(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: -)
اللؤلؤ المكنون في سيرة النبي المأمون   (موسى بن راشد العازمي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: اللؤلؤ المكنون في سيرة النبي المأمون «دراسة محققة للسيرة النبوية»

المؤلف: موسى بن راشد العازمي

تقريظ: محمد رواس قلعه جي، عثمان الخميس

الناشر: المكتبة العامرية - الكويت

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1438

আল-লু’লুউল মাকনুন ফি সিরাতিল নাবিয়্যিল মামুন   (মুসা বিন রাশিদ আল-আজিমি)

বিভাগ: সিরাত উন-নবী


গ্রন্থ: আল-লু’লুউল মাকনুন ফি সিরাতিল নাবিয়্যিল মামুন «নবীজির জীবনীর একটি গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ»

লেখক: মুসা বিন রাশিদ আল-আজিমি

অভিমত: মুহাম্মদ রাওয়াস কালাজি، উসমান আল-খামিস

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আমিরিয়া - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: -)
اللؤلؤ المكنون في سيرة النبي المأمون

«دراسة محققة للسيرة النبوية»

 

تأليف

موسى بن راشد العازمي

 

تقريظ

الدكتور محمد رواس قلعه جي

الشيخ عثمان الخميس

 

[الجزء الأول]
আল-লু’লু’ আল-মাকনূন ফী সীরাতিন নাবিয়্যিল মামুন

«সীরাত আন-নাবাবীয়ার একটি তাহকীককৃত গবেষণা»

 

রচনায়

মূসা বিন রাশিদ আল-আযমী

 

অভিমত

ডক্টর মুহাম্মাদ রাওয়াস কালা’জি

শায়খ উসমান আল-খামিস

 

[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৩)
اللُّؤْلُؤ الْمكنُون فِي سِيْرَة النَّبِيّ الْمَأْمُون

[1]
বিশ্বস্ত নবীর সীরাত বিষয়ে সুরক্ষিত মুক্তা

[১]
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة للمؤلف

فهرسة مكتبة الكويت الوطنية أثْنَاء النشر

 

239 العازمي، مُوسَى بن رَاشد.

اللُّؤْلُؤ الْمكنُون فِي سِيْرَة النَّبِيّ الْمَأْمُون: دراسة مُحَققَة للسيرة النَّبَوِيَّة (الْجُزْء الأول)

تأليف مُوسَى بن رَاشد العازمي - ط 1 - الكويت: مُوسَى بن رَاشد العازمي، 2011

ج 1 (618 ص)؛ 24 سم.

ردمك: 6 - 01 - 44 - 99966 - 978

1. السِّيرَة النَّبَوِيَّة … أ. العنوان

ردمك: 6 - 01 - 44 - 99966 - 978

رقم الْإِيدَاع: 240/ 2011

 

الطبعة الأولى

1432 هـ - 2011 م

 

تمّ طباعة الْكتاب على نَفَقَة عبد اللَّه الْعلي المطوع رحمه الله

 

الناشر

المكتبة العامرية

إعلان وطباعة وَنشر وتوزيع

الكويت - حَولي - شَارِع الْمثنى - مجمع البدري - مَحل رقم 13

تلِي فاكس: 0096522623880 - جوال: 0096599862197

الْبَرِيد الإلكتروني:

al_aamria@hotmail.com

manaar 1@yahoo.com

موقع المكتبة:

www.sites.google.com/site/amriabookstore
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত

প্রকাশনার সময় কুয়েত জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং

 

২৩৯ আল-আজমি, মুসা বিন রাশিদ।

আল-লুলু আল-মাকনুন ফি সিরাতিল নাবিয়্যিল মামুন: সীরাতে নববী সম্পর্কিত একটি তাহকীককৃত গবেষণা (প্রথম খণ্ড)

রচনা: মুসা বিন রাশিদ আল-আজমি - ১ম সংস্করণ - কুয়েত: মুসা বিন রাশিদ আল-আজমি, ২০১১

১ম খণ্ড (৬১৮ পৃষ্ঠা); ২৪ সে.মি.।

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৯৯৯৬৬ - ৪৪ - ০১ - ৬

১. সীরাতে নববী … ক. শিরোনাম

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৯৯৯৬৬ - ৪৪ - ০১ - ৬

জমাদান নম্বর: ২৪০/ ২০১১

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

 

আব্দুল্লাহ আল-আলী আল-মুতাউওয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর অর্থায়নে বইটি মুদ্রিত হয়েছে

 

প্রকাশক

আল-মাকতাবাতুল আমিরিয়া

বিজ্ঞাপন, মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

কুয়েত - হাওয়ালি - আল-মুসান্না স্ট্রিট - আল-বাদরি কমপ্লেক্স - দোকান নম্বর ১৩

টেলিফ্যাক্স: 0096522623880 - মোবাইল: 0096599862197

ই-মেইল:

al_aamria@hotmail.com

manaar 1@yahoo.com

গ্রন্থাগারের ওয়েবসাইট:

www.sites.google.com/site/amriabookstore
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৫)
دولة الكويت

وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية

السيد الفاضل / مدير إدارة الثقافة الإسلامية المحترم

السلام عليكم ورحمة اللَّه وبركاته،، وبعد

بالإشارة إلى الكتاب رقم (315) بشأن مراجعة: مادة بحث عدد (1)

الوارد بتاريخ: 3/ 3/ 2011

بعنوان: اللؤلو المكنون في سيرة النبي المأمون ج 1

إعداد: موسى بن راشد العازمي

نشر: المؤلف

بعد الإطلاع على النسخة المذكورة أعلاه ومراجعتها تبين أنها لا توجد بها ملاحظات بعد مراعاة الآتي:

صـ 42: خطأ لغوي حيث رفع المفعول به والصواب نصبه (لم يمس نسبه الشريف شيء من سفاح وأدران الجاهلية) برفع نسبه.

صـ 172: خطأ لغوي في النص الشعرى حيث جر المفعول به بالكسرة والصواب نصبها بالفتح (رمي المشايخ والوالدان باللمم) يجر المشايخ والصحيح (رمى المشايخ) بنصبها.

وتفضلوا بقبول فائق الاحترام،،

رئيس لجنة الكتب والمصنفات الفنية

الأصل بتوقيع

خليف مثيب الأذينة

الوكيل المساعد للشئون الثقافية

--------------------------------------------

(*) ملاحظة: تم تصحيح الخطأين الواردين في كتاب وزارة الأوقاف.
কুয়েত রাষ্ট্র

ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সম্মানিত জনাব/ পরিচালক, ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ

আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর-

গবেষণা উপকরণ সংখ্যা (১) এর পর্যালোচনার বিষয়ে পত্র নম্বর (৩১৫) এর বরাতে,

প্রাপ্তির তারিখ: ৩/ ৩/ ২০১১

শিরোনাম: আল-লুলুউল মাকনুন ফি সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন, ১ম খণ্ড

প্রস্তুতকারক: মুসা বিন রাশিদ আল-আজিমি

প্রকাশক: লেখক নিজেই

উপরে উল্লিখিত কপিটি দেখার এবং পর্যালোচনার পর এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সংশোধনের পর এতে আর কোনো বিশেষ মন্তব্য বা আপত্তি নেই:

পৃষ্ঠা ৪২: ভাষাগত ত্রুটি, যেখানে মাফউল বিহি-কে ‘রাফা’ দেওয়া হয়েছে, অথচ সঠিক হলো একে ‘নসব’ প্রদান করা (জাহিলিয়াতের কোনো ব্যভিচার বা কলুষতা তাঁর উচ্চ বংশীয় মর্যাদাকে স্পর্শ করেনি); এখানে ‘নাসাবাহু’ (বংশ) শব্দটিকে রাফা দেওয়া হয়েছে।

পৃষ্ঠা ১৭২: কাব্যিক চরণে ভাষাগত ত্রুটি, যেখানে মাফউল বিহি-কে কাসরা যোগে ‘জার’ দেওয়া হয়েছে, অথচ শুদ্ধ হলো ফাতহা যোগে ‘নসব’ প্রদান করা (প্রবীণ ও পিতামাতাকে উন্মাদনার অপবাদ দেওয়া হয়েছে); এখানে ‘আল-মাশায়িখ’ শব্দটিকে জার দেওয়া হয়েছে, অথচ সঠিক হলো ‘আল-মাশায়িখ’ শব্দটিকে নসব প্রদান করা।

আপনাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রইল।

বই ও শিল্পকর্ম কমিটির প্রধান

মূল কপিতে স্বাক্ষর করেছেন

খালিফ মুসিব আল-উযাইনা

সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহকারী সচিব

--------------------------------------------

(*) দ্রষ্টব্য: ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লিখিত ভুল দুটি সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[تقريظ الأستاذ الدكتور محمد رواس قلعه جي]

هذا عمل رائع فيه جهد مبارك، وتحقيق، واستشهاد جميل، وتوثيق هو محل الإعجاب.

 

أسأل الله لصانعه الثواب العظيم ورفقة صاحب السيرة في الجنة

 

أد محمد رواس قلعه جي
[প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রওয়াস কালাজির প্রশংসা বাণী]

এটি একটি চমৎকার কাজ যাতে রয়েছে বরকতময় প্রচেষ্টা, সূক্ষ্ম গবেষণা, সুন্দর উদ্ধৃতি এবং এমন প্রামাণিকতা যা প্রশংসার দাবিদার।

 

আমি আল্লাহর নিকট এর প্রস্তুতকারকের জন্য মহান প্রতিদান এবং জান্নাতে সীরাতের ব্যক্তিত্বের (রাসূলুল্লাহর) সাহচর্য প্রার্থনা করছি।

 

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রওয়াস কালাজি
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تقديم الشيخ عثمان بن محمد الخميس

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين، أما بعد:

فإن النظر في سيرة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم يبعث في النفس الرضى، ويؤنس القلب ويريحه، وكم يتمنّى القارئ لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم أن يجد كتابًا جامعًا، وفي الوقت ذاته حريصًا على صحة ما ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وقد أهداني أخي موسى بن راشد العازمي كتابه الموسوم بـ "اللؤلؤ المكنون في سيرة النبي المأمون" فألفيته ماتِعًا كاسمه، قد أتى فيه جامعه على كل جوانب سيرة النبي صلى الله عليه وسلم فيما أعلم، مع حرصه على صحة الروايات، وإن ذكر غيرها نبَّه على ذلك، ولقد أكثر من النقل عن علماء السير، وقد أحسن الانتقاء من دُرَرِهم، ولا أُخفي خبرًا إن قلت إني استفدت منه كثيرًا أثناء قراءتي كتابه فجزاه اللَّه خيرًا، ونفعه اللَّه ونفع به.

 

وكتبه

عثمان بن محمد الخميس

29/ 12/ 1430 هـ
শেখ উসমান বিন মুহাম্মাদ আল-খামিসের উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনী পর্যবেক্ষণ করা মনের মধ্যে সন্তুষ্টি সঞ্চার করে এবং অন্তরকে আশ্বস্ত ও আরাম প্রদান করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতের একজন পাঠক কতই না আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ পাবেন যা একই সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়গুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অতিশয় যত্নশীল হবে। আমার ভাই মূসা বিন রাশিদ আল-আযমী আমাকে তাঁর "আল-লু’লু’ আল-মাকনুন ফী সীরাতিন নাবি আল-মামুন" (বিশ্বস্ত নবীর জীবনীতে লুকায়িত মুক্তাসমূহ) নামক গ্রন্থটি উপহার দিয়েছেন। আমি একে এর নামের মতোই চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক পেয়েছি। আমার জানা মতে, এর সংকলক এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতের সকল দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, আর যদি তিনি অন্য কিছু উল্লেখ করে থাকেন তবে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি সীরাত বিশেষজ্ঞ আলেমদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং তাঁদের মণি-মুক্তাগুলো থেকে চমৎকার বিষয়সমূহ নির্বাচন করেছেন। আমি সত্য গোপন না করেই বলছি যে, তাঁর বইটি পড়ার সময় আমি নিজে তা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তাঁকে উপকৃত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করুন।

 

এটি লিখেছেন

উসমান বিন মুহাম্মাদ আল-খামিস

২৯/ ১২/ ১৪৩০ হিজরী
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقدمة

الحَمْدُ للَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ وَالصَّلَاةُ والسَّلامُ عَلَى سَيِّدِ المُرْسَلِينَ، وإمَامِ المُتَّقِينَ، ورَحْمَةِ اللَّهِ لِلْعَالَمِينَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أجْمَعِينَ، وعَلَى كُلِّ مَنْ سَارَ عَلَى مَنْهَجِهِ، واقْتَفَى أثَرَهُ إلَى يَوْمِ الدِّينِ، وبَعْدُ:

لَا يَخْفَى عَلَى أَيِّ مُسْلِمٍ مَا لِسِيرَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهَمِّيَّةٍ كُبْرَى فِي حَيَاةِ المُسْلِمِينَ، إنَّهَا اليَنْبُوعُ الصَّافِي لِطَالِبِ الفِقْهِ، والدَّلِيلُ الهَادِي لِبَاغِي الصَّلَاحِ، والمَثَلُ الأَعَلَى لِلْأُسْلُوبِ البَلِيغِ، والدُّسْتُورُ الشَّامِلُ لِكُلِّ شُعَبِ الخَيْرِ.

ولَقَدْ كانَ سَلَفُ هَذِهِ الأُمَّةِ يدْرِكُونَ مَا لِسِيرَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مِنْ آثارٍ حَسَنَةٍ في تَرْبِيَةِ النَّشْءِ، وتَنْشِئَةِ جِيلٍ صَالِحٍ لِحَمْلِ رِسَالَةِ الإِسْلَامِ، فَمِنْ ثَمَّ كَانُوا يَتَدَارَسُونَ السِّيرَةَ النَّبَوِيَّةَ ومَغَازِيَهُ صلى الله عليه وسلم.

ومَنْ دَرَسَ سِيرَتَهُ صلى الله عليه وسلم وأعْطَاهَا حَقَّهَا مِنَ النَّظَرِ والفِكْرِ والتَّحْقِيقِ رَأَى نَسَقًا مِنَ التَّارِيخِ العَجِيبِ، اسْتَعْلَى بِهِ رسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَالْفِئَةُ المُؤْمِنَةُ مَعَهُ عَلَى عَنَاصِرِ المَادَّةِ، وعَوَامِلِ الجَذْبِ الأَرْضِيِّ، وارْتَقَوْا بِالْإِنْسَانِيَّةِ إلَى دَرَجَاتٍ لَمْ تَشْهَدْهَا عَلَى امْتِدَادِ عُصُورِهَا وأزْمِنَتِهَا.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম এবং বিশ্বজগতের জন্য আল্লাহর রহমত আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর মানহাজ অনুসরণ করবে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের সকলের ওপর। অতঃপর:

কোনো মুসলিমের কাছেই এটি গোপন নয় যে, মুসলিমদের জীবনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের গুরুত্ব কত অপরিসীম। এটি ফিকহ (দীনের প্রজ্ঞা) অন্বেষণকারীর জন্য এক স্বচ্ছ প্রস্রবণ, সংশোধন প্রত্যাশীদের জন্য পথপ্রদর্শক দলিল, প্রাঞ্জল শৈলীর সর্বোচ্চ আদর্শ এবং কল্যাণের সকল শাখার জন্য এক পূর্ণাঙ্গ বিধান।

এই উম্মতের সালাফগণ উপলব্ধি করতেন নতুন প্রজন্মের লালন-পালনে এবং ইসলামের বাণী বহন করার উপযোগী একটি সৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের কী চমৎকার প্রভাব রয়েছে। আর তাই তাঁরা নববী সীরাত ও তাঁর যুদ্ধসমূহ (মাগাজি) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন করতেন।

যে ব্যক্তি তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করবে এবং একে পর্যবেক্ষণ, চিন্তা ও গবেষণার যথার্থ হক প্রদান করবে, সে ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ধারাক্রম দেখতে পাবে, যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথী মুমিন দলটি জড় উপাদান ও জাগতিক আকর্ষণসমূহের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছিলেন এবং তাঁরা মানবতাকে এমন এক উচ্চতায় উন্নীত করেছিলেন যা মানবজাতি তার দীর্ঘ ইতিহাস ও যুগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১২)
وبِمَا أنَّ السِّيرَةَ النَّبَوِيَّةَ جُزْءٌ مِنَ التَّارِيخِ، والتَّارِيخُ إنَّمَا يتناقَلُهُ النَّاسُ عَنْ طَرِيقِ الأَخْبَارِ والتَّحْدِيثِ والسَّمَاعِ، فَمِنَ الطَّبِيعِيِّ أنْ تَعْتَرِي هَذِهِ الأَخْبَارَ دَرَجَاتُ الصِّحَّةِ والضَّعْفِ، ومِنْ نِعَمِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ أنْ قَيَّضَ لَهَا عُلَمَاءَ حُفَّاظًا أفْذَاذًا يُمَيزونَ بَيْنَ الصَّحِيحِ والضَّعِيفِ مِنَ الأخْبَارِ، والغَثِّ والسَّمِينِ مِنَ الحَوَادِثِ المُخْتَلِفَةِ.

قالَ الحَافِظُ العِرَاقِيُّ (1) رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى في نَظْمِ السِّيرَةِ:

فَليعلم الطالب أن السِّيرا … تجمع ما صَحْ وما قد أُنكرا

وقَالَ الحَافِظُ الدِّمْيَاطِيّ (2) فِيمَا نَقَلَهُ عَنْهُ الحَافِظُ في الفَتْحِ:

وكُنْتُ قَدْ تَبِعْتُهُ -أي ابْنَ سَعْدٍ في طَبَقَاتِهِ- فَذَكَرْتُ ذَلِكَ في السِّيرَةِ (3)،

--------------------------------------------

(1) هوَ الإمامُ الحَافظُ زَيْنُ الدِّينِ عبدُ الرَّحِيمِ العِرَاقيُّ، وُلد سنة خمس وعشرين وسبعمائة للهجرة، واشتَغَلَ بالعُلُومِ، وأحَبَّ الحديثَ، فأكْثَرَ مِنَ السَّمَاعِ، وتقدَّم في فَنِّ الحدِيثِ بِحَيْثُ كان شُيُوخُ عَصْرِهِ يبالغُونَ في الثَّناء عليه بالمَعْرِفَةِ.

لهُ نَظْمٌ في السِّيرة النَّبوِيَّة في ألْفِ بَيْتٍ.

تُوُفِّي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى سنة ست وثمانمائة للهجرة. انظر شذرات الذهب (9/ 87).

(2) هوَ الإمامُ الحافِظُ الحُجَّةُ عبدُ المُؤْمِنِ بنُ خَلَفٍ الدِّمْيَاطِي الشَّافعي، وُلدَ في آخر سنة ثلاث عشرة وستمائة للهجرة، وتَفَقَّهَ بِدِمْياطَ وبَرَع، ثم طلبَ الحديث، وكتب العَالِي والنَّازل، وجمعَ فأوْعَى، وكان صَادقًا حافظًا متقنًا، توفي سنة خمس وسبعمائة للهجرة. له مُصنَّفاتٌ نَفِيسَةٌ، منها: "السِّيرة النَّبوِيَّة"، في مجلدٍ، وغَيرها. انظر تذكرة الحفاظ للحافظ الذهبي (4/ 1477).

(3) الذي ذَكَرَهُ هوَ أنَّ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كان في غزوَةِ حُنين على بَغْلَته المعروفة باسم: "دُلْدُلْ"، وهو قولُ ابنِ سعدٍ في طبقاته، والصَّحيح أنَّ البَغْلة التي كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم =
যেহেতু সীরাতুন নবী ইতিহাসের একটি অংশ, আর ইতিহাস মানুষ সাধারণত সংবাদ, বর্ণনা এবং শ্রুতির মাধ্যমেই পরস্পরের মাঝে আদান-প্রদান করে থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এসব সংবাদের মধ্যে বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিভিন্ন স্তর থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আর এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি তাদের জন্য এমন কিছু অনন্য হাফেয আলেম নির্ধারণ করেছেন, যারা সংবাদের মধ্য থেকে বিশুদ্ধ ও দুর্বল এবং বিভিন্ন ঘটনার মধ্য থেকে অসার ও সারগর্ভ বিষয়গুলোকে পৃথক করতে পারেন।

হাফেয ইরাকী (১) (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর সীরাত বিষয়ক পদ্যে বলেন:

শিক্ষার্থীর জেনে রাখা উচিত যে, সীরাতের গ্রন্থসমূহ... বিশুদ্ধ এবং যা অস্বীকৃত (মুনকার) উভয়টিই একত্রিত করে থাকে।

এবং হাফেয দিময়াতি (২) থেকে হাফেয (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'-তে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেন:

আমি তাকে—অর্থাৎ ইবনে সাদকে তাঁর 'তাবাকাত'-এ—অনুসরণ করেছিলাম, ফলে আমি সীরাত গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছি (৩),

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম হাফেয যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম আল-ইরাকী। তিনি হিজরী ৭২৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, ফলে তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং হাদিসশাস্ত্রে এমন পারদর্শিতা অর্জন করেন যে, তাঁর সমসাময়িক শিক্ষকগণ তাঁর জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন।

সীরাতুন নবীর উপর তাঁর এক হাজার পংক্তির একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

তিনি হিজরী ৮০৬ সনে ইন্তেকাল করেন (রহিমাহুল্লাহু তাআলা)। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৯/ ৮৭)।

(২) তিনি হলেন ইমাম হাফেয হুজ্জাত আবদুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিময়াতি আশ-শাফিয়ী। তিনি হিজরী ৬১৩ সনের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিময়াতে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর তিনি হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং উচ্চ ও নিম্ন উভয় স্তরের সনদ সংগ্রহ করেন। তিনি ইলম সংকলনে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, হাফেয এবং সূক্ষ্মদর্শী। তিনি হিজরী ৭০৫ সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর কিছু মূল্যবান রচনা রয়েছে, যার মধ্যে এক খণ্ডে রচিত "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ" অন্যতম। দেখুন: হাফেয যাহাবীর 'তাযকিরাতুল হুফফায' (৪/ ১৪৭৭)।

(৩) তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুনাইন যুদ্ধে তাঁর 'দুলদুল' নামক পরিচিত খচ্চরের পিঠে সওয়ার ছিলেন। এটি ইবনে সাদের তাঁর 'তাবাকাত'-এর বক্তব্য। তবে সঠিক মত হলো, যে খচ্চরটিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ার ছিলেন তা হলো =
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكُنْتُ حِينَئِذٍ سِيَرِيًّا مَحْضًا، وكَانَ يَنْبَغِي لَنَا أنْ نَذْكُرَ الخِلَافَ.

وعَلَّقَ الحَافِظُ في الفَتْحِ عَلَى كَلَامِ الحَافِظِ الدِّمْيَاطِيِّ بِقَوْله:

ودَلَّ قَوْلُ الدِّمْيَاطِيِّ أنَّهُ كانَ يَعْتَقِدُ الرُّجُوعَ عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا وَافَقَ فِيهِ أهْلَ السِّيَرِ، وخَالَفَ الأَحَادِيثَ الصَّحِيحَةَ، وأنَّ ذَلِكَ كانَ مِنْهُ قَبْلَ أنْ يتضَلَّعَ (1) مِنَ الأحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ، ولخُرُوجِ نُسَخٍ مِنْ كِتَابِهِ وانْتِشَاره لَمْ يَتَمَكَنْ مِنْ تَغْيِيرِهِ (2).

وقَدْ تَتَبَّعْتُ السِّيرَةَ النَّبَوِيَّةَ قُرَابَةَ العَشْرِ سَنَوَاتٍ، وقَرَأْتُ خِلَالَهَا كَثِيرًا مِنْ كتبِ السِّيَرِ والمَغَازِي، وكُتُبِ الحَدِيثِ النَّبَوِيِّ، حتَّى مَيَّزْتُ كَثِيرًا مِنَ الحَوَادِثِ الصَّحِيحَةِ والحَسَنَةِ عَنِ الضَّعِيفَةِ، وحَرِصْتُ كُلَّ الحِرْصِ عَلَى بَيَانِ مَعْنَى الكَلِمَاتِ التِي قَدْ يَصْعُبُ فَهْمُهَا مِنْ كتبِ اللُّغَةِ المُعْتَمَدَةِ، كَلِسَانِ العَرَبِ، والقَامُوسِ المُحِيطِ، وأمَّا الأحَادِيثُ النَّبَوِيَّةُ، وكَذَلِكَ الحَوَادِثُ التَّارِيخِيَّةُ التِي ذُكِرَتْ في السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ كانَ حُكْمِي عَلَيْهَا مِنْ نَاحِيَةِ الصِّحَّةِ والضَّعْفِ هُوَ مِنْ خِلَالِ حُكْمِ العُلَمَاءِ عَلَى هَذه الأحَادِيثِ والحَوَادِثِ، وبَعْضُهَا لَمْ أَجِدْ مَنْ حَكَمَ عَلَيْهَا فترَكْتُهَا عَلَى حَالِهَا، وعَزَوْتُهَا إلَى مَصْدَرِهَا.

--------------------------------------------

= عليها في غزوة حُنين هي البغلةُ التي أهْدَاهَا لَهُ فَرْوَةُ بنُ نُفَاثَةَ الجُذَامِيُّ، كما روى ذلك الإِمام مسلم في صحيحه -رقم الحديث (1775) (76)، وسيأتي تفصيل ذلك في غَزْوَة حُنَين إن شاء اللَّه.

(1) يُقال: فُلان مُضْطَلِعٌ بهذَا الأمْرِ: أي قَوِيٌ عَليه. انظر لسان العرب (8/ 87).

(2) انظر فتح الباري (8/ 348).
সেই সময় আমি ছিলাম সীরাত শাস্ত্রের একনিষ্ঠ অনুসারী, আর আমাদের জন্য উচিত ছিল মতভেদগুলো উল্লেখ করা।

এবং হাফিজ (ইবনে হাজার) ‘ফাতহুল বারী’তে হাফিজ দিময়াতির কথার ওপর মন্তব্য করে বলেছেন:

দিময়াতির কথা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি সীরাত লেখকদের সাথে একমত হয়ে যে বিষয়গুলোতে সহীহ হাদিসের বিরোধিতা করেছিলেন, সেগুলো থেকে ফিরে আসা বা সংশোধনের সংকল্প রাখতেন। আর এটি ছিল সহীহ হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী (১) হওয়ার পূর্বের কথা। কিন্তু তার কিতাবের পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশিত হওয়া এবং তা ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি সেগুলো পরিবর্তন করতে সক্ষম হননি (২)।

আমি প্রায় দশ বছর যাবৎ সীরাতে নববীর অনুসন্ধান করেছি এবং এই সময়ে আমি সীরাত ও মাগাজির প্রচুর কিতাব এবং হাদিসের কিতাবসমূহ পাঠ করেছি, যতক্ষণ না আমি অনেক সহীহ ও হাসান ঘটনাকে যয়ীফ বর্ণনা থেকে পৃথক করতে পেরেছি। আমি নির্ভরযোগ্য অভিধান যেমন লিসানুল আরব ও কামুসুল মুহিত থেকে কঠিন শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলাম। আর সীরাতে নববীতে উল্লেখিত হাদিসসমূহ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে আমার শুদ্ধাশুদ্ধির সিদ্ধান্ত ছিল উক্ত হাদিস ও ঘটনাগুলোর ওপর আলেমদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। যেগুলোর ব্যাপারে কোনো আলেমকে সিদ্ধান্ত নিতে দেখিনি, সেগুলো আমি স্বাবস্থায় রেখে দিয়েছি এবং সেগুলোকে তার মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করেছি।

--------------------------------------------

= হুনাইন যুদ্ধে তিনি যার ওপর সওয়ার ছিলেন তা হলো সেই খচ্চর যা ফারওয়া বিন নুফাসা আল-জুজামি তাকে উপহার দিয়েছিলেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—হাদিস নম্বর (১৭৭৫) (৭৬)। ইনশাআল্লাহ হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনায় এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

(১) বলা হয়: অমুক ব্যক্তি এই বিষয়ে পারদর্শী; অর্থাৎ তিনি এতে শক্তিশালী। দেখুন: লিসানুল আরব (৮/ ৮৭)।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী (৮/ ৩৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولَا يَسَعُنِي في هَذَا المَقَامِ إلَّا أنْ أشْكُرَ كُلًا مِنْ:

1 - الدُّكْتُور مُحَمَّد الشَّطِّي.

2 - الدُّكْتُور خَالِد الصَّافِي.

3 - الشَّيْخ سَالِم خَلِيفَة الهَوَّاش.

4 - الأُسْتَاذ مُحَمَّد كُوهية.

5 - الأَخ يَزِيد القَطَّان.

6 - الأَخ مُهَنَّد الخَارْجِي.

عَلَى مَا قَدَّمُوهُ لِي مِنْ مُلَاحَظَاتٍ هَامَّةٍ، وأسْأَلُ اللَّه تَعَالَى أنْ يَجْعَلَ عَمَلِي هَذَا خَالِصًا لِوَجْهِهِ الكَرِيمِ، وأنْ لَا يَحْرِمَنِي الأَجْرَ، وأنْ يَنْفَعَ بِهِ عَامَّةَ المُسْلِمِينَ، إنَّهُ سبحانه وتعالى عَلَى ذَلِكَ قَدِيرٌ، وبِالْإِجَابَةِ جَدِيرٌ، وآخِرُ دَعْوَانَا أنِ الحَمْدُ للَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، وصَلَّى اللَّهُ وسَلَّمَ وبَارَكَ عَلَى نَبِينا مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِهِ وصَحْبِهِ أجْمَعِينَ.

وكتبه

موسى بن راشد العازمي

12 ربيع الآخر 1431 هـ

28/ 3/ 2010

الكويت
এই পর্যায়ে আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না, যারা হলেন:

১ - ডক্টর মুহাম্মদ আশ-শাত্তি।

২ - ডক্টর খালিদ আস-সাফি।

৩ - শেখ সালেম খলিফা আল-হাওওয়াশ।

৪ - উস্তাদ মুহাম্মদ কুহিয়া।

৫ - ভাই ইয়াযিদ আল-কাত্তান।

৬ - ভাই মুহান্নাদ আল-খারজি।

তারা আমাকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন সেজন্য। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই আমলটিকে কেবলমাত্র তাঁরই মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন, এবং আমাকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত না করেন, আর এর দ্বারা সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং দোয়ায় সাড়া দেওয়ার যোগ্য। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

এটি লিখেছেন

মুসা বিন রাশিদ আল-আযমি

১২ রবিউস সানি ১৪৩১ হিজরি

২৮/ ০৩/ ২০১০

কুয়েত
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌قَالُوا في أَهَمِّيَّةِ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ

قالَ زَيْنُ العَابِدِينَ عَلِيُّ بنُ الحُسَيْنِ بنِ عَلِيِّ بنِ أبِي طَالِبٍ رضي الله عنهم أجْمَعِينَ: كُنَّا نُعَلَّمُ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَرَايَاهُ، كَمَا نُعَلَّمُ السُّورَةَ مِنَ القُرْآنِ (1).

وقَالَ الإمَامُ الزُّهْرِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: في عِلْمِ المَغَازِي عِلْمُ الدُّنْيَا والآخِرَة (1).

وقَالَ إسْمَاعِيلُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ سَعْدِ بنِ أبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنهم أجْمَعِينَ: كانَ أبِي يُعَلِّمُنَا مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ويَقُولُ: يَا بَنِيَّ هَذِهِ مَآثِرُ آبَائِكُمْ، فَلَا تُضَيِّعُوا ذِكْرَهَا (1).

وقَالَ الخَطِيبُ البَغْدَادِيُّ رحمه الله: تَتَعَلَّقُ بِمَغَازِي رسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أحْكَامٌ كَثِيرَةٌ، فَيَجِبُ كَتْبُهَا والحِفْظُ لَهَا (1).

وقَالَ الإِمَامُ ابْنُ الجَوْزِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: وأصْلُ الأُصُولِ العِلْمُ، وأنْفَعُ العُلُومِ النَّظَرُ في سِيَرِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وأصْحَابِهِ، قالَ اللَّهُ تَعَالَى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} (2).

--------------------------------------------

(1) انظر الجامع لأخلاق الرواي وآداب السامع (2/ 287 - 288) للخطيب البغدادي.

(2) سورة الأنعام آية (90) -وانظر كلام ابن الجوزي في صيد الخاطر ص 127.
নবীজীর সীরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

যয়নুল আবেদিন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) বলেন: "আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযান ও সেনাদল প্রেরণের ইতিহাস শেখানো হতো, যেমনভাবে কুরআনের সূরা শেখানো হতো।" (১)

এবং ইমাম যুহরী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: "যুদ্ধাভিযানের ইলমের (ইতিহাসের) মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের ইলম রয়েছে।" (১)

এবং ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) বলেন: "আমার পিতা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানের কাহিনী শেখাতেন এবং বলতেন: হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, এগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষদের গৌরবগাথা, সুতরাং এগুলোর চর্চা বা স্মরণকে তোমরা নষ্ট করো না।" (১)

এবং খতীব বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানের সাথে অনেক আহকাম (বিধি-বিধান) সংশ্লিষ্ট, তাই এগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং মুখস্থ রাখা আবশ্যক।" (১)

এবং ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: "সকল মূলের মূল হলো জ্ঞান, আর সবচেয়ে উপকারী জ্ঞান হলো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনীর পর্যালোচনা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন, সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন।}" (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: খতীব বাগদাদীর 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' (২/ ২৮৭-২৮৮)।

(২) সূরা আল-আন'আম, আয়াত (৯০) - এবং ইবনুল জাওযীর বক্তব্য দেখুন 'সয়দুল খাতির' পৃষ্ঠা ১২৭-এ।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقالَ الشَّيْخُ عَلِي الطَّنْطَاوِي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: يَجِبُ عَلَى كُلِّ رَبِّ أُسْرَةٍ أَنْ يَكُونَ في بَيْتهِ كِتَابٌ جَامِعٌ مِنْ كتبِ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ، وأنْ يَقْرَأَ فِيهِ دَائِمًا، وأَنْ يتلُوَ مِنْهُ عَلَى أهْلِهِ وأوْلَادِهِ، وأنْ يَجْعَلَ لِذَلِكَ سَاعَةً كُلَّ يَوْمٍ، لَيَنْشَؤُوا عَلَى مَعْرِفَةِ سِيرَةِ الرَّسُولِ الأعْظَمِ صلى الله عليه وسلم، فَإِنَّ سِيرَتَهُ اليَنْبُوعُ الصَّافِي لِطَالِبِ الفِقْهِ، والدَّلِيلُ الهَادِي لِبَاغِي الصَّلَاحِ، والمَثَلُ الأعَلَى لِلْأُسْلُوبِ البَلِيغِ، والدُّسْتُورُ الشَّامِلِ لِكُلِّ شُعَبِ الخَيْرِ (1).

وقالَ أيْضًا الشَّيْخُ عَلِي رحمه الله: إنَّ في السِّيرَةِ يَا أيُّهَا الإخْوَانُ قِصَصًا كَامِلَةً، فِيهَا كُلُّ مَا يَشْتَرِطُ أهْلُ القَصَصِ مِنَ العَنَاصِرِ الفَنِّيَّةِ، وفِيهَا فَوْقَ ذَلِكَ الصِّدْقُ، وفِيهَا العِبْرَةُ (2).

وقالَ الشَّيْخُ أبُو الحَسَنِ النَّدْوِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: إنَّ السِّيرَةَ النَّبَوِيَّةَ وسِيَرَ الصَّحَابَةِ وتَارِيخَهُمْ رضي الله عنهم مِنْ أقْوَى مَصَادِرِ القُوَّةِ الإيمَانِيَّةِ والعَاطِفَةِ الدِّينيَّةِ، التِي لا تَزَالُ هَذهِ الأمَّةُ والدَّعَوَاتُ الدِّينِيَّةُ تَقْتَبِسُ مِنْهَا شُعْلَةَ الإيمَانِ وتَشْتَعِلُ بهَا مَجَامِرُ القُلُوبِ، التِي يُسْرعُ انْطِفَاؤُهَا وخُمُودُهَا في مَهَبِّ الرِّيَاحِ والعَوَاصِفِ المَادِيَّةِ، والتِي إذَا انْطَفَأَتْ فَقَدَتْ هَذ الأمَّةُ قُوَّتَهَا ومِيزَتَهَا وتَأثِيرَهَا وأصْبَحَتْ جُثَّةً هَامِدَةً تَحْمِلُهَا الحَيَاةُ عَلَى أكْتَافِهَا (3).

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب رجال من التاريخ للشيخ علي الطنطاوي ص 21.

(2) انظر ذكريات الشيخ علي الطنطاوي رحمه الله (6/ 127).

(3) انظر كتاب حياة الصحابة للشيخ الإِمام العلامة محمد يوسف الكاندهلوي (1/ 15).
এবং শায়খ আলী তানতাভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: প্রত্যেক পরিবারের কর্তার ওপর এটি আবশ্যক যে, তার ঘরে যেন সীরাতে নববীর একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব থাকে, এবং তিনি যেন সর্বদা তা পাঠ করেন, আর তাঁর পরিবার ও সন্তানদের সামনে তা পড়ে শোনান। তিনি যেন এর জন্য প্রতিদিন একটি সময় নির্ধারণ করেন, যাতে তারা সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে বেড়ে উঠতে পারে। কারণ তাঁর সীরাত হলো ফিকহ অন্বেষণকারীর জন্য এক নির্মল ঝরনাধারা, সংশোধনকামী ব্যক্তির জন্য সঠিক পথপ্রদর্শক, প্রাঞ্জল শৈলীর এক শ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং কল্যাণের সকল শাখার জন্য এক পূর্ণাঙ্গ সংবিধান (১)।

শায়খ আলী (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: হে ভাইয়েরা, সীরাতের মধ্যে এমন সব পূর্ণাঙ্গ কাহিনী রয়েছে, যাতে সাহিত্যিকদের শর্তানুযায়ী সমস্ত শৈল্পিক উপাদান বিদ্যমান। তদুপরি এতে রয়েছে সত্যনিষ্ঠতা এবং এতে রয়েছে শিক্ষা (২)।

শায়খ আবুল হাসান নদভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: নিশ্চয়ই সীরাতে নববী এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনী ও তাঁদের ইতিহাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঈমানি শক্তি ও দ্বীনি আবেগের শক্তিশালী উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেখান থেকে এই উম্মত ও দ্বীনি দাওয়াতসমূহ সর্বদা ঈমানের মশাল গ্রহণ করে এবং যার মাধ্যমে হৃদয়ের সেই ধুনুচিগুলো প্রজ্জ্বলিত হয় যা বস্তুবাদী হাওয়া ও ঝঞ্ঝাবায়ুর ঝাপটায় দ্রুত নিভে যাওয়ার ও স্তিমিত হওয়ার উপক্রম হয়। আর যখন তা নিভে যায়, তখন এই উম্মত তার শক্তি, বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব হারিয়ে ফেলে এবং একটি নির্জীব লাশে পরিণত হয় যাকে জীবন তার কাঁধে বহন করে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শায়খ আলী তানতাভী রচিত 'রিজালুম মিনাত তারিখ' গ্রন্থ, পৃষ্ঠা: ২১।

(২) দেখুন: শায়খ আলী তানতাভীর (রহিমাহুল্লাহ) 'যিকরিয়াত' (স্মৃতিচারণ) (৬/ ১২৭)।

(৩) দেখুন: শায়খ ইমাম আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলবী রচিত 'হায়াতুস সাহাবা' গ্রন্থ (১/ ১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقَالَ الدُّكْتُور مُحَمَّد أبُو شَهْبَه رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: إنَّ خَيْرَ مَا يَتَدَارَسُهُ المُسْلِمُونَ، ولَا سِيَّمَا النَّاشِئُونَ والمُتَعَلِّمُونَ، ويُعْنَى بِهِ البَاحِثُونَ والكاتِبُونَ دِرَاسَةُ السِّيرَةِ المُحَمَّدِيَّةِ، إذْ هِيَ خَيْرُ مُعَلِّمٍ وَمُثَقِّفٍ، ومُهَذِّبٍ، ومُؤَدِّبٍ، وآصَلُ مَدْرَسَةٍ تَخَرَّجَ فِيهَا الرَّعِيلُ الأوَّلُ مِنَ المُسْلِمِينَ والمُسْلِمَاتِ، الذِينَ قَلَّمَا تَجُودُ الدُّنْيَا بِأَمْثَالِهِمْ، فَفِيهَا ما يَنْشُدُهُ المُسْلِمُ، وطَالِبُ الكَمَالِ مِنْ دِينٍ، ودُنْيَا، وإيمَانٍ واعْتِقَادٍ، وعِلْمٍ، وعَمَلٍ، وآدَابٍ وأخْلَاقٍ، وسِيَاسَةٍ وكَيَاسَةٍ (1)، وإمَامَةٍ وقِيَادَةٍ، وعَدْلٍ، ورَحْمَةٍ، وبُطُولَةٍ وكِفَاحٍ، وجِهَادٍ واسْتِشْهَادٍ في سَبِيلِ العَقِيدَةِ والشَّرِيعَةِ، والمُثُلِ الإنْسَانِيَّةِ الرَّفِيعَةِ، والقِيَمِ الخُلُقِيَّةِ الفَاضِلَةِ.

ولقدْ كَانَتِ السِّيرَةُ النَّبَوِيَّةُ مَدْرَسَةً تَخَرَّجَ فِيهَا أمْثَلُ النَّمَاذِجِ البَشَرِيَّةِ، وهُمُ الصَّحَابَةُ الكِرَامُ رضي الله عنهم أجْمَعِينَ، فكَانَ مِنْهُمُ: الخَلِيفَةُ الرَّاشِدُ، والقَائِدُ المُحَنَّكُ، والبَطَلُ المِغْوَارُ، والسِّيَاسِيُّ الدَّاهِيَةُ، والعَبْقَرِيُّ المُلْهَمُ، والعَالِمُ العَامِلُ، والفَقِيهُ البَارعُ، والعَاقِلُ الحَازِمُ، والحَكِيمُ الذِي تَتَفَجَّرُ مِنْ قَلْبِهِ يَنَابِيعُ العِلْمِ والحِكْمَةِ، والتَّاجِرُ الذِي يُحَوِّلُ رِمَالَ الصَّحْرَاءِ ذَهَبًا، والزَّارعُ والصَّانِعُ اللَّذَانِ يَرَيَانِ في العَمَلِ عِبَادَةً، والكَادِحُ الذِي يَرَى في الاحْتِطَابِ عَمَلًا شَرِيفًا يرَفَّعُ بِهِ عَنِ التَّكَفُّفِ والتَّسَوُّلِ، والغَنِيُّ الشَّاكِرُ الذِي يَرَى نَفْسَهُ مُسْتَخْلَفًا في هَذَا المَالِ يُنْفِقُهُ في الخَيْرِ والمَصْلَحَةِ العَامَّةِ، والفَقِيرُ الصَّابِرُ الذِي يَحْسَبُهُ مَنْ لَا يَعْلَمُ حَالهُ غَنِيًّا مِنَ التَّعَفُّفِ، وكُلُّ ذَلِكَ كَانَ مِنْ ثَمَرَاتِ الإيمَانِ باللَّهِ، وبِرَسُولهِ صلى الله عليه وسلم،

--------------------------------------------

(1) الكَيْسُ: بفتح الكاف وسكون الياء: هو العَقْلُ. انظر النهاية (4/ 188).
ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: নিশ্চয়ই মুসলিমদের জন্য—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য—পারস্পরিক অধ্যয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় এবং গবেষক ও লেখকদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদানের বিষয় হলো সীরাতে মুহাম্মাদিয়ার অধ্যয়ন। কেননা তা হলো শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সংস্কৃতিদানকারী, চরিত্র সংশোধনকারী ও শিষ্টাচার প্রদানকারী। এটি এমন এক সুদৃঢ় বিদ্যাপীঠ যেখান থেকে মুসলিম নর-নারীদের প্রথম অগ্রবর্তী দলটি তৈরি হয়েছে, যাঁদের দৃষ্টান্ত দুনিয়া খুব কমই প্রত্যক্ষ করে। এর মধ্যেই রয়েছে একজন মুসলিম ও পূর্ণতাকামী ব্যক্তির অভীষ্ট লক্ষ্য—দ্বীন ও দুনিয়া, ঈমান ও আকিদা, ইলম ও আমল, আদব ও আখলাক, রাজনীতি ও প্রজ্ঞা (১), ইমামত ও নেতৃত্ব, ইনসাফ ও রহমত এবং বীরত্ব ও সংগ্রামের পাথেয়। আর এতেই বিদ্যমান আকিদা, শরীয়ত, উচ্চতর মানবিক আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ নৈতিক মূল্যবোধের পথে জিহাদ ও শাহাদাতের প্রেরণা।

নিশ্চয়ই সীরাতে নববী এমন এক বিদ্যাপীঠ ছিল যেখান থেকে মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শসমূহ তৈরি হয়েছে, আর তাঁরা হলেন সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: ন্যায়নিষ্ঠ খলিফা, অভিজ্ঞ সেনাপতি, নির্ভীক বীর, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, ইলহামপ্রাপ্ত মেধাবী ব্যক্তিত্ব, আমলকারী আলেম, সুদক্ষ ফকিহ, দৃঢ়প্রত্যয়ী বুদ্ধিমান ব্যক্তি এবং এমন হিকমতওয়ালা মানুষ যাঁর অন্তর থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঝরনাধারা প্রবাহিত হতো। আরও ছিলেন এমন ব্যবসায়ী যিনি মরুভূমির বালুকে স্বর্ণে রূপান্তরিত করতেন, এমন কৃষক ও কারিগর যাঁরা পরিশ্রমকে ইবাদত মনে করতেন এবং এমন কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি যিনি কাঠ কুড়ানোকে এক সম্মানজনক পেশা মনে করতেন যা তাঁকে মানুষের কাছে হাত পাতা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিমুখ রাখত। আরও ছিলেন এমন কৃতজ্ঞ ধনী যিনি নিজেকে এই সম্পদের প্রতিনিধি মনে করতেন এবং তা জনকল্যাণ ও ভালো কাজে ব্যয় করতেন, আর এমন ধৈর্যশীল অভাবী ব্যক্তি যাকে না চেনা লোকেরা তার আত্মমর্যাদাবোধের কারণে ধনী বলে মনে করত। এ সবই ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনার ফল।

--------------------------------------------

(১) আল-কাইস: কাফ বর্ণে ফাতহা এবং ইয়া বর্ণে সুকুন যোগে: এর অর্থ হলো বুদ্ধি বা প্রজ্ঞা। দেখুন: আন-নিহায়াহ (৪/ ১৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وبهَذَا كَانُوا الأمَّةَ الوَسَطَ، وكانُوا خَيْرَ أمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ (1).

وقَالَ الشَّيْخُ مُحَمَّد الغَزَالِي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: إنَّ حَيَاةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ بِالنِّسْبَةِ لِلْمُسْلِمِ مَسْلَاةَ شَخْصٍ فَارغٍ، أوْ دِرَاسَةَ نَاقِدٍ مُحَايِدٍ، كَلَّا كَلَّا إنَّهَا مَصْدَرُ الأُسْوَةِ الحَسَنِة التِي يَقْتَفِيهَا، ومَنْبَعُ الشَّرِيعَةِ العَظِيمَةِ التِي يَدِينُ بِهَا، فَأَيُّ حَيْفٍ في عَرْضِ هذِهِ السِّيرَةِ، وأَيُّ خَلْطٍ في سَرْدِ أحْدَاثِهَا إسَاءَةٌ بَالِغَةٌ إلَى حَقِيقَةِ الإيمَانِ نَفْسِهِ. . . إنَّنِي أكْتُبُ في السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ كمَا يَكْتُبُ جُنْدِيٌّ عنْ قَائِدِهِ، أوْ تَابعٌ عَنْ سَيِّدِهِ، وتلْمِيذٌ عَنْ أُسْتَاذِهِ. . إنَّ المُسْلِمَ الذِي لا يَعِيشُ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم في ضَمِيرِهِ، ولا تَتْبَعُهُ بَصِيرَتُهُ في عَمَلِهِ وتَفْكِيرِهِ لا يُغْنِي عَنْهُ أبَدًا أنْ يُحَرِّكَ لِسَانَهُ بِأَلْفِ صَلَاةٍ في اليَوْمِ واللَّيْلَةِ (2).

* * *

--------------------------------------------

(1) انظر السِّيرة النَّبوِيَّة في ضوء الكتاب والسنة للدكتور محمد أبو شهبة رحمه الله (1/ 7 - 8).

(2) انظر فقه السيرة للشيخ محمد الغزالي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى ص 5.
এবং এর মাধ্যমেই তারা মধ্যপন্থী উম্মত হয়েছেন এবং তারা মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মত (১)।

এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-গাজালী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন একজন মুসলিমের নিকট কোনো কর্মহীন ব্যক্তির বিনোদন কিংবা কোনো নিরপেক্ষ সমালোচকের গবেষণা নয়; কক্ষনোই না! বরং এটি সেই সর্বোত্তম আদর্শের উৎস যা সে অনুসরণ করে এবং সেই মহান শরীয়তের ঝর্ণাধারা যার প্রতি সে আনুগত্য পোষণ করে। সুতরাং এই সীরাত উপস্থাপনায় কোনো প্রকার বিচ্যুতি এবং এর ঘটনাবলী বর্ণনায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা স্বয়ং ঈমানের হাকীকতের প্রতি এক চরম অবমাননা। আমি সীরাতুন নবী সম্পর্কে সেভাবেই লিখছি যেমনটি একজন সৈনিক তার সেনাপতি সম্পর্কে লেখে, অথবা একজন অনুসারী তার নেতা সম্পর্কে এবং একজন ছাত্র তার শিক্ষক সম্পর্কে লেখে। নিশ্চয়ই যে মুসলিমের অন্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন্ত নন এবং তার কর্ম ও চিন্তায় যাঁর দূরদৃষ্টি তাঁকে অনুসরণ করে না, দিন-রাতে হাজার বার তার জিহ্বা দরূদ পাঠে সচল থাকলেও তা তার কোনো উপকারে আসবে না (২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (১/ ৭-৮)।

(২) দেখুন: ফিকহুস সীরাহ, শায়খ মুহাম্মদ আল-গাজালী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مَزَايَا السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ

تَجْمَعُ السِّيرَةُ النَّبَوِيَّةُ عِدَّةَ مزَايَا تَجْعَلُ دِرَاسَتَهَا مُتْعَةً رُوحِيَّةً وعَقْلِيَّةً وتَارِيخِيَّةً، كمَا تَجْعَلُ هَذ الدِّرَاسَةَ ضَرُورِيَّةً لِعُلَمَاءِ الشَّرِيعَةِ، والدُّعَاةِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى، والمُهْتَمِّينَ بالإِصْلَاحِ الاجْتِمَاعِيِّ، لِيَضْمَنُوا إبْلَاغَ الشَّرِيعَةِ إلَى النَّاسِ بأُسْلُوب يَجْعَلُهُمْ يَرَوْنَ فِيهَا المَثَلَ الأَعْلَى عِنْدَ اضْطِرَابِ السُّبُلِ واشْتِدَادِ العَوَاصِفِ، ولتَتَفَتَّحَ أمَامَ الدُّعَاةِ قُلُوبَ النَّاسِ وأفْئِدَتَهُمْ، ويَكُونَ الإصْلَاحُ الذِي يَدْعُو إلَيْهِ المُصْلِحُونَ، أقْرَبَ نَجَاحًا وأكْثَرَ سَدَادًا.

 

*‌‌ ونُجْمِلُ فِيمَا يَلِي أبْرَزَ مَزَايَا السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ:

أوَّلًا: إنَّها أصَحُّ سِيرَةٍ لِتَارِيخِ نَبِيٍّ مُرْسَلٍ، أوْ عَظِيمٍ مُصْلحٍ فَقَدْ وَصَلَتْ إلَيْنَا سِيرَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أصَحِّ الطُّرُقِ العِلْمِيَّةِ وأقْوَاهَا ثُبُوتًا، مِمَّا لا يَتْرُكُ مَجَالًا لِلشَّكِّ في وَقَائِعِهَا البَارِزَةِ وأحْدَاثِهَا الكُبْرَى، ومِمَّا يُيَسِّرُ لَنَا مَعْرِفَةَ مَا أُضِيفَ إلَيْهَا في العُصُورِ المُتَأَخِّرَةِ مِنْ أحْدَاثٍ أوْ مُعْجِزَاتٍ أوْ وَقَائِعَ أَوْحَى بِهَا العَقْلُ الجَاهِلُ الرَّاغِبُ في زِيَادَةِ إضْفَاءِ الصِّفَةِ المُدْهِشَةِ عَلَى رسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم أكْثَرَ مِمَّا أرَادَ اللَّهُ تَعَالَى لِرَسُولهِ أنْ يَكُونَ عَلَيْهِ مِنْ جَلَالِ المَقَامِ وقُدْسِيَّةِ الرِّسَالَةِ، وعَظَمَةِ السِّيرَةِ.
‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটায় যা এর অধ্যয়নকে একটি আধ্যাত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ঐতিহাসিক আনন্দের বিষয়ে পরিণত করে। তেমনি এই অধ্যয়ন শরীয়াহর আলিমগণ, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী দাঈ এবং সমাজ সংস্কারে আগ্রহীদের জন্য অপরিহার্য; যাতে তারা মানুষের নিকট শরীয়াহর বাণী এমন পদ্ধতিতে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে পারেন, যা বিভ্রান্তিকর পথ ও তীব্র প্রতিকূলতার সময়ে সীরাতকে তাদের সামনে সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে দাঈদের জন্য মানুষের অন্তর ও হৃদয়সমূহ উন্মোচিত হয় এবং সংস্কারকগণ যে সংস্কারের আহ্বান জানান, তা অধিকতর সফল ও সঠিক হওয়ার নিকটবর্তী হয়।

 

*‌‌ নিম্নে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

প্রথমত: এটি কোনো প্রেরিত নবী বা মহান সংস্কারকের ইতিহাসের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সীরাত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত আমাদের নিকট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে পৌঁছেছে, যা এর প্রধান ঘটনাবলী ও বড় বড় বিষয়গুলো সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। এটি আমাদের জন্য পরবর্তী যুগে সীরাতে যুক্ত হওয়া সেই সব ঘটনা, মুজিজা বা পরিস্থিতিগুলো শনাক্ত করা সহজ করে দেয়, যা মূলত কোনো অজ্ঞ মস্তিষ্ক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত মর্যাদার গাম্ভীর্য, রিসালাতের পবিত্রতা ও সীরাতের মহানুভবতার চেয়েও অধিক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য আরোপ করার আকাঙ্ক্ষায় তৈরি করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ الإِمَامُ الذَّهَبِيُّ: . . . فَبِاللَّهِ عَلَيْكَ، إِذَا كَانَ الإِكْثَارُ مِنَ الحَدِيثِ في دَوْلَةِ عُمَرَ رضي الله عنه، كَانُوا يُمْنَعُونَ مِنْهُ (1)، مَعَ صِدْقِهِمْ وَعَدَالَتِهِمْ وَعَدَمِ الأَسَانِيدِ، بَلْ هُوَ غَضٌّ لَمْ يُشَبْ، فَمَا ظَنُّكَ بِالإِكْثَارِ مِنْ رِوَايَةِ الغَرَائِبِ وَالمَنَاكِيرِ فِي زَمَانِنَا مَعَ طُولِ الأَسَانِيدِ، وَكَثْرَةِ الوَهْمْ وَالغَلَطِ، فَبِالحَرِيِّ أَنْ نَزْجُرَ القَوْمَ عَنْهُ، فَيَا لَيْتَهُمْ يَقْتَصِرُونَ عَنْ رِوَايَةِ الغَرِيبِ وَالضَّعِيفِ، بَلْ يَرْوُونَ -وَاللَّهِ- المَوْضُوعَاتِ وَالأَبَاطِيلَ، وَالمُسْتَحِيلَ في الأُصُولِ وَالفُرُوعِ، وَالمَلَاحِمِ وَالزُّهْدِ، نَسْأَلُ اللَّه العَافِيَةَ.

فَمَنْ رَوَى ذَلِكَ مَعَ عِلْمِهِ بِبُطْلَانِهِ، وَغَرَّ المُؤْمِنِينَ، فَهَذَا ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ، جَانٍ عَلَى السُّنَنِ وَالآثارِ، يُسْتَتَابُ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنْ أنابَ وَأَقْصَرَ، وَإِلَّا فَهُوَ فَاسِقٌ، كَفَى بِهِ إِثْمًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمعَ، وَإِنْ هُوَ لَمْ يَعْلَمْ، فَلَيَتَوَرَع، وَلْيَسْتَعِنْ بِمَنْ يُعِينُهُ عَلَى تَنْقِيَةِ مَرْوِيَّاتِهِ، نَسْأَلُ اللَّه العَافِيَةَ (2).

ثَانِيًا: إنَّ حَيَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم واضِحَةٌ كُلَّ الوُضُوحِ في جَمِيعِ مَرَاحِلِهَا، مُنْذُ زَوَاجِ أبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بِأُمِّهِ آمِنَةَ إلَى وَفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم، فنَحْنُ نَعْرِفُ الشَّيْءَ الكَثِيرَ عَنْ وِلَادَتِهِ، وطُفُولَتِهِ، وشَبَابِهِ، ومَكْسَبِهِ قَبْلَ النُبوَّةِ، ورَحَلَاتِهِ خَارج مَكَّةَ،

--------------------------------------------

(1) كانوا يمنعون من رواية الحديث في خلافة عمر رضي الله عنه لسببين:

1 - السبب الأول: اتساع الدولة الإِسلامية في زمن عمر رضي الله عنه، فحتى لا ينشغل أهل البلاد المفتوحة بالحديث دون القرآن.

2 - السبب الثاني: أنهم كانوا يمنعون من رواية الرقائق والمواعظ، دون أحاديث الأحكام والعبادات.

وأخرج نهي عمر بن الخطاب رضي الله عنه عن الإقلال في رواية الحديث: ابن ماجه في سننه -رقم الحديث (28) -والحاكم في المستدرك -رقم الحديث (353) - وإسناده صحيح.

(2) انظر سير أعلام النبلاء (2/ 601 - 602).
ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন: . . . আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, ওমর (রা.)-এর শাসনামলে যখন অধিক হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে লোকেদের বাধা দেওয়া হতো (১), অথচ তাদের সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা ছিল প্রশ্নাতীত এবং তখনো দীর্ঘ সনদ বা সূত্রের উৎপত্তি হয়নি, বরং তা ছিল টাটকা ও অমিশ্রিত; এমতাবস্থায় আমাদের বর্তমান সময়ে দীর্ঘ সনদ এবং ভ্রান্তি ও ভুলের ছড়াছড়ি থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুত ও প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) বর্ণনার আধিক্য সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? তাই মানুষকে এ থেকে কঠোরভাবে বারণ করাই অধিক সমীচীন। আফসোস, তারা যদি কেবল 'গারিব' এবং 'যঈফ' বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত! বরং আল্লাহর কসম, তারা উসূল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা-প্রশাখা), মালাহিম (ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিগ্রহ) এবং যুহদ (বিরাগ) বিষয়ে জাল, বাতিল এবং অসম্ভব কথা বর্ণনা করে থাকে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।

অতঃপর যে ব্যক্তি এর অসারতা জানা সত্ত্বেও তা বর্ণনা করল এবং মুমিনদের প্রতারিত করল, সে নিজের ওপর জুলুমকারী এবং সুন্নাহ ও আসার-এর ওপর অপরাধী। এ কাজের জন্য তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে ফিরে আসে এবং বিরত থাকে (তবে ভালো), অন্যথায় সে ফাসিক। কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে বেড়ায়। আর সে যদি (সত্য-মিথ্যা) না জানে, তবে তার উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা এবং যে ব্যক্তি তার বর্ণিত হাদীসসমূহ পরিমার্জনে তাকে সাহায্য করতে পারে, তার সহযোগিতা নেওয়া। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করছি (২)।

দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন তাঁর সমস্ত পর্যায়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তাঁর পিতা আবদুল্লাহর সাথে মা আমেনার বিবাহ থেকে শুরু করে তাঁর (সা.) ওফাত পর্যন্ত। আমরা তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, নবুওয়াত লাভের আগের জীবিকা এবং মক্কার বাইরের সফরসমূহ সম্পর্কে অনেক কিছু জানি,

--------------------------------------------

(১) ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে দুটি কারণে হাদীস বর্ণনায় বাধা দেওয়া হতো:

১ - প্রথম কারণ: ওমর (রা.)-এর সময়ে ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছিল, ফলে বিজিত অঞ্চলের মানুষ যেন কুরআন বাদ দিয়ে হাদীস নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে না পড়ে।

২ - দ্বিতীয় কারণ: তারা নসিহত ও পরকাল বিষয়ক (রাকায়িক) বর্ণনা থেকে বিরত রাখতেন, তবে বিধিবিধান (আহকাম) ও ইবাদত সংক্রান্ত হাদীসের ক্ষেত্রে নয়।

আর হাদীস বর্ণনায় স্বল্পতা বজায় রাখার বিষয়ে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিষেধটি বর্ণনা করেছেন: ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে—হাদীস নং (২৮)—এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে—হাদীস নং (৩৫৩)—এবং এর সনদ সহীহ।

(২) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (২/ ৬০১ - ৬০২)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২১)
إلَى أنْ بَعَثَهُ اللَّهُ رَسُولًا كَرِيمًا، ثُمَّ نَعْرِفُ بِشَكْلٍ أدَقَّ وَأوْضَحَ وأكْمَلَ كُلَّ أحْوَالِهِ بَعْدَ ذَلِكَ سَنَةً فَسَنَةً، مِمَّا يَجْعَلُ سِيرَتَهُ صلى الله عليه وسلم وَاضِحَةً وُضُوحَ الشَّمْسِ، كمَا قَالَ بَعْضُ النُّقَّادِ الغَرْبِيِّينِ: إنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم هُوَ الوَحِيدُ الذِي وُلدَ عَلَى ضَوْءِ الشَّمْسِ.

وهَذَا مَا لَمْ يَتيَسَّرْ مِثْلُهُ ولا قَرِيبٌ مِنْهُ لِرَسُولٍ مِنْ رُسُلِ اللَّهِ السَّابِقِينَ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ والسَّلَامُ، فَمُوسَى عليه السلام لا نَعْرِفُ شَيْئًا قَطُّ عَنْ طفولَتِهِ وشَبَابِهِ وطُرُقِ مَعِيشَتِهِ قَبْلَ النُّبُوَّةِ، ونَعْرِفُ الشَّيءَ القَلِيلَ عَنْ حَيَاتِهِ بَعْدَ النُّبُوَّةِ، مِمَّا لا يُعْطِينَا صُورَةً مُكْتَمِلَةً لِشَخْصِيَّتهِ، ومِثْلُ ذَلِكَ يُقَالُ في عِيسَى عليه السلام، وغَيْرِهِمْ مِنَ الأنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلاةُ والسَّلامُ، فَأَيْنَ هَذَا مِمَّا تَذْكُرُهُ مَصَادِرُ السِّيرَةِ الصَّحِيحَةِ مِنْ أدَقِّ التَّفَاصِيلِ في حَيَاةِ رَسُولنَا صلى الله عليه وسلم الشَّخْصِيَّةِ، كَأَكْلِهِ (1)، وقِيَامِهِ وقعودِهِ (2)، ولبَاسِهِ (3)، وشكلِهِ (4)، . . .

--------------------------------------------

(1) روى الإِمام مسلم في صحيحه -رقم الحديث (2032) عن ابن كعب بن مالك، عن أبيه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يَلْعَقُ -أي يلحسُ- أصابعَهُ الثَّلاث من الطعام.

وروى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (5398) عن أبي جحيفة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنِّي لا آكُلُ مُتَّكِئًا".

(2) روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (475) - ومسلم في صحيحه -رقم الحديث (2100) - عن عبّاد بن تميم، عن عمه: أنه رأى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مُسْتَلْقِيًا في المسجد وَاضِعًا إحْدَى رِجْلَيْهِ على الأخرى.

(3) روى الإِمام أحمد في مسنده -رقم الحديث (7117) - بسند صحيح عن أبي رِمثة قال: رأيت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وعليه بُرْدَانِ أخْضَرَانِ.

(4) روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (3548) - ومسلم في صحيحه -رقم =
যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে একজন সম্মানিত রসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন; অতঃপর আমরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর জীবনের পরবর্তী সকল অবস্থা বছর বছর জানতে পারি, যা তাঁর সীরাতকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যের আলোর মতো উজ্জ্বল করে তোলে। যেমনটি কোনো কোনো পশ্চিমা সমালোচক বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাত্র ব্যক্তি যিনি সূর্যের আলোতে জন্মগ্রহণ করেছেন।"

আর এটি আল্লাহর পূর্ববর্তী কোনো রসূলের (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি এবং এর কাছাকাছিও কিছু ঘটেনি। মুসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে আমরা তাঁর শৈশব, কৈশোর এবং নবুয়তপূর্ব জীবন যাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানি না। আর নবুয়ত পরবর্তী তাঁর জীবন সম্পর্কেও আমরা অতি সামান্যই জানি, যা আমাদের সামনে তাঁর ব্যক্তিত্বের কোনো পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে ধরে না। একই কথা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং অন্যান্য নবীদের (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং, তাঁদের সেই অবস্থার সাথে আমাদের রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিগত জীবনের সূক্ষ্মতম বিবরণ সমৃদ্ধ সহীহ সীরাত গ্রন্থগুলোর তথ্যের কী আর তুলনা হতে পারে; যেমন তাঁর আহার গ্রহণ (১), তাঁর দাঁড়ানো ও বসা (২), তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ (৩), তাঁর শারীরিক অবয়ব (৪), . . .

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ২০৩২) ইবনে কা'ব বিন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খাবার গ্রহণের পর তাঁর তিনটি আঙুল চাটতে দেখেছি।"

আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ৫৩৯৮) আবু জুহাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি হেলান দিয়ে আহার করি না।"

(২) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ৪৭৫) এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ২১০০) আব্বাদ বিন তামীম থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় তাঁর এক পা অন্য পায়ের ওপর রাখা অবস্থায় দেখেছেন।

(৩) ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (হাদীস নং ৭১১৭) সহীহ সনদে আবু রিমসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি এবং তাঁর পরনে দুটি সবুজ চাদর ছিল।"

(৪) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ৩৫৪৮) এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং =
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২২)
وهَيْئَتِهِ، ومَنْطِقِهِ (1) ومُعَامَلَتِهِ لأُسْرَتِهِ (2) ، وتَعَبُّدهِ، وصَلَاتِهِ (3)، ومُعَاشَرَتِهِ لِأَصْحَابِهِ (4)، بَلْ بَلَغَتِ الدِّقَّةُ في رُوَاةِ سِيرَتِهِ صلى الله عليه وسلم أنْ يَذْكُرُوا لنَا عَدَدَ الشَّعَرَاتِ

--------------------------------------------

= الحديث (2347) - عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بالطَّوِيلِ البَائِنِ، ولا بالقصيرِ، ولا بالأبيض الأمْهَقِ، ولا بالآدَمِ، ولا بالجَعْدِ القَطَطِ، ولا بالسَّبْطِ.

(1) المَنْطِقُ: هو الكَلَامُ. انظر لسان العرب (14/ 188).

روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (3568) - ومسلم في صحيحه -رقم الحديث (2493) عن عائشة رضي الله عنها قالت: . . . إن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لم يَكُنْ يَسْرُدُ الحديثَ كَسَرْدِكُمْ.

وروى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (95) عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كانَ رسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا تَكَلَّمَ بكَلِمَةٍ أعَادَهَا ثلاثًا حتى تُفْهَمَ عَنْهُ.

قال ابن المُنيّر فيما نقله عنه الحافظ في الفتح (1/ 255): والحقُّ أنَّ هذا يختلِفُ باختِلافِ القَرَائِحِ، فلا عَيْبَ على المُسْتَفِيدِ الذِي لا يَحْفَظُ مِنْ مرَّةٍ إذا اسْتَعَادَ، ولا عُذْرَ للمُفِيدِ إذا لَمْ يُعِدْ بلِ الإعَادَةُ عليه آكَدُ منَ الابْتِدَاءِ؛ لأنَّ الشُّرُوعَ مُلْزِمٌ.

(2) روى الإِمام أحمد في المسند بسند جيدٍ -رقم الحديث (26277) - عن عائشة رضي الله عنها قالت: خرجتُ مع النبي صلى الله عليه وسلم في بعضِ أسْفَاره وأنا جَاريةٌ لم أحْمِلِ اللَّحْمَ ولم أبْدُنْ، فقال صلى الله عليه وسلم للناس: "تَقَدَّمُوا"، فتقدَّموا، ثم قال لي: "تَعَالَي حتَّى أُسَابِقَكِ". فسَابَقْتُهُ فسَبَقْتُهُ، فسَكَتَ عَنِّي، حتى إذا حَمَلْتُ اللَّحْمَ وبَدُنْتُ ونَسِيتُ، خرجتُ معهُ في بَعْضِ أسْفَاره، فقال صلى الله عليه وسلم للناسِ: "تقَدَّمُوا" فتَقَدَّمُوا، ثُمَّ قال: "تَعَاليْ حتى أُسَابِقَكِ"، فسَابَقْتُهُ، فسَبَقَنِي، فجعَلَ يَضْحَكُ، وهُوَ يَقُولُ: "هذِهِ بِتلْكَ".

(3) روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (1130) - ومسلم في صحيحه -رقم الحديث (2819) - عن المغيرة بن شعبة زقوله قال: أن النبي صلى الله عليه وسلم صلَّى حتى انتفَخَتْ قدَمَاهُ، فقِيلَ لهُ: أتكَلَّفُ هذا؟ وقَدْ غفرَ اللَّه لك ما تَقَدَّم من ذَنْبِكَ وما تَأَخَّرَ. قال: "أفلا أكُونُ عَبْدًا شَكُورًا".

(4) روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (6129) - ومسلم في صحيحه -رقم =
এবং তাঁর অবয়ব, কথা বলার ভঙ্গি (১), পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর আচরণ (২), তাঁর ইবাদত, তাঁর সালাত (৩), এবং তাঁর সাহাবীদের সাথে তাঁর মেলামেশা (৪); বরং তাঁর সীরাত বর্ণনাকারীদের সূক্ষ্মতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁরা আমাদের নিকট তাঁর চুল বা পশমের সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

= হাদীস (২৩৪৭) - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি ধবধবে সাদাও ছিলেন না, আবার কুচকুচে কালোও ছিলেন না। তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না।

(১) 'মানতিক' (মাকতিকু): এর অর্থ হলো কথা বলা। দেখুন: লিসানুল আরব (১৪/ ১৮৮)।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (৩৫৬৮) - এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (২৪৯৩) - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: . . . রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের মতো একটানা দ্রুত কথা বলতেন না।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (৯৫) - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো কথা বলতেন, তখন তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেন তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

ইবনুল মুনাইয়ির বলেন, যা হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (১/ ২৫৫) উদ্ধৃত করেছেন: "প্রকৃত বিষয় হলো, এটি মেধা ও বোধশক্তির ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। সুতরাং যে শিক্ষার্থী একবার শুনেই মনে রাখতে পারে না, সে যদি পুনরায় বলার অনুরোধ করে তবে তাতে দোষের কিছু নেই। আর যিনি শিক্ষা দিচ্ছেন, তাঁর পুনরাবৃত্তি না করার কোনো ওজর নেই, বরং পুনরাবৃত্তি করা তাঁর জন্য প্রারম্ভিক আলোচনার চেয়েও বেশি জরুরি; কারণ কোনো কাজ শুরু করলে তা সুসম্পন্ন করা আবশ্যক।"

(২) ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে উত্তম সনদে - হাদীস নম্বর (২৬২৭৭) - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কোনো এক সফরে বের হয়েছিলাম। তখন আমি কিশোরী ছিলাম, তখনও আমি স্থূলকায় বা মাংসল ছিলাম না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকজনকে বললেন: "তোমরা এগিয়ে যাও।" তারা এগিয়ে গেলে তিনি আমাকে বললেন: "এসো, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" আমি তাঁর সাথে প্রতিযোগিতা করলাম এবং আমি তাঁর আগে চলে গেলাম। তিনি তখন চুপ থাকলেন। পরবর্তীতে যখন আমি স্থূলকায় হলাম এবং সেই প্রতিযোগিতার কথা ভুলেই গেলাম, তখন আবার তাঁর সাথে কোনো এক সফরে বের হলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকজনকে বললেন: "তোমরা এগিয়ে যাও।" তারা এগিয়ে গেলে তিনি বললেন: "এসো, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" আমি তাঁর সাথে প্রতিযোগিতা করলাম কিন্তু তিনি আমাকে টপকে আগে চলে গেলেন। তিনি হাসতে হাসতে বললেন: "এটি হলো আগেরবারের সেই দৌড়ের বদলা।"

(৩) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (১১৩০) - এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (২৮১৯) - মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতেন এমনকি তাঁর পা ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো: আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?"

(৪) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর (৬১২৯) - এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে - হাদীস নম্বর =
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৩)
البِيضِ في رَأْسِهِ ولحْيَيهِ (1) صلى الله عليه وسلم.

ثَالِثًا: إنَّ سِيرَةَ رسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحْكِي سِيرَةَ إنْسَانٍ أكْرَمَهُ اللَّهُ تَعَالَى بالرِّسَالَةِ، فَلَمْ تُخْرِجْهُ عَنْ إنْسَانِيَّتهِ، فَقَدْ تَزَوَّجَ وطَلَّقَ، ورَضِيَ وغَضِبَ، وبَاعَ واشْترَى، هُوَ إنْسَانٌ بِكُلِّ ما في هَذِهِ الكَلِمَةِ مِنْ مَعْنًى يُمْكِنُ أنْ يَكُونَ قُدْوَةً لِمَنْ أرَادَ ذَلِكَ، ولَمْ تَلْحَقْ حَيَاتَهُ صلى الله عليه وسلم بِالأسَاطِيرِ، ولَمْ تُضِفْ عَليْهِ الألوهِيَّةَ قَلِيلا ولا كَثِيرًا، وإذَا قَارَنَّا هَذَا بِمَا يَرْوِيهِ المَسِيحِيُّونَ عنْ سِيرَةِ عِيسَى عليه السلام، ومَا يَرْوِيهِ البُوذِيُّونَ عَنْ بُوذَا، والوَثَنِيُّونَ عنْ آلِهَتِهِمْ المَعْبُودَةِ، اتَّضَحَ لنَا الفَرْقُ جَلِيًّا بَيْنَ سِيرَتِهِ صلى الله عليه وسلم وسِيرَةِ هَؤُلَاءِ، ولذَلِكَ أَثَرٌ بَعِيدُ المَدَى في السُّلُوكِ الإنْسَانِيِّ والاجْتِمَاعِيِّ لِأَتباعِهِمْ، فَادِّعَاءُ الألُوهِيَّةِ لِعِيسَى عليه السلام، ولبُوذَا جَعَلَهُمَا أبْعَدَ مَنَالًا مِنْ أنْ يَكُونَا قُدْوَةً نَمُوذَجِيَّةً للإنْسَانِ في حَيَاتِهِ الشَّخْصِيَّةِ والاجْتِمَاعِيَّةِ، بَيْنَمَا ظَلَّ وسَيَظَلُّ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم المَثَلَ النَّمُوذَجِيَّ الإنْسَانِيَّ الكَامِلَ لِكُلِّ مَنْ أرَادَ أنْ يَعِيشَ سَعِيدًا كَرِيمًا في نَفْسِهِ وأُسْرَتِهِ وبِيئَتِهِ، ومِنْ هُنَا يقُولُ اللَّهُ

--------------------------------------------

= الحديث (2150) - عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: إنْ كانَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم لَيُخَالِطُنَا حتى يَقُولَ لأَخٍ لي صَغِيرٍ: "يا أبات عُمَيْر ما فَعَل النُّغَيْر".

وروى الإِمام أحمد في المسند -رقم الحديث (8481) - والترمذي في جامعه -رقم الحديث (2108) بسند قوي- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قالوا: يا رسول اللَّه، إنَّك تُدَاعِبُنَا، قال: "إنِّي لا أقُولُ إلَّا حَقًّا".

(1) روى الإِمام أحمد في المسند -رقم الحديث (12690) - وابن حبان في صحيحه -رقم الحديث (6293) بسند صحيح- عنٍ أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ما عَدَدْتُ في رأسِ رسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ولحْيَتهِ، إلَّا أرْبَع عَشْرَةَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ.
তাঁর মাথা ও দাড়িতে থাকা সাদা চুলসমূহ (১) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

তৃতীয়ত: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত এমন একজন মানুষের জীবনচরিত বর্ণনা করে যাকে মহান আল্লাহ রিসালাত প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, কিন্তু তা তাঁকে তাঁর মানবীয় সত্তা থেকে বের করে দেয়নি। তিনি বিবাহ করেছেন ও তালাক দিয়েছেন, সন্তুষ্ট হয়েছেন ও রাগান্বিত হয়েছেন, কেনাবেচা করেছেন; তিনি এই শব্দের পূর্ণ অর্থেই এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি তাঁর অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য আদর্শ হতে পারেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন পৌরাণিক কাহিনীর সাথে মিশে যায়নি এবং তাঁর ওপর সামান্য বা অধিক কোনোভাবেই উপাস্যত্ব আরোপ করা হয়নি। আমরা যখন খ্রিস্টানরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সীরাত সম্পর্কে যা বর্ণনা করে, বৌদ্ধরা বুদ্ধ সম্পর্কে যা বর্ণনা করে এবং পৌত্তলিকরা তাদের উপাস্য দেব-দেবী সম্পর্কে যা বর্ণনা করে তার সাথে এটি তুলনা করি, তখন আমাদের কাছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত এবং তাদের সীরাতের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। আর তাদের অনুসারীদের মানবিক ও সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কেননা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং বুদ্ধের জন্য উপাস্যত্ব দাবি করা তাঁদেরকে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এক অনুকরণীয় আদর্শ হওয়া থেকে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই আদর্শ পূর্ণাঙ্গ মানবীয় উদাহরণ হিসেবে ছিলেন এবং থাকবেন, যে ব্যক্তি নিজের মাঝে, নিজ পরিবারে ও পরিবেশে সুখী ও সম্মানিত জীবন অতিবাহিত করতে চায় তার জন্য। আর এখান থেকেই আল্লাহ তাআলা বলেন—

--------------------------------------------

= হাদীস (২১৫০) - আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সাথে এমনভাবে মিশতেন যে, তিনি আমার এক ছোট ভাইকে বলতেন: "হে আবু উমাইর, নুগাইর (পাখিটি) কী করল?"

ইমাম আহমাদ আল-মুসনাদে -হাদীস নং (৮৪৮১)- এবং তিরমিজি তাঁর জামি-তে -হাদীস নং (২১০৮), শক্তিশালী সনদে- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন? তিনি বললেন: "আমি সত্য ছাড়া কিছুই বলি না।"

(১) ইমাম আহমাদ আল-মুসনাদে -হাদীস নং (১২৬৯০)- এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে -হাদীস নং (৬২৯৩), সহীহ সনদে- আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা ও দাড়িতে মাত্র চৌদ্দটি সাদা চুল গুনেছি।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৪)
تَعَالَى في كِتَابِهِ الكَرِيمِ: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1).

رَابِعًا: إنَّ سِيرَةَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم شَامِلَةٌ لِكُلِّ النَّوَاحِي الإنْسَانِيَّةِ في الإنْسَانِ، فَهِيَ تَحْكِي لنَا سِيرَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم الشَّابِّ الأمِينِ المُسْتَقِيمِ قَبْلَ أنْ يُكْرِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِالرِّسَالِةِ، كمَا تَحْكِي لَنَا سِيرَةَ رسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم الدَّاعِيَةِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى المُتَلَمِّسِ أجْدَى الوَسَائِلِ لِقَبُولِ دَعْوتهِ، البَاذِلِ مُنْتَهَى طَاقَتِهِ وجُهْده في إبْلَاغِ رِسَالَتِهِ، كمَا تَحْكِي لنَا سِيرَتَهُ صلى الله عليه وسلم كَرَئِيسِ دَوْلَةٍ يَضَعُ لِدَوْلَتِهِ أقْوَمَ النُّظُمِ وأصَحَّهَا، ويَحْمِيَهَا بِيَقْظَتِهِ وإخْلَاصِهِ وصِدْقِهِ بمَا يَكْفُلُ لَهَا النَّجَاحَ، كمَا تَحْكِي لنَا سِيرَةَ الرَّسُولِ الزَّوْجِ والأَبِ في حُنُوِّ العَاطِفَةِ، وحُسْنِ المُعَامَلَةِ، والتَّمْيِيزِ الوَاضِحِ بَيْنَ الحُقُوقِ والوَاجِبَاتِ لِكُلٍّ مِنَ الزَّوْجِ والزَّوْجَةِ والأوْلَادِ، كمَا تَحْكِي لَنَا سِيرَةَ الرَّسُولِ المُرَبِّي المُرْشِدِ الذِي يُشْرِفُ عَلَى تَرْبِيَةِ أصْحَابِهِ تَرْبِيَةً مِثَالِيَّةً يَنْقُلُ مِنْ رُوحِهِ إلَى أرْوَاحِهِمْ، ومِنْ نَفْسِهِ إلَى نُفُوسِهِمْ، ما يَجْعَلُهُمْ يُحَاوِلُونَ الِاقْتِدَاءَ بِهِ في دَقِيقِ الأُمُورِ وكَبِيرِهَا، كمَا تَحْكِي لنَا سِيرَةَ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم الصَّدِيقِ الذِي يَقُومُ بِوَاجِبَاتِ الصُّحْبَةِ، ويَفِي بِالْتِزَامَاتِهَا وآدابِهَا، مِمَّا يَجْعَلُ أصْحَابَهُ يُحِبُّونَهُ كَحُبِّهِمْ لِأَنْفُسِهِمْ (2) وأكْثَرَ مِنْ حُبِّهِمْ لِأَهْلِيهِمْ وأقْرِبَائِهِمْ، وسِيرَتُهُ صلى الله عليه وسلم تَحْكِي لنَا

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب آية (21).

(2) روى الإِمام البخاري في صحيحه -رقم الحديث (6332) - عن عبد اللَّه بن هشام قال: كنّا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخِذٌ بِيَدِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه، فقال له عُمَرُ رضي الله عنه: يا رسولَ اللَّه لأنْتَ أحَبُّ إليّ منْ كُلِّ شَيءٍ، إلا نَفْسِي، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "لا والذِي =
মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে} (১)।

চতুর্থত: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত মানুষের প্রতিটি মানবিক দিককে শামিল করে। তাই এটি আমাদের নিকট মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত বর্ণনা করে সেই যুবক হিসেবে, যিনি ছিলেন আমানতদার ও সত্যনিষ্ঠ, মহান আল্লাহ তাঁকে রিসালাতের মাধ্যমে সম্মানিত করার পূর্বেই। ঠিক তেমনি এটি আমাদের নিকট আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী সেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত বর্ণনা করে, যিনি তাঁর দাওয়াত কবুল করানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলো সন্ধান করতেন এবং তাঁর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। এটি আমাদের নিকট রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত বর্ণনা করে, যিনি তাঁর রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সুদৃঢ় ও সঠিক নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করেন এবং তাঁর সতর্কতা, একনিষ্ঠতা ও সততার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে রক্ষা করেন, যা এর সফলতা নিশ্চিত করে। এটি আমাদের নিকট স্বামী ও পিতা হিসেবে রাসূলের সীরাত বর্ণনা করে—আবেগের কোমলতায়, সদ্ব্যবহারে এবং স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সুস্পষ্ট পার্থক্যের ক্ষেত্রে। এটি আমাদের নিকট সেই শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক রাসূলের সীরাত বর্ণনা করে, যিনি তাঁর সাহাবীদের আদর্শ লালন-পালনের তত্ত্বাবধান করেন এবং তাঁর রূহ থেকে তাঁদের রূহে এবং তাঁর নফস থেকে তাঁদের নফসে এমন কিছু সঞ্চারিত করেন যা তাঁদেরকে ছোট-বড় সকল বিষয়ে তাঁর অনুসরণের চেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করে। ঠিক তেমনি এটি আমাদের নিকট সেই বন্ধু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত বর্ণনা করে, যিনি বন্ধুত্বের কর্তব্য পালন করেন এবং এর দায়বদ্ধতা ও আদবসমূহ পূর্ণ করেন, যা তাঁর সাহাবীদেরকে নিজেদের জীবনের চেয়েও (২) এবং তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের চেয়েও বেশি তাঁকে ভালোবাসতে বাধ্য করে। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত আমাদের বর্ণনা করে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত (২১)।

(২) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে—হাদিস নং (৬৩৩২)—আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাত ধরে ছিলেন। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার কাছে নিজের জীবন ছাড়া অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "না, সেই সত্তার কসম যিনি =
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৫)
سِيرَةَ المُحَارِبِ الشُّجَاعِ، والقَائِدِ المُنْتَصِرِ، والسِّيَاسِيِّ النَّاجِحِ، والجَارِ الأمِينِ، والمُعَاهِدِ الصَّادِقِ.

وخُلَاصَةُ القَوْلِ: إِنَّ سِيرَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَامِلَةٌ لِجَمِيعِ النَّوَاحِي الإنْسَانِيَّةِ في المُجْتَمَعِ، مِمَّا يَجْعَلُهُ القُدْوَةَ الصَّالِحَةَ لِكُلِّ دَاعِيَةٍ، وكُلِّ قَائِدٍ، وكُلِّ أبٍ، وكُلِّ زَوْجٍ، وكُلِّ صَدِيقٍ، وكُلِّ مُرَبِّي، وكُلِّ سِيَاسِيٍّ، وكُلِّ رئيسِ دَوْلَةٍ، وهَكَذَا. . .

خَامِسًا: إِنَّ سِيرَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُعْطِينَا الدَّلِيلَ الذي لَا رَيْبَ فِيهِ عَلَى صِدْقِ رِسَالَتِهِ ونُبُوَّتِهِ، إنَّهَا سِيرَةُ إنْسَانٍ كَامِل سَارَ بِدَعْوَتِهِ مِنْ نَصْرٍ إلَى نَصْرٍ، لَا عَلَى طَرِيقِ الخَوَارِقِ والمُعْجِزَاتِ، بلْ عَنْ طَرِيقٍ طَبِيعِيٍّ بَحْتٍ، فَلَقَدْ دَعَا فَأُوذِيَ، وبَلَّغَ فَأَصْبَحَ لَهُ الأنْصَارُ، واضْطر إلَى الحَرْبِ فَحَارَبَ، وكَانَ حَكِيمًا، مُوَفَّقًا في قِيَادَتِهِ، فَمَا أزِفَتْ سَاعَةُ وَفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم، إلَّا كَانَتْ دَعْوَتُهُ تَلُفُّ الجَزِيرَةَ العَرَبِيَّةَ كُلَّهَا عَنْ طَرِيقِ الإِيمَانِ، لا عَنْ طَرِيقِ القَهْرِ والغَلَبَةِ، ومَنْ عَرَفَ مَا كَانَ عَلَيْهِ العَرَبُ مِنْ عَادَاتٍ وعَقَائِدَ ومَا قَاوَمُوا بِهِ دَعْوَتَهُ مِنْ شَتَّى أنْوَاعِ المُقَاوَمَةِ حَتَّى تَدْبِيرِ اغْتِيَالِهِ، ومَنْ عَرَفَ عَدَمَ التَّكَافُؤِ بَيْنَهُ وبَيْنَ مُحَارِبِيهِ في كُلِّ مَعْرَكَةٍ انْتَصَرَ فِيهَا، ومَنْ عَرَفَ قِصَرَ المُدَّةِ التِي اسْتَغْرَقتهَا رِسَالتهُ حتَّى وَفَاتِهِ، وهِيَ ثَلَاثٌ وعِشْرُونَ سَنَةً، أيْقَنَ أنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رسُولُ اللَّهِ حَقًّا، وأنَّ ما كَانَ يَمْنَحُهُ اللَّهُ تَعَالَى

--------------------------------------------

= نَفْسِي بِيَدِهِ حتَّى أكُونَ أحبُّ إليكَ مِنْ نَفْسِكَ"، فقال عمر رضي الله عنه: فأنَّه الآنَ واللَّهِ لَأَنْتَ أحَبُّ إليّ مِنْ نَفْسِي، فقال لهُ النبي صلى الله عليه وسلم: "الآنَ يا عُمَرُ".
সাহসী যোদ্ধার সীরাত, বিজয়ী সেনাপতির, সফল রাজনীতিকের, বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর এবং সত্যবাদী চুক্তিকারীর।

সারকথা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সমাজের সকল মানবিক দিককে অন্তর্ভুক্ত করে, যা তাঁকে প্রত্যেক দাঈ, প্রত্যেক নেতা, প্রত্যেক পিতা, প্রত্যেক স্বামী, প্রত্যেক বন্ধু, প্রত্যেক মুরব্বি, প্রত্যেক রাজনীতিক এবং প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য এক উত্তম আদর্শে পরিণত করে এবং এভাবেই...

পঞ্চম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত আমাদের তাঁর রিসালাত ও নবুওয়াতের সত্যতার ওপর এমন এক অকাট্য প্রমাণ প্রদান করে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি একজন পূর্ণাঙ্গ মানবের সীরাত যিনি তাঁর দাওয়াতকে এক বিজয় থেকে অন্য বিজয়ের দিকে পরিচালনা করেছেন অলৌকিকতা বা মোজেজার মাধ্যমে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পথে। তিনি দাওয়াত দিয়েছেন ফলে নির্যাতিত হয়েছেন, তিনি প্রচার করেছেন ফলে তাঁর সাহায্যকারী ও আনসার তৈরি হয়েছে, তিনি যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছেন ফলে যুদ্ধ করেছেন। তিনি স্বীয় নেতৃত্বে প্রজ্ঞাবান ও সফল ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের সময় আসার আগেই তাঁর দাওয়াত ঈমানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল, বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে নয়। যে ব্যক্তি আরবের তৎকালীন রীতিনীতি ও বিশ্বাস সম্পর্কে জানে এবং তারা তাঁর দাওয়াতকে যেভাবে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল, এমনকি তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল সে সম্পর্কে জানে; এবং যে ব্যক্তি প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর ও তাঁর শত্রুদের শক্তির অসমতা সম্পর্কে জানে যেগুলোতে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন; এবং যে ব্যক্তি তাঁর রিসালাতের শুরু থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়কাল সম্পর্কে জানে, যা ছিল মাত্র তেইশ বছর; সে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করবে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসূল এবং মহান আল্লাহ তাঁকে যা প্রদান করেছিলেন...

--------------------------------------------

= যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই। অতঃপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর শপথ, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: হে উমর, এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৬)
مِنْ ثَبَاتٍ وَقُوَّةٍ وتَأْثِيم ونَصْرٍ لَيْسَ إلَّا لأنَّهُ نَبِيٌّ حَقًّا، ومَا كَانَ اللَّهُ تَعَالَى أنْ يُؤَيِّدَ مَنْ يَكْذِبُ عَلَيْهِ هذَا التَّأيِيدَ الفَرِيدَ في التَّارِيخِ، فَسِيرَةُ رسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُثْبِتُ لَنَا صِدْقَ رِسَالَتِهِ عنْ طَرِيقٍ عَقْلِيٍّ بَحْتٍ، وما وَقَعَ لَهُ صلى الله عليه وسلم مِنَ المُعْجِزَاتِ لمْ يَكُنْ الأسَاسَ الأوَّلَ في إيمَانِ العَرَبِ بِدَعْوَتِهِ، بلْ إنَّا لا نَجِدُ لهُ مُعْجِزَةً آمَنَ مَعَهَا الكُفَّارُ المُعَانِدُونَ، عَلَى أنَّ المُعْجِزَاتِ المَادِيَّةِ إنَّمَا تَكُونُ حُجَّةً عَلَى مَنْ شَاهَدَهَا، ومِنَ المُؤَكَّدِ أنَّ المُسْلِمِينَ الذِينَ لَمْ يَرَوا الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم، ولَمْ يُشَاهِدُوا مُعْجِزَاتِهِ، إنَّمَا آمَنُوا بِصِدْقِ رِسَالَتهِ لِلْأَدِلَّةِ العَقْلِيَّةِ القَاطِعَةِ عَلَى صِدْقِ دَعْوَاهُ النُّبُوَّةَ، ومِنْ هَذِهِ الأدِلَّةِ العَقْلِيَّةِ: القُرْآنُ الكَرِيمُ، فإنَّهُ مُعْجِزَةٌ عَقْلِيَّةٌ، تُلْزِمُ كُلَّ عَاقِلٍ مُنْصِفٍ أنْ يُؤْمِنَ بِصِدْقِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم في دَعْوَى الرِّسَالَةِ. . .

ومِنْ هُنَا نرى هَذِهِ المِيزَةَ الوَاضِحَةَ في سِيرَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، أنَّهُ مَا آمَنَ بِهِ واحِدٌ عنْ طَرِيقِ مُشَاهَدَتِهِ لِمُعْجِزَةٍ خَارِقَةٍ، بَلْ عَنِ اقْتِنَاع عَقْلِيِّ وُجْدَانِيٍّ، وإذَا كانَ اللَّهُ تَعَالَى قَدْ أكْرَمَ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم بِالمُعْجِزَاتِ الخَارِقَةِ، فمَا ذَلِكَ إلَّا إكْرَامٌ له صلى الله عليه وسلم وإفْحَامٌ لِمُعَانِدِيهِ المُكَابِرِينَ، ومَنْ تتبَّعَ القُرْآنَ الكَرِيمَ وجَدَ أنَّهُ اعْتَمَدَ في الإِقْنَاعِ عَلَى المُحَاكَمَةِ العَقْلِيَّةِ، والمُشَاهَدَةِ المَحْسُوسَةِ لِعَظِيمِ صُنْعِ اللَّهِ تَعَالَى، والمَعْرِفَةِ التَّامَّةِ بِمَا كَانَ عَلَيْهِ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم مِنْ أُمِّيَّةٍ تَجْعَلُ إتْيَانَهُ بِالقُرْآنِ الكَرِيمِ دَلِيلًا عَلَى صِدْقِ رِسَالَتِهِ صلى الله عليه وسلم (1).

* * *

--------------------------------------------

(1) انظر السِّيرة النَّبوِيَّة دروس وعبر للدكتور مصطفى السباعي ص 15 - 23.
স্থায়িত্ব, শক্তি, প্রভাব ও বিজয় কেবল এজন্যই ছিল যে তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন নবী। আর আল্লাহ তায়ালা এমন কাউকে ইতিহাসের এই অনন্য সমর্থন প্রদান করতে পারেন না, যে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে আমাদের নিকট তাঁর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণ করে। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে প্রকাশিত মোজেজাসমূহ তাঁর দাওয়াতের প্রতি আরবদের ঈমান আনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভিত্তি ছিল না; বরং আমরা এমন কোনো মোজেজা খুঁজে পাই না যার কারণে হঠকারী কাফেররা ঈমান এনেছিল। উপরন্তু, বস্তুগত মোজেজাসমূহ কেবল তাদের জন্যই প্রমাণস্বরূপ হয় যারা তা প্রত্যক্ষ করেছে। আর এটা নিশ্চিত যে, যেসব মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেননি এবং তাঁর মোজেজাসমূহ প্রত্যক্ষ করেননি, তারা তাঁর নবুওয়াতের দাবির সত্যতার স্বপক্ষে অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহের কারণেই তাঁর রিসালাতের সত্যতার প্রতি ঈমান এনেছেন। আর এসব বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলের অন্যতম হলো পবিত্র কুরআন; কেননা তা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মোজেজা, যা প্রত্যেক বিবেকবান ও ইনসাফপরায়ণ ব্যক্তিকে রিসালাতের দাবিতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার ওপর ঈমান আনতে বাধ্য করে. . .

এখান থেকেই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের এই সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যটি দেখতে পাই যে, কোনো ব্যক্তি কেবল অলৌকিক মোজেজা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে তাঁর ওপর ঈমান আনেনি, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই এনেছে। আর আল্লাহ তায়ালা যদি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অলৌকিক মোজেজা দ্বারা সম্মানিত করে থাকেন, তবে তা কেবল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মানের জন্য এবং তাঁর উদ্ধত হঠকারী শত্রুদের নিরুত্তর করার জন্যই ছিল। আর যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন অনুধাবন করবে, সে দেখতে পাবে যে এটি মানুষকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ, আল্লাহর মহান সৃষ্টির ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরক্ষরতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেছে, যা পবিত্র কুরআন নিয়ে আসাকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের সত্যতার একটি দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করে (১)।

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: দুরুস ওয়া ইবার, ডক্টর মুস্তফা আস-সিবায়ী, পৃষ্ঠা ১৫ - ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الجَزِيرَةُ العَرَبيَّةُ في العَصرِ الجَاهِلِيِّ

أمَّا العَرَبُ قَبْلَ الإِسْلَامِ فَسَاءَتْ أخْلَاقُهُمْ، فأوْغَلُوا بالخَمْرِ والقِمَارِ، وبَلَغَتْ بِهِمُ القَسَاوَةُ والحَمِيَّةُ المَزْعُومَةُ إلَى وَأْدِ (1) البَنَاتِ، وشَاعَتْ فِيهِمُ الغَارَاتُ، وقَطْعُ الطُّرُقِ عَلَى القَوَافِلِ، وسَقَطَتْ مَنْزِلَةُ المَرْأَةِ، فكَانَتْ تُورَثُ كَمَا يُورَثُ المَتَاعُ أوِ الدَّابَّةُ، ومِنَ المَأْكُولَاتِ مَا هُوَ خَاصٌّ بِالذُّكُورِ، مُحَرَّمٌ عَلَى الإِنَاثِ، وكانَ يَسُوَّغُ لِلرَّجُلِ أنْ يَتَزَوَّجَ ما يَشَاءُ مِنَ النِّسَاءِ مِنْ غَيْرِ تَحْدِيدٍ.

وكَانَتِ العَصَبِيَّةُ القَبَلِيَّةُ، والدَّمَوِيَّةُ شَدِيدَةً جَامِحَةً، وأُغْرِمُوا بالحَرْبِ، حتَّى صَارَتْ مَسْلَاةً لَهُمْ، ومَلْهًى وهِوَايَةً، يَنتهِزُونَ لِلتَّسْلِيَةِ، وقَضَاءَ هَوَى النَّفْسِ نُشُوبَ حَرْبٍ لَهَا مُسَوِّغٌ، أوَ لَا مُسَوِّغَ لَهَا، يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ ما قَالَهُ الشَّاعِرُ الجَاهِلِيُّ (الرُّقَّادُ بنُ المُنْذِرِ بنِ ضِرَارٍ الضَّبِّيُّ):

إذَا المُهْرَةُ الشَّقْرَاءُ أَدْرَكَ ظَهْرُهَا … فَشَبَّ الإِلَهُ الحَرْبَ بَيْنَ القَبَائِلِ

وأَوْقَدَ نَارًا بَيْنَهُمْ بِضِرَامِهَا … لَهَا وَهْجٌ لِلْمُصْطَلِي غَيْرُ طَائِلِ

وهَانَتْ عَلَيْهِمْ إِرَاقَةُ الدِّمَاءِ، فتثِيرُهَا حَادِثَةٌ تَافِهَةٌ، وتَدُومُ الحَرْبُ أرْبَعِينَ

--------------------------------------------

(1) وَأْدُ البَنَاتِ: قَتْلُهُنَّ: كانَ إذا وُلدَ لِأَحَدِهم في الجاهلية بِنْتٌ دَفنَهَا في التُّرَاب وهي حيَّة خَشْيَة العَارِ. انظر النهاية (5/ 125).
জাহেলি যুগে আরব উপদ্বীপ

ইসলাম-পূর্ব আরবদের নৈতিক চরিত্র অত্যন্ত কলুষিত হয়ে পড়েছিল। তারা মদ্যপান ও জুয়াখেলায় মত্ত হয়ে গিয়েছিল। তাদের কঠোরতা ও কথিত আত্মমর্যাদাবোধ কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত (১) করার পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তাদের মধ্যে লুঠতরাজ এবং কাফেলাগুলোতে দস্যুবৃত্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। নারীর মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল; তাদের আসবাবপত্র বা পশুর মতো উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন করা হতো। কিছু খাদ্য কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল এবং নারীদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। একজন পুরুষের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যত খুশি নারী বিবাহ করা বৈধ ছিল।

গোত্রীয় গোঁড়ামি এবং রক্তপাত ছিল অত্যন্ত প্রবল ও অনিয়ন্ত্রিত। তারা যুদ্ধের প্রতি এতটাই আসক্ত ছিল যে, তা তাদের জন্য বিনোদন, আমোদ-প্রমোদ ও শখে পরিণত হয়েছিল। তারা কেবল বিনোদন এবং কুপ্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যে কোনো কারণ থাক বা না থাক যুদ্ধ শুরু করার সুযোগ খুঁজত। জাহেলি যুগের কবি (রুক্কাদ ইবনুল মুনজির ইবনে জিরার আদ-দাব্বি) যা বলেছিলেন তা এরই প্রমাণ বহন করে:

যখন লালচে বর্ণের ঘোটকীর পিঠ আরোহণের উপযুক্ত হয় … তখন আল্লাহ গোত্রসমূহের মাঝে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেন

আর তিনি তাদের মধ্যে দাহ্য কাষ্ঠে এমন আগুন প্রজ্বলিত করেন … যার উত্তাপ আগুনের নিকটে থাকা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ

রক্তপাত তাদের কাছে অতি তুচ্ছ বিষয়ে পরিণত হয়েছিল; সামান্য কোনো তুচ্ছ ঘটনাতেই তা শুরু হয়ে যেত এবং যুদ্ধ চল্লিশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো।

--------------------------------------------

(১) কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করা: অর্থাৎ তাদের হত্যা করা। জাহেলি যুগে কারো কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে লোকলজ্জার ভয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় মাটিতে পুঁতে ফেলত। দেখুন: আন-নিহায়া (৫/ ১২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৮)
سَنَةً يُقْتَل فِيهَا أُلُوفٌ مِنَ النَّاسِ.

أمَّا مِنْ جِهَةِ الأَخْلَاقِ، فكَانَتْ فِيهِمْ أدْوَاءٌ وأمْرَاضٌ مُتَأَصِّلَةٌ، وأسْبَابُهَا فَاشِيَةٌ (1).

 

*‌‌ شُرْبُ الخَمْرِ:

وَكَانَ شُرْبُ الخَمْرِ واسِعَ الشُّيُوعِ، شَدِيدَ الرُّسُوخِ فِيهِمْ، تَحَدَّثَ عَنْ مُعَاقَرَتِهَا والِاجْتِمَاعِ عَلَى شُرْبِهَا الشُّعَرَاءُ، وشَغَلَتْ جَانِبًا كَبِيرًا مِنْ شِعْرِهِمْ وتَارِيخِهِمْ وأدَبِهِمْ، وكَثُرَتْ أسْمَاؤُهَا وصِفَاتُهَا فِي لُغَتِهِمْ، وكثُرَ فِيهَا التَّدْقِيقُ والتَّفْصِيلُ كَثْرَةً تَدْعُو إلَى العَجَبِ، وكَانَتْ حَوَانِيتُ الخَمَّارِينَ مَفْتُوحَةً دَائِمًا يُرَفْرِفُ عَلَيْهَا عَلَمٌ يُسَمَّى (غَايَةً).

قَالَ لَبِيدُ (2) بنُ رَبِيعَةَ العَامِرِيُّ رضي الله عنه:

قَدْ بِتُّ سَامِرَهَا وغَايَةَ تَاجِرٍ … وَافَيْتُ إِذْ رُفِعَتْ وَعَزَّ مُدَامُهَا

وكَانَ مِنْ شُيُوعِ تِجَارَةِ الخَمْرِ أنْ أصْبَحَتْ كَلِمَةُ التِّجَارَةِ مُرَادِفَةً لِبَيْعِ الخَمْرِ (3).

--------------------------------------------

(1) انظر السيرة النبوية ص 39 لأبي الحسن الندوي رحمه الله.

(2) هُوَ لَبِيدُ بنُ رَبِيعَةَ بنِ صَعْصعَةَ العَامِرِيُّ الشَّاعر المَشْهُورُ، كان رضي الله عنه شاعرًا مِنْ فُحُولِ الشُّعَرَاءَ، وكان فَارِسًا شُجَاعًا سَخِيًّا، وهو صاحِبُ إحدى المُعَلَّقَاتِ السَّبْعِ، وَفَدَ على النبي صلى الله عليه وسلم سنةَ وَفَدَ قَوْمُهُ بنُو جَعْفر، فأسْلَمَ وحَسُنَ إسلامُهُ. انظر الإصابة (5/ 500).

(3) انظر السيرة النبوية ص 39 لأبي الحسن الندوي رحمه الله.
এমন এক বছর যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়।

আর নৈতিকতার দিক থেকে তাদের মাঝে বদ্ধমূল ব্যাধি ও রোগসমূহ বিদ্যমান ছিল এবং সেগুলোর কারণ ছিল অত্যন্ত ব্যাপক (১)।

 

*‌‌ মদ পান:

মদ পান তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রচলিত এবং গভীরভাবে শেকড় গাড়া ছিল। কবিগণ নিয়মিত মদ্যপান এবং তা পানের আসর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের কবিতা, ইতিহাস ও সাহিত্যের এক বিশাল অংশ জুড়ে এর স্থান ছিল। তাদের ভাষায় মদের নানাবিধ নাম ও গুণাবলি ছিল এবং এ সংক্রান্ত সুক্ষ্ম ও বিস্তারিত বর্ণনা বিস্ময়কর। মদ বিক্রেতাদের দোকানগুলো সর্বদা খোলা থাকত এবং সেগুলোর ওপর ‘গয়াহ’ নামক পতাকা উড়ত।

লাবিদ (২) ইবনে রাবিআ আল-আমিরি (রা.) বলেন:

আমি মদ্যপায়ীদের নৈশসঙ্গী হিসেবে রাত কাটিয়েছি এবং ব্যবসায়ীর পতাকা যখন উত্তোলন করা হতো ও মদ দুষ্প্রাপ্য হতো, তখন আমি সেখানে উপস্থিত হতাম।

মদের ব্যবসার ব্যাপকতার কারণে ‘তিজারত’ (ব্যবসা) শব্দটি মদ বিক্রির সমার্থক হয়ে গিয়েছিল (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৯, আবুল হাসান নদভী (রহ.)।

(২) তিনি হলেন বিখ্যাত কবি লাবিদ ইবনে রাবিআ ইবনে সা'সাআ আল-আমিরি। তিনি প্রথিতযশা কবিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সাহসী ও দানশীল অশ্বারোহী। তিনি সাতটি মুআল্লাকার একটির রচয়িতা। বনু জাফর গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে তিনি নবী (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। দেখুন: আল-ইসাবাহ (৫/৫০০)।

(৩) দেখুন: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৯, আবুল হাসান নদভী (রহ.)।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ২৯)
*‌‌ القِمَارُ:

وكَانَ القِمَارُ مِنْ مَفَاخِرِ الحَيَاةِ الجَاهِلِيَّةِ، قالَ الشَّاعِرُ الجَاهِلِيُّ:

أعَيَّرْتَنَا أَلْبَانَهَا ولُحُومَهَا … وذَلِكَ عَارٌ يَا ابْنَ رَيْطَةَ ظَاهِرُ

نُحَابِي بِهَا أكْفَاءَنَا ونُهِينُهَا … ونَشْرَبُ في أثْمَانِهَا ونُقَامِرُ

وكَانَ عَدَمُ المُشَارَكَةِ في مَجَالِسِ القِمَارِ عَارًا.

قَالَ قتَادَةُ: كانَ الرَّجُلُ في الجَاهِلِيَّةِ يُقَامِرُ عَلَى أَهْلِهِ ومَالِهِ، فَيَقْعُدُ حَرِيبًا (1) سَلِيبًا، يَنْظُرُ إلى مَالِهِ في يَدِ غَيْرِهِ، فكانَتْ تُورِثُ بَيْنَهُمْ عَدَاوَةً وبُغْضًا (2).

 

*‌‌ تَعَاطِيهِمُ الرِّبَا:

وكَانَ أهْلُ الحِجَازِ: العَرَبُ واليَهُودُ، يَتَعَاطَوْنَ الرِّبَا، وكانَ فَاشِيًا (3) فِيهِمْ، وكانُوا يُجْحِفُونَ (4) فيهِ، ويَبْلُغُونَ إلَى حَدِّ الغُلُوِّ والقَسْوَةِ.

قالَ الإِمَامُ الطَّبَرِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: كانَ الرِّبَا في الجَاهِلِيَّةِ في التَّضْعِيفِ وفي السِّنِينَ، يكُونُ لِلرَّجُلِ فَضْلُ دَيْنٍ، فَيَأْتِيهِ إِذَا حَلَّ الأَجَلُ، فَيَقُولُ له: تَقْضِيني أوْ تَزِيدُنِي؟ فإنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ يَقْضِيهِ قَضَى، وإلَّا حَوَّلهُ إلَى السِّنِّ التِي فَوْقَ ذَلِكَ، إنْ كَانَتْ ابْنَةَ مَخَاضٍ (5) يَجْعَلُهَا. . . .

--------------------------------------------

(1) الحريب: الذي سُلِبَ ماله. انظر لسان العرب (3/ 101).

(2) انظر تفسير الإِمام الطبري (5/ 36) - آية (91) من سورة المائدة.

(3) فَشَا: أي انتشَرَ. انظر النهاية (3/ 403).

(4) المُجَاحَفَةُ: أخْذُ الشّيء واجْتِرَافُهُ. انظر لسان العرب (2/ 186).

(5) المَخَاضُ: اسمٌ للنُّوقِ الحَوَامِلِ، وبِنْتُ المَخَاضِ وابنُ المَخَاضِ: ما دخلَ في السُّنةِ =
*‌‌ জুয়া:

জাহেলী জীবনের অন্যতম গর্বের বিষয় ছিল জুয়া। জাহেলী যুগের জনৈক কবি বলেছেন:

তুমি কি এর দুধ ও মাংসের জন্য আমাদের তিরস্কার করছো? … হে রায়তাহর পুত্র, এটি তো এক সুস্পষ্ট কলঙ্ক।

আমরা এর মাধ্যমে আমাদের সমকক্ষদের সৌজন্য দান করি এবং একে অকাতরে বিলিয়ে দিই … আর আমরা এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মদ্যপান করি ও জুয়া খেলি।

জুয়ার মজলিসে অংশগ্রহণ না করা ছিল এক লজ্জাজনক বিষয়।

কাতাদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: জাহেলী যুগে মানুষ তার পরিবার ও ধন-সম্পদ বাজি রেখে জুয়া খেলত। ফলে সে সবকিছু হারিয়ে রিক্তহস্তে (১) ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকত এবং অন্যের হাতে নিজের সম্পদের দিকে তাকিয়ে থাকত। এটি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ (২) সৃষ্টি করত।

 

*‌‌ তাদের সুদ লেনদেন:

হিজাযের অধিবাসী—আরব ও ইহুদিরা—সুদ লেনদেন করত। তাদের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত (৩) ছিল এবং তারা এক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি (৪) করত এবং সীমালঙ্ঘন ও নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পৌঁছে যেত।

ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: জাহেলী যুগে সুদের কারবার ছিল আসলের দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং বছরের মেয়াদের ভিত্তিতে। কোনো ব্যক্তির কাছে পাওনা থাকলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর পাওনাদার আসত এবং বলত: "তুমি কি ঋণ পরিশোধ করবে নাকি বৃদ্ধি করবে?" যদি তার কাছে পরিশোধ করার মতো কিছু থাকত তবে সে তা আদায় করত, অন্যথায় সেটিকে পরবর্তী বয়সের পশুর মূল্যে পরিবর্তন করে দেওয়া হতো; যদি তা বিনতে মাখায (৫) হতো, তবে সেটিকে...

--------------------------------------------

(১) আল-হারীব: যার সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেখুন: লিসানুল আরব (৩/১০১)।

(২) দেখুন: ইমাম তাবারীর তাফসীর (৫/৩৬) - সূরা আল-মায়িদাহর ৯১ নং আয়াত।

(৩) ফাশা: অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়া বা প্রসারিত হওয়া। দেখুন: আন-নিহায়াহ (৩/৪০৩)।

(৪) আল-মুজাহাফাহ: কোনো কিছু গ্রহণ করা ও তা সমূলে নিয়ে যাওয়া। দেখুন: লিসানুল আরব (২/১৮৬)।

(৫) আল-মাখায: গর্ভবতী উটনীদের নাম। আর বিনতে মাখায ও ইবনে মাখায হলো সেই উট যা দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৩০)
ابْنَةَ لَبُونٍ (1) في السَّنَةِ الثَّانِيَةِ، ثُمَّ حِقَّةً (2)، ثُمَّ جَذْعَةً (3)، ثُمَّ رُبَاعِيًّا (4) هَكَذا إلَى فَوْقٍ.

وفي العَيْنِ (5) يَأْتيهِ، فإنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ أضْعَفَهُ في العَامِ القَابِلِ، وإنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ أضْعَفَهُ أَيْضًا، فتَكُونُ مِئَةً، فَيَجْعَلُهَا إلَى القَابِلِ مِئتَيْنِ، فإنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ جَعَلَهَا أرْبَعَمِئَةٍ يُضْعِفُهَا له كُلَّ سَنَةٍ أوْ يَقْضِيهِ (6).

وقَدْ رَسَخَ الرِّبَا فِيهِمْ، وجَرَى مِنْهُمْ مَجْرَى الأُمُورِ الطَّبِيعِيَّةِ التِي صَارُوا لَا يُفَرِّقُونَ بَيْنَهُ وبَيْنَ التِّجَارةِ الطَّبِيعِيَّةِ، وقَالُوا: {إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا}.

قالَ الإِمَامُ الطَّبَرِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنَّ الذِينَ كانُوا يَأْكُلُونَ الرِّبَا مِنْ أهْلِ

--------------------------------------------

= الثَّانيةِ؛ لأنَّ أُمَّهُ قد لَحِقَتْ بالمَخَاضِ: أي الحَوَامِلِ، وإنْ لَمْ تَكُنْ حَامِلًا. انظر النهاية (4/ 261).

(1) بنتُ لَبُونٍ، وابنُ لَبُونٍ: وهُمَا مِنَ الإبلِ ما أَتَى عليهِ سَنَتَانِ ودخَلَ في الثَّالِثَةِ، فصَارَتْ أمُّهُ لَبُونًا، أي ذَاتَ لَبَنٍ؛ لأنَّهَا تكُونُ قدْ حَمَلَتْ حَمْلًا آخَرَ ووضَعَتْهُ. انظر النهاية (4/ 198).

(2) الحِقَّةُ: بكسر الحاء وهو منَ الإبِلِ ما دخلَ في السنة الرابعة إلى آخرها، وسُمّى بذلك لأنه استَحَقَّ الرُّكُوبَ والتَّحْمِيلَ، ويُجمعُ على حِقاقٍ وحَقَائِقَ. انظر النهاية (1/ 399).

(3) الجَذْعَةُ: هو ما كان منها شَابًّا فَتِيًّا، فهو من الإبل ما دخل في السنة الخامسة، ومن البقر والمَعْز ما دخل في السنة الثانية، وقيل البقر في الثالثة، ومن الضَّأْنِ ما تمَّتْ له سنة، وقيل أقل منها. انظر النهاية (1/ 243).

(4) يُقالُ للذَّكر من الإبل إذا طلَعَتْ رَبَاعِيتهُ -أي أسنانه الأمامية- رَبَاعٌ، والأنثى رَبَاعِيَةٌ بالتخفيف، وذلك إذا دخَلَا في السَّنَةِ السابعة. انظر النهاية (2/ 173).

(5) العَيْنُ: هوَ الذَّهَبُ. انظر لسان العرب (9/ 507).

(6) انظر تفسير الطبري (3/ 104).
বিনতে লাবুন (১) দ্বিতীয় বছরে, তারপর হিক্কাহ (২), তারপর জাযা’আ (৩), তারপর রুবায়ি (৪) - এভাবে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে।

আর মুদ্রার (৫) ক্ষেত্রেও সে তা নিয়ে আসবে। যদি তার কাছে তা না থাকে, তবে আগামী বছর সে তা দ্বিগুণ করবে। আর যদি তখনও তার কাছে না থাকে, তবে সে পুনরায় তা দ্বিগুণ করবে। ফলে তা ১০০ হবে, তারপর আগামী বছরের জন্য সে তা ২০০ করে দেবে। আর যদি তখনও তার কাছে না থাকে, তবে সে তা ৪০০ করে দেবে; এভাবে সে প্রতি বছর তার জন্য তা দ্বিগুণ করতে থাকবে অথবা সে তা পরিশোধ করে দেবে (৬)।

তাদের মাঝে সুদ গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল এবং তা তাদের মাঝে স্বাভাবিক বিষয়ের মতো প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তারা সুদ ও স্বাভাবিক ব্যবসার মাঝে কোনো পার্থক্য করত না। তারা বলত: "ব্যবসা তো সুদের মতোই"।

ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: নিশ্চয়ই যারা সুদ খেত তাদের মধ্যে যারা...

--------------------------------------------

= দ্বিতীয় বছর; কারণ তার মা গর্ভবতী উটদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; অর্থাৎ গর্ভবতী উটগুলোর সাথে মিলিত হয়েছে, যদিও সে গর্ভবতী না হয়ে থাকে। আন-নিহায়াহ (৪/২৬১) দেখুন।

(১) বিনতে লাবুন এবং ইবনে লাবুন: এগুলো উটের সেই বাচ্চা যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। ফলে তার মা 'লাবুন' অর্থাৎ দুগ্ধবতী হয়েছে; কারণ সে পুনরায় গর্ভধারণ করেছে এবং তা প্রসব করেছে। আন-নিহায়াহ (৪/১৯৮) দেখুন।

(২) হিক্কাহ: 'হা' বর্ণে কাসরাহ সহকারে। এটি সেই উট যা চতুর্থ বছরে পদার্পণ করেছে এবং তার শেষ পর্যন্ত এর সময়সীমা। একে এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি আরোহণ ও বোঝা বহনের উপযুক্ত হয়েছে। এর বহুবচন হলো 'হিকাক' এবং 'হাকায়িক'। আন-নিহায়াহ (১/৩৯৯) দেখুন।

(৩) জাযা’আ: এটি হলো সেই পশু যা অল্পবয়সী ও শক্তিশালী। উটের ক্ষেত্রে এটি পঞ্চম বছরে পদার্পণকারীকে বোঝায়। গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে যা দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। বলা হয়েছে গরুর ক্ষেত্রে তৃতীয় বছরে এবং ভেড়ার ক্ষেত্রে যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে, আবার কেউ বলেছেন এর চেয়েও কম। আন-নিহায়াহ (১/২৪৩) দেখুন।

(৪) পুরুষ উটের যখন সামনের দাঁত গজায় তখন তাকে 'রাবা' এবং মাদি উটকে 'রাবায়িয়াহ' (সংক্ষেপে) বলা হয়। এটি তখন হয় যখন তারা সপ্তম বছরে পদার্পণ করে। আন-নিহায়াহ (২/১৭৩) দেখুন।

(৫) আইন: এর অর্থ হলো স্বর্ণ। লিসানুল আরব (৯/৫০৭) দেখুন।

(৬) তাফসীরে তাবারী (৩/১০৪) দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الجَاهِلِيَّةِ، كانَ إذا حَلَّ مَالُ أحَدِهِمْ عَلَى غَرِيمِهِ، يَقُولُ الغَرِيمُ لِغَرِيمِ الحَقِّ: زِدْنِي في الأَجَلِ وأزِيدُكَ في مَالِكَ، كَانَ يُقَالُ لَهُمَا إذا فَعَلَا ذَلِكَ: هذَا رِبًا لا يَحِلُّ، فَإِذَا قِيلَ لَهُمَا ذَلِكَ، قالُوا: سَوَاءٌ عَلَيْنَا زِدْنَا في أوَّلِ البَيْعِ، أوْ عِنْدَ مَحَلِّ المَالِ (1).

 

*‌‌ انْتِشَارُ الزِّنَى:

ولَمْ يَكُنْ الزِّنَى نَادِرًا، وَكَانَ غَيْرَ مُسْتَنْكَرٍ، فَكَانَ مِنَ العَادَاتِ أَنْ يَتَّخِذَ الرَّجُلُ خَلِيلَاتٍ، وتَتَّخِذَ النِّسَاءُ أخِلَّاءَ بِدُونِ عَقْدٍ، وقَدْ كَانُوا يُكْرِهُونَ بَعْضَ النِّسَاءِ عَلَى الزِّنَى، قالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ (2) مِنْكُمْ طَوْلًا (3) أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ (4) الْمُؤْمِنَاتِ فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ (5) وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ} (6).

ورَوَى الإِمَامُ البُخَارِيُّ في صَحِيحِهِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: أَنَّ

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير الطبري (3/ 104).

(2) قال الحافظ ابن كثير في تفسيره (2/ 260): أي ومنْ لَمْ يَجِدْ.

(3) قال الحافظ ابن كثير في تفسيره (2/ 260): أي سَعَةً وقُدْرةً.

(4) قال الحافظ ابن كثير في تفسيره (2/ 261): أي الحَرَائِر.

(5) قال القرطبي في تفسيره (6/ 236): أي غير زَوَانٍ، أي مُعْلِنَاتٍ بالزِّنى؛ لأنَّ أهل الجاهلية كان فيهم الزَّوَاني في العَلَانيَةِ، ولهُنَّ رايات مَنْصُوباتٌ.

(6) قال القرطبي في تفسيره (6/ 236): أي أصدقاءُ على الفاحشةِ، والآية الكريمة في سورة النساء رقم (25).
জাহেলিয়াতের যুগে, যখন কারও ঋণ পরিশোধের সময় হতো, তখন ঋণগ্রহীতা পাওনাদারকে বলত: ‘আমার সময় বাড়িয়ে দাও, আমি তোমার মালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব।’ যখন তারা এমনটি করত, তখন তাদের বলা হতো: ‘এটি সুদ যা বৈধ নয়।’ যখন তাদের এ কথা বলা হতো, তখন তারা বলত: ‘আমাদের নিকট উভয়টিই সমান; চাই আমরা বিক্রয়ের শুরুতে (মূল্য) বৃদ্ধি করি, অথবা ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময় (পরিমাণ) বৃদ্ধি করি’ (১)।

 

*‌‌ ব্যভিচারের প্রসার:

ব্যভিচার বিরল ছিল না এবং এটি সমাজ কর্তৃক নিন্দিতও ছিল না। তখন এটি প্রথা ছিল যে, পুরুষরা উপপত্নী রাখত এবং নারীরা কোনো বিবাহ বন্ধন ছাড়াই উপপতি গ্রহণ করত। এমনকি তারা কিছু নারীকে ব্যভিচারে বাধ্য করত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমাদের মধ্যে কারো স্বাধীন (৪) ঈমানদার নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য (২) বা সচ্ছলতা (৩) না থাকে, তবে সে তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার দাসীদের বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের মোহর প্রদান করো; তারা হবে সচ্চরিত্রা, প্রকাশ্য ব্যভিচারিণী (৫) নয় এবং গোপনে উপপতি গ্রহণকারিণী (৬) নয়।} (সূরা নিসা: ২৫)।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (৩/ ১০৪)।

(২) হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (২/ ২৬০) বলেছেন: অর্থাৎ যে ব্যক্তি সামর্থ্য পায় না।

(৩) হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (২/ ২৬০) বলেছেন: অর্থাৎ প্রশস্ততা ও সক্ষমতা।

(৪) হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (২/ ২৬১) বলেছেন: অর্থাৎ স্বাধীন নারীগণ।

(৫) কুরতুবী তাঁর তাফসীরে (৬/ ২৩৬) বলেছেন: অর্থাৎ ব্যভিচারিণী নয়, যারা প্রকাশ্যে ব্যভিচার করে; কারণ জাহেলিয়াতের যুগে একদল প্রকাশ্য ব্যভিচারিণী ছিল এবং তাদের চেনার জন্য নির্দিষ্ট নিশান বা ঝাণ্ডা লটকানো থাকত।

(৬) কুরতুবী তাঁর তাফসীরে (৬/ ২৩৬) বলেছেন: অর্থাৎ যারা অশ্লীল কাজের জন্য গোপনে বন্ধু গ্রহণ করে। পবিত্র আয়াতটি সূরা আন-নিসা’র ২৫ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-লুউলুউল মাকনূন ফী সিরাতিন নাবিয়্যিল মামুন (পৃষ্ঠা: ৩২)
النِّكَاحَ في الجَاهِلِيَّةِ كانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أنْحَاءَ. . . والنِّكَاحُ الرَّابع: يَجْتَمعُ النَّاسُ الكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى المَرْأَةِ لا تَمْنَعُ مَنْ جَاءَهَا، وهُنَّ البَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا (1)، فمَنْ أرَادَهُّنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ (2).

وقالَ سبحانه وتعالى: {وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} (3).

ورَوَى الإِمَامُ مَالِكٌ في المُوَطَّأِ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ عَنْ عُثْمَانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه أنَّهُ قالَ: لَا تُكَلِّفُوا الأَمَةَ غَيْرَ ذَاتِ الصَّنْعَةِ الكَسْبَ، فَإنَّكُمْ مَتَى كَلَّفْتُمُوهَا ذَلِكَ كَسَبَتْ بِفَرْجِهَا (4).

وقَدْ نَهَى رسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ البَغِيِّ، فقَدْ أخْرَجَ الإِمَامُ أَحْمَدُ في مُسْنَده بِسَنَدٍ صَحِيحٍ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أنَّهُ قَالَ: نَهَى رسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ الحَجَّامِ، وكَسْبِ البَغِيِّ، وثَمَنِ الكَلْبِ (5).

ورَوَى الإِمَامُ مُسْلِمٌ في صَحِيحِهِ عَنْ جَابِرِ بنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قالَ: أَنَّ جَارِيَةً لِعَبْدِ اللَّهِ بنِ أُبَيِّ بنِ سَلُولَ يُقَالُ لَهَا: مُسَيْكَةٌ، وأخُرْى يُقَالُ لَهَا:

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ في الفتح (10/ 232): عَلَمًا بفتح اللام أي عَلامَةً.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه -كتاب النكاح- باب {وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ} - رقم الحديث (5127).

(3) سورة النور آية (33).

(4) أخرجه الإِمام مالك في الموطأ -كتاب الاستئذان- باب الأمر بالرِّفق بالمَمْلوك - وأورده ابن الأثير في جامع الأصول (10/ 589).

(5) أخرجه الإِمام أحمد في مسنده - رقم الحديث (7976).
জাহেলি যুগে বিবাহ ছিল চার প্রকারের... চতুর্থ প্রকার বিবাহ ছিল এই যে, অনেক লোক একত্রিত হতো এবং একজন মহিলার নিকট প্রবেশ করত, আর সেই মহিলা তার কাছে আসা কাউকে বাধা দিত না। তারা ছিল পতিতা; তারা তাদের দরজায় ঝাণ্ডা বা পতাকা টাঙিয়ে রাখত যা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হতো (১), সুতরাং যে তাদের কামনা করত সে তাদের কাছে প্রবেশ করত (২)।

এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না যদি তারা চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়—পার্থিব জীবনের তুচ্ছ ধনসম্পদ লাভের লালসায়।" (৩)।

ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থে সহিহ সনদে উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা কারিগরি বিদ্যায় পারদর্শী নয় এমন দাসীকে উপার্জন করার ভার দিও না। কারণ যখন তোমরা তাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দাও, তখন তারা তাদের লজ্জাস্থানের মাধ্যমে (ব্যভিচার করে) উপার্জন করে (৪)।

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পতিতার উপার্জন থেকে নিষেধ করেছেন। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষৌরকারের উপার্জন, পতিতার উপার্জন এবং কুকুরের মূল্য থেকে নিষেধ করেছেন (৫)।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুলের একজন দাসী ছিল যার নাম ছিল মুসাইকাহ, এবং অন্যজনের নাম ছিল:

--------------------------------------------

(১) আল-হাফিজ ফাতহুল বারিতে (১০/২৩২) বলেছেন: 'আলাম' (লাম বর্ণের ফাতহা বা যবরসহ) অর্থাৎ চিহ্ন বা সংকেত।

(২) বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন - বিবাহ অধ্যায় - অনুচ্ছেদ: {যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের মেয়াদের প্রান্তে পৌঁছায়} - হাদিস নম্বর (৫১২৭)।

(৩) সূরা আন-নূর, আয়াত (৩৩)।

(৪) ইমাম মালিক এটি মুওয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন - অনুমতি প্রার্থনা অধ্যায় - অনুচ্ছেদ: দাস-দাসীদের প্রতি নম্র ব্যবহারের আদেশ - এবং ইবনুল আসির এটি জামিউল উসুলে (১০/৫৮৯) উল্লেখ করেছেন।

(৫) ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন - হাদিস নম্বর (৭৯৭৬)।