(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: -)
النسخ عند الفخر الرازي   (محمود محمد الحنطور)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: النسخ عند الفخر الرازي

المؤلف: محمود محمد محمد الحنطور

الناشر: مكتبة الآداب - القاهرة

الطبعة: الأولى، 2002 م

عدد الصفحات: 143

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 محرم 1433

ফখর আল-রাজির নিকট রহিতকরণ   (মাহমুদ মুহাম্মদ আল-হানতুর)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: ফখর আল-রাজির নিকট রহিতকরণ

লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আল-হানতুর

প্রকাশক: মাকতাবাতুল আদাব - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ মুহাররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[كلام من وحي]

قال تعالى:

ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِها نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْها أَوْ مِثْلِها أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [البقرة: 106]

يَمْحُوا اللَّهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتابِ [الرعد: 39]

وَإِذا بَدَّلْنا آيَةً مَكانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِما يُنَزِّلُ قالُوا إِنَّما أَنْتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ [النحل: 101].
[ওহীর বাণী থেকে]

মহান আল্লাহ বলেন:

আমি কোনো আয়াত রহিত (نسخ) করি কিংবা তা বিস্মৃত করি, তবে আমি তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য আয়াত নিয়ে আসি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান? [আল-বাকারা: ১০৬]

আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন মুছে ফেলেন এবং যা ইচ্ছা সাব্যস্ত (إثبات) রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব। [আর-রাদ: ৩৯]

আর যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি—আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক পরিজ্ঞাত—তখন তারা বলে, ‘আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রটনাকারী।’ বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। [আন-নাহল: ১০১]।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌التقديم
উপস্থাপনা
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على محمد الأمين، وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين، فمن نعم الله تعالى على عباده العلم الذى يثمر المعرفة التى أصبحت أساسا فى الوصول إلى الحق فى الخلق، وعنوانا على الطريق الصحيح فى الوصول إلى رب العالمين؛ الذى أسبغ علينا نعمه ظاهرة وباطنة والتى لا ينكرها إلا جاحد، رفض رجوع الفضل إلى صاحبه، الذى نعبده ونستعينه ونستهديه فى كل أعمالنا، كى نحقق الغرض من خلقنا ألا وهو العبادة الصحيحة، والاعتراف بوحدانية الخالق- سبحانه وتعالى من خلال الدين الخاتم والقرآن الخالد؛ الذى تظهر معجزاته كل يوم فى شتى المعارف، ومختلف العلوم التى جعلت أصحابها بدورا تنير للناس الطرق، وتهدى العالم إلى السبل بعد رسل الله- عليهم السلام، فقد اختلفت الأمم، وأجدبت الحضارات وتشعبت الناس، ما بين غرب وشرق، وشمال وجنوب، نسوا أن الحق- سبحانه وتعالى واحد، والرسول واحد والكتاب واحد، فأين يذهبون؟!

فمهما بعدوا عنه، أو تركوه، أو تناسوه، فلن ينصلح آخرهم إلا بما صلح به أولهم، وصدق الله العظيم: وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ [الأنبياء: 107] ومعطيات الرحمة فى الاتحاد لا فى الافتراق والتشيع والتحزب، والرحمة فى العبادة لا فى الإلحاد والكفر والمروق عن الدين، والرحمة فى السمع والطاعة لأوامر الله تعالى ونواهيه وأن الله تعالى سينصر عباده، وحزبه، ما داموا
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতসমূহের অন্যতম হলো জ্ঞান, যা এমন প্রজ্ঞা ও পরিচয় দান করে যা সৃষ্টির মাঝে সত্যে উপনীত হওয়ার ভিত্তি এবং রাব্বুল আলামীনের সান্নিধ্য লাভের সঠিক পথের দিশারি হয়ে দাঁড়িয়েছে; যিনি আমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন, যা কেবল সেই চরম অকৃতজ্ঞ ছাড়া কেউ অস্বীকার করে না, যে ব্যক্তি অনুগ্রহকে তার প্রকৃত দাতার দিকে সম্বন্ধ করতে অস্বীকার করে। আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং আমাদের সকল কাজে তাঁরই নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি; যাতে আমরা আমাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য তথা সঠিক ইবাদত এবং সর্বশেষ দ্বীন ও শাশ্বত কুরআনের মাধ্যমে স্রষ্টা—সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার—একত্ববাদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে পারি। যার মুজিযাসমূহ প্রতিদিন বিভিন্ন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নানাবিধ শাখায় প্রকাশ পাচ্ছে, যা এই ইলমের অধিকারীদের এমন পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত করেছে যারা মানুষের জন্য পথকে আলোকিত করেন এবং আল্লাহর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) পর বিশ্বকে সঠিক পথের দিশা দেন। জাতিসমূহের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, সভ্যতাগুলো শ্রীহীন হয়ে পড়েছে এবং মানুষ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এবং উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে; তারা ভুলে গেছে যে সত্য—সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা—এক, রাসূল এক এবং কিতাব এক; তবে তারা কোথায় যাচ্ছে?!

তারা সত্য থেকে যতই দূরে সরে যাক, কিংবা তাকে বর্জন করুক অথবা বিস্মৃত হোক না কেন, এই উম্মতের শেষাংশ কখনোই সংশোধিত হবে না সেই আদর্শ ছাড়া যার মাধ্যমে তাদের প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি" [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। আর রহমতের দাবি হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা, বিচ্ছিন্নতা, শিয়া মতাদর্শ (تشيع) ও দলাদলির মধ্যে লিপ্ত হওয়া নয়। রহমত নিহিত রয়েছে ইবাদতের মাঝে, নাস্তিক্যবাদ, কুফর ও দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার মাঝে নয়। রহমত হলো মহান আল্লাহ তা‘আলার আদেশ ও নিষেধ শ্রবণ ও আনুগত্য করার মাঝে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের এবং তাঁর দলকে সাহায্য করবেন, যতক্ষণ তারা...
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৬)
مخلصين فى العبادة، مسيطرين على الدنيا بتقواهم، وعلومهم لا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كانُوا آباءَهُمْ أَوْ أَبْناءَهُمْ أَوْ إِخْوانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [المجادلة: 22].

وإنى على ثقة تامة أن الإسلام هو الحق، والقرآن هو الفيصل للعالم فى عصرنا الحاضر، وما يقدمه هذا الدين للعالم كله هو المفتاح السحرى لمشكلات العصر، وقضايا السيادة، ومشكلات الانفراد بالهيمنة والثقافة والفكر على العالم من دولة أو مجموعة دول لكى يصبح العالم كله قرية واحدة أو فكرة واحدة تدور فى فلك القوى مهما كانت نوازعه أو مطالبه، فى هدم القيم الثابتة لدى الأمم، وسلخ الإيمان الراسخ عند الشعوب المتدينة، وقلب الفطرة إلى الأنانية المطلقة، والخصوصية البغيضة التى دعا الإسلام إلى تجاوزها، والتعاون على البر والتقوى، والنفع العام للجميع دون تمييز أو مفاضلة وَتَعاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوى وَلا تَعاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوانِ [المائدة: 4].

وخير دليل على شمولية الإسلام، وعمومية رسالته، ما وجدته عند الرازى الذى نشأ فى بيئة فارسية أو إيرانية، ومع ذلك جادل وناقش كل الفرق التى تدعى الإسلام، وتطبق غيره، ونجح فى صراعه، وبلغ الذروة فى دفاعه عن دينه، دون أن يعلو بجنس أو يفتخر بقوم، بل جعل الإسلام هو أصله الذى يدافع عنه وينتصر له، حتى تحقق له ما أراد، ولقد شجعتنى سيرة الفخر الرازى، وما
তারা ইবাদতে একনিষ্ঠ, তাদের তাকওয়া এবং ইলমের মাধ্যমে দুনিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী। "আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে, যদিও তারা তাদের পিতা হোক বা পুত্র হোক অথবা তাদের ভাই হোক কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজন হোক। এদের অন্তরে আল্লাহ ঈমানকে সুদৃঢ় করেছেন এবং নিজের পক্ষ থেকে এক রূহ (নূর) দ্বারা তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।" [আল-মুজাদালা: ২২]

আমি পূর্ণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) বিশ্বাসের সাথে মনে করি যে ইসলামই সত্য এবং বর্তমান যুগে আল-কুরআনই হলো বিশ্বের জন্য চূড়ান্ত ফয়সালাকারী। এই দ্বীন সমগ্র বিশ্বের সামনে যা উপস্থাপন করে তা-ই হলো বর্তমান সময়ের সমস্যাবলি, সার্বভৌমত্বের বিষয়সমূহ এবং কোনো এক দেশ বা একাধিক রাষ্ট্র কর্তৃক বিশ্বব্যাপী আধিপত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের জাদুকরী সমাধান; যাতে করে পুরো বিশ্ব একটি গ্রাম বা একটি চিন্তাধারায় পরিণত হয় যা কেবল পরাশক্তির কক্ষপথেই আবর্তিত হয়—তাদের প্রবৃত্তি বা চাহিদা যা-ই হোক না কেন—যা জাতিসমূহের সুপ্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধকে ধ্বংস করে, ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর সুদৃঢ় বিশ্বাসকে ছিনিয়ে নেয় এবং মানব প্রকৃতিকে (ফিতরাত) চরম স্বার্থপরতা ও সেই ঘৃণ্য আত্মকেন্দ্রিকতায় রূপান্তর করে যা থেকে ইসলাম উত্তরণের আহ্বান জানিয়েছে। বরং ইসলাম নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কোনো প্রকার বৈষম্য বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি ছাড়াই সকলের জন্য সাধারণ কল্যাণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে: "তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ওপর পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" [আল-মায়িদাহ: ৪]

ইসলামের ব্যাপকতা এবং এর রিসালাতের সর্বজনীনতার সর্বোত্তম প্রমাণ হলো ইমাম রাজীর মাঝে যা আমি পেয়েছি। তিনি পারস্য বা ইরানি পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি এমন প্রতিটি দলের সাথে বিতর্ক ও আলোচনা করেছেন যারা ইসলামের দাবিদার হয়েও ভিন্ন পথ অনুসরণ করত। তিনি এই সংগ্রামে সফল হয়েছিলেন এবং স্বীয় দ্বীন প্রতিরক্ষায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। তিনি কোনো বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব বা গোত্রীয় অহমিকা প্রদর্শন করেননি, বরং ইসলামকেই নিজের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন যার প্রতিরক্ষা ও বিজয়ের জন্য তিনি সচেষ্ট ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। আল-ফখর আল-রাজীর জীবনী আমাকে উৎসাহিত করেছে, এবং যা...
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৭)
دار حولها وبسببها فى الدخول إلى عالمه الذى جمع العلوم فوعاها، وفتق أكمام الشريعة فأعلاها، فاستخرت الله تعالى، مستعينا به فى الولوج إلى هذا الخضم من التراث، كى أفتح لنفسى نافذة على فكر الرازى، لعلى أحظى بفكرة صائبة أو أرجع بيان واضح، ودليل راجح عن هذا الرجل فى موضوع كتب فيه الكثيرون حتى أشبعوه، ولم يتركوا شاردة ولا واردة قديما ولا حديثا، وهو النسخ فى القرآن، ولكنى أحببت أن أنفذ إلى الرازى من خلال هذا الموضوع، الذى كثر الجدل فيه عسى أن أخرج منه بما أشتهى، وإلا فقد حاولت، والله المستعان على المراد وهو نعم المولى ونعم النصير.

د. محمود محمد الحنطور الأستاذ المساعد بكلية الدعوة بالمدينة المنورة فرع جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الثلاثاء فى 23 جمادى الآخرة 1422 هـ 11 سبتمبر 2001 م
তার চারপাশেই আবর্তিত হয়েছে এবং এর কারণেই এমন এক জগতে প্রবেশের পথ সুগম হয়েছে, যিনি বিভিন্ন জ্ঞানকে সংকলিত ও আত্মস্থ করেছেন এবং শরিয়তের নিগূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করে একে সমুন্নত করেছেন। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং ঐতিহ্যের এই বিশাল সমুদ্রে অবগাহন করার জন্য তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, যাতে আল-রাজির চিন্তাধারার ওপর একটি বাতায়ন উন্মুক্ত করতে পারি। সম্ভবত আমি কোনো সঠিক চিন্তার সন্ধান পাব কিংবা এই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রমাণ (راجح) উপস্থাপন করতে পারব এমন একটি বিষয়ে, যা নিয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেকেই বিস্তৃত আলোচনা করেছেন এবং কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ই বাদ রাখেননি; আর বিষয়টি হলো কুরআনের রহিতকরণ (النسخ)। তবে আমি এই অধিক বিতর্কিত বিষয়ের মাধ্যমেই আল-রাজির চিন্তার গভীরতায় প্রবেশ করতে চেয়েছি, যাতে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারি; অন্যথায় আমি অন্তত প্রচেষ্টা করেছি। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তিনিই উত্তম অভিভাবক ও শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

ড. মাহমুদ মুহাম্মদ আল-হানতুর, সহকারী অধ্যাপক, দাওয়াহ অনুষদ, মদিনা মুনাওয়ারা, ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার, ২৩ জুমাদিউল আখিরা ১৪২২ হিজরি, ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول حياة الرازى

التمهيد

اسمه ونسبه.

مولده ووفاته

نشأته وصفاته

الرازى بين المدح والذم
প্রথম অধ্যায়: আর-রাজির জীবন

ভূমিকা

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

তাঁর জন্ম ও মৃত্যু

তাঁর লালন-পালন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

প্রশংসা (مدح) ও সমালোচনা (ذم)-এর মাঝে আর-রাজি
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌التمهيد
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১১)
لقد شغل الرازى الناس فى عصره، وملأ الدنيا علما وفكرا، وما زلنا نذكره بخير من خلال ما سطره بنانه من صفحات، وما بزّ فيه أقرانه من مناظرات ومحاورات، تثبت أن هذا الرجل مكتبة متحركة أينما حلت أفادت، وحيثما توجهت أنارت الطريق أمام السائلين، والمتعلمين، والعلماء، والباحثين، ولقد صدق وصف السبكى فيه «انتظمت بقدره العظيم عقود الملة الإسلامية، وابتسمت بدره النظيم ثغور الثغور المحمدية» (1).

فآثاره العلمية والأدبية والفلسفية والشرعية تدل عليه دلالة واضحة، وما سجله العلماء والباحثون والمؤرخون فى حياته أو عن حياته، وبعد مماته خير دليل على هذه الآثار وتشهد على أننا أمام دائرة معارف متكاملة الفروع، ومتنوعة الأصناف ما بين طب ودين وأدب وفلسفة عربية وفارسية، فالناظر فى حياة الرجل يجده موسوعيا، لا يدرى الناظر فى علومه من أين يبدأ، ولا من أى الفنون يأخذ، فهو رأس فى الذكاء والعقليات، وبحر فى العقائد والحكمة والشرعيات تفسيرا وفقها وأصولا.

وكتابه الكبير «مفاتيح الغيب» (2) أو «التفسير الكبير» بلغ اثنين وثلاثين جزءا من الحجم الكبير والورق الكبير، الذى يربو على تفسير الطبرى بعدة أجزاء، وليس له مثيل بين كتب التفسير.

وكذلك كتابه الفذ فى أصول الفقه، الذى يعد علما على

--------------------------------------------

(1) السبكى: طبقات الشافعية 8/ 81 ط الحلبى.

(2) طبع الكتاب باسم التفسير الكبير، فى عدة دول إسلامية، وأعتمد على طبعة دار الكتب العلمية بطهران، الطبعة الثانية بدون تاريخ.
রাযী তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং বিশ্বকে জ্ঞান ও চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে যা ফুটে উঠেছে এবং বিতর্ক ও আলোচনায় তিনি তাঁর সমসাময়িকদের যেভাবে অতিক্রম করেছেন, তার মাধ্যমে আমরা আজও তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এটি প্রমাণ করে যে, এই ব্যক্তি ছিলেন এক চলন্ত গ্রন্থাগার; যেখানেই তিনি অবস্থান করেছেন সেখানেই উপকার পৌঁছেছে এবং যেদিকেই তিনি অগ্রসর হয়েছেন, সেখানেই প্রশ্নকারী, শিক্ষার্থী, আলেম ও গবেষকদের জন্য পথ আলোকিত করেছেন। ইমাম আস-সুবকির তাঁর সম্পর্কে করা এই বর্ণনাটি অত্যন্ত সঠিক: "তাঁর সুমহান মর্যাদার মাধ্যমে ইসলামী মিল্লাতের মালা সুসংগঠিত হয়েছে এবং তাঁর সুবিন্যস্ত মুক্তারূপী জ্ঞানের হাসিতে মুহাম্মদী সীমান্তসমূহের মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জ্বল হয়েছে" (১)।

তাঁর বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক, দার্শনিক ও শরয়ী অবদানসমূহ তাঁর প্রতি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আলেম, গবেষক ও ঐতিহাসিকগণ তাঁর জীবদ্দশায় বা তাঁর জীবন সম্পর্কে এবং তাঁর মৃত্যুর পর যা কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন, তা-ই এসব নিদর্শনের সর্বোত্তম প্রমাণ। এটি সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা এক পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষীয় প্রতিভার সামনে রয়েছি, যার শাখাগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত এবং চিকিৎসা, ধর্ম, সাহিত্য ও আরবি-ফারসি দর্শনের মতো বৈচিত্র্যময় বিষয়ে পরিব্যাপ্ত। যে ব্যক্তি তাঁর জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন, তিনি তাঁকে একজন বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত হিসেবেই পাবেন। তাঁর অগণিত জ্ঞান দেখে কেউ বুঝতে পারে না কোথা থেকে শুরু করবে বা কোন শাখা থেকে জ্ঞান গ্রহণ করবে। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তিনির্ভর বিদ্যায় শীর্ষস্থানীয় ছিলেন এবং আকীদা, হিকমত ও শরয়ী বিষয়সমূহে—যেমন তাফসীর, ফিকহ এবং উসুল (أصول)—ছিলেন এক বিশাল সমুদ্রের ন্যায়।

তাঁর সুবিশাল গ্রন্থ ‘মাফাতিহুল গাইব’ (২) বা ‘আত-তাফসীরুল কাবীর’ বৃহৎ আকারে বত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে, যা খণ্ড সংখ্যার দিক থেকে তাফসীরে তাবারীর চেয়েও বড়। তাফসীর শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর কোনো নজির নেই।

একইভাবে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে তাঁর সেই অনন্য গ্রন্থটি, যা একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য...

--------------------------------------------

(১) আস-সুবকি: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৮/৮১, হালবি প্রকাশনী।

(২) বইটি বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে আত-তাফসীরুল কাবীর নামে মুদ্রিত হয়েছে। আমি তেহরানের দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহর দ্বিতীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছি, যা তারিখহীন।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১২)
صاحبه، بجانب من كتبوا فى هذا الفن من العلماء الأجلاء، والكتاب هو «المحصول فى علم أصول الفقه» (1) وهو أصل فى بابه وفنه.

والكتب فى انتشارها، وقبولها بين الناس، كالمعادن النفيسة كلما خلصت نية صاحبها فى كتابتها، وكملت أدواته ومعلوماته زادت رواجا وانتشارا، ولمعانا على حق لا على زيف، لذلك قال الذهبى فى العبر عن الرازى «ورزق الحظوة فى تصانيفه، وانتشرت فى الأقاليم» (2) وهذه ميزة أخرى تضاف إلى ما سبق من ميزات انفرد بها الفخر الرازى بين العلماء، بالإضافة إلى سجل حافل بالدراسات والبحوث والرسائل العلمية حول هذه الشخصية الفريدة، وما قدمته فى مجالات شتى، وعلوم متنوعة، توشك هذه الدراسات والبحوث فى الجامعات ومعاهد العلم والمكتبات أن تقارب مقدار ما كتبه بل تزيد على ذلك كثيرا، وسيظل الرازى (3) نبعا يفيض بالعطاء كلما جال العلماء فى فكره وكتبه، ونقبوا عن كنوزه ودرره، وهكذا الكبار من العلماء تفنى أجسادهم وتبقى علومهم وفنونهم نبراسا لكل العصور، يتجدد عطاؤه مع تجدد الأيام والليالى خلودا وصعودا وفكرا وحكمة.

--------------------------------------------

(1) طبع الكتاب باسم المحصول فى علم أصول الفقه للرازى، طبعة لجنة البحوث بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية 1399 هـ- 1979 م، وحققه د. طه جابر فياض العلوانى فى عدة مجلدات.

(2) الذهبى: العبر فى خبر من غبر 3/ 142.

(3) انظر: المبحث الخاص بالرازى من كتاب «إلى طه حسين فى عيد ميلاده السبعين» بقلم چورچ قنواتى، إعداد عبد الرحمن بدوى، ط دار المعارف- مصر 1962 م.
তার রচয়িতা, এই শাস্ত্রের (فن) প্রখ্যাত আলেমদের পাশাপাশি; আর কিতাবটি হলো «আল-মাহসুল ফি ইলমি উসুলিল ফিকহ» (১), যা এই বিষয় ও শাস্ত্রে (فن) একটি আকর গ্রন্থ (أصل)।

মানুষের মাঝে কিতাবসমূহের প্রসার ও গ্রহণযোগ্যতা হলো মূল্যবান ধাতুর ন্যায়; কিতাব রচনায় লেখকের নিয়ত যত বেশি বিশুদ্ধ হয় এবং তার জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ যত পূর্ণতা পায়, কিতাবটি সত্যের ওপর ভিত্তি করে ততই সুপ্রসিদ্ধি, প্রসার ও উজ্জ্বলতা লাভ করে, কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই। এই কারণে ইমাম আয-যাহাবি 'আল-ইবার' গ্রন্থে রাযি সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তাঁর রচনাবলিতে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন এবং তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে" (২)। এটি ফখর রাযির এমন এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যা আলেমদের মাঝে তাঁর পূর্বে বর্ণিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহের সাথে যুক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি এই অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন বিচিত্র ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের ওপর রচিত হয়েছে অনেক উচ্চতর গবেষণা, প্রবন্ধ ও বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারগুলোতে বিদ্যমান এই গবেষণা ও প্রবন্ধগুলোর পরিমাণ তাঁর নিজের রচিত গ্রন্থাবলির পরিমাণের কাছাকাছি পৌঁছেছে, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি। রাযি (৩) সর্বদা জ্ঞান বিতরণের এক প্রবাহমান ঝরনাধারা হিসেবে টিকে থাকবেন, যখনই আলেমগণ তাঁর চিন্তা ও কিতাবসমূহ নিয়ে পর্যালোচনা করবেন এবং তাঁর জ্ঞান-ভাণ্ডারের মণি-মুক্তা অন্বেষণ করবেন। আর এভাবেই মহান আলেমদের দেহ নশ্বর হলেও তাঁদের ইলম ও শাস্ত্রীয় অবদান (فن) সকল যুগের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে টিকে থাকে; দিন ও রজনীর আবর্তনের সাথে সাথে অমরত্ব, উৎকর্ষ, চিন্তা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে যার অবদান প্রতিনিয়ত নবায়ন হতে থাকে।

--------------------------------------------

(১) কিতাবটি রাযির 'আল-মাহসুল ফি ইলমি উসুলিল ফিকহ' নামে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কমিটি কর্তৃক ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি বেশ কয়েকটি খণ্ডে ড. ত্বহা জাবির ফায়াদ আল-আলওয়ানি কর্তৃক সম্পাদিত (حققه) হয়েছে।

(২) আয-যাহাবি: আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার ৩/ ১৪২।

(৩) দেখুন: জর্জ কানাওয়াতী রচিত 'ইলা ত্বহা হুসাইন ফি ঈদি মিলাদিহিস সাবয়িন' গ্রন্থের রাযি সম্পর্কিত বিশেষ অধ্যায়, সম্পাদনা: আব্দুর রহমান বাদাওয়ি, দারুল মাআরিফ প্রকাশনী- মিসর ১৯৬২ খ্রি।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌اسمه ونسبه:

تتفق المصادر التى أرخت لحياة الرازى على أن اسمه: محمد بن عمر بن الحسين بن على، القرشى، البكرى، التيمى، الطبرستانى الأصل، الرازى المولد، الشافعى المذهب المدافع عن عقيدة أهل السنة والجماعة، ابن خطيب الرى من أهم مدن إيران آنذاك.

وأما كناه فكثيرة، وألقابه فأكثر، ويبقى ما اشتهر به، ولقب به الفخر الرازى أو فخر الدين الرازى (1)، وكثرة الكنى والألقاب تدل على شرف صاحبها وعلو منزلته بين أقرانه، وعلماء عصره.

…

--------------------------------------------

(1) راجع:

- ابن الأثير: الكامل فى التاريخ 9/ 302.

- الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 211 فى الهامش سجل حافل عن سيرة الرازى قديما وحديثا. ط دار الكتاب اللبنانى 1997 م.

- ابن كثير: البداية والنهاية 17/ 11.

- السبكى: طبقات الشافعية 8/ 81.

- ابن حجر العسقلانى: لسان الميزان 4/ 426.

- ابن تغرى بردى: النجوم الزاهرة فى ملوك مصر والقاهرة 6/ 175.

- ابن العماد الحنبلى: شذرات الذهب 7/ 40.

- ياقوت الحموى: معجم البلدان 3/ 116.
নাম ও বংশপরিচয়:

আল-রাজির জীবনী গ্রন্থনাকারী উৎসসমূহ এ বিষয়ে একমত যে তাঁর নাম হলো: মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হুসাইন বিন আলি, আল-কুরাশি, আল-বাকরি, আল-তাইমি; বংশগতভাবে তাবারস্তানি, জন্মসূত্রে রাজি, শাফেয়ি মাজহাব (مذهب) অনুসারী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা (عقيدة) রক্ষাকারী; তিনি তৎকালীন ইরানের অন্যতম প্রধান শহর রায়ের খতিবের পুত্র।

পক্ষান্তরে তাঁর উপনাম (كنية) অনেক এবং উপাধি (لقب) আরও অধিক; তবে তিনি যে নামে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং যে উপাধিতে (لقب) ভূষিত হয়েছেন তা হলো ফখর রাজি বা ফখরুদ্দিন রাজি (১)। উপনাম (كنية) ও উপাধির (لقب) আধিক্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর সমসাময়িক ও সমকালীন আলিমদের মধ্যে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।

...

--------------------------------------------

(১) দেখুন:

- ইবনুল আসির: আল-কামিল ফিত তারিখ ৯/৩০২।

- আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/২১১; ফুটনোটে রাজির প্রাচীন ও আধুনিক জীবনী সম্পর্কে একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। দারুল কিতাব আল-লুবনানি সংস্করণ, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ।

- ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৭/১১।

- আস-সুবকি: তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৮/৮১।

- ইবনে হাজার আল-আসকালানি: লিসানুল মিজান ৪/৪২৬।

- ইবনে তাগরি বারদি: আন-নুজুম আয-যাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরা ৬/১৭৫।

- ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি: শাযারাতুয যাহাব ৭/৪০।

- ইয়াকুত আল-হামাউয়ি: মুজামুল বুলদান ৩/১১৬।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌مولده ووفاته

ولد الرازى بالرّى من أهم مدن إيران، وأكثرها رواجا فكريا وعلميا فى عهده وزمانه، فى سنة أربع وأربعين وخمسمائة من الهجرة النبوية، وهى أرجح الأقوال عند علماء التاريخ والتراجم، وهذا قريب مما ذكره عن نفسه (1)، حينما انتهى من تفسير سورة يوسف- عليه السلام فى يوم الأربعاء، السابع من شعبان فى سنة إحدى وستمائة من الهجرة، وكذلك عند ما انتهى من تفسير سورة التوبة فى يوم الجمعة الرابع عشر من رمضان فى السنة نفسها، مما يؤكد وجوده بين سنة إحدى وستمائة، وست وستمائة من الهجرة، فقد توفى فى ذى الحجة يوم عيد الفطر من سنة ست وستمائة، فى مدينة هراة من المدن الأفغانية وقد أجمعوا على هذا التاريخ، وأرجعوا سبب وفاته إلى ما كان بينه وبين الكرّامية (2) من خلافات، فقد نال منهم كثيرا وصدهم بالحجة والمنطق والبرهان، ونالوا منه سبا ورميا بالكبائر والكفر، حتى قيل إنهم دسوا إليه من سقاه سما فمات (3).

…

--------------------------------------------

(1) د. محمد إبراهيم عبد الرحمن: منهج الفخر الرازى 25.

(2) الكرامية: بفتح الكاف وتشديد الراء، ينتسبون إلى محمد بن كرام السجستانى من دعاة التجسيم والإرجاء، وجعل الله تعالى محلا للحوادث وجوهرا، وهم أهل ضلالة وكفر. البغدادى: الفرق بين الفرق 25، 5/ 2.

(3) الذهبى: العبر 3/ 142.
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু

রাযী ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর সমসাময়িক যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ শহর 'রে'-তে হিজরি ৫৪৪ সনে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদ এবং জীবনী (التراجم) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য (أرجح) মত। এটি তিনি নিজের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার কাছাকাছি (১), যখন তিনি হিজরি ৬০১ সনের ৭ই শাবান বুধবার সূরা ইউসুফের তাফসির সমাপ্ত করেছিলেন। একইভাবে যখন তিনি একই বছরের ১৪ই রমজান শুক্রবার সূরা আত-তাওবার তাফসির শেষ করেন, যা ৬০১ থেকে ৬০৬ হিজরির মধ্যে তাঁর উপস্থিতিকে নিশ্চিত করে। তিনি ৬০৬ হিজরির জিলহজ মাসে ঈদুল ফিতরের দিন আফগানিস্তানের হেরাত শহরে মৃত্যুবরণ করেন এবং ঐতিহাসিকগণ এই তারিখের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ (أجمعوا) করেছেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে তাঁরা তাঁর এবং কাররামিয়া (الكرامية) সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরোধকে দায়ী করেছেন। তিনি যুক্তি, তর্ক এবং প্রমাণের মাধ্যমে তাদের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিরোধ করেছিলেন। বিনিময়ে তারা তাঁকে গালিগালাজ করে এবং কবিরা গুনাহ ও কুফরির (كفر) অপবাদ দেয়; এমনকি বলা হয় যে, তারা গোপনে কাউকে দিয়ে তাঁকে বিষপান করিয়েছিল, যার ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

…

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আবদুর রহমান: মানহাজুল ফখরুর রাযী ২৫।

(২) কাররামিয়া (الكرامية): কাফ বর্ণে ফাতহা এবং রা বর্ণে তাশদিদ সহকারে; এরা মুহাম্মদ ইবনে কাররাম সাজিস্তানির অনুসারী, যারা আল্লাহর অবয়ব দান (تجسيم) এবং ইরজা (إرجاء) মতবাদের প্রচারক ছিল। তারা আল্লাহ তাআলাকে নশ্বর গুণাবলির আধার এবং দেহ হিসেবে গণ্য করত। তারা ভ্রান্ত (ضلالة) এবং কুফরি (كفر) লিপ্ত গোষ্ঠী। আল-বাগদাদি: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ২৫, ৫/২।

(৩) আয-যাহাবি: আল-ইবার ৩/১৪২।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌نشأته وصفاته:

يعد الفخر الرازى نموذجا للعالم الذى لا يتوقف عند علم معين، بل أخذ من كل العلوم بحظ وافر، مما جرّ عليه الأحقاد، وزاد له فى الحسّاد، فى حياته وبعد مماته، فقد نشأ الرازى فى البيئة الإيرانية فى القرن السادس الهجرى، وبدايات الصراح بين المغول والمسلمين، وما سبق زحفهم على بلاد الإسلام والعراق بخاصة، وتدنّى الحضارة الإسلامية بسبب الصراعات والانقسامات بين دويلات العالم الإسلامى آنذاك، فالرى العاصمة الكبرى والمدينة العظمى لبلاد إيران وخراسان وخوارزم، وما كانت تموج به من فكر وثقافة وعلم، تحولت فى عهد الرازى إلى دمار وخراب، لولا فطنة بعض السلاطين مثل شهاب الدين الغورى سلطان غزنة، وعلاء الدين خوارزم شاه صاحب خراسان، فى الحفاظ على الدين واللغة والعلوم، لما وجدنا مثل الرازى، وغيره من العلماء الكبار الذين حملوا مشعل العلم والحضارة للعالم كله، يصححون المعوج من العقائد، ويقيمون الصحيح من الشريعة الإسلامية، ويدافعون عن الدين بكل ما رزقهم الله تعالى به من فهم ثاقب، وإخلاص نادر.

عاش الرازى فى هذا العصر المضطرب، متعلما ودارسا على والده ضياء الدين خطيب الرى، وصاحب كتاب «غاية المرام فى علم الكلام»، وقد أخذ أبوه علم الأصول والكلام عن تلامذة الجوينى إمام الحرمين الذى أخذ عن أبى إسحاق الأسفراييني، والذين أخذوا الأصول عن أبى الحسن الأشعرى، وكذلك تفقه الفخر الرازى على والده الذى تفقه على الإمام البغوى الذى تفقه على مذهب الشافعى
তাঁর লালন-পালন ও গুণাবলি:

ফখর আল-রাজি এমন একজন জ্ঞানতাপসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হন, যিনি কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি প্রতিটি শাস্ত্র থেকেই পূর্ণমাত্রায় জ্ঞান আহরণ করেছিলেন। যা তাঁর প্রতি বিদ্বেষের সঞ্চার করেছিল এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে তাঁর প্রতি ঈর্ষাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল। রাজি ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে পারস্যের পরিবেশে লালিত-পালিত হন, যা ছিল মঙ্গোল ও মুসলিমদের মধ্যে সংঘাতের প্রারম্ভকাল এবং বিশেষ করে ইসলামি ভূখণ্ড ও ইরাকে তাদের আগ্রাসনের পূর্ববর্তী সময়। তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিবাদ ও বিভক্তির ফলে ইসলামি সভ্যতা তখন পতনের মুখে ছিল। রয় শহরটি ছিল পারস্য, খোরাসান এবং খাওয়ারিজমের এক বিশাল রাজধানী ও শ্রেষ্ঠ নগরী। জ্ঞান, সংস্কৃতি ও চিন্তার যে জোয়ারে এই শহরটি প্লাবিত ছিল, তা রাজির যুগে ধ্বংস ও বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। যদি গজনির সুলতান শিহাব উদ্দিন ঘুরি এবং খোরাসানের শাসক আলাউদ্দিন খাওয়ারিজম শাহের মতো কিছু সুলতান দ্বীন, ভাষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান সংরক্ষণে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শন না করতেন, তবে আমরা রাজি কিংবা তাঁর মতো এমন মহান আলেমদের পেতাম না, যারা সমগ্র বিশ্বের জন্য জ্ঞান ও সভ্যতার আলোকবর্তিকা বহন করেছেন। তাঁরা আকিদার বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করতেন, ইসলামি শরিয়তের সঠিক (صحيح) বিধানগুলো প্রতিষ্ঠা করতেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত তীক্ষ্ণ মেধা ও বিরল একনিষ্ঠতার মাধ্যমে দ্বীনকে রক্ষা করতেন।

রাজি এই অস্থির যুগে তাঁর পিতা জিয়াউদ্দিন খতিব আল-রয়-এর নিকট শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করেন, যিনি ‘গয়াতুল মারাম ফি ইলমিল কালাম’ গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর পিতা উসুল (أصول) ও কালাম শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করেছিলেন ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনির ছাত্রদের থেকে, যিনি আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়িনি থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন এবং তাঁরা আবু আল-হাসান আল-আশআরি থেকে উসুল (أصول) গ্রহণ করেছিলেন। অনুরূপভাবে ফখর আল-রাজি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যিনি ইমাম বাগভির নিকট ফিকহ শিখেছিলেন এবং ইমাম বাগভি শাফেয়ী মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
ودافع عنه، وكذلك أخذ الفخر الرازى عن المجد الجيلى علوم الحكمة، وتفقه على الكمال السمنانى، ويقال إنه حفظ كتاب «الشامل» فى علم الكلام للإمام الجوينى (1).

حرص الرازى على الصدارة فى العلوم الشرعية والحكمية والوعظ والتصوف الذى اتصل بقطب عصره فيه ابن عربى (2) صاحب الفتوحات المكية المشهورة وفصوص الحكم.

بدأ الرازى حياته فقيرا ثم فتحت عليه الأرزاق وانتشر اسمه وبعد صيته، وقصد من أقطار الأرض لطلب العلم، وتغير حاله إما بسبب (3) زواج ابنيه من كريمتى أحد الأطباء المشهورين فى عصره وفى بلده، أو بسبب ما أغدقه عليه أو أعطاه سلطان غزنة شهاب الدين الغورى من أموال، وعطايا وكذلك السلطان علاء الدين خوارزم شاه، فقد حظى الرازى بالمنزلة الكبرى والدرجة العليا عنده، لوعظه المبكى، وعلمه النقى، فلما مات الرازى ترك ثروة هائلة من جملتها ثمانون ألف دينار، ما عدا العقارات والعبيد والدواب وغير ذلك، وجمع كل ما تقدم غير مستحيل، والدليل على ما أنعم الله به على الرازى من منزلة ومكانة بين الناس ما ذكره الذهبى «وكان ربع القامة، عبل الجسم، كبير اللحية، جهورى الصوت، صاحب وقار وحكمة، له ثروة ومماليك، وبزة حسنة،

--------------------------------------------

(1) السبكى: طبقات الشافعية 8/ 95 - 2/ 37.

(2) ابن كثير: البداية والنهاية 13/ 149، والذهبى: تاريخ الإسلام 46/ 374 محمد بن على بن محمد بن عبد الله الطائى الأندلسى الصوفى هو ابن عربى، ومحيى الدين توفى 638 هـ، وهو قدرة أهل

الوحدة القائلين بوحدة الوجود، وهو متهم فى آرائه وفكره.

(3) الذهبى: العبر 3/ 143.
এবং তিনি তাঁর পক্ষ সমর্থন করেন। একইভাবে ফখর আল-রাজি আল-মাজদ আল-জিলি থেকে প্রজ্ঞা ও দর্শনের জ্ঞান (علوم الحكمة) লাভ করেন এবং কামাল আল-সামনানির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন (تفقه) করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইমাম আল-জুওয়াইনির ইলমুল কালাম (علم الكلام) বিষয়ক গ্রন্থ 'আশ-শামিল' মুখস্থ করেছিলেন (১)।

রাজি শরয়ি বিজ্ঞান (العلوم الشرعية), হিকমত সংক্রান্ত জ্ঞান (الحكمية), ওয়াজ (الوعظ) এবং তাসাউফ (التصوف) শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন; যার মাধ্যমে তিনি তাঁর যুগের আধ্যাত্মিক মেরু (قطب) ইবনুল আরাবি (২)-এর সাথে সংযুক্ত হন, যিনি বিখ্যাত 'আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়্যাহ' এবং 'ফুসুসুল হিকাম'-এর রচয়িতা।

রাজি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন দরিদ্র হিসেবে, অতঃপর তাঁর জন্য জীবিকার পথ উন্মুক্ত হয় এবং তাঁর নাম ও সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইলম অন্বেষণের (طلب العلم) উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর নিকট আসত। তাঁর অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল হয়তো (৩) তাঁর দুই পুত্রের সাথে তাঁর সমসাময়িক ও নিজ শহরের এক প্রসিদ্ধ চিকিৎসকের দুই কন্যার বিবাহের কারণে, অথবা গজনির সুলতান (سلطان) শিহাব উদ্দিন ঘুরি তাঁকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও উপঢৌকন (عطايا) প্রদান করার কারণে। একইভাবে সুলতান (سلطان) আলাউদ্দিন খাওয়ারেজম শাহের নিকটেও রাজি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ও উচ্চ আসনে আসীন ছিলেন। এর কারণ ছিল তাঁর হৃদয়স্পর্শী ওয়াজ (وعظ) এবং তাঁর স্বচ্ছ জ্ঞান। রাজি যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি এক বিশাল সম্পদ রেখে যান, যার মধ্যে আশি হাজার দিনার (دينار) অন্তর্ভুক্ত ছিল; এ ছাড়া ছিল স্থাবর সম্পত্তি, দাস (عبيد), গবাদি পশু (دواب) এবং আরও অনেক কিছু। উল্লিখিত সবকিছুর সমাবেশ ঘটা অসম্ভব নয়। মানুষের মাঝে রাজির যে মর্যাদা ও সম্মান আল্লাহ দান করেছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে আল-জাহাবি যা উল্লেখ করেছেন: "তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের (ربع القامة), স্থূলকায় (عبل الجسم), ঘন দাড়িবিশিষ্ট, গম্ভীর কণ্ঠস্বরের অধিকারী এবং গাম্ভীর্য (وقار) ও হিকমতের (حكمة) অধিকারী। তাঁর ছিল প্রচুর সম্পদ, গোলাম (مماليك) এবং সুন্দর পোশাক...

--------------------------------------------

(১) আল-সুবকি: তাবাকাত আল-শাফিইয়্যাহ ৮/ ৯৫ - ২/ ৩৭।

(২) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ১৪৯, এবং আল-জাহাবি: তারিখ আল-ইসলাম ৪৬/ ৩৭৪। মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-তাঈ আল-আন্দালুসি আস-সুফি হলেন ইবনুল আরাবি, এবং মুহিউদ্দিন; তিনি ৬৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অস্তিত্বের একত্ববাদে (وحدة الوجود) বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের নেতা (قدوة) ছিলেন এবং তাঁর মতামত ও চিন্তাধারার কারণে তিনি অভিযুক্ত (متهم)।

(৩) আল-জাহাবি: আল-ইবার ৩/ ১৪৩।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهيئة جميلة، إذا ركب مشى معه نحو ثلاثمائة مشتغل على اختلاف مطالبهم فى التفسير والفقه والكلام والأصول والطب وغير ذلك، فكان فريد عصره، ومتكلم زمانه» (1) وكلام الذهبى يغنى وإن كان النص فيه مبالغة، لكنها مقبولة فى زمن كاد فيه العالم أن يكون رسولا، يأخذ الناس عنه، ويتعلم الجميع منه وبخاصة تلك البلاد المحبة للدين، المتعطشة للحكمة والفلسفة.

والرازى من بيت علم، وصاحب علم، فلا مانع من ملاحقة طلبة العلم له، فى كل وقت كى ينالوا مما عنده، ويزدادوا مما حباه الله تعالى به من علوم وفنون مجتمعة فى شخص واحد، وهى ميزة ينفرد بها القلائل من العلماء، والأفذاذ من الرجال، ومن هنا فقد صدق من سماه (2) بإمام الدنيا فى عصره، وحق له ذلك وزيادة، فسبحان الله القائل: فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً [الشرح: 5، 6]، ولن يغلب عسر واحد يسيرين أبدا، والرازى أهل للخير والعلم، فجمع الله تعالى له بين الثراء المادى والعلمى كى يتفرغ للعلم والدفاع عن الدين بما أوتى من ذكاء وفطنة ورجحان عقل، وغلبة حجة على المارقين عن الإسلام والخارجين عن طاعة الله تعالى، وذلك من خلال الحكمة والموعظة الحسنة: ادْعُ إِلى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ [النحل: 125].

--------------------------------------------

(1) الذهبى: العبر 3/ 143.

(2) ابن الأثير: الكامل 9/ 302.
এবং এক সুন্দর অবয়বের অধিকারী ছিলেন; যখন তিনি সওয়ার হতেন, তখন তাফসির, ফিকহ, ইলমুল কালাম, মূলনীতি (الأصول), চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রায় তিনশ জন জ্ঞানান্বেষী তাঁর সাথে সাথে চলতেন। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য (فريد) এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ কালাম শাস্ত্রবিদ (متكلم) বিদগ্ধ পণ্ডিত। (১) যাহাবীর বক্তব্যই যথেষ্ট, যদিও এই বর্ণনায় কিছুটা অতিরঞ্জন রয়েছে; তবে এটি এমন এক সময়ের জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল যখন একজন আলেম প্রায় একজন রাসূলের সমতুল্য হতেন—মানুষ তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করত এবং সকলে তাঁর নিকট থেকে শিখত, বিশেষ করে দ্বীন-অনুরাগী এবং হিকমত ও দর্শনের প্রতি তৃষ্ণার্ত সেই জনপদগুলোতে।

আর রাজি ছিলেন এক বিদগ্ধ জ্ঞান পরিবার থেকে আসা একজন প্রাজ্ঞ আলেম (صاحব علم); তাই জ্ঞানান্বেষীগণ যে সর্বদাই তাঁর সাহচর্য লাভ করতে চাইবেন—যাতে তারা তাঁর নিকট যা আছে তা অর্জন করতে পারেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে বৈচিত্র্যময় ইলম ও শিল্পকলা দান করেছেন তা থেকে নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারেন—তাতে কোনো বাধা ছিল না। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা খুব কম আলেম এবং অনন্য প্রতিভাধর ব্যক্তিদের মধ্যেই পাওয়া যায়। এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, যিনি তাঁকে তাঁর যুগের 'বিশ্বের ইমাম' (إمام الدنيا) হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি যথার্থই বলেছেন, এবং তিনি এর উপযুক্ত এবং তার চেয়েও বেশি। অতএব সুবহানাল্লাহ! যিনি বলেছেন: 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে' [আশ-শারহ: ৫, ৬]। আর একটি কষ্ট কখনোই দুটি স্বস্তির ওপর বিজয়ী হতে পারে না। রাজি ছিলেন কল্যাণ ও জ্ঞানের যোগ্য পাত্র; তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য জাগতিক প্রাচুর্য এবং জ্ঞানগত সমৃদ্ধি উভয়কে একত্রিত করে দিয়েছিলেন যাতে তিনি অর্জিত মেধা, প্রজ্ঞা, প্রখর বুদ্ধি এবং ইসলামের বিচ্যুত (المارقين) ও আল্লাহর আনুগত্য ত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিলের শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনের জ্ঞান ও প্রতিরক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। আর তা ছিল হিকমত এবং সদুপদেশের মাধ্যমে: 'তুমি তোমার রবের পথের দিকে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব তাকে ভালোভাবেই চেনেন যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি হিদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত' [আন-নাহল: ১২৫]।

--------------------------------------------

(১) যাহাবী: আল-ইবার ৩/ ১৪৩।

(২) ইবনুল আসির: আল-কামিল ৯/ ৩০২।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الرازى بين المدح والذم:

الفخر الرازى مدحه كثيرون، وذمه آخرون، وهذه طبيعة الكبار من الرجال يختلف الناس حولهم ما بين مادح وقادح، والعبرة بما بقى وأصبح تراثا خالدا من أقواله وأعماله وأفكاره التى يتجدد عطاؤها يوما بعد يوم، حتى عدّه العلماء على رأس المائة السادسة من المجددين لها، الذين أحيوا ما اندرس من الدين، واجتهد فيما جدّ على عصره من شئون وعلوم، ذكر الذهبى عن أبى شامة قوله «وقد رأيت جماعة من أصحابه قدموا علينا دمشق، وكلهم كان يعظمه تعظيما كبيرا، ولا ينبغي أن يسمع فيمن ثبتت فضيلته كلام يستبشع، لعله من صاحب غرض من حسد، أو مخالفة فى مذهب أو عقيدة» (1).

وهذه شهادة جليلة القدر من عالم رفيع القدر فى النقد والرجال والجرح والتعديل، وهى خير دليل على أن الرجل أى الرازى ثارت حوله الأحقاد، وكثر فيه الحساد، وهذا ليس غريبا على مثل هذه الشخصية الفذة، التى نبغت فى كل العلوم، وناقشت، وناظرت، وتصوفت (2) حينا ثم رجعت إلى صوابها من الالتزام بطريقة السلف، قال الإمام أبو عمرو بن الصلاح حدثنى القطب الطوغانى مرتين أنه سمع الفخر الرازى يقول «يا ليتنى لم أشتغل بالكلام وبكى» (3)، وما ذلك إلا لعدم الفائدة من هذا العلم، وقلة جدواه، فهو مشغلة بدون فائدة.

--------------------------------------------

(1) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 216.

(2) ابن كثير: البداية والنهاية 17/ 11.

(3) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 218.
প্রশংসা ও নিন্দার মাঝে আল-রাজি:

ফখর আল-রাজিকে অনেকে প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে নিন্দাও করেছেন; আর এটিই মহান ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য যে, তাঁদের নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশংসাকারী ও সমালোচনাকারীদের মতভেদ থাকে। তবে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো যা অবশিষ্ট রয়েছে এবং যা তাঁর কথা, কাজ ও চিন্তাধারার এক চিরন্তন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যার অবদান দিন দিন নবায়ন হচ্ছে। এমনকি উলামাগণ তাঁকে ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর সংস্কারকদের (مجددين) শিরোমণি হিসেবে গণ্য করেছেন, যাঁরা দ্বীনের বিলুপ্তপ্রায় বিষয়াবলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং তাঁর যুগের নতুন উদ্ভূত বিষয় ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে গবেষণা (اجتهاد) করেছেন। ইমাম আল-জাহাবি আবু শামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন, "আমি তাঁর একদল সঙ্গীকে দেখেছি যাঁরা আমাদের কাছে দামেস্কে এসেছিলেন, তাঁরা সকলেই তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। আর যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে, তাঁর সম্পর্কে কোনো কুরুচিপূর্ণ কথা শোনা উচিত নয়; সম্ভবত তা কোনো হিংসুক অথবা মাযহাব (مذهب) বা আকিদাহর (عقيدة) পার্থক্যের কারণে কোনো হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে পারে" (১)।

আর এটি সমালোচনা (نقد), বর্ণনাকারী (الرجال) এবং জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আলেমের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। এটি এই বিষয়ের সর্বোত্তম প্রমাণ যে, ফখর আল-রাজির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হয়েছে এবং তাঁর হিংসুকের সংখ্যাও অনেক ছিল। তবে এটি এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্বের জন্য আশ্চর্যের কিছু নয়, যিনি সকল বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন এবং বিতর্ক ও আলোচনা করেছেন; তিনি কিছুকাল সুফিবাদে (تصوف) ঝুঁকেছিলেন, অতঃপর সালফে সালেহিনের (السلف) পথ অনুসরণের সঠিক সিদ্ধান্তে ফিরে আসেন (২)। ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন, কুতুব আত-তুগানি আমাকে দুবার বর্ণনা করেছেন যে তিনি ফখর আল-রাজিকে বলতে শুনেছেন, "হায়! আমি যদি ইলমুল কালাম (الكلام) নিয়ে লিপ্ত না হতাম," এবং এরপর তিনি কাঁদলেন (৩)। আর এটি ইলমুল কালামের অসারতা ও এর কার্যকারিতার অভাবের কারণেই ছিল, কারণ এটি কোনো প্রকৃত ফায়দা ছাড়াই একটি ব্যস্ততা মাত্র।

--------------------------------------------

(১) আল-জাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/২১৬।

(২) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৭/১১।

(৩) আল-জাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/২১৮।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما ما قيل عن تفسيره، فيه كل شىء إلا التفسير، فقد قالوا أيضا فيه كل شىء مع التفسير، ردا على من زعم هذا، قال عبد العزيز المجدوب «وأما ابن تيمية فتحامله ناشئ عما بينه وبين الرازى من اختلاف مذهبى واضح، فمذهبه سلفى حنبلى أما الرازى فأشعرى شافعى» (1) ثم يذكر المؤلف أن ابن تيمية على الرغم من نقده للرازى تأثر به وأخذ بأسلوبه فى المناظرة والكتاب، ولقد مهد الرازى الطريق أمام ابن تيمية وغيره من العلماء فى طرق الدفاع عن الدين وتفنيد حجج المعارضين.

ولقد مدح الرازى ودافع عنه السبكى (2) فى طبقاته، وابن حجر العسقلانى (3) فى لسانه كثيرا، ذاكرين له فضله، وسبقه وثقته وعلمه مهما قيل عنه أو رمى به.

وعظ الرازى مرة عند السلطان شهاب الدين الغورى فقال: يا سلطان العالم، لا سلطانك يبقى، ولا تلبيس الرازى يبقى، وقرأ قوله تعالى: لا جَرَمَ أَنَّما تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيا وَلا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحابُ النَّارِ [غافر:

43] فأبكى السلطان ومن حوله من وعظه.

ولم يكن الرازى متعصبا لرأى بل دافع عن عقيدة أهل السنة والجماعة بالبراهين الواضحة، والأدلة القاطعة التى جعلت أصحاب الفرق المختلفة يندثرون شيئا فشيئا، ولما أعيتهم المناقشة وأعجزتهم الحجة سموه أو دسوا من يضع له سما حتى يتخلصوا منه كلية، بعد

--------------------------------------------

(1) عبد العزيز المجدوب: الرازى من خلال تفسيره 37.

(2) السبكى: طبقات الشافعية 8/ 81 - 96.

(3) ابن حجر العسقلانى: لسان الميزان 4/ 426 - 429.

- محمد عبد الرحمن المغراوى: المفسرون 2/ 47.
তাঁর তাফসীর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে যে, "তাতে তাফসীর ছাড়া আর সবকিছুই রয়েছে", এর জবাবে যারা এটি দাবি করে তাদের খণ্ডন করে আলেমগণ এও বলেছেন যে, "তাতে তাফসীরের সাথে সাথে সবকিছুই রয়েছে"। আব্দুল আজিজ আল-মাজদুব বলেন, "আর ইবনে তাইমিয়্যাহর কঠোর সমালোচনা মূলত তাঁর এবং আল-রাজির মধ্যকার স্পষ্ট মাযহাবী মতপার্থক্য থেকে উদ্ভূত; কারণ তাঁর মাযহাব হলো সালাফি হাম্বলি, পক্ষান্তরে আল-রাজি ছিলেন আশআরি শাফিয়ি।" (১) অতঃপর লেখক উল্লেখ করেন যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-রাজির সমালোচনা করা সত্ত্বেও তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং বিতর্ক ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল-রাজি দ্বীন রক্ষা এবং বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডনের পথে ইবনে তাইমিয়্যাহ ও অন্যান্য আলেমদের জন্য পথ সুগম করে দিয়েছিলেন।

আস-সুবকি (২) তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি (৩) তাঁর লিসান গ্রন্থে আল-রাজির অনেক প্রশংসা ও প্রতিরক্ষা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যা-ই বলা হোক বা কোনো অপবাদ দেওয়া হোক না কেন, তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, অগ্রগামিতা, নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং পাণ্ডিত্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

আল-রাজি একবার সুলতান শিহাবুদ্দিন ঘুরির দরবারে ওয়াজ করতে গিয়ে বলেন: "হে জগতের সুলতান! আপনার রাজত্বও অবশিষ্ট থাকবে না, আর আল-রাজির বাহ্যিক আবরণও অবশিষ্ট থাকবে না।" অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করেন: "নিশ্চয় তোমরা আমাকে যার দিকে ডাকছ, ইহকালে ও পরকালে তার কোনো আবেদন করার ক্ষমতা নেই এবং আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহরই দিকে আর সীমালঙ্ঘনকারীরাই আগুনের অধিবাসী।" [গাফির: ৪৩]। তাঁর ওয়াজ শুনে সুলতান ও তাঁর আশপাশের সকলে কেঁদে ফেলেন।

আল-রাজি কোনো মতের প্রতি গোঁড়া ছিলেন না, বরং তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে রক্ষা করেছেন, যার ফলে বিভিন্ন ভ্রান্ত ফেরকার অনুসারীরা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। যখন তারা তাঁর সাথে আলোচনায় কুলিয়ে উঠতে পারল না এবং তাঁর দলিলের সামনে অক্ষম হয়ে পড়ল, তখন তারা তাঁকে বিষপ্রয়োগ করল অথবা এমন কাউকে নিযুক্ত করল যে তাঁর খাবারে বিষ মিশিয়ে দিল যাতে তাকে সমূলে বিনাশ করা যায়...

--------------------------------------------

(১) আব্দুল আজিজ আল-মাজদুব: আল-রাজি মিন খিলালি তাফসিরিহি ৩৭।

(২) আস-সুবকি: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৮/ ৮১ - ৯৬।

(৩) ইবনে হাজার আল-আসকালানি: লিসানুল মিজান ৪/ ৪২৬ - ৪২৯।

- মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল-মাগরাউয়ি: আল-মুফাসসিরুন ২/ ৪৭।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২০)
أن جابه أقرانه وأعداءه، والفرق المختلفة، دون غلو أو شطط، وكان أبرزها الكرامية السابق ذكرهم.

ومن كلام الفخر الرازى فى وصيته لتلميذه إبراهيم بن أبى بكر الأصفهانى «ولقد اختبرت الطرق الكلامية، والمناهج الفلسفية فما رأيت فيها فائدة تساوى الفائدة التى وجدتها فى القرآن لأنه يسعى فى تسليم العظمة والجلالة لله تعالى، ويمنع عن التعمق فى إيراد المعارضات والمناقضات، وما ذاك إلا للعلم بأن العقول البشرية تتلاشى فى تلك المضايق العميقة، والمناهج الخفية، فلهذا أقول: كل ما ثبت بالدلائل الظاهرة من وجوب وجوده ووحدته، وبراءته من الشركاء فى القدم والأزلية والتدبير والفعالية، فذلك هو الذى أقول به وألقى الله به» (1).

مما سبق من مدح وقدح، ومناظرات واعترافات آخرها ما ذكره لتلميذه، نستشف رجوع الرازى الصادق إلى طريق الله القويم وعقيدة المسلمين التى لا تقبل جدالا ولا مواربة، فشهد الرازى على نفسه بعد أن جرّب المناهج والطرق أن العقل قاصر مهما أوتى من فطنة وذكاء، والقاصر لا يستطيع أن يدرك كمال الله تعالى وعظمته إلا بالخضوع له والتسبيح بحمده وعبادته حق العبادة، وأن الله تعالى الخالق والمعبود بحق، فالرجوع إلى الحق أحق، والاعتراف بالتقصير بداية تصحيح الخطأ، والوقوف على الصراط المستقيم، وهذا سبيل الصادقين مع أنفسهم من العلماء الذين انتفعوا بما علموا، ووقفوا عند ما لم يعلموا، فقد جدد الرجل العهد مع الله تعالى على أن القرآن هو أساس كل حكمة، وعنوان كل فائدة، أما مناهج هؤلاء

--------------------------------------------

(1) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 221.
তিনি তাঁর সমসাময়িক ও শত্রু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মোকাবিলা করেছেন কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা সীমালঙ্ঘন ব্যতিরেকেই, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পূর্বে উল্লিখিত কাররামিয়া সম্প্রদায়।

ফখর রাযী তাঁর ছাত্র ইব্রাহিম বিন আবি বকর আল-আসফাহানিকে দেওয়া অসিয়তনামায় (وصية) বলেছেন: “আমি কালাম শাস্ত্রীয় (الكلامية) পথসমূহ এবং দর্শনের পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করেছি, কিন্তু আমি তাতে কুরআনে প্রাপ্ত উপকারের সমতুল্য কোনো উপকার খুঁজে পাইনি। কেননা এটি আল্লাহ তা’আলার মহানত্ব ও মহিমাকে মেনে নেওয়ার প্রতি ধাবিত করে এবং আপত্তিকর ও স্ববিরোধী যুক্তি প্রদর্শনে গভীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আর এটি কেবল এই জ্ঞানের কারণেই যে, মানুষের বুদ্ধি সেই গভীর সংকীর্ণতা ও প্রচ্ছন্ন পথগুলোতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাই আমি বলছি: তাঁর অস্তিত্বের আবশ্যকতা ও একত্ববাদ এবং অনাদিত্ব, অনন্তকাল, মহাবিশ্ব পরিচালনা ও কর্মতৎপরতায় কোনো অংশীদার থেকে তাঁর পবিত্র হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীলাদির মাধ্যমে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে, আমি তা-ই বিশ্বাস করি এবং এই বিশ্বাসের সাথেই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব।” (১)।

পূর্বোক্ত প্রশংসা ও সমালোচনা (مدح وقدح), এবং বিতর্ক ও স্বীকারোক্তি—যার সর্বশেষটি তিনি তাঁর ছাত্রের কাছে উল্লেখ করেছেন—তা থেকে আমরা আল্লাহর সঠিক পথ এবং মুসলমানদের আকিদার (عقيدة) দিকে রাযীর ঐকান্তিক প্রত্যাবর্তনের প্রমাণ পাই, যা কোনো বিতর্ক বা দ্বিধা গ্রহণ করে না। রাযী বিভিন্ন পদ্ধতি ও পথ পরীক্ষার পর নিজের সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, মানুষকে যত মেধা ও বুদ্ধিমত্তাই দেওয়া হোক না কেন, মানুষের বুদ্ধি সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধ বুদ্ধি আল্লাহ তা’আলার পূর্ণতা ও মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়, কেবল তাঁর সামনে বশ্যতা স্বীকার, তাঁর প্রশংসা সহকারে তাসবিহ পাঠ এবং যথাযথ ইবাদতের মাধ্যমেই তা সম্ভব। আল্লাহ তা’আলাই প্রকৃত স্রষ্টা এবং সত্য মা’বুদ। সুতরাং সত্যের দিকে ফিরে আসাই অধিক সমীচীন, এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করাই ভুল সংশোধনের সূচনা ও সিরাতুম মুস্তাকিমের ওপর অবিচল থাকার মাধ্যম। এটি সেই সব আলেমদের পথ যারা নিজেদের প্রতি সত্যনিষ্ঠ ছিলেন, যারা তাদের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং যা জানতেন না সে বিষয়ে থেমে গিয়েছেন। এই ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে এই অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছেন যে, কুরআনই হলো সকল হিকমত বা প্রজ্ঞার ভিত্তি এবং সকল উপকারের মূল শিরোনাম। আর তাদের পদ্ধতিগুলো...

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/ ২২১।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২১)
الفلاسفة وطرائق تلك المتصوفة، فلا تسمن ولا تغنى من جوع، فالحق أبلج واضح، والباطل لجلج، مهما طال أمده أو كثر أتباعه فهو زائل مع ظهور الحق، وبيان الصواب، ولقد صدق الرازى فيما نبغ فيه، وأعطى دينه ما يستحقه من إخلاص، وعبد ربه- تعالى ذكره- عبادة المؤمنين، الراغبين فى العفو والمغفرة، الطامعين فى جنات الله تعالى يوم القيامة.

***
দার্শনিকগণ এবং ঐ সকল সুফিদের কর্মপন্থা কোনো উপকারে আসে না এবং ক্ষুধাও নিবৃত্তি করে না। কারণ সত্য অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট, আর বাতিল বা মিথ্যা হলো অসংলগ্ন; এর স্থায়িত্বকাল যতই দীর্ঘ হোক কিংবা এর অনুসারী যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, সত্যের প্রকাশ ও সঠিক (صواب) বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে তা বিলীন হয়ে যায়। আল-রাজি যে বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন তাতে তিনি সত্যনিষ্ঠ ছিলেন এবং তিনি তাঁর দ্বীনকে প্রাপ্য একনিষ্ঠতা প্রদান করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিপালকের—যাঁর স্মরণ সুউচ্চ—ইবাদত করেছেন সেই সব মুমিনদের ন্যায়, যাঁরা ক্ষমা ও মার্জনাপ্রত্যাশী এবং কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর জান্নাতসমূহের প্রতি লালায়িত।

***
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الثانى وقفات مع وصية الرازى

الوقفة الأولى: منهجه فى العقيدة

الوقفة الثانية: مع كتبه ومصنفاته، وما جلبته عليه من أعداء
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-রাজির ওসিয়ত সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণ

প্রথম পর্যবেক্ষণ: আকিদাহর ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত কর্মপন্থা

দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ: তাঁর লিখিত গ্রন্থ ও রচনাবলি এবং এগুলোর কারণে তাঁর প্রতি যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছিল
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الوقفة الأولى منهج الرازى فى العقيدة
প্রথম আলোচনা: আকিদাহর ক্ষেত্রে আর-রাজীর মানহাজ
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৫)
لا شك أن الرازى عالم متعدد الجوانب، كثير المنافع لمن حوله ولمن أتى بعده، وهذا يتطلب من الرازى أن لا يقصر همه على علم بعينه أو فن بذاته، فأخذ من كل العلوم بأطراف متينة، وثقافة قويمة، ولكنه رجع عن علوم ظنها تفيده، وليست كذلك، مثلى ما فعله مع علم الكلام واشتغاله به، وما جرّ عليه الخوض فيه من آلام وأسقام جعلته يتمنى عدم شغله به، وصرف همه إلى غيره من المهم والمفيد، مما جعل ابن حجر العسقلانى يقول «وأوصى الرازى بوصية تدل على أنه حسن اعتقاده» (1) وهذا ما كشفت عنه الوقفة الأولى فى وصية الرازى التى كتبها قبل موته، معترفا بصواب منهج القرآن فى إثبات العقيدة الصحيحة، وخطأ ما عداه من المناهج والطرق التى سلكها هو، وتبين زيفها وقصرها قال (2) «ورأيت الأصلح والأصوب طريقة القرآن، وهو ترك الرب، ثم ترك التعمق ثم المبالغة فى التعظيم من غير خوض فى التفاصيل، فأقرأ فى التنزيه قوله تعالى:

ها أَنْتُمْ هؤُلاءِ تُدْعَوْنَ لِتُنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمِنْكُمْ مَنْ يَبْخَلُ وَمَنْ يَبْخَلْ فَإِنَّما يَبْخَلُ عَنْ نَفْسِهِ وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَراءُ وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْماً غَيْرَكُمْ ثُمَّ لا يَكُونُوا أَمْثالَكُمْ [محمد: 38]، وقوله تعالى: فاطِرُ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْواجاً وَمِنَ الْأَنْعامِ أَزْواجاً يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [الشورى: 11]، وقوله تعالى: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ [الإخلاص: 1] وأقرأ فى الإثبات قوله تعالى: الرَّحْمنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوى [طه: 5] وقوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) ابن حجر العسقلانى: لسان الميزان 4/ 429.

(2) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 218 - 222.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল-রাজি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক বিদ্বান, যিনি তাঁর সমসাময়িক এবং উত্তরসূরিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিলেন। এটি আল-রাজির নিকট থেকে দাবি করে যে, তিনি তাঁর মনোযোগ কোনো একটি নির্দিষ্ট জ্ঞান বা শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। ফলে তিনি প্রতিটি জ্ঞানশাখা থেকে মজবুত ভিত্তি এবং সঠিক সংস্কৃতির অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি এমন কিছু জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়েছিলেন যেগুলোকে তিনি উপকারী মনে করেছিলেন, অথচ সেগুলো তেমন ছিল না। যেমনটি তিনি ইলমুল কালাম (علم الكلام)-এর ক্ষেত্রে করেছিলেন এবং এতে তিনি মগ্ন ছিলেন। এই বিষয়ে গভীরভাবে নিমগ্ন হওয়ার ফলে সৃষ্ট দুঃখ-কষ্ট ও বিড়ম্বনা তাঁকে এই কামনা করতে বাধ্য করেছিল যে, যদি তিনি এতে নিজেকে নিয়োজিত না করে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী কাজে মনোনিবেশ করতেন। যার ফলে ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেন, "আল-রাজি এমন একটি অসিয়ত করে গেছেন যা প্রমাণ করে যে তাঁর আকিদাহ (اعتقاد) অত্যন্ত সুন্দর ছিল।" (১) আর এটিই আল-রাজির সেই অসিয়তের প্রথম পর্যায়ে উন্মোচিত হয়েছে যা তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সঠিক (صحيح) আকিদাহ (عقيدة) প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআনের মানহাজ (منهج) বা পদ্ধতির নির্ভুলতা এবং তাঁর নিজের অনুসৃত অন্যান্য পদ্ধতি ও পথের ভুল স্বীকার করেছেন, সেগুলোর অসারতা ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন (২): "আমি কুরআনের পদ্ধতিকেই অধিকতর কল্যাণকর ও সঠিক হিসেবে দেখেছি; আর তা হলো রবের (গুণাবলির বর্ণনার ভার) তাঁর ওপর ছেড়ে দেওয়া, অতঃপর গভীরে না যাওয়া এবং বিস্তারিত তর্কে লিপ্ত না হয়ে তাঁর মহত্ত্ব প্রকাশে গুরুত্ব দেওয়া। তাই আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা (تنزيه) সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর এই বাণী পাঠ করি:

'হে মানুষ! তোমরাই তো তারা যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য বলা হচ্ছে, কিন্তু তোমাদের কেউ কেউ কার্পণ্য করছ। যে কার্পণ্য করে সে তো নিজের প্রতিই কার্পণ্য করে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন, তারা তোমাদের মতো হবে না।' [মুহাম্মদ: ৩৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: 'তিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জোড়া বানিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু থেকেও জোড়া বানিয়েছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বস্রষ্টা।' [আশ-শূরা: ১১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: 'বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়।' [আল-ইখলাস: ১]। আর গুণাবলি সাব্যস্তকরণ (إثبات) সংক্রান্ত আলোচনায় আমি আল্লাহর এই বাণী পাঠ করি: 'পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন।' [ত্বহা: ৫] এবং আল্লাহর বাণী:

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আল-আসকালানি: লিসানুল মিজান ৪/ ৪২৯।

(২) আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/ ২১৮ - ২২২।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৬)
يَخافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ ما يُؤْمَرُونَ [النحل: 50] وقوله تعالى: مَنْ كانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعاً إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ وَالَّذِينَ يَمْكُرُونَ السَّيِّئاتِ لَهُمْ عَذابٌ شَدِيدٌ وَمَكْرُ أُولئِكَ هُوَ يَبُورُ [فاطر: 10] واقرأ فى أن الكل من الله تعالى فى قوله تعالى: أَيْنَما تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَمالِ هؤُلاءِ الْقَوْمِ لا يَكادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثاً [النساء: 78].

وأقرأ فى تنزيهه عما لا ينبغى قوله تعالى: ما أَصابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَما أَصابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ وَأَرْسَلْناكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً [النساء: 79]، وعلى هذا القانون فقس، وأقول من صميم القلب من داخل الروح: إنى مقر بأن كل ما هو الأكمل والأفضل والأعظم والأجل فهو لك، وأقول إن عقلى وفهمى قاصر عن الوصول إلى كنه صفة ذرة من مخلوقاتك».

هذا القرار والإقرار من الرازى دلالة دامغة على عقيدة صافية، وسنة مستقيمة هى عقيدة أهل السنة والجماعة التى يدين بها، ويحتكم إليها، وهذه هى صفات العلماء العاملين الذين يعرفون الحق، فيقفون عنده، ويشعرون بالباطل فيتخلون عنه، ويتبرءون منه، حتى تستقيم حالهم ويصدق وصفهم فى خشية الله تعالى وهذا ظاهر فى بداية الوصية حيث يقول: «يقول العبد الراجى رحمة ربه، الواثق بكرم مولاه، محمد بن عمر بن الحسين الرازى، وهو أول عهده بالآخرة، وآخر عهده بالدنيا، وهو الوقت الذى يلين فيه كل قاس، ويتوجه إلى مولاه كل آبق، أحمد الله تعالى بالمحامد التى
তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে [আন-নাহল: ৫০]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: যে ব্যক্তি মর্যাদা কামনা করে, তবে সকল মর্যাদা আল্লাহরই জন্য। তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম সেটিকে উন্নত করে। আর যারা মন্দ কাজের চক্রান্ত করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি; আর তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যাবে [ফাতির: ১০]। এবং সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে পাঠ করুন: তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই—যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো। আর যদি তাদের কোনো কল্যাণ হয়, তবে তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’; আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ হয়, তবে তারা বলে, ‘এটি আপনার পক্ষ থেকে’। বলুন, ‘সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে’। এই সম্প্রদায়ের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতেই চায় না [আন-নিসা: ৭৮]।

এবং তাঁকে (আল্লাহকে) অনুপযুক্ত বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি পাঠ করুন: আপনার যা কিছু কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু অকল্যাণ হয় তা আপনার নিজের কারণে। আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট [আন-নিসা: ৭৯]। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই সবকিছু পরিমাপ করুন। আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে এবং আত্মার গভীর থেকে বলছি: আমি এই স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে, যা কিছু অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, উত্তম, মহান ও মহিমান্বিত, তা কেবল আপনারই। আর আমি বলছি যে, আমার বিবেক ও বুদ্ধি আপনার সৃষ্টির একটি অণু পরিমাণ গুণের প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতেও অক্ষম।

রাজির এই সিদ্ধান্ত ও স্বীকারোক্তি একটি স্বচ্ছ বিশ্বাস (عقيدة) এবং সঠিক সুন্নাহর (سنة) অকাট্য প্রমাণ; আর এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা, যা তিনি লালন করতেন এবং যার নিকট তিনি ফয়সালা পেশ করতেন। আর এগুলোই হলো সেই সব আমলকারী আলেমদের বৈশিষ্ট্য যারা সত্যকে চেনেন এবং তার ওপর অবিচল থাকেন, আর বাতিল সম্পর্কে অবগত হয়ে তা বর্জন করেন এবং তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন; যতক্ষণ না তাদের অবস্থা সঠিক হয় এবং আল্লাহ তাআলার ভীতির ব্যাপারে তাদের বর্ণনা সত্য প্রমাণিত হয়। এটি তাঁর অসিয়তনামার শুরুতেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যেখানে তিনি বলেন: ‘স্বীয় প্রতিপালকের রহমতের আশাবাদী এবং তাঁর মহানুভবতার ওপর আস্থাশীল বান্দা মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনুল হুসাইন আল-রাজি বলছেন—এমতাবস্থায় যখন তিনি আখেরাতের প্রাক্কালে এবং দুনিয়ার শেষ প্রান্তে অবস্থান করছেন; এটি এমন এক সময় যখন প্রতিটি কঠোর অন্তর কোমল হয়ে যায় এবং প্রতিটি পলায়নকারী তার মনিবের দিকে ধাবিত হয়; আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি সেই সকল প্রশংসা দ্বারা যা...
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكرها أعظم ملائكته فى أشرف أوقات معارجهم، ونطق بها أعظم أنبيائه فى أكمل أوقات شهادتهم، وأحمده بالمحامد التى يستحقها، عرفتها أو لم أعرفها، لأنه لا مناسبة للتراب مع رب الأرباب، وصلاته على الملائكة المقربين، والأنبياء المرسلين وجميع عباد الله الصالحين» (1).

فهذه حقا وصية عالم بما يقول، نادم على ما مضى، فالله- سبحانه وتعالى غفار الذنوب، ستار العيوب، وخاصة من كان حاله كحال الرازى فى قوله: «إن كنت ترحم فقيرا فأنا ذاك، وإن كنت ترى معيوبا، فأنا ذاك المعيوب وإن كنت تخلص غريقا فأنا الغريق فى بحر الذنوب»، فالله سبحانه وتعالى يغفر للعبد ما لم يغرغر، وهذا العبد الذى دوّن وصيته، ما زال حيا، فعسى أن ينفعه الله تعالى بما حمده به، ويغفر له ما وقع فيه من أخطاء وذنوب، وبخاصة ختام الوصية الذى جعله الرازى ردا على أسئلة الملائكة فى القبر، وساعة الدفن «وأقول: دينى متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم، وكتابى القرآن العظيم، وتعويلى فى طلب الدين عليهما، اللهم يا سمع الأصوات، ويا مجيب الدعوات، ويا مقيل العثرات، أنا كنت حسن الظن بك، عظيم الرجاء فى رحمتك، وأنت قلت «أنا عند ظن عبدى بى» وقلت أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذا دَعاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفاءَ الْأَرْضِ أَإِلهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلًا ما تَذَكَّرُونَ [النمل:

62]. فهب أنى ما جئت بشيء، فأنت الغنى الكريم، وأنا المحتاج اللئيم، فلا تخيب رجائى، ولا ترد دعائى، واجعلنى آمنا من عذابك قبل الموت وبعد الموت، وعند الموت، وسهّل علىّ سكرات الموت، فإنك أرحم الراحمين».

--------------------------------------------

(1) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 218 - 222.
উনার মহান ফেরেশতাগণ তাঁদের আরোহণের শ্রেষ্ঠতম সময়ে তা উল্লেখ করেছেন, এবং উনার শ্রেষ্ঠ নবীগণ তাঁদের সাক্ষ্যদানের পূর্ণতম সময়ে তা উচ্চারণ করেছেন। আমি তাঁর এমন সব প্রশংসায় প্রশংসা করছি যার তিনি যোগ্য, আমি তা অবগত হই বা না হই; কেননা ধূলিকণার সাথে রব্বুল আরবাবের কোনো সামঞ্জস্য নেই। আর তাঁর রহমত বর্ষিত হোক নিকটবর্তী ফেরেশতামণ্ডলী, প্রেরিত নবীগণ এবং আল্লাহর সকল নেককার বান্দাদের ওপর। (১)

এটি প্রকৃতপক্ষে এমন এক জ্ঞানীর অসিয়ত যিনি যা বলছেন তা অনুধাবন করছেন এবং যা গত হয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত। মহান আল্লাহ তো গুনাহসমূহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দোষত্রুটি গোপনকারী; বিশেষ করে যাঁর অবস্থা রাজীর ন্যায়, তাঁর এই উক্তিতে: "যদি আপনি কোনো ফকীরের প্রতি দয়া করেন তবে আমিই সেই ব্যক্তি, আর যদি আপনি কোনো ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিকে দেখে থাকেন তবে আমিই সেই ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তি, আর যদি আপনি কোনো নিমজ্জিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন তবে আমিই সেই গুনাহের সমুদ্রে নিমজ্জিত ব্যক্তি"। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দাকে ততক্ষণ ক্ষমা করেন যতক্ষণ না তার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। আর এই বান্দা যে তার অসিয়তনামা লিপিবদ্ধ করেছে, সে তখনও জীবিত ছিল; আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাঁর যে প্রশংসা সে ব্যক্ত করেছে তার মাধ্যমে তাকে উপকৃত করবেন এবং তার সংঘটিত ভুলভ্রান্তি ও পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। বিশেষ করে অসিয়তের সেই সমাপ্তি অংশ যা রাজী কবরে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর এবং দাফনের মুহূর্তের জন্য নির্ধারণ করেছেন: "আমি বলছি: আমার দ্বীন হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ, আমার কিতাব হলো মহান কুরআন, আর দ্বীন অন্বেষণে আমার নির্ভরতা এই দুটির ওপরই। হে আল্লাহ, হে সকল শব্দ শ্রবণকারী, হে দোয়ায় সাড়া দানকারী, হে পদস্খলন মোচনকারী! আমি আপনার প্রতি সুধারণা পোষণ করতাম এবং আপনার রহমতের প্রতি আমার সুউচ্চ আশা ছিল। আর আপনিই তো বলেছেন: 'আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটেই থাকি' এবং আপনি বলেছেন: 'নাকি তিনি, যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।' [আন-নামল:

৬২]। সুতরাং ধরে নিন আমি কিছুই নিয়ে আসিনি; তবে আপনি তো অভাবমুক্ত ও দয়ালু, আর আমি মুখাপেক্ষী ও হীন। অতএব আমার প্রত্যাশা ব্যর্থ করবেন না, আমার দুআ ফিরিয়ে দেবেন না এবং আমাকে আপনার আযাব হতে নিরাপদ রাখুন মৃত্যুর পূর্বে, মৃত্যুর পরে এবং মৃত্যুর সময়ে; আর আমার জন্য মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ করে দিন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু"।"

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী: তারিখুল ইসলাম ৪৩/ ২১৮ - ২২২।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৮)
هذه إجابة موفقة عن أسئلة الملائكة للمسلم فى قبره، والاستعداد لها، فربه- سبحانه وتعالى قد أثنى الرازى عليه بما هو أهله، ودينه قد وفاه حقه، ورسوله- صلى الله عليه وسلم قد أنزله منزلته الرفيعة، ومقامه المحمود ولعل هذا يشفع له عند ربه- سبحانه وتعالى ساعة أن تضييق اللحود، ويكثر الدود، ولا يبقى إلا وجه الله المعبود حقا وصدقا، تصديقا لقوله تعالى: وَيَبْقى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالْإِكْرامِ [الرحمن: 27]، فما أجملها من وصية، تقرب العبد إلى الرب- سبحانه وتعالى، وتجعل العبد دائما فى شغل بما مضى عسى أن يرحم فيما بقى، والله غفور رحيم.

***

এটি কবরে একজন মুসলিমের প্রতি ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলির এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির বিষয়ে একটি যথাযথ উত্তর। ইমাম আল-রাযী তাঁর প্রতিপালক—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—এর এমন স্তুতি জ্ঞাপন করেছেন যার তিনি উপযুক্ত, এবং তাঁর দ্বীনের হক পূর্ণরূপে আদায় করেছেন। তিনি তাঁর রাসুল—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—কে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও প্রশংসিত মাকামে অধিষ্ঠিত করেছেন। সম্ভবত এটি তাঁর প্রতিপালকের—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—নিকট তাঁর জন্য সেই মুহূর্তে সুপারিশ স্বরূপ হবে, যখন কবর সংকীর্ণ হয়ে আসবে এবং কীটের প্রাদুর্ভাব ঘটবে; এমতাবস্থায় সত্য ও যথার্থ মা’বুদ আল্লাহর সত্তা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যয়নস্বরূপ: "আপনার মহিমময় ও মহানুভব প্রতিপালকের সত্তাই কেবল অবিনশ্বর।" [আর-রহমান: ২৭]। এটি কতই না চমৎকার একটি অসিয়ত, যা বান্দাকে প্রতিপালকের—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—নিকটবর্তী করে এবং বান্দাকে সর্বদা অতীত জীবন সম্পর্কে এমনভাবে চিন্তামগ্ন রাখে যাতে করে অবশিষ্ট জীবনে রহমত লাভ করা যায়। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

***
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الوقفة الثانية مع وصية الرازى من خلال كتبه ومصنفاته
আল-রাজীর ওসিয়ত প্রসঙ্গে দ্বিতীয় পর্যালোচনা: তাঁর গ্রন্থ ও রচনাবলির আলোকে
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهذه الوقفة من خلال الوصية التى أوصى بها تلميذه، فهى مع الكتب والمصنفات التى جلبت عليه الحساد والنقاد، ولكن أمرهما هين إذا قورنت بهموم النفس، وتبعات المكتوب، هل هى فى ميزان حسناته أو سيئاته، وهل أخلص النية فيها أو لا؟!

فلا بد من إبراء الذمة، والاعتراف بالنقص فهو سبيل الرشاد، وطريق الهدى إلى من لا تخفى عليه خافية فى الأرض ولا فى السماء فقال فى وصيته: «وأما الكتب التى صنعتها، واستكثرت فيها من إيراد السؤالات، فليذكرنى من نظر فيها بصالح دعائه، على سبيل التفضل والإنعام، وإلا فليحذف القول السيئ، فإنى ما أردت إلا تكثير البحث، وشحذ الخاطر، والاعتماد فى الكل على الله تعالى» (1).

والرازى- فى نظرى- يعد ما تركه من نافع كتبه، وصالح فكره صدقه جارية، يعود خيرها عليه، وترجع دعوات الصالحين من تلاميذه ومحبيه إليه، فالعلم النافع محصود، والولد الصالح موجود والصدقة الجارية فيما تركه أيضا موجودة، ولعمرى هذا غاية الذكاء من الرازى أن يحقق مضمون حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم «إذا مات العبد انقطع عمله إلا من ثلاث: صدق جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له» (2)، ومن جانب آخر، فالرازى يحب الإخلاص

--------------------------------------------

(1) الذهبى: تاريخ الإسلام 43/ 220.

(2) صحيح مسلم بشرح النووى 3/ 1255 ك الوصية باب ما يلحق الأب من الثواب برقم 1631 ط دار التراث، وقال الترمذى فى صحيحه ك الأحكام باب الوقف برقم 1376 من الجزء 3/ 660 عن أبى هريرة: حديث حسن صحيح.
এই পর্যবেক্ষণটি সেই অসিয়তের মাধ্যমে যা তিনি তাঁর ছাত্রকে প্রদান করেছিলেন। এটি তাঁর সেই সকল কিতাব ও সংকলন বিষয়ক যা তাঁর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি ও সমালোচকদের আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু নফসের (আত্মার) উদ্বেগ এবং লেখনীর পরিণামের তুলনায় এ দুটির বিষয় নগণ্য; এই লেখনী কি তাঁর নেকির পাল্লায় যুক্ত হবে নাকি গুনাহের পাল্লায়, এবং তিনি কি এতে নিয়ত ইখলাসপূর্ণ রেখেছিলেন কি না?!

সুতরাং দায়মুক্তি এবং অপূর্ণতা স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক, আর এটাই হলো সঠিক পথ এবং তাঁর দিকে হেদায়েতের রাস্তা যাঁর কাছে আসমান ও জমিনের কোনো গোপন বিষয়ই অস্পষ্ট নয়। তিনি তাঁর অসিয়তে বলেছেন: «আর আমি যে সকল কিতাব রচনা করেছি এবং যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রশ্নের অবতারণা করেছি, যে ব্যক্তিই তা পাঠ করবেন তিনি যেন অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ আমাকে তাঁর নেক দোয়ায় স্মরণ করেন; অন্যথায় তিনি যেন নেতিবাচক মন্তব্য পরিহার করেন। কারণ আমি কেবল গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি এবং মেধা বিকাশের উদ্দেশ্য পোষণ করেছি, আর সবকিছুর জন্য মহান আল্লাহর ওপরই ভরসা করেছি» (১)।

আর রাযী—আমার দৃষ্টিতে—তাঁর রেখে যাওয়া উপকারী কিতাবসমূহ এবং পুণ্যময় চিন্তাধারাকে সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করেন, যার কল্যাণ তাঁর কাছে পৌঁছায় এবং তাঁর ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের নেক দোয়া তাঁর প্রতি ফিরে আসে। সুতরাং উপকারী জ্ঞান আহরিত, নেক সন্তান বর্তমান এবং তাঁর রেখে যাওয়া নিদর্শনের মধ্যে সাদকায়ে জারিয়াও উপস্থিত। আমার জীবনের কসম, এটি রাযীর চরম বিচক্ষণতা যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের মর্মার্থ বাস্তবায়ন করেছেন: «যখন মানুষ মারা যায়, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সাদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে» (২)। অন্যদিকে, রাযী ইখলাস পছন্দ করতেন।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম ৪৩/ ২২০।

(২) সহিহ মুসলিম বিশারহি আন-নববী ৩/ ১২৫৫, কিতাবুল অসিয়াহ, অনুচ্ছেদ: পিতার মৃত্যুর পর যে সওয়াব তার কাছে পৌঁছে, হাদিস নং ১৬৩১, দারুত তুরাস প্রকাশনী। এবং তিরমিজি তাঁর সহিহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কিতাবুল আহকাম, অনুচ্ছেদ: ওয়াকফ, হাদিস নং ১৩৭৬, খণ্ড ৩/ ৬৬০, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
فى العمل وكذلك الدعاء وحسن الخاتمة للذين يحبون أن يزيد الخير، ويكثر المعروف بين الناس أحياء وأمواتا، وكأنه يعلم درسا سلوكيا لمن يأتون بعده يربيهم على التأسى بالقدوة، والأخذ بالسنة، فما صنعه من كتب، وما ألفه من أفكار فهى لوجه الله تعالى وهذا العمل خير ما يختم به المرء حياته، وأفضل ذخيرة يدافع بها الإنسان هذه الدنيا وزينتها وزخرفها كى ينجو فى الآخرة، ويسعد فى الجنة بما قدم من علم وولد ودعاء صالح من الذين سبق فضله عليهم.

وبذلك تنتهى حياة هذا العالم فى دنيا العناء والتعب بعد أن قدم للناس فنونا متعددة من العلوم والكتب، والمناظرات والأفكار، والمواعظ، والخطب باللغة العربية وغيرها من اللغات الأخرى، مما كان له الأثر البالغ فى شهرته، فمن الناس من مدحه وزكّاه، ومنهم من ذمه وهجاه فيما قدم ولم يلتمس له عذرا فيما اجتهد فيه، وهذه هى سنة الحياة أن يموت الإنسان ويبقى ما قدم ظاهرا أمام الناس ليشهدوا عليه خيرا كان أو شرا، وسبحان الله القائل وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً وَما جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْها إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَما كانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُفٌ رَحِيمٌ، وهكذا ذهب الكوكب العربى فى الأفق الأعجمى (1)، تاركا وصيته تدفع عنه ما وقع فيه، وتدافع عنه فيما أحسن فيه.

…

--------------------------------------------

(1) محمد الفاضل بن عاشور: التفسير ورجاله 82.
কাজের ক্ষেত্রে, সেইসাথে দোয়া ও উত্তম পরিণতির প্রত্যাশায় যারা কল্যাণ বৃদ্ধি করতে এবং জীবিত ও মৃত মানুষের মাঝে সৎকর্মের প্রসার ঘটাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য তিনি যেন এক আচরণগত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যেন তাঁর উত্তরসূরিদের আদর্শ অনুসরণ এবং সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার দীক্ষা দিচ্ছেন। তিনি যে সকল গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং যে সকল চিন্তাধারা উপস্থাপন করেছেন, তা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই। আর এই ধরনের কাজই হলো একজন মানুষের ইহকাল শেষ করার সর্বোত্তম মাধ্যম এবং এই দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্যের বিপরীতে পরকালের মুক্তির জন্য শ্রেষ্ঠ পাথেয়। এর মাধ্যমেই মানুষ জান্নাতে সুখ লাভ করতে পারে—সেই ইলম, নেক সন্তান এবং ঐ সকল ব্যক্তিদের দোয়ার বরকতে যাদের প্রতি তিনি অনুগ্রহ করে গেছেন।

এভাবেই এই আলিমের কর্মময় ও ক্লান্তিঘেরা জীবনের সমাপ্তি ঘটে, যখন তিনি মানুষের জন্য ইলমের নানাবিধ শাখা, গ্রন্থ, বিতর্ক, সুচিন্তিত মতামত, নসিহত এবং আরবি ও অন্যান্য ভাষায় ভাষণ রেখে গেছেন। এই কর্মযজ্ঞই তাঁর সুখ্যাতির মূলে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে মানুষের মাঝে কেউ কেউ তাঁর প্রশংসা করেছেন ও তাঁকে প্রত্যায়ন (زكّاه) করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা ও নিন্দা (ذم) করেছেন এবং তাঁর ইজতিহাদের ক্ষেত্রে কোনো ওজর বা অজুহাত গ্রহণ করেননি। এটাই জগতের চিরাচরিত নিয়ম যে, মানুষ মৃত্যুবরণ করে কিন্তু তার কর্মসমূহ মানুষের সামনে সাক্ষী হিসেবে থেকে যায়—তা ভালো হোক বা মন্দ। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন। আর তুমি যে কিবলার ওপর ছিলে তা আমি কেবল এ জন্যই নির্ধারণ করেছিলাম যেন আমি জেনে নিতে পারি যে কে রাসুলের অনুসরণ করে আর কে তার পিঠ টান দিয়ে ফিরে যায়। যদিও এটি একটি কঠিন বিষয়, কিন্তু তাদের জন্য নয় যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন। আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে নষ্ট করে দেবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতি করুণাময়।" এভাবেই এই আরব নক্ষত্রটি অনারব দিগন্তে অস্তমিত হলো (১), রেখে গেল তাঁর অসিয়ত যা তাঁর ভুলভ্রান্তিগুলো দূর করতে এবং তাঁর উত্তম কাজগুলোর স্বপক্ষে প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

…

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আল-ফাদিল বিন আশুর: আত-তাফসির ওয়া রিজালুহু ৮২।
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثالث النسخ بين المثبتين والنافين

المثبتون وأدلتهم

النافون وأدلتهم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রহিতকরণ (النسخ), প্রবক্তা (المثبتين) ও অস্বীকারকারীদের (النافين) মাঝে

প্রবক্তাগণ (المثبتون) ও তাঁদের দলীলসমূহ

অস্বীকারকারীগণ (النافون) ও তাঁদের দলীলসমূহ
(খণ্ড: ১) আন-নাসখু ইনদাল ফাখরির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌المثبتون وأدلتهم فى وجود النسخ
রহিতকরণ (النسخ)-এর অস্তিত্বের সপক্ষে প্রবক্তাগণ (المثبتون) এবং তাদের প্রমাণাদি