(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
من روائع القرآن   (محمد سعيد البوطي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: من روائع القرآن - تأملات علمية وأدبية في كتاب الله عز وجل

المؤلف: محّمد سَعيد رَمضان البوطي

الناشر: موسسة الرسالة - بيروت

عام النشر: 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 291

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433

কুরআনের বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ (মিন রওয়ায়িল কুরআন)   (মুহাম্মদ সাঈদ আল-বুতী)

বিভাগ: কুরআন সম্পর্কিত জ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতিসমূহ


বই: মিন রওয়ায়িল কুরআন - আল্লাহর কিতাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক চিন্তাধারা

লেখক: মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতী

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدّمة

بسم الله الرحمن الرحيم
ভূমিকা (مقدمة)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله بجميع محامده ما علمت منها وما لم أعلم، على جميع نعمه وآلائه، ما علمت منها وما لم أعلم.

والصلاة والسلام على سيدنا محمد النبيّ الأميّ المبعوث رحمة إلى العالمين.

وبعد، فهذه طبعة جديدة لكتاب روائع القرآن، أقدمها إلى طلاب العربية وهواة الأدب العربي وكل من يعنى بدراسة القرآن.

ولقد تمنيت أن يتاح لي من الوقت ما يسمح لي بالتوسع في بحوثه والتعمّق في دراساته، بالقدر الذي يتفق مع روعة القرآن وعمق مراميه ودقة بيانه. ولكني على يقين بأن الزمن كله أضيق من أن يتّسع لشرح يتكافأ مع عظمته، والطاقات كلها أقل من أن تنهض باستيعاب دقائقه، والحياة كلها جزء يسير من مدّه الزاخر وإشراقه السامي ومعانيه التي لا تنقضي! …

قُلْ لَوْ كانَ الْبَحْرُ مِداداً لِكَلِماتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِماتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنا بِمِثْلِهِ مَدَداً (الكهف: 109).

ولقد شرّفني الله بتدريس القرآن وبلاغته بقسم اللغة العربية في جامعة دمشق ثم في جامعة اللاذقية، فما رأيت ذا رشد في فكره، وذوق في نفسه، يتاح له أن يعلم علما عن هذا الكتاب وأن ينصت إلى شيء من
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর সেই সকল প্রশংসার মাধ্যমে যা আমি জানি এবং যা জানি না; তাঁর সকল নিয়ামত ও অনুগ্রহের ওপর, যা আমি জানি এবং যা জানি না।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি উম্মী নবী এবং যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।

অতঃপর, এটি ‘রাওয়াইউল কুরআন’ কিতাবটির একটি নতুন সংস্করণ, যা আমি আরবি ভাষার শিক্ষার্থী, আরবি সাহিত্যের অনুরাগী এবং কুরআন অধ্যয়নে আগ্রহী সকলের নিকট পেশ করছি।

আমি কামনা করেছিলাম যে, আমার নিকট যদি এমন সময় থাকত যা আমাকে এর গবেষণাসমূহ বিস্তৃত করতে এবং এর অধ্যয়নে আরও গভীরতা অর্জন করতে সাহায্য করত—কুরআনের চমৎকারিত্ব, এর সুগভীর লক্ষ্যসমূহ এবং এর সূক্ষ্ম বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রায়। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সম্পূর্ণ কালপ্রবাহ এর মহত্ত্বের সমতুল্য ব্যাখ্যা ধারণ করার জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ, মানুষের সকল সামর্থ্য এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ আয়ত্ত করার জন্য অপ্রতুল এবং সমগ্র জীবন এর উত্তাল তরঙ্গ, সুউচ্চ জ্যোতি ও অন্তহীন অর্থভাণ্ডারের তুলনায় অতি নগণ্য একটি অংশ মাত্র! …

বলুন: ‘আমার রবের বাণীর জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার রবের বাণী শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি।’ (সূরা আল-কাহাফ: ১০৯)।

আল্লাহ আমাকে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগে এবং পরবর্তীতে লাতাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন ও এর অলঙ্কারশাস্ত্র পাঠদানের গৌরব দান করেছেন। আমি এমন কোনো সুচিন্তিত ও মার্জিত রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিকে দেখিনি, যার এই কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে এবং এর কিছু অংশ মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেছে...
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
بيانه، إلا وتهتز منه الجوانح طربا لرائع قوله وسمو إشراقه، ثم يقف مستسلما مشدوها تحت مظلة إعجازه! … لا يحول دون استعلانه بذلك فكر عرف به أو هوى يميل إليه أو عصبية تسيطر عليه.

هذا، على الرغم مما انحدرت إليه الدراسات العربية من الضحالة والسطحية والضعف، ومع كل ما انتهى إليه طلابها من فساد الذوق وعجمة اللسان وفهاهة البيان.

وأشهد لو أن العربية كانت تعيش على ألسنة العرب اليوم أيام شبابها، إذا لكان للقرآن أثر فريد في حياتهم الفكرية والاجتماعية والسياسية والأخلاقية.

ولكن عدوا شرسا لهذه الأمة عرف كيف يسدد الطعنة إليها، وأدرك السبيل إلى تجفيف روافد العز في حياتها، فانحطّ في أسباب الكيد لثقافتها العربية وذاتيتها الإسلامية، عن طريق إبعادها عن سلطان هذا الكتاب وحجبها عن أسباب التأثّر به.

وإن التاريخ ليرصد السعي إلى هذه المكيدة بإحصاء دقيق، وإن ذهل عنه كثير من السادرين والسكارى من أهله، وإنه ليذكر ولا ينسى يوم وقف وزير المستعمرات البريطاني «غلادستون» بين زملائه في مجلس الوزراء يقول، وقد أمسك بيده قرآنا يلوّح إليهم به:

لن تحقّق بريطانيا شيئا من غاياتها في العرب والمسلمين إلا إذا سلبتهم سلطان هذا الكتاب أولا. أخرجوا سرّ هذا الكتاب مما بينهم تتحطم أمامكم جميع السدود (1)! …

وبعد، فإن الإحاطة بأسرار هذا الكتاب وجوانب إعجازه، أمر

--------------------------------------------

(1) كان هذا التصريح عام 1895.
তার বর্ণনাভঙ্গি, তার চমৎকার বাণী এবং সমুন্নত দীপ্তির আনন্দে অন্তর নেচে ওঠে না বরং তার অলৌকিকত্বের ছায়াতলে আত্মসমর্পণকারী ও বিমোহিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে! … তার এই আত্মপ্রকাশের পথে কোনো পরিচিত চিন্তা, কোনো অনুরাগী প্রবৃত্তি কিংবা কোনো নিয়ন্ত্রণকারী গোঁড়ামি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

এটি এমন সত্ত্বেও যে, আরবি শিক্ষা ও গবেষণা আজ অগভীরতা, ভাসাভাসা জ্ঞান এবং দুর্বলতা (ضعف)-এর তলানিতে নিমজ্জিত হয়েছে; আর এর শিক্ষার্থীরা রুচির বিকৃতি, ভাষাগত জড়তা এবং প্রকাশশৈলীর অসারতার শিকার হয়েছে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যদি আজ আরবদের জিহ্বায় আরবি ভাষা তার যৌবনকালের মতো সজীব থাকত, তবে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং নৈতিক জীবনে কুরআনের এক অনন্য প্রভাব পরিলক্ষিত হতো।

কিন্তু এই উম্মাহর এক হিংস্র শত্রু জানত কীভাবে তাকে মোক্ষম আঘাত করতে হয়, সে তাদের জীবনে সম্মানের উৎসগুলো শুকিয়ে ফেলার পথ খুঁজে পেয়েছিল। ফলে সে তাদের এই কিতাবের কর্তৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণগুলো রুদ্ধ করে তাদের আরবি সংস্কৃতি ও ইসলামি আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গভীর পঙ্কে লিপ্ত হয়েছে।

ইতিহাস এই ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টাকে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে রেখেছে, যদিও আপনজনদের মধ্যে অনেক উদাসীন ও মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তি তা ভুলে গিয়েছে। ইতিহাস সেই দিনটিকে স্মরণ করে এবং কখনও বিস্মৃত হয় না, যেদিন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক মন্ত্রী ‘গ্ল্যাডস্টোন’ তার মন্ত্রিপরিষদের সহকর্মীদের সামনে হাতে একটি কুরআন উঁচিয়ে ধরে বলেছিলেন:

ব্রিটেন আরব ও মুসলিমদের মধ্যে তার কোনো উদ্দেশ্যই সফল করতে পারবে না, যতক্ষণ না প্রথমে তাদের থেকে এই কিতাবের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেয়। তোমরা তাদের মধ্য থেকে এই কিতাবের রহস্য দূর করে দাও, তবেই তোমাদের সামনে সকল বাধা চূর্ণ হয়ে যাবে (১)! …

অতঃপর, এই কিতাবের রহস্যসমূহ এবং এর অলৌকিকত্বের দিকগুলো অনুধাবন করা এমন এক বিষয়—

--------------------------------------------

(১) এই ঘোষণাটি ছিল ১৮৯৫ সালের।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
عسير بل مستحيل تقف دونه قدرات البشر جميعا.

غير أن ما لا يدرك كله لا يترك كله؛ ولقد ساعدني التوفيق الإلهي على توسيع دائرة البحث في إعجاز القرآن من هذا الكتاب، بالقدر الذي سمح به الوقت وامتدّ إليه الجهد.

وكلّ ما زدته أو توسعت فيه من هذا البحث، ليس إلا بمثابة إصبع تشير من على الشاطئ إلى المحيط المتلاطم الذي لا يستبين له حدود.

وإنما المهم من دراسة الإعجاز القرآني أن يصل منها القارئ إلى ما يدرك معه أن صياغة هذا الكتاب ليست مما من شأنه أن يخضع للطاقة الإنسانية، وأن معانيه ليست مما قد يأتي بمثله الفكر الإنساني.

وأحسب أنني قد أتيت من الحديث عن إعجاز القرآن (على إيجازه) بما يعطي القارئ هذا اليقين ويسلّمه إلى هذه الحقيقة.

أما سائر البحوث الأخرى فقد زدت في كثير منها بالقدر الذي أسعفني الوقت، كما غيّرت في بعض منها بالمقدار الذي يقتضيه التنقيح أو الإصلاح.

وإنني إذ أتقدم بهذه الطبعة الجديدة من كتابي هذا إلى طلابي قسم اللغة العربية، وسائر الإخوة القرّاء، آمل أن يجعله الله في أيديهم مفتاح عناية شاملة بالقرآن، وعكوف جادّ على دراسته واتقان تلاوته، وخضوع جديد تحت حكمه وسلطانه.

والله المستعان في كل هداية وتوفيق.

محمّد سعيد رمضان البوطي دمشق في 15 شوال سنة 1395 20 تشرين أول سنة 1975
এটি কঠিন, বরং অসম্ভব, যা সমস্ত মানব সক্ষমতার ঊর্ধ্বে।

তবে যা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা অনুচিত; আল্লাহর তাওফিক আমাকে এই কিতাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করতে সাহায্য করেছে, যতটা সময় অনুকূলে ছিল এবং শ্রম ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে।

এই গবেষণায় আমি যা কিছু সংযোজন বা সম্প্রসারণ করেছি, তা সমুদ্রতীর হতে সেই উত্তাল মহাসাগরের দিকে ইঙ্গিতকারী একটি অঙ্গুলি সদৃশ, যার সীমানা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

কুরআনের অলৌকিকত্ব অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠক যেন এমন এক উপলব্ধিতে উপনীত হতে পারেন যে, এই কিতাবের শব্দবিন্যাস মানুষের সক্ষমতার আওতাধীন নয় এবং এর অর্থসমূহ এমন নয় যা মানব চিন্তা দ্বারা উদ্ভাবন করা সম্ভব।

আমি মনে করি যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক আলোচনায় (সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও) আমি এমন কিছু উপস্থাপন করেছি যা পাঠককে এই দৃঢ় বিশ্বাস প্রদান করবে এবং তাকে এই ধ্রুব সত্যের কাছে পৌঁছে দেবে।

অন্যান্য গবেষণার বিষয়ে বলতে গেলে, সময়ের সুযোগ অনুযায়ী আমি সেগুলোর অনেকটিতেই পরিধি বৃদ্ধি করেছি, এবং পরিমার্জন বা সংশোধনের প্রয়োজনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছি।

আমি আমার এই কিতাবটির নতুন সংস্করণটি আরবি ভাষা বিভাগের ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ পাঠকবৃন্দের নিকট পেশ করছি; আশা করি আল্লাহ এটিকে তাদের নিকট কুরআনের প্রতি সার্বিক মনোনিবেশের চাবিকাঠি, এর অধ্যয়ন ও তিলাওয়াতের নিপুণতায় ঐকান্তিক নিষ্ঠা এবং এর বিধান ও কর্তৃত্বের সামনে নতুনভাবে মস্তক অবনত করার মাধ্যম বানিয়ে দেবেন।

সকল হিদায়াত ও তাওফিকের জন্য আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

মুহাম্মদ সাঈদ রমাদান আল-বূতী, দামেস্ক, ১৫ শাওয়াল ১৩৯৫ হিজরি / ২০ অক্টোবর ১৯৭৫ ঈসায়ী।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدّمة الطبعة الثّالثة

الحمد لله وليّ كل نعمة، يمنّ بالتوفيق ثم يثيب عليه، ويلهم الحمد ثم يجزي به! .. وأشهد أن لا إله إلّا الله تفرّد بالربوبية المطلقة فلا ربّ ولا معبود ولا حاكم سواه. ظهر في آثاره وبديع مخلوقاته، فلو رأته العين لم يزدد برؤيتها له ظهورا، وخفي في كنهه وحقيقته، فمهما تأمله العقل وانساح وراء تصوره الخيال لم يبلغ العقل ولا الخيال منه شيئا.

والصلاة والسلام الأتمّان الأكملان على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. وأسأله سبحانه وتعالى أن يمتّعني بتوفيق من لدنه، وأن يهبني من نعمة الإخلاص لوجهه الكريم ما يقيني من حظوظ نفسي ويعتقني من سلطان كل مادح أو قادح.

وبعد: فقد شاء الله تعالى- وهو المتفضّل الكريم- أن أقدّم إلى القرّاء طبعة ثالثة من هذا الكتاب، بعد أن وفّقني سبحانه وتعالى، فأدخلت عليه تهذيبا تناول متفرقات كثيرة من جمله وألفاظه، وألهمني فزدت فيه بحثا من أهم ما يتعلق بآداب القرآن وعلومه، وهو: الأمثال في القرآن.

ولئن كان في ذلك ما يدلّ على أن الكتاب قد سار خطوة أخرى نحو الكمال، فإنه لدليل في الوقت ذاته على أنه كان ولا يزال يتّسم بالنقصان. وإنه لمن أجلى مظاهر الضعف والقصور في الإنسان أن يشعر
‌তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল নিআমতের অধিপতি; তিনি তাওফিক দান করেন এবং এরপর তার জন্য প্রতিদান দেন, তিনি প্রশংসার প্রেরণা দান করেন এবং এরপর তার বিনিময়ে পুরস্কৃত করেন! .. আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি নিরঙ্কুশ প্রভুত্বে অদ্বিতীয়; সুতরাং তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই, কোনো উপাস্য নেই এবং কোনো বিধানদাতা নেই। তিনি তাঁর নিদর্শনাবলি ও নিপুণ সৃষ্টিরাজির মাঝে প্রকাশিত, সুতরাং যদি চোখ তাঁকে দেখত, তবে সেই দর্শনে তাঁর প্রকাশ বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি পেত না; আর তিনি তাঁর সত্তা ও প্রকৃত স্বরূপের দিক থেকে অপ্রকাশ্য, সুতরাং বুদ্ধি যতই তা নিয়ে চিন্তা করুক আর কল্পনা যতই তাঁর স্বরূপ উপলব্ধির পেছনে ছুটুক, বুদ্ধি বা কল্পনা কোনোটিই তাঁর নাগাল পাবে না।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে তাওফিক দান করে ধন্য করেন এবং আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন একনিষ্ঠতার নিআমত দান করেন যা আমাকে নফসের কামনা-বাসনা থেকে রক্ষা করবে এবং আমাকে প্রত্যেক প্রশংসাকারী বা সমালোচক (قادح) এর প্রভাব থেকে মুক্ত করবে।

অতঃপর: মহান আল্লাহ—যিনি পরম দাতা ও মহানুভব—চেয়েছেন যে আমি পাঠকদের সামনে এই কিতাবটির একটি তৃতীয় সংস্করণ পেশ করি। আল্লাহ তাআলা আমাকে তাওফিক দান করার পর আমি এতে পরিমার্জন করেছি যা এর বাক্য ও শব্দাবলির বহু বিক্ষিপ্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন ফলে আমি এতে কুরআনের আদব ও এর জ্ঞানসমূহ সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণা যুক্ত করেছি, যা হলো: কুরআনের দৃষ্টান্তসমূহ।

এটি যদি এই কথার প্রমাণ বহন করে যে কিতাবটি পূর্ণতার দিকে আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে, তবে এটি একই সাথে এই বিষয়েরও প্রমাণ যে এটি অসম্পূর্ণতায় গুণান্বিত ছিল এবং এখনও আছে। আর মানুষের দুর্বলতা ও অক্ষমতার অন্যতম স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হলো এটি অনুভব করা
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
بالنقص في كل شئونه مع تصوره الكمال المطلق بعقله، فيشتدّ بها نحو غاية الكمال. وكلما ارتقى بها إلى درجة من درجاته اكتشف مزيدا من البعد بينه وبين غايته، فهو لا يزال يفرّ من النقصان لأن حبّ الكمال مغروس في كيانه، ولا يزال الكمال من فوقه لأنه من خصائص الخالق وهو مخلوق، ولأنه من صفات الربّ جل جلاله وهو عبد ضعيف!.

فلئن وجدت أيّها القارئ في الكتاب- بعد هذا التهذيب الذي ذكرت- بقايا من مظاهر القصور والنقص- ولعلّك تجد منها الكثير- فذلك لأني لم أستطع أن أتحرر عن سمة النقص في ذاتي، وما دان لي ذلك، وليس لي من مطمع فيه. ولئن عثرت فيه على مظاهر التقدّم نحو الكمال، فذلك من فضل الله عليّ وتوفيقه. ولقد رأيت أن العبد كلما ازداد بصيرة بضعفه وركونا إلى عبوديته زاده الله جل جلاله قربا إليه وتفضلا وإحسانا، وكلما ازداد نسيانا لضعفه وتعاظما في نفسه، زاده الله تعالى بعدا عنه ووكله إلى نفسه وشأنه فلم يأت منهما بطائل.

وإني إذ أشكر الله تعالى على أن ستر نقصي بتوفيقه، فإني لأشكر سائر الإخوة القرّاء الذين كانوا ولا يزالون يمنّون عليّ بملاحظاتهم واستدراكاتهم، ومن لم يشكر النّاس الذين ألهمهم الله تعالى تذكيره، لم يشكر الله الذي وفّقه للاستفادة من ذلك التذكير! ..

وليس العيب أن يعترف العبد بقصوره فيتلقّى بيد الشكر نصيحة الناصحين، وإنما العيب كل العيب ما قد يتلبس به أحد رجلين: رجل يستكبر عن قبول الحق فهو يتباهى بين الناس بالباطل الذي ألصقه فيه كبره، وآخر يلتقط مظاهر النقص في الآخرين فيشهرها بين الناس على رماح من ضغينته وحقده. ينبش السيئة من القبر الذي دفنت فيه وإن محاها ألف حسنة وراءها، ويدسّ الحسنات في التراب مهما كان للناس خير في تجليتها وظهورها! ..
মানুষ তার বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে এক শাশ্বত পূর্ণতার কল্পনা করা সত্ত্বেও স্বীয় যাবতীয় অবস্থায় অসম্পূর্ণতা অনুভব করে, ফলে সে এর মাধ্যমে পূর্ণতার চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়। সে পূর্ণতার সোপানসমূহের যে স্তরেই উন্নীত হয়, নিজের ও নিজ লক্ষ্যের মাঝে আরও অধিক দূরত্ব আবিষ্কার করে। সে সর্বদা অসম্পূর্ণতা থেকে পলায়ন করতে থাকে, কারণ পূর্ণতার আকাঙ্ক্ষা তার সত্তায় প্রোথিত। অথচ পূর্ণতা সর্বদা তার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে, কারণ তা কেবল স্রষ্টারই বৈশিষ্ট্য আর সে একজন সৃষ্টি; এবং যেহেতু তা মহান প্রতিপালকের—যাঁর মহিমা অতি উচ্চ—গুণাবলি, আর সে একজন দুর্বল (ضعيف) বান্দা!

হে পাঠক, আমি যে পরিমার্জনের কথা উল্লেখ করেছি—এরপর যদি আপনি এই গ্রন্থে ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার কোনো অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান—আর সম্ভবত আপনি তার অনেক কিছুই পাবেন—তবে তা এজন্য যে, আমি আমার নিজ সত্তার অসম্পূর্ণতার বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হতে পারিনি, আর তা আমার পক্ষে সম্ভবও ছিল না এবং এই বিষয়ে আমার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নেই। আর যদি আপনি এতে পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হওয়ার কোনো আলামত খুঁজে পান, তবে তা আমার প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিক মাত্র। আমি দেখেছি যে, বান্দা যখনই নিজের দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে অধিক সচেতন হয় এবং নিজের দাসত্বের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর অধিক নৈকট্য দান করেন এবং অধিক অনুগ্রহ ও ইহসান করেন। আর যখনই সে নিজের দুর্বলতার (ضعف) কথা বিস্মৃত হয় এবং মনে অহমিকা পোষণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেন এবং তাকে তার নিজের ও নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন, ফলে তা থেকে কোনো সুফল অর্জিত হয় না।

আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে আমার অসম্পূর্ণতাকে ঢেকে রেখেছেন, তদ্রূপ আমি সেই সকল পাঠক ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা সর্বদা আমাকে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী দিয়ে ধন্য করেছেন। আর যে ব্যক্তি সেই সকল মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন, সে মূলত আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না যিনি তাকে সেই স্মরণিকা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন!

নিজের অসম্পূর্ণতাকে স্বীকার করে নিয়ে উপদেশদাতার উপদেশ কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করার মাঝে কোনো দোষ নেই; বরং প্রকৃত দোষ ও কলঙ্ক হলো সেই বিষয়, যাতে দুই ধরনের ব্যক্তির কোনো একজন লিপ্ত হয়: এক ব্যক্তি যে সত্য গ্রহণে অহংকার করে, ফলে সে তার দম্ভের কারণে নিজের সাথে লেপ্টে থাকা মিথ্যার মাধ্যমে মানুষের মাঝে গর্ববোধ করে; আর অন্য ব্যক্তি যে অন্যের অসম্পূর্ণতা ও দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় এবং স্বীয় বিদ্বেষ ও হিংসার বর্শায় গেঁথে তা মানুষের সামনে প্রচার করে। সে কবরস্থ মন্দের হাড়গোড় খুঁড়ে বের করে আনে যদিও তার পেছনে হাজারো নেকি তা মুছে ফেলে থাকে, আর ভালো কাজগুলোকে সে মাটির নিচে পুঁতে ফেলে যদিও তা প্রকাশ ও বিকশিত হওয়ার মাঝে মানুষের জন্য কল্যাণ বিদ্যমান থাকে!
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
فأنا أضرع إلى الله عز وجل أن لا يجعلني واحدا من هذين الرجلين، وأن يحشرني إليه بقلب سليم قد أخلص لله في دينه، وأخلص مع الناس في أخوّته لهم وصدقه معهم.

وأسأله سبحانه أن يمتّعني بمرضاته والإخلاص لوجهه، وأن يختم لي بصالح الأعمال إنه أرحم الراحمين وإنه وليّ كل فضل وتوفيق.

محمّد سعيد رمضان البوطي
অতএব আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই দুই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত না করেন এবং তাঁর সমীপে আমাকে এমন এক প্রশান্ত হৃদয়ে পুনরুত্থিত করেন, যা আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ ছিল এবং মানুষের সাথে ভ্রাতৃত্ব ও সততার ক্ষেত্রেও একনিষ্ঠ ছিল।

আর আমি তাঁর পবিত্র সত্তার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে তাঁর সন্তুষ্টি ও একনিষ্ঠতা দ্বারা ধন্য করেন এবং নেক আমলের মাধ্যমে আমার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু এবং সকল অনুগ্রহ ও তাওফিকের অধিপতি।

মুহাম্মদ সাঈদ রমাদান আল-বুতি
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد أوّل تعريف بهذا الكتاب وأهمّ ابحاثه

هذه تأملات علمية وأدبية سريعة في كتاب الله تعالى، أردت أن أوضح من ورائها بعض ما ينطوي عليه هذا الكتاب من روعة البيان وإعجازه، ومدى تأثيره في مختلف العلوم التي تزخر بها المكتبة العربية اليوم، مما لا بدّ للأديب ودارس العربية من الوقوف عليه.

وهي كما قلت، لا تزيد على أن تكون تأملات .. فلم أقصد منها استقصاء لبحث، ولا تحقيقا جامعا لفن، ولو قصدت إلى ذلك لضاقت بي السّبل واستعصى عليّ البحث، ولاحتاج الأمر إلى مجلدات واسعة عظيمة، وأنى لمثلي أن يأتي بتحقيق جامع لفنون هذا الكتاب المبين، أو أن يستقصي البحث في آدابه وبلاغته وعلومه؟! وإنما الذي قصدت إليه، هو أن أنال رشفة من بحر هذا البيان الإلهي، وقبضة من كنز علومه، أمتّع بهما الخاطر والنفس، وأسعد بهما الفكر والخيال.

وحسبي، وحسب القارئ، أن نقف من وراء ذلك وقفة المتأمل الخاشع عند شاطئ هذا اليم. نمتّع البصر فيما يعجز عن إدراك كنهه العقل، ونرهف السمع لهذا الذي سجد لبيانه البيان.

وكم من جمال تذوب تأثرا به النفس، ولا يحدّه الفكر والعقل. وكم من حقيقة جاثمة وراء حدود دلالة النطق والكلام، فلا يعبّر عنها إلا الحيرة الخاشعة ولا يتبيّنها سوى صادق الإحساس.
প্রথম ভূমিকা: এই কিতাব এবং এর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহের পরিচিতি

এইগুলো হলো আল্লাহ তায়ালার কিতাব নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক (علمية) ও সাহিত্যিক (أدبية) অনুধ্যান (تأملات); এর মাধ্যমে আমি এই কিতাবের চমৎকার বয়ান (بيان) ও এর মুজেজা (إعجاز) বা অলৌকিকত্বের নিগূঢ় রহস্য এবং বর্তমানে আরবি গ্রন্থাগার যে বিবিধ উলুম (علوم) বা জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ, সেগুলোর ওপর এর প্রভাবের ব্যাপ্তি স্পষ্ট করতে চেয়েছি; যা একজন সাহিত্যিক বা আরবি ভাষার শিক্ষার্থীর জন্য অবগত হওয়া অপরিহার্য।

আমি যেমনটি বলেছি, এগুলো অনুধ্যানের (تأملات) চেয়ে বেশি কিছু নয়। এর মাধ্যমে আমি কোনো গবেষণার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা কোনো শাস্ত্রের (فن) সামগ্রিক তাহকিক (تحقيق) করার উদ্দেশ্য পোষণ করিনি। আমি যদি সেই ইচ্ছা করতাম, তবে পথগুলো আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ত এবং গবেষণাটি আমার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে উঠত। আর তার জন্য প্রয়োজন হতো বিশাল সব খণ্ডের। আমার মতো মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভব এই সুস্পষ্ট কিতাবের বিভিন্ন শাস্ত্রের (فنون) একটি সামগ্রিক তাহকিক (تحقيق) উপস্থাপন করা, অথবা এর আদব (آداب), বালাগাত (بلاغة) ও উলুম (علوم) নিয়ে গবেষণার সমাপ্তি ঘটানো?! আমার উদ্দেশ্য কেবল এই খোদায়ী বয়ানের (بيان) সমুদ্র থেকে এক চুমুক পান করা এবং এর জ্ঞানভাণ্ডার (علوم) থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে আমি আমার মন ও নফসকে (نفس) পরিতৃপ্ত করতে পারি এবং চিন্তা ও কল্পনাকে ধন্য করতে পারি।

আমার জন্য এবং পাঠকের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা এই সমুদ্রের তীরে একজন বিনীত অনুধ্যানকারীর (متأمل) ন্যায় দাঁড়াব। আমরা আমাদের দৃষ্টিকে সেই বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ করে আনন্দ লাভ করব যার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে আকল (عقل) অক্ষম, আর সেই বাণীর প্রতি কর্ণপাত করব যার বয়ানের (بيان) সামনে সকল বাগ্মিতা (بيان) সিজদাবনত হয়েছে।

কত সৌন্দর্য রয়েছে যার প্রভাবে নফস (نفس) বিগলিত হয়, অথচ চিন্তা ও আকল (عقل) তা পরিবেষ্টন করতে পারে না। কত ধ্রুব সত্য উচ্চারিত শব্দ ও বাক্যের নির্দেশনার সীমানার ওপারে নিহিত থাকে, যা বিনীত বিস্ময় ছাড়া প্রকাশ করা যায় না এবং সত্য অনুভূতি ছাড়া যা স্পষ্ট হয় না।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم إن هذا الكتاب الإلهي العظيم، ينطوي على علوم مختلفة هامة، تتعلق بمضمونه وتاريخ نزوله، كما ينطوي على صور رائعة من الجمال في تعبيره وأسلوبه وإنما يتعلق الغرض هنا بعرض سريع موجز لكلا الجانبين. إذ لا معنى لدراسة الأدب العربي بدون أيّ دراسة لينبوع هذا الأدب كله، وهو القرآن.

ولا قيمة لدراسة فنون العربية وعلومها بدون الرجوع إلى ميزان هذه العلوم ومعتمدها الأول ولا اعتبار لأدب أديب يترطن في تلاوة القرآن ولا يكاد يبين.

وهذا يعني أن الغرض إنما يتناول من ذلك كله، القدر الذي يخصّ العربية وعلومها وآدابها، أما ما يمتد من وراء ذلك إلى علوم الفقه وأصوله أو التفسير وعلم الكلام، فلا شأن لنا به في هذا المقام.

وهذه الحاجة المحدودة بهذا الشكل والقدر، هي التي ألجأتني إلى الكتابة في هذا الفن، رغم كثرة الشواغل والصوارف المختلفة. فقد رجعت إلى كل ما وقع تحت يدي من كتب هذا البحث مما ألّف قديما وحديثا، فما وجدت فيه شيئا يفي بحاجة من يقبل على دراسة الأدب العربي، وإن كان كلّ منها يقع موقعا من حاجته ويسدّ مسدّا فيها. فالبعض منها يتناول زاوية صغيرة محدودة من مجموع ما يتعلق به الغرض في هذا المقام، والبعض منها يطنب ويتوسع في أبحاث علوم القرآن حتى يتجاوز الأمر بالقارئ حدود العربية وآدابها إلى الإسلاميات وعلومها.

ولقد انتهى الضعف بطلاب العربية وعلومها في عصرنا إلى حدّ لا يكادون يستطيعون التعرّف فيه على شيء من هذه الكتب أو الأمّهات القديمة، ولا يكادون يملكون صبرا على قراءتها أو تصفحها، ويبدو أننا (ويا للأسف) لم ندرك بعد سرّ هذه الغاشية ولا علاجها.

فمن أجل كل ذلك اضطررت إلى أن أكتب بضع صفحات في هذا الفن، أتيمم فيها حاجة الأدب العربي وكفايته، واستهدف من ورائها أن يتذوق طلاب العربية هذا السموّ الرائع في البيان القرآني، تذوقا جيدا. فإنهم إذا تذوقوه طربوا له، وإذا طربوا له أقبلوا إليه قراءة وفهما، وإذا أقبلوا إليه بهذا
অতঃপর এই মহান ঐশ্বরিক কিতাবটি এর বিষয়বস্তু এবং অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর পাশাপাশি এটি এর প্রকাশভঙ্গি ও শৈলীতে সৌন্দর্যের চমৎকার সব রূপ ধারণ করে আছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো উভয় দিকের একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করা। কেননা সমস্ত সাহিত্যের উৎস আল-কুরআন সম্পর্কে কোনো প্রকার অধ্যয়ন ব্যতিরেকে আরবি সাহিত্য চর্চার কোনো অর্থ হয় না।

আরবি ভাষার শিল্প (فنون) ও এর বিজ্ঞানসমূহ অধ্যয়নের কোনো মূল্য নেই যদি না এই বিজ্ঞানসমূহের মানদণ্ড এবং প্রথম নির্ভরযোগ্য উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া হয়। অনুরূপভাবে সেই সাহিত্যিকের সাহিত্যের কোনো গুরুত্ব নেই, যে কুরআন তিলাওয়াতের সময় অস্পষ্টভাবে কথা বলে এবং যা প্রায় বোঝাই যায় না।

এর অর্থ হলো, এখানে উদ্দেশ্য কেবল ততটুকুই গ্রহণ করা যা আরবি ভাষা, এর বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের সাথে নির্দিষ্ট। আর যা এর বাইরে ফিকহ ও উসুল (أصول), অথবা তাফসির এবং ইলমুল কালামের দিকে বিস্তৃত, এই স্থানে আমাদের তার সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এই সীমাবদ্ধ প্রয়োজন ও মাত্রাই আমাকে বিভিন্ন ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই শিল্পে (فن) কলম ধরতে বাধ্য করেছে। আমি প্রাচীন ও আধুনিক কালে রচিত এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট আমার হাতের নাগালে থাকা সব কিতাবের শরণাপন্ন হয়েছি; কিন্তু এমন কিছু খুঁজে পাইনি যা আরবি সাহিত্য অধ্যয়নে আগ্রহীদের প্রয়োজন পুরোপুরি মেটাতে পারে, যদিও এর প্রতিটি কিতাবই কোনো না কোনোভাবে প্রয়োজন পূরণ করে। এগুলোর কোনোটি এখানে উদ্দিষ্ট বিষয়ের একটি ক্ষুদ্র ও সীমিত দিক নিয়ে আলোচনা করে, আবার কোনোটি কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) এর আলোচনায় এত বেশি দীর্ঘসূত্রতা ও বিস্তৃতি ঘটিয়েছে যে তা পাঠককে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসলামি বিষয়াদি ও এর বিজ্ঞানসমূহের দিকে নিয়ে যায়।

আমাদের যুগে আরবি ভাষা ও এর বিজ্ঞানের ছাত্রদের দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা এই সকল কিতাব বা প্রাচীন মূল গ্রন্থগুলোর সাথে পরিচিত হতে পারছে না এবং সেগুলো পড়া বা উল্টে দেখার ধৈর্যও তাদের নেই। মনে হচ্ছে (দুর্ভাগ্যবশত) আমরা এখনও এই সংকটের রহস্য বা এর প্রতিকার অনুধাবন করতে পারিনি।

এই সমস্ত কারণেই আমি এই শিল্পে (فن) কিছু পৃষ্ঠা লিখতে বাধ্য হয়েছি, যেখানে আমি আরবি সাহিত্যের প্রয়োজন ও পর্যাপ্ততার দিকে লক্ষ্য রেখেছি। আমার লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে আরবি ভাষার ছাত্ররা কুরআনের বাচনভঙ্গির এই চমৎকার উচ্চতা যেন ভালোভাবে আস্বাদন করতে পারে। কেননা তারা যদি এটি আস্বাদন করতে পারে, তবে তারা এতে আনন্দিত হবে; আর যদি তারা আনন্দিত হয়, তবে তারা এটি পড়া এবং বোঝার দিকে মনোনিবেশ করবে। আর যখন তারা এর দিকে...
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الشكل، استقامت ألسنتهم وتخلصت من عوج العاميّة ورطانتها وتذوقوا الأدب العربي في كل فروعه وجوانبه.

وتحقيقا لهذا الهدف، قسمت هذا الكتاب بعد المقدمة والتمهيد إلى ثلاثة أقسام:

(القسم الأول) ويتناول خلاصة لتاريخ القرآن وعلومه وهي تشمل:

1 - القرآن: تعريفه وحقيقته.

2 - نزول القرآن منجّما والحكمة من ذلك ..

3 - أسباب النزول ..

4 - كيفية جمع القرآن وكتابته.

5 - رسم القرآن.

6 - الأحرف السبعة: خلاصة جامعة عنها.

7 - القراءات والقرّاء: لمحة دراسية عنها.

8 - المكّي والمدني.

9 - التفسير: نشأته وتطوره ومذاهبه.

10 - المبهم والمتشابه في القرآن.

(القسم الثاني) ويتناول دراسة موجزة لمنهجه وأسلوبه، وتشمل هذه الدراسة الأبحاث التالية:

1"- أسلوب القرآن: نظرة عامة فيه، ثم دراسة لخصائصه.

2"- إعجاز القرآن: بيانه ودليله ووجوهه.

3"- موضوعات القرآن وطريقة عرضه لها: دراسة مختصرة سريعة.

4"- التصوير في القرآن: مظهره ووسائله.

5"- الأمثال في القرآن.

6"- القصة في القرآن: أغراضها ومنهجها.

7"- المنهج التربوي في القرآن.

8"- النزعة الإنسانية في القرآن.
এভাবে, তাদের জিহ্বা সুসংগত হয়েছে এবং তারা প্রচলিত অপভাষা (عامية) ও তার বিকৃত বাচনভঙ্গির বক্রতা থেকে মুক্ত হয়েছে, এবং তারা আরবি সাহিত্যের সকল শাখা ও দিক আস্বাদন করেছে।

আর এই উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে, আমি এই বইটিকে ভূমিকা ও প্রারম্ভিকার পর তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

(প্রথম অংশ) এতে কুরআনের ইতিহাস ও তার শাস্ত্রসমূহের (علوم) সারসংক্ষেপ আলোচনা করা হয়েছে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - কুরআন: এর সংজ্ঞা ও স্বরূপ।

২ - পর্যায়ক্রমে (منجما) কুরআন অবতরণ এবং এর পেছনের প্রজ্ঞা...

৩ - অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول)...

৪ - কুরআন সংকলন ও তা লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি।

৫ - কুরআনের লিখনরীতি (رسم)।

৬ - সাত অক্ষর (الأحرف السبعة): এ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ।

৭ - পাঠরীতিসমূহ (القراءات) ও ক্বারীগণ (القراء): এ সম্পর্কে একটি গবেষণামূলক আলোকপাত।

৮ - মাক্কী (المكي) ও মাদানী (المدني)।

৯ - তাফসির (التفسير): এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও বিভিন্ন মতবাদ।

১০ - কুরআনের অস্পষ্ট (المبهم) ও রূপক (المتشابه) আয়াতসমূহ।

(দ্বিতীয় অংশ) এতে এর পদ্ধতি ও শৈলী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে, আর এই অধ্যয়নে নিম্নোক্ত গবেষণাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১"- কুরআনের শৈলী: এ বিষয়ে একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি, অতঃপর এর বৈশিষ্ট্যাবলীর ওপর অধ্যয়ন।

২"- কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز): এর বর্ণনা, প্রমাণ ও দিকসমূহ।

৩"- কুরআনের বিষয়বস্তু ও তা উপস্থাপনের পদ্ধতি: একটি সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত অধ্যয়ন।

৪"- কুরআনের চিত্রায়ণ: এর স্বরূপ ও মাধ্যমসমূহ।

৫"- কুরআনের উপমাসমূহ (الأمثال)।

৬"- কুরআনের কাহিনী: এর উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা।

৭"- কুরআনের শিক্ষামূলক পদ্ধতি।

৮"- কুরআনে মানবীয় প্রবণতা।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
9"- فلسفة القرآن عن الكون والإنسان والحياة.

10"- هل من الممكن ترجمة القرآن.

(القسم الثالث) ويتناول نماذج من النصوص القرآنية في بعض موضوعاته نتبعها بشرح أدبي مركّز، يكون تطبيقا للدراسات النظرية التي تناولها أبحاث القسم الثاني، ومثالا يحتذيه القارئ في شرح بقية آي الكتاب الكريم، مستعينا على ذلك بالرجوع إلى مختلف تفاسير الكتاب الكريم.

وأسأل الله ربّ العالمين، أن يوفّقنا لأن نجعل دراستنا للعربية خدمة لكتابه، ولا يتركنا ندرس كتابه خدمة للعربية، وأن يبصّر عقولنا بالحق، ويجبّب إلى قلوبنا اتّباعه والتمسك به. وحسبي الله ونعم الوكيل.
৯"- মহাবিশ্ব, মানুষ ও জীবন সম্পর্কে কুরআনের দর্শন।

১০"- কুরআনের অনুবাদ কি সম্ভব?

(তৃতীয় অংশ) এতে কুরআনের কিছু বিষয়ের মূল পাঠের (نصوص) নমুনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার অনুসরণে আমরা একটি নিবিড় সাহিত্যিক ব্যাখ্যা (شرح) প্রদান করেছি। এটি দ্বিতীয় অংশের গবেষণাসমূহে আলোচিত তাত্ত্বিক অধ্যয়নের একটি বাস্তব প্রয়োগ এবং মহাগ্রন্থের অবশিষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় পাঠকের জন্য একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে, যা তাকে মহাগ্রন্থের বিভিন্ন তাফসির (تفسير) গ্রন্থের শরণাপন্ন হতে সাহায্য করবে।

আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের আরবি ভাষা শিক্ষাকে তাঁর কিতাবের সেবায় নিয়োজিত করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের এমন অবস্থায় না ছাড়েন যেখানে আমরা আরবি ভাষার স্বার্থে তাঁর কিতাব অধ্যয়ন করি। তিনি যেন আমাদের বিবেককে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত করেন এবং আমাদের হৃদয়ে সত্যের অনুসরণ ও তা আঁকড়ে ধরাকে প্রিয় করে দেন। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تمهيد ثان بتعريف أهمّيّة القرآن في الأدب العربيّ ووجوه ذلك

لعلّ البعض يتساءل عن وجه الحاجة إلى دراسة القرآن، في الأدب العربي، ولعلّه يحسب أن في ذلك خلطا بين الآداب والإسلاميات، لا وجه له ولا ضرورة إليه.

والجواب، أن لهذا الكتاب العظيم أهمية بالغة من جوانب مختلفة متعددة. فإن له جانبا تشريعيا هاما، لا ينفكّ عن الحاجة إلى دراسته كل متطلّع إلى دراسة الفقه والتشريع. وإن له مع ذلك جانبا متعلقا بالعقيدة والفلسفة والأخلاقيات، لا ينفكّ عن الحاجة إلى دراسته كل مقبل إلى دراسة العقائد أو الفلسفة أو الأخلاق، كما أن له مع ذلك جانبا أدبيّا أصيلا بعيد الجذور في تاريخ الأدب العربي، عظيم الأثر في توجيهه وتطويره وتقويمه، فمن أجل ذلك كان لا بدّ لمن أراد العكوف على دراسة العربية وآدابها من أن يعكف على دراسة القرآن وعلومه، وكلما ابتغى مزيدا من التوسع في العلوم العربية وثقافتها، احتاج إلى مزيد من التوسّع في دراساته القرآنية المختلفة.

وإليك ملخصا من وجوه هذه الحاجة وأسبابها:

 

‌‌السبب الأول-

أن هذا الكتاب العربي المبين، هو أول كتاب ظهر في تاريخ اللغة العربية (1) وإنما نشأت حركات التدوين والتأليف بعد ذلك على

--------------------------------------------

(1) مضمون هذا الكتاب، كلام الله الأزلي القديم، وهو من هذا الجانب لا يبدأ من تاريخ وليس له ميلاد ظهور أو تدوين، ولكننا نقصد بالكتاب في هذا المجال هذه الكلمات والأحرف والصفحات التي تضبطه وتحدّه والتي ظهرت ودوّنت في حقبة معينة من الزمن.
আরবি সাহিত্যে কুরআনের গুরুত্বের পরিচিতি এবং এর বিভিন্ন দিক বিষয়ক দ্বিতীয় ভূমিকা

সম্ভবত কেউ কেউ আরবি সাহিত্যে কুরআন অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারেন এবং হয়তো তারা মনে করতে পারেন যে এটি সাহিত্য এবং ইসলামিয়াতের মধ্যে একটি সংমিশ্রণ, যার কোনো ভিত্তি বা প্রয়োজনীয়তা নেই।

উত্তর হলো, এই মহান কিতাবের বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানগত (تشريعي) দিক রয়েছে, যা ফিকহ (فقه) ও বিধান প্রণয়ন নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি এর আকিদাহ (عقيدة), দর্শন ও নৈতিকতা বিষয়ক একটি দিক রয়েছে, যা আকিদাহ (عقيدة), দর্শন বা নৈতিকতা নিয়ে অধ্যয়নকারী প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয়। তেমনি এর একটি মৌলিক সাহিত্যিক দিক রয়েছে যা আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যন্ত গভীরমূল এবং এর দিকনির্দেশনা, উন্নয়ন ও সংস্কারে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাই আরবি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে নিবিড় গবেষণায় নিবিষ্ট হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য কুরআন ও তার উলুম (علوم) বা জ্ঞানসমূহ অধ্যয়ন করা অপরিহার্য। আরবি ভাষা ও সংস্কৃতিতে যে ব্যক্তি যত বেশি পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চাইবে, তার জন্য বিভিন্ন কুরআন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তত বেশি গভীর জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন হবে।

এই প্রয়োজনীয়তার দিকসমূহ ও কারণগুলোর একটি সারসংক্ষেপ নিম্নে তুলে ধরা হলো:

 

প্রথম কারণ-

এই সুস্পষ্ট আরবি কিতাবটি হলো আরবি ভাষার ইতিহাসে প্রকাশিত প্রথম কিতাব (১)। মূলত এরপরই লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) ও রচনার ধারা শুরু হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) এই কিতাবের বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর অনাদি ও চিরন্তন কালাম। এই দিক থেকে এর কোনো ঐতিহাসিক সূচনা নেই এবং এর প্রকাশ বা লিপিবদ্ধকরণের (تدوين) কোনো সুনির্দিষ্ট সময়কাল নেই। তবে এই ক্ষেত্রে 'কিতাব' বলতে আমরা সেই শব্দাবলি, অক্ষর এবং পৃষ্ঠাগুলোকে বোঝাচ্ছি যা একে সীমাবদ্ধ ও সুসংজ্ঞায়িত করে এবং যা সময়ের একটি নির্দিষ্ট যুগে প্রকাশিত ও লিপিবদ্ধ (تدوين) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ضوؤه وسارت بإشراقه، وتأثرت بوحيه وأسلوبه. ومن أجل ذلك، كان مظهرا هامّا للحياة العقلية والفكرية والأدبية التي عاشها العرب فيما بعد. فكيف يتأتى أن يكون هذا الكتاب مع ذلك بمعزل عن العربية وعلومها وآدابها؟!

 

‌‌السبب الثاني-

أن اللغة العربية إنما استقام أمرها على منهج سليم موحد. بسر هذا الكتاب وتأثيره، وهي إنما ضمن لها البقاء والحفظ بسبب ذلك وحده. فقد كانت اللغة العربية من قبل عصر القرآن أمشاجا من اللهجات المختلفة المتباعدة، وكان كلما امتد الزمن، ازدادت هذه اللهجات نكارة وبعدا عن بعضها.

وحسبك أن تعلم أنّ: المعينية، والسبئية، والقتبانية، واللحيانية والثمودية والصفوية والحضرمية، كلها كانت أسماء للهجات عربية مختلفة، ولم يكن اختلاف الواحدة منها عن الأخرى محصورا في طريقة النطق بالكلمة، من ترقيق أو تفخيم أو إمالة أو نحو ذلك، بل ازداد التخالف واشتد إلى أن انتهى إلى الاختلاف في تركيب الكلمة ذاتها وفي الحروف المركبة منها، وفي الإبدال والإعلال والبناء والإعراب.

فقضاعة مثلا كانت تقلب الياء جيما إذا كانت ياء مشددة أو جاءت بعد العين، وكانت العرب تسمي ذلك: عجعجة قضاعة. ومن ذلك قول شاعرهم:

خالي عويف وأبو علجّ … المطعمان اللحم بالعشجّ

وبالغداة قطع البرنج … يؤكل باللحم وبالصيصجّ

وحمير كانت تنطق ب «أم» بدلا من «أل» المعرفة في صدر الكلمة، وكانت العرب تسمي ذلك طمطمانية حمير، ومن ذلك قول أحدهم لرسول الله صلى الله عليه وسلم يسأله:

أمن امبر امصيام في امسفر؟ يريد أن يقول: هل من البرّ الصيام في السفر؟

وهذيل كانت تقلب الحاء في كثير من الكلمات عينا، فكانوا يقولون
এর আলোকেই তা পথ চলেছে এবং এর ওহি ও শৈলী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। এ কারণেই এটি আরবদের পরবর্তীকালের বুদ্ধিবৃত্তিক, তাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ছিল। এমতাবস্থায় এই কিতাবটি কীভাবে আরবি ভাষা এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের বাইরে থাকতে পারে?!

 

‌‌দ্বিতীয় কারণ:-

নিশ্চয়ই আরবি ভাষা এই কিতাবের নিগূঢ় রহস্য ও প্রভাবের কারণে একটি সঠিক ও ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেবলমাত্র এই কারণেই এর টিকে থাকা ও সংরক্ষিত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে। কেননা কোরআনের যুগের পূর্বে আরবি ভাষা ছিল বিভিন্ন বিসদৃশ উপভাষার সংমিশ্রণ। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই উপভাষাগুলোর অপরিচিতি ও পারস্পরিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

আপনার জন্য এটি জানাই যথেষ্ট যে: মাঈনি, সাবায়ি, কাতবানি, লিহয়ানি, সামুদি, সাফাভি এবং হাদরামি—এই সবগুলোই ছিল বিভিন্ন আরবি উপভাষার নাম। এগুলোর একটির থেকে অন্যটির পার্থক্য কেবল শব্দের উচ্চারণপদ্ধতি যেমন—পাতলা করা (ترقيق), ভারী করা (تفخيم) বা ঝোঁকানো (إمالة) ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এই বৈসাদৃশ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যা খোদ শব্দের গঠন, এর অক্ষর বিন্যাস, ইবদাল (إبدال), ইলাল (إعلال), শব্দের রূপান্তর এবং ই’রাব (إعراب) এর ক্ষেত্রেও পার্থক্য তৈরি করে।

উদাহরণস্বরূপ, কুযাআ গোত্র তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' অথবা 'আইন' বর্ণের পরবর্তী 'ইয়া' বর্ণকে 'জীম' (ج) এ রূপান্তর করত। আরবরা একে কুযাআ-র আজআজাহ (عجعجة) বলত। তাদের জনৈক কবির পংক্তি হলো:

আমার মামা উয়াইফ এবং আবু আলিজ... যারা সন্ধ্যায় মাংস খাওয়ান

এবং ভোরে বুরুঞ্জ খেজুরের অংশ... যা মাংস ও সিসিজ এর সাথে খাওয়া হয়।

আর হিমইয়ার গোত্র শব্দের শুরুতে নির্দিষ্টকারী অব্যয় 'আল' এর পরিবর্তে 'আম' (أم) উচ্চারণ করত। আরবরা একে হিমইয়ারের ত্বমতেমানিয়্যাহ (طمطمانية) বলত। এরই একটি উদাহরণ হলো জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন:

সফরে রোজা রাখা কি নেকির কাজ? (আমান ইমবিররে ইমসিয়ামু ফি ইমসফর?) তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন: সফরে রোজা রাখা কি পুণ্যের কাজ?

আর হুযাইল গোত্র অনেক শব্দে 'হা' বর্ণকে 'আইন' (ع) বর্ণে রূপান্তরিত করত, ফলে তারা বলত—
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
أعل الله العلال بدلا من أحلّ الله الحلال ..

وهكذا دواليك .. فقد كانت كل قبيلة تختلف في النطق عن الأخرى بوجوه من الاختلافات كثيرة، حتى باعد ذلك بين ألسنة العرب وأوشك أن يحوّل اللغة الواحدة إلى لغات عدّة متجافية لا يتفاهم أهلها ولا يتقارب أصلها.

ولقد بلغ من تخالف هذه اللهجات وتباعدها، أن كثيرا من وفود هذه القبائل التي أخذت تفد في صدر الإسلام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا يلقون كلمات وخطبا لا يكاد يفهمها القرشيون من أصحابه عليه الصلاة والسلام ولقد قال عليّ رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد سمعه يخاطب بني نهد:

يا رسول الله، نحن بنو أب واحد، ونراك تكلم وفود العرب بما لم نفهم أكثره! .. فقال عليه الصلاة والسلام: أدّبني ربي فأحسن تأديبي (1).

فلما نزل القرآن، وتسامعت به العرب، وائتلفت عليه قلوبهم، أخذت هذه اللهجات بالتقارب، وبدأ مظاهر ما بينها من خلاف تضمحل وتذوب، حتى تلاقت تلك اللهجات كلها في لهجة عربية واحدة، هي اللهجة القرشية التي نزل بها القرآن وأخذت ألسنة العرب على اختلافهم وتباعد قبائلهم تنطبع بطابع هذه اللغة القرآنية الجديدة. فكان ذلك سرّ هذا الشريان السحري العجيب الذي امتدّ في أجلها، فاستصلبت بعد ميعة، وقويت بعد تفكك، واتحدت بعد تناثر، ثم مرّت على مصرع أعظم لغة عالمية شاملة هي «اللاتينية» بينما تغلي هي حيوية وقوة وإشراقا. فكيف تمكن مع ذلك دراسة شيء من أدب هذه اللغة دون دراسة روحها التي تعيش بها وشريانها الذي يمتدّ فيها وينسأ من أجلها؟

 

‌‌السبب الثالث:

أن البلاغة والبيان وجمال الكلمة والتعبير- كل ذلك كان

--------------------------------------------

(1) هذا الحديث مروي بطرق مختلفة كلها تدور على السدي عن ابن عمارة الجواني عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه. وصحّحه أبو الفضل بن ناصر، وقال عنه ابن حجر غريب، وقال عنه السخاوي سنده ضعيف ولكن معناه صحيح. وانظر المقاصد الحسنة للسخاوي: 29 وفيض القدير على الجامع الصغير: 1/ 235.
আল্লাহ হালালকে বৈধ করেছেন (أحلّ الله الحلال) এর পরিবর্তে "আল্লাহ আল্লালকে উচ্চে তুলেছেন" (أعل الله العلال) বলা—এভাবেই বিবিধ উচ্চারণের পার্থক্য বিদ্যমান ছিল। প্রত্যেকটি গোত্রই উচ্চারণের ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে অনেক দিক থেকে ভিন্ন ছিল। এই ভিন্নতা আরবদের বিভিন্ন বাচনভঙ্গির মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি করেছিল এবং তা একটি একক ভাষাকে বিচ্ছিন্ন কতগুলো ভাষায় রূপান্তরিত করার উপক্রম করেছিল, যার ফলে এক গোত্রের মানুষ অন্য গোত্রের ভাষা বুঝতে পারত না এবং তাদের মৌলিকত্বের মাঝে কোনো নৈকট্য অবশিষ্ট ছিল না।

এই উপভাষাগুলোর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক দূরত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগত বহু গোত্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এমন সব শব্দ ও বক্তব্য পেশ করত যা তাঁর কুরাইশ বংশীয় সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রায় বুঝতেই পারতেন না। একদা হযরত আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বনু নাহদ গোত্রের সাথে কথা বলতে শুনলেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বললেন:

হে আল্লাহর রাসুল! আমরা একই পিতার সন্তান, অথচ আমরা দেখছি আপনি আরব প্রতিনিধিদলের সাথে এমন ভাষায় কথা বলছেন যার অধিকাংশ আমরা বুঝতে পারছি না! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমার প্রতিপালক আমাকে শিক্ষা ও শিষ্টাচার দান করেছেন, আর তিনি আমার শিক্ষা ও শিষ্টাচারকে অত্যন্ত সুন্দর করেছেন" (১)।

অতঃপর যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং আরবরা তা শ্রবণ করল এবং তাদের অন্তরসমূহ এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো, তখন এই উপভাষাগুলো কাছাকাছি আসতে শুরু করল। তাদের মধ্যকার বৈচিত্র্য ও ভেদাভেদগুলো বিলুপ্ত ও দূরীভূত হতে থাকল এবং একসময় এই সকল উপভাষা একটি একক আরবি ভাষায় মিলিত হলো। এটি ছিল কুরাইশ উপভাষা যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আরবরা তাদের গোত্রীয় ভিন্নতা ও দূরত্ব সত্ত্বেও এই নতুন কুরআনিক ভাষার ধাঁচে নিজেদের গঠন করতে শুরু করল। মূলত এটাই ছিল সেই বিস্ময়কর জাদুকরী প্রাণশক্তির রহস্য যা এর ভেতরে দীর্ঘকাল বহমান ছিল; ফলে এটি শৈথিল্যের পর দৃঢ়তা লাভ করল, বিচ্ছিন্নতার পর শক্তিশালী হলো এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার পর ঐক্যবদ্ধ হলো। এরপর এই ভাষা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ব্যাপক ভাষা 'ল্যাটিন' এর বিলুপ্তির কালকেও অতিক্রম করল, যখন এটি নিজে প্রাণশক্তি, শক্তি ও উজ্জ্বলতায় ভাস্বর ছিল। এমতাবস্থায়, কীভাবে এই ভাষার সাহিত্য নিয়ে আলোচনা সম্ভব এর সেই আত্মার আলোচনা ব্যতিরেকে, যার মাধ্যমে এটি জীবিত এবং সেই প্রাণশক্তি ছাড়া যা এতে বিস্তৃত এবং যার কারণে এটি চিরঞ্জীব?

 

‌‌তৃতীয় কারণ:

নিশ্চয়ই অলংকারশাস্ত্র, প্রাঞ্জলতা এবং শব্দের সৌন্দর্য ও প্রকাশভঙ্গি—এই সবই ছিল

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে (بطرق) বর্ণিত হয়েছে, যার সবকটি সুদ্দি থেকে ইবনে আম্মারা আল-জুওয়ানি হয়ে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে আবর্তিত হয়েছে। একে আবু আল-ফজল ইবনে নাসের সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। ইবনে হাজার একে বিরল (غريب) বলেছেন এবং সাখাভী বলেছেন এর সনদ দুর্বল (ضعيف), তবে এর অর্থ সঠিক। দেখুন: সাখাভীর আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ: ২৯ এবং ফয়জুল কাদির আলাল জামি আস-সাগির: ১/২৩৫।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
عصر القرآن أسماء لا تكاد تنحطّ على معنى واضح متفق عليه. وإنما بلاغة كل جماعة أو قبيلة ما تستسيغه وتتذوقه، ولذلك كانت المنافسات البلاغية تقوم فيما بينهم وتشتد ثم تهدأ وتتبدد، دون أن تنتهي بهم إلى نتيجة، إذ لم يكن أمامهم مثل أعلى يطمحون إليه ولا صراط واحد يجتمعون عليه، ولم يكن للبلاغة العربية معنى إلا هذا الذي يصدرون هم عنه من كلام في الشعر والنثر، وهم إنما يذهبون في ذلك طرائق قددا، ويتفرقون منه في أودية متباعدة يهيمون فيها.

وهيهات، لو استمر الأمر على ذلك، أن توجد للبلاغة والبيان العربي حقيقة تدرك أو قواعد تدرس، أو قوالب أدبية تهذب العربية وتحافظ عليها.

فلما تنزل القرآن، والتفتوا إليه فدهشوا لبيانه، وسجدوا لبلاغته وسموّ تعبيره، وأجمعوا على اختلاف أذواقهم ومسالكهم ولهجاتهم أن هذا هو البيان الذي لا يجارى ولا يرقى إليه النقد- كان ذلك إيذانا بميلاد مثلهم الأعلى فيما ظلوا يختلفون فيه ويتفرقون عليه، وأصبحت بلاغة هذا الكتاب العزيز بعد ذلك هي الوحدة القياسية التي تقاس إليها بلاغة كل نص وجمال كل تعبير، ثم تعاقبت الدراسات عليه من أرباب هذا الشأن وعلمائه، فاستخرجوا منه قواعد البلاغة ومقوّمات البيان ومسالك الإعجاز فكانت هذه العلوم البلاغية التي امتلأت بها المكتبة العربية، وأصبحت فنا مستقلا بذاته. ولولا القرآن لما عرف هذا الفن ولا استقامت تلك الأصول والقواعد، ولتبدّد المثل البلاغي الأعلى في أخيلة فصحاء العرب وشعرائهم … فكيف يستقيم مع ذلك، أن يدرس هذا الفن وأصوله بمنأى عن مثله الأعلى ومصدره العظيم الأول؟

 

‌‌السبب الرابع:

أن متن هذه اللغة، كان مليئا قبل عصر القرآن بالكلمات الحوشية الثقلية على السمع المتجافية عن الطبع. ولو ذهبت تتأمل فيما وصل إلينا من قطع النثر أو الشعر الجاهلي، لرأيت الكثير منها محشوّا بهذه الكلمات التي وصفت وإن كنت لا تجد ذلك إلا نادرا في لغة قريش.

وإليك هذه القطعة النثرية نموذجا لكلامهم في الجاهلية، أو لكلام الأعراب الذين أدركوا الإسلام ولكن ألسنتهم ظلت على ما انطبعت عليه في نشأة الجاهلية، وهي كلمات قالها أعرابي وقف بين الناس يستجدي مالا.
কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল পর্যন্ত ‘অলংকারশাস্ত্র’ (بلاغة) বলতে এমন সব বিষয়কে বোঝাত যা কোনো সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত সংজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং প্রতিটি দল বা গোত্রের নিকট অলংকারশাস্ত্র বলতে তাই ছিল যা তারা সাবলীল মনে করত এবং আস্বাদন করত। এই কারণেই তাদের মধ্যে অলংকারশাস্ত্রীয় প্রতিযোগিতা চলত এবং তা তীব্র রূপ নিত, আবার কখনো তা স্তিমিত হয়ে মিলিয়ে যেত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছাড়াই। কারণ তাদের সামনে এমন কোনো মহান আদর্শ (مثل أعلى) ছিল না যার দিকে তারা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, কিংবা এমন কোনো অভিন্ন পথ (صراط) ছিল না যেখানে তারা একত্রিত হতে পারে। আরবি অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) কোনো অর্থ ছিল না কেবল কবিতা ও গদ্যের সেই বক্তব্যসমূহ ছাড়া যা তারা নিজেরা উপস্থাপনা করত। তারা এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পথে চলত এবং বিভিন্ন প্রান্তরে লক্ষ্যহীনভাবে বিচরণ করত।

অফসোসের বিষয়, যদি বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকত, তবে আরবি অলংকারশাস্ত্র ও বালাগাতের (بيان) কোনো বোধগম্য বাস্তবতা কিংবা অধ্যয়নযোগ্য কোনো নিয়মাবলি (قواعد) অথবা সাহিত্যের এমন কোনো আদর্শ কাঠামো খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল যা আরবি ভাষাকে পরিশীলিত ও সংরক্ষণ করতে পারত।

অতঃপর যখন কুরআন নাজিল হলো এবং তারা এর প্রতি মনোনিবেশ করল, তখন এর অলংকারশৈলী (بيان) দেখে তারা বিস্ময়াভিভূত হলো এবং এর অলংকারশাস্ত্র (بلاغة) ও উচ্চাঙ্গের প্রকাশভঙ্গির সামনে মস্তক অবনত করল। তাদের রুচি, পথ ও উপভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে একমত হলো যে, এটিই হলো সেই অলংকারপূর্ণ বর্ণনা (بيان) যার সমকক্ষ হওয়া অসম্ভব এবং যা সমালোচনার ঊর্ধ্বে। এটি ছিল তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত মহান আদর্শের (مثل أعلى) জন্মলগ্নের সংকেত, যা নিয়ে তারা ইতিপূর্বে মতভেদ ও অনৈক্য প্রকাশ করে আসছিল। এরপর এই মহিমান্বিত কিতাবের অলংকারশাস্ত্রই (بلاغة) এমন এক মানদণ্ডে পরিণত হলো যার মাধ্যমে প্রতিটি পাঠের অলংকার ও প্রতিটি প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্য পরিমাপ করা হতো। এরপর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ও উলামায়ে কেরাম ধারাবাহিকভাবে এর ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁরা এখান থেকেই অলংকারশাস্ত্রের নিয়মাবলি (قواعد), অলংকারপূর্ণ বর্ণনার (بيان) উপাদানসমূহ এবং অলৌকিকত্বের (إعجاز) পথসমূহ উদ্ভাবন করেন। ফলে এই অলংকারশাস্ত্রীয় জ্ঞানসমূহ অস্তিত্ব লাভ করল যা দিয়ে আরবি কিতাবাগারসমূহ সমৃদ্ধ হয়েছে এবং এটি একটি স্বতন্ত্র শিল্পে পরিণত হয়েছে। যদি কুরআন না থাকত তবে এই শিল্পের পরিচয় পাওয়া যেত না এবং এই মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد) সুপ্রতিষ্ঠিত হতো না। আর আরবের বাগ্মী ও কবিদের কল্পনায় অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) সেই মহান আদর্শটি ধূলিসাৎ হয়ে যেত … এমতাবস্থায় এটি কীভাবে সমীচীন হতে পারে যে, এই শিল্প ও এর মূলনীতিসমূহ (أصول) এর পরম আদর্শ এবং প্রথম মহান উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করে অধ্যয়ন করা হবে?

 

‌‌চতুর্থ কারণ:

কুরআনের যুগের আগে এই ভাষার শব্দভাণ্ডার (متن) এমন সব অপ্রচলিত ও রুক্ষ (حوشية) শব্দে পরিপূর্ণ ছিল যা শ্রবণে ভারী ও স্বভাবজাত রুচির পরিপন্থী মনে হতো। যদি আপনি আমাদের নিকট পৌঁছানো জাহেলি যুগের গদ্য বা কবিতাগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন তার অধিকাংশ শব্দই আমি যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছি (অর্থাৎ রুক্ষ ও শ্রুতিকটু শব্দ) তাতে পরিপূর্ণ। যদিও কুরাইশদের ভাষায় তা খুব কমই পাওয়া যেত।

জাহেলি যুগে তাদের বক্তব্যের নমুনা হিসেবে অথবা সেইসব বেদুঈনদের বক্তব্যের নমুনা হিসেবে এই গদ্য অংশটি দেখুন যারা ইসলাম পেয়েছিলেন কিন্তু তাদের কথা বলার ধরন সেই জাহেলি পরিবেশেই রয়ে গিয়েছিল। এই কথাগুলো একজন বেদুঈন বলেছিল যে মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কিছু অর্থ সাহায্য চাইছিল।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
(أما بعد فإني امرؤ من الملطاط الشرقي المواصي أسياف تهامة، عكفت علينا سنون محش، فاجتبّت الذرى وهمشت العرى وجمشت النجم وأعجّت البهم، وهمّت الشحم، والتحبت اللحم، وأحجنت العظم، وغادرت التراب مورا، والماء غورا، والناس أوزاعا والضّهل جراعا، والمقام جعجاعا، فخرجت لا أتلفّع بوصيدة، ولا أتقوّت بمهيدة، فالبخصات وقعة والركبات زلعة، والجسم مسلهم، والنظر مدرهم، فهل من آمر بمير أو داع بخير) (1).

فلما تنزل القرآن، وأقبلت إليه الآذان، أخذت هذه الكلمات الجافية تختفي عن ألسنة العرب رويدا رويدا، وأصبح متن اللغة العربية كله مطبوعا بالطابع القرآني، ونما ذوق عربي في نفوس العرب أنبته لديهم القرآن وأسلوبه.

ومردّ ذلك إلى أن كلمات هذا الكتاب المبين، رغم أنها كانت عربية لم تتجاوز حدود هذه اللغة وقاموسها، تمتاز، في صياغتها وموقع كلّ منها مما قبلها وبعدها بجرس مطرب في الآذن لم يكن للعرب عهد به من قبل، هذا إلى أن كثيرا من الاشتقاقات والصيغ الواردة فيه، تكاد تكون جديدة في النطق العربي، وهي مع ذلك توحي بمعناها إلى الفطرة والطبع، قبل أن يهتدي السمع إليها بالمعرفة والدرس. وسنسهب في إيضاح هذا إن شاء الله عند حديثنا عن إعجاز القرآن.

--------------------------------------------

(1) الملطاط، حرف من أعلى الجبل أو جانب منه. والمواصي، أي المتصل. وأسياف جمع سيف يقال لساحل البحر. ومحش بمعنى محرق أي أحرقت الزرع والكلأ. وفاجتبت بمعنى قطعت. والعرى جمع عروة وهي القطعة من الشجر وجشت بمعنى حلقت، والنجم النبات الذي لا يستقيم على ساق، وأعجت البهم أي جعلتها عجايا وهي جمع عجي وهو ما فقد أمه من الإبل، وهمت الشحم: أذابته، والتحبت اللحم أي قشرته عن العظم أي عوجته فصيّرته كالمحجن. وغادرت التراب مورا أي يمور مورا بمعنى يجيء ويذهب، والغور: الغائر، والأوزاع: الأقسام المشتتة، والضهل: الماء القليل، وجراعا جمع جرع وهو ما لا يروي من الماء، والجعجاع: المكان الذي لا يطمئن من قعد فيه. لا أتلفع: لا أشتمل، بوصيدة: أي بأي شيء منسوج، والمهيدة: حب الحنظل، والبخصات جمع بخص: لحم باطن القدم، ووقعه من قولهم وقع الرجل إذا اشتكى لحم باطن قدمه، والزلعة جراحة فاسدة تكون من تشقق اللحم في القدم أو الركبة. ومسلهم:

ضامر متغير. ومدرهم من ضعف بصره بسبب جوع أو نحوه، والمير: العطية من الطعام. هذا وراجع المزهر للسيوطي لتقف على نماذج كثيرة من هذا القبيل.
(অনন্তর, আমি পূর্ব তিহামার সমুদ্রতীরবর্তী ‘আল-মিলতাত’ নামক পাহাড়ের পাদদেশের এক ব্যক্তি। আমাদের ওপর দিয়ে এমন কিছু দগ্ধকারী দুর্ভিক্ষময় বছর অতিবাহিত হয়েছে যা বৃক্ষের উপরিভাগ বিনাশ করেছে, ডালপালা ধ্বংস করেছে, তৃণলতা উপড়ে ফেলেছে এবং পশুপালকে আর্তনাদকারী (মাতৃহীন) করে ছেড়েছে। তা চর্বি গলিয়ে দিয়েছে, হাড় থেকে গোশত ছাড়িয়ে নিয়েছে, হাড়কে বাঁকা করে দিয়েছে এবং ধূলিকণাকে ঘূর্ণায়মান আর পানিকে ভূগর্ভস্থ অবস্থায় রেখে গেছে। মানুষ সব বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যৎসামান্য পানি পানেও তৃষ্ণা মিটছে না এবং বসবাসের স্থানগুলো হয়ে পড়েছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। ফলে আমি এমন অবস্থায় বের হয়েছি যে, আমার গায়ে জড়ানোর মতো কোনো বোনা কাপড় নেই এবং জীবনধারণের জন্য কোনো হানজাল ফলও নেই। পায়ের পাতার গোশতে অসহ্য ব্যথা, হাঁটুতে গভীর ক্ষত, শরীর জীর্ণশীর্ণ এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কেউ কি আছে যে খাবারের নির্দেশ দেবে অথবা মঙ্গলের জন্য আহ্বান জানাবে?)(১)।

অতঃপর যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং মানুষের কান এর প্রতি আকৃষ্ট হলো, তখন এই সকল কর্কশ শব্দসমূহ আরবদের জিহ্বা থেকে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হতে লাগল। সমগ্র আরবি ভাষার মূল উপাদান কুরআনী বৈশিষ্ট্যে রঞ্জিত হয়ে উঠল এবং আরবদের অন্তরে এমন এক আরবি রুচিবোধ বিকশিত হলো যা স্বয়ং কুরআন ও এর শৈলী তাদের মধ্যে রোপণ করেছিল।

এর কারণ হলো, এই সুস্পষ্ট কিতাবের শব্দসমূহ যদিও আরবি ছিল এবং এই ভাষার পরিসীমা ও শব্দকোষের বাইরে ছিল না, তবুও এর গঠনশৈলী এবং প্রতিটি শব্দের পূর্বাপর বিন্যাসের মাঝে এমন এক সুরের ব্যঞ্জনা ছিল যার সাথে আরবরা আগে পরিচিত ছিল না। এর পাশাপাশি কুরআনে ব্যবহৃত অনেক শব্দমূল ও গঠনভঙ্গি আরবি উচ্চারণে প্রায় নতুন বলে মনে হতো; তা সত্ত্বেও জ্ঞান এবং গবেষণার মাধ্যমে অনুধাবন করার আগেই মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি সেই শব্দের অর্থ হৃদয়াঙ্গম করতে পারত। ইনশাআল্লাহ, কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব।

--------------------------------------------

(১) আল-মিলতাত হলো পাহাড়ের উপরিভাগ বা এর পার্শ্বদেশ। আল-মাওয়াসি অর্থ সংযুক্ত। আসইয়াফ হলো ‘সাইফ’-এর বহুবচন, যা সমুদ্র সৈকতকে বলা হয়। মাহাশশ অর্থ দগ্ধকারী অর্থাৎ যা ফসল ও চারণভূমি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ফাজতাব্বাত অর্থ কেটে ফেলা। আল-উরা হলো ‘উরওয়াহ’-এর বহুবচন যা বৃক্ষের অংশবিশেষ। জამაშাত অর্থ মুণ্ডন করা বা উপড়ে ফেলা। আন-নাজম হলো সেই উদ্ভিদ যার কোনো কাণ্ড নেই। আ’জাতাল বাহাম অর্থ পশুপালকে মাতৃহীন বা অনাথ করে দেওয়া; এটি ‘আজিয়াহ’-এর বহুবচন যার অর্থ সেই উট যা তার মা-কে হারিয়েছে। হাম্মাতাশ শাহম অর্থ চর্বি গলানো। আলতাহাবাতিল লাহাম অর্থ হাড় থেকে গোশত ছাড়ানো। আহজানাতিল আজম অর্থ হাড়কে বাঁকা করে দেওয়া। মাওরা অর্থ ধূলি উড়া বা ঘূর্ণায়মান হওয়া। আল-গাওর অর্থ গভীরে চলে যাওয়া। আল-আওজা অর্থ বিচ্ছিন্ন দলসমূহ। আদ-দাহল অর্থ সামান্য পানি। জিরাআ হলো ‘জুরআ’-এর বহুবচন যা তৃষ্ণা মেটায় না। আল-জাজিয়া হলো এমন এক অস্বস্তিকর স্থান যেখানে অবস্থানকারী স্বস্তি পায় না। লা আতালফ্ফা অর্থ আমি পরিধান করি না। ওয়াসাআহ অর্থ কোনো বোনা কাপড়। আল-মাহিদাহ হলো হানজাল ফলের বীজ। আল-বাখাসাত হলো ‘বাখাস’-এর বহুবচন যার অর্থ পায়ের তলার মাংস। ওয়াকআ হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যার পায়ের তলার মাংস ব্যথিত হয়। আয-যালআ হলো পা বা হাঁটুর চামড়া ফেটে সৃষ্ট দূষিত ক্ষত। মুসলাহিম অর্থ:

বিবর্ণ ও কৃশকায়। মুদারহিম অর্থ ক্ষুধা বা অনুরূপ কোনো কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। আল-মাইর অর্থ খাদ্যদ্রব্যের উপহার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সুয়ূতী-র ‘আল-মিযহার’ গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
فكان من أثر ذلك أن انصرفت الأذواق إلى الاستفادة من كلماته والجديد من صياغته، وهجرت تدريجا ما استثقل وغلظ من الألفاظ والتراكيب.

وإنك لتدرك هذا جيدا حينما نعرض للمقارنة نصّا أدبيا من العصر الجاهلي وآخر من العصر الإسلامي. فستجد أن الأول يمتاز بتضاريس من الجمل والكلمات الثقيلة الخشنة وأن الثاني قد صقلته البلاغة القرآنية في كلّ من الأسلوب والجمل والكلمات.

فهذه خلاصة عن وجوه أهمية دراسة هذا الكتاب العظيم وأثرها في دراسة الأدب العربي.

وإذا كنت تؤمن اليوم بهذا الذي ذكرناه من الناحية النظرية والعقلية المجردة؛ فلسوف تؤمن بذلك على أساس من البرهان التجريبي والتطبيقي عند ما تمارس هذا الكتاب الإلهي تلاوة مستمرة ودراسة دقيقة وتأملا هادئا.
এর প্রভাব স্বরূপ মানুষের রুচি এর শব্দাবলি ও এর অভিনব প্রকাশশৈলী থেকে উপকৃত হওয়ার দিকে ধাবিত হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই সকল শব্দ ও শব্দসমষ্টি বর্জন করেছে যা শ্রুতিকটু ও ভারী মনে হতো।

আপনি যখন জাহিলি যুগের একটি সাহিত্যিক পাঠের সাথে ইসলামি যুগের একটি পাঠের তুলনা করবেন, তখন বিষয়টি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। আপনি দেখতে পাবেন যে, প্রথমটি কর্কশ ও ভারী শব্দ এবং বাক্যের বন্ধুরতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, আর দ্বিতীয়টিকে কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্র তার শৈলী, বাক্য ও শব্দের প্রতিটি স্তরে মার্জিত ও সুশোভিত করেছে।

মূলত এটিই হলো এই মহান কিতাব অধ্যয়নের গুরুত্বের দিকসমূহ এবং আরবি সাহিত্য চর্চায় তার প্রভাবের সংক্ষিপ্তসার।

আপনি যদি আজ আমাদের আলোচিত এই বিষয়গুলোকে কেবল তাত্ত্বিক ও বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বাস করেন, তবে যখন আপনি এই ঐশী কিতাবটির নিয়মিত তিলাওয়াত, সূক্ষ্ম গবেষণা এবং নিবিড় ধ্যানের মাধ্যমে চর্চা করবেন, তখন আপনি তা পরীক্ষামূলক ও প্রায়োগিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্বাস করতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
القسم الأول تاريخ القرآن وعلومه
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের ইতিহাস ও এর বিজ্ঞানসমূহ
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تاريخ القرآن

‌‌القرآن تعريفه، وحقيقته

القرآن هو: اللفظ العربي المعجز الموحى به إلى محمد صلى الله عليه وسلم المتعبّد بتلاوته والواصل إلينا عن طريق التواتر.

إذا تأملت في هذا التعريف، وجدت فيه قيودا أربعة، هي:

المعجز، الموحى به، المتعبد بتلاوته، المتواتر.

فلنشرح كلّ واحد منها على حدة، لنتبين حقيقة القرآن الكريم من وراء هذا التعريف، ونقف على ضبطه وحدوده.

أولا- المعجز: ويقصد منه ما اتصف به القرآن من البلاغة والبيان اللذين أعجزا بلغاء العرب كافّة عن الإتيان بأقصر سورة من مثله، رغم التحدي المتكرر، ورغم التطلّع الشديد لدى الكثير منهم إلى معارضته والتفوق على بيانه. وللقرآن وجوه غير هذا الوجه في إعجازه، ولكن الوجه المقصود منها عند التعريف هو هذا. ولن نطيل هنا في شرح معنى الإعجاز القرآني وتحليله، فإن لذلك موضعا خاصا به في هذا الكتاب إن شاء الله.

ثانيا- الموحى به: ومعناه المنزّل عليه من الله عز وجل بواسطة جبريل، وهذا أهم قيد في تعريف القرآن وتحديد ماهيته.

وإذا كان «الوحي» عنصرا هاما في حقيقة القرآن وتعريفه، فلا بدّ من دراسة وافية- وإن كانت موجزة- لهذه الكلمة، وتحليل صادق لحقيقتها. ومن أهم أسباب هذه الضرورة أن دراسات مختلفة حديثة حامت حولها، لا قصدا
কুরআনের ইতিহাস

কুরআন: এর সংজ্ঞা ও বাস্তবতা

কুরআন হলো: সেই অলৌকিক (معجز) আরবি বাণী যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি বা প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত (الموحى به), যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছেছে।

আপনি যদি এই সংজ্ঞার ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন, তবে এতে চারটি শর্ত খুঁজে পাবেন, সেগুলো হলো:

অলৌকিক (معجز), ওহিপ্রাপ্ত (الموحى به), তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر)।

আসুন আমরা এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করি, যাতে এই সংজ্ঞার আলোকে পবিত্র কুরআনের প্রকৃত রূপটি ফুটে ওঠে এবং আমরা এর সুনির্দিষ্ট সীমা ও সংজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হতে পারি।

প্রথমত- অলৌকিক (معجز): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন যে অলংকারশাস্ত্র ও বর্ণনাভঙ্গিতে গুণান্বিত, যা আরবের সমস্ত বাগ্মীদের এর অনুরূপ ক্ষুদ্রতম একটি সূরা রচনা করতেও অক্ষম করে দিয়েছে; বারবার চ্যালেঞ্জ করা সত্ত্বেও এবং তাদের অনেকের মধ্যে এর বিরোধিতা করার ও এর বর্ণনাভঙ্গিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও তারা তা পারেনি। কুরআনের অলৌকিকত্বের আরও অনেক দিক রয়েছে, তবে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই দিকটিই উদ্দেশ্য। আমরা এখানে কুরআনের অলৌকিকত্বের অর্থ ও বিশ্লেষণের দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করব না, কারণ ইনশাআল্লাহ এই গ্রন্থে এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে।

দ্বিতীয়ত- ওহিপ্রাপ্ত (الموحى به): এর অর্থ হলো যা জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর নাযিল হয়েছে। কুরআনের সংজ্ঞা ও এর স্বরূপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

যেহেতু «ওহি» (الوحي) কুরআনের বাস্তবতা ও সংজ্ঞার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তাই এই শব্দটির একটি পর্যাপ্ত—যদিও সংক্ষিপ্ত—পর্যালোচনা এবং এর প্রকৃত স্বরূপের একটি বিশ্বস্ত বিশ্লেষণ অপরিহার্য। এই প্রয়োজনীয়তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, আধুনিক বিভিন্ন গবেষণা একে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই...
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
لتفهمها، بل بغية مدّ غاشية من الغموض عليها، ثم الوصول بها إلى المعنى الذي يراد ربطها به، وإن لم تكن منه في شيء.

فلنتنبه بفكر موضوعي مجرد وعقل علمي متحرّر، ولنتساءل مع المتسائلين:

ما هو هذا الوحي الذي جاء بهذا القرآن فوضعه بين يدي محمد عليه الصلاة والسلام؟

أهو نوع من الإلهام النفسي أم هو حركة فكرية داخلية؟

أم هو إشراق روحي جاءه عن طريق الكشف التدريجي؟

أم هو ضرب من الصرع والجنون كان ينتابه كما قد قيل؟

أم هو استقبال لحقيقة ذاتية مستقلة عن كيانه يتلقاها من خارج فكره وشعوره؟

ونحن لا نملك سبيلا علمية صحيحة للإجابة على هذه الأسئلة إلّا بالرجوع إلى حقائق التاريخ الثابتة الواصلة إلينا عن طريق النقل الصحيح.

وإذا رجعنا نسأل حقائق التاريخ فإنها تضعنا أمام حديث قصة بدء الوحي الذي رواه البخاري ومسلم وغيرهما.

والحديث طويل، وحسبنا أن نجتزئ منه في هذا المقام ما يكشف لنا سبيلا صحيحة للإجابة على هذه الأسئلة.

ففي الحديث أن ملكا فاجأه في غار حراء يتعبد، فقال له: اقرأ، فقال:

ما أنا بقارئ، فأخذه الملك فغطّه حتى بلغ منه الجهد ثم أرسله فقال: اقرأ، فقال: ما أنا بقارئ، وتكرر هذا من الملك والرسول عليه الصلاة والسلام ثلاث مرات، وفي المرة الثالثة قال الملك: (اقرأ باسم ربك الذي خلق، خلق الإنسان من علق، اقرأ وربك الأكرم الذي علّم بالقلم، علّم الإنسان ما لم يعلم) فكان ذلك أول ما نزل من القرآن.

وفي الحديث أيضا أنه عليه الصلاة والسلام نزل عقب ذلك من الغار
এটি বোঝার জন্য নয়, বরং এর ওপর অস্পষ্টতার আবরণ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, এরপর একে এমন একটি অর্থের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য যার সাথে এর কোনো সম্পর্কই নেই।

তাই আসুন আমরা একনিষ্ঠ বস্তুনিষ্ঠ চিন্তা ও মুক্ত বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সচেতন হই এবং জিজ্ঞাসুদের সাথে আমরাও জিজ্ঞাসা করি:

সেই ওহী কী, যা এই কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে পেশ করেছিল?

এটি কি এক প্রকার মানসিক অনুপ্রেরণা নাকি কোনো অভ্যন্তরীণ বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন?

অথবা এটি কি কোনো আধ্যাত্মিক আলোকোজ্জ্বলতা যা ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে এসেছিল?

নাকি এটি মৃগী রোগ বা উন্মাদনার কোনো আবেশ ছিল, যা তাঁর ওপর ভর করত বলে দাবি করা হয়েছে?

নাকি এটি তাঁর সত্তা থেকে স্বতন্ত্র কোনো স্বকীয় সত্যের গ্রহণ, যা তিনি তাঁর চিন্তা ও অনুভূতির জগত ছাড়িয়ে বাইরে থেকে লাভ করতেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক কোনো পথ নেই, কেবল ইতিহাসের অকাট্য সত্যসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়া, যা আমাদের কাছে বিশুদ্ধ বর্ণনা (النقل الصحيح) প্রক্রিয়ায় পৌঁছেছে।

আর যখন আমরা ইতিহাসের সত্যের কাছে প্রশ্ন করি, তখন তা আমাদের ওহী শুরুর ঘটনা সংবলিত সেই হাদিসের সামনে নিয়ে দাঁড় করায় যা বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি দীর্ঘ, তবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সঠিক পথটি উন্মোচনের জন্য আমাদের জন্য এই স্থানে হাদিসের সেই অংশটুকু গ্রহণ করাই যথেষ্ট যা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করে।

হাদিসে এসেছে যে, হেরা গুহায় ইবাদতরত অবস্থায় এক ফেরেশতা হঠাৎ তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁকে বললেন: পড়ুন। তখন তিনি বললেন:

আমি পাঠকারী নই। তখন ফেরেশতা তাঁকে ধরে সজোরে আলিঙ্গন করলেন যাতে তিনি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলেন, অতঃপর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। তিনি বললেন: আমি পাঠকারী নই। ফেরেশতা এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে এই ঘটনার তিনবার পুনরাবৃত্তি ঘটল। তৃতীয়বার ফেরেশতা বললেন: (পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না)। আর এটাই ছিল কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ অংশ।

হাদিসে আরও আছে যে, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুহা থেকে নেমে আসলেন
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
عائدا إلى البيت وإن فؤاده ليرتجف خوفا. وفي الحديث أيضا أن خديجة ذهبت به إلى ورقة بن نوفل، وكان شخا كبيرا قد تنصّر في الجاهلية فأخبره بالأمر، فقال له ورقة: إن هذا هو الناموس (أي الوحي) الذي نزل على موسى، وطمأنه أنه ليس شرّا. وفي الحديث أيضا أن الوحي قد انقطع بعد ذلك مدة طويلة من الزمن، وأن الضيق والألم قد استبدا به صلى الله عليه وسلم من ذلك، خوفا من أن يكون قد أساء فتحول عنه الوحي لذلك. ثم إنه رأى ذلك الملك مرة أخرى، وقد ملأ مظهره ما بين السماء والأرض، قال: فرعبت منه ورجعت فقلت:

زملوني زملوني .. فنزل عليه قوله تعالى يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ إلى قوله وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ ثم تتابع الوحي بعد ذلك.

هذه الحقائق الواردة في هذا الحديث لا يمكن أن نتجاهلها أو نردّها بشكل ما، لسبين:

أولهما- أن ظاهرة الوحي التي يتحدث الكاتبون عن حقيقتها إنما وصلت إلينا عن طريق هذا الحديث ونحوه، فإذا ضربت صفحا عن هذه الكلمة نفسها، إذ لا معنى للبحث في شيء غير موجود ولا واقع من أساسه.

ثانيهما- أن الحديث ليس من قبيل هذه الاستنتاجات النظرية أو التاريخية التي يجنح إليها كثير من باحثي هذا العصر ويبنون عليها أحمالا وأثقالا من الأحكام الخطيرة

الهامة، بل هو خبر نقل بواسطة سند متصل من الرواة، خلا أصحابه- بعد الدراسة لتراجمهم وأحوالهم- عن أي تهمة تبعث الشك في كلامهم.

وإذا فرضنا أن يكون الوحي ليس إلا شعورا نفسيا أو إشراقا روحيا أو إلهاما داخليا، ثم عدنا إلى هذا الحديث، وجدناه يناقض هذا الفرض مناقضة صريحة صارخة، لأسباب كثيرة نذكر منها ما يلي:

1 - إن شيئا من حالات الإلهام أو حديث النفس أو الإشراق الروحي، لا يستدعي الخوف والرعب واصفرار اللون، وليس ثمة أي انسجام بين
তিনি ভীত-কম্পিত হৃদয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হাদিসে আরও এসেছে যে, খাদিজা তাঁকে ওরাকা ইবনে নওফলের কাছে নিয়ে যান, তিনি একজন বৃদ্ধ লোক ছিলেন এবং জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলে ওরাকা তাঁকে বললেন: এটি সেই ‘নামুস’ (অর্থাৎ ওহি (وحي)), যা মুসার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তিনি তাঁকে আশ্বস্ত করলেন যে এটি কোনো অমঙ্গল নয়। হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, এরপর দীর্ঘ সময় ওহি (وحي) বন্ধ ছিল এবং এর ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত সংকীর্ণতা ও যাতনা অনুভব করেছিলেন—এই ভয়ে যে, তিনি হয়তো কোনো ত্রুটি করেছেন যার ফলে ওহি (وحي) তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এরপর তিনি পুনরায় সেই ফেরেশতাকে দেখতে পান, যাঁর অবয়ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে রেখেছিল। তিনি বললেন: আমি এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম এবং ফিরে এসে বললাম:

"আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও..." তখন আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন, আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন..." "অপবিত্রতা বর্জন করুন" আয়াত পর্যন্ত। এরপর ধারাবাহিকভাবে ওহি (وحي) অবতীর্ণ হতে থাকে।

এই হাদিসে বর্ণিত এই বাস্তব সত্যসমূহকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা বা কোনোভাবে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব নয়, যার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত—ওহির (وحي) যে স্বরূপ সম্পর্কে লেখকরা আলোচনা করেন, তা কেবল এই হাদিস ও এই জাতীয় বর্ণনার মাধ্যমেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে। সুতরাং আপনি যদি এই বর্ণনাটিকেই উপেক্ষা করেন, তবে এমন কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণার কোনো অর্থ হয় না যার অস্তিত্ব বা বাস্তব ভিত্তিই নেই।

দ্বিতীয়ত—এই হাদিসটি বর্তমান যুগের অনেক গবেষকের দেওয়া তাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক অনুমানের মতো কোনো বিষয় নয়, যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; বরং এটি এমন একটি সংবাদ যা বর্ণনাকারীদের একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (سند متصل) এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের জীবনী (ترجمة) ও অবস্থা পর্যালোচনার পর—তাঁরা এমন যেকোনো অভিযোগ থেকে মুক্ত প্রমাণিত হয়েছেন যা তাঁদের বক্তব্যে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।

আমরা যদি ধরে নেই যে ওহি (وحي) কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি বা আধ্যাত্মিক আলোকচ্ছটা অথবা কোনো অভ্যন্তরীণ ইলহাম (إلهام) মাত্র, তবে এই হাদিসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে এটি সেই ধারণাকে স্পষ্ট ও জোরালোভাবে খণ্ডন করে। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

1 - ইলহাম (إلهام), মনের ধারণা বা আধ্যাত্মিক আলোকচ্ছটার মতো কোনো অবস্থাই ভয়, আতঙ্ক বা চেহারার রং বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্রেক করে না। এবং এগুলোর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
التدرّج في التفكير والتأمّل من ناحية، ومفاجأة الخوف والرعب من ناحية أخرى؛ وإلا لاقتضى ذلك أن يعيش عامّة المفكرين والمتأملين والملهمين نهبا لدفعات من الرعب والخوف المفاجئة المتلاحقة! وأنت خبير أن الخوف والرعب ورجفان الجسم وتغيّر اللون- كل ذلك من الانفعالات القسرية التي لا سبيل إلى اصطناعها والتمثيل بها، حتى لو فرضنا إمكان صدور المخادعة والتمثيل منه عليه الصلاة والسلام، وفرضنا المستحيل من انقلاب طباعه المعروفة قبل البعثة إلى عكسها تماما.

إن صاحب الإلهام والإشراق النفسي والروحي، ليس من شأنه أن تتجسد إلهاماته أمام عينيه فجأة فيرتعد منها ثم يحسبها أتيّا من الجنّ.

ولقد فوجئ عليه الصلاة والسلام بالملك يخاطبه ويكلّمه، ولقد ارتجف خوفا منه وذهب في محاولة معرفته كل مذهب، حتى ظن أنه قد يكون من الجان، وذلك معنى قوله لخديجة (لقد خشيت على نفسي).

2"- لقد قضت الحكمة الإلهية أن يحتجب عنه الملك الذي رآه لأول مرة في غار حراء، مدة طويلة؛ ولقد استبدّ به القلق والضجر من أجل ذلك، ثم تحول القلق لديه إلى خوف في نفسه من أن يكون الله عز وجل قد قلاه، بعد أن أراد أن يشرّفه بالوحي والرسالة لسوء قد صدر منه، حتى لقد ضاقت الدنيا عليه، وراحت تحدّثه نفسه كلما وصل إلى ذروة جبل أن يلقي بنفسه منها .. إلى أن رأى بنفسه الملك الذي رآه في حراء وقد ملأ شكله ما بين السماء والأرض: يقول: يا محمد أنت رسول الله إلى الناس.

إن هذه الحالة التي مرّ بها محمد عليه الصلاة والسلام، تجعل مجرد التفكير في كون الوحي إلهاما نفسيا ضربا من الهوس والجنون. إذ من البداهة بمكان أن صاحب الإلهامات النفسية والتأملات الفكرية لا يمكن أن يمرّ إلهامه أو تأملاته بشيء من هذه الأحوال.

وأنت إذا تأملت في هذا الذي ذكرناه، اتضحت أمامك الحكمة الإلهية العليا في أن يولد الوحي وتسير النبوّة في حياة محمد صلى الله عليه وسلم بهذا الشكل الذي ورد به الحديث.
একদিকে চিন্তা ও ধ্যানের ধারাবাহিকতা, আর অন্যদিকে আকস্মিক ভয় ও ত্রাস; অন্যথা এর অর্থ দাঁড়াত এই যে, সাধারণ চিন্তাবিদ, ধ্যানে মগ্ন ব্যক্তি এবং অতীন্দ্রিয় জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ক্রমাগত আকস্মিক ভয় ও ত্রাসের কবলে দিনাতিপাত করবেন! আর আপনি তো অবগত আছেন যে, ভয়, ত্রাস, শরীরের কম্পন এবং চেহারার রঙ পরিবর্তন—এসবই হলো অনিচ্ছাকৃত আবেগীয় প্রতিক্রিয়া যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা বা অভিনয় করা সম্ভব নয়। এমনকি আমরা যদি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে প্রতারণা বা অভিনয়ের সম্ভাবনা ধরেও নেই, কিংবা নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে তাঁর সুপরিচিত স্বভাব-চরিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে যাওয়াকেও (যা অসম্ভব) তর্কের খাতিরে মেনে নেই, তবুও এটি সম্ভব নয়।

যিনি আধ্যাত্মিক ও আত্মিক অনুপ্রেরণা বা আলোকপ্রাপ্ত হন, তাঁর বৈশিষ্ট্য এমন নয় যে, তাঁর অনুপ্রেরণাগুলো হঠাৎ তাঁর চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠবে এবং তিনি তা দেখে ভয়ে কেঁপে উঠবেন, আর তারপর সেটিকে জ্বিন (جن) থেকে আগত মনে করবেন।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফেরেশতা কর্তৃক সম্বোধিত ও বাক্যালাপের মাধ্যমে আকস্মিক বিস্ময়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি ভয়ে প্রকম্পিত হয়েছিলেন এবং তাকে চেনার চেষ্টায় নানা ভাবনায় নিমগ্ন হয়েছিলেন, এমনকি তিনি ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো জ্বিন (جن) হতে পারে; আর এটিই ছিল খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে তাঁর এই উক্তির অর্থ: "আমি নিজের জীবনের আশঙ্কা করছি।"

২- ঐশী প্রজ্ঞা (حكمة) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, হেরা গুহায় প্রথমবার দেখা সেই ফেরেশতা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁর থেকে অদৃশ্য থাকবে। এ কারণে তাঁর মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে এই উদ্বেগ তাঁর মনে এই ভয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল যে, প্রত্যাদেশ (وحي) ও রিসালাতের (رسالة) মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করার ইচ্ছা করার পর তাঁর কোনো ত্রুটির কারণে মহান আল্লাহ বুঝি তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, পৃথিবী তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, তাঁর মন তাঁকে সেখান থেকে নিজেকে নিক্ষেপ করার কথা বলত... অবশেষে তিনি সচক্ষে সেই ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন যাকে হেরা গুহায় দেখেছিলেন এবং যাঁর অবয়ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে রেখেছিল। ফেরেশতা বলছিলেন: "হে মুহাম্মদ, আপনি মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসুল।"

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তা এই প্রত্যাদেশকে (وحي) নিছক মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা হিসেবে চিন্তা করাকেও এক প্রকার উন্মাদনা ও পাগলামিতে পরিণত করে। কারণ এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা বা তাত্ত্বিক চিন্তার অধিকারী ব্যক্তির অনুপ্রেরণা বা চিন্তাগুলো এ ধরণের কোনো অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া সম্ভব নয়।

আপনি যদি আমাদের বর্ণিত এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে আপনার সামনে সেই পরম ঐশী প্রজ্ঞা (حكمة) স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যার কারণে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনে প্রত্যাদেশ (وحي) এবং নবুওয়াত এই রূপেই সূচিত ও পরিচালিত হয়েছিল যেমনটি হাদিস সমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
فقد كان الله عز وجل قادرا على أن يربط على قلب رسوله، ويطمئن نفسه بأن هذا الذي كلّمه ليس إلا جبريل: ملك من ملائكة الله جاء ليخبره أنه رسول الله إلى الناس؛ ولكن الحكمة الإلهية الباهرة تريد إظهار الانفصال التام بين شخصية محمد صلى الله عليه وسلم قبل البعثة، وشخصيته بعدها، وبيان أن شيئا مما قد نزل إليه من هذا الكتاب لم يطبخ في ذهنه مسبقا، ولم يتصور الدعوة إلى شيء منه سلفا.

غير أن هذا وحده لا يكفي جوابا على كل شيء في الموضوع. فقد يسأل سائل: فلماذا كان ينزل عليه صلى الله عليه وسلم الوحي بعد ذلك، وهو بين الكثير من أصحابه، فلا يرى الملك أحد منهم سواه؟

والجواب أنه ليس شرط وجود الموجودات أن ترى بالأبصار، إذ إن قوة الإبصار فينا محدودة بحدّ معين، وإلا لاقتضى ذلك أن يكون الشيء معدوما إذا ابتعد عن البصر بعدا يمنع من رؤيته. على أن من اليسير على الله عز وجل وهو الخالق لهذه العيون المبصرة- أن يزيد في قوة ما شاء منها فيرى ما لا تراه العيون الأخرى. ولعلك تعلم أن هنا لك ألوانا لا تراها كل العيون، وهنالك أيضا- كما يقول مالك بن نبي- مجموعة من الإشعاعات الضوئية دون الضوء الأحمر وفوق البنفسجي لا تراها أعيننا، ولا شيء يثبت علميا أنها كذلك بالنسبة لجميع العيون. فلقد توجد عيون أقل أو أكثر حساسية (1).

ثم إنك لو ذهبت تحلّل الوحي بأنه ظاهرة نفسية داخلية، لامتزج القرآن بالحديث، ولما أمكن أن يكون ثمة أي فرق بينهما، مع أن الفرق بينهما ظاهر واضح، يتمثل في أسلوب كلّ منهما ويتمثل في علاقته صلى الله عليه وسلم بكلّ منهما.

فقد كان يرسل ألفاظ الحديث إرسالا، مكتفيا بأن يستودعه ذاكرة أصحابه، على حين يأمر بتسجيل كل ما يوحى إليه من آي القرآن ويظل يكرره ويعيده خوفا من أن ينساه فلا يذكره.

وكان صلى الله عليه وسلم يسأل عن كثير من الأمور فلا يجيب عليها، وربما مرّ على

--------------------------------------------

(1) انظر الظاهرة القرآنية لمالك بن نبي.
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের অন্তরকে সুদৃঢ় করতে এবং তাঁর প্রাণকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম ছিলেন যে, যাঁর সাথে তিনি কথা বলছেন তিনি আর কেউ নন বরং জিবরাঈল; আল্লাহর ফেরেশতাদের একজন যিনি তাঁকে সংবাদ দিতে এসেছেন যে তিনি মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল। কিন্তু মহান ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা নবুওয়তপ্রাপ্তির পূর্বের মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্ব এবং পরবর্তী ব্যক্তিত্বের মধ্যে পূর্ণ বিচ্ছেদ প্রকাশ করতে চেয়েছে। পাশাপাশি এটিও স্পষ্ট করতে চেয়েছে যে, এই কিতাব থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার কোনো কিছুই পূর্বে তাঁর মস্তিষ্কে তৈরি হয়নি এবং আগে থেকে এর কোনো কিছুর দাওয়াতের কথা তিনি কল্পনাও করেননি।

তবে এই বিষয়টিই এই প্রসঙ্গের সবকিছুর জবাব হিসেবে যথেষ্ট নয়। কোনো প্রশ্নকারী হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন: তাহলে কেন এরপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর ওহি অবতীর্ণ হতো এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর বহু সাহাবীর মাঝে থাকতেন, অথচ তাঁদের মধ্যে তিনি ব্যতীত আর কেউ ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন না?

এর উত্তর হলো, কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকার শর্ত এটি নয় যে তাকে চর্মচক্ষে দেখতে হবে। কেননা আমাদের দৃষ্টিশক্তি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যথায় কোনো বস্তু দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলে তাকে অস্তিত্বহীন সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা—যিনি এই দৃষ্টিসম্পন্ন চোখগুলোর স্রষ্টা—যাঁর ক্ষেত্রে ইচ্ছা করেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে দেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ, ফলে তিনি এমন কিছু দেখেন যা অন্য চোখগুলো দেখতে পায় না। সম্ভবত আপনি জানেন যে, এমন কিছু রঙ রয়েছে যা সব চোখ দেখতে পায় না। আর যেমনটি মালেক বিন নবী বলেছেন—অবলোহিত (ইনফ্রারেড) এবং অতিবেগুনি (আল্ট্রাভায়োলেট) রশ্মির মতো এমন কিছু আলোক বিকিরণ রয়েছে যা আমাদের চোখ দেখতে পায় না; আর বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি যে এটি সব চোখের ক্ষেত্রেও একই রকম। কারণ এমন চোখ থাকা সম্ভব যার সংবেদনশীলতা কম বা বেশি হতে পারে (১)।

এরপর আপনি যদি ওহিকে একটি অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে বিশ্লেষণ করতে যান, তবে কুরআন ও হাদিস একে অপরের সাথে মিশে যেত এবং এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা সম্ভব হতো না; অথচ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুষ্পষ্ট, যা উভয়ের বাচনভঙ্গি এবং উভয়ের সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

তিনি হাদিসের শব্দগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্ত করতেন এবং তাঁর সাহাবীদের স্মৃতির ওপর তা ন্যস্ত রাখাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। অপরদিকে কুরআনের আয়াত হিসেবে তাঁর প্রতি যা কিছু ওহি করা হতো, তার প্রতিটিই তিনি লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বিস্মৃতির ভয়ে তা বারবার পাঠ ও পুনরাবৃত্তি করতেন যাতে তা ভুলে না যান।

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনেক বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো কিন্তু তিনি সেগুলোর উত্তর দিতেন না, সম্ভবত এমন সময় অতিবাহিত হতো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মালেক বিন নবীর 'আয-জাহিরাতুল কুরআনিয়া'।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
إمساكه عنها زمن طويل، حتى إذا نزلت آية من القرآن في شأن ذلك السؤال، طلب السائل وتلا عليه ما نزل من القرآن في شأنه، وربما تصرف هو نفسه في بعض الأمور على نحو معيّن، فنزلت آيات من القرآن تصرفه عن ذلك الوجه بل ربما انطوت على شيء واضح من العتب واللوم.

ثم إنه عليه الصلاة والسلام كان يعلن في كل مرة أن القرآن كلام الله، وأنه ليس إلا أمينا على نقله وتبليغه، وأنه يتلقاه من جبريل عليه السلام. ولقد ظل عليه الصلاة والسلام صادقا أربعين سنة مع قومه، حتى كان بينهم مثال الصدق والأمانة. وبدهي أن مثل هذا الإنسان لا بدّ أن يكون قبل كل ذلك صادقا مع نفسه، يتحرى الدقة في كل مشاعره وأقواله وإحساساته.

وبعد ذلك كله، فقد كان- على ما أجمع عليه المؤرخون- أميّا لم يقرأ كتابا ولا خطّه بيمينه، ولم يدرس تشريعا ولا تاريخا ولا شيئا من قصص الرسل والأنبياء السابقين، فمن أيّ نافذة طبيعية يمكن لهذه الإلهامات كلها أن تتنزل عليه، وكيف لها بأن تنبع هكذا من داخل قلبه وعقله؟

لا جرم أن الوحي القرآني إذا، إنما هو استقبال منه صلى الله عليه وسلم لحقيقة ذاتية مستقلة خارجة عن كيانه وشعوره الداخلي؛ وبعيدة عن كسبه أو سلوكه الفكري أو العملي.

أما قول بعض المستشرقين بأنه لم يكن إلا نوعا من الصرع ينتابه بين الحين والآخر، فليس من النظريات العلمية الموضوعية في شيء حتى نضعه تحت مجهر البحث والنقاش، ونضيّع وقتا قصيرا أو طويلا في الكلام عنه.

ونعود بعد هذا إلى شرح القيود المأخوذة في تعريف القرآن الكريم:

ثالثا- التعبّد بتلاوته. والمقصود به أن من خصائص هذا الكتاب الكريم أن مجرد قراءته تكسب القارئ أجرا ومثوبة عند الله، وأن ذلك يعتبر نوعا من العبادة المشروعة، وأن الصلاة لا تصح إلا بقراءة شيء منه ولا يغني عنه غيره من الأذكار أو الأدعية أو الأحاديث.

رابعا- وصوله عن طريق التواتر. ومعناه أن قرآنية آية من القرآن لا
সেই বিষয়ে তাঁর দীর্ঘকাল বিরত থাকা, এমনকি সেই প্রশ্নের বিষয়ে যখনই কোরআনের কোনো আয়াত নাজিল হতো, তখন তিনি প্রশ্নকারীকে খুঁজতেন এবং তার বিষয়ে কোরআনের যা নাজিল হয়েছে তা তাকে তিলাওয়াত করে শোনাতেন। কখনো কখনো তিনি নিজেই কোনো কোনো বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট পন্থায় পদক্ষেপ নিতেন, কিন্তু কোরআনের আয়াত নাজিল হয়ে তাঁকে সেই পথ থেকে সরিয়ে দিত, বরং কখনো কখনো তাতে স্পষ্ট অনুযোগ ও তিরস্কারের সুরও মিশে থাকত।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিবারই ঘোষণা করতেন যে, কোরআন আল্লাহর কালাম; আর তিনি এটি পৌঁছে দেওয়া ও প্রচার করার ক্ষেত্রে একজন বিশ্বস্ত আমানতদার বৈ কিছু নন এবং তিনি জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর কাছ থেকে তা গ্রহণ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কওমের মাঝে দীর্ঘ চল্লিশ বছর সত্যবাদী হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন, এমনকি তিনি তাদের কাছে সততা ও বিশ্বস্ততার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। আর এটা তো স্বতঃসিদ্ধ যে, এমন একজন মানুষকে অবশ্যই সর্বাগ্রে নিজের কাছে সত্যবাদী হতে হবে, যিনি তাঁর প্রতিটি অনুভূতি, বক্তব্য ও উপলব্ধিতে সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেন।

সর্বোপরি, ঐতিহাসিকদের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী তিনি ছিলেন উম্মি (নিরক্ষর); তিনি কোনো কিতাব পড়েননি এবং নিজ হাতে কিছু লিখেননি। তিনি কোনো আইনশাস্ত্র, ইতিহাস কিংবা পূর্ববর্তী নবি-রাসুলদের কাহিনীসমূহও অধ্যয়ন করেননি। এমতাবস্থায় কোন প্রাকৃতিক উৎস থেকে এই সকল ঐশী অনুপ্রেরণা তাঁর ওপর নাজিল হওয়া সম্ভব এবং কীভাবে তাঁর হৃদয় ও মস্তিষ্ক থেকে এগুলো এভাবে উৎসারিত হতে পারে?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোরআনি ওহি হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে এমন এক স্বতন্ত্র সত্তাগত বাস্তবতা গ্রহণ করা, যা তাঁর অস্তিত্ব ও অভ্যন্তরীণ চেতনার বাইরের বিষয় এবং যা তাঁর চিন্তা বা আমলি প্রচেষ্টার ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে।

আর কতিপয় প্রাচ্যবিদের দাবি যে, এটি কেবল এক প্রকার মৃগী রোগ ছিল যা সময়ে সময়ে তাঁকে পেয়ে বসত—এটি কোনো বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের পর্যায়ভুক্ত নয় যে আমরা একে গবেষণা ও আলোচনার অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে স্থাপন করব এবং এ বিষয়ে কথা বলে সামান্য বা দীর্ঘ সময় অপচয় করব।

এরপর আমরা কোরআন কারিমের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত শর্তাবলির ব্যাখ্যায় ফিরে আসি:

তৃতীয়ত- এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য হওয়া। এর অর্থ হলো, এই মহিমান্বিত কিতাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে, কেবল এর পাঠই পাঠকারীকে আল্লাহর নিকট সওয়াব ও প্রতিদান এনে দেয় এবং একে একটি বিধিবদ্ধ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। আর এর কোনো অংশ পাঠ করা ব্যতীত নামাজ সহিহ (صحيح) হয় না এবং অন্য কোনো জিকির, দোয়া বা হাদিস এর বিকল্প হতে পারে না।

চতুর্থত- এটি মুতাওয়াতির (تواتر) পন্থায় আমাদের নিকট পৌঁছানো। এর অর্থ হলো, কোরআনের কোনো আয়াতের কোরআন হওয়ার বিষয়টি কেবল...
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
تثبت حتى تصل إلينا بطريق جموع غفيرة لا يمكن اتفاقها على الكذب، ترويها عن جموع مثلها إلى الناقل الأول لها بعد أن تنزلت عليه وحيا من الله عز وجل، وهو سيدنا محمد عليه الصلاة والسلام.

فإذا تأملت هذه القيود الأربعة في التعريف تصورت حقيقة القرآن خالية عن شوب أي ليس بالحديث النبوي أو القراءات الشاذّة أو الحديث القدسي أو الترجمة الحرفية أو غير الحرفية للقرآن. إذ الحديث ليس بمعجز والقراءات الشاذّة غير متواترة، والحديث القدسي غير معجز، ذلك لأن اللفظ فيه من الرسول عليه الصلاة والسلام، والترجمة ليست هي اللفظ المنزّل.
এটি সাব্যস্ত হয় এভাবে যে, তা আমাদের নিকট এমন বিশাল জনসমষ্টির মাধ্যমে পৌঁছেছে যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। তারা অনুরূপ জনসমষ্টি থেকে তা বর্ণনা করেছেন এর প্রথম বর্ণনাকারী পর্যন্ত, যাঁর নিকট তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী (وحيا) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, আর তিনি হলেন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আপনি যদি সংজ্ঞার এই চারটি শর্ত নিয়ে চিন্তা করেন, তবে আপনি কোরআনের প্রকৃত স্বরূপটি কোনো প্রকার সংমিশ্রণহীন অবস্থায় অনুধাবন করতে পারবেন। অর্থাৎ তা নববী (النبوي) হাদিস নয়, বিরল (الشاذة) কিরাত নয়, হাদিসে কুদসি (القدسي) নয় কিংবা কোরআনের শাব্দিক বা ভাবানুবাদ নয়। কারণ হাদিস মুজিজাহ (معجز) নয় এবং বিরল (الشاذة) কিরাতগুলো মুতাওয়াতির (متواترة) নয়, আর হাদিসে কুদসি মুজিজাহ (معجز) নয়। এর কারণ হলো, এতে শব্দ বিন্যাস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হয়েছে, আর অনুবাদ স্বয়ং অবতীর্ণ শব্দসমষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌نزول القرآن منجّما والحكمة في ذلك

يقول الله تعالى في كتابه: وَقُرْآناً فَرَقْناهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلى مُكْثٍ وَنَزَّلْناهُ تَنْزِيلًا.

ويقول أيضا: وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً واحِدَةً، كَذلِكَ، لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤادَكَ وَرَتَّلْناهُ تَرْتِيلًا.

نعلم من دلالة هاتين الآيتين، ومما ثبت ثبوتا قاطعا في السنّة والتاريخ عن طريق السند الصحيح، أن القرآن لم ينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم جملة واحدة كما نزلت التوراة على سيدنا موسى، بل كان نزوله متدرجا، فتارة تنزل عليه الآية أو الآيتان أو ثلاث آيات، وتارة تنزل عليه سورة بجملتها، كالفاتحة، والمدّثر، وهذا معنى أنه كان ينزل منجّما، وقد ظلت آيات هذا الكتاب المبين تتتابع على مهل وتدرّج، حتى نزلت آخر آية منها قبل وفاته صلى الله عليه وسلم بتسع ليال. وهو قوله تعالى:

وَاتَّقُوا يَوْماً تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ ما كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ (1).

وذلك على ما رجحه كثير من العلماء (2).

--------------------------------------------

(1) البقرة: 281.

(2) أخرجه البخاري بسنده عن ابن عباس وأخرجه النسائي من طريق عكرمة عن ابن عباس أيضا.

ورواه أبو بكر بن عياش عن محمد بن السائب عن أبي السائب عن ابن عباس .. وقد خطأ أبو بكر بن عياش أبا إسحاق في روايته عن البراء بأن آخر ما نزل من القرآن يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ
কুরআনের কিস্তিতে অবতীর্ণ (منجّما) হওয়া এবং এর পেছনের হিকমত

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন: "আর আমি কুরআনকে ভাগ ভাগ করে নাজিল করেছি, যাতে আপনি এটি মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি এটি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।"

তিনি আরও বলেন: "আর কাফিররা বলে, তার ওপর কেন পুরো কুরআন একযোগে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হলো না? এভাবেই (আমি অবতীর্ণ করেছি) আপনার অন্তরকে এর মাধ্যমে মজবুত করার জন্য এবং আমি একে স্পষ্টভাবে ক্রমে ক্রমে পাঠ করেছি।"

আমরা এই দুই আয়াতের নির্দেশনা থেকে এবং সুন্নাহ ও ইতিহাসে সহিহ সনদ (السند الصحيح)-এর মাধ্যমে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (ثبوتا قاطعا), তা থেকে জানতে পারি যে, কুরআন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর একযোগে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়নি যেভাবে মুসা আলাইহিস সালাম-এর ওপর তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল। বরং এর অবতরণ ছিল পর্যায়ক্রমিক; কখনো তাঁর ওপর একটি আয়াত, দুটি আয়াত বা তিনটি আয়াত অবতীর্ণ হতো, আবার কখনো একটি পূর্ণ সুরা অবতীর্ণ হতো, যেমন—সুরা ফাতিহা ও সুরা মুদ্দাসসির। আর এটিই কিস্তিতে অবতীর্ণ (منجّما) হওয়ার অর্থ। এই সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহ এভাবে ধীরস্থিরভাবে ও পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হতে থাকে, এমনকি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের নয় দিন পূর্বে এর সর্বশেষ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:

"আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, অতঃপর প্রত্যেককে তার অর্জিত কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না (১)।"

অনেক আলেম (العلماء)-এর নিকট এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারাহ: ২৮১।

(২) বুখারি তাঁর সনদে (بسنده) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং নাসায়ি ইকরিমা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর বিন আইয়াশ এটি মুহাম্মদ বিন সায়িব থেকে, তিনি আবু সায়িব থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর বিন আইয়াশ, বারা (রা.) থেকে বর্ণিত আবু ইসহাকের বর্ণনাটিকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন (خطأ), যাতে বলা হয়েছে যে কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো 'তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়, বলুন আল্লাহ...'
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌حكمة نزول القرآن منجّما:

هنالك حكم هامة وكثيرة تتعلق بنزول القرآن منجما، نذكر منها ما يلي:

أولا- لقد قضت سنّة الله تعالى في عباده أن يلاقي النبي عليه الصلاة والسلام أذى كبيرا من قومه من أجل نهوضه بينهم بتبليغ رسالة ربه، وقد لاقى من ذلك أنواع الشدائد التي جعلته بينهم مدة طويلة غريبا لا ناصر له.

ولقد كان لاتصال الوحي به إذ ذاك وتتابع نزول الآيات عليه تشدّ من أزره، وتحمله على الصبر والمصابرة، وتعده بالنصر والتأييد في النهاية- كان لذلك أبلغ الأثر في مواساته وتخفيف تلك الشدة عنه وإزاحة معاني الغربة والضعف عن نفسه. فمن هذه الآيات مثلا قوله تعالى:

فَاصْبِرْ عَلى ما يَقُولُونَ، وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ، وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَأَدْبارَ السُّجُودِ (ق: 29، 49).

ومن ذلك قوله تعالى: فَاصْدَعْ بِما تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّا كَفَيْناكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ، الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ اللَّهِ إِلهاً آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ، وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِما يَقُولُونَ، فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ، وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ (الحجر: 94 - 99).

فلو أن القرآن نزل كله عليه جملة واحدة، لكان لانقطاع الوحي عنه بعد ذلك أثر كبير في استشعاره الوحشة والغربة. ومهما يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أوتي من العزيمة والصبر، فإن لبشريته أيضا أثرا بيّنا في حياته ما دام أنه بشر.

وقد كان لديه صلى الله عليه وسلم من قوة الإيمان بالله ما يكفي لأن يحمله على تبليغ دعوة ربه والجهاد في سبيلها؛ ولكنه على ذلك لم يكن به غناء عن المواساة والمعونة والتصبير إذ يأتيه كل ذلك من ربه المرة تلو المرة يعيده إلى الأمن والانشراح والأنس والرضى.

--------------------------------------------

يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ مرجحا رواية ابن عباس التي رويت بطرق عدة. وانظر البرهان للزركشي 1/ 209 والجامع لأحكام القرآن للقرطبي 1/ 60.
কুরআন পর্যায়ক্রমে (منجماً) অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য:

কুরআন পর্যায়ক্রমে (منجماً) অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হিকমত বা রহস্য রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

প্রথমত- আল্লাহ তাআলার চিরন্তন বিধান এই যে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের রিসালাত প্রচারের দায়িত্ব পালনের কারণে নিজ কওমের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড কষ্টের সম্মুখীন হবেন। তিনি এমন সব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে তাঁর কওমের মাঝে একজন নিঃসঙ্গ ও সাহায্যকারীহীন ব্যক্তিতে পরিণত করেছিল।

এমতাবস্থায় ওহির সাথে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং ধারাবাহিকভাবে আয়াত নাজিল হওয়া তাঁর মনোবল বৃদ্ধি করত, তাঁকে ধৈর্য ও সহনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করত এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় ও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রদান করত। এসব বিষয় তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান, তাঁর কষ্ট লাঘব এবং তাঁর মন থেকে একাকীত্ব ও দুর্বলতার অনুভূতি দূর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর প্রভাব ফেলেছিল। এই আয়াতগুলো এর অন্যতম উদাহরণ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

“অতএব তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন। আর রাতের কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদার পরেও।” (সূরা কাফ: ৩৯, ৪০ [মূল পাঠে উল্লিখিত সংখ্যা: ২৯, ৪৯])।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা বলেন: “অতএব আপনাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষ থেকে আমিই যথেষ্ট। যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য নির্ধারণ করে, অচিরেই তারা জানতে পারবে। আমি অবশ্যই জানি যে, তাদের কথায় আপনার অন্তর সংকুচিত হয়। সুতরাং আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন। আর আপনার পালনকর্তার ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়।” (সূরা আল-হিজর: ৯৪-৯৯)।

যদি কুরআন একবারে পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হতো, তবে পরবর্তীতে ওহি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর মনে একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতার বড় ধরনের প্রভাব ফেলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা যতই দৃঢ় সংকল্প ও ধৈর্য দান করুন না কেন, মানুষ হিসেবে তাঁর মানবীয় সত্তারও জীবনের ওপর একটি স্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান ছিল।

আল্লাহর প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈমানি শক্তি তাঁর রবের দাওয়াত পৌঁছানো এবং সেই পথে জিহাদ করার জন্য যথেষ্ট ছিল; তা সত্ত্বেও তাঁর রবের পক্ষ থেকে বারবার আসা এই সান্ত্বনা, সাহায্য এবং ধৈর্যের উপদেশের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। এই ধারাবাহিকতা তাঁকে বারবার নিরাপত্তা, প্রশান্তি, প্রফুল্লতা এবং সন্তুষ্টির দিকে ফিরিয়ে আনত।

--------------------------------------------

‘কালালাহ’ সম্পর্কে তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়—এখানে ইবনে আব্বাসের বর্ণনা (رواية) টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যা একাধিক সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আল-বুরহান লিয-যারকাশী ১/২০৯ এবং আল-জামি লি আহকামিল কুরআন লিল কুরতুবী ১/৬০।
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهذا المعنى هو ما عبّر عنه القرآن بالتثبيت في قوله تعالى: كَذلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤادَكَ.

ثانيا- كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أميّا لا يقرأ ولا يكتب، فليس لديه من الوسائل الكسبية ما يضبط ويحفظ به كل ما ينزل عليه إلا وسيلة التكرار والحفظ. فكان لا بدّ من نزول الآيات بتدرّج وخلال فترات متقطعة من الزمن حتى يكون السبيل إلى حفظه ووعيه أيسر. وعلى الرغم من ذلك فقد كان من عادته عليه الصلاة والسلام إذا نزلت عليه الآية من القرآن أن يأخذ في تكرارها ويستعجل في محاولة حفظها ويظل يحرّك لسانه بها خشية أن تتفلت من حفظه إلى أن نزل عليه قوله تعالى: لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ.

ثالثا- احتوى القرآن على متن الفقه الإسلامي كله، أي على عامة أحكامه في الجملة سواء ما يتعلق بالعبادات أو المعاملات المدنية أو الأحوال الشخصية أو العقوبات أو النظم الدستورية والمالية.

وكان العرب قبل الإسلام متفلتين عن كل قيد، لا يخضعون لقانون ولا يرتبطون بأي تنظيم، فكان من العسير عليهم أن ينتقلوا من تلك الحالة في طفرة مفاجأة، إلى التقيد بعامّة أحكام الإسلام ونظمه وقوانينه.

فمن أجل ذلك أخذهم القرآن في ذلك بالوسيلة التربوية التي لا بدّ منها، وهي وسيلة التدرّج في نقلهم من حياة الفوضى والتفلت، إلى حياة النظام والتقيد بالمعايير التي لا بدّ منها في المجتمع الصالح. فنزلت أولا الآيات المتعلقة بالعقيدة ودلائلها، حتى إذا آمن الناس وثابوا إلى عقيدة التوحيد، نزلت آيات الحلال والحرام وعامة الأحكام في مهل وتدرّج.

وفي ذلك يروي الإمام البخاري عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت:

إنما نزل أول ما نزل من القرآن سور من المفصل، فيها ذكر الجنة والنار، حتى إذا ثاب الناس إلى الإسلام نزل الحلال والحرام، ولو نزل أول شيء: لا تشربوا الخمر لقالوا: لا ندع الخمر أبدا، ولو نزل: لا تزنوا، لقالوا: لا لا ندع الزنا.
এই অর্থটিই কুরআন ‘তসবীত’ বা সুদৃঢ়করণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীতে ব্যক্ত করেছে: “এভাবেই (আমি নাযিল করেছি) যাতে এর মাধ্যমে আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি।”

দ্বিতীয়ত—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরক্ষর ছিলেন, তিনি পড়তে পারতেন না এবং লিখতেও পারতেন না। ফলে তাঁর নিকট যা নাযিল হতো তা আয়ত্ত ও সংরক্ষণ করার জন্য পুনরাবৃত্তি ও মুখস্থকরণ ব্যতীত অন্য কোনো অর্জিত উপায় ছিল না। তাই আয়াতগুলো পর্যায়ক্রমে এবং নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নাযিল হওয়া আবশ্যক ছিল, যাতে তা হেফজ ও অনুধাবন করা সহজতর হয়। তা সত্ত্বেও, তাঁর অভ্যাস ছিল যে, যখনই কুরআনের কোনো আয়াত নাযিল হতো, তিনি তা দ্রুত মুখস্থ করার প্রচেষ্টায় বারবার পাঠ করতে শুরু করতেন এবং অনবরত তাঁর জিহ্বা নাড়াতেন এই ভয়ে পাছে তা তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়, যতক্ষণ না আল্লাহর এই বাণী নাযিল হলো: “তাড়াহুড়ো করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর (ওহী) সাথে সঞ্চালিত করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।”

তৃতীয়ত—কুরআন সমগ্র ইসলামি ফিকহের মূল পাঠকে (متن) ধারণ করেছে, অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এর সাধারণ বিধিবিধানসমূহ, চাই তা ইবাদত সংক্রান্ত হোক অথবা দেওয়ানি লেনদেন, ব্যক্তিগত বিষয়াদি, দণ্ডবিধি কিংবা সাংবিধানিক ও আর্থিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত হোক।

ইসলাম-পূর্ব আরবরা ছিল সকল প্রকার বন্ধন থেকে মুক্ত; তারা কোনো আইনের অনুসারী ছিল না এবং কোনো সাংগঠনিক কাঠামোর সাথেও যুক্ত ছিল না। ফলে তাদের জন্য ওই অবস্থা থেকে আকস্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামের সাধারণ বিধিবিধান, ব্যবস্থা ও আইন-কানুনের অধীনে চলে আসা অত্যন্ত কঠিন ছিল।

এ কারণেই কুরআন তাদের ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্য শিক্ষামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যা হলো বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবন থেকে পর্যায়ক্রমে একটি সুশৃঙ্খল এবং আদর্শ সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড মেনে চলার জীবনে ফিরিয়ে আনা। তাই প্রথমে আকিদা ও এর প্রমাণাদি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে। অতঃপর যখন মানুষ ঈমান আনল এবং তাওহিদের আকিদাতে থিতু হলো, তখন ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে হালাল-হারাম ও সাধারণ বিধানাবলি অবতীর্ণ হলো।

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

“সর্বপ্রথম কুরআনের মুফাসসাল অংশের সূরাসমূহ নাযিল হয়েছে, যাতে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা ছিল। অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের দিকে ধাবিত হলো, তখন হালাল ও হারামের বিধান নাযিল হলো। যদি শুরুতে এই নির্দেশ নাযিল হতো যে—‘তোমরা মদ পান করো না’, তবে তারা বলত—‘আমরা কখনোই মদ বর্জন করব না’। আর যদি নাযিল হতো—‘তোমরা ব্যভিচার করো না’, তবে তারা বলত—‘না, আমরা কখনোই ব্যভিচার ত্যাগ করব না’।”
(খণ্ড: ১) মিন রাওয়ায়িইল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
رابعا- اقتضت حكمة الله تعالى أن تكون عامة أحكامه التي تضمنها كتابه المبين، جوابا عن أسئلة أو حلّا لمشكلات واقعة، حتى تكون أوقع في النفس وألصق بالحياة. وتلك وسيلة تربوية ظاهرة لا تحتاج إلى مزيد بيان لها.

وإنما سبيل ذلك أن تتدرج هذه الأحكام وآياتها في النزول تنتظر مناسباتها وظروفها.

ولذلك نجد أن الكثير من آي القرآن إنما نزل جوابا عن سؤال أو حلّا لإشكال، فمن الأول قوله تعالى:

وَيَسْئَلُونَكَ عَنِ الْيَتامى، قُلْ إِصْلاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ، وَإِنْ تُخالِطُوهُمْ فَإِخْوانُكُمْ …

وقوله تعالى: يَسْئَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً، فَاعْتَزِلُوا النِّساءَ فِي الْمَحِيضِ …

وقوله جل جلاله: يَسْئَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفالِ، قُلِ الْأَنْفالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ .. ومن الثاني قوله تعالى:

وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ، وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ.

وقوله تعالى: إِنَّا أَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِما أَراكَ اللَّهُ وَلا تَكُنْ لِلْخائِنِينَ خَصِيماً.

فقد نزل كلّ منها حلّا لمشكلة حدثت، ويطول بنا الحديث لو سردنا لك قصة كلّ منها.

خامسا- اقتضى التدرّج بالناس في التشريع أن يوجد ثمة ناسخ ومنسوخ، إذ ربّ حكم كانت المصلحة والرحمة بالناس تقتضي أخذهم به على مراحل، كتحريم الخمر مثلا، فقد اكتفى القرآن في أول الأمر ببيان أن أضراره أكثر من فائدته، وذلك في قوله تعالى: يَسْئَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ، قُلْ فِيهِما إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُما أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِما، حتى إذا استقرّ في النفوس
চতুর্থত- মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা এটিই দাবি করেছে যে, তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে অন্তর্ভুক্ত বিধানাবলি সাধারণত কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে অথবা বিদ্যমান কোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে অবতীর্ণ হবে, যাতে তা হৃদয়ে অধিক রেখাপাত করে এবং জীবনের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হয়। আর এটি একটি সুস্পষ্ট শিক্ষামূলক পদ্ধতি যার জন্য অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

আর এর পন্থা হলো এই যে, এই বিধানসমূহ এবং এর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখবে এবং উপযুক্ত প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির অপেক্ষা করবে।

এই কারণে আমরা দেখতে পাই যে, কুরআনের অনেক আয়াতই কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে অথবা কোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রথমটির উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী:

তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তাদের সংশোধন করে দেওয়া উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে থাকো, তবে তারা তোমাদেরই ভাই... …

এবং মহান আল্লাহর বাণী: তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো... …

এবং মহান আল্লাহর বাণী: তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের... দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী:

আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিশ্চয়ই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে সেই অনুযায়ী বিচার করতে পারেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন। আর আপনি বিশ্বাসভঙ্গকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হবেন না।

এগুলোর প্রতিটিই উদ্ভূত কোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, আর আমরা যদি এগুলোর প্রতিটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে যাই তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে।

পঞ্চমত- শরয়ি বিধান প্রণয়নে মানুষের প্রতি পর্যায়ক্রমিক ধারা অবলম্বন এটিই দাবি করে যে, সেখানে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিধান থাকবে। কারণ অনেক সময় এমন বিধান থাকে যা মানুষের প্রতি কল্যাণ ও দয়ার দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপে গ্রহণ করা আবশ্যক হয়; যেমন উদাহরণস্বরূপ মদ হারাম করা। কুরআন প্রথম দিকে কেবল এটুকু স্পষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল যে, এর ক্ষতি এর উপকারের চেয়ে বেশি। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে: তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য রয়েছে কিছু উপকারিতা, তবে এ দুটির পাপ এদের উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। এমনকি যখন এটি হৃদয়ে বদ্ধমূল হলো...