(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: -)
المشترك اللفظي في الحقل القرآني القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المشترك اللفظي في الحقل القرآني
المؤلف: عبد العال سالم مكرم
الناشر: موسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1417
عدد الصفحات: 239
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
কুরআনিক ক্ষেত্রে শব্দগত অংশীদারিত্ব (المشترك اللفظي) বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) ও তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: কুরআনিক ক্ষেত্রে শব্দগত অংশীদারিত্ব (المشترك اللفظي)
লেখক: আবদুল আল সালিম মাকরাম
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাহ লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديماللغة العربية تميزّت عن لغات العالم بكثرة ألفاظها، وغزارة معانيها.
وما ورد منها قليل من كثير، وغيض من فيض، وغرفة من بحر.
وما أصدق قول الإمام الشافعيّ: «لسان العرب أوسع الألسنة مذهبا وأكثرها ألفاظا، ولا نعلمه يحيط بجميع علمه إنسان غير نبيّ» وقد سجّل ذلك ابن فارس في كتابه «الصاحبي» في معرض الفخر باللغة العربيّة التي اختصّها الله تعالى بالفضل، وميّزها بالبيان حيث قال جل شأنه: بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ قال الصاحبي: ومعلوم أن العجم لا تعرف للأسد اسما غير واحد، فأما نحن فنخرج له خمسين ومائة اسم.
ولما بزغت شمس الإسلام من سماء القرآن اكتسبت اللغة العربية قوّة في البيان، وجزالة في اللفظ، وفخامة في المعنى، بما تشتمل عليه من ألفاظ موحية، وكلمات مشرقة، وتراكيب بديعة.
ومعاني القرآن الكريم لا تنتهي عند حد، ولا تقف عند نهاية، فكلما ظهرت معان تجدّدت معان أخرى، وهكذا.
فمعاني القرآن الكريم مع المتدبّرين والدارسين ولادة بعد ولادة حتى يرث الله الأرض ومن عليها.
ولله درّ الإمام الغزالي حينما عبّر عن هذه المعاني بقوله: «إلى
ভূমিকাআরবী ভাষা তার শব্দভাণ্ডারের বিশালতা এবং অর্থের প্রাচুর্যের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ভাষা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।
এর মধ্য থেকে যা সংকলিত হয়েছে তা অগণিতের তুলনায় অতি সামান্য, উপচে পড়া প্লাবনের তুলনায় বিন্দুমাত্র এবং সমুদ্রের তুলনায় মাত্র এক অঞ্জলি সমতুল্য।
ইমাম শাফিঈর উক্তিটি কতই না সত্য: «আরবদের ভাষা সকল ভাষার মধ্যে প্রশস্ততম এবং শব্দভাণ্ডারে সবচেয়ে সমৃদ্ধ; নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এই ভাষার পূর্ণ জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই।» ইবনে ফারিস তাঁর 'আস-সাহিবী' গ্রন্থে আরবী ভাষার গৌরব বর্ণনায় এটি লিপিবদ্ধ করেছেন, যে ভাষাকে মহান আল্লাহ বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং প্রাঞ্জলতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। যেখানে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: «সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।» 'আস-সাহিবী' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি সুবিদিত যে অনারবরা সিংহের জন্য একটির বেশি নাম জানে না, কিন্তু আমরা সিংহের জন্য দেড়শটি নাম বের করতে পারি।
যখন কুরআনের আকাশ থেকে ইসলামের সূর্য উদিত হলো, তখন আরবী ভাষা তার ব্যঞ্জনাধর্মী শব্দাবলি, উজ্জ্বল শব্দমালা এবং চমৎকার বাক্যগঠন শৈলীর মাধ্যমে বর্ণনাশৈলীতে শক্তি, শব্দের মাধুর্য এবং অর্থের গাম্ভীর্য লাভ করল।
আল-কুরআনে কারীমের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট সীমায় শেষ হয়ে যায় না এবং কোনো প্রান্তে এসে থেমে থাকে না; বরং যখনই কিছু অর্থের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তখনই নতুন নতুন অর্থের পুনর্জন্ম হয়, এভাবেই চলতে থাকে।
কুরআনে কারীমের অর্থসমূহ গবেষক ও চিন্তাশীল পাঠকদের নিকট বারংবার নতুন রূপে প্রকাশিত হতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হন।
ইমাম গাযালীর প্রশংসা না করলেই নয়, যখন তিনি এই অর্থগুলো সম্পর্কে ব্যক্ত করেছেন: «পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
كم تطوف على ساحل البحر مغمضا عينيك عن غرائبها. أو ما كان لك أن تركب لجّتها لتبصر عجائبها، وتسافر إلى جزائرها لاجتناء أطايبها، وتغوص في أعماقها، فتستغني بنيل جواهرها؟
أو ما بلغك من أن القرآن الكريم هو البحر المحيط، ومنه يتشعّب علم الأولين والآخرين كما يتشعّب من سواحل البحر المحيط أنهارها وجداولها» ومن المعاني الغزيرة التي ضمّها القرآن الكريم من خلال كلماته المشرقة وألفاظة البديعة ما يسمى بالمشترك اللفظيّ.
عشت في رحاب القرآن الكريم دارسا هذه الظاهرة، باحثا عن مصادرها، عارضا المؤلفات التي ألفت في ميدانها وأرجو الله أن يوفقنا لخدمة كتابه، وعرض درره وجواهره، إنه نعم المولى، ونعم النصير.
عبد العال سالم مكرم
--------------------------------------------
আপনি আর কতকাল সমুদ্রের তীরে চোখ বন্ধ করে এর বিস্ময়রাজি থেকে বিমুখ হয়ে বিচরণ করবেন? আপনার কি সময় হয়নি এর উত্তাল তরঙ্গে আরোহণ করে এর চমৎকারিত্ব প্রত্যক্ষ করার, এর সুস্বাদু ফল সংগ্রহের জন্য এর দ্বীপগুলোতে সফর করার এবং এর গভীর অতলে ডুব দিয়ে অমূল্য রত্নরাজি লাভের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হওয়ার?
আপনার কাছে কি এই সংবাদ পৌঁছেনি যে, কুরআনুল কারিম হলো এক বিশাল মহাসমুদ্র, যেখান থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান উৎসারিত হয়; যেমনভাবে মহাসমুদ্রের উপকূল থেকে নদ-নদী ও নালাসমূহ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে বয়ে যায়? কুরআনুল কারিম তার প্রোজ্জ্বল বাক্য এবং চমৎকার শব্দশৈলীর মাধ্যমে যে অগাধ অর্থরাশি ধারণ করেছে, তাকে সমোচ্চারিত শব্দ (المشترك اللفظي) বলা হয়।
আমি কুরআনুল কারিমের সান্নিধ্যে এই বিষয়টি অধ্যয়ন করে, এর উৎসসমূহ অনুসন্ধান করে এবং এই ক্ষেত্রে রচিত গ্রন্থসমূহ উপস্থাপন করে সময় অতিবাহিত করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাবের খেদমত করার এবং এর মণিমুক্তা ও রত্নরাজি তুলে ধরার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
আবদুল আল-সালিম মাকরাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول المشترك اللفظي في الحقل اللغوي
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভাষাতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে আভিধানিক সমশব্দতা (المشترك اللفظي)
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
1 - معنى المشترك اللفظي:حدّد معناه السّيوطي ناقلا عن ابن فارس في «فقه اللغة» فقال:
«وقد حدّه أهل الأصول بأنه اللفظ الواحد الدالّ على معنيين مختلفين فأكثر دلالة على السّواء عند أهل تلك اللغة» (1) ومن هذا التعريف يتبين أن عمود المشترك اللفظي هو الدلالة، لأن اللفظ الواحد يدلّ على معنى أو اثنين أو أكثر.
ومن البدهيّ أن اللّفظ في أول وضعه كان يدل على معنى واحد، ثم تولّد من هذا المعنى الواحد عدّة معان، وهذا التّوالد هو ما نسميه:
تطور المعنى.
وهذا التّطور «يسير ببطء وتدرّج، فتغيّر مدلول الكلمة مثلا لا يتمّ بشكل فجائي سريع، بل يستغرق وقتا طويلا، ويحدث عادة في صورة تدريجية فينتقل إلى معنى آخر قريب منه.
وهذا إلى ثالث متصل به
… وهكذا دواليك حتى تصل الكلمة أحيانا إلى معنى بعيد كل البعد عن معناها الأول» (2) والتطور مرتبط بعلاقتين يحكمانه، وهما: علاقة المجاورة والمشابهة.
--------------------------------------------
১ - সমার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) অর্থ:ইমাম সুয়ূতী ইবনে ফারিসের ‘ফিকহুল লুগাহ’ থেকে উদ্ধৃত করে এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলেছেন:
«উসুল শাস্ত্রবিদগণ (أهل الأصول) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে—এটি এমন একটি একক শব্দ যা ওই ভাষার অধিবাসীদের নিকট সমানভাবে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন অর্থ নির্দেশ করে» (১)। এই সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সমার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) মূল ভিত্তি হলো নির্দেশকতা (دلالة); কারণ একটি শব্দ এক, দুই বা ততোধিক অর্থ নির্দেশ করে।
এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, একটি শব্দ তার প্রাথমিক উদ্ভাবনের সময় কেবল একটি অর্থই নির্দেশ করত। অতঃপর সেই একটি অর্থ থেকে একাধিক অর্থের জন্ম হয়েছে। আর এই নতুন অর্থ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকেই আমরা বলি:
অর্থের বিবর্তন।
এই বিবর্তন «খুবই ধীরগতিতে এবং পর্যায়ক্রমে ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, শব্দের অর্থের পরিবর্তন হঠাৎ ও দ্রুত ঘটে না, বরং এটি দীর্ঘ সময় নেয় এবং সাধারণত ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হয়; ফলে এটি প্রথমে তার নিকটবর্তী অন্য একটি অর্থে স্থানান্তরিত হয়।
এরপর এটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় কোনো অর্থে মোড় নেয়... এভাবে চলতে চলতে শব্দটি কখনো কখনো তার আদি বা মূল অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দূরবর্তী কোনো অর্থে পৌঁছে যায়» (২)। এই বিবর্তন দুটি সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল যা একে নিয়ন্ত্রণ করে, আর সেগুলো হলো: নৈকট্য ও সাদৃশ্যের সম্পর্ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১০)
أما علاقة المجاورة قد تكون مكانيّة «كتحوّل» معنى «ظعينة» وهي في الأصل: المرأة في الهودج إلى معنى الهودج نفسه وإلى معنى البعير» وقد تكون علاقة المجاورة زمنية «كتحوّل معنى «العقيقة» وهي الأصل: الشعر الذي يخرج على الولد من بطن أمّه إلي معنى الذبيحة التي تنحر عند حلق الشعر» وأما علاقة المشابهة كتحول معنى
«الأفن»، وهو في الأصل:
قلّة لبن الناقة إلى معنى قلّة العقل والسّفه.
وتحوّل معنى المجدّ» وهو في الأصل: امتلاء بطن الدابّة من العلف إلي معنى الامتلاء بالكرم» (1) ومن التّطوّر الدّلالي وله علاقة بالمشترك اللّفظي:
أن تكون اللفظة تدل على معنى معيّن عامّ، فيتقادم الزمن بتناسى المعنى العام، لتستعمل الكلمة في معنى خاص.
«فمن ذلك جميع المفردات التي كانت عامّة المدلول، ثم شاع استعمالها في الإسلام في معان خاصة تتعلق بالعقائد أو الشعائر، أو النظم الدينيّة كالصلاة والحجّ، والصوم والمؤمن والكافر، والمنافق، والرّكوع والسجود ..
فالصلاة مثلا معناها في الأصل: «الدعاء» ثم شاع استعمالها في الإسلام في العبادة المعروفة لاشتمالها على مظهر من مظاهر الدعاء حتى أصبحت لا تنصرف عند إطلاقها إلى غير هذا المعنى.
--------------------------------------------
সংলগ্নতা বা নৈকট্যের সম্পর্ক (علاقة المجاورة) কখনো স্থানভিত্তিক হতে পারে, যেমন 'যায়িনা' (ظعينة) শব্দের অর্থের রূপান্তর। এটি মূলত হাওদাজে আসীন মহিলাকে বোঝাত, যা পরবর্তীতে স্বয়ং হাওদাজ এবং উট অর্থেই ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। আবার সংলগ্নতার সম্পর্ক সময়ভিত্তিকও হতে পারে, যেমন 'আকিকা' (العقيقة) শব্দের অর্থের রূপান্তর। এটি মূলত নবজাতকের জন্মের সময় মাথায় থাকা চুলকে বোঝাত, যা পরবর্তীতে সেই পশুকে জবেহ করার অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যা চুল মুণ্ডনের সময় করা হয়। আর সাদৃশ্যগত সম্পর্কের (علاقة المشابهة) উদাহরণ হলো অর্থের রূপান্তর
'আফান' (الأفن) শব্দের, যা মূলত:
উষ্ট্রীর দুগ্ধ স্বল্পতা থেকে বুদ্ধিহীনতা ও নির্বুদ্ধিতা অর্থে।
এবং 'মাজদ' (المجد) শব্দের অর্থের রূপান্তর, যা মূলত চতুষ্পদ প্রাণীর পেট ঘাস বা খাদ্য দিয়ে পূর্ণ হওয়াকে বোঝাত, পরবর্তীতে তা মহানুভবতা ও মর্যাদায় পূর্ণ হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (১) শব্দার্থিক বিবর্তনের (التطوير الدلالي) একটি দিক যা সমশব্দতার (المشترك اللفظي) সাথে সম্পর্কিত, তা হলো:
কোনো শব্দ নির্দিষ্ট একটি সাধারণ (عام) অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণ (عام) অর্থটি বিস্মৃত হয়ে যায় এবং শব্দটি একটি বিশেষ (خاص) অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল শব্দাবলি যা ইতিপূর্বে সাধারণ (عام) অর্থবোধক ছিল, অতঃপর ইসলামে তা আকিদা, ইবাদত বা ধর্মীয় ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ (خاص) অর্থে প্রসিদ্ধি লাভ করে। যেমন: সালাত (الصلاة), হজ (الحج), সওম (الصوم), মুমিন (المؤمن), কাফির (الكافر), মুনাফিক (المنافق), রুকু (الركوع) এবং সেজদা (السجود)...
উদাহরণস্বরূপ, সালাত (الصلاة) শব্দের মূল অর্থ হলো: প্রার্থনা বা দোয়া (الدعاء)। অতঃপর ইসলামে তা সুপরিচিত ইবাদতের অর্থে প্রসিদ্ধি লাভ করে, কারণ তাতে দোয়ার বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি বর্তমানে শব্দটি সাধারণভাবে উচ্চারণ করলে এই বিশেষ ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের দিকে মন ধাবিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
والحجّ، معناه في الأصل: قصد الشيء والاتّجاه، ثم شاع استعماله في قصد البيت الحرام، حتى أصبح مدلوله الحقيقي مقصورا على هذه الشعيرة (1) وقد يحدث العكس بأن تكون الكلمة دالة على معنى خاص في أصل وضعها ثم تتطور إلى معنى عام بتقادم العهد «فالبأس في الأصل: الحرب، ثم كثر استخدامه في كل شدّة، فاكتسب من هذا الاستخدام عموم معناه ..
والرائد في الأصل: طالب الكلاأ، ثم صار طالب كل حاجة رائدا. (2).
وهذا التطوّر أحسّ بها علماء اللغة القدماء قبل أن توجه إليه عناية اللغويين المحدثين.
قالأصمعيّ كان يقول: أصل «الورد»: إتيان الماء، ثم صار إتيان كل شيء وردا.
و «القرب» طلب الماء، ثم صار يقال ذلك لكل طلب، فيقال: هو يقرب كذا، أي يطلبه، ولا تقرب كذا» ويقولون: «رفع عقيرته» أي صوته، وأصل ذلك أن رجلا عقرت رجله، فرفعها، وجعل يصيح بأعلى صوته فقيل بعد لكل من رفع صوته: رفع عقيرته.
ويقولون: بينهما مسافة «وأصله من السّوف» وهو الشّمّ ومثل هذا كثير» (3)
--------------------------------------------
হজ (الحج), এর আভিধানিক মূল অর্থ হলো: কোনো কিছুর সংকল্প করা এবং সেই দিকে অগ্রসর হওয়া। পরবর্তীতে পবিত্র কাবা গৃহ যিয়ারতের সংকল্পের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রসিদ্ধি লাভ করে, এমনকি এর প্রকৃত (الحقيقي) অর্থ এই ধর্মীয় নিদর্শনের (شعيرة) মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায় (১)। আবার কখনো এর বিপরীতটিও ঘটে থাকে; অর্থাৎ কোনো শব্দ তার আদি উৎপত্তিকালে (أصل وضعها) বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু কালের আবর্তনে তা সাধারণ অর্থে বিবর্তিত হয়। যেমন: ‘আল-বা’স’ (البأس) শব্দটির আদি অর্থ ছিল: যুদ্ধ; পরবর্তীতে সকল প্রকার কঠোরতা বা তীব্রতার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং এই ব্যবহারের ফলে এটি সাধারণ অর্থ পরিগ্রহ করে।
অনুরূপভাবে ‘আর-রায়িদ’ (الرائد) শব্দের মূল অর্থ হলো: চারণভূমি অন্বেষণকারী। পরবর্তীতে যেকোনো প্রয়োজনে অন্বেষণকারীকেই ‘রায়িদ’ (رائدا) বলা হতে থাকে। (২)।
আর এই বিবর্তন (التطوّر) আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হওয়ার অনেক পূর্বেই প্রাচীন ভাষাবিদগণ অনুভব করেছিলেন।
আল-আসমাঈ বলতেন: ‘আল-উইর্দ’ (الورد) শব্দের মূল অর্থ হলো: পানির ঘাটে আসা; পরবর্তীতে যেকোনো স্থানে উপনীত হওয়াকেই ‘উইর্দ’ (وردا) বলা হতে থাকে।
এবং ‘আল-কুরব’ (القرب) হলো পানির সন্ধান করা। পরবর্তীতে যেকোনো অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। যেমন বলা হয়: ‘সে অমুক জিনিসের সন্ধান করছে’ (هو يقرب كذا), অর্থাৎ সে তা খুঁজছে, এবং ‘তুমি এর নিকটবর্তী হয়ো না’ (ولا تقرب كذا)। একইভাবে তারা বলে: ‘সে তার আওয়াজ উঁচিয়ে ধরল’ (رفع عقيرته), অর্থাৎ তার কণ্ঠস্বর। এর মূল প্রেক্ষাপট হলো—এক ব্যক্তির পা আহত বা কর্তিত (عقرت) হয়েছিল, ফলে সে তা উপরে তুলে ধরে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে। এরপর থেকে যে কেউ উচ্চস্বরে চিৎকার করলে বলা হতো: ‘সে তার আওয়াজ উঁচিয়ে ধরল’ (رفع عقيرতে)।
তারা আরও বলে: ‘তাদের উভয়ের মাঝে দূরত্ব (مسافة) রয়েছে’; আর এর মূল শব্দটি ‘আস-সাউফ’ (السوف) থেকে আগত, যার অর্থ ঘ্রাণ নেওয়া। এই জাতীয় দৃষ্টান্ত প্রচুর রয়েছে। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১২)
2 - اختلاف العلماء في مجال المشترك اللّفظيّ:لم يتفق علماء اللغة على رأي في وقوع هذه الظاهرة في ساحة اللّغة العربيّة، ففريق ينكر، وفريق يجوّز، ولكل فريق رأي واتّجاه. وعلى رأس المنكرين للمشترك اللّفظيّ في اللغة من القدماء ابن درستويه وسنلخص رأيه في إيجاز فيما يلي:
1 - رأي ابن درستويه:يرى ابن درستويه أن المشترك اللفظيّ لا يقع في كلام العرب للأمور التالية:
أ- ليس من الحكمة والصواب أن يقع المشترك اللفظيّ في كلام العرب لأنه يلبس، وواضع اللغة وهو الله عز وجل حكيم عليم، فقد وضع الله تعالى اللغة للإبانة عن المعاني.
ب- لو جاز وضع لفظ واحد للدلالة على المعنيين المختلفين لما كان ذلك إبانة، بل تعميم وتغطية.
ج- الذين جوزوا وقوع المشترك اللفظيّ متوهمون مخطئون، والمثل على ذلك مجىء فعل وأفعل لمعنيين مختلفين في نظر المجوزين فمن لا يعرف العلل، ويتعمق في دراسة الكلمات يحكم هذا الحكم مع أنهما في الحقيقة لمعنى واحد، وإذا وقع في كلام العرب أنهما لمعنيين مختلفين، فإنما يرجع ذلك إلى لغتين متباينتين، أو لحذف واختصار وقع في الكلام.
د- ويضرب مثلا على توهم المجوزين بلزوم الفعل وتعديته وذلك أن الفعل لا يتعدّى فاعله إذا احتيج إلي تعديته لم تجز تعديته على لفظه الذي هو عليه حتى يتغيّر إلى لفظ آخر بأن يزاد في أوله الهمزة، أو
২ - একই শব্দে একাধিক অর্থের (المشترك اللفظي) ক্ষেত্রে আলেমগণের মতভেদ:আরবি ভাষার ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্বের বিষয়ে ভাষাবিদগণ কোনো একটি মতের ওপর একমত হতে পারেননি। একদল একে অস্বীকার করেন এবং অন্য একদল একে সমর্থন করেন; আর প্রতিটি দলেরই নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রাচীনদের মধ্যে যারা ভাষায় একই শব্দে একাধিক অর্থের (المشترك اللفظي) বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনে দুরুসতুওয়াইহ। নিচে আমরা সংক্ষেপে তার মত তুলে ধরছি:
১ - ইবনে দুরুসতুওয়াইহের অভিমত:ইবনে দুরুসতুওয়াইহ মনে করেন যে, নিম্নোক্ত কারণগুলোর দরুন আরবদের কথাবার্তায় একই শব্দে একাধিক অর্থ (المشترك اللفظي) প্রকাশ পায় না:
ক- আরবদের কথাবার্তায় একই শব্দে একাধিক অর্থের (المشترك اللفظي) অনুপ্রবেশ ঘটা প্রজ্ঞা ও সঠিক নীতির অনুকূল নয়, কারণ এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। আর ভাষার প্রবর্তক মহান আল্লাহ তাআলা হলেন প্রজ্ঞাময় ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ তাআলা ভাষাকে সৃষ্টি করেছেন অর্থের সুস্পষ্ট বর্ণনার জন্য।
খ- যদি দুটি ভিন্ন অর্থ বুঝানোর জন্য একটিমাত্র শব্দ নির্ধারণ করা বৈধ হতো, তবে সেটি আর স্পষ্টিকরণ থাকত না; বরং তা অস্পষ্টতা ও রাখঢাকের নামান্তর হতো।
গ- যারা একই শব্দে একাধিক অর্থের (المشترك اللفظي) অস্তিত্ব সমর্থন করেছেন, তারা বিভ্রান্ত ও ভুল পথে রয়েছেন। এর উদাহরণ হিসেবে সমর্থনকারীদের দৃষ্টিতে 'ফাআলা' এবং 'আফআলা' এর দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার হওয়াকে উল্লেখ করা যেতে পারে। যারা শব্দের অন্তর্নিহিত গূঢ় কারণ (العلل) সম্পর্কে জানেন না এবং শব্দের গভীর অধ্যয়ন করেন না, তারাই এমন সিদ্ধান্ত দেন; অথচ বাস্তবে এই শব্দদ্বয় একই অর্থ বহন করে। আর যদি আরবদের কথায় এগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, তবে তা দুটি ভিন্ন উপভাষার কারণে হতে পারে অথবা বাক্যে কোনো শব্দ উহ্য থাকা কিংবা সংক্ষেপ করার কারণে হতে পারে।
ঘ- তিনি সমর্থনকারীদের ভ্রান্ত ধারণার বিপরীতে ক্রিয়ার অকর্মক (لازم) হওয়া এবং সকর্মক (متعدي) হওয়ার একটি উদাহরণ পেশ করেন। তা হলো, কোনো ক্রিয়া যদি তার কর্তাকে অতিক্রম না করে, তবে একে সকর্মক করার প্রয়োজন হলে তার বিদ্যমান শব্দরূপ দিয়ে তা করা বৈধ হয় না; যতক্ষণ না তার শব্দরূপে পরিবর্তন এনে শুরুতে 'হামজা' যুক্ত করা হয়, অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يوصل به حرف جر ليستدل السّامع على اختلاف المعنيين.
هـ- ويرى ابن درستويه أن بعض هذا الباب، ربما كثر استعماله في كلام العرب حتى يحاولوا تخفيفه، فيحذفوا حرف الجرّ منه، فيعرف بطول المادة، وكثرة الاستعمال، وثبوت النّقول، وإعرابه فيه خاليا عن الجار المحذوف» (1) وفي موطن آخر نرى ابن درستويه يسوق مثالا يدلل في ضوئه على أن المشترك اللفظيّ شيء ثابت فقط في أذهان من لم يتعمقوا في اللغة، ويعيشوا في محرابها بعقول متفتحة ونظرات نافذة، وذلك، لأن اللغة في رأيه لا تعترف بهذه الظاهرة، وأنه إذا وجد اختلاف في المعنى فإنما يرجع إلى تصاريف الكلمة، فهي المفتاح الوحيد للتفرقة بين المعاني، يقول:
وأما قوله: أقسط الرجل: إذا عدل، فهو مقسط، وقسط: إذا جار فهو قاسط، قال الله عز وجل: وَأَمَّا الْقاسِطُونَ فَكانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَباً (2)، فهو كما قال، ولكن الأصل فيهما من القسط، وهو العدل في الحكم، والتّسوية بين الخصوم، وفي الأنصباء، ولذلك سمّي المكيال: قسطا، والنصيب قسطا والميزان قسطاسا.
وإذا استعمل ذلك في الظلم، قيل: قسط بغير ألف، وهو يقسط فهو قاسط على وزن: ظلم يظلم فهو ظالم، أي لم يوف بالمكيال والميزان أو في النصيب.
--------------------------------------------
শ্রোতা যেন দুই অর্থের ভিন্নতা বুঝতে পারে সেজন্য এর সাথে অব্যয় (حرف الجر) যুক্ত করা হয়।
ঙ- ইবনে দুরুসতাওয়াইহ মনে করেন যে, এই অনুচ্ছেদের কিছু অংশ সম্ভবত আরবদের কথাবার্তায় এতো বেশি ব্যবহৃত হতো যে তারা তা সহজ করার চেষ্টা করত। ফলে তারা তা থেকে অব্যয় (حرف الجر) বিলুপ্ত করে দিত। এটি দীর্ঘ মূলশব্দ, অত্যধিক ব্যবহার এবং বর্ণনার (النقول) বিশুদ্ধতা দ্বারা পরিচিতি লাভ করে। আর অব্যয় বিলুপ্ত অবস্থায় এর শব্দবিশ্লেষণ (إعراب) সাব্যস্ত হয়। (১) অন্য এক স্থানে আমরা দেখি যে, ইবনে দুরুসতাওয়াইহ এমন একটি উদাহরণ পেশ করেন যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (المشترك اللفظيّ) বিষয়টি কেবল তাদের মনেই প্রতিষ্ঠিত যারা ভাষায় গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি এবং মুক্ত বুদ্ধি ও দূরদর্শী দৃষ্টি নিয়ে ভাষার নিবিড় চর্চায় নিমগ্ন হয়নি। কারণ তার মতে, ভাষা এই বিষয়টিকে স্বীকার করে না। তার মতে, যদি অর্থের মধ্যে কোনো ভিন্নতা পাওয়া যায়, তবে তা মূলত শব্দের রূপান্তরের (تصاريف) কারণেই হয়। আর অর্থসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার একমাত্র চাবিকাঠি হলো এই রূপান্তর। তিনি বলেন:
আর তার বক্তব্য: 'আকসাতাল রাজুলু' (أقسط الرجل), যখন সে ন্যায়বিচার করল, তখন সে ন্যায়বিচারক (مقسط)। আর 'কাসাতা' (قسط), যখন সে জুলুম করল, তখন সে অন্যায্যকারী (قاسط)। মহান আল্লাহ বলেছেন: "পক্ষান্তরে জালেমরা (القاسطون) তো জাহান্নামের ইন্ধন।" (২)। বিষয়টি তেমনই যেমনটি বলা হয়েছে। কিন্তু উভয়ের মূল ভিত্তি হলো 'আল-কিসত' (القسط) থেকে, যার অর্থ বিচারে ইনসাফ করা এবং বিবাদীদের মধ্যে ও প্রাপ্য অংশের মাঝে সমতা বিধান করা। এই কারণেই পরিমাপক পাত্রকে 'কিসত' (قسط), প্রাপ্য অংশকে 'কিসত' (قسط) এবং দাঁড়িপাল্লাকে 'কিসতাস' (قسطاس) বলা হয়।
আর যখন এটি জুলুমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন আলিফ ছাড়াই 'কাসাতা' (قسط) বলা হয়। এর ক্রিয়ারূপ হলো 'ইয়াকসিতু' (يقسط) এবং কর্তা হলো 'কাসিত' (قاسط); যা 'জলামা ইয়াজলিমু ফাহুওয়া জালিমুন' (ظلم يظلم فهو ظالم) এর ওজনে। অর্থাৎ সে পরিমাপে, ওজনে বা অংশে পূর্ণ হক প্রদান করেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وإذا استعمل في باب التسوية والإنصاف قبل: أقسط بالألف، فهو مقسط على وزن أنصف فهو منصف، أي صار ذا نصفة، وذا تسوية بالقسط، لأنهما بمعنى واحد» (1) فاختلاف المعنى في هذه الكلمة راجع إلى تصريف هذه الكلمة أو بعبارة أدق إلى الألف الزائدة في أقسط، وعدم وجودها في قسط، ومهما تغيرت المعاني، فإنها ترجع إلى معنى واحد.
ويؤكد ابن درستويه (2) هذا المعنى في كتابه: «شرح الفصيح» فيقول في لفظة: «وجد» واختلاف معانيها ما نصّه:
هذه اللفظة من أقوى حجج من يزعم أن من كلام العرب ما يتفق لفظه، ويختلف معناه، لأن سيبويه ذكره في أول كتابه، وجعله من الأصول المتقدّمة، فظنّ من لم يتأمّل المعاني، ولم يتحقّق الحقائق أنّ هذا لفظ واحد، جاء لمعان مختلفة، وإنما هذه المعاني كلّها شيء واحد، وهو إصابة الشىء خيرا كان أو شرّا ولكن فرّقوا بين المصادر، لأن المفعولات كانت مختلفة، فجعل الفرق في المصادر بأنّها أيضا مفعولة، والمصادر كثيرة التصاريف جدا، وامثلتها كثيرة مختلفة، وقياسها غامض، وعللها خفيّة، والمفتشون عنها قليل، والصّير عليها معدوم، فلذلك توهّم أهل اللّغة أنها تأتي على غير قياس، لأنهم لم يضبطوا قياسها ولم يقفوا على غورها» (3) ومن المؤيدين لرأي ابن درستويه الأستاذ الدكتور إبراهيم أنيس، فما رأيه؟
--------------------------------------------
وযদি এটি সাম্য ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তবে বলা হয়: ‘আকসাতা’ (أقسط) আলিফ যোগে, ফলে সে ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (مقسط); যা ‘আনসাফা’ (أنصف) এর ওজনে, অর্থাৎ সে ব্যক্তি ইনসাফকারী (منصف)। এর অর্থ হলো সে ইনসাফ ও ন্যায়ের অধিকারী হয়েছে, কারণ এই দুটি একই অর্থবোধক।» (১) সুতরাং এই শব্দের অর্থের ভিন্নতা শব্দটির রূপান্তর (تصريف) বা আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে ‘আকসাতা’ (أقسط) শব্দে অতিরিক্ত আলিফের উপস্থিতি এবং ‘কাসাতা’ (قسط) শব্দে এর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তবে অর্থের পরিবর্তন যেভাবেই হোক না কেন, তা মূলত একটি মূল অর্থের দিকেই ফিরে যায়।
ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ (২) তার ‘শারহুল ফাসিহ’ গ্রন্থে এই অর্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ‘ওয়াজাদা’ (وجد) শব্দ এবং এর বিভিন্ন অর্থ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
এই শব্দটি তাদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী দলিল যারা মনে করেন যে, আরবদের বক্তব্যে এমন শব্দ রয়েছে যার উচ্চারণ এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন। কারণ সিবওয়াইহ এটি তার কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন এবং একে মৌলিক নীতিমালা (الأصول) হিসেবে গণ্য করেছেন। যারা অর্থের গভীরতা নিয়ে চিন্তা করেনি এবং প্রকৃত সত্য যাচাই করেনি, তারা মনে করেছে যে এটি একটি একক শব্দ যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ এই সব অর্থই মূলত একটি বিষয়, আর তা হলো কোনো কিছু প্রাপ্ত হওয়া—তা ভালো হোক বা মন্দ। কিন্তু তারা ক্রিয়ামূল বা মাজদারগুলোর (المصادر) মধ্যে পার্থক্য করেছে, কারণ কর্মপদগুলো (المفعولات) ভিন্ন ভিন্ন ছিল। ফলে তারা মাজদারগুলোর মধ্যেও পার্থক্যের সৃষ্টি করেছে যেহেতু সেগুলোও কর্ম হিসেবে গণ্য। মাজদার বা ক্রিয়ামূলের রূপান্তর (التصاريف) অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, এর উদাহরণসমূহ অনেক ও ভিন্ন ভিন্ন, এর নিয়মাবলী অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কারণসমূহ লুকায়িত। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী খুবই নগণ্য এবং এর পেছনে ধৈর্য ধরার লোক নেই বললেই চলে। এই কারণেই ভাষাবিদগণ ধারণা করেছেন যে এটি কোনো নিয়ম ছাড়াই আসে, কারণ তারা এর নিয়মাবলী সুসংহত করতে পারেননি এবং এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেননি।» (৩) ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ-এর মতের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ডক্টর ইব্রাহিম আনিস; তার অভিমত কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - رأي الدكتور إبراهيم أنيس:يرى أستاذنا الفاضل أنّ المشترك اللفظيّ لا يقع إلا في لفظه تؤدّي إلى معنيين مختلفين كلّ الاختلاف، لبس بينهما أدنى ملابسة أو أيّة علاقة، أو أيّ نوع من أنواع الارتباط.
يقول ما نصه: «إذا ثبت لنا من نصوص أنّ اللفظ الواحد قد يعبّر عن معنيين متباينين كلّ التبّاين سمّينا هذا بالمشترك اللّفظيّ.
أما إذا اتضح أنّ أحد المعنيين هو الأصل، وأن الآخر مجاز له فلا يصح أن يعدّ مثل هذا من المشترك اللفظيّ في حقيقة أمره (1) ويضرب أستاذنا مثلا لذلك الذي يجعله العلماء الأسبقون بأنّه من المشترك اللّفظيّ مع أنه في الحقيقة ليس كذلك.
يضرب مثلا بكلمة: «الهلال» فهي حين تعبّر عن هلال السماء، وعن حديدة الصّيد التي تشبه في شكلها الهلال، وعن هلال النّعل الذي يشبه في شكله الهلال، لا يصح إذا أن تعدّ من المشترك اللفظيّ، لأنّ المعنى واحد في كلّ هذا، وقد لعب المجاز دوره في كل هذه الاستعمالات» وإلى جانب هذا المثال يقدّم مثالا آخر تتضح فيه ظاهرة المشترك اللفظيّ الذي يرى أنه يوجد حينما تفقد الصلة بين المعنيين في اللفظ المشترك، وهذا المثال هو كلمة: «الأرض»، «إن الأرض: هي الكرة الأرضيّة، وهي أيضا الزّكام، وكأن يقال لنا: إن الخال هو أخو الأم، وهو الشامة في الوجه، وهو الأكمة الصغيرة»
--------------------------------------------
২ - ডক্টর ইব্রাহিম আনিসের অভিমত:আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মনে করেন যে, শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) কেবল তখনই ঘটে যখন কোনো শব্দ এমন দুটি অর্থ প্রকাশ করে যারা পরস্পর সম্পূর্ণ ভিন্ন, যাদের মধ্যে ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা, সম্পর্ক বা কোনো ধরনের যোগসূত্র নেই।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন: «যদি বিভিন্ন বর্ণনা (نصوص) থেকে আমাদের নিকট এটি প্রমাণিত হয় যে, একটি একক শব্দ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন (متباينين) অর্থ প্রকাশ করছে, তবে আমরা একে শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) হিসেবে অভিহিত করি।
পক্ষান্তরে যদি এটি স্পষ্ট হয় যে, অর্থদ্বয়ের মধ্যে একটি হলো মূল (الأصل) এবং অন্যটি তার রূপক (المجاز), তবে একে প্রকৃত বিচারে শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) এর অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হবে না। (১) আমাদের উস্তাদ এমন একটি উদাহরণ পেশ করেছেন যাকে পূর্ববর্তী আলিমগণ শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) এর অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন, যদিও বাস্তবে তা তেমনটি নয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে 'হিলাল' (الهلال) শব্দটিকে পেশ করেছেন। যখন এই শব্দটি দ্বারা আকাশের নতুন চাঁদ, কিংবা শিকারের জন্য ব্যবহৃত বাঁকানো লৌহখণ্ড যা আকৃতিতে চাঁদের মতো, অথবা জুতার তলার অংশ যা আকৃতিতে চাঁদের মতো—এসব অর্থ প্রকাশ করে, তখন একে শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়। কেননা এই সকল ক্ষেত্রেই অর্থগত ভিত্তি এক, আর এই প্রতিটি প্রয়োগে মূলত রূপক (المجاز) তার ভূমিকা পালন করেছে। এই উদাহরণের পাশাপাশি তিনি অপর একটি উদাহরণ দিয়েছেন যেখানে শাব্দিক সমার্থকতা (المشترك اللفظي) এর বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে—যা তাঁর মতে তখনই ঘটে যখন শব্দটির দুটি অর্থের মধ্যকার যোগসূত্র বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই উদাহরণটি হলো 'আরদ' (الأرض) শব্দটি। যেমন 'আরদ' অর্থ পৃথিবী (الكرة الأرضية), আবার এর অর্থ সর্দি বা ঠাণ্ডাজনিত রোগ (الزكام)। একইভাবে বলা হয় যে, 'খাল' (الخال) অর্থ মামা, আবার এটি মুখের তিল (الشامة) এবং ছোট পাহাড়কেও (الأكمة) বোঝায়।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويؤيد الدكتور إبراهيم أنيس رأيه بأن القرآن الكريم لم يقع فيه المشترك اللفظيّ إلّا قليلا جدا، ونادرا، فيقول:
ويندر أن تصادفنا كلمة مثل «أمة» التي استعملت في القرآن الكريم بمعنى: «جماعة من الناس»، وبمعنى «الحين في قوله تعالى:
وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ (1)، وبمعنى «الدين» في قوله تعالى: إِنَّا وَجَدْنا آباءَنا عَلى أُمَّةٍ. (2)
مناقشة هذا الرأي:إن ما ذكره أستاذنا يختلف كل الاختلاف عما ذكره الأقدمون والمتأخرون في أنّ المشترك اللفظيّ وقع في القرآن الكريم بكثرة سواء كانت المعاني الدلاليّة للفظة
الواحدة متقاربة أو متباعدة.
وهناك من الآثار والأخبار ما لا يتّفق مع ما ذكره أستاذنا الفاضل، فقد قال مقاتل بن سليمان في صدر كتابه، المصنّف في هذا المعنى حديثا مرفوعا، وهو: «لا يكون الرجل فقيها كل الفقه حتى يرى للقرآن وجوها كثيرة» (3) وقد فسّر بعضهم هذا الحديث المرفوع بأن المراد أن يرى اللفظ الواحد يحتمل معاني متعدّدة، فيحمله عليها إذا كانت غير متضادّة ولا يقتصر به على معنى واحد.
وقصة علي كرم الله وجهه- معروفة في التاريخ الإسلامي، فحينما
--------------------------------------------
ড. ইব্রাহিম আনিস তাঁর এই মতকে সমর্থন করেন যে, পবিত্র কুরআনে শব্দগত বহুমুখী অর্থবোধক শব্দ (المشترك اللفظيّ) খুব সামান্য এবং বিরল ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন:
এটা বিরল যে আমরা ‘উম্মাহ’ এর মতো শব্দের সম্মুখীন হই যা পবিত্র কুরআনে ‘একদল মানুষ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে ‘সময়’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:
“এবং দীর্ঘকাল পরে তার স্মরণ হলো” (১), আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে ‘ধর্ম’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: “আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি।” (২)
এই মতের পর্যালোচনা:নিশ্চয়ই আমাদের উস্তাদ যা উল্লেখ করেছেন, তা প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণের মতামতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, পবিত্র কুরআনে শব্দগত বহুমুখী অর্থবোধক শব্দ (المشترك اللفظيّ) প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, চাই একটি শব্দের অর্থগত তাৎপর্যগুলো কাছাকাছি হোক কিংবা পরস্পর দূরবর্তী।
এমন কিছু বর্ণনা ও সংবাদ রয়েছে যা আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুকাতিল ইবনে সুলায়মান এই বিষয়ের ওপর রচিত তাঁর কিতাবের শুরুতে একটি মারফু (مرفوع) হাদিস উল্লেখ করেছেন, তা হলো: “কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ফকিহ হতে পারে না, যতক্ষণ না সে কুরআনের বহুবিধ অর্থ দেখতে পায়।” (৩) কেউ কেউ এই মারফু (مرفوع) হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তি একটি শব্দকে একাধিক অর্থের সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখবে; অতঃপর যদি অর্থগুলো পরস্পর বিরোধী না হয়, তবে সে শব্দটিকে সেই সব অর্থেই গ্রহণ করবে এবং কেবল একটি অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আর আলী (রা.)-এর ঘটনাটি ইসলামি ইতিহাসে সুপরিচিত, যখন তিনি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أرسل عليّ كرّم الله وجهه- ابن عبّاس إلى الخوارج، قال: اذهب إليهم، وخاصمهم، ولا تخاصمهم بالقرآن، فإنه ذو وجوه، ولكن خاصمهم بالسّنّة» وفي رواية أخرى قال له: «يا أمير المؤمنين، فأنا أعلم بكتاب الله، وفي بيوتنا نزل، قال: صدقت، ولكن القرآن حمّال على وجوه، تقول، ويقولون، ولكن حاجّهم بالسنة، فإنهم لن يجدوا عنها محيصا، فاخرج إليهم، فحاجّهم بالسنة، فلم يبق بأيديهم حجّة». (1)
ومالي أذهب بعيدا وقد قرّر بعض علماء اللغة المحدثين أن ظاهرة المشترك اللفظي تقع في كثير من اللغات، وهذا هو: «استيفن أولمان» يقرّر بما لا يدع مجالا للشك أن: «اللغة في استطاعتها أن تعبر عن الفكر المتعدّدة بواسطة تلك الطريقة الحصيفة القادرة التي تتمثل في تطويع الكلمات، وتأهيلها للقيام بعدد من الوظائف المختلفة، وبفضل هذه الوسيلة تكتسب الكلمات نفسها نوعا من المرونة والطواعية» فتظل قابلة للاستعمالات الجديدة. (2)
على أن زميلنا الأستاذ الدكتور أحمد مختار لم يرتض رأي الأستاذ الدكتور أنيس، ووجه إليه ردا يضاف إلى ردّنا السابق. فماذا قال الدكتور مختار؟
قال: «وإذا كان لنا من تعليق على رأي الدكتور أنيس فإنه يتلخص فيما يأتي:
1 - «أنه رغم تضييقه الشديد لمفهوم المشترك اللفظيّ في كتابه:
«دلالة الألفاظ»، وقصره المشترك الحقيقي على كلمات لا تتجاوز أصابع اليد
… نجده في كتابه «في اللهجات العربيّة» يصرّح بإن المعاجم العربيّة قد امتلأت به.
--------------------------------------------
আলী (রা.) ইবনে আব্বাসকে খারিজিদের নিকট পাঠালেন এবং বললেন: "তাদের কাছে যাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো। তবে কুরআনের মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করো না; কারণ তা বহু অর্থবোধক; বরং সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করো।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) বর্ণিত হয়েছে, তিনি তাকে বলেছিলেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমি তো আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক অবগত, কারণ তা আমাদের গৃহেই অবতীর্ণ হয়েছে।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ, কিন্তু কুরআন বহু অর্থের ভার বহনকারী; তুমি এক কথা বলবে, তারা অন্য কথা বলবে। বরং সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের সাথে যুক্তিতর্ক করো, কারণ সেক্ষেত্রে তারা নিস্তার পাবে না। অতঃপর তিনি তাদের নিকট বের হয়ে গেলেন এবং সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করলেন, ফলে তাদের হাতে আর কোনো দলিল অবশিষ্ট রইল না।" (১)
আমি আর কতদূরই বা যাব, অথচ সমকালীন অনেক ভাষাবিদই এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) বিষয়টি অনেক ভাষাতেই পরিলক্ষিত হয়। স্টিফেন উলম্যান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন যে: "ভাষা তার বহুমুখী চিন্তা প্রকাশের সক্ষমতা রাখে সেই বিচক্ষণ ও নিপুণ পদ্ধতির মাধ্যমে, যা শব্দকে বশীভূত করা এবং সেগুলোকে বিভিন্ন ধরণের কাজ সম্পাদনের উপযোগী করে তোলার মাঝে নিহিত। আর এই উপায়ের কল্যাণেই শব্দসমূহ এক প্রকার নমনীয়তা ও উপযোগিতা লাভ করে," ফলে তা নতুন নতুন ব্যবহারের উপযোগী থাকে। (২)
তবে আমাদের সহকর্মী অধ্যাপক ডক্টর আহমদ মুখতার, অধ্যাপক ডক্টর আনিসের মতের সাথে একমত হতে পারেননি এবং তিনি এর একটি প্রত্যুত্তর দিয়েছেন যা আমাদের পূর্ববর্তী উত্তরের সাথে যুক্ত করা যায়। ডক্টর মুখতার কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন: "ডক্টর আনিসের মতামতের ওপর আমাদের যদি কোনো মন্তব্য থাকে, তবে তা নিচের বিষয়গুলোতে সংক্ষেপিত করা যায়:
১ - "তিনি তাঁর 'দালালাত আল-আলফাজ' গ্রন্থে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) ধারণাকে অত্যন্ত সংকুচিত করা এবং প্রকৃত সমোচ্চারিত শব্দকে হাতের আঙুলে গণা যায় এমন কয়েকটি শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সত্ত্বেও... আমরা দেখি যে, তিনি তাঁর 'ফি আল-লাহাজাত আল-আরাবিয়্যাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, আরবি অভিধানসমূহ এতে পরিপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - أنه لم يستقرّ على وضع واحد بالنسبة لكلمات المشترك التي نشأت عن تطور صوتي، فمرّة اعتبرها من المشترك، ومرّة عدّ من الإسراف والمغالاة مجاراة المعاجم العربيّة في اعتبارها من المشترك، وذكر أن الأقرب إلى الصواب أنها من قبيل التطور الصوتي.
3 - أنه مزج بين المنهجين الوصفي والتاريخيّ في علاج هذه الظاهرة وكان الأولى أن يقتصر على أحدهما» (1)
3 - رأي المجوزين لوقوع المشترك اللفظيّ:
أدلة هؤلاء تنحصر فيما يلي:1 - الوضع اللغويّ:
وذلك لجواز أن يقع إمّا من واضعين، بأن يضع أحدهما لفظا لمعنى، ثم يضعه الآخر لمعنى آخر، واشتهر ذلك اللفظ بين الطائفتين في إفادته المعنيين، وهذا بناء على أن اللغات غير توقيفية» (2)
2 - نقل أهل اللغة كثيرا من الألفاظ المشتركة قال السّيوطي:
والأكثرون على أنه واقع لنقل أهل اللغة ذلك في كثير من الألفاظ» (3)
3 - الاشتراك من الناحية العقلية واجب الوقوع، لأن الألفاظ محدودة، ولها نهاية تقف عندها، أما المعاني، فتتوالد، وتتكاثر وتتنقل من حالة إلى حالة، كفروع الشجرة تنمو وتزدهر وتتشابك كلما دبت فيها الحياة، وسرى في عروقها الماء.
يقول السيّوطي: «ومن الناس من أوجب وقوعه- قال: لأن المعاني غير متناهية، والألفاظ متناهيّة،
--------------------------------------------
২ - তিনি ধ্বনিগত বিবর্তনের (تطور صوتي) ফলে উদ্ভূত সমোচ্চারিত সমরূপ শব্দের (المشترك اللفظي) ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থানের ওপর স্থির থাকতে পারেননি। কখনো তিনি সেগুলোকে সমোচ্চারিত (مشترك) হিসেবে গণ্য করেছেন, আবার কখনো অভিধানগুলোর অনুসরণ করে সেগুলোকে সমোচ্চারিত (مشترك) হিসেবে গণ্য করাকে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সঠিকতার অধিক নিকটবর্তী মত হলো এগুলো ধ্বনিগত বিবর্তনের (تطور صوتي) অন্তর্ভুক্ত।
৩ - তিনি এই বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক (الوصفي) ও ঐতিহাসিক (التاريخي) উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, অথচ যেকোনো একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটাই অধিকতর সমীচীন ছিল। (১)
৩ - সমোচ্চারিত সমরূপ শব্দ (المشترك اللفظي) সংঘটিত হওয়ার প্রবক্তাদের অভিমত:
তাদের প্রমাণাদি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ:১ - ভাষাগত প্রয়োগ (الوضع اللغوي):
এটি এজন্য যে, কোনো শব্দ দুইজন প্রণেতার (واضعين) পক্ষ থেকে আসা সম্ভব; এভাবে যে, একজন একটি শব্দকে একটি অর্থের জন্য নির্ধারণ করলেন, অতঃপর অন্যজন সেই একই শব্দকে ভিন্ন আরেকটি অর্থের জন্য নির্ধারণ করলেন। অতঃপর উভয় দলের নিকট শব্দটি উভয় অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করল। এটি সেই মতের ভিত্তিতে যে, ভাষাসমূহ সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيفية) নয়। (২)
২ - ভাষাবিদগণ কর্তৃক অসংখ্য সমোচ্চারিত সমরূপ শব্দ (الألفاظ المشتركة) বর্ণিত হওয়া। সুয়ূতী বলেন:
“অধিকাংশের মতে এটি সংঘটিত হয়েছে, কারণ ভাষাবিদগণ অনেক শব্দের ক্ষেত্রে এরূপ সমোচ্চারিত হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।” (৩)
৩ - যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের সমোচ্চারিত হওয়া (الاشتراك) অপরিহার্য। কারণ শব্দসমূহ সসীম (محدودة) এবং এর একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যেখানে তা থেমে যায়; পক্ষান্তরে অর্থসমূহ অনবরত সৃষ্টি হতে থাকে, বৃদ্ধি পায় এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়। যেমন বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়, বিকশিত হয় এবং জট পাকিয়ে যায় যখনই তাতে প্রাণ সঞ্চারিত হয় এবং তার শিরা-উপশিরায় পানি প্রবাহিত হয়।
সুয়ূতী বলেন: “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এটি ঘটা আবশ্যক বলেছেন—তিনি বলেন: কারণ অর্থসমূহ অসীম (غير متناهية) আর শব্দসমূহ সসীম (متناهية)।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والألفاظ متناهيّة، فإذا وزّع لزم الاشتراك» (1) ومعنى العبارة الأخيرة: أن المعاني إذا قسمت على الألفاظ استوعبتها وبقى من المعاني الكثير الذي لم تستوعبه الألفاظ،
فتنقسم هذه المعاني على الألفاظ المحدودة، فربّما يكون لكلّ لفظ معنيان أو أكثر تبعا للظروف والأهوال، والمتّغيّرات التي تمّ فيها التقسيم.
4 - الاشتراك من طبيعة اللغة، ففي مجال الحروف نجد أن النّحاة جعلوا لكل حرف معاني عدّة، وألّفوا في ذلك كتبا متعددّة ومستقلّة مثل: «الجني الدّاني في حروف المعاني لابن أم قاسم، ومثل الأزهية في علم الحروف للهرويّ، ومثل: «رصف المباني في حروف المعاني للمالقىّ.
وفي كل كتب النحاة تعرّض النحويون في باب حروف الجرّ لظاهرة المشترك اللفظيّ وبيّنوا أن لكل حرف عدة معان.
وفي حقل الأفعال نجد أن هناك اشتراكا بين الخبر، والدّعاء في الأفعال الماضية، وكذلك في الأفعال المضارعة.
يقول السيّوطيّ: وذهب بعضهم إلى أن الاشتراك أغلب لأن الحروف بأسرها مشتركة بشهادة النّحاة. والأفعال الماضية مشتركة بين الخير والدعاء، والمضارع كذلك، وهو أيضا مشترك بين الحال والاستقبال،
--------------------------------------------
এবং শব্দসমূহ সসীম, সুতরাং যখন এগুলি (অর্থের ওপর) বণ্টন করা হয়, তখন শব্দগত অংশীদারিত্ব (الاشتراك) অনিবার্য হয়ে পড়ে।» (১) আর শেষ বাক্যটির অর্থ হলো: অর্থসমূহকে যখন শব্দসমূহের ওপর বণ্টন করা হয়, তখন সেগুলো শব্দসমূহকে পূর্ণ করে ফেলে এবং অর্থের এমন অনেক অংশ অবশিষ্ট থেকে যায় যা শব্দসমূহ ধারণ করতে পারে না।
ফলে এই অর্থসমূহ সীমাবদ্ধ শব্দসমূহের ওপর বণ্টিত হয়, তাই পরিস্থিতি, অবস্থা এবং যে পরিবর্তনশীল অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভাজনটি সম্পন্ন হয়েছে তার ভিত্তিতে সম্ভবত প্রতিটি শব্দের জন্য দুই বা ততোধিক অর্থ থাকতে পারে।
৪ - শব্দগত অংশীদারিত্ব (الاشتراك) ভাষার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য; হরফ বা অব্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, ব্যাকরণবিদগণ প্রতিটি হরফের জন্য একাধিক অর্থ নির্ধারণ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা স্বতন্ত্র ও বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন: ইবনে উম্মে কাসিমের 'আল-জানি আদ-দানি ফি হুরুফ আল-মাআনি', আল-হারাউয়ি-র 'আল-আযহিয়্যাহ ফি ইলম আল-হুরুফ' এবং আল-মালিকি-র 'রাসফ আল-মাবানি ফি হুরুফ আল-মাআনি'।
ব্যাকরণবিদদের সকল গ্রন্থে তাঁরা হরফে জার অধ্যায়ে শব্দগত অংশীদারিত্বের (المشترك اللفظيّ) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে প্রতিটি হরফের একাধিক অর্থ রয়েছে।
ক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, অতীতকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সংবাদ এবং দোয়ার মাঝে শব্দগত অংশীদারিত্ব (اشتراك) বিদ্যমান, একইভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও।
সুয়ূতী বলেন: কেউ কেউ মনে করেন যে শব্দগত অংশীদারিত্বই (الاشتراك) অধিকতর প্রবল, কারণ ব্যাকরণবিদদের সাক্ষ্য অনুযায়ী সমস্ত হরফই অংশীদারিত্বমূলক। অতীতকালীন ক্রিয়াগুলো সংবাদ এবং দোয়ার মধ্যে সাধারণ (مشترك), একইভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াও; এটি বর্তমান (الحال) এবং ভবিষ্যৎ (الاستقبال) উভয় কালের মধ্যেই সাধারণ (مشترك)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثم قال السّيوطي: «والأسماء كثير فيها الاشتراك» (1) ومعنى ذلك أنه إذا كان الاشتراك في الحروف والأفعال، قضية مسلما بها، فكذلك القسم الثالث من أقسام الكلمة، وهي الأسماء، قضيّة مسلم بها.
4 - اختلاف الحركات والمشترك اللفظيّ:لم يتعرض القدماء والمحدثون إلى أنّ اختلاف الحركات في الكلمة ذات الحركات المختلفة، والتي تعطى معاني متعدّدة بإختلاف حركاتها قد يجعل هذه الكلمة من قبيل المشترك اللّفظي.
ويظهر أن «قطرب» المتوفي سنة 206 هـ أول من تنبّه إلى هذه الظاهرة وهي التي تتمثل في «المثلثات» في كتاب ألفّه بعنوان:
«المثلث» أو «المثلثات» وقد حقّق هذه المثلثات الدكتور رضا السويسي (2) وبيّن في مقدمة تحقيقه أن المقصود «من عبارة المثلّث أو المثلّثات هو مجموعة تضمّ ثلاثة مفردات، لها نفس الصيغة الصّرفيّة ومركّبة من نفس الحروف، فما يتغيّر فيها إلّا حركة فاء الكلمة أو عينها فيحصل بتغيير الحركة تغيير في المعنى، ومنه انتقال من مجال دلاليّ معيّن إلى مجال ثان» (3) وقد ألف في هذه الظاهرة بعد قطرب:
1 - أبو محمد عبد الله بن محمد البطليوسي النّحوي المتوفي 520 هـ 2 - أبو حفص عمر بن محمد القضاعي البلنسيّ المتوفي 570 هـ.
--------------------------------------------
এরপর সুয়ূতী বলেন: «নামের ক্ষেত্রেও সমশব্দতা (اشتراك) প্রচুর» (১) এবং এর অর্থ হলো, যদি হরফ (অব্যয়) এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সমশব্দতা একটি স্বীকৃত বিষয় হয়, তবে শব্দের তিন প্রকারের মধ্যে তৃতীয় প্রকার—অর্থাৎ নামের ক্ষেত্রেও এটি একটি স্বীকৃত বিষয়।
৪ - হরকতের ভিন্নতা এবং সমোচ্চারিত শব্দ (المشترك اللفظي):প্রাচীন ও আধুনিক কোনো গবেষকই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি যে, একই বর্ণসমষ্টির কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হরকতবিশিষ্ট শব্দ, যা হরকতের পার্থক্যের কারণে একাধিক অর্থ প্রদান করে, তা এই শব্দকে সমোচ্চারিত শব্দের (المشترك اللفظي) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
ধারণা করা হয় যে, ২০৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী «কুতরুব» সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন। এটি তার রচিত «মুসাল্লাছাত» (المثلثات) নামক গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে, যা তিনি এই শিরোনামে রচনা করেছিলেন:
«আল-মুসাল্লাছ» বা «আল-মুসাল্লাছাত»। ড. রিদা আল-সুয়াইসি এই মুসাল্লাছাতগুলো সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন (২) এবং তার সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকার ব্যাখ্যা করেছেন যে, «মুসাল্লাছ বা মুসাল্লাছাত পরিভাষাটি দ্বারা এমন একটি শব্দসমষ্টিকে বোঝানো হয় যা তিনটি শব্দ ধারণ করে, যাদের রূপতাত্ত্বিক গঠন (الصيغة الصرفية) অভিন্ন এবং একই বর্ণ দ্বারা গঠিত। এতে কেবল শব্দের প্রথম বর্ণ (ফা-কালিমা) বা মধ্য বর্ণের (আইন-কালিমা) হরকত পরিবর্তিত হয়, যার ফলে হরকত পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের পরিবর্তন ঘটে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট অর্থবোধক ক্ষেত্র থেকে অন্য ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হয়» (৩)। কুতরুবের পর এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন:
১ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাতালইউসি আন-নাহবি (ইন্তেকাল ৫২০ হি.) ২ - আবু حفص উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-কুদায়ি আল-বালানসি (ইন্তেকাল ৫৭০ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - جمال الدين محمد بن عبد الله بن مالك النحوي المتوفي سنة 672 هـ.
4 - أبو بكر الوراق البهنسيّ المتوفي 685 هـ.
5 - مجد الدين أبو طاهر محمد يعقوب الفيروز ابادي المتوفي 817 هـ.
6 - حسن قويدر الخليلي المغربيّ المتوفي 1262 هـ. (1)
ومن الأمثلة التي نقدمها من كتاب مثلثات قطرب كنماذج تدل على الظّاهرة، وتوضّح أنّها ظاهرة علاقتها بالمشترك اللّفظيّ علاقة وطيدة هي ما يلي:
أمثلة من مثلّثات قطرب:
1 - من المثلثات ما فتح أوّله، وكسر ثانيه، وضم ثالثه كلمة:
الغمر- الغمر- الغمر.
أمّا الغمر: فالماء الكثير، وأما الغمر: فالحقد في الصدر ومنه الحديث: «لا تجوز شهادة ذي الغمر على أخيه» (2)
…وأمّا الغمر، فهو الرّجل الذي لم يجرّب الأمور، الضعيف في حالاته 2 - ومنه: السّلام، والسّلام، والسّلام.
فأمّا السّلام: فهو التّحية بين النّاس، قال تعالى: تَحِيَّتُهُمْ فِيها سَلامٌ (3)
--------------------------------------------
৩ - জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আন-নাহবি, মৃত্যু ৬৭২ হিজরি।
৪ - আবু বকর আল-ওয়াররাক আল-বাহনাসি, মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি।
৫ - মাজদুদ্দিন আবু তাহির মুহাম্মদ ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, মৃত্যু ৮১৭ হিজরি।
৬ - হাসান কুয়াইদার আল-খলিলি আল-মাগরিবি, মৃত্যু ১২৬২ হিজরি। (১)
কুতরুবের 'মুসাল্লাত' গ্রন্থ থেকে আমরা যে উদাহরণগুলো নমুনা হিসেবে পেশ করছি, যা এই বিষয়টিকে নির্দেশ করে এবং স্পষ্ট করে যে, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক (المشترك اللفظي) শব্দের সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তা নিম্নরূপ:
কুতরুবের মুসাল্লাত থেকে উদাহরণ:
১ - মুসাল্লাত-এর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন শব্দ যার প্রথম বর্ণে ফাতহ (যবর), দ্বিতীয় বর্ণে কাসরাহ (যের) এবং তৃতীয় বর্ণে দম্মাহ (পেশ) রয়েছে, যেমন একটি শব্দ:
আল-গামর, আল-গিমর, আল-গুমর।
‘আল-গামর’ হলো: প্রচুর পানি। আর ‘আল-গিমর’ হলো: অন্তরের বিদ্বেষ; যা থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে: “কোনো বিদ্বেষ পোষণকারীর সাক্ষ্য তার ভাইয়ের বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।” (২)
…আর ‘আল-গুমর’ হলো: সেই ব্যক্তি যে কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ নয় এবং তার অবস্থায় দুর্বল (الضعيف)। ২ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আস-সালাম, আস-সিলাম এবং আস-সুলাম।
‘আস-সালাম’ হলো: মানুষের মধ্যে সম্ভাষণ। মহান আল্লাহ বলেন: “সেদিন তাদের সম্ভাষণ হবে সালাম।” (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأمّا السّلام: فالحجارة:: جمع سلمة .. (1)
وأمّا السّلام: فعروق ظاهر الكفّ والقدم، وجمعها: سلاميات» 3 - ومنه: الكلام، والكلام، والكلام.
فأمّا الكلام فمن المنطق، وهو كلام النّاس، قال المؤمل:
منّي علينا بالكلام فإنّما* كلامك ياقوت ودر منظّم وأمّا الكلام فالجراحات، واحدها: كلم، قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه: «أجدك ما لعينيك لا تنام؟ كأن جفونها فيها فيها كلام» وأمّا الكلام، فهي الأرض الصلبة فيها الحصى والحجارة.
قال بشر بن أبي حازم:
نطوف بسبسب لا نبت فيها* كأن كلامها زبر الحديد (2) ونكتفي بهذا القدر من الأمثلة التي ساقها قطرب، وقد عرفنا من خلالها أنها لون من ألوان المشترك اللفظي.
وقد قام المحقق بدراسته متّصلة حول هذه المثلثات ووضع جداول لها في حقول الدّلالات، وقدّم لهذه الجداول بما نصه:
«إن توزيع المثلّثات إلى مجالات دلاليّة قد يساعدنا على حصر هذه المجالات، كما يساهم في تحديد نوعيّة العلاقات الدّلالية الرابطة بين كلّ مثلّث من حيث هي علاقة تنافر أو تقارب أو تناسق أو تشابه، كما يساهم البحث في مستوى الحركات على إبراز علاقات قد تكون من نوع مغاير كالانتقال من المادّيّات إلى المعنويّات والمجرّدات» (3)
--------------------------------------------
আর 'আস-সাল্লাম' (السَّلام) বলতে পাথর বোঝায়, যা 'সালামাহ' (سلمة) শব্দের বহুবচন। (১)
আর 'আস-সিল্লাম' (السِّلام) বলতে হাতের পিঠ ও পায়ের উপরিভাগের শিরাকে বোঝায়, যার বহুবচন হলো: 'সুলামিয়াত'। ৩ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আল-কালাম, আল-কিলাম এবং আল-কুলাম।
তন্মধ্যে 'আল-কালাম' (الكلام) হলো যুক্তি বা কথা, যা মূলত মানুষের সাধারণ কথাবার্তা; মুআম্মিল বলেন:
আমাদের প্রতি কথার মাধ্যমে অনুগ্রহ করুন, কারণ আপনার কথা যেন ইয়াকুত ও সুবিন্যস্ত মুক্তা। আর 'আল-কিলাম' (الكلام) বলতে ক্ষত বা জখম বোঝায়, যার একবচন হলো: 'কালম' (كلم); আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন: "আমি কি তোমাকে এমন অবস্থায় পাচ্ছি যে তোমার চোখে ঘুম নেই? যেন চোখের পাতায় ক্ষত (كلام) রয়েছে।" আর 'আল-কুলাম' (الكلام) হলো কঙ্কড় ও পাথরযুক্ত শক্ত ভূমি।
বিশর বিন আবি হাযিম বলেন:
আমরা এমন এক জনমানবহীন প্রান্তরে বিচরণ করি যেখানে কোনো উদ্ভিদ নেই, যেন সেখানকার শক্ত মাটি (كلامها) লোহার টুকরোর মতো। (২) কুতরুব কর্তৃক উপস্থাপিত এই উদাহরণগুলোই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এগুলোর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে এটি সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) একটি প্রকার।
মুহাক্কিক এই ত্ৰিপদী শব্দসমষ্টি (المثلثات) নিয়ে একটি ধারাবাহিক গবেষণা পরিচালনা করেছেন এবং অর্থবোধক ক্ষেত্রসমূহের (حقول الدلالات) ভিত্তিতে এগুলোর জন্য ছক তৈরি করেছেন। তিনি এই ছকগুলোর জন্য নিম্নোক্ত ভূমিকা প্রদান করেছেন:
“ত্ৰিপদী শব্দসমষ্টিকে (المثلثات) অর্থবোধক ক্ষেত্রের (مجالات دلالية) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা আমাদের এই ক্ষেত্রগুলোকে সীমাবদ্ধ করতে সাহায্য করতে পারে। এটি প্রতিটি ত্ৰিপদী শব্দের মধ্যে বিরাজমান অর্থবোধক সম্পর্কের (العلاقات الدلالية) প্রকৃতি নির্ধারণেও অবদান রাখে—যেমন বৈসাদৃশ্য, নৈকট্য, সামঞ্জস্য বা সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক। এছাড়াও হরকতের (الحركات) স্তরে গবেষণা করলে এমন কিছু সম্পর্ক ফুটে ওঠে যা ভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে, যেমন বস্তুগত বিষয় (الماديات) থেকে ভাবগত বিষয় (المعنويات) ও বিমূর্ত বিষয়ের (المجردات) দিকে উত্তরণ।” (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
5 - السياق محور المشترك اللفظي:السياق هو علاقة الكلمة التي وقع فيها المشترك اللّفظي مع ما قبلها وما بعدها من كلمات الجملة، وذلك لأن الكلمات ليست أجساما بلا أرواح، ولكنها حيّة متحرّكة تعطي إشعات معينة للكلمات التي وقع فيها الاشتراك، وهي المفتاح الذي يفتح المغلق منها أو المصباح الذي يهتدي بضوئه على تحديد معاني الكلمة المشتركة.
«ولهذا يصرّح» فيرث بأن المعنى لا ينكشف إلّا من خلال «تسييق» الوحدة اللّغوية، أي وضعها في سياقات مختلفة.
ومعظم الوحدات الدّلالية تقع في مجاورة وحدات أخر، وأنّ معاني هذه الوحدات لا يمكن وصفها أو تحديدها إلّا بملاحظة الوحدات الأخرى التي تقع مجاورة لها» (1) ومن الأمثلة الحيّة على قيمة السيّاق في تحديد المعنى ما يلي:
1 - قال أبو الطيب في رواية مسلسلة بدأها بأخبار محمد بن يحيي، وانتهى بها إلى الجرمازيّ، قال للخليل ثلاثة أبيات على قافية واحدة، يستوي لفظها ويختلف معناها:
يا ويح قلبي من دواعي الهوى* إذ رجل الجيران عند الغروب أتبعتهم طرفي وقد أزمعوا* ودمع عيني كفيض الغروب كانوا وفيهم طفلة حرّة* تفترّ عن مثل أقاحي الغروب فالغروب الأوّل: غروب الشمس، والثاني: جمع غرب، وهو الدّلو العظيمة المملوءة، والثّالث: جمع غرب، وهي الوهاد المنخفضة. (2)
2 - في كتاب: «مراتب النّحويين» لأبي الطيب اللّغوي:
--------------------------------------------
৫ - প্রেক্ষাপট: সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) কেন্দ্রবিন্দু:প্রেক্ষাপট (السياق) হলো কোনো শব্দের সাথে সেই বাক্যের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শব্দরাজির সম্পর্ক যেখানে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (المشترك اللفظي) প্রয়োগ ঘটেছে। কারণ শব্দসমূহ প্রাণহীন জড়বস্তু নয়; বরং এগুলো জীবন্ত ও গতিশীল, যা সংশ্লিষ্ট শব্দের ওপর বিশেষ দ্যোতনা তৈরি করে। এটিই হলো সেই চাবিকাঠি যা শব্দের রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করে অথবা এটি সেই প্রদীপ যার আলোতে সমোচ্চারিত শব্দের অর্থ নির্ধারণের সঠিক দিশা পাওয়া যায়।
«এজন্যই ফার্থ স্পষ্টভাবে বলেছেন» যে, ভাষাগত এককের (وحدة لغوية) অর্থ কেবল ‘প্রেক্ষাপট বিন্যাসের’ (تسييق) মাধ্যমেই উন্মোচিত হয়, অর্থাৎ সেটিকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে স্থাপনের মাধ্যমে।
অধিকাংশ অর্থবোধক একক (وحدة دلالية) অন্য এককের সান্নিধ্যে অবস্থান করে এবং এই এককগুলোর অর্থ বর্ণনা বা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না তার পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এককগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয় (১)। অর্থ নির্ধারণে প্রেক্ষাপটের (السياق) গুরুত্বের কিছু জীবন্ত উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১ - আবু তাইয়িব একটি পরস্পরসম্পৃক্ত বর্ণনায় (رواية مسلسلة), যা তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে শুরু করেছেন এবং জারমাজির নিকট গিয়ে শেষ করেছেন, সেখানে বলেছেন যে, খলিলের তিনটি পঙ্ক্তি রয়েছে যার অন্ত্যমিল একই, শব্দও অভিন্ন, কিন্তু অর্থ ভিন্ন:
হায় আমার হৃদয়! অনুরাগের আহবানে ব্যথিত, যখন সূর্যাস্তের সময় প্রতিবেশীরা প্রস্থান করল।
আমি তাদের দিকে দৃষ্টি অনুসরণ করালাম যখন তারা বিদায়ের সংকল্প করল, আর আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল পূর্ণ বালতি উপচে পড়ার মতো।
তাদের মাঝে এক কোমলমতি স্বাধীন কন্যা ছিল, যার হাসিতে নিচু উপত্যকার শুভ্র ফুলের ন্যায় শুভ্রতা প্রকাশ পাচ্ছিল।
এখানে প্রথম ‘আল-গুরুব’ হলো: সূর্যাস্ত। দ্বিতীয়টি: ‘গারব’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ পানিভর্তি বড় বালতি। এবং তৃতীয়টি: ‘গারব’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ নিচু উপত্যকা। (২)
২ - আবু তাইয়িব আল-লুগাভির ‘মারাতীবুন নাহবিয়্যীন’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال: أنشدنا ثعلب:
أتعرف أطلالا شجونك بالخال وعيش زمان كان في العصر الخالي ليالي ريعان الشباب مسلّط على بعصيان الإمارة والخال وإذا أنا خدن للغويّ أخي الصبا وللغزال المريح ذي اللهو والخال وللخود تصطاد الرّجال بفاحم وخدّ أسيل كالوذيلة ذي خال إذا رئمت ربعا رئمت (1) رباعها كما رئم الميثاء (2) ذو الرّيبة الخالي وفسر ذلك بقوله:
قوله: شجونك بالخال: يريد موضعا بعينه وقوله: في العصر الخالي: الماضي.
وقوله: الإمارة والخال: يريد الراية.
وقوله: ذي اللهو والخال: يريد الخيلاء والكير.
وقوله: كالوذيلة ذي خال، يريد واحد خيلان الوجه.
وقوله: ذي الرّيبة الخال، يعني العزب. (3)
3 - وفي المجمل يقدم لنا ابن فارس مثالا للفظة مشتركة وهي العين، فيقول:
«العين: عين الإنسان، وكلّ ذي بصر، وهي مؤنثة، والجمع: أعين وعيون، وعنت الرجل: أصبته بعيني، وهو معين ومعيون، والفاعل:
عائن، ورأيت هذا الشيء عيانا وعينة، ولقيته عين عنّة أي عيانا، وفعل ذلك عمد عين: إذا تعّمدّه، وهذا عبد عين، أي يخدمك ما دامت تراه فإذا غبت، فلا:
والعين: المتجسّس للخير
… ، وبلد قليل العين، أي: قليل الناس ..
والعين للماء، والعين: سحابة تقبل من ناحية القبلة،
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমাদের নিকট ছালাব আবৃত্তি করেছেন:
আপনি কি আল-খাল নামক স্থানের সেই ভগ্নাবশেষগুলোকে চেনেন যা আপনার বিষণ্নতাকে জাগিয়ে তোলে, এবং গত হওয়া সেই সময়ের জীবন সম্পর্কে? সেই তারুণ্যের দিনগুলো, যখন পতাকার নেতৃত্ব ও আদেশের অবাধ্যতা আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। যখন আমি ছিলাম চপল যৌবনের সহচর এবং আমোদ-প্রমোদ ও অহংকারে মত্ত সেই চঞ্চল হরিণতুল্য যুবকের সঙ্গী। আর সেই সুন্দরী নারীর সঙ্গী, যে তার ভ্রমরকৃষ্ণ কেশরাজি এবং রূপার পাতের ন্যায় মসৃণ তিলযুক্ত গাল দিয়ে পুরুষদের শিকার করে। সে যখন কোনো বসতিকে ভালোবাসে, তখন সেটির চারপাশকেও ভালোবেসে ফেলে; যেমন জনমানবহীন প্রান্তরের নিঃসঙ্গ ও নিঃসঙ্গ ব্যক্তি সমতল ভূমিকে ভালোবাসে। এবং তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
তাঁর উক্তি: ‘আল-খাল নামক স্থানে আপনার বিষণ্নতা’: এর দ্বারা তিনি একটি নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝিয়েছেন। আর তাঁর উক্তি: ‘অতীত যুগে’: অর্থাৎ যা গত হয়ে গিয়েছে।
আর তাঁর উক্তি: ‘নেতৃত্ব ও পতাকা’: তিনি এর দ্বারা পতাকাকে বুঝিয়েছেন।
আর তাঁর উক্তি: ‘আমোদ-প্রমোদ ও অহংকার’: তিনি এর দ্বারা দম্ভ ও গরিমা বুঝিয়েছেন।
আর তাঁর উক্তি: ‘তিলযুক্ত রূপার পাতের ন্যায়’: এর দ্বারা তিনি চেহারার তিলকে বুঝিয়েছেন।
আর তাঁর উক্তি: ‘নিঃসঙ্গ ব্যক্তি’: অর্থাৎ অবিবাহিত। (৩)
৩ - আর আল-মুজমাল গ্রন্থে ইবনে ফারিস আমাদের নিকট একটি বহু অর্থবোধক শব্দের উদাহরণ পেশ করেছেন, আর তা হলো ‘আল-আইন’। তিনি বলেন:
«আল-আইন: মানুষের চোখ, এবং দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন প্রতিটি বস্তু; এটি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ, এর বহুবচন হলো: আ’ইয়ুন ও উয়ুন। আমি লোকটিকে ‘আন্তু’ বলেছি: অর্থাৎ আমি তাকে আমার চোখ দিয়ে আঘাত করেছি (বদনজর দিয়েছি), এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি ‘মাঈন’ বা ‘মায়ুন’ (বদনজরে আক্রান্ত)। আর এর কর্তা হলো:
আইন (বদনজর দানকারী)। আর আমি এই জিনিসটি ‘ইয়ানান’ বা ‘ইনাহ’ অর্থাৎ স্বচক্ষে দেখেছি। আমি তার সাথে ‘আইনা আননাহ’ অর্থাৎ সরাসরি সাক্ষাৎ করেছি। আর সে এই কাজটি ‘আমদা আইন’ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। আর এটি হলো ‘আবদু আইন’ অর্থাৎ সে ততক্ষণই তোমার সেবা করবে যতক্ষণ তুমি তাকে দেখছ, আর যখন তুমি অনুপস্থিত থাকবে, তখন সে আর কাজ করবে না।
আর আল-আইন: সংবাদের সন্ধানে নিয়োজিত গোয়েন্দা
… , আর ‘অল্প আইন বিশিষ্ট জনপদ’ অর্থাৎ: যেখানে মানুষ কম...
আর আল-আইন বলতে পানির ঝরনাকেও বোঝায়। এবং আল-আইন: এমন এক খণ্ড মেঘ যা কিবলার দিক থেকে ধেয়ে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والعين: مطر يدوم خمسا أو ستا لا يقلع، والعين: الشّمس والعين: الثّقب في المزادة
… الخ (1)
6 - أهم المؤلفات اللغوية في حقل المشترك اللفظيّ:يعتبر كتاب «المنجد في اللغة» لأبي الحسن علي بن الحسن الهنائي المشهور بكراع أشمل كتاب في الحقل اللغوي، وهو وإن كان مسبوقا بمؤلفين اخرين أمثال:
1 - الأصمعيّ المتوفي سنة 215 هـ.
2 - أبو عبيد المتوفي 224 هـ.
3 - واليزيديّ المتوفي 225 هـ.
4 - والمبرّد المتوفي سنة 285 هـ. (2)
إلّا أن كتاب «المنجدّ لكراع يعتبر أهم هذه المؤلفات على الإطلاق، وأهميته ترجع إلى ما يلي:
1 - احتواؤه على قرابة تسعمائة كلمة في حين يحتوى كتاب أبي عبيد على حوالي 150 كلمة، وكتاب أبي العميثل على حوالي 300 كلمة.
2 - أنه أول كتاب من نوعه تبدو فيه روح النظام.
3 - أنه من أوائل كتب اللغة التي طبّقت نظام الترتيب الهجائي في عرض الكلمات، ولذا فتحت مجالا أمام أصحاب المعاجم، ليتركوا نظام الخليل الصوتي» (3)
--------------------------------------------
আর 'আইন' (العين) হলো: এমন বৃষ্টি যা পাঁচ বা ছয় দিন একটানা বর্ষিত হয়, থামে না; 'আইন' হলো সূর্য; এবং 'আইন' হলো চামড়ার মশক বা পানির পাত্রের ছিদ্র
… ইত্যাদি (১)
৬ - শব্দার্থিক সমরূপতা বা সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (المشترك اللفظيّ) বিষয়ক ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহ:আবুল হাসান আলী বিন হাসান আল-হুনাই—যিনি 'কুরা' নামে সমধিক পরিচিত—তাঁর রচিত 'আল-মুনজিদ ফিল লুগাহ' গ্রন্থটি ভাষাতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক বিস্তৃত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। যদিও এর পূর্বেও অন্যান্য লেখকগণ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন:
১ - আল-আসমাঈ, মৃত্যু ২১৫ হিজরী।
২ - আবু উবাইদ, মৃত্যু ২২৪ হিজরী।
৩ - আল-ইয়াযিদী, মৃত্যু ২২৫ হিজরী।
৪ - আল-মুবররাদ, মৃত্যু ২৮৫ হিজরী। (২)
তবে কুরা-র রচিত 'আল-মুনজিদ' গ্রন্থটি এই বিষয়ক সকল রচনার মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। এর গুরুত্বের কারণগুলো নিম্নরূপ:
১ - এতে প্রায় নয়শ শব্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে আবু উবাইদের গ্রন্থে প্রায় ১৫০টি শব্দ এবং আবু আল-আমাইসালের গ্রন্থে প্রায় ৩০০টি শব্দ রয়েছে।
২ - এটি স্বজাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথম গ্রন্থ, যাতে সুশৃঙ্খল বিন্যাস পরিলক্ষিত হয়।
৩ - এটি ভাষাতত্ত্বের প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম যা শব্দ উপস্থাপনায় বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি (الترتيب الهجائي) প্রয়োগ করেছে। ফলে এটি অভিধান রচয়িতাদের জন্য আল-খালিলের ধ্বনিতাত্ত্বিক পদ্ধতি (النظام الصوتي) পরিহার করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نماذج من منجّد كراع:
1 - العمر: اللحم بين الأسنان، وجمعه: عمور.
والعمر والعمر: واحد الأعمار والعمر أيضا: الشّنف (1) والفقر يكنى أبا عمرة. (2)
2 - اليد:يقال: «هم يد على على من سواهم»، إذا كان أمرهم واحدا.
وأعطيت مالا عن ظهر يد، يعني تفضّلا ليس من بيع ولا قرض ولا مكافأة. (3)
3 - تروّح:يقال: تروّح الرجل: الرّوح والرّواح.
وتروّح الشجر: طال، ويقال: تروّح، اخضرّ من غير (4) مطر.
4 - الخجل:الخجل: الاستحياء والدّهش.
والخجل: التّواني والكسل عن طلب الرزق.
والخجل: الفساد.
ويقال: واد خجل، ومخجل: إذا أفرط في كثرة نباته.
والخجل: البطر والأشر عند الغني. (5)
5 - الخرص:الخرص: الحلقة في الأذن.
--------------------------------------------
কুরা আল-নামলের 'মুনজিদ' থেকে সংগৃহীত কিছু নমুনা:১ - আল-আমর: দাঁতের অন্তর্বর্তী মাংস, এর বহুবচন: উমুর।
আল-উমর এবং আল-আমর: 'আমআর' (জীবনকাল) এর একবচন। আল-উমর অর্থ আবার কানের দুলও (১) হয় এবং দারিদ্র্যকে 'আবু আমরা' উপনামে অভিহিত করা হয়। (২)
২ - আল-ইয়াদ (হাত):বলা হয়: "তারা অন্যদের বিরুদ্ধে এক হাত (একতাবদ্ধ)", যখন তাদের বিষয়টি অভিন্ন ও এক হয়।
এবং আমি সম্পদ দান করেছি 'যাহরি ইয়াদিন' হিসেবে, অর্থাৎ অনুগ্রহস্বরূপ; যা কোনো ক্রয়-বিক্রয়, ঋণ কিংবা প্রতিদান নয়। (৩)
৩ - তারউওয়াহা:বলা হয়: লোকটি 'তারউওয়াহা' করেছে; অর্থাৎ বিশ্রাম ও অপরাহ্ণে প্রস্থান।
গাছ দীর্ঘ হওয়াকেও 'তারউওয়াহা' বলা হয়। আবার বৃষ্টি (৪) ছাড়াই গাছ সবুজ হয়ে ওঠাকে 'তারউওয়াহা' বলা হয়।
৪ - আল-খাজাল:আল-খাজাল: লজ্জা পাওয়া ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া।
আল-খাজাল: জীবিকা অন্বেষণে শিথিলতা ও অলসতা।
আল-খাজাল: বিশৃঙ্খলা ও বিনাশ।
বলা হয়: খাজিল বা মুখজিল উপত্যকা; যখন সেখানে উদ্ভিদের অতিশয় প্রাচুর্য ঘটে।
আল-খাজাল: ধনীদের ক্ষেত্রে দম্ভ ও অহংকার। (৫)
৫ - আল-খারস:আল-খারস: কানের ছিদ্রের রিং বা বৃত্তাকার দুল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والخرص: الدّرع، سميت بذلك لأنها حلق.
والخرص: الرّمح.
والخرص: شفرة السّنان.
والخرص: الجريدة.
والخرص: قضيب من شجرة.
والجمع من ذلك كله: الخرصان.
والخرص: الدّنّ، والخرّاص: صاحب الدّنان.
والخرص: عود يخرج به العسل، وجمعه: أخراص (1).
وإلى هنا نتوقف عن الحديث في المشترك اللفظي في المجال اللغوي لننتقل بعد ذلك إلى الحديث عن المشترك اللفظي في الحقل القرآني.
--------------------------------------------
'খারস' বলতে বর্ম বোঝায়, এর নামকরণের কারণ হলো এটি আংটা বা কড়া দ্বারা তৈরি।
'খারস' বলতে বর্শাও বোঝায়।
'খারস' হলো বর্শার ফলা।
'খারস' হলো খেজুরের ডাল।
'খারস' হলো বৃক্ষের শাখা।
এ সবগুলোর বহুবচন হলো: 'খুরসান'।
'খারস' হলো বৃহদাকার মটকা, আর 'খাররাস' হলো মটকার মালিক।
'খারস' হলো এমন একটি দণ্ড যা দিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয়, এর বহুবচন হলো: 'আখরাস' (১)।
ভাষাতাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (المشترك اللفظي) সংক্রান্ত আলোচনা আমরা এখানেই ইতি টানছি, যেন এরপরে আমরা কুরআনিক ক্ষেত্রে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (المشترك اللفظي) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني المشترك اللفظي في الحقل القرآني
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনিক ক্ষেত্রে আভিধানিক সমরূপতা (المشترك اللفظي)
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
1 - المؤلفات:
المؤلّفات في المشترك اللفظيّ في الميدان القرآني كثيرة والمشترك اللفظي بالنسبة للقرآن لم يرد بهذا المصطلح في أي مؤلف من المؤلفات التي تناولت هذه الظاهرة، ولعل السبب في ذلك أنّ كلمة «اللفظ» لا تقال في رحاب القرآن الكريم والبديل عنها هو «الكلمة» ففي الإبانة لأبي حسن الأشعريّ:
فإن قال قائل: حدّثونا عن اللّفظ بالقرآن كيف تقولون فيه؟
قيل له القرآن يقرأ في الحقيقة ويتلى، ولا يجوز أن يقال: يلفظ به، لأن القائل لا يجوز له أن يقول: إن كلام الله ملفوظ به، لأن العرب إذا قال قائلهم: لفظت باللّقمة من فمي فمعناه: رميت بها، وكلام الله تعالى لا يقال: يلفظ به، وإنما يقال: يقرأ، ويتلى، ويكتب، ويحفظ» لهذا السبب وضعت عناوين أخرى تحمل معنى المشترك اللّفظي ولكنها لا تحمل اسمه. (1)
ويجمل بنا قبل أن نعرض نماذج مختلفة من الكلمات القرآنية المشتركة أن نشير إلى المؤلفات التي وضعت في هذا الفن، والأسباب الداعية للتأليف في مجاله:
أولا: المؤلفات في المشترك اللفظيّ:أشار إلى هذه المؤلفات على سبيل الإجمال ابن الجوزيّ في كتابه:
نزهة الأعين النّواظر في علم الوجوه والنظائر حيث يقول في مقدمة
--------------------------------------------
১ - রচনাবলি:
কুরআনিক শাস্ত্রের ময়দানে অভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন অর্থ (المشترك اللفظي) বিষয়ক রচনাবলি সংখ্যায় অনেক। তবে কুরআনের ক্ষেত্রে এই ‘অভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন অর্থ’ (المشترك اللفظي) বিষয়টি এই প্রপঞ্চ নিয়ে আলোচনা করা কোনো গ্রন্থেই এই নির্দিষ্ট পরিভাষায় আসেনি। সম্ভবত এর কারণ হলো, পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ পরিমণ্ডলে ‘লাফজ’ (উচ্চারিত শব্দ) শব্দটি ব্যবহৃত হয় না, বরং এর বিকল্প হিসেবে ‘কালিমা’ (শব্দ) ব্যবহৃত হয়। আবুল হাসান আল-আশআরীর আল-ইবানা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: কুরআনের শব্দ উচ্চারণ (আল-লাফজ বিল কুরআন) সম্পর্কে আমাদের বলুন, এ বিষয়ে আপনারা কী বলেন?
তাকে বলা হবে: কুরআন প্রকৃতপক্ষে পঠিত ও তিলাওয়াতকৃত হয়। এটি বলা বৈধ নয় যে, একে ‘লাফজ’ করা হয়। কারণ কোনো বক্তার জন্য এটি বলা জায়েজ নয় যে, আল্লাহর কালাম ‘মালফুজ’ (মুখনিঃসৃত); কেননা আরবরা যখন বলে: ‘আমি মুখ থেকে লোকমাটি ফেলে দিয়েছি’, তখন তার অর্থ হয়: আমি তা নিক্ষেপ করেছি। কিন্তু আল্লাহর কালাম সম্পর্কে এটি বলা যায় না যে একে ‘লাফজ’ করা হয়, বরং বলা হয়: এটি তিলাওয়াত করা হয়, পাঠ করা হয়, লেখা হয় এবং সংরক্ষণ করা হয়। এই কারণেই অভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন অর্থ (المشترك اللفظي) এর মর্মার্থ বহনকারী অন্যান্য শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এই নির্দিষ্ট নামটি ব্যবহার করা হয়নি। (১)
কুরআনের বিভিন্ন অভিন্ন শব্দ (المشترك) সম্পন্ন শব্দের উদাহরণ পেশ করার আগে আমাদের জন্য সেই সকল রচনাবলি এবং এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার কারণসমূহ উল্লেখ করা সমীচীন হবে:
প্রথমত: অভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন অর্থ (المشترك اللفظي) সংক্রান্ত রচনাবলি:ইবনুল জাওযী তাঁর ‘নুযহাতুল আ'ইয়ুনিন নাওয়াযির ফি ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর’ গ্রন্থে সংক্ষিপ্তভাবে এই সকল রচনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
كتابه:
لما نظرت في كتب الوجوه وانظائر التي ألفها أرباب الاشتغال بعلوم القرآن، رأيت كل متأخّر عن متقدّم يحذو حذوه، وينقل قوله، مقلدا، له من غير فكرة فيما نقله، ولا بحث عمّا حصّله» وبدأ ابن الجوزيّ بعد هذه المقدمة في سرد من نسبت إليهم كتب في هذا الحقل وفي سرد من ألف في ميدانه.
أما الذين نسبت إليهم كتب في عهد مبكّر فقد ذكر أنه نسب إلى عكرمة (1) عن ابن عباس (2) رضي الله عنهما كتاب، وكتاب آخر نسب إلى علي بن أبي طلحة (3) عن ابن عباس» (4) وأمّا الذين ألفوا في هذا الميدان فقال: ابن الجوزيّ:
وممّن ألف كتب الوجوه والنظائر الكلبي (5) ومقاتل بن سليمان (6)، وأبو الفضل العباس بن الفضل، الأنصاريّ. (7)
وروى مطروح بن محمد شاكر (8) عن عبد الله بن هارون (9) الحجازيّ عن أبيه كتابا في الوجوه والنظائر وأبو بكر محمد بن الحسن النقاش. (10)
--------------------------------------------
তাঁর কিতাব সম্পর্কে:
"যখন আমি 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' (শব্দার্থ ও অনুষঙ্গ) বিষয়ক সেই কিতাবগুলোর দিকে তাকালাম যা কুরআন বিজ্ঞানে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞগণ রচনা করেছেন, তখন আমি দেখলাম যে প্রত্যেক পরবর্তী লেখক তাঁর পূর্ববর্তী লেখকের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং তাঁর কথাগুলোই উদ্ধৃত করছেন; তিনি যা বর্ণনা (نقله) করেছেন সে সম্পর্কে কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই এবং যা অর্জন করেছেন সে বিষয়ে কোনো গবেষণা ছাড়াই তাঁকে কেবল অনুকরণকারী (مقلدا) হিসেবে অনুসরণ করছেন।" এই ভূমিকার পর ইবনে আল-জাওজি সেই ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করতে শুরু করেন যাদের প্রতি এই শাস্ত্রের কিতাবগুলো সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যারা এই ময়দানে কিতাব রচনা করেছেন।
প্রাথমিক যুগে যাদের প্রতি কিতাবগুলো সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইকরিমা (১) সূত্রে ইবনে আব্বাস (২) (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে একটি কিতাব এবং আলী ইবনে আবি তালহা (৩) সূত্রে ইবনে আব্বাস (৪) থেকে অন্য একটি কিতাব সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর যারা এই ময়দানে কিতাব রচনা করেছেন তাদের সম্পর্কে ইবনে আল-জাওজি বলেন:
"যারা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক কিতাব রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কালবি (৫), মুকাতিল ইবনে সুলাইমান (৬) এবং আবুল ফজল আব্বাস ইবনে ফজল আল-আনসারি (৭)।"
এবং মাত্রুহ ইবনে মুহাম্মদ শাকির (৮) আব্দুল্লাহ ইবনে হারুন (৯) আল-হিজাজি সূত্রে তাঁর পিতা থেকে 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক একটি কিতাব বর্ণনা (روى) করেছেন এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-নাক্কাশ (১০)-ও কিতাব লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأبو عبد الله الحسين بن محمد الدّامغاني، (1) وأبو علي البناء (2) من أصحابنا، وشيخنا أبو الحسن علي بن عبد الله الزاغوني (3)» وختم ابن الجوزيّ حديثه عن المؤلفين بقوله:
«ولا أعلم أحدا جمع الوجوه والنظائر سوى هؤلاء» (4) ويذكر السيّوطي في «الإتقان» أن الذي صنف في معرفة الوجوه والنظائر قديما مقاتل بن سليمان.
وذكر أن من المتأخرين الذين صنفوا في هذا الفنّ ابن الجوزيّ وابن الدامغاني، وأبو الحسين محمد بن عبد الصمد المصري، وابن فارس وآخرون.
ولم ينس السيّوطي أن يذكّرنا بأنه أسهم في هذا الحقل أيضا حيث قال: «وقد أفردت في هذا الفن كتابا سمّيته» معترك الأقران في مشترك القرآن الكريم» (5) هذا وقد تناول الأستاذ محمد عبد الكريم كاظم الرضى في مقدمة تحقيقه لكتاب «نزهة الأعين النواظر» لابن الجوزيّ المؤلفات التي وضعت في حقل الوجوه والنظائر، وبيان المطبوع منها والمخطوط مع الإشارة إلى المكتبات التي تضم هذه المخطوطات، وأرقام هذه المخطوطات، ونلخص ما سجله على النحو التالي:
أولا: الكتب التي وصلت إلينا مطبوعة أو مخطوطة:1 - كتاب مقاتل بن سليمان المتوفي 150 هـ بتحقيق الدكتور عبد الله
--------------------------------------------
এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামাগানি (১), এবং আমাদের মাযহাবের আলিমদের (أصحابنا) অন্তর্ভুক্ত আবু আলী আল-বান্না (২), এবং আমাদের শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জাগুনি (৩)»। ইবনুল জাওজি গ্রন্থকারদের সম্পর্কে তার আলোচনা এই বলে শেষ করেছেন:
«এরা ছাড়া আর কেউ আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর (الوجوه والنظائر) সম্পর্কে সংকলন করেছেন বলে আমার জানা নেই» (৪)। সুয়ুতি 'আল-ইতকান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, প্রাচীনকালে আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর (الوجوه والنظائر) শাস্ত্রের ওপর যিনি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তিনি হলেন মুকাতিল ইবনে সুলাইমান।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তীদের মধ্যে যারা এই শিল্পে (فن) গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল জাওজি, ইবনে আদ-দামাগানি, আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল সামাদ আল-মিসরি, ইবনে ফারিস এবং অন্যান্যরা।
সুয়ুতি এ কথা মনে করিয়ে দিতে ভুলেননি যে তিনিও এই ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন; তিনি বলেন: «আমি এই শিল্পে (فن) একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি মুতারাকুল আকবরান ফি মুশতারাকিল কুরআনিল কারিম» (৫)। এদিকে উস্তাদ মুহাম্মদ আব্দুল কারিম কাজিম আর-রাদি ইবনুল জাওজি রচিত 'নুজহাতুল আইয়ুন আন-নাওয়াজির' কিতাবটির তার সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণের ভূমিকায় আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর ক্ষেত্রে রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর মুদ্রিত (مطبوع) ও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) কপিগুলোর বিবরণ দিয়েছেন; সেই সাথে তিনি এই পাণ্ডুলিপিগুলো (مخطوطات) সংরক্ষিত থাকা লাইব্রেরিগুলোর নাম ও সেগুলোর ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করেছেন। তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা আমরা নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করছি:
প্রথমত: যে গ্রন্থগুলো মুদ্রিত (مطبوع) অথবা পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে আমাদের কাছে পৌঁছেছে:১ - মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের কিতাব, তিনি ১৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, ডক্টর আব্দুল্লাহ কর্তৃক সম্পাদিত (تحقيق)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
محمود شحاتة طبع عام 1975 م.
2 - كتاب برواية مطروح بن محمد بن شاكر المتوفي 271 هـ عن عبد الله بن هارون الحجازي، وعنوانه: «الوجوه والنظائر» ويذكر الباحث أنه ما زال مخطوطا.
واستدراكا على ما ذكره الباحث المحقق فإن هذا الكتاب طبع ونشر محققا في بغداد بتحقيق الدكتور حاتم صالح الضاعن، 1988، وصدر بعد نشر «نزهة الأعين النواظر» 3 - كتاب الحكيم الترمذي المتوفي نحو 320 هـ، وعنوانه:
«تحصيل نظائر القرآن، والكتاب طبع 1970 في القاهرة بتحقيق:
حسني نصر زيدان.
4 - كتاب الثعالبيّ المتوفي 429 هـ المسمّى: «الأشباه والنظائر» ونسخته المخطوطة موجودة في معهد المخطوطات العربيّة تحت رقم 10 تفسير وبين الباحث أن نسبته هذا الكتاب للثعالبيّ مشكوك فيها فما هذا الكتاب إلا نسخة مختصرة من كتاب: «نزهة الأعين النواظر لابن الجوزي ويستدل الباحث بدليين هما:
أ- في الكتاب نقولات قليلة رويت عن الخطيب التبريزي المتوفي 503 هـ إذ ليس من الممكن أن ينقل متقدم عن متأخر إذا علمنا أن الثعالبي توفي 429 هـ.
ب- في الكتاب إشارة واحدة واضحة في باب «النور» نقول:
قال شيخنا علي بن عبد الله، وعلي بن عبد الله الزاغوني هو من شيوخ ابن الجوزيّ وابن الجوزيّ توفي 597 هـ.
محمود শেহাতা, ১৯৭৫ সালে মুদ্রিত।
২ - আবদুল্লাহ ইবনে হারুন আল-হিজাজি থেকে মাত্রুহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাকির (মৃত্যু ২৭১ হিজরি) এর বর্ণিত (رواية) একটি গ্রন্থ, যার শিরোনাম: «আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর»; গবেষক (باحث) উল্লেখ করেছেন যে এটি এখনো পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে রয়েছে।
গবেষক মুহাক্কিকের (محقق) বক্তব্যের সংশোধনী হিসেবে উল্লেখ্য যে, এই বইটি ডক্টর হাতেম সালেহ আদ-দায়িনের সম্পাদনায় (تحقيق) ১৯৮৮ সালে বাগদাদে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি «নুজহাতুল আইয়ুন আন-নাওয়াজির» প্রকাশের পরে প্রকাশিত হয়েছিল। ৩ - হাকিম তিরমিজি (মৃত্যু আনুমানিক ৩২০ হিজরি) এর গ্রন্থ, যার শিরোনাম:
«তাহসিল নাজাইর আল-কুরআন»; এবং বইটি ১৯৭০ সালে কায়রোতে নিম্নোক্ত ব্যক্তির সম্পাদনায় (تحقيق) মুদ্রিত হয়:
হোসনি নাসর জাইদান।
৪ - আস-সাআলিবী (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি) এর গ্রন্থ যার নাম: «আল-আশবাহ ওয়া আন-নাজাইর»; এর পাণ্ডুলিপি (مخطوط) কপিটি ১০ নম্বর তাফসির ক্রমিকের অধীনে ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এ সংরক্ষিত আছে। গবেষক (باحث) স্পষ্ট করেছেন যে, সাআলিবীর প্রতি এই বইটির আরোপ সন্দেহজনক (مشكوك فيه); প্রকৃতপক্ষে এই বইটি ইবনুল জাওযির «নুজহাতুল আইয়ুন আন-নাওয়াজির» এর একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) সংস্করণ বৈ কিছু নয়। গবেষক (باحث) এর সপক্ষে দুটি প্রমাণ (دليل) পেশ করেছেন:
ক- বইটিতে আল-খতিব আত-তাবরিজি (মৃত্যু ৫০৩ হিজরি) থেকে বর্ণিত (رويت) সামান্য কিছু উদ্ধৃতি (نقولات) রয়েছে। যেহেতু সাআলিবী ৪২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই কোনো পূর্ববর্তী (متقدم) লেখকের পক্ষে পরবর্তী (متأخر) কারো কাছ থেকে উদ্ধৃতি (نقل) গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
খ- বইটিতে «আল-নূর» পরিচ্ছেদে একটি স্পষ্ট সংকেত রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে:
“আমাদের শাইখ (شيخ) আলী ইবনে আবদুল্লাহ বলেছেন”; অথচ আলী ইবনে আবদুল্লাহ আল-যাগুনি ছিলেন ইবনুল জাওযির শিক্ষকদের (شيوخ) অন্যতম, আর ইবনুল জাওযি ৫৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
واستدراكا على ما ذكره الباحث، فإن هذا الكتاب نشر محققا منسوبا إلى الثعالبي بتحقيق محمد المصري، نشر مكتبة سعد الدين القاهرة سنة 1984.
5 - كتاب أبي عبد الرحمن إسماعيل بن أحمد الضرير المتوفي 430 هـ وعنوانه: «وجوه القرآن»، وتوجد منه نسخة مصوّرة في معهد المخطوطات عن مخطوطة جامعة «كيمبردج» في انجلترا:
وتعدّ هذه النسخة فريدة، ورقمها في معهد المخطوطات: «288» تفسير، وجاء خطأ في فهرس المخطوطات المصورة باسم وجوه القراءات» 6 - كتاب أبي عبد الله الحسين بن محمد الدامغاني المتوفي 478 هـ، وعنوانه: «الوجوه والنظائر في القرآن الكريم»، والكتاب طبع عام 1970 بتحقيق عبد العزيز سيد الأهل.
وأورد المحقق تعليقات ونقد بالنسبة لتصرّف محقق هذا الكتاب حيث قدّم وأخّر، وهذا يخالف ما جرى عليه المحقّقون في عدم المساس بنص الكتاب المحقّق، وأثبت الباحث أن المصادر تؤكد أن الكتاب منسوب إلى قاضي القضاة أبي عبد الله محمد بن علي بن محمد الدامغاني المتوفي 447 هـ.
7 - كتاب أبي الفرج عبد الرحمن الجوزي المتوفي 597 هـ باسم: «نزهة الأعين النّواظر في علم الوجوه والنّظائر».
8 - كتاب أبي العباس أحمد بن علي المقرىء المتوفي 658 هـ
গবেষক যা উল্লেখ করেছেন তার একটি সম্পূরক হিসেবে বলা যায় যে, এই বইটি মুহাম্মদ আল-মিসরির সম্পাদনায় আস-সা'লাবি-র প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (منسوب) অবস্থায় সম্পাদিত (محقق) হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা ১৯৮৪ সালে কায়রোর মাকতাবাতু সা’দ আদ-দীন থেকে প্রকাশিত হয়।
৫ - ৪৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আবদির রহমান ইসমাইল ইবনে আহমাদ আদ-দাবির-এর বই, যার শিরোনাম: ‘উজুহুল কুরআন’। ইংল্যান্ডের ‘ক্যামব্রিজ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত একটি অনুলিপি (نسخة) মা’হাদুল মাখতুতাত-এ (পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট) সংরক্ষিত আছে:
এই অনুলিপিটি অনন্য (فريدة) হিসেবে বিবেচিত, এবং মা’হাদুল মাখতুতাত-এ এর নম্বর হলো: ‘২৮৮’ তাফসির। চিত্রিত পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগে এটি ভুলবশত ‘উজুহুল কিরাআত’ নামে নথিভুক্ত হয়েছে। ৬ - ৪৭৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামিগানির বই, যার শিরোনাম: ‘আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর ফিল কুরআনিল কারীম’। বইটি ১৯৭০ সালে আব্দুল আজিজ সাইয়্যেদ আল-আহলের সম্পাদনায় (تحقيق) মুদ্রিত হয়েছে।
সম্পাদক এই বইটির সম্পাদকের হস্তক্ষেপের বিষয়ে কিছু মন্তব্য এবং সমালোচনা (نقد) পেশ করেছেন; কারণ তিনি বিষয়বস্তু আগে-পিছে করেছেন, যা সম্পাদিত (محقق) মূল পাঠে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার ক্ষেত্রে গবেষকদের অনুসৃত রীতির পরিপন্থী। গবেষক প্রমাণ করেছেন যে, ঐতিহাসিক উৎসগুলো নিশ্চিত করে যে বইটি ৪৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী কাযিল কুযাত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামিগানির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (منسوب)।
৭ - ৫৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল জাওযির বই, যার নাম: ‘নুযহাতুল আইয়ুনিন নাওয়াযির ফি ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযাইর’।
৮ - ৬৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আলী আল-মুকরির বই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুশতারাকুল লাফযী ফিল হাকলিল কুরআনী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وعنوانة: «وجوه القرآن» والكتاب ما زال مخطوطا وتوجد نسخة منه في المتحف البريطاني رقم 1229.
9 - كتاب أبي محمد علي بن القاسم البامياني (ت؟) وعنوانه:
«المنتخب من كتاب» تحفة الولد للأمام أحمد بن محمد الحدادّي والكتاب ما زال مخطوطا في دار الكتب المصرية رقم 20792 ب و (4896).
10 - كتاب شمس الدين بن محمد بن علي العماد المتوفي 887 هـ.
وعنوانه: كشف السرائر عن معنى الوجوه والنظائر، والكتاب طبع عام 1977 م في الأسكندرية، وعني بتحقيقه الدكتور فؤاد عبد المنعم عن نسخة كتبت بخط المؤلف.
11 - كتاب العلامة مصطفى بن عبد الرحمن بن محمد الأزيري المتوفي 1155، والكتاب ما زال مخطوطا، وتوجد منه نسخة في دار الكتب المصرية تحت رقم 35733 ب.
12 - كتاب لمجهول عنوانه: «بيان معاني وجه الألفاظ القرآنية» ما زال مخطوطا، ونسخته المخطوطة موجودة في كتبة (جسترببتي) تحت رقم 5096.
ثانيا: كتب لم تصل إلينا، ووصلت إلينا مقتطفات منها:1 - كتاب عكرمة مولى ابن عباس المتوفي 105 هـ لم يصل إلينا، ذكر في الفهرست/ 34، وذكره ابن الجوزي في مقدمة كتابه.
এবং এর শিরোনাম: "উজহুল কুরআন"; বইটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ১২২৯ নম্বর অধীনে এর একটি কপি সংরক্ষিত আছে।
৯ - আবু মুহাম্মদ আলী বিন আল-কাসিম আল-বামিয়ানি (মৃত্যু?) এর বই, যার শিরোনাম:
ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদি রচিত "তুহফাতুল ওয়ালাদ" গ্রন্থ হতে সংকলিত "আল-মুন্তাখাব"; বইটি এখনও মিশরের দারুল কুতুব-এ ২০৭৯২ ব এবং (৪৮৯৬) নম্বরের অধীনে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।
১০ - শামসুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ইমাদ (মৃত্যু ৮৮৭ হিজরি) এর বই।
যার শিরোনাম: "কাশফুস সারাইর আন মানাল উজুহ ওয়ান নাযাইর"; বইটি ১৯৭৭ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় মুদ্রিত হয়েছে এবং লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে ডক্টর ফুয়াদ আব্দুল মুনিম এটি সম্পাদনা করেছেন।
১১ - আল্লামা মুস্তফা বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-আজিরি (মৃত্যু ১১৫৫ হিজরি) এর বই; বইটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং মিশরের দারুল কুতুব-এ ৩৫৭৩৩ ব নম্বরের অধীনে এর একটি কপি পাওয়া যায়।
১২ - জনৈক অজ্ঞাত লেখকের বই যার শিরোনাম: "বায়ানু মাআনি ওয়াজহি আল-আলফাজ আল-কুরআনিয়া"; এটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং এর পাণ্ডুলিপি কপিটি চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৫০৯৬ নম্বরের অধীনে বিদ্যমান।
দ্বিতীয়ত: যেসব বই আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, তবে সেগুলোর কিছু উদ্ধৃতাংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে:১ - ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস (مولى) ইকরিমাহ (মৃত্যু ১০৫ হিজরি) এর বই; এটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। এটি 'আল-ফিহরিস্ত/৩৪'-এ উল্লিখিত হয়েছে এবং ইবনুল জাওযি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন।