(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
عون الحنان في شرح الأمثال في القرآن   (على أحمد عبد العال الطهطاوى)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عون الحنان في شرح الأمثال في القرآن

المؤلف: على أحمد عبد العال الطهطاوى

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 288

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

কুরআনের উপমাসমূহের ব্যাখ্যায় পরম করুণাময়ের সাহায্য   (আলী আহমদ আব্দুল আল আত-তহতাবী)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: কুরআনের উপমাসমূহের ব্যাখ্যায় পরম করুণাময়ের সাহায্য

লেখক: আলী আহমদ আব্দুল আল আত-তহতাবী

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৮

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ই রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী

(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

بسم الله الرّحمن الرّحيم إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ [آل عمران: 102].

يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً [النساء: 1].

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد:

أذكرك ونفسى عزيزى القارئ بقول النبى صلى الله عليه وسلم: «من أحدث فى أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد». متفق عليه.

2 - قوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ آية الكرسى دبر- بعد- كل صلاة مكتوبة، لم يمنعه من دخول الجنة إلا أن يموت» (1).

3 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ الآيتين من آخر سورة البقرة فى ليلة كفتاه» (2).

4 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ قُلْ يا أَيُّهَا الْكافِرُونَ عدلت له بربع القرآن، ومن قرأ (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ عدلت له بثلث القرآن» (3).

--------------------------------------------

(1) صحيح الجامع برقم 6464.

(2) صحيح الجامع برقم 6465.

(3) صحيح الجامع برقم 6466.
ভূমিকা

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না [সূরা আলে ইমরান: ১০২]।

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন [সূরা আন-নিসা: ১]।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল [সূরা আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর:

প্রিয় পাঠক, আমি আপনাকে এবং নিজেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত)।

২ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কিছু তাকে বাধা দেবে না" (১)।

৩ - এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে" (২)।

৪ - এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' পাঠ করল, তার জন্য তা কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করল, তার জন্য তা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান গণ্য হবে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৪।

(২) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৫।

(৩) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৬।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
5 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن قرأ القرآن فليسأل الله به، فإنه سيجيء أقوام يقرءون القرآن يسألون به الناس» (1).

6 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن قرأ بمائة آية فى ليلة كتب له قنوت ليلة» (2).

7 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ حرفا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: (الم) حرف، ولكن: ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف» (3).

8 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة (4) أضاء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق» (5).

9 - من قرأ سورة «الكهف» فى يوم الجمعة، أضاء له من النور ما بين الجمعتين (6).

9 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ عشر مرات بنى الله له بيتا فى الجنة» (7).

10 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن قرأ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فكأنما قرأ ثلث القرآن» (8).

11 - وقوله صلى الله عليه وسلم: «اقرءوا سورة البقرة فى بيوتكم (9)، فإن الشيطان لا يدخل بيتا يقرأ فيه سورة البقرة» (10).

أيها القارئ الكريم هل ما زلت معى، كل الأحاديث التى سبقت لم يقل فيها النبى صلى الله عليه وسلم: «اقرءوا ثم هبوا هذه القراءة للأموات؛ لأن القرآن منا لا يصل للميت، والنبى صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) صحيح الجامع برقم 6467.

(2) صحيح الجامع برقم 6468.

(3) صحيح الجامع برقم 6469.

(4) قال: يوم الجمعة ولم يقول من يوم الجمعة ولم يقول قبل أذان الجمعة، وقال: من قرأ ولم يقول: من سمع أى أن الثواب لمن يقرأها والقراءة لها شروط: فى السر ولا يشوش على أحد، أما قراءة القرآن فى مكبرات الصوت فى المساجد قبل آذان الجمعة فبدعة وضلالة وفى النار، لأن النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن له مقرئ يقرأ القرآن قبل أذان الجمعة، فعلى أهل الضلال إن يتقوا الله ويتوبوا إليه.

(5) صحيح الجامع برقم 6471.

(6) صحيح الجامع برقم 6470.

(7) صحيح الجامع برقم 6472.

(8) صحيح الجامع برقم 6473.

(9) قال: فى بيوتكم ولم يقول فى المقابر والأموات، يا أهل البدع والضلال يا ويلكم من الله تعالى.

(10) صحيح الجامع برقم 1170.
৫ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, সে যেন এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। কারণ অচিরেই এমন এক কওম আসবে যারা কুরআন পাঠ করবে এবং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে (ভিক্ষা চাইবে)।" (১)।

৬ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি এক রাতে একশত আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য পূর্ণ এক রাত ইবাদত করার সওয়াব লিখে দেওয়া হবে।" (২)।

৭ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য তার বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে। আর সওয়াব হয় তার দশ গুণ। আমি বলি না যে, (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" (৩)।

৮ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে (৪) সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য তার এবং বাইতুল আতিকের (কাবা শরীফ) মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত নূর দ্বারা আলোকিত করে দেওয়া হবে।" (৫)।

৯ - যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত করে দেওয়া হবে (৬)।

৯ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি দশবার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা আল-ইখলাস) পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" (৭)।

১০ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আর যে ব্যক্তি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করবে, সে যেন কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল।" (৮)।

১১ - এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করো (৯), কারণ শয়তান সেই ঘরে প্রবেশ করে না যাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করা হয়।" (১০)।

হে সম্মানিত পাঠক, আপনি কি এখনও আমার সাথে আছেন? পূর্বোক্ত সকল হাদীসের কোনটিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং তারপর এই পাঠের সওয়াব মৃতদের জন্য উপহারস্বরূপ দান করো; কারণ আমাদের পঠিত কুরআন মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...

--------------------------------------------

(১) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৭।

(২) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৮।

(৩) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৬৯।

(৪) তিনি বলেছেন: "জুমার দিনে", কিন্তু "জুমার দিন থেকে" বলেননি এবং জুমার আযানের আগে বলেও উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাঠ করবে", "যে শুনবে" বলেননি। অর্থাৎ সওয়াব কেবল সেই ব্যক্তির জন্য যে পাঠ করে। আর পাঠ করার কিছু শর্ত রয়েছে: তা হতে হবে নিম্নস্বরে এবং কারও বিরক্তির কারণ হওয়া যাবে না। পক্ষান্তরে জুমার আযানের পূর্বে মসজিদে লাউডস্পিকারে কুরআন তিলাওয়াত করা বিদআত ও ভ্রষ্টতা এবং তা জাহান্নামে নিয়ে যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কারী ছিল না যে জুমার আযানের আগে কুরআন তিলাওয়াত করত। সুতরাং পথভ্রষ্টদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর কাছে তাওবা করা।

(৫) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৭১।

(৬) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৭০।

(৭) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৭২।

(৮) সহীহুল জামি, হাদীস নং ৬৪৭৩।

(৯) তিনি বলেছেন: "তোমাদের ঘরগুলোতে", কবরস্থানে বা মৃতদের জন্য বলেননি। হে বিদআত ও ভ্রষ্টতাপন্থীরা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের দুর্ভোগ অনিবার্য।

(১০) সহীহুল জামি, হাদীস নং ১১৭০।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
لم يقرأ قرآنا للأموات أبدا (وأتحدى) أى مجرم على وجه الأرض أن يثبت لى بحديث صحيح من البخارى ومسلم: أن النبى صلى الله عليه وسلم قرأ قرآنا ووهبه للأموات، وعلى كل ضال مبتدع أن يضع لسانه فى فمه قبل أن يكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم فالويل كل الويل للسادة العلماء إذا لم يستيقظوا من ثباتهم، ويبينوا للناس أن القرآن شريعة ودستور وقانون.

من أجل ذلك عزيزى القارئ الفاضل أقدم لك كتابنا هذا «عون الحنّان فى شرح الأمثال فى القرآن».

وجعلته فى ثلاثة فصول:

الفصل الأول ويشمل: التمهيد.

الفصل الثانى ويشمل: إلزام القرآن للماديين والمليين.

الفصل الثالث ويشمل: الأمثال فى القرآن الكريم.

واسمح لى عزيزى القارئ أن أحكى لك بعض المهازل والسفالات:

1 - رحل مجرم يدّعى أنه يعرف البخت والخط ويكشف السارق؟!! يأتى بمصحف كبير الحجم ويفتح عند سورة يس، ويضع مفتاح كبير ثم يكتف المصحف بخيط، ثم يضع المفتاح فى طرف سبابته، ثم يأمر أحد الناس بوضع الجانب الثانى للمفتاح فى طرف سبابته وبذلك يكون المصحف معلق بين إصبعى الحمارين البهيمين السافلين ثم يقول الشيخ للمصحف- على مشهد من الجاموس والبقر: أيها المصحف إذا كان فلان الفلانى هو السارق فعليك بالدوران لليمين، وإذا لم يكون هو السارق فعليك بالدوران إلى اليسار.

2 - شيخ- مجرم سفيه ضال مضل- يقوم بعمل (عدّية) يس، وهذه هى الطريقة:

يحضر طشت ملئ بالماء ويضع على الماء (ماء ورد) ثم يأتى بلبنه (قالب طوب) أحمر ويشترط أن لا يكون سبق استعماله قبل ذلك، ثم يضعه فى الطشت، ثم يأتى بقماش بفته أبيض ويضع اللبنة فى القماش، ثم يضعه مرة ثانية فى الماء ثم يقرأ سورة (يس) أربعون مرة، ثم ينادى على صاحب المنزل- المسروق- ويقول له: خذ ادفن هذا الميت- ويشير على قالب الطوب- ادفنه ليلا، وقبل طلوع الشمس فإن السارق سوف يدفن مثل هذا؟
তিনি মৃতদের জন্য কখনও কুরআন তিলাওয়াত করেননি, আর আমি পৃথিবীর যেকোনো অপরাধীকে চ্যালেঞ্জ করছি যে, সে যেন বুখারী ও মুসলিমের কোনো সহীহ হাদীস দ্বারা আমার কাছে প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এবং তা মৃতদের সওয়াব হিসেবে দান করেছেন। প্রত্যেক পথভ্রষ্ট বিদআতী ব্যক্তির উচিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করার আগে নিজের জিভ সামলে রাখা। আলেম সমাজের জন্য চরম দুর্ভোগ যদি তারা তাদের তন্দ্রা থেকে জেগে না ওঠেন এবং মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট না করেন যে, কুরআন হচ্ছে শরীয়ত, সংবিধান এবং আইন।

সেই উদ্দেশ্যেই হে সম্মানিত পাঠক, আমি আপনার সামনে আমাদের এই কিতাব 'আওনুল হান্নান ফি শারহিল আমসাল ফিল কুরআন' (কুরআনের উদাহরণসমূহের ব্যাখ্যায় দয়াময়ের সাহায্য) পেশ করছি।

আর আমি এটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়, যা অন্তর্ভুক্ত করে: উপক্রমণিকা।

দ্বিতীয় অধ্যায়, যা অন্তর্ভুক্ত করে: বস্তুবাদী ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কুরআনের বাধ্যবাধকতা।

তৃতীয় অধ্যায়, যা অন্তর্ভুক্ত করে: পবিত্র কুরআনের উদাহরণসমূহ।

হে প্রিয় পাঠক, আমাকে কিছু প্রহসন ও নীচতার কথা বলার অনুমতি দিন:

১ - জনৈক অপরাধী দাবি করে যে সে ভাগ্য ও রেখা গণনা জানে এবং চোর শনাক্ত করতে পারে?!! সে একটি বড় আকারের মুসহাফ নিয়ে আসে এবং সূরা ইয়াসীন বের করে। সেখানে একটি বড় চাবি রাখে, এরপর সুতা দিয়ে মুসহাফটিকে বেঁধে ফেলে। তারপর চাবিটি তার তর্জনী আঙ্গুলের ডগায় রাখে এবং অন্য একজনকে চাবির অপর প্রান্তটি তার তর্জনী আঙ্গুলের ডগায় রাখতে বলে। এভাবে মুসহাফটি সেই দুই অধম ও পশুর ন্যায় ব্যক্তির আঙ্গুলের মাঝে ঝুলে থাকে। এরপর সেই শাইখ সেই গবাদি পশুদের উপস্থিতিতে মুসহাফকে সম্বোধন করে বলে— হে মুসহাফ, যদি অমুক ব্যক্তি চোর হয় তবে তুমি ডান দিকে ঘুরবে, আর যদি সে চোর না হয় তবে বাম দিকে ঘুরবে।

২ - একজন শাইখ—যে একজন অপরাধী, নির্বোধ এবং পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী—সে সূরা ইয়াসীনের 'আদিয়্যাহ' করে। আর তার পদ্ধতি হলো: সে পানিতে পূর্ণ একটি গামলা নিয়ে আসে এবং পানিতে গোলাপ জল মেশায়। এরপর একটি লাল ইট নিয়ে আসে এবং শর্ত দেয় যে সেটি যেন আগে কখনও ব্যবহৃত না হয়। এরপর সেটি গামলায় রাখে। তারপর একটি সাদা মসলিন কাপড় নিয়ে আসে এবং ইটটিকে কাপড়ে পেঁচায়। এরপর সেটি পুনরায় পানিতে রাখে এবং চল্লিশ বার সূরা ইয়াসীন পাঠ করে। তারপর বাড়ির মালিককে—যার মাল চুরি হয়েছে—ডেকে বলে: নাও, এই মৃতদেহটিকে দাফন করো—ইটের দিকে ইশারা করে—রাত থাকতে সূর্য ওঠার আগে এটি দাফন করো, তাহলে চোরও এভাবেই দাফন হবে।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
كنت أنا حاضرا على سبيل معرفة ما يجرى فى مصر من ضلال- فسألته عن ذلك فقال: إحنا غسّلنا قالب الطوب وكفّناه ودفنّاه، فإن السارق سوف يلحق به؟!! انظر عزيزى القارئ إلى هذه السفالات والضلالات، كل الدول تتقدم للأمام ونحن نتقهقر للخلف ونباهى الأمم أننا حضارة سبعة آلاف سنة، فلسطين محتله وتضرب بجميع أنواع الأسلحة الحديثة والعراق كذلك. ونحن ما زلنا فى سفالات، فهل من مدكر؟ فهل من عالم يتقى الله تعالى وينصح الأمة ويكشف الغمة؟

أين علمائك يا مصر؟!! أيها العلماء أفيقوا: يا من توجهون بالريموت كنترول أفيقوا!

يا علماء العصر يا ملح البلد … كيف يصلح الملح إذا الملح فسد؟

والله إنى أحبكم، وحبى لكم جعلنى أخاف عليكم من يوم التناد، ويوم الوقوف بين يدى الله تعالى، وتسألوا «وعن علمه ماذا عمل به»؟

عزيزى القارئ اقرأ وتدبر ولله الحمد المنة.

الشيخ/ على أحمد عبد العال الطهطاوى رئيس جمعية أهل القرآن والسنة
আমি মিশরে যে বিভ্রান্তি চলছে তা জানার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলাম—আমি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন সে বলল: আমরা একটি ইটকে গোসল করিয়েছি, কাফন পরিয়েছি এবং দাফন করেছি, যাতে চোর শীঘ্রই তার সাথে মিলিত হয়?!! হে প্রিয় পাঠক, এই নীচতা ও বিভ্রান্তির দিকে লক্ষ্য করুন; সব দেশ সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আর আমরা পেছনের দিকে পিছিয়ে যাচ্ছি এবং জাতিসমূহের কাছে গর্ব করছি যে আমাদের সভ্যতা সাত হাজার বছরের প্রাচীন। ফিলিস্তিন অধিকৃত এবং সেখানে সব ধরনের আধুনিক অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে, ইরাকের অবস্থাও তদ্রূপ। অথচ আমরা এখনও নীচতার মধ্যেই ডুবে আছি; উপদেশ গ্রহণ করার মতো কেউ কি আছে? এমন কোনো আলেম কি নেই যিনি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবেন, উম্মাহকে নসিহত করবেন এবং এই অন্ধকার দূর করবেন?

হে মিশর, তোমার আলেমগণ কোথায়?!! হে আলেম সমাজ, জাগ্রত হোন: হে তারা যাদের রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত করা হচ্ছে, জাগ্রত হোন!

হে বর্তমান সময়ের আলেমগণ, হে দেশের লবণ … লবণের যদি পচন ধরে তবে তা কীভাবে সংশোধন করা হবে?

আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের ভালোবাসি; আর আপনাদের প্রতি আমার এই ভালোবাসাই আমাকে সেই হাহাকারের দিন এবং আল্লাহ তাআলার সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার দিন সম্পর্কে আপনাদের বিষয়ে ভীত করে তুলেছে, যখন আপনাদের প্রশ্ন করা হবে: "তার ইলম অনুযায়ী সে কী আমল করেছে"?

প্রিয় পাঠক, পড়ুন এবং চিন্তা-গবেষণা করুন; আর সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য।

শায়খ আলী আহমাদ আব্দুল আল আত-তহতাবী, আহলে কুরআন ও সুন্নাহ সমিতির সভাপতি।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول التمهيد القرآن الكريم وظيفته الأصلية، وكيف يتخذه المسلمون (1)

يقولون: إذا كان الحى ينتفع بالقرآن فى حياته الدنيوية، فإن الميت كذلك لا يحرم من الانتفاع بالقرآن فى مماته، بدليل قوله تعالى: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ ما هُوَ شِفاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ [الإسراء: 82]، فمثلا إذا قرأ إنسان الفاتحة أو آية من سور القرآن على روح ميت له، فهذا جائز، والميت ينتفع به كانتفاع الحى تماما.

كما يوردون حديثا نسبوه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، يدعون أنه يقول فيه: «خذ من القرآن ما شئت لما شئت»، ويتخذون هذا دليلا لعمل الأحجبة والأدوية لشفاء المرضى، ودليلا على جواز قراءة القرآن على الأموات.

ونرد عليهم، فنقول: إن الله تعالى أنزل القرآن للأحياء، ليتخذوه هاديا لهم يهديهم إلى سعادة الدنيا وفلاح الآخرة إن هم آمنوا به، أو ليكون حجة عليهم إن هم ظلوا على باطلهم، كما يقول المولى: لِيُنْذِرَ مَنْ كانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكافِرِينَ [يس:

70]، فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخافُ وَعِيدِ [ق: 45]، وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ [الأنعام: 19].

وقد أخطأ الناس فهم العبارة التى جاءت بالآية الكريمة وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ [الإسراء: 82]، فظنوا أو أفهمهم الشيوخ أن الرحمة هنا هى للموتى، كما أفهمهم تجار الأحجبة أن عبارة شِفاءٌ لِلنَّاسِ [النحل: 69] فى الآية هى خاصة بشفاء أمراض الأجسام، ولكن هذا التفسير للآية تحريف لمعناها، وإخراج لها عن مواضعها، فإن الرحمة والشفاء فى الآية هى للمؤمنين الأحياء.

وفى آية أخرى يقول الله عز وجل: يا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفاءٌ لِما فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ [يونس: 57]، ويقول الشيخ محمد رشيد رضا

فى تفسير المنار فى تفسيره لهذه الآية: أى قد جاءكم كتاب جامع لكل ما

--------------------------------------------

(1) كتاب صراع بين الحق والباطل، وكتابنا الإبداعات فى مضار الابتداعات.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা; পবিত্র কুরআনের মূল কাজ এবং মুসলিমরা যেভাবে এটি গ্রহণ করে(১)

তারা বলে: জীবিত ব্যক্তি যদি তার পার্থিব জীবনে কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হয়, তবে মৃত ব্যক্তিও একইভাবে তার মৃত্যুতে কুরআন থেকে উপকৃত হওয়া হতে বঞ্চিত হবে না। এর প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি কুরআন হতে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।" [আল-ইসরা: ৮২]। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি তার কোনো মৃত ব্যক্তির রূহের ওপর সূরা ফাতিহা কিংবা কুরআনের কোনো আয়াত পাঠ করে, তবে তা বৈধ এবং মৃত ব্যক্তি এর দ্বারা ঠিক সেভাবেই উপকৃত হয় যেমনটি জীবিত ব্যক্তি উপকৃত হয়।

তেমনিভাবে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত একটি হাদীস উল্লেখ করে—তারা দাবি করে যে তিনি তাতে বলেছেন: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো, যে উদ্দেশ্যে ইচ্ছা।" তারা একে তাবীজ-কবজ তৈরি এবং রোগীদের আরোগ্যের জন্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের দলিল হিসেবে গ্রহণ করে, এবং মৃতদের ওপর কুরআন পাঠের বৈধতার দলিল হিসেবেও ব্যবহার করে।

আমরা তাদের উত্তরে বলি: আল্লাহ তাআলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন জীবিতদের জন্য, যাতে তারা এটিকে নিজেদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করে যা তাদের দুনিয়ার সুখ এবং আখিরাতের সফলতার দিকে পরিচালিত করবে যদি তারা এতে ঈমান আনে; অথবা যাতে এটি তাদের বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায় যদি তারা তাদের বাতিলের ওপর অটল থাকে। যেমনটি মহান প্রভু বলেন: "যাতে তিনি সতর্ক করেন তাকে যে জীবিত এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাব্যস্ত হয়।" [ইয়াসিন: ৭০]। "অতএব যে আমার ধমককে ভয় করে তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দিন।" [ক্বাফ: ৪৫]। "এবং আমার প্রতি এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে আমি তোমাদেরকে এর দ্বারা সতর্ক করি।" [আল-আনআম: ১৯]।

মানুষ পবিত্র আয়াতের "মুমিনদের জন্য রহমত" [আল-ইসরা: ৮২] অংশটির মর্ম বুঝতে ভুল করেছে। ফলে তারা ধারণা করেছে অথবা শায়খগণ তাদের বুঝিয়েছেন যে, এখানে রহমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তিরা। ঠিক তেমনি তাবীজ ব্যবসায়ীরা তাদের বুঝিয়েছে যে, আয়াতের "মানুষের জন্য আরোগ্য" [আন-নাহল: ৬৯] কথাটি বিশেষ করে শরীরের রোগমুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু আয়াতের এই ব্যাখ্যা এর অর্থের বিকৃতি এবং একে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করা। কেননা আয়াতে রহমত ও আরোগ্য হলো জীবিত মুমিনদের জন্য।

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "হে মানুষ, তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।" [ইউনুস: ৫৭]। শায়খ মুহাম্মদ রশীদ রিদা তাফসীরে মানারে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ তোমাদের নিকট এমন এক কিতাব এসেছে যা এমন সবকিছুর সমাহার...

--------------------------------------------

(১) কিতাব 'সিরাউ বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল', এবং আমাদের কিতাব 'আল-ইবদাআতু ফী মাদাররিল ইবতিদাআত'।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
تحتاجون إليه من موعظة حسنة لإصلاح أخلاقكم وأعمالكم الظاهرة، وحكمة بالغة لإصلاح خفايا أنفسكم وشفاء أمراضها الباطنية، وهداية واضحة للصراط المستقيم الموصل إلى سعادة الدنيا والآخرة، ورحمة خاصة للمؤمنين يتراحمون بها فيما بينهم. فمن هذا التفسير نعرف أن الآية خاصة بالأحياء، وليس للموتى نصيب فيها.

ثم نرد أن نسأل هؤلاء: هل الآيات التى تأمرنا بتأدية الصلاة والزكاة والصوم، وتشرح لنا أصول مناسك الحج تنفع الميت بشيء؟ هل الآيات التى تبين لنا أحكام الوصية عند الموت، والتى تبين لنا المباحات والمحرمات من النساء فى الزواج، والتى تبين لنا أحكام الطلاق تفيد الميت بشيء؟ هل الآيات التى تتحدث عن عاقبة المفسدين والمنحرفين عن سبيل الله تفيد الميت بشيء؟

هل الآيات التى تبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات بالجنة، وتبين مكانهم من نعيم الله، تفيد الميت بشيء؟ هل الآيات التى تخبرنا بقصص أقوام نوح، وعاد، وثمود، وكفار قريش، وهلاك أولئك الأقوام، وجاءت تحذرنا من اتباع سبل الانحراف والغواية التى سلكها هؤلاء الأقوام حتى استحقوا غضب الله ولعنته مثلهم، هل هذه الآيات تنفع الميت بشيء؟ هل الآيات التى تأمرنا بالإصلاح والتعاون والتآخى، وتحثنا على الصبر والجهاد فى سبيل الله تنفع الميت بشيء؟

بالطبع كل هذه الآيات وما حملت إلينا من معان وأحكام وعظات وإنذار لا تنفع الميت بشيء، ولو كتبت بماء الذهب على صحائف من ذهب وعلقت على قبر الميت.

معنى سورة الفاتحة: وسورة الفاتحة شأنها شأن سور القرآن، لا تنفع الميت بشيء، وإلى القارئ الدليل على هذا من كتب السنة:

روى مسلم، عن أبى هريرة، رضى الله عنه، أن النبى صلى الله عليه وسلم، قال: «من صلى صلاة لم يقرأ فيها بأم الكتاب فصلاته خداج، خداج، خداج، غير تام»، فقيل لأبى هريرة: إنما نكون وراء الإمام، فقال: اقرأ بها فى نفسك، فإنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «قال الله تعالى: قسمت الصلاة بينى وبين عبدى نصفين، ولعبدى ما سأل، فإذا قال العبد:

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ، قال الله تعالى: حمدنى عبدى، وإذا قال: الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ، قال تعالى: أثنى علىّ عبدى، وإذا قال: مالِكِ يَوْمِ الدِّينِ، قال الله تعالى:

مجدنى عبدى، وإذا قال: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ، قال الله تعالى: هذه بينى وبين عبدى، ولعبدى ما سأل … » إلخ الحديث.
তোমাদের চরিত্র ও বাহ্যিক আমল সংশোধনের জন্য উত্তম উপদেশ, তোমাদের অন্তরের গোপন বিষয়গুলোর সংশোধন ও অভ্যন্তরীণ রোগসমূহের নিরাময়ের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা, দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য পর্যন্ত পৌঁছানো সিরাতুল মুস্তাকিমের জন্য সুস্পষ্ট হেদায়েত এবং মুমিনদের জন্য বিশেষ রহমত—যদ্দারা তারা একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে—তারই প্রয়োজন তোমাদের রয়েছে। সুতরাং এই তাফসীর থেকে আমরা জানতে পারি যে, আয়াতটি কেবল জীবিতদের জন্য নির্দিষ্ট, এতে মৃতদের কোনো অংশ নেই।

এরপর আমরা তাদেরকে এই প্রশ্ন করতে চাই: যেসব আয়াত আমাদেরকে সালাত আদায়, জাকাত প্রদান ও সওম পালনের নির্দেশ দেয় এবং আমাদের নিকট হজের আহকামের মূলনীতি বর্ণনা করে, সেগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে? যেসব আয়াত মৃত্যুর সময় অসিয়ত করার বিধান স্পষ্ট করে, বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্য থেকে কাদের সাথে বিবাহ বৈধ আর কাদের সাথে হারাম তা বর্ণনা করে এবং তালাকের বিধান স্পষ্ট করে, সেগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো কাজে লাগে? যেসব আয়াত ফাসাদ সৃষ্টিকারী এবং আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতদের পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করে, সেগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে?

যেসব আয়াত নেক আমলকারী মুমিনদের জান্নাতের সুসংবাদ দেয় এবং আল্লাহর নেয়ামতের মাঝে তাদের অবস্থান বর্ণনা করে, সেগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে? যেসব আয়াত আমাদেরকে নূহ, আদ, সামুদ ও কুরাইশ কাফেরদের কাহিনী এবং সেই জাতিগুলোর ধ্বংসের সংবাদ দেয় এবং ওইসব জাতি যে বিচ্যুতি ও গোমরাহীর পথ অবলম্বন করেছিল—যার ফলে তারা আল্লাহর ক্রোধ ও লানতের উপযুক্ত হয়েছিল—আমাদেরকে তাদের ন্যায় সেই পথ অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করতে এসেছে, সেই আয়াতগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে? যেসব আয়াত আমাদেরকে সংশোধন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর পথে সবর ও জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করে, সেগুলো কি মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে?

অবশ্যই এই সকল আয়াত এবং এগুলো আমাদের নিকট যেসব অর্থ, বিধান, উপদেশ ও সতর্কবার্তা বহন করে এনেছে, তার কোনোটিই মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না; এমনকি যদি সেগুলো স্বর্ণের পানি দিয়ে স্বর্ণের পাতায় লিখে মৃত ব্যক্তির কবরের ওপর ঝুলিয়েও রাখা হয়।

সূরা ফাতিহার মর্মার্থ: আর সূরা ফাতিহার বিষয়টিও কুরআনের অন্যান্য সূরার মতোই, এটিও মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না। পাঠকের জন্য সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে এর প্রমাণ নিচে উপস্থাপন করা হলো:

ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয়নি, তার সেই সালাত ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ এবং অপূর্ণাঙ্গ।" আবু হুরায়রাকে বলা হলো: আমরা তো ইমামের পেছনে থাকি। তিনি বললেন: তুমি মনে মনে তা পাঠ করো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে: "মহান আল্লাহ বলেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই সে পাবে। যখন বান্দা বলে:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তখন মহান আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন সে বলে: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। যখন সে বলে: বিচার দিবসের মালিক, তখন মহান আল্লাহ বলেন:

আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করল। আর যখন সে বলে: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি, তখন মহান আল্লাহ বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই সে পাবে … " হাদীসের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
ومن هذا الحديث نفهم أن الفاتحة هى مناجاة بين الله وبين عبده، وليس للميت فيها شىء تفيده أو تضره.

الميت لا ينفعه إلا عمله: أما الذى يفيد الميت وينفعه، هو أعماله وسعيه فى الدنيا، وذلك كما يقول المولى جل شأنه: وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسانِ إِلَّا ما سَعى وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرى ثُمَّ يُجْزاهُ الْجَزاءَ الْأَوْفى [النجم: 39 - 41]، كُلُّ نَفْسٍ بِما كَسَبَتْ رَهِينَةٌ [المدثر: 38]، يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ ما عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَراً وَما عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ [آل عمران: 30]، فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ [الزلزلة: 7، 8].

فهذه كلها نصوص تشهد بأن الميت لن ينتفع إلا بعمله وسعيه فى الدنيا؛ لأنها دار عمل، وبموته انقطع عمله، وليس له من عمل سوى ما بينه حديث النبى صلى الله عليه وسلم.

سوء استعمال القرآن: ولقد أساء كثير من المسلمين استعمال آيات القرآن، فهم يستأجرون المشايخ ليقرءونه فى المآتم، وعلى قبور الموتى؛ لجلب الرحمة والغفران لهم، ويضعون القرآن فى بيوتهم فى مجلد فاخر ليحفظ البيت من العفاريت، أو شبح الفقر، أو ليدفع عن العائلة شر الحاسدين، أو يعلقونه على أبواب المحلات التجارية أو الصناعية، أو بسيارتهم بقصد جلب الرزق ودفع الكساد عنهم، ويعلقونه فى شكل حجاب بجسم المريض ليشفيه، أو بجسم طفل وحيد أبويه ليحفظه من المرض، أو من عيون الحاسدين، أو ليطيل عمره؛ لأن من سبقوه من إخوته ماتوا أطفالا.

على هذا النحو السيئ يستعمل أكثر المسلمين آيات القرآن الكريم، وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا، مع أن الإسلام ينكر هذه العادات الذميمة، ويأمر بتركها، كما جاء فى كثير من الأحاديث النبوية.

حديث: «خذ من القرآن ما شئت لما شئت»: أما هذا الحديث، فلا أصل له، وهو مبتدع، حتى أنه لم يرد له ذكر فى كتب المحققين الذين بينوا لنا الأحاديث الصحيحة والمكذوبة والموضوعة، ويكفى هذا دليلا دامغا قويّا على أن هذا الكلام المنسوب لرسولنا صلى الله عليه وسلم ابتدعه تجار القرآن؛ ليكون لهم مورد رزق ومصدر عيش؛ لأنهم وجدوا فى هذا العمل حياة سهلة وناعمة، لا عمل فيها، ولا جهد، ولا عرق.
এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সূরা ফাতিহা হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মাঝে একটি নিভৃত সংলাপ, আর এতে মৃত ব্যক্তির জন্য এমন কিছু নেই যা তার উপকার বা অপকার করবে।

মৃত ব্যক্তি কেবল তার আমল দ্বারাই উপকৃত হয়: মৃত ব্যক্তির যা উপকারে আসে এবং তাকে যা ফায়দা দেয়, তা হলো দুনিয়াতে তার আমল ও প্রচেষ্টা। যেমনটি মহান প্রভু বলেন: "আর মানুষের জন্য তা-ই থাকে যার জন্য সে চেষ্টা করে। আর তার প্রচেষ্টা অচিরেই দেখা হবে। অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে" [আন-নাজম: ৩৯-৪১], "প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ" [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮], "যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি যা কিছু ভাল কাজ করেছে তা উপস্থিত পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও" [আল-ইমরান: ৩০], "সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা সে দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে তাও সে দেখবে" [আয-যিলযাল: ৭, ৮]।

এই সবগুলো উদ্ধৃতি এই সাক্ষ্য দেয় যে, মৃত ব্যক্তি দুনিয়াতে তার আমল ও প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে উপকৃত হবে না; কারণ দুনিয়া হচ্ছে কর্মের স্থান, আর মৃত্যুর মাধ্যমে তার আমল বন্ধ হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া তার আর কোনো আমল অবশিষ্ট নেই।

কুরআনের অপব্যবহার: অনেক মুসলিম কুরআনের আয়াতের অপব্যবহার করেছে। তারা শোকসভায় এবং কবরের পাশে কুরআন পড়ার জন্য মৌলভীদের ভাড়া করে, যাতে মৃতদের প্রতি রহমত ও ক্ষমা অর্জিত হয়। তারা ঘরকে ভূত-প্রেত বা দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে কিংবা পরিবারের ওপর থেকে হিংসুকদের অনিষ্ট হটাতে দামী বাঁধানো মলাটে কুরআন সাজিয়ে রাখে। আবার জীবিকা বৃদ্ধি ও মন্দা কাটানোর উদ্দেশ্যে ব্যবসার স্থানে বা গাড়িতে কুরআন ঝুলিয়ে রাখে। আর রোগমুক্তির জন্য রোগীর শরীরে অথবা একমাত্র সন্তানকে রোগব্যাধি ও হিংসুকের নজর থেকে বাঁচাতে কিংবা তার দীর্ঘায়ু কামনায় কবজ হিসেবে ঝুলিয়ে দেয়; কারণ তার পূর্বের ভাই-বোনরা শিশু অবস্থায় মারা গিয়েছিল।

এই মন্দ পদ্ধতিতেই অধিকাংশ মুসলিম পবিত্র কুরআনের আয়াত ব্যবহার করে থাকে, অথচ তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজ করছে। কিন্তু ইসলাম এই নিন্দনীয় অভ্যাসগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তা বর্জন করার নির্দেশ দেয়, যেমনটি অনেক হাদীসে এসেছে।

হাদীস: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো যে উদ্দেশ্যের জন্য ইচ্ছা": এই হাদীসটির কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়। এমনকি হাদীস বিশারদগণ যারা সহীহ, মিথ্যা ও বানোয়াট হাদীসসমূহ আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন, তাদের কিতাবসমূহেও এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে বর্ণিত এই কথাটি যে কুরআন ব্যবসায়ীরা তাদের জীবিকা ও উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে উদ্ভাবন করেছে—তার জন্য এটিই চূড়ান্ত ও শক্তিশালী প্রমাণ। কারণ তারা এই কাজের মধ্যে পরিশ্রম ও ঘামহীন এক সহজ ও আরামদায়ক জীবন খুঁজে পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌انتفاع الموتى بقراءة القرآن (1)

يقرأ كثير من الناس القرآن ثم يهبه للميت، فهل ينفعه ذلك؟

آيات وأحاديث: تعرف هذه المسألة بمسألة إهداء ثواب العبادة للموتى، وقد اختلفت فيها آراء العلماء، ومنشأ الاختلاف أنه وجد فى القرآن آيات تبين سنة الله فى الثواب والعقاب، وفى تبديل السيئات بالحسنات، ووجدت أحاديث صحيحة صريحة فى أن الوالدين ينتفعان بصدقة ولدهما، أو صومه، أو حجه عنهما؛ فمن الآيات قوله تعالى:

لَها ما كَسَبَتْ وَعَلَيْها مَا اكْتَسَبَتْ [البقرة: 286]، وقوله: قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاها وَقَدْ خابَ مَنْ دَسَّاها [الشمس: 9، 10]، وقوله: إِلَّا مَنْ تابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صالِحاً فَأُوْلئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ

سَيِّئاتِهِمْ حَسَناتٍ

[الفرقان: 70]، وقوله: أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّى [النجم: 33]، فهذه الآيات ونحوها ظاهرة فى أن الإنسان لا ينتفع إلا بسعيه وعمله الذى يزكى نفسه بالنية الطيبة والإخلاص لله.

أما الأحاديث التى وردت فى الموضوع، فكلها تدور حول الجواب عن سؤال واحد، هو: هل ينتفع أبى وأمى إذا صمت أو تصدقت أو حججت عنهما؟ وكان الجواب: نعم ينفعه ذلك.

اختلاف العلماء:

وأمام هذه الآيات وتلك الأحاديث اختلفت آراء العلماء، فرأى فريق أن الآيات مقدمة فى العمل على الأحاديث، والأحاديث ليس لها قوة الحكم على الآيات، وبذلك قرروا أن الإنسان لا ينتفع بعمل غيره أيّا كان ذلك العمل، وكيفما كان ذلك الغير.

ورأى فريق آخر أن الأحاديث صريحة فى انتفاع الوالدين بصدقة ولدهما أو حجه أو صومه عنهما، ثم قالوا: لا فرق بين الولد وغيره، وبذلك قرروا أن الإنسان ينتفع بعد موته بعمل غيره متى أهدى ثوابه إليه، وإن لم يكن من ولده، وقالوا: إن الثواب ملك للعامل، فله أن يتبرع به ويهديه إلى أخيه المسلم، ثم خرج هؤلاء الآيات تخريجا أوهن من موقفهم أمام المانعين، وكذلك كان موقفهم فى قياس غير الولد الذى لم يرد به نص، على الولد الذى ورد به نص مع وجود الفارق بينهما.

أما الدعاء فهو عبادة مستقلة، ثوابها للداعى فقط، والمدعو له إنما ينتفع بالاستجابة إذا حصلت، والاستجابة ليست أثرا لإهداء الداعى ثواب دعائه للميت، وإنما هى شأن

--------------------------------------------

(1) الفتاوى للشيخ محمود شلتوت.
‌‌কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মৃতদের উপকৃত হওয়া(১)

অনেক মানুষ কুরআন পাঠ করেন এবং তারপর তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, এতে কি মৃত ব্যক্তি উপকৃত হন?

আয়াত ও হাদিসসমূহ: এই বিষয়টি মৃতদের জন্য ইবাদতের সওয়াব উপহার দেওয়ার মাসআলা হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে ওলামাদের মতভেদ রয়েছে। এই মতভেদের উৎস হলো কুরআনের এমন কিছু আয়াত যা সওয়াব ও আজাব এবং পাপাচারকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাহ বর্ণনা করে। আবার এমন কিছু সহিহ ও সুস্পষ্ট হাদিস পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে, পিতা-মাতা তাদের সন্তানের সদকা, রোজা বা হজের মাধ্যমে উপকৃত হন। আয়াতগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর বাণী:

সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে [আল-বাকারাহ: ২৮৬]। আরও এরশাদ হয়েছে: অবশ্যই সফল হয়েছে সে, যে নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে সে, যে নফসকে কলুষিত করেছে [আশ-শামস: ৯, ১০]। আরও এরশাদ হয়েছে: তবে যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের

পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন

[আল-ফুরকান: ৭০]। আরও এরশাদ হয়েছে: তুমি কি তাকে দেখেছ যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে [আন-নাজম: ৩৩]। এই আয়াতগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতগুলো বাহ্যত একথাই নির্দেশ করে যে, মানুষ কেবল তার নিজস্ব প্রচেষ্টা ও আমল দ্বারাই উপকৃত হয়, যা সে উত্তম নিয়ত ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার মাধ্যমে নিজ সত্তাকে পরিশুদ্ধ করে অর্জন করে।

এই বিষয়ে যে হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে, তার সবকটি একটি প্রশ্নের উত্তরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, তা হলো: আমি যদি আমার পিতা-মাতার পক্ষ থেকে রোজা রাখি, সদকা করি বা হজ করি তবে কি তারা উপকৃত হবেন? উত্তর ছিল: হ্যাঁ, এতে তারা উপকৃত হবেন।

ওলামাদের মতভেদ:

এই সকল আয়াত ও হাদিসগুলোর প্রেক্ষিতে ওলামাদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। একদল মনে করেন যে, আমলের ক্ষেত্রে আয়াতগুলো হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে এবং হাদিসসমূহের এমন শক্তি নেই যা আয়াতের ওপর হুকুম জারি করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মানুষ অন্যের আমল দ্বারা কোনোভাবেই উপকৃত হয় না, সেই আমল যা-ই হোক এবং সেই ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন।

অন্য একদল মনে করেন যে, হাদিসগুলো পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানের সদকা, হজ বা রোজা করার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট। এরপর তারা বলেন: সন্তান এবং অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মৃত ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর অন্যের আমল দ্বারা উপকৃত হন যখন সেই আমলের সওয়াব তাকে উপহার দেওয়া হয়, যদিও সেই ব্যক্তি তার সন্তান না হয়। তারা বলেন: সওয়াব হলো আমলকারীর মালিকানাধীন বিষয়, তাই তার অধিকার আছে তা দান করার এবং তার মুসলিম ভাইকে উপহার দেওয়ার। এরপর তারা উক্ত আয়াতগুলোর এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা নিষেধকারীদের সামনে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। একইভাবে তাদের এই অবস্থান ছিল সেই ব্যক্তির কিয়াস বা তুলনার ক্ষেত্রে যার ব্যাপারে কোনো দলিল আসেনি (সন্তান ব্যতীত অন্য কেউ), সেই সন্তানের ওপর যার ব্যাপারে দলিল এসেছে, অথচ উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।

আর দোয়ার বিষয়টি হলো একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, যার সওয়াব কেবল দোয়াকারীর জন্যই। যার জন্য দোয়া করা হয় সে কেবল সেই দোয়ার কবুলিয়াতের মাধ্যমে উপকৃত হয় যদি তা কবুল হয়। এই কবুল হওয়াটা দোয়াকারীর পক্ষ থেকে তার দোয়ার সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার কোনো ফল নয়, বরং এটি একটি বিষয়...

--------------------------------------------

(১) শায়খ মাহমুদ শালতুতের ফাতাওয়া।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
خاص بالله للأحياء والأموات، أما القول بملكية الثواب للعامل، فواضح أنه ليس ملكا بالمعنى المتعارف فى متاع الدنيا لصاحبه نقله وتحويله، فهو توجيه فاسد، وبهذا يتبين أن إطلاق القول بجواز إهداء ثواب العمل، أيا كان من العامل وكيفما كان، لا تنهض له حجة، ولا يستقيم له دليل.

ولد الإنسان من سعيه: والرأى الذى أراه هو أن الآيات محكمة فى معناها، وأنها من شرع الله العام الذى لا يختص بقوم دون قوم، وأن الأحاديث الصحيحة التى أشرنا إليها خاصة بعمل الأبناء يهدون ثوابه للآباء، وقد صح فى الحديث أن ولد الإنسان من سعيه، وعمله من عمله، وبذلك كان انتفاع الوالدين بعمل ولدهما، وإهداء ثوابه إليهما مما تتناوله الآيات.

أما ما جرت به العادات من قراءة الأجانب القرآن، وإهداء ثوابها للأموات، والاستئجار على القراءة والحج، وإسقاط الصلاة والصوم، فكل ذلك ليس له مستند شرعى سليم، وهو فوق ذلك يقوم على النيابة فى العبادات التى لم تشرع إلا لتهذيب النفوس، وتبديل سيئاتها حسنات، وهذا لا يكون إلا عن طريق العمل الشخصى، كيف وقد صرح الجميع بأن ما اعتاده الناس من ذلك شىء حدث بعد عهد السلف، ولم يؤثر عن أحد منهم أنه عمل وأهدى لغير الوالدين، مع ظهور رغبتهم فى عمل الخير، ومحبتهم لإخوانهم الأحياء والأموات؟ والجدير بالمسلم أن يقف فى عبادته وفى شئون الثواب ومحو السيئات عند الحد الذى ورد، فبحسنات الإنسان تذهب سيئاته، وبتقواه تغفر ذنوبه، ولا شأن للإنسان فى الثواب يحوله، ولا فى السيئات يمحوها.

 

‌‌بدع حول القرآن (1)

فى أكثر من رسالة من الرسائل التى تلقيتها يسأل المواطنون من القراء عن حقيقة الأمر فى التداوى ببعض آيات القرآن الكريم أو الرقى بها، كما يسألون أيضا عن رقية المريض ببعض العبارات الخاصة المعتادة، وعن حكم الدين فى قراءة القرآن فى الطرقات العامة بقصد الارتزاق، مما نراه ونشاهده فى كثير من المدن والقرى، وما هو الرأى الصحيح فى قراءة القرآن على المقابر؟ وما الرأى فيما يذكر خاصا بفضل سور القرآن أو بعضها؟

--------------------------------------------

(1) الفتاوى للشيخ محمود شلتوت.
এটি জীবিত ও মৃতদের জন্য আল্লাহর সাথে খাস। পক্ষান্তরে আমলকারীর সওয়াবের মালিকানা লাভের বিষয়টি স্পষ্ট যে, এটি দুনিয়াবী ধন-সম্পদের মতো প্রচলিত কোনো মালিকানা নয় যে এর মালিক তা স্থানান্তর বা পরিবর্তন করতে পারবে। সুতরাং এটি একটি ভ্রান্ত ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আমলকারী যে-ই হোক বা আমল যেভাবেই করা হোক না কেন, আমলের সওয়াব উপহার দেওয়ার বৈধতার সাধারণ দাবিটির পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই এবং কোনো দলিলও টিকে থাকে না।

মানুষের সন্তান তার প্রচেষ্টার অংশ: আমার অভিমত হলো, আয়াতগুলো তার অর্থের ক্ষেত্রে অকাট্য এবং এগুলো আল্লাহর সেই সাধারণ বিধানের অন্তর্ভুক্ত যা কোনো বিশেষ জাতির জন্য নির্দিষ্ট নয়। আর আমরা যে সহীহ হাদীসগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, সেগুলো মূলত সন্তানদের আমলের সাথে খাস, যারা তাদের পিতামাতাকে সওয়াব উপহার দেয়। হাদীসে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের সন্তান তার স্বীয় প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত এবং সন্তানের আমল পিতার আমল হিসেবে গণ্য। ফলে সন্তানের আমলের দ্বারা পিতামাতার উপকৃত হওয়া এবং পিতামাতাকে সওয়াব উপহার দেওয়া ওই সকল আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে অনাত্মীয়দের দ্বারা কুরআন পাঠ করানো এবং তার সওয়াব মৃতদের উদ্দেশ্যে উপহার দেওয়া, কুরআন পাঠ ও হজ্জের জন্য বিনিময় প্রদান করা এবং নামায ও রোজার ফিদইয়া দেওয়ার যে প্রচলন রয়েছে, তার কোনো সঠিক শরয়ী ভিত্তি নেই। তদুপরি এটি এমন ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা মূলত নফস বা আত্মশুদ্ধি এবং মন্দ কাজকে নেক আমল দ্বারা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। আর এটি ব্যক্তিগত আমল ব্যতীত সম্ভব নয়। তাছাড়া যেখানে সকলে এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, মানুষের মাঝে প্রচলিত এসব প্রথা সালাফে সালেহীনের যুগের পরে উদ্ভূত হয়েছে এবং তাদের কারো থেকেই পিতামাতা ব্যতীত অন্য কাউকে আমল করে সওয়াব উপহার দেওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়নি—অথচ নেক আমলের প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ এবং জীবিত ও মৃত ভাইদের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসা ছিল সর্বজনবিদিত। একজন মুসলমানের জন্য উচিত হলো ইবাদত, সওয়াব লাভ এবং পাপ মোচনের ক্ষেত্রে বর্ণিত সীমারেখার মধ্যেই অবস্থান করা। কেননা মানুষের সৎকর্মের দ্বারাই তার মন্দ কর্মগুলো দূরীভূত হয় এবং তাকওয়ার মাধ্যমেই তার গুনাহ ক্ষমা করা হয়। সওয়াব স্থানান্তর করা বা পাপ মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কোনো হাত নেই।

 

‌‌কুরআন সংশ্লিষ্ট বিদআতসমূহ (১)

আমার নিকট আসা একাধিক পত্রে পাঠক নাগরিকগণ কুরআনের আয়াত দ্বারা চিকিৎসা করা বা এর মাধ্যমে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করার হাকীকত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি তারা প্রচলিত কিছু বিশেষ বাক্যের মাধ্যমে রোগীর ঝাড়ফুঁক করা এবং উপার্জনের উদ্দেশ্যে জনপথে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বীনি বিধান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করেছেন—যা আমরা অনেক শহর ও গ্রামে দেখতে পাই। এছাড়া কবরের ওপর কুরআন তিলাওয়াত করার সঠিক সিদ্ধান্ত কী? এবং কুরআনের বিভিন্ন সূরা বা এর অংশবিশেষের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়, সে বিষয়েই বা অভিমত কী?

--------------------------------------------

(১) শেখ মাহমুদ শালতুতের ফাতাওয়া।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
تلك خلاصة جملة من الرسائل أعرب مرسلوها عن رغبتهم فى الإجابة على ما يسألون، وهى كلها تدور حول هذا المعنى.

 

‌‌الغاية من إنزال القرآن (1)

ليس من شك فى أن القرآن أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم لغرض هو أسمى الأغراض وأنبلها، وهو هداية الناس إلى الحق عن طريقه، وإخراجهم مما هم فيه من الظلمات إلى النور، أنزله الله ليطهر القلوب من رجس الخضوع لغيره، ويرشد الناس إلى العقائد الصحيحة، وإلى العلوم النافعة، وإلى الأخلاق الفاضلة التى تحفظهم وتحفظ المجتمع من مزالق الهوى والشهوة، وأنزله أيضا ليرشد الناس إلى الأعمال الصالحة التى تسمو بالفرد والمجتمع إلى مكانة العزة والكرامة، وقد أرشد القرآن نفسه إلى هذه الغاية أو الغايات فى كثير من الآيات، فقال تعالى: يا أَهْلَ الْكِتابِ قَدْ جاءَكُمْ رَسُولُنا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيراً مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتابِ وَيَعْفُوا عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُماتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ [المائدة: 15، 16]، وقال تعالى: يا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفاءٌ لِما فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ [يونس: 57].

وبذلك كان القرآن شافيا لأمراض القلب التى تفسد على الإنسان حياته، وأمراض الصدور جهل بالحق، وشبهة تضعف الإيمان، وشهوة تغرى بالفساد، وقد تضمن

القرآن الكريم بنصوصه وإرشاداته ما يعالج البشرية من جهلها وشبهها وشهواتها.

ولم يختلف المسلمون الأولون فى هذه الحقيقة، بل آمنوا بها وحددوا الغاية التى لأجلها نزل القرآن، فأقبلوا على حفظه ودرسه، يستخرجون نفائسه، ويتعرفون أحكامه، ثم أخذوا يعالجون به القلوب من رجس العقائد الباطلة، والأخلاق الفاسدة، ويدفعون به المجتمع إلى سبل الخير والفلاح.

ومن هذا نعلم ما كان للقرآن الكريم من أثر وتوجيه فى حياة المسلمين الأولين، بيد أن المسلمين بعد ذلك ما لبثوا أن انحرفوا بالقرآن عما أنزل لأجله، واستخدم لأغراض لا تمت بأوهى الأسباب إليه، ولا هى مما ينبغى أن تستخدم أو تتخذ طريقا إليه.

انحراف بالقرآن عن وجهته: انحرف المسلمون المتأخرون بالقرآن الكريم إلى جهة

--------------------------------------------

(1) الفتاوى للشيخ محمود شلتوت.
এটি বেশ কিছু পত্রের সংকলনের সারসংক্ষেপ যেখানে প্রেরকগণ তাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন এবং এর সবটুকুই এই অর্থের চারপাশেই আবর্তিত।

 

‌‌কুরআন অবতীর্ণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (১)

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এক মহান ও মহত্তম উদ্দেশ্যে, আর তা হলো এর মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করা এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা। আল্লাহ তাআলা এটি নাযিল করেছেন অন্তরসমূহকে গায়রুল্লাহর প্রতি আনুগত্যের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করতে এবং মানুষকে সঠিক আকীদা, উপকারী ইলম ও সচ্চরিত্রের দিকে পথ দেখাতে, যা তাদেরকে এবং সমাজকে প্রবৃত্তি ও লালসার স্খলন থেকে রক্ষা করবে। তিনি এটি নাযিল করেছেন মানুষকে এমন নেক আমলের দিকেও দিকনির্দেশনা দিতে যা ব্যক্তি ও সমাজকে সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করবে। কুরআন নিজেই অনেক আয়াতে এই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে কিতাবীগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের কাছে স্পষ্ট করছেন এবং অনেক কিছু এড়িয়ে যাচ্ছেন। তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।" [আল-মায়িদাহ: ১৫, ১৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নসীহত এবং অন্তরের রোগের আরোগ্যকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে।" [ইউনুস: ৫৭]।

এভাবে কুরআন ছিল অন্তরের ব্যাধিসমূহের নিরাময়কারী যা মানুষের জীবনকে কলুষিত করে; আর অন্তরের ব্যাধিগুলো হলো সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, ঈমানকে দুর্বলকারী সংশয় এবং ফাসাদের দিকে প্ররোচিতকারী কুপ্রবৃত্তি। আল-কুরআনুল কারীম এর পাঠ ও নির্দেশনার মাধ্যমে মানবজাতিকে তাদের অজ্ঞতা, সংশয় ও লালসা থেকে মুক্ত করার চিকিৎসা ধারণ করেছে।

প্রথম যুগের মুসলিমগণ এই সত্যের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি, বরং তারা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং কুরআন যে উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করেছিলেন। ফলে তারা এটি মুখস্থ করা এবং অধ্যয়ন করার প্রতি মনোনিবেশ করেন, এর মূল্যবান মণি-মুক্তা আহরণ করেন এবং এর বিধানসমূহ সম্পর্কে অবগত হন। অতঃপর তারা এর মাধ্যমে বাতিল আকীদার অপবিত্রতা ও চরিত্রহীনতা থেকে অন্তরসমূহকে পরিশুদ্ধ করতে শুরু করেন এবং সমাজকে কল্যাণ ও সফলতার পথে ধাবিত করেন।

এর মাধ্যমে আমরা প্রথম যুগের মুসলিমদের জীবনে আল-কুরআনুল কারীমের প্রভাব ও দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জানতে পারি। কিন্তু পরবর্তীকালের মুসলিমরা খুব শীঘ্রই কুরআনকে যে উদ্দেশ্যে নাযিল করা হয়েছিল তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং একে এমন সব উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে শুরু করে যার সাথে এর সামান্যতম সম্পর্কও নেই, কিংবা একে সেভাবে ব্যবহার করা বা সেই লক্ষ্যে গ্রহণ করাও উচিত ছিল না।

কুরআনের গতিপথ থেকে বিচ্যুতি: পরবর্তীকালের মুসলিমগণ আল-কুরআনুল কারীমকে যে পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে...

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া, শায়খ মাহমুদ শালতুত।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخرى لم يتجه بها أحد من المسلمين الأولين، والسبب فى هذا الانحراف هو ما منى به العلماء من التعصب المذهبى، إذ حملهم هذا على الاكتفاء بما وصل إلى أيديهم من ترك السابقين، وقالوا: إن السابقين كفونا مئونة البحث فى آى الذكر الحكيم استنباطا لحكم شرعى، أو تفسيرا لآية، وجعلوا بينهم وبين النظر فى الكتاب حجابا كثيفا من التقليد والتعصب للمجتهدين السابقين، اعتزازا بفضلهم، وتابعهم المسلمون فى فهمهم، واتجهوا بالقرآن الكريم وجهة أخرى، حتى إننا نرى المسلمين اليوم، إلا من عصمه الله وقليل ما هم، هجروا القرآن الكريم ككتاب هداية وإرشاد، وشاعت بينهم فكرة تقديسه من جهات أخرى هى:

جهة التداوى به من أمراض الأبدان، وجهة استمطار الرحمة بقراءته على أرواح الموتى، وجهة تسول الفقراء به واستغلال عاطفة الإيمان عن طريقه، هذه البدع الثلاث، أو المنكرات الثلاثة، كانت أثرا لهجر المسلمين كتاب الله من الجهة التى أنزل لأجلها، وكانت فى الوقت نفسه عنوانا سيئا على إيمان المسلمين من حيث لا يشعرون بمكانة تلك المعجزة الخالدة، التى جعلها الله سبيلا لإنقاذ البشرية من الأوهام والخرافات، وكانت مع هذا وذاك عنوانا على الجهل بنظام الأسباب والمسببات، الذى نظم الله عليه العالم، وهدى الناس إلى السير فى سبيله: أَعْطى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدى [طه:

50]، يجعل الله القرآن سبيلا لإنقاذ البشرية من الأوهام والخرافات، ويعكس نفر من المسلمين القضية، فيجعلونه سبيلا من سبل الأوهام، وعنوانا على الجهل بأسرار الله ونظام الله.

الدين والعقل لا يقران هذا الانحراف: وإن تعجب فعجب أن تكتب الآية القرآنية الحكيمة فى إناء ثم تمحى بالماء، ثم يؤمر المريض بشربه، أو تكتب قطع صغيرة من الورق، ثم تلف كالبرشام، ويؤمر المريض بابتلاعها، أو تحرق تلك القطع ويبخر المريض بها على مرات، أو توضع فى خرقة وتعلق حجابا فى مكان معين من جسم المريض، وبهذا ونحوه اتخذ الدجالون القرآن الكريم وسيلة لكسب العيش من طريق يأباه الإيمان، ويصدقه كثير من المسلمين.

وذلك فضلا عن أنه انحراف بالقرآن عما أنزل لأجله، فإن فيه إفسادا للعقول الضعيفة، وصرفا لأربابها عن طريق العلاج الصحيح، وتغييرا لسنة الله فى الأسباب والمسببات، واحتيالا على أكل أموال الناس بالباطل، وهذا تصرف لا يقره دين ولا يرضى به عقل سليم، فإذا تركنا هؤلاء الدجالين يعبثون فى القرى والمدن بالقرآن
অন্য একটি পথ, যার দিকে প্রথম যুগের মুসলিমদের কেউ অগ্রসর হননি। এই বিচ্যুতির কারণ হলো আলেমদের মধ্যে বিদ্যমান মাযহাবী গোঁড়ামি, যা তাদের পূর্ববর্তীদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের ওপর সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য করেছে। তারা বলেছেন: পূর্বসূরিরা কোনো শরয়ী বিধান আহরণ বা কোনো আয়াতের তাফসীর করার ক্ষেত্রে মহিমান্বিত যিকিরের আয়াতসমূহ গবেষণার কষ্ট থেকে আমাদের মুক্ত করে গেছেন। তারা নিজেদের এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করার মাঝে পূর্ববর্তী মুজতাহিদদের প্রতি তাকলীদ ও গোঁড়ামির এক পুরু পর্দা তৈরি করে নিয়েছেন, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের গর্বে। সাধারণ মুসলিমরা তাদের এই বুঝের অনুসরণ করেছে এবং তারা কুরআন কারীমকে অন্য এক দিকে নিয়ে গেছে। এমনকি আজ আমরা মুসলিমদের দেখছি—আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত, আর তাদের সংখ্যা খুবই অল্প—তারা কুরআন কারীমকে হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনের কিতাব হিসেবে পরিত্যাগ করেছে। তাদের মধ্যে কুরআনকে অন্যান্য দিক থেকে পবিত্র জ্ঞান করার ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, যা হলো:

শারীরিক রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা, মৃতদের আত্মার ওপর তিলাওয়াত করে রহমত বর্ষণের মাধ্যম বানানো এবং দরিদ্রদের এর মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি করা ও ঈমানি আবেগকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করা। এই তিনটি বিদআত বা তিনটি অন্যায় কাজ হলো মুসলিমদের আল্লাহর কিতাবকে সেই উদ্দেশ্য থেকে পরিত্যাগ করারই ফল, যে উদ্দেশ্যে এটি নাযিল করা হয়েছিল। একই সাথে এটি মুসলিমদের ঈমানের একটি মন্দ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে তারা অজান্তেই সেই চিরন্তন মুজিযার মর্যাদাহানি করছে, যা আল্লাহ মানবজাতিকে অলীক কল্পনা ও কুসংস্কার থেকে উদ্ধারের পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি এটি ছিল কার্যকারণ ব্যবস্থার প্রতি অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ বিশ্বজগত পরিচালনা করেন এবং মানুষকে সেই পথে চলার হিদায়াত দিয়েছেন: তিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, এরপর পথ প্রদর্শন করেছেন [ত্বহা:

৫০]। আল্লাহ কুরআনকে মানবজাতিকে অলীক কল্পনা ও কুসংস্কার থেকে উদ্ধারের পথ বানিয়েছেন, অথচ একদল মুসলিম বিষয়টিকে উল্টে দিয়ে একে ভ্রান্ত ধারণার একটি পথ এবং আল্লাহর রহস্য ও তাঁর ব্যবস্থার প্রতি অজ্ঞতার নিদর্শনে পরিণত করেছে।

ধর্ম ও বিবেক এই বিচ্যুতিকে সমর্থন করে না: আর বিস্ময়কর বিষয় হলো, কুরআনের প্রজ্ঞাপূর্ণ আয়াত কোনো পাত্রে লেখা হয় এবং তারপর পানি দিয়ে মুছে ফেলা হয়, এরপর রোগীকে তা পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়; অথবা ছোট কাগজের টুকরোয় লিখে বড়ির মতো পেঁচিয়ে রোগীকে তা গিলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়; অথবা সেই টুকরোগুলো পুড়িয়ে বার বার রোগীকে ধোঁয়া দেওয়া হয়; অথবা কাপড়ের টুকরোয় রেখে তাবিজ হিসেবে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর মাধ্যমে এবং এই ধরনের অন্যান্য উপায়ে প্রতারকরা কুরআন কারীমকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে এমন এক পথে যা ঈমান প্রত্যাখ্যান করে, অথচ বহু মুসলিম তা বিশ্বাস করে।

কুরআন যে উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি এটি দুর্বল মেধার মানুষের চিন্তাভাবনাকে কলুষিত করে, তাদের সঠিক চিকিৎসার পথ থেকে সরিয়ে দেয়, কার্যকারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম পরিবর্তন করে এবং অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাতের প্রতারণা মাত্র। এটি এমন এক আচরণ যা কোনো ধর্ম সমর্থন করে না এবং কোনো সুস্থ বিবেক এতে সন্তুষ্ট হয় না। এমতাবস্থায় যদি আমরা এই প্রতারকদের গ্রাম ও শহরগুলোতে কুরআন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলতে ছেড়ে দিই...
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبالعقول الضعيفة على هذا النحو، وسرت فى شوارع القاهرة أو غيرها من المدن، فإنك ترى المتسولين وقد جلس أحدهم، رجلا أو امرأة، فى ملتقى الطرقات، أو مواقف المواصلات، أو على أبواب المساجد والأضرحة، يقرأ القرآن، باسطا كفه للغادين والرائحين بقصد التسول، ترى هذا المنظر المفجع بين الأحياء، فإذا ما ذهبت إلى المقابر رأيت ما هو أدهى وأمر، رأيت الفقراء من حملة القرآن يتسابقون إلى المقبرة، وقد اندسوا بين أفواج الزائرين والزائرات، يساومونهم على مقدار ما يقرءون، ومقدار ما يأخذون ثمنا لما يقرءون.

وفى هذه المشاهد كلها لا تسمع قرآنا، وإنما تسمع هذرمة فى القراءة، وإخلالا بواجبها، وإخراجا للقرآن ذى الروعة والجمال إلى ذلك المنظر المزرى الذى يفزّز النفوس، ويجرح الصدور، ويبعده فى نظر السامعين عن أن يكون طريق الهداية والإرشاد من رب العالمين.

القرآن ودواء الأمراض البدنية: إن الأمراض البدنية قد خلق الله لها عقاقير طبية فيها خاصة الشفاء، وأرشد إلى البحث عنها والتداوى بها، وقد صح أن النبى صلى الله عليه وسلم دخل على مريض يعوده، فلما رآه طلب من أهله أن يرسلوا إلى طبيب، فقال قائل: وأنت تقول ذلك يا رسول الله؟ فقال عليه السلام: «نعم، إن الله عز وجل لم ينزل داء إلا أنزل له دواء»، فعل النبى صلى الله عليه وسلم ذلك إرشادا لأمته إلى أن التداوى من الأمراض البدنية من طريق الطب البشرى الذى يعرف الدواء، أما القرآن فلم ينزله الله دواء لأمراض الأبدان، وإنما أنزله كما قال: دواء لأمراض القلوب وشفاء لما فى الصدور.

وإذا كانت أمراض الأبدان أمراضا مادية، وشفاؤها بأدوية مادية، فأمراض القلوب أمراض معنوية، وشفاؤها بأدوية معنوية، والقرآن قد عالج مرض الجهل بالعلم، ومرض الشبهة بالبرهان، ومرض الشهوة بالحكمة، وما التداوى فى الأمراض البدنية بالقرآن إلا كقراءة الختمات للنصر على الأعداء فى ميدان القتال، وإلا كقراءة ما يسميه العامة عدية ياسين تحصيلا للرغبات، كلاهما وضع للعلاج المعنوى مكان العلاج المادى، وكلاهما قلب لنظام الله تعالى فى خلقه، وعروج بالقرآن الكريم عما أنزل لأجله.

القراءة على الموتى (1): أما استمطار الرحمة على الموتى، فإنه لا يكون إلا بعمل مشروع، كالدعاء، والصدقة، بشرط أن يكون خالصا لوجه الله الكريم، أما ما لم يشرعه

--------------------------------------------

(1) الفتاوى للشيخ محمود شلتوت.
দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের মাধ্যমে এভাবেই, আপনি যদি কায়রো বা অন্য কোনো শহরের রাস্তায় চলেন, তবে দেখবেন ভিক্ষুকদের কেউ কেউ—পুরুষ হোক বা নারী—রাস্তার মোড়ে, যানবাহনের স্টেশনে অথবা মসজিদ ও মাজারের দরজায় বসে কোরআন পড়ছে এবং ভিক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনবসতির মাঝে আপনি এই শোচনীয় দৃশ্য দেখতে পাবেন। আবার যখন আপনি কবরস্থানে যাবেন, তখন দেখবেন এর চেয়েও ভয়াবহ ও তিক্ত দৃশ্য। আপনি দেখবেন কোরআন বহনকারী একদল অভাবী লোক কবরস্থানে প্রতিযোগিতা করছে এবং জিয়ারতকারী নারী-পুরুষদের ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে তারা কতটুকু পড়বে এবং তার বিনিময়ে কত টাকা নেবে তা নিয়ে দরকষাকষি করছে।

এই সমস্ত দৃশ্যের কোথাও আপনি প্রকৃত কোরআন শুনতে পাবেন না, বরং আপনি শুনতে পাবেন দ্রুত ও অগোছালো পাঠ এবং এর হকের লঙ্ঘন। যা সেই মহিমান্বিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত কোরআনকে এমন এক অবমাননাকর দৃশ্যে রূপান্তর করে যা আত্মাকে আতঙ্কিত করে, অন্তরকে ব্যথিত করে এবং শ্রোতাদের দৃষ্টিতে একে রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে হেদায়েত ও দিকনির্দেশনার পথ হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

কোরআন এবং শারীরিক রোগের চিকিৎসা: শারীরিক রোগব্যাধির জন্য আল্লাহ তাআলা এমন ভেষজ ও ওষুধ সৃষ্টি করেছেন যাতে আরোগ্য নিহিত রয়েছে এবং তিনি তা অনুসন্ধান ও তার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক রোগীকে দেখতে গেলেন। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তখন তার পরিবারের কাছে একজন চিকিৎসক পাঠানোর অনুরোধ করলেন। জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি এমন কথা বলছেন? তিনি আলাইহিস সালাম বললেন: «হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিকার বা ওষুধ তিনি নাজিল করেননি», নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি করেছেন তাঁর উম্মতকে এই নির্দেশনা দেওয়ার জন্য যে, শারীরিক রোগের চিকিৎসা করতে হবে মানবীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের মাধ্যমে যা ওষুধ সম্পর্কে অবগত। পক্ষান্তরে, কোরআনকে আল্লাহ তাআলা শারীরিক রোগের ওষুধ হিসেবে নাজিল করেননি, বরং তিনি একে নাজিল করেছেন—যেমনটি তিনি বলেছেন—অন্তরসমূহের রোগের ওষুধ এবং বক্ষসমূহের আরোগ্য হিসেবে।

শারীরিক রোগসমূহ যদি বস্তুগত হয় এবং তার নিরাময় যদি বস্তুগত ওষুধের মাধ্যমে হয়, তবে অন্তরের রোগসমূহ হলো আধ্যাত্মিক এবং তার নিরাময়ও আধ্যাত্মিক উপায়ে। কোরআন অজ্ঞতার রোগকে জ্ঞান দিয়ে, সংশয়ের রোগকে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে এবং কুপ্রবৃত্তির রোগকে প্রজ্ঞা দিয়ে চিকিৎসা করেছে। কোরআনের মাধ্যমে শারীরিক রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করা ঠিক যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য খতম পড়ার মতো অথবা সাধারণ মানুষ যেমনটি আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য ইয়াসিনের আমল (আদিয়্যা ইয়াসিন) করে থাকে। এ উভয় ক্ষেত্রেই বস্তুগত চিকিৎসার স্থলে আধ্যাত্মিক চিকিৎসাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, আর এ উভয়ই সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সুনির্ধারিত ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং পবিত্র কোরআনকে যে উদ্দেশ্যে নাজিল করা হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত করা।

মৃতদের জন্য পাঠ (১): মৃতদের ওপর রহমত কামনা করতে হবে কেবল শরিয়তসম্মত আমলের মাধ্যমে, যেমন দোয়া ও সদকা—শর্ত হলো তা একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। পক্ষান্তরে যা তিনি শরিয়তসম্মত করেননি...

--------------------------------------------

(১) শায়খ মাহমুদ শালতুত-এর আল-ফাতাওয়া।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الله ولم يأذن به أو شرعه، ولكن فعله الإنسان بأجر يأخذه من أخيه الإنسان، فثوابه هو ذلك الأجر، ولا ثواب له عند الله، وإذا لم يكن للقراءة ثواب عند الله لا للقارئ؛ لأنه أخذ أجره ممن استأجره، ولا للمستاجر؛ لأنه لم يقرأ شيئا، فأى شىء يصل من هذه القراءة إلى الموتى؟ إن رحمة الله للموتى شأن من شئونه الغيبية استأثر بها، ومنه وحده تعرف سبلها، وقد بين تلك السبل فى كتابه الكريم، وكل ما يفعله المرء من تلقاء نفسه فى هذا الشأن هجوم منه على الغيب وتقول على الله بغير علم، وتحكم فيما لا يحكم فيه إلا الله.

التسول بالقرآن: وإذا كان التسول بالوضع الذى نراه اليوم يمقته فى ذاته الشرع والدين، وتأباه الكرامة والخلق، ولا ترضاه لنفسها أمة تريد المجد، فما بالنا به إذا اتخذ القرآن الكريم وسيلة له، واعتراض به المارة فى الطرقات، والمصلين فى المساجد، والراكبين فى السيارات والقطارات. علينا أن نبذل قصارى جهدنا فى صيانة كتاب الله عن الابتذال، وأن نوجه الناس إلى جهة الانتفاع بالقرآن الكريم، وإلى ما يحفظ كرامتنا بين الأمم عن طريق الأسباب التى وضعها سبيلا للمجد والكرامة.

فضل بعض السور: أما ما جاء عن فضل سور القرآن وتلاوتها، من درجات الثواب التى يحصل عليها قارئ هذه السورة أو تلك، مما رددته بعض كتب التفاسير، فالواقع أنى فى قراءتى لهذه التفاسير انتهيت إلى أن ما جاء فى ذلك من أحاديث إنما قصد به التناسب بينها وبين ما احتوت عليه هذه السورة أو السور، واعترانى شك من جهة أن سور القرآن البالغ عددها (114) سورة، كان الرسول صلى الله عليه وسلم يتحدث عن كل سورة منها بما يناسبها، والذى نعلمه أن الرسول ما كان يرتب الثواب على مجرد القراءة، وإنما كان يرتبه على الإيمان والعمل الصالح.

والمسألة ليست مسألة مجرد قراءة فحسب، ولعلك تدرى الحكمة القائلة: كم من قارئ يقرأ القرآن والقرآن يلعنه. وقد دفعنى ما وقعت فيه من شك أن أبحث عن أصل الأحاديث، فوجدت أنها ترجع إلى أصل واحد، وأن الذى تحث بها وتكلم بها رجل يسمى نوح ابن مريم، وقد سئل فى هذا، فقال: إنى وجدت الناس قد شغلوا بتاريخ ابن إسحاق، وفقه أبى حنيفة عن القرآن، فأحببت أن ألفتهم إلى القرآن، فوضعت هذه الأحاديث، حسبة لله.

الرّقية دعاء لا دواء: أما الرقى بالأدعية، فإنها تفسر على نوع من الدعاء، ولكنها لا تقبل على أنها دواء للمريض من الداء، فللأدواء علاجها مما خلق الله من العقاقير.
আল্লাহ এবং তিনি এর অনুমতি দেননি বা এটিকে বিধিবদ্ধ করেননি, বরং মানুষ তার ভাই মানুষের কাছ থেকে নেওয়া পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এটি করেছে। ফলে তার সওয়াব বা প্রতিদান হলো সেই পারিশ্রমিকই, আল্লাহর কাছে তার কোনো সওয়াব নেই। আর যদি পাঠের কোনো সওয়াব আল্লাহর কাছে না থাকে—না পাঠকের জন্য, কারণ সে তো ভাড়াদাতার কাছ থেকে তার পারিশ্রমিক নিয়ে নিয়েছে; আর না ভাড়াদাতার জন্য, কারণ সে তো কিছুই পাঠ করেনি—তাহলে এই পাঠ থেকে মৃত ব্যক্তির কাছে কী পৌঁছাবে? মৃতদের প্রতি আল্লাহর রহমত বা দয়া তাঁর অদৃশ্যের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন। কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই এর পথগুলো জানা সম্ভব, আর তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে সেই পথগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই বিষয়ে কোনো ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে যা কিছু করে, তা অদৃশ্যের ওপর তার এক প্রকার আক্রমণ এবং জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর নামে মিথ্যাচার, আর এমন বিষয়ে নিজের বিধান চালানো যাতে কেবল আল্লাহই বিধান দেওয়ার অধিকারী।

কুরআনের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি: বর্তমানকালে আমরা যে অবস্থায় ভিক্ষাবৃত্তি দেখি, যদি তা স্বয়ং শরিয়ত ও দ্বীনের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য হয়, মর্যাদা ও চরিত্রের পরিপন্থী হয় এবং আত্মমর্যাদাশীল কোনো জাতি নিজের জন্য তা পছন্দ না করে, তবে সেই ভিক্ষাবৃত্তির জন্য যদি পবিত্র কুরআনকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন আমাদের অবস্থা কী দাঁড়াবে? যখন এর মাধ্যমে রাস্তাঘাটে পথচারীদের, মসজিদে মুসল্লিদের এবং গাড়ি ও ট্রেনের যাত্রীদের বিরক্ত করা হয়। আল্লাহর কিতাবকে অবমাননা থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করা উচিত এবং মানুষকে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার দিকে এবং আমাদের মর্যাদা রক্ষার দিকে পরিচালিত করা উচিত, যা তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

নির্দিষ্ট কিছু সূরার ফজিলত: আর কুরআনের সূরাসমূহের ফজিলত এবং সেগুলো পাঠের সওয়াবের স্তর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে—যা এই বা সেই সূরার পাঠক লাভ করবেন বলে কোনো কোনো তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে—প্রকৃতপক্ষে এই তাফসিরগুলো পড়ার সময় আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সূরা বা সূরাগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা। আমার মনে একটি সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে এই কারণে যে, কুরআনের ১১৪টি সূরার প্রত্যেকটি সম্পর্কেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সূরার উপযুক্ত ফজিলত বর্ণনা করেছেন (তা অসম্ভব মনে হয়)। আমরা যা জানি তা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল পাঠ করার ওপর সওয়াব নির্ধারণ করতেন না, বরং তিনি সওয়াব নির্ধারণ করতেন ঈমান ও নেক আমলের ওপর।

বিষয়টি কেবল নিছক পাঠ করার বিষয় নয়। আপনি সম্ভবত সেই প্রজ্ঞাটি জানেন: "অনেক কুরআন পাঠকারী এমন আছে যাদের ওপর কুরআন অভিশাপ দেয়।" আমার মনে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল তা আমাকে এই হাদিসগুলোর মূল অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। আমি দেখতে পেলাম যে, এগুলোর উৎস এক এবং যিনি এগুলো বর্ণনা করেছেন ও বলেছেন তিনি নূহ ইবনে মারইয়াম নামে এক ব্যক্তি। এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি দেখলাম মানুষ ইবনে ইসহাকের ইতিহাস এবং আবু হানিফার ফিকহ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে কুরআন ছেড়ে দিয়েছে, তাই আমি তাদেরকে কুরআনের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য সওয়াবের আশায় এই হাদিসগুলো তৈরি করেছি।"

রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক হলো দোয়া, ওষুধ নয়: আর দোয়ার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার বিষয়টি এক প্রকার দোয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু কোনো রোগের জন্য রোগীর জন্য এটি ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কেননা রোগের চিকিৎসা হলো আল্লাহ তাআলা যেসব ভেষজ বা ওষুধ সৃষ্টি করেছেন তার মাধ্যমে করা।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
بعد هذا البيان لا يسعنى إلا أن أدعو المسلمين إلى أن ينظروا للقرآن النظرة اللائقة بمكانته، وأن يضعوه فى المرتبة السامية التى وضعه فيها المسلمون الأولون، وأن يمحوا من أذهانهم أن آياته نزلت لدواء الأبدان، أو لشفاء العلل، وإنما هو هدى ورحمة وتشريع، وتنوير للبصائر، وسمو بالإنسانية، وتقويض للشرك، وهدم للباطل، ونصرة للحق، والله يهدينا سواء السبيل.

 

‌‌وجوب طاعة الله وطاعة رسوله، ووعيد المخالفين

وطاعة الله فى اتباع كتابه، وطاعة الرسول فى اتباع سنته، قال الله تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا [النساء: 59].

وقال تعالى: وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جاؤُكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّاباً رَحِيماً فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً [النساء: 64، 65].

وقال: وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها وَذلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ ناراً خالِداً فِيها وَلَهُ عَذابٌ مُهِينٌ [النساء: 13، 14].

وقال جل علاه: وَما كانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالًا مُبِيناً [الأحزاب:

36].

وقال: وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نارَ جَهَنَّمَ خالِدِينَ فِيها أَبَداً [الجن: 23].

وقال: وَمَنْ يُشاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ ما تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَساءَتْ مَصِيراً [النساء: 115].

وقال: إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَما كُبِتَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ [المجادلة:

5].
এই বিবৃতির পর, মুসলমানদের প্রতি আমার আহ্বান এই যে, তারা যেন কুরআনের প্রতি তার মর্যাদার উপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং একে সেই সুউচ্চ আসনে আসীন করেন যে আসনে প্রথম যুগের মুসলমানগণ একে স্থাপন করেছিলেন। তারা যেন তাদের মন থেকে এই ধারণা মুছে ফেলেন যে, এর আয়াতসমূহ কেবল দেহের ঔষধ কিংবা রোগের নিরাময়ের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে; বরং এটি হলো হিদায়াত, রহমত, বিধান, অন্তর্দৃষ্টির আলোকবর্তিকা, মানবতার উৎকর্ষ, শিরকের মূলোৎপাটন, বাতিলের বিনাশ এবং হকের বিজয়। আর আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

 

‌‌আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং বিরোধিতাকারীদের জন্য হুঁশিয়ারি

আল্লাহর কিতাব অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর আনুগত্য সম্পন্ন হয়, আর রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে রাসূলের আনুগত্য সম্পন্ন হয়। মহান আল্লাহ বলেন: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল), তাদেরও। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে শ্রেষ্ঠতর। [নিসা: ৫৯]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে কেবল এই উদ্দেশ্যেই পাঠিয়েছি যেন আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর আনুগত্য করা হয়। আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা তোমার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত। সুতরাং না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়। [নিসা: ৬৪, ৬৫]।

তিনি বলেন: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই মহা সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। [নিসা: ১৩, ১৪]।

প্রতাপশালী মহান সত্তা বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার (নিজস্ব সিদ্ধান্তের অধিকার) থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় পতিত হবে। [আহযাব: ৩৬]।

তিনি বলেন: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। [জিন্ন: ২৩]।

তিনি বলেন: হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস! [নিসা: ১১৫]।

তিনি বলেন: নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদের। [মুজাদালাহ: ৫]।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال: إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولئِكَ فِي الْأَذَلِّينَ [المجادلة: 20].

وقال: وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً [الأحزاب: 71].

وقال: وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولئِكَ هُمُ الْفائِزُونَ [النور:

52].

وقال: وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا [النور: 54].

وقال: وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ وَمَنْ يَتَوَلَّ يُعَذِّبْهُ عَذاباً أَلِيماً [الفتح: 17].

وقال: وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّما عَلى رَسُولِنَا الْبَلاغُ الْمُبِينُ [التغابن: 12].

وقال: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمالَكُمْ [محمد: 33].

وقال: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقابِ [الحشر: 7].

 

‌‌الأمر بتدبر وتفهم القرآن

حم تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ كِتابٌ فُصِّلَتْ آياتُهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ بَشِيراً وَنَذِيراً فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لا يَسْمَعُونَ [فصلت: 1 - 4].

وقال: كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبابِ [ص:

29].

وقال تعالى: وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ (1) [القمر: 17].

وقال: فَما لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُسْتَنْفِرَةٌ فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ [المدثر: 49، 51].

وقال: مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْراةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوها كَمَثَلِ الْحِمارِ يَحْمِلُ أَسْفاراً بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ [الجمعة: 5].

--------------------------------------------

(1) أى يسرنا لفظه ومعناه فهل من متذكر منزجر به.
তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত [আল-মুজাদালাহ: ২০]।

তিনি বলেছেন: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে [আল-আহযাব: ৭১]।

তিনি বলেছেন: আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম [আন-নূর:

৫২]।

তিনি বলেছেন: আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হেদায়াত পাবে [আন-নূর: ৫৪]।

তিনি বলেছেন: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত। আর যে বিমুখ হবে, তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন [আল-ফাতহ: ১৭]।

তিনি বলেছেন: তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। তবে যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমাদের রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া [আত-তাগাবুন: ১২]।

তিনি বলেছেন: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না [মুহাম্মদ: ৩৩]।

তিনি বলেছেন: রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা [আল-হাশর: ৭]।

 

‌‌কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং তা অনুধাবন করার নির্দেশ

হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত, আরবী কুরআন হিসেবে সেই কওমের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। এটি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, তাই তারা শোনে না [ফুসসিলাত: ১ - ৪]।

তিনি বলেছেন: এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে [সোয়াদ:

২৯]।

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: আর আমি তো কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (১) [আল-কামার: ১৭]।

তিনি বলেছেন: তাদের কী হলো যে তারা উপদেশ থেকে বিমুখ হচ্ছে? যেন তারা ত্রস্ত গাধা, যা সিংহের ভয়ে পলায়ন করছে [আল-মুদ্দাসসির: ৪৯, ৫১]।

তিনি বলেছেন: যাদের তাওরাত বহনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ হলো গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না নিকৃষ্ট [আল-জুমুআ: ৫]।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আমি এর শব্দ ও অর্থ সহজ করে দিয়েছি, অতএব এমন কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি যে এর দ্বারা (মন্দ কাজ থেকে) বিরত হবে?
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال: لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِها وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِها وَلَهُمْ آذانٌ لا يَسْمَعُونَ بِها أُولئِكَ كَالْأَنْعامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولئِكَ هُمُ الْغافِلُونَ [الأعراف: 179].

وقال لنبيه: قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدىً وَشِفاءٌ وَالَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ فِي آذانِهِمْ وَقْرٌ (1) وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولئِكَ يُنادَوْنَ مِنْ مَكانٍ بَعِيدٍ (2) [فصلت: 44].

وقال: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً [النساء: 82].

وقال: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ (3) عَلى قُلُوبٍ أَقْفالُها [محمد: 24].

وقال: قَدْ كانَتْ آياتِي تُتْلى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ عَلى أَعْقابِكُمْ تَنْكِصُونَ (4) مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سامِراً (5) تَهْجُرُونَ أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جاءَهُمْ ما لَمْ يَأْتِ آباءَهُمُ الْأَوَّلِينَ [المؤمنون:

66 - 68].

 

‌‌وعيد المعرضين عن القرآن

قال تعالى: وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيامَةِ أَعْمى قالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيراً قالَ كَذلِكَ أَتَتْكَ آياتُنا فَنَسِيتَها وَكَذلِكَ الْيَوْمَ تُنْسى [طه: 124 - 126].

وقال: وَقَدْ آتَيْناكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْراً مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيامَةِ وِزْراً خالِدِينَ فِيهِ وَساءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيامَةِ حِمْلًا [طه: 99 - 101].

وقال: وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمنِ (6) نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطاناً فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ [الزخرف: 36].

--------------------------------------------

(1) الوقر: الثقل فى الأذن.

(2) أى كأن من يخاطبهم يناديهم من مكان بعيد لا يفهمون منه ما يقوله لهم «كمثل الذى ينعق بما لا يسمع إلا دعاء ونداء صم بكم عمى فهم لا يعقلون».

(3) أم: بمعنى بل، أى بل على قلوب أقفالها فهى مطبقة لا يصل إليها شىء من معانى.

(4) النكوص: الإحجام عن الشيء والرجوع.

(5) أى تسامرون ويقولون القول الفاحش فى النبى صلى الله عليه وسلم.

(6) الإعشاء: عدم الإبصار بالنهار.
তিনি বলেন: তাদের হৃদয় রয়েছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা তার চেয়েও বেশি বিভ্রান্ত। তারাই হলো গাফেল (উদাসীন)। [আল-আরাফ: ১৭৯]।

তিনি তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন: বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও নিরাময়। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা (১) এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্বস্বরূপ। তাদের যেন দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে (২)। [ফুসসিলাত: ৪৪]।

তিনি বলেন: তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ খুঁজে পেত। [আন-নিসা: ৮২]।

তিনি বলেন: তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না, নাকি (৩) তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে? [মুহাম্মদ: ২৪]।

তিনি বলেন: তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, কিন্তু তোমরা উল্টো পায়ে ফিরে যেতে (৪), অহংকারবশত রাতের আড্ডায় (৫) তোমরা আবোলতাবোল বকতে। তবে কি তারা এই বাণী (কুরআন) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? [আল-মুমিনুন:

৬৬ - ৬৮]।

 

‌কুরআন থেকে বিমুখ ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবাণী

আল্লাহ তাআলা বলেন: আর যে আমার স্মরণ (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। অনুরূপভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে। [ত্বহা: ১২৪ - ১২৬]।

তিনি বলেন: আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে দান করেছি এক যিকির (কুরআন)। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কিয়ামতের দিন গুনাহের বোঝা বহন করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কিয়ামতের দিন তাদের এই বোঝা কতই না মন্দ! [ত্বহা: ৯৯ - ১০১]।

তিনি বলেন: যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ (কুরআন) থেকে উদাসীন হয় (৬), আমি তার জন্য এক শয়তান নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সে হয় তার সহচর। [আয-যুখরুফ: ৩৬]।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াকর: কানের বধিরতা বা ভারী হওয়া।

(২) অর্থাৎ, যেন তাদের সম্বোধনকারী ব্যক্তি তাদের কোনো দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকছে, যার ফলে তারা তার কথা বুঝতে পারছে না। "তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে এমন কিছুকে ডাকছে যা আহ্বান ও চিৎকার ছাড়া আর কিছুই শোনে না। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা কিছুই বোঝে না।"

(৩) 'আম' (أم): 'বাল' (بل) তথা বরং অর্থে। অর্থাৎ বরং তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে, তাই তা রুদ্ধ এবং এতে (কুরআনের) কোনো অর্থ পৌঁছায় না।

(৪) আন-নুকুস: কোনো কিছু থেকে পিছিয়ে যাওয়া এবং ফিরে আসা।

(৫) অর্থাৎ, তোমরা রাতের আড্ডায় মেতে থাকতে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অশ্লীল বা মন্দ কথাবার্তা বলতে।

(৬) আল-ই'শা: দিনের বেলা দেখতে না পাওয়া। (এখানে কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া বা উদাসীনতাকে বোঝানো হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآياتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْها وَنَسِيَ ما قَدَّمَتْ يَداهُ [الكهف: 57].

وقال: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآياتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْها إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ [السجدة: 22].

وقال: وَمَنْ يُعْرِضْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذاباً صَعَداً [الجن: 17].

 

‌‌فضائل قراءة القرآن وفضائل بعض سوره وآياته

عن أبى أمامة، رضى الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اقرءوا القرآن، فإنه يأتى يوم القيامة شفيعا لأصحابه» رواه مسلم، رحمه الله.

وعن النواس بن سمعان، رضى الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يؤتى يوم القيامة بالقرآن وأهله الذين كانوا يعملون به فى الدنيا تقدمه سورة البقرة وآل عمران تحاجان عن صاحبهما» رواه مسلم.

وعن عثمان بن عفان، رضى الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خيركم من تعلم القرآن وعلمه» رواه البخارى.

وعن عائشة، رضى الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذى يقرأ القرآن وهو ماهر به مع السفرة (1) الكرام البررة، والذى يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران» متفق عليه.

وعن أبى موسى الأشعرى، رضى الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «مثل المؤمن الذى يقرأ القرآن مثل الأترجة (2) ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذى لا يقرأ القرآن كمثل الثمرة لا ريح لها وطعمها حلو، ومثل المنافق الذى يقرأ القرآن كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر، ومثل المنافق الذى لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر» متفق عليه.

وعن عمر بن الخطاب، رضى الله عنه، أن النبى صلى الله عليه وسلم قال «إن الله يرفع بهذا الكتاب أقواما وو يضع به آخرين» رواه مسلم.

--------------------------------------------

(1) السفرة الملائكة، والبررة أى أخلاقهم حسنة وأفعالهم بارة.

(2) الأترجة: فاكهة.
এবং তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং ভুলে গিয়েছে যা তার হাতদ্বয় আগে পাঠিয়েছে।" [আল-কাহফ: ৫৭]।

এবং তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।" [আস-সাজদাহ: ২২]।

এবং তিনি বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে অত্যন্ত কঠিন আজাবে প্রবেশ করাবেন।" [আল-জিন: ১৭]।

 

‌‌কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত এবং এর কিছু সূরা ও আয়াতের ফজিলত

আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে» মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এটি বর্ণনা করেছেন।

নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের দিন কুরআন এবং তার ঐ সকল অনুসারীকে নিয়ে আসা হবে যারা দুনিয়াতে এটি অনুযায়ী আমল করত, যার অগ্রভাগে থাকবে সূরা আল-বাকারা এবং আলে-ইমরান; এ দুটি তাদের পাঠকারীর পক্ষ থেকে দলিল পেশ করবে» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে কুরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়» বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং সে তাতে দক্ষ, সে সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের (১) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে সে আটকে যায় ও তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব» মুত্তাফাকুন আলাইহি।

আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর (২) মতো, যার সুঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হান (সুগন্ধি লতা) এর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো হানজালা (মাকাল ফল) এর মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত» মুত্তাফাকুন আলাইহি।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে অনেক জাতিকে উন্নত করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদেরকে অবনমিত করেন» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সাফারাহ অর্থ ফেরেশতামণ্ডলী, আর বারারাহ অর্থ যাদের চরিত্র সুন্দর এবং কাজসমূহ পুণ্যময়।

(২) উতরুজাহ: একটি ফল।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
وعن ابن عمر، رضى الله عنه، عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: «لا حسد إلا فى اثنتين: رجل آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء (1) الليل وآناء النهار، ورجل آتاه الله مالا فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار» متفق عليه.

وعن البراء بن عازب، رضى الله عنه، قال: كان رجل يقرأ سورة الكهف وعنده فرس مربوطة بشطنين (2) فتغشته سحابة، فجعلت تدنو، وجعل فرسه ينفر منها، فلما أصبح أتى النبى صلى الله عليه وسلم فذكر له ذلك، فقال: «تلك السكينة تنزلت للقرآن» متفق عليه.

وعن ابن مسعود، رضى الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ حرفا من كتاب الله فله حسنة، والحسنة بعشرة أمثالها، لا أقول: الم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف» رواه الترمذى، وقال: حديث حسن صحيح.

وعن ابن عباس، رضى الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الذى ليس فى جوفه شىء من القرآن كالبيت الخرب» رواه الترمذى، وقال: حديث حسن صحيح.

وعن عمرو بن العاص، رضى الله عنه، عن النبى صلى الله عليه وسلم، قال: «يقال لصاحب القرآن:

اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل فى الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها» رواه أبو داود والترمذى، وقال: حسن صحيح.

وعن أبى سعيد رافع بن المعلى، رضى الله عنه، قال: قال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا أعلمك أعظم سورة فى القرآن قبل أن تخرج من المسجد؟»، فأخذ بيدى، فلما أراد أن يخرج قلت: يا رسول الله، إنك قلت: لأعلمنك أعظم سورة فى القرآن، قال: «الحمد لله رب العالمين هى السبع المثانى والقرآن العظيم الذى أوتيته» رواه البخارى، رحمه الله.

وعن أبى سعيد الخدرى، رضى الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فى قراءة قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ: «والذى نفسى بيده، إنها لتعدل ثلث القرآن». وفى رواية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأصحابه: «أيعجز أحدكم أن يقرأ بثلث القرآن فى ليلة؟»، فشق ذلك عليهم، وقالوا: أينا يطيق ذلك يا رسول الله؟ فقال: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ ثلث القرآن» رواه البخارى.

وعنه أن رجلا سمع رجلا يقرأ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ يرددها، فلما أصبح جاء إلى رسول صلى الله عليه وسلم، فذكر ذلك له، وكأن الرجل يتقالها، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذى نفسى

--------------------------------------------

(1) آناء: ساعات.

(2) الشطن: الحبل.
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «দুইটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ নয়: সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে (সালাত আদায় করে), আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে ব্যয় করে» মুত্তাফাকুন আলাইহি।

বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সূরা আল-কাহাফ পাঠ করছিলেন, আর তার পাশে দুইটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। তখন একটি মেঘ তাকে ঢেকে ফেলল এবং তা ক্রমেই কাছে আসতে লাগল। এতে তার ঘোড়াটি ভড়কে গিয়ে ছুটোছুটি করতে লাগল। সকাল হলে তিনি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: «এটি ছিল সাকীনাহ (প্রশান্তি), যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল» মুত্তাফাকুন আলাইহি।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর একটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর» তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যার অন্তরে কুরআনের কোনো অংশ নেই, সে একটি পরিত্যক্ত জনশূন্য ঘরের মতো» তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «কুরআনের অধিকারীকে বলা হবে:

তুমি পাঠ করো এবং উপরে উঠতে থাকো, আর সেভাবেই ধীরস্থিরভাবে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে; কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পাঠ করা শেষ আয়াতের নিকট» আবু দাউদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান সহীহ।

আবু সাঈদ রাফি ইবনুল মুআল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন: «মসজিদ থেকে তোমার বের হওয়ার আগেই আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি শিখিয়ে দেব না?», এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন তিনি বের হতে চাইলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি বলেছিলেন যে আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি শিখিয়ে দেবেন। তিনি বললেন: «আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন; এটিই সাবউল মাসানী (পুনঃ পুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে» বুখারী (রহ.) এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ সম্পর্কে বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান»। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতে অক্ষম?», এটি তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন মনে হলো এবং তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্যে কার সেই সামর্থ্য আছে? তিনি বললেন: «কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সামাদ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ» বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অন্য একজনকে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' বার বার পড়তে শুনল। সকাল হলে সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করল, যেন সে ব্যক্তি বিষয়টিকে সামান্য মনে করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ...»

--------------------------------------------

(১) আন-আ: প্রহরসমূহ বা সময়সমূহ।

(২) আশ-শাতান: রশি।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
بيده إنها لتعدل ثلث القرآن» رواه البخارى.

وعن أنس، رضى الله عنه، أن رجلا قال: يا رسول الله، إنى أحب هذه السورة قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، قال: «إن حبها أدخلك الجنة».

وعن عقبة بن عامر، رضى الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ألم تر آيات أنزلت هذه الليلة لم ير مثلهن قط؟ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ [الفلق: 1]، وقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ» [الناس: 1] رواه مسلم.

وعن أبى سعيد الخدرى، رضى الله عنه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوذ من الجان وعين الإنسان حتى نزلت المعوذتان، فلما نزلت أخذ بهما وترك ما سواهما. رواه الترمذى، وقال: حديث حسن.

وعن أبى هريرة، رضى الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من القرآن سورة ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له وهى: تَبارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ [الملك: 1]»

رواه أبو داود، والترمذى، وقال: حديث حسن. وفى رواية أبى داود «تشفع».

وعن أبى مسعود البدرى، رضى الله عنه، عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: «من قرأ بالآيتين من آخر سورة البقرة فى ليلة كفتاه» (1) متفق عليه.

وعن أبى هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تجعلوا بيوتكم مقابر، إن الشيطان ينفر من البيت الذى يقرأ فيه سورة البقرة» رواه مسلم.

وعن أبى بن كعب، رضى الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا أبا المنذر، أتدري أى آية من كتاب الله معك أعظم؟»، قلت: اللَّهُ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ [البقرة:

255]، فضرب فى صدرى، وقال: «ليهنك العلم أبا المنذر» رواه مسلم، وفى البخارى فى حديث آخر طويل: «من قرأ آية الكرسى عند نومه لم يقربه شيطان».

وعن أبى الدرداء، رضى الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال». وفى رواية: «من آخر سورة الكهف» رواه مسلم.

وعن ابن عباس، رضى الله عنهما، قال: بينما جبريل، عليه السلام، قاعد عند النبى صلى الله عليه وسلم، سمع نقيضا من فوقه، فرفع رأسه، فقال: هذا باب من السماء فتح اليوم ولم يفتح

--------------------------------------------

(1) كفتاه ما أهمه.
যাঁর হাতে (আমার প্রাণ), নিশ্চয়ই এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এই সূরাটিকে ভালোবাসি ‘বলুন: তিনি আল্লাহ এক’। তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই এর প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে’।

উকবা ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তুমি কি দেখনি আজ রাতে এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার অনুরূপ আর কখনো দেখা যায়নি? তা হলো: বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভোরের রবের নিকট [আল-ফালাক: ১] এবং বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের নিকট [আন-নাস: ১]’। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিন ও মানুষের নজর লাগা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন যতক্ষণ না মুআওয়িযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) নাযিল হয়েছে। যখন তা নাযিল হলো, তিনি এই দুটিকেই গ্রহণ করলেন এবং এ ছাড়া অন্যগুলো বর্জন করলেন। ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান হাদিস।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘কুরআনে এমন একটি সূরা রয়েছে যা ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়েছে, আর সেটি হলো: বরকতময় তিনি যাঁর হাতে রয়েছে রাজত্ব [আল-মুলক: ১]’।

আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: হাদিসটি হাসান। আবু দাউদের এক বর্ণনায় ‘সুপারিশ করবে’ শব্দটি এসেছে।

আবু মাসউদ বদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে’। (১) ইমাম বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবস্থানে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পলায়ন করে যেখানে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়’। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘হে আবুল মুনজির! তুমি কি জান আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তোমার কাছে সবচেয়ে মহান?’, আমি বললাম: ‘আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক’ [আল-বাকারাহ:

২৫৫]। তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: ‘হে আবুল মুনজির! তোমার জ্ঞান তোমার জন্য আনন্দদায়ক হোক’। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আর বুখারিতে অন্য একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে: ‘যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, কোনো শয়তান তার কাছে ভিড়বে না’।

আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে’। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ‘সূরা কাহাফের শেষ থেকে’। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলেন, তখন তিনি উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: এটি আকাশের একটি দরজা যা আজ খোলা হয়েছে এবং যা আজ ছাড়া আর কখনো খোলা হয়নি

--------------------------------------------

(১) তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
قط إلا اليوم، فنزل منه ملك، فقال: هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم، فسلم وقال: أبشر بنورين لم يؤتهما نبى من قبلك: فاتحة الكتاب وخواتيم سورة البقرة، لن تقرأ بحرف منها إلا أعطيته» الحديث رواه مسلم فى صلاة المسافرين، باب فضل الفاتحة وخواتيم سورة البقرة.

وروى الحاكم فى المستدرك بإسناد صحيح، عن معقل بن يسار، رضى الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعملوا بالقرآن، أحلوا حلاله، وحرموا حرامه، واقتدوا به، ولا تكفروا بشيء منه، وما تشابه عليكم فردوه إلى الله وإلى أولى العلم من بعدى كيما يخبروكم، وآمنوا بالتوراة والإنجيل والزبور، وما أوتى النبيون من ربهم وليسلم القرآن وما فيه من البيان، فإنه أول شافع مشفع، وما حل (1) مصدق، وإنى أعطيت سورة البقرة من الذكر الاول (2) وأعطيت طه والطواسين من ألواح موسى، وأعطيت فاتحة الكتاب من تحت العرش».

وروى الدرامي والترمذى، رحمه الله، عن أنس، رضى الله عنه، عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن لكل شىء قلبا، وقلب القرآن يس، ومن قرأ يس كتب الله له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرات» ورمز فى الجامع لضعفه، وصححه شارحه، وقال الشوكانى فى التحفة: قال الترمذى: هذا حديث غريب.

وأخرج النسائى، وأبو داود، وابن ماجة، وابن حبان، رحمهم الله، عن معقل بن يسار، عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «قلب القرآن يس، لا يقرأها رجل يريد الله والدار الآخرة إلا غفر له، اقرءوها على موتاكم» أى من حضر الموت. قال فى التحفة: وصححه ابن حبان والحاكم.

وأخرج ابن حبان وابن السنى، عن جندب، رضى الله عنه، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «من قرأ يس فى ليلة القدر ابتغاء وجه الله غفر له»، وأخرجه الطبرانى، عن أبى هريرة، وفى إسناده غالب بن تميم، وهو ضعيف. وأما حديث: «من داوم على قراءة يس فى كل ليلة، ثم مات، مات شهيدا»، ففي إسناده سعيد بن موسى الأزدى، وهو كذاب.

وروى البخارى، عن عمر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لقد أنزلت علىّ الليلة سورة لهى أحب إلى مما طلعت عليه الشمس»، ثم قرأ: إِنَّا فَتَحْنا لَكَ فَتْحاً مُبِيناً [الفتح: 1].

--------------------------------------------

(1) أى خصم مجادل مصدق. أ. هـ نهاية.

(2) وهو الكتب المنزلة على الأنبياء المتقدمين.
...কখনো নয় কেবল আজকের দিনটি ছাড়া। অতঃপর সেখান থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন: "ইনি এমন একজন ফেরেশতা যিনি আজ ছাড়া কখনো পৃথিবীতে অবতীর্ণ হননি।" তিনি সালাম দিলেন এবং বললেন: "আপনি এমন দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনার পূর্বে আর কোনো নবীকে প্রদান করা হয়নি: সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। এর প্রতিটি অক্ষর আপনি পাঠ করবেন আর আপনাকে তা প্রদান করা হবে।" হাদীসটি ইমাম মুসলিম 'সালাতুল মুসাফিরীন' কিতাবের 'সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার শেষাংশের ফযীলত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম হাকেম 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে সহীহ সনদে মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা কুরআনের ওপর আমল করো, এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করো। এর অনুসরণ করো এবং এর কোনো কিছুকে অস্বীকার করো না। তোমাদের কাছে এর যা কিছু অস্পষ্ট মনে হয়, তা আল্লাহ এবং আমার পরে ইলমের অধিকারীদের নিকট সোপর্দ করো যাতে তারা তোমাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করতে পারেন। তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর এবং নবীদের ওপর তাঁদের রবের পক্ষ থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান আনো। আর কুরআন এবং এতে বিদ্যমান বর্ণনাসমূহকে মেনে নাও, কারণ এটি প্রথম সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হবে এবং এটি এমন এক সত্যবাদী প্রতিবাদকারী (১) যার কথা সত্যায়ন করা হয়। আমাকে 'প্রথম যিকির' (২) থেকে সূরা বাকারাহ প্রদান করা হয়েছে, মূসার ফলকসমূহ থেকে সূরা ত্ব-হা ও ত্ব-সীনসমূহ প্রদান করা হয়েছে এবং আরশের নিচে থেকে সূরা ফাতিহা প্রদান করা হয়েছে।"

দারেমী ও তিরমিযী (রহ.) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি অন্তর আছে এবং কুরআনের অন্তর হলো সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এটি পাঠের বিনিময়ে দশবার কুরআন খতমের সওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন।" 'আল-জামে' গ্রন্থে এর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তবে এর ব্যাখ্যাকারী একে সহীহ বলেছেন। শাওকানী 'আত-তুহফা' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এই হাদীসটি গরীব।

নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান (রহ.) মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "কুরআনের অন্তর হলো সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এটি পাঠ করবে, তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তোমরা এটি তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের (যাদের মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে) নিকট পাঠ করো।" তুহফা গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহীহ বলেছেন।

ইবনে হিব্বান ও ইবনুস সুন্নী জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" তাবারানী এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে গালিব ইবনে তামীম রয়েছে, যে দুর্বল। আর "যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ইয়াসীন পাঠের ওপর অবিচল থাকবে এবং এরপর মৃত্যুবরণ করবে, সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে" - এই হাদীসটির সনদে সাঈদ ইবনে মূসা আল-আযদি রয়েছে, যে একজন চরম মিথ্যাবাদী।

ইমাম বুখারী উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আজ রাতে আমার ওপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে সূর্য যে সব জিনিসের ওপর উদিত হয় তার চেয়েও অধিক প্রিয়।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি" [আল-ফাতহ: ১]।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সত্যবাদী বিতর্ককারী বা প্রতিবাদকারী। সমাপ্ত (নিহায়া)।

(২) আর তা হলো পূর্ববর্তী নবীদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وروى الترمذى، والحاكم، عن ابن عباس، رضى الله عنه، أنه صلى الله عليه وسلم قال: إِذا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ [الزلزلة: 1] تعدل نصف القرآن، وقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ [الإخلاص:

1] ثلث القرآن، وقُلْ يا أَيُّهَا الْكافِرُونَ [الكافرون: 1] تعدل ربع القرآن» وصححه فى الجامع وشرحه، ولكن قال فى التحفة: قال الترمذى بعد إخراجه: حديث حسن غريب، لا نعرفه إلا من حديث يمان بن المغيرة الذى هو العنزى. قال يحيى بن معين:

ليس حديثه بشيء. وقال البخارى: منكر الحديث. وضعفه أبو زرعة، والدارقطنى.

وقال ابن عدى: لا أرى به بأسا، فالعجب من الحاكم حيث صحح حديثه أ. هـ.

وأخرج الحاكم، عن ابن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا يستطيع أحدكم أن يقرأ ألف آية فى كل يوم؟»، قالوا: ومن يستطيع ذلك؟ قال: «أما يستطيع أحدكم أن يقرأ أَلْهاكُمُ التَّكاثُرُ» [التكاثر: 1]. أخرجه الحاكم، عن عقبة بن محمد، عن نافع عن ابن عمر. قال المنذرى: ورجال إسناده ثقات، إلا أن عقبة لا أعرفه.

وعن أنس، أنه صلى الله عليه وسلم قال لرجل من أصحابه: «هل تزوجت يا فلان؟»، قال: لا، والله يا رسول الله ما عندى ما أتزوج به، قال: «أليس معك قُلْ هُوَ اللَّهُ؟» قال: بلى، قال: «ثلث القرآن»، قال: «أليس معك إِذا جاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ؟» [النصر: 1]، قال: بلى، قال: «ربع القرآن»، قال: «أليس معك: قُلْ يا أَيُّهَا الْكافِرُونَ؟» [الكافرون: 1]، قال: بلى، قال: «ربع القرآن»، قال: «أليس معك إِذا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ؟» [الزلزلة: 1]، قال: بلى، قال: «ربع القرآن، تزوج، تزوج» أى بما معك من القرآن». قال فى تحفة الذاكرين: قال الترمذى بعد إخراجه: هذا حديث حسن، وقد تكلم فى هذا الحديث مسلم فى كتاب التمييز، وهو من رواية سلمة بن وردان، عن أنس. قال أبو حاتم: ليس بقوى، عامة ما عنده عن أنس منكر. وقال يحيى بن معين:

ليس حديثه بذاك. أ. هـ.

وفى الجامع وصححه: «من قرأ فى ليلة مائة آية لم يكتب من الغافلين». وفى الدرامى: «من قرأ مائتى آية فى ليلة كتب من القانتين»، و «من قرأ فى ليلة ثلاثمائة آية كتب له قنطار»، و «من قرأ ألف آية كتب له قنطار من الأجر، والقيراط من ذلك القنطار لا يفى به دنياكم». وفى رواية: «والقيراط من القنطار خير من الدنيا وما فيها واكتسب من الأجر ما شاء الله»، وهذه الأحاديث، وإن كان فيها مقال، فهى داخلة تحت عموم حديث: «من قرأ حرفا من كتاب الله فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها … » الحديث، والقرآن كلام الله وفضائله لا تحصى.
তিরমিযী এবং হাকিম ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘ইযা যুলযিলাতিল আরদু’ [যালযালাহ: ১] কুরআনের অর্ধেকের সমান, এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ [ইখলাস:

১] কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান এবং ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ [কাফিরুন: ১] কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান। ‘জামে’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে একে সহিহ বলা হয়েছে, তবে ‘তুহফা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিরমিযী এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস, ইয়ামান বিন মুগিরা আল-আনযি ছাড়া অন্য কারো সূত্র থেকে আমরা এটি জানি না। ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন:

তার হাদিস উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। বুখারি বলেছেন: সে মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী)। আবু যুরআ এবং দারাকুতনি একে দুর্বল বলেছেন।

ইবনে আদি বলেছেন: আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। তাই হাকিমের একে সহিহ বলা আশ্চর্যের বিষয়। সমাপ্ত।

হাকিম ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার আয়াত পাঠ করতে সক্ষম নও?’ তারা বললেন: কে তা করতে পারবে? তিনি বললেন: ‘তোমাদের কেউ কি ‘আলহাকুমুত তাকাসুর’ [তাকাসুর: ১] পাঠ করতে সক্ষম নও?’ হাকিম এটি উকবা বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। মুনযিরি বলেন: এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে উকবা সম্পর্কে আমি জানি না।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক সাহাবীকে বললেন: ‘হে অমুক, তুমি কি বিয়ে করেছ?’ সে বলল: না, আল্লাহর শপথ হে আল্লাহর রাসূল, বিয়ে করার মতো সম্পদ আমার কাছে নেই। তিনি বললেন: ‘তোমার কাছে কি ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ নেই?’ সে বলল: হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন: ‘এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’ তিনি বললেন: ‘তোমার কাছে কি ‘ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ’ [নাসর: ১] নেই?’ সে বলল: হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন: ‘এটি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ।’ তিনি বললেন: ‘তোমার কাছে কি ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ [কাফিরুন: ১] নেই?’ সে বলল: হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন: ‘এটি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ।’ তিনি বললেন: ‘তোমার কাছে কি ‘ইযা যুলযিলাতিল আরদু’ [যালযালাহ: ১] নেই?’ সে বলল: হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন: ‘এটি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ; বিয়ে করো, বিয়ে করো’ অর্থাৎ তোমার কাছে কুরআনের যা আছে তা দিয়েই বিয়ে করো। ‘তুহফাতুয যাকিরিন’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিরমিযী এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস, তবে ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুত তামিয’ গ্রন্থে এই হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এটি সালামাহ বিন ওয়ারদান, আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: সে শক্তিশালী নয়, আনাস থেকে তার অধিকাংশ বর্ণনা মুনকার। ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন:

তার হাদিস তেমন (নির্ভরযোগ্য) নয়। সমাপ্ত।

‘জামে’ গ্রন্থে একে সহিহ বলা হয়েছে: ‘যে ব্যক্তি রাতে একশ আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।’ দারেমিতে রয়েছে: ‘যে ব্যক্তি রাতে দুইশ আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগত ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে’, এবং ‘যে ব্যক্তি রাতে তিনশ আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এক কিনতার সওয়াব লেখা হবে’, এবং ‘যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এক কিনতার পরিমাণ সওয়াব লেখা হবে, আর সেই কিনতারের একটি কিরাত তোমাদের এই দুনিয়ার চেয়েও মূল্যবান।’ অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: ‘কিনতারের একটি কিরাত দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম এবং সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী অঢেল সওয়াব অর্জন করবে।’ এই হাদিসগুলোর বর্ণনাসূত্রে যদিও কথা আছে, তবুও এগুলো এই সাধারণ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর একটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয় … ’ হাদিস। কুরআন আল্লাহর কালাম এবং এর ফজিলত অগণিত।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌تحزيب القرآن

قال فى المغنى: يستحب أن يقرأ القرآن فى كل سبعة أيام ليكون له ختمة فى كل أسبوع.

قال عبد الله بن أحمد: كان أبى يختم القرآن فى النهار فى كل سبعة، يقرأ فى كل يوم سبعا لا يتركه نظرا. وقال حنبل: كان أبو عبد الله يختم من الجمعة إلى الجمعة، وذلك ما روى أن النبى صلى الله عليه وسلم قال لعبد الله بن عمر: «اقرأ القرآن فى سبع، ولا تزيدن على ذلك» رواه أبو داود.

وعن أوس بن حذيفة، قال: قلنا لرسول الله صلى الله عليه وسلم: لقد أبطأت عنا الليلة، قال: «إنه طرأ علىّ حزبى من القرآن، فكرهت أن أخرج حتى أتمه». قال أوس: سألت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف تحزبون القرآن؟ قالوا: ثلاث (1)، وخمس، وسبع، وتسع، وإحدى عشرة، وثلاث عشرة، وحزب المفصل وحده. رواه أبو داود.

ويكره أن يؤخر القرآن أكثر من أربعين يوما؛ لأن النبى صلى الله عليه وسلم سأله عبد الله بن عمرو:

كم تختم القرآن؟ قال: «فى أربعين يوما»، ثم قال: «فى شهر»، ثم قال: «فى عشرين يوما»، ثم قال: «فى خمس عشرة»، ثم قال: «فى عشر»، ثم قال: «فى سبع»، لم ينزل من سبع (2) أخرجه أبو داود. قال أحمد: أكثر ما سمعت أن يختم القرآن فى أربعين، ولأن تأخيره أكثر من ذلك يفضى إلى نسيان القرآن، والتهاون به، فكان ما ذكرنا أولى، وهذا إذا لم يكن عذر، فأما مع العذر فواسع له. أ. هـ.

 

‌‌لا تعرض عن قراءة القرآن

إذا عرفت فضل القرآن العظيم، وفضل بعض سوره وآياته، وعرفت وافر وجزيل أجر تلاوته، وعلمت كيفية تحزيب النبى صلى الله عليه وسلم وأصحابه للقرآن، وترتيبهم له على الأيام والليالى، حق لنا أن نقول لك أيها المسلم المتبع لأعظم رسول: لا تعرض عن قراءة كتاب ربك إلى قراءة أوراد المشايخ وأحزابهم، فإن الأجر كله، والثواب كله، والفضل العظيم كله، والنصح، والإرشاد، والوعظ، والهدى، والنور كله، والصراط المستقيم إنما هو فى تلاوة كتاب الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) أى نقرأه فى ثلاث إلخ.

(2) أى عن سبع.
কুরআনের হিযব বা অংশ নির্ধারণ

আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রতি সাত দিনে একবার কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব, যাতে প্রতি সপ্তাহে একবার খতম সম্পন্ন হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: আমার পিতা প্রতি সাত দিনে দিনের বেলায় একবার কুরআন খতম করতেন। তিনি প্রতিদিন এক সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করতেন এবং দেখে দেখে পড়া কখনো বাদ দিতেন না। হাম্বল বলেন: আবু আবদুল্লাহ জুমুআ থেকে জুমুআ পর্যন্ত একবার খতম করতেন। এটি সেই বর্ণনার প্রেক্ষিতে যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলেছিলেন: «তুমি সাত দিনে কুরআন তিলাওয়াত করো এবং এর চেয়ে বৃদ্ধি করো না»। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

আউস ইবনে হুযাইফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আপনি আজ রাতে আমাদের কাছে আসতে দেরি করেছেন। তিনি বললেন: «আমার কুরআনের নির্ধারিত হিযব (অংশ) পড়ার সময় হয়েছিল, তাই আমি এটি শেষ না করে বের হওয়া অপছন্দ করলাম»। আউস বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা কীভাবে কুরআনের হিযব বা অংশ নির্ধারণ করেন? তারা বললেন: তিন, পাঁচ, সাত, নয়, এগারো, তেরো (টি সূরা) এবং মুফাসসাল অংশের হিযব আলাদা। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

চল্লিশ দিনের বেশি কুরআন খতম বিলম্বিত করা মাকরূহ; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আবদুল্লাহ ইবনে আমর জিজ্ঞাসা করেছিলেন:

কত দিনে কুরআন খতম করব? তিনি বললেন: «চল্লিশ দিনে», তারপর বললেন: «এক মাসে», তারপর বললেন: «বিশ দিনে», এরপর বললেন: «পনেরো দিনে», এরপর বললেন: «দশ দিনে», এরপর বললেন: «সাত দিনে»। তিনি সাতের নিচে নামেননি। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বলেন: আমি সর্বোচ্চ যা শুনেছি তা হলো চল্লিশ দিনে কুরআন খতম করা। কারণ এর চেয়ে বেশি বিলম্ব করা কুরআন ভুলে যাওয়া এবং এর প্রতি অবহেলার দিকে ধাবিত করে। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি সেটিই উত্তম। আর এটি তখন প্রযোজ্য যখন কোনো ওজর না থাকে। তবে ওজর থাকলে বিষয়টি শিথিলযোগ্য। সমাপ্ত।

 

‌‌কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিমুখ হবেন না

আপনি যখন মহান কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর কিছু সূরা ও আয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানলেন, আর এর তিলাওয়াতের অফুরন্ত ও বিশাল সওয়াব সম্পর্কে অবগত হলেন, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের কুরআনকে বিভিন্ন অংশে (হিযব) ভাগ করা এবং দিন ও রাতে তা বিন্যস্ত করার পদ্ধতি জানতে পারলেন, তখন মহান রাসূলের অনুসারী হে মুসলিম, আপনার প্রতি আমাদের এটি বলা সংগত যে: আপনার রবের কিতাব তিলাওয়াত ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন মাশায়েখদের আওরাদ ও হিযব (অজিফা) পাঠের দিকে বিমুখ হবেন না। কারণ সকল সওয়াব, সকল প্রতিদান, সকল মহান ফজিলত এবং যাবতীয় নসিহত, নির্দেশনা, উপদেশ, হিদায়াত, নূর এবং সিরাতুল মুস্তাকিম কেবল আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের মধ্যেই নিহিত।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আমরা এটি তিন দিনে পড়ি ইত্যাদি।

(২) অর্থাৎ সাত দিনের নিচে।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
فيا متبع الرسول الأعظم، إياك ثم إياك وما ابتدع، فإنه ضلالة، واعلم أنه لا يجوز لك أن تقرأ دعاء البسملة، ولا ورد الجلالة ودعاءها للجيلانى؛ لأنه يصدك عن القرآن، ولا يجوز لك أن تقرأ مسبعات، ولا منظومة الدردير، ولا ورد السحر، والميمية، والمنهجة الكبرى، بل اقرأ بدل هذا أحزابا من القرآن تنفعك قراءتها يوم لقاء ربك، ولا سيما قراءة التدبر والتفقه.

أيها العاقل، هل حزب البر، والبحر، والنصر، وحزب الرفاعى الكبير والصغير، وحزب الدسوقى الكبير والصغير أيضا، وحزب النووى والبيومى، وحزب الوقاية المسمى بالدور الأعلى، بل وجميع مجموع الأوراد، خير أو حزب واحد، أو سورة واحدة من القرآن العظيم؟! لا بل آية واحدة، بل حرف واحد من كتاب الله، لا شك أنك تعترف أنه أعظم وأجل ألف مرة، بل لا مناسبة بالكلية، وأنت تشهد وتقر معى بذلك، ولا أظنك تنكره، إن جميع ما فى مجموع الأذكار الطيبة للطرق السبعة، وجميع ما فى كتاب مجموع أوراد الخلوتية والمرغنية، وأوراد الخليلية، وحرز الجوشنى، وحرز الغاسلة، والجلجلوتية، والبرهتية، لا شك أنه من عند غير الله، ولا شك أنه شرع لم يشرعه الله ولا رسوله، فصار بدعة، وكل بدعة ضلالة.

ولعلك تقول: إن هذه الأحزاب والأوراد لا تخلو من آيات قرآنية فيها، فنقول لك:

القرآن كاللبن النقى الخالص، وأحزابكم وأورادكم كاللبن المخلوط بالدم، أو كاللبن الاصطناعى، فأيهما ترتضيه لنفسك؟ الأول لا شك، بل ما فى القرآن من الموعظة، والشفاء، والرحمة، والتذكير، والهداية، والعبرة، والأمر، والنهى، والترغيب، والترهيب، وذكر عظمة الله وكبريائه، وتعريفك برسول الله، ورسوله، وقصص الأنبياء

وأتباعهم، وما فعل الله بالطاغين والعاصين، وما أعده لأهل طاعته من النعيم المقيم، وغير ذلك مما لا يمكننا عده، ولا حصر بعضه، وليس يوجد من ذلك حرف واحد فى أورادكم ولا أحزابكم، فما هى إلا عبادات مخترعات.

وشىء آخر هو أنك لا تقرأ بحرف واحد من كتاب الله إلا أوتيت أجره، كما فى الحديث الصحيح: «من قرأ حرفا من كتاب الله فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: الم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف، والله يضاعف لمن يشاء»، فما هو ثواب من قرأ حزب الجيلانى كله من أوله إلى آخره ألف مرة، وما ثواب من يقرأ حزب الكبرى، بل وما ثواب من يقرأ جميع مجاميع الأوراد كلها حرفا حرفا؟ لا يمكنكم أصلا أن تقدروا لقارئها ثوابا كثواب قراءة أصغر سورة فى القرآن، بل ولا آية،
হে মহান রাসূলের অনুসারী, সাবধান, সাবধান! উদ্ভাবিত (বিদআত) বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকো, কারণ তা পথভ্রষ্টতা। জেনে রেখো যে, তোমার জন্য বাসমালার দুআ, জালালার ওযীফা এবং জিলানীর দুআ পাঠ করা বৈধ নয়; কারণ তা তোমাকে কুরআন থেকে বিমুখ করে দেয়। তোমার জন্য মুসাব্বাআত, মানযূমাতুদ দারদীর, ওযীফাতুস সাহার, মীমিয়্যাহ এবং মানহাজাতুল কুবরা পাঠ করাও বৈধ নয়। বরং এর পরিবর্তে কুরআনের এমন কিছু অংশ পাঠ করো যা তোমার রবের সাথে সাক্ষাতের দিনে তোমার উপকারে আসবে, বিশেষ করে চিন্তা ও গবেষণার সাথে পাঠ করা।

হে বুদ্ধিমান ব্যক্তি, হিযবুল বার, হিযবুল বাহর, হিযবুল নাসর এবং রিফায়ীর বড় ও ছোট হিযব, দসূকীর বড় ও ছোট হিযব, নববী ও বায়ূমীর হিযব, এবং 'আদ-দাওরুল আ'লা' নামক হিযবুল বিকায়া কি উত্তম, নাকি মহান কুরআনের একটি অংশ বা একটি সূরা? এমনকি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত বা একটি অক্ষরও কি তার চেয়ে উত্তম নয়? নিঃসন্দেহে তুমি স্বীকার করবে যে তা হাজার গুণ বেশি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ, বরং এদের মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না। তুমি আমার সাথে এটি সাক্ষ্য দেবে ও স্বীকার করবে, এবং আমি মনে করি না যে তুমি এটি অস্বীকার করবে। সাতটি তরীকার 'মাজমুউল আযকারুত তায়্যিবা'তে যা কিছু আছে, এবং খালওয়াতিয়া ও মিরগানিয়ার ওযীফাসমূহ, খলীলিয়ার ওযীফা, হিযবুল জাওশানি, হিযবুল গাসিলাহ, জালজালূতিয়্যাহ এবং বারহাতিয়্যাহ-তে যা কিছু আছে, তা নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে এসেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি এমন এক শরীয়ত যা আল্লাহ বা তাঁর রাসূল প্রবর্তন করেননি, ফলে তা বিদআতে পরিণত হয়েছে, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।

হয়তো তুমি বলবে: এই হিযব ও ওযীফাসমূহ তো কুরআনের আয়াত থেকে খালি নয়। তাহলে আমরা তোমাকে বলবো:

কুরআন হলো খাঁটি বিশুদ্ধ দুধের মতো, আর তোমাদের হিযব ও ওযীফাসমূহ হলো রক্ত মিশ্রিত দুধের মতো, অথবা কৃত্রিম দুধের মতো। তুমি নিজের জন্য কোনটি পছন্দ করবে? নিঃসন্দেহে প্রথমটি। বরং কুরআনের মাঝে যা কিছু রয়েছে—উপদেশ, আরোগ্য, রহমত, স্মরণিকা, হিদায়াত, শিক্ষা, আদেশ, নিষেধ, উৎসাহ, ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহর মাহাত্ম্য ও বড়ত্বের বর্ণনা, আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত অন্যান্য রাসূলগণের পরিচয় দান এবং নবীদের কাহিনী

এবং তাঁদের অনুসারীদের কথা, আল্লাহ জালিম ও অবাধ্যদের সাথে কী করেছিলেন সেই বর্ণনা, এবং তাঁর আনুগত্যকারীদের জন্য তিনি যে চিরস্থায়ী নেয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন তার বর্ণনা, এবং এমন আরও অনেক কিছু যা আমরা গণনা করে শেষ করতে পারবো না। তোমাদের ওযীফা বা হিযবসমূহে এর একটি অক্ষরও নেই। এগুলো কেবল উদ্ভাবিত ইবাদত ছাড়া আর কিছুই নয়।

অন্য আরেকটি বিষয় হলো, আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি অক্ষর পাঠের বিনিময়ে তোমাকে প্রতিদান দেওয়া হবে, যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে: «যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলছি না যে আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেন», তাহলে যে ব্যক্তি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো জিলানীর হিযব হাজার বার পাঠ করলো তার সওয়াব কী? আর যে ব্যক্তি কুবরার হিযব পাঠ করলো তারই বা সওয়াব কী? বরং যে ব্যক্তি সকল ওযীফা সংকলনের প্রতিটি অক্ষর পাঠ করলো তারই বা সওয়াব কী? কুরআনের ক্ষুদ্রতম একটি সূরা বা একটি আয়াত পাঠের যে সওয়াব, তার সমপরিমাণ সওয়াবও তোমরা এসকল পাঠকারীর জন্য নির্ধারণ করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا حرف واحد، فإن قدرتم وقلتم فظن وإِنَّ الظَّنَّ لا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئاً [يونس: 36]، بل إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ [الحجرات: 12]، بل يكون افتراء وكذبا على الله، وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعى إِلَى الْإِسْلامِ [الصف: 7].

فيها أيها المسلمون اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ [الزمر: 23]، وقص عليكم أحسن القصص فى كتابه، فلا تعدلوا عنه وتتبعوا هؤلاء، فإنهم قد هوكوا وتهوكوا (1)، يا قوم «كفى بقوم ضلالة أن يتبعوا كتابا غير كتاب ربهم الذى أنزل على نبيهم»، كذا فى الحديث، يا قوم حذار حذار من الإعراض عن كتاب الله، فإن الله يقول: وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيامَةِ أَعْمى [طه: 124]، ويقول: وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطاناً فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ (2) [الزخرف:

36]، ويقول لنبيه: وَقَدْ آتَيْناكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْراً مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيامَةِ وِزْراً خالِدِينَ فِيهِ وَساءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيامَةِ حِمْلًا [طه: 99 - 101]، ويقول: وَمَنْ يُعْرِضْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذاباً صَعَداً (3) [الجن: 17].

يا قوم، إنى أقول والحق أقول: إنه لا يرغب عن كتاب ربه إلى مخترعات الشيوخ إلا من سفه نفسه، وضل سعيه، وزين له الشيطان عمله، فصده عن السبيل، فحزبوا وجزءوا القرآن، وقسموه على أيامكم ولياليكم، وحلوا وارتحلوا فيه من أوله إلى آخره، واجعلوا المصحف فى جيوبكم دائما وأبدا، بدل المجموع، ولكن أكبر ما تمعنون فيه النظر بعد القرآن أحاديث الرسول، والتعبد بالأدعية والأذكار المروية عنه فى الكتب التى ذكرناها لكم، وهذا فيه الغنية التامة، والكفاية العظمى عن جميع ما تقرءونه من الأوراد، والأحزاب، والدلائل، والتوسلات التى لم يتعبد بحرف واحد منها أحد من الصحابة، ولا التابعين، ولا أئمة الدين، أسأل الله لى ولكم الهداية والاعتصام بكتابه وسنة نبيه، آمين.

--------------------------------------------

(1) التهوك: كالتهور وهو الوقوع فى الأمر بغير روية، وقيل: هو التحير. اه. نهاية.

(2) قرين: أى صاحب ملازم له.

(3) صعدا: أى متزايدا؟.
এবং একটি অক্ষরও নয়। যদি তোমরা সক্ষম হও এবং কোনো ধারণা পোষণ করে কিছু বলো, তবে তা কেবলই ধারণা; আর নিশ্চয়ই ধারণা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজেই আসে না [ইউনুস: ৩৬]। বরং কোনো কোনো ধারণা পাপ [আল-হুজুরাত: ১২]। অধিকন্তু, এটি আল্লাহর ওপর অপবাদ ও মিথ্যাচার হবে। আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয় [আস-সাফ: ৭]।

এ বিষয়ে হে মুসলিমগণ! আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন [আয-যুমার: ২৩]। তিনি তাঁর কিতাবে তোমাদের কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তোমরা এটি ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে যেয়ো না এবং তাদের অনুসরণ করো না। কেননা তারা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং অন্যদেরও বিভ্রান্ত করছে (১)। হে আমার জাতি! “একটি জাতির পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কিতাব ছেড়ে এমন কিতাবের অনুসরণ করে যা তাদের নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়নি।” হাদিসে এমনই এসেছে। হে আমার জাতি! আল্লাহর কিতাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্পর্কে সাবধান হও, সাবধান হও! কেননা আল্লাহ বলেন: যে আমার স্মরণ (বা কিতাব) থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব [ত্বহা: ১২৪]। এবং তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে উদাসীন হয়, আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয় তার চিরসঙ্গী (২) [আয-যুখরুফ:

৩৬]। এবং তিনি তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন: আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে দান করেছি এক মহা উপদেশ (কুরআন)। যে ব্যক্তি তা থেকে বিমুখ হবে, কিয়ামতের দিন সে একটি বিশাল বোঝা বহন করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের এই বোঝা হবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট [ত্বহা: ৯৯-১০১]। এবং তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, তিনি তাকে কঠোর ও ক্রমবর্ধমান শাস্তিতে প্রবেশ করান (৩) [আল-জিন: ১৭]।

হে আমার জাতি! আমি বলছি এবং সত্যই বলছি যে, যে ব্যক্তি নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে, যার প্রচেষ্টা বিভ্রান্ত হয়েছে এবং শয়তান যার কার্যাবলিকে সুশোভিত করে তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে, সে ছাড়া আর কেউ তার প্রতিপালকের কিতাব ছেড়ে পীর-মাশায়েখদের উদ্ভাবিত বিষয়াদির প্রতি আগ্রহী হয় না। সুতরাং তোমরা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ও ভাগে বিভক্ত করো এবং তা তোমাদের দিন ও রাতে পাঠের জন্য নির্ধারণ করো। এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ ও তা অনুধাবনে সর্বদা লিপ্ত থাকো। বিভিন্ন সংকলিত বইয়ের পরিবর্তে সর্বদা তোমাদের পকেটে কুরআনের পাণ্ডুলিপি রাখো। তবে কুরআনের পরে তোমরা সবচেয়ে বেশি গভীরভাবে যা অধ্যয়ন করবে, তা হলো রাসূলের হাদিস এবং আমরা তোমাদের কাছে যে কিতাবগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে ইবাদত করা। এগুলোর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ সমৃদ্ধি এবং ওই সকল ওজিফা, দলীল ও তাওয়াসসুলের তুলনায় যথেষ্টতা নিহিত রয়েছে, যার একটি অক্ষর দিয়েও সাহাবী, তাবেয়ীন বা দ্বীনের ইমামগণের কেউ ইবাদত করেননি। আমি আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য হেদায়েত এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমীন।

--------------------------------------------

(১) আল-তাহাওয়ুক: এটি 'তাহাওয়ুর'-এর মতো, যার অর্থ কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া। বলা হয়ে থাকে: এর অর্থ হলো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া। সমাপ্ত। নিহায়া।

(২) সঙ্গী: অর্থাৎ এমন এক সাথী যে সর্বদা সাথে থাকে।

(৩) চড়াই (সা'আদা): অর্থাৎ ক্রমাগত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শাস্তি।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بدعية جمع القراءات فى سورة أو آية واحدة

سئل شيخ الإسلام ابن تيمية، رحمه الله، عن جمع القراءات السبعة، هل هو سنة أم بدعة؟ وهل جمعت على عهد رسول الله أم لا؟ وهل لجامعها مزية ثواب على من قرأ برواية أم لا؟ فأجاب بقوله: الحمد لله، أما نفس معرفة القراءة وحفظها فسنة، فإن القراءة سنة متبعة يأخذها الآخر عن الأول، فمعرفة القراءات التى كان النبى صلى الله عليه وسلم يقرأ بها، أو يقرهم على القراءة بها، أو يأذن لهم وقد أقرئوا بها سنة، والعارف بالقراءات الحافظ لها، له مزية على من لم يعرف ذلك، ولا يعرف إلا قراءة واحدة، وأما جمعها فى الصلاة أو فى التلاوة، فهو بدعة مكروهة، وأما جمعها لأجل الحفظ والدرس، فهو من الاجتهاد الذى فعله طوائف فى القراءة، وأما الصحابة والتابعون، فلم يكونوا يجمعون، والله أعلم.

وقال فى موضع آخر: وأما الجمع فى كل القراءة المشروعة المأمور بها، فغير مشروع باتفاق المسلمين، بل يخير بين تلك الحروف، وإذا قرأ بهذه تارة وبهذه تارة كان حسنا.

وقال بعد حديث الصحاح وهو: «أنزل القرآن على سبعة أحرف كلها شاف كاف، فاقرءوا بما تيسر»، ومعلوم أن المشروع فى ذلك أن يقرأ أحدها أو هذا تارة وهذا تارة لا الجمع بينهما، فإن النبى صلى الله عليه وسلم لم يجمع بين هذه الألفاظ فى آن واحد، بل قال هذا تارة وهذا تارة. أ. هـ.

 

‌‌بدع وضلالات متعلقة بالقرآن العظيم

فمن ذلك أخذ الفأل والبخت من المصحف، ولا أدرى ماذا يصنع صاحب البخت إن وقف على آية: فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ [البقرة: 279]، أو: لَنَسْفَعاً بِالنَّاصِيَةِ [العلق: 15]، أو: ناصِيَةٍ كاذِبَةٍ خاطِئَةٍ [العلق: 16]، أو: سَنَدْعُ الزَّبانِيَةَ [العلق: 18] مثلا. وفى كتاب أدب الدنيا والدين، أن الوليد بن يزيد تفاءل يوما فى المصحف، فخرج له قوله تعالى: وَاسْتَفْتَحُوا وَخابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ [إبراهيم: 15]، فمزق المصحف وأنشأ يقول:

أتوعد كل جبار عنيد … فها أنا ذاك جبار عنيد

إذا ما جئت ربك يوم حشر … فقل يا رب مزقنى الوليد

فلم يلبث إلا أياما حتى قتل شر قتلة، وصلب رأسه على قصره، فنعوذ بالله.
একই সূরা বা আয়াতে কিরাআতসমূহ একত্রিত করার বিদআত

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সাত কিরাআত একত্রিত করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এটি কি সুন্নাহ নাকি বিদআত? এটি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে একত্রিত করা হয়েছিল নাকি হয়নি? এবং যিনি এগুলো একত্রিত করেন, তিনি কি কেবল একটি রেওয়ায়েতে পাঠকারীর ওপর অতিরিক্ত সওয়াবের অধিকারী হন কি না? তিনি উত্তরে বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কিরাআত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তা মুখস্থ করা সুন্নাহ। কেননা কিরাআত হলো একটি অনুসরণীয় সুন্নাহ, যা পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। সুতরাং যে কিরাআতগুলো অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করতেন, অথবা সেগুলোর ওপর পাঠ করাকে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন কিংবা তাদের অনুমতি দিয়েছেন এবং তাদের পাঠ করানো হয়েছে—সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা সুন্নাহ। আর যিনি কিরাআতসমূহ জানেন এবং তা হিফজ রাখেন, তার মর্যাদা সেই ব্যক্তির ওপর রয়েছে যে তা জানে না এবং কেবল একটি কিরাআত জানে। আর সালাতে বা তিলাওয়াতে সেগুলো একত্রিত করা একটি অপছন্দনীয় বিদআত (মাকরুহ বিদআত)। তবে হিফজ করা এবং অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে তা একত্রিত করা ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত, যা কিরাআতের ক্ষেত্রে একদল আলিম করেছেন। তবে সাহাবী এবং তাবিঈগণ তিলাওয়াতে কিরাআতসমূহ একত্রিত করতেন না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: আর শরিয়তসম্মত ও আদিষ্ট সকল তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কিরাআতসমূহ একত্রিত করা মুসলিমদের ঐকমত্যে শরিয়তসম্মত নয়; বরং এই হরফগুলোর মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। যখন তিনি কখনো এটি এবং কখনো ওটি পাঠ করবেন, তখন তা উত্তম হবে।

তিনি সহীহ হাদীসের পর বলেছেন, যা হলো: «কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে, যার প্রতিটিই পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট। সুতরাং যা তোমাদের জন্য সহজ হয়, তা থেকে পাঠ করো», আর এটি জানা কথা যে, এক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হলো এগুলোর কোনো একটি পাঠ করা, অথবা কখনো এটি এবং কখনো ওটি পাঠ করা, তবে এগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ বা একত্রীকরণ করা নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই শব্দগুলোকে একই সময়ে একত্রিত করেননি, বরং বলেছেন কখনো এটি এবং কখনো ওটি। (সমাপ্ত)

 

‌‌মহা কুরআন সংশ্লিষ্ট বিদআত ও বিভ্রান্তিসমূহ

এগুলোর মধ্যে একটি হলো মুসহাফ থেকে ভাগ্য পরীক্ষা করা বা শুভ-অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। আমি জানি না ভাগ্যে বিশ্বাসী ব্যক্তি কী করবে যদি সে এমন আয়াতের সম্মুখীন হয়: তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও [আল-বাকারা: ২৭৯], অথবা: কখনো না, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমরা অবশ্যই তাকে কপালের সম্মুখভাগ ধরে টেনে হেঁচড়াব [আল-আলাক: ১৫], অথবা: মিথ্যাচারী পাপিষ্ঠ কপাল [আল-আলাক: ১৬], অথবা: শীঘ্রই আমরা জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদের ডাকব [আল-আলাক: ১৮]—উদাহরণস্বরূপ। 'আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদ একদিন মুসহাফ থেকে শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ করেছিল। তখন তার সামনে মহান আল্লাহর এই বাণীটি আসে: আর তারা বিজয় প্রার্থনা করল এবং প্রত্যেক হঠকারী স্বৈরাচারী ব্যর্থ হলো [ইব্রাহিম: ১৫]। তখন সে মুসহাফটি ছিঁড়ে ফেলল এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:

তুমি কি প্রত্যেক হঠকারী স্বৈরাচারীকে ভয় দেখাচ্ছ? তবে শোনো, আমিই সেই হঠকারী স্বৈরাচারী।

হাশরের ময়দানে যখন তুমি তোমার রবের কাছে যাবে, তখন বলো, হে রব! ওয়ালিদ আমাকে ছিঁড়ে ফেলেছে।

এরপর সে মাত্র কয়েকদিন অতিবাহিত হতে না হতেই অত্যন্ত জঘন্যভাবে নিহত হলো এবং তার মস্তক তার প্রাসাদের ওপর ঝুলিয়ে রাখা হলো। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا فعل مذموم جدا يجب تركه ومحاربته، وكذا قولهم: إن النبى صلى الله عليه وسلم يحزن ويتألم من قراءة سورة: تَبَّتْ يَدا أَبِي لَهَبٍ [المسد: 1] لأجل عمه، فلا تقرأ ولا يصلى بها، وكيف ذلك وقد أنزل الله: لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِياءَ [الممتحنة: 1] الآية، واعتقادهم أن من حلف على المصحف يصاب بالعمى والكساح هو من خرافاتهم وجهالاتهم المضحكة، وإنما هو يمين يكفر عنها إن رأى أن غيرها خير منها على بعض المذاهب، وإلا فهو يمين غموس، أى يغمس صاحبه فى النار، وقراءتهم سورة يس أربعين مرة بدعائها المخترع المحدث لإهلاك شخص، أو فك مسجون، أو قضاء حاجة، جهل أيضا وبعد عن اتباع الحقائق الشرعية.

وحديث: «يس لما قرئت له». قال الحافظ السخاوى: لا أصل له، وكذا حديث: «خذ من القرآن ما شئت لما شئت»، فتشت عنه كثيرا فى الكتب، فلم أجد له أصلا، وفى آخر تفسير سورة يس من البيضاوى والنسفى أحاديث موضوعة فى فضلها، فينبغى أن لا يعول عليها، وجمع آى سجدات القرآن والسجود عند كل آية بدعة تقدم الكلام عليها، وجمع تهليلات القرآن كما فى حزب البيومى، ابتداع فى الدين، واختراع لا يرضى، وقراءة النساء القرآن على الرجال فى المحافل وغيرها ممنوع شرعا، وقد قال الرسول صلى الله عليه وسلم: «إذا نابتكم نائبة فى صلاتكم فسبحوا، إنما جعل التصفيق للنساء»، كذا فى الصحيح، أينها هن الرسول عن التلفظ بسبحان الله فى الصلاة ونجلسهن بيننا للتغنى بالقرآن على مقعد خاص فى محافل الرجال؟ إِنَّ هذا لَشَيْءٌ عُجابٌ [ص: 5]، وكتب آيات السلام ك سَلامٌ عَلى نُوحٍ فِي الْعالَمِينَ [الصافات: 79] بدعة ضلالة أيضا.

وجعلهم المصحف حجابا يعلقونه على أنفسهم، وعلى مواشيهم جهل شنيع وبدعة، وحمل النساء له أيام حيضهن، ونفاسهن، ووقت جنابتهن، ضلال كبير، وامتهان لكتاب الله القدير، وخبر نزول دم عثمان عند قتله على كتاب الله على لفظ: فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ [البقرة: 137] باطل لا أصل له، كما فى أسنى المطالب، وحديث شمهورش قاضى الجن الذى فيه: حدثنى سيد المرسلين محمد صلى الله عليه وسلم قال:

«حدثنى جبريل، قال: حدثنى إسرافيل عن رب العزة أن من قرأ سورة الفاتحة فى نفس واحد لقضاء حاجة قضيت»، هذا باطل معارض بما عرف من أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا قرأ يقف على رءوس الآى ويمدها، ثم لماذا وما فائدة قراءتها فى نفس واحد؟ إن هذا لمن أفرى الفرى على الله ورسوله، ولو كان صحيحا لثبت فى الصحاح والسنن، واشتهر على
এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ যা বর্জন করা এবং প্রতিহত করা আবশ্যক। একইভাবে তাদের এই কথা যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাচার কারণে 'তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবি' (সূরা আল-মাসাদ: ১) পাঠ করলে দুঃখ ও কষ্ট পান, তাই এটি পাঠ করা যাবে না বা এটি দিয়ে সালাত পড়া যাবে না—এটি কীভাবে সম্ভব অথচ আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন: 'তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না' (সূরা আল-মুমতাহিনা: ১) আয়াতটি। আর মুসহাফের (কুরআনের অনুলিপি) উপর শপথ করলে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় বলে তাদের বিশ্বাস করা তাদের হাস্যকর কুসংস্কার ও মূর্খতার অন্তর্ভুক্ত। বরং এটি একটি শপথ যার জন্য কাফফারা দিতে হয় যদি কেউ মনে করে যে অন্যটি তার চেয়ে উত্তম (কিছু মাযহাব অনুযায়ী), অন্যথায় এটি 'ইয়ামিনে গামূস' (ডুবন্ত শপথ), অর্থাৎ যা তার লিপ্তকারীকে জাহান্নামে নিমজ্জিত করে। আর কোনো ব্যক্তিকে ধ্বংস করতে, বন্দি মুক্ত করতে বা কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য তাদের উদ্ভাবিত নতুন দুআসহ সূরা ইয়াসিন চল্লিশ বার পাঠ করাও মূর্খতা এবং শরীয়তের বাস্তবতা অনুসরণ থেকে বিচ্যুতি।

আর 'ইয়াসিন যে উদ্দেশ্যে পাঠ করা হয় তা পূরণ করে'—এই হাদিসটি সম্পর্কে হাফেজ সাখাবী বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই। একইভাবে 'কুরআন থেকে যা ইচ্ছা তা গ্রহণ করো যা চাও তার জন্য'—এই হাদিসটি আমি কিতাবসমূহে অনেক অনুসন্ধান করেছি কিন্তু এর কোনো ভিত্তি পাইনি। বায়যাবী ও নাসাফী তাফসীরের শেষে সূরা ইয়াসিনের ফযীলত সম্পর্কে কিছু জাল হাদিস রয়েছে, তাই সেগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কুরআনের সিজদার আয়াতসমূহ একত্র করা এবং প্রতিটি আয়াতের সময় সিজদা করা একটি বিদআত যার আলোচনা আগে হয়েছে। আর বায়ুমীর হিযবের মতো কুরআনের তাহলীলসমূহ একত্র করা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবন এবং এমন এক মনগড়া বিষয় যা গ্রহণযোগ্য নয়। মজলিসে বা অন্য কোথাও পুরুষদের সামনে নারীদের কুরআন তিলাওয়াত করা শরীয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'তোমাদের সালাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তোমরা তাসবীহ পাঠ করবে, আর হাততালি দেওয়া কেবল নারীদের জন্য।' এটি সহীহ হাদিসে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানে সালাতে 'সুবহানাল্লাহ' বলতে নারীদের নিষেধ করেছেন, সেখানে কীভাবে আমরা তাদের আমাদের মাঝে বসিয়ে পুরুষদের মজলিসে বিশেষ আসনে বসিয়ে সুর করে কুরআন পাঠ করতে দেই? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয় (সূরা সাদ: ৫)। আর সালামের আয়াতসমূহ যেমন 'বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের ওপর সালাম বর্ষিত হোক' (সূরা আস-সাফফাত: ৭৯) লিখে রাখা বা ঝুলানোও একটি ভ্রষ্ট বিদআত।

আর মুসহাফকে কবজ বানিয়ে নিজেদের ও নিজেদের গবাদি পশুর ওপর ঝুলিয়ে রাখা জঘন্য মূর্খতা ও বিদআত। হায়েয (ঋতুস্রাব), নিফাস (প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) এবং জানাবাত (নাপাকি) অবস্থায় নারীদের মুসহাফ বহন করা বড় ধরণের গোমরাহি এবং মহান আল্লাহর কিতাবের অবমাননা। আর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিহত হওয়ার সময় তাঁর রক্ত আল্লাহর কিতাবের এই আয়াতের ওপর পড়ার সংবাদ: 'অতঃপর তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ' (সূরা আল-বাকারা: ১৩৭)—এটি ভিত্তিহীন বাতিল কথা, যেমনটি আসনী আল-মাতালিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর জিনের বিচারক শামহুরিশের হাদিস যাতে বলা হয়েছে: 'সাইয়্যিদুল মুরসালীন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন যে:

জিবরাঈল আমাকে বলেছেন, তিনি ইসরাফীল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইজ্জতের প্রতিপালক (আল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি প্রয়োজন পূরণের জন্য এক নিঃশ্বাসে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে তার প্রয়োজন পূরণ হবে'—এটি একটি বাতিল কথা যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সুন্নাহর বিরোধী। কারণ তিনি যখন তিলাওয়াত করতেন তখন প্রতিটি আয়াতের শেষে থামতেন এবং দীর্ঘ করে তিলাওয়াত করতেন। তাছাড়া কেন এবং এক নিঃশ্বাসে পড়ার ফায়দাই বা কী? এটি নিশ্চিতভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর চরম অপবাদ। যদি এটি সত্য হতো তবে এটি সহীহ ও সুনান গ্রন্থসমূহে সাব্যস্ত হতো এবং প্রসিদ্ধি লাভ করত।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ألسنة الصحابة والتابعين، ولم تقتصر روايته على شمهورش الجنى.

وإننى لأعجب كيف يروج هذا على عقول العلماء؟ وكيف يقبلونه؟ وكيف يحفظونه ويقرءونه على الناس، وفى مصنفاتهم يكتبونه؟ وقد سمعت هذا الحديث من شيخ أزهرى يقال له: عالم، وقرأته على ظهر كتاب لشيخ من المتأخرين، فيا للأسف على فساد عقول رؤساء الدين، ورواج الأباطيل والأضاليل والترهات على من اشتهر من بين الناس بأنهم كبار المسلمين، وعلى عدم معرفتهم بين الصحيح والمكذوب على الرسول الأمين صلى الله عليه وسلم.

وإننى والله لا أثق أبدا بعلم ولا دين هؤلاء ما داموا لا يفرقون بين الحق والباطل، والصحيح والموضوع، ولا بين الأنوار الربانية المحمدية، والظلمات الشيطانية.

والدعاء الذى فى آخر المصاحف لا يجوز التعبد به قطعا، بل هو مذموم وممنوع شرعا؛ لأنه مخترع وليس مأثورا، بل كله بدع ضلالات، وتوسلات موضوعات، فلا تحل قراءته، بل ولا كتابته فى آخر المصاحف، والقرآن والسنة كافيان شافيان، قال الله تعالى مسفها وعائبا أحلام من لم يكتفوا بكتاب الله: أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ [العنكبوت: 51]، وفى الحديث: «كفى بقوم ضلالة أن يتبعوا كتابا غير كتاب نبيهم أنزل على نبى غير نبيهم» رواه أبو داود فى مراسيله.

فكيف بكم وقد أصبحت جل عباداتكم لا هى عن نبى من أنبياء الله المتقدمين، ولا هى عن نبيكم محمد صلى الله عليه وسلم، ولا عن أصحابه، بل أوحى بها الشيطان على بعض المتعالين، فحذار من التعبد بما لم ينزل على نبيكم، ولا فعله أصحاب نبيكم، إذ المتعبد به بدعى، جاهل، غبى.

وقراءة الختمات التى يعملونها للأموات ويجتمع لها القراء ويفرقون على بعضهم أجزاء الأربعة- المصحف- ثم يستفتحون القراءة ويختمونها جميعا فى ساعة، ثم يهدون ثواب ما قرءوه للمتوفى، بدعة ضلالة فاعلها غاية الجهالة، ولو عاشوا عمر نوح يبحثون فى الشريعة الغراء على دليل يدل على ذلك لما وجدوه، وهؤلاء لو أن الداعى لهم أخرج لهم الغداء أو العشاء قليلا، أو أعطاهم قروشا قليلة، لفضحوه وسبوه ولعنوه لعنا كبيرا، فنعوذ بالله من الجهل والشقاء والخيبة.

والقارئ، الفقى، الراتب فى البيوت دائما وفى رمضان بدعة، ودخولهم على النساء
সাহাবী ও তাবেয়ীগণের মুখনিসৃত বাণীসমূহ, এবং এর বর্ণনা কেবল শিমহুরিশ জিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

আমি সত্যিই আশ্চর্যান্বিত হই যে, কীভাবে এই সব বিষয় আলেমদের বিবেকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে? কীভাবে তারা এগুলো গ্রহণ করে? কীভাবে তারা এগুলো মুখস্থ করে ও মানুষের সামনে পাঠ করে এবং নিজেদের কিতাবসমূহে তা লিপিবদ্ধ করে? আমি জনৈক আজহারী শায়খের নিকট এই হাদীসটি শুনেছি যাকে আলিম বলা হয়, এবং আমি তা পরবর্তী যুগের একজন শায়খের কিতাবের প্রচ্ছদে পড়েছি। আফসোস, দীনের নেতাদের বিবেকের বিপর্যয়ের জন্য এবং জনগণের মাঝে যারা বড় মুসলিম হিসেবে পরিচিত তাদের কাছে এই সব বাতিল, বিভ্রান্তি ও অসার কথার প্রসারের জন্য; আর বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে চালানো মিথ্যা ও সহীহ কথার মাঝে তাদের পার্থক্য করতে না পারার জন্য।

আল্লাহর কসম, আমি এই সব লোকদের ইলম ও দীনের ওপর কখনোই আস্থা রাখি না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সত্য ও মিথ্যার মাঝে, সহীহ ও বানোয়াট বর্ণনার মাঝে এবং রব্বানী মুহাম্মদী নূর ও শয়তানি অন্ধকারের মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়।

কুরআন মাজীদের শেষে যে দুআটি থাকে তা দিয়ে ইবাদত করা নিশ্চিতভাবে জায়েজ নয়, বরং তা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ; কারণ এটি একটি উদ্ভাবিত বিষয়, এটি হাদীস দ্বারা বর্ণিত নয়। বরং এর পুরোটাই ভ্রান্ত বিদআত এবং বানোয়াট উসিলা মাত্র। সুতরাং এটি পাঠ করা বৈধ নয়, এমনকি কুরআনের শেষে এটি লিপিবদ্ধ করাও উচিত নয়। কুরআন ও সুন্নাহই (হিদায়াতের জন্য) যথেষ্ট ও আরোগ্যস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা সেই সব লোকদের বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা ও দোষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যারা আল্লাহর কিতাবকে যথেষ্ট মনে করে না: "তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা তাদের নিকট তিলাওয়াত করা হয়? অবশ্যই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে" [আনকাবুত: ৫১]। হাদীসে এসেছে: "কোনো জাতির পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তারা তাদের নবীর কাছে নাযিলকৃত কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব অনুসরণ করে" এটি আবু দাউদ তাঁর 'মারাসীল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তাহলে আপনাদের অবস্থা কী হবে যখন আপনাদের অধিকাংশ ইবাদত না আল্লাহর পূর্ববর্তী কোনো নবীর পক্ষ থেকে এসেছে, না আপনাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে, আর না তাঁর সাহাবীদের পক্ষ থেকে? বরং শয়তান এগুলো কিছু দাম্ভিক ব্যক্তির মনে গেঁথে দিয়েছে। অতএব, এমন কিছু দিয়ে ইবাদত করা থেকে সাবধান থাকুন যা আপনাদের নবীর ওপর নাযিল হয়নি এবং যা আপনাদের নবীর সাহাবীগণও করেননি; কেননা এর মাধ্যমে ইবাদতকারী ব্যক্তি বিদআতী, মূর্খ ও নির্বোধ।

আর মৃতদের উদ্দেশ্যে যে খতম পাঠের আয়োজন করা হয় এবং যার জন্য ক্বারীগণ একত্রিত হয় এবং একে অপরের মধ্যে কুরআনের বিভিন্ন অংশ বা পারা ভাগ করে নেয়—অতঃপর তারা তিলাওয়াত শুরু করে এবং এক ঘণ্টার মধ্যে সবাই মিলে খতম শেষ করে, এরপর তারা এই পঠিত অংশের সওয়াব মৃত ব্যক্তির রূহের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে—এটি একটি পথভ্রষ্ট বিদআত। এর লিপ্ত ব্যক্তি চরম মূর্খ। তারা যদি নূহ আলাইহিস সালামের সমান দীর্ঘ জীবন পেয়েও এই উজ্জ্বল শরীয়তে এর স্বপক্ষে কোনো দলীল অনুসন্ধান করে, তবে তারা তা পাবে না। এই সমস্ত লোকদের অবস্থা এমন যে, যদি দাওয়াতকারী ব্যক্তি তাদের দুপুরের বা রাতের খাবার সামান্য কম দেয়, কিংবা সামান্য কিছু পয়সা দেয়, তবে তারা তাকে অপদস্থ করবে, গালিগালাজ করবে এবং কঠোরভাবে অভিশাপ দেবে। আমরা মূর্খতা, দুর্ভাগ্য ও ব্যর্থতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর ঘরবাড়িতে কিংবা রমজান মাসে নিয়মিতভাবে ক্বারী বা ফকীহ রাখা বিদআত, এবং মহিলাদের মাঝে তাদের প্রবেশ...
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
حال غياب الرجال مفسدة ودياثة، وشحذ القراء بالقرآن فى الشوارع والطرقات ضلال كبير، وشر خطير، ولو استغنوا بتجارة أو صناعة لغناهم الله قطعا: وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ [الطلاق: 2، 3]، وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْراً [الطلاق: 4]، وفى الحديث عنه صلى الله عليه وسلم قال: «لو أنكم تتوكلون على الله حق توكله لرزقكم كما يرزق الطير تغدوا خماصا وتروح بطانا» رواه الإمام أحمد، والترمذى، وابن ماجة، والحاكم، عن عمر بسند صحيح كما فى الجامع، فاتقوا الله أيها القراء، وتوكلوا على الله وتحرفوا لدنياكم، «فإن الله يحب العبد المؤمن المحترف، واعرفوا ربكم وادعوه، فإنكم لو عرفتم الله حق معرفته لزالت لدعائكم الجبال» وذكرهما فى الجامع.

وقراءة الفاتحة زيادة فى شرف النبى صلى الله عليه وسلم بدعة لا أصل لها، وقد قال تعالى: صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً [الأحزاب: 56]، ولم يقل: اقرءوا عليه، وقراءة الفاتحة بنية قضاء الحاجات، وتفريح الكربات، وهلاك الأعداء، بدعة لم يأذن بها الدين، وقراءة الفاتحة بالسماح كما يفعله الفقراء بدعة، وقراءة الفاتحة عند شرط خطبة الزواج واعتقادهم أن قراءتها عهد لا ينقض بدعة واعتقاد فاسد وجهل.

وقراءة سورة الفيل إلى كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ [الفيل: 5] ثم تكرير كَعَصْفٍ مرات لأجل إسكات الكلاب عن النباح، واعتقادهم أنها تمنع الكلب عن عض الإنسان، وأنه إذا قرأ لفظة مَأْكُولٍ عضه الكلب، هذا هو كلام واعتقاد من لا عقل له ولا دين.

والمسبعات: الفاتحة، والمعوذتان والإخلاص، والكافرون سبعا سبعا بدعة، لم يرد فيها ولا حديث ضعيف، ولم يتعبد بها الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا أحد من خلفائه، ولا أصحابه، فما هى إلا منام رآه إبراهيم التيمى، وليست المنامات شريعة يتعبد بها.

والفائدة التى يعملونها لجلب الرزق، ويصومون عن أكل كل ذى روح أياما، ويحتجبون عن الناس فى الخلوة فى مكان مظلم، ويكررون عقب كل صلاة مئات المرات آية: وَذَلَّلْناها لَهُمْ فَمِنْها رَكُوبُهُمْ وَمِنْها يَأْكُلُونَ [يس: 72] هى باطلة قطعا، ولا تعود على صاحبها بأدنى فائدة، بل بالخيبة الدائمة، والذى يجلب الرزق حقا، ويفتح لك بركات السماء والأرض، إنما هو تقوى الله، قال تعالى: وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنا عَلَيْهِمْ بَرَكاتٍ مِنَ السَّماءِ وَالْأَرْضِ [الأعراف: 96].
পুরুষদের অনুপস্থিতি বা দায়িত্বহীনতার অবস্থা ফাসাদ ও লজ্জাহীনতার নামান্তর। রাস্তাঘাটে এবং পথে-ঘাটে কুরআন পাঠের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি করা এক বিরাট পথভ্রষ্টতা এবং ভয়াবহ অনিষ্ট। যদি তারা ব্যবসা বা শিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করত, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের অভাবমুক্ত করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।" [আত-তালাক: ২, ৩]। "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।" [আত-তালাক: ৪]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "যদি তোমরা আল্লাহর ওপর সঠিক পন্থায় ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিযিক দান করতেন যেভাবে তিনি পাখিদের রিযিক দান করেন; তারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত অবস্থায় ফিরে আসে।" ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম উমর (রা.) থেকে এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'আল-জামে' গ্রন্থে রয়েছে। অতএব হে ক্বারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহর ওপর ভরসা করো এবং জীবিকার অন্বেষণে পেশা গ্রহণ করো। কেননা, "নিশ্চয়ই আল্লাহ পরিশ্রমী মুমিন বান্দাকে ভালোবাসেন।" আরও বর্ণিত আছে: "তোমরা তোমাদের রব্বকে চিনো এবং তাঁর কাছে দুআ করো; কেননা তোমরা যদি আল্লাহকে যথাযথভাবে চিনতে, তবে তোমাদের দুআর প্রভাবে পাহাড়ও অপসারিত হয়ে যেত।" এই কথা দুটিও 'আল-জামে' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সুরা ফাতিহা পাঠ করা একটি বিদআত, যার কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তাঁর ওপর সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।" [আল-আহযাব: ৫৬]। তিনি এ কথা বলেননি যে, 'তাঁর ওপর ফাতিহা পাঠ করো'। তদ্রূপ প্রয়োজন পূরণ, বিপদ দূরীকরণ এবং শত্রু বিনাশের নিয়তে সুরা ফাতিহা পাঠ করা এমন এক বিদআত যার অনুমতি দ্বীন দেয়নি। ফকীরদের ন্যায় অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সুরা ফাতিহা পাঠ করাও বিদআত। বিবাহের প্রস্তাবের সময় শর্ত হিসেবে সুরা ফাতিহা পাঠ করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে এটি একটি অলঙ্ঘনীয় চুক্তি—তা বিদআত, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মূর্খতা।

সুরা ফীল 'কা-আসফিম মাকুল' পর্যন্ত পাঠ করা এবং কুকুরের ঘেউ ঘেউ থামানোর জন্য 'কা-আসফিম' শব্দটির বারবার পুনরাবৃত্তি করা, আর এই বিশ্বাস রাখা যে এটি মানুষকে কামড়ানো থেকে কুকুরকে বিরত রাখে, কিন্তু 'মাকুল' শব্দটি উচ্চারণ করলে কুকুর কামড়ে দেবে—এসবই বিবেকহীন ও দ্বীনহীন মানুষের কথা ও বিশ্বাস।

'মুসাব্বিআত' (অর্থাৎ ফাতিহা, মুআওবিযাতাইন, ইখলাস ও কাফিরুন প্রত্যেকটি সাত বার করে পড়া) একটি বিদআত। এ প্রসঙ্গে কোনো দুর্বল হাদিসও বর্ণিত হয়নি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর কোনো খলীফা কিংবা তাঁর কোনো সাহাবী এর মাধ্যমে ইবাদত করেননি। এটি ইবরাহীম আত-তাইমীর দেখা একটি স্বপ্ন বৈ কিছু নয়; আর স্বপ্ন কোনো শরীয়ত নয় যার দ্বারা ইবাদত সাব্যস্ত হয়।

রিযিক অন্বেষণের জন্য তারা যে আমল করে থাকে, যেমন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে কোনো প্রাণীজ খাদ্য গ্রহণ না করে রোজা রাখা, অন্ধকার স্থানে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনে অবস্থান করা এবং প্রত্যেক সালাতের পর শত শত বার এই আয়াত পাঠ করা: "আর আমি এগুলোকে তাদের অনুগত করে দিয়েছি, ফলে এগুলোর কোনটি তাদের বাহন এবং কোনটি তারা আহার করে।" [ইয়া-সীন: ৭২]—এগুলো নিশ্চিতভাবেই বাতিল। এগুলো আমলকারীর নূন্যতম কোনো উপকারে আসে না, বরং এর মাধ্যমে কেবল স্থায়ী ব্যর্থতাই অর্জিত হয়। যা প্রকৃতপক্ষে রিযিক বৃদ্ধি করে এবং আপনার জন্য আসমান ও যমীনের বরকত উন্মুক্ত করে দেয় তা হলো একমাত্র আল্লাহর তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের ওপর আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।" [আল-আরাফ: ৯৬]।
(খণ্ড: ১) আওনুল হান্নান ফী শারহিল আমসাল ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقولهم: كان السيوطى إذا أراد أن يفسر القرآن، خرج إلى الجبل ففسره هناك خوفا من الخطأ فى التفسير، فإنه ينزل الغضب على أهل البلد، كلام باطل لا أصل له البتة، وما ألقى هذا بين الناس إلا الشيطان، ليصدهم به عن سبيل الله، وقد قال الله تعالى:

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ [القمر: 17]، أى متذكر ومتعظ به، وقال تعالى: كِتابٌ فُصِّلَتْ آياتُهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ بَشِيراً وَنَذِيراً فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لا يَسْمَعُونَ [فصلت: 1 - 4]، وقال تعالى: كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبابِ [ص: 29].

ولهذا الجهل الفاشى بينهم، ترى الناس جميعا، حتى حملة القرآن، يتحاملون عن التكلم فى معنى آية من كتاب الله، وإن كان أحدهم حافظا لمعناها، وإن كان سمع تفسيرها عشرين مرة، وإن كان قرأها فى التفسير مائة مرة، فتراهم يتناهون بحدة وشدة، يقولون: ارجع ارجع أحسن تنزل علينا الغضب، ما لك وما للتفسير، خلى التفسير لأصحابه يا عم.

ومن هنا عم فينا الجهل وطم، وساءت أخلاقنا، وسفهت أحلامنا، وقسمت قلوبنا، فَهِيَ كَالْحِجارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً [البقرة: 74]، وعصى الله ورسوله جهارا، وبعدنا عن كل فضيلة، ووقعنا فى كل رذيلة، حتى صرنا أذل وأحقر الأمم بعد أن كانت العزة والسلطان لنا، وكل هذا بسبب هجرنا وبعدنا من تعاليم القرآن السامية، وعدم اعتناقنا لأوامره ونواهيه، وإعراضنا عن فهمه وتدبر معانيه، قال تعالى: وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً [طه: 124]، وقوله: وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطاناً فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ [الزخرف: 36] وقوله: وَمَنْ يُعْرِضْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذاباً صَعَداً [الجن: 17]، وقوله: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآياتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْها وَنَسِيَ ما قَدَّمَتْ يَداهُ [الكهف: 57].

واعتقادهم كفر من غلط، أو لحن فى قراءة سورة الكافرين اعتقاد باطل فظيع شنيع، ومتى يتعلم الإنسان دينه، وكتاب ربه، إذا كان بغلطة ينزل عليه وعلى أهل بلدته المقت والغضب، وبلحنه يكفر ويخرج من الدين؟ نعوذ بالله من ضلال المضلين، ومن الشيطان الرجيم، لما علم الشيطان عظم أجر هذه السورة ألقى هذا بين الناس.

فقد روى الطبرانى، والحاكم، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تعدل ثلث القرآن، وقُلْ يا أَيُّهَا الْكافِرُونَ تعدل ربع القرآن» حديث صحيح، كما فى الجامع، وقد تقدم فى الحديث المتفق عليه أن: «الذى يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له
তাদের এই উক্তি যে: সুয়ূতী যখনই কুরআনের তাফসীর করার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন তিনি পাহাড়ের দিকে বেরিয়ে যেতেন এবং তাফসীরে ভুলের ভয়ে সেখানেই তাফসীর সম্পন্ন করতেন; কেননা (ভুল হলে) জনপদের অধিবাসীদের ওপর আল্লাহর গযব নাযিল হবে—এটি একটি ভিত্তিহীন বাতিল কথা। শয়তান মানুষের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিয়েছে কেবল তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন:

"আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" [আল-কামার: ১৭], অর্থাৎ যে এর মাধ্যমে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করবে। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "এটি একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআনরূপে এমন কওমের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, তাই তারা শোনে না।" [ফুসসিলাত: ১-৪]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" [সোয়াদ: ২৯]।

তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া এই অজ্ঞতার কারণে আপনি সকল মানুষকে দেখবেন, এমনকি কুরআন বহনকারীদেরও, তারা আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের অর্থ নিয়ে কথা বলতে ভীষণ দ্বিধাবোধ করে; যদিও তাদের কেউ সেই আয়াতের অর্থ মুখস্থ জানে, যদিও সে এর তাফসীর বিশবার শুনে থাকে এবং যদিও সে তাফসীরের কিতাবে তা শতবার পাঠ করে থাকে। এরপরও আপনি দেখবেন তারা একে অপরকে কঠোর ও তীব্রভাবে নিষেধ করে এবং বলে: "ফিরে এসো, ফিরে এসো! নতুবা আমাদের ওপর গযব নাযিল হবে। তোমার তাফসীরের সাথে কী কাজ? হে বন্ধু, তাফসীরকে এর বিশেষজ্ঞদের জন্য ছেড়ে দাও।"

এখান থেকেই আমাদের মাঝে অজ্ঞতা ছেয়ে গিয়েছে ও তা প্লাবিত হয়েছে, আমাদের চরিত্র কলুষিত হয়েছে, আমাদের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং আমাদের অন্তরগুলো পাষাণ হয়ে গেছে; "ফলে তা পাথরের মতো অথবা তার চেয়েও বেশি কঠোর।" [আল-বাকারা: ৭৪]। প্রকাশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করা হচ্ছে, আমরা প্রতিটি সদ্গুণ থেকে বিচ্যুত হয়েছি এবং প্রতিটি হীনতায় লিপ্ত হয়েছি। এমনকি আমরা জাতিসমূহের মাঝে অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ হয়ে পড়েছি, অথচ একসময় সম্মান ও কর্তৃত্ব আমাদেরই ছিল। এই সবকিছুর কারণ হলো কুরআনের সুউচ্চ শিক্ষাগুলোকে পরিত্যাগ করা ও তা থেকে দূরে সরে যাওয়া, এর আদেশ-নিষেধগুলো পালন না করা এবং এর অর্থ বোঝা ও অনুধাবন করা থেকে বিমুখ থাকা। মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত।" [ত্বহা: ১২৪]। এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয় তার সহচর।" [আয-যুখরুফ: ৩৬]। এবং তাঁর বাণী: "আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, তিনি তাকে অত্যন্ত কষ্টদায়ক আযাবে প্রবেশ করাবেন।" [আল-জিন: ১৭]। এবং তাঁর বাণী: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং সে তার দুই হাত যা আগে পাঠিয়েছে (তার কৃতকর্ম) তা ভুলে গিয়েছে?" [আল-কাহফ: ৫৭]।

সূরা আল-কাফিরুন পাঠে কেউ ভুল করলে বা লাহ্‌ন (উচ্চারণ বিভ্রাট) করলে সে কাফের হয়ে যাবে—তাদের এমন বিশ্বাস একটি বাতিল, ভয়াবহ ও জঘন্য বিশ্বাস। মানুষ কখন তার দ্বীন এবং তার রবের কিতাব শিখবে, যদি একটি ভুলের কারণে তার নিজের ওপর এবং তার জনপদের অধিবাসীদের ওপর ঘৃণা ও গযব নাযিল হয়, আর উচ্চারণের সামান্য ভুলে সে কাফের হয়ে দ্বীন থেকে বের হয়ে যায়? পথভ্রষ্টকারীদের বিভ্রান্তি এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। শয়তান যখন এই সূরার সওয়াবের মাহাত্ম্য জানতে পেরেছে, তখনই সে মানুষের মাঝে এই ভ্রান্ত ধারণা প্রক্ষেপ করেছে।

কেননা তাবারানি এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সূরা আল-ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য এবং কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন (সূরা আল-কাফিরুন) কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমতুল্য।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যেমনটি আল-জামে' গ্রন্থে এসেছে। এবং মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে যায় অথচ তা তার জন্য কষ্টকর, তার জন্য রয়েছে..."