(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
دراسات أصولية في القرآن الكريم   (محمد إبراهيم الحفناوى)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: دراسات أصولية في القرآن الكريم

المؤلف: محمد إبراهيم الحفناوي

الناشر: مكتبة ومطبعة الإشعاع الفنية - القاهرة

عام النشر: 1422 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 485

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

কুরআনুল কারীমে উসূলী গবেষণা   (মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-হাফনাভী)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


বই: কুরআনুল কারীমে উসূলী গবেষণা

লেখক: মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-হাফনাভী

প্রকাশক: মাকতাবা ওয়া মাতবাআ আল-ইশআ আল-ফানিয়্যাহ - কায়রো

প্রকাশকাল: ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تمهيد

بسم الله الرّحمن الرّحيم وَأَنَّ هذا صِراطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [سورة الأنعام الآية 153]
উপক্রমণিকা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। [সূরা আল-আন’আম, আয়াত ১৫৩]
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا ومولانا محمد النبى المصطفى الكريم، وعلى آله وصحبه وأشياعه وحزبه نجوم المهتدين، ورجوم المعتدين.

وبعد:

فقد شرح الله عز وجل صدرى من فترة طويلة أن أعيش مع القرآن الكريم، أنهل من معينه، وأروى ظمئى من بحر جوده، حيث إنه لا يختلف اثنان فى أن القرآن الكريم هو كتاب هداية وإرشاد، وأن خير ما صرفت من أجله الجهود ووصل بسببه الليل والنهار هو القرآن الكريم وكيف لا؟ ويقول منزله جل شأنه:

كِتابٌ أُحْكِمَتْ آياتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ (1) كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُماتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلى صِراطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ (2) وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ (3) وقد أخرج أبو نعيم وغيره عن عبد الرحمن بن زياد بن أنعم قال:

قيل لموسى عليه السلام: يا موسى: إنما مثل كتاب أحمد فى الكتب بمنزلة وعاء فيه لبن كلما مخضته أخرجت زبدته.

--------------------------------------------

(1) سورة هود الآية 1

(2) سورة إبراهيم الآية 1

(3) سورة القمر الآية 17.
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মনোনীত এবং সম্মানিত নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, অনুসারীগণ ও তাঁর দলের ওপর, যারা হেদায়াতপ্রাপ্তদের নক্ষত্র এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য বিতাড়নকারী উল্কা।

অতঃপর:

দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমার অন্তরকে পবিত্র কুরআনের সাথে অতিবাহিত করার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যেন আমি এর ঝরনাধারা থেকে পান করতে পারি এবং এর বদান্যতার সাগর থেকে আমার তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি। কেননা এ বিষয়ে দুজন মানুষের মধ্যেও দ্বিমত নেই যে, পবিত্র কুরআন হলো হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনের কিতাব, এবং যার জন্য সর্বোত্তম প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে এবং যার কারণে দিন-রাত এক করা হয়েছে তা হলো পবিত্র কুরআন। আর কেনই বা তা হবে না? অথচ এটি অবতীর্ণকারী মহান আল্লাহ বলছেন:

এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (১)। এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে (২)। আমি তো কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (৩) আবু নুআইম এবং অন্যান্যেরা আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:

মূসা আলাইহিস সালাম-কে বলা হয়েছিল: হে মূসা, কিতাবসমূহের মধ্যে আহমদের কিতাবের দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি পাত্রের মতো যাতে দুধ রয়েছে, যখনই তুমি তা মন্থন করবে, তা থেকে তার মাখন বের হয়ে আসবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ, আয়াত ১

(২) সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ১

(৩) সূরা আল-কামার, আয়াত ১৭।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
كالبدر من حيث التفتّ رأيته … يهدى إلى عينيك نورا ثاقبا

كالشمس فى كبد السماء وضوءها … يغشى البلاد مشارقا ومغاربا

فسبحان من أنزله هاديا ونورا ساطعا، لا يستطيع إنسان مهما بلغ شأنه، وعلا كعبه أن يحيط بوصفه.

أندى على الأكباد من قطر النّدى … وألذّ فى الأجفان من سنة الكرى

ويكفى أن الله عز وجل سماه نورا وروحا، فهو ينير الطريق لمن أراد النجاة، ولا يستطيع مخلوق أن يعيش بدونه، لأنه يؤدى إلى حياة الأبد، فالمرء فى حاجة إلى القرآن أكثر من احتياج العين إلى نورها، والجسد إلى روحه.

هذا وكم فيه من مزايا … وفى زواياه من خبايا

ويطمع الحبر فى التقاضى … فيكشف الخبر عن قضايا

ويقول الإمام الشافعى رحمه الله: جميع ما تقوله الأمة شرح للسنة، وجميع السنة شرح للقرآن، وجميع القرآن شرح أسماء الله الحسنى وصفاته العليا.

زاد غيره: وجميع الأسماء الحسنى شرح لاسمه الأعظم.

لما كان الأمر كذلك كانت الدراسة حول القرآن الكريم أفضل من دراسة أىّ علم غيره، خاصة وهو المصدر الأول للتشريع، وما عداه مأخوذ منه، ومتفرع عنه، فمكثت زهاء سنة كاملة أنقب فى كتب التراث وغيرها من الكتب المخصصة فى الدراسات القرآنية، حتى جاءت الدراسة فى هذا البحث المتواضع، مشتمله على مقدمة وستة أبواب.
পূর্ণিমার চাঁদের মতো, যেদিক থেকেই তুমি তাকাও তাকে দেখতে পাবে … যা তোমার চোখে এক তীক্ষ্ণ জ্যোতি পৌঁছে দেয়।

আকাশের মধ্যভাগে অবস্থিত সূর্যের মতো, যার আলো … পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল জনপদকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

অতএব মহা পবিত্র সেই সত্তা, যিনি একে পথপ্রদর্শক ও উজ্জ্বল জ্যোতি হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। কোনো মানুষই, তার মর্যাদা যতই উঁচুতে পৌঁছাক না কেন বা তার অবস্থান যতই সুউচ্চ হোক না কেন, এর বর্ণনার পূর্ণতা দিতে সক্ষম নয়।

এটি অন্তরের জন্য শিশিরবিন্দুর চেয়েও অধিক সিক্তকারী … এবং চোখের পাতার জন্য তন্দ্রার আবেশের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।

এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা একে 'নূর' (জ্যোতি) এবং 'রূহ' (আত্মা) হিসেবে নামকরণ করেছেন। ফলে এটি মুক্তি প্রত্যাশীদের জন্য পথকে আলোকিত করে। কোনো সৃষ্টিই একে ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না, কারণ এটি অনন্ত জীবনের দিকে পরিচালিত করে। সুতরাং মানুষের কুরআনের প্রতি মুখাপেক্ষিতা চোখের তার জ্যোতির প্রতি এবং দেহের তার আত্মার প্রতি মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিক।

এতে কতই না বৈশিষ্ট্য রয়েছে … এবং এর পরতে পরতে কতই না রহস্য লুকিয়ে আছে।

বিদগ্ধ পণ্ডিত এর থেকে জ্ঞান আহরণের আকাঙ্ক্ষা করেন … ফলে এর সংবাদ বিভিন্ন বিষয়ের রহস্য উন্মোচন করে।

ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন: উম্মত যা কিছু বলে তার সবই সুন্নাহর ব্যাখ্যা, আর সমস্ত সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, এবং সমস্ত কুরআন হলো আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির ব্যাখ্যা।

অন্যজন এর সাথে যোগ করেছেন: এবং সমস্ত সুন্দরতম নামসমূহ তাঁর ইসমে আযম-এর ব্যাখ্যা।

বিষয়টি যখন এমন, তখন কুরআনুল কারীম সংক্রান্ত গবেষণা অন্য যেকোনো ইলমের গবেষণার চেয়ে উত্তম; বিশেষ করে এটি যখন শরীয়তের বিধানের প্রথম উৎস, এবং অন্য যা কিছু আছে তা এখান থেকেই গৃহীত ও এর থেকেই শাখা-প্রশাখা হিসেবে নির্গত। তাই আমি প্রায় পূর্ণ একটি বছর ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহ এবং কুরআন বিষয়ক গবেষণার জন্য নিবেদিত অন্যান্য কিতাবসমূহে অনুসন্ধান চালিয়েছি, অবশেষে এই বিনম্র গবেষণাপত্রটি তৈরি হয়েছে, যা একটি ভূমিকা ও ছয়টি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة: فى تعريف القرآن الكريم.

الباب الأول: فى ثبوت القرآن وما يتصل به وفيه فصول الفصل الأول: فى ثبوت القرآن وتواتره الفصل الثانى: فى ترتيب الآيات والسور الفصل الثالث: فى اشتمال القرآن على ألفاظ غير عربية الفصل الرابع: فى ترجمة القرآن الفصل الخامس: فى حجيته الفصل السادس: فى الغاية من البحث فى القرآن الفصل السابع: فى خواص القرآن.

الباب الثانى: فى الأحكام التى تضمنها القرآن وما يتعلق بها وفيه فصول الفصل الأول: فى الأحكام الواردة فى القرآن الكريم الفصل الثانى: فى تعليل القرآن الأحكام الفصل الثالث: فى أسلوب القرآن فى بيان الأحكام الفصل الرابع: فى طرق استخراج الأحكام من القرآن.

الباب الثالث: فى مباحث الألفاظ.

وفيه فصول الفصل الأول: فى أقسام اللفظ باعتبار المعنى الذى وضع له وفيه مباحث
ভূমিকা: কুরআনুল কারীমের পরিচয়ে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রামাণিকতা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, এতে বেশ কিছু অধ্যায় রয়েছে: প্রথম অধ্যায়: কুরআনের প্রামাণিকতা ও এর নিরবচ্ছিন্নতা প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: আয়াত ও সূরাসমূহের বিন্যাস প্রসঙ্গে। তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনে অনারব শব্দাবলির ব্যবহার প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: কুরআনের অনুবাদ প্রসঙ্গে। পঞ্চম অধ্যায়: এর প্রামাণিক মর্যাদা প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ অধ্যায়: কুরআন নিয়ে গবেষণার লক্ষ্য প্রসঙ্গে। সপ্তম অধ্যায়: কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন যে সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, এতে বেশ কিছু অধ্যায় রয়েছে: প্রথম অধ্যায়: কুরআনুল কারীমে বর্ণিত বিধানসমূহ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনের বিধানসমূহের কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গে। তৃতীয় অধ্যায়: বিধান বর্ণনায় কুরআনের শৈলী প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: কুরআন থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাব্দিক আলোচনা প্রসঙ্গে।

এবং এতে বেশ কিছু অধ্যায় রয়েছে; প্রথম অধ্যায়: যে অর্থের নিমিত্তে শব্দ গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায় শব্দের প্রকারভেদ এবং এতে বেশ কিছু উপ-আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأول: فى العام المبحث الثانى: فى الجمع المنكر المبحث الثالث: فى الخاص المبحث الرابع: فى الأمر والنهى المبحث الخامس: فى المطلق والمقيد المبحث السادس: فى المشترك الفصل الثانى: فى اللفظ باعتبار المعنى الذى استعمل فيه وفيه مبحثان المبحث الأول: فى الحقيقة والمجاز المبحث الثانى: فى الصريح والكناية الفصل الثالث: فى اللفظ باعتبار ظهور معناه وخفائه وفيه مبحثان المبحث الأول: واضح الدلالة وفيه مطالب المطلب الأول: فى المحكم المطلب الثانى: فى المفسر المطلب الثالث: فى

النص المطلب الرابع: فى الظاهر المبحث الثانى: غير واضح الدلالة وفيه مطالب المطلب الأول: فى الخفى المطلب الثانى: فى المشكل المطلب الثالث: فى المجمل المطلب الرابع: فى المتشابه
প্রথম পরিচ্ছেদ: আম প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অনির্দিষ্ট বহুবচন প্রসঙ্গে। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খাস প্রসঙ্গে। চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আদেশ ও নিষেধ প্রসঙ্গে। পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুতলাক ও মুকাইয়াদ প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুশতারাক প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: শব্দ যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সেই বিবেচনায় শব্দের আলোচনা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদ: হাকিকত ও মাজায প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সারীহ ও কিনায়া প্রসঙ্গে। তৃতীয় অধ্যায়: অর্থের স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতার বিবেচনায় শব্দের বর্ণনা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদ: স্পষ্ট অর্থবোধক এবং এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদ: মুহকাম প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুফাসসার প্রসঙ্গে। তৃতীয় অনুচ্ছেদ:

নস প্রসঙ্গে। চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জাহির প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অস্পষ্ট অর্থবোধক এবং এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদ: খাফী প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুশকিল প্রসঙ্গে। তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুজমাল প্রসঙ্গে। চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মুতাশাবিহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الرابع: فى كيفية دلالة اللفظ على المعنى وفيه مبحثان المبحث الأول: فى طرق الدلالة عند الحنفية المبحث الثانى: فى طرق الدلالة عند الشافعية الباب الرابع: فى النسخ وفيه فصول الفصل الأول: فى مدلول النسخ وموقف العلماء منه وفيه مباحث المبحث الأول: فى تعريف النسخ المبحث الثانى: فى شروطه المبحث الثالث: فى موقف العلماء منه الفصل الثانى: فى أنواع النسخ وفيه مباحث المبحث الأول: فى نسخ القرآن بالقرآن وفيه مطالب المطلب الأول: فى نسخ التلاوة والحكم معا المطلب الثانى: فى نسخ التلاوة فقط دون الحكم المطلب الثالث: فى نسخ الحكم فقط دون التلاوة المبحث الثانى: فى نسخ القرآن بالسنة المبحث الثالث: فى نسخ السنة بالقرآن المبحث الرابع: فى نسخ السنة بالسنة.

الفصل الثالث: فى طرق معرفة النسخ.

الباب الخامس: فى الصلة بين القرآن والسنة وفيه فصلان
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অর্থের প্রতি শব্দের নির্দেশনার পদ্ধতি প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি আলোচনা রয়েছে। প্রথম আলোচনা: হানাফীগণের নিকট নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ। দ্বিতীয় আলোচনা: শাফিঈগণের নিকট নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ। চতুর্থ অধ্যায়: নাসখ (রহিতকরণ) প্রসঙ্গে, এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদ: নাসখের তাৎপর্য ও এর প্রতি আলেমদের অবস্থান প্রসঙ্গে, এবং এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে। প্রথম আলোচনা: নাসখের সংজ্ঞায়। দ্বিতীয় আলোচনা: এর শর্তাবলি প্রসঙ্গে। তৃতীয় আলোচনা: এর প্রতি আলেমদের অবস্থান প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাসখের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে, এবং এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে। প্রথম আলোচনা: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের নাসখ প্রসঙ্গে, এবং এতে কয়েকটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তিলাওয়াত ও বিধান—উভয়ই রহিতকরণ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: বিধান ব্যতিরেকে কেবল তিলাওয়াত রহিতকরণ প্রসঙ্গে। তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তিলাওয়াত ব্যতিরেকে কেবল বিধান রহিতকরণ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় আলোচনা: সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের নাসখ প্রসঙ্গে। তৃতীয় আলোচনা: কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর নাসখ প্রসঙ্গে। চতুর্থ আলোচনা: সুন্নাহর মাধ্যমে সুন্নাহর নাসখ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নাসখ জানার পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্ক প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الأول: فى المقدار الذى بينه النبى صلى الله عليه وسلم من القرآن الفصل الثانى: فى أنواع بيان القرآن بالسنة الباب السادس: فى القرآن المكى والمدنى وفيه فصول الفصل الأول: فى تعريف القرآن المكى والمدنى وفائدة العلم بذلك.

الفصل الثانى: فى الطرق الموصلة إلى معرفة المكى والمدنى الفصل الثالث: فى خصائص كل من المكى والمدنى الفصل الرابع: فى السور المكية والمدنية الفصل الخامس: فى تنزيلات القرآن الفصل السادس: فى تنجيم القرآن والحكمة منه الفصل السابع: فى أول ما نزل وآخر ما نزل.

هذا وقد نهجت فى كتابة هذه الدراسة نهجا يقوم على النحو التالى:

1 - الاتسام بالموضوعية المطلقة من أجل الوصول إلى الحق.

2 - الرجوع فى كل نص إلى مصادره- وذلك من باب الأمانة العلمية- مع التنبيه على ذلك فى ذيل كل صحيفة من صحائف هذا الكتاب.

هذا كل ما أستطيع أن أذكره وأنا أقدّم لهذا العمل، وأسأل الله عز وجل أن يشيبنى عليه ويجعله فى كفة حسناتى وكل من له علىّ فضل يوم القيامة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন হতে যা বর্ণনা করেছেন তার পরিমাণ। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যার প্রকারভেদ। ষষ্ঠ অধ্যায়: মাক্কী ও মাদানী কুরআন প্রসঙ্গে এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ। প্রথম পরিচ্ছেদ: মাক্কী ও মাদানী কুরআনের সংজ্ঞা এবং তা জানার উপকারিতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মাক্কী ও মাদানী কুরআন জানার মাধ্যমসমূহ। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাক্কী ও মাদানী কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ। চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাক্কী ও মাদানী সূরাসমূহ। পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআন অবতরণ পদ্ধতি। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পর্যায়ক্রমে কুরআন নাযিল হওয়া এবং এর হিকমত। সপ্তম পরিচ্ছেদ: সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে।

এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য নিরঙ্কুশ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা।

২ - প্রতিটি উদ্ধৃতিকে তার মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া—যা বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার অন্তর্ভুক্ত—এবং এই গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে তা উল্লেখ করা।

এই কর্মটি পেশ করার প্রাক্কালে আমি এইটুকুই উল্লেখ করতে পারছি এবং আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এর ওপর প্রতিদান দান করেন এবং কিয়ামতের দিন এটিকে আমার ও আমার ওপর যাদের অনুগ্রহ রয়েছে তাদের সকলের পুণ্য হিসেবে নেকির পাল্লায় ভারী করে দেন।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجادِلُ عَنْ نَفْسِها وَتُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ ما عَمِلَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ (1).

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

الدكتور محمد إبراهيم الحفناوى استاد ورئيس قسم أصول الفقه بكلية الشريعة والقانون بطنطا

--------------------------------------------

(1) سورة النحل الآية 111.
যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষ হয়ে বিতর্ক করতে করতে আসবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না (১)।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ডক্টর মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-হিফনাওয়ী, উসুলুল ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শরিয়াহ ও আইন অনুষদ, তানতা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত ১১১।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدمة فى‌‌ تعريف القرآن الكريم

تعريف القرآن:

القرآن فى اللغة مصدر مرادف للقراءة ومنه قوله تعالى:

إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ* فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (1). ثم نقل من هذا المعنى المصدرى وجعل اسما للكلام المعجز الذى أنزله الله تعالى على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وذلك من باب إطلاق المصدر على مفعوله.

قال الرازى: (2) قرأ الكتاب قراءة وقرآنا- بالضم- وقرأ الشيء قرآنا- بالضم أيضا- جمعه وضمه ومنه سمى القرآن لأنه يجمع السور ويضمها.

وقال ابن منظور: (3) وسمى قرآنا لأنه يجمع السور فيضمها.

على العموم هناك خمسة أقوال فى لفظ القرآن هى:

 

‌‌القول الأول:

لفظ القرآن المعرّف بأل ليس مهموزا ولا مشتقّا بل وضع علما على الكلام المنزل على النبى صلى الله عليه وسلم، وهذا القول مروىّ عن الإمام الشافعى رضى الله عنه.

--------------------------------------------

(1) سورة القيامة آيتا 17، 18

(2) مختار الصحاح 526

(3) لسان العرب 4/ 3563
আল-কুরআনুল কারীমের পরিচয়ের ভূমিকা

কুরআনের সংজ্ঞা:

ভাষাগত দিক থেকে কুরআন শব্দটি পঠনের সমার্থক একটি ক্রিয়ামূল। মহান আল্লাহর বাণী এ থেকেই এসেছে:

নিশ্চয়ই তা সংরক্ষণ করা এবং তা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন (১)। অতঃপর এই ক্রিয়ামূলক অর্থ থেকে সরিয়ে একে সেই অলৌকিক বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে যা মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। এটি মূলত কর্মপদ অর্থে ক্রিয়ামূলের ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত।

আর-রাজি বলেন: (২) কিতাব পাঠ করাকে পেশ সহযোগে 'কিরাআতান' ও 'কুরআনান' বলা হয়। আর কোনো কিছুকে 'কুরআন' করার অর্থ হলো—তাকে জমা করা বা একত্রিত করা। এ কারণেই একে কুরআন নামকরণ করা হয়েছে, কেননা এটি সূরাগুলোকে একত্রিত ও সন্নিবেশিত করে।

ইবনে মানযুর বলেন: (৩) একে কুরআন নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি সূরাগুলোকে জমা ও একত্র করে।

সাধারণভাবে কুরআন শব্দের ব্যাপারে পাঁচটি মত রয়েছে, সেগুলো হলো:

 

‌‌প্রথম মত:

আলিফ-লাম যুক্ত 'আল-কুরআন' শব্দটি 'হামজাহ' যুক্ত নয় এবং এটি অন্য কোনো শব্দ থেকেও উদ্ভূত হয়নি; বরং একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ বাণীর একটি মৌলিক নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মতটি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৭, ১৮

(২) মুখতারুস সিহাহ ৫২৬

(৩) লিসানুল আরব ৪/ ৩৫৬৩
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد جاء فى تاريخ بغداد (1) فى ترجمة الإمام الشافعى رضى الله عنه ما يلى:

« .... وقرأت القرآن على إسماعيل بن قسطنطين، وكان يقول: القرآن اسم وليس مهموزا، ولم يؤخذ من «قرأت» ولو أخذ من «قرأت» لكان كل ما قرئ قرآنا- ولكنه اسم للقرآن مثل التوراة والإنجيل يهمز قرأت ولا يهمز القران».

 

‌‌القول الثانى:

لفظ القرآن مشتق من قرنت الشيء بالشىء إذا ضممته إليه، ثم جعل علما على اللفظ المنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسمى بذلك لقران السورة والآيات والحروف فيه بعضها ببعض، وهذا.

القول منقول عن الإمام الأشعرى رحمه الله تعالى.

 

‌‌قال الشيخ بدر الدين الزركشى رحمه الله (2):

« … وذهب آخرون إلى أنه مشتق من قرنت الشيء بالشىء إذا ضممته إليه فسمى بذلك لقران السور والآيات والحروف فيه، ومنه قيل للجميع بين الحج والعمرة قران … »

 

‌‌القول الثالث:

لفظ القرآن مشتق من القرائن، لأن الآيات فيه يصدق بعضها بعضا، وجعل علما على اللفظ المنزل على النبى صلى الله عليه وسلم.

وهذا هو رأى الفراء.

قال بعض المفسرين (3): القران بغير همز مأخوذ من القرائن، لأن

--------------------------------------------

(1). 2/ 62 ط: القاهرة سنة 1349 هـ

(2) البرهان فى علوم القرآن 1/ 278.

(3) تفسير القرطبى 1/ 674، والبرهان للزركشى 1/ 278.
তারীখে বাগদাদ (১) গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনীতে নিম্নোক্ত বর্ণনা এসেছে:

« .... এবং আমি ইসমাঈল ইবনে কুসতান্তীনের নিকট কুরআন পড়েছি; তিনি বলতেন: 'কুরআন' একটি বিশেষ্য এবং এটি হামযাহযুক্ত নয়। এটি 'কারাতু' (আমি পড়েছি) শব্দ থেকে নির্গত হয়নি। যদি এটি 'কারাতু' থেকে উৎপন্ন হতো, তবে যা কিছু পাঠ করা হয় সবই 'কুরআন' হতো। বরং এটি কুরআনের জন্য একটি নাম, যেমন তাওরাত ও ইনজীল। 'কারাতু' শব্দে হামযাহ উচ্চারিত হয়, কিন্তু 'কুরআন' শব্দে হামযাহ উচ্চারিত হয় না।»

 

‌‌দ্বিতীয় মত:

‘কুরআন’ শব্দটি ‘কারান্তুশ শাইআ বিশ-শাই’ (আমি একটি বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করেছি) থেকে ব্যুৎপন্ন, যখন আপনি তাকে তার সাথে মিলিয়ে দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বাণীর জন্য এটিকে নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সূরা, আয়াত এবং বর্ণসমূহ একে অপরের সাথে যুক্ত থাকার কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। এবং এটিই—

এই মতটি ইমাম আশআরি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌শায়খ বদরুদ্দিন যারকাশি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (২):

« … এবং অন্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি ‘কারান্তুশ শাইআ বিশ-শাই’ থেকে ব্যুৎপন্ন, যখন আপনি একটি বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করেন। ফলে সূরা, আয়াত এবং বর্ণসমূহ এতে সুসমন্বিত থাকার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। হজ্জ ও উমরাহ একত্রে পালন করাকে এই মূল থেকেই ‘কিরান’ বলা হয় … »

 

‌‌তৃতীয় মত:

‘কুরআন’ শব্দটি ‘কারাইন’ (নিদর্শনসমূহ বা সাদৃশ্যসমূহ) থেকে ব্যুৎপন্ন, কারণ এর আয়াতসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে। অতঃপর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

এটিই আল-ফাররা-এর অভিমত।

জনৈক মুফাসসির বলেছেন (৩): হামযাহ ব্যতীত ‘কুরআন’ শব্দটি ‘কারাইন’ থেকে গৃহীত, কারণ—

--------------------------------------------

(১). ২/ ৬২, কায়রো সংস্করণ, ১৩৪৯ হিজরি।

(২) আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন ১/ ২৭৮।

(৩) তাফসিরে কুরতুবি ১/ ৬৭৪, এবং যারকাশির আল-বুরহান ১/ ২৭৮।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الآيات منه يصدق بعضها بعضا، ويشابه بعضها بعضا، فهى حينئذ قرائن.

وعلى هذا فلفظ القرآن على هذين القولين غير مهموز كالذى قبلهما، ونونه أصلية.

 

‌‌القول الرابع:

لفظ القرآن وصف على وزن فعلان مهموز مشتق من القرء بمعنى الجمع، ومنه قرأت الماء فى الحوض إذا جمعته، وسمى الكلام المنزل على النبى صلى الله عليه وسلم قرآنا، لأنه جمع السور أو جمع ثمرات الكتب السابقة.

وهذا القول للزجاج (1) وقد قال تعليقا على القول السابق:

«وهذا القول سهو، والصحيح أن ترك الهمز فيه من باب التخفيف، ونقل حركة الهمزة إلى الساكن قبلها».

 

‌‌القول الخامس:

وهو للحيانى وجماعة حيث ذهبوا إلى القول بأنه مصدر مهموز بوزن الغفران، سمى به المقروء من تسمية المفعول بالمصدر.

 

‌‌القرآن فى الاصطلاح:

يلاحظ أن هناك اختلافا فى تعريف القرآن بين المتكلمين وعلماء الأصول والفقه والعربية، وذلك بعد اتفاق الجميع على أن القرآن كلام الله تعالى، وأن البشر عاجزون عجزا كليّا عن الإتيان بمثله قال تعالى:

--------------------------------------------

(1) البرهان 1/ 278 والزجاج هو: إبراهيم بن السرى أبو إسحاق صاحب كتاب معانى القرآن. توفى رحمة الله سنة 311 هـ- إنباه الرواة وحواشيه 1/ 163 ..
এর আয়াতসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে এবং একে অপরের সদৃশ হয়, ফলে সেগুলো তখন একে অপরের নির্দেশক বা প্রমাণস্বরূপ।

এই ভিত্তিতে, পূর্বোক্ত দুটি মতের মতো এই দুই মতানুসারেও 'কুরআন' শব্দটি হামযাহ বিহীন এবং এর 'নূন' বর্ণটি মূলগত।

 

‌‌চতুর্থ মত:

'কুরআন' শব্দটি 'ফালান' ওযনে হামযাহ বিশিষ্ট একটি গুণবাচক শব্দ, যা 'আল-কারউ' থেকে ব্যুৎপন্ন যার অর্থ হলো একত্র করা। এখান থেকেই 'আমি হাউজে পানি জমা করেছি' কথাটি এসেছে যখন তা একত্র করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বাণীকে 'কুরআন' নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এটি বিভিন্ন সূরাকে একত্র করেছে অথবা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সারনির্যাসকে একত্র করেছে।

এই মতটি আয-যাজ্জাজের (১)। তিনি পূর্ববর্তী মতের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

«এই মতটি একটি বিচ্যুতি। সঠিক হলো এতে হামযাহ বর্জন করা হয়েছে সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এবং হামযাহ-এর হরকতকে তার পূর্বের সাকিন বর্ণের দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে।»

 

‌‌পঞ্চম মত:

এটি আল-লিহইয়ানি এবং একদল বিশেষজ্ঞের মত। তারা মনে করেন যে, এটি 'গুফরান'-এর ওযনে হামযাহ বিশিষ্ট একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যা দ্বারা পঠিত বস্তুকে (মাফউল) নির্দেশ করা হয়েছে।

 

‌‌পরিভাষায় কুরআন:

লক্ষণীয় যে, মুতাকাল্লিমীন (ধর্মতত্ত্ববিদ), উসূলবিদ, ফকীহ এবং আরবি ভাষাবিদদের মাঝে কুরআনের সংজ্ঞা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তা এই বিষয়ে সকলের ঐকমত্যের পর যে, কুরআন মহান আল্লাহর বাণী এবং মানবজাতি এর অনুরূপ কিছু আনয়নে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম। মহান আল্লাহ বলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ১/২৭৮ এবং আয-যাজ্জাজ হলেন: ইবরাহিম ইবনুল সাররি আবু ইসহাক, 'মাআনিল কুরআন' কিতাবের রচয়িতা। তিনি ৩১১ হিজরিতে (আল্লাহর রহমতে) মৃত্যুবরণ করেন। ইনবাহুর রুওয়াত ও এর টীকা ১/১৬৩।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (1) وسبب هذا الاختلاف أن القرآن، وهو كلام الله تعالى، قد يطلق ويراد به الكلام النفسى، وقد يطلق ويراد به الكلام اللفظى، ولما كان المتكلمون يتحدثون عن صفات الله تعالى النفسية من ناحية، ويقررون حقيقة أن القرآن كلام الله غير مخلوق من ناحية أخرى، وجدناهم يطلقونه إطلاق الكلام النفسى.

أما علماء الأصول والفقه والعربية، فيطلقونه إطلاق الكلام اللفظى، وإنما عنى الأصوليون والفقهاء بإطلاق القرآن على الكلام اللفظى، لأنّ غرضهم الاستدلال على الأحكام، وهو لا يكون إلا بالألفاظ.

وكذلك بالنسبة لعلماء العربية، لما كان يعنيهم أمره الإعجاز كانت وجهتهم الألفاظ، والمتكلمون حين يطلقون القرآن على الكلام النفسى يلاحظون أمرين هما:

 

‌‌الأمر الأول:

أن القرآن علم أى كلام ممتاز عن كل ما عداه من الكلام الإلهى.

 

‌‌الأمر الثانى:

أنه كلام الله، وكلام الله قديم، فيجب تنزهه عن الحوادث.

ولما كان كلام البشر النفسى يطلق بإطلاقين:

أحدهما: على المعنى المصدرى.

وثانيهما: على المعنى الحاصل بالمصدر (2).

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء الآية 88.

(2) الكلام النفسى بالمعنى المصدرى هو تحضير الإنسان فى نفسه بقوته المتكلمة الباطنة
বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় (১)। এই মতভেদের কারণ হলো কুরআন—যা মহান আল্লাহর বাণী—কখনও কখনও এটি প্রয়োগ করে 'কালামে নাফসি' (সত্তা-গত বাণী) বোঝানো হয়, আবার কখনও এটি প্রয়োগ করে 'কালামে লাফজি' (শাব্দিক বাণী) বোঝানো হয়। যেহেতু মুতাকাল্লিমগণ (ধর্মতত্ত্ববিদগণ) একদিক থেকে মহান আল্লাহর সত্তা-গত গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করেন এবং অন্যদিকে কুরআন আল্লাহর বাণী ও তা অসৃষ্ট—এই বাস্তবতাকে সুদৃঢ় করেন, তাই আমরা দেখি যে তাঁরা একে 'কালামে নাফসি' হিসেবেই প্রয়োগ করেছেন।

পক্ষান্তরে উসুলবিদ, ফকিহ এবং আরবি ভাষাবিদগণ একে 'কালামে লাফজি' বা শাব্দিক বাণী হিসেবে অভিহিত করেন। মূলত উসুলবিদ ও ফকিহগণ 'কালামে লাফজি'-এর ওপর কুরআন শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এজন্য যে, তাঁদের উদ্দেশ্য হলো বিধানাবলি (আহকাম) আহরণ করা, আর তা শব্দমালা ব্যতীত সম্ভব নয়।

অনুরূপভাবে আরবি ভাষাবিদদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই; যেহেতু অলৌকিকত্বের (ইজায) বিষয়টি তাঁদের নিকট মুখ্য ছিল, তাই তাঁদের লক্ষ্য ছিল শব্দমালার প্রতি। আর মুতাকাল্লিমগণ যখন 'কালামে নাফসি'-এর ক্ষেত্রে কুরআন শব্দটির প্রয়োগ করেন, তখন তাঁরা দুটি বিষয় বিবেচনা করেন:

 

‌‌প্রথম বিষয়:

কুরআন হলো একটি বিশেষ সংজ্ঞায়িত নাম, অর্থাৎ এমন এক বাণী যা আল্লাহর অন্যান্য সকল বাণী থেকে স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

 

‌‌দ্বিতীয় বিষয়:

এটি আল্লাহর বাণী, আর আল্লাহর বাণী অনাদি (কাদিম), তাই একে নব্যসৃষ্ট (হাওয়াদিস) বিষয়সমূহ থেকে পবিত্র রাখা অপরিহার্য।

যেহেতু মানুষের 'কালামে নাফসি' (মানস-বাণী) দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: মাসদারি (ক্রিয়ামূলক) অর্থে।

দ্বিতীয়ত: হাসিল বিল মাসদার (ফলশ্রুতিমূলক) অর্থে (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮৮।

(২) মাসদারি অর্থে 'কালামে নাফসি' হলো, মানুষ তার অভ্যন্তরীণ বাক-শক্তির মাধ্যমে নিজের মনের মধ্যে যা প্রস্তুত করে।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فكذلك- ولله المثل الأعلى- كلام الله النفسى يطلق بإطلاقين (1):

أحدهما: على نظير المعنى المصدرى للبشر.

--------------------------------------------

للكلمات التى لم تبرز إلى الجوارح، فيتكلم بكلمات متخيلة يرتبها فى الذهن، بحيث إذا تلفظ بها بصوت حسىّ كانت طبق كلماته اللفظية.

والكلام النفسى بالمعنى الحاصل بالمصدر، هو تلك الكلمات النفسية، والألفاظ الذهنية المترتبة ترتيبا ذهنيا منطبقا عليه الترتيب الخارجى.

والكلام البشرى اللفظى بالمعنى المصدرى عبارة عن تحريك الإنسان لسانه وما يساعده فى إخراج الحروف من المخارج.

أما الكلام اللفظى بالمعنى الحاصل بالمصدر فهو تلك الكلمات المنطوقة التى هى كيفية فى الصوت الحسى (مناهل العرفان 1/ 8).

(1) قال الشيخ أبو عبد الله السنوسى رحمه الله شرح أم البراهين 31:

...... وما يوجد فى كتب علماء الكلام من التمثيل بالكلام النفسى فى الشاهد عند ردهم على المعتزلة القائلين بانحصار الكلام فى الحروف والأصوات، لا يفهم منه تشبيه كلامه جلّ وعزّ بكلامنا النفسى فى الكنه- تعالى وجلّ عن أن يكون له شريك فى ذاته أو صفاته أو أفعاله- وكيف يتوهم أن كلامه تعالى مماثل لكلامنا النفسى، وكلامنا النفسى أعراض حادثة يوجد فيها التقديم والتأخير وطروّ البعض بعد عدم البعض الذى تقدمه، ويترتب وينعدم بحسب وجود جميع ذلك فى الكلام اللفظى.

فمن توهم هذا فى كلامه تعالى فليس بينه وبين الحشوية ونحوهم من المبتدعة القائلين بأن كلامه تعالى حروف وأصوات فرق.

وإنما مقصد العلماء بذكر الكلام النفسى فى الشاهد النقض على المعتزلة فى حصرهم الكلام فى الحروف والأصوات.

قيل لهم: ينتقض حصركم ذلك بكلامنا النفسى، فإنه كلام حقيقة وليس بحرف ولا صوت، وإذا صح ذلك فكلام مولانا أيضا كلام ليس بحرف ولا صوت، فلم يقع الاشتراك بينهما إلا فى هذه الصفة السلبية، وهى أن كلام مولانا جلّ وعزّ ليس بحرف ولا صوت، كما أن كلامنا النفسى ليس بحرف ولا صوت، أما الحقيقة فمباينة للحقيقة كل المباينة، فاعرف هذا فقد زلّت هنا أقدام لم تؤيد بنور من الملك العلام.
একইভাবে—এবং আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ—আল্লাহর কালামে নাফসি (নফসের কথা) দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয় (১):

প্রথমটি: মানুষের মাসদারী (ক্রিয়ামূলীয়) অর্থের অনুরূপ।

--------------------------------------------

সেই শব্দমালার ক্ষেত্রে যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি; ফলে মানুষ মনে মনে কিছু কল্পিত শব্দ সাজিয়ে কথা বলে, যা যদি সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কণ্ঠে উচ্চারণ করত, তবে তা তার বাচনিক শব্দের হুবহু অনুরূপ হতো।

আর 'হাসিল বিল মাসদার' অর্থে কালামে নাফসি হলো সেই মানসিক কথা ও চিন্তালব্ধ শব্দাবলি, যা মানসিকভাবে এমন বিন্যাসে সজ্জিত যা বাহ্যিক বিন্যাসের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আর মাসদারী অর্থে মানুষের বাচনিক কালাম হলো মানুষের জিহ্বা সঞ্চালন এবং মাখরাজ থেকে বর্ণ উচ্চারণে যা কিছু সহায়তা করে তার সমষ্টি।

পক্ষান্তরে 'হাসিল বিল মাসদার' অর্থে বাচনিক কালাম হলো সেই উচ্চারিত শব্দাবলি, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শব্দের একটি অবস্থা (মানাহিলুল ইরফান ১/৮)।

(১) শায়খ আবু আবদুল্লাহ আস-সানুসী (রহিমাহুল্লাহ) 'শারহু উম্মিল বারাহীন'-এর ৩১ পৃষ্ঠায় বলেন:

...... ইলমে কালামের উলামায়ে কিরামের কিতাবসমূহে পরিদৃষ্ট জগতের (শাহেদ) কালামে নাফসি থেকে যে উদাহরণ দেওয়া হয়—যখন তারা মুতাজিলাদের প্রতিবাদ করেন যারা কালামকে কেবল বর্ণ ও শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করে—তা থেকে মহান আল্লাহর কালামকে আমাদের কালামে নাফসির সাথে প্রকৃত সত্তার (কুনহ) দিক থেকে সাদৃশ্য করা উদ্দেশ্য নয়। তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি বা কার্যাবলিতে কোনো অংশীদার থাকা থেকে সুমহান ও পবিত্র। কীভাবে ধারণা করা যায় যে, আল্লাহর কালাম আমাদের কালামে নাফসির অনুরূপ, অথচ আমাদের কালামে নাফসি হলো নশ্বর গুণাবলি (আরাজ), যাতে আগে-পিছে হওয়া বিদ্যমান এবং আগের অংশের বিলুপ্তির পর পরের অংশের আবির্ভাব ঘটে, এবং তা বাচনিক কালামের মতোই বিন্যস্ত ও বিলুপ্ত হয়।

সুতরাং আল্লাহর কালাম সম্পর্কে যে ব্যক্তি এমন ধারণা করবে, তার সাথে হাশউয়্যাহ ও অনুরূপ বিদআতিদের কোনো পার্থক্য নেই, যারা বলে যে আল্লাহর কালাম হলো বর্ণ ও শব্দ।

বরং পরিদৃষ্ট জগতে কালামে নাফসির উল্লেখ করার মাধ্যমে উলামায়ে কিরামের উদ্দেশ্য হলো মুতাজিলাদের সেই দাবির অসারতা প্রমাণ করা যেখানে তারা কালামকে বর্ণ ও শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে।

তাদের বলা হয়: তোমাদের ঐ সীমাবদ্ধ করার দাবিটি আমাদের কালামে নাফসি দ্বারা খণ্ডিত হয়, কারণ তা প্রকৃতপক্ষে কালাম হওয়া সত্ত্বেও কোনো বর্ণ বা শব্দ নয়। যদি এটি সঠিক হয়, তবে আমাদের রবের কালামও এমন কালাম যা বর্ণ বা শব্দ নয়। সুতরাং উভয়ের মধ্যে কেবল এই নেতিবাচক (সালবি) গুণটিতেই মিল রয়েছে যে, মহান রবের কালাম বর্ণ বা শব্দ নয়, যেমন আমাদের কালামে নাফসিও বর্ণ বা শব্দ নয়। কিন্তু প্রকৃত সত্তার দিক থেকে একটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি ভালোভাবে জেনে নাও, কারণ এখানে এমন অনেক পা পিছলে গেছে যারা সর্বজ্ঞাত অধিপতির পক্ষ থেকে নূর দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وثانيهما: على نظير المعنى الحاصل بالمصدر للبشر.

لما كان الأمر كذلك عرف المتكلمون القرآن بالمعنى الأول فقالوا:

«هو الصفة القديمة المتعلقة بالكلمات الحكمية من أول الفاتحة إلى آخر سورة الناس».

وهذه الكلمات أزلية مجردة عن الحروف اللفظية والذهنية والروحية، وهى مترتبة غير متعاقبة كالصورة تنطبع فى المرآة مترتبة غير متعاقبة.

وإنما نص المتكلمون فى التعريف على أنها حكمية، لأنها ليست ألفاظا حقيقية مصورة بصورة الحروف والأصوات.

وقالوا: إنها أزلية ليثبتوا لها معنى القديم.

وقالوا: إنها مجردة عن الحروف اللفظية والذهنية والروحية، لينفوا.

عنها أنها مخلوقة، وأثبتوا لها الترتيب حيث إن القرآن حقيقة مترتبة بل ممتاز بكمال ترتبها وانسجامها، وكذلك قالوا: إنها غير متعاقبة لأن التعاقب يستلزم الزمان، والزمان حادث.

كما عرفوا القرآن بالمعنى الثانى فقالوا: إنه الكلمات الحكمية الأزلية المترتبة فى غير تعاقب، المجردة عن الحروف اللفظية والذهنية والروحية (1).

وجدير بالذكر التنبيه على أن المتكلمين إطلاقا ثالثا للقرآن يشاركون به الأصوليين ونحوهم، فهم يعنون كذلك بتقرير وجوب الإيمان بكتب الله المنزلة، ومنها القرآن، وبإثبات نبوة رسول الله صلى الله عليه وسلم بمعجزة القرآن، وبديهى أن ذلك كله مناطه الألفاظ.

--------------------------------------------

(1) الإبانة عن أصول الديانة 21، والاقتصاد فى الاعتقاد 59، وشرح أم البراهين 23، ومناهل العرفان 1/ 10، 11، والجنّة فى عقيدة أهل الجنّة 29.
এবং দ্বিতীয়টি: মানুষের জন্য অর্জিত ক্রিয়ামূলীয় অর্থের অনুরূপ।

বিষয়টি যখন এরূপ, তখন ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ প্রথম অর্থ অনুযায়ী কুরআনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং বলেছেন:

«এটি একটি অনাদি গুণ যা সূরা ফাতিহার শুরু থেকে সূরা নাসের শেষ পর্যন্ত হাকমী বা নির্দেশনামূলক বাক্যসমূহের সাথে সম্পৃক্ত»।

আর এই বাক্যগুলো অনাদি, যা শাব্দিক, মানসিক এবং রূহানি অক্ষরসমূহ থেকে মুক্ত; এগুলো বিন্যস্ত কিন্তু পর্যায়ক্রমিক নয়, যেমন আয়নায় প্রতিবিম্বিত প্রতিচ্ছবি বিন্যস্ত হয় কিন্তু পর্যায়ক্রমিক হয় না।

ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ সংজ্ঞায় এগুলোকে হাকমী বা নির্দেশনামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কারণ এগুলো অক্ষর এবং শব্দের আকারে চিত্রিত প্রকৃত উচ্চারণ নয়।

তাঁরা বলেছেন: এগুলো অনাদি, যাতে এগুলোর জন্য চিরন্তন হওয়ার অর্থ সাব্যস্ত করা যায়।

তাঁরা বলেছেন: এগুলো শাব্দিক, মানসিক এবং রূহানি অক্ষরসমূহ থেকে মুক্ত, যাতে এগুলো সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করা যায়।

তাঁরা এগুলোর জন্য বিন্যাস সাব্যস্ত করেছেন, যেহেতু কুরআন মূলত একটি বিন্যস্ত বাস্তবতা, বরং এর পূর্ণ বিন্যাস ও সামঞ্জস্যের কারণে এটি শ্রেষ্ঠ। একইভাবে তাঁরা বলেছেন: এগুলো পর্যায়ক্রমিক নয়, কারণ পর্যায়ক্রমিক হওয়া সময়ের দাবি রাখে, আর সময় হলো নতুন সৃষ্ট বা নশ্বর।

অনুরূপভাবে তাঁরা দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী কুরআনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: এটি হলো সেই হাকমী বা নির্দেশনামূলক অনাদি বাক্যসমূহ, যা পর্যায়ক্রমিক হওয়া ছাড়াই বিন্যস্ত এবং যা শাব্দিক, মানসিক ও রূহানি অক্ষরসমূহ থেকে মুক্ত (১)।

এটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুরআন সম্পর্কে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের একটি তৃতীয় প্রয়োগ বা পরিভাষা রয়েছে, যাতে তাঁরা উসূলবিদ ও তাঁদের সমপর্যায়ের অন্যদের সাথে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা এর দ্বারা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত করা এবং কুরআনের মুজিযার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রমাণ করাকেও বুঝিয়েছেন। আর এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, এই সবকিছুর ভিত্তি হলো শব্দসমূহ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ ২১, আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ ৫৯, শারহু উম্মিল বারাহিন ২৩, মানাহিলুল ইরফান ১/ ১০, ১১ এবং আল-জান্নাহ ফি আকিদাতি আহলিল জান্নাহ ২৯।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌القرآن عن الأصوليين والفقهاء وعلماء العربية:

عرف العلماء القرآن بأنه: الكلام المنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم للإعجاز بسورة منه، المكتوب فى المصاحف، المنقول إلينا نقلا متواترا (1) ....

وقبل ان أتناول التعريف بالشرح والتحليل يقتضى المقام منى أن أسجل هنا أن كلّا من الكتاب (2) والقرآن يطلق عند الأصوليين على المجموع، وعلى كل جزء منه، لأنهم إنما يبحثون عنه من حيث إنه دليل على الحكم وذلك آية آية لا مجموع القرآن، فاحتاجوا إلى تحصيل صفات مشتركة بين الكل والجزء مختصة بهما ككونه معجزا، منزّلا على الرسول صلى الله عليه وسلم مكتوبا فى المصاحف، منقولا بالتواتر كالتعريف المتقدم.

فاعتبر بعض العلماء فى تعريفه جميع الصفات من باب زيادة الإيضاح والبيان، وبعضهم اعتبر الإنزال والإعجاز فقط، لأن الكتابة والنقل، ليسا من اللوازم لتحقق القرآن بدونهما فى زمنه صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌يقول الشيخ تقى الدين السبكى رحمه الله فى تعريف القرآن (3):

هو الكلام المنزل للإعجاز بسورة منه.

--------------------------------------------

(1) جمع الجوامع 1/ 223، والنباء العظيم 14، ومناهل العرفان 1/ 12، وأصول الفقه للدكتور سلام مدكور 95، والمدخل للفقه الإسلامى 381، وعلم أصول الفقه لأحمد إبراهيم بك 15.

(2) سمى القرآن قرآنا لكونه مقروءا أى متلوا بالألسن، وسمى كتابا لكونه مكتوبا أى مدونا بالأقلام.

فكلتا التسميتين من تسمية الشيء بالمعنى الواقع عليه، وفى تسميته بهذين الاسمين إشارة إلى أن من حقه العناية به فى موضعين لا فى موضع واحد أى أنه يجب حفظه فى الصدور وفى السطور (النبأ العظيم 12، 13، ومصادر الشرعية الإسلامية 6).

(3) الإبهاج 1/ 119.
উসুলশাস্ত্রবিদ, ফকিহ এবং আরবি ভাষা বিশারদদের নিকট আল-কুরআনের সংজ্ঞা:

উলামায়ে কিরাম কুরআনের সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: তা হলো সেই কালাম যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ, যার ক্ষুদ্রতম একটি সূরার মাধ্যমেও (মানুষকে) অপারগ করার চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, যা মুসহাফসমূহে লিখিত এবং যা আমাদের পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে (মুতাওয়াতির সূত্রে) বর্ণিত (১)....

এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করার আগে এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উসুলশাস্ত্রবিদদের নিকট 'আল-কিতাব' (২) এবং 'আল-কুরআন'—উভয় শব্দই পুরো কুরআনের জন্য যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি এর প্রতিটি অংশের জন্যও ব্যবহৃত হয়। কারণ, তাঁরা এটি নিয়ে মূলত এই দিক থেকে আলোচনা করেন যে এটি বিধানের (হুকুমের) দলিল, আর দলিল হিসেবে প্রতিটি আয়াতই বিবেচিত, কেবল পুরো কুরআন সমষ্টিগতভাবে নয়। তাই তাঁদের এমন কিছু সাধারণ গুণাবলি অর্জনের প্রয়োজন হয়েছিল যা পূর্ণাঙ্গ কুরআন এবং এর অংশের মাঝে বিদ্যমান এবং উভয়ের জন্যই বিশিষ্ট; যেমন তা মোজেযা বা অলৌকিক হওয়া, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হওয়া, মুসহাফসমূহে লিখিত থাকা এবং মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হওয়া, যেমনটি পূর্বোক্ত সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে।

তাই কোনো কোনো আলেম অধিকতর স্পষ্টিকরণ ও ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর সংজ্ঞায় সকল বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কেবল অবতীর্ণ হওয়া এবং অলৌকিকতাকে (ই'জায) বিবেচনা করেছেন; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এই দুই বৈশিষ্ট্য (লিখন ও মুতাওয়াতির বর্ণনা) ছাড়াই কুরআন হিসেবে তা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য লিখন ও বর্ণনা অপরিহার্য শর্ত ছিল না।

 

‌শায়খ তকিউদ্দীন আস-সুবকি রহিমাহুল্লাহ কুরআনের সংজ্ঞায় বলেন (৩):

এটি হলো সেই অবতীর্ণ কালাম যার ক্ষুদ্রতম একটি সূরার মাধ্যমেও (মানুষকে) অপারগ করার চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) জামিউল জাওয়ামি ১/২২৩, আন-নাবাউল আজিম ১৪, মানাহিলুল ইরফান ১/১২, ডক্টর সালাম মাদ কুর-এর উসুলুল ফিকহ ৯৫, আল-মাদখালুল লিল-ফিকহিল ইসলামি ৩৮১ এবং আহমাদ ইবরাহিম বেক-এর ইলমু উসুলিল ফিকহ ১৫।

(২) কুরআনকে 'কুরআন' বলা হয় কারণ এটি পঠিত, অর্থাৎ যা জিহ্বার মাধ্যমে তেলাওয়াত করা হয়। আর একে 'কিতাব' বলা হয় কারণ এটি লিখিত, অর্থাৎ যা কলমের সাহায্যে লিপিবদ্ধ করা হয়।

সুতরাং উভয় নামই বস্তুটির ওপর বাস্তবায়িত অর্থের ভিত্তিতে নামকরণ করা হয়েছে। আর এই দুই নামে এর নামকরণের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, একে একটি স্থানে নয় বরং দুটি স্থানে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক; অর্থাৎ একে অন্তরে (মুখস্থের মাধ্যমে) এবং পৃষ্ঠায় (লিখনের মাধ্যমে) সংরক্ষণ করা ওয়াজিব (আন-নাবাউল আজিম ১২, ১৩ এবং মাসাদিরুশ শরিয়াতিল ইসলামিয়া ৬)।

(৩) আল-ইব্হাজ ১/১১৯।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌ويقول الشيخ ابن الحاجب رحمه الله فى تعريفه (1):

هو الكلام المنزل للإعجاز بسورة منه.

 

‌‌ويقول الشيخ ابن عبد الشكور رحمه الله فى تعريفه أيضا (2):

هو الكلام المنزل للإعجاز بسورة منه.

كما اعتبر بعضهم الكتابة والإنزال والنقل، لأن المقصود تعريف القرآن لمن لم يشاهد الوحى، ولم يدرك زمن النبوة وهم إنما يعرفونه بالنقل والكتابة فى المصاحف، ولا ينفك عنهما فى زمانهم. فهما بالنسبة إليهم من أبين اللوازم البينة وأوضحها دلالة على المقصود، بخلاف الإعجاز فإنه ليس من اللوازم البينة ولا الشاملة لكل جزء، إذ المعجز هو السورة أو مقدارها (3) أخذا من قوله تعالى:

فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ (4).

 

‌‌يقول السرخسى رحمه الله فى تعريفه (5):

هو المنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، المكتوب فى دفات المصاحف، المنقول إلينا على الأحرف السبعة المشهورة نقلا متواترا.

 

‌‌ويقول الشوكانى رحمه الله فى تعريفه أيضا (6):

هو الكلام المنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم، المكتوب فى المصاحف، المنقول إلينا نقلا متواترا.

--------------------------------------------

(1) شرح العضد على مختصر ابن الحاجب 2/ 18.

(2) فواتح الرحموت 2/ 7.

(3) التلويح على التوضيح 1/ 26.

(4) سورة البقرة الآية 23.

(5) أصول السرخسى 1/ 279.

(6) إرشاد الفحول 29.
‌‌শায়খ ইবনুল হাজিব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংজ্ঞায় বলেন (১):

এটি অবতীর্ণ সেই কালাম, যা এর একটি সূরার মাধ্যমেই অলৌকিকত্ব প্রকাশকারী।

 

‌‌শায়খ ইবনু আবদিশ শাকুর (রহিমাহুল্লাহ)-ও তাঁর সংজ্ঞায় বলেন (২):

এটি অবতীর্ণ সেই কালাম, যা এর একটি সূরার মাধ্যমেই অলৌকিকত্ব প্রকাশকারী।

যেমন তাদের মধ্যে কেউ কেউ লিখন পদ্ধতি, নাযিল হওয়া এবং বর্ণিত হওয়ার বিষয়টিকেও সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তির কাছে কুরআনের পরিচয় তুলে ধরা, যে ওহি অবতীর্ণ হওয়া দেখেনি এবং নবুওয়াতের সময়কাল পায়নি। তারা কেবল বর্ণনা (নাকল) এবং মাসহাফে লিখিত রূপের মাধ্যমেই একে চেনে, আর তাদের সময়ে কুরআন এই দুটি বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সুতরাং তাদের কাছে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর এই দুটি বিষয় সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও স্পষ্টতর প্রমাণ। পক্ষান্তরে অলৌকিকত্বের (ইজায) বিষয়টি এমন নয়, কারণ এটি প্রতিটি অংশের জন্য কোনো সুস্পষ্ট বা ব্যাপক অপরিহার্য বিষয় নয়। কেননা অলৌকিক বিষয় হলো পূর্ণ একটি সূরা অথবা তার সমপরিমাণ অংশ (৩), যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত:

তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো (৪)।

 

‌‌সারখাসি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংজ্ঞায় বলেন (৫):

তা হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফের পৃষ্ঠাগুলোতে লিখিত এবং যা আমাদের কাছে প্রসিদ্ধ সাত হরফের ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (মুতাওয়াতির) মাধ্যমে পৌঁছেছে।

 

‌‌শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ)-ও তাঁর সংজ্ঞায় বলেন (৬):

এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ সেই কালাম, যা মাসহাফে লিখিত এবং যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (মুতাওয়াতির) মাধ্যমে পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

(১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসার ইবনিল হাজিব ২/১৮।

(২) ফাওয়াইহুর রাহমুত ২/৭।

(৩) আত-তালওয়িহ আলাত তাওদিহ ১/২৬।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩।

(৫) উসুলুস সারখাসি ১/২৭৯।

(৬) ইরশাদুল ফুহুল ২৯।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌شرح التعريف:

قولهم: (الكلام) هو القول، وقيل: الكلام ما كان مكتفيا بنفسه وهو الجملة، والقول ما لم يكن مكتفيا بنفسه وهو الجزء من الجملة.

قال سيبويه (1): ومن أدل الدليل على الفرق بين الكلام والقول إجماع الناس على أن يقولوا: القرآن كلام الله، وألا يقولوا القرآن قول الله.

وهو جنس (2) فى التعريف، يشمل الكلام النفسى واللفظى، كما يشمل كلام الله تعالى وكلام البشر.

وقولهم (المنزل) قيد (3) أول فى التعريف يخرج به الكلام النفسى وكلام البشر حيث إن كلّا منهما لا يوصف بأنه منزل.

والمنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم صفة كاشفة للقرآن أى المنزل على رسولنا، فاللام هنا بدل عن الإضافة، أو هى للعهد لكونه عليه الصلاة والسلام معروفا بينهم كما يقال: جاء الأمير وإن لم يكن

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 5/ 3922.

(2) الجنس: هو ما صدق فى جواب ما هو على كثيرين مختلفين بالحقيقة، وينقسم إلى ثلاثة أقسام هى:

أ- جنس قريب: وهو ما لا جنس تحته وفوقه أجناس كالحيوان، فإنه لا جنس تحته بل تحته أنواع هى الإنسان والفرس والجمل والغزال، وفوقه أجناس هى النامى والجسم والجوهر.

والجسم والجوهر.

ب- جنس متوسط: وهو ما كان فوقه جنس وتحته جنس، مثل النامى فإن، فوقه جسما وتحته حيوانا.

ج- جنس بعيد: وهو ما لا جنس فوقه وتحته أجناس كالجوهر (المنطق الوافى 1/ 33 - 35).

(3) القيد: ما جىء به لجمع أو لمنع أو لبيان الواقع (حاشية القليوبى على شرح الجلال المحلى 1/ 11).
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তাদের বক্তব্য: (কালাম) হলো কথা (কওল)। এবং বলা হয়েছে: কালাম হলো তা যা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং তা হলো বাক্য, আর কওল হলো তা যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং তা বাক্যের অংশ।

সিবওয়াইহ (১) বলেন: কালাম এবং কওলের মধ্যকার পার্থক্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো মানুষের ঐকমত্য যে, তারা বলে: কুরআন আল্লাহর কালাম, এবং তারা বলে না যে কুরআন আল্লাহর কওল।

আর এটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি 'জিনস' বা বর্গ (২), যা নাফসি (মানসিক) এবং লাফজি (শাব্দিক) উভয় প্রকার কথাকে অন্তর্ভুক্ত করে, ঠিক যেমন তা মহান আল্লাহর কালাম এবং মানুষের কথাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

এবং তাদের বক্তব্য (নাজিলকৃত) হলো সংজ্ঞার প্রথম শর্ত (৩), যার মাধ্যমে নাফসি (মানসিক) কালাম এবং মানুষের কথা বাদ পড়ে যায়, কেননা এগুলোর কোনোটিকেই নাজিলকৃত হিসেবে অভিহিত করা যায় না।

আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিলকৃত—কথাটি কুরআনের জন্য একটি ব্যাখ্যামূলক বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ যা আমাদের রাসুলের ওপর নাজিলকৃত। এখানে 'লাম' (আলিফ-লাম) ইদাফাতের (সম্বন্ধের) স্থলাভিষিক্ত, অথবা এটি নির্দিষ্টতা (আহদ) বোঝানোর জন্য, যেহেতু তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাদের মধ্যে সুপরিচিত ছিলেন, যেমন বলা হয়: 'আমির এসেছেন', যদিও সেখানে কোনো...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ৫/৩৯২২।

(২) জিনস (বর্গ): এটি এমন একটি বিষয় যা 'এটি কী' এর উত্তরে এমন অনেক জিনিসের ওপর প্রযোজ্য হয় যাদের বাস্তবতা ভিন্ন ভিন্ন। এটি তিন ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

ক- নিকটবর্তী বর্গ: এটি এমন একটি বিষয় যার নিচে কোনো বর্গ নেই কিন্তু উপরে অন্যান্য বর্গ রয়েছে, যেমন প্রাণী; কেননা এর নিচে কোনো বর্গ নেই বরং এর নিচে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতি যেমন মানুষ, ঘোড়া, উট এবং হরিণ, আর এর উপরে রয়েছে বিভিন্ন বর্গ যেমন বর্ধনশীল বস্তু, দেহ এবং সত্তা (জওহর)।

দেহ এবং সত্তা।

খ- মধ্যবর্তী বর্গ: এটি হলো যার উপরেও বর্গ আছে এবং নিচেও বর্গ আছে, যেমন বর্ধনশীল বস্তু; এর উপরে রয়েছে দেহ এবং নিচে রয়েছে প্রাণী।

গ- দূরবর্তী বর্গ: এটি হলো যার উপরে কোনো বর্গ নেই এবং নিচে অনেক বর্গ রয়েছে, যেমন সত্তা বা জওহর (আল-মানতিকুল ওয়াফি ১/৩৩-৩৫)।

(৩) কয়েদ (শর্ত বা সীমাবদ্ধতা): যা কোনো কিছুকে একত্রিত করার জন্য, বর্জন করার জন্য অথবা প্রকৃত অবস্থা বর্ণনার জন্য আনা হয় (হাশিয়াতুল কলিউবি আলা শারহিল জালালিল মাহাল্লি ১/১১)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
معهودا فى الخارج (1)، وبه خرج سائر الكتب السماوية فإنها لم تنزل على رسولنا صلى الله عليه وسلم.

وقولهم (للإعجاز بسورة منه)، إعجاز القرآن معناه: ارتقاؤه إلى حد خارج عن طوق البشر حيث أعجزهم عن معارضته (2)، وحد السورة قرآن يشتمل على آى ذوات فاتحة وخاتمة، وأقلها ثلاث آيات (3)، وعلى هذا فمعنى كون القرآن معجزا بسورة منه أن أى سورة من سوره التى تبلغ مائة وأربع عشرة سورة حتى ولو كانت قصيرة كالكوثر يحصل بها الإعجاز، فلا يستطيع الإنس والجن أن يأتوا بمثلها، وتمكن الفائدة وراء تقييد الإعجاز بسورة منه حتى لا يتوهم متوهم بأن الإعجاز، إنما يكون بكل القرآن فقط لا بسورة من سوره.

 

‌‌قال عضد الملة رحمه الله تعالى (4):

« .... وقوله: بسورة منه إن أجرى على ظاهره فلإخراج بعض القرآن فإن التحدى وقع بسورة من كل القرآن أىّ سورة كانت غير

--------------------------------------------

(1) الأصل فى الصفة التخصيص فى النكرات والتوضيح فى المعارف ويتفرع على ذلك وجوه وهى البيان والكشف عن حقيقة الموصوف أو مجرد الثناء والتعظيم أو ما يضاهى ذلك من الذم والتحقير والتأكيد، ثم الوصف إن كان مبينا ماهية الشيء بأن يكون وصفا لازما مختصا به يسمى صفة كاشفة وإن كان وصفا مفارقا يسمى صفة مخصصة، والأول إنما يكون لتمييز الشيء من بين الماهيات المختلفة والثانى لتمييز الشيء من بين الماهيات المتفقة.

مثال الأول: قولنا: الجسم الطويل العريض العميق يحتاج إلى فراغ يشغله، ولا يخفى أن الوصف بهذه الأشياء كاشف عن ماهية الجسم، فإنه الجوهر القابل للأبعاد الثلاثة، والوصف بالمنزل من هذا القبيل فإنه كاشف لماهية القرآن.

ومثال الثانى: زيد التاجر عندنا فإنه يحتمل التاجر وغيره فلما وصف به رفع الاحتمال.

(حاشية الرهاوى على المنار 34).

(2) تيسير التحرير 3/ 4.

(3) البرهان فى علوم القرآن 1/ 264.

(4) شرح العضد 2/ 18.
বহির্বিশ্বে সুপরিচিত (১), আর এর মাধ্যমে অন্যান্য আসমানি কিতাবসমূহ পৃথক হয়ে গেছে, কারণ সেগুলো আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল হয়নি।

আর তাদের উক্তি (তার একটি সূরার মাধ্যমে মুজিজা হওয়ার জন্য), কুরআনের মুজিজা হওয়ার অর্থ হলো: এটি এমন এক স্তরে উন্নীত হওয়া যা মানুষের সক্ষমতার বাইরে, যা তাদের এর মোকাবেলা করতে অক্ষম করে দিয়েছে (২)। আর সূরার সংজ্ঞা হলো: কুরআনের এমন অংশ যা প্রারম্ভ ও সমাপ্তি বিশিষ্ট আয়াতসমূহের সমষ্টি এবং এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো তিনটি আয়াত (৩)। আর এই ভিত্তিতে, কুরআনের একটি সূরার মাধ্যমে মুজিজা হওয়ার অর্থ হলো যে, এর একশত চৌদ্দটি সূরার মধ্য থেকে যেকোনো একটি সূরা—এমনকি তা যদি কাউসারের মতো ছোটও হয়—তা দ্বারা মুজিজা সাব্যস্ত হয়। ফলে মানুষ ও জিন এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হবে না। আর মুজিজাকে একটি সূরার সাথে সীমাবদ্ধ করার পেছনের উপকারিতা হলো, যাতে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি এমন ধারণা পোষণ না করে যে, মুজিজা কেবল পূর্ণ কুরআনের মাধ্যমেই হয়, এর কোনো একটি সূরার মাধ্যমে নয়।

 

‌‌আদুদুল মিল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন (৪):

« .... এবং তাঁর উক্তি: 'তার একটি সূরার মাধ্যমে', একে যদি এর শাব্দিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা কুরআনের কিছু অংশকে বাদ দেওয়ার জন্য। কারণ চ্যালেঞ্জটি পুরো কুরআনের যেকোনো একটি সূরার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, তা যে সূরাই হোক না কেন...

--------------------------------------------

(১) বিশেষণের মূল নীতি হলো অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টকরণ এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা প্রদান। এ থেকে আরও কিছু দিক উদ্ভূত হয়, যেমন: বর্ণনা এবং বিশেষিত বস্তুর স্বরূপ উন্মোচন করা, অথবা কেবল প্রশংসা ও মহিমান্বিত করা, কিংবা এর অনুরূপ নিন্দা, তুচ্ছজ্ঞান করা অথবা দৃঢ়তা প্রদান করা। এরপর বিশেষণটি যদি বস্তুর সারসত্তা বর্ণনাকারী হয়—অর্থাৎ এমন একটি আবশ্যক বিশেষণ যা তার সাথেই খাস—তবে তাকে উন্মোচনকারী বিশেষণ বলা হয়। আর যদি তা বিচ্ছিন্নযোগ্য বিশেষণ হয়, তবে তাকে সুনির্দিষ্টকারী বিশেষণ বলা হয়। প্রথমটি ভিন্ন ভিন্ন সারসত্তার মধ্য থেকে কোনো বস্তুকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত হয়, আর দ্বিতীয়টি সমজাতীয় সারসত্তার মধ্য থেকে কোনো বস্তুকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রথমটির উদাহরণ: আমাদের এই কথা: 'দীর্ঘ, প্রশস্ত ও গভীর বস্তুর জন্য একটি শূন্য স্থানের প্রয়োজন যা সে দখল করবে'। এটি স্পষ্ট যে, এই গুণগুলো দ্বারা বর্ণনা করা বস্তুর স্বরূপ উন্মোচনকারী, কারণ বস্তু (জিসম) হলো এমন এক সারসত্তা যা ত্রিমাত্রিক বিস্তার গ্রহণ করে। আর 'নাজিলকৃত' বিশেষণটিও এই পর্যায়ের, কারণ এটি কুরআনের স্বরূপ উন্মোচনকারী।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: 'ব্যবসায়ী জায়েদ আমাদের কাছে আছে'। এখানে জায়েদ ব্যবসায়ী বা অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যখন তাকে ব্যবসায়ী হিসেবে বিশেষিত করা হলো, তখন সেই অস্পষ্টতা দূর হয়ে গেল।

(আল-মানার-এর ওপর রহাভির টিকা, পৃষ্ঠা ৩৪)।

(২) তাইসিরুত তাহরির ৩/৪।

(৩) আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন ১/২৬৪।

(৪) শারহুল আদুদ ২/১৮।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
مختصة ببعض، وإن أريد بسورة من جنسه فى البلاغة والعلو فيتناول كل القرآن وكل بعض منه، وهذا أقرب إلى عرض الأصولى وهو تعريف القرآن الذى هو دليل فى الفقه».

والإعجاز قيد ثان فى التعريف يخرج به الحديث القدسى والنبوى فإن كلّا منهما لم ينزل للإعجاز (1).

وقولهم: (المكتوب فى المصاحف) المصاحف جمع مصحف وهو ما جمع فيه صحائف القرآن، والمكتوب قيد ثالث فى التعريف خرج به ما نسخت تلاوته وبقيت أحكامه مثل: «الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما نكالا من الله) (2).

 

‌‌قال الشيخ عز الدين بن الملك (3):

فإن قلت: إن أردت من المصحف ما قلت يلزم الدور (4)، لأن

--------------------------------------------

(1) الحديث القدسى هو حديث أضافه النبى صلى الله عليه وسلم إلى الله تعالى.

والحديث النبوى هو ما أضيف إلى النبى صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقريرا أو وصف خلقى أو خلقى ولا خلاف بين العلماء فى أن معنى كلّ من الحديث القدسى والنبوى من عند الله

تعالى. كذلك لا خلاف بينهم فى أن لفظ الحديث النبوى من عند الرسول صلى الله عليه وسلم. وإنما الخلاف بينهم فى لفظ الحديث القدسى: فذهب بعضهم إلى أنه من عند الله تعالى كالقرآن وذهب البعض الآخر إلى أنه من عند الرسول صلى الله عليه وسلم كالحديث النبويّ (الباعث الحثيث لابن كثير 17، وضوء القمر 14، ومصطلح الحديث لأستاذى المرحوم الشيخ الشهاوى 39).

(2) سبل السلام 4/ 1276.

(3) شرح المنار 36.

(4) حقيقة الدور: هو حقيقة الشيء على ما توقف عليه، وحقيقة التسلسل: هو ترتب أمور غير متناهية ومن أمثلة ذلك: أننا نقول: إن من أدلة وجوب الوجود لله تعالى أنه سبحانه يجب افتقار العالم إليه وكل من وجب افتقار العالم إليه فهو واجب الوجود فالله واجب الوجود.

دليل الصغرى: العالم حادث وكل حادث يجب افتقاره إلى محدث.
কিছু অংশের জন্য নির্দিষ্ট, আর যদি এর দ্বারা অলংকারশাস্ত্র ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তার সমজাতীয় কোনো সূরা বোঝানো হয়, তবে তা সমগ্র কুরআন এবং এর প্রতিটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি উসুলবিদদের দৃষ্টিভঙ্গির অধিক নিকটবর্তী, আর তা হলো কুরআনের সংজ্ঞা প্রদান করা যা ফিকহ শাস্ত্রের একটি দলিল।

এবং অলৌকিকত্ব (এজায) হলো সংজ্ঞার দ্বিতীয় শর্ত, যার মাধ্যমে হাদীসে কুদসী ও হাদীসে নববী বাদ পড়ে যায়। কারণ এগুলোর কোনটিই অলৌকিকত্বের জন্য অবতীর্ণ হয়নি (১)।

আর তাঁদের উক্তি: (যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ) - মাসহাফ হলো 'মুসহাফ'-এর বহুবচন, আর তা হলো যাতে কুরআনের পাতাগুলো সংকলিত হয়েছে। 'লিপিবদ্ধ' শব্দটি সংজ্ঞার তৃতীয় শর্ত, যার মাধ্যমে ঐসব অংশ বের হয়ে গেছে যেগুলোর তিলাওয়াত রহিত (মানসুখ) হয়ে গেছে কিন্তু বিধান বাকি আছে, যেমন: «বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন ব্যভিচার করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে দণ্ডস্বরূপ তাদের উভয়কে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করো» (২)।

 

‌‌শায়খ ইযযুদ্দীন বিন আল-মালিক (৩) বলেছেন:

যদি আপনি বলেন: আপনি মুসহাফ দ্বারা যা বলেছেন তা যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা আবর্তন (দাওর) (৪) সৃষ্টি করবে, কারণ

--------------------------------------------

(১) হাদীসে কুদসী হলো এমন হাদীস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেছেন।

আর হাদীসে নববী হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে—তা কথা, কাজ, মৌনসম্মতি অথবা দৈহিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা-ই হোক না কেন। আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, হাদীসে কুদসী ও হাদীসে নববী উভয়েরই অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।

তেমনিভাবে তাঁদের মধ্যে এ বিষয়েও কোনো মতভেদ নেই যে, হাদীসে নববীর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে। তবে হাদীসে কুদসীর শব্দের ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন যে তা কুরআনের মতো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আবার কেউ কেউ মনে করেন তা হাদীসে নববীর মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে (ইবনে কাসীরের আল-বা’ইস আল-হাসীস ১৭, দাওউল কামার ১৪, এবং আমার উস্তাদ মরহুম শায়খ আশ-শাহাভীর মুসতালাহুল হাদীস ৩৯)।

(২) সুবুলুস সালাম ৪/ ১২৭৬।

(৩) শারহুল মানার ৩৬।

(৪) আবর্তনের (দাওর) প্রকৃত স্বরূপ: কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব এমন কিছুর ওপর নির্ভর করা যা আবার সেই বিষয়ের ওপরই নির্ভর করে। আর তাসালসুল-এর প্রকৃত স্বরূপ: অসীম কোনো বিষয়ের পরম্পরা। এর একটি উদাহরণ হলো: আমরা বলি: আল্লাহর অস্তিত্ব অনিবার্য (ওয়াজিবুল উজুদ) হওয়ার অন্যতম দলিল হলো, সমগ্র জগত তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া অনিবার্য, আর যার প্রতি জগত মুখাপেক্ষী হওয়া ওয়াজিব, তিনিই ওয়াজিবুল উজুদ। সুতরাং আল্লাহ ওয়াজিবুল উজুদ।

ক্ষুদ্রতর প্রমাণের (দালিলুস সোগরা) যুক্তি: জগত নব্যসৃষ্ট, আর প্রতিটি নব্যসৃষ্ট বস্তুর জন্য একজন উদ্ভাবকের মুখাপেক্ষিতা অনিবার্য।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
تصور المصحف موقوف على تصور القرآن والقرآن موقوف على المصحف وإلا لم يخرج ما نسخت تلاوته فلا يطرد التعريف (1).

قلنا: تصور المصحف موقوف على تصور القرآن بمفهوم شخصى معروف عند كل أحد حتى عند الصبيان يحفظونه ويتدارسونه، والقرآن بمفهومه العامى موقوف على تصور المصحف فلا يلزم الدور (2).

وربما يقول قائل: المكتوب فى المصاحف حادث عند أهل السنة خلافا للحنابلة والقرآن كلام الله تعالى قديم وليس بحادث (3)؟

--------------------------------------------

دليل الكبرى: أنه لو لم يكن واجب الوجود لكان جائزه فيفتقر إلى محدث ويفتقر محدثه إلى محدث فإن رجع الأمر إلى الأول مباشرة أو بواسطة فالدور لأن الأمر دار ورجع إلى مبدئه وإن تتابع المحدثون واحدا بعد واحد إلى ما لا نهاية فالتسلسل وكل من الدور والتسلسل محال على الله تعالى (شرح البيجورى على الجوهرة 1/ 57، 58).

(1) اطرد الأمر اطرادا تبع بعضه بعضا. تقول اطرد الأمر أى استقام- مختار الصحاح 389.

(2) القرآن الكريم له مفهومان: جزئى وكلى:

فالجزئى: هو المجموع الشخصى الذى بين دفتى المصحف.

والكلى: هو الشامل للكل والجزء وهو الكلام المنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم الخ.

فتصور المصحف موقوف على تصور حقيقة القرآن بمفهومه الشخصى وهو مجموع ما بين الدفتين لأنه إذا قيل لك: ما المصحف؟ فتقول: هو الذى كتب فيه القرآن وهذا معروف عند كل أحد فهو بديهى لا يتوقف على شىء.

والقرآن بمفهومه الكلى موقوف على تصور المصحف لأخذه فى تعريفه فلا دور لاختلاف جهة التوقف لأن ماهية المصحف إنما هى موقوفة على القرآن بمفهومه الجزئى والمفهوم على ماهية المصحف إنما هو القرآن بمفهومه الكلى.

(3) جاء فى العقيدة الطحاوية 129.

( … والقرآن فى المصاحف مكتوب وفى القلوب محفوظ وعلى الألسن مقروء وعلى النبى صلى الله عليه وسلم منزل ولفظنا بالقرآن مخلوق والقرآن غير مخلوق)
মুসহাফের ধারণা কুরআনের ধারণার ওপর নির্ভরশীল এবং কুরআন মুসহাফের ওপর নির্ভরশীল; অন্যথায় যার তিলাওয়াত রহিত (মানসুখ) হয়েছে তা সংজ্ঞার বাইরে থাকবে না, ফলে সংজ্ঞাটি ব্যাপক ও সংগতিপূর্ণ (ইত্তিরাদ) হবে না (১)।

আমরা বলি: মুসহাফের ধারণা কুরআনের এমন একটি ব্যক্তিগত বা সুনির্দিষ্ট ধারণার ওপর নির্ভরশীল যা প্রত্যেকের নিকট পরিচিত, এমনকি শিশুদের নিকটও যারা তা মুখস্থ করে ও পঠন-পাঠন করে। আর সাধারণ ধারণায় কুরআন মুসহাফের ধারণার ওপর নির্ভরশীল, তাই এখানে চক্রক দোষ (দাওর) আবশ্যক হয় না (২)।

সম্ভবত কেউ বলতে পারে: মুসহাফসমূহে যা লিখিত তা আহলুস সুন্নাহর মতে সৃষ্ট (হাদিস)—হাম্বলিদের মতের বিপরীতে—আর কুরআন হলো মহান আল্লাহর কালাম যা অনাদি (কাদিম), তা সৃষ্ট নয় (৩)?

--------------------------------------------

বড় দলীল: তিনি যদি ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন) না হতেন, তবে তিনি সম্ভবপর (জায়েজ) হতেন, ফলে তিনি একজন সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী হতেন এবং তাঁর সৃষ্টিকর্তা অন্য একজন সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী হতেন। যদি বিষয়টি সরাসরি বা কোনো মাধ্যমে প্রথমটির দিকে ফিরে আসে, তবে তা হবে চক্রক দোষ (দাওর); কারণ বিষয়টি আবর্তিত হয়ে তার প্রারম্ভিক বিন্দুতে ফিরে এসেছে। আর যদি সৃষ্টিকারীরা একের পর এক অনন্তকাল পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে তা হবে অসীম ধারাবাহিকতা (তাসালসুল)। আর চক্রক দোষ ও তাসালসুল উভয়ই আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব (শরহুল বাজুরি আলাল জাওহারা ১/৫৭, ৫৮)।

(১) বিষয়টি সংগতিপূর্ণ হওয়া বা অনুগামী হওয়া। আপনি বলতে পারেন 'বিষয়টি সংগতিপূর্ণ হয়েছে' অর্থাৎ তা সুশৃঙ্খল হয়েছে—মুখতারুস সিহাহ ৩৮৯।

(২) কুরআনুল কারিমের দুটি ধারণা রয়েছে: আংশিক (জুযয়ি) এবং সামগ্রিক (কুলি):

আংশিক ধারণা হলো: সেই ব্যক্তিগত সমষ্টি যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে রয়েছে।

আর সামগ্রিক ধারণা হলো: যা পূর্ণাঙ্গ এবং অংশ উভয়কে শামিল করে এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ কালাম ইত্যাদি।

সুতরাং মুসহাফের ধারণা কুরআনের হাকিকত বা প্রকৃত সত্তার ব্যক্তিগত ধারণার ওপর নির্ভরশীল, যা দুই মলাটের মধ্যবর্তী সমষ্টি; কারণ যদি আপনাকে বলা হয়: মুসহাফ কী? তবে আপনি বলবেন: যাতে কুরআন লিখিত হয়েছে। আর এটি প্রত্যেকের নিকট পরিচিত, তাই এটি স্বতঃসিদ্ধ এবং অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল নয়।

আর কুরআন তার সামগ্রিক ধারণায় মুসহাফের ধারণার ওপর নির্ভরশীল, কারণ সংজ্ঞায় একে গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং এখানে চক্রক দোষ (দাওর) নেই, কারণ এখানে নির্ভরশীলতার দিকটি ভিন্ন। কেননা মুসহাফের সারসত্তা (মাহিয়াত) কেবল কুরআনের আংশিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল, আর যা মুসহাফের সারসত্তার ওপর নির্ভরশীল তা হলো কুরআনের সামগ্রিক ধারণা।

(৩) আকিদাহ আত-তাহাবিয়া ১২৯-এ এসেছে।

( ...এবং কুরআন মুসহাফসমূহে লিখিত, হৃদয়ে সংরক্ষিত, জিহ্বায় পঠিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ। কুরআনের আমাদের উচ্চারণ সৃষ্ট (মাখলুক) এবং কুরআন সৃষ্ট নয়)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
فالجواب: أن كلام الله تعالى اسم مشترك بين الكلام النفسى ومعنى الإضافة كونه صفة لله تعالى، وبين الكلام اللفظى الحادث المؤلف من السور والآيات، ومعنى الإضافة أنه مخلوق لله تعالى ليس من تأليف المخلوقين إلا أن الأحكام لما كانت منوطة (1) بالكلام اللفظى دون النفسى جعل القرآن اسما له، واعتبر فى حده ما يميزه عن المعنى القديم فلهذا عرفه علماء الأصول بالمكتوب فى المصاحف … إلخ.

وقولهم: (المنقول إلينا نقلا متواترا). قيد رابع فى التعريف يخرج به القراءة الشاذة (2) كقراءة الصحابى الجليل أبىّ بن كعب رضى الله عنه- فعدة من أيام أخر متتابعات- لأنها ثابتة بطريق الآحاد. وجاء فى شرح المنار (3): فإن قلت: قراءة ابن كعب قد خرجت بقولهم:

المكتوب فى المصاحف، لأنها مكتوبة فى مصحفه فقط وليس فى كل المصاحف، ومن ثم فيكون هذا الوصف زائدا لا حاجة إليه؟

--------------------------------------------

وجاء فى كتاب القرآن والفلسفة 87 - 96:

أن المشبهة ذهبوا إلى القول بأن القرآن أزلى قديم حتى الحروف والأصوات والكتابة المكتوب بها. بل زاد بعضهم فى الغلو حيث قال إن جلدة المصحف التى تضمّه وكذلك الغلاف الذى يوضع فيه كلاهما كذلك أزلى قديم. وعلى الضد من مذهب المشبهة نجد المعتزلة يقولون بأنه حادث مخلوق ككل شىء فى الوجود ما عدا ذات الله وحدها.

أما الأشاعرة فقد وقفوا موقفا وسطا بين غلو الحنابلة من المشبهة وغلو المعتزلة فقالوا:

إن القرآن قديم ولكنه ليس الحروف والأصوات التى نسمعها والكلمات التى نكتبها إنما هو أى القرآن الكريم القديم كلام الله القائم بذاته.

أما الكلام المؤلف من الحروف والكلمات والأصوات فحادث.

وأدلة هذه الفرق مبسوطة فى كتب الكلام- بتصرف-.

(1) ناط الشيء ينوطه نوطا: علقه، والنوط ما علّق ويقال نيط عليه الشيء علق عليه.

قال رقاع بن قيس الأسدي:

بلاد بها نيطت علىّ تمائمى … وأول أرض مسّ جلدى ترابها

(2) سيأتى قريبا بمشيئة الله تعالى الكلام عن القراءة التى فقدت أحد أركان القرآن.

(3) شرح المنار 40.
উত্তর হলো: আল্লাহ তাআলার কালাম একটি সাধারণ নাম যা ‘কালামে নাফসি’ (আল্লাহর সত্তায় বিদ্যমান কালাম) এবং ‘কালামে লাফযি’ (শব্দগত কালাম) উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহর গুণের দিকে এর সম্পৃক্ততার অর্থ হলো এটি আল্লাহ তাআলার একটি গুণ। অন্যদিকে সূরা ও আয়াত দ্বারা গঠিত নব্য সৃষ্ট শব্দগত কালামের ক্ষেত্রে এর সম্পৃক্ততার অর্থ হলো এটি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি, এটি কোনো মাখলুকের রচনা নয়। তবে যেহেতু বিধানাবলি (১) শব্দগত কালামের সাথেই সম্পৃক্ত, সত্তাগত বা নাফসি কালামের সাথে নয়, তাই ‘কুরআন’ শব্দটিকে এরই নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এর সংজ্ঞায় এমন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে যা একে অনাদি বা কাদীম অর্থ থেকে পৃথক করে। এই কারণেই উসুল শাস্ত্রের আলিমগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে—‘যা মাসহাফসমূহে লিখিত’... ইত্যাদি।

আর তাঁদের উক্তি: (যা আমাদের নিকট মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে)। এটি সংজ্ঞার চতুর্থ শর্ত, যার মাধ্যমে শায কিরাত বা বিরল পাঠ (২) বাদ পড়ে যায়। যেমন মহান সাহাবী উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর কিরাত—‘অতঃপর অন্যান্য দিনের সংখ্যাসমূহ ধারাবাহিকভাবে’—কারণ এটি আহাদ বা একক বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। শারহুল মানারে (৩) এসেছে: আপনি যদি বলেন, উবাই ইবনে কাবের কিরাত তো তাঁদের উক্তি—

‘মাসহাফসমূহে লিখিত’—দ্বারা আগেই বাদ পড়ে গেছে, কারণ সেটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মাসহাফেই লিখিত ছিল, সকল মাসহাফে নয়। সুতরাং এই (মুতাওয়াতির হওয়ার) বৈশিষ্ট্যটি তো অতিরিক্ত, এর কি কোনো প্রয়োজন আছে?

--------------------------------------------

কুরআন ওয়াল ফালসাফাহ (কুরআন ও দর্শন) কিতাবের ৮৭-৯৬ পৃষ্ঠায় এসেছে:

মুসাব্বিহাগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, কুরআন তার অক্ষর, শব্দ এবং যে লিপিতে তা লেখা হয়েছে সেসহ অনাদি ও চিরন্তন। এমনকি তাদের কেউ কেউ অতিশয়তা করে বলেছেন যে, মাসহাফের চামড়া যা তাকে ধরে রাখে এবং যে কভারের মধ্যে তা রাখা হয়, উভয়ই অনাদি ও চিরন্তন। মুসাব্বিহাদের মতবাদের বিপরীতে আমরা দেখি যে মুতাজিলাগণ বলেন এটি অস্তিত্বশীল প্রতিটি জিনিসের ন্যায় নব্য সৃষ্ট ও মাখলুক, একমাত্র আল্লাহর সত্তা ব্যতীত।

পক্ষান্তরে আশআরিগণ মুসাব্বিহা দাবিদার হাম্বলিদের অতিশয়তা এবং মুতাজিলাদের অতিশয়তার মাঝে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা বলেছেন:

নিশ্চয়ই কুরআন অনাদি বা কাদীম, তবে এটি সেই অক্ষর বা শব্দ নয় যা আমরা শ্রবণ করি এবং সেই বাক্য নয় যা আমরা লিখে থাকি। বরং সেই অনাদি কুরআন হলো আল্লাহর কালাম যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান।

আর অক্ষর, শব্দ ও ধ্বনি দ্বারা গঠিত কালাম হলো নব্য সৃষ্ট বা হাদিস।

এই দলগুলোর প্রমাণাদি ইলমুল কালামের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে—পরিমার্জিত—।

(১) কোনো কিছু লটকানো বা ঝুলিয়ে রাখা। নাওত মানে যা লটকানো হয়। বলা হয় কোনো কিছুর ওপর কিছু লটকানো হয়েছে।

রিকা ইবনে কায়স আল-আসাদি বলেন:

সে এক ভূখণ্ড যেখানে আমার ওপর কবচ লটকানো হয়েছিল... আর এটিই প্রথম মাটি যা আমার চামড়া স্পর্শ করেছিল।

(২) কুরআনের রুকনসমূহের কোনো একটি হারিয়েছে এমন কিরাত সম্পর্কে আলোচনা শীঘ্রই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আসবে।

(৩) শারহুল মানার ৪০।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
فالجواب: أن الألف واللام فى الجمع للجنس إذا لم تكن للعهد الخارجى على ما اختاره بعض (1) الأصوليين، ومن هنا فلا تخرج قراءته بقولهم «فى المصاحف» لأن الجنس ينصرف عند الإطلاق إلى الأدنى لتيقنه ويحتمل الأعلى بدليله، ولم يوجد هنا دليل الكل. ولئن سلمنا أنها خرجت بقولهم: فى المصاحف، فلا نسلم كون المنقول عنه زائدا لأن غرضه التمييز وهو من الصفات المشتركة وكونه للإخراج غير لازم.

هذا: وبعد الانتهاء من شرح التعريف أقول ربما يسأل سائل ويقول:

ما هى الحكمة وراء تعريف القرآن بالأجناس والفصول؟

والجواب: أن العلماء إنما فعلوا هذا من أجل تقريب معناه وتمييزه عن بعض ما عداه مما قد يشاركه فى الاسم ولو توهما. ذلك أن سائر كتب الله تعالى والأحاديث القدسية وبعض الأحاديث النبوية تشارك القرآن فى كونها وحيا إلهيّا، فربما ظن ظان أنها تشاركه فى اسم القرآن أيضا فأرادوا اختصاص الاسم به ببيان صفاته التى امتاز بها عن تلك الأنواع.

 

‌‌قال الشيخ جلال الدين المحلى رحمه الله (2):

«وإنما حدّوا القرآن من تشخصه (3) بما ذكر من أوصافه ليتميز مع ضبط كثرته عما لا يسمى باسمه من الكلام» والقارئ لكلام عضد الملة رحمه الله بعد شرحه التعريف ربما يظن أن بينه وبين كلام الجلال المحلى رحمه الله تعارضا.

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ الرهاوى تعليقا على ما قاله شارح المنار 40:

( … هذا مختار بعض الأصوليين وقال جمهور الأصوليين وعامة أهل اللغة الألف واللام فى الجمع يكون للاستغراق إذا لم تكن للعهد).

(2) شرح الجلال المحلى 1/ 224.

(3) يعنى تشخصه يغنى عن حده حيث لا يقع معه فيه اشتباه.
উত্তর হলো: কিছু উসুলবিদদের (মূলনীতিবিদ) পছন্দ অনুযায়ী বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ-লাম যখন বাহ্যিক ‘আহদ’ (পরিচিতি) এর জন্য না হয়, তখন তা সমষ্টি বা শ্রেণির (জিনস) অর্থ প্রদান করে। আর এখান থেকেই তাদের ‘মাসহাফসমূহে’ কথাটি দ্বারা এর কিরাত বহির্ভূত হয় না। কারণ কোনো শর্তহীন বা সাধারণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘জিনস’ তার নিশ্চিত হওয়ার কারণে নিম্নতম স্তরের দিকে ধাবিত হয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে উচ্চতর স্তরের সম্ভাবনা রাখে। এখানে সকল বা সমষ্টির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর যদি আমরা মেনেও নেই যে ‘মাসহাফসমূহে’ কথাটির দ্বারা তা বেরিয়ে গেছে, তবুও আমরা ‘যা থেকে বর্ণিত হয়েছে’ অংশটিকে অতিরিক্ত হিসেবে মেনে নেব না। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো পার্থক্য করা এবং এটি একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য, আর একে বের করে দেওয়ার জন্য হওয়া আবশ্যক নয়।

এটি (একটি বিষয়): সংজ্ঞা প্রদানের ব্যাখ্যা শেষ করার পর আমি বলছি, সম্ভবত কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে:

কুরআনকে জিনস (শ্রেণি) ও ফাসল (ব্যবচ্ছেদক বৈশিষ্ট্য) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করার পেছনে হিকমত বা প্রজ্ঞা কী?

উত্তর হলো: আলেমগণ মূলত এটি করেছেন এর অর্থকে নিকটতর করার জন্য এবং একে অন্য কিছু থেকে পৃথক করার জন্য যা কাল্পনিকভাবে হলেও নামের ক্ষেত্রে এর সাথে অংশীদার হতে পারে। কারণ মহান আল্লাহর অন্যান্য আসমানি কিতাব, হাদিসে কুদসি এবং কিছু নববি হাদিস ‘ঐশী ওহি’ হওয়ার দিক থেকে কুরআনের সাথে সাদৃশ্য রাখে। ফলে কোনো ধারণা পোষণকারী ধারণা করতে পারে যে, সেগুলো কুরআনের নামের ক্ষেত্রেও অংশীদার। তাই তারা সেই সব প্রকার থেকে আলাদা করার জন্য কুরআনের বিশেষ গুণাবলি বর্ণনা করে এই নামটি এর জন্যই নির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন।

 

‌‌শায়খ জালালুদ্দিন মহল্লি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (২):

«তারা কুরআনের সংজ্ঞায়ন করেছেন এর ব্যক্তিসত্তা বা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যাতে এর ব্যাপকতাকে আয়ত্তে রাখার পাশাপাশি একে এমন সব কালাম বা কথা থেকে পৃথক করা যায় যা এই নামে নামাঙ্কিত নয়।» আদুদুল মিল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞার ব্যাখ্যা পড়ার পর কোনো পাঠকের মনে হতে পারে যে, তার বক্তব্য এবং জালাল মহল্লি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শায়খ আর-রাহাউয়ি শারহুল মানার-এর ভাষ্যকারের (৪০ পৃষ্ঠা) বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:

( … এটি কিছু উসুলবিদের পছন্দ। জুমহুর বা অধিকাংশ উসুলবিদ এবং সাধারণ ভাষাবিদগণ বলেছেন: বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ-লাম যখন ‘আহদ’ বা পরিচিতির জন্য না হয়, তখন তা ব্যাপকতা বা সবকিছুর অন্তর্ভুক্তির (ইস্তিঘরাক) অর্থ প্রদান করে)।

(২) শারহুল জালালিল মহল্লি ১/২২৪।

(৩) অর্থাৎ এর নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যই একে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন থেকে বিমুখ করে দেয়, কারণ এর ফলে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌فقد قال العضد رحمه الله (1):

« .... واعلم أنه إن أريد تصوير مفهوم لفظ القرآن فهو صحيح، وإن أراد التمييز فمشكل، لأن كونه للإعجاز ليس لازما بينا ولا معرفة السورة تتوقف على معرفته فيدور».

ومعنى هذا الكلام: أن كون القرآن للإعجاز مما لا يعرف مفهومه ولزومه إلا الأفراد من العلماء، ولا يكون لازما بينا، فضلا عن أن يكون ذاتيّا فلا يصلح لتعريف الحقيقة وتمييزها، بل لمجرد تصوير مفهوم لفظ الكتاب بالنسبة إلى من يعرف الإعجاز والسورة ونحو ذلك.

والحق أنه ليس بين كلام الشيخين أى تعارض، لأن قول الجلال رحمه الله: ليتميز مع ضبط كثرته عما لا يسمى باسمه، إشارة إلى التمييز فى التسمية لا التمييز فى الحقيقة تحرزا عما قاله العضد رحمه الله تعالى.

 

‌‌قال الشيخ البنانى رحمه الله تعليقا على كلام جلال الدين المحلى رحمه الله (2):

اعلم أن أسماء العلوم كالكتب أعلام أجناس وضعت لأنواع أعراض تتعدد بتعدد المحال كالقائم بزيد وبعمرو، وقد تجعل أعلام شخص باعتبار أن المتعدد باعتبار المحلّ يعد عرفا واحدا، وجعل القرآن علما شخصيا بهذا الاعتبار الثانى، وليس هو علما شخصيا حقيقيّا بأن يكون اسما للشخص القائم بلسان جبريل فقط للقطع. بأن ما يقرؤه كل واحد منا هو القرآن المنزل على النبى صلى الله عليه وسلم، وقد ذكروا أن الشخص الحقيقى لا يقبل الحد، لأنه لا تمكن معرفته إلا بالإشارة إليه، وعلى هذا فوصف القرآن بالشخص الذى لا يحدّ وهو الحقيقى لمشاركته له فى أنه لا تمكن معرفته إلا بالإشارة إليه، والقراءة من أوله إلى آخره فمعنى تشخصه حينئذ أن له حكم الشخص الحقيقى. اه

--------------------------------------------

(1) شرح العضد 2/ 18، 19.

(2) حاشية البنانى على شرح الجلال 1/ 224.
নিশ্চয়ই আদুদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১):

« .... এবং জেনে রাখুন যে, যদি কুরআন শব্দের ধারণাকে চিত্রিত করা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সঠিক। কিন্তু যদি (অন্যান্য বিষয় থেকে) পৃথক করা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সমস্যাকর। কারণ কুরআনের মুজিজা হওয়া কোনো স্পষ্ট অবিচ্ছেদ্য গুণ নয় এবং সূরার পরিচয় এর (কুরআনের) পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না, অন্যথায় তা চক্রকদোষ তৈরি করবে।»

এই বক্তব্যের অর্থ হলো: কুরআনের মুজিজা হওয়ার বিষয়টি এমন যা কেবলমাত্র কতিপয় বিশেষজ্ঞ আলেম ছাড়া অন্য কেউ এর ধারণা ও অবিচ্ছেদ্যতা অনুধাবন করতে পারে না। এটি কোনো স্পষ্ট অবিচ্ছেদ্য গুণ নয়, আর এর সত্তাগত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। অতএব, এটি হাকিকাত বা প্রকৃত সত্তার সংজ্ঞা প্রদান ও পৃথকীকরণের জন্য উপযুক্ত নয়। বরং এটি কেবলমাত্র কিতাব শব্দটির ধারণার একটি চিত্রায়ন তাদের জন্য যারা মুজিজা, সূরা এবং অনুরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত।

প্রকৃত কথা হলো, এই দুই শায়খের বক্তব্যের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কেননা জালাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: "যাতে এর আধিক্যের সীমাবদ্ধতার সাথে সাথে এমন বিষয় থেকে পৃথক করা যায় যা এই নামে নামাঙ্কিত নয়" - এটি নামকরণের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণের দিকে ইঙ্গিত দেয়, হাকিকাত বা প্রকৃত সত্তার পৃথকীকরণের দিকে নয়; যা আদুদ (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা থেকে সতর্কতাস্বরূপ।

 

‌শায়খ বান্নানি (রহিমাহুল্লাহ), জালালুদ্দিন মহল্লি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের ওপর টীকায় বলেছেন (২):

জেনে রাখুন যে, ইলম বা শাস্ত্রসমূহের নামগুলো কিতাবসমূহের নামের মতোই জাতিবাচক নাম (ইসমে জিনস), যা এমন সব বিশেষ গুণের (আরায) প্রকারভেদের জন্য নির্ধারিত যা আধার বা বিষয়ের বহুত্ব অনুযায়ী বহুবিধ হয়। যেমন—যা জায়েদ ও আমরের সাথে সংশ্লিষ্ট। কখনও কখনও এগুলোকে ব্যক্তিবাচক নাম (আলমে শাখস) হিসেবে গণ্য করা হয় এই বিবেচনায় যে, আধারের পার্থক্যের কারণে যা বহুবিধ, তা লোকরীতিতে এক হিসেবেই বিবেচিত হয়। আর কুরআনকে দ্বিতীয় এই বিবেচনার ভিত্তিতেই ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য করা হয়েছে। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো ব্যক্তিগত বিশেষ্য নয় যে, তা কেবলমাত্র জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর জিহবায় যা উচ্চারিত হয় তার নাম হবে। কারণ এটি সুনিশ্চিত যে, আমাদের প্রত্যেকে যা তিলাওয়াত করি তা-ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া কুরআন। আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, প্রকৃত ব্যক্তিগত সত্তা সংজ্ঞায়িত করা যায় না; কারণ তা কেবলমাত্র ইশারার মাধ্যমেই জানা সম্ভব। এই ভিত্তিতে, কুরআনকে এমন এক ব্যক্তিগত সত্তার গুণে গুণান্বিত করা যা সংজ্ঞায়িত করা যায় না এবং যা একটি প্রকৃত সত্তা—কেননা এর সাথে তার সাদৃশ্য রয়েছে এই দিক থেকে যে, এটি কেবলমাত্র ইশারা ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াতের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। সুতরাং সে ক্ষেত্রে এর সত্তাগত হওয়ার অর্থ হলো এর ওপর প্রকৃত ব্যক্তির বিধান কার্যকর হওয়া। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) শারহুল আদুদ ২/ ১৮, ১৯।

(২) জালালের শারহের ওপর বান্নানির হাশিয়া ১/ ২২৪।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌تذييل (1):

المتأمل فى القرآن الكريم يجد أن الله عز وجل ذكر له خمسة وخمسين اسما هى (2):

1، 2 - سماه كتابا مبينا فقال جل شأنه: حم* وَالْكِتابِ الْمُبِينِ (3) فأما تسميته كتابا فلجمعه أنواع العلوم والقصص والأخبار على أبلغ وجه والكتاب فى اللغة: الجمع (4)،

والمبين: لأنه أبان أى أظهر الحق من الباطل.

3، 4 - وسماه قرآنا وكريما فقال جل شأنه: إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ (5) 5 - وسماه كلاما فقال جل شأنه: وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ (6)، ويلاحظ أن الكلام مشتق من الكلم (7)، بمعنى التأثير، لأنه يؤثر فى ذهن السامع فائدة لم تكن عنده.

6 - وسماه تعالى نورا فقال جل شأنه: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكُمْ نُوراً مُبِيناً (8) وقد سمى بهذا الاسم لأنه يدرك به غوامض الحلال والحرام (9).

--------------------------------------------

(1) التذييل: مصدر ذيل للمبالغة وهى لغة: جعل الشيء ذيلا للآخر.

واصطلاحا: أن يؤتى بعد تمام الكلام بكلام مستقل فى معنى الأول تحقيقا لدلالة منطوق الأول أو مفهومه ليكون معه كالدليل ليظهر عند من لا يفهم ويكمل عند من يفهمه- لسان العرب 2/ 1529، والبرهان للزركشى 3/ 68 - .

(2) البرهان 1/ 273، والإتقان 1/ 178.

(3) سورة الدخان آيتا: 1، 2.

(4) لسان العرب 5/ 3816.

(5) سورة الواقعة الآية: 77.

(6) سورة التوبة الآية: 6.

(7) لسان العرب 5/ 3923.

(8) سورة النساء الآية: 174.

(9) الغامض خلاف الواضح، وقد غمض المكان وغمض الشيء يغمض غموضا يعنى خفى- لسان العرب 4/ 3299 -
পরিশিষ্ট (১):

পবিত্র কুরআনের প্রতি গভীর মনোনিবেশকারী ব্যক্তি দেখতে পাবেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর জন্য পঞ্চান্নটি নাম উল্লেখ করেছেন, যা হলো (২):

১, ২ - তিনি একে 'কিতাবুন মুবীন' (সুস্পষ্ট কিতাব) নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের (৩)। একে 'কিতাব' নাম দেওয়ার কারণ হলো, এটি অত্যন্ত সাবলীল পন্থায় বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান, কাহিনী ও সংবাদসমূহকে একত্রিত করেছে। আর আভিধানিক অর্থে 'কিতাব' হলো: একত্র করা (৪),

এবং 'মুবীন': কারণ এটি সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক ও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

৩, ৪ - তিনি একে 'কুরআন' এবং 'কারীম' (সম্মানিত) নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন (৫)। ৫ - তিনি একে 'কালাম' (বাণী) নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি আপনার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিন, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায় (৬)। লক্ষণীয় যে, 'কালাম' শব্দটি 'কালম' থেকে উদ্ভূত (৭), যার অর্থ হলো প্রভাব ফেলা; কেননা এটি শ্রোতার মনে এমন এক উপকারী বিষয়ের প্রভাব ফেলে যা তার নিকট আগে ছিল না।

৬ - মহান আল্লাহ একে 'নূর' (জ্যোতি) নামকরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: এবং আমি তোমাদের নিকট এক সুস্পষ্ট নূর অবতীর্ণ করেছি (৮)। এই নাম রাখা হয়েছে কারণ এর মাধ্যমে হালাল ও হারামের জটিল বিষয়সমূহ উপলব্ধি করা যায় (৯)।

--------------------------------------------

(১) আত-তাযয়ীল: এটি 'যায়্যারা' ক্রিয়ামূলের আধিক্যবোধক মাসদার (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), যার আভিধানিক অর্থ হলো: কোনো বস্তুকে অন্য একটি বস্তুর পরিশিষ্ট বা লেজুড় হিসেবে নির্ধারণ করা।

পরিভাষায়: মূল বক্তব্য পূর্ণ হওয়ার পর তার সমর্থনে এমন একটি স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে আসা যা প্রথম বক্তব্যের উচ্চারিত অর্থ বা অন্তর্নিহিত অর্থের সত্যতা নিশ্চিত করে, যাতে তা তার জন্য প্রমাণের মতো কাজ করে। এর উদ্দেশ্য হলো—যিনি বুঝতে পারেননি তার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং যিনি বুঝেছেন তার নিকট বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করা।—লিসানুল আরব ২/১৫২৯, এবং যুরকাশীর আল-বুরহান ৩/৬৮—।

(২) আল-বুরহান ১/২৭৩, এবং আল-ইতকান ১/১৭৮।

(৩) সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১, ২।

(৪) লিসানুল আরব ৫/৩৮১৬।

(৫) সূরা আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৭৭।

(৬) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬।

(৭) লিসানুল আরব ৫/৩৯২৩।

(৮) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭৪।

(৯) 'গামিয' হলো স্পষ্টের বিপরীত। বলা হয় 'স্থানটি অস্পষ্ট হয়েছে' বা 'বস্তুটি অস্পষ্ট হয়েছে', অর্থাৎ তা গোপন হয়েছে।—লিসানুল আরব ৪/৩২৯৯—
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
7، 8 - وسماه هدى ورحمة فقال تعالى: وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (1) وأطلق على القرآن هدى لأن فيه الدلالة على الحق، وهو من باب إطلاق المصدر على الفاعل مبالغة.

9 - وسماه فرقانا فقال جل شأنه: تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً (2).

10 - وسماه شفاء فقال تعالى: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ ما هُوَ شِفاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (3) وسمى القرآن شفاء لأنه يشفى من الأمراض القلبية، كالكفر والحقد والحسد، والبدنية كذلك.

11 - وسماه موعظة فقال جل شأنه: قَدْ جاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفاءٌ لِما فِي الصُّدُورِ (4).

12، 13 - وسماه ذكرا ومباركا فقال تعالى: وَهذا ذِكْرٌ مُبارَكٌ أَنْزَلْناهُ (5) 14 - وسماه عليّا فقال تعالى: وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتابِ لَدَيْنا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ (6) 15 - وسماه حكمة فقال تعالى: حِكْمَةٌ بالِغَةٌ (7).

16 - وسماه حكيما فقال تعالى: تِلْكَ آياتُ الْكِتابِ الْحَكِيمِ (8).

17، 18 - وسماه مصدقا ومهيمنا فقال تعالى: مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ (9).

19 - وسماه حبلا فقال تعالى: وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا (10). والسبب فى تسمية القرآن حبلا أن من تمسك به

--------------------------------------------

(1) سورة يونس الآية: 57.

(2) سورة الفرقان الآية: 1.

(3) سورة الإسراء الآية: 82.

(4) سورة يونس الآية: 57.

(5) سورة الأنبياء الآية: 50.

(6) سورة الزخرف الآية: 4.

(7) سورة القمر الآية: 5.

(8) سورة يونس الآية: 1.

(9) سورة المائدة الآية: 48.

(10) سورة آل عمران الآية: 103.
৭, ৮ - আর তিনি একে হেদায়াত ও রহমত হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।" (১) কুরআনকে 'হেদায়াত' বলা হয়েছে কারণ এতে সত্যের দিশা রয়েছে, আর এটি আধিক্য বোঝাতে কর্তার পরিবর্তে মাসদার (ক্রিয়ামূল) ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত।

৯ - আর তিনি একে ফুরকান হিসেবে নামকরণ করেছেন। তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ, তিনি বলেন: "বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" (২)।

১০ - আর তিনি একে শিফা (আরোগ্য) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।" (৩) কুরআনকে শিফা বলা হয়েছে কারণ এটি আত্মিক ব্যাধি যেমন কুফরি, ঘৃণা ও হিংসা থেকে এবং একইভাবে শারীরিক ব্যাধি থেকেও আরোগ্য দান করে।

১১ - আর তিনি একে মাউয়িজাহ (উপদেশ) হিসেবে নামকরণ করেছেন। তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ, তিনি বলেন: "তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এসেছে।" (৪)।

১২, ১৩ - আর তিনি একে জিকর ও মুবারক (বরকতময়) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এটি এক বরকতময় জিকর যা আমি নাযিল করেছি।" (৫) ১৪ - আর তিনি একে আলী (উচ্চমর্যাদাশীল) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর নিশ্চয়ই তা আমার কাছে মূল কিতাবে উচ্চমর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।" (৬) ১৫ - আর তিনি একে হিকমত (প্রজ্ঞা) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা।" (৭)।

১৬ - আর তিনি একে হাকিম (প্রজ্ঞাপূর্ণ) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত।" (৮)।

১৭, ১৮ - আর তিনি একে মুসাদ্দিক (সত্যায়নকারী) ও মুহায়মিন (তদারককারী) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর উপর তদারককারী হিসেবে।" (৯)।

১৯ - আর তিনি একে হাবল (রশি) হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" (১০)। কুরআনকে রশি ডাকার কারণ হলো, যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে—

--------------------------------------------

(১) সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭।

(২) সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১।

(৩) সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮২।

(৪) সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭।

(৫) সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৫০।

(৬) সুরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৪।

(৭) সুরা আল-কামার, আয়াত: ৫।

(৮) সুরা ইউনুস, আয়াত: ১।

(৯) সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৮।

(১০) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وصل إلى الجنة أو الهدى، والحبل: هو السبب (1).

20 - وسماه صراطا مستقيما فقال تعالى: وَأَنَّ هذا صِراطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ (2).

21 - وسماه قيما فقال تعالى:

قَيِّماً لِيُنْذِرَ بَأْساً شَدِيداً مِنْ لَدُنْهُ (3).

22، 23 - وسماه قولا وفصلا فقال تعالى: إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ (4).

24 - وسماه نبأ عظيما فقال تعالى: عَمَّ يَتَساءَلُونَ* عَنِ النَّبَإِ الْعَظِيمِ (5).

25، 26، 27 - وسماه أحسن الحديث ومتشابها ومثانى فقال تعالى: اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتاباً مُتَشابِهاً مَثانِيَ (6). وإنما أطلق على القرآن متشابها، فلأنه يشبه بعضه بعضا فى الحسن والصدق كما أطلق عليه مثانى، لأنه مشتمل على بيان قصص الأمم السابقة، فهو ثان لما تقدمه، وقيل: لتكرر القصص والمواعظ فيه.

28 - وسماه تنزيلا فقال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (7).

29 - وسماه روحا فقال تعالى: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا (8).

30 - وسماه وحيا فقال تعالى: إِنَّما أُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْيِ (9).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 1/ 760.

(2) سورة الأنعام الآية 153.

(3) سورة الكهف الآية: 2.

(4) سورة الطارق الآية: 13.

(5) سورة النبأ آيتا: 1، 2.

(6) سورة الزمر الآية: 23.

(7) سورة الشعراء الآية: 192.

(8) سورة الشورى الآية: 52.

(9) سورة الأنبياء الآية: 45.
জান্নাত অথবা হিদায়াতে পৌঁছেছেন; আর রশি (হাবল) হলো মাধ্যম (১)।

২০ - তিনি একে 'সিরাতুল মুস্তাকিম' (সরল পথ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ; সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো" (২)।

২১ - তিনি একে 'কাইয়্যিম' (সুপ্রতিষ্ঠিত) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"সুপ্রতিষ্ঠিত গ্রন্থ হিসেবে, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন" (৩)।

২২, ২৩ - তিনি একে 'কাওল' (বাণী) এবং 'ফাসল' (চূড়ান্ত ফয়সালা) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি এক চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বাণী" (৪)।

২৪ - তিনি একে 'নাবা-এ-আযীম' (মহাসংবাদ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা একে অপরের কাছে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? সেই মহাসংবাদ সম্পর্কে" (৫)।

২৫, ২৬, ২৭ - তিনি একে 'আহসানুল হাদীস' (উত্তম বাণী), 'মুতাশাবিহ' (সুসামঞ্জস্যপূর্ণ) এবং 'মাসানী' (পুনরাবৃত্ত) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত একটি কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়" (৬)। কুরআনকে 'মুতাশাবিহ' বলা হয়েছে কারণ এর সৌন্দর্য ও সত্যতার দিক থেকে এর একাংশ অপর অংশের সদৃশ। আর একে 'মাসানী' বলা হয়েছে কারণ এটি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি পূর্ববর্তীদের বর্ণনার অনুগামী। আবার বলা হয়: এতে কাহিনী ও উপদেশের পুনরাবৃত্তি থাকার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

২৮ - তিনি একে 'তানযীল' (অবতীর্ণ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ" (৭)।

২৯ - তিনি একে 'রূহ' (আত্মা/জীবন) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি" (৮)।

৩০ - তিনি একে 'ওহী' (প্রত্যাদেশ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি তো কেবল ওহীর মাধ্যমেই তোমাদের সতর্ক করি" (৯)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ১/৭৬০।

(২) সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৩।

(৩) সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ২।

(৪) সূরা আত-তারিক, আয়াত: ১৩।

(৫) সূরা আন-নাবা, আয়াত: ১, ২।

(৬) সূরা আস-জুমার, আয়াত: ২৩।

(৭) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ১৯২।

(৮) সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫২।

(৯) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৪৫।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
31 - وسماه عربيّا فقال تعالى: قُرْآناً عَرَبِيًّا (1).

32 - وسماه بصائر فقال تعالى: هذا بَصائِرُ لِلنَّاسِ (2).

33 - وسماه بيانا فقال تعالى: هذا بَيانٌ لِلنَّاسِ (3).

34 - وسماه علما فقال تعالى: مِنْ بَعْدِ ما جاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ* (4).

35 - وسماه حقّا فقال تعالى: إِنَّ هذا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ (5).

36 - وسماه هاديا فقال تعالى: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ (6).

37 - وسماه عجبا فقال تعالى: قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقالُوا إِنَّا سَمِعْنا قُرْآناً عَجَباً (7) 38 - وسماه تذكرة فقال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ (8).

39 - وسماه العروة الوثقى فقال تعالى: اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقى (9).

40 - وسماه صدقا فقال تعالى: وَالَّذِي جاءَ بِالصِّدْقِ (10) 41 - وسماه عدلا فقال تعالى: وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلًا (11).

--------------------------------------------

(1) سورة يوسف الآية: 2.

(2) سورة الجاثية الآية: 20.

(3) سورة آل عمران الآية: 138.

(4) سورة البقرة الآية: 145.

(5) سورة آل عمران الآية: 62.

(6) سورة الإسراء الآية: 9.

(7) سورة الجن الآية: 1.

(8) سورة الحاقة الآية: 48.

(9) سورة البقرة الآية: 256.

(10) سورة الزمر الآية: 33.

(11) سورة الأنعام الآية: 115.
৩১ - এবং তিনি একে আরবি হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আরবি কুরআন’ (১)।

৩২ - এবং তিনি একে অন্তর্দৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘এটি মানুষের জন্য অন্তর্দৃষ্টি’ (২)।

৩৩ - এবং তিনি একে স্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘এটি মানুষের জন্য এক সুস্পষ্ট বর্ণনা’ (৩)।

৩৪ - এবং তিনি একে জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর’ (৪)।

৩৫ - এবং তিনি একে সত্য হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘নিশ্চয় এটিই সত্য বর্ণনা’ (৫)।

৩৬ - এবং তিনি একে পথপ্রদর্শক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে যা সবচেয়ে সুদৃঢ়’ (৬)।

৩৭ - এবং তিনি একে বিস্ময়কর হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘বলুন, আমার প্রতি ওহি পাঠানো হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনেছে এবং বলেছে: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি’ (৭) ৩৮ - এবং তিনি একে উপদেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আর নিশ্চয় এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ’ (৮)।

৩৯ - এবং তিনি একে সুদৃঢ় হাতল হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘সে এক সুদৃঢ় হাতল ধারণ করল’ (৯)।

৪০ - এবং তিনি একে সত্য হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আর যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন’ (১০) ৪১ - এবং তিনি একে ন্যায়বিচার হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে’ (১১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২।

(২) সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত: ২০।

(৩) সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৩৮।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৫।

(৫) সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৬২।

(৬) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৯।

(৭) সূরা আল-জিন, আয়াত: ১।

(৮) সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৪৮।

(৯) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৬।

(১০) সূরা আজ-যুমার, আয়াত: ৩৩।

(১১) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১৫।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
42 - وسماه أمرا فقال تعالى: ذلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنْزَلَهُ إِلَيْكُمْ (1).

43 - وسماه مناديا فقال تعالى: رَبَّنا إِنَّنا سَمِعْنا مُنادِياً يُنادِي لِلْإِيمانِ (2).

44 - وسماه بشرى فقال تعالى: هُدىً وَبُشْرى لِلْمُؤْمِنِينَ (3).

45 - وسماه مجيدا فقال تعالى: بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ (4).

46 - وسماه زبورا فقال تعالى: وَلَقَدْ كَتَبْنا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ (5).

47، 48 - وسماه بشيرا ونذيرا فقال تعالى: كِتابٌ فُصِّلَتْ آياتُهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ* بَشِيراً وَنَذِيراً (6).

49 - وسماه عزيزا فقال تعالى: وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (7).

50 - وسماه بلاغا فقال تعالى: هذا بَلاغٌ لِلنَّاسِ (8).

51 - وسماه قصصا فقال تعالى: نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ (9).

52، 53، 54، 55 - وسماه أربعة فى آيتين فقال جل شأنه: فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ* مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ (10).

--------------------------------------------

(1) سورة الطلاق الآية: 5.

(2) سورة آل عمران الآية: 193.

(3) سورة النمل الآية: 2.

(4) سورة البروج الآية: 21.

(5) سورة الأنبياء الآية: 105.

(6) سورة فصلت آيتا: 3، 4.

(7) سورة فصلت الآية: 41.

(8) سورة إبراهيم الآية: 52.

(9) سورة يوسف الآية: 3.

(10) سورة عبس آيتا: 13، 14.
৪২ - এবং তিনি একে 'নির্দেশ' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: এটি আল্লাহর নির্দেশ, যা তিনি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন (১)।

৪৩ - এবং তিনি একে 'আহ্বানকারী' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করতে শুনেছি (২)।

৪৪ - এবং তিনি একে 'সুসংবাদ' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ (৩)।

৪৫ - এবং তিনি একে 'মহিমান্বিত' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: বরং এটি মহিমান্বিত কুরআন (৪)।

৪৬ - এবং তিনি একে 'যাবুর' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: আর আমি যিকরের পর যাবুরে লিখে দিয়েছি (৫)।

৪৭, ৪৮ - এবং তিনি একে 'সুসংবাদদাতা' ও 'সতর্ককারী' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে (৬)।

৪৯ - এবং তিনি একে 'মহিমান্বিত' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: এবং নিশ্চয়ই এটি এক মহিমান্বিত কিতাব (৭)।

৫০ - এবং তিনি একে 'বার্তা' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: এটি মানুষের জন্য এক বার্তা (৮)।

৫১ - এবং তিনি একে 'কাহিনী' হিসেবে নামকরণ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি (৯)।

৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫ - এবং তিনি দুটি আয়াতে একে চারটি নামে অভিহিত করেছেন, অতঃপর তাঁর শান সুউচ্চ হোক, তিনি বলেন: এটি সম্মানিত সহিফাগুলোতে লিপিবদ্ধ, যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র (১০)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আত-তালাক, আয়াত: ৫।

(২) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৩।

(৩) সুরা আন-নামল, আয়াত: ২।

(৪) সুরা আল-বুরুজ, আয়াত: ২১।

(৫) সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৫।

(৬) সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩, ৪।

(৭) সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪১।

(৮) সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৫২।

(৯) সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৩।

(১০) সুরা আবাসা, আয়াত: ১৩, ১৪।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌هذا وقد حكى المظفرى فى تاريخه قال:

لما جمع أبو بكر رضى الله عنه القرآن قال: سموه. فقال بعضهم:

سموه إنجيلا فكرهوه. وقال بعضهم: سموه سفرا فكرهوه.

فقال ابن مسعود رضى الله عنه: رأيت بالحبشة كتابا يدعونه المصحف فسموه به. فالصديق رضى الله عنه هو أول من جمع القرآن وسماه المصحف (1).

--------------------------------------------

(1) الإتقان لجلال الدين السيوطى 1/ 185.
এটি এমন বিষয় যা আল-মুজাফফারি তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

যখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরআন সংকলন করলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা এর একটি নাম দাও। তখন তাদের কেউ কেউ বললেন:

একে 'ইনজিল' নাম দিন, কিন্তু তারা তা অপছন্দ করলেন। আবার কেউ কেউ বললেন: একে 'সিফর' নাম দিন, তারা তাও অপছন্দ করলেন।

অতঃপর ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি হাবাশায় (আবিসিনিয়ায়) একটি কিতাব দেখেছি যাকে তারা 'মুসহাফ' বলে ডাকে, সুতরাং আপনারাও একে এই নামে অভিহিত করুন। অতএব সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ই হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআন সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'মুসহাফ' (১)।

--------------------------------------------

(১) জালালুদ্দিন সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান, ১/১৮৫।