القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: من بلاغة القرآن
المؤلف: أحمد أحمد البدوي (ت 1384 هـ)
الناشر: نهضه مصر - القاهرة
عام النشر: 2005
عدد الصفحات: 304
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433
বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
বই: কুরআনের অলংকারশাস্ত্র থেকে
লেখক: আহমদ আহমদ আল-বাদায়ি (মৃত্যু ১৩৮৪ হিজরি)
প্রকাশক: নাহদাতু মিসর - কায়রো
প্রকাশের সাল: ২০০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহাররম ১৪৩৩
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
প্রকৃতির সৌন্দর্য এই ঋতুতে তার কাছে এমনভাবে এসেছে যেন তা তাকে এই রূপসুধায় বিমুগ্ধ হতে এবং এর আগমনে আনন্দিত হতে আহ্বান করছে। আর ‘বসন্ত’ শব্দটিকে নির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের মধ্যে অন্তরে সেই আবহ তৈরি হয়, যা মানুষ এই চমৎকার ঋতুর সৌন্দর্য ও প্রাণোচ্ছলতার সাথে পরিচিত হওয়ার কারণে অনুভব করে থাকে। ‘উন্মুক্ত’ শব্দটি নির্বাচনের মধ্যে স্বাধীনতার সেই অর্থের ইঙ্গিত রয়েছে যা মানুষ প্রকৃতির মাঝে অনুভব করে। কারণ এতে পুঞ্জীভূত মেঘ বা বৃষ্টির কোনো অস্বাভাবিকতা নেই, কিংবা পথে কোনো কাদা নেই যা মানুষকে শৃঙ্খলিত করে এবং তাদের গৃহবন্দি করে রাখে। মানুষ এটি নিজের অন্তরেও অনুভব করে; তারা একদিকে যেমন তাদের গৃহে সীমাবদ্ধ নয়, তেমনি অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট ধরণের পোশাকের মাধ্যমেও সংকুচিত নয়। ‘গর্বভরে চলা’ শব্দটির প্রতি লক্ষ্য করুন; সম্ভবত এটি আপনার কাছে ফুলের সেই দোদুল্যমানতাকে চিত্রায়িত করবে যখন মৃদু মন্দ বাতাস তাদের সাথে ক্রীড়া করে। তাঁর ‘হেসে গর্বভরে চলা’ অভিব্যক্তির মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কবি বসন্তকে কেবল চাক্ষুষ নিদর্শনের মাধ্যমেই অনুভব করেননি, বরং এটি মহাবিশ্বের সর্বত্র প্রবহমান এক জীবন। ফলে এটি সগর্বে নেচে ওঠে এবং স্মিতহাস্যে হেসে ওঠে। কবির এই জীবনবোধ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় এবং বসন্তের নিজের সৌন্দর্য ও লাবণ্য প্রকাশের অনুভূতির মাধ্যমে তাঁর এই বোধ আরও সুদৃঢ় হয়। তিনি যেন ধারণা করছেন যে এটি প্রায় কথা বলছে এবং মনের ভাব ব্যক্ত করছে। কবির বসন্তের জীবন-সংশ্লিষ্ট অনুভূতি ক্রমেই প্রসারিত হয়, ফলে তিনি এই ফুলগুলোকে—যা নিজ সুবাসে বাতাসকে আমোদিত করে—এমন এক সৃষ্টি হিসেবে দেখেন যারা গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল। অতঃপর বসন্ত তাদের কাছে এসে সতর্ক করে দেয় যেন তারা তাদের নিদ্রা থেকে জেগে ওঠে। যেন বসন্ত রাতের অন্ধকারে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে এবং এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, সকালের শুভ্রতা উন্মেষ হওয়ার আগেই যেন তারা তাদের পূর্ণ জাঁকজমক ও সাজসজ্জা গ্রহণ করে নেয়, যাতে দিনের আলোর কোনো সৌন্দর্যই তাদের নিকট থেকে হারিয়ে না যায়। আর এটাই হলো শেষ রাতের অন্ধকারে বসন্ত কর্তৃক তাদের জাগ্রত করার রহস্য। এরপর, আপনি কি এখানে ‘আগমণ’ শব্দটির ব্যবহারের মাঝে বসন্তের ফুলের সুবাসের ছোঁয়া অনুভব করছেন না? এবং ‘প্রারম্ভিক’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বসন্তের প্রথম দিকের এই ফুলগুলোর সজীবতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর ‘নিদ্রামগ্ন’ শব্দটি নির্বাচনের মাঝে আপনার কাছে সেই অসচেতনতার ইঙ্গিত দেয় যাতে ফুলগুলো জীবনের সৌন্দর্য সম্পর্কে নিমগ্ন ছিল, সৌন্দর্যের ঋতু তাদের জাগ্রত করার আগে। আর এই অসচেতনতা ও নিদ্রা ভাঙানোর জন্য এক প্রকার প্রবল জাগরণের প্রয়োজন ছিল, তাই কবি ‘বিদীর্ণ করা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা এক ধরণের প্রবলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এরপর, আপনি কি দেখছেন না যে উষ্ণতা নিদ্রার দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণ হয়ে থাকে? সাধারণত শীতলতা নিদ্রিত ব্যক্তিকে জাগ্রত করে, আর এর মাধ্যমেই আপনি ফুলগুলোকে জাগানোর উপায় হিসেবে ‘শিশিরের শীতলতা’ নির্বাচনের রহস্য খুঁজে পাবেন। মহাবিশ্বে জীবনের প্রবাহ সম্পর্কে কবির অনুভূতি অত্যন্ত প্রবল ও বেগবান হওয়ায় তিনি অনুভব করলেন যেন এই গোলাপ কোনো গোপন রহস্য ফাঁস করে দিচ্ছে যা সে লুকিয়ে রেখেছিল। তিনি এর অভিব্যক্তির জন্য ‘প্রচার করা’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন যা এই অনুভূতি জাগায় যে, গোলাপ যে কথাটি প্রচার করছে তা অত্যন্ত মৃদু গুঞ্জনের মতো। আর তিনি ‘নিভৃত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যাতে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে ফুলের সৌন্দর্যের সেই অপ্রকাশিত গোপনীয়তা আপনার মনে সঞ্চারিত হয় যা আগে স্পষ্ট ছিল না। কেননা কুঁড়ি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে অনেক ফুলই দেখতে একই রকম মনে হয়, এবং মানুষ এর সামনে দাঁড়িয়েও বুঝতে পারে না প্রস্ফুটিত হওয়ার পর এর স্বরূপ কী হবে। ফলে এর সৌন্দর্য এক নিভৃত রহস্য যা কোনো কিছুর মাধ্যমেই আগে প্রকাশিত হয় না। আর কবি এখানে ‘কথা’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন যা প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই মানসিক সংহতির ইঙ্গিত দেয়।
--------------------------------------------
--------------------------------------------
আমরা তোমাদের সাথে আছি—তারা তাদের নেতাদের কাছে তাদের গভীর আনুগত্যের কথা নিশ্চিত করেছে, যাতে তাদের মুখে মুমিনদের প্রতি ঈমান প্রকাশের কারণে সেই নেতাদের মনে তাদের আনুগত্য সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে। "তোমাদের সাথে" বাক্যাংশটি সেই আত্মিক বন্ধন নির্দেশ করে যা মুনাফিকদের তাদের নেতাদের সাথে যুক্ত করে। আর দ্বিতীয় বাক্য "আমরা কেবল উপহাসকারী"-তে সীমাবদ্ধতা এবং তার অনুষঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি, যেন তারা তাদের শয়তানদের (নেতাদের) বলছে: যখন আমরা মুমিনদের বলি "আমরা ঈমান এনেছি", তখন তাদের সাথে আমাদের উপহাস করাটা স্পষ্ট; এটা তোমাদের প্রতি আমাদের আনুগত্যের বিষয়ে তোমাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে না এবং আমাদের অন্তর তোমাদের সাথেই আছে। তারা সংবাদটির স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা বোঝাতে বিশেষ্যমূলক বাক্য বেছে নিয়েছে।
আল্লাহ তাদের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো গুণের উল্লেখ না করে কেবল তাঁর নাম মোবারক ব্যবহার করেছেন, যাতে আমাদের কাছে সেই মহিমা ফুটে ওঠে যা এই পবিত্র নামকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর তিনি নিজেই তাদের সাথে উপহাস করার বিষয়টি গ্রহণ করবেন। "উপহাস করেন" শব্দটি সেই ক্রুদ্ধ প্রতিফলকে চিত্রায়িত করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উপহাসের মোকাবিলা করেন; যাতে একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে একটি বিমূর্ত বিষয়কে চিত্রায়িত করা যায়, আর তা হলো—তাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া যাতে তারা পথ না পায়। "সীমালঙ্ঘন" শব্দটি অবাধ্যতা ও পাপাচারের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শক্তির বাইরে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর আয়াতে বর্ণিত "অন্ধের মতো ঘুরে বেড়ানো" শব্দটি আমাদের সামনে চিত্রায়িত করে যে, এই জাতি তাদের পথভ্রষ্টতার মধ্যে কতটা দোদুল্যমান এবং তারা সত্য ও সঠিক পথের দিশা পায় না; ফলে তারা তাদের বিষয়ে এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তি পথনির্দেশনা ও প্রশান্তিহীনভাবে পথ চলে।
পরবর্তী আয়াতটি পাঠ করুন এবং নির্দেশক বিশেষ্য ব্যবহারের দিকটি নিয়ে চিন্তা করুন, যা দিয়ে এমন এক দলকে নির্দেশ করা হয়েছে যারা সেই প্রতারণামূলক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং তাদের ওপর বিচার করার ক্ষেত্রে যার প্রভাব রয়েছে। "ক্রয় করেছে" শব্দের মধ্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, এই জাতি হেদায়াতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এখানে কুফর বা নিফাকের পরিবর্তে "ভ্রষ্টতা" শব্দটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে তারা যা বেছে নিয়েছে তার অবস্থাকে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যায়। হেদায়াতকে ভ্রষ্টতার পাশে রাখা হয়েছে যাতে এই জাতির ক্ষতির পরিমাণ এবং তাদের বিবেকের দুর্বলতা সহজেই বোঝা যায়। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুনাফাকে অস্বীকার করা হয়েছে কিন্তু বণিকদের থেকে নয়, এটি বোঝাতে যে এই বাণিজ্য তার প্রকৃতিগতভাবেই একটি লোকসানি বাণিজ্য, যারা এতে লিপ্ত তাদের কথা বাদ দিলেও। আর "তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না" বাক্যাংশে এই লোকসানি বাণিজ্য নির্বাচনে তাদের অজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
পরবর্তী আয়াতে "আগুন জ্বালিয়েছে" শব্দটি আমাদের থামিয়ে দেয়; সেখানে আমরা এমন এক ব্যক্তির অবস্থা দেখতে পাই যাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘিরে ধরেছে, তাই সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে এমন একটি আগুনের যা তার চলার পথকে আলোকিত করবে। "সিন" এবং "তা" বর্ণ দুটি এই জোরালো অনুসন্ধান এবং ঐকান্তিক কামনার প্রতি নির্দেশ করে। "আলোকিত করল" শব্দটির মধ্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাকে তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দেওয়া হয়েছে; কারণ সে আগুনের সন্ধান করছিল—যেকোনো আগুনই হোক না কেন—কিন্তু তাকে একটি শক্তিশালী আগুন দেওয়া হলো যা তার চারপাশকে আলোকিত করে দিল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে অচিরেই চলে গেল এবং নিঃশেষ হয়ে গেল। "তাদের আলো নিয়ে গেলেন" অভিব্যক্তিটি "আলো চলে গেল" অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী; কারণ প্রথম অভিব্যক্তিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে একজন গ্রহণকারী এটি নিয়ে গেছেন।