(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة التفسير قبل عهد التدوين   (محمد عمر الحاجى)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: موسوعة التفسير قبل عهد التدوين

المؤلف: محمد عمر الحاجى

الناشر: دار المكتبى - دمشق

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 328

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 محرم 1433

সংকলন যুগের পূর্ববর্তী তাফসির বিশ্বকোষ   (মুহাম্মদ ওমর আল-হাজি)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن) এবং উসূলুত তাফসীর (أصول التفسير)


গ্রন্থ: সংকলন যুগের পূর্ববর্তী তাফসির বিশ্বকোষ

লেখক: মুহাম্মদ ওমর আল-হাজি

প্রকাশক: দারুল মাকতাবি - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌القسم الأول تفسير القرآن الكريم في العهد النّبويّ
প্রথম ভাগ: নবুওয়াতের যুগে কুরআনুল কারীমের তাফসির
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الباب الأول مع القرآن الكريم
প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআন প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تمهيد

الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأتمّ التسليم على المبعوث رحمة للعالمين، صلى الله عليه وسلم، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وصحابته الكرام أجمعين، ومن سار على هذا الدرب إلى يوم الدين، وبعد:

فقد أرسل الله رسوله بمهمة تفصيل وتبيان ما أجمل في القرآن الكريم، كما في قول الله تعالى: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (1).

وقوله تعالى: وَما أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (2).

وجاء في القرآن الكريم توجيهات دقيقة تبين مدى ارتباط القرآن الكريم بالسنّة النبوية، وذلك من خلال ربط طاعة الله بطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، كما في قوله تعالى: مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَما أَرْسَلْناكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً (3).

--------------------------------------------

(1) النحل: 44.

(2) النحل: 64.

(3) النساء: 80.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান সত্তার ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সম্মানিত সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এই পথে চলবেন তাদের সবার ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে" (১)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি আপনার ওপর এই কিতাব কেবল এ জন্যই নাযিল করেছি যেন আপনি তাদের জন্য সেই সব বিষয় স্পষ্ট করে দেন যেগুলোতে তারা মতভেদ করছে এবং এটি মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমতস্বরূপ" (২)।

পবিত্র কুরআনে এমন কিছু সূক্ষ্ম নির্দেশনা এসেছে যা সুন্নাহ (السنة)-এর সাথে কুরআনের গভীর সম্পর্কের স্বরূপ স্পষ্ট করে; আর তা হলো আল্লাহর আনুগত্যের সাথে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আন-নাহল: ৪৪।

(২) আন-নাহল: ৬৪।

(৩) আন-নিসা: ৮০।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وقوله: (وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ) (1).

لكن الطاعة لا تكون باللسان فحسب، إنما يتعدى ذلك إلى كل جزئيات حركة الإنسان، (فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً) (2).

وهكذا، فمن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم تتبّع ما تحدّث به عن القرآن، أي ما فسره الرسول من القرآن، ذلك لأن أفضل ما يفسّر القرآن القرآن ذاته، ثم ما يفسره رسول الله.

وهذا التفسير النبوي ليس إلا وحيا من الله، وكما قال العلماء:

القرآن وحي مجمل والسنة وحي مفصّل، ولا غنى لأحدهما عن الآخر:

وحي بتفصيل ووحي مجمل … تفسيره ذاك وحي ثان

وعلى هذا المنوال عاش الرعيل الأول من هذه الأمة مع القرآن وتفسير رسول الله لما أبهم وأجمل وأشكل منه، ولم يعرف عن أحد منهم تفسيره بالرأي، ولم يؤثر عن أحدهم أن له تفسيرا للقرآن الكريم.

ودار الزمن دورته، وإذا بين أيدي المسلمين طائفة كبيرة من كتب التفاسير، زاد بعضها عن عشرات المجلدات، ويتساءل العاقل: كيف حدث هذا التضخّم؟ وماذا حشيت هذه المجلدات؟!

صحيح أن بعضها- وهي القلة- يحوي زبدة الأحكام والقضايا المهمة، لكن الكثير منها يحوي الغث والسمين، ودخلت الإسرائيليات والموضوعات والبدع فيها، واختلط الحابل بالنابل، حتى ضاع الكلم الطيب في هذا الزحام.

--------------------------------------------

(1) النساء: 64.

(2) النساء: 65.
এবং মহান আল্লাহর বাণী: (আমি কোনো রাসূল পাঠাইনি কেবল আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করার জন্য) (১)।

কিন্তু আনুগত্য কেবল মৌখিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। (অতএব, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেবে। এরপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তারা তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ করবে না এবং তা পূর্ণাঙ্গরূপে মেনে নেবে) (২)।

আর এভাবেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা অনুসরণ করা; অর্থাৎ রাসূল কুরআনের যা ব্যাখ্যা করেছেন। কেননা কুরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো খোদ কুরআন, এরপর রাসূলুল্লাহ যা ব্যাখ্যা করেছেন তা।

আর এই নববী তাফসীর আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমনটি আলেমগণ বলেছেন:

কুরআন হলো সংক্ষিপ্ত (مجمل) ওহী এবং সুন্নাহ হলো বিস্তারিত (مفصل) ওহী। একটির জন্য অন্যটি অপরিহার্য:

একটি বিস্তারিত (تفصيل) ওহী এবং অন্যটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) ওহী … তাঁর সেই ব্যাখ্যা হলো দ্বিতীয় ওহী।

এই ধারাতেই এই উম্মতের প্রথম প্রজন্ম কুরআনের অস্পষ্ট (مبهم), সংক্ষিপ্ত (مجمل) এবং জটিল (مشكل) বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যার আলোকে জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাঁদের কারো পক্ষ থেকে নিজস্ব মত (رأي) দ্বারা তাফসীর করার কথা জানা যায় না এবং তাঁদের কারো থেকে পবিত্র কুরআনের কোনো নিজস্ব তাফসীর বর্ণিত হয়নি।

অতঃপর কালের বিবর্তনে বর্তমানে মুসলমানদের হাতে তাফসীর গ্রন্থসমূহের এক বিশাল ভাণ্ডার এসে পৌঁছেছে, যার কোনো কোনোটি দশ খণ্ডও ছাড়িয়ে গেছে। বিবেকবান মানুষ প্রশ্ন করেন: কীভাবে এই কলেবর বৃদ্ধি ঘটলো? আর এই খণ্ডগুলো কী দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছে?!

এটা সত্য যে, এগুলোর কিছু অংশে—যা সংখ্যায় খুবই কম—শরীয়তের বিধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর নির্যাস রয়েছে, কিন্তু এর অধিকাংশের মধ্যেই অসার ও সসার (الغث والسمين) সব কিছুই বিদ্যমান। এতে ইসরাঈলী বর্ণনা (إسرائيليات), জাল (موضوعات) এবং বিদআত (بدع) প্রবেশ করেছে এবং সত্য-মিথ্যার এমন সংমিশ্রণ ঘটেছে যে, এই ভিড়ে উত্তম কথাগুলো হারিয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ৬৪।

(২) আন-নিসা: ৬৫।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১১)
والطامة الكبرى أن الأمة ابتليت بمن تصدّى لتفسير الكتاب العزيز، وهو لا يرقى إلى فهم مقطوعة من النثر أو الشعر العربي، وفسروا القرآن بعيدا عن السنة، فكان ما كان، ورحم الله القائل:

تصدّر للتأليف كل مهوّس … جهول يسمى بالفقيه المدرّس

وحقّ لأهل العلم أن يتمثلوا … ببيت قديم شاع في كل مجلس

لقد هزلت حتى بدا من هزالها … كلاها وحتى استامها كل مفلس

لكن العودة إلى سنة رسول الله لنلتقط منها ما صحّ عن رسول الله في مجال تفسير كتاب الله هو الضابط لكل ما يدور في هذا الحقل، وكان هذا الكتاب المتواضع، سائلا الله القبول والعفو، إنه هو السميع المجيب.

***
আর মহা মুসিবত হলো এই যে, উম্মাহ এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে যারা মহাগ্রন্থের তাফসীর করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, অথচ তারা আরবী গদ্য বা পদ্যের সামান্য অংশ বোঝার যোগ্যতাও রাখে না। তারা সুন্নাহকে উপেক্ষা করে কুরআনের ব্যাখ্যা করেছে, ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আল্লাহ সেই প্রবক্তার প্রতি রহম করুন যিনি বলেছেন:

প্রত্যেক বিভ্রান্ত ব্যক্তিই গ্রন্থ রচনায় মত্ত হয়েছে … এক জাহেল ব্যক্তি যাকে ফকিহ ও শিক্ষক বলে অভিহিত করা হয়

আলেমদের জন্য এটিই সংগত যে তারা উদাহরণ হিসেবে পেশ করবেন … সেই প্রাচীন পঙক্তি যা প্রতিটি মজলিসে প্রচলিত

এটি (ইলম) এতটাই শীর্ণ হয়ে গেছে যে তার কৃশতার কারণে … তার বৃক্কগুলোও দৃশ্যমান হয়ে গেছে, এমনকি প্রত্যেক নিঃস্ব ব্যক্তিও তার দরদাম করছে

তবে আল্লাহর কিতাবের তাফসীরের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে সেখান থেকে যা রাসূলুল্লাহ থেকে সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তা গ্রহণ করাই হলো এই অঙ্গনের প্রতিটি বিষয়ের মানদণ্ড। আর এটিই হলো এই বিনম্র কিতাব; আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়ত ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

***
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول الفرق بين التفسير والتأويل

على الرغم من أن العرب الذين أنزل فيهم القرآن الكريم، كانوا على مستوى رفيع من التذوّق اللغوي، وذلك من خلال اهتمامهم بالشّعر والبلاغة ونحو ذلك، على الرغم من ذلك فإنما احتيج إلى شرح وتأويل للقرآن الكريم، قال الإمام السيوطي: (إن القرآن إنما نزل بلسان عربي في زمن أفصح العرب، وكانوا يعلمون ظواهره وأحكامه، أما دقائق معانيه، فإنما كان يظهر لهم بعد البحث والنظر، مع سؤالهم النبي صلى الله عليه وسلم في الأكثر، كسؤالهم لما نزل قوله: (وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمانَهُمْ بِظُلْمٍ) (1).

فقالوا: وأيّنا لم يظلم نفسه؟! ففسّره النبي صلى الله عليه وسلم، واستدلّ عليه بقوله: (إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ) (2).

وكسؤال عائشة رضي الله عنها عن الحساب اليسير، فقال: «ذلك العرض».

وكقصة عديّ بن حاتم في الخيط الأبيض والأسود وغير ذلك، مما سألوا عن آحاد منه، ونحن محتاجون إلى ما كانوا يحتاجون إليه،

--------------------------------------------

(1) الأنعام: 82.

(2) لقمان: 13.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যা (تفسير) ও বিশ্লেষণের (تأويل) মধ্যে পার্থক্য

যদিও সেই আরবদের মাঝে কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ হয়েছিল যারা কবিতা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং অনুরুপ বিষয়ে গভীর অনুরাগের কারণে ভাষাগত রুচিবোধের এক উচ্চতর পর্যায়ে অধিষ্ঠিত ছিল, তা সত্ত্বেও কুরআনুল কারিমের ব্যাখ্যা (شرح) ও বিশ্লেষণের (تأويل) প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। ইমাম সুয়ূতি বলেন: "কুরআন সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী আরবদের যুগে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা এর বাহ্যিক অর্থ ও বিধিবিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল। তবে এর অর্থসমূহের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো গভীর গবেষণা ও পর্যালোচনার পরেই কেবল তাদের নিকট স্পষ্ট হতো। এর পাশাপাশি তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতেন। যেমন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হওয়ার পর তাদের প্রশ্ন: 'এবং যারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি' (১)।

তারা বললেন: 'আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি জুলুম করেনি?!' তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যা (تفسير) করলেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে এর সপক্ষে দলিল (دليل) পেশ করলেন: 'নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম' (২)।

যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা 'সহজ হিসাব' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি তো কেবল (আমলনামা) পেশ করা মাত্র।"

যেমন সাদা সুতা ও কালো সুতা নিয়ে আদি ইবনে হাতিমের ঘটনা এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিষয়, যেগুলোর একক বিষয়গুলো (آحاد) সম্পর্কে তারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তারা যে বিষয়ের মুখাপেক্ষী ছিলেন, আমরাও ঠিক সেই বিষয়েরই মুখাপেক্ষী।

--------------------------------------------

(১) আল-আনআম: ৮২।

(২) লুকমান: ১৩।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وزيادة على ذلك مما لم يحتاجوا إليه من أحكام الظواهر، لقصورنا عن مدارك أحكام اللغة بغير تعلّم، فنحن أشدّ الناس احتياجا إلى التفسير، ومعلوم أن تفسير بعضه يكون من قبل بسط الألفاظ الوجيزة، وكشف معانيها، وبعضه من قبيل ترجيح بعض الاحتمالات على بعض) (1).

وهكذا فمسألة تفسير القرآن وتأويله شرف كبير يؤتيه الله من شاء من خلقه، دليل ذلك قوله تعالى: (يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْراً كَثِيراً) (2).

وفسّر الحكمة حبر الأمة عبد الله بن عباس رضي الله عنه بقوله:

المعرفة بالقرآن، ناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه، ومقدّمه ومؤخره، وحلاله وحرامه، وأمثاله.

ومن طريق آخر قال ابن عباس: يعني تفسير القرآن، فإنه قد قرأه البرّ والفاجر.

وزاد أبو الدرداء فقال: الحكمة هي: قراءة القرآن والفكرة فيه.

قال الأصبهاني: أشرف صناعة يتعاطاها الإنسان تفسير القرآن، بيان ذلك أن شرف الصناعة إمّا بشرف موضوعها مثل الصياغة، فإنها أشرف من الدباغة، لأن موضوع الصياغة الذهب والفضة، وهما أشرف من موضوع الدباغة الذي هو جلد الميتة، وإما بشرف غرضها، مثل صناعة الطب، فإنها أشرف من صناعة الكناسة، لأن غرض الطب إفادة الصحة، وغرض الكناسة تنظيف المستراح، وإما لشدّة الحاجة إليها كالفقه، فإن الحاجة إليه أشد من الحاجة إلى الطب، إذ ما من واقعة في الكون في أحد من الخلق إلا وهي مفتقرة إلى الفقه، لأن به انتظام

--------------------------------------------

(1) الإتقان في علوم القرآن: 4/ 170.

(2) البقرة: 269.
এ ছাড়াও এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা বাহ্যিক বিধানসমূহ (أحكام الظواهر) বোঝার ক্ষেত্রে তাদের (পূর্বসূরিদের) জন্য প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীত ভাষার বিধানসমূহ অনুধাবনে আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরাই তাফসিরের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী। এটি সুবিদিত যে, কোরআনের কিছু অংশের তাফসির হলো সংক্ষিপ্ত শব্দাবলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সেগুলোর গূঢ় অর্থ উন্মোচন করা, আর কিছু অংশের তাফসির হলো একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রাধান্য দান (ترجيح) করা। (১)

এভাবেই কোরআনের তাফসির ও এর ব্যাখ্যা প্রদান (تأويل) একটি বিরাট মর্যাদা, যা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা (حكمة) দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে মূলত প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়।” (২)।

উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘হিকমত’-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:

কোরআন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সুনিশ্চিত (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), অগ্রবর্তী (مقدم) ও অনুবর্তী (مؤخر), হালাল ও হারাম এবং এর উদাহরণসমূহ।

অন্য একটি সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অর্থাৎ কোরআনের তাফসির; কেননা পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ উভয়ই এটি পাঠ করে থাকে।

আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরও বাড়িয়ে বলেছেন: হিকমত হলো কোরআন পাঠ করা এবং তাতে চিন্তা-গবেষণা করা।

আসবাহানি বলেন: মানুষ যে সকল শাস্ত্র বা বিদ্যায় নিয়োজিত হয়, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কোরআনের তাফসির। এর কারণ হলো—কোনো বিদ্যার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে হয় তার আলোচ্য বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর; যেমন অলংকার শিল্প চর্ম শিল্পের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ অলংকার শিল্পের আলোচ্য বিষয় হলো সোনা ও রুপা, যা চর্ম শিল্পের আলোচ্য বিষয় মৃত পশুর চামড়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথবা শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় তার উদ্দেশ্যের মহত্ত্বের কারণে; যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো সুস্বাস্থ্য প্রদান করা, আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর উদ্দেশ্য হলো শৌচাগার পরিষ্কার করা। অথবা কোনো বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় তার প্রয়োজনীয়তার তীব্রতার নিরিখে; যেমন ফিকহ (فقه); কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের চেয়ে ফিকহের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। কেননা মহাবিশ্বের এমন কোনো ঘটনা বা এমন কোনো সৃষ্টি নেই যা ফিকহের মুখাপেক্ষী নয়, কারণ ফিকহের মাধ্যমেই শৃঙ্খলা বজায় থাকে—

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ফি উলুমিল কোরআন: ৪/ ১৭০।

(২) আল-বাকারা: ২৬৯।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
صلاح أحوال الدنيا والدين، بخلاف الطب، فإنه يحتاج إليه بعض الناس في بعض الأوقات.

وعلق الحافظ السيوطي على ذلك بقوله:

إذا عرف ذلك، فصناعة التفسير قد حازت الشرف من الجهات الثلاث، أما من جهة الموضوع، فلأن موضوعه كلام الله تعالى الذي هو ينبوع كل حكمة، ومعدن كل فضيلة، فيه نبأ ما قبلكم وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، لا يخلق على كثرة الردّ، ولا تنقضي عجائبه، وأما من جهة الغرض، فلأن الغرض منه هو الاعتصام بالعروة الوثقى والوصول إلى السعادة الحقيقة التي لا تفنى، وأما من جهة شدة الحاجة، فلأن كل كمال ديني أو دنيوي، عاجلي أو آجلي، مفتقر إلى العلوم الشرعية والمعارف الدينية، وهي متوقفة على العلم بكتابة الله تعالى (1).

واختلف العلماء في التفسير والتأويل، فمنهم من قال: إنها بمعنى واحد، ومنهم من قال: بل إنهما مختلفان في المعنى.

قال العلامة ابن منظور: (الفسر) البيان، فسر الشيء يفسر بالكسر ويفسره بالضم فسرا، وفسره: أبانه، والتفسير مثله.

ثم قال: الفسر: كشف المغطى، والتفسير: كشف المراد عن اللفظ المشكل (2).

وفي الاصطلاح: عرّفه العلامة الزركشي (ت: 794 هـ) بقوله: هو علم يفهم به كتاب الله المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وبيان معانيه، واستخراج أحكامه وحكمه (3).

--------------------------------------------

(1) للتوسّع يراجع: الإتقان في علوم القرآن: 4/ 173.

(2) لسان العرب: 6/ 361.

(3) البرهان في علوم القرآن: 2/ 287.
দুনিয়া ও দ্বীনের অবস্থা সংশোধন করা; যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিপরীত, কারণ কিছু মানুষের কোনো কোনো সময়ে এর প্রয়োজন পড়ে।

হাফিজ সুয়ূতী এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:

যদি তা জানা হয়ে থাকে, তবে তাফসির শাস্ত্র তিনটি দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। প্রথমত বিষয়ের দিক থেকে— কেননা এর আলোচ্য বিষয় মহান আল্লাহর কালাম, যা সকল প্রজ্ঞার উৎস এবং সকল শ্রেষ্ঠত্বের আকর। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদের ফয়সালা। অধিক চর্চাতেও যা পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না। দ্বিতীয়ত উদ্দেশ্যের দিক থেকে— কারণ এর উদ্দেশ্য হলো সুদৃঢ় রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা এবং এমন অবিনশ্বর প্রকৃত সুখ লাভ করা যা কখনো ফুরিয়ে যায় না। তৃতীয়ত প্রয়োজনের তীব্রতার দিক থেকে— কারণ দ্বীনি বা দুনিয়াবি, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সকল পূর্ণতা শরয়ি জ্ঞান ও ধর্মীয় প্রজ্ঞার মুখাপেক্ষী, আর এগুলো মহান আল্লাহর কিতাব সংক্রান্ত ইলমের ওপর নির্ভরশীল (১)।

তাফসির ও তাবিলের বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি একই অর্থবোধক। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং এ দুটি অর্থের দিক থেকে ভিন্ন।

আল্লামা ইবনে মানজুর বলেন: (আল-ফাসর) অর্থ হলো বর্ণনা করা। ‘ফাসারা আশ-শাইয়া’ এর সিন বর্ণে কাসরা বা দম্মা দিয়ে ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো— সে বিষয়টি স্পষ্ট করল। ‘তাফসির’ শব্দটিও একই অর্থ বহন করে।

এরপর তিনি বলেন: ফাসর হলো আবৃত বিষয় উন্মোচন করা, আর তাফসির হলো জটিল শব্দের (اللفظ المشكل) উদ্দিষ্ট অর্থ উন্মোচন করা (২)।

আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় আল্লামা যারকাশী (ওফাত: ৭৯৪ হিজরি) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিলকৃত আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা যায়, এর মর্মার্থ বর্ণনা করা যায় এবং এর বিধি-বিধান ও হিকমতসমূহ আহরণ করা যায় (৩)।

--------------------------------------------

(১) বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন: আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন: ৪/১৭৩।

(২) লিসানুল আরব: ৬/৩৬১।

(৩) আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন: ২/২৮৭।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعرفه بعضهم بأنه: علم نزول الآيات، وشئونها، وأقاصيصها، والأسباب النازلة فيها، ثم ترتيب مكيها ومدنيها، ومحكمها ومتشابهها، وناسخها ومنسوخها، وخاصها وعامها، ومطلقها ومقيدها، ومجملها ومفسّرها، وحلالها وحرامها، ووعدها ووعيدها، وأمرها ونهيها، وعبرها وأمثالها (1).

وأما التأويل فعرّفه ابن منظور بقوله: الأول: الرجوع، آل الشيء يؤول أولا ومآلا: رجع، وأول الشيء: رجعه، وألت عن الشيء:

ارتددت، وفي الحديث الشريف: «من صام الدهر فلا صام ولا آل» أي ولا رجع إلى خير .... ثم قال: وأوّل الكلام وتأوّله: دبره وقدره، وأوله: فسّره (2).

أما عن الفرق بين التفسير والتأويل: ففي ذلك اختلاف وجهات نظر:

قال بعضهم: التفسير ما يتعلق بالرواية، والتأويل ما يتعلق بالدراية (3).

وقال الراغب الأصفهاني: التفسير أعمّ من التأويل، وأكثر ما يستعمل التفسير في الألفاظ، والتأويل في المعاني، كتأويل الرؤيا.

والتأويل يستعمل أكثره في الكتب الإلهية، والتفسير يستعمل فيها وفي غيرها، والتفسير أكثره يستعمل في مفردات الألفاظ، والتأويل أكثره يستعمل في الجمل.

فالتفسير إما أن يستعمل في غريب الألفاظ كالبحيرة والسائبة

--------------------------------------------

(1) الإتقان في علوم القرآن: 2/ 174.

(2) لسان العرب: 13/ 34.

(3) الإتقان: 2/ 173.
এবং কেউ কেউ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: এটি আয়াতসমূহ নাযিলের প্রেক্ষাপট, তাদের অবস্থা, কাহিনীসমূহ এবং যে কারণে তা অবতীর্ণ হয়েছে সেই সম্পর্কিত জ্ঞান; এরপর সেগুলোর মক্কী (مكي) ও মাদানী (مدني) ক্রমবিন্যাস, সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), শর্তহীন (مطلق) ও শর্তযুক্ত (مقيد), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও ব্যাখ্যায়িত (مفسّر), বৈধ (حلال) ও নিষিদ্ধ (حرام), সুসংবাদ ও সতর্কবাণী, আদেশ ও নিষেধ এবং শিক্ষা ও উপমাসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান (১)।

আর তাবিল (تأويل) সম্পর্কে ইবনে মঞ্জুর তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংজ্ঞা দিয়েছেন: প্রথমত এটি ‘আল-আউয়াল’ (الأول) শব্দ হতে নির্গত যার অর্থ: প্রত্যাবর্তন (الرجوع); কোনো কিছু ফিরে আসার ক্ষেত্রে ‘আলা’, ‘ইয়াউলু’, ‘আওলান’ এবং ‘মাআলান’ ক্রিয়াগুলো ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ: সে ফিরে এসেছে (رجع), আর ‘আওওয়ালাশ শাইআ’ অর্থ: সে বস্তুটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে, এবং ‘আলতু আনিল শাইই’ অর্থ:

আমি ফিরে এসেছি বা পিছু হটেছি। হাদীস শরীফে এসেছে: “যে ব্যক্তি চিরকাল রোজা রাখল সে রোজা রাখল না এবং ফিরেও এল না (ولا آل)” অর্থাৎ কোনো কল্যাণের দিকে ফিরে এল না... এরপর তিনি বলেন: কথা অনুধাবন করা ও তার তাবিল (تأويل) করা হলো: সেটির পরিণাম নিয়ে চিন্তা করা ও তা নির্ধারণ করা, আর ‘আওওয়ালাহু’ এর অর্থ করেছেন: তিনি তা ব্যাখ্যা করেছেন (২)।

তাফসীর ও তাবিলের (تأويل) মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাফসীর হলো যা বর্ণনার (رواية) সাথে সম্পর্কিত, আর তাবিল (تأويل) হলো যা বিশ্লেষণের (دراية) সাথে সম্পর্কিত (৩)।

রাগেব আল-ইসফাহানী বলেছেন: তাফসীর শব্দটি তাবিল (تأويل) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাফসীর শব্দমালার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং তাবিল (تأويل) অর্থের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন স্বপ্নের তাবিল (تأويل)।

আর তাবিল (تأويل) অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঐশী গ্রন্থসমূহের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর তাফসীর ঐশী গ্রন্থ এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তাফসীর অধিকাংশ ক্ষেত্রে একক শব্দের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং তাবিল (تأويل) অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাক্যের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং তাফসীর হয় বিরল (غريب) শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে যেমন ‘বাহীরাহ’ ও ‘সায়েবাহ’ (জাহেলী যুগের পশুর নাম)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন: ২/১৭৪।

(২) লিসানুল আরব: ১৩/৩৪।

(৩) আল-ইতকান: ২/১৭৩।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
والوصيلة، أو في تبيين المراد وشرحه، كقوله تعالى: (وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ) (1).

وإما في كلام مضمن بقصة لا يمكن تصوره إلا بمعرفتها، نحو قوله تعالى: (إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيادَةٌ فِي الْكُفْرِ) (2) وقوله تعالى: (وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِها) (3).

وأما التأويل: فإنه يستعمل مرة عاما، ومرة خاصا، نحو الكفر المستعمل تارة في الجحود المطلق، وتارة في جحود الباري خاصة.

والإيمان المستعمل في التصديق المطلق تارة، وفي تصديق دين الحق تارة، وإما لفظ مشترك بين معان مختلفة، نحو لفظ وجد، المستعمل في الجدة والوجد والوجود (4).

وقال الماتريدي:

التفسير القطع على أن المراد من اللفظ هذا، والشهادة على الله أنه عنى باللفظ هذا، فإن قام دليل مقطوع به فصحيح، وإلا فتفسير بالرأي وهو المنهي عنه، والتأويل: ترجيح أحد المحتملات بدون القطع والشهادة على الله (5).

وعلّل الزركشي سبب الاختلاف فقال: وكان السبب في اصطلاح كثير على التفرقة بين التفسير والتأويل التمييز بين المنقول والمستنبط، ليحيل على الاعتماد في المنقول، وعلى النظر في المستنبط (6).

…

--------------------------------------------

(1) البقرة: 43.

(2) التوبة: 37.

(3) البقرة: 189.

(4) مفردات ألفاظ القرآن: 402.

(5) للتوسع يراجع: الإتقان 2/ 173.

(6) البرهان للزركشي: 2/ 291.
এবং ওসীলা, অথবা উদ্দেশ্য বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো) (১)।

অথবা এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে যা কোনো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা সেই ঘটনা জানা ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই নাসী [মাস পিছিয়ে দেওয়া] কুফরিতে আধিক্য মাত্র) (২) এবং আল্লাহর বাণী: (আর পেছন দিক দিয়ে তোমাদের ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই) (৩)।

আর তাবিল (تأويل): এটি কখনো সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বিশেষ অর্থে। যেমন 'কুফর' শব্দটি কখনো নিরঙ্কুশ অস্বীকার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বিশেষভাবে স্রষ্টাকে অস্বীকার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর ঈমান শব্দটিও কখনো নিরঙ্কুশ স্বীকৃতির অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো সত্য দ্বীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথবা এমন শব্দ যা বিভিন্ন অর্থের মধ্যে সাধারণ (مشترك), যেমন 'ওয়াজাদা' (وجد) শব্দ; যা প্রাপ্তি, আবেগ এবং অস্তিত্ব—এই সকল অর্থে ব্যবহৃত হয় (৪)।

আল-মাতুরিদি বলেন:

তাফসির (تفسير) হলো এই মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা যে, শব্দটির দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেওয়া যে তিনি এই শব্দের দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন। যদি এর সপক্ষে কোনো অকাট্য (مقطوع به) দলিল থাকে তবে তা সঠিক (صحيح), অন্যথায় তা নিজস্ব রায় বা অভিমতের ভিত্তিতে তাফসির হিসেবে গণ্য হবে যা নিষিদ্ধ। আর তাবিল (تأويل) হলো কোনো অকাট্য সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর নামে সাক্ষ্য প্রদান ব্যতিরেকেই একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া (৫)।

আয-যারকাশি এই পার্থক্যের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: অধিকাংশের পরিভাষায় তাফসির ও তাবিলের মধ্যে পার্থক্য করার মূল কারণ হলো বর্ণিত (المنقول) এবং উদ্ভাবিত (المستنبط) বিষয়ের মধ্যে ব্যবধান করা; যাতে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরতা বর্ণনার ওপর এবং উদ্ভাবিত বিষয়ের ক্ষেত্রে গবেষণার ওপর ন্যস্ত করা যায় (৬)।

…

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা: ৪৩।

(২) আত-তাওবা: ৩৭।

(৩) আল-বাকারা: ১৮৯।

(৪) মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন: ৪০২।

(৫) বিস্তারিত জানতে দেখুন: আল-ইতকান ২/ ১৭৩।

(৬) আয-যারকাশি রচিত আল-বুরহান: ২/ ২৯১।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني لماذا العودة إلى العهد الأول؟

في القاعة الأولى من مكتبة الأسد بدمشق، وفي قسم التفسير، يوجد كمية كبيرة من كتب التفسير، منها القديم ومنها الحديث، وفي كل عام تطالعنا المطابع بشيء جديد يتعلّق بأمور التفسير.

ولو استعرضنا بعضا من هذه التفاسير، لرأينا أمرا عجبا!! فبعض هذه التفاسير تكلّمت عن كل شيء، جامعة أمورا كثيرة، لكن كما قال أحد العلماء: فيها كل شيء إلا تفسير القرآن الكريم!!

لكن وقبل الدخول في الحديث التفصيلي عن الأمور التي حشي بها التفسير، نذكر بعض الموجود من التفاسير:

تفسير الإمام الطبري، المسمى جامع البيان في تأويل القرآن، وهو مطبوع (12 مجلدا)، وإرشادات العقل السليم إلى مزايا الكتاب الكريم للعلامة أبي السعود: (5 مجلدات)، وتفسير غرائب القرآن ورغائب الفرقان للعلامة نظام الدين النيسابوري: (6 مجلدات)، والتفسير الكبير مفاتيح الغيب، للإمام الرازي: (34 مجلدا)، والتفسير الفريد للقرآن المجيد، لمحمد عبد المنعم الجمال: (16 مجلدا)، ومحاسن التأويل، للعلامة محمد جمال الدين القاسمي: (17 مجلدا)، وتفسير القرآن العظيم، للعلامة عماد الدين بن كثير: (7 مجلدات)، وتفسير القرآن وإعرابه وبيانه، لمحمد علي طه الدرة: (16 مجلدا)، الجامع لأحكام القرآن، للعلامة محمد أحمد الأنصاري القرطبي:
দ্বিতীয় অধ্যায়: কেন প্রথম যুগে প্রত্যাবর্তন?

দামেস্কের আসাদ লাইব্রেরির প্রথম হলে তাফসির বিভাগে প্রচুর পরিমাণ তাফসির গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু প্রাচীন এবং কিছু আধুনিক। প্রতি বছরই ছাপাখানাগুলো থেকে তাফসির সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন বিষয় আমাদের সামনে উপস্থিত হয়।

আমরা যদি এই তাফসিরগুলোর কিছু অংশ পর্যালোচনা করি, তবে এক বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পাব!! এই তাফসিরগুলোর কোনটি কোনটি সব বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কিন্তু জনৈক আলেম যেমনটি বলেছেন: "এতে পবিত্র কুরআনের তাফসির ব্যতীত সবকিছুই রয়েছে!!"

তবে তাফসিরে যেসব বিষয় ঠাসা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে, আমরা বিদ্যমান কিছু তাফসিরের নাম উল্লেখ করছি:

ইমাম তাবারির তাফসির, যার নাম জামেউল বায়ান ফি তাউয়িলিল কুরআন, এটি মুদ্রিত (১২ খণ্ড); আল্লামা আবুস সুউদের ইরশাদুল আকলিস সালিম ইলা মাযায়াল কিতাবিল কারিম (৫ খণ্ড); আল্লামা নিযামুদ্দিন নিশাপুরির তাফসিরু গারাইবুল কুরআন ওয়া রাগাইবুল ফুরকান (৬ খণ্ড); ইমাম রাযির তাফসিরুল কাবির মাফাতিহুল গাইব (৩৪ খণ্ড); মুহাম্মদ আবদুন মুনইম আল-জামালের আত-তাফসিরুল ফারিদ লিল কুরআনিল মাজিদ (১৬ খণ্ড); আল্লামা মুহাম্মদ জামালুদ্দিন কাসিমির মাহাসিনুত তাউয়িল (১৭ খণ্ড); আল্লামা ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসিরের তাফসিরুল কুরআনিল আজিম (৭ খণ্ড); মুহাম্মদ আলী ত্বহা আল-দুররার তাফসিরুল কুরআন ওয়া ই’রাবুহু ওয়া বায়ানুহু (১৬ খণ্ড); এবং আল্লামা মুহাম্মদ আহমদ আনসারি কুরতুবির আল-জামে লি আহকামিল কুরআন:
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২০)
(10 مجلدات)، والتفسير المنير في العقيدة والشريعة والمنهج للدكتور وهبة الزحيلي، (17 مجلدا)، ومدارك التنزيل وحقائق التأويل، للعلامة عبد الله النسفي، (4 مجلدات)، وتفسير البحر المحيط، للعلامة أبي حيان الأندلسي: (9 مجلدات)، ومعالم التنزيل، للعلامة أبي محمد الحسين الفراء البغوي: (4 مجلدات)، والتفسير الحديث، لمحمد عزة دروزة، (12 مجلدا)، الدر المنثور في التفسير المأثور، للحافظ السيوطي: (8 مجلدات)، زاد المسير في علم التفسير، للعلامة ابن الجوزي: (8 مجلدات)، المحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز، لابن عطية الأندلسي: (14 مجلدا)، روح المعاني في تفسير القرآن العظيم والسبع المثاني، للعلامة الآلوسي: (17 مجلدا)، مجمع البيان في تفسير القرآن، للعلامة الطبرسي: (10 مجلدات)، فتح القدير الجامع بين فني الرواية والدراية من علم التفسير، للإمام الشوكاني (6 مجلدات)، التبيان في تفسير القرآن، لأبي جعفر الطوسي: (10 مجلدات)، أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن، للعلامة الشنقيطي: (9 مجلدات)، تفسير التحرير والتنوير، للعلامة محمد الطاهر عاشور: (15 مجلدا)، الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل وعيون الأقاويل، للعلامة الزمخشري (6 مجلدات)، إضافة إلى تفسيرات كثيرة، وخاصة التي تتحدث عن موضوع ما، أو سورة ما، أو زاوية فقهية ما.!!

إذا: لماذا العودة إلى التفسير في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وعهد صحابته والتابعين، بعد ما رأينا هذا الكمّ الهائل من كتب التفسير في هذه الأيام؟!

وفي الجواب نقول بحول الله وقوته:

إن في كتب التفاسير بدعا وموضوعات وإسرائيليات ما أنزل الله بها من سلطان، ولا يحتجّ بها واحد من أنصاف المتعلمين، على أن هذه
(১০ খণ্ড), এবং ড. ওয়াহবাহ আয-যুহাইলী রচিত ‘আত-তাফসিরুল মুনির ফিল আকিদাহ ওয়াশ শারিয়াহ ওয়াল মানহাজ’ (১৭ খণ্ড), আল্লামাহ আব্দুল্লাহ আন-নাসাফী রচিত ‘মাদারিকুত তানজিল ওয়া হাকায়িকুত তাবিল’ (৪ খণ্ড), আল্লামাহ আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী রচিত ‘তাফসিরুল বাহরুল মুহিত’ (৯ খণ্ড), আল্লামাহ আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন আল-ফাররা আল-বাগাওয়ী রচিত ‘মাআলিমুত তানজিল’ (৪ খণ্ড), মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াজাহ রচিত ‘আত-তাফসিরুল হাদিস’ (১২ খণ্ড), হাফিজ আস-সুয়ূতী রচিত ‘আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরিল মাসুর’ (৮ খণ্ড), আল্লামাহ ইবনুল জাওযী রচিত ‘জাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির’ (৮ খণ্ড), ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসী রচিত ‘আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ফি তাফসিরিল কিতাবিল আজিজ’ (১৪ খণ্ড), আল্লামাহ আল-আলুসী রচিত ‘রুহুল মাআনি ফি তাফসিরিল কুরআনিল আজিম ওয়াস সাবইল মাছানি’ (১৭ খণ্ড), আল্লামাহ আত-তাবারসী রচিত ‘মাজমাউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন’ (১০ খণ্ড), ইমাম আশ-শাওকানী রচিত ‘ফাতহুল কাদির আল-জামি বাইনা ফান্নাইর রিওয়ায়াহ ওয়াদ দিরায়াহ মিন ইলমিত তাফসির’ (৬ খণ্ড), আবু জাফর আত-তূসী রচিত ‘আত-তিবিয়ান ফি তাফসিরিল কুরআন’ (১০ খণ্ড), আল্লামাহ আশ-শিনকীতি রচিত ‘আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন’ (৯ খণ্ড), আল্লামাহ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর রচিত ‘তাফসিরুত তাহরির ওয়াত তানভির’ (১৫ খণ্ড), আল্লামাহ আয-যামাখশারী রচিত ‘আল-কাশশাফ আন হাকায়িকি গাওয়ামিদিত তানজিল ওয়া উয়ুনিল আকাবিল’ (৬ খণ্ড), এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক তাফসির গ্রন্থ, বিশেষ করে যেগুলি কোনো বিশেষ বিষয়, সূরা বা ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রচিত।!!

সুতরাং প্রশ্ন হলো: বর্তমান সময়ে তাফসিরের এত বিশাল ভাণ্ডার দেখার পরেও কেন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবেঈদের যুগের তাফসিরের দিকে ফিরে যাব?

এর উত্তরে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে আমরা বলছি:

নিশ্চয়ই তাফসিরের কিতাবসমূহে এমন কিছু নব উদ্ভাবিত বিষয় (بدع), জাল (موضوعات) বর্ণনা এবং ইসরাঈলি বর্ণনা (إسرائيليات) প্রবেশ করেছে যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি। এমনকি সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিও এগুলি দ্বারা দলিল পেশ করেন না, তদুপরি এই...
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২১)
ليست إلا روايات مبثوثة في كتب التاريخ والتفسير لا تقدّم ولا تؤخر.

ذلك لأن الواقع قد أثبت بما لا شك فيه أبدا أن لهذه الموضوعات والبدع والإسرائيليات آثارا مدمرة فتاكة، بحيث كان لها الدور الكبير في تمزيق المجتمع المسلم إلى أحزاب وفرق وشيع، من حيث الجدل العقيم الذي دار بين المسلمين حول الجبر والقدر والاختيار والحاكمية ونحو ذلك، وما قضية خلق القرآن عن الباحثين ببعيد!!

إضافة إلى تشويش الحركة الثقافية الإسلامية، بحيث أوردها أناس كبار علماء في كتبهم وتفسيراتهم، واحتجّوا بها في محاضراتهم وعلى المنابر وفي مسائل الوعظ، فتلقّفها الناس وخاصة العوام، على أساس أنها من المسلّمات التي لا غبار عليها، وهي في واقع الحال كذب وبدع!!

وكان نتيجة ذلك تراكمات في كتب التفسير، واضطر علماء التفسير إلى نقل بعضها، أو الردّ على بعضها، أو التبرير لبعضها، مما أبعد كتب التفسير عمّا أوجدت من أجله، فأصبح بعضها- كما قيل- يحوي كل العلوم عدا تفسير القرآن الكريم!!

وهكذا فتح باب الدسّ على مصراعيه، لينقضّ المستشرقون والحاقدون على هذا الدين؛ رافعين ألوية التشكيك وزعزعة الثقة بأمثال هذه الكتب، فراحوا يشوهون حقائق الدين مستدلين بأقوال بعض هؤلاء المفسرين- سامحهم الله-.

ثم تلقّف هذه القضية بعض جهلة المسلمين- والذين لا يميّزون بين الغثّ والسمين- فسلّطوا الأضواء الكاشفة على بعض هذه البدع ليستخفّوا من خلالها بما جاء به الإسلام، وليقولوا للناس: إن هذا الدين يخالف المنطق والعقل والعلم!!

أجل: فقد كان لهذه البدع والإسرائيليات والموضوعات أثر عظيم
এগুলো ইতিহাস ও তাফসিরের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে থাকা কিছু বর্ণনা (روايات) মাত্র, যা কোনো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না।

কারণ বাস্তবতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, এই বানোয়াট (موضوعات), নবউদ্ভাবিত (بدع) এবং ইসরাঈলি (إسرائيليات) বর্ণনাগুলোর ধ্বংসাত্মক ও মারাত্মক প্রভাব রয়েছে। এগুলো মুসলিম সমাজকে বিভিন্ন দল, উপদল ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে জবর (অদৃষ্টবাদ), কদর (ভাগ্য), ইখতিয়ার (ইচ্ছাশক্তি) ও হাকিমিয়্যাহ ইত্যাদি বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে যে নিষ্ফল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা এরই ফল। আর 'কুরআন সৃষ্টি' সংক্রান্ত বিষয়টি তো গবেষকদের নিকট অজানা নয়!!

এর পাশাপাশি এগুলো ইসলামি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বড় বড় আলেমগণ তাদের কিতাব ও তাফসিরগুলোতে এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তাদের আলোচনা, মিম্বর ও নসিহতে এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষ এগুলোকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, অথচ বাস্তবে এগুলো ছিল মিথ্যা (كذب) এবং নবউদ্ভাবিত বিষয় (بدع)!!

এর ফলে তাফসিরের কিতাবসমূহে তথ্যের বিশাল স্তূপ জমা হয়েছে। মুফাসসিরগণ এগুলোর কিছু উদ্ধৃত করতে, কিছু খণ্ডন করতে অথবা কিছুর পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে তাফসিরের কিতাবগুলো যে উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল, তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু কিতাব সম্পর্কে বলা হয়েছে—এতে পবিত্র কুরআনের তাফসির ছাড়া আর সব ধরনের ইলমই বিদ্যমান!!

এভাবেই অনুপ্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়, যার সুযোগ নিয়ে প্রাচ্যবিদ ও বিদ্বেষীরা এই দ্বীনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা এই সব কিতাবের ওপর সংশয় ও অনাস্থা সৃষ্টির ঝাণ্ডা উত্তোলন করে ধর্মের প্রকৃত সত্যগুলোকে বিকৃত করতে শুরু করে এবং এক্ষেত্রে তারা এই সব মুফাসসিরদের—আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন—বক্তব্যকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করে।

অতঃপর কিছু অজ্ঞ মুসলিম—যারা ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না—বিষয়টি লুফে নেয়। তারা এই সব নবউদ্ভাবিত বিষয়ের (بدع) ওপর আলোকপাত করে ইসলামি শিক্ষার অবমাননা করতে চায় এবং মানুষকে বলতে থাকে: এই দ্বীন যুক্তি, বুদ্ধি ও বিজ্ঞানের পরিপন্থী!!

হ্যাঁ, এই নবউদ্ভাবিত (بدع), ইসরাঈলি (إسرائيليات) এবং বানোয়াট (موضوعات) বিষয়গুলোর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২২)
في تأخّر المسلمين وتخلفهم، وذلك من خلال انشغال كثير من علمائهم بالرد على هذا الهراء، وتبيان الحقيقة الساطعة من خلال الرجوع إلى علوم مضبوطة: كالجرح والتعديل، وروايات التاريخ، وتبيان الصحيح من الموضوع في كتب الأحاديث النبوية، ونحو ذلك.

من هنا نقول:

ما هي الفائدة المرجوة من هذه النقولات الكبيرة والكثيرة، وهي محض افتراء وكذب؟ ولماذا شغل أولئك المفسرون أنفسهم بأمثال هذه الإسرائيليات والبدع في التفاسير والموضوعات، ثم شغلوا من بعدهم بها أيضا؟!

ورحم الله المفسر الكبير أبا حيان الأندلسي الغرناطي (ت:

754 هـ) عند ما قال عن كتب التفاسير:

وكذلك ذكروا ما لا يصحّ من أسباب النزول، وأحاديث في الفضائل، وحكايات لا تناسب، وتواريخ إسرائيلية، ولا ينبغي ذكر هذا في علم التفسير (1).

ثم ما هي الفائدة من ذكر طائفة كبيرة من الروايات- كما في تفسير الطبري- قد يكون بعضها غير صحيح، على الرغم من أنه رحمه الله تعالى ذكر أسانيد الروايات؟!

ما دام أنه لم يبين المجروح من رجال السند ولا المعدّل منهم، فكيف- ونحن في عصر قلّت فيه الخبرة لدى الناس في أمثال هذه العلوم- يتعرّف القارئ في تفسير الطبري على الرواية السقيمة من الرواية الصحيحة؟!

ألا يكفي لمستشرق أو حاقد أو جاهل أن يقول أمرا غير صحيح؟! ألا يكفيه أن يسند رأيه بتفسير جليل لإمام كبير هو تفسير الطبري؟!

--------------------------------------------

(1) البحر المحيط في التفسير: 1/ 5.
মুসলমানদের অনগ্রসরতা ও পশ্চাদপদতার ক্ষেত্রে এটি একটি কারণ, কেননা অনেক আলেমই এই নিরর্থক বিষয়গুলোর খণ্ডন এবং সুশৃঙ্খল শাস্ত্রসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে উজ্জ্বল সত্য উন্মোচন করতে ব্যস্ত ছিলেন: যেমন জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র, ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং হাদিস গ্রন্থসমূহে সহিহ (صحيح) বর্ণনা থেকে জাল (موضوع) বর্ণনাকে পৃথক করা ইত্যাদি।

এখান থেকেই আমরা বলি:

এই সুবিশাল ও অজস্র উদ্ধৃতির কাঙ্ক্ষিত সুফল কী, যেখানে এগুলো স্রেফ অপবাদ ও মিথ্যাচার? কেন সেই মুফাসসিরগণ তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে এই ধরণের ইসরাইলি বর্ণনা, বিদআত এবং জাল (موضوعات) বর্ণনায় নিজেদের ব্যাপৃত রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে অন্যদেরও তাতে নিমগ্ন করেছিলেন?!

প্রখ্যাত মুফাসসির আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি আল-গারনাতি (মৃত্যু: ৭৫৪ হিজরি) মহান আল্লাহর রহমত লাভ করুন, যখন তিনি তাফসিরের গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে বলেছিলেন:

অনুরূপভাবে তারা শানে নুযুলের এমন সব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা সহিহ নয় (لا يصحّ), ফজিলত বিষয়ক হাদিসসমূহ, অনুপযুক্ত কিচ্ছা-কাহিনী এবং ইসরাইলি ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। অথচ তাফসির শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এসব উল্লেখ করা মোটেও সমীচীন নয় (১)।

অতঃপর বিপুল সংখ্যক বর্ণনা উল্লেখ করার উপযোগিতা কী—যেমনটি তাফসির আল-তাবারিতে রয়েছে—যেগুলোর কিছু অংশ হয়তো সহিহ (صحيح) নয়, যদিও তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বর্ণনাসমূহের সনদ উল্লেখ করেছেন?!

যতক্ষণ না তিনি সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে ত্রুটিযুক্ত (مجروح) বা নির্ভরযোগ্য (معدّل) ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট করছেন, ততক্ষণ—বিশেষ করে আমরা এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে এই সকল শাস্ত্রে মানুষের পারদর্শিতা কমে গেছে—একজন পাঠক তাফসির আল-তাবারিতে ত্রুটিপূর্ণ (سقيمة) বর্ণনা থেকে সহিহ (صحيحة) বর্ণনাকে কীভাবে শনাক্ত করবেন?!

একজন প্রাচ্যবিদ, বিদ্বেষী বা মূর্খ ব্যক্তির পক্ষে কোনো একটি অসত্য কথা বলাই কি যথেষ্ট নয়? তার নিজস্ব মতকে ইমাম তাবারির মতো একজন মহান ইমামের মর্যাদাপূর্ণ তাফসিরের সাথে সংশ্লিষ্ট করাই কি তার জন্য যথেষ্ট হবে না?!

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুল মুহিত ফিত তাফসির: ১/ ৫।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
أليس في كتب التراث مرويات صحيحة وحسنة تغني عن أمثال هذه البدع والإسرائيليات؟

ورحم الله الحافظ ابن كثير عند ما قال:

وفي القرآن غنية عن كل ما عداه من الأخبار المتقدمة، لأنها لا تكاد تخلو من تبديل وزيادة ونقصان، وقد وضع فيها أشياء كثيرة، وليس لهم من الحفاظ المتقنين الذي ينفون عنها تحريف الضالين، وانتحال المبطلين كما لهذه الأمة من الأئمة والعلماء والسادة والأتقياء والبررة والنجباء من الجهابذة النقاد، والحفاظ الجياد الذين دوّنوا الحديث وحرروه، وبينوا صحيحه من حسنه من ضعيفه، من منكره، وموضوعه ومتروكه ومكذوبه، وعرفوا الوضّاعين والكذابين والمجهولين، وغير ذلك من أصناف الرجال، كل ذلك صيانة للجناب النبوي والمقام المحمدي، خاتم الرسل سيد البشر صلى الله عليه وسلم، أن ينسب إليه كذب، أو يحدّث عنه بما ليس منه، فرضي الله عنهم وأرضاهم، وجعل جنات الفردوس مأواهم (1).

وإتماما للفائدة، وتنبيها لبعض ما وقع فيه علماء التفسير، سواء كان ذلك عن عمد أو غيره، أسوق بعض الإسرائيليات والموضوعات والبدع، ناقلا إياها من كتب التفسير المطبوعة، راجيا الله تعالى أن يسامح كل من نقل الإسرائيليات والبدع، ولا يتسع المجال لسرد تلكم القصص والخرافات، لذلك سأشير إلى بعض الأماكن التي وردت فيها، وسأنقل بعضها:

 

‌‌1 - قصة مكذوبة عن النبي صلى الله عليه وسلم،

وهي حتما من الإسرائيليات التي أوردها الحافظ السيوطي في تفسيره (الدر المنثور): 1/ 97 - 103.

--------------------------------------------

(1) عمدة التفسير عن الحافظ ابن كثير: اختصار وتحقيق أحمد شاكر، ط 1956 دار المعارف: 1/ 16 - 17.
ঐতিহ্যবাহী (তুরাস) গ্রন্থসমূহে কি এমন সহিহ (صحيحة) ও হাসান (حسنة) বর্ণনা নেই যা এই ধরণের বিদআত ও ইসরাঈলি বর্ণনার প্রয়োজনীয়তাকে দূর করে দেয়?

আল্লাহ হাফিজ ইবনে কাসিরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যখন তিনি বলেছিলেন:

পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী সংবাদসমূহের এমন সব বর্ণনা রয়েছে যা অন্য সব কিছুর অভাব পূরণ করে দেয়। কারণ পূর্ববর্তী সংবাদসমূহ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন থেকে প্রায় কখনই মুক্ত নয়। সেখানে অনেক বিষয় জাল (وضع) করা হয়েছে। আর তাদের (পূর্ববর্তী উম্মতদের) মধ্যে এমন সুনিপুণ হাফিজ নেই যারা পথভ্রষ্টদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারকে প্রতিহত করবে, যেমনটি এই উম্মতের ইমাম, আলিম, মহৎ ব্যক্তিবর্গ, মুত্তাকি, পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ঐ সকল দক্ষ সমালোচক (جهابذة النقاد) এবং শ্রেষ্ঠ হাফিজগণ রয়েছেন যারা হাদিস সংকলন ও যাচাই-বাছাই করেছেন। তারা হাদিসের সহিহ (صحيح), হাসান (حسن), দুর্বল (ضعيف), অস্বীকৃত (منكر), জাল (موضوع), পরিত্যক্ত (متروك) এবং মিথ্যা (مكذوب) বর্ণনাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন। তারা জালকারী (وضاعين), মিথ্যাবাদী (كذابين) এবং অজ্ঞাত (مجهولين) বর্ণনাকারীসহ অন্যান্য স্তরের বর্ণনাকারীদের শনাক্ত করেছেন। এই সবকিছুই নবুওয়াতের মর্যাদা এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ও শেষ রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান রক্ষার খাতিরে করা হয়েছে, যাতে তাঁর প্রতি কোনো মিথ্যা আরোপ করা না হয় অথবা এমন কিছু তাঁর থেকে বর্ণনা করা না হয় যা তাঁর নয়। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন (১)।

আলোচনার পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা এবং তাফসিরবিদগণ যে বিষয়গুলোতে লিপ্ত হয়েছেন সে সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে—চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অন্য কোনো কারণে—আমি কিছু ইসরাঈলি বর্ণনা, জাল (موضوعات) বিষয় ও বিদআত তুলে ধরছি। আমি এই বিষয়গুলো মুদ্রিত তাফসির গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত করছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের ক্ষমা করেন যারা ইসরাঈলি বর্ণনা ও বিদআতসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। এই সব কাহিনী ও কল্পকথা বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই, তাই আমি শুধু সেই স্থানগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব যেখানে এগুলো বর্ণিত হয়েছে এবং কিছু অংশ উদ্ধৃত করব:

 

‌‌১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে একটি মিথ্যা (مكذوبة) কাহিনী،

এবং এটি নিশ্চিতভাবেই সেই ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা হাফিজ সুয়ূতী তাঁর তাফসির আদ-দুররুল মানসুর (১/ ৯৭ - ১০৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হাফিজ ইবনে কাসিরের উমদাতুত তাফসির: সংক্ষিপ্তকরণ ও তাহকিক আহমাদ শাকির, ১৯৫৬ সংস্করণ, দারুল মাআরিফ: ১/ ১৬ - ১৭।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهي قصة يرفضها العقل السليم، ويرفضها النقل الدقيق، لذلك حكم السيوطي بوضعها في كتابه: اللئالئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة: 1/ 82، وكذلك فعل ابن كثير في البداية والنهاية: 1/ 37.

والقصة جاءت في تفسير قوله تعالى: (وَما أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبابِلَ هارُوتَ وَمارُوتَ وَما يُعَلِّمانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولا إِنَّما نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُما ما يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَما هُمْ بِضارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ ما يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَراهُ ما لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ) (1).

لكن العجيب من واحد كالعلامة الحافظ السيوطي- وهو من هو من العلم والتمحيص والتحقيق- كيف يقبل وضع هذه القصة في تفسيره دون أن يعلّق عليها ولو بكلمة!!

 

‌‌2 - قصة المسخ:

ينقل الإمام السيوطي في تفسيره الدر المنثور: 1/ 103 - 105 رواية عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن المسوخ، فقال: هم ثلاثة عشر: الفيل، والدب، والخنزير، والقرد، والجريث، والضب، والوطواط، والعقرب، والدعموص، والعنكبوت، والأرنب، والزهرة، وسهيل.

فقيل: يا رسول الله! وما سبب مسخهن؟ فقال:

أما الفيل: فكان رجلا جبارا لوطيا، لا يدع رطبا ولا يابسا، وأما الدب: فكان مؤنثا يدعو الناس إلى نفسه، وأما الخنزير: فكان من النصارى الذين سألوا المائدة، فلما نزلت كفروا، وأما القردة: فيهود اعتدوا في السبت، وأما الجريث: فكان ديوثا، يدعو الرجال إلى حليلته، وأما الضب: فكان أعرابيا يسرق الحاج بمحجنه، وأما

--------------------------------------------

(1) البقرة: 102.
এটি এমন এক কাহিনী যা সুস্থ বিবেক প্রত্যাখ্যান করে এবং সূক্ষ্ম বর্ণনা (নকল) অগ্রাহ্য করে। একারণেই সুয়ূতী তাঁর 'আল-লাআলি আল-মাসনুয়া ফিল আহাদিস আল-মাওদুয়া' (১/৮২) গ্রন্থে একে জাল (موضوع) হওয়ার রায় দিয়েছেন এবং ইবনে কাসীরও তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১/৩৭) গ্রন্থে একই কাজ করেছেন।

কাহিনীটি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে এসেছে: "আর যা বাবেলে হারূত ও মারূত ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর নাযিল করা হয়েছিল। তারা কাউকে এটা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, ‘আমরা তো কেবল এক পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না।’ এরপরও তারা তাদের কাছ থেকে এমন বিদ্যা শিখত যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে, আখিরাতে তার কোনো অংশ নেই" (১)।

কিন্তু আল্লামা হাফিজ সুয়ূতী—যিনি জ্ঞান, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অনন্য মর্যাদার অধিকারী—তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিস্ময়ের বিষয় হলো, তিনি কীভাবে তাঁর তাফসীর গ্রন্থে এই কাহিনীর অবতারণা করাকে গ্রহণ করলেন, যেখানে তিনি এর ওপর একটি শব্দও মন্তব্য করেননি!

 

‌‌২ - বিকৃতির কাহিনী:

ইমাম সুয়ূতী তাঁর তাফসীর 'আদ-দুররুল মানসুর'-এ (১/১০৩-১০৫) আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করেছেন যে: নবী (সা.)-কে বিকৃত আকৃতির প্রাণীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তারা তেরোটি: হাতি, ভাল্লুক, শুকর, বানর, জারিত (এক প্রকার মাছ), সান্ডা (গুই সাপ সদৃশ), চামচিকা, বিচ্ছু, আল-দামউস (জলজ পোকা), মাকড়সা, খরগোশ, জোহরা ও সোহাইল।

জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের বিকৃত হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেন:

হাতির কথা হলো—সে ছিল একজন প্রতাপশালী লুতী (সমকামী) ব্যক্তি, যে কোনো কিছুকেই ছাড়ত না; ভাল্লুক—সে ছিল একজন হিজড়া স্বভাবের ব্যক্তি যে মানুষদের নিজের দিকে প্ররোচিত করত; শুকর—সে ছিল সেই খ্রিস্টানদের অন্তর্ভুক্ত যারা আসমানি দস্তরখানের আবেদন করেছিল, অতঃপর তা নাযিল হওয়ার পর তারা কুফরি করেছিল; বানর—তারা হলো সেই ইহুদি যারা শনিবারের বিধান লঙ্ঘন করেছিল; জারিত—সে ছিল একজন দাইউস, যে পুরুষদেরকে নিজের স্ত্রীর দিকে আহ্বান করত; সান্ডা—সে ছিল একজন বেদুইন যে তার বাঁকানো লাঠি দিয়ে হাজীদের সম্পদ চুরি করত; আর...

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা: ১০২।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الوطواط فكان رجلا يسرق الثمار من رءوس النخل، وأما العقرب:

فكان رجلا لا يسلم أحد من لسانه، وأما الدعموص: فكان نماما يفرّق بين الأحبّة، وأما العنكبوت: فامرأة سحرت زوجها، وأما الأرنب:

فامرأة الزهرة: فكانت لا تطهر من حيضها، وأما سهيل: فكان عشارا باليمن،

وأما الزهرة: فكانت بنتا لبعض ملوك بني إسرائيل افتتن بها هاروت وماروت!!

فهل يقبل مسلم أن تحشى كتب التفسير بأمثال هذه الخرافات وهذا الهراء؛ الذي لا يرقى إلى درجة الخيال العلمي؟! والعجيب أن الحافظ السيوطي ذكر هذه القصة من غير سند، ولم يعلّق عليها بكلمة استنكار!!

 

‌‌3 - بناء الكعبة:

نقل المفسرون في قضية بناء الكعبة أمورا تشبه الأساطير، وللتوسع يراجع: كتاب الدر المنثور للسيوطي: 1/ 125 - 137.

ومن ذلك ما رواه ابن جرير الطبري: عن عطاء بن أبي رباح قال: لما أهبط الله آدم من الجنة: كان رجلاه في الأرض، ورأسه في السماء (1) يسمع كلام أهل السماء ودعاءهم، يأنس إليهم، فهابته الملائكة، حتى شكت إلى الله في دعائها، وفي صلاتها، فوجه إلى مكة، فكان

--------------------------------------------

(1) رحم الله ابن جرير، كيف لم يحدثنا في هذه الرواية بشكل تفصيلي!! هل كانت رجلاه في الأرض: أهذه هي الأرض التي نعيش عليها؟ ورأسه في السماء: في أي سماء هو؟ في الأولى أم السابعة، وكيف كان وضعه خلال دوران الكواكب والأفلاك؟

مع العلم أن المسافة بين الشمس والمريخ مثلا- (228) مليون كم، وبين بلوتو والشمس (4000) مليون ميل، وهكذا في هذا الكون الفسيح، حيث قدّر العلماء أن النور يستغرق (مائة ألف سنة ضوئية) ليصل بين طرفي المجرة اللبنية!! وللتوسّع في ذلك يراجع كتاب (تفكّر ساعة): للمؤلف.
বাদুড় ছিল এমন এক ব্যক্তি যে খেজুর গাছের ডগা থেকে ফল চুরি করত। আর বিচ্ছু ছিল:

এমন এক ব্যক্তি যার জিহ্বা থেকে কেউ নিরাপদ ছিল না। আর ডামোস (এক প্রকার কীট) ছিল এমন এক চোগলখোর যে প্রিয়জনদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাত। আর মাকড়সা ছিল এমন এক নারী যে তার স্বামীকে জাদু করেছিল। আর খরগোশ ছিল:

এক নারী; জোহরা (শুক্র গ্রহ) ছিল এমন যে তার ঋতুস্রাব থেকে কখনো পবিত্র হতো না। আর সোহাইল (একটি তারকা) ছিল ইয়ামেনের একজন কর আদায়কারী।

আর জোহরা ছিল বনী ইসরাঈলের কোনো এক রাজার কন্যা, যাকে দেখে হারুত ও মারুত মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল!!

কোনো মুসলিম কি এটা মেনে নেবে যে, তাফসিরের কিতাবগুলো এই ধরণের রূপকথা ও আজেবাজে কথায় ঠাসা থাকবে, যা এমনকি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর স্তরেও পৌঁছে না?! আশ্চর্যের বিষয় হলো হাফেজ সুয়ূতী এই কাহিনীটি কোনো সনদ (سند) ছাড়াই উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর কোনো প্রতিবাদমূলক মন্তব্য করেননি!!

 

‌‌৩ - কাবা গৃহ নির্মাণ:

কাবা গৃহ নির্মাণের বিষয়ে মুফাসসিরগণ এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন যা উপকথার সদৃশ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: সুয়ূতী রচিত আদ-দুররুল মানসুর: ১/ ১২৫ - ১৩৭।

এরই অন্তর্ভুক্ত সেই বর্ণনা যা ইবনে জারীর তাবারী আতা বিন আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ যখন আদমকে জান্নাত থেকে অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর পা ছিল জমিনে এবং মাথা ছিল আকাশে (১)। তিনি আসমানবাসীদের কথাবার্তা ও দোয়া শুনতে পেতেন এবং তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বোধ করতেন। এতে ফেরেশতারা তাঁকে ভয় পেল, এমনকি তারা তাদের দোয়া ও সালাতে আল্লাহর কাছে অভিযোগ জানাল। এরপর তাঁকে মক্কার দিকে অভিমুখী করা হলো, তখন ছিল...

--------------------------------------------

(১) ইবনে জারীরকে আল্লাহ রহম করুন, কেন তিনি এই বর্ণনাটিতে (رواية) আমাদের বিস্তারিত বলেননি!! তাঁর পা কি জমিনে ছিল: এটা কি সেই জমিন যেখানে আমরা বাস করি? আর তাঁর মাথা আকাশে: তিনি কোন আকাশে ছিলেন? প্রথম নাকি সপ্তম? আর গ্রহ-নক্ষত্র ও কক্ষপথসমূহের ঘূর্ণনের সময় তাঁর অবস্থা কেমন ছিল?

যেখানে জানা কথা যে সূর্য ও মঙ্গলের মধ্যবর্তী দূরত্ব উদাহরণস্বরূপ (২২৮) মিলিয়ন কিলোমিটার এবং প্লুটো ও সূর্যের দূরত্ব (৪০০০) মিলিয়ন মাইল। এই বিশাল মহাবিশ্ব এমনই, যেখানে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে ছায়াপথের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলো পৌঁছাতে (এক লক্ষ আলোকবর্ষ) সময় লাগে!! এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লেখকের 'তাফাক্কুর সাআহ' বইটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
موضع قدمه قرية، وخطوه مفازة حتى انتهى إلى مكة، وأنزل الله ياقوتة من ياقوت الجنة، فكانت على موضع البيت الآن فلم يزل يطوف به، حتى أنزل الله الطوفان فرفعت تلك الياقوتة، حتى بعث الله إبراهيم عليه السلام، فبناه، فذلك قوله تعالى: (وَإِذْ بَوَّأْنا لِإِبْراهِيمَ مَكانَ الْبَيْتِ) (1).

لكن ابن جرير ساق القصة دون أي تعليق، أو تبيان لدرجة الوضع!! ورحم الله الحافظ ابن كثير عند ما قال: ولم يجئ في خبر صحيح عن المعصوم صلى الله عليه وسلم أن البيت كان مبنيا قبل الخليل عليه السلام، ومن تمسك في هذا بقوله: (مَكانَ الْبَيْتِ) فليس بناهض ولا ظاهر، لأن مراده: مكان المقدر في علم الله تعالى، المقرر في قدرته، المعظم عند الأنبياء موضعه من لدن آدم إلى زمان إبراهيم (2).

 

‌‌4 - في هجران المرأة الناشز:

في قوله تعالى: (وَاللَّاتِي تَخافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ) (3)، يقول أحد المفسّرين: معنى (وَاهْجُرُوهُنَّ):

أكرهوهن على الجماع واربطوهن، من هجر البعير إذا شدّة بالهجار!! ويعلّق الزمخشري على ذلك بقوله: وهذا من تفسير الثقلاء (4).

وهذا أمر من الغرابة بمكان!! فإذا كانت الزوجة ناشزا عاصية زوجها، فكيف يقال له أن يكرهها على الجماع، فإذا أبت وعاندت، فعليه أن يربطها؟!

إنه مخالف لأبسط قواعد الشريعة، والتي أمرت الزوج أن يرسل

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري: 1/ 428، والآية من سورة الحج: 26.

(2) البداية والنهاية: 2/ 299.

(3) النساء: 34.

(4) الكشاف: 2/ 70.
তাঁর পদচারণার স্থানটি ছিল একটি গ্রাম এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল একটি মরুভূমি সমতুল্য, যতক্ষণ না তিনি মক্কায় পৌঁছালেন। আর আল্লাহ তাআলা জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্য থেকে একটি ইয়াকুত অবতীর্ণ করেন, যা বর্তমানে কাবার (বাইতুল্লাহ) স্থানে অবস্থিত ছিল। তিনি ক্রমাগত এর চারপাশ তওয়াফ করতে থাকেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা মহাপ্লাবন নাযিল করেন এবং সেই ইয়াকুতটি উঠিয়ে নেওয়া হয়। অবশেষে আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেন এবং তিনি তা নির্মাণ করেন। আর তা-ই মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন আমি ইব্রাহিমকে সেই ঘরের (বাইতুল্লাহর) স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম" (১)।

কিন্তু ইবনে জারীর কোনো মন্তব্য অথবা এটি জাল (الوضع) হওয়ার পর্যায়ের কোনো বর্ণনা ছাড়াই এই কাহিনীটি উল্লেখ করেছেন!! হাফেজ ইবনে কাসিরের ওপর আল্লাহ রহম করুন, তিনি যখন বলেছেন: "নিষ্পাপ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সহিহ (صحيح) বর্ণনায় এটি আসেনি যে, খলীল আলাইহিস সালামের পূর্বে এই ঘরটি নির্মিত হয়েছিল। আর যারা এই বিষয়ে আল্লাহর বাণী 'ঘরের স্থান' এর ওপর ভিত্তি করে দলিল পেশ করেন, তা বলিষ্ঠ বা স্পষ্ট নয়। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তাআলার জ্ঞানে নির্ধারিত স্থান, যা তাঁর কুদরতে স্থিরকৃত এবং আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সময় পর্যন্ত নবীদের কাছে যা মর্যাদাপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত ছিল" (২)।

 

‌‌৪ - অবাধ্য স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা প্রসঙ্গে:

মহান আল্লাহর বাণী: "আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো" (৩); এই আয়াতের প্রেক্ষিতে একজন মুফাসসির বলেন: "তাদের শয্যা ত্যাগ করো" (وَاهْجُرُوهُنَّ) এর অর্থ হলো:

তাদের সহবাসে বাধ্য করো এবং বেঁধে রাখো; এটি উটকে রশি (হিজার) দিয়ে শক্ত করে বাঁধার অর্থ থেকে নেওয়া হয়েছে!! যামাখশারী এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এটি স্থূলবুদ্ধি সম্পন্নদের তাফসির" (৪)।

এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক একটি বিষয়!! যদি স্ত্রী অবাধ্য এবং স্বামীর অবাধ্যচারী হয়, তবে তাকে সহবাসে বাধ্য করতে কীভাবে বলা যেতে পারে? আর যদি সে অস্বীকার করে এবং একগুঁয়েমি করে, তবে কি তাকে বেঁধে রাখতে হবে?!

এটি শরিয়তের সাধারণ নিয়মাবলীরও পরিপন্থী, যা স্বামীকে নির্দেশ দেয় যে...

--------------------------------------------

(১) তাফসির তাবারী: ১/৪২৮, আয়াতটি সূরা হজের: ২৬ নং আয়াত।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ২/২৯৯।

(৩) আন-নিসা: ৩৪।

(৪) আল-কাশশাফ: ২/৭০।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
رسولا إلى زوجته قبل أن يواقعها: من كلمة جميلة، وابتسامة بريئة، أو هدية ما أو قبلة ونحو ذلك، وبالتالي فهو مخالف للغة العربية وسياق المناسبة.

فلو قرأ أمثال هذا الهراء مستشرق أو حاقد أو جاهل، أفعليه وزر إن ضرب زوجته أو عدّها في عداد الحيوانات؟!

ومن هنا نفهم السرّ وراء الحملات المسعورة والتي توجّه ضد هذا الدين، وتتهمه في مسألة ظلم المرأة، وللمسلمين دور كبير- وللأسف- في ترويج ذلك كله!!

 

‌‌5 - قصة القوم الجبّارين:

في تفسير قوله تعالى: (قالُوا يا مُوسى إِنَّ فِيها قَوْماً جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَها حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْها) (1) أورد المفسرون إسرائيليات وبدعا وأباطيل ما أنزل الله بها من سلطان، من ذلك ما أورده السيوطي عن أبي ضمرة قال:

استظل سبعون رجلا من قوم موسى في خفّ رجل من العماليق!! (2) وما أورده ابن جرير الطبري عن ابن عباس قال: أمر موسى أن يدخل مدينة الجبارين، فسار بمن معه، حتى نزل قريبا من المدينة، وهي (أريحاء) فبعث إليهم اثني عشر نقيبا، من كل سبط منهم عين، ليأتوه بخبر القوم، فدخلوا المدينة، فرأوا أمرا عظيما من هيبتهم، وجسمهم وعظمهم، فدخلوا حائطا- بستانا- لبعضهم، فجاء صاحب الحائط ليجني الثمار، فنظر إلى آثارهم فتبعهم، فكلما أصاب واحدا منهم أخذه، فجعله في كمه مع الفاكهة وذهب إلى ملكهم، فنثرهم بين يديه، فقال الملك: قد رأيتم شأننا وأمرنا، اذهبوا فأخبروا صاحبكم، قال: فرجعوا إلى موسى فأخبروه بما عاينوه من أمرهم، فقال: اكتموا

--------------------------------------------

(1) المائدة: 22.

(2) الدر المنثور: 1/ 27.
স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পূর্বে প্রেরিত দূত বলতে বোঝায়: সুন্দর কথা, নিষ্পাপ হাসি, কোনো উপহার অথবা চুম্বন ইত্যাদি। ফলে এই বক্তব্যটি আরবি ভাষা এবং প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটের পরিপন্থী।

কোনো প্রাচ্যবিদ, বিদ্বেষী বা অজ্ঞ ব্যক্তি যদি এই জাতীয় আজেবাজে কথা পাঠ করে, তবে সে যদি তার স্ত্রীকে প্রহার করে অথবা তাকে পশুর পর্যায়ে গণ্য করে, তবে তার দায়ভার কি (উক্ত বর্ণনাকারীর ওপর) বর্তাবে না?

এখান থেকেই আমরা এই দ্বীনের বিরুদ্ধে পরিচালিত সেই উগ্র প্রচারণাগুলোর পেছনের রহস্য বুঝতে পারি, যা নারী নির্যাতনের ইস্যুতে ইসলামকে অভিযুক্ত করে। আর অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এসব কিছু প্রচার করার ক্ষেত্রে মুসলমানদেরও এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে!!

 

‌‌৫ - শক্তিশালী সম্প্রদায়ের (قوم جبّارين) কাহিনী:

মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে: (তারা বলল, হে মুসা! সেখানে এক শক্তিশালী জাতি রয়েছে, তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে প্রবেশ করব না) (১) মুফাসসিরগণ এমন সব ইসরায়েলি বর্ণনা (إسرائيليات), বিদআত (بدع) এবং অসার বিষয় (أباطيل) উল্লেখ করেছেন যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। এর মধ্যে একটি হলো সুয়ূতি আবু দামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

মুসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের সত্তর জন লোক জনৈক আমালিক ব্যক্তির জুতোর খোলে ছায়া গ্রহণ করেছিল!! (২) আর ইবনে জারির তবারি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা (আ.)-কে শক্তিশালী সম্প্রদায়ের শহরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হলো। তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন এবং শহরের সন্নিকটে অবতরণ করলেন, যার নাম 'আরীহা'। এরপর তিনি তাদের সংবাদ আনার জন্য বারোজন প্রতিনিধি (نقيب) পাঠালেন, প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে গোয়েন্দা। তারা শহরে প্রবেশ করে তাদের শৌর্যবীর্য, শারীরিক গঠন এবং বিশালতা দেখে এক বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করল। তারা তাদের কোনো একজনের একটি বাগানে প্রবেশ করল। তখন বাগানের মালিক ফল আহরণ করতে এল। সে তাদের পায়ের চিহ্ন দেখে তাদের পিছু নিল। সে তাদের যাকে পাচ্ছিল তাকেই ধরে ফলের সাথে তার আস্তিনে পুরে দিচ্ছিল এবং তাদের রাজার কাছে নিয়ে গিয়ে তার সামনে ঝেড়ে ফেলল। রাজা বলল: তোমরা আমাদের শান-শওকত ও অবস্থা তো দেখলে, এবার ফিরে যাও এবং তোমাদের সঙ্গীকে সব জানাও। তারা মুসা (আ.)-এর কাছে ফিরে এসে যা কিছু দেখেছিল তা তাকে অবহিত করল। তিনি বললেন: তোমরা এটি গোপন রাখো।

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ: ২২।

(২) আদ-দুররুল মানসুর: ১/ ২৭।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
عنا، فجعل الرجل يخبر أخاه وصديقه، ويقول: اكتم عني، فأشيع في عسكرهم، ولم يكتم منهم إلّا رجلان: يوشع بن نون، وطالب بن يوحنا، وهما اللذان أنزل الله فيهما: (قالَ رَجُلانِ مِنَ الَّذِينَ يَخافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبابَ فَإِذا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غالِبُونَ) (1).

ثم ينقل ابن جرير عن مجاهد أن عنقود عنبهم لا يحمله إلا خمسة أنفس، بينهم في خشبة، ويدخل في شطر الرمانة إذا نزع حبها خمسة أنفس وأربعة!! (2)

ويلحق في هذا قصة محشوة بالأباطيل والإسرائيليات، وهي قصة:

عوج بن عوق.

ذكر المفسرون: أنه كان طوله ثلاثة آلاف ذراع، وأنه كان يمسك الحوت، فيشويه في عين الشمس، وأن طوفان نوح لم يصل إلى ركبتيه، وأنه امتنع عن ركوب السفينة مع نوح، وأن موسى كان طوله عشرة أذرع وعصاه عشرة أذرع، ووثب في الهواء عشرة أذرع، فأصاب كعب عوج فقتله، فكان جسرا لأهل النيل سنة و .. !!!

فهل يسمى هذا تفسيرا للقرآن وهو يخالف القرآن ذاته؟!

وذلك كلام الله في القرآن وهو يحدثنا عن دعاء نوح على قومه:

(رَبِّ لا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكافِرِينَ دَيَّاراً) (3) ثم يحدثنا عن مصارع الكافرين جميعا: (فَأَنْجَيْناهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ (119) ثُمَّ أَغْرَقْنا بَعْدُ الْباقِينَ) (4).

ومعلوم أن الله أغرق ابن نوح لأنه عاند وتكبّر ورفض الركوب مع المؤمنين، وهذا ما أكّده القرآن في عدة مواضع، منها قوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) المائدة: 23.

(2) تفسير الطبري: 6/ 112.

(3) نوح: 26.

(4) الشعراء: 119 - 120.
আমাদের থেকে বর্ণিত, এরপর সেই ব্যক্তি তার ভাই ও বন্ধুকে সংবাদ দিতে লাগল এবং বলতে লাগল: "আমার পক্ষ থেকে এটি গোপন রেখো"। ফলে তাদের সৈন্যবাহিনীতে তা জানাজানি হয়ে গেল এবং তাদের মধ্যে কেবল দুজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা গোপন রাখল না: ইউশা বিন নুন এবং তালিব বিন ইউহান্না। এই দুজন সম্পর্কেই আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন: (যাঁরা ভয় করছিল, তাঁদের মধ্য থেকে এমন দুই ব্যক্তি যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, তাঁরা বললেন: ‘তোমরা তাদের মুকাবিলায় প্রবেশদ্বারে প্রবেশ কর; যখন তোমরা তাতে প্রবেশ করবে, তখন তোমরাই বিজয়ী হবে’) (১)।

অতঃপর ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তাদের আঙ্গুরের এক থোকা পাঁচজন মানুষ ছাড়া বহন করতে পারত না, যা তারা একটি কাষ্ঠদণ্ডের মাধ্যমে বহন করত। আর ডালিমের দানাগুলো সরিয়ে ফেলার পর তার অর্ধেক খোসার ভেতরে পাঁচজন বা চারজন মানুষ প্রবেশ করতে পারত!! (২)

এর সাথে এমন একটি কাহিনী যুক্ত করা হয় যা অসত্য (أباطيل) এবং ইসরাঈলী বর্ণনায় (إسرائيليات) ভরপুর, আর সেটি হলো:

উজ বিন উক-এর কাহিনী।

মুফাসসিরগণ (مفسرون) উল্লেখ করেছেন যে: তার উচ্চতা ছিল তিন হাজার হাত, সে মাছ ধরে সূর্যের প্রখর তাপে তা পুড়িয়ে খেত। নূহের প্লাবন তার হাঁটু পর্যন্তও পৌঁছেনি এবং সে নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করতে অস্বীকার করেছিল। মূসার উচ্চতা ছিল দশ হাত, তাঁর লাঠি ছিল দশ হাত লম্বা এবং তিনি শূন্যে দশ হাত লাফিয়ে উঠে উজের গোড়ালি পর্যন্ত আঘাত করতে পেরেছিলেন এবং তাকে হত্যা করেন। এরপর তার মৃতদেহ এক বছর পর্যন্ত নীল নদের অধিবাসীদের জন্য সেতু হয়ে ছিল এবং... !!!

একে কি কুরআনের তাফসীর বলা যায়, অথচ এটি খোদ কুরআনেরই বিরোধী?!

অথচ কুরআনে আল্লাহ তাআলার বাণী রয়েছে যেখানে তিনি আমাদের নূহের তাঁর কওমের বিরুদ্ধে দুআ সম্পর্কে জানাচ্ছেন:

(হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোনো কাফিরকে গৃহবাসী হিসেবে অবশিষ্ট রাখবেন না) (৩)। এরপর তিনি আমাদের সকল কাফিরের ধ্বংস সম্পর্কে জানাচ্ছেন: (অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের বোঝাই নৌকায় রক্ষা করলাম (১১৯) এরপর আমি অবশিষ্টদের ডুবিয়ে দিলাম) (৪)।

আর এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ নূহের পুত্রকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন কারণ সে অবাধ্যতা ও অহংকার করেছিল এবং মুমিনদের সাথে আরোহণ করতে অস্বীকার করেছিল। কুরআন বিভিন্ন স্থানে এটি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী:

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ: ২৩।

(২) তাফসীরে তাবারী: ৬/ ১১২।

(৩) নূহ: ২৬।

(৪) আশ-শুআরা: ১১৯ - ১২০।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
(وَنادى نُوحٌ ابْنَهُ وَكانَ فِي مَعْزِلٍ يا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنا وَلا تَكُنْ مَعَ الْكافِرِينَ (42) قالَ سَآوِي إِلى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْماءِ قالَ لا عاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ) (1).

فكيف يغرق ابن نوح، وينجو بطل هذه القصة الخرافية وهو عوج بن عوق؟!

ثم من قام بحساب طوله هذا (3000 ذراع)؟!

علما أن هذا يخالف الحديث الصحيح الذي رواه البخاري ومسلم وفيه قول الرسول صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم وطوله ستون ذراعا، ثم لم يزل الخلق ينقص حتى الآن».

ورحم الله ابن كثير، فقد ردّ على أمثال هذه الخرافات والبدع ردا قويا، واعتبرها كذبا وافتراء (2).

 

‌‌6 - خرافات في بعض القصص المتعلقة بالأنبياء عليهم السلام:

مثال ذلك ما أورده البغوي وابن جرير الطبري في تفسير قوله تعالى: (وَمِنْ قَوْمِ مُوسى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ) (3).

قال ابن جرير: بلغني أن بني إسرائيل لما قتلوا أنبياءهم، وكفروا، وكانوا اثني عشر سبطا، تبرأ سبط منهم مما صنعوا، واعتذروا وسألوا الله أن يفرق بينهم وبينهم، ففتح الله لهم نفقا في الأرض، فساروا، حتى خرجوا من وراء الصين، فهم هنالك حنفاء مسلمون، يستقبلون قبلتنا!! (4).

وقال البغوي: هم قوم خلف الصين بأقصى الشرق على نهر مجرى

--------------------------------------------

(1) هود: 42 - 43.

(2) للتوسع يراجع تفسير القرآن العظيم: 3/ 115.

(3) الأعراف: 159.

(4) تفسير الطبري: 8/ 189.
(আর নূহ তাঁর পুত্রকে ডাকলেন, সে তখন পৃথক এক স্থানে ছিল: হে বৎস! আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সঙ্গী হয়ো না। (৪২) সে বলল: আমি অচিরেই এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। তিনি (নূহ) বললেন: আজ আল্লাহর নির্দেশ থেকে রক্ষা করার মতো কেউ নেই, তবে যাকে তিনি দয়া করেন। আর তাদের উভয়ের মাঝে তরঙ্গ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো।) (১)।

তাহলে নূহের পুত্র কীভাবে ডুবে গেল, অথচ এই কাল্পনিক কাহিনীর নায়ক ‘উজ ইবনে উক’ কীভাবে রক্ষা পেল?!

তাছাড়া, কে তার এই দৈর্ঘ্যের (৩০০০ হাত) পরিমাপ করল?!

উল্লেখ্য যে, এটি সেই সহিহ (صحيح) হাদিসের পরিপন্থী যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী রয়েছে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সৃষ্টি (মানুষের উচ্চতা) ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।»

আল্লাহ ইবনে কাসিরের ওপর রহম করুন, তিনি এই জাতীয় রূপকথা ও বিদআতসমূহের কঠোর খণ্ডন করেছেন এবং এগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট (২) হিসেবে গণ্য করেছেন।

 

‌‌৬ - নবিদের (আলাইহিমুস সালাম) সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু কাহিনীতে বিদ্যমান রূপকথা:

এর উদাহরণ হলো যা বাগবি এবং ইবনে জারির তবারি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন: (আর মুসার কওমের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যারা সত্যের পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে) (৩)।

ইবনে জারির বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, বনী ইসরাঈল যখন তাদের নবীদের হত্যা করল এবং কুফরি করল—আর তারা তখন বারোটি গোত্রে বিভক্ত ছিল—তখন তাদের মধ্য থেকে একটি গোত্র অন্যদের কৃতকর্ম থেকে নিজেদের বিমুক্ত ঘোষণা করল। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করল যেন তিনি তাদের ও অন্যদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। তখন আল্লাহ তাদের জন্য জমিনে একটি সুড়ঙ্গ পথ উন্মোচন করে দিলেন; তারা পথ চলতে থাকল যতক্ষণ না চীনের ওপার দিয়ে নির্গত হলো। তারা সেখানে একনিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে রয়েছে এবং আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে!! (৪)।

وقال البغوي: هم قوم خلف الصين بأقصى الشرق على نهر مجرى

--------------------------------------------

(১) হুদ: ৪২-৪৩।

(২) বিস্তারিত জানতে দেখুন তাফসিরে কুরআনিল আজিম: ৩/১১৫।

(৩) আল-আরাফ: ১৫৯।

(৪) তাফসিরে তবারি: ৮/১৮৯।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرمل يسمى نهر الأردن، ليس لأحد منهم مال دون صاحبه، يمطرون بالليل ويسقون بالنهار ويزرعون، لا يصل إليهم منا أحد وهم على دين الحق، وذكر أن جبرائيل

عليه السلام ذهب بالنبي صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به إليهم، فكلمهم، فقال لهم جبريل: هل تعرفون من تكلمون؟ قالوا:

لا، فقال لهم: هذا محمد النبي الأمين فآمنوا به، فقالوا: يا رسول الله إن موسى أوصانا أن من أدرك منكم أحمد فليقرأ عليه مني السلام، فرد النبي صلى الله عليه وسلم على موسى وعليهم، ثم أقرأهم عشر سور من القرآن نزلت بمكة، وأمرهم بالصلاة والزكاة، وأمرهم أن يقيموا مكانهم، وكانوا يسبتون، فأمرهم أن يجمعوا ويتركوا السبت، وقيل: هم الذين أسلموا من اليهود في زمن النبي صلى الله عليه وسلم، والأول أصحّ!! (1).

ورحم الله الدكتور محمد أبو شهبة عند ما علّق على هذه الخرافة بقوله:

وأما ما ذكروه: فليس هناك ما يشهد له من عقل، ولا نقل صحيح، بل هو يخالف الواقع الملموس، والمشاهد المتيقن، وقد أصبحت الصين وما وراءها معلوما كل شبر فيها، فأين هم؟ ثم ما هذا النهر من الشهد؟! وما هذا النهر من الرمل؟! وأين هما؟! ثم أي فائدة تعود على الإسلام والمسلمين من التمسك بهذه الروايات التي لا خطام لها، ولا زمام!؟ وماذا يكون موقف الداعية إلى الإسلام في هذا العصر الذي نعيش فيه، إذا انتصر لمثل هذه المرويات الخرافية الباطلة؟!

إن هذه الروايات لو صحت أسانيدها لكان لها بسبب مخالفتها للمعقول، والمشاهد الملموس ما يجعلنا في حل من عدم قبولها، فكيف وأسانيدها ضعيفة واهية؟! (2).

--------------------------------------------

(1) تفسير البغوي: 2/ 206.

(2) الإسرائيليات: 208.
বালুময় নদীটিকে জর্ডান নদী বলা হয়, তাদের কারোরই নিজের সাথীকে বাদ দিয়ে একক কোনো সম্পদ নেই, রাতে তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং দিনে তারা জমিতে পানি দেয় ও চাষাবাদ করে, আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না এবং তারা সত্য দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিবরাঈল

আলাইহিস সালাম মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তাদের সাথে কথা বললেন। তখন জিবরাঈল তাদের বললেন: তোমরা কি জানো তোমরা কার সাথে কথা বলছো? তারা বলল:

না। তখন তিনি তাদের বললেন: ইনি হলেন আমানতদার নবী মুহাম্মদ, সুতরাং তোমরা তাঁর ওপর ঈমান আনো। তখন তারা ঈমান আনল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল! মুসা আলাইহিস সালাম আমাদের অসিয়ত করে গেছেন যে, আমাদের মধ্যে যারা আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাবে, সে যেন তাঁর কাছে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসা আলাইহিস সালাম ও তাদের সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি তাদের মক্কায় অবতীর্ণ কুরআনের দশটি সূরা শিক্ষা দিলেন এবং তাদের সালাত ও জাকাতের নির্দেশ দিলেন। এছাড়া তিনি তাদের নিজ স্থানেই অবস্থান করার আদেশ দিলেন। তারা শনিবার উদযাপন করত, তাই তিনি তাদের জুমার দিন জামাতবদ্ধ হওয়ার এবং শনিবার বর্জন করার আদেশ দিলেন। আর বলা হয়ে থাকে যে: তারা হলেন সেই ইহুদি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)!! (১)।

আল্লাহ ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ-এর প্রতি রহম করুন যখন তিনি এই উপকথার ওপর মন্তব্য করে বলেন:

আর তারা যা উল্লেখ করেছে: সেটার স্বপক্ষে বুদ্ধি বা সহিহ (صحيح) কোনো বর্ণনা নেই, বরং তা বাস্তব অনুভূতি ও নিশ্চিত প্রত্যক্ষদর্শনের পরিপন্থী। বর্তমানে চীন এবং এর পরবর্তী ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে, তাহলে তারা কোথায়? আর এই মধুর নদীই বা কী?! এই বালুর নদীই বা কী?! এবং এ দুটি কোথায়?! আর যে বর্ণনার কোনো নিয়ন্ত্রণ বা ভিত্তি নেই তা আঁকড়ে ধরায় ইসলাম ও মুসলমানদের কী ফায়দা আছে!? আর এই যুগে একজন ইসলামি দায়ীর অবস্থান কী হবে, যদি তিনি এমন সব ভিত্তিহীন (باطلة) উপকথাধর্মী বর্ণনার পক্ষাবলম্বন করেন?!

যদি এই বর্ণনাগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) সহিহ (صحيح) হতো, তবুও বিবেক ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার পরিপন্থী হওয়ার কারণে এগুলো গ্রহণ না করার অবকাশ ছিল; এমতাবস্থায় যখন এগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) দুর্বল (ضعيفة) ও অসার (واهية)!! (২)।

--------------------------------------------

(১) তাফসির আল-বাগউই: ২/ ২০৬।

(২) আল-ইসরাইলিয়াত: ২০৮।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌7 - قصة سفينة نوح عليه السلام:

في كتب التفاسير بدع وأباطيل وإسرائيليات، خلال الأحاديث عن سفينة نوح عليه السلام، إلى درجة أنه يخيّل للإنسان أن المفسرين كانوا من ركابها!!

أخرج ابن جرير، وأبو الشيخ عن الحسن، قال: كان طول سفينة نوح ألف ذراع ومائتي ذراع، وعرضها ستمائة ذراع.

وذكر ابن جرير عن ابن عباس قال: قال الحواريون لعيسى عليه السلام: لو بعثت لنا رجلا شهد السفينة، فحدثنا عنها، فانطلق بهم، حتى انتهى إلى كثيب من تراب فأخذ كفا من ذلك التراب، قال:

أتدرون ما هذا؟ قالوا: الله ورسوله أعلم.

قال: هذا كعب بن حام بن نوح، فضرب الكثيب بعصاه، قال: قم بإذن الله- فإذا هو قائم ينفض التراب عن رأسه؛ قد شاب، قال له عيسى عليه السلام: هكذا هلكت؟! قال: لا، مت وأنا شاب، ولكنني ظننت أنها الساعة قامت، فمن ثم شبت، قال: حدثنا عن سفينة نوح، قال: كان طولها ألف ذراع ومائتي ذراع، وعرضها ستمائة ذراع، كانت ثلاث طبقات، فطبقة فيها الدواب والوحش، وطبقة فيها الإنس، وطبقة فيها الطير، فلما كثرت أرواث الدواب، أوصى الله إلى نوح: أن اغمز ذنب الفيل، فغمزه، فوقع منه خنزير وخنزيرة!!

فأقبلا على الروث، فلما وقع الفأر يخرب السفينة بقرضه أوحى الله إلى نوح: أن اضرب بين عيني الأسد، فخرج من منخره سنور، وسنورة، فأقبلا على الفأر فأكلاه!!

وفي رواية أخرى:

أن الأسد عطس، فخرج من منخره سنوران: ذكر وأنثى، فأكلا الفأر، وأن الفيل عطس، فخرج من منخره خنزيران، ذكر وأنثى فأكلا
৭ - নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার কাহিনী:

তাফসিরের কিতাবসমূহে নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা সম্পর্কিত আলোচনাগুলোর মধ্যে বহু নবউদ্ভাবিত বিষয় (بدع), বাতিল বিষয় (أباطيل) এবং ইসরাঈলি বর্ণনা (إسرائيليات) বিদ্যমান; যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন মানুষের মনে হতে পারে যেন মুফাসসিরগণ সেই নৌকারই আরোহী ছিলেন!!

ইবনে জারীর এবং আবুশ শাইখ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল এক হাজার দুইশত হাত এবং প্রস্থ ছিল ছয়শত হাত।

ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: হাওয়ারিগণ ঈসা আলাইহিস সালামকে বললেন: "আপনি যদি আমাদের জন্য এমন একজন ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করতেন যে নৌকাটি প্রত্যক্ষ করেছে এবং আমাদের সে সম্পর্কে জানাতো।" অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে চললেন এবং একটি মাটির ঢিবির কাছে এসে এক মুঠো মাটি হাতে নিয়ে বললেন:

তোমরা কি জানো এটা কী? তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।

তিনি বললেন: এটি হলো নূহ আলাইহিস সালামের পৌত্র কাব বিন হাম বিন নূহ। অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে ঢিবিটিতে আঘাত করলেন এবং বললেন: "আল্লাহর নির্দেশে দাড়াও।" অমনি সে দাঁড়িয়ে গেল এবং মাথা থেকে মাটি ঝাড়তে লাগল। সে বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে বললেন: "তুমি কি এভাবেই মৃত্যুবরণ করেছিলে?" সে বলল: "না, আমি যুবক অবস্থায় মারা গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি ভেবেছিলাম কিয়ামত কায়েম হয়েছে, আর সেই আতঙ্কে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি।" তিনি বললেন: "আমাদের নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা সম্পর্কে বলো।" সে বলল: "তার দৈর্ঘ্য ছিল এক হাজার দুইশত হাত এবং প্রস্থ ছিল ছয়শত হাত। এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত ছিল; এক স্তরে জীবজন্তু ও বন্যপ্রাণী, এক স্তরে মানুষ এবং অন্য স্তরে পাখিরা ছিল। যখন জীবজন্তুর মলমূত্র বেড়ে গেল, তখন আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন: হাতির লেজ টিপে দিতে। তিনি তা করলে সেখান থেকে একটি শূকর ও একটি শূকরী বেরিয়ে এলো।"

তারা তখন মলমূত্র পরিষ্কার করতে লাগল। এরপর যখন ইঁদুর নৌকা ফুটো করে ক্ষতি করতে শুরু করল, তখন আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামকে ওহী করলেন: সিংহের দুই চোখের মাঝখানে আঘাত করতে। ফলে তার নাসারন্ধ্র থেকে একটি হুলো বিড়াল ও একটি মাদি বিড়াল বেরিয়ে এলো এবং তারা ইঁদুরগুলোকে খেয়ে ফেলল!!

অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে:

সিংহ হাঁচি দিল, ফলে তার নাসারন্ধ্র থেকে দুটি বিড়াল—পুরুষ ও স্ত্রী—বের হলো এবং তারা ইঁদুর খেয়ে ফেলল। আর হাতি হাঁচি দিল, ফলে তার নাসারন্ধ্র থেকে দুটি শূকর—পুরুষ ও স্ত্রী—বের হলো এবং তারা মলমূত্র খেয়ে ফেলল।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
أذى السفينة، وأنه لما أراد الحمار أن يدخل السفينة أخذ نوح بأذني الحمار، وأخذ إبليس بذنبه، فجعل نوح عليه السلام يجذبه، وجعل إبليس يجذبه، فقال نوح: ادخل شيطان- ويريد به الحمار- فدخل الحمار، ودخل معه إبليس، فلما سارت السفينة جلس إبليس في أذنابها يتغنى، فقال له نوح: ويلك من أذن لك؟!

قال: أنت! قال: متى؟ قال: أنت قلت للحمار ادخل يا شيطان، فدخلت بإذنك.

وزعموا أيضا:

أن الماعز لما استصعبت على نوح أن تدخل السفينة فدفعها في ذنبها، فمن ثم انكسر، وبدا حياها، ومضت النعجة فدخلت من غير معاكسة، فمسح على ذنبها، فستر الله حياها- يعني فرجها-!!

وزعموا أيضا: أن سفينة نوح عليه السلام طافت بالبيت أسبوعا! بل رووا عن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن سفينة نوح طافت بالبيت سبعا، وصلت عند المقام ركعتين».

وزعموا أيضا: أنه لما رست السفينة على الجودي وكان يوم عاشوراء صام نوح، وأمر جميع من معه من الوحش والدواب فصاموا شكرا لله!!! (1).

هل هذه القصة وأمثالها توضع في كتب تفسير كتاب الله تعالى؟! ثم ما هو الدليل على أمثال هذه التفاصيل حول طول وعرض سفينة نوح، ثم من الذي نقل ما جرى ضمن السفينة؟

وبالتالي ما هي الفائدة المرجوة من حشو كتب التفاسير بأمثال هذه

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري: 12/ 21 - 28، وكذلك الدر المنثور: 3/ 327 - 332.
নৌকার কষ্টদায়ক আবর্জনা প্রসঙ্গে, এবং যখন গাধাটি নৌকায় প্রবেশ করতে চাইল, তখন নুহ গাধার দুই কান ধরলেন এবং ইবলিস তার লেজ ধরল। নুহ (আলাইহিস সালাম) তাকে টানছিলেন এবং ইবলিসও তাকে টানছিল। নুহ বললেন: "প্রবেশ কর ওরে শয়তান" — তিনি গাধাটিকে উদ্দেশ্য করেছিলেন — তখন গাধাটি প্রবেশ করল এবং তার সাথে ইবলিসও প্রবেশ করল। যখন নৌকা চলতে শুরু করল, ইবলিস তার পেছনের অংশে বসে গান গাইতে লাগল। নুহ তাকে বললেন: "তোর ধ্বংস হোক! কে তোকে অনুমতি দিল?"

সে বলল: "আপনিই!" তিনি বললেন: "কখন?" সে বলল: "আপনি গাধাকে বলেছিলেন, 'হে শয়তান প্রবেশ কর', তাই আমি আপনার অনুমতিতেই প্রবেশ করেছি।"

তারা আরও দাবি করেছে যে:

ছাগল যখন নৌকায় প্রবেশ করতে নুহ-এর অবাধ্যতা করল, তখন তিনি তাকে তার লেজে ধাক্কা দিলেন, ফলে তা সেখান থেকেই ভেঙে গেল এবং তার লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ল। অপরদিকে ভেড়াটি কোনো বাধা ছাড়াই প্রবেশ করল, তাই তিনি তার লেজে হাত বুলিয়ে দিলেন, ফলে আল্লাহ তার লজ্জাস্থান ঢেকে দিলেন —অর্থাৎ তার যৌনাঙ্গ—!!

তারা আরও দাবি করেছে যে: নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকা কাবার চারদিকে সাতবার তওয়াফ করেছিল! বরং তারা বর্ণনা করেছেন (رووا) আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে: "নুহের নৌকা বাইতুল্লাহর চারদিকে সাতবার তওয়াফ করেছিল এবং মাকামে ইব্রাহিমের কাছে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিল।"

তারা আরও দাবি করেছে যে: যখন নৌকা জুদি পাহাড়ে স্থির হলো এবং দিনটি ছিল আশুরার দিন, তখন নুহ রোজা রাখলেন এবং তার সাথে থাকা সমস্ত বন্যপ্রাণী ও পশুদের রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে!!! (১)।

এই কাহিনী এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো কি মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসির গ্রন্থসমূহে স্থান পাওয়ার যোগ্য?! অধিকন্তু, নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সম্পর্কিত এই ধরণের বিশদ বিবরণের দলিল (دليل) কী? আর নৌকার ভেতরে যা ঘটেছিল তা কে বর্ণনা (نقل) করেছেন?

ফলশ্রুতিতে, তাফসির গ্রন্থসমূহকে এই জাতীয় বিষয় দ্বারা পূর্ণ করার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা কী...

--------------------------------------------

(১) তাফসির আল-তাবারী: ১২/২১ - ২৮, এবং একইভাবে আদ-দুররুল মানসুর: ৩/৩২৭ - ৩৩২।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
التفاهات والمغالطات والبدع التي لا ترقى إلى أن تكون قصة خيالية للأطفال؟!

 

‌‌8 - في قصة يوسف عليه السلام:

في تفسير قوله تعالى: (وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ وَهَمَّ بِها لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ كَذلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبادِنَا الْمُخْلَصِينَ) (1).

أباطيل وإسرائيليات وبدع ساقها المفسرون، وهي لا توافق النقل الصحيح ولا العقل السليم، وتتنافى مع عصمة أنبياء الله عليهم السلام، وهذه من القضايا التي لا تتسامح الشريعة معها، إذ ليست المسألة متعلقة برجل عادي، إنما هي بنبي ابن نبي ابن نبي عليهم السلام، وسأنقل ما جاء في الدر المنثور لنرى إلى أي درجة وصل التهاون واللامبالاة أمام مقام المعصومين عليهم السلام:

أخرج عبد الرزاق والفريابي وسعيد بن منصور وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وأبو الشيخ والحاكم وصححه، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما همّت به، تزينت ثم استلقت على فراشها، وهمّ بها وجلس بين رجليها يحلّ تبانه، نودي من السماء:

يا ابن يعقوب! لا تكن كطائر ينتف ريشه، فبقي لا ريش له، فلم يتعظ على النداء شيئا حتى رأى برهان ربه جبريل عليه السلام في صورة يعقوب عاضا على إصبعيه، ففزع فخرجت شهوته من أنامله، فوثب إلى الباب فوجده مغلقا، فرفع رجله فضرب بها الباب الأدنى فانفرج له، واتبعته فأدركته، فوضعت يديها في قميصه فشقته حتى بلغت عضلة ساقه، فألفيا سيدها لدى الباب!!

وأخرج أبو نعيم في الحلية عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه في قوله: (وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ وَهَمَّ بِها)، قال: طمعت فيه وطمع فيها، وكان

--------------------------------------------

(1) يوسف: 24.
এমন সব অসারতা, ভ্রান্ত যুক্তি এবং নবপ্রবর্তিত বিষয় (بدعة) যা কি না শিশুদের রূপকথার গল্পের স্তরেও উন্নীত হওয়ার যোগ্য নয়?!

 

‌‌৮ - ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাহিনী প্রসঙ্গে:

মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যায়: "আর অবশ্যই সেই নারী তাঁর প্রতি সংকল্প করেছিল এবং তিনিও তার প্রতি সংকল্প করতেন যদি না তিনি তাঁর রবের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতেন; এভাবেই, যেন আমি তাঁর থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূর করে দিই। নিশ্চয়ই তিনি আমার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (১)।

মুফাসসিরগণ এমন কিছু অসার কথা, ইসরাইলি বর্ণনা (إسرائيليات) এবং নবপ্রবর্তিত বিষয় (بدعة) অবতারণা করেছেন, যা না সহিহ (صحيح) বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর না সুস্থ বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ। অধিকন্তু এগুলো আল্লাহর নবীদের—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—নিষ্পাপতার (عصمة) পরিপন্থী। এগুলো এমন বিষয় যা শরিয়ত কোনোভাবেই বরদাশত করে না; কারণ এটি কোনো সাধারণ মানুষের বিষয় নয়, বরং এটি একজন নবী, তাঁর পিতা নবী এবং তাঁর পিতামহও নবী—তাঁদের সবার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিষয়। আমি আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থ থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করব, যাতে আমরা দেখতে পাই যে নিষ্পাপ (معصوم) ব্যক্তিদের মর্যাদার ক্ষেত্রে অবহেলা ও উদাসীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে:

আবদুর রাজ্জাক, ফিরইয়াবি, সাঈদ বিন মনসুর, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শায়খ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন (أخرج) এবং তিনি একে সহিহ (صحيহ) বলে অভিহিত করেছেন (صححه); ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন সেই নারী তাঁর প্রতি সংকল্প করল, সে নিজেকে সজ্জিত করল এবং বিছানায় শুয়ে পড়ল। ইউসুফও তার প্রতি সংকল্প করলেন এবং তার দুই পায়ের মাঝে বসে তাঁর পায়জামা ঢিলা করতে লাগলেন। তখন আকাশ থেকে ধ্বনি এল:

হে ইয়াকুবের পুত্র! তুমি এমন পাখির মতো হয়ো না যার পালক উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং সে পালকহীন অবস্থায় রয়ে গেছে। তিনি এই ধ্বনিতে মোটেও কর্ণপাত করলেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর রবের নিদর্শন অর্থাৎ জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আকৃতিতে নিজের আঙ্গুলে কামড় দেওয়া অবস্থায় দেখলেন। তখন তিনি ভীত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে তাঁর কামভাব প্রশমিত হয়ে বেরিয়ে গেল। এরপর তিনি দরজার দিকে দৌড়ে গেলেন এবং সেটি বন্ধ পেলেন। তিনি পা দিয়ে নিকটবর্তী দরজায় আঘাত করলে সেটি তাঁর জন্য খুলে গেল। সেই নারী তাঁর পিছু নিল এবং তাঁকে ধরে ফেলল। সে তাঁর জামার ওপর হাত রেখে তা টেনে ছিঁড়ে ফেলল, এমনকি তা পায়ের গোছা পর্যন্ত ছিঁড়ে গেল। অতঃপর তারা দুজনে দরজার কাছে তাঁর স্বামীকে দেখতে পেল!!

আবু নুয়াইম হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে আলি বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী— "আর অবশ্যই সেই নারী তাঁর প্রতি সংকল্প করেছিল এবং তিনিও তার প্রতি সংকল্প করতেন"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন (أخرج): সে তাঁর প্রতি লালসা পোষণ করেছিল এবং তিনিও তার প্রতি লালসা পোষণ করেছিলেন, আর বিষয়টি ছিল...

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ: ২৪।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من الطمع أن همّ بحل التكة، فقامت إلى صنم مكلل بالدر والياقوت في ناحية البيت، فسترته بثوب أبيض بينها وبينه، فقال: أي شيء تصنعين؟!

فقالت: أستحي من إلهي أن يراني على هذه الصورة، فقال يوسف عليه السلام: تستحين من صنم لا يأكل ولا يشرب، ولا أستحي من إلهي الذي هو قائم على كل نفس بما كسبت؟!

ثم قال لها: لا تنالينها مني أبدا، وهو البرهان الذي رأى!!

وأخرج عبد الرزاق وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن مجاهد رضي الله عنه في قوله: (وَهَمَّ بِها) قال: حلّ سراويله حتى بلغ ثنته، وجلس منها مجلس الرجل من امرأته، فمثل له يعقوب عليه السلام، فضرب بيده على صدره فخرجت شهوته من أنامله!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم وأبو الشيخ والحاكم وصححه عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: (لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ) قال: رأى صورة أبيه يعقوب في وسط البيت عاضا على إبهامه، فأدبر هاربا وقال: وحقك يا أبت لا أعود أبدا!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن عكرمة وسعيد بن جبير في قوله: (لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ) قال: حلّ السراويل وجلس منها مجلس الخاتن، فرأى صورة فيها وجه يعقوب عاضا على أصابعه، فدفع صدره فخرجت الشهوة من أنامله، فكل ولد يعقوب قد ولد له اثنا عشر ولدا، إلا يوسف عليه السلام نقص بتلك الشهوة ولدا، ولم يولد له غير أحد عشر ولدا!!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن الحسن رضي الله
লোভের বশবর্তী হয়ে তিনি যখন পাজামার ফিতা খোলার সংকল্প করলেন, তখন সেই নারী ঘরের এক কোণে মুক্তা ও ইয়াকুত খচিত একটি মূর্তির দিকে এগিয়ে গেল এবং তার ও মূর্তির মাঝখানে একটি সাদা কাপড় দিয়ে পর্দা টেনে দিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কী করছ?"

সে বলল, "আমি আমার উপাস্যের সামনে এই অবস্থায় লজ্জিত বোধ করছি।" ইউসুফ (আ.) বললেন, "তুমি এমন এক মূর্তির সামনে লজ্জা পাচ্ছ যে পানাহার করতে পারে না, অথচ আমি আমার সেই প্রতিপালকের সামনে লজ্জা পাব না যিনি প্রত্যেক সত্তা যা অর্জন করে তার ওপর দণ্ডায়মান?!"

তারপর তিনি তাকে বললেন, "তুমি কখনোই আমার কাছ থেকে তা (তোমার আকাঙ্ক্ষা) পাবে না।" আর এটিই ছিল সেই নিদর্শন, যা তিনি দেখেছিলেন!!

আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতেম এবং আবুশ শাইখ মুজাহিদ (রা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"এবং তিনি তার সংকল্প করেছিলেন"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তিনি তাঁর পাজামা শিথিল করেছিলেন এমনকি তা তাঁর তলপেট পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং স্ত্রীর সাথে পুরুষের বসার ন্যায় তিনি বসেছিলেন। তখন ইয়াকুব (আ.)-এর আকৃতি তাঁর সামনে প্রকাশ পেল এবং তিনি তাঁর (ইউসুফের) বুকে হাত দিয়ে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর আঙুলের ডগা দিয়ে শাহওয়াত নির্গত হয়ে গেল!!

ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতেম, আবুশ শাইখ এবং হাকেম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী—"যদি না তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শন দেখতেন"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। তিনি বলেন: তিনি ঘরের মাঝখানে তাঁর পিতা ইয়াকুবের আকৃতি দেখতে পেলেন যিনি নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি কামড়ে ধরেছিলেন। তখন তিনি পিছু ফিরে পালালেন এবং বললেন, "হে পিতা! আপনার কসম, আমি আর কখনোই এমনটি করব না!!"

ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতেম এবং আবুশ শাইখ ইকরিমা ও সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী—"যদি না তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শন দেখতেন"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: তিনি পাজামা শিথিল করেছিলেন এবং খতনা প্রদানকারীর ন্যায় বসার ভঙ্গিতে বসেছিলেন। তখন তিনি একটি আকৃতি দেখতে পেলেন যাতে ইয়াকুবের চেহারা ছিল এবং তিনি নিজের আঙুল কামড়ে ধরেছিলেন। তখন তিনি তাঁর (ইউসুফের) বুকে ধাক্কা দিলেন এবং তাঁর আঙুলের ডগা দিয়ে শাহওয়াত নির্গত হয়ে গেল। ইয়াকুবের সন্তানদের প্রত্যেকেরই বারোজন করে সন্তান হয়েছিল, কেবল ইউসুফ (আ.) ছাড়া; সেই শাহওয়াতের কারণে তাঁর একজন সন্তান হ্রাস পেয়েছিল এবং এগারোজন ছাড়া তাঁর আর কোনো সন্তান জন্মায়নি!!!

ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতেম এবং আবুশ শাইখ হাসান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عنه في قوله: (لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ) قال: رأى يعقوب عاضا على أصابعه يقول: يوسف يوسف!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم عن مجاهد رضي الله عنه في قوله:

(لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ) قال: تمثل له يعقوب فضرب في صدر يوسف، فطارت شهوته من أطراف أنامله، فولد لكل ولد يعقوب اثنا عشر ذكرا، غير يوسف لم يولد له إلا غلامان!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن قتادة رضي الله عنه في الآية قال: رأى آية من آيات ربه، حجزه الله بها عن معصيته، ذكر لنا أنه مثل له يعقوب عاضا على إصبعيه وهو يقول له: يا يوسف، أتهمّ بعمل السفهاء وأنت مكتوب في الأنبياء؟ فذلك البرهان، فانتزع الله كل شهوة كانت في مفاصله!!

وأخرج ابن جرير وابن أبي حاتم عن محمد بن كعب القرطي رضي الله عنه قال: البرهان الذي رأى يوسف عليه السلام، ثلاث آيات من كتاب الله (وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحافِظِينَ (10) كِراماً كاتِبِينَ (11) يَعْلَمُونَ ما تَفْعَلُونَ) (1) وقول الله: (وَما تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَما تَتْلُوا مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُوداً إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ) (2) وقوله الله: (أَفَمَنْ هُوَ قائِمٌ عَلى كُلِّ نَفْسٍ بِما كَسَبَتْ) (3).

وأخرج ابن أبي شيبة وابن جرير وابن المنذر وأبو الشيخ، عن محمد بن كعب قال: رأى في البيت في ناحية الحائط مكتوبا: (وَلا تَقْرَبُوا الزِّنى إِنَّهُ كانَ فاحِشَةً وَساءَ

سَبِيلًا) (4).

وأخرج ابن المنذر وأبو الشيخ عن وهب بن منبه رضي الله عنه قال:

--------------------------------------------

(1) الانفطار: 10/ 12.

(2) يونس: 61 - 62.

(3) الرعد: 33.

(4) الإسراء: 32.
তাঁর থেকে বর্ণিত আল্লাহর বাণী: (যদি না তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতেন) সম্পর্কে তিনি বলেন: তিনি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর আঙুলগুলো কামড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন, যিনি বলছিলেন: ইউসুফ ইউসুফ!!

এবং ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:

(যদি না তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতেন), তিনি বলেন: ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে দৃশ্যমান হলেন এবং ইউসুফের বক্ষে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর কামভাব তাঁর আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে বের হয়ে গেল। এরপর ইয়াকুবের প্রত্যেক সন্তানের বারোজন করে পুত্রসন্তান জন্মাল, কিন্তু ইউসুফের কেবল দুইজন পুত্রসন্তান ব্যতীত অন্য কেউ জন্মাল না!!

এবং ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম ও আবুশ শাইখ কাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে একটি নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে পাপাচার থেকে বিরত রাখেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে তাঁর দুটি আঙুল কামড়ানো অবস্থায় দৃশ্যমান হন এবং তিনি তাঁকে বলছিলেন: হে ইউসুফ, তুমি কি নির্বোধদের মতো কাজ করার সংকল্প করছ, অথচ তুমি নবীদের তালিকায় লিখিত আছো? এটাই ছিল সেই নিদর্শন (বুরহান), অতঃপর আল্লাহ তাঁর শরীরের প্রতিটি জোড়া থেকে সকল কামভাব দূর করে দিলেন!!

এবং ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাজি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) যে নিদর্শন (বুরহান) দেখেছিলেন, তা হলো আল্লাহর কিতাবের তিনটি আয়াত— (আর নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর হিফাজতকারীগণ নিযুক্ত আছেন (১০) সম্মানিত লেখকবৃন্দ (১১) তারা জানেন তোমরা যা করো) (১) এবং আল্লাহর বাণী: (আর তুমি যে কোনো অবস্থায় থাকো এবং কুরআন থেকে যা-ই তিলাওয়াত করো এবং তোমরা যে কোনো আমলই করো না কেন, আমরা তোমাদের প্রত্যক্ষদর্শী থাকি যখন তোমরা তাতে লিপ্ত হও) (২) এবং আল্লাহর বাণী: (যিনি প্রত্যেকটি প্রাণীর উপার্জনের ওপর পর্যবেক্ষণকারী, তিনি কি তাদের সমতুল্য?) (৩)।

এবং ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির ও আবুশ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি ঘরের দেয়ালের এক কোণে লিখিত দেখলেন: (আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই এটি একটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ

পথ) (৪)।

এবং ইবনুল মুনজির ও আবুশ শাইখ ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-ইনফিতার: ১০-১২।

(২) ইউনুস: ৬১-৬২।

(৩) আর-রাদ: ৩৩।

(৪) আল-ইসরা: ৩২।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
لما خلا يوسف وامرأة العزيز، خرجت كف بلا جسد بينهما، مكتوب عليه بالعبرانية: (أَفَمَنْ هُوَ قائِمٌ عَلى كُلِّ نَفْسٍ بِما كَسَبَتْ) (1) ثم انصرفت الكفّ وقام مقامها، ثم رجعت الكفّ بينهما، مكتوب عليها بالعبرانية:

(وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحافِظِينَ (10) كِراماً كاتِبِينَ (11) يَعْلَمُونَ ما تَفْعَلُونَ) (2) ثم انصرفت الكفّ وقاما مقامها، فعادت الكف الثالثة، مكتوب عليها: (وَلا تَقْرَبُوا الزِّنى إِنَّهُ كانَ فاحِشَةً وَساءَ سَبِيلًا) (3) وانصرفت الكف وقاما مقامهما، فعادت الكف الرابعة، مكتوب عليها بالعبرانية: (وَاتَّقُوا يَوْماً تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ ما كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ) (4) فولى يوسف عليه السلام هاربا!!

وأخرج ابن جرير عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: (لَوْلا أَنْ رَأى بُرْهانَ رَبِّهِ) قال: آيات ربه، رأى تمثال الملك!! (5).

أهكذا تكون كتب تفسير كلام الله سبحانه، روايات أقرب إلى الخيال والمنامات، وتحليلات لا تليق برجل عادي، فكيف يقبلها الحفاظ والرواة والمفسرون والمحدّثون إذا ألصقت بنبي ابن نبي؟!

ألا يحق للعاقل أن يتساءل: كيف تكتب آيات من القرآن باللغة العبرية قبل أن ينزل القرآن بآلاف السنين؟!

وإذا كان يوسف المعصوم هرب عند ما رأى صورة أبيه، فماذا يفعل الرجل العادي؟!

ثم ما هو فضله إذا كانت شهوته قد خرجت من إصبعه أو أنامل قدميه؟

--------------------------------------------

(1) الرعد: 33.

(2) الانفطار: 10 - 12.

(3) الإسراء: 32.

(4) البقرة: 281.

(5) الدر المنثور: 4/ 521 - 524، جامع البيان للطبري: 12/ 183 - 191.
যখন ইউসুফ ও আজিজের স্ত্রী নির্জনে একত্রিত হলো, তখন তাদের মাঝে দেহহীন একটি হাতের তালু আবির্ভূত হলো, যাতে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল: (তবে কি যিনি প্রত্যেকটি সত্তার উপরে তার কৃতকর্মের হেফাযতকারী তিনি তাদের সমতুল্য?) (১) অতঃপর হাতের তালুটি চলে গেল এবং সে নিজ অবস্থানে রয়ে গেল, এরপর পুনরায় হাতের তালুটি তাদের মাঝে ফিরে এল, যাতে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল:

(আর অবশ্যই তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়কগণ নিযুক্ত আছেন (১০) যারা সম্মানিত লেখকবৃন্দ (১১) তারা জানেন যা তোমরা করো) (২) অতঃপর হাতের তালুটি চলে গেল এবং তারা তাদের অবস্থানে স্থির থাকল। পুনরায় তৃতীয়বারের মতো হাতের তালুটি ফিরে এল, যাতে লেখা ছিল: (আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ) (৩) অতঃপর হাতের তালুটি চলে গেল এবং তারা তাদের নিজ নিজ জায়গায় রয়ে গেল। পুনরায় চতুর্থবার হাতের তালুটি ফিরে এল, যাতে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল: (আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ বিনিময় দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না) (৪) তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম পলায়ন করলেন!!

ইবনে জারির ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: (যদি না তিনি তাঁর রবের প্রমাণ দেখতে পেতেন), তিনি বলেন: তাঁর রবের নিদর্শনাবলী, তিনি ফেরেশতার আকৃতি দেখেছিলেন!! (৫)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালামের তাফসির গ্রন্থসমূহ কি এমন হওয়া উচিত? এমন সব বর্ণনা (روايات) যা কল্পনা ও স্বপ্নের কাছাকাছি, আর এমন সব বিশ্লেষণ যা একজন সাধারণ মানুষের জন্যও শোভনীয় নয়; তবে কীভাবে হাফেজ (الحفاظ), বর্ণনাকারী (الرواة), মুফাসসির এবং হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) এগুলো গ্রহণ করেন যখন তা একজন নবীরপুত্রের সাথে যুক্ত করা হয়?!

একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কি প্রশ্ন করার অধিকার নেই: কুরআন নাজিল হওয়ার হাজার বছর আগে কীভাবে কুরআনের আয়াতসমূহ হিব্রু ভাষায় লিখিত থাকতে পারে?!

আর যদি নিষ্পাপ (معصوم) ইউসুফ তাঁর পিতার ছবি দেখে পলায়ন করে থাকেন, তবে একজন সাধারণ মানুষ কী করবে?!

অতঃপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বই বা কোথায় যদি তাঁর কামভাব তাঁর আঙুল বা পায়ের ডগা দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে থাকে?

--------------------------------------------

(১) আর-রাদ: ৩৩।

(২) আল-ইনফিতার: ১০ - ১২।

(৩) আল-ইসরা: ৩২।

(৪) আল-বাকারাহ: ২৮১।

(৫) আদ-দুররুল মানসুর: ৪/ ৫২১ - ৫২৪, জামিউল বয়ান লিত-তবারি: ১২/ ১৮৩ - ১৯১।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতুত তাফসীর কবলা আহদিত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ثم كيف يروى: مرة أنه لم يبق له إلا أحد عشرا ولدا، ثم مرة أخرى غلامين اثنين؟!

ثم أليس كلام المفسرين عن مراودته إياها يناقض القرآن الكريم وهو يحدثنا عن اعتراف زليخا بأنها هي التي راودته: (أَنَا راوَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ) (1) أو ليس الكلام الواضح في القرآن عن دخوله السجن يدل دلالة قاطعة على نزاهته وعصمته: (قالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُنْ مِنَ الْجاهِلِينَ (33) فَاسْتَجابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ) (2).

أجل!!

إن أنبياء الله ورسله أعلى من أن يهمّ أحدهم بارتكاب الفاحشة- والعياذ بالله- فهم الصفوة المختارة، الذين عصمهم الله تعالى.

وكان الأجدر بالأئمة الأعلام كالسيوطي والطبري والبغوي والواحدي والثعلبي وغيرهم أن ينزّهوا كتب التفسير عن أمثال هذه الخرافات والضلالات والإسرائيليات، وإلا ما الفائدة من أن يفرد الطبري قرابة ثماني صفحات في سرد أمثال هذا الهراء؟!!

 

‌‌9 - في إفساد بني إسرائيل:

أطنب المفسرون في الحديث عن إفساد بني إسرائيل مرة تلو مرة، وذكروا ما أنزل الله بها من سلطان، وسردوا أسماء مسميات ونحو ذلك.

ولدى البحث يتبين أن مردّ ذلك إلى الإسرائيليات والأباطيل!!

فالإمام السيوطي واين جرير الطبري وغيرهم فصّلوا تفصيلات

--------------------------------------------

(1) يوسف: 51.

(2) يوسف: 33 - 34.
এরপর কীভাবে বর্ণিত (يروى) হয়: এক পর্যায়ে যে তাঁর মাত্র এগারোজন সন্তান অবশিষ্ট ছিল, আবার অন্য এক পর্যায়ে যে মাত্র দু'জন বালক ছিল?!

তদুপরি, ইউসুফ (আ.) কর্তৃক তাঁকে (জুলায়খাকে) ফুসলানোর ব্যাপারে মুফাসসিরগণের বক্তব্য কি পবিত্র কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? যেখানে কুরআন আমাদের জুলায়খার স্বীকারোক্তি সম্পর্কে বলছে যে, সে-ই তাঁকে ফুসলিয়েছিল: "আমিই তাকে ফুসলিয়েছিলাম এবং সে অবশ্যই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।" (১) অথবা কারাগারে তাঁর প্রবেশের ব্যাপারে কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য কি তাঁর পবিত্রতা ও নিষ্পাপতার (عصمة) ওপর অকাট্য প্রমাণ নয়? "তিনি বললেন: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহ্বান করছে, তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর আপনি যদি তাদের চক্রান্ত আমার থেকে দূর না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ব এবং মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব। (৩৩) অতঃপর তাঁর রব তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন এবং তাদের চক্রান্ত তাঁর থেকে দূর করে দিলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" (২)।

হ্যাঁ!!

নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার সংকল্প করার অনেক ঊর্ধ্বে—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই—তাঁরা হলেন মনোনীত শ্রেষ্ঠ বান্দা, যাঁদের মহান আল্লাহ নিষ্পাপ (عصمهم) রেখেছেন।

আর সুয়ুতি, তাবারি, বাগাবি, ওয়াহিদি ও সা’লাবি-র মতো বরেণ্য ইমামগণের জন্য এটাই অধিক সমীচীন ছিল যে, তাঁরা তাফসির গ্রন্থগুলোকে এই জাতীয় রূপকথা, ভ্রষ্টতা ও ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) থেকে পবিত্র রাখতেন। অন্যথায় তাবারির এই জাতীয় অসার আলোচনার বর্ণনায় প্রায় আট পৃষ্ঠা ব্যয় করার সার্থকতা কী?!!

 

‌‌৯ - বনী ইসরাঈলের বিপর্যয় সৃষ্টি প্রসঙ্গে:

মুফাসসিরগণ বনী ইসরাঈলের দফায় দফায় বিপর্যয় সৃষ্টির আলোচনায় দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেছেন এবং এমন সব কথা উল্লেখ করেছেন যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি; তাঁরা বিভিন্ন নামধাম ও এই জাতীয় অনেক কিছুর অবতারণা করেছেন।

অথচ গবেষণায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, এসবের উৎস হলো ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) এবং বাতিল (الأباطيل) বিষয়াবলী!!

কেননা ইমাম সুয়ুতি, ইবনে জারির তাবারি এবং অন্যান্যরা এ ব্যাপারে দীর্ঘ বিবরণ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ: ৫১।

(২) ইউসুফ: ৩৩ - ৩৪।