(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: -)
المنار في علوم القرآن مع مدخل في أصول التفسير ومصادره   (محمد علي الحسن)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المنار في علوم القرآن مع مدخل في أصول التفسير ومصادره

المؤلف: الدكتور محمد علي الحسن، كلية الدراسات الإسلامية بجامعة الإمارات العربية المتحدة

قدم له: الدكتور محمد عجاج الخطيب (رئيس قسم الدراسات الإسلامية بجامعة الإمارات العربية المتحدة)

الناشر: موسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 314

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433

উলূমুল কুরআনে আল-মানার এবং তাফসীরের মূলনীতি ও এর উৎসসমূহের ভূমিকা   (মুহাম্মদ আলী আল-হাসান)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসুলুত তাফসীর


বই: উলূমুল কুরআনে আল-মানার এবং তাফসীরের মূলনীতি ও এর উৎসসমূহের ভূমিকা

লেখক: ডক্টর মুহাম্মদ আলী আল-হাসান, ইসলামি শিক্ষা অনুষদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়

উপস্থাপনায়: ডক্টর মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব (বিভাগীয় প্রধান, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহাররাম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم الكتاب

بسم الله الرّحمن الرّحيم إنّ الحمد لله، نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيّئات أعمالنا من يهد الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمّدا عبده ورسوله، حمل الرّسالة، وأدّى الأمانة، ونصح الأمّة، صلّى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعه بإحسان إلى يوم الدّين.

وبعد: فقد سخّر ربّ العالمين بكتابه المبين، خاتمة الكتب السّماويّة سبيل حفظه، والاعتناء به، ونشره وتفسيره ونقله وتعليمه، والغوص على أسراره، والعمل بأحكامه، والتخلّق بآدابه مما لم يعهد التّاريخ لغيره مثل هذه العناية والرعاية.

وقد نمت في خدمة القرآن الكريم علوم كثيرة، واتّسعت دوحة علوم القرآن في ظلاله، فلم تدع شاردة أو واردة لها صلة بخدمته أو بيان بعض ما يتعلّق به إلّا أحاطت بها … من وحيه وكيفيّة نزوله، وحفظه وحفّاظه، وجمعه وتدوينه، وشكله وإعجامه، ورسم كلمه، وترتيب آياته وسوره، ومعرفة مكيّه ومدنيّه، وأسباب نزوله، وما كان منه في قرّ شتاء، أو قيظ صيف، في سلم أو حرب، وليل أو نهار … بما يدهش العقول، حتّى عدّوا حروفه، وبيّنوا قرّاءه وقراءاته، ووجوه إعجازه … وغير هذا ممّا يطول عدّه وبيانه …

وقد كثرت المصنّفات في علوم القرآن- قديما وحديثا- وتفاوتت مناهجها وحجومها، وتنوّعت أبحاثها، وكثرت مسائلها، وتعدّدت الأقوال فيها، حتّى بدت كالرّياض النّضرة، يجوب فيها نزيلها، فيحار بين زهورها وورودها، وجمال ألوانها.

وكان من أحدث ما اطّلعت عليه من تلك الرّياض أصول كتاب «المنار في علوم القرآن» الطّبعة الثّانية للأخ الأستاذ الدكتور محمد علي الحسن، حفظه الله فكان بعض
গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁর অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: নিশ্চয়ই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব—যা আসমানি কিতাবসমূহের সর্বশেষ—সংরক্ষণ, এর প্রতি যত্নশীল হওয়া, এর প্রচার, ব্যাখ্যা, বর্ণনা ও শিক্ষাদান, এর নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন, এর বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং এর শিষ্টাচারসমূহ দ্বারা চরিত্র গঠনের পথ সুগম করেছেন; ইতিহাস অন্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রে এমন যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের নজির দেখেনি।

কুরআনুল কারীমের খিদমতে বহু বিজ্ঞান বিকশিত হয়েছে এবং কুরআনের ছায়াতলে 'উলূমুল কুরআন'-এর মহীরুহ বিস্তৃত হয়েছে। এর খিদমত বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ই বাদ পড়েনি যা একে পরিবেষ্টন করেনি … এর ওহী ও নাযিল হওয়ার পদ্ধতি, এর সংরক্ষণ ও হিফযকারীগণ, এর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ, এর হরকত ও নুকতা প্রদান, এর শব্দশৈলী, এর আয়াত ও সূরার বিন্যাস, মক্কী ও মাদানী সূরার জ্ঞান, নাযিলের প্রেক্ষাপট, এর মধ্যে কোনটি প্রচণ্ড শীতে বা গ্রীষ্মের উত্তাপে নাযিল হয়েছে, কোনটি যুদ্ধ বা শান্তিকালীন অবস্থায় এবং কোনটি রাতে বা দিনে … যা বুদ্ধিকে অভিভূত করে। এমনকি তারা এর অক্ষরগুলো পর্যন্ত গণনা করেছেন, এর কারীগণ ও কিরাতসমূহ এবং এর অলৌকিকত্বের দিকগুলো স্পষ্ট করেছেন … এ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে যার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দীর্ঘ …

উলূমুল কুরআনের বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক কালে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এগুলোর পদ্ধতি ও কলেবর ভিন্ন ভিন্ন, এর গবেষণার বিষয়সমূহ বৈচিত্র্যময়, মাসআলাসমূহ প্রচুর এবং এতে মতামতের আধিক্য রয়েছে; এমনকি এটি একটি সতেজ বাগানের মতো প্রতিভাত হয়, যেখানে পরিভ্রমণকারী এর ফুল ও গোলাপ এবং রঙের সৌন্দর্যের মাঝে বিমোহিত হয়।

সেই বাগানগুলোর মধ্যে অতি সম্প্রতি আমি যা অবলোকন করেছি তা হলো ভাই অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আলী আল-হাসান (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর 'আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন' গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের পাণ্ডুলিপি। এর কিছু অংশ ছিল
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৬)
باقات منسّقة من ورود وأزاهير تلك الرّياض، وثمرات يانعة من أشجارها، اجتهد فيه المؤلف أن يتّخذ أحوج ما يحتاج إليه الطالب في دراسته، ليحيط بما لا غنى له عنه لمعرفة دستور خاتمة الرّسالات ومنهجها، فيحسن فهمه والانتفاع به، ويوفّق إلى صدق تطبيقه، والعمل بأحكامه وآدابه.

وقد ضمّ الكتاب باقات متنوعة من تلك الغياض الوارفة، كلّ باقة تمثل فصلا، وكلّ وردة منها ينتظم رصف وريقاتها بحثا، فكان اختيارا شاملا، لم يدع للمطّلع عليه منبتا دون جذور، فقد أخذ بيده إلى أصوله ومراجعه ليكون البيان سبيله إلى التراث العظيم، يقف على مكنوناته ويغوص على درره، ويتخيّر من كنوزه، فجمع هذا الكتاب بين أصالة البحث وحداثته، بأمانة العزو، وحسن العرض والمناقشة والترجيح، بعبارة جزلة وأسلوب سهل، وتلخيص محكم، وتفصيل مرتّب، يساعد القارئ على حسن الفهم والاستيعاب.

جزى الله المؤلف خير الجزاء

 

الأستاذ الدكتور محمد عجاج الخطيب رئيس قسم الدراسات الإسلامية بجامعة الإمارات العربية المتحدة وعميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بالشارقة حاليا
সেই উদ্যানসমূহের গোলাপ ও পুষ্পরাজির সুবিন্যস্ত তোড়া এবং তার বৃক্ষরাজির পরিপক্ক ফলসমূহ; লেখক এতে শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনে যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা চয়ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, যাতে শিক্ষার্থী সর্বশেষ আসমানি বার্তার বিধান ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তার জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারে। ফলে সে এটি উত্তমরূপে বুঝতে ও তা থেকে উপকৃত হতে পারবে এবং এর সঠিক প্রয়োগ ও এর বিধান ও শিষ্টাচার অনুযায়ী আমল করার তাওফিক লাভ করবে।

গ্রন্থটি সেই ঘন সবুজ বনানীর বৈচিত্র্যময় পুষ্পগুচ্ছকে ধারণ করেছে, যার প্রতিটি গুচ্ছ একটি অধ্যায়কে উপস্থাপন করে এবং প্রতিটি গোলাপের পাপড়ির বিন্যাস একেকটি গবেষণাকে সুসংবদ্ধ করে। এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ চয়ন, যা পাঠকের নিকট কোনো চারাগাছকে তার শিকড় ব্যতীত উপস্থাপন করেনি। বরং এটি পাঠককে তার মূল উৎস ও প্রসঙ্গের দিকে পথপ্রদর্শন করেছে, যাতে সুস্পষ্ট বর্ণনা সেই মহান ঐতিহ্যের সোপান হয়ে ওঠে; এর মাধ্যমে পাঠক তার রহস্যগুলো অবগত হতে পারে, এর মণিমাণিক্য আহরণে ডুব দিতে পারে এবং এর অমূল্য ভাণ্ডার থেকে চয়ন করতে পারে। এই গ্রন্থটি গবেষণার মৌলিকত্ব ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছে—নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি, চমৎকার উপস্থাপন, আলোচনা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে অগ্রগণ্য মত নির্ণয়ের (তারজিহ) এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রাঞ্জল ভাষা, সহজ শৈলী, সুসংহত সারসংক্ষেপ এবং সুবিন্যস্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি পাঠককে সঠিকভাবে অনুধাবন ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করে।

আল্লাহ লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আজাজ আল-খতিব, প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্তমানে ডিন, শরিয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, শারজাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد

نقصد بعلوم القرآن- كفنّ مدوّن- المباحث التي تتعلق بالقرآن الكريم من ناحية نزوله وإعجازه، وجمعه وترتيبه، وناسخه ومنسوخه، وقراءاته ونحو ذلك من الموضوعات التي كانت معروفة للصحابة وإن لم تكن مدونة مكتوبة إنما مسلكهم في تحصيلها الفهم السديد، أو تذوق بيان القرآن وإعجازه، كل هذا كان سليقة وذكاء في القريحة وبتوجيه وبإرشاد من رسولهم الكريم عليه السلام.

ثم جاء التابعون وبقيت العلوم تؤخذ بالرواية والتلقين لا بالكتابة والتدوين، حتى كانت بداية التدوين لجزء من علوم القرآن، فقام أمثال سفيان بن عيينة ووكيع بن الجراح وشعبة بن الحجاج ليدونوا لنا الروايات التفسيرية المروية عن الصحابة وكبار التابعين، وبذلك كانت أول حركة لتدوين علوم التفسير، ثم جاء الفراء المتوفى سنة 207 هـ فدوّن كتابه معاني القرآن، ويحيى بن سلام ومحمد بن جرير الطبري المتوفى سنة 310 هـ وقد دوّن في مقدمة تفسيره أبحاثا في علوم القرآن كبحث الأحرف السبعة، وتوالت بعده كتب التفسير بالمأثور والمعقول والجمع بينها.

هذا ما يتعلق بعلوم التفسير أما ما يطلق عليه علوم القرآن، فلم يتناول أحد تدوين هذا العلم ككلّ بل شرحوا أبعاضه وأجزاءه، فعلي ابن المديني شيخ الإمام البخاري (المتوفى في سنة 234 هـ) كتب في أسباب نزول القرآن، وأبو عبيد بن سلّام (المتوفى سنة 224 هـ) كتب الناسخ والمنسوخ، ومن كتّاب علوم القرآن في القرن الرابع الهجري، أبو بكر السّجستاني الذي ألّف في غريب القرآن، وفي القرن الخامس علي بن سعيد الحوفي الذي ألّف في إعراب القرآن. وفي السادس كتب السهيلي في مبهمات القرآن، ثم انهالت التآليف في كلّ فنّ، كالقراءات، وأسباب النزول، والإعجاز، والأمثال، والقرآن وحججه وجدله.

ويرى الشيخ الزرقاني أن أول عهد لظهور هذا الاصطلاح هو القرن الرابع الهجري إذ كتب علي بن إبراهيم بن سعيد الشهير بالحوفي المتوفى سنة 430 هـ كتابه
ভূমিকা

উলূমুল কুরআন—একটি সংকলিত শাস্ত্র হিসেবে—বলতে আমরা সেই সকল গবেষণামূলক বিষয়কে বুঝি যা কুরআনুল কারীমের অবতীর্ণ হওয়া, এর অলৌকিকত্ব, সংকলন ও বিন্যাস, রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয় (নাসিখ-মানসুখ), কিরাতসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে। এই বিষয়গুলো সাহাবীগণের নিকট পরিচিত ছিল, যদিও তখন তা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ ছিল না। বরং তা অর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি ছিল সঠিক অনুধাবন অথবা কুরআনের বর্ণনাশৈলী ও এর অলৌকিকত্বের স্বাদ আস্বাদন করা। এই সবই ছিল তাঁদের সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রখর মেধার ফসল এবং তাঁদের সম্মানিত রাসূল আলাইহিস সালামের দিকনির্দেশনা ও নির্দেশনার ফল।

এরপর তাবিঈগণের যুগ আসে এবং এই জ্ঞানগুলো বর্ণনানির্ভর ও শ্রুতি-নির্ভর পাঠদানের মাধ্যমেই থেকে যায়, লেখা বা সংকলনের মাধ্যমে নয়। পরিশেষে উলূমুল কুরআনের একাংশ সংকলনের কাজ শুরু হয়। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা, ওয়াকি ইবনে জাররাহ এবং শু’বা ইবনে হাজ্জাজ প্রমুখ সাহাবী ও বড় বড় তাবিঈগণের নিকট থেকে বর্ণিত তাফসীর বিষয়ক বর্ণনাগুলো সংকলন করার জন্য এগিয়ে আসেন। এভাবেই তাফসীর শাস্ত্র সংকলনের প্রথম আন্দোলন শুরু হয়। এরপর আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) তাঁর 'মা'আনিল কুরআন' গ্রন্থটি সংকলন করেন। এরপর আসেন ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লাম এবং মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি)। তাবারী তাঁর তাফসীরের ভূমিকায় উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন গবেষণামূলক বিষয় যেমন 'সাত হরফ' (আহরুফে সাব’আ) বিষয়ক আলোচনা সংকলন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে বর্ণনাভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে তাফসীর গ্রন্থসমূহ রচিত হতে থাকে।

এটি তাফসীর শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট আলোচনা। আর যাকে 'উলূমুল কুরআন' বলা হয়, এই শাস্ত্রটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলনের কাজ (শুরুর দিকে) কেউ করেননি, বরং তাঁরা এর বিভিন্ন অংশ ও শাখাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। যেমন ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) 'আসবাবুন নুযূল' (কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন এবং আবু উবাইদ ইবনে সাল্লাম (মৃত্যু ২২৪ হিজরি) 'নাসিখ ও মানসুখ' বিষয়ে লিখেন। চতুর্থ হিজরি শতকের উলূমুল কুরআনের লেখকদের মধ্যে আবু বকর আস-সিজিস্তানী অন্যতম, যিনি 'গারীবুল কুরআন' (কুরআনের দুর্বোধ্য শব্দাবলি) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। পঞ্চম শতাব্দীতে আলী ইবনে সাঈদ আল-হুফী কুরআনের 'ইরাব' (ব্যাকরণ) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। ষষ্ঠ শতাব্দীতে আস-সুহাইলী কুরআনের 'মুবহামাত' (অস্পষ্ট বিষয়াদি) বিষয়ে লিখেন। অতঃপর প্রতিটি শাখার ওপর রচনার স্রোত বয়ে যায়, যেমন কিরাত, আসবাবুন নুযূল, অলৌকিকত্ব, উপমাসমূহ এবং কুরআনের প্রমাণ ও বিতর্কসমূহ।

শায়খ যারকানী মনে করেন যে, এই পরিভাষাটির (উলূমুল কুরআন) আবির্ভাবের প্রথম কাল হলো চতুর্থ হিজরি শতাব্দী, যখন আলী ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাঈদ, যিনি আল-হুফী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি), তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৮)
«البرهان في علوم القرآن»،- وهو بالطبع غير كتاب الزركشي- والموجود منه حاليا خمسة عشر جزءا، ويبدو من طريقته أنه كتاب تفسير، وإن تعرض من خلال تفسيره إلى شذرات في علوم القرآن، التي يظنّ أنه قد تعرض لها بإسهاب في المقدّمة المفقودة من تفسيره مع الأجزاء الخمسة عشر الأولى، ولم يبق بأيدينا إلّا النصف الآخر من الكتاب.

وفي القرن السادس كتب ابن الجوزي كتابه «فنون الأفنان في عجائب علوم القرآن» الذي وصفه السيوطي (بأنه لم يقرأ مثله ولا قريبا منه)، وهو موجود في دار الكتب المصرية وهو كتاب صغير الحجم، فيه مباحث بسيطة كعدّ كلمات القرآن وحروفه، والكتاب قد حققه محمد إبراهيم سليم ونشرته مكتبة السباعي بالرياض.

وأرجح أن الذي وصفه لنا السيوطي ما زال مفقودا.

وفي القرن السابع ألف علم الدين السخاوي المتوفى سنة 641 هـ كتابه «جمال القراء» وقد حققه زميلنا عبد الكريم الزبيدي ونشر في بيروت.

وجاء القرن الثامن فكان كتاب «البرهان في علوم القرآن» للإمام الزركشي ت «794 هـ» وهو من خير كتب علوم القرآن، وكتابه يقع في أربعة مجلدات، وتلاه في القرن الثامن محمد بن سليمان الكافيجي المتوفى سنة 873 هـ غير أن كتابه كما قال السيوطي: (لم يشف غليلا، ولم يهد إلى المقصود سبيلا). وتلاه جلال الدين البلقيني، وكتابه «مواقع العلوم من مواقع النجوم» وقد ضمنه السيوطي المتوفى 911 هـ في كتابه «التحبير في علوم التفسير». وألف كتابه القيم «الإتقان في علوم القرآن» الذي يعتبر عمدة في بابه.

 

‌‌بين البرهان والإتقان في علوم القرآن

: هذان كتابان من خير الكتب وأوسعها في علوم القرآن، أما البرهان للزركشي فهو السابق للإتقان. وهذا الكتاب يتناول الموضوعات تناولا موسعا شافيا وافيا.

وأفاد منه السيوطي كثيرا، وقد استوفى جميع أبوابه وأنواعه ولكنه أوجزها وأضاف إليها أنواعا أخرى وجعلها ثمانين نوعا. وكتابه يعوزه التحقيق الذي يقوم به
«আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন»—এটি অবশ্যই যারকাশির কিতাব থেকে ভিন্ন—বর্তমানে এর পনেরটি খণ্ড বিদ্যমান রয়েছে। এর পদ্ধতি দেখে মনে হয় যে এটি একটি তাফসীর গ্রন্থ, যদিও তিনি তার তাফসীরের মাঝে উলূমুল কুরআনের কিছু ছিটেফোঁটা আলোচনা তুলে ধরেছেন; ধারণা করা হয় যে, তিনি তার তাফসীরের হারিয়ে যাওয়া ভূমিকা এবং প্রথম পনের খণ্ডে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে আমাদের হাতে কিতাবটির কেবল শেষ অর্ধেক অবশিষ্ট রয়েছে।

ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইবনুল জাওযী তার «ফুনুনুল আফনান ফি আজায়িবি উলূমিল কুরআন» কিতাবটি রচনা করেন, যা সম্পর্কে সুয়ূতী বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি এর মতো বা এর কাছাকাছি আর কিছু পড়েননি)। এটি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়াতে সংরক্ষিত আছে এবং এটি আকারে ছোট একটি কিতাব, যাতে কুরআনের শব্দ ও বর্ণ গণনার মতো সাধারণ কিছু আলোচনা রয়েছে। কিতাবটি মুহাম্মাদ ইবরাহীম সালীম সম্পাদনা করেছেন এবং রিয়াদের মাকতাবাতুস সিবাঈ এটি প্রকাশ করেছে।

আমি মনে করি সুয়ূতী আমাদের কাছে যেটির বর্ণনা দিয়েছেন তা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

সপ্তম শতাব্দীতে আলম উদ্দিন সাখাভী (মৃত্যু ৬৪১ হিজরী) তার কিতাব «জামালুল কুররা» রচনা করেন। আমাদের সহকর্মী আব্দুল কারীম আল-যুবায়দী এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এটি বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

অষ্টম শতাব্দী আসার পর ইমাম যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী) এর «আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন» কিতাবটি আসে, যা উলূমুল কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব। তার কিতাবটি চার খণ্ডে বিভক্ত। অষ্টম শতাব্দীতেই তার পরে আসেন মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আল-কাফিয়াজী (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরী), তবে তার কিতাব সম্পর্কে সুয়ূতী যেমনটি বলেছেন: (তা পিপাসা মেটাতে পারেনি এবং উদ্দিষ্ট পথে পরিচালিত করেনি)। এরপর আসেন জালালুদ্দিন আল-বুলকিনী এবং তার কিতাব «মাওয়াকিউল উলূম মিন মাওয়াকিইন নুজূম»। সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) এটি তার «আত-তাহবীর ফি উলূমিত তাফসীর» কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তিনি তার মূল্যবান কিতাব «আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন» রচনা করেন, যা এই বিষয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

‌‌উলূমুল কুরআনের ক্ষেত্রে আল-বুরহান ও আল-ইতকান-এর মধ্যে তুলনা

: এই দুইটি কিতাব উলূমুল কুরআনের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বিস্তৃত কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যারকাশির আল-বুরহান কিতাবটি আল-ইতকান-এর পূর্ববর্তী। এই কিতাবটি বিষয়সমূহ অত্যন্ত বিস্তৃত, তৃপ্তিদায়ক ও পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করেছে।

সুয়ূতী এটি থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন। তিনি এর সকল অধ্যায় ও প্রকারভেদ পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেছেন, তবে সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং আরও কিছু প্রকার যুক্ত করে মোট আশিটি প্রকার করেছেন। তার এই কিতাবটি এমন একটি সম্পাদনার দাবি রাখে যা সম্পন্ন করবে...
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৯)
حاليا قسم التفسير بجامعة الأزهر، وقد أشرف الأستاذ الدكتور إبراهيم خليفة رئيس القسم على رسالة في تحقيق جزء منه، وهو مزمع على إكماله إن شاء الله.

وأخيرا فإن كتب علوم القرآن في هذا العصر كثيرة جدا فلا تخلو كلية من كليات الشريعة وأصول الدين من كتاب يؤلفه مدرسو المادة منفردين أو مجتمعين، وأشهر الكتب «مناهل العرفان في علوم القرآن» للشيخ الزرقاني وهو أوسع هذه الكتب انتشارا مع ما فيه من إعواز إلى التمحيص في كثير من القضايا، ومن هذه الكتب وأكملها قيمة «كتاب البيان في علوم القرآن» للشيخ عبد الوهاب غزلان ولكنه قاصر على بعض الأبحاث كجمع القرآن الذي نال عنايته.

ومن أقدم كتب علوم القرآن في بلاد الشام ما ألفه الشيخ د. صبحي الصالح «مباحث في علوم القرآن»، كما ألف الأستاذ الدكتور عدنان زرزور كتابه القيم «علوم القرآن».

كما كتب الدكتور إبراهيم خليفة كتابه «منّة المنان في علوم القرآن» و «الوحي» وما زال يكتب في هذا المجال.
বর্তমানে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসীর বিভাগ; বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর ইবরাহিম খলিফা এর একটি অংশের তাহকীকের ওপর একটি গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধান করেছেন এবং তিনি আল্লাহ চাইলে এটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা রাখেন।

পরিশেষে, বর্তমান যুগে উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহ সংখ্যায় অনেক; তাই শরীয়াহ এবং উসূলে দ্বীন অনুষদগুলোর এমন কোনো অনুষদ নেই যেখানে এই বিষয়ের শিক্ষকদের একক বা সম্মিলিতভাবে রচিত কোনো কিতাব নেই। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাব হলো শেখ যুরকানীর ‘মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন’। অনেক বিষয়ে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও এটিই এই ধারার কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রচারিত। এই কিতাবগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং মানগতভাবে অধিক পূর্ণাঙ্গ হলো শেখ আব্দুল ওয়াহাব গাযলানের ‘কিতাবুল বায়ান ফী উলূমিল কুরআন’, তবে এটি নির্দিষ্ট কিছু গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেমন কুরআন সংকলন, যা তাঁর বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে।

শাম দেশে উলূমুল কুরআনের প্রাচীনতম কিতাবগুলোর মধ্যে একটি হলো শেখ ডক্টর সুবহী আস-সালেহ রচিত ‘মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন’। একইভাবে অধ্যাপক ডক্টর আদনান যারযূর তাঁর মূল্যবান কিতাব ‘উলূমুল কুরআন’ রচনা করেছেন।

এছাড়া ডক্টর ইবরাহিম খলিফা তাঁর কিতাব ‘মিননাতুল মান্নান ফী উলূমিল কুরআন’ এবং ‘আল-ওয়াহী’ রচনা করেছেন এবং তিনি এখনো এই ক্ষেত্রে লিখে চলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول القرآن الكريم

المبحث الأول: معناه.

المبحث الثاني: أسماؤه.

المبحث الثالث: لغة القرآن.

المبحث الرابع: إعجاز القرآن.

المبحث الخامس: الترجمة.

المبحث السادس: القصة في القرآن.
প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআন

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর অর্থ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর নামসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের ভাষা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআনের অলৌকিকত্ব।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অনুবাদ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনের কাহিনী।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الأول تعريف القرآن لغة وشرعا

‌‌1 - المعنى اللغوي:

أ- يرى بعض علماء اللغة أن كلمة (القرآن) هي مصدر على وزن (فعلان) كالغفران والرجحان والشكران، فهو مهموز اللام من قرأ يقرأ قراءة وقرآنا، بمعنى تلا يتلو تلاوة، ثم نقل في عرف الشرع من هذا المعنى وجعل علما على مقروء معين، وهو من باب تسمية المفعول بالمصدر، وقد ورد بهذا المعنى في قوله تعالى:

لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ 16 إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ 17 فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ [القيامة: 16 - 18].

وقد روى الشيخان رضي الله عنهما في سبب نزولها ما يفيد هذا المعنى، عن ابن عباس أنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعالج من التنزيل شدّة، فكان يحرك به لسانه وشفتيه مخافة أن ينفلت منه، يريد أن يحفظه فأنزل الله: لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ ..

الآية».

فكان النبي صلى الله عليه وسلم بعد ذلك إذا أتاه جبريل عليه السلام أطرق، وفي لفظ «استمع» فإذا ذهب قرأه كما وعده الله (1). فهذا الأثر عن ابن عباس يدل بجلاء ووضوح على المعنى المذكور.

وقد روعي في تسميته قرآنا كونه متلوّا بالألسن، كما روعي في تسميته كتابا كونه مدونا بالأقلام، فكلتا التسميتين من تسمية الشيء بالمعنى الواقع عليه (2).

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري. كتاب بدء الوحي. باب كيف كان بدء الوحي ح (5)، ومسلم في صحيحه.

كتاب الصلاة، باب الاستماع للقراءة 1/ 330، ح (448) (148).

(2) النبأ العظيم. لمحمد عبد الله دراز، ص 12، دار القلم- الكويت.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের সংজ্ঞা

১ - আভিধানিক অর্থ:

ক- কতিপয় ভাষাবিদ মনে করেন যে, 'কুরআন' শব্দটি 'ফুলান' ওজনের একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যেমন: আল-গুফরান, আর-রুজহান এবং আশ-শুকরান। এটি 'ক্বারাআ', 'ইয়াক্বরাউ', 'ক্বিরাআতান' ও 'কুরআনান' থেকে গৃহীত ল্যাম-কলমায় হামযাহ বিশিষ্ট শব্দ, যার অর্থ তিলাওয়াত করা বা পাঠ করা। পরবর্তীতে শরয়ি পরিভাষায় এই অর্থ থেকে সরিয়ে একে একটি নির্দিষ্ট পঠিত বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) দ্বারা মাফউল (কর্ম) এর নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহর এই বাণীতে এই অর্থটি বর্ণিত হয়েছে:

তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। [আল-কিয়ামাহ: ১৬ - ১৮]।

এর শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে শাইখাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) -আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- এমন বর্ণনা দিয়েছেন যা এই অর্থকে সমর্থন করে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাযিলের সময় অনেক কষ্ট স্বীকার করতেন এবং তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়াতেন। তিনি তা মুখস্থ করতে চাইতেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: 'আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না...'

আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।"

এরপর থেকে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর কাছে আসতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা নিচু করে থাকতেন; অন্য বর্ণনায় এসেছে 'মনোযোগ দিয়ে শুনতেন'। এরপর তিনি চলে গেলে আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী নবীজি তা পাঠ করতেন (১)। ইবনে আব্বাসের এই বর্ণনাটি উল্লিখিত অর্থের ওপর স্পষ্টভাবে প্রমাণ বহন করে।

একে 'কুরআন' নামকরণের ক্ষেত্রে জিহ্বা দ্বারা পঠিত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে, যেমন একে 'কিতাব' নামকরণের ক্ষেত্রে কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। উভয় নামকরণই বস্তুর ওপর সংঘটিত কর্মের অর্থের ভিত্তিতে নামকরণের অন্তর্ভুক্ত (২)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, ওহীর সূচনা অধ্যায়, ওহী যেভাবে শুরু হয়েছিল অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (৫); এবং সহীহ মুসলিম।

সালাত অধ্যায়, তিলাওয়াত শোনার অনুচ্ছেদ ১/৩৩০, হাদিস নং (৪৪৮) (১৪৮)।

(২) আন-নাবাউল আজীম। লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রাজ, পৃষ্ঠা ১২, দারুল কলম- কুয়েত।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ب- وذهب الشافعي ورجح قوله السيوطي إلى أن (القرآن) علم غير مشتق فهو اسم لكتاب الله مثل سائر الكتب السماوية (1).

 

‌‌2 - المعنى الشرعي:

لقد عرّف علماء الأصول والكلام القرآن بتعريفات كثيرة، وأحسن هذه التعاريف وأقومها قول القائل إنّ القرآن (هو كلام الله المعجز المنزّل على محمد صلى الله عليه وسلم المنقول تواترا والمتعبد به تلاوة).

فكلام الله المعجز، قد أخرج كلام غير الله، فهو ليس بكلام إنس ولا جنّ ولا ملائكة ولا نبيّ أو رسول، فلا يدخل فيه الحديث القدسيّ ولا الحديث النبويّ.

وخرج بقيد- المنزّل على النبي محمد صلى الله عليه وسلم الكتب المنزلة على الرسل من قبله كصحف إبراهيم، والتوراة المنزّلة على موسى، والإنجيل المنزّل على عيسى عليهم السلام.

أما القيد- المنقول تواترا- فقد أخرج به كلّ ما قيل إنه قرآن ولم يتواتر، مثل القراءات الشاذة غير المتواترة فإنها رويت على أنها من القرآن إلّا أن نقلها آحادا قد جعلها غير معتبرة، فلا يعتبر من القرآن قراءة ابن مسعود: فمن لم يجد فصيام ثلاثة أيام متتابعات (2)، فقد زاد (متتابعات)، ولا قراءته كذلك: (وآتيتم إحداهنّ قنطارا «من ذهب» فلا تأخذوا منه شيئا) بزيادة (من ذهب) (3)، أو قراءة ابن عباس: ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربّكم «في مواسم الحجّ») (4) بزيادة (في مواسم الحج) ولا

--------------------------------------------

(1) الإتقان في علوم القرآن، 1/ 51.

(2) النظر الإتقان في علوم القرآن، تحت عنوان: القراءات، وكذلك كتب التفسير في سورة المائدة آية 89.

(3) انظر تفسير ابن كثير لسورة النساء، الآية 20، 1/ 467.

(4) انظر الإتقان. تحت بحث القراءات، 1/ 83، وانظر الآية 198 من سورة البقرة.
খ- ইমাম শাফিঈ মত ব্যক্ত করেছেন এবং আল-সুয়ূতী তার এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, (কুরআন) শব্দটি একটি অ-ব্যুৎপন্ন বিশেষ্য, যা আল্লাহর কিতাবের জন্য নির্ধারিত একটি নাম যেমন অন্যান্য আসমানি কিতাবসমূহের নাম রয়েছে (১)।

 

‌‌২ - শরয়ি অর্থ:

উসূলে ফিকহ এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ কুরআনের অনেক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম এবং সবচাইতে সঠিক সংজ্ঞা হলো সেই উক্তিটি যাতে বলা হয়েছে: কুরআন হলো (আল্লাহর মুজিজাস্বরূপ কালাম, যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা তাওয়াতুর বা নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য)।

'আল্লাহর মুজিজাস্বরূপ কালাম' কথাটি দ্বারা আল্লাহর কালাম ব্যতীত অন্য সব কথাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি কোনো মানুষ, জিন, ফেরেশতা কিংবা কোনো নবী বা রাসুলের কথা নয়; তাই এর মধ্যে হাদিসে কুদসি বা হাদিসে নববি অন্তর্ভুক্ত হবে না।

'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ'—এই শর্তের মাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী রাসুলদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সহিফাসমূহ, মুসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ তাওরাত এবং ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ ইনজিল।

আর 'তাওয়াতুর বা নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত'—এই শর্তের মাধ্যমে ঐ সমস্ত বক্তব্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে যেগুলোকে কুরআন বলা হলেও তা তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি; যেমন অ-তাওয়াতুর শায বা বিরল ক্বিরাআতসমূহ। এগুলো কুরআনের অংশ হিসেবে বর্ণিত হলেও একক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে তা (কুরআন হিসেবে) অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সুতরাং ইবনে মাসউদের এই ক্বিরাআতটি কুরআন হিসেবে গণ্য হবে না: "অতঃপর যে ব্যক্তি তা সামর্থ্য রাখবে না, সে একটানা তিন দিন রোজা রাখবে" (২), এখানে তিনি 'একটানা' শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তাঁর এই ক্বিরাআতটিও নয়: "এবং তোমরা তাদের একজনকে প্রচুর ধনসম্পদ (স্বর্ণের মধ্য হতে) প্রদান করেছ, তবে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না" (৩), এখানে 'স্বর্ণের মধ্য হতে' কথাটি অতিরিক্ত। অথবা ইবনে আব্বাসের ক্বিরাআত: "তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে (হজের মৌসুমে)" (৪), এখানে 'হজের মৌসুমে' অতিরিক্ত অংশ এবং না

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, ১/ ৫১।

(২) দেখুন: আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, ক্বিরাআত শিরোনামের অধীনে; এবং একইভাবে সূরা আল-মায়িদাহর ৮৯ নম্বর আয়াতের তাফসির গ্রন্থসমূহ।

(৩) দেখুন: সূরা আন-নিসার ২০ নম্বর আয়াতের ইবনে কাসীর তাফসির, ১/ ৪৬৭।

(৪) দেখুন: আল-ইতকান, ক্বিরাআত আলোচনাধীন, ১/ ৮৩ এবং দেখুন সূরা আল-বাকারার ১৯৮ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
قراءة من قرأ (والسارق والسارقة فاقطعوا أيمانهما) (1) بدل أيديهما، فما زيد أو بدّل في هذه القراءات وأمثالها لا يصحّ اعتبارها قرآنا حتى ولا حديثا نبويا لأنّها نسبت إلى قارئها فلا يعدو اعتبارها أكثر من أنها تفسير أو رأي للمثبت لها.

أما القيد الأخير- المتعبد به تلاوة- فقد خرج به الحديث القدسي فإنه وإن كان منسوبا إلى الله إلّا أنه غير متعبد بتلاوته كما سنبينه بعد.

--------------------------------------------

(1) الدر المصون 2/ 523.
যিনি (চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের ডান হাত কেটে দাও) (১) পাঠ করেছেন—তাদের হাতসমূহের পরিবর্তে—এই ধরণের পাঠরীতি বা এর সদৃশ বিষয়গুলোতে যা কিছু অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে বা পরিবর্তন করা হয়েছে, তাকে কুরআন হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়, এমনকি নববী হাদীস হিসেবেও নয়। কারণ এগুলো সংশ্লিষ্ট পাঠকদের (ক্বারীদের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তাই এগুলোকে এর প্রবক্তার ব্যাখ্যা বা ব্যক্তিগত মতামতের অতিরিক্ত কিছু গণ্য করার অবকাশ নেই।

আর শেষ শর্তটি—যা তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত হিসেবে গণ্য—এর দ্বারা হাদীসে কুদসী বহির্ভূত হয়ে গেছে। কেননা হাদীসে কুদসী আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় না, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররুল মাসুন ২/ ৫২৩।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثاني أسماء القرآن

صنف أحد العلماء في أسمائه جزءا وذكر نيفا وتسعين اسما وذكر بعضهم أقل من ذلك، قال القاضي أبو المعالي رحمه الله: اعلم أن الله تعالى سمّى القرآن بخمسة وخمسين اسما، وقد ذكر صاحبا البرهان والإتقان وجوها للتسمية ومعانيها، أما الطبري فقد اكتفى بذكر أشهرها مبينا معانيها، من هذه الأسماء:

1 - سماه الله تعالى كتابا فقال: حم 1 تَنْزِيلُ الْكِتابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ [الجاثية: 1 - 2].

والكتاب مصدر كتب يكتب كتابة، وأصلها الجمع، وسمّيت الكتابة لجمعها الحروف فاشتق الكتاب لذلك، لأنه يجمع أنواعا من القصص والأحكام والأخبار على أوجه مخصوصة.

2 - وسماه ذكرا فقال: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ [الحجر: 9].

وذلك لما فيه من المواعظ والتحذير وأخبار الأمم الماضية، والذكر أيضا يأتي بمعنى الشّرف والفخر لمن آمن بالقرآن وصدّق بآياته، ومنه قوله تعالى: وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْئَلُونَ [الزخرف: 44]، أي: شرف لك ولقومك 3 - وسمّاه فرقانا فقال:

تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً [الفرقان: 1].

وذلك لأنه يفرّق بين الحقّ والباطل، والمؤمن والمنافق، والمسلم والكافر، وقيل: لأنه مفروق بعضه عن بعض في النّزول (1).

أما ابن عباس فكان يقول: الفرقان المخرج.

وقال آخرون: الفرقان هو الفرق بين الشيئين والفصل بينهما، وقد يكون ذلك بقضاء واستفتاء وإظهار حجّة وغير ذلك من المعاني المفرقة بين المحق والمبطل،

--------------------------------------------

(1) مناهل العرفان 1/ 8.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের নামসমূহ

একজন আলেম কুরআনের নামসমূহের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেখানে নব্বইটিরও বেশি নাম উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ এর চেয়ে কম সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। কাজী আবু আল-মা'আলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা কুরআনের পঞ্চান্নটি নাম রেখেছেন। 'আল-বুরহান' ও 'আল-ইতকান' গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতাগণ এই নামকরণের প্রেক্ষাপট ও অর্থসমূহ উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে তাবারী এগুলোর অর্থ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অতি প্রসিদ্ধ নামগুলো উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন; এই নামগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আল্লাহ তাআলা একে কিতাব হিসেবে নামকরণ করেছেন; তিনি ইরশাদ করেন: হা-মীম। এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। [আল-জাসিয়া: ১ - ২]।

আর কিতাব শব্দটি 'কাতা’বা' 'ইয়াকতুবু' 'কিতাবাতান' ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত, যার মূল অর্থ হচ্ছে একত্রিত করা। আর লেখাকে 'কিতাবাত' বলা হয় কারণ তা বর্ণসমূহকে একত্রিত করে; এই অর্থেই 'কিতাব' শব্দটি গৃহীত হয়েছে, কেননা এটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকার কাহিনী, বিধান এবং সংবাদকে একত্রিত করে।

২ - তিনি একে যিকর হিসেবে নামকরণ করেছেন; তিনি ইরশাদ করেন: নিশ্চয়ই আমিই এই যিকর (উপদেশবাণী) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক। [আল-হিজর: ৯]।

আর এটি এজন্য যে, এতে রয়েছে উপদেশ, সতর্কবাণী এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ। এছাড়া যিকর শব্দটি কুরআনের প্রতি ঈমান আনয়নকারী এবং এর আয়াতসমূহকে বিশ্বাসকারীর জন্য মর্যাদা ও গৌরবের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: আর এটি অবশ্যই আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক বড় মর্যাদা; এবং শীঘ্রই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [আজ-যুখরুফ: ৪৪]; অর্থাৎ: এটি আপনার ও আপনার কওমের জন্য মর্যাদা স্বরূপ। ৩ - তিনি একে ফুরকান হিসেবে নামকরণ করেছেন; তিনি ইরশাদ করেন:

পরম কল্যাণময় সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে। [আল-ফুরকান: ১]।

এটি এজন্য যে, এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে, মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে এবং মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। আবার বলা হয়েছে: অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে এর এক অংশ অপর অংশ থেকে পৃথক হওয়ার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে (১)।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: ফুরকান হলো পরিত্রাণের পথ।

অন্যরা বলেছেন: ফুরকান হলো দুটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা; আর এটি ফয়সালা, ফতোয়া প্রদান এবং প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে হতে পারে, এছাড়াও সত্যপন্থী ও মিথ্যাবাদীর মধ্যে পার্থক্যকারী অন্যান্য বিবিধ অর্থের মাধ্যমেও হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) মানাহিলুল ইরফান ১/ ৮।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
والقرآن إنما سمي فرقانا لفصله بحجّته وأدلته وحدوده وفرائضه وسائر معاني حكمه بين المحق والمبطل، وفرقانه بينهما تبصرة المحق وتخذيله المبطل حكما وقضاء (1).

4 - وسماه التنزيل: وقد وردت بذلك آيات كثيرة: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ 192 نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ [الشعراء: 192 - 193].

وغيرها من الآيات، والتنزيل مصدر سمي به الكلام المنزل من عند الله على رسوله، وتسميته بذلك من قبيل تسمية المفعول بالمصدر، وهو من الأسماء الشائعة على ألسنة العلماء حيث يقولون: ورد في التنزيل، ويعنون القرآن.

5 - وأسماء أخرى، بل صفات كثيرة، منها (مبارك) كما ورد في قوله تعالى: كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ … [ص: 29].

و (الحكيم) كما في قوله تعالى: يس 1 وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ [يس: 1 - 2].

و (المجيد) كما في قوله: ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ [ق: 1].

وغيرها من الأسماء والصفات ومن أراد الاستزادة فليرجع إلى كتابي البرهان والإتقان في علوم القرآن.

 

‌‌الفرق بين القرآن والحديث القدسي:

قد ينسب الحديث تارة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فيقال: حديث النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ينسب إلى القدس فيقال: الحديث القدسي (2)، والحديث كما عرّفه العلماء: هو ما نقل عن النبيّ صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير، فالأقوال التي تصدر عن النبيّ تعتبر من الأحاديث النبوية، فإذا ما نسبت إلى الله عز وجل سمّاها العلماء أحاديث قدسية، وذلك كقول النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربّه عز وجل أنه قال:

--------------------------------------------

(1) التبيان في علوم القرآن ص 122.

(2) أقدم الكتب في هذا الموضوع مشكاة الأنوار فيما يروى عن الله لمحيي الدين بن العربي والجامع الكبير، للسيوطي، وكذلك الجامع الصغير، وكتاب الإتحافات السنية في الأحاديث القدسية لعبد الرءوف المناوي، وكتاب أدب الأحاديث القدسية لأحمد الشرباصي.
কুরআনকে 'ফুরকান' (পার্থক্যকারী) নামকরণ করা হয়েছে তার দলিল, প্রমাণ, সীমারেখা, ফরজ বিধান এবং হিকমতের যাবতীয় অর্থের মাধ্যমে সত্যপন্থী ও বাতিলপন্থীর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করার কারণে। আর এই দুইয়ের মাঝে এর পার্থক্যকরণ হলো সত্যপন্থীকে দিশা প্রদান এবং বাতিলপন্থীকে বিধান ও ফয়সালার মাধ্যমে লাঞ্ছিত করা (১)।

৪ - তিনি একে 'তানজিল' (অবতরণকৃত) নামকরণ করেছেন: এ বিষয়ে অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে জিবরাঈল (রুহুল আমিন) অবতরণ করেছেন।" [আশ-শুয়ারা: ১৯২-১৯৩]।

এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে। 'তানজিল' একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার), যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ বাণীর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একে এই নামে অভিহিত করা 'মাফউল'কে (কর্মপদ) 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) হিসেবে নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। এটি আলেমদের মুখে বহুল প্রচলিত একটি নাম, যখন তাঁরা বলেন: 'তানজিলে বর্ণিত হয়েছে', তখন তাঁরা কুরআনকেই উদ্দেশ্য করেন।

৫ - এবং অন্যান্য নাম, বরং অনেক গুণাবলিও রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো 'মুবারাক' (বরকতময়), যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি..." [সোয়াদ: ২৯]।

এবং 'আল-হাকিম' (প্রজ্ঞাময়), যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: "ইয়া-সিন। প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ।" [ইয়া-সিন: ১-২]।

এবং 'আল-মাজিদ' (মহিমান্বিত), যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: "ক্বফ। মহিমান্বিত কুরআনের শপথ।" [ক্বফ: ১]।

এ ছাড়াও আরও অনেক নাম ও গুণাবলি রয়েছে। যে ব্যক্তি আরও বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন উলুমুল কুরআনের ওপর রচিত 'আল-বুরহান' এবং 'আল-ইতকান' কিতাব দুটির প্রতি রুজু করে।

 

‌‌কুরআন ও হাদিসে কুদসির মধ্যে পার্থক্য:

কখনো হাদিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন একে বলা হয় 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস'। আবার কখনো একে পবিত্রতার (কুদ্স) দিকে সম্বন্ধ করে বলা হয় 'হাদিসে কুদসি' (২)। আলেমগণ হাদিসের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু নিঃসৃত হয় তা 'হাদিসে নববী' হিসেবে গণ্য হয়। আর যখন তা মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন আলেমগণ তাকে 'হাদিসে কুদসি' হিসেবে অভিহিত করেন। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রব থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বলেন যে, তিনি (আল্লাহ) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আত-তিবয়ান ফি উলুমিল কুরআন, পৃষ্ঠা ১২২।

(২) এই বিষয়ে প্রাচীনতম কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীর 'মিশকাতুল আনওয়ার ফীমা ইয়ুরওয়া আনিল্লাহ', সুয়ুতির 'আল-জামেউল কাবীর' ও 'আল-জামেউস সগীর', আব্দুর রউফ আল-মুনাভির 'আল-ইতহাফাতুস সানিয়্যাহ ফিল আহাদিসিল কুদসিয়্যাহ' এবং আহমদ আল-শারবাসির 'আদাবুল আহাদিসিল কুদসিয়্যাহ'।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
«يا عبادي: إنّي حرّمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرّما فلا تظالموا.

يا عبادي: كلّكم ضالّ إلا من هديته فاستهدوني أهدكم.

يا عبادي: كلّكم جائع إلا من أطعمته فاستطعموني أطعمكم.

يا عبادي: كلكم عار إلّا من كسوته، فاستكسوني أكسكم.

يا عبادي: إنكم تخطئون بالليل والنهار، وأنا أغفر الذنوب جميعا فاستغفروني أغفر لكم.

يا عبادي: إنكم لن تبلغوا ضرّي فتضرّوني ولن تبلغوا نفعي فتنفعوني.

يا عبادي: إنما هي أعمالكم أحصيها لكم ثم أوفّيكم إيّاها فمن وجد خيرا فليحمد الله، ومن وجد غير ذلك فلا يلومنّ إلّا نفسه» رواه مسلم (1).

ومثل قول النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه: «أنا عند ظن عبدي بي، فإذا ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير من ملئه» (2).

والمتأمل في نصوص الأحاديث القدسيّة، يلاحظ وحدة الأسلوب بينها وبين الأحاديث النبويّة، فكلها قد وقع بلفظ النبيّ صلى الله عليه وسلم، سواء أكان الحديث نبويّا أم قدسيّا فكلاهما في مرتبة واحدة، وإن كان الحديث القدسيّ منسوبا إلى الذات العلية (3).

وأن هذه النسبة أيضا لا تجعله في مرتبة القرآن، بل إن بينهما فروقا نوجزها فيما يلي:

1 - أن القرآن الكريم- لفظا ومعنى- من الله عز وجل، أما الحديث القدسيّ فهو كالحديث النبويّ، حتى أجاز العلماء روايته بالمعنى، بخلاف القرآن، لأن روايته بالمعنى تحريف وتبديل له.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم. كتاب البر والصلة والآداب. باب تحريم الظلم 3/ 1994 ح (2577) (55).

(2) صحيح البخاري. كتاب التوحيد. باب قوله تعالى: يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللَّهِ [الفتح: 15] ح (7505)، صحيح مسلم كتاب التوبة، باب في الحض على التوبة والفرح بها 3/ 2102 ح (2675) (1)، سنن الترمذي. كتاب الدعوات 5/ 581 ح (3603).

(3) يطلق بعض العلماء على الأحاديث القدسية الأحاديث الإلهية أو الربانية والكل معزوّ إلى الله أو إلى الربّ عز وجل.
«হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তাকে তোমাদের মাঝেও হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে আমি হিদায়াত দান করেছি, সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে আমি অন্ন দান করেছি, সুতরাং তোমরা আমার কাছে অন্ন প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের অন্ন দান করব।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সবাই বিবস্ত্র কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে আমি পোশাক দান করেছি, সুতরাং তোমরা আমার কাছে পোশাক প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের পোশাক পরিধান করাব।

হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয় তোমরা রাত-দিন অপরাধ বা গুনাহ করে থাকো, আর আমি সকল গুনাহ ক্ষমা করি; সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা কখনই আমার কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখবে না যে আমার ক্ষতি করবে, আর তোমরা কখনই আমার কোনো উপকার করার সামর্থ্য রাখবে না যে আমার উপকার করবে।

হে আমার বান্দাগণ! এ সব কেবল তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য গণনা করে রাখি, অতঃপর আমি তোমাদের তার পূর্ণ প্রতিদান দেব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে ব্যক্তি এর ভিন্ন কিছু লাভ করে সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে» মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক থেকে যা বর্ণনা করেছেন সে বাণীর ন্যায়: «আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী হই যা সে আমার প্রতি পোষণ করে। সে যখন মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে আমার নিজ মনে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ কোনো সমাবেশে স্মরণ করি» (২)।

আর যে ব্যক্তি হাদিসে কুদসির ভাষ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করবেন, তিনি এগুলো ও হাদিসে নববির বর্ণনাশৈলীর মাঝে অভিন্নতা লক্ষ্য করবেন। কেননা এর প্রতিটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় ব্যক্ত হয়েছে, চাই হাদিসটি নববি হোক কিংবা কুদসি; উভয়ই এক পর্যায়ে ভুক্ত, যদিও হাদিসে কুদসি উচ্চতর সত্তার (আল্লাহর) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (৩)।

এবং এই সম্বন্ধটিও একে কুরআনের সমপর্যায়ে নিয়ে যায় না, বরং এ দুয়ের মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

১ - কুরআন মাজিদ শব্দ ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসি হলো হাদিসে নববির মতো, এমনকি আলেমগণ এটি অর্থগতভাবে বর্ণনা করা বৈধ বলেছেন, কুরআনের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ কুরআনের অর্থগত বর্ণনা (শাব্দিক অনুকরণ ব্যতীত) বিকৃতি ও পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, পরিচ্ছেদ: জুলুম হারাম হওয়া প্রসঙ্গে, ৩/১৯৯৪, হাদিস (২৫৭৭) (৫৫)।

(২) সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাওহিদ, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: 'তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়' [আল-ফাতহ: ১৫], হাদিস (৭৫০৫); সহিহ মুসলিম, কিতাবুত তাওবা, পরিচ্ছেদ: তাওবার প্রতি উৎসাহ এবং এতে আনন্দিত হওয়া প্রসঙ্গে, ৩/২১০২, হাদিস (২৬৭৫) (১); সুনানুত তিরমিজি, কিতাবুদ দাওয়াত, ৫/৫৮১, হাদিস (৩৬০৩)।

(৩) কোনো কোনো আলেম হাদিসে কুদসিকে 'হাদিসে ইলাহি' বা 'হাদিসে রব্বানি' নামে অভিহিত করেন এবং এগুলোর সবকটিই মহান আল্লাহ বা রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - ولأن القرآن بلفظه ومعناه من الله فقد وقع به التحدي والإعجاز، أما الحديث القدسيّ فلم يقع به التحدي، فهو في ذلك كالحديث النبويّ سواء بسواء.

3 - أن القرآن متعبد بتلاوته فتالي القرآن مثاب على تلاوته عموما، وتلاوته في الصلاة ركن من أركانها فلا تتم الصلاة بغيره: فَاقْرَؤُا ما تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ [المزمل: 20].

وهذا بخلاف الحديث القدسي فإنه كالحديث النبويّ لو قرئ في الصلاة بطلت.

4 - كلّ آي القرآن الكريم- آية آية- متواترة، والأحاديث القدسيّة كالأحاديث النبويّة فيها القطعيّ الثبوت (1) وأكثرها ظنيّ في ثبوته.

بعد كلّ هذا لا يخطرنّ على بالك، أو يدور في خلدك أن الحديث القدسي كالقرآن الكريم؛ لقول الراوي: قال صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه، أو روى الرسول عن ربه عز وجل، فإن هذه الشبهة مردودة وباطلة، وما قول النبي صلى الله عليه وسلم هذا إلّا ضرب من ضروب الأساليب العربية الشائعة الذائعة المستعملة في لسان العرب حين يقولون:

كقول الشاعر في قصيدته كذا وكذا، ثم لا يذكرون بيت الشعر لفظا بل يوردون معانيه من غير مراعاة لحرفية الألفاظ ولا الأوزان والقوافي الشعرية، بل إن في القرآن الكريم خير شاهد على ما نقول، فقد قصّ الله عز وجل قصص الأنبياء وجدالهم مع قومهم، ولم يذكر عين ألفاظهم التي استعملوها، بل ذكر مضامينها ومعانيها، مصورا لنا مواقفهم بأفصح الألفاظ وأنصح البيان، قال تعالى في سورة نوح عليه السلام:

قالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهاراً 5 فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعائِي إِلَّا فِراراً 6 وَإِنِّي كُلَّما دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصابِعَهُمْ فِي آذانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْباراً 7 ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهاراً 8 ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْراراً 9 فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كانَ غَفَّاراً 10 يُرْسِلِ السَّماءَ عَلَيْكُمْ مِدْراراً [نوح: 5 - 11].

--------------------------------------------

(1) من الأحاديث القدسية المتواترة: «من أذهبت حبيبته فصبر. واحتسب لم أرض له ثوابا إلا الجنة». رواه أربعة عشر صحابيا. نظم المتناثر في الحديث المتواتر ص 77 لمحمد بن جعفر الكتاني.
২ - এবং যেহেতু কুরআন তার শব্দ ও অর্থ উভয়সহ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান ও অলৌকিকত্ব (ইজায) সাব্যস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসির মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়নি; এ ক্ষেত্রে তা হুবহু হাদিসে নববীর মতোই।

৩ - কুরআন তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য, তাই কুরআন তিলাওয়াতকারী সাধারণভাবে তার তিলাওয়াতের জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হন। আর সালাতের মধ্যে কুরআনের তিলাওয়াত সালাতের অন্যতম রুকন, যা ব্যতীত সালাত সম্পন্ন হয় না: অতএব তোমরা কুরআনের যতটুকু সহজ ততটুকু তিলাওয়াত করো। [আল-মুযযাম্মিল: ২০]।

এটি হাদিসে কুদসির বিপরীত; কেননা হাদিসে কুদসি হাদিসে নববীর মতোই, যা সালাতে পাঠ করলে সালাত বাতিল হয়ে যায়।

৪ - পবিত্র কুরআনের প্রতিটি আয়াতই—আয়াত আয়াত করে—মুতাওয়াতির (সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত)। আর হাদিসে কুদসিগুলো হাদিসে নববীর মতোই; তার মধ্যে কিছু অকাট্যভাবে প্রমাণিত (১) এবং অধিকাংশের প্রমাণ সংশয়যুক্ত।

এত সবের পর আপনার মনে যেন এই ভাবনা না আসে অথবা আপনার অন্তরে এই ধারণা উদয় না হয় যে, হাদিসে কুদসি পবিত্র কুরআনের মতো; কারণ বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন, অথবা রাসূল তাঁর মহাপরাক্রমশালী ও সুমহান রব থেকে বর্ণনা করেছেন। কেননা এই সংশয়টি প্রত্যাখ্যানযোগ্য ও ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উক্তিটি আরবদের ভাষার বহুল প্রচলিত ও পরিচিত বর্ণনাভঙ্গিগুলোর একটি ধরন ছাড়া আর কিছুই নয়, যখন তারা বলে:

যেমন কবি তার কবিতায় এমন এমন বলেছেন; অতঃপর তারা কবিতার পঙক্তিটি হুবহু উল্লেখ না করে বরং শব্দের আক্ষরিক অনুগমন কিংবা কবিতার ছন্দ ও অন্ত্যমিল রক্ষা না করেই তার মূল অর্থ উপস্থাপন করেন। বরং আমরা যা বলছি তার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআনেই সর্বোত্তম সাক্ষী রয়েছে। মহান আল্লাহ নবীদের কাহিনী এবং তাদের কওমের সাথে তাদের বিতর্কের কথা বর্ণনা করেছেন, অথচ তারা যেসব শব্দ হুবহু ব্যবহার করেছিলেন আল্লাহ তা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি তাদের অবস্থানগুলো আমাদের সামনে অত্যন্ত প্রাঞ্জল শব্দ ও সুস্পষ্ট বর্ণনায় চিত্রায়িত করে তাদের বক্তব্যের মূল বিষয় ও অর্থ উল্লেখ করেছেন। নূহ আলাইহিস সালামের সূরাতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি আমার সম্প্রদায়কে রাত-দিন আহ্বান করেছি। ৫ কিন্তু আমার আহ্বান তাদের পলায়নকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে। ৬ আর নিশ্চয়ই আমি যখনই তাদের আহ্বান করেছি যাতে আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তারা তাদের কানে আঙুল দিয়েছে, নিজেদের পোশাক দিয়ে নিজেদের আবৃত করেছে, জেদ ধরেছে এবং চরম অহংকার করেছে। ৭ অতঃপর আমি তাদের উচ্চস্বরে আহ্বান করেছি। ৮ তারপর আমি তাদের প্রকাশ্যে এবং অতি গোপনেও বলেছি। ৯ আমি বলেছি: তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। ১০ তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ১১ [নূহ: ৫ - ১১]।

--------------------------------------------

(১) মুতাওয়াতির হাদিসে কুদসিগুলোর মধ্যে একটি হলো: "আমি যার প্রিয়তমাকে (দুই চোখ) ছিনিয়ে নিয়েছি, অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং প্রতিদানের আশা রেখেছে, আমি তার জন্য জান্নাত ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিদানে সন্তুষ্ট হব না।" এটি চৌদ্দজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। নাযমুল মুতানাছির ফিল হাদিসিল মুতাওয়াতির, পৃষ্ঠা ৭৭, মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-কাত্তানি।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২০)
فهل هذه الألفاظ القرآنية هي الألفاظ عينها التي قالها نوح عليه السلام؟ أم هي مضمون ومعنى ما قاله وقالوه … ؟ وهل حين قصّ الله عن غيره من الرسل قصصا هي ألفاظهم عينها؟.

اللهم لا لقوله تعالى: وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ [إبراهيم: 4].

لقد حكى الله تعالى عن موسى وفرعون وغيرهما مضمون كلامهم بألفاظ غير ألفاظهم، وأسلوب غير أسلوبهم ونسب ذلك لهم (1).

--------------------------------------------

(1) النبأ العظيم، ص 16.
তবে কি এই কুরআনিক শব্দগুলো হুবহু সেই শব্দমালা যা নূহ (আলাইহিস সালাম) উচ্চারণ করেছিলেন? নাকি এগুলো তিনি এবং অন্যরা যা বলেছিলেন তার বিষয়বস্তু ও মর্মার্থ … ? আর আল্লাহ যখন অন্যান্য রাসূলদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, তখন কি সেগুলো হুবহু তাঁদেরই শব্দমালা ছিল?

হে আল্লাহ, না; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর নিজ জাতির ভাষাভাষী করেই পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাঁদের নিকট স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন" [ইবরাহিম: ৪]।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মূসা, ফেরাউন এবং অন্যান্যদের বক্তব্যের বিষয়বস্তু এমন শব্দে বর্ণনা করেছেন যা তাঁদের প্রযুক্ত শব্দ নয়, এবং এমন শৈলীতে যা তাঁদের নিজস্ব শৈলী নয়, আর তা তাঁদের প্রতিই নিসবত বা আরোপ করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) আন-নাবা আল-আজিম, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثالث لغة القرآن

إن الترابط بين القرآن واللغة ترابط شديد الصّلة، بل ارتباط الصّفة بالموصوف التي لا تنفك عنه بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [الشعراء: 196]. فلا غرو إذا قلنا: إن التهجم على اللغة العربية هو تهجم على القرآن، والنيل من اللغة هو نيل من القرآن، والمحاولات والمعاول التي تهدم لغتنا إنما هي معاول هدم لقرآننا وكياننا كلّه.

وقد طالعنا طالع سوء من المحدثين يزعم «أن القرآن قد حوى في آياته ألفاظا أعجمية، فهو أعجمي مزيج من لغات شتى … ».

هذا الزعم والادعاء في واقعه ليس بجديد، بل هو دعوى قديمة دحضها القرآن الكريم، واصفا إياها بأنها منطق الذين يلحدن في القرآن، فملحدوا اليوم هم ببغاوات لملحدي الأمس، لذا كان لزاما على من يحمل في جعبته سهاما أن يرميهم بسهمه، وأن يرد كيدهم إلى نحورهم، وسنحاول بعون الله تعالى أن نعرض لهذه القضية القديمة الحديثة في آن واحد، وأن نرد عليهم بأدلة قاطعة، وبراهين ساطعة، وأن نبين زيف هذه الأفكار الغاشمة وأن نتناول فيه جانبا من الجوانب التي تعنينا في علوم القرآن تاركين الجوانب الأخرى لمن هو أهل لها.

هذا الجانب يتناول قضية احتواء القرآن لألفاظ معرّبة عن أصول أعجمية، وهي قضية استحوذت على علمائنا الأقدمين والمحدثين على حدّ سواء، وكانت مثار اهتمامهم، فتعددت فيها الآراء وتضاربت فيها المذاهب ما بين مثبت وناف، والمثبتون قد اختلفوا في حصر هذه الكلمات بين مكثر ومقلّ، فقد حصرها الإمام الغزالي في كلمتين أو ثلاث، وحصرها تاج الدين السبكي بسبعة وعشرين لفظا ونظمها شعرا، وزادها الإمام الحافظ ابن حجر العسقلاني أربعة وعشرين لفظا ونظمها شعرا أيضا، كما زادها الإمام السيوطي بضعة وستين لفظا فتمت أكثر من مائة لفظ (1).

--------------------------------------------

(1) انظر الإتقان في علوم القرآن والمتوكلي ومقدمة تفسير ابن جرير ص 3.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের ভাষা

কুরআন এবং ভাষার মধ্যকার যে পারস্পরিক বন্ধন, তা অত্যন্ত সুগভীর; বরং এটি গুণ ও গুণীর এমন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়" [আশ-শুআরা: ১৯৬]। সুতরাং আমরা যদি বলি যে আরবি ভাষার ওপর আক্রমণ মূলত কুরআনের ওপরই আক্রমণ এবং ভাষার অবমাননা মানেই কুরআনের অবমাননা, তবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। আমাদের ভাষাকে ধ্বংস করার যে প্রচেষ্টা ও কুঠারাঘাত চলছে, তা মূলত আমাদের কুরআন এবং আমাদের সামগ্রিক অস্তিত্বকেই ধ্বংস করার হাতিয়ার।

সম্প্রতি আধুনিকতাবাদীদের পক্ষ থেকে এক অশুভ দৃষ্টিভঙ্গির উদয় হয়েছে যারা দাবি করে যে, "কুরআন তার আয়াতসমূহে অনারবি শব্দ ধারণ করেছে, ফলে এটি বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত একটি অনারবি গ্রন্থ..."।

এই দাবি ও অভিযোগ বাস্তবে নতুন কিছু নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন দাবি যা পবিত্র কুরআন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে কুরআনের ব্যাপারে যারা বক্রতা অবলম্বন করে তাদের যুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছে। আজকের এই পথভ্রষ্টরা হলো অতীতকালের পথভ্রষ্টদেরই প্রতিধ্বনি। তাই যার তূণীরে বাণ রয়েছে তার জন্য আবশ্যক হলো তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করা এবং তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া। আমরা আল্লাহর সাহায্যে এই প্রাচীন অথচ আধুনিক সমস্যাটিকে একই সাথে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব এবং অকাট্য দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে তাদের জবাব দেব। সেই সাথে এই আগ্রাসী চিন্তাগুলোর অসারতা উন্মোচন করব এবং উলূমুল কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব, আর অন্যান্য দিকগুলো সেই বিষয়ের যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ছেড়ে দেব।

এই দিকটি মূলত কুরআনের অনারবি মূল থেকে উদ্ভূত 'মুআররাব' (আরবিকৃত) শব্দসমূহ ধারণ করার বিষয়টিকে আলোচনা করে। এটি এমন এক বিষয় যা আমাদের প্রাচীন ও আধুনিক সকল আলিমের মনোযোগ সমানভাবে আকর্ষণ করেছে এবং এটি তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ফলে এতে নানাবিধ মতের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত ঘটেছে। যারা শব্দগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন, তারা এর সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আধিক্য ও স্বল্পতার ভিত্তিতে মতভেদ করেছেন। ইমাম গাজালি একে দুই বা তিনটি শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, তাজউদ্দীন আস-সুবকি একে সাতাশটি শব্দে সীমাবদ্ধ করে তা কবিতার ছন্দে বেঁধেছেন। ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি আরও চব্বিশটি শব্দ বৃদ্ধি করেছেন এবং তিনিও তা কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। আবার ইমাম সুয়ুতি আরও ষাটের অধিক শব্দ সংযোজন করেছেন, ফলে এর মোট সংখ্যা একশরও বেশি হয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, আল-মুতাওয়াক্কিলি এবং ইবনে জারীরের তাফসীরের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২২)
وسنرى فيما بعد القول الحقّ في حقيقة هذا الحصر الادعائي.

وقبل أن نخوض في مذاهب العلماء في وقوع المعرب في القرآن، هاك بعض هذه الألفاظ:

سئل ابن عباس عن قوله تعالى:

فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ [المدثر: 51] قال: هو بالعربية الأسد، وبالفارسية جاد، وبالقبطية أريا، وبالحبشية قسورة، وحين سئل ابن عباس عن معنى قوله تعالى: إِنَّهُ كانَ حُوباً كَبِيراً [النساء: 2] قال: حوبا بلغة الحبشة، وبالعربية إثما.

وعن ابن مسعود أنه فسر لفظ ناشئة في قوله تعالى من سورة المزمل: إِنَّ ناشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئاً وَأَقْوَمُ قِيلًا [المزمل: 6] قال: الناشئة هي بالحبشية، وبالعربية قيام

الليل، وبما روي عن مجاهد أنه فسر القسط في قوله تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ [النساء: 135] قال: إن القسط بالرومية وبالعربية العدل.

وقد أورد السيوطي ما في القرآن عن بعض الألسن، فمما ورد بلسان الحبشة، الأرائك بمعنى السّرر، وأوّاه: المؤمن بمعنى الرحيم، وطوبى اسم للجنة.

وبلسان العبرية: مرقوم بمعنى مكتوب، وراعنا وهي كلمة سبّ عند اليهود.

وبلسان الروم: فصرهنّ، أي: قطعهن، وطفقا، أي: قصدا، والفردوس بمعنى البستان.

وبلسان الفرس: سجيل عن مجاهد: سجيل أولها حجارة وآخرها طين، وسرادق بمعنى الدهليز، والسندس بمعنى دقيق الديباج.

وبالنبطية: بأيدي سفرة، أي: بأيدي القراء.

وبالسريانية: أسفار بمعنى الكتب، وكلمة شهر ذكر بعض أهل اللغة أنها سريانية كذلك (1).

وبعد: فهذه كلمات وألفاظ قرآنية قلّت أو كثرت جرى فيها خلاف في ثلاثة آراء نسوقها إليك مع المناقشة والترجيح في نهاية المطاف.

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن جرير ص 6 - 7.
আমরা পরবর্তীতে এই দাবিগত সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক মতটি দেখতে পাব।

কুরআনে অনারবি শব্দের ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন মতবাদের গভীরে যাওয়ার আগে এখানে এজাতীয় কিছু শব্দ উল্লেখ করা হলো:

আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে ইবনে আব্বাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

তারা সিংহ (কাসওয়ারা) থেকে পলায়ন করেছে [আল-মুদ্দাসসির: ৫১]। তিনি বলেন: এটি আরবিতে 'আল-আসাদ' (সিংহ), ফারসিতে 'জাদ', কিবতি ভাষায় 'আরিয়া' এবং হাবশি ভাষায় 'কাসওয়ারা'। আর যখন ইবনে আব্বাসকে (রা.) আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: নিশ্চয়ই তা ছিল মহাপাপ [আন-নিসা: ২], তখন তিনি বললেন: 'হুবান' হাবশি ভাষার শব্দ এবং আরবিতে এর অর্থ হলো 'ইছম' (পাপ)।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সূরা আল-মুজ্জাম্মিলের আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লিখিত 'নাশিআ' শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন: নিশ্চয়ই রাতে উঠা প্রবৃত্তি দমনে অধিক কার্যকর এবং পাঠে অধিক বিশুদ্ধ [আল-মুজ্জাম্মিল: ৬]। তিনি বলেন: 'নাশিআ' শব্দটি হাবশি ভাষার, আর আরবিতে এর অর্থ হলো রাতের ইবাদতের জন্য দাঁড়ানো (কিয়ামুল লাইল)।

মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে 'কিসত' শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন: হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের (কিসত) ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো [আন-নিসা: ১৩৫]। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই 'কিসত' শব্দটি রোমান ভাষার এবং আরবিতে এর অর্থ হলো ন্যায়বিচার (আদল)।

ইমাম সুয়ুতী (রহ.) কুরআনের এমন কিছু শব্দ উল্লেখ করেছেন যা বিভিন্ন ভাষা থেকে এসেছে। হাবশি ভাষা থেকে যা এসেছে তার মধ্যে রয়েছে: 'আরাইক' যার অর্থ পালঙ্ক বা আসন; 'আওয়াহ' অর্থাৎ মুমিন বা দয়ালু; এবং 'তূবা' যা জান্নাতের একটি নাম।

হিব্রু ভাষা থেকে: 'মারকূম' যার অর্থ লিখিত; এবং 'রাইনা' যা ইহুদিদের নিকট একটি গালিসূচক শব্দ।

রোমান ভাষা থেকে: 'ফাসুরহুন্না' অর্থাৎ সেগুলোকে টুকরো করো; 'তাফিকা' অর্থাৎ তারা কোনো কাজের সংকল্প করল; এবং 'ফিরদাউস' যার অর্থ বাগান।

ফারসি ভাষা থেকে: 'সিজ্জিল'—মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত: 'সিজ্জিল' শব্দের প্রথমাংশ পাথর এবং শেষাংশ কাদা; 'সুরাদিক' যার অর্থ বারান্দা; এবং 'সুনদুস' যার অর্থ সূক্ষ্ম রেশমি বস্ত্র।

নবাতীয় ভাষা থেকে: 'বি আইদি সাফারাহ' অর্থাৎ পাঠকদের হাতে।

সিরিয়াক ভাষা থেকে: 'আসফার' যার অর্থ কিতাবসমূহ; এবং 'শাহর' (মাস) শব্দটি সম্পর্কেও কোনো কোনো ভাষাবিদ উল্লেখ করেছেন যে এটিও একইভাবে সিরিয়াক শব্দ (১)।

পরিশেষে: এগুলো হলো কুরআনের কিছু শব্দ ও পরিভাষা, যার সংখ্যা কম হোক বা বেশি, এ বিষয়ে তিনটি মতের ওপর ভিত্তি করে মতভেদ বিদ্যমান। আমরা আলোচনার শেষে সেগুলোর বিশ্লেষণ ও সঠিক মতটি আপনার সামনে তুলে ধরব।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে ইবনে জারীর, পৃষ্ঠা: ৬ - ৭।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
الفريق الأول: وعلى رأسهم الإمام الشافعي الذي شدد النكير على القائلين إن في هذا القرآن غير لغة العرب فأخذ يقيم الحجة بأن القرآن كله عربي، لقوله تعالى:

إِنَّا أَنْزَلْناهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ [يوسف: 2]. وقوله تعالى: كِتابٌ فُصِّلَتْ آياتُهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [فصلت: 3]. وقوله: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ 192 نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ 193 عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ 194 بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [الشعراء: 192 - 195].

يقول الشافعي في رسالته:

ومن جماع علم كتاب الله العلم بأن جميع كتاب الله إنما نزل بلسان العرب ..

فالواجب على العالمين ألا يقولوا إلا من حيث علموا، وقد تكلم في العلم من لو أمسك عن بعض ما تكلم فيه منه لكان الإمساك أولى به، وأقرب إلى السلامة له إن شاء الله.

فقال قائل منهم: إن في القرآن عربيا وأعجميا، والقرآن يدل على أن ليس من كتاب الله شيء إلا بلسان العرب، ووجد قائل هذا القول من قبل ذلك منه تقليدا له، وتركا للمسألة عن حجّته ومسألة غيره ممن خالفه، وبالتقليد أغفل من أغفل منهم، والله يغفر لنا ولهم، ولعلّ من قال: إن في القرآن غير لسان العرب وقبل ذلك منه، ذهب إلى أن من القرآن خاصّا يجهل بعضه بعض العرب، ولسان العرب أوسع الألسنة مذهبا، وأكثرها ألفاظا، ولا نعلمه يحيط بجميع علمه إنسان غير نبيّ، ولكنه لا يذهب منه شيء، على عامتها حتى يكون موجودا فيها من يعرفه، والعلم به عند العرب، كالعلم بالسّنة عند أهل الفقه، لا نعلم رجلا جمع السّنن فلم يذهب منها شيء، فإذا جمع علم عامّة أهل العلم بها أتى على السّنن، وإذا فرق علم كل واحد منهم، ذهب عليه الشيء منها، ثم كان ما ذهب عليه منها موجودا عند غيره (1).

وأما الطبري فقد قال: إن الذي قالوه من ذلك غير خارج من معنى ما قلنا، من أجل أنهم لم يقولوا: هذه الأحرف وما أشبهها لم تكن للعرب كلاما، ولا كان ذاك

--------------------------------------------

(1) الرسالة للشافعي، تحقيق أحمد شاكر. ص 41 - 43.
প্রথম পক্ষ: তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন ইমাম শাফেঈ, যিনি এই কুরআনে আরবি ভাষা ব্যতিরেকে অন্য ভাষা রয়েছে বলে দাবিদারদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এই মর্মে প্রমাণ উপস্থাপন করতে শুরু করেন যে, কুরআন সম্পূর্ণরূপে আরবি। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন:

“নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।” [ইউসুফ: ২]। মহান আল্লাহর বাণী: “এটি এমন একটি কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআনরূপে এমন কওমের জন্য যারা জানে।” [ফুসসিলাত: ৩]। এবং তাঁর বাণী: “নিশ্চয়ই এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত রূহ তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]।

শাফেঈ তাঁর ‘রিসালাহ’ গ্রন্থে বলেন:

আল্লাহর কিতাব সংক্রান্ত সামগ্রিক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো এটি জানা যে, আল্লাহর কিতাবের পুরোটাই কেবল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে...

সুতরাং আলেমদের জন্য ওয়াজিব হলো তাঁরা যা জানেন কেবল তা থেকেই যেন কথা বলেন। জ্ঞান প্রসঙ্গে এমন ব্যক্তিরাও কথা বলেছেন, যারা যা বলেছেন তার কিছু অংশ থেকে যদি বিরত থাকতেন, তবে সেই বিরত থাকাই তাদের জন্য অধিকতর উত্তম এবং ইনশাআল্লাহ তাদের নিরাপত্তার জন্য অধিকতর নিকটবর্তী হতো।

তাদের মধ্য থেকে জনৈক বক্তা বলেছেন: কুরআনে আরবি এবং অনারবি শব্দ আছে। অথচ কুরআন প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাবের কোনো কিছুই আরবি ভাষা ব্যতিরেকে অন্য কোনো ভাষায় নয়। এই উক্তির প্রবক্তা তার পূর্ববর্তী কারো অন্ধ অনুসরণের (তাকলিদ) কারণেই এমনটি বলেছেন, এবং এর সপক্ষে প্রমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা কিংবা যারা তার বিরোধিতা করেছেন তাদের প্রশ্ন করা ত্যাগ করেছেন। অন্ধ অনুসরণের কারণেই তাদের মধ্যে যারা গাফেল হওয়ার তারা গাফেল হয়েছে; আল্লাহ আমাদের ও তাদেরকে ক্ষমা করুন। সম্ভবত যিনি বলেছেন কুরআনে আরবি ছাড়া অন্য ভাষা রয়েছে এবং তাঁর এই কথা যারা গ্রহণ করেছেন, তাঁরা এই ধারণায় গিয়েছেন যে কুরআনের কিছু বিশেষ অংশ রয়েছে যা কোনো কোনো আরবের কাছে অজানা থাকতে পারে। আর আরবি ভাষা হলো সব ভাষার চেয়ে প্রশস্ততর এবং সর্বাধিক শব্দসম্ভার সমৃদ্ধ। নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এই ভাষার পূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টন করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। তবে সাধারণ মানুষের অগোচরে এর কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না, বরং তা জানার মতো কেউ না কেউ অবশ্যই সেখানে বিদ্যমান থাকে। আর আরবদের মাঝে এই জ্ঞান থাকাটা ফকীহদের নিকট সুন্নাহর জ্ঞানের মতো। আমরা এমন কোনো ব্যক্তিকে জানি না যিনি সমস্ত সুন্নাহকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে কিছুই হারিয়ে যায়নি। সুতরাং যখন জ্ঞানীদের সামগ্রিক জ্ঞানকে একত্রিত করা হবে, তখন তা পূর্ণাঙ্গ সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হবে। আর যখন প্রত্যেকের জ্ঞানকে পৃথকভাবে দেখা হবে, তখন দেখা যাবে যে কারো কারো কাছ থেকে সুন্নাহর কিছু অংশ বাদ পড়েছে, কিন্তু যা তাঁর কাছ থেকে বাদ পড়েছে তা অন্য কারো কাছে বিদ্যমান রয়েছে (১)।

আর তাবারী বলেছেন: তাঁরা এ প্রসঙ্গে যা বলেছেন তা আমাদের বক্তব্যের অর্থ থেকে বিচ্যুত নয়। কারণ তাঁরা এ কথা বলেননি যে, এই শব্দগুলো এবং এর সদৃশ শব্দগুলো আরবদের নিকট কথাবার্তা হিসেবে প্রচলিত ছিল না, কিংবা তা এমন ছিল না যে

--------------------------------------------

(১) শাফেঈর আর-রিসালাহ, আহমাদ শাকেরের তাহকীক, পৃষ্ঠা ৪১ - ৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
لها منطقا قبل نزول القرآن، ولا كانت بها العرب عارفة قبل مجيء الفرقان، فيكون ذلك قولا لقولنا خلافا، وإنما قال بعضهم: حرف كذا بلسان الحبشة معناه كذا، وحرف كذا بلسان العجم معناه كذا. ولم نستنكر أن يكون من الكلام ما يتفق فيه ألفاظ جميع أجناس الأمم المختلفة الألسن بمعنى واحد، فكيف بجنسين منها؟ كما قد وجدنا اتفاق كثير منه فيما قد علمناه من الألسن المختلفة، وذلك كالدرهم، والدينار والدواة، والقلم والقرطاس، وغير ذلك مما يتعب إحصاؤه ويملّ تعداده، لذا كرهنا إطالة الكتابة بذكره، مما اتفقت فيه الفارسية والعربية باللفظ والمعنى، ولعلّ ذلك كذلك في سائر الألسن التي نجهل منطقها ولا نعرف كلامها.

فلو أن قائلا قال- فيما ذكرنا من الأشياء التي عددنا وأخبرنا اتفاقه في اللفظ والمعنى بالفارسية والعربية وما أشبه ذلك، مما سكتنا عن ذكره-: كلّه فارسي لا عربي، أو ذلك كلّه عربي لا فارسي، أو قال: بعضه عربي وبعضه فارسي، أو قال:

كان مخرج أصله من عند العرب، فوقع إلى العجم فنطقوا به، أو قال: كان مخرج أصله من عند الفرس فوقع إلى العرب فأعربته، كان مستجهلا، لأن العرب ليست بأولى أن تقول: كان مخرج أصل ذلك منها إلى العجم. ولا العجم بأحق أن تقول:

كان مخرج أصل ذلك منها إلى العرب، إذا كان استعمال ذلك بلفظ واحد ومعنى واحد موجودا في الجنسين .. ثم قال: وهذا المعنى الذي قلناه في ذلك هو معنى قول من قال: في القرآن من كل لسان، عندنا بمعنى: أن فيه من كلّ لسان اتفق فيه لفظ العرب ولفظ غيرهم من الأمم التي تنطق به نظير ما وضعنا من القول فيما مضى، وذلك أنه غير جائز أن يتوهّم على ذي فطرة صحيحة، مقرّ بكتاب الله، ممن قرأ القرآن وعرف حدود الله، أن يعتقد أنّ بعض القرآن فارسيّ لا عربيّ، وبعضه حبشيّ لا عربيّ بعد ما أخبر الله تعالى أنه جعله قرآنا عربيا (1).

وقد ذهب فخر الدين الرازيّ المفسّر، والعالم اللغويّ ابن فارس إلى هذا الرأي وأطال الاستشهاد على صحة هذا القول، ومما قاله: «لو كان في القرآن الكريم من

--------------------------------------------

(1) جامع البيان ص 1/ 7 - 8.
কুরআন নাজিলের আগে তাদের নিজস্ব যুক্তি বা ভাষাভঙ্গি ছিল এবং ফুরকান (কুরআন) আগমনের আগে আরবরা এ সম্পর্কে অবহিত ছিল না—এমন নয় যে, এটি আমাদের বক্তব্যের বিরোধী কোনো কথা হবে। বরং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: হাবশি ভাষায় অমুক শব্দের অর্থ এই, আর অনারব ভাষায় অমুক শব্দের অর্থ এই। আর আমরা একে অসম্ভব মনে করি না যে, কথার মধ্যে এমন কিছু শব্দ থাকতে পারে যাতে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার সকল জাতি একই অর্থে একমত হয়। তাহলে দুটি ভাষার ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া কতই না স্বাভাবিক? যেমনটি আমরা বিভিন্ন ভাষায় এ ধরনের অনেক শব্দের মিল খুঁজে পেয়েছি যা আমরা জানি; যেমন: দিরহাম, দিনার, দোয়াত, কলম এবং কিরাতাস (কাগজ) এবং আরও এমন অনেক যা গণনা করতে গেলে ক্লান্তি চলে আসবে। তাই আমরা এগুলোর উল্লেখ করে লেখা দীর্ঘ করা অপছন্দ করেছি, যে শব্দগুলো ফারসি এবং আরবিতে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে অভিন্ন। সম্ভবত অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই হতে পারে যেগুলোর ভাষাভঙ্গি সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ এবং যাদের কথা আমরা জানি না।

আমরা যেসকল জিনিসের উল্লেখ করেছি এবং ফারসি ও আরবিতে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে যেগুলোর অভিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছি এবং অনুরূপ যেসকল বিষয় আমরা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, সে সম্পর্কে যদি কোনো বক্তা বলে: এর পুরোটাই ফারসি, আরবি নয়; অথবা এ সবই আরবি, ফারসি নয়; অথবা বলে: এর কিছু অংশ আরবি এবং কিছু অংশ ফারসি; অথবা বলে:

এর মূল উৎস ছিল আরবদের কাছে, অতঃপর তা অনারবদের কাছে পৌঁছেছে এবং তারা তা উচ্চারণ করেছে; অথবা বলে: এর মূল উৎস ছিল পারস্যদের থেকে, পরে তা আরবদের কাছে পৌঁছেছে এবং তারা একে আরবি রূপ দিয়েছে; তবে তাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করা হবে। কারণ আরবরা এই দাবি করার জন্য অনারবদের চেয়ে বেশি হকদার নয় যে, এর মূল উৎস তাদের থেকে অনারবদের কাছে গিয়েছে। আর অনারবরাও এই দাবি করার জন্য আরবদের চেয়ে বেশি যোগ্য নয় যে:

এর মূল উৎস তাদের থেকে আরবদের কাছে গিয়েছে; যখন উভয় জাতির মধ্যেই একই শব্দ ও একই অর্থে এর ব্যবহার বিদ্যমান থাকে। অতঃপর তিনি বলেন: এ বিষয়ে আমরা যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, তা-ই হলো সেই ব্যক্তির কথার অর্থ যে বলেছে: "কুরআনে প্রতিটি ভাষার অংশ রয়েছে"। আমাদের মতে এর অর্থ হলো: এতে প্রতিটি ভাষার এমন শব্দ রয়েছে যাতে আরবদের শব্দ এবং অন্যান্য জাতির শব্দের মিল ঘটেছে যারা তা উচ্চারণ করে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। আর তা এই কারণে যে, কোনো সুস্থ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাবকে স্বীকার করে, কুরআন পাঠ করেছে এবং আল্লাহর সীমারেখা সম্পর্কে জানে, তার পক্ষে এমন ধারণা করা বৈধ নয় যে, আল্লাহ তাআলা একে আরবি কুরআন হিসেবে ঘোষণা করার পরও সে বিশ্বাস করবে যে কুরআনের কিছু অংশ ফারসি, আরবি নয় এবং কিছু অংশ হাবশি, আরবি নয়।

মুফাসসির ফখরুদ্দীন রাজি এবং ভাষাবিদ ইবনে ফারিস এই মত গ্রহণ করেছেন এবং এই বক্তব্যের সঠিকতার পক্ষে দীর্ঘ প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: «যদি পবিত্র কুরআনে থাকত...

--------------------------------------------

(১) জামেউল বায়ান, পৃষ্ঠা ১/ ৭-৮।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
غير لغة العرب شيء لتوهّم متوهّم أن العرب إنما عجزت عن الإتيان مثله، لأنه أتى بلغات لا يعرفونها (1).

هذه أدلة الإمام الشافعي ومن معه، ويجدر بالذكر أن هذا الفريق وإن كان يقول: إن جميع ألفاظ القرآن عربية إلا أنه لا ينكر موافقة لسان العرب للسان العجم كما يقول الشافعي، ولا ينكر إذا كان اللفظ قيل تعلما أو نطق به موضوعا، أن يوافق لسان العجم أو بعضها قليلا من لسان العرب، كما يتفق القليل من ألسنة الأعاجم المتباينة في أكثر كلامها مع تنائي ديارها، واختلاف لسانها، وبعد الأواصر بينها وبين من وافقت بعض لسانه (2).

ويمثل أبو عبيد على ذلك بالمثال التطبيقي فيقول: «وقد يوافق اللفظ اللفظ ويفارقه ومعناهما واحد، أحدهما بالعربية والآخر بالفارسية أو غيرها، فمن ذلك الإستبرق بالعربية، وهو الغليظ من الديباج، وهو استبره بالفارسية» ثم ختم أبو عبيد كلامه بقوله: «من زعم أن في القرآن لسانا سوى العربية فقد أعظم القول» (3).

يقول أبو بكر الباقلاني: القرآن عربي لا عجمة فيه، فكل كلمة في القرآن استعملها أهل لغة أخرى فيكون أصلها عربيا إنما غيّرها غيرهم تغييرا ما، كما غيّر العبرانيون فقالوا: للإله، لاهوت، وللناسك: ناسوت.

أما الفريق الثاني فهو فريق المتساهلين، الذين حكموا بأن القرآن شامل لجميع لغات العالم في زمنهم، استنادا لقوله تعالى: ما فَرَّطْنا فِي الْكِتابِ مِنْ شَيْءٍ [الأنعام: 38] فالآية حسب زعمهم شاملة وعامّة، لذا قالوا: إن القرآن فيه من كلّ لهجة عربية بل باللغات الشائعة في زمن نزوله … كالفارسية والرومية والعبرية، لذا فقد تساهلوا وتوسعوا في الألفاظ الوافدة التي استعملها القرآن الكريم ظنّا منهم أنها مزية من مزاياه في عدم التفريط بشموليته لسائر اللهجات واللغات. قال الثعلبي: إنه ليس لغة في الدنيا إلا وهي في القرآن.

--------------------------------------------

(1) انظر الصاحبي لابن فارس ص 46، والإتقان 178.

(2) الرسالة للإمام الشافعي ص 44 - 45.

(3) الصاحبي ص 43 - 44.
আরবি ভাষা ব্যতীত অন্য কিছু (কুরআনে নেই), যাতে কেউ এমন ভ্রম পোষণ না করে যে, আরবরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে এই কারণে অক্ষম হয়েছিল কারণ এটি এমন ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল যা তারা জানত না (১)।

এগুলো ইমাম শাফেঈ ও তাঁর অনুসারীগণের দলীল। উল্লেখ্য যে, এই দলটি যদিও বলে যে কুরআনের সকল শব্দই আরবি, তবে ইমাম শাফেঈ যেমনটি বলেছেন—তাঁরা অনারব ভাষার সাথে আরবি ভাষার মিল থাকাকে অস্বীকার করেন না। শব্দগুলো শেখার মাধ্যমে বলা হয়ে থাকুক কিংবা মৌলিকভাবে উচ্চারিত হোক, আরবি ভাষার সামান্য কিছু অংশ যে অনারব ভাষার সাথে মিলে যেতে পারে, তা তাঁরা অস্বীকার করেন না। ঠিক যেমন অধিকাংশ কথায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সুদূর দেশ, ভিন্ন ভাষা এবং একে অপরের মাঝে কোনো বন্ধন না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অনারব ভাষার মাঝে সামান্য কিছু মিল দেখা যায় (২)।

আবু উবাইদ এর একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দিয়ে বলেন: "কখনো কখনো একটি শব্দের সাথে অন্য শব্দের মিল থাকে আবার অমিলও থাকে অথচ তাদের অর্থ এক; যার একটি আরবিতে এবং অন্যটি ফারসি বা অন্য ভাষায়। এর একটি উদাহরণ হলো আরবিতে ‘ইস্তাবরাক’, যার অর্থ পুরু রেশমি কাপড়, আর ফারসিতে একে ‘ইস্তাবরাহ’ বলা হয়।" অতঃপর আবু উবাইদ তাঁর বক্তব্য এই বলে শেষ করেন: "যে ব্যক্তি ধারণা করে যে কুরআনে আরবি ব্যতীত অন্য কোনো ভাষা রয়েছে, সে অনেক বড় কথা বলেছে" (৩)।

আবু বকর আল-বাকিল্লানি বলেন: কুরআন আরবি, এতে কোনো অনারবত্ব নেই। কুরআনের যে শব্দগুলো অন্য ভাষার লোকেরা ব্যবহার করেছে, সেগুলোর মূল উৎস হচ্ছে আরবি; অন্যরা কেবল সেগুলোকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে। যেমন ইবরানিরা পরিবর্তন করে ‘ইলাহ’-এর পরিবর্তে ‘লাহুত’ এবং ‘নাসিক’-এর পরিবর্তে ‘নাসুত’ বলেছে।

পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দলটি হলো শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের দল। তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কুরআন তাঁদের সমকালীন বিশ্বের সকল ভাষার অন্তর্ভুক্তকারী; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি" [আল-আনআম: ৩৮]। তাদের দাবি অনুযায়ী এই আয়াতটি ব্যাপক ও সাধারণ। তাই তারা বলেছেন: কুরআনে আরবের প্রতিটি উপভাষা এমনকি নাজিল হওয়ার সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ভাষা যেমন—ফারসি, রোমান ও হিব্রু ভাষার শব্দও বিদ্যমান। সুতরাং তাঁরা কুরআনে ব্যবহৃত আগন্তুক শব্দগুলোর ক্ষেত্রে শিথিলতা ও প্রশস্ততা দেখিয়েছেন এই ভেবে যে, এটি কুরআনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে এটি সকল উপভাষা ও ভাষাকে শামিল করার মাধ্যমে কোনো কিছুই বাদ দেয়নি। সালাবি বলেন: পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই যা কুরআনে বিদ্যমান নেই।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে ফারিস রচিত 'আস-সাহিবী', পৃষ্ঠা ৪৬ এবং 'আল-ইতকান', ১৭৮।

(২) ইমাম শাফেঈর 'আর-رিসালাহ', পৃষ্ঠা ৪৪ - ৪৫।

(৩) 'আস-সাহিবী', পৃষ্ঠা ৪৩ - ৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويرى أن وقوع هذه الألفاظ في القرآن إنما يدل على حكمة احتوائه لعلوم الأولين والآخرين، ومن ضمن ذلك إحاطته بجميع اللغات والألسن.

مما تقدم يتبين لنا أن هناك خلافا بين الفريقين، هو خلاف حقيقيّ شكليّ، وعلي الرغم من وضوح حقيقة الخلاف إلا أبا عبيد القاسم بن سلّام قد صبغ الخلاف وفاقا.

(قال أبو عبيد القاسم بن سلام: (إنّ القرآن كلّه عربيّ، وروي عن ابن عباس ومجاهد وعكرمة وغيرهم في أحرف كثيرة من غير لسان العرب مثل: سجّيل ومشكاة واليم والطور وأباريق وإستبرق وغير ذلك، فهؤلاء أعلم بالتأويل من أبي عبيدة، ولكنهم ذهبوا إلى مذهب، وذهب هذا إلى غيره، وكلاهما مصيب إن شاء الله تعالى، وذلك أن هذه الحروف بغير لسان العرب في الأصل، فقال أولئك على الأصل ثم لفظت به العرب بألسنتها، فعرّبته فصار عربيا بتعريبها إياه، فهي عربية في هذه الحال أعجمية الأصل) (1).

وعلق الشيخ الزفزاف فقال: (وهذا الرأي الذي ذكره أبو عبيد، إنما أراد به أن يجعل الخلاف بين الفريقين السابقين لفظيا. والذي يظهر لي أنه ليس كذلك، لأن الإمام الشافعي ومن معه لم يكونوا يجهلون أن العرب إذا تكملت اللفظ الأعجمي يصبح عربيا، ولكنهم كانوا يرون أن القطع بأن هذه الألفاظ أعجمية الأصل لا سبيل إليه. كما يفهم ذلك من القرآن وكما يفهم من كلام القاضي أبي بكر الباقلاني، وهم يرون غلق هذا الباب) (2).

ثم استدل هذا الفريق أولا: بالآية القرآنية وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسانِ قَوْمِهِ [إبراهيم: 4].

ووجه الدلالة في الآية أنّ كلّ رسول مرسل إلى قومه، فيتحدّث بلسانهم والنبيّ صلى الله عليه وسلم مرسل إلى كلّ الأمم فلا بد أن يكون في الكتاب المبعوث إليهم من لسان كلّ قوم إن كان أصله بلغة قومه هو.

--------------------------------------------

(1) المعرب للجواليقي ص 53.

(2) القرآن والحديث للشيخ الزفزاف.
তিনি মনে করেন যে, কুরআনে এই শব্দগুলোর উপস্থিতি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান ধারণ করার হিকমতের পরিচয় দেয়, যার মধ্যে রয়েছে সকল ভাষা ও উপভাষার প্রতি কুরআনের পরিব্যাপ্তি।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি মতভেদ রয়েছে, যা প্রকৃত ও বাহ্যিক। মতভেদের বাস্তবতা স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম এই মতভেদকে ঐক্যের রঙে রঞ্জিত করেছেন।

(আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই কুরআন পুরোপুরি আরবি। তবে ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরিমা এবং অন্যদের থেকে অনেক শব্দের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে যে সেগুলো আরবি ভাষা বহির্ভূত, যেমন: সিজ্জিল, মিশকাত, আল-ইয়াম্ম, আত-তূর, আবারিক, ইস্তাবরাক এবং আরও অনেক। তারা আবু উবাইদাহর তুলনায় তাফসীর সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তবে তারা একটি মত গ্রহণ করেছেন এবং তিনি অন্য একটি মত গ্রহণ করেছেন, আর আল্লাহ চাহেন তো উভয় পক্ষই সঠিক। এর কারণ হলো, এই শব্দগুলো মূলত অনারব ভাষার ছিল। সুতরাং তারা মূলের ওপর ভিত্তি করে কথা বলেছেন, এরপর আরবরা তা নিজেদের ভাষায় উচ্চারণ করেছে এবং আরবিকরণ করেছে। ফলে তাদের আরবিকরণের কারণে তা আরবি হয়ে গেছে। সুতরাং এই অবস্থায় শব্দগুলো আরবি হলেও মূলে তা অনারব) (১)।

শেখ আয-যাফযাফ মন্তব্য করে বলেছেন: (আবু উবাইদ যে মতটি উল্লেখ করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী দুই পক্ষের মতভেদকে শাব্দিক প্রমাণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো বিষয়টি তেমন নয়। কারণ ইমাম শাফিঈ এবং তাঁর অনুসারীরা এটি অজানা ছিলেন না যে আরবরা যখন কোনো অনারব শব্দ ব্যবহার করে কথা বলে তখন তা আরবি হয়ে যায়। কিন্তু তারা মনে করতেন যে, এই শব্দগুলো মূলত অনারব—এ কথা নিশ্চিতভাবে বলার কোনো পথ নেই। যেমনটি কুরআন থেকে বোঝা যায় এবং কাযী আবু বকর আল-বাকিল্লানির কথা থেকেও বোঝা যায়। তাঁরা এই পথ বন্ধ রাখার পক্ষপাতি ছিলেন) (২)।

অতঃপর এই পক্ষটি প্রথমত কুরআনের এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আমি কোনো রসূলকেই তাঁর নিজ জাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি" [ইবরাহীম: ৪]।

আয়াতের দলিল হওয়ার ধরণটি হলো, প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে, ফলে তিনি তাদের ভাষাতেই কথা বলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে, তাই তাঁর কাছে অবতীর্ণ কিতাবে প্রতিটি জাতির ভাষার কিছু অংশ থাকা আবশ্যক, যদি এর মূল ভিত্তি তাঁর নিজের জাতির ভাষা হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মুআররাব লিজ-জাওয়ালিকী, পৃষ্ঠা ৫৩।

(২) শেখ আয-যাফযাফের আল-কুরআন ওয়াল হাদীস।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثانيا: ورد في القرآن الكريم أعلام أعجمية وهي كما يقول علماء النحو ممنوعة من الصرف، وعلة ذلك العلمية والعجمة، وإذا اتفق على وقوع الأعلام فلا مانع من وقوع الأجناس.

ثالثا: أما الدليل الأخير فهو القياس كما ذكره ابن جني «إن ما قيس على كلام العرب. فهو من كلام العرب» (1).

الفريق الثالث: وهو الوسط بين الفريقين فليس بمبالغ ولا متساهل، ذلك أنه أثبت وجود كلمة أعجمية، ولكنها لما عرّبت، أصبحت عربية، فوصف القرآن بأنه عربيّ صحيح، لأن المعرب كالعربي سواء بسواء، وبهذا القول يكون قد وافق فريق المتساهلين، ولكنه يخالفه في الإفراط بالكم من هذه الكلمات إلى درجة إثبات أن القرآن فيه كل اللغات واللهجات، أو على حد تعبيرهم في القرآن من كلّ لسان عربي.

أما وجه مخالفة الفريق الثالث للفريق الأول: فإن العرب في جاهليتهم قد استعملوا كلمات أعجمية، ولكنه لاكوها بألسنتهم وأخضعوها لتفعيلاتهم، فأصبحت معربة، فامرؤ القيس استعمل لفظة السجنجل في معلقته المشهورة:

مهفهفة بيضاء غير مفاضة … ترائبها مصقولة كالسّجنجل

والسجنجل بمعنى المرآة وهي لفظة معربة (2) لم يستعملها العرب من قبل، والتعريب في هذه الألفاظ لا يكون بأخذها كما وردت عن الأعاجم، بل لا بدّ من صياغتها على تفعيلة من التفعيلات العربية، كأفعل وفعل وفاعل وافتعل واستفعل وغيرها، فإن وافقتها أخذ بها. وإلا أنقص أو بدّل حرف منها حتى توافق أوزان التفعيلات، فالتعريب هو صوغ الكلمة الأعجمية صياغة جديدة بالوزن والحروف العربية، وبهذا دخلت الألفاظ الأعجمية إلى اللغة العربية، ولكنها أصبحت عربية حين لاكتها العرب بألسنتها، نعم إننا لا نستطيع أن نجزم أن جميع الألفاظ التي

--------------------------------------------

(1) الخصائص ج 1، ص 357.

(2) انظر شرح المعلقات السبع للزوزني.
দ্বিতীয়ত: পবিত্র কুরআনে অনারব নামসমূহ এসেছে এবং ব্যাকরণবিদদের মতে এগুলো অপরিবর্তনশীল (মামনু মিনাস সরফ), আর এর কারণ হলো শব্দগুলোর নামবাচকতা ও অনারব হওয়া। আর যদি নামবাচক শব্দসমূহের উপস্থিতির বিষয়ে ঐকমত্য থাকে, তবে জাতিবাচক শব্দ বা সাধারণ বিশেষ্য উপস্থিত থাকতে কোনো বাধা নেই।

তৃতীয়ত: সর্বশেষ দলিল হলো কিয়াস (সাদৃশ্য), যেমনটি ইবনে জিন্নি উল্লেখ করেছেন: "যা আরবদের ভাষার ওপর কিয়াস করা হয়, তা আরবদের ভাষারই অন্তর্ভুক্ত" (১)।

তৃতীয় পক্ষ: এই পক্ষটি উভয় পক্ষের মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছে, তারা অতিরঞ্জনকারীও নয় আবার অতি শিথিলতা প্রদর্শনকারীও নয়। কারণ তারা অনারব শব্দের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন, কিন্তু সেগুলো যখন আরবিকৃত (মু'আররাব) করা হয়েছে, তখন তা আরবিতে পরিণত হয়েছে। ফলে কুরআনকে বিশুদ্ধ আরবি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কারণ আরবিকৃত শব্দ হুবহু আরবির মতোই। এই মতের মাধ্যমে তারা শিথিলতাকামীদের সাথে একমত হয়েছেন, তবে শব্দের আধিক্যের বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন—যেখানে দাবি করা হয়েছে যে কুরআনে সকল ভাষা ও উপভাষা রয়েছে, অথবা তাদের ভাষায় কুরআনে প্রত্যেকটি আরবি ভাষা বিদ্যমান।

প্রথম পক্ষের সাথে তৃতীয় পক্ষের বিরোধের দিকটি হলো: আরবরা জাহিলিয়াত যুগে অনারব শব্দ ব্যবহার করত, কিন্তু তারা সেগুলো নিজেদের রসনায় ঘুরিয়ে নিত এবং তাদের ছন্দোবদ্ধ কাঠামোর (তাফইলাহ) অনুগত করত, ফলে সেগুলো আরবিকৃত হয়ে যেত। যেমন ইমরুল কায়েস তার বিখ্যাত মুয়াল্লাকায় 'সাজানজাল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন:

সুতন্বী ও শুভ্রবর্ণা, মেদহীন … তার বক্ষদেশ আয়নার মতো উজ্জ্বল ও মসৃণ

আর 'সাজানজাল' অর্থ হলো আয়না, এটি একটি আরবিকৃত শব্দ (২) যা আরবরা ইতিপূর্বে ব্যবহার করেনি। এই শব্দগুলোর আরবিকরণ অনারবদের থেকে হুবহু গ্রহণের মাধ্যমে হয় না, বরং সেগুলোকে অবশ্যই আরবি ছন্দের কোনো একটি ছাঁচে গঠন করতে হয়, যেমন: আফ'আলা, ফা'আলা, ফা'ইল, ইফতা'আলা, ইস্তাফ'আলা ইত্যাদি। যদি তা ছন্দের সাথে মিলে যায় তবে তা গ্রহণ করা হয়। অন্যথায় কোনো বর্ণ হ্রাস করা হয় বা পরিবর্তন করা হয় যাতে তা ছন্দের ওজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং আরবিকরণ হলো অনারব শব্দকে আরবি ওজন ও বর্ণের মাধ্যমে নতুনভাবে গঠন করা। এভাবেই অনারব শব্দসমূহ আরবি ভাষায় প্রবেশ করেছে, কিন্তু আরবরা যখন এগুলো নিজেদের রসনায় ব্যবহার করেছে তখন তা আরবিতে পরিণত হয়েছে। হ্যাঁ, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে সমস্ত শব্দ যেগুলো...

--------------------------------------------

(১) আল-খাসাইস, ১ম খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা।

(২) যাওযানীর শারহুল মুয়াল্লাকাতুস সাব'আ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
أوردها بعض العلماء هي ألفاظ أعجمية في الأصل، لأن القطع بهذا يحتاج إلى تتبع اللفظ والتنقلات التي اعتورته حتى نصل إلى منشئه الأصلي. هذا أولا.

ثانيا: إن الفريق الأول الذي استدل على عربية القرآن، وأنه ليس فيه كلمة معربة بمعنى أن أصلها أعجمي، ثم نقلت إلى العربية، قد خالفوا سنة التأثير والتأثر بين اللغات، وحكموا أن اللغة العربية قد أثرت في اللغات الأخرى على الدوام والاستمرار، فقد أثرت ولم تتأثر، وأقرضت ولم تستقرض، ويعللون هذه الظاهرة بأحد أمرين كما يقول الشيخ أحمد شاكر (1):

أولهما: أن العرب من أقدم الأمم، ولغتها من أقدم اللغات وجودا، كانت قبل إبراهيم وإسماعيل، وقبل الكلدانية (2) والعبرية (3) والسريانية (4)، وغيرها، بله الفارسية. وقد ذهب منها الشيء الكثير بذهاب مدنيتهم الأولى قبل التاريخ، فلعل الألفاظ القرآنية، التي يظنّ أن أصلها ليس من لسان العرب، لا يعرف مصدر اشتقاقها، لعلها من بعض ما فقد أصله وبقي الحرف وحده.

ثانيهما: اتساع اللغة العربية: يقول الإمام الشافعي: ولسان العرب أوسع الألسنة مذهبا، وأكثرها ألفاظا، ولا نعلمه يحيط بجميع علمه إنسان غير نبي (5).

ولذا وجدنا ابن عباس، مع علمه الواسع، يخفى عليه معنى «فاطر» فروي عنه أنه قال: «كنت لا أدري ما فاطر السموات والأرض، حتى أتاني أعرابيان يختصمان في بئر، فقال أحدهما لصاحبه: أنا فطرتها، أي: بدأتها» (6).

--------------------------------------------

(1) انظر تقديم أحمد شاكر لكتاب الرسالة.

(2) الكلدانية نسبة إلى الكلدانيين بالضم وهم طائفة من عبدة الكواكب. تاج العروس 2/ 486.

(3) العبرية والعبرانية لغة اليهود. لسان العرب: عبر.

(4) السريانية: لغة سواد العراق. المعرب 60.

(5) الرسالة للإمام الشافعي.

(6) تفسير ابن كثير لمطلع سورة فاطر.
কিছু আলেম এগুলোকে মূলত অনারব শব্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কারণ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য শব্দটির উৎস এবং এর মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে তা এর মূল উৎপত্তিস্থল পর্যন্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। এটি প্রথমত।

দ্বিতীয়ত: প্রথম যে দলটি কুরআনের বিশুদ্ধ আরবি হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে এতে কোনো আরবিকৃত শব্দ নেই—অর্থাৎ এমন শব্দ যার মূল অনারব কিন্তু পরে আরবিতে স্থানান্তরিত হয়েছে—তারা ভাষার পারস্পরিক প্রভাব ও প্রভাবিত হওয়ার চিরন্তন নিয়মকে লঙ্ঘন করেছেন। তারা রায় দিয়েছেন যে, আরবি ভাষা সর্বদা অন্য ভাষাকে প্রভাবিত করেছে কিন্তু নিজে প্রভাবিত হয়নি, এবং অন্যকে ঋণ দিয়েছে কিন্তু নিজে ঋণ নেয়নি। তারা এই বিষয়টিকে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, যেমনটি শেখ আহমদ শাকির বলেছেন:

প্রথমত: আরবরা অন্যতম প্রাচীন জাতি এবং তাদের ভাষা বিদ্যমান ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন। এটি ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর পূর্বে এবং ক্যালডীয়, হিব্রু, সিরিয়াক ও অন্যান্য ভাষার পূর্বে বিদ্যমান ছিল, পারস্য ভাষার কথা তো বলাই বাহুল্য। প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাচীন সভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে এর অনেক অংশ হারিয়ে গিয়েছে। সুতরাং কুরআনের যেসব শব্দ সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে সেগুলো আরবি বংশোদ্ভূত নয় এবং যেগুলোর ব্যুৎপত্তিগত উৎস জানা যায় না, সম্ভবত সেগুলো সেই সব শব্দের অন্তর্ভুক্ত যার মূল হারিয়ে গিয়েছে এবং কেবল শব্দমূলটি অবশিষ্ট রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আরবি ভাষার বিশালতা। ইমাম শাফেয়ি বলেন: আরবদের ভাষা শৈলী বা পদ্ধতির দিক থেকে সবচেয়ে প্রশস্ত এবং শব্দের দিক থেকে সর্বাধিক সমৃদ্ধ। কোনো নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এই ভাষার পূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টন করতে পেরেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

এজন্যই আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও 'ফাতির' শব্দের অর্থ জানতেন না। বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "আমি জানতাম না যে আসমান ও জমিনের 'ফাতির' হওয়ার অর্থ কী, যতক্ষণ না দুজন বেদুইন একটি কূপ নিয়ে বিবাদ করতে করতে আমার কাছে এল। তখন তাদের একজন অন্যজনকে বলল: আমি এটি 'ফাতারা' করেছি, অর্থাৎ: আমি এটি শুরু করেছি।"

--------------------------------------------

(১) রিসালাহ গ্রন্থের আহমদ শাকিরের ভূমিকা দেখুন।

(২) ক্যালডীয় মূলত ক্যালডীয়ানদের সাথে সম্পর্কিত, তারা ছিল নক্ষত্র উপাসক একটি গোষ্ঠী। তাজুল আরূস ২/৪৮৬।

(৩) ইবরানি বা হিব্রু হলো ইহুদিদের ভাষা। লিসানুল আরব: আবার।

(৪) সিরিয়াক: ইরাকের সোয়াদ অঞ্চলের ভাষা। আল-মুআররাব ৬০।

(৫) ইমাম শাফেয়ির রিসালাহ।

(৬) সূরা ফাতিরের শুরুতে তাফসীরে ইবনে কাসীর।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
ونظرا لاتساع اللغة العربية فقد رأوا أنها المصدر لتلك اللغات، أو المؤثر والمقرض لتلك اللغات، فقد أعطت ولم تأخذ، وأثّرت ولم تتأثر، وأقرضت ولم تقترض .. إلخ.

 

‌‌المناقشة والرد والنقض لهذه الأدلة:

1 - إن قضية أقدمية اللغة العربية غير مسلم بها، والنظريات في الأقدميات لم تستقر على حال، وهي أدلة ظنية، وهناك كلام طويل في لغة آدم عليه السلام، وكلام طويل في توقيفية اللغة ووضعها من البشر، والخلاف في هذه القضية طويل وعريض.

ولكن من المسلم به أن اللغات قد عايش بعضها بعضها، واحتك البشر بالبشر فجريا على سنة التأثير والتأثر، جرى الإقراض والاقتراض، واللغة العربية لم تخرج عن هذه السنة، وليست لغة بأولى من لغة في هذه السنة.

2 - أما القول بأن اللغة العربية من أوسع اللغات فلا يحتم ذلك أن تكون دوما هي المؤثر الذي لا يتأثر، والمقرض الذي لا يقترض.

مجمل القول أن أقدمية اللغة وسعتها لا تمنعان شيئا مما قلناه، وأقصى ما يمكن قوله: إنها اللغة الأكثر تأثيرا وإقراضا، وهذا الأمر هو الصواب.

3 - أما القول: بأن ابن عباس قد خفي عليه معنى فاطر، فلا ينهض دليلا على ما يقولون؛ لأن خفاء المعاني على العلماء لا يدلّ على سلب أو إيجاب في هذا المقام.

وبعد: فيظهر مما تقدم أن القول الراجح هو رأي الفريق الثالث، وهو قول ترجمان القرآن ابن عباس الذي دعا له النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل» ووافقه تلميذه مجاهد وعكرمة، فهم أعلم بالتأويل كما يقول أبو عبيد مخالفا شيخه أبا عبيدة.

«فهؤلاء أعلم بالتأويل من أبي عبيدة» (1) وقد رويت عنهم أقوال في بيان الأصل الأعجمي لبعض الألفاظ القرآنية، وهذا غير مانع من وضعها بالعربية لأن تعريب

--------------------------------------------

(1) المعرب للجواليقي ص 53، والمهذب للسيوطي ص 18.
আরবি ভাষার বিশালতার কথা বিবেচনা করে তারা মনে করেন যে এটিই সেই ভাষাগুলোর উৎস, অথবা সেই ভাষাগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এবং ঋণদাতা; এটি দান করেছে কিন্তু গ্রহণ করেনি, প্রভাবিত করেছে কিন্তু প্রভাবিত হয়নি, ঋণ দিয়েছে কিন্তু ঋণ নেয়নি ইত্যাদি।

 

‌‌এই দলীলসমূহের পর্যালোচনা, উত্তর এবং খণ্ডন:

১ - আরবি ভাষার প্রাচীনত্বের বিষয়টি সর্বসম্মত নয়। প্রাচীনত্ব সম্পর্কিত তত্ত্বগুলো কোনো একটি অবস্থায় স্থির নয়, আর এগুলো হলো ধারণাপ্রসূত দলীল। আদম আলাইহিস সালামের ভাষা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, এবং ভাষা কি আল্লাহপ্রদত্ত নাকি মানুষের তৈরি—তা নিয়ে দীর্ঘ ও প্রশস্ত মতভেদ রয়েছে।

কিন্তু এটি স্বীকৃত যে, ভাষাগুলো একে অপরের পাশাপাশি অবস্থান করেছে এবং মানুষের সাথে মানুষের মেলামেশা ঘটেছে। ফলে পারস্পরিক প্রভাবের নিয়ম অনুযায়ী আদান-প্রদান ও ঋণ নেওয়া-দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আরবি ভাষা এই নিয়মের বাইরে নয়, এবং এই নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ভাষা অন্য কোনো ভাষার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য নয়।

২ - আর আরবি ভাষা অন্যতম প্রশস্ত ভাষা—এই দাবি এটি আবশ্যক করে না যে এটি সর্বদা কেবল প্রভাব বিস্তারকারী হবে যা প্রভাবিত হয় না, কিংবা সর্বদা ঋণদাতা হবে যা ঋণ গ্রহণ করে না।

সারকথা হলো, ভাষার প্রাচীনত্ব এবং এর বিশালতা আমরা যা বলেছি তার কোনো কিছুই বাধাগ্রস্ত করে না। সর্বোচ্চ যা বলা যেতে পারে তা হলো: এটি এমন একটি ভাষা যা অধিক প্রভাব বিস্তারকারী এবং অধিক ঋণদাতা; আর এই বিষয়টিই সঠিক।

৩ - আর এই কথা যে: ইবনে আব্বাসের নিকট 'ফাতির' শব্দের অর্থ অস্পষ্ট ছিল—তা তাদের দাবির সপক্ষে দলীল হিসেবে দাঁড়ায় না; কারণ আলেমদের নিকট কোনো অর্থের অস্পষ্টতা এই ক্ষেত্রে নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনো কিছুর প্রমাণ বহন করে না।

অতঃপর: উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সঠিক মত হলো তৃতীয় পক্ষের অভিমত। আর এটি হলো কুরআনের অনুবাদক ইবনে আব্বাসের উক্তি, যাঁর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যার জ্ঞান (তাওয়ীল) দান করুন।" তাঁর সাথে তাঁর ছাত্র মুজাহিদ এবং ইকরিমা একমত পোষণ করেছেন। তাঁরা তাফসীর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত, যেমনটি আবু উবাইদ তাঁর শিক্ষক আবু উবাইদাহর বিরোধিতা করে বলেছেন।

"তাঁরা আবু উবাইদাহর তুলনায় তাফসীর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত" (১) কুরআনের কিছু শব্দের অনারব মূল বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাঁদের থেকে কিছু উক্তি বর্ণিত হয়েছে। এটি সেগুলোকে আরবিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, কারণ আরবীকরণ...

--------------------------------------------

(১) আল-মুআররাব লিল জাওয়ালিকী, পৃষ্ঠা ৫৩; এবং আল-মুহাযযাব লিস সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩০)
العرب لها جعلها عربية، فهي أعجمية في الابتداء، عربية في الانتهاء، وكما يقول ابن جني: فما قيس على كلام العرب فهو من كلامهم.

قال ابن عطية: فحقيقة العبارة عن هذه الألفاظ أنها في الأصل أعجمية. لكن استعملتها العرب وعربتها، فهي عربية بهذا الوجه، فقد كان للعرب العاربة التي نزل القرآن بلسانها بعض مخالطة لسائر الألسنة بتجارات، وبرحلتي قريش، كسفر «مسافر ابن أبي عمرو» إلى الشام، وكسفر «عمر بن الخطاب» وكسفر «عمرو بن العاص» و «عمارة بن الوليد» إلى أرض الحبشة، وكسفر «الأعشى» إلى الحيرة، وصحبته لنصاراها مع كونه حجة في اللغة، فعلقت العرب بهذا كله ألفاظا أعجمية غيّرت بعضها بالنقص من حروفها، وجرت إلى تخفيف ثقل العجمة، واستعملتها في أشعارها ومحاوراتها، حتى جرت مجرى العربي الصحيح، ووقع بها البيان، وعلى هذا الحدّ نزل بها القرآن، ثم تابع ابن عطية حديثه فقال ردّا على الطبري: «وما ذهب إليه الطبري رحمه الله من أن اللغتين اتفقتا لفظة لفظة بذلك بعيد، بل إحداهما أصل والأخرى فرع، وليس بأولى من العكس .. » (1).

إن هذا القول لا يقلل من شأن عربية القرآن لا من قريب ولا من بعيد، بل يدل على مرونتها واتساعها لما هو مستحدث وجديد، وكما قيل، ولنا أن نضيف إليها كلمات لم تكن مستعملة من قبل، ولقد أضاف لها العرب في جاهليتهم وإسلامهم، وصبوا ذلك في قوالبهم، وأصبحت الألفاظ المعرّبة عربية فصيحة.

يقول السيوطي: وقد رأيت الجويني ذكر لوقوع المعرّب في القرآن فائدة أخرى فقال: إن قيل: إنّ (إستبرق) ليس بعربي، وغير العربي من الألفاظ دون العربي في الفصاحة والبلاغة، فنقول: لو اجتمع فصحاء العالم وأرادوا أن يتركوا هذه اللفظة ويأتوا بلفظة تقوم مقامها في الفصاحة لعجزوا عن ذلك. فمثلا كلمة (إستبرق) إن أراد الفصيح أن يترك هذا اللفظ ويأتي بلفظ آخر لم يمكنه، لأن ما يقوم مقامه إما لفظ واحد أو ألفاظ متعددة، ولا يجد العربي لفظا واحدا يدلّ عليه، لأن الثياب من

--------------------------------------------

(1) مقدمة المهذب ص 15 - 18 بتصرف، وقوع المعرب في القرآن للأستاذ محمد السيد.
আরবগণ সেগুলোকে আরবিতে রূপান্তর করেছে, তাই সেগুলো শুরুতে অনারবি হলেও পরিণামে আরবি। যেমন ইবনে জিন্নি বলেন: যা কিছু আরবদের কথার সাথে মিলিয়ে গ্রহণ করা হয়, তা তাদেরই কথার অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এই শব্দগুলোর প্রকৃত বর্ণনা হলো যে, এগুলো মূলে অনারবি। কিন্তু আরবরা সেগুলো ব্যবহার করেছে এবং সেগুলোকে আরবিতে রূপান্তরিত করেছে, তাই এই দিক থেকে সেগুলো আরবি। বিশুদ্ধ আরবদের মাঝে যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, ব্যবসার কারণে অন্যান্য ভাষার সাথে তাদের কিছু মেলামেশা ছিল, যেমন কুরাইশদের দুটি সফর। উদাহরণস্বরূপ মুসাফির ইবনে আবি আমরের সিরিয়া সফর, উমর ইবনুল খাত্তাব, আমর ইবনুল আস এবং উমারা ইবনুল ওয়ালিদের হাবাশা (আবিসিনিয়া) সফর, এবং আল-আশা-এর হিরা সফর এবং সেখানকার খ্রিস্টানদের সান্নিধ্য লাভ—যদিও তিনি ভাষার ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। এর ফলে আরবরা অনেক অনারবি শব্দ গ্রহণ করেছে, যার কয়েকটির বর্ণ কমিয়ে তারা পরিবর্তন করেছে এবং অনারবি ভাষার কাঠিন্য দূর করে সহজতর করেছে। তারা এগুলোকে তাদের কবিতা ও কথোপকথনে ব্যবহার করেছে, এমনকি তা বিশুদ্ধ আরবির মতোই প্রচলিত হয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে ভাবপ্রকাশ সুস্পষ্ট হয়েছে। আর এই ধারাতেই কুরআন নাজিল হয়েছে। এরপর ইবনে আতিয়্যাহ তার আলোচনা চালিয়ে যান এবং ইমাম তাবারির মতের প্রতিবাদ করে বলেন: "ইমাম তাবারি (রহ.) যে মত পোষণ করেছেন যে, উভয় ভাষায় প্রতিটি শব্দ হুবহু মিলে গেছে—তা সুদূরপরাহত। বরং একটি হচ্ছে মূল এবং অন্যটি তার শাখা, এবং বিপরীত হওয়ার চেয়ে এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত (১)।"

এই বক্তব্য কুরআনের আরবি হওয়ার মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না; বরং এটি আরবি ভাষার নমনীয়তা এবং নতুন বা আধুনিক বিষয়ের প্রতি এর প্রশস্ততার প্রমাণ দেয়। যেমনটি বলা হয়েছে, আমরা এতে এমন শব্দ যোগ করতে পারি যা আগে ব্যবহৃত হয়নি। আরবরা তাদের জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই এতে নতুন শব্দ যুক্ত করেছে এবং সেগুলোকে তাদের নিজস্ব ছাঁচে ঢেলেছে, যার ফলে সেই আরবিয়কৃত শব্দগুলো বিশুদ্ধ আরবিতে পরিণত হয়েছে।

সুয়ূতী বলেন: আমি আল-জুওয়াইনিকে কুরআনে আরবিয়কৃত অনারবি শব্দের উপস্থিতির আরেকটি উপকারিতা উল্লেখ করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন: যদি বলা হয় যে, 'ইস্তাবরাক' শব্দটি আরবি নয়, আর অনারবি শব্দ তো সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে আরবির সমপর্যায়ের নয়; তবে আমরা বলব: যদি পৃথিবীর সমস্ত বাকপটু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এই শব্দটি বর্জন করতে চান এবং এর স্থলাভিষিক্ত এমন কোনো শব্দ আনতে চান যা সাবলীলতায় এর সমতুল্য, তবে তারা তা করতে অক্ষম হবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বাকপটু ব্যক্তি 'ইস্তাবরাক' শব্দটি বাদ দিয়ে অন্য কোনো শব্দ আনতে চান, তবে তিনি তা পারবেন না। কারণ এর স্থলাভিষিক্ত যা হবে তা হয় একটি একক শব্দ হবে অথবা একাধিক শব্দ হবে, অথচ আরবরা এর অর্থ প্রকাশে সক্ষম অন্য কোনো একক শব্দ খুঁজে পাবে না। কারণ পোশাকসমূহ...

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাতুল মুহাজ্জাব, পৃষ্ঠা ১৫ - ১৮ (সংক্ষেপিত), অধ্যাপক মুহাম্মদ আস-সাইয়্যিদ রচিত ‘উকুউ আল-মু’আররাব ফিল কুরআন’।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩১)
الحرير عرفها العرب من الفرس، ولم يكن لهم بها عهد، ولا وضع في اللغة العربية للديباج الثخين اسم، وإنما عرّبوا ما سمعوا من العجم، واستغنوا عن الوضع؛ لقلة وجوده عندهم وندرة تلفظهم به. أما إن ذكره بلفظين فأكثر، فإنه يكون قد أخلّ بالبلاغة، لأن ذكر لفظين لمعنى يمكن ذكره بلفظ، هو تطويل، فعلم بهذا أن لفظ (إستبرق) يجب على كلّ فصيح أن يتكلم به في موضعه ولا يجد ما يقوم مقامه، وأيّ فصاحة أبلغ من ألا يوجد غيره مثله؟ (1).

ويؤكد الرافعيّ هذه الحقيقة إذ يقول: ولذا قال العلماء في تلك الألفاظ المعربة التي اختلطت بالقرآن: إن بلاغتها في نفسها أنه لا يوجد غيرها يغني عنها في مواقعها من نظم الآيات، لا إفرادا ولا تركيبا (2). وهو قول يحسن ذكره بعد الذي بيناه.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 231 وقارن ب: البرهان: للزركشي.

(2) إعجاز القرآن والبلاغة العربية ص 72 - 73.
আরবরা পারস্যবাসীদের নিকট থেকে রেশম সম্পর্কে জানতে পেরেছিল, এবং এর আগে তাদের এ বিষয়ে কোনো পরিচয় ছিল না। আরবি ভাষায় পুরু রেশমী বস্ত্রের (দিবাজ) জন্য কোনো নাম প্রবর্তিত ছিল না; বরং তারা অনারবদের নিকট থেকে যা শুনেছে তাকেই আরবি রূপ দান করেছে এবং নিজস্ব শব্দ গঠনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি; কারণ তাদের নিকট এর উপস্থিতি ছিল সামান্য এবং এর উচ্চারণ ছিল বিরল। পক্ষান্তরে, এটি যদি দুই বা ততোধিক শব্দে উল্লেখ করা হতো, তবে তা অলঙ্কারশাস্ত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হতো। কেননা একটি অর্থ প্রকাশের জন্য যেখানে একটি শব্দই যথেষ্ট, সেখানে দুটি শব্দ ব্যবহার করা হলো অনর্থক দীর্ঘায়ন। এর মাধ্যমে এটি পরিষ্কার হলো যে, প্রত্যেক বাগ্মীর জন্য (ইস্তাবরাক) শব্দটি তার যথাস্থানে ব্যবহার করা আবশ্যক এবং সে এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো অন্য কিছু পাবে না। আর এমন অলঙ্কারশাস্ত্রের চেয়ে অধিক বাগ্মিতা আর কী হতে পারে, যেখানে এর অনুরূপ অন্য কিছু পাওয়া যায় না? (১)।

রাফেয়ী এই সত্যটি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করে বলেন: এই কারণেই আলেমগণ কুরআনে অন্তর্ভুক্ত সেই সকল আরবীকৃত শব্দ সম্পর্কে বলেছেন যে, এগুলোর নিজস্ব অলঙ্কারগুণ হলো এই যে, আয়াতের বিন্যাসে এগুলোর নিজ নিজ স্থানে এদের বিকল্প অন্য কোনো শব্দ পাওয়া যায় না, একক শব্দ হিসেবেও নয় এবং বাক্য গঠনের দিক থেকেও নয় (২)। আমরা যা বর্ণনা করেছি এরপর এই উক্তিটি উল্লেখ করা যথোপযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৩১ এবং তুলনা করুন: আল-বুরহান: যারকাশী।

(২) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭২-৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الرابع إعجاز القرآن

لكلّ رسول معجزة كدليل على نبوّته ورسالته، وأنه مرسل من قبل ربّه، إذ دون ذلك لا تقع حجة الله على الخلق بالإيمان برسله، فمهما سمت أخلاق الرسول وعلت همته، وجادت قريحته، وتوقد ذهنه، وإن اقتعد المكانة الأولى في قومه، فإن كلّ هذا لا يكفي دليلا على أنه مرسل من قبل الله، فلا يمكن للعقل أن يصدّق ويذعن ويعترف بأن هذا رسول إلّا بما يظهره الله على يديه من معجزات، فيخرق له السّنن الكونية، أسبابا ومسببات، إذ المعجزة هي الأمر الخارق للعادة، وهي خارجة عن الأسباب المعروفة، هادمة للنتائج المبتناة على المقدمات، فالنار مثلا حارقة عادة، ولكنها أصبحت بردا وسلاما على سيدنا إبراهيم، فالذي جعلها حارقة على وفق السّنن والقوانين التي نعرفها هو الذي جعلها تكون بردا وسلاما، فكانت بذلك معجزة لإبراهيم عليه السلام ودليلا على نبوته.

والمقصود من المعجزة: ليس هو إعجاز الناس لذات الإعجاز، أي لمجرد إيقاعهم في العجز عن الإتيان بمثل المعجزة، بل المقصود: هو الإذعان والإيمان بصاحبها أنه رسول من قبل خالق هذه السنن وهو الله تعالى.

لذا فإن الله تعالى قد بعث كلّ رسول إلى قومه، وأظهر على يديه المعجزات التي من شأنها أن تجعل قومه يدركون إدراكا يرفع عنهم كلّ لبس وغموض، أن هذا رسول من عند الله، وليس بمدّع عليه، لذا كانت معجزات كلّ نبيّ ورسول نابعة من بيئته، ومتناسبة مع أحوال قومه، فتأتيهم على وفق ما برعوا فيه حتى يكون ذلك أدعى لإيمانهم، ولإقامة الحجة عليهم، لأن المعجزة لا تحقق الغاية منها إلّا إذا حصل التحدي بها، ولا يتحقق التحدي لأمة من الأمم وهي لا تعرف شيئا عن المتحدّى به.

وإن المتتبع لآيات القرآن الكريم، والمتدبر لآياته التي تتحدث عن المعجزات بوجه عامّ لتبرز له كل هذه المعاني التي أشرنا إليها.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআনের অলৌকিকত্ব

প্রত্যেক রাসূলের জন্যই তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের প্রমাণ হিসেবে এবং তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত—এটি সাব্যস্ত করার জন্য একটি করে মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন) থাকে। কারণ এটি ব্যতীত তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাসূলের চরিত্র যত উন্নতই হোক, তাঁর সংকল্প যত উচ্চই হোক, তাঁর প্রতিভা যত প্রখরই হোক, তাঁর বুদ্ধি যত দীপ্তই হোক এবং তিনি যদি তাঁর জাতির মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীনও হন, তবুও এগুলোর কোনটিই তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হওয়ার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নয়। সুতরাং বিবেক ততক্ষণ পর্যন্ত এটি বিশ্বাস করতে, মেনে নিতে এবং স্বীকৃতি দিতে পারে না যে ইনি একজন রাসূল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর হাতে এমন কিছু মুজিজা প্রকাশ করেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর জন্য মহাজাগতিক নিয়মাবলী তথা কার্যকারণ সম্পর্ককে ছিন্ন করেন। কেননা মুজিজা বা অলৌকিক বিষয় হলো অভ্যাস-বহির্ভূত কোনো বিষয়, যা পরিচিত কার্যকারণ সম্পর্কের বাইরে এবং প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া ফলাফলের বিধ্বংসী। উদাহরণস্বরূপ, আগুন সাধারণত দহনকারী, কিন্তু আমাদের নেতা ইব্রাহীমের ওপর তা শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আমরা যে নিয়ম ও কানুন জানি সেই অনুযায়ী যিনি আগুনকে দহনকারী করেছেন, তিনিই তাকে শীতল ও শান্তিদায়ক করেছেন। ফলে এটি ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের জন্য একটি মুজিজা এবং তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়েছিল।

মুজিজার উদ্দেশ্য কেবল মানুষকে অক্ষম সাব্যস্ত করার জন্য অক্ষম করা নয়, অর্থাৎ স্রেফ মুজিজার মতো কিছু নিয়ে আসতে মানুষকে অপারগ করে দেয়াই এর মূল লক্ষ্য নয়; বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মুজিজাধারী ব্যক্তির প্রতি এই আনুগত্য ও বিশ্বাস স্থাপন করা যে, তিনি এই নিয়মাবলীর স্রষ্টা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল।

একারণেই মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর জাতির নিকট পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের হাতে এমন সব মুজিজা প্রকাশ করেছেন যা তাঁদের জাতিকে এমনভাবে উপলব্ধি করাত, যা তাঁদের সব প্রকার সংশয় ও অস্পষ্টতা দূর করে দিত যে, ইনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল এবং তিনি তাঁর ওপর কোনো মিথ্যা আরোপকারী নন। এজন্যই প্রত্যেক নবী ও রাসূলের মুজিজাসমূহ তাঁদের পরিবেশ থেকে উৎসারিত এবং তাঁদের জাতির অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। মুজিজাসমূহ তাঁদের কাছে সেইসব বিষয়ে আসত যেগুলোতে তাঁরা পারদর্শী ছিলেন, যাতে এটি তাঁদের ঈমান আনার জন্য অধিক সহায়ক হয় এবং তাঁদের ওপর প্রমাণ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কারণ মুজিজা ততক্ষণ পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না যতক্ষণ না এর মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ পেশ করা হয়। আর যে বিষয়ে কোনো জাতি কিছুই জানে না, সেই বিষয়ে চ্যালেঞ্জ প্রদান করা সম্ভব নয়।

যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ অনুসরণ করে এবং সাধারণভাবে মুজিজাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, তার কাছে আমরা যে অর্থগুলোর প্রতি ইশারা করেছি তার সবই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فهناك معجزة موسى عليه السلام التي كانت في عصاه، وهي تتلاءم مع قوم برعوا في السّحر، إذ احترفوا السحر حرفة، ويدلنا على معرفة قومه بالسحر، تلك الآيات

القرآنية التي تحدثت عن فرعون ودعوته للسحرة في زمنه:

وَقالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ ساحِرٍ عَلِيمٍ [يونس: 79].

وَأَرْسِلْ فِي الْمَدائِنِ حاشِرِينَ 111 يَأْتُوكَ بِكُلِّ ساحِرٍ عَلِيمٍ [الأعراف: 111 - 112].

وَابْعَثْ فِي الْمَدائِنِ حاشِرِينَ (36) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ [الشعراء: 36 - 37].

واستجاب له السحرة وَجاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قالُوا إِنَّ لَنا لَأَجْراً إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغالِبِينَ [الأعراف: 113].

لقد وردت مشتقات كلمة سحر، فوردت كلمة ساحر (إفرادا)، والسحرة (جمعا)، ووردت بصيغة اسم الفاعل (ساحر)، واسم الفاعل الموصوف (ساحر عليم)، ووردت بصيغة المبالغة على وزن فعّال (سحّار)، كلّ هذا يشعرنا بما عليه القوم من علم بالسّحر وفنونه، وقوم هذا شأنهم أهل للتحدي الكبير في هذا المجال، وجعلت لهم المكافأة العظمى إن كانوا غالبين. وأيّة مكافأة أعظم من أن يكونوا من المقربين … من الطاغوت العظيم إلههم فرعون … لقد استجمعت جميع عناصر التحدي:

قالُوا يا مُوسى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ 115 قالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجاؤُ بِسِحْرٍ عَظِيمٍ 116 وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ 117 فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ ما كانُوا يَعْمَلُونَ 118 فَغُلِبُوا هُنالِكَ وَانْقَلَبُوا صاغِرِينَ 119 وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ ساجِدِينَ 120 قالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعالَمِينَ 121 رَبِّ مُوسى وَهارُونَ 122 قالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّ هذا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْها أَهْلَها فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ 123 لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلافٍ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ 124 قالُوا إِنَّا إِلى رَبِّنا مُنْقَلِبُونَ [الأعراف: 115 - 125].

وهكذا وقع التحدي، وانتهى بإيمان السّحرة أجمعين بالله رب العالمين.

وقل مثل ذلك في معجزة عيسى عليه السلام، حين برع قومه في الطب، فجعل المعجزة من جنس ما عرفوا وبرعوا فيه، جعل الله على يد عيسى إحياء الموتى قبل
সেখানে মুসা আলাইহিস সালামের মুজিযা ছিল তাঁর লাঠিতে, যা এমন এক জাতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল যারা জাদুকর্মে পারদর্শী ছিল, কারণ তারা জাদুকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আর তাঁর কওমের জাদুকর্ম সম্পর্কে জ্ঞানের বিষয়টি আমাদের নির্দেশ করে সেই সব কুরআনী আয়াত যা ফেরাউন এবং তার যুগে জাদুকরদের প্রতি তার আহ্বানের কথা বলেছে:

এবং ফেরাউন বলল, "তোমরা আমার কাছে প্রত্যেক দক্ষ জাদুকরকে নিয়ে এসো।" [ইউনুস: ৭৯]।

"এবং আপনি শহরগুলোতে সংগ্রাহকদের পাঠান, ১১১ যাতে তারা আপনার কাছে প্রত্যেক দক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসে।" [আ’রাফ: ১১১ - ১১২]।

"এবং আপনি শহরগুলোতে সংগ্রাহকদের পাঠান, (৩৬) যাতে তারা আপনার কাছে প্রত্যেক বিজ্ঞ ও দক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসে।" [শুয়ারা: ৩৬ - ৩৭]।

জাদুকরেরা তার ডাকে সাড়া দিল; "এবং জাদুকরেরা ফেরাউনের কাছে এল। তারা বলল, 'যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি কোনো পুরস্কার থাকবে?'" [আ’রাফ: ১১৩]।

এখানে 'সেহর' (জাদু) শব্দের বিভিন্ন রূপ এসেছে। 'সাহির' (একবচন) এবং 'সাহারা' (বহুবচন) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আবার 'ইসম ফায়িল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) রূপে 'সাহির' এবং গুণবাচক কর্তৃবাচক হিসেবে 'সাহিরে আলিম' (দক্ষ জাদুকর) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া আধিক্য বোঝাতে 'ফাউয়াল' ওজনে 'সাহ্হার' (মহা জাদুকর) রূপটিও এসেছে। এ সবকিছুই আমাদের অনুভব করায় যে, সেই জাতি জাদুবিদ্যা ও তার কলাকৌশলে কতটা পারদর্শী ছিল। আর যাদের অবস্থা এমন, তারা এই ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণের যোগ্য ছিল। আর তাদের জন্য মহা পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছিল যদি তারা বিজয়ী হয়। আর মহান তাগুত ও তাদের উপাস্য ফেরাউনের নৈকট্যলাভের চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে? … চ্যালেঞ্জের সকল উপাদান একত্রিত হয়েছিল:

তারা বলল, "হে মুসা! হয় তুমি নিক্ষেপ করো, নতুবা আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি।" ১১৫ মুসা বললেন, "তোমরাই নিক্ষেপ করো।" যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখে জাদু করল এবং তাদের আতঙ্কিত করে তুলল। তারা এক মহান জাদু প্রদর্শন করল। ১১৬ আর আমি মুসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, "তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।" অমনি তা তাদের মিথ্যা সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে শুরু করল। ১১৭ ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল। ১১৮ সেখানে তারা পরাজিত হলো এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল। ১১৯ আর জাদুকরেরা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। ১২০ তারা বলল, "আমরা বিশ্বজাহানের রবের প্রতি ঈমান আনলাম— ১২১ মুসা ও হারুণের রবের প্রতি।" ১২২ ফেরাউন বলল, "আমার অনুমতির আগেই কি তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই এটি একটি চক্রান্ত, যা তোমরা এই শহরে করেছ যাতে এখান থেকে এর অধিবাসীদের বের করে দিতে পারো। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই এর পরিণাম জানতে পারবে। ১২৩ আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব, তারপর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।" ১২৪ তারা বলল, "নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।" [আ’রাফ: ১১৫ - ১২৫]।

এভাবেই চ্যালেঞ্জটি সংঘটিত হলো এবং বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি সমস্ত জাদুকরের ঈমান আনার মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটল।

ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিযার ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। যখন তাঁর কওম চিকিৎসা বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিল, তখন আল্লাহ তাদের পরিচিত ও পারদর্শী বিষয়ের মধ্য থেকেই মুজিযা নির্ধারণ করেছিলেন। আল্লাহ ঈসার হাতে মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন—
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
دفنهم أو بعده، وجعل مسحة من يديه تردّ الأعمى بصيرا، وتبرئ الأكمه والأبرص ويكون سليما، وأية معجزة أعظم من إحياء الموتى، وأعلم الناس إدراكا لهذه المعجزة هم أولئك الذين يعرفون الطّبّ وعلومه، وهم أقدر الناس على التمييز بين إحياء حقيقي أو إحياء مزعوم موهوم، قادرون على معرفة الفارق بين حياة حقيقية بعد موت محقق، أو إغفاءة نتيجة سكرات المرض ثم صحوة منه.

وقل مثل ذلك في معجزة النبي صلى الله عليه وسلم، فلقد بعث الله تعالى محمدا صلى الله عليه وسلم في قوم كان الكلام بضاعتهم، فرسان البلاغة والفصاحة والبيان، الشعر والخطابة البليغة زادهم وشرابهم، قصيدة تجذبهم فتكون وكأنها معبود لهم، فتعلق في الكعبة في أعزّ مكان وتكون من المعلقات، كانت أسواقهم تبادلا وتداولا، يتبادلون بضائعهم ويتداولون أشعارهم.

فجاءتهم معجزة من جنس ما عرفوا وألفوا، فتحداهم بالمعروف عندهم والمألوف لديهم.

بعد كلّ هذا قد يدور في خلدنا حيرة وتساؤل، كيف ولم لم تؤمن الشعوب والأمم برسالات الرسل عليهم السلام؟ لم بادروهم بالتكذيب والجحود بعد مشاهدة المعجزات البينات؟! أقول إن الإنكار والجحود والكفر قديم قدم الرسالات السماوية، والكافرون هم الأكثر عددا، والذين خلقوا لجهنم هم الكثير من الناس:

وَلَقَدْ ذَرَأْنا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ [الأعراف: 179].

وَما أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ [يوسف: 103].

فهذا نوح عليه السلام، يمكث في قومه ألف عام إلّا قليلا، وهو يدعوهم ليلا ونهارا، سرا وجهارا، ومع ذلك لم يلق إلّا عنادا وجحودا وإصرارا: قالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهاراً 5 فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعائِي إِلَّا فِراراً 6 وَإِنِّي كُلَّما دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصابِعَهُمْ فِي آذانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْباراً [نوح: 5 - 7].

وكذلك موسى عليه السلام قد أتى قومه بالمعجزات العظام، فعصاه يلقيها فتنقلب ثعبانا، ويضرب بها الصخر فتنفجر منه العيون، ولقد عاينوا ذلك بأعينهم،
তাদের দাফন করার সময় অথবা তার পরে; এবং তাঁর হাতের স্পর্শ অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন করত এবং জন্মগত অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করত এবং সে সুস্থ হয়ে যেত। মৃতকে জীবিত করার চেয়ে বড় মুজিজা আর কী হতে পারে? এই মুজিজা অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে তারাই সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিল যারা চিকিৎসা বিজ্ঞান ও এর জ্ঞান সম্পর্কে অবগত ছিল। তারাই প্রকৃত পুনর্জীবন এবং কথিত কাল্পনিক পুনর্জীবনের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্ষম। একটি সুনিশ্চিত মৃত্যুর পর প্রকৃত জীবন এবং রোগের যন্ত্রণায় সাময়িক অচেতনতার পর জেগে ওঠার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে তারা সক্ষম ছিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুজিজার ক্ষেত্রেও একই কথা বলুন। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এমন এক জাতির মধ্যে পাঠিয়েছেন যাদের প্রধান সম্পদ ছিল বাকপটুতা। তারা ছিল অলঙ্কারশাস্ত্র, সাবলীলতা ও বাগ্মিতার অশ্বারোহী বীর। কবিতা এবং উচ্চাঙ্গের ভাষণ ছিল তাদের পাথেয় ও পানীয়ের মতো। কোনো কবিতা তাদের এমনভাবে বিমোহিত করত যে, সেটি যেন তাদের উপাস্য হয়ে যেত। ফলে সেটি কাবার সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো এবং সেটি ‘মুয়াল্লাকাত’ (ঝুলন্ত কবিতাসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত হতো। তাদের বাজারগুলো ছিল পণ্য ও ভাব বিনিময়ের কেন্দ্র; তারা সেখানে তাদের পণ্যসামগ্রী লেনদেন করত এবং তাদের কবিতাগুলো প্রচার করত।

অতঃপর তাদের কাছে এমন এক মুজিজা এল যা তাদের জানা ও পরিচিত বিষয়ের সমজাতীয় ছিল। ফলে তিনি তাদের এমন বিষয় দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালেন যা তাদের কাছে সুপরিচিত ও অভ্যস্ত ছিল।

এতসব কিছুর পর আমাদের মনে বিস্ময় ও প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কেন এবং কীভাবে বিভিন্ন জাতি ও উম্মতগণ রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াতের ওপর ঈমান আনেনি? সুস্পষ্ট মুজিজাগুলো প্রত্যক্ষ করার পরেও কেন তারা তাঁদের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করল?! আমি বলব যে, অস্বীকার, অবাধ্যতা ও কুফরি আসমানী রিসালাতগুলোর মতোই প্রাচীন। আর কাফিররাই সংখ্যায় সর্বাধিক। জাহান্নামের জন্য যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তারা মানুষের মধ্যে এক বিরাট অংশ:

আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি [আল-আরাফ: ১৭৯]।

আর আপনি যতই আগ্রহী হোন না কেন, অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনয়নকারী নয় [ইউসুফ: ১০৩]।

এই যেমন নূহ আলাইহিস সালাম, তিনি তাঁর কওমের মধ্যে সামান্য কম এক হাজার বছর অবস্থান করেন। তিনি তাদের দিন-রাত, গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও তিনি অবাধ্যতা, অস্বীকার ও জেদ ছাড়া আর কিছুই পাননি। তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি আমার কওমকে রাতে ও দিনে দাওয়াত দিয়েছি। ৫. কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে। ৬. আর আমি যখনই তাদের দাওয়াত দিয়েছি যাতে আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তখনই তারা তাদের কানে আঙুল দিয়েছে এবং নিজেদের পোশাক দ্বারা নিজেদের আবৃত করেছে এবং জেদ ধরেছে ও চরম অহংকার প্রদর্শন করেছে [নূহ: ৫-৭]।

অনুরূপভাবে মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর কওমের কাছে মহান সব মুজিজা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর লাঠিটি তিনি নিক্ষেপ করলে তা সাপে পরিণত হতো এবং তা দিয়ে পাথরে আঘাত করলে তা থেকে ঝরনাধারা প্রবাহিত হতো। তারা স্বচক্ষে তা প্রত্যক্ষ করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মানার ফী উলূমিল কুরআন মাআ মাদখালুন ফী উসূলিত তাফসীর ওয়া মাসাদিরিহি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولكن العناد والإصرار هو الدافع لهم للجحود والإنكار، حتى قالوا قولتهم الآثمة:

وَإِذْ قُلْتُمْ يا مُوسى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ [البقرة: 55].

وهذا عيسى قد لاقى من قومه صدودا، حتى الحواريين طلبوا منه أن ينزل عليهم مائدة من السماء، فقالوا لعيسى عليه السلام: هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَنْ يُنَزِّلَ عَلَيْنا مائِدَةً مِنَ السَّماءِ قالَ اتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ [المائدة: 112].

وأجابهم الله بما سألوا: قالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُها عَلَيْكُمْ فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذاباً لا أُعَذِّبُهُ أَحَداً مِنَ الْعالَمِينَ [المائدة: 115].

وهكذا الشأن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد جاءهم بالمعجزة التي تذعن لها العقول، ولكن لم يؤمن بها إلّا من هداه الله للإيمان، أما أكثر العرب فقد جحدوا بها، واستيقنتها قلوبهم وأبوا إلّا الضلال، فراحوا يقولون كما تحدث عنهم القرآن:

وَقالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعاً 90 أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهارَ خِلالَها تَفْجِيراً 91 أَوْ تُسْقِطَ السَّماءَ كَما زَعَمْتَ عَلَيْنا كِسَفاً أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ قَبِيلًا 92 أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقى فِي السَّماءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنا كِتاباً نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَراً رَسُولًا 93 وَما مَنَعَ

النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جاءَهُمُ الْهُدى إِلَّا أَنْ قالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَراً رَسُولًا

[الإسراء: 90 - 94].

وقال الله تعالى: وَلَوْ نَزَّلْنا عَلَيْكَ كِتاباً فِي قِرْطاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ لَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هذا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ [الأنعام: 7].

وما هذه المواقف وهذا الكفر والإلحاد إلّا نتيجة إدبار واستكبار: ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ 23 فَقالَ إِنْ هذا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ 24 إِنْ هذا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ [المدثر: 23 - 25].

 

‌‌وجه الإعجاز القرآني:

يحلو لبعض العلماء أن يرى وجوها كثيرة في إعجاز القرآن، فبعضهم يرى من وجوه الإعجاز إخبار القرآن بالغيب، أو في نظامه التشريعي، أو الاجتماعي، أو علم الجناية، أو علم الاقتصاد، أو الفلك، أو الطب، وغير ذلك من العلوم التي لا تعد
কিন্তু হঠকারিতা ও জেদই ছিল তাদের অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের মূল চালিকাশক্তি, এমনকি তারা তাদের সেই পাপাচারী কথাটি বলেছিল:

“আর স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা, আমরা কখনোই তোমার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষ করি’। ফলে তোমাদেরকে এক বজ্রাঘাত পাকড়াও করল, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।” [আল-বাকারাহ: ৫৫]।

আর এই যে ঈসা, তিনিও নিজ কওমের কাছ থেকে বিমুখতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, এমনকি হাওয়ারীরাও তাঁর কাছে আবেদন করেছিল যেন তিনি তাদের জন্য আসমান থেকে একটি খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করেন। তারা ঈসা আলাইহিস সালামকে বলেছিল: “আপনার রব কি আসমান থেকে আমাদের ওপর একটি দস্তরখান নাযিল করতে সক্ষম?” তিনি বললেন, “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।” [আল-মায়িদাহ: ১১২]।

আর আল্লাহ তাদের সেই প্রার্থনা কবুল করেছিলেন: আল্লাহ বললেন, “নিশ্চয়ই আমি তা তোমাদের ওপর নাযিল করছি। এরপর তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি কুফরী করে, তবে আমি তাকে এমন আযাব দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দেব না।” [আল-মায়িদাহ: ১১৫]।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ ছিল। তিনি তাদের কাছে এমন মুজিযা নিয়ে এসেছিলেন যার সামনে বুদ্ধি-বিবেক নতি স্বীকার করে, কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ ঈমানের পথে হেদায়েত দিয়েছেন তারা ব্যতীত আর কেউ ঈমান আনেনি। পক্ষান্তরে অধিকাংশ আরব তা অস্বীকার করেছিল, যদিও তাদের অন্তরসমূহ তা ধ্রুব সত্য বলে দৃঢ় বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু তারা পথভ্রষ্টতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ফলে তারা বলতে শুরু করল, যেমনটা কুরআন তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে:

“এবং তারা বলেছিল, ‘আমরা কখনোই তোমার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটি প্রস্রবণ উৎসারিত করো। অথবা তোমার জন্য খেজুর ও আঙুরের একটি বাগান হবে যার মাঝখানে তুমি নদীসমূহ প্রবাহিত করে দেবে। অথবা তুমি যেমন দাবি করে থাকো, সে অনুযায়ী আসমানকে আমাদের ওপর টুকরো টুকরো করে ফেলবে, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবে। অথবা তোমার জন্য স্বর্ণের একটি ঘর হবে, কিংবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে; আর তোমার আরোহণে আমরা কখনোই বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের ওপর একটি কিতাব নাযিল করো যা আমরা পাঠ করব।’ বলো, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি কি একজন মানুষ রাসূল ছাড়া অন্য কিছু?’ আর মানুষের কাছে যখন হেদায়েত এলো, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে কেবল একথাই বিরত রাখল যে, তারা বলল, ‘আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন?’”

[আল-ইসরা: ৯০ - ৯৪]।

আর আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যদি আমি তোমার ওপর কাগজে লেখা কোনো কিতাব নাযিল করতাম এবং তারা তা নিজেদের হাত দিয়ে স্পর্শ করত, তবুও যারা কুফরী করেছে তারা অবশ্যই বলত, ‘এটা স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’।” [আল-আনআম: ৭]।

আর এই অবস্থান এবং এই কুফরী ও ধর্মহীনতা বিমুখতা এবং অহংকারেরই এক অনিবার্য পরিণতি: “অতঃপর সে বিমুখ হলো ও অহংকার করল। এরপর সে বলল, ‘এ তো লোকপরম্পরায় চলে আসা জাদু বৈ কিছু নয়। এ তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়’।” [আল-মুদ্দাসসির: ২৩ - ২৫]।

 

‌‌কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজাযের) দিকসমূহ:

কোনো কোনো পণ্ডিত কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজাযের) অনেকগুলো দিক তুলে ধরতে পছন্দ করেন। তাঁদের কেউ কেউ অলৌকিকত্বের দিকগুলোর মধ্যে কুরআনের অদৃশ্য বিষয়াবলির সংবাদ প্রদানকে গণ্য করেন, আবার কেউ একে এর আইনি ব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো, অপরাধবিজ্ঞান, অর্থনীতি, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান অথবা এমন অসংখ্য বিজ্ঞানের মাঝে খুঁজে পান যার কোনো সীমা নেই।