(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
جواهر قرآنية 1000 سؤال وجواب في القرآن   (قاسم عاشور)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: جواهر قرآنية 1000 سؤال وجواب في القرآن

جمع وإعداد: قاسم عاشور

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 471

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 محرم 1433

কুরআনের মণিমুক্তো: কুরআনে ১০০০টি প্রশ্ন ও উত্তর   (কাসেম আশুর)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


বই: কুরআনের মণিমুক্তো: কুরআনে ১০০০টি প্রশ্ন ও উত্তর

সংগ্রহ ও প্রস্তুতি: কাসেম আশুর

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

إلى والديّ الحبيبين رحمهما الله تعالى.

إلى كل مسلم جعل همّه القرآن، يتلوه آناء الليل وأطراف النهار.

إلى كل مسلمة تربي أبناءها على حفظ القرآن وفهمه وتلاوته.

إلى كل من يخدم كتاب الله تعالى تعليما وتبليغا.

إلى كل من كان القرآن له خلقا وطريقا ومنهجا.

إلى هؤلاء جميعا أهدي هذا الجهد المتواضع.

قاسم عاشور
উৎসর্গ

আমার প্রিয় পিতামাতার প্রতি, মহান আল্লাহ তাঁদের উভয়কে রহমত দান করুন।

প্রত্যেক সেই মুসলিমের প্রতি, যে কুরআনকেই নিজের মূল চিন্তার বিষয় বানিয়েছে এবং দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে তা তিলাওয়াত করে।

প্রত্যেক সেই মুসলিম নারীর প্রতি, যিনি তাঁর সন্তানদের কুরআনের হিফজ, তা অনুধাবন ও তিলাওয়াতের ওপর লালন-পালন করছেন।

প্রত্যেক সেই ব্যক্তির প্রতি, যিনি শিক্ষা দান ও প্রচারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কিতাবের খিদমত করছেন।

প্রত্যেক সেই ব্যক্তির প্রতি, কুরআন যাঁদের চরিত্র, পথ ও কর্মপন্থা।

তাঁদের সকলের প্রতি আমি আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টা উৎসর্গ করছি।

কাসিম আশুর
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

بسم الله العزيز القدير، والحمد لله السميع البصير، والصلاة والسلام على المعلم الأول الهادي البشير، سيدنا ونبينا محمد السراج المنير، وعلى آله وصحبه والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

من خلال مطالعاتي في كتب التفسير والعلوم الخاصة بالقرآن الكريم، وقفت على لطائف كثيرة وفوائد جمّة، كوّنت عندي الرغبة القوية في جمعها ثم تبويبها وإخراجها بأسلوب شيق يمتع القارئ، فكان الجهد هذا الكتاب.

وإنه لشرف كبير لي شرفني الله به، فله الحمد وله المنّة. والكتاب في مجمله كلمات اخترتها، وقبسات جمعتها، وآراء وأقوال لعلمائنا الأجلاء الموثوق بهم من السلف والخلف، اقتبستها؛ لأضعها بين يدي القارئ؛ لتعمّ الفائدة ويتحقق الهدف، بنشر هذه الثقافة القرآنية التي ستكون بإذن الله في طليعة اهتمامات القارئ.

ثم قررت أن أقدم كل معلومة بصورة سؤال وجواب، لتكون واضحة جلية أمام القارئ يتناولها في يسر وسهولة، كما جعلت الإجابة تحت السؤال توفيرا لوقت القارئ وتقديرا لجهده.

وبالنسبة للأحاديث الواردة في الكتاب، فقد بذلت كل وسعي وجهدي أن تكون مخرّجة وصحيحة.

أسأل الله سبحانه وتعالى أن ينفعنا وإخواننا القراء بهذه الثمرات
ভূমিকা

পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক প্রথম শিক্ষক, হিদায়াতকারী ও সুসংবাদদাতা, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি এক উজ্জ্বল প্রদীপ। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি।

পবিত্র কুরআনের তাফসীর ও তৎসংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ অধ্যয়নকালে আমি বহু সূক্ষ্ম বিষয় ও প্রচুর উপকারিতা প্রত্যক্ষ করেছি। এগুলো আমার মধ্যে সেগুলোকে সংগ্রহ করার, অতঃপর অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করার এবং পাঠকের জন্য আনন্দদায়ক এক আকর্ষণীয় শৈলীতে উপস্থাপন করার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করেছে। আর সেই শ্রমেরই ফসল হলো এই কিতাব।

এটি আমার জন্য এক বিশাল সম্মান যা আল্লাহ আমাকে দান করেছেন; সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই প্রাপ্য। কিতাবটি মূলত আমার চয়ন করা কিছু বাণী, সংগৃহীত কিছু আলোকবর্তিকা এবং সালাফ ও খালাফ উলামায়ে কিরামের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ও বরেণ্য আলেমদের মতামত ও উক্তির সংকলন, যা আমি গ্রহণ করেছি। আমি এগুলো পাঠকের সামনে পেশ করছি যেন এর কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে এবং এই কুরআনিক সংস্কৃতি প্রচারের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়, যা আল্লাহর ইচ্ছায় পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

অতঃপর আমি প্রতিটি তথ্যকে প্রশ্ন ও উত্তর আকারে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে তা পাঠকের সামনে সুস্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত হয় এবং তিনি তা সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করতে পারেন। পাঠকের সময় বাঁচাতে এবং তাঁর শ্রমের মূল্যায়ন করে আমি প্রশ্নের ঠিক নিচেই উত্তর প্রদান করেছি।

কিতাবে বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি যেন সেগুলো সূত্রসহ এবং সহীহ হয়।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এবং আমার পাঠক ভাইদের এই জ্ঞান-ফলগুলো দ্বারা উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
المقتطفة، وهذه النفائس المقتبسة، وهذه الكلمات المضيئة بأنوار القرآن الكريم.

والحمد لله الذي أعزنا بالقرآن، وأحيانا بالقرآن، وجعلنا به خير أمة أخرجت للناس.

ربنا تقبل منا أحسن ما عملنا، وتجاوز اللهم عن زلاتنا وتقصيرنا، إنك سميع عليم.

سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله الطيبين الطاهرين، وصحبه أجمعين.

المؤلف قاسم عاشور المدينة المنورة غرة المحرم 1420 هـ.
সংকলিত অংশসমূহ, এবং এই সংগৃহীত অমূল্য রত্নরাজি, এবং পবিত্র কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত এই কথাগুলো।

এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন, কুরআনের মাধ্যমে আমাদের জীবিত করেছেন এবং এর দ্বারা আমাদের মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

হে আমাদের রব, আমাদের করা সর্বোত্তম কাজগুলো আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, আর হে আল্লাহ, আমাদের বিচ্যুতি ও ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এবং রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পবিত্র বংশধর এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

লেখক: কাসিম আশুর, মদিনা মুনাওয়ারা, ১লা মুহাররম, ১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
(بسم الله الرحمن الرحيم) وَلَقَدْ آتَيْناكَ سَبْعاً مِنَ الْمَثانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ. [قرآن كريم] وَلَقَدْ صَرَّفْنا فِي هذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ. [قرآن كريم] ما أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقى. [قرآن كريم] إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كانَ مَشْهُوداً. [قرآن كريم] وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ [قرآن كريم]
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) আর আমি অবশ্যই আপনাকে সাতটি বারবার পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি। [পবিত্র কুরআন] আর অবশ্যই আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরণের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। [পবিত্র কুরআন] আমি আপনার ওপর এই কুরআন এজন্য অবতীর্ণ করিনি যে আপনি কষ্টে পতিত হবেন। [পবিত্র কুরআন] নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ (ফেরেশতাদের দ্বারা) উপস্থিত হওয়ার সময়। [পবিত্র কুরআন] আর এই কুরআন আমার নিকট ওহী করা হয়েছে যেন আমি এর মাধ্যমে তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকে সতর্ক করি। [পবিত্র কুরআন]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
أبواب الكتاب

الباب الأول: قبسات من تفسير القرآن الباب الثاني: قبسات من الإعجاز العددي للقرآن الباب الثالث: الأمثال الكامنة في القرآن الباب الرابع: المرأة في القرآن الباب الخامس: قبسات من الإعجاز البياني للقرآن الباب السادس: قبسات من علوم القرآن الباب السابع: قبسات من قصص الأنبياء الباب الثامن: غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم في القرآن الباب التاسع: لطائف من القرآن
গ্রন্থের অধ্যায়সমূহ

প্রথম অধ্যায়: কুরআন তাফসীরের নির্যাস দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক অলৌকিকত্বের নির্যাস তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনে নিহিত উপমাসমূহ চতুর্থ অধ্যায়: কুরআনে নারী পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্বের নির্যাস ষষ্ঠ অধ্যায়: উলূমুল কুরআনের নির্যাস সপ্তম অধ্যায়: নবীদের কাহিনী থেকে নির্যাস অষ্টম অধ্যায়: কুরআনে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধসমূহ নবম অধ্যায়: কুরআনের সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الباب الأول قبسات من تفسير القرآن
প্রথম অধ্যায়: কুরআন তাফসীরের নির্বাচিত আলোকচ্ছটা
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
(قبسات من تفسير القرآن)

 

‌‌(النعمة والنعيم)

(س 1:) ما الفرق بين (النعمة والنعيم) في الاستعمال القرآني؟

(ج 1:) كل (نعمة) في القرآن إنما هي لنعم الدنيا على اختلاف أنواعها، يطرد ذلك ولا يتخلف في مواضع استعمالها، مفردا وجمعا:

كقوله تعالى: وَمَنْ يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ ما جاءَتْهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقابِ. [البقرة: 211] وقوله تعالى: وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْداءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ. [آل عمران: 103] وقوله تعالى: وَإِذْ قالَ مُوسى لِقَوْمِهِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ. [إبراهيم: 6] أما صيغة (النعيم) فتأتي في البيان القرآني بدلالة إسلامية، خاصة بنعيم الآخرة يطرد هذا ولا يتخلف في كل آيات النعيم وعددها ست عشرة آية:

كقوله تعالى: أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ أَنْ يُدْخَلَ جَنَّةَ نَعِيمٍ. [المعارج: 38] وقوله تعالى: وَاجْعَلْنِي مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ. [الشعراء: 85] وقوله تعالى: تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ. [يونس: 9] [الإعجاز البياني للقرآن/ 235]
(কুরআন তাফসীরের আলোকচ্ছটা)

 

‌‌(নি’মাত এবং নাঈম)

(প্রশ্ন ১:) কুরআনিক ব্যবহারে ‘নি’মাত’ (আন-নি’মাহ) এবং ‘নাঈম’ (আন-নাঈম)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১:) কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি ‘নি’মাত’ মূলত দুনিয়ার বিভিন্ন প্রকার নেয়ামত বা অনুগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এর ব্যবহারের সকল স্থানে একক বা বহুবচন উভয় রূপেই ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য এবং এর কোনো ব্যতিক্রম নেই:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আর আল্লাহর নি’মাত (অনুগ্রহ) তার কাছে আসার পর যে ব্যক্তি তা পরিবর্তন করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” [আল-বাকারাহ: ২১১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নি’মাতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন।” [আল-ইমরান: ১০৩] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর যখন মূসা তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নি’মাতের কথা স্মরণ করো।” [ইবরাহীম: ৬] পক্ষান্তরে ‘নাঈম’ শব্দটি কুরআনিক বর্ণনায় ইসলামি পরিভাষায় আখেরাতের নেয়ামতের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘নাঈম’ শব্দ সংবলিত ১৬টি আয়াতের প্রতিটিতেই এটি ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য এবং এর কোনো ব্যতিক্রম নেই:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তাদের প্রত্যেকেই কি আশা করে যে, তাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে?” [আল-মাআরিজ: ৩৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর আমাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” [আশ-শুআরা: ৮৫] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তাদের পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহে।” [ইউনুস: ৯] [আল-ই’জায আল-বায়ানি লিল কুরআন/ ২৩৫]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌(حلف وأقسم)

(س 2:) قال تعالى: وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَما هُمْ مِنْكُمْ [التوبة: 56] وقال سبحانه: وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ [الواقعة: 76] ما الفرق بين (الحلف والقسم) في القرآن الكريم؟

(ج 2:) كثيرا ما يفسّر أحدهما بالآخر، وقلما تفرق بينهما المعاجم.

نحتكم إلى البيان الأعلى، في النص المحكم الموثق، فيشهد الاستقراء الكامل بمنع ترادفهما.

جاءت مادة (ح ل ف) في ثلاثة عشر موضعا، كلها بغير استثناء، في الحنث باليمين (أي اليمين الكاذبة).

وأما القسم، فيأتي في الأيمان الصادقة سواء كانت حقيقة أو وهما.

وبهذا يختص الحلف بالحنث في اليمين (أي اليمين الكاذبة) ويكون القسم لمطلق اليمين، وهذا ما اطرد استعماله في البيان القرآني. [الإعجاز البياني للقرآن/ 224]

 

‌‌(الخشية والخوف)

(س 3:) قال تعالى: وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ [التوبة: 18] وقال سبحانه: وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً [النور: 55] ما الفرق بين الخشية والخوف في الاستعمال القرآني؟
(হলফ এবং কাসাম)

(প্রশ্ন ২:) আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা আল্লাহর নামে হলফ করে যে, নিশ্চয়ই তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" [আত-তাওবাহ: ৫৬] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর নিশ্চয়ই এটি একটি মহা কাসাম (শপথ), যদি তোমরা জানতে।" [আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৬] পবিত্র কুরআনে (হলফ এবং কাসাম)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ২:) সচরাচর এ দুটির একটিকে অন্যটির দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয় এবং অভিধানসমূহে এগুলোর মধ্যে খুব কমই পার্থক্য করা হয়ে থাকে।

আমরা এই সুদৃঢ় ও প্রামাণিক পাঠের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বর্ণনার (কুরআনের) শরণাপন্ন হই, যার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ এ দুটির সমার্থকতাকে অস্বীকার করে।

হলফ (হা-লাম-ফা) মূল ধাতুটি তেরটি স্থানে এসেছে, যার সবকটিই কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শপথ ভঙ্গ (অর্থাৎ মিথ্যা শপথ) করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

আর কাসাম শব্দটি সত্য শপথের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তা বাস্তবে সত্য হোক কিংবা বিশ্বাসগত দিক থেকে সত্য হোক।

এভাবে হলফ বিষয়টি শপথ ভঙ্গের (অর্থাৎ মিথ্যা শপথ) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কাসাম শব্দটি সাধারণ শপথের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কুরআনের বর্ণনায় এই ব্যবহারেরই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। [আল-ইজায আল-বায়ানি লিল-কুরআন/ ২২৪]

 

(খাশইয়াহ এবং খাওফ)

(প্রশ্ন ৩:) আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় (খাশইয়াহ) করেন না।" [আত-তাওবাহ: ১৮] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি অবশ্যই তাদের ভয়ের (খাওফ) পরিবর্তে তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন।" [আন-নুর: ৫৫] কুরআনিক ব্যবহারে খাশইয়াহ এবং খাওফ-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
(ج 3:) تفترق الخشية عن الخوف، بأنها تكون عن يقين صادق بعظمة من نخشاه، وأما الخوف فيجوز أن يحدث عن تسلط بالقهر والإرهاب.

والخشية لا تكون إلا لله وحده، دون أي مخلوق، يطرد ذلك في كل مواضع استعمالها في الكتاب المحكم بصريح الآيات.

وتسند خشية الله في القرآن إلى الذين يبلغون رسالات ربهم، ومن اتبع الذكر، والمؤمنين، والعلماء، والذين رضي الله عنهم ورضوا عنه. [الإعجاز البياني للقرآن/ 226]

 

‌‌(الخشوع والخضوع)

(س 4:) قال تعالى: قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ* الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خاشِعُونَ [المؤمنون: 1، 2] وقال سبحانه: فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ [الأحزاب: 32] ما الفرق بين الخشوع والخضوع في الاستعمال القرآني؟

(ج 4:) يفترق الخشوع عن الخضوع، بأننا لا نخشع إلا عن انفعال صادق بجلال من نخشع له، أما الخضوع فقد يكون تكلفا عن نفاق وخوف، أو تقية ومداراة. والعرب تقول: خشع قلبه، ولا تقول: خضع، إلا تجوزا.

والخشوع من أفعال القلوب، وإذا خشع الصوت أو خشع الوجه
(উ ৩:) 'খাশিয়াহ' ও 'খাওফ'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, যার প্রতি আমরা 'খাশিয়াহ' পোষণ করি তার মহানত্ব সম্পর্কে সত্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের ফলে তা সৃষ্টি হয়; আর 'খাওফ' জবরদস্তি বা ভীতির কারণেও সৃষ্টি হতে পারে।

'খাশিয়াহ' কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত, অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য নয়। আল-কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে যেখানেই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানেই এই নিয়মটি পরিলক্ষিত হয়।

কুরআনে আল্লাহর প্রতি 'খাশিয়াহ'-কে তাদের দিকেই সম্বন্ধিত করা হয়েছে যারা তাদের রবের রিসালাত পৌঁছে দেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করেন, মুমিনগণ, আলিমগণ এবং যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। [আল-ই'জায আল-বায়ানি লিল কুরআন/ ২২৬]

 

‌‌(খুশু এবং খুদু)

(প্র ৪:) আল্লাহ তাআলা বলেন: "অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে খুশু অবলম্বন করে" [আল-মুমিনুন: ১, ২] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং তোমরা কথা বলায় কোমলতা প্রদর্শন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়" [আল-আহযাব: ৩২]। কুরআনি প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'খুশু' ও 'খুদু'-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উ ৪:) 'খুশু' ও 'খুদু'-এর পার্থক্য হলো, যার প্রতি আমরা খুশু প্রকাশ করি তার মহিমার প্রতি অন্তরের সত্য ও স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ থেকেই তা তৈরি হয়। পক্ষান্তরে 'খুদু' অনেক সময় নিফাক ও ভয়ের কারণে কৃত্রিমভাবে হতে পারে, অথবা আত্মরক্ষা ও লৌকিকতার খাতিরেও হতে পারে। আরবরা বলে: ‘তার অন্তর খুশু লাভ করেছে’, তারা রূপকার্থ ছাড়া ‘অন্তর খুদু লাভ করেছে’ বলে না।

আর খুশু হলো অন্তরের কাজ; আর যখন আওয়াজ খুশুযুক্ত হয় অথবা চেহারা খুশুযুক্ত হয়...
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
أو البصر، فإنما يكون ذلك من خشوع القلب. ويتسق البيان القرآني في استعماله للخشوع، كمثل اتساقه في استعمال الخشية: فكل خشوع في القرآن إنما هو لله تعالى:

كقوله تعالى: وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعاً [الإسراء: 109] وقوله: وَيَدْعُونَنا رَغَباً وَرَهَباً وَكانُوا لَنا خاشِعِينَ [الأنبياء: 90] وقوله: وَإِنَّها لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخاشِعِينَ [البقرة: 45] وقوله: خاشِعِينَ لِلَّهِ لا يَشْتَرُونَ بِآياتِ اللَّهِ ثَمَناً قَلِيلًا [آل عمران: 199] وقوله: أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ [الحديد: 16] وقوله: وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خاشِعَةٌ [الغاشية: 2] [الإعجاز البياني للقرآن/ 226]

 

‌‌(زوج وامرأة)

(س 5:) قال تعالى: وَمِنْ آياتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْواجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْها وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً [الروم: 21] وقوله تعالى: امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كانَتا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبادِنا صالِحَيْنِ فَخانَتاهُما [التحريم: 10] ما الفرق بين (زوج وامرأة) في الاستعمال القرآني؟
অথবা দৃষ্টির (অবনত হওয়া), তবে তা মূলত হৃদয়ের বিনয় থেকেই হয়ে থাকে। আর বিনয় (খুশু) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কুরআনিক বর্ণনাশৈলী সুসংগত, যেমনটি সুসংগত ভীতি (খুশিয়া) ব্যবহারের ক্ষেত্রে: কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি 'বিনয়' কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট:

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তারা কাঁদতে কাঁদতে চিবুক অবনত করে লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।" [বনী ইসরাঈল: ১০৯] এবং তাঁর বাণী: "তারা আশা ও শঙ্কা নিয়ে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী।" [আল-আম্বিয়া: ৯০] এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয় এটি (সালাত) অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু বিনয়ীদের জন্য নয়।" [আল-বাকারাহ: ৪৫] এবং তাঁর বাণী: "তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী; তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে না।" [আলে ইমরান: ১৯৯] এবং তাঁর বাণী: "যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি এখনো সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তরসমূহ বিগলিত হবে?" [আল-হাদীদ: ১৬] এবং তাঁর বাণী: "সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে আতঙ্কিত ও অবনত।" [আল-গাশিয়া: ২] [আল-ইজাজ আল-বায়ানি লিল-কুরআন/ ২২৬]

 

‌‌(যাওজ ও ইমরাআহ—স্বামী ও স্ত্রী)

(প্রশ্ন ৫:) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া (স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" [আর-রূম: ২১] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ, তারা আমাদের বান্দাদের মধ্যে দুই নেককার বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।" [আত-তাহরীম: ১০] কুরআনিক ব্যবহারে 'যাওজ' এবং 'ইমরাআহ' শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য কী?
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
(ج 5:) البيان القرآني يستعمل لفظ (زوج) حيثما تحدث عن آدم وزوجته، وقد يبدو من القريب أن يترادفا فيقوم أحد اللفظين مقام الآخر، وذلك ما يأباه البيان القرآني المعجز، وهو الذي يعطينا سر الدلالة في الزوجية مناط العلاقة بين آدم وزوجته، فكلمة (زوج) تأتي حيث تكون الزوجية هي مناط الموقف:

حكمة وآية، أو تشريفا وحكما:

لقوله تعالى: وَمِنْ آياتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْواجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْها وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً [الروم: 21].

وقوله تعالى: وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنا هَبْ لَنا مِنْ أَزْواجِنا وَذُرِّيَّاتِنا قُرَّةَ أَعْيُنٍ [الفرقان: 74] وقوله تعالى لما استجاب لزكريا وحققت الزوجية حكمتها:

فَاسْتَجَبْنا لَهُ وَوَهَبْنا لَهُ يَحْيى وَأَصْلَحْنا لَهُ زَوْجَهُ [الأنبياء: 90] فإذا تعطلت آية الزوجية من السكن والمودة والرحمة بخيانة أو تباين في العقيدة أو بعقم أو ترمل، فامرأة لا زوج:

كقوله تعالى: امْرَأَتُ الْعَزِيزِ تُراوِدُ فَتاها عَنْ نَفْسِهِ قَدْ شَغَفَها حُبًّا [يوسف: 30] وقوله تعالى: امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كانَتا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبادِنا صالِحَيْنِ فَخانَتاهُما [التحريم: 10] وقوله تعالى: وَكانَتِ امْرَأَتِي عاقِراً فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا [مريم: 5] [الإعجاز البياني للقرآن/ 229]
(খণ্ড ৫:) কুরআনের বর্ণনা যেখানেই আদম এবং তাঁর সঙ্গিনী সম্পর্কে আলোচনা করেছে, সেখানে ‘যাওজ’ (সঙ্গী/সঙ্গিনী) শব্দটি ব্যবহার করেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে শব্দ দুটি সমার্থক এবং একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে, কিন্তু অলৌকিক কুরআনিক বর্ণনা তা অস্বীকার করে। এটিই আমাদের দাম্পত্যের বা যুগলবৃত্তির তাৎপর্যগত রহস্য প্রদান করে যা আদম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি। সুতরাং ‘যাওজ’ শব্দটি সেখানেই আসে যেখানে দাম্পত্য বা যুগলবৃত্তিই পরিস্থিতির মূল বিষয়:

প্রজ্ঞা ও নিদর্শন হিসেবে, অথবা মর্যাদা ও বিধান হিসেবে:

আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" [আর-রুম: ২১]

এবং আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "আর যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতি দান করো।" [আল-ফুরকান: ৭৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী যখন তিনি যাকারিয়ার দোয়ায় সাড়া দিলেন এবং দাম্পত্য তার প্রজ্ঞা বাস্তবায়িত করল:

"অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে ইয়াহইয়া দান করলাম এবং তাঁর জন্য তাঁর স্ত্রীকে যোগ্য করলাম।" [আল-আম্বিয়া: ৯০] তবে যদি প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়া থেকে দাম্পত্যের এই নিদর্শনটি বিশ্বাসঘাতকতা, আকিদাগত ভিন্নতা, বন্ধ্যাত্ব কিংবা বৈধব্যের কারণে অকার্যকর হয়ে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে সে কেবল ‘ইমরাআহ’ (নারী/স্ত্রী), ‘যাওজ’ নয়:

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আজিজের স্ত্রী তার যুবক ভৃত্যকে কুপ্ররোচনা দিচ্ছে, প্রেম তাকে মোহগ্রস্ত করেছে।" [ইউসুফ: ৩০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রী; তারা আমাদের বান্দাদের মধ্যে দুজন নেককার বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল।" [আত-তাহরীম: ১০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমার স্ত্রী ছিল বন্ধ্যা, সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।" [মারইয়াম: ৫] [আল-ই’জাযুল বায়ানি লিল কুরআন/ ২২৯]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌(أشتات وشتى)

(س 6:) ما الفرق بين (أشتات وشتى) في الاستعمال القرآني؟

(ج 6:) مادتهما واحدة، والشتّ والشتات في اللغة التفرق والاختلاف.

وردت (شتى) في ثلاث آيات بمعنى الاختلاف المقابل للائتلاف:

كقوله تعالى: وَأَنْزَلَ مِنَ السَّماءِ ماءً فَأَخْرَجْنا بِهِ أَزْواجاً مِنْ نَباتٍ شَتَّى [طه: 53] وقوله: إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى [الليل: 4] وقوله: تَحْسَبُهُمْ جَمِيعاً وَقُلُوبُهُمْ شَتَّى [الحشر: 14] أما (أشتات) فقد وردت في آيتين فقط بمعنى التفرق، المقابل للتجمع:

كقوله: يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتاتاً لِيُرَوْا أَعْمالَهُمْ [الزلزلة: 6] وقوله: لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُناحٌ أَنْ تَأْكُلُوا جَمِيعاً أَوْ أَشْتاتاً [النور: 61] [الإعجاز البياني للقرآن/ 233]

 

‌‌(الإنس والإنسان)

(س 7:) ما الفرق بين الإنس والإنسان في الاستعمال القرآني؟

(ج 7:) (الإنس والإنسان) يلتقيان في الملحظ العام لدلالة مادتهما المشتركة على نقيض التوحش، لكنهما لا يترادفان.

لفظ (الإنس) يأتي في القرآن دائما مع الجن على وجه التقابل،
(আশদাত ও শাতা)

(প্রশ্ন ৬:) কুরআনিক প্রয়োগে (আশদাত এবং শাতা) এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ৬:) তাদের মূল ধাতু এক, আর শাত্ত ও শাতাত-এর আভিধানিক অর্থ হলো বিচ্ছিন্নতা ও ভিন্নতা।

(শাতা) শব্দটি তিনটি আয়াতে ঐক্যের বিপরীতে ভিন্নতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন করেছি।" [ত্বহা: ৫৩] এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রচেষ্টা ভিন্ন ভিন্ন।" [লাইল: ৪] এবং তাঁর বাণী: "তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করো, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন।" [হাশর: ১৪] অন্যদিকে (আশদাত) শব্দটি কেবল দুটি আয়াতে সমাবেশের বিপরীতে বিচ্ছিন্নতা অর্থে এসেছে:

যেমন তাঁর বাণী: "সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে যাতে তাদের আমলসমূহ দেখানো যায়।" [যিলযাল: ৬] এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের জন্য কোন গুনাহ নেই যে তোমরা একত্রে আহার করো অথবা পৃথক পৃথকভাবে।" [নূর: ৬১] [আল-ই'জাযুল বায়ানি লিল কুরআন/ ২৩৩]

 

(ইনস ও ইনসান)

(প্রশ্ন ৭:) কুরআনিক প্রয়োগে ইনস ও ইনসানের মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ৭:) (ইনস ও ইনসান) শব্দদ্বয় তাদের অভিন্ন ধাতুর অর্থের সাধারণ দিক থেকে বন্যতার বিপরীত অর্থে মিলে যায়, তবে তারা সমার্থক নয়।

(ইনস) শব্দটি কুরআনে সর্বদা জিনের বিপরীতে বৈপরীত্যমূলকভাবে আসে,
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
يطرد ذلك، ولا يتخلف في كل الآيات التي جاء فيها اللفظ قسيما للجن، وعددها ثماني عشرة آية. والإنسية نقيض التوحش، وبهذه الإنسية يتميز جنس عن أجناس خفية مجهولة غير مألوفة لنا، ولا هي تخضع لنواميس حياتنا:

قال تعالى: يا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ [الأنعام: 130] وقال سبحانه: وَما خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ [الذاريات: 56] أما الإنسان فليس مناط إنسانيته كونه مجرد إنس، وإنما الإنسانية فيه ارتقاء إلى أهلية التكليف وحمل أمانة الإنسان، وما يلابس ذلك من تعرض للابتلاء والخير. وقد جاء لفظ الإنسان في القرآن في خمسة وستين موضعا:

قال تعالى: وَخُلِقَ الْإِنْسانُ ضَعِيفاً [النساء: 28] وقوله تعالى: وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنْسانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْناها مِنْهُ [هود: 9] وقوله تعالى: وَكُلَّ إِنسانٍ أَلْزَمْناهُ طائِرَهُ فِي عُنُقِهِ [الإسراء: 13] [الإعجاز البياني للقرآن/ 233]

 

‌‌(النأي والبعد)

(س 8:) قال تعالى: وَإِذا أَنْعَمْنا عَلَى الْإِنْسانِ أَعْرَضَ وَنَأى بِجانِبِهِ [الإسراء: 83] وقال سبحانه: لَوْ كانَ عَرَضاً قَرِيباً وَسَفَراً قاصِداً لَاتَّبَعُوكَ وَلكِنْ
এটি সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য এবং সেই সমস্ত আয়াতের কোনোটিতেই এর ব্যতিক্রম ঘটে না যেখানে শব্দটি 'জিন' শব্দের বিপরীতে এসেছে, আর এ জাতীয় আয়াতের সংখ্যা আঠারোটি। আর মানবতা হলো বন্যতার বিপরীত। এই মানবতার মাধ্যমেই একটি জাতি অন্যান্য গোপন, অজানা এবং আমাদের কাছে অপরিচিত জাতিসমূহ থেকে পৃথক হয়, যারা আমাদের জীবনের নিয়মের অধীন নয়:

মহান আল্লাহ বলেন: হে জিন ও মানুষের দল! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেনি? [আল-আনআম: ১৩০] মহান আল্লাহ আরও বলেন: আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। [আয-যারিয়াত: ৫৬] পক্ষান্তরে 'ইনসান' (মানুষ)-এর মানবতার ভিত্তি কেবল 'ইনস' (মানব জাতি) হওয়া নয়; বরং তার মধ্যে মানবতা হলো শরীয়তের বিধান পালনের যোগ্যতা অর্জন এবং মানুষের আমানত বহনের স্তরে উন্নীত হওয়া, আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও কল্যাণের সম্মুখীন হওয়া। আর কুরআন মাজীদে 'ইনসান' শব্দটি পঁয়ষট্টিটি স্থানে এসেছে:

মহান আল্লাহ বলেন: মানুষকে দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। [আন-নিসা: ২৮] মহান আল্লাহর বাণী: আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোনো রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নিই। [হুদ: ৯] মহান আল্লাহর বাণী: আর প্রত্যেক মানুষের কর্ম আমি তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি। [আল-ইসরা: ১৩] [আল-ইজায আল-বায়ানি লিল-কুরআন/ ২৩৩]

 

‌‌(দূরত্ব এবং দূরে সরে যাওয়া)

(প্রশ্ন ৮:) মহান আল্লাহ বলেন: আর যখন আমি মানুষের ওপর অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পাশ কাটিয়ে দূরে সরে যায়। [আল-ইসরা: ৮৩] মহান আল্লাহ আরও বলেন: যদি তা নিকটবর্তী কোনো পার্থিব সম্পদ হতো এবং যাত্রা সহজ হতো, তবে তারা অবশ্যই তোমার অনুসরণ করত, কিন্তু...
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
بَعُدَتْ عَلَيْهِمُ الشُّقَّةُ [التوبة: 42] ما الفرق بين النأي والبعد في الاستعمال القرآني؟

(ج 8:) يأتي بهما أكثر المعجميين والمفسرين تأويلا لأحدهما بالآخر، دون إشارة إلى فرق بينهما، وفرّق بينهما من أنكروا الترادف:

ونستقرئ مواضع الاستعمال القرآني للنأي والبعد فلا يترادفان:

النأي يأتي بمعنى الإعراض والصد والإشاحة بصريح السياق في آيات القرآن: وَإِذا أَنْعَمْنا عَلَى الْإِنْسانِ أَعْرَضَ وَنَأى بِجانِبِهِ [فصلت: 51] وأمّا البعد فيأتي بمختلف صيغه في القرآن على الحقيقة أو المجاز، في البعد المكاني أو الزماني، المادي منهما والمعنوي، بصريح آيات القرآن، والبعد فيها جميعا نقيض القرب، على حين يخلص النأي للصد والإعراض، نقيض الإقبال:

كقوله تعالى: إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيداً* وَنَراهُ قَرِيباً [المعارج: 6، 7] [الإعجاز البياني للقرآن/ 220]

 

‌‌(الرؤيا والحلم)

(س 9:) قال تعالى: يا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُءْيايَ إِنْ كُنْتُمْ لِلرُّءْيا تَعْبُرُونَ* قالُوا أَضْغاثُ أَحْلامٍ وَما نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلامِ بِعالِمِينَ [يوسف: 43، 44] ما الفرق بين الأحلام والرؤيا؟

(ج 9:) استعمل القرآن (الأحلام) ثلاث مرات، يشهد سياقها بأنها
"তাদের ওপর সফর দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল" [আত-তাওবাহ: ৪২] কুরআনিক ব্যবহারে 'নায়ী' এবং 'বুদ' এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তরঃ ৮) অধিকাংশ অভিধানবিদ ও মুফাসসির এই দুটির একটির ব্যাখ্যা অন্যটির মাধ্যমে করেছেন, তাদের মাঝে কোনো পার্থক্যের ইঙ্গিত না দিয়ে। তবে যারা সমার্থক শব্দের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন, তারা এ দুটির মাঝে পার্থক্য করেছেন:

আমরা যদি কুরআনে 'নায়ী' ও 'বুদ' ব্যবহারের স্থানসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখা যায় যে তারা সমার্থক নয়:

'নায়ী' শব্দটি কুরআনের আয়াতসমূহের স্পষ্ট প্রসঙ্গের ভিত্তিতে বিমুখ হওয়া, বাধা দেওয়া এবং অবজ্ঞা করার অর্থে আসে: "এবং আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি, সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে (নায়ী) যায়" [ফুসসিলাত: ৫১]। আর 'বুদ' শব্দটি কুরআনের স্পষ্ট আয়াতসমূহে এর বিভিন্ন রূপে আক্ষরিক বা রূপকভাবে, স্থানগত বা কালগত দূরত্বে এবং বস্তুগত ও ভাবগত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই সব ক্ষেত্রেই 'বুদ' হলো 'নিকটবর্তী হওয়ার' বিপরীত, যেখানে 'নায়ী' শব্দটি সুনির্দিষ্টভাবে বিমুখ হওয়া ও বাধা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা 'অভিমুখী হওয়ার' বিপরীত:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা একে সুদূর মনে করে, আর আমি একে নিকটবর্তী দেখি।" [আল-মাআরিজ: ৬, ৭] [আল-ইজাজ আল-বায়ানি লিল-কুরআন/ ২২০]

 

‌‌(রুইয়া এবং হুলুম/স্বপ্ন)

(প্রশ্ন ৯:) মহান আল্লাহ বলেন: "হে পরিষদবর্গ, তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দাও যদি তোমরা স্বপ্ন ব্যাখ্যা করতে পারো। তারা বলল, এগুলো হচ্ছে এলোমেলো স্বপ্নের সমষ্টি এবং আমরা এই ধরণের স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী নই।" [ইউসুফ: ৪৩, ৪৪] 'আহলাম' এবং 'রুইয়া' এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তরঃ ৯) কুরআন 'আহলাম' শব্দটি তিনবার ব্যবহার করেছে, যার প্রেক্ষাপট সাক্ষ্য দেয় যে এটি
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
الأضغاث المهوشة والهواجس المختلطة، وتأتي في المواضع الثلاثة بصيغة الجمع، دلالة على الخلط والتهوش لا يتميز فيه حلم من آخر: بَلْ قالُوا أَضْغاثُ أَحْلامٍ بَلِ افْتَراهُ بَلْ هُوَ شاعِرٌ فَلْيَأْتِنا بِآيَةٍ كَما أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ [الأنبياء: 5] أمّا الرّؤيا، فجاءت في القرآن سبع مرات، كلها في الرؤيا الصادقة، وهو لا يستعملها إلا بصيغة المفرد، دلالة على التميز والوضوح والصفاء. قال تعالى: يا بُنَيَّ لا تَقْصُصْ رُؤْياكَ عَلى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْداً إِنَّ الشَّيْطانَ لِلْإِنْسانِ عَدُوٌّ مُبِينٌ [يوسف: 5] [الإعجاز البياني للقرآن/ 215] (إذا أضيفت كلمة [قرآن]) (س 10:) إذا أضيفت كلمة (قرآن) إلى ما بعدها، لا يراد بها كلام الله نفسه (القرآن الكريم) بل يراد بها قراءة وتلاوة كلام الله. وهذا الاستعمال محصور في أربعة مواضع في القرآن الكريم، فما هي؟

(ج 10:) قوله تعالى: أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كانَ مَشْهُوداً [الإسراء: 78] قوله تعالى: إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ* فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ [القيامة: 17، 18] فالمعنى في الإسراء: قراءة القرآن في الفجر.

والمعنى في القيامة: قراءة وتلاوة كلام الله تعالى.

[لطائف قرآنية/ 32]
এলোমেলো বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন এবং মিশ্রিত কুচিন্তাসমূহ। তিনটি স্থানেই এটি বহুবচন রূপে এসেছে, যা মিশ্রণ ও বিশৃঙ্খলা নির্দেশ করে, যেখানে একটি স্বপ্ন অন্যটি থেকে পৃথক করা যায় না। মহান আল্লাহ বলেন: "বরং তারা বলে: এগুলো হচ্ছে এলোমেলো স্বপ্নের সমষ্টি; না, সে এটি উদ্ভাবন করেছে; না, সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে একটি নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিল।" [আল-আম্বিয়া: ৫] অন্যদিকে 'রুইয়া' (দর্শন বা স্বপ্ন) শব্দটি কুরআনে সাতবার এসেছে, যার সবগুলোই সত্য স্বপ্নের ক্ষেত্রে। কুরআন এটি কেবল একবচন রূপেই ব্যবহার করে, যা স্বাতন্ত্র্য, স্পষ্টতা এবং স্বচ্ছতা নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ বলেন: "হে আমার বৎস, তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না, নতুবা তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।" [ইউসুফ: ৫] [আল-ইজাজুল বায়ানি লিল কুরআন/ ২১৫] (যখন 'কুরআন' শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত হয়) (প্রশ্ন ১০:) যখন 'কুরআন' শব্দটি তার পরবর্তী শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তা দ্বারা স্বয়ং আল্লাহর কালাম (আল-কুরআনুল কারীম) উদ্দেশ্য হয় না, বরং তা দ্বারা আল্লাহর কালাম পাঠ করা বা তিলাওয়াত করা উদ্দেশ্য হয়। কুরআনে এই ব্যবহারটি চারটি স্থানে সীমাবদ্ধ, সেগুলো কী কী?

(উত্তর ১০:) মহান আল্লাহর বাণী: "সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের কুরআন (তিলাওয়াত) করো। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন (তিলাওয়াত) প্রত্যক্ষ করা হয়।" [আল-ইসরা: ৭৮] মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ এবং তা পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ করো।" [আল-কিয়ামাহ: ১৭, ১৮] সুতরাং সূরা আল-ইসরা-তে অর্থ হলো: ফজরের সময় কুরআন পাঠ করা।

আর সূরা আল-কিয়ামাহ-তে অর্থ হলো: মহান আল্লাহর কালাম পাঠ ও তিলাওয়াত করা।

[লাতাইফে কুরআনিয়া/ ৩২]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
(نفد) (س 11:) وردت اشتقاقات كلمة (نفد) خمس مرات في القرآن الكريم، فماذا تعني هذه الكلمة؟ وما هي الآيات التي وردت فيها؟

(ج 11:) المعنى: فني وانتهى ولم يبق منه شيء.

قال تعالى: ما عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَما عِنْدَ اللَّهِ باقٍ [النحل: 96] وقال سبحانه: قُلْ لَوْ كانَ الْبَحْرُ مِداداً لِكَلِماتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِماتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنا بِمِثْلِهِ مَدَداً [الكهف: 109] وقال سبحانه: وَلَوْ أَنَّما فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ ما نَفِدَتْ كَلِماتُ اللَّهِ [لقمان: 27] وقال سبحانه: إِنَّ هذا لَرِزْقُنا ما لَهُ مِنْ نَفادٍ [سورة ص: 54] [لطائف قرآنية للدكتور صلاح الخالدي] (نفذ) (س 12:) وردت كلمة (نفذ) ثلاث مرات، في آية واحدة في القرآن، فما معناها؟ وما هي الآية الكريمة؟

(ج 12:) المعنى: نفذ أي اخترق من جهة إلى أخرى.

قال تعالى: يا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطارِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطانٍ [الرحمن: 33] [لطائف قرآنية]
(নাফাদা) (প্রশ্ন ১১:) কুরআন মাজীদে ‘নাফাদা’ শব্দের ব্যুৎপন্ন রূপগুলো পাঁচবার এসেছে। এই শব্দের অর্থ কী? আর কোন কোন আয়াতে এটি এসেছে?

(উত্তর ১১:) অর্থ: নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, সমাপ্ত হওয়া এবং তার কিছুই অবশিষ্ট না থাকা।

মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী।” [সূরা আন-নাহল: ৯৬] এবং তিনি আরও বলেন: “বলুন, যদি আমার রবের বাণীসমূহ লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র কালি হয়ে যায়, তবে আমার রবের বাণীসমূহ শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে; যদিও আমি এর সাহায্যার্থে এর সমপরিমাণ আরও কালি নিয়ে আসি।” [সূরা আল-কাহফ: ১০৯] এবং তিনি আরও বলেন: “আর জমিনে যত বৃক্ষ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি সরবরাহ করে, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না।” [সূরা লুকমান: ২৭] এবং তিনি আরও বলেন: “নিশ্চয়ই এটি আমার দেওয়া রিযক, যার কোনো সমাপ্তি নেই।” [সূরা সাদ: ৫৪] [ড. সালাহ আল-খালিদি প্রণীত ‘লাতায়িফ কুরআনিয়া’] (নাফাযা) (প্রশ্ন ১২:) কুরআন মাজীদে একটি আয়াতে ‘নাফাযা’ শব্দটি তিনবার এসেছে। এর অর্থ কী? আর সেই মহান আয়াতটি কোনটি?

(উত্তর ১২:) অর্থ: ‘নাফাযা’ অর্থ হলো এক দিক থেকে অন্য দিকে ভেদ করে চলে যাওয়া বা অতিক্রম করা।

মহান আল্লাহ বলেন: “হে জিন ও মানব জাতি! আসমানসমূহ ও জমিনের সীমানা যদি তোমরা অতিক্রম করতে পারো, তবে অতিক্রম করো; কিন্তু বিশেষ শক্তি ছাড়া তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।” [সূরা আর-রহমান: ৩৩] [লাতায়িফ কুরআনিয়া]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
(النكر والمنكر) (س 13:) قال تعالى: حَتَّى إِذا لَقِيا غُلاماً فَقَتَلَهُ قالَ أَقَتَلْتَ نَفْساً زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئاً نُكْراً [الكهف: 74] وقال سبحانه: وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَراً مِنَ الْقَوْلِ وَزُوراً [المجادلة: 2] ما الفرق في المعنى بين النكر في الآية الأولى والمنكر في الآية الثانية؟

(ج 13:) النكر: هو ما يجهله الإنسان فيستغربه وينكره، ويكون هذا بسبب جهله، فيكون مخطئا في ذلك، ويكون الشيء في حقيقته صحيحا صوابا.

والمنكر: هو الأمر القبيح الباطل في حقيقته وأصله، فينكره الشرع ويحرمه، ويدعونا إلى إنكاره ومحاربته، وهو مرفوض باطل، وإن قبله أناس وفعلوه ورضوا به. [لطائف قرآنية] (ميّت وميت) (س 14:) قال تعالى: إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ [الزمر: 30] وقال سبحانه: حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ [المائدة: 3] ما الفرق في المعنى بين ميّت بالتشديد في الآية الأولى وميت بالتخفيف في الآية الثانية؟

(ج 14:) الميّت بالتشديد: هو الحي الذي فيه الروح.

والميت بالتخفيف: هو الذي خرجت روحه منه. [لطائف قرآنية]
(আন-নুকর ও আল-মুনকার) (প্রশ্ন ১৩:) মহান আল্লাহ বলেন: “অবশেষে যখন তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। তিনি (মূসা) বললেন: ‘আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? অবশ্যই আপনি এক অত্যন্ত গর্হিত (নুকর) কাজ করেছেন’।” [কাহাফ: ৭৪] এবং মহান আল্লাহ বলেন: “আর তারা অবশ্যই একটি গর্হিত (মুনকার) ও মিথ্যা কথা বলে।” [মুজাদালাহ: ২] প্রথম আয়াতে বর্ণিত 'নুকর' এবং দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণিত 'মুনকার'-এর অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১৩:) 'নুকর' হলো এমন বিষয় যা মানুষ জানে না, ফলে সে বিষয়টিকে অদ্ভুত মনে করে এবং তা অস্বীকার করে। এটি মানুষের অজ্ঞতার কারণে ঘটে, ফলে সে এ ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে; অথচ বিষয়টি বাস্তবে সঠিক ও নির্ভুল হয়ে থাকে।

আর 'মুনকার' হলো এমন বিষয় যা তার বাস্তবতা ও মূল সত্তার দিক থেকে কদর্য ও বাতিল। তাই শরীয়ত একে অস্বীকার করে এবং হারাম ঘোষণা করে, এবং আমাদের তা প্রত্যাখ্যান করতে ও এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে আহ্বান জানায়। এটি বর্জনীয় ও বাতিল, যদিও কিছু মানুষ একে গ্রহণ করে, আমল করে এবং এতে সন্তুষ্ট থাকে। [লাতায়েফে কুরআনিয়া] (মায়্যিত ও মায়ত) (প্রশ্ন ১৪:) মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয় আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।” [যুমার: ৩০] এবং মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের জন্য মৃত জন্তু, রক্ত ও শুকরের মাংস হারাম করা হয়েছে।” [মায়িদাহ: ৩] প্রথম আয়াতে তাশদীদসহ 'মায়্যিত' এবং দ্বিতীয় আয়াতে তাশদীদ ছাড়া 'মায়ত'-এর অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১৪:) তাশদীদসহ 'মায়্যিত' হলো সেই জীবিত সত্তা যার মধ্যে আত্মা বিদ্যমান রয়েছে (অর্থাৎ যা ভবিষ্যতে মারা যাবে)।

আর তাশদীদ ছাড়া 'মায়ত' হলো সেই সত্তা যার ভেতর থেকে আত্মা বের হয়ে গেছে। [লাতায়েফে কুরআনিয়া]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
(مصر ومصرا) (س 15:) قال تعالى: وَقالَ الَّذِي اشْتَراهُ مِنْ مِصْرَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْواهُ [يوسف: 21] وقال سبحانه: اهْبِطُوا مِصْراً فَإِنَّ لَكُمْ ما سَأَلْتُمْ [البقرة: 61] ما الفرق بين مصر في الآية الأولى ومصر في الآية الثانية؟

(ج 15:) مصر في الآية الأولى ممنوعة من الصرف وهي القطر المعروف الذي يجري فيه نهر النيل، وعاصمته القاهرة.

أما (مصرا) في الآية الثانية فهي مصروفة نكرة تعني أيّ قطر من الأقطار ولا تعني الإقليم المعروف. [لطائف قرآنية] (عباد وعبيد) (س 16:) قال تعالى: وَعِبادُ الرَّحْمنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْناً [الفرقان: 63] وقال سبحانه: ذلِكَ بِما قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ [الأنفال: 51] لماذا (عباد) في الآية الأولى و (عبيد) في الآية الثانية؟

(ج 16:) (العباد) في القرآن يراد بها المسلمون العابدون لله، والألف توحي بالعزة والمنعة والأنفة والرفعة.

و (العبيد) في القرآن يراد بها الكفار والعصاة، والياء توحي بالذلة الملازمة للكفار.

[لطائف قرآنية]
(মিসর ও মিসরান) (প্রশ্ন ১৫:) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তার মেহমানদারি সম্মানজনক করো’" [ইউসুফ: ২১]। এবং তিনি আরও ইরশাদ করেন: "তোমরা কোনো জনপদে অবতরণ করো, তবে তোমরা যা চেয়েছ তা তোমাদের জন্য রয়েছে" [বাকারা: ৬১]। প্রথম আয়াতের ‘মিসর’ এবং দ্বিতীয় আয়াতের ‘মিসরান’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১৫:) প্রথম আয়াতের ‘মিসর’ শব্দটি বিভক্তি-অযোগ্য (মামনু' মিনাস সারফ), আর এটি দ্বারা সেই সুপরিচিত ভূখণ্ডকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্য দিয়ে নীল নদ প্রবাহিত এবং যার রাজধানী কায়রো।

পক্ষান্তরে দ্বিতীয় আয়াতের ‘মিসরান’ শব্দটি বিভক্তি-যোগ্য (মাসরুফ) ও অনির্দিষ্টবাচক (নাকেরা), যা দ্বারা যেকোনো জনপদ বা শহর বোঝানো হয়েছে এবং এর দ্বারা সেই সুপরিচিত নির্দিষ্ট দেশটি উদ্দেশ্য নয়। [লাতাইফে কুরআনিয়া] (ইবাদ ও আবিদ) (প্রশ্ন ১৬:) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "আর পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে" [ফুরকান: ৬৩]। এবং তিনি আরও ইরশাদ করেন: "এটি তোমাদের হাত যা অগ্রে প্রেরণ করেছে তার ফল, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন" [আনফাল: ৫১]। কেন প্রথম আয়াতে ‘ইবাদ’ এবং দ্বিতীয় আয়াতে ‘আবিদ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে?

(উত্তর ১৬:) কুরআনে ‘ইবাদ’ শব্দ দ্বারা আল্লাহর ইবাদতকারী মুসলিমদের বোঝানো হয়; এর ‘আলিফ’ অক্ষরটি সম্মান, প্রতিরক্ষা, আত্মমর্যাদা ও উচ্চমর্যাদার ব্যঞ্জনা বহন করে।

আর কুরআনে ‘আবিদ’ শব্দ দ্বারা কাফির ও অবাধ্যদের বোঝানো হয়; এর ‘ইয়া’ অক্ষরটি কাফিরদের সাথে লেপ্টে থাকা লাঞ্ছনা ও হীনতার ব্যঞ্জনা বহন করে।

[লাতাইফে কুরআনিয়া]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌(مسس ولمس)

(س 17:) قال تعالى: قالَتْ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ [آل عمران: 47] وقال سبحانه: أَوْ لامَسْتُمُ النِّساءَ فَلَمْ تَجِدُوا ماءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً [النساء: 43] كنّى الله تعالى بالمس في الآية الأولى واللمس في الآية الثانية عن شيئين مختلفين، فما المراد بالمس في الآية الأولى؟ وما المراد باللمس في الآية الثانية؟

(ج 17:) (المس) بمعنى الجماع والمعاشرة الجنسية الزوجية.

و (اللمس) بمعنى المصافحة والتقاء البشرة بالبشرة.

[لطائف قرآنية] (الكره والكره) (س 18:) قال تعالى: وَوَصَّيْنَا الْإِنْسانَ بِوالِدَيْهِ إِحْساناً حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهاً وَوَضَعَتْهُ كُرْهاً [الأحقاف: 15] وقال سبحانه: ثُمَّ اسْتَوى إِلَى السَّماءِ وَهِيَ دُخانٌ فَقالَ لَها وَلِلْأَرْضِ ائْتِيا طَوْعاً أَوْ كَرْهاً [فصلت: 11] وردت (كرها) بالضم في الآية الأولى، ووردت بالفتح (كرها) في الآية الثانية، ما الفرق في المعنى بينهما؟

(ج 18:) (الكره) بالضم بمعنى المشقة المرغوبة المطلوبة من قبل صاحبها.
‌(মাস্স এবং লাম্স)

(প্রশ্ন ১৭:) মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার সন্তান কীভাবে হবে যখন কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি?" [আল-ইমরান: ৪৭] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অথবা তোমরা যদি নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো।" [আন-নিসা: ৪৩] মহান আল্লাহ প্রথম আয়াতে ‘মাস’ এবং দ্বিতীয় আয়াতে ‘লামস’ শব্দের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন বিষয়কে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। প্রথম আয়াতে ‘মাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আর দ্বিতীয় আয়াতে ‘লামস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(উত্তর ১৭:) ‘মাস’ বলতে সহবাস ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার যৌন সম্পর্ককে বোঝানো হয়েছে।

আর ‘লামস’ বলতে হাত মেলানো বা ত্বকের সাথে ত্বকের স্পর্শ লাগাকে বোঝানো হয়েছে।

[কুরআনের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ] (কুর্‌হ এবং কার্হ) (প্রশ্ন ১৮:) মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং কষ্টের সাথে তাকে প্রসব করেছেন।" [আল-আহকাফ: ১৫] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া সদৃশ। এরপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।" [ফুসসিলাত: ১১] প্রথম আয়াতে শব্দটি পেশ দিয়ে (কুর্‌হান) এসেছে এবং দ্বিতীয় আয়াতে জবর দিয়ে (কার্হান) এসেছে, এই দুটির অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১৮:) পেশ সহযোগে ‘কুর্‌হ’ অর্থ হলো এমন কষ্ট যা সম্পাদনকারীর নিকট আকাঙ্ক্ষিত ও পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
و (الكره) بالفتح بمعنى الإكراه والإجبار والقسر، وذلك لأنّ الأمر والتكليف جاء من الخارج. [لطائف قرآنية] (الجسم والجسد) (س 19:) قال تعالى: إِنَّ اللَّهَ اصْطَفاهُ عَلَيْكُمْ وَزادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ [البقرة: 247] وقال سبحانه: وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَداً لَهُ خُوارٌ [الأعراف: 148] ما الفرق بين (الجسم) و (الجسد) في الاستعمال القرآني.

(ج 19:) الجسم: يطلق على البدن الذي فيه حياة وروح وحركة.

والجسد: يطلق على التمثال الجامد، أو بدن الإنسان بعد وفاته وخروج روحه.

[لطائف قرآنية] (شرى واشترى) (س 20:) (شرى) و (اشترى): كلمتان متقاربتان أصلهما واحد، لكن بينهما تضاد في المعنى وفي الأسلوب القرآني. (شرى) في القرآن بمعنى (باع) وقد وردت أربع مرات في القرآن بمعنى (باع)، فما هي الآيات التي ورد فيها هذا المعنى.

(ج 20:) قوله تعالى: وَلَبِئْسَ ما شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كانُوا يَعْلَمُونَ [البقرة: 102]
এবং (কারহ) ফাতহাহ (যবর) সহকারে বাধ্য করা, জবরদস্তি করা এবং বলপ্রয়োগ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়; কারণ আদেশ ও বিধান বাহ্যিক পক্ষ থেকে এসেছে। [কুরআনিক সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ] (জিসম এবং জাসাদ) (প্রশ্ন ১৯:) মহান আল্লাহ বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তোমাদের ওপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞানে ও শরীরে প্রশস্ততা দান করেছেন [আল-বাকারা: ২৪৭]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: এবং মূসার সম্প্রদায় তার প্রস্থানের পর তাদের অলঙ্কারাদি দিয়ে একটি বাছুর তৈরি করল—একটি প্রাণহীন দেহ, যা হাম্বা রব করত [আল-আরাফ: ১৪৮]। কুরআনিক প্রয়োগে 'জিসম' এবং 'জাসাদ'-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(উত্তর ১৯:) জিসম: এটি এমন শরীরের ওপর প্রয়োগ করা হয় যাতে জীবন, রূহ এবং নড়াচড়া বিদ্যমান থাকে।

আর জাসাদ: এটি স্থবির মূর্তি অথবা মানুষের মৃত্যুর পর এবং রূহ বের হয়ে যাওয়ার পর তার দেহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

[কুরআনিক সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ] (শারা এবং ইশতারা) (প্রশ্ন ২০:) 'শারা' এবং 'ইশতারা': শব্দ দুটি নিকটবর্তী এবং এদের মূল এক, কিন্তু কুরআনিক শৈলী ও অর্থের দিক থেকে এদের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। কুরআনে 'শারা' শব্দটি 'বিক্রয় করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি কুরআনে চারবার 'বিক্রয় করা' অর্থে এসেছে। সেই আয়াতগুলো কী কী যাতে এই অর্থটি বর্ণিত হয়েছে?

(উত্তর ২০:) মহান আল্লাহর বাণী: তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রয় করেছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত [আল-বাকারা: ১০২]।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله تعالى: وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَراهِمَ مَعْدُودَةٍ [يوسف: 20] وقوله تعالى:* فَلْيُقاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَياةَ الدُّنْيا بِالْآخِرَةِ [النساء: 74] وقوله تعالى: وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغاءَ مَرْضاتِ اللَّهِ [البقرة: 207] [لطائف قرآنية] (الفتية والفتيان) (س 21:) قال تعالى: نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُمْ بِالْحَقِّ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْناهُمْ هُدىً [الكهف: 13] وقال تعالى: وَقالَ لِفِتْيانِهِ اجْعَلُوا بِضاعَتَهُمْ فِي رِحالِهِمْ [يوسف: 62] ما الفرق في المعنى بين (الفتية) في الآية الأولى، و (الفتيان) في الآية الثانية؟

(ج 21:) (الفتية) في الآية الأولى: أي الشباب المؤمنون الصالحون.

و (الفتيان) في الآية الثانية: أي الخدم. [لطائف قرآنية] (السّلم* والسّلم* والسّلم) (س 22:) قال تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً [البقرة: 208] وقال تعالى: فَلا تَهِنُوا وَتَدْعُوا إِلَى السَّلْمِ وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ [محمد: 35]
এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর তারা তাকে বিক্রি করে দিল অতি সামান্য মূল্যে, গুটিকতক দিরহামে।” [ইউসুফ: ২০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “অতএব আল্লাহর পথে যেন তারা লড়াই করে, যারা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে বিক্রি করে দেয়।” [আন-নিসা: ৭৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়।” [আল-বাকারা: ২০৭] [কুরআনের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি] (যুবকবৃন্দ ও সেবকবৃন্দ) (প্রশ্ন ২১:) মহান আল্লাহ বলেন: “আমি আপনার কাছে তাদের সংবাদ যথাযথভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয় তারা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।” [আল-কাহাফ: ১৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: “এবং তিনি তাঁর সেবকদের বললেন, তাদের পণ্যসামগ্রী তাদের আসবাবপত্রের মধ্যে রেখে দাও।” [ইউসুফ: ৬২] প্রথম আয়াতে বর্ণিত (আল-ফিতয়াহ) এবং দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণিত (আল-ফিতইয়ান)-এর মধ্যে অর্থগত পার্থক্য কী?

(উত্তর ২১:) প্রথম আয়াতে (আল-ফিতয়াহ): অর্থাৎ মুমিন নেককার যুবকগণ।

এবং দ্বিতীয় আয়াতে (আল-ফিতইয়ান): অর্থাৎ সেবকগণ। [কুরআনের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি] (আস-সিলম, আস-সালম ও আস-সালাম) (প্রশ্ন ২২:) মহান আল্লাহ বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।” [আল-বাকারা: ২০৮] এবং মহান আল্লাহ বলেন: “কাজেই তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করো না, যখন তোমরাই হচ্ছ প্রবল।” [মুহাম্মদ: ৩৫]
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال تعالى: فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَما جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا [النساء: 90] الكلمات: (السّلم والسّلم والسّلم) متقاربة في الأحرف والحركات إلّا أنّ كل واحدة دلّت على معنى خاص بها في القرآن، فما معنى كل منها؟

(ج 22:) (السّلم): هو الإسلام، وكل الناس مأمورون بالدخول فيه كافة، ليكونوا مسلمين لله.

(السّلم): هو الميل إلى الاستسلام والمسالمة وترك القتال والحرب وهذه دعوة موجهة إلى الكفار، ليجنحوا إليه، وهو محرم على المسلمين.

(السّلم): هو الاستسلام الذليل المهين، حيث يلقي الكفار للمسلمين السّلم في الدنيا. [لطائف قرآنية]

 

‌‌(الهدية في القرآن هي الرشوة)

(س 23:) من أول من أطلق على الرشوة كلمة هدية؟ مع ذكر الآيات واسم السورة.

(ج 23:) (الهدية) لم ترد في القرآن إلا مرتين في سورة النمل، وكانت ملكة (سبأ) هي أول من حرّف وزوّر وتلاعب بالمصطلحات، حيث أطلقت على الرشوة كلمة (هدية).

قال تعالى: وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِمْ بِهَدِيَّةٍ فَناظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ*
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক থাকে, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে সন্ধি নিবেদন করে, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ রাখেননি।" [আন-নিসা: ৯০] শব্দগুলো: (আস-সিল্ম, আস-সালাম এবং আস-সুলাম) অক্ষর এবং হরকতে কাছাকাছি হলেও কুরআনে এগুলোর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করেছে। এগুলোর প্রতিটির অর্থ কী?

(উত্তর ২২:) (আস-সিল্ম): এটি হলো ইসলাম, এবং সমস্ত মানুষকে এতে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আল্লাহর প্রতি অনুগত মুসলিম হতে পারে।

(আস-সালাম): এটি হলো আত্মসমর্পণ ও সন্ধির প্রতি ঝোঁক এবং লড়াই ও যুদ্ধ বর্জন করা। এটি কাফিরদের প্রতি একটি আহ্বান যাতে তারা এর দিকে ঝুঁকে পড়ে, আর এটি মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ।

(আস-সুলাম): এটি হলো লাঞ্ছনাকর ও অপমানজনক আত্মসমর্পণ, যেখানে কাফিররা দুনিয়াতে মুসলিমদের কাছে আত্মসমর্পণ পেশ করে। [লাতায়েফে কুরআনিয়া]

 

(কুরআনে উপহার হলো ঘুষ)

(প্রশ্ন ২৩:) ঘুষকে সর্বপ্রথম 'উপহার' নামে কে অভিহিত করেছে? আয়াত এবং সূরার নামসহ উল্লেখ করুন।

(উত্তর ২৩:) 'উপহার' শব্দটি কুরআনে সূরা আন-নামলে মাত্র দুবার এসেছে। সাবার রানিই সর্বপ্রথম পারিভাষিক শব্দের বিকৃতি ও কারসাজি করেছিলেন, যেখানে তিনি ঘুষকে 'উপহার' শব্দে অভিহিত করেছিলেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি তাদের কাছে একটি উপহার পাঠাচ্ছি, অতঃপর দেখি দূতেরা কী নিয়ে ফিরে আসে।"
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
فَلَمَّا جاءَ سُلَيْمانَ قالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمالٍ فَما آتانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِمَّا آتاكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ [النمل: 35، 36] [لطائف قرآنية]

 

‌‌(تبيض وجوه وتسود وجوه)

(س 24:) قال تعالى: يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ ما تفسير ابن عباس- رضي الله عنهما لهذه الآية؟

(ج 24:) قال ابن عباس- رضي الله عنهما: تبيض وجوه أهل السنة والائتلاف وتسود وجوه أهل البدعة والاختلاف.

 

‌‌(آمن به وآمن له)

(س 25:) قال تعالى: قالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ [الأعراف: 123] وقال تعالى: قالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ [سورة طه: 71] ما الفرق في المعنى بين العبارتين: آمَنْتُمْ بِهِ، وآمَنْتُمْ لَهُ؟

(ج 25:) آمَنْتُمْ بِهِ: الإيمان بالنبي والثقة به والاطمئنان إليه.

آمَنْتُمْ لَهُ: الإيمان للنبي والاستسلام له واتباعه وطاعته والانقياد إليه. وبعد الإيمان به يأتي الإيمان له، وكل من آمن بالنبي لا بدّ أن يؤمن له. [لطائف قرآنية]

 

‌‌(معنى الروح)

(س 26:) وردت كلمة الروح في القرآن الكريم على سبعة أوجه، فما هي؟
অতঃপর যখন সে সুলায়মানের কাছে এল, তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাইছ? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে অনেক উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপহার নিয়ে আনন্দিত থাক।’ [আন-নামল: ৩৫, ৩৬] [কুরআনের লতিফাহসমূহ]

 

‌‌(কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কিছু চেহারা কালো হবে)

(প্রশ্ন ২৪:) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘যেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কিছু চেহারা কালো হবে।’ এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তাফসির কী?

(উত্তর ২৪:) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তথা ঐক্যবদ্ধ অনুসারীদের চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং বিদআত ও বিভেদ সৃষ্টিকারীদের চেহারা কালো হবে।

 

‌‌(তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং তার প্রতি আনুগত্যশীল হওয়া)

(প্রশ্ন ২৫:) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘ফেরাউন বলল, আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে?’ [আল-আরাফ: ১২৩] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: ‘সে বলল, আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার আনুগত্য স্বীকার করলে? সে-ই তো তোমাদের প্রধান, যে তোমাদের জাদু শিক্ষা দিয়েছে।’ [সূরা ত্বহা: ৭১] এই দুটি বাক্যাংশ: ‘তার প্রতি ঈমান আনা’ এবং ‘তার জন্য ঈমান আনা (আনুগত্য করা)’—এর মধ্যে অর্থের পার্থক্য কী?

(উত্তর ২৫:) ‘তার প্রতি ঈমান আনা’: নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর ওপর আস্থা রাখা এবং তাঁর প্রতি আশ্বস্ত হওয়া।

‘তার জন্য ঈমান আনা (আনুগত্য করা)’: নবীর জন্য ঈমান আনা বা সমর্পণ করা, তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করা, তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর অনুগামী হওয়া। আর তাঁর প্রতি বিশ্বাসের পরেই আসে তাঁর প্রতি আনুগত্য। তাই যে ব্যক্তিই নবীর প্রতি ঈমান আনবে, তাকে অবশ্যই তাঁর প্রতি অনুগত হতে হবে। [কুরআনের লতিফাহসমূহ]

 

‌‌(রূহ শব্দের অর্থ)

(প্রশ্ন ২৬:) পবিত্র কুরআনে ‘রূহ’ শব্দটি সাতটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো কী কী?
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
(ج 26:) 1 - بمعنى الرحمة: وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ [المجادلة: 22] 2 - بمعنى الملك العظيم الذي يكون في إزاء جميع الخلق يوم القيامة: يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلائِكَةُ صَفًّا [النبأ: 38] 3 - بمعنى جبريل: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ* عَلى قَلْبِكَ [الشعراء: 193، 194] 4 - بمعنى الوحي والقرآن: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا [الشورى: 52] 5 - بمعنى عيسى عليه السلام: إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقاها إِلى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ [النساء: 171] 6 - بمعنى اللطيفة التي فيها مدد الحياة: وَيَسْئَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَما أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا [الإسراء: 85] 7 - بمعنى القوة والثبات والنصرة التي يؤيد الله بها من شاء من عباده المؤمنين، قال ابن القيم: كقوله تعالى: أُولئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ [المجادلة: 22] [بصائر ذوي التمييز للفيروزآبادي 3/ 105]

 

‌‌(ليكن عملك خالصا صوابا)

(س 27:) قال تعالى: لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا [الملك: 2] ما تفسير الفضيل بن عياض- رحمه الله لهذه الآية؟

(ج 27:) قال: أخلصه وأصوبه. قالوا: يا أبا علي، ما أخلصه وأصوبه؟

قال: إن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل، وإذا
(উত্তর ২৬:) ১ - রহমত অর্থে: "এবং তিনি তাদের শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ দ্বারা" [আল-মুজাদালাহ: ২২]। ২ - সেই মহান ফেরেশতা অর্থে যিনি কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সম্মুখে দণ্ডায়মান হবেন: "যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে" [আন-নাবা: ৩৮]। ৩ - জিবরাঈল অর্থে: "আপনার হৃদয়ে বিশ্বস্ত রূহ তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে" [আশ-শুআরা: ১৯৩, ১৯৪]। ৪ - ওহী ও কুরআন অর্থে: "অনুরূপভাবে আমি আপনার প্রতি আমার পক্ষ থেকে রূহ ওহী হিসেবে পাঠিয়েছি" [আশ-শূরা: ৫২]। ৫ - ঈসা আলাইহিস সালাম অর্থে: "নিশ্চয়ই মারইয়াম-পুত্র মাসীহ ঈসা আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট সমর্পণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা এক রূহ" [আন-নিসা: ১৭১]। ৬ - সেই সূক্ষ্ম সত্তা অর্থে যাতে জীবনের আধার বিদ্যমান: "তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন: রূহ আমার রবের নির্দেশঘটিত বিষয়, আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে" [আল-ইসরা: ৮৫]। ৭ - শক্তি, অটলতা ও সাহায্য অর্থে যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা শক্তিশালী করেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তাদের অন্তরে তিনি ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন" [আল-মুজাদালাহ: ২২]। [বসা’ইর যাউয়িত তামীয লিল-ফাইরুযাবাদী ৩/১০৫]

 

‌‌(আপনার আমল যেন একনিষ্ঠ ও সঠিক হয়)

(প্রশ্ন ২৭:) আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সর্বোত্তম" [আল-মুলক: ২]। এই আয়াতের ব্যাপারে ফুযাইল ইবন ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা কী?

(উত্তর ২৭:) তিনি বলেন: "যা সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক।" তারা বলল: হে আবু আলী, সর্বাধিক একনিষ্ঠ ও সর্বাধিক সঠিক আমল কোনটি?

তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমল যখন একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক হয় না, তখন তা কবুল করা হয় না; আবার যখন তা...
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كان صوابا ولم يكن خالصا لم يقبل، حتى يكون خالصا صوابا، والخالص: أن يكون لله. والصواب: أن يكون على السنة.

[كتاب العبودية لابن تيمية/ 76]

 

‌‌(الهجر الجميل والصفح الجميل والصبر الجميل)

(س 28:) ذكر الله تعالى في القرآن الكريم (الهجر الجميل، والصفح الجميل، والصبر الجميل) فما معنى كل منها؟

(ج 28:) الهجر الجميل: هو هجر بلا أذى وَاهْجُرْهُمْ هَجْراً جَمِيلًا [المزمل: 10] والصفح الجميل: صفح بلا معاتبة فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ [الحجر: 85] والصبر الجميل: صبر بغير شكوى إلى المخلوق فَاصْبِرْ صَبْراً جَمِيلًا [المعارج: 5] [كتاب العبودية لابن تيمية/ 93]

 

‌‌(يوم رهيب)

(س 29:) قال تعالى: وَقالَ الْإِنْسانُ ما لَها* يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبارَها ما تفسير ذلك؟

(ج 29:) عن أبي هريرة قال: (قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآية: يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبارَها؟ قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: فإنّ أخبارها أن تشهد على كل عبد وأمة بما عمل على ظهرها أن تقول: عملت عليّ كذا وكذا يوم كذا وكذا. قال: فهو أخبارها) أخرجه الطبراني
যদি কাজ সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবে তা কবুল হবে না; যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক উভয়ই হয়। আর একনিষ্ঠতা হলো: কাজ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়া। আর সঠিক হওয়া হলো: কাজ সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া।

[ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল উবুদিয়্যাহ/ ৭৬]

 

‌‌(সুন্দর বিচ্ছেদ, সুন্দর ক্ষমা ও সুন্দর ধৈর্য)

(প্রশ্ন ২৮:) মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে (সুন্দর বিচ্ছেদ, সুন্দর ক্ষমা ও সুন্দর ধৈর্য) এর কথা উল্লেখ করেছেন; এগুলোর প্রতিটির অর্থ কী?

(উত্তর ২৮:) সুন্দর বিচ্ছেদ: তা হলো কোনো কষ্ট না দিয়ে বিচ্ছেদ অবলম্বন করা। "আর আপনি সুন্দরভাবে তাদের বর্জন করুন।" [মুযযাম্মিল: ১০] এবং সুন্দর ক্ষমা: তা হলো কোনো প্রকার তিরস্কার ছাড়াই ক্ষমা করা। "অতএব আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করে দিন।" [হিজর: ৮৫] এবং সুন্দর ধৈর্য: তা হলো সৃষ্টির কাছে কোনো অভিযোগ না করে ধৈর্য ধারণ করা। "অতএব আপনি সুন্দরভাবে ধৈর্য ধারণ করুন।" [মাআরিজ: ৫] [ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল উবুদিয়্যাহ/ ৯৩]

 

‌‌(এক ভয়াবহ দিন)

(প্রশ্ন ২৯:) মহান আল্লাহ বলেন: "এবং মানুষ বলবে, এর কী হলো? সেদিন সে (পৃথিবী) তার সংবাদসমূহ বর্ণনা করবে।" এর ব্যাখ্যা কী?

(উত্তর ২৯:) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "সেদিন সে তার সংবাদসমূহ বর্ণনা করবে।" তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এর সংবাদসমূহ হলো—তা প্রত্যেক বান্দা ও বান্দির বিরুদ্ধে তারা তার পিঠের ওপর যা করেছে সেই সাক্ষ্য দেবে; তা বলবে: তুমি আমার ওপর অমুক অমুক দিন এই এই কাজ করেছ। তিনি বললেন: এটিই হলো তার সংবাদসমূহ।) তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من حديث ابن لهيعة. [مسند الإمام أحمد 2/ 374 وقال الترمذي حديث حسن غريب وقال البخاري له شاهد بمعناه] وضعفه بعض العلماء.

 

‌‌(الله حسب المؤمنين)

(س 30:) قال تعالى: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [الأنفال: 64] ما تفسير ابن تيمية لهذه الآية الكريمة؟

(ج 30:) أي حسبك وحسب من اتّبعك من المؤمنين بالله عز وجل. ومن ظن أنّ المعنى: حسبك الله والمؤمنون معه، فقد غلط غلطا فاحشا.

[كتاب العبودية لابن تيمية/ 46]

 

‌‌(العلماء والفقهاء عند الله)

(س 31:) قال تعالى: أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُها مِنْ أَطْرافِها ما تفسير ابن عباس ومجاهد- رضي الله عنهما في تفسير النقص من الأرض في آية الرعد؟

(ج 31:) فسرا النقص من الأرض بموت العلماء والفقهاء.

[مختصر تفسير ابن كثير]

 

‌‌(الدنيا والآخرة)

(س 32:) قال جرير:

فلا هو في الدنيا مضيع نصيبه … ولا عرض الدنيا عن الدين شاغله
ইবনে লাহিয়ার হাদিস থেকে। [মুসনাদ ইমাম আহমাদ ২/ ৩৭৪ এবং তিরমিজি বলেছেন এটি হাসান গরিব হাদিস এবং বুখারি বলেছেন এর সমার্থক সাক্ষী রয়েছে] এবং কিছু আলেম একে দুর্বল বলেছেন।

 

‌‌(আল্লাহ মুমিনদের জন্য যথেষ্ট)

(প্রশ্ন ৩০:) মহান আল্লাহ বলেন: হে নবী! আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট [আল-আনফাল: ৬৪]। এই মহিমান্বিত আয়াতের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়াহর তাফসির কী?

(উত্তর ৩০:) অর্থাৎ আপনার জন্য এবং মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি মনে করে যে এর অর্থ হলো: আপনার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর সাথে মুমিনরা যথেষ্ট, সে এক চরম ভুল করেছে।

[ইবনে তাইমিয়াহর কিতাবুল উবুদিয়াহ/ ৪৬]

 

‌‌(আল্লাহর নিকট আলেম ও ফকিহগণ)

(প্রশ্ন ৩১:) মহান আল্লাহ বলেন: তারা কি দেখে না যে আমি জমিনকে তার চারপাশ থেকে সংকুচিত করে আনছি? সুরা রা’দ-এর এই আয়াতে 'জমিন সংকুচিত করা'-এর তাফসিরে ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ব্যাখ্যা কী?

(উত্তর ৩১:) তাঁরা জমিন সংকুচিত হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেম ও ফকিহদের মৃত্যুর মাধ্যমে।

[মুখতাসার তাফসির ইবনে কাসির]

 

‌‌(দুনিয়া ও আখিরাত)

(প্রশ্ন ৩২:) জারির বলেছেন:

সে দুনিয়াতে তার অংশ হারায় না … আর দুনিয়ার ভোগবিলাস তাকে দ্বীন থেকে বিমুখ করে না।
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد اقتبس جرير المعنى من آية كريمة، فما هي؟

(ج 32:) قوله تعالى: وَابْتَغِ فِيما آتاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيا [القصص: 77]

 

‌‌(حبل الله)

(س 33:) قال جرير:

وحبل الله تعصمكم قواه … فلا تخشوا لعروته انفصاما

وقد اقتبس جرير المعنى من آية كريمة، فما هي؟

(ج 33:) قوله تعالى: وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا [آل عمران: 103]

 

‌‌(خلافة عمر بن عبد العزيز)

(س 34:) قال جرير في مدح الخليفة عمر بن عبد العزيز:

نال الخلافة أو كانت له قدرا … كما أتى ربّه موسى على قدر

اقتبس جرير المعنى من آية كريمة، فما هي؟

(ج 34:) قوله تعالى: ثُمَّ جِئْتَ عَلى قَدَرٍ يا مُوسى [طه: 40]

 

‌‌(خلافة عبد الملك بن مروان)

(س 35:) مدح جرير الخليفة عبد الملك بن مروان:

الله طوقك الخلافة والهدى … والله ليس لما قضى تبديل

اقتبس جرير المعنى من آية كريمة، فما هي؟
জারীর এই অর্থটি একটি বরকতময় আয়াত থেকে গ্রহণ করেছেন, সেটি কোনটি?

(উত্তরঃ ৩২:) মহান আল্লাহর বাণী: আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দিয়ে পরকাল অন্বেষণ করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। [আল-কাসাস: ৭৭]

 

‌‌(আল্লাহর রশি)

(প্রশ্ন: ৩৩:) জারীর বলেছেন:

আল্লাহর রশি এবং এর শক্তি তোমাদের রক্ষা করবে... সুতরাং এর হাতল ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় করো না।

জারীর এই অর্থটি একটি বরকতময় আয়াত থেকে গ্রহণ করেছেন, সেটি কোনটি?

(উত্তরঃ ৩৩:) মহান আল্লাহর বাণী: তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [আল-ইমরান: ১০৩]

 

‌‌(উমর ইবনে আব্দুল আজিজের খিলাফত)

(প্রশ্ন: ৩৪:) জারীর খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের প্রশংসায় বলেছেন:

তিনি খিলাফত লাভ করেছেন অথবা এটি তার জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল... যেমন মুসা তার রবের কাছে এক নির্ধারিত সময়ে এসেছিলেন।

জারীর এই অর্থটি একটি বরকতময় আয়াত থেকে গ্রহণ করেছেন, সেটি কোনটি?

(উত্তরঃ ৩৪:) মহান আল্লাহর বাণী: অতঃপর হে মুসা! তুমি এক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছ। [ত্বহা: ৪০]

 

‌‌(আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফত)

(প্রশ্ন: ৩৫:) জারীর খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রশংসা করেছেন:

আল্লাহ আপনাকে খিলাফত ও হিদায়াতের অলঙ্কারে ভূষিত করেছেন... আর আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তার কোনো পরিবর্তন নেই।

জারীর এই অর্থটি একটি বরকতময় আয়াত থেকে গ্রহণ করেছেন, সেটি কোনটি?
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
(ج 35:) قال تعالى: لا تَبْدِيلَ لِكَلِماتِ اللَّهِ [يونس: 64]

 

‌‌(الخير والشر)

(س 36:) وقال أبو الأسود الدؤلي:

أميران كانا صاحبيّ كلاهما … فكل جزاه الله عني بما فعل

فإن كان خيرا كان خيرا جزاؤه … وإن كان شرا كان شرا كما فعل

والمعنى مستوحى من كتاب الله تعالى، فما الآيات المقتبس المعنى منها؟

(ج 36:) قوله تعالى: فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ* وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ [الزلزلة: 7، 8]

 

‌‌(القرآن نذير لكل من بلغه)

(س 37:) قال عبد الرزاق عن قتادة: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بلغوا عن الله فمن بلغته آية من كتاب الله فقد بلغه أمر الله» وقد وافق هذا المعنى آية في كتاب الله عز وجل، فما هي؟

(ج 37:) قوله تعالى: وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ [الأنعام: 19] [مختصر تفسير ابن كثير]

 

‌‌(النفس اللوامة)

(س 38:) قال الحسن: (هي والله نفس المؤمن، ما يرى المؤمن إلا يلوم نفسه، ما أردت بكلامي؟ ما أردت بأكلي؟ ما أردت بحديث
(উঃ ৩৫:) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই [ইউনুস: ৬৪]

 

‌‌(কল্যাণ ও অকল্যাণ)

(প্রঃ ৩৬:) আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি বলেছেন:

দুজন আমির আমার সাথী ছিলেন, আল্লাহ তাদের প্রত্যেককে আমার পক্ষ থেকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দিন … সুতরাং যদি তা ভালো হয় তবে তার প্রতিদান ভালো হবে … আর যদি তা মন্দ হয় তবে তা তার কৃতকর্মের মতোই মন্দ হবে

আর এই অর্থটি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে অনুপ্রাণিত, তাহলে কোন আয়াতসমূহ থেকে এই অর্থটি উদ্ধৃত করা হয়েছে?

(উঃ ৩৬:) মহান আল্লাহর বাণী: অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে তাও দেখবে [আয-যালযালাহ: ৭, ৮]

 

‌‌(যার কাছেই কুরআন পৌঁছেছে তার জন্য এটি সতর্ককারী)

(প্রঃ ৩৭:) আবদুর রাজ্জাক কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, সুতরাং যার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোনো একটি আয়াত পৌঁছেছে, তার কাছে আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছেছে» এই বক্তব্যের সাথে মহান আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতের মিল রয়েছে, সেটি কী?

(উঃ ৩৭:) মহান আল্লাহর বাণী: আর এই কুরআন আমার নিকট ওহী করা হয়েছে যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে এর দ্বারা সতর্ক করি [আল-আনআম: ১৯] [মুখতাসার তাফসীর ইবনে কাসীর]

 

‌‌(তিরস্কারকারী আত্মা)

(প্রঃ ৩৮:) হাসান (বসরী) বলেছেন: (আল্লাহর কসম, এটি মুমিনের আত্মা। মুমিন ব্যক্তি সর্বদা নিজেকে তিরস্কার করে; আমি আমার কথা দ্বারা কী চেয়েছিলাম? আমি আমার খাবার দ্বারা কী চেয়েছিলাম? আমি আমার আলোচনার দ্বারা কী...
(খণ্ড: ১০০০) জাওয়াহিরু কুরআনিয়্যাহ ১০০০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
نفسي؟ والفاجر لا يحاسب نفسه) هذا تفسير آية في كتاب الله عز وجل، فما هي؟

(ج 38:) قوله تعالى: وَلا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ [القيامة: 2] [الجامع لأحكام القرآن 19/ 93]

 

‌‌(شهادة الملكين)

(س 39:) يقول ابن كثير في تفسير الآية: (ملك يسوقه إلى المحشر، وملك يشهد عليه بأعماله) فما هي الآية؟

(ج 39:) قوله تعالى: وَجاءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَعَها سائِقٌ وَشَهِيدٌ [سورة ق: 21]

 

‌‌(الكنز)

(س 40:) قال تعالى: وَأَمَّا الْجِدارُ فَكانَ لِغُلامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُما وَكانَ أَبُوهُما صالِحاً فَأَرادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغا أَشُدَّهُما وَيَسْتَخْرِجا كَنزَهُما رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ [الكهف: 82] فما المراد بالكنز؟

(ج 40:) اختلف المفسرون في تفسير معنى الكنز:

قال عكرمة: كان تحته مال مدفون لهما.

وقال ابن عباس: كان تحته كنز علم.

وقال الحسن البصري: (لوح من ذهب مكتوب فيه: بسم الله الرحمن الرحيم، عجبت لمن يؤمن بالقدر كيف يحزن، وعجبت لمن يؤمن بالموت كيف يفرح، وعجبت لمن يعرف الدنيا
...নিজের নফস? আর পাপাচারী নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করে না) এটি মহান আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতের তাফসীর, সেটি কোনটি?

(উত্তরঃ ৩৮:) মহান আল্লাহর বাণী: “আর আমি শপথ করছি সেই নফসের যা নিজেকে তিরস্কার করে।” [সূরা আল-কিয়ামাহ: ২] [আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ১৯/৯৩]

 

‌‌(দুই ফেরেশতার সাক্ষ্য)

(প্রশ্ন ৩৯:) ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: (এক ফেরেশতা তাকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, আর অন্য এক ফেরেশতা তার আমলসমূহের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে) আয়াতটি কোনটি?

(উত্তরঃ ৩৯:) মহান আল্লাহর বাণী: “আর প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী।” [সূরা ক্বাফ: ২১]

 

‌‌(ধনভাণ্ডার)

(প্রশ্ন ৪০:) মহান আল্লাহ বলেন: “আর ঐ দেয়ালের ব্যাপারটি হলো, সেটি ছিল শহরের দুইজন এতিম বালকের, তার নিচে ছিল তাদের জন্য সংরক্ষিত একটি ধনভাণ্ডার, আর তাদের পিতা ছিলেন একজন নেককার ব্যক্তি। সুতরাং আপনার রব চাইলেন যে তারা যেন যৌবনে পদার্পণ করে এবং আপনার রবের পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ তাদের ধনভাণ্ডার বের করে নেয়।” [সূরা আল-কাহফ: ৮২] এখানে ‘ধনভাণ্ডার’ (কানয) দ্বারা কী উদ্দেশ্য?

(উত্তরঃ ৪০:) ‘কানয’ বা ধনভাণ্ডারের অর্থ নিয়ে মুফাসসিরগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন:

ইকরিমাহ বলেন: তার নিচে তাদের জন্য পুঁতে রাখা সম্পদ ছিল।

ইবনে আব্বাস বলেন: তার নিচে জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিল।

হাসান বসরী বলেন: (তা ছিল একটি স্বর্ণের পাত যাতে লিখা ছিল: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আমি ঐ ব্যক্তির জন্য আশ্চর্যান্বিত হই যে তাকদীরে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও কীভাবে চিন্তিত হয়; আমি ঐ ব্যক্তির জন্য আশ্চর্যান্বিত হই যে মৃত্যুতে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও কীভাবে আনন্দিত হয়; আর আমি ঐ ব্যক্তির জন্য আশ্চর্যান্বিত হই যে দুনিয়াকে চিনেছে...