(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في فضل الخلفاء الراشدين   (ابن تيمية)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: رسالة في فضل الخلفاء الراشدين (طبعت مفردة، ومنها نسخة مختصرة في مجموع الفتاوى)

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

التحقيق والتعليق: قسم التحقيق بدار الصحابة للتراث

الناشر: دار الصحابة للتراث، مصر

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 55

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433

খুলাফায়ে রাশিদীনের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পুস্তিকা   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


কিতাব: খুলাফায়ে রাশিদীনের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পুস্তিকা (স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে, এবং এর একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ মাজমুউল ফাতাওয়ায় রয়েছে)

লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)

সম্পাদনা ও টীকা: দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস-এর সম্পাদনা বিভাগ

প্রকাশক: দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস, মিসর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
- بسم الله الرحمن الرحيم -

سئل الشيخ الإمام العالم العلامة البحر الفهامة وحيد عصره وفريد دهره أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن الشيخ مجد الدين عبد السلام ابن تيمية رحمهم الله تعالى:

عن رجل شريف متمسك بالسنة، لكن يحصل له أحيانا ريبة في تفضيل أبي بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، فيغلب على ظنه أن عليا رضي الله عنه أفضل منهم، ويستدل بقوله صلى الله عليه وسلم: «أنت مني وأنا منك»، وبقوله صلى الله عليه وسلم: «أنت مني بمنزلة هارون من موسى»، وهارون كان من موسى بمنزلة رفيعة ولم يكن عنده أعز
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -

শেখ, ইমাম, আলিম, আল্লামা, প্রজ্ঞার সমুদ্র, নিজ যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন শেখ মাজদুদ্দিন আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

এমন এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি সুন্নাহর অনুসারী, কিন্তু কখনো কখনো আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমবিন্যাস সম্পর্কে তাঁর মনে সংশয় জাগে। ফলে তাঁর ধারণা প্রবল হয় যে, আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর তিনি দলিল হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী পেশ করেন: "তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে," এবং তাঁর এই বাণী: "তুমি আমার কাছে ঠিক তেমনি মর্যাদার অধিকারী যেমন মুসার কাছে হারুন ছিলেন।" অথচ হারুন মুসার কাছে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন এবং তাঁর কাছে তাঁর চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ ছিল না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
منه، وبقوله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر: «لأعطين الراية غدا رجلا يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله يفتح الله على يديه» فأعطاها لعلي،
এবং তা থেকে, আর খাইবারের দিন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমি আগামীকাল অবশ্যই এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন।" অতঃপর তিনি তা আলীকে প্রদান করলেন,
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبقوله صلى الله عليه وسلم: «من كنت مولاه فعلي مولاه» "اللهم وال من والاه وعاد من عاداه وأدر الحق معه كيف ما دار"، وبقوله يوم غدير خم: «أذكركم الله في أهل بيتي»، وبقوله تعالى: {فقل تعالوا ندع أبناءنا وأبناءكم} الآية،
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে: «আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা» "হে আল্লাহ! আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, আর তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন যে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে; এবং সত্যকে তার সাথে আবর্তিত করুন সে যেদিকেই আবর্তিত হোক না কেন", এবং গাদীরে খুমের দিবসে তাঁর বাণীর মাধ্যমে: «আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি», এবং মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে: {বলুন: এসো, আমরা আমাদের সন্তানদের এবং তোমাদের সন্তানদের ডাকি} আয়াত,
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وبقوله تعالى: {هذان خصمان اختصموا في ربهم} وبقوله سبحانه وتعالى: {هل أتى على الإنسان حين من الدهر لم يكن شيئا مذكورا} ويزعم أن هذه السورة نزلت في علي رضي الله عنه. أفتونا مأجورين.
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এই দুই বিবাদী পক্ষ যারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে} এবং সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?} এবং সে দাবি করে যে, এই সূরাটি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের ফতোয়া প্রদান করুন, সওয়াব লাভ করবেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
الجواب:

الحمد لله رب العالمين. يجب أن تعلم أولا أن التفضيل يكون إذا ثبت للفاضل من الخصائص ما لا يوجد للمفضول، فإذا استويا في أسباب الفضل وانفرد أحدهما بخصائص لم يشركه فيها الآخر كان أفضل منه. وأما ما كان مشتركا بين الرجل وغيره من المحاسن، فتلك مناقب وفضائل ومآثر، لكن لا توجب تفضيله على غيره. وإذا كانت مشتركة فليست من خصائصه.

وإذا كان كذلك، ففضائل الصديق رضي الله عنه التي ميز بها خصائص لم يشركه فيها أحد، وأما فضائل علي رضي الله عنه فمشتركة بينه وبين غيره. وذلك أن قوله: «لو كنت متخذا من أهل الأرض خليلا لاتخذت أبا بكر خليلا، لا يبقين في المسجد خوخة إلا سدت إلا خوخة أبي بكر، إن أمنّ الناس علي في
উত্তর:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আপনার প্রথমে জানা উচিত যে, শ্রেষ্ঠত্ব তখনই নির্ধারিত হয় যখন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির এমন কিছু বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয় যা অন্য ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান নেই। সুতরাং যদি শ্রেষ্ঠত্বের সাধারণ কারণসমূহে উভয়ে সমান হয় এবং তাদের একজন এমন কিছু একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয় যাতে অপরজন অংশীদার নয়, তবে সেই ব্যক্তিই অপরজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর যে সকল সদ্গুণ কোনো ব্যক্তি এবং অন্যদের মধ্যে অভিন্নভাবে পাওয়া যায়, সেগুলো কেবল গুণাবলী, মর্যাদা ও কীর্তি হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু তা তাকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত করার আবশ্যকতা তৈরি করে না। আর যদি তা অভিন্ন হয়, তবে তা তার একক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদাগুলো এমন সব বৈশিষ্ট্য দ্বারা চিহ্নিত যা দ্বারা তিনি অনন্য এবং যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়। পক্ষান্তরে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদাগুলো তাঁর এবং অন্যদের মাঝে অভিন্ন। আর তা এজন্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: «যদি আমি পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম। মসজিদের দিকে উন্মুক্ত প্রতিটি ছোট দরজা অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া হোক, কেবল আবু বকরের দরজা ছাড়া। নিশ্চয়ই আমার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী হলেন...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
صحبته وذات يده أبو بكر» وهذا الحديث فيه ثلاث خصائص لم يشرك أبا بكر فيها غيره:

[الأولى]: قوله صلى الله عليه وسلم: «إن أمنّ الناس علينا في صحبته وذات يده أبو بكر» بيّن فيه أنه ليس لأحد من الصحابة عليه من حق في صحبته وماله مثل ما لأبي بكر رضي الله عنه.

الثانية: قوله: «لا تبقين في المسجد خوخة إلا سدت إلا خوخة أبي بكر»، وهذا تخصيص له دون سائر الصحابة. وقد أراد بعض الكذابين أن يروي لعلي رضي الله عنه مثل ذلك، لكن الصحيح والثابت لا يعارض بالضعيف الموضوع.

الثالثة: قوله: «لو كنت متخذا خليلا من أهل الأرض لاتخذت أبا بكر خليلا» فإنه نص في أنه لا أحد من البشر يستحق الخلة لو كانت ممكنة إلا أبا بكر، ولو كان غيره أفضل منه لكان أحق بها لو كانت واقعة.
"তাঁর সাহচর্য এবং ধন-সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে আবু বকর।" আর এই হাদীসে তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে আবু বকরের সাথে অন্য কেউ অংশীদার নন:

[প্রথমটি]: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয় মানুষের মাঝে তাঁর সাহচর্য এবং ধন-সম্পদ দ্বারা আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী হলেন আবু বকর।" এতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সাহাবীদের মধ্যে অন্য কারোরই তাঁর প্রতি সাহচর্য এবং সম্পদের ক্ষেত্রে এমন অধিকার নেই যেমনটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর রয়েছে।

দ্বিতীয়টি: তাঁর বাণী: "মসজিদে আবু বকরের ছোট দরজা ব্যতীত যেন অন্য সকল ছোট দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়", আর এটি অন্যান্য সকল সাহাবীর বিপরীতে কেবল তাঁরই জন্য এক বিশেষ মর্যাদা। কিছু মিথ্যাবাদী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারেও অনুরূপ বর্ণনা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু সহীহ এবং সুসাব্যস্ত বর্ণনা কখনো যয়ীফ ও বানোয়াট বর্ণনার মাধ্যমে খণ্ডিত হয় না।

তৃতীয়টি: তাঁর বাণী: "আমি যদি পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম।" এটি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দলীল যে, মানুষের মধ্যে আবু বকর ব্যতীত আর কেউ খলীল হওয়ার যোগ্য হতেন না যদি তা সম্ভব হতো। আর যদি অন্য কেউ তাঁর অপেক্ষা উত্তম হতেন, তবে এই বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে তিনিই এর জন্য অধিক যোগ্য হতেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وكذلك أمره لأبي بكر أن يصلي بالناس مدة مرضه من خصائصه التي لم يشركه فيها أحد. ولم يأمر النبي صلى الله عليه وسلم أمته أن تصلي خلف أحد في حياته بحضرته إلا خلف أبي بكر.

وكذلك تأميره له من المدينة على الحج ليقيم السنة ويمحو أثر الجاهلية، فإن هذا من خصائصه.

وكذلك قوله في الحديث الصحيح: «ادعي لي أباك وأخاك حتى أكتب لأبي بكر كتابا لا يختلف عليه الناس من بعدي» ثم قال عليه الصلاة والسلام: «يأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر»

وأمثال هذه الأحاديث كثيرة تبين أنه لم يكن في الصحابة من يساويه.
অনুরূপভাবে, তাঁর (রাসূলুল্লাহর) অসুস্থতার সময়কালে আবু বকরকে লোকদের ইমামতি করার আদেশ প্রদান করা তাঁর সেই সকল বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার ছিল না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর উপস্থিতিতে আবু বকর ব্যতীত অন্য কারো পেছনে সালাত আদায় করার জন্য তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দেননি।

তেমনিভাবে সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত করতে এবং জাহিলিয়াতের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য মদিনা থেকে তাঁকে হজ্জের আমির নিযুক্ত করাও ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

একইভাবে সহীহ হাদিসে বর্ণিত তাঁর সেই বাণী: "আমার কাছে তোমার পিতা ও ভাইকে ডাকো যাতে আমি আবু বকরের জন্য একটি দলিল লিখে দিতে পারি, যেন আমার পরে লোকেরা তাঁর ব্যাপারে কোনো মতভেদ না করে।" অতঃপর তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেন: "আল্লাহ এবং মুমিনগণ আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।"

এই ধরনের বহু হাদিস রয়েছে যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি তাঁর সমকক্ষ হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأما قوله صلى الله عليه وسلم: «أنت مني وأنا منك»، فهذه العبارة قد قالها لغيره من المؤمنين، كما قالها عليه السلام لجُلَبيب الذي قتل عدة من الكفار: «هذا مني وأنا منه».

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "তুমি আমার থেকে আর আমি তোমার থেকে" প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এই বাক্যটি তিনি অন্যান্য মুমিনদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছেন, যেমনটি তিনি (আলাইহিস সালাম) জুলাইবিব সম্পর্কে বলেছিলেন, যিনি বেশ কয়েকজন কাফিরকে হত্যা করেছিলেন: "সে আমার থেকে আর আমি তার থেকে।"

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وفي الصحيحين: «إن الأشعريين إذا كانوا في السفر أو نقصت نفقة عيالهم بالمدينة جمعوا ما كان معهم في ثوب واحد ثم قسموه بينهم بالسوية، هم مني وأنا منهم». فقد جعل الأشعريين أبا موسى وأبا عامر وغيرهما منه وهو منهم، كما قال لعلي: «أنت مني وأنا منك».

এবং দুই সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আশআরীগণ যখন সফরে থাকেন অথবা মদীনায় তাদের পরিবারের পাথেয় কমে যায়, তখন তারা তাদের সাথে যা কিছু থাকে তা একটি কাপড়ে জমা করেন এবং তারপর তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেন; তারা আমার এবং আমি তাদের।" সুতরাং তিনি আশআরীগণকে—আবু মুসা, আবু আমির এবং অন্যদের—নিজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনি নিজেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যেমনটি তিনি আলীকে বলেছিলেন: "তুমি আমার এবং আমি তোমার।"

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقال تعالى: {والذين آمنوا من بعد وهاجروا وجاهدوا معكم فأولئك منكم} وقال تعالى: {ألم تر إلى الذين تولوا قوما غضب الله عليهم ما هم منكم ولا منهم} وقال تعالى: {ويحلفون بالله إنهم لمنكم وما هم منكم}.

وقال صلى الله عليه وسلم: «من غشنا فليس منا، ومن حمل علينا السلاح فليس منا» ونحو ذلك.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা পরবর্তীতে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত।} এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করোনি যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে যাদের ওপর আল্লাহ রাগান্বিত? তারা তোমাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয়।} এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে তারা অবশ্যই তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।}

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়» এবং অনুরূপ অন্যান্য বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وهذه العبارة تستعمل في النوع الواحد فيقال: "هذا من هذا" إذا كان من نوعه، فكل من كان من المؤمنين الكاملي الإيمان فهو من النبي صلى الله عليه وسلم والنبي منه.

وقوله صلى الله عليه وسلم في قصة بنت حمزة: «أنت مني وأنا منك» وكقوله لزيد بن حارثة: «أنت أخونا ومولانا» ومعلوم أن
এই অভিব্যক্তিটি সমজাতীয় বা একই শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এমতাবস্থায় বলা হয়: "এটি এটি থেকে", যখন তা সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং মুমিনদের মধ্যে যারা পূর্ণ ঈমানের অধিকারী, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এবং নবীও তাদের পক্ষ থেকে।

আর হামজার কন্যার ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তুমি আমার পক্ষ থেকে এবং আমি তোমার পক্ষ থেকে।" যেমন যায়দ বিন হারিসাহর প্রতি তাঁর বাণী: "তুমি আমাদের ভাই এবং আমাদের মাওলা।" আর এটি সুবিদিত যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
هذا ليس مختصا بزيد، بل كل من كان من مواليه يطلق عليه هذا الكلام لقوله تعالى: {فإن لم تعلموا آباءهم فإخوانكم في الدين ومواليكم}. فكذلك قوله لعلي: «أنت مني وأنا منك»، وليس ذلك من خصائصه، بل من كان موافقا للنبي صلى الله عليه وسلم في كمال الإيمان كان من النبي صلى الله عليه وسلم والنبي منه.

وكذلك قوله: «لأعطين الراية رجلا يحبه الله ورسوله ويحب الله ورسوله» هو من أصح الأحاديث وهو أصح حديث روي في فضائل علي رضي الله عنه، أخرجاه في الصحيحين. وقد زاد فيه بعض الكذابين أن الراية أخذها أبو بكر وعمر فهربا. وفي الصحيح أنه لما قال صلى الله عليه وسلم: «لأعطين الراية رجلا» قال عمر: "ما أحببت الإمارة إلا يومئذ" واستشرف لها عمر وغيره. ولو جاء
এটি কেবল যায়িদের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং তাঁর মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এই বক্তব্যটি প্রয়োগ করা যায়। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃপরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও তোমাদের বন্ধু}। তদ্রূপ আলী সম্পর্কে তাঁর উক্তি: «তুমি আমার পক্ষ হতে এবং আমি তোমার পক্ষ হতে»; এটি তাঁর কোনো একচেটিয়া বৈশিষ্ট্য নয়। বরং ঈমানের পূর্ণতায় যিনিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হবেন, তিনিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে গণ্য হবেন এবং নবীও তাঁর পক্ষ হতে হবেন।

অনুরূপভাবে তাঁর এই বক্তব্য: «আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব, যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন এবং সেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে»; এটি বিশুদ্ধতম হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস। এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন। কিছু চরম মিথ্যুক এতে এ কথা বাড়িয়ে বলেছে যে, আবু বকর ও উমর পতাকা গ্রহণ করেছিলেন এবং অতঃপর তাঁরা পালিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ সহীহ বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি অবশ্যই এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করব», তখন উমর বলেছিলেন: "আমি সেই দিন ব্যতীত অন্য কখনও নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা করিনি।" উমর ও অন্যান্যরা এর জন্য উন্মুখ হয়েছিলেন। আর যদি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
منهزما لما استشرف لها، فهذا الحديث رد على الناصبة الواقعين في علي رضي الله عنه، تبًّا لهم فإنه مؤمن تقي يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله. ولكن ليس هذا من خصائصه، بل كل مؤمن كامل الإيمان يحب الله ورسوله، ويحبه الله ورسوله. وقد قال تعالى: {فسوف يأتي الله بقوم يحبهم ويحبونه}، وهؤلاء الذين قاتلوا أهل الردة، وإمامهم أبو بكر.

وفي الصحيح أنه قال صلى الله عليه وسلم للأنصار: «والله إني لأحبكم».
পরাজিত অবস্থায় যখন তিনি এর প্রত্যাশা করেছিলেন, ফলে এই হাদিসটি ঐ সকল নাসেবিদের ওপর একটি খণ্ডন যারা আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমালোচনা ও নিন্দা করে। তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, কারণ তিনি একজন মুত্তাকি মুমিন যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন। তবে এটি তাঁর কোনো অনন্য বৈশিষ্ট্য নয়, বরং পূর্ণ ঈমান সম্পন্ন প্রত্যেক মুমিনই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাঁদেরকে ভালোবাসেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে}। আর এরা হলো তারা যারা মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং তাদের ইমাম ছিলেন আবু বকর।

এবং সহিহ বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ভালোবাসি»।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وفي الصحيح أن عمرو بن العاص سأله: أي الناس أحب إليك؟ قال: «عائشة». قال: فمن الرجال؟ قال: «أبوها». وهذا فيه أن أبا بكر أحب الرجال إليه؛ وهذا من خصائصه رضي الله عنه.

وكان أسامة بن زيد يسمى الحِب بن الحب، لحب النبي صلى الله عليه وسلم له ولأبيه. وأمثال هذه النصوص التي تبين أنه ليس كل شخص عرف أنه يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله يجب أن يكون
এবং সহীহ বর্ণনায় রয়েছে যে, আমর ইবনুল আস তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: "আয়েশা"। তিনি বললেন: পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন: "তাঁর পিতা"। এর মধ্যে এটি নিহিত রয়েছে যে, আবু বকর তাঁর কাছে পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন; এবং এটি তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

আর উসামা ইবনে যায়িদকে ‘প্রিয়তমের পুত্র প্রিয়তম’ নামে ডাকা হতো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর প্রতি এবং তাঁর পিতার প্রতি ভালোবাসার কারণে। এ ধরণের দালিলিক বর্ণনাগুলো একথাই স্পষ্ট করে যে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার সম্পর্কে জানা গেছে যে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন, সে-ই যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
أفضل الخلق، فإن هذا الوصف ثابت لخلائق كثيرين، فليس هذا من خصائص الشخص المعين.

وأما قوله: «أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى» فحديث صحيح، وهذا قاله في غزوة تبوك لما استخلفه
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ; কারণ এই গুণটি বহু সৃষ্টির ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত রয়েছে, সুতরাং এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর তাঁর এই উক্তি: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে ঠিক তেমনি হবে, যেমন হারুন মূসার কাছে ছিলেন?" এটি একটি সহীহ হাদীস। আর এটি তিনি তাবুক যুদ্ধের সময় বলেছিলেন, যখন তিনি তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
على المدينة، فطعن بعض الناس فيه وقالوا: إنما استخلفه لأنه يبغضه، وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خرج من المدينة استخلف رجلا من أمته، وكان يكون بها رجال من المؤمنين القادرين يستخلفه عليهم. فلما كان عام تبوك لم يأذن لأحد من المؤمنين القادرين في التخلف، فلم يتخلف أحد بلا عذر إلا عاص لله ورسوله. فكان ذلك استخلافا ضعيفا، فطعن فيه المنافقون بهذا السبب. فبين له النبي صلى الله عليه وسلم أني لم أستخلفك لنقص قدرك عندي، فإن موسى استخلف هارون وهو شريكه في الرسالة، أفما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى فتخلفني في أهلي كما خلف هارون أخاه موسى؟ ومعلوم أنه استخلف غيره قبله، وكان أولئك منه بهذه المنزلة، فلم يكن هذا من خصائصه. ولو كان هذا الاستخلاف أفضل من غيره لم يخف ذلك على علي رضي الله عنه ولم يخرج إليه وهو يبكي ويقول: "أتخلفني في النساء والصبيان؟ "

ومما بين ذلك أنه بعد هذا الاستخلاف أمّر عليه أبا بكر عام تسع.
মদিনার ওপর [দায়িত্ব প্রদান করা হলে], কিছু লোক তাঁর সমালোচনা করল এবং বলল: তিনি তাকে কেবল এ জন্যই প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন কারণ তিনি তাকে অপছন্দ করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই মদিনা থেকে বের হতেন, তখন তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে একজনকে স্থলাভিষিক্ত করতেন এবং সেখানে সক্ষম মুমিন পুরুষরা উপস্থিত থাকতেন যাদের ওপর তিনি তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন। কিন্তু যখন তাবুক যুদ্ধের বছর এল, তখন তিনি সক্ষম মুমিনদের কাউকেই পেছনে থাকার অনুমতি দেননি। ফলে ওজর বা সঙ্গত কারণ ছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ পেছনে রয়ে যায়নি। এটি ছিল একটি দুর্বল প্রতিনিধিত্ব, তাই মুনাফিকরা এই কারণেই তাঁর সমালোচনা করেছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন যে, আমার নিকট তোমার মর্যাদার কোনো কমতি থাকার কারণে আমি তোমাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করিনি। কেননা মূসা (আলাইহিস সালাম) হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে প্রতিনিধি করেছিলেন অথচ তিনি তাঁর রিসালাতের অংশীদার ছিলেন। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে সেই মর্যাদায় থাকবে যে মর্যাদায় মূসার কাছে হারুন ছিলেন? ফলে তুমি আমার পরিবারের মধ্যে আমার স্থলাভিষিক্ত হলে যেমনিভাবে হারুন তাঁর ভাই মূসার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। আর এটি সুবিদিত যে, তিনি ইতিপূর্বে অন্য ব্যক্তিকেও প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন এবং তাঁরাও তাঁর নিকট এই মর্যাদাই রাখতেন। সুতরাং এটি তাঁর একক কোনো বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আর যদি এই প্রতিনিধিত্ব অন্যান্যগুলোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো, তবে তা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট অস্পষ্ট থাকত না এবং তিনি কাঁদতে কাঁদতে এই বলতে বলতে বের হতেন না যে: "আপনি কি আমাকে নারী ও শিশুদের মাঝে রেখে যাচ্ছেন?"

আর এই বিষয়টি যা আরও স্পষ্ট করে দেয় তা হলো, এই প্রতিনিধিত্বের পর তিনি নয় হিজরি সনে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর ওপর আমীর বা নেতা নিযুক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
فإن هذا الاستخلاف كان في غزوة تبوك - في أوائلها - فلما رجع من الغزو أمر أبا بكر على الحج ثم أردفه بعلي، فلما لحقه قال: "أمير أو مأمور؟ " قال: "بل مأمور"، فكان أبو بكر يصلي بعلي وغيره ويأمر على علي، وعلي وغيره من الصحابة يطيعون أبا بكر. وعلي على نبذ العهود التي كانت بين النبي صلى الله عليه وسلم وبين المشركين. لأن العادة كانت جارية أنه لا يعقد العهود ولا يحلها إلا رجل من أهل بيته، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: "لا يبلغ عني العهد إلا رجل من أهل بيتي"، للعادة الجارية. ولم يكن هذا من خصائص علي رضي الله عنه، بل أي رجل من عترته نبذ العهد حصل به المقصود، لكن علي رضي الله عنه أفضل بني هاشم بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان أحق الناس بالتقدم من سائر الأقارب. فلما أمر أبا بكر بعد قوله: «أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى» علمنا أنه لا دلالة فيه على أنه بمنزلة هارون من كل وجه، إذ لو كان كذلك لم يقدم عليه أبو بكر لا في الحج ولا في الصلاة، كما أن هارون لم يكن موسى يقدم عليه غيره. وإنما شبهه به في الاستخلاف خاصة، وهذا أمر مشترك بينه وبين غيره.

নিশ্চয়ই এই স্থলাভিষেক বা প্রতিনিধি নিয়োগ ছিল তাবুক যুদ্ধের প্রারম্ভিক সময়ে। অতঃপর যখন তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন, তখন আবু বকরকে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করলেন এবং পরবর্তীতে আলীকে তাঁর অনুগামী হিসেবে পাঠালেন। যখন আলী তাঁর (আবু বকরের) সাথে মিলিত হলেন, তখন আবু বকর জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি আমীর (নেতা) হিসেবে এসেছেন নাকি মামুর (অনুসারী) হিসেবে?" তিনি বললেন: "বরং মামুর হিসেবেই এসেছি।" সুতরাং আবু বকর আলী ও অন্যান্যদের ইমামতি করে সালাত আদায় করতেন এবং আলীর ওপর আদেশ প্রদান করতেন; আর আলী ও অন্যান্য সাহাবীগণ আবু বকরের আনুগত্য করতেন। আলীর দায়িত্ব ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুশরিকদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো বাতিলের ঘোষণা দেওয়া। কেননা তৎকালীন প্রথা প্রচলিত ছিল যে, তাঁর পরিবারভুক্ত সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ চুক্তি সম্পাদন বা বাতিল ঘোষণা করত না। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই প্রচলিত প্রথার প্রেক্ষিতে বলেছিলেন: "আমার পক্ষ থেকে চুক্তির বার্তা আমার পরিবারের কোনো সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছে দেবে না।" এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোনো একক বৈশিষ্ট্য ছিল না, বরং তাঁর বংশের যেকোনো ব্যক্তির মাধ্যমে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিলেই উদ্দেশ্য সফল হতো। তবে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে বনু হাশিমের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, তাই নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তিনিই এই অগ্রগণ্যতার অধিক যোগ্য ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি—"তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার নিকট হারুনের স্থলাভিষিক্ত হবে যেমন মূসার নিকট হারুন ছিলেন"—প্রদানের পরেও যখন তিনি আবু বকরকে আমীর নিযুক্ত করলেন, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, এই বাণীতে সর্বতোভাবে হারুনের সমমর্যাদা সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। কারণ বিষয়টি যদি তাই হতো, তবে হজ্জ কিংবা সালাত কোনো ক্ষেত্রেই আবু বকরকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো না, ঠিক যেমন হারুনের উপস্থিতিতে মূসা অন্য কাউকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দিতেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি (রাসূলুল্লাহ) কেবল সেই নির্দিষ্ট স্থলাভিষেকের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে সাদৃশ্য দিয়েছিলেন, আর এটি এমন একটি বিষয় ছিল যা আলী এবং অন্যান্যদের মাঝেও সাধারণ ছিল।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وقد شبه النبي صلى الله عليه وسلم في الصحيح أبا بكر بإبراهيم وعيسى، وشبه عمر بنوح وموسى لما أشارا عليه في أسرى بدر هذا بالفدى وهذا بالقتل، وهذا أعظم من تشبيه علي بهارون، ولم يوجب ذلك أن يكونا بمنزلة أولئك الرسل مطلقا، ولكن تشابها بالرسل هذا في شدته في الله وهذا في لينه في الله، وتشبيه الشيء بالشيء لمشابهته به من بعض الوجوه كثير في الكتاب والسنة وكلام العرب.

وأما قوله: "من كنت مولاه فعلي مولاه، اللهم وال من والاه وعاد من عاداه وانصر من نصره واخذل من خذله وأدر الحق معه حيث دار" فهذا الحديث ليس في شيء من الأمهات؛ إلا في
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহ বর্ণনায় আবু বকরকে ইব্রাহিম ও ঈসার সাথে এবং উমরকে নূহ ও মুসার সাথে তুলনা করেছেন যখন বদরের বন্দীদের ব্যাপারে তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন—একজন মুক্তিপণের মাধ্যমে এবং অন্যজন হত্যার মাধ্যমে। এটি আলীকে হারুনের সাথে তুলনা করার চেয়েও মহত্তর বিষয়। তবে এটি তাঁদেরকে সেই রাসূলগণের সমমর্যাদাসম্পন্ন করা আবশ্যক করে না। বরং তাঁরা রাসূলগণের সাদৃশ্য লাভ করেছিলেন—একজন আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে তাঁর কঠোরতার কারণে এবং অন্যজন আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে তাঁর কোমলতার কারণে। কোনো একটি বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে কতিপয় দিক থেকে সাদৃশ্যের কারণে তুলনা করার বিষয়টি কিতাব, সুন্নাহ এবং আরবদের বক্তব্যে প্রচুর রয়েছে।

আর তাঁর এই বাণী: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ! যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন; আর যে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আপনিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন; যে তাকে সাহায্য করে, আপনিও তাকে সাহায্য করুন এবং যে তাকে পরিত্যাগ করে, আপনিও তাকে পরিত্যাগ করুন; আর সত্যকে তাঁর সাথেই পরিচালিত করুন সে যেখানেই থাকুক না কেন।"—এই হাদীসটি মূল হাদীস গ্রন্থসমূহের (উম্মাহাত) কোনোটিতে নেই; কেবল
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الترمذي وليس فيه إلا: «من كنت مولاه فعلي مولاه». وأما الزيادة فليست في الحديث. وقد سئل عنها الإمام أحمد فقال: الزيادة كوفية. ولا ريب أنها كذب لوجوه. أحدها أن الحق لا يدور مع شخص معين بعد النبي صلى الله عليه وسلم، لا مع أبي بكر ولا عمر ولا عثمان ولا علي رضي الله عنهم، لأنه لو كان كذلك لكان بمنزلة النبي صلى الله عليه وسلم يجب اتباعه في كل ما يقوله، ومعلوم أن عليا كان ينازعه أصحابه وأتباعه في مسائل كثيرة ولا يرجعون فيها إلى قوله، بل فيها مسائل وجد فيها نصوص عن النبي صلى الله عليه وسلم توافق قول من نازعه، كالمتوفى عنها زوجها وهي حامل. فإن عليا رضي الله عنه أفتى بأنها تعتد أبعد الأجلين، وعمر وابن مسعود رضي
তিরমিযী; এবং এতে কেবল এটুকু রয়েছে: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা।" আর অতিরিক্ত অংশটি এই হাদীসে নেই। ইমাম আহমাদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এই অতিরিক্ত অংশটি কূফী। আর বিভিন্ন কারণে এটি যে মিথ্যা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সত্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না—তা আবু বকর, উমর, উসমান কিংবা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম কারোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। কেননা বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমপর্যায়ের হতেন, যার প্রতিটি কথা অনুসরণ করা ওয়াজিব হতো। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথী ও অনুসারীরা অনেক মাসআলায় তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন এবং সেসব ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর মতের দিকে ফিরে আসতেন না। বরং এমন কিছু মাসআলাও রয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কিছু নস পাওয়া গিয়েছে যা তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণকারীদের মতের অনুকূলে ছিল। যেমন—এমন গর্ভবতী নারী যার স্বামী মারা গেছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, সে দুটি মেয়াদের মধ্যে দীর্ঘতম মেয়াদ পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে; অথচ উমর ও ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الله عنهما وغيرهما أفتوا بأنها تعتد بوضع الحمل، وبهذا جاءت سنة النبي صلى الله عليه وسلم. وكان أبو السنابل يفتي بمثل قول علي - رضي الله
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং অন্যরা ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, সে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করবে; আর এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এসেছে। আর আবু সানাবিল আলীর—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন—মতামতের অনুরূপ ফাতাওয়া দিতেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
عنه - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كذب أبو السنابل، قد حللت فانحكي» قاله لسبيعة الأسلمية لما سألته عن ذلك.

وقوله: " اللهم انصر من نصره واخذل من خذله" خلاف الواقع، فإن الواقع ليس كذلك. بل قاتل معه أقوام يوم صفين فما انتصروا، وأقوام لم يقاتلوا فما خُذلوا، كسعد بن أبي وقاص الذي فتح العراق، لم يقاتل معه، وكذلك أصحاب معاوية وبني أمية الذين قاتلوه فتحوا كثيرا من بلاد الكفار ونصرهم الله تعالى.
তাঁর থেকে বর্ণিত - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আবু আস-সানাবিল মিথ্যা বলেছে, তুমি হালাল হয়ে গেছ (বিয়ের যোগ্য হয়েছ), সুতরাং বিয়ে করে নাও।” তিনি সুবাইআহ আল-আসলামিয়্যাহকে এটি বলেছিলেন যখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

আর তাঁর উক্তি: “হে আল্লাহ, তাকে সাহায্য করুন যে তাকে সাহায্য করে এবং তাকে লাঞ্ছিত করুন যে তাকে পরিত্যাগ করে” - এটি বাস্তবতার বিপরীত, কারণ বাস্তবতা এমন নয়। বরং সিফফীনের দিন বহু লোক তাঁর পক্ষে যুদ্ধ করেছিল কিন্তু তারা বিজয়ী হয়নি, আবার অনেক লোক যুদ্ধ করেনি অথচ তারা লাঞ্ছিত হয়নি; যেমন সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, যিনি ইরাক বিজয় করেছিলেন, তিনি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেননি। তদ্রূপ মুয়াবিয়া এবং বনু উমাইয়ার সাথীবর্গ যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, তারা কাফেরদের বহু দেশ জয় করেছিল এবং মহান আল্লাহ তাদের সাহায্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وكذلك قوله: "اللهم وال من والاه وعاد من عاداه" مخالف لأصول الإسلام؛ فإن القرآن قد بيّن أن المؤمنين إخوة مع اقتتالهم وبغي بعضهم على بعض، هم إخوة مؤمنون كما قال تعالى: {وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا فأصلحوا بينهما فإن بغت إحداهما على الأخرى فقاتلوا التي تبغي حتى تفيء إلى أمر الله فإن فاءت فأصلحوا بينهما بالعدل وأقسطوا إن الله يحب المقسطين * إنما المؤمنون إخوة فأصلحوا بين أخويكم}. فكيف يجوز أن يقول النبي صلى الله عليه وسلم للواحد من أمته: "اللهم وال من والاه وعاد من عاداه" والله تعالى قد أخبر أنه ولي المؤمنين والمؤمنون أولياؤه وأن بعضهم أولياء بعض وأنهم إخوة وإن اقتتلوا أو بغى بعضهم على بعض.

وأما قوله: «من كنت مولاه فعلي مولاه» فمن علماء الحديث من طعن فيه كالبخاري وغيره، ومنهم من حسنه كأحمد بن حنبل والترمذي وغيرهما، فإن كان النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك [فما] أراد به ولاية يختص بها، [بل] لم يرد به إلا الولاية المشتركة، وهي ولاية الإيمان التي جعلها الله بين المؤمنين. وتبين بهذا أن عليا رضي الله عنه من المؤمنين
অনুরূপভাবে তাঁর এই কথা: "হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন এবং যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন" ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী; কারণ কুরআন স্পষ্ট করেছে যে, মুমিনরা পরস্পরের ভাই, এমনকি তাদের পারস্পরিক লড়াই এবং একে অপরের ওপর বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও তারা মুমিন ভাই। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি মুমিনদের দুই দল লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের ওপর বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে লড়াই করো যারা সীমালঙ্ঘন করে, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করে দাও এবং ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন। মুমিনরা তো পরস্পর ভাই; সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।} অতএব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের কোনো একজন ব্যক্তির সম্পর্কে কীভাবে বলতে পারেন যে: "হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন এবং যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন", যেখানে আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি মুমিনদের বন্ধু এবং মুমিনরা তাঁর বন্ধু, আর তারা একে অপরের বন্ধু এবং তারা পরস্পর ভাই, যদিও তারা একে অপরের সাথে লড়াই করে কিংবা একে অপরের ওপর বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন করে।

আর তাঁর এই কথা: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা"—এটির ক্ষেত্রে হাদীস বিশারদদের কেউ কেউ এর বিশুদ্ধতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, যেমন বুখারী ও অন্যান্যরা। আবার কেউ কেউ একে হাসান (উত্তম) বলেছেন, যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিরমিযী ও অন্যান্যরা। যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি বলেই থাকেন, তবে তিনি এর দ্বারা এমন কোনো বন্ধুত্বের (বিলায়াত) উদ্দেশ্য করেননি যা কেবল তাঁর (আলীর) জন্যই নির্দিষ্ট, বরং তিনি কেবল সাধারণ বন্ধুত্বের উদ্দেশ্যই করেছেন; আর তা হলো ঈমানের বন্ধুত্ব যা আল্লাহ মুমিনদের মধ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
المتقين الذين يجب موالاتهم، ليس كما تقول النواصب أنه لا يستحق الموالاة. والموالاة ضد المعاداة. ولا ريب أنه يجب موالاة جميع المؤمنين، وعلي من سادات المؤمنين، كما يجب موالاة أبي بكر وعمر وعثمان وسائر المهاجرين والأنصار رضي الله عنهم، ونقص إيمانه بقدر ما ترك من موالاتهم الواجبة، وقد قال تعالى: {إنما وليكم الله ورسوله والذين آمنوا الذين يقيمون الصلاة ويؤتون الزكاة وهم راكعون * ومن يتول الله ورسوله والذين آمنوا فإن حزب الله هم الغالبون} وهذه موجبة لموالاة جميع المؤمنين.

وحديث التصدق بالخاتم في الصلاة كذب موضوع باتفاق أهل المعرفة. وذلك مبين بوجوه كثيرة مبسوطة في غير هذا الموضع.

وأما قوله: يوم غدير خم: «أذكركم الله في أهل بيتي» وهذا حديث رواه مسلم، وليس هذا من خصائص علي، بل هو مساو لجميع
মুত্তাকিরা তারা যাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা ওয়াজিব; নাসিবিরা যা বলে তেমন নয় যে তিনি বন্ধুত্বের যোগ্য নন। আর বন্ধুত্ব হলো শত্রুতার বিপরীত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সমস্ত মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা ওয়াজিব, আর আলী মুমিনদের নেতৃস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত, যেমন আবু বকর, উমর, উসমান এবং অন্যান্য মুহাজির ও আনসারদের (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) সাথে বন্ধুত্ব রাখা ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি তাদের সাথে ওয়াজিব বন্ধুত্ব বর্জন করবে, তার ঈমান সেই পরিমাণে হ্রাস পাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের প্রকৃত বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনরা—যারা সালাত কায়েম করে ও রুকু অবস্থায় জাকাত প্রদান করে। আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে।" আর এটি সকল মুমিনের সাথে বন্ধুত্ব করাকে আবশ্যক করে।

সালাত রত অবস্থায় আংটি দান করার হাদিসটি বিদ্বানদের ঐকমত্যে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট বর্ণনা। এটি অন্য স্থানে বহু দলিলে বিস্তারিতভাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আর গাদীরে খুমের দিবসে তাঁর বাণী: "আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি"—এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এটি আলীর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয়, বরং তিনি এক্ষেত্রে সকলের সমান...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৪৯)
أهل البيت، آل علي وجعفر وعقيل وآل العباس. وأبعد الناس عن هذه الوصية الرافضة، فإنهم من شؤمهم يعادون العباس وذريته، بل يعادون جمهور أهل بيت النبي صلى الله عليه وسلم ويعينون الكفار عليهم، كما أعانوا التتار على الخلفاء من بني العباس، فهم يعاونون الكفار

আহলে বাইত হলেন আলী, জাফর, আকীল এবং আব্বাসের বংশধরগণ। এই অসিয়ত বা উপদেশের ব্যাপারে সবচেয়ে বিমুখ লোক হলো রাফেজিরা। কেননা তারা তাদের অশুভ স্বভাববশত আব্বাস ও তাঁর বংশধরদের সাথে শত্রুতা করে, বরং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ আহলে বাইতের সাথেই শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করে। যেমন তারা বনু আব্বাসের খলীফাদের বিরুদ্ধে তাতারদের সাহায্য করেছিল। ফলে তারা কাফেরদেরই সহযোগিতা প্রদান করে।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৫০)
ويعادون أهل البيت. وأما أهل السنة فيعرفون حقوق أهل البيت ويحبونهم ويوالونهم ويلعنون من ينصب لهم العداوة.

وأما آية المباهلة فليست أيضا من خصائصه رضي الله عنه، بل قد دعا عليا وفاطمة والحسن والحسين كما رواه مسلم، ودعوتهم لم تكن لأنهم أفضل الأمة، بل لأنهم أخص أهل بيته، كما روى مسلم عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم أدى زكاة علي وفاطمة والحسن والحسين وقال: «اللهم هؤلاء أهل بيتي فأذهب عنهم الرجس
এবং তারা আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাতগণ আহলে বাইতের অধিকার সম্পর্কে অবগত, তাঁরা তাঁদের ভালোবাসেন ও তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁদের প্রতি যারা শত্রুতা পোষণ করে তাদের অভিশাপ দেন।

আর মুবাহালার আয়াতটিও তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) একক কোনো বৈশিষ্ট্য নয়; বরং নবী আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনকে ডেকেছিলেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তাঁদেরকে ডাকার কারণ এটি ছিল না যে তাঁরা উম্মতের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ, বরং তাঁরা ছিল তাঁর পরিবারের বিশেষ সদস্য। যেমনটি ইমাম মুসলিম আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনের জাকাত আদায় করেছিলেন এবং বলেছিলেন: «হে আল্লাহ, এরাই আমার আহলে বাইত, সুতরাং আপনি তাঁদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৫১)
وطهرهم تطهيرا». فدعا لهم دعوة خصهم بها. ولما كانت المباهلة بالنساء والأبناء والأنفس دعا هؤلاء.

ولفظ "الأنفس" يعبر بها عن النوع الواحد، كما قال تعالى: {لولا إذ سمعتموه ظن المؤمنون والمؤمنات بأنفسهم خيرا}، وقال تعالى: {فتوبوا إلى بارئكم فاقتلوا أنفسكم} أي: يقتل بعضكم بعضا، وقوله: «أنت مني وأنا منك» ليس المراد أنه من ذاته، ولا ريب أن أعظم الناس قدرا من الأقارب هو علي رضي الله عنه، فله من مزية القرابة والإيمان ما لا يوجد لبقية القرابة والصحابة، فدخل بذلك في المباهلة. وذلك لا يمنع أن يكون في غير الأقارب من هو أفضل منه؛ لأن المباهلة وقعت بالأقارب، فلهذا لم يباهل بأبي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم ونحوهم.
এবং তাদের পূর্ণরূপে পবিত্র করেছেন।' অতঃপর তিনি তাদের জন্য এমন একটি বিশেষ দোয়া করেছেন যা কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। যেহেতু মুবাহালা নারী, সন্তান এবং আপনজনদের নিয়ে হওয়ার কথা ছিল, তাই তিনি এদেরকেই ডেকেছিলেন।

'আনফুস' (আত্মা/নিজ) শব্দটি একই স্বজাতি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'তোমরা যখন এটি শ্রবণ করলে, তখন কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না?' আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: 'অতএব তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং নিজেদের হত্যা করো', অর্থাৎ তোমরা একে অপরকে হত্যা করো। আর তাঁর বাণী: 'তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে'—এর অর্থ এই নয় যে তিনি তাঁর সত্তা থেকে উদ্ভূত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আত্মীয়দের মধ্যে মর্যাদাগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আত্মীয়তা ও ঈমানের ক্ষেত্রে তাঁর এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য আত্মীয় ও সাহাবীদের মাঝে বিদ্যমান নেই; একারণেই তিনি মুবাহালায় শরিক হয়েছিলেন। তবে এটি আত্মীয়দের বাইরে এমন কেউ থাকার পরিপন্থী নয় যারা তাঁর অপেক্ষা উত্তম; কারণ মুবাহালা কেবল নিকটাত্মীয়দের নিয়েই সংঘটিত হয়েছিল, একারণেই তিনি আবু বকর, উমর, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের ন্যায় অন্যদের নিয়ে মুবাহালা করেননি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৫২)
وأما قوله تعالى: {هذان خصمان اختصموا في ربهم}، ففي الصحيح عن أبي ذر رضي الله عنه أنها نزلت في المختصمين يوم بدر، وأول من برز من المؤمنين علي وحمزة وعبيدة بن الحارث رضي
আর মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপারে: {এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ যারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে}, সহীহ গ্রন্থে আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি বদরের দিন বিবাদে লিপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আর মুমিনদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যারা সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তারা হলেন আলী, হামযাহ এবং উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৫৩)
الله عنهم، برزوا لعتبة وشيبة والوليد بن عتبة. وهذه فضيلة مشتركة بين علي وحمزة وعبيدة، بل سائر البدريين يشاركونهم في هذه الخصومة.
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁরা উতবাহ, শায়বাহ এবং ওয়ালিদ ইবনে উতবাহর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এটি আলী, হামযাহ এবং উবাইদাহর মধ্যকার একটি যৌথ মর্যাদা; বরং বদর যুদ্ধের অন্যান্য সকল অংশগ্রহণকারীও এই বিরোধের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে অংশীদার।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফাদলিল খুলাফাউর রাশিদীন (পৃষ্ঠা: ৫৪)
ولو قدر أنها نزلت في الستة المبارزين فلا يدل على أنهم أفضل من غيرهم، بدليل أن النبي صلى الله عليه وسلم والحسن والحسين وأبو بكر وعمر وعثمان وغيرهم ممن هو أفضل من عبيدة بن الحارث باتفاق أهل السنة منقبة لهم وفضيلة، وليست من الخصائص التي توجب كون صاحبها أفضل من غيره.

وأما سورة: {هل أتى} وقول من يقول إنها نزلت لما تصدقوا على مسكين ويتيم وأسير، ويذكرون أن ذلك كان لما تصدقت فاطمة رضي الله عنها بقوت الحسن والحسين، وهذا كذب لأن سورة {هل أتى} مكية بالإجماع، والحسنين إنما ولدا في المدينة بعد غزوة بدر باتفاق أهل العلم. وبتقدير صحتها فليس في هذا ما يدل على أن من أطعم مسكينا ويتيما وأسيرا كان أفضل الأمة وأفضل الصحابة، بل الآية عامة مشتركة
যদি ধরে নেওয়া হয় যে এটি ওই ছয়জন দ্বন্দ্বযোদ্ধার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে এটি প্রমাণ করে না যে তারা অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এর প্রমাণ হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), হাসান, হুসাইন, আবু বকর, উমর, উসমান এবং আহলে সুন্নাতের ঐকমত্যে যারা উবায়দা ইবনুল হারিস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এটি তাদের জন্য একটি মর্যাদা ও ফজিলত। আর এটি এমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয় যা তার অধিকারীকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া আবশ্যক করে।

আর সূরা ‘হাল আতা’ এবং যারা বলে যে এটি অভাবী, এতিম ও বন্দীদের দান করার কারণে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা উল্লেখ করে যে এটি তখন ঘটেছিল যখন ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হাসান ও হুসাইনের খাবার দান করে দিয়েছিলেন—এটি একটি মিথ্যা কথা। কারণ সর্বসম্মতিক্রমে সূরা ‘হাল আতা’ হলো মক্কি সূরা, আর আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী হাসান ও হুসাইন বদর যুদ্ধের পর মদীনায় জন্মগ্রহণ করেছেন। এমনকি এটি সঠিক ধরে নিলেও এতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, যে ব্যক্তি অভাবী, এতিম ও বন্দীদের খাওয়ায় সে উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বা সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; বরং এই আয়াতটি সাধারণ ও সবার জন্য প্রযোজ্য।