(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: -)
علوم القرآن عند الشاطبي من خلال كتابه الموافقات القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: علوم القرآن عند الشاطبي من خلال كتابه الموافقات
المؤلف: محمد سالم أبو عاصي
الناشر: دار البصائر - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 176
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
আল-মুয়াফাকাত গ্রন্থের আলোকে ইমাম শাতীবীর নিকট উলুমুল কুরআন বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-মুয়াফাকাত গ্রন্থের আলোকে ইমাম শাতীবীর নিকট উলুমুল কুরআন
লেখক: মুহাম্মদ সালেম আবু আসি
প্রকাশক: দারুল বাসাইর - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরী - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
شيخنا الأستاذ الدكتور محمد سالم أبو عاصيبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد:
فالأستاذ الدكتور محمد سالم- حفظه الله تعالى- شخصية علمية بارزة، وواحد من أبناء الأزهر الشريف، الذين حفظوا للأزهر مكانته، وللعلم حرمته، وللتراث العربي والإسلامي عزته ورفعته، وهذه سطور قليلة نتعرف من خلالها على جوانب مختلفة تقربنا من تلك الشخصية.
فقد ولد الأستاذ الدكتور محمد سالم أبو عاصي في العشرين من مارس سنة 1962 م.
والتحق في أول الأمر بالمدارس الابتدائية ثم الإعدادية العامة التابعة لوزارة التربية والتعليم، وفي تلك المرحلة المبكرة من حياته بدأ يخطو أولى خطواته نحو رحلته العامرة في طلب العلم، فقد تعرف إلى رجل دانت له الأوساط الإسلامية الخاصة والعامة بكثير من الفضل والجهد، ذلك هو الداعية الإسلامي الشيخ" عبد الحميد كشك"، فقد تعرف إليه وانجذب إلى أسلوبه البليغ، وفصاحته القوية، وعربيته القحة، فاقترب منه، ونشأت بينهما من أواصر الودّ والمحبة ما جعل الشيخ يأنس إليه ويقربه منه؛ فقرأ عليه في تلك المرحلة بعض كتب ابن هشام كقطر الندى وغيره.
আমাদের শায়খ উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ সালেম আবু আসীপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর। অতঃপর:
উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ সালেম—আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন—একজন বিশিষ্ট ইলমি ব্যক্তিত্ব এবং আল-আযহার আশ-শরীফের কৃতি সন্তানদের একজন, যারা আল-আযহারের মর্যাদা, ইলমের পবিত্রতা এবং আরবি ও ইসলামি ঐতিহ্যের গৌরব ও উচ্চতাকে রক্ষা করেছেন। এই কয়েকটি পঙ্ক্তির মাধ্যমে আমরা এই মহান ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরিচিত হব।
উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ সালেম আবু আসী ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২০শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক ও এরপর সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। জীবনের সেই প্রারম্ভিক সময়েই তিনি ইলম অন্বেষণের সমৃদ্ধ যাত্রায় নিজের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তখন তিনি এমন এক ব্যক্তির পরিচয় লাভ করেন, যার অবদান ও প্রচেষ্টার প্রতি সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল ইসলামি মহল কৃতজ্ঞ; তিনি হলেন প্রখ্যাত ইসলামি দাঈ শায়খ আবদুল হামিদ কিশক। তিনি শায়খের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর অলঙ্কারপূর্ণ বাগ্মিতা, শক্তিশালী সাবলীলতা ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হন। ফলে তিনি শায়খের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার এমন এক বন্ধন তৈরি হয় যে শায়খ তাঁর সঙ্গ পছন্দ করতেন এবং তাঁকে কাছে টেনে নিতেন। সেই সময়েই তিনি শায়খের কাছে ইবনে হিশামের ‘কাতরুন নাদা’ সহ বেশ কিছু কিতাব পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم انشرح صدره أن يلتحق بالأزهر الشريف؛ حتى يسير على الدرب وينسج على المنوال، فالتحق بالثانوية الأزهرية بالقسم العلمي، ولم يكن يكتفي ذلك الطالب النهم بما يلقى عليه في قاعات الدرس بالمعاهد الأزهرية، فسعى إلى العلماء في بيوتهم ومساجدهم ينهل من معارفهم، ويرتشف من علومهم
… لكنه لا يرتوي.
ثم التحق- حفظه الله- بكلية أصول الدين، فتعرف إلى علمائها، وتقرب من أفذاذها، نذكر منهم على وجه الخصوص عالمين جليلين:
الأستاذ الدكتور محمد عبد المنعم القيعي- رحمه الله أستاذ ورئيس قسم التفسير بأصول الدين، الذي قربه منه، وأنزله منه منزلة الولد من الوالد، فأفاد منه فوائد عظيمة وحصّل منه علما جمّا، وقد أشرف الدكتور القيعي على الرسالة التي أعدها الدكتور محمد سالم لنيل درجة الماجستير وكان موضوعها:" تفسير آيات الشرط في القرآن الكريم"؛ ونظرا للمحبة العظيمة والرابطة القوية التي كانت تجمع بين الطالب وأستاذه، بل بين الولد ووالده، بكى الشيخ القيعي بكاء الفرح الممزوج بدموع الوداع بعد هذه المناقشة؛ فقد انتقل رحمة الله عليه، بعدها بأيام إلى مثواه الأخير، تاركا ولده يكمل رحلته في رعاية ربه أرحم الراحمين.
وثاني الأستاذين هو الأستاذ الدكتور إبراهيم عبد الرحمن خليفة- حفظه الله تعالى- الذي كان ولا يزال، يحتفظ بأوثق الصلة وأشد المحبة، بتلميذه وولده الدكتور محمد سالم، فقد أشرف على رسالته للدكتوراة، وكان عنوانها:" التعليل في القرآن الكريم دراسة وتفسيرا"، وهنا يجدر بي أن
অতঃপর আল-আজহার আল-শরীফে যোগদানের জন্য তাঁর চিত্ত প্রসন্ন হলো; যাতে তিনি তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলতে পারেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন। ফলে তিনি আল-আজহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেই জ্ঞানপিপাসু ছাত্র আল-আজহারের বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের শ্রেণীকক্ষে যা প্রদান করা হতো, তাতেই কেবল তুষ্ট ছিলেন না; বরং তিনি আলেমদের জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে তাঁদের গৃহ ও মসজিদে ছুটে যেতেন, তাঁদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান লাভ করতে এবং তাঁদের ইলম থেকে সুধা পান করতে
… কিন্তু তবুও তাঁর তৃষ্ণা মিটত না।
এরপর তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—উসুল আল-দ্বীন অনুষদে ভর্তি হন এবং সেখানকার আলেমদের সাথে পরিচিত হন ও বরেণ্য মনীষীদের নিকটবর্তী হন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে আমরা দুজন মহান আলেমের কথা উল্লেখ করছি:
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবদুন মুনইম আল-ক্বিয়াই—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যিনি উসুল আল-দ্বীন অনুষদের তাফসির বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজের অত্যন্ত নিকটবর্তী করে নিয়েছিলেন এবং তাঁকে পিতার নিকট সন্তানের ন্যায় মর্যাদা দিয়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর নিকট থেকে অসামান্য উপকার লাভ করেন এবং প্রভূত ইলম অর্জন করেন। ডক্টর মুহাম্মদ সালেম তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য যে থিসিসটি প্রস্তুত করেছিলেন, ডক্টর ক্বিয়াই তার তত্ত্বাবধান করেন; যার বিষয়বস্তু ছিল: "তাফসিরু আয়াতুশ শারত ফিল কুরআনুল কারিম" (পবিত্র কুরআনের শর্তবাচক আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা)। ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে, বরং সন্তান ও পিতার মাঝে বিদ্যমান সেই সুগভীর মহব্বত ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কারণে, এই গবেষণামূলক পর্যালোচনার পর শায়খ ক্বিয়াই বিদায়ের অশ্রুমিশ্রিত আনন্দের কান্না কেঁদেছিলেন। এর কয়েক দিন পরেই তিনি—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—পরলোকগমন করেন, এবং তাঁর সন্তানতুল্য ছাত্রকে পরম দয়াময় রবের আশ্রয়ে তাঁর ইলমি সফর সম্পন্ন করার জন্য রেখে যান।
দ্বিতীয় শিক্ষক হলেন প্রফেসর ডক্টর ইব্রাহিম আবদুর রহমান খলিফা—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন—যিনি তাঁর ছাত্র ও সন্তানতুল্য ডক্টর মুহাম্মদ সালেমের সাথে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ও গভীরতম ভালোবাসা বজায় রেখেছেন এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। তিনি তাঁর পিএইচডি থিসিসের তত্ত্বাবধান করেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল: "আল-তালীলো ফিল কুরআনুল কারিম দিরাসাতান ওয়া তাফসিরান" (পবিত্র কুরআনে কারণ দর্শানো বা যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ (التعليل): একটি গবেষণামূলক ও ব্যাখ্যামূলক অধ্যয়ন)। এখানে আমার পক্ষে এটি উল্লেখ করা সমীচীন যে
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
أسوق كلمة معبرة عن وفاء الطالب لشيخه، وفناء الشيخ في علمه ورسالته وطلابه، يقول الدكتور محمد سالم في مقدمة الرسالة عن أستاذه الدكتور إبراهيم خليفة:" وبالجملة فهو جامع للمنقول والمعقول على حد سواء، وقد قرأ الأستاذ الدكتور معي هذا البحث حرفا بحرف، وصحح وحقق معي كثيرا من مسائله دون ملل ولا فتور، بل الحق يقال، إنه فتح لي قلبه الرحيم، وبيته الكريم، ومكتبته العامرة، ليل نهار للاستفادة في هذا البحث وغيره
… ".
وبعد هذا نقول لمن يمنحون الشهادات جزافا، والدرجات العلمية مجاملة واعتباطا: أين حمرة الخجل؟
نعود لصاحب هذه الترجمة فنقول: كما عرفته المعاهد الأزهرية، نهما شغوفا، محبّا مرتشفا لكأس العلم دائم الشرب لكنه لا يرتوي، كذلك عرفته كليات جامعة الأزهر الشريف، طالب علم جاد لا يكتفي بما يلقى عليه في قاعات المحاضرات بأصول الدين، فتقرب إلى علماء كلية الشريعة واللغة العربية؛ فمن أساتذة الشريعة العلامة الدكتور الفقيه الأصولي أحمد فهمي أبو سنة، والعلامة الدكتور الأصولي خاتمة المحققين الدكتور عبد الجليل القرنشاوي، والأستاذ الدكتور الفقيه الشافعي العلامة جاد الرب رمضان، والعلامة الدكتور الأصولي الحسيني الشيخ، والعلامة الدكتور عبد العال عطوة، والأستاذ الدكتور الشيخ أبو النور زهير، وغيرهم، وتقديرا له ولقوة تحصيله وسعة اطلاعه كتب له
আমি উস্তাদের প্রতি ছাত্রের আনুগত্য এবং জ্ঞান, দাওয়াহ ও ছাত্রদের জন্য উস্তাদের আত্মনিবেদনের একটি অভিব্যক্তিমূলক বাণী পেশ করছি। ডক্টর মুহাম্মদ সালেম তার গবেষণাপত্রের ভূমিকায় তার শিক্ষক ডক্টর ইব্রাহিম খলিফা সম্পর্কে বলেন: "সারকথা হলো, তিনি সমান্তরালভাবে বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) উভয় শাস্ত্রের সংগ্রাহক ছিলেন। প্রফেসর ডক্টর আমার সাথে এই গবেষণাটি অক্ষরে অক্ষরে পাঠ করেছেন এবং কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই এর বহু মাসআলা সংশোধন ও তাহকিক করেছেন। বরং সত্য কথা এই যে, তিনি এই গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জনের জন্য দিনরাত তার দয়াপূর্ণ হৃদয়, সম্মানিত গৃহ এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি আমার জন্য উন্মুক্ত রেখেছিলেন
… "।
এরপর যারা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই সনদ বিলিয়ে দেয় এবং লৌকিকতা ও খামখেয়ালিবশত শিক্ষাগত ডিগ্রি প্রদান করে, তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলি: তোমাদের লজ্জাবোধ কোথায়?
আমরা পুনরায় এই জীবনীর মূল ব্যক্তির আলোচনায় ফিরে আসি: আল-আজহারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে যেভাবে চিনেছে—জ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড অনুরাগী ও পিপাসু হিসেবে, যিনি ইলমের পেয়ালা থেকে সর্বদা পান করতে ভালোবাসেন অথচ তৃপ্ত হন না; ঠিক একইভাবে আল-আজহার শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোও তাকে চিনেছে। তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ ইলম অন্বেষণকারী (طالب علم), যিনি উসুলুদ দ্বীন অনুষদের লেকচার হলগুলোতে যা শেখানো হতো তাতেই ক্ষান্ত থাকতেন না। ফলে তিনি শরিয়াহ ও আরবি ভাষা অনুষদের আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন। শরিয়াহর উস্তাদদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত আল্লামা ডক্টর ফকিহ (فقيه) উসুলি (أصولي) আহমদ ফাহমি আবু সুন্নাহ, প্রখ্যাত আল্লামা ডক্টর উসুলি (أصولي) এবং মুহাক্কিকদের (محققين) শেষ প্রতিনিধি ডক্টর আব্দুল জলিল আল-কারানশাউয়ি, প্রফেসর ডক্টর ফকিহ (فقيه) শাফেয়ী (شافعي) আল্লামা জাদুর রব রমজান, প্রখ্যাত ডক্টর উসুলি (أصولي) আল-হুসাইনি আল-শাইখ, প্রখ্যাত ডক্টর আব্দুল আল আতওয়াহ, প্রফেসর ডক্টর শাইখ আবু আল-নূর জুহাইর এবং আরও অনেকে। তার উচ্চ মর্যাদা, অর্জিত ইলমের শক্তি এবং অধ্যয়নের ব্যাপকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা তার জন্য লিখেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
الدكتور أحمد فهمي أبو سنة في إجازته إياه: عرفت فيه حبه للعلم وإقباله عليه، وجودة فهمه، وسعة اطلاعه، وحسن استنباطه مما يقرأ .. قد بلغ درجه في العلم، جعلتني أوصي به المجامع العلمية خيرا، والله يوفقه وينفع به"
وكتب الشيخ القرنشاوي في إجازته:" درس معي بعض المراجع الأصلية لهذه المادة- أصول الفقه- وكان حريصا على الفهم والتحليل، وبعد مضي هذه المدة- أربع سنوات- وجدته قد نضج في هذه المادة؛ ملكه وتحصيلا، وقدرة على استخلاص المعلومات من مراجعها الأصلية وصناعتها بأسلوب علمي؛ مما جعلني أثق بقدرته العلمية، ورغبة مني في الانتفاع بعلمه قد أجزته في تدريسها، ونسأل الله تعالى أن يوفقه وينفع بعلمه".
ومن شيوخه في كلية اللغة العربية: الأستاذ الدكتور إبراهيم علي أبو الخشب، ويوسف الضبع، وأحمد حسن كحيل.
وبعد؛ فالذي ذكرناه من السادة العلماء الأفاضل، هم بعض من درس عليهم أستاذنا الجليل، وإلا فذكرهم على التفصيل أمر يطول، لكنني على أكمل اليقين وأتم الثقة أنه كان محظوظا بتلك الكوكبة النادرة العالية من أجلة العلماء، وكانوا هم أيضا محظوظين بذلك الطالب الوفي النابه.
ড. আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহ তাকে প্রদত্ত অনুমতিপত্রে (إجازة) লিখেছেন: "আমি তাঁর মধ্যে ইলমের প্রতি ভালোবাসা, এর প্রতি একাগ্রতা, চমৎকার বোধশক্তি, বিস্তৃত অধ্যয়ন এবং পঠিত বিষয় থেকে মাসআলা উদ্ঘাটনের (استنباط) অনন্য যোগ্যতা প্রত্যক্ষ করেছি... তিনি ইলমের এমন এক স্তরে উপনীত হয়েছেন, যা আমাকে বিভিন্ন উচ্চতর গবেষণা পরিষদ ও বিদ্যাপীঠসমূহে তাঁর ব্যাপারে ভালো সুপারিশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর দ্বারা উম্মাহর কল্যাণ সাধন করুন।"
শায়খ আল-কুরানশাবি তাঁর অনুমতিপত্রে (إجازة) লিখেছেন: "তিনি আমার নিকট এই বিষয়ের—উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)—কিছু মূল উৎসগ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন। তিনি অনুধাবন ও বিশ্লেষণের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। দীর্ঘ চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমি তাঁকে এই বিষয়ে অত্যন্ত পরিপক্ক হিসেবে পেয়েছি; যা তাঁর জ্ঞানগত দখল, ব্যুৎপত্তি এবং মূল উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে তথ্য আহরণ করে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করার ক্ষমতার মাধ্যমে পরিস্ফুট হয়েছে। এই বিষয়টি আমাকে তাঁর ইলমি যোগ্যতার ওপর আস্থাশীল করেছে। তাঁর ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার বাসনায় আমি তাঁকে বিষয়টি পাঠদানের অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছি। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে তাওফিক দান করেন এবং তাঁর ইলম দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন।"
আরবি ভাষা অনুষদে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: অধ্যাপক ডক্টর ইব্রাহিম আলী আবু আল-খাশাব, ইউসুফ আদ-দাব্বু এবং আহমদ হাসান কাহিল।
পরিশেষে, আমরা উপরে যেসব বরেণ্য ও মর্যাদাবান ওলামায়ে কেরামের নাম উল্লেখ করেছি, তাঁরা আমাদের মহান উস্তাদের শিক্ষকদের একাংশ মাত্র। অন্যথায় তাঁদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা দীর্ঘ সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমি পূর্ণ নিশ্চিত ও আস্থাশীল যে, তিনি বিরল ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন একদল মহান আলেমের সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান ছিলেন এবং সেই বিজ্ঞ উস্তাদগণও এমন একজন অনুগত ও প্রখর মেধাবী ছাত্র পেয়ে ধন্য হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
أما عن جهوده العلمية والدعوية: فقد كان العلم له رسالة وقضية، وما أصعبها من رسالة وما أشقها من قضية، في وقت سادت فيه عملة الزيف، وكثر فيه الأدعياء، ولم يفرق الناس- بل كثير ممن يطلبون العلم- بين عالم ومدع.
ونستطيع أن نجمل هذه الجهود في السطور التالية:- التدريس بكلية أصول الدين بالقاهرة لعلم التفسير وعلوم القرآن الكريم.
- التدريس بكلية الآداب جامعة الإسكندرية.
- التدريس بالجامعة الأمريكية بالقاهرة.
- التدريس بالمعهد العالي للدراسات الصوفية التابع للعشيرة المحمدية.
- العمل أستاذا ورئيسا لقسم أصول الدين بكلية الشريعة والقانون بسلطنة عمان الفترة (1997 - 2003 م).
- هذا إلى جانب المشاركة بالمؤتمرات العلمية، والندوات العامة، والبرامج التلفزيونية، والمقالات الهادفة بالجرائد والمجلات السيارة.
- مشاركته الفعالة بمشروع" إحياء الأزهر القديم" بالرواق العباسي بالجامع الأزهر الشريف.
- عضوية مجمع اللغة العربية بالقاهرة.
- المشاركة بموسوعة الفرق الإسلامية- إشراف الدكتور حسن الشافعي- بالمجلس الأعلى للشئون الإسلامية.
তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ (العلمية) ও দাওয়াহ (الدعوية) বিষয়ক প্রচেষ্টার কথা বলতে গেলে: ইলম (العلم) ছিল তাঁর কাছে একটি মহান ব্রত ও আদর্শ। আর এটি কতই না কঠিন ব্রত এবং কতই না দুঃসাধ্য আদর্শ ছিল এমন এক সময়ে যখন মিথ্যার জয়জয়কার ছিল এবং ভণ্ডদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল, আর মানুষ—বরং অনেক ইলম (العلم) অন্বেষণকারীও—প্রকৃত আলিম (عالم) ও ভণ্ড দাবিদারের (مدع) মধ্যে পার্থক্য করতে পারত না।
আমরা এই প্রচেষ্টাসমূহকে নিম্নোক্ত চরণে সংক্ষেপ করতে পারি:- কায়রোর উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদে তাফসির (تفسير) ও উলুম আল-কুরআন আল-কারিম (علوم القرآن الكريم) বিষয়ে শিক্ষকতা।
- আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে শিক্ষকতা।
- কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা।
- আল-আশিরাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ-র অন্তর্ভুক্ত উচ্চতর সুফি (الصوفية) গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা।
- ওমান সালতানাতের শরিয়াহ (الشريعة) ও আইন অনুষদে উসুল আদ-দীন (أصول الدين) বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন (১৯৯৭ - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
- এর পাশাপাশি বিভিন্ন পাণ্ডিত্যপূর্ণ (العلمية) সম্মেলন, সাধারণ সেমিনার, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ লেখায় অংশগ্রহণ।
- আল-আজহার আল-শরীফ মসজিদের আর-রিওয়াক আল-আব্বাসীতে অবস্থিত "প্রাচীন আল-আজহার পুনর্জাগরণ" প্রকল্পে তাঁর কার্যকর অংশগ্রহণ।
- কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির (مجمع اللغة العربية) সদস্যপদ।
- সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স-এর অধীনে—ডক্টর হাসান আল-শাফিঈ-এর তত্ত্বাবধানে—ইসলামি দল-উপদল (الفرق الإسلامية) বিষয়ক বিশ্বকোষে অংশগ্রহণ।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبعد فهذه السطور المتواضعة تحاول أن تقرب شخصية هذا العالم من قلوب أحبابه وتلاميذه، وأحسب أن لها شرف المحاولة فقط، وإلا فقد سبق علمه كلماتي، وسبقت سجاياه ترجمتي، وسبقت محبته في قلوب عارفيه سطوري، فما هي إلا كلمات تعبر عن محبتي ووفائي له، والوفاء أمر غال عزيز.
والله سبحانه الموفق والمستعان
وكتب المفتقر إلى عفو ربه أشرف سعد محمود
অতঃপর, এই বিনম্র পঙ্ক্তিগুলো তাঁর প্রিয়জন ও শিষ্যদের হৃদয়ে এই জ্ঞানতাপসের ব্যক্তিত্বকে নিকটতর করার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। আমি মনে করি, এতে কেবল প্রচেষ্টার সম্মানটুকুই নিহিত রয়েছে; অন্যথায় তাঁর ইলম বা জ্ঞান আমার শব্দাবলিকে ছাড়িয়ে গেছে, তাঁর সুমহান বৈশিষ্ট্যসমূহ আমার লিখিত জীবনীকে (ترجمة) ছাপিয়ে গেছে এবং তাঁর অনুরাগীদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি যে প্রীতি ও ভালোবাসা বিদ্যমান, তা আমার এই পঙ্ক্তিমালাকেও অতিক্রম করে গেছে। সুতরাং এগুলো কেবল তাঁর প্রতি আমার মুহাব্বত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কিছু শব্দ মাত্র, আর কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্য অত্যন্ত মূল্যবান ও দুর্লভ একটি বিষয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাওফিকদাতা এবং একমাত্র সাহায্যকারী।
লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী আশরাফ সাদ মাহমুদ।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمةالحمد لله .. أقولها بملء فمي وقلبي. لقد ألهمني الله سبحانه وتعالى الحق، وبصرني منهاج الدلالة عليه، وحملني شرف الدفاع عن دينه وشريعته وقرآنه، وما كنت أهلا لشيء من ذلك كله
… لولا سابغ لطفه، وعظيم امتنانه
… فمنه وله وإليه الفضل كله.
والصلاة والسلام الأتمان والأكملان على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.
وبعد ..
فإن الناظر في تراث علمائنا الأعلام، خصوصا أهل التفسير والقرآن، يتبين أنهم- رحمهم الله لم يقفوا عند كلام يحللونه ويستخرجون معانيه وأحكامه، كما وقفوا عند القرآن الكريم: يدرسونه على جميع وجوهه من نحو وبلاغة وفقه .. يخبرون ظاهره وباطنه، ويسبرون غوره، ويتغلغلون في أعماقه. وذلك كله؛ لئلا يفوتهم معنى أو حكم من أحكام الله في قرآنه دون أن يستخرجوه.
وكذلك .. لئلا يستخرجوا من كلام الله غير مراده سبحانه؛ إذ في الأول نقص يلحق أحكام الله، وفي الثاني دخول ما ليس من أحكام الله في مراده.
ومن ثم
… أحكم علماء القرآن وسائلهم اللغوية والفقهية .. دققوا وحققوا ما في وسعهم من أصول الاستنباط، وسبل الاجتهاد، في تفسير القرآن الكريم، ومن ثم نشأ ما يسمى ب" علوم القرآن" و" أصول التفسير"، التي هي بمثابة أصول الفقه من الفقه. فكما أن الفقيه يستنبط من النص مستعينا بأصول الفقه، فكذلك المفسّر يستنبط من النص مستعينا بأصول التفسير كي يقطف المعنى من اللفظ.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য... আমি আমার মুখ ও অন্তর পূর্ণ করে তা বলছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে হকের (সত্যের) অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, সত্যের দিকে পথপ্রদর্শনের পদ্ধতি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন এবং তাঁর দ্বীন, শরিয়ত ও কুরআনের প্রতিরক্ষার অনন্য মর্যাদা আমায় অর্পণ করেছেন। আমি এসবের কোনোটিরই যোগ্য ছিলাম না
… যদি না তাঁর অফুরন্ত কৃপা ও মহান অনুগ্রহ থাকত
… সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ তাঁরই পক্ষ থেকে, তাঁরই জন্য এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনশীল।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বর্ষিত হোক সর্বাঙ্গীণ ও নিখুঁত দরুদ ও সালাম।
অতঃপর...
আমাদের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরামের ঐতিহ্য—বিশেষ করে তাফসির ও কুরআন বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানভাণ্ডার পর্যালোচনাকারীর কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) কোনো সাধারণ বক্তব্যের বিশ্লেষণ কিংবা তার অর্থ ও বিধান উদ্ভাবনের জন্য ততটা ব্যাপৃত হননি, যতটা তাঁরা পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে নিবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কুরআনকে এর সকল দিক—যেমন নাহু (ব্যাকরণ), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও ফিকহ (তত্ত্বশাস্ত্র)—থেকে অধ্যয়ন করেছেন। তাঁরা এর জাহির (الظاهر) ও বাতিন (الباطن) রহস্য অবগত হয়েছেন, এর গভীরতা পরিমাপ করেছেন এবং এর নিগূঢ় তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করেছেন। আর এই সব কিছুর উদ্দেশ্য ছিল—যাতে আল্লাহর কুরআনে বর্ণিত কোনো অর্থ বা বিধান উদ্ভাবন করা থেকে তাঁরা বঞ্চিত না হন।
তদ্রূপ, যাতে তাঁরা আল্লাহর বাণী থেকে তাঁর উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ বের না করেন; কারণ প্রথম ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানে অপূর্ণতা পরিলক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যা আল্লাহর বিধান নয়, তা তাঁর উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অবকাশ তৈরি হয়।
সেই কারণে
… কুরআন বিশারদগণ তাঁদের ভাষাগত ও ফিকহী মাধ্যমসমূহকে সুসংহত করেছেন। তাঁরা পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে ইস্তিমবাত বা বিধান উদ্ভাবনের মূলনীতি (أصول الاستنباط) এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর পদ্ধতিসমূহ নিজেদের সাধ্যমতো সূক্ষ্মভাবে যাচাই ও বিশ্লেষণ করেছেন। এর ফলে 'উলুমুল কুরআন' এবং উসুলুত তাফসির (أصول التفسير) নামক শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে, যা ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর সমতুল্য। যেভাবে একজন ফকিহ (الفقيه) উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর সহায়তায় মূল পাঠ বা নস (النص) থেকে বিধান উদ্ভাবন করেন, ঠিক তেমনি একজন মুফাসসির (المفسّر) উসুলুত তাফসির (أصول التفسير)-এর সহায়তায় মূল পাঠ বা নস (النص) থেকে অর্থ আহরণ করেন যাতে শব্দ থেকে প্রকৃত মর্ম চয়ন করা যায়।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفي هذا البحث حاولت أن أكشف شيئا من علوم القرآن وأصول التفسير عند الإمام الشاطبي في كتابه" الموافقات"، وحاولت كذلك- وأنا طالب علم- أن ألفت نظر زملائي من طلاب العلم كيف كان علماؤنا الأوائل يعملون عقولهم، وكيف كانوا يفكرون وهم يستنبطون ويستخرجون مراد الله من قرآنه.
يقول أستاذنا الجليل الدكتور محمد محمد أبو موسى:" ليس في باب العلم أنفع ولا أفضل من أن نتعلم كيف استنبط العلماء العلم؛ لأن الاستنباط هو الذي يهديك إلى استخراج معرفة جديدة وفكر جديد، وهو الذي هدى كل جيل إلى تجديد علومه وبسط معارفه" (1).
وبعد .. فإن الغاية التي يسعى إليها هذا الكتاب إنما هي التنبيه إلى قيمة قواعد علوم القرآن وأصول التفسير في دراسة كتاب الله، ثم التمسك بهذا النهج، والدعوة إليه على أنه هو- لا غيره- النهج الأقوم في فهم القرآن؛ لأنه الميزان الذي يميز الرشد من الغي، وهو الذي ينير السبيل ويوضح صدق المتمسكين بالقرآن والسنة، كما أنه هو الذي يكشف روغان الكاذبين والمخادعين والمضللين ممن يرفعون راية" القراءة المعاصرة"، تلك القراءة التي تحرف القرآن عن مواضعه- أو من بعد مواضعه- متخذين من الآراء الشاذة والضالة قديما وحديثا هاديا لهم.
ثم رأينا من هؤلاء من يحاول أن يطبق المناهج الأعجمية- من" الألسنية" وغيرها- في نقد النصوص الأدبية على القرآن وعلومه .. فرأينا من ينادي
--------------------------------------------
এই গবেষণায় আমি ইমাম শাতিবীর তাঁর 'আল-মুওয়াফাকাত' গ্রন্থে বর্ণিত উলুমুল কুরআন এবং উসুলুত তাফসীর সংক্রান্ত চিন্তাধারা উন্মোচন করার প্রয়াস পেয়েছি। একইসাথে—ইলমের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে—আমি আমার সহপাঠী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি যে, আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম কীভাবে তাঁদের মেধাকে কাজে লাগাতেন এবং আল্লাহর কিতাব থেকে তাঁর উদ্দেশ্য উদ্ভাবন (استنباط) ও আহরণ করার সময় কীভাবে চিন্তা করতেন।
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু মুসা বলেন: "ইলমের অঙ্গনে ওলামায়ে কেরাম কীভাবে ইলম উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন তা শেখার চেয়ে অধিক উপকারী বা উত্তম আর কিছু নেই। কেননা উদ্ভাবনই (الاستنباط) আপনাকে নতুন জ্ঞান ও নতুন চিন্তার পথ দেখায়। এটিই প্রতিটি প্রজন্মকে তাদের ইলমকে নবায়ন করতে এবং জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে পরিচালিত করেছে" (১)।
পর সমাচার... এই গ্রন্থটি যে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট, তা হলো আল্লাহর কিতাব অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উলুমুল কুরআনের মূলনীতি (قواعد) এবং উসুলুত তাফসীরের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। অতঃপর এই পদ্ধতির ওপর সুদৃঢ় থাকা এবং এরই দিকে আহ্বান জানানো যে, এটিই—অন্য কিছু নয়—কুরআন বোঝার সবচেয়ে সঠিক পথ। কারণ এটিই এমন এক মানদণ্ড যা সঠিক পথকে ভ্রষ্টতা থেকে পৃথক করে এবং এটিই সত্যের পথকে আলোকিত করে ও কুরআন ও সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকা ব্যক্তিদের সত্যবাদিতাকে স্পষ্ট করে। তেমনিভাবে এটি সেইসব মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও পথভ্রষ্টদের ধূর্ততাকে উন্মোচন করে যারা "আধুনিক পাঠ"-এর ঝাণ্ডা তুলে ধরেছে; যে পাঠ মূলত কুরআনকে তার স্বীয় স্থান থেকে—কিংবা প্রসঙ্গের পর থেকে—বিচ্যুত করে। তারা প্রাচীন ও বর্তমান কালের বিচ্যুত (الشاذة) এবং বিভ্রান্তিকর (الضالة) মতামতসমূহকে নিজেদের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
অতঃপর আমরা তাদের মধ্য থেকে এমন কাউকে দেখেছি যারা কুরআনের ওপর সাহিত্যিক পাঠ্য সমালোচনার ক্ষেত্রে অনারব পদ্ধতিসমূহ—যেমন 'ভাষাতত্ত্ব' ও অন্যান্য—প্রয়োগ করার চেষ্টা করে... ফলে আমরা কাউকে কাউকে আহ্বান জানাতে দেখেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بدراسة القرآن دراسة أدبية فقط، وأن هذا الدرس الأدبي لا بدّ وأن يقوم أولا على نزع الإيمان بقدسية هذا النص.
إن إسقاطات هذه" القراءة المعاصرة" تتغيّا إسقاط الفرق بين كلام الله الذي يتعالى على الزمان والمكان، وبين كلام البشر الذي لا يستطيع الفكاك من دائرتي الزمان والمكان. وهذا ينتهي بهم- لو عقلوا وأنصفوا- إلى إلغاء الفرق بين الخالق والمخلوق. والمحصّلة عند هؤلاء تتجلى في أمور جد خطيرة:
1 - إسقاط قدسية النص القرآني، وذلك عن طريق قطعه عن مصدره.
2 - إسقاط إلزامية القرآن الكريم بالنسبة للمسلمين، وذلك من خلال فتح باب التأويل على مصراعيه من غير ضوابطه العلمية المقررة.
3 - القطيعة المعرفية مع التراث وذلك عن طريق رفضه كله (" الحداثة" المبتورة عن الجذور).
إن العاصم من هذا الزلل أن نعود إلى أصول اللغة العربية والقواعد الأصولية، فنتخذ منهما أداة نتوسل بها إلى فهم سديد لكتاب الله تعالى، وإلى استنباط صحيح منه. فاللغة العربية هي مفتاح القرآن، وقد أصاب دهاقنة الاستعمار المقتل فينا حين وجهوا سهامهم نحوها منذ قديم.
إن تفسير القرآن الكريم دون التقيد بأصول لغة العرب كذب وتقوّل على الله، وهو كذلك خطيئة منهجية لا تغتفر .. لا في منطق الشريعة ولا في شرعة العلم. وكذلك تفسيره من غير معرفة الدلالات الشرعية .. تحريف لمراد الله تعالى في بيان أحكامه.
শুধু সাহিত্যের দৃষ্টিতে কুরআন অধ্যয়ন করা, এবং এই সাহিত্যিক পাঠ অবশ্যই প্রথমে এই পাঠের পবিত্রতার প্রতি বিশ্বাস বর্জন করার উপর ভিত্তি করে হতে হবে।
এই "আধুনিক পঠন"-এর প্রভাবসমূহ মূলত আল্লাহর কালাম—যা কাল ও পাত্রের ঊর্ধ্বে—এবং মানুষের কথা—যা কাল ও পাত্রের গণ্ডি থেকে মুক্ত হতে পারে না—এই উভয়ের মধ্যাকার পার্থক্য বিলুপ্ত করার লক্ষ্য রাখে। আর এটি তাদের পৌঁছে দেয়—যদি তারা বুদ্ধিমান ও ন্যায়নিষ্ঠ হতো—সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্য বাতিল করার দিকে। আর তাদের কাছে এর ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়গুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:
1 - কুরআন পাঠের পবিত্রতাকে ভূলুণ্ঠিত করা, আর তা এর মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে।
2 - মুসলমানদের জন্য পবিত্র কুরআনের আবশ্যকতাকে অস্বীকার করা, আর তা নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক নীতিমালা ছাড়াই ব্যাখ্যার (التأويل) দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে।
3 - ঐতিহ্যের (التراث) সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা, আর তা সমগ্র ঐতিহ্যকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে (শেকড়হীন "আধুনিকতা")।
এই বিচ্যুতি থেকে বাঁচার উপায় হলো আরবি ভাষার মূলনীতি এবং উসুলি বিধিবিধানের (القواعد الأصولية) দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যেন আমরা এই উভয়কে আল্লাহর কিতাব সঠিকভাবে অনুধাবন করার এবং তা থেকে সঠিক (صحيح) মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। কেননা আরবি ভাষা হলো কুরআনের চাবিকাঠি, এবং সাম্রাজ্যবাদের হোতারা আমাদের মরণঘাতি আঘাত হেনেছে যখন তারা অনেক আগে থেকেই এই ভাষার দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করেছে।
আরবি ভাষার মূলনীতি অনুসরণ না করে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) করা আল্লাহর ওপর মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করার শামিল। এটি একটি ক্ষমার অযোগ্য পদ্ধতিগত ভুল, যা শরিয়তের (الشريعة) যুক্তিতেও নয়, আবার বিজ্ঞানের নীতিতেও নয়। একইভাবে শরয়ি অর্থবোধকতা (الدلالات الشرعية) না জেনে এর ব্যাখ্যা করা... তাঁর বিধান বর্ণনায় আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিকৃতি (تحريف) ঘটানো।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن ثم بنيت بحوث هذا الكتاب على أصلين:
أولهما: ما يعوّل عليه من اللغة في علوم القرآن.
وثانيهما: ما يعوّل عليه من الشرع في علوم القرآن.
ونهجي في هذا الكتاب أن أبدأ بذكر ما قاله الشاطبي ثم أوضحه إن احتاج الأمر إلى توضيح، وأعقب عليه إن اقتضى الأمر تعقيبا، ثم أقارن أحيانا بين ما يقوله- رحمه الله وبين ما يقوله غيره من علماء القرآن والأصول، فيظهر في نهاية المطاف قيمة ما يقوله الإمام الشاطبي عن القرآن وعلومه في كتابه" الموافقات".
وحسبي أنني ألج هذا الباب وأسلك هذا الطريق دون ريادة سابقة فيما أعلم أتهدّى بها في موضوع دقيق كموضوع هذا الكتاب، ولعلي بهذا أستثير الدافع عند آخرين ليسلكوا ما عساي أكون قد بدأت به.
والمحصّلة الأخيرة التي خرجت بها من قراءة هذا الكتاب هي أن الشاطبي كان يتعبد في محراب" كيف تكشف الغمّة عن هذه الأمة". ولذلك حاول أن يرجع بفهم القرآن الكريم وتفسيره إلى ما كان عليه الأوائل من بيان هدى الله في قرآنه، واقتطاف أحكامه، وبيان أن هذا القرآن هو معجزة الإسلام وأن كل مفسّر مهما حاول فإنما يأخذ نقرة بمنقار طائر في بحر محيط. واعتقاد مفسري القرآن كان ولا يزال، وسوف يستمر، أن ما أدركوه من معناه هو شيء ظني، وأن ما أدركوه من إعجازه هو شيء نسبي، إذا قيس بما عليه حقيقة أمر القرآن الذي لا يخلق على كثرة الرد ولا تنقضي عجائبه.
…
সেই সূত্রেই এই বইটির গবেষণাগুলো দুটি মূলনীতির (أصلين) ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে:
প্রথমত: কুরআনুল কারীমের উলুমুল কুরআনে (علوم القرآن) ভাষার ক্ষেত্রে যা নির্ভরযোগ্য।
দ্বিতীয়ত: উলুমুল কুরআনে (علوم القرآن) শরিয়তের (الشرع) ক্ষেত্রে যা নির্ভরযোগ্য।
এই গ্রন্থে আমার পদ্ধতি হলো, প্রথমে ইমাম শাতিবি যা বলেছেন তা উল্লেখ করা, অতঃপর প্রয়োজনবোধে তা ব্যাখ্যা করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তার ওপর পর্যালোচনা (تعقيب) করা। এরপর মাঝেমধ্যে আমি তাঁর—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বক্তব্যের সাথে উলুমুল কুরআন ও উসুল (الأصول) শাস্ত্রের অন্যান্য পণ্ডিতদের বক্তব্যের তুলনা করি। যার ফলে পরিশেষে ইমাম শাতিবি তাঁর আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থে কুরআন ও উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) সম্পর্কে যা বলেছেন, তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি এই বিষয়ে প্রবেশ করেছি এবং এমন এক পথে অগ্রসর হয়েছি যেখানে আমার জানামতে আগে কোনো পথপ্রদর্শক ছিলেন না, যার মাধ্যমে আমি এই গ্রন্থের মতো একটি সূক্ষ্ম বিষয়ে দিকনির্দেশনা পেতে পারতাম। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমি অন্যদের মাঝে প্রেরণা জাগিয়ে তুলব যাতে তারা আমার শুরু করা এই পথে চলতে পারে।
এই গ্রন্থটি পাঠ করে আমি যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা হলো, ইমাম শাতিবি 'কীভাবে এই উম্মাহর ওপর থেকে সংকট দূর করা যায়'—এই সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। এজন্য তিনি কুরআনুল কারীমের বোধ ও এর তাফসীরকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন যে অবস্থায় পূর্ববর্তীরা আল্লাহর হিদায়াতের বর্ণনা, এর বিধানাবলি আহরণ এবং এই কুরআন যে ইসলামের এক মুজিজা (معجزة) তা প্রকাশের ক্ষেত্রে ছিলেন। আর যে কোনো মুফাসসির (مفسّر) যতই চেষ্টা করুন না কেন, তিনি যেন এক বিশাল সমুদ্র থেকে পাখির ঠোঁটে তোলা সামান্য পানির বিন্দুর ন্যায় গ্রহণ করেন। কুরআনের মুফাসসিরগণের বিশ্বাস ছিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে যে, তারা এর অর্থ থেকে যা উপলব্ধি করেছেন তা ধারণাপ্রসূত (ظني) এবং এর অলৌকিকতা থেকে যা অনুধাবন করেছেন তা আপেক্ষিক (نسبي), যদি তাকে কুরআনের হাকিকতের সাথে তুলনা করা হয় যা বারবার পাঠেও পুরনো হয় না এবং যার বিস্ময়কর রহস্য কখনো শেষ হয় না।
…
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وختاما
…إن في تاريخ هذه الأمة رجالا صنعهم الله على عينه فكانوا حماة لهذا الدين، ونحن بحاجة إلى أمثالهم يرابطون على الثغور في هذا الزمان الذي يحاول أعداء الإسلام كل يوم فتح ثغرة في جدران حماه.
وأحسب أن الشاطبي كان علما من أعلام هؤلاء
… فجزاه الله خير الجزاء على ما أسدى في خدمة كتاب الله خاصة وشريعة الله عامة، كما أسأله سبحانه أن يجزي شيوخنا الأجلاء الذين جلسنا بين أيديهم وتعلمنا منهم خير الجزاء؛ إذ هذا البحث ما هو إلا ثمرة من ثمار غرسهم، ونستطيع أن نقول لهم بملء أفواهنا:
هذه بضاعتكم ردت إليكم.
والصلاة والسلام على نبينا محمد الفاتح لما أغلق والخاتم لما سبق، ناصر الحق بالحق، والهادي إلى صراط الله المستقيم.
د. محمد سالم أبو عاصي
পরিশেষে
…নিশ্চয়ই এই উম্মাহর ইতিহাসে এমন কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজের তত্ত্বাবধানে তৈরি করেছেন, ফলে তাঁরা এই দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে আমাদের এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন যারা সেই সব সীমান্তে পাহারায় রত থাকবেন, যেখানে ইসলামের শত্রুরা প্রতিনিয়ত এর সুরক্ষাপ্রাচীরে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমি মনে করি ইমাম আশ-শাতিবি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
… তাই বিশেষভাবে আল্লাহর কিতাবের খিদমতে এবং সাধারণভাবে আল্লাহর শরীয়তের খিদমতে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। সেই সঙ্গে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই সম্মানিত উস্তাদদেরও সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, যাঁদের সান্নিধ্যে আমরা বসেছি এবং যাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছি; কেননা এই গবেষণা তাঁদেরই রোপিত বৃক্ষের ফল মাত্র। আমরা আজ পূর্ণ হৃদয়ে তাঁদের বলতে পারি:
এটি আপনাদেরই আমানত যা আপনাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রুদ্ধ দ্বারের উন্মোচনকারী এবং পূর্ববর্তী নবীগণের সমাপ্তিকারী, সত্যের মাধ্যমে সত্যের সাহায্যকারী এবং আল্লাহর সরল সঠিক পথের দিশারী।
ড. মুহাম্মদ সালেম আবু আসী
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ترجمة أبي إسحاق الشاطبي
تمهيد:عرف بعضهم أصول الفقه بأنه العلم بالعناصر المشتركة في عملية استنباط الحكم الشرعي (1).
وعملية استنباط أحكام الشريعة من أدلتها لها ركنان:
أحدهما: علم لسان العرب.
وثانيهما: علم أسرار الشريعة.
وقد خصّ الركن الأول بالدراسة المتعمقة التي لملمت له الشعث، وأدرج فيه ما تمس إليه حاجة الاستنباط، وأضيف إليه ما يخدمه وما يقوم عليه من بحوث أخرى فيما
يتعلق بتصور الأحكام.
وأما الركن الثاني فقد أغفل إغفالا
… " وهكذا بقي علم الأصول فاقدا قسما عظيما، هو شطر العلم الباحث عن أحد ركنيه، حتى هيأ الله- سبحانه وتعالى أبا إسحاق الشاطبي في القرن الثامن الهجري لتدارك هذا النقص، وإنشاء هذه العمارة الكبرى، في هذا الفراغ المترامي الأطراف، في نواحي هذا العلم الجليل" (2).
فمن هو هذا العلم الفخم الذي صنع هذا الصنيع، وأسدى هذه المفخرة؟
--------------------------------------------
আবু ইসহাক আশ-শাতিবির জীবনীউপক্রমণিকা:কেউ কেউ উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-কে শারয়ী বিধান (حكم شرعي) আহরণ (استنباط) করার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সাধারণ উপাদানসমূহের জ্ঞান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন (১)।
দলিলসমূহ (أدلة) থেকে শরীয়তের বিধানসমূহ আহরণ (استنباط) করার প্রক্রিয়ার দুটি স্তম্ভ (ركن) রয়েছে:
প্রথমটি: আরবি ভাষা বিজ্ঞান।
দ্বিতীয়টি: শরীয়তের নিগূঢ় রহস্য (أسرار الشريعة) সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
প্রথম স্তম্ভটিকে (ركن) এমন গভীর পর্যালোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যা এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে এবং এতে বিধান আহরণের (استنباط) জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে বিধানের স্বরূপ অনুধাবন সংক্রান্ত অন্যান্য গবেষণার মধ্য থেকে যা একে সহায়তা করে ও যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত, তাও এতে যুক্ত করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় স্তম্ভটির (ركن) ক্ষেত্রে এমন চরম অবহেলা করা হয়েছে যে... "এভাবেই উসুল (أصول) শাস্ত্র একটি মহান অংশ হারিয়ে ফেলেছিল, যা ছিল এর দুটি স্তম্ভের (ركن) একটির অনুসন্ধানকারী অর্ধাংশ। পরিশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে আবু ইসহাক আশ-শাতিবিকে এই অভাব মোচন এবং এই মহান শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রান্তে সুবিস্তৃত এই শূন্যতায় এক বিশাল স্থাপত্য নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করেন" (২)।
তাহলে কে সেই মহান পণ্ডিত যিনি এই কীর্তি গড়েছেন এবং এই গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে গেছেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من هو أبو إسحاق الشاطبي هذا؟
1 - أولا: اسمه ونسبه:هو إبراهيم بن موسى بن محمد اللخمي، وكنيته أبو إسحاق، ولقب شهرته الشاطبي. فأما اللخمي؛ فهو نسب عائلته، أي قبيلته، ولا يعلم في نسبه القريب مبرّز في العلم، غير أن حسب أبي إسحاق أن يكون علمه نسبه، متمثلا بقول أبي الطيب:
لا بقومي شرفت بل شرفوا
… (وبعلمي) فخرت لا بجدودي (1)
على أنه لا ضعة على الرجل في نسبه. فهو لخميّ عربي، وكان للخميين ملك بالحيرة، كان آخرهم المنذر بن النعمان بن المنذر، ثم كان لبقاياهم ملك بإشبيلية من الأندلس وهي دولة ابن عباد.
وأما الشاطبي؛ فهي نسبة إلى" شاطبة" الواقعة شرق الأندلس بمقاطعة بلنسية، وقد عرفت بصنع الورق، وكانت من أعظم حصون المسلمين بالأندلس، ونسبة أبي إسحاق إلى شاطبة، من جهة كونها موطن آبائه، الذين تركوها إلى غرناطة حين سقوطها بيد ملك أراقون، الذي حاربها تسع سنين من غزوه لها عام 1239 م، ثم أخرج من شاطبة أهلها من المسلمين.
2 - مكان وزمان ولادته:أ- زمان ولادته: لا يوجد تاريخ مجزوم به يحدّد ولادة أبي إسحاق، غير أن بعضهم اجتهد في استنباط تاريخ مقارب، فجعلها قبل عام 720 هـ، وسنده في
--------------------------------------------
এই আবু ইসহাক আল-শাতিবী কে?
১ - প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-লাখমি, তাঁর উপনাম আবু ইসহাক এবং তাঁর সুপরিচিত উপাধি আল-শাতিবী। 'আল-লাখমি' হলো তাঁর পারিবারিক বংশপরিচয় অর্থাৎ তাঁর গোত্র। তাঁর নিকটবর্তী বংশধরদের মধ্যে ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তির কথা জানা যায় না। তবে আবু ইসহাকের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, তাঁর জ্ঞানই তাঁর বংশমর্যাদায় পরিণত হয়েছে; যা আবু আল-তায়্যিবের এই বাণীর প্রতিফলন ঘটায়:
আমি আমার কওমের কারণে সম্মানিত হইনি বরং আমার কারণে তারা সম্মানিত হয়েছে... এবং (আমার ইলমের) মাধ্যমে আমি গৌরব করেছি, আমার পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে নয় (১)
তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর বংশমর্যাদা তুচ্ছ ছিল। তিনি একজন লাখমি আরব ছিলেন। আল-হিরাহ অঞ্চলে লাখমিদের রাজত্ব ছিল, যাদের সর্বশেষ রাজা ছিলেন আল-মুনজির বিন আল-নুমান বিন আল-মুনজির। পরবর্তীতে আন্দালুসের ইশবিলিয়া বা সেভিলে তাদের উত্তরসূরিদের রাজত্ব ছিল, যা ইবনে আব্বাদের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
আর 'আল-শাতিবী' হলো আন্দালুসের পূর্ব দিকে বালেন্সিয়া প্রদেশে অবস্থিত "শাতিবা" শহরের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত। এই শহরটি কাগজ তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল এবং এটি আন্দালুসে মুসলিমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুর্গ ছিল। আবু ইসহাকের শাতিবার সাথে সম্পৃক্ততার কারণ হলো—এটি তাঁর পিতৃপুরুষদের স্বদেশ ছিল। ১২৩৯ খ্রিস্টাব্দে আরাকনের রাজা শাতিবা আক্রমণ করে নয় বছর যুদ্ধ করার পর যখন শহরটির পতন ঘটে, তখন তাঁরা গ্রানাডায় চলে যান। পরবর্তীতে শাতিবা থেকে মুসলিম অধিবাসীদের বহিষ্কার করা হয়েছিল।
২ - তাঁর জন্মস্থান ও সময়:ক- জন্মের সময়: আবু ইসহাকের জন্মকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত কোনো তারিখ পাওয়া যায় না। তবে কেউ কেউ একটি নিকটবর্তী তারিখ বের করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর জন্ম ৭২০ হিজরির আগে বলে নির্ধারণ করেছেন। এর স্বপক্ষে তাঁর দলিল বা সনদ (سند) হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك أن وفاة أسبق شيوخ الشاطبي وهو أحمد بن الزيات كانت 728 هـ، ولا بدّ أن يكون الشاطبي حينها يافعا.
ولكن باحثا آخر نفى كون ابن الزيات شيخا للشاطبي. ورجح أن مولد الشاطبي كان قريبا من سنة 730 هـ واستند في ذلك إلى براهين هي:
- أن أبا إسحاق كان صديقا ندّا لابن زمرك الوزير المولود عام 733 هـ.
- أن الشاطبي ذكر أنه كان سنة 756 هـ تلميذا صغيرا لابن الفخار البيري.
ولعل هذا التوجيه هو الأدق للبرهان الثاني خصوصا إذا علم أن الشاطبي كان يدرس على ابن الفخار ألفية ابن مالك وكتاب سيبويه .. فانظره، والله أعلم بصوابه.
ب- مكان ولادته: لم يذكر على وجه التحديد كزمانها، لكن إذا علمنا أولا أن أهل الشاطبي تركوا شاطبة إلى غرناطة عام 1247 م- في الحادثة التي أشرنا إليها- على أبعد التقديرات؛ فإن ذلك يكون قبل ولادة الشاطبي بنيف وسبعين سنة. ويعلم ثانيا أن الشاطبي نشأ وترعرع بغرناطة، فيترجح أن ميلاده- وهو إلى نشأته أقرب- إنما كان في غرناطة.
3 - نشأته:نشأ الشاطبي بغرناطة التي أمضى بها سائر عمره، وكان قد اتجه منذ صباه الباكر إلى العلم كما ترى من ملازمته أعلاما كبارا في زمنه كابن الفخار البيري الذي كان يتلقى عنه وهو في العشرينيات تقريبا، وكأبي سعيد بن لب في ذات الفترة، وغيرهم من الأعلام.
وما تمكنه عند جمعهم إلا لطول الملازمة، وبيان ذكائه، وظهور نبوغه، ألا ترى كيف كان ابن الفخار يعجب من ذكائه وإثارته مسائل في اللغة، لا يتنبه
এর কারণ এই যে, শাতীবীর অগ্রজ শায়খদের (شيوخ) মধ্যে অন্যতম আহমদ ইবনুল জায়্যাতের মৃত্যু হয়েছিল ৭২৮ হিজরিতে, আর তখন শাতীবীর অবশ্যই কিশোর হওয়ার কথা।
কিন্তু অন্য একজন গবেষক ইবনুল জায়্যাত শাতীবীর শায়খ (شيخ) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রবল অভিমত (رجح) ব্যক্ত করেছেন যে, শাতীবীর জন্ম ৭৩০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল এবং তিনি এর স্বপক্ষে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন:
- আবু ইসহাক (শাতীবী) ৭৩৩ হিজরিতে জন্ম নেওয়া উজির ইবনে জুমরুকের সমসাময়িক বন্ধু ছিলেন।
- শাতীবী উল্লেখ করেছেন যে, ৭৫৬ হিজরিতে তিনি ইবনুল ফাখখার আল-বীয়েরীর একজন কনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন।
সম্ভবত দ্বিতীয় প্রমাণের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাটিই অধিকতর নির্ভুল, বিশেষ করে যখন জানা যায় যে শাতীবী ইবনুল ফাখখারের কাছে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ এবং সিবওয়াইহ-এর কিতাব অধ্যয়ন করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করুন, আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।
খ- তাঁর জন্মস্থান: তাঁর জন্মের সময়ের মতো জন্মস্থানটিও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে আমরা যদি প্রথমে এটি জানি যে, শাতীবীর পরিবার ১২৪৭ খ্রিস্টাব্দে—যে ঘটনার কথা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী শাতীবাহ ত্যাগ করে গ্রানাডায় চলে এসেছিলেন; তাহলে তা শাতীবীর জন্মের সত্তর বছরেরও কিছু বেশি সময় আগের ঘটনা। দ্বিতীয়ত জানা যায় যে, শাতীবী গ্রানাডাতেই লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন, ফলে প্রবল সম্ভাবনা (يترجح) যে তাঁর জন্ম গ্রানাডাতেই হয়েছিল—যা তাঁর বেড়ে ওঠার স্থানের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩ - তাঁর বেড়ে ওঠা:শাতীবী গ্রানাডায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই তাঁর জীবনের বাকি সময় অতিবাহিত করেন। শৈশব থেকেই তিনি ইলম বা জ্ঞানের দিকে ধাবিত হন, যা তাঁর সমসাময়িক প্রথিতযশা আলেমদের (أعلام) সান্নিধ্য গ্রহণের মাধ্যমে ফুটে ওঠে; যেমন ইবনুল ফাখখার আল-বীয়েরী, যাঁর কাছ থেকে তিনি প্রায় বিশের কোঠায় থাকা অবস্থায় শিক্ষা গ্রহণ করতেন, এবং একই সময়ের আবু সাঈদ বিন লুব ও অন্যান্য মনীষীগণ (أعلام)।
তাঁদের সুদীর্ঘ সান্নিধ্য, তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিভার স্ফুরণ ছাড়া এই জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব ছিল না। আপনি কি দেখেন না, কীভাবে ইবনুল ফাখখার তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং ভাষার এমন সব সূক্ষ্ম মাসআলা (مسائل) উত্থাপনে বিস্মিত হতেন, যা সাধারণত অন্যের নজরে আসত না।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إليها من هو في مثل سنه؟! فما بالك بمن عجب منه ابن الفخار وهو الإمام في علوم العربية الذي لا مطمح بغيره في اللحاق به؟!
وقد كان الشاطبي متميزا بقوة العارضة والنبوغ، وقد خرجت خوارجه منذ أول توجهه كما يقول عن نفسه:" لم أزل منذ فتق للفهم عقلي، ووجه شطر العلم طلبي أنظر في عقلياته وشرعياته وأصوله وفروعه، لم أقتصر منه على علم دون علم، ولا أفردت من أنواعه نوعا دون آخر".
4 - أخلاقه:يوصف الشاطبي في مجمل سجاياه أنه كان يغلب عليه الزهد والورع والتمسك بالكتاب والسنة، والنفور من البدع وأهلها، كما كان متواضعا يكره التعالم والتعنت
والاعتراض والجدل.
5 - وفاته:من المتفق عليه أن وفاة الإمام أبي إسحاق كانت سنة 790 هـ الموافقة 1388 م. استنادا على ما قاله أحد تلامذته الذي نظم كتاب الموافقات إذ قال:
حتى غدت حياته منقضية
… في عام تسعين وسبعمائة
ودقق بعض الباحثين تاريخ وفاته بأنه يوم الثلاثاء، الثامن من شعبان، سنة 790 هـ، الموافقة 1388 م.
فإن كان الاختيار أن ولادته كانت في الثلاثينيات من القرن الثامن كما مر، فيكون قد عاش نحوا من ستين سنة (1).
--------------------------------------------
তাঁর সমবয়সী কেউ কি এমন স্তরে পৌঁছাতে পারে?! তবে তাঁর সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করা যায় যাঁর প্রতি ইবনে আল-ফাকখার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন আরবি ভাষাবিজ্ঞানের এমন এক ইমাম যাঁর সমকক্ষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়?!
শাতবি অসাধারণ বাগ্মিতা ও মেধার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর এই অনন্য প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ শিক্ষার শুরুর দিক থেকেই হতে থাকে। যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "যখন থেকেই আমার বুদ্ধি বিবেচনার বিকাশ ঘটেছে এবং আমার জ্ঞানান্বেষণ লক্ষ্যপানে ধাবিত হয়েছে, তখন থেকেই আমি এর বুদ্ধিবৃত্তিক ও শরয়ি বিষয়াদি এবং এর মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) নিয়ে গবেষণা করে আসছি। আমি কোনো নির্দিষ্ট জ্ঞানে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি এবং এর প্রকারভেদ থেকে কোনো একটিকে অন্যটি ছাড়া এককভাবে গ্রহণ করিনি।"
৪ - তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি:শাতবিকে তাঁর সামগ্রিক স্বভাব-চরিত্রের বিচারে এমনভাবে বর্ণনা করা হয় যে, তাঁর মাঝে দুনিয়াবিমুখতা (الزهد), আল্লাহভীতি (الورع) এবং কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রবল ছিল। তিনি বিদআত (بدعة) ও বিদআতিদের প্রতি বিমুখ ছিলেন। তদুপরি তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন; পাণ্ডিত্য জাহির করা, হঠকারিতা, অযথা আপত্তি ও বিতর্ক তিনি অপছন্দ করতেন।
৫ - তাঁর মৃত্যু:এটি সর্বসম্মত যে, ইমাম আবু ইসহাকের মৃত্যু ৭৯০ হিজরি মোতাবেক ১৩৮৮ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। এটি তাঁর একজন ছাত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যিনি আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থটিকে কাব্যাকারে সংকলন করেছিলেন। তিনি বলেন:
অবশেষে তাঁর জীবনকাল সমাপ্ত হলো
… সাতশ নব্বই অব্দে।
কোনো কোনো গবেষক তাঁর মৃত্যুর সঠিক তারিখটি নির্ধারণ করেছেন যে, তা ছিল মঙ্গলবার, ৮ই শাবান, ৭৯০ হিজরি মোতাবেক ১৩৮৮ খ্রিস্টাব্দ।
সুতরাং যদি এটিই গৃহীত হয় যে তাঁর জন্ম অষ্টম শতাব্দীর ত্রিশের দশকে হয়েছিল (যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে), তবে তিনি প্রায় ষাট বছর বেঁচে ছিলেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
6 - عصره وبيئته:عاش الإمام أبو إسحاق الشاطبي في غرناطة من أرض الأندلس، ولم يذكر أنه فارقها حتى للحج، بله طلب العلم.
وكان القرن الذي عاش فيه هو الثامن الهجري بين ثلاثينياته وتسعينياته.
فما بيئة غرناطة ووقتذاك؟ وما أحوالها المعاصرة لحياة الإمام أبي إسحاق؟
بيئة إقامة الشاطبي غرناطة، التي كانت في بداية عهد المسلمين في الأندلس واقعة ضمن إقليم البيرة التي صرف إليها عبد الرحمن الداخل الأموي جل اهتمامه، ثم حين سقطت الدولة الأموية في الأندلس وأحرقت البيرة انعكس الأمر وخرج أهلها منها وجعلوا قبلة فرارهم وهجرتهم إلى غرناطة، وأصبحت هي عاصمة الإقليم، بينما غدت البيرة تابعة لها، واتخذها المرابطون قاعدة لهم بعد أن افتكّوها من بربر صنهاجة- كما يذكر- ثم دالت الدولة فأخذها منهم الموحّدون، ثم استولى عليها ابن هود أحد ملوك الطوائف، إلى أن نزعها منه مؤسس الدولة النصرية دولة بني الأحمر، عام 635 هـ، وظل بنو الأحمر يحكمون غرناطة قرابة قرنين ونصف من الزمان، وفي أوج دولتهم هذه عاش الإمام أبو إسحاق الشاطبي، وعاصر من ملوكها مزيجا .. منهم القوي الحكيم، ومنهم الضعيف غير المجرّب فتستقر الأحوال حينا فيعمل الناس وينتجون، وتضطرب أحيانا متجهة إلى الحركة، أو تضعف. وقد يخرج منها البعض مهاجرا.
كانت ولادة الشاطبي في هذا العهد، وعلى الذي اخترناه من تاريخ ولادته، يكون ذلك مترددا بين عهد اثنين من ملوك بني الأحمر هما محمد بن إسماعيل
৬ - তাঁর যুগ ও পরিবেশ:ইমাম আবু ইসহাক আল-শাতিবি আন্দালুসের গ্রানাডায় বসবাস করতেন। বর্ণিত নেই যে তিনি জ্ঞান অন্বেষণ, এমনকি হজের উদ্দেশ্যেও গ্রানাডা ত্যাগ করেছিলেন।
তিনি হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে বসবাস করতেন, যার ব্যাপ্তি ছিল ত্রিশ থেকে নব্বই দশকের মধ্যে।
তৎকালীন গ্রানাডার পরিবেশ কেমন ছিল? এবং ইমাম আবু ইসহাকের জীবনের সমসাময়িক পরিস্থিতিই বা কী ছিল?
আল-শাতিবির আবাসস্থল ছিল গ্রানাডা, যা আন্দালুসে মুসলিম শাসনের শুরুর দিকে ইলিবিরা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। উমাইয়া শাসক আবদুর রহমান আদ-দাখিল সেখানে তাঁর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে যখন আন্দালুসে উমাইয়া শাসনের পতন ঘটে এবং ইলিবিরা ভস্মীভূত হয়, তখন পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এর অধিবাসীরা সেখান থেকে বের হয়ে যায় এবং গ্রানাডাকে তাদের আশ্রয় ও হিজরতের গন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে গ্রানাডা এই অঞ্চলের রাজধানীতে পরিণত হয়, আর ইলিবিরা এর একটি অধীনস্থ অংশে পরিণত হয়। যেমনটি বর্ণিত আছে যে, মুরাবিতুনরা সানহাজা বারবারদের কাছ থেকে এটি ছিনিয়ে নেওয়ার পর একে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। এরপর রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরিত হলে মুওয়াহহিদুনরা এটি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে উপদলীয় রাজাদের অন্যতম ইবনে হুদ এটি দখল করেন, শেষ পর্যন্ত ৬৩৫ হিজরিতে নাসরি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা এটি তাঁর হস্তগত করেন। বনু আহমার প্রায় আড়াই শতাব্দীকাল গ্রানাডা শাসন করেছিল। এই রাজবংশের স্বর্ণযুগে ইমাম আবু ইসহাক আল-শাতিবি বসবাস করেছিলেন। তিনি এই রাজবংশের বিভিন্ন ধরনের রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন—যাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান, আবার কেউ ছিলেন দুর্বল (ضعيف) ও অনভিজ্ঞ। তাই কখনো পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকত এবং মানুষ কাজ ও উৎপাদনে নিয়োজিত থাকত, আবার কখনো অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতা দেখা দিত কিংবা রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ত। কোনো কোনো সময় কেউ কেউ দেশ ত্যাগ করে হিজরতও করত।
আল-শাতিবির জন্ম এই যুগেই হয়েছিল। তাঁর জন্ম তারিখের ব্যাপারে আমাদের নির্বাচিত মত অনুযায়ী, তা ছিল বনু আহমারের দুই রাজা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল এর শাসনামলের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
(تولى 725 هـ، وقتل 733 هـ)، وأخوه أبو الحجاج يوسف بن إسماعيل (تولى 733 هـ، وقتل 755 هـ)، وكان أبو الحجاج مهتمّا بالعلم والأدب، وقد استوزر ذا الوزارتين لسان الدين ابن الخطيب، وعلى عهده كان في غرناطة علماء كبار منهم ابن الفخار البيري شيخ الشاطبي، ففي عهد أبي الحجاج يكون الشاطبي يشق طريق تكوينه العلمي على يد أعلام قرطبة.
ثم ولي بعد أبي الحجاج ولده الغني بالله محمد بن يوسف بن إسماعيل (ولي 755 هـ، ومات 793 هـ)، أي أن حكمه استمر إلى ما بعد وفاة الشاطبي، وكانت فترة طويلة تميزت بأمن واستقرار نوعا ما، تخللها ذلك الاضطراب الذي خرج فيه الغني بالله إلى المغرب، وتولى مكانه أخوه إسماعيل، ثم قتله زوج أخته" البرميخو" وتولى مكانه، وكان" البرميخو" فاسدا.
ولما كانت الرعايا على دين الملوك فقد انتقل هذا الفساد إلى الحياة اليومية، لا سيما انتشار الحشيشة واستحلالها كما كان يصنع البرميخو، وفي هذه السنوات الثلاث لجأ معظم الفقهاء إلى بلاط بني مرين بفاس. كما ساعد في نقل الفساد إلى الحياة اليومية كون غرناطة قبلة كل شارد فأصبحت ملتقى للانحرافات الدينية والخلقية في سائر الحياة العامة- كما يعبر البعض- وهكذا ما كان يجري في سراديب السياسة بين الطبقات الحاكمة من كلب شديد قائم على السلطة.
وحسبك أن تعلم من ذلك أن ابني إسماعيل اللذين ذكرناهما وأباهما أبا اليد إسماعيل، كل هؤلاء قتل في سبيل السيطرة، وما حدث للغني بالله كان وراءه أخوه إسماعيل وهلك إسماعيل على يد البرميخو. وما دون الأمراء كان كذلك حال الوزراء كالفتنة التي وقعت للسان الدين ابن الخطيب، وضاعفها أن كان وراءها تلميذه ابن زمرك الذي أرضعه ابن الخطيب الأدب وانتهت بقتل ابن الخطيب عام 776 هـ،
(ক্ষমতায় আসীন হন ৭২৫ হি., এবং নিহত হন ৭৩৩ হি.), এবং তাঁর ভাই আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন ইসমাইল (ক্ষমতায় আসীন হন ৭৩৩ হি., এবং নিহত হন ৭৫৫ হি.)। আবু আল-হাজ্জাজ ইলম ও আদব (সাহিত্যের) প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তিনি ‘যু আল-উযারাতাইন’ লিসান আল-দীন ইবনে আল-খাতিবকে উজির বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে গ্রানাডায় প্রথিতযশা উলামাগণ অবস্থান করতেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল-শাতিবির শাইখ (شيخ) ইবনুল ফাখখার আল-বিরি। মূলত আবু আল-হাজ্জাজের শাসনকালেই আল-শাতিবি কর্ডোভার বিদগ্ধ মনীষীদের সান্নিধ্যে তাঁর ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠনের পথ প্রশস্ত করছিলেন।
অতঃপর আবু আল-হাজ্জাজের পর তাঁর পুত্র আল-গানি বিল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইসমাইল ক্ষমতায় বসেন (ক্ষমতায় আসীন হন ৭৫৫ হি., এবং ইন্তেকাল করেন ৭৯৩ হি.)। অর্থাৎ, তাঁর শাসনকাল আল-শাতিবির ইন্তেকালের পরবর্তী সময় পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। এটি ছিল একটি দীর্ঘ সময়কাল যা কিছুটা শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, তবে এর মাঝে সেই অস্থিরতাও বিদ্যমান ছিল যার ফলে আল-গানি বিল্লাহ মরক্কোতে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ভাই ইসমাইল, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর ভগ্নিপতি "আল-বারমিখো" তাঁকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেন; আর এই "আল-বারমিখো" ছিল অত্যন্ত পাপাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত।
যেহেতু প্রজারা তাদের রাজাদের আদর্শ অনুসরণ করে, তাই এই অবক্ষয় দৈনন্দিন জীবনেও সংক্রমিত হয়েছিল। বিশেষ করে হাশিশের (গাঁজা) বিস্তার এবং সেটিকে বৈধ মনে করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যেমনটি আল-বারমিখো করত। এই তিন বছরে অধিকাংশ ফকিহ ফেজের বনু মারিন সালতানাতের দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এছাড়া গ্রানাডা সকল আশ্রয়হীন ও পলাতক ব্যক্তির গন্তব্যস্থলে পরিণত হওয়াও দৈনন্দিন জীবনে এই অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়াতে সহায়ক হয়েছিল—যেমনটি কেউ কেউ ব্যক্ত করেছেন—ফলে এটি সামগ্রিক জনজীবনে ধর্মীয় ও চারিত্রিক বিচ্যুতির মিলনস্থলে পরিণত হয়। এভাবেই ক্ষমতার মসনদ নিয়ে শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অন্দরমহলে এক তীব্র সংঘাত ও লালসা বিদ্যমান ছিল।
আপনার জন্য এতটুকুই জানা যথেষ্ট যে, ইসমাইলের যে দুই পুত্রের কথা আমরা উল্লেখ করেছি এবং তাদের পিতা আবু আল-ওয়ালিদ ইসমাইল—এঁদের প্রত্যেকেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিহত হয়েছিলেন। আল-গানি বিল্লাহর সাথে যা ঘটেছিল তার নেপথ্যে ছিল তাঁর ভাই ইসমাইল, আর ইসমাইল স্বয়ং আল-বারমিখোর হাতে ধ্বংস হয়েছিলেন। আমীরদের পাশাপাশি উজিরদের অবস্থাও ছিল তদ্রূপ, যেমনটি লিসান আল-দীন ইবনে আল-খাতিবের ক্ষেত্রে ঘটা ফিতনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই সংকট আরও ঘনীভূত হয় যখন এর নেপথ্যে ছিলেন তাঁরই ছাত্র ইবনে যুমরুক, যাঁকে ইবনে আল-খাতিব সাহিত্য ও আদব শিক্ষা দিয়েছিলেন; পরিশেষে ৭৭৬ হিজরিতে ইবনে আল-খাতিবের হত্যার মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
ودارت الأيام على ابن زمرك فقتل هو الآخر عام 797 هـ، وكان ابن زمرك صديقا ندّا للشاطبي، كما سبق ذكره.
هكذا كانت بيئة غرناطة وعصر الشاطبي، فعلى ما فيها من ازدهار في العلوم والآداب بحيث كان ذلك الوقت عصرا لكبار الفقهاء كابن عرفة، وابن مرزوق الجد، والعقباني، والأدباء كلسان الدين ابن الخطيب، وابن خلدون
…وغيرهم ممن عرفت .. على هذا الازدهار كان ما رأيت من سريان الداء إلى جسد الحياة اليومية، وما سمعت من تهتك أديم نظام السلطة والكلب على الحكم.
وعلى كل ذلك لم يكن هناك صدى فيما كتبه الشاطبي لهذه الأحوال، وليس له تجاهه موقف فصيح، غير أنه يمكن رد ذلك إلى أنه كان يكتفي بموقفه الفكري المميز الذي يردّ فيه كل أسباب الفساد الخلقي والاضطراب الاجتماعي إلى البعد عن النهج السويّ والسنة السمحاء، وإيثار البدعة وارتضائها، وهذا ميدانه الذي بقي فيه سيفه مصلتا وتحمل في سبيل غايته كل عنت ومشقة.
ولعل سائلا يسأل لم لم يترك الشاطبي غرناطة والأندلس إلى غيرها؟
ونقول: لو فعل؛ لكان كالمستجير من الرمضاء بالنار ففي تلك المرحلة العصيبة لم تكن أرض للمسلمين إلا وهي تنعي صحة الإسلام إلى أهله الغيورين، فبنو مرين في فاس تتراجع دولتهم بعد وفاة أبي الحسن المريني 752 هـ، ومصر فيها الأحوال مضطربة في دولة المماليك البحرية ثم الجركسية وهم يواجهون خطر التتار من جهة
দিন অতিবাহিত হতে থাকে এবং ইবনে জুমরুকও ৭৯৭ হিজরিতে নিহত হন। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইবনে জুমরুক ছিলেন আল-শাতিবির একজন সমসাময়িক বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী।
গ্রানাডার পরিবেশ এবং আল-শাতিবির যুগ ছিল এমনই। বিজ্ঞান ও সাহিত্যের উন্নতির দিক থেকে সেই সময়টি ছিল ইবনে আরাফা, ইবনে মারজুক আল-জাদ্দ এবং আল-উক্ববানির মতো বড় ফকিহ (فقيه) এবং লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব ও ইবনে খালদুনের মতো সাহিত্যিকদের যুগ
…এবং অন্যদের মাঝে যাদের কথা জানা যায়... এই উন্নতির সমান্তরালেই প্রাত্যহিক জীবনের শরীরে রোগের সঞ্চার দেখা দিয়েছিল এবং শাসনব্যবস্থার কাঠামোর অবক্ষয় ও ক্ষমতার প্রতি লালসার কথা শ্রুত হতো।
এসব সত্ত্বেও আল-শাতিবির লেখায় এই পরিস্থিতির কোনো সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় না এবং এর প্রতি তাঁর স্পষ্ট কোনো অবস্থানও ছিল না। তবে এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে, তিনি তাঁর স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানের ওপরই সন্তুষ্ট ছিলেন, যেখানে তিনি নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতার সকল কারণকে সঠিক পথ ও উদার সুন্নাহ (سنة) থেকে দূরে থাকা এবং বিদআত (بدعة)-কে প্রাধান্য দেওয়া ও গ্রহণ করার সাথে সম্পৃক্ত করতেন। এটিই ছিল তাঁর মূল ক্ষেত্র যেখানে তিনি তাঁর তলোয়ার উন্মুক্ত রেখেছিলেন এবং তাঁর লক্ষ্যের পথে সকল প্রতিকূলতা ও কষ্ট সহ্য করেছিলেন।
সম্ভবত কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন, কেন আল-শাতিবি গ্রানাডা ও আন্দালুস ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাননি?
আমরা উত্তরে বলব: যদি তিনি তা করতেন, তবে তা হতো তপ্ত বালু থেকে আগুনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার মতো। কারণ সেই কঠিন সময়ে মুসলিমদের এমন কোনো ভূমি ছিল না যা তার আত্মমর্যাদাশীল অধিবাসীদের কাছে ইসলামের সঠিক অবস্থার বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরছিল না। ফেজ শহরে বনু মারিনদের রাষ্ট্র আবু হাসান আল-মারিনির ইন্তেকালের (৭৫২ হিজরি) পর পতনের দিকে যাচ্ছিল এবং মিশরে বাহরি মামলুক ও পরবর্তীকালে চেরকাশীয় মামলুকদের শাসনামলে পরিস্থিতি ছিল অস্থিতিশীল, আর তারা একদিকে তাতারদের বিপদের সম্মুখীন ছিল।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والصليبيين من جهة. فإن فر من نار المغرب؛ وقع في جحيم المشرق، وقد فعل ذلك ابن خلدون فما ظهر إلا بالعناء والعنت (1).
شيوخ الشاطبي (2):
1 - أبو عبد الله محمد ابن الفخار البيري: وقد مر ذكره، وكان الشاطبي شديد القرب منه، وقد درس عليه كتاب سيبويه وألفية ابن مالك، وكان شيخا له في القراءات.
توفي ابن الفخار عام 756 هـ- أو بعدها بقليل، وقد درس عليه الشاطبي في شبابه وكان به معجبا.
2 - أبو سعيد فرج بن قاسم بن أحمد بن لب الغرناطي (710 - 782): كان فقيه غرناطة وخطيبا بجامعها الكبير، ومدرسا بمدرستها النصرية. وكان ثالث ثلاثة ذاع صيتهم بالمغرب، والآخران هما المقري وابن مرزوق وكلاهما من شيوخ الشاطبي.
كان الشاطبي أثيرا قريبا من ابن لب، وقد درس عليه الفقه والفروع وشيئا من اللغة، ولكن نفرة قامت بينهما حين استقل الشاطبي بالفتوى، فبدا له
--------------------------------------------
এবং অন্য দিক থেকে ক্রুসেডাররা। সুতরাং যদি কেউ মাগরিবের (পশ্চিমের) আগুন থেকে পালাতে চায়, তবে সে মাশরিকের (পূর্বের) জাহান্নামে পতিত হবে। ইবনে খালদুন তা-ই করেছিলেন, ফলে তিনি কষ্ট ও যাতনা ছাড়া আর কিছুই পাননি (১)।
শাতীবীর শিক্ষকগণ (شيوخ) (২):
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফাকখার আল-বিরি: তাঁর কথা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। শাতীবী তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট সিবাওয়াইহ-এর কিতাব এবং ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অধ্যয়ন করেছেন। তিনি কিরাত (القراءات) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর শায়খ (شيخ) ছিলেন।
ইবনুল ফাকখার ৭৫৬ হিজরিতে অথবা তার কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেন। শাতীবী তাঁর যৌবনকালে তাঁর নিকট পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
২ - আবু সাঈদ ফারাজ বিন কাসিম বিন আহমাদ বিন লুব আল-গারনাতি (৭১০ - ৭৮২ হিজরি): তিনি ছিলেন গ্রানাডার ফকিহ (فقيه) এবং সেখানকার জামে মসজিদের খতিব (خطيب) ও মাদরাসাতুন নাসরিয়্যাহ-এর শিক্ষক। তিনি ছিলেন মাগরিবে প্রসিদ্ধ তিনজন ব্যক্তির মধ্যে তৃতীয়জন; অপর দুজন হলেন আল-মাক্কারি এবং ইবনে মারজুক, যারা উভয়েই শাতীবীর শিক্ষক (شيوخ) ছিলেন।
শাতীবী ইবনে লুব-এর অত্যন্ত প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট ফিকহ (الفقه), ফুরু (الفروع) এবং কিছুটা ভাষাতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। কিন্তু যখন শাতীবী স্বাধীনভাবে ফতোয়া (الفتوى) প্রদান শুরু করেন, তখন তাঁদের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ফলে তাঁর নিকট মনে হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تساهل ابن لب، في حين كان الشاطبي شديدا في فتاواه توافقا مع نهجه في معاكسة الأهواء، ودفع البدع، وحفظ دوحة الدين.
3 - أبو علي منصور بن عبد الله بن علي الزواوي التلمساني (710 - 765) وقد قدم غرناطة عام 753 ولبث بها 13 سنة، وكان جاءها ليتلقى عن ابن الفخار البيري فانتصب للتدريس، ودرس عليه صاحب ترجمتنا مختصر ابن الحاجب، وكان الزواوي حبيبا إلى نفس الشاطبي لتجانس روحيهما، فقد كان أبو علي متمسكا بالسنة شديد التمسك، وكان له في منهج الشاطبي أثر بيّن يدلنا عليه ما يذكره الشاطبي أنه كان كثيرا ما يذكر له قول بعض العقلاء:" لا يسمى العالم بعلم ما عالما بذلك العلم على الإطلاق حتى تتوفر فيه أربعة شروط:
أحدها: أن يكون قد أحاط علما بأصول ذلك العلم على الكمال.
والثاني: أن تكون له قدرة على العبارة عن ذلك العلم.
والثالث: أن يكون عارفا بما يلزم عنه.
والرابع: أن تكون له قدرة على دفع الإشكالات الواردة على ذلك العلم".
4 - أبو عبد الله محمد بن محمد بن أبي بكر المقري الكبير، جد المقري الصغير صاحب" نفح الطّيب". ولد بتلمسان، وسافر إلى المشرق وعاد إلى فاس، ثم وفد إلى غرناطة سنة 757 هـ، وانتصب بها للتدريس وقد سبقته شهرته إليها، وكان ذا نزعة في التصوف أثرت في الشاطبي، واقترب منه الشاطبي حين دراسته عليه الفقه والتصوف والحديث، وخصه المقري بسندين مسلسلين أحدهما سند مصافحة والآخر سند تلقين.
ইবনে লুব্ব কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করতেন, যেখানে ইমাম শাতিবী তাঁর ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন। এটি ছিল প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ, বিদআত (بدعة) প্রতিরোধ এবং দ্বীনের বৃক্ষকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ।
৩ - আবু আলী মনসুর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলী আল-জাওয়াবি আত-তিলিমসানি (৭১০ - ৭৬৫ হিজরি)। তিনি ৭৫৩ হিজরিতে গ্রানাডায় আসেন এবং সেখানে ১৩ বছর অবস্থান করেন। তিনি মূলত ইবনুল ফাখখার আল-বিরির নিকট থেকে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, অতঃপর সেখানে শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করেন। আমাদের এই জীবনীর মূল আলোচ্য ব্যক্তি (ইমাম শাতিবী) তাঁর কাছে 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব' পাঠ করেন। আল-জাওয়াবি ইমাম শাতিবীর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন, কারণ তাঁদের উভয়ের মানসিকতা ও চিন্তাধারার মধ্যে গভীর মিল ছিল। আবু আলী সুন্নাহর (سنة) অনুসরণে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ইমাম শাতিবীর কর্মপদ্ধতির ওপর তাঁর সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান, যা শাতিবীর একটি উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়। শাতিবী উল্লেখ করেছেন যে, আল-জাওয়াবি প্রায়ই তাঁর কাছে জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তির একটি উক্তি বর্ণনা করতেন: "কোনো শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে আলেম (عالم) বলা যাবে না, যতক্ষণ না তাঁর মধ্যে চারটি শর্ত বিদ্যমান থাকে:
প্রথমত: সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ (أصول) সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করা।
দ্বিতীয়ত: সেই জ্ঞানকে প্রকাশ বা বর্ণনা করার সক্ষমতা থাকা।
তৃতীয়ত: সেই জ্ঞানের আবশ্যিক অনুষঙ্গসমূহ সম্পর্কে অবগত থাকা।
চতুর্থত: ওই শাস্ত্রের ওপর উত্থাপিত জটিলতা বা সংশয়সমূহ নিরসন করার সক্ষমতা থাকা"।
৪ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাক্কারি আল-কাবীর; তিনি 'নাফহুত তীব' গ্রন্থের রচয়িতা আল-মাক্কারি আস-সগিরের দাদা। তিনি তিলিমসানে জন্মগ্রহণ করেন, প্রাচ্য দেশসমূহ সফর করেন এবং পরে ফেজে ফিরে আসেন। এরপর ৭৫৭ হিজরিতে তিনি গ্রানাডায় আসেন এবং সেখানে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন; তাঁর গ্রানাডায় পৌঁছানোর আগেই তাঁর খ্যাতি সেখানে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর মধ্যে তাসাউফ (تصوف) বা সুফিবাদী ঝোঁক ছিল যা ইমাম শাতিবীর ওপর প্রভাব ফেলেছিল। শাতিবী যখন তাঁর কাছে ফিকহ (فقه), তাসাউফ (تصوف) এবং হাদিস অধ্যয়ন করেন, তখন তিনি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হন। আল-মাক্কারি ইমাম শাতিবীকে দুটি ক্রমিক ধারার সনদ (سند مسلسل) প্রদান করেন, যার একটি ছিল করমর্দনের সনদ (سند مصافحة) এবং অন্যটি ছিল তালকিনের সনদ (سند تلقين)।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - أبو عبد الله محمد بن مرزوق (710 تلمسان- 781 القاهرة)، وفد على غرناطة وانتصب للتدريس ومحوره في دروسه تدريس الفقه بشرح الحديث فكان يشرح الموطأ برواية الليثي. انكب آخر عمره على شرح" الشفا" للقاضي عياض ومات دون إتمامه.
6 - أبو جعفر أحمد الشقوري: شيخ الشاطبي في الفرائض والفقه على" المدونة".
7 - أبو عبد الله البلنسي: ذكر أنه مفسر ونحوي.
8 - أبو عبد الله الشريف التلمساني، صاحب كتاب" مفتاح الوصول إلى بناء الفروع على الأصول".
وغير هؤلاء تلقى عنهم الشاطبي فنبغ وفاق.
تلاميذه (1):
زخرت أبحر أبي إسحاق وعلا كعبه في العلم عن ذهن متوقد وقريحة صافية، فكان لا بد أن يقصده طلاب المناهل، ولا بدّ أن ينتصب هؤلاء لأداء الأمانة، فقام لذلك بجامع غرناطة الأعظم يدرس خمسة علوم: الفقه والأصول والحديث والقراءات والنحو.
فاعتمد في تدريسه النحو كتاب سيبويه وبعض شروح" الخلاصة".
وفي تدريسه الأصول مختصر ابن الحاجب، ثم درس كتابه" الموافقات" بعد تمامه.
وفي الحديث مقدمة ابن الصلاح.
--------------------------------------------
5 - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মারজুক (৭১০ তিলিমসান- ৭৮১ কায়রো), তিনি গ্রানাডায় আসেন এবং শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর পাঠদানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাদিসের ব্যাখ্যার মাধ্যমে ফিকহ (فقه) শিক্ষা প্রদান করা। তিনি লাইসীর বর্ণনা অনুযায়ী মুওয়াত্তা ব্যাখ্যা করতেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কাজী আয়াজ রচিত "আশ-শিফা"-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং এটি সমাপ্ত করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।
6 - আবু জাফর আহমদ আশ-শাকুরি: ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) এবং "আল-মুদাওওয়ানা"-র আলোকে ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে আশ-শাতিবির উস্তাদ।
7 - আবু আবদুল্লাহ আল-বালানসি: উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একজন মুফাসসির (مفسر) এবং নাহবি (نحوي)।
8 - আবু আবদুল্লাহ আশ-শরিফ আত-তিলিমসানি, তিনি "মিফতাহুল উসুল ইলা বিনাউল ফুরু আলাল উসুল" গ্রন্থের রচয়িতা।
এঁরা ছাড়াও আরো অনেকের নিকট আশ-শাতিবি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং অসাধারণ মেধা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ (1):
আবু ইসহাকের জ্ঞানের সমুদ্র ছিল সুবিশাল এবং তীক্ষ্ণ মেধা ও স্বচ্ছ প্রতিভার কারণে ইলমি অঙ্গনে তাঁর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সুউচ্চ। ফলে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর নিকট আসা ছিল অনিবার্য, আর এই আমানত আদায়ের লক্ষ্যে তাঁর শিক্ষকতাও ছিল আবশ্যক। তাই তিনি গ্রানাডার জামে আ’জম-এ পাঁচটি বিষয়ে পাঠদান করতেন: ফিকহ (فقه), উসুল (أصول), হাদিস, কিরাত (قراءات) এবং নাহু (نحو)।
নাহু (نحو) শাস্ত্রের পাঠদানে তিনি কিতাব সিবওয়াইহি এবং "আল-খুলাসা"-র কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর নির্ভর করতেন।
উসুল (أصول) শাস্ত্রের পাঠদানে ইবনুল হাজিব-এর মুখতাসার এবং পরবর্তীতে তাঁর নিজস্ব গ্রন্থ "আল-মুয়াফাকাত" সমাপ্ত করার পর সেটি পাঠদান করতেন।
হাদিস শাস্ত্রে ইবনে সালাহ-এর মুকাদ্দিমা (مقدمة) পাঠদান করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي الفقه مصادر منها: موطأ مالك، ومدونة سحنون.
وفي القراءات:" التيسير" لأبي عمرو الداني.
وكان لأبي إسحاق تلامذة نبغ منهم من نذكره لنباهة شأنه:
1 - أبو يحيى بن محمد بن عاصم، من أسرة شهيرة بغرناطة، تلقى عن الشاطبي الفقه وعلوم اللغة وتولى الوزارة لبني الأحمر، ولقب بابن الخطيب الثاني، واستشهد في جهاد النصارى 813 هـ.
2 - أخوه أبو بكر بن عاصم، لقب بالقاضي؛ إذ ولي القضاء بغرناطة، وبرع في العلوم وألف تآليف منها أرجوزة العاصمة في الفقه، وكان جل اهتمامه منصبّا على علم الأصول تأثرا بشيخه، كما اختصر" الموافقات" لأستاذه أبي إسحاق.
3 - أبو عبد الله محمد المجاري الأندلسي: تلقى عن الشاطبي علم النحو، وصنف كتابا عن شيوخه عرف باسم" برنامج المجاري"، ارتحل إلى المشرق لطلب العلم، وتوفي 862 هـ.
4 - أبو جعفر القصار، تلميذ فهم أثير كان أبو إسحاق أثناء تأليفه" الموافقات" يعرض عليه بعض المسائل ويباحثه فيها ثم يدونها.
5 - أبو عبد الله البياني، فقيه.
6 - ابن جعفر الفخار.
ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের কিছু উৎসের মধ্যে রয়েছে: মুয়াত্তা মালিক এবং মুদাওয়ানাতু সাহনুন।
এবং কিরাত (قراءات) শাস্ত্রে: আবু আমর আদ-দানির "আত-তাইয়াসীর"।
আবু ইসহাকের এমন কিছু প্রতিভাবান ছাত্র ছিলেন, যাদের উচ্চমর্যাদার কারণে আমরা তাদের নাম উল্লেখ করছি:
1 - আবু ইয়াহিয়া বিন মুহাম্মদ বিন আসিম, গ্রানাডার এক বিখ্যাত পরিবারের সদস্য। তিনি শাতবি'র নিকট ফিকহ (فقه) ও ভাষা বিজ্ঞান শিক্ষা করেন এবং বনু আহমারের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে ‘দ্বিতীয় ইবনুল খাতিব’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তিনি ৮১৩ হিজরিতে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদে (جهاد) শাহাদাত (شهادة) বরণ করেন।
2 - তার ভাই আবু বকর বিন আসিম, ‘আল-কাজি’ উপাধিতে পরিচিত ছিলেন; যেহেতু তিনি গ্রানাডার বিচারকের (قضاء) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে ‘আরজুযাতুল আসিমা’ সহ বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন। তার উস্তাদের প্রভাবে তার অধিকাংশ মনোযোগ ছিল উসুল (أصول) শাস্ত্রের প্রতি। এছাড়া তিনি তার শিক্ষক আবু ইসহাকের "আল-মুওয়াফাকাত" গ্রন্থটি সংক্ষেপন করেন।
3 - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাজারি আল-আন্দালুসি: তিনি শাতবি'র নিকট নাহু (نحو) বিদ্যা শিক্ষা করেন এবং তার শিক্ষকদের সম্পর্কে একটি কিতাব সংকলন করেন যা "বারনামাজ আল-মাজারি" নামে পরিচিত। তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে মাশরিক (পূর্বাঞ্চল) সফর করেন এবং ৮৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
4 - আবু জাফর আল-কাসসার, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও প্রিয় একজন ছাত্র। আবু ইসহাক "আল-মুওয়াফাকাত" রচনার সময় তার নিকট কিছু মাসআলা (مسألة) উপস্থাপন করতেন এবং সে বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করতেন, অতঃপর তা লিপিবদ্ধ করতেন।
5 - আবু আব্দুল্লাহ আল-বায়ানি, তিনি একজন ফকিহ (فقيه)।
6 - ইবনে জাফর আল-ফাখখার।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مؤلفات أبي إسحاق الشاطبي (1):
مجمل مؤلفات أبي إسحاق هي:
1 - الموافقات.
2 - الاعتصام.
3 - الإفادات والإنشاءات.
4 - كتاب المجالس.
5 - شرح الخلاصة.
6 - عنوان الاتفاق في علم الاشتقاق.
7 - أصول النحو.
كما أن بعض فتاويه جمعت حديثا.
وإليك الحديث عن كلّ:
1 - الموافقات: وكان قد سماه" عنوان التعريف، بأسرار التكاليف"، وهو أشهر كتب أبي إسحاق وأكثرها ذيوعا، وليس موضوعه أصول الفقه كما يتبادر، ولكن أصول الفقه بعض موضوعاته، وسائر البحوث التي يفيض بها الكتاب تدخل تحت فلسفة التشريع وأسرار التكليف.
ظهر مطبوعا أول مرة بتونس 1884 م؛ إذ كان مخطوطا متداولا بين أيدي العلماء والطلاب.
ثم طبع بمصر بالسلفية، بتعليق الشيخ محمد الخضر حسين التونسي- نزيل مصر- على الجزءين الأولين وتعليق الشيخ حسنين مخلوف على الثالث والرابع، وذلك سنة 1922 م.
--------------------------------------------
আবু ইসহাক আশ-শাতিবির রচনাবলি (১):
আবু ইসহাক-এর সামগ্রিক রচনাবলি হলো:
১ - আল-মুওয়াফাকাত।
২ - আল-ইতিসাম।
৩ - আল-ইফাদাত ওয়াল ইনশাআত।
৪ - কিতাবুল মাজালিস।
৫ - শারহুল খুলাসা।
৬ - উনওয়ানুল ইত্তিফাক ফি ইলমিল ইশতিকাক।
৭ - উসুলুন নাহু।
এছাড়াও তাঁর কিছু ফতোয়া (فتاوى) সম্প্রতি সংগৃহীত হয়েছে।
নিম্নে প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
১ - আল-মুওয়াফাকাত: তিনি এর নামকরণ করেছিলেন "উনওয়ানুত তারিফ, বি আসরারিত তাকালিফ", এটি আবু ইসহাক-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং বহুল প্রচারিত গ্রন্থ। এর বিষয়বস্তু কেবল ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) নয় যেমনটি সাধারণত ধারণা করা হয়, বরং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) এর বিষয়বস্তুর একটি অংশ মাত্র। কিতাবটিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত অন্যান্য সকল গবেষণা শরীয়ত প্রণয়নের দর্শন (فلسفة التشريع) এবং শরীয়তের বিধান আরোপের রহস্যের (أسرار التكليف) অন্তর্ভুক্ত।
এটি ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ায় প্রথমবার মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়; এর আগে এটি আলেম ও শিক্ষার্থীদের নিকট পাণ্ডুলিপি (مخطوط) হিসেবে প্রচলিত ছিল।
অতঃপর এটি মিশরে আস-সালাফিয়া প্রেসে মুদ্রিত হয়, যেখানে প্রথম দুই খণ্ডের ওপর শেখ মুহাম্মদ আল-খিদর হুসাইন তিউনিসি—যিনি মিশরে বসবাসরত ছিলেন—এবং তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডের ওপর শেখ হাসনাইন মাখলুফ-এর টীকা (تعليق) রয়েছে। এটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وطبع بعد ذلك طبعة أخرى بالمكتبة التجارية الكبرى دون تاريخ، بتحقيق وتعليق الشيخ عبد الله دراز.
ثم طبعته مكتبة صبيح بمصر طبعة أخرى سنة 1969 م بتحقيق محمد محيي الدين عبد الحميد.
وطبع منه الجزء الأول في مدينة قازان السوفيتية عام 1909 م.
2 - الاعتصام: وهو في البدع والمحدثات، الميدان الذي صرف إليه الشاطبي شطرا كبيرا من همته. والكتاب مضمن في جزءين، ناقش موضوعاته وفق منهاج أصولي
بعبارة رصينة، وتضمن بعض مباحث الأصول.
نشره لأول مرة السيد محمد رشيد رضا صاحب المنار عام 1913 م، وطبع ثانية بالمكتبة التجارية مع المقدمة التي قدم بها رشيد رضا للطبعة الأولى. وطبع ثالثة بدار المعرفة ببيروت مع ذات المقدمة.
3 - الإفادات والإنشاءات: وصف بأنه فيه طرف وملح أدبية وإنشاءات، وهو مطبوع منذ ما يزيد على عقد من الزمان، بتحقيق محمد أبو الأجفان.
4 - كتاب المجالس: غير مطبوع، شرح فيه الشاطبي كتاب البيوع من صحيح البخاري، وهو الكتاب الوحيد الذي يذكر للشاطبي في الفقه، فله بهذا منزلة خاصة، يذكر التنبكتي في" نيل الابتهاج" أن فيه من الفوائد والتحقيقات ما لا يعلمه إلا الله.
5 - شرح الخلاصة (ألفية ابن مالك): ذكر بعض الباحثين أنه يضم أربعة أجزاء كبيرة، وتوجد نسخة منه بالخزانة الملكية بالرباط تحت رقم (276)، وأن جامعة أم القرى تقوم بتحقيقه ونشره.
এরপর শেখ আবদুল্লাহ দরাজ-এর সম্পাদনা ও টীকাসহ মাকতাবাতুল তিজারিয়্যা আল-কুবরা থেকে কোনো তারিখ ছাড়াই এটি আরেকবার মুদ্রিত হয়েছে।
এরপর ১৯৬৯ সালে মিশরের মাকতাবাতু সাবিহ থেকে মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদের সম্পাদনায় এটি আরেকবার মুদ্রিত হয়েছে।
১৯০৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাজান শহরে এর প্রথম খণ্ডটি মুদ্রিত হয়।
২ - আল-ইতিসাম: এটি বিদআত (بدع) এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি (محدثات) সম্পর্কে রচিত, যা এমন এক ক্ষেত্র যেখানে শাতবি তাঁর মেধার বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন। বইটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত, যেখানে তিনি উসুলভিত্তিক (أصولي) পদ্ধতিতে এর বিষয়বস্তুগুলো আলোচনা করেছেন।
এটি অত্যন্ত মজবুত ভাষায় রচিত এবং এতে উসুলের (الأصول) কিছু আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আল-মানার পত্রিকার সম্পাদক সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা ১৯১৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশ করেন। রশিদ রিদা প্রথম সংস্করণে যে ভূমিকা লিখেছিলেন, সেই ভূমিকাসহ এটি মাকতাবাতুল তিজারিয়্যা থেকে দ্বিতীয়বার মুদ্রিত হয়। পরবর্তীতে বৈরুতের দারুল মা'রিফা থেকে একই ভূমিকাসহ এটি তৃতীয়বার মুদ্রিত হয়।
৩ - আল-ইফাদাত ওয়াল ইনশাআত: এটি সাহিত্যিক কৌতুক, সরস বর্ণনা ও রচনার সংকলন হিসেবে বর্ণিত। মুহাম্মদ আবু আল-আফজানের সম্পাদনায় এটি এক দশকেরও বেশি সময় আগে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - কিতাবুল মাজালিস: এটি এখনও মুদ্রিত হয়নি। এতে শাতবি সহীহ বুখারী-এর ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের (كتاب البيوع) ব্যাখ্যা করেছেন। ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে শাতবি-র রচিত এটিই একমাত্র কিতাব, তাই এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তিমবুকতি তাঁর 'নাইলুল ইবতিহাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এতে এমন সব জ্ঞানগর্ভ তথ্য ও গবেষণা রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।
৫ - শারহুল খুলাসা (আলফিয়্যা ইবনে মালিক): কিছু গবেষক উল্লেখ করেছেন যে এটি চারটি বড় খণ্ডে বিভক্ত। এর একটি পাণ্ডুলিপি মরক্কোর রাবাতে অবস্থিত রাজকীয় গ্রন্থাগারে ২৭৬ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ করছে।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
6 - عنوان الاتفاق في علم الاشتقاق: وهو في علم الصرف وفقه اللغة، كما يظهر من اسمه، ويذكر التنبكتي أن الشاطبي أتلفه في حياته.
7 - أصول النحو: تضمن القواعد الأصلية التي لا غنى عنها لطلاب هذا العلم، ويذكر أنه تلف أيضا كسابقه.
8 - (ما يلحق بمؤلفاته): وهو فتاوى الإمام الشاطبي، وهو كتاب ظهر حديثا، وليس في حقيقته مصنفا للشاطبي إذ هو عبارة عن جمع لستين فتوى من فتاوى الشاطبي المنثورة في كتب عدة يعود أصل بعضها إلى" الموافقات" وبعضها إلى" الاعتصام"، وقد جمع هذه الفتاوى بعض المؤلفين سابقا كابن كركاط في" الفتاوى"، والونشريسي في" المعيار"، ثم استخرجها كلها محمد أبو الأجفان وجعلها كتابا مستقلا بهذا الاسم.
هذا تطواف سريع حاولنا فيه أن نلملم شواهد تكشف لنا عن بنيان شامخ يقف علما باذخا في سلسلة رواد علوم الشريعة الأول كتمهيد لموضوع هذا البحث.
رحم الله أبا إسحاق على ما بذل لدين الله، وشكر الله له سعيه وهو الشكور، ونفع بعلمه وهو صانع ذلك، إنه على كل شيء قدير.
6 - উনওয়ানুল ইত্তিফাক ফি ইলমিল ইশতিকাক: এটি ইলমুত সারফ (علم الصرف) এবং ভাষাবিজ্ঞান (فقه اللغة) বিষয়ক গ্রন্থ, যেমনটি এর নাম থেকে প্রতীয়মান হয়। আত-তিনবুকতি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আশ-শাতিবি তাঁর জীবদ্দশাতেই এটি বিনষ্ট করে ফেলেছিলেন।
7 - উসুলুন নাহব: এটি এমন কিছু মৌলিক নীতিমালা (القواعد الأصلية) সংবলিত গ্রন্থ যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য। বর্ণিত আছে যে, এটিও পূর্ববর্তী গ্রন্থটির ন্যায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
8 - (তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ): এটি হলো ‘ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতিবি’। এটি আধুনিককালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থ। প্রকৃতপক্ষে এটি আশ-শাতিবির কোনো স্বতন্ত্র রচনা নয়; বরং এটি তাঁর বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে থাকা ষাটটি ফতোয়ার একটি সংকলন। এগুলোর মূল উৎসের কিছু অংশ ‘আল-মুওয়াফাকাত’ এবং কিছু ‘আল-ই’তিসাম’ গ্রন্থদ্বয় থেকে গৃহীত। পূর্বে ইবনে কারকাত ‘আল-ফাতাওয়া’ গ্রন্থে এবং আল-ওয়ানশারিসি ‘আল-মি’ইয়ার’ গ্রন্থে এই ফতোয়াগুলো সংকলন করেছিলেন। অতঃপর মুহাম্মদ আবু আল-আজফান এই সবগুলো চয়ন করে এই নামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে বিন্যস্ত করেন।
এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা যেখানে আমরা এমন কিছু নিদর্শন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যা শরিয়াহ শাস্ত্রের আদি পথিকৃৎদের ধারায় এক সুউচ্চ স্তম্ভ হিসেবে দণ্ডায়মান এক মহান মনীষীর ইলমি মাকাম উন্মোচিত করে। এটি এই গবেষণার বিষয়বস্তুর একটি ভূমিকা মাত্র।
আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলামের জন্য আবু ইসহাকের এই ত্যাগের প্রতি রহম করুন। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই তিনি পরম কদরকারী (الشكور)। তাঁর ইলমের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন, নিশ্চয়ই তিনি এর প্রকৃত কর্তা। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأصل الأول فيما يعوّل عليه من اللغة في علوم القرآن
مقدمةبداية أقول: إن لتفسير القرآن الكريم أصولا، التزمها علماء القرآن عبر القرون؛ سواء أكان التفسير تفسيرا بالمأثور أم تفسيرا بالرأي.
وأهم هذه الأصول هي:
أن يطلب تفسير القرآن أول ما يطلب من القرآن نفسه. فإن لم نظفر بتفسير القرآن من القرآن؛ فمن السنة النبوية الصالحة للحجية (أعني الثابتة بطريق صحيح أو حسن). فإن أعيانا البيان من السنة؛ تطلبناه في أقوال الصحابة. فإن ظفرنا من قولهم بما له حكم المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم (بأن كان قول أحدهم فيما لا مجال للرأي فيه، ولم يكن قائله معروفا بالأخذ عن بني إسرائيل، أو كان .. ولكنّ مرويه مما لا صلة له بما لدى بني إسرائيل)؛ وجب أن نأخذ بهذا القول أخذنا بالحديث المرفوع بلا أدنى فرق.
فإن لم يتوافر الثابت من مأثور الصحابة على هذه الحال (بأن اختل فيه الشرطان الآنفان
… أحدهما أو كلاهما)؛ لم يخل الأمر عندهم من إحدى أحوال أربع:
أولاها: أن يعرف كونه محلا لإجماع الصحابة، وأنه لم يشذ عن القول به أحد منهم.
الثانية: أن يعرف كونه مجالا لاختلافهم .. اختلافا تضل معه الفكرة، ولا يهتدى فيه إلى الصواب حسب غالب الظن.
উলূমুল কুরআনে ভাষার ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করা হয়, তার প্রথম মূলনীতি (الأصل)
ভূমিকাপ্রারম্ভে আমি বলছি: পবিত্র কুরআনের তাফসিরের কিছু মূলনীতি (أصول) রয়েছে, যা যুগে যুগে কুরআন বিশেষজ্ঞ আলিমগণ অনুসরণ করেছেন; চাই তা বর্ণনা-ভিত্তিক (بالمأثور) তাফসির হোক বা রায়-নির্ভর (بالرأي) তাফসির হোক।
আর এই মূলনীতিগুলোর (الأصول) মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
কুরআনের তাফসির সর্বপ্রথম কুরআন থেকেই অন্বেষণ করা। যদি আমরা কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির লাভে সমর্থ না হই, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী সুন্নাহ (অর্থাৎ যা সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) পন্থায় সাব্যস্ত) থেকে তালাশ করতে হবে। যদি সুন্নাহর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট না হয়, তবে আমরা তা সাহাবিদের বক্তব্যের মধ্যে অন্বেষণ করব। যদি আমরা তাঁদের বক্তব্য থেকে এমন কিছু পাই যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে মারফু (مرفوع) হওয়ার বিধান রাখে (যেমন তাঁদের কোনো কথা এমন বিষয়ে হওয়া যাতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো সুযোগ নেই, এবং এর প্রবক্তা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা গ্রহণের জন্য পরিচিত নন, অথবা পরিচিত হলেও তাঁর বর্ণিত বিষয়টি বনী ইসরাঈলী রেওয়ায়েতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়); তবে কোনো প্রকার পার্থক্য ছাড়াই মারফু (مرفوع) হাদিসের ন্যায় উক্ত বক্তব্য গ্রহণ করা ওয়াজিব।
যদি এই অবস্থায় সাহাবিদের থেকে বর্ণিত কোনো সাব্যস্ত (ثابت) বর্ণনা বিদ্যমান না থাকে (অর্থাৎ পূর্বোক্ত দুটি শর্তের কোনো একটি বা উভয়টি লঙ্ঘিত হয়); তবে বিষয়টি তাঁদের নিকট চারটি অবস্থার কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
প্রথমত: সেটি সাহাবিদের ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে পরিচিত হওয়া এবং তাঁদের কেউ এর বিপরীত মত পোষণ না করা।
দ্বিতীয়ত: সেটি তাঁদের মতপার্থক্যের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হওয়া; এমন মতভেদ যার ফলে চিন্তা বিভ্রান্ত হয় এবং প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الثالثة: أن يكون كسابقه .. ولكن مع تبين وجه الصواب منه، وترجحه في غالب الظن.
الرابعة: ألا يعرف فيه إجماع منهم ولا اختلاف، وإنما غاية الأمر فيه أنه أثر عن الواحد والاثنين مثلا دون أن يبلغنا عن أحد من الصحابة ما يخالف أو يوافق.
فإن كان الاحتمال الأول؛ وجب الأخذ بمقتضاه، وذلك لأجل الإجماع؛ إذ الإجماع- كما هو معلوم في علم الأصول- لا بد أن يكون له مستند من القرآن أو السنة، فالأخذ بالمجمع عليه هو أخذ في ذات الوقت بمستند الإجماع.
أما الحال الثانية (وهي أن يقع منهم الاختلاف على وجه لا يتبين معه الصواب)؛ فإن أهل السنة لا يلتفتون إلى مأثورهم في مثل هذه الحال؛ لعدم الجدوى بالكلية.
أما الحالان الأخيرتان (ألّا يصل اختلافهم فيه إلى خفاء وجه الصواب منه، أو يثبت عن أحدهم الأثر دون أن يعرف إجماع منهم عليه ولا اختلاف فيه)؛ فإن الراجح الأخذ بمأثورهم فيهما.
فإن لم نجد البيان في أقوال الصحابة؛ فالنظر في أقوال التابعين .. فإن أجمعوا على شيء؛ أخذنا به؛ لأجل الإجماع. فإن لم يكن إجماع؛ ننظر
… فإن ظفرنا من قولهم بما له حكم المرفوع المرسل (بأن كان قول أحدهم فيما لا مجال للرأي فيه، ولم يكن قائله معروفا بالأخذ عن بني إسرائيل، أو بأن يكون قائله إماما من أئمة التفسير
তৃতীয় প্রকার: এটি পূর্বেরটির মতো হবে... তবে সঠিক দিকটি স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রবল ধারণার ভিত্তিতে তা অগ্রগণ্য (الراجح) হওয়া।
চতুর্থ প্রকার: যাতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ঐক্যমত (إجماع) বা মতবিরোধ (اختلاف) জানা নেই। এর চূড়ান্ত অবস্থা হলো এটি একজনের বা দুজনের বর্ণনা (أثر) মাত্র, অথচ সাহাবীদের মধ্য থেকে অন্য কারো এমন কোনো বক্তব্য আমাদের কাছে পৌঁছেনি যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ বা এর বিরোধী।
যদি প্রথম সম্ভাবনাটি হয়, তবে এর দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হবে। আর তা ঐক্যমত্যের (إجماع) কারণে; কারণ উসুল শাস্ত্রের (علم الأصول) সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী ঐক্যমত্যের (إجماع) জন্য কুরআন বা সুন্নাহ থেকে একটি ভিত্তি থাকা আবশ্যক। সুতরাং যা নিয়ে ঐক্যমত (إجماع) হয়েছে তা গ্রহণ করা মানে একই সাথে সেই ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিকেও গ্রহণ করা।
আর দ্বিতীয় অবস্থা (তা হলো তাদের মধ্যে এমনভাবে মতবিরোধ (اختلاف) হওয়া যার ফলে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয় না); এমতাবস্থায় আহলুস সুন্নাহ তাদের বর্ণিত বক্তব্যের (مأثور) প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না; কারণ এতে মোটেও কোনো ফায়দা নেই।
আর শেষোক্ত দুই অবস্থা (তা হলো তাদের মতবিরোধ (اختلاف) এমন পর্যায়ে না পৌঁছানো যাতে সঠিক দিকটি অস্পষ্ট থাকে, অথবা তাদের কারো থেকে কোনো বর্ণনা (أثر) সাব্যস্ত হওয়া অথচ সে বিষয়ে তাদের ঐক্যমত (إجماع) বা মতবিরোধ (اختلاف) কোনোটিই জানা না থাকা); এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো তাদের বর্ণিত বক্তব্যের (مأثور) উপর আমল করা।
যদি আমরা সাহাবীদের বক্তব্যের মাঝে কোনো ব্যাখ্যা না পাই, তবে তাবেয়ীদের (التابعين) বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করতে হবে... যদি তাঁরা কোনো বিষয়ে একমত হন, তবে ঐক্যমত্যের (إجماع) কারণে আমরা তা গ্রহণ করব। যদি কোনো ঐক্যমত (إجماع) না থাকে, তবে আমরা দেখব
… যদি আমরা তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু পাই যা মরফূ মুরসাল (المرفوع المرسل) এর হুকুম রাখে (যেমন তাদের কোনো একজনের এমন কথা যাতে নিজস্ব মতামতের (الرأي) কোনো সুযোগ নেই এবং সেই বক্তা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচিত নন, অথবা যদি বক্তা তাফসীরশাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে একজন হন...
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الآخذين عن الصحابة)؛ فالراجح الأخذ بمثل هذا القول. فإن لم يكن للمأثور عن التابعي هذان الشرطان؛ فهو ما حكى الزركشي فيه الخلاف (1).
وهذه الألوان الأربعة من التفسير يجب عند أهل الحق أخذها، والتعويل عليها على هذا الترتيب .. لكن شريطة ألا يتعارض أيّ منها تعارضا حقيقيّا يتعذر فيه الجمع مع
المعقول القطعي. فإن وقع مثل ذلك التعارض؛ وجب تأويل المنقول، وطرح ظاهره لأجل المعقول.
فإن لم يظفروا بشيء من بيان ما يقصدون إلى بيانه (لا في الكتاب، ولا في السنة الثابتة، ولا في المأثور الصالح للحجية من أقوال الصحابة أو التابعين)؛ اجتهدوا رأيهم .. بعد تحصيل العلوم، وتوفر الملكات اللازمة للاجتهاد، متوخين في ذلك المنطق اللغوي، بأن يحملوا مفردات النظم القرآني وتركيبه على ظواهرها المتبادرة منها لغة على ما هو معهود العرب الخلّص؛ ما لم تصرف قرائن معتبرة عن تلك الظواهر (2).
هذا .. وحجية المنطق اللغوي قائمة على أساس أن القرآن الكريم قد نزل على أساليب اللغة العربية وقوانينها وخصائصها في الأداء، قال تعالى في بيانه الإلهي: إِنَّا أَنْزَلْناهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ [سورة يوسف: 2]، وقال: بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [سورة الشعراء: 195].
--------------------------------------------
(সাহাবিদের (الصحابة) থেকে গ্রহণকারীগণ); এই জাতীয় উক্তি গ্রহণ করাই অগ্রগণ্য (الراجح) মত। যদি তাবেয়ি (التابعي) থেকে বর্ণিত মাছুর (المأثور) বা ঐতিহ্যের মধ্যে এই দুটি শর্ত না থাকে, তবে তা সেই বিষয় যাতে আল-জারকাশি মতভেদ (الخلاف) বর্ণনা করেছেন (১)।
তাফসিরের (تفسير) এই চারটি প্রকার সত্যপন্থীগণের (أهل الحق) নিকট গ্রহণ করা এবং এই ক্রমধারা অনুযায়ী সেগুলোর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক... তবে শর্ত হলো এগুলোর কোনটিই যেন অকাট্য যুক্তির (المعقول القطعي) সাথে এমন বাস্তব বিরোধে লিপ্ত না হয় যেখানে সমন্বয় (الجمع) করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যদি অনুরূপ কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তবে অকাট্য যুক্তির খাতিরে বর্ণিত বিষয়ের (المنقول) ব্যাখ্যা (تأويل) করা এবং এর বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) বর্জন করা আবশ্যক হবে।
যদি তারা যা বর্ণনা করতে চাচ্ছেন তার কোনো ব্যাখ্যা না পান (না কিতাবে, না সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহয় (السنة الثابتة), আর না সাহাবি (الصحابة) বা তাবেয়িদের (التابعين) উক্তি হতে দলীলযোগ্যতার (الحجية) উপযুক্ত মাছুর (المأثور) বা বর্ণনায়); তবে তারা জ্ঞান অর্জন এবং ইজতিহাদের (اجتهاد) জন্য প্রয়োজনীয় পাণ্ডিত্য বা যোগ্যতা (الملكات) অর্জনের পর নিজ রায়ের মাধ্যমে ইজতিহাদ (اجتهاد) করবেন। এক্ষেত্রে তারা ভাষাগত যুক্তি অনুসরণের চেষ্টা করবেন, যাতে তারা কুরআনিক বিন্যাস ও রচনার শব্দাবলিকে বিশুদ্ধ আরবদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ভাষাগতভাবে সেগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর প্রয়োগ করেন; যতক্ষণ না কোনো নির্ভরযোগ্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرائن) সেই বাহ্যিক অর্থগুলো (ظواهر) থেকে বিমুখ করে (২)।
বস্তুত ভাষাগত যুক্তির দলীলযোগ্যতা (الحجية) এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, পবিত্র কুরআন আরবি ভাষার পদ্ধতি, নিয়ম এবং প্রকাশভঙ্গির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ঐশী বর্ণনায় বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো" [সূরা ইউসুফ: ২], এবং তিনি বলেন: "সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়" [সূরা আশ-শুআরা: ১৯৫]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলুমুল কুরআন ইনদাশ শাত্বিবী মিন খিলালি কিতাবিহিল মুওয়াফাক্বাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي بيان ذلك يقول الشاطبي:" لا ينبغي في الاستنباط من القرآن الاقتصار عليه دون النظر في شرحه وبيانه (وهو السنة)؛ لأنه إذا كان كليّا فلا محيص عن النظر في بيانه. وبعد ذلك ينظر في تفسير السلف الصالح له- إن أعوزته السنة- .. فإنهم أعرف به من غيرهم. وإلا .. فمطلق الفهم العربي لمن حصّله يكفي فيما أعوز من ذلك" (1).
هذا .. وقد عقد الشاطبي القسم الثالث من كتابه" الموافقات" لبيان مقاصد الشريعة بقسميها: ما يرجع إلى الشارع الحكيم، وما يرجع إلى العبد المكلف.
وجعل القسم الأول أربعة أنواع: قصده الشارع في وضع الشريعة ابتداء، قصده في وضعها للإفهام، قصده في وضعها للتكليف بمقتضاها، قصده في دخول المكلف تحت حكمها.
والذي يعنينا منها في هذا المقام هو: النوع الثاني: ما قصده الشارع في وضعها للإفهام. وهو يقيم هذا النوع على خمس مسائل.
وأحب أن ألفت النظر إلى أنني لن أتقيد في بحثي هذا بذكر مسائله الخمس، بل أذكر منها ما له صلة مباشرة بما يعوّل عليه في علوم القرآن. كما أنني لا ألتزم كذلك ترتيبه الذي انتهجه، مراعاة لما أتغيّاه من ربط القضايا محل البحث بعضها ببعض.
--------------------------------------------
এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে ইমাম শাতিবি বলেন: "কুরআন থেকে কোনো মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করার ক্ষেত্রে কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এর ব্যাখ্যা ও বিবরণের (যা হলো সুন্নাহ (السنة)) দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে; কারণ কুরআন যদি কোনো বিষয়ে সামগ্রিক (كلي) হয়, তবে তার ব্যাখ্যার প্রতি লক্ষ্য করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। আর যদি সুন্নাহর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট না হয়, তবে এরপর পূর্বসূরি পুণ্যবানগণের (السلف الصالح) ব্যাখ্যার (تفسير) দিকে তাকাতে হবে... কেননা তাঁরা অন্যদের তুলনায় এ সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। অন্যথায়... যে ব্যক্তি আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছে, তার মৌলিক আরবি বোধই সে সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে যেখানে অন্য কোনো তথ্যের অভাব রয়েছে।" (১)
উল্লেখ্য যে, ইমাম শাতিবি তাঁর 'আল-মুয়াফাকাত' গ্রন্থের তৃতীয় অংশটি শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছেন, যা দুই ভাগে বিভক্ত: যা প্রজ্ঞাময় আইনদাতার (الشارع الحكيم) দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং যা দায়বদ্ধ দাসের (العبد المكلف) দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
তিনি প্রথম অংশটিকে চার প্রকারে বিভক্ত করেছেন: শরিয়ত প্রবর্তনে (وضع الشريعة) আইনদাতার প্রাথমিক উদ্দেশ্য, তা বোধগম্য করার (الإفهام) ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য, এর বিধান অনুযায়ী দায়বদ্ধ করার (التكليف) ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য এবং দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে এর বিধানের আওতাভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য।
এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো: দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ—তা বোধগম্য করার (الإفهام) ক্ষেত্রে আইনদাতার উদ্দেশ্য। তিনি এই প্রকারটিকে পাঁচটি বিষয়ের (مسائل) ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন।
আমি এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, আমি আমার এই আলোচনায় তাঁর বর্ণিত পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকব না; বরং আমি কেবল সেগুলোই উল্লেখ করব যেগুলোর সাথে উলুমুল কুরআনের নির্ভরযোগ্য বিষয়াবলির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তদ্রূপ, আমি তাঁর অনুসৃত বিন্যাসটিও হুবহু অনুসরণ করছি না, যাতে আলোচ্য বিষয়গুলোকে একে অপরের সাথে যথাযথভাবে সংগতিপূর্ণ করার যে লক্ষ্য আমার রয়েছে তা পূরণ হয়।
--------------------------------------------