم في سبيل الله والذين آوو ونصروا أولئك بعضهم أولياء بعض} إلى قوله تعالى: {والذين كفروا بعضهم أولياء بعض إلاّ تفعلوه تكن فتنة في الأرض وفساد كبير}
এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ যে, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর কিতাবের প্রতি ঈমানের পরিপন্থী, এবং এটি আল্লাহর ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে অনিবার্য করে তোলে। এতে তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও সখ্যতা রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ধমক ও সতর্কবার্তা রয়েছে।

 

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান তাদের সাথে বন্ধুত্ব না করাকে আবশ্যক করে। সুতরাং তাদের সাথে বন্ধুত্বের বিদ্যমানতা ঈমানের অবিদ্যমানতাকে অনিবার্য করে, কারণ আবশ্যকীয় বিষয়ের (লাযিম) অনুপস্থিতি মূল বিষয়ের (মালযূম) অনুপস্থিতিকে দাবি করে। ইতি।

 

একাদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যারা মুমিনদের পরিবর্তে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে; তারা কি তাদের নিকট সম্মান অন্বেষণ করে? অথচ যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই জন্য।} এবং ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ 'জাওয়াইদুয যুহদ' গ্রন্থে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি কোনো বান্দার মাধ্যমে সম্মান তালাশ করে, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন)।

 

দ্বাদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা কামনা করে যে, তোমরাও যদি তাদের মতো কুফরি করতে তবে তোমরা সমান হয়ে যেতে। সুতরাং আল্লাহর পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদের যেখানেই পাও পাকড়াও করো এবং হত্যা করো; আর তাদের মধ্য থেকে কাউকে বন্ধু বা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করো না।}

ত্রয়োদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারা একে অপরের বন্ধু...} আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: {আর যারা কুফরি করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা তা না করো, তবে জমিনে ফিতনা ও মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال البغوي: قال ابن اسحاق: جعل الله المهاجرين والأنصار أهل ولاية في الدين دون من سواهم وجعل الكافرين بعضهم أولياء بعض، ثم قال: {إلا تفعلوه} وهو أن يتولى المؤمن الكافر دون المؤمن: {تكن فتنة في الأرض وفساد كبير} فالفتنة في الأرض قوة الكفر، والفساد الكبير ضعف الإسلام اهـ.

 

وقال ابن كثير: أي إن لم تجانبوا المشركين وتوالوا المؤمنين وإلاّ وقعت فتنة في الناس وهو التباس الأمر واختلاط المؤمنين بالكافرين فيقع بين الناس فساد منتشر عريض طويل اهـ.

الآية الرابعة عشرة: قوله تعالى: {ولا تركنوا إلى الذين ظلموا فتمسكم النار ومالكم من دون الله من أولياء ثم لا تنصرون} وهذا نهي من الله تبارك وتعالى عن الركون إلى الظالمين من الكفار والمنافقين والفساق والفجار، وإخبار منه تعالى بأن الركون إليهم موجب للعذاب في الدار الآخرة. قال الجوهري والهروي وغيرهما من أهل اللغة: الركون السكون إلى الشيء والميل إليه. وقال البغوي: هو المحبة والميل بالقلب.

 

قال ابن عباس رضي الله عنهما: لا تميلوا إلى الذين ظلموا. وعنه: هو الركون إلى الشرك. وعنه: لا تداهنوا. وقال السدي: لا تداهنوا الظلمة. وقال أبو العالية: لا ترضوا بأعمالهم.
ইমাম বাগাওয়ী বলেন: ইবনে ইসহাক বলেছেন: আল্লাহ তাআলা মুহাজির ও আনসারদেরই দ্বীনি অভিভাবকত্ব (ولاية) দান করেছেন অন্য সবার পরিবর্তে এবং কাফিরদের একে অপরের অভিভাবক (أولياء) করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: {যদি তোমরা তা না করো} অর্থাৎ যদি মুমিনরা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব (يتولى) করে: {তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হবে}। এখানে ফিতনা বলতে কুফরের শক্তি এবং মহা বিপর্যয় বলতে ইসলামের দুর্বলতা বোঝানো হয়েছে।

 

ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ যদি তোমরা মুশরিকদের পরিহার না করো এবং মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব (توالوا) না করো, তবে মানুষের মধ্যে ফিতনা দেখা দেবে। আর তা হলো দ্বীনি বিষয়ে বিভ্রান্তি এবং মুমিনদের সাথে কাফিরদের সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়া, যার ফলে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে।

চতুর্দশ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক (أولياء) থাকবে না, অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না}। এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে কাফির, মুনাফিক, পাপাচারী (فساق) ও পাপিষ্ঠদের (فجار) মধ্যে যারা জালিম, তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা (نهي)। আর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়া পরকালে আজাবের কারণ হবে। জাওহারী, হারাবী এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেন: 'রুকুন' (الركون) হলো কোনো কিছুর প্রতি স্থির হওয়া এবং সেদিকে ঝুঁকে পড়া। আর বাগাওয়ী বলেন: এটি হলো হৃদয়ের ভালোবাসা এবং অন্তরের টান।

 

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না। তাঁর থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত: এটি হলো শিরকের প্রতি অনুরাগী হওয়া। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত: তোমরা চাটুকারিতা (تداهنوا) করো না। সুদ্দী বলেন: তোমরা জালিমদের সাথে চাটুকারিতা (تداهنوا) করো না। আবু আলিয়া বলেন: তোমরা তাদের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ো না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن عكرمة: هو أن تطيعوهم أو تودوهم أو تصطنعوهم. قال بعض العلماء: معنى تصطنعوهم تولّوهم الأعمال كمن يولي الفساق والفجار. وقال ابن الأثير: الاصطناع افتعال من الصنيعة وهي العطية والكرامة والإحسان. وقال الزمخشري: النهي متناول للإنخراط في هواهم والإنقطاع إليهم ومصاحبتهم والرضى بأعمالهم والنسبة إليهم والتزيي بزيهم. قال بعض العلماء: وكذلك مجالستهم وزيارتهم ومداهنتهم ومدلين إلى زهرتهم وذكرهم بما فيه تعظيم لهم.

 

الآية الخامسة عشرة: قوله تعالى: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا بطانة من دونكم لا يألونكم خبالا ودوا ما عنتم} قال الجوهري: بطانة الرجل وليجته. وقال ابن الأثير: بطانة الرجل صاحب سره وداخلة أمره الذي يشاوره في أحواله. وقال البغوي في قوله تعالى {لا تتخذوا بطانة من دونكم}: أي أولياء وأصفياء من غير أهل ملّتكم وبطانة الرجل خاصته تشبيها ببطانة الثوب التي تلي بطنه لأنهم يستبطنون أمره ويطّلعون منه على مالا يطلع عليه غيرهم، ثم بين العلّة في النهي عن مباطنتهم فقال جل ذكره {لا يألونكم خبالا} أي لا يقصرون ولا يتركون جهدهم فيما يورثكم الشر والفساد اهـ.

وقال القرطبي في تفسيره: نهى الله سبحانه وتعالى المؤمنين بهذه الآية أن يتخذوا من الكافرين واليهود وأهل الأهواء دخلاء
ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত: এটি (মৈত্রী) হলো তাদের আনুগত্য করা অথবা তাদের ভালোবাসা অথবা তাদের অনুগ্রহ করা (تصطنعوهم)। কোনো কোনো আলিম বলেন: 'তাদের অনুগ্রহ করা' (تصطنعوهم) এর অর্থ হলো তাদের দায়িত্ব প্রদান করা, যেমন কেউ পাপাচারী (فساق) ও দুরাচারীদের (فجار) দায়িত্ব প্রদান করে। ইবনুল আসীর বলেন: 'ইসতিন’আ' (الاصطناع) শব্দটি 'সানি'আহ' (صنيعة) থেকে উদ্ভূত, যা মূলত দান (عطية), সম্মান প্রদর্শন (كرامة) ও অনুগ্রহ (إحسان) বুঝায়। যামাখশারী বলেন: এই নিষেধাজ্ঞা তাদের খেয়াল-খুশিতে নিমগ্ন হওয়া, তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়া, তাদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাদের কর্মে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, তাদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া এবং তাদের বেশভূষা গ্রহণ করার অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো আলিম বলেন: তদ্রূপ তাদের মজলিসে বসা, তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের তোষামোদ করা (مداهنة), তাদের বৈষয়িক সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং তাদের এমনভাবে স্মরণ করা যাতে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়—এসবই এর অন্তর্ভুক্ত।

 

পঞ্চদশ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু (بطانة) হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করে না; যা তোমাদের কষ্ট দেয় তারা তা-ই কামনা করে।} জাওহারী বলেন: ব্যক্তির 'বিতানাহ' (بطانة) হলো তার গোপন মিত্র (وليجة)। ইবনুল আসীর বলেন: কোনো ব্যক্তির 'বিতানাহ' (بطانة) হলো তার রহস্যের সঙ্গী এবং তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের এমন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি যার সাথে সে নিজের অবস্থা বা বিষয়াদিতে পরামর্শ করে থাকে। মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না} এর ব্যাখ্যায় বাগাভী বলেন: অর্থাৎ তোমাদের মিল্লাত বা দ্বীনের বাইরের কাউকে অভিভাবক (أولياء) বা অন্তরঙ্গ বন্ধু (أصفياء) হিসেবে গ্রহণ করো না। কোনো ব্যক্তির 'বিতানাহ' (بطانة) হলো তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ; এটি পোশাকের আস্তরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা শরীরের পেটের অংশ সংলগ্ন থাকে। কারণ তারা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকে এবং এমন বিষয় জানতে পারে যা অন্যরা জানতে পারে না। অতঃপর তাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার নিষেধাজ্ঞার কারণ বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করে না} অর্থাৎ, তোমাদের ক্ষতি ও অনিষ্ট (فساد) করার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনো কমতি করে না এবং তা থেকে বিরত থাকে না।

কুরতুবী তাঁর তাফসিরে বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে মুমিনদেরকে কাফির, ইহুদি এবং প্রবৃত্তি পূজারিদের (أهل الأهواء) অন্তরঙ্গ মিত্র (دخلاء) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৫)
وولائج يفاوضونهم في الآراء ويسندون إليهم أمورهم. وروى ابن أبي حاتم عن أبي الدهقانة قال: قيل لعمر بن الخطاب رضي الله عنه: إنّ ها هنا غلام من أهل الحيرة حافظا كاتبا فلو اتخذته كاتبا، فقال: قد اتخذت إذاً بطانة من دون المؤمنين. قال ابن كثير رحمه الله تعالى: ففي هذا الأثر مع هذه الآية دليل على أن أهل الذمة لا يجوز استعمالهم في الكتابة التي فيها استطالة على المسلمين واطلاع على دواخل أمورهم التي يخشى أن يفشوها إلى الأعداء من أهل الحرب.

 

الآية السادسة عشرة: قوله تعالى: {أم حسبتم أن تتركوا ولما يعلم الله الذين جاهدوا منكم ولم يتخذوا من دون الله ولا رسوله ولا المؤمنين وليجة والله خبير بما تعملون} قال الجوهري وغيره من أهل اللغة: وليجة الرجل خاصته وبطانته. وقال البغوي: وليجة بطانة وأولياء يوالونهم ويفشون إليهم أسرارهم، قال: وقال أبو عبيدة كل شيء أدخلته في شيء ليس منه فهو وليجة، والرجل يكون في القوم وليس منهم وليجة، فوليجة الرجل من يختص بدخيلة أمره دون الناس، يقال هو وليجتي وهم وليجتي للواحد والجمع. وقال الراغب الأصفهاني: الوليجة كل ما يتخذه الإنسان معتمدا عليه وليس من أهله، من قولهم فلان وليجة في القوم إذا لحق بهم وليس منهم إنسانا كان أو غيره. قال: {ولم يتخذوا من دون الله ولا رسوله ولا المؤمنين وليجة} وذلك مثل قوله: {لا تتخذوا اليهود والنصارى أولياء}.
এবং তারা এমন সব অন্তরঙ্গ বন্ধু (ولائج) যাদের সাথে তারা মতবিনিময় করে এবং তাদের ওপর নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ন্যস্ত করে। ইবনে আবি হাতেম আবু দেহকানা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে বলা হলো, "হিরার অধিবাসীদের মধ্যে এখানে একজন যুবক আছে, যে অত্যন্ত প্রখর স্মৃতির অধিকারী ও দক্ষ লেখক; আপনি যদি তাকে লেখক হিসেবে নিযুক্ত করতেন।" তিনি বললেন, "তাহলে তো আমি মুমিনদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু (بطانة) হিসেবে গ্রহণ করলাম।" ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: এই বর্ণনা (أثر) ও এই আয়াতের মধ্যে এ কথার দলিল রয়েছে যে, জিম্মিদের (أهل الذمة) এমন লেখালেখির কাজে নিযুক্ত করা জায়েজ নয় যেখানে মুসলিমদের ওপর আধিপত্য বিস্তার বা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকে, যে বিষয়গুলো হারবি (أهل الحرب) শত্রুদের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ষোড়শ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমাদের এমনিই ছেড়ে দেওয়া হবে, অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি যে তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু (وليجة) হিসেবে গ্রহণ করেনি? আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।} আল-জাওহারি এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেন: কোনো ব্যক্তির 'ওয়ালিজাহ' হলো তার বিশিষ্ট জন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু (بطانة)। আল-বাগাউয়ি বলেন: 'ওয়ালিজাহ' অর্থ হলো ঘনিষ্ঠ বন্ধু (بطانة) ও অভিভাবক (أولياء), যাদের সাথে তারা বন্ধুত্ব রাখে এবং তাদের কাছে নিজেদের গোপন কথা প্রকাশ করে। তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ বলেছেন, "কোনো জিনিসের মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করানো যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, সেটিই হলো ওয়ালিজাহ (وليجة)। কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়েও যদি তাদের সাথে মিশে থাকে, তবে সে ওয়ালিজাহ। সুতরাং কোনো ব্যক্তির ওয়ালিজাহ হলো সেই ব্যক্তি যে মানুষের ভিড়ে তার একান্ত গোপন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। একবচন ও বহুবচন উভয় ক্ষেত্রেই বলা হয়, 'সে আমার ওয়ালিজাহ' বা 'তারা আমার ওয়ালিজাহ'।" রাগেব আল-ইসফাহানি বলেন: মানুষ নিজের আপনজন নয় এমন কাউকে যখন নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন তাকে ওয়ালিজাহ (وليجة) বলা হয়। এটি আরবদের এই কথা থেকে এসেছে যে, 'অমুক ব্যক্তি এই কওমের মধ্যে ওয়ালিজাহ', যখন সে তাদের সাথে যোগ দেয় কিন্তু সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; হোক সে মানুষ কিংবা অন্য কিছু। তিনি বলেন: {এবং তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু (وليجة) হিসেবে গ্রহণ করেনি} - এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতোই: {তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করো না।}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৬)
فصل

 

إذا علم تحريم موالاة أعداء الله تعالى وموادتهم، فليعلم أيضا أن الأسباب الجالبة لموالاتهم وموادتهم كثيرة جدا، ومن أقربها وسيلة مساكنتهم في الديار، ولاسيما في ديارهم الخاصة بهم، ومخالطتهم في الأعمال ومجالستهم في المجالس ومصاحبتهم وزيارتهم واستزارتهم وتولي أعمالهم وتوليتهم في أعمال المسلمين والتزيي بزيِّهم والتأدب بآدابهم وتعظيمهم بالقول أو بالفعل. وكثير من المسلمين واقعون في بعض هذه الأفعال الذميمة، وبعضهم واقع في كثير منها فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

وكما أن الله سبحانه وتعالى قد كرر النهي لعباده المؤمنين عن موالاة أعدائه وشدد عليهم في ذلك وحذرهم مما يترتب على موالاتهم من الفتنة والفساد في الأرض وسخط الله وأليم عقابه في الدار الآخرة، فقد أمر تبارك وتعالى مع ذلك بالغلظة على أعدائه والشدة عليهم ومعاملتهم بما فيه إذلال لهم وتصغير وتحقير لشأنهم وكل ذلك بضد موالاتهم وموادتهم قال الله تعالى: {ياأيها النبي جاهد الكفار والمنافقين واغلظ عليهم} وقال تعالى: {يا أيها الذين آمنوا قاتلوا الذين يلونكم من الكفار وليجدوا فيكم غلظة} وقال تعالى: {قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر
পরিচ্ছেদ

 

যখন আল্লাহর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা বজায় রাখার নিষিদ্ধতা সম্পর্কে জানা গেল, তখন এটিও জেনে রাখা উচিত যে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা গড়ে তোলার কারণসমূহ অত্যন্ত বহুবিধ। এর মধ্যে অন্যতম নিকটবর্তী উপায় হলো তাদের জনপদে বসবাস করা, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে অবস্থান করা; এ ছাড়াও রয়েছে তাদের সাথে কাজকর্মে মেলামেশা করা, তাদের মজলিসে বসা, তাদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাদের দেখতে যাওয়া বা নিজ বাড়িতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো, তাদের কার্যাদি পরিচালনা করা অথবা মুসলমানদের কর্মক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব প্রদান করা, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করা, তাদের শিষ্টাচার অনুসরণ করা এবং কথা বা কাজের মাধ্যমে তাদের সম্মান প্রদর্শন করা। বহু সংখ্যক মুসলমান এই সকল নিন্দনীয় কার্যের কিছু অংশে লিপ্ত হয়ে পড়েছে, আবার কেউ কেউ এর অধিকাংশেই নিমজ্জিত; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

যেহেতু আল্লাহ (পবিত্র ও মহান) তাঁর মুমিন বান্দাদের তাঁর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বারবার নিষেধ করেছেন এবং এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাদের সাথে বন্ধুত্বের ফলে উদ্ভূত ফিতনা ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি, আল্লাহর অসন্তুষ্টি এবং পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন; তাই তিনি (বরকতময় ও সুউচ্চ) এর পাশাপাশি তাঁর শত্রুদের প্রতি রূঢ় ও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের সাথে এমন আচরণ করতে বলেছেন যা তাদের জন্য অবমাননাকর এবং যা তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদাকে তুচ্ছ ও হেয় প্রতিপন্ন করে। এর সবই হলো তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা রাখার বিপরীত। মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! আপনি কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন}। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের নিকটবর্তী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা খুঁজে পায়}। তিনি আরও বলেন: {তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না...}
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون} وقال تعالى: {محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم} إلى قوله تعالى: {ليغيظ بهم الكفار} وقال تعالى: {ولا يطأُون موطئا يغيظ الكفار ولا ينالون من عدو نيلا إلاّ كتب لهم به عمل صالح إن الله لايضيع أجر المحسنين} وقال تعالى: {ياأيها الذين آمنوا من يرتد منكم عن دينه فسوف يأتي الله بقوم يحبهم ويحبونه أذلة على المؤمنين أعزة على الكافرين}.

 

فصل

 

وقد وردت أحاديث كثيرة بالنهي عما فيه تعظيم لأعداء الله تعالى ولو بأدنى شيء من التعظيم، والمقصود من ذلك والله أعلم سد الذريعة إلى موالاتهم وموادتهم فمن ذلك بداءتهم بالسلام ومصافحتهم والترحيب بهم والقيام لهم وتصديرهم في المجالس والتوسيع لهم في الطريق، لما في الحديث الصحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لا تبدءوا اليهود والنصارى بالسلام فإذا لقيتم أحدهم في طريق فاضطروه إلى أضيقه) رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو داود والترمذي والبخاري في الأدب المفرد وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. ورواه أبو داود الطيالسي في مسنده بنحوه.

“এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তারা তা হারাম মনে করে না এবং তারা সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; তারা ঐসব কিতাবধারীদের অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে স্বহস্তে জিজিয়া প্রদান করে।” আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু...” মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: “যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন।” আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “এবং তারা এমন কোনো স্থানে পদার্পণ করে না যা কাফিরদের মনে ক্রোধের সৃষ্টি করে এবং শত্রুর পক্ষ থেকে এমন কোনো কিছু অর্জন করে না, যার বিনিময়ে তাদের জন্য নেক আমল লেখা হয় না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, তবে অচিরেই আল্লাহ এমন এক কওম নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি হবে কোমল এবং কাফিরদের প্রতি হবে কঠোর।”

 

পরিচ্ছেদ

 

আল্লাহ তাআলার শত্রুদের প্রতি সম্মান প্রদর্শিত হয় এমন সব বিষয় নিষিদ্ধ করে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা অতি সামান্য সম্মানও হয়। এর উদ্দেশ্য—আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের প্রতি বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার পথ রুদ্ধ করা। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাদের আগে সালাম প্রদান করা, মুসাফাহা করা, তাদের স্বাগত জানানো, তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া, মজলিসে তাদের প্রধান স্থানে বসানো এবং রাস্তায় তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া। কেননা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আগে সালাম দিও না; যখন পথে তাদের কারো সাথে তোমাদের দেখা হয়, তখন তাকে সংকীর্ণ পথের দিকে যেতে বাধ্য করো।” এটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং বুখারী আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। আবু দাউদ আত-তায়ালিসিও তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي رواية للبخاري في الأدب المفرد: (إذا لقيتم المشركين في الطريق فلا تبدءوهم بالسلام واضطروهم إلى أضيقها). ورواه الإمام أحمد في مسنده بنحوه.

 

وفي المسند أيضا عن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنّي راكب غدا إلى يهود فلا تبدءوهم بالسلام فإذا سلموا عليكم فقولوا وعليكم) ورواه ابن ماجة في سننه عن أبي عبد الرحمن الجهني رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله، وقد قيل أن أبا عبد الرحمن هذا هو عقبة بن عامر. قال الحافظ ابن حجر: قرأت بخط الحافظ عماد الدين ابن كثير أنه قيل هو عقبة بن عامر الصحابي المشهور. وقد يكون غيره فقد ذكر ابن عبد البر في كنية عقبة بن عامر ثمانية أقوال ولم يذكر فيها أبا عبد الرحمن. وذكر النووي فيها تسعة أقوال ولم يذكر فيها أبا عبد الرحمن والله أعلم.

 

وروى الإمام أحمد والبخاري في الأدب المفرد والنسائي والحافظ الضياء في المختارة عن أبي بصرة الغفاري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل حديث عقبة.

وروى أبو نعيم في الحلية عن علي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تساووهم في المجلس وألجئوهم إلى أضيق الطرق فإن سبّوكم فاضربوهم وإن ضربوكم فاقتلوهم).
ইমাম বুখারি তাঁর আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন: (যখন তোমরা রাস্তায় মুশরিকদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তোমরা তাদের আগে সালাম প্রদান করবে না এবং তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণতম অংশে যেতে বাধ্য করবে)। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

মুসনাদ গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, উকবা বিন আমির (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আমি আগামীকাল ইয়াহুদিদের নিকট সওয়ার হয়ে যাব। সুতরাং তোমরা তাদের আগে সালাম দিবে না। তারা যদি তোমাদের সালাম প্রদান করে, তবে তোমরা বলবে— ওয়া আলাইকুম)। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু আবদুর রহমান আল-জুহানি (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই আবু আবদুর রহমান হলেন মূলত উকবা বিন আমির। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: আমি হাফেজ ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসিরের হস্তলিপিতে পড়েছি যে, এটি বলা হয়েছে যে তিনি হলেন প্রখ্যাত সাহাবি (صحابي) উকবা বিন আমির। তবে তিনি অন্য কেউও হতে পারেন; কেননা ইবনে আবদুল বার উকবা বিন আমিরের উপনামের ক্ষেত্রে আটটি মত উল্লেখ করেছেন কিন্তু সেখানে আবু আবদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। ইমাম নববীও এক্ষেত্রে নয়টি মত উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে আবু আবদুর রহমান নামটি উল্লেখ করেননি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

ইমাম আহমদ, আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বুখারি, নাসায়ি এবং আল-মুখতারা গ্রন্থে হাফেজ জিয়া আবু বাসরা আল-গিফারি (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে উকবা (রা.)-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু নুআয়ম আল-হিলইয়া গ্রন্থে আলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (মজলিসে তোমরা তাদের সমান হবে না এবং তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণতম অংশে যেতে বাধ্য করবে। যদি তারা তোমাদের গালি দেয় তবে তাদের প্রহার করো, আর যদি তারা তোমাদের প্রহার করে তবে তাদের হত্যা করো)।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي رواية قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (صغروا بهم كما صغر الله بهم). قال أبو داود: قلت لأبي عبد الله يعني أحمد بن حنبل: تكره أن يقال للرجل الذمي كيف أصبحت أو كيف حالك أو كيف أنت أو نحو هذا؟ قال: نعم، هذا عندي أكثر من السلام. وقال أبو عبد الله: إذا لقيته في الطريق فلا توسع له.

 

وقال أبو داود أيضا سمعت أحمد سئل: أيبتدأ الذمي بالسلام إذا كانت له إليه حاجة؟ قال: لا يعجبني. وذكر غير أبي داود أن أحمد رحمه الله تعالى سئل عن مصافحة أهل الذمة، فكرهه. وروى أبو نعيم في الحلية من طريق اسحاق ابن راهويه حدثنا بقية حدثني محمد القشيري عن أبي الزبير عن جابر رضي الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يصافح المشركون أو يكنّوا أو يرحب بهم.

 

ومما يجب النهي عنه ما يفعله كثير من الجهال في زماننا إذا لقي أحدهم عدوّ الله سلم عليه ووضع يده على صدره إشارة إلى أنه يحبه محبة ثابتة في قلبه أو يشير بيده إلى رأسه إشارة إلى أن منزلته عنده على الرأس. وهذا الفعل المحرم يخشى على فاعله أن يكون مرتدا عن الإسلام لأن هذا من أبلغ الموالاة والموادة والتعظيم لأعداء الله تعالى وقد قال تعالى: {ومن يتولهم منكم فإنه منهم}.

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তাদেরকে হীনজ্ঞান করো, যেমন আল্লাহ তাদের হীন করেছেন।" আবু দাউদ বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে, অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললাম: কোনো জিম্মি ব্যক্তিকে কি 'আপনার সকাল কেমন কাটলো' বা 'আপনার অবস্থা কেমন' বা 'আপনি কেমন আছেন' অথবা এই জাতীয় কিছু বলা কি আপনি অপছন্দ (كره) করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি আমার নিকট সালাম দেওয়ার চেয়েও গুরুতর। আবু আব্দুল্লাহ আরও বলেন: যদি পথে তার সাথে তোমার দেখা হয়, তবে তাকে রাস্তা ছেড়ে দিও না।

 

আবু দাউদ আরও বলেন, আমি আহমাদকে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি: যদি কোনো জিম্মি ব্যক্তির নিকট কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে কি তাকে আগে সালাম দেওয়া যাবে? তিনি বললেন: এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। আবু দাউদ ব্যতীত অন্যরাও উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ রাহিমাহুল্লাহকে আহলে জিম্মাহর সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অপছন্দ (كرهه) করেন। আবু নুয়াইম তার হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মাদ আল-কুশাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করতে, তাদের কুনিয়াত (يكنّوا) তথা উপনামে ডাকতে কিংবা তাদের স্বাগতম (يرحب بهم) জানাতে নিষেধ করেছেন।

 

আর যা থেকে বারণ করা আবশ্যক তা হলো আমাদের বর্তমান সময়ের অনেক মূর্খ লোক যা করে থাকে; যখন তাদের কেউ আল্লাহর কোনো শত্রুর সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তাকে সালাম দেয় এবং নিজের হাত বুকের ওপর রাখে—এটি বোঝাতে যে তার প্রতি অন্তরে অটুট ভালোবাসা রয়েছে, অথবা হাত দিয়ে মাথার দিকে ইশারা করে—এটি প্রকাশ করতে যে তার নিকট ওই ব্যক্তির মর্যাদা সুউচ্চ। এই হারাম (المحرم) কাজটির কর্তার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত বা মুরতাদ (مرتدا) হয়ে যেতে পারে; কেননা এটি আল্লাহর শত্রুদের প্রতি চরম মাত্রার বন্ধুত্ব (الموالاة), হৃদ্যতা ও সম্মান প্রদর্শনের নামান্তর। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চিতভাবেই তাদের অন্তর্ভুক্ত।"

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২০)
فصل

 

قال ابن مفلح في الفروع: وتحرم العيادة والتهنئة والتعزية لهم كالتصدير والقيام والبداءة بالسلام وكمبتدع يجب هجره. وعنه: يجوز وفاقا لأبي حنيفة والشافعي. وعنه: لمصلحة راجحة كرجاء الإسلام اختاره شيخنا. ومعناه قول الآجري وأنه قول العلماء أنه يعاد ويعرض عليه الإسلام وقد نقل عنه أبو داود أنه كان يريد أن يدعوه للإسلام فنعم اهـ.

 

قلت: أمّا عيادة المشرك والكتابي لعرض الإسلام عليه إذا رجى إسلامه فالصحيح جواز ذلك، والدليل عليه ما في الصحيحين وغيرهما عن سعيد بن المسيب عن أبيه قال: لما حضرت أبا طالب الوفاة جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل بن هشام وعبد الله بن أبي أمية فقال: (يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله) فقال أبو جهل وعبد الله بن أبي أمية: يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرضها عليه ويعودان بتلك المقالة. الحديث.

وفي صحيح البخاري وسنن أبي داود والنسائي عن أنس رضي الله عنه قال: كان غلام يهودي يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له: أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده فقال له: أطع أبا القاسم. فأسلم فخرج النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول: (الحمد لله الذي أنقذه من النار).
পরিচ্ছেদ

 

ইবনে মুফলিহ তাঁর 'আল-ফুরু' গ্রন্থে বলেন: তাদের (অমুসলিমদের) অসুস্থাবস্থায় দেখতে যাওয়া, অভিনন্দন জানানো এবং সমবেদনা প্রকাশ করা হারাম; যেমন মজলিসের অগ্রভাগে স্থান দেওয়া, সম্মানে দণ্ডায়মান হওয়া এবং প্রথমে সালাম প্রদান করা হারাম। আর এটি সেই বিদয়াতি (مبتدع) ব্যক্তির মতো যার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা ওয়াজিব। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত আরেকটি মতানুসারে: এটি বৈধ, যা ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম শাফিয়ি-এর মতের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: কোনো প্রবল জনস্বার্থের কারণে এটি বৈধ, যেমন তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা করা; আমাদের শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এই মতটিই পছন্দ করেছেন। এর অর্থ ইমাম আজুররি-এর বক্তব্যের অনুরূপ এবং এটিই আলিমগণের অভিমত যে, তাকে দেখতে যাওয়া হবে এবং তার কাছে ইসলাম পেশ করা হবে। আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিতে চেয়েছিলেন, আর এটি উত্তম। সমাপ্ত।

 

আমি বলছি: মুশরিক এবং আহলে কিতাবদের ইসলাম গ্রহণের আশা থাকলে ইসলাম পেশ করার উদ্দেশ্যে তাদের অসুস্থাবস্থায় দেখতে যাওয়া সঠিক (صحيح) মতে বৈধ। এর দলিল হলো সহিহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আবু তালিবের মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবু জাহল ইবনে হিশাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহকে উপস্থিত পেলেন। তিনি বললেন: (হে চাচা, আপনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলুন, এটি এমন এক কালিমা যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব)। তখন আবু জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ বলল: হে আবু তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মাদর্শ থেকে বিমুখ হচ্ছেন? আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনবরত কালিমাটি তাঁর কাছে পেশ করতে থাকলেন এবং তারাও বারবার সেই একই কথা বলতে লাগল। হাদিস।

সহিহ বুখারি, সুনানে আবু দাউদ এবং নাসাঈতে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: এক ইহুদি বালক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমত করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার শিয়রে বসলেন এবং তাকে বললেন: ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার পিতার দিকে তাকালো যে তার পাশেই উপস্থিত ছিল। পিতা বলল: আবুল কাসেমের আনুগত্য করো। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে এই বলতে বলতে বের হলেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২১)
وأما تهنأتهم وتعزيتهم فالأصح تحريم ذلك كما جزم به كثير من العلماء وعللوا ذلك بأنه يحصل الموالاة ويثبت المودّة ولما فيه من تعظيم أعداء الله تعالى فيحرم لذلك كما تحرم بداءتهم بالسلام والتوسيع لهم في الطريق.

ومما لا ريب فيه أنه من موالاة أعداء الله وموادتهم ما يفعله بعض الناس من الذهاب إلى أعداء الله تعالى في أيام عيدهم فيدخلون عليهم في بيوتهم وكنائسهم ويهنئونهم بأعيادهم الباطلة وما هم فيه من السرور بها، ولقد ذكر لنا أن هذا يفعله كثير من المنتسبين إلى العلم فضلا عن العامة. وقد قيل في تفسير قوله تعالى: {والذين لا يشهدون الزور} أن المراد به أعياد المشركين حكاه البغوي عن مجاهد، وحكاه ابن كثير عن أبي العالية وطاووس وابن سيرين والضحاك والربيع بن أنس وغيرهم. وروى أبو الشيخ الأصبهاني بإسناده عن عطاء بن يسار قال: قال عمر رضي الله عنه: إياكم ورطانة الأعاجم وأن تدخلوا على المشركين يوم عيدهم في كنائسهم. وروى البيهقي بإسناد صحيح عن عطاء بن دينار قال: قال عمر رضي الله عنه: لا تعلموا رطانة الأعاجم ولا تدخلوا على المشركين في كنائسهم يوم عيدهم فإن السخطة تنزل عليهم.

 

وروى أيضا بإسناده عن البخاري صاحب الصحيح قال: قال لي إبن أبي مريم: أنبأنا نافع بن يزيد سمع سليمان بن أبي زينب وعمرو بن الحارث سمع سعيد بن سلمة سمع أباه سمع عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: اجتنبوا أعداء الله في عيدهم.

আর তাদের (অমুসলিমদের) উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো এবং শোক প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো এটি হারাম, যেমনটি অনেক আলেম নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন। তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এতে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ভালোবাসা সুদৃঢ় হয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর শত্রুদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তাই এটি হারাম, ঠিক যেমনটি তাদের আগে সালাম দেওয়া এবং রাস্তায় তাদের জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দেওয়া হারাম।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং হৃদ্যতা প্রদর্শনের একটি রূপ হলো যা কিছু মানুষ করে থাকে—তাদের উৎসবের দিনগুলোতে আল্লাহর শত্রুদের কাছে যাওয়া, তাদের ঘরবাড়ি ও গির্জায় প্রবেশ করা এবং তাদের বাতিল উৎসব ও সে উপলক্ষে তাদের আনন্দ-উল্লাসের জন্য তাদের শুভেচ্ছা জানানো। আমাদের কাছে এটি বর্ণিত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম, ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিও এটি করে থাকেন। মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য দেয় না} এর তাফসিরে বলা হয়েছে যে, এখানে মুশরিকদের উৎসবসমূহকে বোঝানো হয়েছে; এটি বাগাবী মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কাসীর আবুল আলিয়াহ, তাউস, ইবনে সিরিন, দাহহাক, রাবি ইবনে আনাস ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আবুশ শায়খ আল-আসবাহানি তার সনদ (إسناد)-সহ আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: তোমরা অনারবদের ভাষা এবং মুশরিকদের উৎসবের দিনে তাদের গির্জায় প্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো। বায়হাকি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আতা ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: তোমরা অনারবদের ভাষা শিখো না এবং মুশরিকদের উৎসবের দিনে তাদের গির্জায় প্রবেশ করো না, কারণ তখন তাদের ওপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি অবতীর্ণ হয়।

 

তিনি আরও তার সনদ (إسناد)-সহ সহিহ বুখারী-র সংকলক ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি মারইয়াম আমাকে বলেছেন: নাফে ইবনে ইয়াযিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সুলাইমান ইবনে আবি যায়নাব ও আমর ইবনুল হারিস থেকে শুনেছেন, তারা সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে শুনেছেন, তিনি তার পিতা থেকে শুনেছেন, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর শত্রুদের তাদের উৎসবের দিনে পরিহার করো।

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২২)
قال عبد الملك بن حبيب: سئل ابن القاسم عن الركوب في السفن التي تركب فيها النصارى إلى أعيادهم، فكره ذلك مخافة نزول السخط عليهم بشركهم الذي اجتمعوا عليه. قال: وكره ابن القاسم للمسلم أن يهدي للنصراني شيئا في عيدهم مكافأة له ورآه من تعظيم عيده وعونا له على كفره ألا ترى أنه لا يحل للمسلمين أن يبيعوا من النصارى شيئا من مصلحة عيدهم لا لحما ولا إداما ولا ثوبا ولا يعارون دابة ولا يعاونون على شيء من عيدهم لأن ذلك من تعظيم شركهم ومن عونهم على كفرهم، وينبغي للسلاطين أن ينهوا المسلمين عن ذلك وهو قول مالك وغيره لم أعلم اختلف فيه. وأكل ذبائح أعيادهم داخل في هذا الذي اجتمع على كراهته بل هو عندي أشد. هذا كله كلام ابن حبيب المالكي نقله عنه شيخ الإسلام أبو العباس أحمد ابن تيمية رحمه الله تعالى في كتاب (اقتضاء الصراط المستقيم) ونقل كلاما كثيرا لأئمة السلف في هذا المعنى فليراجع فإنه مهم مفيد لكل من كان الحق ضالته.

 

وإذا كان الخليفة الراشد الذي أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالاقتداء به قد نهى عن مجرد الدخول على أعداء الله تعالى في يوم عيدهم فكيف يقال في العصاة الذين يدخلون عليهم ويهنئونهم بأعيادهم الباطلة ولعلهم مع ذلك يتطلقون في وجوه أعداء الله تعالى ويظهرون الفرح والسرور بما فرح به أعداء الله وسروا به من أعيادهم الباطلة.
আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব বলেন: ইবনুল কাসিমকে সেই সব জাহাজে আরোহণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে খ্রিস্টানরা তাদের উৎসবের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে। তিনি একে অপছন্দ (كره) করেছেন এই ভয়ে যে, তাদের শিরকের কারণে তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ অবতীর্ণ হতে পারে যার জন্য তারা একত্রিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: ইবনুল কাসিম একজন মুসলমানের জন্য তাদের উৎসব উপলক্ষে কোনো খ্রিস্টানকে প্রতিদান স্বরূপ কোনো কিছু উপহার দেওয়াকে অপছন্দ (كره) করেছেন। তিনি একে তাদের উৎসবকে সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের কুফরিতে সহায়তা হিসেবে গণ্য করেছেন। আপনি কি দেখেন না যে, মুসলমানদের জন্য খ্রিস্টানদের কাছে তাদের উৎসবের প্রয়োজনে কোনো কিছু বিক্রি করা বৈধ নয় (لا يحل)—না গোশত, না তরকারি, আর না পোশাক; তারা কোনো বাহনও ধার দেবে না এবং তাদের উৎসবের কোনো বিষয়েই সহায়তা করবে না। কারণ এটি তাদের শিরককে সম্মান জানানো এবং কুফরিতে তাদের সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত। শাসকদের উচিত মুসলমানদের এসব থেকে নিষেধ করা। এটিই ইমাম মালিক ও অন্যদের অভিমত; এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই। তাদের উৎসবের জবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়াও এই অপছন্দনীয়তার (كراهة) অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ঐক্যমত্য হয়েছে, বরং আমার নিকট এটি আরও গুরুতর। এ সব কথা ইবনে হাবিব আল-মালিকির। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তাইমিয়াহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তার ‘ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ কিতাবে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এই মর্মে পূর্বসূরি (سلف) ইমামগণের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যা অনুসন্ধান করা উচিত। কেননা যে ব্যক্তি সত্যের সন্ধানী তার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী।

 

যদি খোলাফায়ে রাশেদিন—যাদের অনুসরণ করার নির্দেশ রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) দিয়েছেন—আল্লাহর শত্রুদের উৎসবের দিনে কেবল তাদের মাঝে প্রবেশ করতেই নিষেধ করে থাকেন, তবে সেই পাপাচারীদের (عصاة) ব্যাপারে কী বলা যাবে যারা তাদের কাছে যায় এবং তাদের বাতিল (باطل) উৎসবগুলোতে শুভেচ্ছা জানায়? সম্ভবত তারা আল্লাহর শত্রুদের সামনে হাস্যোজ্জ্বল মুখে উপস্থিত হয় এবং আল্লাহর শত্রুরা তাদের বাতিল (باطل) উৎসব নিয়ে যে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে, তারাও তাতে আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৩)
الجواب أن يقال: لا يشك مسلم عاقل شم أدنى رائحة من العلم أن هذا من الموالاة والموادة لأعداء الله تعالى ومن المحادة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم واتباع غير سبيل المؤمنين، وقد قال الله تعالى: {ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نولِّه ما تولى ونصله جهنَّم وساءت مصيرا} ومن هذا الباب ما أحدثه بعض المنتسبين إلى الإسلام في زماننا من الأعياد الباطلة كعيد الثورة، وعيد الجلاء، وعيد الاستقلال وغير ذلك من أعيادهم الباطلة فلا يجوز للمسلم حضور شيء من هذه الأعياد المبتدعة ولا التهنئة بها فضلا عن السرور بها. وكذلك عيد الجلوس الذي أحدثه بعض المسلمين فلا تجوز التهنئة به ولا السرور به.

 

وقد قال ابن القيم رحمه الله تعالى في أحكام الذمة:

 

(فصل في تهنئتهم بزوجة أو ولد أو قدوم غائب أو عافية أو سلامة من مكروه ونحو ذلك) وقد اختلفت الرواية في ذلك عن أحمد فأباحها مرة ومنعها أخرى والكلام فيها كالكلام في التعزية والعيادة ولا فرق بينهما، ولكن ليحذر الوقوع فيما يقع فيه الجهّال من الألفاظ التي تدل على رضاه بدينه كما يقول: أحدهم متّعك الله بدينك أو يقول: له أعزك الله أو أكرمك، إلاّ أن يقول: أكرمك الله بالإسلام وأعزّك به ونحو ذلك، فهذا في التهنئة بالأقوال المشتركة.
উত্তর হলো এই যে: সামান্যতম ইলমের সৌরভ লাভ করেছেন এমন কোনো বিবেকবান মুসলিমের এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না যে, এটি আল্লাহ তাআলার শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতি পোষণ করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরোধিতা করা এবং মুমিনদের পথ ব্যতিরেকে অন্য পথের অনুসরণ করার শামিল। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: “কারো কাছে হেদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায় আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস।” আমাদের যুগে ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু মানুষের উদ্ভাবিত বাতিল উৎসবসমূহ এই পর্যায়ভুক্ত, যেমন: বিপ্লব দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং তাদের এজাতীয় অন্যান্য বাতিল উৎসবসমূহ। সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য এই সকল নব-উদ্ভাবিত উৎসবে উপস্থিত হওয়া কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৈধ নয়, এতে আনন্দ প্রকাশ করা তো দূরের কথা। অনুরূপভাবে সিংহাসন আরোহণ দিবস, যা কিছু মুসলিম উদ্ভাবন করেছে, সে উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন বা আনন্দ প্রকাশ করা বৈধ নয়।

 

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘আহকামু আহলিজ জিম্মাহ’ গ্রন্থে বলেছেন:

 

(পরিচ্ছেদ: স্ত্রী, সন্তান, অনুপস্থিত ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন, সুস্থতা কিংবা বিপদ থেকে মুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো প্রসঙ্গে)। এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) ভিন্ন ভিন্ন; তিনি কখনো এটিকে অনুমতি দিয়েছেন আবার কখনো নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনা শোক প্রকাশ ও রোগী দেখতে যাওয়ার আলোচনার মতোই এবং এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে মূর্খরা যে সকল শব্দ ব্যবহার করে যা তাদের ধর্মের প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ দেয়, তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে; যেমন কেউ বলে: ‘আল্লাহ তোমাকে তোমার ধর্মের ওপর শান্তিতে রাখুন’ অথবা বলে: ‘আল্লাহ তোমাকে মর্যাদাবান করুন’ কিংবা ‘সম্মানিত করুন’। তবে যদি এভাবে বলে: ‘আল্লাহ তোমাকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করুন’ এবং ‘এর মাধ্যমে তোমাকে মর্যাদা দান করুন’ কিংবা এই জাতীয় শব্দ, তবে তা সাধারণ বা নিরপেক্ষ বাক্যের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به فحرام بالاتفاق، مثل أن يهنئهم بأعيادهم وصومهم فيقول عيد مبارك عليك، أو تهنأ بهذا العيد ونحوه، فهذا إن سلم قائله من الكفر فهو من المحرمات وهو بمنزلة التهنئة بسجوده للصليب بل ذلك أعظم إثما عند الله وأشد مقتا من التهنئة بشرب الخمر وقتل النفس وارتكاب الفرج الحرام ونحوه، وكثير ممن لا قدْر للدين عنده يقع في ذلك ولا يدرك قبح ما فعل، فمن هنّأ عبدا بمعصية أو بدعة أو كفر فقد تعرض لمقت الله وسخطه.

 

وقد كان أهل الورع من أهل العلم يتجنّبون تهنئة الظلمة بالولايات وتهنئة الجهال بمنصب القضاء والتدريس والافتاء تجنبا لمقت الله وسقوطهم من عينه اهـ.

 

فانظر إلى حكايته الاتفاق على تحريم تهنئة أعداء الله تعالى بأعيادهم الباطلة وانظر إلى ما وقع فيه كثير من المسلمين في زماننا لتعرف غربة الدين والله المستعان.

 

فصل

 

ومما ورد النهي عنه أيضا مصاحبة أعداء الله تعالى ودعوتهم إلى طعام كما في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا تصاحب إلا مؤمنا ولا يأكل طعامك إلا تقي) رواه الإمام أحمد وأبو داود الطيالسي وأبو داود السجستاني والترمذي والدارمي وابن حبان والحاكم وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه.
পক্ষান্তরে কুফরের বিশেষ ধর্মীয় নিদর্শনসমূহের অভিনন্দন জানানো সর্বসম্মতভাবে হারাম। যেমন তাদেরকে তাদের উৎসব বা রোজা উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়ে বলা যে, "আপনার উৎসব বরকতময় হোক" অথবা "এই উৎসবে আপনাকে অভিনন্দন" বা এই জাতীয় কিছু। এ ধরনের বক্তব্য প্রদানকারী যদি কুফর থেকে বেঁচেও যায়, তবে এটি হারাম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি ক্রুশকে সিজদা করার জন্য অভিনন্দন জানানোর সমতুল্য, বরং তা আল্লাহর নিকট মদ্যপান করা, অন্যায়ভাবে হত্যা করা এবং অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অভিনন্দন জানানোর চেয়েও গুরুতর অপরাধ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। দ্বীনের প্রতি যাদের কোনো গুরুত্ব নেই, তাদের অনেকেই এই কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের কাজের জঘন্যতা সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বান্দাকে পাপ, বিদআত বা কুফরের জন্য অভিনন্দন জানাল, সে মূলত আল্লাহর ঘৃণা ও ক্রোধের সম্মুখীন হলো।

 

আলেমদের মধ্য থেকে যারা পরহেজগার ছিলেন, তারা জালেমদের পদপ্রাপ্তিতে এবং মূর্খদের বিচারপতির পদ, শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের পদে আসীন হওয়ার ক্ষেত্রে অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত থাকতেন; আল্লাহর ঘৃণা এবং তাঁর দৃষ্টি থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য। সমাপ্ত।

 

সুতরাং আল্লাহর শত্রুদের বাতিল উৎসবসমূহে অভিনন্দন জানানো হারাম হওয়ার বিষয়ে তিনি যে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন তার প্রতি লক্ষ্য করুন এবং আমাদের সময়ের অনেক মুসলিম যে অবস্থায় পতিত হয়েছে তা দেখুন, যাতে আপনি দ্বীনের নিঃসঙ্গতা সম্পর্কে জানতে পারেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

পরিচ্ছেদ

 

যেসব বিষয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে আল্লাহর শত্রুদের সাথে সাহচর্য রাখা এবং তাদেরকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া অন্যতম। যেমনটি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: (মুমিন ব্যতীত অন্য কারো সাহচর্য গ্রহণ করো না এবং মুত্তাকি ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খাদ্য গ্রহণ না করে)। এটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিরমিজি, দারেমি, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম একে সনদ সহিহ (صحيح الإسناد) বলেছেন, তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি এবং জাহাবি তাঁর তালখিসে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الخطابي: إنما جاء هذا في طعام الدعوة دون طعام الحاجة وذلك أن الله سبحانه قال: {ويطعمون الطعام على حبه مسكينا ويتيما وأسيرا} ومعلوم أن أسراهم كانوا كفارا غير مؤمنين ولا أتقياء. وإنما حذر من صحبة من ليس بتقي وزجر عن مخالطته ومؤاكلته لأن المطاعمة توقع الألفة والمودّة في القلوب، يقول لا تؤالف من ليس من أهل التقوى والورع ولا تتخذه جليسا تطاعمه وتنادمه اهـ.

وروى الإمام أحمد أيضا وأبو داود الطيالسي وأبو داود السجستاني والترمذي والحاكم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (الرجل على دين خليله فلينظر أحدكم من يخالل). وفي رواية لأحمد: (المرء على دين خليله فلينظر أحدكم من يخالط). قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب. وقال الحاكم: صحيح إن شاء الله تعالى ووافقه الذهبي في تلخيصه وصححه أيضا النووي.

 

فصل

 

ومما ورد النهي عنه أيضا مكاتبة أعداء الله تعالى وتكنيتهم بكنى المسلمين كأبي عبد الله وأبي القاسم، وكذلك تلقيبهم بألقاب المسلمين كعز الدين ونحوه. وقد روى أبو الشيخ الأصبهاني بإسناده أن عمر رضي الله عنه كتب: ألاّ تكاتبوا أهل الذمة فتجري بينكم وبينهم المودة ولا تكنّوهم وأذلوهم ولا تظلموهم، وفي الشروط التي التزم بها أهل الذمة وأمضاها عليهم عمر رضي الله عنه فمن بعده أنهم لا يكتنون بكنى المسلمين.

 

وقد تقدم قريبا حديث جابر رضي الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم -
আল-খাত্তাবি বলেন: এটি কেবল দাওয়াতের খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, প্রয়োজনের খাবারের ক্ষেত্রে নয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {তারা খাবারের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দীদের খাবার দান করে}। এটি সর্বজনবিদিত যে, তাদের বন্দীরা ছিল কাফের, তারা মুমিন বা মুত্তাকি (تقي) ছিল না। তিনি কেবল তাদের সঙ্গ থেকে সতর্ক করেছেন যারা মুত্তাকি (تقي) নয় এবং তাদের সাথে মেলামেশা ও একত্রে আহার করতে বারণ করেছেন। কারণ একত্রে আহার হৃদয়ে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে। তিনি বলতে চেয়েছেন, যারা তাকওয়া (تقوى) ও পরহেজগারির (ورع) অধিকারী নয় তাদের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তুলো না এবং তাকে এমন অন্তরঙ্গ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করো না যার সাথে তুমি একত্রে আহার ও পানাহার করো। সমাপ্ত।

ইমাম আহমাদও বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ আল-তায়ালিসি, আবু দাউদ আল-সিজিস্তানি, তিরমিজি ও হাকিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (ব্যক্তি তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে, তাই তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে)। আহমদের এক বর্ণনায় রয়েছে: (ব্যক্তি তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে, তাই তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে মেলামেশা করছে)। তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) গরীব (غريب) হাদিস। হাকিম বলেন: ইনশাআল্লাহ এটি সহীহ (صحيح) এবং যাহাবি তার তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং নববীও একে সহীহ (صحيح) বলেছেন।

 

পরিচ্ছেদ (فصل)

 

যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে আরও রয়েছে আল্লাহর শত্রুদের কাছে পত্রালাপ করা এবং তাদের মুসলমানদের কুনিয়া (كنية) যেমন আবু আবদুল্লাহ ও আবুল কাসিম দ্বারা ভূষিত করা, একইভাবে তাদের মুসলমানদের লকব (لقب) যেমন ইজ্জুদ্দিন ইত্যাদি উপাধিতে সম্বোধন করা। আবু আল-শায়খ আল-আসবাহানি তার সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন যে, ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লিখেছিলেন: তোমরা জিম্মিদের (أهل الذمة) কাছে পত্র পাঠাবে না, যার ফলে তোমাদের ও তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি হয়; তাদের কুনিয়া (كنية) দেবে না এবং তাদের প্রভাবহীন রাখবে কিন্তু তাদের ওপর জুলুম করবে না। জিম্মিরা (أهل الذمة) যেসব শর্তের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল এবং যা ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তার পরবর্তীগণ তাদের ওপর কার্যকর করেছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল তারা মুসলমানদের কুনিয়া (كنية) ধারণ করবে না।

 

অল্পক্ষণ আগেই জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি অতিক্রান্ত হয়েছে যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন -
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৬)
أن يصافح المشركون أو يكنّوا ويرحب بهم. رواه أبو نعيم في الحلية.

 

فصل

 

و‌‌لا يجوز مدح أعداء الله تعالى لما رواه ابن أبي الدنيا وأبو يعلى والبيهقي في شعب الإيمان عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا مدح الفاسق غضب الرب واهتز لذلك العرش).

فصل

 

ولا يجوز وصف أعداء الله تعالى بصفات الإجلال والتعظيم كالسيد، والعبقري، والسامي ونحو ذلك، لما رواه أبو داود والنسائي والبخاري في الأدب المفرد عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تقولوا للمنافق سيدنا فإنه إن يكن سيدا فقد أسخطتم ربكم عز وجل ورواه الحاكم في مستدركه وصححه، ورواه البيهقي في شعب الإيمان بنحوه. ولفظ الحاكم: (إذا قال الرجل للمنافق يا سيد فقد أغضب ربه تبارك وتعالى. ولفظ البيهقي: (إذا قال الرجل للمنافق ياسيد فقد باء بغضب ربه). قال الطيبي: ومولانا داخل في هذا الوعيد بل أشد وكذا قوله أستاذي اهـ.

 

وقد قلت المبالاة بشأن هذا الحديث الشريف حتى صار إطلاق إسم السيد ونحوه على كبراء الكفار والمنافقين مألوفا عند كثير من المسلمين في هذه الأزمان،
মুশরিকদের সাথে করমর্দন করা অথবা তাদের উপনামে সম্বোধন করা এবং তাদের স্বাগতম জানানো। আবু নুআইম এটি হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

পরিচ্ছেদ

 

এবং ‌‌মহান আল্লাহর শত্রুদের প্রশংসা করা বৈধ নয়; কারণ ইবনে আবিদ দুনিয়া, আবু ইয়ালা এবং বায়হাকী শুআবুল ইমান গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন কোনো পাপাচারীর (فاسق) প্রশংসা করা হয়, তখন প্রতিপালক রাগান্বিত হন এবং এর ফলে আরশ প্রকম্পিত হয়।"

পরিচ্ছেদ

 

এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের সম্মান ও মর্যাদাসূচক বিশেষণে ভূষিত করা বৈধ নয়, যেমন: সাইয়্যিদ, আবকারি, সামি এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। কারণ আবু দাউদ, নাসাঈ এবং বুখারি আল-আদাবুল মুফরাদে বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা মুনাফিককে (منافق) 'আমাদের সাইয়্যিদ' বলো না; কারণ সে যদি সত্যিই সাইয়্যিদ হয়, তবে তোমরা তোমাদের মহান প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করলে।" ইমাম হাকেম এটি তাঁর আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। বায়হাকী শুআবুল ইমানেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাকেমের শব্দবিন্যাস হলো: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো মুনাফিককে (منافق) 'হে সাইয়্যিদ' বলে সম্বোধন করে, তবে সে তার বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালককে রাগান্বিত করে।" আর বায়হাকীর শব্দবিন্যাস হলো: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো মুনাফিককে (منافق) 'হে সাইয়্যিদ' বলে ডাকে, তবে সে তার প্রতিপালকের ক্রোধের শিকার হয়।" তীবী বলেন: "আমাদের মওলানা শব্দটিও এই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত, বরং এটি আরও বেশি গুরুতর; অনুরূপভাবে 'আমার ওস্তাদ' বলাও।" ইতি।

 

এই সম্মানিত হাদিসটির ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান বর্তমানে এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে, বর্তমান সময়ের অনেক মুসলমানের নিকট কাফির ও মুনাফিকদের (منافقين) নেতৃবৃন্দের ক্ষেত্রে 'সাইয়্যিদ' এবং এই জাতীয় শব্দের প্রয়োগ একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومثل السيد (المستر) باللغة الإفرنجية. وأشد الناس مخالفة لهذا الحديث أهل الإذاعات، لأنهم يجعلون كل من يستمع إلى إذاعاتهم من أصناف الكفار والمنافقين سادة، وسواء عندهم في ذلك الكبير والصغير والشريف والوضيع والذكر والأنثى، بل الإناث هن المقدمات عندهم في المخاطبة بالسيادة، وفي الكثير من الأمور خلافا لما شرعه الله من تأخيرهن. وبعض أهل الأمصار يسمون جميع نسائهم سيدات، وسواء عندهم في ذلك المسلمة والكافرة والمنافقة والصالحة والطالحة.

 

ويلي أهل الإذاعات في شدة المخالفة لحديث بريدة رضي الله عنه أهل الجرائد والمجلات وما شابهها من الكتب العصرية لأنهم لا يرون بموالاة أعداء الله وموادتهم وتعظيمهم بأسا، ولا يرون للحب في الله والبغض في الله والموالاة فيه والمعاداة فيه قدرا وشأنا.

 

فصل

 

وقد ورد‌‌ النهي عن مجامعة المشركين ومساكنتهم في ديارهم والتغليظ في ذلك لأن مجامعتهم ومساكنتهم من أعظم الأسباب الجالبة لموالاتهم وموادتهم، والأحاديث في ذلك كثيرة:

الحديث الأول: منها عن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: أما بعد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من جامع المشرك وسكن معه فإنه مثله) رواه أبو داود، ورواه الترمذي معلقا بصيغة الجزم فقال: وروى سمرة بن جندب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا تساكنوا المشركين ولا تجامعوهم فمن ساكنهم أو جامعهم فهو مثلهم).
এবং ইউরোপীয় ভাষায় 'মিস্টার' (Mister) শব্দের ন্যায়। এই হাদিসের সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘনকারী হলো বেতার বা রেডিও সম্প্রচারকারীরা, কারণ তারা তাদের সম্প্রচার শ্রবণকারী কাফের ও মুনাফিকদের সকল শ্রেণীকেই 'সাইয়্যিদ' (নেতা) হিসেবে গণ্য করে। এক্ষেত্রে তাদের কাছে ছোট-বড়, উচ্চবংশীয়-নিম্নবংশীয় এবং নারী-পুরুষ সবই সমান। বরং নারীদেরকেই তারা সম্বোধনের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য রাখে, যা আল্লাহ প্রদত্ত তাদের পিছিয়ে রাখার বিধানের পরিপন্থী। এমনকি কোনো কোনো অঞ্চলের মানুষ তাদের সকল নারীকেই 'সাইয়্যিদাহ' (নেত্রী) বলে সম্বোধন করে; তাদের কাছে মুসলিম, কাফের, মুনাফিক, পুণ্যবতী কিংবা পাপিষ্ঠা—সবই সমান।

 

বুরাইদাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ঘোর বিরোধিতার ক্ষেত্রে বেতার কর্মীদের পরেই সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এবং এই জাতীয় আধুনিক গ্রন্থাবলির সাথে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান। কেননা তারা আল্লাহর শত্রুদের সাথে মিত্রতা, সৌহার্দ্য ও তাদের সম্মান প্রদর্শনে কোনো দোষ মনে করে না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা এবং তাঁরই খাতিরে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করাকে তারা কোনো গুরুত্বই দেয় না।

 

পরিচ্ছেদ

 

মুশরিকদের সাথে একত্র হওয়া এবং তাদের ভূখণ্ডে তাদের সাথে বসবাস করা থেকে নিষেধাজ্ঞা ও এ বিষয়ে কঠোরতা বর্ণিত হয়েছে। কারণ তাদের সাথে একত্র হওয়া ও বসবাস করা তাদের প্রতি বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার অনুভূতির উদ্রেককারী অন্যতম প্রধান কারণ। এ প্রসঙ্গে হাদিসসমূহ অনেক:

প্রথম হাদিস: সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে একত্র হয় এবং তাদের সাথে বসবাস করে, সে তাদেরই মতো।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি এটি সুনিশ্চিত পদবাচ্যে (بصيغة الجزم) ঝুলন্ত (معلق) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিআল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে একত্র হয়ো না; সুতরাং যে তাদের সাথে বসবাস করে কিংবা একত্র হয়, সে তাদেরই মতো।"
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৮)
ورواه الحاكم في مستدركه من حديث الحسن عن سمرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا تساكنوا المشركين ولا تجامعوهم فمن ساكنهم أو جامعهم فليس منا) قال الحاكم: صحيح على شرط البخاري ولم يخرجاه. وقال الذهبي في تلخيصه على شرط الشيخين: وظاهر هذا الحديث العموم لكل من جامع المشركين وساكنهم اختيارا منه لذلك لا اضطرارا وعجزا اهـ.

 

الحديث الثاني: عن جرير بن عبد الله رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أنا بريء من كل مسلم يقيم بين أظهر المشركين) قالوا يا رسول الله: ِلم؟ قال: (لا تراءى ناراهما) رواه أبو داود والترمذي بهذا اللفظ، ورواه الطبراني في الكبير والبيهقي في سننه ولفظهما: (من أقام مع المشركين فقد برأت منه الذمة). قال الفضل بن زياد: سمعت أحمد رحمه الله تعالى يُسأل عن معنى لا تراءى ناراهما فقال: لا تنزل من المشركين في موضع إذا أوقدت رأوا فيه نارك وإذا أوقدوا رأيت فيه نارهم ولكن تباعد عنهم اهـ. وقال ابن الأثير في النهاية: أي يلزم المسلم ويجب عليه أن يباعد منزله عن منزل المشرك ولا ينزل بالموضع الذي إذا أوقدت فيه ناره تلوح وتظهر لنار المشرك إذا أوقدها في منزله ولكنه ينزل مع المسلمين في دارهم وإنما كره مجاورة المشركين لأنهم لا عهد لهم ولا أمان وحث المسلمين على الهجرة. وإسناد الترائي إلى النارين مجاز من قولهم: داري تنظر إلى دار فلان. أي تقابلها يقول: ناراهما مختلفتان، هذه تدعو إلى الله وهذه تدعو إلى الشيطان فكيف يتفقان اهـ.
ইমাম হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে হাসান-এর সূত্রে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: (তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে একত্রে থেকো না; যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সাথে একত্রে থাকবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়)। ইমাম হাকেম বলেছেন: এটি ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح), কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি তাঁদের গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি। ইমাম যাহাবী তাঁর তালখিস গ্রন্থে বলেছেন: এটি শাইখায়নের শর্তানুযায়ী [সহিহ]। এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ ঐ সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক যারা কোনো বাধ্যবাধকতা বা অক্ষমতা ছাড়াই স্বেচ্ছায় মুশরিকদের সাথে একত্রে থাকে বা বসবাস করে।

 

দ্বিতীয় হাদিস: জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আমি ঐ সকল মুসলিম থেকে বিমুখ যারা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে)। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! কেন? তিনি বললেন: (তাদের উভয়ের আগুন যেন পরস্পরকে দেখতে না পায়)। আবু দাউদ ও তিরমিযী এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানী তাঁর আল-কাবীর গ্রন্থে ও বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: (যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে বসবাস করবে, তার থেকে নিরাপত্তার জিম্মাদারি উঠে যাবে)। ফজল বিন যিয়াদ বলেন: আমি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ‘তাদের উভয়ের আগুন যেন পরস্পরকে দেখতে না পায়’—এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তিনি বললেন: মুশরিকদের সান্নিধ্যে এমন কোনো স্থানে অবস্থান করো না যেখানে তুমি আগুন জ্বালালে তারা তা দেখতে পায় এবং তারা আগুন জ্বালালে তুমি দেখতে পাও; বরং তোমরা তাদের থেকে দূরে অবস্থান করো। ইবনুল আসীর তাঁর আন-নিহায়াহ গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ মুসলিমের জন্য এটি আবশ্যক ও ওয়াজিব যে, সে তার আবাসস্থলকে মুশরিকের আবাসস্থল থেকে দূরে রাখবে। সে এমন স্থানে অবস্থান করবে না যেখানে তার জ্বালানো আগুন মুশরিকের জ্বালানো আগুনের বিপরীতে দৃশ্যমান হয়। বরং সে মুসলিমদের সাথে তাদের ভূখণ্ডে বসবাস করবে। মুশরিকদের প্রতিবেশী হওয়া অপছন্দনীয় করা হয়েছে কারণ তাদের কোনো অঙ্গীকার বা নিরাপত্তা নেই এবং এটি মুসলিমদের হিজরত করতে উৎসাহিত করার জন্য। আগুনের প্রতি ‘পরস্পরকে দেখা’-র সম্বন্ধ করা একটি রূপক অলংকার (مجاز); যেমনটি আরবদের প্রবাদে বলা হয়: ‘আমার ঘর অমুকের ঘরের দিকে তাকিয়ে আছে’, অর্থাৎ ঘর দুটি মুখোমুখি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: তাদের উভয়ের আগুন ভিন্ন ভিন্ন; একটি আল্লাহর দিকে আহ্বান করে আর অন্যটি শয়তানের দিকে আহ্বান করে, সুতরাং তারা কীভাবে এক হতে পারে?
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي هذين الحديثين وعيد شديد لمن جامع المشركين وساكنهم اختيارا، فليحذر المسلمون المقيمون بين الوثنين والمرتدين والنصارى والمجوس وغيرهم من أعداء الله تعالى أن يلحقهم هذا الوعيد الشديد.

 

الحديث الثالث: عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (لا تستضيئوا بنار المشركين) رواه الإمام أحمد والنسائي والبخاري في تاريخه وابن جرير وأبو يعلى. قال الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى في تفسيره: معناه لا تقاربوهم في المنازل بحيث تكونون معهم في بلادهم بل تباعدوا منهم وهاجروا من بلادهم واختار هذا القول العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى اهـ. قال ابن الأثير: معناه لا تستشيروهم ولا تأخذوا بآرائهم، جعل الضوء مثلا للرأي عند الحيرة اهـ.

قلت: وهذا القول مروي عن الحسن البصري رواه عنه أبو يعلى وابن جرير في تفسير قوله تعالى: {ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا بطانة من دونكم لا يألونكم خبالا} قال الحسن: وأما قوله ولا تستضيئوا بنار المشركين فإنه يقول لا تستشيروهم في شيء من أموركم قال الحسن: وتصديق ذلك في كتاب الله ثم تلا هذه الآية: {يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا بطانة من دونكم}. قال ابن كثير: وهذا التفسير فيه نظر.

 

قلت: والظاهر أن النهي شامل للأمرين كليهما فلا يجوز لمسلم
এই দুটি হাদিসের মধ্যে ওই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে, যে স্বেচ্ছায় মুশরিকদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের সাথে বসবাস করে। সুতরাং মূর্তিপূজক, মুরতাদ, নাসারা, অগ্নিপূজক এবং আল্লাহর অন্যান্য শত্রুদের মাঝে বসবাসকারী মুসলিমদের সতর্ক হওয়া উচিত যেন তারা এই কঠোর সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত না হয়ে পড়ে।

 

তৃতীয় হাদিস: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা মুশরিকদের আগুন দ্বারা আলো গ্রহণ করো না)। এটি ইমাম আহমাদ, নাসায়ি, বুখারি তাঁর তারিখে, ইবনে জারির এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেন: এর অর্থ হলো তোমরা তাদের ঘরবাড়ির এতো নিকটে থেকো না যাতে তোমরা তাদের দেশে তাদের সাথে অবস্থান করো, বরং তাদের থেকে দূরে থাকো এবং তাদের দেশ থেকে হিজরত করো। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মতটি পছন্দ করেছেন। ইবনুল আসির বলেন: এর অর্থ হলো তোমরা তাদের সাথে পরামর্শ করো না এবং তাদের মতামত গ্রহণ করো না; তিনি বিভ্রান্তির সময়ে মতামতকে আলোর রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আমি বলছি: এই মতটি হাসান বসরী থেকে বর্ণিত (مروي)। তাঁর থেকে আবু ইয়ালা এবং ইবনে জারির মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে এটি বর্ণনা করেছেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনো ত্রুটি করবে না}। হাসান বলেন: আর তাঁর বাণী 'তোমরা মুশরিকদের আগুন দ্বারা আলো গ্রহণ করো না' এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, তোমাদের কোনো বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো না। হাসান বলেন: এর সত্যতা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, তারপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না}। ইবনে কাসির বলেন: আর এই তাফসিরটি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ (فيه نظر)।

 

আমি বলছি: স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, এই নিষেধ উভয় বিষয়ের জন্যই প্রযোজ্য, সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল ইখওয়ান বিমা জাআ ফিল মুওয়ালাতি ওয়াল মুয়াদাত ওয়াল হুব্বি ওয়াল বুগদি ওয়াল হিজরান (পৃষ্ঠা: ৩০)
مساكنة المشركين اختيارا ولا مشاورتهم وأخذ آرائهم، والقول الأول أظهر يدل ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: (لا تراءى ناراهما). وقوله في حديث الزهري الذي سيأتي ذكره قريبا: (وأنك لا ترى نار مشرك إلاّ وأنت له حرب) والله أعلم.

 

الحديث الرابع: عن بهز بن حكيم عن أبيه عن جده رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لا يقبل الله من مشرك بعدما يسلم عملا أو يفارق المشركين إلى المسلمين) رواه الإمام أحمد والنسائي والحاكم في مستدركه وقال: صحيح الإسناد ولم يخرجاه. ووافقه الذهبي في تلخيصه.

 

الحديث الخامس: عن يزيد بن الشخّير قال: بينا أنا مع مطرف بالمربد إذ دخل رجل معه قطعة أدم، قال: كتب لي هذه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهل أحد منكم يقرأ؟ قال: قلت أنا أقرأ، فإذا فيها: (من محمد النبي صلى الله عليه وسلم لبني زهير بن أُقَيْش أنهم إن شهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وفارقوا المشركين وأقروا بالخمس في غنائمهم وسهم النبي وصَفيِّه أنهم آمنون بأمان الله ورسوله) رواه النسائي.

 

الحديث السادس: عن جرير رضي الله عنه قال: بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على إقام الصلاة وإيتاء الزكاة والنصح لكل مسلم وعلى فراق المشركين. رواه النسائي. وفي رواية له قال جرير: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبايع، فقلت: يا رسول الله ابسط يدك حتى أبايعك واشترط علي فأنت أعلم، قال: (أبايعك على أن تعبد الله وتقيم الصلاة وتؤدي الزكاة وتناصح المسلمين وتفارق المشركين).
ইচ্ছাকৃতভাবে মুশরিকদের সাথে বসবাস করা যাবে না এবং তাদের সাথে পরামর্শ করা বা তাদের মতামত গ্রহণ করা যাবে না। প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী তা-ই প্রমাণ করে: "তাদের উভয়ের (মুসলিম ও মুশরিক) আগুন যেন একে অপরকে না দেখে।" এবং যুহরি-র বর্ণিত সেই হাদিসে তাঁর বাণী যা সামনে অচিরেই উল্লেখ করা হবে: "তুমি কোনো মুশরিকের আগুন দেখবে না যতক্ষণ না তুমি তার জন্য যুদ্ধরত হও।" আল্লাহই ভালো জানেন।

 

চতুর্থ হাদিস: বাহয ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কোনো মুশরিক ইসলাম গ্রহণ করার পর তার কোনো আমল কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে মুশরিকদের ছেড়ে মুসলিমদের কাছে চলে আসে।" এটি ইমাম আহমাদ, নাসায়ি এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি সহিহ সনদ বিশিষ্ট (صحيح الإسناد), যদিও বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে হাকেমের সাথে একমত পোষণ করেছেন।

 

পঞ্চম হাদিস: ইয়াজিদ ইবনে শিখখির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মিরবাদ নামক স্থানে মুতাররিফ-এর সাথে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি চামড়ার একটি টুকরো নিয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য এটি লিখে দিয়েছিলেন; আপনাদের মধ্যে কেউ কি আছেন যিনি এটি পড়তে পারেন? আমি বললাম: আমি পড়তে পারি। তাতে লেখা ছিল: "নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে বনু যুহায়ের ইবনে উকাইশ-এর প্রতি—তারা যদি এই সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর মুশরিকদের ত্যাগ করে এবং গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস), নবীর অংশ ও তাঁর মনোনীত অংশের স্বীকৃতি দেয়, তবে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় নিরাপদ থাকবে।" এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

 

ষষ্ঠ হাদিস: জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা এবং মুশরিকদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ওপর বাইআত গ্রহণ করেছি। এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় জারির বলেন: আমি নবীর নিকট আসলাম যখন তিনি বাইআত নিচ্ছিলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার কাছে বাইআত হতে পারি এবং আপনি আমার ওপর শর্তারোপ করুন কারণ আপনিই অধিক অবগত। তিনি বললেন: "আমি তোমার কাছে এই শর্তে বাইআত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করবে এবং মুশরিকদের সংশ্রব ত্যাগ করবে।"