(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الدين المعاملة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الدين المعاملة
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: رابطة العالم الإسلامي - سلسة دعوة الحق (كتاب شهري محكّم) - السنة 24، العدد 238، عام 1430 هـ - 2009 م
عدد الصفحات: 234
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433
দ্বীন হলো পারস্পরিক আচরণ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: দ্বীন হলো পারস্পরিক আচরণ
লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ - দাওয়াতুল হক সিরিজ (মাসিক পিয়ার-রিভিউড গ্রন্থ) - ২৪তম বর্ষ, সংখ্যা ২৩৮, ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الدين المعاملة
(صفحات من هدي الأسوة الحسنة صلى الله عليه وسلم)
د. منقذ بن محمود السقار
الباحث في رابطة العالم الإسلامي
দ্বীন হলো সদাচরণ
(উত্তম আদর্শ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত থেকে কিছু পৃষ্ঠা)
ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামি-এর গবেষক
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه إلى يوم الدين، وبعد
ساد المسلمون الدنيا، وبنوا حضارة فريدة حين كانوا مستمسكين بدين الله عقيدة وشريعة، عبادة وسلوكاً وأخلاقاً.
وبقدر ما بعدوا عن دينهم هانوا على الله وهانوا في أرض الله، ودارت عليهم الدوائر، فصاروا أثراً بعد عين.
وقام المصلحون والغيورون يرومون استعادة الأمة لسابق مجدها وعظيم سؤددها، وتداولوا الرأي، فما وجدوا علاجاً أنجع لإصلاح حالها اليوم من العلاج الذي أصلح حالها في صدر الإسلام، وكما يقول وهب بن كيسان: "لن يصلح حال هذه الأمة إلا بما صلح به أولها" (1).
وقد وصف صلى الله عليه وسلم داء هذه الأمة، وأرشدها إلى دوائها: «فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ» (2).
--------------------------------------------
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসারী হবে তাদের ওপর। অতঃপর—
মুসলমানগণ যখন আল্লাহর দ্বীনকে আকিদা ও শরিয়ত, ইবাদত ও আচরণ এবং আখলাকের দিক থেকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল, তখন তারা বিশ্ব শাসন করেছিল এবং একটি অনন্য সভ্যতা নির্মাণ করেছিল।
তারা তাদের দ্বীন থেকে যতটুকু দূরে সরে গিয়েছে, আল্লাহর কাছে তারা ততটুকুই লাঞ্ছিত হয়েছে এবং আল্লাহর জমিনেও অপদস্থ হয়েছে। তাদের ওপর বিপদাপদ আপতিত হয়েছে, ফলে তারা অস্তিত্ব হারিয়ে কেবল স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
সংস্কারক ও দ্বীন-দরদী ব্যক্তিবর্গ উম্মাহর হারানো গৌরব ও সুমহান মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষায় সচেষ্ট হয়েছেন। তাঁরা এ নিয়ে পরামর্শ করেছেন এবং বর্তমান সময়ের অবস্থা সংস্কারের জন্য ইসলামের সূচনালগ্নে যে প্রতিকার কাজ করেছিল, তা ছাড়া আর কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পাননি। যেমনটি ওয়াহব ইবনে কায়সান বলেন: "এই উম্মতের শেষভাগের সংশোধন কেবল তা দ্বারাই সম্ভব, যা দ্বারা এর প্রথম ভাগের সংশোধন হয়েছিল" (১)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই উম্মতের রোগের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এর প্রতিকারের পথ দেখিয়েছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। একে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وإذا كان كذلك فالواجب علينا التعرف على سنته صلى الله عليه وسلم، ثم العض عليها بالنواجذ، وهو أمر كثر حديث الوعاظ عنه، فلا تكاد تجد واعظاً إلا وهو يحث على التمسك بسنته صلى الله عليه وسلم، وقل أن نجد منهم من يضع النقاط على الحروف، فيبين لنا سنته صلى الله عليه وسلم في مختلف الأمور التي تعرض لنا في حياتنا، كيف كان صلى الله عليه وسلم يتعامل مع أزواجه وأهل بيته؟ وكيف عامل خدمه وأصحابه، بل كيف تعامل مع عدوه.
وهكذا سلسلة طويلة من الأسئلة، نستلهم من خلال الإجابة عنها هدي النبي صلى الله عليه وسلم، ويدفعنا إلى تلمس هذا الهدي إيمانُنا أنه صلى الله عليه وسلم الأنموذج الذي وضعه الله نصب أعيننا، وطالبنا باتباعه والمشي على نهجه وغرزه {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيراً} (الأحزاب: 21).
إننا نود من خلال هذه الصفحات أن ننتقل بإيماننا بالنبي صلى الله عليه وسلم من الإطار النظري إلى الاتباع العملي الذي هو برهان الإيمان ودليله وحقيقته، وحينها فقط نكون مؤمنين حقاً بمحمد صلى الله عليه وسلم، وحينها فقط تستقيم حياتنا وفق الإسلام العظيم الذي أنزله الله ليحكم حياتنا، لا ليكون مجرد شعار نتدثر به،
আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে উপদেশদাতাগণ প্রচুর আলোচনা করেন; ফলে আপনি এমন কোনো উপদেশদাতা পাবেন না যিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেন না। তবে তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যায় যারা বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং আমাদের জীবনের সামনে আসা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ আমাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কেমন আচরণ করতেন? তাঁর সেবক ও সাহাবীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন? এমনকি তাঁর শত্রুদের সাথেও কেমন আচরণ করতেন?
এভাবে এক দীর্ঘ প্রশ্নমালা রয়েছে, যেগুলোর উত্তর প্রদানের মাধ্যমে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করি। আর আমাদের এই বিশ্বাসই আমাদের সেই আদর্শ অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সেই নমুনা যাকে আল্লাহ আমাদের চোখের সামনে রেখেছেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর অনুসরণ করতে এবং তাঁরই পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (আল-আহযাব: ২১)।
আমরা এই পৃষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আমাদের ঈমানকে তাত্ত্বিক পর্যায় থেকে সরিয়ে ব্যবহারিক অনুসরণের দিকে নিয়ে যেতে চাই, যা হলো ঈমানের প্রমাণ, দলিল ও বাস্তবতা। কেবল তখনই আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি প্রকৃত মুমিন হতে পারব, এবং কেবল তখনই আমাদের জীবন সেই মহান ইসলামের আলোকে সঠিক পথে পরিচালিত হবে যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন আমাদের জীবন পরিচালনার জন্য—নিছক কোনো স্লোগান হিসেবে ধারণ করার জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
من غير أن يكون واقعاً يرشد سلوكنا ويقيم حياتنا وفق مراضي ربنا تبارك وتعالى.
إن الأمور التي نحتاج فيها إلى الاستمساك بهدي النبي صلى الله عليه وسلم كثيرة تشمل كل لحظة في حياتنا، فما من صفحة في حياتنا إلا وللنبي صلى الله عليه وسلم فيها توجيه بقوله أوفعله.
وفي هذه الصفحات نسلط الضوء على جانب من الجوانب المهمة في حياتنا، وهو المعاملة مع الآخرين، ننهل في تصحيح هذا الجانب من معاملة النبي صلى الله عليه وسلم للآخرين، فنحن أحوج ما نكون إلى هذا الهدي مع فساد تعاملنا مع بعضنا، فالدين ليس فقط معاملة مع الله، بل هو معاملة مع الخلق أيضاً، ولئن كانت حقوق الله مبنية على المسامحة فإن حقوق العباد مبنية على المشاحة، لذا وجب علينا معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في المعاملة مع الخَلق؛ لنتأسى به، فتنصلح علاقاتنا الأسرية والاجتماعية.
كما أن إشاعتنا لهدي النبي صلى الله عليه وسلم فيه أبلغ الرد وأقومه على الافتراءات والأباطيل التي يثيرها الأفاكون عن شخصه صلى الله عليه وسلم، فلئن تساءل بعضهم عن الخير الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم، فإنا نعتقد أنه صلى الله عليه وسلم جاء بكل خير، وما صفحاتنا إلا بعض قطرات من بحر خيره وهديه صلى الله عليه وسلم.
আমাদের আচরণকে পরিচালিত করার এবং আমাদের জীবনকে আমাদের বরকতময় ও সুমহান রবের সন্তুষ্টি অনুযায়ী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি যেন বাস্তবতাবিবর্জিত না হয়।
যেসব বিষয়ে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত আঁকড়ে ধরা প্রয়োজন তা বহুবিদ এবং তা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে শামিল করে। আমাদের জীবনের এমন কোনো অধ্যায় নেই যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী বা কর্মের মাধ্যমে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক অর্থাৎ অন্যদের সাথে আচরণের ওপর আলোকপাত করব। এই বিষয়টি সংশোধন করার জন্য আমরা অন্যদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের প্রস্রবণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। একে অপরের সাথে আমাদের আচরণের অবনতির এই সময়ে আমরা এই হেদায়াতের চরম মুখাপেক্ষী। কেননা দ্বীন কেবল আল্লাহর সাথে সম্পর্কের নাম নয়, বরং তা সৃষ্টির সাথে আচরণেরও নাম। আল্লাহর অধিকারসমূহ ক্ষমাশীলতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হলেও বান্দার অধিকারসমূহ পারস্পরিক চুলচেরা পাওনা আদায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই সৃষ্টির সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত জানা আমাদের জন্য আবশ্যক; যাতে আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারি এবং আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো সংশোধিত হয়।
তদুপরি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত প্রচার করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাঁর মহান সত্তা সম্পর্কে মিথ্যাচারী ও অপবাদদানকারীদের উত্থাপিত অপপ্রচার ও অসার দাবির সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও সঠিক জবাব। যদি কেউ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কল্যাণ নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি সকল কল্যাণ নিয়েই আগমন করেছেন। আর আমাদের এই পৃষ্ঠাগুলো তাঁর কল্যাণ ও হেদায়াতের সমুদ্র থেকে কয়েক ফোঁটা জলবিন্দু মাত্র।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولن أستطيع في هذا المقام استقصاء هدي النبي صلى الله عليه وسلم في معاملاته كلها، فهذا دونه خرط القتاد، وهو بحر بعيد غوره، لكني رأيت أن أسلط الضوء على نماذج من هديه صلى الله عليه وسلم، وفيها ما يدعونا إلى مزيد من البحث والتنقيب عن سنته وهديه صلى الله عليه وسلم، واللهَ أسأل أن يقيم حياتنا على السنة، وأن يجعلنا ممن عرف الحق والتزمه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
আর এই পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল মুয়ামালা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে তাঁর হিদায়াত বা আদর্শ পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। কেননা এটি এক অতিশয় দুরুহ কাজ এবং এটি এমন এক সমুদ্র যার তলদেশ অতলস্পর্শী। তবে আমি তাঁর হিদায়াতের কিছু নমুনার ওপর আলোকপাত করা সমীচীন মনে করেছি, যার মধ্যে এমন উপকরণ রয়েছে যা আমাদের তাঁর সুন্নাহ ও হিদায়াত সম্পর্কে অধিকতর গবেষণা ও অনুসন্ধানের প্রতি আহ্বান জানায়। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের জীবনকে সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সত্যকে চিনেছে এবং তা আঁকড়ে ধরেছে। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول:معاملة النبي صلى الله عليه وسلم وهديه في بيتهوفيه مباحث:
المبحث الأول: هدي النبي صلى الله عليه وسلم في عشرة النساء
المبحث الثاني: معاملة النبي صلى الله عليه وسلم للأطفال
المبحث الثالث: معاملة النبي صلى الله عليه وسلم مع الخدم وصغار الموظفين
প্রথম অধ্যায়:তাঁর নিজ গৃহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ ও আদর্শএতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিশুদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খাদেম ও কনিষ্ঠ কর্মচারীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: هدي النبي صلى الله عليه وسلم في عشرة النساءالأسرة هي قوام المجتمع، وهي المحضن الطبيعي لتخريج جيل من الأبناء الأسوياء الذين يعمرون الأرض بطاعة الله، وهذه الأسرة قوامها الأساس الوالدان اللذان يبنيان معاً هذه المؤسسة على قاعدة متينة من الحقوق والواجبات المتبادلة بينهما.
وحديثنا في هذا المقام عن زوج لا كالأزواج، عن سيد الأزواج صلى الله عليه وسلم، نتسور حائط بيته لنطل على بعض جوانب حياته الخاصة صلى الله عليه وسلم، نرنو منه تعلم أصول العشرة بين الزوجين، فحديثنا عن معاملة النبي صلى الله عليه وسلم مع نسائه وأهل بيته تمس إليه حاجة كل منا، وهو هدية نخص بها كل زوج لا يعرف قيمة رباط الزوجية الوثيق، فيسيء إلى شريكة حياته، فيشتمها، أو يرفع صوته عليها، أو يغاضبها؛ لأن طعامها تأخر نضجه بضع دقائق، أو لأنها خالفته الرأي في مسألة ما أو لغيره من الأسباب التافهة التي لأجلها نقيم الدنيا ولا نقعدها.
ومن أعجب ما رأينا من صور سوء المعاملة؛ ما درج عليه بعض الأزواج، فتراه مع أصحابه طلْقَ المحيا براقَ الثنايا، فإذا ما وصل إلى عتبة بيته أخفى ابتسامته وتصنع تكشيرة وعبوساً،
প্রথম পরিচ্ছেদ: স্ত্রীদের সাথে জীবনযাপনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শপরিবার হলো সমাজের ভিত্তি, আর এটিই হলো একটি সুশৃঙ্খল প্রজন্মের সন্তানদের গড়ে তোলার স্বাভাবিক লালনভূমি, যারা আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে জমিনকে আবাদ করবে। এই পরিবারের মূল ভিত্তি হলো পিতা-মাতা, যারা উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যের এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর একত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
এই স্থানে আমাদের আলোচনা এমন এক স্বামী সম্পর্কে যিনি সাধারণ স্বামীদের মতো নন, বরং তিনি হলেন সকল স্বামীর সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা তাঁর ঘরের দেয়ালের ওপর দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দিকের ওপর দৃষ্টিপাত করব, তাঁর থেকে দম্পতির মধ্যকার পারস্পরিক আচরণের মূলনীতিগুলো শেখার আকাঙ্ক্ষা রাখব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁর স্ত্রীদের ও পরিবারের সদস্যদের সাথে আচরণের আলোচনা আমাদের প্রত্যেকের জন্যই জরুরি। এটি এমন এক উপহার যা আমরা বিশেষ করে সেই স্বামীর জন্য নিবেদন করছি, যে এই দৃঢ় দাম্পত্য বন্ধনের মূল্য বোঝে না; ফলে সে তার জীবনসঙ্গিনীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, তাকে গালি দেয়, তার ওপর উচ্চস্বরে কথা বলে অথবা তার ওপর রাগান্বিত হয়—হয়তো খাবার তৈরি হতে কয়েক মিনিট দেরি হওয়ার কারণে, অথবা কোনো বিষয়ে সে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করার কারণে, কিংবা অন্য কোনো তুচ্ছ কারণে যেগুলোর জন্য আমরা তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে ফেলি।
দুর্ব্যবহারের যে চিত্রগুলো আমরা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো যা কিছু স্বামী নিয়মিত করে থাকে; আপনি তাকে দেখবেন বন্ধুদের সাথে অত্যন্ত প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল চেহারায়, কিন্তু যখনই সে তার ঘরের চৌকাঠে পৌঁছায়, তখন সে তার হাসি লুকিয়ে ফেলে এবং কৃত্রিম ভ্রুকুটি ও বিমর্ষ ভাব ধারণ করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يدعي أنه يحفظ بهما رجولته ووقاره في بيته، وما درى المسكين أن لا علاقة بين العَبُوس والرجولة إلا في مخيلة أشباه الرجال.
مع النبي صلى الله عليه وسلم في بيته:
ولو تطفلنا على حياة النبي صلى الله عليه وسلم الخاصة، وسألنا زوجه الأثيرة عائشة رضي الله عنها: كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خلا مع نسائه؟! لسمعنا الجواب: (كان كرجلٍ منكم لنسائكم، إلا أنه كان أكرمَ الناس خُلُقاً، وأبينَ الناس، ضاحكاً بساماً صلى الله عليه وسلم) (1).
ولا عجب أن يكون صلى الله عليه وسلم كذلك فهو القائل: «أكمل المؤمنين إيماناً أحسنهم خلقاً، وخياركم خياركم لنسائهم خلقاً»، وفي رواية: «إن من أكمل المؤمنين إيماناً أحسنهم خلقاً وألطفهم بأهله» (2)، وكان يقول: «خيرُكم خيرُكم لأهله، وأنا خيرُكم لأهلي» (3).
--------------------------------------------
তিনি দাবি করেন যে এর মাধ্যমে তিনি তাঁর ঘরে নিজ পুরুষত্ব ও গাম্ভীর্য বজায় রাখেন; অথচ এই বেচারা জানে না যে, রূঢ়তা ও পুরুষত্বের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই—কেবল পুরুষ নামধারী কাপুরুষদের কল্পনা ছাড়া।
নিজ গৃহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে:
আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করতাম এবং তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করতাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর স্ত্রীদের সাথে নিভৃতে থাকতেন তখন তিনি কেমন ছিলেন?! তবে আমরা অবশ্যই এই উত্তরটি শুনতাম: (তিনি ছিলেন তোমাদের স্ত্রীদের কাছে তোমাদের সাধারণ পুরুষদের মতোই একজন, তবে তিনি ছিলেন চরিত্রের দিক থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি মহানুভব এবং সবচেয়ে বেশি স্পষ্টভাষী, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও হাস্যমুখী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (১)।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই হবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি নিজেই বলেছেন: "মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ সেই ব্যক্তি, যে চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম; আর তোমাদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম"। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয়ই মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ সেই ব্যক্তি, যে চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং তার পরিবারের প্রতি সবচেয়ে বেশি কোমল" (২)। তিনি আরও বলতেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهكذا يضع النبي صلى الله عليه وسلم ميزاناً فريداً للخيرية، لا يقوم على كثرة الصيام ولا طول القيام، إنما يستمد قيَمَه من الإحسان إلى الزوجةِ خصوصاً، والأبناءِ والأهلِ عموماً.
ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم في بيته يأنف من شيء مما يأنف منه بعض الأزواج، ويرونه قادحاً بالرجولة وغير متناسب مع مَقامِها، فيتركون خدمة أنفسهم في البيت، ويأنفون من مساعدة زوجاتهم في أعباء المنزل، فلا تراه إلا صارخاً يطلب الماء تارة، والطعام تارة، وبقية حاجاته الشخصية في تارات أخرى، وكأنه يقيم في فندق من فنادق النجوم الخمسة، ومن يشاركه البيت هم خدمه الخاص، ولهؤلاء نذكر ما تقوله أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها في وصفه صلى الله عليه وسلم، فقد سئلت: ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع في بيته؟ فقالت: (كان يكون في مهنة أهله - تعني خدمةَ أهله - فإذا حضرت الصلاة خرج إلى الصلاة)، وفي رواية: (كان بشراً من البشر، يَفْلي ثوبه، ويحلب شاتَه، ويخدم نفسه) (1).
--------------------------------------------
এভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শ্রেষ্ঠত্বের একটি অনন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, যা কেবল অধিক রোজা রাখা বা দীর্ঘ সময় কিয়াম (দাঁড়িয়ে ইবাদত) করার ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এর মূল্যবোধ গ্রহণ করে বিশেষত স্ত্রীর প্রতি এবং সাধারণভাবে সন্তান ও পরিবারের প্রতি সদাচরণের মাধ্যমে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে এমন কোনো কাজ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না যা করতে বর্তমানের কোনো কোনো স্বামী কুণ্ঠাবোধ করেন এবং সেগুলোকে তারা পৌরুষের পরিপন্থী ও নিজ মর্যাদার সাথে বেমানান মনে করেন। ফলে তারা ঘরে নিজের ব্যক্তিগত কাজগুলো করতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং ঘরের কাজের চাপে থাকা স্ত্রীদের সাহায্য করতে কুণ্ঠা বোধ করেন। এমতাবস্থায় আপনি তাদের কেবল চিৎকার করে কখনও পানি চাইতে দেখবেন, কখনও খাবার চাইতে দেখবেন, আবার কখনও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে বলবেন; যেন তিনি কোনো পঞ্চ তারকা হোটেলে অবস্থান করছেন এবং ঘরে যারা তাঁর সাথে আছেন তারা যেন কেবলই তাঁর ব্যক্তিগত সেবক। এদের জন্য আমরা উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র সেই কথাটি উল্লেখ করছি যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনায় বলেছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকাকালীন কী করতেন? তিনি বলেন: (তিনি তাঁর পরিবারের কাজে নিয়োজিত থাকতেন—অর্থাৎ পরিবারের সেবা করতেন—আর যখন সালাতের সময় হতো, তখন সালাতের জন্য বেরিয়ে যেতেন)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (তিনি সাধারণ মানুষের মতোই একজন মানুষ ছিলেন, তিনি তাঁর কাপড় পরিষ্কার করতেন, বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال المناوي: " فيه ندب خدمة الإنسان نفسَه، وأن ذلك لا يخل بمنصبه وإن جل" (1).
ويضيف ابن بطال: "من أخلاق الأنبياء التواضعُ، والبعدُ عن التنعم، وامتهانُ النفس، ليُستنَّ بهم، ولئلا يَخلُدوا إلى الرفاهية المذمومة، وقد أشير إلى ذمها بقوله تعالى: {وَذَرْنِي وَالْمُكَذِّبِينَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلاً} (المزمل: 11) (2).
ومن عجيب ما نسمع من أخبار بعض الأزواج أنه يكثر السمر والسهر خارج البيت أو مع ضيوفه، ولا تجده كذلك مع زوجه التي لا تسمع منه إلا توجيه الأوامر: اصنعي ولا تصنعي، ولربما تكبر هذا المسكين عن الجلوس إلى زوجته ومباسطَتِها وتبادلِ الحديث معها.
ولهذا وأمثاله نقول: إن النبي صلى الله عليه وسلم ورغم كثرة أعبائه ومشاغله جلس مرة يسامر زوجه عائشة، فسمع منها قصة عشر نسوة في الجاهلية، تحكي كل واحدة منهن قصتها مع زوجها، والنبي صلى الله عليه وسلم يستمع لذلك كله بإصغاء وسرور، والحديث طويل معروف مشهور بحديث أمِ زَرْع، فلم تمنعه
--------------------------------------------
আল-মুনাউয়ী বলেন: "এতে মানুষের নিজের সেবা নিজে করার সুপারিশ বিদ্যমান, এবং এটি তার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না, তা যতই মহান হোক না কেন" (১)।
ইবন বাত্তাল আরও যোগ করেন: "নবীদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিনয়, বিলাসিতা থেকে দূরত্ব এবং কায়িক শ্রমের মাধ্যমে নিজের কাজ নিজে করা, যাতে তাদের আদর্শ অনুসরণ করা হয় এবং তারা যেন নিন্দনীয় আরাম-আয়েশে নিমগ্ন না হয়ে পড়েন। আল্লাহ তাআলার বাণীতে এই বিলাসিতার নিন্দার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে: 'আর আমাকে এবং বিলাসিতায় মত্ত মিথ্যারোপকারীদের ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে সামান্য সময় অবকাশ দাও' (আল-মুয্যাম্মিল: ১১) (২)।
কিছু স্বামীর ব্যাপারে আমরা যে সব বিস্ময়কর সংবাদ শুনতে পাই তা হলো, তারা ঘরের বাইরে অথবা বন্ধুদের সাথে প্রচুর গল্পগুজব ও রাত জাগরণ করে, কিন্তু নিজের স্ত্রীর সাথে তাকে এমনটি করতে দেখা যায় না। স্ত্রীর নিকট সে কেবল নির্দেশই প্রদান করে: এটি করো, ওটি করো না। সম্ভবত এই বেচারা তার স্ত্রীর সাথে বসা, তার সাথে খোশগল্প করা এবং আলাপ-আলোচনা বিনিময় করাকে নিজের জন্য অহংকারের পরিপন্থী বা মর্যাদাহানিকর মনে করে।
এই কারণে এবং এই জাতীয় ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে আমরা বলি: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অগণিত দায়িত্ব ও ব্যস্ততা সত্ত্বেও একবার তাঁর স্ত্রী আয়েশার সাথে গল্প করতে বসেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে জাহেলী যুগের দশজন মহিলার কাহিনী শুনেছিলেন, যাদের প্রত্যেকেই তাদের স্বামীদের সাথে নিজ নিজ জীবনের গল্প বর্ণনা করছিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত মনোযোগ ও আনন্দের সাথে সেই দীর্ঘ আলোচনা শ্রবণ করেছিলেন। এটি একটি সুপরিচিত হাদিস যা 'উম্মে যার'-এর হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ। সুতরাং (ব্যস্ততা) তাঁকে বাধা দেয়নি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أعباء الأمة وواجبات الرسالة عن الوفاء بحق زوجه في المؤانسة والمباسطة.
قال النووي: "قال العلماء: في حديث أم زرعٍ هذا فوائد، منها استحباب حسن المعاشرة للأهل" (1).
وبعض الأزواج لربما يؤانس زوجته في الحديث في بعض الأوقات دون بعض، فهو لا يطيق كلامها إذا أتى من عمله متعباً أو كان الوقت في الليل متأخراً، لكن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن كذلك، فمؤانسته صلى الله عليه وسلم لأزواجه ولطفُه لا يعرف وقتاً دون وقت، تقول عائشة رضي الله عنها: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي [في قيام الليل] جالساً، فيقرأ وهو جالس، فإذا بقي من قراءته نحوٌ من ثلاثين أو أربعين آية قام فقرأها وهو قائم، ثم ركع ثم سجد؛ يفعل في الركعة الثانية مثل ذلك، فإذا قضى صلاته نظر، فإن كنت يقظى تحدث معي، وإن كنت نائمة اضطجع) (2).
ولو عرض هذا الأمر على بعض الناس، فقيل له بأن فلاناً يجالس زوجته ويسامرها في الساعات الأخيرة من الليل، لأجاب بأن هذا وقت السحر، وقت القيام والتهجد
--------------------------------------------
উম্মতের গুরুভার এবং রিসালাতের দায়িত্বসমূহ তাঁকে তাঁর স্ত্রীর সাথে হৃদ্যতা ও আনন্দময় আলাপচারিতার অধিকার পূরণে বাধা প্রদান করেনি।
আন-নববী বলেন: "উলামায়ে কিরাম বলেছেন: উম্মে যার-এর এই হাদিসটিতে অনেক শিক্ষা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবারের সাথে উত্তম আচরণের মুস্তাহাব হওয়া" (১)।
কিছু স্বামী হয়তো কোনো কোনো সময়ে তার স্ত্রীর সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে হৃদ্যতা প্রকাশ করে, কিন্তু অন্য সময়ে করে না। সে কাজ থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরলে কিংবা রাত অনেক বেশি হলে সে তার স্ত্রীর কথা সহ্য করতে পারে না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ছিলেন না। তাঁর স্ত্রীদের সাথে তাঁর হৃদ্যতা ও কোমলতা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [রাতের সালাতে] বসে সালাত আদায় করতেন এবং বসা অবস্থায় তিলাওয়াত করতেন। এরপর যখন তাঁর তিলাওয়াত থেকে প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশটি আয়াত বাকি থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে সেগুলো তিলাওয়াত করতেন। এরপর তিনি রুকু ও সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতেও তিনি অনুরূপ করতেন। এরপর যখন তিনি সালাত শেষ করতেন, তখন তিনি লক্ষ্য করতেন; আমি যদি জাগ্রত থাকতাম তবে তিনি আমার সাথে কথা বলতেন, আর যদি আমি ঘুমিয়ে থাকতাম তবে তিনি শুয়ে পড়তেন) (২)।
যদি এই বিষয়টি কিছু মানুষের সামনে পেশ করা হয় এবং তাকে বলা হয় যে অমুক ব্যক্তি রাতের শেষ প্রহরে তার স্ত্রীর সাথে বসে গল্পগুজব করে, তবে সে হয়তো উত্তর দেবে যে এটি তো সাহরির সময়, কিয়াম ও তাহাজ্জুদের সময়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والدعوات، وقوله صحيح، لكن السمر مع الزوجة هو أيضاً من عظيم العبادات وفاضِلها.
ومن ملاطفة النبي صلى الله عليه وسلم لأزواجه مسابقتُه لعائشة رضي الله عنها، تحكي أم المؤمنين أنها كانت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر: فسابقتُه فسبقْتُه على رجليِّ، فلما حملت اللحم سابقتُه فسبقني. فقال: «هذه بتلك السبقة» (1).
ومن عجيب لطف النبي صلى الله عليه وسلم ما صنعه مع عائشة حين جاء بعض الأحباش، ليلعبوا في المسجد بحرابهم، تقول عائشة: (فسترني رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أنظر، فما زلت أنظر حتى كنت أنا أنصرف)، وتعقِّب عائشة رضي الله عنها على هذا الهدي الجميل بدعوة المسلمين إلى التأسي به صلى الله عليه وسلم: (فاقدُروا قدْر الجارية الحديثةِ السن) (2).
ولئن كان الكثير من الأزواج يأنف من استشارة أزواجهم في قراراتهم الخاصة أو المتعلقة بشؤون الأسرة، فيرى أن من حقه الانفراد بالقرار دون استشارة زوجته التي تشاركه الحياة وآلامها، وما درى بأن النبي صلى الله عليه وسلم المسدد بالوحي - استشار
--------------------------------------------
...এবং দুআসমূহ। তাঁর কথা সঠিক, তবে স্ত্রীর সাথে রাতের বেলা আলাপচারিতাও মহান ও ফযীলতপূর্ণ ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
স্ত্রীদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোমলতার একটি দিক ছিল আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-র সাথে তাঁর দৌড় প্রতিযোগিতা। উম্মুল মুমিনীন বর্ণনা করেন যে, তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন: "আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং আমি আমার পায়ে হেঁটে (দ্রুত দৌড়ে) তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তীতে যখন আমার শরীরে মাংস বৃদ্ধি পেল (অর্থাৎ ওজন বাড়ল), তখন আমি আবার তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং এবার তিনি আমার আগে চলে গেলেন। তখন তিনি বললেন: «এটি সেই আগের প্রতিযোগিতার বদলে»" (১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চমৎকার কোমল আচরণের আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-র সাথে তাঁর সেই আচরণ, যখন কিছু হাবশী লোক মসজিদে তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করতে এসেছিল। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রাখলেন এবং আমি দেখছিলাম। আমি ততক্ষণ পর্যন্ত দেখতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি নিজেই সরে গেলাম"। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এই সুন্দর আদর্শের প্রেক্ষিতে মুসলিমদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেন: "তোমরা অল্পবয়সী মেয়ের (দেখার) আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি মূল্যায়ন করো" (২)।
অনেক স্বামীই তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা পারিবারিক বিষয়াবলীতে স্ত্রীদের সাথে পরামর্শ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন। তারা মনে করেন যে, স্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের আছে, অথচ সেই স্ত্রী তার জীবনের সুখ-দুঃখের অংশীদার। তারা জানে না যে, ওহীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরামর্শ করতেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أزواجه في قضايا تتعلق بالأمة، لا بالأسرة فحسب، كما في استشارته لزوجه أم سلمة يوم الحديبية.
والقصة بتمامها أنه لما وقّع النبي صلى الله عليه وسلم اتفاق الحديبية كان من شروطه أن يعود النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى المدينة من غير اعتمار، فأمر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه فقال: «قوموا فانحروا، ثم احلقوا»، فوالله ما قام منهم رجل حتى قال ذلك ثلاث مرات.
فلما لم يقم منهم أحد؛ دخل على أم سلمة، فذكر لها ما لقي من الناس. فقالت أم سلمة: (يا نبي الله أتحب ذلك؟ اخرج ثم لا تكلم أحداً منهم كلمة حتى تنحر بُدْنَكَ وتدعو حالِقَك فيحلِقَك، فخرج، فلم يكلم أحداً منهم حتى فعل ذلك، نحر بُدْنَه، ودعا حالِقه فحلَقه، فلما رأوا ذلك قاموا فنحروا، وجعل بعضهم يحلِق بعضاً حتى كاد بعضُهم يقتل بعضاً غماً) (1).
وينبه ابن حجر في شرحه الحديث إلى جملة من فوائده: "فيه فضل المشورة، وأن الفعل إذا انضم إلى القول كان أبلغَ من القول المجرد .. وجوازُ مشاورة المرأة الفاضلة، وفضلُ أم سلمة ووفُورُ عقلها" (2).
--------------------------------------------
উম্মাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়েও তিনি তাঁর স্ত্রীদের সাথে পরামর্শ করতেন, যা কেবল পারিবারিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; যেমনটি হুদায়বিয়ার দিনে তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামার সাথে পরামর্শ করার ক্ষেত্রে দেখা যায়।
পূর্ণাঙ্গ ঘটনাটি হলো, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষর করলেন, তখন এর একটি শর্ত ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ উমরা না করেই মদিনায় ফিরে যাবেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের আদেশ দিয়ে বললেন: «তোমরা ওঠো এবং পশু কোরবানি করো, তারপর মাথা মুণ্ডন করো»। আল্লাহর কসম! তিনি তিনবার এ কথা বলা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোকও উঠে দাঁড়ালেন না।
যখন তাঁদের মধ্য থেকে কেউ উঠলেন না, তখন তিনি উম্মে সালামার নিকট প্রবেশ করলেন এবং লোকদের পক্ষ থেকে যে আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন উম্মে সালামা বললেন: (হে আল্লাহর নবী! আপনি কি তা-ই চান? আপনি বের হয়ে যান এবং তাঁদের কারও সাথে কোনো কথা বলবেন না, যতক্ষণ না আপনি আপনার পশু কোরবানি করেন এবং আপনার নাপিতকে ডাকেন যাতে সে আপনার মাথা মুণ্ডন করে দেয়)। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং তাঁদের কারও সাথে কোনো কথা না বলে নিজের কাজ সম্পন্ন করলেন; তিনি তাঁর পশু কোরবানি করলেন এবং তাঁর নাপিতকে ডাকলেন, সে তাঁর মাথা মুণ্ডন করে দিল। যখন তাঁরা তা দেখলেন, তখন তাঁরা উঠে দাঁড়ালেন এবং পশু কোরবানি করতে লাগলেন। তাঁরা একে অপরের মাথা এমনভাবে মুণ্ডন করতে শুরু করলেন যে, আক্ষেপ ও দুঃখের আতিশয্যে তাঁরা যেন একে অপরকে মেরেই ফেলবেন (১)।
ইবনে হাজার এই হাদীসের ব্যাখ্যায় এর বেশ কিছু উপকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: "এতে পরামর্শের ফযীলত নিহিত রয়েছে এবং এটিও স্পষ্ট হয় যে, কথার সাথে যদি কাজ যুক্ত হয়, তবে তা কেবল কথার চেয়ে অধিক প্রভাবশালী হয়... এ ছাড়া মহীয়সী নারীর সাথে পরামর্শ করার বৈধতা এবং উম্মে সালামার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও এতে ফুটে ওঠেছে" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهكذا فالنبي صلى الله عليه وسلم يستشير زوجه ويأخذ برأيها، ولا يأنف من ذلك، ولا يراه قدحاً في عقله أو رجولته أو رأيه.
ومازال النبي صلى الله عليه وسلم يوصي مرة بعد مرة بحسن عشرة النساء وحسن التعامل معهن، ومراعاة طبيعة الاختلاف في الطبيعة بين جنس الذكورة والأنوثة، فقد قال صلى الله عليه وسلم: «واستوصوا بالنساء خيراً، فإنهن خلقن من ضِلَع، وإن أعوج شيء في الضِلَع أعلاه، فإن ذهبت تقيمه كسرته، وإن تركته لم يزل أعوج، فاستوصوا بالنساء خيراً» (1)، وضلع المرأة هو غلبة العاطفة عليها بما يوقعها في الخلاف مع الرجل الذي تغلب عليه العقلانية في التحليل والتفكير.
وفي هذا الحديث تكررت وصاة النبي صلى الله عليه وسلم بالنساء حتى حال الإساءة، وفيه تنبيه على أمور مهمة، "في الحديث الندبُ إلى المداراة لاستمالة النفوس وتألف القلوب، وفيه سياسة النساء بأخذ العفو منهن، والصبر على عوجهن، وأن من رام تقويمهن فاته الانتفاع بهن، مع أنه لا غنى للإنسان عن امرأة يسكن إليها ويستعين بها على معاشه، فكأنه قال: الاستمتاع بها لا يتم إلا بالصبر عليها" (2).
--------------------------------------------
একইভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাঁর মতামত গ্রহণ করতেন। তিনি এতে সংকুচিত বোধ করতেন না এবং একে তাঁর বুদ্ধি, পৌরুষ বা মতামতের জন্য কোনো ত্রুটি মনে করতেন না।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার, তাদের সাথে সুন্দর আচরণ এবং পুরুষ ও নারী জাতির স্বভাবজাত পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখার ব্যাপারে বারবার উপদেশ দিতে থাকেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নারীদের কল্যাণের ব্যাপারে পরস্পরকে উপদেশ দাও। কেননা তাদেরকে পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে উপরের অংশটি সবচেয়ে বেশি বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তবে তা ভেঙে ফেলবে; আর যদি তা ছেড়ে দাও, তবে তা সব সময় বাঁকাই থাকবে। অতএব তোমরা নারীদের কল্যাণের ব্যাপারে পরস্পরকে উপদেশ দাও" (১)। আর নারীর 'পাঁজর' (বাঁকা হওয়া) হলো তার ওপর আবেগের প্রভাব প্রবল হওয়া, যা তাকে পুরুষের সাথে মতভেদে লিপ্ত করে, যার মধ্যে বিশ্লেষণ ও চিন্তাভাবনায় যুক্তিবাদিতা প্রবল থাকে।
এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের প্রতি মন্দ আচরণের ক্ষেত্রেও বারবার উপদেশ দিয়েছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে: "এই হাদিসে অন্তর জয় করা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নম্র আচরণের উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে নারীদের পরিচালনার নীতি বর্ণিত হয়েছে—তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করা, তাদের বক্রতার ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং এ কথা জানা যে, যে ব্যক্তি তাদের সোজা করতে চাইবে সে তাদের থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ মানুষের এমন একজন নারীর একান্ত প্রয়োজন যার কাছে সে প্রশান্তি লাভ করবে এবং জীবন যাপনে তার সাহায্য নেবে। সুতরাং তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: নারীর সান্নিধ্য বা সঙ্গ লাভ ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া পূর্ণ হয় না" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي حجة الوداع وأمام جموع الصحابة وقف النبي صلى الله عليه وسلم مذكراً بحقوق النساء على أزواجهن، فحمد الله وأثنى عليه وقال: «ألا واستوصوا بالنساء خيراً، فإنما هن عوان عندكم [أي مثل الأسيرات عندكم] .. ألا إن لكم على نسائكم حقاً، ولنسائكم عليكم حقاً، فأما حقكم على نسائكم فلا يوطئن فرشَكُم من تكرهون، ولا يأذنَّ في بيوتكم لمن تكرهون، ألا وحقهنَّ عليكم أن تحسنوا إليهن في كِسوتهن وطعامهن» (1).
التعامل مع المرأة الغيراء:
ولن يفوتنا هنا التنبيه على حال تضطرب فيها النساء، فيحصل منها ما قد يؤدي إلى نفرة وجفاء، وهو حال الغيرة، والغيرة صفة حميدة يتصف بها المؤمنون والمؤمنات، لكن البعض وخاصة من النساء تستبد بها الغيرة، فتخرج عن طور الاعتدال إلى الإفراط الذي يسيء إلى الحياة الزوجية ويصبغها بطابع النكد وكثرة الخصام.
وتزداد الغيرة في المرأة إذا كان لزوجها أكثر من زوجة، فتراها ترتاب بظلمه لها وتجافيه عنها بحق وبغير حق، ولعلها تتهمه بالميل إلى ضرتها بمبرر وبغير مبرر.
--------------------------------------------
এবং বিদায় হজের সময় সাহাবীদের বিশাল সমাবেশের সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বামীদের ওপর নারীদের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করে বললেন: «সাবধান! তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো, কারণ তারা তোমাদের কাছে বন্দিনীর মতো [অর্থাৎ তোমাদের নিকট তারা বন্দিনীদের ন্যায়] .. সাবধান! তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো—যাদের তোমরা অপছন্দ করো, তারা যেন তোমাদের বিছানা মাড়াতে না পারে এবং যাদের তোমরা অপছন্দ করো, তাদের যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়। সাবধান! তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো—তোমরা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও পানাহারের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সদয় আচরণ করবে» (১)।
ঈর্ষাকাতর নারীর সাথে আচরণ:
এখানে আমাদের এমন একটি অবস্থার প্রতি সতর্ক করতে ভুলে গেলে চলবে না যাতে নারীরা বিচলিত হয়ে পড়ে এবং যা থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা দূরত্ব ও রুক্ষতার জন্ম দিতে পারে; আর তা হলো ঈর্ষার অবস্থা। ঈর্ষা একটি প্রশংসনীয় গুণ যা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা লালন করে থাকেন। কিন্তু কিছু মানুষ, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে কেউ কেউ এই ঈর্ষার দ্বারা এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন যে, তারা পরিমিতিবোধের সীমা অতিক্রম করে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যান, যা দাম্পত্য জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একে অশান্তি ও অধিক ঝগড়াঝাঁটির আবহে রঞ্জিত করে।
নারীর ঈর্ষা আরও প্রকট হয় যখন তার স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে। তখন তাকে দেখা যায় যে সে তার প্রতি স্বামীর অবিচার এবং যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কারণে তার থেকে স্বামীর বিমুখতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে। সম্ভবত সে কোনো কারণ ছাড়াই বা সামান্য কারণে তার সতিনের প্রতি স্বামীর অধিক ঝোঁক বা পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن أراد التعرف على قدر غيرة النساء على أزواجهن؛ فليصغ إلى قصة ترويها عائشة رضي الله عنها تصف غيرتها وغيرة النساء بني جنسها: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خرج أقرع بين نسائه، فطارت القرعة مرة لعائشة وحفصة، وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا جاء الليل سار مع عائشة يتحدث.
فقالت حفصة: ألا تركبين الليلة بعيري وأركب بعيرك، تنظرين وأنظر؟ [أي تجرب كل منا جمل الأخرى وترى كيف هو] فقالت عائشة: بلى. فركبتُ.
فجاء النبي صلى الله عليه وسلم إلى جمل عائشة وعليه حفصة، فسلم عليها، ثم سار حتى نزلوا، وافتقدته عائشة فغارت، فلما نزلوا جعلت رجليها بين الإذخر وجعلت تقول: (يا رب سلط علي عقرباً أو حية تلدغني، ولا أستطيع أن أقول له [أي للرسول] شيئاً) (1)، وهذا الذي فعلته وقالته رضي الله عنها "حملها عليه فرْطُ الغَيرة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد سبق أن أمر الغيرة معفو عنه" (2) لغلبته على المرأة.
--------------------------------------------
যারা তাদের স্বামীদের প্রতি নারীদের ঈর্ষার মাত্রা সম্পর্কে জানতে চান, তারা যেন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত একটি গল্পের প্রতি কর্ণপাত করেন, যেখানে তিনি নিজের এবং তাঁর স্বজাতীয় নারীদের ঈর্ষার বর্ণনা দিয়েছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সফরে বের হতেন, তখন তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করতেন। একবার আয়েশা এবং হাফসার নামে লটারি পড়ল। যখন রাত হতো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশার সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন।
তখন হাফসা বললেন: "আপনি কি আজ রাতে আমার উটে চড়বেন এবং আমি আপনার উটে চড়ব, যাতে আপনিও (পরিবর্তন) দেখেন এবং আমিও দেখি?" [অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকে একে অপরের উট পরীক্ষা করে দেখব তা কেমন]। আয়েশা বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর আমি চড়লাম।
এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশার উটের কাছে আসলেন অথচ তার ওপর তখন হাফসা বসা ছিলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন, তারপর গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সাথে চললেন। আয়েশা তাঁকে না পেয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়লেন। যখন তারা যাত্রা বিরতি করলেন, তখন তিনি নিজের পা দু'টি ইযখির ঘাসের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন এবং বলতে লাগলেন: (হে আমার রব! আমার ওপর একটি বিচ্ছু বা সাপ লেলিয়ে দিন যা আমাকে দংশন করবে, অথচ আমি তাঁকে [অর্থাৎ রাসূলকে] কিছু বলতে পারছি না) (১)। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যা করেছেন এবং বলেছেন সে সম্পর্কে বলা হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি প্রবল ঈর্ষাবোধই তাঁকে এমনটি করতে প্ররোচিত করেছিল; আর ইতিপূর্বেও বলা হয়েছে যে, ঈর্ষার বিষয়টি মার্জনীয়" (২) কারণ এটি নারীর ওপর প্রবল হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فكيف لنا أن نتعامل مع غيرة زوجاتنا، وكيف نتصرف تجاه ما يصدر منهن من حب صادق دفعهن لتصرف خاطئ معنا، فالحب ينتج غيرة، والغيرة تحتاج إلى رفق وروية، كما تحتاج إلى عدل وإنصاف.
إن التأمل في حياة النبي صلى الله عليه وسلم وكيفية تعامله مع مثل هذه المواقف يكشف عن تقديره صلى الله عليه وسلم لما يستتر خلف الغيرة من حب كامن له في قلب زوجه ورغبتها أن تكون الأثيرة عنده صلى الله عليه وسلم، وهكذا يقرأ الزوج الوفي المحب الموقف السلبي بعين مفعمة بالحب والرضا.
وها هو النبي صلى الله عليه وسلم يجلس عند بعض نسائه، فترسل إحدى أمهات المؤمنين بصحفة فيها طعام إلى رسول الله، وهو في بيت ضرتها، فتغار الزوجة صاحبة البيت، فتضرب يد الخادم، فتسقط الصحفة من يده وتنفلق ويتناثر ما فيها من الطعام.
وقبل أن نسترسل في معرفة ردة فعل النبي صلى الله عليه وسلم تجاه هذه الإساءة من زوجه التي غارت من أختها، أود أن أسأل قارئي الكريم عما سيفعله لو حصل هذا الفعل من زوجته.
وقبل أن يجيبني بما أعرف من المعهود في أخلاقنا وتصرفاتنا أنقل ما صنعه النبي صلى الله عليه وسلم، فقد جمع فِلَق الصحفة، ثم
সুতরাং আমাদের স্ত্রীদের ঈর্ষাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং তাদের অন্তরের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত যা তাদেরকে আমাদের সাথে ভুল আচরণ করতে বাধ্য করে? কেননা ভালোবাসা থেকেই ঈর্ষার জন্ম হয়, আর ঈর্ষার ক্ষেত্রে নম্রতা ও বিচক্ষণতার পাশাপাশি ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের প্রয়োজন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী এবং এই ধরণের পরিস্থিতির সাথে তাঁর আচরণের পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, তিনি ঈর্ষার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই সুপ্ত ভালোবাসার মূল্যায়ন করতেন যা তাঁর স্ত্রীর হৃদয়ে বিদ্যমান ছিল এবং তাঁর কাছে প্রিয়তমা হয়ে থাকার যে আকাঙ্ক্ষা স্ত্রীর মনে ছিল তা তিনি উপলব্ধি করতেন। এভাবেই একজন বিশ্বস্ত ও প্রেমময় স্বামী যেকোনো নেতিবাচক পরিস্থিতিকে ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখে থাকেন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক স্ত্রীর নিকট বসা ছিলেন, এমন সময় উম্মুল মুমিনিনদের একজন রাসুলুল্লাহর নিকট একটি পাত্রে কিছু খাবার পাঠালেন যখন তিনি তাঁর অপর স্ত্রীর ঘরে ছিলেন। তখন ঘরের মালিক স্ত্রী ঈর্ষান্বিত হলেন এবং খাদেমের হাতে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর হাত থেকে পাত্রটি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল এবং ভেতরের খাবারগুলো ছড়িয়ে পড়ল।
নিজের সতীনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা এই অসদাচরণের বিপরীতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিক্রিয়া কী ছিল তা জানার গভীরে যাওয়ার আগে, আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে জানতে চাই যে, যদি তাঁর নিজের স্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন ঘটনা ঘটত তবে তিনি কী করতেন?
আমাদের প্রচলিত নৈতিকতা ও আচরণের ভিত্তিতে পাঠক আমাকে উত্তর দেওয়ার আগেই আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন তা উল্লেখ করছি; তিনি ভাঙা পাত্রের টুকরোগুলো একত্রিত করলেন, অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
جمع فيها الطعام الذي كان في الصحفة، وهو يقول: «غارت أمكم»، لينتهي الموقف بيسر ولطف.
لكن غيرة الزوجة صاحبة البيت لا تبرر الظلم الذي لحق بالثانية، لذا سارع النبي صلى الله عليه وسلم إلى رد الحق لصاحبته، فحبس النبي صلى الله عليه وسلم الخادم حتى أتي بصحفة من عند التي هو في بيتها، فدفع الصحفة الصحيحة إلى التي كُسرت صحفتها، وأمسك المكسورة في بيت التي كَسرت (1)، وفي رواية أنه قال: «طعام بطعام، وإناء بإناء» (2)، فتغاير النساء لن يمنع العدل بينهن.
ويستخرج ابن حجر من هذه الحادثة جملة من الفوائد، ويهمنا هنا أن "فيه إشارة إلى عدم مؤاخذة الغيراء بما يصدر منها، لأنها في تلك الحالة يكون عقلُها محجوباً بشدة الغضب الذي أثارته الغيرة، وقد أخرج أبو يعلى بسند لا بأس به عن عائشة مرفوعاً: «أن الغيراء لا تبصر أسفل الوادي من أعلاه» (3).
وهو صلى الله عليه وسلم لن يغتفر إساءة الواحدة منهن إلى الأخرى بسبب غيرتها، لما فيه من ظلم للأخرى وهتك لحرمتها، لذا لما
--------------------------------------------
তিনি বড় থালায় থাকা খাবারগুলো একত্র করলেন এবং বলছিলেন: «তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন», যাতে পরিস্থিতিটি সহজে ও কোমলতার সাথে শেষ হয়।
কিন্তু গৃহকর্ত্রী স্ত্রীর ঈর্ষা দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর হওয়া জুলুমকে বৈধতা দেয় না, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্রুত হকদারের হক ফিরিয়ে দিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদেমকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন যতক্ষণ না তিনি যার ঘরে ছিলেন তার নিকট থেকে একটি বড় থালা আনা হলো, অতঃপর তিনি অক্ষত থালাটি তাকে দিলেন যার থালাটি ভাঙা হয়েছিল এবং ভাঙা থালাটি যার ঘরে ভাঙা হয়েছিল তার ঘরে রেখে দিলেন (১)। এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেন: «খাবারের বদলে খাবার এবং পাত্রের বদলে পাত্র» (২)। সুতরাং নারীদের পারস্পরিক ঈর্ষা তাদের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা হবে না।
ইবনে হাজার এই ঘটনা থেকে একগুচ্ছ শিক্ষা বের করেছেন, আর আমাদের জন্য এখানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো: "এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈর্ষাতুর মহিলার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না, কারণ সেই অবস্থায় তার বিবেক ঈর্ষা প্রসূত তীব্র রাগের কারণে আচ্ছন্ন থাকে। আবু ইয়ালা একটি গ্রহণযোগ্য সনদে আয়েশা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই ঈর্ষাতুর নারী উপত্যকার নিচের অংশ থেকে উপরের অংশ চাক্ষুষ করতে (পার্থক্য করতে) পারে না» (৩)।"
আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের একজনের প্রতি অন্যজনের দুর্ব্যবহারকে তাদের ঈর্ষার কারণে ক্ষমা করতেন না, কারণ এতে অন্যের ওপর জুলুম এবং তার মর্যাদাহানি রয়েছে, তাই যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تحدثت عائشة بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم عن صفية فقالت: يا رسول الله، إن صفية امرأة. وأشارت بيدها هكذا، كأنها تعني قصيرة.
فلم يغفر النبي صلى الله عليه وسلم لها قولها، بل قال ناصحاً ومؤدباً ورافضاً الاستماع للغيبة: «لقد قلت كلمة لو مزجت بماء البحر لمزجتْه» (1)، وهذا الحديث "من أعظم الزواجر عن الغيبة أو أعظمها، وما أعلم شيئاً من الأحاديث بلغ في ذمها هذا المبلغ" (2).
وبينما هو صلى الله عليه وسلم جالس بين أزواجه أتته عائشة بخزيرة [وهو لحم ينثر عليه الدقيق]، تقول عائشة: فقلتُ لسودة - والنبي صلى الله عليه وسلم بيني وبينها-: كلي، فأبتْ، فقلتُ: لتأكلِن أو لألطخن وجهكِ، فأبتْ، فوضعتُ يدي في الخزيرة، فطليتُ وجهها، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم، فوضع بيده لها [أي لسودة]، وقال لها: «الطخي وجهها»، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم (3)، فحول النبي صلى الله عليه وسلم بحكمته تغاير أزواجه إلى موقف باسم عمّق من خلاله قيم الحب والعدل والوئام.
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সাফিয়া একজন নারী... এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে এমনভাবে ইশারা করলেন, যেন তিনি তাঁকে খাটো বোঝাতে চাচ্ছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই কথাটিকে উপেক্ষা করেননি, বরং উপদেশদাতা, শিষ্টাচার শিক্ষক এবং গীবত শোনার ঘোর বিরোধী হিসেবে তিনি বললেন: «তুমি এমন এক কথা বলেছ যা যদি সমুদ্রের পানির সাথে মেশানো হতো, তবে তা তার বৈশিষ্ট্য বদলে দিত» (১)। আর এই হাদিসটি "গীবত থেকে বিরত রাখার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ বা সর্বশ্রেষ্ঠ সতর্কবাণী, এবং গীবতের নিন্দায় এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন অন্য কোনো হাদিস সম্পর্কে আমার জানা নেই" (২)।
একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের মাঝে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা 'খাজিরা' [এটি এক প্রকার খাবার যা মাংসের ওপর আটা ছিটিয়ে তৈরি করা হয়] নিয়ে আসলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম—আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝে বসা ছিলেন—: খাও। তিনি খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমি বললাম: তুমি অবশ্যই খাবে নতুবা আমি তোমার মুখে এটি মাখিয়ে দেব। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন আমি খাবারের পাত্রে হাত দিয়ে তাঁর মুখে মাখিয়ে দিলাম। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে সাওদাকে সুযোগ করে দিলেন এবং তাকে বললেন: «তুমিও তাঁর মুখে মাখিয়ে দাও»। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন (৩)। এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে স্ত্রীদের পারস্পরিক ঈর্ষাকে একটি আনন্দঘন মুহূর্তে রূপান্তর করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি ভালোবাসা, ন্যায়বিচার এবং সম্প্রীতির মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهكذا، فإن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحتمل غيرة زوجاته، ويرشِّد هذه الغيرة فلا يسمح لواحدة منهن أن تظلم أختها، وهو من جهته صلى الله عليه وسلم كان يقيم العدل بينهن ويكرمهن جميعاً، كيف لا وهو القائل: «إن المقسطين عند الله على منابر من نور عن يمين الرحمن عز وجل، وكلتا يديه يمين، الذين يعدلون في حكمهم وأهليهم وما وُلُّوا» (1).
ولنصغ إلى أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها وهي تحدث عن موقف غريب لها في غيرتها على رسول الله صلى الله عليه وسلم فتقول: لما كانت ليلتي التي هو عندي؛ انقلب فوضع نعليه عند رجليه، وبسط طرف إزاره على فراشه، فلم يلبث إلا ريثما ظن أني قد رقدت، ثم انتعل رويداً، وأخذ رداءه رويداً، ثم فتح الباب رويداً، وخرج رويداً.
ولم تطق عائشة خروجه في ليلتها، وغارت على النبي صلى الله عليه وسلم، وظنت أنه يذهب في ليلتها إلى بعض أزواجه، وكيف لا تغار على حبيبها صلى الله عليه وسلم، ومثله يُغار عليه، تقول: جعلت درعي في رأسي، واختمرت، وتقنعت إزاري، وانطلقت في إثره، حتى جاء البقيع فرفع يديه ثلاث مرات، فأطال.
--------------------------------------------
এভাবেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের ঈর্ষা সহ্য করতেন এবং এই ঈর্ষাকে এমনভাবে পরিচালনা করতেন যাতে তাদের কেউ তার অপর বোনের প্রতি জুলুম না করতে পারে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে তাঁদের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করতেন এবং তাঁদের সকলকে সম্মানিত করতেন। কেনই বা করবেন না, যেখানে তিনি নিজেই বলেছেন: "নিশ্চয়ই ন্যায়বিচারকগণ মহান আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের উপর রহমান (পরম দয়াময়)-এর ডান পার্শ্বে অবস্থান করবে—আর তাঁর উভয় হাতই ডান—যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ইনসাফ করে।" (১)
আসুন আমরা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর একটি কথা শুনি, যেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তাঁর ঈর্ষার এক অদ্ভুত ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলেন: যখন আমার সেই রাতটি এল যে রাতে তিনি আমার নিকট ছিলেন; তিনি ফিরে আসলেন এবং তাঁর জুতো দুটি তাঁর পায়ের কাছে রাখলেন। তাঁর চাদরের এক প্রান্ত বিছানায় বিছিয়ে দিলেন। তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন যতক্ষণ না তিনি মনে করলেন যে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। এরপর তিনি ধীরে ধীরে জুতো পরলেন, সাবধানে তাঁর চাদরটি নিলেন, তারপর অতি সন্তর্পণে দরজা খুললেন এবং নিঃশব্দে বেরিয়ে গেলেন।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজের রাতে তাঁর এই প্রস্থান সহ্য করতে পারলেন না এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়লেন। তিনি ধারণা করলেন যে তাঁর রাতে তিনি হয়তো অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন। আর তাঁর প্রিয়তম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তিনি কেনই বা ঈর্ষা করবেন না, যাঁর মতো ব্যক্তিত্বের প্রতি তো ঈর্ষা হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি বলেন: আমি আমার কামিজ মাথায় টেনে নিলাম, ওড়না পরলাম এবং নিজের চাদরটি জড়িয়ে নিলাম। এরপর আমি তাঁর পিছু নিলাম, যতক্ষণ না তিনি বাকী’ (কবরস্থানে) পৌঁছালেন। সেখানে তিনি তিনবার হাত তুললেন এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم تحكي عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم رجع إلى بيته، فأسرعت، ودخلت البيت قبله، وتصنعت النوم، فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم معاتباً: «أظننت أن يحيف الله عليك ورسوله .. فإن جبريل أتاني حين رأيتِ، ولم يدخل عليَّ وقد وضعتِ ثيابَكِ، فناداني فأخفى منكِ، فأجبتُه؛ فأخفيته منكِ، فظننتُ أن قد رقدتِ، وكرهتُ أن أوقظكِ، وخشيتُ أن تستوحشي، فأمرني أن آتي البقيع، فأستغفر لهم» (1).
وفي رواية أنه صلى الله عليه وسلم سألها: «أغرتِ يا عائشة»؟ فقالت: ومالي ألا يغار مثلي على مثلِك؟ (2).
وهكذا نرى في معاملة النبي صلى الله عليه وسلم مع أزواجه وأهل بيته ما يصلح الكثير من الأوضاع الخاطئة في حياتنا الاجتماعية، ويحاصر التصرفات المشينة التي يصنعها البعض مع أزواجه، وينقلنا للحديث عن مثال أسمى يقدم سيد الأزواج محمد صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
এরপর আয়েশা বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে ফিরে এলেন, তখন তিনি দ্রুতপদে তাঁর আগেই ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ঘুমের ভান করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুযোগের সুরে বললেন: «তুমি কি মনে করেছ যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? যখন তুমি আমাকে দেখেছিলে তখন জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন, কিন্তু তুমি যেহেতু তোমার কাপড় খুলে রেখেছিলে তাই তিনি আমার কাছে প্রবেশ করেননি। তিনি আমাকে নিভৃতে ডাকলেন যেন তুমি না জানো, আমিও তাঁকে নিভৃতে উত্তর দিলাম যাতে তুমি না বোঝ। আমি মনে করেছিলাম যে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ, তাই তোমাকে জাগিয়ে দেওয়া অপছন্দ করলাম এবং ভয় পেলাম যে তুমি একা থাকতে আতঙ্কিত হবে। তিনি আমাকে বাকী' কবরস্থানে গিয়ে তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন» (১)।
অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: «হে আয়েশা, তুমি কি ঈর্ষান্বিত হয়েছ?» তিনি বললেন: আমার মতো নারী কি আপনার মতো পুরুষের প্রতি ঈর্ষা করবে না? (২)।
এভাবে আমরা স্বীয় পত্নী ও পরিবারের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আচরণের মাঝে এমন অনেক বিষয় দেখতে পাই, যা আমাদের সামাজিক জীবনের বহু ত্রুটিপূর্ণ অবস্থাকে সংশোধন করে এবং স্ত্রীদের সাথে একশ্রেণীর মানুষের করা নিন্দনীয় আচরণকে প্রতিহত করে। এটি আমাদের এমন এক মহান দৃষ্টান্তের আলোচনার দিকে নিয়ে যায় যা স্বামীদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثاني: معاملة النبي صلى الله عليه وسلم للأطفالوقفنا على صور الحب وحسن العشرة في علاقة النبي صلى الله عليه وسلم مع زوجاته، ورأينا جملة آداب لم يبخل النبي صلى الله عليه وسلم بمثلها عن زهرات البيوت وزينة الدنيا وبهجتها، وهم أطفالها شموع الأمل الباسم فيها، فلهؤلاء الحظ الأكبر في الرعاية والعناية، ويستحقون النصيب الأوفى من أوقاتنا وجهدنا.
الطريق الأقصر إلى قلوب الصغار هو حسن رعايتهم وملاطفتهم وممازحتهم ومنحهم المزيد من الحنان والاهتمام، وهو ما صنعه النبي صلى الله عليه وسلم مع العديد من الأطفال الذين كانوا يتلألؤون من حوله، ومن هؤلاء ابنه إبراهيم، وحفيداه الحسن والحسين عليهما رضوان الله أجمعين.
يحكي لنا أنس بن مالك عن حنو النبي صلى الله عليه وسلم على ابنه إبراهيم وغيره من الأطفال، فيقول: (ما رأيت أحداً كان أرحم بالعيال من رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان إبراهيم مسترضعاً في عوالي المدينة، وكان ينطلق ونحن معه، فيدخل البيت .. فيأخذه، فيقبِّلُه ثم يرجع) (1)، هذه العاطفة الدفاقة بالحب والحنان لم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিশুদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আচরণআমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর স্ত্রীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালোবাসা ও উত্তম জীবনযাপনের চিত্রগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা একগুচ্ছ শিষ্টাচার দেখেছি, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের কুঁড়ি, দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আনন্দের উৎস শিশুদের ক্ষেত্রে প্রদর্শন করতে কার্পণ্য করেননি। শিশুরাই হলো গৃহের হাস্যোজ্জ্বল আশার প্রদীপ। তাই লালন-পালন ও বিশেষ যত্নে তাদেরই সবচেয়ে বড় অধিকার রয়েছে এবং তারা আমাদের সময় ও শ্রমের পূর্ণতম অংশের দাবিদার।
ছোটদের মন জয় করার সংক্ষিপ্ততম পথ হলো তাদের উত্তম যত্ন নেওয়া, তাদের সাথে কোমল আচরণ করা, কৌতুক করা এবং তাদের প্রতি অধিক মমতা ও মনোযোগ প্রদান করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চারপাশে প্রদীপ্ত থাকা অসংখ্য শিশুর সাথে এটিই করতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পুত্র ইবরাহিম এবং তাঁর দুই দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
আনাস বিন মালিক আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর পুত্র ইবরাহিম ও অন্যান্য শিশুদের প্রতি মমত্ববোধের কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: (আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি অধিক দয়ালু আর কাউকে দেখিনি। ইবরাহিম মদিনার উচ্চভূমিতে স্তন্যপান করত। তিনি সেখানে যেতেন এবং আমরাও তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি ঘরে প্রবেশ করতেন... তাকে কোলে নিতেন, তাকে চুম্বন করতেন এবং তারপর ফিরে আসতেন) (১)। ভালোবাসা ও মমতায় ভরপুর এই উচ্ছ্বসিত আবেগ কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تشغل النبي صلى الله عليه وسلم عنها زحمة الواجبات وكثرة الأعباء، فلكل وقته، ولكل حقه في وقت النبي صلى الله عليه وسلم ومستحقه.
ويواصل أنس حكاية حال النبي صلى الله عليه وسلم مع الأطفال، فيقول: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم من أفكه الناس مع صبي) (1)، وهذه المعاني أدركها أنس في طفولته التي قضاها في بيت النبي صلى الله عليه وسلم يخدمه عشر سنين، فهو أعرف الناس بها، وهو أحفظ الناس لها.
إن اللغة التي يفهمها الطفل هي لغة الحب، ومفرداتها القبلة الحانية والحضن الدافئ واللعب البريء، وهذه اللغة الرخيصة في تكاليفها عظيمة في قيمتها، والعجب في بخل بعض الناس بها تكبراً وغروراً، بل قسوة وجفاء، من هؤلاء الأقرع بن حابس التميمي، فحين رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبِّل حفيده الحسن بن علي؛ قال: إن لي عشرة من الولد ما قبلت منهم أحداً. أي فخر يفتخر به هذا؟ أيفخر المرء بقسوة قلبه وجفاء معاملته؟ هل يخدش مكانته ويحط من منزلته لو كان يحنو على طفله بقبلة أبوية؟
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বিপুল দায়িত্ব ও বোঝার আধিক্য তাদের (শিশুদের) থেকে বিমুখ করতে পারেনি; প্রত্যেকের জন্য ছিল নির্ধারিত সময়, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের মধ্যে প্রত্যেকের জন্য ছিল নির্ধারিত অধিকার ও প্রাপ্য অংশ।
আনাস (রা.) শিশুদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের বর্ণনা অব্যাহত রেখে বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের সাথে সবচেয়ে বেশি রসিকতা ও আনন্দদানকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) (১)। এই বৈশিষ্ট্যগুলো আনাস তাঁর সেই শৈশবে উপলব্ধি করেছিলেন, যা তিনি দশ বছর ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে তাঁর খেদমতে কাটিয়েছেন। ফলে তিনি এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং সবচেয়ে বেশি স্মৃতি সংরক্ষণকারী।
শিশু যে ভাষা বোঝে তা হলো ভালোবাসার ভাষা; যার শব্দাবলি হলো মমতাময়ী চুম্বন, উষ্ণ আলিঙ্গন এবং নিষ্পাপ খেলাধুলা। এই ভাষাটি ব্যয়ের দিক থেকে অত্যন্ত সুলভ হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কিছু মানুষ অহংকার ও দম্ভের বশবর্তী হয়ে, এমনকি কঠোরতা ও রূঢ়তার কারণে এতে কার্পণ্য করে। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আল-আকরা ইবন হাবিস আত-তামিমি। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর দৌহিত্র হাসান ইবন আলী-কে চুম্বন করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "আমার দশটি সন্তান রয়েছে, আমি তাদের কাউকেই কখনো চুম্বন করিনি।" এটি কেমন গর্ব যা নিয়ে সে অহংকার করছে? মানুষ কি তার হৃদয়ের কঠোরতা এবং আচরণের রুক্ষতা নিয়ে গর্ব করে? সে যদি তার সন্তানের প্রতি পিতৃসুলভ চুম্বনের মাধ্যমে মমতা প্রকাশ করত, তবে কি তার সম্মান ক্ষুণ্ণ হতো বা তার মর্যাদা কি কমে যেত?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فنظر إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال معقباً بكلمات موجزة مؤثرة: «من لا يَرحم لا يُرحم» (1).
وفي مرة أخرى قدم ناس من الأعراب على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: أتقبِّلون صبيانكم؟ فقال صلى الله عليه وسلم: «نعم». قالوا: لكنا والله ما نقبِّل! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أو أملك إن كان الله نزع من قلوبكم الرحمة!» (2).
ومما يطرب له الطفل ويستأثر بقلبه أن يحمله ذووه، وأن يضموه إلى صدورهم، وهو أمر متعِب أو مضجِر للآباء، لكنه ضروري، ولا غَناء عنه لمن أراد غرس الحب في الطفولة وجني البر في الشباب والرجولة، يقول أبو هريرة: خرج النبي صلى الله عليه وسلم في طائفة النهار حتى أتى سوق بني قينقاع، ثم جاء إلى فِناء بيت فاطمة فقال: «أثمَّ لُكع، أثمَّ لُكع» [أي: أين الصغير، ومقصِدُه الحسن] فحَبَسَته أمه شيئاً، فظننتُ أنها تلبسه سِخاباً أو تغسِّلُه، فجاء الحسن يشتد حتى عانقه وقبَّله وقال: «اللهم أحبِبْه، وأحبَّ من يحبُّه» (3)، نسأل الله أن يجعلنا ممن أحبه وأحب من يحبه.
--------------------------------------------
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন এবং সংক্ষিপ্ত ও হৃদয়গ্রাহী কথায় মন্তব্য করলেন: "যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না" (১)।
অন্য এক সময় কিছু গ্রাম্য আরব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: আপনারা কি আপনাদের সন্তানদের চুমু খান? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ"। তারা বলল: কিন্তু আল্লাহর কসম, আমরা তো চুমু খাই না! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়া ছিনিয়ে নিয়ে থাকেন, তবে আমি কী করতে পারি!" (২)।
আর যা কিছু শিশুকে আনন্দিত করে এবং তার মন জয় করে নেয়, তা হলো তার আপনজনদের তাকে কোলে নেওয়া এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরা; যদিও তা বাবা-মায়ের জন্য ক্লান্তিকর বা বিরক্তিকর হতে পারে, কিন্তু শৈশবে ভালোবাসা রোপণ এবং যৌবন ও বার্ধক্যে সদাচরণ লাভের প্রত্যাশাকারীর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য। আবু হুরায়রা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের এক অংশে বের হলেন এবং বনু কাইনুকা বাজারে পৌঁছালেন, তারপর তিনি ফাতিমার বাড়ির আঙিনায় এসে বললেন: "এখানে কি ছোট বাবু আছে? এখানে কি ছোট বাবু আছে?" [অর্থাৎ: ছোট শিশুটি কোথায়, তিনি হাসানকে উদ্দেশ্য করেছিলেন]। তখন তাঁর মা তাঁকে কিছুক্ষণ আটকে রাখলেন, আমি ধারণা করলাম যে তিনি তাঁকে হার পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। এরপর হাসান দৌঁড়ে এলেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন ও চুমু খেলেন, তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি তাকে ভালোবাসুন এবং তাকে যে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসুন" (৩)। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা তাঁকে ভালোবাসেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদেরকেও ভালোবাসেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما أسامة بنُ زيدٍ الذي كان يلقب بالحِبِّ ابنِ الحِبِّ فيذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحمله ويحمل الحسن ويقول: «اللهم أحبَّهما فإني أحبُّهُما» (1).
ولعل من أهم حقوق الطفل ملاعبته وملاطفته، وقد كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا الأدب الكيل الأوفى، لم يكن صلى الله عليه وسلم يتحرج من ملاطفة الحسن بإخراج لسانه له، فيراه الصبي، فيهش له ويفرح (2).
ودخل جابر يوماً على النبي صلى الله عليه وسلم، فرآه حاملاً الحسن والحسين على ظهره، وهو يمشي بهما. فقال جابر لهما: نِعم الجملُ جملُكما، يقصد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأجابه النبي صلى الله عليه وسلم: «ونِعم الراكبان هما» (3).
ومن ملاعبته للأطفال صلى الله عليه وسلم أنه كان يصفّ عبد الله وعبيد الله وكثيراً بَني العباسِ ثم يقول: «من سبق إليّ فله كذا». فكانوا يستبقون إليه، فيقعون على ظهره وصدره، فيقبِّلُهم ويلتزمهم صلى الله عليه وسلم (4).
--------------------------------------------
আর উসামা ইবনে যায়েদ, যাকে 'প্রিয়পাত্রের পুত্র প্রিয়পাত্র' উপাধিতে ভূষিত করা হতো, তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এবং হাসানকে বহন করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি তাদের উভয়কে ভালোবাসুন, কারণ আমি তাদের ভালোবাসি" (১)।
সম্ভবত শিশুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো তার সাথে খেলাধুলা করা এবং মমতা প্রদর্শন করা। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে এই শিষ্টাচারের পূর্ণতা বিদ্যমান ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসানের সাথে কৌতুক করার জন্য নিজের জিব বের করতে দ্বিধাবোধ করতেন না; শিশুটি তা দেখে উৎফুল্ল হতো এবং আনন্দিত হতো (২)।
একদিন জাবির (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করে দেখলেন যে, তিনি হাসান ও হোসাইনকে তাঁর পিঠে বহন করে হাঁটছেন। জাবির তাদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "তোমাদের উটটি কতই না চমৎকার!"—তিনি এর দ্বারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বুঝিয়েছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে উত্তর দিলেন: "আর আরোহী দুজনও কতই না চমৎকার!" (৩)।
শিশুদের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্রীড়ার অন্যতম উদাহরণ হলো, তিনি আব্বাসের পুত্র আব্দুল্লাহ, উবাইদুল্লাহ এবং কাসিরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতেন এবং বলতেন: "যে দৌড়ে আগে আমার কাছে আসতে পারবে, তার জন্য এই পুরস্কার।" তখন তারা দৌঁড়ে তাঁর কাছে আসত এবং তাঁর পিঠ ও বুকের ওপর আছড়ে পড়ত; আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের চুম্বন করতেন এবং বুকে জড়িয়ে ধরতেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومما يحسن في معاملة الأبناء إهداؤهم، فالهدية سبب في استجلاب محبة الكبار فضلاً عن الصغار، وقد صنع النبي صلى الله عليه وسلم ذلك حين أهدى النجاشي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حلَقة، فيها خاتم ذهب، فيه فص حبشي، فأخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعود وإنه لمعرض عنه، ثم دعا بابنةِ ابنتِه، أمامةَ بنتِ أبي العاص فقال: «تحلَي بهذا يا بنية» (1).
ومن ممازحته صلى الله عليه وسلم لأنس أنه كان يعدل في ندائه عن اسمه الصريح، فيناديه متحبباً: «يا ذا الأذنين» (2).
ومازح صلى الله عليه وسلم أيضاً أخاه، وسأله عن عصفوره الذي كان يلعب به، يقول أنس: إنْ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليخالطُنا حتى يقول لأخ لي صغير: «يا أبا عمير ما فعل النغير؟».
وفي رواية لأحمد أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يدخل على أم سليم [أمِ أنس]، ولها ابن من أبي طلحة يكنى: أبا عمير، وكان يمازحه، فدخل عليه فرآه حزيناً فقال: «مالي أرى أبا عميرٍ حزيناً؟»
--------------------------------------------
সন্তানদের সাথে আচরণের একটি উত্তম দিক হলো তাদের উপহার প্রদান করা। কারণ উপহার বড়দের পাশাপাশি ছোটদের ভালোবাসা অর্জনেরও একটি মাধ্যম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেছিলেন যখন নাজ্জাশী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি স্বর্ণালঙ্কার পাঠিয়েছিলেন, যাতে একটি হাবশী পাথর খচিত স্বর্ণের আংটি ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাঠি দিয়ে সেটি গ্রহণ করেছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি সেটির প্রতি বিমুখ ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নাতনী উমামাহ বিনতে আবিল আস-কে ডাকলেন এবং বললেন: «হে আমার প্রিয় কন্যা, তুমি এটি পরিধান করো» (১)।
আনাস (রা.)-এর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৌতুকের একটি দিক ছিল এই যে, তিনি তাঁকে তাঁর আসল নামে ডাকার পরিবর্তে স্নেহের সাথে ডাকতেন: «হে দুই কানওয়ালা» (২)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর (আনাসের) ভাইয়ের সাথেও কৌতুক করতেন এবং তাঁর সেই ছোট পাখিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যা দিয়ে সে খেলত। আনাস (রা.) বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে এতটাই মেলামেশা করতেন যে, তিনি আমার এক ছোট ভাইকে বলতেন: «হে আবু উমাইর, নুগাইর (ছোট পাখিটি) কী করেছে?»।
আহমদের এক বর্ণনায় এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম [আনাসের মা]-এর নিকট আসতেন। আবু তালহার ঔরসে তাঁর একটি পুত্র ছিল যার উপনাম ছিল: আবু উমাইর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কৌতুক করতেন। একবার তিনি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে বিষণ্ণ দেখে বললেন: «কী হয়েছে যে আমি আবু উমাইরকে বিষণ্ণ দেখছি?»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فقالوا: مات نُغَرُه الذي كان يلعب به، قال: فجعل يقول: «أبا عمير، ما فعل النغير» (1).
وفي الحديث فوائد منها: "جواز تكنية من لم يولَد له، وتكنية الطفل، وأنه ليس كذباً، وجواز المزاح فيما ليس إثماً .. وملاطفة الصبيان وتأنيسهم، وبيان ما كان النبي صلى الله عليه وسلم عليه من حسن الخلق وكرم الشمائل والتواضع، وزيارة الأهل، لأن أم سليم والدة أبي عمير هي من محارمه صلى الله عليه وسلم " (2)، أي بالرضاع.
وأما محمود بن الربيع، وهو من صغار الصحابة، فيقول: (عقَلتُ [أي أتذكر] من النبي صلى الله عليه وسلم مجّةً مجّها في وجهي؛ وأنا ابن خمسِ سنينَ من دلو) (3)، والمج "طرح الماء من الفم بالتزريق، وفي هذا ملاطفةُ الصبيان وتأنيسُهم وإكرام آبائهم بذلك، وجوازُ المِزاح" (4).
--------------------------------------------
তারা বললেন: তার নুগাইর (ছোট পাখিটি) মারা গেছে যা দিয়ে সে খেলত। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তিনি বলতে শুরু করলেন: «হে আবু উমাইর, নুগাইর কী করল» (১)।
এই হাদীসে অনেক শিক্ষা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "যার সন্তান হয়নি তার উপনাম রাখা এবং শিশুর উপনাম রাখার বৈধতা, এবং এটি মিথ্যা নয়। এছাড়া পাপাচারহীন ক্ষেত্রে কৌতুক করার বৈধতা... শিশুদের সাথে স্নেহপূর্ণ আচরণ ও তাদের সান্নিধ্য দান করা, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র, মহান গুণাবলি ও বিনয় প্রকাশ পাওয়া। এছাড়া আত্মীয়দের সাথে দেখা করা, কারণ আবু উমাইরের মা উম্মে সুলাইম ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাহরামদের অন্তর্ভুক্ত" (২), অর্থাৎ দুগ্ধপানের সম্পর্কের কারণে।
আর মাহমুদ ইবনে রবী', যিনি কনিষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন: (আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক ঢোক পানি ফিনকি দিয়ে নিক্ষেপ করার কথা স্মরণ করতে পারি [অর্থাৎ আমার মনে আছে] যা তিনি একটি বালতি থেকে নিয়ে আমার মুখে ছিটিয়েছিলেন; তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর) (৩)। আর 'মাজ' বা মুখ থেকে পানি ফিনকি দিয়ে নিক্ষেপ করা হলো "মুখ থেকে সজোরে পানি নিক্ষেপ করা। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন, তাদের সান্নিধ্য দান এবং এর মাধ্যমে তাদের পিতাদের সম্মানিত করা, আর কৌতুকের বৈধতা" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দীনুল মুআমালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أدب المعاملة مع الأطفال في وقت الجد:
الطفل لا يعرف عادة وقتاً للعب وآخرَ للجد، وهو يفترض أن كل الأوقات مخصصة له، لذا فالواجب على المربي، أباً كان أو أُماً، أن يراعي مشاعره وطفولته ولو في أوقات الجد، كحضرة الضيوف أو المشاغل المهمة أو حتى وقت العبادات الشرعية، وقد صنع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، قال أبو قتادة: (خرج إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمامة بنت أبي العاص بنتُ ابنته على عنقِه، فقام في مصلاه، وقمنا خلفه، وهي في مكانها الذي هي فيه.
قال أبو قتادة: فكبر فكبرنا، حتى إذا أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يركع أخذها فوضعها، ثم ركع وسجد حتى إذا فرغ من سجوده، ثم قام أخذها، فردها في مكانها، فما زال رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنع بها ذلك في كل ركعة حتى فرغ من صلاته صلى الله عليه وسلم) (1).
ولعلي أحاول مع القارئ الكريم تصور الحال لو حدث مثل هذا في بعض مساجدنا اليوم، فحمل الإمام طفله، أو دخل طفل بعض مساجدنا فجال بين الصفوف؛ فضلاً عن أن
--------------------------------------------
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুদের সাথে আচরণের শিষ্টাচার:
শিশু সাধারণত খেলাধুলার সময় এবং গুরুত্বের বা গাম্ভীর্যপূর্ণ সময়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না। সে মনে করে যে সব সময়ই কেবল তার জন্য নির্ধারিত। তাই পিতা বা মাতা—যিনিই লালনপালনকারী হোন না কেন—তাঁর কর্তব্য হলো শিশুর অনুভূতি ও শৈশবকে গুরুত্ব দেওয়া, এমনকি গাম্ভীর্যপূর্ণ সময়েও; যেমন মেহমানদের উপস্থিতিতে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততায় কিংবা এমনকি শরয়ি ইবাদতের সময়ও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই আচরণ করেছেন। আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন এমতাবস্থায় যে, উমামাহ বিনতে আবিল আস—যিনি তাঁর কন্যার মেয়ে—তাঁর কাঁধে চড়ে ছিল। এরপর তিনি সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম, আর উমামাহ তার জায়গাতেই (কাঁধে) ছিল।
আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন: অতঃপর তিনি তাকবীর দিলেন এবং আমরাও তাকবীর দিলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু করতে চাইলেন, তাকে নামিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি রুকু ও সিজদাহ করলেন। যখন তিনি সিজদাহ শেষ করলেন, এরপর দাঁড়িয়ে তাকে পুনরায় তুলে নিলেন এবং তার স্থানে ফিরিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাআতেই তার সাথে এরূপ করতে থাকলেন) (১)।
আমি হয়তো সম্মানিত পাঠকের সাথে বর্তমান সময়ের আমাদের কিছু মসজিদের অবস্থা কল্পনা করার চেষ্টা করছি—যদি কোনো ইমাম তার শিশুকে বহন করেন, অথবা কোনো শিশু আমাদের কিছু মসজিদে প্রবেশ করে কাতারগুলোর মাঝে ঘোরাফেরা করে; কেবল এতটুকু নয় যে
--------------------------------------------