(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
من بلاغة القرآن   (أحمد أحمد بدوي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: من بلاغة القرآن

المؤلف: أحمد أحمد البدوي (ت 1384 هـ)

الناشر: نهضه مصر - القاهرة

عام النشر: 2005

عدد الصفحات: 304

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433

কুরআনের অলংকারশাস্ত্র থেকে   (আহমদ আহমদ বাদায়ি)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


বই: কুরআনের অলংকারশাস্ত্র থেকে

লেখক: আহমদ আহমদ আল-বাদায়ি (মৃত্যু ১৩৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: নাহদাতু মিসর - কায়রো

প্রকাশের সাল: ২০০৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহাররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الإهداء

إلى روح أبى …

أبى: قضيت عمرك الطاهر في خدمة كتاب الله، لا تمل قراءته، تفسره لتلاميذك في معهد الدرس، وتتدارسه مع صحبك في بيتك، وكثيرا ما كنت أشهد طرفا من ذلك منذ حداثتى، وكانت الغبطة تملؤنى كلما فهمت تفسير آية، أو أدركت جمال تعبير، أو أشركتنى في المناقشة، وسألتنى فأجبت، أو سألتك فشرحت ووضحت، ولم يكن عندك في عهدك الأخير ما يشغلك عن تلاوة القرآن وتفهم معانيه، فعساك ترضى عن هذا الجهد الذى أساهم به في الكشف عن بلاغة القرآن وإدراك سر إعجازه.

وإلى روحك الطاهرة في جنة الخلد، أهدى هذا الكتاب.
উৎসর্গ

আমার পিতার আত্মার প্রতি …

পিতা আমার: আপনি আপনার পবিত্র জীবন আল্লাহর কিতাবের সেবায় অতিবাহিত করেছেন; এর তিলাওয়াতে আপনি কখনো ক্লান্তিবোধ করতেন না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপনার ছাত্রদের নিকট এর ব্যাখ্যা করতেন এবং আপনার গৃহে আপনার বন্ধুদের সাথে এটি নিয়ে পর্যালোচনা করতেন। শৈশব থেকেই আমি প্রায়শই এই দৃশ্য অবলোকন করতাম। যখনই আমি কোনো আয়াতের তাফসির বুঝতে পারতাম, অথবা কোনো ভাষাশৈলীর সৌন্দর্য অনুধাবন করতাম, তখন হৃদয়ে এক অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করতাম। অথবা যখন আপনি আমাকে আলোচনায় অংশীদার করতেন, আমাকে প্রশ্ন করতেন আর আমি উত্তর দিতাম, কিংবা আমি আপনাকে প্রশ্ন করতাম আর আপনি তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতেন। আপনার জীবনের শেষ সময়ে কুরআন তিলাওয়াত ও তার অর্থ অনুধাবন করা ব্যতীত অন্য কোনো কাজ আপনাকে ব্যস্ত রাখতে পারেনি। আশা করি, কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র উন্মোচন এবং এর অলৌকিকত্বের রহস্য উদ্ঘাটনে আমার এই অবদানের প্রতি আপনি সন্তুষ্ট হবেন।

জান্নাতুল খুলদে আপনার পবিত্র আত্মার প্রতি আমি এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرّحمن الرّحيم وبه نستعين

 

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، والصلاة والسلام على رسوله النبى الأمىّ الذى يؤمن بالله وكلماته.

وبعد: فإن دراسة النص الأدبى دراسة كاملة تتطلب الوقوف عند لبناته الأولى التى هى المفردات، لتبين مدى الإصابة في اختيارها، ومدى تمكنها في موضعها من جملتها، وقوة ربطها بأخواتها، وقديما قال القدماء وأصابوا: إن لكل كلمة مع صاحبتها مقاما.

فإذا ما درست المفردات هذه الدراسة الفنية، درست الجملة في النص، لإدراك سر قوتها وجمالها، وهنا المجال فسيح أمام علوم البلاغة الاصطلاحية، التى تدرس أسباب الجمال في تكوين الجملة العربية، فتبحث لم قدّم هذا الجزء من الجملة، ولم أخر ذاك، ولماذا حذف هنا، وأثبت هناك، ولم جاء هنا التعريف، وهناك التنكير، ولم استخدم الخبر في موضع الإنشاء، ولم عبر هنا بالمجاز، وكيف جمل هنا التشبيه، وراق في هذا الموضع الجناس، إلى غير ذلك من أبحاث تتصل بالجملة والجملتين.

ونمضى بعدئذ إلى دراسة النص برمته، ننظر إليه وحدة متصلة الأجزاء، فنرى مدى ارتباط بعضه ببعض، ومدى تضافر أجزائه على رسم الصورة التى يريد النص توضيحها، ومدى الإصابة في ترتيب هذه الأجزاء، كى يؤدى سابقها إلى لاحقها، حتى إذا تم النص صارت فكرته واضحة في النفس، جلية مؤثرة.

ولا بدّ من دراسة المعانى التى حواها النص، لمعرفة القوى منها والضعيف، وما له دخل في تكوين الصورة وما هو دخيل، وكيف نضّدت هذه المعانى ونسقت، حتى التأمت وحدة تنبض بالحياة.

لا نقف إذا من دراسة النص عند حد التأمل فيما أودعه من تناسق لفظى، أو جمال في الأسلوب، ولكن لا بدّ من دراسة ما بين اللفظ والمعنى من تآخ وتناسب، ودراسة ما اختير من المعانى، لمعرفة مدى تأثيرها في الفكر، وإثارتها للوجدان، فإن النفس الإنسانية تنقاد بهما، وتخضع لهما.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের প্রতি, যিনি এমন এক উম্মি নবী যিনি আল্লাহ এবং তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন।

অতঃপর: একটি সাহিত্যিক পাঠের পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়নের জন্য এর প্রাথমিক ভিত্তিপ্রস্তরসমূহের ওপর গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক, যা হলো শব্দাবলি; যাতে শব্দ চয়নের যথার্থতা, বাক্যের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে শব্দের যথাযথ অবস্থান এবং এর সহযোগী শব্দগুলোর সাথে সম্পর্কের দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়। প্রাচীন পণ্ডিতগণ যথার্থই বলেছেন: প্রতিটি শব্দেরই তার সহচর শব্দের সাথে একটি বিশেষ অবস্থান বা গুরুত্ব রয়েছে।

যখন শব্দাবলিকে এই শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করা হয়, তখন পাঠের অন্তর্গত বাক্যসমূহকে এর শক্তি ও সৌন্দর্যের রহস্য উপলব্ধির জন্য পাঠ করা হয়। এখানেই পারিভাষিক অলঙ্কারশাস্ত্রের এক বিশাল ক্ষেত্র উম্মোচিত হয়, যা আরবি বাক্য গঠনের সৌন্দর্যের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। এটি অনুসন্ধান করে যে, কেন বাক্যের এই অংশটিকে আগে আনা হলো এবং কেন অন্যটিকে পিছিয়ে দেওয়া হলো; কেন এখানে কোনো অংশ উহ্য রাখা হলো এবং কেন অন্য জায়গায় তা প্রকাশ করা হলো; কেন এখানে নির্দিষ্টকরণ এবং অন্যখানে অনির্দিষ্টকরণ করা হলো; কেন বর্ণনামূলক বাক্যকে সৃষ্টিশীল বা অনুজ্ঞামূলক বাক্যের স্থলে ব্যবহার করা হলো; কেন এখানে রূপক প্রয়োগ করা হলো; কেন এখানে উপমা সুন্দর রূপ লাভ করল এবং শব্দালঙ্কার কত মনোরম হলো—এ ছাড়াও বাক্য ও বাক্যসমষ্টি সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াদি এখানে আলোচিত হয়।

এরপর আমরা সমগ্র পাঠটি অধ্যয়ন করি এবং একে একটি অবিচ্ছেদ্য একক হিসেবে বিবেচনা করি। আমরা দেখি এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে কতটা গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং পাঠটি যে চিত্রটি তুলে ধরতে চায়, তা ফুটিয়ে তুলতে এর বিভিন্ন অংশ কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। অংশগুলোর বিন্যাস কতটা নিখুঁত, যাতে পূর্ববর্তী অংশ পরবর্তী অংশের দিকে ধাবিত করে; ফলে যখন পাঠটি সমাপ্ত হয়, তখন এর মূল ভাবনা মনের মাঝে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

পাঠটির অন্তর্নিহিত অর্থসমূহও অধ্যয়ন করা আবশ্যক, যাতে এর শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা যায়; কোনটি চিত্রায়ণে ভূমিকা রাখে আর কোনটি অনাবশ্যক, এবং কীভাবে এই অর্থসমূহ বিন্যস্ত ও সুসংগঠিত করা হয়েছে যাতে তা একটি প্রাণবন্ত এককে পরিণত হয়।

অতএব, পাঠ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমরা কেবল এর শব্দগত সামঞ্জস্য বা শৈল্পিক সৌন্দর্যের ওপর চিন্তাভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না; বরং শব্দ ও অর্থের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও সামঞ্জস্য নিয়ে অধ্যয়ন করা জরুরি। পাশাপাশি নির্বাচিত অর্থগুলোও বিশ্লেষণ করতে হবে, যাতে চিন্তার জগতে তাদের প্রভাবের মাত্রা এবং আবেগ-অনুভূতিকে জাগ্রত করার ক্ষমতা অনুধাবন করা যায়; কারণ মানুষের মন এই দুটির মাধ্যমেই পরিচালিত ও বশীভূত হয়।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
والقرآن الكريم أمة وحده في البلاغة العربية، فأردت أن أتبين بعض أسرار سموه، عساى أدرك سبب ما كان له من تأثير في النفوس، وسلطان على القلوب، وقد سرت في دراستى على هذا المنهج الذى تحدثت عنه؛ فقسمت البحث كتابين، خصصت الكتاب الأول منهما بدراسة البلاغة في اللفظ والأسلوب، وخصصت الثانى بدراسة المعانى، فبدأت بمقدمات تمهيدية تحدد معنى الأدب، وتبين ميدان عمله في النفس الإنسانية، وكيف نقرؤه قراءة صحيحة نافعة مؤثرة، وتدرس العلوم التى يحتاج إليها الأديب منتجا أو ناقدا، وتشرح المنهج الأدبى فى القرآن، وتعرض وجوه إعجازه، لبيان الرأى الذى نختاره من بينها، ثم عقدت فصلا لدراسة اللفظة المفردة في القرآن، تناولت فيه كيف تخيرت هذه الألفاظ تخيرا دقيقا، لتدل على معانيها في دقة وإحكام، وكيف تقع الفاصلة من الآية موقع الجزء الذى به تمام المعنى ووفاؤه، وحددت معنى الغريب والزائد وما في استخدامهما واستخدام المعرب من ألوان البلاغة، وفي الفصل الثانى طبقت تطبيقا فنيّا ما وعته علوم البلاغة الثلاثة، متجنبا كل التجنب المناقشات الفلسفية، البعيدة عن روح البلاغة، والتى كانت سببا في وأد الروح الفنى حينا طويلا من الزمن، وتحدثت في الفصل الثالث عن السورة، لتبين منهجها ومدى وحدتها، محللا بعض السور، كى تتضح الفكرة وتنجلى، وختمت الكتاب الأول بفصل عن دراسة أسلوب القرآن، أتبين ما أستطيع أن أتبينه من خصائص هذا الأسلوب، وإنى أقرر أن مثل هذه الدراسة تحتاج إلى المعاودة مرة أخرى، لتعرف ألوان الأساليب القرآنية وتصنيف هذه الألوان، تبعا للمعانى التى تناولتها، لمعرفة خصائص كل لون على حدة، فيدرس مثلا أسلوب السور المدنية، وأسلوب الأحكام، وأسلوب القصص، وأسلوب الوصف، وهكذا، ويوازن بين كل نوع وصاحبه، ومثل هذه الدراسة المجدية تحتاج إلى إنعام نظر، وصبر، وأناة، وطول وقت، مما أرجو أن يوفقنى الله إليه في القريب إن شاء الله.

وخصصت الكتاب الثانى بدراسة بعض المعانى القرآنية، فدرست كيف تناول القرآن هذه المعانى؟ وما الذى عنى به من بين عناصرها؟ وكيف تناول هذه العناصر؟ ليؤثر في النفس الإنسانية، ولم كان هذا التأثير خالدا؟.

والله المسئول أن يوفقنا إلى الصواب، وأن يهدينا سواء السبيل.

حلوان الحمامات في:

4 صفر سنة 1370

14 نوفمبر سنة 1950
পবিত্র কুরআন আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে নিজেই একটি স্বতন্ত্র সত্তা। তাই আমি এর উচ্চমার্গের কিছু রহস্য উন্মোচন করতে চেয়েছি, যেন আমি মানুষের মনে এর প্রভাব ও অন্তরে এর কর্তৃত্বের কারণ উপলব্ধি করতে পারি। আমি আমার গবেষণায় সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি যার কথা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি; তাই আমি গবেষণাকর্মটিকে দু’টি গ্রন্থে বিভক্ত করেছি। প্রথম গ্রন্থটিকে আমি শব্দ ও শৈলীর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং দ্বিতীয়টিকে অর্থের পর্যালোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি। আমি কিছু প্রারম্ভিক ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছি যা সাহিত্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে এবং মানবাত্মায় এর কর্মক্ষেত্র স্পষ্ট করে; কীভাবে আমরা সাহিত্যকে সঠিকভাবে, ফলপ্রসূ ও প্রভাববিস্তারকারী পন্থায় পাঠ করতে পারি তাও এতে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এটি সেই সকল শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করে যা একজন সাহিত্যিকের জন্য—তিনি স্রষ্টা হোন বা সমালোচক—প্রয়োজনীয়। এই অংশটি কুরআনের সাহিত্যিক পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে এবং এর অলৌকিকত্বের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করে, যেন সেগুলোর মধ্য থেকে আমাদের মনোনীত অভিমতটি স্পষ্ট করা যায়। অতঃপর আমি কুরআনের একক শব্দাবলি পর্যালোচনার জন্য একটি অধ্যায় বরাদ্দ করেছি, যেখানে আমি আলোচনা করেছি কীভাবে এই শব্দগুলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যাতে তা নিখুঁত ও সুসংহতভাবে নিজ নিজ অর্থ প্রকাশ করে; আর কীভাবে আয়াতের অন্ত্যমিল (ফাসিলা) আয়াতের এমন একটি স্থানে অবস্থান করে যা অর্থের পূর্ণতা ও সার্থকতা বিধানের জন্য অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া আমি বিরল শব্দ (গারীব), অতিরিক্ত শব্দ এবং আরবিকৃত (মু'আররাব) শব্দের অর্থ এবং সেগুলোর ব্যবহারের মধ্যে নিহিত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বৈচিত্র্যসমূহ চিহ্নিত করেছি। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখার জ্ঞানকে শৈল্পিকভাবে প্রয়োগ করেছি, যেখানে আমি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল চেতনা থেকে দূরে অবস্থিত সেই সকল দার্শনিক আলোচনা পুরোপুরি পরিহার করেছি, যা দীর্ঘকাল ধরে শৈল্পিক সত্তাকে শ্বাসরোধ করে মারার কারণ ছিল। তৃতীয় অধ্যায়ে আমি সূরা সম্পর্কে আলোচনা করেছি যাতে এর পদ্ধতি ও ঐক্যের মাত্রা স্পষ্ট হয়; এখানে আমি কিছু সূরার বিশ্লেষণ করেছি যাতে মূল ধারণাটি পরিস্ফুট ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমি প্রথম গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছি কুরআনের শৈলী পর্যালোচনার একটি অধ্যায় দিয়ে, যেখানে আমি এই শৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহের যতটুকু সম্ভব তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি যে, এ ধরণের গবেষণার পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন যাতে কুরআনিক শৈলীর বৈচিত্র্যগুলো চেনা যায় এবং আলোচিত বিষয়বস্তু অনুযায়ী এই বৈচিত্র্যগুলোর শ্রেণিবিভাগ করা যায়, যেন প্রতিটি শৈলীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আলাদাভাবে জানা সম্ভব হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাদানী সূরাসমূহের শৈলী, বিধানের শৈলী, কাহিনীর শৈলী, বর্ণনার শৈলী ইত্যাদি পৃথকভাবে অধ্যয়ন করা এবং প্রতিটি প্রকারের সাথে অপরটির তুলনা করা প্রয়োজন। এই ধরণের ফলপ্রসূ গবেষণার জন্য গভীর দৃষ্টিপাত, ধৈর্য, স্থৈর্য এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন; আমি আশা করি আল্লাহ শীঘ্রই আমাকে এর তাওফীক দান করবেন, ইনশাআল্লাহ।

আর দ্বিতীয় গ্রন্থটি আমি কুরআনের কিছু অর্থের পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। সেখানে আমি গবেষণা করেছি যে, কুরআন কীভাবে এই অর্থগুলোকে উপস্থাপন করেছে? এর উপাদানগুলোর মধ্য থেকে কোনটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে? এবং মানবাত্মায় প্রভাব বিস্তারের জন্য কীভাবে এই উপাদানগুলোকে ব্যবহার করেছে? আর কেনই বা এই প্রভাব চিরন্তন হয়েছে?

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের সঠিক কাজের তাওফীক দান করেন এবং আমাদের সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

হেলওয়ান আল-হাম্মামাত:

৪ সফর, ১৩৭০ হিজরি

১৪ নভেম্বর, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الكتاب الأول
প্রথম কিতাব
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدّمات تمهيدية:

‌‌العمل الأدبى

يقف الأديب عند سرير جندى جريح، عائد من ميدان القتال، فيثير فيه منظره معانى شتى، للبطولة والتضحية، أو يدخل مصنعا، قد انصرف فيه كل عامل إلى آلته، ومضت الآلات في عملها تنتج مسرعة، فيوحى إليه ما يراه، بخواطر عن الدأب، والنظام، والتقدم، ويحاول أن يسجل إحساسه إزاء ما رأى وأن ينقل هذا الإحساس إلى غيره، فينشئ مقالة، أو يقرض قصيدة، أو يؤلف قصة أو رواية، ويغضب الخطيب لأمر، فيحاول نقل غضبه في خطبة إلى سامعيه، ويختار لذلك ألفاظه وأساليبه، بحيث تنقل إحساسه نقلا صادقا غير منقوص.

هذه المقالة، أو القصيدة، أو القصة، أو الرواية، أو الخطبة، هى العمل الأدبى فهى الصلة بين الأديب والسامع أو القارئ، وبها انتقل إحساس الأول إلى الثانى.

ونستطيع أن نعرّف العمل الأدبى بأنه «التعبير عن تجربة للأديب بألفاظ موحية» والتعبير بالألفاظ، هو الذى يميز الأدب من باقى الفنون الجميلة؛ لأن الأدب يعبّر باللفظ، بينما تعبر الموسيقى بالصوت، والرسم باللون، والنحت بالحجارة.

ونعنى بالتجربة كل ما جربه الأديب، ومر بنفسه من شعور، سواء أكان حقيقيّا أم متخيلا، فقد تكون حادثة صادفت المنشئ في حياته، أو صادفت غيره، وقد تكون قصة سمع بها، أو منظرا رآه، أو فكرة عرضت له، أو وهما مر بخياله، ومن هنا كان كل شىء في الحياة صالحا لأن يكون مادة للأديب، يتخذ منها صورا لبيانه، على شريطة أن يكون قد امتزج بشعوره، وملك عليه جوانب نفسه، ودفعه إلى الكلام، ولهذا وجب أن يكون في التجربة أمر غير عادى مألوف، وأن تكون ذات قوة ممتازة، وشدة خاصة؛ حتى تبعث في الأديب القوة الضرورية، لمجهود أدبى، يستطيع به أن يصف التجربة، فى صدق ودقة، وإتقان وبراعة، وبذلك يستطيع أن يبعثها مرة أخرى في نفوس قارئيه، أو سامعيه.

هذا، وإن الحقائق العلمية قد يمزج بها الأديب إحساسه، وينقلها بهذه الصورة إلى القارئ، فتصبح عملا أدبيّا رائعا.
ভূমিকা স্বরূপ উপক্রমণিকা:

‌‌সাহিত্যকর্ম

একজন সাহিত্যিক রণক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা একজন আহত সৈনিকের শয্যাপাশে দাঁড়ান, তখন সেই দৃশ্যটি তাঁর মাঝে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের নানাবিধ অর্থ জাগ্রত করে। অথবা তিনি কোনো কারখানায় প্রবেশ করেন, যেখানে প্রত্যেক শ্রমিক তার নিজ নিজ যন্ত্রে নিবিষ্ট এবং যন্ত্রগুলো দ্রুত উৎপাদনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছে; তখন তিনি যা দেখেন তা তাঁর মাঝে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও প্রগতি সম্পর্কে নানা চিন্তার উদ্রেক করে। তিনি যা দেখেছেন সে সম্পর্কে তাঁর অনুভূতিকে ধরে রাখতে এবং সেই অনুভূতি অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেন; ফলে তিনি একটি প্রবন্ধ রচনা করেন, অথবা একটি কবিতা লিখেন, কিংবা কোনো গল্প বা উপন্যাস সৃষ্টি করেন। আবার একজন বাগ্মী কোনো বিষয়ে রাগান্বিত হন, তখন তিনি তাঁর সেই ক্রোধ তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এজন্য তিনি এমন সব শব্দ ও শৈলী নির্বাচন করেন যাতে তাঁর অনুভূতি কোনো প্রকার ঘাটতি ছাড়াই যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।

এই প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, উপন্যাস বা ভাষণই হলো সাহিত্যকর্ম। এটিই সাহিত্যিক এবং শ্রোতা বা পাঠকের মধ্যকার যোগসূত্র, যার মাধ্যমে প্রথম ব্যক্তির অনুভূতি দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে সঞ্চারিত হয়।

আমরা সাহিত্যকর্মকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি যে, এটি হলো— «ব্যঞ্জনাময় শব্দের মাধ্যমে সাহিত্যিকের কোনো অভিজ্ঞতার প্রকাশ»। শব্দের মাধ্যমে প্রকাশই হলো সেই বৈশিষ্ট্য যা সাহিত্যকে অন্যান্য ললিতকলা থেকে পৃথক করে; কারণ সাহিত্য শব্দের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে, যেখানে সংগীত সুরের মাধ্যমে, চিত্রকর্ম রঙের মাধ্যমে এবং ভাস্কর্য পাথরের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

অভিজ্ঞতা বলতে আমরা সাহিত্যিকের অভিজ্ঞতালব্ধ সবকিছু এবং তাঁর মনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সকল অনুভূতিকে বোঝাই, চাই তা বাস্তব হোক বা কাল্পনিক। এটি হতে পারে স্রষ্টার জীবনে ঘটা কোনো ঘটনা, অথবা অন্যের জীবনে ঘটা কিছু; এটি হতে পারে তাঁর শোনা কোনো গল্প, দেখা কোনো দৃশ্য, মনে উদিত কোনো চিন্তা অথবা কল্পনাপ্রসূত কোনো ধারণা। এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, জীবনের প্রতিটি জিনিসই সাহিত্যিকের জন্য উপাদানে পরিণত হওয়ার যোগ্য, যা থেকে তিনি তাঁর বর্ণনার চিত্র গ্রহণ করেন; শর্ত হলো তা যেন তাঁর অনুভূতির সাথে মিশে যায়, তাঁর সত্তাকে আচ্ছন্ন করে এবং তাঁকে কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে। এই কারণেই অভিজ্ঞতার মাঝে সাধারণ ও পরিচিত বিষয়ের ঊর্ধ্বে বিশেষ কিছু থাকা আবশ্যক এবং তা হতে হবে বিশেষ শক্তি ও তীব্রতা সম্পন্ন; যেন তা সাহিত্যিকের মধ্যে সাহিত্যিক প্রচেষ্টার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চার করে, যার মাধ্যমে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে সততা, নির্ভুলতা, নিপুণতা ও মুন্সিয়ানার সাথে বর্ণনা করতে সক্ষম হন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাঁর পাঠক বা শ্রোতাদের মনে সেই অভিজ্ঞতাকে পুনরায় জাগ্রত করতে পারেন।

তাছাড়া, বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথেও সাহিত্যিক তাঁর অনুভূতি মিশ্রিত করতে পারেন এবং পাঠকের কাছে তা এই রূপে উপস্থাপন করতে পারেন, যার ফলে সেটি একটি চমৎকার সাহিত্যকর্মে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
إن التجربة لا تكون بسيطة أبدا، بل لا بدّ أن تكون مكونة مما تحمله الحواس إلى الفكر، ومما يأتى به الفكر نفسه من معان، يدعو بعضها بعضا؛ فالواقف أمام نهر النيل مثلا، لا تنقل إليه حواسه لون مائه، وحركة موجه، وما على جانبيه من حقول فحسب، بل تنقل إليه أيضا رقة النسيم، ولون السماء، وما قد يكون فيها من سحاب، وهو يضيف إلى ذلك إحساسات أخرى، ولدها خياله، كموازنة هدوئه بالبحر وثورانه، وقد يطوف هذا الخيال بينابيعه، وبالشعوب التى تعيش على ضفافه، أو يعود متوغلا في القدم، فيذكر ما قام على شاطئيه من حضارة ومدنية، فإذا كانت تلك اللحظة الشعورية قوية، تتطلب التعبير عنها، فإن الأديب يستخلصها من بين ما يمر به من التجارب، ويحتفظ بها في نفسه، وكلما احتفظ بها ازدادت غنى، بما ينضم إليها من ألوان الإحساس، وبتداعى المعانى، فإذا أراد أن ينقل تجربته إلى غيره، وجب أن ينقلها كاملة، فلا نكتفى منه بأن يصور لنا المنظر الذى رآه، أو يذكر الإحساس الذى خالطه عند ما رآه، بل يجب أن يؤدى تجربته كاملة الأجزاء، لما شاهده وما أحسه معا، مرتبطين ارتباطا وثيقا، حتى يحس بها القارئ إحساسا كاملا وتنتقل إلى شعوره، فيتخيلها كما أدركها منشئها، وبمثل هذا التناول يخلد الأديب لحظة من لحظات شعور مرت به في حياته.

إن في الإنتاج الأدبى لعملا إراديّا للأديب، ذلك أنه يتناول تجربته، وهى مكونة من أجزاء، فيرتبها ترتيبا منسقا، ثم يأخذ في إيضاح سلسلة خواطره، واحدا واحدا، على أن يكون لكل خاطر منها دخل في تصوير التجربة وإكمالها، فيكون له وجود من أجل نفسه، ووجود من أجل الكل الذى هو جزء منه، وبجمع هذه الأجزاء، تصير التجربة وحدة متسقة، وكلا موحدا، يتصل كل جزء فيها بسائر الأجزاء، أما إذا كان بعض الأجزاء لا دخل له في تكوين الصورة، ولكنه جاء بطريق الاستطراد، أو لم تكن التجربة مسلسلة الخواطر، يرتبط بعضها ببعض، فإنها تنقل إلى السامع مشوهة، لا صلة بين أجزائها ولا اتساق، وهاك تجربة لقتيلة بنت الحارث، وقد أخذت تعاتب الرسول، لقتله أخاها النضر، برغم قرابته له، واتصاله بنسبه:

أمحمد يا خير ضنء (1) كريمة … فى قومها، والفحل فحل معرق

ما كان ضرك لو مننت، وربما … منّ الفتى، وهو المغيظ، المحنق

والنضر أقرب من أصبت وسيلة … وأحقهم، إن كان عتق، يعتق

ظلت سيوف بنى أبيه تنوشه … لله أرحام هناك، تشقق

--------------------------------------------

(1) الضنء بالفتح الولد ويكسر.
অভিজ্ঞতা কখনোই সরল হয় না, বরং এটি অবশ্যই ইন্দ্রিয়সমূহ থেকে চিন্তায় যা বাহিত হয় এবং চিন্তা নিজে থেকে যে অর্থসমূহ আনয়ন করে তার সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে, যেখানে একটি অংশ অপরটিকে আহ্বান করে। উদাহরণস্বরূপ, নীল নদের সামনে দণ্ডায়মান কোনো ব্যক্তির ইন্দ্রিয়সমূহ কেবল তার পানির বর্ণ, ঢেউয়ের গতি এবং দুই তীরের শস্যক্ষেত্রের সংবাদই তার কাছে পৌঁছে দেয় না, বরং তা তার কাছে মৃদু বাতাসের স্নিগ্ধতা, আকাশের রঙ এবং তাতে থাকতে পারা মেঘমালাকেও পৌঁছে দেয়। সে এর সাথে তার কল্পনাপ্রসূত অন্যান্য অনুভূতিকেও যোগ করে, যেমন সমুদ্রের সাথে তার নিস্তব্ধতা ও উত্তালতার তুলনা করা। এই কল্পনা তাকে তার উৎসমূল এবং তার তীরে বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠীর কাছে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, অথবা সুদূর অতীতে বিচরণ করে তার দুই তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা ও নগরায়ণের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। সুতরাং যখন সেই অনুভূতিমূলক মুহূর্তটি প্রবল হয় এবং তা প্রকাশের দাবি রাখে, তখন সাহিত্যিক তার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত অভিজ্ঞতাসমূহের মধ্য থেকে একে নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তা নিজের অন্তরে সংরক্ষণ করেন। তিনি একে যত বেশি সংরক্ষণ করেন, অনুভূতির বিচিত্র রঙ এবং অর্থের পরম্পরা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তা তত বেশি সমৃদ্ধ হয়। অতঃপর তিনি যখন তার এই অভিজ্ঞতা অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে চান, তখন তা পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দেওয়া আবশ্যক। আমরা কেবল তার দেখা দৃশ্যের চিত্রায়ণে বা তা দেখার সময় তার মনে উদিত অনুভূতির উল্লেখে সন্তুষ্ট হব না, বরং তাকে তার অভিজ্ঞতার সকল অংশ—যা তিনি দেখেছেন এবং যা তিনি অনুভব করেছেন উভয়টি একত্রে—দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পাঠক তা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুভব করতে পারে এবং তা তার চেতনায় স্থানান্তরিত হয়, ফলে সে একে সেভাবেই কল্পনা করতে পারে যেভাবে এর স্রষ্টা উপলব্ধি করেছিলেন। এই ধরনের উপস্থাপনার মাধ্যমেই সাহিত্যিক তার জীবনে অতিক্রান্ত একটি অনুভূতিমূলক মুহূর্তকে অমর করে রাখেন।

সাহিত্যিক সৃষ্টিতে সাহিত্যিকের একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম বিদ্যমান থাকে, আর তা হলো তিনি তার অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেন—যা বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে গঠিত—অতঃপর সেগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করেন। এরপর তিনি তার চিন্তা-পরম্পরাকে একে একে স্পষ্ট করতে শুরু করেন, তবে শর্ত হলো প্রতিটি চিন্তার অভিজ্ঞতা চিত্রায়িত ও পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা থাকতে হবে। ফলে প্রতিটি অংশের একটি নিজস্ব অস্তিত্ব থাকে এবং সেই সাথে সেই সমগ্রের স্বার্থে একটি অস্তিত্ব থাকে যার সে একটি অংশ। এই অংশগুলোর সমন্বয়ে অভিজ্ঞতাটি একটি সুসংগত একক এবং একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তায় পরিণত হয়, যেখানে প্রতিটি অংশ অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু যদি কোনো অংশের চিত্রায়নে কোনো ভূমিকা না থাকে বরং তা অবান্তর প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে, অথবা যদি অভিজ্ঞতার চিন্তা-পরম্পরা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এবং একটি অন্যটির সাথে সম্পর্কযুক্ত না হয়, তবে তা শ্রোতার কাছে বিকৃতভাবে পৌঁছায়, যার অংশগুলোর মধ্যে কোনো সংযোগ বা সামঞ্জস্য থাকে না। এই যে কাতীলা বিনতে হারিসের একটি অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি রাসূলের প্রতি অনুযোগ করছিলেন, তাঁর ভাই নযরকে হত্যা করার কারণে, যদিও তাঁর সাথে রাসূলের আত্মীয়তা ও বংশীয় সম্পর্ক ছিল:

হে মুহাম্মদ, হে স্বীয় সম্প্রদায়ের এক মহৎ নারীর শ্রেষ্ঠ সন্তান … এবং পিতাও এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় বীর

আপনার কী ক্ষতি হতো যদি আপনি অনুগ্রহ করতেন? আর যুবক তো … রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধ অবস্থায়ও কখনো কখনো অনুগ্রহ করে থাকে

আর নযর আপনার নিকট পৌঁছানো ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মীয়তার দিক থেকে নিকটতম ছিল … এবং যদি কাউকে মুক্তি দিতে হতো, তবে সে-ই মুক্তির অধিক হকদার ছিল

তার পৈতৃক বংশের তলোয়ারগুলো তাকে আঘাত করতে থাকল … আল্লাহর দোহাই! সেখানে এমন রক্তসম্পর্ক ছিল যা ছিন্ন করা হচ্ছে

--------------------------------------------

(১) 'আয-যন' (য-এর উপর ফাতহাহ যোগে) অর্থ সন্তান, এবং এটি কাসরাহ যোগেও পড়া হয়।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
فقد بدأت حديثها معه تناديه باسمه، نداء القريب، الذى لا كلفة بينك وبينه، مشعرة إياه بشدة الصلة بينهما، حتى لكأنها توحى إليه، بأن هذه القرابة القريبة ما كانت تنتظر على يده هذا المصير، ثم انتبهت إلى مكانة الرسول في قومه، فنادته واصفة بما يتفق مع هذه المكانة، وكأن قلب الأم، الذى في كل أنثى، دفعها إلى أن تصفه بأنه خير ابن، لأم كريمة في قومها، وأب عريق في الشرف، حتى إذا انتهت من استرعاء سمعه، بهذا النداء، أخذت تسأله سؤال الموجع، الموقن بأن حكم القضاء قد تم، ولا سبيل إلى

استرجاعه، فاستخدمت لذلك هذا الاستفهام الحزين، الموحى بأنه لم يكن ثمة خطر في إطلاقه، فضلا عما في هذا الإطلاق، من مكرمة المن. وأتت بكلمة «لو» المشعرة بالأسف، لدلالتها على امتناع وجود الفعل، وما كان أدق ذوقها في اختيار كلمة «ربما» الدالة على حسن الأدب، والتماسها العذر للرسول، وتلميحها إلى ما في العفو، برغم الغيظ والحنق، من مثل أعلى، جدير بالاقتداء، حتى إذا انتهت من ذلك، لمست من الرسول صلى الله عليه وسلم موضع العطف، فذكّرته بقربه منه، واستحقاقه أن يظفر برعايته، ثم انتقلت من ذلك إلى تصوير هذا القريب، الجدير بالود، أو بالمنّ، والعتق- هدفا لسيوف أقربائه، تتناوله بأطرافها، فتمزق بتمزيق أديمه، القرابة وتقطع أواصرها.

وهكذا، كان كل جزء له أثره، فى نقل هذه التجربة التى ملكت نفس قتيلة، ونجحت في إيصال ألمها للسامع، حتى روى أن الرسول بكى، وقال: لو سمعتها قبل اليوم ما قتلته.

نستطيع أن نسمى التجربة التى تسيطر على الأديب، وتدفعه إلى التعبير عنها بالإلهام، وكلما عظم هذا الإلهام، احتاج إلى قوة كبيرة، تستطيع التعبير عنه تعبيرا يمثله تمثيلا صادقا، ولذا كان كبار الأدباء ذوى سلطان على اللغة، وقدرة قديرة على التعبير، فاستطاعوا أن ينقلوا إلينا من التجارب أعظمها وأسماها.

وإن لدى الأديب إحساسا لغويّا ممتازا، يستطيع به أن يختار من الألفاظ ما هو قوى في تصويره، واضح في دلالته على مراده، ويدرك ما تستطيع الألفاظ أن توحى به إلى القارئ، وإن للألفاظ لوحيا يشع منها، فيملأ النفس شعورا، ويثير الوجدان، ويحرك العاطفة، ذلك أن الألفاظ قد تراكم حولها بمضى الزمن والاستعمال، معان أخرى، أكثر من هذه المعانى التى نجدها لها في القاموس، فليس ما بين يدينا من معانى الألفاظ في المعاجم، سوى هذه المعانى المتبلورة، والأديب البليغ هو من يستنفد ما للألفاظ من معان، أضفاها عليها الزمن، فتثير
তিনি তাঁর আলাপ শুরু করেছিলেন তাঁকে তাঁর নাম ধরে ডাকার মাধ্যমে, যা ছিল এক নিবিড় আত্মীয়তাসুলভ সম্বোধন, যাতে কোনো প্রকার কুণ্ঠা বা আনুষ্ঠানিকতা থাকে না। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাদের মধ্যকার সুগভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন, যেন তিনি তাঁকে এই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে, এই নিকটাত্মীয়ের হাতে এমন পরিণতি তাঁর কাম্য ছিল না। অতঃপর তিনি স্বজাতির মাঝে রাসূলের সুউচ্চ মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করলেন এবং তাঁর সেই মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ বিশেষণে তাঁকে ভূষিত করলেন। যেন প্রতিটি নারীর মাঝে বিদ্যমান মাতৃত্বসুলভ হৃদয় তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল তাঁকে একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অভিহিত করতে, যিনি তাঁর স্বগোত্রের এক মহীয়সী মাতা এবং আভিজাত্যপূর্ণ উচ্চবংশীয় পিতার সন্তান। যখন তিনি এই সম্বোধনের মাধ্যমে তাঁর মনোযোগ আকর্ষণে সমর্থ হলেন, তখন তিনি তাঁকে একজন ব্যথিত মানুষের ন্যায় প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, যে দৃঢ়ভাবে জানে যে নিয়তির লিখন সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং তা আর

ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় নেই। এই উদ্দেশ্যে তিনি এমন এক বিষাদগ্রস্ত জিজ্ঞাসার আশ্রয় নিলেন, যা এই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার মধ্যে কোনো বিপদের আশঙ্কা ছিল না, অধিকন্তু সেই মুক্তির মাঝে নিহিত ছিল অনুগ্রহের মহানুভবতা। তিনি আক্ষেপ প্রকাশের জন্য ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা কোনো কাজ সংঘটিত না হওয়ার গভীর আক্ষেপকে নির্দেশ করে। ‘হয়তো’ শব্দটি চয়নের ক্ষেত্রে তাঁর রুচিবোধ ছিল অত্যন্ত চমৎকার, যা তাঁর শিষ্টাচারের পরিচায়ক এবং রাসূলের জন্য ওজর বা অজুহাত অন্বেষণের বহিঃপ্রকাশ। সেই সাথে ক্রোধ ও আক্রোশ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়ার যে সুমহান আদর্শ অনুসরণের যোগ্য, তিনি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এভাবে কথা শেষ করার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়ার উদ্রেক করলেন এবং তাঁর সাথে নিজের আত্মীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যক্ত করলেন যে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ লাভের কতটা যোগ্য ছিলেন। অতঃপর তিনি এই নিকটাত্মীয়ের—যে ছিল ভালোবাসা, মহানুভবতা ও মুক্তির যোগ্য—একটি করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুললেন যে, সে ছিল তার আপনজনদের তরবারির লক্ষ্যবস্তু, যা তার দেহকে ছিন্নভিন্ন করার মাধ্যমে মূলত আত্মীয়তার বন্ধনকেই উপড়ে ফেলছিল এবং ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল।

এভাবেই প্রতিটি অংশ সেই অনুভূতি সঞ্চারের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করেছিল যা কুতায়লার আত্মাকে আবিষ্ট করে রেখেছিল এবং শ্রোতার কাছে তাঁর ব্যথা পৌঁছে দিতে তা সফল হয়েছিল। এমনকি বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি শুনে কেঁদে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন: আমি যদি এটি আজকের দিনের আগে শুনতাম, তবে তাকে হত্যা করতাম না।

সাহিত্যিকের ওপর যে অভিজ্ঞতা প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তাকে তা প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকে আমরা ‘অনুপ্রেরণা’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি। এই অনুপ্রেরণা যত মহান হয়, তা প্রকাশের জন্য তত বেশি শক্তির প্রয়োজন পড়ে, যা তাকে যথাযথ ও বিশ্বস্তভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। এ কারণেই মহান সাহিত্যিকগণ ভাষার ওপর ব্যাপক আধিপত্য এবং প্রকাশের সুনিপুণ ক্ষমতার অধিকারী হন, ফলে তাঁরা আমাদের কাছে সুমহান ও উচ্চতর অভিজ্ঞতাগুলো পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।

একজন সাহিত্যিকের চমৎকার ভাষাগত বোধ থাকে, যার মাধ্যমে তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী এবং নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট শব্দসমূহ নির্বাচন করতে পারেন। শব্দগুলো পাঠকের মনে কী ধরনের ব্যঞ্জনা তৈরি করতে পারে, তা তিনি অনুধাবন করেন। শব্দের মাঝে এক ধরনের দ্যুতি থাকে যা থেকে প্রভাব বিচ্ছুরিত হয়, ফলে তা আত্মাকে অনুভূতিতে ভরিয়ে দেয়, বিবেককে জাগ্রত করে এবং আবেগকে নাড়া দেয়। কারণ সময়ের পরিক্রমায় এবং ব্যবহারের ফলে শব্দের সাথে এমন অনেক অর্থ ও ব্যঞ্জনা যুক্ত হয়, যা অভিধানের সীমাবদ্ধ অর্থের চেয়েও অনেক বেশি গভীর। সুতরাং অভিধানগুলোতে শব্দের যে অর্থ আমরা পাই, তা কেবল সেই ঘনীভূত অর্থ ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন প্রাঞ্জল সাহিত্যিক হলেন তিনিই, যিনি সময়ের ব্যবধানে শব্দের মাঝে অর্পিত সকল গূঢ় অর্থকে নিংড়ে বের করে আনেন, যা জাগ্রত করে...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
فى النفس أعمق الإحساسات، وتملأ الخيال بشتى الصور، وإذا شئت فانظر في القاموس إلى معانى كلمات: أم طفولة، ومدرسة، ووطن، مثلا، فالأم في اللغة هى الوالدة، ولكن هذا اللفظ يثير في النفس، إذا سمع، أسمى معانى الحب وأقدس ألوان العواطف، وأشرف آيات الإيثار، وأعمق معانى الحنان، وليست الطفولة سوى وقت الصبا في القاموس، أما إذا سمعت فإنها تثير تلك الخواطر، التى تحوم حول هذه الأيام النضرة، وعلى هاتيك الملاعب العزيزة، وكم ذكريات تثيرها المدرسة في النفس، حول عهود محبوبة، وآمال مرتقبة، وأصدقاء مختارين، بينما هى في المعجم مكان الدراسة، أما كلمة الوطن، فقد تراكم حولها من المعانى والذكريات ما أشار ابن الرومى إلى بعضه حين قال:

وحبب أوطان الرجال إليهم … مآرب، قضّاها الشباب هنالكا

إذا ذكروا أوطانهم ذكّرتهم … عهود الصبا فيها، فحنوا لذلكا

فلا عجب أن تثير كلمة الوطن في النفس هذه الذكريات العذبة المحبوبة، وإن أردت أن تدرك شدة وحى الألفاظ فاقرأ قوله تعالى: وَلا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضاً أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتاً (الحجرات 12). وانظر أى كراهية ونفور، يثيره في النفس، تخيل أكل لحم الأخ ميتا، واقرأ قول الشاعر:

وقانا لفحة الرمضاء واد … سقاه مضاعف الغيث العميم

نزلنا دوحة، فحنا علينا … حنو المرضعات على الفطيم

وأرشفنا على ظمأ زلالا … ألذ من المدامة للنديم

يصد الشمس أنى واجهتنا … فيحجبها، ويأذن للنسيم

يروع حصاه حالية العذارى … فتلمس جانب العقد النظيم

وانظر ما توحى به إلى النفس «لفحة الرمضاء» فإنها تشعرك بهذا الهواء الساخن، يلفح وجهك، ويرمض عينيك، فتكاد تضع يدك على هذا الوجه، تحجب بها عنه هذه السخونة الممضة، وتحس كما أحس الشاعر بفضل هذا الوادى عليه، فقد حماه من وهج الشمس، وسطوة الحر، فلا غرابة أن يدعو له من كل قلبه، أن يسقيه «مضاعف الغيث». وانظر ما توحى به إلى خيالك كلمة «دوح» من ظل ظليل، ونسيم بليل، تسكن إليه النفس، بعد لفحة الرمضاء، وتخيل «حنو المرضعات» وما يثيره من معانى العطف والحنان، أما «أرشف» فتوحى إليك بهذه المتعة، التى يحس بها الظمآن، لفحه حر الشمس، فأوى إلى ظل ظليل وأخذ يشرب على مهل، يستمتع بالماء الزلال، وكيف يجده حينئذ، ألذّ من المدامة،
এগুলো অন্তরে গভীরতম অনুভূতির উদ্রেক করে এবং কল্পনাকে বিভিন্ন চিত্রে ভরিয়ে দেয়। আপনি যদি চান, তবে অভিধানে মা, শৈশব, বিদ্যালয় এবং জন্মভূমি—এই শব্দগুলোর অর্থের দিকে তাকিয়ে দেখুন। উদাহরণস্বরূপ, অভিধানে 'মা' বলতে জননীকে বোঝায়, কিন্তু এই শব্দটি যখন শোনা যায়, তখন তা অন্তরে ভালোবাসার সর্বোচ্চ অর্থ, আবেগের পবিত্রতম রূপ, আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং মমতার গভীরতম বোধকে জাগ্রত করে। আর অভিধানে 'শৈশব' বলতে কেবল বাল্যকালকে বোঝায়; কিন্তু যখন আপনি এটি শোনেন, তখন তা সেই সব স্মৃতিকে জাগ্রত করে যা ঐ অমলিন দিনগুলোর এবং প্রিয় খেলার মাঠগুলোর চারপাশে আবর্তিত হয়। বিদ্যালয় অন্তরে কতই না স্মৃতির উদ্রেক করে—প্রিয় কালখণ্ড, প্রত্যাশিত আশা এবং নির্বাচিত বন্ধুদের ঘিরে; অথচ অভিধানে এটি কেবলই অধ্যয়নের স্থান। আর 'জন্মভূমি' শব্দটির চারপাশে এমন সব অর্থ ও স্মৃতির সমারোহ ঘটেছে, যার কিছু বিষয়ের দিকে ইবনে আল-রুমি ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেছেন:

মানুষের নিকট তাদের স্বদেশকে প্রিয় করেছে এমন কিছু উদ্দেশ্য … যা যৌবনকালে তারা সেখানে পূর্ণ করেছে

যখন তারা তাদের স্বদেশের কথা স্মরণ করে, তখন তা তাদের মনে করিয়ে দেয় … সেখানকার শৈশবের দিনগুলো, ফলে তারা তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে

সুতরাং 'জন্মভূমি' শব্দটি অন্তরে এই মিষ্ট ও প্রিয় স্মৃতির উদ্রেক করবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আর আপনি যদি শব্দের ব্যঞ্জনার তীব্রতা অনুভব করতে চান, তবে মহান আল্লাহর এই বাণীটি পড়ুন: "তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে?" (আল-হুজুরাত: ১২)। আর দেখুন, মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার কল্পনা অন্তরে কতটা ঘৃণা ও বিতৃষ্ণার উদ্রেক করে। কবির এই উক্তিটি পড়ুন:

প্রখর উত্তাপের জ্বালা থেকে আমাদের রক্ষা করেছে এমন এক উপত্যকা … যা প্রাচুর্যময় ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতে সিক্ত হয়েছে

আমরা এক বিশাল বৃক্ষের নিচে নামলাম, যা আমাদের ওপর সেভাবে ঝুঁকে পড়ল … যেমন দুগ্ধদানকারী মা স্তন্যপান ত্যাগকারী শিশুর ওপর ঝুঁকে পড়ে

পিপাসার্ত অবস্থায় সে আমাদের এমন সুপেয় পানি পান করালো … যা সঙ্গীর কাছে শরাবের চেয়েও অধিক সুস্বাদু

সূর্য যেদিক থেকেই আমাদের মুখোমুখি হয়, সে তা প্রতিহত করে … ফলে সে রোদকে আড়াল করে এবং মৃদু বাতাসকে প্রবাহিত হতে দেয়

তার কঙ্করগুলো অলংকার পরিহিতা কুমারীদের আতঙ্কিত করে … ফলে তারা তাদের সুবিন্যস্ত হারের পাশ স্পর্শ করে দেখে

আর দেখুন, 'প্রখর রোদের উত্তাপ' শব্দগুচ্ছ অন্তরে কী ব্যঞ্জনা তৈরি করে; এটি আপনাকে সেই তপ্ত বাতাসের অনুভূতি দেয় যা আপনার মুখমণ্ডলকে ঝলসে দিচ্ছে এবং আপনার চোখকে দগ্ধ করছে, ফলে আপনি প্রায় আপনার হাতটি সেই মুখের ওপর রাখছেন যেন তা দিয়ে এই যন্ত্রণাদায়ক উত্তাপকে আড়াল করতে পারেন। এবং আপনি কবির মতোই অনুভব করবেন এই উপত্যকার অবদান আপনার ওপর, কারণ এটি তাকে সূর্যের প্রখরতা এবং গরমের দাপট থেকে রক্ষা করেছে। সুতরাং কবি যদি অন্তর থেকে দোয়া করেন যে, যেন তাকে 'প্রাচুর্যময় বৃষ্টি' দ্বারা সিক্ত করা হয়, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আর দেখুন, 'বিশাল বৃক্ষ' শব্দটি আপনার কল্পনায় শীতল ছায়া এবং আর্দ্র বাতাসের কী আবেশ তৈরি করে, যেখানে প্রখর উত্তাপের পর আত্মা প্রশান্তি পায়। আর 'দুগ্ধদানকারী মায়েদের মমত্ব' কল্পনা করুন এবং তা থেকে উৎসারিত দয়া ও মায়ার অর্থগুলো দেখুন। আর 'চুমুক দিয়ে পান করা' শব্দটি আপনাকে সেই আনন্দের ব্যঞ্জনা দেয় যা একজন পিপাসার্ত ব্যক্তি অনুভব করে, যাকে সূর্যের উত্তাপ দগ্ধ করেছে, অতঃপর সে এক শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিল এবং ধীরস্থিরভাবে পান করতে শুরু করল, সে সুপেয় পানি উপভোগ করতে লাগল; এবং তখন সে পানিকে কেমন পেল—শরাবের চেয়েও সুস্বাদু।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتخيل كذلك ما يثيره عندك «يروع» والصورة التى تركتها. وكلمة «العذارى» وموضع الفاء، التى تدل على هذه الحركة السريعة، الناشئة من الروعة، وهكذا استطاع الأديب بهذه الألفاظ الموحية، السيطرة على خيالنا، وأن ينقل إلينا إحساسه وشعوره.

ولعل هذا هو السبب، فى أن علماء البلاغة، قد كرهوا استعمال الكلمات الغريبة؛ لأنها تعجز عن أن تثير في النفس معنى قبل البحث عنها، فضلا عن أن تثير هذه الخواطر، التى تحيط بالكلمة إذا استعملت.

على أنه قد يشفع في بعض الأحيان، لاستخدام الكلمة الغريبة، أنها وضعت فى موضع، سهّل الأسلوب فهمها، وكانت هى بجرسها موحية بمعناها، ولعل من ذلك قول شوقى:

خلوا الأكاليل للتاريخ، إن له … يدا تؤلفها درا ومخشلبا (1)

فهذا الجمع بين الدر والمخشلب، يوحى بما بينهما من البون الشاسع، وفي حروف الكلمة الغريبة، ما يوحى بأنها تعنى شيئا حقيرا.

والإحساس اللغوى عند الأديب هو الذى يختار اللفظ اختيارا دقيقا، بحيث يؤدى المعنى، على وجه لا لبس فيه ولا اضطراب، وهو لذلك يلحظ الفروق الدقيقة بين الكلمات، ويأخذ من بينها أمسها بمعناه، حتى تقوم بواجبها من التوصيل الصادق.

سمع ابن هرمة أديبا ينشد قوله:

بالله ربك، إن دخلت، فقل لها: … هذا ابن هرمة، قائما بالباب

فقال له: لم أقل: «قائما»، أكنت أتصدق؟. فقال: «قاعدا»، فقال: أكنت أبول؟

قال: فماذا؟ قال: «واقفا» وليتك علمت ما بين هذين، من قدر اللفظ والمعنى (2).

بل إن الإحساس اللغوى، قد يرهف ويدق، فيختار من الكلمات ما يكون بين أصواتها وبين الموضوع ملاءمة، بحيث يكون فيها تقليد للشيء الموصوف، حتى كأنه يوحى به إلى الخاطر، كما تحس بذلك في كلمة «أرشف» من الشعر السابق، وكما اختار المتنبى كلمة «تفاوح» فى قوله:

--------------------------------------------

(1) الوارد في المعاجم مخشلبة كلمة عراقية معناها خرز بيض يشاكل اللؤلؤ والحلى يتخذ من الليف والخرز.

(2) الوقوف لا يقتضى الدوام والثبوت، أما القيام فيقتضيهما.
আরও কল্পনা করুন 'আতঙ্কিত করে' শব্দটি আপনার মধ্যে কী উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং এটি যে প্রতিচ্ছবি রেখে যায়। আর 'কুমারীগণ' শব্দটি এবং 'ফা' অব্যয়টির অবস্থান, যা এই দ্রুত নড়াচড়াকে নির্দেশ করে, যা সেই আতঙ্ক থেকে উদ্ভূত। এভাবেই সাহিত্যিক এই ব্যঞ্জনাময় শব্দগুলোর মাধ্যমে আমাদের কল্পনার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং নিজের অনুভূতি ও সংবেদন আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

সম্ভবত এটিই কারণ যে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ অপরিচিত বা অদ্ভুত শব্দ ব্যবহার করাকে অপছন্দ করেছেন; কারণ সেগুলো অনুসন্ধান করার আগে মনে কোনো অর্থ জাগ্রত করতে অক্ষম হয়, তদুপরি সেই সব ভাবধারা জাগিয়ে তোলা তো দূরের কথা, যা একটি শব্দ ব্যবহারের সময় তাকে ঘিরে থাকে।

তবে কখনও কখনও অদ্ভুত শব্দ ব্যবহারের স্বপক্ষে এই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, সেটি এমন স্থানে বসানো হয়েছে যেখানে রচনার শৈলী তার অর্থ বোঝা সহজ করে দিয়েছে, এবং তার ধ্বনিমাধুর্যই তার অর্থের ইঙ্গিতবাহী ছিল। সম্ভবত এর একটি উদাহরণ হলো শওকির এই উক্তি:

ইতিহাসের জন্য মুকুটগুলো ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই তার এমন এক হাত রয়েছে যা মুক্তা এবং কৃত্রিম পুঁতিকে একত্রিত করে (১)

মুক্তা এবং কৃত্রিম পুঁতির এই সমন্বয় তাদের উভয়ের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। আর অদ্ভুত শব্দটির অক্ষরগুলোর মধ্যেই এমন কিছু আছে যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি তুচ্ছ কোনো কিছুকে বোঝাচ্ছে।

সাহিত্যিকের ভাষাগত বোধই শব্দকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্বাচন করে, যাতে অর্থটি এমনভাবে প্রকাশ পায় যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি থাকে না। এ কারণেই তিনি শব্দগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো লক্ষ্য করেন এবং তাদের মধ্য থেকে তার অভীষ্ট অর্থের সবচেয়ে নিকটতম শব্দটি গ্রহণ করেন, যাতে তা সত্যনিষ্ঠ যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করতে পারে।

ইবনে হারমা এক সাহিত্যিককে তার এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:

আল্লাহর কসম, তোমার প্রতিপালকের দোহাই, যদি তুমি প্রবেশ করো তবে তাকে বলো: এই যে ইবনে হারমা, দরজায় দণ্ডায়মান আছে।

তখন তিনি তাকে বললেন: "আমি 'দণ্ডায়মান' বলিনি; আমি কি ভিক্ষা করছিলাম?" সে বলল: "বসা অবস্থায়?" তিনি বললেন: "আমি কি প্রস্রাব করছিলাম?"

সে বলল: "তবে কী?" তিনি বললেন: "দাঁড়ানো অবস্থায়। হায়, যদি তুমি এই দুইয়ের মধ্যে শব্দ ও অর্থের যে মর্যাদা রয়েছে তা জানতে পারতে!" (২)।

এমনকি ভাষাগত বোধ এতটাই তীক্ষ্ণ ও সূক্ষ্ম হতে পারে যে, এটি এমন সব শব্দ নির্বাচন করে যার ধ্বনি এবং বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে, যাতে বর্ণিত বিষয়টির একটি অনুকরণ ফুটে ওঠে, যেন তা মনে আপনাআপনি উদিত হয়। যেমনটি আপনি আগের কবিতার 'আর্শাফু' (চুষে নেওয়া) শব্দটিতে অনুভব করেন এবং যেমনটি মুতানাব্বি তার উক্তিতে 'তাফাউহ' (সুগন্ধি ছড়ানো) শব্দটি নির্বাচন করেছেন:

--------------------------------------------

(১) অভিধানসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, 'মাখশালবাহ' একটি ইরাকি শব্দ যার অর্থ হলো সাদা পুঁতি যা মুক্তার সদৃশ এবং এমন অলঙ্কার যা তন্তু ও পুঁতি দিয়ে তৈরি করা হয়।

(২) থামা বা অবস্থান করা স্থায়ীত্ব ও স্থিরতা দাবি করে না, কিন্তু দণ্ডায়মান হওয়া এই দুই দাবি করে।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
إذا سارت الأحداج فوق نباته … تفاوح مسك الغانيات ورنده

فهى تدل بصيغتها، على هذه الموجات النسيمية، تحمل في أردانها عبق المسك والرند. وكلمة صليل في قوله:

وأمواه، تصلّ بها حصاها … صليل الحلى في أيدى الغوانى

فهى تسمعك وسوسة المياه تداعب حصاها ..

وبعض ألفاظ اللغة، أسلس على اللسان، وأجمل وقعا على الأذن من بعض، وهو جمال ظاهرى، يساعد الأديب على إيصال تجربته، وعلماء البلاغة يذكرون من صفات الألفاظ المفردة ما يصح أن تلتمسه هناك.

وفضلا عما للكلمات من خصائص يدركها إحساس الأديب، كذلك النظم في العبارة الأدبية، يحمل معنى أكثر مما تؤديه الجملة، بجريها على النحو، فإن هناك قوى يبثها المؤلف فيها، عن غير عمد حينا وعن عمد حينا آخر، فنجده يقدم، ويؤخر، ويذكر، ويحذف، ويصل، ويفصل، ويأتى ببعض ألوان المعارف دون بعض، وحينا يدع المعرفة إلى النكرة، وآنا يستخدم أداة من أدوات الطلب مكان أخرى، أو يأتى بزخرفة في مكانها، وقد وصل علماء البلاغة إلى إدراك كثير من هذه الأسرار، فعقدوا علما يتحدث عن خصائص الجملة ودعوه علم المعانى، وعلما للخيال الذى يعقد الصلة بين الأشياء ودعوه علم البيان، وآخر لبعض ألوان الجمال، وسموه علم البديع.

ولكن خصائص النظم، لا تقف عند حد الجملة، بل إن للأساليب خصائص، فمنها ما يناسب الانفعال السريع، والحركة المتوثبة، ومنها ما يناسب العاطفة الهادئة، والحركة البطيئة، وقد يدفع الإحساس الفنى الأديب، إلى انسجام في النظم وموسيقى لفظية، تساعد على الإيحاء، وإن هذا الانسجام وهذه الموسيقى يصلان إلى الذروة في فن الشعر، وبذلك يستطيع الأديب أن يصل إلى أسمى درجات التأثير.

***
যখন হাওদাগুলো তার উদ্ভিদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে ... তখন সুন্দরী রমণীদের কস্তুরী ও রন্দের সুগন্ধ বিচ্ছুরিত হয়।

এটি তার শব্দরূপের মাধ্যমে এই সমীরণ-তরঙ্গকে নির্দেশ করে, যা তার বসনপ্রান্তে কস্তুরী ও রন্দের সুবাস বহন করে। আর নিচের কাব্যাংশে ‘সালীল’ (ঝনঝনানি) শব্দটি:

এবং এমন জলরাশি, যাতে তার কঙ্করাশি শব্দ করে ... যেমন সুন্দরীদের হাতে অলঙ্কারের ঝনঝনানি।

এটি আপনাকে শোনায় পানির সেই কলতান যা তার কঙ্করের সাথে ক্রীড়া করছে...

ভাষার কিছু শব্দ অন্যগুলোর তুলনায় জিহ্বায় অধিক সাবলীল এবং শ্রবণে অধিকতর মাধুর্যপূর্ণ হয়; এটি একটি বাহ্যিক সৌন্দর্য, যা সাহিত্যিককে তার অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ একক শব্দের এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন যা সেখানে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

শব্দের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সাহিত্যিকের অনুভূতি অনুধাবন করতে পারে, তার পাশাপাশি সাহিত্যিক পঙক্তির বিন্যাসও সাধারণ ব্যাকরণগত বাক্যের চেয়ে গভীরতর অর্থ বহন করে। কেননা লেখক এতে এমন কিছু শক্তি সঞ্চার করেন, যা কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনও সচেতনভাবে ঘটে থাকে। ফলে আমরা দেখি তিনি কখনও কোনো পদকে আগে আনেন, কখনও পরে নেন, কখনও উল্লেখ করেন, কখনও উহ্য রাখেন, কখনও যুক্ত করেন, কখনও বিযুক্ত করেন এবং কখনও বিশেষ্য পদের বিশেষ প্রকারকে অন্য প্রকারের ওপর প্রাধান্য দেন। কখনও তিনি নির্দিষ্ট সংজ্ঞাবাচক শব্দের স্থলে অনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করেন, আবার কখনও একটি আকাঙ্ক্ষাবাচক অব্যয়ের স্থলে অন্যটি ব্যবহার করেন অথবা নির্দিষ্ট স্থানে কোনো অলঙ্কার প্রয়োগ করেন। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই রহস্যগুলোর অনেকগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে তারা বাক্যের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনার জন্য একটি শাস্ত্র প্রণয়ন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘ভাবার্থ বিজ্ঞান’; আর বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী কল্পনার জন্য একটি শাস্ত্র গঠন করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘বর্ণনা বিজ্ঞান’; এবং সৌন্দর্যের বিভিন্ন রূপের বর্ণনার জন্য অপর একটি শাস্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘অলঙ্কার বিজ্ঞান’।

তবে বিন্যাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ কেবল বাক্যের গণ্ডিতেই শেষ হয়ে যায় না; বরং রচনাশৈলীরও কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার মধ্যে কোনোটি দ্রুত আবেগ ও চঞ্চল গতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, আবার কোনোটি শান্ত অনুভূতি ও ধীর গতির সাথে মানানসই। সাহিত্যিক তার শৈল্পিক চেতনার তাড়নায় রচনার বিন্যাসে এমন এক সামঞ্জস্য ও শাব্দিক সুরঝঙ্কার সৃষ্টি করতে পারেন যা ভাবব্যঞ্জনাকে প্রাণবন্ত করে। এই সামঞ্জস্য ও সুরঝঙ্কার কাব্যশিল্পে চরম উৎকর্ষ লাভ করে এবং এর মাধ্যমেই সাহিত্যিক প্রভাব বিস্তারের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হন।

***
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مجال الأدب بين مظاهر الشعور

يرى علماء النفس للشعور مظاهر ثلاثة: فهو تفكير، إذا كان بحثا عن حقائق الوجود، لمعرفة أسبابها، واستنباط قواعدها، وإدراك ما بين بعضها وبعض من صلة أو تنافر. وهو وجدان، إذا صحبه إحساس باللذة والألم، فالحب والبغض، والسرور والحزن، والرجاء واليأس، والخوف والغضب، كلها وجدانات تتصل بالنفس، فتحدث بها لذة أو ألما. وهو إرادة إذا حفز المرء إلى العمل، ودفعه إليه، كالرغبات والنيات.

وإن بين هذه المظاهر النفسية اتصالا وثيقا، لا يتأتى معه انفصال واحد عن صاحبيه، وإن كان المظهر الغالب لأحدها. فمن المحال أن نجد ألما في أنفسنا من غير أن نبحث عن سببه، ونبذل طاقتنا في سبيل إبعاده. ويستحيل أن نفكر فى عمل عقلى، من غير أن نشعر بارتياح إذا سهل الأمر وانقاد، وامتعاض إذا اعتاص والتوى. والأعمال الإرادية يصحبها التفكير والوجدان، ولا تستقل بنفسها أبدا.

غير أن الصلة التى تربط هذه المظاهر بعضها ببعض، قد تكون طبيعية، إذا كانت التجربة نفسها تستدعى هذا الترابط، بطريق تداعى المعانى؛ كما إذا وصل إليك نبأ نجاحك مثلا، فإن خواطر شتى تفد إلى نفسك من كل صوب، ما بين سرور وابتهاج بما ظفرت به، وتفكير في الوسائل التى انتهجتها، فوصلت بك إلى تلك الغاية السعيدة، إلى رغبات وعزمات تصمم عليها، ويدفعك إليها هذا الظفر المحبوب، وبينما ترى بعض هذه الخواطر واضحا جليا للنفس، ويحتل بؤرة الشعور أو الحواشى القريبة منها، تجد بعضها الآخر غامضا خفيا، لا تكاد تشعر به؛ وتكون الصلة غير طبيعية إذا لم تكن التجربة مستدعية لها بطريق تداعى المعانى، كما إذا كنت تدرس نظريات الهندسة، فسئمت العمل وتركته، فليس بين نظريات الهندسة والسأم من صلة.

ليس التفكير الخالص بميدان للأدب، وإنما هو مرتع للعلم وحده، أما الأدب فمجاله الإحساس بالحسن، الذى يثير في النفس لذة، أو بالقبح الذى يبعث فيها
অনুভূতির প্রকাশভঙ্গির মাঝে সাহিত্যের পরিমণ্ডল

মনোবিজ্ঞানীরা চেতনার তিনটি প্রকাশভঙ্গি লক্ষ্য করেন: প্রথমটি হলো চিন্তা, যখন এটি অস্তিত্বের নিগূঢ় রহস্যের অনুসন্ধান করে, সেগুলোর কারণ উদ্ঘাটন করে, মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করে এবং সেগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বা বৈপরীত্য অনুধাবন করে। দ্বিতীয়টি হলো সংবেদন, যখন তার সাথে আনন্দ ও বেদনার অনুভূতি যুক্ত থাকে; ভালোবাসা ও ঘৃণা, আনন্দ ও বিষাদ, আশা ও নিরাশা, ভয় ও ক্রোধ—এ সবই সংবেদন যা আত্মার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাতে আনন্দ বা বেদনার উদ্রেক করে। তৃতীয়টি হলো ইচ্ছা, যখন এটি মানুষকে কোনো কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত ও ধাবিত করে, যেমন নানাবিধ আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প।

মানসিক এই প্রকাশভঙ্গিগুলোর মধ্যে এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে, যার ফলে অন্য দুটি থেকে কোনো একটিকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয় না, যদিও কখনো কোনো একটির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হতে পারে। আমাদের অন্তরে কোনো বেদনা অনুভূত হবে অথচ আমরা তার কারণ অনুসন্ধান করব না এবং তা দূর করার প্রচেষ্টায় নিজেদের সামর্থ্য ব্যয় করব না—এটি অসম্ভব। একইভাবে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের কথা চিন্তা করাও অসম্ভব যেখানে বিষয়টি সহজ ও অনুগত হলে প্রশান্তি এবং জটিল ও দুরূহ হলে বিরক্তি অনুভূত হবে না। আর ইচ্ছাশক্তিপ্রসূত কাজগুলোর সাথেও সর্বদা চিন্তা ও সংবেদন জড়িয়ে থাকে, এগুলো কখনোই এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না।

তবে এই প্রকাশভঙ্গিগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার এই সম্পর্কটি স্বাভাবিক হতে পারে, যদি অভিজ্ঞতাটি নিজেই ভাব-অনুষঙ্গের মাধ্যমে এই সংযোগের দাবি রাখে; যেমন উদাহরণস্বরূপ আপনার কাছে যখন আপনার সফলতার সংবাদ পৌঁছায়, তখন আপনার মনে চতুর্দিক থেকে নানাবিধ চিন্তার উদয় হয়—অর্জিত সাফল্যের কারণে আনন্দ ও উল্লাস থেকে শুরু করে, সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনি যে উপায়সমূহ অবলম্বন করেছিলেন সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা, এবং নতুন সব আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প যা এই প্রিয় বিজয় আপনাকে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। যখন এই চিন্তাগুলোর কিছু মনের কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় এবং চেতনার কেন্দ্রবিন্দু বা তার নিকটবর্তী অংশ দখল করে নেয়, তখন অন্য কিছু চিন্তা অস্পষ্ট ও গুপ্ত থেকে যায়, যা আপনি প্রায় অনুভবই করতে পারেন না। আর এই সম্পর্কটি অস্বাভাবিক হতে পারে যদি অভিজ্ঞতাটি ভাব-অনুষঙ্গের মাধ্যমে সেই সংযোগের দাবি না রাখে; যেমন আপনি জ্যামিতিক উপপাদ্য অধ্যয়ন করছিলেন, অতঃপর ক্লান্তি বা বিতৃষ্ণা আসায় কাজ বন্ধ করে দিলেন—বস্তুত জ্যামিতির উপপাদ্য ও বিতৃষ্ণার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশুদ্ধ চিন্তন সাহিত্যের ক্ষেত্র নয়, বরং তা কেবল বিজ্ঞানের বিচরণভূমি। পক্ষান্তরে সাহিত্যের পরিমণ্ডল হলো সেই সৌন্দর্যের অনুভূতি যা মনে আনন্দের সঞ্চার করে, অথবা সেই কদর্যতার অনুভূতি যা মনে জাগ্রত করে...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ألما، فالأدب تعبير عن هذا الإحساس، وتصوير له، فهو لسان الوجدان وترجمانه، إذا كان العلم لسان التفكير والمبيّن عنه.

تسمع قول قريط بن أنيف يعاتب قومه الذين لم ينجدوه، ويمدح بنى مازن، لأنهم أخذوا بيده ونصروه:

لو كنت من مازن لم تستبح إبلى … بنو اللقيطة من ذهل بن شيبانا

إذا لقام بنصرى معشر خشن … عند الحفيظة، إن ذو لوثة لانا

قوم إذا الشر أبدى ناجذيه لهم … طاروا إليه، زرافات، ووحدانا

لا يسألون أخاهم حين يندبهم … فى النائبات، على ما قال برهانا

لكن قومى، وإن كانوا ذوى عدد … ليسوا من الشر في شىء وإن هانا

يجزون من ظلم أهل الظلم مغفرة … ومن إساءة أهل السوء إحسانا

كأن ربك لم يخلق لخشيته … سواهم من جميع الناس إنسانا

فليت لى بهم قوما إذا ركبوا … شنوا الإغارة فرسانا وركبانا

فالشاعر هنا يصور لنا نقمته على قومه، وازدراءه كثرة عددهم، لخورهم، وجبنهم، حتى ليقابلون ظلم ظالمهم بالصفح والغفران، وإساءة المسيئين إليهم بالعفو والإحسان، يلتمسون لضعفهم المعاذير، من الخضوع لتعاليم الدين، فكأن الله لم يخلق غيرهم لخشيته. أما بنو مازن، فهو معجب ببسالتهم وإقدامهم، يمنعون حماهم أن يستباح، ويجد أعداؤهم فيهم خشونة لا تلين، يسرعون إلى نصرة أخيهم، قبل أن يطلبوا منه برهانا على ما قال، فلا عجب أن تمنى استبدال قومه بغيرهم.

تحدث الشاعر في تلك القطعة عن إعجابه وسخطه، أى عن إحساسه بالجمال والقبح، ونجح في تصويرهما ونقلهما إلينا، مستعينا على ذلك بألوان من الخيال، تكاد تلمس بها خشونة جانب من نصروه، وترى بها الشر مكشرا لهم عن أنيابه، وتبصرهم طائرين لا يلوون على شىء، وموردا هذه المناقضات التى ما كان يليق أن تكون، ومتهكما بهم تهكما مرّا لاذعا، ويشعر القارئ لهذا الشعر بلذة، أثارها فينا نجاحه في التصوير، وبراعته في التعبير.

بينما نحن لا نعد من الأدب هذه المقالات العلمية، التى تخاطب التفكير وحده، من غير أن تشرك الوجدان معه.

على أن الأديب قد يستعين بقضايا الفكر، على تصوير هذا الإحساس، كما فعل المتنبى عند ما أراد أن يصور حيرته اليائسة من الوصول إلى أن يدرك كنه الحياة، ومصير الوجود، فقال:
বেদনা, সাহিত্য হলো এই অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ এবং এরই চিত্রায়ন। সাহিত্য হলো হৃদয়ানুভূতির ভাষা ও তার তর্জমান, যেখানে বিজ্ঞান হলো চিন্তাশক্তির ভাষা ও তার বিশদ বর্ণনাকারী।

আপনি কুরাইত বিন উনাইফের সেই কথাগুলো শুনুন, যেখানে তিনি স্বীয় কওমকে তিরস্কার করছেন যারা তাঁকে সাহায্য করেনি, আর বনু মাজেনের প্রশংসা করছেন কারণ তারা তাঁর হাত ধরেছিল এবং তাঁকে সাহায্য করেছিল:

যদি আমি মাজেন গোত্রের হতাম, তবে যুল বিন শায়বানের 'বনুল লাকিতা'রা আমার উট লুণ্ঠন করতে পারত না। …

তবে তো আমার সাহায্যে এমন একদল কর্কশ যোদ্ধা দাঁড়িয়ে যেত, আত্মমর্যাদার সময় যখন দুর্বলরা নমনীয় হয়ে যায় তখন তারা কঠোর থাকে। …

তারা এমন এক কওম যারা অনিষ্ট যখন তাদের সামনে দাঁত বের করে হাসে, তারা তখন দলে দলে এবং একাকী সেই অনিষ্টের দিকে ছুটে যায়। …

বিপদের সময় তাদের ভাই যখন তাদেরকে আহ্বান করে, তখন সে যা বলেছে তার কোনো প্রমাণ তারা চায় না। …

কিন্তু আমার কওম, সংখ্যার দিক থেকে তারা অধিক হলেও কোনো প্রকার বিবাদের ধারে-কাছে তারা নেই, এমনকি তা তুচ্ছ হলেও। …

তারা জালেমদের জুলুমের বদলে ক্ষমা এবং অনিষ্টকারীদের মন্দ আচরণের বদলে সদাচরণ উপহার দেয়। …

মনে হয় যেন তোমার প্রতিপালক তাঁর ভয়ের জন্য তামাম দুনিয়ার মানুষের মধ্যে তারা ছাড়া আর কাউকে সৃষ্টি করেননি। …

হায়! তাদের পরিবর্তে যদি আমার এমন এক কওম থাকতো, যারা সওয়ার হলে অশ্বারোহী ও উষ্ট্রারোহী বাহিনী নিয়ে আক্রমণ শানিত করত। …

কবি এখানে স্বীয় সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর ক্ষোভ এবং তাদের বিশাল সংখ্যার প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য চিত্রায়িত করেছেন তাদের দুর্বলতা ও কাপুরুষতার কারণে। এমনকি তারা জালিমের জুলুমকে মার্জনা ও ক্ষমার মাধ্যমে এবং মন্দ আচরণকারীদের অনিষ্টকে ক্ষমা ও ইহসানের মাধ্যমে প্রতিহত করে। তারা দ্বীনি শিক্ষার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে নিজেদের দুর্বলতার অজুহাত খোঁজে, যেন আল্লাহ তায়ালা তাঁর ভয়ের জন্য তারা ছাড়া আর কাউকেই সৃষ্টি করেননি। অন্যদিকে বনু মাজেনের বীরত্ব ও সাহসিকতায় তিনি মুগ্ধ; তারা তাদের সীমানাকে লুণ্ঠিত হতে দেয় না, শত্রুরা তাদের মধ্যে এমন কঠোরতা পায় যা কখনো নমনীয় হয় না। তারা তাদের ভাইয়ের সাহায্যের জন্য দ্রুত ছুটে আসে, এমনকি সে যা বলেছে তার কোনো প্রমাণ চাওয়ার আগেই। তাই তিনি স্বীয় কওমের পরিবর্তে অন্য কোনো কওমকে কামনা করবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এই কাব্যখণ্ডে কবি তাঁর মুগ্ধতা ও ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেছেন, অর্থাৎ সৌন্দর্য ও কদর্যতা সম্পর্কে তাঁর অনুভূতির কথা বলেছেন। তিনি কল্পনার নানা রঙ ব্যবহার করে এই অনুভূতিগুলোকে আমাদের সামনে চিত্রায়িত করতে এবং পৌঁছে দিতে সফল হয়েছেন। যার মাধ্যমে আপনি সাহায্যকারীদের কঠোরতাকে যেন স্পর্শ করতে পারেন, মন্দকে দেখতে পান তাদের সামনে দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং তাদের ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলতে দেখেন যারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। তিনি এই বৈপরীত্যগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা ঘটা উচিত ছিল না এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও তিক্ত বিদ্রূপ করেছেন। এই কবিতা পাঠে পাঠক এক প্রকার আনন্দ লাভ করেন, যা তাঁর চিত্রায়নের সাফল্য এবং বর্ণনার নিপুণতা আমাদের মধ্যে জাগ্রত করেছে।

অন্যদিকে আমরা সেই বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধগুলোকে সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করি না, যা কেবল চিন্তাশক্তিকে সম্বোধন করে কিন্তু তার সাথে হৃদয়ানুভূতিকে সম্পৃক্ত করে না।

অবশ্য একজন সাহিত্যিক কোনো অনুভূতির চিত্রায়নে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীর সাহায্য নিতে পারেন। যেমনটি মুতানাব্বি করেছেন যখন তিনি জীবনের সারমর্ম উপলব্ধি এবং অস্তিত্বের গন্তব্য খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর হতাশাপূর্ণ বিভ্রান্তিকে চিত্রায়িত করতে চেয়েছিলেন; তখন তিনি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
تخالف الناس، حتى لا اتفاق لهم … إلا على شجب، والخلف في الشجب (1)

فقيل: تخلص نفس المرء سالمة … وقيل: تشرك جسم المرء في العطب

ومن تفكر في الدنيا ومهجته … أقامه الفكر بين العجز والتعب

وهنا نجد الطريق ممهدا للحديث عن هدف الأدب، والحق أننا نقف بهذا الهدف عند حد الإثارة الوجدانية، فلا نطلب منه أن يمدنا بأفكار صادقة عن الحياة، ولا أن يثير فينا النزوع إلى الأعمال الصالحة، أى أنه ليس مهمته التعليم والإصلاح، وإن كان ذلك لا يمنع من أن يزودنا بالأفكار، أو أن يحرك إرادتنا للعمل، سواء أكان ذلك مقصودا للأديب أم غير مقصود، فقد يقف الأدب عند حد الإثارة الوجدانية فحسب، كما في أدب الطبيعة، وشعر الغزل، وكثير من المرائى، والرسائل، والمقالات العاطفية المحضة، مثل قول حافظ يصف عاصفة مرت بالبحر الأبيض، وهو يركب سفينة فيه:

عاصف يرتمى، وبحر يغير … أنا بالله منهما مستجير

وكأن الأمواج، وهى توالى … محنقات، أشجان نفس تثور

أزبدت، ثم جرجرت، ثم ثارت … ثم فارت، كما تفور القدور

ثم أوفت، مثل الجبال على الفلك، … وللفلك عزمة لا تخور

تترامى بجؤجؤ، لا يبالى … أمياه تحوطه أم صخور

أزعج البحر جانبيها من الشدّ، … فجنب يعلو، وجنب يغور

وهو آنا ينحط من علو كالسيل، … وآنا يحوطها منه سور

وهى تزور كالجواد إذا ما … ساقه للطّعان ندب جسور

وعليها نفوسنا خائرات … جازعات، كادت شعاعا تطير

فى ثنايا الأمواج والزبد المندوف، … لاحت أكفاننا والقبور

وقول القشيرى:

حننت إلى ريّا، ونفسك باعدت … مزارك من ريّا، وشعباكما معا

فما حسن أن تأتى الأمر طائعا … وتجزع أن داعى الصبابة أسمعا

قفا ودعا نجدا، ومن حل بالحمى … وقولا لنجد عندنا أن يودعا

بنفسى تلك الأرض، ما أطيب الربا … وما أحسن المصطاف والمتربعا!

ولما رأيت البشر (2) أعرض دوننا … وجالت بنات الشوق يحنن نزّعا

بكت عينى اليسرى، فلما زجرتها … عن الجهل بعد الحلم، أسبلتا معا

--------------------------------------------

(1) الهلاك.

(2) اسم جبل.
মানুষে মানুষে ভিন্নতা রয়েছে, এমনকি তাদের মধ্যে কোনো বিষয়েই ঐক্য নেই … ধ্বংস ছাড়া আর কিছুতে নয়, আর সেই ধ্বংসের প্রকৃতি নিয়েও মতভেদ রয়েছে (১)।

বলা হয়েছে: মানুষের প্রাণ কি নিরাপদে মুক্তি পায় … নাকি বলা হয়েছে: এটি ধ্বংসের মাঝে মানুষের দেহের অংশীদার হয়।

আর যে ব্যক্তি দুনিয়া ও তার প্রাণ নিয়ে চিন্তা করেছে … চিন্তা তাকে অক্ষমতা ও ক্লান্তির মাঝে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এখানে আমরা সাহিত্যের লক্ষ্য সম্পর্কে আলোচনার পথ সুগম দেখতে পাই। সত্য হলো, আমরা এই লক্ষ্যকে কেবল আবেগীয় উদ্দীপনার সীমানায় সীমাবদ্ধ রাখি। সুতরাং আমরা সাহিত্যের কাছে এমন দাবি করি না যে, তা আমাদের জীবন সম্পর্কে সত্য ধারণা প্রদান করবে, আর না এই দাবি করি যে, তা আমাদের মাঝে সৎকর্মের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ শিক্ষা প্রদান ও সংস্কার সাধন সাহিত্যের মূল কাজ নয়। যদিও এটি আমাদের জ্ঞান দান করতে অথবা কর্মের প্রতি আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করতে বাধা দেয় না—তা সাহিত্যিকের উদ্দেশ্য হোক বা না হোক। কারণ সাহিত্য কখনো কেবল আবেগীয় উদ্দীপনার স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যেমনটি দেখা যায় প্রকৃতি বিষয়ক সাহিত্য, গজল (প্রেমের কবিতা), অনেক শোকগাথা, পত্রাবলি এবং নিছক আবেগপূর্ণ প্রবন্ধসমূহে। যেমন হাফিজের সেই পঙক্তিমালা, যেখানে তিনি ভূমধ্যসাগরে একটি জাহাজে আরোহণ অবস্থায় ঘটে যাওয়া ঝড়ের বর্ণনা দিচ্ছেন:

ঝড় আছড়ে পড়ছে, আর সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠছে … আমি এই দুই থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

তরঙ্গমালা যেন একের পর এক ধেয়ে আসছে … ক্রুদ্ধ হয়ে, যেন এক বিদ্রোহী আত্মার শোকগাথা।

ফেনিল হচ্ছে, তারপর গর্জন করছে, এরপর উত্তাল হচ্ছে … তারপর উথলে উঠছে, যেমন পাত্রের পানি উথলে ওঠে।

এরপর পাহাড়ের মতো জাহাজের ওপর চড়ে বসছে, … অথচ জাহাজের রয়েছে এমন এক দৃঢ়তা যা দুর্বল হয় না।

জাহাজটি তার অগ্রভাগ দিয়ে আছড়ে পড়ছে, সে পরোয়া করছে না … তাকে জলরাশি ঘিরে রেখেছে নাকি পাথর।

সমুদ্রের তীব্রতা জাহাজের দুই পাশকে অস্থির করে তুলেছে, … ফলে এক পাশ উপরে উঠছে আর অন্য পাশ ডুবে যাচ্ছে।

এটি কখনো স্রোতের মতো উচ্চতা থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে, … আবার কখনো একে জলরাশির দেওয়াল ঘিরে ধরছে।

জাহাজটি সেই ঘোড়ার মতো বিচ্যুত হচ্ছে, যাকে … কোনো সাহসী বীর যুদ্ধের ময়দানে চালিত করে।

জাহাজে আমাদের প্রাণগুলো অবসন্ন … ভীত-বিহ্বল, মনে হচ্ছিল যেন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে উড়ে যাবে।

ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে আর ছড়ানো ফেনার মাঝে, … আমাদের কাফন ও কবরগুলো ভেসে উঠছিল।

আর আল-কুশাইরীর উক্তি:

তুমি রাইয়ার জন্য আকুল হলে, অথচ তোমার মনই রাইয়া থেকে তোমার মিলনস্থল দূরে সরিয়ে দিয়েছে, … যদিও তোমাদের পথ ছিল অভিন্ন।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিষয়ের অনুগামী হওয়া ভালো নয়, … আবার অনুরাগের আহ্বানকারী যখন শোনাল তখন ঘাবড়ে যাওয়াও সংগত নয়।

থামো এবং নজদ ও যারা সেই সংরক্ষিত এলাকায় বাস করে তাদের বিদায় জানাও … এবং নজদকে বলো যে তাকে আমাদের পক্ষ থেকে বিদায় জানানো হয়েছে।

আমার প্রাণ সেই ভূমির জন্য উৎসর্গ হোক, তার উঁচু টিলাগুলো কতই না মনোরম … আর তার গ্রীষ্মকালীন ও বসন্তকালীন আবাসগুলো কতই না সুন্দর!

যখন দেখলাম বাশার পর্বত (২) আমাদের সামনে আড়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছে … আর বিরহ-কাতর আকাঙ্ক্ষাগুলো আর্তনাদ করে ঘুরে ফিরছে।

আমার বাম চোখ কেঁদে ফেলল, কিন্তু যখন আমি তাকে ধমক দিলাম … ধৈর্য ধারণের পর এই অজ্ঞতার জন্য, তখন দুই চোখই একসাথে অশ্রু ঝরাতে লাগল।

--------------------------------------------

(১) ধ্বংস।

(২) একটি পাহাড়ের নাম।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
تلفتّ نحو الحى حتى وجدتنى … وجعت من الإصغاء ليتا وأخدعا (1)

وأذكر أيام الحمى، ثم انثنى … على كبدى، من خشية أن تصدعا

وليست عشيات الحمى برواجع … إليك، ولكن خل عينيك تدمعا

وقول ابن الرومى يرثى ابنه:

بكاؤكما يشفى، وإن كان لا يجدى … فجودا، فقد أودى نظير كما عندى

ألا قاتل الله المنايا ورميها … من القوم حبات القلوب على عمد

توخّى حمام الموت أوسط صبيتى … فلله، كيف اختار واسطة العقد؟!

على حين شمت الخير من لمحاته … وآنست من أفعاله آية الرشد

طواه الردى عنى، فأضحى مزاره … بعيدا على قرب، قريبا على بعد

لقد أنجزت فيه المنايا وعيدها … وأخلفت الآمال ما كان من وعد

لقد قل بين المهد واللحد لبثه … فلم ينس عهد المهد، إذ ضم في اللحد

محمد، ما شىء توهم سلوة … لقلبى، إلا زاد قلبى من الوجد

أرى أخويك الباقيين كليهما … يكونان للأحزان أورى من الزند

إذا لعبا في ملعب لك لذّعا … فؤادى، بمثل النار، عن غير ما قصد

فما فيهما لى سلوة، بل حرارة … يهيجانها دونى، وأشقى بها وحدى

وحينا يمدنا بمعلومات عن الحياة ونظم الكون والمجتمع، على شريطة أن يكون ذلك ممتزجا بشعور الأديب، وناشئا عن تجربة شخصية له، كما ترى ذلك فى ألوان الأدب الاجتماعى والسياسى، وفي شعر الحكمة، كقول زهير:

ومن لم يصانع في أمور كثيرة … يضرس بأنياب، ويوطأ بمنسم

ومن يك ذا فضل فيبخل بفضله … على قومه يستغن عنه، ويذمم

ومن يجعل المعروف في غير أهله … يعد حمده ذما عليه، ويندم

ومن لا يزد عن حوضه بسلاحه … يهدم، ومن لا يظلم الناس يظلم

ومن يغترب يحسب عدوا صديقه … ومن لا يكرم نفسه لا يكرم

ومهما تكن عند امرئ من خليقة … وإن خالها تخفى على الناس، تعلم

لسان الفتى نصف، ونصف فؤاده … فلم يبق إلا صورة اللحم والدم

وقول المتنبى:

إذا أنت أكرمت الكريم ملكته … وإن أنت أكرمت اللئيم تمردا

ووضع الندى في موضع السيف بالعلا … مضر، كوضع السيف في موضع الندى

--------------------------------------------

(1) الليت صفحة لعنق والأخدع عرق فيها.
আমি জনবসতির দিকে বার বার তাকালাম যতক্ষণ না আমি অনুভব করলাম যে … অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার কারণে আমার ঘাড়ের পার্শ্বদেশ ও ঘাড়ের রগ ব্যথায় আড়ষ্ট হয়ে গেছে। (১)

আমি হিমার দিনগুলোকে স্মরণ করি, অতঃপর আমি … আমার কলিজার ওপর ঝুঁকে পড়ি এই ভয়ে যে তা যেন ফেটে না যায়।

হিমার সেই বিকেলগুলো তোমার কাছে আর … ফিরে আসবে না, তবে তুমি তোমার দুই চোখকে অশ্রু বিসর্জন করতে দাও।

এবং পুত্রের শোকে ইবনুর রুমীর উক্তি:

তোমাদের উভয়ের কান্না আরোগ্য দান করে, যদিও তা কোনো উপকারে আসে না; … সুতরাং তোমরা প্রচুর অশ্রু বিসর্জন করো, কারণ তোমাদের সমতুল্য প্রিয়জন আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে।

সাবধান! আল্লাহ যেন মৃত্যুকে ধ্বংস করেন এবং তার নিক্ষিপ্ত তীরকে, … যা মানুষের হৃদপিণ্ডকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিক্ষিপ্ত হয়।

মৃত্যুরূপী কবুতর আমার সন্তানদের মধ্যমটিকে বেছে নিল; … আল্লাহর শপথ, সে কীভাবে কণ্ঠহারের মধ্যম মণিটিকে নির্বাচন করল?!

এমন এক সময় যখন আমি তার চাহনিতে মঙ্গলের আভা দেখছিলাম … এবং তার কর্মকাণ্ডে সঠিক পথের নিদর্শন অনুভব করছিলাম।

মৃত্যু তাকে আমার থেকে আড়াল করে নিল, ফলে তার সাক্ষাতস্থলটি … নিকটে হওয়া সত্ত্বেও দূরে, আর দূরে হওয়া সত্ত্বেও নিকটবর্তী হয়ে গেল।

মৃত্যু তার ব্যাপারে তার হুমকি পূর্ণ করেছে, … আর আশাগুলো তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

দোলনা এবং কবরের মাঝে তার অবস্থান অতি সংক্ষিপ্ত ছিল; … ফলে দোলনার স্মৃতি বিলীন হতে না হতেই তাকে কবরের কোলে আশ্রয় নিতে হলো।

হে মুহাম্মদ, আমার হৃদয়ের জন্য সান্ত্বনাদায়ক হতে পারে বলে যা কিছু ভাবা হয়েছিল, … তা কেবল আমার হৃদয়ের শোককেই বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমি তোমার অবশিষ্ট দুই ভাইকেই দেখছি, তারা উভয়েই … শোকের আগুনের জন্য চকমকি পাথরের চেয়েও বেশি প্রজ্বলনকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যখন তারা তোমার কোনো খেলার জায়গায় খেলাধুলা করে, তখন তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে … আমার হৃদয়কে আগুনের মতো দগ্ধ করে।

তাদের দুজনের মাঝে আমার জন্য কোনো সান্ত্বনা নেই, বরং তারা উত্তাপ … বাড়িয়ে দেয় যা আমাকে দগ্ধ করে, আর আমি একাকী সেই যন্ত্রণায় কষ্ট পাই।

আর কখনো সাহিত্য আমাদের জীবন, মহাবিশ্বের নিয়মাবলী এবং সমাজ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, তবে শর্ত এই যে, তা সাহিত্যিকের অনুভূতির সাথে মিশ্রিত হতে হবে এবং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হতে হবে; যেমনটি আপনি সামাজিক ও রাজনৈতিক সাহিত্যের বিভিন্ন ধারায় এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতায় দেখতে পান, যেমন যুহাইরের উক্তি:

যে ব্যক্তি অনেক বিষয়ে আপস করে চলে না, … তাকে দাঁত দিয়ে চিবানো হবে এবং উটের পায়ের তলায় পিষ্ট করা হবে।

যে ব্যক্তি সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি কৃপণতা করে, … তাকে বর্জন করা হয় এবং তার নিন্দা করা হয়।

যে ব্যক্তি অযোগ্য পাত্রে সদাচরণ করে, … তার প্রশংসা শেষ পর্যন্ত নিন্দায় পরিণত হয় এবং সে অনুতপ্ত হয়।

যে ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে নিজের হাউজ বা অধিকার রক্ষা করে না, … তা ধ্বংস হয়ে যায়; আর যে মানুষকে আক্রমণ বা জুলুম করে না, সে নিজেই আক্রান্ত হয়।

যে ব্যক্তি প্রবাসে জীবন কাটায় সে শত্রুকে বন্ধু মনে করে; … আর যে ব্যক্তি নিজেকে নিজে সম্মান করে না, তাকে অন্য কেউ সম্মান করে না।

মানুষের স্বভাব যেমনই হোক না কেন, … সে যদি মনে করে তা মানুষের অগোচরে থাকবে, তবুও তা প্রকাশ পেয়েই যায়।

যুবকের অর্ধেক হলো তার রসনা আর বাকি অর্ধেক হলো তার হৃদয়; … এছাড়া বাকি যা থাকে তা কেবল রক্ত ও মাংসের অবয়ব মাত্র।

এবং আল-মুতানাব্বির উক্তি:

যদি তুমি কোনো মহৎ ব্যক্তিকে সম্মান করো তবে তুমি তাকে জয় করবে, … আর যদি কোনো নীচ ব্যক্তিকে সম্মান করো তবে সে অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করবে।

উচ্চমর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে যেখানে কঠোরতা বা তরবারির প্রয়োজন সেখানে কোমলতা বা দানশীলতা প্রদর্শন করা … তেমনই ক্ষতিকর, যেমনটি কোমলতার স্থলে কঠোরতা প্রদর্শন করা।

--------------------------------------------

(১) 'লাইত' হলো ঘাড়ের পার্শ্বদেশ আর 'আখদা' হলো ঘাড়ের একটি রগ।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وما قتل الأحرار كالعفو عنهم … ومن لك بالحر الذى يحفظ اليدا

وقيدت نفسى في ذراك محبة … ومن وجد الإحسان قيدا تقيدا

وقوله:

إنما أنفس الأنيس سباع … يتفارسن جهرة واغتيالا

من أطاق التماس شىء غلابا … واقتسارا، لم يلتمسه سؤالا

كل غاد لحاجة يتمنى … أن يكون الغضنفر الرئبالا

وقديما عدوا حسن إيراد الحجة من البلاغة، وضربوا لذلك المثل بقوله تعالى:

وَضَرَبَ لَنا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (78) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَها أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ (79) الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ ناراً فَإِذا أَنْتُمْ مِنْهُ تُوقِدُونَ (80) أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّماواتِ وَالْأَرْضَ بِقادِرٍ عَلى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (81) إِنَّما أَمْرُهُ إِذا أَرادَ شَيْئاً أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (82) فَسُبْحانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (83) (يس 78 - 83).

وحينا يثير الأدب فينا الإرادة، ويدفعنا إلى العمل، وأظهر ما يتجلى ذلك في الخطابة، فإنها كثيرا ما ترمى إلى إثارة التفكير المصحوب بالوجدان، المتبوع بالعمل، كخطبة عبد الله بن طاهر في جنده، وقد تجهز لقتال الخوارج: «إنكم فئة الله، والمجاهدون عن حقه، الذابون عن دينه، الذائدون عن محارمه، الداعون إلى ما أمر به من الاعتصام بحبله والطاعة لولاة أمره، الذين جعلهم رعاة الدين، ونظام المسلمين، فاستنجزوا موعود الله ونصره، بمجاهدة عدوه، وأهل معصيته، الذين أشروا وتمردوا، وشقوا عصا الطاعة، وفارقوا الجماعة، ومرقوا من الدين، وسعوا في الأرض فسادا، فإنه يقول تبارك وتعالى: إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدامَكُمْ (محمد 7). وليكن الصبر معقلكم الذى إليه تلجئون، وعدتكم التى بها تستظهرون، فإنه الوزر المنيع الذى دلكم الله عليه، والجنة الحصينة التى أمركم الله بلباسها، غضوا أبصاركم، وأخفتوا أصواتكم في مصافكم، وامضوا قدما على بصائركم، فارغين إلى ذكر الله والاستعانة به، كما أمركم الله فإنه يقول: إِذا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (الأنفال 45). أيدكم الله بعز الصبر، ووليكم بالحيطة والنصر».

فأنت تراه قد أثار وجدانهم، بما عرضه عليهم، من الأفكار ليدفعهم إلى الجهاد. وكما في الآيات القرآنية التى ترمى إلى تحريك الإرادة، مثل قوله سبحانه وتعالى: وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَداوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ (فصلت 34).
স্বাধীন ব্যক্তিদের ক্ষমা করার মতো আর কোনো কিছুই তাদের দমিত করতে পারে না … আর আপনার জন্য এমন স্বাধীন ব্যক্তি কোথায় যে (কৃত) হাতের অনুগ্রহ রক্ষা করবে?

আমি ভালোবাসাবশত আপনার আশ্রয়ে নিজেকে আবদ্ধ করেছি … আর যে ব্যক্তি অনুগ্রহকে শৃঙ্খল হিসেবে পায়, সে তো আবদ্ধ হবেই।

এবং তাঁর উক্তি:

মানুষের আত্মাগুলো তো কেবলই শিকারি পশু … তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে একে অপরকে শিকার করে।

যে ব্যক্তি বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জনে সক্ষম … সে তা যাঞ্চার মাধ্যমে অন্বেষণ করে না।

প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিই কামনা করে … যেন সে এক বিক্রমী সিংহ হতে পারত।

প্রাচীনকাল থেকেই তাঁরা দলীল উপস্থাপনের চমৎকারিত্বকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করতেন এবং এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করতেন:

তিনি আমাদের জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন অথচ তিনি নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, "জরাজীর্ণ হাড়গোড়কে কে পুনরায় জীবিত করবে?" (৭৮) বলুন, "তিনিই সেগুলোকে জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সেগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।" (৭৯) যিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমরা তা থেকে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করো। (৮০) যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই (সক্ষম), আর তিনি মহা-স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। (৮১) তাঁর নির্দেশ তো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন "হও", ফলে তা হয়ে যায়। (৮২) অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর হাতে (আল্লাহর হাতে) সবকিছুর মালিকানা এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (৮৩) (ইয়াসিন ৭৮ - ৮৩)।

কখনো কখনো সাহিত্য আমাদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে তোলে এবং আমাদের কর্মতৎপর হতে উৎসাহিত করে। এটি বাগ্মীতায় সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়; কেননা বাগ্মিতা প্রায়শই আবেগ মিশ্রিত চিন্তাকে উদ্দীপিত করে যা কার্যে পরিণত হয়। যেমন আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের তাঁর সৈন্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ, যখন তিনি খারেজীদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন: «তোমরা আল্লাহর দল, তাঁর হকের পক্ষে জিহাদকারী, তাঁর দ্বীনের রক্ষক, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে পাহারাদার এবং তাঁর সেই নির্দেশের দিকে আহ্বানকারী যার দ্বারা তিনি তাঁর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে ও তাঁর আদেশের শাসকদের আনুগত্য করতে বলেছেন; যাদের তিনি দ্বীনের রক্ষক এবং মুসলিমদের শৃঙ্খল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। অতএব আল্লাহর শত্রুদের এবং তাঁর অবাধ্যদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও সাহায্যের হকদার হও; যারা সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে, আনুগত্যের ঐক্য বিনষ্ট করেছে, জামাত ত্যাগ করেছে, দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন (মুহাম্মদ ৭)। আর ধৈর্য যেন হয় তোমাদের সেই দুর্গ যেখানে তোমরা আশ্রয় নেবে এবং তোমাদের সেই সরঞ্জাম যার মাধ্যমে তোমরা সাহায্য লাভ করবে। নিশ্চয়ই এটি সেই দুর্ভেদ্য আশ্রয় যার দিকে আল্লাহ তোমাদের পথ দেখিয়েছেন এবং সেই মজবুত বর্ম যা পরিধান করার নির্দেশ আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। তোমাদের দৃষ্টি অবনত করো, তোমাদের সারিবদ্ধ অবস্থায় আওয়াজ নিচু করো এবং তোমাদের দূরদর্শিতার ওপর অটল থেকে সামনে এগিয়ে যাও, আল্লাহর স্মরণে নিবিষ্ট হয়ে এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মোকাবিলা করো, তখন অটল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো (আনফাল ৪৫)। আল্লাহ তোমাদের ধৈর্যের শক্তিতে বলীয়ান করুন এবং তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের অভিভাবকত্ব করুন।»

সুতরাং আপনি দেখছেন যে, তিনি তাদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের সামনে চিন্তাগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের অনুভূতিকে জাগ্রত করেছেন। যেমনটি কুরআনের আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে হয় যা সংকল্পকে জাগ্রত করার লক্ষ্য রাখে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ভালো এবং মন্দ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দকে প্রতিহত করুন তা দ্বারা যা উৎকৃষ্ট। ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে (ফুসসিলাত ৩৪)।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
وكقول الشاعر:

دببت للمجد، والساعون قد بلغوا … جهد النفوس، وألقوا دونه الأزرا

وكابدوا المجد، حتى مل أكثرهم … وعانق المجد من أوفى ومن صبرا

لا تحسب المجد تمرا، أنت آكله … لن تبلغ المجد حتى تعلق الصبرا

وأكثر ما يحرك الأدب الإرادة من غير أن يأمرها بذلك، كما في الروايات التمثيلية الخلقية والاجتماعية، وكما في كثير من الشعر، وربما كان هذا هو ما حدا بالأقدمين إلى أن يوصوا أولادهم بحفظه ودراسته، بل ربما كان هو المعنى الذى لاحظوه عند ما وضعوا لهذا اللون من القول الجميل اسم الأدب.

قال معاوية لابنه: يا بنى ارو الشعر، وتخلق به، فلقد هممت يوم صفين بالفرار مرات، فما ردنى عن ذلك إلا قول ابن الأطنابة:

أبت لى همتى، وأبى بلائى … وأخذى الحمد بالثمن الربيح

وإقدامى على المكروه نفسى … وضربى هامة البطل المشيح

وقولى كلما جأشت وجاشت … مكانك، تحمدى، أو تستريحى

لأدفع عن مكارم صالحات … وأحمى بعد عن عرض صحيح

وأنت ترى الشعر نفسه لا يطلب إقداما، ولا يحث على ثبات، ولكنه حديث عن هذا النزاع الذى دار بنفس قائله، وهو في ميدان القتال، وكيف استطاع أن يثبت فى هذا الميدان، يحمله على الثبات ماض ملىء بالجهاد، وهمة تأبى النقيصة، وقلب موكل باكتساب المجد، ونفس اعتادت الإقدام على المكارم، وضرب هامات الأبطال؛ دفاعا عن مآثره، وحماية لعرضه، وليس في الشعر سوى هذا.

ولكن معاوية رأى في صاحبه بطلا جديرا بالاقتداء.

وبما قدمناه يتبين أن الخلاف على أن الإصلاح الاجتماعى من أهداف الأدب خلاف ظاهرى يزيله تحديد معنى الأدب، وتحديد مجاله، أما وقد قلنا: إن كل ما في الحياة يصلح أن يكون موضوعا للأدب، على أن يتناول من ناحية إحساس الأديب، بما فيه من جمال أو قبح، فلا ضير على الأديب إذا أن يتناول مسألة خلقية أو اجتماعية يعالجها، أو أن يدعو إلى فضيلة، أو ينهى عن مأثمة، على شريطة أن يكون ذلك من تجاربه، وأن يثير فينا الوجدان فيرضى فنعمل، أو يكره فنكف.

الأديب حر في أن يتناول ما يشاء من تجاربه، من غير أن نضع له خطة ينتهجها، وكل ما نطالبه به أن يرسم لنا شعوره، ولذا نرى من الأدباء من أحس بجمال المشورة فمدحها، كبشار بن برد، إذ قال:
যেমন কবি বলেছেন:

আমি মর্যাদার দিকে মন্থর গতিতে এগিয়েছি, অথচ প্রচেষ্টাকারীরা প্রাণের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সেখানে পৌঁছে গেছে এবং কঠোর পরিশ্রমের চাদর ছুঁড়ে ফেলেছে।

তারা মর্যাদার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে, ফলে তাদের অধিকাংশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে; আর সেই মর্যাদা কেবল তাকেই আলিঙ্গন করেছে যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং ধৈর্য ধরেছে।

মর্যাদাকে এমন একটি খেজুর মনে করো না যা তুমি অনায়াসে খেয়ে ফেলবে; তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত মর্যাদার শিখরে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তেতো সবর ভক্ষণ করবে।

সাহিত্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি আদেশ না দিয়েই মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে উজ্জীবিত করে, যেমনটি দেখা যায় নৈতিক ও সামাজিক রূপক নাটকগুলোতে এবং প্রচুর কাব্যের ক্ষেত্রে। সম্ভবত এটিই সেই কারণ যার দরুন প্রাচীনরা তাদের সন্তানদের সাহিত্য মুখস্থ ও অধ্যয়ন করার অসিয়ত করতেন। এমনকি তারা যখন বাণীর এই সুন্দর রূপটির নাম "আদব" রেখেছিলেন, তখন সম্ভবত এই অর্থটিই লক্ষ্য করেছিলেন।

মুয়াবিয়া তাঁর পুত্রকে বললেন: হে বৎস! কবিতা বর্ণনা করো এবং তার মাধ্যমে চরিত্র গঠন করো। সিফফিনের যুদ্ধে আমি বহুবার পলায়নের সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু ইবনুল আতানাহ-র এই পঙক্তিগুলো ছাড়া আর কিছুই আমাকে তা থেকে বিরত রাখেনি:

আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পলায়ন করতে অস্বীকার করল, আর আমার ধৈর্য এবং চড়া মূল্যে প্রশংসা অর্জন করাও তা অস্বীকার করল।

বিপদসংকুল অবস্থায় আমার দুঃসাহসিক পদযাত্রা এবং মনোযোগী বীরদের মস্তকে আমার আঘাত (আমাকে ফিরিয়ে রাখল)।

আর যখনই আমার আত্মা ভীত ও বিচলিত হয়ে উঠছিল, তখনই আমার এই কথা: স্বস্থানে স্থির থাকো, হয় তুমি প্রশংসিত হবে নতুবা চিরবিশ্রাম লাভ করবে।

যাতে আমি নেক আমল ও সৎগুণাবলি রক্ষা করতে পারি এবং এরপর নিষ্কলঙ্ক মর্যাদা হিফাজত করতে পারি।

আপনি দেখছেন যে, কবিতাটি সরাসরি কোনো দুঃসাহসিকতার দাবি করছে না এবং অটল থাকার জন্য জোরাজুরিও করছে না; বরং এটি কবির অন্তরে চলা সেই দ্বন্দ্বের এক বিবরণ মাত্র, যখন তিনি রণক্ষেত্রে ছিলেন। কীভাবে তিনি সেই ময়দানে অটল থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন, অতীতে তাঁর জিহাদপূর্ণ জীবন, মর্যাদাহানি অস্বীকারকারী উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্মান অর্জনে একাগ্র অন্তর এবং সৎকাজে অগ্রগামী হওয়ার অভ্যস্ত মনই তাকে অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বীরদের মস্তকে আঘাত করা ছিল নিজের কীর্তি রক্ষা এবং মান-সম্মান হিফাজতের জন্য; আর এই কবিতার মধ্যে এছাড়া আর কিছুই নেই।

কিন্তু মুয়াবিয়া এর রচয়িতার মাঝে এক অনুসরণযোগ্য বীরকে প্রত্যক্ষ করেছেন।

আমরা যা পেশ করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সামাজিক সংস্কার সাহিত্যের অন্যতম লক্ষ্য কি না—তা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা কেবল বাহ্যিক। সাহিত্যের অর্থ ও এর ক্ষেত্র নির্ধারণ করলেই এ বিতর্ক দূর হয়ে যায়। যেহেতু আমরা বলেছি: জীবনের প্রতিটি বিষয়ই সাহিত্যের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য, যদি তা সাহিত্যিকের অনুভূতি—অর্থাৎ এর সৌন্দর্য বা কুশ্রীতা—দিয়ে বিচার করা হয়; সুতরাং সাহিত্যিক যদি কোনো নৈতিক বা সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন, কোনো গুণের প্রতি আহ্বান জানান কিংবা কোনো পাপ থেকে নিষেধ করেন, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। শর্ত হলো, এটি তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে হতে হবে এবং আমাদের মধ্যে এমন এক বোধ জাগ্রত করতে হবে যা আমাদের সন্তুষ্ট করবে ফলে আমরা তা আমল করব, অথবা অসন্তুষ্ট করবে ফলে আমরা তা থেকে বিরত থাকব।

সাহিত্যিক তাঁর অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে যা খুশি তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে স্বাধীন, আমরা তাঁর জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দেব না। আমরা তাঁর কাছে কেবল এটাই দাবি করি যে, তিনি যেন তাঁর অনুভূতি আমাদের সামনে ফুটিয়ে তোলেন। এজন্যই আমরা দেখি কিছু সাহিত্যিক পরামর্শের সৌন্দর্য অনুভব করে তার প্রশংসা করেছেন, যেমন বাশশার ইবনুল বুরদ, যখন তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
إذا بلغ الرأى المشورة فاستعن … برأى نصيح، أو نصيحة حازم

ولا تجعل الشورى عليك غضاضة … فإن الخوافى قوة للقوادم

ومنهم من لم ير فيها جمالا، كعبد الملك بن صالح، حين قال:

«ما استشرت أحدا إلا تكبر علىّ وتصاغرت له، ودخلته العزة، ودخلتنى الذلة، فعليك بالاستبداد، فإن صاحبه جليل في العيون، مهيب في الصدور، وإذا افتقرت إلى العقول، حقرتك العيون، فتضعضع شأنك، ورجفت بك أركانك، واستحقرك الصغير، واستخف بك الكبير، وما عز سلطان لم يغنه عقله عن عقول وزرائه وآراء نصحائه». وكلا القطعتين من الأدب.

أما التعبير الإباحى، فليس من الأدب ولا الفن الجميل، لأننا نعنى بالإثارة تلك الإثارة الوجدانية الروحية الخالصة، أما إثارة الغريزة الجنسية فليست من عمل الأدب، ومثل هذا اللون من القول، مثل الصور الخليعة الماجنة، لا يعدان من الفنون الرفيعة.

 

‌‌علوم البلاغة والنقد الأدبى

اصطلح الباحثون على عد علوم البلاغة ثلاثة: المعانى والبيان والبديع، يريدون بعلم المعانى ذلك العلم الذى يبحث في أسرار تركيب الجملة، والمعانى التى تفهم من تكوينها على نحو مخصوص، وذلك ما عناه عبد القاهر بمعانى النحو (1)، أى معانى نهج العرب في تكوينهم الجملة، ولذلك وقف بحث هذا العلم عند تأمل الفروق بين الجملة الاسمية والفعلية، وتدبر أحوال المسند والمسند إليه، ومتعلقات الفعل، من ذكر، وحذف، وتقديم، وتأخير، وإيثار معرفة على أخرى، أو صيغة من صيغ الفعل على غيرها، إلى ما سوى ذلك من بحث أسرار الجمال فى نظم الجملة العربية.

أما علم البيان، فموضوعه ذلك التصوير، الذى يهب الفكرة وضوحا وقوة فيزيد تأثيرها في نفس المخاطب، أو القارئ، بالالتجاء إلى الخيال المصور، ومن أجل هذا كان موضوع درسه التشبيه، والاستعارة، والكناية، والمجاز، وهى صور توحى بالتجربة الشعورية أتم إيحاء.

ويتناول علم البديع تلك المحسنات المعنوية حينا، واللفظية حينا آخر، مما يزيد في جمال اللفظ وقوة تأثيره، ووضوح المعنى.

--------------------------------------------

(1) راجع ص 63 - 96 من كتاب دلائل الإعجاز.
যখন বিচার-বুদ্ধি পরামর্শের স্তরে পৌঁছায়, তখন কোনো হিতাকাঙ্ক্ষীর মতামত অথবা কোনো দৃঢ়চেতা ব্যক্তির উপদেশের সাহায্য নাও।

আর পরামর্শ করাকে নিজের জন্য কোনো হীনম্মন্যতার বিষয় করো না; কারণ ভেতরের ক্ষুদ্র পালকগুলোই তো অগ্রবর্তী বড় পালকগুলোর শক্তির উৎস।

তাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যারা এতে (পরামর্শে) কোনো সৌন্দর্য দেখেননি, যেমন আব্দুল মালিক ইবনে সালিহ, যখন তিনি বলেছিলেন:

«আমি যখনই কারও সাথে পরামর্শ করেছি, সে তখনই আমার ওপর অহংকার করেছে আর আমি তার সামনে ছোট হয়ে গেছি। তার মাঝে আত্মগরিমা প্রবেশ করেছে আর আমার মাঝে প্রবেশ করেছে হীনতা। সুতরাং তোমার উচিত একচ্ছত্র আধিপত্য অবলম্বন করা; কেননা এর অধিকারী ব্যক্তি মানুষের চোখে মহিমান্বিত এবং অন্তরে ভীতিজাগানিয়া হয়ে থাকে। আর যখন তুমি অন্যের বুদ্ধির মুখাপেক্ষী হবে, তখন মানুষের চোখ তোমাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, ফলে তোমার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে এবং তোমার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাবে। ছোটরা তোমাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে এবং বড়রা তোমাকে হালকা মনে করবে। আর সেই শাসকের ক্ষমতা কখনো সুসংহত হয় না, যার নিজের বুদ্ধি তাকে তার মন্ত্রীদের বুদ্ধি ও হিতাকাঙ্ক্ষীদের মতামতের মুখাপেক্ষীহীন করতে পারে না।» আর উভয় অংশই সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।

পক্ষান্তরে অশ্লীল প্রকাশভঙ্গি সাহিত্য বা চারুকলার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমরা উদ্দীপনা বলতে সেই বিশুদ্ধ আবেগীয় ও আধ্যাত্মিক উদ্দীপনাকেই বুঝি। যৌন প্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলা সাহিত্যের কাজ নয়। এই ধরনের কথা এবং কুরুচিপূর্ণ নির্লজ্জ ছবি—কোনোটিই উচ্চমার্গের শিল্পকলা হিসেবে গণ্য নয়।

 

‌‌অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনা

গবেষকগণ অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) তিনটি ভাগে বিভক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন: মা'আনি (শব্দার্থতত্ত্ব), বায়ান (রূপক ও বর্ণনাশৈলী) এবং বাদি (শব্দশৈলী)। মা'আনি শাস্ত্র বলতে তারা সেই বিদ্যাকে বোঝান যা বাক্যের গঠনশৈলীর রহস্য এবং একটি বিশেষ পদ্ধতিতে গঠিত বাক্য থেকে যে অর্থসমূহ অনুধাবন করা হয় তা নিয়ে আলোচনা করে। আর আব্দুল কাহির 'ব্যাকরণিক অর্থসমূহ' (মা'আনিন নাহু) বলতে এটাই বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ বাক্য গঠনে আরবদের অনুসৃত পদ্ধতির তাৎপর্য। এই কারণে এই শাস্ত্রের আলোচনা আরবি বাক্যের গঠনের সৌন্দর্যের রহস্য অনুসন্ধানের পাশাপাশি ইসমিয়া (নামবাচক) ও ফেইলিয়া (ক্রিয়াবাচক) বাক্যের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ, মুসনাদ ও মুসনাদ ইলাইহির অবস্থা বিবেচনা, এবং ক্রিয়ার অনুষঙ্গসমূহ উল্লেখ করা, উহ্য রাখা, আগে আনা, পরে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট পরিচয়কে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া বা ক্রিয়ার একটি রূপকে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

আর ইলমুল বায়ান বা বর্ণনাশৈলী বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হলো সেই চিত্রায়ন, যা কোনো ধারণাকে স্বচ্ছতা ও শক্তি দান করে, ফলে কাল্পনিক চিত্রায়নের আশ্রয় নেওয়ার মাধ্যমে শ্রোতা বা পাঠকের মনে এর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এই উদ্দেশ্যেই এর আলোচনার বিষয়বস্তু হলো উপমা, রূপক, পরোক্ষ উক্তি এবং রূপকার্থ; যা অনুভূতিগত অভিজ্ঞতাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তোলে।

আর ইলমুল বাদি (শব্দশৈলী বিজ্ঞান) কখনো অর্থগত অলঙ্কার এবং কখনো শব্দগত অলঙ্কার নিয়ে আলোচনা করে, যা শব্দের সৌন্দর্য, প্রভাবের শক্তি এবং অর্থের স্পষ্টতা বৃদ্ধি করে।

--------------------------------------------

(১) দালায়েলুল ইজায গ্রন্থের ৬৩ - ৯৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
ولقد باعد بين هذه العلوم وبين ما كان يرجى لها من نهوض، أن كتب دراستها قد امتزجت بدراسات فلسفية، نأت بها عن تقدير الفن الأدبى، وآلت الكتابة فيها إلى عبارات موجزة مركزة، يسودها الغموض، وتحتاج إلى الشروح والحواشى، واعتمد مؤلفوها على أمثلة تطبيقية، بعيدة عن روح الفن، ولا أثر للبلاغة فيها. هذا فضلا عن الحاجة إلى مراجعة ما قرره العلماء من قبل، ووضعوه كأنه قواعد ثابتة، فهو في حاجة إلى التصحيح والتقويم من جديد، لخطئه في بعض الأحيان.

ولا أريد أن أطيل في بيان ما عليه علوم البلاغة الحالية، من قصور، وجفاف، مما يحتاج إلى جهود متضافرة في دأب، لإنقاذ هذه العلوم، والأخذ بيدها، حتى تعود دراستها فنية أدبية، فتقوم بدورها في إمداد النقد بالقواعد الصالحة، التى تدرس أسباب الجمال المودع في الجملة، وليس الشعور بالنقص في علوم البلاغة حديثا، بل قد شعر القدماء أنفسهم به، فقالوا إنها علوم لم تنضج بعد.

أما صلة هذه العلوم بالنقد الأدبى، فهى من علوم الأدب الاثنى عشر، التى تحدث عنها القدماء، ومن الخير أن نتبسط قليلا في الحديث عن هذه العلوم، لنرى مدى اعتماد النقد الأدبى عليها.

فمن تلك العلوم ما يعود إلى دراسة الكلمة المنفردة حينا، من حيث مادتها، وهو ما دعوه علم اللغة، وحينا من حيث انتساب بعض الكلمات إلى بعض بالأصلية والفرعية، وسموا ذلك علم الاشتقاق، وحينا آخر من حيث صورة الكلمة وهيئتها مما يدرس في علم الصرف.

ومن تلك العلوم ما يعود إلى الجملة، من حيث أداؤها للمعنى الأصلى، ويعنى بذلك علم النحو، أو من حيث إنها تفيد بنظمها معانى أخرى غير منطوق بها، كالمعانى التى تستفيدها من تقديم الكلمة حينا، أو تعريفها حينا، إلى غير ذلك مما يبحث عنه علم المعانى، أو من حيث إن الجملة تؤدى معناها بطريق الحقيقة، أو مستعينة بالخيال، وهو ما يبحث عنه علم البيان، ويلحقون بهذين العلمين علم البديع، الذى يعمد إلى التأثير في النفس، من حيث الصناعة اللفظية أو المعنوية.

ومن تلك العلوم ما يعود إلى الشعر، فيبحث فيه من حيث وزنه، وذلك علم العروض، أو من حيث قوافيه، وما يعتورها من الصحة والسقم، وهو علم القوافى.

كل هذه العلوم التى ذكرناها تدرس المفرد، أو الجملة والجملتين، أما النظر
নিশ্চয়ই এই বিজ্ঞানসমূহ এবং এগুলোর যে জাগরণ ও উন্নতির প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিষয়টি যে, এগুলোর পাঠ্যপুস্তকসমূহ দার্শনিক আলোচনার সাথে সংমিশ্রিত হয়ে গেছে। ফলে এগুলো সাহিত্যিক শিল্পের সঠিক মূল্যায়ন থেকে দূরে সরে গেছে এবং এগুলোর রচনাশৈলী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ঘনীভূত শব্দমালার দিকে ধাবিত হয়েছে, যেখানে অস্পষ্টতা বিরাজমান এবং যা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও টীকার মুখাপেক্ষী। এর লেখকগণ এমন কিছু প্রায়োগিক উদাহরণের ওপর নির্ভর করেছেন যা শিল্পের প্রাণসত্তা থেকে দূরে এবং যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের কোনো প্রভাব নেই। এর পাশাপাশি পূর্ববর্তী আলেমগণ যা স্থির করে গেছেন এবং যেগুলোকে অটল নিয়ম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তো রয়েছেই; বরং কিছু ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার কারণে সেগুলো নতুন করে সংশোধন ও পরিমার্জনের দাবি রাখে।

বর্তমান অলঙ্কারশাস্ত্রের যে সীমাবদ্ধতা ও শুষ্কতা রয়েছে, তার বর্ণনায় আমি দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না। এই বিজ্ঞানসমূহকে রক্ষা করতে এবং এগুলোর হাত ধরে এগিয়ে নিতে নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যাতে এগুলোর অধ্যয়ন পুনরায় শিল্পসম্মত ও সাহিত্যিক রূপ ফিরে পায়। ফলে এটি সঠিক নিয়মাবলি সরবরাহের মাধ্যমে সাহিত্য সমালোচনায় তার ভূমিকা পালন করতে পারবে, যা বাক্যের ভেতরে নিহিত সৌন্দর্যের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করে। অলঙ্কারশাস্ত্রে এই অপূর্ণতার অনুভূতি নতুন কিছু নয়; বরং প্রাচীনগণও নিজেরা তা অনুভব করেছিলেন। তাই তারা বলতেন, এগুলো এমন বিজ্ঞান যা এখনও পরিপক্বতা লাভ করেনি।

আর সাহিত্য সমালোচনার সাথে এই বিজ্ঞানগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে বলা যায়, এগুলো সাহিত্যের সেই বারোটি শাখার অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর বিষয়ে প্রাচীনগণ আলোচনা করেছেন। এই বিজ্ঞানগুলো সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা উত্তম হবে, যাতে দেখা যায় সাহিত্য সমালোচনা এগুলোর ওপর কতটা নির্ভরশীল।

এই বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে কিছু আছে যা একক শব্দ পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট; কখনো তার মূল উপাদানের দিক থেকে—যাকে তারা ভাষাবিজ্ঞান বলেছেন; কখনো এক শব্দের সাথে অন্য শব্দের মূল ও শাখার ভিত্তিতে সম্পর্কের দিক থেকে—যাকে তারা ব্যুৎপত্তি শাস্ত্র নাম দিয়েছেন; আবার কখনো শব্দের রূপ ও কাঠামোর দিক থেকে—যা রূপতত্ত্বশাস্ত্রে আলোচনা করা হয়।

আর এই বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে কিছু আছে যা বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট; কখনো মূল অর্থ প্রকাশের দিক থেকে—যাকে ব্যাকরণ শাস্ত্র বলা হয়; আবার কখনো বাক্যের বিন্যাসের মাধ্যমে এমন কিছু অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের দিক থেকে যা সরাসরি উচ্চারিত হয় না, যেমন শব্দের আগে-পরে আনা কিংবা নির্দিষ্টকরণ ইত্যাদি থেকে যে অর্থগুলো লাভ করা যায়—যা অর্থালঙ্কার শাস্ত্র অনুসন্ধান করে। অথবা বাক্যটি তার অর্থ প্রকৃত অর্থে প্রকাশ করছে নাকি কল্পনার সাহায্যে—তা নিয়ে আলোচনা করে অলঙ্কার শাস্ত্র। এই দুই বিজ্ঞানের সাথে তারা চারুশৈলী শাস্ত্রকে যুক্ত করেন, যা শাব্দিক বা অর্থগত কারুকার্যের মাধ্যমে মনে প্রভাব সৃষ্টি করার প্রয়াস পায়।

আর এই বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে কিছু কবিতার সাথে সংশ্লিষ্ট; সেখানে কবিতার ছন্দ নিয়ে আলোচনা করা হয়—যা ছন্দশাস্ত্র; অথবা কবিতার অন্ত্যমিল এবং এর শুদ্ধতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়—যা অন্ত্যমিল শাস্ত্র।

আমরা যে সকল বিজ্ঞানের কথা উল্লেখ করেছি তার প্রতিটিই একক শব্দ কিংবা একটি বা দুটি বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। তবে দৃষ্টিভঙ্গি
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلى النص النثرى برمته، وإلى القصيدة كلها، فقد وضع له الأقدمون علمين هما علم الشعر، وعلم النثر.

وقل من كتب من العلماء في هذين العلمين. ولعلنا نستطيع أن ندخل في علم النثر دراسة الأساليب وألوانها، وما يجب أن يكون هناك من صلة بين الأسلوب والموضوع، وندخل فيه كذلك دراسة خصائص كل فن من فنونه، فندرس المقالة، والقصة، والرواية، والرسالة، والخطبة، مبينين ميزة كل لون من هذه الألوان، لا من الناحية اللفظية فحسب، ولكن من الناحية المعنوية كذلك، فنرسم منهج كل نوع في تناول معانيه.

ونستطيع أن ندخل في علم الشعر تنوع بحوره، ومناسبة كل بحر لعاطفة خاصة، وموضوع خاص، وندخل فيه أيضا حديثا عن القافية ووحدتها أو تعددها، وأثرها الموسيقى، وحديثا عن ألوان الشعر، من عاطفى، وروائى، وقصصى، وما يمتاز به كل لون من خصائص وسمات، مع العناية التامة بناحية المعانى وطرق تناولها، كما ندرس كذلك معنى العاطفة وأنواعها، وألوان الخيال، وقيمة الحقائق في النصوص الأدبية. وقد ألم القدماء ببعض هذه النواحى ولكنهم لم يوفوها حقها من البحث والتحليل.

ولم ينس القدماء أن الأدب يعتمد على المعرفة، وأن الأديب محتاج إلى أن يلم بخلاصة وافية لمختلف الثقافات، فذكروا من بين علوم الأدب، علم المحاضرات، يريدون ما

يعبرون عنه، بأن على الأديب أن يأخذ من كل فن بطرف، وهذه المعارف هى التى يتكئ عليها الأديب في تصوير شعوره بالجمال أو بالقبح، ولذا ترى الأديب في حاجة إلى علم النفس، والتاريخ، والاجتماع، مثلا عند ما يضع رواية تمثيلية، يحلل فيها نفوس الشخصيات، أو يصف عصرا من عصور التاريخ، أو يتناول مشكلة من مشاكل الاجتماع، وهو محتاج إلى تلك العلوم وغيرها، عند ما يضع قصة، أو أقصوصة، أو عند ما يضمن إنتاجه حقيقة من حقائق الحياة.

وهنا يجدر بنا أن نبين أن الشاعر أو الكاتب، قد يوحى إليه شعوره تفسيرا لمظهر من مظاهر الكون يخالف تفسير العلم له، فيوزن الأديب حينئذ بمقدار طبيعة هذا الشعور وصدقه، لا بمقدار ما فيه من الحقائق. خذ مثلا لذلك قول شوقى يناجى النيل:

من أى عهد في القرى تتدفق … وبأى كف في المدائن تغدق؟!

ومن السماء نزلت، أم فجرت من … عليا الجنان جداولا تترقرق؟!
সমগ্র গদ্য পাঠ এবং পূর্ণাঙ্গ কবিতার জন্য প্রাচীন পণ্ডিতগণ দুটি শাস্ত্র নির্ধারণ করেছেন, তা হলো কবিতা বিজ্ঞান এবং গদ্য বিজ্ঞান।

খুব কম সংখ্যক আলেমই এই দুটি শাস্ত্র নিয়ে লিখেছেন। সম্ভবত আমরা গদ্য বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি শৈলী ও এর প্রকারভেদের অধ্যয়ন, এবং শৈলী ও বিষয়ের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক থাকা আবশ্যক তার আলোচনা। একইভাবে আমরা এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারি এর প্রতিটি শিল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহের অধ্যয়ন। অতএব আমরা প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, পত্র এবং ভাষণ নিয়ে আলোচনা করব, এবং এগুলোর প্রতিটির বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করব; কেবল শাব্দিক দিক থেকে নয়, বরং অর্থগত দিক থেকেও। ফলে আমরা এর প্রতিটি প্রকারের অর্থ উপস্থাপনের পদ্ধতি অঙ্কন করব।

আর আমরা কবিতা বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি এর ছন্দের বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি ছন্দের সাথে বিশেষ আবেগ ও বিশেষ বিষয়ের সামঞ্জস্যতা। আরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারি অন্ত্যমিল, এর একমুখিতা বা বহুত্ব এবং এর সুরের প্রভাবের আলোচনা। সেই সাথে কবিতার বিভিন্ন প্রকার যেমন আবেগীয়, মহাকাব্যিক ও কাহিনীমূলক কবিতা এবং প্রতিটি প্রকারের বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণের আলোচনা। এক্ষেত্রে অর্থের দিকটি এবং তা উপস্থাপনের পদ্ধতির প্রতি পূর্ণ গুরুত্বারোপ করতে হবে। একইভাবে আমরা আবেগের অর্থ ও তার প্রকারভেদ, কল্পনার বৈচিত্র্য এবং সাহিত্যিক পাঠে সত্যের মূল্য নিয়ে অধ্যয়ন করব। প্রাচীনগণ এসব বিষয়ের কিছু দিক নিয়ে আলোকপাত করেছেন কিন্তু তাঁরা গবেষণা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এর পূর্ণ হক আদায় করেননি।

প্রাচীনরা এ কথা ভুলে যাননি যে, সাহিত্য জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল এবং সাহিত্যিকের জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতির পর্যাপ্ত সারাংশ সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন। তাই তাঁরা সাহিত্যের জ্ঞানসমূহের মধ্যে 'ইলমুল মুহাদারাত' (বক্তব্য ও আলোচনার শাস্ত্র) উল্লেখ করেছেন। তাঁরা এর দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন যে,

সাহিত্যিককে প্রতিটি শিল্প বা শাস্ত্র থেকে কিছুটা অংশ গ্রহণ করতে হবে। আর এই জ্ঞানসমূহই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর সাহিত্যিক সৌন্দর্য বা কুৎসিতবোধের অনুভূতি চিত্রায়ণে নির্ভর করেন। একারণেই আপনি সাহিত্যিককে মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী হিসেবে দেখতে পান। উদাহরণস্বরূপ, যখন তিনি কোনো নাট্যধর্মী উপন্যাস রচনা করেন, তখন তাতে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেন, অথবা ইতিহাসের কোনো যুগ বর্ণনা করেন, কিংবা সমাজের কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি যখন কোনো গল্প বা ছোটগল্প রচনা করেন অথবা যখন তাঁর সৃজনশীল কর্মে জীবনের কোনো সত্যকে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন তিনি এই জ্ঞানসমূহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের মুখাপেক্ষী হন।

এখানে আমাদের জন্য এটা স্পষ্ট করা সমীচীন যে, কবি বা লেখকের অনুভূতি মহাবিশ্বের কোনো একটি নিদর্শনের এমন ব্যাখ্যা তাঁর অন্তরে প্রক্ষেপ করতে পারে যা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার পরিপন্থী। এমতাবস্থায় সাহিত্যিককে সেই অনুভূতির প্রকৃতি ও সত্যতার মানদণ্ডে বিচার করা হবে, তাতে বিদ্যমান তথ্যের মানদণ্ডে নয়। এর উদাহরণ হিসেবে শওকীর সেই পঙ্ক্তিটি গ্রহণ করুন যেখানে তিনি নীল নদের সাথে কথোপকথন করছেন:

কোন যুগ থেকে তুমি জনপদগুলোতে প্রবাহিত হচ্ছো … আর কোন হাতের মাধ্যমে তুমি শহরগুলোতে অকাতরে দান করছো?!

তুমি কি আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়েছ, নাকি জান্নাতের সুউচ্চ স্থান থেকে ঝরনাধারা হিসেবে প্রবাহিত হয়ে এসেছ?!
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
فالحقيقة الجغرافية لمنابع النيل معروفة، ولكن عظمة النيل وجلال ما له من أياد، حتى لكأنه يفيض سلسبيلا من عليا الجنان، أوحيا إلى شوقى بهذا التساؤل الشعرى البارع.

تلك هى علوم الأدب، أما الأدب نفسه: شعره ونثره، ففن من الفنون الجميلة، وهو لذلك ينبع من الموهبة، ويفيض من الفطرة، ثم تسدده هذه العلوم وتهدى خطاه، وإن نظرة إلى تلك العلوم نفسها، تجعلنا نؤمن بأن الناقد حين ينقد، فى حاجة إلى تلك العلوم نفسها، عند تقدير النص الأدبى وتقويمه، ومن أجل هذا صح لنا القول بأن تلك علوم الأدب: إنتاجا ونقدا، فالناقد، فضلا عن حاجته إلى العلوم اللغوية، فى حاجة- كالأديب- إلى الإلمام بمختلف الثقافات، حتى يستطيع أن يحكم على النص حكما صادقا خالصا.

أما النقد نفسه فكالأدب، فن من الفنون، يعتمد على الموهبة والفطرة، ويتكئ على ما قدمنا من العلوم، لبيان وجه جمال الجميل، وقبح القبيح.

وقد طال الحديث عن صلة النقد بالذوق، حتى لقد قيل إن النقد يعتمد على الذوق وحده، وهذا صحيح إلى حد كبير، فهذا الذوق هو الملكة الموهوبة، التى يستطاع بها تقدير الأدب الإنشائى، وإننا إذا تدبرنا حقيقة الأمر، رأينا أن كل تعليل بلاغى، هو تفسير لهذا الذوق السليم، وتعليل عقلى له، فليس تعليلك لجمال النص بأن فيه إيجازا، أو إطنابا، أو حذفا، أو تقديما، سوى تفسير عقلى لذوقك الذى أحس بجمال النص.

وإذا كانت الملكات في النفوس كالبذور، تحتاج إلى التربة الصالحة، والغذاء والماء فكذلك ملكة الأدب ونقده، فى حاجة إلى الرى، والغذاء، وذلك إنما يكون بدراسة ما أسلفناه من علوم، وبالتملؤ من الأدب القوى، وبالقراءة الأدبية الفاحصة، والمران على تقويم النصوص، والبحث عن أسرار جمالها، ومناحى لونها، وبذلك يقوّم الذوق ويستقيم حكمه.

غير أن هذه التربة الصالحة التى يجب أن يغتذى الذوق منها، تحتاج إلى جهد جهيد، وتضافر قوى الباحثين والدارسين، حتى تصبح صالحة، لإنتاج أبرك الثمرات، ذلك أن من علوم النقد ما تم نضجه، فلم يعد في حاجة لغير تنظيمه، حتى يصبح الانتفاع به ميسورا كعلم النحو، والصرف، والعروض، والقافية، ومنها ما لم ينضج بعد، بل هو في حاجة إلى معاودة النظرة، لتخليصه مما علق به مما ليس منه، ولتصحيح أخطاء مضى عليها الزمن، حتى استقرت صحتها في
নীল নদের উৎসের ভৌগোলিক বাস্তবতা সর্বজনবিদিত, কিন্তু নীল নদের বিশালতা এবং তার যে অসংখ্য অনুগ্রহ রয়েছে—যা দেখে মনে হয় যেন তা জান্নাতের উচ্চশিখর থেকে সালসাবিল ঝর্ণার ন্যায় প্রবাহিত হচ্ছে—তা-ই শওকিকে এই চমৎকার কাব্যিক জিজ্ঞাসার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

এগুলোই হলো সাহিত্য বিষয়ক জ্ঞান। আর সাহিত্য নিজে—চাই তা কবিতা হোক বা গদ্য—তা ললিতকলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি শিল্প। এই কারণেই তা প্রতিভা থেকে উৎসারিত হয় এবং সহজাত প্রবৃত্তি থেকে প্রবাহিত হয়। অতঃপর এই জ্ঞানসমূহ তাকে সুসংহত করে এবং তার চলার পথকে নির্দেশিত করে। বস্তুত এই জ্ঞানসমূহের প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, একজন সমালোচক যখন সমালোচনা করেন, তখন কোনো সাহিত্যিক পাঠের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই জ্ঞানসমূহেরই মুখাপেক্ষী হন। এই কারণেই আমাদের এই কথা বলা সংগত যে, এগুলো হলো সাহিত্যের সৃষ্টি ও সমালোচনা—উভয় ক্ষেত্রেরই জ্ঞান। অতএব, একজন সমালোচক ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি—একজন সাহিত্যিকের মতোই—বিভিন্ন সংস্কৃতির বিষয়ে সম্যক অবগতির প্রয়োজন বোধ করেন, যাতে তিনি কোনো পাঠের ওপর একটি যথার্থ ও খাঁটি রায় প্রদান করতে পারেন।

আর সমালোচনা খোদ সাহিত্যের মতোই একটি শিল্প, যা প্রতিভা ও সহজাত প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে এবং আমরা ইতিপূর্বে যে সকল জ্ঞানের কথা উল্লেখ করেছি, সৌন্দর্যের নান্দনিক দিক এবং কদর্যতার মন্দ দিকসমূহ ফুটিয়ে তোলার জন্য এটি সেগুলোর ওপর ভরসা করে।

রুচিবোধের সাথে সমালোচনার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে, এমনকি এ কথা পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, সমালোচনা কেবল রুচিবোধের ওপরই নির্ভরশীল। এটি একটি বড় সীমা পর্যন্ত সত্য; কারণ এই রুচিবোধই হলো সেই প্রতিভাজাত যোগ্যতা, যার মাধ্যমে সৃজনশীল সাহিত্যের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। আমরা যদি বিষয়টির বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করি, তবে দেখতে পাব যে, প্রতিটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যাই মূলত এই সুস্থ রুচিবোধেরই একটি ব্যাখ্যা এবং তার যৌক্তিক কারণ বিশ্লেষণ। কোনো পাঠের সৌন্দর্যের কারণ হিসেবে সেখানে সংক্ষেপণ, সবিস্তার বর্ণনা, বিলোপ সাধন কিংবা শব্দের ক্রমপরিবর্তন বিদ্যমান থাকার যে ব্যাখ্যা আপনি প্রদান করেন, তা আপনার সেই রুচিবোধেরই একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়, যা পাঠটির সৌন্দর্য অনুভব করেছে।

আত্মার ভেতরের যোগ্যতা বা গুণাবলি যদি বীজের মতো হয় যার জন্য উর্বর মাটি, খাদ্য ও পানির প্রয়োজন, তবে সাহিত্য ও সমালোচনার যোগ্যতার জন্যও সেচ ও খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে। আর তা অর্জিত হয় আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত জ্ঞানসমূহের চর্চা, শক্তিশালী সাহিত্য থেকে জ্ঞান আহরণ, সূক্ষ্ম সাহিত্যিক পাঠ, পাঠ মূল্যায়নের অনুশীলন এবং সাহিত্যের সৌন্দর্যের রহস্য ও বিচিত্র রূপ অন্বেষণের মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই রুচিবোধ মার্জিত হয় এবং এর বিচার ক্ষমতা সঠিক রূপ লাভ করে।

তবে যে উর্বর মাটি থেকে রুচিবোধ পুষ্টি গ্রহণ করবে, তাকে উপযুক্ত করে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যাতে তা থেকে সর্বোত্তম ফল উৎপন্ন হতে পারে। কারণ, সমালোচনা সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহের মধ্যে কিছু জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করেছে, যা সুবিন্যস্ত করা ছাড়া আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই, যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়; যেমন—নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দরূপতত্ত্ব), আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) এবং কাফিয়া (অন্ত্যমিল)। আবার কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা এখনো পরিপক্ক হয়নি, বরং সেগুলোর ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে তাকে এমন সব বিজাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত করা যায় যা তার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ভুলগুলোকে সংশোধন করা যায়, এমনকি যেগুলোর সঠিকতা স্থির হয়ে গেছে... এ।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الأذهان، وهى غير صحيحة، وتلك هى علوم البلاغة، التى اختلطت بمسائل فلسفية، وملئت كتبها بأبحاث لفظية، ومناقشات جدلية، باعدت بينها، وبين أداء رسالتها، أداء كاملا غير منقوص، وحسبى أن أشير إلى شروح التلخيص وحواشيه، التى تضل البلاغة في ثناياها وشعبها، فلا تهتدى إليها، وحسبى كذلك أن أشير إلى ما في باب التشبيه، من أخطاء في القواعد الموضوعة، من وقوفهم عند حد الحس في التشبيه، وجعلهم البعيد الغريب في التشبيه أبلغ أنواعه، إلى غير ذلك من أحكام تحتاج إلى مراجعة النظر، للوصول فيها إلى حكم صحيح.

ومن تلك العلوم ما لم يدرس إلى اليوم، سوى أشتات مبعثرة، ونعنى بذلك علمى الشعر والنثر، وقد أبنّاهما فيما مضى، فلا عجب إذا أن نرى النقد الأدبى متعثرا في خطاه إلى اليوم، فإننا لم نهيئ له التربة الصالحة لنموه وإثماره، وإذا أردنا أن ينهض النقد ليؤدى رسالته، فلنهذب علومه، ولنضع ما نقص منها، جاعلين هدفنا من ذلك كله تربية ذوق صالح سليم.

***
মস্তিষ্কপ্রসূত ধারণা, যা সঠিক নয়। এগুলো হলো অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত), যা দার্শনিক মাসআলাসমূহের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে গেছে এবং এর কিতাবসমূহ শাব্দিক গবেষণা ও তর্কমূলক বিতর্কে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো এই শাস্ত্রকে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূর্ণাঙ্গরূপে ও ত্রুটিহীনভাবে সম্পাদনের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। 'তালখিস'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করাই আমার জন্য যথেষ্ট, যেগুলোর ভাঁজে ও শাখাপ্রশাখায় অলঙ্কারশাস্ত্র এমনভাবে হারিয়ে গেছে যে তার নাগাল পাওয়া যায় না। তদ্রূপ 'তাশবিহ' (উপমা) অধ্যায়ে উপস্থাপিত নীতিমালাসমূহে বিদ্যমান ভুলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট। যেমন—উপমার ক্ষেত্রে কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং দূরবর্তী ও অপরিচিত উপমাকে সর্বোত্তম প্রকার সাব্যস্ত করা। এ ছাড়াও এমন আরও অনেক বিধান রয়েছে যেগুলো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই শাস্ত্রগুলোর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা আজ পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত কিছু অংশ ব্যতীত ধারাবাহিকভাবে অধ্যয়ন করা হয়নি; আর তা হলো কবিতা ও গদ্য সাহিত্য। ইতিপূর্বে আমরা এ দুটি বিষয় বর্ণনা করেছি। সুতরাং আজ পর্যন্ত সাহিত্য সমালোচনাকে (নকদ) তার পথচলায় হোঁচট খেতে দেখে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ আমরা এর বিকাশ ও ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করিনি। আমরা যদি চাই সাহিত্য সমালোচনা জাগ্রত হয়ে তার লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হোক, তবে আমাদের উচিত এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে পরিমার্জিত করা এবং এর অসম্পূর্ণতাগুলো পূর্ণ করা। আর এই সবকিছুর পেছনে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি মার্জিত ও সঠিক রুচিবোধ তৈরি করা।

***
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌القراءة الأدبية

هى تلك التى يحاول القارئ فيها، أن يستحضر في نفسه التجربة، كما مرت بالأديب المنشئ، وإذا كان الأديب يتخذ لنقل تجربته ألفاظا يختارها، توحى إلى قارئه بمشاعره، فالقراءة الأدبية، هى التى يقف القارئ فيها أمام كل كلمة في النص الأدبى، يتبين ما توحى به، ويرى ما يحيط بها من الظلال، ويتأمل سر اختيارها، ليستخلص كل ما فيها، من خواطر ومعان، فيمارس التجربة التى مارسها المنشئ، ويعيش اللحظة التى عاشها ومن هنا قالوا: إن الأدب يضيف عمرا إلى عمر قارئه، بسبب هذه التجارب التى يستحضرها، ويشعر بها نفسه.

ويمر القارئ للأدب بثلاث مراحل، فالمرحلة الأولى: هى التى يقرأ فيها النص الأدبى ليعيش في تجربته، والمرحلة الثانية: هى مرحلة النقد، وفيها يدرس القارئ ألفاظ النص، ليرى قدرتها على التعبير عما أراده الأديب، أو عجزها عن ذلك، وفي المرحلة الثالثة: ينقد ما يكون قد اشتمل عليه، من معان وآراء، فيرى خطأه وصوابه، وصدقه

أو كذبه، ولن يستطيع القارئ أن يصل إلى المرحلة الثالثة، إلا إذا عاش التجربة كما عاشها منشئها، وتقمص شعوره، وحينئذ يحكم بصواب ما قرأ أو خطئه، فالقراءة الأدبية ألوان ثلاثة: قراءة متذوقة، وقراءة ناقدة، وقراءة حاكمة، ولكى تتبين كيف يقرأ الأدب قراءة متذوقة، نأتى ببعض المثل؛ لنرى تلك الآفاق الواسعة التى يفتحها أمام أنفسنا ذلك النوع من القراءة.

قال البحترى في وصف الربيع:

أتاك الربيع الطلق، يختال ضاحكا … من الحسن، حتى كاد أن يتكلما

وقد نبه النيروز في غسق الدجى … أوائل وردكن بالأمس نوّما

يفتقها برد الندى، فكأنه … يبث حديثا، كان قبل مكتما

فمن شجر، رد الربيع لباسه … عليه، كما نشّرت وشيا منمنما

ورق نسيم الريح، حتى حسبته … يجيء بأنفاس الأحبة نعما

ترى الشاعر قد جاء بكاف الخطاب في أول حديثه، كأنما ينبه من يخاطبه إلى
সাহিত্যিক পাঠ

এটি এমন এক পাঠ যেখানে পাঠক নিজের মাঝে সেই অভিজ্ঞতাকে উপস্থিত করার চেষ্টা করেন, যেমনটি সাহিত্যিক বা রচয়িতার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। যদি সাহিত্যিক তার অভিজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এমন শব্দ চয়ন করেন যা তার অনুভূতি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়, তবে সাহিত্যিক পাঠ হলো সেটি যেখানে পাঠক সাহিত্যিক পাঠ্যের প্রতিটি শব্দের সামনে দাঁড়িয়ে তার ইঙ্গিতগুলো অনুধাবন করেন, তার চারপাশের ব্যঞ্জনা প্রত্যক্ষ করেন এবং সেই শব্দ চয়নের রহস্য নিয়ে চিন্তা করেন; যাতে তিনি শব্দটির মধ্যস্থিত সকল ভাবনা ও অর্থ আহরণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি সেই অভিজ্ঞতারই চর্চা করেন যা রচয়িতা করেছিলেন এবং সেই মুহূর্তটিই যাপন করেন যা তিনি যাপন করেছিলেন। এই কারণেই বলা হয়: সাহিত্য পাঠকের জীবনে নতুন আয়ু যোগ করে, কারণ এই অভিজ্ঞতাসমূহ সে উপস্থিত করে এবং নিজের মাঝে অনুভব করে।

সাহিত্যের পাঠক তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেন। প্রথম পর্যায়: যেখানে তিনি সাহিত্যিক পাঠ্যটি পড়েন তাতে নিমজ্জিত হয়ে সেই অভিজ্ঞতা যাপন করার জন্য। দ্বিতীয় পর্যায়: এটি হলো সমালোচনার পর্যায়, যেখানে পাঠক পাঠ্যের শব্দসমূহ নিয়ে অধ্যয়ন করেন, যাতে তিনি দেখতে পান যে সাহিত্যিক যা চেয়েছিলেন তা প্রকাশে শব্দগুলো কতটা সক্ষম বা অক্ষম। তৃতীয় পর্যায়: এতে সাহিত্যিক পাঠ্যে বিদ্যমান অর্থ ও মতামতসমূহের সমালোচনা করা হয়, যেখানে তিনি তার ভুল ও সঠিক এবং সত্যতা বা মিথ্যা নির্ধারণ করেন।

অথবা তার অসত্যতা; পাঠক ততক্ষণ পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না, যতক্ষণ না তিনি সেই অভিজ্ঞতাটি রচয়িতার মতো যাপন করবেন এবং তার অনুভূতিকে নিজের মাঝে ধারণ করবেন। তখনই তিনি যা পড়লেন তার সঠিক বা ভুল হওয়ার বিষয়ে ফয়সালা দিতে পারবেন। সুতরাং সাহিত্যিক পাঠ তিন প্রকার: রসাস্বাদনমূলক পাঠ, সমালোচনামূলক পাঠ এবং বিচারমূলক পাঠ। সাহিত্যকে কীভাবে রসাস্বাদনমূলকভাবে পড়তে হয় তা স্পষ্ট করার জন্য আমরা কিছু উদাহরণ পেশ করছি; যাতে আমরা দেখতে পাই যে এই ধরনের পাঠ আমাদের আত্মার সামনে কত বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করে।

বসন্তের বর্ণনায় আল-বুহতুতি বলেছেন:

হাস্যোজ্জ্বল মুক্ত বসন্ত তোমার নিকট এসেছে সদম্ভে পদচারণা করতে করতে … তার সৌন্দর্যে সে যেন কথা বলে ওঠার উপক্রম করেছে।

নওরোজ (বসন্তের উৎসব) অন্ধকারের শেষভাগে জাগিয়ে দিয়েছে … সেই সব গোলাপের কুঁড়িকে যারা গতকাল পর্যন্ত ঘুমে নিমগ্ন ছিল।

শিশিরের শীতলতা তাদের প্রস্ফুটিত করছে, যেন সে … এমন কোনো কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে যা আগে গোপন ছিল।

বসন্ত বৃক্ষরাজিকে তাদের পোশাক ফিরিয়ে দিয়েছে … ঠিক যেমন তুমি কোনো কারুকার্যখচিত নকশা করা চাদর বিছিয়ে দাও।

বাতাসের মন্দাভাব এতই কোমল হয়েছে যে, তোমার মনে হবে … সে যেন প্রিয়জনদের স্নিগ্ধ নিঃশ্বাস নিয়ে আসছে।

আপনি লক্ষ্য করবেন যে কবি তার বক্তব্যের শুরুতে সম্বোধনের কাফ (তুমি/তোমাকে) নিয়ে এসেছেন, যেন তিনি যাকে সম্বোধন করছেন তাকে এই বিষয়ে সতর্ক করছেন যে...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
أن جمال الطبيعة في هذا الفصل قد جاء إليه، وكأنه يدعوه إلى الابتهاج به، والفرح بمقدمه وفي تعريف الربيع (بأل) العهدية، ما يثير في النفس ما ألفته في هذا الفصل الرائع من جمال وحياة، وفي اختيار كلمة (الطلق) ما يوحى بمعنى الحرية التى يشعر الناس بها في الطبيعة، فليس فيها شذوذ بسحب متراكمة ولا مطر، ولا أوحال في الطرق، تقيد الناس وتحبسهم في بيوتهم، ويشعرون بها في أنفسهم، غير مقيدين بمنازلهم حينا، وبنوع من الملابس حينا آخر، وتأمل كلمة (يختال) فلعلها تصور لك اختيال الأزهار يداعبها مر النسيم، وفي تعبيره (يختال ضاحكا) ما يوحى إليك بأن الشاعر لم يحس بالربيع مظاهر تراها العين فحسب، ولكنه حياة تتدفق في جميع أرجاء الكون، فيهتز عطفه اختيالا، ويبتسم ضاحكا، ويزداد شعور الشاعر بهذه الحياة، ويقوى إحساسه بإفصاح الربيع عن جماله وبهائه، فيخاله يكاد يتكلم ويبين، ويطرد إحساس الشاعر بحياة الربيع، فيرى هذه الأزهار التى تملأ الجو بأريجها مخلوقات، كانت تغط في نوم عميق، فجاءها الربيع ينبهها أن تستيقظ من رقادها، وكأنما زارها في الدجى، يؤكد ألا يسفر وجه الصباح، حتى تكون قد أخذت بهجتها وازينت، كى لا يضيع عليها شىء من جمال النهار، وذلك هو السر في تنبيه الربيع لها، فى غسق الدجى، ثم ألا ترى في استخدام (ورد) هنا ما يحمل إليك أريج أزهار الربيع، وفي استخدام كلمة (أوائل) ما يشير إلى نشاط هذه الزهرات الأولى من أزهار الربيع، وفي اختيار كلمة (نوّم) ما يوحى إليك بما كان فيه الزهر من غفلة عن جمال الحياة، قبل أن ينبهه فصل الجمال، وإن هذه الغفلة والنوم ليحتاجان إلى إيقاظ عنيف، ولذلك استخدم الشاعر كلمة (يفتق) التى تدل على شىء من العنف، ثم ألا ترى أن الدفء مبعث اللجاج في النوم، فمن المعتاد أن البرد يوقظ النائم، وبذلك ترى السر في اختيار (برد الندى) وسيلة لإيقاظ الأزهار، ولما كان شعور الشاعر بتدفق الحياة في الكون قويّا دافقا، أحس كأن هذا الورد يفشى سرّا، كان يخفيه، واختار لتعبيره كلمة (يبث) التى تشعر بأن الحديث الذى يذيعه الورد حديث في خفوت يشبه الهمس، وقال (مكتما) لينقل إلى نفسك ما كان عليه جمال الزهرة قبل تفتحها من سرية محجوبة لا تبين، فكثير من الزهر يتشابه قبل أن تتفتح أكمامه، ويقف المرء أمامه، لا يتبين ما يكون عليه أمره، بعد أن يتفتح، فجماله سر مكتم لا ينم عنه شىء، واختار الشاعر كلمة (حديث) التى توحى بهذا التجاوب النفسى بين الطبيعة والإنسان.

প্রকৃতির সৌন্দর্য এই ঋতুতে তার কাছে এমনভাবে এসেছে যেন তা তাকে এই রূপসুধায় বিমুগ্ধ হতে এবং এর আগমনে আনন্দিত হতে আহ্বান করছে। আর ‘বসন্ত’ শব্দটিকে নির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের মধ্যে অন্তরে সেই আবহ তৈরি হয়, যা মানুষ এই চমৎকার ঋতুর সৌন্দর্য ও প্রাণোচ্ছলতার সাথে পরিচিত হওয়ার কারণে অনুভব করে থাকে। ‘উন্মুক্ত’ শব্দটি নির্বাচনের মধ্যে স্বাধীনতার সেই অর্থের ইঙ্গিত রয়েছে যা মানুষ প্রকৃতির মাঝে অনুভব করে। কারণ এতে পুঞ্জীভূত মেঘ বা বৃষ্টির কোনো অস্বাভাবিকতা নেই, কিংবা পথে কোনো কাদা নেই যা মানুষকে শৃঙ্খলিত করে এবং তাদের গৃহবন্দি করে রাখে। মানুষ এটি নিজের অন্তরেও অনুভব করে; তারা একদিকে যেমন তাদের গৃহে সীমাবদ্ধ নয়, তেমনি অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট ধরণের পোশাকের মাধ্যমেও সংকুচিত নয়। ‘গর্বভরে চলা’ শব্দটির প্রতি লক্ষ্য করুন; সম্ভবত এটি আপনার কাছে ফুলের সেই দোদুল্যমানতাকে চিত্রায়িত করবে যখন মৃদু মন্দ বাতাস তাদের সাথে ক্রীড়া করে। তাঁর ‘হেসে গর্বভরে চলা’ অভিব্যক্তির মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কবি বসন্তকে কেবল চাক্ষুষ নিদর্শনের মাধ্যমেই অনুভব করেননি, বরং এটি মহাবিশ্বের সর্বত্র প্রবহমান এক জীবন। ফলে এটি সগর্বে নেচে ওঠে এবং স্মিতহাস্যে হেসে ওঠে। কবির এই জীবনবোধ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় এবং বসন্তের নিজের সৌন্দর্য ও লাবণ্য প্রকাশের অনুভূতির মাধ্যমে তাঁর এই বোধ আরও সুদৃঢ় হয়। তিনি যেন ধারণা করছেন যে এটি প্রায় কথা বলছে এবং মনের ভাব ব্যক্ত করছে। কবির বসন্তের জীবন-সংশ্লিষ্ট অনুভূতি ক্রমেই প্রসারিত হয়, ফলে তিনি এই ফুলগুলোকে—যা নিজ সুবাসে বাতাসকে আমোদিত করে—এমন এক সৃষ্টি হিসেবে দেখেন যারা গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল। অতঃপর বসন্ত তাদের কাছে এসে সতর্ক করে দেয় যেন তারা তাদের নিদ্রা থেকে জেগে ওঠে। যেন বসন্ত রাতের অন্ধকারে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে এবং এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, সকালের শুভ্রতা উন্মেষ হওয়ার আগেই যেন তারা তাদের পূর্ণ জাঁকজমক ও সাজসজ্জা গ্রহণ করে নেয়, যাতে দিনের আলোর কোনো সৌন্দর্যই তাদের নিকট থেকে হারিয়ে না যায়। আর এটাই হলো শেষ রাতের অন্ধকারে বসন্ত কর্তৃক তাদের জাগ্রত করার রহস্য। এরপর, আপনি কি এখানে ‘আগমণ’ শব্দটির ব্যবহারের মাঝে বসন্তের ফুলের সুবাসের ছোঁয়া অনুভব করছেন না? এবং ‘প্রারম্ভিক’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বসন্তের প্রথম দিকের এই ফুলগুলোর সজীবতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর ‘নিদ্রামগ্ন’ শব্দটি নির্বাচনের মাঝে আপনার কাছে সেই অসচেতনতার ইঙ্গিত দেয় যাতে ফুলগুলো জীবনের সৌন্দর্য সম্পর্কে নিমগ্ন ছিল, সৌন্দর্যের ঋতু তাদের জাগ্রত করার আগে। আর এই অসচেতনতা ও নিদ্রা ভাঙানোর জন্য এক প্রকার প্রবল জাগরণের প্রয়োজন ছিল, তাই কবি ‘বিদীর্ণ করা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা এক ধরণের প্রবলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এরপর, আপনি কি দেখছেন না যে উষ্ণতা নিদ্রার দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণ হয়ে থাকে? সাধারণত শীতলতা নিদ্রিত ব্যক্তিকে জাগ্রত করে, আর এর মাধ্যমেই আপনি ফুলগুলোকে জাগানোর উপায় হিসেবে ‘শিশিরের শীতলতা’ নির্বাচনের রহস্য খুঁজে পাবেন। মহাবিশ্বে জীবনের প্রবাহ সম্পর্কে কবির অনুভূতি অত্যন্ত প্রবল ও বেগবান হওয়ায় তিনি অনুভব করলেন যেন এই গোলাপ কোনো গোপন রহস্য ফাঁস করে দিচ্ছে যা সে লুকিয়ে রেখেছিল। তিনি এর অভিব্যক্তির জন্য ‘প্রচার করা’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন যা এই অনুভূতি জাগায় যে, গোলাপ যে কথাটি প্রচার করছে তা অত্যন্ত মৃদু গুঞ্জনের মতো। আর তিনি ‘নিভৃত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যাতে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে ফুলের সৌন্দর্যের সেই অপ্রকাশিত গোপনীয়তা আপনার মনে সঞ্চারিত হয় যা আগে স্পষ্ট ছিল না। কেননা কুঁড়ি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে অনেক ফুলই দেখতে একই রকম মনে হয়, এবং মানুষ এর সামনে দাঁড়িয়েও বুঝতে পারে না প্রস্ফুটিত হওয়ার পর এর স্বরূপ কী হবে। ফলে এর সৌন্দর্য এক নিভৃত রহস্য যা কোনো কিছুর মাধ্যমেই আগে প্রকাশিত হয় না। আর কবি এখানে ‘কথা’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন যা প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই মানসিক সংহতির ইঙ্গিত দেয়।

(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبهذا استطاع الشاعر، أن يصور لنا إحساسه الروحى بجمال الربيع، ولكنه لم ينس حظ العينين من هذا الجمال، فحدثنا عن الشجر، وقد استعاد خضرته ونضارته، ودبجته الأزاهير، واختار الشاعر كلمة (رد) التى توقظ في نفسك ما كان عليه من تجرد، لا تبهج العين رؤيته، إذ سلب ثيابه، فعاد حاليا بزينته وحليته، واستخدم الشاعر كلمة (نشّر) المضعّفة الدالة على التكثير، ليصور لك هذا المعرض الحى من معارض الطبيعة، وكلمة (منمنما) توحى بدقة الوشى كأنما نسجته يد صناع، (ورق) توقظ في النفس موازنة بين نسيم الربيع وهواء الشتاء الكثيف، وفي كلمة (حتى) ما يدل على عمق الشعور برقة هذا النسيم، والتلذذ به، وفي المجيء بكلمة (أنفاس) جمعا وإيثارها على المفرد، ما يوحى بأن نسيم الربيع يجيء متقطعا، كالأنفاس، حتى لا يمل، ووصف الأحبة بالنعمة يوحى إليك بالهدوء، فليست هى بزفرات حارة، يخرجها صدر يحترق بالحب.

وهاك بيتا (1) من الشعر، قال الأصمعى عنه أنه أهجى بيت قالته العرب، وهو:

قوم إذا استنبح الأضياف كلبهمو … قالوا لأمهم: بولى على النار

فكل كلمة في هذا البيت تكاد تنطق بالهجاء والذم؛ فتنكير (قوم) لتحقيرهم، والإشارة إلى أنه لولا هذه الصفات التى تسمهم، لكانوا نكرة في الصحراء، لا يأبه بهم أحد، والإيحاء بأن هذه الصفات الدنيئة إذا ذكرت، وسمتهم، فصاروا بها معروفين مميزين، وكلمة (إذا) وهى تفيد الشرط، تدل على أن مقدم الأضياف إليهم إنما هو في أوقات معينة قليلة، وليس ذلك بعادة دائمة (والسين والتاء) فى استنبح للدلالة على أن الأضياف كأنهم يمضون إلى الكلب ويعرضون له، لينبح، أما هو فيغط في نوم عميق، فيلس لديه ما يحرسه، ولم ير من قبل غرباء يطرقون هؤلاء القوم، فلم يجد عملا فنام، وربما كان عدم نباح الكلب، لهزاله وضعفه من الجوع الذى يقاسيه في صحبتهم، وجاء (بالأضياف) جمع قلة، ليؤذن بأن من يقصد هؤلاء القوم عدد محدود قليل، ونسب القول إليهم في (قالوا) وهو قول مزر، للإشارة إلى سوء أدبهم، وامتهانهم لأمهم، والمجيء بلفظة (أم) وهى تستدعى أعظم ألوان التقدير، يوحى بما آلت إليه حال هذه الأم عندهم، ومن هوان وضعة، حتى صارت لديهم في منزلة أقل من منزلة الخادم، وإضافة الأم إليهم، إشارة إلى لؤمهم، ومبالغة في تحقيرهم، وإيذان بأنه ما كان ينبغى أن يعاملوها تلك المعاملة، وهى أمهم، وأنطقهم بلفظ (البول) وهو مما يثير شيئا

تتقزز منه

--------------------------------------------

(1) راجع فنون الأدب ص 35.
এর মাধ্যমে কবি বসন্তের সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর আধ্যাত্মিক অনুভূতি আমাদের সামনে চিত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে তিনি এই সৌন্দর্য থেকে চোখের প্রাপ্য অংশটুকুও ভুলে যাননি। তাই তিনি আমাদের বৃক্ষরাজি সম্পর্কে বলেছেন, যা তার সজীবতা ও শ্যামলতা ফিরে পেয়েছে এবং পুষ্পরাজি দ্বারা সুশোভিত হয়েছে। কবি এখানে (ফিরিয়ে দেয়া) শব্দটি চয়ন করেছেন যা আপনার মনে সেই রিক্ত অবস্থার কথা জাগ্রত করে দেয় যখন বৃক্ষরাজি নগ্ন ছিল এবং তা দেখে চোখ আনন্দিত হতো না; যেহেতু তার পোশাক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অতঃপর সে পুনরায় তার সাজসজ্জা ও অলঙ্কারে বিভূষিত হয়ে ফিরে এসেছে। কবি এখানে (ছড়িয়ে দেয়া) শব্দটিতে তাশদীদ যুক্ত করে আধিক্য বুঝিয়েছেন, যাতে আপনার সামনে প্রকৃতির এই জীবন্ত প্রদর্শনীগুলোর একটি বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। আর (কারুকার্যখচিত) শব্দটি সূক্ষ্ম কারুকাজের ইঙ্গিত দেয়, যেন তা কোনো সুদক্ষ কারিগরের হাত দ্বারা বোনা হয়েছে। (পত্রপল্লব) শব্দটি মনে বসন্তের মৃদু হাওয়া এবং শীতের ঘন ও ভারী বাতাসের মধ্যে একটি তুলনামূলক পার্থক্য জাগ্রত করে। আর (পর্যন্ত) শব্দটিতে এই মৃদু বাতাসের কোমলতা নিয়ে গভীর অনুভূতি এবং তা থেকে তৃপ্তি লাভের বিষয়টি প্রকাশ পায়। (নিঃশ্বাসসমূহ) শব্দটিকে বহুবচনে আনা এবং একবচনের পরিবর্তে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এই ইঙ্গিত বহন করে যে, বসন্তের হাওয়া নিঃশ্বাসের মতো থেমে থেমে আসে, যাতে বিরক্তি সৃষ্টি না হয়। আর প্রিয়জনদের সুখ-শান্তি বা নেয়ামত হিসেবে বর্ণনা করা আপনার মনে প্রশান্তির উদ্রেক করে; কেননা এগুলো ভালোবাসায় দগ্ধ হৃদয় থেকে নির্গত কোনো উত্তপ্ত দীর্ঘশ্বাস নয়।

আর এই নিন একটি কাব্যপঙ্ক্তি (১), যার সম্পর্কে আসমায়ী বলেছেন যে এটি আরবদের বলা সবচেয়ে কড়া বিদ্রূপাত্মক কবিতা। সেটি হলো:

তারা এমন এক জাতি, মেহমানরা যখন (তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) তাদের কুকুরকে ঘেউ ঘেউ করাতে চায়... তখন তারা তাদের মাকে বলে: আগুনের ওপর প্রস্রাব করে তা নিভিয়ে দাও।

এই পঙ্ক্তির প্রতিটি শব্দ যেন নিন্দা ও ভর্ৎসনার ভাষায় কথা বলছে। (জাতি) শব্দটিকে অনির্দিষ্ট রূপে আনা হয়েছে তাদের তুচ্ছতা বুঝাতে এবং এই ইঙ্গিত দিতে যে, যদি এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের পরিচায়ক না হতো, তবে তারা মরুভূমিতে এক অজ্ঞাত সত্তা হিসেবেই থেকে যেত, কেউ তাদের পরোয়া করত না। এটি আরও বুঝায় যে, এই হীন গুণাবলীগুলো যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তারা সেগুলোর মাধ্যমে পরিচিত ও চিহ্নিত হয়। আর (যখন) শব্দটি শর্তবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের কাছে মেহমানদের আগমন কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিরল সময়েই ঘটে, এটি তাদের স্থায়ী অভ্যাস নয়। (ঘেউ ঘেউ করানো) শব্দের ক্রিয়ারূপটি এই অর্থ প্রদান করে যে, মেহমানরা যেন নিজেই কুকুরের কাছে যাচ্ছে এবং তাকে প্ররোচিত করছে যাতে সে ডেকে ওঠে; পক্ষান্তরে কুকুরটি গভীর ঘুমে মগ্ন, কারণ তার পাহারা দেওয়ার মতো কিছুই নেই এবং সে এর আগে কখনও এই জাতির দরজায় কোনো আগন্তুককে কড়া নাড়তে দেখেনি, তাই কোনো কাজ না পেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। সম্ভবত কুকুরের না ডাকার কারণ তার কৃশতা ও দুর্বলতা, যা সে তাদের সাহচর্যে থেকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভোগার কারণে হয়েছে। আর (মেহমানরা) শব্দটিকে স্বল্পতাবোধক বহুবচন হিসেবে আনা হয়েছে এটি জানাতে যে, যারা এই জাতির কাছে যাওয়ার সংকল্প করে তাদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আর (তারা বলল) বলে কথাটি তাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে—যা একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য কথা—তাদের শিষ্টাচারহীনতা এবং তাদের মায়ের অবমাননার দিকে ইঙ্গিত করতে। আর (মা) শব্দটি ব্যবহার করা—যা সর্বোচ্চ সম্মানের দাবি রাখে—এই ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের কাছে এই মায়ের অবস্থা কতটা শোচনীয় ও তুচ্ছ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমনকি তিনি তাদের কাছে একজন ভৃত্যের চেয়েও নিম্নস্তরে পর্যবসিত হয়েছেন। মাকে তাদের প্রতি সম্বন্ধ করা তাদের নীচতা ও তাদের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি জানানো যে, তাদের মায়ের সাথে এমন আচরণ করা মোটেও উচিত ছিল না। আর তাদের মুখ দিয়ে (প্রস্রাব) শব্দটি উচ্চারণ করানো হয়েছে যা এমন একটি বিষয় যা মানুষের মনে

ঘৃণার উদ্রেক করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফুনুনুল আদব, পৃষ্ঠা ৩৫।
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
النفوس، إيماء إلى جفوتهم، وأنهم لم يهذبوا ويصقلوا، وتوجيه هذا الأمر إلى أمهم فيه ما فيه من التشنيع عليهم، وفيه كذلك أنهم يبخلون بالماء، فيستعيضون عنه بالبول، وأن نارهم ضعيفة خافتة، وتكفى بولة عجوز لإطفائها، وأتى الشاعر بحرف الجر «على» الدال على الاستعلاء؛ ليرسم صورة منفرة، وهى صورة الأم، وقد علت النار تبول عليها، وتعريف النار إشارة إلى تلك النار المعهودة التى يستطاع اعتلاؤها والبول عليها، ولم ينسبهم الشاعر إلى البخل صراحة، وإنما أخبر عنهم بما يدل على أقبح ألوان هذا البخل.

وهذه آيات من القرآن الكريم نقف عندها، لنقرأها تلك القراءة الأدبية المتذوّقة، قال تعالى: وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَما هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8) يُخادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَما يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَما يَشْعُرُونَ (9) فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزادَهُمُ اللَّهُ مَرَضاً وَلَهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ بِما كانُوا يَكْذِبُونَ (10) وَإِذا قِيلَ لَهُمْ لا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قالُوا إِنَّما نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلكِنْ لا يَشْعُرُونَ (12) وَإِذا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ قالُوا أَنُؤْمِنُ كَما آمَنَ السُّفَهاءُ أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهاءُ وَلكِنْ لا يَعْلَمُونَ (13) وَإِذا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قالُوا آمَنَّا وَإِذا خَلَوْا إِلى شَياطِينِهِمْ قالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّما نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُنَ (14) اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيانِهِمْ يَعْمَهُونَ (15) أُولئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلالَةَ بِالْهُدى فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ وَما كانُوا مُهْتَدِينَ (16) مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ ناراً فَلَمَّا أَضاءَتْ ما حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُماتٍ لا يُبْصِرُونَ (17) صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ (18) أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّماءِ فِيهِ ظُلُماتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصابِعَهُمْ فِي آذانِهِمْ مِنَ الصَّواعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكافِرِينَ (19) يَكادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصارَهُمْ كُلَّما أَضاءَ لَهُمْ مَشَوْا فِيهِ وَإِذا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قامُوا وَلَوْ شاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20) (البقرة 8 - 20).

ألا ترى في اختيار كلمة النَّاسِ وعمومها، عدم مجابهة المنافقين بتعيينهم، وفي ذلك ستر عليهم، وإغراء لهم بالإقلاع عن نفاقهم، ذلك أنه، ما داموا لم يعينوا، من المتوقع أن يصغوا إلى القرآن، فربما انصرفوا عن غيهم، إذا استمعوا إلى تصوير حال ضلالهم، وما هم فيه من حيرة واضطراب، ولو أنه جبههم بكشف الستار عنهم، لانصرفوا معرضين عن الإصغاء، فلا يكون ثمة أمل فى هدايتهم، وكلمة يَقُولُ، توحى بأن إيمانهم لم يتعد أفواههم، وأجرى على ألسنتهم الإيمان بصيغة الماضى، ليوهموا سامعيهم أنهم قد دخلوا في الإيمان منذ زمن بعيد، زيادة منهم في التمويه والخداع، وخص الإيمان بالله وباليوم الآخر؛ لأن الإيمان بهما يجمع كل ما يجب الإيمان به، من كل ما يصل الإنسان
তাদের নফসসমূহ, যা তাদের রূঢ়তার প্রতি ইঙ্গিতবাহী এবং এই যে তারা পরিশীলিত ও মার্জিত নয়; আর এই বিষয়টি তাদের মায়ের দিকে নিসবত করার মধ্যে তাদের প্রতি চরম নিন্দা নিহিত রয়েছে। এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তারা পানির ব্যাপারে কৃপণতা করে, ফলে পানির পরিবর্তে তারা প্রস্রাব ব্যবহার করে এবং তাদের আগুন দুর্বল ও নিস্তেজ, যা নেভানোর জন্য একজন বৃদ্ধার সামান্য প্রস্রাবই যথেষ্ট। কবি এখানে শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশক অব্যয় পদ 'আলা' (উপরে) ব্যবহার করেছেন একটি বিকর্ষণীয় ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য; আর তা হলো মায়ের ছবি, যখন তিনি আগুনের উপর উঠে তাতে প্রস্রাব করছেন। 'আগুন' শব্দটিকে নির্দিষ্টবাচক করা হয়েছে সেই পরিচিত আগুনের দিকে ইঙ্গিত করতে যার উপর আরোহণ করা এবং প্রস্রাব করা সম্ভব। কবি স্পষ্টভাবে তাদের কৃপণতার দিকে নিসবত করেননি, বরং তিনি তাদের সম্পর্কে এমন সংবাদ দিয়েছেন যা এই কৃপণতার জঘন্যতম রূপ ফুটিয়ে তোলে।

এখানে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলোর ওপর আমরা আলোকপাত করব, যেন আমরা তা সেই কাব্যিক ও রসাস্বাদনমূলক পাঠে পড়তে পারি। মহান আল্লাহ বলেন: মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিনের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয় (৮)। তারা আল্লাহকে এবং মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারছে না (৯)। তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত (১০)। যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা জমিনে ফাসাদ করো না’, তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারী’ (১১)। জেনে রেখো, তারাই ফাসাদকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না (১২)। যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা ঈমান আনো যেমন মানুষেরা ঈমান এনেছে’, তারা বলে, ‘নির্বোধরা যেভাবে ঈমান এনেছে আমরাও কি সেভাবে ঈমান আনব?’ জেনে রেখো, তারাই তো নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না (১৩)। যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আর যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো কেবল উপহাসকারী’ (১৪)। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় তাদের দীর্ঘায়িত করেন, যাতে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় (১৫)। তারাই হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহি ক্রয় করেছে। ফলে তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হেদায়েতপ্রাপ্তও ছিল না (১৬)। তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে; অতঃপর আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন এবং তাদের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিলেন, তারা কিছুই দেখতে পায় না (১৭)। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)। অথবা (তাদের উদাহরণ) আকাশের বর্ষণের মতো যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক। তারা বজ্রের কড়কড়ানিতে মৃত্যুর ভয়ে তাদের কানে আঙুল দিয়ে রাখে। আর আল্লাহ কাফেরদের পরিবেষ্টন করে আছেন (১৯)। বিদ্যুৎ যেন তাদের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায়। যখনই তা তাদের সামনে আলোকিত হয় তারা তাতে চলতে থাকে, আর যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান (২০)। (আল-বাকারা ৮ - ২০)।

আপনি কি দেখছেন না যে, 'মানুষ' শব্দটি এবং এর ব্যাপকতা বেছে নেয়ার মাধ্যমে মুনাফিকদের নির্দিষ্ট করে সরাসরি মোকাবিলা করা হয়নি? এর মধ্যে তাদের দোষ গোপন রাখা এবং তাদের নিফাক ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নির্দিষ্ট করা হচ্ছে না, ততক্ষণ তারা কুরআনের প্রতি কর্ণপাত করবে বলে আশা করা যায়। ফলে যখন তারা তাদের গোমরাহির চিত্রায়ন এবং তাদের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার অবস্থা শুনবে, তখন সম্ভবত তারা তাদের ভুল পথ থেকে ফিরে আসবে। যদি তিনি পর্দা উন্মোচন করে তাদের সরাসরি আক্রমণ করতেন, তবে তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিত, ফলে তাদের হেদায়েতের আর কোনো আশা থাকত না। আর 'বলে' শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের ঈমান তাদের মুখ অতিক্রম করেনি। তারা তাদের মুখে ঈমানের কথা প্রকাশে অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার করেছে যাতে তাদের শ্রোতাদের এই ভ্রম দিতে পারে যে তারা অনেক আগে থেকেই ঈমান এনেছে, যা তাদের প্রতারণা ও ছলনাবাজিরই একটি অংশ। আর তিনি বিশেষভাবে আল্লাহ এবং পরকালের ওপর ঈমানের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ এই দুটির ওপর ঈমান আনা এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা মানুষের বিশ্বাস করা আবশ্যক, যা মানুষকে পৌঁছে দেয়...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
بربه، أو يصله بالناس، واختار في الرد عليهم الجملة الاسمية في النفى؛ ليدل بها على استقرار هذا النفى وثباته.

هؤلاء المنافقون إنما يخدعون بعملهم هذا الذين آمنوا، ولكن القرآن جعل الخداع لله، سخرية منهم، واستهزاء بعقولهم، واستخدم الفعل المضارع هنا، يصور به حالهم، ويحضر هذه الصورة أمام أعين السامعين، واستخدم أداة القصر وهى (ما) و (إلا)، ليردّ عليهم ردّا حاسما، يبين أن خداعهم لن يضرّ أحدا غيرهم، ولكن يصيبهم وحدهم أذاه، وأوقع الخداع على أنفسهم ليكون ذلك مثار العجب أن يفعل ذلك من لديه مسكة من عقل، وفي وَما يَشْعُرُونَ تصوير صادق لهؤلاء المنافقين، الذين لا يدركون مغبة خداعهم، واستخدام كلمة مَرَضٌ، لما أصابهم من تغليب الهوى على العقل، يوحى إلينا بأن عقولهم، وقد تغلب عليها سلطان الهوى، صارت غير مستطيعة أن تفكر تفكيرا سليما، وأن تقوم بوظيفتها التى خلقت لها، كالجسم يصاب بالمرض فلا يستطيع أداء وظيفته، وفي الدعاء عليهم بزيادة المرض، إيذان بغضب الله وسخطه عليهم، واستخدام فِي فى هذه الجملة، يؤذن بتمكن المرض من قلوبهم، فكأنما انطوت قلوبهم عليه، وفي كلمة أَلِيمٌ- والعذاب لا يكون إلا مؤلما، إبراز لأهمّ خصائص العذاب، واختيار كانَ والمجيء بخبرها فعلا مضارعا، يؤذن باعتيادهم الكذب ولجاجتهم فيه، وجاء بالواو في قوله:

وَإِذا قِيلَ لَهُمْ، إشارة إلى مأثمة جديدة من آثامهم، وأتى بالفعل: قِيلَ مبنيّا للمجهول، مؤذنا بأن من الواجب عليهم أن ينظروا إلى القول من حيث هو، بقطع النظر عن قائله، وألا يجعلوا للقائل دخلا في تقديرهم ووزنهم، واختار كلمة الْفَسادَ ليصور بها ما يقوم به هؤلاء المنافقون، من تشكيك المؤمنين وتخذيلهم عن نصرة الرسول، وبثّ الفتن في الأرض، ونسب القول إليهم في قالُوا؛ ليبين مدى تبجحهم، وأنهم لا يبالون أن يقلبوا الحقائق، ويطمسوا معالمها، أما ردهم، فقد استخدموا له أداة من أدوات القصر، يريدون بذلك نفى الإفساد عنهم نفيا باتا، وأن عملهم لا يعدو الخير والصلاح وبالغوا في ذلك حتى أوهموا أن نفوسهم قد قصرت على الإصلاح قصرا، فهى لا يمكن أن تلم بفساد، واختاروا من أدوات القصر إِنَّما التى تدل على أن الأمر من الوضوح، بحيث لا يحتاج إلى دليل ولا برهان، مبالغة منهم في التمويه والخداع، واستفتح الرد عليهم بألا؛ ليسترعى الأذهان إليه، حتى تتنبه إلى الرد ولا يفوتها منه شىء، وبدأ
তাদের রবের সাথে অথবা মানুষের সাথে তাকে যুক্ত করে। তাদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তিনি না-বাচক জুমলা ইসমিয়া (বিশেষ্যমূলক বাক্য) বেছে নিয়েছেন, যাতে এই অস্বীকৃতির স্থায়িত্ব এবং দৃঢ়তা বুঝানো যায়।

এই মুনাফিকরা তাদের এই কাজের মাধ্যমে কেবল মুমিনদেরকেই প্রতারিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু কুরআন এই প্রতারণাকে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছে তাদের প্রতি উপহাসস্বরূপ এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে বিদ্রূপ করার জন্য। এখানে মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল) ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে তাদের অবস্থাকে চিত্রিত করার জন্য এবং শ্রোতাদের চোখের সামনে এই ছবিটিকে উপস্থিত করার জন্য। এখানে সীমাবদ্ধকরণের অব্যয় বা আদাতুল কাসর (মা এবং ইল্লা) ব্যবহার করা হয়েছে তাদের এক চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার জন্য। এটি স্পষ্ট করে যে, তাদের এই প্রতারণা তারা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষতি করবে না, বরং এর অপকার কেবল তাদেরই স্পর্শ করবে। এই প্রতারণাকে তাদের নিজেদের ওপরই আপতিত করা হয়েছে, যাতে এটি আশ্চর্যের উদ্রেক করে যে, সামান্যতম বিবেকবান ব্যক্তি কীভাবে এমন কাজ করতে পারে। আর 'তারা উপলব্ধি করে না' বাক্যাংশে এই মুনাফিকদের একটি সত্য চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, যারা তাদের প্রতারণার অশুভ পরিণাম উপলব্ধি করতে পারে না। 'ব্যধি' শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো, তাদের মধ্যে বিবেকের ওপর কুপ্রবৃত্তির প্রাধান্য বিস্তার। এটি আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের বিবেক—যার ওপর কুপ্রবৃত্তির প্রভাব বিজয়ী হয়েছে—সঠিকভাবে চিন্তা করতে এবং যে কাজের জন্য তা সৃষ্টি করা হয়েছে তা সম্পাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। ঠিক যেমন একটি শরীর যখন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তখন সেটি তার স্বাভাবিক কাজ সম্পাদনে সক্ষম থাকে না। তাদের জন্য ব্যাধি বৃদ্ধির বদদোয়া করা আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির ঘোষণা স্বরূপ। এই বাক্যে 'মধ্যে' (ফি) অব্যয়টি ব্যবহার করা হয়েছে তাদের অন্তরে ব্যাধির বদ্ধমূল অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত দিতে, যেন তাদের অন্তর একেই ধারণ করে আছে। 'যন্ত্রণাদায়ক' শব্দটির ক্ষেত্রে—যেহেতু আযাব যন্ত্রণাদায়কই হয়ে থাকে—এটি আযাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। 'কানা' (ছিল) শব্দটির নির্বাচন এবং এর সংবাদ (খবর) হিসেবে মুদারে ক্রিয়া আনয়ন করা তাদের মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হওয়া এবং এতে তাদের অবিচল থাকার ঘোষণা দেয়। আর তাঁর বাণী:

'এবং যখন তাদের বলা হয়'-এ 'ওয়া' (এবং) অব্যয়টি আনা হয়েছে তাদের অপরাধসমূহের মধ্য থেকে একটি নতুন অপরাধের প্রতি ইঙ্গিত করতে। 'বলা হয়েছে' (কিলা) ক্রিয়াটি মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে আনা হয়েছে এটি বোঝাতে যে, তাদের কর্তব্য হলো কথাটির প্রবক্তার দিকে না তাকিয়ে খোদ কথাটির দিকে দৃষ্টিপাত করা এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বক্তার পরিচয়কে গুরুত্ব না দেওয়া। তিনি 'বিপর্যয়' শব্দটি বেছে নিয়েছেন এই মুনাফিকরা যা করে তা চিত্রিত করতে—অর্থাৎ মুমিনদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা, রাসূলের সাহায্যে তাদের নিরুৎসাহিত করা এবং জমিনে ফিতনা ছড়ানো। 'তারা বলল' বলে কথাটি তাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাদের ধৃষ্টতার সীমা প্রকাশ করতে এবং তারা যে সত্যকে উল্টে দিতে ও এর চিহ্নসমূহ মুছে ফেলতে পরোয়া করে না তা বুঝাতে। তাদের উত্তরের ক্ষেত্রে তারা সীমাবদ্ধকরণের একটি অব্যয় ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের থেকে ফাসাদকে চূড়ান্তভাবে অস্বীকার করতে চায়। তারা দাবি করতে চায় যে তাদের কাজ কল্যাণ ও সংশোধন ব্যতীত আর কিছুই নয়। তারা এই বিষয়ে এতোটা অতিরঞ্জন করেছে যে এমন ধারণা দেয় যেন তাদের সত্তা কেবল সংশোধনের জন্যই নিবেদিত, ফলে সেখানে বিপর্যয়ের কোনো স্থান নেই। তারা সীমাবদ্ধকরণের অব্যয়সমূহের মধ্য থেকে 'ইন্নামা' বেছে নিয়েছে যা নির্দেশ করে যে বিষয়টি এতোটাই স্পষ্ট যে এর জন্য কোনো দলিল বা প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এটি মূলত তাদের প্রতারণা ও সত্য গোপনেরই একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। তাদের প্রতিবাদটি 'আলা' (সাবধান) শব্দ দিয়ে শুরু করা হয়েছে যাতে তা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তারা যেন এই খণ্ডনের প্রতি সজাগ হয় ও এর কোনো কিছুই যেন তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে না যায়। আর শুরু করেছেন...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الجملة بالتأكيد؛ لأنه في مقام يريد أن يقتلع من الأذهان دعواهم العريضة في الإصلاح، و (هم) الثانية ضمير فصل يؤكد الإسناد في الجملة، وتعريف الطرفين يفيد قصر المسند على المسند إليه، فكأن الإفساد مقصور عليهم، لا يبرحهم إلى سواهم، وجاء بلكن، يريد أن يخبرنا بخبر جديد عن هذه الطائفة التى انحصر الإفساد في بنيها، وأنه

كان خليقا بهم أن يدركوا هذه الحقيقة، لو كان عندهم قدر من شعور، أما وهم قوم لا يشعرون، فذاك هو السر في خفاء هذه الحقيقة البينة عنهم، وفرق في التعبير بين وَما يَشْعُرُونَ فى الآية السالفة، وَلكِنْ لا يَشْعُرُونَ فى تلك الآية، فالجملة الأولى في مكانها تنبئ بأن حركة خداع النفس تمر بهم، من غير أن يتنبهوا إليها، فهو لا ينفى الشعور عنهم مطلقا بل ينفى شعورهم بخداع أنفسهم؛ أما في هذه الآية فليس إفسادهم مما يقع منهم بلا شعور، بل هم يفعلون عن رغبة وإصرار، ولكنهم قد فقدوا التفكير، الذى يزنون به الأمور بميزانها الصحيح.

وتستطيع أن تمضى في قراءة الآية التالية، كما مضيت في هذه الآية، وقف فيها وقفة عند كلمتى النَّاسِ والسُّفَهاءُ تتبين في الكلمة الأولى مدى الأدب، الذى استخدمه الداعى في دعوة هؤلاء القوم إلى الإيمان، فهو لم يقل لهم آمنوا كما آمن العقلاء مثلا، فيكون في ذلك جرح لشعورهم، بما قد يكون فيه من تلميح بضعف عقولهم، بل لم يزد في دعوته على أن دعاهم إلى الدخول فيما دخل فيه عامة الناس، وفي ذلك منتهى الرفق واللين، أما ردهم ففيه تبجح وعنف، فقد ادعوا سفاهة هؤلاء الذين آمنوا.

وقف كذلك عند كلمة يَعْلَمُونَ وتأمل سر اختيارها، تر أن السفاهة إنما ترجع إلى العقل والتفكير، فناسب ذلك نفى العلم عنهم، وأما الآية السابقة فإفساد بأعمال يشعر بها، فناسب هناك نفى الشعور.

وامض كذلك في قراءة الآية التى ترسم ما عليه المنافقون من الخداع، وما لهم من وجهين يقابلون المسلمين بأحدهما، ويقابلون رؤساءهم بوجه آخر، وقف عند كلمة خَلَوْا لترى ما توحى به إلى نفسك من جبن هؤلاء المنافقين، الذين لا يستطيعون أن يظهروا ما تكنه قلوبهم، إلا في خلوة لا يراهم فيها أحد، وقف كذلك عند كلمة شياطين، يراد بها رؤساء النفاق، وتأمل ما توحى به من ضروب المكر والدهاء والفساد والضلال، وانظر كيف كشف المنافقون أنفسهم أمام رؤسائهم، فى جملتين اثنتين، دلتا على حقيقتهم، ففي الجملة الأولى: قالوا إنا
বাক্যটি অবশ্যই তাকিদ বা গুরুত্ববহ; কারণ এটি এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে যেখানে তিনি তাদের সংস্কারের সুদীর্ঘ দাবিকে মন থেকে উপড়ে ফেলতে চান। দ্বিতীয় 'তারা' (হুম) শব্দটি হলো একটি পৃথককারী সর্বনাম (দমিরে ফাসল), যা বাক্যের সম্বন্ধকে সুদৃঢ় করে। বাক্যের উভয় অংশ সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণে এটি বিধেয়কে উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অর্থ প্রদান করে। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন বিপর্যয় সৃষ্টি করা কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তা তাদের ছেড়ে অন্যদের কাছে যায় না। এখানে 'কিন্তু' (লাকিন) শব্দটির অবতারণা করা হয়েছে এই বিশেষ দলটি সম্পর্কে একটি নতুন সংবাদ প্রদান করার জন্য, যাদের সন্তানদের মধ্যে বিপর্যয় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এবং তাদের জন্য এটিই সংগত ছিল যে তারা এই সত্যটি উপলব্ধি করত, যদি তাদের মধ্যে সামান্যতম অনুভূতি থাকত। কিন্তু যেহেতু তারা এমন এক কওম যাদের কোনো অনুভূতি নেই, তাই এই স্পষ্ট সত্যটি তাদের নিকট গোপন থাকার রহস্যও সেখানেই নিহিত। পূর্ববর্তী আয়াতের 'তারা অনুভব করে না' এবং এই আয়াতের 'কিন্তু তারা অনুভব করে না'—এই দুই অভিব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম বাক্যটি তার নিজ স্থানে এই বার্তা দেয় যে, আত্মপ্রবঞ্চনার প্রক্রিয়াটি তাদের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয় অথচ তারা সে সম্পর্কে সচেতন হয় না। এটি তাদের থেকে ঢালাওভাবে অনুভূতিকে অস্বীকার করে না, বরং কেবল তাদের নিজেদের প্রতারিত করার বিষয়টি অনুভব করাকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, এই আয়াতে তাদের বিপর্যয় সৃষ্টি করা এমন কোনো বিষয় নয় যা অবচেতনে ঘটে থাকে, বরং তারা এটি ইচ্ছা এবং সংকল্পের সাথেই করে থাকে; কিন্তু তারা সেই চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলেছে যার মাধ্যমে তারা সঠিক মানদণ্ডে বিষয়সমূহ বিচার করতে পারে।

আপনি পরবর্তী আয়াতটি পড়ার ক্ষেত্রেও সেভাবেই অগ্রসর হতে পারেন যেভাবে এই আয়াতে অগ্রসর হয়েছেন। সেখানে 'মানুষ' এবং 'নির্বোধ' শব্দ দুটির কাছে একটু থামুন। প্রথম শব্দটির মধ্যে সেই শিষ্টাচারের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যা আহ্বানকারী এই লোকদের ঈমানের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। তিনি তাদের এটি বলেননি যে, 'তোমরা ঈমান আনো যেমন বুদ্ধিমানরা ঈমান এনেছে', কারণ তাতে তাদের অনুভূতিতে আঘাত লাগত এবং তাদের বুদ্ধিহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করার অবকাশ থাকত। বরং তিনি তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেভাবে ঈমান এনেছে, তাদের সেভাবেই ঈমান আনার আহ্বানের অতিরিক্ত কিছু করেননি। এর মধ্যে রয়েছে চরম দয়া ও নম্রতা। কিন্তু তাদের উত্তরে রয়েছে ধৃষ্টতা ও কর্কশতা, কারণ তারা সেই মুমিনদের নির্বোধ বলে দাবি করেছে।

তেমনিভাবে সেই আয়াতটি পড়ার দিকে অগ্রসর হোন যা মুনাফিকদের প্রতারণা এবং তাদের দ্বিচারিতার চিত্র অঙ্কন করে; তারা এক চেহারায় মুসলিমদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং অন্য চেহারায় তাদের নেতাদের সাথে মিলিত হয়। 'নিভৃতে মিলিত হওয়া' (খালাও) শব্দটির কাছে থামুন যাতে আপনি আপনার মনে সেই মুনাফিকদের ভীরুতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পান, যারা তাদের অন্তরে যা গোপন আছে তা প্রকাশ করার সাহস পায় না কেবল এমন নির্জন স্থান ছাড়া যেখানে কেউ তাদের দেখতে পাবে না। একইভাবে 'শয়তানরা' শব্দটির কাছেও থামুন, যার দ্বারা মুনাফিকদের নেতাদের বোঝানো হয়েছে। এবং এটি মকর-চালাকি, ধূর্ততা, বিপর্যয় ও গোমরাহির যে সব দিক ফুটিয়ে তোলে তা নিয়ে চিন্তা করুন। দেখুন কীভাবে মুনাফিকরা তাদের নেতাদের সামনে দুটি বাক্যে নিজেদের প্রকাশ করে দিয়েছে, যা তাদের প্রকৃত স্বরূপকে উন্মোচিত করে। প্রথম বাক্যে তারা বলে: নিশ্চয়ই আমরা...
(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
معكم، أكدوا لرؤسائهم شدة إخلاصهم لهم، حتى لا يدعوا لهؤلاء الرؤساء سبيلا إلى الشك في إخلاصهم، بسبب ما يظهرونه بألسنتهم للمؤمنين من الإيمان، وفي مَعَكُمْ ما يشعر بهذا الرباط القلبى، الذى يربط المنافقين برؤسائهم، وفي اختيار القصر وأداته في الجملة الثانية: إِنَّما نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُنَ، ما سبق أن ذكرنا فكأنهم يقولون لشياطينهم: إن استهزاءنا بالمؤمنين عند ما نقول لهم: آمنا، واضح، لا يمكن أن يكون سببا لشككم في إخلاصنا لكم، وأن قلوبنا معكم، واختاروا الجملة الاسمية يدلون بها على ثبوت هذا الخبر واستقراره.

واختار الله في الرد عليهم أن يأتى باسمه دون صفة من صفاته، ليوحى إلينا بهذا الجلال، الذى يحيط بذلك الاسم المقدس، وأنه هو الذى سيتولى الاستهزاء بهم، وكلمة يستهزئ تصور هذا الجزاء الساخط، الذى يقابل به الله استهزاءهم، ليصور بأمر محسوس، أمرا معنويّا، هو تركهم في ضلالهم لا يهتدون، واختيار كلمة الطغيان، توحى بالخروج في قوة عن الطاقة المألوفة في العصيان والفجور، والعمه في الآية، يصور لنا مدى تردد هؤلاء القوم في غوايتهم، وأنهم لا يهتدون إلى الحق والصواب، فهم في حيرة من أمرهم كالأعمى، يسير على غير هدى ولا اطمئنان.

وامض في قراءة الآية التالية، وتأمل وجه استخدام اسم الإشارة، يشير به إلى طائفة قد اتصفت بتلك الصفات الخادعة، وكان لها أثرها في الحكم عليهم، وفي كلمة اشترى، ما يدل على إيثار هؤلاء القوم للضلالة على الهدى، واختار كلمة الضلالة هنا، وآثرها على الكفر والنفاق مثلا، ليتسنى بيان حال ما اختاروه في إيجاز، ووضع الهدى بجوار الضلالة، ليتأتى في يسر معرفة مدى خسران هؤلاء القوم، وضعف عقولهم، ونفى الربح عن التجارة، ولم ينفه عن المتجرين، للإشارة إلى أن هذه التجارة بطبيعتها تجارة خاسرة، بقطع النظر عن المتجرين بها، وفي ما كانُوا مُهْتَدِينَ إشارة إلى جهلهم، باختيار هذه التجارة الخاسرة.

وفي الآية التالية تستوقفنا كلمة استوقد نارا، فنتبين فيها حال رجل، قد أحاطت به حلكة الظلام، فهو يطلب جاهدا نارا تضيء له مسالك السبيل، والسين والتاء يدلان على هذا البحث القوى، والطلب الجاد، وفي كلمة أضاءت ما يدل على أنه قد أوتى أكثر مما كان يطمح إليه، فلقد كان يبحث عن نار، أيّا ما كانت، فأوتى نارا قوية أضاءت ما حوله، غير أن ذلك لم يلبث أن مضى وزال، واستخدام ذهب بالنور أقوى من ذهب النور؛ لأن في التعبير الأول دلالة على أن آخذا أخذ

আমরা তোমাদের সাথে আছি—তারা তাদের নেতাদের কাছে তাদের গভীর আনুগত্যের কথা নিশ্চিত করেছে, যাতে তাদের মুখে মুমিনদের প্রতি ঈমান প্রকাশের কারণে সেই নেতাদের মনে তাদের আনুগত্য সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে। "তোমাদের সাথে" বাক্যাংশটি সেই আত্মিক বন্ধন নির্দেশ করে যা মুনাফিকদের তাদের নেতাদের সাথে যুক্ত করে। আর দ্বিতীয় বাক্য "আমরা কেবল উপহাসকারী"-তে সীমাবদ্ধতা এবং তার অনুষঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি, যেন তারা তাদের শয়তানদের (নেতাদের) বলছে: যখন আমরা মুমিনদের বলি "আমরা ঈমান এনেছি", তখন তাদের সাথে আমাদের উপহাস করাটা স্পষ্ট; এটা তোমাদের প্রতি আমাদের আনুগত্যের বিষয়ে তোমাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে না এবং আমাদের অন্তর তোমাদের সাথেই আছে। তারা সংবাদটির স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা বোঝাতে বিশেষ্যমূলক বাক্য বেছে নিয়েছে।

আল্লাহ তাদের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো গুণের উল্লেখ না করে কেবল তাঁর নাম মোবারক ব্যবহার করেছেন, যাতে আমাদের কাছে সেই মহিমা ফুটে ওঠে যা এই পবিত্র নামকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর তিনি নিজেই তাদের সাথে উপহাস করার বিষয়টি গ্রহণ করবেন। "উপহাস করেন" শব্দটি সেই ক্রুদ্ধ প্রতিফলকে চিত্রায়িত করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উপহাসের মোকাবিলা করেন; যাতে একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে একটি বিমূর্ত বিষয়কে চিত্রায়িত করা যায়, আর তা হলো—তাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া যাতে তারা পথ না পায়। "সীমালঙ্ঘন" শব্দটি অবাধ্যতা ও পাপাচারের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শক্তির বাইরে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর আয়াতে বর্ণিত "অন্ধের মতো ঘুরে বেড়ানো" শব্দটি আমাদের সামনে চিত্রায়িত করে যে, এই জাতি তাদের পথভ্রষ্টতার মধ্যে কতটা দোদুল্যমান এবং তারা সত্য ও সঠিক পথের দিশা পায় না; ফলে তারা তাদের বিষয়ে এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তি পথনির্দেশনা ও প্রশান্তিহীনভাবে পথ চলে।

পরবর্তী আয়াতটি পাঠ করুন এবং নির্দেশক বিশেষ্য ব্যবহারের দিকটি নিয়ে চিন্তা করুন, যা দিয়ে এমন এক দলকে নির্দেশ করা হয়েছে যারা সেই প্রতারণামূলক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং তাদের ওপর বিচার করার ক্ষেত্রে যার প্রভাব রয়েছে। "ক্রয় করেছে" শব্দের মধ্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, এই জাতি হেদায়াতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এখানে কুফর বা নিফাকের পরিবর্তে "ভ্রষ্টতা" শব্দটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে তারা যা বেছে নিয়েছে তার অবস্থাকে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যায়। হেদায়াতকে ভ্রষ্টতার পাশে রাখা হয়েছে যাতে এই জাতির ক্ষতির পরিমাণ এবং তাদের বিবেকের দুর্বলতা সহজেই বোঝা যায়। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুনাফাকে অস্বীকার করা হয়েছে কিন্তু বণিকদের থেকে নয়, এটি বোঝাতে যে এই বাণিজ্য তার প্রকৃতিগতভাবেই একটি লোকসানি বাণিজ্য, যারা এতে লিপ্ত তাদের কথা বাদ দিলেও। আর "তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না" বাক্যাংশে এই লোকসানি বাণিজ্য নির্বাচনে তাদের অজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

পরবর্তী আয়াতে "আগুন জ্বালিয়েছে" শব্দটি আমাদের থামিয়ে দেয়; সেখানে আমরা এমন এক ব্যক্তির অবস্থা দেখতে পাই যাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘিরে ধরেছে, তাই সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে এমন একটি আগুনের যা তার চলার পথকে আলোকিত করবে। "সিন" এবং "তা" বর্ণ দুটি এই জোরালো অনুসন্ধান এবং ঐকান্তিক কামনার প্রতি নির্দেশ করে। "আলোকিত করল" শব্দটির মধ্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাকে তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দেওয়া হয়েছে; কারণ সে আগুনের সন্ধান করছিল—যেকোনো আগুনই হোক না কেন—কিন্তু তাকে একটি শক্তিশালী আগুন দেওয়া হলো যা তার চারপাশকে আলোকিত করে দিল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে অচিরেই চলে গেল এবং নিঃশেষ হয়ে গেল। "তাদের আলো নিয়ে গেলেন" অভিব্যক্তিটি "আলো চলে গেল" অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী; কারণ প্রথম অভিব্যক্তিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে একজন গ্রহণকারী এটি নিয়ে গেছেন।

(খণ্ড: ১) মিন বালাঘাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
النور، ومضى به، فكيف إذا كان الذاهب به هو الله، وفي إضافة النور إليهم، ما يشعر بأنهم كانوا قد اطمأنوا إلى النور، وفرحوا به، فيكون الذهاب به أشد إيلاما وأنكى، وجمع ظلمة، ليشير إلى هذا الظلام المتكاثف، والحلكة المتراكم بعضها فوق بعض، وتأمل بعدئذ هذه الصفات التى خرجوا بها عن أن يكونوا من البشر، بل عن أن يكونوا من الحيوان، ما داموا قد عطلوا مواهبهم ولم ينتفعوا بها، وكان لنسق هذه الصفات على وزن واحد أثر موسيقى مؤثر.

والآيتان التاليتان استمرار في وصف حيرة هؤلاء المنافقين، فمثّلهم القرآن بحال من حصرتهم السماء بصيب، وفي هذه الكلمة ما يوحى بقوة المطر وشدة بطشه، فهو ليس بغيث ينقذ الأرض من ظمئها، ولكنه مطر يصيبها ويؤثر فيها، وفي النص على أنه من السماء، ما يوحى بهذا العلو الشاهق، ينزل منه هذا المطر الدافق، فأى رعب ينبعث في القلب من جرائه، وفي المجيء بكلمة فِيهِ ما يدل على أن هذه الظلمات، والرعد، والبرق، كأنما سكنت هذا الصيب، وكأنما تنزل معه من السماء، وفي إيثار الظلمات جمعا، على المفرد ما سبق أن أشرنا إليه، وفي تنكيرها، وتنكير الرعد، والبرق ما يشير إلى أنها من القوة والإزعاج، إلى درجة لا يستطاع تحديدها، وفي كلمة الأصابع ما يوحى بهذا الذعر، الذى استولى عليهم من شدة الأصوات الرعدية المرعبة، فهم يحاولون إبعاد صوتها عنهم، وكلما زادت شدة الصوت، زادوا من إدخال هذه الأصابع، علها تسد أذانهم، واختيار كلمة يجعلون، وإيثارها على يضعون مثلا، للإشارة إلى أن أصابعهم لطول ما صارت في آذانهم، أصبحت كأنها مركبة معها، أما الوضع فلا

يستفاد منه هذا الثبات والاستمرار، وبرغم أن المعنى على أن كل فرد منهم يضع إصبعا في أذن، لا نستطيع أن نبعد عن أنفسنا هذا الجو الذى خلقه حولنا استخدام الجمع، الموحى بمقدار الهلع الذى أصاب أفئدتهم، لهذا الصوت المنكر، حتى لكأنهم يريدون إبعاده، بوضع كل ما يملكون من أصابع في آذانهم. وجمع الصواعق إيذان بما اصطلح على إزعاجهم من صواعق رهيبة، لا صاعقة فحسب. وكلمة حذر تدل على شدة شعورهم بقرب الموت منهم، وإسناد الإحاطة إلى الله فيه من الجلال والرهبة ما فيه، واختيار كلمة مُحِيطٌ يدل على شمول العذاب لهم، وإحاطته بهم من كافة الأرجاء، فهم لا يستطيعون الإفلات منه أينما ساروا، وفي إيثار كلمة الكافرين على المنافقين، بيان لحقيقة حالهم، وأن النطق باللسان لا يغنى عن الحق شيئا.

تحدثت الآية الكريمة عن هذا الصيب، وأن فيه ظلمات ورعدا وبرقا، وذكرت أن حال المنافقين في خوفهم وهلعهم، كحال السائر في هذا الصيب؛ لاضطراب
আলো, এবং তিনি তা নিয়ে গেলেন। তবে কেমন হবে যখন তা নিয়ে যাওয়ার সত্তা স্বয়ং আল্লাহ? তাদের প্রতি আলোর সম্পৃক্তকরণের মাঝে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা আলোর মাধ্যমে আশ্বস্ত হয়েছিল এবং তাতে আনন্দিত হয়েছিল, ফলে তা চলে যাওয়া হবে আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টকর। 'অন্ধকার' শব্দটিকে বহুবচনে ব্যবহার করা হয়েছে এই ঘনীভূত অন্ধকার এবং একের ওপর আর এক স্তরীভূত গভীর অন্ধকারের প্রতি ইশারা করতে। এরপর চিন্তা করুন সেই গুণাবলি সম্পর্কে যার মাধ্যমে তারা মানুষের কাতার থেকে বিচ্যুত হয়েছে, বরং পশুর স্তর থেকেও নিচে নেমে গেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিভাকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে এবং তা থেকে উপকৃত হয়নি। এই গুণাবলির একই ছন্দে বিন্যাস একটি প্রভাবশালী সুরের আবহ তৈরি করেছে।

পরবর্তী আয়াত দুটি এই মুনাফিকদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার বর্ণনার ধারাবাহিকতা। কুরআন তাদের অবস্থাকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করেছে যাকে আকাশ থেকে আসা প্রবল বর্ষণ ঘিরে ধরেছে। এই শব্দের মাঝে বৃষ্টির প্রবল শক্তি ও তীব্রতার ইঙ্গিত রয়েছে। এটি এমন কোনো সাধারণ বৃষ্টি নয় যা জমিনকে তার তৃষ্ণা থেকে রক্ষা করে, বরং এটি এমন বৃষ্টি যা জমিনে আঘাত হানে এবং তাতে প্রভাব ফেলে। এটি আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার বিবৃতির মাঝে এক সুউচ্চ উচ্চতার ইঙ্গিত রয়েছে, যেখান থেকে এই প্রবহমান বৃষ্টিধারা নেমে আসে। ফলে এর কারণে হৃদয়ে কেমন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়! 'তাতে' শব্দটির ব্যবহারে বোঝা যায় যে, এই অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ যেন সেই বৃষ্টির ভেতরেই অবস্থান করছে এবং যেন তার সাথেই আকাশ থেকে নেমে আসছে। 'অন্ধকার' শব্দটিকে একবচনের পরিবর্তে বহুবচনে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। আর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎকে অনির্দিষ্ট রূপে উল্লেখ করা তাদের এমন শক্তি ও অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে যার সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। 'আঙ্গুলসমূহ' শব্দটির মাঝে সেই ত্রাসের ব্যঞ্জনা রয়েছে যা বজ্রের ভয়াবহ শব্দের কারণে তাদের ওপর ছেয়ে গিয়েছিল। তারা সেই শব্দ নিজেদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে; আর শব্দের তীব্রতা যত বাড়ছে, তারা তাদের আঙ্গুলগুলোকে কানের ভেতরে তত বেশি প্রবেশ করাচ্ছে, এই আশায় যে তা যেন তাদের কানকে রুদ্ধ করে দেয়। 'রাখা' শব্দের পরিবর্তে 'প্রবেশ করানো' শব্দটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই ইশারা করতে যে, তাদের আঙ্গুলগুলো দীর্ঘক্ষণ কানে থাকার কারণে মনে হচ্ছে যেন তা কানের সাথেই যুক্ত হয়ে গেছে। আর কেবল 'রাখা' শব্দ থেকে

এই স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা বোঝা যায় না। যদিও অর্থের দাবি হলো যে তাদের প্রত্যেকে কানে একটি করে আঙ্গুল দিচ্ছে, তবুও বহুবচন ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের চারপাশে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা থেকে আমরা বিমুখ হতে পারি না; যা তাদের হৃদয়ে সৃষ্টি হওয়া চরম আতঙ্কের মাত্রা নির্দেশ করে—এই ভয়াবহ শব্দের কারণে, যেন তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে সব আঙ্গুল কানে দিয়ে তা প্রতিহত করতে চাইছে। 'বজ্রপাত' শব্দটিকে বহুবচনে আনা হয়েছে এটি বোঝাতে যে, তাদের অস্থির করার জন্য কেবল একটি নয়, বরং বহু ভয়াবহ বজ্রপাত একযোগে হচ্ছিল। 'সতর্কতা' শব্দটি তাদের কাছে মৃত্যু ঘনিয়ে আসার তীব্র অনুভূতির প্রমাণ দেয়। আর বেষ্টন করার বিষয়টি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করার মধ্যে যে মহিমা ও গাম্ভীর্য রয়েছে তা বর্ণনাতীত। 'পরিবেষ্টনকারী' শব্দটি চয়নের মাধ্যমে এটি প্রকাশ পায় যে, আযাব তাদের সামগ্রিকভাবে গ্রাস করেছে এবং সব দিক থেকে তাদের ঘিরে ধরেছে; তারা যেখানেই যাক না কেন, তা থেকে পলায়ন করতে সক্ষম নয়। 'মুনাফিক' শব্দের পরিবর্তে 'কাফির' শব্দটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মাঝে তাদের প্রকৃত অবস্থার বর্ণনা রয়েছে এবং এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল মুখে উচ্চারণ করা সত্যের কোনো বিকল্প হতে পারে না।

এই সম্মানিত আয়াতটি সেই প্রবল বর্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করেছে, যাতে রয়েছে অন্ধকার, বজ্র ও বিদ্যুৎ। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভয় ও আতঙ্কের ক্ষেত্রে মুনাফিকদের অবস্থা সেই প্রবল বর্ষণের মধ্যে পথচারীর মতো; অস্থিরতার কারণে।