(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: -)
المعجزة القرآنية حقائق علمية قاطعة   (أحمد عمر أبو شوفة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المعجزة القرآنية حقائق علمية قاطعة

المؤلف: أحمد عمر أبو شوفة

الناشر: دار الكتب الوطنية - لييا

عام النشر: 2003

عدد الصفحات: 330

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

কুরআনের মুজিজা (المعجزة): সুনিশ্চিত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি   (আহমদ উমর আবু শুফাহ)

বিভাগ: কুরআনের ইলম (علوم القرآن) এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: কুরআনের মুজিজা (المعجزة): সুনিশ্চিত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি

লেখক: আহমদ উমর আবু শুফাহ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ - লিবিয়া

প্রকাশকাল: ২০০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ই রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة المؤلف

بسم الله الرّحمن الرّحيم يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذا دَعاكُمْ لِما يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ [الأنفال: 24].

اللهم يا مقلب القلوب ثبّت قلبي على طاعتك.

الحمد لله الّذي علم بالقلم، علم الانسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على النبي الأمي الأكرم معلم العلماء وقدوة الأتقياء والبلغاء.

الحمد لله الذي فتح عليّ بادئ ذي بدء تعلّم القرآن الكريم، وأنار بصيرتي للتدبر والتبحر في حروفه وكلماته، في آياته وسوره، ترتيبا وتركيبا، وخصّني به شرفا في تدريسه وتدارسه، سائحا بمعانيه دون سواه من سائر العلوم المستحدثة التي اثقلت كاهل الأجيال بعدا عن القرآن الكريم وبعد! فشاء القدر أن سهل الله عز وجل عليّ بعد مضي أربعة عشر قرنا وأربعة عشر سنة على الهجرة النبوية الشريفة تحديدا من خلال القواعد الثابتة والأسس البنّاءة الموجودة في كتابه العزيز على إضاءة ما استفدته من أنوار فكانت الحروف النورانية المقطعة بفواتح السور القرآنية هي الهدف على ظهور هذه المعجزة الكبرى وفاء وإخلاصا لله العلي القدير.

وكما شاءت الصدف أن أجزلت بخيراتها عليّ منذ الولادة على أن يكون مجموع حروف تسميتي ولقبي قد آخت هذه الحروف النورانية عددا.

راجيا من الله أن يكون عملي خالصا لوجهه الكريم وأن يثبتنا بالقول الثابت في الدارين.
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে মুমিনগণ! যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও। আর জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং নিশ্চয়ই তাঁরই নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে। [আল-আনফাল: ২৪]

হে আল্লাহ! হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যের ওপর দৃঢ় রাখুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক অত্যন্ত সম্মানিত উম্মী নবীর ওপর, যিনি জ্ঞানীদের শিক্ষক এবং মুত্তাকী ও প্রাঞ্জলভাষীদের আদর্শ।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রারম্ভেই আমার জন্য পবিত্র কুরআন শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করেছেন এবং এর হরফ ও শব্দাবলি, আয়াত ও সূরাসমূহের বিন্যাস ও কাঠামোর ওপর চিন্তা-গবেষণা ও ব্যুৎপত্তি অর্জনের জন্য আমার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন। তিনি আমাকে পবিত্র কুরআনের পাঠদান ও পঠন-পাঠনের মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। আমি এর অর্থসমুদ্রে বিচরণ করেছি সেই সব আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ব্যতিরেকেই, যা প্রজন্মের কাঁধে কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। অতঃপর কথা হলো: হিজরতের চৌদ্দশত চৌদ্দ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর মহাগ্রন্থের সুদৃঢ় নিয়মাবলী ও গঠনমূলক ভিত্তিসমূহের মাধ্যমে আমি যে নূর হাসিল করেছি, তা আলোকিত করা আমার জন্য সহজ হয়েছে। আর কুরআনী সূরাসমূহের প্রারম্ভে বিদ্যমান নূরানী বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ (الحروف المقطعة) এই মহা মুজিযা প্রকাশের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও একনিষ্ঠতার স্মারক।

যেমনটি দৈবক্রমে নির্ধারিত ছিল যে, জন্মের পর থেকেই আমার ওপর কল্যাণের ধারা বর্ষিত হয়েছে, যার ফলে আমার নাম ও উপাধির মোট অক্ষর সংখ্যা এই নূরানী অক্ষরসমূহের সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন আমার এই কাজ একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হয় এবং তিনি যেন আমাদের উভয় জাহানে সুদৃঢ় বাণীর ওপর অবিচল রাখেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
1 - روى مسلم عن أبي موسى قال: قال رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم:

«مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن مثل الأترجّة ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن مثل التمرة لا ريح لها وطعمها حلو، ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن مثل الحنظلة لا ريح لها وطعمها مر».

2 - وروى البخاري عن عثمان بن عفان رضي الله عنه عن النبي محمد صلى الله عليه وسلم قال: «خيركم من تعلّم القرآن وعلّمه».

3 - وعن علي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

«ستكون فتن كقطع الليل المظلم»، قلت: يا رسول الله وما المخرج منها؟

قال: «كتاب الله تبارك وتعالى فيه نبأ من قبلكم وخبر ما بعد كم وحكم ما بينكم هو الفصل ليس بالهزل من تركه من جبار قصمه الله ومن ابتغى الهدى في غيره أضلّه الله هو حبل الله المتين ونوره المبين والذكر الحكيم وهو الصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء ولا تلتبس به الألسنة ولا تتشعب معه الآراء ولا يشبع منه العلماء ولا يمله الأتقياء ولا يخلق على كثرة الرد ولا تنقضي عجائبه». رواه الترمذي.

4 - القرآن الكريم هو المعجزة الكبرى الخالدة:

الشأن في هذا الإعجاز هو الشأن في خلق الله جميعا وهو مثل صنع الله في كل شيء وصنع الناس …

إن هذه التربة الأرضية مؤلفة من ذرات معلومة الصفات.

فإذا أخذ الناس هذه الذّرّات فقصارى ما يصوغونه منها لبنة، أو آجرة، أو آنية، أو أسطوانة، أو هيكلا، أو جهازا كائنا في دقته ما يكون، ولكن الله المبدع يجعل من تلك الذّرّات حياة، حياة نابضة خافقة تنطوي على ذلك السر الإلهي المعجز … وهكذا القرآن … حروف وكلمات يصوغ منها
১ - ইমাম মুসলিম আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

«যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার ঘ্রাণও চমৎকার এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো সুগন্ধি লতার মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত।»

২ - আর ইমাম বুখারি উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।»

৩ - আর আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:

«শীঘ্রই অন্ধকার রজনীর ঘনঘটার ন্যায় নানাবিধ ফিতনা আসবে», আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

তিনি বললেন: «আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাব। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির ফয়সালা। এটি একটি চূড়ান্ত মীমাংসাকারী কিতাব, কোনো উপহাস নয়। কোনো স্বৈরাচারী অহংকারবশত একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি একে ছেড়ে অন্য কোথাও হিদায়াত অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, তাঁর সুস্পষ্ট জ্যোতি এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ। এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব, যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, জিহ্বা অস্পষ্ট হয় না এবং বিভিন্ন মতাদর্শ একে বিভক্ত করতে পারে না। আলিমগণ এটি পাঠে তৃপ্ত হন না, মুত্তাকিরা এতে ক্লান্ত হন না এবং বারবার পাঠেও এটি পুরাতন হয় না, আর এর বিস্ময়কর রহস্যের শেষ নেই।» এটি তিরমিযি বর্ণনা করেছেন।

৪ - আল-কুরআনুল কারীম হলো এক মহান ও চিরন্তন অলৌকিক নিদর্শন (মুজিজা):

এই অলৌকিকত্বের বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর যাবতীয় সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের ন্যায়; আর তা হলো সবকিছুর ক্ষেত্রে আল্লাহর সৃজনশৈলী এবং মানুষের তৈরি জিনিসের মধ্যকার পার্থক্যের মতো …

নিশ্চয়ই এই পার্থিব মাটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কিছু অণু-পরমাণু দ্বারা গঠিত।

মানুষ যখন এই অণু-পরমাণুগুলো গ্রহণ করে, তখন তারা বড়জোর তা দিয়ে ইট, মাটির পাত্র, স্তম্ভ, কোনো কাঠামো কিংবা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কোনো যন্ত্র তৈরি করতে পারে; কিন্তু নিপুণ স্রষ্টা আল্লাহ সেই অণু-পরমাণুগুলো থেকেই প্রাণের সঞ্চার করেন—এমন এক স্পন্দিত ও প্রকম্পিত জীবন যা সেই ঐশ্বরিক অলৌকিক রহস্য ধারণ করে … কুরআনও ঠিক তেমনি … এটি এমন কিছু বর্ণ ও শব্দ দ্বারা গঠিত যা থেকে তিনি …
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
البشر كلاما وأوزانا ويجعل منها الله قرآنا وفرقانا، والفرق بين صنع البشر وصنع الله من هذه الحروف والكلمات، هو: الفرق ما بين الجسد الخامد والروح النابض … ، هو: الفرق ما بين صورة الحياة وحقيقة الحياة! (1) [اه]

5 - القرآن الكريم لا تنقضي عجائبه ولا يشبع منه العلماء ولهذا سأبيّن بعض وجوه إعجاز القرآن الكريم وأدعو الله سبحانه وتعالى أن يوفقني للصواب ويبعدني عن الزلل والخطأ إنه نعم المولى ونعم البصير.

وإني أشكر السيد الدكتور أحمد دللو صاحب كتاب معجزة الله الكبرى في التفسير الحسابي للقرآن الكريم على مقدمته ودراسته وتعليقه على هذا الكتاب مما زاده دقة وعلما حيث وضعه على معاييره الحسابية.

كما وأني أشكر شيخنا الجليل محمود دللو على ما قام به من جهد كبير حتى ظهر هذا الكتاب في مكانه الصحيح.

الشيخ أحمد أبو شوفة

--------------------------------------------

(1) في ظلال القرآن- الجزء الأول صفحة: (38 - 39).
মানুষ কথা ও ছন্দ তৈরি করে, আর আল্লাহ তা থেকে কুরআন ও ফুরকান তৈরি করেন। এই অক্ষর ও শব্দসমূহ দ্বারা মানুষের কাজ আর আল্লাহর কাজের মধ্যকার পার্থক্য হলো: নিথর দেহ ও স্পন্দিত প্রাণের মধ্যকার পার্থক্য ... , তা হলো: জীবনের অবয়ব ও জীবনের প্রকৃত হাকিকতের মধ্যকার পার্থক্য! (১) [সমাপ্ত]

৫ - আল-কুরআনুল কারিমের বিস্ময়কর বিষয়াবলি কখনো শেষ হবে না এবং আলিমগণ তা থেকে কখনো পরিতৃপ্ত হবেন না। এই কারণে আমি আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) কিছু দিক বর্ণনা করব এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে সঠিক বিষয়ের তাওফিক দান করেন এবং বিচ্যুতি ও ভুল থেকে দূরে রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক ও উত্তম সাহায্যকারী।

আমি ডক্টর আহমদ দাল্লু-এর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি 'মুজিজাতুল্লাহিল কুবরা ফিত তাফসিরিল হিসাবি লিল কুরআনিল কারিম' গ্রন্থের প্রণেতা; এই গ্রন্থে তাঁর ভূমিকা, গবেষণা ও টীকা প্রদানের জন্য, যা একে অধিকতর নির্ভুল ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করেছে, যেহেতু তিনি একে গাণিতিক মানদণ্ডে বিন্যস্ত করেছেন।

সেই সাথে আমি আমাদের মহান শায়খ মাহমুদ দাল্লু-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর সুমহান প্রচেষ্টার জন্য, যার ফলে এই গ্রন্থটি তার যথাযথ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

শায়খ আহমদ আবু শুফাহ

--------------------------------------------

(১) ফি জিলালিল কুরআন- প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: (৩৮ - ৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ (2) الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (3) مالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5) اهْدِنَا الصِّراطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِراطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)

 

‌‌مقدمة الدكتور أحمد دللو

الحمد لله حق حمده والصلاة والسلام على من لا نبيّ بعده سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم رسول رب العالمين وخاتم النبيين وسيد الخلق أجمعين وعلى آله وأصحابه

وسلم تسليما كثيرا دائما إلى أبد الآبدين.

أما بعد! فإن الحديث عن القرآن يطيب سماعه، ويحلو مجلسه، ويأنس مريده، وتسمو بروح المؤمن قداسته، وترشد القلوب هدايته، وتقوم السلوك مواعظه، وترهف المشاعر معانيه وكلماته.

فهو كتاب الله الحق، هو كتاب هداية، كتاب مواعظ، كتاب تعبدي، قراءة كل حرف منه تورث صاحبها حسنة من الله والحسنة بعشر أمثالها.

وهو كتاب قصصي وعبر يضرب الأمثال للناس فهو بحق كتاب الله الكريم الذي لم يترك أمرا من أمور الدنيا والآخرة إلّا أتى عليه تصديقا لقوله تعالى: ما فَرَّطْنا فِي الْكِتابِ مِنْ شَيْءٍ [الأنعام: 38]، وهذا الكتاب لا تنتهي عجائبه مهما طال الزمن وتعاقبت الدهور ومرّت العصور.

وبعد! فقد طلب مني الشيخ الجليل الأستاذ أحمد عمر أبو شوفة أن أصوغ مقدمة لكتابه المعجزة الكبرى فلبيت طلبه مع اعترافي بقلة زادي، وعجزي أمام بلاغة هذا المؤلّف ودقة معانيه وغزارة علمه، راجيا من الله تعالى أن يجعله كتابا نافعا للأجيال الحالية والقادمة من المسلمين؛ ولقد قرأت هذا الكتاب بتأمل وتمعّن وتعليقي عليه بما يلي:
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (২)। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (৩)। বিচার দিবসের মালিক (৪)। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি (৫)। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬)। তাঁদের পথ যাঁদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদের পথ নয় যারা অভিশপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট (৭)।

 

‌‌ডক্টর আহমদ দাল্লুর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর প্রশংসার হকদার এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি বিশ্বজগতের রবের প্রেরিত রাসূল, নবীদের সমাপ্তিকারী এবং সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা; এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের (صحابة) ওপরও

সর্বদা চিরকাল অবধি অবারিত শান্তি ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর! নিশ্চয়ই কুরআন সম্পর্কে আলোচনা শ্রবণ করতে ভালো লাগে, এর মজলিস মিষ্টতা দান করে, এর অন্বেষণকারী প্রশান্তি লাভ করে, এর পবিত্রতা মুমিনের আত্মাকে সমুন্নত করে, এর হিদায়াত অন্তরকে পরিচালিত করে, এর উপদেশসমূহ আচরণকে সংশোধন করে এবং এর অর্থ ও শব্দাবলি অনুভূতিকে তীক্ষ্ণ করে।

এটি আল্লাহর সত্য কিতাব; এটি হিদায়াতের কিতাব, উপদেশের কিতাব, ইবাদতের কিতাব। এর প্রতিটি অক্ষর পাঠ করার বিনিময়ে পাঠকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি করে নেকি লাভ করে এবং একটি নেকির দশগুণ প্রতিদান দেওয়া হয়।

এটি কাহিনী ও শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তের কিতাব যা মানুষের জন্য উদাহরণ পেশ করে। এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সেই সম্মানিত কিতাব, যা দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোনো বিষয় বাদ দেয়নি যার সম্পর্কে আলোকপাত করেনি; মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যয়নস্বরূপ: ‘আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি’ [সূরা আল-আনআম: ৩৮]। এই কিতাবের বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হওয়ার নয়, কাল যতই অতিবাহিত হোক এবং যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হোক।

অতঃপর! শ্রদ্ধেয় শাইখ উস্তাদ আহমদ উমর আবু শুফাহ আমাকে তাঁর ‘আল-মু'জিযাতুল কুবরা’ নামক কিতাবটির একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাই আমি আমার স্বল্প পুঁজি এবং এই লেখকের অলঙ্কারপূর্ণ শৈলী, সুক্ষ্ম অর্থ ও জ্ঞানের গভীরতার সামনে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করা সত্ত্বেও তাঁর অনুরোধ রক্ষা করেছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য একটি উপকারী কিতাব হিসেবে কবুল করেন। আমি এই কিতাবটি গভীর মনোযোগ ও অভিনিবেশের সাথে পাঠ করেছি এবং এর ওপর আমার মন্তব্য নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
1 - الكتاب في غاية الدقة والإيجاز والعلم والفائدة حيث أفاض فيه عن معاني القرآن الكريم ومعجزاته، وقدم الشواهد الكثيرة من القرآن الكريم والسنة المطهرة.

2 - أتى تعريفه للمعجزة القرآنية كافيا شافيا، وضرب الأمثلة عن المعجزات وأنواعها وشروطها، وبيّن وجوه إعجاز القرآن الكريم بشكل علمي جليّ واضح، وضرب الأمثلة الكثيرة على ذلك من القرآن الكريم ومن الحقائق العلمية الكونية اليقينية.

3 - تكلّم عن عبارات القرآن الكريم ومتانة تراكيبه، وفصاحته، ونظمه البديع، واتساق نظرياته، وأحكامه، والوفاء بكل ما وعد به فجاء حقا وصدقا كفلق الصبح، وتكلّم عن تأثير القرآن وفاعليته في النفوس والأفئدة، وتكلّم عن سموّ تشريعه وشموله ومرونة معاييره، وتكلّم عن الواقعية والمثالية في التشريع الإسلامي، وعن مبدأ العدل والإحسان، والوسطية والاعتدال، وتكلّم عن التصوير والتشخيص الحيّ في القرآن، وعن الإعجاز في رسم القرآن وأشكاله وأنواعه وموافقته للقرآن، وأنّ رسم القرآن هو توقيفي.

وتكلّم عن الإعجاز العددي في القرآن وتكلّم عن الأعداد بشكل مفصل:

- الأعداد المفردة من: 1 - 10.

- الأعداد المركبة من: 11 - 19.

- ألفاظ العقود من: 20 - 90، وتكلّم عن المئات والألوف.

وتكلّم عن الكسور، وتكلّم عن بعض الأحكام المستنتجة من الأعداد وقدم الأمثلة الكثيرة على ذلك منها:
1 - বইটি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা, সংক্ষিপ্ততা, জ্ঞান এবং উপযোগিতায় ভরপুর; যেখানে তিনি পবিত্র কুরআনের অর্থ ও এর মুজিজা (معجزة) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ থেকে প্রচুর প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

2 - কুরআনের মুজিজার (معجزة) বিষয়ে তাঁর দেওয়া সংজ্ঞা অত্যন্ত পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক। তিনি মুজিজা (معجزة), এর প্রকারভেদ ও শর্তাবলি সম্পর্কে উদাহরণ পেশ করেছেন এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি পবিত্র কুরআন এবং মহাজাগতিক সুনিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ থেকে এ বিষয়ে অনেক উদাহরণ দিয়েছেন।

3 - তিনি পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি, এর বাক্যবিন্যাসের দৃঢ়তা, এর প্রাঞ্জলতা (فصاحة), অপূর্ব শৈলী (نظم), এর মতবাদসমূহের সামঞ্জস্য, এর বিধানসমূহ (أحكام) এবং এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতির পূর্ণতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা ভোরের আলোর মতো সত্য ও ধ্রুব হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মানুষের আত্মা ও হৃদয়ে কুরআনের প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলেছেন। এছাড়াও তিনি ইসলামি শরিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব, এর ব্যাপকতা ও মানদণ্ডের নমনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ইসলামি শরিয়তে বাস্তববাদ ও আদর্শবাদ, ন্যায়বিচার ও ইহসানের মূলনীতি এবং ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি কুরআনের জীবন্ত চিত্রায়ন ও রূপায়ন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কুরআনের লিখনরীতি (رسم), এর রূপ ও প্রকারভেদ এবং কুরআনের সাথে এর সামঞ্জস্যতা এবং কুরআনের লিখনরীতি যে তাওকিফি (توقيفي) বা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সে বিষয়েও আলোচনা করেছেন।

তিনি কুরআনের সংখ্যার অলৌকিকত্ব (إعجاز عددي) এবং সংখ্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন:

- ১ থেকে ১০ পর্যন্ত একক সংখ্যাসমূহ।

- ১১ থেকে ১৯ পর্যন্ত যৌগিক সংখ্যাসমূহ।

- ২০ থেকে ৯০ পর্যন্ত দশকবাচক শব্দসমূহ এবং শত ও সহস্র সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।

তিনি ভগ্নাংশ এবং সংখ্যাগুলো থেকে প্রাপ্ত কিছু বিধান (أحكام) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে অনেক উদাহরণ পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أ- مثال: عمر النّبي محمد صلى الله عليه وسلم ثلاث وستون سنة مستنبط من قوله تعالى:

وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْساً إِذا جاءَ أَجَلُها وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِما تَعْمَلُونَ [المنافقون: 11] فهذه السورة المنافقون هي رأس ثلاث وستين سورة، وآخر آية منها هي الآية 11.

وفي كتابي معجزة الله الكبرى في التفسير الحسابي للقرآن الكريم، أثبتّ صحة هذه الآية بالحساب والتي تعني نبيّنا محمدا صلى الله عليه وسلم بالذات، ومن النص القرآني التالي المأخوذ من الآية المشار إليها أعلاه.

وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْساً إِذا جاءَ أَجَلُها .....

8+ 1+ 1+ 11+ 6+ 5+ 4 36 0 أي: محمد صلى الله عليه وسلم وعبارة: جاءَ أَجَلُها 5+ 4 9 الموت.

وذلك بعد إسقاط الرقم 12 ومضاعفته.

اللهم الطريقة الحسابية التي حسبنا بموجبها: كلنا يعلم أن حروف الهجاء بلغتنا العربية هي ثمانية وعشرون حرفا، ومرتبة بحسب الترتيب الأبجدي على الشكل التالي:

أ/ ب/ ج/ د/ هـ/ و/ ز/ ح/ ط/ ي 1/ 2/ 3/ 4/ 5/ 6/ 7/ 8/ 9/ 10 ك/ ل/ م/ ن/ س/ ع/ ف/ ص/ ق 20/ 30/ 40/ 50/ 60/ 70/ 80/ 90/ 100 8/ 6/ 4/ 2/ 0/ 10/ 8/ 6/ 4
ক- উদাহরণ: নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তেষট্টি বছর—এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে আহরিত:

“আর যখন কারো নির্ধারিত সময় আসবে, আল্লাহ তাকে কখনোই অবকাশ দেবেন না। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।” [আল-মুনাফিকুন: ১১]। এই সূরা আল-মুনাফিকুন হলো তেষট্টিটি সূরার শীর্ষ, আর এর সর্বশেষ আয়াত হলো ১১ নম্বর আয়াত।

এবং আমার রচিত গ্রন্থ ‘মুজিজাতুল্লাহিল কুবরা ফিত তাফসিরিল হিসাবিল কুরআনিল কারিম’-এ আমি গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে এই আয়াতের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করেছি, যা বিশেষভাবে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নির্দেশ করে এবং তা উপরে উল্লিখিত আয়াতের নিম্নোক্ত কুরআনিক পাঠ (نص) থেকে গৃহীত।

“আর যখন কারো নির্ধারিত সময় আসবে, আল্লাহ তাকে কখনোই অবকাশ দেবেন না...”

৮+ ১+ ১+ ১১+ ৬+ ৫+ ৪ ৩৬ ০ অর্থাৎ: মুহাম্মদ (সা.) এবং “জায়া আজালুহা” (তার নির্ধারিত সময় আসবে) বাক্যাংশটি: ৫+ ৪ ৯ মৃত্যু।

আর এটি ১২ সংখ্যা এবং এর গুণিতকসমূহ বর্জনের পরবর্তী হিসাব।

হে আল্লাহ, যে গাণিতিক পদ্ধতিতে আমরা হিসাব করেছি তা হলো: আমরা সবাই জানি যে আমাদের আরবি ভাষার বর্ণমালার অক্ষরসমূহ আটাশটি এবং আবজাদি ক্রম অনুযায়ী তা নিম্নরূপভাবে সাজানো:

আলিফ/ বা/ জিম/ দাল/ হা/ ওয়াও/ যা/ হা/ ত্বা/ ইয়া ১/ ২/ ৩/ ৪/ ৫/ ৬/ ৭/ ৮/ ৯/ ১০ কাফ/ লাম/ মিম/ নুন/ সিন/ আইন/ ফা/ সাদ/ কফ ২০/ ৩০/ ৪০/ ৫০/ ৬০/ ৭০/ ৮০/ ৯০/ ১০০ ৮/ ৬/ ৪/ ২/ ০/ ১০/ ৮/ ৬/ ৪
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ر/ ش/ ت/ ث/ خ/ ذ/ ض/ ظ/ غ 200/ 300/ 400/ 500/ 600/ 700/ 800/ 900/ 1000 8/ 0/ 4/ 8/ 0/ 4/ 8/ 0/ 4 نلاحظ أن كل حرف من حروف الهجاء له رقم حسابي، وهو ما كان يسير عليه أسلافنا من عهد سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، وكل حرف تزيد قيمته الحسابية عن الرقم 12 له قيمتان حسابيتان: كبرى وصغرى حيث استوحينا القيمة الصغرى من القيمة الكبرى للحرف، كما هو مشار إليه خارج الجدول فمثلا:

- الحرف: ك 20 إذا أسقطنا منه الرقم 12 يبقى 8.

- والحرف: ل 30 إذا أسقطنا منه الرقم 24 يبقى 6 - والحرف: م 40 نسقط منه الرقم 36 وهو من مضاعفات الرقم 12 يبقى لدينا 4 وهكذا الحال مع كافة الحروف وأرقامها، مثلا لفظ الجلالة:

الله أ 1، ل 6، اللام المشدد لّ ل ل، والمد أ 1، والحرف هـ 5 فيكون المجموع: 1+ 6+ 6+ 6+ 1+ 5 25 إذا أسقطنا منها الرقم 24 وهو من مضاعفات الرقم 12 يبقى لدينا 1.

فهذا الواحد: هو الله جل جلاله.

ب- مثال: استنبط بعض العلماء أن عدد أبواب الجنّة ثمانية من قوله تعالى: وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذا جاؤُها وَفُتِحَتْ أَبْوابُها وَقالَ لَهُمْ خَزَنَتُها سَلامٌ

عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوها خالِدِينَ

[الزمر: 73].
র/ শ/ ত/ থ/ খ/ য/ দ/ য/ গ ২০০/ ৩০০/ ৪০০/ ৫০০/ ৬০০/ ৭০০/ ৮০০/ ৯০০/ ১০০০ ৮/ ০/ ৪/ ৮/ ০/ ৪/ ৮/ ০/ ৪ আমরা লক্ষ্য করি যে, বর্ণমালার প্রতিটি বর্ণের একটি গাণিতিক মান রয়েছে এবং এটিই আমাদের পূর্বসূরিগণ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অনুসরণ করে আসছেন। প্রতিটি বর্ণ যার গাণিতিক মান ১২-এর বেশি, তার দুটি গাণিতিক মান রয়েছে: বড় এবং ছোট। আমরা বর্ণটির বড় মান থেকে ছোট মানটি গ্রহণ করেছি, যেমনটি ছকের বাইরে নির্দেশ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

- বর্ণ: কাফ ২০, যদি আমরা তা থেকে ১২ বাদ দেই তবে ৮ থাকে।

- এবং বর্ণ: লাম ৩০, যদি আমরা তা থেকে ২৪ বাদ দেই তবে ৬ থাকে। এবং বর্ণ: মীম ৪০, আমরা তা থেকে ১২-এর গুণিতক ৩৬ বাদ দিলে আমাদের কাছে ৪ থাকে। এভাবেই সকল বর্ণ ও তাদের গাণিতিক মানের বিষয়টি প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহর মহিমান্বিত নাম (লফজুল জালালাহ):

আল্লাহ: আলিফ ১, লাম ৬, তাশদীদযুক্ত লাম (ল ল), এবং মাদ্দ আলিফ ১, এবং 'হা' বর্ণটি ৫; ফলে মোট যোগফল হয়: ১+ ৬+ ৬+ ৬+ ১+ ৫ = ২৫। যদি আমরা তা থেকে ২৪ বাদ দেই যা ১২-এর একটি গুণিতক, তবে আমাদের নিকট ১ অবশিষ্ট থাকে।

সুতরাং এই এক: তিনিই মহান আল্লাহ (জাল্লা জালালুহু)।

খ- উদাহরণ: কিছু আলেম মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে জান্নাতের দরজার সংখ্যা আটটি হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছেন: "আর যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, যখন তারা জান্নাতের কাছে পৌঁছাবে এবং এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী ও পবিত্র হয়েছ, সুতরাং তোমরা এতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রবেশ করো।"

[আয-যুমার: ৭৩]।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بينما قال جل جلاله في الآية التي قبلها: فُتِحَتْ أَبْوابُها بدون الواو، وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلى جَهَنَّمَ زُمَراً حَتَّى إِذا جاؤُها فُتِحَتْ أَبْوابُها وَقالَ لَهُمْ خَزَنَتُها أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آياتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقاءَ يَوْمِكُمْ هذا قالُوا بَلى وَلكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذابِ عَلَى الْكافِرِينَ [الزمر: 71].

لأنّ قريشا التي نزل القرآن بلغتها العربيّة الفصحة كانوا إذا عدّوا قالوا:

واحد- اثنان- ثلاث- أربعة- خمسة- ستة- سبعة- وثمانية، فإذا وصلوا إلى رقم ثمانية أضافوا حرف الواو.

نعود لحساب الآية الكريمة 73 من سورة الزمر ونتأكد بشكل علمي حسابي رياضي أنّ ما ذهب إليه العلماء هو الصحيح كما هو مقرر شرعا.

نجزّئ الآية الكريمة إلى جزءين فنقول:

1 - وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً 8/ 5/ 8/ 9/ 8/ 7/ 8 53 5 المسلمون وذلك بعد إسقاط الرقم 12 ومضاعفاته من المجموع الحسابي 53، وأن الرقم المسقط هو 48 أي: 53 - 48 5.

2 - وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذا 2/ 5/ 8/ 9/ 8/ 7/ 8/ 5/ 6 جاؤُها وَفُتِحَتْ أَبْوابُها وَقالَ لَهُمْ خَزَنَتُها سَلامٌ عَلَيْكُمْ 5/ 6/ 0/ 6/ 5/ 3/ 7/ 11/ 2 طِبْتُمْ فَادْخُلُوها خالِدِينَ
যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর মহিমাময় সত্তা পূর্ববর্তী আয়াতে 'ওয়াও' (الواو) ব্যতীত 'তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হলো' (فُتِحَتْ أَبْوابُها) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন: 'আর যারা কুফরি করেছে তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে; যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে তখন তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেননি যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন এবং তোমাদেরকে এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করতেন? তারা বলবে, অবশ্যই হ্যাঁ; কিন্তু কাফিরদের ওপর আযাবের বাণী সত্য বলে সাব্যস্ত হয়েছে।' [সূরা আয-জুমার: ৭১]

কেননা কুরাইশরা, যাদের প্রাঞ্জল (الفصحة) আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তারা যখন গণনা করত তখন বলত:

এক- দুই- তিন- চার- পাঁচ- ছয়- সাত- এবং আট; ফলে যখন তারা আট সংখ্যায় পৌঁছাত তখন তারা 'ওয়াও' (الواو) হরফটি যুক্ত করত।

আমরা সূরা আয-জুমারের ৭৩ নম্বর আয়াতের হিসাবের দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি এবং বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত হই যে, আলেমগণ যে মতটি গ্রহণ করেছেন সেটিই সঠিক (الصحيح) যেমনটি শরীয়তসম্মতভাবে (شرعا) নির্ধারিত।

আমরা পবিত্র আয়াতটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করি এবং বলি:

1 - 'আর যারা তাদের রবকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে' ৮/ ৫/ ৮/ ৯/ ৮/ ৭/ ৮ ৫৩ ৫ মুসলিমগণ (المسلمون); আর এটি গাণিতিক সমষ্টি ৫৩ থেকে ১২ ও এর গুণিতকগুলো বাদ দেওয়ার পর প্রাপ্ত ফলাফল, যেখানে বর্জিত সংখ্যাটি হলো ৪৮ অর্থাৎ: ৫৩ - ৪৮ = ৫।

2 - 'আর যারা তাদের রবকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না যখন' ২/ ৫/ ৮/ ৯/ ৮/ ৭/ ৮/ ৫/ ৬ 'তারা সেখানে পৌঁছাবে এবং তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' ৫/ ৬/ ০/ ৬/ ৫/ ৩/ ৭/ ১১/ ২ 'তোমরা সুখী হয়েছ, সুতরাং এতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো' প্রবেশ করো' (خالِدِينَ)
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
7/ 7/ 11 المجموع 128 8 وذلك بعد إسقاط الرقم 12 ومضاعفاته من المجموع أي: 128 - 120 8 وهو: عدد أبواب الجنّة الثمانية.

يوجد حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وصحته ثبتت لدينا بالحساب من حساب الآية الكريمة 73 من سورة الزمر.

ثم تكلّم المؤلف عن السبع المثاني فقال:

القرآن هو مثاني الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ «أي: فاتحة الكتاب» هي مثاني، السور من البقرة إلى براءة هي مثاني، كل سور القرآن ما عدا الطّول وما دون الماءين وفوق المفصّل هي مثاني أيضا، وكذلك سورة الحج والنّمل والقصص والعنكبوت … الخ هي مثاني، والحروف المقطعة في أوائل السور المفتتحة بأحرف مثل: الم- ص- حم … هي مثاني.

وقوله عن فاتحة الكتاب أنها مثاني لأنها تثنى في كل ركعة، وقال:

ويسمّى جميع القرآن مثاني لاقتران آية الرحمة بآية العذاب، ومعنى ثنى الشيء: رد بعضه على بعض، إلى هنا انتهى كلام المؤلف.

وهذه فكرة عن المثاني وموافقتها للمنهج الحسابي الذي أسير عليه فأقول:

أ- سورة الحمد هي من المثاني كما قال عنها رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم بأحاديثه الشريفة أهمها:

1 - «الحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني والقرءان العظيم الذي أوتيته».

بالحساب: الحمد لله ربّ العالمين 11/ 0/ 0/ 4 15 3
৭/ ৭/ ১১ সর্বমোট ১২৮ ৮ এবং তা সমষ্টি থেকে ১২ সংখ্যা ও এর গুণিতকগুলো বাদ দেওয়ার পর, অর্থাৎ: ১২৮ - ১২০ = ৮; আর এটি হলো: জান্নাতের আটটি দরজার সংখ্যা।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) আমাদের নিকট সূরা আয-যুমারের ৭৩ নম্বর আয়াতের গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

অতঃপর লেখক 'সাব-উল মাছানি' (السبع المثاني) সম্পর্কে আলোচনা করে বললেন:

কুরআন হলো মাছানি (المثاني); 'আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (অর্থাৎ: ফাতিহাতুল কিতাব) হলো মাছানি (المثاني); সূরা আল-বাকারা থেকে সূরা বারাআত পর্যন্ত সূরাগুলো মাছানি (المثاني); কুরআনের সকল সূরা—দীর্ঘ সূরাসমাষ্টী (الطول), একশ আয়াতের কাছাকাছি সূরাসমূহ এবং মুফাসসাল (المفصل) পর্যায়ের উপরের সূরাসমূহ ব্যতীত—সবই মাছানি (المثاني); অনুরূপভাবে সূরা আল-হাজ্জ, আন-নামল, আল-কাসাস, আল-আনকাবুত … ইত্যাদি হলো মাছানি (المثاني); এবং যেসকল সূরার শুরুতে 'আলিফ-লাম-মীম', 'সাদ', 'হা-মীম' … এর মতো বিচ্ছিন্ন বর্ণ (المقطعة) রয়েছে, সেগুলোও মাছানি (المثاني)।

ফাতিহাতুল কিতাব সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি যে এটি 'মাছানি' (المثاني), তার কারণ হলো এটি প্রতি রাকাতে পুনঃপুনঃ পাঠ করা হয়। তিনি আরও বলেছেন:

পুরো কুরআনকেই 'মাছানি' (المثاني) বলা হয় রহমতের আয়াতের সাথে আযাবের আয়াতের সমন্বয়ের কারণে। আর কোনো কিছুকে 'ছানা' (ثنى) করার অর্থ হলো—এর একাংশকে অন্য অংশের দিকে প্রত্যাবর্তন করানো। লেখকের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

মাছানি (المثاني) সম্পর্কে এটি একটি ধারণা এবং আমি যে গাণিতিক পদ্ধতি অনুসরণ করছি তার সাথে এর সঙ্গতি তুলে ধরছি:

ক- সূরা আল-হামদ হলো মাছানি (المثاني)-এর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মর্যাদাশীল হাদিসসমূহে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১ - "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন হলো সাতটি পুনঃপুনঃ পঠিত আয়াত (السبع المثاني) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।"

গাণিতিক হিসেবে: আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ১১/ ০/ ০/ ৪ ১৫ ৩
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذلك بعد إسقاط الرقم 12 منها.

كلمة: هي 3 عبارة: السبع المثاني 7+ 8 15 3 عبارة:

«هي السبع المثاني والقرءان العظيم الّذي أوتيته».

3+ 7+ 8+ 6+ 11+ 7+ 3+ 6 المجموع 51 3 وذلك بعد إسقاط الرقم 12 ومضاعفاته من المجموع.

يلاحظ مما تقدم أنّ:

الحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني هي السبع المثاني والقرءان العظيم الذي أوتيته 3.

أيّ إن كل فقرة من فقرات هذا الحديث الرقم الحسابي 3 السبع المثاني؛ فمعنى ذلك أن الحمد لله رب العالمين، أيّ إنّ الفاتحة، هي إحدى معاني السبع المثاني التي سترد في هذا الكتاب.

ج- الحروف المقطعة في أوائل السور المفتتحة بأحرف نورانية عددها أربعة عشر حرفا، قال أيضا: إنها من السبع المثاني.

حيث إن عبارة: سبعا من المثاني 1/ 10/ 8 19 7.

وطالما المثنّى 2 أي إن مثنى الواحد 2، ومثنى العدد 5 10 أي 2* 5 10، ومثنى العدد 7 14، أي: 2* 7 14، أي: عدد 14 هي الحروف المقطعة التي افتتحت بها بعض سور القرآن الكريم.

- ثمّ تكلّم عن نزول القرآن الكريم على سبعة أحرف وقال: إن الأحرف السبعة هي غير القراءات السبعة، وأشار إلى أنها هي الحروف
এবং এটি তা থেকে ১২ সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পর।

শব্দ: 'হিয়া' (هي) ৩ বাক্য: সাবউিল মাসানি (السبع المثاني) ৭+ ৮ ১৫ ৩ বাক্য:

«তা হলো সাবউিল মাসানি (السبع المثاني) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।»

৩+ ৭+ ৮+ ৬+ ১১+ ৭+ ৩+ ৬ মোট ৫১ ৩ এবং এটি মোট যোগফল থেকে ১২ সংখ্যাটি এবং এর গুণিতকগুলো বাদ দেওয়ার পর।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে লক্ষ্য করা যায় যে:

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন হলো সাবউিল মাসানি (السبع المثاني), তা হলো সাবউিল মাসানি (السبع المثاني) ও মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে ৩।

অর্থাৎ এই হাদিসের প্রতিটি অনুচ্ছেদের গাণিতিক সংখ্যা হলো ৩ সাবউিল মাসানি (السبع المثاني); এর অর্থ এই যে, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন অর্থাৎ ফাতিহা হলো সাবউিল মাসানি (السبع المثاني) এর সেই অর্থগুলোর একটি যা এই কিতাবে সামনে আসবে।

গ- নূরানি অক্ষর দ্বারা শুরু হওয়া সূরাগুলোর শুরুতে থাকা বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ (الحروف المقطعة) যেগুলোর সংখ্যা চৌদ্দটি, তিনি এ সম্পর্কেও বলেছেন: এগুলো সাবউিল মাসানি (السبع المثاني) এর অন্তর্ভুক্ত।

যেহেতু 'সাবআন মিনাল মাসানি' (سبعا من المثاني) এই বাক্যাংশটি ১/ ১০/ ৮ ১৯ ৭।

আর যেহেতু দ্বিবচন (المثنى) বলতে ২ বোঝায় অর্থাৎ একের দ্বিগুণ ২, এবং ৫ সংখ্যার দ্বিগুণ ১০ অর্থাৎ ২* ৫ ১০, এবং ৭ সংখ্যার দ্বিগুণ ১৪ অর্থাৎ ২* ৭ ১৪, অর্থাৎ ১৪ সংখ্যাটি হলো সেই বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ (الحروف المقطعة) যা দিয়ে পবিত্র কুরআনের কিছু সূরা শুরু হয়েছে।

- অতঃপর তিনি সাত হরফে (سبعة أحرف) কুরআন অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: এই সাত হরফ (الأحرف السبعة) সাত কেরাআত (القراءات السبعة) থেকে ভিন্ন; এবং তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এগুলোই হলো সেই বর্ণসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأربعة عشر التي هي في أوائل السور والتي قال عنها: هي من السبع المثاني.

- كما أنه تكلّم عن فواتح السور القرآنية وحروف التهجي النورانية وفي ابتداءاتها وفي عددها وأنواعها ومعانيها.

- وتكلّم عن علم المبهمات في القرآن الكريم وما هي الحكمة من الإبهام وأنواعه وفائدته وتعميمه وتعظيمه بالوصف الكامل دون الاسم كقوله تعالى في سورة النور الآية 22:

- وَلا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي 6/ 7/ 9/ 8/ 5/ 6/ 4/ 3/ 4/ 11 - الْقُرْبى وَالْمَساكِينَ وَالْمُهاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلْيَعْفُوا 10/ 2/ 10/ 6/ 6/ 1/ 11 - وَلْيَصْفَحُوا أَلا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ.

3/ 8/ 0/ 3/ 6/ 1/ 6/ 7/ 2/ 2 المجموع 3 أبو بكر 9+ 6 3 وذلك بعد إسقاط الرقم 12 فقد نزلت هذه الآية في أبي بكر الصديق رضي الله عنه حين حلف ألّا ينفع مسطح بن أثاثة بنافعة أبدا بعد ما قال في عائشة في حديث الإفك.

- وتكلّم المؤلف عن معجزات متفرقة من القرآن الكريم منها سبب تصريحه باسم مريم من النساء وعدم ذكر غيرها من النساء، ولماذا ذكر اسم زيد بن حارثة من المسلمين ولم يذكر غيره.

- وتحدث عن الكلمات غير العربية في القرآن هل هي عربية أم لا واختلاف الأئمة في ذلك وتوسع فيها وأجاد.
সূরার শুরুতে অবস্থিত সেই চৌদ্দটি (হরফ), যার সম্পর্কে তিনি বলেছেন: এগুলো সাবউল মাসানি (السبع المثاني)-এর অন্তর্ভুক্ত।

- একইভাবে তিনি কুরআনের সূরাসমূহের প্রারম্ভিক অংশ (فواتح السور), নূরানি বর্ণমালা (حروف التهجي), এগুলোর সূচনা, সংখ্যা, প্রকারভেদ এবং অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

- তিনি পবিত্র কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াদির জ্ঞান (علم المبهمات) এবং এই অস্পষ্ট রাখার নেপথ্যে হিকমত বা প্রজ্ঞা কী, এর প্রকারভেদ, উপকারিতা, সাধারণীকরণ এবং নাম উল্লেখ না করে পূর্ণ গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে মহিমান্বিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন সূরা আন-নূরের ২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

- "তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের দান করবে না বলে কসম না খায়; তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

৩/ ৮/ ০/ ৩/ ৬/ ১/ ৬/ ৭/ ২/ ২ মোট ৩ আবু বকর ৯+ ৬ ৩ এবং এটি ১২ সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পর। এই আয়াতটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর শানে নাযিল হয়েছে, যখন তিনি আয়েশা (রা.)-এর ব্যাপারে ইফকের হাদিসের ঘটনায় লিপ্ত হওয়ার পর কসম খেয়েছিলেন যে, মিসতাহ বিন উসাসাহ-কে কখনো কোনো উপকার করবেন না।

- লেখক পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন মুজিজা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের মধ্যে কেন কেবল মারইয়াম-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্য কোনো নারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি; আর মুসলমানদের মধ্যে কেন কেবল যায়েদ বিন হারিসাহ-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।

- তিনি কুরআনে ব্যবহৃত অনারব শব্দগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন—সেগুলো কি আসলে আরবি নাকি অনারব এবং এ বিষয়ে ইমামগণের মতভেদ নিয়ে তিনি বিস্তারিত এবং চমৎকার আলোকপাত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
- وتحدث عن القرآن والشعر ومن هم الشعراء في القرآن، وتحدث عن حكم الشعر وإباحته ومكروهيته وتحريمه ورأي رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم بالشعر حيث قال: «حسن الشعر كحسن الكلام وقبيحه كقبيح الكلام» ثم تكلّم عن آراء علماء المسلمين بالنسبة للشعر.

ثم قال المؤلف إنّ أوّل ما نزل من القرآن الكريم هو الألف لقوله تعالى: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ، وآخر ما نزل من القرآن هو الألف أيضا حيث قال تعالى: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً [المائدة: 3].

وقد قمت بحساب من أول ما نزل من القرآن الكريم وآخر ما نزل من القرآن الكريم فوجدت:

أ- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) 2/ 7/ 8/ 3/ 10// 10/ 1/ 6/ 8/ 2/ 6/ 8/ 4 الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ (5).

3/ 2/ 11/ 2/ 1/ 5/ 10/ 6 7 الاسلام.

ب- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً 3/ 11/ 6/ 4/ 6/ 5/ 2/ 6/ 6/ 6/ 6/ 7/ 5 7 الإسلام بعد إسقاط الرقم 12
এবং তিনি কুরআন ও কবিতা এবং কুরআনে বর্ণিত কবিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি কবিতার বিধান (حكم), এর বৈধতা (إباحة), অপছন্দনীয়তা (مكروهية) ও নিষিদ্ধতা (تحريم) এবং কবিতা সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অভিমত বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "উত্তম (حسن) কবিতা উত্তম (حسن) কথার মতো এবং মন্দ (قبيح) কবিতা মন্দ (قبيح) কথার মতো।" অতঃপর তিনি কবিতা সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের মতামত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অতঃপর লেখক বলেছেন যে, পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো 'আলিফ', মহান আল্লাহর বাণী: "পাঠ করো তোমার রবের নামে" এর প্রেক্ষিতে। আর কুরআনের সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তাও 'আলিফ', যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" [আল-মায়েদাহ: ৩]।

আমি পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ অবতীর্ণ অংশের হিসাব করেছি এবং যা পেয়েছি:

ক- পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (১) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে (২) পাঠ করো এবং তোমার রব মহিমান্বিত (৩) ২/ ৭/ ৮/ ৩/ ১০// ১০/ ১/ ৬/ ৮/ ২/ ৬/ ৮/ ৪ যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন (৪) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (৫)।

৩/ ২/ ১১/ ২/ ১/ ৫/ ১০/ ৬ ৭ ইসলাম।

খ- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম ৩/ ১১/ ৬/ ৪/ ৬/ ৫/ ২/ ৬/ ৬/ ৬/ ৬/ ৭/ ৫ ৭ ইসলাম (১২ সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পর)
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
من النص:

1 - اليوم 3 يوم عرفة 8+ 7 3 بعد إسقاط الرقم 12 ويوم عرفة هذا يقولون بأنه يشبه يوم القيامة فهو يساويه بالحساب حيث يوم عرفة 3 يوم القيامة.

وعلى هذا الأساس فإن أول ما نزل من القرآن يساوي بالحساب لكلمة: الإسلام، وآخر ما نزل من القرآن يساوي بالحساب لكلمة: الإسلام أيضا، وكلمة الإسلام 7، وكلمة الجنة 7، فمعنى ذلك أن المسلمين هم أهل الجنة والحمد لله رب العالمين.

2 - عبارة: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي 3/ 11/ 6/ 4/ 6/ 5/ 2/ 6 7 الإسلام.

3 - عبارة: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً 3/ 11/ 6/ 4/ 6/ 5/ 2/ 6/ 6/ 6/ 6/ 7/ 5 1، هذا الواحد: هو الله جل جلاله.

وكذلك قال المؤلف إن سورة الشورى افتتحت بالأحرف: حم (1) عسق (2) فإذا كتبناها بالأحرف الملفوظة وهي حا ميم 1، عين سين قاف، 2 نجد أنها تساوي حسابيا للرقم 3 وهو بدوره يساوي السبع المثاني؛ في حين فاتحة سورة مريم هي خمسة أحرف أيضا ولكنها لا تساوي بالحساب السبع المثاني لأن:

«كاف، ها، ياء، عين، صاد» 5/ 7/ 0/ 10/ 11 9 أي: لا تساوي السبع المثاني.
পাঠ্য থেকে:

১ - ১২ সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পর ‘আল-ইয়াওম’ ৩, ‘ইয়াওমু আরাফাহ’ ৮+ ৭ ৩। এই ইয়াওমু আরাফাহ সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, এটি কিয়ামতের দিনের সদৃশ; তাই গাণিতিক মান অনুযায়ী এটি কিয়ামতের দিনের সমান, যেখানে ইয়াওমু আরাফাহ ৩ এবং কিয়ামতের দিন ৩।

আর এই ভিত্তির ওপর, কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা গাণিতিক মান অনুযায়ী ‘ইসলাম’ শব্দের সমান, এবং কুরআনের সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তাও গাণিতিক মান অনুযায়ী ‘ইসলাম’ শব্দের সমান। ‘ইসলাম’ শব্দটি ৭ এবং ‘জান্নাত’ শব্দটি ৭; এর অর্থ হলো মুসলিমরাই জান্নাতবাসী এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

২ - এই বাণীটি: ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম’ ৩/ ১১/ ৬/ ৪/ ৬/ ৫/ ২/ ৬ ৭ ইসলাম।

৩ - এই বাণীটি: ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম’ ৩/ ১১/ ৬/ ৪/ ৬/ ৫/ ২/ ৬/ ৬/ ৬/ ৬/ ৭/ ৫ ১; এই এক হলেন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু।

অনুরূপভাবে লেখক বলেছেন যে, সূরা আশ-শুরা এই বর্ণগুলো দিয়ে শুরু হয়েছে: হা-মীম (১) আইন-সীন-কাফ (২)। আমরা যদি এগুলোকে উচ্চারিত বর্ণের মাধ্যমে লিখি যেমন: হা মীম ১, আইন সীন কাফ ২, তবে আমরা দেখতে পাই যে এগুলো গাণিতিকভাবে ৩ সংখ্যার সমান; যা পক্ষান্তরে আস-সাবউল মাছানির সমান। অন্যদিকে সূরা মারইয়ামের প্রারম্ভিক বর্ণগুলোও পাঁচটি অক্ষর, কিন্তু গাণিতিক হিসেবে সেগুলো আস-সাবউল মাছানির সমান নয় কারণ:

‘কাফ, হা, ইয়া, আইন, সাদ’ ৫/ ৭/ ০/ ১০/ ১১ ৯ অর্থাৎ: এটি আস-সাবউল মাছানির সমান নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأخيرا تكلّم المؤلف عن متفرقات وإعجازات ومعجزات في القرآن الكريم ومواضع أخرى كثيرة يضيق المقام عن حصرها ويراها القارئ ضمن صفحات مؤلّفه الذي نحن بصدده.

وخلاصة القول فإن المؤلف من السّبّاقين في مجال هذا العلم الذي يحتاجه المسلمون خاصة في هذا العصر، عصر الأعداد والحساب، أمدّ الله بعمر مؤلفه كي يتحفنا بكتب ومؤلفات غيره.

وفقه الله ووفق أمثاله من العلماء المخلصين العاملين، إنه سميع الدعاء، وإنه على ما يشاء قدير، والحمد لله رب العالمين.

كتبه وبكل تواضع صاحب كتاب معجزة الله الكبرى في التفسير الحسابي للقرآن الكريم الدكتور أحمد دللو
পরিশেষে লেখক পবিত্র কুরআনের বিবিধ বিষয়, অলৌকিকত্ব ও মুজিজাসমূহ এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা এই স্বল্প পরিসরে বেষ্টন করা সম্ভব নয় এবং পাঠক আমাদের আলোচ্য গ্রন্থের পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যেই তা দেখতে পাবেন।

সারকথা হলো, লেখক এই ইলম বা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত, যেটির বিশেষ করে এই যুগে মুসলিমদের প্রয়োজন রয়েছে; আর এটি হলো সংখ্যা ও গণনার যুগ। আল্লাহ লেখকের হায়াত বৃদ্ধি করুন যাতে তিনি আমাদের আরও বিভিন্ন কিতাব ও রচনা উপহার দিতে পারেন।

আল্লাহ তাকে এবং তার মতো মুখলিস ও আমলকারী আলেমদের তাওফিক দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তাতে সক্ষম। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এটি লিখেছেন ‘মুজিজাতুল্লাহিল কুবরা ফি আত-তাফসির আল-হিসাবি লিল কুরআন আল-কারিম’ গ্রন্থের লেখক ড. আহমাদ দাল্লু।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الشيخ محمود دللو

الحمد لله رب السماوات والأرض رب العالمين، وله الكبرياء في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم. سبحان الله وبحمده عدد خلقه وزنة عرشه ومداد كلماته.

أحمده فقد أنزل الكتاب تبيانا لكل شيء وما فرط فيه من شيء أرسل محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم الرسل. وجعل كتابه وهو القرآن الكريم آخر الكتب عصمة لمن تمسك به ونجاة لمن اتبعه، فنحن قوم أعزّنا الله بالإسلام ومهما ابتغينا العزة بغيره أذلنا الله.

وقد خلقنا الله لعبادته وجعل الدنيا كماء أنزله من السماء فاختلط به نبات الأرض فأصبح هشيما تذروه الرياح لعلنا نتعظ ونعمل للحياة الحقيقية بعد الموت.

إن لله عبادا فطنا … طلقوا الدنيا وعافوا الفتنا

نظروا فيها فلما علموا … أنها ليست لحي وطنا

جعلوها لجة واتخذوا … صالح الأعمال فيها سفنا

فالوجود أكبر كثيرا من الظاهر المشهود، ولا مكان فيه للمصادفة العمياء، ولا صلاح ولا فلاح ولا نجاح ولا طمأنينة ولا رفعة للإنسان إلا بالرجوع إلى الله ولا يكون ذلك إلا بالرجوع إلى القرآن الكريم ولذا فعلينا أن نعرف أسراره ونغوص في معانيه ونفهم كل حرف فيه فهو الكتاب الخالد والمعجزة الباقية. فمن أراد الدنيا فعليه بالعلم، ومن أراد الآخرة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌শায়খ মাহমুদ দাল্লু-র ভূমিকা

সকল প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক, বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য; আসমান ও জমিনে সমস্ত মহিমা কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর আরশের ওজনের সমপরিমাণ এবং তাঁর বাণীর কালির সমপরিমাণ।

আমি তাঁর প্রশংসা করছি, কারণ তিনি প্রতিটি বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যাস্বরূপ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো কিছু বাদ দেননি। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর কিতাব অর্থাৎ আল-কুরআনুল কারীমকে সর্বশেষ কিতাব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা একে ধারণকারীর জন্য সুরক্ষাস্বরূপ এবং এর অনুসরণকারীর জন্য নাজাতের মাধ্যম। আমরা এমন এক জাতি যাদের আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন; সুতরাং আমরা যদি ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর মাঝে সম্মান অন্বেষণ করি, তবে আল্লাহ আমাদের লাঞ্ছিত করবেন।

আল্লাহ আমাদের তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং এই দুনিয়াকে আকাশ থেকে বর্ষিত পানির মতো করেছেন, যার ফলে জমিনের উদ্ভিদ ঘন হয়ে জন্মায়, অতঃপর তা শুষ্ক খড়কুটোয় পরিণত হয় যা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়; যেন আমরা উপদেশ গ্রহণ করি এবং মৃত্যুর পরবর্তী প্রকৃত জীবনের জন্য আমল করি।

নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বুদ্ধিমান বান্দা রয়েছেন … যারা দুনিয়া ত্যাগ করেছেন এবং ফেতনা পরিহার করেছেন।

তারা দুনিয়ার প্রতি গভীর দৃষ্টি দিয়েছেন, অতঃপর যখন তারা উপলব্ধি করলেন যে … এটি কোনো জীবিত সত্তার জন্য স্থায়ী আবাস নয়।

তখন তারা একে এক গভীর সমুদ্র সদৃশ মনে করেছেন এবং এতে নেক আমলসমূহকে … নৌযান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্ব দৃশ্যমান জগতের চেয়ে অনেক বেশি বিশাল, আর এখানে অন্ধ কাকতালীয় ঘটনার কোনো স্থান নেই। মানুষের কোনো সংশোধন, কল্যাণ, সফলতা, প্রশান্তি কিংবা উচ্চমর্যাদা আল্লাহ তাআলার দিকে প্রত্যাবর্তন ছাড়া সম্ভব নয়। আর এটি আল-কুরআনুল কারীমের দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতীত অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের উচিত এর রহস্যসমূহ অনুধাবন করা, এর অর্থসমূহের গভীরে অবগাহন করা এবং এর প্রতিটি বর্ণ অনুধাবন করা; কারণ এটিই চিরন্তন কিতাব এবং অবিনশ্বর মুজিজা। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়া চায় তার উচিত ইলম অর্জন করা, আর যে ব্যক্তি আখিরাত চায়...
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فعليه بالعلم، ومن أراد الدنيا والآخرة فعليه بالعلم.

ورحم الله امرئ ترك بعد موته صدقة جارية أو علما ينتفع به أو ولدا صالحا يدعو له. وإني لأرجو من الله تعالى أن يجعل هذا الكتاب خالصا لوجهه الكريم فيزيل به فقرنا ويقوي به ضعفنا ويقضي به حاجتنا.

والله من وراء القصد وهو يهدي السبيل الفقير إلى الله الشيخ محمود محمد عيد دللو مجاز شريعة 1964
অতএব তার জ্ঞান অর্জন করা কর্তব্য; আর যে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই কামনা করে, তার জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।

আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে স্বীয় মৃত্যুর পর প্রবাহমান দান (صدقة جارية), অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান রেখে যায় যে তার জন্য দোয়া করে। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, তিনি এই কিতাবটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করবেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের দারিদ্র্য দূর করবেন, আমাদের দুর্বলতা (ضعف) দূর করবেন এবং আমাদের প্রয়োজন পূরণ করবেন।

আর আল্লাহই সকল সংকল্পের মূল লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী। আল্লাহর মুখাপেক্ষী শেখ মাহমুদ মুহাম্মদ ঈদ দাল্লু, শরীয়াহ শাস্ত্রে সনদপ্রাপ্ত (مجاز), ১৯৬৪
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المعجزة القرآنية تعريفها- شروطها- انواعها

أ- تعريف المعجزة: الأمر الذي يفوق طاقات البشر ويخرق قوانين الطبيعة وخواص المادة سلاحا للنبي صلى الله عليه وسلم رغم أمّيته ليتحدى به قومه.

ب- شروط المعجزة: من أهم هذه الشروط:

1 - أن تكون مما لا يقدر عليها إلا الله سبحانه، مثل: انشقاق القمر، وفلق البحر.

2 - أن تخرق العادة مثل: نبع الماء من بين الأصابع، وانشقاق الحجر لتخرج منه ناقة.

3 - أن يستشهد بها مدعي الرسالة على الله سبحانه وتعالى.

4 - أن تقع على وفق دعوى المتحدي بها، كأن يقول إذا تفلت بهذا الماء فار النبع وزاد، وقد قال ذلك مسيلمة الكذاب وتفل بالماء وهذا دليل كذبه.

5 - ألا يأتي أحد بمثل ما أتى به المتحدي على وجه المعارضة.

ولهذا جاء التحدي من الله في القرآن الكريم بقوله تعالى: فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كانُوا صادِقِينَ (34) [الطور: 34].

ج- أنواع المعجزات: تكون المعجزات من جنس ما برع به أهل العصر، ففي عهد موسى عليه السلام برع الناس بالسحر فكانت معجزته العصا: وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ ما كانُوا يَعْمَلُونَ (118) [الأعراف: 117 - 118].

وفي عهد عيسى عليه السلام برع الناس بالطب فكانت معجزته إحياء الموتى بإذن الله.
কুরআনিক মুজিজা (المعجزة): এর সংজ্ঞা, শর্তাবলি ও প্রকারভেদ

ক- মুজিজার (المعجزة) সংজ্ঞা: এটি এমন একটি বিষয় যা মানুষের সক্ষমতার ঊর্ধ্বে এবং যা প্রাকৃতিক নিয়ম ও পদার্থের বৈশিষ্ট্যকে ছিন্ন করে; এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মি বা নিরক্ষরতা সত্ত্বেও তাঁর জন্য একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল যেন তিনি এর মাধ্যমে তাঁর কওমকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

খ- মুজিজার (المعجزة) শর্তাবলি: এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১ - এটি এমন বিষয় হতে হবে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ব্যতীত অন্য কেউ করার সক্ষমতা রাখে না, যেমন: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়া।

২ - এটি স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী হতে হবে, যেমন: আঙুলের মাঝখান থেকে পানি নির্গত হওয়া এবং পাথর বিদীর্ণ হয়ে উষ্ট্রী বের হওয়া।

৩ - রিসালাতের দাবিদার ব্যক্তি যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য হিসেবে এটি পেশ করেন।

৪ - এটি চ্যালেঞ্জ প্রদানকারীর দাবির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সংঘটিত হতে হবে। যেমন তিনি যদি বলেন যে, "আমি এই পানিতে থুতু নিক্ষেপ করলে ঝরনা প্রবাহিত হবে এবং বৃদ্ধি পাবে" (তবে তাই হতে হবে)। মুসাইলিমা আল-কাজ্জাব (الكذاب) তা বলেছিল এবং পানিতে থুতু নিক্ষেপ করেছিল (কিন্তু ফল হয়েছিল উল্টো), যা তার মিথ্যাবাদী (كذاب) হওয়ারই প্রমাণ।

৫ - চ্যালেঞ্জের বিপরীতে অন্য কেউ যেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম না হয়।

আর এ কারণেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে তারা এর সদৃশ কোনো কথা নিয়ে আসুক।" (সূরা আত-তূর: ৩৪)।

গ- মুজিজার (المعجزات) প্রকারভেদ: মুজিজাগুলো সাধারণত ওই বিষয়ের সমগোত্রীয় হয় যে বিষয়ে ওই যুগের লোকেরা পারদর্শী ছিল। যেমন- মূসা আলাইহিস সালামের যুগে মানুষ জাদুমন্ত্রে পারদর্শী ছিল, তাই তাঁর মুজিজা ছিল লাঠি: "আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর’; অমনি তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল।" (সূরা আল-আ’রাফ: ১১৭-১১৮)।

এবং ঈসা আলাইহিস সালামের যুগে মানুষ চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী ছিল, তাই তাঁর মুজিজা ছিল আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
إِذْ قالَ اللَّهُ يا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلى والِدَتِكَ إِذْ أَيَّدْتُكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْراةَ وَالْإِنْجِيلَ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنْفُخُ فِيها فَتَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِي وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِإِذْنِي وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوْتى بِإِذْنِي وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرائِيلَ عَنْكَ إِذْ جِئْتَهُمْ بِالْبَيِّناتِ فَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هذا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ (110) [المائدة: 110].

وقال أيضا في آية أخرى: وَرَسُولًا إِلى بَنِي إِسْرائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِما تَأْكُلُونَ وَما تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (49) [آل عمران: 49].

 

‌‌والمعجزات نوعان:

‌‌1 - معجزات حسية:

مؤقتة تزول بوفاة النبي عليه السلام الذي جاء بها مثل عصا موسى، وناقة صالح، وحنين الجذع للرسول محمد صلى الله عليه وسلم، وانشقاق القمر له، ونبع الماء من بين

أصابعه الشريفة.

 

‌‌2 - معجزات عقلية:

باقية وهي القرآن الكريم دائمة إلى قيام الساعة، وقد تحدى الله سبحانه وتعالى به الثقلين فقال عز من قائل: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (88) [الإسراء: 88].
যখন আল্লাহ বললেন, ‘হে মারইয়াম-তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ করো; যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার (রূহুল কুদুস) মাধ্যমে শক্তিশালী করেছিলাম, তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলতে; এবং যখন আমি তোমাকে কিতাব, হিকমত (প্রজ্ঞা), তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছিলাম; এবং যখন তুমি আমার আদেশে কাদা দিয়ে পাখির প্রতিকৃতির মতো তৈরি করতে, অতঃপর তাতে ফুঁ দিতে, ফলে তা আমার আদেশে পাখি হয়ে যেত; এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করতে; এবং যখন তুমি আমার আদেশে মৃতকে (জীবিত করে) বের করে আনতে; এবং যখন আমি বনী ইসরাঈলকে তোমার থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম যখন তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, তখন তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তারা বলেছিল— এটি তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (১১০) [আল-মায়িদাহ: ১১০]।

তিনি অন্য এক আয়াতেও বলেছেন: এবং বনী ইসরাঈলের জন্য একজন রাসুল হিসেবে (প্রেরণ করবেন, যিনি বলবেন), ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের জন্য কাদা দিয়ে পাখির প্রতিকৃতির মতো তৈরি করব, অতঃপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর আদেশে তা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা আহার করো এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো, তা আমি তোমাদের জানিয়ে দেব। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (৪৯) [আল ইমরান: ৪৯]।

 

‌‌আর মুজিযা (معجزة) দুই প্রকার:

‌‌১ - ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিযা (معجزة حسية):

এগুলো অস্থায়ী যা সংশ্লিষ্ট নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ওফাতের সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। যেমন: মুসার লাঠি, সালিহের উটনি, রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরহে খেজুর গাছের কাণ্ডের রোদন, তাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং তাঁর পবিত্র আঙুলসমূহ থেকে পানির ধারা প্রবাহিত হওয়া।

 

‌‌২ - বুদ্ধিভিত্তিক মুজিযা (معجزة عقلية):

এটি চিরস্থায়ী এবং তা হলো কুরআনুল কারিম যা কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর মাধ্যমে মানুষ ও জিন উভয় জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: বলো, ‘যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।’ (৮৮) [আল-ইসরা: ৮৮]।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌توضيح المعجزات الحسية

ما من رسول إلا جاء بمعجزة تدل على صدقه، وإن الأقوام الذين يريد الله أن يتحداهم يمكنهم من كل الأسباب ثم يعطل الله تعالى هذه الأسباب.

ومن الأمثلة على ذلك:

 

‌‌أ- النار لم تحرق إبراهيم عليه السلام:

لقد حطم إبراهيم أصنام المشركين فأرادوا أن ينتقموا ويجعلوا إبراهيم عبرة لكل إنسان تسوّل له نفسه الاعتداء على الآلهة فجمعوا الحطب وأوقدوا نارا هائلة أمام الآلهة ليحرقوا بها إبراهيم. إنه منظر رهيب …

وجاءوا به ليلقوه في النار فلماذا لم يأمر الله إبراهيم بالاختفاء أو الفرار؟

لو فعل ذلك إبراهيم لظلت هيبة الأصنام ولقالوا لو قبضنا عليه لأحرقناه. ولكن التحدي في سلب قوة الإحراق من النار وتعطيل سنن ونواميس الكون والقوة في النار. قال تعالى: قُلْنا يا نارُ كُونِي بَرْداً وَسَلاماً عَلى إِبْراهِيمَ (69) وَأَرادُوا بِهِ كَيْداً فَجَعَلْناهُمُ الْأَخْسَرِينَ (70) [الأنبياء: 69 - 70].

وفي هذا تحد لهم لأن نارهم لا تفعل شيئا إلا بأمر الله تعالى واستعملوا كلمة حرّقوه مشددة مبالغة في الحرق ولو لم يقل رب العالمين للنار وَسَلاماً لتجمد من شدة بردها عند ما قال لها كوني بردا ولهذا قال:

بَرْداً وَسَلاماً عَلى إِبْراهِيمَ، وكان من الممكن أن تنطفئ النار بفعل المطر ولو حصل ذلك لقال الكفار آلهتنا أطفأت النار وعفت عنه وهي قادرة على حرقه.

فمعجزة إبراهيم ليس أن ينجو من النار بالهرب أو غيره ولكن معجزته
‌‌ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহের ব্যাখ্যা

এমন কোনো রাসূল আসেননি যিনি তাঁর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ কোনো মুজিজা নিয়ে আসেননি। আর আল্লাহ তাআলা যে সম্প্রদায়গুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে চান, তাদের তিনি যাবতীয় বাহ্যিক উপায়-উপকরণ ব্যবহারের পূর্ণ সামর্থ্য দান করেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা সেই উপকরণসমূহকে অকার্যকর করে দেন।

এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌ক. আগুন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে দগ্ধ করেনি:

ইব্রাহিম (আ.) মুশরিকদের মূর্তিসমূহ ভেঙে ফেলেছিলেন, ফলে তারা প্রতিশোধ নিতে চাইল এবং ইব্রাহিমকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত বানাতে চাইল যার কুপ্রবৃত্তি উপাস্যদের অবমাননা করার প্ররোচনা দেয়। তাই তারা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করল এবং তাদের উপাস্যদের সামনে এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করল যেন তাতে ইব্রাহিমকে পুড়িয়ে মারা যায়। এটি ছিল এক ভয়াবহ দৃশ্য …

তারা তাঁকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে এল। তবে কেন আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিমকে আত্মগোপন করতে বা পালিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন না?

যদি ইব্রাহিম তা-ই করতেন, তবে মূর্তিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ভীতি অক্ষুণ্ণ থাকত এবং তারা বলত যে, যদি আমরা তাকে ধরতে পারতাম তবে অবশ্যই পুড়িয়ে দিতাম। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ ছিল আগুনের দহন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এবং মহাবিশ্বের চিরাচরিত নিয়ম-নীতি ও আগুনের শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও (৬৯)। তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম (৭০)।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ৬৯-৭০]।

এর মধ্যে তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ নিহিত ছিল, কারণ তাদের প্রজ্বলিত আগুন মহান আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত কিছুই করতে পারে না। তারা দগ্ধ করার ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি বুঝাতে ‘হাররিকুহু’ শব্দটি জোর প্রদানসহ (তাশদীদযুক্ত) ব্যবহার করেছিল। রাব্বুল আলামিন যদি আগুনের প্রতি ‘নিরাপদ’ (সালামান) কথাটি না বলতেন, তবে যখন তিনি আগুনকে ‘শীতল হয়ে যাও’ (কুনি বারদান) বলেছিলেন, তখন ইব্রাহিম (আ.) ঠান্ডার তীব্রতায় জমে যেতেন। এজন্যই তিনি বলেছেন:

“ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ”। বৃষ্টির মাধ্যমেও আগুন নিভে যাওয়া সম্ভব ছিল, আর যদি তা হতো তবে কাফিররা বলত যে, আমাদের উপাস্যরাই আগুন নিভিয়ে দিয়েছে এবং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে, অথচ তারা তাকে পুড়িয়ে মারতে সক্ষম ছিল।

সুতরাং ইব্রাহিমের মুজিজা এটি ছিল না যে তিনি পালিয়ে গিয়ে বা অন্য কোনোভাবে আগুন থেকে রক্ষা পাবেন, বরং তাঁর মুজিজা ছিল
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أن يجلس في وسط النار المتأججة متحديا من أرادوا إحراقه بالنار لتكون بردا وسلاما عليه.

 

‌‌أما موسى عليه السلام:

فيقول الله تعالى مخاطبا أمه بعد ولادته: وَأَوْحَيْنا إِلى أُمِّ مُوسى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ (7) فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَناً إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهامانَ وَجُنُودَهُما كانُوا خاطِئِينَ (8) [القصص: 7 - 8].

ونفذت أوامر ربها فوضعته في صندوق وأغلقت الصندوق وألقته في اليمّ لأن الله سبحانه وتعالى قال: فَإِذا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ هذا هو التحدي العظيم.

وأخرجته امرأة فرعون، وعاش موسى في بيت فرعون ينفق عليه ويعطي أمه أجر الرضاع فهل بعد هذا التحدي من تحد.

ولما بلغ أشده واستوى آتاه الله حكما وعلما وجعله رسولا وأيّده بتسع آيات معجزات منها العصا. قال تعالى: وَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنْ أَلْقِ عَصاكَ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ ما كانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنالِكَ وَانْقَلَبُوا صاغِرِينَ (119) وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ ساجِدِينَ (120) قالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعالَمِينَ (121) رَبِّ مُوسى وَهارُونَ (122) [الأعراف: 117 - 122].

 

‌‌فلماذا كان السحرة أول من آمن؟

لأنهم عرفوا الفرق بين قدرة الله وقدرة البشر فآمنوا بالله رب العالمين، فنسوا فرعون ووعوده وذهبه وما له ومناصبه وأذعنوا للحق وانقادوا إليه ولم يلتفتوا إلى التهديد والوعيد والتنكيل وتقطيع الأيدي والأرجل من خلاف
প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের মাঝখানে তিনি (ইব্রাহিম আ.) উপবিষ্ট ছিলেন, যারা তাঁকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে, যাতে সেই আগুন তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যায়।

 

‌‌মুসা (আলাইহিস সালাম) প্রসঙ্গে:

আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্মের পর তাঁর মাতাকে সম্বোধন করে বলেন: "আর আমি মুসার মাতাকে নির্দেশ দিলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো। ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না; নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসুলগণের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত করব (৭)। অতঃপর ফেরাউনের লোকেরা তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়। নিশ্চয়ই ফেরাউন, হামান ও তাদের সেনাবাহিনী ছিল পাপাচারী (৮)।" [কাসাস: ৭ - ৮]।

তিনি তাঁর রবের নির্দেশ পালন করলেন, তাকে একটি সিন্দুকে রাখলেন, সিন্দুকটি বন্ধ করলেন এবং তা নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছিলেন: "যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো।" এটিই ছিল এক মহান চ্যালেঞ্জ।

ফেরাউনের স্ত্রী তাকে উদ্ধার করলেন এবং মুসা ফেরাউনের ঘরেই লালিত-পালিত হতে লাগলেন। ফেরাউন তার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করত এবং তার মাতাকে দুধ পানের পারিশ্রমিক দিত। এই চ্যালেঞ্জের পর আর বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হতে পারে কি?

যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হলেন, আল্লাহ তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলেন এবং তাকে রাসুল (رسولا) হিসেবে নিযুক্ত করলেন। তাকে লাঠিসহ নয়টি অলৌকিক নিদর্শন (معجزات) দিয়ে শক্তিশালী করলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি মুসাকে নির্দেশ দিলাম—তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো; অমনি তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল (১১৭)। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো (১১৮)। সেখানে তারা পরাভূত হলো এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল (১১৯)। আর জাদুকরেরা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল (১২০)। তারা বলল, আমরা বিশ্বজগতের রবের প্রতি ঈমান আনলাম (১২১), যিনি মুসা ও হারুনের রব (১২২)।" [আরাফ: ১১৭ - ১২২]।

 

‌‌তবে কেন জাদুকরেরাই প্রথম ঈমান এনেছিল?

কারণ তারা আল্লাহর ক্ষমতা এবং মানুষের ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পেরেছিল। ফলে তারা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল। তারা ফেরাউন, তার প্রতিশ্রুতি, স্বর্ণ-সম্পদ ও পদমর্যাদার কথা ভুলে গেল এবং সত্যের সামনে মাথা নত করে তার অনুসারী হলো। তারা হুমকি-ধমকি, চরম শাস্তি এবং বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলার হুমকির প্রতিও বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করল না।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقالوا: إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنا لِيَغْفِرَ لَنا خَطايانا وَما أَكْرَهْتَنا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقى (73) إِنَّهُ مَنْ يَأْتِ رَبَّهُ مُجْرِماً فَإِنَّ لَهُ جَهَنَّمَ لا يَمُوتُ فِيها وَلا يَحْيى (74) وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِناً قَدْ عَمِلَ الصَّالِحاتِ فَأُولئِكَ لَهُمُ الدَّرَجاتُ الْعُلى (75) [طه: 73 - 75] فالله قادر قاهر ليس لقدرته قيود ولا حدود.

وقدرة الله تعالى تظهر في خلق البشر:

1 - فقد خلق الله آدم من غير أب ولا أم.

2 - وخلق حواء من أب بلا أم.

3 - وخلق الله البشر من أب وأم وهذه سنة الله في الكون لبقاء النوع الإنساني.

4 - وخلق عيسى من غير أب فهذه قضية الخلق من زواياها الأربع.

وهذا الخلق بأشكاله الأربعة معجزة، لأنه لا يشترط من وجود الذكر والأنثى أن يوجد الخلق، لأن الله سبحانه يجعل من يشاء عقيما لا يولد له.

لِلَّهِ مُلْكُ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ ما يَشاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشاءُ إِناثاً وَيَهَبُ لِمَنْ يَشاءُ الذُّكُورَ (49) [الشورى: 49].

فالمسألة ليست وجود مسببات بل إن الله حينما يريد للأسباب أن تعمل فإنها تعمل وحين لا يريد لها ذلك فإنها لا تعمل وتتعطل.

 

‌‌وهناك معجزات ليست للتحدي:

‌‌ومنها خلق مريم ويحيى وعيسى عليهم السلام:

فقد نذرت امرأة عمران إذا ولد لها ولد ذكر أن يكون خادما للمعبد. قال تعالى:

إِذْ قالَتِ امْرَأَتُ عِمْرانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ ما فِي بَطْنِي مُحَرَّراً فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (35) فَلَمَّا وَضَعَتْها قالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُها أُنْثى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِما وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثى وَإِنِّي
এবং তারা বলল: “নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি, যেন তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং আপনি আমাদের যে জাদুকর্ম করতে বাধ্য করেছেন তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।” (৭৩) নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম; সেখানে সে মরবেও না এবং বাঁচবেও না। (৭৪) আর যারা তাঁর নিকট মুমিন হিসেবে উপস্থিত হবে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করবে, তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। (৭৫) [ত্বহা: ৭৩-৭৫] সুতরাং আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রবল বিজয়ী, তাঁর ক্ষমতার কোনো সীমাবদ্ধতা বা সীমানা নেই।

আর মহান আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা মানবসৃষ্টির মধ্যে প্রকাশ পায়:

১ - আল্লাহ আদমকে পিতা ও মাতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন।

২ - আর হাওয়াকে পিতা থেকে সৃষ্টি করেছেন মাতা ছাড়াই।

৩ - আর আল্লাহ মানুষকে পিতা ও মাতা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মহাবিশ্বে এটাই আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম।

৪ - আর ঈসাকে পিতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং এটি হলো সৃষ্টির চারটি ভিন্ন দিক।

আর এই চার প্রকারের সৃষ্টিই হলো মুজিযা (معجزة), কারণ সৃষ্টি হওয়ার জন্য নারী ও পুরুষের বিদ্যমান থাকা শর্ত নয়; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন, যার কোনো সন্তান হয় না।

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। (৪৯) [আশ-শূরা: ৪৯]।

মূলত বিষয়টি কেবল কার্যকারণের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আল্লাহ যখন চান যে মাধ্যমসমূহ কার্যকর হোক তখন সেগুলো কাজ করে, আর যখন তিনি তা চান না তখন সেগুলো অকেজো ও নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

 

‌‌আর এমন কিছু মুজিযা (معجزات) রয়েছে যা চ্যালেঞ্জ প্রদানের জন্য নয়:

‌‌তার মধ্যে রয়েছে মারিয়াম, ইয়াহইয়া এবং ঈসা আলাইহিমুস সালামের সৃষ্টি:

ইমরানের স্ত্রী মানত করেছিলেন যে, যদি তার কোনো পুত্র সন্তান জন্ম নেয় তবে সে উপাসনালয়ের খাদেম হবে। মহান আল্লাহ বলেন:

স্মরণ করো, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, “হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যা আছে আমি তা একান্ত আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম, সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।” (৩৫) অতঃপর যখন সে তাকে প্রসব করল, সে বলল, “হে আমার প্রতিপালক! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি।” আর আল্লাহ ভালো করেই জানেন তিনি কী প্রসব করেছেন, “আর পুত্র তো কন্যার মতো নয়। আর আমি...”
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
سَمَّيْتُها مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُها بِكَ وَذُرِّيَّتَها مِنَ الشَّيْطانِ الرَّجِيمِ (36) فَتَقَبَّلَها رَبُّها بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَها نَباتاً حَسَناً وَكَفَّلَها زَكَرِيَّا كُلَّما دَخَلَ عَلَيْها زَكَرِيَّا الْمِحْرابَ وَجَدَ عِنْدَها رِزْقاً قالَ يا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هذا قالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشاءُ بِغَيْرِ حِسابٍ (37) هُنالِكَ دَعا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قالَ رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعاءِ (38) فَنادَتْهُ الْمَلائِكَةُ وَهُوَ قائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيى مُصَدِّقاً بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّداً وَحَصُوراً وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ (39) قالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِي عاقِرٌ قالَ كَذلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ ما يَشاءُ (40) قالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً قالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمْزاً وَاذْكُرْ رَبَّكَ كَثِيراً وَسَبِّحْ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكارِ (41) [آل عمران: 35 - 41].

فلما وضعت امرأة عمران وليدها قالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُها أُنْثى [آل عمران: 36] فقد فكرت بمنطق الدنيا. ولكن الله يفعل ما يشاء أما قوله تعالى في الآيات: وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثى [آل عمران: 36]، فهذه الأنثى أفضل من غيرها من الذكور وسيكون لها شأن في المستقبل، ولذا فقد كفلها زكريا وهو نبي رسول نشأ على الإيمان. وعبارة كفلها زكريا تشير إلى أن أباها كان قد مات.

وكان زكريا إذا دخل معبدها وجد عندها فاكهة الصيف في الشتاء فيسألها أنى لك هذا فتقول هو من عند الله إن الله يرزق من يشاء بغير حساب.

فلكل شيء في الوجود سبب، ولكن هناك أشياء تحدث بلا أسباب إذا أراد الله ذلك ولهذا دعا زكريا ربه أن يهبه ذرية طيبة مع أن امرأته عجوز فرزقه الله يحيى كما رزق مريم الفاكهة في غير أوانها.

يا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلامٍ اسْمُهُ يَحْيى لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا (7) قالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَكانَتِ امْرَأَتِي عاقِراً وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا (8) قالَ كَذلِكَ قالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئاً (9) [مريم: 7 - 9].

وهنا تتعطل الأسباب والقوانين المألوفة، فكما خلق الله زكريا من قبل ولم يك شيئا فهو قادر على أن يخلق يحيى من امرأة عاقر.
আমি তাঁর নাম রেখেছি মারইয়াম এবং আমি তাঁকে ও তাঁর বংশধরদেরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। (৩৬) অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে সুচারুভাবে লালন-পালন করলেন এবং যাকারিয়াকে তাঁর অভিভাবক নিযুক্ত করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবে তাঁর নিকট আসতেন, তখনই তাঁর কাছে খাদ্যসামগ্রী দেখতে পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, হে মারইয়াম! তোমার কাছে এসব কোথা থেকে এলো? সে বলত, এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিসাবহীন রিযিক দান করেন। (৩৭) সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন; বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (৩৮) অতঃপর যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন—নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত কালিমার সত্যায়নকারী হবেন এবং তিনি হবেন নেতা, নারীবিমুখ (সংযমী) এবং সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে একজন নবী। (৩৯) তিনি বললেন—হে আমার পালনকর্তা! আমার কীভাবে পুত্র হবে অথচ আমি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা? তিনি বললেন—এভাবেই, আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন। (৪০) তিনি বললেন—হে আমার পালনকর্তা! আমার জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন—তোমার নিদর্শন হলো, তুমি ইশারা ব্যতীত তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলবে না এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো। (৪১) [আল-ইমরান: ৩৫ - ৪১]।

ইমরানের স্ত্রী যখন তাঁর সন্তান প্রসব করলেন, তখন তিনি বললেন—হে আমার পালনকর্তা! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি [আল-ইমরান: ৩৬]; তিনি জাগতিক যুক্তিতে চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। আর আয়াতের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: 'আর পুরুষ তো কন্যার মতো নয়' [আল-ইমরান: ৩৬]; অর্থাৎ এই কন্যাটি অন্য পুরুষদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং ভবিষ্যতে তাঁর এক বিশেষ মর্যাদা থাকবে। এই কারণেই যাকারিয়া তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, আর তিনি ছিলেন ঈমানের ওপর লালিত-পালিত একজন নবী ও রসূল। 'যাকারিয়া তাঁর অভিভাবক হলেন'—এই উক্তিটি নির্দেশ করে যে, তাঁর পিতা ইতঃপূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন।

যাকারিয়া যখনই তাঁর উপাসনালয়ে প্রবেশ করতেন, তখনই সেখানে শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল দেখতে পেতেন; তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন—হে মারইয়াম! তোমার কাছে এসব কোথা থেকে এলো? সে উত্তর দিত—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিসাবহীন রিযিক দান করেন।

সৃষ্টিজগতের প্রতিটি জিনিসেরই একটি কারণ বিদ্যমান, কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছা করলে কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু সংঘটিত হতে পারে। আর এই কারণেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট পবিত্র বংশধরের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যদিও তাঁর স্ত্রী ছিলেন বৃদ্ধা; অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া দান করলেন, যেমন তিনি মারইয়ামকে অসময়ে ফল দান করেছিলেন।

হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি যার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে আমি কাউকে এই নামধারী করিনি। (৭) তিনি বললেন—হে আমার পালনকর্তা! কীভাবে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি বার্ধক্যের চরম সীমায় পৌঁছে গেছি? (৮) তিনি বললেন—এভাবেই হবে; তোমার পালনকর্তা বলেছেন—এটি আমার জন্য সহজ, এর আগে আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না। (৯) [মারইয়াম: ৭ - ৯]।

এখানে সাধারণ কার্যকারণ ও পরিচিত প্রাকৃতিক নিয়মাবলি অকার্যকর হয়ে যায়। যেভাবে আল্লাহ ইতিপূর্বে যাকারিয়াকে সৃষ্টি করেছিলেন যখন তিনি কিছুই ছিলেন না, তেমনিভাবে তিনি একজন বন্ধ্যা নারীর গর্ভ থেকে ইয়াহইয়াকে সৃষ্টি করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأعود إلى قوله تعالى: وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثى.

فهذه الأنثى وهي مريم ستلد من غير أب عيسى عليه الصلاة والسلام. المعجزة الباقية والتي افتتن بعض الناس بخلقه من غير أب. فجعلوا الله أباه وعبدوه. وقالوا:

إذا لم يكن الله أباه فمن أبوه فرد عليهم القرآن الكريم بقوله: إِنَّ مَثَلَ عِيسى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرابٍ ثُمَّ قالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ [آل عمران: 59].

فخلق آدم أعظم من خلق عيسى فقد خلق من غير أب ولا أم وهذه قصة ولادة عيسى كما ساقها القرآن الكريم:

وَاذْكُرْ فِي الْكِتابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِها مَكاناً شَرْقِيًّا (16) فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجاباً فَأَرْسَلْنا إِلَيْها رُوحَنا فَتَمَثَّلَ لَها بَشَراً سَوِيًّا (17) قالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا (18) قالَ إِنَّما أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلاماً زَكِيًّا (19) قالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا (20) قالَ كَذلِكِ قالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكانَ أَمْراً مَقْضِيًّا (21) * فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكاناً قَصِيًّا (22) فَأَجاءَهَا الْمَخاضُ إِلى جِذْعِ النَّخْلَةِ قالَتْ يا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هذا وَكُنْتُ نَسْياً مَنْسِيًّا (23) فَناداها مِنْ تَحْتِها أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا (24) وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُساقِطْ عَلَيْكِ رُطَباً جَنِيًّا (25) فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْناً فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَداً فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمنِ صَوْماً فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا (26) فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَها تَحْمِلُهُ قالُوا يا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئاً فَرِيًّا (27) يا أُخْتَ هارُونَ ما كانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَما كانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا (28) فَأَشارَتْ إِلَيْهِ قالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا (29) قالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتانِيَ الْكِتابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا (30) وَجَعَلَنِي مُبارَكاً أَيْنَ ما كُنْتُ وَأَوْصانِي بِالصَّلاةِ وَالزَّكاةِ ما دُمْتُ حَيًّا (31) وَبَرًّا بِوالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّاراً شَقِيًّا (32) وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا (33) ذلِكَ
আমি মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ফিরে আসছি: "আর এই পুত্রসন্তান সেই কন্যাসন্তানের মতো নয়।"

এই নারী, অর্থাৎ মারইয়াম, অচিরেই কোনো পিতা ছাড়াই ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে জন্ম দেবেন। এটি এমন এক শাশ্বত অলৌকিক নিদর্শন, যার পিতা ছাড়া সৃষ্টির কারণে কিছু মানুষ বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে। ফলে তারা আল্লাহকে তাঁর পিতা সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁর উপাসনা করেছে। তারা বলেছিল:

যদি আল্লাহ তাঁর পিতা না হন, তবে তাঁর পিতা কে? তখন পবিত্র কুরআন তাদের প্রতিবাদে বলল: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের সদৃশ; তিনি তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, তারপর তাঁকে বলেছিলেন, 'হও', ফলে তিনি হয়ে যান।" [আল-ইমরান: ৫৯]

সুতরাং আদমের সৃষ্টি ঈসার সৃষ্টির চেয়েও মহিমান্বিত; কারণ তিনি পিতা ও মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ঈসার জন্মের কাহিনী যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা হলো:

আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকের এক নির্জন স্থানে আশ্রয় নিলেন। (১৬) অতঃপর তিনি তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা গ্রহণ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকট আমার রূহকে প্রেরণ করলাম, সে তাঁর নিকট এক পূর্ণাঙ্গ মানবের রূপ ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করল। (১৭) মারইয়াম বললেন, "আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও।" (১৮) সে বলল, "আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি।" (১৯) মারইয়াম বললেন, "কীভাবে আমার পুত্রসন্তান হবে, অথচ কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?" (২০) সে বলল, "অনুরূপই হবে। তোমার রব বলেছেন—এটি আমার জন্য অতি সহজ এবং তাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ করার জন্য; আর এটি এক স্থিরীকৃত বিষয়।" (২১) * অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তাকে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন। (২২) প্রসব বেদনা তাঁকে এক খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ডের নিচে নিয়ে এল। তিনি বললেন, "হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যেতাম!" (২৩) তখন তাঁর নিচ থেকে একজন তাঁকে ডেকে বলল, "তুমি শোক করো না, তোমার রব তোমার পাদদেশে একটি ঝরনা সৃষ্টি করেছেন।" (২৪) "আর তুমি খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পরিপক্ক খেজুর ফেলবে।" (২৫) "সুতরাং আহার করো, পান করো এবং চক্ষু শীতল করো। আর যদি তুমি কোনো মানুষকে দেখ, তবে বলো—আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে মৌনতা পালনের মানত করেছি; সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না।" (২৬) অতঃপর তিনি সন্তানকে কোলে নিয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলেন। তারা বলল, "হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেছ!" (২৭) "হে হারূনের বোন! তোমার পিতা কোনো অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।" (২৮) তখন তিনি সন্তানের দিকে ইশারা করলেন। তারা বলল, "যে দোলনায় থাকা শিশু, তার সাথে আমরা কীভাবে কথা বলব?" (২৯) শিশুটি বলে উঠল, "আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন।" (৩০) "আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন জীবিত থাকি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।" (৩১) "আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।" (৩২) "আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।" (৩৩) এই...
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ (34) ما كانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحانَهُ إِذا قَضى أَمْراً فَإِنَّما يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (35) وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هذا صِراطٌ مُسْتَقِيمٌ (36) [مريم: 16 - 36].

 

‌‌ب- فلق البحر لموسى عند ما ضربه بعصاه:

فعند ما وصل موسى وقومه إلى مقربة من البحر وفرعون وجيشه يطاردونهم قال أصحاب موسى: إنا لمدركون وهذه مسألة طبيعية في قوانين البشر، وعندها قال موسى: كلا إن معي ربي سيهدين ولم يقل سنستقلّ سفينة أو سنهرب سباحة وقال له ربه: فَأَوْحَيْنا إِلى مُوسى أَنِ اضْرِبْ بِعَصاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ (63) [الشعراء: 63].

وسار موسى ومن معه في البحر وتبعهم فرعون وجنوده. فنجا موسى وقومه، وغرق فرعون وجنوده بنفس الماء.

هذه هي قدرة الله تعالى في تعطيل القوانين.

وقال تعالى: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ (24) [البقرة: 23 - 24].

 

‌‌د- وجوه إعجاز القرآن الكريم:

القرآن الكريم منهج حياة ومعجزة باقية إلى يوم القيامة، ولكل معجزة قرآنية وقت لظهورها، فكما أن معجزات الله متجددة في هذا الكون المخلوق تظهر باستمرار ولا تنقطع، فكذلك آيات الله ومعجزاته تظهر في كلامه القديم المنزل على رسوله صلى الله عليه وسلم ولذلك لا يمكن حصر وجوه الإعجاز في هذا الكتاب الخالد.

قال الشيخ المرحوم محمد متولي الشعراوي:
মারইয়াম-তনয় ঈসা; এই সেই সত্য বাণী, যে বিষয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করে (৩৪) আল্লাহর জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন; তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত। যখন তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন 'হও', আর তা হয়ে যায় (৩৫) আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত করো। এটাই সরল পথ (৩৬) [মারইয়াম: ১৬ - ৩৬]।

 

‌‌খ- মুসার লাঠির আঘাতে সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়া:

যখন মুসা ও তাঁর কওম সমুদ্রের নিকটবর্তী হলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী তাদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল, তখন মুসার সাথীরা বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাব।" মানুষের স্বাভাবিক নিয়মের নিরিখে বিষয়টি তেমনই ছিল। তখন মুসা বললেন: "কখনোই না, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রতিপালক আছেন, তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করবেন।" তিনি এ কথা বলেননি যে আমরা কোনো নৌকায় আরোহণ করব কিংবা সাঁতরে পালাব। তখন তাঁর প্রতিপালক তাকে বললেন: "আমি মুসার প্রতি ওহী প্রেরণ করলাম যে, তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো। ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং (বিদীর্ণ পানির) প্রত্যেকটি ভাগ বিশাল পাহাড় সদৃশ হয়ে গেল" (৬৩) [আশ-শুআরা: ৬৩]।

মুসা এবং তাঁর সঙ্গীরা সমুদ্রের মধ্য দিয়ে পথ চললেন এবং ফেরাউন ও তার সৈন্যরা তাদের অনুসরণ করল। অতঃপর মুসা ও তাঁর কওম মুক্তি পেলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী একই পানিতে নিমজ্জিত হলো।

প্রাকৃতিক নিয়মাবলী রহিত করার ক্ষেত্রে এটিই মহান আল্লাহর কুদরত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও (২৩) কিন্তু যদি তোমরা তা করতে না পারো—আর তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে" (২৪) [আল-বাকারাহ: ২৩ - ২৪]।

 

‌‌ঘ- কুরআনুল কারীমের অলৌকিকত্বের বিভিন্ন দিক:

কুরআনুল কারীম একটি জীবনবিধান এবং কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান এক চিরস্থায়ী মুজিযা। কুরআনের প্রতিটি মুজিযা প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। এই সৃষ্টিজগতে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ যেমন প্রতিনিয়ত নতুনভাবে প্রকাশিত হয় এবং কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না, তেমনিভাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ তাঁর অনাদি কালামের আয়াত ও মুজিযাসমূহও প্রকাশিত হতে থাকে। আর এ কারণেই এই শাশ্বত কিতাবের অলৌকিকত্বের দিকগুলো সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।

মরহুম শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শারাউই বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
«ولو أن القرآن كان من الممكن أن يفسر لكان صلى الله عليه وسلم أولى الناس بتفسير هذا القرآن لأنه عليه نزل وبه انفعل ولكن رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم بيّن للناس على قدر حاجتهم في البيان فبين لهم:

الأحكام التكليفية التي يثاب المرء إن فعلها ويعاقب إن تركها. أما كل ما يتعلق بكونيات الوجود وأسرار القرآن حول ذلك الوجود فقد اكتفى رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم بما علم هو نفسه، واكتفى بأن علّم منها من وجد عنده استشراقا للفهم، ولكنه لم يشع ذلك ولم يعممه لأن العقول لا تقبله، والقرآن لم يأت ليعلمنا كيف نوجد أسرار الوجود وإنما جاء القرآن ليكنز أسرار الوجود حتى تجيء العقول ذوات الاستعداد لأن تفهم السر- لأنها حامت حوله بحركة الحياة- حينئذ يكون عطاء القرآن عطاء مجذوبا إليه، لأن الذي يبحث فيه له نشاط فكري حوله، ولذلك لا نجد أن صحابيا من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم سأله عن شيء كما لم يسأله عن الم (1) [لقمان: 1] ولا عن حم (1) عسق (2) [الشورى: 1 - 2] مع أن الرسول استقبل أناسا كثيرين يؤمنون بكتاب الله، واستقبل أناسا كثيرين يكفرون بما أنزل الله وكانوا يريدون أن يقيموا الحجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم في أنه أتى بشيء غراب «كلام مجانين».

فهل سمعنا أن كافرا من الكفار العتاة قال للقوم وهم بلغاء فصحاء يجيدون العربية ملكة لا صناعة؟

هل سمعنا أن واحدا من الكفار قال: ماذا يعني حم وماذا تعني حم عسق؟

كيف يمر على المكابر المنكر مثل هذه الفواتح للسور ولا يجد فيها ما ينقض على رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم شيئا من أمره؟.
আর যদি কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) করা সম্ভব হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) করার জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য হতেন। কারণ এটি তাঁর ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি এর দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের জন্য তাদের বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা অনুসারে তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন:

সেই সকল শরয়ি বিধান (الأحكام التكليفية), যা পালন করলে মানুষ সওয়াব পায় এবং বর্জন করলে শাস্তির সম্মুখীন হয়। পক্ষান্তরে, মহাজাগতিক অস্তিত্ব এবং সেই অস্তিত্ব সম্পর্কে কুরআনের রহস্যগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু ছিল, সেগুলোর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমেই ক্ষান্ত থেকেছেন। তিনি শুধুমাত্র তাদেরকেই তা শিখিয়েছেন যাদের মধ্যে এটি বোঝার মতো বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি ও আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করেছেন। তবে তিনি এটি প্রচার করেননি এবং একে সাধারণীকরণ করেননি; কারণ সাধারণ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি তা গ্রহণ করতে সক্ষম ছিল না। কুরআন আমাদের অস্তিত্বের রহস্য কীভাবে উন্মোচন করতে হয় তা শেখাতে আসেনি, বরং কুরআন এসেছে অস্তিত্বের রহস্যগুলোকে সংরক্ষিত রাখতে, যতক্ষণ না সেই রহস্যগুলো বোঝার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন বিবেক-বুদ্ধির উদ্ভব ঘটে—যেহেতু তারা জীবনযাত্রার আবর্তে সেই রহস্যগুলোর চারপাশেই বিচরণ করছিল। তখনই কুরআনের সেই দান হবে একটি কাঙ্ক্ষিত উপহার, কারণ যিনি এটি নিয়ে গবেষণা করেন, তার মধ্যে এ বিষয়ে একটি চিন্তাশীল সক্রিয়তা কাজ করে। এ কারণেই আমরা দেখি না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে কেউ তাঁকে কোনো বিষয়ে এমন প্রশ্ন করেছেন, যেমন তাঁরা তাঁকে ‘আলিফ-লাম-মীম’ [লুকমান: ১] কিংবা ‘হা-মীম আই-সীন-ক্বফ’ [আশ-শূরা: ১-২] সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি। অথচ রাসূলুল্লাহ এমন বহু লোকের মুখোমুখি হয়েছেন যারা আল্লাহর কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী ছিল, আবার এমন বহু লোকেরও মুখোমুখি হয়েছেন যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবকে অস্বীকার করত এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে এই প্রমাণ (حجة) দাঁড় করাতে চেয়েছিল যে, তিনি অদ্ভুত কিছু তথা ‘উন্মাদের কথা’ নিয়ে এসেছেন।

আমরা কি কখনো শুনেছি যে, কোনো উদ্ধত কাফের সেই লোকদের কিছু বলেছে, অথচ তারা ছিল চরম বাগ্মী ও প্রাঞ্জল ভাষী এবং কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই স্বভাবজাতভাবেই আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিল?

আমরা কি কোনো কাফেরকে বলতে শুনেছি যে: ‘হা-মীম’ বলতে কী বোঝায় কিংবা ‘হা-মীম আই-সীন-ক্বফ’ বলতে কী বোঝায়?

কীভাবে একজন জেদি অস্বীকারকারী সূরার এই প্রারম্ভিক অক্ষরগুলোর (فواتح السور) ওপর দিয়ে পার হয়ে যায় অথচ রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত দ্বীনের কোনো বিষয়কে খণ্ডন করার মতো কোনো কিছু এর মধ্যে খুঁজে পায় না?
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لا شك أنه انفعل لها وإن لم يؤمن بها، ولا يجد فيها أي شيء يمكن أن ينقض به على رسول الله صلى الله عليه وسلم ليهدم قرآنه، إذا فلا المؤمنون به سألوه عنها ولا الكافرون به سألوه عنها إلى آخر الكلام الباقي عن العلامة. رحمه الله.

 

‌‌معنى إعجاز القرآن الكريم:

الإعجاز لغة: نسبة العجز للغير قال تعالى في قصة ابني آدم: قالَ يا وَيْلَتى أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هذَا الْغُرابِ فَأُوارِيَ سَوْأَةَ أَخِي فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ (31) [المائدة: 31].

وسميت معجزة لعجز البشر عن الإتيان بمثلها. والمقصود بإعجاز القرآن عجز البشر عن الإتيان بمثله وبذلك يتبين أنه حق وأن الرسول صلى الله عليه وسلم صادق. وليس القصد من الإعجاز التعجيز لذاته. وبهذا القرآن الكريم أحيا الله تعالى الأمة وجعلها خير أمة أخرجت للناس وهذا خطاب لرسولنا صلى الله عليه وسلم.

أخوك عيسى دعا ميتا فقام له … وأنت أحييت أجيالا من العدم

فالقرآن الكريم معجزة محمد صلى الله عليه وسلم، الرجل الأمّي الذي لم يدرس في جامعة ولم يتعلم العلم عن عالم، ولم يتصل بأهل الكتاب يتحدى العرب خاصة والناس كافة على أن يأتوا بآية يعارضون بها هذا القرآن الكريم، ولما عجزوا فما عليهم إلا أن يذعنوا أنه من عند الله فيؤمنوا به ويستسلموا لله تعالى وينقادوا له. قال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195) [الشعراء: 192 - 195].

وقال: قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدىً وَبُشْرى لِلْمُسْلِمِينَ (102) [النحل: 102].
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন যদিও তিনি এতে ঈমান আনেননি; আর তিনি এতে এমন কিছু পাননি যার মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কোনো আপত্তি তুলতে পারতেন যাতে তাঁর কুরআনকে খণ্ডন করা যায়। অতএব, মুমিনগণও তাঁকে এ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি এবং কাফিরগণও তাঁকে এ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি... আল্লামা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত বাকি কথা পর্যন্ত।

 

‌‌পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অর্থ:

শাব্দিক অর্থে অলৌকিকত্ব (إعجاز): অন্যকে অক্ষম সাব্যস্ত করা। মহান আল্লাহ আদমের দুই পুত্রের কাহিনীতে বলেন: “সে বলল, ‘হায় আফসোস! আমি কি এই কাকটির মতো হতেও অক্ষম (عجز) হলাম যাতে আমার ভাইয়ের মৃতদেহ গোপন করতে পারি?’ অতঃপর সে অনুতপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।” (৩১) [আল-মায়িদাহ: ৩১]।

মানুষ এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম হওয়ার কারণে একে মুজিযা (معجزة) বলা হয়। আর কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বলতে উদ্দেশ্য হলো মানুষের এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম (عجز) হওয়া, আর এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে এটি সত্য এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যবাদী। অলৌকিকত্বের উদ্দেশ্য কেবল অন্যকে অক্ষম (تعجيز) করা নয়। বরং এই পবিত্র কুরআনের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা উম্মাহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং একে মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর এটি আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি একটি সম্বোধন।

আপনার ভাই ঈসা (আ.) মৃতকে ডেকেছিলেন, ফলে সে তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে গিয়েছিল … আর আপনি অস্তিত্বহীনতা থেকে বহু প্রজন্মকে পুনর্জীবিত করেছেন।

সুতরাং পবিত্র কুরআন হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুজিযা (معجزة); সেই নিরক্ষর (أمّي) ব্যক্তি যিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি, কোনো আলিমের নিকট জ্ঞান অর্জন করেননি এবং আহলে কিতাবের সাথেও যোগাযোগ করেননি; তিনি বিশেষভাবে আরবদের এবং সাধারণভাবে সমস্ত মানুষকে চ্যালেঞ্জ করছেন যেন তারা এই পবিত্র কুরআনের মোকাবিলায় একটি আয়াত (آية) নিয়ে আসে। যখন তারা অক্ষম (عجز) হলো, তখন তাদের সামনে এটি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকল না যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। ফলে তারা এর প্রতি ঈমান আনবে, মহান আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ করবে এবং তাঁর অনুগত হবে। মহান আল্লাহ বলেন: “আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]।

এবং তিনি বলেন: “বলুন, একে আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পবিত্র আত্মা সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা মুমিনদের সুদৃঢ় করে এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।” [আন-নাহল: ১০২]।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
والتحدي نوعان عام وخاص:

فالعام: تحدّى به القرآن جميع الخلائق من إنس وجن وفلاسفة وعباقرة وعلماء وأدباء وعرب وعجم وبيض وسود على أن يأتوا بمثله أو بشيء من مثله.

والتحدي الخاص: تحدّى القرآن الكريم العرب خاصة وعلى الأخص قريشا وهذا نوعان أيضا كلي وجزئي:

فالكلي: تحداهم بأن يأتوا بقرآن مثله.

والجزئي: تحداهم على أن يأتوا بسورة من مثله كسورة العصر مثلا.

ودليل الكلي في قوله تعالى: قُلْ فَأْتُوا بِكِتابٍ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ هُوَ أَهْدى مِنْهُما أَتَّبِعْهُ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (49) [القصص: 49].

والجزئي كقوله تعالى: أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَياتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (13) فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّما أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (14) [هود: 13 - 14].

والقرآن الكريم معجز بذاته فإعجازه بفصاحة عباراته وروعة بيانه وأسلوبه الفريد الذي لا يشابه أي أسلوب فلا هو نثر ولا شعر ولا خطابة ولا كهانة ومسحته اللفظية تتجلى في نظامه الصوتي وجماله اللغوى وبراعته الفنية.

فهو الشهادة على صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن هذا القرآن منزل من عند الله تعالى، قال تعالى: قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَإِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرى قُلْ لا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّما هُوَ إِلهٌ واحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ (19) [الأنعام: 19].
চ্যালেঞ্জ (তহদ্দী) দুই প্রকার: সাধারণ এবং বিশেষ।

সাধারণ চ্যালেঞ্জ: এর মাধ্যমে কুরআন সমস্ত সৃষ্টিজগত—মানব, জিন, দার্শনিক, প্রতিভাবান ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যিক, আরব-অনারব এবং শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ সকলকে—চ্যালেঞ্জ করেছে যেন তারা এর সমরূপ বা এর সামান্যতম সদৃশ কিছু নিয়ে আসে।

বিশেষ চ্যালেঞ্জ: কুরআন মাজীদ বিশেষভাবে আরবদের এবং নির্দিষ্টভাবে কুরাইশদের চ্যালেঞ্জ করেছে। এটিও আবার দুই প্রকার: সামগ্রিক এবং আংশিক।

সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ: এটি ছিল তাদের প্রতি এর সদৃশ একটি পূর্ণাঙ্গ কুরআন নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ।

আংশিক চ্যালেঞ্জ: এটি ছিল এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ, যেমন উদাহরণস্বরূপ সূরা আল-আসর।

সামগ্রিক চ্যালেঞ্জের প্রমাণ আল্লাহ তাআলার এই বাণী: "বলুন, তবে তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে এমন কোনো কিতাব নিয়ে এসো যা এই উভয়ের চেয়ে অধিক পথপ্রদর্শক হবে, আমি তারই অনুসরণ করব যদি তোমরা সত্যবাদী হও।" [সূরা আল-কাসাস: ৪৯]।

আর আংশিক চ্যালেঞ্জের দৃষ্টান্ত আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: "নাকি তারা বলে যে সে এটি নিজে রচনা করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি সূরা বানিয়ে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। এরপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখো যে তা আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই নাযিল হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে?" [সূরা হুদ: ১৩-১৪]।

কুরআন মাজীদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অলৌকিক (মুজিযা)। এর অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে এর বাক্যাবলির সাবলীলতা, বর্ণনার চমৎকারিত্ব এবং এর এমন এক অনন্য শৈলীর মাঝে যা অন্য কোনো শৈলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। এটি গদ্য নয়, কাব্য নয়, বক্তৃতা নয়, এমনকি গণকের কথা বা অতীন্দ্রিয় বাক্যও নয়। এর শাব্দিক সৌন্দর্য এর ধ্বনিগত বিন্যাস, ভাষাগত মাধুর্য এবং শৈল্পিক নিপুণতায় পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।

এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার প্রমাণ এবং এই সাক্ষ্য দেয় যে এই কুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, সাক্ষ্য হিসেবে সবচেয়ে বড় বস্তু কোনটি? বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে আমি তোমাদের এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সতর্ক করতে পারি। তোমরা কি সত্যিই সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে? বলুন, আমি সাক্ষ্য দিই না। বলুন, তিনিই তো একমাত্র উপাস্য এবং তোমরা যে শিরক করো তা থেকে নিশ্চয়ই আমি মুক্ত।" [সূরা আল-আনআম: ১৯]।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال تعالى: لكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِما أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلائِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً (166) [النساء: 166].

فالعلم الإلهي يدل على أن القرآن من عند الله، وهو ظاهر في كل آية من آياته.

هذا وإن التقدم العلمي في العصر الحديث يدل على مصداق ما جاء في القرآن الكريم. فكل آية منه تتحدى البشر بأن يأتوا بمثلها وكل إشارة علمية فيه سبقت العلم الحديث، ونحن الآن في عصر انفجار المعرفة نكتشف ذلك وهذا ما سنراه في بحث الإعجاز العلمي في القرآن الكريم.

 

‌‌هـ- بعض وجوه إعجاز القرآن الكريم

: الإخبار عن المغيبات الماضية والمستقبلة وأهميتها للرسول صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌1 - الإخبار عن المغيبات الماضية

: كقصص الأنبياء والأمم السابقة، مثل: قصة ثمود، وصالح، وإبراهيم، وموسى وغير هم.

أ- قال تعالى: وَفِي مُوسى إِذْ أَرْسَلْناهُ إِلى فِرْعَوْنَ بِسُلْطانٍ مُبِينٍ (38) فَتَوَلَّى بِرُكْنِهِ وَقالَ ساحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ (39) فَأَخَذْناهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْناهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ (40) وَفِي عادٍ إِذْ أَرْسَلْنا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ (41) ما تَذَرُ مِنْ شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ (42) وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّى حِينٍ (43) فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنْظُرُونَ (44) فَمَا اسْتَطاعُوا مِنْ قِيامٍ وَما كانُوا مُنْتَصِرِينَ (45) وَقَوْمَ نُوحٍ مِنْ قَبْلُ إِنَّهُمْ كانُوا قَوْماً فاسِقِينَ (46) [الذاريات: 38 - 46].

ب- قال تعالى: وَقالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقالَتِ النَّصارى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْواهِهِمْ يُضاهِؤُنَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ (30) [التوبة: 30].
আর আল্লাহ তাআলা বলেন: "কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তিনি তা তাঁর নিজ জ্ঞানে নাযিল করেছেন; এবং ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" (১৬৬) [সূরা নিসা: ১৬৬]।

সুতরাং ঐশী জ্ঞান প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এটি তাঁর প্রতিটি আয়াতের মধ্যেই সুস্পষ্ট।

বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তার সত্যতার প্রমাণ দেয়। এর প্রতিটি আয়াত মানবজাতিকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ প্রদান করে এবং এতে বিদ্যমান প্রতিটি বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত আধুনিক বিজ্ঞানেরও পূর্ববর্তী। বর্তমানে আমরা তথ্য বিস্ফোরণের যুগে এটি উন্মোচন করছি এবং পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত গবেষণায় আমরা তা দেখতে পাব।

 

‌‌৫- পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) কতিপয় দিক

: অতীত ও ভবিষ্যতের অদৃশ্যাবলি (مغيبات) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এর গুরুত্ব।

 

‌‌১ - অতীত অদৃশ্যাবলি (مغيبات) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান

: যেমন নবীগণের কাহিনী এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ; উদাহরণস্বরূপ: সামূদ, সালিহ, ইবরাহিম, মূসা ও অন্যদের কাহিনী।

ক- আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর মূসার বৃত্তান্তে (নিদর্শন রয়েছে), যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের নিকট প্রেরণ করেছিলাম (৩৮)। কিন্তু সে তার শক্তিমত্তাসহ মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘এ তো এক জাদুকর অথবা উন্মাদ’ (৩৯)। অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম, এমতাবস্থায় সে ছিল তিরস্কৃত (৪০)। আর নিদর্শন রয়েছে আদ জাতির বৃত্তান্তে, যখন আমি তাদের ওপর পাঠালাম অকল্যাণকর বায়ু (৪১)। তা যা কিছুর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ না করে ছাড়েনি (৪২)। আর নিদর্শন রয়েছে সামূদ জাতির বৃত্তান্তে, যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘তোমরা কিছুকাল ভোগ করে নাও’ (৪৩)। কিন্তু তারা তাদের রবের আদেশ অমান্য করল, ফলে তাদের চোখের সামনেই বজ্রপাত তাদেরকে আঘাত করল (৪৪)। তখন তারা দাঁড়াতে সক্ষম হলো না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হলো না (৪৫)। আর ইতিপূর্বে আমি নূহের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলাম; নিশ্চয়ই তারা ছিল পাপাচারী (فاسق) জাতি (৪৬)।" [সূরা আয-যারিয়াত: ৩৮ - ৪৬]।

খ- আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর ইয়াহুদীরা বলে, ‘উযাইর আল্লাহর পুত্র’ এবং খ্রিষ্টানরা বলে, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা। তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন; তারা সত্য থেকে কোন দিকে বিভ্রান্ত হচ্ছে!" (৩০) [সূরা আত-তাওবাহ: ৩০]।
(খণ্ড: ১) আল-মুজিজাতুল কুরআনিয়্যাহ হাক্বাইকুন ইলমিয়্যাহ ক্বতিআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فمن هو عزيز؟

اليهود لم يعرفوا هذا الاسم إلا بعد دخولهم إلى مصر واختلاطهم بأهلها وأخذهم من وثنيتها. فعزيز هو (أوزيرس) كما يلفظه الفرنج أو (عوزر) كما يلفظه قدماء المصريين وهو ابن إله الشمس في الديانة المصرية القديمة، وقد أخذ اليهود عنهم ذلك وقالوا عزيز ابن الله وصاروا يعلمون أولادهم بذلك ولا يستطيع اليهود أن يدّعوا أو يثبتوا أنّ اسم عزيز كان معروفا عندهم قبل دخولهم مصر.

 

‌‌2 - الإخبار عن المغيبات المستقبلة:

أ- إخباره أن الروم سينتصر على الفرس في بضع سنين، قال تعالى:

الم (1) غُلِبَتِ الرُّومُ (2) فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ (3) فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ (4) بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ (5) [الروم: 1 - 5] وقد حدث هذا النصر فعلا في بضع سنين للروم على الفرس، وفي نفس اليوم انتصر المسلمون على المشركين يوم بدر، فتحقق وعد الله بنصر الروم، وفرح المؤمنون يومئذ بنصرهم.

ب- إخبار القرآن الكريم أن الله عاصم رسوله وحافظه من الناس فلا يصلون إليه وهذا وعد أيضا بالإضافة إلى كونه إخبارا عن غيب في المستقبل، قال الله تعالى: يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَما بَلَّغْتَ رِسالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكافِرِينَ (67) [المائدة: 67].

فصرف النبي صلى الله عليه وسلم الحرس والصّحاب ثقة بوعد الله تعالى وإيمانا قاطعا بحماية الله تعالى له.
তাহলে উযাইর কে?

ইহুদিরা মিশরে প্রবেশ করার এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে মেলামেশা ও তাদের পৌত্তলিকতা থেকে গ্রহণ করার আগে এই নামের সাথে পরিচিত ছিল না। উযাইর মূলত সেই (ওসিরিস) যাকে ইউরোপীয়রা উচ্চারণ করে অথবা (উযির) যা প্রাচীন মিশরীয়রা উচ্চারণ করত। তিনি প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে সূর্য দেবতার পুত্র ছিলেন। ইহুদিরা তাদের কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছে এবং বলেছে যে, 'উযাইর আল্লাহর পুত্র'। তারা তাদের সন্তানদেরও এটি শেখাতে শুরু করে। ইহুদিরা এটি দাবি করতে বা প্রমাণ করতে পারবে না যে, মিশরে প্রবেশের আগে উযাইর নামটি তাদের কাছে পরিচিত ছিল।

 

‌‌২ - ভবিষ্যতের অদৃশ্য বিষয়াবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান:

ক- তাঁর এই সংবাদ প্রদান যে রোমকগণ কয়েক বছরের মধ্যে পারসিকদের ওপর বিজয়ী হবে। মহান আল্লাহ বলেন:

আলিফ-লাম-মীম (১) রোমকগণ পরাজিত হয়েছে (২) নিকটবর্তী এলাকায়। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে (৩) কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সব ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে (৪) তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু (৫) [রূম: ১-৫]। প্রকৃতপক্ষে কয়েক বছরের মধ্যেই পারসিকদের বিরুদ্ধে রোমকদের এই বিজয় অর্জিত হয়েছিল এবং একই দিনে বদরের যুদ্ধে মুসলিমগণ মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিল। ফলে রোমকদের বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়িত হয় এবং সেদিন মুমিনগণ তাদের বিজয়ে আনন্দিত হয়েছিল।

খ- আল-কুরআনের সংবাদ প্রদান যে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা ও হেফাজত করবেন, ফলে তারা তাঁর কাছে পৌঁছাতে (ক্ষতি করতে) পারবে না। এটি ভবিষ্যতের অদৃশ্যের সংবাদ হওয়ার পাশাপাশি একটি ওয়াদাও বটে। মহান আল্লাহ বলেন: হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না (৬৭) [মায়েদাহ: ৬৭]।

ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ওয়াদার ওপর আস্থাশীল (ثقة) হয়ে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সুরক্ষার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে দেহরক্ষী ও সাহাবীদের (صحاب) বিদায় করে দেন।