(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى علوم القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المدخل إلى علوم القرآن الكريم
المؤلف: محمد فاروق النبهان
الناشر: دار عالم القرآن - حلب
الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 286
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআন আল-কারীম বিভাগ: কুরআন শাস্ত্র (علوم القرآن) এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআন আল-কারীম
লেখক: মুহাম্মদ ফারুক আন-নাবহানি
প্রকাশক: দার আলম আল-কুরআন - আলেপ্পো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الناشربسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله والرضا عن الصحابة والتابعين ومن والاه وبعد.
- فقد أخذت على عاتقها طباعة المصحف الشريف وما يتصل به من علوم وأبحاث ودراسات وما يتعلق به من رسائل تعليمية وقصص قرآنية ومن منهج يتخلّص فيما يلي:
1 - المضمون العلمي الدقيق.
2 - المظهر الحضاري الأنيق.
مدركة عظم المسئولية ومقدار الهمة باذلة كل جهد.
سائلة كل توفيق راجية من الله المدد والعون.
- وقد أرادت الدار أن يكون باكورة عملها كتاب يعرّف بالقرآن الكريم وعلومه. فوقع الاختيار- من بين كثير مما قدم إلى الدار من كتب ودراسات وأبحاث- على هذا الكتاب الذي يعتبر بحق مدخلا إلى علوم الكتاب العزيز ومنارة للدارسين ومرجعا للباحثين.
- والله المسئول أن يجزي مؤلفه ما هو أهله وأن ينفع به المسلمين إنه سميع مجيب.
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم
الناشر
প্রকাশকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সাহাবী (الصحابة), তাবেঈন (التابعين) এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের সবার প্রতি। অতঃপর:
- অত্র প্রতিষ্ঠান পবিত্র কুরআন মুদ্রণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহ (علوم), গবেষণা ও অধ্যয়ন, এবং এর সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষামূলক পত্রাবলি ও কুরআনিক ঘটনাবলি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমাদের কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:
১ - নিখুঁত জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু।
২ - মার্জিত ও উন্নত বাহ্যিক উপস্থাপনা।
দায়িত্বের বিশালতা ও সংকল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করছি।
আল্লাহর নিকট সকল প্রকার তাওফিক কামনা করছি এবং তাঁরই সাহায্য ও সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।
- অত্র প্রতিষ্ঠান তার কর্মতৎপরতার সূচনা হিসেবে এমন একটি কিতাব নির্বাচনের ইচ্ছা পোষণ করেছিল যা পবিত্র কুরআন ও এর ইলমসমূহ (علوم) সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানে পেশকৃত বহু বই, প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্রের মধ্য থেকে এই কিতাবটিকে নির্বাচন করা হয়েছে; যা প্রকৃতপক্ষে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ইলমসমূহের (علوم) প্রবেশের দ্বার, শিক্ষার্থীদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস।
- আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এর লেখককে উপযুক্ত প্রতিদান দান করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.
منذ فترة طويلة كنت أتطلع إلى إعداد كتاب عن القرآن الكريم، علومه ومباحثه، وكنت أشتاق إلى ذلك، ولم تكن الغاية تأليف كتاب جديد يضاف إلى ما كنت أعددته من مؤلفات سابقة، وإنما كانت غايتي الخوض في بحر هذه العلوم القرآنية، لمزيد من المعرفة حول كتابنا العظيم، الذي يجدر بنا أن نحتضنه بحب وأن نمسك بناصيته، في حياتنا، مستهدين بنوره، متطلعين إلى أفقه الرحب في التربية والتوجيه والتشريع
…وجاء شهر رمضان، وهو شهر خير وبركة، ووجدت نفسي أبحث عن الكتب القرآنية وأقلب صفحاتها بشغف وفرحة، أستطلع ما بذله العلماء السابقون من جهود، وأستزيد من ثقافتي القرآنية، وبخاصة فيما يتعلق بعلوم القرآن، ووجدت نفسي على غير إرادة مسبقة أخوض في مباحث الدراسات القرآنية، وأتتبع المصنفات الأصيلة التي تناولت علوم القرآن، وفي هذه الفترة دعيت لمؤتمر عقد في القاهرة عن السيوطي، وعكفت على إعداد دراسة عن منهج السيوطي في كتابه: «الإتقان في علوم القرآن»، وأخذت أقارن بين ما كتبه السيوطي في الإتقان وما كتبه الزركشي في البرهان، وبدأت رحلة هذه الدراسة، التي اطمأنت نفسي إلى متابعتها، والخوض في مباحثها الممتعة، وكنت قبل ذلك أتهيب الخوض في الدراسات القرآنية، لدقة هذه العلوم ولاتساع مباحثها، ولقد ألفت في هذه العلوم مصنفات موسعة، ما زلنا حتى اليوم نجهل الكثير عن مظان وجودها، ولم يصل إلينا منها إلا النزر اليسير.
وأعترف أنني لم أضف شيئا فيما كتبت، ولم أنفرد برأي أو اجتهاد، واكتفيت بعرض المادة العلمية، كما جاءت في مصادرها، باذلا جهدي في تبسيط هذه المادة، تيسيرا لطلابنا، ومساعدة لهم على حسن الفهم، وسعة الاستيعاب، واختصرت ما اعتقدت أنه بحاجة إلى اختصار، وأوجزت ما رأيت أنه يحتاج لإيجاز، وتوسعت في مباحث توقعت أن تكون مفيدة.
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর।
দীর্ঘদিন ধরে আমি পবিত্র কুরআন, এর বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) এবং এর আলোচ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে একটি গ্রন্থ প্রস্তুত করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম এবং এজন্য আমি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। আমার উদ্দেশ্য এমন কোনো নতুন গ্রন্থ রচনা করা ছিল না যা আমার পূর্ববর্তী রচনার তালিকায় যুক্ত হবে, বরং আমার উদ্দেশ্য ছিল কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن)-এর এই বিশাল সমুদ্রে অবগাহন করা, যেন আমাদের এই মহান গ্রন্থ সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান লাভ করা যায়। আমাদের উচিত এই গ্রন্থটিকে ভালোবাসার সাথে আঁকড়ে ধরা এবং আমাদের জীবনে এর দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা, এর আলোতে পথ চলা এবং এর শিক্ষা, নির্দেশনা ও বিধিবদ্ধ বিধান (تشريع)-এর বিস্তৃত দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা
…অতঃপর কল্যাণ ও বরকতের মাস রমজান এলো এবং আমি নিজেকে কুরআনের গ্রন্থসমূহ অনুসন্ধান করতে ও অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সাথে সেগুলোর পাতা উল্টাতে দেখলাম। পূর্ববর্তী আলেমগণ যে শ্রম দিয়েছেন তা আমি পর্যবেক্ষণ করছিলাম এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান বৃদ্ধি করছিলাম, বিশেষ করে কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن)-এর ক্ষেত্রে। পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই আমি কুরআন সংশ্লিষ্ট পাঠ (الدراسات القرآنية)-এর আলোচনায় নিমগ্ন হলাম এবং কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) নিয়ে রচিত মৌলিক গ্রন্থগুলোর অনুসরণ করতে শুরু করলাম। এই সময়ে কায়রোতে সুয়ূতী রহ.-এর ওপর আয়োজিত একটি সম্মেলনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং আমি সুয়ূতী রহ.-এর 'আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন' নামক গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে একটি গবেষণা প্রস্তুত করার কাজে আত্মনিয়োগ করি। আমি সুয়ূতী রহ.-এর 'আল-ইতকান' এবং যারকাশী রহ.-এর 'আল-বুরহান' গ্রন্থে যা লিখেছেন তার মধ্যে তুলনা করতে শুরু করি। এভাবে এই গবেষণার যাত্রা শুরু হয়, যা চালিয়ে যেতে এবং এর আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে নিমগ্ন হতে আমার মন প্রশান্তি লাভ করে। এর আগে আমি কুরআন সংশ্লিষ্ট পাঠ (الدراسات القرآنية) বা গবেষণায় প্রবেশ করতে দ্বিধাবোধ করতাম, কারণ এই বিজ্ঞানগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এই বিজ্ঞানসমূহের ওপর অনেক বিশদ গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার অনেকগুলোর উৎসস্থল সম্পর্কে আমরা আজও অজ্ঞ এবং আমাদের কাছে তার অতি সামান্য অংশই পৌঁছেছে।
আমি স্বীকার করছি যে, আমি যা লিখেছি তাতে নতুন কিছু যোগ করিনি এবং কোনো একক মতামত বা স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) পেশ করিনি। বরং আমি কেবল এর উৎসসমূহ (مصادر) থেকে বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছি এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিষয়বস্তু সহজ করার চেষ্টা করেছি, যেন তারা সহজেই বুঝতে পারে এবং আত্মস্থ করতে পারে। যে অংশগুলো সংক্ষেপ করা প্রয়োজন মনে হয়েছে তা সংক্ষেপ করেছি এবং যে বিষয়গুলোতে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়োজন ছিল সেখানে সংক্ষেপ করেছি, আর যে বিষয়গুলো উপকারী মনে হয়েছে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وحسبي من هذه الإطلالة على دراساتنا القرآنية أنني أضفت لبنة صغيرة متواضعة في صرح هذا العلم، وتعلمت ما كنت بحاجة إليه من معرفة بعلوم القرآن، وبخاصة فيما يتعلق بالقراءات القرآنية، وأوجه الإعجاز القرآني، ومباحث الرسم القرآني.
وسميت هذا الكتاب: ب «المدخل إلى علوم القرآن الكريم» لكي أؤكد على أن الغاية من هذه الدراسة تبسيط المادة العلمية، وتيسير الرجوع إليها، بعبارة سهلة التناول، واضحة العبارة.
وقسمت هذا الكتاب إلى فصول، خصصت «الفصل الأول» للتعريف بالقرآن، وكيفية إنزاله، وأسباب نزوله منجما، وأقوال العلماء في الأحرف السبعة، ومعرفة أسباب نزوله، وتكلمت في «الفصل الثاني» عن ظاهرة الوحي ومعاني الوحي وكيفية نزوله، وناقشت فكرة الوحي، وعرضت في «الفصل الثالث» لنشأة علوم القرآن، والتصنيف في هذه العلوم، وبينت أهمية كتاب البرهان للزركشي والإتقان للسيوطي، ومنهج كل منهما، وقارنت بين منهجي الكتابين، وفي «الفصل الرابع» تحدثت عن التفسير والتأويل، وخصائص كل منهما. وتكلمت عن ترجمة القرآن في «الفصل الخامس»، وأوضحت الفرق بين الترجمة والتفسير من حيث الصفة الاستقلالية ومدى إمكان استيعاب كل المعاني الأصلية، واقترحت تشكيل «هيئة مختصة بترجمة القرآن» تضم كفاءات مختصة في اللغة والتفسير وفي الدراسات اللغوية المقارنة تعكف لمدة سنوات على إعداد ترجمة دقيقة للقرآن الكريم، وتلحق بالترجمة «ملاحق بيانية» توضح المعاني الممكنة والمحتملة، والغاية من تشكيل هذه الهيئة القضاء على الترجمات الفردية المليئة بالأخطاء والتجاوزات. وفي «الفصل السادس» تكلمت عن المكي والمدني في القرآن الكريم، والغاية من معرفة ذلك دراسة مراحل الدعوة، ومعرفة
الناسخ والمنسوخ، وفهم النصوص عن طريق معرفة تاريخ نزول القرآن، وأوضحت في «الفصل السابع» مراحل جمع القرآن، وخصائص كل مرحلة، والدقة في الجمع والاعتماد على الحفظ والكتابة، لتوثيق النص القرآني أولا، ولتوحيد القراءة
আমাদের কুরআনিক গবেষণার এই সংক্ষিপ্ত আলোকপাতে আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি এই বিজ্ঞানের প্রাসাদে একটি ক্ষুদ্র ও বিনয়ী ইষ্টক যোগ করেছি এবং উলুমুল কুরআন সম্পর্কে আমার প্রয়োজনীয় জ্ঞান আমি অর্জন করেছি, বিশেষ করে কুরআনের কিরাত (قراءات), কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকসমূহ এবং কুরআনের লিখনরীতি (رسم) সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে।
আমি এই বইটির নামকরণ করেছি: ‘আল-মাদখাল ইলা উলুমিল কুরআনিল কারীম’ (কুরআনুল কারীমের ইলমসমূহের ভূমিকা), যাতে আমি এটি নিশ্চিত করতে পারি যে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো ইলমী বিষয়বস্তুকে সহজতর করা এবং সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষার মাধ্যমে এর প্রতি ফিরে আসাকে সুগম করা।
আমি এই কিতাবটিকে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি; ‘প্রথম পরিচ্ছেদ’ নির্ধারণ করেছি কুরআনের পরিচয়, এর অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি, পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ, ‘আহরুফে সাবআহ’ (সাত হরফ) সম্পর্কে ওলামাদের বক্তব্য এবং শানে নুযূল জানার বিষয়ের জন্য। ‘দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে’ আমি ওহীর স্বরূপ, ওহীর অর্থ এবং ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং ওহীর ধারণাটি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। ‘তৃতীয় পরিচ্ছেদে’ আমি উলুমুল কুরআনের উদ্ভব এবং এই ইলমগুলোতে গ্রন্থ রচনার বিষয়ে আলোকপাত করেছি এবং যারকাশীর আল-বুরহান ও সুয়ূতী-র আল-ইতকান কিতাবদ্বয়ের গুরুত্ব ও প্রত্যেকের মানহাজ বর্ণনা করেছি এবং উভয় কিতাবের পদ্ধতির মধ্যে তুলনা করেছি। ‘চতুর্থ পরিচ্ছেদে’ আমি তাফসীর ও তাবীল এবং উভয়ের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছি। ‘পঞ্চম পরিচ্ছেদে’ আমি কুরআনের অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও মূল অর্থসমূহকে পূর্ণরূপে ধারণ করার সক্ষমতার দিক থেকে অনুবাদ ও তাফসীরের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছি। আমি ‘কুরআন অনুবাদের জন্য একটি বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে ভাষা, তাফসীর এবং তুলনামূলক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় পারদর্শী বিশেষজ্ঞরা থাকবেন, যারা দীর্ঘ বছর ধরে কুরআনুল কারীমের একটি নিখুঁত অনুবাদ তৈরিতে নিবিষ্ট থাকবেন। এই অনুবাদের সাথে ‘ব্যাখ্যামূলক পরিশিষ্ট’ যুক্ত করা হবে যা সম্ভাব্য ও প্রত্যাশিত অর্থসমূহকে স্পষ্ট করবে। এই কমিটি গঠনের লক্ষ্য হলো ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতিতে পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুবাদগুলোর অবসান ঘটানো। ‘ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে’ আমি কুরআনুল কারীমের মাক্কী ও মাদানী সম্পর্কে আলোচনা করেছি, আর এটি জানার উদ্দেশ্য হলো দাওয়াতের পর্যায়সমূহ নিয়ে গবেষণা করা এবং জানা
রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাস জানার মাধ্যমে এর পাঠ্যসমূহ অনুধাবন করা। ‘সপ্তম পরিচ্ছেদে’ আমি কুরআন সংকলনের পর্যায়সমূহ, প্রতিটি পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য, সংকলনের সূক্ষ্মতা এবং হিফজ ও লেখার ওপর নির্ভর করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি; যার উদ্দেশ্য হলো প্রথমত কুরআনিক পাঠ্যের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) নিশ্চিত করা এবং কিরাতকে ঐক্যবদ্ধ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
القرآنية ثانيا، وخصصت «الفصل الثامن والتاسع» لفواتح السور ولخواتمها، ولترتيب السور والآيات، وبينت اختلاف العلماء في ترتيب السور من حيث التوقيف أو الاجتهاد، كما عرضت لآراء العلماء في التناسب بين السور والآيات بحيث تكون الآيات محكمة البناء، متلاحمة الأجزاء، مما دفع العلماء إلى اعتبار علم المناسبة من مظاهر الإعجاز في القرآن.
وفي «الفصل العاشر» تحدثت عن علم الناسخ والمنسوخ وآراء العلماء في المكثرين في النسخ، وسجلت قواعد النسخ عند «ابن العربي» التي تعتبر نواة نظرية متكاملة في النسخ في القرآن الكريم، وخصصت «الفصل الحادي عشر» لرسم القرآن، وأقوال العلماء في الرسم القرآني، وأكدت ضرورة الحفاظ على الرسم القرآني لأنه الرسم الأصيل للخط القرآني، واعتبرت فكرة الخطأ في الرسم القرآني من الأفكار التي لا يمكن قبولها من الناحية الدينية ومن الناحية التاريخية، ولا بد من التسليم بخصوصية الرسم القرآني، ورجحت مراعاة المصلحة في جواز كتابة الآيات بالخطوط المتعارف عليها بطريقة استثنائية لتيسير التعليم، على أن يحتفظ بالرسم العثماني الأصيل، وعرضت لمزايا الرسم القرآني، وأهمها مراعاة القراءات وإفادة المعاني المختلفة، والدلالة على بعض المعاني الخفية، ومراعاة بعض اللغات الفصيحة، وأوضحت في «الفصل الثاني عشر» معنى المحكم والمتشابه، وآراء العلماء في معنى المتشابه، وقد أدى المتشابه بسبب غموضه إلى فتح آفاق واسعة من البحث والدراسة، لاستقصاء المعاني الممكنة للألفاظ المتشابهة، وتوسعت في بحث القراءات القرآنية في «الفصل الثالث عشر»، والغاية منها العلم بكيفية أداء القرآن من حيث نطق الألفاظ أو اختلاف تركيبها، بحيث تكون القراءة موافقة لما ثبت نقله عن القراء الأوائل الذين اشتهروا بحفظ القرآن وضبطه، وأكدت أن القراءات ليست هي الأحرف السبعة، فالقراءات السبع هي التي اعتمدها «ابن مجاهد» في القرن الثالث الهجري واختارها من القراءات التي شاعت في عصره، والمقياس المعتمد في القراءة الصحيحة، أن تكون موافقة للعربية ولو بوجه، وأن تكون موافقة لأحد المصاحف العثمانية ولو
দ্বিতীয়ত কুরআনিক বিষয়াবলি; এবং আমি ‘অষ্টম ও নবম অধ্যায়’ সূরার প্রারম্ভ ও সমাপ্তি এবং সূরা ও আয়াতের বিন্যাসের জন্য নির্দিষ্ট করেছি। সূরাসমূহের বিন্যাস প্রত্যাদিষ্ট (توقيفي) নাকি গবেষণালব্ধ (اجتهاد) সে বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্য বর্ণনা করেছি। পাশাপাশি সূরা ও আয়াতের মধ্যবর্তী সামঞ্জস্য (تناسب) সম্পর্কে আলেমদের মতামত উপস্থাপন করেছি, যাতে আয়াতগুলো সুদৃঢ় গঠন ও আন্তঃসম্পর্কযুক্ত হয়; যা আলেমদের নিকট ‘উপযোগিতা বিজ্ঞান’ (علم المناسبة)-কে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম দিক হিসেবে গণ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এবং ‘দশম অধ্যায়ে’ আমি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক জ্ঞান এবং যারা রহিতকরণ (نسخ) প্রক্রিয়ায় আধিক্য প্রদর্শন করেন তাদের সম্পর্কে আলেমদের মতামত নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি ‘ইবনুল আরাবি’ বর্ণিত রহিতকরণের (نسخ) নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ করেছি, যা পবিত্র কুরআনে রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। আমি ‘একাদশ অধ্যায়’ কুরআনের লিখনরীতির (رسم) জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং লিখনরীতি (رسم) সম্পর্কে আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি। আমি কুরআনের লিখনরীতি (رسم) সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি, কারণ এটি কুরআনিক লিপির মূল রূপ। কুরআনের লিখনরীতিতে (رسم) ভুল থাকার ধারণাকে আমি এমন একটি চিন্তা হিসেবে গণ্য করেছি যা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআনের লিখনরীতির (رسم) স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। শিক্ষা সহজতর করার জন্য আমি সাধারণ লিখনরীতিতে ব্যতিক্রমী উপায়ে আয়াত লেখার বৈধতার ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছি, তবে শর্ত হলো মূল উসমানি লিখনরীতি (رسم عثماني) অপরিবর্তিত রাখতে হবে। আমি কুরআনের লিখনরীতির (رسم) নানাবিধ সুবিধা তুলে ধরেছি, যার মধ্যে প্রধান হলো—পঠনশৈলীসমূহ (قراءات) বজায় রাখা, বিভিন্ন অর্থ প্রদান করা, কিছু প্রচ্ছন্ন অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা এবং কিছু বিশুদ্ধ উপভাষার প্রতি লক্ষ রাখা। ‘দ্বাদশ অধ্যায়ে’ আমি সুস্পষ্ট (محكم) ও রূপক (متشابه) আয়াতের অর্থ এবং রূপক (متشابه) আয়াতের অর্থ সম্পর্কে আলেমদের মতামত ব্যাখ্যা করেছি। রূপক (متشابه) আয়াত তার অস্পষ্টতার কারণে গবেষণার বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত করেছে, যাতে রূপক (متشابه) শব্দাবলির সম্ভাব্য অর্থগুলো অনুসন্ধান করা যায়। ‘ত্রয়োদশ অধ্যায়ে’ আমি কুরআনের পঠনশৈলী (قراءات) সংক্রান্ত গবেষণাকে বিস্তৃত করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো শব্দ উচ্চারণ বা এর গঠনগত পার্থক্যের দিক থেকে কুরআন পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যাতে এই পঠনশৈলী (قراءة) প্রথম যুগের সেই ক্বারিদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যারা কুরআন মুখস্থ রাখা ও যথাযথভাবে আয়ত্ত (ضبط) করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। আমি জোর দিয়ে বলেছি যে, পঠনশৈলীসমূহ (قراءات) মূলত সাত হরফ (الأحرف السبعة) নয়। পঠনশৈলীর এই সাতটি ধারা (القراءات السبع) হলো সেগুলোই যা তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে ‘ইবনে মুজাহিদ’ তার যুগে প্রচলিত পঠনশৈলীগুলোর (قراءات) মধ্য থেকে নির্বাচন ও গ্রহণ করেছিলেন। সঠিক (صحيح) পঠনশৈলীর গৃহীত মাপকাঠি হলো—তা অন্তত কোনো এক দিক থেকে আরবি ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া এবং কোনো একটি উসমানি মুসহাফের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, যদিও...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
احتمالا، وأن تكون صحيحة السند، وأكد ابن الجزري في كتابه النشر أن القراءة التي توفرت فيها هذه الشروط لا يجوز إنكارها ولا ردها، فإذا افتقد شرط من هذه الشروط اعتبرت القراءة شاذة
…والحكمة من تعدد القراءات كما ذكر السيوطي في الإتقان التخفيف على الأمة، والكشف عن أوجه التعليل والترجيح في كتاب الله، وإظهار سر الله في صيانة القرآن عن التبديل، والمبالغة في الإعجاز، كما يؤكد لنا تعدد القراءات عناية العلماء بكتاب الله، وتوقيف كل ما يتعلق به، قراءة له، ورسما لكلماته وحروفه، وأداء لألفاظه، وضبطا لكيفية نطق كلماته وألفاظه، وشرحت بعض المصطلحات الفنية التي استخدمها القراء لتوضيح كيفية النطق والأداء اللفظي من حيث الإدغام والوقف والإشمام والروم والسكت والقطع والقصر والمد والحدر والتدوير والترتيل والتجويد والترقيق والتفخيم والإمالة، وشرحت في «الفصل الرابع عشر» الوقف والابتداء، ولا يحسن الترتيل إلا بمعرفة الوقوف وتجويد الحروف، وتحدثت في «الفصل الخامس عشر» عن إعجاز القرآن، وذكرت أقوال العلماء في وجوه الإعجاز، وشرحت معنى الإعجاز عند العلماء، فالخطّابي نظر إلى الإعجاز من خلال تأثير القرآن في النفوس والقلوب، والرمّاني نظر إلى الإعجاز من حيث البلاغة وأورد الخصوصيات البلاغية في القرآن، ورأى القاضي الباقلاني الإعجاز في «بداعة النظم»، من حيث مخالفته لما عهد العرب من أساليب السجع والشعر وابتعاده عن الألفاظ الوحشية والمستكرهة، وذهب القاضي عبد الجبار إلى أن الإعجاز القرآني يتمثل في «جزالة اللفظ وحسن المعنى ومطابقة الكلام لمقتضى الحال»، ورأى عبد القاهر الجرجاني الإعجاز في «الملاءمة بين الألفاظ»، لأن الكلمة لا تستمد مكانتها من ذاتها، ويقع التفاضل بين الكتاب بحسب قدرتهم على إيجاد التلاؤم بين اللفظة واللفظة التي تليها، كالنسج والتأليف والصياغة والبناء والوشي والتحبير، بحيث يكون الوضع والترتيب خاضعا لمعايير وأقيسة ومرجحات، بحيث لو تم استبدال هذا الترتيب بغيره لما صح النظم ولما استقام، وأكد «الجرجاني» أن ما أعجز العرب هو تلاقي اللفظ والمعنى معا، فلا مجال للإعجاز في لفظ دون معناه، ولا في معنى دون لفظ، والعبارة البيانية هي نتاج لفظ
সম্ভবত, এবং এটি যেন সহিহ (صحيحة) সনদ (سند) বিশিষ্ট হয়। ইবনুল জাযারি তাঁর 'আন-নাশর' গ্রন্থে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যেসব কিরাআতে এই শর্তগুলো বিদ্যমান থাকবে, তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়। সুতরাং যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটির অভাব ঘটে, তবে সেই কিরাআতকে শায (شاذة) হিসেবে গণ্য করা হবে।
…আল-ইতকান গ্রন্থে সুয়ূতি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, কিরাআতের এই বৈচিত্র্যের পেছনের হিকমত হলো উম্মতের জন্য সহজ করা, আল্লাহর কিতাবের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও প্রাবল্য প্রদানের (ترجيح) দিকগুলো উন্মোচন করা, বিকৃতি থেকে কুরআনকে সুরক্ষায় আল্লাহর রহস্যের বহিঃপ্রকাশ এবং এর অলৌকিকত্বের পূর্ণতা দান করা। কিরাআতের এই বহুবিধ রূপ আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাবের প্রতি উলামায়ে কিরামের বিশেষ যত্নশীলতাও প্রমাণ করে; যা এর কিরাআত, শব্দ ও অক্ষরের লিখনশৈলী, উচ্চারণ ভঙ্গি এবং উচ্চারণ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিরাআতবিদগণ উচ্চারণের ধরণ ও বাচনিক ভঙ্গি বর্ণনায় যেসব কারিগরি শব্দ ব্যবহার করেছেন তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইদগাম, ওয়াকফ, ইশমাম, রাউম, সাকত, কাত', কাসর, মাদ, হাদর, তাদউইর, তারতিল, তাজবিদ, তারকিক, তাফখিম এবং ইমালাহ। 'চতুর্দশ অধ্যায়ে' ওয়াকফ ও ইবতিদা (শুরু করা) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ওয়াকফের স্থানসমূহ জানা এবং অক্ষরের তাজবিদ ব্যতিরেকে তারতিল সুন্দর হয় না। 'পঞ্চদশ অধ্যায়ে' আমি কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি এবং অলৌকিকত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের মতামত উল্লেখ করেছি। আলিমগণের নিকট অলৌকিকত্বের অর্থ কী, তাও ব্যাখ্যা করেছি। খাত্তাবি কুরআনের অলৌকিকত্বকে আত্মা ও হৃদয়ের ওপর এর প্রভাবের প্রেক্ষিতে দেখেছেন; রুম্মানি একে অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে দেখেছেন এবং কুরআনের আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরেছেন। কাজি বাকিল্লানি অলৌকিকত্বকে 'রচনার অভিনবত্ব' হিসেবে দেখেছেন—আরবদের পরিচিত অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য ও কাব্যরীতি থেকে এর ভিন্নতা এবং শ্রুতিকটু ও অপছন্দনীয় শব্দ থেকে এর দূরত্বের প্রেক্ষিতে। কাজি আব্দুল জব্বারের মতে, কুরআনিক অলৌকিকত্ব 'শব্দের প্রাঞ্জলতা, অর্থের চমৎকারিত্ব এবং প্রেক্ষিতের সাথে বক্তব্যের সামঞ্জস্যের' মধ্যে নিহিত। আব্দুল কাহির আল-জুরজানি অলৌকিকত্বকে 'শব্দসমূহের পারস্পরিক সুসমন্বয়ের' মধ্যে দেখেছেন; কারণ একটি শব্দ কেবল তার নিজের সত্তা থেকে মর্যাদা লাভ করে না, বরং লেখকদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় পরবর্তী শব্দের সাথে পূর্ববর্তী শব্দের সামঞ্জস্য বিধানের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে—যেমন বয়নশৈলী, সংকলন, গঠনরীতি ও অলঙ্করণ। এখানে বিন্যাস ও ক্রমধারা এমন কিছু মানদণ্ড ও নিয়মের অধীন হয় যে, এই বিন্যাস পরিবর্তন করে অন্য কিছু আনা হলে সেই রচনাশৈলী আর সঠিক থাকতো না এবং তার সামঞ্জস্য নষ্ট হয়ে যেত। আল-জুরজানি নিশ্চিত করেছেন যে, যা আরবদের অক্ষম করে দিয়েছিল তা হলো শব্দ ও অর্থের যুগপৎ মিলন। সুতরাং অর্থহীন শব্দে যেমন অলৌকিকত্ব নেই, তেমনি শব্দহীন অর্থেও অলৌকিকত্ব নেই। আলঙ্কারিক অভিব্যক্তি হলো শব্দেরই ফসল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
معبر ومعنى يجسد الصورة، ويعطي للألفاظ أبعادها وصورها وجمالها، ويؤكد الجرجاني أهمية اللفظ، ويعتبره الأداة الأولى للتعبير، فاللفظة تجد مكانها المناسب والمعنى الدقيق يبحث عن لفظ معبر.
وختمت هذه الدراسة بالفصل الخاص ب «القصة في القرآن»، وتكلمت في هذا الفصل عن المحور العام للقصة القرآنية وعن أشخاص القصة القرآنية، وخصائص هذه القصة من حيث الإقناع العقلي واستخدام اللغة لإحداث التأثير النفسي، وأهم خصوصيات القصة القرآنية تداخل القصة بالحكم والعبر المستفادة منها حيثما دعت الحاجة إلى ذلك، في بداية القصة أو في نهايتها، أو على لسان شخصيات القصة أثناء الحوار. ولا شك أن القصة القرآنية مظهر من مظاهر الإعجاز القرآني، سواء من حيث إخبارها عن الأمم السابقة، أو من حيث وضوح الالتزام بالأهداف القرآنية أو من حيث الأسلوب المؤثر في إحداث الغاية المطلوبة من عرض القصة، ومن اليسير علينا أن نستنتج من كل قصة في القرآن مواقف إنسانية، وبخاصة فيما يتعلق بالصراع بين الحق والباطل، والطغاة والمستضعفين، ويقف الأنبياء دائما في وجه الطغاة، يقاومون بشجاعة رموز الشر، ويدافعون عن حقوق الإنسان وكرامته، مبشرين ومنذرين، منتصرين للفضيلة والحق، مؤكدين أن الدين الحق غايته تحرير الإنسان من العبودية، ومقاومة الطغيان في المجتمع.
وفي الختام، أرجو الله تعالى أن يتقبل هذا العمل العلمي المتواضع، وأن يجعله مباركا، وأن ينفع به، وأعتذر عما يمكن أن يكون قد وقع فيه من أخطاء، وأسأله تعالى أن يشرح قلوبنا لما يحبه لنا، وأن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم. والله الموفق لكل خير.
محمد فاروق النبهان
رباط الفتح
27 رمضان المبارك 1414 هـ
10 مارس 1994 م
একটি অভিব্যক্তি ও অর্থ যা রূপকে মূর্ত করে তোলে এবং শব্দাবলিকে তার ব্যাপ্তি, চিত্র ও সৌন্দর্য দান করে। আল-জুরজানি শব্দের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং একে প্রকাশের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ শব্দ তার উপযুক্ত স্থান খুঁজে নেয় এবং সুক্ষ্ম অর্থ একটি সার্থক শব্দের (لفظ) অনুসন্ধান করে।
এই গবেষণাপত্রটি 'কুরআনের কাহিনী' বিষয়ক একটি বিশেষ অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। এই অধ্যায়ে আমি কুরআনের কাহিনীর সাধারণ প্রেক্ষাপট, এর চরিত্রসমূহ এবং যৌক্তিক দৃঢ়তা ও মানসিক প্রভাব সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহারের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছি। কুরআনের কাহিনীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাহিনীর সাথে বিধান (حكم) ও তা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় উপদেশের সংমিশ্রণ—যেখানে প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই তা যুক্ত করা হয়েছে; কাহিনীর শুরুতে, শেষে কিংবা সংলাপের ফাঁকে চরিত্রগুলোর জবানিতে। নিঃসন্দেহে কুরআনের কাহিনী কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি অন্যতম বহিঃপ্রকাশ; চাই তা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে হোক, কুরআনি লক্ষ্যসমূহের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে হোক কিংবা কাহিনী উপস্থাপনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে প্রভাবশালী শৈলীর ক্ষেত্রে হোক। কুরআনের প্রতিটি কাহিনী থেকে মানবিক অবস্থানগুলো অনুধাবন করা আমাদের জন্য সহজ, বিশেষ করে সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব এবং জালেম ও মজলুমদের (المستضعفين) মধ্যকার সংঘাতের ক্ষেত্রে। নবীগণ সর্বদা জালেমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, সাহসিকতার সাথে অশুভ শক্তির প্রতীকদের মোকাবিলা করেছেন এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করেছেন। তারা ছিলেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং সত্য ও ফযিলতের বিজয়ে নিবেদিতপ্রাণ। তারা এই সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, দ্বীন-ই-হকের লক্ষ্য হলো মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা এবং সমাজে জুলুম-অত্যাচারের প্রতিরোধ করা।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বিনম্র ইলমি খিদমত কবুল করেন, একে বরকতময় করেন এবং এর দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন। এতে সম্ভাব্য সকল ভুলের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরকে তাঁর পছন্দের আমলের জন্য প্রশস্ত করে দেন এবং আমাদের সকল কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আল্লাহই সকল কল্যাণের তৌফিকদাতা।
মুহাম্মদ ফারুক আন-নাবহানি
রিবাত আল-ফাতহ
২৭ রমজানুল মুবারক ১৪১৪ হিজরি
১০ মার্চ ১৯৯৪ ঈসায়ী
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصول الرئيسية
الفصل الأول: القرآن الكريم.
الفصل الثاني: الوحي والقرآن.
الفصل الثالث: نشأة علوم القرآن.
الفصل الرابع: مقدمة في التفسير.
الفصل الخامس: ترجمة القرآن.
الفصل السادس: المكي والمدني في القرآن الكريم.
الفصل السابع: جمع القرآن وكتابته.
الفصل الثامن: فواتح السور القرآنية وخواتمها.
الفصل التاسع: ترتيب السور والآيات.
الفصل العاشر: علم الناسخ والمنسوخ.
الفصل الحادي عشر: رسم القرآن.
الفصل الثاني عشر: علم المحكم والمتشابه.
الفصل الثالث عشر: القراءات القرآنية.
الفصل الرابع عشر: الوقف والابتداء.
الفصل الخامس عشر: إعجاز القرآن.
الفصل السادس عشر: القصة في القرآن.
প্রধান অধ্যায়সমূহ
প্রথম অধ্যায়: আল-কুরআনুল কারীম।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ওহী (وحي) এবং কুরআন।
তৃতীয় অধ্যায়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)-এর উদ্ভব।
চতুর্থ অধ্যায়: তাফসির (تفسير)-এর ভূমিকা।
পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনের অনুবাদ।
ষষ্ঠ অধ্যায়: আল-কুরআনুল কারীমে মাক্কী (مكي) এবং মাদানী (مدني)।
সপ্তম অধ্যায়: কুরআন সংকলন ও লিখন।
অষ্টম অধ্যায়: কুরআনের সূরাসমূহের প্রারম্ভিক ও সমাপনী অংশ।
নবম অধ্যায়: সূরা এবং আয়াতের বিন্যাস।
দশম অধ্যায়: নাসিখ (ناسخ) এবং মানসূখ (منسوخ)-এর জ্ঞান (علم)।
একাদশ অধ্যায়: রসমুল কুরআন (رسم القرآن)।
দ্বাদশ অধ্যায়: মুহকাম (محكم) এবং মুতাশাবিহ (متشابه)-এর জ্ঞান (علم)।
ত্রয়োদশ অধ্যায়: কুরআনের কিরাতসমূহ (قراءات)।
চতুর্দশ অধ্যায়: ওয়াকফ (وقف) এবং ইবতিদা (ابتداء)।
পঞ্চদশ অধ্যায়: কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز)।
ষোড়শ অধ্যায়: কুরআনের কাহিনীসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول: القرآن الكريمالقرآن هو المصدر الأول للتشريع الإسلامي، وهو المصدر الأصيل الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، ولا يتطرق الشك إلى أيّة آية من آياته، ينسخ المصادر الأخرى ولا تنسخه، ويحتج به على ما عداه ولا يحتج عليه، وما ورد في القرآن فهو قرآن وهو كلام الله، وتتمثل مهمة البشر في تفسيره وبيان ما ورد فيه.
وتفسير القرآن حق ثابت لكل من كان يملك أهلية التفسير، من حيث الكفاءة العقلية والاستقامة السلوكية ومعرفة أدوات التفسير ومتطلباته، اللغوية والشرعية، ولا يمكن إنكار حق البشر في التفسير، لأن المخاطب بالنص يملك حق تفسير ذلك النص والأجيال المتعاقبة مخاطبة بالقرآن، ومن حق كل جيل بل من واجب كل جيل أن يسهم في تفسير القرآن، وأن يبدي رأيه واجتهاده، فمن أساء التفسير فمن حق الآخرين أن يناقشوه ويجادلوه، ولكن لا يجوز إنكار حق البشر في الفهم والتفسير، والتفسير هو أداة التجديد، لأن المخاطب متعدد، والتعدد يستلزم اختلاف الرؤية، والأجيال المتعاقبة ليست متماثلة في تكوينها وفي ظروف حياتها، وإذا انتفت المماثلة في المخاطب تعدد التفسير، واتسعت دائرة الفهم، بحثا عن معاني الخطاب القرآني وتأكيدا لإعجاز القرآن.
ولا يجوز لجيل أن يستبد بحق التفسير مانعا أجيالا لاحقة من حقها الطبيعي في الفهم، كما لا يجوز لجيل أن يعتبر نفسه وصيا على الخطاب القرآني، معلنا أنه الأحق بالتفسير والأقدر عليه، فالأجيال متكافئة، وكل جيل مسئول عن نفسه، وهو الأقدر على الفهم والتفسير، وهكذا يتجدد التفسير بتجدد الأجيال، ويظل الخطاب القرآني متواصل العطاء دائم الإشعاع يعطي ويلهم ويعلم ويهدي، مؤكدا عظمة التواصل بين القرآن والإنسان، في رحلة الحياة المستمرة وفي مسيرة الإنسان من أمس إلى غد.
প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআনকুরআন হলো ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নের (تشريع) প্রথম উৎস। এটি এমন এক মৌলিক উৎস যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং এর কোনো আয়াত নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। এটি অন্যান্য উৎসকে রহিত (نسخ) করে, কিন্তু অন্য কিছু একে রহিত করতে পারে না। অন্য সবকিছুর ওপর এটি দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করা হয়, কিন্তু এর বিপক্ষে অন্য কোনো দলিল পেশ করা যায় না। কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই কুরআন এবং তা আল্লাহর কালাম। মানুষের দায়িত্ব হলো এর ব্যাখ্যা (تفسير) করা এবং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা বিশদভাবে বর্ণনা করা।
আর কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) করা সেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি সুনিশ্চিত অধিকার, যার ব্যাখ্যার যোগ্যতা (أهلية) রয়েছে; বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, আচরণগত শুদ্ধতা এবং ব্যাখ্যার উপকরণসমূহ ও তার ভাষাগত ও শরয়ি আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞানের দিক থেকে। মানুষের ব্যাখ্যা করার অধিকার অস্বীকার করা সম্ভব নয়, কারণ মূল পাঠের (نص) সম্বোধিত ব্যক্তির সেই পাঠ ব্যাখ্যা করার অধিকার থাকে। পরবর্তী প্রজন্মসমূহও কুরআনের মাধ্যমে সম্বোধিত। প্রতিটি প্রজন্মের অধিকার রয়েছে, বরং প্রতিটি প্রজন্মের কর্তব্য হলো কুরআনের ব্যাখ্যায় অবদান রাখা এবং নিজের মতামত (رأي) ও ইজতিহাদ (اجتهاد) ব্যক্ত করা। সুতরাং কেউ যদি ভুল ব্যাখ্যা করে, তবে অন্যদের অধিকার রয়েছে তার সাথে আলোচনা ও বিতর্ক করার। কিন্তু মানুষের অনুধাবন ও ব্যাখ্যা করার অধিকার অস্বীকার করা বৈধ নয়। ব্যাখ্যা হলো সংস্কারের হাতিয়ার, কারণ সম্বোধিত পক্ষ বহুমুখী, আর এই বহুমুখিতা দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতাকে আবশ্যক করে তোলে। পরবর্তী প্রজন্মসমূহ তাদের গঠন ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতির দিক থেকে সমরূপ নয়। যখন সম্বোধিতদের মধ্যে সমরূপতা থাকে না, তখন ব্যাখ্যারও বহুমুখিতা ঘটে এবং অনুধাবনের পরিধি বিস্তৃত হয়; যা কুরআনি বার্তার অর্থ অন্বেষণ এবং কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
কোনো প্রজন্মের জন্য ব্যাখ্যার (تفسير) অধিকার একচেটিয়াভাবে ভোগ করা এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে তাদের অনুধাবনের স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়। তেমনি কোনো প্রজন্মের জন্য নিজেকে কুরআনি বার্তার অভিভাবক মনে করা এবং নিজেকে ব্যাখ্যার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও সক্ষম ঘোষণা করাও সংগত নয়। প্রতিটি প্রজন্ম সমমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিটি প্রজন্ম নিজের জন্য দায়ী, আর প্রতিটি প্রজন্ম অনুধাবন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিক সক্ষম। এভাবেই প্রজন্মের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যাখ্যারও নবায়ন ঘটে। কুরআনি বার্তা সর্বদা দানশীল ও চির-উদ্ভাসিত থাকে—তা দান করে, অনুপ্রাণিত করে, শিক্ষা দেয় এবং পথ দেখায়; যা জীবনের নিরন্তর যাত্রায় এবং অতীত থেকে আগামীর দিকে মানুষের পথচলায় কুরআন ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের মাহাত্ম্যকে সুনিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لفظ القرآن:القرآن في اللغة مصدر مرادف للقراءة، ثم نقل من معناه اللغوي إلى معناه الاصطلاحي الدال على الكلام المعجز المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (1) وهذا الرأي رجحه بعض العلماء معتمدين في ذلك على قواعد اللغة.
وقال آخرون: القرآن اسم غير مشتق من شيء، وهو اسم خاص بكلام الله، مثل التوراة والإنجيل، وهو اسم غير مهموز، ولم يؤخذ من قرأت ولو أخذ من قرأت لكان كل
ما قرئ قرآنا وروي هذا الرأي عن الشافعي، وقال البيهقي: كان الشافعي يهمز «قرأت» ولا يهمز القرآن ويقول: هو اسم لكتاب الله، قال الواحدي: قول الشافعي يعني أنه اسم علم غير مشتق (2).
وذهب الأشعري إلى أنه مشتق من قرنت الشيء بالشيء إذا ضممته إليه، وسمي القرآن بذلك لأن السور والآيات مجموعة فيه، وقال أبو عبيد: سمي القرآن قرآنا لأنه جمع السور بعضها إلى بعض، وقال الراغب: سمي قرآنا لكونه جمع ثمرات الكتب المنزلة السابقة، أو لأنه جمع أنواع العلوم كلها بمعان، وقال الهروي: كل شيء جمعته فقد قرأته، وقيل مشتق من القري وهو الجمع ومنه قريت الماء في الحوض إذا جمعته.
وقال القرطبي: القرآن بغير همز مأخوذ من القرائن لأن الآيات منه يصدق بعضها بعضا، ويشابه بعضها بعضا، وقال الزجاج: هذا القول سهو، والصحيح أن ترك الهمز فيه من باب التخفيف، ونقل حركة الهمزة إلى الساكن قبلها.
وسمى الله تعالى القرآن بأسماء كثيرة، منها: الكتاب والقرآن والكلام والنور والهدى والرحمة والفرقان والشفاء والموعظة والذكر والحكمة والصراط المستقيم وأحسن الحديث والتنزيل والبيان والتذكرة والعروة الوثقى والبلاغ والأمر، ولكل اسم من هذه الأسماء معنى، ووردت هذه الأسماء في القرآن (3).
--------------------------------------------
কুরআন শব্দের অর্থ:ভাষাগত দিক থেকে কুরআন শব্দটি পাঠ করা বা পড়ার সমার্থক একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), অতঃপর এটি এর শাব্দিক অর্থ থেকে পরিভাষাগত অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ মুজিযাস্বরূপ বাণীকে নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। (১৭) সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।” (১৮) এটি এমন এক অভিমত যাকে কতিপয় আলিম ভাষার ব্যাকরণগত নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রাধান্য দিয়েছেন।
অন্যান্যরা বলেছেন: কুরআন এমন একটি বিশেষ্য যা কোনো শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন নয়, বরং এটি আল্লাহর বাণীর জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম, যেমন তাওরাত ও ইঞ্জিল। এটি হামযা (ء) বিহীন একটি নাম এবং এটি 'ক্বারাতু' (আমি পড়েছি) শব্দ থেকে নেওয়া হয়নি। যদি এটি 'ক্বারাতু' থেকে নেওয়া হতো, তবে যা কিছু পাঠ করা হয় তাকেই কুরআন বলা হতো। এই অভিমতটি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে। ইমাম বায়হাকি বলেন: ইমাম শাফিঈ 'ক্বারাতু' শব্দে হামযা উচ্চারণ করতেন কিন্তু 'কুরআন' শব্দে হামযা উচ্চারণ করতেন না এবং তিনি বলতেন: এটি আল্লাহর কিতাবের একটি নাম। আল-ওয়াহিদি বলেন: ইমাম শাফিঈর বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি একটি অ-ব্যুৎপন্ন সংজ্ঞাবাচক নাম।
ইমাম আশআরি এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি ‘কারানতু’ (আমি একটি বস্তুকে অন্যটির সাথে যুক্ত করেছি) থেকে ব্যুৎপন্ন যখন আপনি কোনো কিছুকে অন্য কিছুর সাথে মিলিয়ে দেন। কুরআনকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে সূরা ও আয়াতসমূহ একত্রিত রয়েছে। আবু উবায়েদ বলেন: কুরআনকে কুরআন বলা হয় কারণ এটি সূরাসমূহকে একে অপরের সাথে একত্রিত করে। আল-রাঘিব বলেন: একে কুরআন বলা হয় কারণ এটি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের নির্যাস ধারণ করে অথবা এটি অর্থের দিক থেকে সব ধরনের জ্ঞানকে একত্রিত করে। আল-হারাউই বলেন: আপনি যা কিছু একত্রিত করেছেন তাকেই আপনি 'কারাতাহু' (আপনি তা একত্রিত করেছেন) বলতে পারেন। আর বলা হয়ে থাকে যে, এটি ‘আল-কারি’ (القرى) থেকে ব্যুৎপন্ন যার অর্থ হলো একত্র করা; সেখান থেকেই বলা হয় 'ক্বারাইতুল মাআ ফিল হাওয' অর্থাৎ যখন আমি হাউজে পানি জমা করি।
ইমাম কুরতুবি বলেন: হামযা ব্যতীত 'কুরআন' শব্দটি ‘আল-কারায়িন’ (القرائن) থেকে নেওয়া হয়েছে, কারণ কুরআনের আয়াতসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে এবং একটি অন্যটির সদৃশ হয়। আয-যাজ্জাজ বলেন: এই বক্তব্যটি একটি বিভ্রান্তি, বরং সঠিক (الصحيح) কথা হলো এতে হামযা বর্জন করা হয়েছে সহজীকরণের (تخفيف) উদ্দেশ্যে এবং হামযার হরকত তার পূর্ববর্তী সাকিন বর্ণের দিকে স্থানান্তর করার মাধ্যমে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনকে অনেক নামে অভিহিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল-কিতাব, আল-কুরআন, আল-কালাম, আন-নূর, আল-হুদা, আর-রাহমাহ, আল-ফুরকান, আশ-শিফা, আল-মাউয়িযাহ, আয-যিকর, আল-হিকমাহ, আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম, আহসানুল হাদিস, আত-তানযিল, আল-বায়ান, আত-তাযকিরাহ, আল-উরওয়াতুল উসকা, আল-বালাগ এবং আল-আমর। এই নামগুলোর প্রতিটির আলাদা অর্থ রয়েছে এবং এই নামগুলো কুরআনেই উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد بالغ بعض العلماء في التسميات حتى أوصلها بعضهم إلى نيف وتسعين اسما، ويبدو أنهم لم يفرقوا بين الأسماء والصفات، واعتبروا كل لفظة وردت في إطار الدلالة على القرآن من أسماء القرآن، وهذا أمر مبالغ فيه، ولو اقتصروا على الأسماء التي استعملها القرآن وأراد بها تسمية القرآن لكان أولى.
القرآن ولغة العرب:نزل القرآن بلغة العرب، ولا تجوز قراءة القرآن بغير لغة العرب لقوله تعالى:
إِنَّا أَنْزَلْناهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا (1)، وذهب معظم العلماء إلى أن القرآن ليس فيه ما هو خارج عن لغة العرب، لأنه تحدى العرب بأسلوبه وكلماته وصياغته، وبلاغته وفصاحته، ولو اشتمل على غير لغة العرب لما تحقق ذلك الإعجاز الأسلوبي، وقال أبو عبيد: من زعم أن في القرآن لسانا سوى العربية فقد أعظم على الله القول، وقال ابن عطية في مقدمة كتابه في التفسير: بأن العرب الذين نزل القرآن بلغتهم كانت لهم مخالطة لسائر الألسن، بسبب تجاراتهم ورحلاتهم، فدخلت بعض الكلمات الأعجمية في العربية، واستعملها العرب بعد إدخال تغييرات فيها تخفف من ثقل العجمة، حتى جرت مجرى العربي الفصيح، ووقع بها البيان، وأصبحت عربية.
وقال أبو عبيد القاسم بن سلام: «والصواب عندي مذهب فيه تصديق القولين جميعا، وذلك أن هذه الأحرف أصولها أعجمية كما قال الفقهاء، إلا أنها سقطت إلى العرب فعرّبتها بألسنتها، وحولتها عن ألفاظ العجم إلى ألفاظها فصارت عربية، ثم نزل القرآن، وقد اختلطت هذه الحروف بكلام العرب، فمن قال إنها عربية فهو صادق، ومن قال أعجمية فصادق».
ونزل القرآن بلغة قريش، وحكي عن أبي الأسود الدؤلي أنه نزل بلسان الكعبين كعب بن لؤي جد قريش، وكعب بن عمرو، جد خزاعة، وقال أبو عبيد
--------------------------------------------
কতিপয় আলেম (علماء) নামাকরণের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করেছেন, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ এর সংখ্যা নব্বইয়ের অধিক পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। মনে হয় তাঁরা নাম (أسماء) এবং গুণাবলির (صفات) মাঝে পার্থক্য করেননি এবং তাঁরা কুরআনের তাৎপর্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকেই কুরআনের নামের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। এটি একটি অতিশয়োক্তিপূর্ণ বিষয়। তাঁরা যদি কেবল সেই নামগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন যা কুরআন ব্যবহার করেছে এবং যা দ্বারা কুরআনকে নামায়িত করার উদ্দেশ্য ছিল, তবে তা অধিকতর শ্রেয় হতো।
কুরআন এবং আরবদের ভাষা:কুরআন আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আরবি ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:
"নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি" (১)। অধিকাংশ আলেম (علماء) এই মত পোষণ করেছেন যে, কুরআনে এমন কিছু নেই যা আরবদের ভাষার বহির্ভূত। কারণ, এটি আরবদেরকে এর রচনাশৈলী, শব্দাবলি, গঠনরীতি, অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) এবং প্রাঞ্জলতার (فصاحة) মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান করেছে। যদি এটি আরবি ভাষা ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করত, তবে সেই শৈল্পিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) অর্জিত হতো না। আবু উবাইদ বলেছেন: "যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআনে আরবি ব্যতীত অন্য কোনো ভাষা রয়েছে, সে আল্লাহর নামে গুরুতর কথা বলল (অপবাদ আরোপ করল)।" ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসির গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: যে আরবদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সফরের কারণে অন্যান্য ভাষার সাথে সংমিশ্রণ ছিল। ফলে কিছু অনারবি (أعجمية) শব্দ আরবিতে প্রবেশ করেছে এবং আরবরা সেগুলোতে অনারবি শব্দের জড়তা দূর করার জন্য কিছু পরিবর্তন সাধন করে ব্যবহার করেছে, এমনকি তা বিশুদ্ধ আরবির (عربي فصيح) মতো প্রচলিত হয়ে পড়ে এবং তার মাধ্যমে বক্তব্য সুস্পষ্ট হয় ও তা আরবিতে পরিণত হয়।
আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সাল্লাম বলেছেন: «আমার নিকট সঠিক মত হলো এমন একটি পন্থা বা মাযহাব (مذهب) যাতে উভয় বক্তব্যই সমর্থিত হয়। আর তা হলো—ফকিহগণ (فقهاء) যেমনটি বলেছেন, এই বর্ণ বা শব্দগুলোর মূল অনারবি (أعجمية)। তবে এগুলো আরবদের মধ্যে প্রচলিত হয় এবং তারা নিজ রসনায় এগুলোকে আরবীকরণ (عرّبتها) করেছে এবং অনারবি শব্দ থেকে সেগুলোকে নিজেদের শব্দে রূপান্তরিত করেছে, ফলে সেগুলো আরবিতে পরিণত হয়েছে। অতঃপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এমতাবস্থায় যে, এই শব্দগুলো আরবদের কথার সাথে সংমিশ্রিত ছিল। সুতরাং যারা বলেন এগুলো আরবি, তারা সত্যবাদী; আর যারা বলেন এগুলো অনারবি, তারাও সত্যবাদী।»
কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি 'কা’বাইন'-এর ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে—যাঁরা হলেন কুরাইশদের পূর্বপুরুষ কা’ব ইবনে লুয়াই এবং খুজা’আ গোত্রের পূর্বপুরুষ কা’ব ইবনে আমর। আবু উবাইদ বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في كتابه: فضائل القرآن عن ابن عباس رضي الله عنهما: نزل بلغة الكعبين، كعب قريش وكعب خزاعة، قيل: وكيف ذاك؟ قال: لأن الدار واحدة، وفضل «الفراء» لغة قريش على سائر لغات العرب، لأنهم كانوا يسمعون كلام العرب فيختارون من كل لغة أحسنها، فصفا كلامهم.
وثبت في الصحيحين من حديث ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أقرأني جبريل على حرف فراجعته، ثم لم أزل أستزيده فيزيدني حتى انتهى إلى سبعة أحرف».
وروى أبو هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف، فاقرءوا ولا حرج، ولكن لا تختموا ذكر رحمة بعذاب، ولا ذكر عذاب برحمة».
أقوال العلماء في الأحرف السبعة:اختلف العلماء القائلون بأن القرآن نزل على سبعة أحرف على أقوال (1):
القول الأول: يعتبر الأمر من المشكل الذي لا يعرف معناه، لأن العرب تسمي الكلمة المنظومة حرفا والقصيدة كلمة.
القول الثاني: المراد بالأحرف السبعة القراءات السبع، وحكي هذا القول عن الخليل بن أحمد، وحكى ابن عبد البر القرطبي عن بعض العلماء المتأخرين من أهل العلم بالقرآن أنه قال: تدبرت وجوه الاختلاف في القرآن، فوجدتها سبعة، منها ما تتغير حركته ولا يزول معناه ولا صورته، ومنها ما يتغير معناه ويزول بالإعراب ولا تتغير صورته، ومنها ما يتغير معناه بالحروف ولا تتغير صورته، ومنها ما تتغير صورته ولا يتغير معناه، ومنها ما تتغير صورته ومعناه، ومنها بالتقديم والتأخير، ومنها
الزيادة والنقصان.
القول الثالث: المراد سبعة أنواع، كل نوع منها جزء من أجزاء القرآن، فبعضها أمر ونهي، ووعد وعيد، وقصص، وحلال وحرام، ومحكم ومتشابه
--------------------------------------------
তাঁর কিতাব: ফাদায়িলুল কুরআন-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: এটি (কুরআন) দুই কা'বের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে—কুরাইশের কা'ব এবং খুযা'আর কা'ব। জিজ্ঞাসা করা হলো: তা কীভাবে? তিনি বললেন: কারণ তাদের আবাসস্থল ছিল এক। আর ‘আল-ফাররা’ কুরাইশদের ভাষাকে আরবের অন্যান্য সকল ভাষার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, কারণ তারা আরবদের কথা শুনতেন এবং প্রতিটি ভাষা থেকে সবচেয়ে সুন্দর অংশটি গ্রহণ করতেন, ফলে তাদের ভাষা মার্জিত হয়ে উঠেছিল।
আর সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাসের হাদিস হতে প্রমাণিত (ثبت) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জিবরাঈল আমাকে এক পদ্ধতিতে (حرف) পাঠ করিয়েছিলেন, অতঃপর আমি তাঁর কাছে আবেদন জানালাম; এরপর আমি বারবার অতিরিক্ত পাঠপদ্ধতির অনুরোধ করতে থাকলাম এবং তিনিও আমার জন্য বৃদ্ধি করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তা সাত পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) গিয়ে সমাপ্ত হলো।"
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন সাত পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা পাঠ করো এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে করুণার বর্ণনার শেষে আযাবের কথা বলবে না, আর আযাবের বর্ণনার শেষে করুণার কথা বলবে না।"
সাত পদ্ধতি (الأحرف السبعة) সম্পর্কে আলেমদের অভিমতসমূহ:কুরআন সাত পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে—এই মত পোষণকারী আলেমগণ বিভিন্ন অভিমতে বিভক্ত হয়েছেন (১):
প্রথম অভিমত: এই বিষয়টি অস্পষ্ট ও জটিল (مشكل) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ জানা যায় না। কারণ আরবরা ছন্দোবদ্ধ শব্দকে পদ্ধতি (حرف) এবং পূর্ণ কবিতাকে শব্দ (كلمة) বলে অভিহিত করে।
দ্বিতীয় অভিমত: সাত পদ্ধতি (الأحرف السبعة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাত ক্বিরাত। এই অভিমতটি খলীল বিন আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্দুল বার আল-কুরতুবী কুরআন বিশেষজ্ঞ পরবর্তী যুগের (متأخرين) কিছু আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি কুরআনের বৈচিত্র্যময় রূপগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছি এবং তা সাত প্রকারের পেয়েছি। তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার হরকত বা স্বরচিহ্ন পরিবর্তিত হয় কিন্তু অর্থ ও রূপ পরিবর্তিত হয় না; এমন কিছু রয়েছে যার অর্থ পরিবর্তিত হয় এবং ব্যাকরণগত অবস্থান (إعراب) পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপও পরিবর্তিত হয় কিন্তু মূল আকৃতি পরিবর্তন হয় না; কিছু ক্ষেত্রে অক্ষরের কারণে অর্থ পরিবর্তিত হয় কিন্তু আকৃতি অপরিবর্তিত থাকে; কিছু ক্ষেত্রে আকৃতি পরিবর্তন হয় কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকে; কিছু ক্ষেত্রে আকৃতি ও অর্থ উভয়ই পরিবর্তিত হয়; কিছু ক্ষেত্রে অগ্রপশ্চাৎ (تقديم وتأخير) করার মাধ্যমে পরিবর্তন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন (زيادة) ও বিয়োজন (نقصان) ঘটে।
তৃতীয় অভিমত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাত প্রকারের বিষয়, যার প্রতিটি কুরআনের একেকটি অংশ। যেমন: আদেশ ও নিষেধ, সুসংবাদ ও সতর্কতা, কাহিনীসমূহ, হালাল ও হারাম, এবং সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأمثال، وردّ ابن عبد البر هذا القول، ونقل عن العلماء القول بفساد هذا التفسير، وقال ابن عطية: هذا القول ضعيف، وقال الماوردي: هذا القول خطأ.
القول الرابع: المراد سبع لغات لسبع قبائل من العرب، وليس معناه أن يكون في الحرف الواحد سبعة أوجه، فبعضه نزل بلغة قريش، وبعضه بلغة هذيل، وبعضه بلغة تميم، وبعضه بلغة ربيعة، وهكذا، وإلى هذا ذهب أبو عبيد القاسم بن سلام، وقال الأزهري صاحب التهذيب في اللغة: إنه المختار، واحتج بقول عثمان حين أمرهم بكتب المصاحف: وما اختلفتم فيه أنتم وزيد فاكتبوه بلغة قريش، فإنه أكثر ما نزل بلسانهم. وقال البيهقي في شعب الإيمان: إنه الصحيح أي: المراد اللغات السبع، وأنكر ابن قتيبة هذا القول، قال: لم ينزل القرآن إلا بلغة قريش، وقال ابن عبد البر: قد أنكر أهل العلم أن يكون معنى سبعة أحرف سبع لغات، لأنه لو كان كذلك لم ينكر القوم بعضهم على بعض في أول الأمر، لأن ذلك من لغته التي طبع عليها.
القول الخامس: المراد سبعة أوجه من المعاني المتفقة بالألفاظ المختلفة، نحو أقبل وهلم وتعال وعجل وأسرع وانظر وأخر .. قال ابن عبد البر: وعلى هذا القول أكثر أهل العلم، وأنكروا على من قال: إنها لغات.
القول السادس: الأمر راجع إلى بعض الآيات، مثل قوله تعالى: أُفٍّ لَكُمْ وتقرأ على سبعة أوجه: بالنصب والجر والرفع، وكل وجه بالتنوين وغيره، وسابع الأوجه الجزم.
القول السابع: الأحرف السبعة ظهرت واستفاضت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وضبطها عنه الأئمة وأثبتها عثمان في المصحف.
القول الثامن: كانت الحاجة ماسة إلى تعدد الأحرف واللغات، لصعوبة أن يتحول الإنسان عن لغته، ولما كثر الناس والكتاب ارتفعت تلك الضرورة، وارتفع حكم الأحرف السبعة.
القول التاسع: المراد أن علم القرآن يشتمل على سبعة أشياء، علم الإثبات
এবং এর অনুরূপ। ইবনে আবদিল বারর এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আলেমদের থেকে এই ব্যাখ্যার অসারতার কথা বর্ণনা করেছেন। ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন: "এই মতটি দুর্বল (ضعيف)"। আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: "এই বক্তব্যটি ভুল (خطأ)"।
চতুর্থ মত: এর দ্বারা আরবের সাতটি গোত্রের সাতটি ভাষা (لغات) উদ্দেশ্য। এর অর্থ এই নয় যে, একটি অক্ষরের মধ্যে সাতটি রূপ বিদ্যমান থাকবে; বরং এর কিছু অংশ কুরাইশদের ভাষায়, কিছু অংশ হুযাইল গোত্রের ভাষায়, কিছু অংশ তামীম গোত্রের ভাষায়, কিছু অংশ রাবিআহ গোত্রের ভাষায় এবং এভাবেই অন্যান্যদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর এই মতটিই গ্রহণ করেছেন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সালাম। 'তাহযীব ফিল লুগাহ' গ্রন্থের রচয়িতা আল-আযহারী বলেছেন: এটিই মনোনীত (المختار) মত। তিনি উসমানের (রা.) সেই বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যখন তিনি মুসহাফসমূহ সংকলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন: "তোমরা এবং জায়েদ কোনো বিষয়ে একমত হতে না পারলে তা কুরাইশদের ভাষায় লেখো, কারণ কুরআন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।" আল-বাইহাকী শুআবুল ঈমান-এ বলেছেন: এটিই সঠিক (الصحيح); অর্থাৎ উদ্দেশ্য হলো সাতটি ভাষা (لغات)। তবে ইবনে কুতাইবাহ এই মতটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: "কুরআন কেবল কুরাইশদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।" ইবনে আবদিল বারর বলেছেন: আলেমগণ সাতটি অক্ষর (سبعة أحرف)-এর অর্থ সাতটি ভাষা (لغات) হওয়াকে অস্বীকার করেছেন; কারণ যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে প্রারম্ভিক সময়ে তারা একে অপরের পাঠ অস্বীকার করত না, কেননা তা ছিল তাদের সেই ভাষা যা তাদের স্বভাবে মিশে ছিল।
পঞ্চম মত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অভিন্ন অর্থের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন শব্দের সাতটি রূপ, যেমন: 'আকবিল' (أقبل), 'হালুম্মা' (هلم), 'তা'আলা' (تعال), 'আজ্জিল' (عجل), 'আসরি' (أسرع), 'উনযুর' (انظر) এবং 'আখখির' (أخر)। ইবনে আবদিল বারর বলেছেন: অধিকাংশ আলেম এই মতটি পোষণ করেন এবং যারা একে ভাষা (لغات) বলেছেন তাদের তারা প্রতিবাদ করেছেন।
ষষ্ঠ মত: বিষয়টি কিছু নির্দিষ্ট আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "উফফিন লাকুম" (أُفٍّ لَكُمْ)। এটি সাতটি পদ্ধতিতে পড়া যায়: নসব (نصب), যার (جر) ও রাফা (رفع) সহকারে, এবং এর প্রতিটি তানভীন (تنوين) সহ ও তানভীন ছাড়া; আর সপ্তম পদ্ধতিটি হলো জযম (جزم) সহকারে।
সপ্তম মত: সাতটি অক্ষর (الأحرف السبعة) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশ পেয়েছে এবং সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে (استفاضت), যা ইমামগণ তাঁর থেকে যথাযথভাবে আয়ত্ত (ضبط) করেছেন এবং উসমান (রা.) তা মুসহাফে সংরক্ষণ করেছেন।
অষ্টম মত: মানুষের জন্য তার নিজস্ব সহজাত ভাষা পরিবর্তন করা কঠিন ছিল বিধায় একাধিক অক্ষর (أحرف) ও ভাষার (لغات) তীব্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং লেখকের সংখ্যা বাড়ল, তখন সেই আবশ্যকতা দূর হয়ে গেল এবং সাতটি অক্ষর (الأحرف السبعة)-এর বিধানও রহিত হয়ে গেল।
নবম মত: এর অর্থ হলো কুরআনের ইলম সাতটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: সাব্যস্তকরণের ইলম (علم الإثبات)
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
والإيجاد، وعلم التوحيد وعلم التنزيه، وعلم صفات الذات، وعلم العفو والعذاب، وعلم النبوات، وعلم الإمامات.
القول العاشر: المراد بذلك علم المطلق والمقيد والعام والخاص والنص والمؤول والناسخ والمنسوخ والمجمل والمفسر.
القول الحادي عشر: المراد الحذف والصلة، والتقديم والتأخير والقلب والاستعارة، والتكرار والكناية، والحقيقة والمجاز، والمجمل والمفسر.
القول الثاني عشر: المراد التذكير والتأنيث، والشرط والجزاء، والجمع والتفريق، والتصغير والتعظيم.
القول الثالث عشر: المراد كيفية النطق بالتلاوة من إظهار وإدغام، وتفخيم وترقيق، وإمالة وإشباع، ومد وقصر، وتخفيف وتليين وتشديد.
ونلاحظ من الأقوال السابقة أن العلماء مختلفون في تفسير معنى الأحرف السبعة، وآراؤهم متباعدة متباينة، وجميع الاحتمالات ممكنة، ويبدو أن المتأخرين حاولوا تقريب الأمر، ورجحوا أن يكون المراد بتعدد الأحرف تيسير الأداء القرآني وتيسير التلاوة على العرب، بحيث تتمكن القبائل العربية المختلفة من القراءة باللغة التي تستطيع النطق بها، من حيث التفخيم والإمالة والإظهار والإدغام، والمهم في ذلك كله التيسير على الأمة بحيث لا يكلف المسلم بما لا يطيق، بشرط ألا يؤدي ذلك إلى تغيير في المعاني، فالأداء اللفظي تحكمه استعدادات موروثة، وقابليات فطرية، ولا يؤثر ذلك في سلامة النص القرآني، ولا في المعاني المستنبطة منه، ويؤكد هذا المعنى ما رواه الترمذي عن أبيّ بن كعب أنه لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل فقال: «يا جبريل، إني بعثت إلى أمة أميين، منهم العجوز والشيخ الكبير، والغلام والجارية والرجل الذي لم يقرأ كتابا قط، فقال: يا محمد إن القرآن أنزل على سبعة أحرف».
والحكمة من ذلك احترام اللهجات العربية، وإشعار مختلف القبائل العربية أنها قادرة على أن تقرأ القرآن بلهجتها، وأن العربية تتسع لكل العرب، وتعترف
এবং অস্তিত্ব দান, তাওহিদতত্ত্ব, আল্লাহকে ত্রুটিমুক্ত জানার জ্ঞান, সত্তাগত গুণাবলির জ্ঞান, ক্ষমা ও শাস্তির জ্ঞান, নবুওয়াত সংক্রান্ত জ্ঞান এবং ইমামত সংক্রান্ত জ্ঞান।
দশম মত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শর্তহীন (مطلق), শর্তযুক্ত (مقيد), ব্যাপক (عام), বিশেষ (خاص), সুস্পষ্ট পাঠ (نص), ব্যাখ্যাত (مؤول), রহিতকারী (ناسخ), রহিত (منسوخ), সংক্ষিপ্ত (مجمل) এবং বিস্তারিত (مفسর) সংক্রান্ত জ্ঞান।
একাদশ মত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিলোপ ও সংযোগ, অগ্রায়ন ও পশ্চাদায়ন, রূপান্তর ও রূপক, পুনরাবৃত্তি ও পরোক্ষ ইঙ্গিত, প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز), সংক্ষিপ্ত (مجمل) এবং বিস্তারিত (مفسর)।
দ্বাদশ মত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ, শর্ত ও প্রতিদান, একত্রীকরণ ও পৃথকীকরণ এবং ক্ষুদ্রতা ও মহত্ত্ব প্রকাশ।
ত্রয়োদশ মত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিলাওয়াতের উচ্চারণের পদ্ধতি, যেমন— স্পষ্ট করা (إظهار), মিলিয়ে পড়া (إدغام), মোটা করা (تفخيم), চিকন করা (ترقيق), হেলে পড়া (إمالة), পূর্ণ তৃপ্তিসহ উচ্চারণ (إشباع), দীর্ঘ করা (مد), হ্রস্ব করা (قصر), লঘু করা (تخفيف), কোমল করা (تليين) এবং দ্বিত্ব করা (تشديد)।
আমরা পূর্ববর্তী মতামতগুলো থেকে লক্ষ্য করি যে, আলেমগণ 'সাত হরফের' অর্থের ব্যাখ্যায় ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং তাঁদের মতামতগুলো পরস্পর থেকে বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। সবকটি সম্ভাবনাই এখানে হতে পারে। তবে মনে হয় যে, পরবর্তী যুগের আলেমগণ বিষয়টি সহজ করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁরা এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, একাধিক 'হরফ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআনের উপস্থাপন ও তিলাওয়াতকে আরবদের জন্য সহজতর করা; যেন বিভিন্ন আরব গোত্র তাদের নিজস্ব উচ্চারণের সক্ষমতা অনুযায়ী তিলাওয়াত করতে পারে— যেমন মোটা করা (تفخيم), হেলে পড়া (إمالة), স্পষ্ট করা (إظهار) এবং মিলিয়ে পড়া (إدغام)। এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য হলো উম্মতের জন্য বিষয়টি সহজ করা, যাতে কোনো মুসলিমকে তার সাধ্যের অতীত কোনো কিছুর দায়িত্ব দেওয়া না হয়। তবে শর্ত হলো, এর ফলে যেন অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটে। কেননা মৌখিক উচ্চারণগুলো বংশগত বৈশিষ্ট্য ও সহজাত প্রবৃত্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি কুরআনের পাঠের বিশুদ্ধতা কিংবা তা থেকে আহরিত অর্থের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তিরমিজি কর্তৃক উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত একটি হাদিস এই বিষয়কে নিশ্চিত করে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইলের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: "হে জিবরাইল! আমি এক নিরক্ষর উম্মতের নিকট প্রেরিত হয়েছি, যাদের মধ্যে বৃদ্ধা, অতি বৃদ্ধ পুরুষ, কিশোর, কিশোরী এবং এমন ব্যক্তিও আছে যে কখনো কোনো কিতাব পড়েনি।" তখন তিনি বললেন: "হে মুহাম্মদ! নিশ্চয় এই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে।"
এর পেছনে হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো আরবি উপভাষাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিভিন্ন আরব গোত্রকে এই অনুভূতি দেওয়া যে, তারা তাদের নিজস্ব উপভাষায় কুরআন তিলাওয়াত করতে সক্ষম। আরবি ভাষা সকল আরবের জন্য প্রশস্ত এবং তা স্বীকৃতি দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
بخصوصيات اللهجات العربية، وفي هذا تأكيد على وحدة اللغة العربية، ودعوة للعرب جميعا لكي يلتفوا حول القرآن كتابهم الخالد، ورمز وحدتهم اللغوية، وحافظ هذه اللغة من أي عبث أو تحريف.
كيفية إنزال القرآن:اختلف العلماء في كيفية إنزال القرآن على ثلاثة أقوال:
القول الأول: نزل القرآن جملة واحدة إلى سماء الدنيا ليلة القدر، ثم نزل بعد ذلك منجما على النبي صلى الله عليه وسلم في مكة قبل الهجرة والمدينة بعد الهجرة، في مدة عشرين أو ثلاث وعشرين أو خمس وعشرين سنة، حسب الاختلاف في مدة إقامته في مكة بعد البعثة، وقال «السيوطي» في معرض بيان هذا القول: «وهو الأصح الأشهر». ويؤيد هذا القول ما أخرجه الحاكم والبيهقي وغيرهما عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: أنزل القرآن في ليلة القدر جملة واحدة إلى سماء الدنيا، وكان بمواقع النجوم، وكان الله ينزله على رسوله صلى الله عليه وسلم بعضه في أثر بعض، وأخرج الطبراني عن ابن عباس قال: أنزل القرآن في ليلة القدر في شهر رمضان إلى سماء
الدنيا جملة واحدة ثم أنزل نجوما، كما أخرج الطبراني والبزار من وجه آخر عنه قال: أنزل القرآن جملة واحدة حتى وضع في بيت العزة في السماء الدنيا ونزله جبريل على محمد صلى الله عليه وسلم بجواب كلام العباد وأعمالهم».
القول الثاني: نزل القرآن إلى سماء الدنيا في عشرين ليلة قدر من عشرين سنة، وقيل: في ثلاث وعشرين ليلة قدر، وقيل: خمس وعشرين ليلة قدر، ينزل في ليلة القدر في كل سنة ما يقدر الله إنزاله في تلك السنة، ثم ينزل بعد ذلك منجما في جميع السنة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا القول ذكره الإمام فخر الدين الرازي، نقلا عن بعض العلماء.
القول الثالث: ابتدأ نزول القرآن في ليلة القدر، ثم أخذ ينزل منجما بعد ذلك في أوقات مختلفة، وهذا قول الشعبي.
قال «ابن حجر» في شرح البخاري: والأول هو الصحيح المعتمد، وهناك
আরবি উপভাষাগুলোর বৈশিষ্ট্যের সাথে, এবং এতে আরবি ভাষার ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, এবং সমস্ত আরবদের প্রতি তাদের চিরন্তন কিতাব কুরআনের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা তাদের ভাষাগত ঐক্যের প্রতীক এবং এই ভাষাকে যেকোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন থেকে হেফজকারী।
কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি:কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতির বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মতামতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: শবে কদরে কুরআন দুনিয়ার আসমানে একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর হিজরতের আগে মক্কায় এবং হিজরতের পরে মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দীর্ঘ বিশ, তেইশ বা পঁচিশ বছর ধরে (নবুওয়াত পরবর্তী মক্কায় অবস্থানের সময়ের মতপার্থক্য অনুযায়ী) পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম সুয়ূতী এই মতটি বর্ণনার প্রেক্ষাপটে বলেছেন: "এটিই অধিকতর সহিহ (الأصح) ও অধিকতর প্রসিদ্ধ (الأشهر)"। এই মতটিকে হাকেম, বায়হাকি এবং অন্যান্যদের সংকলিত একটি বর্ণনা সমর্থন করে, যা সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: কুরআন শবে কদরে দুনিয়ার আসমানে একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা ছিল নক্ষত্ররাজির অবস্থানের ন্যায়, এবং আল্লাহ তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এর এক অংশের পর অন্য অংশ অবতীর্ণ করতেন। ইমাম তাবারানি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রমজান মাসের শবে কদরে কুরআন দুনিয়ার
আসমানের একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছে, এরপর তা পর্যায়ক্রমে (نجوما) নাযিল হয়েছে। যেমন তাবারানি ও বাজার তাঁর থেকে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরআন একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছে যতক্ষণ না তা দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জতে রাখা হয়েছে এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বান্দাদের কথা ও কাজের জবাব হিসেবে অবতীর্ণ করতেন।
দ্বিতীয় মত: বিশ বছরের বিশটি শবে কদরে কুরআন দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: তেইশটি শবে কদরে, আবার বলা হয়ে থাকে: পঁচিশটি শবে কদরে। প্রতি বছরের শবে কদরে আল্লাহ সে বছরে যা অবতীর্ণ করার ফয়সালা করতেন তা নাযিল হতো। এরপর সারা বছর ধরে তা পর্যায়ক্রমে (منجما) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিল হতো। ইমাম ফখরুদ্দীন রাজি কিছু আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে এই মতটি উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় মত: শবে কদরে কুরআনের অবতরণ শুরু হয়, এরপর বিভিন্ন সময়ে তা পর্যায়ক্রমে (منجما) নাযিল হতে থাকে। এটি ইমাম শা'বি-র অভিমত।
ইবনে হাজার বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: প্রথম মতটিই সঠিক (الصحيح) ও নির্ভরযোগ্য (المعتمد), আর সেখানে
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
رواية رابعة حكاها الماوردي، وهي أن القرآن نزل من اللوح المحفوظ جملة واحدة، ثم تولى الحفظة تنجيمه على جبريل، ثم تولى جبريل تنجيمه على الرسول صلى الله عليه وسلم.
والحكمة من نزول القرآن منجما تفخيم أمره، وأمر من نزل عليه، وإعلام الملائكة بأهمية آخر الكتب المنزلة على خاتم الرسل، لكي يكون له تميز عن سائر الكتب السماوية.
وقد تولى الله أمر الإجابة عن تساؤل الكفار الذين قالوا: لولا نزل عليه القرآن جملة واحدة بأن الإنزال المفرق للقرآن لتثبيت فؤاد النبي صلى الله عليه وسلم، وتقوية قلبه، وتجديد عهده مع جبريل لكي يكون القرآن بالنسبة له نافذة أمل وبسمة رجاء، يمده بالقوة، ويعده بالنصر، ويفسر له المواقف، ويجيبه عن بعض ما يحتاجه من بيان وتوضيح.
ولا أعتقد أننا بحاجة لتأكيد أهمية نزول القرآن منجما من حيث التدرج في مواكبة مراحل الدعوة، في المرحلة المكية أولا، والمرحلة المدنية ثانيا، ومواكبة الأحداث الجسام، في تاريخ الدعوة، وكان القرآن هو المدد الإلهي المتجدد الذي يبعث الحياة في المجتمع الإسلامي الوليد، ويواكب مسيرة الدعوة، مؤيدا وملهما وناصحا ومسددا.
ولا يمكن تصور حياة المسلمين الأوائل بغير ذلك التواصل الإيماني العميق بين السماء والأرض، عن طريق الوحي المتجدد الملهم، الذي كان يغذي مشاعر الإيمان، وينير الطريق لمواكب المؤمنين.
قال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (1).
وقال أيضا: قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدىً وَبُشْرى لِلْمُسْلِمِينَ (2).
--------------------------------------------
আল-মাওয়ার্দি চতুর্থ একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো কুরআন লাওহে মাহফুজ থেকে একত্রে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর ফেরেশতাগণ জিবরাঈল (আ.)-এর কাছে তা পর্যায়ক্রমে (تنجيم) অবতীর্ণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এরপর জিবরাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা পর্যায়ক্রমে (تنجيم) অবতীর্ণ করার দায়িত্ব পালন করেন।
কুরআন পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ হওয়ার হিকমত বা রহস্য হলো এর গুরুত্ব এবং যাঁর ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর মর্যাদাকে মহিমান্বিত (تفخيم) করা এবং ফেরেশতাদেরকে সর্বশেষ রাসুলের ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ আসমানি কিতাবের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা, যাতে অন্যান্য আসমানি কিতাবের তুলনায় এটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়।
আল্লাহ তায়ালা সেইসব কাফিরদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যারা বলেছিল: "কেন তাঁর ওপর কুরআন একত্রে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হলো না?" এর উত্তর হলো, কুরআনের এই পৃথক পৃথক অবতরণ (الإنزال المفرق) ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে দৃঢ় করার জন্য, তাঁর হৃদয়কে শক্তিশালী করার জন্য এবং জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে তাঁর যোগসূত্র নবায়নের জন্য, যাতে কুরআন তাঁর জন্য আশার জানালা এবং প্রত্যাশার হাসি হয়ে দাঁড়ায়, যা তাঁকে শক্তি যোগায়, বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, বিভিন্ন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেয় এবং তাঁর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের উত্তর প্রদান করে।
দাওয়াতের বিভিন্ন স্তরের সাথে তাল মিলিয়ে—প্রথমে মক্কি যুগে এবং পরবর্তীতে মাদানি যুগে—এবং দাওয়াতের ইতিহাসের মহান ঘটনাবলির সাথে সংগতি রেখে পর্যায়ক্রমে (منجما) কুরআন অবতরণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কুরআন ছিল এক নবায়নযোগ্য খোদায়ী সাহায্য, যা নবজাতক ইসলামি সমাজে প্রাণের সঞ্চার করেছিল এবং দাওয়াতের পথচলায় সমর্থনকারী, অনুপ্রেরণাদাতা, উপদেশদাতা ও সঠিক পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে ছিল।
আসমান ও জমিনের মধ্যকার সেই গভীর ইমানি যোগাযোগ ব্যতীত প্রথম যুগের মুসলমানদের জীবন কল্পনা করা অসম্ভব, যা ছিল নবায়নযোগ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী ওহি-র (وحي) মাধ্যমে, যা ইমানের অনুভূতিকে সঞ্জীবিত করত এবং মুমিনদের কাফেলার জন্য পথ আলোকিত করত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين), আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।"
তিনি আরও বলেন: "বলুন, একে পবিত্র আত্মা (روح القدس) আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মুমিনদেরকে দৃঢ় করা যায় এবং এটি মুসলমানদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ونستطيع أن نحدد أسباب النزول المتدرج للقرآن بما يلي:
أولا: تثبيت فؤاد الرسول الكريم:والآية واضحة وصريحة في إقرار هذا المعنى، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم بصفته الإنسانية كان محتاجا لمن يقوي عزمه، ويثبت فؤاده، ويعزيه عما يلاقيه من عقبات، ويفتح أمامه أبواب الأمل، لكيلا يستبد اليأس بنفسه ويستولي الحزن عليه.
ثانيا: تيسير حفظه وفهمه:وهذه غاية في منتهى الأهمية، فالقرآن كتاب تشريع وتوجيه، ويهدف إلى إقامة وتكوين مجتمع إسلامي متكامل، عقيدة وسلوكا وتشريعا، ولا يتحقق ذلك إلا عن طريق النزول المتدرج للأحكام، لكي ينتقل المجتمع الإسلامي من جاهلية إلى إسلام، ومن فوضى إلى نظام، ولكي يتمكن المسلمون من حفظ القرآن الكريم وفهم أحكامه وحكمه، واستيعاب هديه وتعاليمه، وبفضل ذلك استطاع المسلمون- كما تحدثنا كتب السيرة- أن يحفظوا القرآن، وأن يستوعبوا ما جاء فيه من توجيه وتعليم.
ثالثا: مسايرة الحوادث والتدرج في التشريع:وهذا واضح كل الوضوح، وربما كان هذا السبب من أكثر الأسباب التي ذكرناها أثرا، فقد كانت الآيات القرآنية تتنزل بحسب الحاجة، وتختلف موضوعاتها بحسب ما يحتاج إليه المجتمع الإسلامي، ومن السهل علينا أن نفهم تطور المجتمع الإسلامي اليوم، ومشاكله وأحداثه من خلال متابعتنا للقرآن، لأن القرآن كان يعايش الأحداث ويمد المسلمين بالرأي الأمثل لكل مشكلة من مشاكلهم، ولهذا كانت الأنظار تتطلع دائما إلى الوحي لكي يرسم للمسلمين الطريق، ويقوّم ما اعوج من شئونهم وما التبس عليهم من أمورهم.
معرفة أسباب نزول القرآن:اهتم المفسرون بمعرفة أسباب نزول القرآن، وألّفت كتب كثيرة في معرفة
আমরা কুরআনের ক্রমিক অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করতে পারি:
প্রথমত: রাসুল করীমের অন্তরকে সুদৃঢ় করা:এই অর্থটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আয়াতটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মানবীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে এমন কিছুর মুখাপেক্ষী ছিলেন যা তাঁর সংকল্পকে শক্তিশালী করবে, তাঁর অন্তরকে সুদৃঢ় করবে এবং যে সকল বাধার সম্মুখীন তিনি হচ্ছিলেন তার বিপরীতে তাঁকে সান্ত্বনা দেবে এবং তাঁর সামনে আশার দ্বার উন্মুক্ত করবে, যাতে তাঁর মনে হতাশা আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে এবং দুঃখ তাঁকে আচ্ছন্ন করে না ফেলে।
দ্বিতীয়ত: এটি মুখস্থ করা এবং বোঝা সহজ করা:এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য, কারণ কুরআন একটি বিধান ও দিকনির্দেশনার গ্রন্থ; আকিদা, আচরণ এবং আইনের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গঠন করাই এর উদ্দেশ্য। আর তা বিধানসমূহের ক্রমিক অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যম ছাড়া সম্ভব নয়, যাতে ইসলামী সমাজ জাহিলিয়াত থেকে ইসলামের দিকে এবং বিশৃঙ্খলা থেকে শৃঙ্খলার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। আর যাতে মুসলিমগণ পবিত্র কুরআন হিফজ করতে এবং এর বিধান ও রহস্যসমূহ বুঝতে পারে এবং এর হেদায়াত ও শিক্ষাগুলো আত্মস্থ করতে সক্ষম হয়। এরই বদৌলতে মুসলিমগণ সক্ষম হয়েছিলেন—যেমনটি সিরাত গ্রন্থসমূহ আমাদের জানায়—কুরআন হিফজ করতে এবং এতে বর্ণিত দিকনির্দেশনা ও শিক্ষাসমূহ আয়ত্ত করতে।
তৃতীয়ত: ঘটনাবলির সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং বিধান প্রণয়নে ক্রমধারা বজায় রাখা:এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং আমাদের উল্লেখ করা কারণগুলোর মধ্যে সম্ভবত এটিই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী কারণ। কেননা কুরআনের আয়াতসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ হতো এবং ইসলামী সমাজের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিষয়বস্তু ভিন্ন ভিন্ন হতো। আমাদের পক্ষে আজ কুরআনের ধারাক্রম অনুসরণের মাধ্যমে তৎকালীন ইসলামী সমাজের বিবর্তন, তাদের সমস্যা ও ঘটনাবলি বোঝা অত্যন্ত সহজ। কারণ কুরআন তৎকালীন ঘটনাবলির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এবং মুসলিমদের প্রতিটি সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান প্রদান করত। একারণেই নজর সবসময় ওহীর দিকে নিবদ্ধ থাকত যাতে তা মুসলিমদের জন্য সঠিক পথ নির্দেশ করতে পারে এবং তাদের বিষয়ের বক্রতা সংশোধন করতে পারে ও অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিরসন করতে পারে।
কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ জানা:মুফাসসিরগণ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ জানার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এই বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سبب النزول، ومن أبرزها وأقدمها ما كتبه علي بن المديني شيخ البخاري، وما كتبه الواحدي، وابن حجر، ثم ألف السيوطي صاحب الإتقان كتابا في الموضوع سماه «لباب النقول في أسباب النزول» (1).
ومن فوائد معرفة أسباب النزول ما يلي:
أولا: معرفة وجه الحكمة الباعثة على تشريع الحكم، ولا سبيل إلى ذلك على وجه الدقة إلا عن طريق معرفة السبب الذي أدى إلى نزول الحكم.
ثانيا: تخصيص الحكم عند من يرى أن العبرة بخصوص السبب.
ثالثا: الوقوف على المعنى وإزالة الإشكال، قال الواحدي: لا يمكن معرفة تفسير الآية دون الوقوف على قصتها وبيان نزولها، وقال ابن دقيق العيد: بيان سبب النزول طريق قوي في فهم معاني القرآن.
ومن الصعب على المفسر أن يتمكن من التفسير الصحيح واستنباط الحكم من النص القرآني، وإدراك الحكمة من الآية قبل أن يعرف سبب نزول الآية، ومعرفة السبب يؤدي إلى الربط بين الآية والواقع الذي كان قائما أثناء ورود النص، وكأن النص جاء كجواب عن واقعة أو كتفسير لحكم، وتوضيح لدلالة، ولهذا اتجه اهتمام العلماء قديما وحديثا لدراسة أسباب نزول القرآن، وإيراد سبب النزول في مقدمة تفسير الآية، لكي يكون السبب واضحا ودالا على المراد.
ولو أخذنا مطلق المعاني الواردة من بعض الآيات لتغيرت بعض الأحكام، ولكن معرفة السبب الذي أدى إلى نزول الآية يوجه الآية لكي تكون كجواب عن سؤال، وإذا عرف السؤال كان الجواب واضحا وخاصّا بالسؤال، ولا يتعداه إلى غيره.
ولهذا كان من واجب علماء التفسير أن يوجهوا اهتمامهم لمعرفة أسباب النزول، وأن يربطوا الآية بمحيطها العام، لكي تدل دلالة صحيحة على المراد
--------------------------------------------
শানে নুযূল বা নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول); এর ওপর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন হলো বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী, আল-ওয়াহিদী এবং ইবনে হাজার যা লিখেছেন। অতঃপর 'আল-ইতকান' গ্রন্থের রচয়িতা আস-সুয়ূতী এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দিয়েছেন 'লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযূল' (১)।
নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপটসমূহ (أسباب النزول) জানার উপকারিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: বিধান প্রণয়নের পেছনে নিহিত হিকমত বা প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হওয়া। আর বিধানটি নাযিল হওয়ার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ না জেনে সূক্ষ্মভাবে তা অনুধাবন করার কোনো পথ নেই।
দ্বিতীয়ত: যারা মনে করেন যে, 'বিবেচ্য বিষয় হলো কারণের বিশিষ্টতা' (العبرة بخصوص السبب), তাদের নিকট বিধানটিকে সুনির্দিষ্ট করা (تخصيص الحكم)।
তৃতীয়ত: অর্থের মর্মমূলে পৌঁছানো এবং অস্পষ্টতা দূর করা। আল-ওয়াহিদী বলেছেন: আয়াতের প্রেক্ষাপট এবং নাযিল হওয়ার কারণ জানা ব্যতীত আয়াতের তাফসীর জানা সম্ভব নয়। ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেছেন: নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول) বর্ণনা করা কুরআনের অর্থ বোঝার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
একজন মুফাসসিরের পক্ষে সঠিক তাফসীর করা, কুরআনের মূল পাঠ থেকে বিধান উদ্ঘাটন করা এবং আয়াতের হিকমত অনুধাবন করা অত্যন্ত কঠিন, যতক্ষণ না তিনি আয়াতটি নাযিল হওয়ার কারণ (سبب النزول) জানতে পারেন। কারণ জানা থাকলে আয়াত এবং তৎকালীন বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সংযোগ ঘটানো সম্ভব হয়। তখন মনে হয় যেন আয়াতটি কোনো ঘটনার উত্তর হিসেবে অথবা কোনো বিধানের ব্যাখ্যা এবং কোনো নিদের্শনার স্পষ্টীকরণ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। এজন্যই প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ কুরআনের শানে নুযূল (أسباب النزول) অধ্যয়নে এবং আয়াতের তাফসীরের শুরুতে নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করার দিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে করে কারণটি স্পষ্ট হয় এবং উদ্দিষ্ট অর্থের প্রতি নির্ভুল নির্দেশনা প্রদান করে।
আমরা যদি কিছু আয়াতের নিছক সাধারণ অর্থের ওপর ভিত্তি করতাম, তবে কিছু বিধান পরিবর্তিত হয়ে যেত। কিন্তু আয়াত নাযিলের কারণ জানার ফলে আয়াতটি কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে উপস্থাপিত হয়। আর যখন প্রশ্নটি জানা থাকে, তখন উত্তরটিও স্পষ্ট হয় এবং প্রশ্নের সাথে সুনির্দিষ্ট থাকে, যা অন্য কোনো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে না।
এই কারণেই তাফসীরবিদগণের কর্তব্য হলো শানে নুযূল (أسباب النزول) জানার প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া এবং আয়াতকে তার সাধারণ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত করা, যাতে এটি উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর সঠিক নির্দেশনা প্রদান করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بها، ومن الآيات القرآنية التي يتغير معناها والحكم المستفاد منها عند معرفة سبب نزولها قوله تعالى: وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَما تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ [البقرة: 115]، ولو ترك مدلول اللفظ على إطلاقه لأفاد بجواز الصلاة إلى أية جهة كانت في السفر والحضر، وهو أمر مخالف لما وقع الإجماع عليه، ويتضح المعنى المراد إذا عرف أن هذه الآية نزلت عند ما صلى النبي صلى الله عليه وسلم على راحلته، في رحلته من مكة إلى المدينة.
وهذا لا يعني أن جميع آيات القرآن نزلت بسبب حادثة وقعت أو جوابا عن سؤال، إذ من المؤكد أن بعض الآيات نزلت مقررة لأحكام وموضحة لقضايا، وليست مرتبطة بأي سبب وغايتها تشريع أحكام وبيان معالم العقيدة الإسلامية وإقرار مبادئ الإسلام.
ومثل هذه الآيات لا تحتاج إلى بيان سبب للنزول، وهي كثيرة ولم يتعرض لها علماء التفسير إلا في إطار تفسير معانيها المستفادة، كما تفهم من الدلالة القرآنية.
ويعرف سبب النزول عن طريق النقل الصحيح، ولا مجال للاجتهاد في هذا الموطن، والصحابة هم المؤهلون لمعرفة أسباب النزول، فإذا ورد سبب النزول عن صحابي فيعتد به، لأنه لا يعقل أن يجتهد الصحابي فيه أو يورده من غير سماع أو مشاهدة.
وأحيانا يرد سبب النزول في إطار الربط بين الواقعة ونزول الآية بأداة من أدوات الربط الدال على سبب نزول الآية، من غير تخصيص بالسبب أو توضيح له، مما لا يخفى أمره على العلماء المختصين في هذا العلم.
وإذا تعددت أسباب النزول، ووردت روايتان في بيان السبب، تقدم الرواية الصحيحة وتعتمد، وترجح الرواية الراجحة على المرجوحة، فإذا استوت الروايتان في درجة الصحة، ولا مجال للترجيح يحمل الأمر على تعدد الأسباب،
এর মাধ্যমে, এবং কুরআনের এমন কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলোর অর্থ এবং তা থেকে গৃহীত বিধান 'সাবাবুন নুযূল' (سبب نزول) বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট জানার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।” [আল-বাকারা: ১১৫]। যদি শব্দের এই বাহ্যিক অর্থকে তার সাধারণ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তা সফর কিংবা আবাসে যেকোনো দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের বৈধতা প্রদান করত, যা 'ইজমা' (إجماع) বা ঐক্যমত্যের পরিপন্থী। এর কাঙ্ক্ষিত অর্থ স্পষ্ট হয় যখন জানা যায় যে, এই আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয়েছিল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে তাঁর সওয়ারির ওপর সালাত আদায় করছিলেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, কুরআনের সমস্ত আয়াতই কোনো ঘটনা ঘটার কারণে কিংবা কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ এটি নিশ্চিত যে, কিছু আয়াত সরাসরি বিধান নির্ধারণ এবং বিষয়াবলি স্পষ্ট করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, যা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো শরয়ি বিধান প্রণয়ন, ইসলামী আকিদার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করা।
এ ধরনের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে অবতরণের প্রেক্ষাপট বর্ণনার প্রয়োজন নেই। এমন আয়াতের সংখ্যা অনেক এবং তাফসিরবিদগণ এগুলোর অর্থগত বিশ্লেষণের গণ্ডির বাইরে আলোচনা করেননি, যেমনটি কুরআনের ভাষ্য থেকে বুঝা যায়।
অবতরণের প্রেক্ষাপট 'সহিহ' (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায় এবং এই ক্ষেত্রে 'ইজতিহাদ' (اجتهاد) বা গবেষণালব্ধ অনুমানের কোনো অবকাশ নেই। সাহাবীগণই অবতরণের প্রেক্ষাপট জানার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। সুতরাং যখন কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে অবতরণের প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়, তখন তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়; কারণ এটি ভাবা যায় না যে, সাহাবী এই বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে গবেষণা করবেন অথবা সরাসরি শ্রবণ বা প্রত্যক্ষ করা ব্যতিরেকে তা বর্ণনা করবেন।
কখনও কখনও অবতরণের প্রেক্ষাপট কোনো ঘটনা ও আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যকার সংযোগকারী শব্দাবলির মাধ্যমে বর্ণিত হয়, যা আয়াতের অবতরণকালীন কারণ নির্দেশ করে, যদিও প্রেক্ষাপটটি সুনির্দিষ্টভাবে বা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ আলেমদের কাছে এর বিষয়টি অস্পষ্ট নয়।
যদি অবতরণের প্রেক্ষাপট একাধিক হয় এবং প্রেক্ষাপট বর্ণনায় দুটি 'রেওয়ায়ত' (رواية) বা বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে 'সহিহ' (صحيح) বর্ণনাটিকে অগ্রগণ্য করা হয় এবং তার ওপর নির্ভর করা হয়। এক্ষেত্রে 'রাজহ' (راجح) বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনাটিকে 'মারজুহ' (مرجوح) বা অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু যদি উভয় বর্ণনাই বিশুদ্ধতার মানে সমান হয় এবং সেখানে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে, তবে বিষয়টি একাধিক প্রেক্ষাপট হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهو أمر مقبول، كما يحتمل أن يتكرر نزول الآية عند تعدد الأسباب للتذكير بالحكم ولتأكيد أهميته.
وذهب جمهور العلماء إلى أن العبرة بعموم اللفظ وليس بخصوص السبب، لأن الحكم يتناول كل ما يفيده اللفظ، ولا يحتاج الأمر إلى نص جديد لإثبات الحكم العام، لأن الأصل هو حمل الألفاظ على المعاني المستفادة منها عند إطلاقها ما لم يقم دليل يقيد هذا الإطلاق ويلغيه، أو يصرفه عن عمومه وأكد هذا الاتجاه ما ذهب إليه الصحابة من الاحتجاج بعموم الألفاظ الواردة في أسباب خاصة.
এটি একটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) বিষয়, যেমনটি একাধিক প্রেক্ষাপটের কারণে আয়াতের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে যাতে বিধানটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় এবং এর গুরুত্ব সুদৃঢ় করা যায়।
জুমহুর (جمهور) আলিমগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), প্রেক্ষাপটের বিশেষত্ব (خصوص السبب) নয়। কারণ বিধানটি ঐ শব্দ থেকে প্রকাশিত সকল অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সাধারণ বিধান (الحكم العام) প্রমাণের জন্য নতুন কোনো নস (نص) এর প্রয়োজন হয় না। কেননা মূল নীতি হলো শব্দাবলিকে তার সাধারণ প্রয়োগের সময় তা থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায় যা এই প্রয়োগকে সীমিত করে দেয় কিংবা তা বাতিল করে দেয়, অথবা একে তার ব্যাপকতা (عموم) থেকে সরিয়ে দেয়। আর সাহাবীগণ যে বিশেষ প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ শব্দের ব্যাপকতা (عموم الألفاظ) দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) করার নীতি গ্রহণ করেছেন, তা এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثاني: الوحي والقرآن
ظاهرة الوحي:القرآن كظاهرة دينية غيبية مرتبطة بالوحي، جديرة بأن تكون في موطن الدراسة والاهتمام، ومن حق الإنسانية في مسيرتها الطويلة أن تقف متدبرة ظاهرة الدين في الحياة البشرية، وأن تدرس الأديان السماوية من هذا المنطلق، وأن تتأمل في النبوة كحقيقة مدركة ثابتة، بكل ما تحمله النبوة من مؤشرات وما تبشر به من قيم، وما تدعو إليه من عقائد، وما يقترن بها من معجزات.
إن البشرية اليوم وقبل اليوم عكفت على دراسة مظاهر الحياة الإنسانية وتطلباتها من منطلق الرؤية العقلية المادية، والعقل يدرك ما يقع تحت مجهره، مما تدركه الحواس من المشاهدات، وما تعقله وتلمس آثاره المادية، والعقل يقف حائرا أمام الظاهرة الدينية، بل يقف حائرا أمام الكون وعظمة الكون، ويقف عاجزا أمام تفسيره لظاهرة الحياة، الإنسان، الكون، الوجود، الكواكب، الحياة، الموت، والحياة البشرية تحكمها معايير وقوانين بعضها مدرك ومفهوم، والبعض الآخر وهو الأهم غير مدرك، ولا يقع تحت سيطرة العقل، ولا يدرك بالحواس.
ومن اليسير علينا أن نتحدث عن الدين، كتعاليم وشرائع، وأن ندرس تاريخ الأديان كوقائع مدونة أو محفوظة أو مروية، وأن نتحدث عن حياة الأنبياء منذ ولادتهم إلى وفاتهم، وما قاسوه من محن ومصاعب، وما تحملوه من مشاق في أداء مهمتهم، ولكن من الصعب علينا أن نستوعب بعقولنا حقيقة الدين كظاهرة غيبية مرتبطة بالسماء، تحكمها قوانين غيبية، وينفذها ملائكة يبلغون رسالة الله إلى الأنبياء.
وفي نفس الوقت لا يمكن للعقل البشري أن ينكر حقيقة الدين، ولا أن ينكر الغيب، ولا أن يتجاهل الحقائق الغيبية، ولا أن يتخطى المفاهيم الدينية، فالدين حقيقة مدركة، ولا تتصور البشرية بغير دين، ولا تتصور الحياة خالية من مفاهيم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওহি ও কুরআনওহির বাস্তবতা:কুরআন একটি ধর্মীয় অতীন্দ্রিয় বাস্তবতা হিসেবে ওহির সাথে সম্পৃক্ত, যা গভীর অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। মানবজাতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এটি তাদের অধিকার যে, তারা মানবজীবনে ধর্মের প্রভাব নিয়ে নিবিড়ভাবে চিন্তা করবে এবং এই প্রেক্ষাপট থেকে আসমানি ধর্মসমূহ অধ্যয়ন করবে। তারা নবুয়তকে একটি স্বীকৃত ও ধ্রুব সত্য হিসেবে অনুধাবন করবে—নবুয়ত যে সকল নিদর্শন বহন করে, যে সকল মূল্যবোধের সুসংবাদ প্রদান করে, যে আকিদাহ বা বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মুজিজাসমূহ নিয়ে গভীরভাবে ভাববে।
বর্তমান এবং অতীতের মানবজাতি জাগতিক ও বস্তুবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মানবজীবনের বিভিন্ন দিক ও এর প্রয়োজনীয়তাসমূহ অধ্যয়ন করার প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেছে। মানুষের বুদ্ধি কেবল সেটুকুই উপলব্ধি করতে পারে যা তার পর্যবেক্ষণক্ষমতার গণ্ডির ভেতরে থাকে, অর্থাৎ যা পঞ্চইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় এবং যার বস্তুগত প্রভাব সে বোধগম্য করতে ও স্পর্শ করতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় বাস্তবতার সামনে বুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; এমনকি এই মহাবিশ্ব এবং এর বিশালতার সামনেও সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। জীবন, মানুষ, মহাবিশ্ব, অস্তিত্ব, গ্রহ-নক্ষত্র, জন্ম ও মৃত্যুর রহস্য ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে বুদ্ধি নিজেকে অক্ষম মনে করে। মানবজীবন এমন কিছু মানদণ্ড ও নিয়ম দ্বারা পরিচালিত, যার কিছু অংশ বোধগম্য ও অনুভূত হয়, কিন্তু অন্য অংশটি—যা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ—তা মানুষের বোধের অতীত, বুদ্ধির নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়।
আমাদের জন্য ধর্মকে বিভিন্ন শিক্ষা ও বিধিবিধান হিসেবে আলোচনা করা সহজ, এবং ধর্মের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ, সংরক্ষিত বা বর্ণিত (مروية) বিষয় হিসেবে অধ্যয়ন করাও সহজ। নবীদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের জীবনকাল, তাঁদের সহ্য করা পরীক্ষা ও প্রতিকূলতা এবং দায়িত্ব পালনে তাঁদের অসীম ক্লেশ স্বীকার নিয়ে আলোচনা করাও আমাদের জন্য সহজসাধ্য। কিন্তু আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য দিয়ে ধর্মের প্রকৃত স্বরূপকে একটি আসমানি বা অতীন্দ্রিয় বাস্তবতা হিসেবে অনুধাবন করা অত্যন্ত কঠিন, যা অতীন্দ্রিয় নিয়ম দ্বারা পরিচালিত এবং যা ফেরেশতাদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, যাঁরা আল্লাহর বাণী নবীদের কাছে পৌঁছে দেন।
একই সাথে মানব বুদ্ধির পক্ষে ধর্মের সত্যতাকে অস্বীকার করা অসম্ভব, অদৃশ্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করাও সম্ভব নয়, অতীন্দ্রিয় সত্যসমূহকে উপেক্ষা করা বা ধর্মীয় ধারণাসমূহকে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। কারণ ধর্ম একটি সুনিশ্চিত সত্য; ধর্মহীন মানবজাতি যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি ধর্মীয় ধারণা বা চেতনা ব্যতিরেকে জীবনের অস্তিত্বও ভাবা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الغيب، والإنسان أقل قدرة من أن يحيط بالكون وأن يفهم أسراره وغوامضه، فالإنسان لا يدرك الكثير عن نفسه ولا عن تكوين ذاته، ولا عن معنى الحياة التي يعيشها، وفي معظم الأحيان يقف موقف العجز المطلق أمام ظاهرة صغيرة لا يستطيع فهمها، ويجد نفسه على غير إرادة منه يستسلم لها، متجاوزا معاييره العقلية، معلنا عجز الإنسان عن الفهم، مكتفيا بما هو قادر على فهمه.
والدين ليس كرواية تاريخية، والوحي ليس كحدث تاريخي مروي بأسانيد موثقة، والأمر أعمق من ذلك وأكثر دقة، وهو دراسة ظاهرة الدين والوحي والقرآن
… ولا شك أن الإنسان يحتاج إلى ما هو أكثر من العقل، وإلى ما هو أكثر من الرواية، إنه يحتاج إلى الفهم، يحتاج إلى النظر الشمولي للحياة، يحتاج إلى أن يكتشف الكون في عظمته، في وجوده، في إحاطته.
العقل جزء يسير من الإنسان، الإنسان أسمى من العقل وأشمل، والإنسانية جزء يسير من أسرار الأرض، والأرض جزء صغير من الكون، والكون كله مخلوق، والمخلوق لا يقاس بالخالق، وإذا عجز العقل عن إدراك بعض أسرار الإنسان والحياة على الأرض فإن من الأولى أن يكون أكثر عجزا عن إدراك أسرار الكون.
والإنسان القديم منذ فجر الإنسانية أحس بحاجته للدين، وكان نزوعه للدين واضحا في تفكيره وسلوكه، وكان سعيه البدائي للبحث عن الدين مؤكدا أصالة الشعور الديني في تكوين الإنسان، قد يخطئ الإنسان الطريق، وقد يضل في بحثه عن الدين، ولكنه لم يستطع أن يتخلص بطريقة فعلية من الدين، وأثبتت الآثار القديمة التي اكتشفها الإنسان أن الإنسان البدائي كان يمارس عبادته الدينية بطريقة تلائمه، وكانت له شعائر دينية يتمسك بها، ولما بدأت الحضارات لم تستطع أن تضعف الشعور الديني، ونما هذا الشعور في ظل الحضارة، وأصبحت المعابد الصروح الأولى التي بناها الإنسان، وما زلنا حتى اليوم نجد في المعابد القديمة رموزا تؤكد عمق الشعور الديني لدى الإنسان القديم، ولعلنا لا نبالغ إذا قلنا: إن الحضارات الأولى كانت حضارات ذات مضامين دينية.
অদৃশ্য (الغيب), আর মানুষ মহাবিশ্বকে পরিবেষ্টন করার এবং এর রহস্য ও নিগূঢ় বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কম সক্ষম। মানুষ নিজের সম্পর্কে, নিজের সত্তার গঠন সম্পর্কে এবং যে জীবন সে অতিবাহিত করছে তার অর্থ সম্পর্কে খুব বেশি অবগত নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে একটি ক্ষুদ্র ঘটনার সামনেও নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দেখতে পায় যা সে বুঝতে সক্ষম হয় না। এমতাবস্থায় সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার কাছে আত্মসমর্পণ করে, তার বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ডকে অতিক্রম করে মানুষের উপলব্ধির অক্ষমতা ঘোষণা করে এবং সে যা বুঝতে সক্ষম তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে।
ধর্ম কোনো ঐতিহাসিক বর্ণনা (رواية) নয়, আর ওহী নির্ভরযোগ্য (موثقة) সনদসমূহ (أسانيد) দ্বারা বর্ণিত (مروي) কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নয়। বিষয়টি এর চেয়েও গভীর এবং অধিক সূক্ষ্ম। এটি ধর্ম, ওহী ও কুরআনের স্বরূপ নিয়ে গবেষণার বিষয়
… নিঃসন্দেহে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন রয়েছে, বর্ণনার (رواية) চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তার প্রয়োজন উপলব্ধির, জীবনের প্রতি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির, এবং মহাবিশ্বকে তার বিশালতা, অস্তিত্ব ও পরিব্যপ্তির মাঝে আবিষ্কার করার।
বুদ্ধিবৃত্তি মানুষের একটি সামান্য অংশ মাত্র; মানুষ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়েও মহৎ ও ব্যাপক। আর মানবতা পৃথিবীর রহস্যের একটি সামান্য অংশ এবং পৃথিবী মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সমগ্র মহাবিশ্বই সৃষ্টি, আর সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করা চলে না। বুদ্ধিবৃত্তি যদি পৃথিবীতে মানুষ ও জীবনের কিছু রহস্য উপলব্ধি করতেই অক্ষম হয়, তবে মহাবিশ্বের রহস্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে তার অক্ষমতা আরও বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।
মানবতার ঊষালগ্ন থেকেই আদিম মানুষ ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে এবং তার চিন্তা ও আচরণে ধর্মের প্রতি ঝোঁক সুস্পষ্ট ছিল। ধর্মের সন্ধানে তার প্রাথমিক প্রচেষ্টা মানুষের গঠনে ধর্মীয় অনুভূতির মৌলিকত্বকেই নিশ্চিত করেছে। মানুষ হয়তো পথ ভুল করতে পারে, ধর্মের সন্ধানে পথভ্রষ্ট হতে পারে, কিন্তু সে কার্যকরভাবে ধর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। মানুষের আবিষ্কৃত প্রাচীন নিদর্শনসমূহ প্রমাণ করেছে যে, আদিম মানুষ তার জন্য উপযোগী পদ্ধতিতে ধর্মীয় উপাসনা পালন করত এবং তার কিছু ধর্মীয় আচার ছিল যা সে আঁকড়ে ধরত। সভ্যতার সূচনা হলেও তা ধর্মীয় অনুভূতিকে দুর্বল করতে পারেনি, বরং সভ্যতার ছায়াতলে এই অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উপাসনালয়গুলো মানুষের নির্মিত প্রথম সুউচ্চ প্রাসাদে পরিণত হয়েছে। আজও আমরা প্রাচীন উপাসনালয়গুলোতে এমন সব প্রতীক খুঁজে পাই যা প্রাচীন মানুষের মাঝে ধর্মীয় অনুভূতির গভীরতাকে নিশ্চিত করে। আমরা যদি বলি যে আদিম সভ্যতাগুলো ছিল ধর্মীয় বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ সভ্যতা, তবে বোধহয় অতিরঞ্জিত হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وارتبط الدين منذ القديم بمفهومين: الأول: ارتباط الدين بالحضارة والثقافة، وهذا ما يؤكد أن المعابد القديمة كانت مراكز إشعاع ثقافي وعلمي، فالدين يدعو إلى العلم ويشجع التعليم، وكان رجال الدين هم علماء عصرهم، وكانت المعابد الأولى مدارس للتعليم، وحيث يكون الدين تكون الحضارة وحيث يكون الدين تكون الثقافة، وفي تاريخنا الإسلامي كانت المساجد هي المدارس الأولى، وكانت هي الجامعات الأولى في العالم الإسلامي، وأول تدوين منظم ومدقق كان تدوين القرآن، وأول علم من علوم العربية كان في إطار علوم القرآن.
الثاني: ارتباط الدين بحرية الإنسان وكرامته، ويؤكد هذا تاريخ الأديان، فالدين في أساسه وفي منطلقه هو تحرير للإنسان من العبودية والظلم، وتوعية له لكي يدرك إنسانيته، وكان الأنبياء هم رموز الحرية وهم أبطال الإنسانية، وكان جهادهم الأول هو الدفاع عن كرامة الإنسان، والقصص الواردة في القرآن تؤكد هذه المعاني، وتبين أن الأنبياء كانوا حلفاء المستضعفين في الأرض، يدافعون عن حريتهم ويوقظون في نفوسهم مشاعر الاعتزاز بالكرامة، ولهذا وقع الاصطدام عنيفا وقويا بين الأنبياء ورموز القوة والسلطة والجبروت، وفرعون في القرآن هو رمز للاستكبار، ورمز لادعاء الربوبية، ولهذا تصدى له موسى وتحداه، وكشف عن خداعه وظلمه وطغيانه.
والدين الحقيقي هو الدين الذي يسعى في إسعاد البشر، ينظم حياتهم، ويقيم العدل فيهم، ويقاوم رموز الظلم والطغيان، وينمي في الإنسان مشاعر إنسانية، فيكون أقرب لأخيه الإنسان، لا يظلمه ولا يغدر به ولا يقتله ولا يعتدي على حريته وكرامته وعرضه وماله، فإذا سكت الدين عن الظلم أو أقرّ به، فهذا ليس من الدين.
ويكفي الدين فخرا واعتزازا أنه كان باستمرار منارة هداية للمجتمع، يبني ولا يهدم، ويعلم ولا يدعو إلى جاهلية، وينير مسالك المؤمنين به، ويدعوهم إلى التمسك بالأخلاق وإلى محاربة كل أنواع الظلم والعدوان والفجور والانحراف،
প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম দুটি ধারণার সাথে সম্পৃক্ত: প্রথমত: সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে ধর্মের সম্পর্ক; আর এটিই নিশ্চিত করে যে, প্রাচীন উপাসনালয়গুলো ছিল সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক বিচ্ছুরণের কেন্দ্রবিন্দু। কেননা ধর্ম জ্ঞানের দিকে আহ্বান করে এবং শিক্ষাকে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গই ছিলেন তাঁদের সমসাময়িক যুগের পণ্ডিত। প্রাচীন উপাসনালয়গুলো ছিল শিক্ষার পাঠশালা। যেখানে ধর্ম বিদ্যমান সেখানেই সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং যেখানে ধর্ম থাকে সেখানেই সংস্কৃতি বিরাজ করে। আমাদের ইসলামি ইতিহাসে মসজিদগুলোই ছিল প্রথম মাদ্রাসা এবং সেগুলোই ছিল ইসলামি বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বপ্রথম সুশৃঙ্খল ও যাচাইকৃত (مدقق) সংকলন ছিল কুরআনের সংকলন এবং আরবি ভাষাতত্ত্বের প্রথম বিজ্ঞানটি ছিল কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের (علوم القرآن) কাঠামোর মধ্যে।
দ্বিতীয়ত: মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার সাথে ধর্মের নিবিড় সম্পর্ক। ধর্মসমূহের ইতিহাস এটিই নিশ্চিত করে। ধর্ম তার মূলে এবং সূচনালগ্নে মানুষকে দাসত্ব ও জুলুম থেকে মুক্ত করার একটি মাধ্যম। এটি মানুষকে সচেতন করে যাতে সে তার মানবিকতা উপলব্ধি করতে পারে। নবীগণ ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক এবং মানবতার মহানায়ক। তাঁদের প্রাথমিক সংগ্রাম ছিল মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা। কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলো এই অর্থগুলোকেই সুদৃঢ় করে এবং স্পষ্ট করে যে, নবীগণ ছিলেন জমিনের বুকে দুর্বল ও নিপীড়িতদের মিত্র। তাঁরা তাদের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করতেন এবং তাদের অন্তরে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করতেন। একারণেই নবীগণ এবং ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও প্রতাপের প্রতীকদের মধ্যে প্রচণ্ড ও শক্তিশালী সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। কুরআনে ফেরাউন হলো অহংকার ও প্রভুত্ব দাবির প্রতীক; তাই মুসা তাঁর মোকাবিলা করেছেন এবং তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, এবং তাঁর প্রতারণা, জুলুম ও স্বৈরাচারকে উন্মোচিত করেছেন।
প্রকৃত ধর্ম হলো তা-ই যা মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির অন্বেষণ করে, তাদের জীবনকে সুসংগঠিত করে এবং তাদের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। এটি জুলুম ও স্বৈরাচারের প্রতীকগুলোর প্রতিরোধ করে এবং মানুষের মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত করে, ফলে সে তার মানব ভ্রাতার নিকটতর হয়। সে তার ওপর জুলুম করে না, তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না, তাকে হত্যা করে না এবং তার স্বাধীনতা, মর্যাদা, সম্ভ্রম ও সম্পদের ওপর চড়াও হয় না। সুতরাং ধর্ম যদি জুলুমের ব্যাপারে নীরব থাকে বা তাকে স্বীকৃতি দেয়, তবে তা ধর্মের অংশ নয়।
ধর্মের জন্য এটিই পরম গৌরব ও গর্বের বিষয় যে, এটি সর্বদা সমাজের জন্য হেদায়েতের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। এটি নির্মাণ করে, ধ্বংস করে না; শিক্ষা দেয়, জাহেলিয়াতের দিকে আহ্বান করে না। এটি মুমিনদের পথকে আলোকিত করে এবং তাদেরকে নৈতিকতা আঁকড়ে ধরার এবং সকল প্রকার জুলুম, আগ্রাসন, পাপাচার ও বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولا يتصور الدين إلا في هذا الإطار من المبادئ والمثل، ولهذا اضطهد الأنبياء والرسل وحوربوا ووقع الاعتداء بهم، ووقفت قوى الجاهلية المتمثلة في أصحاب السلطة والمكانة والمال الذين وجدوا في الدين محررا للمستعبدين ورافعا الظلم عن المظلومين، ومتحالفا مع الضعفاء والمحكومين، معترفا لكل هؤلاء بكرامة إنسانية غير منقوصة، رافعا من شأنهم، واضعا قيما اجتماعية تعطي الأفضلية للمتقين والصالحين.
وسنة الأنبياء واضحة، وتعاليمهم متكاملة، وشرائعهم واحدة، تنطلق كلها من منطلق واحد، وتنهل من معين السماء، إيمانا بالله وبما جاء من عنده، والتزاما بمنهج الله في الحياة، استقامة وعدلا.
وظاهرة الوحي ملفتة للنظر داعية للاهتمام، وهي ليست صورة مادية يحاكمها العقل، ويرتضيها أو يرفضها، لأنها خارجة عن نطاق المدركات العقلية، والعقل السليم لا يمكنه أن يرفض هذه الظاهرة، لأنه يدرك حجم قدراته، ويتوصل بهذه القدرات المحدودة إلى التسليم بما هو خارج عن نطاقه الحسي، والحس محكوم بدائرة ضيقة، ولا يمكنه أن يحيط بالكون، وما أثبته العلم اليوم عن طريق الوسائل العلمية والبراهين المادية هو جزء يسير من حقيقة الكون، وما عجز عنه الإنسان لا يقاس بما قدر عليه.
ويكفينا في مجال الوحي أن نستعمل عقولنا في دراسة الظاهرة من خلال ما نراه منها من معرفة واسعة لشخصية الرسل، وسيرتهم، وحياتهم وسلوكهم وأفكارهم، ومثل هؤلاء لا يمكن إلا أن تقع الثقة بما يقولون، وأن يقع الاطمئنان لما يدعون، وما يدعون إليه ليس فيه ما يطمع نفسا أو يحقق رغبة، فدعوة الرسل هي دعوة خير وهداية وتحرير وإرشاد وتعليم، وكيف يصح لعاقل أن يتردد في قبول كلمة حق سمعها أو دعوة لهداية تلقاها.
لو كان الأنبياء ممن عرفوا في قومهم بسوء الخلق لما صدقهم أحد، ولما اتبع ملتهم أحد، ولو كان أمرهم صادرا عن هوس وهذيان يتراءى لهم فيه الشيطان لما خفي أمرهم على مجتمعهم، ولما اطمأن المجتمع إلى كلامهم، ولو
ধর্মকে আদর্শ ও মূল্যবোধের এই কাঠামোর বাইরে কল্পনা করা যায় না। এই কারণেই নবী ও রাসূলগণ নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। সেই জাহিলিয়্যাতের শক্তিগুলো—যারা ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও অর্থের অধিকারী ছিল—তারা তাঁদের বিরোধিতা করেছিল; কারণ তারা ধর্মকে দেখেছিল ক্রীতদাসদের মুক্তিদাতা, মজলুমদের ওপর থেকে জুলুম অপসারণকারী এবং দুর্বল ও শাসিত শ্রেণির মিত্র হিসেবে। ধর্ম এই সকল মানুষের জন্য এক অখণ্ড মানবিক মর্যাদার স্বীকৃতি দেয়, তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে এবং এমন সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে যা খোদাভীরু (متقين) ও সৎকর্মপরায়ণ (صالحين) বান্দাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।
নবীগণের সুন্নাহ (سنة) সুস্পষ্ট, তাঁদের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ এবং তাঁদের শরিয়ত (شرائع) অভিন্ন। এই সকলই একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে উৎসারিত এবং আসমানি প্রস্রবণ থেকে সিঞ্চিত। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান, আর জীবনে আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতির প্রতি নিষ্ঠা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।
ওহী (وحي)-এর বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর ও মনোযোগ আকর্ষণের দাবি রাখে। এটি কোনো বস্তুগত রূপ নয় যে আকল (عقل) বা বিচারবুদ্ধি একে বিচার করবে এবং গ্রহণ বা বর্জন করবে; কারণ এটি বুদ্ধিগত উপলব্ধির সীমানার বাইরে। সুস্থ আকল (عقل) এই বিষয়টিকে অস্বীকার করতে পারে না, কারণ সে তার নিজের সক্ষমতার পরিধি সম্পর্কে সচেতন। আকল তার এই সীমিত সক্ষমতা দিয়েই এমন কিছুকে মেনে নিতে বাধ্য হয় যা তার ইন্দ্রিয়জাত সীমানার বাইরে। ইন্দ্রিয়সমূহ একটি সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এটি মহাবিশ্বকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। বর্তমান বিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক মাধ্যম ও বস্তুগত প্রমাণের সাহায্যে যা কিছু প্রমাণ করেছে, তা মহাবিশ্বের প্রকৃত রহস্যের অতি সামান্য অংশ মাত্র। মানুষ যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা তার অর্জিত সক্ষমতার সাথে তুলনীয় নয়।
ওহী (وحي)-এর ক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধি বা আকলকে (عقول) নবীদের জীবন, তাঁদের সীরাত, তাঁদের আচরণ ও চিন্তা-চেতনার ব্যাপক পরিচয়ের আলোকে এই বিষয়টি অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করাই যথেষ্ট। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাঁরা যা বলেন তাতে নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) স্থাপন করা এবং তাঁরা যে সত্যের দিকে ডাকেন তাতে আশ্বস্ত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাঁরা যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানান, তাতে নফসের কোনো লালসা বা কোনো পার্থিব ইচ্ছা চরিতার্থ করার বিষয় নেই। নবীদের দাওয়াত হলো কল্যাণ, হিদায়াত (هداية), মুক্তি, দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার দাওয়াত। একজন বিবেকবান মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভব যে সে তার কাছে পৌঁছানো কোনো সত্য বাণী গ্রহণে দ্বিধা করবে কিংবা প্রাপ্ত হিদায়াত (هداية)-এর আহ্বানে সাড়া দিতে ইতস্তত করবে?
নবীগণ যদি তাঁদের কওমের মধ্যে মন্দ স্বভাবের লোক হিসেবে পরিচিত হতেন, তবে কেউ তাঁদের সত্যয়ন করত না এবং কেউ তাঁদের মিল্লাত (ملة) বা আদর্শ অনুসরণ করত না। তাঁদের বিষয়টি যদি উন্মাদনা বা প্রলাপ থেকে উদ্ভূত হতো—যার মাধ্যমে শয়তান তাঁদের সামনে দৃশ্যমান হতো—তবে তাঁদের সমাজের কাছে সেই বিষয়টি গোপন থাকত না এবং সমাজ তাঁদের কথায় আশ্বস্ত হতো না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كانت تعاليمهم مما كان شائعا ومكررا ومتداولا لما أحدثوا في مجتمعهم ذلك التأثير العظيم في العقيدة والسلوك والقيم.
ولا يملك الأنبياء في مجتمعهم ما يملكه الملوك وأرباب السلطة من وسائل الإقناع والإجبار والإكراه، أو من وسائل الإغراء والعطاء، ومعظم الأنبياء عاشوا في طفولتهم حياة فقر ويتم، وامتلأت صفحات سيرتهم بالأحزان والشدائد، ولا سبيل للاعتقاد بأن ما يملكون من شهرة ومكانة ورثوه عن آبائهم وأجدادهم، ولا خيار لنا إلا أن ندرس هذه الظاهرة في إطارها العام دراسة موضوعية هادئة منصفة، وسوف نكتشف النبوة حقيقة ثابتة، لها دعائمها وخصائصها ومكوناتها، وهي ظاهرة طبيعية في الحياة الإنسانية، لا تستقيم الحياة إلا بها ولا تتكامل إنسانية الإنسان إلا بأن يستجيب لدعوة الله، ويقف بخشوع أمام الرسالة التي يحملها رسل الله إلى الناس.
إن نظرة يسيرة إلى تاريخ الأنبياء سوف تدلنا على عظمة دور الأنبياء في حياة الإنسان، وسوف نكتشف من خلال قصص الأنبياء أن منهج الأنبياء واحد، وتعاليمهم ليست متناقضة، قد تختلف في بعض الأحيان، ولكنها لا تختلف أبدا فيما يتعلق بمبادئ الإيمان بالله، والدعوة للفضائل، ومحاربة الكفر والفسوق والمظالم الاجتماعية.
ما أقسى حياة ذلك الإنسان الذي لا يؤمن بالله، وما أقسى الحياة بالنسبة له، إنها حياة قاحلة كصحراء يشتد فيها الظمأ، فلا ماء ولا ثمر ولا شجر، إنها حياة يأس وقنوط، وما أقسى مشاعر اليأس والقنوط.
والوحي الذي تنزل على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم لا يختلف عن الوحي الذي تنزل على الأنبياء السابقين من حيث الظاهرة التي يمثلها الوحي، وإن اختلفت وسائل التبليغ وكيفياته، ولكل نبي وحيه الخاص به، وخصوصياته، ارتضاها الله لهم أسلوبا من أساليب التبليغ والتكليف.
قال تعالى: إِنَّا أَوْحَيْنا إِلَيْكَ كَما أَوْحَيْنا إِلى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنا إِلى
তদীয় শিক্ষাগুলো কি কেবল প্রচলিত ও পুনরাবৃত্ত সাধারণ কিছু ছিল, যার কারণে তারা তাদের সমাজে বিশ্বাস (عقيدة), আচরণ ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে এমন সুমহান প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন?
নবীদের কাছে তাদের সমাজে রাজন্যবর্গ বা ক্ষমতাশালীদের মতো প্ররোচনা, বাধ্যবাধকতা ও বলপ্রয়োগের কোনো উপায় ছিল না, কিংবা ছিল না প্রলোভন ও ধন-সম্পদ দানের মাধ্যম। অধিকাংশ নবীই তাদের শৈশব অতিবাহিত করেছেন দারিদ্র্য ও অনাথ অবস্থায়, এবং তাদের জীবনীর পাতাসমূহ দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূলতায় পরিপূর্ণ। তাদের যে খ্যাতি ও মর্যাদা ছিল, তা তারা তাদের পিতৃপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন—এমনটি বিশ্বাস করার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের সামনে এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই যে, আমরা এই বিষয়টিকে এর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বস্তুনিষ্ঠ, শান্ত ও নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করব। তখন আমরা নবুওয়াতকে (نبوة) একটি সুদৃঢ় সত্য হিসেবে আবিষ্কার করব, যার রয়েছে নিজস্ব ভিত্তি, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান। এটি মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক বিষয়; নবুওয়াত (نبوة) ব্যতীত জীবন সুশৃঙ্খল হতে পারে না এবং মানুষের মনুষ্যত্ব ততক্ষণ পূর্ণতা পায় না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেয় এবং আল্লাহর রাসুলগণ মানুষের কাছে যে পয়গাম নিয়ে আসেন তার সামনে বিনম্র চিত্তে দণ্ডায়মান হয়।
নবীদের ইতিহাসের দিকে সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই মানুষের জীবনে তাদের সুমহান ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া যায়। আমরা নবীদের কাহিনীর মাধ্যমে এটি আবিষ্কার করতে পারি যে, নবীদের দাওয়াতের মূলনীতি (منهج) অভিন্ন এবং তাদের শিক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। ক্ষেত্রবিশেষে হয়তো কিছু পার্থক্য থাকতে পারে, তবে আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূলনীতিসমূহ, গুণাবলির দাওয়াত এবং কুফর (كفر), পাপাচার (فسوق) ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই।
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তার জীবন কতই না কঠিন! তার কাছে জীবন কতই না দুর্বিষহ! এটি তৃষ্ণার্ত মরুভূমির ন্যায় এক উষর জীবন, যেখানে নেই পানি, নেই ফলমূল কিংবা কোনো বৃক্ষ। এটি নিরাশা ও নৈরাশ্যের জীবন; আর নিরাশা ও নৈরাশ্যের অনুভূতি কতই না যন্ত্রণাদায়ক!
আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যে ওহি (وحي) অবতীর্ণ হয়েছে, তা পূর্ববর্তী নবীদের ওপর অবতীর্ণ ওহি (وحي) থেকে এর স্বরূপগত দিক দিয়ে ভিন্ন কিছু নয়; যদিও প্রচারের (تبليغ) মাধ্যম ও পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। প্রত্যেক নবীর জন্য ছিল নিজস্ব ওহি (وحي) এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা আল্লাহ তাদের জন্য প্রচার (تبليغ) ও বিধান অর্পণের (تكليف) পদ্ধতি হিসেবে পছন্দ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহি (وحي) পাঠিয়েছি, যেমন ওহি (وحي) পাঠিয়েছিলাম নুহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি এবং আমি ওহি (وحي) পাঠিয়েছি..."
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ وَعِيسى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهارُونَ وَسُلَيْمانَ وَآتَيْنا داوُدَ زَبُوراً (163) وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْناهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسى تَكْلِيماً (164) رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً (1)
واستعمل القرآن لفظة الوحي في آيات كثيرة، وتفيد معنى الإعلام الخفي والإلهام الفطري، وهي في معناها العام أعم وأشمل من معناها الخاص الذي استعملت به في مجال الاصطلاح الذي يدل على الكيفية التي كان يبلغ بها جبريل رسالة ربه للنبي صلى الله عليه وسلم.
معاني الوحي في القرآن:جاءت لفظة الوحي في القرآن في معان عدة:
أولا: معنى الإلهام الغريزي، وذلك في قوله تعالى: وَأَوْحى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبالِ بُيُوتاً وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ (2) وكلمة الوحي في هذه الآية تفيد معنى التكوين الغريزي الذاتي، وهو في إطار الخلق والتكوين، وهذا معنى يختلف عن معنى «الوحي» الذي نتحدث عنه، وكلمة الخلق والتكوين والتوجيه أدق من كلمة الإلهام في هذه الآية، لأن اتخاذ الجبال والأشجار بيوتا للنحل صفة ذاتية وتكوين غريزي، والإلهام يغلب عليه تكوين الاستعداد لسلوك غير مألوف، فإذا كان السلوك مألوفا عن طريق التكوين الغريزي فلا يسمى «إلهاما»، فلا يقال في الأمور الغريزية إلهام إلا عن طريق تكوين الاستعداد عند الخلق، فلا يصح أن يستعمل معنى الإلهام في السلوك المألوف المعتاد.
ثانيا: معنى الإلهام الإرادي، وذلك في قوله تعالى: وَأَوْحَيْنا إِلى أُمِّ مُوسى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ (3) وواضح من الآية أن كلمة «وأوحينا» لا تقتصر على
--------------------------------------------
ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি আমরা ওহি (وحي) পাঠিয়েছি এবং দাউদকে জাবুর প্রদান করেছি। (১৬৩) এবং এমন অনেক রসূল (رسل) পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি ইতিপূর্বে আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রসূল (رسل) যাদের ইতিবৃত্ত আপনার কাছে বর্ণনা করিনি; আর আল্লাহ মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। (১৬৪) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রসূলগণকে (رسل) পাঠানো হয়েছে যাতে রসূলগণের (رسل) পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে; আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (১)
কুরআন বহু আয়াতে 'ওহি' (وحي) শব্দটি ব্যবহার করেছে, যা গোপন সংবাদ প্রদান (الإعلام الخفي) এবং সহজাত ইলহাম (الإلهام الفطري) এর অর্থ প্রকাশ করে। এর সাধারণ অর্থটি সেই পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থের চেয়েও ব্যাপক ও বিস্তৃত, যা জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে নবী (সা.)-এর নিকট তাঁর রবের বার্তা পৌঁছানোর বিশেষ পদ্ধতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
কুরআনে ওহি-এর অর্থসমূহ:কুরআনে 'ওহি' (وحي) শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে এসেছে:
প্রথমত: সহজাত প্রবৃত্তিগত ইলহাম (الإلهام الغريزي)-এর অর্থে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার রব মৌমাছিকে ওহি (أوحى) করেছেন যে, পাহাড়, গাছ ও মানুষ যে মাচা তৈরি করে তাতে ঘর বানাও।" (২) এই আয়াতে ওহি (وحي) শব্দটি সহজাত সৃষ্টিগত গঠন (التكوين الغريزي الذاتي)-এর অর্থ প্রকাশ করে, যা সৃষ্টি ও গঠনের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই 'ওহি' (وحي)-এর অর্থ থেকে ভিন্ন যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এই আয়াতে 'ইলহাম' (إلهام) শব্দের চেয়ে সৃষ্টি, গঠন ও দিকনির্দেশনা শব্দগুলো অধিকতর নির্ভুল। কারণ মৌমাছির পাহাড় ও গাছে ঘর বানানো তার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য ও প্রবৃত্তিগত গঠন। আর 'ইলহাম' (إلهام) সাধারণত কোনো অস্বাভাবিক আচরণের যোগ্যতা তৈরির ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং আচরণটি যদি সহজাত প্রবৃত্তিগত গঠনের মাধ্যমে স্বাভাবিক হয়, তবে তাকে 'ইলহাম' (إلهام) বলা হয় না। প্রবৃত্তিগত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে সৃষ্টির সময় যোগ্যতা তৈরি করা ছাড়া 'ইলহাম' (إلهام) শব্দটি প্রয়োগ করা সঠিক নয়। অতএব, স্বাভাবিক ও প্রচলিত আচরণের ক্ষেত্রে ইলহাম (إلهام)-এর অর্থ ব্যবহার করা শুদ্ধ হবে না।
দ্বিতীয়ত: ঐচ্ছিক ইলহাম (الإلهام الإرادي)-এর অর্থে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি মুসার জননীকে ওহি (أوحينا) করলাম যে, তাকে স্তন্যদান করো। যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও শোক করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রসূলগণের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত করব।" (৩) আয়াত থেকে এটি স্পষ্ট যে, 'ওআইনা' (أوحينا) শব্দটি কেবল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
معنى الإلهام، فالإلهام توجيه خفي لا يدرك مصدره، وفي هذه الآية توجيه رباني مقترن بأوامر وتعليمات، وفيه نهي عن الخوف وتبشير من الله بعودته إلى أمه وأنه سيكون من المرسلين، ولا بد أن أم موسى أدركت مصدر هذا الإلهام، وعرفت أنه من الله، ولهذا نفذت ما أمرت به واطمأنت، ولولا ذلك لما نفذت هذا الأمر الذي لا يمكن لأم أن تفعله، وكيف يمكن لأم أن تلقي وليدها في اليم لمجرد خاطر عابر لا تعرف مصدره، وهو أمر خارج عن نطاق الفطرة، فالفطرة تأبى أن تلقي الأم وليدها في اليم، وما فعلته أم موسى خارج عن نطاق الفطرة.
ثالثا: معنى الإشارة الظاهرة التي تعطي معنى الأمر، وذلك في قوله تعالى:
فَخَرَجَ عَلى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرابِ فَأَوْحى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا (1) والمعنى هنا واضح في أن كلمة الوحي تفيد معنى التوجيه والتعليم وليس مجرد الإشارة.
رابعا: معنى الوسوسة وذلك في قوله تعالى: وَإِنَّ الشَّياطِينَ لَيُوحُونَ إِلى أَوْلِيائِهِمْ لِيُجادِلُوكُمْ (2). والمعنى هنا لغوي، وكلمة الوسوسة ليست دقيقة، فالشياطين يوسوسون حينا ويأمرون أولياءهم حينا آخر، ويزينون لهم فعل الشر، وجاءت في نفس المعنى في قوله تعالى: وَكَذلِكَ جَعَلْنا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَياطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً (3).
ومعظم ما جاءت كلمة الوحي في القرآن في معنى الوحي المنزل من عند الله وهي الكلمة القرآنية التي ترددت في القرآن في كل آية أراد الله بها بيان طريقة توجيه الأمر الإلهي لرسله وأنبيائه وتعليمهم.
وجاءت كلمة الوحي في أكثر من سبعين مرة في القرآن الكريم، بألفاظ مختلفة «أوحى»، «أوحيت»، «أوحينا»، «يوحي»، «نوحيه»، «نوحيها»، «ليوحون»، «أوحي»، «وحي»، «وحيه»، «وحينا»، ومعظم المعاني القرآنية معبرة عن الأمر الإلهي للرسل، وأكثر ما استعملت في القرآن كلمة «أوحينا» قال تعالى:
--------------------------------------------
ইলহাম (إلهام)-এর অর্থ: ইলহাম (إلهام) হলো এমন এক গোপন নির্দেশনা যার উৎস অনুধাবন করা যায় না। আর এই আয়াতে রয়েছে এমন এক রব্বানী নির্দেশনা যা আদেশ ও নির্দেশনাবলির সাথে যুক্ত; এতে রয়েছে ভীতি প্রদর্শন থেকে বারণ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সুসংবাদ যে, তিনি (মুসা) তাঁর মায়ের কাছে ফিরে আসবেন এবং তিনি রাসুলগণের (مرسلين) অন্তর্ভুক্ত হবেন। নিশ্চিতভাবেই মুসার মা এই ইলহামের (إلهام) উৎস সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর এ কারণেই তিনি যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা পালন করেছিলেন এবং আশ্বস্ত হয়েছিলেন। অন্যথায়, তিনি এমন কাজ কখনোই করতেন না যা কোনো মায়ের পক্ষে করা সম্ভব নয়। কোনো মা কীভাবে তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ করতে পারেন শুধুমাত্র এমন একটি ক্ষণস্থায়ী ভাবনার বশবর্তী হয়ে যার উৎস তাঁর জানা নেই? এটি তো স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বহির্ভূত একটি বিষয়। কেননা প্রকৃতিগতভাবে মা তাঁর সন্তানকে নদীতে নিক্ষেপ করতে অস্বীকার করে, অথচ মুসার মা যা করেছিলেন তা ছিল স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বহির্ভূত।
তৃতীয়ত: সেই প্রকাশ্য ইশারার অর্থ যা আদেশের অর্থ প্রদান করে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে:
অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে বের হয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে আসলেন এবং তাদের ইশারা করলেন (أوحى) যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠ করো (১)। এখানে অর্থটি স্পষ্ট যে, ওহী (وحي) শব্দটি নির্দেশনা ও শিক্ষার অর্থ প্রদান করছে, নিছক ইশারা নয়।
চতুর্থত: কুমন্ত্রণার (وسوسة) অর্থ। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: আর শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ওহী পাঠায় (يوحون) যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে (২)। এখানে অর্থটি আভিধানিক, এবং কুমন্ত্রণা (وسوسة) শব্দটি এখানে পুরোপুরি সূক্ষ্ম নয়; কারণ শয়তানরা কখনো কুমন্ত্রণা দেয় আবার কখনো তাদের বন্ধুদের আদেশ দেয় এবং তাদের সামনে মন্দ কাজকে সুশোভিত করে। একই অর্থে মহান আল্লাহর এই বাণীতেও এসেছে: আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, যারা প্রতারণার ছলে একে অপরকে অলংকৃত কথার ওহী পাঠায় (يوحي) (৩)।
কুরআনে ওহী (وحي) শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহীর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সেই কুরআনিক শব্দ যা কুরআনের প্রতিটি আয়াতে বারবার এসেছে যেখানে আল্লাহ তাঁর রাসুল ও নবীদের প্রতি খোদায়ী আদেশ প্রেরণের পদ্ধতি এবং তাঁদের শিক্ষাদানের বিষয়টি বর্ণনা করতে চেয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে ওহী (وحي) শব্দটি সত্তরটিরও বেশি স্থানে বিভিন্ন শব্দরূপে এসেছে, যেমন: ‘আওহা’ (أوحى), ‘আওহাইতু’ (أوحيت), ‘আওহাইনা’ (أوحينا), ‘ইউহি’ (يوحي), ‘নুহিহি’ (نوحيه), ‘নুহিহা’ (نوحيها), ‘লি-ইউহুনা’ (ليوحون), ‘আওহি’ (أوحي), ‘ওহী’ (وحي), ‘ওহিহু’ (وحيه), ‘ওহিনা’ (وحينا)। কুরআনের অধিকাংশ অর্থে এগুলো রাসুলগণের প্রতি খোদায়ী আদেশের বহিঃপ্রকাশ। কুরআনে ‘আওহাইনা’ (أوحينا) শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
إِنَّا أَوْحَيْنا إِلَيْكَ كَما أَوْحَيْنا إِلى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنا إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ وَعِيسى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهارُونَ وَسُلَيْمانَ وَآتَيْنا داوُدَ زَبُوراً (1).
وقال أيضا:
- وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ (2).
- وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى إِذِ اسْتَسْقاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِبْ بِعَصاكَ الْحَجَرَ (3).
- وَإِنْ كادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنا غَيْرَهُ (4).
- وَلَقَدْ أَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَسْرِ بِعِبادِي (5).
- وَالَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ مِنَ الْكِتابِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ (6).
- ذلِكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ (7).
- وَاتْلُ ما أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتابِ رَبِّكَ (8).
- إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا ما يُوحى إِلَيَّ (9).
- وَما كانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْياً أَوْ مِنْ وَراءِ حِجابٍ (10).
والاستعمال القرآني للفظة «الوحي» جعلت هذه الكلمة ذات مدلول خاص يعبر عن أمر الله للأنبياء في بعض الأحيان، ويعبر عما يتنزل على الأنبياء من
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠিয়েছি যেমন আমি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছিলাম। আর আমি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠিয়েছিলাম ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি; এবং আমি দাউদকে জাবুর প্রদান করেছি (১)।
তিনি আরও বলেছেন:
- আর আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো’; অমনি তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল (২)।
- আর আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠালাম যখন তাঁর সম্প্রদায় তাঁর নিকট পানি চাইল যে, ‘তুমি তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো’ (৩)।
- আর আমি আপনার প্রতি যে প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠিয়েছি, তারা আপনাকে তা থেকে বিচ্যুত করার প্রায় উপক্রম করেছিল, যাতে আপনি আমাদের সম্পর্কে অন্য কিছু উদ্ভাবন করেন (৪)।
- আর অবশ্যই আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাতে বের হয়ে যাও’ (৫)।
- আর কিতাব থেকে আমি আপনার প্রতি যে প্রত্যাদেশ (وحي) করেছি তা সত্য, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী (৬)।
- এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) করছি (৭)।
- আপনার প্রতি আপনার রবের কিতাব থেকে যা প্রত্যাদেশ (وحي) করা হয়েছে তা পাঠ করুন (৮)।
- আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ (وحي) করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি (৯)।
- কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলবেন প্রত্যাদেশ (وحي) ব্যতিরেকে কিংবা পর্দার অন্তরাল ছাড়া (১০)।
আর ‘প্রত্যাদেশ’ (وحي) শব্দের কুরআনিক ব্যবহার এই শব্দটিকে একটি বিশেষ অর্থ বা তাৎপর্য দান করেছে যা কখনো কখনো নবীগণের প্রতি আল্লাহর নির্দেশকে ব্যক্ত করে, আবার কখনো নবীগণের প্রতি যা অবতীর্ণ হয় তা থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
كلام الله بواسطة جبريل، وفي جميع الأحوال لا تطلق كلمة «الوحي» في اللغة العربية إلا في هذا الإطار، وإذا استعملت في بعض الأحيان في المعنى اللغوي فإن هذا الاستعمال قليل، وغالبا ما يكون في صيغة الفعل التي تعبر عن المعنى اللغوي الدال على الإشارة الخفية الدالة على معنى معين.
وتتعدد معاني «الوحي» في القرآن، بحسب الآيات، فأحيانا تفيد معنى الإخبار كقوله تعالى: فَأَوْحى إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ الظَّالِمِينَ (1)، وأحيانا تفيد الأمر كقوله تعالى: وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ (2)، وأحيانا تفيد معنى الإنزال كقوله تعالى: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرى وَمَنْ حَوْلَها (3).
كيفية نزول الوحي:بالرغم من تعدد كيفيات الوحي كما جاء في الآيات القرآنية، فإن القرآن حدد بطريقة واضحة وبينة كيفية نزول الوحي بالقرآن على النبي صلى الله عليه وسلم قال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (4) وهذه صورة من صور نزول الوحي، وهي خاصة بالقرآن.
وهناك صور أخرى للوحي، وحددها القرآن بقوله تعالى: وَما كانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْياً أَوْ مِنْ وَراءِ حِجابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ ما يَشاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ (5) والآية تنفي إمكان تكليم الله للبشر بطريقة مباشرة، وهذا أمر طبيعي، فالتكلم المباشر غير ممكن، لأن الطبيعة البشرية محدودة ولا يمكن لها أن تتلقى الكلام إلا بالحواس، وكلام الله أسمى من أن تكون أداته الحواس البشرية.
--------------------------------------------
জিবরাইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত আল্লাহর বাণী; আরবি ভাষায় কোনো অবস্থাতেই ‘ওহী (وحي)’ শব্দটি এই নির্দিষ্ট কাঠামো ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। যদি কখনো এটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই ব্যবহার খুবই সীমিত এবং তা সাধারণত ক্রিয়াপদ হিসেবে সূক্ষ্ম ইশারার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
কুরআনের আয়াত অনুযায়ী ‘ওহী (وحي)’ এর অর্থ বহুমুখী। কখনো এটি সংবাদ প্রদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী (أوحى) করলেন যে, আমি অবশ্যই জালেমদের ধ্বংস করব।” (১) আবার কখনো এটি নির্দেশের অর্থে আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আমি মুসার প্রতি ওহী (أوحينا) করলাম যে, আপনি আপনার লাঠি নিক্ষেপ করুন; অমনি তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।” (২) আর কখনো এটি অবতীর্ণ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবি কুরআন ওহী (أوحينا) করেছি, যাতে আপনি জনপদসমূহের কেন্দ্র (মক্কা) ও তার চারপাশের লোকদের সতর্ক করতে পারেন।” (৩)।
ওহী নাযিলের পদ্ধতি:কুরআনের আয়াতসমূহে ওহী (وحي) এর বিভিন্ন পদ্ধতির কথা থাকলেও, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন নাযিলের পদ্ধতি সম্পর্কে কুরআন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আপনার হৃদয়ে তা বিশ্বস্ত আত্মা নিয়ে অবতরণ করেছেন, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন।” (৪) এটি ওহী (وحي) নাযিলের একটি বিশেষ রূপ, যা কুরআনের জন্য নির্দিষ্ট।
ওহী (وحي) এর আরও কিছু রূপ রয়েছে, যা কুরআন এভাবে নির্ধারণ করেছে: “কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন; ওহী (وحياً) ব্যতিরেকে অথবা পর্দার আড়াল থেকে অথবা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি যা ইচ্ছা তাঁর অনুমতিতে ওহী (فيوحي) করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়।” (৫) এই আয়াতটি সরাসরি পদ্ধতিতে আল্লাহর সাথে মানুষের কথা বলার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়, কারণ সরাসরি কথোপকথন সম্ভব নয়; কেননা মানুষের প্রকৃতি সীমাবদ্ধ এবং সে কেবলমাত্র ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই কোনো কিছু গ্রহণ করতে সক্ষম। আর আল্লাহর কালাম মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়ার ঊর্ধ্বে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা উলূমিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وصور الوحي كما حددها القرآن هي: أولا: الوحي المباشر، وهنا يبرز معنى الإلهام أو النفث في الروع وهو إلقاء المعنى الموحى به في القلب، والقلب في نظر القرآن هو مصدر المعرفة وهو موطن الفهم، ولهذا كثر استعمال القرآن للفظة القلب في موطن حديثه عن الفهم، والقلب هو الخصوصية الإنسانية وهو المخاطب بالأمر الإلهي، ويختلف الوحي المباشر عن الإلهام الغريزي أو الفطري، فالإلهام قد يكون نابعا من الذات، وقد يخطئ الإنسان فيه أو يصيب ولا يعرف مصدره، فقد يكون من وسوسة الشيطان، بخلاف الوحي المباشر فإنه أمر خارجي تتلقاه النفس البشرية، وتعرف جيدا مصدره، فلا يلتبس الأمر عليها، وهو خاص بالأنبياء، ولا يكون لغير الأنبياء، بخلاف الإلهام الفطري فقد يكون لغير الأنبياء، وقد يكون إلهام خير أو إلهام شر، ويختلف مصدره.
ثانيا: الكلام من وراء حجاب: وهذه الصورة وردت في القرآن في قوله تعالى: فَلَمَّا قَضى مُوسَى الْأَجَلَ وَسارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِنْ جانِبِ الطُّورِ ناراً قالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ ناراً لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْها بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ (29) فَلَمَّا أَتاها نُودِيَ مِنْ شاطِئِ الْوادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يا مُوسى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعالَمِينَ (30) وَأَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَلَمَّا رَآها تَهْتَزُّ كَأَنَّها جَانٌّ وَلَّى مُدْبِراً وَلَمْ يُعَقِّبْ يا مُوسى أَقْبِلْ وَلا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ (1).
ثالثا: الوحي عن طريق رسول: والمراد بالرسول هنا جبريل، ويفسر هذه الكيفية قوله تعالى: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (2).
وفسرت السنة النبوية كيفية الوحي بما رواه البخاري عن السيدة عائشة رضي الله عنها أنها قالت: «أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه
--------------------------------------------
কুরআন যেভাবে ওহীর স্বরূপ নির্ধারণ করেছে তা হলো: প্রথমত: প্রত্যক্ষ ওহী, এবং এখানে ইলহাম (إلهام) বা হৃদয়ে ফুঁকে দেওয়ার (النفث في الروع) তাৎপর্য ফুটে ওঠে, যা হলো ওহী হিসেবে অবতীর্ণ বিষয়বস্তুকে হৃদয়ে নিক্ষেপ করা। কুরআনের দৃষ্টিতে হৃদয় হলো জ্ঞানের উৎস এবং তা উপলব্ধির কেন্দ্রস্থল, আর এই কারণেই উপলব্ধির আলোচনার ক্ষেত্রে কুরআন ‘হৃদয়’ শব্দের ব্যবহার অধিক পরিমাণে করেছে। হৃদয় হলো মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এটিই ঐশ্বরিক নির্দেশের মূল সম্বোধিত স্থান। প্রত্যক্ষ ওহী সহজাত বা স্বভাবজাত ইলহাম (إلهام) থেকে ভিন্ন; কারণ ইলহাম (إلهام) কখনও নিজের ভেতর থেকে উৎসারিত হতে পারে এবং এতে মানুষ ভুল করতে পারে কিংবা সঠিক হতে পারে কিন্তু সে এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে না, কারণ এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকেও হতে পারে। পক্ষান্তরে প্রত্যক্ষ ওহী হলো একটি বাহ্যিক বিষয় যা মানবাত্মা গ্রহণ করে এবং এর উৎস সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানে, ফলে এ ক্ষেত্রে বিষয়টি তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না। এটি কেবল নবীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং নবীগণ ব্যতীত অন্য কারও জন্য হয় না, অপরদিকে স্বভাবজাত ইলহাম (إلهام) নবীদের ছাড়াও অন্যদের হতে পারে এবং তা কল্যাণের ইলহাম (إلهام) কিংবা অকল্যাণের ইলহাম (إلهام) হতে পারে, আর এর উৎসও ভিন্ন হয়।
দ্বিতীয়ত: পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলা: আর এই চিত্রটি কুরআনে মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: “অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং তার পরিবারবর্গসহ যাত্রা করল, তখন সে তূর পাহাড়ের পার্শ্বে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসব অথবা আগুনের কোনো জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।’ (২৯) অতঃপর যখন সে আগুনের কাছে পৌঁছাল, তখন বরকতময় স্থানের উপত্যকার ডানদিকের প্রান্তস্থিত বৃক্ষ থেকে তাকে সম্বোধন করে বলা হলো, ‘হে মূসা! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’ (৩০) আর তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো; অতঃপর যখন সে ওটাকে সাপের মতো নড়াচড়া করতে দেখল, তখন সে পেছন ফিরে দৌড় দিল এবং ফিরে তাকাল না। হে মূসা! সামনে এসো এবং ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমি নিরাপদদের অন্তর্ভুক্ত’।” (১)।
তৃতীয়ত: দূতের মাধ্যমে ওহী: আর এখানে দূত বলতে জিবরাঈলকে বোঝানো হয়েছে এবং মহান আল্লাহর এই বাণী এই পদ্ধতির ব্যাখ্যা প্রদান করে: “বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين) তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে (১৯৩) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন” (২)।
সুন্নাহ ওহীর পদ্ধতি সম্পর্কে সেই বর্ণনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে যা বুখারী উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সৎ স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة) দেখার মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো প্রকাশিত হতো। এরপর নির্জনতা তাঁর নিকট প্রিয় হয়ে উঠল...
--------------------------------------------