(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
موسوعة علوم القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: موسوعة علوم القرآن
المؤلف: عبد القادر محمد منصور
الناشر: دار القلم العربى - حلب
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 275
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 محرم 1433
উলূমুল কুরআন বিশ্বকোষ বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলুত তাফসীর
বই: উলূমুল কুরআন বিশ্বকোষ
লেখক: আবদুল কাদির মুহাম্মদ মনসুর
প্রকাশক: দারুল কলম আল-আরাবি - আলেপ্পো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ মুহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةموسوعة علوم القرآن بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم رسل الله.
وبعد:
فإن القرآن الكريم، كتاب ختم الله به كتبه، وجعله لخاتم أنبيائه، فحوى في تضاعيف آياته دستور أخلاق إصلاحيا، وقانون حكم يحكم به في قضايا البشرية جمعاء.
قال الله تعالى: لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِما أَراكَ اللَّهُ ....
ثم أقامه الله حجّة في فم الزمان، يستنبط دلائل صدقه العلماء، على مختلف مشاربهم واتجاهاتهم، ما من شأنه أن يخلّد في تقاريره، وأحكامه، وتوجيهاته.
قال الله تعالى: كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ.
ولم يكن كتاب مواعظ وتراتيل، كسابقيه من الكتب المنزلة، وإنّما
ভূমিকাউলূমুল কুরআন বিশ্বকোষ। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি।
অতঃপর:
আল-কুরআনুল কারীম এমন এক কিতাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমানী কিতাবসমূহের ধারার সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং একে তাঁর সর্বশেষ নবীর জন্য নির্ধারিত করেছেন। ফলে এটি এর আয়াতসমূহের ভাঁজে ভাঁজে ধারণ করেছে চারিত্রিক সংস্কারের একটি সংবিধান এবং একটি শাসনতান্ত্রিক আইন, যার মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতির বিষয়াবলির মীমাংসা করা হয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী..."
অতঃপর আল্লাহ একে মহাকালের কণ্ঠে এক অকাট্য দলিল (حجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যেখান থেকে উলামায়ে কেরাম তাদের বিচিত্র রুচি ও চিন্তাধারা অনুযায়ী এর সত্যতার প্রমাণসমূহ আহরণ করেন; যা একে এর বিবরণ, বিধান ও দিকনির্দেশনায় শাশ্বত করার বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে।"
আর এটি কেবল পূর্ববর্তী অবতীর্ণ কিতাবসমূহের মতো উপদেশ ও তিলাওয়াতের কিতাব ছিল না, বরং এটি...
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
جمعت فيه كل مقوّمات الإعجاز العلمي، ليدفع جاحديه، ويؤيّد تابعيه.
لذا. فقد عكف علماؤنا من السلف الصالح على استخراج علومه، فألفوا أنها لا تنتهي، فمهما استخرجوا منه، فلسوف يأتي من يثوّر قواعد علوم أخرى.
قال الله تعالى: قُلْ لَوْ كانَ الْبَحْرُ مِداداً لِكَلِماتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِماتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنا بِمِثْلِهِ مَدَداً ....
وجدير بنا أن ندرك أنّ آياته لا تخلق على كثرة الردّ، فكلّ يوم ترشح بجديد، وكأنها الآن قد نزلت، ويلمس هذا المدبّر لسوره وآياته.
قال الله تعالى: ما فَرَّطْنا فِي الْكِتابِ مِنْ شَيْءٍ ....
هذا. وإنّ كتبا كثيرة قد ظهرت في هذا المجال، ويغلب عليها طابع التخصص، فكانت عسيرة الوصول إلى الشرائح العامّة من الناس.
لذا. كان لي الشرف أن أسهم في هذا الميدان، بسهم متواضع يقرّب البعيد، ويسهّل الحزن، ويفكّ الرمز والمبهم، من شئون علوم القرآن.
فكانت هذه الموسوعة القرآنية المبسّطة! وعساها أن تقدّم للقارئ مأدبة من مآدب القرآن، على طبق صغير، يلبّي رغبة من رغبات القرّاء لهذه المناحي الثقافية.
এতে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের সকল উপাদান সন্নিবেশিত হয়েছে, যাতে এটি অস্বীকারকারীদের প্রতিহত করতে পারে এবং এর অনুসারীদের সমর্থন যোগাতে পারে।
তাই, আমাদের পূর্বসূরি পুণ্যবান (السلف الصالح) আলেমগণ এর জ্ঞানসমূহ আহরণে নিবেদিত ছিলেন। তারা দেখতে পেলেন যে, এর কোনো সমাপ্তি নেই; তারা তা থেকে যতই আহরণ করুন না কেন, পরবর্তীতে এমন কেউ অবশ্যই আসবেন যিনি অন্যান্য শাস্ত্রের মূলনীতিগুলোকে নবায়ন করবেন।
মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, আমার রবের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যে অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি...।”
আমাদের জন্য এটি উপলব্ধি করা বাঞ্ছনীয় যে, এর আয়াতসমূহ বারবার পাঠের ফলে পুরনো হয় না, বরং প্রতিদিন তা থেকে নতুনত্ব বিচ্ছুরিত হয়; যেন মনে হয় এইমাত্র তা অবতীর্ণ হয়েছে। যে ব্যক্তি এর সূরা ও আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন, তিনি তা অনুভব করতে পারেন।
মহান আল্লাহ বলেন: “আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি...।”
বস্তুত, এই বিষয়ে অনেক কিতাব রচিত হয়েছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশেরই বৈশিষ্ট্য হলো অতি-বিশেষায়িত হওয়া, ফলে সাধারণ মানুষের স্তরের জন্য সেগুলো আয়ত্ত করা কঠিন ছিল।
তাই, কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের (علوم القرآن) বিভিন্ন বিষয়ে দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করা, কঠিনকে সহজ করা এবং সংকেত ও অস্পষ্ট (المبهم) বিষয়গুলো উন্মোচন করার লক্ষ্যে একটি বিনম্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ময়দানে অবদান রাখা আমার জন্য গৌরবের বিষয় ছিল।
আর এভাবেই এই সহজবোধ্য কুরআন বিশ্বকোষটি প্রস্তুত হয়েছে! আশা করা যায় যে, এটি পাঠকের সামনে কুরআনের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে একটি ভোজ উপহার দেবে—একটি ছোট থালায় সাজানো—যা এই জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকে পাঠকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
كما وألفت نظر القارئ الكريم، إلى أنّني قد وفّقت من خلال تدبّري لكتاب الله، أن أستخرج عددا من علوم القرآن، لم يتناوله أسلافنا، رحمهم الله تعالى، وكتبت في كلّ منها كتابا.
العلم الأوّل الجديد: فنّ الزينة في القرآن.
العلم الثاني الجديد: فنّ الضحك والمضاحيك.
ثمّ إنّ علم الأجنّة اليوم قد بدا واضحا لدى أهله، أنّ أصوله قد قرّرها القرآن الكريم، ولم يعقّب عليه فيها، وإنّما اعتمدها الباحثون أساسا لتجاربهم وبحوثهم.
وكان لي مساهمة في هذا العلم.
فقد صنفته تحت بند (الحيوات) لبني الإنسان، فكان علم الأجنة يحكي حياة الإنسان الثانية، التي تسبق الحياة الثالثة له. وهي الدّنيا.
أرجو من الله أن يظهره إلى الوجود.
ولم يخلق القرآن الكريم- يوما- فهو جديد على الدوام، وكأنّه الآن ينزّل!! وكلّ يوم يقول: إنّه الكتاب المنزل الأوحد، لا كتاب يشاركه في صدقه، ولا في تقاريره، عقيدة وشريعة.
فهلمّ أيها الإنسان- إليّ!! لتجد الحياة الطيبة، والسعادة الحقّة،
সেই সাথে আমি সম্মানিত পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, মহান আল্লাহর কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে আমি কুরআনের জ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) এমন কিছু বিষয় উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি, যা আমাদের পূর্বসূরিগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—আলোচনা করেননি। আমি এগুলোর প্রত্যেকটি বিষয়ে একটি করে কিতাব রচনা করেছি।
প্রথম নতুন জ্ঞান: কুরআনে সৌন্দর্যমন্ডিত করার শিল্প।
দ্বিতীয় নতুন জ্ঞান: হাস্যরসের শিল্প ও হাস্যোদ্দীপক বিষয়সমূহ।
অতঃপর, বর্তমান সময়ে ভ্রূণতত্ত্বের বিশেষজ্ঞদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এর মূলনীতিসমূহ (أصول) আল-কুরআনেই সুনির্ধারিত হয়েছে এবং এতে কোনো সংশয় রাখা হয়নি। বরং গবেষকগণ এগুলোকেই তাঁদের পরীক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এই বিজ্ঞানে আমারও কিছু অবদান ছিল।
আমি একে মানবজাতির 'জীবন পরিক্রমা' শিরোনামের অধীনে বিন্যস্ত করেছি। ভ্রূণতত্ত্ব মূলত মানুষের দ্বিতীয় জীবনের কথা বর্ণনা করে, যা তার তৃতীয় জীবনের—অর্থাৎ এই পার্থিব জীবনের—পূর্ববর্তী পর্যায়।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি সবার সামনে প্রকাশ করেন।
আল-কুরআন কখনোই জরাজীর্ণ বা পুরাতন হয় না—এটি সর্বদা নতুন, যেন এইমাত্র অবতীর্ণ হচ্ছে!! এটি প্রতিদিন ঘোষণা করে যে: এটিই একমাত্র অবতীর্ণ কিতাব, যার সত্যতায় কিংবা এর বর্ণনায়, আকিদা (عقيدة) ও শরিয়ত (شريعة) সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কোনো কিতাব এর অংশীদার নয়।
অতএব হে মানুষ—এসো এর দিকে!! যাতে তুমি পবিত্র জীবন ও প্রকৃত সৌভাগ্যের সন্ধান পাও।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
والمتعة الحلال.
وصدق الله العظيم إذ يقول: مَنْ عَمِلَ صالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَياةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ ما كانُوا يَعْمَلُونَ ....
وفي الختام أسأل الله الثواب، والتوفيق، والسداد.
إنّه وليّي وحسبي. آمين د. عبد القادر منصور «إمام وخطيب جامع سيف الدولة» «حلب»
এবং বৈধ আনন্দ।
মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: "পুরুষ হোক বা নারী, যে কেউ মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করবে, আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদের অবশ্যই তাদের কৃত সর্বোত্তম কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব...."
পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট সওয়াব, তাওফিক এবং সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
নিশ্চয়ই তিনি আমার অভিভাবক ও আমার জন্য যথেষ্ট। আমীন। ড. আব্দুল কাদির মনসুর, "ইমাম ও খতিব, সায়ফুদ্দৌলা জামে মসজিদ", "হালাব" (আলেপ্পো)।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الوحي القرآنيّنقطة البداية في الموسوعة القرآنية هذه، تكون من فنّ الوحي من السماء. فهو الأساس، وعليه تبنى لبنات الموسوعة من فنون أخرى ولسوف نأتي عليها تباعا.
فما حقيقة الوحي إذا؟.
قبل أن نحدّد له حقيقة، علينا أن نعلم أنّه غيب من غيوب الله تعالى يطلع عليه من يشاء من رسله، أمّا ما سواهم: فهم محجوبون عنه وهو عنهم في حجاب.
وقد حدّ له في لسان الشرع حدّا، حتى لا يدّعيه المدّعون، ويلتبس عن النّاس هويّته.
فقيل فيه:
[إنّه فنّ إعلام الله تعالى من اصطفاه من عباده، عمّا يريده لهم من ألوان الهداية، وفنون العلوم، بطريقة سريّة خفيّة، وغير معتادة للبشر، بيد أنّ لها مؤشرات تدلّ على صاحبه].
والدين كلّه لن يقبل، ولن يسلّم إليه، إلّا لمن صدّق بالوحي وأساليبه، وما هو من لوازمه، وإلّا فلا فائدة من حلّ ما سنعرضه من فنون القرآن، وخصائصه.
কুরআনী ওহী (الوحي)এই কুরআন বিশ্বকোষের সূচনাবিন্দু হলো আসমানী ওহী (الوحي) সংক্রান্ত আলোচনা। এটিই মূল ভিত্তি, যার ওপর এই বিশ্বকোষের অন্যান্য শাস্ত্রীয় বিষয়গুলোর ইমারত নির্মিত হয়েছে এবং আমরা তা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।
তাহলে ওহী (الوحي)-এর প্রকৃত স্বরূপ কী?
এর প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারণ করার আগে আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এটি মহান আল্লাহর অদৃশ্যের (غيب) রহস্যগুলোর একটি বিষয়, যা তিনি তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অবগত করেন। আর তাঁরা ব্যতীত অন্য সকলেই তা থেকে মাহজুব বা বঞ্চিত এবং তাদের ও এর মাঝে পর্দা বিদ্যমান।
শরিয়তের পরিভাষায় এর একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যাতে মিথ্যা দাবিদাররা একে নিজেদের বলে দাবি করতে না পারে এবং মানুষের নিকট এর পরিচয় অস্পষ্ট না থাকে।
এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে:
[এটি হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে তিনি মনোনীত করেছেন তাকে বিভিন্ন প্রকার হিদায়াত এবং বিবিধ জ্ঞান সম্পর্কে এমন এক গোপন ও সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে অবহিত করা যা মানবজাতির জন্য সাধারণ কোনো বিষয় নয়, তবে এর এমন কিছু আলামত বা নির্দেশক থাকে যা এর অধিকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে]।
সম্পূর্ণ দ্বীন ততক্ষণ পর্যন্ত গৃহীত হবে না এবং এর কাছে আত্মসমর্পণ করা হবে না, যতক্ষণ না ওহী (الوحي), এর পদ্ধতিসমূহ এবং এর অনুষঙ্গগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা হয়। অন্যথায় কুরআনের যে সকল শাস্ত্র ও বৈশিষ্ট্য আমরা উপস্থাপন করতে যাচ্ছি, সেগুলো পর্যালোচনার কোনো ফায়দা নেই।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
أنواع الوحيوالوحي- كما تقدّم- إعلام الله رسله بما يريده منهم، وما يطالبهم به من أوامر ونواه، أن يبثوها بين أقوامهم، هداية وإرشادا.
فهل له نمط واحد أم هو ذو أنماط؟.
أجل. إنّه ذو أنماط شتّى، في النهاية تؤدي وظيفة واحدة، ولله فيها حكم وأسرار، فما تلك الأنماط الوحييّة؟.
هي- كما دوّنت في مصادرها- أربعة أساسية:
1 - ما يكون كفاحا بين الله وعبده.
وذلك كما كلّم الله سيدنا موسى عليه السلام، وكما كلّم الله سيدنا محمدا ليلة الإسراء.
قال الله تعالى وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسى تَكْلِيماً النساء/ 164/.
2 - ما يكون إلهامايقذفه الله في قلب مصطفاه، على وجه اليقين.
3 - ما يكون مناما صادقا، يجيء في تحققه، ووقوعه مثل فلق الصبح في تبلّجه وسطوعه، وهو أوّل ما يبدأ به الموحى إليه، من الأنبياء.
فقد أخرج البخاري (3). عن عائشة أم المؤمنين أنها قالت:
[أوّل ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلّا جاءت مثل فلق الصبح].
ওহির প্রকারভেদওহি—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর রাসুলদেরকে সেই বিষয়গুলো অবহিত করা যা তিনি তাঁদের থেকে চান এবং তাঁদেরকে যে আদেশ ও নিষেধসমূহ পালনের নির্দেশ দেন, যাতে তাঁরা তাঁদের কওমের মাঝে হিদায়াত ও সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য তা প্রচার করেন।
তবে এর কি একটিই পদ্ধতি নাকি এটি একাধিক পদ্ধতিবিশিষ্ট?
হ্যাঁ, এটি বিভিন্ন পদ্ধতিবিশিষ্ট যা পরিশেষে একই উদ্দেশ্য সাধন করে। এর মধ্যে আল্লাহর হিকমত ও রহস্য নিহিত রয়েছে। তবে ওহির সেই পদ্ধতিগুলো কী কী?
উৎস গ্রন্থসমূহে যেভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে সে অনুযায়ী ওহি মূলত চারটি প্রধান প্রকারের:
১ - যা আল্লাহ এবং তাঁর বান্দার মধ্যে সরাসরি (كفاحا) হয়ে থাকেযেমনটি আল্লাহ তাআলা আমাদের সায়্যিদুল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কথা বলেছিলেন এবং মিরাজের রাতে আমাদের সায়্যিদুল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কথা বলেছিলেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর আল্লাহ মুসার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন।” (আন-নিসা/১৬৪)।
২ - যা ইলহাম (إلهام) হিসেবে হয়ে থাকেআল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দার অন্তরে তা পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে ঢেলে দেন।
৩ - যা সত্য স্বপ্ন (منام صادق) হিসেবে হয়ে থাকেবাস্তবে সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে যা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ও দেদীপ্যমান হয়ে প্রকাশ পায়। নবীদের মধ্যে যাঁদের প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়, তাঁদের ওহির সূচনা এ পদ্ধতির মাধ্যমেই হয়ে থাকে।
বুখারি (৩) উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
[রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ওহির সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের (الرؤيا الصالحة) মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় পরিস্ফুট হয়ে দেখা দিত।]
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
4 - ما يكون بواسطة أمين الوحي جبريل عليه السلام، وهو ملك كريم، ذو قوّة عند ذي العرش مكين، مطاع ثمّ أمين.
وهذا النوع هو الأشهر، والأكثر في إرساليات. الوحي للأنبياء. والقرآن الكريم كلّه من هذا القبيل، واصطلح عليه باسم: (الوحي الجليّ).
قال الله تعالى: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ الشعراء/ 193 - 194 - 195 - /.
وهذا النوع أيضا هو المحدّد في هوية النّبيّ، المرسل من ربّه.
أمّا الأنواع الأخرى، فقد يشاركه فيها من سواه من البشر، لكنّها باقية في دائرة الأنواع أو الأنماط.
৪ - যা ওহির আমানতদার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়তিনি একজন সম্মানিত ফেরেশতা, আরশের অধিপতির নিকট শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদার অধিকারী, সেখানে তিনি সকলের মান্যবর এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত।
আর এই প্রকারটিই নবীদের নিকট ওহি প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতি। পবিত্র কুরআনের সম্পূর্ণ অংশই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং একে পরিভাষায় ‘সুস্পষ্ট ওহি’ (الوحي الجليّ) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: “বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে আপনার হৃদয়ে অবতরণ করেছেন, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” [সূরা আশ-শুআরা: ১৯৩-১৯৫]।
আর এই প্রকারটিই রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত নবীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক নির্ধারক।
তবে ওহির অন্যান্য প্রকারগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও নবীর সাথে অংশীদার হতে পারে, কিন্তু সেগুলো কেবল সাধারণ প্রকার বা পদ্ধতির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الوحي الجليّوإذا علمنا أنّ الوحي الجليّ هو العلامة الفارقة ما بين النبي والبشر يتحتّم علينا، أنّ نلمّ بأحوال هذا النوع حتى لا تختلط المسائل علينا ويمكن أن نطلق عليها هيئات الوحي.
فما تلك الهيئات ..
لم يهبط جبريل عليه السلام على النبي صلى الله عليه وسلم بهيئة واحدة، وإنّما تعدّدت الهيئات.
فتارة يظهر في صورته الحقيقة، فيوحي إلى الرسول، وتارة في صورة إنسان يراه الحاضرون، ويصغون إليه.
وتارة يهبط خفية فلا يرى، إلّا أنّه يظهر على النبي صلى الله عليه وسلم أثر التغير والانفعال، فيغط غطيط النائم، ويغيب غيبة كأنها غشية أو إغماء، وما هي من هذه، ولا تلك.
وإنّما هي استغراق في لقاء الملك الروحاني، فينخلع عن حالته البشرية المعتادة، فيتأثّر الجسم، فيغط، ويثقل ثقلا غريبا، فينجم عنه تصبب عرق في الجوّ البارد، بل الشديد البرد.
স্পষ্ট ওহি (الوحي الجليّ)যখন আমরা অবগত হলাম যে, স্পষ্ট ওহি (الوحي الجليّ) হলো নবি ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য, তখন আমাদের জন্য এই প্রকারের অবস্থাগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যাতে বিষয়গুলো আমাদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে। আমরা এগুলোকে ওহি অবতরণের পদ্ধতি (هيئات الوحي) হিসেবে অভিহিত করতে পারি।
তো সেই পদ্ধতিগুলো কী...
জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সর্বদা একই রূপে অবতরণ করতেন না, বরং ওহি অবতরণের নানাবিধ পদ্ধতি ছিল।
কখনো তিনি তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করতেন এবং রাসূলের প্রতি ওহি (الوحي) অবতীর্ণ করতেন, আবার কখনো মানবাকৃতিতে আসতেন যাকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ দেখতে পেত এবং তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত।
আবার কখনো তিনি অদৃশ্যভাবে অবতরণ করতেন ফলে তাঁকে দেখা যেত না; তবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়ার আলামত পরিলক্ষিত হতো। তখন তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসে ঘুমন্ত ব্যক্তির ন্যায় শব্দ হতো এবং তিনি এমন এক অবস্থায় আচ্ছন্ন হতেন যা দেখে মুর্ছা যাওয়া বা অচেতন হওয়া বলে ভ্রম হতে পারত; যদিও তা এর কোনটিই ছিল না।
বরং এটি ছিল মূলত আধ্যাত্মিক ফিরিশতার সাথে সাক্ষাতের এক গভীর তন্ময়তা বা নিমগ্নতা, যার ফলে তিনি তাঁর স্বাভাবিক মানবীয় অবস্থা থেকে বিচ্যুত হতেন এবং শরীরে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হতো। তখন তিনি সশব্দে শ্বাস নিতেন এবং এক বিশেষ ভার অনুভব করতেন, যার ফলে প্রচণ্ড শীতের মাঝেও তাঁর শরীর থেকে ঘাম নির্গত হতো।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - هيئة الوحي بصورته الحقيقيةوهذه نادرة لو قيست بلداتها، وقد سجّلت عدّتها، فلم تتجاوز المرتين بل حصرت بهما، مرة بأجياد، وأخرى في سدرة المنتهى.
فعن عائشة رضي الله عنها قالت:
[إنّ النّبي صلى الله عليه وسلم كان أول شأنه- يرى في المنام، وكان أول ما رأى جبريل بأجياد، صرخ جبريل: يا محمد!!.
فنظر يمينا وشمالا، فلم ير شيئا، فرفع بصره، فإذا هو على أفق السماء، فقال: يا محمّد!
… جبريل، جبريل.
فهرب، فدخل في الناس، فلم ير شيئا، ثم خرج عنهم، فناداه، فهرب.
ثم استعلن له جبريل من قبل حراء، فذكر قصة إقرائه:
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
… العلق/ 1/.
ورأى حينئذ جبريل، له جناحان من ياقوت يخطفان البصر] (1).
وفي صحيح مسلم عن عائشة مرفوعا:
--------------------------------------------
১ - ওহীর প্রকৃত রূপওহীর অন্যান্য প্রকারের তুলনায় এটি একটি বিরল বিষয়। এর সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে এবং এটি দুইবারের বেশি ঘটেনি, বরং এই দুই বারেই সীমাবদ্ধ ছিল; একবার আজয়াদে এবং অন্যবার সিদরাতুল মুনতাহায়।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
[নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওহীর সূচনালগ্ন ছিল— তিনি স্বপ্নে দেখতেন। তিনি সর্বপ্রথম জিবরাঈলকে আজয়াদে দেখেছিলেন; জিবরাঈল চিৎকার করে ডাকলেন: হে মুহাম্মদ!!।
তিনি ডানে ও বামে তাকালেন কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। এরপর তিনি তাঁর দৃষ্টি উপরে তুললেন, হঠাৎ দেখলেন তিনি আকাশের দিগন্তে অবস্থান করছেন। তিনি (জিবরাঈল) বললেন: হে মুহাম্মদ!
… জিবরাঈল, জিবরাঈল।
তখন তিনি পালিয়ে মানুষের মাঝে মিশে গেলেন কিন্তু সেখানে কিছুই দেখতে পেলেন না। অতঃপর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসলেন, তখন জিবরাঈল তাঁকে পুনরায় ডাকলেন এবং তিনি পালিয়ে গেলেন।
এরপর হেরা গুহার দিক থেকে জিবরাঈল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তাঁর পড়ার ঘটনাটি উল্লেখ করলেন:
পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
… আল-আলাক/ ১।
তখন তিনি জিবরাঈলকে দেখলেন, তাঁর ইয়াকুত পাথরের তৈরি দুটি ডানা ছিল যা দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছিল] (১)।
এবং সহীহ মুসলিম-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[لم أره- يعني جبريل- على صورته التي خلق عليها إلّا مرتين].
ثم إنّ الإمام أحمد قد بين في حديث ابن مسعود:
أنّ الأولى: كانت عند سؤاله إياه أن يريه صورته التي خلق عليها.
والثانية: عند المعراج.
وللترمذي عن عائشة:
[لم ير محمد جبريل في صورته إلّا مرتين:
مرة عند سدرة المنتهى، ومرّة في أجياد].
ورواية الترمذي تتوافق مع الأولى، وتقوّيها.
وجاء في سيرة التيمي:
[أنّ جبريل أتى النبي صلى الله عليه وسلم في حراء، وأقرأه اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ.
ثم انصرف، فبقي مترددا، فأتاه من أمامه في صورته، فرأى أمرا عظيما].
2 - هيئة الوحي بصورة إنسانوقد اشتهر أنّ جبريل كان يتمثل صورة صحابي، واسمه (دحية
[আমি তাকে—অর্থাৎ জিবরীলকে—তাঁর সেই সৃষ্টিগত রূপে কেবল দুবার দেখেছি]।
অতঃপর ইমাম আহমাদ ইবনে মাসউদের হাদিসে স্পষ্ট করেছেন যে:
প্রথমবারটি ছিল: যখন তিনি তাঁর কাছে তাঁকে সেই রূপে দেখার আবেদন করেছিলেন যে রূপে তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয়বারটি ছিল: মিরাজের সময়।
তিরমিযিতে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে:
[মুহাম্মাদ (সা.) জিবরীলকে তাঁর নিজস্ব রূপে কেবল দুবার দেখেছেন:
একবার সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে এবং অন্যবার আজইয়াদ নামক স্থানে]।
তিরমিযির বর্ণনা (رواية) টি প্রথমটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা সেটিকে শক্তিশালী (تقوي) করে।
আর আত-তাইমীর সীরাত গ্রন্থে এসেছে:
[জিবরীল নবী (সা.)-এর নিকট হেরা গুহায় আসলেন এবং তাঁকে ‘পাঠ করুন আপনার রবের নামে’ পড়ালেন।
অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন, আর নবী (সা.) দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়ে গেলেন। এরপর জিবরীল তাঁর সামনে তাঁর নিজস্ব রূপে আবির্ভূত হলেন এবং তিনি এক মহান বিষয় প্রত্যক্ষ করলেন]।
২ - মানুষের আকৃতিতে ওহীর (وحي) ধরনএটি প্রসিদ্ধ যে, জিবরীল একজন সাহাবীর (صحابي) রূপ ধারণ করতেন এবং তাঁর নাম ছিল (দাহইয়া
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكلبي) فقد أخرج البخاري عن عائشة أمّ المؤمنين رضي الله عنها أنّ الحارث بن هشام رضي الله عنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال:
[- يا رسول الله! كيف يأتيك الوحي؟.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس، وهو أشدّه عليّ، فيفصم عني، وقد وعيت عنه ما قال.
وأحيانا يتمثّل لي الملك رجلا، فيكلّمني فأعي ما يقول].
قالت عائشة رضي الله عنها:
[ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد، فيفصم عنه، وإنّ جبينه ليتفصّد عرقا].
ولم يقتصر تمثّل جبريل بصورة دحية فقط، وإنّما تمثّل بصورة أعرابي أيضا، كما جاء في حديث سيدنا عمر رضي الله عنه في الرجل الذي سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الإيمان والإسلام والإحسان ثمّ الساعة. ولما غادر قال عنه صلى الله عليه وسلم: [إنّه جبريل جاءكم ليعلمكم دينكم].
ويمكن أن نحمل قوله صلى الله عليه وسلم [إنّ روح القدس نفث في روعي].
على هيئة، لمجيء الملك إليه بالوحي، ويكون نوعا من أنواع الجليّ.
আল-কালবী); ইমাম বুখারি মুমিন জননী আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস বিন হিশাম (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন:
[- হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহি (الوحي) কীভাবে আসে?।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: কখনো কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানির শব্দের মতো আসে, আর এটিই আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়; এরপর তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তিনি যা বলেছেন তা আমি মুখস্থ করে ফেলি।
আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসে এবং আমার সাথে কথা বলে, তখন তিনি যা বলেন তা আমি আয়ত্ত করি]।
আয়িশা (রা.) বলেন:
[আমি তীব্র শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হতে দেখেছি; এরপর যখন তা সমাপ্ত হতো, তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত]।
জিবরাইল (আ.)-এর আকৃতি ধারণ করা শুধু দিহ্ইয়ার রূপেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি একজন গ্রাম্য আরবের (أعرابي) রূপেও আবির্ভূত হতেন, যেমনটি সাইয়িদিনা উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে সেই ব্যক্তির বিষয়ে যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ইমান (الإيمان), ইসলাম (الإسلام), ইহসান (الإحسان) এবং কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সম্পর্কে বললেন: [তিনি ছিলেন জিবরাইল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছেন]।
এবং আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীকে: [নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস আমার হৃদয়ে ফুঁকে দিয়েছেন]
ফেরেশতা কর্তৃক ওহি (الوحي) নিয়ে আসার একটি পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করতে পারি, যা সুস্পষ্ট (الجليّ) ওহির প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقع الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلموحديث عائشة هذا، ليصوّر لنا وقع الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم فقد كان شديدا، وأشدّه كصلصلة الجرس. وقد أوضح القرآن حقيقة ذلك فقال إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا المزمل/ 5/.
فالوحي إذا، كلّه شديد، وأشدّه مثل صلصلة الجرس، وذلك لعظمة التنزيل، وفي حديث ابن عباس [كان يعالج من التنزيل شدّة].
وعند البيهقي في الدلائل [وإن كان ليوحى إليه، وهو على ناقته فيضرب حزامها من ثقل ما يوحى إليه].
وحسبه شدّة ما وصفته به أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها بقولها الآنف الذّكر.
أوّل ما نزل من الوحي القرآنيوكان أول ما نزل من القرآن، صدر سورة (اقرأ) وهي قوله تعالى اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ.
فقد أخرج البخاري ومسلم. [عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها أنها قالت: أوّل ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم.
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থাআয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসটি আমাদের সামনে নবী (সা.)-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরে। ওহি অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, আর এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল ঘণ্টার ধ্বনির মতো আওয়াজ। কুরআন এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে বলেছে: “নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করতে যাচ্ছি” (সূরা মুয্যাম্মিল: ৫)।
সুতরাং ওহি নাজিলের পুরো বিষয়টিই ছিল কষ্টসাধ্য, আর তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিল ঘণ্টার আওয়াজের মতো আসা; আর তা ছিল এই অবতীর্ণ বাণীর মাহাত্ম্যের কারণে। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: [তিনি ওহি নাজিল হওয়ার সময় প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করতেন]।
বায়হাকির দালাইলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: [কখনো এমন হতো যে, তিনি তাঁর উটনীর পিঠে থাকা অবস্থায় ওহি নাজিল হতো, তখন ওহির ভারে উটনীর পিঠের বেল্ট নুইয়ে পড়ত]।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর পূর্বোক্ত বর্ণনায় ওহি নাজিলের যে কাঠিন্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা-ই এর তীব্রতা বোঝার জন্য যথেষ্ট।
কুরআনি ওহির প্রথম যা নাজিল হয়েছিলকুরআনের সর্বপ্রথম যা নাজিল হয়েছিল তা হলো সূরা ‘ইকরা’-এর শুরুর অংশ। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।” (সূরা আলাক: ১-৫)।
বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। [উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ওহি আসার সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة) দেখার মাধ্যমে।]
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فكان لا يرى رؤيا إلّا جاءت مثل فلق الصبح.
ثم حبّب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء، فيتحنث فيه- وهو التعبّد- الليالي ذوات العدد، قبل أن ينزع إلى أهله.
ويتزوّد لذلك، ثم يرجع إلى خديجة، فيتزوّد لمثلها، حتى جاءه الحق، وهو في غار حراء.
فجاءه الملك. فقال: اقرأ.
قلت: ما أنا بقارئ. (ما أحسن القراءة).
فأخذني فغطّني، حتى بلغ مني الجهد، ثمّ أرسلني.
فقال: اقرأ.
قلت: ما أنا بقارئ.
فأخذني فغطّني الثانية، ثمّ أرسلني.
فقال: اقرأ.
قلت: ما أنا بقارئ.
فأخذني فغطّني الثالثة، ثمّ أرسلني. فقال:
- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ (5).
ফলে তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রভাতের ঊষালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো।
অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনবাস প্রিয় করে তোলা হলো এবং তিনি হেরা গুহায় নির্জনে সময় কাটাতেন। সেখানে তিনি 'তাহাননুস'—যা হলো ইবাদত—করতেন টানা বেশ কিছু রাত, নিজ পরিবারের নিকট ফিরে আসার পূর্বে।
তিনি এর জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নিতেন, পুনরায় খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় গ্রহণ করতেন। পরিশেষে তাঁর নিকট সত্যের আগমন ঘটল যখন তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন।
অতঃপর ফেরেশতা তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: 'পাঠ করুন'।
আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'। (আমি ভালো পড়তে পারি না)।
অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি তা আমার কষ্টের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছিল, অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন।
তিনি বললেন: 'পাঠ করুন'।
আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'।
অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এরপর ছেড়ে দিলেন।
তিনি বললেন: 'পাঠ করুন'।
আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'।
অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এরপর ছেড়ে দিলেন। তিনি বললেন:
- পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (১) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড থেকে (২) পাঠ করুন, আর আপনার রব অতীব মহিমান্বিত (৩) যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন (৪) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (৫)।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها فقال:
- زمّلوني. زمّلوني.
فزمّلوه، حتى ذهب عنه الرّوع. فقال لخديجة وأخبرها الخبر:
- لقد خشيت على نفسي.
فقالت خديجة: كلّا، والله- ما يخزيك الله أبدا!!.
إنّك لتصل الرّحم، وتحمل الكلّ، وتكسب المعدوم وتقري الضّيف، وتعين على نوائب الحقّ.
فانطلقت به خديجة حتى أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزّى- ابن عم خديجة- وكان امرأ نصرانيا في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العبرانيّ، فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخا كبيرا، قد عمي.
فقالت له خديجة: يا ابن عم! اسمع من ابن أخيك.
فقال له ورقة: يا ابن أخي! ماذا ترى؟.
فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى.
فقال له ورقة: هذا الناموس الذي نزّل الله على موسى.
يا ليتني فيها جذعا، ليتني أكون حيّا إذ يخرجك قومك.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أو مخرجيّ هم؟!.
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে এমন অবস্থায় ফিরে এলেন যে তাঁর হৃদকম্পন হচ্ছিল। তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করে বললেন:
- আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।
তখন তাঁরা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর থেকে ভীতি দূর হলো। অতঃপর তিনি খাদিজার নিকট সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং বললেন:
- আমি নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।
খাদিজা বললেন: কখনোই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না!!
নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের ভার বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথির সেবা করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।
অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানি (হিব্রু) ভাষায় লিপি লিখতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ইনজিল থেকে ইবরানি ভাষায় অনুলিখন করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
খাদিজা তাঁকে বললেন: হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শ্রবণ করুন।
ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: হে ভাতিজা! তুমি কী দেখছ?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তার সংবাদ তাঁকে দিলেন।
ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: ইনি সেই ওহি বহনকারী গোপন সংবাদ বাহক (الناموس), যাঁকে আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামের নিকট অবতীর্ণ করেছিলেন।
হায়! আমি যদি সেই সময়ে শক্তিশালী যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে বের করে দেবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তবে কি তাঁরা আমাকে বহিষ্কার করবে?!
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال: نعم. لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلّا عودي.
وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزّرا.
ثم لم ينشب ورقة أن توفّي، وفتر الوحي (1)].
مفردات الحديث اللغويةهذا. وإنّ حديث عائشة السالف الذكر، قد تضمّن مفردات لغوية هي بحاجة إلى توضيح، وبيان، حتى يستطيع القارئ استيعاب ما جاء فيه من الأفكار.
ولنبدأ ب (مثل فلق الصبح):
وفلق الصبح: ضياؤه الصادق. فقد شبهت الرؤيا الصادقة بضياء الصبح وسطوع نوره.
وخصّ التشبيه بهذا، لعلاقة الظهور الواضح الذي لا لبس فيه ولا ريب.
ونثني ب (ثم حبّب إليه الخلاء):
--------------------------------------------
তিনি বললেন: হ্যাঁ। তুমি যা নিয়ে এসেছ, অতীতে কোনো ব্যক্তিই তা নিয়ে আসেনি যার সাথে শত্রুতা করা হয়নি।
আর যদি আমি তোমার সেই প্রচারের দিনটি পাই, তবে আমি তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব।
এরপর ওয়ারাকা শীঘ্রই ইন্তেকাল করেন এবং ওহি (وحي) স্থগিত (فتر) হয়ে যায় (১)]।
হাদিসের শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণপূর্বোক্ত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসটিতে এমন কিছু ভাষাগত পরিভাষা রয়েছে যা স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন, যাতে পাঠক এতে বর্ণিত বিষয়সমূহ হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।
আসুন আমরা ‘ভোরের শুভ্র আলোকচ্ছটার ন্যায়’ (مثل فلق الصبح) বাক্যটি দিয়ে শুরু করি:
ভোরের শুভ্রতা (فلق الصبح): এর অর্থ হলো প্রভাতের স্বচ্ছ আলোকচ্ছটা। এখানে সত্য স্বপ্নকে (الرؤيا الصادقة) ভোরের আলো ও তার প্রখর উজ্জ্বলতার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
এই উপমাটি বিশেষত এমন এক সুস্পষ্ট প্রকাশের সম্পর্কের কারণে দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই।
দ্বিতীয়ত: (ثم حبّب إليه الخلاء) ‘অতঃপর তাঁর কাছে নির্জনতা (الخلاء) প্রিয় করে তোলা হলো’:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
جيء ب (حبّب) بصيغة المجهول، لإسقاط الباعث له، وإظهار الفاعل الحقيقي للحبّ وهو الله جلّ وعزّ، ففيه إشارة: إلى أنّ باعث البشر عليه منعدم، وأنّ ذلك بوحي الإلهام قد تحقق.
والخلاء: الخلوة. وكان محببا له لأنّه يفرّغ القلب عما يشغله عن التوجّه إلى ربه سبحانه.
وحراء: جبل معروف بمكة، أطلق عليه بعد الوحي اسم جبل (النور).
والغار: نقب في الجبل. وجمعه: غيران.
ونثلث ب (فيتحنث فيه- وهو التعبد- الليالي ذوات العدد).
والتحنث: التحنّف. أي: يتبع الحنيفية دين إبراهيم.
والفاء تبدل ثاء في كثير من كلام العرب. ويقوي ذلك رواية ابن هشام في السيرة (يتحنف).
وإما أن نفسّرها ب: إلقاء الحنث. وهو الإثم- كما قيل- يتأثّم أو يتحرّج.
وذوات العدد: إبهام لها، لاختلاف المدد التي كانت يتخللها مجيئه إلى أهله صلى الله عليه وسلم.
أمّا أصل الخلوة: فقد عرفت مدتها، وهي شهر، وذلك الشهر كان رمضان كما جاء في رواية ابن إسحاق.
(حبّب) শব্দটি কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে যাতে এর জাগতিক উদ্দীপককে উহ্য রাখা যায় এবং ভালোবাসার প্রকৃত কর্তা যে মহান আল্লাহ, তা প্রকাশ করা যায়। এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, এর পেছনে মানুষের কোনো জাগতিক প্রেরণা ছিল না, বরং তা ঐশী ইলহামের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল।
'আল-খালা' (الخلاء) অর্থ হলো নির্জনতা। এটি তাঁর কাছে প্রিয় করা হয়েছিল কারণ তা অন্তরকে এমন সব ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রাখে যা মহান প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করতে বিঘ্ন ঘটায়।
'হেরা' হলো মক্কার একটি সুপরিচিত পাহাড়, ওহী (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার পর যাকে 'জাবালে নূর' নাম দেওয়া হয়েছে।
'আল-গার' হলো পাহাড়ের ছিদ্র বা গুহা। এর বহুবচন হলো 'গাইরান'।
তৃতীয়ত: "সেখানে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত 'তাহান্নুস' (التحنث) করতেন—যার অর্থ ইবাদত করা"।
'তাহান্নুস' শব্দের অর্থ হলো 'তাহান্নুফ' (التحنف); অর্থাৎ ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শ হানিফিয়াহ (الحنيفية)-এর অনুসরণ করা।
আরবদের অনেক বাচনভঙ্গিতে 'ফা' বর্ণটি 'সা' দ্বারা পরিবর্তিত হয়। সিরাত গ্রন্থে ইবনে হিশাম বর্ণিত বর্ণনা (رواية) 'ইয়াতাহান্নাফ' শব্দটি এই মতকে জোরালো করে।
অথবা আমরা এর ব্যাখ্যা এভাবে করতে পারি: 'হিনস' বা পাপ বর্জন করা। যেমনটি বলা হয়েছে—পাপ থেকে বেঁচে থাকা বা সতর্ক থাকা।
'নির্দিষ্ট সংখ্যক' (ذوات العدد) কথাটি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপ্তি ভিন্ন ভিন্ন হতো।
নির্জনবাসের মূল সময়কাল সম্পর্কে জানা গেছে যে তা ছিল এক মাস, আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী সেই মাসটি ছিল রমজান।
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وينزع: يرجع. والتزود: استصحاب الزاد.
ونربّع ب (حتى جاءه الحق):
أي: جاءه الأمر الحق. وفي رواية (حتى فجئه الحقّ).
أي: بغته.
ونخمّس ب (ما أنا بقارئ ثلاثا):
لماذا كررها ثلاثا؟ وما معناها في كلّ مرة؟.
كرّرت ثلاثا للتقوية والتأكيد.
ففي المرة الأولى: أفادت الامتناع. ف (ما) هنا: نافية.
والباء: زيادة في التأكيد. أي: ما أحسن القراءة.
وفي المرة الثانية: أفادت النفي المحض.
وفي المرة الثالثة: أفادت الاستفهام.
ويؤيّد هذا، رواية عروة في مغازي أبي الأسود أنه قال: كيف أقرأ؟.
وعند ابن إسحاق:
ماذا أقرأ؟.
وفي مرسل الزهري عند البيهقي في الدلائل:
وينزع (ওয়া ইয়ানজাউ) অর্থ: ফিরে আসা। আর التزود (আত-তাযাওউউদ) অর্থ: পাথেয় বা সফরসঙ্গী গ্রহণ করা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (যতক্ষণ না তাঁর নিকট সত্য আগমন করল):
অর্থাৎ: তাঁর নিকট সত্য বিষয়টি আগমন করল। আর একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (যতক্ষণ না তাঁর নিকট হঠাৎ সত্য এল)।
অর্থাৎ: অতর্কিতে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: (আমি পাঠ করতে সক্ষম নই - তিনবার):
কেন তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন? এবং প্রতিবার এর অর্থ কী ছিল?।
দৃঢ়তা ও গুরুত্ব প্রদানের (تأكيد) জন্য এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
প্রথমবার: এটি অপারগতা প্রকাশ করেছে। এখানে 'মা' (ما) হলো: না-বোধক (نافية)।
আর 'বা' (ب) অক্ষরটি: গুরুত্ব বৃদ্ধির (تأكيد) জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ: আমি পড়তে জানি না।
দ্বিতীয়বার: এটি নিছক না-বোধক অর্থ প্রকাশ করেছে।
তৃতীয়বার: এটি প্রশ্নবোধক (استفهام) অর্থ প্রকাশ করেছে।
একে সমর্থন করে আবু আল-আসওয়াদের মাগাজি গ্রন্থে বর্ণিত উরওয়ার একটি বর্ণনা (رواية), যেখানে তিনি বলেছেন: আমি কীভাবে পড়ব?।
আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় রয়েছে:
আমি কী পড়ব?।
আর বায়হাকির দলাইল গ্রন্থে ইমাম যুহরির বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
- كيف أقرأ؟.
فهذه الروايات جميعا تقرّر الاستفهام (1).
ونسدّس ب (فغطّني .. حتى بلغ مني الجهد):
فغطني: وفي رواية: فغتني. ويراد منها: ضمني، وعصرني.
والغطّ: حبس النفس، ومنه غطه في الماء.
أو أراد: غمني. ومنه الحنق.
ولأبي داود الطيالسي في مسنده بسند حسن [فأخذ بحلقي].
الجهد: غاية وسعي. زمّلوه: لفّوه. الرّوع: الفزع.
خشيت على نفسي: الخشية هنا اختلف فيها كثيرا، وأقربها للصواب أنه صلى الله عليه وسلم خشي على نفسه الموت من شدّة الرعب، أو المرض، أو دوامه.
ونسبّع ب (كلّا، والله ما يخزيك الله أبدا ..... نوائب الحق.
ف (كلّا): تعني النفي والإبعاد. و (يخزيك) من الخزي.
وفي رواية (يحزنك). من الحزن. و (الكلّ): من لا يستقلّ بأمره.
--------------------------------------------
আমি কীভাবে পাঠ করব?
এই বর্ণনা (روايات) গুলোর সবগুলোই প্রশ্নবোধক রূপকে সাব্যস্ত করে (১)।
ষষ্ঠত (তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন... যতক্ষণ না আমার কষ্ট চরমে পৌঁছাল):
তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন: অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: 'তিনি আমাকে চেপে ধরলেন'। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আমাকে নিজের সাথে মেলালেন এবং চাপ দিলেন।
আর 'চেপে ধরা' বলতে দম বন্ধ করা বোঝায়; আর এ থেকেই এসেছে কাউকে পানিতে চুবানো।
অথবা তিনি চেয়েছেন: আমাকে আচ্ছন্ন করা। আর এ থেকেই শ্বাসরুদ্ধ হওয়া বা ক্ষোভের ভাবটি আসে।
আবু দাউদ তায়ালাসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন [তিনি আমার কণ্ঠনালী ধরলেন]।
কষ্ট: চূড়ান্ত সীমা ও প্রচেষ্টা। তাঁকে বস্ত্রাবৃত করো: তাঁকে জড়িয়ে দাও। ভীতি: আতঙ্ক।
আমি আমার নিজের জীবনের ওপর আশঙ্কা করছি: এখানে 'আশঙ্কা' শব্দটি নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। এর মধ্যে সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যাখ্যা হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড আতঙ্ক থেকে মৃত্যু, অসুস্থতা বা সেই অবস্থার স্থায়িত্বের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছিলেন।
সপ্তমত (কখনও নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনই অপদস্থ করবেন না... সত্যের পথে আপদ-বিপদ)।
'কখনও নয়': এটি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর 'অপদস্থ করা' শব্দটি অপদস্থতা থেকে উদ্ভূত।
অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী শব্দটি হলো 'ব্যথিত করা'—যা দুঃখ থেকে আগত। আর 'অক্ষম' হলো এমন ব্যক্তি—যে নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كما قال الله تعالى وَهُوَ كَلٌّ عَلى مَوْلاهُ النحل/ 76/.
(المعدوم): الفقير. لأنّ المعدوم لا يكسب، والكسب: هو الاستفادة.
(نوائب الحق): كلمة جامعة لأفراد ما تقدّم، ولما لم يتقدّم.
ونثمّن (بنبذة عن ورقة بن نوفل) كان قد خرج هو وزيد بن عمرو بن نفيل، حين كرها عبادة الأوثان إلى الشام وغيرها، يسألان عن الدين.
فورقة بن نوفل: أعجبته النصرانية فتنصّر، وكان قد لقي من بقي من الرهبان على دين عيسى، ولم يبدّل.
لذا. فقد أخبر بشأن النبي صلى الله عليه وسلم والبشارة به، وغير ذلك مما أفسده أهل التبديل.
إشكال وحلهويبقى سؤال: لماذا ورقة يدين بالنصرانية ثم يذكر موسى بنزول الناموس (1) عليه؟ أما أولى أن يذكر عيسى؟.
--------------------------------------------
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং সে তার অভিভাবকের ওপর এক বোঝা স্বরূপ" (আন-নাহল/৭৬)।
(নিঃস্ব (المعدوم)): দরিদ্র ব্যক্তি। কেননা নিঃস্ব ব্যক্তি উপার্জন করতে সক্ষম হয় না, আর উপার্জন হলো কোনো উপকার বা ফায়দা লাভ করা।
(সত্যের পথে আপদ-বিপদ (نوائب الحق)): এটি পূর্বে অতিক্রান্ত এবং যা অতিক্রান্ত হয়নি এমন সবকিছুর জন্য একটি সামষ্টিক শব্দ।
আমরা (ওরাকা ইবনে নওফলের সংক্ষিপ্ত জীবনী দ্বারা) বিষয়টি মূল্যায়ন করি যে, তিনি এবং জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল যখন মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করেছিলেন, তখন তারা দ্বীনের সন্ধানে সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।
ওরাকা ইবনে নওফল: তাঁর নিকট খ্রিস্টধর্ম পছন্দনীয় মনে হওয়ায় তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঈসা আলাইহিস সালামের দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা ঐসব অবশিষ্ট পাদ্রীদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন, যারা দ্বীনকে বিকৃত করেননি।
এ কারণেই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা এবং তাঁর আগমনের সুসংবাদসহ ঐসব বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেছিলেন যা বিকৃতিকারীরা নষ্ট করে ফেলেছিল।
একটি সংশয় ও তার সমাধানএকটি প্রশ্ন থেকেই যায়: ওরাকা খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও কেন মুসা আলাইহিস সালামের ওপর নামুস (الناموس) (১) অবতীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন? ঈসা আলাইহিস সালামের কথা উল্লেখ করাই কি অধিকতর সংগত ছিল না?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأجيب بإجابات متنوعة:1 - لأنّ كتاب موسى مشتمل على أكثر الأحكام، بخلاف عيسى.
والنبيّ كتابه كتاب موسى عليه السلام.
2 - لأن موسى بعث بالنقمة على فرعون ومن معه، بخلاف عيسى، وكذلك وقعت النقمة على يد النبي صلى الله عليه وسلم بفرعون هذه الأمة أبي جهل بن هشام، ومن معه ببدر.
3 - أو لأنه قاله تحقيقا للرسالة، فنزول جبريل على موسى متفق عليه بين أهل الكتاب، بخلاف عيسى، فكثير من اليهود ينكرون نبوّته.
ابن حجر يحلّ المشكلةوفي الفتح (1): «نعم. في دلائل النبوّة لأبي نعيم- بإسناد حسن، إلى هشام بن عروة عن أبيه في هذه القصة: [أنّ خديجة- أولا- أتت ابن عمّها ورقة، فأخبرته الخبر. فقال:
لئن كنت صدقتني إنه ليأتيه ناموس عيسى الذي لا يعلّمه بنو إسرائيل أبناءهم].
فعلى هذا: فكان ورقة يقول تارة (ناموس عيسى) وتارة (ناموس موسى) فعند إخبار خديجة له بالقصة قال لها: ناموسى عيسى. بحسب
--------------------------------------------
এর উত্তর বিভিন্নভাবে প্রদান করা হয়েছে:১ - কারণ মূসা (আ.)-এর কিতাব অধিকাংশ বিধান সম্বলিত ছিল, যা ঈসা (আ.)-এর কিতাবের ব্যতিক্রম।
আর নবীর কিতাব ছিল মূসা (আ.)-এর কিতাবের অনুরূপ।
২ - কারণ মূসা (আ.)-কে ফেরাউন ও তার অনুসারীদের ওপর শাস্তিসহ পাঠানো হয়েছিল, যা ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে ছিল না। তদ্রূপ এই উম্মতের ফেরাউন আবু জাহল ইবনে হিশাম ও তার সঙ্গীদের ওপর বদরের যুদ্ধে নবী (সা.)-এর হাতে শাস্তি আপতিত হয়েছিল।
৩ - অথবা তিনি এটি রিসালাতের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য বলেছিলেন; কেননা মূসা (আ.)-এর নিকট জিবরাঈলের অবতরণ আহলে কিতাবদের নিকট সর্বসম্মত বিষয়, যা ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ অনেক ইয়াহুদি তাঁর নবুওয়াত অস্বীকার করে।
ইবনে হাজার সমস্যার সমাধান করছেনফাতহুল বারীতে (১): "হ্যাঁ। আবু নুয়াইমের দালাইলুন নুবুওয়াহ-তে—হাসান (حسن) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এই ঘটনা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে: [খাদিজা (রা.) প্রথমে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকার নিকট আসলেন এবং তাঁকে সংবাদটি জানালেন। তখন তিনি বললেন:
যদি তুমি আমার নিকট সত্য বলে থাকো, তবে তাঁর নিকট ঈসার সেই 'নামুস' (গোপন রহস্য বহনকারী ফেরেশতা) এসেছেন যা বনী ইসরাঈল তাদের সন্তানদের শেখায় না]।
এর ওপর ভিত্তি করে: ওয়ারাকা কখনো বলতেন 'ঈসার নামুস' এবং কখনো বলতেন 'মূসার নামুস'। সুতরাং খাদিজা যখন তাঁকে ঘটনাটি জানালেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: ঈসার নামুস।... অনুযায়ী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ما هو فيه من النصرانية.
وعند إخبار النبي صلى الله عليه وسلم له. قال له: (ناموس موسى). للمناسبة التي قدمناها. وكلّ صحيح».
তিনি খ্রিস্টধর্মের যে বিষয়ের ওপর ছিলেন।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সংবাদ দেওয়ার সময় তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "(এটি) মূসার সেই নিগূঢ় রহস্যজ্ঞাত বার্তাবাহক (الناموس)।" আমরা ইতিপূর্বে যে প্রাসঙ্গিকতার কথা উল্লেখ করেছি সে কারণে। আর এর প্রতিটিই বিশুদ্ধ (صحيح)।»
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
علم تنزّلات القرآن«القرآن الكريم، هو كلام الله المنزل من السماء على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء، المتعبد بتلاوته، المكتوب في المصاحف، المنقول إلينا بالتواتر، الناسخ للشرائع السالفة».
وحتى نتعرف على ماهية النزول القرآني، وما يشتمل عليه من أنواع، فنحن مضطرون إلى أن نعرّف معناه
أوّلا: معنى النزول في القرآنلقد جاء التعبير بمادة (نزول القرآن) بتصاريف عدّة منها:
قال الله تعالى: وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْناهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ (1).
وفي السنة قوله صلى الله عليه وسلم: [إنّ هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف].
ولكن لا بدّ من العودة إلى معاجم لغتنا العربية، فهي الأساس في
--------------------------------------------
কুরআনের অবতরণসমূহ (تنزّلات القرآن) সংক্রান্ত বিজ্ঞান«আল-কুরআনুল কারীম হলো আল্লাহর বাণী, যা আসমান থেকে নবীগণের মোহর আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, যা আমাদের কাছে অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতির (بالتواتر) মাধ্যমে বর্ণিত এবং যা পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের রহিতকারী (الناسخ)»।
কুরআনের অবতরণের প্রকৃতি এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রকারগুলো সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের এর অর্থ সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।
প্রথমত: কুরআনে ‘নুজুল’ (অবতরণ) শব্দের অর্থ‘কুরআনের নুজুল’ (অবতরণ) শব্দমূলের ব্যবহার বিভিন্ন রূপে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহ বলেন: “আর আমি সত্যসহ এটি অবতীর্ণ করেছি এবং তা সত্যসহই অবতীর্ণ হয়েছে” (১)।
এবং সুন্নাহর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: [নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি রীতিতে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে]।
তবে আমাদের আরবি ভাষার অভিধানগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, কারণ সেগুলোই হলো ভিত্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تحديد المعاني، فاللغة تقول: إنّ لهذه الكلمة إطلاقات عدة:
1 - الحلول في مكان. قال تعالى وَقُلْ رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبارَكاً وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ (1).
2 - انحدار الشيء من علو إلى سفل قال تعالى وأَنْزَلَ مِنَ السَّماءِ ماءً (2).
ولا ريب أنّ كلا هذين المعنيين لا يليق إطلاقه على إنزال القرآن، ولا إنزال الله، لأنّه يستلزم الجسمية والمكانية، والله منزّه عن ذلك.
إذا. لا بدّ من الصيرورة إلى المجاز، فبابه واسع، وميدانه فسيح وليكن اختيارنا لتحديد معنى (النزول القرآني) بالإعلام به، إمّا بواسطة جبريل وإمّا، بواسطة ما يدلّ عليه من ألفاظ حقيقية- كإنزاله على قلب النبي صلى الله عليه وسلم.
ويكون بين الحقيقة والمجاز علامة لازمة، وهي الإعلام بالشيء.
--------------------------------------------
অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভাষাতত্ত্ব বলে যে, এই শব্দটির একাধিক ব্যবহার রয়েছে:
১ - কোনো স্থানে অবস্থান করা। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং বলো, হে আমার রব! আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান, আর আপনিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।" (১)।
২ - কোনো বস্তু উচ্চতা থেকে নিচে নেমে আসা। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন।" (২)।
নিঃসন্দেহে এই উভয় অর্থের কোনোটিই কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বা আল্লাহর অবতীর্ণ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। কারণ এতে শারীরিক অবয়ব ও স্থানিকতা অবধারিত হয়, অথচ আল্লাহ তাআলা এ থেকে পবিত্র।
সুতরাং, রূপক (مجاز) অর্থের আশ্রয় নেওয়া অপরিহার্য, যার দ্বার অত্যন্ত উন্মুক্ত এবং ক্ষেত্র অতি সুবিস্তৃত। আমাদের পছন্দনীয় মত হলো—'কোরআনিক অবতরণ' (النزول القرآني)-এর অর্থ নির্ধারণ করা হবে এর মাধ্যমে অবহিত করার দ্বারা; চাই তা জিবরাঈলের মাধ্যমে হোক অথবা এমন কোনো প্রকৃত (حقيقة) শব্দের মাধ্যমে হোক যা এর অর্থ প্রকাশ করে—যেমন তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ হওয়া।
আর প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) অর্থের মাঝে একটি আবশ্যিক যোগসূত্র থাকে, আর তা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثانيا: تنزلات القرآنولم يكن نزول القرآن بنمط واحد، وإنّما كان له أنماط ثلاثة:
التنزل الأول: تنزّل إلى اللوح المحفوظوهذا التنزل له، لم يطّلع على حقيقته أحد، فهو غيب من غيوبه سبحانه، إلّا من أطلعه عليه، وتميّز هذا التنزل بأنه: نزل جملة واحدة.
ولم يتنزل مفرقا.
ودليله قوله تعالى بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ (21) فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (1).
حكمة هذا النزولوليس في أفعال الله، ما يوحي بالعبث، وإنّما فعله سبحانه، وفق الحكمة، وما يصلح شأن الخلق، فاللوح المحفوظ، هو السجلّ الجامع لكلّ ما قضى الله وقدّر، وما هو كائن، وما كان، وما سيكون.
فالإيمان به يبعث الطمأنينة في النفس، والثقة بكل ما يصدر عن الربّ سبحانه كما يحمل الناس على الرضا والسكون، تحت سلطان القدر والقضاء.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: কুরআনের অবতরণসমূহ (تنزلات القرآن)কুরআনের নাযিল বা অবতরণ কেবল এক পদ্ধতিতে ছিল না, বরং এর তিনটি পর্যায় বা পদ্ধতি ছিল:
প্রথম অবতরণ: লাওহে মাহফুজে অবতরণএই অবতরণের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে কেউ অবগত নয়; এটি মহান আল্লাহর অদৃশ্য (غيب) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি যাকে এ বিষয়ে অবগত করেছেন সে ব্যতীত। এই অবতরণটির বিশেষত্ব হলো: এটি একত্রে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছিল।
এটি পৃথক পৃথকভাবে (مفرقا) অবতীর্ণ হয়নি।
এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) সংরক্ষিত।" (১)
এই অবতরনের প্রজ্ঞা (حكمة) বা রহস্যআল্লাহ তাআলার কোনো কর্মই নিরর্থক নয়; বরং মহান রবের প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞা (حكمة) এবং সৃষ্টির কল্যাণ অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। লাওহে মাহফুজ হলো সেই সামষ্টিক নথি, যেখানে আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন এবং নির্ধারণ (قدر) করেছেন, যা বর্তমানে বিদ্যমান, যা অতীতে ছিল এবং যা ভবিষ্যতে হবে—সবকিছুই লিপিবদ্ধ আছে।
এর ওপর বিশ্বাস (الإيمان) স্থাপন মানুষের মনে প্রশান্তি জাগ্রত করে এবং মহান রবের পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় তার প্রতি আস্থা তৈরি করে। তদুপরি এটি মানুষকে ভাগ্য ও ফয়সালার (القدر والقضاء) কর্তৃত্বের অধীনে সন্তুষ্টি ও স্থিরতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن ثمّ تهون المصيبة، ويقوى صاحبها، ويزداد ثباتا، فيتفانى في الطاعة- مع الرضا- لأوامر ربّه.
قال الله تعالى: ما أَصابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَها إِنَّ ذلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (22) لِكَيْلا تَأْسَوْا عَلى ما فاتَكُمْ وَلا تَفْرَحُوا بِما آتاكُمْ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتالٍ فَخُورٍ (1).
وإذا صدّق الإنسان بهذه العقيدة، فإنّه سيستقيم على الجادّة، ويؤثّر في مجالات الحياة، ما من شأنه إسعاد البشر.
--------------------------------------------
এর ফলে মুসিবত লাঘব হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি শক্তিশালী হয় এবং তার দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়; ফলে সে সন্তুষ্টির সাথে তার রবের নির্দেশাবলির আনুগত্যে নিজেকে নিবেদিত করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর পক্ষে অত্যন্ত সহজ। (২২) যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য বিমর্ষ না হও এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আর আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না (১)।
আর মানুষ যখন এই আকিদায় (العقيدة) বিশ্বাস স্থাপন করে, তখন সে সঠিক পথে সুদৃঢ় হয় এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন প্রভাব বিস্তার করে যা মানবজাতির সুখ ও কল্যাণের কারণ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التنزّل الثاني: تنزّل إلى بيت العزّةثم التنزل الثاني إلى بيت العزّة في السماء الدنيا، وفي ليلة واحدة، قد وصفت بالليلة المباركة، قال الله تعالى:
إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ (1).
كما وصفت بليلة القدر. قال الله تعالى:
إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (2).
وهي من ليالي شهر رمضان. كما قال الله تعالى:
شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ
… (3).
وجاءت السنة لتؤكّد على ما ألمحت إليه الآيات السالفة، في تحديد معنى التنزّل الثاني، وهي سنّة صحيحة.
1 - فقد أخرج الحاكم بسنده .. عن ابن عباس. قال:
[فصل القرآن من الذكر، فوضع في بيت العزّة من السماء الدنيا فجعل جبريل ينزل به على النبي صلى الله عليه وسلم].
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অবতরণ (تنزّل): বায়তুল ইজ্জতে অবতরণঅতঃপর দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জতে দ্বিতীয় অবতরণ (تنزّل), যা এক রাতে সম্পন্ন হয়েছিল এবং একে বরকতময় রাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
নিশ্চয় আমি এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি (১)।
যেমনটি একে লাইলাতুল কদর হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
নিশ্চয় আমি এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি (২)।
আর এটি রমজান মাসের রাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন:
রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে
… (৩)।
আর সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে পূর্বোক্ত আয়াতসমূহ যে বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছে তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বিতীয় অবতরণের (تنزّل) অর্থ নির্ধারণ করতে; আর এটি একটি সহিহ (صحيح) সুন্নাহ।
১ - ইমাম হাকিম তাঁর সনদের (سند) মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
[কুরআনকে যিকির (লাওহে মাহফুজ) থেকে পৃথক করা হয়েছে, অতঃপর তা দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জতে রাখা হয়েছে; এরপর জিবরাঈল (আ.) তা নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট অবতীর্ণ হতে শুরু করেন।]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - وأخرج النسائي والحاكم والبيهقي عن ابن عباس أنه قال: [أنزل القرآن جملة واحدة إلى سماء الدنيا ليلة القدر، ثم أنزل بعد ذلك في عشرين سنة].
ثم قرأ وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْناكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً (1).
ووَ قُرْآناً فَرَقْناهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلى مُكْثٍ وَنَزَّلْناهُ تَنْزِيلًا (2).
3 - وأخرج الحاكم والبيهقي وغيرهما، عن ابن عباس قال:
[أنزل القرآن جملة واحدة إلى سماء الدنيا، وكان بمواقع النجوم، وكان الله ينزله على رسول الله صلى الله عليه وسلم بعضه في إثر بعض].
4 - وأخرج ابن مردويه والبيهقي في الأسماء والصفات، عن ابن عباس أنه سأله عطية بن الأسود. فقال:
- أوقع في قلبي الشكّ، قوله تعالى: شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ البقرة/ 185/. وقوله إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ القدر/ 1/.
وهذا أنزل في شوال وفي ذي القعدة، وفي ذي الحجة، وفي المحرم وصفر، وشهر ربيع؟!
--------------------------------------------
2 - নাসাঈ, হাকেম এবং বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তিনি বলেছেন: [লাইলাতুল কদরে কুরআনকে একত্রে (جملة واحدة) দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করা হয়েছে, অতঃপর এর পরে তা বিশ বছর ধরে অবতীর্ণ করা হয়েছে]।
অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "তারা আপনার কাছে এমন কোনো সমস্যা নিয়ে আসে না, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দান করি না (১)।"
এবং "আমি কুরআনকে নাযিল করেছি কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ করে, যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করেন ধীরে ধীরে এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ (تنزيلاً) করেছি (২)।"
3 - হাকেম, বায়হাকী এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন:
[কুরআনকে একত্রে (جملة واحدة) দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর তা ছিল নক্ষত্ররাজির অবস্থানের ন্যায়; আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর এর এক অংশের পর অন্য অংশ নাযিল করতেন]।
4 - ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকী ‘আল-আসমা ওয়া আস-সিফাত’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, আতিয়্যাহ ইবনে আল-আসওয়াদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন:
- মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমার মনে খটকা (الشك) তৈরি হয়েছে: "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে" (আল-বাকারা/১৮৫) এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি এটি নাযিল করেছি কদরের রাতে" (আল-কদর/১)।
অথচ এই কুরআন তো শাওয়াল, যিলকদ, যিলহজ, মহররম, সফর এবং রবিউশ শাহর (রবিউল আউয়াল) মাসেও নাযিল হয়েছে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فقال ابن عباس: [إنّه أنزل في رمضان في ليلة القدر جملة واحدة، ثمّ أنزل على مواقع النجوم (1) رسلا (2) في الشهور والأيام].
ويقول السيوطي عن هذه النصوص: «وهي أحاديث موقوفة على ابن عباس، غير أنّ لها حكم المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم لما هو مقرّر، من أنّ قول الصحابي ما لا مجال للرأي فيه، ولم يعرف بالأخذ عن الإسرائيليات، حكمه حكم المرفوع» (3)
--------------------------------------------
অতঃপর ইবনে আব্বাস বলেন: [এটি রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর তা নক্ষত্ররাজির অবস্থানের (১) ন্যায় ধীরস্থিরভাবে (২) বিভিন্ন মাস ও দিনসমূহে অবতীর্ণ হয়েছে]।
এই পাঠগুলো সম্পর্কে সুয়ূতী বলেন: «এগুলো ইবনে আব্বাসের ওপর মাওকুফ (موقوفة) হাদিসসমূহ, তবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এগুলোর বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ সাহাবীর এমন বক্তব্য যাতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো অবকাশ নেই এবং তিনি যদি ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) গ্রহণের জন্য পরিচিত না হন, তবে তার সেই বক্তব্যের বিধান মারফু (مرفوع) এর বিধান হিসেবে গণ্য হয়» (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসূআতু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
التنزّل الثالث: تنزّل على قلب النبي صلى الله عليه وسلم منجّماوهو التنزّل الأخير، وكان من بيت العزّة إلى قلب النبي صلى الله عليه وسلم بواسطة جبريل عليه السلام، فشعّ النور على العالم، واهتدى به من اهتدى وضلّ من ضلّ.
ودليله: قوله تعالى: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (1).
كيف أخذ جبريل القرآن إذا؟
وهذا الأمر غيّب عنا، ولم يتعلّق به كبير غرض، وإن أدلى به أحد بدلو، فإنه لن يصل إلى حدّ اليقين والاطمئنان، ومع هذا. فإنّ العلماء قد وقّعوا آراء حول هذا، أختار منها واحدا، ونرجع الأمر إلى الله سبحانه.
وهذا الرأي للبيهقي، ولعلّه أمثل الآراء من جهة أخذ جبريل عن الله تعالى.
--------------------------------------------
তৃতীয় অবতীর্ণকরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হওয়াএটিই সর্বশেষ অবতীর্ণকরণ। এটি বাইতুল ইজ্জাহ থেকে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে নূর বিচ্ছুরিত হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে যারা পথপ্রাপ্ত হওয়ার তারা হিদায়াত পেয়েছিল আর যারা পথভ্রষ্ট হওয়ার তারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين) এটি নিয়ে আপনার অন্তরে অবতরণ করেছে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” (১)।
তাহলে জিবরাঈল কীভাবে কুরআন গ্রহণ করেছিলেন?এই বিষয়টি আমাদের কাছে অদৃশ্যের (غيب) অন্তর্ভুক্ত এবং এর সাথে বড় কোনো উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট নয়। যদি কেউ এ বিষয়ে কোনো মতামত ব্যক্ত করে, তবে তা নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) ও প্রশান্তির স্তরে পৌঁছাবে না। তা সত্ত্বেও উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন; আমি সেখান থেকে একটি পছন্দ করছি এবং বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর সোপর্দ করছি।
এই অভিমতটি বাইহাকির এবং জিবরাঈল কর্তৃক মহান আল্লাহর নিকট থেকে ওহি গ্রহণের বর্ণনার ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত সর্বোত্তম অভিমত।
--------------------------------------------