(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الموسوعة العقدية   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: العقيدة


الكتاب: الموسوعة العقدية

إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net

عدد الأجزاء: 11

تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433

আক্বীদাহ বিশ্বকোষ   (লেখকবৃন্দের একটি দল)

বিভাগ: আক্বীদাহ


গ্রন্থ: আক্বীদাহ বিশ্বকোষ

প্রস্তুতকরণ: শাইখ আলভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ-এর তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক কর্তৃক

প্রকাশক: ইন্টারনেটে আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ওয়েবসাইট dorar.net

খণ্ড সংখ্যা: ১১

ডাউনলোড করা হয়েছে/ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الموسوعة العقدية]ـ

إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net

عدد الأجزاء: 11

تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ

[الكتاب مرقم آليا]
[আকিদাহ বিষয়ক বিশ্বকোষ]

সংকলন: শায়খ আলাউয়ী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক

প্রকাশক: ইন্টারনেটে আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ওয়েবসাইট dorar.net

খণ্ড সংখ্যা: ১১

ডাউনলোডকাল: রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

الحمد لله القائل: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ [الذاريات: 56 - 58]

والقائل: وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ [الأنبياء: 25]

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولو كره المشركون، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المبعوث إلى الناس أجمعين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.

أما بعد:

فإن توضيح العقيدة الإسلامية الصحيحة وبيانها والدعوة إليها من آكد الواجبات، لأنها هي الطريق لمعرفة الله، وأول واجب على العبد، ومن أجلها أرسلت الرسل، وأنزلت الكتب، وانقسم الناس بسببها إلى أشقياء وسعداء، وترتب على تحقيقها السعادة في الدنيا والآخرة، وخلقت من أجلها الجنة والنار.

والعقيدة الصحيحة من أولى ما ينبغي الاهتمام بها، لا سيما مع كثرة الضلال فيها، واشتباه الحق بالباطل على كثير من المسلمين.

وقد اهتم أئمة السنة وعلماء هذه الأمة بشأن العقيدة اهتماماً بالغاً فألَّفوا فيها كتباً كثيرة، منها المطول ومنها المختصر، ومنها الجامع، ومنها المقتصر، ولما كان الوقوف على أكثر هذه الكتب عسيراً، ولا يوجد برنامج أو موقع إلكتروني واحد يجمع كل ما يتعلق بعقيدة أهل السنة والجماعة، شرعنا بفضل الله وتوفيقه في مؤسسة الدرر السنية عبر موقعها الإلكتروني بجمع ما تفرق في كتب العقيدة والتوحيد، معتمدين في ذلك على أكثر من مائة وأربعين مرجعاً، على منهج أهل السنة والجماعة، القديم منها والمعاصر، وحرصنا أن تكون شاملة لجميع مسائل وموضوعات العقيدة، مع تحقيقها، وتنقيحها، والتأليف بينها، وتخريج أحاديثها، وتصنيفها تضنيفاً موضوعياً شجريًّا، مع الحرص على ذكر الكلام المنقول كما هو مع ذكر المرجع، إلا أنه أحيانا يتم التصرف في بعض المواضع ويشار إلى ذلك، ونسأل الله أن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم، وينفع به المسلمين.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বলেছেন: "আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]

এবং যিনি বলেছেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং আপনারা আমারই ইবাদত করুন।" [আল-আম্বিয়া: ২৫]

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর নির্দেশিত পথে চলবে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

সঠিক ইসলামী আকিদাহর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যিক কর্তব্য। কারণ এটিই হলো আল্লাহকে চেনার পথ এবং বান্দার ওপর প্রথম ফরজ কাজ। এর জন্যই রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর কারণেই মানুষ দুর্ভাগা ও সৌভাগ্যবান—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের ওপরই দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য নির্ভরশীল এবং এর জন্যই জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে।

সঠিক আকিদাহ হলো সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা সবকিছুর আগে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে, বিশেষ করে যখন এ বিষয়ে বিভ্রান্তি অনেক বেড়েছে এবং অনেক মুসলিমের নিকট সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

সুন্নাহর ইমামগণ এবং এই উম্মতের আলেমগণ আকিদাহর বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এ বিষয়ে অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন; যার মধ্যে কোনটি দীর্ঘ, কোনটি সংক্ষিপ্ত, কোনটি সামগ্রিক আবার কোনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ। যেহেতু এই কিতাবগুলোর অধিকাংশের ওপর অবগত হওয়া কঠিন কাজ এবং এমন কোনো একক প্রোগ্রাম বা ওয়েবসাইট নেই যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে একত্রিত করে, তাই আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে আদ-দোরার আস-সানিয়্যাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আকিদাহ ও তাওহীদের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একত্রিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এক্ষেত্রে আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী প্রাচীন ও সমসাময়িক একশ চল্লিশটিরও বেশি রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেছি। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আকিদাহর সকল মাসআলা ও বিষয়কে এর অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেই সাথে সেগুলোর তাহকীক, পরিমার্জন, সমন্বয় সাধন, হাদিসসমূহের তাখরীজ এবং বিষয়ভিত্তিক ও শ্রেণীবিন্যাস করা। আমরা উদ্ধৃত বক্তব্যগুলো রেফারেন্সসহ হুবহু উল্লেখ করার বিষয়ে সচেষ্ট থেকেছি, তবে কখনো কখনো কিছু কিছু স্থানে সামান্য পরিমার্জন করা হয়েছে এবং তা নির্দেশ করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المطلب الأول: تعريف العقيدة لغةً

العقيدة في اللغة: من العقد؛ وهو الربط، والإبرام، والإحكام، والتوثق، والشد بقوة، والتماسك، والمراصة، والإثبات؛ ومنه اليقين والجزم. والعقد نقيض الحل، ويقال: عقده يعقده عقداً، ومنه عقدة اليمين والنكاح، قال الله تبارك وتعالى: لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الأَيْمَانَ [المائدة: 89].

والعقيدة: الحكم الذي لا يقبل الشك فيه لدى معتقده، والعقيدة في الدين ما يقصد به الاعتقاد دون العمل؛ كعقيدة وجود الله وبعث الرسل. والجمع: عقائد وخلاصة ما عقد الإنسان عليه قلبه جازماً به؛ فهو عقيدة، سواء كان حقاً، أم باطلاً الوجيز في عقيدة السلف الصالح لعبد الحميد الأثري - ص29
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে আকিদার সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে আকিদা: এটি 'আকদ' (বাঁধন) ধাতু থেকে গৃহীত; যার অর্থ হলো সংযুক্তি, পাকাপোক্ত করা, সুদৃঢ় করা, সুসংহত করা, শক্তভাবে বাঁধা, দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা, জমাটবদ্ধ হওয়া এবং সাব্যস্ত করা; এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সুনিশ্চিত বিশ্বাস এবং অটল সিদ্ধান্ত। আর 'আকদ' (বাঁধন) হলো 'হল' (খুলে ফেলা) এর বিপরীত। বলা হয়: সে এটি বেঁধেছে, সে এটি বাঁধছে, বাঁধা। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো শপথের ও বিবাহের চুক্তি বা বাঁধন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: আল্লাহ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না, কিন্তু তিনি তোমাদের সেই শপথের জন্য পাকড়াও করবেন যা তোমরা দৃঢ়ভাবে করেছ [আল-মায়িদাহ: ৮৯]।

আর আকিদা হলো: এমন এক অটল সিদ্ধান্ত যা এর পোষণকারীর নিকট কোনো প্রকার সন্দেহ গ্রহণ করে না। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে আকিদা বলতে এমন বিষয়কে বোঝানো হয় যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বাস স্থাপন করা, আমল নয়; যেমন আল্লাহর অস্তিত্বের আকিদা এবং রাসূলদের প্রেরণের আকিদা। এর বহুবচন হলো: আকাইদ। মানুষ তার অন্তরে যা দৃঢ়ভাবে গেঁথে নেয় এবং তার ওপর অটল থাকে তার সারনির্যাসই হলো আকিদা; চাই তা সত্য হোক কিংবা মিথ্যা। আল-ওয়াজিজ ফি আকিদতিস সালাফিস সালিহ, আব্দুল হামিদ আল-আসারি - পৃষ্ঠা ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المطلب الثاني: تعريف العقيدة في الاصطلاح العام

العقيدة في الاصطلاح العام: هي الأمور التي يجب أن يصدق بها القلب، وتطمئن إليها النفس؛ حتى تكون يقيناً ثابتاً لا يمازجها ريب، ولا يخالطها شك. أي: الإيمان الجازم الذي لا يتطرق إليه شك لدى معتقده، ويجب أن يكون مطابقاً للواقع، لا يقبل شكاً ولا ظنا؛ فإن لم يصل العلم إلى درجة اليقين الجازم لا يسمى عقيدة. الوجيز في عقيدة السلف الصالح لعبد الحميد الأثري - ص30
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ পরিভাষায় আকিদাহর সংজ্ঞা

সাধারণ পরিভাষায় আকিদাহ হলো: এমন বিষয়সমূহ যা অন্তর দ্বারা বিশ্বাস করা আবশ্যক এবং যার প্রতি আত্মা প্রশান্ত হয়; যাতে তা একটি সুদৃঢ় সুনিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয় যার সাথে কোনো সংশয় মিশ্রিত হয় না এবং কোনো সন্দেহ তাকে স্পর্শ করে না। অর্থাৎ, এমন অটল ইমান যাতে এর পোষণকারীর নিকট কোনো প্রকার সন্দেহের অনুপ্রবেশ ঘটে না, এবং একে বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যা কোনো সন্দেহ কিংবা ধারণাকে গ্রহণ করে না; সুতরাং জ্ঞান যদি অটল দৃঢ় বিশ্বাসের স্তরে না পৌঁছায়, তবে তাকে আকিদাহ বলা হয় না। আল-ওয়াজিজ ফি আকিদাতিস সালাফিস সলিহ, আব্দুল হামিদ আল-আসারি - পৃষ্ঠা ৩০
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المطلب الثالث: تعريف العقيدة الإسلامية

العقيدة الإسلامية: هي الإيمان الجازم بربوبية الله تعالى وألوهيته وأسمائه وصفاته، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وسائر ما ثبت من أمور الغيب، وأصول الدين، وما أجمع عليه السلف الصالح، والتسليم التام لله تعالى في الأمر، والحكم، والطاعة، والاتباع لرسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

والعقيدة الإسلامية: إذا أطلقت فهي عقيدة أهل السنة والجماعة؛ لأنها هي الإسلام الذي ارتضاه الله ديناً لعباده، وهي عقيدة القرون الثلاثة المفضلة من الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان الوجيز في عقيدة السلف الصالح لعبد الحميد الأثري - ص30
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি আকিদার সংজ্ঞা

ইসলামি আকিদা হলো: মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাহ (উপাস্যতা) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি, এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল, ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি এবং অদৃশ্যের প্রমাণিত অন্যান্য বিষয়সমূহ, দ্বীনের মূলনীতিসমূহ এবং সলফে সালেহীন যে সকল বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন সেগুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা; আর নির্দেশ, বিধান ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং তাঁর রাসুল (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর অনুসরণ করা।

ইসলামি আকিদা যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাকেই বোঝায়; কারণ এটিই সেই ইসলাম যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। আর এটি হলো সাহাবী, তাবিঈ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের আকিদা। আল-ওয়াজিজ ফি আকিদাতুস সালাফিস সালেহ, আব্দুল হামিদ আল-আসারি - পৃষ্ঠা ৩০
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المطلب الرابع: تعريف التوحيد لغة واصطلاحا

التوحيد في اللغة: مشتق من وحد الشيء إذا جعله واحداً، فهو مصدر وحد يوحد، أي: جعل الشيء واحداً.

وفي الشرع: إفراد الله - سبحانه - بما يختص به من الربوبية والألوهية والأسماء والصفات القول المفيد على كتاب التوحيد لمحمد بن صالح بن عثيمين - 1/ 11

قال العلامة ابن القيم رحمه الله: ليس التوحيد مجرد إقرار العبد بأنه: لا خالق إلا الله، وأن الله رب كل شيء ومليكه، كما كان عباد الأصنام مقرين بذلك وهم مشركون، بل التوحيد يتضمن من محبة الله، والخضوع له، والذل له، وكمال الانقياد لطاعته، وإخلاص العبادة له، وإرادة وجهه الأعلى بجميع الأقوال والأعمال، والمنع والعطاء، والحب والبغض، ما يحول بين صاحبه وبين الأسباب الداعية إلى المعاصي والإصرار عليها، ومن عرف هذا عرف قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الله حرم على النار من قال لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله)) (1) … وما جاء من هذا الضرب من الأحاديث، التي أشكلت على كثير من الناس، حتى ظنها بعضهم منسوخة! وظنها بعضهم قيلت قبل ورود الأوامر والنواهي واستقرار الشرع، وحملها بعضهم على نار المشركين والكفار، وأول بعضهم الدخول بالخلود وقال: المعنى لا يدخلها خالداً، ونحو ذلك من التأويلات المستكرهة. فإن الشارع صلوات الله وسلامه عليه لم يجعل ذلك حاصلاً بمجرد قول اللسان فقط، فإن هذا خلاف المعلوم بالاضطرار من دين الإسلام، لأن المنافقين يقولونها بألسنتهم، وهم تحت الجاحدين لها في الدرك الأسفل من النار.

بل لا بد من قول القلب، وقول اللسان.

وقول القلب: يتضمن من معرفتها والتصديق بها، ومعرفة حقيقة ما تضمنته من النفي والإثبات، ومعرفة حقيقة الإلهية المنفية عن غير الله، المختصة به، التي يستحيل ثبوتها لغيره، وقيام هذا المعنى بالقلب علماً ومعرفة ويقيناً وحالاً: ما يوجب تحريم قائلها على النار.

وتأمل حديث البطاقة (2) التي توضع في كفة، ويقابلها تسعة وتسعون سجلاً، كل سجل منها مد البصر، فتثقل البطاقة وتطيش السجلات، فلا يعذب صاحبها ومعلوم أن كل موحد له مثل هذه البطاقة، … ولكن السر الذي ثقل بطاقة ذلك الرجل هو أنه حصل له ما لم يحصل لغيره من أرباب البطاقات.

وتأمل أيضاً ما قام بقلب قاتل المائة (3) من حقائق الإيمان التي لم تشغله عند السياق – الموت - عن السير إلى القرية فجعل ينوء بصدره، ويعالج سكرات الموت، لأن ذلك كان أمراً آخر، وإيماناً آخر ولذلك ألحق بأهل القرية الصالحة. وقريب من هذا ما قام بقلب البغي (4) التي رأت ذلك الكلب وقد اشتد به العطش، يأكل الثرى فقام بقلبها ذلك الوقت مع عدم الآلة، وعدم المعين، وعدم من ترائيه بعملها ما حملها على أن غررت بنفسها في نزول البئر وملء الماء في خفها، ولم تعبأ بتعرضها للتلف وحملها خفها بفيها وهو ملآن حتى أمكنها الرقي من البئر، ثم تواضعها لهذا المخلوق الذي جرت عادة الناس بضربه، فأمسكت له الخف بيدها حتى شرب من غير أن ترجو منه جزاء ولا شكوراً. فأحرقت أنوار هذا القدر من التوحيد ما تقدم منها من البغاء فغفر لها (5).

وقد ورد في صحيح مسلم قوله صلى الله عليه وسلم ((من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله، حرم ماله ودمه وحسابه على الله)) (6) الولاء والبراء في الإسلام لمحمد بن سعيد القحطاني - ص46

--------------------------------------------

(1) [1] رواه البخاري (425)، ومسلم (33). من حديث عتبان بن مالك رضي الله عنه.

(2) رواه الترمذي (2639)، وابن ماجه (4300)، وأحمد (2/ 213) (6994). من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص. قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب، وقال حمزة الكناني في ((مشيخة ابن الخطاب)) (1/ 107): .. وهو من أحسن الحديث، وقال ابن الملقن في ((التوضيح)) (33/ 595): صحيح على شرط البخاري ومسلم. وقال الألباني في ((السلسلة الصحيحة)) (135): صحيح.

(3) رواه البخاري (3470)، ومسلم (2766). من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

(4) رواه البخاري (3467)، ومسلم (2245)، واللفظ له. من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(5) مدارج السالكين لابن قيم الجوزية (1/ 330 – 332) بتصرف بسيط.

(6) رواه مسلم (23). من حديث طارق بن أشيم الأشجعي رضي الله عنه.
চতুর্থ বিষয়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাওহীদের সংজ্ঞা

অভিধানে তাওহীদ: এটি কোনো কিছুকে এক করা থেকে উদ্ভূত। এটি ওয়াহ্হাদা-ইউওয়াহ্হিদু এর ক্রিয়ামূল, যার অর্থ: কোনো কিছুকে একক সাব্যস্ত করা।

শরীয়তের পরিভাষায়: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাহ (উপাস্য হওয়া) এবং নাম ও গুণাবলিতে একক সাব্যস্ত করা। (মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন রচিত 'আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহীদ' - ১/ ১১)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাওহীদ কেবল বান্দার এই স্বীকৃতির নাম নয় যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই এবং আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের রব ও মালিক', যেমনটি মূর্তিপূজারীরাও স্বীকার করত অথচ তারা ছিল মুশরিক। বরং তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর প্রতি বিনয় ও হীনতা প্রকাশ, তাঁর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য এবং ইবাদতকে কেবল তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা। এছাড়া সকল কথা ও কাজে, দান ও বর্জনে এবং ভালোবাসা ও বিদ্বেষে আল্লাহর সুউচ্চ চেহারার (সন্তুষ্টির) আকাঙ্ক্ষা করা, যা তাওহীদ অর্জনকারী ও পাপের কারণসমূহের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে এবং পাপে অবিচল থাকতে বাধা দেবে। যে ব্যক্তি এটি বুঝতে পেরেছে, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মর্ম বুঝতে পেরেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করেছেন যে আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে।" (১) ... এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদীস যা অনেক মানুষের নিকট অস্পষ্ট মনে হয়েছে, এমনকি তাদের কেউ কেউ এগুলোকে রহিত মনে করেছে! আবার কেউ ধারণা করেছে যে, এগুলো শরীয়তের আদেশ-নিষেধ ও বিধিবিধান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বলা হয়েছিল। কেউ কেউ এগুলোকে কেবল মুশরিক ও কাফিরদের জাহান্নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেছে। আবার কেউ 'প্রবেশ' শব্দটিকে 'চিরস্থায়ী অবস্থান' অর্থে ব্যাখ্যা করে বলেছে: এর অর্থ হলো সে সেখানে চিরকাল থাকবে না। এই ধরণের আরও অনেক অপছন্দনীয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিধানদাতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই ফজিলতকে কেবল মৌখিক উচ্চারণের মাধ্যমে অর্জিত সাব্যস্ত করেননি। কারণ এটি দ্বীন ইসলামের অকাট্যভাবে জানা বিষয়ের পরিপন্থী, যেহেতু মুনাফিকরা তাদের মুখে এটি উচ্চারণ করত, অথচ তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে কাফিরদেরও নিচে অবস্থান করবে।

বরং অন্তরের কথা ও জিহ্বার কথা উভয়ই থাকা আবশ্যক।

আর অন্তরের কথার অন্তর্ভুক্ত হলো: তাওহীদকে জানা ও সত্য বলে বিশ্বাস করা, এর সারমর্ম 'নফি' (অস্বীকৃতি) ও 'ইসবাত' (স্বীকৃতি) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের থেকে উপাস্য হওয়ার গুণকে অস্বীকার করা এবং তা কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার হাকীকত অনুধাবন করা। এই অর্থ যখন ইলম, মারেফাত, ইয়াকীন ও অবস্থা হিসেবে অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা উচ্চারণকারীকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেয়।

আর সেই কাগজের টুকরোর (বীতাকাহ) হাদীসটি (২) নিয়ে চিন্তা করুন যা পাল্লার এক পাশে রাখা হবে এবং তার বিপরীতে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা রাখা হবে, যার প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। তখন সেই কাগজের টুকরোটি ভারী হয়ে যাবে এবং খাতাগুলো হালকা হয়ে যাবে, ফলে এর অধিকারী ব্যক্তিকে আজাব দেওয়া হবে না। এটি জানা কথা যে, প্রত্যেক মুওয়াহহিদ বা তাওহীদপন্থীর কাছেই এই ধরণের কাগজের টুকরো রয়েছে... কিন্তু সেই ব্যক্তির কাগজের টুকরোটি ভারী হওয়ার রহস্য হলো, তার অন্তরে এমন কিছু অর্জিত হয়েছিল যা অন্যান্যদের অর্জিত হয়নি।

তদ্রূপ একশ মানুষকে হত্যাকারী ব্যক্তির (৩) অন্তরে ঈমানের যে হাকীকত জাগ্রত হয়েছিল তাও চিন্তা করুন, যা তাকে মৃত্যুর সময়েও নেককারদের জনপদের দিকে যাত্রা করা থেকে বিচ্যুত করেনি। ফলে সে তার বুক দিয়ে হেঁচড়িয়ে এগিয়ে যেতে লাগল এবং মৃত্যুর যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে লাগল। কারণ সেটি ছিল ভিন্ন এক ঈমানি অবস্থা। এই কারণেই তাকে সৎলোকদের জনপদবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর কাছাকাছি হলো সেই ব্যভিচারিণী নারীর (৪) অন্তরের অবস্থা, যে একটি কুকুরকে প্রবল তৃষ্ণায় মাটি চাটতে দেখেছিল। সেই সময় তার কাছে পানি তোলার কোনো সরঞ্জাম ছিল না, কোনো সাহায্যকারীও ছিল না এবং লোক দেখানোরও কেউ ছিল না। এই অবস্থা তাকে নিজের জীবন বিপন্ন করে কূপে নামতে এবং নিজের মোজায় পানি পূর্ণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সে নিজের ধ্বংসের পরোয়া করেনি এবং মুখ দিয়ে পানিপূর্ণ মোজা কামড়ে ধরে কূপ থেকে উঠে এসেছিল। এরপর সে এই মাখলুকের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছিল যাকে মানুষ সাধারণত প্রহার করে থাকে। সে নিজের হাত দিয়ে মোজাটি ধরে রেখেছিল যতক্ষণ না কুকুরটি পান করল। সে তার থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতার আশা করেনি। সুতরাং এই পরিমাণ তাওহীদের আলো তার পূর্ববর্তী ব্যভিচারের গুনাহকে জ্বালিয়ে দিল এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। (৫)

সহীহ মুসলিমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি বলল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং আল্লাহ ছাড়া আর যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করল, তার সম্পদ ও রক্ত (অন্যের জন্য) হারাম হয়ে গেল এবং তার হিসাব আল্লাহর নিকট।" (৬) (সূত্র: মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-কাহতানি রচিত 'আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম' - পৃষ্ঠা ৪৬)

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৪২৫), মুসলিম (৩৩)। ইতবান বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(২) তিরমিজি (২৬৩৯), ইবনে মাজাহ (৪৩০০), আহমদ (২/ ২১৩) (৬৯৯৪)। আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। তিরমিজি বলেন: এটি হাসান গরীব হাদীস। হামজা আল-কিনানি 'মাশইখাতু ইবনিল খাত্তাব' (১/ ১০৭) গ্রন্থে বলেন: এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি হাদীস। ইবনুল মুলাক্কিন 'আত-তাওদীহ' (৩৩/ ৫৯৫) গ্রন্থে বলেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। আলবানী 'আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ' (১৩৫) গ্রন্থে বলেন: সহীহ।

(৩) বুখারী (৩৪৭০), মুসলিম (২৭৬৬)। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(৪) বুখারী (৩৪৬৭), মুসলিম (২২৪৫), শব্দবিন্যাস মুসলিমের। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(৫) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত 'মাদারিজুস সালিকিন' (১/ ৩৩০-৩৩২) থেকে সামান্য পরিমার্জিত।

(৬) মুসলিম (২৩)। তারিক বিন আশইয়াম আল-আশজায়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المطلب الخامس: العلاقة بين التوحيد والعقيدة

علم العقيدة وعلم التوحيد مترادفان عند أهل السنة، وإنما سمي علم التوحيد بعلم العقيدة بناء على الثمرة المرجوة منه، وهي انعقاد القلب انعقادا جازما لا يقبل الانفكاك المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية على مذهب أهل السنة لإبراهيم بن محمد البريكان - ص10

وقد يفرق بينهما اصطلاحا باعتبار أن علم التوحيد هو العلم الذي يقتدر به على إثبات العقائد الدينية بالأدلة المرضية، وأن علم العقيدة يزيد عليه برد الشبهات وقوادح الأدلة الخلافية، فيجتمعان في معرفة الحق بدليله، وتكون العقيدة أعم موضوعا من التوحيد لأنها تقرر الحق بدليله وترد الشبهات وقوادح الأدلة وتناقش الديانات والفرق، وقد جرى السلف على تسمية كتبهم في التوحيد والإيمان بكتب العقيدة، كما فعل أبو عثمان الصابوني رحمه الله في كتابه (عقيدة السلف أصحاب الحديث) والإمام اللالكائي رحمه الله في (شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة) علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري – ص - 129
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহীদ ও আকিদাহর মধ্যকার সম্পর্ক

আহলে সুন্নাতের নিকট আকিদাহ শাস্ত্র এবং তাওহীদ শাস্ত্র সমার্থক। তাওহীদ শাস্ত্রকে মূলত এর থেকে প্রত্যাশিত ফলের ওপর ভিত্তি করে আকিদাহ শাস্ত্র নামকরণ করা হয়েছে, আর তা হলো অন্তরে এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা যা অবিচ্ছেদ্য—আহলে সুন্নাতের মাযহাব অনুযায়ী ইসলামী আকিদাহ অধ্যয়নের প্রবেশিকা, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-বুরাইকান - পৃষ্ঠা ১০

পরিভাষাগতভাবে এই দুইয়ের মাঝে এভাবে পার্থক্য করা হতে পারে যে, তাওহীদ শাস্ত্র হলো এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে সন্তোষজনক প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহ সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়। আর আকিদাহ শাস্ত্র এর সাথে অতিরিক্ত হিসেবে সংশয় নিরসন এবং বিরোধপূর্ণ দলিলের ত্রুটিসমূহ খণ্ডন করে। ফলে তারা উভয়ে দলিলের মাধ্যমে সত্যকে জানার ক্ষেত্রে একীভূত হয়। বিষয়ের দিক থেকে আকিদাহ তাওহীদের চেয়ে অধিক ব্যাপক, কারণ এটি দলিলের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে, সংশয় ও দলিলের ত্রুটিসমূহ খণ্ডন করে এবং বিভিন্ন ধর্ম ও দল-উপদল নিয়ে আলোচনা করে। সালাফগণ তাওহীদ ও ঈমান বিষয়ক তাদের গ্রন্থগুলোর নাম আকিদাহর কিতাব হিসেবে রাখার ধারা অনুসরণ করেছেন, যেমনটি আবু উসমান আস-সাবুনী (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস’ গ্রন্থে এবং ইমাম আল-লালাকাঈ (রহিমাহুল্লাহ) ‘শারহু উসুল ই’তিকাদ আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’ গ্রন্থে করেছেন—আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আকিদাহ শাস্ত্র, মুহাম্মাদ ইউসরি - পৃষ্ঠা ১২৯
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثاني: أسماء علم العقيدة والتوحيد

• الفرع الأول: العقيدة.

• الفرع الثاني: التوحيد.

• الفرع الثالث: السنة.

• الفرع الرابع: أصول الدين.

• الفرع الخامس: الفقه الأكبر.

• الفرع السادس: الشريعة.

• الفرع السابع: الإيمان.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আকিদাহ ও তাওহীদ শাস্ত্রের নামসমূহ

• প্রথম শাখা: আকিদাহ।

• দ্বিতীয় শাখা: তাওহীদ।

• তৃতীয় শাখা: সুন্নাহ।

• চতুর্থ শাখা: উসুলুদ দ্বীন।

• পঞ্চম শাখা: আল-ফিকহুল আকবার।

• ষষ্ঠ শাখা: শরীয়াহ।

• সপ্তম শাখা: ঈমান।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الفرع الأول: العقيدة

مرت كلمة عقيدة بثلاث مراحل:

المرحلة الأولى: وهي دور الموسوعية في المعنى وعدم الاختصاص، وهو المعنى اللغوي، فهي في اللغة تطلق ويراد بها:

العزم المؤكد - الجمع - النية - التوثيق للعقود - ما يدين به الإنسان سواء كان حقا أو باطلا.

المرحلة الثانية: وهي دور الفعل القلبي، وفيه تبرز العقيدة كمعنى يقوم بقلب العبد، وهو أخص من المرحلة قبله، ويعبر عنه بالمعنى المصدري وهو بهذا الاعتبار: الإيمان الذي لا يحتمل النقيض ..........

المرحلة الثالثة: وهي الدور الذي نضجت فيه العقيدة، وأصبحت علما ولقبا على قضايا معينة، وهو دور الاستقرار وهو المعبر عنه: العلم بالأحكام الشرعية العقدية المكتسب من الأدلة اليقينية ورد الشبهات وقوادح الأدلة الخلافية. المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية لإبراهيم البريكان - بتصرف - ص 8

ومن المؤلفات التي حملت اسم العقيدة أو الاعتقاد ومن ذلك: كتاب (عقيدة السلف أصحاب الحديث) للصابوني (ت: 449هـ). و (شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة) للالكائي (ت: 418هـ). و (الاعتقاد) للبيهقي (ت: 458هـ). مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - ص10
প্রথম পরিচ্ছেদ: আকীদা

‘আকীদা’ শব্দটি তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে:

প্রথম পর্যায়: এটি ব্যাপক অর্থ এবং বিশেষায়িত না হওয়ার স্তর, যা মূলত আভিধানিক অর্থ। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দটি দ্বারা নিম্নোক্ত অর্থসমূহ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়:

সুদৃঢ় সংকল্প - একত্রিত করা - নিয়ত - চুক্তিসমূহের দঢ়ীকরণ - মানুষ যা বিশ্বাস করে বা যা দিয়ে দ্বীন পালন করে, তা সত্য হোক কিংবা মিথ্যা।

দ্বিতীয় পর্যায়: এটি অন্তরের কর্মের স্তর। এতে আকীদা বান্দার অন্তরে প্রোথিত একটি বিষয় হিসেবে প্রকাশ পায়, যা পূর্ববর্তী পর্যায়ের তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট। একে মাসদার বা মূল ধাতুগত অর্থ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এই বিবেচনায় এটি হলো: এমন ঈমান যাতে বিপরীত কোনো কিছুর সম্ভাবনা থাকে না...

তৃতীয় পর্যায়: এটি এমন একটি স্তর যেখানে আকীদা পরিপক্কতা লাভ করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি শাস্ত্র ও পারিভাষিক নাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি হলো স্থিতিশীলতার স্তর, যাকে এভাবে ব্যক্ত করা হয়: নিশ্চিত দলিলসমূহ হতে অর্জিত শরয়ী আকীদা সংক্রান্ত বিধানাবলির জ্ঞান এবং সংশয় নিরসন ও বিতর্কিত দলিলসমূহের ত্রুটিসমূহ খণ্ডন করা। ইবরাহীম আল-বুরাইকান রচিত ‘আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল আকীদা আল-ইসলামিয়্যাহ’ - পরিমার্জিত - পৃষ্ঠা ৮।

আকীদা বা আল-ই'তিকাদ নাম সম্বলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আস-সাবুনী (মৃত্যু: ৪৪৯ হি.) রচিত ‘আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস’; আল-লালাকাঈ (মৃত্যু: ৪১৮ হি.) রচিত ‘শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’; এবং আল-বায়হাকী (মৃত্যু: ৪৫৮ হি.) রচিত ‘আল-ই'তিকাদ’। নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল রচিত ‘মাবাহিছ ফী আকীদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’ - পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفرع الثاني: التوحيد

وقد مرت كلمة توحيد بنفس الأدوار التي مرت بها كلمة عقيدة، فهي في الدور اللغوي مشتقة من وحد يوحد توحيدا فهي مصدر للفعل وحد بمعنى جعله واحدا ثم نقل عن هذا المعنى إلى معنى الفرد المتميز عن غيره، لأن كون الله واحدا ليس بجعل جاعل، وعلى هذا فالواحد هو المنفرد بخصائصه عما سواه. ومن هذا المعنى قولهم: واحد زمانه أي: فردا فيه إما علما أو عقلا وكرما ونحو ذلك.

وفي الدور المصدري أو اعتباره فعلا من أفعال القلب: هو إفراد الله بالربوبية والألوهية والأسماء والصفات والأفعال.

وفي الدور الأخير وهو دور الاستقلال صارت فيه كلمة التوحيد تدل على العلم المسمى بها وهي بهذا الاعتبار: العلم الذي يقتدر به على إثبات العقائد الدينية بالأدلة اليقينية. المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية لإبراهيم البريكان – بتصرف – ص 10

ومن المؤلفات في العقيدة والتي حملت اسم التوحيد:

ومن ذلك: كتاب (التوحيد في الجامع الصحيح) للبخاري، (ت: 256هـ) وكتاب (التوحيد وإثبات صفات الرب) لابن خزيمة (ت: 311هـ). وكتاب (اعتقاد التوحيد) لأبي عبدالله محمد بن خفيف (ت: 371هـ). وكتاب (التوحيد) لابن منده (ت: 359هـ). وكتاب (التوحيد) للإمام محمد بن عبدالوهاب (ت: 1115هـ). مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - ص10
দ্বিতীয় শাখা: তাওহীদ

'তাওহীদ' শব্দটি ঠিক সেই পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে, যা 'আকিদাহ' শব্দটি অতিক্রম করেছে। আভিধানিক পর্যায়ে এটি ‘ওয়াহ্হাদা-ইউওয়াহ্হিদু-তাওহীদান’ শব্দমূল থেকে উদ্ভূত, যা ‘ওয়াহ্হাদা’ ক্রিয়ার মূল রূপ (মাসদার), যার অর্থ কোনো কিছুকে এক করা। অতঃপর এই অর্থ থেকে এমন একক সত্তার অর্থে এটি স্থানান্তরিত হয়েছে যিনি অন্য সবার থেকে স্বতন্ত্র; কারণ আল্লাহর এক হওয়া কোনো গঠনকারীর গঠনের মাধ্যমে নয়। এই প্রেক্ষাপটে ‘একক’ হলেন তিনি, যিনি তাঁর গুণাবলীতে অন্য সবার থেকে অনন্য। এই অর্থ থেকেই তাদের উক্তি: ‘তার যুগের একক ব্যক্তি’, অর্থাৎ ইলম, বুদ্ধি, মহানুভবতা বা এই জাতীয় বিষয়গুলোতে সমসাময়িকদের মধ্যে তিনি অনন্য।

আর উৎসগত পর্যায়ে অথবা অন্তরের আমল হিসেবে তাওহীদ হলো: রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীতে তাঁকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।

সর্বশেষ পর্যায় তথা স্বতন্ত্র পরিভাষা হিসেবে ‘তাওহীদ’ শব্দটি সেই শাস্ত্রকে বোঝায় যার নাম এটি রাখা হয়েছে। এই বিবেচনায় এটি হলো: এমন এক বিদ্যা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত দলীলের ভিত্তিতে ধর্মীয় আকিদাহসমূহ সাব্যস্ত করার সক্ষমতা অর্জিত হয়। (আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ, ইব্রাহিম আল-বুরাইকান – সংক্ষেপিত – পৃষ্ঠা ১০)

আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে যেগুলোর নাম ‘তাওহীদ’ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

বুখারীর (মৃত্যু: ২৫৬ হি.) ‘কিতাবুত তাওহীদ ফীল জামিইস্‌ সহীহ’, ইবনে খুযাইমার (মৃত্যু: ৩১১ হি.) ‘কিতাবুত তাওহীদ ওয়া ইসবাতু সিফাতুর রব’, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন খাফীফের (মৃত্যু: ৩৭১ হি.) ‘ইতিকাদুত তাওহীদ’, ইবনে মানদাহর (মৃত্যু: ৩৫৯ হি.) ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের (মৃত্যু: ১১১৫ হি.) ‘কিতাবুত তাওহীদ’। (মাবাহিস ফি আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, নাসের বিন আব্দুল কারীম আল-আকল - পৃষ্ঠা ১০)
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الفرع الثالث: السنة

تعدد معناها بحسب الاصطلاحات، فكل أهل علم إسلامي اصطلحوا على دلالة متناسبة وطبيعة هذه العلوم.

فعلماء الحديث السنة عندهم: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو وصف.

وعند علماء أصول الفقه: هي ما أمر به الشارع لا على سبيل الإلزام ........

وعند علماء الفقه: هو ما يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه.

وعند علماء العقيدة الصحيحة ملحوظة فيها أن السنة من مصادر التلقي للعقيدة الصحيحة وطريق من طرق إثباتها. ولذا جعل بعض السلف السنة هي الاتباع، وجعلها بعضهم الإسلام، والقولان غير متنافرين ولا متعارضين لأن الإسلام هو تعبير عن العقيدة الصحيحة، والاتباع يعبر عن طريق التلقي ومنهجه.

فصار معنى السنة هو اتباع العقيدة الصحيحة الثابتة بالكتاب والسنة وممن استعمل هذا اللفظ في هذا المعنى الإمام أحمد بن حنبل في كتابه (السنة) فقد ضمنه العقيدة الصحيحة الثابتة بنقل العدول عن الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وكذا فعل عبد الله بن الإمام أحمد في كتابه (السنة) ومنه أيضا كتاب (السنة) لابن أبي عاصم. المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية لإبراهيم البريكان – بتصرف – ص 12
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ

পারিভাষিক সংজ্ঞা অনুযায়ী এর অর্থের বহুমুখিতা রয়েছে। ইসলামের প্রতিটি শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ স্ব স্ব শাস্ত্রের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ প্রদান করেছেন।

হাদিস বিশারদদের নিকট সুন্নাহ হলো: যা কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ, অনুমোদন অথবা বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত।

উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রবিদদের নিকট এটি হলো: বিধানদাতা যা করার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তা পালনে বাধ্যবাধকতা নেই ........

ফিকহ শাস্ত্রবিদদের নিকট এটি হলো: যা পালনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না।

সঠিক আকিদা বিশেষজ্ঞদের নিকট লক্ষণীয় বিষয় হলো, সুন্নাহ হলো সঠিক আকিদা গ্রহণের অন্যতম উৎস এবং তা প্রমাণের অন্যতম মাধ্যম। এই কারণে সালাফদের কেউ কেউ সুন্নাহ বলতে 'অনুসরণ' (ইত্তিবা) বুঝিয়েছেন, আবার কেউ কেউ একে 'ইসলাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই উভয় বক্তব্যের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য নেই; কারণ ইসলাম হলো সঠিক আকিদার বহিঃপ্রকাশ, আর অনুসরণ হলো তা গ্রহণ করার পদ্ধতি ও মানহাজ।

ফলে সুন্নাহর অর্থ দাঁড়িয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সঠিক আকিদার অনুসরণ করা। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর (আস-সুন্নাহ) গ্রন্থে এই অর্থেই শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন। তিনি এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত সঠিক আকিদা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একইভাবে ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ তাঁর (আস-সুন্নাহ) গ্রন্থে এবং ইবনে আবি আসিমও তাঁর (আস-সুন্নাহ) গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন। আল-মাদখাল লি দিরাসাতিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ - ইব্রাহিম আল-বুরাইকান - সংক্ষেপিত - পৃষ্ঠা ১২
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفرع الرابع: أصول الدين

وهو مركب من مضاف ومضاف إليه، فهو مركب إضافي، ولا يمكن منطقيا أن نتوصل إلى معنى المركب إلا عن طريق تحليل أجزائه المركب منها، وهي (أصول) و (دين).

فأصول جمع أصل وهو لغة ما يبنى عليه غيره كأساس المنزل.

واصطلاحا: ما له فرع. ....

والدين لغة: هو الذل والخضوع، وشرعا: هو امتثال المأمور واجتناب المحظور، أو طاعة الله ورسوله. فيكون المعنى المركب -أصول الدين - هو المبادئ العامة والقواعد الكلية الكبرى التي بها تتحقق طاعة الله ورسوله والاستسلام لأمره ونهيه.

وهذا المعنى لا يراد به إلا علم العقيدة والتوحيد. المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية لإبراهيم البريكان – بتصرف – ص 11

وقد ألف بعض العلماء كتباً في الاعتقاد تحمل اسم أصول الدين:

ومن ذلك: كتاب (أصول الدين) للبغدادي (ت: 429هـ). و (الشرح والإبانة عن أصول الديانة) لابن بطة (ت: 378هـ). و (الإبانة عن أصول الديانة) للأشعري (ت: 324هـ). مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - ص10
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উসুলুদ্দীন (দীনের মূলনীতিসমূহ)

এটি মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এবং মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়) এর সমন্বয়ে গঠিত, সুতরাং এটি একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দসমষ্টি। যৌক্তিকভাবে একটি যৌগিক শব্দের মর্মার্থ অনুধাবন করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না এর গঠনকারী অংশসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়; আর সেগুলো হলো: (উসুল) এবং (দীন)।

‘উসুল’ শব্দটি ‘আসল’-এর বহুবচন, আভিধানিক অর্থে এটি হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে, যেমন ঘরের ভিত্তি বা দালানের ফাউন্ডেশন।

পরিভাষায়: যার শাখা রয়েছে। ....

আভিধানিক অর্থে ‘দীন’ হলো: বিনয় ও আত্মসমর্পণ। আর শরয়ি পরিভাষায় এটি হলো: আদেশ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা, অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। সুতরাং ‘উসুলুদ্দীন’ (দীনের মূলনীতিসমূহ)-এর যৌগিক অর্থ হলো সেই সব সাধারণ নীতিমালা এবং বৃহৎ সামষ্টিক নিয়মাবলি যার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের প্রতি আত্মসমর্পণ বাস্তবায়িত হয়।

এই অর্থ দ্বারা কেবল আকিদাহ (বিশ্বাস) ও তাওহিদের জ্ঞানকেই বোঝানো হয়। (সূত্র: ইব্রাহিম আল-বুরাইকান রচিত ‘আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ’ – সংক্ষেপিত – পৃষ্ঠা ১১)

কিছু আলেম আকিদাহ বিষয়ে এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যেগুলোর শিরোনামে ‘উসুলুদ্দীন’ শব্দটি রয়েছে:

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-বাগদাদীর (মৃত্যু: ৪২৯ হিজরি) রচিত ‘উসুলুদ্দীন’ গ্রন্থ। ইবনে বাত্তার (মৃত্যু: ৩৭৮ হিজরি) রচিত ‘আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ’ এবং আল-আশআরীর (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) রচিত ‘আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ’। (সূত্র: নাসের বিন আব্দুল কারীম আল-আকল রচিত ‘মাবাহিস ফি আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’ - পৃষ্ঠা ১০)
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الفرع الخامس: الفقه الأكبر

الفقه في اللغة هو الفهم، وأضيف إلى الأكبر لإخراج الفقه وهو علم الحلال والحرام وعلم الفروع، وهو اصطلاح عرف في القرن الثاني الهجري حيث سمى الإمام أبو حنيفة النعمان بن زوطى كتابه الذي جمع فيه جملة اعتقادات السلف (الفقه الأكبر) إشارة إلى أنه أعظم ما في شريعة الإسلام ولا يتحقق هذا اللقب إلا على علم العقيدة. المدخل لدراسة العقيدة الإسلامية لإبراهيم البريكان – ص 13
পঞ্চম শাখা: আল-ফিকহুল আকবার

শাব্দিক অর্থে ফিকহ হলো অনুধাবন। একে 'আকবার' (বৃহত্তর) এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে সেই ফিকহ থেকে পৃথক করার জন্য যা হালাল-হারামের জ্ঞান এবং শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত জ্ঞান। এটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে পরিচিত একটি পরিভাষা, যখন ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে জাওতি তাঁর সেই কিতাবটির নামকরণ করেছিলেন 'আল-ফিকহুল আকবার', যাতে তিনি সালাফদের আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহ সংকলন করেছেন। এর মাধ্যমে এই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যে, এটিই ইসলামী শরীয়তের সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় এবং আকিদাহ শাস্ত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে এই উপাধি প্রযোজ্য হয় না। আল-মাদখাল লি দিরাসাতিল আকিদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, ইবরাহিম আল-বুরাইকান – পৃষ্ঠা ১৩
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفرع السادس: الشريعة

أطلقت الشريعة وبإطلاق أخص كما قال ابن تيمية رحمه الله على: (العقائد التي يعتقدها أهل السنة من الإيمان، مثل اعتقادهم أن الإيمان قول وعمل، وأن الله موصوف بما وصف به نفسه ووصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وأن القرآن كلام الله غير مخلوق ..... إلخ) (1).

والشريعة هنا كالسنة، فقد يراد بها ما سنه الله وشرعه من العقائد، وقد يراد بها ما سنه وشرعه من العمل، وقد يراد بها كلاهما.

وقد ألف بعض العلماء كتباً في الاعتقاد تحمل اسم الشريعة، ومن أولها: (الشريعة) لأبي بكر الآجري رحمه الله. و (الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية ومجانبة الفرق المذمومة) لابن بطة الحنبلي رحمه الله. علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري – ص 136

--------------------------------------------

(1) ((مجموع الفتاوى)) (19/ 306،307).
ষষ্ঠ শাখা: আশ-শারীয়াহ

শারীয়াহ শব্দটি আরও বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আকীদা সংক্রান্ত সেই সকল বিষয় যা আহলে সুন্নাহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বলে বিশ্বাস করে; যেমন তাদের এই বিশ্বাস যে, ঈমান হলো কথা ও কর্মের সমষ্টি, এবং আল্লাহ সেই সমস্ত গুণে গুণান্বিত যেগুলোর মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, এবং কুরআন আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়... ইত্যাদি) (১)।

এখানে শারীয়াহ শব্দটি 'সুন্নাহ' শব্দের মতো; এর দ্বারা কখনো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ আকীদা সংক্রান্ত বিষয়াদি উদ্দেশ্য হয়, কখনো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ আমল সংক্রান্ত বিষয়াদি উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো উভয়টিই উদ্দেশ্য হতে পারে।

কিছু আলিম আকীদা শাস্ত্রের ওপর এমন কিছু কিতাব রচনা করেছেন যেগুলোর শিরোনামে 'আশ-শারীয়াহ' শব্দটি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: আবু বকর আল-আজুরী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আশ-শারীয়াহ', এবং ইবনে বাত্তাহ আল-হাম্বালী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আল-ইবানাহ আন শারীয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ ওয়া মুজানাবাতিল ফিরাকিল মাজমুমাহ' (পরিত্রাণপ্রাপ্ত দলের শারীয়াহর বর্ণনা এবং নিন্দিত দলসমূহ থেকে দূরত্ব অবলম্বন)। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা তত্ত্ব, মুহাম্মাদ ইউসরি - পৃষ্ঠা ১৩৬

--------------------------------------------

(১) ((মাজমুউল ফাতাওয়া)) (১৯/ ৩০৬, ৩০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الفرع السابع: الإيمان

صنف السلف كتبا باسم الإيمان بحثت قضايا التوحيد ومسائل الاعتقاد جميعا ومن أولها:

- (كتاب الإيمان ومعالمه وسننه واستكمال درجاته) للإمام أبي عبيد القاسم ابن سلام البغدادي رحمه الله.

- (كتاب الإيمان) للحافظ أبي بكر عبد الله بن محمد بن أبي شبة العبسي رحمه الله.

- (كتاب الإيمان) للحافظ محمد بن إسحاق بن يحيى بن منده رحمه الله. علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري – ص 130
সপ্তম শাখা: ঈমান

সালাফগণ ঈমান নামে এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে তাওহীদের বিষয়াবলী এবং আকিদার যাবতীয় মাসআলা আলোচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

- ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম আল-বাগদাদী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত (কিতাবুল ঈমান ওয়া মাআলিমুহু ওয়া সুনানুহু ওয়া ইস্তিকমালু দারাজাতিহি)।

- হাফিজ আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবি শায়বাহ আল-আবসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত (কিতাবুল ঈমান)।

- হাফিজ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াহইয়া ইবন মানদাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত (কিতাবুল ঈমান)। মুহাম্মাদ ইউসরি প্রণীত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা শাস্ত্র – পৃষ্ঠা ১৩০
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفرع الأول: علم الكلام

هو علم يقتدر به على المخاصمة في العقائد والمناظرة فيها بإيراد الحجج والشبه ودفع إيرادات الخصوم فهو باختصار علم الجدل العقدي المذموم شرعا فهو مراء متعلق بإظهار المذاهب والانتصار لها.

الفرق بين علم التوحيد وعلم الكلام

ويتبين من الأمور التالية:

- علم التوحيد يعتمد على الكتاب والسنة وإجماع السلف والمعقول الصحيح المستند إليها.

أما علم الكلام فهو علم يعتمد على الألفاظ المنطقية والأقيسة الكلامية فهو متأثر بعوامل خارجية عن دلالة الكتاب والسنة.

- علم التوحيد علم شرعي لا بدعة فيه وعلم الكلام علم مبتدع لم يعرفه الرسول صلى الله عليه وسلم ولا الصحابة ولا التابعين ولا تابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.

- علم التوحيد لا يشتمل على أي لفظ بدعي ولا مصطلح فلسفي أما علم الكلام فإنه يشتمل على كثير من الألفاظ البدعية والمصطلحات المنطقية والآراء الفلسفية.

- أصل علم التوحيد موجود في العصور المفضلة القرون الثلاثة وأما علم الكلام فليس كذلك بل هو علم حادث نتيجة مؤثرات خارجية بسبب ترجمة كتب المنطق والفلسفة.

- آثار علم التوحيد محمودة وأما آثار علم الكلام فهي مذمومة.

- إن علم التوحيد أداة للمحق على المبطل وذلك بإظهاره لباطله وأما علم الكلام فهو أداة للمحق والمبطل وهو إلى المبطل أقرب. إتحاف المريد بمعرفة التوحيد لإبراهيم البريكان – ص 17

وإطلاق علم الكلام يعرف عند سائر الفرق المتكلمة، كالمعتزلة والأشاعرة، ومن يسلك سبيلهم، وهو لا يجوز لأن علم الكلام حادث مبتدع، ويقوم على التقول على الله بغير علم، ويخالف منهج السلف في تقرير العقائد.

من ذلك: (شرح المقاصد في علم الكلام) للتفتازاني (ت:791هـ) مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - ص10
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলমুল কালাম (তাত্ত্বিক ধর্মতত্ত্ব)

এটি এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে আকীদার বিষয়ে বিতর্ক করা এবং যুক্তি ও সংশয় উপস্থাপন ও প্রতিপক্ষের আপত্তিসমূহ খণ্ডন করার সক্ষমতা অর্জিত হয়। সংক্ষেপে, এটি হচ্ছে আকিদাগত বিতর্কের এমন একটি বিদ্যা যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। এটি মূলত নিজ মতবাদকে জাহির করা এবং তার পক্ষে বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে করা এক প্রকার বাকবিতণ্ডা।

ইলমুত তাওহীদ এবং ইলমুল কালামের মধ্যে পার্থক্য

যা নিম্নলিখিত বিষয়াবলি থেকে স্পষ্ট হয়:

- ইলমুত তাওহীদ কুরআন, সুন্নাহ, সালাফদের ইজমা এবং এগুলোর ওপর ভিত্তি করে সঠিক যুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

পক্ষান্তরে ইলমুল কালাম এমন এক বিদ্যা যা যৌক্তিক শব্দাবলি এবং কালামী অনুমানের ওপর নির্ভর করে। এটি কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার বাইরের বাহ্যিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।

- ইলমুত তাওহীদ একটি শরয়ী বিদ্যা যাতে কোনো বিদআত নেই। আর ইলমুল কালাম হলো একটি উদ্ভাবিত বিদ্যা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীগণ জানতেন না।

- ইলমুত তাওহীদ কোনো বিদআতী শব্দ বা দার্শনিক পরিভাষা ধারণ করে না। কিন্তু ইলমুল কালাম অনেক বিদআতী শব্দ, যৌক্তিক পরিভাষা এবং দার্শনিক মতামতে ভরপুর।

- ইলমুত তাওহীদের উৎস শ্রেষ্ঠ তিন যুগে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু ইলমুল কালাম সেরূপ নয়; বরং এটি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের কিতাবসমূহ অনুবাদের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক প্রভাবে উদ্ভূত একটি নতুন বিদ্যা।

- ইলমুত তাওহীদের প্রভাব প্রশংসনীয়, কিন্তু ইলমুল কালামের প্রভাব নিন্দনীয়।

- ইলমুত তাওহীদ হলো বাতিলপন্থীর বিরুদ্ধে সত্যপন্থীর এক হাতিয়ার, যা বাতিলের অসারতা প্রকাশ করে দেয়। আর ইলমুল কালাম সত্যপন্থী ও বাতিলপন্থী উভয়ের হাতিয়ার, তবে এটি বাতিলের বেশি নিকটবর্তী। (ইতহাফুল মুরিদ বি-মারিফাতিত তাওহীদ, ইবরাহীম আল-বুরাইকান - পৃষ্ঠা ১৭)

ইলমুল কালাম পরিভাষাটির ব্যবহার মুতাজিলা, আশারিয়া এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করে—এমন সকল কালামী ফিরকার নিকট পরিচিত। এটি ব্যবহার করা বৈধ নয়, কারণ ইলমুল কালাম একটি নব-উদ্ভাবিত বিদআত। এটি জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকীদা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের পরিপন্থী।

এর উদাহরণস্বরূপ: তাফতাজানির (মৃত্যু: ৭৯১ হিজরি) 'শারহুল মাকাসিদ ফি ইলমিল কালাম'। (মাবাহিস ফি আকীদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, নাসের বিন আব্দুল কারীম আল-আকল - পৃষ্ঠা ১০)
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفرع الثاني: الفلسفة

يطلق علم الفلسفة على علم العقيدة عند الفلاسفة ومن سلك سبيلهم، وهو إطلاق لا يجوز في العقيدة لأن الفلسفة مبناها على الأوهام والعقليات الخيالية، والتصورات الخرافية عن أمور الغيب المحجوبة.
দ্বিতীয় শাখা: দর্শন

দার্শনিকগণ এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের নিকট আকিদা শাস্ত্রের ওপর দর্শন শাস্ত্রের পরিভাষাটি প্রয়োগ করা হয়; আর আকিদার ক্ষেত্রে এই পরিভাষাটির প্রয়োগ বৈধ নয়, কারণ দর্শনের ভিত্তি হলো সংশয়, কাল্পনিক যুক্তি এবং অদৃশ্যের আবৃত বিষয়াবলী সম্পর্কে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণার ওপর।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفرع الثالث: التصوف

تطلق كلمة تصوف على العقيدة عند بعض المتصوفة والفلاسفة، والمستشرقين ومن نحا نحوهم، وهو إطلاق مبتدع لأنه ينبني على اعتبار شطحات المتصوفة ومزاعمهم وخرافاتهم في العقيدة.
তৃতীয় শাখা: তাসাউফ

কিছু সুফি, দার্শনিক, প্রাচ্যবিদ এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছে, তাদের নিকট আকিদার ক্ষেত্রে তাসাউফ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। এটি একটি নবউদ্ভাবিত পরিভাষা; কারণ এটি আকিদার বিষয়ে সুফিদের প্রলাপ (শাতাহাত), তাদের ভিত্তিহীন দাবি এবং কুসংস্কারকে গ্রহণ করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفرع الرابع: الإلهيات

وتطلق كلمة الإلهيات على العقيدة عند أهل الكلام والفلاسفة والمستشرقين وأتباعهم وغيرهم، وهو خطأ، لأن المقصود بها عندهم فلسفات الفلاسفة، وكلام المتكلمين والملاحدة فيما يتعلق بالله - تعالى -.
চতুর্থ শাখা: ইলাহিয়্যাত (ঈশ্বরতত্ত্ব)

ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ, দার্শনিকগণ, প্রাচ্যবিদগণ এবং তাদের অনুসারী ও অন্যদের নিকট আকিদাহ্ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ‘ইলাহিয়্যাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা একটি ভুল; কারণ তাদের নিকট এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সংক্রান্ত দার্শনিকদের দর্শন এবং কালাম শাস্ত্রবিদ ও নাস্তিকদের আলাপ-আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفرع الخامس: ما وراء الطبيعة

أو (الميتافيزيقيا) كما يسميها الفلاسفة والكتاب الغربيون ومن نحا نحوهم، وهي قريبة من معنى الإلهيات. ويطلق الناس على ما يؤمنون به ويعتنقونه من مبادئ وأفكار (عقائد) وإن كانت باطلة أو لا تستند إلى دليل عقلي ولا نقلي، فإن للعقيدة مفهوماً صحيحاً هو الحق، وهو عقيدة أهل السنة والجماعة المستمدة من الكتاب والسنة الثابتة، وإجماع السلف الصالح مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - بتصرف - ص11
পঞ্চম শাখা: পরাবিদ্যা

অথবা (মেটাফিজিক্স) যেমনটি দার্শনিক, পাশ্চাত্য লেখক এবং তাদের অনুগামীরা একে অভিহিত করেছেন; এটি মূলত ইলাহিয়্যাত বা ঐশ্বরিক বিষয়ের অর্থের নিকটবর্তী। মানুষ যেসব নীতি ও চিন্তাধারার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং যা লালন করে, সেগুলোকে তারা ‘আকিদা’ (বিশ্বাসমালা) বলে অভিহিত করে, যদিও তা বাতিল হতে পারে কিংবা কোনো যৌক্তিক বা বর্ণনাগত দলিলের ওপর ভিত্তিহীন হতে পারে। বস্তুত আকিদার একটি সঠিক ধারণা রয়েছে যা সত্য; আর তা হলো কিতাব, সুসাব্যস্ত সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের ঐকমত্য থেকে গৃহীত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সংক্রান্ত গবেষণাপত্র, নাসের বিন আব্দুল কারীম আল-আকল - পরিমার্জিত - পৃষ্ঠা ১১
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثالث: موضوعات علم العقيدة

وموضوع علم التوحيد عند أهل السنة والجماعة يدور على أمور منها: بيان حقيقة الإيمان بالله تعالى وتوحيده، وما يجب له تعالى من صفات الجلال والكمال، مع إفراده وحده بالعبادة دون شريك، والإيمان بالملائكة الأبرار والرسل الأطهار، وما يتعلق باليوم الآخر والقضاء والقدر، كما يدور على ضد التوحيد وهو الشرك وهو الكفر وبيان حقيقتهما وأنواعهما، وقد يقال إن موضوع علم التوحيد يدور على محاور ثلاثة، وذلك على النحو التالي:

1 - ذات الله تعالى أو الإلهيات، والبحث في ذات الله تعالى من حيثيات ثلاث، ما يتصف به تعالى … وما يتنزه عنه … وحقه على عباده ....

2 - ذوات الرسل الكرام أو النبوات والبحث فيها من الحيثيات التالية: ما يلزم ويجب عليهم … ما يجوز في حقهم … ما يستحيل في حقهم … ما يجب على أتباعهم.

3 - السمعيات أو الغيبيات: وهو ما يتوقف الإيمان به على مجرد ورود السمع أو الوحي به، وليس للعقل في إثباتها أو نفيها مدخل كأشراط الساعة وتفاصيل البعث … والبحث في السمعيات أو مسائل الغيب يكون من حيث اعتقادها وهو يقوم على دعامتين: الإقرار بها مع التصديق ويقابله الجحود والإنكار لها، الإمرار لها مع إثبات معناها ويقابله الخوض في الكنه والحقيقة، ومحاولة التصور والتوهم بالعقل بعيدا عن النقل.

وضابط السمعيات: أن العقل لا يمنعها ولا يحيلها، ولا يقدر على ذلك، ولا يقدر أن يوجبها ولا يحار في ذلك، فمتى ما صح النقل عن الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم فإن الواجب اعتقاد ذلك والإقرار به، ودفع كل تعارض موهوم بين شرع الله وهو الوحي وبين خلقه وهو العقل، … والقاعدة الذهبية هو أنه لا يتعارض وحي صحيح مع عقل صريح عند التحقيق علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري – بتصرف - ص155

ومن موضوعات علم العقيدة أيضاً:

القدر، والأخبار، وأصول الأحكام القطعية، وسائر أصول الدين والاعتقاد، ويتبعه الرد على أهل الأهواء والبدع وسائر الملل والنحل الضالة، والموقف منهم مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة لناصر بن عبد الكريم العقل - ص10
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আকীদা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়সমূহ

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট তাওহীদ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় কতগুলো বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের হাকীকত ও তাঁর তাওহীদের বর্ণনা; মহান আল্লাহর জন্য যেসব মহিমা ও পূর্ণতার গুণাবলি আবশ্যক তা বর্ণনা করা; কোনো অংশীদার ব্যতীত কেবল তাঁরই ইবাদত করা; পুণ্যবান ফেরেশতাকুল ও পবিত্র রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা; এবং পরকাল ও তাকদীর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। তেমনিভাবে এটি তাওহীদের বিপরীত বিষয় অর্থাৎ শিরক ও কুফর সম্পর্কে এবং এ দুটির হাকীকত ও প্রকারভেদ বর্ণনার ওপরও আবর্তিত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তাওহীদ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় তিনটি মূল অক্ষের ওপর আবর্তিত হয়, যা নিম্নরূপ:

১ - মহান আল্লাহর সত্তা বা ইলাহিয়াত, এবং তিনটি দিক থেকে মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে আলোচনা: মহান আল্লাহ যে সকল গুণে গুণান্বিত... তিনি যা কিছু থেকে পবিত্র... এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অধিকার...।

২ - সম্মানিত রাসূলগণের সত্তা বা নবুওয়াত, এবং নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে এ বিষয়ে আলোচনা: তাঁদের জন্য যা অপরিহার্য ও ওয়াজিব... তাঁদের ক্ষেত্রে যা সম্ভব... তাঁদের ক্ষেত্রে যা অসম্ভব... এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর যা ওয়াজিব।

৩ - সামইয়াত (শ্রুত বিষয়াদি) বা গায়েবিয়াত (অদৃশ্য বিষয়াদি): এগুলো এমন বিষয় যার ওপর ঈমান আনা কেবল শ্রবণ বা ওহী আসার ওপর নির্ভরশীল। এগুলো সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই, যেমন কিয়ামতের আলামতসমূহ এবং পুনরুত্থানের বিস্তারিত বিবরণ... আর সামইয়াত বা গায়েবের বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা সেগুলোর বিশ্বাসের দিক থেকে হয়ে থাকে, যা দুটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: সত্যায়নের সাথে সেগুলো স্বীকার করা, যার বিপরীতে রয়েছে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান; এগুলোর অর্থ সাব্যস্ত করার সাথে সাথে এগুলোকে (যেভাবে এসেছে সেভাবে) অতিক্রম করানো, যার বিপরীতে রয়েছে এর স্বরূপ ও হাকীকত নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা এবং ওহীর বর্ণনা থেকে দূরে সরে বিবেকের মাধ্যমে কল্পনা ও ধারণা করার চেষ্টা করা।

সামইয়াতের মানদণ্ড হলো: বিবেক একে বাধা দেয় না এবং একে অসম্ভবও মনে করে না, বিবেক তেমন সক্ষমতাও রাখে না; আবার বিবেক একে অপরিহার্যও করতে পারে না এবং এ নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ও হয় না। সুতরাং যখনই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা সহীহ বা বিশুদ্ধ হবে, তখন তা বিশ্বাস করা ও স্বীকার করে নেওয়া ওয়াজিব। আর আল্লাহর শরীয়ত অর্থাৎ ওহী এবং তাঁর সৃষ্টি অর্থাৎ বিবেকের মধ্যে কাল্পনিক সকল দ্বন্দ্ব নিরসন করা ওয়াজিব... স্বর্ণালী মূলনীতি হলো: সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সময় কোনো বিশুদ্ধ ওহীর সাথে স্পষ্ট বিবেকের কোনো বিরোধ হয় না। (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আকীদা শাস্ত্র - মুহাম্মদ ইউসরী, সংক্ষেপিত - পৃষ্ঠা ১৫৫)

আকীদা শাস্ত্রের আরও কিছু আলোচ্য বিষয় হলো:

তাকদীর, সংবাদসমূহ, অকাট্য বিধানাবলির মূলনীতি এবং দ্বীন ও বিশ্বাসের অন্যান্য সকল মূলনীতি। এর অনুগামী বিষয় হলো প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতী দল এবং অন্যান্য সকল পথভ্রষ্ট ধর্ম ও গোষ্ঠীর খণ্ডন করা এবং তাদের ব্যাপারে অবস্থান গ্রহণ করা। (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা বিষয়ক আলোচনা - নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল - পৃষ্ঠা ১০)
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الرابع: حكم تعلم علم التوحيد

(ينبغي أن يعلم أن حكم العلم كحكم معلومه، فإن كان المعلوم فرضاً أو سنة فعلمه كذلك، إذا توقف حصول المعلوم على تعلم ذلك العلم) (1).

وفي الحق أن تعلم علم التوحيد منه ما هو فرض عين، ومنه ما هو فرض كفاية، وهذا شأن العلوم الشرعية عامة.

قال ابن عبد البر رحمه الله: (أجمع العلماء أن من العلم ما هو فرض متعين على كل امرئ في خاصته بنفسه، ومنه ما هو فرض على الكفاية، إذا قام به قائم سقط فرضه على أهل ذلك الموضع) (2).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (وطلب العلم الشرعي فرض على الكفاية إلا فيما يتعين، مثل طلب كل واحد علم ما أمره به وما نهاه عنه، فإن هذا فرض على الأعيان) (3).

وإن أعظم ما أمر الله به هو التوحيد، قال تعالى: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ [محمد: 19] وقال سبحانه: وَقَضَى رَبُّكَ أَلَاّ تَعْبُدُواْ إِلَاّ إِيَّاهُ [الإسراء: 23]، وفي حديث معاذ رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا معاذ، أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال: حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئاً)) (4) وفي حديث معاذ الآخر قال صلى الله عليه وسلم: ((فليكن أول ما تدعوهم إليه: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله)) (5).

قال الإمام ابن أبي العز رحمه الله: (اعلم أن التوحيد هو أول دعوة الرسل وأول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله عز وجل … ولهذا كان الصحيح أن أول واجب يجب على المكلف شهادة أن لا إله إلا الله، لا النظر (6)، ولا القصد إلى النظر (7)، ولا الشك (8)، فالتوحيد أول ما يدخل به في الإسلام، وآخر ما يخرج به من الدنيا، فهو أول واجب وآخر واجب) (9).

قال الشيخ حافظ الحكمي رحمه الله في شرح منظومته (10):

أول واجب على العبيد … معرفة الرحمن بالتوحيد

إذ هو من كل الأوامر أعظم … وهو نوعان أيا من يفهم

ومما يدل على أنه آخر واجب، حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لقنوا موتاكم لا إله إلا الله)) (11) وفي الصحيح من حديث عثمان رضي الله عنه: ((من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله، دخل الجنة)) (12).

فتعلم فرض العين من علم التوحيد هو أول الواجبات وأولاها وأفرضها على المكلفين أجمعين.

وفرض العين منه، هو: ما تصح به عقيدة المسلم في ربه، من حيث ما يجوز ويجب ويمتنع في حق الله تعالى، ذاتا وأسماء وأفعالاً وصفات، على وجه الإجمال، وهذا ما يسميه بعض العلماء بالإيمان المجمل أو الإجمالي.

وهو ما يسأل عنه جميع الخلق؛ لما روي عن أنس بن مالك وابن عمر ومجاهد في قوله عز وجل: فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِيْنَ [الحجر: 92] قالوا: (عن لا إله إلا الله) (13).

وأما فرض الكفاية من علم التوحيد، فما زاد على ذلك من التفصيل والتدليل والتعليل، وتحصيل القدرة على رد الشبهات وقوادح الأدلة، وإلزام المعاندين وإفحام المخالفين، وهذا ما يسمى بالإيمان التفصيلي، وهو المقدور على إثباته بالأدلة وحل ودفع الشبه الواردة عليه، وهو من أجل فروض الكفايات في علوم الإسلام؛ لأنه ينفي تأويل المبطلين وانتحال الغالين، فلا يجوز أن يخلو الزمان ممن يقوم بهذا الفرض الكفائي المهم، إذ لا شك أن حفظ عقائد الناس أكثر أهمية من حفظ أبدانهم وأموالهم وأعراضهم.

واختصاراً فإن حكم الشارع في تعلم علم التوحيد أنه فرض عين على كل مكلف، من ذكر وأنثى وذلك بالأدلة الإجمالية وأما بالأدلة التفصيلية ففرض على الكفاية. ويشترط للتكليف بالتوحيد أربعة شروط، وهي: العقل، والبلوغ، وسلامة حاستي السمع أو البصر، وبلوغ الدعوة. علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري – ص: 163

--------------------------------------------

(1) ((ترتيب العلوم)) للمرعشي (ص: 90).

(2) ((جامع بيان العلم وفضله)) لابن عبد البر (ص: 10).

(3) ((مجموع الفتاوى)) (3/ 328، 329)، (28/ 80).

(4) رواه البخاري (7373)، ومسلم (30).

(5) رواه البخاري (1458)، ومسلم (19) بلفظ: ((فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله)). من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

(6) انظر: ((الإنصاف)) للباقلاني (ص: 22).

(7) انظر: ((الإرشاد)) للجويني (ص: 3).

(8) انظر: ((الأصول الخمسة)) للقاضي عبد الجبار.

(9) ((شرح العقيدة الطحاوية)) لابن أبي العز (1/ 21 - 23).

(10) انظر: ((معارج القبول)) (1/ 29).

(11) رواه مسلم (917).

(12) رواه مسلم (26).

(13) رواه البخاري معلقاً قبل حديث (26) قائلاً: وقال عدة من أهل العلم … ، قال ابن حجر في ((تغليق التعليق)) (2/ 28): قلت: روي ذلك عن أنس، ومجاهد، وابن عمر وغيرهم. وقال الدارقطني في ((العلل)) (12/ 20): ورفعه غير صحيح، وانظر: ((تفسير الطبري)) (17/ 150)، ((الدعاء)) للطبراني (ص: 438 - 439).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওহীদ শিক্ষা করার বিধান

(এটি জানা উচিত যে, কোনো জ্ঞান অর্জনের বিধান নির্ভর করে সেই জ্ঞানের বিষয়ের বিধানের ওপর। সুতরাং যদি বিষয়টি ফরয বা সুন্নাত হয়, তবে তা অর্জন করাও তদ্রূপ হবে, যদি বিষয়টি লাভ করা সেই জ্ঞান অর্জনের ওপর নির্ভর করে) (১)।

প্রকৃতপক্ষে, তাওহীদ শিক্ষা করার কিছু অংশ ‘ফরযে আইন’ এবং কিছু অংশ ‘ফরযে কিফায়া’। সাধারণ শরয়ী জ্ঞানসমূহের অবস্থাও এমনই।

ইবন আবদিল বার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (উলামাগণ একমত হয়েছেন যে, জ্ঞানের মধ্যে এমন কিছু আছে যা প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরয এবং এমন কিছু আছে যা ফরযে কিফায়া; যখন কেউ তা পালন করে, তখন সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়) (২)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরযে কিফায়া, তবে যা নির্দিষ্টভাবে ফরয করা হয়েছে তা ব্যতীত। যেমন প্রত্যেকের জন্য সেই জ্ঞান অর্জন করা যা তাকে আদেশ করা হয়েছে এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এটি ফরযে আইন) (৩)।

আর আল্লাহ যা কিছুর আদেশ দিয়েছেন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাওহীদ। মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের পাপের জন্য। আল্লাহ তোমাদের দিবাভাগের চলাফেরা এবং রাত্রিবেলার অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন" [মুহাম্মাদ: ১৯]। তিনি আরও বলেন: "আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না" [আল-ইসরা: ২৩]। মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((হে মু'আয, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না)) (৪)। মু'আযের অন্য এক হাদীসে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করবে তা হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)) (৫)।

ইমাম ইবন আবিল ইয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (জেনে রাখুন, তাওহীদ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের প্রথম বিষয়, পথের প্রথম মঞ্জিল এবং মহান আল্লাহর দিকে অগ্রসরমান ব্যক্তির প্রথম অবস্থান... এই কারণেই বিশুদ্ধ মত হলো এই যে, মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব বা কর্তব্য হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর সাক্ষ্য দেওয়া; লক্ষ্য করা (নযর) নয় (৬), লক্ষ্য করার সংকল্প (কাসদ ইলাল নাযার) নয় (৭), কিংবা সন্দেহ পোষণ করাও নয় (৮)। সুতরাং তাওহীদ হলো সেই বিষয় যার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করা হয় এবং যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া হয়। অতএব এটিই প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই শেষ ওয়াজিব) (৯)।

শায়খ হাফিয আল-হাকামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মানযূমাহর ব্যাখ্যায় বলেন (১০):

বান্দার ওপর প্রথম ওয়াজিব... তাওহীদের মাধ্যমে রহমানকে চিনে নেওয়া।

কেননা এটি সকল আদেশের মধ্যে মহান... এবং এটি দুই প্রকার, হে অনুধাবনকারী!

এটি যে শেষ ওয়াজিব, তার প্রমাণ হলো আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন দাও)) (১১)। সহীহ গ্রন্থে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে: ((যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (১২)।

সুতরাং তাওহীদ বিষয়ক ফরযে আইন শিক্ষা করা হলো সকল মুকাল্লাফ বা শরীয়ত পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের ওপর প্রথম, প্রধান এবং সর্বাপেক্ষা বড় ফরয।

এর মধ্যে ফরযে আইন হলো: সেই বিষয়গুলো যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি একজন মুসলিমের আকিদা বা বিশ্বাস সঠিক হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহর সত্তা, নামসমূহ, কার্যাবলি এবং গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে যা কিছু সম্ভব, যা কিছু আবশ্যক এবং যা কিছু অসম্ভব, তা সামগ্রিকভাবে জানা। একে কোনো কোনো আলিম ‘ঈমানে মুজমাল’ বা সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস বলে অভিহিত করেছেন।

এটি সেই বিষয় যা সম্পর্কে সকল সৃষ্টিকে প্রশ্ন করা হবে; কারণ আনাস বিন মালিক, ইবন উমর এবং মুজাহিদ মহান আল্লাহর এই বাণী: "আপনার রবের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সকলকে প্রশ্ন করব" [আল-হিজর: ৯২] এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: ("লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" সম্পর্কে) (১৩)।

আর তাওহীদ বিজ্ঞানের ফরযে কিফায়া হলো: এর অতিরিক্ত বিস্তারিত বর্ণনা, দলীল-প্রমাণ ও কারণসমূহ জানা এবং সংশয় নিরসন ও দলীলের ত্রুটিসমূহ খণ্ডনের সক্ষমতা অর্জন করা। এছাড়া হঠকারী ও বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করা। একে ‘ঈমানে তাফসীলী’ বা বিস্তারিত বিশ্বাস বলা হয়। এটি দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ করা এবং উদ্ভূত সংশয় নিরসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফরযে কিফায়া; কারণ এটি বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের মিথ্যাচারকে দূর করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ফরযে কিফায়া পালনকারী ব্যক্তি থেকে কোনো যুগই শূন্য থাকা জায়েয নয়। কারণ মানুষের ধন-সম্পদ, জীবন ও সম্মান রক্ষার চেয়ে তাদের আকিদা রক্ষা করা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে, তাওহীদ শিক্ষা করার ব্যাপারে শরীয়তদাতার বিধান হলো—এটি প্রত্যেক মুকাল্লাফ পুরুষ ও নারীর ওপর ফরযে আইন, যা সামগ্রিক দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আর বিস্তারিত দলীলের ক্ষেত্রে এটি ফরযে কিফায়া। তাওহীদের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার (তাকলীফ) জন্য চারটি শর্ত রয়েছে: বুদ্ধিমান হওয়া, বালেগ হওয়া, শ্রবণ বা দর্শন ইন্দ্রিয়ের সুস্থতা এবং দাওয়াত পৌঁছানো। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা বিষয়ক জ্ঞান, মুহাম্মদ ইউসরী – পৃষ্ঠা: ১৬৩

--------------------------------------------

(১) মারআশীর ‘তারতীবুল উলূম’ (পৃষ্ঠা: ৯০)।

(২) ইবন আবদিল বারের ‘জামি’ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ (পৃষ্ঠা: ১০)।

(৩) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (৩/৩২৮, ৩২৯), (২৮/৮০)।

(৪) বুখারী (৭৩৭৩) এবং মুসলিম (৩০) বর্ণনা করেছেন।

(৫) বুখারী (১৪৫৮) এবং মুসলিম (১৯) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ((তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করবে তা হলো আল্লাহর ইবাদত করা))।

(৬) দেখুন: বাকিল্লানীর ‘আল-ইনসাফ’ (পৃষ্ঠা: ২২)।

(৭) দেখুন: জুওয়াইনীর ‘আল-ইরশাদ’ (পৃষ্ঠা: ৩)।

(৮) দেখুন: কাযী আব্দুল জব্বারের ‘আল-উসূলুল খামসাহ’।

(৯) ইবন আবিল ইয-এর ‘শারহুল আকিদাতিত্ব ত্বহাবিইয়াহ’ (১/২১ - ২৩)।

(১০) দেখুন: ‘মা’আরিজুল কবুল’ (১/২৯)।

(১১) মুসলিম (৯১৭) বর্ণনা করেছেন।

(১২) মুসলিম (২৬) বর্ণনা করেছেন।

(১৩) বুখারী (২৬) নং হাদীসের পূর্বে মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: বিজ্ঞ উলামাদের একটি দল বলেছেন..., ইবন হাজার ‘তাগলীকুত তা’লীক’-এ (২/২৮) বলেছেন: আমি বলি: এটি আনাস, মুজাহিদ, ইবন উমর এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। দারা কুতনী ‘আল-ইলাল’-এ (১২/২০) বলেছেন: এর মারফূ হওয়া সঠিক নয়। আরও দেখুন: তাফসীরে তাবারী (১৭/১৫০), তাবারানীর ‘আদ-দুআ’ (পৃষ্ঠা: ৪৩৮ - ৪৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الخامس: فضل علم التوحيد

إذا كانت العلوم الشرعية كلها فاضلة لتعلقها بالوحي المطهر؛ فإن علم التوحيد في الذروة من هذا الفضل العميم، حيث حاز الشرف الكامل دون غيره من العلوم، وذلك يظهر بالنظر إلى جهات ثلاث: موضوعه، ومعلومه، والحاجة إليه.

فضله من جهة موضوعه: من المتقرر أن المتعلق يشرف بشرف المتعلق، فالتوحيد يتعلق بأشرف ذات، وأكمل موصوف، بالله الحي القيوم، المتفرد بصفات الجلال والجمال والكمال، ونعوت الكبرياء والعزة؛ لذا كان علم التوحيد أشرف العلوم موضوعا ومعلوما، وكيف لا يكون كذلك وموضوعه رب العالمين، وصفوة خلق الله أجمعين، ومآل العباد إما إلى جحيم أو إلى نعيم، ولأجل هذا سماه بعض السلف الفقه الأكبر.

وتحقيق التوحيد هو أشرف الأعمال مطلقاً … وسئل النبي صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ فقال: ((إيمان بالله ورسوله)) (1).

وهو موضوع دعوة رسل الله أجمعين، قال الإمام ابن القيم رحمه الله: وجميع الرسل إنما دعوا إلى إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ [الفاتحة: 5]، فإنهم كلهم دعوا إلى توحيد الله وإخلاص عبادته من أولهم إلى آخرهم، فقال نوح لقومه: اعْبُدُواْ اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ [الأعراف: 59]، وكذلك قال هود وصالح وشعيب وإبراهيم، قال الله تعالى: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ [النحل: 36] (2).

والله سبحانه وتعالى إنما أرسل الرسل وأنزل الكتب لأجل إقامة التوحيد بين العبيد، قال تعالى: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ [النحل: 36]، وله خلق الجن والإنس، قال تعالى: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإنسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ [الذاريات: 56]، أي: يوحدون .. ، فأهم ما على العبد معرفته هو التوحيد، وذلك قبل معرفة العبادات كلها حتى الصلاة.

فضله من جهة معلومه: إن معلوم علم التوحيد هو مراد الله الشرعي، الدال عليه وحيه وكلامه الجامع للعقائد الحقة، كالأحكام الاعتقادية المتعلقة بالإيمان بالله تعالى وملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر والبعث بعد الموت.

ومراد الله تعالى يجمع أموراً ثلاثة، وتترتب عليه أمور ثلاثة، فهو يجمع أن الله تعالى أراده وأحبه فأمر به، ويترتب على كونه أمر به أن يثيب فاعله، ويعاقب تاركه، وأن ينهي عن مخالفته، لأن الأمر بالشيء نهي عن ضده، فالأمر بالتوحيد نهي عن الشرك ولابد.

قال تعالى: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا [المائدة: 3]، قال عمر رضي الله عنه: ((قد عرفنا ذلك اليوم والمكان الذي نزلت فيه على النبي، وهو قائم بعرفة يوم جمعة)) (3).

فاجتمع لدى نزولها ثلاثة مناسبات لا تجتمع بعد ذلك أبداً:

عيد وعيد وعيد صرن مجتمعة

وجه الحبيب ويوم العيد والجمعة

فنزلت في عيد المسلمين الأسبوعي، وهو يوم الجمعة، الذي وافق عيد الحجاج، وهو يوم عرفة، وهو اليوم الذي حضره النبي صلى الله عليه وسلم مع أمته حاجاً، واجتمع بهم اجتماعه الأكبر والأخير.

ومعلوم علم التوحيد هو الأحكام الاعتقادية المكتسبة من الأدلة المرضية، من كتاب ناطق وسنة ماضية.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1519)، ومسلم (83). من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) ((التنبيهات السنية على شرح الواسطية)) لعبد العزيز الرشيد (ص 33).

(3) رواه البخاري (45)، ومسلم (3017). من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহীদ বিদ্যার ফযীলত

যেহেতু সমস্ত শরয়ী জ্ঞানই পবিত্র ওহীর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে ফযীলতপূর্ণ; তাই তাওহীদ বিদ্যা এই ব্যাপক ফযীলতের শিখরে অবস্থান করছে, কারণ এটি অন্যান্য সমস্ত বিদ্যার ঊর্ধ্বে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা লাভ করেছে। আর এটি তিনটি দিক বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয়: এর আলোচ্য বিষয়, এর জ্ঞাত বিষয় এবং এর প্রয়োজনীয়তা।

আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে এর ফযীলত: এটি প্রতিষ্ঠিত যে, কোনো কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় সেই সংশ্লিষ্ট বস্তুর মর্যাদার ভিত্তিতেই মর্যাদা লাভ করে। সুতরাং তাওহীদ সবচেয়ে সম্মানিত সত্তা এবং সবচেয়ে পরিপূর্ণ গুণাবলিসম্পন্ন আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট, যিনি চিরঞ্জীব, অনাদি-অনন্ত এবং মহিমা, সৌন্দর্য ও পূর্ণতার গুণাবলি এবং বড়ত্ব ও সম্মানের বিশেষণে একক। তাই তাওহীদ বিদ্যা আলোচ্য বিষয় ও জ্ঞাত বিষয়ের দিক থেকে সবচেয়ে সম্মানিত বিদ্যা। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এর আলোচ্য বিষয় হলেন জগতসমূহের প্রতিপালক, আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিগণ এবং বান্দাদের শেষ ঠিকানা হয় জাহান্নাম অথবা নিআমতপূর্ণ জান্নাত। এই কারণেই সালাফদের কেউ কেউ একে 'আল-ফিকহুল আকবার' (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকহ) বলে অভিহিত করেছেন।

আর তাওহীদ বাস্তবায়ন করা হলো সাধারণভাবে সবচেয়ে সম্মানিত আমল... এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান" (১)।

এটিই হলো আল্লাহর সমস্ত রাসূলের দাওয়াতের মূল বিষয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সমস্ত রাসূল মূলত 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি' [ফাতিহা: ৫]-এর দিকেই আহ্বান করেছেন। কারণ তাঁরা সকলেই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর তাওহীদ এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদت করার দিকে আহ্বান করেছেন। নূহ তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: 'তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো সত্য ইলাহ নেই' [আরাফ: ৫৯]। একইভাবে হুদ, সালিহ, শুয়াইব এবং ইবরাহীমও বলেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমি প্রতিটি জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো' [নাহল: ৩৬]" (২)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দাদের মধ্যে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্যই রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমি প্রতিটি জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো' [নাহল: ৩৬]। আর এর জন্যই তিনি জিন ও মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি' [যারিয়াত: ৫৬], অর্থাৎ: তারা আমার তাওহীদ বা একত্ববাদ সাব্যস্ত করবে... সুতরাং বান্দার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জানা ওয়াজিব তা হলো তাওহীদ, আর তা নামাযসহ সকল ইবাদত জানার পূর্বেই।

জ্ঞাত বিষয়ের দিক থেকে এর ফযীলত: তাওহীদ বিদ্যার জ্ঞাত বিষয় হলো আল্লাহর শরয়ী উদ্দেশ্য, যা তাঁর ওহী এবং কালামের মাধ্যমে নির্দেশিত এবং যা সঠিক আকীদাসমূহের সমষ্টি। যেমন আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, কিয়ামত দিবস এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সংক্রান্ত বিশ্বাসগত বিধানসমূহ।

আর আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে এবং এর ওপর তিনটি বিষয় নির্ভর করে। এটি একীভূত করে যে, আল্লাহ তাআলা তা চেয়েছেন, তা ভালোবাসেন এবং সেটির নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেটির নির্দেশ দেওয়ার কারণে এর ওপর যা বর্তায় তা হলো—যিনি তা পালন করবেন তাঁকে তিনি পুরস্কৃত করবেন, যিনি বর্জন করবেন তাঁকে শাস্তি দেবেন এবং এর বিরোধিতা করতে নিষেধ করবেন। কারণ কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া মানেই তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা। সুতরাং তাওহীদের নির্দেশ দেওয়া মানেই শিরক থেকে নিষেধ করা অবধারিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম' [মায়িদাহ: ৩]। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমরা সেই দিন এবং সেই স্থানটি চিনি যখন এটি নবীর ওপর নাযিল হয়েছিল, তিনি জুমার দিনে আরাফাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন" (৩)।

এটি নাযিল হওয়ার সময় তিনটি বিশেষ উপলক্ষ একত্রিত হয়েছিল যা এর পর আর কখনও একত্রিত হয়নি:

ঈদ এবং ঈদ এবং ঈদ একীভূত হলো

প্রিয়তমের চেহারা, ঈদের দিন এবং জুমার দিন

সুতরাং এটি মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ অর্থাৎ জুমার দিনে নাযিল হয়েছিল, যা হাজীদের ঈদের দিন অর্থাৎ আরাফাতের দিনের সাথে মিলে গিয়েছিল। আর এটি সেই দিন ছিল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের সাথে হজ্জ পালনরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সাথে তাঁর সবচেয়ে বড় ও শেষ সমাবেশে মিলিত হয়েছিলেন।

আর তাওহীদ বিদ্যার জ্ঞাত বিষয় হলো সেই বিশ্বাসগত বিধানসমূহ যা গ্রহণযোগ্য দলিলসমূহ থেকে অর্জিত, অর্থাৎ সুস্পষ্ট কিতাব এবং প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ থেকে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৫১৯) ও মুসলিম (৮৩) এটি বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে।

(২) আবদুল আজীজ আর-রাশীদের 'আত-তানবিহাতুস সানিয়্যাহ আলা শারহিল ওয়াসিতিয়্যাহ' (পৃ. ৩৩)।

(৩) বুখারী (৪৫) ও মুসলিম (৩০১৭) এটি বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقطب رحى القرآن العظيم من فاتحته إلى خاتمته في تقرير معلوم التوحيد. يقول الشيخ صديق حسن خان رحمه الله: اعلم أن فاتحة الكتاب العزيز التي يكررها كل مسلم في كل صلاة مرات، ويفتتح بها التالي لكتاب الله والمتعلم له، فيها الإرشاد إلى إخلاص التوحيد في ثلاثين موضعاً (1).

والتوحيد هو فاتحة القرآن العظيم وهو خاتمته، فهو فاتحة القرآن كما في أول سورة الفاتحة: الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ [الفاتحة: 2]، وهو في خاتمة القرآن العظيم قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ [الناس: 1] (2).

فالقرآن من فاتحته إلى خاتمته في تقرير التوحيد بأنواعه، أو في بيان حقوق التوحيد ومقتضياته ومكملاته، أو في البشارة بعاقبة الموحدين في الدنيا والآخرة، أو في النذارة بعقوبة المشركين والمعاندين في الدارين، ثم إن حياة النبي صلى الله عليه وسلم ودعوته في بيان القرآن بيانا عمليا تحققت فيها معاني التوحيد، وحسمت فيه مواد الشرك على الوجه الأتم الأكمل.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحقق هذا التوحيد لأمته ويحسم عنهم مواد الشرك، إذ هذا تحقيق قولنا: لا إله إلا الله، فإن الإله هو الذي تألهه القلوب لكمال المحبة والتعظيم، والإجلال والإكرام، والرجاء والخوف (3).

فضله من جهة الحاجة إليه:

وأما فضل علم التوحيد باعتبار الحاجة إليه، فيظهر ذلك بالنظر إلى جملة أمور، منها:

أن الله تعالى طلبه، وأمر به كل مكلف، وأثنى على أهله، ومدح من توسل به إليه، ووعدهم أجراً عظيماً.

قال تعالى: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ [محمد: 19]، وقال عز من قائل: وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء [البينة:5].

وقال سبحانه وتعالى: قُولُواْ آمَنَّا بِاللهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا [البقرة: 136].

وقال سبحانه: أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى [الرعد: 19].

وقال عز وجل: قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ [المؤمنون: 1]، وقال تقدست أسماؤه: رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ إلى قوله: فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ [آل عمران: 193 – 195].

وقال عز وجل: وَسَوْفَ يُؤْتِ اللهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا [النساء: 146].

ومنها أن عقيدة التوحيد هي الحق الذي أرسلت من أجله جميع الرسل.

قال تعالى: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ [النحل: 36].

وقال سبحانه: وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا فَاعْبُدُونِ [الأنبياء: 25].

وهي حق الله على عباده كما في حديث معاذ رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((حق الله على عباده أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا)) (4).

وهي ملة أبينا إبراهيم عليه السلام التي أمرنا الله باتباعها، قال تعالى: ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ [النحل: 123]، وهي أيضاً دعوته عليه السلام، قال تعالى على لسانه: وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ [إبراهيم: 35].

--------------------------------------------

(1) ((الدين الخالص)) للشيخ صديق حسن خان (1/ 9).

(2) ((حكم الانتماء)) للشيخ بكر أبو زيد (ص58).

(3) ((مجموع الفتاوى)) (1/ 136).

(4) رواه البخاري (6267)، ومسلم (30). من حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه.
মহান কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর মূল ভিত্তি হলো তাওহীদের জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা। শায়খ সিদ্দীক হাসান খান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: জেনে রাখো যে, সম্মানিত কিতাবের (কুরআনের) শুরু তথা সূরা ফাতিহা, যা প্রত্যেক মুসলিম প্রতি সালাতে বারবার পাঠ করে এবং আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকারী ও শিক্ষার্থী যা দিয়ে শুরু করে, তাতে ত্রিশটি স্থানে তাওহীদকে একনিষ্ঠ করার নির্দেশনা রয়েছে (১)।

আর তাওহীদই হলো মহান কুরআনের সূচনা এবং সমাপ্তি। সূরা ফাতিহার শুরুতে যেমন এটি কুরআনের সূচনা: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব" [ফাতিহা: ২], তেমনি এটি মহান কুরআনের শেষেও রয়েছে: "বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের কাছে" [নাস: ১] (২)।

সুতরাং কুরআন তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাওহীদের বিভিন্ন প্রকারের প্রতিষ্ঠায়, অথবা তাওহীদের অধিকার, এর দাবি ও পরিপূরকগুলোর বর্ণনায়, অথবা দুনিয়া ও আখিরাতে একত্ববাদীদের পরিণাম সম্পর্কে সুসংবাদ দানে, অথবা উভয় জগতে মুশরিক ও হঠকারীদের শাস্তির ভীতি প্রদর্শনে নিবেদিত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও তাঁর দাওয়াত হলো কুরআনের এক বাস্তব ব্যাখ্যা, যেখানে তাওহীদের অর্থসমূহ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং শিরকের উপাদানসমূহ অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে নির্মূল করা হয়েছে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য এই তাওহীদকে বাস্তবায়ন করতেন এবং তাদের থেকে শিরকের পথগুলো বন্ধ করে দিতেন। কারণ এটিই হলো আমাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) বাণীর যথার্থ রূপায়ন। কেননা ইলাহ তিনিই, যাঁর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, মহিমা, মর্যাদা, আশা ও ভয়ের পূর্ণতার কারণে অন্তরসমূহ অনুগত হয় (৩)।

এর প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে এর ফযীলত:

আর এর প্রয়োজনীয়তার নিরিখে তাওহীদ বিদ্যার ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব বেশ কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

মহান আল্লাহ এটি অন্বেষণ করেছেন এবং প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর এর নির্দেশ দিয়েছেন, তাওহীদপন্থীদের প্রশংসা করেছেন, যারা তাওহীদের মাধ্যমে তাঁর নিকট অসীলা ধরেছে তাদের গুণগান করেছেন এবং তাদের মহা পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই" [মুহাম্মদ: ১৯]। মহান সত্তা আরও বলেন: "তাদেরকে কেবল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, একনিষ্ঠ হয়ে তাঁরই দ্বীন পালন করার জন্য" [বাইয়্যিনাহ: ৫]।

মহান পবিত্র আল্লাহ বলেন: "তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি" [বাকারা: ১৩৬]।

মহান সত্তা বলেন: "যে ব্যক্তি জানে যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে অন্ধ?" [রা'দ: ১৯]।

মহান প্রতাপশালী আল্লাহ বলেন: "অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে" [মুমিনূন: ১]। তাঁর নামসমূহ পবিত্র, তিনি বলেন: "হে আমাদের রব! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনো। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন" তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন" [আল-ইমরান: ১৯৩-১৯৫]।

মহান প্রতাপশালী আল্লাহ বলেন: "অচিরেই আল্লাহ মুমিনদের মহা পুরস্কার দান করবেন" [নিসা: ১৪৬]।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তাওহীদের আকিদাই হলো সেই সত্য যার জন্য সমস্ত রাসূলকে প্রেরণ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো" [নাহল: ৩৬]।

মহান পবিত্র আল্লাহ বলেন: "আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এই ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো" [আম্বিয়া: ২৫]।

আর এটি বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক বা অধিকার, যেমনটি মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না" (৪)।

এটিই আমাদের পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মিল্লাত বা আদর্শ, যা অনুসরণ করার নির্দেশ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের আদর্শ অনুসরণ করুন এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না" [নাহল: ১২৩]। আর এটিই ছিল তাঁর (আলাইহিস সালাম) দু'আ; মহান আল্লাহ তাঁর জবানিতে বলেন: "আর আপনি আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন" [ইব্রাহিম: ৩৫]।

--------------------------------------------

(১) শায়খ সিদ্দীক হাসান খান রচিত "আদ-দীনুল খালিস" (১/ ৯)।

(২) শায়খ বকর আবু যায়িদ রচিত "হুকমুল ইনতিমা" (পৃ. ৫৮)।

(৩) "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১/ ১৩৬)।

(৪) বুখারী (৬২৬৭) ও মুসলিম (৩০) বর্ণনা করেছেন; মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنها أن الله تعالى جعل الإيمان شرطا لقبول العمل الصالح وانتفاع العبد به في الدنيا والآخرة. قال تعالى: فَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ [الأنبياء: 94]. وقال سبحانه: وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُم مَّشْكُورًا [الإسراء: 19].

فإذا جاء العبد بغير الإيمان فقد خسر جميع عمله الصالح، قال تعالى: وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ [الزمر: 65].

ومنها أن سعادة البشرية في الدنيا متوقفة على علم التوحيد، فحاجة العبد إليه فوق كل حاجة، وضرورته إليه فوق كل ضرورة، فلا راحة ولا طمأنينة ولا سعادة إلا بأن يعرف العبد ربه بأسمائه وصفاته وأفعاله من جهة صحيحة، صادقة ناصحة، وهي جهة الوحي.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: حاجة العبد إلى الرسالة أعظم بكثير من حاجة المريض إلى الطب، فإن آخر ما يقدر بعدم الطبيب موت الأبدان، وأما إذا لم يحصل للعبد نور الرسالة وحياتها، مات قلبه موتا لا ترجى الحياة معه أبدا، أو شقي شقاوة لا سعادة معها أبدا (1).

ولهذا سمى الله تعالى غير الموحد ميتا حقيقة، قال تعالى: فَإِنَّكَ لا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَلا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاء إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ وَمَا أَنتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَن ضَلالَتِهِمْ إِن تُسْمِعُ إِلَاّ مَن يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا فَهُم مُّسْلِمُون [الروم: 52 - 53].

فمقابلة الموتى بالسامعين تدل على أن الموتى هم المشركون والكافرون، وهذا تفسير جمهور السلف (2).

وقيل المراد بالموتى: موتى الأبدان، فنفي السماع يعني نفي الاهتداء، فكما قيل إن الميت يسمع ولا يمتثل، فهؤلاء الأحياء من الكفار حين يسمعون القرآن كالموتى حقيقة حين يسمعون فلا يمتثلون ولا ينتفعون.

ومما يشهد لهذين المعنيين أن الله تعالى سمى ما أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم روحا لتوقف الحياة الحقيقية عليه، وسماه نورا لتوقف الهداية عليه، وسماه شفاء لأنه دواء للنفوس من عللها.

قال شيخ الإسلام رحمه الله: والرسالة روح العالم ونوره وحياته، فأي صلاح للعالم إذا عدم الروح والحياة والنور، والدنيا مظلمة ملعونة إلا ما طلعت عليه شمس الرسالة، فكذلك العبد ما لم تشرق في قلبه شمس الرسالة ويناله من حياتها وروحها، فهو في ظلمة وهو من الأموات.

قال تعالى: أَوَ مَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا [الأنعام: 122]، فهذا وصف المؤمن كان ميتا في ظلمة الجهل، فأحياه الله بروح الرسالة ونور الإيمان، وجعل له نورا يمشي به في الناس، وأما الكافر فميت القلب في الظلمات.

وسمى الله تعالى الرسالة روحا، والروح إذا عدمت فقد فقدت الحياة، قال الله تعالى: وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الإيمَانُ وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِي بِهِ مَنْ نَّشَاء مِنْ عِبَادِنَا [سورة الشورى: 52] (3) علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري - ص179

--------------------------------------------

(1) ((مجموع الفتاوى)) (19/ 96 - 97).

(2) انظر: ((تفسير الطبري)) (10/ 12)، و ((تفسير القرطبي)) (13/ 232).

(3) ((مجموع الفتاوى)) (19/ 93 - 94).
এর মধ্যে একটি হলো যে, আল্লাহ তাআলা নেক আমল কবুল হওয়ার জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার জন্য ঈমানকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যে ব্যক্তি নেক আমল করবে এবং সে মুমিন হবে, তবে তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না এবং আমি তা অবশ্যই লিখে রাখি।" [আল-আম্বিয়া: ৯৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যে ব্যক্তি আখিরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালায় এবং সে মুমিন হয়, তবে তাদের প্রচেষ্টাই হবে পুরস্কারযোগ্য (শোকর পাওয়ার যোগ্য)।" [আল-ইসরা: ১৯]।

সুতরাং যখন কোনো বান্দা ঈমান ছাড়া উপস্থিত হবে, তখন সে তার সমস্ত নেক আমল হারাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই বিফলে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।" [আয-যুমার: ৬৫]।

এর মধ্যে আরেকটি হলো যে, দুনিয়াতে মানবজাতির সৌভাগ্য তাওহীদের ইলমের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এর প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে, এবং এর আবশ্যকতা অন্য সকল আবশ্যকতার ঊর্ধ্বে। কোনো প্রশান্তি, স্বস্তি বা সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না বান্দা তার রবকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির মাধ্যমে একটি সঠিক, সত্যনিষ্ঠ এবং বিশুদ্ধ পন্থার মাধ্যমে চেনে, আর তা হলো ওহীর পন্থা।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসালাত বা নবুওয়াতের বার্তার প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা চিকিৎসকের প্রতি অসুস্থ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কারণ চিকিৎসকের অভাবের চূড়ান্ত পরিণতি হলো দেহের মৃত্যু। কিন্তু যদি বান্দার নিকট রাসালাতের আলো এবং এর জীবন না পৌঁছায়, তবে তার অন্তর এমন মৃত্যুতে মৃত্যু বরণ করে যার পরে আর কখনোই জীবনের আশা থাকে না, অথবা সে এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হয় যার সাথে কখনোই কোনো সৌভাগ্য থাকে না (১)।

এজন্য আল্লাহ তাআলা অ-মুয়াহিদকে (যে তাওহীদবাদী নয়) প্রকৃতপক্ষে মৃত বলে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আপনি মৃতকে শোনাতে পারবেন না, আর আপনি বধিরকেও আহ্বান শোনাতে পারবেন না যখন তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। আর আপনি অন্ধদের তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথ প্রদর্শনকারী নন। আপনি তো কেবল তাদেরকেই শোনাতে পারবেন যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, ফলে তারা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।" [আর-রুম: ৫২ - ৫৩]।

এখানে শ্রবণকারীদের বিপরীতে মৃতদের উল্লেখ করা একথাই প্রমাণ করে যে, মৃত ব্যক্তিরা হলো মুশরিক ও কাফির। এটিই অধিকাংশ সালাফের তাফসীর (২)।

আবার বলা হয়েছে যে, মৃত বলতে দেহের মৃতদের বোঝানো হয়েছে। এক্ষেত্রে শোনাকে অস্বীকার করা মানে হলো হিদায়াত প্রাপ্তিকে অস্বীকার করা। যেমন বলা হয় যে, মৃত ব্যক্তি শোনে কিন্তু পালন করে না; ঠিক তেমনি কাফিরদের মধ্য থেকে এই জীবিত ব্যক্তিরা যখন কুরআন শোনে, তারা যেন প্রকৃত মৃতদের মতো, যারা শোনে কিন্তু পালন করে না এবং উপকৃত হয় না।

এই দুটি অর্থের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যা নাযিল করেছেন তাকে 'রূহ' বলে অভিহিত করেছেন, কারণ প্রকৃত জীবন এর ওপরই নির্ভরশীল। তিনি একে 'নূর' (আলো) বলেছেন কারণ হিদায়াত এর ওপর নির্ভরশীল। এবং একে 'শিফা' (আরোগ্য) বলেছেন কারণ এটি মনের রোগসমূহের ঔষধ।

শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসালাত হলো জগতের রূহ, নূর এবং জীবন। সুতরাং রূহ, জীবন ও নূর না থাকলে জগতের আর কী সংশোধন হতে পারে? পৃথিবী তো অন্ধকার এবং অভিশপ্ত, যতক্ষণ না সেখানে রাসালাতের সূর্য উদিত হয়। তেমনিভাবে বান্দার অন্তরে যতক্ষণ না রাসালাতের সূর্য উদিত হয় এবং এর জীবন ও রূহ তাকে স্পর্শ না করে, সে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে এবং সে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে ব্যক্তি মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তার জন্য একটি নূর তৈরি করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে চলে ফিরে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারে রয়েছে এবং তা থেকে বের হতে পারছে না?" [আল-আনআম: ১২২]। এটি মুমিনের বর্ণনা, যে অজ্ঞতার অন্ধকারে মৃত ছিল, অতঃপর আল্লাহ তাকে রাসালাতের রূহ এবং ঈমানের নূরের মাধ্যমে জীবিত করেছেন এবং তার জন্য একটি নূর দিয়েছেন যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে বিচরণ করে। পক্ষান্তরে কাফির হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন মৃত হৃদয়ের অধিকারী।

আল্লাহ তাআলা রাসালাতকে রূহ বলেছেন, আর রূহ যখন না থাকে তখন জীবনও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ ওহী করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে নূর করেছি যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি।" [সূরা আশ-শুরা: ৫২] (৩) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আকিদা শাস্ত্র - মুহাম্মদ ইউসরি - পৃষ্ঠা ১৭৯

--------------------------------------------

(১) ((মাজমুউল ফাতাওয়া)) (১৯/ ৯৬ - ৯৭)।

(২) দেখুন: ((তাফসীরে তাবারী)) (১০/ ১২), এবং ((তাফসীরে কুরতুবী)) (১৩/ ২৩২)।

(৩) ((মাজমুউল ফাতাওয়া)) (১৯/ ৯৩ - ৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن أعظم فضائله: أن جميع الأعمال والأقوال الظاهرة والباطنة متوقفة في قبولها وفي كمالها، وفي ترتب الثواب عليها على التوحيد، فكلما قوي التوحيد والإخلاص لله كملت هذه الأمور وتمت.

ومن فضائله: أنه يسهل على العبد فعل الخير وترك المنكرات ويسليه عن المصيبات، فالمخلص لله في إيمانه وتوحيده تخف عليه الطاعات لما يرجو من ثواب ربه ورضوانه، ويهون عليه ترك ما تهواه النفس من المعاصي، لما يخشى من سخطه وعقابه.

ومنها: أن التوحيد إذا كمل في القلب حبب الله لصاحبه الإيمان وزينه في قلبه، وكره إليه الكفر والفسوق والعصيان، وجعله من الراشدين.

ومنها: أنه يخفف عن العبد المكاره ويهون عليه الآلام.

فبحسب تكميل العبد للتوحيد والإيمان، يتلقى المكاره والآلام بقلب منشرح ونفس مطمئنة وتسليم ورضا بأقدار الله المؤلمة.

ومن أعظم فضائله: أنه يحرر العبد من رق المخلوقين والتعلق بهم وخوفهم ورجائهم والعمل لأجلهم، وهذا هو العز الحقيقي والشرف العالي.

ويكون مع ذلك متألها متعبدا لله، لا يرجو سواه ولا يخشى إلا إياه، ولا ينيب إلا إليه، وبذلك يتم فلاحه ويتحقق نجاحه.

ومن فضائله التي لا يلحقه فيها شيء: أن التوحيد إذا تم وكمل في القلب وتحقق تحققا كاملا بالإخلاص التام، فإنه يصير القليل من عمله كثيرا، وتضاعف أعماله وأقواله بغير حصر ولا حساب، ورجحت كلمة الإخلاص في ميزان العبد بحيث لا تقابلها السماوات والأرض وعمارها من جميع خلق الله، كما في

حديث أبي سعيد المذكور في الترجمة، وفي حديث البطاقة التي فيها لا إله إلا الله التي وزنت تسعة وتسعين سجلا من الذنوب، كل سجل يبلغ مد البصر، وذلك لكمال إخلاص قائلها، وكم ممن يقولها لا تبلغ هذا المبلغ؛ لأنه لم يكن في قلبه من التوحيد والإخلاص الكامل مثل ولا قريب مما قام بقلب هذا العبد.

ومن فضائل التوحيد: أن الله تكفل لأهله بالفتح والنصر في الدنيا، والعز والشرف وحصول الهداية والتيسير لليسرى وإصلاح الأحوال والتسديد في الأقوال والأفعال.

ومنها: أن الله يدفع عن الموحدين أهل الإيمان شرور الدنيا والآخرة، ويمن عليهم بالحياة الطيبة والطمأنينة إليه والطمأنينة بذكره، وشواهد هذه الجمل من الكتاب والسنة كثيرة معروفة والله أعلم. القول السديد في مقاصد التوحيد لعبد الرحمن بن سعدي – ص24
তাওহীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো: প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল কথা ও কাজের কবুল হওয়া, সেগুলোর পূর্ণতা লাভ করা এবং তার ওপর সওয়াব অর্পিত হওয়া তাওহীদের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং আল্লাহর জন্য তাওহীদ ও ইখলাস যত শক্তিশালী হবে, এই বিষয়গুলো ততটাই পূর্ণতা ও সমাপ্তি লাভ করবে।

এর আরেকটি মর্যাদা হলো: এটি বান্দার জন্য নেক কাজ করা ও মন্দ কাজ বর্জন করাকে সহজ করে দেয় এবং বিপদ-আপদে তাকে সান্ত্বনা দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ঈমান ও তাওহীদে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়, তার রবের সওয়াব ও সন্তুষ্টির আশায় তার নিকট ইবাদতসমূহ সহজ হয়ে যায়। আর তাঁর অসন্তুষ্টি ও শাস্তির ভয়ে নফসের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গুনাহের কাজ বর্জন করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যখন অন্তরে তাওহীদ পূর্ণতা পায়, তখন আল্লাহ সেই ব্যক্তির নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দেন এবং তার অন্তরে তা সুশোভিত করেন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তার কাছে অপছন্দনীয় করে দেন এবং তাকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: এটি বান্দার কষ্টসমূহ লাঘব করে এবং তার বেদনাকে সহজ করে দেয়।

সুতরাং বান্দার তাওহীদ ও ঈমান পূর্ণ করার পরিমাপ অনুযায়ী সে প্রশস্ত অন্তর, প্রশান্ত নফস, আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর বেদনাদায়ক তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টির মাধ্যমে কষ্ট ও বেদনাকে গ্রহণ করে।

এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো: এটি বান্দাকে মাখলুকের দাসত্ব, তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, তাদের ভয় করা, তাদের নিকট আশা করা এবং তাদের জন্য কাজ করা থেকে মুক্ত করে। আর এটাই হলো প্রকৃত সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা।

এর সাথে সে হবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারী ও তাঁর অনুগত, তিনি ছাড়া অন্য কারও নিকট সে আশা করবে না, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না এবং একমাত্র তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। এর মাধ্যমেই তার কল্যাণ পূর্ণ হয় এবং তার সফলতা অর্জিত হয়।

এর এমন কিছু মর্যাদা রয়েছে যার সমকক্ষ অন্য কিছু নেই: তাওহীদ যখন অন্তরে পূর্ণতা পায় এবং পূর্ণ ইখলাাসের সাথে তা বাস্তবায়িত হয়, তখন বান্দার অল্প আমলও অনেক হয়ে যায় এবং তার কথা ও কাজ গণনা ও হিসাব ছাড়াই বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বান্দার আমলনামার পাল্লায় ইখলাসের কালিমা এমন ভারী হয়ে যায় যে, এর বিপরীতে আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং এর অধিবাসী আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির কোনো কিছুই সমান হতে পারে না, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—

আবু সাঈদ-এর হাদিসে যা অধ্যায়ের শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই চিরকুটের হাদিসে, যাতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' লিখা ছিল, যা নিরানব্বইটি গুনাহের খাতার চেয়েও ভারী হয়েছিল, যার প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর এটি সম্ভব হয়েছিল সেই ব্যক্তির ইখলাসের পূর্ণতার কারণে। অথচ কত মানুষই তো এটি বলে কিন্তু তারা এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে না; কারণ তাদের অন্তরে সেই তাওহীদ ও পূর্ণ ইখলাস ছিল না যা এই বান্দার অন্তরে বিদ্যমান ছিল।

তাওহীদের অন্যতম মর্যাদা হলো: আল্লাহ তাওহীদপন্থীদের জন্য দুনিয়াতে বিজয় ও সাহায্যের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই সাথে সম্মান, মর্যাদা, হেদায়েত লাভ, কল্যাণের পথ সহজীকরণ, অবস্থার সংশোধন এবং কথা ও কাজে সঠিকতা দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: আল্লাহ মুওয়াহহিদ ঈমানদারদের থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের অনিষ্টসমূহ দূর করে দেন এবং তাঁদেরকে উত্তম জীবন, আল্লাহর প্রতি প্রশান্তি ও তাঁর জিকিরের মাধ্যমে মানসিক স্থিরতা দান করেন। কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এই বিষয়গুলোর প্রমাণ অনেক ও সুপরিচিত, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আল-কাওলুস সাদীদ ফী মাকাসিদিত তাওহীদ, আবদুর রহমান বিন সাদী – পৃষ্ঠা ২৪
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث السادس: واضع علم التوحيد

لاشك أن التوحيد جاءت به الرسل والأنبياء عليهم صلوات الله وسلامه، وأما علم التوحيد فقد مر في وضعه وتدوينه بطورين:

أولهما: طور الرواية (ما قبل التدوين)، والثاني: طور التدوين والاستقرار.

وهذه لمحة عن كلتا المرحلتين:

أولا: طور الرواية

لم يكن الرعيل الأول من الصحابة رضي الله عنهم بحاجة إلى التدوين في العلوم الشرعية، فقد كانوا يتلقون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الوحيين، "ويوردون عليه ما يشكل عليهم من الأسئلة والشبهات فيجيبهم عنها بما يثلج صدورهم، وقد أورد عليه من الأسئلة أعداؤه وأصحابه، أعداؤه للتعنت والمغالبة، وأصحابه للفهم والبيان وزيادة الإيمان" (1)، وكل ذلك رواه الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم لمن بعدهم، فكانت مسائل الاعتقاد محفوظة في أذهانهم، مستدلا عليها بكتاب ربهم وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم، ولم يقع بينهم اختلاف في شأن العقيدة؛ بل اجتمعوا على عقيدة صحيحة، سالمة نقية خالية من كل شوب، فكانوا "أقرب إلى أن يوفقوا إلى الصواب من غيرهم بما خصهم الله به من توقد الأذهان، وفصاحة اللسان، وسعة العلم، وتقوى الرب، فالعربية طريقتهم وسليقتهم، والمعاني الصحيحة مركوزة في فطرهم وعقولهم .. علموا التنزيل وأسبابه، والتأويل وآدابه، وعاينوا الأنوار القرآنية، والأشعة المصطفوية، فهم أسعد الأمة بإصابة الصواب، وأجدرها بعلم فقه السنة والكتاب" (2).

لأجل هذا لم يكن الصحابة رضي الله عنهم بحاجة إلى تدوين علم التوحيد أو تصنيف كتب فيه.

ثانيا: طور التدوين

وبدأ هذا في حياة التابعين، وإن وقعت في زمنه صلى الله عليه وسلم صور من الكتابة والتدوين، حيث ابتدأ ذلك الإمام الزهري رحمه الله تعالى، ثم شاع ذلك في النصف الأول من القرن الثاني الهجري كما فعل الإمام مالك في الموطأ، حيث رتبت الأحاديث على أبواب تتعلق بالتوحيد مثل: باب الإيمان، وباب التوحيد، وباب العلم، الخ ..

ولعل هذا التبويب للأحاديث كان النواة الأولى في استقلال كل باب فيما بعد بالتصنيف والبحث.

ومما أوقد جذوة التدوين ما وقع في آخر زمن الصحابة من بدع واختلاف في العقيدة، كما في مسألة القدر، وكان أول من تكلم به معبد الجهني (ت: 80هـ)، ومسألة التشيع والغلو في آل البيت، وفتنة عبد الله بن سبأ، كما وقعت من قبل بدعة الخوارج وصرحوا بالتكفير بالذنوب، وبعد ذلك نشأ مذهب المعتزلة على يد واصل بن عطاء (ت: 131هـ)، وصنف في مسائل من العقيدة ما خالف به الصحابة والتابعين، وخرج على إجماع خير القرون في الاعتقاد، فتصدى له التابعون بالرد عليه والمناظرة في هذه المسائل، ثم بدأ التصنيف في عقيدة أهل السنة حين أصبح ضرورة لابد منها لنفي تأويل المبطلين، ورد انحراف الغالين، وكان أول مدون عرفناه في العقيدة - على هذا النحو – هو كتاب الفقه الأكبر لأبي حنيفة رحمه الله (ت: 150هـ)، رواه أبو مطيع الحكم بن عبد الله البلخي، كما رواه حماد بن أبي حنيفة – وإن قيل إنه من وضع أبي مطيع البلخي – حدد فيه أبو حنيفة عقائد أهل السنة تحديدا منهجيا ورد فيه على المعتزلة، والقدرية، والجهمية، والشيعة، واشتمل على خمسة أبواب - في أتم رواياته -: الأول في القدر، والثاني والثالث في المشيئة، والرابع في الرد على من يكفر بالذنب، والخامس في الإيمان، وفيه حديث عن الأسماء والصفات، والفطرة، وعصمة الأنبياء، ومكانة الصحابة، وغير ذلك من مباحث العقيدة.

--------------------------------------------

(1) ((زاد المعاد لابن القيم)) (3/ 1250).

(2) ((إعلام الموقعين لابن القيم)) (4/ 148 - 150) بتصرف.
‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইলমুত তাওহীদের প্রবর্তক

নিঃসন্দেহে তাওহীদ নিয়ে এসেছেন সকল রাসূল ও নবী (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)। তবে ইলমুত তাওহীদের প্রবর্তন ও সংকলন দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে:

প্রথমটি: রিওয়ায়াত বা বর্ণনার পর্যায় (সংকলনপূর্ব যুগ), এবং দ্বিতীয়টি: সংকলন ও স্থিতিশীলতার পর্যায়।

উভয় পর্যায়ের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: রিওয়ায়াত বা বর্ণনার পর্যায়

সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রথম প্রজন্মের শরয়ী বিজ্ঞানসমূহ সংকলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ তারা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ওহীর জ্ঞান অর্জন করতেন। "যেসব প্রশ্ন বা সংশয় তাদের সামনে আসত, তা তারা তাঁর কাছে উত্থাপন করতেন এবং তিনি এমনভাবে সেগুলোর উত্তর দিতেন যা তাদের অন্তরকে আশ্বস্ত করত। তাঁর কাছে তাঁর শত্রু এবং বন্ধু উভয় পক্ষই প্রশ্ন উত্থাপন করত; শত্রুরা করত তর্কে হারানো ও হঠকারিতার জন্য, আর বন্ধুরা করত সঠিক অনুধাবন, বিষয়টির বর্ণনা লাভ এবং ঈমান বৃদ্ধির জন্য" (১)। সাহাবীগণ এই সবকিছুই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে আকিদার বিষয়গুলো তাদের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল, যার দলীল ছিল তাদের রবের কিতাব এবং তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ। আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছিল না; বরং তারা একটি সঠিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ আকিদার ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন যা সব ধরণের কলুষতা থেকে মুক্ত ছিল। কারণ তারা ছিলেন "সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য অন্যদের তুলনায় অধিক যোগ্য। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে প্রখর মেধা, প্রাঞ্জল ভাষা, ব্যাপক জ্ঞান এবং তাকওয়া দান করেছিলেন। আরবী ভাষা ছিল তাদের সহজাত পথ ও স্বভাব। সঠিক অর্থসমূহ তাদের প্রকৃতি ও বিবেকে প্রোথিত ছিল... তারা ওহী নাযিলের সময়কাল ও এর কারণসমূহ এবং এর ব্যাখ্যা ও আদব সম্পর্কে জানতেন। তারা কুরআনের আলো এবং মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নূর প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই তারা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই উম্মতের মাঝে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং কুরআন ও সুন্নাহর সমঝ ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত" (২)।

এই কারণেই সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইলমুত তাওহীদ সংকলন করার বা এ বিষয়ে কিতাব রচনা করার প্রয়োজন ছিল না।

দ্বিতীয়ত: সংকলনের পর্যায়

এটি তাবেঈগণের যুগে শুরু হয়, যদিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগেও লিখনি বা সংকলনের কিছু রূপ বিদ্যমান ছিল। ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) এর মাধ্যমে এই কাজ শুরু হয়। এরপর হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেমনটি ইমাম মালিক তাঁর 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে করেছেন। সেখানে তাওহীদ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুচ্ছেদে হাদীসসমূহ বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেমন: ঈমান অধ্যায়, তাওহীদ অধ্যায়, ইলম অধ্যায় ইত্যাদি।

সম্ভবত হাদীসের এই অধ্যায় বিন্যাসই ছিল পরবর্তীতে প্রতিটি বিষয়ের স্বতন্ত্র সংকলন ও গবেষণার প্রাথমিক বীজ।

সংকলনের এই ধারাকে বেগবান করেছিল সাহাবীগণের যুগের শেষ দিকে আকিদাগত বিদআত ও মতভেদের উদ্ভব, যেমন তাকদীর বা ভাগ্যের মাসআলা। এ বিষয়ে সর্বপ্রথম কথা বলেন মাবাদ আল-জুহানি (মৃত্যু: ৮০ হিজরী)। এছাড়া শিয়া মতবাদ, আহলে বাইতের প্রতি অতিভক্তি এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার ফিতনাও দেখা দিয়েছিল। এর আগে খারেজীদের বিদআত প্রকাশ পেয়েছিল এবং তারা কবীরা গুনাহর কারণে কাফির সাব্যস্ত করার (তাকফীর) কথা প্রকাশ করেছিল। এরপর ওয়াাসিল ইবনে আতা (মৃত্যু: ১৩১ হিজরী) এর হাতে মুতাজিলা মতবাদের উদ্ভব ঘটে। তিনি আকিদার এমন সব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন যেখানে তিনি সাহাবী ও তাবেঈগণের বিরোধিতা করেন এবং আকিদার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম প্রজন্মের (খায়রুল কুরুন) ইজমা থেকে বিচ্যুত হন। তখন তাবেঈগণ তার প্রতিবাদে লিপ্ত হন এবং এই মাসআলাগুলোতে বিতর্কে অবতীর্ণ হন। এরপর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা সংকলন করা একটি অপরিহার্য প্রয়োজনে পরিণত হয়, যাতে বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যা দূর করা যায় এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের বিচ্যুতি প্রতিহত করা যায়। আকিদা বিষয়ে আমাদের জানা মতে সর্বপ্রথম সুসংগঠিত সংকলন হলো ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ১৫০ হিজরী) এর কিতাব 'আল-ফিকহুল আকবার'। এটি আবু মুতি আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আল-বালখী বর্ণনা করেছেন, আবার হাম্মাদ বিন আবু হানীফাও এটি বর্ণনা করেছেন—যদ্যপি বলা হয়ে থাকে যে এটি আবু মুতি আল-বালখীর সংকলন। এতে ইমাম আবু হানীফা আহলে সুন্নাতের আকিদাহসমূহ পদ্ধতিগতভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং মুতাজিলা, কাদারিয়া, জাহমিয়া ও শিয়াদের প্রতিবাদ করেছেন। এর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনায় পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে: প্রথমটি তাকদীর বিষয়ে, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি আল্লাহর ইচ্ছা বা মাশিয়াহ বিষয়ে, চতুর্থটি গুনাহর কারণে কাফির সাব্যস্তকারীদের প্রতিবাদে এবং পঞ্চমটি ঈমান প্রসঙ্গে। এতে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী, ফিতরাত, নবীদের নিষ্পাপতা (মাসুম হওয়া), সাহাবীগণের মর্যাদা এবং আকিদার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিমের 'যাদুল মাআদ' (৩/ ১২৫০)।

(২) ইবনুল কাইয়্যিমের 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (৪/ ১৪৮ - ১৫০) সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فلو قال قائل: إن واضع علم التوحيد – بمعنى أول من وضع مؤلفا خاصا في الفن من أهل السنة – هو الإمام أبو حنيفة؛ لكان صادقا ولم يبعد عن الصواب، "وإن كان قد قيل: إن واضعه الإمام مالك بن أنس، وأنه ألف فيه رسالة، وقيل أيضا أنه لما كثرت الفتن أمر المنصور بوضع كتب لإزالتها والرد عليها" (1).

كما ثبت أن الإمام ابن وهب رحمه الله (ت: 197هـ) وضع كتابا في القدر على طريقة المحدثين في جمع الأحاديث وإن كان دون تبويب.

ولقد نسب كتاب بنفس اسم الفقيه الأكبر للإمام الشافعي رحمه الله (ت: 204هـ)، تناول فيه مسائل الاعتقاد مسألة مسألة، ورد على الفرق المخالفة في ثنايا كلامه، إلا أن نسبة الكتاب إلى الإمام الشافعي غير موثقة، فقد قال حاجي خليفة في كشف الظنون: " .. لكن في نسبته إلى الشافعي شك، والظن الغالب أنه من تأليف بعض أكابر العلماء" (2).

ثم تتابع التأليف بعد أبي حنيفة في علم التوحيد ولكن بأسماء مختلفة لهذا العلم. فمن أول ذلك كتاب الإيمان لأبي عبيد القاسم بن سلام (ت: 224هـ)، وتبعه على هذا كثيرون إلى يوم الناس هذا، كما ظهر مصطلح السنة للدلالة على ما يسلم من الاعتقادات، واشتهر ذلك زمن الإمام أحمد رحمه الله، ومن الكتب المصنفة باسم السنة، كتاب السنة لابن أبي شيبة رحمه الله (ت: 235هـ) والسنة للإمام أحمد رحمه الله (ت: 240هـ) وغير ذلك، ثم ظهر مصطلح التوحيد في مثل كتاب التوحيد لابن سريج البغدادي رحمه الله (ت: 306هـ)، وكتاب التوحيد لابن خزيمة رحمه الله (ت: 311هـ)، وواكب ذلك ظهور مصطلح أصول الدين، ثم ظهر التأليف باسم العقيدة أوائل القرن الخامس الهجري، واستقرت حركة التصنيف ومنهج التأليف، واستقل علم التوحيد علما متميزا عن غيره بلقب ومنهج مخصوص.

وأخيرا فإن فيما سبق بيانه رد على من زعم – من الأشاعرة والماتريدية – أن واضعي علم التوحيد هما: أبو الحسن الأشعري (ت: 324هـ)، وأبو منصور الماتريدي (ت: 333هـ)، حيث سبقا بتآليف كثيرة كتبت على منهج أهل الحديث، أهل السنة والجماعة. علم العقيدة عند أهل السنة والجماعة لمحمد يسري- 207

--------------------------------------------

(1) ((اللؤلؤ المنظوم في مبادئ العلوم لمحمد أبي عليان الشافعي)) (237).

(2) ((كشف الظنون لحاجي خليفة)) (2/ 1287).
যদি কেউ বলে যে, ইলমে তাওহিদের প্রবর্তক—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহর মধ্য থেকে যিনি প্রথম এই বিদ্যায় একটি বিশেষ গ্রন্থ রচনা করেছেন—তিনি হলেন ইমাম আবু হানিফা; তবে তিনি সত্যবাদী হবেন এবং সত্য থেকে দূরে থাকবেন না, "যদিও বলা হয়েছে যে: এর প্রবর্তক হলেন ইমাম মালিক ইবনে আনাস, এবং তিনি এই বিষয়ে একটি রিসালা (পুস্তিকা) রচনা করেছেন; এবং এটিও বলা হয়েছে যে যখন ফিতনা বৃদ্ধি পেল তখন (খলিফা) মনসুর তা নিরসনের জন্য এবং সেগুলোর খণ্ডন করার জন্য গ্রন্থ রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন" (১)।

যেমনটি প্রমাণিত যে, ইমাম ইবনে ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৯৭ হিজরি) হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে তাকদিরের ওপর একটি কিতাব রচনা করেছেন, যদিও তা অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করা হয়নি।

ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহর (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি) দিকে 'আল-ফিকহুল আকবার' নামেই একটি কিতাব সম্বন্ধ করা হয়েছে, যেখানে তিনি আকিদার মাসআলাসমূহ একে একে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর আলোচনার মাঝে বিভ্রান্ত দলগুলোর খণ্ডন করেছেন। তবে ইমাম শাফেয়ীর প্রতি এই কিতাবের সম্বন্ধটি প্রামাণিক নয়; যেমনটি হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন: "..কিন্তু শাফেয়ীর প্রতি এর সম্বন্ধের ক্ষেত্রে সংশয় রয়েছে, আর প্রবল ধারণা এই যে, এটি কোনো বড় মাপের আলেমের রচনা" (২)।

এরপর ইমাম আবু হানিফার পর ইলমে তাওহিদের ওপর ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ রচিত হতে থাকে, তবে এই ইলমের নামগুলো ভিন্ন ভিন্ন ছিল। এর মধ্যে প্রথম দিককার অন্যতম হলো আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সালামের (মৃত্যু: ২২৪ হিজরি) 'কিতাবুল ঈমান', এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেকেই তাঁর অনুসরণ করেছেন। অনুরূপভাবে সহিহ আকিদা বোঝানোর জন্য 'আস-সুন্নাহ' পরিভাষাটি প্রকাশিত হয় এবং ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর যুগে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে। 'সুন্নাহ' নামে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনে আবি শাইবা রহিমাহুল্লাহর (মৃত্যু: ২৩৫ হিজরি) 'কিতাবুস সুন্নাহ' এবং ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর (মৃত্যু: ২৪০ হিজরি) 'আস-সুন্নাহ' ইত্যাদি। এরপর 'তাওহিদ' পরিভাষাটি আত্মপ্রকাশ করে যেমন ইবনে সুরাইজ আল-বাগদাদি রহিমাহুল্লাহর (মৃত্যু: ৩০৬ হিজরি) 'কিতাবুত তাওহিদ' এবং ইবনে খুজাইমা রহিমাহুল্লাহর (মৃত্যু: ৩১১ হিজরি) 'কিতাবুত তাওহিদ'। এর পাশাপাশি 'উসুলুদ দ্বীন' পরিভাষাটিরও উদ্ভব ঘটে। এরপর পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শুরুতে 'আকিদাহ' নামে গ্রন্থ রচনা শুরু হয় এবং গ্রন্থ রচনার ধারা ও পদ্ধতি সুসংহত হয় এবং ইলমে তাওহিদ একটি স্বতন্ত্র উপাধি ও বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে অন্যান্য বিদ্যা থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরিশেষে, পূর্বের এই আলোচনার মাধ্যমে সেই সব আশআরি ও মাতুরিদিদের দাবির খণ্ডন হয়ে যায় যারা মনে করে যে, ইলমে তাওহিদের প্রবর্তক হলেন: আবুল হাসান আল-আশআরি (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) এবং আবু মনসুর আল-মাতুরিদি (মৃত্যু: ৩৩৩ হিজরি)। অথচ তাঁদের অনেক আগেই আহলুল হাদিস তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মানহাজ বা পদ্ধতিতে অনেক কিতাব রচিত হয়েছে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা শাস্ত্র - মুহাম্মাদ ইউসরি- ২০৭

--------------------------------------------

(১) ((মুহাম্মাদ আবু আলইয়ান আল-শাফেয়ী রচিত আল-লুলুউল মানযুম ফি মাবাদিইল উলুম)) (২৩৭)।

(২) ((হাজি খলিফা রচিত কাশফুয যুনুন)) (২/ ১২৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতুল আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث السابع: فوائد التوحيد

التوحيد له فضائل عظيمة، وآثار حميدة، ونتائج جميلة، ومن ذلك ما يأتي:

- خير الدنيا والآخرة من فضائل التوحيد وثمراته.

- التوحيد هو السبب الأعظم لتفريج كربات الدنيا والآخرة، يدفع الله به العقوبات في الدارين، ويبسط به النعم والخيرات.

- التوحيد الخالص يثمر الأمن التام في الدنيا والآخرة، قال الله عز وجل: الَّذِينَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ [الأنعام: 82].

- يحصل لصاحبه الهدى الكامل، والتوفيق لكل أجر وغنيمة.

- يغفر الله بالتوحيد الذنوب ويكفر به السيئات، ففي الحديث القدسي عن أنس رضي الله عنه يرفعه: ((يا ابن آدم إنك لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئًا لأتيتك بقرابها مغفرة)) (1)

- يدخل الله به الجنة، فعن عبادة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، وأن الجنة حق، وأن النار حق، أدخله الله الجنة على ما كان من العمل)) (2)، وفي حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من مات لا يشرك بالله شيئًا دخل الجنة)) (3).

- التوحيد يمنع دخول النار بالكلية إذا كمل في القلب، ففي حديث عتبان رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: (( … فإن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله)) (4).

- يمنع الخلود في النار إذا كان في القلب منه أدنى حبة من خردل من إيمان (5).

- التوحيد هو السبب الأعظم في نيل رضا الله وثوابه، وأسعد الناس بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم: ((من قال لا إله إلا الله خالصًا من قلبه أو نفسه)) (6).

- جميع الأعمال، والأقوال الظاهرة والباطنة متوقفة في قبولها وفي كمالها، وفي ترتيب الثواب عليها على التوحيد، فكلما قوي التوحيد والإخلاص لله كملت هذه الأمور وتمت.

- يُسَهِّل على العبد فعل الخيرات، وترك المنكرات، ويسلِّيه عن المصائب، فالموحد المخلص لله في توحيده تخف عليه الطاعات؛ لِمَا يرجو من ثواب ربه ورضوانه، ويهوِّن عليه ترك ما تهواه النفس من المعاصي؛ لِمَا يخشى من سخط الله وعقابه.

- التوحيد إذا كمل في القلب حبب الله لصاحبه الإيمان وزينه في قلبه، وكرَّه إليه الكفر والفسوق والعصيان، وجعله من الراشدين.

- التوحيد يخفف عن العبد المكاره، ويهوِّن عليه الآلام، فبحسب كمال التوحيد في قلب العبد يتلقى المكاره والآلام بقلب منشرح ونفس مطمئنة، وتسليمٍ ورضًا بأقدار الله المؤلمة، وهو من أعظم أسباب انشراح الصدر.

- يحرِّر العبد من رِقّ المخلوقين والتعلُّقِ بهم، وخوفهم ورجائهم، والعمل لأجلهم، وهذا هو العزُّ الحقيقي، والشرف العالي، ويكون مع ذلك متعبدًا لله لا يرجو سواه، ولا يخشى إلا إيَّاه، وبذلك يتمُّ فلاحه، ويتحقق نجاحه.

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي (3450). وقال: غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وصححه ابن القيم في ((إعلام الموقعين)) (1/ 204) وقال ابن رجب: إسناده لا بأس به، وصححه الألباني في ((صحيح سنن الترمذي)).

(2) رواه البخاري (3435)، ومسلم (28).

(3) رواه البخاري (3435)، ومسلم (28).

(4) رواه البخاري (425)، ومسلم (33).

(5) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: (( … أخرجوا من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان … )) رواه البخاري (22)، ومسلم (184).

(6) رواه البخاري (99). من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাওহীদের উপকারিতা

তাওহীদের রয়েছে মহান মর্যাদা, প্রশংসনীয় প্রভাব এবং চমৎকার ফলাফল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তাওহীদের মর্যাদা ও ফলের অন্তর্ভুক্ত।

- তাওহীদ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ-আপদ দূর করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এর দ্বারা আল্লাহ উভয় জগতে শাস্তি হরণ করেন এবং নি'আমত ও কল্যাণ বিস্তৃত করেন।

- বিশুদ্ধ তাওহীদ দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের (শিরকের) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। [আল-আন'আম: ৮২]।

- এর অনুসারী পূর্ণ হিদায়াত এবং প্রতিটি সওয়াব ও কল্যাণ অর্জনের তাওফিক লাভ করে।

- তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ ক্ষমা করেন এবং মন্দকাজ মিটিয়ে দেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে কুদসিতে এসেছে: "হে আদমসন্তান! তুমি যদি পৃথিবী সমান গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও, এরপর আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমিও পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব।" (১)

- এর মাধ্যমে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করান। উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, আর মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রুহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যা-ই হোক না কেন।" (২)। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (৩)।

- তাওহীদ যখন অন্তরে পূর্ণতা পায়, তখন তা জাহান্নামে প্রবেশ পুরোপুরি প্রতিহত করে। ইতবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)।" (৪)।

- এটি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়াকে প্রতিহত করে যদি অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান থাকে। (৫)।

- আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রতিদান লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাওহীদ। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফায়াত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি: "যে ব্যক্তি নিজ অন্তর বা আত্মা থেকে একনিষ্ঠভাবে বলবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)।" (৬)।

- সকল বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কাজ এবং কথা কবুল হওয়া ও পূর্ণতা পাওয়া এবং এর ওপর প্রতিদান লাভ তাওহীদের ওপর নির্ভরশীল। তাওহীদ এবং আল্লাহর প্রতি ইখলাস যত মজবুত হবে, এ বিষয়গুলো তত পূর্ণ ও সমাপ্ত হবে।

- এটি বান্দার জন্য পুণ্যকর্ম করা এবং মন্দ কাজ বর্জন করা সহজ করে দেয় এবং বিপদ-আপদে সান্ত্বনা দেয়। যে মুওয়াহহিদ আল্লাহর জন্য তাওহীদে একনিষ্ঠ, তার নিকট ইবাদতসমূহ সহজ হয়ে যায় সেই সওয়াব ও সন্তুষ্টির আশায় যা সে তার রবের কাছে প্রত্যাশা করে; এবং আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির ভয়ে মনের কুপ্রবৃত্তির পাপকাজ বর্জন করা তার নিকট সহজ হয়ে যায়।

- তাওহীদ যখন অন্তরে পূর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তার নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দেন এবং তার অন্তরে একে সুশোভিত করেন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তার নিকট অপছন্দনীয় করে দেন এবং তাকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

- তাওহীদ বান্দার কষ্ট লাঘব করে এবং বেদনাকে সহজ করে দেয়। বান্দার অন্তরে তাওহীদের পূর্ণতা অনুযায়ী সে প্রশস্ত চিত্তে, প্রশান্ত মনে এবং আল্লাহর বেদনাদায়ক তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ ও সন্তুষ্টির সাথে কষ্ট ও যন্ত্রণাকে গ্রহণ করে। আর এটি অন্তর প্রশান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

- এটি বান্দাকে সৃষ্টির দাসত্ব ও তাদের প্রতি আসক্তি, তাদের ভয়-আশা এবং তাদের জন্য কাজ করা থেকে মুক্ত করে। এটাই হলো প্রকৃত সম্মান ও সুউচ্চ মর্যাদা। এর মাধ্যমে সে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারী হয়, তিনি ছাড়া কারো কাছে আশা করে না এবং তিনি ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। এভাবেই তার কামিয়াবি ও সফলতা অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযি বর্ণনা করেছেন (৩৪৫০)। তিনি বলেছেন: এটি গরীব হাদিস, আমরা এই সূত্র ছাড়া এটি জানি না। ইবনুল কাইয়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (১/২০৪) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন। ইবনে রাজাব বলেছেন: এর সনদ মন্দ নয়। আলবানী 'সহিহ সুনান তিরমিযি'তে একে সহিহ বলেছেন।

(২) বুখারি (৩৪৩৫), মুসলিম (২৮)।

(৩) বুখারি (৩৪৩৫), মুসলিম (২৮)।

(৪) বুখারি (৪২৫), মুসলিম (৩৩)।

(৫) আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "...যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাদের বের করে আনো..." বুখারি (২২), মুসলিম (১৮৪)।

(৬) বুখারি (৯৯)। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে।