(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
معالم مكة التأريخية والأثرية القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: معالم مكة التأريخية والأثرية
المؤلف: عاتق بن غيث بن زوير بن زاير بن حمود بن عطية بن صالح البلادي الحربي (ت 1431هـ)
الناشر: دار مكة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 334
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 محرم 1433
মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ
লেখক: আতিক বিন গাইস বিন জুওয়াইর বিন জায়ির বিন হামুদ বিন আতিয়্যাহ বিন সালিহ আল-বিলাদি আল-হারবি (মৃত্যু ১৪৩১ হিজরি)
প্রকাশক: দার মক্কা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ মহরম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
عاتق بن غيث البلادي
معالم مكة التأريخية والأثرية
دار مكة للنشر والتوزيع
আতিক বিন গাইস আল-বিলাদি
মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ
দার মক্কা প্রকাশনা ও বিতরণী
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1400 هـ - 1980 م
সর্বস্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
معالم مكة التأريخية والأثرية
মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تمهيدمنذ عهد الجاهلية إلى اليوم تحيط بمكة المكرمة ثلاث قبائل كبار عريقة:
هُذَيْل في الشرق والجنوب الشرقي والشمال الشرقي، حيث كانت ديارها تمتد من اللِّيث وحَلْيَة في الجنوب إلى غُرَان ورُهَاط شمال مكة. وكانت كِنَانة تحيط بمكة من الغرب والجنوب الغربي، حيث كانت ديارها تمتد من حلي في الجنوب إلى وادي الصفراء في الشمال. ومن كنانة قُرَيْش التي تملكت كل مكة ونفت خُزَاعة عنها، وكان الفضل في ذلك يعود، إلى ذلك الزعيم القائد: قصيِّ بن كلاب، الجد الخامس لرسول الله صلى الله عليه وسلم.
والقبيلة الثالثة كانت خُزاعة، وخزاعة كانت تلي البيت وتملك جل مكة إلى أن أخرجها قصيّ كما ألمحنا آنفا. ثم نزلت وادي مر الظهران فكانت ديارها تحيط بمكة من الجنوب الغربي والشمال وتمتد على عُسْفان وأمَج وقُدَيْد إلى السائرة المعروفة اليوم باسم حجر شرق رابغ على مائة كيل. ولا زالت لهذه القبيلة بقية تسكن جنوب مكة وغربها وكانت هُذيل أشعر العرب، ومن أفصح القبائل بعد قُرَيش، أو لعل الحظ حالف هُذَيْلاً حيث قَيَّض لها من جمع شعرها وحفظه، بينما ضاع شعر قبائل كثيرة.
وإذا أردت أن تدرس منطقة مكة في الشعر العربي فإن المعول عليه شعر هُذَيل، ويأتي بعده شعر قُرَيش، ولعل تفوق هذيل على قريش في هذا المضمار
উপক্রমণিকাজাহেলিয়াত যুগ থেকে শুরু করে আজ অবধি মক্কা মুকাররমাকে তিনটি প্রাচীন ও বৃহৎ গোত্র পরিবেষ্টন করে আছে:
পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে হুযাইল গোত্র; এদের আবাসস্থল দক্ষিণে আল-লাইস ও হালিয়াহ থেকে শুরু করে মক্কার উত্তরে গুরান ও রুহাত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কিনানা গোত্র মক্কাকে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পরিবেষ্টন করে থাকত; এদের আবাসস্থল দক্ষিণে হালি থেকে শুরু করে উত্তরে ওয়াদি আল-সাফরা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কিনানা গোত্রেরই একটি শাখা হলো কুরাইশ, যারা সমগ্র মক্কার কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছিল এবং খুযাআ গোত্রকে সেখান থেকে বিতাড়িত করেছিল। আর এর কৃতিত্ব ছিল সেই নেতা ও সেনাপতি কুসাই ইবনে কিলাবের, যিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পঞ্চম ঊর্ধ্বতন পিতামহ।
তৃতীয় গোত্রটি ছিল খুযাআ। খুযাআ গোত্র বায়তুল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল এবং সমগ্র মক্কার অধিকাংশ অঞ্চলের মালিক ছিল, যতক্ষণ না কুসাই তাদের সেখান থেকে বের করে দেন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। অতঃপর তারা ওয়াদি মাররুজ জাহরানে বসতি স্থাপন করে। ফলে তাদের আবাসস্থল মক্কাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলে এবং তাদের বসতি উসফান, আমাজ ও কুদাইদ হয়ে বর্তমানে রাবেগের পূর্ব দিকে প্রায় একশত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত 'হজর' নামক পরিচিত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই গোত্রের একটি অবশিষ্ট অংশ এখনও মক্কার দক্ষিণে ও পশ্চিমে বসবাস করে। হুযাইল গোত্র ছিল আরবদের মধ্যে সর্বাধিক কাব্যগুণসম্পন্ন এবং কুরাইশের পর অন্যতম প্রাঞ্জলভাষী গোত্র। সম্ভবত ভাগ্য হুযাইলের অনুকূলে ছিল, কারণ তাদের কাব্য সংকলন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছিল, যেখানে অন্য অনেক গোত্রের কাব্য হারিয়ে গেছে।
যদি আপনি আরবি কাব্যে মক্কা অঞ্চল সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে চান, তবে প্রধানত হুযাইল গোত্রের কাব্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে এবং এরপর আসবে কুরাইশদের কাব্যের স্থান। সম্ভবত এই ক্ষেত্রে কুরাইশের তুলনায় হুযাইলের শ্রেষ্ঠত্ব...
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
يعود إلى أن قُريشاً أمة تجارية ودينية بينما هُذَيل بادية يتنقلون بين الفيافي والفجاج فيصفون الجبال والأودية ويخيلون السحاب ويشاهدون لمعان البرق ويسمعون هدير السيول، فجاء شعرهم ملتصقاً بالطبيعة معبراً عنها أحسن تعبير.
وروى ياقوت في معجم الأدباء (ج 16 ص 141) إنه كان في هُذَيل مائة وثلاثون شاعراً ما فيهم إلا مُفْلِق.
وفي هذه البحوث القصيرة (1) نمر مع شعر هذيل وقريش وغيرهم ممن تفرضه المناسبة ومن ذكر معالم مكة بما يتيسر لنا، ولا أدَّعي الإحاطة.
والآن:
كان هذا تمهيداً لبحوث ومقالات نشرت في الجريدة، وما أنْ رآها من لهم ولع بمثل هذه المعلومات حتى طلب مني كثيرون من الأخوة الأعزاء أن أحيلها إلى كتاب، وما كان الهدف كذلك، غير أنهم أقنعوني، وكان يعضد طلبهم: إن هذه البحوث نشرت في جريدة، والجريدة قد تفوت القارىء، ثم إنها تعرضت لأخطاء مطبعية سيئة أثناء النشر، ثم إن الجريدة يصعب الاحتفاظ بها والرجوع إليها عند الحاجة، فَلَما اقتنعت بنشرها في كتاب كان لا بد من إجراء لمسات وإضافات تليق بما لمكة من مكانة في نفوس الباحثين والعلماء.
فأضفت معالم تأريخية، إما كمواد منفردة أو أثناء ذكرها عرضاً، وجعلت الدليل في آخر الكتاب يوضح مواضعها بدقة.
ثم لا أنكر أن في كثير من هذه المعلومات تكراراً وترديداً لمعالم كثيرة، ولكن يشفع لي إن هذا غيرمقصود، ولكن هذه المعالم تشترك في الشواهد وتتجاور في المواقع والحديث عن أيها يستلزم استحضار الشاهد، وبتكرار الشاهد تتكرر المعلومات، وفي بعض الإعادة إفادة. ولا أنسى هنا أن أشكر أخوة كثيرون تجاوبوا معي، ومدوني بمعلومات عن مواضع أثرية وتأريخية، وبعضهم تطوع بمرافقتي في رحلات حول مكة، وأخص منهم الأخوين: نوار
--------------------------------------------
এর কারণ হলো এই যে, কুরাইশ ছিল একটি বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় জাতি; পক্ষান্তরে হুজাইল ছিল মরুবাসী যারা মরুপ্রান্তর ও গিরিপথের মাঝে যাযাবরের ন্যায় ঘুরে বেড়াত। ফলে তারা পাহাড় ও উপত্যকার বর্ণনা দিত, মেঘমালার চিত্রকল্প তৈরি করত, বিদ্যুতের চমক দেখত এবং পাহাড়ি ঢলের গর্জন শুনত। এ কারণে তাদের কবিতা প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়েছিল এবং তা প্রকৃতির সর্বোত্তম রূপ ফুটিয়ে তুলেছিল।
ইয়াকুত ‘মুজামুল উদাবা’ গ্রন্থে (১৬ খণ্ড, ১৪১ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন যে, হুজাইল গোত্রে একশত ত্রিশজন কবি ছিলেন, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন অত্যন্ত উচ্চমানের ও অসাধারণ।
এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাসমূহে (১) আমরা হুজাইল, কুরাইশ ও অন্যদের কবিতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হব যা প্রসঙ্গের খাতিরে প্রয়োজন পড়বে এবং মক্কার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে যতটুকু আমাদের জন্য সহজ হয় তা উল্লেখ করব, তবে আমি পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তির দাবি করছি না।
আর এখন:
এটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত গবেষণা ও প্রবন্ধসমূহের একটি ভূমিকা ছিল। যখনই এই ধরনের তথ্যের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিরা এগুলো দেখলেন, তখনই অনেক প্রিয় ভাই আমাকে এগুলোকে একটি বইয়ের রূপ দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। যদিও এটি আমার লক্ষ্য ছিল না, তবে তারা আমাকে সম্মত করালেন। তাদের অনুরোধের পেছনে যুক্তি ছিল এই যে, এই গবেষণাগুলো সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে যা পাঠকের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে, তদুপরি প্রকাশের সময় এতে অনেক মারাত্মক মুদ্রণপ্রমাদ ঘটেছিল। এছাড়া সংবাদপত্র সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে পুনরায় তা দেখা কঠিন। তাই যখন আমি এগুলো বই আকারে প্রকাশের বিষয়ে আশ্বস্ত হলাম, তখন এতে এমন কিছু পরিমার্জন ও সংযোজন করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ালো যা গবেষক ও আলিমদের হৃদয়ে মক্কার যে মর্যাদা রয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ফলে আমি ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলি যুক্ত করেছি, কখনো স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আবার কখনো আলোচনার প্রাসঙ্গিকভাবে। আর বইয়ের শেষে একটি নির্দেশিকা দিয়েছি যা এগুলোর অবস্থান সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যা করে।
এরপর আমি অস্বীকার করছি না যে, এই তথ্যের অনেক ক্ষেত্রে বহু নিদর্শনের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তবে আমার আত্মপক্ষ সমর্থনে এটুকুই বলা যায় যে, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। মূলত এই নিদর্শনগুলো একই প্রমাণাদি শেয়ার করে এবং ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে যেকোনো একটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণটি সামনে নিয়ে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর প্রমাণের পুনরাবৃত্তির ফলে তথ্যেরও পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে কিছু কিছু পুনরাবৃত্তিতে উপকারও রয়েছে। এখানে আমি সেই সকল ভাইদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলব না যারা আমাকে সাড়া দিয়েছেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাদের কেউ কেউ মক্কার চারপাশের সফরে আমার সঙ্গী হওয়ার ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন। আমি বিশেষভাবে দুই ভাইয়ের নাম উল্লেখ করছি: নাওয়ার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ابن سنان الدعدي الهذلي، وعطية الشيبي المطرفي الهذلي. ولا أنسى -والفضل لأهله يذكر- فضل أخي محمد بن عبد الله بن برير، الذي كان يجهد نفسه كثيراً في سبيل إخراج تلك البحوث إخراجاً يليق بمعالم مكة.
وختاماً أسأل الله أن يَجْعَل هذا العمل خالصاً لوجهه، نافعاً هذا البلد الأمين.
المؤلف
ইবনে সিনান আদ-দাআদি আল-হুযালি এবং আতিয়্যাহ আশ-শাইবি আল-মুতররিফি আল-হুযালি। আর আমি ভুলে যাই না—এবং গুণীজনের গুণগান গাওয়া উচিত—আমার ভাই মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বুরাইরের অবদানের কথা, যিনি মক্কার নিদর্শনসমূহের সাথে মানানসইভাবে এই গবেষণাগুলো প্রকাশের প্রচেষ্টায় নিজেকে অত্যন্ত নিয়োজিত করেছিলেন।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং এই নিরাপদ জনপদের জন্য উপকারী করেন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
(أ)
(ক)
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأبواص: بفتح الهمزة وسكون الباء وفتح الواو ثم ألف فصاد مهملة ..
قال أمية بن أبي عائذ الهذلي (1):
لمن الديار بعلي فالأحراص
… فالسودتين فمجمع الأبواص
في هذا الشعر:
أ- علي: بفتح العين وسكون اللام .. تعرف اليوم (بعِلي) بكسر كل من العين واللام وهي من وادي رهجان: أحد روافد وادي نعمان الجنوبية على قرابة "33" كيلاً من مكة جنوباً شرقياً، يمين الطريق إلى الطائف.
ب- الأخراص: بالخاء المعجمة والصاد المهملة، والسودتان مثنى سودة والأبواص كجمع بوص وتقدم ضبطه: هذه المعالم كلها بين رَهْجان وعَرْعَر، من ضفة وادي نَعْمان الجنوبية، عدا الأبواص لم أتبين موقعها، وهذه كلها من ديار هُذَيل.
أبو قُبَيْس: بضم القاف وفتح الموحدة، على وزن فُعَيل: من أشهر جبال مكة مع أنه ليس من أكبرها، تراه يشرف على المسجد الحرام من مطلع الشمس، يصب منه شعب عليّ بينه وبن الخندمة، وأبو قبيس بين شعب عليّ وبن أجياد، وهو من الجبال المأهولة في مكة. وعلى قمته مسجد يسمى مسجد بلال، وليس منسوباً إلى بلال ابن رباح كما يظن البعض.
وقيل: إن الركن كان مستودعاً فيه أيام الطوفان. وفي شعب على حين يفضي (مولد رسول الله) صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
আল-আবওয়াস: হামযার ফাতহাহ (যবর), বা-এর সুকুন, ওয়াও-এর ফাতহাহ (যবর), এরপর আলিফ ও বিন্দুহীন সাদ সহযোগে...
উমাইয়া ইবনে আবি আইয আল-হুযালী (১) বলেছেন:
ইলি এবং আল-আখরাস অঞ্চলে কার এই আবাসস্থলগুলো... এরপর আস-সাওদাতাইন এবং আল-আবওয়াস-এর মিলনস্থলে।
এই কবিতায়:
ক- ইলি (আলি): আইনের ফাতহাহ (যবর) এবং লামের সুকুন সহযোগে... বর্তমানে এটি 'ইলি' নামে পরিচিত (আইন এবং লাম উভয়ের কাসরাহ বা যের সহযোগে)। এটি ওয়াদি রাহজানের অন্তর্ভুক্ত: যা ওয়াদি নু’মানের দক্ষিণ দিককার একটি শাখা, মক্কা থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, তায়েফগামী রাস্তার ডান পাশে অবস্থিত।
খ- আল-আখরাস: খা এবং বিন্দুহীন সাদ সহযোগে। আস-সাওদাতাইন হলো সাওদাহ-এর দ্বিবচন এবং আল-আবওয়াস হলো বুস-এর বহুবচন, যার উচ্চারণ পদ্ধতি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে: এই সকল নিদর্শনসমূহ রাহজান এবং আরআর-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা ওয়াদি নু’মানের দক্ষিণ পাড়ে। তবে আল-আবওয়াস এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান আমি স্পষ্ট করতে পারিনি। এর সবগুলোই হুযাইল গোত্রের আবাসভূমি।
আবু কুবাইস: কাফ-এর যম্মাহ (পেশ) এবং বা-এর ফাতহাহ (যবর) সহযোগে, ফুয়াইল-এর ওজনে: এটি মক্কার অন্যতম প্রসিদ্ধ পাহাড়, যদিও এটি সবচেয়ে বড় পাহাড়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনি একে সূর্যোদয়ের দিক থেকে মসজিদুল হারামের ওপর দণ্ডায়মান দেখতে পাবেন। এর থেকে শু’বে আলী নেমে এসেছে যা এর এবং আল-খানদামাহ-এর মাঝখানে অবস্থিত। আর আবু কুবাইস হলো শু’বে আলী এবং আজইয়াদ-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি মক্কার জনবসতিপূর্ণ পাহাড়গুলোর একটি। এর চূড়ায় একটি মসজিদ রয়েছে যা বিলাল মসজিদ নামে পরিচিত, তবে এটি বিলাল ইবনে রাবাহ-এর নামানুসারে নয় যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন।
বলা হয়ে থাকে: মহাপ্লাবনের দিনগুলোতে হাজরে আসওয়াদ (রুকন) এখানে সংরক্ষিত ছিল। আর শু’বে আলী যেখানে শেষ হয়েছে সেখানেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মস্থান অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد تحول اليوم إلى مكتبة عامة، هي مكتبة مكة. وقد ذكرت في المولد.
الأثبرة: جمع ثَبِير بفتح الثاء وكسر الباء الموحدة:
اسم يطلق على عدد من جبال مكة منها ثَبِير غَيْناء: وهو أضخم جبال مكة يشرف على الأبطح من الشرق، ويشرف على منى من الشمال ويقابل حِرّاء من الجنوب، وتعرفه العامة اليوم بجبل الرَّخم، وثبير الزنج: جبل المسفلة الذي يشرف عليها من الغرب، ومنه جبل عُمَر وجبل الشراشف وجبل الناقة وغيرها.
وثَبير الخضراء: الجبل الذي يتصل بالخنادم من الشرق يناوح ثَبير غَيْنَاء من الغرب الجنوبي يمتد جنوباً إلى جبل سُدَير وغرباً إلى جبل السبع بنات، ومنه تشاهد جبل ثَوْر جنوباً عدلاً.
وثَبِير النَّصْع: جبل المزدلفة. وغيرها.
قال الفضل بن العباس اللُّهبي نسبةً إلى أبي لهب عم النبي صلى الله عليه وسلم (1):
هيهات منك قُعَيِقِعان وبَلْدح
… فجنوب أثْبِرةٍ فبطن عِساب
فالهاوتانِ فَكْبكَبٌ فجتاوب
… فالبعوص فالأفرع من أشْقَاب
في هذا الشعر:
أ- الأثبرة: وقد تقدم الحديث عنها.
ب- قعيقعان: بضم القاف وفتح العين وسكون الياء المثناة تحت وكسر القاف الثانية وفتح العين الثانية مع الألف ثم نون.
هو الجبل الذي يشرف على المسجد الحرام من الشمال الغربي، يمتد
--------------------------------------------
এটি আজ একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে, যা মক্কা লাইব্রেরি নামে পরিচিত। জন্মস্থান (মাওলিদ) বিষয়ক আলোচনায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আসবিরা: এটি 'সাবিরা' শব্দের বহুবচন, যা 'ছা' বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) এবং 'বা' বর্ণের নিচে কাসরা (যের) যোগে গঠিত:
মক্কার বেশ কয়েকটি পাহাড়ের ওপর এই নামটি প্রয়োগ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সাবিরা গাইনা: এটি মক্কার সবচেয়ে বিশাল পাহাড় যা পূর্ব দিক থেকে আবতাহ অঞ্চলকে তদারকি করে, উত্তর দিক থেকে মিনাকে তদারকি করে এবং দক্ষিণ দিক থেকে হেরা পাহাড়ের মুখোমুখি অবস্থিত। বর্তমান সাধারণ মানুষ একে জাবালুর রাখাখাম নামে চেনে। আর সাবিরায যাঞ্জ: এটি মাসফালাহ অঞ্চলের পাহাড় যা পশ্চিম দিক থেকে এর ওপর ছায়া প্রদান করে, এর অন্তর্ভুক্ত হলো জাবালে উমর, জাবালে শারাশিফ, জাবালে নাকা এবং অন্যান্য পাহাড়।
এবং সাবিরা আল-খাদরা: এই পাহাড়টি পূর্ব দিক থেকে খানাদিমের সাথে সংযুক্ত যা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে সাবিরা গাইনার বিপরীতে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ দিকে জাবালে সুদাইর এবং পশ্চিম দিকে জাবালুস সাবউ বানাত পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখান থেকে সরাসরি দক্ষিণ দিকে সওর পাহাড় দেখা যায়।
এবং সাবিরা আন-নাস’আ: এটি মুজদালিফার পাহাড়। এছাড়াও আরও পাহাড় রয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আবু লাহাবের বংশধর ফজল ইবনে আব্বাস আল-লাহাবি বলেছেন (১):
তোমার থেকে কত দূরে কুআইকিআন এবং বালদাহ
… আর আসবিরার দক্ষিণ পাশ এবং ইসাবের অভ্যন্তরভাগ
অতঃপর হাওয়াতান, তারপর কাবকাব, তারপর জাতাউব
… অতঃপর বাউস এবং আশকাবের শাখাগুলো
এই কবিতায় বর্ণিত হয়েছে:
ক- আসবিরা: এর আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
খ- কুআইকিআন: কাফ-এ পেশ, আইন-এ যবর, নিচের দুই নুকতাওয়ালা ইয়া-তে সাকিন, দ্বিতীয় কাফ-এ যের এবং দ্বিতীয় আইন-এ যবর ও আলিফ এবং শেষে নুন যোগে।
এটি সেই পাহাড় যা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে মসজিদুল হারামের ওপর দণ্ডায়মান, এটি বিস্তৃত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شمالاً إلى الحجون وغرباً إلى بئر طُوَى وجنوباً إلى حارة الباب والشُّبيكة ومن أقسامه اليوم: جبل هِنْدي وجبل العَبَّادي وجبل السُّلَيمانية وجبل الفَلْق. وغيرها.
جـ- بلدح: اسم وادي مكة الثاني، أعلاه خريق العشر وكان هذا الشق يسمى مكة السدر، ووسطه فخ ويعرف اليوم بالزاهر، وأسفله بلدح وهو بين أمّ الدود (الجُوْد حاليا) إلى الحُدَيْبِية (الشُّمَيْسِي اليوم).
د- بطن عساب: وادٍ غير معروف الآن.
هـ- كبكب: بتكرار الكاف المفتوحة، وتكرار الباء الموحدة أولاهما ساكنة. جبل من أشهر جبال هُذيل في الجاهلية والإسلام، يبعد شرق مكة بسبعة وعشرين كيلاً، مياهه الجنوبية في وادي نعمان، والشمالية والغربية في وادي عرنة، وبشقه الغربي يقع سوق ذي المَجَاز المشهور، لا زال باقية آثاره.
و الهاوتان: مثنى هاوة: شعبتان تصبان في وادي نعمان من الجنوب غرب مصب رهجان ترى مصبهما يمينك، إذا خرجت من عرفات شرقاً على "29" كيلاً من مكة.
ز- جَتَاوب: أوله جيم مفتوحة ثم تاء مثناة من فوق مخففة: غير معروف اليوم.
حـ- البوص: كأنه مفرد الأبواص التي مرت معنا في أول البحث وهو كذلك غير معروف.
طـ- أفراع شقاب: فرعة الوادي أو الشعب رأسه المستوي بين الجبال، ومنه فرع بني سفيان المعروف. وشقاب أو أفرع شقاب: شعاب تصب في رأس وادي سرف من
উত্তরে আল-হুজুন পর্যন্ত, পশ্চিমে তুওয়া কূপ পর্যন্ত এবং দক্ষিণে হারাতুল বাব ও আশ-শুবাইকা পর্যন্ত। বর্তমানে এর এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে: হিন্দি পাহাড়, আল-আব্বাদি পাহাড়, আস-সুলায়মানিয়া পাহাড় এবং আল-ফাল্ক পাহাড় ইত্যাদি।
গ- বালদাহ: এটি মক্কার দ্বিতীয় উপত্যকার নাম। এর উপরিভাগ হলো খারিকুল আশর এবং এই অংশটি মক্কাতুস সিদর নামে পরিচিত ছিল। এর মধ্যভাগ হলো ফাখ যা বর্তমানে আজ-জাহির নামে পরিচিত। এর নিম্নাংশ হলো বালদাহ, যা উম্মুদ দুদ (বর্তমানে আল-জুদ) থেকে হুদায়বিয়া (বর্তমানে আশ-শুমায়সী) পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঘ- বাতনে আসাব: একটি উপত্যকা যা বর্তমানে পরিচিত নয়।
ঙ- কাবকাব: জবরযুক্ত 'কাফ' এবং 'বা'-এর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে গঠিত, যার প্রথম 'বা' বর্ণটি সুকুনযুক্ত। এটি জাহেলিয়াত ও ইসলামি যুগে হুজাইল গোত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ পাহাড়। এটি মক্কার পূর্ব দিকে সাতাশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর দক্ষিণ ভাগের পানি নুমান উপত্যকায় এবং উত্তর ও পশ্চিম ভাগের পানি আরনাহ উপত্যকায় পতিত হয়। এর পশ্চিম পাশে বিখ্যাত জিল মাজাজ বাজার অবস্থিত, যার ধ্বংসাবশেষ এখনও অবশিষ্ট আছে।
চ- আল-হাওয়াতান: এটি 'হাওয়াহ' শব্দের দ্বিবচন। এগুলো দুটি শাখা উপত্যকা যা রাহজান মোহনার দক্ষিণ-পশ্চিমে দক্ষিণ দিক থেকে নুমান উপত্যকায় পতিত হয়। আপনি যখন আরাফাত থেকে পূর্ব দিকে বের হবেন, তখন মক্কা থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে আপনার ডান দিকে এগুলোর মোহনা দেখতে পাবেন।
ছ- জাতাউব: শুরুতে জবরযুক্ত 'জিম' এবং এরপর নুকতাহবিশিষ্ট হালকা 'তা'। এটি বর্তমানে পরিচিত নয়।
জ- আল-বুস: এটি সম্ভবত 'আল-আবওয়াস' শব্দের একবচন যা এই গবেষণার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও একইভাবে বর্তমানে পরিচিত নয়।
ঝ- আফরাউ শিকাব: উপত্যকা বা গিরিপথের 'ফারআ' বলতে পাহাড়ের চূড়ার সমতল ভূমিকে বোঝায়, যার একটি উদাহরণ হলো বনু সুফিয়ানের সুপরিচিত 'ফারআ'। আর শিকাব বা আফরাউ শিকাব হলো কতগুলো গিরিপথ যা সারিফ উপত্যকার উপরিভাগে পতিত হয়...
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الجنوب غرب الجعرانة إلى الجنوب، مجاورة ثرير ابن الزبير الذي يصب معها. ولكن المقصود هنا أشقاب رهجان، فهي تجاور الهاوتان من الشرق، بينها وبين الأخراص والسودتين، وكلها وردت في صادية أُميَّة بن أبي عائذ الهذلي المتقدم بيت منها في الأبواص.
أجيَاد: كَأنه جمع جواد، والناس تقول (جيَاد) كان الاسم يطلق على شعبين كبيرين من شعاب مكة، يأتي أحدهما من الجنوب، يقاسم خُمَّاً الماء فيتجه شمالاً، والآخر يأتي من الشرق من جبل الأعرف، ثم يجتمعان أمام المسجد الحرام من الجنوب فيدفعان في وادي ابراهيم. وقد أصبحا اليوم مأهولين بأحياء عديدة من أحياء مكة، أشهرها: حي جياد، والمصافي، وبئر بليلة. ومن جياد الكبير طريق يفرع ريع بخش -رأس جياد- ثم ينحدر في (خُمّ) فإلى بطحاء قُريش فثوْر جنوباً. قال ميمون بن قيس (الأعشى) (1):
فما أنت من أهل الحُجُون ولا الصفا
… ولا لك حق الشرب من ماء زمزم
وما جَعَل الرحمنُ بيتَك في العُلا
… بأجْيادِ غربيّ الصفا والمُحَرَّم
وقال عمر بن أبي ربيعة: (2)
هيهات من أمَة الوهاب منزلنا (3)
… لما نزلنا بسيف البحر من عدن
وحَلّ أهلُك أجْياداً فليس لنا
… إلاّ التَّذَكُر، أو حَظّ من الحزن
--------------------------------------------
জিরানার দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে দক্ষিণের দিকে, এটি সারীর ইবনে আল-যুবায়েরের পার্শ্ববর্তী এলাকা যা এর সাথে মিলিত হয়েছে। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো আশকাব রাহজান, এটি পূর্ব দিক থেকে আল-হাওতানের প্রতিবেশী, যা এর এবং আল-আখরাস ও আল-সুদাতাইনের মাঝে অবস্থিত। এগুলোর সবকটি উমাইয়া বিন আবি আইজ আল-হুযালীর 'সাদিয়া' কবিতায় বর্ণিত হয়েছে, যার একটি চরণ ইতিপূর্বে আল-আওয়াস অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজিয়াদ: এটি যেন জাওয়াদ-এর বহুবচন, আর সাধারণ মানুষ একে (জিয়াদ) বলে থাকে। মক্কার উপত্যকাগুলোর মধ্যে দুটি বড় উপত্যকার ওপর এই নামটির প্রয়োগ হতো, যার একটি দক্ষিণ দিক থেকে আসে এবং 'খুম' এর সাথে পানি বণ্টন করে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়; অন্যটি পূর্ব দিকের আল-আরাফ পাহাড় থেকে আসে। অতঃপর উভয়টি দক্ষিণ দিক থেকে মসজিদে হারামের সামনে মিলিত হয় এবং ইব্রাহিম উপত্যকায় গিয়ে পড়ে। বর্তমানে এই দুটি স্থান মক্কার অসংখ্য জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো: আজিয়াদ পাড়া, আল-মাসাফি এবং বির বালিলাহ। আজিয়াদে কাবীর থেকে একটি পথ রায়' বাখশ —যা আজিয়াদের উপরিভাগ— হয়ে বের হয়েছে, অতঃপর তা খুম-এ নেমে যায় এবং সেখান থেকে বাতহা কুরাইশ হয়ে দক্ষিণে সাওরের দিকে চলে যায়। মাইমুন বিন কায়স (আল-আশা) বলেন (১):
তুমি হুজুন বা সাফার অধিবাসী নও
… আর জমজমের পানি পানের অধিকারও তোমার নেই।
পরম করুণাময় তোমার ঘরকে সুউচ্চ স্থানে স্থাপন করেননি
… যা সাফা এবং হারাম এলাকার পশ্চিমে আজিয়াদে অবস্থিত।
উমর বিন আবি রাবিয়া বলেন: (২)
আমাতুল ওয়াহহাবের আবাস আমাদের থেকে কত দূরে (৩)
… যখন আমরা আদনের সমুদ্রতীরে অবস্থান করলাম।
আর তোমার পরিবার আজিয়াদে বসতি স্থাপন করল, ফলে আমাদের আর কিছুই থাকল না
… কেবল স্মৃতিচারণ অথবা দুঃখের অংশ ছাড়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وله ذكر كثير في كتب المتقدمين وأشعارهم.
وقال بشر بن أبي حازم: (1):
حلفت برب الداميات نحورها
… وما ضَمّ أجياد المُصلىَّ ومَذهبُ
لئن شبت الحرب العوانُ التي أرى
… وقد طال إبعاد بها وترهبُ
لتحتملَنْ بالليل منكم ظعينةٌ
… إلى غير موثوق من العز تهربُ
وقال أبو بكر العبدي العدني: (2)
يا مُحيَّا نُور الصَّباح البادي
… ونسيمَ الرِّياحِ غِبّ الغوادي
حي أحبابنا بمكة ما بين
… الصَّفا وبين جِيادِ
الأحَثُّ: بفتح الهمزة والحاء المهملة المفتوحة أيضا والثاء المثلثة المشددة: قال أبو قُلَابة الهُذَلي: (3)
يا دار أعرفُها وحشاً منازلهُا
… بين القوائم من رَهطٍ فألْبَان
قدمنة من رُحَيَّات الأحثِّ إلى
… ضَوجي دفَاقٍ كسحقِ الملبس الفاني
في هذا الشعر:
أ- القوائم: يعتقد أنها تلك الهضاب المناصيب التي تُكوِّن
--------------------------------------------
প্রাচীনদের গ্রন্থাবলিতে এবং তাদের কবিতায় এর অনেক উল্লেখ রয়েছে।
আর বিশর বিন আবি হাযিম বলেন: (১):
আমি শপথ করছি সেই রবের যার উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত পশুর কণ্ঠদেশ রক্তাক্ত হয়
… এবং মুসাল্লা ও মাযহাবের পার্শ্ববর্তী আজইয়াদ যা কিছু ধারণ করে আছে
যদি সেই বিধ্বংসী যুদ্ধ প্রজ্বলিত হয় যা আমি দেখছি
… এবং যার মাধ্যমে বিচ্ছেদ ও ভীতি দীর্ঘায়িত হয়েছে
তবে অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে কোনো উষ্ট্রারোহী নারী রাতে পাড়ি জমাবে
… এক অনিশ্চিত আশ্রয়ের দিকে পলায়ন করে
আর আবু বকর আল-আবদি আল-আদানি বলেন: (২)
হে উদীয়মান ভোরের আলোর প্রতিচ্ছবি
… এবং সকালের বৃষ্টির পরের স্নিগ্ধ বাতাস
মক্কায় সাফা এবং জিয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের প্রিয়জনদের অভিবাদন জানাও
আল-আহাসস: হামযাহ এবং নুকতাহীন হাহ্-এর উপর ফাতহা (যবর) এবং তাশদীদযুক্ত ছাহ্-এর (তিন নুকতা বিশিষ্ট) সাথে: আবু কুলাবাহ আল-হুযালি বলেন: (৩)
ওহে গৃহ, যার জনশূন্য আবাসস্থল আমি চিনি
… রাহ্ত এবং আলবানের মধ্যবর্তী কাওয়াইমের মাঝে
আল-আহাসসের রুহাইয়াত থেকে শুরু করে
… দাফাকের দুই বাঁক পর্যন্ত, যা জীর্ণ পুরাতন কাপড়ের মতো
এই কবিতায়:
ক- আল-কাওয়াইম: ধারণা করা হয় যে এগুলো সেই উঁচু মালভূমি যা গঠন করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مضيق وادي ضِيْم عندما يقارب اجتماعه بوادي دفاق وكلاهما من روافد ملكان جنوب مكة على قرابة "45" كيلاً.
ب- ألْبَان: جمع لَبَن وهي كثيرة في ديار هذيل منها: جبلا لَبَن اللَّذَيْن يشرفان على الشرائع من الجنوب وعليهما المثل (لبن لبنين يا شريف) له قصة طريفة.
ولبنان: جبلان على "50" كيلاً جنوب مكة بين وادي البيضاء ووادي مَلْكان، يسمى أحدهما لَبَن الأبيض والآخر لبن الأسود، وهما ودفاق والأحثّ، والقوائم المتقدمة تتراءى.
ولبن آخر: ذكر من حدود الحرم الجنوبية وهو ما يعرف اليوم باسم لُبَين، تراه من المسفلة جنوباً وهو حد الحرم من جهة اليمن.
قال تأبَّط شراً:
هلا سألت عميراً عن مصاولتي
… قوماً منازلهم بالصيف ألْبَانُ
ب- الأحَثُّ: وقد تقدم ضبطه: ريع في ديار هذيل يصل بين وادي دفاق وبين المراخ في إدام تشرف عليه من مطلع الشمس جبال "راية" الجميلة الشهيرة هناك.
ورواه البكري بالتاء المثناة فوق في آخره، وهو خطأ، ثم أورد لأبي قُلَابة:
فيأسكِ من صديقكِ ثم يأس
… ضُحَى يوم الأحثِّ من الإيابِ
وروى هذا الشعر ياقوت، لأبي قُلابة أيضاً هكذا:
ধিম উপত্যকার সংকীর্ণ পথ যখন দাফাক উপত্যকার সাথে মিলিত হয়; এবং এই উভয় উপত্যকা মক্কাহর দক্ষিণে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত মালকান-এর উপনদী।
খ- আলবান: এটি লাবান শব্দের বহুবচন। হুযাইল গোত্রের ভূখণ্ডে এটি অনেক রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: লাবানের পাহাড়দ্বয় যা দক্ষিণ দিক থেকে আশ-শারাই-এর ওপর অবস্থিত এবং এই দুই পাহাড় নিয়ে একটি প্রবাদ রয়েছে (হে শরীফ, লাবান লাবনাইন), যার পেছনে একটি চমৎকার গল্প আছে।
এবং লুবনান: মক্কাহর দক্ষিণে ৫০ কিমি দূরে আল-বায়দা উপত্যকা এবং মালকান উপত্যকার মধ্যবর্তী দুটি পাহাড়। এদের একটিকে লাবান আল-আবইয়াদ (সাদা লাবান) এবং অন্যটিকে লাবান আল-আসওয়াদ (কালো লাবান) বলা হয়। এই দুটি এবং দাফাক, আল-আহাস ও পূর্বে বর্ণিত আল-কাওয়াইম দৃশ্যমান হয়।
এবং অন্য একটি লাবান: এটি হারামের দক্ষিণ সীমানার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা বর্তমানে 'লুবাইন' নামে পরিচিত। এটি মিসফালাহর দক্ষিণ দিক থেকে দেখা যায় এবং এটি ইয়ামেনের দিক থেকে হারামের সীমানা।
তাআববাতা শাররান বলেছেন:
কেন তুমি উমাইরকে আমার আক্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে না
… এমন এক কওমের ওপর যাদের গ্রীষ্মকালীন আবাসস্থল হলো আলবান।
খ- আল-আহাস: ইতিপূর্বে এর উচ্চারণ বর্ণিত হয়েছে। এটি হুযাইল গোত্রের এলাকার একটি গিরিপথ যা দাফাক উপত্যকা এবং ইদামের আল-মারখ-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এর পূর্ব দিকে অবস্থিত সেখানকার সুন্দর ও বিখ্যাত ‘রায়া’ পাহাড়সমূহ এর ওপর অবস্থিত।
আল-বাকরি একে শেষে ‘তা’ যোগে বর্ণনা করেছেন যা ভুল। অতঃপর তিনি আবু কুলাবাহর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন:
তোমার বন্ধুর কাছ থেকে তোমার নিরাশ হওয়া, অতঃপর
… ফিরে আসার ব্যাপারে আল-আহাসের দিনের পূর্বাহ্ণে নিরাশ হওয়া।
ইয়াকুতও আবু কুলাবাহর এই কবিতাটি একইভাবে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يئست من الحِذيَّة أمَّ عمرو
… غداة إذ انتحوني بالجناب
فيأسكِ من صديقكِ، ثم يأساً
… ضحى يوم الأحثِّ من الإياب
د- دُفَاق: بضم الدال المهملة وتخفيف الفاء ثم قاف وادٍ لهُذَيل يسيل من السراة قرب شفا بني سِفْيان ثم ينحدر غرباً مع ميل إلى الشمال حتى يصب في ملكان بعد ضِيْم على "32" كيلاً جنوب مكة. وسيأتي في بابه.
أمُّ أحْرَادٍ: كجمع حريد بالحاء المهملة. بئر بمكة احتفرتها بنو عبد الدار ضمن آبار قُرَيْش.
قالت أمَيْمَةُ بنت عُمَيلة إمرأة العَوّام بن خُوَيلد: (1)
خن حفرنا البحر أُمَّ أحرادْ
… ليست كبذَّرَ النَّزُور الجَمادْ
فأجابتها ضُرَّتها صَفِيَّة بنت عبد المطلب بن هاشم:
نحن حفرنا بَذَّرْ
… تسقي الحجيج الأكبْر
وأمُّ أحراء الشر
وهذه الآبار لم تعد تعرف وستأتي بَذَّر في موضعها.
إحليل: بكسر الهمز وسكون الحاء المهملة ثم لامين بينهما ياء مثناة تحت: قال كانف الفهمي: (2)
فلو تسألي عنا، لنبئتِ أنَّنا
… بإحليل لا نُزوَى ولا نَتَخَشَّعُ
--------------------------------------------
হে উম্মে আমর, তুমি কি উপহার হতে নিরাশ হয়েছ
… সেই ভোরে যখন তারা আমাকে জানাবের পার্শ্ববর্তী এলাকার দিকে নিয়ে গেল।
তোমার বন্ধুর দিক থেকে তোমার নিরাশা, এরপর পূর্ণ নিরাশা
… আল-আহাসের দিনে ফিরে আসার পূর্বাহ্নে।
দ- দুফাক: হরকতবিহীন দাল-এ পেশ এবং ফা-এর হালকা উচ্চারণ ও শেষে কাফ-সহ; এটি হুযাইল গোত্রের একটি উপত্যকা যা বনু সুফিয়ানের শাফার নিকটবর্তী সরাত থেকে প্রবাহিত হয়, এরপর উত্তর দিকে কিছুটা হেলে পশ্চিম দিকে অবতরণ করে মক্কার ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে দিমের পর মালকানে গিয়ে পতিত হয়। এটি যথাস্থানে সামনে আসবে।
উম্মু আহরাদ: হরকতবিহীন হা দিয়ে ‘হারিদ’-এর বহুবচন সদৃশ। এটি মক্কার একটি কূপ যা কুরাইশদের কূপসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বনু আবদুদ দার খনন করেছিল।
আওয়াম বিন খুয়াইলিদের স্ত্রী উমাইমাহ বিনতে উমাইলা বলেছেন: (১)
আমরা ‘উম্মু আহরাদ’ নামক সমুদ্র খনন করেছি
… যা স্বল্প পানির শুষ্ক ‘বায্যার’ কূপের মতো নয়।
তার সতীন সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম তাকে উত্তর দিয়েছিলেন:
আমরা ‘বায্যার’ খনন করেছি
… যা মহান হাজীদের পানি পান করায়।
আর উম্মু আহরা হলো মন্দের উৎস।
এই কূপগুলো এখন আর পরিচিত নয় এবং ‘বায্যার’ সম্পর্কে তার নিজ স্থানে আলোচনা আসবে।
ইহলীল: হামযাহ-তে যের এবং হরকতবিহীন হা-তে সাকিন, এরপর দু’টি লাম যার মাঝে দুই নুকতাযুক্ত ইয়া: কানফ আল-ফাহমি বলেছেন: (২)
তুমি যদি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, তবে তোমাকে জানানো হতো যে আমরা
… ইহলীলে আছি, যেখানে আমরা কোণঠাসা হই না এবং দমে যাই না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأن قد كسونا بطنَ ضيمٍ عجاجةً
… تُصعَّد فيه مرة وتُفَرِّعُ
ويعرف اليوم بحليل وهو من روافد دُفَاق الجنوبية، وهو لهذيل وذكر الأقدمون إنه لكنانة، والقبيلتان متجاورتان، ثم نزلته بنو فهْم. ذلك أن فَهْماً اقتتلت مع أختها عدوان حول الطائف فجلت حتى نزلت على بني صاهلة من هذيل فأنزلتها صاهلة في جوارها فلما كثرت فَهْم استولت على ديار صاهلة، ولم يعد اليوم من صاهلة سوى أبيات في صدر يلملم تجاور فهما.
الأخبَاب: كجمع خب:
جاءت في شعر عمر بن أبي ربيعة: (1)
ومن أجل ذات الخال يوم نظرتها
… بمندفع الأخباب أخضلني دمعي
وأخْرى لَدَى البيت العتيقِ نظرتها
… إليها تمشت في عظامي ومسمعي
يدل هذا الشعر على أن الأخباب ثنايا أو تلاع حيث يقول بمندفع الأخباب: أي حيث تدفع. فأين تقع يا ترى؟
لم أعثر على هذا الاسم فيما حول مكة. وقد يكون الشعر لغير عمر بن أبي ربيعة.
وقد ورد هذا الاسم قرب السوارقية من ديار مطير اليوم، وديار سليم قديماً.
قالت الخنساء:
يَحْمي لها ذات أخَبْابٍ فَعَنْفَوةٍ
… فمحدث الأتم فالصرداء أحيانا
--------------------------------------------
আমরা দাইম উপত্যকাকে ধূলিধূসরিত মেঘে আবৃত করেছি
… যা এক সময় উপরে ওঠে এবং আবার ছড়িয়ে পড়ে।
এটি বর্তমানে হাইলীল নামে পরিচিত এবং এটি দক্ষিণী দুফাক-এর অন্যতম উপনদী। এটি হুযাইল গোত্রের অন্তর্গত, তবে প্রাচীন ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে এটি কিনানা গোত্রের ছিল; উভয় গোত্রই পরস্পরের প্রতিবেশী। পরবর্তীতে সেখানে বনু ফাহম বসতি স্থাপন করে। এর কারণ হলো, ফাহম গোত্র তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম আদওয়ান গোত্রের সাথে তায়েফ অঞ্চলে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে তারা বিতাড়িত হয়ে হুযাইল গোত্রের বনু সাহিলা-র নিকট আশ্রয় নেয়। সাহিলা তাদের প্রতিবেশী হিসেবে সেখানে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু যখন ফাহম গোত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তারা সাহিলা গোত্রের ভূখণ্ড দখল করে নেয়। বর্তমানে ইয়ালামলামের উপরিভাগে ফাহম গোত্রের প্রতিবেশী গুটি কয়েক পরিবার ব্যতীত সাহিলা গোত্রের আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।
আল-আখবাব: খুব্ব-এর বহুবচন স্বরূপ:
এটি উমর ইবনে আবি রাবিআ-র কবিতায় এসেছে: (১)
সেদিন তিলধারী সেই রূপসীর দিকে তাকানোর কারণে
… আল-আখবাবের প্রবাহস্থলে আমার অশ্রু আমাকে সিক্ত করে দিয়েছে।
বাইতুল আতিকের (কাবা ঘরের) নিকট অন্য এক রূপসীর দিকে আমি তাকিয়েছি
… তার প্রভাব আমার হাড় ও কানে বিচরণ করছে।
এই কবিতাটি নির্দেশ করে যে, আল-আখবাব হলো কোনো গিরিপথ বা উঁচু ভূমি, কারণ তিনি বলেছেন 'আখবাবের প্রবাহস্থলে'; অর্থাৎ যেখানে পানি গড়িয়ে পড়ে। তবে এটি কোথায় অবস্থিত হতে পারে?
মক্কার আশেপাশে আমি এই নামের কোনো সন্ধান পাইনি। হতে পারে কবিতাটি উমর ইবনে আবি রাবিআ ব্যতীত অন্য কারো।
এই নামটির উল্লেখ পাওয়া যায় আস-সুওয়ারিকিয়া-র নিকটবর্তী স্থানে, যা বর্তমানে মুতায়র গোত্রের আবাসস্থল এবং অতীতে সুলাইম গোত্রের আবাসস্থল ছিল।
খানসা বলেছেন:
তিনি তার জন্য যাতু আখবাব ও আনফাওয়াহ-কে রক্ষা করছেন
… অতঃপর কখনো আল-আতমের নতুন চারণভূমি ও আল-সারদা-কেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكلها من حوض عقيق عشيرة قرب السوارقية.
الأخراص: كأنه جمع خرص بالخاء المعجمة والراء والصاد المهملتين، قال أُمَيَّة ابن أبي عائذ الهُذَلي: (1).
لمن الديار بعلي فالأخْراص
… فالسُّودَتين فجمع الأبْواصِ
فَضُهاء أظْلم فالنَّطوفِ فصائفِ
… فالنُّمْرِ فالبُرْقاتِ فالأنْحَاصِ
في هذا الشعر: الأخراص: شعاب وثنايا تأتي نعمان من الجنوب بين عرعرا ورهجان.
أ- أظلم: جبل لهذيل يشرف على الجعرانة من الشمال الشرقي أسود بارز. ومعظم الجبال التي في لونه تسميها العرب أظلم إذا كانت كباراً وتسميها غُراباً إذا كانت صغاراً.
هذا المشهور، أما المعني بالبيت فهو قرب الأخراص بين عرعر ورهجان، وضُهاءُه شعب يصب منه معروف.
ب- النطوف: كجمع ناطف وقد يطلق على المكان الريان لم أتبينها.
جـ- صائف: شعب يقع شمال عمرة التنعيم غير بعيد، وقد وصله اليوم عمران مكة، وآخر في نخلة الشامية، والذي أعتقده أن صائفا آخر بنعمان حيث كل هذه المواضع تتشاوف هناك.
د- النُّمُر: بضم النون والميم كجمع نمراء: نعوف من جبل كبكب تكنع في وادي نعمان من الشمال على يسار
--------------------------------------------
আর এগুলোর সবকটিই সাওয়ারিকিয়্যাহর নিকটবর্তী আকিক আশিরার জলাধার থেকে।
আল-আখরাস: মনে হয় এটি 'খুরস' শব্দের বহুবচন, যা নুকতাযুক্ত 'খা', 'রা' এবং নুকতাহীন 'সদ' দিয়ে গঠিত। উমাইয়া ইবনে আবি আইয আল-হুযালি বলেছেন: (১)।
আলি এবং আল-আখরাসে ঘরগুলো কার?
… অতঃপর আস-সুদাতাইন এবং আল-আবওয়াসের সমষ্টি
অতঃপর আজলামের সমতল ভূমি, আন-নাতুফ ও সাইফ
… তারপর আন-নুমুর, আল-বুরকাত এবং আল-আনহাস
এই কবিতায়: আল-আখরাস হলো উপত্যকা এবং গিরিপথ যা আরআরা ও রাহজানের মধ্যবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে নু’মানে পৌঁছেছে।
ক- আজলাম: হুযাইল গোত্রের একটি পাহাড় যা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আল-জি'রানা-র উপর অবস্থিত, এটি কালো এবং প্রকট। এই রঙের অধিকাংশ পাহাড় যদি বড় হয় তবে আরবরা তাকে আজলাম বলে ডাকে এবং ছোট হলে সেগুলোকে গুরাব বলে অভিহিত করে।
এটিই প্রসিদ্ধ মত, আর কবিতায় যা উদ্দেশ্য তা হলো আরআর ও রাহজানের মধ্যবর্তী আখরাসের নিকটবর্তী স্থান, এবং এর জুহা’ (সমতল ভূমি) একটি সুপরিচিত উপত্যকা যা সেখান থেকে প্রবাহিত হয়।
খ- আন-নাতুফ: এটি নাতিফ-এর বহুবচন হতে পারে এবং এটি সিক্ত বা পানিযুক্ত স্থানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তবে আমি এটি নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করতে পারিনি।
গ- সাইফ: এটি তান’ঈমের উমরাহ-র অদূরে উত্তর দিকে অবস্থিত একটি উপত্যকা, বর্তমানে মক্কার নগরায়ন সেখানে পৌঁছে গেছে। আরেকটি স্থান নাখলা আশ-শামিয়্যাহ-তে রয়েছে, তবে আমার বিশ্বাস যে অন্য একটি সাইফ নু’মানে অবস্থিত যেখানে এই সমস্ত স্থানগুলো পরস্পর দৃশ্যমান।
ঘ- আন-নুমুর: নুন এবং মীম-এ পেশসহ, নামরাহ শব্দের বহুবচনের ন্যায়: এটি কাবকাব পাহাড়ের উঁচু অংশ যা নু’মান উপত্যকার উত্তর দিক থেকে বাম পাশে ঝুঁকে আছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
طريق المصعد إلى الطائف، ترى منها الأخراص جنوباً عدلاً، وكذلك أظلم.
هـ- البُرْقات، الأَنْحاص: كالأبواص غير معروفة، ولعل للقافية وهيكل البناء الشعري دور في مثل هذه الأسماء وخاصة إذا عرفت أن ديار هُذَيل ليست بها بُرق.
الأخشبان: مثنى أخشب وهو الجبل الخشن وعر المرقى.
قال الشريف الرضيى: (1)
أحبك ما أقام مِنىً وجمَعٌ
… وما أرسى بمكةَ أخشباها
وما دَفَع الحجيج إلى المُصلَّى
… يجرّون الَمطِيَّ على وجاها
وما نحروا بخيف منًى وكبوا
… على الأذقان مشعرةً ذراها
وقال ساعدة بن جُؤَيَّة الهذلي: (2)
ومقامهن إذا حُبِسن بمأزمٍ
… ضَيْقٍ ألف وصَدّهُنّ الأخشبُ
وأكثر الأقدمون من القول عن الأخْشَبَينْ وكادوا يتفقون على أنهما: أبو قُبَيس وقُعَيْقعان، وقد تقدم تحديد قعيقعان، أما أبو قبيس -بضم القاف- فهو من أشهر جبال مكة بل أشهرها على الإطلاق وهو الجبل المشرف إشرافاً مباشراً على المسجد الحرام من مطلع الشمس ولذا يقول أهل مكة: الواقف على أبي قبيس يرى
--------------------------------------------
তায়েফের দিকে যাওয়ার চড়াই পথ, যেখান থেকে দক্ষিণে সরাসরি আখরাস এবং একইভাবে আযলাম দেখা যায়।
হ- আল-বুরকাত, আল-আনহাস: এগুলো আল-আবওয়াসের মতো অপরিচিত নাম, সম্ভবত অন্ত্যমিল এবং কাব্যিক কাঠামোর এই ধরণের নামগুলোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে, বিশেষ করে যখন এটি জানা যায় যে হুযায়ল গোত্রের জনপদে কোনো 'বুরক' (পাথুরে ভূমি) নেই।
আল-আখশাবাইন: এটি 'আখশাব' শব্দের দ্বিবচন, যা দ্বারা এমন রুক্ষ পাহাড় বোঝায় যার আরোহণ পথ অত্যন্ত কঠিন।
শরীফ আল-রাযী বলেছেন: (১)
আমি তোমাকে ভালোবাসব যতদিন মিনা ও জাম‘ (মুযদালিফা) অটল থাকবে
… এবং মক্কার দুই আখশাব পর্বত যতদিন সুদৃঢ় থাকবে।
এবং যতদিন হাজিরা মুসাল্লার দিকে অগ্রসর হবে
… তাদের সওয়ারিগুলোকে দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে।
এবং যতদিন তারা মিনার খাইফ নামক স্থানে পশু কোরবানি করবে এবং উটের কুঁজ চিরে
… রক্তমাখা অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে দেবে।
সা’দা বিন জুআইয়াহ আল-হুযালী বলেছেন: (২)
এবং তাদের অবস্থান যখন তারা সংকীর্ণ গিরিপথে আবদ্ধ হয়
… হাজারো সংকীর্ণতা আর আখশাব পর্বত তাদের পথ আগলে রাখে।
প্রাচীন পণ্ডিতগণ 'আল-আখশাবাইন' সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন এবং তারা প্রায় এ বিষয়ে একমত যে পাহাড় দুটি হলো: আবু কুবাইস এবং কুয়াইকিআন। কুয়াইকিআনের সীমানা নির্ধারণ আগেই আলোচনা করা হয়েছে। আর আবু কুবাইস —ক্বফ বর্ণে পেশ সহযোগে— মক্কার অন্যতম বিখ্যাত পাহাড়, বরং এটি সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ পাহাড়। এটি এমন একটি পাহাড় যা সূর্যোদয়ের দিক থেকে সরাসরি মসজিদুল হারামের উপর দণ্ডায়মান। এজন্য মক্কাবাসীগণ বলেন: আবু কুবাইস পাহাড়ে দণ্ডায়মান ব্যক্তি দেখতে পান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الطائف! وقد تقدم معنا تحديده أيضا. أما أهل البرية فيسمون الجبلن المشرفين على المزدلفة من الشرق "الأخشبين" ويسمون الطريق بينهما "المأزمين" وقد يطلق اسم الأخشبين على جبلي منى فيميزان بأخشبي منى، وكان الشامي منهما يسمى القابل وهو وجه ثبيرغيناء من الجنوب، وثبير غيناء تقدم معنا، وكان يسمى ثَبِير الأثْبِرة أي كبيرها، أما جبل منى اليماني فكان يسمى الصابح وسفحه الشمالي الشرقي يسمى "خيف منى" وله شهرة في أشعار العرب، يقول الشريف الرضيى:
نظرتُكِ نظرةً بالخَيْفِ كانتْ
… جلاء العين أو كانت قَذَاها (1)
ولم يكُ غير موقفنا فطارتْ
… بكل قبيلةٍ منا نواها
إدَام: بسكر الهمزة ودال مهملة بعدها ألف فميم:
قال صخر الغي الهذلي: (2)
لقد أجرى لمصرعه تليدٌ
… وساقته المنيةُ من إداما
قلت: إدام وادٍ فحل من أودية مكة المكرمة، على (57) كيلاً جنوباً، يقطعه درب اليمن بين وادي البيضاء شمالاً ووادي يلملم جنوباً. يسيل من جبال راية ويصب في الخبت عند طفيل، سكانه الجحادلة من بني شعبة، ليست به زراعة ولكن فيه آثار عيون مندثرة، وفيه بئر إدام الشهيرة منذ القدم، ويتبع إدارياً قائم مقام العاصمة. وتليد الوارد في هذا البيت هو: ابن الشاعر
--------------------------------------------
তায়েফ! এবং আমাদের সাথে ইতিপূর্বে এর সীমা নির্ধারণের আলোচনাও অতিক্রান্ত হয়েছে। আর মরুভূমির অধিবাসীরা মুজদালিফার পূর্ব দিকে অবস্থিত দুটি পাহাড়কে "আখশাবাইন" বলে অভিহিত করে এবং তাদের মধ্যবর্তী পথকে "আল-মা'যামাইন" বলে ডাকে। কখনও কখনও 'আখশাবাইন' নামটি মিনার দুটি পাহাড়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের 'মিনার আখশাবাইন' হিসেবে পৃথক করা হয়। তাদের মধ্যে সিরীয় (উত্তর) দিকের পাহাড়টিকে 'আল-কাবিল' বলা হতো, যা দক্ষিণ দিক থেকে 'সাবীর গায়না'র সম্মুখভাগ; সাবীর গায়না সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। একে 'সাবীরুল আসবিরা' অর্থাৎ পাহাড়গুলোর মধ্যে বড় পাহাড় বলা হতো। আর মিনার ইয়ামানি (দক্ষিণ) পাহাড়টি 'আস-সাবিহ' নামে পরিচিত ছিল এবং এর উত্তর-পূর্ব পাদদেশকে বলা হয় "খাইফে মিনা", আরবদের কবিতায় এর বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে। শরীফ আর-রাজী বলেন:
আমি খাইফে তোমার দিকে এমন এক পলক তাকিয়েছিলাম যা
… চোখের প্রশান্তি ছিল অথবা ছিল এর যাতনা (১)
সেটি আমাদের অবস্থানের মুহূর্ত ছাড়া আর কিছুই ছিল না, অতঃপর আমাদের মধ্য হতে প্রতিটি গোত্র তাদের গন্তব্যের দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল
…
ইদাম: হামযার নিচে কাসরা (জের) এবং দাল-এর পর আলিফ ও মীম সহকারে:
সাখরুল গাই আল-হুযালী বলেছেন: (২)
নিশ্চয়ই তালীদের মৃত্যুস্থানে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে
… এবং মৃত্যু তাকে ইদাম থেকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইদাম হলো মক্কা মুকাররমার উপত্যকাগুলোর মধ্যে একটি প্রধান উপত্যকা, যা দক্ষিণ দিকে (৫৭) কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ইয়েমেনী সড়ক দ্বারা উত্তর দিকে ওয়াদি আল-বায়দা এবং দক্ষিণ দিকে ওয়াদি ইয়ালামলামের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি রায়াহ পাহাড় থেকে প্রবাহিত হয় এবং তুফাইলের নিকটবর্তী খাবত্ অঞ্চলে পতিত হয়। এর অধিবাসীরা হলো বনু শু'বার আল-জাহাদালা গোত্র। এখানে কোনো চাষাবাদ নেই তবে এখানে বিলুপ্ত ঝরনার চিহ্ন রয়েছে এবং এখানে প্রাচীনকাল থেকেই বিখ্যাত ইদামের কূপটি অবস্থিত। প্রশাসনিকভাবে এটি রাজধানীর কায়েম মাকাম (প্রশাসনিক এলাকা)-এর আওতাভুক্ত। আর এই চরণে বর্ণিত 'তালীদ' হলো: কবির পুত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
صخر الغي، وله فيه مراتٍ أخرى.
وقال أسامة الهذلي: (1)
ولم يَدَعُوا بين عُرْض الوَتير
… وبين المناقب إلا الذئابا
أذَاخِر: كجمع أذخر. جمع قلة. وهو نبات معروف:
قال بلال بن رباح رضي الله عنه:
ألا ليتَ شعري هل أبيتنَّ ليلةً
… بفخٍّ وحولي أذخر وجَلِيل
وهل أرِدنْ يوماً مياهَ مَجَنَّةٍ
… وهل يَبْدُونْ لي شامةٌ وطَفيلُ؟
في هذا الشعر:
أ- فَخٌ: بفتح الفاء وتشديد الخاء المعجمة. هو وادي مكة الثاني. وقد ألمحنا إليه فيما تقدم وهذا الوادي يدخل بين حراء ومكة فيمر في الزاهر ويذهب إلى الحديبية ثم يصب في مر الظهران فوق حداء. وقد يأتي معنا بأوفى من هذا.
ب- أذْخُر: هو جبل أذاخِر. وقال: أذخر ليستقيم له وزن الشعر. وليس كما فسره بعض المتأدبين بأن بلالاً كان يحب شميم الأذخر بل كان يحب مكة: شعابها وجبالها وضواحيها، كما هو ظاهر من شعره.
وأذاخِر هذا: هو الجبل الذي يشرف على الأبطح من الشمال يتصل بالحجون من الشرق ولا زالت هناك ثنية
--------------------------------------------
সাখর আল-গাই, এবং এতে তার আরও অনেক অংশ রয়েছে।
আর উসামা আল-হুযালী বলেছেন: (১)
তারা ওয়াতীরের প্রশস্ত ভূমি
… এবং মানাকিব এর মধ্যবর্তী স্থানে নেকড়ে ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি।
আযাখির: এটি আযখির এর বহুবচনের ন্যায়। এটি স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন (জামউ কিল্লাত)। আর এটি একটি সুপরিচিত উদ্ভিদ:
বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন:
আহা! আমি যদি জানতাম, আমি কি কখনো ফাখ উপত্যকায় একটি রাত অতিবাহিত করতে পারব
… যখন আমার চারপাশে থাকবে আযখির ও জলীল ঘাস?
আমি কি কোনোদিন মাজান্নার জলাধারে পৌঁছাতে পারব
… আর শামা ও তফীল পাহাড় কি কখনো আমার নিকট দৃশ্যমান হবে?
এই কবিতায়:
ক- ফাখ: ফা বর্ণের উপর ফাতহাহ এবং খা বর্ণের উপর তাশদীদ সহযোগে। এটি মক্কার দ্বিতীয় উপত্যকা। আমরা ইতোপূর্বে এর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছি। এই উপত্যকাটি হেরা এবং মক্কার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রবেশ করে যাহের এলাকা অতিক্রম করে হুদায়বিয়া অভিমুখে গিয়েছে, এরপর তা হাদ্দার উপরিভাগে মাররুজ জাহরানে গিয়ে মিশেছে। আমাদের আলোচনায় এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
খ- আযখির: এটি মূলত আযাখির পাহাড়। কবি কবিতার ছন্দ ঠিক রাখার জন্য আযখির বলেছেন। কোনো কোনো সাহিত্যিক যেমনটি ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়টি তেমন নয় যে, বিলাল কেবল আযখির ঘাসের সুগন্ধি পছন্দ করতেন; বরং তিনি মক্কাকে ভালোবাসতেন—এর গিরিপথ, পাহাড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকে, যেমনটি তাঁর কবিতা থেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
আর এই আযাখির হলো সেই পাহাড় যা উত্তর দিক থেকে আবতাহ উপত্যকার উপর দণ্ডায়মান এবং পূর্ব দিক থেকে হাজুন পাহাড়ের সাথে সংযুক্ত, সেখানে এখনও একটি গিরিপথ বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعرف منذ القدم بثنية أذاخر، قال الأزرقي أخبار مكة (2 - 289): ثنية أذَاخِر: الثنية التي تشرف على حائط خُرمان، ومن ثنية أذاخر دخل النبي صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة وقبر عبد الله بن عمر رضي الله عنه بأصلها مما يلي. مكة. وهو الآن في حي الجعفرية. وحائط خرمان: يعرف اليوم بالخُرْمانية. بصدر مكة. صار رحبة تقف بها سيارات الكراء. ويشرف عليه من مطلع الشمس (صفي السباب) وسيأتي مستقبلاً، وقد عمر اليوم جله كمقر لأمانة العاصمة.
جـ- جَلِيل: بفتح أوله وثانيه: شعب يصب من حراء في صدر فخ. وقد أصبح حياً من أحياء مكة جل سكانه من الروقة من عتيبة.
د- المعالم التي في البيت الثاني سترد في أبوابها إن شاء الله.
أُسَاهِم: بضم الهمزة والسين المهملة على وزن أفاعل:
قال الفضل بن العباس اللهبي: (1)
نظرت وهرشي بيننا وبصاقُها
… فركن كُسابٍ فالصُّوَى من أُساهِم
إلى ضوء نارٍ دون سَلْعٍ، يشبها
… ضعيف الوقود، فاتر غير سائِم
قلت: هذا البيت من الشواهد المشكلة، وهي غير قليلة في كتابات المتقدمين. ووجه المشكل كالآتي:
أ- هرشي: ثنية مشهورة معروفة شمال رابغ. أي على ما يقرب من مائتي كيل من مكة والبصاق: الحرة وهرشي بين حرار.
--------------------------------------------
প্রাচীনকাল থেকেই এটি সানিয়্যাত আযাখির নামে পরিচিত। আল-আযরাকী 'আখবারু মক্কা' গ্রন্থে (২ - ২৮৯) বলেন: সানিয়্যাত আযাখির হলো সেই গিরিপথ যা হায়েত খুরমানের ওপর অবস্থিত। মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সানিয়্যাত আযাখির দিয়েই মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর এর পাদদেশে মক্কার দিকে অবস্থিত। এটি বর্তমানে আল-জাফরিয়্যাহ মহল্লায় অবস্থিত। আর হায়েত খুরমান বর্তমানে খুরমানিয়্যাহ নামে পরিচিত, যা মক্কার উপরিভাগে অবস্থিত। বর্তমানে এটি একটি প্রশস্ত চত্বরে পরিণত হয়েছে যেখানে ভাড়ার গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। সূর্যোদয়ের দিক থেকে (সাফিয়ুস সাবাব) এর ওপর ছায়া ফেলে, যার বর্ণনা সামনে আসবে। বর্তমানে এর অধিকাংশ এলাকা রাজধানীর প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয় (আমানাতুল আসিমাহ) হিসেবে নির্মিত হয়েছে।
জ- জালীল: প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে: একটি উপত্যকা যা হেরা পর্বত থেকে ফাখ-এর উপরিভাগে গিয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি মক্কার একটি মহল্লায় পরিণত হয়েছে, যার অধিকাংশ অধিবাসী উতায়বাহ গোত্রের রূকাহ শাখার লোক।
দ- দ্বিতীয় চরণে উল্লিখিত নিদর্শনসমূহ ইনশাআল্লাহ স্ব স্ব অধ্যায়ে আলোচিত হবে।
উসাহিম: হামযাহ-তে যম্মাহ (পেশ) এবং সীন-এ কোনো নুকতা নেই, এটি 'আফাইল' ছন্দের ওজনে:
ফাযল ইবনুল আব্বাস আল-লাহাবী বলেন: (১)
আমি দৃষ্টিপাত করলাম এমতাবস্থায় যে হারশা এবং এর বুসাক আমাদের মাঝখানে ছিল
… অতঃপর কুসাবের কোণ এবং উসাহিমের পাথরস্তূপ।
সাল্-এর নিকটবর্তী আগুনের আলোর দিকে, যা প্রজ্বলিত করছিল
… দুর্বল জ্বালানি, নিস্তেজ এবং যা বিরামহীন নয়।
আমি বলছি: এই পঙ্ক্তিটি অস্পষ্ট ও জটিল প্রমাণাদির (শাওয়াহিদ) অন্তর্ভুক্ত, যা প্রাচীন লেখকদের রচনায় বিরল নয়। সমস্যার দিকটি নিম্নরূপ:
ক- হারশা: এটি রাবিগের উত্তরে অবস্থিত একটি সুপরিচিত গিরিপথ। অর্থাৎ মক্কা থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দূরে। আর বুসাক হলো লাভা অঞ্চল (হাররাহ), এবং হারশা এই লাভা অঞ্চলগুলোর মাঝে অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ب- كُسَاب: جبل مشهور يقع جنوب مكة على قرابة 15 كيلاً تمكن رؤيته من عرفة أو رؤية ما يتصل به من جبال، فكيف يمكن الجمع بين الموضعين وكلاهما مشهور ولا يعرف غيره. أما سلع فسلعان، ولا أرى الشاعر أراد إلا سلع مكة، وقد ذكر. فأين أساهِم يا ترى؟ أم تراه تحريف (أشاهم) بالمعجمة؟ وقد ذكره البكري، وأورد لابن أحمر:
إلى ظعنٍ ظلت بجو أُشاهِم
… فلما قضَى حد النهار وقَصَّرا
ولكن حتى أُشاهِم هذا لا نعلم أين يقع، الا أن يكون (أُشَيْهم) ولهم عادة في قلب الألف ياء، وأُشَيْهم هذا جبيل بارز عند مصب دفاق، تراه من ضيم غرباً، مشهور هنا، ترى منه كساباً جنوباً إلى الغرب.
الأشطاط: كأنه جمع شط: قال عُبَيد الله بن قَيْس الرُّقَيَّات:
لم تُكلّمْ بالجَلْهتين الرسومُ
… حادثٌ عَهدِ أهلِها أمْ قديمُ
ْسرَفٌ منزلٌ لسلمةَ فالظَّهْر
… إن منها منازلُ فالْقَصِيمُ
فغَدير الأشْطاطِ منها محلٌّ
… فبعُسْفان منزلٌ معلومُ
صدروا ليلة انقضى الحجُّ فيهم
… حُرَّة زانها أغرٌّ وسيمُ
يتقي أهلُها النفوسَ عليها
… فعلى نحرِها الرُّقَى والتميمُ
في هذا الشعر:
খ- কুসাব: এটি একটি বিখ্যাত পাহাড় যা মক্কার দক্ষিণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি আরাফাত থেকে অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট পাহাড়গুলো থেকে দেখা সম্ভব। এমতাবস্থায় কীভাবে এই দুই স্থানের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব, যেখানে উভয়ই সুপরিচিত এবং এছাড়া অন্য কিছু পরিচিত নয়। আর সাল’ এর ক্ষেত্রে বলতে হয়, সাল’ নামক পাহাড় দুটি রয়েছে; আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে কবি মক্কার সাল’ পাহাড়কেই উদ্দেশ্য করেছেন এবং তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তাহলে ‘আসাহিম’ কোথায় অবস্থিত? নাকি এটি ‘শিন’ বর্ণ যোগে ‘আশাহিম’-এর বিকৃত রূপ? আল-বাকরি এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আহমারের একটি কাব্যংশ উদ্ধৃত করেছেন:
সেই উষ্ট্রারোহী কাফেলার দিকে যারা আশাহিম উপত্যকায় অবস্থান করছিল
… যখন দিনের প্রখরতা শেষ হলো এবং সূর্যের তেজ স্তিমিত হয়ে এল।
কিন্তু এমনকি এই ‘আশাহিম’ কোথায় অবস্থিত তাও আমাদের জানা নেই, যদি না এটি ‘উশাইহিম’ হয়; আর তাদের মধ্যে ‘আলিফ’কে ‘ইয়া’ তে পরিবর্তন করার ভাষাগত রীতি রয়েছে। এই ‘উশাইহিম’ হলো দাফফাক প্রবাহের মোহনায় অবস্থিত একটি দৃশ্যমান ছোট পাহাড়, যা দ্বায়ম থেকে পশ্চিম দিকে দেখা যায়। এটি এখানে বেশ পরিচিত, যেখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে কুসাব পাহাড়টি নজরে পড়ে।
আল-আশউত্বাত: এটি সম্ভবত ‘শত্ব’ শব্দের বহুবচন। উবায়দুল্লাহ ইবনে কাইস আর-রুকাইয়াত বলেছেন:
উপত্যকার দুই প্রান্তের এই ধ্বংসাবশেষগুলো কোনো কথা বলে না
… এর অধিবাসীদের বিদায় নেওয়ার সময়কাল কি সাম্প্রতিক নাকি তা অতি প্রাচীন?
সারাফ সালমার একটি আবাসস্থল, অতঃপর আয-যহ্র
… এর মধ্যে কিছু আবাসস্থল রয়েছে আল-কাসিমে।
গাদীর আল-আশউত্বাতও সেখানের একটি স্থান
… আর উসফানে রয়েছে একটি সুপরিচিত মনজিল।
তারা সেই রাতে প্রস্থান করল যখন তাদের হজ্জের সময়কাল সমাপ্ত হলো
… এক স্বাধীন মহীয়সী নারী, যাকে এক উজ্জ্বল সুশ্রী ব্যক্তি সুশোভিত করেছেন।
তার পরিজনরা তার প্রাণের ব্যাপারে সর্বদা শঙ্কিত থাকে
… তাই তার কন্ঠদেশে শোভা পায় রক্ষাকবচ ও তাবিজ।
এই কবিতায়:
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أ- الأشطاط: موضع قرب عُسفان. كان يعرف بغدير الأشطاط (1)
ب- سرف: بفتح السين المهملة وكسر الراء وآخره فاء. وادٍ يمر شمال مكة على "13" كيلاً، يقطعه طريق المدينة، وهذا الوادي يأخذ سيل الجعرانة ثم يدفع في مر الظهران من الجنوب، وبه قبر أم المؤمنين: ميمونة رضي الله عنها. وسكانه بنو لحيان من هذيل. وهي ديارهم من أيام الجاهلية، وتتبع قائم مقام العاصمة إدارياً وفي الوادي عدد من القرى.
جـ- الظهران: يقصد به مر الظهران. أكبر أودية مكة المكرمة.
أعلاه النخلتان: نخلة الشامية المعروفة اليوم بوادي المضيق أو وادي الليمون، ونخلة اليمانية. المعروفة اليوم باليمانية.
وكلاهما لهذيل. ويمر وادي مر الظهران شمال مكة على "24" كيلاً ويعرف بوادي فاطمة وبه قرى عديدة وعيون كثيرة توقَّف بعضها قبل سنين وتسميه البادية: وادي الشريف. وقد يسمى وادي الجموم.
د- القصيم: باسم إقليم القصيم المعروف. ووروده في شعر ابن قيس مشكل. وخاصة أن جميع هذه المعالم حول مكة. فكيف أقحم القصيم هنا؟ أم أن حول مكة موضعاً يدعى القصيم؟ أم أن اللفظ محرفاً؟
هـ- عسفان: بضم العين المهملة وسكون السين المهملة أيضاً ثم فاء فألف فنون: بلدة على بعد "80" كيلاً على طريق المدينة شمال مكة كان أهلها خزاعة ثم آلت إلى
--------------------------------------------
ক- আল-আশউত্বাত্ব: উসফানের নিকটবর্তী একটি স্থান। এটি গাদীর আল-আশউত্বাত্ব (১) নামে পরিচিত ছিল।
খ- সারিফ: সীন বর্ণে ফাতহাহ ও রা বর্ণে কাসরাহ এবং শেষে ফা। এটি একটি উপত্যকা যা মক্কার উত্তর দিক দিয়ে ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত, মদীনার রাস্তা একে অতিক্রম করেছে। এই উপত্যকাটি জি'রানার প্লাবন গ্রহণ করে অতঃপর দক্ষিণ দিক থেকে মাররুজ জাহরানে গিয়ে পড়ে। এখানেই উম্মুল মুমিনীন মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কবর অবস্থিত। এর অধিবাসীরা হলো হুযাইল গোত্রের বনু লিহইয়ান। জাহেলী আমল থেকেই এটি তাদের আবাসভূমি। প্রশাসনিকভাবে এটি রাজধানীর কায়েম মাকাম (প্রশাসনিক কার্যালয়)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এই উপত্যকায় বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে।
গ- আয-জাহরান: এর দ্বারা মাররুজ জাহরান উদ্দেশ্য। এটি মক্কা মুকাররামাহর সবচেয়ে বড় উপত্যকা।
এর উপরের অংশে রয়েছে দুটি খেজুর বাগান (নখলতান): নখলা আশ-শামিয়া যা বর্তমানে ওয়াদি আল-মাদীক বা ওয়াদি আল-লায়মুন নামে পরিচিত, এবং নখলা আল-ইয়ামানিয়া, যা বর্তমানে আল-ইয়ামানিয়া নামে পরিচিত।
এ উভয়টিই হুযাইল গোত্রের। মাররুজ জাহরান উপত্যকাটি মক্কার উত্তর দিকে ২৪ কিমি দূরে অবস্থিত এবং এটি ওয়াদি ফাতিমা নামে পরিচিত। এতে অনেক গ্রাম ও অসংখ্য ঝরনা রয়েছে, যার কিছু কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। মরুবাসীরা একে ওয়াদি আশ-শরীফ বলে ডাকে। একে ওয়াদি আল-জুমুমও বলা হয়।
ঘ- আল-কাসীম: সুপরিচিত আল-কাসীম অঞ্চলের নামে। ইবনে কায়েসের কবিতায় এর উল্লেখ সমস্যাযুক্ত। বিশেষ করে এই সকল নিদর্শন মক্কার চারপাশে অবস্থিত। তাহলে কাসীম এখানে কীভাবে যুক্ত হলো? নাকি মক্কার আশেপাশে কাসীম নামে কোনো স্থান আছে? নাকি শব্দটিতে কোনো বিকৃতি ঘটেছে?
ঙ- উসফান: আইন বর্ণে দম্মাহ এবং সীন বর্ণে সুকুন, অতঃপর ফা, আলিফ ও নুন। এটি মক্কার উত্তরে মদীনার রাস্তায় ৮০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি শহর। এর অধিবাসী ছিল খুযাআহ গোত্র, অতঃপর এটি হস্তান্তরিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قبيلة حرب فهي لبني عمرو منهم. وستأتي في موضعها.
الأصاغي: أوله همزة مفتوحة ثم صاد فألف ثم غين معجمة فياء مثناة تحت، قال ساعدة بن جُؤية الهذلي: (1)
ولو أنه إذ كان ما حَمَّ واقعاً
… بجانب من يَحْفَى، ومن يتودَّدُ
لهن بما بين الأصَاغي ومنصح
… تعاوٍ كما عجَّ الحَجِيجُ الملبّدُ
لم يحدد كل من ياقوت وأبي عُبيد البكري أيّاً من الموضعين عندما أورد هذا الشعر. وفيه:
أ- الأصاغي: لم أتبينها في ديار هذيل.
ب- منصح: كأنه فاعل من الفعل أنصح: عين مندثرة بوادي إدام جنوب مكة على قرابة (70) كيلاً، وقد تقدم الحديث عن إدام. وهناك منصح آخر بنواحي الفرع -فرع المدينة- ولكن لا أرى ساعدة يعنيه لبعده عن ديار هذيل. وسيذكر بأوفى من هذا في بابه.
أطْحَل: على وزن أفْعَل من الطُّحْلة وهي لون معروف.
قال المتقدمون: إنه اسم الجبل المعروف اليوم باسم ثور، وإنّ اسم ثور هو ابن عبد مناة بن أدّ بن طابخة، فنسب ثور هذا إلى الجبل أطحل فقيل: ثور أطحل. وإليه ينسب الفقيه المحدث سفيان بن سعد الثوري. وليس إلى ثور قضاعة.
قال البعيث الشاعر (2):
--------------------------------------------
হারব গোত্র, তারা তাদের মধ্য থেকে বনু আমরের অন্তর্ভুক্ত। এটি যথা স্থানে আসবে।
আল-আসাগি: এর শুরুতে জবরযুক্ত হামজাহ, এরপর সোয়াদ, এরপর আলিফ, এরপর মু'জাম গাইন এবং নিচে দুই নকতাযুক্ত ইয়া। সা'ইদাহ বিন জুআইয়্যাহ আল-হুযালি বলেছেন: (১)
আর যদি তা হতো, যখন যা নির্ধারিত তা ঘটে যেতো
… তার পাশে যে খালি পায়ে চলে এবং যে ভালোবাসা প্রকাশ করে।
তাদের জন্য আল-আসাগি এবং মানসাহ-এর মধ্যবর্তী স্থানে
… এমন আর্তনাদ যেন তালবিয়াহ পাঠকারী হাজীদের উচ্চৈঃস্বর।
ইয়াকুত এবং আবু উবাইদ আল-বাকরি—তাঁদের কেউই এই কবিতাটি উল্লেখ করার সময় স্থান দুটির কোনোটিকেই সুনির্দিষ্ট করেননি। এতে রয়েছে:
ক- আল-আসাগি: আমি হুযাইল গোত্রের ভূখণ্ডে এটি স্পষ্ট করতে পারিনি।
খ- মানসাহ: এটি যেন 'আনসাহা' ক্রিয়া থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য। এটি মক্কার দক্ষিণে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ওয়াদি ইদামে অবস্থিত একটি বিলুপ্ত ঝরনা। ইদাম সম্পর্কে ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। আল-ফুর' (মদিনার ফুর') অঞ্চলেও মানসাহ নামে আরেকটি স্থান রয়েছে, তবে আমার মনে হয় না সা'ইদাহ সেটিকে উদ্দেশ্য করেছেন, কারণ তা হুযাইল গোত্রের ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে। এটি নিজ পরিচ্ছেদে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।
আতহাল: এটি 'তুহলাহ' থেকে 'আফ'আল' ওজনে, যা একটি পরিচিত রঙ।
পূর্ববর্তীগণ বলেছেন: এটি বর্তমানের প্রসিদ্ধ 'সাওর' পাহাড়ের নাম। আর সাওর হলেন ইবনে আবদ মানাত বিন আদ্দ বিন তাবিখাহ। এই সাওরকে আতহাল পাহাড়ের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, ফলে বলা হয়: 'সাওর আতহাল'। ফকিহ ও মুহাদ্দিস সুফিয়ান বিন সা'দ আস-সাওরিকে এরই দিকে সম্বন্ধ করা হয়। কুদা'আহ গোত্রের সাওরের দিকে নয়।
কবি আল-বাইস বলেছেন (২):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وجئنا بأسلاب الملوك وأحرزتْ
… أَسنَّتُنَا مَجْد الأسنَّة والأُكلِ
وجئنا بعمرو بعدما حل سربها
… محل الذليل خلف أطْحلَ أو عُكْلِ
ويعرف هذا الجبل اليوم وفي التاريخ الإسلامي بجبل ثور، وفيه غار ثور الذي أوى إليه محمد صلى الله عليه وسلم ورفيقه في بدء الهجرة إلى المدينة. وقد تناقل الناس إلى اليوم تحديداً خاطئاً لجبل ثور فنجد في مقررات المدارس أنه جبل بأسفل مكة. وهذا خطأ فالجبل يقع جنوباً عدلاً من مكة أي جنوب المسجد الحرام. ولكن الطريق إليه كانت من المسفلة ثم من ريع كُدَيّ وهما أسفل مكة، فظن زائروه أنه أسفل مكة. أما اليوم فيمكن الذهاب إليه من أجياد مباشرة بعد أن شق ريعاً هناك سمّيَ ريعَ بَخْش.
والناس يزورون الغار المقدس هناك ولهم خرافة تقول: إن من يتعسر خروجه منه فهو لغير أبيه ولا أدري من أول من أطلق هذه الخرافة غير أننا لم نر سميناً استطاع دخوله والخروج منه كما لم نر نحيفاً تعسر خروجه منه والإِسلام لا يجيز مثل هذه الإِشاعات واختراع الخزعبلات.
وشهرة غار ثور في مكة تغني عن تحديده، وأنت تراه من حيث أتيت مكة بارزاً يشبه شكله شكل ثور مستقبل الجنوب، ولعل لشكله علاقة باسمه.
الأطواء: كجمع طيء: بئر مرقبة مجصصة في وادٍ يسيل من جبل سطاع في ديار الجحادلة من بني شعبة من بني كنانة على قراب "80" كيلاً جنوب غربي مكة.
এবং আমরা রাজন্যবর্গের লুণ্ঠিত সম্পদ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি, আর আমাদের বর্শাফলকসমূহ
… অন্য সকল বর্শা ও শক্তির মর্যাদা ছিনিয়ে নিয়েছে।
এবং আমরা আমরকে নিয়ে এসেছি সেই অবস্থায় যখন তার দলের অবস্থান ছিল
… আতহাল কিংবা উকলের পশ্চাতে লাঞ্ছিত স্থানে।
এই পাহাড়টি বর্তমানে এবং ইসলামী ইতিহাসে 'জাবাল-ই-সাওর' (সাওর পাহাড়) নামে পরিচিত। এতে রয়েছে 'গারে সাওর' (সাওর গুহা), যেখানে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গী মদিনায় হিজরতের শুরুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে মানুষের মধ্যে জাবাল-ই-সাওরের অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে; আমরা স্কুলের পাঠ্যবইগুলোতে দেখতে পাই যে, এটি মক্কার নিচু এলাকায় (আসফাল) অবস্থিত। কিন্তু এটি একটি ভুল তথ্য, কারণ পাহাড়টি মক্কার ঠিক দক্ষিণে অর্থাৎ মসজিদুল হারামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। তবে সেখানে যাওয়ার পথটি ছিল 'মিসফালা' এবং এরপর 'রিয়্যা কুদাই' হয়ে, যা মক্কার নিচু অংশে অবস্থিত। একারণেই দর্শনার্থীরা ধারণা করেন যে এটি মক্কার নিচু এলাকায়। বর্তমানে আজিয়াদ থেকে সরাসরি সেখানে যাওয়া সম্ভব, কারণ সেখানে একটি পাহাড়ি পথ তৈরি করা হয়েছে যার নাম রাখা হয়েছে 'রিয়্যা বাখ্শ'।
মানুষ সেখানে পবিত্র গুহাটি যিয়ারত করে এবং তাদের মাঝে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে যে: যার জন্য এখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, সে তার পিতার বৈধ সন্তান নয়। আমি জানি না কে প্রথম এই কুসংস্কার ছড়িয়েছে, তবে আমরা কোনো স্থূলকায় ব্যক্তিকে দেখিনি যে এতে প্রবেশ করে অনায়াসে বের হতে পেরেছে, আবার কোনো কৃশকায় ব্যক্তিকে দেখিনি যার বের হতে কষ্ট হয়েছে। ইসলাম এই ধরণের গুজব এবং বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী উদ্ভাবন করাকে অনুমোদন দেয় না।
মক্কায় জাবাল-ই-সাওরের খ্যাতি এতটাই বেশি যে এর অবস্থান বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি মক্কার যেদিক থেকেই প্রবেশ করুন না কেন, একে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। এর আকৃতি দক্ষিণমুখী একটি ষাঁড়ের মতো, আর সম্ভবত এর আকৃতির সাথেই এর নামকরণের সম্পর্ক রয়েছে।
আল-আতওয়া: 'তাই' শব্দের বহুবচনের মতো; এটি বনী কিনানার বনী শু’বা শাখার জুহাদিলা গোত্রের ভূখণ্ডে অবস্থিত 'সাতা' পাহাড় থেকে প্রবাহিত একটি উপত্যকায় অবস্থিত চুনাপাথর দিয়ে বাঁধানো একটি কূপ। এটি মক্কার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صورة
مخطط تقريبي لماء الإطوى وآثاره
عمل: عاتق بن غيث البلادي
চিত্র
আল-ইতওয়ার পানি এবং এর নিদর্শনাদির একটি আনুমানিক নকশা
প্রস্তুতকারক: আতিক বিন গাইস আল-বিলাদী
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن الحكاك، وهو شاعر مكي: (1)
لأروى منزلٌ أقوَى
… دُوَين (العَدِّ) فالأطْوا
و (العِدِّ) الوارد هنا: ماء في الخبت جنوب شرقي جُدَّة. وقرأت في الجزء الرابع من (سِمْط النجوم العوالي) أن أحد الأشراف عمَّر بئر الإطْوى -هكذا ينطقها أهلها- المعروفة قديماً بمَجَنَّة. وليس بالكتاب دليل، فلما عدت إليه أثناء هذا البحث لم أهتد إلى هذا النص. وفي يوم الخميس 19 ربيع الثاني سنة 1400هـ قمت برحلة إلى أماكن منها: العِدّ، والأطواء أو الإطْوَى، وسطاع وشامة وطَفِيل، وغيرها. فوقفت على بئر الإِطْوَى، فإذا هي في شعب ضيق بين جبلين، وإذا موقعها يقرب من موقع ذي المجاز فى الوصف، وإذا بآثار ومقبرة كبيرة، فرسمت لها المخطط المرفق. وكنت قد قررت باستنتاجات كثيرة أن (سوق مجَنَّة) هو بلدة بحرة اليوم، وترى ما قلته هناك، غير أن معاينة البئر والنص المتقدم وكونها من بلاد كنانة قديماً وحديثاً، كل هذه الأمور جعلت الترجيح عندي صعباً.
أقْتُد: بفتح الهمزة وسكون القاف وضم التاء المثناة فوق وكأنه جمع:
قال قيس بن العيزارة الهذلي: (2)
لعمرك أنسى لوعتي يوم أقتد
… وهل تتركن نفس الأسير الروائع
وكانت فَهْم أسرت ابن العيزارة فأرادت قتله فاستنقذه تأبَّط شرّاً. ورأيت من قال: بل هذا الشعر لقَيْس بن خُوَيلد الهذَلي ولا
--------------------------------------------
ইবনুল হাক্কাক বলেছেন, যিনি একজন মক্কী কবি: (১)
আরওয়ার জন্য রয়েছে একটি জনশূন্য আবাস
… আদ-এর সামান্য নিচে ফাল-আতওয়া।
এখানে উল্লিখিত (আল-ইদ্দ) হলো: জেদ্দার দক্ষিণ-পূর্বে আল-খাবত নামক স্থানে অবস্থিত একটি জলাশয়। এবং আমি 'সিমতুত নুজুমিল আউয়ালি'-র চতুর্থ খণ্ডে পড়েছি যে, জনৈক শরীফ আল-ইতওয়া কূপটি সংস্কার করেছিলেন—এভাবেই সেখানকার অধিবাসীরা এটি উচ্চারণ করে—যা প্রাচীনকালে মাজান্নাহ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু বইটিতে কোনো প্রমাণ নেই; ফলে যখন আমি এই গবেষণার সময় সেটির দিকে ফিরে তাকালাম, তখন আমি এই পাঠ্যাংশটি খুঁজে পাইনি। এবং ১৪০০ হিজরি সালের ১৯শে রবিউস সানি বৃহস্পতিবার আমি একটি সফর করেছিলাম যার মধ্যে ছিল: আল-ইদ্দ, আল-আতওয়া বা আল-ইতওয়া, সাতা, শামাহ, তাফীল এবং অন্যান্য স্থান। অতঃপর আমি আল-ইতওয়া কূপের নিকট দাঁড়ালাম; দেখলাম সেটি দুটি পাহাড়ের মাঝখানে একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় অবস্থিত। এর অবস্থান বর্ণনার দিক থেকে যুল মাজায-এর অবস্থানের কাছাকাছি। সেখানে কিছু প্রাচীন নিদর্শন এবং একটি বিশাল কবরস্থান রয়েছে। ফলে আমি এর একটি নকশা তৈরি করলাম যা এখানে সংযুক্ত। আমি অনেকগুলো অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে (মাজান্নাহ বাজার) হলো বর্তমানের বাহরা শহর। সেখানে আমি যা বলেছি তা আপনি দেখতে পাবেন। তবে কূপটি সচক্ষে দেখা, পূর্বোক্ত পাঠ্যাংশ এবং প্রাচীন ও আধুনিক উভয়কালেই এটি কিনানা গোত্রের এলাকা হওয়া—এই সব বিষয় আমার কাছে কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়া কঠিন করে তুলেছে।
আকতাদ: হামযাহ-তে ফাতহ, ক্বাফ-এ সুকুন এবং উপরে দুই নুকতা বিশিষ্ট তা-তে দম্মাহ সহকারে; যেন এটি একটি বহুবচন শব্দ:
কায়েস বিন আল-আইজারাহ আল-হুযালী বলেছেন: (২)
তোমার জীবনের শপথ, আমি আকতাদ-এর দিনের সেই ব্যাকুলতা ভুলি না
… বন্দি আত্মার মাঝে কি আর আতঙ্ক অবশিষ্ট থাকে?
ফাহম গোত্র ইবনুল আইজারাহ-কে বন্দি করেছিল এবং তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তায়াব্বাতা শাররান তাকে উদ্ধার করেন। এবং আমি কাউকে বলতে দেখেছি: বরং এই কবিতাটি কায়েস বিন খুওয়াইলিদ আল-হুযালীর এবং না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تعارض. فَقَيْس بن خويلد هو قيس بن العيزارة والعيزارة أمة نسب إليها.
ولم أعثر على كثرة تجوالي في ديار هُذَيل - على قتد أو أقتد. ولم يروِ لي الأخوة الهذليون اسمه، بل لا يعرفونه.
الأقحوانة: على لفظ واحدة النبات المعروف:
كان يطلق هذا الاسم على ما بين المنحنى والمفجر الأوسط أو بتحديد أوضح ما كان يعرف بالمحصب وهو صدر وادي ابراهيم الذي يصب فيه سيل عقبة منى.
قيل: إنّ أهل مكة كانوا يخرجون إليه متنزهين في ثياب زاهية مختلفة الألوان شبهت بزهر الأقحوان. وتشمل الأقحوانة اليوم أحياء: الروضة، الششة وما جاورهما.
قال الحارث بن خالد المخزومي:
من كان يسأل عنا أيْنَ منزلُنا
… فالأُقحوانة منا منزلٌ قمن
إذ نلبس العيش غَضّاً لا يكدره
… قرف الوشاة ولا ينبو بنا الزمن
ألاتِ ذي العَرْجَاء: قال أبو ذُؤيْب الهُذَلي (1):
فكأنها بالجزع بين نبايع
… وأُلاتِ ذي العَرجاءِ نهبٌ مجمَّعُ
قالوا في تفسيره: العرجاء أكمة وأُلاتها قطع من الأرض حولها. ولا أعرف اليوم مكاناً قريباً من مكة يسمى العرجاء أما نبايع فأُرجِّح أنه وادي نبع الواقع شمال شرقي الجعرانة مع ملاحظة أن اشتقاقه
--------------------------------------------
দ্বন্দ্ব। কাইস বিন খুয়াইলিদ হলেন কাইস বিন আল-আইজারা এবং আইজারা একজন দাসী ছিলেন যার দিকে তাকে সম্বন্ধ করা হয়।
হুযাইল গোত্রের এলাকায় আমার অধিক ঘোরাঘুরি সত্ত্বেও আমি 'কাতাদ' বা 'আকতাদ' নাম খুঁজে পাইনি। হুযাইলি ভাইয়েরা আমার কাছে এর নাম বর্ণনা করেননি, বরং তারা এটি চেনেনই না।
আল-আকহুওয়ানা: সুপরিচিত উদ্ভিদের একবচন শব্দের রূপে:
এই নামটি আল-মানহানা এবং আল-মাফজার আল-আউসাত-এর মধ্যবর্তী স্থানের ওপর অথবা আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে যা 'আল-মুহাসসাব' নামে পরিচিত ছিল তার ওপর বলা হতো, যা ইব্রাহিম উপত্যকার উপরিভাগ, যেখানে মিনার গিরিপথের প্লাবন প্রবাহিত হয়।
বলা হয় যে: মক্কাবাসীরা সেখানে উজ্জ্বল ও বিভিন্ন রঙের পোশাকে ভ্রমণ করতে বের হতেন, যা আকহুওয়ান (গুল-বাহার) ফুলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। বর্তমান সময়ে আকহুওয়ানা আর-রাওদাহ, আশ-শিশাহ এবং এদের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আল-হারিস বিন খালিদ আল-মাখজুমি বলেছেন:
যারা আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে আমাদের আবাস কোথায়
… তবে আকহুওয়ানা আমাদের জন্য একটি উপযুক্ত আবাস
যখন আমরা সজীব জীবন যাপন করতাম, যা চোগলখোরদের কুৎসা ঘোলাটে করত না
… এবং সময় আমাদের থেকে বিমুখ হতো না
আলাতি জি আল-আরজা: আবু জুআইব আল-হুজালি বলেছেন (১):
মনে হচ্ছে যেন নাবায়ে' এবং আলাতি জি আল-আরজার
… মধ্যবর্তী উপত্যকার বাঁকে সেটি একটি একত্রিত লুণ্ঠিত মাল
এর ব্যাখ্যায় তারা বলেছেন: আল-আরজা একটি পাহাড় এবং এর 'আলাত' হলো এর চারপাশের ভূমির খণ্ডসমূহ। আজ আমি মক্কার কাছে আল-আরজা নামে পরিচিত কোনো স্থান চিনি না। আর নাবায়ে'-এর ব্যাপারে আমি মনে করি এটি আল-জি'রানা-এর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নাবে' উপত্যকা, তবে এর ব্যুৎপত্তিগত বিষয়টি লক্ষ্য রেখে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في ديار هُذَيل وقُريش كثير، ففي عرفة النَّبْعة والنُّبيعة، وفي جهات الهَدَةَ وعُسفان نباع كثيرة.
ألَال: بفتح الهمزة أو كسرها -على الخلاف- ولامين بينهما ألف: أصح التحديدات لهذا الموضع أنه جبل عرفة. وقيل بل حبل رمل في عرفة.
قال النابغة الذبياني يعتذر للنعمان: (1)
حلفتُ، فلم أتركْ لنفسك ريبةً
… وهل يأثَمنْ ذو أُمَّة وهو طائعُ؟
بمصطحبات من لَصَافٍ وثَبْرة
… يزرن ألالاً سيرهُنّ التدافعُ
وقال الشريف الرضي: (2):
فأقسم بالوقوف على إلالٍ
… ومن شهد الجِماَر ومن رماها
وأركان العتيق وبانييها (3)
… وزمزم والمقام ومن سقاها
لأنت النفس خالصة، فإنْ لم
… تكونيها، فأنتِ إذاً مناها
ورواه البكري بكسر الهمزة، واورد شطر بيت النابغة المتقدم، هكذا: (يزرن إلال سيرهن التدافع).
وجبل عرفة اليوم يسمى (جبل الرحمة) ويسمى أيضا (القُرَين) وهناك حبل رمل قرب الجبل قد ذهب جله اليوم في مشاريع السفلتة والجسور الضخمة التي أقيمت هنا منذ سنة 1398 هـ.
--------------------------------------------
হুজাইল ও কুরাইশদের ভূখণ্ডে প্রচুর (ঝরনা) রয়েছে। যেমন আরাফাতে আন-নাবআহ ও আন-নুবাইআহ রয়েছে, আর আল-হাদাহ ও উসফানের দিকগুলোতে অনেকগুলো ঝরনা রয়েছে।
আলাল: হামজাহর ফাতহাহ (আ) বা কাসরাহ (ই) সহকারে—মতভেদ অনুযায়ী—এবং মাঝখানে আলিফযুক্ত দুটি লাম: এই স্থানটির বিষয়ে সবচেয়ে সঠিক নির্ধারণ হলো এটি আরাফাতের পাহাড়। আরও বলা হয়েছে যে এটি আরাফাতের একটি বালুকাময় দীর্ঘ উঁচু ভূমি।
আন-নাবিগাহ আদ-জুবইয়ানি নু'মানের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন: (১)
আমি শপথ করেছি, তাই আপনার মনে কোনো সন্দেহ রাখিনি
… কোনো আনুগত্যশীল ব্যক্তি কি গোনাহগার হতে পারে?
লাসাফ ও সাবরাহ থেকে একত্রে আগমনকারীদের সাথে
… যারা ভিড় ঠেলে ঠেলে আলাল অভিমুখে জিয়ারত করতে যাচ্ছে
আশ-শরীফ আর-রাযী বলেছেন: (২):
আমি ইলাল (আলাল)-এ অবস্থানের শপথ করছি
… এবং শপথ তাদের যারা জামরাতে উপস্থিত হয়েছে ও পাথর নিক্ষেপ করেছে
আর কা’বা ঘরের রুকনসমূহ এবং এর নির্মাতাদের (৩)
… এবং যমযম, মাকাম ও যারা সেখানে পানি পান করায় তাদের শপথ
নিশ্চয় আপনিই বিশুদ্ধ আত্মা, আর যদি আপনি তা না-ও হন,
… তবে আপনিই আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা
আল-বাকরী একে হামজাহর নিচে কাসরাহ (ইলাল) দিয়ে বর্ণনা করেছেন এবং নাবিগাহর উল্লিখিত কবিতার চরণের একাংশ এভাবে উল্লেখ করেছেন: (ইলাল জিয়ারত করছে, যাদের চলার গতি হলো একে অপরকে ঠেলে দেওয়া)।
বর্তমানে আরাফাত পাহাড়কে (জাবালে রহমত) বলা হয় এবং একে (আল-কুরাইন)ও বলা হয়। সেখানে পাহাড়ের কাছে একটি বালুকাময় দীর্ঘ উঁচু ভূমি ছিল, যার অধিকাংশ আজ রাস্তা পাকাকরণ ও বিশাল সব সেতু প্রকল্পের কারণে বিলীন হয়ে গেছে, যা ১৩৯৮ হিজরী থেকে এখানে নির্মিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু মাক্কাহ আত-তারিখিয়্যাহ ওয়াল আসারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَلَمْلَم: بفتح الهمزة واللام وتكرار اللام والميم: وهي لغة في يَلْملَم، وسيأتي يلملم.
قال أبو دَهْبل الجُمَحي يصف ناقة له:
خرجت بها من بطن مكة بعدما
… أصاتَ المنادي للصلاة وأعتما
فما نام من راعٍ ولا ارتد سامرٌ
… من الحَيّ حتى جاوزتْ بي ألملما
قلت: ألملم أو يلملم -والأخير أشْيع- وادٍ فحل من أودية الحجاز، يسيل من السراة الواقعة جنوب غربي الطائف حيث ديار بني سفيان ثم ترفده أودية عديدة فيصب في البحر ماراً على مائة كيل جنوب مكة، وفيه الميقات الذي يحرم منه أهل اليمن ويعرف الميقات اليوم باسم (السعدية) نسبة إلى بئر هناك حفرها الشريف سعد أحد ولاة مكة فيما سبق، وسكان الوادي اليوم في أسفله بقايا كِنَانةُ، وفي أعلاه بنو فَهْم، وسيأتي في (يلملم) بأوفى من هذا.
أَلَوْذ: بفتح الهمزة واللام، وسكون الواو ثم ذال معجمة.
قال أبو قلابة الهذلي: (1)
رُبّ هامةٍ تبكي عليك، كريمةٍ
… بألوذ أو بمجامع الأضجان
وأخٍ يوازن ما جنيتُ بقوةٍ
… وإذا غويتُ الغَيَّ لا يلحاني
في هذين البيتين:
أ- أَلَوذ: لا يعرف اليوم. وربما صوابه (ألْوَذ).
ب- الأضْجان: ضَجْنَان وما حوله وهو مكان على "60" كيلاً
--------------------------------------------
আলামলাম: হামযা ও লামের ফাতহাহ (যবর) এবং লাম ও মীমের পুনরাবৃত্তির সাথে: এটি ইয়ালামলাম শব্দের একটি ভাষাগত রূপান্তর, ইয়ালামলাম সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।
আবু দাহবাল আল-জুমাহি তার একটি উটনীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
আমি তাকে নিয়ে মক্কার অভ্যন্তর থেকে বের হলাম যখন
... আহ্বানকারী নামাজের জন্য আজান দিল এবং রাত অন্ধকার হয়ে এল।
গোত্রের কোনো রাখাল ঘুমায়নি আর কোনো নৈশ-আলাপকারীও ফিরে যায়নি
... যতক্ষণ না সে আমাকে নিয়ে আলামলাম অতিক্রম করল।
আমি বলি: আলামলাম বা ইয়ালামলাম—শেষোক্তটিই অধিক প্রসিদ্ধ—এটি হিজাজের উপত্যকাগুলোর মধ্যে একটি প্রধান উপত্যকা। এটি তায়েফের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সারাওয়াত পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত হয় যেখানে বনু সুফিয়ানের আবাসস্থল। এরপর এতে অনেকগুলো শাখা উপত্যকা এসে মিলিত হয় এবং মক্কার একশ কিলোমিটার দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। এখানেই সেই মিকাত অবস্থিত যেখান থেকে ইয়েমেনবাসীরা ইহরাম বাঁধেন। মিকাতটি বর্তমানে (আস-সাদিয়্যাহ) নামে পরিচিত, যা সেখানে খননকৃত একটি কূপের নামানুসারে রাখা হয়েছে; কূপটি মক্কার পূর্ববর্তী জনৈক শাসক শরীফ সাদ খনন করেছিলেন। বর্তমানে উপত্যকাটির নিম্নভাগে কিনানাহ গোত্রের অবশিষ্টাংশ এবং উপরিভাগে বনু ফাহম বসবাস করে। (ইয়ালামলাম) পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে এর চেয়েও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
আলাওজ: হামযা ও লামের ফাতহাহ (যবর), ওয়াও-এর সুকুন এবং এরপর যাল বর্ণ সহযোগে।
আবু কিলাবা আল-হুযালি বলেন: (১)
কত সম্মানিত মস্তক তোমার জন্য রোদন করে
... আলাওজ নামক স্থানে অথবা আদজানের মিলনস্থলে।
আর এমন এক ভাই, যে আমার অপরাধকে শক্তির সাথে মোকাবিলা করে
... আর যখন আমি পথভ্রষ্ট হই, তখন সে আমাকে তিরস্কার করে না।
এই দুটি চরণে:
ক- আলাওজ: এটি বর্তমানে পরিচিত নয়। সম্ভবত এর সঠিক রূপ (আলওয়ায)।
খ- আল-আদজান: এটি যাজনান ও তার আশপাশের এলাকা, যা মক্কা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি স্থান...
--------------------------------------------