(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: -)
نواسخ القرآن = ناسخ القرآن ومنسوخه ت آل زهوي القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: نواسخ القرآن = ناسخ القرآن ومنسوخه
المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)
المحقق: أبو عبد الله العاملي السّلفي الداني بن منير آل زهوي
الناشر: شركه أبناء شريف الأنصارى - بيروت
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 215
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 محرم 1433
নাওয়াসিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসুখুহু - আলে জুহাওয়ীর সম্পাদনা (تحقيق) বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: নাওয়াসিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসুখুহু
লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওজি (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরি)
সম্পাদক: আবু আবদুল্লাহ আল-আমিলি আস-সালাফি আদ-দানি বিন মুনির আলে জুহাওয়ী
প্রকাশক: শরিকা আবনা শরিফ আল-আনসারি - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ মহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققبسم الله الرّحمن الرحيم وبه أستعين إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد؛ فهذا مصنّف ماتع هام، في مسألة أصولية عظيمة؛ مسألة النسخ في القرآن الكريم، صنفه الإمام الحافظ المفسّر الواعظ جمال الدين أبو الفرج ابن الجوزي- رحمه الله.
ويعتبر هذا الكتاب من أهم المصنفات التي صنفت في هذا الباب، حيث اعتمد فيه المصنف على الآثار وأقوال الأئمة العلماء الواردة في هذا الباب، وأبدى رأيه في ما ادّعي أنه نسخ وهو ليس كذلك، مما تجده مفصلا في ثنايا هذا الكتاب.
وقد تجلّى عملي في الكتاب، بأن ضبطت النص عن أصل مطبوع.
وصحّحت ما فيه من الأخطاء بالمقارنة مع الأصول والمراجع.
- خرجت أحاديثه وآثاره بشيء من الاختصار في أكثر الأحيان.
- عزوت النصوص إلى قائليها بذكر المصادر والمراجع.
- صنفت فهارس علمية للكتاب.
هذا؛ وعلى الله قصد السبيل؛ فإن وفّقت فمنه سبحانه وتعالى التوفيق، وإن كانت الأخرى فلا حول ولا قوة إلا به.
اللهم صلّ على محمد وعلى آله وصحبه وسلّم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وكتبه:
أبو عبد الله العاملي السّلفي الداني بن منير آل زهوي الجية؛ منطقة جبل لبنان الموافق للسابع من شهر شوال عام: إحدى وعشرين وأربعمائة وألف
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁর নিকট সাহায্য চাইছি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: এটি একটি চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংকলন, যা একটি মহান উসূলী মাসআলা অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ে রচিত। এর সংকলন করেছেন ইমাম, হাফিজ (حافظ), মুফাসসির ও ওয়ায়েজ জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (রহ.)।
এই গ্রন্থটি এ বিষয়ে রচিত অন্যতম প্রধান গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এতে সংকলক এ সংক্রান্ত বর্ণনা (أثر) এবং ইমাম ও ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে যেগুলোকে রহিতকরণ (نسخ) বলে দাবি করা হয়েছে অথচ বাস্তবে সেগুলো তেমন নয়, সে ব্যাপারে তিনি নিজ অভিমত ব্যক্ত করেছেন; যা আপনি এই গ্রন্থের ভেতরে বিস্তারিত পাবেন।
এই কিতাবে আমার কাজ নিম্নরূপ: আমি একটি মুদ্রিত মূলকপি থেকে পাঠ্যটি সুবিন্যস্ত করেছি।
মূল উৎস ও রেফারেন্সের সাথে তুলনা করে এতে থাকা ভুলগুলো সংশোধন করেছি।
- আমি এর হাদিস ও বর্ণনাগুলোর (أثر) তাখরীজ (تخريج) করেছি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে।
- মূল উৎস ও রেফারেন্স উল্লেখপূর্বক বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট বক্তার দিকে সম্বন্ধ (نسبة) করেছি।
- গ্রন্থটির জন্য ইলমী সূচিপত্র তৈরি করেছি।
আল্লাহর নিকটই সঠিক পথের প্রত্যাশা রইল। যদি আমি সফল হই তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফীক, আর যদি অন্যথা হয় তবে তাঁর সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইতি:
আবু আব্দুল্লাহ আল-আমিলী আস-সালাফী দানী বিন মুনীর আল জুহবী আল জিয়্যাহ; জাবালে লেবানন অঞ্চল। তারিখ: ৭ই শাওয়াল, ১৪২১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৬)
-
المصنفات التي ألّفت في هذا الموضوعقبل أن أذكر ترجمة المصنف، أود أن أطلع القارئ الكريم على أهم ما صنّف في هذا الموضوع، مع التنبيه؛ أن المصنفات في الناسخ والمنسوخ، منها ما صنّف في نواسخ القرآن فقط، ومنها ما صنف في نواسخ الحديث، ومنها بالجمع بين الأمرين.
1 - «الناسخ والمنسوخ في القرآن العزيز وما فيه من الفرائض والسنن» لأبي عبيد القاسم بن سلام الهروي (ت: 224). وقد قام على تحقيقه: محمد بن صالح المديفر، وطبع بمكتبة الرشد بالرياض سنة (1411).
2 - «الناسخ والمنسوخ في القرآن الكريم» لأبي جعفر محمد بن أحمد بن إسماعيل الصفار المرادي النحوي المصري المعروف بأبي جعفر النحاس (ت: 338).
وقد طبع بمؤسسة الكتب الثقافية ببيروت، عن نسخة مصحّحة ومقروءة على العلامة أحمد بن الأمين الشنقيطي.
وطبع بتحقيق: سليمان اللاحم في كلية أصول الدين في الرياض.
3 - «الإيضاح لناسخ القرآن ومنسوخه ومعرفة أصوله واختلاف الناس فيه» للعلامة أبي محمد مكي بن أبي طالب القيسي (ت: 437). طبع بتحقيق: الدكتور أحمد حسن فرحات، بدار المنارة بجدة سنة 1406.
4 - «الناسخ والمنسوخ في القرآن» لعبد القاهر بن طاهر البغدادي (ت: 429) نشر بمكتبة نزار مصطفى الباز بمكة المكرمة سنة (1418).
5 - «الناسخ والمنسوخ» لقتادة (ت: 117).
6 - «ناسخ القرآن العزيز ومنسوخه» لابن البارزي (ت: 738).
7 - «الناسخ والمنسوخ» للزهري (ت: 124).
وهي ضمن كتاب «أربعة كتب في الناسخ والمنسوخ» طبعت بمؤسسة الرسالة، بتحقيق الدكتور حاتم صالح الضامن.
8 - «صفوة الراسخ في علم المنسوخ والناسخ» لشمس الدين محمد بن أحمد الموصلي (ت: 656) نشر بدار الجوزي بتحقيق: محمد بن صالح البراك.
وغير ذلك مما صنف في هذا الباب، أتى عليها محقق كتاب «البرهان» الدكتور يوسف عبد الرحمن المرعشلي (2/ 153 - 158).
এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলিগ্রন্থকারের জীবনী আলোচনা করার পূর্বে, আমি সম্মানিত পাঠককে এই বিষয়ে রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে চাই। সাথে এটিও সতর্ক করা প্রয়োজন যে, রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে কোনটি কেবল কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) বিষয়াবলি নিয়ে রচিত, কোনটি কেবল হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) বিষয়াবলি নিয়ে রচিত, আবার কোনোটিতে উভয় বিষয়কে একত্রিত করা হয়েছে।
1 - আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম আল-হারাবী (মৃত্যু: ২২৪ হি.) রচিত ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআনিল আজিজ ওয়ামা ফিহি মিনাল ফরাইজি ওয়াস সুনান’। এটি সম্পাদনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-মুদাইফির এবং ১৪১১ হিজরিতে রিয়াদের মাকতাবাতুর রুশদ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
2 - আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু: ৩৩৮ হি.) নামে পরিচিত আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল আস-সাফফার আল-মুরাদি আন-নাহবি আল-মিসরি রচিত ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআনিল কারিম’।
এটি আল্লামা আহমদ ইবনে আল-আমিন আশ-শিনকিতি-এর নিকট পঠিত ও সংশোধিত একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে বৈরুতের মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়াহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
এবং এটি রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলিদ দ্বীন-এ সুলাইমান আল-লাহিম-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
3 - আল্লামা আবু মুহাম্মদ মাক্কি ইবনে আবি তালিব আল-কায়সি (মৃত্যু: ৪৩৭ হি.) রচিত ‘আল-ইজাহ লিনাসিখিল কুরআনি ওয়ামনসুখিহি ওয়ামা’রিফাতি উসুলিহি ওয়াকতিলাফিন নাসি ফিহ’। এটি ড. আহমদ হাসান ফারহাত-এর সম্পাদনায় ১৪০৬ হিজরিতে জেদ্দার দারুল মানারাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
4 - আবদুল কাহির ইবনে তাহির আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪২৯ হি.) রচিত ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন’। এটি ১৪১৮ হিজরিতে মক্কা মুকাররমার মাকতাবাতু নিজার মুস্তফা আল-বাজ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
5 - কাতাদাহ (মৃত্যু: ১১৭ হি.) রচিত ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’।
6 - ইবনুল বারজি (মৃত্যু: ৭৩৮ হি.) রচিত ‘নাসিখুল কুরআনিল আজিজ ওয়ামনসুখুহু’।
7 - জুহরি (মৃত্যু: ১২৪ হি.) রচিত ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’।
এটি ড. হাতিম সালিহ আদ-দামিনের সম্পাদনায় মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে ‘আরবাআতু কুতুবিন ফিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ’ কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
8 - শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাওসিলি (মৃত্যু: ৬৫৬ হি.) রচিত ‘সাফওয়াতুর রাসিখ ফি ইলমিল মানসুখি ওয়ান নাসিখ’। এটি মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-বাররাকের সম্পাদনায় দারুল জাওজি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও এই অধ্যায়ে আরও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যা ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থের মুহাক্কিক ড. ইউসুফ আবদুর রহমান আল-মারআশলি উল্লেখ করেছেন (২/ ১৫৩-১৫৮)।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومن المعاصرين من ألّف في هذا، ولعل أهمها:
1 - «النسخ في القرآن الكريم» للدكتور مصطفى زيد، طبع بمصر سنة 1963 م.
2 - «نظرية النسخ في الشرائع السماوية» للدكتور شعبان محمد إسماعيل القاهرة، سنة 1977 م.
3 - «فتح المنان في نسخ القرآن» لعلي حسن العريض. مكتبة الخانجي بمصر 1973 م.
সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১ - ড. মুস্তফা যায়েদ রচিত «আন-নাসখ ফিল কুরআনিল কারীম», ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে মিসরে মুদ্রিত।
২ - ড. শাবান মুহাম্মদ ইসমাইল রচিত «নাজারিয়াতুন নাসখ ফিশ শারা'য়িস সামাবিয়্যাহ», কায়রো, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ।
৩ - আলী হাসান আল-আরীজ রচিত «ফাতহুল মান্নান ফি নাসখিল কুরআন», মাকতাবাতুল খাঞ্জি, মিসর, ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৮)
ترجمة مختصرة للمصنف-
اسمه ونسبه: هو جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد بن علي بن عبيد الله بن عبد الله بن حمادي بن أحمد بن محمد بن جعفر بن عبد الله بن القاسم بن النضر بن القاسم بن محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق القرشي، البغدادي.
-
مولده: ولد ببغداد سنة 508، وقيل: سنة 510.
واختلف في سبب تسميته بابن الجوزي:
فقيل: إن جده جعفر نسب إلى فرضة من فرض البصرة، يقال لها: جوزة.
وقيل: منسوب إلى محلة بالبصرة، تسمى محلة الجوز.
وقيل: كانت بداره في واسط جوزة، لم يكن بواسط جوزة سواها.
وقال ابن خلكان: «الجوزي؛ بفتح الجيم، وسكون الواو بعدها زاي، نسبته إلى فرضة الجوز، وهو موضع مشهور، ورأيت أن جده كان من مشرعة الجوز، إحدى محال بغداد بالجانب الغربي».
-
نشأته وطلبه للعلم: كان والده رحمه الله يعمل الصّفر (صناعة النحاس) بنهر القلابين، وقد توفي وهو صغير لم يتجاوز الثالثة من عمره، فكفلته أمه وعمته.
فلما ترعرع حملته عمته إلى مجلس أبي الفضل بن ناصر، فاعتنى به وأسمعه الحديث. وحفظ القرآن الكريم، وقرأه على جماعة من أئمة القراء.
وسمع الكتب الكبار؛ كالمسند وجامع الترمذي وصحيح البخاري وصحيح مسلم وتاريخ البغدادي وغيرها.
وقرأ الفقه والخلاف والجدل والأصول على أبي بكر الدينوري والقاضي أبي يعلى وأبي حكيم النهرواني.
وقرأ الأدب على أبي منصور الجواليقي، وتتبع مشايخ الحديث وحمل عنهم.
গ্রন্থকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী-
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদি ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাসিম ইবনে নজর ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক আল-কুরাশি আল-বাগদাদি।
-
জন্ম: তিনি ৫০৮ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৫১০ হিজরি সনে।
তাঁকে ইবনুল জাওজি ডাকার কারণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে:
বলা হয় যে, তাঁর দাদা জাফরকে বসরার একটি বন্দরের সাথে সম্বন্ধ করা হতো, যাকে 'জাওজাহ' বলা হতো।
আবার বলা হয়, তিনি বসরার একটি মহল্লার সাথে সম্পর্কিত, যাকে 'মহল্লাতুল জাওজ' বলা হতো।
আরও বলা হয় যে, ওয়াসিত শহরে তাঁর বাড়িতে একটি আখরোট (জাওজাহ) গাছ ছিল, এবং পুরো ওয়াসিতে সেটি ছাড়া আর কোনো আখরোট গাছ ছিল না।
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: «আল-জাওজি; জিম বর্ণের উপরে ফাতহা এবং ওয়াও বর্ণের সুকুন ও এরপরে যা, এটি 'ফারজাতুল জাওজ' (আখরোটের বন্দর) এর সাথে সম্পৃক্ত, যা একটি সুপরিচিত স্থান। আমি দেখেছি যে তাঁর দাদা 'মাশরাআতুল জাওজ' নামক স্থানের অধিবাসী ছিলেন, যা পশ্চিম বাগদাদের অন্যতম একটি এলাকা ছিল।»
-
বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ: তাঁর পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) 'নাহরুল কাল্লাবিন' নামক স্থানে তামা শিল্পের কাজ করতেন। তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন; তখন তাঁর বয়স তিন বছরও পার হয়নি। অতঃপর তাঁর মা ও ফুফু তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।
যখন তিনি কিছুটা বড় হলেন, তাঁর ফুফু তাঁকে আবুল ফজল ইবনে নাসিরের মজলিসে নিয়ে যান। তিনি তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নেন এবং তাঁকে হাদিস শ্রবণ (أسمع) করান। তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং একদল কিরাত বিশেষজ্ঞের (أئمة القراء) নিকট তা পাঠ করেন।
তিনি বড় বড় কিতাবসমূহ শ্রবণ করেন; যেমন: মুসনাদ, জামে তিরমিজি, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, তারিখুল বাগদাদি এবং অন্যান্য।
তিনি আবু বকর আদ-দিনাওয়ারি, কাজি আবু ইয়ালা এবং আবু হাকিম আন-নাহরওয়ানির নিকট ফিকহ (فقه), তুলনামূলক আইনতত্ত্ব (خلاف), বিতর্কবিদ্যা (جدل) এবং উসুল (أصول) অধ্যয়ন করেন।
তিনি আবু মনসুর আল-জাওয়ালিকির নিকট আদব (সাহিত্য) পড়েন এবং হাদিসের মাশায়েখদের (مشايخ الحديث) অন্বেষণ করে তাঁদের নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ (حمل) করেন।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولما توفي شيخه ابن الزاغوني سنة سبع وعشرين وخمسمائة كان قد احتلم؛ فطلب حلقة شيخه فلم يعطها لصغر سنه، وأخذها أبو علي الراذاني، فحضر ابن الجوزي بين يدي الوزير، وأورد فصلا في المواعظ، فأذن له في الجلوس في جامع المنصور.
قال ابن الجوزي: «فتكلمت فيه، فحضر مجلسي أول يوم جماعة من أصحابنا الكبار من الفقهاء، منهم عبد الواحد بن سيف، وأبو علي القاضي، وأبو بكر بن عيسى وابن قثامى، وغيرهم. ثم تكلمت: في مسجد معروف وفي باب البصرة وبنهر المعسلي، فاتصلت المجالس، وقوي الزحام، وقوي اشتغالي بفنون العلوم».
ومن ذلك الوقت اشتهر أمر أبي الفرج ابن الجوزي، وأخذ في التصنيف والجمع. وبورك له في عمره وعلمه، فروى الكثير، وسمع الناس منه أكثر من ستين سنة، وحدث بمصنفاته مرارا، وكانت أكثر علومه يستفيدها من الكتب.
-
وفاته: توفي ابن الجوزي في الثالث عشر من شهر رمضان سنة سبع وتسعين وخمسمائة (597).
مصادر الترجمة: «ذيل تاريخ بغداد» لابن الدبيثي (15/ 238) و «سير أعلام النبلاء» (21/ 365) و «العبر» (4/ 297) و «تذكرة الحفاظ» (4/ 1342) و «البداية والنهاية» (8/ 531) و «ذيل طبقات الحنابلة» لابن رجب (1/ 399) ومقدمة تحقيق «صيد الخاطر» للشيخ عامر علي ياسين، ففيه بحث نفيس عن عقيدة المصنف فارجع إليه لزاما.
৫২৭ হিজরিতে যখন তাঁর উস্তাদ ইবনুল জাগুনি ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদের পাঠদান চক্র (حلقة) পরিচালনার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু অল্প বয়সের কারণে তাঁকে তা দেওয়া হয়নি এবং আবু আলী আল-রাযানি তা লাভ করেন। অতঃপর ইবনুল জাওজি উজিরের দরবারে উপস্থিত হয়ে উপদেশের একটি পরিচ্ছেদ পেশ করেন; তখন তাঁকে মানসুর জামে মসজিদে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়।
ইবনুল জাওজি বলেন: "আমি সেখানে আলোচনা শুরু করি। প্রথম দিন আমাদের ফকিহদের (فقهاء) জ্যেষ্ঠ একদল লোক আমার মজলিসে উপস্থিত হন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সাইফ, আবু আলী আল-কাদি, আবু বকর বিন ঈসা, ইবনু কুসামি এবং আরও অনেকে। এরপর আমি মারুফ মসজিদ, বাবু বাসরা এবং নাহরুল মুআসসালি-তে আলোচনা করি। ফলে মজলিসগুলো নিয়মিত হতে থাকে, মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন ইলমি শাখায় আমার ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়।"
সেই সময় থেকেই আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি গ্রন্থ রচনা ও সংকলন শুরু করেন। তাঁর হায়াত ও ইলমে বরকত দান করা হয়েছিল। তিনি প্রচুর বর্ণনা (روى) করেছেন এবং মানুষ ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর থেকে শ্রবণ (سمع) করেছে। তিনি বারবার তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর বর্ণনা (حدث) করেছেন। তাঁর অধিকাংশ জ্ঞান তিনি কিতাবসমূহ থেকেই অর্জন করেছিলেন।
-
ইন্তেকাল: ইবনুল জাওজি ৫৯৭ হিজরির ১৩ই রমজান ইন্তেকাল করেন (৫৯৭)।
জীবনীর উৎসসমূহ: ইবনুল দুবাইসির 'যাইল তারিখ বাগদাদ' (১৫/২৩৮), 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (২১/৩৬৫), 'আল-ইবার' (৪/২৯৭), 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' (৪/১৩৪২), 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (৮/৫৩১), ইবনে রাজাবের 'যাইল তাবাকাতিল হানাবিলা' (১/৩৯৯) এবং শায়খ আমির আলী ইয়াসিন কর্তৃক সম্পাদিত 'সাইদুল খাতির'-এর ভূমিকা। এতে গ্রন্থকারের আকিদা (عقيدة) বিষয়ে একটি মূল্যবান গবেষণা রয়েছে, তাই অবশ্যই এর শরণাপন্ন হোন।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدّمة المؤلفحدّثنا الشيخ الإمام العالم الأوحد، شيخ الإسلام، وحبر الأمة، قدوة الأئمة، سيد العلماء؛ جمال الدين أبو الفرج، عبد الرحمن بن علي بن محمد بن علي بن الجوزي قدّس الله روحه، ونوّر ضريحه.
قال: الحمد لله على التوفيق، والشّكر لله على التّحقيق، وأشهد أن لا إله إلا هو شهادة سالك من الدليل أوضح طريق، ومنزّه له عما لا يجوز ولا يليق.
وصلّى الله على أشرف فصيح، وأطرف منطيق، محمد أرفق نبي بأمته وألطف شفيق، وعلى أصحابه، وأزواجه وأتباعه إلى يوم الجمع والتفريق، وسلّم تسليما كثيرا.
أما بعد:
فإن نفع العلم بدرايته لا بوراثته، وبمعرفة أغواره لا بروايته، وأصل الفساد الداخل على عموم العلماء تقليد سابقيهم، وتسليم الأمر إلى معظّميهم، من غير بحث عما صنّفوه، ولا طلب للدليل عما ألّفوه. وإني رأيت كثيرا من المتقدمين على كتاب الله عز وجل بآرائهم الفاسدة، وقد دسّوا في تصانيفهم للتفسير أحاديث باطلة، وتبعهم على ذلك مقلّدوهم، فشاع ذلك وانتشر، فرأيت العناية بتهذيب علم الأغاليط من اللازم.
وقد ألّفت كتابا كبيرا سميته: «بالمغني في التفسير» يكفي عن جنسه، وألّفت كتابا متوسط الحجم مقنعا في ذلك العلم، سمّيته: «زاد المسير». وجمعت كتابا دونه سمّيته «بتيسير التبيان في علم القرآن» واخترت فيه الأصوب من الأقوال، ليصلح للحفظ، واختصرته «بتذكرة الأريب في تفسير الغريب»، وأرجو أن تغني هذه المجموعات عن كتب التفسير، مع كونها مهذّبة عن خللها، سليمة من زللها.
فصلثم إني رأيت الذين وقع منهم التفسير صحيحا قد صدر عنهم ما هو أفظع، فآلمني؛ وهو الكلام في الناسخ والمنسوخ، فإنهم أقدموا على هذا العلم فتكلّموا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাআমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন অনন্য ইমাম, আলিম, শাইখুল ইসলাম, উম্মাহর বিজ্ঞ পন্ডিত, ইমামগণের আদর্শ, উলামাদের সর্দার; জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ, আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী ইবনুল জাওযী, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন।
তিনি বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাওফিক দানকারী, আর তাঁরই কৃতজ্ঞতা সত্য উন্মোচনকারী গবেষণার জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; এমন সাক্ষ্য যা দলিল-প্রমাণের স্পষ্ট পথ ধরে চলে এবং তাঁকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করে যা তাঁর শানে জায়েজ বা উপযুক্ত নয়।
আর সালাত বর্ষিত হোক সবচেয়ে সম্মানিত প্রাঞ্জলভাষী এবং শ্রেষ্ঠ বাকপটু মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর উম্মতের প্রতি সবচেয়ে কোমল ও দয়াবান নবী। আর তাঁর পরিবার-পরিজন, স্ত্রীগণ এবং অনুসারীদের ওপরও (সালাত বর্ষিত হোক), কিয়ামত দিবস পর্যন্ত, এবং বর্ষিত হোক প্রচুর সালাম।
অতঃপর:
ইলমের উপকারিতা অর্জিত হয় এর সঠিক অনুধাবনের (دراية) মাধ্যমে, কেবল উত্তারাধিকার সূত্রে পাওয়ার মাধ্যমে নয়; আর এর গভীর জ্ঞান লাভের মাধ্যমে, কেবল বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে নয়। সাধারণ আলিমদের মধ্যে যে ফাসাদ বা বিভ্রান্তি প্রবেশ করে তার মূল কারণ হলো তাদের পূর্ববর্তীদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) এবং বড়দের কাছে কোনো বাছবিচার ছাড়াই আত্মসমর্পণ করা, তাদের রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে গবেষণা না করা এবং তাদের সংকলিত বিষয়গুলোর দলিল অনুসন্ধান না করা। আমি দেখেছি যে, অনেক মানুষ তাদের ভ্রান্ত মতামতের ভিত্তিতে মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যায় প্রবৃত্ত হয়েছে এবং তারা তাদের তাফসির গ্রন্থসমূহে বাতিল (باطل) হাদিসগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর তাদের অনুসারীরাও তাদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছে, ফলে তা বহুল প্রচারিত ও বিস্তৃত হয়ে গেছে। তাই ভুল-ভ্রান্তিপূর্ণ ইলম সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া আমি আবশ্যক মনে করেছি।
আমি একটি বৃহৎ কিতাব রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি: 'আল-মুগনি ফিত তাফসির', যা সমজাতীয় অন্যান্য কিতাবের অভাব পূরণ করবে। এ ছাড়া আমি এ শাস্ত্রে একটি মাঝারি আকারের নির্ভরযোগ্য কিতাব রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি: 'যাদুল মাসীর'। আমি এর চেয়েও ছোট একটি কিতাব সংকলন করেছি যার নাম দিয়েছি 'তায়সিরুত তিবইয়ান ফী ইলমিল কুরআন' এবং সেখানে আমি সর্বাধিক সঠিক (الأصوب) মতগুলো বেছে নিয়েছি যাতে তা মুখস্থ করার উপযোগী হয়। আর আমি একে সংক্ষিপ্ত করে 'তাযকিরাতুল আরিব ফী তাফসিরিল গারিব' নামে সংকলন করেছি। আমি আশা করি যে, এই সংকলনগুলো তাফসিরের গ্রন্থসমূহের অভাব পূরণ করবে, কারণ এগুলো ত্রুটিমুক্ত ও পদস্খলন থেকে সুরক্ষিত।
পরিচ্ছেদএরপর আমি দেখেছি যে, যাদের তাফসির সহিহ (صحيح) হয়েছে, তাদের থেকেও আরও ভয়ংকর কিছু প্রকাশ পেয়েছে, যা আমাকে ব্যথিত করেছে; আর তা হলো নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) সংক্রান্ত আলোচনা। তারা এই ইলমের ওপর এমনভাবে অগ্রসর হয়েছে যে, তারা আলোচনা করেছে...
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১১)
فيه وصنّفوه، وقالوا بنسخ ما ليس بمنسوخ. ومعلوم أن نسخ الشيء؛ رفع حكمه، وإطلاق القول برفع حكم آية لم يرفع جرأة عظيمة.
ومن نظر في كتاب «الناسخ والمنسوخ» للسّدّي (1) رأى من التخليط العجائب، ومن قرأ في كتاب هبة الله المفسر (2) رأى العظائم.
وقد تداوله الناس لاختصاره، ولم يفهموا دقائق أسراره، فرأيت كشف هذه الغمة عن الأمة، ببيان إيضاح الصحيح، وهتك ستر القبيح، متعينا على من أنعم الله عليه بالرسوخ في العلم، وأطلعه على أسرار النقل، واستلب زمامه من أيدي التقليد، فسلّمه إلى يد الدليل، فلا يهوله قول معظّم، فكيف بكلام جاهل مبرسم.
فصلوقد قدّمت أبوابا قبل الشروع في بيان الآيات، هي كالقواعد والأصول للكتاب، ثم أتيت بالآيات المدّعى عليها النسخ على ترتيب القرآن، إلا أني أعرضت عن ذكر آيات ادّعي عليها النسخ من حكاية لا تحصل إلا تضييع الزمان أفحش تضييع، كقول السدي: وَآتُوا الْيَتامى أَمْوالَهُمْ [النساء: 2] نسخها وَلا تُؤْتُوا السُّفَهاءَ أَمْوالَكُمُ [النساء: 5] وقوله: وَالَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوالَهُمْ رِئاءَ النَّاسِ [النساء:
38] نسخها: قُلْ أَنْفِقُوا طَوْعاً أَوْ كَرْهاً [التوبة: 53] وقوله: إِذا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنانِ [المائدة: 106] نسخها: أَوْ آخَرانِ مِنْ غَيْرِكُمْ [المائدة: 106] وقوله: ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلاهُمُ الْحَقِّ [الأنعام: 62] نسخها: ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا [محمد: 11] وقوله: وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ [العنكبوت: 45] نسخها:
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ [البقرة: 152] في نظائر كثيرة لهذه الآيات.
لا أدري أيّ الأخلاط الغالبة حملته على هذا التخليط. فلما كان مثل هذا
--------------------------------------------
তারা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং যা রহিত (منسوخ) নয়, তাকে রহিত (منسوخ) বলে দাবি করেছেন। আর এটা সুবিদিত যে, কোনো বিষয়ের রহিতকরণ (نسخ) মানে তার বিধান রহিত (رفع حكم) করা; আর এমন আয়াতের বিধান রহিত (رفع حكم) হওয়ার দাবি করা যা মূলত রহিত হয়নি, তা অত্যন্ত দুঃসাহস।
যে ব্যক্তি সুদ্দী (১)-এর ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ কিতাবটি দেখবে, সে সেখানে বিষ্ময়কর সব বিভ্রান্তি দেখতে পাবে; আর যে ব্যক্তি হিবাতুল্লাহ আল-মুফাসসির (২)-এর কিতাব পাঠ করবে, সে গুরুতর সব ত্রুটি দেখতে পাবে।
সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে মানুষ তা একে অপরের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে, অথচ তারা এর সূক্ষ্ম রহস্যগুলো অনুধাবন করতে পারেনি। তাই উম্মতের এই পেরেশানি দূর করা, সঠিক (صحيح) বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং ভ্রান্ত বিষয়কে উন্মোচন করা আমি তাদের ওপর অপরিহার্য মনে করছি, যাদের আল্লাহ তাআলা ইলমের গভীরতা দান করেছেন, যাদের সংবাদের (النقل) রহস্য সম্পর্কে অবগত করেছেন এবং অন্ধ অনুকরণের (التقليد) লাগাম থেকে মুক্ত করে প্রমাণের (الدليل) হাতে সঁপে দিয়েছেন। সুতরাং কোনো বড় ব্যক্তির কথা তাকে বিচলিত করবে না, আর একজন মূর্খ বিভ্রান্তের কথা তো দূরে থাক।
পরিচ্ছেদআয়াতসমূহের বর্ণনা শুরু করার পূর্বে আমি কিছু অধ্যায় উপস্থাপন করেছি, যা এই কিতাবের জন্য মূলনীতি (القواعد) ও ভিত্তি (الأصول) স্বরূপ। এরপর আমি কুরআনের ক্রমধারা অনুযায়ী ওইসব আয়াত উল্লেখ করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে রহিতকরণের (النسخ) দাবি করা হয়েছে। তবে আমি এমন কিছু আয়াতের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, যেগুলোর রহিতকরণের (النسخ) দাবি করা হয়েছে নিছক গল্পের ছলে, যা সময়ের চরম অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমন সুদ্দীর উক্তি: ‘আর তোমরা এতিমদের তাদের সম্পদ দিয়ে দাও’ [নিসা: ২] আয়াতটিকে রহিত (نسخ) করেছে ‘আর তোমরা নির্বোধদের সম্পদ দিও না’ [নিসা: ৫]। এবং তার উক্তি: ‘আর যারা নিজেদের সম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে’ [নিসা: ৩৮] আয়াতটিকে রহিত (نسخ) করেছে: ‘বলুন, তোমরা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ব্যয় করো’ [তাওবা: ৫৩]। এবং তার উক্তি: ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, অসিয়ত করার সময় দুইজন’ [মায়েদা: ১০৬] আয়াতটিকে রহিত (نسخ) করেছে: ‘অথবা তোমাদের ছাড়া অন্য দুইজন’ [মায়েদা: ১০৬]। এবং তার উক্তি: ‘অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে আনা হবে’ [আনআম: ৬২] আয়াতটিকে রহিত (نسখ) করেছে: ‘তা এজন্য যে, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক’ [মুহাম্মদ: ১১]। এবং তার উক্তি: ‘আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ’ [আনকাবুত: ৪৫] আয়াতটিকে রহিত (نسخ) করেছে: ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব’ [বাকারা: ১৫২]। এমন আরও অনেক সদৃশ আয়াত রয়েছে।
আমি জানি না কোন ধরনের বিভ্রান্তির আধিক্য তাকে এ জাতীয় ওলটপালট কথায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করেছে। যখন এই অবস্থা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১২)
ظاهر الفساد، وريت عنه غيرة على الزمان أن يضيع، وإن كنت قد ذكرت مما يقاربه طرفا، لأنبه بمذكوره على مغفله.
فصلولما رأيت المصنّفين في هذا العلم قد تباينوا، فمنهم من أطال بما لا حاجة بمثل هذا التصنيف إليه، ومنهم من قلّد القائلين ولم يحكم على الاختلاف ببيان الصواب، ومنهم من نقص بحذف ما يحتاج إليه. وأنا أنبئك بهذا الكتاب متوسطا، وحذفت كثيرا من الأسانيد والطرق خوف الملل، والله ولي التوفيق.
স্পষ্টত ত্রুটিপূর্ণ, এবং সময়ের অপচয় রোধে আমি এর থেকে বিমুখ হয়েছি। যদিও আমি এর কাছাকাছি কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছি, যাতে আমি যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে যা বাদ পড়েছে সে সম্পর্কে সচেতন করতে পারি।
পরিচ্ছেদ (فصل)যখন আমি দেখলাম যে এই শাস্ত্রে (علم) গ্রন্থকারগণ পরস্পর ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যার এই ধরণের সংকলনে (تصنيف) কোনো প্রয়োজন নেই, আবার কেউ কেউ কেবল পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করেছেন এবং সঠিক মতটি স্পষ্ট করার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করেননি, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় বিষয়াবলী বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত করেছেন। আর আমি আপনাকে এই কিতাবে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের সংবাদ দিচ্ছি। আমি একঘেয়েমির ভয়ে অনেক সনদ (أسانيد) এবং সূত্র (طرق) বাদ দিয়েছি। আর আল্লাহই তাওফীক দাতা।
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الأول باب بيان جواز النسخ والفرق بينه وبين البداءاتفق جمهور علماء الأمم على جواز النسخ عقلا وشرعا، وانقسم اليهود في ذلك ثلاثة أقسام (1):
فالقسم الأول: قالوا: لا يجوز عقلا ولا شرعا، وزعموا أن النسخ هو عين البداء (2).
والقسم الثاني: قالوا: يجوز عقلا وإنما منع الشرع من ذلك، وزعموا أن موسى عليه السلام، قال: إن شريعته لا تنسخ من بعده، وإن ذلك في التوراة.
ومن هؤلاء من قال: لا يجوز النسخ إلا في موضع واحد، وهو أنه يجوز نسخ عبادة أمر الله بها بما هو أثقل على سبيل العقوبة لا غير (3).
والقسم الثالث: قالوا: يجوز شرعا لا عقلا، واختلف هؤلاء في عيسى ومحمد صلى الله عليهما، فمنهم من قال: لم يكونا نبيّين لأنهما لم يأتيا بمعجزة، وإنما أتيا بما هو من جنس الشعوذة. ومنهم من قال: كانا نبيين صادقين، غير أنهما لم يبعثا بنسخ شريعة موسى ولا بعثا إلى بني إسرائيل إنما بعثا إلى العرب والأميين (3).
فصلوأما الدليل على جواز النسخ عقلا؛ فهو أن التكليف لا يخلو أن يكون
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: রহিতকরণের (النسخ) বৈধতা এবং বাদা (البداء) ও এর মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনাউম্মতের অধিকাংশ আলেম যৌক্তিকভাবে এবং শরীয়তগতভাবে রহিতকরণ (النسخ) বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে ইহুদিরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে (১):
প্রথম পক্ষ: তারা বলেছে যে, এটি যৌক্তিকভাবে বা শরীয়তগতভাবে কোনোভাবেই বৈধ নয়। তারা দাবি করেছে যে, রহিতকরণ (النسخ) মূলত বাদা (البداء) এরই নামান্তর (২)।
দ্বিতীয় পক্ষ: তারা বলেছে যে, এটি যৌক্তিকভাবে বৈধ হলেও শরীয়ত এটি হতে বাধা দিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন যে তার শরীয়ত তার পরে আর রহিত (النسخ) হবে না এবং এটি তাওরাতে বিদ্যমান আছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে: কেবল একটি ক্ষেত্র ছাড়া রহিতকরণ (النسخ) বৈধ নয়; আর তা হলো, আল্লাহ তাআলা কোনো ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পর শাস্তিস্বরূপ তার চেয়ে কঠিনতর কোনো বিধান দিয়ে তা রহিত (النسخ) করতে পারেন, এর বাইরে নয় (৩)।
তৃতীয় পক্ষ: তারা বলেছে যে, এটি শরীয়তগতভাবে বৈধ হলেও যৌক্তিকভাবে নয়। তারা ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম) এর ব্যাপারে মতভেদ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে: তাঁরা নবী ছিলেন না, কারণ তাঁরা কোনো অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) নিয়ে আসেননি, বরং তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তা এক প্রকার জাদুকরী বিদ্যা মাত্র। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে: তাঁরা সত্য নবী ছিলেন, তবে তাঁরা মূসার শরীয়তকে রহিত (النسخ) করার জন্য প্রেরিত হননি এবং বনী ইসরাঈলের কাছেও প্রেরিত হননি; বরং তাঁরা কেবল আরব ও নিরক্ষরদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন (৩)।
পরিচ্ছেদআর যৌক্তিকভাবে রহিতকরণ (النسخ) বৈধ হওয়ার দলিল হলো: শরীয়তের অর্পিত দায়িত্ব (التكليف) এর বাইরে নয় যে তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
موقوفا على مشيئة المكلف أو على مصلحة المكلف، فإن كان الأول؛ فلا يمتنع أن يريد تكليف العباد عبادة في مدة معلومة ثم يرفعها ويأمر بغيرها.
وإن كان الثاني؛ فجائز أن تكون المصلحة للعباد في فعل عبادة زمان دون زمان. ويوضح هذا أنه قد جاز في العقل تكليف عبادة متناهية كصوم يوم، وهذا تكليف انقضى بانقضاء زمان، ثم قد ثبت أن الله تعالى ينقل من الفقر إلى الغنى ومن الصحة إلى السقم، ثم قد رتب الحر والبرد والليل والنهار وهو أعلم بالمصالح وله الحكم.
فصلوالدليل على جواز النسخ شرعا؛ أنه قد ثبت أن من دين آدم عليه السلام وطائفة من أولاده، جواز نكاح الأخوات وذوات المحارم والعمل في يوم السبت، ثم نسخ ذلك في شريعة موسى. وكذلك الشّحوم؛ كانت مباحة ثم حرّمت في دين موسى، فإن ادّعوا أن هذا ليس بنسخ؛ فقد خالفوا في اللفظ دون المعنى.
فصل
وأما قول من قال: لا يجوز النسخ إلا على وجه العقوبة فليس بشيء، لأنه إذا أجاز النسخ في الجملة جاز أن يكون للرفق بالمكلف، كما جاز للتشديد عليه.
فصل
وأما دعوى من ادّعى أن موسى عليه السلام أخبر أن شريعته لا تنسخ؛ فمحال. ويقال: إن ابن الراوندي (1) علّمهم أن يقولوا: إن موسى قال: لا نبيّ بعدي.
ويدل على ما قلنا؛ أنه لو صحّ قولهم لما ظهرت المعجزات على يد عيسى عليه السلام، لأن الله تعالى لا يصدق بالمعجزة من كذّب موسى، فإن أنكروا معجزة عيسى لزمهم ذلك في معجزة موسى، فإن اعترفوا ببعض معجزاته، لزمهم تكذيب من نقل عن موسى عليه السلام، لأنه قال: لا نبي بعدي. ومما يدلّ على كذبهم فيما ادّعوا؛ أن اليهود ما كانوا يحتجّون على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بكل شيء.
--------------------------------------------
মুকাল্লাফ (শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর ইচ্ছা অথবা মুকাল্লাফ-এর মাসলাহাত বা কল্যাণের ওপর স্থগিত (موقوف)। যদি প্রথমটি হয়; তবে মহান আল্লাহ বান্দাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো ইবাদতের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তীতে তা তুলে নেওয়া এবং অন্য নির্দেশ প্রদান করা অসম্ভব নয়।
আর যদি দ্বিতীয়টি হয়; তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো ইবাদত পালনের মধ্যে বান্দাদের কল্যাণ থাকা এবং অন্য সময়ে না থাকা সম্ভব। এটি এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, বিবেকবুদ্ধির বিচারে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদত—যেমন একদিনের রোজা—আরোপ করা বৈধ, যা সেই সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। অতঃপর এটিও সাব্যস্ত যে, আল্লাহ তাআলা অভাব থেকে সচ্ছলতা এবং সুস্থতা থেকে অসুস্থতায় পরিবর্তন করেন। তিনি গরম, ঠান্ডা, রাত ও দিনের পর্যায়ক্রম নির্ধারণ করেছেন; তিনিই কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং ফয়সালা প্রদানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তাঁরই।
পরিচ্ছেদশরীয়তের দলিলে রহিতকরণ (نسخ) বৈধ হওয়ার প্রমাণ হলো: এটি প্রমাণিত যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সন্তানদের একটি দলের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল বোনদের এবং মাহরাম নারীদের বিবাহ করা এবং শনিবারের আমল করা বৈধ হওয়া। পরবর্তীতে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর শরীয়ত আসার পর তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে। একইভাবে চর্বি জাতীয় খাবার; তা আগে হালাল ছিল কিন্তু মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনে তা হারাম করা হয়েছে। এখন তারা যদি দাবি করে যে এটি রহিতকরণ (نسخ) নয়; তবে তারা কেবল শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করল, অর্থের ক্ষেত্রে নয়।
পরিচ্ছেদ
আর যারা বলে যে: "রহিতকরণ (نسخ) কেবল শাস্তি হিসেবেই বৈধ", তাদের কথা অসার। কারণ, যখন সাধারণভাবে রহিতকরণ (نسخ) বৈধ হবে, তখন এটি মুকাল্লাফের প্রতি কোমলতা প্রদর্শনের জন্যও বৈধ হতে পারে, যেমন এটি তার প্রতি কঠোর করার জন্যও হতে পারে।
পরিচ্ছেদ
আর যারা দাবি করে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) সংবাদ দিয়ে গেছেন যে তাঁর শরীয়ত কখনো রহিত (نسخ) হবে না; এটি অসম্ভব। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনুল রাওয়ান্দি (১) তাদের শিখিয়ে দিয়েছিলেন এই কথা বলতে যে: "মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: আমার পরে কোনো নবী নেই"।
আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ হলো; তাদের কথা যদি সঠিক হতো তবে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর হাতে মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শনাদি প্রকাশ পেত না। কারণ, যে ব্যক্তি মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আল্লাহ তাআলা তাকে মুজিজা দিয়ে সত্যায়িত করেন না। এখন তারা যদি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুজিজা অস্বীকার করে, তবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুজিজার ক্ষেত্রেও তাদের একই নীতি গ্রহণ করতে হবে। আর তারা যদি তাঁর কিছু মুজিজাকে স্বীকার করে নেয়, তবে তাদের সেই ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে যে মূসা (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা (نقل) করেছে যে, তিনি নাকি বলেছিলেন: "আমার পরে কোনো নবী নেই"। তাদের দাবির মিথ্যা হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো; ইহুদিরা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে সবকিছু দিয়ে যুক্তি পেশ করত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكان نبينا صلى الله عليه وسلم مصدّقا لموسى عليه السلام، وحكم عليهم بالرّجم عملا بما في شريعة موسى (1) فهلّا احتجّوا عليه بذلك، ولو احتجّوا لشاع نقل ذلك، فدل على أنه قول ابتدع بعد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
فصلوأما قول من قال: إن عيسى ومحمدا عليهما السلام كانا نبيين لكنهما لم يبعثا إلى بني إسرائيل؛ فتغفيل من قائله، لأنه إذا أقرّ بنبوة نبيّ فقد أقرّ بصدقه، لأن النبي لا يكذب، وقد كان عيسى عليه السلام يخاطب بني إسرائيل، ونبينا صلى الله عليه وسلم يقول: «بعثت إلى النّاس كافة» (2) ويكاتب ملوك الأعاجم.
فصل
فأما الفرق بين النسخ والبداء، فذلك من وجهين:
الأول: أن النسخ: تغيير عبادة أمر بها المكلّف، وقد علم الآمر حين الأمر أن لتكليف المكلف بها غاية ينتهي الإيجاب إليها ثم يرتفع بنسخها.
والبداء: أن ينتقل الأمر عن ما أمر به وأراده دائما بأمر حادث، لا بعلم سابق.
والثاني: أن سبب النسخ لا يوجب إفساد الموجب لصحّة الخطاب الأول، والبداء يكون سببه دالا على إفساد الموجب لصحّة الأمر الأول، مثل: أن يأمره بعمل يقصد به مطلوبا، فيتبين أن المطلوب لا يحصل بذلك الفعل، فيبدو له ما يوجب الرجوع عنه، وكلا الأمرين يدل على قصور في العلم، والحق عز وجل منزّه عن ذلك (3).
…
الباب الثاني باب إثبات أن في القرآن منسوخاانعقد إجماع العلماء على هذا، إلا أنه قد شذّ من لا يلتفت إليه؛ فحكى أبو
--------------------------------------------
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আলাইহিস সালামের সত্যায়নকারী ছিলেন এবং তিনি মূসার শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তাদের ওপর রজম বা পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন (১)। তারা কেন এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তি বা আপত্তি উত্থাপন করল না? যদি তারা আপত্তি করত তবে তা ব্যাপকভাবে বর্ণিত হতো। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এটি এমন একটি বক্তব্য যা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে উদ্ভাবন করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদআর যারা বলে: ঈসা ও মুহাম্মদ আলাইহিমাস সালাম উভয়ই নবী ছিলেন তবে তাঁরা বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হননি—তাদের এই উক্তিটি নিছক অজ্ঞতাপ্রসূত। কেননা যখন কেউ কোনো নবীর নবুওয়াত স্বীকার করে, তখন সে তাঁর সত্যবাদিতাও স্বীকার করে নেয়, কারণ নবী মিথ্যা বলেন না। ঈসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করতেন এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছি» (২) এবং তিনি অনারব রাজাদের কাছে পত্র পাঠাতেন।
অনুচ্ছেদ
রহিতকরণ (النسخ) এবং বদা (البداء) (নতুন অভিমত হওয়া)-এর মধ্যে পার্থক্য দুটি দিক থেকে:
প্রথমত: রহিতকরণ (النسخ) হলো এমন একটি ইবাদতের পরিবর্তন যার নির্দেশ মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল, এমতাবস্থায় যে নির্দেশদাতা নির্দেশ দেওয়ার সময়ই জানতেন যে এই বিধানের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে যার পর বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যাবে এবং রহিতকরণ (النسخ)-এর মাধ্যমে তা উঠে যাবে।
আর বদা (البداء) হলো: কোনো পূর্বজ্ঞান ছাড়াই নতুন কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো নির্দেশিত ও স্থায়ীভাবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে সরে আসা।
দ্বিতীয়ত: রহিতকরণ (النسخ)-এর কারণ প্রথম সম্বোধনের বৈধতাকে নষ্ট করে না, কিন্তু বদা (البداء)-এর কারণ প্রথম নির্দেশের সঠিক হওয়ার ভিত্তিকে বাতিল করে দেয়। যেমন: কাউকে এমন কোনো কাজ করতে বলা যা দ্বারা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন করা লক্ষ্য থাকে, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে সেই কাজের মাধ্যমে উদ্দেশ্যটি হাসিল হবে না, ফলে এমন কিছুর উদয় হয় যা সেই নির্দেশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য করে। আর এই উভয় বিষয়ই জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে, অথচ মহান আল্লাহ তাআলা এই সব কিছু থেকে পবিত্র (৩)।
…
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনে রহিত (منسوخ) আয়াত থাকার প্রমাণ সম্পর্কিত অধ্যায়এই বিষয়ে আলেমদের ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে এমন কিছু বিচ্ছিন্ন (شذ) মত পাওয়া যায় যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না; আবু... বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جعفر النحّاس (1) أن قوما قالوا: ليس في القرآن ناسخ ولا منسوخ وهؤلاء قوم لا يقرّون، لأنهم خالفوا نص الكتاب وإجماع الأمة، قال الله عز وجل: ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِها [البقرة: 106].
[1]- وأخبرنا المبارك بن علي، قال: أخبرنا أحمد بن قريش، قال: أخبرنا إبراهيم بن عمر البرمكي، قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن إسماعيل بن العباس الورّاق، قال: بنا عبد الله بن داود، وقال: حدّثنا محمد بن عامر بن إبراهيم، عن أبيه، عن نهشل بن سعيد، عن الضحاك، عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ [الرعد: 39] قال: في الناسخ والمنسوخ.
قال ابن أبي داود: وحدّثنا يعقوب بن سفيان، قال: حدّثنا أبو صالح، قال:
حدّثني معاوية بن صالح، عن علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس رضي الله عنهما: يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ ويقول: يبدل الله ما يشاء من القرآن، فينسخه ويثبت ما يشاء فلا يبدله، وما يبدل وما يثبت وكل ذلك في كتاب (2).
قال ابن أبي داود: وحدّثنا يونس بن حبيب، قال: حدّثنا أبو داود، وقال:
حدّثنا همام، عن قتادة، عن عكرمة، في قوله: يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ قال:
ينسخ الآية بالآية فترفع، وعنده أم الكتاب، أصل الكتاب.
قال: وحدّثنا علي بن حرب، ومصعب بن محمد ويعقوب بن سفيان، قالوا: حدّثنا عبيد الله بن موسى، عن موسى بن عبيدة، عن محمد بن كعب في قوله عز وجل: يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ قال: نزلت في الناسخ والمنسوخ.
قال: وحدّثنا محمد بن الحسن قال: حدّثنا كثير بن يحيى، قال: حدّثنا أبي، قال: بنا يونس بن عبيد، وهشام بن حسان جميعا، عن محمد بن سيرين يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ يرفعه، ويثبت ما يشاء، فيدعه مقرا له.
--------------------------------------------
জাফর আন-নাহহাস (১) থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক বলেছে: কুরআনের মধ্যে কোনো রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিতকৃত (منسوخ) আয়াত নেই। এরা এমন লোক যাদের কথা গ্রহণ করা হয় না, কারণ তারা কিতাবের অকাট্য পাঠ (نص) এবং উম্মাহর ঐকমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি কোনো আয়াত রহিত (ننسخ) করলে কিংবা তা বিস্মৃত করে দিলে..." [আল-বাকারা: ১০৬]।
[১]- এবং মুবারক বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন উমর আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আমির বিন ইবরাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নাহশাল বিন সাঈদ থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন" [আর-রাদ: ৩৯] সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এটি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিতকৃত (منسوخ) আয়াত প্রসঙ্গে।
ইবনে আবি দাউদ বলেন: ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সলিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন:
মুয়াবিয়া বিন সলিহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন"; তিনি বলেন: আল্লাহ কুরআনের যা ইচ্ছা পরিবর্তন করেন, ফলে তা রহিত (ينسخه) করে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, ফলে তা আর পরিবর্তন করেন না। যা কিছু পরিবর্তন করা হয় এবং যা কিছু বহাল রাখা হয়, তার সবই একটি কিতাবে সংরক্ষিত রয়েছে (২)।
ইবনে আবি দাউদ বলেন: ইউনুস বিন হাবিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন এবং বলেন:
হাম্মাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন"; তিনি বলেন:
তিনি এক আয়াতকে অন্য আয়াত দ্বারা রহিত (ينسخ) করেন ফলে তা রহিত হয়ে যায়, আর তাঁর নিকট রয়েছে উম্মুল কিতাব বা মূল কিতাব।
তিনি বলেন: আলী বিন হারব, মুসআব বিন মুহাম্মদ এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তারা বলেন: উবায়দুল্লাহ বিন মুসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন" সম্পর্কে বলেন: এটি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিতকৃত (منسوخ) বিষয় প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে।
তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হাসান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কাসির বিন ইয়াহইয়া আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস বিন উবাইদ এবং হিশাম বিন হাসান উভয়ে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন" অর্থাৎ তা উঠিয়ে নেন, "এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন" অর্থাৎ তা অপরিবর্তিত অবস্থায় রেখে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال: وحدّثنا موسى بن هارون، قال: حدّثنا الحسين قال: ثنا شيبان، عن قتادة مِنْهُ آياتٌ مُحْكَماتٌ [آل عمران: 7] قال: المحكمات الناسخ الذي يعمل به.
قال: وحدّثنا محمد بن معمر: قال: ثنا روح، قال: حدّثنا الحسن بن علي بن عفان، عن عامر بن الفرات، عن أسباط، عن السدي يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ ما يشاء من المنسوخ ويثبت من الناسخ.
قال: وحدّثنا
… مِنْهُ آياتٌ مُحْكَماتٌ قال: .... لم تنسخ. ورواه سفيان عن سلمة، عن الضحاك، قال: المحكمات؛ الناسخ.
[2]- أخبرنا إسماعيل بن أحمد قال: أخبرنا إسحاق بن أحمد الكاذي قال:
حدّثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل رضي الله عنه قال: حدّثني أبي قال: حدّثنا وكيع، عن سلمة بن نبيط، عن الصحابة قال: المتشابه ما قد نسخ، والمحكمات ما لم ينسخ.
وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أبي أعلمنا بالمنسوخ (1).
…
الباب الثالث باب بيان حقيقة النسخالنسخ في اللغة على معنيين:
الأول: الرفع والإزالة، يقال: نسخت الشمس الظل إذا رفعت ظل الغداة بطلوعها وخلفه ضوؤها. ومنه قوله تعالى: فَيَنْسَخُ اللَّهُ ما يُلْقِي الشَّيْطانُ [الحج: 52].
والثاني: تصوير مثل المكتوب في محل آخر، يقولون نسخت الكتاب، ومنه قوله تعالى: إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ ما كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ [الجاثية: 29].
وإذا أطلق النسخ في الشريعة أريد به المعنى الأول، لأنه رفع الحكم الذي ثبت تكليفه للعباد إما بإسقاطه إلى غير بدل أو إلى بدل.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: মুসা ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শায়বান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: "তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট বিধানসমূহ (محكمات) [আলে ইমরান: ৭]"; তিনি বলেন: সুস্পষ্ট বিধানসমূহ (محكمات) হলো রহিতকারী (ناسخ) যার ওপর আমল করা হয়।
তিনি বললেন: মুহাম্মদ ইবনে মামার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا): তিনি বলেন: রাওহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমির ইবনে ফুরাত থেকে, আসবাত থেকে, সুদ্দি থেকে বর্ণিত: "আল্লাহ যা ইচ্ছা তা রহিত করেন এবং যা ইচ্ছা তা বহাল রাখেন" এর অর্থ হলো রহিত (منسوخ) থেকে যা ইচ্ছা তা মিটিয়ে দেন এবং রহিতকারী (ناسخ) থেকে যা ইচ্ছা তা বহাল রাখেন।
তিনি বললেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ... "তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট বিধানসমূহ (محكمات)"; তিনি বলেন: .... যা রহিত করা হয়নি। সুফিয়ান এটি সালামা থেকে, তিনি দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুস্পষ্ট বিধানসমূহ (محكمات) হলো রহিতকারী (ناسخ)।
[২]- ইসমাইল ইবনে আহমদ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আহমদ আল-কাযি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) তিনি বলেন:
আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني) তিনি বলেন: ওয়াকি’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সালামা ইবনে নুবাইত থেকে, সাহাবীদের থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) হলো যা রহিত (منسوخ) হয়েছে, আর সুস্পষ্ট বিধানসমূহ (محكمات) হলো যা রহিত হয়নি।
ওমর ইবনে খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: উবাই আমাদের মধ্যে রহিত (منسوخ) বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত (১)।
…
৩য় পরিচ্ছেদ: নাসখ বা রহিতকরণের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনাআভিধানিক অর্থে নাসখ (রহিতকরণ) দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথম: তুলে নেওয়া বা অপসারণ করা। বলা হয়: সূর্য ছায়া রহিত করেছে (نسخت الشمس الظل), যখন সূর্যোদয়ের মাধ্যমে প্রভাতের ছায়া অপসারিত হয় এবং তার জায়গায় সূর্যের আলো চলে আসে। এর প্রেক্ষিতেই মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা রহিত (فينسخ) করে দেন।" [হজ: ৫২]
দ্বিতীয়: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কোনো লেখার অনুলিপি তৈরি করা। তারা বলে থাকে, আমি বইটি অনুলিপি (نسخت الكتاب) করেছি। এর প্রেক্ষিতেই মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে আমরা তা লিপিবদ্ধ (نستنسخ) করতাম।" [জাসিয়া: ২৯]
আর যখন শরিয়তে নাসখ (রহিতকরণ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য হয়। কারণ এটি বান্দাদের ওপর অর্পিত কোনো বিধানকে তুলে নেওয়া বা পরিবর্তন করা বোঝায়; চাই তা কোনো বিকল্প ছাড়াই রহিত করার মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোনো বিকল্প বিধানের মাধ্যমে হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال شيخنا علي بن عبيد الله (1): الخطاب في التكليف على ضربين: أمر ونهي، فالأمر استدعاء الفعل، والنهي استدعاء الترك. واستدعاء الفعل يقع على ثلاثة أضرب:
الضرب الأول: ما يكون على سبيل الإلزام والانحتام، إما بكونه فرضا أو واجبا. ونسخ ذلك يقع على ثلاثة أوجه:
الأول: أن يخرج من الوجوب إلى المنع، مثل ما كان التوجه إلى بيت المقدس واجبا ثم نسخ بالمنع منه (2).
والثاني: أن ينسخ من الوجوب إلى الاستحباب، مثل نسخ وجوب الوضوء لكل صلاة إلى أن جعل مستحبا.
والثالث: أن ينسخ من الوجوب إلى الإباحة، مثل نسخ وجوب الوضوء مما غيرت النار إلى الجواز، فصار الوضوء منه جائزا.
والضرب الثاني: استدعاء على سبيل الاستحباب، فهذا ينتقل إلى ثلاثة أوجه أيضا:
الأول: أن ينتقل من الاستحباب إلى الوجوب، وذلك مثل الصوم في رمضان كان مستحبا فإن تركه وافتدى جاز، ثم نسخ ذلك بانحتامه في حق الصحيح المقيم.
والثاني: أن ينسخ من الاستحباب إلى التحريم، مثل: نسخ اللطف بالمشركين وقول الحسنى لهم (3)، فإنه نسخ بالأمر بقتالهم (4).
--------------------------------------------
এবং আমাদের শাইখ আলি ইবন উবাইদুল্লাহ (১) বলেছেন: শরয়ি দায়িত্বার্পণের (التكليف) ক্ষেত্রে সম্বোধন দুই প্রকার: আদেশ ও নিষেধ। আদেশ হলো কোনো কাজ সম্পাদনের দাবি, আর নিষেধ হলো কোনো কাজ বর্জনের দাবি। কোনো কাজ সম্পাদনের দাবি তিন ধরনের হয়ে থাকে:
প্রথম প্রকার: যা বাধ্যবাধকতা (الإلزام) ও আবশ্যকতা (الانحتام) পন্থায় হয়ে থাকে, তা ফরজ (فرض) অথবা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ভিত্তিতে হয়। আর এর রহিতকরণ (نسخ) তিনটি পন্থায় ঘটে থাকে:
প্রথম: ওয়াজিব (الوجوب) থেকে নিষিদ্ধকরণের (المنع) দিকে চলে যাওয়া। যেমন— বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করা ওয়াজিব (واجب) ছিল, অতঃপর তা নিষিদ্ধকরণের (المنع) মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে (২)।
দ্বিতীয়: ওয়াজিব (الوجوب) থেকে মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার দিকে রহিত (نسخ) হওয়া। যেমন— প্রত্যেক সালাতের জন্য ওজু ওয়াজিব (وجوب) হওয়া রহিত (نسخ) হয়ে মুস্তাহাব (مستحب) সাব্যস্ত হওয়া।
তৃতীয়: ওয়াজিব (الوجوب) থেকে বৈধতার (الإباحة) দিকে রহিত (نسخ) হওয়া। যেমন— আগুনের স্পর্শে তৈরি খাবার গ্রহণের ফলে ওজু করার ওয়াজিব (وجوب) বিধানটি বৈধতার (الجواز) দিকে রহিত (نسخ) হওয়া, ফলে ওজু করা বৈধ (جائز) বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: মুস্তাহাব (الاستحباب) পন্থায় দাবি করা। এটিও তিনটি পন্থায় পরিবর্তিত হয়:
প্রথম: মুস্তাহাব (الاستحباب) থেকে ওয়াজিব (الوجুব) হওয়ার দিকে স্থানান্তরিত হওয়া। যেমন— রমজানের রোজা রাখা মুস্তাহাব (مستحب) ছিল, যা ছেড়ে দিলে ফিদিয়া দেওয়া বৈধ (جائز) ছিল, অতঃপর সুস্থ ও মুকিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি আবশ্যকতা (انحتام) হওয়ার মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
দ্বিতীয়: মুস্তাহাব (الاستحباب) থেকে হারাম (التحريم) হওয়ার দিকে রহিত (نسخ) হওয়া। যেমন— মুশরিকদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন ও তাদের সাথে উত্তম কথা বলার (৩) বিধান রহিত হওয়া; কেননা এটি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশের মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়ে গেছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والثالث: أن ينسخ من الاستحباب إلى الاباحة، مثل: نسخ استحباب الوصية للوالدين (1) بالإباحة (2).
والضرب الثالث: المباح؛ وقد اختلف العلماء هل هو مأمور به؟ والصحيح أنه مأذون فيه غير مأمور به (3)، ويجوز أن يدخله النسخ عن وجه واحد وهو النسخ إلى التحريم، مثاله: أن الخمر مباحة ثم حرمت.
وأما نسخ الإباحة إلى الكراهة؛ فلا يوجد، لأنه لا تناقض. فأما انتقال المباح إلى كونه واجبا فليس بنسخ، لأن إيجاب المباح إبقاء تكليف لا نسخ.
وأما القسم الثاني من الخطاب: وهو النهي فهو يقع على ضربين:
الأول: على سبيل التحريم؛ فهذا قد ينسخ بالإباحة، مثل تحريم الأكل على الصائم في الليل بعد النوم والجماع.
والثاني: على سبيل الكراهة، لم يذكر له مثال.
فصلفأما الأخبار فهي على ضربين:
الأول: ما كان لفظه لفظ الخبر، ومعناه معنى الأمر كقوله تعالى: لا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ [الواقعة: 79] فهذا لاحق بخطاب التكليف في جواز النسخ عليه.
والثاني: الخبر الخالص، فلا يجوز عليه، لأنه يؤدي إلى الكذب وذلك محال. وقد حكي جواز ذلك عن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم والسّدّي، وليس بشيء يعوّل عليه. وقال أبو جعفر النحاس: وهذا القول عظيم جدا يؤول إلى الكفر لأن قائلا لو قال: قام فلان ثم قال: لم يقم، فقال: نسخته لكان كاذبا.
وقال ابن عقيل (4): الأخبار لا يدخلها النسخ، لأن نسخ الأخبار كذب،
--------------------------------------------
এবং তৃতীয়টি হলো: মুস্তাহাব (استحباب) থেকে মুবাহ (إباحة) হওয়ার মাধ্যমে রহিত (نسخ) হওয়া। যেমন: পিতামাতার অনুকূলে অসিয়ত করার মুস্তাহাব (استحباب) বিধানটি মুবাহ (إباحة) হওয়ার মাধ্যমে রহিত (نسخ) হওয়া। (১)
তৃতীয় প্রকার হলো: মুবাহ (مباح); এটি আদেশপ্রাপ্ত (مأمور به) কি না তা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক মত হলো এটি অনুমোদিত (مأذون فيه), তবে আদেশপ্রাপ্ত (مأمور به) নয় (৩)। এতে এক দিক থেকে রহিতকরণ (نسخ) হওয়া বৈধ, আর তা হলো হারামে (تحريم) রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ: মদ প্রথমে মুবাহ (مباح) ছিল, অতঃপর তা হারাম করা হয়েছে।
আর মুবাহ (إباحة) থেকে মাকরূহ (كراهة) হওয়ার মাধ্যমে রহিতকরণ (نسخ) পাওয়া যায় না; কারণ এতে কোনো বৈপরীত্য নেই। তবে মুবাহ (مباح) থেকে ওয়াজিব (واجب) হওয়ার বিষয়টি রহিতকরণ (نسخ) নয়; কারণ মুবাহকে ওয়াজিব করা কোনো দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) করা, রহিতকরণ (نسخ) নয়।
সম্বোধনের দ্বিতীয় ভাগ হলো: নিষেধ (نهي), যা দুই প্রকার:
প্রথমটি হলো: হারাম (تحريم) হিসেবে; এটি মুবাহ (إباحة) হওয়ার মাধ্যমে রহিত (نسخ) হতে পারে। যেমন: রোজাদারের জন্য রাতে ঘুমানোর পর আহার করা এবং সহবাসের হারাম (تحريم) বিধানটি।
দ্বিতীয়টি হলো: মাকরূহ (كراهة) হিসেবে, যার কোনো উদাহরণ তিনি উল্লেখ করেননি।
পরিচ্ছেদ (فصل)সংবাদসমূহ (أخبار) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: যার শব্দগত রূপ সংবাদের (خبر), কিন্তু অর্থগত দিক থেকে তা আদেশ (أمر)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করবে না" [আল-ওয়াকিয়া: ৭৯]। এটি রহিত (نسخ) হওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রে বিধানগত সম্বোধনের (خطاب التكليف) অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় প্রকার: বিশুদ্ধ সংবাদ (الخبر الخالص), এতে রহিতকরণ (نسخ) বৈধ নয়; কারণ এটি মিথ্যার (كذب) দিকে নিয়ে যায়, যা অসম্ভব (محال)। আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম এবং সুদ্দী থেকে এর বৈধতার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে এটি নির্ভরযোগ্য (يعوّل عليه) কিছু নয়। আবু জাফর আন-নাহহাস বলেন: এই বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুতর যা কুফরের দিকে ধাবিত করে। কারণ যদি কেউ বলে: 'অমুক দাঁড়িয়েছে', এরপর বলে: 'সে দাঁড়ায়নি' এবং বলে যে: 'আমি এটি রহিত (نسخ) করেছি', তবে সে মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবে গণ্য হবে।
ইবনুল আকীল (৪) বলেন: সংবাদসমূহের (أخبار) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) প্রবেশ করে না; কারণ সংবাদের রহিতকরণ (نسخ) হলো মিথ্যা (كذب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২০)
وحوشي القرآن من ذلك (1).
فصلوقد زعم قوم: أن المستثنى ناسخ لما استثني منه، وليس هذا بكلام من يعرف ما يقول، لأن الاستثناء إخراج بعض ما شمله اللفظ، وليس ذلك بنسخ، وكذلك التخصيص (2)، وقد يجوّزه بعض السلف؛ فيقول: هذه الآية نسخت هذه الآية؛ أي: نزلت بنسختها.
…
الباب الرابع باب شروط النسخالشروط المعتبرة في ثبوت النسخ خمسة:
الشرط الأول: أن يكون الحكم في الناسخ والمنسوخ متناقضا، بحيث لا يمكن العمل بهما جميعا، فإن كان ممكنا لم يكن أحدهما ناسخا للآخر، وذلك قد يكون على وجهين:
الوجه الأول: أن يكون أحد الحكمين متناولا لما تناوله الثاني بدليل العموم، والآخر متناولا لما تناوله الأول بدليل الخصوص، فالدليل الخاص لا يوجب نسخ دليل العموم، بل يبين أنه إنما تناوله التخصيص لم يدخل تحت دليل العموم.
والوجه الثاني: أن يكون كل واحد من الحكمين ثابتا في حال غير الحالة التي ثبت فيها الحكم الآخر، مثل تحريم المطلقة ثلاثا، فإنها محرمة على مطلقها في حال، وهي ما دامت خالية عن زوج وإصابة، فإذا أصابها زوج ثان ارتفعت الحالة الأولى، وانقضت بارتفاعها مدة التحريم، فشرعت في حالة أخرى حصل فيها حكم الإباحة
--------------------------------------------
এবং কুরআনের বিরল শব্দাবলি (حوشي) এর অন্তর্ভুক্ত (১)।
পরিচ্ছেদএকদল লোক দাবি করেছেন যে: ব্যতিক্রমকৃত (المستثنى) অংশটি যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তার জন্য রহিতকারী (ناسخ)। তবে এটি এমন কোনো ব্যক্তির কথা নয় যে জানে সে কী বলছে। কারণ ব্যতিক্রম (الاستثناء) হলো শব্দের অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশকে বের করে দেওয়া, আর তা রহিতকরণ (نسخ) নয়। একইভাবে বিশেষীকরণও (التخصيص) (২) রহিতকরণ নয়। অবশ্য সালাফদের কেউ কেউ একে অনুমোদিত মনে করতেন; তাই তারা বলতেন: এই আয়াতটি এই আয়াতটিকে রহিত (نسخت) করেছে; অর্থাৎ এটি তার রহিতকারী (نسخة) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: রহিতকরণের (النسخ) শর্তাবলি সংক্রান্ত অধ্যায়রহিতকরণ (النسخ) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি পাঁচটি:
প্রথম শর্ত: রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিত (المنسوخ) বিধানের মধ্যে বৈপরীত্য থাকতে হবেএমনভাবে যে, উভয়টির ওপর একত্রে আমল করা সম্ভব না হয়। যদি আমল করা সম্ভব হয়, তবে একটি অন্যটির রহিতকারী (ناسخ) হবে না। এটি দুইভাবে হতে পারে:
প্রথম পদ্ধতি: একটি বিধান সাধারণ (العموم) দলিলের ভিত্তিতে অপর বিধানের বিষয়বস্তুকে শামিল করে, আর অন্যটি বিশেষ (الخصوص) দলিলের ভিত্তিতে প্রথমটির বিষয়বস্তুকে শামিল করে। এক্ষেত্রে বিশেষ দলিলটি সাধারণ দলিলের রহিতকরণ (نسخ) আবশ্যক করে না, বরং এটি স্পষ্ট করে যে, বিশেষীকরণের (التخصيص) কারণে তা সাধারণ দলিলের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: উভয় বিধানের প্রতিটি এমন এক অবস্থায় সাব্যস্ত হওয়া যা অন্য বিধানটির সাব্যস্ত হওয়ার অবস্থা থেকে ভিন্ন। যেমন তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার হারাম হওয়া। সে এক অবস্থায় তার তালাকদাতার জন্য হারাম থাকে, আর তা হলো যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্য স্বামী গ্রহণ না করে এবং তার সাথে সহবাস না হয়। যখন দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তখন প্রথম অবস্থাটি দূর হয়ে যায় এবং তা দূর হওয়ার সাথে সাথে হারামের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। ফলে অন্য একটি অবস্থা শুরু হয় যাতে বৈধতার বিধান অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২১)
للزوج المطلق ثلاثا، فلا يكون هذا ناسخا، لاختلاف حالة التحريم والتحليل.
والشرط الثاني: أن يكون الحكم المنسوخ ثابتا قبل ثبوت حكم الناسخفذلك يقع بطريقين:
أحدهما: من جهة النطق كقوله تعالى: الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفاً [الأنفال: 66] وقوله: فَتابَ عَلَيْكُمْ وَعَفا عَنْكُمْ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ [البقرة: 187] ومثل قول النبي صلى الله عليه وسلم: «كنت نهيتكم عن زيارة القبور ألا فزوروها» (1).
والثاني: أن يعلم بطريق التاريخ، وهو أن ينقل بالرواية بأن يكون الحكم الأول ثبوته متقدما على الآخر، فمتى ورد الحكمان مختلفين على وجه لا يمكن العمل بأحدهما إلا بترك الآخر، ولم يثبت تقديم أحدهما على صاحبه بأحد الطريقين؛ امتنع ادّعاء النسخ في أحدهما.
والشرط الثالث: أن يكون الحكم المنسوخ مشروعا؛ أعني أنه ثبت بخطاب الشرع، فأما إن كان ثابتا بالعادة والتعارف لم يكن رافعه ناسخا، بل يكون ابتداء شرع، وهذا شيء ذكر عند المفسرين، فإنهم قالوا: كان الطلاق في الجاهلية لا إلى غاية، فنسخه قوله: الطَّلاقُ مَرَّتانِ [البقرة: 229] وهذا لا يصدر ممن يفقه، لأن الفقيه يفهم أن هذا ابتداء شرع لا نسخ.
والشرط الرابع: أن يكون ثبوت الحكم الناسخ مشروعا كثبوت المنسوخفأما ما ليس بمشروع بطريق النقل، فلا يجوز أن يكون ناسخا للمنقول، ولهذا إذا ثبت حكم منقول لم يجز نسخه بإجماع ولا بقياس.
والشرط الخامس:أن يكون الطريق الذي ثبت به الناسخ مثل الطريق الذي ثبت به المنسوخ أو أقوى منه، فأما إن كان دونه فلا يجوز أن يكون الأضعف ناسخا للأقوى.
…
الباب الخامس باب ذكر ما اختلف فيه هل هو شرط في النسخ أم لا؟
اتفق العلماء على جواز نسخ القرآن بالقرآن والسنة بالسنة، فأما نسخ القرآن بالسنة، فالسنة تنقسم قسمين:
--------------------------------------------
তিন তালাক প্রদানকারী স্বামীর জন্য, ফলে এটি রহিতকারী (ناسخ) হবে না, কারণ হারাম হওয়া এবং হালাল হওয়ার অবস্থা ভিন্ন।
দ্বিতীয় শর্ত: রহিতকৃত (منسوخ) বিধানটি রহিতকারী (ناسخ) বিধান সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বে সাব্যস্ত থাকতে হবে।আর এটি দুটি উপায়ে সংঘটিত হয়:
প্রথমটি: বক্তব্যের দিক থেকে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "এখন আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জেনেছেন যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে" [আনফাল: ৬৬] এবং তাঁর বাণী: "তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের মার্জনা করেছেন; অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো" [বাকারা: ১৮৭]। আর যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে তোমরা তা যিয়ারত করো" (১)।
দ্বিতীয়টি: ইতিহাসের মাধ্যমে জানা, আর তা বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে এমনভাবে স্থানান্তরিত হওয়া যে, প্রথম বিধানটি সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে অন্যটির চেয়ে অগ্রবর্তী। সুতরাং যখন দুটি বিধান এমন ভিন্নভাবে আসবে যে, একটিকে বর্জন করা ছাড়া অন্যটির ওপর আমল করা সম্ভব নয়, এবং বর্ণিত দুটি উপায়ের কোনোটির মাধ্যমেই একটিকে অন্যটির ওপর অগ্রবর্তী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে না; তখন সেগুলোর কোনো একটির ক্ষেত্রে রহিতকরণের (نسخ) দাবি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তৃতীয় শর্ত: রহিতকৃত (منسوخ) বিধানটি শরিয়তসম্মত হতে হবে।অর্থাৎ সেটি শরিয়তের সম্বোধনের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে যদি তা অভ্যাস বা প্রথার মাধ্যমে সাব্যস্ত থাকে, তবে তা দূরকারী বিষয়টি রহিতকারী (ناسخ) হবে না, বরং তা হবে শরিয়তের প্রারম্ভিক বিধান। এটি এমন একটি বিষয় যা মুফাসসিরগণের নিকট আলোচিত হয়েছে; তারা বলেন: জাহেলি যুগে তালাকের কোনো সীমা ছিল না, অতঃপর আল্লাহর বাণী: "তালাক দুই বার" [বাকারা: ২২৯] তা রহিত করে দিয়েছে। কিন্তু এ ধরণের কথা এমন কারো থেকে প্রকাশ পাওয়া উচিত নয় যার ফিকহী বুঝ রয়েছে; কারণ একজন ফকিহ বোঝেন যে এটি শরিয়তের প্রারম্ভিক বিধান, রহিতকরণ (نسخ) নয়।
চতুর্থ শর্ত: রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি সাব্যস্ত হওয়াও রহিতকৃত (منسوخ) বিধানের মতো শরিয়তসম্মত উপায়ে হতে হবে।সুতরাং যা বর্ণনার (نقل) মাধ্যমে শরিয়তসম্মত নয়, তা বর্ণিত কোনো বিষয়ের রহিতকারী (ناسخ) হওয়া জায়েজ নয়। এই কারণেই যখন কোনো বর্ণিত বিধান সাব্যস্ত হয়, তখন ইজমা (إجماع) বা কিয়াস (قياس) দ্বারা তার রহিতকরণ (نسخ) জায়েজ নয়।
পঞ্চম শর্ত:যে পন্থায় রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি সাব্যস্ত হয়েছে তা রহিতকৃত (منسوخ) বিধানের পন্থার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে শক্তিশালী হতে হবে। আর যদি তা নিম্নমানের হয়, তবে দুর্বলতর (الأضعف) বিষয়টি শক্তিশালী (الأقوى) বিষয়ের রহিতকারী (ناسخ) হওয়া জায়েজ নয়।
…
পঞ্চম অধ্যায়: রহিতকরণের (النسخ) ক্ষেত্রে কোনটি শর্ত কি না, সে বিষয়ে মতভেদের আলোচনা।ওলামায়ে কেরাম কুরআন দ্বারা কুরআন এবং সুন্নাহ (السنة) দ্বারা সুন্নাহ (السنة) রহিত হওয়া জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তবে সুন্নাহ (السنة) দ্বারা কুরআন রহিতকরণের ক্ষেত্রে সুন্নাহ (السنة) দুই ভাগে বিভক্ত:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২২)
القسم الأول: ما ثبت بنقل متواتر، كنقل القرآن، فهل يجوز أن ينسخ القرآن بمثل هذا؟ حكى فيه شيخنا علي بن عبيد الله روايتين عن أحمد، قال: والمشهور أنه لا يجوز (1)، وهو مذهب الثوري والشافعي.
والرواية الثانية يجوز؛ وهو قول أبي حنيفة، ومالك (2) قال: ووجه الأولى؛ قوله تعالى: ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِها نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْها أَوْ مِثْلِها [البقرة: 106] والسنة ليست مثلا للقرآن، وروى الدارقطني من حديث جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كلامي لا ينسخ القرآن، ينسخ بعضه بعضا» (3).
ومن جهة المعنى؛ فإن السنة تنقص عن درجة القرآن فلا تقدم عليه.
ووجه الرواية الثانية؛ قوله تعالى: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ [النحل: 44] والنسخ في الحقيقة بيان مدة المنسوخ، فاقتضت هذه الآية قبول هذا البيان، قال: وقد نسخت الْوَصِيَّةُ لِلْوالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ [البقرة: 180] بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا وصية لوارث» (4). ونسخ قوله تعالى: وَلا تُقاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ حَتَّى يُقاتِلُوكُمْ فِيهِ [البقرة: 191] بأمره عليه الصلاة والسلام، أن يقتل ابن خطل، وهو متعلّق بأستار الكعبة (5).
ومن جهة المعنى؛ أن السنة مفسرة للقرآن، وكاشفة لما يغمض من معناه، فجاز أن ينسخ بها.
والقول الأول هو الصحيح، لأن هذه الأشياء تجري مجرى البيان للقرآن، لا
--------------------------------------------
প্রথম বিভাগ: যা মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন কুরআনের বর্ণনা। এমতাবস্থায় প্রশ্ন হলো, এই ধরণের বর্ণনার মাধ্যমে কি কুরআন রহিত করা বৈধ? আমাদের শাইখ আলি ইবনে উবায়দুল্লাহ এই বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বৈধ নয় (১), আর এটিই সাওরি ও শাফিঈর মাযহাব।
দ্বিতীয় বর্ণনা মতে এটি বৈধ; আর এটিই আবু হানিফা ও মালিকের অভিমত (২)। তিনি বলেন: প্রথম মতের সপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমি যে আয়াতই রহিত করি না কেন অথবা তা বিস্মৃত করি না কেন, আমি তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য কোনো আয়াত নিয়ে আসি" [আল-বাকারা: ১০৬]। আর সুন্নাহ কুরআনের সমতুল্য নয়। দারাকুতনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আমার কথা কুরআনকে রহিত করে না, বরং কুরআনের এক অংশ অন্য অংশকে রহিত করে» (৩)।
আর অর্থগত দিক থেকে যুক্তি হলো; সুন্নাহর মর্যাদা কুরআনের চেয়ে কম, তাই একে কুরআনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় বর্ণনার সপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" [আন-নাহল: ৪৪]। প্রকৃতপক্ষে রহিতকরণ (নসখ) হলো রহিতকৃত (المنسوخ) বিষয়ের সময়সীমার বর্ণনা। সুতরাং এই আয়াতটি এই বর্ণনা গ্রহণ করার দাবি রাখে। তিনি বলেন: "পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করা" সংক্রান্ত বিধানটি [আল-বাকারা: ১৮০] নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়েছে: «উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই» (৪)। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "মসজিদে হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে" [আল-বাকারা: ১৯১]-কে নবী (সা.)-এর সেই নির্দেশের মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে যেখানে তিনি ইবনে খাতালকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ সে কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে ছিল (৫)।
আর অর্থগত দিক থেকে যুক্তি হলো; সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং এর অস্পষ্ট অর্থসমূহ উন্মোচনকারী, তাই এর মাধ্যমে রহিত করা বৈধ।
প্রথম মতটিই সঠিক (الصحيح), কারণ এই বিষয়গুলো কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবেই গণ্য হয়, নয়তো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
النسخ، وقد روى أبو داود السجستاني قال: سمعت أحمد بن حنبل رضي الله عنه يقول: السنة تفسر القرآن، ولا ينسخ القرآن إلا القرآن. وكذلك قال الشافعي: إنما ينسخ الكتاب الكتاب، والسنة ليست ناسخة له (1).
والقسم الثاني: الأخبار المنقولة بنقل الآحاد؛ فهذه لا يجوز بها نسخ القرآن (2)، لأنها لا توجب العلم، بل تفيد الظن، والقرآن يوجب العلم، فلا يجوز ترك المقطوع به لأجل مظنون، وقد احتجّ من رأى جواز نسخ التواتر بخبر الواحد بقصة أهل قباء لما استداروا بقول واحد، فأجيب بأن قبلة بيت المقدس لم تثبت بالقرآن، فجاز أن تنسخ بخبر الواحد.
فصلواتفق العلماء على جواز نسخ نطق الخطاب، واختلفوا في نسخ ما ثبت بدليل الخطاب وتنبيه وفحواه، فذهب عامة العلماء إلى جواز ذلك، واستدلوا بشيئين:
أحدهما: أن دليل الخطاب دليل شرعي يجري مجرى النطق في وجوب العمل به فجرى مجراه في النسخ.
والثاني: أنه قد وجد ذلك، فروى جماعة عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «الماء من الماء» (3). وعملوا بدليل خطابه، فكانوا لا يغتسلون من التقاء الختانين، ثم نسخ ذلك بقوله عليه الصلاة والسلام: «إذا التقى الختان بالختان وجب الغسل أنزل أو لم ينزل» (4). وقد حكي عن جماعة من أهل الظاهر أنه لا يجوز نسخ ما ثبت بدليل الخطاب وفحواه، قالوا: لأن ذلك معلوم بطريق القياس، والقياس لا يكون ناسخا ولا منسوخا، وليس الأمر على ما ذكر، بل هو مفهوم من معنى النطق وتنبيهه.
فصل
واتفق العلماء على أن الحكم المأمور به إذا عمل به ثم نسخ بعد ذلك؛ أن النسخ يقع صحيحا جائزا.
--------------------------------------------
রহিতকরণ (نسخ), আর আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন যে: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি: সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে, আর কুরআন কেবল কুরআন দ্বারাই রহিত (نسخ) হতে পারে। ইমাম শাফিয়ি অনুরূপ বলেছেন যে: কিতাব কেবল কিতাব দ্বারাই রহিত (نسخ) হয়, সুন্নাহ কিতাবকে রহিতকারী (ناسخة) নয় (১)।
দ্বিতীয় প্রকার: সেই সকল সংবাদ যা একক বর্ণনার (آحاد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে; এগুলো দ্বারা কুরআন রহিত (نسخ) করা জায়েজ নয় (২), কারণ এগুলো নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না, বরং ধারণা (ظن) প্রদান করে। আর কুরআন নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে; সুতরাং ধারণা নির্ভর বিষয়ের কারণে সুনিশ্চিত বিষয়কে ত্যাগ করা জায়েজ নয়। যারা মুতাওয়াতির (تواتر) বিষয়কে একক সংবাদের (خبر الواحد) মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা জায়েজ মনে করেন, তারা কুবা অধিবাসীদের ঘটনার মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যখন তারা একজনের কথায় কিবলা পরিবর্তন করেছিলেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, বায়তুল মাকদিসের কিবলা হওয়া কুরআনের মাধ্যমে সাব্যস্ত ছিল না, তাই সেটি একক সংবাদের (خبر الواحد) মাধ্যমে রহিত (نسخ) হওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরিচ্ছেদআলিমগণ সম্বোধনের ভাষ্য রহিত (نسخ) করার বৈধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তবে সম্বোধনের প্রমাণ (دليل الخطاب), ইঙ্গিত (تنبيه) ও মর্মার্থের (فحوى) মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা রহিত (نسخ) করার ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ আলিম এটি জায়েজ মনে করেন এবং তারা দুটি বিষয়ের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন:
প্রথমটি হলো: সম্বোধনের প্রমাণ (دليل الخطাব) একটি শরয়ি দলীল, যার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট ভাষ্যের সমপর্যায়ভুক্ত; সুতরাং রহিতকরণের (نسخ) ক্ষেত্রেও এটি একই পর্যায়ভুক্ত হবে।
দ্বিতীয়টি হলো: বাস্তবে এমনটি ঘটেছে। একদল বর্ণনাকারী নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "পানি (গোসল) কেবল পানি (বীর্যপাত) থেকেই" (৩)। তারা এর সম্বোধনের প্রমাণের (دليل الخطاب) ওপর আমল করতেন এবং দুই খতনা স্থান মিলিত হওয়ার কারণে গোসল করতেন না। পরবর্তীতে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করা হয়: "যখন দুই খতনা স্থান মিলিত হয়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়, বীর্যপাত হোক বা না হোক" (৪)। আহলে জাহিরদের একটি দলের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সম্বোধনের প্রমাণ (دليل الخطাব) ও মর্মার্থের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা রহিত (نسخ) করা জায়েজ নয়। তারা বলেছেন: কারণ তা কিয়াসের (قياس) পদ্ধতিতে জানা যায়, আর কিয়াস (قياس) রহিতকারী (ناسخ) বা রহিতকৃত (منسوخ) কোনটিই হতে পারে না। বিষয়টি আসলে তেমন নয় যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন, বরং এটি স্পষ্ট ভাষ্যের অর্থ ও ইঙ্গিত থেকে অনুধাবনযোগ্য।
পরিচ্ছেদ
আলিমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোনো আদিষ্ট বিধানের ওপর আমল করার পর যদি তা রহিত (نسخ) করা হয়, তবে সেই রহিতকরণ (نسخ) সহিহ ও জায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
واختلفوا؛ هل يجوز نسخ الحكم قبل العمل به؟
فظاهر كلام أحمد: جواز ذلك، وهو اختيار عامة أصحابنا، وكان أبو الحسن التميمي يقول: لا يجوز ذلك، وهو قول أصحاب أبي حنيفة. واحتجّ الأولون بأن الله تعالى أمر إبراهيم بذبح ولده، ثم نسخ ذلك بالفداء قبل فعله. وأن النبي صلى الله عليه وسلم فرض عليه وعلى أمته ليلة المعراج خمسون صلاة ثم نسخ ذلك بخمس صلوات.
ومن جهة المعنى: فإن الأمر بالشيء يقع فيه تكليف الإيمان به والاعتقاد له، ثم تكليف العزم على فعله في الزمان الذي عين له، ثم إذا فعل على الوجه المأمور به، فجاز أن ينسخ قبل الأداء، لأنه لم يفقد من لوازمه غير الفعل، والنية نائبة عنه.
واحتج من منع من ذلك؛ بأن الله تعالى إنما يأمر عباده بالعبادة لكونها حسنة، فإذا أسقطها قبل فعلها خرجت عن كونها حسنة، وخروجه قبل الفعل يؤدي إلى البداء.
وهذا كلام مردود بما بينا من الإيمان والامتثال، والعزم يكفي في تحصيل المقصود من التكليف بالعبادة.
…
الباب السادس باب فضيلة علم الناسخ والمنسوخ والأمر بتعلّمه[3] (1) - أخبرنا عبد الوهاب بن المبارك الأنماطي قال: أخبرنا عبد الله بن محمد الصريفيني قال: أخبرنا عمر بن إبراهيم الكتاني، قال: حدّثنا عبد الله بن محمد البغوي، قال: بنا زهير بن حرب، قال حدّثنا وكيع، عن سفيان، عن أبي حصين، عن أبي عبد الرحمن، أن عليا عليه السلام مرّ بقاصّ، فقال: أتعرف الناسخ والمنسوخ؟ قال: لا. قال: «هلكت وأهلكت».
--------------------------------------------
তারা মতপার্থক্য করেছেন; কোনো বিধানের ওপর আমল করার পূর্বেই কি তা রহিত করা (نسخ) বৈধ?
ইমাম আহমদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো: এটি বৈধ, এবং এটি আমাদের অধিকাংশ মাযহাবের অনুসারীদের পছন্দনীয় মত। তবে আবুল হাসান আত-তামীমী বলতেন: এটি বৈধ নয়, আর এটি আবু হানিফার অনুসারীদের অভিমত। প্রথম পক্ষ দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর পুত্র যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর তা করার পূর্বেই মুক্তিপণের মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করে দেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ও তাঁর উম্মতের ওপর মেরাজের রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়।
যৌক্তিক দিক থেকে: কোনো বিষয়ে নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমে তার প্রতি ঈমান আনা ও বিশ্বাসের দায়িত্ব বর্তায়, অতঃপর নির্ধারিত সময়ে তা পালনের দৃঢ় সংকল্প করার দায়িত্ব আসে। এরপর যদি নির্দেশিত পদ্ধতিতে তা পালন করা হয়, তবে আদায় করার পূর্বেই তা রহিত (نسخ) করা বৈধ হতে পারে; কারণ এখানে কর্ম ব্যতীত এর আর কোনো আবশ্যিক অনুষঙ্গ অনুপস্থিত নেই, আর নিয়ত কর্মের স্থলাভিষিক্ত হয়।
আর যারা এটি নিষেধ করেছেন তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেন যে; আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কেবল এজন্যই ইবাদতের নির্দেশ দেন যেহেতু তা উত্তম, সুতরাং যদি আমল করার পূর্বেই তা বাতিল করে দেওয়া হয় তবে তা উত্তমের পর্যায় থেকে বের হয়ে যায়, এবং কর্মের পূর্বেই সেটির বিলুপ্তি 'বদা' (البداء) বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করে।
এই কথাটি প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ আমরা ঈমান ও আনুগত্য (امتثال) সম্পর্কে যা স্পষ্ট করেছি এবং ইবাদতের বিধানের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংকল্প করাই যথেষ্ট।
…
ষষ্ঠ অধ্যায়: নাসিখ (الناسخ) ও মানসুখ (المنسوখ) সংক্রান্ত ইলমের মর্যাদা এবং তা শেখার নির্দেশ সম্পর্কিত অধ্যায়[৩] (১) - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল মুবারক আল-আনমাতি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সারিফিনি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-কাত্তানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হাসিন থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) একজন কাস বা কাহিনীকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি নাসিখ (الناسخ) ও মানসুখ (المنسوখ) চেনো? সে বলল: না। তিনি বললেন: «তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[4] (1) - أخبرنا محمد بن ناصر قال: أخبرنا علي بن الحسين بن أيوب، قال:
أخبرنا أبو علي الحسن بن أحمد بن شاذان، قال: أخبرنا أبو بكر أحمد بن سليمان النجاد، قال: حدّثنا أبو داود السجستاني، قال: حدّثنا حفص بن عمر، قال: حدّثنا شعبة، عن أبي حصين، عن أبي عبد الرحمن السلمي، قال: مرّ أمير المؤمنين علي رضي الله عنه على قاصّ يقص فقال: تعلّمت الناسخ والمنسوخ؟
قال: لا. قال: «هلكت وأهلكت».
[5] (2) - أخبرنا عبد الله بن علي المقري قال: أخبرنا أحمد بن ندار البقال، قال: أخبرنا محمد بن عمر بن بكير النجاب، قال: أخبرنا أحمد بن جعفر بن حمدان، قال: بنا إبراهيم بن عبد الله البصري، قال: حدّثنا أبو عمر حفص بن عمر الضرير قال: أبنا حماد بن سلمة؛ أن عطاء بن السائب أخبرهم، عن أبي البختري الطائي، قال: أتى علي عليه السلام على رجل في مسجد الكوفة وهو يقص، فقال: من هذا؟ قالوا: رجل يحدث، ثم أتى عليه يوما آخر فإذا هو يقص، فقال: من هذا؟ قالوا: رجل يحدث. فقال: اسألوه؛ يعرف الناسخ من المنسوخ. فسألوه؛ فقال:
لا. فقال: إن هذا يقول: اعرفوني اعرفوني، أنا فلان ثم قال: لا تحدّث.
[6]- أخبرنا إسماعيل بن أحمد السمرقندي، قال: أخبرنا عمر بن عبيد الله البقال قال: أخبرنا أبو الحسين بن بشران، قال: أخبرنا إسحاق بن أحمد الكاذي قال: حدّثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، قال: حدّثني أبي، قال: حدّثنا عبد الملك بن عمرو، قال: حدّثنا يزيد- يعني ابن إبراهيم بن العلاء الغنوي-، أن سعيد بن أبي الحسن لقي أبا يحيى فقال: يا أبا يحيى: من الذي قال له علي عليه السلام اعرفوني اعرفوني؟ فقال: إني أظنك عرفت أني أنا هو. قال: قال: ما عرفت أنك هو، قال: فإني أنا هو، مرّ بي وأنا قص بالكوفة، فقال: من أنت؟
--------------------------------------------
[4] (১) - মুহাম্মদ বিন নাসের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আল-হুসাইন বিন আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমাদ বিন সুলাইমান আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফস বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসিন থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক গল্পকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কিচ্ছা শোনাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছ?
সে বলল: না। তিনি বললেন: «তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।»
[5] (২) - আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন নদার আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন উমর বিন বুকাইর আন-নাজ্জাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমর হাফস বিন উমর আদ-দারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের জানিয়েছেন; আতা বিন আস-সাইব তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বাখতারি আত-তাই থেকে, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) কুফার মসজিদে এক ব্যক্তির কাছে এলেন যখন সে কিচ্ছা শোনাচ্ছিল। তিনি বললেন: এ ব্যক্তি কে? তাঁরা বললেন: এক ব্যক্তি যে কথা বলছে (হাদিস বর্ণনা করছে)। এরপর অন্য একদিন তিনি তার কাছে এলেন এবং দেখলেন সে আবারও কিচ্ছা শোনাচ্ছে। তিনি বললেন: এ ব্যক্তি কে? তাঁরা বললেন: এক ব্যক্তি যে কথা বলছে। তখন তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞাসা করো; সে কি রহিতকারী (ناسخ) থেকে রহিত (منسوخ) পার্থক্য করতে জানে? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল; সে বলল:
না। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি বলছে: ‘আমাকে চেনো, আমাকে চেনো, আমি অমুক’। এরপর তিনি বললেন: তুমি আর কথা বলো না (হাদিস বর্ণনা করো না)।
[6]- ইসমাইল বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর বিন উবাইদুল্লাহ আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন আহমাদ আল-কাযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ—অর্থাৎ ইবনে ইব্রাহিম বিন আল-আলা আল-গানাবি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ বিন আবিল হাসান আবু ইয়াহইয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আবু ইয়াহইয়া, ঐ ব্যক্তি কে যাকে আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন 'আমাকে চেনো, আমাকে চেনো'? তখন তিনি বললেন: আমার মনে হয় আপনি চিনে গেছেন যে সেই ব্যক্তিটি আমিই ছিলাম। তিনি বললেন: আমি চিনতে পারিনি যে আপনিই সেই ব্যক্তি। তিনি বললেন: আমিই সেই ব্যক্তি, আলী (রা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি কুফায় কিচ্ছা শোনাচ্ছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: তুমি কে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فقلت: أنا أبو يحيى، قال: لست بأبي يحيى ولكنك اعرفوني، هل عرفت الناسخ من المنسوخ؟ قلت: لا. قال: هلكت وأهلكت، قال: فلم أعد بعد ذلك أقصّ على أحد.
- قال أحمد: وبنا عبد الصمد، قال: أخبرنا القاسم بن الفضل، قال حدّثنا علي بن زيد، عن أبي يحيى قال: أتاني علي عليه السلام وأنا أقص، قال: فذهبت أوسع له فقال: إني لم آتك لأجلس إليك، هل تعلم الناسخ من المنسوخ؟ قلت:
لا. قال: «هلكت وأهلكت»، ما اسمك؟ قلت: أبو يحيى. قال: أنت أبو اعرفوني.
[7] (1) - أخبرنا المبارك بن علي الصيرفي قال: أخبرنا أبو العباس أحمد بن الحسين بن قريش، قال: أخبرنا إبراهيم بن عمر البرمكي، قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن إسماعيل بن العباس الوراق قال: أخبرنا أبو بكر عبد الله بن أبي داود السجستاني، قال: حدّثنا إسحاق بن إبراهيم بن زيد، قال: حدّثنا حجاج، قال:
حدّثنا يزيد بن إبراهيم، قال: بنا إبراهيم بن العلاء الغنوي أبو هارون، عن سعيد بن أبي الحسن أنه لقي أبا يحيى المعرقب فقال له: من الذي قال له:
اعرفوني اعرفوني؟ قال: يا سعيد؛ إني أنا هو. قال: ما عرفت أنك هو، قال:
فإني أنا هو؛ مرّ بي عليّ رضي الله عنه وأنا أقص بالكوفة، فقال لي: من أنت؟
فقلت: أنا أبو يحيى. فقال: لست بأبي يحيى، ولكنك اعرفوني اعرفوني، ثم قال: هل علمت الناسخ من المنسوخ؟ قلت: لا. قال: «هلكت وأهلكت». قال:
فما عدت بعدها أقص على أحد.
- قال ابن أبي داود: وحدّثنا محمد بن عثمان العجلي، قال: حدّثنا أبو أسامة، عن هشام بن حسان، عن محمد بن سيرين، عن أبي عبيدة بن حذيفة قال: قال حذيفة: إنما يفتي الناس أحد ثلاثة، رجل قد علم ناسخ القرآن من منسوخه، وأمير لا يجد في ذلك بدا أو أحمق متكلف.
[8] (2) - أخبرنا إسماعيل بن أحمد، قال: أخبرنا عمر بن عبيد الله قال: أخبرنا علي بن محمد بن بشران، قال: أبنا إسحاق بن أحمد الكاذي قال: حدّثنا
--------------------------------------------
আমি বললাম: আমি আবু ইয়াহইয়া। তিনি বললেন: তুমি আবু ইয়াহইয়া নও, বরং তুমি হলে ‘আরিফুনি’ (আমাকে চেনো)। তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত আছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তুমি নিজে ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি আর কখনো কারো কাছে ওয়াজ বা কাহিনী বর্ণনা করিনি।
- আহমদ বলেন: আমাদের কাছে আবদুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসেম ইবনুল ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে যায়েদ আমাদের কাছে আবু ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে আসলেন যখন আমি ওয়াজ করছিলাম। তিনি বলেন: আমি তাঁর জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দিতে চাইলাম। তখন তিনি বললেন: আমি তোমার কাছে বসার জন্য আসিনি। তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানো? আমি বললাম:
না। তিনি বললেন: «তুমি নিজে ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ», তোমার নাম কী? আমি বললাম: আবু ইয়াহইয়া। তিনি বললেন: বরং তুমি হলে ‘আবু আরিফুনি’ (আমাকে চেনো-এর পিতা)।
[7] (১) - মুবারক ইবনে আলী আল-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে উমর আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আল-সিজিস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে যায়েদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
ইয়াযিদ ইবনে ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনুল আলা আল-গানাওয়ি আবু হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-মুআরকিবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: সেই ব্যক্তি কে যাকে বলা হয়েছিল:
‘আমাকে চেনো, আমাকে চেনো’? তিনি বললেন: হে সাঈদ! আমিই সেই ব্যক্তি। সাঈদ বললেন: আমি জানতাম না যে আপনিই সেই ব্যক্তি। তিনি বললেন:
হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি; আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) কুফায় আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি ওয়াজ করছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কে?
আমি বললাম: আমি আবু ইয়াহইয়া। তিনি বললেন: তুমি আবু ইয়াহইয়া নও, বরং তুমি হলে ‘আরিফুনি আরিফুনি’ (আমাকে চেনো, আমাকে চেনো)। এরপর তিনি বললেন: তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوখ) সম্পর্কে জেনেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: «তুমি নিজে ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ»। তিনি বললেন:
এরপর আমি আর কখনো কারো কাছে ওয়াজ করিনি।
- ইবনে আবি দাউদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ইজলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের কাছে হিশাম ইবনে হাসসান থেকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনে হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুজাইফা বলেছেন: মানুষের মাঝে কেবল তিন ধরনের ব্যক্তি ফতোয়া দেয়: এমন ব্যক্তি যে কোরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানে, অথবা এমন শাসক যার ফতোয়া দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, অথবা এমন নির্বোধ যে অসাধ্য সাধনের ভান করে।
[8] (২) - ইসমাইল ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আহমদ আল-কাযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عبد الله بن أحمد بن حنبل، قال: حدّثني أبي، قال: حدّثنا وكيع، عن سلمة بن نبيط، عن الضحاك قال: مرّ ابن عباس على قاص، قال: تعرف الناسخ من المنسوخ، قال: لا. قال: هلكت وأهلكت.
- قال أحمد: وحدّثنا عبد الرحمن بن مهدي قال: أخبرني سليم، عن ابن عون، عن محمد قال: جهدت أن أعلم الناسخ من المنسوخ فلم أعلمه.
وروى علي بن أبي طلحة عن ابن عباس في قوله تعالى: وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْراً كَثِيراً [البقرة: 269] قال: المعرفة بالقرآن ناسخه ومنسوخه، ومحكمه، ومتشابهه، ومقدمه، ومؤخره وحرامه وحلاله، وأمثاله (1).
…
الباب السابع باب أقسام المنسوخالمنسوخ من القرآن على ثلاثة أقسام:
فالقسم الأول: ما نسخ رسمه وحكمه[9] (2) - أخبرنا إسماعيل بن أحمد، قال: أخبرنا عمر بن عبيد الله البقال، قال: أخبرنا أبو الحسين بن بشران، قال: أخبرنا إسحاق بن أحمد الكاذي، قال:
حدّثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، قال: حدّثني أبي، قال: حدّثنا أبو اليمان، قال: أخبرنا شعيب، عن الزهري، قال: أخبرني أبو أمامة بن سهل بن حنيف أن رهطا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أخبروه؛ أنه قام رجل منهم من جوف الليل يريد أن
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি সালামাহ ইবনে নুবাইত থেকে, তিনি দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস জনৈক কিসসা-কাহিনী বর্ণনাকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানো? সে উত্তর দিল: না। তিনি বললেন: তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।
- আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইম ইবনে আউন থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানার জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছি কিন্তু আমি তা জানতে পারিনি।
আলী ইবনে আবু তালহা ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যাকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে নিশ্চয়ই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে" [আল-বাকারা: ২৬৯]। তিনি বলেন: (হিকমত হলো) কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান; এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), এর সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه), এর আগে উল্লেখিত ও পরে উল্লেখিত বিষয়সমূহ, এর হারাম ও হালাল এবং এর উদাহরণসমূহ (১)।
…
সপ্তম অধ্যায়: রহিত (منسوخ) এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদকুরআনের রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ তিন প্রকারের হয়ে থাকে:
প্রথম প্রকার: যার লিখন পদ্ধতি এবং বিধান উভয়ই রহিত (نسخ) হয়ে গেছে[৯] (২) - ইসমাঈল ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন ইবনে বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আহমাদ আল-কাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ইয়ামান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের একটি দল তাকে সংবাদ দিয়েছেন; তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি মাঝরাতে দাঁড়িয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يفتتح سورة كان قد وعاها، فلم يقدر منها على شيء إلا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ فأتى باب النبي صلى الله عليه وسلم حين أصبح يسأل النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك، وجاء آخر وآخر حتى اجتمعوا، فسأل بعضهم بعضا ما جمعهم، فأخبر بعضهم بعضا بشأن تلك السورة، ثم أذن لهم النبي صلى الله عليه وسلم، فأخبروه خبرهم، وسألوه عن السورة. فسكت ساعة، لا يرجع إليهم شيئا، ثم قال: «نسخت البارحة، فنسخت من صدورهم ومن كل شيء كانت فيه».
[10] (1) - أخبرنا المبارك بن علي، أخبرنا أحمد بن الحسين بن قريش، قال:
أخبرنا إبراهيم بن عمر البرمكي، قال: أبنا أبو بكر محمد بن إسماعيل الوراق، قال: حدّثنا أبو بكر عبد الله بن أبي داود، قال: حدّثنا سليمان بن داود بن حماد قال: أخبرنا ابن وهب، قال: أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب قال:
أخبرني أبو أمامة بن سهل بن حنيف أن رجلا كانت معه سورة فقام من الليل يقرؤها، فلم يقدر عليها قال: فأصبحوا فأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاجتمعوا عنده، فقال بعضهم: يا رسول الله؛ قمت البارحة لأقرأ سورة كذا وكذا فلم أقدر عليها، وقال الآخر: ما جئت يا رسول الله إلا لذلك، وقال الآخر: وأنا رسول الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنها نسخت البارحة».
- قال أبو بكر بن أبي داود: وحدّثنا محمد بن عبد الملك الدقيقي، قال:
أبنا عوان، قال: بنا حماد، قال: بنا علي بن زيد، عن أبي حرب بن أبي الأسود، عن أبيه، عن أبي موسى قال: نزلت سورة مثل براءة، ثم رفعت، فحفظ منها: «إن الله يؤيد الدين بأقوام لا خلاق لهم، ولو أن لابن آدم واديين من مال لتمنى واديا ثالثا، ولا يملأ جوف ابن آدم إلا التراب، ويتوب الله على من تاب» (2).
--------------------------------------------
তিনি একটি সূরা তিলাওয়াত শুরু করতে চাইলেন যা তিনি ইতিপূর্বে মুখস্থ করেছিলেন, কিন্তু 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' ব্যতীত এর কোনো অংশই তিনি স্মরণে আনতে পারলেন না। এরপর সকাল হলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসলেন এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য। সেখানে আরও একজন এবং আরও একজন এভাবে অনেকে সমবেত হলেন। তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করলেন কিসে তাদের একত্রিত করেছে, তখন তারা একে অপরকে সেই সূরার বিষয়টি জানালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুমতি দিলেন, তারা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন এবং সূরার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তাদের কোনো উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি বললেন: "এটি গত রাতে রহিত (نسخت) করা হয়েছে; ফলে এটি তাদের অন্তর থেকে এবং যে সমস্ত জিনিসের মধ্যে তা সংরক্ষিত ছিল সবকিছু থেকে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
[১০] (১) - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুবারক বিন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন হুসাইন বিন কুরাইশ, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন উমর আল-বারমাকি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন আবি দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন দাউদ বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন ইয়াজিদ, ইবনে শিহাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু উমামাহ বিন সাহল বিন হানিফ যে, এক ব্যক্তির একটি সূরা মুখস্থ ছিল, তিনি রাতে সেটি তিলাওয়াত করার জন্য দাঁড়ালেন কিন্তু তিনি তা পড়তে সক্ষম হলেন না। তিনি বলেন: সকাল হলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে সমবেত হলেন। তখন তাদের একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি গত রাতে অমুক অমুক সূরাটি পড়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু আমি তা পড়তে পারিনি। অন্যজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেবল একারণেই এসেছি। আরেকজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমিও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই এটি গত রাতে রহিত (نسخت) করা হয়েছে।"
- আবু বকর বিন আবি দাউদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকিকি, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন যায়েদ, আবু হারব বিন আবিল আসওয়াদ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি আবু মুসা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: সূরা বারাআত (আত-তাওবা)-এর সদৃশ একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছিল, যা পরবর্তীতে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্য হতে যা সংরক্ষিত আছে তা হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দীনকে এমন কিছু কওম দ্বারা সাহায্য করবেন যাদের (পরকালে) কোনো অংশ নেই। আর যদি আদমসন্তানের মালের দুটি উপত্যকা থাকে, তবে সে তৃতীয় উপত্যকার আকাঙ্ক্ষা করবে। আদমসন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা পূর্ণ হয় না। আর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن أبي داود: وحدّثنا محمد بن عثمان العجلي قال: حدّثنا أبو نعيم، قال: حدّثنا سيف، عن مجاهد قال: «إن الأحزاب كانت مثل البقرة أو أطول».
قال ابن داود: وحدّثنا عباد بن يعقوب قال: أخبرنا شريك، عن عاصم، عن زر، قال: قال أبي بن كعب: كيف تقرأ سورة الأحزاب؟ قلت: سبعين أو إحدى وسبعين آية. قال: والذي أحلف به لقد نزلت على محمد صلى الله عليه وسلم وإنها لتعادل البقرة أو تزيد عليها (1).
--------------------------------------------
ইবনে আবি দাউদ বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন উসমান আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাইফ বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই সূরা আল-আহজাব ছিল সূরা আল-বাকারার মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ।"
ইবনে দাউদ বলেছেন: আমাদের নিকট আব্বাদ বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারিক, আসিম থেকে, তিনি যির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উবাই বিন কাব বলেছেন: তুমি সূরা আল-আহজাব কীভাবে পাঠ করো? আমি বললাম: সত্তর বা একাত্তর আয়াত। তিনি বললেন: যার নামে আমি শপথ করছি, এটি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এটি সূরা আল-বাকারার সমতুল্য ছিল বা তার চেয়েও বেশি ছিল (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد روي عن ابن مسعود، رضي الله عنه، أنه قال: أنزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم آية فكتبتها في مصحفي فأصبحت ليلة فإذا الورقة بيضاء، فأخبرت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: «أما علمت أن تلك رفعت البارحة».
القسم الثاني: ما نسخ رسمه وبقي حكمه[11] (1) - أخبرنا ابن الحصين قال: أخبرنا ابن المذهب، قال: أخبرنا أحمد بن
--------------------------------------------
ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল, যা আমি আমার মাসহাফে লিখে রেখেছিলাম। একদিন সকালে উঠে দেখলাম পাতাটি সাদা হয়ে আছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিষয়টি জানালাম, তিনি বললেন: «তুমি কি জানো না যে, গত রাতে সেটি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে?»
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যার লিখন পদ্ধতি রহিত (نسخ) করা হয়েছে কিন্তু বিধান বলবৎ আছে[11] (1) - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মাযহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
جعفر قال: حدّثنا عبد الله بن أحمد، قال: حدّثني أبي، قال: حدّثني إسحاق بن عيسى الطباع، قال: حدّثنا مالك بن أنس، قال: حدّثني ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله، أن ابن عباس أخبره، قال: جلس عمر على المنبر فلما سكت المؤذّن قام، فأثنى على الله بما هو أهله، ثم قال: أما بعد؛ أيها الناس فإني قائل مقالة قد قدّر لي أن أقولها، لا أدري لعلها بين يدي أجلي، فمن وعاها وعقلها فليحدّث بها حيث انتهت به راحلته، ومن لم يعها؛ فلا أحل له أن يكذب عليّ. إن الله عز وجل بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق، وأنزل عليه الكتاب، فكان فيما أنزل عليه آية الرجم، فقرأناها ووعيناها وعقلناها، ورجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجمنا بعده، فأخشى إن طال بالناس زمان أن يقول قائل: لا نجد آية الرجم في كتاب الله فيضلوا بترك فريضة قد أنزلها الله، فالرجم في كتاب الله حق، على من زنى إذا أحصن من الرجال والنساء، إذا قامت البينة أو الحبل أو الاعتراف، ألا وإنا قد كنا نقرأ: «لا ترغبوا عن آبائكم فإنه كفر بكم أن ترغبوا عن آبائكم». أخرجاه في الصحيحين.
وفي رواية ابن عيينة عن الزهري: وأيم الله لولا أن يقول قائل: زاد عمر في كتاب الله، لكتبتها في القرآن.
[12] (1) - أخبرنا المبارك بن علي قال: أخبرنا أبو العباس بن قريش قال:
أخبرنا أبو إسحاق البرمكي، قال: أخبرنا محمد بن إسماعيل الوراق، قال: حدّثنا ابن أبي داود، قال: حدّثنا عيسى بن حماد قال: أخبرنا الليث، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، أن عمر بن الخطاب قال: «أيها الناس؛ قد سننت لكم السنن، وفرضت لكم الفرائض، وتركتكم على الواضحة، أن لا تضلوا بالناس يمينا وشمالا، وآية الرجم لا تضلوا عنها، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد رجم ورجمنا، وأنها قد أنزلت، وقرأناها: الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما البتة، ولولا أن يقال: زاد عمر في كتاب الله لكتبتها بيدي».
- قال ابن أبي داود: وحدّثنا موسى بن سفيان، قال: حدّثنا عبد الله يعني ابن الجهم، قال: حدّثنا عمرو بن أبي قيس، عن عاصم بن أبي النجود، عن زر؛ أن أبي بن كعب سأله: كم تقرأ هذه السورة؟ يعني الأحزاب. قال: إما ثلاثا
--------------------------------------------
جعفر বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) মিম্বরে বসলেন। যখন মুয়াজ্জিন নীরব হলেন, তিনি দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আম্মা বাদ; হে লোকসকল! আমি এমন কিছু কথা বলতে যাচ্ছি যা বলা আমার জন্য নির্ধারিত ছিল। আমি জানি না, হয়তো এটি আমার মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ের কথা। সুতরাং যে ব্যক্তি তা হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং বুঝতে পেরেছে, সে যেন তা সেখানে বর্ণনা করে যেখানে তার সওয়ারি তাকে নিয়ে পৌঁছে। আর যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করতে পারেনি, তার জন্য আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা আমি বৈধ মনে করি না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড)-এর আয়াতও ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি, তা হৃদয়ে ধারণ করেছি এবং অনুধাবন করেছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) রজম করেছেন এবং আমরাও তাঁর পর রজম করেছি। আমি আশঙ্কা করছি যে, যদি মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে কোনো বক্তা বলতে পারে: 'আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত খুঁজে পাচ্ছি না', ফলে তারা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ একটি ফরজ (আবশ্যিক বিধান) ত্যাগ করার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে রজম একটি সত্য বিধান, যা ব্যভিচারী বিবাহিত পুরুষ ও নারীর ওপর কার্যকর হবে, যখন সাক্ষ্য বা গর্ভাবস্থা অথবা স্বীকারোক্তি বিদ্যমান থাকে। জেনে রেখো, আমরা এটিও পাঠ করতাম: 'তোমরা তোমাদের পিতাদের থেকে বিমুখ হয়ো না, কেননা তোমাদের জন্য তোমাদের পিতাদের থেকে বিমুখ হওয়া কুফরি'।" এটি বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।
এবং ইবনে উইয়াইনাহ এর বর্ণনায় যুহরি থেকে বর্ণিত আছে: "আল্লাহর কসম! যদি কোনো বক্তা এই কথা বলার আশঙ্কা না থাকত যে, 'উমর আল্লাহর কিতাবে বৃদ্ধি করেছেন', তবে আমি অবশ্যই তা কুরআনে লিখে দিতাম।"
[12] (1) - আল-মুবারক ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস ইবনে কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
আবু ইসহাক আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে হাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি তোমাদের জন্য সুন্নাহ নির্ধারণ করেছি, ফরজসমূহ (আবশ্যিক বিধানাবলি) নির্দিষ্ট করেছি এবং তোমাদেরকে একটি পরিষ্কার পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যাতে তোমরা ডানে-বামে মানুষদের নিয়ে পথভ্রষ্ট না হও। আর রজমের আয়াতের ব্যাপারে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ো না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) রজম করেছেন এবং আমরাও রজম করেছি। আর নিশ্চয়ই তা অবতীর্ণ হয়েছিল এবং আমরা তা পাঠ করেছি: 'বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা (অর্থাৎ বিবাহিত পুরুষ ও নারী) যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করো।' যদি এই কথা বলার ভয় না থাকত যে, 'উমর আল্লাহর কিতাবে বৃদ্ধি করেছেন', তবে আমি তা নিজ হাতে লিখে দিতাম।"
- ইবনে আবি দাউদ বলেন: মূসা ইবনে সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল জাহম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আবি কায়স আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ থেকে এবং তিনি যির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাই ইবনে কাব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি এই সূরাটি কত (আয়াত) পাঠ করো?" অর্থাৎ সূরা আল-আহজাব। তিনি বললেন: "হয়তো তিয়াত্তর..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وسبعين وإما أربعا وسبعين، قال: «إن كنا لنقرأها كما نقرأ سورة البقرة، وإن كنا لنقرأ فيها: إذا زنى الشيخ والشيخة فارجموهما البتة نكالا من الله والله عزيز حكيم» (1).
- قال ابن أبي داود: وحدّثنا يعقوب بن سفيان، قال: حدّثنا سعيد بن أبي مريم قال: أخبرنا نافع بن عمر، قال: حدّثني أن ابن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة قال عمر بن الخطاب لعبد الرحمن بن عوف: ألم تجد فيما أنزله الله علينا: «أن جاهدوا كما جاهدتم أول مرة»، فإنا لا نجدها. قال: سقطت فيما أسقط من القرآن (2).
- قال: وحدّثنا محمد بن معمر، قال: حدّثنا أبو عاصم، عن ابن جريج، قال: حدّثني ابن أبي حميدة قال: أخبرتني حميدة، قال: أوصت لنا عائشة رضي الله عنها بمتاعها فكان في مصحفها: «إن الله وملائكته يصلّون على النّبي، والذين يصلون الصّفوف الأولى» (3).
[13] (4) - أخبرنا ابن الحصين قال: أخبرنا ابن المذهب، قال: وأخبرنا أحمد بن جعفر، قال: حدّثنا عبد الله بن أحمد، قال: حدّثني أبي قال: بنا
--------------------------------------------
এবং সত্তর অথবা চুয়াত্তর (আয়াত)। তিনি বললেন: «আমরা তা পাঠ করতাম যেমন আমরা সূরা আল-বাকারা পাঠ করি। আর আমরা তাতে পাঠ করতাম: যখন বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী ব্যভিচার করবে, তখন তোমরা তাদের অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা করো আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে, আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়» (১)।
- ইবনে আবি দাউদ বলেন: ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আবি মারিয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে ইবনে উমর আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি মুলাইকা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব আব্দুর রহমান বিন আউফকে বললেন: আল্লাহ আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে কি আপনি পাননি যে: «তোমরা জিহাদ করো যেমন তোমরা প্রথমবার জিহাদ করেছিলে», কারণ আমরা তো তা (এখন আর) পাচ্ছি না। তিনি বললেন: কোরআনের যা বাদ পড়েছে তার সাথেই এটি বাদ পড়েছে (سقطت) (২)।
- তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: ইবনে আবি حميدة (হুমাইদা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমাইদা আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাদের জন্য তার আসবাবপত্র অসিয়ত করেছিলেন, তার মাসহাফে ছিল: «নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন এবং যারা প্রথম কাতারে সালাত আদায় করে তাদের প্রতিও» (৩)।
[১৩] (৪) - ইবনুল হুসাইন আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মাযহাব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন জাফর আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (بنا)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাওয়াশিখুল কুরআন = নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু (তা: আল যাহওয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
عبد الصمد، قال: حدّثنا همام قال: حدّثنا إسحاق، عن أنس رضي الله عنه؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث حراما خاله في سبعين رجلا، فقتلوا يوم بئر معونة. فأنزل علينا فكان مما نقرأ، فنسخ؛ «أن بلغوا قومنا إنا لقينا ربنا فرضي عنا وأرضانا». انفرد بإخراجه البخاري.
فصلومما نسخ رسمه واختلف في بقاء حكمه.
[14] (1) - أخبرنا المبارك بن علي قال: أخبرنا أبو العباس بن قريش، قال:
أخبرنا أبو إسحاق البرمكي، قال: أخبرنا محمد بن إسماعيل الوراق قال: أبنا ابن أبي داود، قال: حدّثنا عبد الله بن سعد قال: حدّثني عمر، قال: حدّثني أبي، عن محمد بن إسحاق قال: حدّثني عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو، عن عمرة بنت عبد الرحمن، عن عائشة، رضي الله عنها، قالت: «لقد نزلت آية الرّجم ورضعات الكبير عشرا، وكانت في ورقة تحت سرير في بيتي، فلما اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم تشاغلنا بأمره، فدخلت دويبة لنا فأكلتها» تعني الشاة.
قال ابن أبي داود: حدّثنا أبو الطاهر، قال: أخبرنا ابن وهب، قال: أخبرني مالك، عن عبد الله بن أبي بكر، عن عمرة، عن عائشة قالت: كان فيما أنزل من القرآن عشر
رضعات معلومات يحرمن، ثم نسخت بخمس رضعات معلومات، فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي مما يقرأ من القرآن (2).
--------------------------------------------
আবদুস সামাদ বলেছেন: হাম্মাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর মামা হারামকে সত্তর জন লোকের সাথে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরা বি'রে মাউনার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। অতঃপর আমাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং আমরা যা পাঠ করতাম তার অন্তর্ভুক্ত ছিল, পরবর্তীতে তা রহিত (نسخ) হয়ে যায়; "তোমরা আমাদের কওমকে সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদের সন্তুষ্ট করেছেন।" এটি এককভাবে ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদএমন কিছু বিষয় যার লিখনরীতি রহিত (نسخ) হয়েছে এবং এর বিধানের স্থায়িত্ব সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।
[14] (1) - আল-মুবারক ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস ইবনে কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
আবু ইসহাক আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি উমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) এবং বয়স্কদের দশবার দুধপানের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল, যা আমার ঘরের খাটের নিচে একটি পাতায় রাখা ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং আমরা তাঁর সেবায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন আমাদের একটি গৃহপালিত পশু ঘরে প্রবেশ করে তা খেয়ে ফেলল» অর্থাৎ বকরি।
ইবনে আবি দাউদ বলেছেন: আবু তাহের আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর থেকে, তিনি উমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে দশবার
নির্দিষ্ট দুধপানের কথা ছিল যা (বিবাহ) হারাম করত। এরপর তা পাঁচবার নির্দিষ্ট দুধপান দ্বারা রহিত (نسخت) করা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করেন এবং তখনও তা কুরআনের অংশ হিসেবে পাঠ করা হতো (২)।
--------------------------------------------