(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين ط مكتبة السنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين والكتاب المعاصرين
المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)
الناشر: مكتبة السنة
الطبعة: الأولى، 1989 م
عدد الصفحات: 508
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(هذه الطبعة بها قسم زائد عن ط مجمع البحوث، ينشر لأول مرة)
تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433
সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদদের সংশয় নিরসন, মাকতাবাতুস সুন্নাহ সংস্করণ বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুওয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৮
শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(এই সংস্করণে মাজমাউল বুহুস সংস্করণের তুলনায় অতিরিক্ত একটি অংশ রয়েছে, যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে)
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ মহরম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين والكتاب المعاصرين]ـ
المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (المتوفى: 1403هـ)
الناشر: مكتبة السنة
الطبعة: الأولى، 1989 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
(هذه الطبعة بها قسم زائد عن ط مجمع البحوث، ينشر لأول مرة)
--------------------------------------------
ـ[সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন]ـ
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পিতা-মাতার গুনাহ ক্ষমা করুন
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(এই সংস্করণে মাজমাউল বুহুস সংস্করণের তুলনায় একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الدكتور الشيخ محمد محمد أبو شهبة
أستاذ علوم القرآن والحديث بجامعة الأزهر وجامعة أم القرى
- رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -
دِفَاعٌ عَنْ السُنَّةِ وَرَدِّ شُبَهِ المُسْتَشْرِقِينَ وَالكُتَّابِ المُعَاصِرِينَ
وَبَيَانُ الشُّبَهِ الوَارِدَةِ عَلَى السُنَّةِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا
وَرَدِّهَا رَدًّا عِلْمِيًّا صَحِيحًا
…ويليه:
الرَدُّ عَلَى مَنْ يُنْكِرُ حُجِّيَّةَ السُنَّةِ
للدكتور الشيخ عبد الغني عبد الخالق
- رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -
مكتبة السنة.
ড. শাইখ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন বিজ্ঞান ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক
- আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন -
সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমকালীন লেখকদের সংশয়সমূহের নিরসন
সুন্নাহর ওপর প্রাচীন ও আধুনিক কালে উত্থাপিত সংশয়সমূহের বিবরণ
এবং সেগুলোর তাত্ত্বিক ও সঠিক (صحيح) খণ্ডন
...এবং এর সাথে রয়েছে:
সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকারকারীদের প্রতিবাদ
ড. শাইখ আবদুল গনি আবদুল খালিক রচিত
- আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন -
মাকতাবাতুস সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر:إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيِّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أنْ لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.
بين يَدَيْ القارئ: موسوعة علمية هامة، في الدفاع عن الحديث النبوي الشريف، وبيان منزلة السُنَّة من الدين، وفضح أولئك الذين وجَّهُوا سهامهم للنَّيل من السُنَّة، والتشكيك فيها.
والكتاب في ثلاثة أقسام:
الأول (1): " دفاع عن السُنَّة وردِّ شُبهات المستشرقين والكُتَّاب المعاصرين " للعلَاّمة الدكتور / محمد بن محمد أبو شُهبة، وقد طبع هذا القسم في حياة المؤلف رحمه الله، ثم أعيدت طباعته في «مجمع البحوث الإسلامية» بالأزهر الشريف في احتفالاته بالعيد الألفي للأزهر.
الثاني (2): " بعض الشُّبه الواردة على السُنَّة قديماً وحديثاً وردِّها ردًّا علميًّا صحيحاً " يُنشر للمرة الأولى، عن مخطوطة المؤلف رحمه الله، ولا أَدَلَّ على قيمة الكتاب مِمَّا قاله فيه مؤلفه رحمه الله: «هذا الكتاب الذي يعتبر عُصارة دهني، وعقلي، وقلبي، وخُلاصة عمر طويل في دراسة السُنَّة النبوية المُطَهَّرَةَ، والردود على ما يُثار حولها من شُبَهٍ، وتجنِّيات، وأباطيل، ما يزيد عن ثُلُثِ قرنٍ من الزمان، ولله الحمد والمِنَّةُ» (*).
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
পাঠকের সম্মুখে উপস্থিত: মহানবি (সা.)-এর হাদিস সংরক্ষণে, দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর মর্যাদা বর্ণনায় এবং সুন্নাহর ওপর যারা আক্রমণ চালিয়েছে ও এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ বিশ্বকোষ।
বইটি তিনটি বিভাগে বিভক্ত:
প্রথম (১): আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ্ রচিত "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমকালীন লেখকদের সংশয় নিরসন"। এই বিভাগটি লেখকের জীবদ্দশায় (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) প্রকাশিত হয়েছিল। অতঃপর আল-আজহার আল-শরীফের সহস্রাব্দ উদযাপন উপলক্ষে এর ‘ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি’ থেকে এটি পুনরায় মুদ্রিত হয়।
দ্বিতীয় (২): "সুন্নাহর ওপর প্রাচীন ও আধুনিক কালে উত্থাপিত কিছু সংশয় এবং তার সঠিক (صحيح) জ্ঞানতাত্ত্বিক খণ্ডন"। এটি লেখকের পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এই গ্রন্থের মূল্য বুঝাতে লেখকের এই কথাটিই যথেষ্ট: «এই গ্রন্থটি আমার মেধা, প্রজ্ঞা ও হৃদয়ের নির্যাস এবং পবিত্র সুন্নাহ অধ্যয়ন ও একে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়, অপবাদ ও অসার যুক্তিসমূহ খণ্ডনের পেছনে ব্যয়িত দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি—অর্থাৎ তেত্রিশ বছরের অধিক—সময়ের সারসংক্ষেপ। আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই।» (*).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الثالث (1): " بيان الشُّبه التي أوردها بعض من ينكر حُجِيَّة السُنَّة والردِّ عليها ".
للدكتور عبد الغني عبد الخالق أستاذ الشريعة ورئيس قسم الفقه وأصوله بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - سابقاً - - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -.
ألحقناه بالكتاب، تلبية لرغبة كريمة لكثير من أهل العلم بأنَّ هذا القسم مُتَمِّماً للكتاب، وبه يصير «موسوعة إسلامية هامة» لأهل الحق، للوقوف دون افتراء المُفترين، وانتحال المُبطلين وتأويلات الجاهلين.
رحم الله المُؤَلِّفَيْنِ، وجزاهما خيراً عن العلم وأهله - آمين.
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
وكتب ناشره
الواثق بالله
أبو حذيفة شرف حجازي
القاهرة، عابدين،
صبيحة السبت، جمادى الأولى: 1409 هـ - 7 يناير 1989 م.
--------------------------------------------
তৃতীয় (১): "সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকারকারী কিছু ব্যক্তির উত্থাপিত সংশয়সমূহের বর্ণনা এবং সেগুলোর খণ্ডন"।
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহর প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ বিভাগের প্রধান ডক্টর আব্দুল গনি আব্দুল খালিক — আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন — এর লিখিত।
অনেক বিদগ্ধ আলেমের সানুগ্রহ ইচ্ছার প্রেক্ষিতে আমরা এটিকে মূল গ্রন্থের সাথে যুক্ত করেছি; কারণ এই অংশটি গ্রন্থটির পরিপূরক। এর মাধ্যমে এটি সত্যপন্থীদের জন্য মিথ্যাবাদীদের অপবাদ, বাতিলপন্থীদের বিকৃতি (انتحال) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা (تأويل) প্রতিহত করার ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিশ্বকোষ’ হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহ তাআলা লেখকদ্বয়ের প্রতি রহম করুন এবং ইলম ও আহলে ইলমের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন — আমিন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়।
এর প্রকাশক লিখেছেন
আল-ওয়াসিক বিল্লাহ
আবু হুজাইফা শারাফ হিজাজি
কায়রো, আবিদিন,
শনিবার সকাল, জমাদিউল আউয়াল: ১৪০৯ হিজরি — ৭ জানুয়ারি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[القِسْمُ الأَوَّلُ]: دِفَاعٌ عَنْ السُنَّةِ وَرَدِّ شُبَهِ المُسْتَشْرِقِينَ وَالكُتَّابِ المُعَاصِرِينَ:الدكتور الشيخ محمد محمد أبو شهبه.
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةُ الكِتَابِ:الحمد لله الذي كرم الإنسان، وميزه على كثير من خلقه بنعمة العقل والبيان، والصلاة والسلام على نبينا محمد الذي آتاه الله الحكمة وفصل الخطاب، وعلى آله وصحابته ومن تبعهم بإحسان.
أما بعد: فمرجع الشريعة الإسلامية إلى أصلين شريفين:
القرآن الكريم، والسُنَّة النبوية.
والقرآن أصل الدين، ومنبع الصراط المستقيم، ومعجزة النَّبِي العظمى، وآياته الباقية على وجه الدهر.
والسُنَّة بيان للقرآن، وشرح لأحكامه، وبسط لأصوله، وتمام لتشريعاته، والسُنَّة متى تثبت عن المعصوم - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - فهي تشريع وهداية، وواجبة الاتباع ولا محالة.
والسُنَّة بعضها بوحي جلي عن طريق أمين الوحي جبريل عليه السلام (1) وبعضها بالإلهام والقذف في القلب (2) وبعضها بالاجتهاد على حسب ما علم النَّبِي من علوم القرآن، وقواعد الشريعة، وما امتلأ به قلبه من فيوضات الوحي والتعليم الإلهي الذي لا يتوقف على قراءة وكتابة وكسب وبحث، وصدق الله حيث يقول: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} (3) فالتعليم بالقلم إشارة إلى العلم الكسبي،
--------------------------------------------
[প্রথম অংশ]: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন:ডক্টর শায়খ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থের ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর আকল (বুদ্ধি) ও বয়ান (প্রকাশভঙ্গি)-এর নিয়ামত দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যাকে আল্লাহ হিকমত ও অকাট্য কথা বলার সামর্থ্য দান করেছেন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর: ইসলামী শরীয়াহর উৎস দুটি মহান মূল উৎসের (أصل) দিকে ফিরে যায়:
পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ।
আর কুরআন হলো দ্বীনের মূল (أصل), সিরাতুল মুস্তাকিমের উৎস, নবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং যা যুগের আবর্তনে চিরস্থায়ী এক নিদর্শন।
আর সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, এর বিধানাবলির বিশ্লেষণ, এর মূলনীতিসমূহের (أصول) বিস্তারিত বর্ণনা এবং এর শরীয়ত প্রণয়নের পূর্ণতা। সুন্নাহ যখনই মাসুম (নিষ্পাপ) - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক - থেকে সাব্যস্ত হয়, তখন তা শরীয়ত ও হেদায়েত হিসেবে গণ্য এবং তা অনুসরণ করা অনিবার্যভাবে আবশ্যক।
সুন্নাহর একাংশ ওহীয়ে জলি (সুস্পষ্ট ওহী) যা ওহীর আমানতদার জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত (১), একাংশ ইলহাম (অনুপ্রেরণা) এবং হৃদয়ে প্রক্ষেপণের মাধ্যমে (২), আর একাংশ ইজতিহাদের মাধ্যমে, যা নবী (সা.) কুরআনের জ্ঞান, শরীয়তের নীতিমালা (قواعد) এবং ওহীর প্রাচুর্য ও ঐশী শিক্ষার মাধ্যমে লাভ করেছিলেন, যা পড়া, লেখা, অর্জন বা গবেষণার ওপর নির্ভরশীল নয়। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করো, আর তোমার রব অতি দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না} (৩)। এখানে কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া মূলত অর্জিত জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وما بعدها إشارة إلى العلم الوهبي الذي يضعه الله حيث شاء.
ومتى اجتهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وسكت الوحي عن اجتهاده اعتبر هذا إقرارا من الله سبحانه وتعالى له واكتسب صفة ما أوحى إليه به وبهذا المعنى يعتبر كل ما صدر عن النَّبِي وحيا، وصدق الله حيث يقول: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} (1)
وقد عنيت الأُمَّة الإسلامية بتبليغ هذين الأصلين عناية فائقة لم تعهد في أمَّة من الأمم نحو ما أثر عن أنبيائها وملوكها وعظمائها، فقد حفظ الصحابة القرآن وتدبروه وفقهوه، وبلغوه كما أنزله الله إلى من جاء بعدهم من التابعين وحمله التابعون وبلغوه - كما تلقوه - إلى من جاء بعدهم، وهكذا تداوله الجم الغفير الذين لا يحصون في كل عصر إلى أهل العصر الذين يلونهم، وانضم إلى الحفظ والتلقي الشفاهي التقييد بالكتابة في عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وبعد عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم، حتى وصل إلينا لا تزيد فيه ولا اختلاق ولا تحريف ولا تبديل، مصداقا لقول الله سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2).
وكذلك عني الصحابة بالسُنَّةِ المحمدية حفظاً وفهماً وفقهاً وبلغوها بلفظها - وهو الغالب والأصل - أو بمعناها إلى من جاء بعدهم من التابعين، وبلغها التابعون لتابعي التابعين وهَلُمَّ جراً.
ولم تكن السنن والأحاديث مدوَّنة بصفة عامة في القرن الأول وذلك لما ورد من النهي عن ذلك خشية اختلاطها بالقرآن أو اشتغال الصحابة بها عن القرآن وبذلك انتهى القرن الأول والكاتبون للسُنَّة قليلون وإنْ كان الحافظون لها المقيِّدُون لها في الصدور كثيرين.
ولم يكد يبدأ القرن الثاني حتى بدأ التدوين بصفة عامة، ونشط العلماء لهذا العمل المشكور نشاطاً قوياً، وقد اقترنت حركة التدوين بحركة النقد والتعديل والتجريح والتحرِّي عن الحق والصدق والصواب، ووضع أئمة الحديث وصيارفته لهذا أدقَّ قواعد النقد وآصلها وأعدلها سواء أكان ذلك يتعلق بنقد الأسانيد أم المتون.
--------------------------------------------
এবং এর পরবর্তী অংশ সেই খোদাপ্রদত্ত জ্ঞানের (العلم الوهبي) দিকে ইঙ্গিত করে যা আল্লাহ তাআলা যেখানে ইচ্ছা দান করেন।
নবী (সা.) যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং ওহি তাঁর সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) সম্পর্কে নীরব থাকত, তখন এটিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি মৌন সম্মতি (إقرار) হিসেবে গণ্য করা হতো এবং এটি ওহির মর্যাদা লাভ করত। এই অর্থে নবী (সা.) থেকে যা কিছু নিঃসৃত হয়েছে, তা ওহি হিসেবে গণ্য। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {নক্ষত্রের কসম যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} (১)
মুসলিম উম্মাহ এই মূলনীতি দুটির প্রচারের ব্যাপারে এমন অসাধারণ যত্ন নিয়েছে, যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে তাদের নবী, রাজা বা মহাপুরুষদের বাণীর ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। সাহাবায়ে কেরাম কুরআন মুখস্থ করেছেন, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর আল্লাহ যেভাবে এটি অবতীর্ণ করেছেন, সেভাবেই তাঁরা তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাবেয়ীরাও এটি গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবেই তা প্রতিটি যুগে এমন অসংখ্য মানুষ (الجم الغفير), যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়, তাঁদের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে। মুখস্থ রাখা এবং মৌখিক গ্রহণের পাশাপাশি নবী (সা.)-এর যুগে এবং পরবর্তী যুগে লেখনীর মাধ্যমে তা লিপিবদ্ধ করার কাজও যুক্ত হয়েছিল। ফলে তা আমাদের কাছে কোনো প্রকার সংযোজন, জালিয়াতি (اختلاق), বিকৃতি (تحريف) বা পরিবর্তন (تبديل) ছাড়াই পৌঁছেছে। এটি আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} (২)।
একইভাবে সাহাবায়ে কেরাম মুহাম্মাদী সুন্নাহর হিফজ, উপলব্ধি এবং গভীর জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। তাঁরা সুন্নাহকে তার নিজস্ব শব্দে — যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং মূল নিয়ম — অথবা মর্মগতভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাবেয়ীরা তা তাবে-তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এভাবেই পরম্পরা চলতে থাকে।
প্রথম শতাব্দীতে সাধারণভাবে সুন্নাহ ও হাদিস সংকলিত ছিল না। কারণ কুরআনের সাথে এগুলো মিশে যাওয়ার ভয়ে অথবা সাহাবায়ে কেরাম কুরআনের পরিবর্তে এগুলোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তা লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। এভাবেই সুন্নাহর লেখকদের সংখ্যা কম থাকা অবস্থায় প্রথম শতাব্দী শেষ হয়, যদিও সুন্নাহর হাফেজ এবং অন্তরে তা ধারণকারীদের সংখ্যা ছিল অনেক।
দ্বিতীয় শতাব্দী শুরু হতে না হতেই সাধারণভাবে সংকলন (تدوين) শুরু হয় এবং উলামায়ে কেরাম এই প্রশংসনীয় কাজে অত্যন্ত জোরালোভাবে সক্রিয় হন। এই সংকলন (تدوين) প্রক্রিয়ার সাথে সাথে সমালোচনা (نقد), নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل), দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ (تجريح) এবং সত্য ও সঠিকতা অনুসন্ধানের ধারাও যুক্ত হয়। হাদিসের ইমাম এবং এর সূক্ষ্ম পর্যালোচকগণ এর জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম, মৌলিক এবং ইনসাফপূর্ণ পর্যালোচনার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যা সনদসমূহ (أسانيد) অথবা মতনসমূহ (متون) — উভয় প্রকার পর্যালোচনার সাথেই সংশ্লিষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد تمخضت هذه الحركة التدوينية عن كتب قيمة، وموسوعات ضخمة اشتملت على الأحاديث النبوية التي تصلح للاحتجاج، أو للتقوية والاستشهاد، ومن هذه الكتب ما هو خاص بالصحيح، ومنها ما هو مشتمل على الصحيح والحسن والضعيف، ومنها ما هو خاص بالحديث النبوي، ومنها ما يشتمل على أقوال الصحابة والتابعين.
وقد مني الإسلام من قديم الزمان بأعداء لا ينامون. يُضْمِرُونَ له الكيد وينسجون الخيوط ويحيكون المؤامرات لذهاب دولته وسلطانه.
وهؤلاء لما لم يتمكنوا من المجاهرة بالعداوة لجأوا إلى الدسِّ والخديعة واتبعوا في سبيل ذلك وسائل متعددة: فَطَوْراً عن طريق إظهار الحب والتودد لآل بيت الرسول كما فعل [السَّبَئِيُّونَ] (1) وطورًا عن طريق التأويل في النصوص الدينية تأويلاً لا يشهد له لغة ولا شرع، ومحاولة إبطال التكاليف الدينية كما فعل الباطنية والقرامطة وأضرابهم.
وقد حاول هؤلاء الأعداء أن يُشَكِّكُوا المسلمين في أساس دينهم وهو القرآن الكريم وذلك بالتشكيك في تواتره وإعجازه وسلامته من الاختلاف والتناقض وصلاحية إحكامه لكل عصر ولكل بيئة، وفي سبيل هذه الغاية اختلقوا الروايات وحرَّفوا معاني الآيات.
وكذلك حاولوا أنْ يُشَكِّكُوا المسلمين في الأصل الثاني وهو السُنَّةُ النبوية وقد اتَّخذوا للوصول إلى هذه الغاية الدنيئة أساليب متعددة، فتارة عن طريق التشكيك في ثبوتها، وأنها آحادية وليست متواترة.
وتارة أخرى عن طريق اختلاق الروايات التي تظهر الأحاديث بمظهر السطحية والسذاجة في التفكير ومخالفة الواقع المحسوس أو العقل الصريح أو النقل الصحيح أو التجربة المُسَلَّمَةِ إلى غير ذلك من الأساليب، وقد حمل لواء هذا التهجُّم من قديم الزمان «النظَّام» ومن على شاكلته من أعداء السُنَن النبوية، وقد عرض للكثير من مقالاتهم في الأحاديث العلَاّمة «ابن قتيبة» في كتابه " تأويل مختلف الحديث ".
--------------------------------------------
এই সংকলন আন্দোলনের ফলে কিছু মূল্যবান কিতাব এবং বিশাল বিশ্বকোষসমূহ রচিত হয়েছে, যা এমন সব নববী হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দলিল হিসেবে গ্রহণের (للإحتجاج) জন্য অথবা শক্তি বৃদ্ধি (للتقوية) ও সমর্থনের (والاستشهاد) জন্য উপযোগী। এসব কিতাবের মধ্যে কিছু রয়েছে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট, আবার কিছু এমন যা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সমষ্টি। এর মধ্যে কিছু কিতাব কেবল নববী হাদিসের জন্য খাস, আবার কিছু এমন যা সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈদের (تابعين) বাণীকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
ইসলাম প্রাচীনকাল থেকেই এমন কিছু অতন্দ্র শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে যারা কখনো ঘুমায় না। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লালন করে এবং এর রাষ্ট্র ও কর্তৃত্ব নস্যাৎ করার জন্য চক্রান্তের জাল বোনে ও ষড়যন্ত্র করে।
এরা যখন প্রকাশ্যে শত্রুতা করতে সক্ষম হলো না, তখন তারা অনুপ্রবেশ ও প্রতারণার আশ্রয় নিল এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করল: কখনো রাসুলের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সখ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে, যেমনটি [সাবায়িরা] (১) করেছিল; আবার কখনো ধর্মীয় পাঠ্যসমূহের (نصوص) এমন অপব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে যার স্বপক্ষে ভাষা বা শরয়ি কোনো প্রমাণ নেই, এবং ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাগুলো বাতিল করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে, যেমনটি বাতেনিয়া, কারামিতা ও তাদের সমগোত্রীয়রা করেছিল।
এই শত্রুরা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি আল-কুরআনুল কারিম সম্পর্কে সন্দিহান করার চেষ্টা করেছে; আর তা করা হয়েছে এর নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر), এর অলৌকিকত্ব, বৈপরীত্য ও অসংগতি থেকে এর সুরক্ষা এবং প্রতিটি যুগ ও পরিবেশের জন্য এর বিধানসমূহের উপযোগিতা নিয়ে সংশয় তৈরির মাধ্যমে। এই লক্ষ্য হাসিল করতে তারা ভিত্তিহীন বর্ণনা (روايات) তৈরি করেছে এবং আয়াতের অর্থ বিকৃত করেছে।
অনুরূপভাবে তারা মুসলমানদেরকে দ্বিতীয় মূল উৎস তথা সুন্নাতে নববী সম্পর্কেও সন্দিহান করার চেষ্টা করেছে। এই হীন লক্ষ্য অর্জনে তারা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে; কখনো এর প্রমাণের সুনিশ্চিততা নিয়ে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে, আর দাবি করেছে যে এগুলো একক বর্ণনা (آحاد) এবং নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) নয়।
আবার কখনো এমন সব বর্ণনা (روايات) জাল করার মাধ্যমে যা হাদিসসমূহকে বাহ্যিকভাবে অগভীর ও চিন্তায় স্থূল হিসেবে উপস্থাপন করে এবং যা দৃশ্যমান বাস্তবতা, সুস্পষ্ট বুদ্ধি, বিশুদ্ধ বর্ণনা (النقل الصحيح) অথবা স্বীকৃত অভিজ্ঞতার পরিপন্থী—এরূপ আরও অনেক পদ্ধতি তারা গ্রহণ করেছে। প্রাচীনকাল থেকে 'নাজ্জাম' এবং তার অনুসারী সুন্নাতে নববীর শত্রুরা এই আক্রমণের ঝাণ্ডা বহন করে আসছে। আল্লামা ইবনে কুতাইবা তার "তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস" গ্রন্থে তাদের অনেক বক্তব্য আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد جاء القساوسة والمُسْتَشْرِقُونَ في العصور الحديثة فأخذوا هذه الطعون والشبهات فنفخوا فيها وزادوا فيها ما شاء لهم هواهم أنْ يزيدوا وحملوها أكثر مِمَّا تحمل وطلعوا بها على الناس.
ومِمَّا يؤسف له غاية الأسف أنَّ بعض الذين يثقون بكل ما يرد عن الغربيين من آراء ومذاهب قد تلقفوا هذه الشبهات والطعون ونسبها بعضهم إلى نفسه زوراً فكان كلابس ثوبي زور، والبعض الآخر لم ينتحلها لنفسه ولكنه ارتضاها وجعل من نفسه بوقاً لترَدًّادها، ومن هؤلاء من ضَمَّنَ كُتُبَهُ هذه الشبهات بل وقَوَّى من أمرها وذلك كما فعل الأستاذ أحمد أمين رحمه الله في كتابيه " فجر الإسلام " و " ضُحى الإسلام " وهو وإنْ كان جَارَى المُسْتَشْرِقِينَ في كثير مِمَّا زعموا فقد خالفهم في بعض ما حدسوا، وكان عفيفاً في عبارته، مترفِّقاً في نقده.
وبعض هؤلاء المتلقفين كانوا أشد من المُسْتَشْرِقِينَ وَالمُبَشِّرِينَ هوى وعصبية وعداءً ظاهراً للسُنَّة وأهلها وزاد عليهم الإسفاف في العبارة وأتى في تناوله للصحابة ولا سيما الصحابي الجليل «أبو هريرة» رضي الله عنه بألفاظ نابية عارِيَّةَ من كل أدب ومروءة، وذلك كما صنع الشيخ محمود أَبُو رَيَّةَ في كتابه " أضواء على السُنَّة المحمدية ".
وشتان ما بين صنيع الأستاذ أحمد أمين، وبين ما صنع أَبُو رَيَّةَ، والفرق بينهما فرق ما بين العالم والمُدَّعِي، والباحث الأصيل والمتعلق بأذيال الباحثين.
والبحث في السُنَّة وعلومها ليس هيِّناً ولا سهلاً، وإنما يحتاج إلى صبر وأناة، وإعمال رويَّة وإطالة نظر، والنظر السطحي والبحث الخاطف لا يؤديان إِلَاّ إلى آراء مبتسرة ونتائج فاسدة.
وقد تكشَّف لي أنَّ بعض الأخطاء التي وقع فيها المُسْتَشْرِقُونَ ومتابعوهم جاءت مِنْ أنهم لم يستكنهوا الأمور، ولم يصلوا إلى الأعماق والجذور، ولم يَسْتَشِفُّوا ما وراء الظواهر، ولم يتمثَّلوا حق التمثل البيئة والعصر والملابسات التي جمعت فيها الأحاديث، والصفات التي كانت مِنْ ملازمات أئمة الحديث من دين، وعلم، وتثبُّت، وحذر بالغ، وأمانة فائقة، ومراقبة لله في السرِّ والعلن.
وقد قيَّض الله - سُبْحَانَهُ - للسنن والأحاديث من نافح عنها وَرَدَّ كيد الكائدين
আধুনিক যুগের পাদ্রী ও প্রাচ্যবিদগণ এসে এই সমালোচনা ও সংশয়গুলো গ্রহণ করেছেন; অতঃপর তারা সেগুলোতে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো রঙ চড়িয়েছেন এবং বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, যারা পশ্চিমাদের প্রতিটি মতামত ও আদর্শের ওপর অন্ধবিশ্বাস পোষণ করেন, তাদের কেউ কেউ এই সংশয় ও সমালোচনাগুলো লুফে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এগুলোকে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, যেন তারা মিথ্যার পোশাক পরিহিত কোনো ব্যক্তি। আবার কেউ কেউ এগুলোকে নিজের বলে দাবি না করলেও তা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং এগুলো প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের কিতাবে এই সংশয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এমনকি এগুলোকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন; যেমনটি করেছেন অধ্যাপক আহমদ আমিন (রহ.) তার 'ফাজরুল ইসলাম' ও 'দুহাল ইসলাম' গ্রন্থদ্বয়ে। যদিও তিনি প্রাচ্যবিদদের অনেক দাবির সাথে একমত হয়েছেন, তবুও তাদের কিছু অনুমানের ক্ষেত্রে তিনি তাদের বিরোধিতা করেছেন; আর তার প্রকাশভঙ্গি ছিল মার্জিত এবং সমালোচনা ছিল কোমল।
এই গ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ সুন্নাহ এবং সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ, গোঁড়ামি ও প্রকাশ্য শত্রুতার ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের চেয়েও কট্টর ছিলেন। তদুপরি তারা ভাষার ক্ষেত্রে চরম অশালীনতা প্রদর্শন করেছেন এবং সাহাবীগণের (الصحابة) ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মহান সাহাবী (صحابي) «আবু হুরায়রা» (রা.) সম্পর্কে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন যা শিষ্টাচার ও মনুষ্যত্ববর্জিত। যেমনটি করেছেন শেখ মাহমুদ আবু রায়্যাহ তার 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ' নামক গ্রন্থে।
অধ্যাপক আহমদ আমিনের কর্ম আর আবু রায়্যাহর কর্মের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। তাদের মধ্যকার পার্থক্য মূলত একজন আলিম ও একজন দাবিদারের মধ্যে এবং একজন প্রকৃত গবেষক ও গবেষকদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী সাধারণ ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্যের ন্যায়।
সুন্নাহ ও এর শাস্ত্রসমূহ নিয়ে গবেষণা করা কোনো সাধারণ বা সহজ কাজ নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, স্থিরতা, গভীর চিন্তাভাবনা ও দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ। ভাসাভাসা দৃষ্টি ও দ্রুত গবেষণা কেবল অসম্পূর্ণ মতবাদ ও ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলের দিকেই ধাবিত করে।
আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীরা যেসব ভুল করেছেন, তার কারণ হলো তারা বিষয়ের গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি, এর মূল ও শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি এবং বাহ্যিক নিদর্শনের আড়ালে কী রয়েছে তা অনুধাবন করতে পারেননি। হাদিসসমূহ সংকলনের পরিবেশ, যুগ ও প্রেক্ষাপট তারা সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেননি। এছাড়া হাদিসের ইমামগণের চারিত্রিক গুণাবলি যেমন—দ্বীনদারি, ইলম, যাচাই-বাছাই (تثبت), চরম সতর্কতা, সুউচ্চ আমানতদারিতা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতার বিষয়গুলো তারা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুন্নান ও হাদিসসমূহের জন্য এমন একদল ব্যক্তি নির্ধারিত করে দিয়েছেন যারা এর পক্ষ অবলম্বন করেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের হীন চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
لها، ولن يخلو عصر من العصور من عالم ينفي عنها تحريف الغالين، وانتحال المُبطلين، وتأويل الجاهلين.
ورحم الله الإمام «ابن قتيبة» فقد عرض لكثير من الشُبَهِ التي أوردها أعداء الأحاديث، وكان له في ردِّها جهاد مشكور مذكور بالإكبار والإعظام.
ولا يزال في كل قُطْرٍ من أقطار الإسلام من شغف بالسُنن والأحاديث، وتعمَّق في دراستها، وجاهد في ردِّ الشبهات عنها، وألَّفُوا في هذا السبيل المؤلفات القيِّمة، من علماء الأزهر وغيرهم من علماء الحجاز والشام والهند والمغرب.
وقد شاء الله سُبْحَانَهُ لي - ولله الحمد والمِنَّة - أنْ أكون من المتشرفين بدراسة السُنَّة والمدافعين عن ساحتها الطاهرة دفاعاً عن علم وتثبت، ودراسة واقتناع، لا عن عصبية وعاطفة، وقد عرضت لبعض هذه الشُبُهَات وَرَدِّهَا رَدًّا علمياً صحيحاً في كتابي الذي نلت به درجة الأستاذية «الدكتوراه» وسمَّيْتُهُ " الوضع في الحديث، وردِّ شُبَه المُسْتَشْرِقِينَ والكُتَّاب المعاصرين " (1).
ولما صدر كتاب " أضواء على السُنَّة المحمدية " وجدت مؤلفه تلقف فيه كل ما قاله الأقدمُون والمُحَدِّثُونَ من طُعُون في الأحاديث، ورجالها، وما قاله المُسْتَشْرِقُونَ والمُبَشِّرُونَ، وأذنابهم، وحرص أشدَّ الحرص على أنْ يُظْهِرَ السُنَّة بمظهر الاختلاف والتناقض، والتحريف والتبديل، والسذاجة والتخريف، وفي سبيل هذا الغرض زَيَّفَ الصحيح، وصَحَّحَ المختلق المكذوب، وقد رأيت أنَّ الرَدِّ على هذا الكتاب يعتبر رَدًّا لكل ما أثير حول السُنَّة من طُعُونٍ ولغط فمن ثَمَّ أسميته " دِفَاعٌ عَنْ السُنَّةِ، وَرَدِّ شُبَهِ المُسْتَشْرِقِينَ وَالكُتَّابِ المُعَاصِرِينَ ".
وقد بدأت الرَدِّ على صفحات " مجلة الأزهر "، وكتبت فيها سبع مقالات متوالية (2)، ثم جدت أحوال وملابسات توقفت بسببها عن الرَدِّ على صفحات هذه
--------------------------------------------
এর জন্য, এবং কোনো যুগই এমন কোনো আলেম থেকে শূন্য থাকবে না যিনি এর থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার (انتحال) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা (تأويل) দূর করবেন।
ইমাম 'ইবনে কুতাইবা'র প্রতি আল্লাহ রহম করুন, তিনি হাদিসের শত্রুদের উত্থাপিত বহু সংশয় (شبهة) উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলো খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাঁর এমন প্রশংসনীয় জিহাদ রয়েছে যা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়।
ইসলামের প্রতিটি ভূখণ্ডে এখনও এমন অনেক আলেম রয়েছেন যারা সুন্নাহ ও হাদিসের প্রতি অনুরাগী, এর অধ্যয়নে গভীরভাবে নিমগ্ন এবং এর থেকে সংশয়সমূহ (شبهات) নিরসনে জিহাদ করে যাচ্ছেন। তাঁরা এই পথে মূল্যবান গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে আজহারের উলামায়ে কেরাম এবং হিজাজ, শাম, ভারত ও মাগরিবের অন্যান্য আলেমগণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার জন্য ইচ্ছা করেছেন—সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই—যেন আমি সুন্নাহর অধ্যয়নে ধন্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হই এবং এর পবিত্র প্রাঙ্গণকে জ্ঞান ও দৃঢ়তার (تثبت) সাথে এবং অধ্যয়ন ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে রক্ষা করি; কোনো গোঁড়ামি বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়। আমি এই সংশয়সমূহের (شبهات) কিছু অংশ এবং সেগুলোর সঠিক (صحيح) বৈজ্ঞানিক খণ্ডন আমার সেই কিতাবে উপস্থাপন করেছি যার মাধ্যমে আমি প্রফেসরশিপ বা 'পিএইচডি' ডিগ্রি লাভ করেছি এবং এর নামকরণ করেছি "আল-ওয়াদ ফিল হাদিস ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকিনা ওয়াল কুততাবিল মুয়াসিরিন" (১)।
যখন 'আদওয়া আলা আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া' কিতাবটি প্রকাশিত হলো, তখন আমি দেখলাম যে এর লেখক এতে হাদিস ও এর বর্ণনাকারীদের (رجال) ব্যাপারে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী মুহাদ্দিসগণের করা সমস্ত আপত্তি (طعون), এবং প্রাচ্যবিদ, ধর্মপ্রচারক ও তাদের অনুসারীদের বক্তব্যগুলো একত্র করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুন্নাহকে মতভেদ, বৈপরীত্য, বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل), সরলতা ও বিভ্রান্তির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি সহিহ (صحيح) বর্ণনার ত্রুটি দেখিয়েছেন এবং বানোয়াট (مختلق) ও মিথ্যা (مكذوب) বর্ণনাকে সহিহ (صحح) বলে প্রতিপন্ন করেছেন। আমি মনে করেছি যে, এই কিতাবের উত্তর দেওয়া মানে সুন্নাহকে কেন্দ্র করে উত্থিত সকল আপত্তি (طعون) ও শোরগোলের উত্তর দেওয়া; তাই আমি এর নামকরণ করেছি "দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকিনা ওয়াল কুততাবিল মুয়াসিরিন"।
আমি "মাজাল্লাতুল আজহার"-এর পাতায় এর উত্তর দেওয়া শুরু করি এবং এতে টানা সাতটি নিবন্ধ (২) লিখি। এরপর কিছু অবস্থা ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যার কারণে আমি এর পাতায় উত্তর লেখা বন্ধ করে দেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المجلة، ثم أخذت في إكمال الرُدُود وتفرَّغت لذلك، وقد يسَّر اللهُ - وله الحمد والمنَّة - وأعان، فكان هذا الكتاب.
ولا يفوتني أنْ أُنَوِّهَ بما قام به في هذا المضمار أخوان كريمان وشيخان جليلان، هما الأستاذان: عبد الرحمن بن يحيى المعلَّمي اليماني، ومحمد عبد الرزاق حمزة.
فقد أخرج كل منهما في ذلك كتاباً حافلاً، فلهما من الله سبحانه الجزاء الأوفى، ومن الناس الثناء والدعاء.
وها أنذا أزف كتابي إلى قراء العربية، وعُشَّاق السُنَّة ومُحِبِّيهَا ذوي الغيرة عليها، وإلى طلَاّب الحقيقة، ومُحِبِّي المعرفة في كل قطر من أقطار الإسلام والعروبة، وسأقدِّم بين يدي الرَدِّودَ بحوثاً في منزلة السُنَّة من الدين، والاحتجاج بها، وموجزاً في الأطوار التي مَرَّتْ بها، والأصول والقواعد التي وضعها علماء الرواية وأئمة النقد في الإسلام.
فإنَّ كل ما قلته صواباً فمن الله، وإنْ كانت الأخرى فالحقَّ أردتُ، والصوابَ قصدْتُ «وَمَا تَوْفِيقِي إِلَاّ بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ».
كتبه أبو محمد محمد بن محمد أبو شهبة
من علماء الأزهر الشريف
সাময়িকী, অতঃপর আমি খণ্ডনমূলক উত্তরসমূহ (الردود) পূর্ণ করতে শুরু করি এবং এ কাজের জন্য নিজেকে নিবেদিত করি। আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন—সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই—এবং সাহায্য করেছেন, ফলে এই গ্রন্থটি আত্মপ্রকাশ করল।
আর এই ময়দানে দুই সম্মানিত ভাই এবং মহান শায়খ যা আঞ্জাম দিয়েছেন তা উল্লেখ করা আমি আবশ্যক মনে করি; তাঁরা হলেন দুই উস্তাদ: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি এবং মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ।
তাঁরা প্রত্যেকেই এ বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট তাঁদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান এবং মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও দোয়া।
আমি আমার এই গ্রন্থটি আরবি ভাষার পাঠকবৃন্দ, সুন্নাহর (السنة) অনুরাগী ও এর প্রতি গভীর মমত্ববোধ সম্পন্ন প্রেমিকদের নিকট এবং সত্যের অন্বেষী ও বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম ও আরব ভূখণ্ডের জ্ঞানপিপাসুদের সমীপে নিবেদন করছি। আমি মূল আলোচনার পূর্বে দ্বীনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর (السنة) মর্যাদা ও এর প্রামাণ্যতা (الاحتجاج), এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ এবং বর্ণনা (الرواية) বিশেষজ্ঞ ও ইসলামের সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণ (أئمة النقد) প্রণীত মূলনীতি (الأصول) ও নিয়মাবলি (القواعد) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত গবেষণা পেশ করব।
আমার সকল সঠিক কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আমি সত্যই চেয়েছিলাম এবং সঠিকটিই উদ্দেশ্য করেছিলাম। "আর আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।"
এটি লিখেছেন আবু মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ
আল-আযহার আশ-শরীফের আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مَنْزِلَةُ السُنَّةِ مِنَ الدِّينِ:القرآن الكريم هو الأصل الأول للدين، والسُنَّة هي الأصل الثاني، ومنزلة السُنَّة من القرآن أنها مبيِّنة وشارحة له تُفَصِّلُ مُجْمَلَهُ، وتوضِّحُ مُشْكِلَهُ، وتُقَيِّدُ مطلقه، وتُخَصِّصُ عامَّه، وتبسط ما فيه من إيجاز، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (1) وقال: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأُمُورُ} (2).
وقد كان النَّبِي - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - يُبَيِّنُ تارة بالقول وتارة بالفعل وتارة بهما، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه فسَّر الظلم في قوله سبحانه: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} (3) بالشرك، وفسَّرَ الحساب اليسير بالعرض في قوله سبحانه: {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ، فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا، وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا} (4).
وأنه قال: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» رواه " البخاري " وأنه قال في حُجَّة الوداع: «لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ، فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلِّي أَنْ لَا أَحُجَّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ» وفي رواية «خُذُوا عَنِّي مَنَاسِكَكُمْ». رواه " مسلم " و" أبو داود " و" النسائي ".
وروى " أحمد " و" مسلم " و" أبو داود " و" الترمذي " و" النسائي " و" ابن ماجه "عن عُبادة بن الصامت في قوله تعالى: {أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً} (5).
. أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «خُذُوا عَنِّي، خُذُوا عَنِّي، خُذُوا عَنِّي، قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً، الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ» (6).
--------------------------------------------
দ্বীনে সুন্নাহর মর্যাদা:পবিত্র কুরআন হলো দ্বীনের প্রথম উৎস এবং সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় উৎস। কুরআনের সাথে সুন্নাহর মর্যাদা বা অবস্থান হলো যে, এটি কুরআনের সুস্পষ্টকারী (مبينة) ও ব্যাখ্যাকারী (شارحة); যা এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে বিস্তারিত বর্ণনা করে, এর অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়কে স্পষ্ট করে, এর নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করে, এর সাধারণ (عام) বিধানকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করে এবং এর সংক্ষেপিত বিষয়গুলোকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} (১)। তিনি আরও বলেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত দান করেন। আল্লাহর পথ, যাঁর অধিকারে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব রয়েছে। জেনে রেখো, আল্লাহর কাছেই সব বিষয় প্রত্যাবর্তন করে} (২)।
নবী —তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— কখনও কথার মাধ্যমে, কখনও কাজের মাধ্যমে, আবার কখনও উভয়ের মাধ্যমেই (কুরআন) ব্যাখ্যা করতেন। তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত} (৩)-এর মধ্যে 'যুলুম' শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন 'শিরক' দ্বারা। আর তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, অচিরেই তার হিসাব অত্যন্ত সহজভাবে নেওয়া হবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে সানন্দে ফিরে যাবে} (৪)-এর মধ্যে 'সহজ হিসাব' (الحساب اليسير)-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন 'পেশ করা' বা 'উপস্থাপন' (العرض) দ্বারা।
আর তিনি বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি। তিনি বিদায় হজ্জে বলেছিলেন: «তোমরা তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলী শিখে নাও; কারণ আমি জানি না, সম্ভবত আমার এই হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করতে পারব না»। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলী গ্রহণ করো»। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ।
ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে বর্ণনা করেছেন: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ না করেন} (৫)।
। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো; আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অবিবাহিত পুরুষের সাথে অবিবাহিত নারীর (ব্যভিচারের শাস্তি) হলো একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত পুরুষের সাথে বিবাহিত নারীর (ব্যভিচারের শাস্তি) হলো একশত বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু)» (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مَثَلٌ مِنْ بَيَانِ السُنَّةِ لِلْقُرْآنِ:قال الله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} (1) ولكنه لم يبين عدد الصلوات ولا كيفيتها ولا أوقاتها ولا فرائضها من واجباتها من سُننها فجاءت السُنَّة المُحمَّدية فبيَّنت كل ذلك، وكذلك لم يبين متى تجب الزكاة؟ وأنصبتها ومقدار ما يخرج فيها وفي أي شيء تجب؟ فجاءت السُنَّة فبيَّنت كل ذلك.
وكذلك قال الله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالَا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (2) ولم يبين ما هي السرقة؟ وما النصاب الذي يحد فيه السارق؟ وما المراد بالأيدي؟ ومن أي موضع يكون القطع؟ فبينت السُنَّة كل ذلك.
وقال الله تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (3) ولم يبين الحد فجاءت السُنَّة فَبَيَّنَتْهُ.
وقال الله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ} (4) ولم يبين لمن هذا الحُكْم فبينت السُنَّةُ أنَّ هذا الحُكْم للزاني غير المحصن أما المحصن فَحَدُّهُ الرجم.
وقال تعالى: {وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ
… } (5) ولم يبين قصتهم وجنايتهم فجاءت السُنَّة فبينت قصتهم غاية البنيان، إلى غير ذلك من المثل الكثيرة التي تفوق الحصر، والتي لولا بيان السُنَّة لها لاستعجم علينا القرآن
--------------------------------------------
সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যার একটি উদাহরণ:আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} (১) কিন্তু তিনি সালাতের সংখ্যা, এর পদ্ধতি, এর সময়সমূহ এবং এর ফরজ (فرائض), ওয়াজিব (واجبات) ও সুন্নাহসমূহ (سنن) বর্ণনা করেননি। অতঃপর মুহাম্মাদী সুন্নাহ (السنة) এসে এই সবকিছু বর্ণনা করেছে। অনুরূপভাবে, কখন জাকাত ওয়াজিব হয়? এর নিসাবসমূহ (أنصبة) কী? কী পরিমাণ সম্পদ বের করতে হয় এবং কোন কোন জিনিসের ওপর জাকাত দিতে হয়—তাও তিনি বর্ণনা করেননি। অতঃপর সুন্নাহ (السنة) এসে এই সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছে।
অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর চোর ও চোরনী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ, আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (২) সেখানে চুরি কী? কোন পরিমাণ নিসাব (النصاب) থাকলে চোরের ওপর হদ (يحد) কার্যকর হবে? হাত বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এবং কোন স্থান থেকে হাত কাটা হবে—তা বর্ণনা করা হয়নি। সুন্নাহ (السنة) এই সবকিছুই বর্ণনা করেছে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (৩) আর সেখানে হদ (الحد) বর্ণনা করা হয়নি, অতঃপর সুন্নাহ (السنة) এসে তা বর্ণনা করেছে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও} (৪) এই বিধান কার জন্য প্রযোজ্য হবে তা এখানে বর্ণনা করা হয়নি। অতঃপর সুন্নাহ (السنة) বর্ণনা করেছে যে, এই বিধান অবিবাহিত (غير المحصن) ব্যভিচারীর জন্য; আর বিবাহিত (المحصن) ব্যক্তির হদ (حده) হলো রজম (الرجم)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {এবং সেই তিনজনের ওপরও (তিনি সদয় হলেন) যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যতক্ষণ না পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের নিজেদের জীবনও তাদের ওপর সংকুচিত হয়ে এসেছিল
… } (৫) সেখানে তাদের কাহিনী ও তাদের অপরাধ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়নি। অতঃপর সুন্নাহ (السنة) এসে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাদের কাহিনী বর্ণনা করেছে। এছাড়া আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। সুন্নাহর (السنة) এই বর্ণনা না থাকলে আমাদের কাছে কুরআনের মর্ম অনুধাবন করা দুরূহ হয়ে পড়ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتعذَّر فهمه وتدبُّره، وقد كان الصحابة ومن جاء بعدهم يعلمون هذه الحقيقة.
روى ابن المبارك عن عمران بن حصين أنه قال لرجل: «إِنَّكَ [امْرُؤٌ] أَحْمَقُ!! أَتَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، لَا يُجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ؟» ثُمَّ عَدَّدَ عَلَيْهِ الصَّلَاةَ وَالزَّكَاةَ وَنَحْوِ هَذَا. ثُمَّ قَالَ: «أَتَجِدُ هَذَا فِي كِتَابِ اللهِ مُفَسَّرًا؟ إِنَّ كِتَابَ اللَّهِ أَبْهَمَ هَذَا وَإِنَّ السُنَّةَ تُفَسِّرُ ذَلِكَ». وروى الأوزاعي عن حسان بن عطية قال: «كَانَ الوَحْيُ يَنْزِلُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيَحْضُرُهُ «جِبْرِيلُ» بالسُنَّة التي تُفَسِّرُ ذلك.
وَعَنْ مَكْحُولٍ قَالَ: «الْقُرْآنُ أَحْوَجُ إِلَى السُّنَّةِ مِنَ السُّنَّةِ إِلَى الْقُرْآنِ». وقال الإمام أحمد: «إِنَّ السُنَّةَ تُفَسِّرُ الكِتَابَ وَتُبَيِّنُهُ»
اسْتِقْلَالُ السُنَّةِ بِالتَشْرِيعِ:وقد تستقل السُنَّة بالتشريع أحياناً وذلك كتحريم الجمع بين المرأة وعمَّتها أو خالتها، وتحريم سائر القرابات من الرضاعة - عدا ما نص عليه في القرآن - إلحاقاً لهن بالمحرَّمات من النسب، وتحريم كل ذي ناب من السباع ومخلب من الطير، وتحليل ميتة البحر، والقضاء باليمين مع الشاهد إلى غير ذلك من الأحكام التي زادتها السُنَّة عن الكتاب (1).
حُجِيَّةُ السُنَّةِ:وقد اتفق العلماء الذين يعتد بهم على حُجية السُنَّة، سواء منها ما كان على سبيل البيان أو على سبيل الاستقلال، قال الإمام الشوكاني: «إِنَّ ثُبُوتَ حُجِّيَّةِ السُنَّةِ المُطَهَّرَةِ وَاسْتِقْلَالَهَا بِتَشْرِيعِ الأَحْكَامِ ضَرُورَةٌ دِينِيَّةٌ، وَلَا يُخَالِفُ فِي ذَلِكَ إِلَاّ مَنْ لَا حَظَّ لَهُ فِي الإِسْلَامِ» (2).
--------------------------------------------
এর অর্থ বোঝা ও এর নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত; সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ এই সত্যটি জানতেন।
ইবনুল মুবারক ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জনৈক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: «তুমি [একজন] নির্বোধ লোক!! তুমি কি আল্লাহর কিতাবে জোহরের সালাত চার রাকাত হওয়ার কথা পাও, যাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পড়তে হয় না?» অতঃপর তিনি তাকে সালাত, জাকাত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো গণনা করে দেখালেন। এরপর তিনি বললেন: «তুমি কি আল্লাহর কিতাবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে এ বিষয়গুলো সংক্ষেপে (অস্পষ্টভাবে) বলা হয়েছে এবং সুন্নাহ তার ব্যাখ্যা করে দেয়।» আল-আওজায়ি হাসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহি নাজিল হতো এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট সুন্নাহ নিয়ে উপস্থিত হতেন যা সেটির ব্যাখ্যা প্রদান করত।
মাকহুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা, কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও বেশি।» ইমাম আহমাদ বলেন: «নিশ্চয়ই সুন্নাহ কিতাবকে (কুরআনকে) ব্যাখ্যা করে এবং তা বিশ্লেষণ করে দেয়।»
বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর স্বয়ংসম্পূর্ণতা (استقلال):সুন্নাহ কখনও কখনও বিধান প্রণয়নে স্বয়ংসম্পূর্ণ (استقلال) ভূমিকা পালন করে; যেমন—একই সাথে কোনো নারী ও তার ফুফু অথবা তার খালাকে বিবাহ করা হারাম হওয়া, এবং বংশীয় সম্পর্কের কারণে যারা হারাম তাদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুগ্ধপানের (رضاعة) কারণে সকল আত্মীয়কে হারাম করা (কুরআনে যেগুলোর স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে সেগুলো ব্যতীত), হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট শিকারি পশু ও নখরবিশিষ্ট শিকারি পাখি হারাম করা, সমুদ্রের মৃত প্রাণী হালাল করা এবং একজন সাক্ষীর সাথে শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করা। এছাড়া আরও অনেক বিধান রয়েছে যা সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করেছে (১)।
সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية):নির্ভরযোগ্য আলেমগণ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية)-র বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, চাই তা ব্যাখ্যামূলক (بيان) হিসেবে হোক বা স্বতন্ত্র (استقلال) বিধান হিসেবে। ইমাম শাওকানি বলেন: «নিশ্চয়ই পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং বিধান প্রণয়নে এর স্বয়ংসম্পূর্ণতা (استقلال) সাব্যস্ত হওয়া একটি দ্বীনি আবশ্যকতা; আর এ বিষয়ে কেবল সেই ব্যক্তিই দ্বিমত পোষণ করে যার ইসলামে কোনো অংশ নেই» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وصدق «الشوكاني» فإنه لم يخالف في الاحتجاج بالسُنَّة إِلَاّ الخوارج والروافض، فقد تمسَّكوا بظاهر القرآن وأهملوا السُنن، فضلُّوا وأضلُّوا، وحادوا عن الصراط المستقيم.
وقد استفاض القرآن والسُنَّة الصحيحة الثابتة بحُجية كل ما ثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (1) وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (2).
. قال ميمون بن مهران: «الرَدُّ إِلَى اللهِ هُوَ الرُّجُوعُ إِلَى كِتَابِهِ، وَالرَدُّ إِلَى الرَّسُولِ هُوَ الرُّجُوعُ إِلَيْهِ فِي حَيَاتِهِ وَإِلَى سُنَّتِهِ بَعْدَ وَفَاتِهِ».
وقال سبحانه: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (3) وما قضى به النَّبِي صلى الله عليه وسلم يشمل ما كان بقرآن أو بِسُنَّةٍ، وقد دلَّت الآية على أنه لا يكفي في قبول ما جاء به القرآن وَالسُنَّةِ الإذعان الظاهري بل لا بُدَّ من الاطمئنان والرضا القلبي.
وقال: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (4) فقد جعل سبحانه وتعالى طاعة الرسول من طاعته، وحذَّر من مخالفته فقال - عَزَّ شَأْنُهُ -: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (5) فلولا أنَّ أمره حُجَّةٌ ولازم لما تَوَعَّدَ على مخالفته بالنار.
وقال: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ} (6).
--------------------------------------------
ইমাম শাওকানী যথার্থই বলেছেন, কেননা খারিজি ও রাফেজি ব্যতীত সুন্নাহর প্রামাণিকতার (الاحتجاج بالسنة) বিষয়ে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেনি; তারা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করে সুন্নাহকে বর্জন করেছে, ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে, আর সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
কুরআন এবং সহিহ (الصحيحة) ও সুপ্রমাণিত (الثابتة) সুন্নাহতে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে সাব্যস্ত হওয়া প্রতিটি বিষয়ের প্রামাণিকতা (حُجية) ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (১) এবং তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো} (২)।
মাইমুন ইবনে মাহরান বলেন: "আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে ফিরে আসা এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা।"
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {আপনার রবের কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে মেনে নেয়} (৩)। নবী (সা.) যা ফয়সালা করেছেন তার মধ্যে কুরআন বা সুন্নাহ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে, কুরআন ও সুন্নাহর আনীত বিধান গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক আনুগত্যই যথেষ্ট নয়, বরং হৃদয়ের প্রশান্তি ও পূর্ণ সন্তুষ্টি অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৪)। মহান আল্লাহ রাসূলের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হতে পারে} (৫)। সুতরাং তাঁর নির্দেশ যদি প্রামাণিক দলিল (حُجَّة) ও অবশ্য পালনীয় না হতো, তবে তার বিরুদ্ধাচরণের কারণে আগুনের আজাবের হুমকি দেওয়া হতো না।
তিনি আরও বলেছেন: {তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে তাদের জন্য} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1) فقد جعل سبحانه أمر رسوله واجب الاتباع له، ونهيه واجب الانتهاء عنه.
وأما الأحاديث فكثيرة منها: ما رواه أبو داود في " سننه " عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا إِنَّنِي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانٌ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ، أَلَا لَا يَحِلُّ لَكُمْ لَحْمُ الْحِمَارِ الأَهْلِيِّ، وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَلَا لُقَطَةُ مُعَاهَدٍ إِلَاّ أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا، وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ، فَعَلَيْهِمْ أَنْ يَقْرُوهُ، فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُ، فَعَلَيْهِ أَنْ يُعْقِبَهُمْ (2) بِمِثْلِ قِرَاهُ». قال الإمام الخطابي: قوله: «أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» يحتمل وجهين:
أحدهما: أنَّ معناه أنه أوتي من الوحي الباطن غير المتلوِّ مثل ما أعطي من الظاهر المتلوِّ
والثاني: أنه أوتي الكتاب وحياً يُتلى، وأوتي من البيان مثله أي أذن له أن يُبَيِّنَ ما في الكتاب فيعم ويخص، ويزيد عليه ويشرح ما في الكتاب، فيكون في وجوب العمل به ولزوم قبوله كالظاهر المتلو من القرآن».
وقوله: «يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانٌ
… » يحذِّر بهذا القول من مخالفة السُنن التي سنَّها مِمَّا ليس له من القرآن ذكر، على ما ذهبت إليه الخوارج والروافض فإنهم تمثَّلوا بظاهر القرآن وتركوا السُنن التي قد ضمنت بيان الكتاب فتحيَّروا وضلُّوا، وأراد بقوله: «مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ» أنه من أصحاب الترفه والدعة الذين لزموا البيوت ولم يطلبوا العلم من مظانه (3).
وقد دلَّ الحديث على معجزة لِلْنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -فقد ظهرت فئة في القديم والحديث إلى هذه الدعوة الخبيثة وهي الاكتفاء بالقرآن عن الأحاديث، وغرضهم هدم نصف الدين أو إنْ شئت فقل: تقويض الدين كله، لأنه إذا أهملت الأحاديث والسُنن فسيؤدِّي ذلك - ولا ريب - إلى استعجام كثير من القرآن على الأمَّةِ وعدم
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলের আদেশ পালন করাকে অনুসরণযোগ্য এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে আবশ্যক করেছেন।
আর হাদিস অনেক, তন্মধ্যে একটি হলো যা আবু দাউদ তাঁর "সুনান"-এ মিকদাম ইবনে মাদি কারিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জেনে রাখো! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ বিষয় প্রদান করা হয়েছে। অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো। এতে যা হালাল পাবে তাই হালাল মনে করবে এবং যা হারাম পাবে তাই হারাম হিসেবে গণ্য করবে। সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার মাংস হালাল নয়, আর হিংস্র প্রাণীর মধ্যে দাঁত বিশিষ্ট কোনো প্রাণীও নয়। আর কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো কওমের মেহমান হয়, তাদের ওপর কর্তব্য হলো তার আতিথেয়তা করা। যদি তারা আতিথেয়তা না করে, তবে মেহমানের অধিকার রয়েছে তাদের থেকে তার আতিথেয়তার সমপরিমাণ প্রতিদান (২) গ্রহণ করার»। ইমাম খাত্তাবি বলেন: তাঁর বাণী: «আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে» এর দুটি সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে:
প্রথমটি: এর অর্থ হলো তাঁকে অপ্রকাশ্য ওহী (وحي باطن) যা অ-তেলাওয়াতকৃত (غير متلو)—তেমনই প্রদান করা হয়েছে যেমনটি তাঁকে প্রকাশ্য (ظاهر) তেলাওয়াতকৃত ওহী (وحي متلو) প্রদান করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি: তাঁকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে তেলাওয়াতকৃত ওহী (وحي متلو) হিসেবে এবং এর সাথে অনুরূপ ব্যাখ্যা (بيان) প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁকে কিতাবের বিষয়াবলি ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; ফলে তিনি সাধারণ বিধানকে ব্যাপক (يعم) করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট (يخص) করতে পারেন, এর ওপর অতিরিক্ত বিধান দিতে পারেন এবং কিতাবের ব্যাখ্যা করতে পারেন। ফলে এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা এবং এটি গ্রহণ করার অপরিহার্যতা কুরআনের বাহ্যিক (ظاهر) তেলাওয়াতকৃত ওহীর মতোই।
আর তাঁর বাণী: «অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে… » এর মাধ্যমে তিনি ঐ সকল সুন্নাহর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করেছেন যা তিনি প্রবর্তন করেছেন এবং যার উল্লেখ কুরআনে নেই। যেমনটি খারিজি ও রাফেজিরা করে থাকে; তারা কুরআনের বাহ্যিক (ظاهر) রূপ আঁকড়ে ধরেছে এবং সেই সুন্নাহসমূহ বর্জন করেছে যা কিতাবের ব্যাখ্যা (بيان) নিশ্চিত করে, ফলে তারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর «তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে» বলতে তিনি ঐ বিলাসপ্রিয় ও আয়েশি লোকদের বুঝিয়েছেন যারা ঘরে বসে থাকে এবং ইলম অন্বেষণের সঠিক উৎস থেকে জ্ঞান অর্জন করে না (৩)।
এই হাদিসটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি মুজিজার প্রমাণ বহন করে। কেননা প্রাচীন ও বর্তমান কালে এমন এক হীন দলের আবির্ভাব ঘটেছে যারা এই জঘন্য দাওয়াত দেয় যে, হাদিস বাদ দিয়ে কেবল কুরআনই যথেষ্ট। তাদের উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের অর্ধেক ধ্বংস করা অথবা চাইলে বলতে পারেন পুরো দ্বীনকেই নিশ্চিহ্ন করা। কারণ যদি হাদিস ও সুন্নাহকে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে উম্মতের কাছে কুরআনের অনেক বিষয়ের অর্থ অস্পষ্ট করে তুলবে এবং অনুধাবনযোগ্য থাকবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معرفة المراد منه، وإذا أهملت الأحاديث واستعجم القرآن فَقُلْ: على الإسلام العفاء.
وفي حديث العرباض بن سارِيَّةَ مرفوعاً: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ». رواه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن صحيح.
وروى الحاكم عن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خطب في حَجَّةِ الوَدَاعِ فقال: «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يُعْبَدَ بِأَرْضِكُمْ، وَلَكِنْ رَضِيَ أَنْ يُطَاعَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِمَّا تَحْقِرُونَ مِنْ أَمْرِكُمْ فَاحْذَرُوا، إِنِّي تَرَكْتُ مَا إِنِْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ». وروى مثله الإمام مالك في " الموطأ ".
وهي صريحة في أنَّ السُنَّة كالكتاب يجب الرجوع إليها في استنباط الأحكام وقد أجمع الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - على الاحتجاج بالسُنن والأحاديث والعمل بها ولو لم يكن لها أصل على الخصوص في القرآن ولم نعلم أحداً خالف ذلك قط فكان الواحد منهم إذا عرض له أمر طلب حكمه في كتاب الله، فإن لم يجده طلبه في السُنَّة، فإن لم يجده اجتهد في حدود القرآن والسُنَّة وأصول الشريعة.
وقد وضع لهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم -هذا الأساس القويم بإقراره لمعاذ حين بعثه إلى اليمن فقد قال له: «بِمَ تَقْضِي إِنْ عَرَضَ قَضَاءٌ؟ قَالَ: «بِكِتَابِ اللَّهِ». قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم». قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلَا آلُو». فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَهُ وَقَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي اللَّهَ وَرَسُولَهُ» ..
وقد فهم الصحابة رجوع جميع ما جاءت به السُنَّة إلى القرآن من قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1).
روى البخاري في " صحيحه " عن عبد الله بن مسعود قال: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُوسْتَشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ»، فقالت أم يعقوب: «مَا هَذَا؟» فَقَالَ عَبْدُ اللهِ: «[وَمَا لِي] لا َأَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ وَفِي كِتَابِ اللَّهِ؟» قَالَتْ: «وَاللَّهِ لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَمَا وَجَدْتُهُ»، قَالَ: «وَاللَّهِ لَئِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ، [أَمَا قَرَأْتِ]: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2)».
--------------------------------------------
এর উদ্দেশ্য জানা; আর যদি হাদিসগুলোকে অবহেলা করা হয় এবং কুরআন যদি (ব্যাখ্যার অভাবে) অনারবদের মতো দুর্বোধ্য হয়ে যায়, তবে ইসলাম বিলুপ্তির পথে বলে ধরে নাও।
ইরবাদ বিন সারিয়াহ বর্ণিত মারফু (مرفوعاً) হাদিসে এসেছে: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; একে তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো।" আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
হাকিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন: "শয়তান তোমাদের এই জমিনে ইবাদত করা হবে বলে নিরাশ হয়েছে, তবে এর বাইরে তোমরা নিজেদের যে কাজগুলোকে তুচ্ছ মনে করো, সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে বলে সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সতর্ক থাকো। আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।" ইমাম মালিকও মুয়াত্তা গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিধান আহরণের ক্ষেত্রে কুরআনের ন্যায় সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ ও হাদিসসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার এবং তদনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যদিও কুরআনে বিশেষভাবে সেটির কোনো ভিত্তি না থাকে। আমরা কাউকেই কখনো এর বিরোধিতা করতে দেখিনি। তাদের কেউ যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি আল্লাহর কিতাবে এর বিধান খুঁজতেন; যদি সেখানে না পেতেন, তবে সুন্নাহতে তালাশ করতেন; আর যদি সেখানেও না পেতেন, তবে কুরআন, সুন্নাহ এবং শরিয়তের মূলনীতিসমূহের আলোকে ইজতিহাদ করতেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াযকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় তার কথা সমর্থন করার মাধ্যমে তাদের জন্য এই সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তোমার সামনে যদি কোনো বিচার আসে তবে তুমি কীভাবে ফয়সালা করবে?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব দিয়ে।" তিনি বললেন: "যদি না পাও?" তিনি বললেন: "আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ দিয়ে।" তিনি বললেন: "যদি সেখানেও না পাও?" তিনি বললেন: "আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করব এবং কোনো ত্রুটি করব না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বুকে হাত চাপড়ে দিলেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দিয়েছেন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।"
সাহাবায়ে কিরাম সুন্নাহর যাবতীয় বিষয় কুরআনের দিকেই প্রত্যাবর্তনশীল বলে বুঝেছিলেন মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" (১)।
বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন ঐসব নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি অঙ্কন করিয়ে নেয়, আর যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁত ঘষে ফাঁকা করে আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটায়।" উম্মে ইয়াকুব নামক এক নারী বললেন: "এগুলো কী?" তখন আবদুল্লাহ বললেন: "আমি কেন তাকে অভিশাপ দেব না যাকে আল্লাহর রাসূল অভিশাপ দিয়েছেন এবং যা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তো কুরআনের দুই মলাটের মাঝে যা আছে সব পড়েছি কিন্তু তা পাইনি।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, যদি তুমি তা পড়তে তবে অবশ্যই পেতে। তুমি কি পড়োনি: 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো' (২)?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذه الآية تعتبر أصلاً لكل ما جاءت به السُنَّة مِمَّا لم يرد له في القرآن ذكر وعلى هذا الدرب والطريق الواضح من جاء بعد الصحابة من أئمة العلم والدين، روي عن الإمام الشافعي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا فِي المَسْجِدِ الحَرَامِ يُحَدِّثُ النَّاسَ فَقَالَ: «لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَاّ أَجَبْتُكُمْ فِيهِ مِنْ كِتَابِ اللهِ»، فَقَالَ الرَّجُلُ: «مَا تَقُولُ فِي المُحْرِمِ إِذَا قَتَلَ الزُّنْبُورَ؟» فَقَالَ: «لَا شَيْءَ عَلَيْهِ»، فَقَالَ الرَّجُلُ: «أَيْنَ هَذَا مِنْ كِتَابِ اللهِ؟» فَقَاَل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1).
ثم ذكر إسنادًا إلى سيدنا عمر أنه قال: «لِلْمُحْرِمِ قَتْلُ الزَّنْبُورِ».
وذكر ابن عبد البر في كتاب العلم (2) له عن عبد الرحمن بن يزيد: أنه رأى مُحرما عليه ثيابه، فقال: «ائْتِنِي بِآيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَنْزِعُ [بِهَا] ثِيَابِي، قال: فقرأ عليه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3).
حَدِيثُ عَرْضِ السُنَّةِ عَلَى القُرْآنِ مَكْذُوبٌ:أما الحديث الذي يرويه القائلون بعدم استقلال السُنَّةِ بالتشريع، وهو: «إذا جاءكم عني حديث فاعرضوه على كتاب الله فما وافق فخذوه وما خالف فاتركوه» فقد بَيَّنَ أئمة الحديث وصيارفته أنه موضوع مُختلق على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وضعته الزنادقة كي يصلوا إلى غرضهم الدنيء من إهمال الأحاديث ، وقد عارض هذا الحديث بعض الأئمة فقالوا: عرضنا هذا الحديث الموضوع على كتاب الله فوجدناه مخالفاً له، لأنَّا وجدنا في كتاب الله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (4) ووجدنا فيه: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (5) ووجدنا فيه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (6)، (7).
وهكذا نرى أنَّ القرآن الكريم يُكَذِّبُ هذا الحديث ويرُدُّهُ.
وقد حاول بعض المُسْتَشْرِقِينَ وأتباعهم الذين صنعهم الاستعمار على يديه أنْ يُحْيُوا ما اندرس من هذه الدعوة الخبيثة، ولكن الله سبحانه قَيَّضَ لهؤلاء في الحديث - كما قَيَّضَ لأسلافهم في القديم - من وضع الحق في نصابه، وردَّ كيدهم في نُحُورهم: {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَاّ أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (8).
--------------------------------------------
এই আয়াতটি সুন্নাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত এমন সব বিষয়ের মূল (أصلاً) হিসেবে বিবেচিত হয়, যার কোনো উল্লেখ কুরআনে আসেনি। সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তী ইলম ও দ্বীনের ইমামগণ এই স্পষ্ট পথ ও পন্থাই অনুসরণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মসজিদে হারামে বসে মানুষকে হাদিস শোনাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমাকে যা কিছু সম্পর্কেই জিজ্ঞেস করো না কেন, আমি আল্লাহর কিতাব থেকে তার উত্তর দেব।" তখন জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল: "মুহরিম ব্যক্তি যদি ভীমরুল হত্যা করে, তবে সে সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?" তিনি বললেন: "এতে তার কোনো গুনাহ নেই।" লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করল: "আল্লাহর কিতাবের কোথায় এটি আছে?" তিনি বললেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)।
এরপর তিনি সাইয়্যিদুনা উমরের প্রতি একটি সনদ (إسنادًا) উল্লেখ করেন যে তিনি বলেছিলেন: "মুহরিম ব্যক্তির জন্য ভীমরুল হত্যা করা বৈধ।"
ইবন আবদিল বার তাঁর ইলম বিষয়ক গ্রন্থ (২)-এ আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি এক মুহরিমকে কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখলেন। তখন সেই ব্যক্তি বলল: "আমার কাপড় খোলার (খুলিয়ে ফেলার) বিষয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে কোনো আয়াত নিয়ে আসুন।" বর্ণনাকারী তখন তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৩)।
কুরআনের নিকট সুন্নাহ পেশ করার হাদিসটি মিথ্যাচারকৃত (مكذوب):যারা বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর স্বতন্ত্র কর্তৃত্বে বিশ্বাস করে না, তারা যে হাদিসটি বর্ণনা করে, তা হলো: "যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোনো হাদিস পৌঁছায়, তখন তা আল্লাহর কিতাবের নিকট পেশ করো। যা তার অনুকূলে হয় তা গ্রহণ করো, আর যা তার প্রতিকূলে হয় তা বর্জন করো।" অথচ হাদিসের ইমামগণ ও এর বিশেষজ্ঞগণ স্পষ্ট করেছেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একটি জাল (موضوع) ও বানোয়াট (مختلق) কথা; যা জিন্দিকরা (ধর্মদ্রোহীরা) তাদের হাদিসকে উপেক্ষা করার হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তৈরি করেছে। জনৈক ইমাম এই হাদিসটির বিরোধিতা করে বলেছেন: "আমরা এই জাল (موضوع) হাদিসটিকে আল্লাহর কিতাবের নিকট পেশ করেছি এবং একে কুরআনের বিরোধী পেয়েছি। কারণ আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৪)। আরও পেয়েছি: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (৫)। এবং আরও পেয়েছি: {যে রাসূলের আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৬), (৭)।"
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআন এই হাদিসটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে।
প্রাচ্যবিদগণ এবং সাম্রাজ্যবাদের হাতে গড়ে ওঠা তাদের অনুসারীরা এই নিকৃষ্ট মতবাদকে পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্তমান যুগেও হাদিসের হেফাজতে এমন একদল লোক সৃষ্টি করেছেন—যেমনটি তিনি পূর্ববর্তীদের যুগে করেছিলেন—যারা সত্যকে তার আপন স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন: {আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عِنَايَةُ الصَّحَابَةِ بِالأَحَادِيثِ وَالسُّنَنِ:ولمكانة السُنَّة من الدين، ومنزلتها من القرآن الكريم عُني الصحابة بالأحاديث النبوية عناية فائقة، وحرصوا عليها حرصهم على القرآن، فحفظوها بلفظها أو بمعناها وفهموها، وعرفوا مغازيها ومراميها بسليقتهم وفطرتهم العربية، وبما كانوا يسمعونه من أقوال النَّبِي صلى الله عليه وسلم، وما كانوا يشاهدون من أفعاله وأحواله، وما كانوا يعلمونه من الظروف والملابسات التي قيلت فيها هذه الأحاديث، وما كان يشكل عليهم منها ولا يدركون المراد منه يسألون عنه الرسول صلى الله عليه وسلم.
وقد بلغ من حرصهم على سماع الوحي والسُنن من رسول الله أنهم كانوا يتناوبون في هذا السماع، روى البخاري في " صحيحه " عن عمر رضي الله عنه قال: «كُنْتُ أَنَا وَجَارٌ لِي مِنَ الأَنْصَارِ فِي بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ زَيْدٍ (1) - وَهِيَ مِنْ عَوَالِي المَدِينَةِ - وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَنْزِلُ يَوْمًا وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَإِذَا نَزَلْتُ جِئْتُهُ بِخَبَرِ ذَلِكَ اليَوْمِ مِنَ الوَحْيِ وَغَيْرِهِ، وَإِذَا نَزَلَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ
… » (2) الحديث.
وبذلك جمعوا بين خيري الدين والدنيا، فما شغلهم دينهم عن دنياهم ولا شغلتهم دنياهم عن دينهم.
وإذا علمنا أنَّ القرآن والسُنَّة استفاضا ببيان فضل العلم والعلماء، وأنَّ الصحابة كانوا يعلمون أنَّ السُنَّة هي الأصل الثاني للدين، وأنهم كانوا يُحِبُّونَ رسول الله أكثر من حُبِّهِمْ لأنفسهم، وأنهم كانوا يجدون في الاستماع إليه لَذَّةً وروحاً. وأنهم كانوا يعتقدون أنه ما ينطق عن الهوى إنْ هو إِلَاّ وحي يوحى، وأنهم كانوا يجدون فيما يسمعونه منه غذاء الإيمان وزاد التقوى (3)، وأنه سبيل إلى الجنة (4).
إذا علمنا كل هذا أدركنا مبلغ حرص الصحابة على استماع السُنن والأحاديث
--------------------------------------------
হাদিস ও সুন্নাহর প্রতি সাহাবিগণের গুরুত্বারোপ:দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদা এবং পবিত্র কুরআনের সাথে এর নিবিড় সম্পর্কের কারণে সাহাবিগণ (রা.) নবী কারিম (সা.)-এর হাদিসসমূহের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন। কুরআনের প্রতি তাঁরা যেমন যত্নশীল ছিলেন, হাদিসের প্রতিও ঠিক তেমনি আগ্রহী ছিলেন। তাঁরা হাদিসসমূহকে হুবহু শব্দসহ অথবা অর্থ অনুযায়ী (بمعناها) মুখস্থ করতেন এবং তা অনুধাবন করতেন। তাঁরা তাঁদের সহজাত প্রবৃত্তি ও আরবী স্বভাবজাত প্রকৃতির মাধ্যমে এবং নবী কারিম (সা.)-এর বাণী শ্রবণ, তাঁর কার্যাবলি ও অবস্থাসমূহ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে এবং যে প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে এই হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছিল তা জানার মাধ্যমে এগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অবগত হতেন। যে বিষয়গুলো তাঁদের কাছে জটিল মনে হতো কিংবা যার উদ্দেশ্য তাঁরা অনুধাবন করতে পারতেন না, সে সম্পর্কে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে ওহি ও সুন্নাহ শ্রবণ করার প্রতি তাঁদের আগ্রহ এতটাই প্রবল ছিল যে, তাঁরা এই শ্রবণের ক্ষেত্রে পালাবদল করতেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি এবং বনু উমাইয়া বিন জায়েদ (১) গোত্রের—যা মদিনার উচ্চভূমি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত—আমার এক আনসারী প্রতিবেশী পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট যেতাম। তিনি একদিন যেতেন এবং আমি একদিন যেতাম। আমি যখন যেতাম, তখন ঐ দিনের ওহি বা অন্য খবরাখবর নিয়ে আসতাম। আর তিনি যখন যেতেন, তখন তিনিও অনুরূপ করতেন...» (২) হাদিস।
এভাবে তাঁরা দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের কল্যাণ অর্জন করেছিলেন। তাঁদের দ্বীন তাঁদেরকে দুনিয়াবি কাজ থেকে বিমুখ করেনি, আবার তাঁদের দুনিয়াবি ব্যস্ততা তাঁদেরকে দ্বীন থেকে বিমুখ করতে পারেনি।
যখন আমরা জানতে পারি যে, কুরআন ও সুন্নাহতে ইলম ও ওলামাদের ফজিলত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, এবং সাহাবিগণ জানতেন যে সুন্নাহ হলো দ্বীনের দ্বিতীয় মূল উৎস (الأصل الثاني), এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নিজেদের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন এবং তাঁর কথা শোনার মধ্যে এক অনন্য স্বাদ ও প্রশান্তি খুঁজে পেতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না, বরং তা হলো ওহি যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়। তাঁরা যা শুনতেন তার মধ্যে ইমানের খোরাক ও তাকওয়ার পাথেয় (৩) খুঁজে পেতেন এবং জানতেন যে এটি জান্নাতের পথ (৪)।
আমরা যখন এই সবকিছু জানতে পারি, তখন সুন্নাহ ও হাদিস শ্রবণে সাহাবিগণের পরম আগ্রহের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأنَّ ذلك أمر يكاد يكون من المُسَلَّمَات البدهيات.
وكذلك عنوا بتبليغ السُنن لأنهم يعلمون أنها دين واجبة البلاغ للناس كافة، وكثيراً ما كان النَّبِي - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - يحضهم على الأداء لغيرهم بمثل قوله: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ».
وفي رواية بلفظ: «فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ».
رواه الشافعي والبيهقي في " المدخل ".
وفي خطبته المشهورة في حَجَّةِ الوَدَاعِ قال: «لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى مِنْهُ» رواه البخاري في " صحيحه ".
وكان إذا قدم عليه وفد وعلَّمهم من القرآن والسُنَّة أوصاهم أنْ يحفظوه ويبلِّغوه، ففي " صحيح البخاري " أنه قال لوفد عبد القيس: «احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوهُ مَنْ وَرَاءَكُمْ» وفي قصة أخرى قال: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ» (1).
وكثيراً ما كان يقرع أسماعهم بقوله: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أُلْجِمَ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» فمن ثم كانوا جد حريصين على حفظ السُنن والحفاظ عليها وتبليغها بلفظها أو بمعناها.
النَّهْيُ عَنْ كِتَابَةِ الأَحَادِيثِ فِي العَصْرِ النَّبَوِيِّ:ولم تكن الأحاديث مُدَوَّنَةً في عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم -لأمرين:
1 - أحدهما: الاعتماد على قوة حفظهم وسيلان أذهانهم وعدم توفُّر أدوات الكتابة فيهم.
2 - ثانيهما: لما ورد من النهي عن كتابة الأحاديث والإذن في كتابة القرآن الكريم.
روى مسلم في " صحيحه " عن أبي سعيد الخُدْرِي أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تَكْتُبُوا عَنِّي شَيْئًا إِلَاّ الْقُرْآنَ، وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي شَيْئًا فَلْيَمْحُهُ» ولهذا كره بعض السلف
--------------------------------------------
এবং এটি এমন একটি বিষয় যা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ (المسلمات) ও প্রাথমিক সত্যের অন্তর্ভুক্ত।
একইভাবে, তাঁরা সুন্নাহ পৌঁছানোর ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন; কারণ তাঁরা জানতেন যে এটি এমন এক দ্বীন যা সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ওয়াজিব (واجب)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই তাঁদেরকে অন্যের কাছে (বাণী) পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন, যেমন তিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যার কাছে (বাণী) পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।»
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) শব্দগুলো হলো: «অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক সমঝদার বা ফকিহ।»
এটি ইমাম শাফেঈ এবং বায়হাকি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
বিদায় হজের প্রসিদ্ধ খুতবায় তিনি বলেছিলেন: «উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট (আমার কথা) পৌঁছে দেয়; কেননা উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেবে যে তার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হবে।» এটি বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
যখনই কোনো প্রতিনিধি দল তাঁর নিকট আসতেন এবং তিনি তাঁদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন, তখন তিনি তাঁদেরকে তা মুখস্থ করতে ও পৌঁছে দিতে অসিয়ত করতেন। যেমন 'সহিহ বুখারি'-তে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলকে বলেছিলেন: «তোমরা এটি মুখস্থ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের অবহিত করো।» অন্য এক ঘটনায় তিনি বলেছিলেন: «তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদেরকে শিক্ষা দাও।» (১)
তিনি প্রায়ই তাঁদের কানে এই কঠোর বাণী পৌঁছে দিতেন: «যে ব্যক্তি কোনো ইলম গোপন করবে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।» ফলে তাঁরা সুন্নাহ মুখস্থ রাখা, তা সংরক্ষণ করা এবং শাব্দিকভাবে অথবা অর্থগতভাবে (بمعناها) তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
নববী যুগে হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিসসমূহ সংকলিত বা লিপিবদ্ধ ছিল না—এর দুটি কারণ ছিল:
১ - প্রথমত: তাঁদের প্রখর স্মৃতিশক্তি ও মেধার ওপর নির্ভরশীলতা এবং তাঁদের নিকট লিখন উপকরণের অপ্রতুলতা।
২ - দ্বিতীয়ত: হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং কেবল কুরআন কারিম লিপিবদ্ধ করার অনুমতির বিষয়টি বর্ণিত হওয়া।
ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।» এ কারণেই সালাফদের (السلف) কেউ কেউ অপছন্দ করতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
كتابة الحديث والعلم.
والظاهر أنَّ نهي النَّبِي صلى الله عليه وسلم عن كتابة الأحاديث كان خشية أنْ يلتبس على البعض بالقرآن الكريم، أو أنْ يكون شاغلاً لهم عنه ولا سيما أنَّ القوم كانوا أُمِيِّينَ، أو أنَّ النهي كان بالنسبة لمن يوثق بحفظه، أما مَنْ أمن عليه اللبس بأنْ كان قارئاً كاتباً، أو خيف عليه النسيان وعدم الضبط لما سمع فلا حرج عليه في الكتابة، وعلى هذا يحمل ما ورد من الروايات الثابتة الدالة على الإذن في الكتابة لبعض الصحابة.
روى أبو داود والحاكم وغيرهما عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ العَاصِ قَالَ: «قلت يا رسول الله: إني أسمع منك الشيء فأكتبه»، قال: «نعم»، قلت: «في الغضب والرضا؟» قال: «نَعَمْ، فَإِنِّي لَا أَقُولُ فِيهِمَا إِلَاّ حَقًّا» وروى البخاري عن أبي هريرة قال: «لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ مِنِّي حَدِيثًا إِلَاّ مَا كَانَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ العَاصِ ، فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ ، وَكُنْتُ لَا أَكْتُبُ». ومثل عبد الله مِمَّنْ يُؤْمَنُ عليه الالتباس، وروى الترمذي عن أبي هريرة قال: «كان رجل من الأنصار يجلس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيسمع منه الحديث فيعجبه ولا يحفظه فشكا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «اسْتَعِنْ بِيَمِينِكَ. وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى اِلْخَطِّ» وروى البخاري ومسلم في " صحيحيهما ": «أنَّ أبا شاه اليَمَنِي التمس من النَّبِي صلى الله عليه وسلم أنْ يكتب له شيئاً سمعه من خطبته عام الفتح فقال: «اكْتُبُوا لأبِي شَاهٍ». وروى البخاري في " صحيحه ": «أنَّ علياً - رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ - سُئِلَ: هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ سِوَى الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: «لَا وَالَّذِي فَلَقَ الحَبَّةَ، وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِلَاّ أَنْ يُعْطِيَ اللَّهُ عَبْدًا فَهْمًا فِي كِتَابِهِ، وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ»، قُلْتُ: «وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ؟» قَالَ: «العَقْلُ، وَفَكَاكُ الأَسِيرِ، وَأَنْ لَا يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ». وثبت أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب كتاب الصدقات والديات والفرائض والسنن لعمرو بن حزم وغيره.
ومن العلماء من يرى أن أحاديث الإذن ناسخة لأحاديث النهي، إذ النهي كان في مبدأ الأمر حين خيف اشتغالهم عن القرآن بالأحاديث أو خيف اختلاط غير القرآن بالقرآن، ثم لما أَمِنَ ذلك نسخ النهي ولعلَّ مِمَّا يُؤَيِّدُ القول بالنسخ أنَّ بعض أحاديث الإذن متأخِّرة التاريخ، فأبو هريرة راوي حديث الكتابة أسلم عام سبع، وقصة أبي شاه كانت في السَنَةِ الثامنة عام الفتح.
হাদিস ও ইলম (জ্ঞান) লিপিবদ্ধকরণ।
প্রকাশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল এই আশঙ্কায় যে, কারো কাছে তা পবিত্র কুরআনের সাথে মিশে যেতে পারে অথবা তা তাদের কুরআন থেকে বিমুখ করে দিতে পারে; বিশেষ করে যেহেতু সেই কওম ছিল নিরক্ষর। অথবা এই নিষেধাজ্ঞা ছিল তাদের জন্য যাদের মুখস্থশক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যেত। তবে যাদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির কোনো আশঙ্কা ছিল না, যেমন তিনি যদি শিক্ষিত ও লেখক হতেন অথবা যার ভুলে যাওয়ার বা শ্রুত বিষয়ের যথাযথ সংরক্ষণে (ضبط) অক্ষমতার আশঙ্কা থাকত, তবে তার জন্য লিখে রাখাতে কোনো বাধা ছিল না। আর এভাবেই সাহাবিদের কারও কারও প্রতি লিখে রাখার অনুমতির সপক্ষে বর্ণিত সাব্যস্ত (ثابت) বর্ণনাগুলোকে (روايات) ব্যাখ্যা করা হয়।
আবু দাউদ, হাকিম এবং অন্যান্যরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে কিছু শুনি এবং তা লিখে ফেলি।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আমি বললাম: "ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, কারণ আমি উভয় অবস্থায় সত্য বৈ কিছু বলি না।" ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ব্যতীত আর কেউই আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেননি; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।" আর আবদুল্লাহর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির আশঙ্কা ছিল না। ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জনৈক আনসারি ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনতেন যা তাকে মুগ্ধ করত, কিন্তু তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারতেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে তিনি বললেন: 'তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও।' আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে লেখার প্রতি ইঙ্গিত করলেন।" বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "ইয়েমেনের অধিবাসী আবু শাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবেদন জানালেন যেন মক্কা বিজয়ের বছরের খুতবায় তিনি যা শুনেছেন তা তাকে লিখে দেওয়া হয়। তখন তিনি বললেন: 'তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও'।" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—আপনাদের নিকট কি কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আর কোনো কিছু আছে? তিনি বললেন: 'না, সেই সত্তার কসম যিনি শস্যদানা অঙ্কুরিত করেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেন! তবে আল্লাহ যদি কোনো বান্দাকে তাঁর কিতাব বোঝার তাওফিক দান করেন সেটা ভিন্ন কথা, আর যা এই পুস্তিকায় (صحيفة) রয়েছে।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম: 'এই পুস্তিকায় (صحيفة) কী আছে?' তিনি বললেন: 'রক্তপণের বিধান, বন্দিমুক্তি এবং এই নিয়ম যে, কোনো কাফিরের বিনিময়ে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা হবে না'।" আর এটি সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর বিন হাযম এবং অন্যদের জন্য সদকা, রক্তপণ, মিরাস ও সুন্নাহ সম্পর্কিত বিধানাবলি লিখে পাঠিয়েছিলেন।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, অনুমতির হাদিসগুলো নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোকে রহিতকারী (ناسخة)। কারণ নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসলামের শুরুর দিকে, যখন হাদিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া কিংবা কুরআনের সাথে অন্য কিছুর মিশ্রণের আশঙ্কা ছিল। পরবর্তীতে যখন সেই আশঙ্কা দূর হলো, তখন নিষেধাজ্ঞা রহিত (نسخ) করা হয়। সম্ভবত রহিতকরণের (نسخ) এই মতটিকে যা জোরালো করে তা হলো, অনুমতির কিছু হাদিস পরবর্তী সময়ের। যেমন, হাদিস লিপিবদ্ধ করার বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা সপ্তম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবু শাহর ঘটনাটি ছিল অষ্টম হিজরি তথা মক্কা বিজয়ের বছরে।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومهما يكن من شيء فقد انقضى العهد النبوي والذين كتبوا الحديث من الصحابة عدد غير كثير.
كِتَابَةُ الأَحَادِيث بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -:
وما أنْ توفي الرسول صلى الله عليه وسلم وجاور الرفيق الأعلى حتى كثر عدد من كان يكتب الحديث من الصحابة، وكذلك كتب التابعون وأكثروا، روي عن سعيد بن جُبير أنه كان يكون مع ابن عباس فيسمع منه الحديث فيكتبه في واسطة الرحل فإذا نزل نسخه، وعن عبد الرحمن بن أبي الزناد عن أبيه قال: «كُنَّا نَكْتُبُ الحَلَالَ وَالحَرَامَ، وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَكْتُبُ كُلَّ مَا سَمِعَ، فَلَمَّا احْتِيجَ إِلَيْهِ عَلِمْتُ أَنَّهُ أَعْلَمُ النَّاسِ» وَعَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، [عَنْ أَبِيهِ] أَنَّهُ [أُحْرِقَتْ] كُتُبُهُ يَوْمَ الْحَرَّةِ، وَكَانَ يَقُولُ: «وَدِدْتُ لَوْ أَنَّ عِنْدِي كُتُبِي بِأَهْلِي وَمَالِي»
وَقَدْ هَمَّ الفَارُوقُ عٌمَرَ رضي الله عنه أَنْ يَجْمَعَ الأَحَادِيثَ وَيُقَيِّدَهَا بِالكِتَابَةِ وَاسْتَشَارَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارُوا عَلَيْهِ بِكِتَابَتِهَا، وَطَفِقَ يَسْتَخِيرُ اللَّهَ فِي ذَلِكَ مُدَّةً وَلَكِنَّ اللهَ لَمْ يُرِدْ لَهُ، روى البيهقي في " المدخل " عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْر: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ السُّنَنَ فَاسْتَشَارَ فِي ذَلِكَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارُوا عَلَيْهِ [أَنْ يَكْتُبَهَا] فَطَفِقَ عُمَرُ يَسْتَخِيرُ اللَّهَ فِيهَا شَهْرًا، ثُمَّ أَصْبَحَ [يَوْمًا] وَقَدْ عَزَمَ اللَّهُ لَهُ قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ أَنْ أَكْتُبَ السُّنَنَ، وَإِنِّي ذَكَرْتُ قَوْمًا كَانُوا قَبْلَكُمْ كَتَبُوا كُتُبًا فَأَكَبُّوا عَلَيْهَا وَتَرَكُوا كِتَابَ اللَّهِ وَإِنِّي وَاللَّهِ لَا أَلْبَسُ كِتَابَ اللَّهِ بِشَيْءٍ أَبَدًا».
تَدْوِينُ الأَحَادِيثِ تَدْوِينًا عَامًّا:واستمر الأمر على ذلك، البعض يكتب والبعض لا يكتب إلى أنْ كان عهد الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه فرأى جَمْعَ السُنن وتدوينها خشية أنْ يضيع منها شيء أو يلتبس الحق بالباطل، وكان ذلك على رأس المائة الأولى فكتب إلى بعض المبرزين من العلماء في الأمصار الإسلامية وأمرهم بجمع الأحاديث، وكتب إلى عُمَّاله في الأمصار يأمرهم بذلك، روى مالك في " الموطأ " - رواية محمد بن الحسن - أنَّ عمر بن عبد العزيز كتب إلى أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم: «أَنْ انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ سُنَنِهِ أَوْ حَدِيثِ عُمَرَ أَوْ نَحْوِ هَذَا فَاكْتُبْهُ فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ العِلْمِ، وَذَهَابِ العُلَمَاءِ» وأوصاه أنْ يكتب ما عند عَمْرَةَ بنت
যাই হোক না কেন, নবুওয়াতের যুগ শেষ হয়ে গেল এবং সাহাবীদের মধ্যে যারা হাদিস লিখেছিলেন তাঁদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হাদিস লিখন-:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল এবং মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার সাথে সাথেই সাহাবীদের মধ্যে যারা হাদিস লিখতেন তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। একইভাবে তাবেয়িগণও হাদিস লিখেছেন এবং প্রচুর পরিমাণে লিখেছেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইবনে আব্বাসের সাথে থাকতেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনে তা বাহনের গদির মধ্যভাগে লিখে নিতেন, অতঃপর যখন গন্তব্যে অবতরণ করতেন তখন তা পুনরায় লিখে নিতেন (অনুলিপি করতেন)। আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা কেবল হালাল ও হারাম সংক্রান্ত বিষয়গুলো লিখতাম, কিন্তু ইবনে শিহাব যা শুনতেন তার সবই লিখে রাখতেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।» হিশাম ইবনে উরওয়া [তাঁর পিতার সূত্রে] বর্ণনা করেন যে, হাররার যুদ্ধের দিন তাঁর কিতাবসমূহ [পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল]। তিনি বলতেন: «আমার পরিবার ও সম্পদের বিনিময়েও যদি আমার কিতাবগুলো আমার কাছে থাকত, তবে আমি সেটিই বেশি পছন্দ করতাম।»
ফারুক ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও তা লিখে রাখার মাধ্যমে সংরক্ষণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলে তাঁরা তাঁকে তা লিখে রাখার পরামর্শ দেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে থাকেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁর জন্য তা চাননি। বাইহাকি আল-মাদখাল গ্রন্থে উরওয়া ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব সুন্নাহসমূহ সংকলন করার সংকল্প করলেন এবং এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরা তাঁকে [তা লিখতে] পরামর্শ দিলেন। ওমর এক মাস ধরে আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে ইস্তিখারা করতে থাকলেন। অতঃপর একদিন সকালে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত লাভ করলেন এবং বললেন: «আমি সুন্নাহসমূহ লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার পূর্ববর্তী জাতির কথা মনে পড়ল যারা কিতাবসমূহ লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর নিবিষ্ট হয়ে আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কিছু কখনোই সংমিশ্রণ করব না।»
ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলন (تدوين):এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকল—কেউ লিখতেন আর কেউ লিখতেন না—যতক্ষণ না খলিফায়ে রাশেদ ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ আসল। তিনি সুন্নাহসমূহ সংগ্রহ ও সংকলনের (تدوين) প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এই ভয়ে যে, পাছে এর কিছু অংশ হারিয়ে যায় অথবা সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে। এটি ছিল হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে। তিনি বিভিন্ন ইসলামি ভূখণ্ডের প্রথিতযশা আলেমদের কাছে পত্র পাঠালেন এবং তাঁদের হাদিস সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তিনি প্রদেশগুলোতে তাঁর নিযুক্ত প্রশাসকদের কাছেও এই মর্মে পত্র লিখলেন। ইমাম মালিক মুওয়াত্তা-এ — মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী — বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের কাছে লিখেছিলেন: «তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস, তাঁর সুন্নাহ, ওমরের হাদিস বা এ জাতীয় যা কিছু থাকে তা অনুসন্ধান করো এবং তা লিখে রাখো। কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি ও আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।» তিনি তাঁকে আমারা বিনতে [আবদুর রহমান]-এর কাছে যা আছে তা লিখে রাখারও অসিয়ত করেন।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
عبد الرحمن الأنصارِيَّةَ، والقاسم بن محمد بن أبي بكر.
وعَلَّقَهُ (1) البخاري في " صحيحه " فقال: «وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ إِلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ (2): [انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاكْتُبْهُ]، فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ العِلْمِ وَذَهَابَ العُلَمَاءِ».
وأخرج أبو نعيم في " تاريخ أصبهان " عن عمر بن عبد العزيز أنه كتب إلى أهل الآفاق: «انْظُرُوا إِلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْمَعُوهُ».
ومِمَّنْ كتب إليه الخليفة العادل الإمام محمد بن مسلم بن شهاب الزُّهْرِي المدني أحد الأئمة الأعلام، وعالم أهل الحجاز والشام المتوفى سنة 124 هـ.
نَشَاطُ حَرَكَةِ التَّدْوِينِ:وقد قام العلماء في كل مِصْرٍ بما ندبوا إليه خير قيام، وأقبلوا على جمع الأحاديث والسُنن وتمحيصها، وتمييز صحيحها من سقيمها، ومقبولها من مردودها، ولم يعد أحد من السلف يتحرَّجُ من الكتابة، وبذلك ارتفع الخلاف الذي كان بينهم أولاً في كتابة الأحاديث، واستقرَّ الأمر، وانعقد الإجماع على جواز كتابته، بل على استحبابه، بل لا يبعد وجوبه على من خشي عليه النسيان مِمَّنْيتعين عليه تبليغ العلم (3).
وقد أخذت الحركة العلمية التدوينية في الحديث في الإزدهار، وتجرَّد لهذا العمل الجليل قوم عرفوا بالأمانة والصدق والتحري والتثبت، وأخذوا أنفسهم بمجافاة المضاجع، ولازموا الدفاتر والمحابر، وحرصوا على لقاء الأشياخ، والأخذ من
--------------------------------------------
আবদুর রহমান আল-আনসারিয়া এবং কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর।
ইমাম বুখারি তাঁর "সহিহ"-তে এটি মুআল্লাক (علقه) হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: «উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আবু বকর ইবনে হাজমের কাছে লিখে পাঠালেন: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মধ্যে যা আছে তা দেখুন এবং তা লিপিবদ্ধ করুন], কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।»
আবু নুয়াইম তাঁর "তারিখে আসবাহান"-এ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে লিখেছিলেন: «আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি দৃষ্টি দিন এবং তা সংগ্রহ করুন।»
ন্যায়পরায়ণ খলিফা যাঁকে লিখেছিলেন, তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমামগণের অন্যতম ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-জুহরি আল-মাদানি; তিনি হিজাজ ও শাম অঞ্চলের আলেম ছিলেন এবং ১২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
সংকলন আন্দোলনের তৎপরতা:প্রত্যেক শহরের আলেমগণ তাঁদের প্রতি যে কাজের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তা সর্বোত্তমভাবে পালন করেন। তাঁরা হাদিস ও সুন্নাহ সংগ্রহ এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তাঁরা এর মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (سقيم) আলাদা করেন, আর গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود)-কে পৃথক করেন। সালাফদের কেউই আর হাদিস লিখনের ব্যাপারে কোনো দ্বিধাবোধ করেননি। ফলে হাদিস লিখনের বিষয়ে তাঁদের মাঝে শুরুতে যে মতভেদ ছিল তা দূর হয়ে যায় এবং বিষয়টি স্থির হয়। হাদিস লিখনের বৈধতার ওপর ইজমা (إجماع) বা ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, বরং তা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে এবং যে ব্যক্তি ইলম প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অথচ তার ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তার জন্য হাদিস লেখা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টিও অবাস্তব নয়।
হাদিস সংকলনের ইলমি আন্দোলন ক্রমে সমৃদ্ধ হতে শুরু করে। একদল লোক এই মহৎ কাজের জন্য আত্মনিয়োগ করেন যারা আমানতদারিতা (أمانة), সততা (صدق), সূক্ষ্ম অনুসন্ধান ও দৃঢ়তা যাচাইয়ের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁরা আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেন, খাতা-কলমের সঙ্গ নেন এবং উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأفواه، وسهروا في سبيل ذلك الليالي الطوال، وقطعوا الفيافي والقفار، وطوفوا في البلدان والأقاليم، وضربوا في سبيل العلم والرواية، على ما كانوا عليه من قلة المؤنة وعسر وسائل السفر والارتحال، مُثُلاً عليا تجعلهم في عداد العلماء الخالدين.
وما زال العلماء يجمعون الأحاديث، وينقدون ويمحصون، ويؤلفون الصحاح والسنن والمسانيد حتى جمعت الأحاديث كلها تقريبا في القرن الثالث الذي يعتبر العصر الذهبي للأحاديث والسنن، وبانتهاء هذا القرن كاد ينتهي الجمع والابتكار في التأليف، والاستقلال في النقد والتعديل والتجريح، وبدأت عصور الترتيب والتهذيب، أو الاستدراك والتعقيب، وذلك في العصر الرابع وما تلاه من العصور.
وهكذا نخلص إلى هذه النتيجة:
وهي أن السُنَّة لم يطل العهد بعدم تدوينها، وأنَّ التدوين بدأ بصفة خاصة في عصر النَّبِي، وأنه قوي وغلظ عوده في عصر الصحابة وأوائل عصر التابعين، وأنه أخذ صفة العموم في أواخر عصر التابعين، ولم يزل يقوى ويشتد حتى بلغ عنفوانه واستوى على سوقه في القرن الثالث الهجري خاتمة القرون الثلاثة المشهود لها بالخيرِيَّةَ، خيرِيَّةَ الإيمان والعلم والعمل، والهُدَى والفلاح والاستقامة على الجادة.
الرِّحْلَةُ فِي سَبِيلِ العِلْمِ:لعل ما يتميَّز به أئمة العلم في الإسلام، ولا سيما أئمة الحديث وجامعوه كثرة الارتحال، وملازمة الأسفار، وقد جَرَوْا في ذلك على سُنَنِ الصحابة والتابعين لهم بإحسان، لقد كان الواحد منهم يبلغه الحديث بطريق الرُواة الثقات فلا يكتفي بهذا، بل يرحل الأيام والليالي حتى يأخذ الحديث عمَّنْ رواه بلا واسطة، وقد ثبت في " صحيح البخاري " تعليقاً بصفة الجزم أنَّ جابر بن عبد الله الأنصاري رحل مسيرة شهر إلى عبد الله بن أُنَيْسٍ (1) في حديث واحد، والقصة بتمامها - كما أخرجها البخاري في: " الأدب المفرد " وأحمد وأبو يعلى في " مُسْنَدَيْهِمَا " - من طريق عبد الله بن محمد
--------------------------------------------
মুখের বুলি থেকে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে তাঁরা দীর্ঘ রজনী বিনিদ্র কাটিয়েছেন, পাড়ি দিয়েছেন মাইলের পর মাইল মরুভূমি ও নির্জন প্রান্তর, ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশে ও জনপদে। যৎসামান্য পাথেয় এবং যাতায়াত ও ভ্রমণের অত্যন্ত কঠিন মাধ্যম সত্ত্বেও ইলম অর্জন ও বর্ণনা (الرواية) সংগ্রহের পথে তাঁদের এই নিরলস প্রচেষ্টা তাঁদেরকে সেই সকল বরেণ্য ও অমর ওলামাদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উচ্চতর আদর্শ স্থাপন করে গেছেন।
ওলামায়ে কেরাম নিরবচ্ছিন্নভাবে হাদিস সংগ্রহ, তার সমালোচনা (النقد) ও যাচাই-বাছাই এবং সহিহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ সংকলন করতে থাকেন। অবশেষে হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে প্রায় সব হাদিস সংকলিত হয়ে যায়, যে সময়টিকে হাদিস ও সুনান সংকলনের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই শতাব্দী সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে সংকলন ও রচনায় নতুনত্ব এবং সমালোচনা (النقد), নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (التعديل) ও ত্রুটি অন্বেষণ (التجريح)-এর ক্ষেত্রে স্বাধীন ধারারও প্রায় পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর চতুর্থ শতাব্দী ও পরবর্তী সময়গুলোতে হাদিস বিন্যাস ও সংস্কার বা পূর্বের কাজের পরিপূরক সংযোজন (الاستدراك) ও পর্যালোচনা (التعقيب)-এর যুগ শুরু হয়।
সুতরাং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে:
সুন্নাহ লিপিবদ্ধ (التدوين) না থাকার সময়কাল দীর্ঘ ছিল না। বরং বিশেষভাবে নবী (সা.)-এর যুগেই এর লিপিবদ্ধকরণ (التدوين) শুরু হয়। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের প্রথম যুগে তা আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় রূপ লাভ করে এবং তাবেয়ীদের শেষ যুগে এটি সাধারণ রূপ ধারণ করে। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত এর শক্তিমত্তা ও বিস্তৃতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই তৃতীয় শতাব্দী ছিল সেই শ্রেষ্ঠ তিন শতাব্দীর সমাপ্তিকাল, যাদের ব্যাপারে ঈমান, ইলম, আমল, হেদায়েত, সফলতা ও সত্য পথে অবিচল থাকার কল্যাণময় সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে।
জ্ঞানের সন্ধানে সফর:ইসলামের জ্ঞানতাপস ইমামগণ, বিশেষ করে হাদিসের ইমাম ও সংকলকগণ যে বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য ছিলেন, তা হলো তাঁদের অধিক হারে দেশভ্রমণ ও নিরন্তর সফর। এক্ষেত্রে তাঁরা সাহাবায়ে কেরাম ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের আদর্শ অনুসরণ করেছেন। তাঁদের কারো কাছে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের (الرواة) সূত্রে কোনো হাদিস পৌঁছালে তিনি কেবল তাতেই সন্তুষ্ট হতেন না; বরং দিনের পর দিন সফর করে সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতেন যিনি সরাসরি কোনো মাধ্যম ছাড়া তা বর্ণনা করেছেন। সহিহ বুখারী গ্রন্থে সুদৃঢ়ভাবে ঝুলন্ত (تعليقاً) বর্ণনা হিসেবে প্রমাণিত আছে যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) মাত্র একটি হাদিসের জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসের (১) কাছে এক মাসের পথ সফর করেছিলেন। এই পূর্ণ ঘটনাটি—যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে এবং ইমাম আহমদ ও আবু ইয়ালা তাঁদের নিজ নিজ ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بن عقيل أنه سمع جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: «بَلَغَنِي عَنْ رَجُلٍ حَدِيثٌ سَمِعَهُ مِنْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا ثُمَّ شَدَدْتُ رَحْلِي فَسِرْتُ إِلَيْهِ شَهْرًا حَتَّى قَدِمْتُ الشَّامَ فَإِذَا عَبْد اللَّه بْن أُنَيْسٍ»، فَقُلْتُ لِلْبَوَّابِ: «قُلْ لَهُ جَابِرٌ عَلَى الْبَابِ»، فَقَالَ: «اِبْنَ عَبْدِ اللهِ؟» قُلْتُ: «نَعَمْ»، فَخَرَجَ فَاعْتَنَقَنِي. فَقُلْتُ: «حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَخَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ قَبْلَ أَنْ أَسْمَعَهُ» فَقَالَ: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يَحْشُرُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عُرَاةً
… » الحديث.
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَيْضًا أَنَّهُ قَالَ: «كَانَ يَبْلُغْنِي عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ فِي الْقِصَاصِ ، وَكَانَ صَاحِبُ، الحَدِيثِ بِمِصْرَ ، فَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا فَسِرْتُ حَتَّى وَرَدْتُ مِصْرَ ، فَقَصَدْتُ إِلَى بَابِ الرَّجُلِ». فذكر نحو القصة الأولى.
وأخرج الطبراني من حديث مسلمة بن مخلد قال: أتاني جابر فقال لي: «حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَرْوِيهِ فِي السَّتْر عَلَى اَلْمُسْلِمِ»،فذكره. والظاهر أنها قصص مُتَعَدِّدَةٌ رحل فيها جابر رضي الله عنه مَرَّاتٍ مُتَعَدِّدَة.
وَرَحَلَ السَيِّدُ الجَلِيلُ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ إِلَى عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الجُهَنِيِّ بِسَبَبِ حَدِيثٍ يَرْوِيهِ فِي السَّتْر عَلَى اَلْمُسْلِمِ، رواه أحمد بسند منقطع، وروى أبو داود في " سننه " مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ رَجُلاً مِنْ [أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم] رَحَلَ إِلَى فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ وَهُوَ بِمِصْرَ في حديث.
وعلى هذا الدرب الواضح سار التابعون ومن جاء بعدهم من أئمة العلم والدين، روى الخطيب عن عبيد الله بن عدي قال: «بَلَغَنِي حَدِيثٌ عِنْدَ عَلِيٍّ فَخِفْتُ إِنْ مَاتَ أَنْ لَا أَجِدهُ عِنْدَ غَيْرهِ، فَرَحَلْتُ حَتَّى قَدِمْتُ عَلَيْهِ الْعِرَاقَ».
وروى الإمام مالك عن يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب قال: «إِنْ كُنْت لأَرْحَلُ الأَيَّام وَاللَّيَالِي فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ».
وأخرج الخطيب عن أبي العالية قال: «كُنَّا نَسْمَع عَنْ أَصْحَاب رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم فَلَا نَرْضَى حَتَّى خَرَجْنَا إِلَيْهِمْ فَسَمِعْنَا مِنْهُمْ» (1).
قال الشعبي في مسألة أفتى فيها: «أَعْطَيْنَاكَهَا بِغَيْرِ شَيْءٍ، [قَدْ] كَانَ يُرْكَبُ فِيمَا دُونَهَا إِلَى المَدِينَةِ».
وقد روى " الدارمي " بسند صحيح عن بُسْرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: «إِنْ كُنْتُ لأَرْكَبُ إِلَى
--------------------------------------------
ইবনে আকীল থেকে বর্ণিত যে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক ব্যক্তি একটি হাদিস শুনেছেন বলে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছাল। তখন আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তাতে জিন কষে এক মাস সফর করে সিরিয়ায় পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম তিনি আবদুল্লাহ বিন উনাইস।" আমি দারোয়ানকে বললাম: "তাঁকে বলো যে জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।" সে জিজ্ঞেস করল: "ইবনে আবদুল্লাহ?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তখন তিনি বেরিয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন। আমি বললাম: "আপনার কাছে একটি হাদিস আছে বলে জানতে পেরেছি যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন; আমি আশঙ্কা করলাম যে সেটি শোনার আগেই হয়তো আমি মৃত্যুবরণ করব।" তখন তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মানুষকে নগ্ন অবস্থায় হাশরের ময়দানে সমবেত করবেন
… '" হাদিসের অবশিষ্টাংশ।
জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "কিসাস সংক্রান্ত একটি হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কাছে পৌঁছেছিল এবং সেই হাদিসের বর্ণনাকারী মিশরে অবস্থান করছিলেন। আমি একটি উট ক্রয় করে সফর করলাম এবং অবশেষে মিশরে উপস্থিত হয়ে সেই ব্যক্তির দরজায় পৌঁছালাম।" এরপর তিনি পূর্ববর্তী ঘটনার অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
তাবারানি মাসলামাহ বিন মুখাল্লাদের হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: জাবির আমার কাছে এসে বললেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনি মুসলমানের দোষ গোপন রাখা সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেন।" এরপর তিনি তা উল্লেখ করলেন। প্রকাশ্যত এগুলো ছিল একাধিক ঘটনা, যার জন্য জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু একাধিকবার সফর করেছিলেন।
সম্মানিত মহাত্মা আবু আইয়ুব আনসারী উকবাহ বিন আমির আল-জুহানির কাছে সফর করেছিলেন জনৈক মুসলমানের দোষ গোপন রাখার বিষয়ে একটি হাদিসের কারণে। আহমদ এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন বুরাইদার সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি মিশরে ফাদালাহ বিন উবাইদের কাছে একটি হাদিসের জন্য সফর করেছিলেন।
আর এই সুস্পষ্ট পথেই তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইলম ও দ্বীনের ইমামগণ চলেছেন। খতিব উবায়দুল্লাহ বিন আদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলীর কাছে একটি হাদিস আছে বলে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে; আমি ভয় পেলাম যে তিনি যদি মারা যান তবে হয়তো তা অন্য কারো কাছে পাব না। তাই আমি সফর করে ইরাকে তাঁর কাছে পৌঁছালাম।"
ইমাম মালিক ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ বিন মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি কেবল একটি হাদিসের সন্ধানে দিন ও রাত সফর করতাম।"
খতিব আবুল আলিয়াহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের সূত্রে হাদিস শুনতাম, কিন্তু আমরা তাতে সন্তুষ্ট হতাম না যতক্ষণ না আমরা তাঁদের কাছে সশরীরে গিয়ে তাঁদের থেকে তা সরাসরি শুনতাম" (১)।
ইমাম শাবী একটি মাসআলায় ফতোয়া দিয়ে বললেন: "আমি তোমাকে এটি কোনো বিনিময় ছাড়াই দিয়ে দিলাম, অথচ এর চেয়েও সামান্য বিষয়ে মদিনা পর্যন্ত সফর করা হতো।"
দারেমি সহিহ (صحيح) সনদে বুসর বিন উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি অবশ্যই সফর করে যেতাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المِصْرٍ مِنَ الأَمْصَارِ فِي الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ، [لأَسْمَعَهُ]». وَقَالَ أَبُو قِلَابَةَ: «لَقَدْ أَقَمْتُ بِالْمَدِينَةِ [ثَلَاثًا] مَالِي حَاجَةً إِلَاّ رَجُلٌ عِنْدَهُ حَدِيثٌ يَقْدَمُ فَأَسْمَعُهُ مِنْهُ».
وَقِيلَ أَحْمَد: «رَجُلٌ يَطْلُبُ العِلْمَ، يَلْزَمُ رَجُلاً عِنْدهُ عِلْمٌ كَثِيرٌ، أَوْ يَرْحَلُ؟ قَالَ: يَرْحَلُ، يَكْتُبُ عَنْ عُلَمَاءِ الأَمْصَارِ».
ومِمَّنْ ارتحل في سبيل العلم والرواية الأئمة أبو حنيفة ومالك والشافعي وأحمد وغيرهم ومن المُحَدِّثِينَ جَمٌّ غَفِيرٌ، ويأتي في الرعيل الأول منهم الأئمة البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه والحاكم، وإنَّ منهم من لم يذق طعم الراحة والإقامة والاستقرار طوال حياته.
الأَطْوَارُ التِي مَرَّ بِهَا تَدْوِينُ الحَدِيثِ:قلنا إنَّ التدوين العام بدأ في آخر القرن الأول من الهجرة وإنَّ العلماء في الأمصار استجابوا لدعوة الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز، وتجرَّد لجمع الأحاديث في الأمصار أناس لهم قدم ثابتة في الدين والعلم، وتبارى العلماء في هذا المضمار الفسيح فألف الإمام مالك (م 179) بالمدينة، وألف أبو محمد عبد العزيز بن جريج (م 150) بمكة والأوزاعي (م 156) بالشام، ومعمر بن راشد (م 153) باليمن، وسعيد بن أبي عروبة (م 156) وحماد بن سلمة (م 176) بالبصرة، وسفيان الثوري (م 161) بالكوفة، وعبد الله بن المبارك (م 181) بخراسان، وهُشيم بن بشير (م 188) بواسط، وجرير بن عبد الحميد (م 188) بالري وغير هؤلاء كثيرون، وكلهم من أهل القرن الثاني الهجري.
وكان منهج المؤلفين في هذا القرن جمع الأحاديث مختلطة بأقوال الصحابة وفتاوى التابعين، ويظهر ذلك بجلاء في " موطأ الإمام مالك ".
ثم حدث طور آخر في تدوين الحديث، وهو إفراد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم -خاصة وكانت تلك الخطوة على رأس المائتين، وهؤلاء الذين خطوا هذه الخطوة، منهم من ألَّف على المسانيد، وذلك بأنْ يجمع أحاديث كل صحابي على حدة من غير تقيد بوحدة الموضوع فحديث صلاة بجانب حديث زكاة بجانب حديث في الجهاد وهكذا، وذلك كـ " مسند الإمام أحمد " وعثمان بن شيبة واسحق بن راهويه
...একটি হাদিসের জন্য বিভিন্ন জনপদ সমূহের (الأمصار) মধ্য থেকে কোনো এক জনপদে সফর করতাম, [যাতে আমি তা শুনতে পাই]।" আবু কিলাবা বলেছেন: "আমি মদিনায় [তিন দিন] (ثلاثًا) অবস্থান করেছি যেখানে আমার কোনো প্রয়োজন ছিল না কেবল একজন ব্যক্তি ব্যতীত, যার কাছে একটি হাদিস ছিল এবং সে আসার অপেক্ষায় ছিলাম যেন আমি তার থেকে তা শুনতে পাই।"
ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "এক ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করছে; সে কি এমন একজন ব্যক্তির কাছেই অবস্থান করবে যার কাছে অনেক ইলম আছে, নাকি সে সফর করবে? তিনি বললেন: সে সফর করবে এবং বিভিন্ন জনপদের (الأمصار) আলেমদের থেকে হাদিস লিখে নিবে।"
ইলম ও বর্ণনার (الرواية) পথে যারা সফর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও অন্যান্যরা এবং মুহাদ্দিসদের (المحدثين) এক বিশাল জামাত। তাদের প্রথম সারিতে রয়েছেন ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ ও হাকিম। তাদের মধ্যে এমনও অনেকে ছিলেন যারা সারাজীবনে বিশ্রাম, অবস্থান ও স্থায়িত্বের স্বাদ আস্বাদন করেননি।
হাদিস সংকলনের (تدوين) পর্যায়সমূহ:আমরা বলেছি যে, সাধারণ সংকলন (التدوين) হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষে শুরু হয়েছিল এবং বিভিন্ন জনপদের (الأمصار) আলেমগণ খলিফায়ে রাশেদ উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। বিভিন্ন জনপদে হাদিস সংগ্রহের জন্য এমন ব্যক্তিবর্গ আত্মনিয়োগ করেছিলেন যাদের দ্বীন ও ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় পদচারণা ছিল। আলেমগণ এই প্রশস্ত ময়দানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন; ফলে ইমাম মালিক (মৃ. ১৭৯) মদিনায় গ্রন্থ রচনা করলেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ (মৃ. ১৫০) মক্কায়, আওজায়ি (মৃ. ১৫৬) শামে, মা'মার ইবনে রাশিদ (মৃ. ১৫৩) ইয়েমেনে, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ (মৃ. ১৫৬) ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (মৃ. ১৭৬) বসরায়, সুফিয়ান সাওরি (মৃ. ১৬১) কুফায়, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (মৃ. ১৮১) খুরাসানে, হুশাইম ইবনে বাশির (মৃ. ১৮৮) ওয়াসিতে, জারির ইবনে আব্দুল হামিদ (মৃ. ১৮৮) রাই-তে গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাদের বাইরেও অনেকে ছিলেন। তাঁরা সকলেই হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর অন্তর্ভুক্ত।
এই শতাব্দীতে লেখকদের পদ্ধতি (منهج) ছিল সাহাবীদের উক্তি ও তাবেয়ীদের ফতোয়ার সাথে মিশ্রিত অবস্থায় হাদিস সংগ্রহ করা। এটি ইমাম মালিকের মুয়াত্তা-তে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
অতঃপর হাদিস সংকলনের (تدوين) ক্ষেত্রে আরেকটি পর্যায়ের উদ্ভব ঘটে, আর তা হলো বিশেষভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস পৃথক করা। এই পদক্ষেপটি দুইশ হিজরির প্রারম্ভে নেওয়া হয়েছিল। যারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসনাদ (المسانيد) পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর নিয়ম হলো—বিষয়ের ভিন্নতা বিবেচনা না করে প্রত্যেক সাহাবীর হাদিস পৃথকভাবে একত্রিত করা; ফলে সালাতের হাদিসের পাশে জাকাতের হাদিস, তার পাশে জিহাদের হাদিস—এভাবে সংকলিত হয়েছে। যেমন: মুসনাদ ইমাম আহমাদ, উসমান ইবনে শায়বাহ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াই।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وغيرهم، وأصحاب المسانيد لم يتقيَّدوا بالصحيح بل خَرَّجُوا الصحيح والحسن والضعيف.
ومنهم من ألَّف على الأبواب الفقهية كأصحاب " الكتب الستة " المشهورة وهؤلاء منهم من تقيد في جمعه الأحاديث بالصحاح كالإمامين البخاري ومسلم ومنهم من لم يتقيَّد بالصحيح بل جمع الصحيح والحسن والضعيف مع التنبيه عليه أحياناً ومع عدم التنبيه أحياناً أخرى، اعتماداً على معرفة القارئ لهذه الكتب ومقدرته على النقد وتمييز الصحيح من الضعيف والمقبول من المردود وذلك مثل أصحاب " السنن الأربعة ": أبي داود والترمذي والنَسَائي وابن ماجه.
وقد كان القرن الثالث الهجري (200 - 300) أسعد القرون بجمع السُنَّة وتدوينها ونقدها وتمحيصها، ففيه ظهر أئمة الحديث وجهابذته، وحُذَّاق النقد وصيارفته، وفيه أشرقت شموس " الكتب الستة " وأمثالها التي كادت تشتمل على كل ما ثبت من الأحاديث، ولا يغيب عنها إِلَاّ النذر اليسير والتي يعتمد عليها الفُقَهَاء والمستنبطون، والمؤلفون والمعلِّمون، ويجد فيها طلبتهم الهُداة والمصلحون، والمتأدبون والأخلاقيون، وعلماء النفس والاجتماع.
عِنَايَةُ المُحَدِّثِينَ بِالنَّقْدِ وَالدِّرَايَّةِ:إنَّ أئمة الحديث كما عنوا به من ناحية جمعه في الكتب الجامعة لمُتُونه عنوا بالبحث عنه من نواح أخرى تتصل به من جهة سنده ومتنه مِمَّا يتوقف عليه قبوله أو رَدُّهُ، ولعمر الحق إنَّ البحث عنه من هذه النواحي بحث جليل القدر، جَمُّ الفائدة إذْ يتوقف عليه تمييز الطيب من الخبيث، والصحيح من العليل، وتطهير السُنَّة مِمَّا عسى أن يكون دخلها من التزيد والاختلاق، وبذلك تسلم الشريعة من الفساد، وتلك النواحي التي بحثوا فيها مثل كون الحديث صحيحاً أو حسناً أو ضعيفاً وأحوال كل وبيان أقسام الضعيف كالمنقطع والمعضل، والشاذ والمقلوب، والمنكر، والمضطرب، والموضوع، وما يتصل بذلك من البحث عن أحوال الرجال من الجرح والتعديل، وألفاظ كل، والرواية، وشروطها، والتحمُّل وكيفياته، والأداء وألفاظه، وبيان علل الحديث، وغريبه، ومختلفه، وناسخه ومنسوخه، وطبقات الرُواة، وأوطانهم، ووفِيَّاتِهِم، إلى غير ذلك مِمَّا تجده مبسوطا في كتب علوم الحديث والرجال.
এবং অন্যান্যরা; আর মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের শর্তারোপ করেননি, বরং তাঁরা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف) সব ধরণের হাদিসই উদ্ধৃত করেছেন।
তাঁদের মধ্যে এমনও অনেকে আছেন যারা ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী কিতাব রচনা করেছেন, যেমন প্রসিদ্ধ "কুতুবুত সিত্তাহ"-এর সংকলকগণ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে কেবল সহিহ (صحاح) হাদিসের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, যেমন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম। আবার তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ ছিলেন যারা কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁরা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف) হাদিস একত্রিত করেছেন; কখনো সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, আবার কখনো সতর্ক করেননি। তাঁরা মূলত এসকল কিতাবের পাঠকের জ্ঞান এবং তাদের হাদিস যাচাই ও সহিহ (صحيح) থেকে জইফ (ضعيف) এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) থেকে বর্জনীয় (مردود) হাদিস পৃথক করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁরা হলেন "সুনানে আরবাআ" এর সংকলকগণ: আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ।
হিজরি তৃতীয় শতাব্দী (২০০ - ৩০০ হিজরি) ছিল সুন্নাহ সংগ্রহ, সংকলন, সমালোচনা এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সবচেয়ে সৌভাগ্যপূর্ণ সময়। এই শতাব্দীতেই হাদিসের মহান ইমাম ও বিশারদগণ এবং হাদিস সমালোচনার নিপুণ পারদর্শী ও সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞগণ আত্মপ্রকাশ করেন। এ সময়েই "কুতুবুত সিত্তাহ" এবং এর সমগোত্রীয় গ্রন্থসমূহের সূর্য উদিত হয়েছিল, যা প্রায় সমস্ত প্রমাণিত হাদিসকে ধারণ করে নিয়েছে। খুব সামান্য কিছু হাদিসই হয়তো এগুলোর বাইরে রয়েছে। এসকল কিতাবের ওপর ফকিহ, গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত আহরণকারী, লেখক ও শিক্ষকগণ নির্ভর করেন। পথপ্রদর্শক ও সংস্কারক, সাহিত্যিক ও নীতিবিদ এবং মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরাও এতে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত দিশা খুঁজে পান।
সমালোচনা ও অনুধাবনে মুহাদ্দিসগণের বিশেষ যত্ন:হাদিসের ইমামগণ যেমন কিতাবসমূহে এর মূল পাঠ (মতন) সংগ্রহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, তেমনি তাঁরা এর সনদ ও মতন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিক নিয়েও গবেষণায় মনোনিবেশ করেছেন, যার ওপর হাদিস গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি নির্ভর করে। সত্যের শপথ! এ সকল দিক নিয়ে গবেষণা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত ফায়দাজনক কাজ; কেননা এর মাধ্যমেই উৎকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টের পার্থক্য করা যায়, সহিহ (صحيح) থেকে ত্রুটিযুক্ত (عليل) হাদিসকে পৃথক করা যায় এবং সুন্নাহকে এমন সব বানোয়াট ও অলীক বিষয় থেকে পবিত্র করা যায় যা এতে অনুপ্রবেশ করতে পারত। এর ফলে শরিয়ত যেকোনো বিকৃতি থেকে রক্ষা পায়। তাঁরা যেসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: হাদিসটি সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) না কি জইফ (ضعيف) তা নির্ধারণ করা, এদের প্রত্যেকের অবস্থা বর্ণনা করা এবং জইফ (ضعيف) হাদিসের প্রকারভেদ যেমন- বিচ্ছিন্ন (منقطع), জটিল (معضل), বিরল (شاذ), উল্টানো (مقلوب), অস্বীকৃত (منكر), বিশৃঙ্খল (مضطرب) এবং জাল (موضوع) হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করা। এছাড়াও রাবিদের অবস্থা যাচাই তথা জারহ (جرح) ও তাদিল (تعديل) এবং এ সংক্রান্ত পরিভাষাসমূহ, বর্ণনা (رواية) ও এর শর্তাবলি, হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও এর পদ্ধতিসমূহ, হাদিস প্রদান (أداء) ও এর পরিভাষাসমূহ, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل), অপরিচিত শব্দ (غريب), বাহ্যিক বৈচিত্র্যময় (مختلف), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), রাবিদের স্তর, তাঁদের বাসস্থান ও মৃত্যুসন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন যা হাদিস বিজ্ঞান ও রাবিদের জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد علمت آنِفًا أنَّ السُنَّة لم تُدَوَّنْ تدوينًا عَامًّا إِلَاّ في آخر القرن الأول، ولا يشكلنَّ عليك أنَّ مباحث الرواية وشروطها، والرُواة وصفاتهم، والتعديل والتجريح، لم تكن مدوَّنَةً آنَئِذٍ، لأنها كانت منقوشة في الحوافظ والأذهان، وعلى صفحات القلوب، شأنها في ذلك شأن متون الأحاديث، وما كان أئمة الحديث الجامعون له بغائبة عنهم هذه القواعد بل كانوا يعرفونها حق المعرفة، فكان وجودها في الأذهان وإن لم توجد في الأعيان، وكان من أثر هذه المعرفة ما نقل إلينا من التثبت البالغ والتحوط الشديد في قبول المرويات وتدوينها، وصيانتها عن أنْ يتطرق إليها الكذب، أو الغلط، أو الخطأ.
وإنك لتلمس هذا جَلِيًّا في الكتب التي ألِّفَتْ في القرون الأولى فقد مزجت فيها المتون بأصول علم النقد والرواية، ومن ذلك ما نجده في أثناء مباحث كتاب " الرسالة " للإمام الشافعي (م 204) وما نقله تلاميذ الإمام أحمد (م 241) في أسئلتهم له ومحاورتهم معه، وما كتبه الإمام مسلم (م 161) في " مقدمة صحيحه " وما ذكره الإمام أبو داود (م 275) في " رسالته إلى أهل مكة " في بيان طريقته في كتابه " السُنَنْ " المشهور، وما ذكره الإمام أبو عيسى الترمذي (م 279) في كتابه " العلل " الذي هو في آخر " جامعه " من تصحيح وتحسين وتضعيف، وما ذكره الإمام البخاري (م 256) في " تواريخه الثلاثة "، إلى غير ذلك.
ومن ثَمَّ يَتَبَيَّنُ لنا أنَّ نقد المرويات، وتمييز صحيحها من زائفها قد كان ملازماً لجمعها في الكتب والجوامع والمسانيد، وإذا كان بعض هذه الكتب الجامعة للمتون يوجد فيها الضعيف والمنكر والموضوع - على ندرة جداً - من غير تنبيه إليه، فمرجع ذلك اختلاف أنظار أئمة الحديث في الجرح والتعديل وشروطهم في التصحيح والتضعيف فمنهم المُشَدِّدُ، ومنهم المتساهل، ومنهم المتوسط في الجرح، وقد يخفى على بعضهم من العلل ما لا يخفى على الآخر وهذا شيء يدل على حرِيَّةَ البحث في الإسلام، حرِيَّةَ منشؤها الرغبة في إحقاق الحق وإزهاق الباطل، لا الهوى والشهوة.
شُرُوطُ الرِّوَايَةِ المَقْبُولَةِ فِي الإِسْلَامِ:وقد وضع المُحَدِّثُونَ شروطاً للرواية المقبولة بحيث تكفل هذه الشروط
আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন যে, প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগের আগে সুন্নাহ সাধারণ পদ্ধতিতে সংকলন (تدوين) করা হয়নি। এটি যেন আপনার মনে কোনো সংশয় তৈরি না করে যে, বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত গবেষণা ও এর শর্তাবলি, বর্ণনাকারী (رواة) ও তাঁদের গুণাবলি এবং জরাহ ও তাদিল বা দোষগুণ বিচার (التعديل والتجريح) সেই সময়ে লিপিবদ্ধ ছিল না; কারণ হাদিসের মূল পাঠের (متون) মতো এই বিষয়গুলোও তখন হাফেজদের স্মৃতিতে ও হৃদয়ে গেঁথে ছিল। হাদিস সংকলক ইমামগণ এই নীতিমালাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন না, বরং তাঁরা এগুলো যথাযথভাবে জানতেন। সুতরাং বাহ্যিকভাবে কিতাব আকারে না থাকলেও এগুলোর অস্তিত্ব তাঁদের অন্তরে বিদ্যমান ছিল। এই জ্ঞানেরই প্রভাব ছিল বর্ণিত বিষয়সমূহ (المرويات) গ্রহণ ও সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত চূড়ান্ত সতর্কতা এবং সুদৃঢ় সাবধানতা, যেন এর মধ্যে কোনো মিথ্যা, ভুল বা ভ্রান্তি প্রবেশ করতে না পারে।
প্রথম কয়েক শতাব্দীতে রচিত গ্রন্থগুলোতে আপনি এটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করবেন; কারণ সেই গ্রন্থগুলোতে হাদিসের মূল পাঠের সাথে সমালোচনা ও বর্ণনা (رواية) বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর উদাহরণ আমরা দেখতে পাই ইমাম শাফিয়ী (মৃ. ২০৪) এর 'রিসালাহ' গ্রন্থের বিভিন্ন আলোচনার মধ্যে, ইমাম আহমাদ (মৃ. ২৪১) এর ছাত্ররা তাঁর সাথে আলাপচারিতা ও প্রশ্নের মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে, ইমাম মুসলিম (মৃ. ১৬১) তাঁর 'সহিহ' এর মুখবন্ধে যা লিখেছেন, ইমাম আবু দাউদ (মৃ. ২৭৫) তাঁর প্রসিদ্ধ 'সুনান' গ্রন্থের পদ্ধতি বর্ণনায় 'মক্কাবাসীদের নিকট প্রেরিত পত্রে' যা উল্লেখ করেছেন, এবং ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (মৃ. ২৭৯) তাঁর 'জামি' এর শেষে সংযোজিত 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বিশুদ্ধ নির্ধারণ (تصحيح), হাসান বা গ্রহণযোগ্য নির্ধারণ (تحسين) ও দুর্বল নির্ধারণ (تضعيف) সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারী (মৃ. ২৫৬) তাঁর তিনটি 'তারিখ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন—ইত্যাদিতে।
এ থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, বর্ণিত বিষয়সমূহের (المرويات) সমালোচনা এবং এগুলোর মধ্য থেকে বিশুদ্ধকে (صحيح) ত্রুটিযুক্ত থেকে পৃথক করার বিষয়টি কিতাব, জামি এবং মুসনাদসমূহে হাদিস সংকলনের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। যদি হাদিস সংকলিত এই গ্রন্থগুলোর কোনোটিতে দুর্বল (الضعيف), অস্বীকৃত (المنكر) এবং জাল (الموضوع) বর্ণনা—অত্যন্ত বিরলভাবে—সতর্কবার্তা ছাড়াই পাওয়া যায়, তবে তার কারণ হলো জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এবং বিশুদ্ধ ও দুর্বল নির্ধারণের (التصحيح والتضعيف) শর্তাবলির ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদ ইমামগণের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন কঠোর (المُشَدِّدُ), কেউ শিথিল (المتساهল), আবার কেউ জরাহ বা সমালোচনার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী (المتوسط)। কখনো কখনো কোনো কোনো ইমামের কাছে এমন কিছু নিগূঢ় ত্রুটি (العلل) অপ্রকাশিত থেকে যেতে পারে যা অন্যদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এটি এমন একটি বিষয় যা ইসলামে গবেষণার স্বাধীনতারই প্রমাণ বহন করে; এমন স্বাধীনতা যার উৎস হলো সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার আকাঙ্ক্ষা, প্রবৃত্তি বা কামনা-বাসনা নয়।
ইসলামে গ্রহণযোগ্য বর্ণনার (الرواية المقبولة) শর্তাবলি:মুহাদ্দিসগণ গ্রহণযোগ্য বর্ণনার (الرواية المقبولة) জন্য এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছেন যাতে এই শর্তাবলি নিশ্চিত করে যে...
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الضمانات الكافية لصدق الرُواة وسلامتهم من الكذب والخطأ والغفلة في النقل وإليك هذه الشروط.
1 - الإسلام: وهو الانقياد ظاهراً وباطناً، فيشمل التصديق بالله تعالى وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وقبول شرائعه وأحكامه، والتزام ذلك علماً وعملاً، وإنما اشترطوا الإسلام وإنْ كان الكذب مُحَرَّماً في سائر الأديان لأنَّ الأمر أمر دين والكافر يسعى في هدم غير دينه ما استطاع، وهو متهم فيما يتصل به، وما دام عنصر الاتهام موجوداً كان من الحق والعدل عدم قبول روايته فيما هو دين، أما إنْ تَحَمَّلَ وهو كافر ولكن أدى وهو مسلم قُبِلَتْ روايتُهُ.
2 - التكليف: وذلك يتحقق بالبلوغ والعقل فلا تقبل رواية الصبي والمجنون، أما الأول فلأنه لا وازع له عن الكذب لعدم مؤاخذته شرعاً، وأما الثاني فلعدم إدراكه وتمييزه، نعم إنَّ تَحَمَّلَ الصبي المُمَيّز قبل البلوغ وأدَّى بعده تقبل روايته، يدل على هذا إجماع الصحابة رضي الله عنهم على قبول رواية جماعة من أحداث الصحابة كابن عباس وابن الزبير ومحمود بن الربيع وغيرهم وعلى هذا درج من جاء بعدهم، وقد حدَّدوا سِنَّ التمييز بخمس سنين، واستأنسوا في هذا بحديث محمود بن الربيع «عَقَلْتُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَجَّةً مَجَّهَا فِي وَجْهِي وَأَنَا ابْنُ خَمْسِ سِنِينَ [مِنْ دَلْوٍ]» رواه البخاري.
3 - العدالة: وهي ملكة تحمل على ملازمة التقوى والمروءة.
والتقوى امتثال المأمورات واجتناب المنهيات، وذلك بأنْ لا يفعل كبيرة ولا يُصِرُّ على صغيرة، ولا يكون مبتدعاً.
والمروءة: آداب نفسانية تحمل مراعاتها الإنسان على الوقوف عند محاسن الأخلاق وجميل العادات.
وما يُخِلُّ بالمروءة قسمان:
[أ] الصغائر الدالة على الخسة كسرقة شيء حقير مثلاً.
[ب] المباحات التي تُوَرِّثُ الاحتقار وتُذْهِبُ الكرامة كالبول في الطريق وفرط المُزَاحِ الخارج عن حَدِّ الأدب، ومرجع هذا إلى العادة والعُرْفِ.
বর্ণনাকারীদের (الرواة) সত্যবাদিতা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যাচার (الكذب), ভুল (الخطأ) ও অসাবধানতা (الغفلة) থেকে তাদের মুক্ত থাকার পর্যাপ্ত নিশ্চয়তাসমূহ; আর এই শর্তগুলো নিম্নরূপ।
1 - ইসলাম (الإسلام): এটি হলো প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ আনুগত্য; সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর শরিয়ত ও বিধানসমূহ গ্রহণ করা এবং জ্ঞান ও কর্মে তা মেনে চলা। ইসলামকে (الإسلام) শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যদিও অন্যান্য সমস্ত ধর্মে মিথ্যাচার (الكذب) নিষিদ্ধ, কারণ বিষয়টি দ্বীনের বিষয়। আর একজন কাফির সাধ্যমতো তার নিজের ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্ম ধ্বংস করার চেষ্টা করে এবং সে এ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত। যতক্ষণ পর্যন্ত এই অভিযোগের উপাদান বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বীনি বিষয়ে তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ না করাটাই হবে ন্যায় ও ইনসাফ। তবে যদি সে কাফির অবস্থায় বর্ণনা শ্রবণ (تحمل) করে কিন্তু মুসলিম অবস্থায় তা বর্ণনা (أداء) করে, তবে তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে।
2 - প্রাপ্তবয়স্ক ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া (التكليف): এটি সাবালকত্ব ও সুস্থ মস্তিষ্কের মাধ্যমে অর্জিত হয়। সুতরাং শিশু ও উন্মাদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে না। প্রথমজনের (শিশুর) ক্ষেত্রে কারণ হলো—শরিয়তের পক্ষ থেকে কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় মিথ্যার ব্যাপারে তার কোনো বাধা নেই। আর দ্বিতীয়জনের (উন্মাদের) ক্ষেত্রে কারণ হলো—তার বোধশক্তি ও পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই। হ্যাঁ, যদি কোনো বোধশক্তিসম্পন্ন শিশু (مميّز) সাবালক হওয়ার আগে বর্ণনা শ্রবণ (تحمل) করে এবং সাবালক হওয়ার পর তা বর্ণনা (أداء) করে, তবে তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে। সাহাবিদের (রা.) ঐকমত্য (إجماع) এর প্রমাণ দেয় যে, তাঁরা একদল অল্পবয়সী সাহাবি যেমন—ইবনে আব্বাস, ইবনুল জুবাইর, মাহমুদ ইবনে রবী এবং অন্যদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণের ব্যাপারে একমত ছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মও এই পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁরা পার্থক্য করার বয়সকে (التمييز) পাঁচ বছর নির্ধারণ করেছেন এবং এক্ষেত্রে মাহমুদ ইবনে রবী (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে সমর্থন গ্রহণ করেছেন: "আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বালতি থেকে আমার মুখে পানি নিয়ে কুলি করে ছিটানো অবস্থায় মনে রেখেছি, তখন আমি পাঁচ বছর বয়সের বালক ছিলাম।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
3 - ন্যায়পরায়ণতা (العدالة): এটি এমন এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা তাকওয়া (التقوى) এবং সৌজন্যবোধ (المروءة) বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
তাকওয়া (التقوى) হলো আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা; আর তা হলো—কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) না করা, সগিরা গুনাহের (صغيرة) ওপর অটল না থাকা এবং বিদআতি (مبتدع) না হওয়া।
সৌজন্যবোধ (المروءة): এটি এমন এক আত্মিক শিষ্টাচার, যার অনুসরণ মানুষকে সুন্দর চরিত্র ও উত্তম রীতিনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে সাহায্য করে।
সৌজন্যবোধের (المروءة) পরিপন্থী বিষয়গুলো দুই প্রকার:
[ক] হীনম্মন্যতা প্রকাশকারী সগিরা গুনাহসমূহ (صغيرة), যেমন তুচ্ছ কোনো বস্তু চুরি করা।
[খ] এমনসব বৈধ কাজ যা অবজ্ঞা তৈরি করে এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, যেমন রাস্তায় প্রস্রাব করা এবং শিষ্টাচারের সীমা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত হাস্যরসিকতা করা। এর মানদণ্ড হলো প্রচলিত অভ্যাস ও সামাজিক প্রথা (العرف)।
(খণ্ড: ১)
দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত্বাবয়া মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والمراد من العدل عند المُحَدِّثِينَ عدل الرواية فيدخل فيه الذكر والأنثى والحُرُّ والعبد والمُبصر والكفيف، وقد كان المُحَدِّثُونَ على حَقٍّ في عدم اشتراط الذكورة أو الحرِيَّةَ أو الإبصار، لأنَّ كثيراً من الأحاديث رَوَتْهَا أمهات المؤمنين وغَيْرُهُنَّ من النساء، ورواها الموالي كزيد بن حارثة، والأكفاء كابن أم مكتوم.
4 - الضبط وهو قسمان:
[أ] ضبط صدر.
[ب] ضبط كتاب.
فالأول: أنْ يحفظ ما سمعه من شيخه بحيث يتمكَّن من استحضاره والتحديث به متى شاء من حين سماعه إلى حين أدائه.
والثاني: هو محافظته على كتابه الذي كتب فيه الأحاديث وصيانته عن أنْ يتطرَّق إليه تغيير ما منذ سماعه فيه وتصحيحه إلى حين الأداء منه، ولا يعيره إِلَاّ لمن يثق فيه ويتأكد من أنْ لا يغيِّر فيه.
وضبط الصدر مُجْمَعٌ عليه، وأما ضبط الكتاب فخالف في قبول الرواية به بعض الأئمة الكبار كأبي حنيفة ومالك (1) - رَحِمَهُمَا اللهُ -، والجمهور على قبول رواية من روى من كتابه بشرط التحفُّظ عليه.
فإذا اجتمع في الراوي هذه الشروط كان أهلاً لقبول روايته، وليس من شك في أنَّ مَنْ توفَّرت فيه هذه الشروط ترجَّح ترجُّحاً قويّاً صدقه على جانب كذبه، بل مَنْ اطَّلع على منهج المُحَدِّثِينَ في النقد وطريقتهم في التعديل والتجريح ومُبالغتهم في التحري عن معرفة حقيقة الراوي وطويَّة نفسه، والأخذ بالظنَّة والتُّهمة في رَدِّ مروياته، يكاد يجزم بأنَّ تجويز الكذب على الراوي المستجمع لهذه الشروط أمر فَرَضِيٌّ واحتمالٌ عقليٌّ، وهذه الحقيقة قد تبدو لبعض مَنْ لَمْ يدرس كتب الرجال والنقد عند المُحَدِّثِينَ فيها شيء من المُغالاة ولكن الحق ما ذكرتُ، ومن أبعد النجعة في كتب القوم عرف، ومن عرف اعترف.
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) নিকট ন্যায়পরায়ণতা (العدل) বলতে বর্ণনার ন্যায়পরায়ণতা (عدل الرواية) বোঝায়; যার অন্তর্ভুক্ত হলো পুরুষ ও নারী, স্বাধীন ও দাস এবং চক্ষুষ্মান ও দৃষ্টিহীন। হাদিস বিশারদগণ (المحدثين) পুরুষ হওয়া, স্বাধীন হওয়া বা চক্ষুষ্মান হওয়াকে শর্ত না করে সঠিক কাজই করেছেন। কারণ অনেক হাদিস উম্মুল মুমিনীন এবং অন্যান্য নারীগণ বর্ণনা করেছেন, আর বর্ণনা করেছেন জায়েদ বিন হারিসার মতো মুক্ত দাস (الموالي) এবং ইবনে উম্মে মাকতুমে মতো দৃষ্টিহীন (الأكفاء) ব্যক্তিগণ।
4 - সংরক্ষণ ও নির্ভুলতা (الضبط); এটি দুই প্রকার:
[ক] স্মৃতির মাধ্যমে সংরক্ষণ (ضبط صدر)।
[খ] পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে সংরক্ষণ (ضبط كتاب)।
প্রথমটি হলো: শায়খের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা এমনভাবে মুখস্থ রাখা যাতে তিনি তা শোনার সময় থেকে বর্ণনা প্রদান (الأداء) করার সময় পর্যন্ত যখনই ইচ্ছা তা স্মরণ করতে ও বর্ণনা করতে সক্ষম হন।
দ্বিতীয়টি হলো: নিজের সেই পাণ্ডুলিপিটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাতে তিনি হাদিসসমূহ লিখে রেখেছেন এবং শোনার পর থেকে তা সংশোধন করা এবং বর্ণনা প্রদান (الأداء) করা পর্যন্ত তাতে কোনো প্রকার পরিবর্তন প্রবেশ করা থেকে তা সুরক্ষিত রাখা। আর তা এমন ব্যক্তি ছাড়া কাউকে ধার না দেওয়া যাকে তিনি বিশ্বাস করেন এবং নিশ্চিত হন যে সে তাতে কোনো পরিবর্তন করবে না।
স্মৃতির মাধ্যমে সংরক্ষণ (ضبط صدر) বিষয়টি সর্বসম্মত (مجمع عليه)। তবে লিখিত পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে সংরক্ষণের (ضبط كتاب) ভিত্তিতে বর্ণনা (الرواية) কবুল করার বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (১) — আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন — এর মতো কিছু মহান ইমাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তবে জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মত হলো, যে ব্যক্তি নিজের পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বর্ণনা কবুল করা হবে, যদি তা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হওয়ার শর্ত পূরণ করে।
যদি কোনো বর্ণনাকারীর (الراوي) মধ্যে এই শর্তগুলো একত্রিত হয়, তবে তিনি বর্ণনা কবুল হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার মধ্যে এই শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে থাকবে, তার মিথ্যা বলার সম্ভাবনার চেয়ে সত্যবাদী হওয়ার বিষয়টিই প্রবলভাবে প্রাধান্য পাবে। বরং যারা হাদিস বিশারদদের (المحدثين) সমালোচনা (النقد) পদ্ধতি, নির্ভরযোগ্যতা প্রদান ও ত্রুটি উদ্ঘাটন (التعديل والتجريح) সংক্রান্ত কর্মপন্থা, বর্ণনাকারীর (الراوي) প্রকৃত অবস্থা ও মনের সংকল্প জানার ক্ষেত্রে তাঁদের অতিমাত্রায় সতর্কতা এবং কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহ বা অভিযোগকেও আমলে নেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাঁরা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলতে পারবেন যে, এই শর্তগুলো পূরণকারী বর্ণনাকারীর (الراوي) ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অবকাশ থাকা কেবল একটি তাত্ত্বিক ও যুক্তিনির্ভর সম্ভাবনা মাত্র। যারা হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নিকট বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ (كتب الرجال) এবং সমালোচনা (النقد) শাস্ত্র অধ্যায়ন করেননি, তাঁদের কাছে এই সত্যটি কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে, কিন্তু আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই সঠিক। যে ব্যক্তি এই জামাতের কিতাবসমূহ গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছে সে তা জেনেছে, আর যে জেনেছে সে তা স্বীকার করেছে।
--------------------------------------------