(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
معجم علوم القرآن (إبراهيم محمد الجرمي)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: معجم علوم القرآن
المؤلف: إبراهيم محمد الجرمي
الناشر: دار القلم - دمشق
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 342
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433
কুরআন বিজ্ঞানের অভিধান (ইবরাহিম মুহাম্মদ আল-জারমি)
বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: কুরআন বিজ্ঞানের অভিধান
লেখক: ইবরাহিম মুহাম্মদ আল-জারমি
প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدّمةبسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد سيّد المرسلين والآخرين .. وبعد:ما من علم من العلوم يخلو من مصطلحات خاصة مستعملة فيه، تواضع عليها أهل ذلك العلم وتلك الصناعة، وعادة ما تكون هذه المصطلحات العلمية مبثوثة مبعثرة في مظان ذلك العلم وأصوله. وقد رأى جمع من العلماء أن الناس لا يستطيعون الرجوع إلى المصادر الأصلية لضعف الهمم وكثرة الهموم وفقد الشروط العلمية، ولذا تجردت منهم طائفة فصنفت معاجم علمية، تجمع المصطلحات العلمية وتضبطها، وتشرحها شرحا مركّزا مستوعبا، مع ترتيب كل علم ترتيبا الفبائيّا.والمقصد الأعظم من تأليف المصنفات المعجمية تمكين الدارسين والباحثين من مراجعة مصطلحات مادة تخصصهم بيسر وسهولة وسرعة، ذلك أن مبنى هذه المعاجم على الإيجاز والاختصار والتركيز، فالمعجم عادة يحوي خلاصات مركزة، هي ثمرة دراسة واسعة مستوعبة لأصول كل علم وكتبه.كما تفيد هذه المعاجم في معرفة تطور المصطلح من عصر إلى عصر ومن بلد إلى بلد ومن إمام إلى إمام.هذا وقد ألّفت معاجم في اللغة والنحو والبلاغة والفلسفة والسياسة ولغة الفقهاء وأصول الفقه والمذاهب والنحل وغير ذلك، أما في علوم القرآن فلم أجد- بحسب علمي- من صنف معجما فيه، وعلوم القرآن فرع هام من فروع علوم الشريعة، لأنه علم متعلق بكتاب الله تعالى، فمصطلح «علوم القرآن» مصطلح شائع ذائع له مصادره وكتبه ورجالاته، وهو يحتوي على مباحث كثيرة متعلقة بالقرآن الكريم، منها مثلا الوحي والقرآن وجمعه، وأسباب النزول، والمكي والمدني، والمحكم والمتشابه، والناسخ والمنسوخ، وإعجاز القرآن، والتفسير ومتعلقاته،
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি, যিনি সকল রাসূল ও পূর্বাপর সবার সরদার... অতঃপর:এমন কোনো জ্ঞান বা বিজ্ঞান নেই যা তাতে ব্যবহৃত বিশেষ পরিভাষা থেকে মুক্ত, যে পরিভাষাগুলোর ওপর সেই শাস্ত্র ও শিল্পের বিশেষজ্ঞগণ একমত হয়েছেন। সাধারণত এই বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলো সেই শাস্ত্রের মূল উৎস ও আকর গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। একদল আলিম লক্ষ্য করেছেন যে, মানুষের হিম্মতের অভাব, জাগতিক দুশ্চিন্তার আধিক্য এবং শাস্ত্রীয় শর্তাবলি পূরণে অক্ষমতার কারণে তারা মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে যেতে পারছে না। তাই তাদের মধ্য থেকে একটি দল এগিয়ে এসেছেন এবং শাস্ত্রীয় অভিধানসমূহ সংকলন করেছেন, যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলোকে একত্রিত ও সুশৃঙ্খল করে এবং সেগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক ব্যাখ্যা প্রদান করে, আর প্রতিটি শাস্ত্রকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করে।অভিধান জাতীয় গ্রন্থসমূহ রচনার মহান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তাদের বিশেষায়িত বিষয়ের পরিভাষাগুলো অত্যন্ত সহজে, সাবলীলভাবে এবং দ্রুততার সাথে দেখার সুযোগ করে দেওয়া। কারণ এই অভিধানগুলোর ভিত্তি হলো সংক্ষিপ্তকরণ, সারসংক্ষেপ এবং সংহতি। ফলে একটি অভিধান সাধারণত এমন নিবিড় নির্যাস ধারণ করে, যা প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি ও গ্রন্থসমূহের ওপর বিস্তৃত ও ব্যাপক অধ্যয়নের ফসল।অনুরূপভাবে এই অভিধানগুলো এক যুগ থেকে অন্য যুগে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে এবং এক ইমাম থেকে অন্য ইমামের কাছে পরিভাষার বিবর্তন ও ক্রমবিকাশ জানার ক্ষেত্রেও বিশেষ উপকারী।ইতিমধ্যে ভাষা, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, দর্শন, রাজনীতি, ফকীহগণের পরিভাষা, উসূলে ফিকহ, মাযহাব ও মতবাদ ইত্যাদি বিষয়ে অভিধান রচিত হয়েছে। কিন্তু কুরআনের উলূম বা কুরআন সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের ক্ষেত্রে—আমার জানামতে—কাউকে কোনো অভিধান সংকলন করতে দেখিনি। অথচ উলূমুল কুরআন শরীয়াহর জ্ঞানসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, কারণ এটি মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সম্পর্কিত একটি শাস্ত্র। ‘উলূমুল কুরআন’ একটি অতি পরিচিত ও বহুল প্রচলিত পরিভাষা, যার নিজস্ব উৎস, গ্রন্থ এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। এটি পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট অনেক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে—যেমন ওহী, কুরআন ও তার সংকলন, শানে নুযূল (নাযিলের প্রেক্ষাপট), মক্কী ও মাদানী, মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত), কুরআনের মুজিযা বা অলৌকিকত্ব এবং তাফসীর ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
والقراءات القرآنية وأنواعها، والتجويد ومباحثه إلى غير ذلك من مفردات هذه العلوم.ومما دعاني إلى تأليف معجم لعلوم القرآن، زيادة على خلو المكتبة الإسلامية منه، كثرة المصطلحات المستعملة في علوم القرآن، ووفرة مصادر هذه العلوم، ولذا استعنت بالله وعزمت على جمع مصطلحات علوم القرآن، ودرسها وشرحها.وعلوم القرآن التي أعنيها هي التفسير والتجويد والقراءات ومباحث علوم القرآن كما في كتاب البرهان للزركشي والإتقان للسيوطي وأمثالها.وإليك أيها القارئ منهجي في تأليف هذا المعجم وبنائه:1 - قسمت هذا المعجم إلى أبواب مرتبة وفق ترتيب الحروف الهجائية الألفبائية.2 - رتبت مصطلحات علوم القرآن داخل تلك الأبواب وفق ترتيب حروف الهجاء، ومن ثم تداخلت هذه المصطلحات، فقد يأتي مصطلح تجويدي بعده مصطلح في القراءات، وبعده مصطلح في التفسير وهكذا.3 - اقتصرت في هذا المعجم على مصطلحات علوم القرآن (علم التفسير، وعلم التجويد، وعلم القراءات، ومباحث علوم القرآن).4 - قصدت في هذا التصنيف إعطاء خلاصات مركّزة وافية، استخلصتها من دراستي لكتب هذا العلم، ولذا لم أشر إلى المصادر والمراجع.5 - لم أكتف بالعرض والجمع، وإنما استخدمت المنهج النقدي في كتابة مواد هذا المعجم. فهناك آراء لم أقبلها، بل بيّنت شذوذها وضعفها.6 - قد يكون المصطلح القرآني واحدا، ولكن تتعدد مفاهيمه، وفي مثل هذه الحالة فإنني قد أكرر المصطلح بحسب مفهومه، وقد أجعل المصطلح واحدا، ولكن أبيّن تعدد مفاهيمه في مكان واحد.7 - أما إذا اتحد المفهوم واختلف اسم المصطلح، فإنني أختار المصطلح الشائع وأشرحه في موضعه وأحيل المصطلحات المرادفة الأخرى إليه.8 - في مصطلحات القراءات القرآنية ومباحثها عنيت بالقراءات العشر الصغرى ولم أعن بغيرها مما هو فوق العشر، أو مما هو من القراءات العشر الكبرى، ولمزيد من البيان ارجع إلى مادة (القراءات العشر الصغرى) في هذا المعجم لتعرف ما أريد.
এবং কুরআনের কিরাআত ও তার প্রকারভেদ, তাজবিদ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং এই সকল বিজ্ঞানের অন্যান্য পরিভাষাসমূহ।ইসলামিক গ্রন্থাগারে এর অভাব ছাড়াও উলূমুল কুরআনের একটি অভিধান রচনায় আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—উলূমুল কুরআনে ব্যবহৃত পরিভাষার আধিক্য এবং এই বিজ্ঞানের উৎসসমূহের প্রাচুর্য। তাই আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং উলূমুল কুরআনের পরিভাষাসমূহ সংগ্রহ, গবেষণা ও ব্যাখ্যা করার সংকল্প করেছি।‘উলূমুল কুরআন’ বলতে আমি যা বুঝিয়েছি তা হলো তাফসির, তাজবিদ, কিরাআত এবং উলূমুল কুরআনের সেই সমস্ত বিষয়াদি যা যারকাশি-র ‘আল-বুরহান’, সুয়ুতি-র ‘আল-ইতকান’ এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহে রয়েছে।হে পাঠক, এই অভিধান প্রণয়ন ও এর কাঠামোর ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি আপনার সামনে তুলে ধরা হলো:১ - আমি এই অভিধানটিকে বর্ণানুক্রমিক বর্ণমালার বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।২ - আমি এই অধ্যায়গুলোর মধ্যে উলূমুল কুরআনের পরিভাষাসমূহকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। যার ফলে পরিভাষাগুলো একে অপরের সাথে মিশে গেছে; যেমন কোনো তাজবিদের পরিভাষার পরে কিরাআতের কোনো পরিভাষা আসতে পারে এবং এরপর হয়তো তাফসিরের কোনো পরিভাষা আসবে, এভাবেই চলতে থাকবে।৩ - আমি এই অভিধানে কেবল উলূমুল কুরআনের পরিভাষাসমূহের (তাফসির শাস্ত্র, তাজবিদ শাস্ত্র, কিরাআত শাস্ত্র এবং উলূমুল কুরআনের বিষয়াদি) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।৪ - এই শ্রেণিবিন্যাসে আমার উদ্দেশ্য ছিল একটি সুসংহত ও পর্যাপ্ত সারসংক্ষেপ প্রদান করা, যা আমি এই বিষয়ের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করে সংকলন করেছি। একারণেই আমি উৎস ও রেফারেন্সগুলোর উল্লেখ করিনি।৫ - আমি কেবল উপস্থাপন ও সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং এই অভিধানের বিষয়বস্তু লিখার ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। এখানে এমন কিছু মত রয়েছে যা আমি গ্রহণ করিনি, বরং সেগুলোর অসারতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছি।৬ - কোনো কুরআনিক পরিভাষা এক হতে পারে কিন্তু তার অর্থ বা ধারণা একাধিক হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে আমি পরিভাষাটিকে তার অর্থের ভিত্তিতে পুনরাবৃত্তি করেছি অথবা কখনো পরিভাষাটি একবারই রেখেছি কিন্তু তার একাধিক অর্থগুলো এক স্থানেই স্পষ্ট করে দিয়েছি।৭ - তবে যদি ধারণা বা অর্থ এক হয় কিন্তু পরিভাষার নাম ভিন্ন হয়, তবে আমি প্রচলিত পরিভাষাটি নির্বাচন করেছি এবং যথাস্থানে তার ব্যাখ্যা দিয়েছি আর অন্যান্য সমার্থক পরিভাষাগুলোকে সেই মূল পরিভাষার দিকে নির্দেশ করে দিয়েছি।৮ - কুরআনিক কিরাআত ও তার সংশ্লিষ্ট পরিভাষার ক্ষেত্রে আমি 'কিরাআতে আশারা সুগরা' (দশ ছোট কিরাআত)-এর প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি এবং দশের অতিরিক্ত বা 'কিরাআতে আশারা কুবরা' (দশ বড় কিরাআত)-এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি। অধিকতর ব্যাখ্যার জন্য এই অভিধানের ‘কিরাআতে আশারা সুগরা’ ভুক্তিটি দেখুন, যাতে আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
9 - بالنسبة لسور القرآن الكريم فهي في أبوابها من غير كلمة (سورة) فسورة هود مثلا توجد في باب الهاء وهكذا.10 - خرّجت بعض الآيات القرآنية، ولم أخرج الكثير منها، لوفرتها ولشهرتها.11 - استعملت في الإحالة الرمز (ر-) والتي تعني انظر، و (ر- القراء العشرة) معناها انظر مصطلح القراء العشرة.وختاما، هذا جهدي بين يدي القرّاء الكرام، فإن وفّقت فيه فالفضل لله وحده، وإن كان غير ذلك فالعذر إلى الله الكريم من بشر ضعيف.وقبل وضع القلم أعد القارئ الكريم أن أستمر في البحث والتنقيب عن مصطلحات علوم القرآن لأضيفها في طبعات لاحقة بإذن الله تعالى.والحمد لله بدءا وانتهاء.إبراهيم محمّد الجرمي
৯ - আল-কুরআনুল কারীমের সূরাগুলোর ক্ষেত্রে, সেগুলো ‘সূরা’ শব্দটি ছাড়াই নিজ নিজ বর্ণানুক্রমিক অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যেমন— সূরা হূদ পাওয়া যাবে ‘হা’ বর্ণের অধ্যায়ে, আর এভাবেই অন্যান্যগুলো।১০ - আমি কিছু কুরআনী আয়াতের উদ্ধৃতি বা তথ্যসূত্র প্রদান করেছি, তবে সেগুলোর আধিক্য এবং প্রসিদ্ধির কারণে অনেক আয়াতেরই উদ্ধৃতি প্রদান করিনি।১১ - আমি তথ্যসূত্র নির্দেশের ক্ষেত্রে (র-) প্রতীকটি ব্যবহার করেছি, যার অর্থ হলো ‘দেখুন’; আর (র- দশ ক্বারী) এর অর্থ হলো ‘দশ ক্বারী’ পরিভাষাটি দেখুন।পরিশেষে, সম্মানিত পাঠকদের সম্মুখে এটি আমার সামান্য শ্রমের ফসল; যদি আমি এতে সফল হই, তবে সকল অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহরই। আর যদি এর অন্যথা হয়, তবে এক দুর্বল মানবের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।লেখনী সংবরণ করার পূর্বে আমি সম্মানিত পাঠককে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি উলূমুল কুরআনের পরিভাষাগুলো নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা অব্যাহত রাখব, যাতে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় পরবর্তী সংস্করণগুলোতে সেগুলো যুক্ত করতে পারি।শুরুতে এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য।ইব্রাহীম মুহাম্মদ আল-জারমী
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
باب الألفأ:حرف مهجور، رخو، منفتح، مستفل، خفي، مفخم تارة، ومرقق أخرى، ممدود، هاوي.أ:رمز حرفي من رموز ناظمة الزهر للشاطبي، وهو يرمز إلى العدد المدني الأول. آداب تلاوة القرآن الكريم:القرآن الكريم كلام الله سبحانه، ومن ثمّ تراعي في تلاوته جملة من الآداب، منها:1 - الطهارة من الحدثين الأصغر والأكبر، مع جواز تلاوة القرآن والقارئ محدث حدثا أصغر (أي غير متوضئ) ومما لا شك فيه أن الوضوء لتلاوة القرآن أكمل وأفضل.2 - استقبال القبلة.3 - نظافة ثوب القارئ وبدنه، واستعمال السواك قبل الشروع في التلاوة.4 - توقير الله سبحانه أثناء تلاوة القرآن، وذلك بسكون أعضائه وعدم ضحكه ولعبه وعبثه.5 - القراءة في خشوع وتدبر وتفكر وبصر بمعاني كلام الله تعالى.6 - تنغيم القرآن، وتجميل الصوت به لقوله صلى الله عليه وسلم: «ليس منّا من لم يتغنّ بالقرآن».7 - عدم قطع التلاوة إلا لضرورة طرأت ومانع لازم. آل حم:هي الحواميم السبعة، وهي سور:(غافر، فصلت، الشورى، الزخرف، الدخان، الجاثية، الأحقاف).قال الكميت بن يزيد:وجدنا لكم في آل حاميم آية … تأوّلها منّا تقيّ ومعرب الابتداء:هو الشروع في القراءة بعد وقف أو قطع.والابتداء قسمان: 1 - ابتداء جائز:وهو الابتداء بكلام مستقل بالمعنى.
বাবে আলিফআলিফ:এটি একটি মাজহুর (স্পষ্ট), রাখ্ওয়াহ (শিথিল), মুনফাতিহ (উন্মুক্ত), মুসতাফিল (নিম্নগামী), খাফী (লুকায়িত) বর্ণ; কখনও এটি মুফাখ্খাম (মোটা) হয় এবং কখনও মুরাক্কাক (চিকন) হয়, এটি মামদুদ (দীর্ঘায়িত) এবং হাওয়ি (বায়বীয়)।আলিফ:এটি আশ-শাতিবি রচিত 'নাযিমাতুয যাহর'-এর বর্ণভিত্তিক প্রতীকসমূহের একটি, যা প্রথম মাদানি সংখ্যাকে নির্দেশ করে। آল-কুরআন তিলাওয়াতের আদবসমূহ:কুরআনুল কারীম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কালাম, তাই এটি তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করা প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে:১ - ছোট ও বড় উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া; তবে ওযুহীন অবস্থায় (অর্থাৎ ছোট নাপাকি অবস্থায়) কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয, কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ওযু করা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং উত্তম।২ - কিবলার দিকে মুখ করা।৩ - তিলাওয়াতকারীর পোশাক ও শরীরের পরিচ্ছন্নতা এবং তিলাওয়াত শুরু করার আগে মিসওয়াক ব্যবহার করা।৪ - কুরআন তিলাওয়াতের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা; আর তা হলো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এবং হাসি-ঠাট্টা, খেলাধুলা বা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা।৫ - বিনয়-নম্রতা, গভীর অভিনিবেশ ও চিন্তার সাথে এবং আল্লাহর বাণীর অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে তিলাওয়াত করা।৬ - সুর দিয়ে কুরআন পড়া এবং এর মাধ্যমে কণ্ঠস্বরকে সুন্দর করা; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুর দিয়ে কুরআন পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"৭ - কোনো আকস্মিক প্রয়োজন বা অনিবার্য বাধা ছাড়া তিলাওয়াত বন্ধ না করা। آলে হা-মীম:এগুলো হলো সাতটি হা-মীম বিশিষ্ট সূরা, আর সেগুলো হলো:(গাফির, ফুসসিলাত, আশ-শূরা, আয-যুখরুফ, আদ-দুখান, আল-জাছিয়াহ, আল-আহকাফ)।কুমাইত বিন ইয়াযিদ বলেছেন:আমরা তোমাদের জন্য 'আলে হা-মীম'-এর মাঝে এমন এক নিদর্শন পেয়েছি... আমাদের মধ্যকার আল্লাহভীরু ও স্পষ্টভাষীরা যার ব্যাখ্যা করেছেন। আল-ইবতিদা (প্রারম্ভ):ওয়াকফ (থামা) বা ক্বাত' (তিলাওয়াত ত্যাগ করা)-এর পর পুনরায় তিলাওয়াত শুরু করাকে ইবতিদা বলে।ইবতিদা দুই প্রকার: ১ - জায়েয ইবতিদা:আর তা হলো এমন বাক্য দ্বারা তিলাওয়াত শুরু করা যা অর্থগতভাবে স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويقسم الابتداء الجائز إلى: أ- ابتداء تام:وهو البدء بما لم يتعلق بما قبله لا معنى ولا لفظا.مثال:البدء ب وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ [البقرة: 8]، بدء تام، لأن الحديث عن المنافقين بدأ بهذه الآية. ب- ابتداء كاف:وهو البدء بما تعلّق بما قبله معنى لا لفظا.مثال:البدء ب خَتَمَ اللَّهُ عَلى قُلُوبِهِمْ [البقرة:7]، بدء كاف، لأن هذه الآية والتي قبلها في سياق واحد، وهو الحديث عن الكفار. ج- ابتداء حسن:وهو البدء بما تعلّق بما قبله لفظا ومعنى.مثال:البدء ب مَنْ يَقُولُ آمَنَّا في قوله تعالى:وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا [البقرة: 8]، بدء حسن لتعلّق مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بما قبلها وَمِنَ النَّاسِ لفظا ومعنى.(ر- التعلق اللفظي، التعلق المعنوي). 2 - ابتداء قبيح:وهو الابتداء بما يغير المعنى المراد، أو يفسده، أو يوهم معنى غير مراد، أو بما لا يليق بالله سبحانه.أمثلة:البدء ب يَدُ في قوله تعالى: وَقالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ [المائدة: 64].البدء ب إِنَّ في قوله تعالى: لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِياءُ [آل عمران: 181].البدء ب إِنِّي في قوله تعالى: وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلهٌ مِنْ دُونِهِ فَذلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ [الأنبياء: 29].البدء ب لا أَعْبُدُ في قوله تعالى:وَما لِيَ لا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي [يس: 22]. الإبدال:هو جعل الهمزة حرف مد خالصا، لا تبقى معه شائبة من لفظ الهمزة، فتصير الهمزة ألفا أو ياء أو واوا ساكنتين أو متحركتين.مثال:إبدال الهمزة المكسورة واوا مكسورة في يَشاءُ إِلى [البقرة: 142].وإبدال الهمزة المفتوحة ياء مفتوحة في السَّماءِ أَوِ [الأنفال: 32].وإبدال الهمزة المفتوحة واوا مفتوحة في نَشاءُ أَصَبْناهُمْ [الأعراف: 100].وإبدال الهمزة المضمومة واوا مضمومة في مُسْتَهْزِؤُنَ [البقرة: 14].وإبدال الهمزة المفتوحة ياء مفتوحة في لِئَلَّا [البقرة: 150].
বৈধ প্রারম্ভকে (ইবতিদা) নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়: ক- তাম (পূর্ণ) প্রারম্ভ:এটি এমন শুরু যা তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে অর্থগত বা শব্দগত (ব্যাকরণগত) কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়।উদাহরণ:"আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করেছি’" [আল-বাকারা: ৮] আয়াতটি দিয়ে শুরু করা একটি তাম প্রারম্ভ, কারণ মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা এই আয়াত থেকেই শুরু হয়েছে। খ- কাফি (পর্যাপ্ত) প্রারম্ভ:এটি এমন শুরু যা তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে অর্থগতভাবে সংশ্লিষ্ট কিন্তু শব্দগতভাবে নয়।উদাহরণ:"আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন" [আল-বাকারা: ৭] আয়াতটি দিয়ে শুরু করা একটি কাফি প্রারম্ভ, কারণ এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াত একই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো কাফেরদের সম্পর্কে আলোচনা। গ- হাসান (উত্তম) প্রারম্ভ:এটি এমন শুরু যা তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে শব্দগত ও অর্থগত উভয়ভাবে সংশ্লিষ্ট।উদাহরণ:মহান আল্লাহর বাণী: "আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’" [আল-বাকারা: ৮]-এর মধ্যে "যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’" অংশটি দিয়ে শুরু করা; এটি একটি হাসান প্রারম্ভ, কারণ "যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’" অংশটি তার পূর্ববর্তী অংশ "আর মানুষের মধ্যে" এর সাথে শব্দগত ও অর্থগতভাবে সংশ্লিষ্ট।(দেখুন- শব্দগত সংশ্লিষ্টতা, অর্থগত সংশ্লিষ্টতা)। ২ - কাবিহ (মন্দ) প্রারম্ভ:এটি এমন প্রারম্ভ যা কাঙ্ক্ষিত অর্থ পরিবর্তন করে দেয়, অথবা তা নষ্ট করে দেয়, কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থের উদ্রেক করে, অথবা যা মহান আল্লাহর শানে অশোভন।উদাহরণসমূহ:মহান আল্লাহর বাণী: "আর ইহুদিরা বলে, ‘আল্লাহর হাত শৃঙ্খলিত’" [আল-মায়িদা: ৬৪]-এর মধ্যে "আল্লাহর হাত" অংশটি দিয়ে শুরু করা।মহান আল্লাহর বাণী: "অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা সম্পদশালী’" [আল-ইমরান: ১৮১]-এর মধ্যে "নিশ্চয়ই" (নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র) অংশটি দিয়ে শুরু করা।মহান আল্লাহর বাণী: "আর তাদের মধ্যে যে বলবে, ‘নিশ্চয়ই আমি তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য’, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব" [আল-আম্বিয়া: ২৯]-এর মধ্যে "নিশ্চয়ই আমি" দিয়ে শুরু করা।মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন" [ইয়াসিন: ২২]-এর মধ্যে "আমি ইবাদত করি না" অংশটি দিয়ে শুরু করা। ইবদাল (পরিবর্তন):এটি হলো হামযাহকে একটি খাঁটি মাদ্দ-এর অক্ষরে পরিণত করা, যাতে হামযাহ উচ্চারণের কোনো রেশ অবশিষ্ট না থাকে; ফলে হামযাহটি আলিফ, ইয়া অথবা ওয়াও-এ পরিণত হয়, তা সাকিন হোক বা হরকতযুক্ত।উদাহরণ:'ইয়াশাউ ইলা' [আল-বাকারা: ১৪২]-এর মধ্যে কাসরাযুক্ত হামযাহকে কাসরাযুক্ত ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন করা।'আস-সামায়ি আউয়ি' [আল-আনফাল: ৩২]-এর মধ্যে ফাতহাযুক্ত হামযাহকে ফাতহাযুক্ত ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা।'নাশাউ আসাবনামুহুম' [আল-আরাফ: ১০০]-এর মধ্যে ফাতহাযুক্ত হামযাহকে ফাতহাযুক্ত ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন করা।'মুসতাহজিউন' [আল-বাকারা: ১৪]-এর মধ্যে যম্মাযুক্ত হামযাহকে যম্মাযুক্ত ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন করা।'লিআল্লা' [আল-বাকারা: ১৫০]-এর মধ্যে ফাতহাযুক্ত হামযাহকে ফাতহাযুক্ত ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
إبراهيم:تعرفة وبيان:ترتيبها المصحفي: 14 نوعها: مكية آيها: 51 بصري، 52 كوفي، 54 مدني ومكي، 55 شامي ألفاظها: 831 ترتيب نزولها: 72 بعد نوح جلالاتها: 37 مدغمها الكبير: 16 مدغمها الصغير: 2 ياءات الإضافة: 3 ياءات الزوائد: 3 الابنان:هما الإمام ابن عامر وابن كثير.(ر- القراء العشرة). الأبوان:هما الإمامان أبو عمرو البصري وأبو جعفر المدني، أو هما أبو عمرو وأبو بكر (شعبة).(ر- القراء العشرة). أبج:رمز من رموز الشاطبية والطيبة والدرة. في الشاطبية والطيبة:1 - رمز نافع.ب- رمز قالون.ج- رمز ورش. في الدرة:أ- رمز أبي جعفر.ب- رمز ابن وردان.ج- رمز ابن جماز. تنبيه:الرمز (ج) في الطيبة رمز لورش من طريق الأزرق في الأصول، ما عدا ياءات الزوائد فمن طريق الأزرق والأصبهاني. وأما في الورش فالجيم للأصبهاني والأزرق معا إلافي كلمة واحدة هي أَصْطَفَى [الصافات:153]، فالخلاف مفرع، القطع للأزرق، والوصل للأصبهاني. إتحاف فضلاء البشر بالقراءات الأربعة عشر:من أهم موسوعات علوم القراءات:تأليف أحمد بن محمد البنا الدمياطي (ت 1117 هـ).وهذا الكتاب إتحاف فضلاء البشر شاع بهذا الاسم مع أن المؤلف ذاته سمى كتابه منتهى الأماني والمسرات في علوم القراءات.والاسم الذي اختاره المؤلف لكتابه منتهى الأماني أصدق في الترجمة والإفصاح عن قيمة كتابه، فهو لم يقتصر على القراءات فحسب، بل ضم إليها علوما أخرى، مثل: الرسم العثماني وما يتعلق به، آداب القرآن الكريم، الفواصل القرآنية، توجيه القراءات لغة وإعرابا،
ইব্রাহিম:পরিচিতি ও বর্ণনা:মুসহাফ অনুযায়ী এর ক্রম: ১৪। প্রকার: মক্কি। আয়াতসংখ্যা: ৫১টি বসরী গণনা অনুযায়ী, ৫২টি কুফী, ৫৪টি মাদানী ও মক্কী এবং ৫৫টি শামী গণনা অনুযায়ী। শব্দসংখ্যা: ৮৩১। অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম: ৭২ (সূরা নূহ-এর পর)। জালালাত (আল্লাহ শব্দের উল্লেখ): ৩৭টি। ইদগামে কাবীর: ১৬টি। ইদগামে সাগীর: ২টি। ইয়াআতুল ইদাফাত (সংযুক্ত ইয়া): ৩টি। ইয়াআতুল জাওয়াইদ (অতিরিক্ত ইয়া): ৩টি। দুই ইবন (আল-ইবনান):তাঁরা হলেন ইমাম ইবনে আমির এবং ইবনে কাসীর।(দ্রষ্টব্য- দশ ক্বারী)। দুই আবু (আল-আবওয়ান):তাঁরা হলেন দুই ইমাম—আবু আমর আল-বসরী এবং আবু জাফর আল-মাদানী, অথবা তাঁরা হলেন আবু আমর এবং আবু বকর (শু'বাহ)।(দ্রষ্টব্য- দশ ক্বারী)। আবাজ:এটি শাতিবিয়্যাহ, তাইয়্যিবাহ এবং দুররাহ-এর প্রতীকসমূহের অন্যতম। শাতিবিয়্যাহ ও তাইয়্যিবাহ-তে:১ - নাফে'-এর প্রতীক।ব - কালুন-এর প্রতীক।জ - ওয়ারশ-এর প্রতীক। দুররাহ-তে:অ - আবু জাফরের প্রতীক।ব - ইবনে ওয়ারদানের প্রতীক।জ - ইবনে জাম্মাজের প্রতীক। সতর্কতা:তাইয়্যিবাহ-তে 'জ' প্রতীকটি উসূলের (মূলনীতি) ক্ষেত্রে আজরাক-এর সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত ওয়ারশ-এর বর্ণনাকে নির্দেশ করে, তবে ইয়াআতুল জাওয়াইদ-এর ক্ষেত্রে এটি আজরাক ও আসবাহানী উভয়ের সূত্রকে নির্দেশ করে। আর আল-ওয়ারশ-এর ক্ষেত্রে 'জীম' বর্ণটি আসবাহানী ও আজরাক উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়, তবে কেবল একটি শব্দ 'আসতাফা' [আস-সাফফাত: ১৫৩]-এর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; যেখানে আজরাক-এর জন্য কাত' (ছেদ) এবং আসবাহানী-এর জন্য ওয়াসল (সংযুক্তি) প্রযোজ্য। ইতহাফু ফুদুলাইল বাশার বিল কিরাআতিল আরবাআতা আশার:কিরাআত বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকোষ:এর লেখক হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বান্না আদ-দুমইয়াতি (মৃত্যু ১১১৭ হি.)।এই 'ইতহাফু ফুদুলাইল বাশার' বইটি এই নামেই সমধিক পরিচিতি লাভ করেছে, যদিও লেখক নিজে এর নাম রেখেছিলেন 'মুনতাহাল আমানি ওয়াল মাসাররাত ফি উলুমিল কিরাআত'।লেখকের চয়নকৃত 'মুনতাহাল আমানি' নামটিই বইটির পরিচিতি ও এর মূল্যের সঠিক বহিঃপ্রকাশে অধিকতর সার্থক; কেননা তিনি এতে কেবল কিরাআতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এতে অন্যান্য শাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন: উসমানি রসম (লিপি পদ্ধতি) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, আল-কুরআনের আদব, কুরআনের আয়াত বিভাজন (ফাওয়াসিল), এবং ভাষা ও ব্যাকরণগত দিক থেকে কিরাআতের যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
تفسير بعض الآيات، بعض الأحكام الفقهية اللازمة لقارئ القرآن.ورتّب المؤلف كتابه ترتيبا لطيفا مفيدا، فهو يبدأ بالحديث عن السورة القرآنية فيذكر اسمها، ويبيّن هل هي مكية أم مدنية، ثم يعرض للفواصل وعدد آيات السورة. ثم يبدأ بالقراءات معزوة لأصحابها، ثم يوجهها لغة وإعرابا، ثم يذكر المرسوم بالحذف أو بالإثبات أو الوصل أو الفصل.ثم يذكر المقطوع والموصول من الكلمات، ثم يتحدث عن هاء التأنيث وكتابتها مفتوحة أو مربوطة، ثم يختم بذكر ياءات الإضافة وياءات الزوائد.ومن ثم كان هذا الكتاب من أهم كتب المراجعات السريعة للعالم والمتعلم، للمنتهي والمبتدئ على حد سواء.ونشير أخيرا إلى أن المؤلف في كتابه هذا عرض لقراءات القراء العشرة من طريق طيبة النشر، فهي معتمده وعليها تعويله، وبذا يعد الكتاب مساعدا مهما في دراسة طيبة النشر وفهم مراميها. أتساع القرآن:التسع الأول: من الفاتحة، إلى خَيْرُ النَّاصِرِينَ [آل عمران: 150].التسع الثاني: من آل عمران 151، إلى كِتابٌ مُبِينٌ [الأنعام: 59].التسع الثالث: من الأنعام 60، إلى وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [التوبة: 91].التسع الرابع: من التوبة 92، إلى وَهُمْ يُخْلَقُونَ [النحل: 20].التسع الخامس: من النحل 21، إلى عَذابَ الْحَرِيقِ [الحج: 22].التسع السادس: من الحج 23، إلى تَصْنَعُونَ [العنكبوت: 45].التسع السابع: من العنكبوت 46، إلى مِنْ سَبِيلٍ [غافر: 11].التسع الثامن: من غافر 12، إلى نَضَّاخَتانِ [الرحمن: 66].التسع التاسع: من الرحمن 67، إلى الناس. أثمان القرآن:الثمن الأول: من الفاتحة، إلى نهاية آل عمران.الثمن الثاني: من النساء إلى نهاية الأنعام.الثمن الثالث: من الأعراف إلى بُعْداً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [هود: 44].الثمن الرابع: من هود 45، إلى نُكْراً [الكهف: 74].الثمن الخامس: من الكهف 75، إلى السَّمِيعُ الْعَلِيمُ [الشعراء: 220].الثمن السادس: من الشعراء 221، إلى إِلى يَوْمِ يُبْعَثُونَ [الصافات: 144].الثمن السابع: من الصافات 145، إلى نهاية الطور.
কিছু আয়াতের তাফসীর এবং কুরআন পাঠকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ফিকহি বিধান।গ্রন্থকার তাঁর কিতাবটি অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি কুরআনের সূরাসমূহ সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেন এবং সূরার নাম উল্লেখ করেন, সূরাটি মাক্কি নাকি মাদানি তা বর্ণনা করেন, এরপর সূরার ফাওয়াসিল (আয়াতের বিরতি) ও আয়াত সংখ্যা পেশ করেন। এরপর তিনি কিরাতসমূহকে তাদের পাঠকদের দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেন, তারপর সেগুলোর ভাষাগত ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ প্রদান করেন। এরপর তিনি উসমানি রসমের (লিখন পদ্ধতি) ক্ষেত্রে বিলোপ, বহাল রাখা, যুক্তকরণ বা বিযুক্তকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন।এরপর তিনি শব্দের বিচ্ছিন্ন (মাকতু) ও সংযুক্ত (মাউসুল) হওয়া সম্পর্কে উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক ‘হা’ এবং তা খোলা নাকি গোল অবস্থায় লেখা হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। পরিশেষে তিনি ইয়া-এ-ইজাফাত ও ইয়া-এ-যাওয়ায়েদ আলোচনার মাধ্যমে ইতি টানেন।ফলে এই কিতাবটি আলিম ও ত্বলিবুল ইলম, তথা উচ্চশিক্ষিত ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই দ্রুত পুনরালোচনার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হিসেবে গণ্য হয়।পরিশেষে আমরা এই ইঙ্গিত দিচ্ছি যে, গ্রন্থকার এই কিতাবে 'ত্বইয়িবাতুন নাশর'-এর তরিক অনুযায়ী দশজন ক্বারীর কিরাতসমূহ পেশ করেছেন। এটিই তাঁর নির্ভরযোগ্য উৎস এবং এর ওপরই তিনি নির্ভর করেছেন। এর মাধ্যমে কিতাবটি 'ত্বইয়িবাতুন নাশর' অধ্যয়ন এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। কুরআনের নবমাংশসমূহ:প্রথম নবমাংশ: আল-ফাতিহা থেকে, 'উত্তম সাহায্যকারী' [আলে ইমরান: ১৫০] পর্যন্ত।দ্বিতীয় নবমাংশ: আলে ইমরান ১৫১ থেকে, 'সুস্পষ্ট কিতাব' [আল-আনআম: ৫৯] পর্যন্ত।তৃতীয় নবমাংশ: আল-আনআম ৬০ থেকে, 'আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু' [আত-তাওবাহ: ৯১] পর্যন্ত।চতুর্থ নবমাংশ: আত-তাওবাহ ৯২ থেকে, 'এবং তারা সৃজিত হয়' [আন-নাহল: ২০] পর্যন্ত।পঞ্চম নবমাংশ: আন-নাহল ২১ থেকে, 'দহন যন্ত্রণা' [আল-হাজ্জ: ২২] পর্যন্ত।ষষ্ঠ নবমাংশ: আল-হাজ্জ ২৩ থেকে, 'যা তোমরা করো' [আল-আনকাবুত: ৪৫] পর্যন্ত।সপ্তম নবমাংশ: আল-আনকাবুত ৪৬ থেকে, 'কোনো পথ' [গাফির: ১১] পর্যন্ত।অষ্টম নবমাংশ: গাফির ১২ থেকে, 'উথলে ওঠা দুটি ঝরনা' [আর-রাহমান: ৬৬] পর্যন্ত।নবম নবমাংশ: আর-রাহমান ৬৭ থেকে, আন-নাস পর্যন্ত। কুরআনের অষ্টমাংশসমূহ:প্রথম অষ্টমাংশ: আল-ফাতিহা থেকে, সূরা আলে ইমরানের শেষ পর্যন্ত।দ্বিতীয় অষ্টমাংশ: সূরা আন-নিসা থেকে, সূরা আল-আনআামের শেষ পর্যন্ত।তৃতীয় অষ্টমাংশ: সূরা আল-আরাফ থেকে, 'ধ্বংস যালিম সম্প্রদায়ের জন্য' [হুদ: ৪৪] পর্যন্ত।চতুর্থ অষ্টমাংশ: হুদ ৪৫ থেকে, 'অপ্রীতিকর কাজ' [আল-কাহফ: ৭৪] পর্যন্ত।পঞ্চম অষ্টমাংশ: আল-কাহফ ৭৫ থেকে, 'সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ' [আশ-শুআরা: ২২০] পর্যন্ত।ষষ্ঠ অষ্টমাংশ: আশ-শুআরা ২২১ থেকে, 'পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত' [আস-সাফফাত: ১৪৪] পর্যন্ত।সপ্তম অষ্টমাংশ: আস-সাফফাত ১৪৫ থেকে, সূরা আত-তুরের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الثمن الثامن: من النجم إلى نهاية القرآن الكريم. الإجازة:هي الإذن في رواية المرويات والمسموعات.واستجاز التلميذ أستاذه طلب الإجازة منه، فالتلميذ مجاز، والأستاذ مجيز، والمرويات مجازات.والإجازة هي إحدى طرق تحمل العلوم الشرعية والعربية وهي في مصطلح القراء: إذن الشيخ المقرئ لمن قرأ عليه بأن يروي عنه ما سمعه منه من روايات وقراءات القرآن الكريم بالسند المتصل عن مقرئ مقرئ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.والإجازة لم تكن تمنح إلا لمؤهل متقن، فهي شهادة من المجيز للمجاز بإجادة القراءة وضبط الرواية. وعلى هذا لم تكن تمنح الإجازة إلا بعد ختم القرآن كله وفق رواية واحدة أو روايات عدة.ولكن البعض أجاز للمتقنين قبل الختم، فابن الجزري قرأ على أبي بكر بن الجندي جمعا إلى قوله تعالى: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسانِ [النحل: 90]، فمرض ابن الجندي وأجازه.وهنالك من القراء من كان يجيز الإجازة العامة، كما أجاز ابن الجزري طيبة النشر لكل مقرئ متحقق بهذا الوصف.وحيازة الإجازة ليست شرطا لمن يتصدى للإقراء والتعليم، بل أهلية المقرئ وتمكنه وضبطه هي المعتمد.وذلك أن كثيرا من المتقنين لم يتسن لهم ختم القرآن على الأساتذة المقرئين.فإن جمع المقرئ بين الإجازة والأهلية فبها ونعمت، وإلا فلا يضير الكفء عدم إجازته. أجزاء القرآن:الأجزاء جمع جزء، وجزء القرآن هو طائفة من القرآن.حدث ابن الهاد قال: سألني نافع بن جبير فقال: في كم تقرأ القرآن؟ قلت:ما أجزئه. فقال نافع: لا تقل ما أجزئه، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «قرأت جزءا من القرآن».عن المغيرة بن شعبة قال: استأذن رجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بين مكة والمدينة قال: «إنه قد فاتني الليلة جزئي من القرآن، فإني لا أؤثر عليه شيئا».ومن تقسيمات القرآن تقسيمه إلى ثلاثين جزءا، فإذا أطلق الجزء فالمراد جزء من الثلاثين.وهذا الجزء بالمعنى الأخير مقسّم إلى حزبين، وكل حزب مقسم إلى أربعة أرباع.وهذه الأجزاء الثلاثون تنظر في المصحف الشريف فلا داعي لعدها هنا.
অষ্টম অষ্টমাংশ: সূরা আন-নাজম থেকে পবিত্র কুরআনের শেষ পর্যন্ত। ইজাযাহ:ইজাযাহ হলো বর্ণিত এবং শ্রুত বিষয়াদি বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান।ছাত্র তার শিক্ষকের কাছে ইজাযাহ প্রার্থনা করলে তাকে ‘ইস্তিজাযাহ’ বলা হয়; এক্ষেত্রে ছাত্র হলো ‘মুজায’ (অনুমতিপ্রাপ্ত), শিক্ষক হলেন ‘মুজীয়’ (অনুমতি প্রদানকারী), আর বর্ণিত বিষয়গুলো হলো ‘মুজাযাত’ (অনুমোদিত বিষয়)।শরয়ী এবং আরবি জ্ঞান অর্জনের অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো ইজাযাহ। ক্বারীগণের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: কুরআন পাঠের শিক্ষক (শাইখুল মুক্বরি) তাঁর কাছে পাঠকারীকে এই মর্মে অনুমতি প্রদান করা যে, তিনি যেন তাঁর থেকে পবিত্র কুরআনের যেসব রেওয়ায়াত ও ক্বিরাআত শ্রবণ করেছেন, তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া এক ক্বারী থেকে অপর ক্বারীর নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেন।ইজাযাহ কেবলমাত্র দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রদান করা হতো। এটি হচ্ছে অনুমতি প্রদানকারীর পক্ষ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্বিরাআতের পারদর্শিতা এবং রেওয়ায়াতের নির্ভুলতার একটি সনদ। এ কারণে পবিত্র কুরআনের পূর্ণ খতম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইজাযাহ প্রদান করা হতো না, চাই তা একটি রেওয়ায়াতের ভিত্তিতে হোক বা একাধিক রেওয়ায়াতের ভিত্তিতে।তবে কেউ কেউ দক্ষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খতম সম্পন্ন হওয়ার আগেই ইজাযাহ প্রদান করেছেন। যেমন: ইবনে আল-জাযারি আবু বকর বিন আল-জুন্দির কাছে একত্রিতভাবে আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন" [সূরা আন-নাহল: ৯০] পর্যন্ত পাঠ করেছিলেন; এরপর ইবনুল জুন্দি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে ইজাযাহ প্রদান করেন।ক্বারীগণের মধ্যে এমনও কেউ ছিলেন যারা ‘ইজাযাহ আম্মাহ’ বা সাধারণ অনুমতি প্রদান করতেন। যেমন ইবনে আল-জাযারি ‘তাইয়িবাতুন নাশর’-এর ইজাযাহ এমন প্রত্যেক ক্বারীর জন্য দিয়েছেন যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান।কুরআন পাঠদান ও শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইজাযাহ লাভ করা কোনো শর্ত নয়; বরং ক্বারীর যোগ্যতা, দক্ষতা এবং নির্ভুলতাই হচ্ছে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড।এর কারণ হলো, অনেক দক্ষ ক্বারীর পক্ষেই ক্বিরাআতের উস্তাদগণের কাছে পূর্ণ কুরআন খতম করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।যদি কোনো ক্বারী ইজাযাহ এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতা উভয়টির অধিকারী হন, তবে তা অতি উত্তম। অন্যথায় যোগ্য ব্যক্তির জন্য ইজাযাহ না থাকা কোনো ক্ষতির কারণ নয়। কুরআনের অংশসমূহ:‘আজযা’ শব্দটি ‘জুয’ শব্দের বহুবচন। কুরআনের জুয হলো কুরআনের একটি নির্দিষ্ট অংশ।ইবনুল হাদ বর্ণনা করেন যে, নাফে বিন জুবায়ের আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কত দিনে কুরআন খতম করো? আমি বললাম:আমি একে কোনো অংশে বিভক্ত করি না। তখন নাফে বললেন: এরূপ বলো না যে ‘আমি অংশ করি না’, কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “আমি কুরআনের একটি অংশ পাঠ করেছি।”মুগীরাহ ইবন শু’বাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাক্ষাতের অনুমতি চাইল। তিনি বললেন: “আজ রাতে আমার কুরআনের নির্ধারিত অংশটি ছুটে গেছে, আর আমি এর ওপর অন্য কোনো কিছুকে প্রাধান্য দিই না।”কুরআনের অন্যতম একটি বিভাজন হলো একে ত্রিশটি অংশে বিভক্ত করা। যখন সাধারণভাবে ‘জুয’ বলা হয়, তখন এই ত্রিশ ভাগের এক ভাগকেই (পারা) বোঝানো হয়।সর্বশেষ এই অর্থানুযায়ী প্রতিটি জুয দুটি ‘হিযব’-এ বিভক্ত এবং প্রতিটি হিযব চারটি চতুর্থাংশে (রুবু) বিভক্ত।এই ত্রিশটি জুয পবিত্র মুসহাফে দেখাই যায়, তাই এখানে সেগুলো বিস্তারিত গণনার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الإجناح:يقال في اللغة: جنح يجنح ويجنح ويجنح جنوحا: مال. وأجنحه: أماله.وقال ابن فارس: وجنح: مال، وسمي جناحا الطائر لميلهما في شقيه. والجناح:الإثم، لميله عن طريق الحق. وفي القرآن الكريم: وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَها [الأنفال: 61]، أي مالوا فمل.والإجناح ما دام في أصله اللغوي إمالة، فلذا يصح أن يراد به الإمالتان الكبرى والصغرى، ولكن القراء يريدون به الإمالة الكبرى دون أختها. الأحزاب:تعرفة وبيان:ترتيبها المصحفي: 33 نوعها: مدنية آيها: 73 ألفاظها: 1303 ترتيب نزولها: 90 بعد آل عمران جلالاتها: 90 مدغمها الكبير: 8 مدغمها الصغير: 6 أحزاب القرآن الكريم:جمع حزب، والحزب طائفة من القرآن.فعن عثمان بن عبد الله بن أوس الثقفي عن جده قال في حديث طويل: …فاحتبس عنا رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقلنا؛ يا رسول الله، لبثت عنا الليل أكثر مما كنت تلبث، قال: «نعم، طرأ عليّ حزبي من القرآن، فكرهت أن أخرج من المسجد حتى أقضيه». فقلنا لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنه قد حدثنا أنه طرأ عليه حزبه، فكيف تحزّبون القرآن الكريم؟ قالوا: نحزّبه ثلاث سور، وخمس سور، وسبع سور، وتسع سور، وإحدى عشرة سورة، وثلاث عشرة سورة، وحزب المفصل فيما بين قاف وأسفل.ووفق هذا الأثر تكون أحزاب القرآن الكريم زمن الصحابة سبعة أحزاب، هكذا:الحزب الأول: البقرة وآل عمران والنساء.الحزب الثاني: المائدة والأنعام والأعراف والأنفال وبراءة.الحزب الثالث: يونس وهود ويوسف والرعد وإبراهيم والحجر والنحل.الحزب الرابع: من الإسراء إلى آخر الفرقان.الحزب الخامس: من الشعراء إلى نهاية يس.الحزب السادس: من الصافات إلى نهاية الحجرات.الحزب السابع: من ق إلى نهاية الناس.ولقد استقر العمل في الأزمنة المتأخرة وفي عصرنا هذا على تقسيم القرآن الكريم إلى ستين حزبا، حيث
ইজনাহ (ঝুঁকে পড়া বা ইমালা):ভাষাগতভাবে বলা হয়: জানাহা, ইয়াজনাহু, ইয়াজনিহু, ইয়াজনুহু, জানুহান—অর্থাৎ সে ঝুঁকে পড়ল। আর আজানাহাহু অর্থ: সে তাকে ঝুঁকে দিল বা হেলিয়ে দিল।ইবন ফারিস বলেন: জানাহা অর্থ হেলে পড়া; আর পাখির ডানাকে 'জানাহ' বলা হয় কারণ তা তার দুই পার্শ্বে ঝুঁকে থাকে। আর জানাহ (পাপ):অপরাধ বা পাপ, যেহেতু এটি সত্য পথ থেকে বিচ্যুত বা হেলে পড়ে। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ুন" [আল-আনফাল: ৬১], অর্থাৎ তারা আগ্রহী হলে আপনিও আগ্রহী হোন।ইজনাহ এর ভাষাগত মূল যেহেতু ইমালা বা হেলানো, তাই এর দ্বারা ইমালাতু কুবরা (বড় ইমালা) এবং ইমালাতু সুগরা (ছোট ইমালা)—উভয়টিই উদ্দেশ্য হওয়া সঠিক। কিন্তু কিরাত বিশারদগণ এর দ্বারা কেবল ইমালাতু কুবরা-কে বোঝান, এর সহোদরকে (সুগরা) নয়। আল-আহযাব:পরিচয় ও বর্ণনা:মুসহাফ অনুযায়ী এর ক্রম: ৩৩, ধরণ: মাদানি, আয়াত সংখ্যা: ৭৩, শব্দ সংখ্যা: ১৩০৩, অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম: আলে ইমরানের পর ৯০ তম, 'আল্লাহ' শব্দের উল্লেখ: ৯০, বড় ইদগাম: ৮, ছোট ইদগাম: ৬। পবিত্র কুরআনের হিজবসমূহ (অংশসমূহ):এটি 'হিজব' শব্দের বহুবচন, আর হিজব হলো কুরআনের একটি নির্দিষ্ট অংশ।উসমান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আউস আস-সাকাফি তার দাদা থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে বলেন: ...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসতে বিলম্ব করলেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি রাতে আমাদের ছেড়ে অন্য সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন। তিনি বললেন: «হ্যাঁ, কুরআনের আমার নির্ধারিত হিজব (পাঠের অংশ) আমার সামনে উপস্থিত হয়েছিল, তাই তা শেষ না করে মসজিদ থেকে বের হওয়া আমি অপছন্দ করলাম।» এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বললাম: তিনি তো আমাদের বললেন যে তাঁর হিজব সামনে এসেছিল, তো আপনারা কীভাবে পবিত্র কুরআনকে হিজব বা অংশে বিভক্ত করেন? তারা বললেন: আমরা একে তিন সূরা, পাঁচ সূরা, সাত সূরা, নয় সূরা, এগারো সূরা, তেরো সূরা এবং ক্বাফ থেকে নিচের দিকে মুফাসসাল সূরাগুলোর একটি হিজব—এভাবে বিভক্ত করি।এই বর্ণনা অনুযায়ী সাহাবীদের যুগে পবিত্র কুরআনের হিজব ছিল সাতটি, যথা:প্রথম হিজব: আল-বাকারা, আলে ইমরান এবং আন-নিসা।দ্বিতীয় হিজব: আল-মায়িদা, আল-আনআম, আল-আরাফ, আল-আনফাল এবং বারাআত।তৃতীয় হিজব: ইউনুস, হুদ, ইউসুফ, আর-রাদ, ইব্রাহিম, আল-হিজর এবং আন-নাহল।চতুর্থ হিজব: আল-ইসরা থেকে আল-ফুরকানের শেষ পর্যন্ত।পঞ্চম হিজব: আশ-শুআরা থেকে ইয়াসিনের শেষ পর্যন্ত।ষষ্ঠ হিজব: আস-সাফফাত থেকে আল-হুজুরাতের শেষ পর্যন্ত।সপ্তম হিজব: ক্বাফ থেকে আন-নাসের শেষ পর্যন্ত।পরবর্তী যুগে এবং বর্তমান সময়ে পবিত্র কুরআনকে ষাটটি হিজবে বিভক্ত করার নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يشكل كل حزبين جزءا، وتشكل كل أربعة أرباع حزبا، وهنالك من يقسم الحزب إلى قسمين اثنين فقط، وهذه الأحزاب تراجع في المصحف الشريف. الأحقاف:تعرفة وبيان:ترتيبها المصحفي: 46 نوعها: مكية آيها: 35 كوفي، 34 الباقون ألفاظها: 645 ترتيب نزولها: 66 بعد الجاثية جلالاتها: 16 مدغمها الكبير: 8 مدغمها الصغير: 3 ياءات الإضافة: 4 الاختلاس:هو إخفاء الحركات بنقص تمطيطها بما قد خصه النص منها والنقل المتواتر الصحيح.فالاختلاس في حقيقته العملية هو الإتيان بثلثي حركة الحرف، بحيث يكون المنطوق به من الحركة أكثر من المحذوف منها.والاختلاس يرادفه الإخفاء، فهما بمعنى واحد، ويقابلهما الرّوم وهو الإتيان ببعض الحركة، بحيث يكون الثابت منها أقل من المحذوف.ومن أمثلة الاختلاس ما روي عن الدّوري عن أبي عمرو البصري من اختلاس كسرة الهمزة في بارِئِكُمْ [البقرة: 54]، واختلاس ضمة الراء في يَأْمُرُكُمْ [البقرة: 67]، يَنْصُرْكُمُ [آل عمران: 160]. ملحوظة:الرّوم والاختلاس يشتركان في التبعيض، وبينهما عموم وخصوص، فالرّوم أخص من حيث أنه لا يكون في المفتوح والمنصوب، ويكون في الوقف دون الوصل، والثابت فيه من الحركة أقل من المحذوف، والاختلاس أعمّ لأنه يتناول الحركات الثلاث، والثابت فيه من الحركة أكثر من المحذوف. فائدة:جمع الإمام الطيبي الكلمات التي ورد فيها الاختلاس فقال:والاختلاس في نعمّا أرنا … ونحو باريكم ولا تأمناولا تعدّوا لا يهدّي إلا … وهم يخصّمون فادر الكلّاويطلق على الاختلاس أيضا مصطلح الاختطاف. آخر ما نزل من القرآن:غالب العلماء على أن أصح وأرجح الأقوال في آخر ما نزل من القرآن قوله تعالى: وَاتَّقُوا يَوْماً تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ
প্রতি দুই হিযব মিলে একটি জুয গঠিত হয় এবং প্রতি চার রুবু মিলে একটি হিযব গঠিত হয়। কেউ কেউ হিযবকে মাত্র দুই ভাগে বিভক্ত করেন এবং এই হিযবগুলো পবিত্র মাসহাফে দেখা যায়। আল-আহকাফ:পরিচিতি ও বর্ণনা:মাসহাফ অনুযায়ী এর ক্রম: ৪৬; ধরন: মক্কী; আয়াত সংখ্যা: ৩৫ (কুফী গণনা অনুযায়ী), ৩৪ (অবশিষ্টদের মতে); শব্দ সংখ্যা: ৬৪৫; নাজিল হওয়ার ক্রম: ৬৬ (সূরা আল-জাসিয়াহর পর); আল্লাহ শব্দের সংখ্যা: ১৬; ইদগামে কাবীর: ৮; ইদগামে সাগীর: ৩; ইয়া-আত আল-ইজাফাহ (সংযোজক ‘ইয়া’): ৪। ইখতিলাস:এটি হলো হরকতের উচ্চারণকে সংকুচিত করে বা এর স্থায়িত্ব কমিয়ে লুকিয়ে ফেলা, যা নির্দিষ্ট পাঠ্য এবং সহীহ মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।ব্যবহারিক বাস্তবতায় ইখতিলাস হলো অক্ষরের হরকতের দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চারণ করা, যাতে হরকতের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয় তা বর্জিত অংশের তুলনায় বেশি থাকে।ইখতিলাস-এর সমার্থক শব্দ হলো ইখফা, তারা উভয়ই একই অর্থ বহন করে। এদের বিপরীত হলো রউম, যা হলো হরকতের কিয়দাংশ উচ্চারণ করা, যাতে উচ্চারিত অংশটুকু বর্জিত অংশের তুলনায় কম থাকে।ইখতিলাসের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে যা আবু আমর আল-বসরীর সূত্রে আদ-দুরী বর্ণনা করেছেন: সূরা বাকারার ৫৪ নম্বর আয়াতে ‘বারি-ইকুম’ শব্দের হামযার কাসরার (জের) ইখতিলাস করা এবং সূরা বাকারার ৬৭ নম্বর আয়াতে ‘ইয়ামুরুকুম’ ও সূরা আলে ইমরানের ১৬০ নম্বর আয়াতে ‘ইয়ানসুরুকুম’ শব্দের রা-এর জম্মার (পেশ) ইখতিলাস করা। দ্রষ্টব্য:রউম এবং ইখতিলাস উভয়ই আংশিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে একীভূত, তবে তাদের মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রউম অধিকতর বিশেষ, কারণ এটি ফাতহা (যবর) বা মানসুব হরকতে হয় না এবং এটি কেবল থামা (ওয়াকফ) করার সময় হয়, যুক্ত করার (ওয়াসল) সময় নয়; আর এতে হরকতের উচ্চারিত অংশ বর্জিত অংশের চেয়ে কম থাকে। অন্যদিকে ইখতিলাস অধিকতর সাধারণ, কারণ এটি তিনটি হরকতেই প্রযোজ্য হতে পারে এবং এতে হরকতের উচ্চারিত অংশ বর্জিত অংশের চেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ জ্ঞাতব্য:ইমাম আত-তিবী সেই শব্দগুলোকে একত্রিত করেছেন যেগুলোতে ইখতিলাস সংঘটিত হয়, তিনি বলেন:ইখতিলাস রয়েছে নিইম্মাহ, আরিনা … এবং বারি-ইকুম ও লা-তা'মান্না এর মতো শব্দেএবং লা-তা'আদ্দু, লা-ইয়াহিন্দি ইল্লা … এবং ওয়াহুম ইয়াহিসসিমুন শব্দে, অতএব সবগুলি জেনে নাওইখতিলাসকে ‘আল-ইখতিতাফ’ পরিভাষা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত:অধিকাংশ আলেমের মতে কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য অভিমত হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: “আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমাদের আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ ما كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ [البقرة: 281].وقيل: آية الكلالة، فقد روى البخاري عن البراء بن عازب أنه قال: آخر آية نزلت يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ [النساء: 278]، وآخر سورة نزلت سورة براءة.وقيل: آخر آية نزلت آية الربا، أخرج البخاري عن ابن عباس قال: آخر آية نزلت اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا ما بَقِيَ مِنَ الرِّبا [البقرة: 278].وروى مسلم عن ابن عباس: آخر سورة نزلت إِذا جاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ [النصر: 1]. وهنالك أقوال أخرى ضربنا عنها صفحا.والظاهر أن كل واحد من الصحابة حدث بما عنده وبما علمه. الإخفاء:لغة: الستر.وهو قسمان: 1 - إخفاء الحرف:وهو قسمان:أ- الإخفاء الحقيقي.ب- الإخفاء الشفوي.(ر- الإخفاء الحقيقي، الإخفاء الشفوي). 2 - إخفاء الحركة:وهو تضعيف الصوت بالحركة حتى يذهب بذلك معظم صوتها، فيسمع لها صوت خفيّ.وإخفاء الحركة هذا هو الرّوم كذلك.(ر- الرّوم، والاختلاس). الإخفاء الحقيقي:الإخفاء لغة: الستر.واصطلاحا: النطق بحرف ساكن عار من التشديد على صفة بين الإظهار والإدغام، مع بقاء الغنة في الحرف الأول أي النون الساكنة والتنوين.وكيفيته: النطق بالنون عند ورود حرف الإخفاء مسموعة من الأنف من غير تشديد، كما لا يشدد حرف الإخفاء الذي يليها.وسمي إخفاء لإخفاء النون الساكنة والتنوين عند حروفه.وسمي حقيقيا لأنه متحقق في النون الساكنة والتنوين أكثر من غيرها بخلاف الإخفاء الشفوي.حروف الإخفاء خمسة عشر، جمعت في أوائل كلمات هذا البيت:صف ذا ثناكم جاد شخص قد سما … دم طيّبا زد في تقى ضع ظالماوهذه أمثلتها:
অতঃপর প্রত্যেক সত্তাকে সে যা উপার্জন করেছে তার পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না [আল-বাকারা: ২৮১]।বলা হয়ে থাকে: এটি হলো কালালা সংক্রান্ত আয়াত। ইমাম বুখারি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো 'তারা আপনার নিকট ফাতাওয়া প্রার্থনা করে, আপনি বলুন: আল্লাহ তোমাদেরকে কালালা সম্পর্কে ফাতাওয়া দিচ্ছেন' [আন-নিসা: ২৭৮], আর সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো সূরা বারাআত।আবার বলা হয়ে থাকে: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো সুদের আয়াত। বুখারি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো' [আল-বাকারা: ২৭৮]।ইমাম মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে' [আন-নাসর: ১]। এখানে আরও কিছু মতামত রয়েছে যা আমরা এড়িয়ে গিয়েছি।প্রকাশ্য বিষয় হলো যে, সাহাবীগণের প্রত্যেকেই তাঁর নিকট যা ছিল এবং তিনি যা জানতেন তা-ই বর্ণনা করেছেন। ইখফা:শাব্দিক অর্থ: গোপন করা।এটি দুই প্রকার: ১ - বর্ণের ইখফা (ইখফাউল হারফ):এটি দুই প্রকার:ক- ইখফা হাকিকি।খ- ইখফা শাফাউয়ি।(দেখুন- ইখফা হাকিকি, ইখফা শাফাউয়ি)। ২ - হারাকাতের ইখফা:এটি হলো হারাকাতের ধ্বনিকে দুর্বল করা যাতে তার অধিকাংশ শব্দ বিলুপ্ত হয় এবং একটি ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়।হারাকাতের এই ইখফাকে 'রউম'ও বলা হয়।(দেখুন- রউম এবং ইখতিলাস)। ইখফা হাকিকি:ইখফার শাব্দিক অর্থ: গোপন করা।পরিভাষায়: তাশদীদবিহীন সাকিন বর্ণকে ইজহার ও ইদগামের মধ্যবর্তী অবস্থায় প্রথম বর্ণ অর্থাৎ নুন সাকিন ও তানভীনের গুন্নাহ অবশিষ্ট রেখে উচ্চারণ করা।এর পদ্ধতি: ইখফার বর্ণ আসার সময় নুন-কে নাক থেকে তাশদীদ ছাড়া উচ্চারণ করা, একইভাবে পরবর্তী ইখফার বর্ণটিতেও কোনো তাশদীদ হবে না।একে ইখফা নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর বর্ণগুলোর নিকট নুন সাকিন ও তানভীনকে গোপন করা হয়।একে হাকিকি (প্রকৃত) বলা হয় কারণ ইখফা শাফাউয়ির তুলনায় এটি নুন সাকিন ও তানভীনের ক্ষেত্রে অধিকতর বাস্তবায়িত হয়।ইখফার বর্ণ পনেরোটি, যা এই পঙ্ক্তির শব্দগুলোর প্রথম অক্ষরে একত্রিত করা হয়েছে:সিফ যা সানা কাম জাদা শাখসুন কদ সামা … দিম তয়্যিবান যিদ ফী তুকান যা য-লিমাআর এগুলো হলো এর উদাহরণসমূহ:
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - / ص/ وَانْصُرْنا/ [البقرة: 250] / وَلَمَنْ صَبَرَ [الشورى: 43] / بِرِيحٍ صَرْصَرٍ [الحاقة: 6] / وَنَخِيلٌ صِنْوانٌ [الرعد: 4] 2 - / ذ/ (منذ) / ظِلٍّ ذِي [المرسلات: 30] / عَزِيزٌ ذُو انْتِقامٍ [آل عمران: 4] / مَنْ ذَا [البقرة: 245] 3 - / ث/ وَالْأُنْثى [البقرة: 178] / شَهِيداً ثُمَّ [النحل: 84] / نُطْفَةٍ ثُمَّ [الكهف: 37] / خَيْرٌ ثَواباً [الكهف: 44] 4 - / ك/ فَانْكِحُوا [النساء: 3] / عُلُوًّا كَبِيراً [الإسراء: 4] / كِتابٌ كَرِيمٌ [النمل: 29] / وَإِنْ كانَتْ [البقرة: 143] 5 - / ج/ فَأَنْجَيْناهُ [الأعراف: 64] / مَنْ جاءَ [الأنعام: 160] / رُطَباً جَنِيًّا [مريم: 25] / فَصَبْرٌ جَمِيلٌ [يوسف: 18] 6 - / ش/ أَنْشَرَهُ [عبس: 22] / فَمَنْ شَهِدَ [البقرة: 185] / رُكْنٍ شَدِيدٍ [هود: 80] / قَوِيٌّ شَدِيدُ [الأنفال: 52] 7 - / ق/ تَنْقِمُونَ [المائدة: 59] / مِنْ قَبْلُ [البقرة: 25] / رِزْقاً قالُوا [البقرة: 25] / عَذابٌ قَرِيبٌ [هود: 64] 8 - / س/ الْإِنْسانُ [النساء: 28] / قَوْلًا سَدِيداً [النساء: 9] / أَمْرٍ سَلامٌ [القدر: 4، 5] / فَوْجٌ سَأَلَهُمْ [الملك: 8] 9 - / د/ أَنْداداً [البقرة: 22] / مِنْ دَابَّةٍ [الأنعام: 38] / وَكَأْساً دِهاقاً [النبأ: 34] / قِنْوانٌ دانِيَةٌ [الأنعام: 99] 10 - / ط/ انْطَلِقُوا [المرسلات: 29] / حَلالًا طَيِّباً [البقرة: 168] / كَلِمَةً طَيِّبَةً [إبراهيم: 24] / بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ [سبأ: 15] 11 - / ز/ أُنْزِلَ [البقرة: 4] / فَإِنْ زَلَلْتُمْ [البقرة: 209] / نَفْساً زَكِيَّةً [الكهف: 74] / يَوْمَئِذٍ زُرْقاً [طه: 102] 12 - / ف/ يُنْفِقُونَ [البقرة: 215] / فَإِنْ فاؤُ [البقرة: 226] / تَخَوُّفٍ فَإِنَّ/ [النحل: 47] / لَآتِيَةٌ فَاصْفَحِ [الحجر: 85] 13 - / ت/ أَنْتَ [البقرة: 32] / حِلْيَةً تَلْبَسُونَها [النحل: 14] / يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ [الحاقة: 18] / أَنْ تَقُولَ [الزمر: 56] 14 - / ض/ مَنْضُودٍ [هود: 82] / مَنْ ضَلَّ [المائدة: 105] / قُوَّةٍ ضَعْفاً [الروم: 54] / قِسْمَةٌ ضِيزى [النجم: 22] 15 - / ظ/ تُعْرَضُونَ/ [الأنعام: 11] / ظِلًّا ظَلِيلًا/ النساء: 57] / مِنْ ظَهِيرٍ [سبأ: 22] / سَحابٌ ظُلُماتٌ [النور: 40]
১ - / সদ / এবং আমাদের সাহায্য করুন / [আল-বাকারা: ২৫০] / আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করল [আশ-শূরা: ৪৩] / প্রচণ্ড হিমেল বাতাসের দ্বারা [আল-হাক্কাহ: ৬] / এবং একই মূল হতে উৎপন্ন খেজুর গাছ [আর-রাদ: ৪] ২ - / যাল / (হতে/থেকে) / এমন ছায়া যা [আল-মুরসালাত: ৩০] / পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী [আল ইমরান: ৪] / কে সেই ব্যক্তি যে [আল-বাকারা: ২৪৫] ৩ - / ছা / এবং নারী [আল-বাকারা: ১৭৮] / একজন সাক্ষী, অতঃপর [আন-নাহল: ৮৪] / শুক্রবিন্দু হতে, অতঃপর [আল-কাহফ: ৩৭] / প্রতিদানের দিক থেকে উত্তম [আল-কাহফ: ৪৪] ৪ - / কাফ / অতএব তোমরা বিবাহ করো [আন-নিসা: ৩] / সুউচ্চ মর্যাদা [আল-ইসরা: ৪] / এক সম্মানিত কিতাব [আন-নামল: ২৯] / আর যদিও তা ছিল [আল-বাকারা: ১৪৩] ৫ - / জীম / অতঃপর আমি তাকে রক্ষা করলাম [আল-আরাফ: ৬৪] / যে ব্যক্তি নিয়ে এল [আল-আনআম: ১৬০] / তাজা সুপক্ব খেজুর [মারইয়াম: ২৫] / সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই শ্রেয় [ইউসুফ: ১৮] ৬ - / শীন / তিনি তাকে পুনরুত্থিত করলেন [আবাসা: ২২] / অতঃপর যে ব্যক্তি উপস্থিত থাকে [আল-বাকারা: ১৮৫] / শক্তিশালী আশ্রয় [হূদ: ৮০] / অতিশয় শক্তিশালী, কঠোর [আল-আনফাল: ৫২] ৭ - / ক্বাফ / তোমরা প্রতিশোধ নিচ্ছ [আল-মায়িদাহ: ৫৯] / ইতিপূর্বে [আল-বাকারা: ২৫] / জীবিকা, তারা বলল [আল-বাকারা: ২৫] / নিকটবর্তী শাস্তি [হূদ: ৬৪] ৮ - / সীন / মানুষ [আন-নিসা: ২৮] / সঠিক কথা [আন-নিসা: ৯] / প্রত্যেক বিষয়ে শান্তি [আল-কদর: ৪, ৫] / একদল, তারা তাদের জিজ্ঞাসা করল [আল-মুলক: ৮] ৯ - / দাল / সমকক্ষসমূহ [আল-বাকারা: ২২] / কোনো বিচরণশীল প্রাণী হতে [আল-আনআম: ৩৮] / এবং উপচে পড়া পানপাত্র [আন-নাবা: ৩৪] / নুয়ে থাকা খেজুরের ছড়ি [আল-আনআম: ৯৯] ১০ - / ত্বা / তোমরা চলো [আল-মুরসালাত: ২৯] / হালাল ও পবিত্র [আল-বাকারা: ১৬৮] / পবিত্র বাক্য [ইবরাহীম: ২৪] / মনোরম জনপদ [সাবা: ১৫] ১১ - / যা / অবতীর্ণ করা হয়েছে [আল-বাকারা: ৪] / অতঃপর যদি তোমরা পদস্খলিত হও [আল-বাকারা: ২০৯] / এক পবিত্র সত্তা [আল-কাহফ: ৭৪] / সেদিন নীল চক্ষুবিশিষ্ট অবস্থায় [ত্বহা: ১০২] ১২ - / ফা / তারা ব্যয় করে [আল-বাকারা: ২১৫] / অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে [আল-বাকারা: ২২৬] / ভীতির অবস্থায়, তবে নিশ্চয়ই / [আন-নাহল: ৪৭] / অবশ্যই সমাগত, সুতরাং আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন [আল-হিজর: ৮৫] ১৩ - / তা / আপনি [আল-বাকারা: ৩২] / অলঙ্কার যা তোমরা পরিধান করো [আন-নাহল: ১৪] / সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে [আল-হাক্কাহ: ১৮] / যেন সে বলতে পারে [আয-যুমার: ৫৬] ১৪ - / দদ / সারিবদ্ধভাবে সাজানো [হূদ: ৮২] / যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে [আল-মায়িদাহ: ১০৫] / শক্তির পর দুর্বলতা [আর-রূম: ৫৪] / এক অসংগত বণ্টন [আন-নাজম: ২২] ১৫ - / যোয়া / তোমাদের উপস্থিত করা হবে / [আল-আনআম: ১১] / ঘন শীতল ছায়া / [আন-নিসা: ৫৭] / কোনো সাহায্যকারী হতে [সাবা: ২২] / মেঘমালা ও ঘনীভূত অন্ধকার [আন-নুর: ৪০]
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وجه الإخفاء: لم تبعد النون الساكنة والتنوين عن حروف الإخفاء كبعدهما عن حروف الإظهار، ولم يقربا منهن كقربهما من حروف الإدغام، لذا أعطيا حكما وسطا بين الإظهار والإدغام. ملحوظات في الإخفاء: 1 - من الخطأ البيّن في الإخفاء إلصاق اللسان في الثنايا العليا، مما ينشأ عنه نون ساكنة مظهرة مصحوبة بغنة، وصواب اللفظ أن يكون هنالك تجاف بين اللسان والثنايا العليا، فيجعل القارئ لسانه بعيدا عن مخرج النون قليلا، وأكثر ما يتأكد ذلك عند الطاء والدال والتاء والضاد.2 - الإخفاء غير مصحوب بالتشديد لأنه إخفاء عند الحروف، أما الإدغام ففيه تشديد لأنه إدغام في الحروف.3 - مراتب قوة الإخفاء بحسب قرب وبعد مخارج حروف الإخفاء من النون والتنوين:أ- أعلاها: عند الطاء والدال والتاء، فالإخفاء هنا قريب من الإدغام.ب- أدناها: عند القاف والكاف.فالإخفاء هنا قريب من الإظهار لبعد القاف والكاف عن النون والتنوين.ج- أوسطها: عند الأحرف العشرة الباقية.(ر- الغنة).4 - في حالة إخفاء النون الساكنة والتنوين يتحول مخرجهما من طرف اللسان إلى قرب مخرج الحرف الذي يخفيان عنده وليس إلى الخيشوم.5 - امتاز أبو جعفر عن كلّ القراء بالإخفاء عند الغين والخاء، نحو: مِنْ غِلٍّ [الأعراف: 43] مِنْ خَيْرٍ [البقرة: 105]، واستثني له وَالْمُنْخَنِقَةُ [المائدة: 3] إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا [النساء: 135] فَسَيُنْغِضُونَ [الإسراء: 51] فيظهر النون في هذه المواضع فقط. ووجه الإخفاء عنده قرب الغين والخاء من حرفي أقصى اللسان القاف والكاف. الإخفاء الشفوي:هو إخفاء الميم الساكنة قبل الباء.وإخفاء الميم هنا ليس إعداما لذاتها بالكلية، بل إضعافها وستر ذاتها، بتقليل الاعتماد على مخرجه.ووجه الإخفاء هنا أن الميم والباء لما اشتركا في المخرج وتجانسا في الانفتاح والاستفال ثقل الإظهار والإدغام، ولذا عدل بهما إلى الإخفاء. أمثلة:وَهُمْ بِالْآخِرَةِ [الأعراف: 45] تَرْمِيهِمْ
ইখফা-র কারণ: সাকিন নূন এবং তানভীন ইযহারের হরফসমূহ থেকে যেমন দূরে নয়, আবার ইদগামের হরফসমূহের মতো তেমন নিকটবর্তীও নয়; একারণে এদেরকে ইযহার ও ইদগামের মধ্যবর্তী একটি বিধান দেওয়া হয়েছে। ইখফা সংক্রান্ত কিছু লক্ষ্যণীয় বিষয়: ১ - ইখফা করার সময় একটি স্পষ্ট ভুল হলো জিহ্বাকে উপরের সামনের দাঁতের মাড়ির সাথে লাগিয়ে দেওয়া, যার ফলে গুন্নাহসহ একটি স্পষ্ট সাকিন নূন উচ্চারিত হয়। সঠিক উচ্চারণ পদ্ধতি হলো জিহ্বা এবং উপরের সামনের দাঁতের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রাখা, অর্থাৎ ক্বারী তার জিহ্বাকে নূনের মাখরাজ থেকে সামান্য দূরে রাখবেন। আর ত্ব, দাল, তা এবং দদ অক্ষরের ক্ষেত্রে বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত করতে হবে।২ - ইখফা তাসদীদযুক্ত হয় না, কারণ এটি হরফের নিকট গোপন করা। পক্ষান্তরে ইদগামে তাসদীদ থাকে, কারণ তা হরফের ভেতরে একীভূত করা।৩ - নূন ও তানভীন থেকে ইখফার হরফসমূহের মাখরাজের নিকটবর্তী হওয়া বা দূরবর্তী হওয়ার নিরিখে ইখফার শক্তিমত্তার স্তরসমূহ:ক- সর্বোচ্চ স্তর: ত্ব, দাল এবং তা-এর ক্ষেত্রে। এখানে ইখফা ইদগামের কাছাকাছি হয়।খ- সর্বনিম্ন স্তর: ক্বফ এবং কাফ-এর ক্ষেত্রে।এখানে ইখফা ইযহারের কাছাকাছি হয়, কারণ নূন ও তানভীন থেকে ক্বফ ও কাফ-এর দূরত্ব বেশি।গ- মধ্যম স্তর: অবশিষ্ট দশটি হরফের ক্ষেত্রে।(র- গুন্নাহ)।৪ - সাকিন নূন এবং তানভীনের ইখফার ক্ষেত্রে এগুলোর মাখরাজ জিহ্বার আগা থেকে সরে গিয়ে যে হরফের নিকট ইখফা করা হচ্ছে তার মাখরাজের নিকটে চলে যায়, নাসিকারন্ধ্রে নয়।৫ - ইমাম আবু জাফর সমস্ত ক্বারীদের থেকে ব্যতিক্রমভাবে গইন এবং খা অক্ষরের ক্ষেত্রে ইখফা করেছেন, যেমন: 'মিন গিল্লিন' [আ'রাফ: ৪৩], 'মিন খইরিন' [বাকারা: ১০৫]। তবে তার ক্ষেত্রে 'আল-মুনখানি-ক্বতু' [মায়িদা: ৩], 'ইন ইয়াকুন গানিয়্যান' [নিসা: ১৩৫], 'ফাসাইউনগিদূনা' [ইসরা: ৫১] শব্দগুলো এর ব্যতিক্রম; কেবল এই স্থানগুলোতে তিনি নূনকে স্পষ্ট করে পড়বেন। তার নিকট এখানে ইখফার কারণ হলো জিহ্বার গোড়ার দুই হরফ ক্বফ ও কাফ-এর সাথে গইন ও খা-এর নৈকট্য। ইখফায়ে শাফাভী:এটি হলো বা অক্ষরের পূর্বে সাকিন মীমের ইখফা করা।আর এখানে মীমের ইখফা মানে এর সত্তাকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দেওয়া নয়, বরং এর মাখরাজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিয়ে এর সত্তাকে দুর্বল ও আবৃত করা।এখানে ইখফার কারণ হলো, মীম ও বা যেহেতু একই মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয় এবং উন্মুক্ততা ও নিম্নগামিতার গুণে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই এদের ইযহার বা ইদগাম করা কষ্টসাধ্য; এজন্য ইখফার বিধান গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণসমূহ:'ওয়া হুম বিল আখিরাতি' [আ'রাফ: ৪৫], 'তারমীহিম'
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بِحِجارَةٍ [الفيل: 4] أَدْراكُمْ بِهِ [يونس:16]. ملحوظات:1 - سمي هذا الإخفاء شفويا لخروج الميم والباء من الشفتين. ولأمر آخر وهو التفرقة بين الإخفاء الحقيقي والإخفاء الشفوي، وذلك لأن الميم الساكنة لا يتحقق الإخفاء عندها كتحققه في النون والتنوين، لأن في الميم الساكنة تبعيضا للحرف وسترا لذاته، بخلاف النون والتنوين، فإن ذاتهما تكاد تكون معدومة، فإنه لم يبق منهما إلا الغنة فقط.2 - مخرج الميم الساكنة المخفاة في الباء لا يتحول إلى الخيشوم بل هو ثابت في مخرج الميم الأصلي، وهو ما بين الشفتين.3 - في الميم الساكنة قبل الباء وجهان صحيحان:1 - الإخفاء الشفوي مع الغنة، (وهو ما سبق شرحه).2 - الإظهار التام من غير غنة.وقال المحقق ابن الجزري:والوجهان صحيحان، مأخوذ بهما إلا أن الإخفاء أولى للإجماع على إخفائها عند القلب، وعلى إخفائها في قراءة أبي عمرو ويعقوب حالة الإدغام.واختار هذا الوجه أكثر المحققين كالداني والشاطبي وابن الجزري وابن مجاهد وجماهير أهل الأداء. الإخلاص:تعرفة وبيان:ترتيبها المصحفي: 112 نوعها: مكية آيها: 4 مدني وكوفي وبصري، 5 مكي وشامي ألفاظها: 15 ترتيب نزولها: 22 بعد الناس جلالاتها: 2 أسماؤها:الأساس، قل هو الله أحد، التوحيد، النجاة، المعوذة، الصمد، المانعة، البراءة. فضائلها:قال عليه الصلاة والسلام: «من قرأ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ [الإخلاص: 1] فقد قرأ ثلث القرآن». الأخوان:هما الإمامان حمزة والكسائي.(ر- القراء العشرة)، إدريس (ت 292 هـ):أبو الحسن إدريس بن عبد الكريم البغدادي الحداد.
পাথর দ্বারা [আল-ফিল: ৪] তিনি এটি তোমাদের জানিয়েছেন [ইউনুস: ১৬]। দ্রষ্টব্য:১ - মীম এবং বা-এর মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) ঠোঁট দুটি হওয়ার কারণে এই ইখফাকে 'শাফাউই' (ওষ্ঠ্য) নামকরণ করা হয়েছে। এর আরেকটি কারণ হলো 'ইখফায়ে হাকিকি' এবং 'ইখফায়ে শাফাউই'-এর মধ্যে পার্থক্য করা; কেননা মীম সাকিনের ক্ষেত্রে ইখফা তেমনভাবে বাস্তবায়িত হয় না যেমনটি নুন (সাকিন) এবং তানউইনের ক্ষেত্রে হয়। কারণ মীম সাকিনের ক্ষেত্রে অক্ষরের আংশিক অংশ এবং তার সত্তার গোপনীয়তা থাকে, যা নুন এবং তানউইনের বিপরীত; কেননা সেগুলোর (নুন ও তানউইন) সত্তা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং গুন্নাহ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।২ - বা-এর নিকট ইখফাকৃত মীম সাকিনের মাখরাজ নাসিকামূলে (খাইশুম) স্থানান্তরিত হয় না, বরং তা মীমের মূল মাখরাজ তথা দুই ঠোঁটের মাঝখানেই স্থির থাকে।৩ - বা-এর পূর্বে মীম সাকিনের ক্ষেত্রে দুটি সহিহ (সঠিক) পদ্ধতি রয়েছে:১ - গুন্নাহসহ ইখফায়ে শাফাউই (যা ইতোপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)।২ - গুন্নাহ ছাড়া পূর্ণ ইজহার।মুহাক্কিক ইবনুল জাজারি রহ. বলেন:উভয় পদ্ধতিই সহিহ এবং তা গ্রহণ করা হয়, তবে ইখফা করাই অধিক উত্তম; কেননা কল্ব-এর সময় ইখফা করার ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা) রয়েছে এবং আবু আমর ও ইয়াকুবের ক্বিরাআতে ইদগামের অবস্থায় একে ইখফা করার ব্যাপারেও মতৈক্য রয়েছে।অধিকাংশ মুহাক্কিক এই পদ্ধতিটিই নির্বাচন করেছেন, যেমন আদ-দানি, আশ-শাতিবি, ইবনুল জাজারি, ইবনু মুজাহিদ এবং ক্বিরাআতের ইমামগণের (আহলুল আদা) বিশাল জামাত। আল-ইখলাস:পরিচিতি ও বর্ণনা:মুসহাফ অনুযায়ী এর ক্রম: ১১২, প্রকার: মাক্কি, আয়াত সংখ্যা: ৪ (মাদানি, কুফি ও বাসরি গণনা অনুযায়ী), ৫ (মাক্কি ও শামি গণনা অনুযায়ী), শব্দ সংখ্যা: ১৫, অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম: ২২ (আন-নাস সূরার পর), মহান আল্লাহর নাম (জালালাত): ২ এর নামসমূহ:আল-আসাস, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আত-তাওহিদ, আন-নাজাত, আল-মুআউওয়িযা, আস-সামাদ, আল-মানিআহ, আল-বারাআহ। এর ফজিলতসমূহ:রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' [আল-ইখলাস: ১] পাঠ করল, সে যেন কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল।" আল-আখাওয়ান (দুই ভাই):তাঁরা হলেন দুই ইমাম—হামজা এবং কিসায়ি।(দেখুন- দশ ক্বারি), ইদ্রিস (মৃত্যু ২৯২ হিজরি):আবুল হাসান ইদ্রিস বিন আব্দুল কারিম আল-বাগদাদি আল-হাদ্দাদ।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
راوي خلف أحد القراء العشرة. الإدغام:لغة: الإدخال.اصطلاحا: خلط الحرفين المتماثلين أو المتقاربين أو المتجانسين، فيصيران حرفا واحدا مشددا يرتفع اللسان بهما ارتفاعة واحدة. فائدته:التخفيف والتسهيل في النطق. شروطه:1 - شرط خاص بالمدغم، وهو التقاؤه بالمدغم فيه خطا ولفظا، نحو:مِنْ رَبِّهِمْ [البقرة: 5]، مَنْ يَعْمَلْ [النساء: 123]، أو خطا لا لفظا، نحو:وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّناً [النور: 15] ويمتنع كونه لفظا لا خطا فلا يدغم، نحو: أَنَا النَّذِيرُ [الحجر: 89].2 - شرط خاص بالمدغم فيه، وهو أن يكون أكثر من حرف إذا كان الإدغام في كلمة، نحو: أَلَمْ نَخْلُقْكُمْ [المرسلات: 20] عند كل القراء، ونحو:خَلَقَكُمْ [البقرة: 21] عند من أدغمه.ويخرج من هذا القيد، نحو:خَلَقَكَ [الانفطار: 7]، نَرْزُقُكَ [طه:132] لأن المدغم فيه آخر حرف في الكلمة. أسبابه:1 - التماثل: وهو اتحاد الحرفين مخرجا وصفة.2 - التقارب: وهو تقارب الحرفين مخرجا أو صفة.3 - التجانس: وهو اتحاد الحرفين مخرجا واختلافهما صفة. موانعه:1 - قسم متفق عليه، وهو كون الأول من المثلين أو المتقاربين منونا أو مشددا أو تاء ضمير، وذلك نحو:- أمثلة المنوّن: غَفُورٌ رَحِيمٌ [البقرة: 173]، ظُلُماتٍ ثَلاثٍ [الزمر:6]، رَجُلٌ رَشِيدٌ [هود: 78].- أمثلة المشدّد: رَبِّ بِما [الحجر:39]، مَسَّ سَقَرَ [القمر: 48]، أَوْ أَشَدَّ ذِكْراً [البقرة: 200].- أمثلة تاء الضمير: كُنْتُ تُراباً [النبأ: 40]، كِدْتَ لَتُرْدِينِ [الصافات:56]، خَلَقْتَ طِيناً [الإسراء: 61].2 - قسم مختلف فيه، وهو كون أول المثلين أو المتقاربين أو المتجانسين مجزوما.- أمثلة المثلين: يَخْلُ لَكُمْ [يوسف:9]، يَبْتَغِ غَيْرَ [آل عمران: 85]، يَكُ كاذِباً [غافر: 28].- أمثلة المتجانسين: وَلْتَأْتِ طائِفَةٌ [النساء: 102].
দশজন ক্বারীর মধ্যে অন্যতম খলফের রাবী (বর্ণনাকারী)। ইদগাম:আভিধানিক অর্থ: প্রবিষ্ট করা।পারিভাষিক অর্থ: দুটি সদৃশ, নিকটবর্তী বা সমগোত্রীয় বর্ণকে এমনভাবে মিলিত করা যাতে তারা একটি তাসদীদযুক্ত বর্ণে পরিণত হয় এবং উচ্চারণের সময় জিহ্বা একবারই উত্থিত হয়। এর উপকারিতা:উচ্চারণে লঘুতা ও সহজসাধ্যতা প্রদান করা। এর শর্তাবলী:১ - মুদগাম (যা লীন করা হবে) এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত: সেটি হলো মুদগাম ফিহি (যার মধ্যে লীন করা হবে) এর সাথে লিখনশৈলী ও উচ্চারণে মিলিত হওয়া, যেমন:মিন রব্বিহিম [আল-বাকারা: ৫], মান ইয়ামাল [আন-নিসা: ১২৩], অথবা কেবল লিখনশৈলীতে মিলিত হওয়া, উচ্চারণে নয়, যেমন:ওয়া তাহসাবুনাহু হাইয়িনান [আন-নূর: ১৫] এবং উচ্চারণে মিলিত হওয়া কিন্তু লিখনশৈলীতে না হওয়া ইদগামের জন্য প্রতিবন্ধক, তাই ইদগাম হবে না, যেমন: আনা আন-নাযীর [আল-হিজর: ৮৯]।২ - মুদগাম ফিহি এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত: ইদগাম যদি একটি শব্দের মধ্যে হয়, তবে তাকে অবশ্যই একাধিক বর্ণবিশিষ্ট হতে হবে, যেমন সকল ক্বারীর নিকট: আলাম নাখলুককুম [আল-মুরসালাত: ২০], এবং যারা এটি ইদগাম করেন তাদের নিকট:খালাক্কাকুম [আল-বাকারা: ২১]।এই শর্তের বাইরে থাকবে যেমন:খালাক্কাকা [আল-ইনফিতার: ৭], নারযুক্কুকা [ত্বহা:১৩২], কারণ এখানে মুদগাম ফিহি বর্ণটি শব্দের শেষ বর্ণ। এর কারণসমূহ:১ - সদৃশতা (তামাসুল): এটি হলো দুটি বর্ণের মাখরাজ ও সিফাত অভিন্ন হওয়া।২ - নৈকট্য (তাক্বারুব): এটি হলো দুটি বর্ণের মাখরাজ বা সিফাতে নিকটবর্তী হওয়া।৩ - সমগোত্রীয়তা (তাজানুস): এটি হলো দুটি বর্ণের মাখরাজ অভিন্ন হওয়া কিন্তু সিফাত ভিন্ন হওয়া। এর প্রতিবন্ধকসমূহ:১ - সর্বসম্মত বিভাগ: সেটি হলো সদৃশ বা নিকটবর্তী বর্ণের প্রথমটি তানভীনযুক্ত, তাসদীদযুক্ত অথবা সর্বনামের 'তা' হওয়া, যেমন:- তানভীনের উদাহরণ: গফুরুর রহীম [আল-বাকারা: ১৭৩], জুলুমাতিন ছালাছিন [আয-যুমার:৬], রাজুলুর রশীদ [হুদ: ৭৮]।- তাসদীদযুক্তের উদাহরণ: রব্বি বিমা [আল-হিজর:৩৯], মাসসা সাক্বার [আল-ক্বামার: ৪৮], আও আশাদ্দা যিকরা [আল-বাকারা: ২০০]।- সর্বনামের 'তা' এর উদাহরণ: কুনতু তুরাবা [আন-নাবা: ৪০], কিদতা লাতুরদীন [আস-সাফফাত:৫৬], খালাক্কতা ত্বীনা [আল-ইসরা: ৬১]।২ - মতভেদপূর্ণ বিভাগ: সেটি হলো সদৃশ, নিকটবর্তী বা সমগোত্রীয় বর্ণের প্রথমটি জযমযুক্ত হওয়া।- সদৃশতার উদাহরণ: ইয়াখলু লাকুম [ইউসুফ:৯], ইয়াবতাগি গইরা [আলে ইমরান: ৮৫], ইয়াকু কাযিবান [গাফির: ২৮]।- সমগোত্রীয়তার উদাহরণ: ওয়ালতা’তি ত্বয়িফাহ [আন-নিসা: ১০২]।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
- أمثلة المتقاربين: وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً [البقرة: 247]، وَآتِ ذَا الْقُرْبى [الإسراء: 26].ويعتد بهذا المانع في المتقاربين. أما في المثلين والمتجانسين فيجوز فيهما الإدغام والإظهار (كما في قراءة أبي عمرو البصري).(ر- الإدغام الكبير). ملحوظة:إذا وجد الشرط والسبب وارتفع المانع جاز الإدغام.وللإدغام أقسام مختلفة:الإدغام بحسب الغنة:1 - إدغام بغنة.2 - إدغام بغير غنة.الإدغام من حيث كمال الإدغام ونقصانه:1 - إدغام كامل.2 - إدغام ناقص.الإدغام بحسب حركة الحرف المدغم والمدغم فيه:1 - إدغام صغير.2 - إدغام كبير.3 - إدغام مطلق.الإدغام باعتبار أسبابه:1 - إدغام متماثل.2 - إدغام متقارب.3 - إدغام متجانس.الإدغام بحسب الوجوب والجواز:1 - إدغام واجب.2 - إدغام جائز.(ر- كلّا في بابه). أمثلة تطبيقية تستوعب أنواع الإدغام كلها:وَمَنْ نُعَمِّرْهُ [يس: 68] إدغام بغنة كامل صغير متماثل واجب.ارْكَبْ مَعَنا [هود: 42] إدغام بغنة كامل صغير متجانس جائز.مِنْ ماءٍ [البقرة: 164] إدغام بغنة كامل صغير متقارب واجب.آوَوْا وَنَصَرُوا [الأنفال: 72] إدغام بغير غنة كامل صغير متماثل واجب.أَثْقَلَتْ دَعَوَا [الأعراف: 189] إدغام بغير غنة كامل صغير متجانس واجب.تَأْمَنَّا [يوسف: 11] إدغام بغنة كامل كبير متماثل جائز.وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّها [هود: 6] [في رواية السوسي عن أبي عمرو] إدغام بغنة كامل كبير متماثل جائز. الإدغام بغنة:هو إدغام حرف ساكن في آخر متحرك بحيث يصيران حرفا واحدا مشددا من جنس الثاني، مع مصاحبة الغنة لهما.
মুতাকারিবাইন (পারস্পরিক নিকটবর্তী)-এর উদাহরণসমূহ: "তাকে প্রশস্ততা দেওয়া হয়নি" [আল-বাকারা: ২৪৭], "এবং আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক প্রদান করো" [আল-ইসরা: ২৬]।মুতাকারিবাইন-এর ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধকটি বিবেচনা করা হয়। তবে মুতামাসিলায়িন (একই রকম) ও মুতাজানিসাইন (একই মাখরাজবিশিষ্ট)-এর ক্ষেত্রে ইদগাম এবং ইযহার—উভয়ই জায়েয (যেমন আবু আমর আল-বসরির কিরাতে রয়েছে)।(দ্রষ্টব্য- আল-ইদগাম আল-কাবীর)। দ্রষ্টব্য:যদি শর্ত ও কারণ বিদ্যমান থাকে এবং প্রতিবন্ধক দূর হয়ে যায়, তবে ইদগাম করা জায়েয হবে।ইদগামের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে:গুন্নাহর হিসেবে ইদগাম:১ - গুন্নাহসহ ইদগাম (ইদগাম মা'আল গুন্নাহ)।২ - গুন্নাহ ছাড়া ইদগাম (ইদগাম বিগাইরি গুন্নাহ)।ইদগাম পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ হওয়ার দিক থেকে:১ - পূর্ণাঙ্গ ইদগাম (ইদগাম কামিল)।২ - অপূর্ণাঙ্গ ইদগাম (ইদগাম নাকিস)।মুদগাম (প্রথম হরফ) ও মুদগাম ফিহি (দ্বিতীয় হরফ)-এর হারাকাতের হিসেবে ইদগাম:১ - ছোট ইদগাম (ইদগাম সাগীর)।২ - বড় ইদগাম (ইদগাম কাবীর)।৩ - সাধারণ ইদগাম (ইদগাম মুতলাক)।ইদগামের কারণসমূহের বিবেচনায়:১ - সমজাতীয় ইদগাম (ইদগাম মুতামাসিল)।২ - নিকটবর্তী ইদগাম (ইদগাম মুতাকারিব)।৩ - সম-মাখরাজ ইদগাম (ইদগাম মুতাজানিস)।ওয়াজিব ও জায়েয হওয়ার হিসেবে ইদগাম:১ - ওয়াজিব ইদগাম।২ - জায়েয ইদগাম।(দ্রষ্টব্য- প্রত্যেকটি তার নিজ নিজ অধ্যায়ে)। ব্যবহারিক উদাহরণসমূহ যা ইদগামের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে:"যাকে আমি দীর্ঘায়ু দান করি" [ইয়াসীন: ৬৮] - এটি গুন্নাহসহ, পূর্ণাঙ্গ, ছোট, সমজাতীয় ও ওয়াজিব ইদগাম।"আমাদের সাথে আরোহণ করো" [হুদ: ৪২] - এটি গুন্নাহসহ, পূর্ণাঙ্গ, ছোট, সম-মাখরাজ ও জায়েয ইদগাম।"পানি হতে" [আল-বাকারা: ১৬৪] - এটি গুন্নাহসহ, পূর্ণাঙ্গ, ছোট, নিকটবর্তী ও ওয়াজিব ইদগাম।"আশ্রয় দিল এবং সাহায্য করল" [আল-আনফাল: ৭২] - এটি গুন্নাহ ছাড়া, পূর্ণাঙ্গ, ছোট, সমজাতীয় ও ওয়াজিব ইদগাম।"যখন সে ভারী হয়ে পড়ল, তারা উভয়ে দোয়া করল" [আল-আ'রাফ: ১৮৯] - এটি গুন্নাহ ছাড়া, পূর্ণাঙ্গ, ছোট, সম-মাখরাজ ও ওয়াজিব ইদগাম।"আপনি আমাদের বিশ্বাস করছেন না" [ইউসুফ: ১১] - এটি গুন্নাহসহ, পূর্ণাঙ্গ, বড়, সমজাতীয় ও জায়েয ইদগাম।"এবং তিনি জানেন তার অবস্থানের জায়গা" [হুদ: ৬] [আবু আমরের সূত্রে আল-সুসির বর্ণনায়] - এটি গুন্নাহসহ, পূর্ণাঙ্গ, বড়, সমজাতীয় ও জায়েয ইদগাম। গুন্নাহসহ ইদগাম:এটি হলো একটি সাকিন হরফকে পরবর্তী একটি হরকাহযুক্ত হরফের সাথে এমনভাবে মিলিয়ে পড়া যাতে তারা উভয়ে মিলে দ্বিতীয় হরফটির মতো একটি তাসদীদযুক্ত হরফে পরিণত হয় এবং উচ্চারণের সময় তাদের সাথে গুন্নাহ বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
سمي إدغاما بغنة لظهور غنة النون والتنوين والميم ظهورا بيّنا.وهو أنواع:1 - إدغام النون الساكنة والتنوين في حروف: (ي، ن، م، و). أمثلة:ي: وَإِنْ يَرَوْا [الأنعام: 25]، فِئَةٌ يَنْصُرُونَهُ [الكهف: 43].و: مِنْ والٍ [الرعد: 11]، إِيماناً وَهُمْ [التوبة: 124].م: مِنْ ماءٍ [البقرة: 164]، صِراطاً مُسْتَقِيماً [النساء: 68].ن: مَنْ نَشاءُ [الأنعام: 83]، مَلِكاً نُقاتِلْ [البقرة: 246].وجه الإدغام في هذا النوع التماثل بالنسبة للنون، والتجانس في الجهر والاستفال والانفتاح بالنسبة للواو والياء، والتجانس في الغنة وسائر الصفات بالنسبة للميم. ملحوظة:هذا الإدغام لا يكون إلا في كلمتين، وعليه فالكلمات التالية: بُنْيانٌ [الصف: 4]، قِنْوانٌ [الأنعام: 99]، الدُّنْيا [البقرة: 85]، صِنْوانٌ [الرعد:4] لا إدغام فيها.(- الإظهار المطلق).2 - إدغام الميم الساكنة في الميم المتحركة، نحو: وَمِنْهُمْ مَنْ [البقرة:201]، وَرَزَقَكُمْ مِنَ [الأنفال: 26]، قُلُوبُهُمْ مُنْكِرَةٌ [النحل: 22].ووجه الإدغام هنا التماثل. الإدغام بغير غنة:هو إدخال حرف ساكن في آخر متحرك بحيث يصيران حرفا واحدا مشددا من جنس الثاني، مع عدم مصاحبة الغنة.وهو أنواع:1 - إدخال النون الساكنة أو التنوين في الراء واللام.أمثلة:أَنْ لَوْ [الأعراف: 100]، أَنْداداً لِيُضِلُّوا [إبراهيم: 30]، مِنْ رَبِّهِمْ [البقرة: 5]، بَشَراً رَسُولًا [الإسراء: 94].ملحوظة:يجب أن يكون هذا الإدغام في كلمتين.وجه الإدغام: التقارب في المخرج على رأي الجمهور، والتجانس على مذهب الفراء ومن وافقه، إذ النون واللام والراء عندهم يخرجن من مخرج واحد.وسمي إدغاما بغير غنة لذهاب صوت
নুন, তানউইন এবং মিমের গুন্নাহ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়ার কারণে একে ইদগামে গুন্নাহ (গুন্নাহসহ ইদগাম) নামকরণ করা হয়েছে।এটি কয়েক প্রকারের:১ - সাকিন নুন এবং তানউইনকে নিম্নোক্ত অক্ষরগুলোতে ইদগাম করা: (ইয়া, নুন, মিম, ওয়াও)। উদাহরণসমূহ:ইয়া: ওয়া ইঁই ইয়ারও [আল-আন’আম: ২৫], ফিয়াতুঁই ইয়ানসুরু নাহু [আল-কাহাফ: ৪৩]।ওয়াও: মিউঁ ওয়ালিন [আর-রাদ: ১১], ঈমানাউঁ ওয়াহুম [আত-তাওবাহ: ১২৪]।মিম: মিম মা-ইন [আল-বাকারাহ: ১৬৪], সিরাতাম মুস্তাকিমা [আন-নিসা: ৬৮]।নুন: মান নাশা-উ [আল-আন’আম: ৮৩], মালিকান নুকাতিল [আল-বাকারাহ: ২৪৬]।এই প্রকারের ইদগামের কারণ হলো নুনের ক্ষেত্রে তামাসুল (সাদৃশ্য), ওয়াও এবং ইয়ার ক্ষেত্রে জেহর (স্পষ্টতা), ইস্তিফাল (নিম্নগামিতা) ও ইনফিতাহ (উন্মুক্ততা)-এর দিক থেকে তাজানুস (সমজাতীয়তা), এবং মিমের ক্ষেত্রে গুন্নাহ ও অন্যান্য সিফাতের (বৈশিষ্ট্য) দিক থেকে তাজানুস। দ্রষ্টব্য:এই ইদগাম কেবল দুটি শব্দের মাধ্যমেই হয়ে থাকে, সেই অনুযায়ী নিম্নোক্ত শব্দগুলোতে: বুনিয়ানুন [আস-সাফ: ৪], কিনওয়ানুন [আল-আন’আম: ৯৯], আদ-দুনিয়া [আল-বাকারাহ: ৮৫], সিনওয়ানুন [আর-রাদ:৪] কোনো ইদগাম হবে না।(- ইযহারে মুতলাক বা পূর্ণ প্রকাশ)।২ - সাকিন মিমকে হরকতযুক্ত মিমের মধ্যে ইদগাম করা, যেমন: ওয়ামিনহুম মান [আল-বাকারাহ:২০১], ওয়া রাযাকাকুম মিনাল [আল-আনফাল: ২৬], কুলুবুহুম মুনকিরাহ [আন-নাহল: ২২]।এখানে ইদগামের কারণ হলো তামাসুল। ইদগামে বি-গাইরি গুন্নাহ (গুন্নাহ ব্যতীত ইদগাম):এটি হলো একটি সাকিন অক্ষরকে পরবর্তী একটি হরকতযুক্ত অক্ষরের মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করানো যাতে তারা উভয় মিলে দ্বিতীয় অক্ষরের মতো একটি তাশদীদযুক্ত অক্ষরে পরিণত হয় এবং এর সাথে কোনো গুন্নাহ থাকবে না।এটি কয়েক প্রকারের:১ - সাকিন নুন বা তানউইনকে রা এবং লাম এর মধ্যে প্রবেশ করানো।উদাহরণসমূহ:আল লাও [আল-আরাফ: ১০০], আন্দাদাল লি-ইউদিল্লু [ইবরাহিম: ৩০], মির রাব্বিহিম [আল-বাকারাহ: ৫], বাশারার রাসুলা [আল-ইসরা: ৯৪]।দ্রষ্টব্য:এই ইদগাম অবশ্যই দুটি শব্দের মধ্যে হতে হবে।ইদগামের কারণ: জুমহুর বা অধিকাংশের মতে মাখরাজের তাকারুব (নিকটবর্তিতা), এবং আল-ফাররা ও তাঁর অনুসারীদের মতে তাজানুস, কারণ তাঁদের মতে নুন, লাম এবং রা একই মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয়।একে ইদগামে বি-গাইরি গুন্নাহ বলা হয় কারণ গুন্নাহর আওয়াজ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার দরুন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الغنة بالكلية، وذلك لاكتمال الإدغام.2 - إدغام المتقاربين والمتماثلين والمتجانسين ما عدا (الإدغام بغنة، إدغام ارْكَبْ مَعَنا [هود: 42]). أمثلة:وَقالَتْ طائِفَةٌ [آل عمران: 72]، إِذْ دَخَلُوا [الحجر: 52]، فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ [البقرة: 16]، يُكْرِهْهُنَّ [النور: 33]، آوَوْا وَنَصَرُوا [الأنفال:72]، أَثْقَلَتْ دَعَوَا [الأعراف: 189].أما نحو: مَنْ نَشاءُ [الأنعام: 83]، ارْكَبْ مَعَنا [هود: 42]، مِنْ واقٍ [الرعد: 34] فإدغام بغنة.وأما نحو: مَنْ يَعْمَلْ [النساء:123]، مِنْ وَلِيٍّ [البقرة: 107] في رواية خلف عن حمزة فإدغامها إدغام بغير غنة. الإدغام الجائز:هو الإدغام الذي اختلف فيه القراء بين مظهر ومدغم.وهو أقسام خمسة:1 - الإدغام الجائز في ذال إِذْ [البقرة: 131].2 - الإدغام الجائز في دال قَدْ [البقرة: 60].3 - الإدغام الجائز في تاء التأنيث الساكنة.4 - الإدغام الجائز في لام هَلْ [البقرة: 210] وبَلْ [البقرة: 88].5 - الإدغام الجائز في حروف قربت مخارجها. 1 - الإدغام الجائز في ذال إِذْ*:تدغم ذال إِذْ [البقرة: 131] في ستة أحرف، هي: (ت، ز، ص، د، س، ج).أمثلة:ت: إِذْ تَمْشِي [طه: 40].ز: وَإِذْ زَيَّنَ [الأنفال: 48].ص: وَإِذْ صَرَفْنا [الأحقاف: 29].د: إِذْ دَخَلُوا [الحجر: 52].س: إِذْ سَمِعْتُمُوهُ [النور: 12].ج: وَإِذْ جَعَلْنَا [البقرة: 125]. مذاهب القراء:1 - أظهر ذال إِذْ* عند الأحرف الستة كل من نافع وابن كثير وعاصم وأبي جعفر ويعقوب.2 - أظهر الكسائى وخلاد ذال إِذْ* عند الجيم فقط، وأدغماها في البقية.3 - أدغم خلف عن حمزة وخلف لنفسه في اختياره ذال إِذْ* في التاء والدال، وأظهراها عند بقية الأحرف.4 - أدغمها ابن ذكوان في الدال فقط وأظهرها عند البقية.5 - وقرأ أبو عمرو وهشام بإدغام ذال
গুন্নাহ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, আর তা ইদগামের পূর্ণতার কারণে।২ - মুতাকারিবাইন, মুতামাসিলায়িন এবং মুতাজানিসাইনের ইদগাম; তবে (গুন্নাহসহ ইদগাম এবং 'ইরকাব মা'আনা' [হুদ: ৪২]-এর ইদগাম ব্যতীত)। উদাহরণসমূহ:ওয়াক্বালাত ত্বয়িফাতুন [আল-ইমরান: ৭২], ইয দাখালু [আল-হিজর: ৫২], ফামা রবিহাত তিজারাতুহুম [আল-বাক্বারাহ: ১৬], ইউকরিহহুন্না [আন-নূর: ৩৩], আওয়াহ ওয়া নাসারু [আল-আনফাল: ৭২], আসক্বালাত দা'আওয়া [আল-আরাফ: ১৮৯]।তবে যেমন: 'মান নাশা-উ' [আল-আনআম: ৮৩], 'ইরকাব মা'আনা' [হুদ: ৪২], 'মিন ওয়াক্বিন' [আর-রা'দ: ৩৪] এগুলো হলো গুন্নাহসহ ইদগাম।আর যেমন: 'মাইঁ ইয়া'মাল' [আন-নিসা: ১২৩], 'মিঁ ওয়ালিইয়িন' [আল-বাক্বারাহ: ১০৭]—খালাফ আন হামযা-এর বর্ণনা অনুযায়ী এর ইদগাম হলো গুন্নাহ ব্যতীত ইদগাম। জায়েয ইদগাম:এটি সেই ইদগাম যে ক্ষেত্রে ক্বারীগণের মধ্যে ইযহার (স্পষ্ট উচ্চারণ) এবং ইদগাম (একত্রীকরণ)-এর বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।এটি পাঁচটি প্রকার:১ - 'ইয' (إِذْ)-এর 'যাল'-এর ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম [আল-বাক্বারাহ: ১৩১]।২ - 'ক্বদ' (قَدْ)-এর 'দাল'-এর ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম [আল-বাক্বারাহ: ৬০]।৩ - সুকুনযুক্ত নারীবাচক 'তা' (ت)-এর ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম।৪ - 'হাল' (هَلْ) [আল-বাক্বারাহ: ২১০] এবং 'বাল' (بَلْ) [আল-বাক্বারাহ: ৮৮]-এর 'লাম'-এর ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম।৫ - মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের নৈকট্য রয়েছে এমন হরফসমূহের ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম। ১ - 'ইয' (إِذْ)-এর 'যাল'-এর ক্ষেত্রে জায়েয ইদগাম:'ইয' [আল-বাক্বারাহ: ১৩১]-এর 'যাল' ছয়টি হরফে ইদগাম হয়, সেগুলো হলো: (তা, যা, সদ, দাল, সীন, জীম)।উদাহরণসমূহ:তা: ইয তামশি [ত্বহা: ৪০]।যা: ওয়া ইয যাইয়ানা [আল-আনফাল: ৪৮]।সদ: ওয়া ইয সারফনা [আল-আহক্বাফ: ২৯]।দাল: ইয দাখালু [আল-হিজর: ৫২]।সীন: ইয সামি'তুমুহু [আন-নূর: ১২]।জীম: ওয়া ইয জা'আলনা [আল-বাক্বারাহ: ১২৫]। ক্বারীগণের অভিমতসমূহ:১ - নাফে, ইবনে কাসীর, আসিম, আবু জাফর এবং ইয়াকুব—তাঁরা প্রত্যেকেই এই ছয়টি হরফের ক্ষেত্রে 'ইয'-এর 'যাল' ইযহার (স্পষ্ট) করে পড়েছেন।২ - আল-কিসায়ী এবং খাল্লাদ শুধুমাত্র 'জীম'-এর ক্ষেত্রে 'ইয'-এর 'যাল' ইযহার করেছেন এবং অবশিষ্ট হরফগুলোতে একে ইদগাম করেছেন।৩ - খালাফ আন হামযা এবং খালাফ তাঁর নিজের পছন্দের ক্বিরাআতে 'তা' এবং 'দাল'-এর ক্ষেত্রে 'ইয'-এর 'যাল' ইদগাম করেছেন এবং বাকি হরফগুলোর ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন।৪ - ইবনে জাকওয়ান এটি শুধুমাত্র 'দাল'-এর ক্ষেত্রে ইদগাম করেছেন এবং অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন।৫ - আবু আমর এবং হিশাম 'যাল' ইদগাম করে পড়েছেন...
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إِذْ* في كل الحروف الستة. 2 - الإدغام الجائز في دال قَدْ*:تدغم دال قَدْ* في أحرف ثمانية، هي:(س، ذ، ض، ظ، ز، ج، ص، ش). أمثلة:س: قَدْ سَأَلَها [المائدة: 102].د: وَلَقَدْ ذَرَأْنا [الأعراف: 179].ض: فَقَدْ ضَلَّ [البقرة: 108].ظ: فَقَدْ ظَلَمَ [البقرة: 231].ز: وَلَقَدْ زَيَّنَّا [الملك: 5].ج: لَقَدْ جاءَكُمْ [التوبة: 128].ص: وَلَقَدْ صَرَّفْنا [الإسراء: 41].ش: قَدْ شَغَفَها [يوسف: 30]. مذاهب القراء:1 - أظهر دال قَدْ* عند الأحرف الثمانية عاصم وقالون وابن كثير وأبو جعفر ويعقوب.2 - أدغم دالها ورش في الضاد والظاء فقط، وأظهرها عند البقية.3 - أدغم دالها ابن ذكوان في الضاد والذال والزاي والظاء. وورد عنه الإدغام والإظهار، في: وَلَقَدْ زَيَّنَّا [الملك: 5]. فبالإظهار قرأ له الداني على عبد العزيز الفارسي، وبالإدغام قرأ على أبي الحسن طاهر بن غلبون، وأظهرها ابن ذكوان عند الباقي.4 - أدغمها هشام في كل الأحرف إلا في: لَقَدْ ظَلَمَكَ [ص: 24].5 - وأدغمها في كل الأحرف الثمانية كل من أبي عمرو وحمزة والكسائي وخلف. 3 - الإدغام الجائز في تاء التأنيث الساكنة:تدغم تاء التأنيث الساكنة في أحرف ستة، هي؛ (س، ث، ص، ز، ظ، ج).أمثلة:س: أُنْزِلَتْ سُورَةٌ [التوبة: 86].ث: كَذَّبَتْ ثَمُودُ [الشعراء: 141].ص: حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ [النساء: 90].ز: خَبَتْ زِدْناهُمْ [الإسراء: 97].ظ: كانَتْ ظالِمَةً [الأنبياء: 11].ج: وَجَبَتْ جُنُوبُها [الحج: 36]. مذهب القراء:1 - أظهرها عند الأحرف الستة: ابن كثير وعاصم وقالون وأبو جعفر ويعقوب.2 - أدغمها ورش في الظاء فقط، وأظهرها عند الباقي.3 - أظهرها ابن عامر عند السين والجيم والزاي، وأدغمها في الثلاثة الباقية.4 - وأظهر هشام عن ابن عامر في
ইয* এই ছয়টি বর্ণের সবকটিতে। ২ - কদ* এর দাল (د) বর্ণের অনুমোদিত ইদগাম:কদ* এর দাল বর্ণটি আটটি বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করা হয়, সেগুলো হলো:(সীন, যাল, দদ, জো, যা, জীম, সদ, শীন)। উদাহরণ:সীন: অবশ্যই তারা এটি জিজ্ঞেস করেছিল [আল-মায়িদাহ: ১০২]।যাল: আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি [আল-আরাফ: ১৭৯]।দদ: তবে সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে [আল-বাকারাহ: ১০৮]।জো: তবে সে অবশ্যই নিজের প্রতি জুলুম করেছে [আল-বাকারাহ: ২৩১]।যা: আর অবশ্যই আমি সুশোভিত করেছি [আল-মুলক: ৫]।জীম: অবশ্যই তোমাদের কাছে এসেছেন [আত-তাওবাহ: ১২৮]।সদ: আর অবশ্যই আমি বর্ণনা করেছি [আল-ইসরা: ৪১]।শীন: অবশ্যই তার প্রেম তাকে মোহাচ্ছন্ন করেছে [ইউসুফ: ৩০]। কারিগণের অভিমত:১ - আসেম, কালুন, ইবনে কাসীর, আবু জাফর এবং ইয়াকুব এই আটটি বর্ণের ক্ষেত্রে 'কদ'-এর দালকে ইযহার (স্পষ্ট) করে পড়েছেন।২ - ওয়ারশ এর দালকে শুধুমাত্র 'দদ' এবং 'জো' বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করেছেন এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন।৩ - ইবনে জাকওয়ান এর দালকে দদ, যাল, যা এবং জো বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করেছেন। আর তার থেকে 'আর অবশ্যই আমি সুশোভিত করেছি' [আল-মুলক: ৫] আয়াতে ইদগাম এবং ইযহার উভয়টিই বর্ণিত হয়েছে। ইযহারের বর্ণনায় দানি তার উস্তাদ আব্দুল আজিজ আল-ফারিসীর সূত্রে পড়েছেন, আর ইদগামের বর্ণনায় তিনি আবু হাসান তাহের ইবনে গালবুনের সূত্রে পড়েছেন। আর অবশিষ্ট বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে ইবনে জাকওয়ান ইযহার করেছেন।৪ - হিশাম 'অবশ্যই সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে' [সোয়াদ: ২৪] আয়াতটি ব্যতীত বাকি সব বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করেছেন।৫ - আর আবু আমর, হামজা, কিসাঈ এবং খালাফ আটটি বর্ণের সবকটিতেই ইদগাম করেছেন। ৩ - সুপ্ত স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা' (তা-এ তানিস সাকিনাহ)-এর ক্ষেত্রে অনুমোদিত ইদগাম:সুপ্ত স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা' বর্ণটি ছয়টি বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করা হয়, সেগুলো হলো; (সীন, সা, সদ, যা, জো, জীম)।উদাহরণ:সীন: একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে [আত-তাওবাহ: ৮৬]।সা: সামুদ জাতি অস্বীকার করেছিল [আশ-শুআরা: ১৪১]।সদ: তাদের অন্তর সংকুচিত হয়েছে [আন-নিসা: ৯০]।যা: যখনই তা স্তিমিত হবে, আমি তাদের জন্য বাড়িয়ে দেব [আল-ইসরা: ৯৭]।জো: তা ছিল জালেম [আল-অাম্বিয়া: ১১]।জীম: যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে পড়ে যায় [আল-হজ্জ: ৩৬]। কারিগণের মাযহাব:১ - ইবনে কাসীর, আসেম, কালুন, আবু জাফর এবং ইয়াকুব এই ছয়টি বর্ণের ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন।২ - ওয়ারশ শুধুমাত্র 'জো' বর্ণের ক্ষেত্রে ইদগাম করেছেন এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন।৩ - ইবনে আমের সীন, জীম এবং যা বর্ণের ক্ষেত্রে ইযহার করেছেন এবং বাকি তিনটিতে ইদগাম করেছেন।৪ - আর ইবনে আমেরের সূত্রে হিশাম ইযহার করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
موضع: لَهُدِّمَتْ صَوامِعُ [الحج: 40].5 - وورد الخلاف عن ابن ذكوان، في: وَجَبَتْ جُنُوبُها [الحج: 36]، والصحيح أنه له الإظهار فقط.6 - أدغمها في الأحرف الستة: أبو عمرو وحمزة والكسائي.7 - أظهر خلف عند الثاء، وأدغم في الخمسة الباقية. 4 - الإدغام الجائز في لام هَلْ* وبَلْ*:تدغم لام هَلْ* وبَلْ* في ثمانية حروف، هي: (ت، ث، ظ، ز، س، ن، ط، ض).وهذه الأحرف مع: بَلْ* وهَلْ* على ثلاثة أقسام:1 - حرف اختص به لام هَلْ* وهو الثاء، في: هَلْ ثُوِّبَ.2 - أحرف خمسة اختص بها لام بَلْ*، وهي:ض: بَلْ ضَلُّوا [الأحقاف: 28].ظ: بَلْ ظَنَنْتُمْ [الفتح: 12].ط: بَلْ طَبَعَ [النساء: 155].ز: بَلْ زُيِّنَ [الرعد: 33].س: بَلْ سَوَّلَتْ [يوسف: 18].3 - حرفان مشتركان بين لام هَلْ* وبَلْ*، وهما:ن: بَلْ نَتَّبِعُ [البقرة: 170]، هَلْ نَدُلُّكُمْ [سبأ: 7].ث: بَلْ تَأْتِيهِمْ [الأنبياء: 40]، هَلْ تَعْلَمُ [مريم: 65]. مذاهب القراء:1 - أدغم لام هَلْ* وبَلْ* في الأحرف الثمانية كلها: الكسائي.2 - وأدغم حمزة لام بَلْ* في السين، ولام هَلْ* في الثاء، ولام هَلْ* وبَلْ* في التاء، وأظهرها عند الباقي.3 - ورد عن خلاد الإدغام والإظهار في موضع النساء، وهو: بَلْ طَبَعَ [النساء: 155]، فالإدغام طريق أبي الفتح فارس، والإظهار طريق أبي الحسن طاهر بن غلبون.4 - أدغم أبو عمرو لام هَلْ* في التاء في موضعين، هما: هَلْ تَرى [الملك: 3]، فَهَلْ تَرى [الحاقة: 8].وفي غير هذين له الإظهار.5 - أظهر هشام لام بَلْ* عند النون والضاد، كما أظهر لام هَلْ* عند التاء في موضع واحد، وهو: هَلْ تَسْتَوِي [الرعد: 16]، وأدغم لامها في غير ذلك.6 - وقرأ نافع وابن كثير وابن ذكوان وعاصم وخلف وأبو جعفر ويعقوب بإظهار لام هَلْ* وبَلْ* عند الأحرف الثمانية كلها.
স্থান: অবশ্যই গির্জাগুলো ভেঙে ফেলা হতো [আল-হাজ্জ: ৪০]।৫ - আর ইবনে যাকওয়ান থেকে ‘ওয়াজাবাত জুনুবুহা’ (যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে পড়ে যায়) [আল-হাজ্জ: ৩৬]-এর ক্ষেত্রে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে; তবে সঠিক মত হলো, তার নিকট এখানে কেবল ইযহার (স্পষ্টকরণ) প্রযোজ্য।৬ - আবু আমর, হামযাহ এবং কিসায়ী একে ছয়টি বর্ণের সাথে ইদগাম (লীন) করেছেন।৭ - খালাফ ‘সা’ বর্ণের নিকট ইযহার করেছেন এবং বাকি পাঁচটি বর্ণের সাথে ইদগাম করেছেন। ৪ - ‘হাল’ এবং ‘বাল’-এর ‘লাম’-এর ক্ষেত্রে জায়িয ইদগাম:‘হাল’ এবং ‘বাল’-এর ‘লাম’ আটটি বর্ণে ইদগাম হয়, সেগুলো হলো: (তা, সা, যা, যা, সিন, নুন, ত, দ)।আর এই বর্ণগুলো ‘বাল’ এবং ‘হাল’-এর সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত:১ - একটি বর্ণ যা কেবল ‘হাল’-এর ‘লাম’-এর জন্য নির্দিষ্ট, তা হলো ‘সা’, যেমন: ‘হাল সুউয়িবা’ (প্রতিদান দেওয়া হয়েছে কি?)।২ - পাঁচটি বর্ণ যা কেবল ‘বাল’-এর ‘লাম’-এর জন্য নির্দিষ্ট, সেগুলো হলো:দ: ‘বাল দাল্লু’ (বরং তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে) [আল-আহকাফ: ২৮]।যা: ‘বাল যানানতুম’ (বরং তোমরা ধারণা করেছিলে) [আল-ফাতহ: ১২]।ত: ‘বাল তাবাআ’ (বরং তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন) [আন-নিসা: ১৫৫]।যা: ‘বাল যুয়্যিনা’ (বরং সুশোভিত করা হয়েছে) [আর-রাদ: ৩৩]।সিন: ‘বাল সাউওয়ালাত’ (বরং প্ররোচিত করেছে) [ইউসুফ: ১৮]।৩ - দুইটি বর্ণ যা ‘হাল’ এবং ‘বাল’ উভয়ের ‘লাম’-এর মধ্যে সাধারণ, সেগুলো হলো:নুন: ‘বাল নাত্তাবিউ’ (বরং আমরা অনুসরণ করি) [আল-বাকারা: ১৭০], ‘হাল নাদুল্লুকুম’ (আমরা কি তোমাদের সন্ধান দেবো?) [সাবা: ৭]।তা: ‘বাল তা’তিহিম’ (বরং তা তাদের কাছে আসবে) [আল-আম্বিয়া: ৪০], ‘হাল তা’লামু’ (তুমি কি জানো?) [মারইয়াম: ৬৫]। ক্বারীগণের মাযহাব বা পদ্ধতিসমূহ:১ - ইমাম কিসায়ী ‘হাল’ এবং ‘বাল’-এর ‘লাম’-কে আটটি বর্ণের সবকটিতেই ইদগাম করেছেন।২ - ইমাম হামযাহ ‘বাল’-এর ‘লাম’-কে ‘সিন’-এ, ‘হাল’-এর ‘লাম’-কে ‘সা’-তে এবং ‘হাল’ ও ‘বাল’-এর ‘লাম’-কে ‘তা’-তে ইদগাম করেছেন; আর অবশিষ্ট বর্ণগুলোর নিকট ইযহার করেছেন।৩ - খাল্লাদ থেকে সূরা নিসার ‘বাল তাবাআ’ [আন-নিসা: ১৫৫] স্থানে ইদগাম এবং ইযহার উভয়টি বর্ণিত হয়েছে; এক্ষেত্রে ইদগাম হলো আবুল ফাতহ ফারিসের পদ্ধতি এবং ইযহার হলো আবুল হাসান তাহির ইবনে গালবুনের পদ্ধতি।৪ - আবু আমর ‘হাল’-এর ‘লাম’-কে ‘তা’-তে দুটি স্থানে ইদগাম করেছেন, সেগুলো হলো: ‘হাল তারা’ (তুমি কি দেখতে পাও?) [আল-মুলক: ৩] এবং ‘ফাহাল তারা’ [আল-হাক্কাহ: ৮]।এই দুটি স্থান ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে তার জন্য ইযহার প্রযোজ্য।৫ - হিশাম ‘বাল’-এর ‘লাম’-কে ‘নুন’ এবং ‘দ’-এর নিকট ইযহার করেছেন, যেমন তিনি ‘হাল’-এর ‘লাম’-কে একটি স্থানে ‘তা’-এর নিকট ইযহার করেছেন, তা হলো: ‘হাল তাস্তাউয়ি’ (কি সমান হতে পারে?) [আর-রাদ: ১৬]; আর এর বাইরে অন্যান্য স্থানে তিনি ইদগাম করেছেন।৬ - আর নাফে, ইবনে কাসীর, ইবনে যাকওয়ান, আসিম, খালাফ, আবু জাফর এবং ইয়াকুব ‘হাল’ ও ‘বাল’-এর ‘লাম’-কে এই আটটি বর্ণের সবকটির নিকট ইযহার করে পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - الإدغام الجائز في حروف قربت مخارجها:1 - أدغم الباء المجزومة في الفاء في نحو: يَغْلِبْ فَسَوْفَ [النساء: 74] الكسائي وأبو عمرو وخلاد، إلا أن خلادا له الوجهان في موضع سورة الحجرات، وهو: وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولئِكَ [الحجرات: 11].2 - أدغم اللام المجزومة في الذال في نحو: يَفْعَلْ ذلِكَ [الفرقان: 68] أبو الحارث عن الكسائي.3 - أدغم الفاء المجزومة في الباء، في: نَخْسِفْ بِهِمُ [سبأ: 9] الكسائي.4 - أدغم الذال في التاء في كلمة:عُذْتُ [غافر: 27] حمزة والكسائي وأبو عمرو وأبو جعفر وخلف.5 - أدغم الذال في التاء في كلمة:فَنَبَذْتُها [طه: 96] حمزة والكسائي وأبو عمرو وخلف.6 - أدغم الثاء في التاء في كلمة:أُورِثْتُمُوها [الأعراف: 43] أبو عمرو وهشام وحمزة والكسائي.7 - أدغم الراء المجزومة في اللام، في نحو: وَاصْطَبِرْ لِعِبادَتِهِ [مريم: 65] السوسي والدوري ولكن بخلاف عن الأخير.8 - أدغم النون في الواو من هجاء:يس (1) وَالْقُرْآنِ [يس: 1، 2] شعبة وورش وابن عامر والكسائي ويعقوب وخلف.9 - أدغم النون في الواو من هجاء:ن وَالْقَلَمِ [القلم: 1] شعبة وابن عامر والكسائي ويعقوب وخلف وورش ولكن بخلاف عن ورش.10 - أدغم الدال في الذال من هجاء: كهيعص (1) ذِكْرُ [مريم: 1، 2] أبو عمرو وابن عامر وحمزة والكسائي وخلف.11 - أدغم الدال المجزومة في الثاء، في: يُرِدْ ثَوابَ [آل عمران: 145] أبو عمرو وابن عامر وحمزة والكسائي وخلف.12 - أدغم الثاء في التاء، في نحو:لَبِثْتَ [البقرة: 259]، لَبِثْتُمْ [الروم:56] أبو عمرو وابن عامر وحمزة والكسائي وأب جعفر.13 - أدغم النون في الميم من هجاء: طسم [الشعراء: 1] القراء كلها ما عدا حمزة فإنه يظهر النون ولا يدغمها.14 - أدغم الذال في التاء، في نحو:أَخَذْتُ [فاطر: 26]، أَخَذْتُمْ [الأنفال:68]، اتَّخَذْتُمُ [البقرة: 51] القراء كلهم ما عدا حفصا وابن كثير ورويسا.
৫ - নিকটবর্তী মাখরাজসম্পন্ন বর্ণসমূহের ক্ষেত্রে জায়েজ ইদগাম:১ - সুকুনযুক্ত 'বা'-কে 'ফা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন, যেমন: ইয়াগলিব ফাসাওফা [আন-নিসা: ৭৪] - আল-কিসাঈ, আবু আমর এবং খাল্লাদ। তবে সূরা আল-হুজুরাতের নির্দিষ্ট স্থানটিতে খাল্লাদ-এর ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি (ইদগাম ও ইজহার) বর্ণিত হয়েছে, যা হলো: ওয়ামান লাম ইয়াতুব ফাউলায়িকা [আল-হুজুরাত: ১১]।২ - সুকুনযুক্ত 'লাম'-কে 'যাল'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন, যেমন: ইয়াফ'আল যালিকা [আল-ফুরকান: ৬৮] - আল-কিসাঈর বর্ণনায় আবুল হারিস।৩ - সুকুনযুক্ত 'ফা'-কে 'বা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন: নাখসিফ বি হিম [সাবা: ৯] - আল-কিসাঈ।৪ - 'যাল'-কে 'তা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:উযতু [গাফির: ২৭] - হামযাহ, আল-কিসাঈ, আবু আমর, আবু জাফর এবং খালাফ।৫ - 'যাল'-কে 'তা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:ফ্যানাবাযতুহা [ত্বহা: ৯৬] - হামযাহ, আল-কিসাঈ, আবু আমর এবং খালাফ।৬ - 'সা'-কে 'তা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:উরিছতুমুহা [আল-আ'রাফ: ৪৩] - আবু আমর, হিশাম, হামযাহ এবং আল-কিসাঈ।৭ - সুকুনযুক্ত 'রা'-কে 'লাম'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন, যেমন: ওয়াসত্বাবির লি'ইবাদাতিহি [মারইয়াম: ৬৫] - আস-সূসী এবং আদ-দুরী, তবে শেষোক্ত জনের ক্ষেত্রে ভিন্নমত বর্ণিত হয়েছে।৮ - পৃথক বর্ণমালার হুরুফে মুকাত্তাআত-এর 'নুন'-কে 'ওয়াও'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন:ইয়া-সীন, ওয়াল কুরআন [ইয়া-সীন: ১, ২] - শু'বা, ওয়ারশ, ইবনে আমির, আল-কিসাঈ, ইয়াকুব এবং খালাফ।৯ - পৃথক বর্ণমালার হুরুফে মুকাত্তাআত-এর 'নুন'-কে 'ওয়াও'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন:নুন, ওয়াল ক্বলম [আল-ক্বলম: ১] - শু'বা, ইবনে আমির, আল-কিসাঈ, ইয়াকুব, খালাফ এবং ওয়ারশ, তবে ওয়ারশ-এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত বর্ণিত হয়েছে।১০ - পৃথক বর্ণমালার হুরুফে মুকাত্তাআত-এর 'দাল'-কে 'যাল'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন: কাফ হা ইয়া আইন সোয়াদ, যিকরু [মারইয়াম: ১, ২] - আবু আমর, ইবনে আমির, হামযাহ, আল-কিসাঈ এবং খালাফ।১১ - সুকুনযুক্ত 'দাল'-কে 'সা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন: ইউরিদ ছাওয়াব [আল ইমরান: ১৪৫] - আবু আমর, ইবনে আমির, হামযাহ, আল-কিসাঈ এবং খালাফ।১২ - 'সা'-কে 'তা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন, যেমন:লাবিছতা [আল-বাকারা: ২৫৯], লাবিছতুম [আর-রুম: ৫৬] - আবু আমর, ইবনে আমির, হামযাহ, আল-কিসাঈ এবং আবু জাফর।১৩ - পৃথক বর্ণমালার হুরুফে মুকাত্তাআত-এর 'নুন'-কে 'মিম'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন: ত্বা-সীন-মীম [আশ-শুআরা: ১] - হামযাহ ব্যতীত সকল ক্বারী। কারণ হামযাহ নুন-কে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেন এবং ইদগাম করেন না।১৪ - 'যাল'-কে 'তা'-এর মধ্যে ইদগাম করেছেন, যেমন:আখাযতু [ফাতির: ২৬], আখাযতুম [আল-আনফাল: ৬৮], ইত্তাখাযতুম [আল-বাকারা: ৫১] - হাফস, ইবনে কাসীর এবং রুওয়াইস ব্যতীত সকল ক্বারী।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
15 - أدغم الباء في الميم، من:وَيُعَذِّبُ مَنْ [البقرة: 284] قالون وأبو عمرو وحمزة والكسائي وخلف، ويظهر ورش وابن كثير. ويلاحظ أن الإدغام هنا فقط لمن جزم الباء، أما من رفعها فليس له إلا الإظهار.16 - أدغم الثاء في الذال، من:يَلْهَثْ ذلِكَ [الأعراف: 176] أبو عمرو وابن ذكوان وعاصم وحمزة والكسائي ويعقوب وخلف وقالون بخلفه.17 - أدغم الباء في الميم، من:ارْكَبْ مَعَنا [هود: 42] قنبل وأبو عمرو وعاصم والكسائي ويعقوب.وأدغمها بخلف عنهم كل من خلاد وقالون والبزي. الإدغام الشفوي:هو إدخال الميم الساكنة في الميم المتحركة، بحيث يصيران ميما واحدة مشددة مصاحبة للغنة. أمثلة:لَكُمْ مِنْهُ [هود: 2]، فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ [البقرة: 10]، جاءَهُمْ مُوسى [القصص: 6].ومن هذا النوع إدغام السوسي عن أبي عمرو البصري، في نحو: وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّها [هود: 6] حيث يسكن الميم الأولى ثم يدغمها في الثانية. ملحوظة:مخرج الميم الساكنة المدغمة في مثلها لا يتحول إلى الخيشوم، بل هو في مخرجه الأصلي، وهو ما بين الشفتين. الإدغام الصغير:وهو ما كان أول المثلين أو المتقاربين أو المتجانسين ساكنا، وكان ثانيهما متحركا.سمي صغيرا لقلة العمل فيه حال إدغامه، فليس هنالك إلا إدغام الأول في الثاني إن تماثلا. أما إن تقاربا أو تجانسا فقلب وإدغام.ويقسم الإدغام الصغير إلى:1 - الإدغام الواجب: ويقسم هذا إلى:- الإدغام الواجب في المثلين.- الإدغام الواجب في المتقاربين.- الإدغام الواجب في المتجانسين.(ر- الإدغام الواجب).2 - الإدغام الجائز: وأقسامه:- الإدغام الجائز في ذال إِذْ*.- الإدغام الجائز في دال قَدْ*.- الإدغام الجائز في تاء التأنيث الساكنة.- الإدغام الجائز في لام هَلْ* وبَلْ*.
১৫ - 'বা' বর্ণকে 'মিম' বর্ণের মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:এবং তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন [আল-বাকারা: ২৮৪] কালুন, আবু আমর, হামজাহ, কিসায়ি এবং খালাফ; আর ওয়ারশ ও ইবনে কাসির ইজহার করেছেন। লক্ষণীয় যে, এখানে ইদগাম কেবল তাদের জন্যই যারা 'বা' বর্ণটিকে জজম (সুকুন) দিয়ে পড়েছেন, কিন্তু যারা একে পেশ (রাফা) দিয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য কেবল ইজহারই প্রযোজ্য।১৬ - 'সা' বর্ণকে 'যাল' বর্ণের মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:জিহ্বা বের করে হাপায়, এটাই হলো [আল-আ'রাফ: ১৭৬] আবু আমর, ইবনে যাকওয়ান, আসিম, হামজাহ, কিসায়ি, ইয়াকুব, খালাফ এবং কালুন (কালুনের ক্ষেত্রে ভিন্নমত বা দুটি বর্ণনা রয়েছে)।১৭ - 'বা' বর্ণকে 'মিম' বর্ণের মধ্যে ইদগাম করেছেন নিম্নোক্ত শব্দে:আমাদের সাথে আরোহণ করো [হুদ: ৪২] কুনবুল, আবু আমর, আসিম, কিসায়ি এবং ইয়াকুব।আর খাল্লাদ, কালুন এবং বাযযি তাদের থেকে বর্ণিত দুটি মতের একটিতে এটিকে ইদগাম করেছেন। ওষ্ঠ্য ইদগাম (ইদগাম শাফাউয়ি):এটি হলো সাকিনযুক্ত 'মিম' বর্ণকে পরবর্তী হরকতযুক্ত 'মিম' বর্ণের মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করানো যাতে উভয় মিলে গুন্নাহসহ একটি তাশদীদযুক্ত 'মিম' বর্ণে পরিণত হয়। উদাহরণ:তোমাদের জন্য তা থেকে [হুদ: ২], তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে [আল-বাকারা: ১০], তাদের নিকট মুসা আসলেন [আল-কাসাস: ৬]।আবু আমর আল-বসরির বর্ণনায় আস-সুসির ইদগামও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: এবং তিনি তার অবস্থানস্থল জানেন [হুদ: ৬] যেখানে তিনি প্রথম 'মিম' বর্ণটিকে সাকিন করেন এবং পরে সেটিকে দ্বিতীয় 'মিম' বর্ণে ইদগাম করেন। বিশেষ দ্রষ্টব্য:সমজাতীয় বর্ণের মধ্যে ইদগাম হওয়া সাকিনযুক্ত 'মিম' বর্ণের মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) নাসিকার ছিদ্রে (খাইশুম) স্থানান্তরিত হয় না, বরং তা তার মূল মাখরাজেই থাকে, যা হলো দুই ঠোঁটের মধ্যবর্তী স্থান। ছোট ইদগাম (ইদগামে সগির):এটি হলো যখন দুটি সমজাতীয় (মিছলাইন), নিকটবর্তী (মুতাকারিবাঈন) বা একজাতীয় (মুতাজানিসাইন) বর্ণের প্রথমটি সাকিন এবং দ্বিতীয়টি হরকতযুক্ত হয়।একে 'সগির' বা ছোট বলা হয় কারণ ইদগাম করার সময় এতে পরিশ্রম কম হয়; সমজাতীয় বর্ণ হলে কেবল প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির মধ্যে ইদগাম করতে হয়। আর যদি নিকটবর্তী বা একজাতীয় বর্ণ হয় তবে পরিবর্তন (কালব) ও ইদগাম করতে হয়।ছোট ইদগামকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়:১ - ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় ইদগাম: এটি আবার নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:- সমজাতীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ওয়াজিব ইদগাম।- নিকটবর্তী বর্ণের ক্ষেত্রে ওয়াজিব ইদগাম।- একজাতীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ওয়াজিব ইদগাম।(দেখুন- ওয়াজিব ইদগাম)।২ - জায়েয বা ঐচ্ছিক ইদগাম: এর প্রকারসমূহ:- 'ইজ' শব্দের 'যাল' বর্ণের জায়েয ইদগাম।*- 'কদ' শব্দের 'দাল' বর্ণের জায়েয ইদগাম।*- সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' বর্ণের জায়েয ইদগাম।- 'হাল' এবং 'বাল' শব্দের 'লাম' বর্ণের জায়েয ইদগাম।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
- الإدغام الجائز في حروف قربت مخارجها.(ر- كلّا في موضعه). الإدغام الكامل:هو سقوط المدغم ذاتا وصفة، بحيث يصير الحرفان (المدغم والمدغم فيه) حرفا واحدا مشددا تشديدا كاملا.وسمي كاملا لاكتمال التشديد وذهاب صفة المدغم وذاته.ويندرج تحت الإدغام الكامل:1 - إدغام النون الساكنة والتنوين في اللام والراء والنون والميم.أما اللام والراء فالسبب ظاهر لعدم وجود الغنة معهما، أما النون والميم فإن الغنة المسموعة معهما للمدغم فيه لا للمدغم، ومما رجح هذا وأيده حدّهم وتعريفهم للإدغام بأنه مصير الحرفين حرفا واحدا مشددا من جنس الثاني.2 - الإدغام في نَخْلُقْكُمْ [المرسلات:20] في أحد الوجهين فيها، فبالإدغام الكامل فيها تذهب ذات القاف وصفتها، ولذا يكون نطقها بكاف مشددة بعد اللام، ودليل إذهاب ذات القاف عدم قلقلتها.3 - إدغام النون الساكنة والتنوين في الواو والياء في رواية خلف عن حمزة، لأنه يستكمل التشديد عندهما من غير غنة.4 - إدغام المتماثلين والمتقاربين والمتجانسين كلها ما عدا (الإدغام الناقص، إدغام النون الساكنة والتنوين في الواو والياء).* ومن أمثلة الإدغام الكامل الإدغام في فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ [البقرة: 16]، وَقالَتْ طائِفَةٌ [آل عمران: 72]. الإدغام الكبير:هو ما كان المدغم والمدغم فيه متحركين.ولم يدغم أحد الإدغام الكبير من القراء كما أدغمه أبو عمرو، فمداره عليه، ولذا إذا أطلق الإدغام الكبير فهو منصرف ومنسوب إليه.إلا أن السوسي عن أبي عمرو اختص بالإدغام الكبير من طريق الشاطبية والتيسير. أما من طريق الطيبة فقد شاركه الدوري في الإدغام الكبير، ونحن مقتصرون على طريق الشاطبية وأصله كما شرطنا على أنفسنا.سبب الإدغام الكبير: التماثل والتقارب والتجانس. موانعه:* ألا يكون أول المثلين أو
মাখরাজ নিকটবর্তী এমন অক্ষরসমূহের ক্ষেত্রে বৈধ ইদগাম।(সূত্র- প্রতিটি নিজ নিজ স্থানে)। পূর্ণ ইদগাম:এটি হলো লীনকৃত বর্ণকে (মুদগাম) সত্তা ও গুণ উভয় দিক থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়া, যার ফলে বর্ণ দুটি (লীনকৃত এবং যাতে লীন করা হয়েছে) মিলে দ্বিতীয় বর্ণের ন্যায় একটি পূর্ণ তাসদীদযুক্ত বর্ণে পরিণত হয়।তাসদীদ পূর্ণ হওয়ার কারণে এবং লীনকৃত বর্ণের গুণ ও সত্তা বিলুপ্ত হওয়ার কারণে একে 'কামিল' বা পূর্ণ ইদগাম নামকরণ করা হয়েছে।পূর্ণ ইদগামের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো:১ - সাকিন নূন ও তানভীনকে লাম, রা, নূন এবং মীমের মধ্যে ইদগাম করা।লাম এবং রা-এর ক্ষেত্রে কারণটি স্পষ্ট, যেহেতু এগুলোর সাথে কোনো গুননাহ নেই। আর নূন ও মীমের ক্ষেত্রে যে গুননাহ শোনা যায় তা হলো যাতে লীন করা হয়েছে (মুদগাম ফিহি) সেই বর্ণের, লীনকৃত বর্ণের (মুদগাম) নয়। যে বিষয়টি একে জোরালো ও সমর্থন করে তা হলো ইদগাম সম্পর্কে তাঁদের সংজ্ঞা ও পরিচয়—যেখানে বলা হয়েছে ইদগাম হলো দুটি বর্ণ মিলে দ্বিতীয় বর্ণের ন্যায় একটি তাসদীদযুক্ত বর্ণে পরিণত হওয়া।২ - সূরা আল-মুরসালাতের ২০ নম্বর আয়াতের 'নাখলুককুম' শব্দের ইদগাম—এক্ষেত্রে প্রচলিত দুটি পদ্ধতির একটি অনুযায়ী। এখানে পূর্ণ ইদগামের মাধ্যমে ক্বাফ (ق) বর্ণের সত্তা ও গুণ উভয়ই বিলুপ্ত হয়, তাই এর উচ্চারণ হয় লামের পর একটি তাসদীদযুক্ত কাফ (ك) হিসেবে। ক্বাফ বর্ণের সত্তা বিলুপ্ত হওয়ার প্রমাণ হলো এতে কলকলাহ না করা।৩ - হামযার সূত্রে খালাফের বর্ণনা অনুযায়ী সাকিন নূন ও তানভীনকে ওয়াও এবং ইয়া-এর মধ্যে ইদগাম করা; কারণ এক্ষেত্রে গুননাহ ছাড়াই তাসদীদ পূর্ণ হয়।৪ - মুতামাথিলিন (সদৃশ), মুতাকারিবিন (নিকটবর্তী) এবং মুতাজানিসিন (সমজাতীয়) বর্ণসমূহের সকল ইদগাম—ব্যতিক্রম হলো (অপূর্ণ ইদগাম এবং সাকিন নূন ও তানভীনকে ওয়াও ও ইয়া-তে ইদগাম করা)।* পূর্ণ ইদগামের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে সূরা আল-বাকারার ১৬ নম্বর আয়াতের 'ফামা রাবিহাত তিজারাতুহুম' এবং সূরা আলে ইমরানের ৭২ নম্বর আয়াতের 'ওয়া-কালত ত্বয়িফাতুন' এর ইদগাম। বড় ইদগাম:এটি হলো লীনকৃত বর্ণ এবং যাতে লীন করা হচ্ছে উভয়ই হরকতযুক্ত বা স্বরচিহ্নযুক্ত হওয়া।কুররাগণের মধ্যে আবু আমরের মতো আর কেউ বড় ইদগাম (ইদগামে কাবীর) করেননি, তাই বিষয়টি তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এজন্য যখনই সাধারণভাবে 'বড় ইদগাম' বলা হয়, তখন সেটি তাঁর দিকেই নির্দেশিত এবং তাঁর সাথেই সম্পর্কিত হয়।তবে আবু আমরের সূত্রে আস-সূসী 'শাতিবিয়্যাহ' ও 'আত-তাইসীর' তরীকা অনুযায়ী বড় ইদগামের ক্ষেত্রে বিশেষত্বের অধিকারী। আর 'তাইয়্যিবাহ' তরীকা অনুযায়ী আদ-দুরীও বড় ইদগামে তাঁর সাথে অংশীদার। তবে আমরা 'শাতিবিয়্যাহ' তরীকা এবং এর মূল উৎসের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যেমনটি আমরা নিজেদের ওপর শর্তারোপ করেছি।বড় ইদগামের কারণসমূহ হলো: সাদৃশ্য, নিকটবর্তিতা এবং সমগোত্রীয়তা। এর প্রতিবন্ধকতা:* সদৃশ বর্ণ দুটির প্রথমটি যেন না হয়...
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المتقاربين منونا أو مشددا أو تاء ضمير.* فإن كان الأول مجزوما، يعتد بهذا المانع في المتقاربين. ويجري الإدغام والإظهار في غيره. شروطه وأسبابه وموانعه: سبقت في (الإدغام) ارجع إليه.وسمي هذا الإدغام كبيرا إما لكثرة وقوعه حيث إن الحركة أكثر من السكون، وإما لكثرة العمل فيه، وذلك أننا نسكن الحرف الأول من المتماثلين ثم ندغمه في الثاني فإن تقاربا أو تجانسا فإسكان وقلب وإبدال. الإدغام الكبير في المثلين: في كلمة: مَناسِكَكُمْ [البقرة: 100]، سَلَكَكُمْ [المدثر: 42]. ولا يوجد غيرها في القرآن الكريم.في كلمتين: وذلك في سبعة عشر حرفا:الباء، نحو: لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ [البقرة: 20].التاء، نحو: الْمَوْتِ تَحْبِسُونَهُما [المائدة: 106].الثاء، نحو: حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ [البقرة: 191].الحاء، نحو: النِّكاحِ حَتَّى [البقرة: 235].الراء، نحو: شَهْرُ رَمَضانَ [البقرة: 185].السين، نحو: النَّاسَ سُكارى [الحج: 2].العين، نحو: يَشْفَعُ عِنْدَهُ [البقرة:255].الغين، نحو: يَبْتَغِ غَيْرَ [آل عمران: 85].الفاء، نحو: وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ [البقرة: 213].القاف، نحو: فَلَمَّا أَفاقَ قالَ [الأعراف: 143].الكاف، نحو: وَاذْكُرْ رَبَّكَ كَثِيراً [آل عمران: 41].اللام، نحو: لا قِبَلَ لَهُمْ [النمل: 37].الميم، نحو: الرَّحِيمِ (3) مالِكِ [الفاتحة: 3، 4].النون، نحو: وَبَنِينَ (55) نُسارِعُ [المؤمنون: 55، 56].الواو، نحو: وَهُوَ وَلِيُّهُمْ [الأنعام: 27].الهاء، نحو: فِيهِ هُدىً [البقرة: 2].الياء، نحو: يَأْتِيَ يَوْمٌ [البقرة: 254]. الإدغام الكبير من المتجانسين والمتقاربين: في كلمة: لم يدغم فيه إلا القاف في
মুতাকারিবাইন (নিকটবর্তী বর্ণদ্বয়) তানউইনযুক্ত, তাশদীদযুক্ত অথবা সর্বনামের 'তা' হওয়া।* যদি প্রথম বর্ণটি মাজযুম (জজমযুক্ত) হয়, তবে মুতাকারিবাইন বা নিকটবর্তী বর্ণদ্বয়ের ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধকতাটি বিবেচনা করা হবে। আর এর বাইরে ইদগাম ও ইযহার উভয়ই কার্যকর হবে। এর শর্তাবলী, কারণসমূহ এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ: এগুলো (ইদগাম) পরিচ্ছেদে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, সেখানে দেখে নিন।এই ইদগামকে 'কাবীর' (বড়) নামকরণ করা হয়েছে হয় এর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে, যেহেতু সুকুনের তুলনায় হারাকাতের (স্বরচিহ্ন) সংখ্যা বেশি, অথবা এতে কাজের আধিক্যের কারণে। আর তা হলো এই যে, আমরা মুতামাছিলাইন (দুটি হুবহু এক বর্ণ)-এর প্রথম বর্ণটিকে সাকিন করি এবং এরপর দ্বিতীয় বর্ণটিতে ইদগাম করি। আর যদি বর্ণ দুটি মুতাকারিব (নিকটবর্তী) বা মুতাজানিস (সমগোত্রীয়) হয়, তবে সেক্ষেত্রে সাকিন করা, ক্বলব (রূপান্তর) এবং ইবদাল (পরিবর্তন) করতে হয়। মুতামাছিলাইনের ক্ষেত্রে ইদগামে কাবীর: এক শব্দের মধ্যে: মানাসিকাকুম [আল-বাকারা: ১০০], সালাকাকুম [আল-মুদ্দাসসির: ৪২]। পবিত্র কুরআনে এছাড়া আর কোনো উদাহরণ নেই।দুই শব্দের মধ্যে: আর তা সতেরোটি বর্ণের ক্ষেত্রে ঘটে:বা, যেমন: লা-যাহাবা বিসাম’ইহিম [আল-বাকারা: ২০]।তা, যেমন: আল-মাওতি তাহবিসূনাহুমা [আল-মায়িদাহ: ১০৬]।ছা, যেমন: হাইছু ছাকিফতুমুহুম [আল-বাকারা: ১৯১]।হা, যেমন: আন-নিকাহি হাত্তা [আল-বাকারা: ২৩৫]।রা, যেমন: শাহরু রমাদানা [আল-বাকারা: ১৮৫]।সীন, যেমন: আন-নাসা সুকারা [আল-হাজ্জ: ২]।আইন, যেমন: ইয়াশফাউ ইনদাহু [আল-বাকারা:২৫৫] ।গাইন, যেমন: ইয়াবতাগি গইরা [আলু ইমরান: ৮৫]।ফা, যেমন: ওয়ামাখতালাফা ফীহি [আল-বাকারা: ২১৩]।ক্বাফ, যেমন: ফালাম্মা আফাক্ব ক্বলা [আল-আরাফ: ১৪৩]।কাফ, যেমন: ওয়াযকুর রব্বাকা কাছীরা [আলু ইমরান: ৪১]।লাম, যেমন: লা ক্বিবালা লাহুম [আন-নামল: ৩৭]।মীম, যেমন: আর-রাহীমি (৩) মালিকি [আল-ফাতিহা: ৩, ৪]।নূন, যেমন: ওয়া বানীনা (৫৫) নুসারিয়ু [আল-মুমিনূন: ৫৫, ৫৬]।ওয়াও, যেমন: ওয়া হুয়া ওয়ালিইয়ুহুম [আল-আনআম: ২৭]।হা, যেমন: ফীহি হুদান [আল-বাকারা: ২]।ইয়া, যেমন: ইয়াতিয়া ইয়াওমুন [আল-বাকারা: ২৫৪]। মুতাজানিসাইন ও মুতাকারিবাইনের ক্ষেত্রে ইদগামে কাবীর: এক শব্দের মধ্যে: এতে শুধুমাত্র 'ক্বাফ' বর্ণটিকে ইদগাম করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الكاف إذا تحرك ما قبل القاف، وكان بعد الكاف ميم جمع، نحو: خَلَقَكُمْ [البقرة: 21]، رَزَقَكُمُ [المائدة: 88].فإن سكن ما قبل القاف، نحو:مِيثاقَكُمْ [البقرة: 63]، أو لم يأت بعد الكاف ميم جمع، نحو: خَلَقَكَ [الكهف: 37] فإنه يظهر بلا خلاف.فإن جاء بعد الكاف نون كما في طَلَّقَكُنَّ [التحريم: 5] ففيها خلاف.فهي مقروءة بالإظهار والإدغام.وهذه هي الكلمات التي تدغم من هذا النوع:خَلَقَكُمْ [البقرة: 21]، يَخْلُقُكُمْ [الزمر: 6]، رَزَقَكُمُ [المائدة: 88]، يَرْزُقُكُمْ [يونس: 31]، صَدَقَكُمُ [آل عمران: 152]، واثَقَكُمْ [المائدة: 7]، فَيُغْرِقَكُمْ [الإسراء: 69]، سَبَقَكُمْ [الأعراف: 80].طَلَّقَكُنَّ [التحريم: 5] (فيه الخلاف بين الإدغام والإظهار).في كلمتين: يتحقق الإدغام هنا في ستة عشر حرفا جمعها الإمام الشاطبي في أوائل كلم هذا البيت:شفا لم تضق نفسا بها رم دواضن … ثوى كان ذا حسن سأى منه قد جلاوهذا تفصيلها:الشين: تدغم في السين فقط من قول الله: إِلى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا [الإسراء:42] فقط.اللام: تدغم في الراء إذا تحرك ما قبلها بأي حركة، نحو: رُسُلُ رَبِّكَ [هود: 81] أَنْزَلَ رَبُّكُمْ [النحل: 24] كَمَثَلِ رِيحٍ [آل عمران: 117]، فإن سكن ما قبلها أدغمها مكسورة أو مضمومة، نحو: يَقُولُ رَبَّنا [البقرة:200]، إِلى سَبِيلِ رَبِّكَ [النحل: 125] فإن كانت اللام مفتوحة بعد ساكن، نحو: رَسُولَ رَبِّهِمْ [الحاقة: 10] امتنع الإدغام إلا لام قالَ* فإنها تدغم حيث وقعت وذلك نحو: قالَ رَبِّ [آل عمران:38] قالَ رَجُلانِ [المائدة: 23].التاء: تدغم في عشرة أحرف:التاء، نحو: الصَّالِحاتِ ثُمَّ اتَّقَوْا [المائدة: 93]، الجيم نحو: الصَّالِحاتِ جَنَّاتٍ [إبراهيم: 23]، الذال نحو:وَالذَّارِياتِ ذَرْواً [الذاريات: 1]، الزاي نحو: بِالْآخِرَةِ زَيَّنَّا [النمل: 4]، السين نحو: الصَّالِحاتِ سَنُدْخِلُهُمْ [النساء: 57]، الشين نحو: بِأَرْبَعَةِ شُهَداءَ [النور: 4]، الصاد نحو: فَالْمُغِيراتِصُبْحاً[العاديات:3]، الضاد نحو: وَالْعادِياتِ ضَبْحاً [العاديات: 1]، الطاء نحو: الْمَلائِكَةُ طَيِّبِينَ [النحل: 32]، الظاء نحو:تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظالِمِي [النحل: 28].
‘কাফ’ বর্ণটি, যখন ‘ক্বাফ’-এর পূর্ববর্তী বর্ণটি হারাকাতবিশিষ্ট হয় এবং ‘কাফ’-এর পরে বহুবচনের ‘মীম’ থাকে, যেমন: ‘খালাক্বাকুম’ [আল-বাকারাহ: ২১], ‘রাযাক্বাকুম’ [আল-মায়িদাহ: ৮৮]।যদি ‘ক্বাফ’-এর পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন হয়, যেমন:‘মীছাক্বাকুম’ [আল-বাকারাহ: ৬৩], অথবা যদি ‘কাফ’-এর পরে বহুবচনের ‘মীম’ না আসে, যেমন: ‘খালাক্বাকা’ [আল-কাহাফ: ৩৭], তবে এক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই ইযহার (স্পষ্টভাবে পড়া) হবে।যদি ‘কাফ’-এর পরে ‘নুন’ আসে যেমন ‘তাল্লাক্বাকুন্না’ [আত-তাহরীম: ৫]-তে রয়েছে, তবে এতে মতভেদ রয়েছে।এটি ইযহার এবং ইদগাম উভয় পদ্ধতিতেই পাঠ করা যায়।এই প্রকারের যে শব্দগুলোতে ইদগাম হয় সেগুলো হলো:‘খালাক্বাকুম’ [আল-বাকারাহ: ২১], ‘ইয়াখলুক্বুকুম’ [আয-যুমার: ৬], ‘রাযাক্বাকুম’ [আল-মায়িদাহ: ৮৮], ‘ইয়ারযুক্বুকুম’ [ইউনুস: ৩১], ‘সাদাক্বাকুম’ [আল-ইমরান: ১৫২], ‘ওয়াছাক্বাকুম’ [আল-মায়িদাহ: ৭], ‘ফাইয়ুগরীক্বাকুম’ [আল-ইসরা: ৬৯], ‘সাবাক্বাকুম’ [আল-আরাফ: ৮০]।‘তাল্লাক্বাকুন্না’ [আত-তাহরীম: ৫] (এতে ইদগাম ও ইযহারের মধ্যে মতভেদ রয়েছে)।দুটি শব্দের ক্ষেত্রে: এখানে ১৬টি বর্ণের মধ্যে ইদগাম সংঘটিত হয়, যা ইমাম শাতীবী এই পংক্তির শব্দগুলোর শুরুতে একত্রিত করেছেন:শিফা লাম তাদিক নাফসান বিহা রুম দাওয়াদিন … ছাওয়া কানা যা হুসনিন সাআ মিনহু ক্বাদ জালাএর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:শীন: এটি কেবল সীনের মধ্যে ইদগাম হয়, যা মহান আল্লাহর বাণী: ‘ইলা যিল আরশি সাবিলা’ [আল-ইসরা: ৪২]-তে রয়েছে।লাম: এটি ‘রা’ বর্ণের সাথে ইদগাম হয় যদি তার পূর্ববর্তী বর্ণটি যেকোনো হারাকাত দ্বারা চালিত হয়, যেমন: ‘রুসুলু রাব্বিকা’ [হুদ: ৮১], ‘আনযালা রাব্বুকুম’ [আন-নাহল: ২৪], ‘কামাছালি রীহিন’ [আল-ইমরান: ১১৭]। যদি তার পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন হয়, তবে লাম বর্ণটি কাছরা (জের) বা দাম্মা (পেশ) বিশিষ্ট অবস্থায় ইদগাম হবে, যেমন: ‘ইয়াক্বুলু রাব্বানা’ [আল-বাকারাহ: ২০০], ‘ইলা সাবীলি রাব্বিকা’ [আন-নাহল: ১২৫]। কিন্তু যদি সাকিন বর্ণের পরে লাম বর্ণটি ফাতহা (যবর) বিশিষ্ট হয়, যেমন: ‘রাসূলু রাব্বিহিম’ [আল-হাক্কাহ: ১০], তবে ইদগাম নিষিদ্ধ; কেবল ‘ক্বলা’ শব্দের ‘লাম’ এর ব্যতিক্রম, এটি যেখানেই আসুক ইদগাম হবে, যেমন: ‘ক্বলা রাব্বি’ [আল-ইমরান: ৩৮], ‘ক্বলা রাজুলানি’ [আল-মায়িদাহ: ২৩]।তা: এটি দশটি বর্ণের সাথে ইদগাম হয়:‘ছা’, যেমন: ‘আস-সালিহাতি ছুম্মাত্তাক্বাও’ [আল-মায়িদাহ: ৯৩]; ‘জীম’, যেমন: ‘আস-সালিহাতি জান্নাতিন’ [ইব্রাহীম: ২৩]; ‘যাল’, যেমন:‘ওয়ায-যারিয়াতি যারওয়া’ [আয-যারিয়াত: ১]; ‘যা’, যেমন: ‘বিল-আখিরাতি যাইয়্যান্না’ [আন-নামল: ৪]; ‘সীন’, যেমন: ‘আস-সালিহাতি সানু دخিলুহুম’ [আন-নিসা: ৫৭]; ‘শীন’, যেমন: ‘বি-আরবাআতি শুহাদা’ [আন-নূর: ৪]; ‘সোয়াদ’, যেমন: ‘ফাল-মুগীরাতিসুবহা’[আল-আদিয়াত:৩]; ‘দোয়াদ’, যেমন: ‘ওয়াল-আদিয়াতি দাবহা’ [আল-আদিয়াত: ১]; ‘তয়া’, যেমন: ‘আল-মালাইকাতু তাইয়্যিবীন’ [আন-নাহল: ৩২]; ‘জয়া’, যেমন:‘তাতাওয়াফফাহুমুল মালাইকাতু জালিমী’ [আন-নাহল: ২৮]।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النون: تدغم في الراء واللام إذا تحرك ما قبلها، نحو: تَأَذَّنَ رَبُّكَ [الأعراف: 167] نُؤْمِنَ لَكَ [البقرة: 55] فإن سكن ما قبلها أظهرت النون عندهما، نحو: يَخافُونَ رَبَّهُمْ [النحل:50] يَكُونَ لَهُمُ [الأحزاب: 36] إلا النون من نحن فقط فإنها تدغم، نحو: نَحْنُ لَكَ [الأعراف: 132].الباء: تدغم في الميم في: يُعَذِّبُ مَنْ يَشاءُ [المائدة: 40] في مواضعها الخمسة. وينبغي ملاحظة أن موضع آخر البقرة ليس من هذه الخمسة لأن أبا عمرو يقرأها بسكون الباء فهي تدغم عنده من باب الإدغام الصغير لا الكبير.الراء: تدغم في اللام إذا تحرك ما قبلها، نحو: سَخَّرَ لَكُمْ [الحج: 65] أَطْهَرُ لَكُمْ [هود: 78] فإن سكن ما قبلها أدغمت في وضع الخفض والرفع، نحو: وَالنَّهارِ لَآياتٍ [آل عمران: 190] الْمَصِيرُ لا يُكَلِّفُ [البقرة: 285، 286].ولا تدغام في موضع النصب، نحو:وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوها [النحل: 8].الدال: تدغم في عشرة أحرف هي:التاء: الْمَساجِدِ تِلْكَ [البقرة: 187].الثاء: يُرِيدُ ثَوابَ [النساء: 134].الجيم: داوُدُ جالُوتَ [البقرة: 251].الذال: وَالْقَلائِدَ ذلِكَ [المائدة: 97].الزاي: يَكادُ زَيْتُها [النور: 35].السين: الْأَصْفادِ سَرابِيلُهُمْ [إبراهيم:49، 50].الشين: وَشَهِدَ شاهِدٌ [البقرة: 26].الصاد: نَفْقِدُ صُواعَ [يوسف: 72].الضاد: مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ [يونس: 21].الظاء: مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ [المائدة: 39].فإن كانت الدال مفتوحة بعد ساكن فإنها لا تدغم إلا في التاء، نحو؛ بَعْدَ تَوْكِيدِها [النحل: 91].الضاد: تدغم في الشين من لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ [النور: 62] فقط.الثاء: تدغم في خمسة حروف:التاء: حَيْثُ تُؤْمَرُونَ [الحجر: 65].الذال: وَالْحَرْثِ ذلِكَ [آل عمران:14].السين: وَوَرِثَ سُلَيْمانُ [النمل: 16].الشين: حَيْثُ شِئْتُما [البقرة: 35].الضاد: حَدِيثُ ضَيْفِ [الذاريات: 24].الكاف: تدغم في القاف إذا تحرك ما قبلها، نحو: لَكَ قُصُوراً [الفرقان: 10]، يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ [البقرة: 204] فإن سكن ما قبلها لم تدغم، نحو: وَتَرَكُوكَ قائِماً [الجمعة: 11] وَلا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ [يونس: 65].
নূন: যদি তার পূর্বের অক্ষরটি হরকতবিশিষ্ট হয়, তবে তা রা এবং লাম-এর সাথে ইদগাম হবে, যথা: "তোমার রব ঘোষণা দিলেন" [আল-আরাফ: ১৬৭], "আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব" [আল-বাকারা: ৫৫]। তবে যদি তার পূর্বের অক্ষরটি সাকিন হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে নূন এই দুটি অক্ষরের নিকট স্পষ্ট (ইজহার) হবে, যথা: "তারা তাদের রবকে ভয় করে" [আন-নাহল:৫০], "তাদের জন্য হয়" [আল-আহজাব: ৩৬]। কেবল 'নাহনু' (আমরা) শব্দের নূনটি এর ব্যতিক্রম, কারণ এটি ইদগাম হবে, যথা: "আমরা তোমার জন্য" [আল-আরাফ: ১৩২]।বা: এটি পাঁচটি স্থানে "যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেন" [আল-মায়িদাহ: ৪০] বাক্যাংশে মীমের সাথে ইদগাম হবে। লক্ষ্য রাখা উচিত যে, সূরা বাকারার শেষের বিষয়টি এই পাঁচটির অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ আবু আমর সেখানে 'বা' অক্ষরটি সাকিন করে পড়েন, তাই এটি তাঁর নিকট ইদগামে সগিরের (ছোট ইদগাম) অন্তর্ভুক্ত হবে, ইদগামে কাবিরের (বড় ইদগাম) অন্তর্ভুক্ত নয়।রা: যদি তার পূর্বের অক্ষরটি হরকতবিশিষ্ট হয়, তবে তা লাম-এর সাথে ইদগাম হবে, যথা: "তিনি তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন" [আল-হাজ্জ: ৬৫], "তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র" [হুদ: ৭৮]। যদি তার পূর্বের অক্ষরটি সাকিন হয়, তবে তা জের ও পেশ অবস্থায় ইদগাম হবে, যথা: "এবং দিনের মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে" [আল ইমরান: ১৯০], "প্রত্যাবর্তনস্থল; আল্লাহ কষ্ট দেন না" [আল-বাকারা: ২৮৫, ২৮৬]।এবং জবর অবস্থায় ইদগাম হবে না, যথা:"এবং গাধাসমূহকে, যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করতে পার" [আন-নাহল: ৮]।দাল: এটি দশটি অক্ষরের সাথে ইদগাম হয়, সেগুলো হলো:তা: "মসজিদসমূহ; এগুলো" [আল-বাকারা: ১৮৭]।সা: "প্রতিদান কামনা করে" [আন-নিসা: ১৩৪]।জীম: "দাউদ জালুতকে" [আল-বাকারা: ২৫১]।যাল: "এবং গলায় পরানো চিহ্নসমূহ; সেটি" [আল-মায়িদাহ: ৯৭]।যা: "তার তৈল যেন" [আন-নূর: ৩৫]।সীন: "শিকলসমূহ; তাদের পোশাকসমূহ" [ইবরাহিম:৪৯, ৫০]।শীন: "এবং একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল" [আল-বাকারা: ২৬]।সোয়াদ: "আমরা বাদশাহর পরিমাপক পাত্রটি হারিয়েছি" [ইউসুফ: ৭২]।দোয়াদ: "দুঃখ-কষ্টের পর" [ইউনুস: ২১]।জোয়া: "তার অন্যায়ের পর" [আল-মায়িদাহ: ৩৯]।যদি দাল সাকিন অক্ষরের পর জবরবিশিষ্ট হয়, তবে তা 'তা' ব্যতীত অন্য কোনো অক্ষরের সাথে ইদগাম হবে না, যথা; "তা দৃঢ় করার পর" [আন-নাহল: ৯১]।দোয়াদ: এটি কেবল "তাদের কোনো প্রয়োজনে" [আন-নূর: ৬২] বাক্যাংশে শীন-এর সাথে ইদগাম হবে।সা: এটি পাঁচটি অক্ষরের সাথে ইদগাম হয়:তা: "যেখানে তোমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে" [আল-হিজর: ৬৫]।যাল: "এবং শস্যক্ষেত্র; সেটি" [আল ইমরান:১৪]।সীন: "এবং সুলাইমান উত্তরাধিকারী হলেন" [আন-নামল: ১৬]।শীন: "যেখান থেকে তোমরা উভয়ে চাও" [আল-বাকারা: ৩৫]।দোয়াদ: "অতিথিদের বৃত্তান্ত" [আয-যারিয়াত: ২৪]।কাফ: যদি তার পূর্বের অক্ষরটি হরকতবিশিষ্ট হয়, তবে তা ক্বফ-এর সাথে ইদগাম হবে, যথা: "তোমার জন্য প্রাসাদসমূহ" [আল-ফুরকান: ১০], "তার কথা তোমাকে মুগ্ধ করে" [আল-বাকারা: ২০৪]। যদি তার পূর্বের অক্ষরটি সাকিন হয়, তবে ইদগাম হবে না, যথা: "এবং তারা তোমাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে গেল" [আল-জুমুআহ: ১১], "এবং তাদের কথা যেন তোমাকে চিন্তিত না করে" [ইউনুস: ৬৫]।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الذال: تدغم في:السين: فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ [الكهف: 61] فقط.الصاد: مَا اتَّخَذَ صاحِبَةً [الجن: 3] فقط.الحاء: تدغم في العين في حرف واحد زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ.السين: تدغم في:الزاي: وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ [التكوير: 7].الشين: الرَّأْسُ شَيْباً [مريم: 4] فقط. وقد اختلفوا في هذا الموضع ففيه الإظهار والإدغام.الميم: تخفى الميم بغنة عند الباء إذا تحرك ما قبل الميم، نحو: بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ [الأنعام: 53] آدَمَ بِالْحَقِّ [المائدة: 27] فإن سكن ما قبلها، نحو:إِبْراهِيمُ بَنِيهِ [البقرة: 132] الْيَوْمَ بِجالُوتَ [البقرة: 249] فليس إلا الإظهار.القاف: تدغم في الكاف إذا تحرك ما قبلها، نحو: وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ [الأنعام:101] يُنْفِقُ كَيْفَ يَشاءُ [المائدة: 64] فإن سكن ما قبلها لم تدغم، نحو: وَفَوْقَ كُلِّ ذِي [يوسف: 76].الجيم: تدغم في:الشين: أَخْرَجَ شَطْأَهُ [الفتح: 29].التاء: ذِي الْمَعارِجِ تَعْرُجُ [المعارج:3، 4]. الإدغام الكبير عند يعقوب:- أدغم يعقوب وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ [النساء: 36].- وأدغم رويس عن يعقوب فَلا أَنْسابَ بَيْنَهُمْ [المؤمنون: 101] ونُسَبِّحَكَ كَثِيراً وَنَذْكُرَكَ كَثِيراً (34) إِنَّكَ كُنْتَ بِنا بَصِيراً [طه: 33 - 35].- واختلف عن رويس في ستة عشر موضعا:جَعَلَ لَكُمْ [النحل: 81] في مواضعها الثمانية.لا قِبَلَ لَهُمْ [النمل: 37].وَأَنَّهُ هُوَ [النجم: 43] في مواضعها الأربعة.لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ [البقرة: 20] والْكِتابَ بِأَيْدِيهِمْ [البقرة: 79] والْكِتابَ بِالْحَقِّ [البقرة: 176].- وأدغم يعقوب فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكَ تَتَمارى [النجم: 55] وصلا.- وأدغم رويس ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا [سبأ:46] وصلا.- وأدغم يعقوب أَتُمِدُّونَنِ بِمالٍ [النمل: 36]. الإدغام الكبير عند هشام عن ابن عامر: أدغم أَتَعِدانِنِي [الأحقاف: 17].
যাল: এটি ইদগাম হয়:সীন-এ: কেবল ‘ফাত্তখাযা সাবিলাহু’ [আল-কাহফ: ৬১] আয়াতে।স-দ-এ: কেবল ‘মা-ত্তাখাযা স-হিবাতান’ [আল-জিন: ৩] আয়াতে।হা: এটি আইনের সাথে একটি মাত্র শব্দগুচ্ছে ইদগাম হয়, যথা: ‘যুহযিহা আনিন না-র’।সীন: এটি ইদগাম হয়:যা-তে: ‘ওয়া ইযান নুফু-সু যুউয়িজাত’ [আত-তাকউইর: ৭]।শীন-এ: কেবল ‘আর-রা’সু শাইবান’ [মারইয়াম: ৪] আয়াতে। এই স্থানে মতভেদ রয়েছে; এতে ইযহার এবং ইদগাম উভয়ই বিদ্যমান।মীম: মীমের পূর্ববর্তী হরফটি হরকতযুক্ত হলে বা-এর নিকট গুন্নাহসহ মীমকে ইখফা করতে হয়, যেমন: ‘বিআ’লামা বিশ-শা-কিরীন’ [আল-আন’আম: ৫৩], ‘আ-দামা বিল-হাক্কি’ [আল-মায়িদাহ: ২৭]। যদি পূর্ববর্তী হরফটি সুকুনযুক্ত হয়, যেমন:‘ইব্রাহি-মা বানি-হি’ [আল-বাকারাহ: ১৩২], ‘আল-ইয়াওমা বি-জা-লু-তা’ [আল-বাকারাহ: ২৪৯], তবে সেক্ষেত্রে কেবল ইযহারই হবে।ক্বফ: এটি কাফ-এর সাথে ইদগাম হয় যখন এর পূর্ববর্তী হরফটি হরকতযুক্ত থাকে, যেমন: ‘ওয়া খালাক্বা কুল্লা শাই-ইন’ [আল-আন’আম: ১০১], ‘ইউনফিকু কাইফা ইয়াশা-উ’ [আল-মায়িদাহ: ৬৪]। যদি পূর্ববর্তী হরফটি সুকুনযুক্ত হয় তবে ইদগাম হবে না, যেমন: ‘ওয়া ফাওক্বা কুল্লি যি’ [ইউসুফ: ৭৬]।জীম: এটি ইদগাম হয়:শীন-এ: ‘আখরাজা শাত’আহু’ [আল-ফাতহ: ২৯]।তা-তে: ‘যিল মা’আ-রিজি তা’রুজু’ [আল-মা’আরিজ: ৩, ৪]। ইয়াকুবের নিকট ইদগামে কাবীর:- ইয়াকুব ‘ওয়াস-স-হিবি বিল-জাম্বি’ [আন-নিসা: ৩৬] আয়াতে ইদগাম করেছেন।- ইয়াকুবের পক্ষ হতে রুওয়াইস ‘ফালা আনসা-বা বাইনাহুম’ [আল-মু’মিনুন: ১০১] এবং ‘নুসাব্বিহাকা কাসীরান ওয়া নাযকুরাকা কাসীরান (৩৪) ইন্নাকা কুনতা বিনা বা-সীরান’ [ত্বহা: ৩৩ - ৩৫] আয়াতসমূহে ইদগাম করেছেন।- রুওয়াইসের পক্ষ হতে ষোলোটি স্থানে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে:‘জা’আলা লাকুম’ [আন-নাহল: ৮১] এর আটটি স্থানে।‘লা ক্বিবালা লাহুম’ [আন-নামল: ৩৭]।‘ওয়া আন্নাহু হুয়া’ [আন-নাজম: ৪৩] এর চারটি স্থানে।‘লাযাহাবা বিসাম-ইহিম’ [আল-বাকারাহ: ২০], ‘আল-কিতা-বা বিআইদীহিম’ [আল-বাকারাহ: ৭৯] এবং ‘আল-কিতা-বা বিল-হাক্কি’ [আল-বাকারাহ: ১৭৬]।- ইয়াকুব মিলানোর সময় ‘ফাবিআইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকা তাতামা-রা’ [আন-নাজম: ৫৫] আয়াতে ইদগাম করেছেন।- রুওয়াইস মিলানোর সময় ‘সুম্মা তাতাফাক্কারু’ [সাবা: ৪৬] আয়াতে ইদগাম করেছেন।- ইয়াকুব ‘আতুমিদ্দূনানি বিমা-লিন’ [আন-নামল: ৩৬] আয়াতে ইদগাম করেছেন। ইবনে আমিরের বর্ণনাকারী হিশামের নিকট ইদগামে কাবীর: তিনি ‘আতা’ইদানিনি’ [আল-আহক্বাফ: ১৭] আয়াতে ইদগাম করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الإدغام الكبير عند حمزة:- أدغم حمزة وَالصَّافَّاتِ صَفًّا (1) فَالزَّاجِراتِ زَجْراً (2) فَالتَّالِياتِ ذِكْراً (3) [الصافات: 1 - 3]، وَالذَّارِياتِ ذَرْواً [الذاريات: 1].- وأدغم حمزة أَتُمِدُّونَنِ بِمالٍ [النمل: 36].- عن خلاد عن حمزة الوجهان الإدغام والإظهار في فَالْمُلْقِياتِ ذِكْراً [المرسلات: 5]، فَالْمُغِيراتِ صُبْحاً [العاديات: 3].ولبيان مذهب حمزة في مد المد العارض للإدغام.(ر- المد العارض للإدغام). الإدغام الكبير عند كل القراء:- مَكَّنِّي [الكهف: 95] بالإدغام الكبير عند الجميع إلا ابن كثير لأنه يقرأه (مكنني).- تَأْمَنَّا [يوسف: 11] عند كل القراء على وجه الإشمام أو الإدغام المحض من غير إشمام كما هو مذهب أبي جعفر. أمّا على وجه الروم فلا إدغام، لبيان مذاهبهم في المد (ر- المد العارض للإدغام).(ر- الإشمام، الروم). الإدغام الواجب: هو ما وجب إدغامه عند كل القراء بلا استثناء. أولا: الإدغام الواجب في المثلين: شروطه: 1 - شرط متفق عليه: ألا يكون أول المثلين حرف مد نحو: اصْبِرُوا وَصابِرُوا [آل عمران: 200] الَّذِي يُوَسْوِسُ [الناس: 5].فإن سكنت الواو الأولى وانفتح ما قبلها وجب إدغامها في المتحركة نحو:اتَّقَوْا وَآمَنُوا [المائدة: 93] لأن الواو اللّينيّة بمنزلة الحرف الصحيح.2 - شرط مختلف فيه: وهو ألا يكون أول المثلين هاء سكت، وهذا في لفظ واحد وهو مالِيَهْ (28) هَلَكَ [الحاقة: 28، 29].فقال البعض بإدغامه جريا على القاعدة السابقة. وقال البعض الآخر بإظهاره وهو الأرجح والمقدم في الأداء وعليه جمهور العلماء.وما عدا هذين الشرطين يدغم وجوبا لكل القراء. ثانيا: الإدغام الواجب في المتقاربين: 1 - تدغم اللام الساكنة في الراء نحو: بَلْ رَبُّكُمْ [الأنبياء: 56] وَقُلْ رَبِّ [الإسراء: 24]، ويستثنى من هذه القاعدة سكتة حفص من طريق الشاطبية في بَلْ رانَ [المطففين: 14] فلا يتأتى مع السكت غير الإظهار.2 - تدغم النون الساكنة والتنوين في
ইমাম হামযাহর নিকট বড় ইদগাম (ইদগামে কাবীর):- ইমাম হামযাহ 'ওয়াস সাফ্ফাতি সাফ্ফা' (আস-সাফফাত: ১), 'ফায ঝাজিরাতি ঝাজরা' (আস-সাফফাত: ২), 'ফাত তালিয়াতি জিকরা' (আস-সাফফাত: ৩) [আস-সাফফাত: ১ - ৩] এবং 'ওয়াজ ঝারিয়াতি যারওয়া' [আয-যারিয়াত: ১]-তে ইদগাম করেছেন।- এবং ইমাম হামযাহ 'আতুমিদ্দুনানি বি-মালিন' [আন-নামল: ৩৬]-এ ইদগাম করেছেন।- খাল্লাদ-এর সূত্রে ইমাম হামযাহ থেকে 'ফাল মুলকিয়াতি জিকরা' [আল-মুরসালাত: ৫] এবং 'ফাল মুগীরাতি সুবহা' [আল-আদিয়াত: ৩]-এর ক্ষেত্রে ইদগাম এবং ইযহার—উভয় পদ্ধতিই বর্ণিত আছে।এবং ইদগামের কারণে মাদ্দে আরিদ-এর দৈর্ঘ্যের বিষয়ে হামযাহর মাযহাব বা মতামতের বর্ণনার জন্য দেখুন—(দ্রষ্টব্য- ইদগামের কারণে মাদ্দে আরিদ)। সকল ক্বারীগণের নিকট বড় ইদগাম (ইদগামে কাবীর):- ইবনে কাসীর ব্যতীত সকল ক্বারীর নিকট 'মাককান্নী' [আল-কাহফ: ৯৫]-তে বড় ইদগাম হবে, কারণ তিনি এটিকে 'মাক্কানানি' হিসেবে পাঠ করেন।- 'তা’মান্না' [ইউসুফ: ১১] শব্দের ক্ষেত্রে সকল ক্বারীর নিকট ইশমাম অথবা ইশমাম বিহীন খাঁটি ইদগামের নিয়ম প্রযোজ্য, যেমনটি আবু জাফরের মাযহাব। তবে রাউম-এর পদ্ধতিতে কোনো ইদগাম হবে না। মাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের মাযহাবের বর্ণনার জন্য দেখুন (দ্রষ্টব্য- ইদগামের কারণে মাদ্দে আরিদ)।(দ্রষ্টব্য- ইশমাম, রাউম)। ওয়াজিব ইদগাম (অপরিহার্য ইদগাম): এটি এমন ইদগাম যা কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল ক্বারীর নিকট অপরিহার্য বা ওয়াজিব। প্রথমত: সমগোত্রীয় দুটি হরফের (মিছলাইন) ক্ষেত্রে ওয়াজিব ইদগাম: এর শর্তাবলী: ১ - সর্বসম্মত শর্ত: সমগোত্রীয় দুটি হরফের প্রথমটি যেন মাদ্দের হরফ না হয়, যেমন: 'উসবিরূ ওয়া সাবিরূ' [আল-ইমরান: ২০০], 'আল্লাযী ইউওয়াসওয়িসু' [আন-নাস: ৫]।যদি প্রথম ওয়াও-টি সাকিন হয় এবং তার পূর্বের হরফটি যবরযুক্ত (ফাতহাহ) হয়, তবে পরবর্তী হরক্বাতযুক্ত হরফের সাথে সেটির ইদগাম করা ওয়াজিব, যেমন:'ইত্তাক্বাও ওয়া-আমানূ' [আল-মায়িদাহ: ৯৩], কারণ লীন-এর ওয়াও সহীহ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মর্যাদাপ্রাপ্ত।২ - মতভেদপূর্ণ শর্ত: সমগোত্রীয় হরফ দুটির প্রথমটি যেন 'হা-এ-সাকত' না হয়। এটি কেবল একটি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর তা হলো: 'মালিইয়াহ (২৮) হালাকা' [আল-হাক্কাহ: ২৮, ২৯]।কেউ কেউ পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী এখানে ইদগাম করার কথা বলেছেন। আবার কেউ কেউ এখানে ইযহার (স্পষ্ট করে পড়া) করার কথা বলেছেন, আর এটিই অধিকতর সঠিক এবং তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য, যার উপর জমহুর বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম একমত।এই দুটি শর্ত ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে সকল ক্বারীর নিকট ইদগাম করা ওয়াজিব। দ্বিতীয়ত: নিকটবর্তী মাখরাজের দুটি হরফের (মুত্যাকারিবাঈন) ক্ষেত্রে ওয়াজিব ইদগাম: ১ - সাকিন 'লাম' হরফটি 'রা' হরফের মধ্যে ইদগাম হবে, যেমন: 'বাল রাব্বুকুম' [আল-আম্বিয়া: ৫৬], 'ওয়া ক্বুল রাব্বি' [আল-ইসরা: ২৪]। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলো শাত্বিবিয়্যাহ পদ্ধতি অনুযায়ী হাফসের 'বাল রানা' [আল-মুতাফফিফীন: ১৪] পাঠের ক্ষেত্রে সাকতাহ (সামান্য বিরতি), যেখানে সাকতাহ করার কারণে ইযহার ব্যতীত অন্য কিছু সম্ভব নয়।২ - সাকিন 'নুন' এবং তানভীন নিচের হরফগুলোর মধ্যে ইদগাম হবে: