(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: -)
علم التفسير كيف نشأ وتطور حتى انتهى إلى عصرنا الحاضر   (عبد المنعم النمر)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: علم التفسير كيف نشأ وتطور حتى انتهى إلى عصرنا الحاضر

المؤلف: عبد المنعم النمر (ت 1991 م)

الناشر: دار الكتب الاسلامية - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 168

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

তাফসির বিজ্ঞান: যেভাবে এর উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছে বর্তমান সময় পর্যন্ত   (আবদুল মুনিম আল-নিমর)

বিভাগ: কুরআনিক বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: তাফসির বিজ্ঞান: যেভাবে এর উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছে বর্তমান সময় পর্যন্ত

লেখক: আবদুল মুনিম আল-নিমর (মৃত্যু ১৯৯১ খ্রি.)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[بين يدى الكتاب]

بسم الله الرحمن الرحيم

والحمد لله الذى نزل الكتاب وهو يتولى الصالحين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله الذى أنزل عليه القرآن هدى وشفاء لما فى الصدور وعلى آله وأصحابه والتابعين الذين أدوا رسالتهم فى حفظ كتابهم والحفاظ على تعاليمه وبعد. فالعلوم كأى كائن حى يبدأ صغيرا ثم ينمو ويتزايد، ومنذ نزل القرآن قامت على شواطئه علوم تخدمه وتوضحه، وتبين تعاليمه ومبادئه. وكان من الطبيعى أن تشرئب النفوس لمعرفة معانى القرآن الكريم، منذ نزل على رسول الله .. يعرف العرب بسليقتهم ما يعرفون ويسألون الرسول عما أغلق عليهم فهمه ويحتاجون لتوضيحه. وحين اتسعت رقعة الدولة الإسلامية من أول عهد الخلفاء الراشدين ودخل غير العرب في الإسلام، كانوا أشد احتياجا إلى معرفة معانى القرآن ..

وإذا كانت الحاجة أم الاختراع كما يقال. فقد كانت حاجة المسلمين ولا سيما الداخلين الجدد فى الإسلام إلى معرفة معانى القرآن سببا فى الكلام عن تفسيره كما كانت الثقافات التى اختلطت بثقافة المسلمين الأصيلة سببا فى احتكاكات العقول، وتعدد مشاربها من القرآن ..

وكان العلماء المسلمون فى كل زمن يلبون حاجة المسلمين إلى فهم كتابهم سواء بالتدريس أو بالتأليف والتدوين حين بدأ عهد التدوين ..

كيف نشأ علم التفسير، وكيف تطور، وماذا كان يحكم المفسرين حين يعمدون إلى التفسير أو ما هى مذاهبهم ومناحيهم فى التفسير .. وإلى أى مدى يمكن أن يخدم العلم والمكتشفات العلمية الحديثة علم التفسير .. وهل قام المسلمون بتوصيل معانى القرآن إلى غير العرب وإلى أى مدى كان جهدهم فى هذه الناحية؟
[গ্রন্থের উপক্রমণিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি আল্লাহর রাসূল এবং যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে অন্তরের হিদায়াত ও নিরাময় হিসেবে। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণের (صحابة) এবং অনুসারীগণের (التابعين) প্রতি, যারা তাদের কিতাব সংরক্ষণ এবং এর শিক্ষা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। অতঃপর: জ্ঞানসমূহ যে কোনো জীবন্ত সত্তার মতোই ক্ষুদ্রাকারে শুরু হয়, অতঃপর তা বৃদ্ধি পায় ও বিকশিত হয়। যখন থেকে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, একে কেন্দ্র করে এমন সব জ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে যা একে সেবা করে, ব্যাখ্যা করে এবং এর শিক্ষা ও মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করে। আল্লাহর রাসূলের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই এর অর্থ জানার জন্য মানুষের মন উন্মুখ হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। আরবরা তাদের সহজাত ভাষাগত প্রবৃত্তি দিয়ে যা বোঝার তা বুঝত এবং যে বিষয়গুলো তাদের কাছে অস্পষ্ট লাগত বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো, সে সম্পর্কে তারা রাসূলকে জিজ্ঞাসা করত। যখন খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রাথমিক যুগ থেকে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা বিস্তৃত হলো এবং অনারবরা ইসলামে প্রবেশ করল, তখন কুরআনের অর্থ জানার প্রয়োজনীয়তা তাদের কাছে আরও তীব্র হয়ে উঠল।

বলা হয়ে থাকে যে, প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি। মুসলমানদের—বিশেষ করে ইসলামে নতুন দীক্ষিতদের—কুরআনের অর্থ জানার এই প্রয়োজনীয়তাই এর তাফসির সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়। তেমনিভাবে মুসলমানদের মৌলিক সংস্কৃতির সাথে যে সব সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটেছিল, তা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সংশ্লেষ এবং কুরআন থেকে অর্জিত জ্ঞানের নানামুখী ধারার কারণ।

প্রত্যেক যুগের মুসলিম বিদ্বানগণ মুসলমানদের তাদের কিতাব বোঝার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছেন; হোক তা পাঠদানের মাধ্যমে কিংবা গ্রন্থ রচনা ও লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে, যখন সংকলন যুগের সূচনা হয়।

তাফসির শাস্ত্র কীভাবে উদ্ভূত হলো, কীভাবে তা বিবর্তিত হলো, আর মুফাসসিরগণ যখন তাফসিরের সংকল্প করতেন তখন কোন বিষয়গুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ করত, অথবা তাফসিরের ক্ষেত্রে তাদের মাযহাব ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কী ছিল? আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ তাফসির শাস্ত্রকে কতটুকু সহায়তা করতে পারে? আর মুসলমানরা কি অনারবদের কাছে কুরআনের মর্মবাণী পৌঁছে দিতে পেরেছে এবং এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা কতখানি ছিল?
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك ما أحببت أن أقدمه لك فى هذه الصفحات دون تطويل يصرفك عن الكتاب والله المستعان

40 صالح حقى. مصر الجديدة. الدكتور عبد المنعم النمر
এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমি আপনার সম্মুখে যা পেশ করতে চেয়েছি তা হলো এটিই, কোনো অনাবশ্যক দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই যা আপনাকে মূল গ্রন্থ থেকে বিমুখ করবে। আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল।

৪০ সালেহ হাক্কি। মিসর আল-জাদিদাহ। ড. আবদুল মোনয়েম আল-নামর।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد:

‌‌الإسلام والعلوم

ما دمنا سنتكلم عن بعض علوم الدين عند المسلمين، فإن هذا يقتضينا أن نقدم بكلمة موجزة عن نظرة الإسلام إلى العلم بكل أنواعه وموضوعاته، لا سيما بعد أن ألقى على موقف الإسلام من العلم شىء من الظلال، ولا سيما فى العصور المتأخرة، وعند بعض الغربيين. متأثرين بفكرتهم عن المسيحية وموقفها العدائى- فى بعض العصور- من العلوم.

فالعلم فى نظر الإسلام: هو كل ما يمكن ويطلب أن يعرف ويعلم، مهما يكن موضوع هذه المعرفة، ومهما تكن وسائلها، وإن كان فى مقدمة هذه الموضوعات ما يعرفه بربه- عقيدة ونظاما- ويقربه إليه .. باعتبار أن ذلك هو مفتاح الحياة الحقيقية الهادفة للإنسان، ومفتاح الانطلاق فى كل جانب من جوانبها على هدى وبصيرة.

فحين مدح الله العلماء ورفع درجاتهم لم يخصص العلماء بعلوم الدين، بل أطلق وعمم فقال: يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجاتٍ (1). وحين قارن بين العلماء والجهال أطلق وعمم كذلك .. فقال:

هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ (2) وحين حدد الذين يخشونه ويعرفونه قال: إِنَّما يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبادِهِ الْعُلَماءُ (3) وقد جاء هذا عقب آيات تلفت الأنظار إلى التأمل والتدبر فيما خلقه الله من ماء وثمرات ودواب وجبال وإنسان الخ .. ليصل المتأمل إلى الإيمان بالله وعظمته مما يميل بمفهوم العلماء هنا إلى العلماء الباحثين المتدبرين فى هذه المخلوقات مما يطلق عليه الآن علوم الفضاء والجو، وعلم النبات، والحيوان، والجيولوجيا .. الخ .. لأن هؤلاء أكثر اطلاعا على أسرار الكون وعظمة صنع الخالق ..

--------------------------------------------

(1) سورة المجادلة/ 11.

(2) الزمر/ 9.

(3) فاطر/ 28.
‌‌উপক্রমণিকা:

‌‌ইসলাম ও বিজ্ঞান

যেহেতু আমরা মুসলিমদের নিকট প্রচলিত কতিপয় ধর্মীয় বিজ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করতে যাচ্ছি, সেহেতু বিজ্ঞানের সকল প্রকার ও বিষয়ের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করা আমাদের জন্য আবশ্যক। বিশেষ করে বিজ্ঞানের প্রতি ইসলামের অবস্থানের ওপর যখন কিছুটা সংশয়ের ছায়া নিপতিত হয়েছে, বিশেষত পরবর্তী যুগগুলোতে এবং কিছু পশ্চিমাদের চিন্তাধারায়; যারা খ্রিস্টধর্ম এবং বিজ্ঞানের প্রতি এর প্রতিকূল অবস্থান—যা কোনো কোনো যুগে বিদ্যমান ছিল—সংক্রান্ত নিজস্ব ধারণা দ্বারা প্রভাবিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিজ্ঞান হলো: যা কিছু জানা সম্ভব এবং যা জানা প্রয়োজন, সেই সমস্ত বিষয়—সেই জ্ঞানের বিষয়বস্তু বা মাধ্যম যাই হোক না কেন। যদিও এই বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে তা, যা একজন মানুষকে তার রব সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়—আকিদাহ ও জীবনবিধানের মাধ্যমে—এবং তাঁর নৈকট্য দান করে... কেননা এটিই মানুষের লক্ষ্যপূর্ণ প্রকৃত জীবনের চাবিকাঠি এবং হিদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যম।

কেননা আল্লাহ যখন আলেমদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, তখন তিনি আলেমদের কেবল ধর্মীয় বিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ করেননি, বরং সাধারণভাবে এবং ব্যাপকভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন" (১)। আর যখন তিনি জ্ঞানী ও জ্ঞানহীনদের মধ্যে তুলনা করেছেন, তখনও একইভাবে বিষয়টি সাধারণভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন:

"বলো, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?" (২) আর যখন তিনি তাঁর প্রতি প্রকৃত ভয় পোষণকারী ও পরিচয় লাভকারীদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন, তখন বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করে" (৩)। আর এই আয়াতটি এমন কিছু আয়াতের পরপরই এসেছে যা আল্লাহর সৃষ্টি—পানি, ফলমূল, জীবজন্তু, পাহাড় ও মানুষ ইত্যাদি—নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও ধ্যানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে; যেন চিন্তাশীল ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর মহানুভবতা উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে এখানে 'আলেম' শব্দের অর্থ সেই সকল গবেষক ও চিন্তাশীলদের দিকে ধাবিত হয় যারা এই সৃষ্টিজগত নিয়ে গবেষণা করেন, যাকে বর্তমানে মহাকাশ বিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়... কারণ তাঁরাই মহাবিশ্বের রহস্য এবং স্রষ্টার নিপুণ কারুকার্য সম্পর্কে অধিক অবগত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুজাদালাহ/ ১১।

(২) আয-যুমার/ ৯।

(৩) ফাতির/ ২৮।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد كثرت فى القرآن الآيات التى تعرض مظاهر الكون ويأتى فى آخرها حث أصحاب العقول على التدبر فيها ليصلوا إلى ما وراءها ويبدأ التدبر من نظرة سطحية ينظرها الإنسان العادى فيجد عظمة الله فى كل شىء، إلى النظرة المتعمقة القائمة على العلم ولو ببعض التفاصيل والسنن فى هذه المخلوقات. وهذا يفتح الباب للمؤمن لكى يتعلم وينظر ويتدبر ويتعمق لتأتى نظرته فيها عمق، وفيها اعتبار أكثر .. مما جعل علماء الإسلام يقولون، إن هذا يفرض على المسلمين تعلم العلوم التى تتيح لهم الوصول إلى دقائق صنع الله فيما خلقه .. من أجل غاية عليا هى تعميق الإيمان فى القلوب، وهذا بالتالى يبعد هذه العلوم عن أن تكون وسيلة للشر والإيذاء، مما يحصل مثله الآن ولا سيما أثناء الحروب ..

وإذا انتقلنا بعد ذلك إلى أحاديث رسول الله وهى الموضحة والمفسرة للقرآن وأغراضه، نجد الأحاديث تحض المسلمين على التعليم وتبين فضل العلماء، ولا تقيد العلم

بفرع دون آخر.

«فالحكمة ضالة المؤمن فحيث وجدها فهو أحق بها» رواه الترمذى ..

والحكمة تعنى هنا كل علم نافع.

«اطلبوا العلم ولو فى الصين» وقد روى من طرق يقوى بعضها بعضا ..

«إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضا بما يصنع» رواه أبو داود والترمذى

«من سلك طريقا يبتغى به علما سهل الله به طريقا إلى الجنة» رواه أبو داود والترمذى

«من خرج فى طلب العلم فهو فى سبيل الله حتى يرجع» رواه مسلم والترمذى

«الدنيا ملعونة ملعون ما فيها إلا ذكر الله وما والاه وعالما ومتعلما» رواه الترمذى

«فضل العالم على العابد كفضل القمر على سائر الكواكب» وفى رواية كفضلى على أدناكم .. رواه الترمذى

«طلب العلم فريضة على كل مسلم» «البيهقى وغيره»

কুরআনে এমন অসংখ্য আয়াত রয়েছে যা মহাবিশ্বের বিভিন্ন নিদর্শনাবলি তুলে ধরে এবং এগুলোর শেষে বুদ্ধিমানদের প্রতি এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা এর পেছনের প্রকৃত রহস্য উপলব্ধি করতে পারে। আর এই চিন্তা-গবেষণার সূচনা হয় একজন সাধারণ মানুষের ভাসাভাসা দৃষ্টি থেকে—যেখানে সে সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহর মহিমা খুঁজে পায়—এবং তা বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গভীরে অবলোকন পর্যন্ত পৌঁছায়, এমনকি তা যদি সৃষ্টিজগতের কতিপয় বিশদ বিবরণ ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলির (سنن) ওপর ভিত্তি করেও হয়। এটি মুমিনের জন্য জ্ঞানার্জন, পর্যবেক্ষণ, চিন্তা ও গভীর গবেষণার দ্বার উন্মোচন করে দেয়, যাতে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীরতা সৃষ্টি হয় এবং এর মাধ্যমে অধিক শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়। যার ফলে ইসলামি পণ্ডিতগণ বলেছেন যে, এটি মুসলমানদের ওপর এমন সব বিজ্ঞান শিক্ষা করাকে আবশ্যক করে তোলে যা তাদের আল্লাহর সৃষ্টির সূক্ষ্ম নিপুণতা উপলব্ধি করতে সক্ষম করে; আর এর মহৎ লক্ষ্য হলো অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করা। ফলস্বরূপ, এটি এই বিজ্ঞানসমূহকে মন্দ বা অনিষ্টের মাধ্যম হওয়া থেকে দূরে রাখে, যেমনটি বর্তমানে বিশেষ করে যুদ্ধবিগ্রহের সময় পরিলক্ষিত হয়।

এরপর আমরা যদি রাসুলুল্লাহর হাদিসের দিকে লক্ষ্য করি, যা কুরআনের ব্যাখ্যা ও এর উদ্দেশ্যসমূহ সুস্পষ্টকারী, তবে আমরা দেখতে পাই যে হাদিসসমূহ মুসলমানদের শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করে এবং আলেমদের মর্যাদা বর্ণনা করে; আর হাদিস জ্ঞানার্জনকে কোনো একটি শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে না।

«প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, তাই যেখানেই সে তা পাবে, সে-ই তার অধিক হকদার» তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এখানে 'প্রজ্ঞা' বলতে প্রতিটি কল্যাণকর জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে।

«তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো, এমনকি তা চীনে গিয়ে হলেও» এটি এমন কিছু সূত্রের (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে (يقوى بعضها بعضا)।

«নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়» আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

«যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন» আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

«যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে» মুসলিম ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

«দুনিয়া অভিশপ্ত এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছুই অভিশপ্ত; তবে আল্লাহর জিকির ও তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আলেম ও শিক্ষার্থী ব্যতীত» তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

«ইবাদতকারীর তুলনায় আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য সব নক্ষত্রের তুলনায় চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো» এবং অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তির ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্বের মতো» তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

«জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক (فريضة)» «বায়হাকি ও অন্যান্যরা»
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৯)
ففي هذه الأحاديث وغيرها كثير لم يحدد العلم بعلم خاص، فهو مطلق العلم فى أى فرع من الفروع، مراعيا فى تعلمه تقوى الله، ونفع النفس والعباد.

وقد جعل الرسول صلى الله عليه وسلم من وسائل فداء أسرى بدر، أن يعلموا المسلمين القراءة والكتابة.

وأمر صلى الله عليه وسلم زيد بن ثابت رضى الله عنه، أن يتعلم لغة اليهود- بعد ما حدث منهم، ولم يعد يأمن جانبهم، وهذا الفهم العام الواسع لمعنى العلم هو الذى كان سائدا فى تلك الأيام، ولم يكن محددا كما هو الحال عندنا عند ما قسمنا المواد إلى علوم، ورياضة، وآداب، وفن. و. و .. الخ .. والقرآن يقول: «وفوق كل ذى علم عليم» ويقول على لسان قارون: «إنما أوتيته على علم عندى» ويقول: «ولقد آتينا داود وسليمان علما» .. وكل هذا علم عام.

وفى علوم الدين خاصة، وردت الآية الكريمة

فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ 122 (1)

ليسد هؤلاء المتعلمون المتفقهون حاجة المسلمين إلى معرفة أمور دينهم.

ومن هذه الآية أيضا يمكن الانطلاق إلى العلم وإلى التخصص فى كل فرع تحتاج إليه الأمة فى أمور حياتها.

وهكذا يدفع الإسلام المسلمين دفعا إلى طلب العلم والتبحّر فيه، دون أن يحدد نوع أو فرع هذا العلم، فالحكمة والمعرفة ضالة المؤمن أنى وجدها فهو أحق بها ..

--------------------------------------------

(1) التوبة/ 122.
এই হাদিসসমূহ এবং আরও অনেক হাদিসে জ্ঞানকে কোনো বিশেষ জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। বরং এটি যেকোনো শাখার নিরঙ্কুশ জ্ঞান, যেখানে তা অর্জনের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি তাকওয়া এবং নিজের ও বান্দাদের উপকারের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধের বন্দিদের মুক্তির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এটি নির্ধারণ করেছিলেন যে, তারা মুসলিমদের পঠন ও লিখন শিক্ষা দেবে।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইহুদিদের ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন—তাদের পক্ষ থেকে বৈরী আচরণ প্রকাশ পাওয়ার পর, যখন তিনি তাদের দিক থেকে আর নিরাপদ বোধ করতে পারছিলেন না। জ্ঞানের অর্থের এই ব্যাপক ও বিস্তৃত বোধটিই সে সময়ে প্রচলিত ছিল। এটি বর্তমান সময়ের মতো সুনির্দিষ্ট ছিল না, যেখানে আমরা বিষয়গুলোকে বিজ্ঞান, গণিত, সাহিত্য, কলা ইত্যাদি বিভাগে বিভক্ত করেছি। কুরআন বলে: "প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপরে রয়েছেন সর্বজ্ঞানী।" এবং কারুনের মুখে উদ্ধৃত করে বলে: "আমি যা প্রাপ্ত হয়েছি তা আমার কাছে থাকা জ্ঞানের কারণেই।" আরও বলে: "অবশ্যই আমি দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছি।" এই সব কিছুই হলো সাধারণ জ্ঞান।

এবং বিশেষ করে দ্বীনি শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বরকতময় আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে—

«অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه) করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসলে তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়» ১২২ (১)

যাতে এই শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞগণ মুসলিমদের দ্বীনি বিষয়াদি জানার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারেন।

এই আয়াত থেকেই জ্ঞানের পথে এবং উম্মাহর জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় প্রতিটি শাখায় বিশেষ বুৎপত্তি (التخصص) অর্জনের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

এভাবেই ইসলাম মুসলিমদের জ্ঞান অর্জন ও তাতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের প্রতি জোরালোভাবে ধাবিত করে, এই জ্ঞানের ধরণ বা শাখাকে সুনির্দিষ্ট না করেই। কেননা প্রজ্ঞা ও জ্ঞান হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পাবে, সে-ই তার সর্বাধিক হকদার...

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ/ ১২২।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌نهضة المسلمين العلمية

وعلى هذا الأساس من الفهم المستقيم لمعنى العلم، انطلق المسلمون إلى العبّ من المعرفة، بشتى ألوانها وموضوعاتها دون أى تحرج من تعلم أى علم، حتى ولو كان شرا أو فيه شر .. ومنطقهم فى هذا كما يقول أحدهم:

وأعرف الشر لا للشر … ولكن لتوقيه

فمن لا يعرف الشر … من الخير يقع فيه

وكان من الطبيعى أن يبدءوا بمعرفة ما يتصل بدينهم من فهم القرآن، وأحكام العبادات، والمعاملات التى جاء بها الإسلام، من واقع إخلاصهم لدينهم. وحرصهم على تطبيقه فى حياتهم .. ثم انطلقوا بعد ذلك ومعه إلى كل علم، وكل فن لم يقفوا عند حد فيه ولم يتحرجوا من العبّ منه .. على اعتبار أن ذلك مما يأمرهم به دينهم أو على الأقل مما يرضى عنه .. حتى كنا نجد العالم منهم بجوار إحاطته بعلوم التفسير والحديث والفقه، وعلم الكلام متبحرا فى الطب، وفى الفلسفة، وفى الموسيقى .. وفى اللغة، والأدب، ونذكر نموذجا لهذا النوع من العلماء. الإمام فخر الدين محمد عمر بن الخطيب الرازى المولود فى سنة 453 هـ والمتوفى سنة 606 هـ، فقد صدرت عنه كتب فى: التفسير، وعلم الكلام، والأصول والفقه، والنحو والأدب، والفلسفة، والطب والهندسة، والفلك، بجوار معارفه التى لم يصدر فيها كتب، ويعتبر تفسيره موسوعة عامة فى مختلف العلوم مع التفسير.

فكان العالم بالطب أو الهندسة، أو الفلك أو بها جميعها عالما أيضا فى شئون الدين، واللغة والأدب، مما يشبه أن يكون عالما موسوعيا يجمع بين أطراف العلوم المختلفة فى موضوعاتها .. لم يروا بحكم دينهم وتدينهم أن هناك شيئا يحد من تعلمهم ومن تبحرهم فى علوم أخرى بجوار العلوم المتصلة بالتفسير والحديث واللغة .. كلها علوم يدعوهم دينهم إلى معرفتها.

ولذلك وجدنا فطاحل من علماء المسلمين، فى كل فرع من فروع العلم ..
মুসলিমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ

জ্ঞানের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে এই সঠিক উপলব্ধির ভিত্তিতেই মুসলিমগণ কোনো সংকোচ ছাড়াই জ্ঞানের সকল প্রকার ও বিষয় থেকে আকণ্ঠ পান করার জন্য অগ্রসর হয়েছিলেন; এমনকি সেই জ্ঞান যদি মন্দ হয় বা তাতে মন্দ কিছু থাকে তবুও। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল যেমনটি তাদেরই একজন বলেছেন:

আমি মন্দকে জানি মন্দের জন্য নয় … বরং তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য

কেননা যে ভালো থেকে … মন্দকে আলাদা করে চেনে না, সে তাতেই নিপতিত হয়

ইসলামের প্রতি তাদের একনিষ্ঠতা এবং জীবনে তা প্রয়োগের আগ্রহ থেকে এটাই স্বাভাবিক ছিল যে, তারা তাদের দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন—কুরআনের অনুধাবন, ইবাদতের (عبادات) বিধান (أحكام) এবং ইসলামের মুআমালাত (معاملات) বা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াদি দিয়ে জ্ঞানার্জন শুরু করবেন। অতঃপর তারা এর পাশাপাশি প্রতিটি বিজ্ঞান ও শিল্পের দিকে ধাবিত হন। তারা এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখায় থমকে যাননি এবং যেকোনো জ্ঞান আহরণে কুণ্ঠাবোধ করেননি; এই বিবেচনায় যে এটি তাদের দ্বীনেরই নির্দেশ অথবা অন্ততপক্ষে দ্বীন এতে সন্তুষ্ট। এমনকি আমরা তাদের মধ্যে এমন আলেমদেরও পেতাম যারা তাফসির (تفسير), হাদিস, ফিকহ (فقه) এবং ইলমুল কালাম (علم الكلام) শাস্ত্রে পারদর্শিতার পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্র, দর্শন, সংগীত, ভাষা ও সাহিত্যেও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। আমরা এই শ্রেণির আলেমদের একজন আদর্শ নমুনা হিসেবে ইমাম ফখর আল-দীন মুহাম্মদ ওমর ইবনুল খতিব আল-রাজির কথা উল্লেখ করতে পারি, যিনি ৪৫৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাফসির (تفسير), ইলমুল কালাম (علم الكلام), উসুল (أصول) ও ফিকহ (فقه), ব্যাকরণ ও সাহিত্য, দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর বাইরেও তার এমন অনেক জ্ঞান ছিল যার ওপর তিনি কোনো কিতাব লেখেননি। তার রচিত তাফসির গ্রন্থটি তাফসিরের (تفسير) পাশাপাশি বিভিন্ন বিজ্ঞানের একটি সাধারণ বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত।

সুতরাং চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যামিতি বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পণ্ডিতগণ একইসাথে দ্বীনী বিষয়াবলি, ভাষা ও সাহিত্যেও পণ্ডিত ছিলেন। তারা ছিলেন অনেকটা বিশ্বকোষীয় পণ্ডিতের মতো, যিনি বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানের শাখাগুলোকে একত্রিত করতেন। তারা তাদের দ্বীন ও ধর্মপ্রাণতার আলোকে এমন কিছু দেখেননি যা তাদের তাফসির (تفسير), হাদিস এবং ভাষা বিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্যান্য বিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। বরং এই সমস্ত জ্ঞানই এমন যা তাদের দ্বীন তাদের শেখার আহ্বান জানায়।

এ কারণেই আমরা বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে বহু প্রথিতযশা পণ্ডিতের দেখা পাই...
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১১)
ويذكر «روم لاندو» فى كتابه «الإسلام والغرب» (1) تحليلا لذلك بعد أن يدركه ويعجب به، ويرى أن الدافع إليه عند المسلمين:

رغبة متقدة فى اكتساب فهم أعمق للعالم كما خلقه الله.

قبول للعالم المادى لا بوصفه دون العالم الروحى شأنا ومقاما، ولكن بوصفه صنوا له فى الصحة والسوخ.

واقعية قوية تعكس فى صدق وإخلاص طبيعة العقل العربى اللاعاطفى.

فضولهم الفهم الذى لا يعرف الشبع فى المعرفة.

وأخيرا وأولا أن الدين والعلم فى نظر الإسلام لم يول كل منهما ظهره للآخر، ويتخذ طريقا معاكسا، بل كان الأول عندهم باعثا من البواعث الرئيسية للثانى.

اعتقادهم بأن كل ما فى الوجود صادر عن الله، وكاشف عن قدرته، ولذا فهو جدير بالمعرفة والتأمل: من وجد الصوفى إلى قرصة البعوضة، إلى انطلاق السهم، إلى مرض الطاعون. إلى غير ذلك من المظاهر، كله من الله، فيجب أن يدرس ويعرف حق المعرفة.

وقد روى أن عمر بن الحسام كان يقرأ يوما كتاب «المجسطى» فى الرياضيات السماوية «الفلك» لبطليموس على أستاذه الأبهرى، فدخل عليهما بعض الفقهاء، فقال لهما: ما الذى تقرءانه؟ فقال الأبهرى: «أفسر آية من القرآن الكريم وهى قوله تعالى:

أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّماءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْناها وَزَيَّنَّاها وَما لَها مِنْ فُرُوجٍ (2)

فأنا أفسر كيفية بنائها.

فهكذا كان الربط عندهم بين العلوم المختلفة والقرآن الكريم .. فكلها نابع منه، وخادم له.

--------------------------------------------

(1) ص 246.

(2) سورة ق/ 6.
রোম ল্যান্ডো তাঁর 'ইসলাম অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট' (১) গ্রন্থে এ সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। বিষয়টি অনুধাবনের পর তিনি এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর মতে মুসলমানদের মধ্যে এর পেছনে যে চালিকাশক্তি কাজ করেছে তা হলো:

আল্লাহর সৃষ্ট জগত সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি অর্জনের এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা।

বস্তুজগতকে এমনভাবে গ্রহণ করা যেখানে একে আধ্যাত্মিক জগতের চেয়ে মর্যাদা ও অবস্থানে নিম্নতর মনে করা হয়নি, বরং একে সত্যতা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক জগতের সমকক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এক শক্তিশালী বাস্তবতা যা আরবীয়দের আবেগবর্জিত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকৃতির সততা ও একনিষ্ঠতাকে প্রতিফলিত করে।

তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা এবং জানার প্রতি অতৃপ্ত কৌতূহল।

সর্বোপরি, ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্ম ও বিজ্ঞান একে অপরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করেনি এবং বিপরীতমুখী পথ অবলম্বন করেনি; বরং তাঁদের নিকট প্রথমটি ছিল দ্বিতীয়টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

তাঁদের বিশ্বাস যে, অস্তিত্ব জগতের সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত এবং তাঁর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। তাই সবকিছুই জ্ঞান ও ধ্যানের যোগ্য: সুফীর আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ থেকে শুরু করে মশার কামড়, তীরের নিক্ষেপণ থেকে শুরু করে প্লেগ মহামারী পর্যন্ত—এসব কিছুর বহিঃপ্রকাশ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই এগুলোকে যথাযথভাবে অধ্যয়ন করা এবং জানা আবশ্যক।

বর্ণিত (روي) আছে যে, উমর ইবনুল হুসাম একদিন তাঁর শিক্ষক আল-আভহারীর কাছে টলেমির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক 'আল-মাজিস্টি' গ্রন্থটি পড়ছিলেন। এমন সময় জনৈক ফকিহ তাঁদের নিকট প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "আপনারা কী পড়ছেন?" আভহারী উত্তর দিলেন, "আমি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা করছি, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:

তবে কি তারা তাদের মাথার ওপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই। (২)

সুতরাং আমি এর নির্মাণশৈলী ব্যাখ্যা করছি।

এভাবেই তাঁদের নিকট বিভিন্ন বিজ্ঞান এবং পবিত্র কুরআনের মধ্যে যোগসূত্র বিদ্যমান ছিল। কারণ সবকিছুই কুরআন থেকে উৎসারিত এবং এর সেবক।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২৪৬।

(২) সূরা ক্বাফ/ ৬।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১২)
ولذلك يعلق الإمام فخر الدين الرازى على هذه الرواية، فيقول بعد أن أوردها: «ولقد صدق الأبهرى فيما قال، فإن كل من كان أكثر توغلا فى بحار مخلوقات الله كان أكثر علما بجلال الله وعظمته»

والله الذى يحب المؤمنين الأقوياء كما يعلمنا رسول الله، كيف يكونون كذلك إذا لم يتعلموا كل ما يوفر لهم هذه القوة؟

والله الذى أمرهم أن يعدوا لأعدائهم ما يستطيعون من القوة لكى يسكتوهم ويرهبوهم عن التعرض لهم ..

والله الذى جعل العزة له ولرسوله وللمؤمنين.

كيف يمكن أن يكون ذلك كله واقعا كما يحب الله ويرضى دون أن يكون المسلمون على أكبر قدر من العلوم المختلفة التى يحتاجونها فى صلاتهم بربهم، وفى صلاتهم مع الناس، وفى سيطرتهم على الطبيعة، وتسخيرهم لها؟

كيف يكونون ملبين أمر ربهم «وأعدوا لهم» إذا لم يكونوا أسبق الناس جميعا فى معرفة أسرار الكون، وفى صنع القنابل والصواريخ .. وغير ذلك من أحدث وسائل القوة، وإذا لم يكونوا المبرزين فى علوم الفضاء والبحار، والزراعة وفى الصناعة والصحة، وفى كل ما يوفر للإنسان القوة والصحة فى كل جانب؟ والمؤمن القوى خير وأحب الى الله من المؤمن الضعيف.

ومن هنا سار الدين مع العلم فى طريق واحد .. وكان الدين هو القاطرة التى تجر مقطورات العلم، وخزائنه المتنوعة. وكلها تكون قطارا واحدا، أو قافلة واحدة فى الحياة تسير باسم الله.

وقد أنتج هذا نهضة علمية وحضارية أضاءت الدنيا، ومهدت الطريق للنهضة الأوروبية الحديثة .. وحمل هذه النهضة، أو أضاء شمعتها، رجال مؤمنون بربهم، على مختلف مستوياتهم، واتجاهاتهم .. لا يزال الكثير منهم درة فى تاج الإنسانية.

نذكر منهم على سبيل المثال: عالمنا «أبا الريحان البيرونى» 362 هـ- 973 م وتوفى سنة 440 هـ- 1048 م .. ونبوغه فى عدة علوم كان من أهمها الفلك
এজন্য ইমাম ফখর আল-দিন আল-রাজি এই বর্ণনা (رواية)-র ওপর মন্তব্য করেছেন। তিনি এটি উল্লেখ করার পর বলেন: «আল-আভহারি যা বলেছেন তা সত্য, কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির রহস্যে যত বেশি নিমগ্ন হবে, সে আল্লাহর মহিমা ও মহানুভবতা সম্পর্কে তত বেশি জ্ঞান লাভ করবে।»

এবং আল্লাহ, যিনি শক্তিশালী মুমিনদের ভালোবাসেন যেমনটি রাসূলুল্লাহ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন; মুমিনরা কীভাবে তেমন হতে পারে যদি তারা সেই সব কিছু না শেখে যা তাদের এই শক্তি জোগাবে?

এবং আল্লাহ, যিনি তাদের আদেশ দিয়েছেন তাদের শত্রুদের মোকাবিলায় সাধ্যমতো শক্তি অর্জন করতে, যাতে তারা তাদের নিস্তব্ধ করতে পারে এবং তাদের আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে ভীত করতে পারে...

এবং আল্লাহ, যিনি সম্মানকে কেবল নিজের, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য নির্ধারিত করেছেন।

আল্লাহ যেভাবে ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন, এই সবকিছু কীভাবে বাস্তবে ঘটা সম্ভব যদি না মুসলমানরা তাদের রবের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে, মানুষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং প্রকৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও একে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিদ্যায় সর্বোচ্চ পারদর্শী হয়?

তারা কীভাবে তাদের রবের আদেশ «তোমরা তাদের জন্য প্রস্তুত করো» পালনকারী হবে, যদি তারা মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটনে এবং বোমা, রকেট ও শক্তির অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম তৈরিতে সবার চেয়ে অগ্রগামী না হয়? এবং যদি তারা মহাকাশ বিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতে এবং মানুষের শক্তি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে এমন সকল ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন না করে? আর শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল (ضعيف) মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়।

এখান থেকেই ধর্ম ও বিজ্ঞান একই পথে অগ্রসর হয়েছে... ধর্ম ছিল সেই চালিকাশক্তি যা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং এর বিচিত্র ভাণ্ডারকে টেনে নিয়ে যেত। আর এই সবকিছু মিলে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য কাফেলা হিসেবে আল্লাহর নামে অগ্রসর হতো।

এটি এমন এক বৈজ্ঞানিক ও তামাদ্দুনিক জাগরণ সৃষ্টি করেছিল যা বিশ্বকে আলোকিত করেছিল এবং আধুনিক ইউরোপীয় রেনেসাঁর পথ প্রশস্ত করেছিল। বিভিন্ন স্তর ও চিন্তাধারার ঈমানদার ব্যক্তিগণ এই জাগরণকে বহন করেছিলেন অথবা এর প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছিলেন... তাদের মধ্যে অনেকেই আজও মানবতার মুকুটে মণি হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

উদাহরণস্বরূপ আমরা উল্লেখ করতে পারি: আমাদের বিজ্ঞানী «আবু রায়হান আল-বিরুনি» (৩৬২ হিজরি - ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ এবং মৃত্যু ৪৪০ হিজরি - ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দ)... বিভিন্ন বিজ্ঞানে তাঁর পারদর্শিতা ছিল অনন্য, যার মধ্যে জ্যোতির্বিদ্যা ছিল অন্যতম প্রধান।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৩)
والرياضة، يقول عنه المستشرق الألمانى الذى نشر كتبه: إن البيرونى هو أعظم عقلية ظهرت فى التاريخ، لا فى الشرق وحده، ولا فى الغرب وحده، ولا فى القديم وحده، ولا فى العصور المتوسطة ولا العصور الحديثة، إنه أكبر عقلية ظهرت فى التاريخ.

هذا العالم الفذ الذى سبق الأفكار كلها فى عالم الرياضة والفلك، كان من كبار العلماء المشتغلين بعلوم الدين أيضا، حتى ليروى أحد أصدقائه أنه ذهب ليزوره، وهو على فراش الموت وفى النزع الأخير، فحين رآه قال له: لقد كنا نتحدث فى يوم من الأيام عن الجدات الفاسدات (اصطلاح فقهى للجدود من ناحية الأم)، فإلام انتهينا من أمرها؟

فقال له صاحبه: أفى هذه الحالة، وهذه الظروف تسأل عن الجدات الفاسدات؟

فقال له البيرونى لأن ألقى الله وأنا من العالمين بها، خير من أن ألقاه وأنابها من الجاهلين»

وتحدثا سويا فى الموضوع ثم خرج الزائر الصديق، ولم يبعد إلا قليلا عن البيت، حتى سمع الصراخ لموت البيرونى.

هذه الواقعة التى كانت آخر تحرك علمى فى حياته، ترينا لماذا كان أعظم عقلية، وأعظم عالم فى التاريخ .. ثم ترينا الحافز الدينى الذى كان يدفعه ويدفع أمثاله إلى العبّ

من العلم بكل أنواعه .. فكان مع نبوغه فى الفلك والرياضيات وغيرها، متبحرا كذلك فى العلوم المتصلة بدينه وأحكامه، لأنه لم يكن هناك أى حاجز بينها، بل كان بعضها يغذى بعضا ويقويه ..

وكان «الكندى» أبو يوسف يعقوب بن إسحاق 185 هـ 801 م المتوفى سنة 251 هـ- 865 م، الفيلسوف العربى المولود بالكوفة، كان ملما بعلوم الدين، بجوار اشتهاره بالفلسفة والرياضيات والطبيعيات والفلك، والطب والجغرافيا، والموسيقى وكان لحبه لدينه وغرامه بالفلسفة معنيا بالتوفيق بينهما.

يقول عنه الغربيون الذين درسوا كتبه: «إنه أحد ثمانية هم على وجه الإطلاق النابغون فى العالم».
এবং গণিতশাস্ত্র; তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রকাশকারী জার্মান প্রাচ্যবিদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আল-বিরুনি হলেন ইতিহাসে উদিত হওয়া শ্রেষ্ঠতম মেধা—কেবল প্রাচ্যে নয়, কেবল পাশ্চাত্যে নয়, কেবল প্রাচীনকালে নয়, এমনকি মধ্যযুগ বা আধুনিক যুগেও নয়; বরং তিনি ইতিহাসে আবির্ভূত হওয়া সর্ববৃহৎ মেধা।

এই অপ্রতিম বিজ্ঞানী, যিনি গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতের সকল চিন্তাধারাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, তিনি দ্বীনি বিজ্ঞানেও নিয়োজিত বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমনকি তাঁর এক বন্ধু বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন মৃত্যুশয্যায় এবং অন্তিম মুহূর্তে ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে দেখতে যান। তাঁকে দেখামাত্রই আল-বিরুনি বললেন: আমরা কোনো একদিন 'অপ্রকৃত নানী-দাদী (الجدات الفاسدات)'—যা মায়ের দিকের নানী-দাদীদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি ফিকহশাস্ত্রীয় পরিভাষা (اصطلاح فقهي)—সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম, সেই বিষয়ে আমরা কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলাম?

তাঁর বন্ধু তাঁকে বললেন: এই অবস্থায় এবং এই পরিস্থিতিতেও আপনি 'অপ্রকৃত নানী-দাদী (الجدات الفاسدات)' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন?

আল-বিরুনি তাঁকে বললেন: এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা আমার নিকট এ বিষয়ে অজ্ঞ অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে উত্তম।

অতঃপর তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন এবং সেই বন্ধু দর্শনার্থী প্রস্থান করলেন। বাড়ি থেকে তিনি খুব বেশি দূরে যাননি, এমন সময় আল-বিরুনির মৃত্যুসংবাদ সম্বলিত আর্তনাদ শুনতে পেলেন।

তাঁর জীবনের শেষ বৈজ্ঞানিক তৎপরতা হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনাটি আমাদের দেখায় কেন তিনি শ্রেষ্ঠতম মেধা এবং ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ছিলেন। এটি আমাদের সেই ধর্মীয় অনুপ্রেরণাও দেখায় যা তাঁকে এবং তাঁর মতো ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করেছিল জ্ঞান আহরণে

সকল প্রকার জ্ঞান থেকে... তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি তাঁর দ্বীন ও এর বিধান (أحكام) সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহেও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। কারণ এসবের মাঝে কোনো বাধা ছিল না, বরং একটি অন্যটিকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করত।

আর কুফায় জন্মগ্রহণকারী আরব দার্শনিক 'আল-কিন্দী' আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক (১৮৫ হিজরি/৮০১ খ্রিস্টাব্দ - মৃত্যু ২৫১ হিজরি/৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ), দর্শন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা, ভূগোল এবং সংগীতে প্রসিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানসমূহ সম্পর্কেও সম্যক অবগত ছিলেন। নিজের ধর্মের প্রতি ভালোবাসা এবং দর্শনের প্রতি অনুরাগের কারণে তিনি এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সচেষ্ট ছিলেন।

তাঁর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নকারী পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি হলেন সেই আটজন ব্যক্তির একজন যারা সামগ্রিকভাবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধর হিসেবে স্বীকৃত।"
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৪)
كان مع دراسته وإحاطته بعلوم الدين، أحد ثمانية من النابغين فى العالم فى الرياضة، وكان طبيبا ناجحا وموسيقيا يعلم الموسيقى ويعزف، ويتخذها إحدى وسائل العلاج، مما وصل إليه العلم أخيرا.

وابن الهيثم (أبو على الحسن، ولد بالبصرة سنة 355 هـ 965 م ورحل إلى مصر وأقام بها وتوفى سنة 431 هـ- 1039 م فى عهد الدولة الفاطمية) كان نموذجا بل من أعلى النماذج فى النبوغ فى العلم بشتى فروعه، وإن كان قد اشتهر عنه نبوغه فى «علم البصريات» وله نظريات وطرق فى البحث التجريبى سبق به كل علماء أوربا، وكان أستاذهم الذى عنه أخذوا، وبفضله عليهم اعترفوا ..

وابن سينا (أبو على الحسين بن عبد الله بن سينا، المولود قرب بخارى سنة 370 هـ 980 م- والمتوفى سنة 428 هـ 1036) درس العلوم الشرعية والعقلية، حتى أصبح حجة فى الطب والرياضة والفلسفة والموسيقى بجانب تبحره فى العلوم الدينية، ومحاولاته التوفيق بينها وبين الفلسفة.

تلك بعض النماذج للعلماء الذين جمعوا بين علوم الدين، والعلوم الأخرى التى نبغوا فيها، وهناك مئات وآلاف من أمثالهم، نبغوا فى ظل الإسلام ..

وجمعوا بين علوم الدين واللغة، وبين العلوم الأخرى التى نسميها الآن علوما حديثة، وكل ذلك فى ظل الإسلام وبتوجيه منه، حتى ليقول العالم الفرنسى «سيديو»: لقد كان المسلمون منفردين بالعلم فى تلك القرون المظلمة، فانتشر فى كل مكان وطئته أقدامهم، وكانوا هم السبب فى خروج أوربا من الظلمات إلى النور.

ويقول «بريفو» فى كتابه «تكوين الانسانية»: العلم هو أجل خدمة أسدتها الحضارة العربية إلى العالم الحديث، فالعلم الأوربى مدين بوجوده للعرب.

ويتحدث السيد جمال الدين الأفغانى فى كتاب «خاطرات جمال الدين» للمخزومى، عما سبق إليه العرب ونبغوا فيه، فيذكر الكثير من اكتشافات العلماء الإسلاميين. كالجاذبية والمركز، ولم يكن المكتشف لهما «إسحاق نيوتن» وكذلك التحليل والتركيب، والفوسفور، واستحضاره، واستحضار
দ্বীনি ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) অধ্যয়ন ও তাতে পূর্ণ ব্যুৎপত্তি অর্জনের পাশাপাশি তিনি গণিতশাস্ত্রে বিশ্বের আটজন শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরের অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন সফল চিকিৎসক এবং সংগীতজ্ঞ ছিলেন যিনি সংগীত শিক্ষা দিতেন ও বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন; এবং একে তিনি চিকিৎসার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যা আধুনিক বিজ্ঞান সম্প্রতি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে।

আর ইবনুল হাইসাম (আবু আলী আল-হাসান, ৩৫৫ হিজরি/৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশরে হিজরত করে সেখানে বসবাস করেন এবং ৪৩১ হিজরি/১০৩৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় শাসনের আমলে মৃত্যুবরণ করেন) বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অনন্য প্রতিভার বরং সর্বোচ্চ আদর্শগুলোর একটি ছিলেন। যদিও তিনি 'আলোকবিজ্ঞান'-এ তাঁর প্রতিভার জন্য সমধিক পরিচিত ছিলেন, তবে পরীক্ষামূলক গবেষণায় তাঁর এমন কিছু তত্ত্ব ও পদ্ধতি ছিল যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের অগ্রগামী ছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁদের শিক্ষক যাঁদের নিকট থেকে তাঁরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন।

আর ইবনে সিনা (আবু আলী আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন সিনা, ৩৭০ হিজরি/৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বুখারার নিকটবর্তী স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২৮ হিজরি/১০৩৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন) শরয়ী এবং আকলি (যৌক্তিক) শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন করেন, এমনকি তিনি ধর্মীয় বিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, দর্শন ও সংগীতে প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة) হিসেবে স্বীকৃত হন। তিনি ধর্মীয় বিজ্ঞানের সাথে দর্শনের সমন্বয় সাধনেরও প্রয়াস চালিয়েছিলেন।

এগুলো ছিল সেইসব আলিমদের কিছু দৃষ্টান্ত যারা দ্বীনি ইলম এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন যাতে তাঁরা পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। ইসলামের ছায়াতলে এরকম আরও শত শত এবং হাজার হাজার মনীষী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

তাঁরা দ্বীনি ইলম ও ভাষা এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন যেগুলোকে আমরা বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান বলে অভিহিত করি। এসবই সম্ভব হয়েছিল ইসলামের ছায়াতলে এবং এর নির্দেশনায়। এমনকি ফরাসি পণ্ডিত 'সেডিও' বলেন: "সেই অন্ধকার শতাব্দীগুলোতে মুসলমানরাই বিজ্ঞানে একক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিল। তাঁদের পদচারণা যেখানেই পড়েছে সেখানেই বিজ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইউরোপকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার পেছনে তারাই ছিল মূল কারণ।"

বলেন 'ব্রিফাল্ট' তাঁর 'তকোয়িনুল ইনসানিয়্যাহ' গ্রন্থে: "বিজ্ঞান হলো সেই মহত্তম সেবা যা আরব সভ্যতা আধুনিক বিশ্বকে প্রদান করেছে; মূলত ইউরোপীয় বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্য আরবদের কাছে ঋণী।"

সাইয়্যিদ জামাল উদ্দিন আফগানী মাখজুমি কর্তৃক লিখিত 'খাতীরাত জামালুদ্দিন' গ্রন্থে আরবরা যা কিছুতে অগ্রগামী ছিল এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি ইসলামি বিজ্ঞানীদের অনেক আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন: মাধ্যাকর্ষণ এবং কেন্দ্রশক্তি; আর এগুলোর আবিষ্কারক কেবল 'আইজ্যাক নিউটন' ছিলেন না। তেমনিভাবে বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণ, ফসফরাস এবং এর প্রস্তুতি ও উৎপাদন পদ্ধতি...
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأوكسجين، والإيدروجين، والآزوت، وحامض الكبريت والكبريت وغيرهما وقال: كل ذلك من مكتشفات العرب، وكان الأساتذة فى علم الكيمياء للجيل الثالث الهجرى هم: أحمد بن سلمة المجريطى، وتلميذه ابن بشرون، وأبو السمح، وقد تقدمهم مثل جابر بن حيان الحرانى، ومن بعدهم زكريا أبو بكر الرازى وغيرهم.

وقالوا إن «بيكون» هو أول من جعل التجربة والمشاهدة قاعدة العلم العصرية، وأقامها مقام الرواية … وذلك حق فى أوربا، وأما عند العرب فقد وضعوا هذه القاعدة لبناء العلم عليها فى أواخر القرن الثانى الهجرى .. ومنها أخذ «بيكون» ويذكر «جوستاف لوبون» أن القاعدة عند العرب كانت «جرب وشاهد ولاحظ تكن عارفا» وعند الأوربى إلى ما بعد القرن العاشر المسيحى: «اقرأ فى الكتب وكرر ما يقول الأساتذة تكن عالما»

«وأما فى الكيمياء فلا يمكنك أن تعد مجربا واحدا عند اليونانيين، ولكنك تعد من المجربين مئين عند العرب، ولهذا عدت الكيمياء الحقيقية من اكتشاف العرب دون سواهم».

ويقول الفيلسوف «درابر» الأمريكى: تأخذنا الدهشة احيانا عند ما ننظر فى كتب العرب فنجد آراء كنا نعتقد أنها لم تولد إلا فى زماننا.

ويقول الرئيس السابق للولايات المتحدة «أيزنهاور» فى خطاب له:

«إننى عند ما أتطلع إلى المستقبل أرى ظهور دول عربية حديثة سوف تقدم إلى القرن الحاضر مساهمات تفوق تلك التى لا نستطيع أن ننساها، إننا نذكر أن علوم الحساب والجبر فى الغرب مدينة كثيرا للرياضيين العرب، كما أن الكثير من أسس علم الطب فى العالم، وكذلك علم الفلك قد وضعه العرب». (1)

ذكرت هذا مختصرا قدر الإمكان، لنزيل من الأذهان ما علق بها أخيرا فى عصور الضعف من أن الإسلام يفرق بين العلوم، فيحتضن بعضها، ويحث على تعلمه، ويكره بعضها، ويكره أن يتعلمه المسلمون، وهو ما عرف فى عصور

--------------------------------------------

(1) نشرة الاستعلامات فى 10/ 2/ 1959.
অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, সালফিউরিক এসিড ও সালফার এবং অন্যান্য মৌলিক পদার্থ সম্পর্কে তিনি বলেন: এগুলোর সবই আরবদের আবিষ্কার। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর রসায়ন বিজ্ঞানের শিক্ষকগণ ছিলেন: আহমদ ইবনে সালামা আল-মাজরিতি, তাঁর ছাত্র ইবনে বিশরুন এবং আবু আল-সামহ। তাঁদের পূর্বে জাবির ইবনে হাইয়ান আল-হাররানি এবং তাঁদের পরে জাকারিয়া আবু বকর আল-রাজি ও অন্যান্যের নাম উল্লেখযোগ্য।

বলা হয়ে থাকে যে, 'বেকন' প্রথম ব্যক্তি যিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণকে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বর্ণনা (رواية)-র পরিবর্তে একে স্থলাভিষিক্ত করেছেন … এটি ইউরোপের প্রেক্ষাপটে সত্য। কিন্তু আরবদের ক্ষেত্রে, তাঁরা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগেই বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে এই নিয়মটি স্থাপন করেছিলেন। বেকন তাঁদের থেকেই এটি গ্রহণ করেছেন। গুস্তাভ লে বোন উল্লেখ করেন যে, আরবদের মূলনীতি ছিল: "পরীক্ষা করো, পর্যবেক্ষণ করো এবং লক্ষ্য করো তবেই তুমি অভিজ্ঞ হবে।" পক্ষান্তরে খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর পর পর্যন্ত ইউরোপীয়দের মূলনীতি ছিল: "বই পড়ো এবং শিক্ষকরা যা বলেন তার পুনরাবৃত্তি করো তবেই তুমি জ্ঞানী হবে।"

"রসায়নের ক্ষেত্রে গ্রীকদের মধ্যে আপনি একজন পরীক্ষকও পাবেন না, কিন্তু আরবদের মধ্যে আপনি শত শত পরীক্ষক পাবেন। এ কারণেই প্রকৃত রসায়ন বিজ্ঞান অন্য কারো নয়, বরং আরবদেরই আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।"

আমেরিকান দার্শনিক 'ড্রেপার' বলেন: মাঝে মাঝে আমরা যখন আরবদের লিখিত কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করি তখন আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হই, কারণ সেখানে আমরা এমন সব মতামত খুঁজে পাই যেগুলোকে আমরা মনে করতাম আমাদের এই বর্তমান যুগেই কেবল জন্ম নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট 'আইজেনহাওয়ার' তাঁর এক ভাষণে বলেন:

"আমি যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, তখন আধুনিক আরব রাষ্ট্রগুলোর উত্থান দেখতে পাই যারা বর্তমান শতাব্দীতে এমন অবদান রাখবে যা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আমরা স্মরণে রাখি যে, পাশ্চাত্যের পাটিগণিত ও বীজগণিত আরব গণিতবিদদের কাছে বিশেষভাবে ঋণী, ঠিক তেমনিভাবে বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক ভিত্তি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানও আরবরাই প্রতিষ্ঠা করেছে।" (১)

আমি বিষয়টি যতটা সম্ভব সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, যাতে মানুষের মন থেকে সেই ধারণা দূর করা যায় যা আধুনিক দুর্বলতার যুগে জেঁকে বসেছে যে, ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাঝে পার্থক্য করে; অর্থাৎ কিছু বিজ্ঞানকে গ্রহণ করে ও তা শিখতে উৎসাহিত করে এবং কিছু বিজ্ঞানকে অপছন্দ করে ও মুসলিমদের তা শিখতে নিরুৎসাহিত করে। যা পরবর্তী যুগগুলোতে পরিচিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) ১০/২/১৯৫৯ তারিখের তথ্য বিবরণী।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৬)
الضعف بالعلوم الحديثة، وليعلم المسلم وغيره من نصوص القرآن والسنة، ومن واقع المسلمين إبان العصور الأولى، أن الإسلام يحتضن العلم على مختلف موضوعاته، وأن الواجب على المجتمع المسلم، أن يوفر لنفسه العلماء والصناع والزراع وغيرهم فى كل ناحية من نواحى الحياة .. فإذا خلا المجتمع من علماء أو متخصصين فى ناحية من النواحى، وجب وجوبا شرعيا عينيا مؤكدا على ولى الأمر، العمل على توفير هذا التخصص للأمة، حتى لا تحتاج لغيرها، وتكون عالة عليه فى حياتها. يستوى فى ذلك كل علم، وكل حرفة ومهنة، وإن كان من الضرورى- عقلا وشرعا- أن تكون هناك أولوية بين هذه العلوم حسب حاجة الأمة إليها، سواء فيما يتصل بعلاقتها مع ربها أو بعلاقتها مع الناس وتشكيل حياتها.

ولما كان الإسلام يضع قاعدة أولى للانطلاق إلى العمل فى الحياة وهى قاعدة الإيمان، ويبنى على هذه القاعدة تنظيم حياة الإنسان التنظيم الدقيق الإيجابى، كان من المهم أولا العناية بكيفية بناء هذه القاعدة وما يتفرع عنها من نظم لضبط حياة الإنسان واستقامتها.

ومن هنا كانت علوم الدين فى مقدمة العلوم التى يجب على الإنسان تحصيلها، وكان من الضرورى أن يوجد العلماء أو المعلمون، والمتخصصون الذين يتولون الإشراف والتوجيه لبناء هذه القاعدة وصيانتها.

ومن أجل هذا كانت عناية القرآن الخاصة بهذه المهمة، وكان النص عليها بذاتها، مع ما جاء من حث عام على العلم، ومدح للعلماء، ورفع لدرجاتهم.

. الخ ..

كان هذا التخصيص دليل عناية خاصة ببناء القاعدة الأساسية، فى حياة الفرد المسلم، وفى حياة الجماعة.

وذلك فى قوله تعالى «فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ، وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ» (1).

--------------------------------------------

(1) التوبة/ 122.
আধুনিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দুর্বলতা; মুসলিম এবং অন্যদের কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের মুসলমানদের বাস্তব জীবন থেকে জেনে রাখা উচিত যে, ইসলাম বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানকে ধারণ করে এবং মুসলিম সমাজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় আলেম, কারিগর, কৃষক এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সংস্থান করা। যদি কোনো সমাজ কোনো একটি বিষয়ে আলেম বা বিশেষজ্ঞ শূন্য হয়ে পড়ে, তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের ওপর এটি একটি সুনিশ্চিত ও আবশ্যকীয় শরয়ি বিধান হয়ে দাঁড়ায় যে, তিনি উম্মাহর জন্য সেই বিশেষত্বের ব্যবস্থা করবেন, যাতে জাতি অন্যের মুখাপেক্ষী না হয় এবং জীবন যাপনে পরনির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। এক্ষেত্রে সকল জ্ঞান, সকল কারিগরি এবং পেশা সমান স্তরের, যদিও বিবেক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে উম্মাহর প্রয়োজন অনুযায়ী এই জ্ঞানগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার থাকা আবশ্যক; চাই তা আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোক অথবা মানুষের সাথে সম্পর্ক ও জীবন গঠনের ক্ষেত্রে হোক।

যেহেতু ইসলাম বাস্তব জীবনে পথচলার প্রথম ভিত্তি হিসেবে ঈমানকে নির্ধারণ করেছে এবং এই ভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবনকে একটি সুনিপুণ ও ইতিবাচক শৃঙ্খলার ওপর গড়ে তোলে, তাই সর্বপ্রথম এই ভিত্তি নির্মাণের পদ্ধতি এবং তা থেকে উৎসারিত মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও সততার নিয়মাবলির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখান থেকেই দ্বীনি জ্ঞানসমূহ সেই জ্ঞানগুলোর অগ্রভাগে অবস্থান করে যা অর্জন করা মানুষের জন্য আবশ্যক। আর এমন আলেম, শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞদের অস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য ছিল, যারা এই ভিত্তি নির্মাণ ও তা সংরক্ষণের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করবেন।

একারণেই এই মহান কর্তব্যের প্রতি কুরআনের বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে এবং জ্ঞানের প্রতি সাধারণ উৎসাহ প্রদান, আলেমদের প্রশংসা ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির বর্ণনার পাশাপাশি বিশেষভাবে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

...ইত্যাদি...

এই বিশেষায়নটি ছিল মুসলিম ব্যক্তির জীবনে এবং সামষ্টিক জীবনে মৌলিক ভিত্তি নির্মাণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের প্রমাণ।

আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে স্পষ্ট: "অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা নিজ জাতির নিকট ফিরে আসবে, তখন যেন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে; যাতে তারা সতর্ক হয়।" (১)

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ/ ১২২।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك لأن لكل أمة قاعدة تنطلق منها إلى نهضتها، وإلى إثبات وجودها وقيمتها فى الحياة

والمسلمون لم يبدءوا حياتهم، ولم يخطوا الخطوة الأولى فى وجودهم، استجابة لفلسفة يضعها بشر، وإنما بدءوا حياتهم على أساس الإيمان بدين منزل من عند الله، وتوجيه رسول أرسله الله، وعلى هدى قرآن أنزله الله على رسوله .. واستمدوا من ذلك وجودهم وكيانهم وشخصيتهم، وبنوا عليه كل تحركاتهم وسكناتهم، وشكلوا على هديه كل مظاهر حياتهم ..

فمن الضرورى والحالة هذه أن تكون عنايتهم الأولى مركزة على فهم دينهم، وفهم القرآن الذى يمثل العمود الفقرى فى حياتهم، وفهم ما يتصل بالعقيدة وسلامتها، وما يتصل بالأحكام فى العبادة والمعاملات، حتى تأتى أعمالهم طبقا لما يطلبه منهم دينهم ..

وقد برزت هذه الناحية فى حياة المسلمين بصورة طبيعية، سواء من جانب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو من جانبهم، فكانت عناية الرسول بتبليغهم ما أنزل عليه من القرآن أولا بأول، وتطبيقه على نفسه، وعلى من حوله من أصحابه، وشرح ما يحتاجون إليه من شرح وبيان .. وكانت عنايتهم كذلك بتلقى ما نزل من القرآن، وحفظه ما أمكن، والحرص على ملازمة الرسول، وفهم توجيهاته، حتى كانوا يتناوبون حضور دروسه، ومصاحبته، والحاضر منهم فى نوبته يبلغ الغائب ما سمعه وعرفه .. حتى لا يفوت الواحد منهم شىء نزل من القرآن، أو قاله الرسول .. مدفوعين إلى ذلك بقوة إيمانهم بالله ورسوله، وحرصهم على أن تكون حياتهم صورة حية لما جاء به نبيهم ورسولهم، وطبقا لتعاليم دينهم ..

كان دينهم هو كل شىء هو زادهم فى حياتهم، وهو رفيقهم حين يلقون ربهم .. وكان القرآن- كما قلنا- يمثل العمود الفقرى لحياة المسلمين، فمن الطبيعى- والحالة هذه- ألا يغيب عنهم منه شىء، وكانوا يفهمون القرآن وتوجيهاته بسليقتهم العربية، فإذا أشكل عليهم منه أمر استوضحوه من رسول الله، أو سأل بعضهم من يظن أنه عارف به ..
কারণ প্রত্যেক জাতিরই একটি ভিত্তি থাকে যেখান থেকে তারা তাদের নবজাগরণের সূচনা করে এবং জীবনে তাদের অস্তিত্ব ও মূল্যের প্রমাণ দেয়।

মুসলিমরা তাদের জীবন শুরু করেনি এবং তাদের অস্তিত্বের প্রথম পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি কোনো মানবরচিত দর্শনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে; বরং তারা তাদের জীবন শুরু করেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ দ্বীনের প্রতি ঈমান, আল্লাহর প্রেরিত রাসূলের দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের ওপর নাজিলকৃত কুরআনের হেদায়াতের ভিত্তিতে। তারা এখান থেকেই তাদের অস্তিত্ব, সত্তা ও ব্যক্তিত্বের নির্যাস গ্রহণ করেছে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তাদের সকল গতিবিধি ও জীবনধারা গড়ে তুলেছে। এর আলোকেই তারা তাদের জীবনের সকল দিককে রূপ দান করেছে।

এমতাবস্থায় এটি অপরিহার্য ছিল যে, তাদের প্রাথমিক মনোযোগ নিবদ্ধ হবে তাদের দ্বীন বোঝার প্রতি, কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করার প্রতি—যা তাদের জীবনের মেরুদণ্ড স্বরূপ—এবং আকিদাহ (عقيدة) ও তার বিশুদ্ধতা এবং ইবাদাত ও লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধান (أحكام) বোঝার প্রতি, যাতে তাদের প্রতিটি কাজ দ্বীনের চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

মুসলিমদের জীবনে এই দিকটি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই ফুটে উঠেছিল, তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হোক কিংবা তাঁদের পক্ষ থেকে। রাসূলের গভীর মনোযোগ ছিল তাঁর ওপর অবতীর্ণ কুরআন পর্যায়ক্রমে তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তা নিজের জীবনে ও তাঁর চারপাশের সাহাবীদের ওপর প্রয়োগ করা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের (بيان) মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দেওয়া। অনুরূপভাবে সাহাবীদেরও বিশেষ গুরুত্ব ছিল নাজিলকৃত কুরআন গ্রহণ করা, তা সাধ্যমতো মুখস্থ করা এবং রাসূলের সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে থেকে তাঁর দিকনির্দেশনা বোঝার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া। এমনকি তাঁরা পর্যায়ক্রমে তাঁর পাঠদান ও সাহচর্যে উপস্থিত থাকতেন; তাঁদের মধ্যে যিনি উপস্থিত থাকতেন, তিনি যা শুনতেন ও জানতেন তা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। যাতে তাঁদের কারো কাছ থেকেই কুরআন বা রাসূলের বাণীর কোনো অংশ বাদ না পড়ে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সুদৃঢ় ঈমান এবং তাঁদের জীবনকে নবীর আনীত আদর্শ ও দ্বীনের শিক্ষা অনুযায়ী একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে গড়ে তোলার ঐকান্তিক আগ্রহই তাঁদের এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তাঁদের দ্বীনই ছিল সবকিছু, এটিই ছিল তাঁদের পার্থিব জীবনের পাথেয় এবং রবের সাথে সাক্ষাতের সময়ের সঙ্গী। কুরআন ছিল—যেমনটি আমরা বলেছি—মুসলিমদের জীবনের মেরুদণ্ড। এমতাবস্থায় এটাই স্বাভাবিক যে, এর কোনো কিছুই তাঁদের অজানা থাকবে না। তাঁরা তাঁদের সহজাত আরবি ভাষার দক্ষতা দিয়ে কুরআন ও এর দিকনির্দেশনা বুঝতে পারতেন। এরপরও যদি কোনো বিষয় তাঁদের কাছে জটিল মনে হতো, তবে তাঁরা আল্লাহর রাসূলের কাছ থেকে তা স্পষ্ট করে নিতেন অথবা তাঁদের মধ্যে যাকে বিজ্ঞ মনে করা হতো, তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد جاء القرآن مغطيا لكل جوانب الحياة تفصيلا أو إجمالا، وزاده الرسول توضيحا وبيانا وتفصيلا، استجابة لأمر الله وتوجيهه

وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ 44 (1)

فلم يكن عجيبا، أن يركزوا كل حياتهم، ويوجهوا كل اهتمامهم إلى القرآن يلتمسون منه الرشد والهدى.

وكان أسلوب القرآن مع ذلك أسلوبا عربيا جديدا جاذبا أخاذا لم يسمع العرب الفصحاء مثله من قبل، ولم يتمالك أعتى المشركين من أن يصفه برغم معارضته له بقوله «إن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة» كما لم يتمالك عمر بن الخطاب وهو فى ثورته ضد الرسول، وضد من اتبعه، من أن يلقى سلاحه، ويسلم حين سمع آيات منه من سورة «طه».

وكان العرب فى ذلك الوقت على أعلى درجة من الفصاحة، فلم يكن من الصعب عليهم، أن يفهموا القرآن، ويتذوقوا حلاوته .. وإن كانوا متفاوتين بالطبع فى مدى الفهم والإدراك .. وواقفين ضرورة عند بعض ألفاظ ومعلومات جديدة عليهم يحتاجون إلى تفسيرها وتجلية المراد منها.

وفى هذه الأرض الطيبة، وفى هذا المناخ، وضعت البذور الأولى لما كان يمكن أن نسميه: بعلوم الدين. من تفسير وحديث وأحكام وعقيدة ..

كانت كلها شيئا واحدا يرسم طريق المسلم على هدى القرآن وتعليمه .. يتصل بعضه ببعض، ويغذى بعضه بعضا .. وكانت حياة الرسول صلى الله عليه وسلم وأقواله، أوضح بيان وتفسير للقرآن الكريم .. وصورة عملية لما يطلبه الله من المؤمنين .. فحين سئلت السيدة عائشة رضى الله عنها عن خلق رسول الله، قالت: كان خلقه القرآن ..

ومن أجل هذا يكون كلامنا عن تفسير القرآن أولا هو الوضع الطبيعى الواقعى.

--------------------------------------------

(1) النحل/ 44.
কুরআন জীবনের প্রতিটি দিককে বিস্তারিত কিংবা সংক্ষিপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করে অবতীর্ণ হয়েছে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর আদেশ ও নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এর ব্যাখ্যা, বর্ণনা ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন

“আর আমি আপনার প্রতি যিকর (উপদেশ) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতে পারেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।” ৪৪ (১)

তাই এটি মোটেও আশ্চর্যজনক ছিল না যে, তারা তাদের সমগ্র জীবন ও সকল মনোযোগ কুরআনের প্রতি নিবদ্ধ করবেন এবং তা থেকে হেদায়াত ও সঠিক পথের দিশা অন্বেষণ করবেন।

তা সত্ত্বেও কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি ছিল এক নতুন, আকর্ষণীয় ও প্রভাববিস্তারী আরবি শৈলী, যার নজির আরবের বাগ্মীরা ইতিপূর্বে কখনো শোনেনি। ঘোরতর মুশরিকরা এর বিরোধিতা করা সত্ত্বেও এর প্রশংসা না করে থাকতে পারেনি। তারা বলত, “নিশ্চয়ই এর মধ্যে এক বিশেষ মাধুর্য রয়েছে এবং এর ওপর রয়েছে এক অনন্য লাবণ্য।” ঠিক তেমনিভাবে উমর ইবনুল খাত্তাবও রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ থাকা সত্ত্বেও সূরা তোয়াহা-র আয়াতসমূহ শোনার পর নিজের অস্ত্র ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ না করে থাকতে পারেননি।

সেই সময়ে আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্রে ছিল অনন্য উচ্চতায়। ফলে কুরআন অনুধাবন করা এবং এর রস আস্বাদন করা তাদের জন্য কঠিন ছিল না। যদিও স্বাভাবিকভাবেই তাদের অনুধাবন ও উপলব্ধির মাত্রায় ভিন্নতা ছিল। অনেক সময় তারা এমন কিছু শব্দ বা তথ্যের সম্মুখীন হতো যা তাদের কাছে নতুন ছিল এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করার ও মর্মার্থ স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত।

আর এই পবিত্র ভূমি ও অনুকূল পরিবেশেই সেই প্রথম বীজ উপ্ত হয়েছিল যাকে আমরা ‘ধর্মীয় জ্ঞান’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি; যার অন্তর্ভুক্ত ছিল তাফসির, হাদিস, বিধিবিধান ও আকিদা...

এ সবকিছুই ছিল এক ও অভিন্ন সত্তা, যা কুরআনের হেদায়াত ও শিক্ষার আলোকে একজন মুসলিমের জীবনপথ অঙ্কন করে। এগুলো পরস্পর সম্পৃক্ত এবং একে অপরকে পরিপুষ্ট করে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও বাণী ছিল পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে স্পষ্ট বর্ণনা ও ব্যাখ্যা এবং মুমিনদের কাছে আল্লাহর নির্দেশনাবলির এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। যখন সায়্যিদা আয়েশা (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন...

এই কারণেই সর্বপ্রথম কুরআনের তাফসির বা ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করাই হলো একটি স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

--------------------------------------------

(১) আন-নাহল/ ৪৪।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌علم التفسير

نشأة العلم كنشأة كل كائن حى نام .. يبدأ بذرة صغيرة تتطور لتصبح جنينا أو نبتا، ثم تنمو شيئا فشيئا لتكون فى نهاية أمرها إنسانا، أو شجرة، أو نبتا مثمرا يعطى ثمره، أو يمنح ظله والفائدة منه ..

فحين نتكلم عن علم التفسير أو غيره من العلوم التى سنتحدث عنها، فإننا نتكلم عنه من خلال هذا التدرج الطبيعى .. ونلقى الضوء عليه منذ تبدأ بذوره الأولى .. فما أى شىء ولد كاملا، ولا وجد عملاقا .. ولكنها سنة الله فى الحياة، كل حياة «ولن تجد لسنة الله تبديلا».

 

‌‌استطراد لا بدّ منه:

وقبل أن نكشف عن البذور الأولى فى علم تفسير القرآن أحب أن ألقى ضوءا سريعا أمام القارئ حول القرآن ونزوله وكتابته وجمعه.

1 - بدأ نزول القرآن على الرسول صلى الله عليه وسلم وهو فى سن الأربعين، وذلك بقوله تعالى «اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ .. الآيات» من سورة العلق.

2 - ثم توالى نزول القرآن بعد ذلك عليه فى مناسبات متفرقة، ولدواع متنوعة، حتى توفى صلى الله عليه وسلم وهو فى سن الثالثة والستين فكان منه ما نزل عليه فى مكة وهو أكثره، ومنه ما نزل عليه بالمدينة .. وكانت آخر آية نزلت بعد رجوع الرسول من حجة الوداع هى آيات الربا المذكورة فى أواخر سورة البقرة (1)، بينما كانت آية «الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ» - المشهور عند الكثيرين- خطأ- أنها- آخر ما نزل- قد نزلت قبل ذلك فى عرفات والرسول يحج حجته الأخيرة- حجة الوداع- باتفاق.

3 - كان جبريل عليه السلام ينزل على الرسول بالسورة أو الآيات أو الآية، فيسارع الرسول فى حفظها كما يتلقاها .. ثم يمليها على كتاب وجيه فيكتبونها ..

--------------------------------------------

(1) يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا ما بَقِيَ مِنَ الرِّبا .. الآيات.
‌‌তাফসির শাস্ত্র

শাস্ত্রের উৎপত্তি কোনো সজীব বর্ধনশীল সত্তার উৎপত্তির ন্যায়। এটি একটি ক্ষুদ্র বীজ হিসেবে শুরু হয় যা পরে ভ্রূণ বা চারাগাছে পরিণত হয়, অতঃপর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে অবশেষে মানুষ, বৃক্ষ বা কোনো ফলবান উদ্ভিদে রূপান্তরিত হয় যা ফল দান করে অথবা ছায়া ও উপকার প্রদান করে।

সুতরাং যখন আমরা তাফসির শাস্ত্র বা অন্যান্য শাস্ত্র যা নিয়ে আলোচনা করব সে সম্পর্কে কথা বলি, তখন আমরা এই স্বাভাবিক ক্রমধারা অনুসারেই আলোচনা করি। আমরা এর প্রাথমিক বীজের শুরু থেকেই আলোকপাত করি। কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গরূপে জন্ম নেয় না, আর না তা জন্মলগ্নে বিশাল আকার পায়। বরং এটিই জীবনের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান, প্রতিটি জীবনের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়; "আর আপনি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবেন না।"

 

‌‌একটি অনিবার্য প্রাসঙ্গিক আলোচনা:

কুরআন তাফসির শাস্ত্রের প্রাথমিক বীজসমূহ উন্মোচন করার পূর্বে আমি পাঠকদের সামনে কুরআন, এর অবতীর্ণ হওয়া, লিখন এবং সংকলন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করতে চাই।

১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তাঁর ওপর কুরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়। এটি শুরু হয় আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: "পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন... আয়াতসমূহ" যা সূরা আলাকের অন্তর্গত।

২ - এরপর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং নানাবিধ প্রয়োজনে ধারাবাহিকভাবে তাঁর ওপর কুরআন নাজিল হতে থাকে, যতক্ষণ না তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এর মধ্যে যা কিছু মক্কায় নাজিল হয়েছিল তা পরিমাণে অধিক, আর কিছু মদিনায় নাজিল হয়েছিল। বিদায় হজ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রত্যাবর্তনের পর সর্বশেষ নাজিল হওয়া আয়াতটি ছিল সূরা বাকারার শেষাংশে বর্ণিত সুদের আয়াতসমূহ (১)। অন্যদিকে অনেকের কাছে ভুলভাবে এটি প্রসিদ্ধ যে, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম" আয়াতটি সর্বশেষ নাজিল হয়েছে; অথচ এটি সর্বসম্মত মতে (اتفاق) এর পূর্বেই আরাফাতের ময়দানে নাজিল হয়েছিল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শেষ হজ—বিদায় হজ—পালন করছিলেন।

৩ - জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সূরা বা আয়াতসমূহ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবতরণ করতেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা যেভাবে গ্রহণ করতেন সেভাবেই দ্রুত মুখস্থ করে নিতেন। অতঃপর তিনি তা বিশিষ্ট লেখকদের দিয়ে লিখিয়ে নিতেন এবং তারা তা লিপিবদ্ধ করতেন।

--------------------------------------------

(১) হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো... আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২০)
ويسمعها لمن يلقاه أو يحضر إليه من اصحابه، فيحفظونها، وهؤلاء بدورهم يتلقى عنهم من لم يسمعها من الرسول فيحفظها، وكان مما يسهّل عليهم الحفظ، أن القرآن لم ينزل دفعة واحدة .. كما يقول الله:

وَقُرْآناً فَرَقْناهُ لِتَقْرَأَهُ، عَلَى النَّاسِ عَلى مُكْثٍ وَنَزَّلْناهُ تَنْزِيلًا (1)

4 - وكان جبريل عليه السلام ينزل على الرسول فى رمضان من كل سنة فيراجع معه ما سبق نزوله، حتى كان آخر رمضان من حياة الرسول فقرأ على الرسول وقرأ عليه الرسول كل ما أنزل خلال السنين التى نزل فيها القرآن، يقرءانه مرتبا حسب الموجود فى المصحف الآن ..

5 - لم يتيسر لكل الصحابة أن يحفظوا القرآن كله، بل تيسر لعدد قليل منهم، والباقون حفظ كل منهم ما تيسر له، ولكنهم جميعا كانوا حريصين على العمل بالقرآن أولا بأول.

6 - نزل القرآن أولا فى مكة ومدة فى المدينة بلهجة قريش وحدها وكانت للقبائل لهجات عربية تختلف فى بعض النطق والكلمات عنها فى قبيلة أو قبائل أخرى .. فلما دخلت القبائل العربية بكثرة فى الاسلام بالمدينة، احتاج الأمر إلى التسهيل عليها فى القراءة بلهجتهم فى بعض الكلمات، بناء على رجاء توجه به الرسول لمولاه، تخفيفا عن أمّته. كما جاء فى الحديث الصحيح المشهور فى هذا الموضوع .. «انزل القرآن على سبعة أحرف»

7 - توفى الرسول صلى الله عليه وسلم والقرآن محفوظ فى الصدور كله لدى بعض الصحابة، ومتناثر عند الكثيرين. كما أنه كان مكتوبا محتفظا به ..

8 - فى عهد أبى بكر رضى الله عنه وبمشورة عمر رضى الله عنه، كانت مراجعة المكتوب على المحفوظ مع ترتيبه حسبما نزل واحتفظ به عند أبى بكر الخليفة، ثم عند حفصة زوج الرسول وبنت عمر رضى الله عنهم جميعا بعد وفاة أبى بكر.

--------------------------------------------

(1) سورة الأسراء/ 106.
তিনি তা তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারী বা তাঁর নিকট উপস্থিত সাহাবীদের শোনাতেন, এবং তারা তা মুখস্থ করে নিতেন। অতঃপর তারা তাদের পক্ষ থেকে রাসূলের নিকট থেকে যারা শোনেননি তাদের কাছে তা পৌঁছে দিতেন এবং তারাও তা মুখস্থ করে নিতেন। তাদের জন্য মুখস্থ করা সহজ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল যে, কুরআন একবারে অবতীর্ণ হয়নি... যেমন আল্লাহ বলেন:

“আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।” (১)

৪ - জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর রমজানে রাসূলের নিকট আসতেন এবং ইতিপূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাঁর সাথে পর্যালোচনা করতেন। এমনকি রাসূলের জীবনের শেষ রমজানে তিনি রাসূলকে শোনান এবং রাসূলও তাঁকে শোনান ওই সব কিছু যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার বছরগুলোতে নাজিল হয়েছিল। তারা বর্তমান মুসহাফে যেভাবে বিদ্যমান রয়েছে সেভাবে ক্রমানুসারে তা পাঠ করতেন...

৫ - সকল সাহাবীর পক্ষে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করা সম্ভব হয়নি, বরং তাদের মধ্য থেকে অল্প সংখ্যক সাহাবীর জন্য তা সহজ হয়েছিল। আর বাকিরা প্রত্যেকে যে যতটুকু সম্ভব মুখস্থ করেছিলেন, কিন্তু তারা সকলেই প্রথম থেকেই কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

৬ - কুরআন শুরুতে মক্কায় এবং একটি নির্দিষ্ট সময় মদিনায় কেবল কুরাইশ উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। বিভিন্ন গোত্রের আরবি উপভাষা ছিল যা উচ্চারণ ও শব্দের ক্ষেত্রে এক গোত্র থেকে অন্য গোত্রে ভিন্ন হতো... যখন মদিনায় দলে দলে আরব গোত্রগুলো ইসলামে প্রবেশ করল, তখন তাদের জন্য স্ব-স্ব উপভাষায় কিছু শব্দের ক্ষেত্রে তিলাওয়াত সহজ করার প্রয়োজন দেখা দিল। এটি রাসূল তাঁর উম্মতের কষ্টের লাঘবের জন্য তাঁর রবের কাছে যে আরজি পেশ করেছিলেন তার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। যেমন এ বিষয়ে সহিহ (صحيح) ও প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসে এসেছে... “কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে।”

৭ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন এমতাবস্থায় যে, কুরআন কিছু সাহাবীর অন্তরে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত ছিল এবং অনেকের কাছে বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত ছিল। একইভাবে তা লিখিতভাবেও সংরক্ষিত ছিল...

৮ - আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরামর্শে, অবতীর্ণ হওয়ার বিন্যাস অনুযায়ী সংরক্ষিত পাঠের সাথে লিখিত পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করা হয়েছিল এবং তা খলিফা আবু বকরের নিকট সংরক্ষিত ছিল। অতঃপর আবু বকরের ইন্তেকালের পর রাসূলের স্ত্রী এবং ওমরের কন্যা হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা: ১০৬।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২১)
9 - وفى عهد عثمان رضى الله عنه، ظهرت الحاجة الماسة إلى كتابة مصحف يكون مرجعا وإماما لجميع المصاحف وللقراء، وكان أساس الجمع لهجة قريش، وإهمال ما عداها من اللهجات العربية الغربية التى لم تنتشر، حتى لا يستفحل الخلاف بين قارئى القرآن، مما يتسبب عنه تفريق وحدة المسلمين، فعمل رضى الله عنه على كتابة مصحف يجمع عليه المسلمين.

10 - أرسل لكل قطر من الأقطار نسخة من هذا المصحف الإمام الذى سمى بمصحف عثمان ليكون هو المرجع الوحيد فى قراءة القرآن وحفظه، وليحرق ما عداه مما يخالفه، مما كان يضم بعض اللهجات التى أهملها المصحف الإمام وأجمع الصحابة على استحسان هذه الخطوة توحيدا لكلمة المسلمين حول كتاب الله».

11 - ومنذ هذا اليوم وعلى مر الأيام والسنين، والمسلمون شديد والعناية والحرص على التمسك برسم المصحف الإمام وكلماته، برغم ما فى رسمه من مخالفات أحيانا لما عرف فيما بعد بالإملاء وطريقة كتابة الكلمات والحروف ..

حتى لا يتسرب إليه أدنى خلاف ولو فى رسم حرف من حروفه ..

12 - وبذلك امتاز القرآن على كل ما عرفه البشر من كتب مقدسة، وغير مقدسة، أنه الكتاب الوحيد الذى ظل كما هو، وكما أنزله الله، محفوظا فى الصدور، مكتوبا فى المصاحف. وهذه ميزة تفرّد بها القرآن، كما تميز بها المسلمون على غيرهم فى الحفاظ على قرآنهم، وكان ذلك كله تحقيقا لوعد الله:

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ 9 (1)

13 - كان لأكثر ما نزل من القرآن أسباب. من أسئلة أو حوادث نزلت من أجلها الآيات، مما سمى أخيرا بأسباب النزول، وأفردها العلماء بمؤلفات خاصة بها .. وهى تهيئ للقارئ والمفسر فهم الآيات. ولكن لا تبقى الآيات خاصة

--------------------------------------------

(1) سورة الحجر/ 9.
৯ - এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে এমন একটি মুসহাফ লিপিবদ্ধ করার তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়, যা সকল মুসহাফ ও ক্বারীগণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস (مرجع) ও আদর্শ হিসেবে গণ্য হবে। এই সংকলনের ভিত্তি ছিল কুরাইশদের উপভাষা এবং এর বাইরে অপ্রচলিত অন্যান্য পশ্চিমা আরবি উপভাষাগুলোকে পরিহার করা হয়েছিল; যাতে ক্বারীগণের মধ্যে মতভেদ প্রকট না হয়, যার ফলে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এমন একটি মুসহাফ তৈরির কাজ করেন যার ওপর সকল মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।

১০ - তিনি প্রতিটি জনপদে এই ‘মুসহাফে ইমাম’-এর একটি করে অনুলিপি প্রেরণ করেন, যা ‘মুসহাফে উসমানি’ নামে পরিচিতি লাভ করে, যেন এটিই কুরআন তিলাওয়াত ও হিফযের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস (مرجع) হয়। এবং এর ব্যতিক্রম বা বিরোধী অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলো যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়, যেগুলোতে এমন কিছু উপভাষা ছিল যা ‘মুসহাফে ইমাম’-এ বর্জন করা হয়েছিল। মুসলিমদের ঐক্য রক্ষার্থে সাহাবায়ে কিরাম এই পদক্ষেপের উত্তম হওয়ার ব্যাপারে একমত (أجمع) হন।

১১ - সেই দিন থেকে আজ অবধি যুগ যুগ ধরে মুসলিমরা এই ‘মুসহাফে ইমাম’-এর লৈখিক রূপ (رسم) এবং শব্দমালার অনুসরণে অত্যন্ত যত্নশীল ও সচেষ্ট। যদিও এর লৈখিক পদ্ধতিতে (رسم) কখনো কখনো এমন কিছু বিষয় ছিল যা পরবর্তীকালে প্রচলিত বানানরীতি (إملاء) বা শব্দ ও অক্ষর লেখার নিয়মের চেয়ে ভিন্ন ছিল... যেন এতে একটি অক্ষরের লৈখিক রূপের ক্ষেত্রেও বিন্দুমাত্র বিচ্যুতির সুযোগ না থাকে...

১২ - এর মাধ্যমেই কুরআন মানুষের জানা সকল পবিত্র ও অপবিত্র গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এটিই একমাত্র কিতাব যা আল্লাহ যেভাবে নাযিল করেছেন ঠিক সেভাবেই সংরক্ষিত রয়েছে—অন্তরে সংরক্ষিত (محفوظ) এবং মুসহাফে লিপিবদ্ধ। এটি কুরআনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মুসলিমরা অন্যদের তুলনায় এক বিশেষ মর্যদার অধিকারী। আর এ সবই ছিল আল্লাহর ওয়াদার বাস্তবায়ন:

“নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী নাযিল করেছি এবং আমিই এর রক্ষণাবেক্ষণকারী।” (১)

১৩ - কুরআনের অধিকাংশ আয়াতেরই নাযিল হওয়ার বিশেষ প্রেক্ষাপট ছিল। বিভিন্ন প্রশ্ন বা ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে, যা পরবর্তীকালে ‘নাযিলের প্রেক্ষাপট’ (أسباب النزول) হিসেবে অভিহিত হয়েছে। ওলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন... যা পাঠক ও মুফাসসিরদের জন্য আয়াতের মর্ম উপলব্ধিতে সহায়ক হয়। তবে আয়াতগুলো কেবল সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ থাকে না...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর/ ৯।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২২)
بهذا الذى نزلت من أجله، وينتهى مفعولها بانتهائه، بل تبقى لتعالج كل موضوع يجد، ويمكن انطباقها عليه، مما عبر عنه العلماء بعد ذلك بقولهم:

«العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب» فلم تبق حاجة لمعرفة السبب إلا للمعاونة على فهم الآية، وإن كان من الضرورى أحيانا معرفته عند فهم بعض الآيات.
এটি কেবল সেই বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় যার জন্য এটি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেই বিষয়ের সমাপ্তির সাথে এর কার্যকারিতাও শেষ হয়ে যায় না; বরং এটি উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়ের সমাধানের জন্য বলবৎ থাকে যার ওপর এটি প্রয়োগ করা সম্ভব। পরবর্তীতে আলিমগণ একে এভাবে ব্যক্ত করেছেন:

"মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), প্রেক্ষাপট বা কারণের বিশেষত্ব (خصوص السبب) নয়।" ফলে আয়াত (آية) অনুধাবনে সহায়তা লাভ করা ব্যতীত প্রেক্ষাপট বা কারণ জানার তেমন কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না, যদিও কোনো কোনো আয়াত (آية) বোঝার ক্ষেত্রে কখনো কখনো তা জানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌هل ترك الرسول تفسيرا كاملا للقرآن؟

لعل البعض يفهم من قوله تعالى «وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ» أن الرسول صلى الله عليه وسلم تولى تفسير كل آية من القرآن لصحابته رضوان الله عليهم .. ولكن هذا فهم مبالغ فيه وغير دقيق، إذ أن قوله تعالى:

«لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ» يعنى تبين ما يحتاج منه إلى بيان ..

وقد أنزل الله القرآن على رسوله بلغة قومه «إِنَّا أَنْزَلْناهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ» وكان العرب فى ذروة البلاغة وهم أرباب الفصاحة، وقد نزل القرآن يخاطبهم جميعا. ويحثهم لما يدعوهم إليه، ومن الطبيعى ألا يكون غامضا عليهم فكانوا أقرب الناس إلى فهمه وإدراك معانيه وتقدير بلاغته، حتى وجدنا أعتى الناس عداوة للرسول، ينقلب- بمجرد سماعه- إلى مسلم تابع له، وأيضا أشد الناس إخلاصا ودفاعا عنه، ووجدنا آخرين يتزعمون معارضته، وإيقاع الأذى به وبدعوته، ومع ذلك تأسرهم بلاغة القرآن ومعانيه، ويتسارقون ويتسربون ليلا، للاستماع إلى الرسول صلى عليه وسلم وهو يقرؤه بصوت مسموع، إشباعا للذة الاستماع إليه، مع كراهتهم له.

ولو لم يفهموه ويحسوا بلاغته، ما سحرهم بيانه، وما جذبهم لهذه المخاطرة التى خاطروا فيها بأنفسهم وبمراكزهم وزعامتهم وسط معسكر الكافرين بالرسول، لو انكشف أمرهم .. وقلنا كانوا أقرب الناس إلى فهمه، لأنهم لم يكونوا جميعا على مستوى واحد من الفهم له وإدراك معانيه إذ من الطبيعى أن تكون أفهامهم متفاوتة، حتى لما يسمعون من كلامهم .. وذكرت لنا الروايات الصحيحة، أن بعضهم، ومنهم مقربون إلى رسول الله كان يتوقف فى فهم بعض ألفاظ وردت فيه، وإن كان يفهم المعنى الإجمالى للآية والسورة. والغرض من سياقها .. فوجدنا الفاروق عمر بن الخطاب رضى الله عنه، مع مكانته يسأله رجل عن معنى «الأب»
রাসূলুল্লাহ কি কুরআনের পূর্ণাঙ্গ কোনো তাফসির রেখে গিয়েছেন?

সম্ভবত কেউ কেউ মহান আল্লাহর বাণী— “আর আমি আপনার প্রতি যিক্‌র অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে”— থেকে এমনটি বুঝতে পারেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের (রা.) নিকট কুরআনের প্রতিটি আয়াতের তাফসির বা ব্যাখ্যা প্রদান করার দায়িত্ব পালন করেছেন... কিন্তু এটি একটি অতিরঞ্জিত এবং নির্ভুল নয় এমন ধারণা, কারণ মহান আল্লাহর বাণী:

“যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে”— এর অর্থ হলো, যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন তা স্পষ্ট করা...

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর তাঁর কওমের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছেন— “নিশ্চয় আমি একে আরবি ভাষায় কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।” আর আরবরা ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রের শিখরে এবং তারা ছিল প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী। কুরআন তাদের সকলকে সম্বোধন করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা কিছু তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে তার প্রতি তাদের উৎসাহিত করেছে। এটা স্বাভাবিক যে, কুরআন তাদের নিকট অস্পষ্ট ছিল না। বরং তারা ছিল এটি অনুধাবন, এর অর্থের উপলব্ধি এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গভীরতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী। এমনকি আমরা দেখেছি রাসূলের চরম শত্রুরাও—শুধু তা শোনার মাধ্যমেই—মুসলিম এবং তাঁর অনুসারীতে পরিণত হয়েছে। আবার যারা তাঁর প্রতি চরম একনিষ্ঠ এবং তাঁর প্রতিরক্ষাকারী ছিল, তাদেরও আমরা দেখেছি। আমরা আরও দেখেছি যে, অন্যরা তাঁর বিরোধিতার নেতৃত্ব দিচ্ছিল এবং তাঁর ও তাঁর দাওয়াতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল, তা সত্ত্বেও কুরআনের অলঙ্কার এবং এর অর্থসমূহ তাদের বিমোহিত করত। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা সত্ত্বেও শোনার তৃপ্তি মেটানোর জন্য রাতের আঁধারে আত্মগোপন করে চুপিচুপি এসে তাঁর উচ্চস্বরে পাঠ করা কুরআন শুনত।

যদি তারা এটি না বুঝত এবং এর অলঙ্কার অনুভব না করত, তবে এর বর্ণনাশৈলী তাদের জাদুমুগ্ধ করত না এবং এটি তাদের এমন ঝুঁকির দিকে আকৃষ্ট করত না, যেখানে ধরা পড়লে তারা কাফের শিবিরে নিজেদের অবস্থান ও নেতৃত্ব হারানোর এবং জীবনের ঝুঁকিতে পড়ত... আমরা বলেছি যে তারা এটি বোঝার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ছিল, কারণ তারা সকলে একে বোঝা এবং এর অর্থ উপলব্ধির ক্ষেত্রে একই স্তরের ছিল না। কেননা এটা স্বাভাবিক যে, তারা নিজেদের সাধারণ কথাবার্তা শোনার ক্ষেত্রেও তাদের বুঝের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হতো... এবং সহিহ (صحيحة) বর্ণনাগুলো আমাদের নিকট উল্লেখ করেছে যে, তাদের কেউ কেউ—যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী সাহাবীগণও ছিলেন—কুরআনে বর্ণিত কিছু শব্দের অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে থেমে যেতেন, যদিও তারা আয়াতের বা সূরার সামগ্রিক অর্থ এবং এর প্রেক্ষাপটের উদ্দেশ্য বুঝতে পারতেন... ফলে আমরা দেখেছি যে, ফারুক ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তি তাঁকে ‘আল-আব’ (তৃণলতা) শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৪)
بتشديد الباء فى قوله تعالى «وَفاكِهَةً وَأَبًّا» فيقول: نهينا عن التكلف والتعمق (1)» وفى رواية أخرى .. أنه كان يقرأ الآية فتساءل عن معنى «الأب» كما روى (2) أيضا أنه كان يقرأ «أو يأخذهم على تخوف» وهو على المنبر، فتساءل عن معنى «تخوف» فقال له رجل من هذيل: التخوف عندنا هو التنقص، ونحن الآن مع تباعد القرون بيننا وبينهم، لا نجد القرآن غامضا علينا إلا النادر منه الذى يحتاج إلى وقفة معه حتى العامى منا يدرك الكثير من معانى الآيات، ويخشع قلبه لما يسمعه ..

وفى ذلك يروى ابن جرير الطبرى عن ابن عباس رضى الله عنهما قوله:

«التفسير على أربعة أوجه: وجه تعرفه العرب من كلامها، وتفسير لا يعذر أحد بجهالته، وتفسير تعرفه العلماء، وتفسير لا يعلمه إلا الله» كوقت قيام الساعة.

فالوجهان الأولان ظاهران لا يحتاجان إلى عناء فى فهمهما، والثالث هو مدار البحث والأسئلة، والرابع يسكت عنه لأنه مما استأثر الله بعلمه ..

ومما لا شك فيه أن الصحابة كانوا أحيانا يتوجهون إلى الرسول لفهم بعض الآيات، أو يتولى الرسول شرحها دون سؤال ويتلقى الصحابة الشرح والجواب ..

مما عنيت كتب الحديث بذكره.

ولكن إلى أى مدى نثق فى صحة ما نسب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم من تفسير لبعض هذه المواضع من القرآن الكريم؟ ذلك أمر تكفلت به كتب السنة الموثوق بها، ولست أعنى بذلك كل كتب السنة المتداولة، لأن بعضها روى فى هذا الباب روايات لا يمكن أن تقبل عقلا .. فمثلا:

أخرج الحاكم عن أنس رضى الله عنه أنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن القنطار فى قوله تعالى:

«وَالْقَناطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ» (3) فقال: القنطار ألف أوقية «بينما روى الإمام احمد

--------------------------------------------

(1) فجر للمرحوم أحمد أمين ص 281.

(2) المصدر السابق عن كتاب الموافقات للشاطبى.

(3) من قوله تعالى «زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَواتِ مِنَ النِّساءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَناطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ» الآية 14 سورة آل عمران.
আল্লাহ তাআলার বাণী «وَفاكِهَةً وَأَبًّا» (ওয়া ফাকিহাতান ওয়া আব্বা)-তে ‘বা’ বর্ণের তাশদীদসহ পাঠের ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: “আমাদেরকে কৃত্রিমতা ও অতি-গভীরতায় অবগাহন করতে নিষেধ করা হয়েছে (১)।” অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী... তিনি আয়াতটি পাঠ করতেন এবং ‘আব্ব’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যেমন আরও বর্ণিত হয়েছে (২) যে, তিনি মিম্বরে থাকা অবস্থায় «أو يأخذهم على تخوف» (অ ইয়া’খুযাহুম আলা তাখাওউফ) আয়াতটি পাঠ করতেন এবং ‘তাখাওউফ’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তখন হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আমাদের নিকট ‘তাখাওউফ’ অর্থ হলো ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়া। বর্তমানে আমাদের ও তাঁদের মধ্যকার দীর্ঘ শতাব্দীর ব্যবধান সত্ত্বেও, আমরা কোরআনের বিষয়বস্তুকে আমাদের কাছে অস্পষ্ট পাই না, কেবল সেই বিরল ক্ষেত্রগুলো ছাড়া যেগুলোর ব্যাখ্যায় থামার প্রয়োজন পড়ে। এমনকি আমাদের মধ্যকার সাধারণ মানুষও আয়াতের অনেক অর্থ অনুধাবন করতে পারে এবং যা শোনে তাতে তার হৃদয় বিগলিত হয়...

এ প্রসঙ্গে ইবনে জারির তবারি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:

“তাফসির চার প্রকার: এক প্রকার যা আরবরা তাদের ভাষা থেকে বুঝতে পারে, দ্বিতীয় প্রকার তাফসির যার অজ্ঞতার বিষয়ে কারো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়, তৃতীয় প্রকার যা আলেমগণ জানেন এবং চতুর্থ প্রকার যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না”—যেমন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়।

প্রথম দুই প্রকার অত্যন্ত স্পষ্ট যা বোঝার জন্য কোনো পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। তৃতীয় প্রকারটি গবেষণা ও জিজ্ঞাসার কেন্দ্রবিন্দু। আর চতুর্থ প্রকারটি সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়, কারণ আল্লাহ এটি কেবল নিজের জ্ঞানের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন...

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহাবায়ে কেরাম মাঝেমধ্যে কিছু আয়াতের মর্মার্থ বোঝার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শরণাপন্ন হতেন, অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে থেকেই কোনো জিজ্ঞাসা ছাড়াই তার ব্যাখ্যা প্রদান করতেন এবং সাহাবীগণ সেই ব্যাখ্যা ও উত্তর গ্রহণ করতেন... যা হাদিসের গ্রন্থসমূহ সযত্নে উল্লেখ করেছে।

কিন্তু কোরআনে কারিমের এই সকল স্থানের ব্যাখ্যা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তার বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর আমরা কতটুকু আস্থা রাখতে পারি? এটি এমন একটি বিষয় যা নির্ভরযোগ্য (الموثوق بها) সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ নিশ্চিত করেছে। আমি প্রচলিত সকল সুন্নাহর গ্রন্থকে বোঝাচ্ছি না, কারণ কোনো কোনো গ্রন্থে এই অধ্যায়ে এমন কিছু বর্ণনা (روايات) করা হয়েছে যা যুক্তির নিরিখে গ্রহণ করা অসম্ভব... উদাহরণস্বরূপ:

ইমাম হাকিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মহান আল্লাহর বাণী:

«وَالْقَناطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ» (৩) (ওয়াল কানাতীরিল মুকানতারা)-তে বর্ণিত ‘কানতার’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: ‘কানতার’ হলো এক হাজার উকিয়া। যখন ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ফজরুল ইসলাম, মরহুম আহমদ আমিন, পৃষ্ঠা ২৮১।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, আল-শাতিবি রচিত কিতাবুল মুওয়াফাকাত থেকে।

(৩) মহান আল্লাহর বাণী: “মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তানাদি, জমাকৃত রাশি রাশি স্বর্ণ-রৌপ্য (ওয়াল কানাতীরিল মুকানতারা মিনায যাহাবি ওয়াল ফিদ্দা)” থেকে গৃহীত; সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৪।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৫)
فى مسنده وابن ماجة عن أبى هريرة رضى الله عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: القنطار اثنا عشر ألف أوقية»

ولو اعتبرنا ما فى الروايتين صحيحا، لكانت النتيجة أن الرسول قال مرة:

القنطار ألف أوقية، ومرة اثنا عشر ألف أوقية، والزمن واحد أو متقارب جدا، لا يحتمل تغيير وزن القنطار، فلا يعقل أن يصدر عن الرسول مثل هذا التناقض الواضح، ومع ذلك فهما روايتان، رواهما الحاكم، والإمام أحمد ..

فلو قبلنا مثل هذه الروايات معصوبى الأعين، مغلقى العقول باعتبار أنها وردت فى بعض كتب السنة لأسأنا إساءة واضحة إلى رسول الله.

ولذلك فإن مما نحمد الله عليه أن نجد من المفسرين مثل الحافظ ابن كثير وتفسيره لهذه الآية يقف وقفة متأنية ناقدة ويقول: «لم يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث فى تحديد القنطار وما ورد من ذلك فموقوف على الصحابة».

وليقل لنا الصحابة ما يشاءون حسب علمهم عن أمورهم، فقد تكون صحيحة، وقد تكون غير صحيحة، ولسنا ملزمين بأن نأخذ ما يروى عنهم كما هو- فكل يؤخذ منه ويردّ عليه، ما عدا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلا بد إذن من التحوط فى قبول بعض الأحاديث الخاصة بتفسير القرآن، المروية فى بعض كتب الحديث عن الرسول بحيث لا نقبل منها إلا المقطوع بصحته فى كتب السنة، ذات الدرجة الأولى فى التوثيق، وإذا كان هذا بالنسبة لما يروى عن رسول الله فى تفسير القرآن فإن ما يروى عن الصحابة والتابعين يجب أن نقف موقف التحرز والتحوط منه، وما علينا من شىء إذا لم نقبل ما روى عن أحد منهم، وقلنا بغيره.
তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে মাজাহ-তে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কিতার হলো বারো হাজার উকিয়া।"

যদি আমরা উভয় বর্ণনার বিষয়বস্তুকে সহিহ (صحيح) বলে বিবেচনা করি, তবে ফলাফল দাঁড়াবে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) একদা বলেছিলেন:

কিতার হলো এক হাজার উকিয়া, আর অন্যবার বলেছেন বারো হাজার উকিয়া। অথচ উভয় বর্ণনার সময়কাল এক অথবা খুবই কাছাকাছি, যা কিতারের ওজনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখে না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট বৈপরীত্য প্রকাশ পাওয়া যুক্তিগ্রাহ্য নয়। তা সত্ত্বেও এই দুটি হলো বর্ণনা (رواية), যা হাকেম এবং ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন...

সুতরাং আমরা যদি চক্ষু মুদ্রিত ও বিবেক রুদ্ধ করে এ ধরনের বর্ণনাগুলোকে (رواية) কেবল এই কারণে গ্রহণ করে নিই যে সেগুলো সুন্নাহর কোনো কোনো গ্রন্থে এসেছে, তবে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি স্পষ্ট অবমাননা করব।

তাই আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে, হাফিজ ইবনে কাসিরের মতো মুফাসসিরদেরকে পাই, যিনি এই আয়াতের তাফসির করতে গিয়ে ধীরস্থির ও সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: "কিতার নির্ধারণের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি, বরং এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা সাহাবায়ে কেরামের ওপর মাওকুফ (موقوف)।"

সাহাবায়ে কেরাম তাদের জ্ঞান অনুযায়ী নিজ নিজ বিষয় সম্পর্কে যা ইচ্ছা বলতে পারেন, তা সহিহ (صحيحة) হতে পারে আবার সহিহ (صحيحة) না-ও হতে পারে। তাদের থেকে যা বর্ণিত হয় তা হুবহু গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য নই—কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যতীত অন্য সবার কথাই গ্রহণ করা যায় আবার বর্জনও করা যায়। সুতরাং কুরআনের তাফসির সংশ্লিষ্ট এমন কিছু হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক, যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হাদিসের কিছু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে; যেখান থেকে কেবল সেগুলোকে গ্রহণ করা উচিত যেগুলোর সহিহ (صحيح) হওয়ার বিষয়টি সুন্নাহর প্রথম স্তরের নির্ভরযোগ্য (توثيق) কিতাবসমূহে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। আর কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত বিষয়ের অবস্থাই যদি এমন হয়, তবে সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই আরও বেশি সতর্ক ও সাবধানী হতে হবে। তাদের কারো থেকে বর্ণিত কোনো বিষয় যদি আমরা গ্রহণ না করি এবং তার পরিবর্তে অন্য কিছু বলি, তাতে আমাদের কোনো দোষ নেই।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ابن عباس وما روى عنه

وأذكر هنا على الأخص ما يروى عن عبد الله بن عباس رضى الله عنهما فى باب التفسير، فقد أكثر الرواة الرواية عنه، حتى لا تجد آية فى القرآن غالبا إلا ويذكرون فيها قولا أو رواية لابن عباس، بل إن هناك تفسيرا خاصا به، منسوبا إليه .. قد يزعم الكثيرون أنه رواه عن رسول الله. وهو مطبوع.

وابن عباس كان فى نحو الثانية عشرة من عمره حين توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو عمر لا يسمح بمثل هذه الاستزادة من الرسول، إلا أنه كان له من الفطنة والذكاء المبكرين، وطهارة المنبت، ومن دعاء الرسول له «اللهم فقهه فى الدين وعلمه التأويل» يعنى التفسير لما رآه فيه من فطنة وذكاء مبكرين، كما كان له من الحرص الشديد على تعويض ما فاته مباشرة عن رسول الله بالتلقى عن أصحابه، أينما كانوا، وتفريغ وقته لذلك، وقد توفى فى نحو السبعين من عمره بجانب تبحره فى علوم اللغة، وحفظ أقوال العرب وشعرهم، أقول كان له من ذلك كله، ما جعله يحتل منزلته العلمية منذ عمره المبكر، ويأخذ- لذلك- من اجلال الصحابة وفى مقدمتهم الخلفاء الراشدون- ما لم يقاربه فيه أمثاله وقرناؤه .. حتى رويت روايات كثيرة فى فضله العلمى، وتبحره فى علوم الدين واللغة، ولكنا مع اعتقادنا بمكانة ابن عباس العلمية، نكاد نشك، أو نشك فعلا كما شك الأقدمون فى الكثير مما روى عنه فى التفسير، حتى يقول الإمام الشافعى رضى الله عنه: «لم يثبت عن ابن عباس فى التفسير إلا شبيه بمائة حديث (1)» ونعتقد أن الكثير مما نسب لابن عباس من روايات قد أضيف إليه فى زمن الدولة العباسية، المنسوبة إليه وإلى أبيه العباس، ويرضيهم ويسرهم كل من يتقدم بزيادة علم وفخر لابن عباس

--------------------------------------------

(1) الإتقان ج 2.
ইবনে আব্বাস এবং তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে

এখানে আমি বিশেষভাবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে তাফসিরের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করছি। বর্ণনাকারীরা তাঁর থেকে এত অধিক বর্ণনা করেছেন যে, সচরাচর কুরআনের এমন কোনো আয়াত পাওয়া যাবে না যেখানে ইবনে আব্বাসের কোনো বক্তব্য বা বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি তাঁর সাথে সম্পর্কিত একটি বিশেষ তাফসির গ্রন্থও রয়েছে... অনেকে দাবি করেন যে তিনি এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থটি বর্তমানে মুদ্রিত।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ইবনে আব্বাসের বয়স ছিল প্রায় বারো বছর। এই বয়সটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি এত বিপুল জ্ঞান অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়; তবে তাঁর ছিল প্রখর মেধা ও অকালপক্ব বুদ্ধিমত্তা, পবিত্র বংশীয় আভিজাত্য এবং তাঁর জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দোয়া: «হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যা (تأويل) অর্থাৎ তাফসির শিক্ষা দিন»। তাঁর মাঝে শৈশব থেকেই যে মেধা ও বুদ্ধিমত্তা তিনি দেখেছিলেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই দোয়া করেছিলেন। তদুপরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি যা হাতছাড়া হয়েছে, তা সাহাবিদের থেকে গ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল, তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন; এবং তিনি এজন্য নিজের পূর্ণ সময় উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি প্রায় সত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ভাষাবিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি এবং আরবদের প্রবাদ ও কবিতা মুখস্থ রাখার পাশাপাশি তাঁর এই সকল গুণাবলি তাঁকে অল্প বয়সেই এক উচ্চতর ইলমি আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল এবং এই কারণেই তিনি সাহাবিদের—যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন খুলাফায়ে রাশেদীন—এমন মর্যাদা ও শ্রদ্ধা লাভ করেছিলেন, যা তাঁর সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এমনকি তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং দ্বীন ও ভাষা বিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য সম্পর্কে অনেক বর্ণনা (روايات) বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইবনে আব্বাসের ইলমি মর্যাদার প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও, তাঁর থেকে তাফসিরের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনেকগুলো নিয়ে আমরা সন্দিহান, যেমনটি পূর্বসূরিরা সন্দেহ পোষণ করেছিলেন। এমনকি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «তাফসিরের ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাসের পক্ষ থেকে প্রায় একশ হাদিসের সমপরিমাণ ছাড়া আর কিছুই প্রমাণিত (ثابت) হয়নি।» এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, ইবনে আব্বাসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অনেক বর্ণনা (روايات) আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে তাঁর সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যে খিলাফত তাঁর ও তাঁর পিতা আব্বাসের বংশধারার সাথে সম্পর্কিত ছিল। আর যারা ইবনে আব্বাসের জ্ঞান ও গৌরবে নতুন কিছু যোগ করত, তারা তৎকালীন শাসকদের সন্তুষ্ট ও আনন্দিত করত।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান খণ্ড ২।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৭)
تقربا وتزلفا. والساعون لذلك كثيرون، ومن هذا وذاك تكونت الهالة الكبرى حول اسمه.

وهناك أمر آخر نعتقد أنه كان من أسباب الزيادات على ابن عباس.

فابن عباس مشهور بالعلم وله نسبه ومكانته والوضاعون لم يتورعوا عن الوضع على رسول الله ليؤيدوا وجهة نظرهم، برغم إنذار الرسول صلى الله عليه وسلم للكذابين الذين ينسبون إليه ما لم يقله: (من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار) ..

أقول إذا كان هناك من تجرأ ونسب إلى الرسول ما لم يقله، برغم هذا الإنذار، فإن الأمر يكون سهلا فى ذلك بالنسبة للوضع على ابن عباس، ونسبة كلام اليه لم يقله .. وهى- أعنى النسبة لابن عباس- تكسب الكلام على أية حال قوة لا يكتسبها من مجرد نسبة الكلام أو الرأى لقائله.

ومن هذا وذاك كثرت نسبة الروايات لابن عباس حتى وجدنا العلماء الناقدين يقفون أمام هذه الكثرة ويزنونها بالموازين التى وزنوا بها أحاديث الرسول أعنى من وجهة الرجال الذين رووا كلامه، ومبلغهم من الثقة، فيزيفون الكثير، ويضعفون الكثير، ويخرجون لنا بالطريقة أو ببعض الطرق التى يمكن أن نثق بها على تفاوت فى هذه الثقة.

ولا شك أن اهتمام الناقدين من العلماء بنقد الرجال الذين يروون عن ابن عباس هو دليل على اهتمامهم، أو إن شئت فقل اهتمام جمهرة طلاب العلم والعلماء، بما يروى عنه، واحتجاجهم به، فكان لا بدّ من غربلته، حتى يتبين الصحيح السليم من غيره.

ولعل مظهر هذا الاهتمام يبدو لنا واضحا جليا فى كتب التفسير .. فإننا لا نكاد نجد آية إلا وقد روى المفسرون فى معناها رأيا لابن عباس، وقد يذكرون له رأيين متعارضين فى الآية، مما يقطع بعدم صحة الروايتين أو إحداهما على الأقل، ومع ذلك تروى الروايتان!! كما رووا عنه فى اسم الشجرة التى أكل منها آدم فى تفسير الطبرى ..
নৈকট্য ও তোষণ লাভের জন্য। আর এর অন্বেষণকারী অনেক। এসব বিভিন্ন কারণে তাঁর নামের চারপাশে এক বিশাল বলয় তৈরি হয়েছে।

ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় এই আধিক্যের পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

ইবনে আব্বাস ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর একটি বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান ছিল। জালকারীগণ (الوضاعون) তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে হাদিস জাল করতেও দ্বিধাবোধ করেনি, যদিও রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই সমস্ত মিথ্যুকদের (الكذابين) প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন যারা তাঁর নামে এমন কিছু সম্পৃক্ত করে যা তিনি বলেননি: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়)।

আমি বলতে চাই, এই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও যদি কেউ রাসূলের নামে এমন কিছু নিসবত করার দুঃসাহস দেখায় যা তিনি বলেননি, তবে ইবনে আব্বাসের নামে জাল (الوضع) করা এবং তাঁর না বলা কথা তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করা তাদের জন্য সহজতর কাজ। আর ইবনে আব্বাসের প্রতি এই সম্পৃক্তকরণ যেকোনো কথার মধ্যে এমন এক শক্তি জোগায়, যা কেবল মূল প্রবক্তার নাম উল্লেখ করলে অর্জিত হতো না।

এসব কারণেই ইবনে আব্বাসের প্রতি বর্ণনার নিসবত বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি আমরা দেখতে পাই যে সমালোচক আলেমগণ (العلماء الناقدين) এই বিশাল সংখ্যক বর্ণনার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেগুলোকে সেই মানদণ্ডে যাচাই করেছেন যার মাধ্যমে তাঁরা রাসূলের হাদিসসমূহ যাচাই করতেন। অর্থাৎ সেই বর্ণনাকারীদের (الرجال) দিক থেকে যারা তাঁর কথা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতার (الثقة) মাত্রা বিচার করে। ফলে তাঁরা অনেক বর্ণনাকে বানোয়াট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, অনেককে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং আমাদের জন্য এমন কিছু সূত্র (الطرق) বের করে এনেছেন যার ওপর আমরা বিভিন্ন মাত্রায় আস্থা রাখতে পারি।

নিঃসন্দেহে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের যাচাইয়ের (نقد الرجال) ক্ষেত্রে আলেমদের এই গুরুত্বারোপ তাদের বিশেষ মনোযোগের প্রমাণ। অথবা আপনি বলতে পারেন, এটি সাধারণ জ্ঞানপিপাসু ও আলেমদের তাঁর বর্ণিত বর্ণনার ওপর গুরুত্ব এবং তা দিয়ে দলিল গ্রহণেরই প্রমাণ। তাই এই বর্ণনাগুলোকে যাচাই-বাছাই করা অনিবার্য ছিল, যাতে সহিহ (الصحيح) ও নিখুঁত বর্ণনাগুলো অন্যগুলো থেকে পৃথক করা যায়।

সম্ভবত এই গুরুত্বের বিষয়টি আমাদের কাছে তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ আমরা এমন কোনো আয়াত খুঁজে পাই না বললেই চলে, যার অর্থের বর্ণনায় মুফাসসিরগণ ইবনে আব্বাসের কোনো মত উল্লেখ করেননি। এমনকি অনেক সময় তাঁরা একই আয়াতের ব্যাপারে তাঁর থেকে দুটি পরস্পরবিরোধী মতও উল্লেখ করেন, যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বর্ণনা দুটির কোনোটিই সঠিক নয় অথবা অন্তত একটি অবশ্যই ভুল, তা সত্ত্বেও উভয় বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়! যেমনটি তাবারির তাফসিরে আদমের ভক্ষণকৃত গাছের নাম সম্পর্কে তাঁর থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌[ابن عباس والاسرائيليات]

ولقد أخذ على ابن عباس أو على ما روى عنه، كثير من الروايات الغريبة، التى تدل على أن مصدرها ليس هو القرآن، ولا الحديث، ولكن من الكتب والمعلومات الإسرائيلية، مما يقطع- إن صحت نسبة هذه الروايات إليه- بأنه كان يستفيد ممن أسلم من أهل الكتاب مثل عبد الله بن سلام، وكعب الأحبار فى موضوعات من القرآن لا تتعلق بعقيدة أو تكليف من التكاليف، فإن هذين لا يصح أن يلجأ فيهما إلى غير ما ورد فى القرآن، ولا يعقل أن ابن عباس كان يروى عنهم فى هذا، لكنه كان يروى- فيما يقول الرواة عنه- فيما يشبع فضول الناس فى القصص التى جاءت فى القرآن الكريم، مما طواه وسكت عنه، وكان مسلمو أهل الكتاب يتحدثون بما يشبع هذا الفضول، الذى لا نزال نرى كثيرا من المسلمين يتعلقون به حتى الآن- وإلا فمن أين جاء لابن عباس أو لغيره، كعلى رضى الله عنهم، بمثل هذه التفصيلات؟ ..

وقد قلت من قبل: إن صحت هذه الروايات .. لأنى أشك فى أن رجلا كابن عباس أو على رضى الله عنهما يسلم عقله ودينه لأمثال هؤلاء ويأخذ عنهم.

وأمامهم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم يدلّهم إلى الطريقة التى يجب أن تتبع فى مثل هذه الحالة: إذا حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم ولا تكذبوهم. ومعلوم أن هذا فى غير ما ورد فيه نص من القرآن، وما هو من أصول وتعاليم الإسلام .. فإنه لو وافق كلامهم ما عندنا صدقناهم. وإن خالفه كذبناهم، فالحديث إذن فيما سكت القرآن عن بيانه فى القصص مثلا. فلا يعقل إذن أن يأخذ ابن عباس عن الإسرائيليين مثلا: لون كلب أهل الكهف، ولا نوع خشب سفينة نوح، وأمثال هذا مما لم يتعرض له القرآن، لعدم الحاجة إليه، ولاكتمال العبرة فى القصة بدونه، ولنهى الرسول عن تصديقهم أو تكذيبهم فيه، لأن نقله عنهم وتعليمه للناس معناه تصديقهم فيه والاقتناع به.

 

‌‌[يعيب على الأخذ عنهم]

وإذا أضفنا الى هذا ما رواه الإمام البخارى عن ابن عباس أنه وقف يخطب الناس، وقد هاله اتجاههم لأهل الكتاب، ليشبعوا فضولهم العلمى بسؤالهم عن
[ইবনে আব্বাস ও ইসরাঈলি বর্ণনাগুলো]

ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর নামে অথবা তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, এমন অনেক অদ্ভূত বর্ণনা (الروايات الغريبة) বিদ্যমান, যা প্রমাণ করে যে এগুলোর উৎস কুরআন বা হাদিস নয়; বরং এগুলো ইসরাঈলি কিতাব ও তথ্যাবলি থেকে গৃহীত। যদি এই বর্ণনাগুলোর (الروايات) নিসবত বা সম্পৃক্ততা তাঁর দিকে সঠিক হয়, তবে এটি নিশ্চিত করে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ও কাব আল-আহবারের মতো ইসলাম গ্রহণকারী আহলে কিতাবদের থেকে কুরআনের এমন কিছু বিষয়ে তথ্য নিতেন যা আকিদা বা শরিয়তের বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ, আকিদা ও বিধানের ক্ষেত্রে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুর দ্বারস্থ হওয়া বৈধ নয়। আর এটা ভাবাই যায় না যে, ইবনে আব্বাস (রাযি.) এসব বিষয়ে তাদের থেকে বর্ণনা (يروى) করবেন। তবে বর্ণনাকারীগণ (الرواة) তাঁর সম্পর্কে যা বলেন তা হলো, তিনি কুরআনে বর্ণিত কাহিনীর সেই সব অংশ যা সংক্ষেপে বলা হয়েছে বা যে বিষয়ে কুরআন নীরব থেকেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের কৌতূহল নিবৃত্ত করার জন্য তাদের থেকে উদ্ধৃত করতেন। ইসলাম গ্রহণকারী আহলে কিতাবগণ সেই সব কৌতূহলোদ্দীপক কথা বলতেন, যা আজও অনেক মুসলিমকে পছন্দ করতে দেখা যায়। অন্যথা ইবনে আব্বাস বা আলী (রাযি.)-এর মতো ব্যক্তিত্বের কাছে এ ধরনের খুঁটিনাটি বিবরণ আর কোথা থেকে আসবে?

আমি আগেই বলেছি—যদি এই বর্ণনাগুলো (الروايات) সঠিক হয়... কারণ ইবনে আব্বাস বা আলী (রাযি.)-এর মতো কোনো ব্যক্তি এই ধরণের লোকদের কাছে নিজের বিবেক ও দ্বীন সমর্পণ করবেন এবং তাদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করবেন, এ বিষয়ে আমার সংশয় রয়েছে।

তাঁদের সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বিদ্যমান যা এমন পরিস্থিতিতে অনুসরণীয় সঠিক পথের দিশা দেয়: "যখন আহলে কিতাবরা তোমাদের নিকট কিছু বর্ণনা করবে, তখন তোমরা তাদেরকে সত্য বলে মেনে নিও না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করো না।" এটি জানা কথা যে, এই বিধান সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে বিষয়ে কুরআনের কোনো অকাট্য দলিল (نص) নেই এবং যা ইসলামের মূলনীতি বা শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তাদের কথা যদি আমাদের দ্বীনের অনুকূল হয় তবে আমরা তা সত্য বলে মানি, আর প্রতিকূল হলে মিথ্যা বলি। সুতরাং হাদিসটি ঐসব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কুরআন নীরবতা অবলম্বন করেছে, যেমন কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ। তাই এটা যুক্তিসঙ্গত নয় যে, ইবনে আব্বাস (রাযি.) ইসরাঈলিদের থেকে আসহাবে কাহাফের কুকুরের রঙ কী ছিল অথবা নূহ (আ.)-এর নৌকার কাঠ কী ধরণের ছিল—এসব বিষয় গ্রহণ করবেন। কুরআন এগুলোর উল্লেখ করেনি কারণ এর কোনো প্রয়োজন নেই এবং এই খুঁটিনাটি ছাড়াই কাহিনীর শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ হয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে তাদেরকে সত্য বা মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছেন; কারণ তাদের থেকে এগুলো বর্ণনা (نقل) করা এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার অর্থই হলো সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া।

 

[তাদের থেকে গ্রহণের নিন্দা]

এর সাথে যদি আমরা ইমাম বুখারী বর্ণিত ইবনে আব্বাসের সেই ঘটনাটি যুক্ত করি যেখানে তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আহলে কিতাবদের নিকট থেকে জ্ঞানগত কৌতূহল মেটানোর জন্য মানুষের অতিমাত্রায় ঝোঁক দেখে শঙ্কিত হয়েছিলেন যে—
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২৯)
أشياء لم يذكرها القرآن فقال لهم: يا معشر المسلمين: تسألون أهل الكتاب، وكتابكم الذى أنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم أحدث الاخبار بالله، تقرءونه لم يشب؟ وقد حدثكم الله أن أهل الكتاب بدلوا ما كتب الله، وغيروا بأيديهم الكتاب فقالوا: (هذا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَناً قَلِيلًا) أفلا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مساءلتهم. ولا والله ما رأينا رجلا منهم قط يسألكم عن الذى أنزل عليكم. أى ليأخذه عنكم، ومفهوم أنهم لم يكونوا يسألونهم عن الصلاة أو تحريم الخمر أو كيفية الحج مثلا، بل كانوا يسألونهم عن أشياء فى القصص وأمثالها، مما سكت القرآن عنه لعدم الحاجة فى العبرة إليه. جريا وراء الفضول العلمى، وغريزة حب الاستطلاع.

فلا يعقل إذن أمام هذا الحديث الصحيح أن ينهى ابن عباس المسلمين عن الأخذ من أهل الكتاب، وتصديق ما فى كتبهم بهذه الصورة، ثم يسأل هو أهل الكتاب عن أشياء يرجعون فى الإجابة عنها إلى كتبهم ومعلوماتهم، التى عرفوها من هذه الكتب، بل وخيالاتهم.

ولا يغير من الموضوع شيئا أن الذين كان يسألهم ابن عباس قد أسلموا، إن قلنا إنه كان ينهى المسلمين عن الأخذ من أهل الكتاب الذين لم يسلموا، لأن المصدر فى الحالتين واحد وهو كتبهم .. ولا يعقل أن ينهاهم عن شىء وهو يفعله. اللهم إلا إذا كانت ثقته الكاملة فيهم جعلته يستبعد أن يخبروه بشيء غير واثقين به.

وإزاء هذا لا نملك إلا أن نهوى على رأس كل الروايات التى ذكرت فى التفسير إلى ابن عباس فى هذه الناحية فنطيح بها، ونبرئ ابن عباس من مسئوليتها، ونتحمل وزر بقائها فى كتب التفسير المتداولة حتى الآن، تحشو أذهان المتعلمين والقراء بمعلومات واهية، لا سند لها، وتخرج لنا جيلا مخرفا من طلاب العلم، فإن العملة الزائفة تطرد العملة الصحيحة من السوق وتقضى عليها كما يقال.

ولا بد لنا مع ذلك من وقفة قصيرة مع صرخة ابن عباس هذه فى المسلمين، ينهاهم عن مساءلة أهل الكتاب والتعلم عليهم بهذه الشدة.

কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি এমন বিষয়াবলি সম্পর্কে তিনি তাদের বললেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা কীভাবে আহলে কিতাবদের জিজ্ঞাসা করো, যেখানে তোমাদের কিতাব যা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদসমূহের মধ্যে সর্বশেষ, যা তোমরা পাঠ করো নির্ভেজাল অবস্থায়? আল্লাহ তোমাদের জানিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তন করেছে এবং তারা নিজ হাতে কিতাব পরিবর্তন করে বলেছে: (এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাতে তারা এর মাধ্যমে সামান্য মূল্য ক্রয় করতে পারে)। তোমাদের কাছে যে জ্ঞান এসেছে, তা কি তোমাদের তাদের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিষেধ করে না? আল্লাহর কসম! আমরা তাদের কোনো ব্যক্তিকে কখনো দেখিনি যে তোমাদের কাছে তোমাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। অর্থাৎ, তোমাদের থেকে তা গ্রহণ করার জন্য। এটি স্পষ্ট যে, তারা তাদের নিকট নামাজ, মদ হারাম হওয়া বা হজের নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, বরং তারা তাদের গল্পের বিষয়াবলি বা এই জাতীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, যার ব্যাপারে উপদেশ গ্রহণের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা না থাকায় কুরআন নীরব থেকেছে। এগুলো করা হতো নেহাত তাত্ত্বিক কৌতূহল ও তথ্যানুসন্ধানের প্রবৃত্তি থেকে।

অতএব, এই সহিহ (صحيح) হাদিসের উপস্থিতিতে এটি যুক্তিগ্রাহ্য নয় যে, ইবনে আব্বাস মুসলিমদের আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করতে এবং তাদের কিতাবের বিষয়বস্তুকে এভাবে সত্যায়ন করতে নিষেধ করবেন, আর এরপর তিনি নিজেই আহলে কিতাবদের এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করবেন যার উত্তরের জন্য তারা তাদের কিতাব, অর্জিত তথ্য এমনকি তাদের কল্পনাপ্রসূত ধারণার ওপর নির্ভর করে।

ইবনে আব্বাস যাদের প্রশ্ন করতেন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—এ কথা বললেও বিষয়ের কোনো পরিবর্তন হবে না। যদি আমরা বলি যে, তিনি কেবল সেইসব আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি; কারণ উভয় ক্ষেত্রেই উৎস তো অভিন্ন, আর তা হলো তাদের কিতাবসমূহ। আর এটি অকল্পনীয় যে, তিনি কোনো কাজ করতে নিষেধ করবেন অথচ নিজেই তা করবেন। তবে যদি তাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা (ثقة) তাকে এমন ধারণা করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে যে, তারা তাকে নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রদান করবে না, তবে তা ভিন্ন কথা।

এমতাবস্থায়, এই প্রেক্ষাপটে ইবনে আব্বাসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত তাফসিরের এই জাতীয় সকল বর্ণনা (رواية)-কে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা ইবনে আব্বাসকে এর দায়ভার থেকে মুক্ত ঘোষণা করি এবং প্রচলিত তাফসির গ্রন্থগুলোতে আজ অবধি এগুলোর বিদ্যমান থাকার দায়ভার গ্রহণ করি, যা শিক্ষার্থী ও পাঠকদের মন-মস্তিষ্ককে ভিত্তিহীন (واهية) ও সনদ (سند) বিহীন তথ্য দিয়ে পূর্ণ করে দিচ্ছে এবং আমাদের জন্য জ্ঞান অন্বেষণকারীদের একটি বিভ্রান্ত প্রজন্ম তৈরি করছে। কেননা প্রবাদ আছে যে, জাল মুদ্রা বাজার থেকে আসল (صحيح) মুদ্রাকে বিতাড়িত ও বিলুপ্ত করে দেয়।

এতদসত্ত্বেও মুসলিমদের প্রতি ইবনে আব্বাসের এই সতর্কবার্তার ব্যাপারে আমাদের সংক্ষেপে থামা প্রয়োজন, যেখানে তিনি তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাদের নিকট শিখতে বারণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৩০)
فابن عباس لا يقف هذا الموقف، أو يحمل هذه الحملة، إلا لأنه رأى أن إقبال المسلمين على التعلم من أهل الكتاب، والتأثر بهم، قد أصبح ظاهرة تنذر بالخطر .. وهى ظاهرة تشبه الظاهرة التى تقلق الكثيرين منا الآن، والتى تتمثل فى الإقبال على كل ما يرد لنا من الغرب من أفكار وأنظمة، والإعجاب بها، مع عدم الالتفات الواجب إلى كتابنا وعلمنا وأفكارنا .. وذلك يشبه التهيؤ النفسى لفقد الثقة بالنفس فى أمر مهم يتصل بصميم كيان المسلمين، وكتابهم .. ألا ترى لقول ابن عباس لهم: (ولا والله ما رأينا رجلا منهم قط يسألكم عن الذى أنزل عليكم) فلم إذن تعتمدون على علمهم وتثقون بكلامهم؟.

فلم يحمل ابن عباس على هذا الهجوم- إذن- إلا الخطر الذى أحسه من الاندلاق على معلومات أهل الكتاب فى أمور لا تلزم المسلمين. ولا ينقص من شأنهم عدم العلم بها، بل ربما شوّشت عليهم ونخرت عقولهم.

فهل يعقل مع هذه الصرخة والشدة أن ينقل ابن عباس عن أهل الكتاب ويصدقهم؟!!

ومع ذلك فان هذه الظاهرة تبين لنا إلى أى حد اختلطت معلومات المسلمين- فى القصص وأمثالها- بمعلومات أهل الكتاب، مما يدعونا إلى الشك فى كل رواية فى هذا الموضوع، حتى ولو رويت عن رجل ثقة لا نشك فى عدالته.، إذ من الذى أنبأه وخبره؟ ومن أين استقى العلم الذى يقوله؟ ..

وكثير من المزيفين زيفوا على العدول روايات، ونسبوها إليهم .. وإننا لا نستطيع القول بأن الناس- كل الناس- قد امتنعوا عن مساءلة أهل الكتاب، أو أن هذه الظاهرة التى أقلقت ابن عباس قد اختفت، وقضى عليها فى كل مجتمعات العالم الإسلامى حينذاك، بمجرد أن ابن عباس أو غيره ممن يكون قد هالته هذه الظاهرة قد نبه وقرع الأجراس.

 

‌‌حديث آخر

وهناك حديث لا بد من إيراده هنا، فإنى أعرف أن كثيرا من القراء المتخصصين سيذكرونه، وهم يقرءون هذا الإنكار على من يأخذ من أهل الكتاب فى تفسير القرآن، أو ربما ذكروه فيما كتبوا.

ইবনে আব্বাস এই অবস্থান গ্রহণ করেননি বা এই আক্রমণ পরিচালনা করেননি, কেবল এজন্যই যে তিনি দেখেছিলেন যে মুসলিমদের আহলে কিতাবদের কাছ থেকে শেখার আগ্রহ এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া একটি বিপজ্জনক লক্ষণে পরিণত হয়েছে। এটি এমন একটি লক্ষণের মতো যা বর্তমানে আমাদের অনেককে উদ্বিগ্ন করে, যা পশ্চিম থেকে আসা সকল চিন্তা ও ব্যবস্থার প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং সেগুলোর প্রতি মুগ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়, অথচ আমাদের কিতাব, জ্ঞান ও চিন্তা-চেতনার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয় না। এটি মুসলিমদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি এবং তাদের কিতাব সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আত্মবিশ্বাস হারানোর এক মানসিক প্রস্ততির মতো। আপনি কি ইবনে আব্বাসের সেই উক্তিটি দেখেননি যেখানে তিনি তাদের বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম! আমরা তাদের কোনো ব্যক্তিকে কখনো দেখিনি যে তোমাদের ওপর যা নাজিল হয়েছে সে সম্পর্কে তোমাদের কিছু জিজ্ঞাসা করছে।" তবে কেন তোমরা তাদের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করছ এবং তাদের কথার ওপর আস্থা রাখছ?.

সুতরাং ইবনে আব্বাস এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কেবল তখনই গ্রহণ করেছিলেন যখন তিনি এমন সব বিষয়ে আহলে কিতাবদের তথ্যের প্রতি প্রবল ঝোঁকের মাঝে বিপদ অনুভব করেছিলেন যা মুসলিমদের জন্য জরুরি নয়। সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা মুসলিমদের মর্যাদাহানি করে না, বরং সম্ভবত তা তাদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তাদের চিন্তাধারাকে কলুষিত করে।

এমতাবস্থায় এই তীব্র সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানের পর কি এটা বিশ্বাসযোগ্য যে ইবনে আব্বাস আহলে কিতাবদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করবেন এবং তাদের সত্যয়ন করবেন?!!

তা সত্ত্বেও, এই বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয় যে গল্প-কাহিনী এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোতে মুসলিমদের তথ্য আহলে কিতাবদের তথ্যের সাথে কতটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল, যা আমাদের এই বিষয়ের প্রতিটি বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সন্দিহান হতে উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি যদি তা এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণিত হয় যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কেননা কে তাকে সংবাদ দিয়েছে এবং কে তাকে অবহিত করেছে? আর তিনি যে জ্ঞান বলছেন তা কোথা থেকে আহরণ করেছেন? ..

অনেক জালিয়াতি কারক ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের নামে জাল বর্ণনা তৈরি করে তাদের দিকে নিসবত করেছে। আর আমরা এ কথা বলতে পারি না যে সকল মানুষ আহলে কিতাবদের কাছে জিজ্ঞাসা করা থেকে বিরত ছিল, কিংবা ইবনে আব্বাসকে উদ্বিগ্নকারী সেই বিষয়টি উধাও হয়ে গিয়েছিল এবং তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের সকল সমাজে তা নির্মূল হয়ে গিয়েছিল—কেবলমাত্র ইবনে আব্বাস বা অন্য কেউ যাকে এই বিষয়টি আতঙ্কিত করেছিল, তার সতর্কবাণী বা বিপদসংকেত দেওয়ার মাধ্যমেই।

 

‌‌অন্য একটি হাদিস

এখানে একটি হাদিস উল্লেখ করা জরুরি, কেননা আমি জানি যে অনেক বিশেষজ্ঞ পাঠক এটি স্মরণ করবেন যখন তারা কুরআন তাফসিরের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবদের থেকে তথ্য গ্রহণকারীদের প্রতি এই অস্বীকৃতি পাঠ করবেন, অথবা সম্ভবত তারা তাদের লেখায় এটি উল্লেখও করেছেন।

(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৩১)
هذا الحديث فيما رواه البخارى عن عبد الله بن عمر هو: «بلغوا عنى ولو آية، وحدثوا عن بنى إسرائيل ولا حرج. ومن كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار) (1) فبعض المشتغلين بالتفسير من العلماء يرون أن هذا يفيد إباحة النقل، والتحدث عن أهل الكتاب فيما يروونه وينقلونه من كتبهم!!

ولا بد لنا حينئذ من وضع الحديث الأول هنا بجانب هذا الحديث- وكلاهما رواه البخارى (2) - يقول عليه الصلاة والسلام «لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذّبوهم وقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَما أُنْزِلَ إِلَيْنا وَما أُنْزِلَ إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ .. » الآية (3).

فأصبح أمامنا حديثان: الأول .. يدعونا إلى ألّا نصدق أهل الكتاب، ولا نكذبهم فيما يروونه من كتبهم، ومعنى هذا أننا لا ننقل عنهم، لأن النقل يؤدى إلى ترويج كلامهم، وحمل الناس على تصديقه، لا سيما إذا كان الناقل موثوقا به عند الناس .. والنتيجة أننا لا يصح أن نحدث عن بنى اسرائيل. والثانى يقول: (بلغوا عنى ولو آية وحدثوا عن بنى إسرائيل ولا حرج) ويأتى هذا الأمر بعد الأمر بالتبليغ عن الرسول ولو آية .. كأنهما بميزان واحد أو متقاربان على الأقل فى إفادة العلم وفى ضرورة الثقة!!

والحديثان فى ظاهرهما لا يمكن أن يصدرا عن الرسول .. فلا بد اذن من شىء خفى يحتاج إلى التأويل فى معنى الحديثين حتى يلتقيا ..

وقد سبق أن بينا معنى حديث (لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم) وقلنا إن مجال تحقيق هذا الحديث وتنفيذ ما جاء فيه، هو ما لم يرد فيه نص من القرآن أو السنة .. مثل ما سكت عنه القرآن من تفاصيل القصص .. فلا يصح أن ننقلها عنهم، ونحكى للناس لون كلب أهل الكهف، ونوع خشب سفينة نوح الخ ..

--------------------------------------------

(1) ج 6 من فتح البارى فى شرح البخارى- كتاب الأنبياء- باب ما ذكر عن بنى اسرائل.

(2) فى فتح البارى ص 120 ج 8.

(3) 136 - من سورة البقرة.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি যা বুখারি বর্ণনা করেছেন, তা হলো: «আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও, এবং বনি ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নেয়» (১)। তাফসির শাস্ত্রের গবেষণায় নিয়োজিত কিছু আলেম মনে করেন যে, এটি কিতাবীদের থেকে তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত এবং উদ্ধৃত বিষয়গুলোর বর্ণনা বা নকল (نقل) করার বৈধতা প্রদান করে!!

এমতাবস্থায় আমাদের জন্য তখন প্রথম হাদিসটিকে এই হাদিসটির পাশাপাশি রাখা অনিবার্য—এবং উভয় হাদিসই বুখারি বর্ণনা করেছেন (২)—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: «তোমরা আহলে কিতাবদের বিশ্বাস করো না এবং তাদের মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না; বরং বলো: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে...» —আয়াত (৩)।

ফলে আমাদের সামনে দুটি হাদিস উপস্থিত হলো: প্রথমটি... আমাদের আহ্বান জানায় যাতে আমরা আহলে কিতাবদের তাদের কিতাব থেকে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বাস না করি এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন না করি। এর অর্থ হলো আমরা তাদের থেকে নকল (نقل) করব না, কারণ নকল (نقل) করা তাদের কথার প্রচার এবং মানুষকে তা বিশ্বাস করার দিকে ধাবিত করে, বিশেষ করে যদি বর্ণনাকারী মানুষের কাছে বিশ্বস্ত (موثوق به) হন... এর ফলাফল হলো যে, বনি ইসরাঈল থেকে হাদিস বর্ণনা করা আমাদের জন্য সমীচীন নয়। আর দ্বিতীয়টি বলে: (আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও এবং বনি ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই)। এই আদেশটি রাসূলের পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দেওয়ার আদেশের পরে এসেছে... যেন উভয়টি একই মানদণ্ডে অথবা অন্তত জ্ঞান লাভ এবং নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে কাছাকাছি!!

হাদিস দুটি বাহ্যিকভাবে এমন যে তা রাসূল থেকে (একইসাথে) প্রকাশিত হওয়া সম্ভব নয়... তাই অবশ্যই এখানে কোনো নিগুঢ় রহস্য রয়েছে যার জন্য হাদিস দুটির অর্থের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা বা তাবিল (تأويل) প্রয়োজন যাতে তাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটে...

আমরা ইতিপূর্বেই «তোমরা আহলে কিতাবদের বিশ্বাস করো না এবং তাদের মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না» হাদিসটির অর্থ স্পষ্ট করেছি এবং বলেছি যে, এই হাদিসটির প্রকৃত প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্র হলো সেই বিষয়গুলো, যে সম্পর্কে কুরআন বা সুন্নাহর কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) নেই... যেমন গল্পের বিস্তারিত বিবরণ যা কুরআন এড়িয়ে গেছে... সুতরাং তাদের থেকে সেগুলো নকল (نقل) করা সঠিক নয়, যেমন মানুষকে আসহাবে কাহাফের কুকুরের রং কী ছিল, নূহ (আ.)-এর নৌকার কাঠ কী ধরনের ছিল ইত্যাদি বর্ণনা করা...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী, বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ড—কিতাবুল আম্বিয়া—বনি ইসরাঈল সংক্রান্ত অধ্যায়।

(২) ফাতহুল বারী, ৮ম খণ্ড, ১২০ পৃষ্ঠা।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৩৬।
(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৩২)
فأين مجال الحديث الآخر: (حدثوا عن أهل الكتاب ولا حرج)؟ إن كان الأخذ عنهم فيما جاء به القرآن أو تحدث به الرسول فلا مانع ولا حرج. لأنه يكون مؤيدا لهما، وإن كانا فى غير حاجة لتأييد، لكنه استئناس على كل حال تقرّ به العيون .. إلا أنه ليس موضوع كلامنا.

إن كلامنا فيما سكت القرآن عن بيانه كما سبق، فجاء أهل الكتاب فبينوه، فقالوا لنا مثلا: لون الكلب أبيض أو أسود أو الخشب كان من الزان أو الساج مثلا؛ فهل الحديث الذى يقول «حدثوا عن أهل الكتاب ولا حرج» يبيح لنا أن نمشى وراء أهل الكتاب، عند ما نفسر القرآن، ونقول ما قالوه، فى هذا وذاك- ولو أنه لا يقدم ولا يؤخر لكنه ينسب الى تفسير القرآن، ويتناقله العلماء كأنه شىء ثابت. وهو لا أصل له يعتد به؟

هل الحديث يبيح لنا أن نحكى عنهم أن الموت يأتى فى صورة كبش، والحياة فى صورة فرس، كما نسب إلى ابن عباس فى بعض كتب التفسير؟!

هل الحديث يبيح لنا أن نفسر القرآن بما يحكونه- عن كتبهم- من أحوالهم وأعاجيبهم، ويكون معنى ذلك تصديقهم دون سند عندنا نستند إليه إلا كلامهم؟ ..

أعتقد .. لا. ولا .. لأن الرسول قال فى هذا: (لا تصدقوهم ولا تكذبوهم) ولكن يمكن أن تسمعوا، ولا تعلقوا، وكونوا على حذر. لا تصدقوهم، لأن تصديقهم خطر، ولا تكذبوهم، لأن ذلك ربما يؤدى إلى شقاق وخلاف، أنتم فى غنى عنه. وربما كان صحيحا فتكونون قد أنكرتم الصحيح وأنتم لا تعلمون وهذه هى منتهى العدالة فى العلم وفى الدين ومنتهى الحياد.

ولا يبقى عندنا- لقبول الحديثين- إلا أن نقول: معناه حدثوا عنهم فيما يتفق حديثهم فيه مع ما تعرفونه من كتابكم وسنة نبيكم. وهذا أقصى ما يمكن أن نهضمه حتى لا نرد الحديث.

তাহলে অন্য হাদিসটির প্রয়োগক্ষেত্র কোথায়: (আহলুল কিতাবদের থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই)? যদি তাদের থেকে তথ্য গ্রহণ করা এমন বিষয়ে হয় যা কুরআন নিয়ে এসেছে অথবা রাসূল বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে কোনো বাধা বা দোষ নেই। কারণ তা সেই দুইয়ের সমর্থক হিসেবে কাজ করে, যদিও সেই দুটি সমর্থনের মুখাপেক্ষী নয়, তবে এটি সর্বাবস্থায় এমন এক মানসিক প্রশান্তি যা চক্ষু শীতল করে... তবে এটি আমাদের আলোচনার মূল বিষয় নয়।

আমাদের আলোচনা হচ্ছে সেই বিষয় নিয়ে যেটির বর্ণনায় কুরআন নীরব থেকেছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর আহলুল কিতাবরা এসে তা ব্যাখ্যা করেছে। উদাহরণস্বরূপ তারা আমাদের বলেছে: কুকুরের রং কি সাদা ছিল না কালো, অথবা কাঠটি ওক ছিল না সেগুন ছিল; এমতাবস্থায় যে হাদিসটি বলছে "আহলুল কিতাবদের থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই", তা কি আমাদের জন্য কুরআনের তাফসির করার সময় আহলুল কিতাবদের অনুসরণ করা এবং তারা যা যা বলেছে তা-ই ব্যক্ত করা বৈধ করে—যদিও তা কোনো লাভ বা ক্ষতির কারণ নয়, কিন্তু তা কুরআনের তাফসিরের সাথে সম্পর্কিত হয়ে যায় এবং আলেমগণ তা এমনভাবে বর্ণনা করেন যেন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) কোনো বিষয়? অথচ এর কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি (أصل) নেই।

হাদিসটি কি আমাদের জন্য এটি বর্ণনা করা বৈধ করে যে, মৃত্যু একটি দুম্বার আকৃতিতে আসবে এবং জীবন একটি ঘোড়ার আকৃতিতে আসবে, যেমনটি তাফসিরের কিছু কিতাবে ইবনে আব্বাসের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে?!

হাদিসটি কি আমাদের জন্য এটি বৈধ করে যে, আমরা কুরআনকে তাদের কিতাব থেকে বর্ণিত তাদের অবস্থা ও বিস্ময়কর ঘটনাবলি দ্বারা ব্যাখ্যা করব? আর এর অর্থ কি এই হবে যে, আমাদের কাছে তাদের কথা ছাড়া নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ (سند) না থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের সত্যায়ন করছি?

আমি মনে করি... না। কখনোই না... কারণ রাসূল এ বিষয়ে বলেছেন: (তোমরা তাদের সত্যায়ন করো না এবং মিথ্যায়নও করো না), তবে তোমরা শুনতে পারো, কিন্তু কোনো মন্তব্য করো না এবং সতর্ক থেকো। তাদের সত্যায়ন করো না, কারণ তাদের সত্যায়ন করা ঝুঁকিপূর্ণ; আবার তাদের মিথ্যায়নও করো না, কারণ তা হয়তো এমন বিবাদ ও মতভেদের দিকে নিয়ে যাবে যার কোনো প্রয়োজন তোমাদের নেই। আর হতে পারে বিষয়টি সঠিক (صحيح), ফলে তোমরা তোমাদের অজান্তেই সঠিক (صحيح) বিষয়কে অস্বীকার করে বসবে। আর এটিই হলো জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে ইনসাফের চূড়ান্ত রূপ এবং নিরপেক্ষতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।

আর আমাদের নিকট—উভয় হাদিস গ্রহণের নিমিত্তে—এটি বলা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই যে: এর অর্থ হলো তাদের থেকে ঐসব বিষয়ে বর্ণনা করো যেসব ক্ষেত্রে তাদের বর্ণনা তোমাদের কিতাব ও তোমাদের নবীর সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। হাদিসটি যেন আমরা প্রত্যাখ্যান না করি, সেজন্য এটিই হলো আমাদের গ্রহণ করার সর্বোচ্চ সীমা।

(খণ্ড: ১) ইলমুত তাফসীর কাইফা নাশা-আ ওয়া তাতাউওয়ারা হাত্তা ইনতাহা ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وحينئذ لا يمكن الاستدلال بهذا الحديث على إباحة أخذ معلومات عن الإسرائيليين، لتفسير أو توضيح ما سكت القرآن عن بيانه

 

‌‌[احتلال اسرائيلى]

لقد احتل الإسرائيليون فى وقت مبكر أدمغة كثير من المفسرين، وأفسدوا علينا صفاء القرآن، وصفاء الأفكار، وشغلوا علماءنا بأقاويلهم وأضاعوا عليهم وعلينا أوقاتنا، وكانوا هم السبب فى كثير من الخرافات التى تحتل أدمغة المسلمين فى كل مكان وزمان.

إنه احتلال سطا على الفكر الإسلامى أيام ازدهاره، ودام قرونا، وسيدوم، إن لم نتدارك الأمر وننقى كتبنا ونخلصها من هذا الاحتلال .. وما أخطره من احتلال .. وما أشد فتكه بالعقول!! ولعل مجمع البحوث يكمل ما بدأه فى هذه الناحية ..

ترانى قد وقفت كثيرا مع ابن عباس. ولا بأس فى ذلك .. بل الأمر معه قد يستحق وقفة أطول، وتشريحا أكثر فى كتاب ضخم ودراسة أعمق، لأنه عند كل المفسرين العمود الفقرى فى التفسير، حتى الذين عرف عنهم أو عن كتبهم (التفسير بالرأى لا بالمأثور) تجدهم يعنون بذكر بعض الروايات فى تفسير الآية، وفى مقدمتها ما يروى عن ابن عباس، لما ذكرنا من الهالة العلمية التى أحيط بها.

فهو حبر هذه الأمة وترجمان القرآن، دعا له الرسول: فقال «اللهم فقهه فى الدين وعلمه التأويل» فلماذا لا نأخذ عنه؟

وليس لنا من قصد فى ذلك .. إلا أن يتحرر القارئ من بريق الرواية عن ابن عباس، وألا يحشو بها فكره. قبل أن ينظر إليها نظرة الناقد البصير .. فإن ابن عباس مظلوم فى الكثير مما أسند إليه ..

 

‌‌[ليس تفسيره]

حتى تفسيره الذى عرف باسمه والمسمى (تنوير المقياس من تفسير ابن عباس) المطبوع المتداول والذى عنى بجمعه العلامة مجد الدين الفيروزآبادي
এমতাবস্থায়, কুরআনে যা স্পষ্ট করা হয়নি তা ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণের জন্য ইসরায়েলিদের থেকে তথ্য গ্রহণ করার বৈধতার স্বপক্ষে এই হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করা সম্ভব নয়।

 

‌‌[ইসরায়েলি দখলদারিত্ব]

ইসরায়েলিরা ইতিহাসের প্রথম দিকেই অনেক মুফাসসিরের মস্তিষ্ক দখল করে নিয়েছিল এবং আমাদের কাছে কুরআনের বিশুদ্ধতা ও চিন্তাধারার শুভ্রতাকে কলুষিত করেছিল। তারা আমাদের আলেমদের তাদের উপকথা দ্বারা ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল এবং তাদের ও আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছিল। তারাই ছিল অনেক রূপকথা ও কুসংস্কারের মূল কারণ, যা সব সময় ও সব স্থানে মুসলমানদের মস্তিষ্ক দখল করে আছে।

এটি এমন এক দখলদারিত্ব যা ইসলামের সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষের যুগে ইসলামি চিন্তাধারার ওপর থাবা বসিয়েছিল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে এবং চলতে থাকবে—যদি না আমরা বিষয়টি অনুধাবন করি এবং আমাদের গ্রন্থসমূহকে এই দখলদারিত্ব থেকে সংশোধন ও মুক্ত না করি। কতই না বিপজ্জনক এই দখলদারিত্ব এবং এটি বুদ্ধিবৃত্তির জন্য কতই না মারাত্মক বিনাশকারী! সম্ভবত 'মাজমাউল বুহুস' (গবেষণা একাডেমি) এই ক্ষেত্রে তারা যা শুরু করেছে তা পূর্ণ করবে।

আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আমি ইবনে আব্বাসের বিষয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি। তাতে কোনো দোষ নেই; বরং তাঁর বিষয়টি আরও দীর্ঘ পর্যালোচনা, একটি বিশাল গ্রন্থে আরও নিখুঁত ব্যবচ্ছেদ এবং গভীরতর গবেষণার দাবি রাখে। কারণ সকল মুফাসসিরের নিকট তিনি তাফসিরের মেরুদণ্ড স্বরূপ। এমনকি যাদের সম্পর্কে বা যাদের কিতাব সম্পর্কে 'তাফসীর বির-রায়' (التفسير بالرأى) হিসেবে পরিচিত—'তাফসীর বিল-মাসুর' (التفسير بالمأثور) নয়—তাদেরকেও আয়াতের তাফসিরে কিছু বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করতে দেখা যায়, যার অগ্রভাগে থাকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত (مروى) বর্ণনাগুলো; যা মূলত তাঁর চারদিকের সেই ইলমি মহিমার কারণে যা আমরা উল্লেখ করেছি।

তিনি এই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত (حبر) এবং কুরআনের ভাষ্যকার (ترجمان القرآن)। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করে বলেছিলেন: "হে আল্লাহ, তাঁকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং তাঁকে ব্যাখ্যা বা তাফসীর (التأويل) শিক্ষা দিন।" তাহলে আমরা কেন তাঁর থেকে গ্রহণ করব না?

এ ক্ষেত্রে আমাদের উদ্দেশ্য কেবল এটাই যে, পাঠক যেন ইবনে আব্বাসের নামে প্রচলিত বর্ণনার (رواية) চাকচিক্য থেকে মুক্ত থাকেন এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখার আগে সেগুলো দিয়ে যেন নিজ চিন্তাধারাকে পূর্ণ না করেন। কারণ ইবনে আব্বাসের দিকে যা সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়েছে, তার অনেকক্ষেত্রেই তিনি মজলুম বা নির্দোষ।

 

‌‌[এটি তাঁর তাফসির নয়]

এমনকি তাঁর নামে পরিচিত ও 'তানভীরুল মিকইয়াস মিন তাফসীর ইবনে আব্বাস' নামক প্রসিদ্ধ যে তাফসিরটি বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রচলিত এবং যা আল্লামা মাজদুদ্দিন আল-ফিরোজাবাদি সংকলন করার যত্ন নিয়েছেন—