(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: -)
كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع   (ابن حجر الهيتمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع

المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (ت 974هـ)

المحقق: عبد الحميد الأزهري (والكتاب إهداء من محققه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة)

عدد الصفحات: 206

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المحقق]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433

কাফফুল রাআ’ আন মুহাররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা’   (ইবনে হাজার আল-হাইতামী)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


বই: কাফফুল রাআ’ আন মুহাররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা’

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাজার আল-হাইতামী আস-সা’দী আল-আনসারী, শিহাবুদ্দীন শায়খুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (ওফাত ৯৭৪ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল হামিদ আল-আজহারী (এবং বইটি এর সম্পাদকের পক্ষ থেকে উপহার - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা সম্পাদকের কপির অনুরূপ]

মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب

كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع

تصنيف

ابن حجر الهيتمي

(899 - 974 هـ)

تحقيق

عبد الحميد الأزهري
কিতাব

কাফ্ফুর রেআ' আন মুহাররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা'

গ্রন্থনায়

ইবনে হাজার আল-হাইতামি

(৮৯৯ - ৯৭৪ হিজরি)

তাহকিক

আবদুল হামিদ আল-আজহারি
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌عملي في الكتاب

1 - قمت بعمل ترجمة لمصنِّف الكتاب.

2 - قمتُ بضبط النص بانتخابه من النُّسخ التي سيأتي بيانُها.

3 - قمتُ بتخريج الآيات، والأحاديث، والآثار مع الحكم عليها في الغالب.

4 - قمتُ بالترجَمة لبعض الكُتُبِ، والأعلام التي اعتَمَد عليها المصنِّف.

5 - قمتُ ببيان غريب الألفاظ الواردة في بعض نصوص الكتاب.

منهجي في تحقيق نسخ المخطوط:

اعتمدت في تحقيق الكتاب على نسختين خطيَّتين من أصل سبع مخطوطات داخل المكتبة الأزهرية، ورمزت لهما بالرمزين (ز1)، (ز2)، كما اعتمدت على طبعة مصطفى البابي الحلبي وسمَّيتها بـ (المطبوع)، وبسبب كثرة التصحيفات وسقطِ بعض الكلمات في المخطوط (ز2) جعلتُ أصل الكتاب من المخطوط (ز1)، وعند وجود تصحيفات أو طمس بعض الحروف أو سقط بعض الكلمات أو اختلاف بيِّن في معاني الألفاظ بين المخطوطين - أنبِّه على ذلك في الحاشية.

وقمت باستدراك هذه الكلمات ووضعتُها بين معقوفين، فأيُّ كلمةٍ بين معقوفين فإنها إمَّا سقط أو تصحيف من المخطوط (ز1)، وتَمَّ استدراكه من المخطوط (ز2)، إلَاّ أنْ أنصَّ على خلاف ذلك في الحاشية؛ كأنْ يتمَّ الاستدراك من طبعة مصطفى الحلبي أو من مصادر التحقيق.

كما قد تتَّفق كلمتان بين المخطوط (ز1) و (ز2) في المعنى وتختلف في اللفظ؛ نحو: (الماوردي من كبار أصحابنا)، (الماوردي من كبار أئمَّتنا)، فأترُكها على أصل المخطوط (ز1)، وإذا كان هناك كلمتان اختلفتا في
এই গ্রন্থে আমার কাজ

১ - আমি গ্রন্থকারের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) প্রস্তুত করেছি।

২ - পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে আমি গ্রন্থের মূল পাঠটি সুবিন্যস্ত (ضبط) করেছি।

৩ - আমি কুরআনের আয়াত, হাদিস এবং আসার (آثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর ওপর হুকুম বা মান নির্ধারণ (الحكم) করেছি।

৪ - গ্রন্থকার যেসব কিতাব এবং বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের (الأعلام) ওপর নির্ভর করেছেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকটির এবং কয়েকজনের জীবনী (ترجمة) তুলে ধরেছি।

৫ - গ্রন্থের পাঠে বিদ্যমান বিভিন্ন অপরিচিত বা কঠিন শব্দাবলির (غريب الألفاظ) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় (تحقيق) আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

গ্রন্থটির সম্পাদনায় আমি আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত সাতটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে দুটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি এবং সেগুলোকে (য১) ও (য২) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। পাশাপাশি আমি মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি মুদ্রণটির ওপরও নির্ভর করেছি এবং একে 'মুদ্রিত কপি' (المطبوع) নামে অভিহিত করেছি। পাণ্ডুলিপি (য২)-তে প্রচুর পরিমাণ লিপিপরমাদ (تصحيفات) এবং শব্দের বিলুপ্তি (سقط) থাকার কারণে আমি পাণ্ডুলিপি (য১)-কে গ্রন্থের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। যখনই দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে কোনো লিপিপরমাদ (تصحيفات), অক্ষরের অস্পষ্টতা (طمس), শব্দের বিলুপ্তি (سقط) অথবা শব্দের অর্থে স্পষ্ট কোনো পার্থক্য দেখা দিয়েছে, আমি পাদটীকায় (حاشية) সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি।

আমি এই শব্দগুলোকে পুনরুদ্ধার বা সংশোধন (استدراك) করে তৃতীয় বন্ধনীর (معقوفين) মধ্যে রেখেছি। অতএব, তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত যেকোনো শব্দ হয় পাণ্ডুলিপি (য১) থেকে বিলুপ্ত (سقط) হওয়া বা তাতে লিপিপরমাদ (تصحيفات) হওয়া কোনো শব্দ, যা পাণ্ডুলিপি (য২) থেকে সংশোধন (استدراك) করা হয়েছে। তবে পাদটীকায় (حاشية) যদি এর বিপরীত কিছু উল্লেখ থাকে তবে তা ভিন্ন কথা; যেমন মোস্তফা আল-হালাবি সংস্করণ বা সম্পাদনার অন্যান্য উৎস থেকে সংশোধন করা।

কখনো কখনো পাণ্ডুলিপি (য১) ও (য২)-এর মধ্যে দুটি শব্দ অর্থে এক হলেও শব্দগত ভিন্নতা থাকতে পারে; যেমন: "আল-মাওয়ার্দি আমাদের প্রবীণ সঙ্গীদের (أصحابنا) অন্তর্ভুক্ত", অথবা "আল-মাওয়ার্দি আমাদের প্রবীণ ইমামদের (أئمَّتنا) অন্তর্ভুক্ত"। এমন ক্ষেত্রে আমি পাণ্ডুলিপি (য১)-এর মূল পাঠটিই বহাল রেখেছি। আর যদি এমন দুটি শব্দ থাকে যা ভিন্ন...
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৩)
اللفظ والمعنى أُثبِتُ ما في المخطوط وأبيِّن في الحاشية ما في المطبوع نحو (القراءة، والقرآن).

 

‌‌وصف النسخة:

‌‌1 - النسخة الخطية (ز1):

اعتمدت على النسخة الخطيَّة الموجودة في المكتبة الأزهرية - برقم خاص 1343 - مجامع 57705، وتقَع في 58 ورقة، كلُّ ورقة فيها صفحتان، مسطراتها 23 سطرًا، كتبت بخطٍّ جميل، ويظهَر على طرَّتها اسم الكتاب "كف الرَّعاع عن محرَّمات اللهو والسَّماع لابن حجر الهيتمي".

بداية النسخة: "وقف محمد حسين باشا، بسم الله الرحمن الرحيم، وبه نستعين، الحمد لله الذي حظر مواطن اللهو على عباده … ".

نهاية النسخة: " … وكان الفراغ من كتابة هذه النسخة المباركة يوم الثلاثاء أربعة وعشرون الحجة سنة 1293، على يد كاتبه علي حسانين غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين والمسلمات والمؤمنين والمؤمنات آمين".

ثم ختمها بلاميَّة البوصيري.

 

‌‌2 - النسخة الخطية (ز2):

اعتمدت على النسخة الخطية الموجودة في المكتبة الأزهرية - برقم 307226، وتقع في 60 ورقة، كل ورقة فيها صفحتان، مسطراتها 25 سطرًا، كتبت بخط نسخي جميل، ويظهَرُ على طرَّتها اسم الكتاب "كف الرَّعاع عن محرَّمات اللهو والسَّماع" تأليف العالم العلامة شهاب الدين أحمد بن حجر الهيتمي رحمه الله تعالى.

بداية النسخة: "بسم الله الرحمن الرحيم، وهو حسبي وكفى، الحمد لله الذي حظر مواطن اللهو على عباده … ".
শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে আমি পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা বহাল রেখেছি এবং মুদ্রিত কপিতে যা আছে তা টীকায় স্পষ্ট করেছি, যেমন: (আল-কিরাআহ ও আল-কুরআন)।

 

‌‌কপির বিবরণ:

‌‌১ - পাণ্ডুলিপি সংস্করণ (য১):

আমি আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি - যার বিশেষ নম্বর ১৩৪৩ - মাজামি' ৫৭৭০৫। এটি ৫৮টি পাতায় বিন্যস্ত, প্রতিটি পাতায় দুটি পৃষ্ঠা রয়েছে এবং এর লাইন সংখ্যা ২৩টি। এটি চমৎকার হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর প্রচ্ছদে বইটির নাম "কাফ্ফুর রা'আ' আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা' লি-ইবনে হাজার আল-হাইতামি" হিসেবে দৃশ্যমান।

কপির শুরু: "মুহাম্মদ হুসাইন পাশার ওয়াকফকৃত, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিনোদনের স্থানসমূহ নিষিদ্ধ করেছেন … "।

কপির শেষ: " … এবং এই বরকতময় কপিটি লেখার কাজ শেষ হয়েছে ১২৯৩ হিজরি সালের ২৪শে জিলহজ, মঙ্গলবার। লেখক আলী হাসনাইনের হাতে এটি সম্পন্ন হয়েছে; আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিম ও মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন, আমীন"।

এরপর তিনি আল-বুসিরির 'লামিয়্যাহ' কবিতা দিয়ে এটি শেষ করেছেন।

 

‌‌২ - পাণ্ডুলিপি সংস্করণ (য২):

আমি আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি - যার নম্বর ৩০৭২২৬। এটি ৬০টি পাতায় বিন্যস্ত, প্রতিটি পাতায় দুটি পৃষ্ঠা রয়েছে এবং এর লাইন সংখ্যা ২৫টি। এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এর প্রচ্ছদে বইটির নাম "কাফ্ফুর রা'আ' আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা'" হিসেবে দৃশ্যমান, যার রচয়িতা আলিম আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামি (রহমতুল্লাহি আলাইহি)।

কপির শুরু: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিনোদনের স্থানসমূহ নিষিদ্ধ করেছেন … "।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৪)
نهاية النسخة: " … تَمَّ الكتاب بعون الملك الوهَّاب، والحمد لله رب العالمين، وصلَّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، تَمَّ وكمل".

 

‌‌3 - النسخة المطبوعة:

نسخة شركة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر مطبوعة مع ضمن كتاب "الزواجر عن اقتراف الكبائر" للمصنف نفسه، وطبع معها أيضًا: "الإعلام بقواطع الإسلام" للمصنف أيضًا.

مميزات النسخة المطبوعة:

بها جهدٌ بيِّن وواضح في المقابلة، وإنْ كان يُؤخَذ عليها عدم الاهتمام بتحقيق الكتب حديثيًّا، وتطوير ورق الكتب لديها.

 

‌‌أمثلة للأخطاء في النسختين (الخطية، والمطبوعة) وتَمَّ تصويبها من مصادر التحقيق:

أ- قال المصنف: "ادعى الكمال جعفر الأُدفوي فِي كتابه "الإسماع في أحكام السماع"".

الصواب: "ادعى الكمال جعفر الأُدفوي فِي كتابه "الإمتاع في أحكام السماع"".

ب- قال المصنِّف: "أنَّ تفسير الكوبة من كلام راويه علي بن نديمة".

الصواب: "أنَّ تفسير الكوبة من كلام راويه علي بن بذيمة".

ج- قال المصنِّف: "وذُكِرَ عند [عبدالله] بن سيرين الذِينَ يُصْرَعُونَ".

الصواب: "وذُكِرَ عند [محمد] بن سيرين الذِينَ يُصْرَعُونَ".

د- قال المصنف: "وعن روح ابنة أبي لهب قالت: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم[حين تزوجت ابنة أبي لهب] فقال: ((هل من لهو؟))؛ رواه أحمد".
পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি: " … মহান দানশীল অধিপতির সাহায্যে বইটি সমাপ্ত হলো। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। কাজ সমাপ্ত ও পূর্ণ হলো।"

 

‌‌৩ - মুদ্রিত সংস্করণ:

মিশরের মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স কোম্পানির সংস্করণটি খোদ গ্রন্থকারেরই "আজ-জাওয়াজির আন ইক্তিরাফ আল-কাবাইর" কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সাথে গ্রন্থকারেরই "আল-ইলাম বি কাওয়াতি আল-ইসলাম" কিতাবটিও মুদ্রিত হয়েছে।

মুদ্রিত সংস্করণের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এতে পাণ্ডুলিপি তুলনামূলক পাঠের (مقابلة) ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়, যদিও হাদিসতাত্ত্বিকভাবে (حديثياً) কিতাবটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে অমনোযোগিতা এবং ব্যবহৃত কাগজের গুণগত মান বৃদ্ধির অভাব একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে ধরা হয়।

 

‌‌উভয় সংস্করণে (পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত) বিদ্যমান ভুলসমূহের উদাহরণ এবং তা সম্পাদনার (تحقيق) মূল উৎস থেকে সংশোধন করা হয়েছে:

ক- গ্রন্থকার বলেন: "কামাল জাফর আল-উদফুয়ি তাঁর 'আল-ইসমা ফি আহকামিস সামা' কিতাবে দাবি করেছেন।"

সঠিক রূপ: "কামাল জাফর আল-উদফুয়ি তাঁর 'আল-ইমতা ফি আহকামিস সামা' কিতাবে দাবি করেছেন।"

খ- গ্রন্থকার বলেন: "নিশ্চয়ই কুবাহ-এর ব্যাখ্যা এর বর্ণনাকারী (راوي) আলি ইবনে নাদিমাহ-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত।"

সঠিক রূপ: "নিশ্চয়ই কুবাহ-এর ব্যাখ্যা এর বর্ণনাকারী (راوي) আলি ইবনে বাযিমাহ-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত।"

গ- গ্রন্থকার বলেন: "আর [আবদুল্লাহ] ইবনে সিরিনের নিকট ঐসব ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হলো যারা মূর্ছা যায়।"

সঠিক রূপ: "আর [মুহাম্মদ] ইবনে সিরিনের নিকট ঐসব ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হলো যারা মূর্ছা যায়।"

ঘ- গ্রন্থকার বলেন: "আবু লাহাবের কন্যা রূহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন [যখন আবু লাহাবের কন্যা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন], অতঃপর তিনি বললেন: ((এখানে কি কোনো বিনোদন আছে?)); এটি আহমদ বর্ণনা (رواه) করেছেন।"
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৫)
الصواب: "وعن زوج ابنة أبي لهب قال: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم[حين تزوجت ابنة أبي لهب] فقال: ((هل من لهو؟))؛ رواه أحمد".

هـ- قال المصنف: "وقال وكيع وسفيان في قوله تعالى: {وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالأَزْلَامِ} (1) هي الشِّطرَنج".

الصواب: "وقال سفيان بن وكيع في قوله تعالى: {وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالأَزْلَامِ} هي الشِّطرَنج".

وقال المصنف في المخطوط: "وأنه صلى الله عليه وسلم صارع ركانة على شاة رواه أبو داود، والترمذي عن محمد بن ركانة صارع النبي صلى الله عليه وسلم".

وفي المطبوع: "وأنَّه صلى الله عليه وسلم صارَعَ رُكانَةَ على شاة رواه أبو داود، والتِّرْمِذِيُّ عن محمد بن رُكانَةَ أنَّ ركانة صارعَ النبي صلى الله عليه وسلم".

الصواب: "وأنه صلى الله عليه وسلم صارَعَ رُكانَةَ على شاةٍ رواه أبو داوُد، والتِّرْمِذِيُّ [من حديث أبي الحسن العَسقلاني، عن أبي جعفر بن محمد بن رُكانَةَ: أنَّ ركانة] صارَعَ النبي صلى الله عليه وسلم".

 

‌‌أمثلة الأخطاء في النسخة المطبوعة وتَمَّ تصويبها من المخطوط أو من مصادر التحقيق:

أ- في المطبوع: "والقاضي شريح، والزبير بن بكار فِي روضتيهما".

الصواب: "وللقاضي شريح والزبير بن بكار فِي زوجتيهما".

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة: 3.
সঠিক পাঠ: "আবু লাহাবের কন্যার স্বামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন [যখন আমি আবু লাহাবের কন্যাকে বিবাহ করেছিলাম], অতঃপর বললেন: ((এখানে কি কোনো আমোদ-প্রমোদ আছে?)); এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।"

ঙ- গ্রন্থকার বলেন: "ওয়াকি এবং সুফিয়ান মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ করা} (১) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো দাবা খেলা।"

সঠিক পাঠ: "সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ করা} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো দাবা খেলা।"

এবং পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থকার বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরির বিনিময়ে রুকানার সাথে কুস্তি লড়েছিলেন, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; এবং তিরমিজি মুহাম্মদ ইবনে রুকানা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুস্তি লড়েছিলেন।"

এবং মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরির বিনিময়ে রুকানার সাথে কুস্তি লড়েছিলেন, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; এবং তিরমিজি মুহাম্মদ ইবনে রুকানা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রুকানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুস্তি লড়েছিলেন।"

সঠিক পাঠ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরির বিনিময়ে রুকানার সাথে কুস্তি লড়েছিলেন, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; এবং তিরমিজি [আবুল হাসান আল-আসকালানি এর বর্ণিত হাদিস হতে, আবু জাফর বিন মুহাম্মদ বিন রুকানা এর সূত্রে: নিশ্চয়ই রুকানা] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুস্তি লড়েছিলেন।"

 

‌‌মুদ্রিত সংস্করণে বিদ্যমান ভুলসমূহের উদাহরণ যা পাণ্ডুলিপি অথবা তাহকিক (تحقيق) এর উৎসসমূহ হতে সংশোধন করা হয়েছে:

ক- মুদ্রিত কপিতে আছে: "এবং বিচারক শুরাইহ ও জুবায়ের ইবনে বাক্কার তাদের দুই বাগানে।"

সঠিক পাঠ: "এবং বিচারক শুরাইহ ও জুবায়ের ইবনে বাক্কার তাদের দুই স্ত্রীর ব্যাপারে।"

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ: ৩।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৬)
ب- في المطبوع: "وفي "التهذيب": إنْ كان التشبيب في امرأةٍ معيَّنة أو غُلام معيَّن فسق، وإلَاّ فلا وهو إنْ صحَّ وإنْ قال الروياني".

الصواب: "وفي "التهذيب": إنْ كان فِي التشبيب بامرأةٍ معيَّنة أو غُلام معيَّن فسق، وإلَاّ فلا، وهو الأصحُّ، وإنْ قال الروياني".

ج- في المطبوع: "بل الغالب أنَّ القصد به برقيق الشعر وإظهار الصَّنعة".

الصواب: "بل الغالب أنَّ القصد به ترقيق الشعر وإظهار الصَّنعة".

3 - التضاد بين النسختين (الخطية، والمطبوعة):

أ - في المطبوع: "فظاهر كلام ابن الحاجب موافقته عن بعض المالكية".

في المخطوط: "فظاهر كلام غير ابن الحاجب موافقته، قال بعض المالكية".

ففي هذا الموضع أقوم بإثبات ما في المخطوط، وأذكُر ما في المطبوع في الهامش.

* * *

 

‌‌ترجمة ابن حجر الهيتمي

‌‌اسمه: أبو العبَّاس أحمد بن محمَّد بن عليِّ بن حَجَرٍ الهيتميُّ ثم المكيُّ السَّعدي الأنصاري.

‌‌نسبه ومولده: السَّعدي: نسبةً إلى بني سعد من عرب الشرقيَّة (بمصر)، والهيتمي نسبةً إلى محلَّة أبي الهيتم (من إقليم الغربيَّة بمصر)، والتي وُلِدَ فيها وإليها نسبته الأكثر شُهرةً، وُلِد عام 899هـ.

‌‌شيوخه: قال الكتاني فِي "فهرس الفهارس": يروي عن القاضي زكرياء، والمعمر الزين عبدالحق السنباطي، وشيخ الإسلام كمال الدين بن حمزة، والشمس المشهدي، والشمس السمنودي، وابن عز الدين السنباطي، والأمين الغمري، كلهم من تلاميذ الحافظ ابن حجر، والحافظ السيوطي،
খ- মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং 'আত-তাহজীব'-এ আছে: যদি কোনো নির্দিষ্ট নারী বা কোনো নির্দিষ্ট কিশোরের প্রতি প্রেমের কাব্য (تشبيب) করা হয়, তবে তা পাপাচার (فسق) বলে গণ্য হবে; নতুবা নয়। আর এটিই সঠিক যদি রুইয়ানি তা বলে থাকেন।"

সঠিক পাঠ: "এবং 'আত-তাহজীব'-এ আছে: যদি কোনো নির্দিষ্ট নারী বা কোনো নির্দিষ্ট কিশোরের প্রতি প্রেমের কাব্য (تشبيب) করা হয়, তবে তা পাপাচার (فسق) বলে গণ্য হবে; নতুবা নয়। আর এটিই অধিকতর সঠিক (الأصحُّ), যদিও রুইয়ানি তা বলেছেন।"

গ- মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য হলো কবিতার কোমলতা এবং শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শন করা।"

সঠিক পাঠ: "বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য হলো কবিতাকে কোমল (ترقيق) করা এবং শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শন করা।"

৩ - দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে বৈপরীত্য (হস্তলিখিত ও মুদ্রিত):

ক - মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "ইবনে হাজিবের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় তিনি কিছু মালিকি আলেমের সাথে একমত পোষণ করেছেন।"

পাণ্ডুলিপিতে (المخطوط) রয়েছে: "ইবনে হাজিব ব্যতীত অন্যের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় তিনি একমত পোষণ করেছেন, জনৈক মালিকি আলেম বলেছেন।"

সুতরাং এই স্থানে আমি পাণ্ডুলিপিতে (المخطوط) যা আছে তা বহাল রাখছি এবং মুদ্রিত কপিতে যা আছে তা পাদটীকায় উল্লেখ করছি।

* * *

 

‌‌ইবনে হাজার আল-হাইতামি-এর জীবনী (ترجمة)

‌‌তাঁর নাম: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাজার আল-হাইতামি, অতঃপর আল-মাক্কি আস-সাদি আল-আনসারি।

‌‌বংশ পরিচয় ও জন্ম: আস-সাদি: এটি মিসরের শারকিয়া অঞ্চলের আরব গোত্র বনু সা’দ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর আল-হাইতামি: এটি মিসরের গারবিয়া প্রদেশের ‘আবু আল-হাইতাম’ নামক জনপদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং এই সম্বন্ধেই (নিসবত) তিনি অধিক পরিচিত। তিনি ৮৯৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌শিক্ষকবৃন্দ: কাত্তানি 'ফিহরিসুল ফাহারিস' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি বর্ণনা করেন (يروي) কাজি জাকারিয়া, দীর্ঘজীবী জাইন আব্দুল হক আস-সিনবাতি, শায়খুল ইসলাম কামালুদ্দিন বিন হামজা, শামস আল-মাশহাদি, শামস আস-সামানুদি, ইবনে ইজ্জুদ্দিন আস-সিনবাতি এবং আল-امین আল-গুমারি থেকে। তাঁরা সকলেই হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার এবং হাফেজ (الحافظ) সুয়ুতির ছাত্র।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৭)
وأبي الحسن البكري، وغيرهم، وله معجمٌ فِي مجلَّد وسط ذكر فيه إجازات مشايخه، والكتب التي أجازُوه بها، وقَفتُ على نُسخةٍ منه بخطِّ حَفِيدِه الشيخ محمد رضي الدين بن عبدالرحمن بن أحمد بن حجر المذكور، فرغ من نسخه عام 1030، وهي موجودةٌ بالمكتبة الخديويَّة بمصر.

 

‌‌ثناء العلماء عليه: قال عنه الزركلي فِي "الأعلام": فقيه باحث مصري، تلقَّى العلم فِي الأزهر، ومات بمكة، له تصانيف كثيرة (1).

وقال عنه صديق حسن خان: كان أعظم عُلَماء عصره، وفُقَهاء دهره، لم يكن له نظيرٌ فِي الفقاهة فِي زمانه، وقال عنه الشيخ عبدالحق الدهلوي: لا نسبةَ له بالشيخ ابن حجر العسقلاني الكبير فِي علم الحديث، ولكن يحتمل أنْ يكون فِي الفقه مثله، تتَلمَذ على الشيخ زكريا المصري الآخِذ عن الحافظ ابن حجر العسقلاني (2).

وقال الكتاني في "فهرس الفهارس": الفقيه، المحدث، الصوفي، صاحب التآليف العديدة التي عليها المدار عند الشافعيَّة فِي الحجاز، واليمن، وغيرهما، قال فيه الشهاب الخفاجي فِي "الريحانة" لما ترجمه: علامة الدهر خُصوصًا الحجاز، فكم حجَّت وُفود الفُضَلاء لكعبته، وتوجَّهت وُجوه الطلب إلى قبلته، إنْ حدَّث عن الفقه والحديث لم تتقرَّط الآذان بمثل أخباره فِي القديم والحديث، فهو العلياء والسند (3).

 

‌‌ما أخذ العلماء عليه: قال صديق حسن خان فِي "أبجد العلوم": وكان له تعصُّب مع شيخ الإسلام ابن تيميَّة شديد - عفا الله عنه ما جناه.

--------------------------------------------

(1) "الأعلام"؛ للزركلي (1/ 234).

(2) "أبجد العلوم"؛ للقنوجي (1/ 661).

(3) "فهرس الفهارس"؛ للكتاني (1/ 337).
...এবং আবুল হাসান আল-বাকরি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে। তাঁর এক খণ্ডের একটি মাঝারি আকারের মু'জাম (সংকলন) রয়েছে যাতে তিনি তাঁর উস্তাদদের ইজাযতসমূহ (إجازات) এবং তাঁরা তাঁকে যেসব কিতাবের ইজাযত (إجازات) দিয়েছেন তার উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁর নাতি শেখ মুহাম্মদ রদিউদ্দিন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে হাজর আল-মাজকুর-এর হস্তলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি, যা তিনি ১০৩০ হিজরিতে লিখে শেষ করেছিলেন; বর্তমানে এটি মিশরের খেদিভিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা: আল-যিরিকলি 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি মিশরের একজন ফকিহ (فقيه) ও গবেষক ছিলেন, আল-আযহারে শিক্ষা লাভ করেন এবং মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে (১)।

সিদ্দিক হাসান খান তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম এবং ফকিহ (فقيه) ছিলেন; সমসাময়িককালে ফিকহশাস্ত্রে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। শেখ আবদুল হক দেহলভি তাঁর সম্পর্কে বলেন: হাদিস বিজ্ঞানে হাফেজ ইবনে হাজর আসকালানি আল-কাবির-এর সাথে তাঁর কোনো তুলনা হয় না, তবে ফিকহশাস্ত্রে তিনি সম্ভবত তাঁর মতো মর্যাদার অধিকারী। তিনি মিশরীয় শেখ জাকারিয়ার নিকট শিক্ষা লাভ করেন, যিনি হাফেজ ইবনে হাজর আসকালানি থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (২)।

আল-কাত্তানি 'ফিহরিসুল ফাহরিস' গ্রন্থে বলেন: তিনি একজন ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث) এবং সুফি ছিলেন। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা, হিজাজ ও ইয়েমেনসহ অন্যান্য অঞ্চলের শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীদের নিকট তাঁর কিতাবসমূহই মূল ভিত্তি। শিহাব আল-খাফাজি 'আর-রায়হানা' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনায় বলেন: তিনি যুগের আল্লামা (علامة), বিশেষ করে হিজাজ অঞ্চলে। কতই না বিদগ্ধ পণ্ডিতদের কাফেলা কাবার ন্যায় তাঁর পানে ছুটে আসত এবং জ্ঞানান্বেষীরা তাঁর অভিমুখে মনোনিবেশ করত। তিনি যদি ফিকহ ও হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন, তবে প্রাচীন বা বর্তমানকালে তাঁর বর্ণনার মতো কোনো সংবাদ কর্ণগোচর হতো না। তিনিই সুউচ্চ মর্যাদা ও সনদ (سند)-এর আধার (৩)।

 

‌‌আলেমগণ তাঁর সম্পর্কে যেসব সমালোচনা করেছেন: সিদ্দিক হাসান খান 'আবজাদুল উলুম' গ্রন্থে বলেন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর চরম গোঁড়ামি ছিল—আল্লাহ তাঁর এই অপরাধ ক্ষমা করুন।

--------------------------------------------

(১) যিরিকলির "আল-আ'লাম" (১/ ২৩৪)।

(২) কান্নুজির "আবজাদুল উলুম" (১/ ৬৬১)।

(৩) কাত্তানির "ফিহরিসুল ফাহরিস" (১/ ৩৩৭)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تصانيفه: له مؤلَّفات ماتعة منها: الإمداد فِي شرح الإرشاد للمقري، الإيعاب فِي شرح العباب، الإعلام بقواطع الإسلام فِي الألفاظ المكفرة، الجوهر المنظم فِي زيارة قبر النبي المكرم - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - الخيرات الحسان فِي مناقب الإمام أبي حنيفة النعمان، الدر المنضود فِي الصلاة على صاحب اللواء المعقود - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - الدر المنظوم فِي تسلية المهموم فِي الصلاة، الدرر الزاهرة فِي كشف بيان الآخرة، الزواجر عن اقتراف الكبائر، الصواعق المحرقة فِي الردِّ على أهل البدع والزندقة، الفضائل الكاملة لذوي الولاة العادلة، الفقه الجلي فِي الرد على الخلي، القول الحلي فِي خفض المعتلي، القول المختصر فِي علامات المهدي المنتظر، المناهل العذبة فِي إصلاح ما هي من الكعبة، المنح المكية فِي شرح همزية البوصيري، المنهج القويم فِي مسائل التعليم، النخب الجليلة فِي الخطب الجزيلة، النعمة الكبرى على العالم بمولد سيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم أسنى المطالب فِي صلة الأقارب، أشرف الوسائل إلى فهم الشمائل، إتحاف أهل الإسلام بخصوصيَّات الصيام، إرشاد أهل الغنى والأناقة فيما جاء فِي الصدقة والضيافة، إسعاف الأبرار شرح مشكاة الأنوار، تحذير الثقات من أكل الكفتة والقات، تحرير الكلام فِي القيام عند ذكر مولد خير الأنام، تحرير المقال فِي آداب وأحكام وفوائد يحتاج إليها مؤدبو الأطفال، تحفة الزوار إلى قبر النبي المختار - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - تحفة المحتاج فِي شرح المنهاج، تطهير الجنان واللسان عن الخوض والتفوُّه بمثالب سيدنا معاوية بن أبي سفيان له، تطهير العيبة من دنس الغيبة، تلخيص الأحرا فِي حكم الطلاق المعلق بالأبرا، تَنْبِيه الأخيار عن مُعضِلات وقعت فِي كتاب الوظائف وأذكار الأذكار، خلاصة الأئمَّة الأربعة، درر الغمامة فِي
তাঁর রচনাবলী: তাঁর বেশ কিছু চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মুকরির ‘আল-ইরশাদ’-এর ব্যাখ্যায় ‘আল-ইমদাদ’, ‘আল-উবাব’-এর ব্যাখ্যায় ‘আল-ইউয়াব’, কুফরি বাক্যাবলীর মাধ্যমে ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবহিতকরণ ‘আল-ইলাম’, সম্মানিত নবী —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম— এর রওজা যিয়ারত প্রসঙ্গে ‘আল-জাওহারুল মুনাজ্জাম’, ইমাম আবু হানিফা আল-নুমানের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় ‘আল-খাইরাতুল হিসান’, পতাকাবাহী মহানবী —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম— এর প্রতি দরুদ পাঠের ফযিলতে ‘আদ-দুররুল মানদুদ’, সালাত ও দরুদের মাধ্যমে দুশ্চিন্তাগ্রস্তদের সান্ত্বনা প্রদানে ‘আদ-দুররুল মানজুম’, পরকালের বর্ণনার রহস্য উন্মোচনে ‘আদ-দুরারুয যাহিরাহ’, কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ককারী ‘আয-যাওয়াযির’, বিদআত ও ধর্মদ্রোহীদের খণ্ডনে ‘আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা’, ন্যায়পরায়ণ শাসকদের পূর্ণাঙ্গ ফযিলত বর্ণনায় ‘আল-ফাদাইলুল কামিলাহ’, রিক্তদের খণ্ডনে ‘আল-ফিকহুল জালি’, দাম্ভিকদের দমনে ‘আল-কাওলুল হাল্লি’, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীর আলামতসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ‘আল-কাওলুল মুখতাসার’, কাবার সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে ‘আল-মানাহিলুল আযবাহ’, বুসিরির হামজিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যায় ‘আল-মিনাহুল মাক্কিয়্যাহ’, শিক্ষা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে ‘আল-মানহাজুল কাওয়িম’, দীর্ঘ ভাষণসমূহের উৎকৃষ্ট সংকলন ‘আল-নুখাবুল জালিলাহ’, আদম সন্তানের সরদারের জন্ম উপলক্ষে বিশ্বের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ‘আন-নিমাতুল কুবরা’ —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব বর্ণনায় ‘আসনা আল-মাতালিব’, মহানবীর গুণাবলী অনুধাবনের শ্রেষ্ঠ উপায় ‘আশরাফুল ওয়াসায়িল’, সিয়ামের বিশেষত্ব নিয়ে আহলে ইসলামকে উপহার ‘ইতহাফ আহলিল ইসলাম’, সদকা ও আতিথেয়তা সম্পর্কে বিত্তবান ও সুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিদের দিকনির্দেশনা ‘ইরশাদ আহলিল গিনা’, ‘মিশকাতুল আনোয়ার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ইসআফুল আবরার’, কোফতা ও কাত খাওয়া থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের সতর্কীকরণ, সৃষ্টিসেরার জন্মের আলোচনায় দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন প্রসঙ্গে ‘তাহরিরুল কালাম’, শিশুদের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় আদব, আহকাম ও উপকারিতা বর্ণনায় ‘তাহরিরুল মাকাল’, মনোনীত নবী —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম— এর রওজায় যিয়ারতকারীদের জন্য উপহার ‘তুহফাতুয যুউয়ার’, ‘আল-মিনহাজ’-এর ব্যাখ্যায় ‘তুহফাতুল মুহতাজ’, আমাদের নেতা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের দোষ চর্চা করা থেকে অন্তর ও জিহ্বাকে পবিত্র রাখা প্রসঙ্গে ‘তাতহিরুল জানান ওয়াল লিসান’, গিবতের পঙ্কিলতা থেকে অন্তর পবিত্রকরণ ‘তাতহিরুল আইবাহ’, মুক্তি বা ইবরার সাথে সংশ্লিষ্ট তালাকের হুকুমে ‘তালখিসুল আহরা’, ‘কিতাবুল ওয়াযাইফ’ ও ‘আযকারুল আযকার’-এ বিদ্যমান জটিল সমস্যাসমূহ (معضلات) সম্পর্কে নেককার ব্যক্তিদের সতর্কীকরণ, চার ইমামের সংক্ষিপ্ত জীবনী ‘খুলাসাতুল আইম্মাতিল আরবাআহ’, ‘দুরারুল গামামাহ ফি...’
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ৯)
در الطيلسان والعذبة والعمامة، زوائد على سنن ابن ماجه، شرح الشمائل للترمذي، شرح عين العلم فِي السلوك، شرح مشكاة المصابيح للتبريزي، الفتاوى الحديثية، الفتاوى الفقهية، فتح الجواد على شرح الإرشاد فِي الفروع، فتح الإله شرح المشكاة، فتح المبين فِي شرح الأربعين للنووي، قرة العين فِي بيان أنَّ التبرع لا يبطله الدين، قلائد العقيان فِي مناقب النعمان، كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع، مبلغ الأرب فِي فضل العرب، معدن اليواقيت الملتمعة فِي مناقب الأئمة الأربعة، نصيحة الملوك.

 

‌‌وفاته: توفي سنة 974، وما يُفهَم من عبارة صاحب "خلاصة الأثر" من أنَّ وفاته سنة 995 غلط، وما فِي فهرسة الدمنتي الكبير أنَّه مات فِي 3 رجب 964 غلط.

‌‌تنبيه: يُفرَّق بين المصنِّف ابن حجر الهيتمي بالمثنَّاة الفوقيَّة، وبين الهيثمي بالمثلَّثة المحدِّث نور الدين صاحب "مجمع الزوائد" (ت 807 هـ) علي بن أبي بكر أبي الحسين نور الدين الهيثمي، المصري القاهري.

‌‌صحَّة نسبة الكتاب إلى مؤلفه:

1 - قال الهيتمي في "الفتاوى الفقهية الكبرى": وذكرت في كتابي "كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع" أحاديث أُخَر في ذلك؛ منها: قوله صلى الله عليه وسلم ((إنَّ لله عز وجل في كلِّ يوم وليلة ثلاثمائة وستين نظرةً إلى خَلقِه يرحَمُ بها عباده، ليس لصاحب الشاه فيها نَصِيبٌ)) … إلخ (1).

--------------------------------------------

(1) "الفتاوى الفقهية الكبرى" (4/ 362)، ط المكتبة الإسلامية.
দুররুত তায়লাসান ওয়াল আদাবাহ ওয়াল ইমামাহ, যাওয়ায়েদ আলা সুনান ইবনে মাজাহ, শারহুশ শামায়িল লিত তিরমিযী, শারহু আইনিল ইলম ফিস সুলুক, শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ লিত তাবরিযী, আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া ফিকহিয়্যাহ, ফাতহুল জাওয়াদ আলা শারহিল ইরশাদ ফিল ফুরু, ফাতহুল ইলাহ শারহুল মিশকাত, ফাতহুল মুবিন ফি শারহিল আরবাঈন লিন নাওয়াওয়ী, কুররাতুল আইন ফি বায়ানি আন্নাত তাবাররুআ লা ইয়ুবতিলুহুদ দাইন, কালায়িদিল উকিয়ান ফি মানাকিবিল নুমান, কাফফুর রাআ' আন মুহাররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা, মাবলাগুল আরাব ফি ফাদলিল আরাব, মাদিনুল ইয়াওয়াকিতিল মুলতামিআহ ফি মানাকিবিল আইম্মাতিল আরবাআহ, নাসিহাতুল মুলুক।

 

‌‌মৃত্যু: তিনি ৯৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। 'খুলাসাতুল আসার' গ্রন্থের রচয়িতার বক্তব্য থেকে তাঁর মৃত্যু ৯৯৫ হিজরি বলে যা প্রতীয়মান হয় তা ভুল, এবং 'ফিহরিসাতুদ দিমানতি আল-কাবীর' গ্রন্থে তাঁর মৃত্যু ৩রা রজব ৯৬৪ হিজরি বলে যা বর্ণিত হয়েছে তাও ভুল।

‌‌সতর্কীকরণ: গ্রন্থকার ইবনে হাজার আল-হায়তামী (যাঁর নাম দুই নকতা বিশিষ্ট ‘তা’ সহ) এবং 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ' গ্রন্থের সংকলক হাদিস বিশারদ (محدث) নূরুদ্দীন আল-হাইসামীর (যাঁর নাম তিন নকতা বিশিষ্ট ‘সা’ সহ) মধ্যে পার্থক্য করতে হবে; যিনি হলেন আলী বিন আবী বকর আবিল হুসাইন নূরুদ্দীন আল-হাইসামি, মিসরী কাহেরী (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)।

‌‌লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা:

১ - আল-হায়তামী 'আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থে বলেন: "আমি আমার গ্রন্থ 'কাফফুর রাআ' আন মুহাররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা'-এ এ বিষয়ে অন্যান্য হাদিস উল্লেখ করেছি; তন্মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর জন্য প্রতিটি দিন ও রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি তিনশত ষাটটি করুণার দৃষ্টি রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেন; তবে পাশা (দাবা) খেলোয়াড়ের জন্য এতে কোনো অংশ নেই)) … ইত্যাদি (১)।

--------------------------------------------

(১) 'আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা' (৪/৩৬২), আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১০)
2 - وقال الهيتمي أيضًا في "تحفة المحتاج شرح المنهاج": (ويُكرَه الغِناءُ) بكسر أوَّله وبالمد (بلا آلةٍ وسماعُه)؛ يعني: استماعه لا مجرَّد سماعه بلا قصد؛ لما صحَّ عن ابن مسعودٍ، ومثلُه لا يُقال من قِبَلِ الرأي، فيكون في حكم المرفوع أنَّه يُنبِت النِّفاق في القلب كما ينبت الماء البقل، وجاء مرفوعًا من طُرُقٍ كثيرةٍ بيَّنتُها في كتابي "كف الرَّعاع عن محرمات اللهو والسماع" (1).

3 - وممَّن نسَب كتاب "كف الرَّعاع" إلى ابن حجرٍ الهيتمي (خيرالدين الزركلي في "الأعلام"، ويوسف إليان سركيس في "معجم المطبوعات"، والحاج خليفة في "كشف الظنون"، والعيدروس في "النور السافر").

4 - لم يُشكِّك أحدٌ من العلماء المدقِّقين والمحقِّقين المحرِّرين في نسبة الكتاب إلى المصنِّف ابن حجر الهيتمي (2).

--------------------------------------------

(1) "تحفة المحتاج شرح المنهاج" (10/ 219) ط دار إحياء التراث العربي.

(2) راجع: "الأعلام"؛ للزركلي (1/ 234)، "أبجد العلوم"؛ للقنوجي (1/ 661)، "فهرس الفهارس"؛ للكتاني (1/ 337)، "معجم المطبوعات العربية والمعربة"؛ ليوسف إليان سركيس (1/ 83)، "كشف الظنون"؛ للحاج خليفة (2/ 1502).
2 - আল-হাইতামী "তুহফাতুল মুহতাজ শারহুল মিনহাজ" গ্রন্থে আরও বলেছেন: "(গান গাওয়া মাকরূহ)" প্রথম বর্ণে কাসরা এবং দীর্ঘস্বর যোগে (বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত এবং তা শোনা); অর্থাৎ: এটি মনোযোগ দিয়ে শোনা, উদ্দেশ্যহীনভাবে কেবল কানে আসা নয়; কারণ ইবনে মাসউদ থেকে এটি বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর এই ধরনের কথা নিজস্ব রায় বা মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়, ফলে তা মারফু (مرفوع) এর পর্যায়ভুক্ত হবে যে, তা অন্তরে নিফাক বা কপটতা সৃষ্টি করে যেমনভাবে পানি শস্য উৎপাদন করে। এবং এটি অনেকগুলো সূত্র (طرق) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা আমি আমার "কাফফুর রাআ’ আন মুহররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা’" নামক কিতাবে স্পষ্ট করেছি (১)।

3 - যারা "কাফফুর রাআ’" গ্রন্থটিকে ইবনে হাজার আল-হাইতামীর প্রতি নিসবত বা সম্পৃক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ("আল-আ’লাম" গ্রন্থে খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি, "মু’জামুল মাতবুয়াত" গ্রন্থে ইউসুফ ইলিয়ান সারকিস, "কাশফুয যুনুন" গ্রন্থে হাজি খলিফা এবং "আন-নুর আস-সাফির" গ্রন্থে আল-আইদারুস)।

4 - সূক্ষ্মদর্শী আলেম এবং সত্যনিষ্ঠ গবেষক (محققين) ও বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউই গ্রন্থটি লেখক ইবনে হাজার আল-হাইতামীর হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি (২)।

--------------------------------------------

(১) "তুহফাতুল মুহতাজ শারহুল মিনহাজ" (১০/ ২১৯), দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি সংস্করণ।

(২) দেখুন: জিরিকলি প্রণীত "আল-আ’লাম" (১/ ২৩৪), কান্নওজি প্রণীত "আবজাদুল উলুম" (১/ ৬৬১), কাত্তানি প্রণীত "ফিহরিসুল ফাহারিস" (১/ ৩৩৭), ইউসুফ ইলিয়ান সারকিস প্রণীত "মু’জামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মু’আররাবাহ" (১/ ৮৩), হাজি খলিফা প্রণীত "কাশফুয যুনুন" (২/ ১৫০২)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১১)
كتاب

كف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع لابن حجر الهيتمي

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين (1)

الحمدُ لله الذي حظَر مواطن اللهو على عِباده، وخلص من ريبه وشُبَهِه المصطفَيْن لقُربِه ووداده؛ لما امتنَّ به عليهم فعرَّفهم دسائسَ النُّفوس المانعة من فهْم حكمه ومُراده، وكشَف لهم عن تسويلات الشيطان لا سيَّما على قومٍ زعَمُوا التصوُّف والعرفان، وغفلوا عن قول أعظم الصدِّيقين بعد الأنبياء والمرسَلين: ((أبِمَزاميرِ الشَّيْطانِ في بيتِ رسول الله؟)) (2)، صلى الله عليه وسلم وشَرَّفَ وَكَرَّمَ، لما غلب عليهم من الشهوات ومحبَّة البطالات، والسعي فِي جلب فسَقَة العامَّة إلى مجالسهم لينالوا من حُطامهم وخَسائسهم الجالبة لهم إلى القطيعة، لعدم عملهم (3) بما قاله أئمَّة الحقيقة والشريعة (4)، فحمدًا لك اللهمَّ أنْ وفَّقتنا لردِّ سَقطاتهم الشنيعة، وتقولاتهم الفظيعة.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحدَه لا شريك له شهادةً أنجو بها من مَكائِد الشيطان ومُوالاته، ومن حمل أحد من الخاصَّة أو العامَّة على سَماع مَزامِيره الموجب لسروره وظفره منهم بغاية مُراداته.

--------------------------------------------

(1) في (ز2): وهو حسبي وكفى.

(2) أخرجه البخاري (952)، ومسلم (892) من حديث أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها بلفظ: دخَل أبو بكرٍ وعندى جاريتان من جَوارِى الأنصار تُغنِّيان بما تَقاوَلت الأنصار يوم بُعاث - قالت: وليسَتا بمغنِّيتَيْن - فقال أبو بكرٍ: أمزامير الشيطان في بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك في يوم عيد، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا أبا بكرٍ، إنَّ لكل قومٍ عيدًا، وهذا عيدنا)).

(3) في (ز2): لعدم علمهم.

(4) ليس هناك حقيقةٌ تُبايِن الشريعة حتى يُقال: "الحقيقة والشريعة" إلا في اصطلاح الصوفيَّة، فيقولون: إنَّ الشريعة للعَوامِّ والحقيقة للخواصِّ، وهذا كلامٌ ما أنزل الله به من سلطان!
কিতাব

ইবনে হাজার আল-হাইতামী রচিত 'অসার আমোদ-প্রমোদ ও গান-বাদ্য শ্রবণ থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত রাখা' (কাফ্ফুল রাআ' আন মুহাররামাতি লাহউ ওয়াস সামা')

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি (১)।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর অসার আমোদ-প্রমোদের স্থানসমূহ নিষিদ্ধ করেছেন এবং তাঁর নৈকট্য ও ভালোবাসার জন্য মনোনীত বান্দাদের সংশয় ও সন্দেহ থেকে পবিত্র রেখেছেন; যেহেতু তিনি তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং তাদের নফসের সেই সূক্ষ্ম প্রবঞ্চনাগুলো চিনিয়ে দিয়েছেন যা তাঁর হিকমত ও উদ্দেশ্য বুঝতে বাধা দেয়। তিনি তাদের সামনে শয়তানের প্ররোচনা উন্মোচিত করে দিয়েছেন, বিশেষ করে এমন এক সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যারা তাসাউফ ও মারেফাতের দাবি করে, অথচ তারা নবী ও রাসূলগণের পর শ্রেষ্ঠ সত্যবাদী (সিদ্দীক)-এর উক্তিটি ভুলে গেছে: "রাসূলুল্লাহর ঘরে শয়তানের বাঁশি?" (২)। আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করুন। এই সম্প্রদায়টি কামনা-বাসনা এবং অসার কর্মের প্রতি আসক্তিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তারা তাদের মজলিসে পাপাচারী সাধারণ মানুষকে সমবেত করার চেষ্টা করে যাতে তাদের থেকে পার্থিব হীন স্বার্থ ও তুচ্ছ সম্পদ লাভ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের আল্লাহর রহমত থেকে বিযুক্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। এর কারণ হলো হাকীকত ও শরীয়তের ইমামগণের শিক্ষা অনুযায়ী তাদের আমল (৩) না করা। অতএব হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা, যেহেতু আপনি আমাদের তাদের এই জঘন্য পদস্খলন এবং ভয়াবহ উক্তিগুলোর প্রতিবাদ করার তাওফিক দিয়েছেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি শয়তানের ষড়যন্ত্র ও তার আনুগত্য থেকে মুক্তি পাব এবং এমন কোনো বিশিষ্ট বা সাধারণ ব্যক্তির প্ররোচনা থেকেও বেঁচে থাকব যারা শয়তানের বাদ্যযন্ত্র শ্রবণে উৎসাহিত করে, যা শয়তানের আনন্দ ও বিজয়ের কারণ এবং এর মাধ্যমে সে তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হাসিল করে।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (য-২)-তে আছে: তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই পর্যাপ্ত।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৯৫২) এবং মুসলিম (৮৯২), উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদিস থেকে। এর শব্দগুলো হলো: আবু বকর (রাযি.) প্রবেশ করলেন এবং আমার নিকট তখন আনসারদের দুই বালিকা ছিল যারা বুয়াসের যুদ্ধের দিন আনসারদের বীরত্বগাঁথা নিয়ে গান করছিল। আয়েশা (রাযি.) বলেন: তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। তখন আবু বকর (রাযি.) বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? আর সেটি ছিল ঈদের দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু বকর! প্রতিটি জাতির জন্য ঈদ আছে এবং এটি আমাদের ঈদ।"

(৩) পাণ্ডুলিপি (য-২)-তে আছে: তাদের জ্ঞানের অভাবের কারণে।

(৪) শরীয়তের পরিপন্থী এমন কোনো হাকীকত (বাস্তবতা) নেই যে, "হাকীকত ও শরীয়ত" আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে, যদি না সেটি সুফিদের পরিভাষা হয়। তারা বলে থাকে: শরীয়ত সাধারণ মানুষের জন্য এবং হাকীকত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য। এটি এমন এক দাবি যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল নাযিল করেননি!
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১২)
وأشهد أنَّ سيدنا محمدًا عبده ورسوله، وصفيُّه وخليله، الذي أرسَلَه الله قاصمًا لأعدائه بواضح براهينه [وبيِّناته] (1) صلَّى الله وسلَّم عليه وعلى آله وأصحابه وتابعيهم المبرَّئين من سَفساف أهل الحظوظ والشَّهوات، والموفَّقين لصَرْفِ جميع الأوقات فِي مهمَّات العِبادات، لا سيَّما نفع المسلمين بتمهيد قواعد الدِّين، والرد على المُبطِلين الذي ضلُّوا سواء السبيل، واتَّخَذوا مَزامِيرَ الشيطان شَفاءً للغليل، زاعِمين زيادةَ مَعارِفهم بذلك، وما درى الأشقياء أنَّ أقدامَهم زلَّت عن سنن المسالك، وأقلامهم سجلت عليهم بأعظم المهالك؛ لأنهم سنُّوا سننًا سيِّئة مصحوبة بالإلحاد والعِناد، فباؤوا بوِزرِها، ووِزر مَن يعمل بها إلى يوم يرَوْن جزاء ذلك على رُؤوس الأشهاد، أعاذَنا الله من أمثال هذه القواطع، وجعَلَنا ممَّن ذبَّ عن شريعته الغرَّاء الواضحة [ز1/ 1/أ] البيضاء بالبراهين القَواطِع، وأدام علينا رضاه فِي هذه الدار وإلى أنْ نلقاه، إنَّه الجواد الكريم الرؤوف الرحيم.

أمَّا بعدُ: فإنِّي أثناء شهر ربيع سنة ثمانٍ وخمسين وتسعمائة دُعِيت إلى نسيكة (2) لبعض الأصدقاء، فوقَع السُّؤال عن فُروعٍ تتعلَّق بالسماع، فأغلظتُ فِي الجواب عنها وفي الردِّ على مَن زلَّ فهمُه أو قلمه فيها، فقيل لي عن كتاب لبعض المصريين بلدًا، التونسيين محتدًا، المالكيين معتقدًا، المتصوِّفين ملتحدًا، أنَّه بالغ فِي حلِّ ذلك بتأليف كتابٍ سماه "فرح الأسماع برخص السماع" (3) فبالغت فِي الردِّ عليه فِي ذلك المجلس، فبعد مُدَّةٍ أرسل

--------------------------------------------

(1) في (ز1): وبنياته.

(2) (النسيكة)؛ أي: الذبيحة.

(3) كتاب "فرح الأسماع برخص السماع"؛ لمحمد المالكي، الشاذلي، الوفائي، الشهير بأبي المواهب، قال في مقدمة الكتاب: "الحمد لله الذي أباح وفسح مجال الغناء رغمًا لأنف أهل الجهل الأغبياء، وأراح به بواطن أهل السُّلوك من الصوفيَّة الأصفياء … إلخ".
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, এবং তাঁর মনোনীত ও একান্ত প্রিয় বন্ধু; যাঁকে আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ (بينات) (১) সহকারে তাঁর শত্রুদের দর্পচূর্ণকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর অনুসারীদের (تابعين) ওপর, যারা প্রবৃত্তিপরায়ণ ও লালসাগ্রস্ত ব্যক্তিদের তুচ্ছতা থেকে পবিত্র এবং যারা সকল সময় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহে সময় ব্যয় করার তাওফিকপ্রাপ্ত। বিশেষ করে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (قواعد) সুবিন্যস্ত করার মাধ্যমে এবং সেই বাতিলপন্থীদের খণ্ডন (الرد) করার মাধ্যমে মুসলমানদের উপকার সাধনে যারা ব্রতী, যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং শয়তানের বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের অন্তরের পিপাসা নিবারণের মহৌষধ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা দাবি করে যে এর মাধ্যমে তাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান (معارف) বৃদ্ধি পায়, অথচ এই দুর্ভাগারা জানে না যে তাদের পদযুগল সঠিক পথ (سنن المسالك) থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তাদের কলম তাদের জন্য চরম ধ্বংস লিখে রেখেছে; কারণ তারা ধর্মহীনতা ও হঠকারিতা মিশ্রিত মন্দ রীতির (سنن) সূচনা করেছে। ফলে তারা নিজেদের পাপ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝা বহন করবে, যেদিন তারা সাক্ষীদের সামনে এর প্রতিফল দেখতে পাবে। আল্লাহ আমাদের এই জাতীয় সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর উজ্জ্বল, সুস্পষ্ট ও শ্বেত-শুভ্র শরীয়তকে রক্ষা করেছেন। তিনি দুনিয়াতে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত আমাদের ওপর তাঁর সন্তুষ্টি অব্যাহত রাখুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়।

অতঃপর: আমি ৯৫৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে এক বন্ধুর বাড়িতে আয়োজিত আকিকা বা যিয়াফতের (نسيكة) (২) দাওয়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে গান-বাদ্য শ্রবণ (السماع) সংক্রান্ত কিছু শাখা বা আনুষঙ্গিক মাসয়ালা (فروع) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আমি সেগুলোর উত্তরে এবং যার বুঝ বা কলম এ বিষয়ে হোঁচট খেয়েছে তাকে খণ্ডন (الرد) করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি। তখন আমাকে মিসরীয় বংশোদ্ভূত জনৈক লেখকের বই সম্পর্কে জানানো হয়, যিনি জন্মসূত্রে মিসরীয়, বংশগতভাবে তিউনিসীয়, মাযহাবগতভাবে মালিকি এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় সুফি; তিনি 'ফারহুল আসমা বি রুখাসিস সামা' (৩) নামক একটি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে গান-বাদ্যকে বৈধ করার বিষয়ে চরম বাড়াবাড়ি করেছেন। অতঃপর আমি সেই মজলিসেই তার খণ্ডন (الرد) করার ক্ষেত্রে কঠোরতা প্রদর্শন করি। কিছুকাল পর তিনি প্রেরণ করলেন...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (য১)-এ রয়েছে: "وبنياته" (বিনিয়াতিহি)।

(২) (আকিকা বা যিয়াফত (النسيكة)); অর্থাৎ: যবেহকৃত পশু।

(৩) 'ফারহুল আসমা বি রুখাসিস সামা' গ্রন্থটি মুহাম্মদ আল-মালিকি, আশ-শাযিলী, আল-ওয়াফায়ী—যিনি আবুল মাওয়াহিব নামে প্রসিদ্ধ—তাঁর লেখা। তিনি কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অজ্ঞ ও নির্বোধদের নাসিকা মর্দন করে গান গাওয়ার বিষয়টিকে বৈধ ও প্রশস্ত করেছেন এবং এর মাধ্যমে স্বচ্ছ হৃদয়ের সুফি সাধকদের অন্তঃকরণকে প্রশান্ত করেছেন... ইত্যাদি।"
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৩)
لي بعض رؤساء مكَّة الكتاب، وطلب منِّي كتابة عليه حتى يتبيَّن ما فيه، ويظهر زيغُه الذي اشتمل [عليه] قوادمه وخوافيه، وأكَّد على ذلك، فعزمت على إجابته لأفوزَ بأجر هذا الأمر ومَثُوبته؛ لعلمي بأنَّ أبناء الزمان الذين غلب عليهم الخسار والهوان عكَفُوا على كتابة ذلك الكتاب، واتَّخذوه لسماع تلك المحرَّمات أعظم الأسباب، وظنُّوا أنَّه الحق الواضح، وأنَّ مؤلِّفَه المرشد الناصح، جهلاً منهم بالحقائق، وإصغاء لكلِّ ناعق وناهق، فتجاهَرُوا بها بين الملا، فضلاً عن السرِّ والخلا، فِي بلد الله وحرَمِه، ومَظهر جُوده وكرَمِه، ولم يخشَوْا يوم المعاد، ولا عظَّموا حُرمة أفضل البلاد، وزادوا فِي ذلك حتى كسَّرت من آلاتهم بيدي عدَّةً عديدة، ولزمت ذلك معهم مدَّة مَدِيدة، ورفعت أقوامًا منهم إلى حُكَّام الشريعة تارةً، والسياسة أخرى، بحسب جُرأة الفاعلين الموجبة لحسرتهم فِي الدُّنْيَا والأخرى، وشدَّدت عليهم إلى أنْ عاقَبُوهم بما يُناسِب جُرأتهم، وأشهَرُوا تعزيرهم فِي الأسواق، لتعلم سرائرهم، فخمدوا بحمد الله - تعالى - عن ذلك، ولزموا التحفُّظ عن أنْ يحوموا حول تلك المسالك، فتَمادَى بي الاشتغال فِي هذه السنة بـ"شرح المنهاج" عن أكثر المهمَّات؛ لظنِّي أنه الأهمُّ وأنَّ كلَّ شافعي إليه محتاج، إلى ثالث يومٍ من شهر رجب شهر الله الأصب، فسمعت أنَّ جماعةً من عُلَماء البلدان النائية حضَرُوا مجلسًا جرَى فيه ذكرُ ذلك، فتبايَنتْ [ز1/ 1/ب] أقوالهم، واضطربت أحوالهم، وأصغى جمعٌ منهم إلى مَن لا يُعتَدُّ به فِي تحليلٍ ولا تحريم، بل ربما يُخشَى عليه الدخول فِي ورطة المشار إليهم بقوله - تعالى عزَّ قائلاً -: {وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلسِنَتُكُمُ الكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا

মক্কার জনৈক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আমাকে একটি কিতাব দেন এবং তার ওপর কিছু লিখতে অনুরোধ করেন, যাতে কিতাবটির বিষয়বস্তু সুস্পষ্ট হয় এবং এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে ভ্রষ্টতা (زيغ) বিদ্যমান তা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। তিনি এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ফলে আমি তার এই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে আমি এই কাজের সওয়াব ও প্রতিদান লাভে ধন্য হতে পারি। কারণ আমি অবগত ছিলাম যে, এ যুগের মানুষ—যাদের ওপর ক্ষতি ও লাঞ্ছনা প্রবল হয়েছে—তারা সেই কিতাবটি অনুলিপি করার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং সেটিকে সেই সকল নিষিদ্ধ বিষয় শোনার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা বাস্তব সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং প্রত্যেক অহেতুক আহ্বানকারীর প্রতি কর্ণপাত করার কারণে ধারণা করে নিয়েছে যে, এটিই সুস্পষ্ট সত্য এবং এর লেখক একজন পথপ্রদর্শক ও হিতাকাঙ্ক্ষী। ফলে তারা আল্লাহর শহর ও তাঁর পবিত্র হারামে—যা তাঁর দান ও অনুগ্রহের প্রকাশস্থল—গোপনে ও নির্জনে তো বটেই, এমনকি জনসম্মুখেও তা প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

তারা পরকালকে ভয় করেনি এবং শ্রেষ্ঠতম জনপদের পবিত্রতাকেও সম্মান করেনি। তারা এ বিষয়ে এতদূর অগ্রসর হয়েছিল যে, আমি নিজ হাতে তাদের অনেক বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলেছি এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের এই কাজে বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছি। আমি তাদের মধ্যকার কিছু লোককে কখনো শরিয়তের বিচারকের কাছে, আবার কখনো প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেছি; যা ছিল অপরাধীদের ধৃষ্টতা অনুযায়ী তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে আক্ষেপের কারণ। আমি তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছি, এমনকি শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাদের ধৃষ্টতা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করেছে এবং বাজারে তাদের শাস্তিমূলক দণ্ড (تعزير) জনসমক্ষে কার্যকর করেছে যাতে তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় তারা এসব কাজ থেকে নিবৃত্ত হলো এবং এ জাতীয় পথে বিচরণ করা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করল।

চলতি বছরে শরহুল মিনহাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে দূরে ছিলাম। কারণ আমার ধারণা ছিল যে এটিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেক শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এর মুখাপেক্ষী। এই ব্যস্ততা আল্লাহর রহমতপূর্ণ মাস রজবের তৃতীয় দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর আমি শুনতে পেলাম যে, দূর-দূরান্তের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত একদল আলেম একটি মজলিসে একত্রিত হয়েছিলেন যেখানে উক্ত বিষয়টি আলোচিত হয়। তখন তাদের মতামতে ভিন্নতা দেখা দেয় এবং তাদের অবস্থা বিচলিত হয়ে পড়ে। তাদের একটি দল এমন এক ব্যক্তির কথায় কান দেয়, যার কথা কোনো বিষয় বৈধকরণ (تحليل) কিংবা নিষিদ্ধকরণ (تحريم) করার ক্ষেত্রে অনির্ভরযোগ্য (لا يعتد به)। বরং তার ব্যাপারে আশঙ্কা হয় যে, সে মহান আল্লাহর বাণীর লক্ষ্যবস্তু হওয়ার বিপদে নিপতিত হতে পারে, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা (كذب) বর্ণনা করার কারণে তোমরা বলো না যে, এটি হালাল (حلال) এবং এটি..."

(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৪)
حَرَامٌ} (1) الآية، فشرعت فيه قاصدًا نُصحَ المسلمين ببيان الحلال والحرام من ذلك عند جميع العلماء أو أكثرهم، غير مُعوِّل على رأيٍ انحرَفَ به صاحبه عن جادَّة المهتَدِين، أو قول لم تصحَّ نسبته لأحدٍ من العلماء العاملين، أو استِدلالٍ جازَفَ فيه بعض المقلِّدين، إمَّا فِي حِكايته، أو استنباطه، أو فِي خلطه به ما عاد عليه بما شهد على قائله بكثرة غلطاته، وقباحة خلطه واختلاطه، محذرًا مَن أراد صِيانةَ نفسه عن مَواضِع التُّهم؛ لئلَاّ يظن به المسلمون أنَّه استحلَّ حرمات الله بتحليل ما حرَّم، وأنَّه تمادَى به التفريط والاستهتار إلى أنْ خُتِمَ له بالسوء لا سيما فِي الحرم الأعظم.

وتأمَّل قول سلف هذه الأمَّة الذين أنعَمَ الله عليهم بالحِفظ من الدخول فِي ورطةٍ ملمَّة أو مهلكةٍ مدلهمَّة: المعصية بَرِيدُ الكفر؛ أي: لا سيما مَن استصغر المعاصي وغفل عن أنَّ الله سبحانه وتعالى ربما جازَى العبد بما لم يخطر بباله أنَّه سببٌ لهلاكه الأبدي فِي حالِه ومآلِه، حفظنا الله وإيَّاك عن هذه الورطات المزيلة لنِعَمِ أكرم الأكرمين فِي الدينا والدِّين، وجعلنا ممَّن دلَّ الناس على الحق، وبيَّن لهم مَقامات الاحتياطات بالصدق، وحذَّرهم مقتَ الله وغضبه، ولم يبقَ لهم عذرٌ يستَمسِكون بسببه، وأبان لهم كلَّ مقام مُشكِل، وأوضح لهم كلِّ سبيل أُجمِل، مبتغيًا وجهَ ربه ذي الجلال والإكرام يوم لا ينفع مالٌ ولا بنون إلا مَن أتى الله بقلبٍ سليمٍ من كلِّ ميلٍ إلى ما أورَث شُبهة أو مَلامة آمين.

ورتَّبتُه على مقدمة وبابين وخاتمة.

--------------------------------------------

(1) سورة النحل: 116.
হারাম} (১) আয়াতটি, তাই আমি মুসলিমদের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে এটি রচনা করতে শুরু করলাম যাতে সকল বা অধিকাংশ আলিমের নিকট এই বিষয়ে যা হালাল ও হারাম তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারি। আমি এমন কোনো মতের ওপর নির্ভর করিনি যার প্রবক্তা হিদায়েতপ্রাপ্তদের সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, অথবা এমন কোনো উক্তির ওপর যা আমলকারী আলিমদের কারো দিকে বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া প্রমাণিত নয়, কিংবা এমন কোনো দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও নয় যাতে কোনো কোনো অনুসারী হঠকারিতা করেছে—চাই তা বর্ণনার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে, অথবা তাতে এমন বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটানোর ক্ষেত্রে যা বক্তার প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি এবং তার কদর্য গোলযোগ ও স্মৃতিভ্রষ্টতার (اختلاط) সাক্ষ্য দেয়। আমি তাকে সতর্ক করছি যে নিজের সম্মানকে অপবাদের স্থানসমূহ থেকে রক্ষা করতে চায়; যাতে মুসলিমগণ তার সম্পর্কে এই ধারণা না করে যে, সে আল্লাহ তাআলার নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করার মাধ্যমে তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হালাল করে নিয়েছে এবং চরম অবহেলা ও উদাসীনতা তাকে এমন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে গেছে যে তার শেষ পরিণতি মন্দ হয়েছে, বিশেষ করে মহা পবিত্র হারামে।

আর এই উম্মতের সালাফগণের বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা কঠিন বিপদ বা অন্ধকার ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত হওয়া থেকে হেফাজত করে ধন্য করেছেন: "পাপ হলো কুফরির বার্তাবাহক"; অর্থাৎ: বিশেষ করে ঐ ব্যক্তি যে গুনাহসমূহকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং এ কথা ভুলে যায় যে, হতে পারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দাকে এমন বিষয়ের কারণে শাস্তি প্রদান করবেন যা তার কল্পনাতেও ছিল না যে এটিই তার ইহকালীন ও পরকালীন চিরস্থায়ী ধ্বংসের কারণ হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাকে এমন সব বিপদ থেকে রক্ষা করুন যা দুনিয়া ও দ্বীনের ক্ষেত্রে মহান দাতা প্রতিপালকের নেয়ামতসমূহকে দূরীভূত করে দেয়, আর আমাদের ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা মানুষকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন এবং তাদের নিকট সততার সাথে সতর্কতা অবলম্বনের স্তরসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাদেরকে আল্লাহর অসন্তোষ ও ক্রোধ থেকে সতর্ক করেছেন, ফলে তাদের নিকট আঁকড়ে ধরার মতো আর কোনো ওজর বাকি থাকেনি। তিনি তাদের নিকট প্রত্যেক অস্পষ্ট (مشكل) বিষয় উন্মোচন করেছেন এবং প্রতিটি সংক্ষেপিত পথ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; তাঁর মহিমান্বিত ও সম্মানিত প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনায়, সেই দিন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর নিকট এমন এক সুস্থ হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হবে যা সন্দেহ বা তিরস্কার উদ্রেককারী প্রতিটি প্রবণতা থেকে মুক্ত। আমিন।

আর আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল: ১১৬।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المقدمة

في ذم المعازِف، والمزامِير، والأوتار ونحوها
ممَّا جاء عن الصادق المصدوق الذي لا يَنطِق عن الهوى إنْ هو إلَاّ وحيٌ يُوحَى؛ [قال تعالى:] {فَليَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (1)، عن أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله - صلَّى الله [ز1/ 2/أ] عليه وسلَّم -: ((إنَّ الله عز وجل بعثَنِي هُدًى ورحمةً [للعالمين] (2)، وأمرَنِي بمحْق المعازف، والمزامير، والأوتار والصليب، وأمر الجاهلية، وحلف ربِّي بعزَّته وجلاله لا يشرب عبدٌ من عِبادي جرعةً من خمرٍ متعمدًا في الدنيا إلا سقَيْته مكانَها من الصديد يومَ القيامة مغفورًا له أو معذبًا، ولا يترُكها من مخافتي إلا سقَيْتها إيَّاه في حظيرة القدس، لا يحلُّ بيعهن، ولا شِراؤهن، ولا التجارة فيهن، وثمنهن حرام))؛ رواه أبو داود الطيالسي واللفظ له، وأحمد بن منيع، وأحمد بن حنبل، والحارث بن أبي أسامة بلفظ: ((إنَّ الله عز وجل بعثَنِي رحمةً وهُدًى للعالمين، وأمرني أنْ أمحق المزامير، والمعازف، والخمور، والأوثان التي تُعبَد في الجاهلية، وأقسم ربِّي بعزَّته لا يشرب عبدٌ الخمرَ في الدنيا إلا سقَيْته من حميم جهنم مُعذَّبًا أو مغفورًا له، ولا يدَعُها عبد من عبيدي تحرُّجًا عنها إلا سقيتُها إياه في حظيرة القدس)).

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لكُلِّ شيءٍ إقبالٌ وإدْبار وإنَّ من إقْبال هذا الدِّين ما بعثَنِي الله به حتى أنَّ القبيلة لتتفقَّه كلُّها من عند آخِرها حتى لا يبقَى إلا الفاسق والفاسقان فهما مقهوران مقموعان ذليلان، إنْ تكلَّما أو نطَقا قُمِعا وقُهِرا واضطُهِدا، ثم ذكَر من إدبار هذا الدِّين أنْ

--------------------------------------------

(1) سورة النور: 63.

(2) في (ز1): للمؤمنين.
‌‌ভূমিকা

বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, তারযন্ত্র এবং এই জাতীয় বিষয়ের নিন্দায়
যা সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারী [রাসূলুল্লাহ সা.] থেকে বর্ণিত হয়েছে, যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না; তা কেবল প্রত্যাদেশ (وحي), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। [আল্লাহ তাআলা বলেন:] {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} (১), আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু [জ১/ ২/অ] আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। আর তিনি আমাকে বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, তারযন্ত্র ও ক্রুশ এবং জাহিলিয়াতের রীতিনীতি মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার প্রতিপালক তাঁর ইজ্জত ও প্রতাপের শপথ করে বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কোনো বান্দা যদি ইহকালে ইচ্ছাকৃতভাবে এক ঢোক মদও পান করে, তবে কিয়ামতের দিন আমি তাকে তার বদলে পুঁজরক্ত পান করাব— চাই সে ক্ষমাযোগ্য হোক অথবা শাস্তিযোগ্য। আর যে ব্যক্তি আমার ভয়ে তা বর্জন করবে, আমি তাকে পবিত্র উদ্যানে তা পান করাব। এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা করা বৈধ নয় এবং এগুলোর বিনিময় মূল্য হারাম।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসি এবং শব্দগুলো তাঁরই, আর আহমাদ বিন মানি', আহমাদ বিন হাম্বল এবং হারিস বিন আবু উসামাহ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও হিদায়াত স্বরূপ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে বাঁশি, বাদ্যযন্ত্র, মদ এবং জাহিলিয়াত যুগে পূজিত মূর্তিসমূহ মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার প্রতিপালক তাঁর ইজ্জতের শপথ করেছেন যে, কোনো বান্দা ইহকালে মদ পান করলে আমি তাকে জাহান্নামের ফুটন্ত পানি পান করাব— সে শাস্তিযোগ্য হোক কিংবা ক্ষমাযোগ্য। আর আমার কোনো বান্দা যদি পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার জন্য তা বর্জন করে, তবে আমি তাকে পবিত্র উদ্যানে তা পান করাব।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক বিষয়েরই উত্থান ও পতন আছে। আর এই দ্বীনের উত্থানের একটি দিক হলো যা নিয়ে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন, যার ফলে একটি গোত্র সম্পূর্ণভাবে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবে, এমনকি কেবল এক বা দুইজন পাপাচারী (فاسق) অবশিষ্ট থাকবে যারা অবদমিত, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ অবস্থায় থাকবে। তারা কোনো কথা বললে তাদের দমন করা হবে, পরাজিত করা হবে এবং নির্যাতন করা হবে। এরপর তিনি এই দ্বীনের পতনের দিকটি উল্লেখ করলেন যে..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর: ৬৩।

(২) (জ১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: মুমিনদের জন্য।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৬)
تجفو القبيلة كلها من عند آخِرها حتى لا يبقى فيها إلا الفقيه أو الفقيهان، فهما مقهوران مقموعان ذليلان، إنْ تكلَّما أو نطَقا قُمِعا، وقُهِرا، واضطهدا، وقيل لهما: أتطعنان علينا حتى يشرب الخمر في نادِيهم، ومجالسهم، وأسواقهم وتنحل الخمر غير اسمها حتى يلقى آخِر هذه الأمَّة أولها إلا حلَّت عليهم اللعنة، ويقولون: لا نأمن هذا الشراب، يشرب الرجل منهم ما بدَا له ثم يكفُّ عنه حتى تمرَّ المرأة فيقوم إليها بعضهم، فيرفع ذيلها فينكحها وهم ينظُرون كما يرفع ذنب النعجة، وكما أرفع ثوبي هذا، ورفع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثوبًا عليه من هذه السحوليَّة، فيقول القائل منهم: لو نَحَّيتمونا عن الطريق، فذاك فيهم كأبي بكرٍ وعمر، فمَن أدرك [ز1/ 2/ب] ذلك الزمان وأمَر بالمعروف ونهى عن المنكر فله أجر خمسين ممَّن صحبني وآمَن بي وصدَّقني أبَدًا)).

وحديث أبي أمامة هذا فيه علي بن يزيد الألهاني وهو ضعيف (1)، لكنْ له شاهدٌ من حديث ابن مسعود وغيره (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطيالسي (1/ 154 رقم 1134)، والحسن بن موسى الأشيب (1/ 39 رقم 12)، وأحمد (5/ 268)، والحارث بن أبي أسامة في "بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث" (2/ 770 رقم 771)، والطبراني في "الكبير" (8/ 196)، وأبو الفضل المقرئ في "أحاديث في ذم الكلام وأهله" (4/ 73 رقم 616)، والخطيب في "الفقيه والمتفقه" (1/ 164)، وابن عبدالبر في "جامع بيان العلم وفضله" (1/ 154) من طريق علي بن يزيد، عن القاسم بن عبدالرحمن، عن أبي أمامة رضي الله عنه وأورده نور الدين الهيثمي فِي "المجمع" (5/ 69) وقال: فيه علي بن يزيد، وهو ضعيف، وأشار العراقي فِي "تخريج الإحياء" (2/ 269) على ضعفه.

(2) حديث ابن مسعود أخرجه الطبراني فِي "الكبير" فقال: حدثنا أبو عُبَيدة عبدالوارث بن إبراهيم العسكري، حدثنا سيف بن مِسكين الأسواري، حدثنا مُبارَك بن فضالة، عن الحسن، عن عتي السعدي، قال عتي: خرجت في طلب العلم حتى قدمت الكوفة، فإذا بعبدالله بن مسعود بين ظهراني أهل الكوفة، فسألت عنه فأُرشِدت إليه، فإذا هو في المسجد الأعظم، فأتيته فقلت: أبا عبدالرحمن، إني جئت أضرب إليك أقتبس منك علمًا؛ لعلَّ الله أن ينفعنا به بعدك، فقال لي: ممَّن الرجل؟ فقلت: رجل من أهل البصرة، فقال: ممَّن؟ قلت: من هذا الحي من بني سعد، فقال لي: يا سعدي، لأحدثن فيكم بحديثٍ سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأتاه رجلٌ فقال: يا رسول الله، ألا أدلك على قومٍ كثيرة أموالهم، كثيرة شوكتهم، تصيب منهم مالاً دثرًا، أو قال: كثيرًا، فقال: ((مَن هم؟)) فقال: هم هذا الحي من بني سعد من أهل الرمال، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فإنَّ بني سعد عند الله ذو حظٍّ عظيم، سَلْ يا سعدي))، فقلت: أبا عبدالرحمن، هل للساعة من علمٍ تُعرَف به الساعة؟ وكان متكئًا فاستوى جالسًا، فقال: يا سعدي، سألتني عمَّا سألت عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت: يا رسول الله، هل للساعة من علمٍ تُعرَف به الساعة؟ فقال لي: ((يا ابن مسعود، إنَّ للساعة أعلامًا، وإنَّ للساعة أشراطًا، ألَا وإنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يكون الولد غيظًا، وأن يكون المطر قيظًا، وأنْ تفيض الأشرار فيضًا، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يُصدَّق الكاذب، وأنْ يُكذَّب الصادق، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يُؤتَمن الخائن، وأنْ يُخوَّن الأمين، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ تواصل الأطباق، وأنْ تقاطع الأرحام، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يسود كلَّ قبيلة منافقوها، وكلَّ سوق فجارها، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ تزخرف المساجد، وأنْ تخرب القلوب، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يكون المؤمن في القبيلة أذلَّ من النقد، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يكتفي الرجال بالرجال والنساء بالنساء، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ تكثف المساجد وأنْ تعلو المنابر، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يعمر خراب الدنيا، ويخرب عمرانها، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ تظهر المعازف، وتُشرَب الخمور، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها شرب الخمور، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها الشرط والغمازون واللمازون، يا ابن مسعود، إنَّ من أعلام الساعة وأشراطها أنْ يكثر أولاد الزِّنا))، قلت: أبا عبدالرحمن، وهم مسلمون؟ قال: نعم، قلت: أبا عبدالرحمن، والقرآن بين ظهرانيهم؟ قال: نعم، قلت: أبا عبدالرحمن، وأنَّى ذاك؟ قال: يأتي على الناس زمان يطلق الرجل المرأة، ثم يجحد طلاقها فيقيم على فرجها، فهما زانيان ما أقامَا؛ أخرجه الطبراني فِي "الكبير" (10/ 229)، و"الأوسط" (5/ 127)، وأورده نور الدين الهيثمي فِي "المجمع" (7/ 323) وقال: فيه سيف بن مسكين، وهو ضعيف، وأورد هذا الحديث ابن حجر فِي "لسان الميزان" فِي ترجمة سيف هذا، وقال عنه: شيخ بصرى يأتى بالمقلوبات ويأتي بالأشياء الموضوعة.

সমগ্র গোত্রটি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে, এমনকি তাদের মধ্যে কেবল একজন বা দুইজন ফকিহ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। তারা দুইজন হবে অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অবদমিত। যদি তারা কথা বলে বা কোনো কথা ব্যক্ত করে, তবে তাদের দমানো হবে, পরাভূত করা হবে এবং নির্যাতিত করা হবে। তাদের বলা হবে: 'তোমরা কি আমাদের দোষারোপ করছ?' এমনকি তাদের সভা-সমাবেশ ও বাজারে প্রকাশ্যে মদ পান করা হবে এবং মদের নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম রাখা হবে। যতক্ষণ না এই উম্মতের শেষ ভাগের লোকদের ওপর লানত বর্ষিত হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তাদের প্রথম যুগের লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা বলবে: 'আমরা এই পানীয় সম্পর্কে আশ্বস্ত নই।' তাদের মধ্য থেকে একজন লোক তার যা ইচ্ছা পান করবে, তারপর তা থেকে বিরত থাকবে। এমনকি যখন কোনো নারী রাস্তা দিয়ে যাবে, তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ উঠে গিয়ে তার কাপড় উঁচু করে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, আর তারা তা প্রত্যক্ষ করবে যেমন ছাগীর লেজ উঁচু করা হয়। আর যেমন আমি আমার এই কাপড়টি উঁচু করছি—এই বলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিহিত একটি সাহুলি কাপড় উঁচু করলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ বলবে: 'যদি তোমরা আমাদের রাস্তা থেকে একটু সরিয়ে দিতে!'—এমন ব্যক্তি তাদের মধ্যে আবু বকর ও উমরের ন্যায় মর্যাদার অধিকারী হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই সময়টি পাবে এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করবে, তার জন্য এমন পঞ্চাশজন ব্যক্তির সমান সওয়াব থাকবে যারা আমার সাহচর্য লাভ করেছে, আমার ওপর ঈমান এনেছে এবং আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে।

আবু উমামার এই হাদিসটির সনদে আলী বিন ইয়াজিদ আল-আলহানি রয়েছে, এবং সে দুর্বল (ضعيف) (১), তবে ইবনে মাসউদ এবং অন্যদের বর্ণনা থেকে এর সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি (১/১৫৪, নম্বর ১১৩৪), হাসান ইবন মুসা আল-আশিব (১/৩৯, নম্বর ১২), আহমদ (৫/২৬৮), বুগয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদ মুসনাদ আল-হারিস-এ হারিস ইবন আবি উসামা (২/৭৭০, নম্বর ৭৭১), মুজামুল কাবীর-এ তাবারানি (৮/১৯৬), আহাদিস ফি যাম্মিল কালাম ওয়া আহলিহি-তে আবুল ফজল আল-মুক্রি (৪/৭৩, নম্বর ৬১৬), আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ-তে খতিব (১/১৬৪), এবং জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি-তে ইবন আব্দুল বার (১/১৫৪) আলী বিন ইয়াজিদ-এর সূত্রে, তিনি কাসিম ইবন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। নূরুদ্দিন হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (৫/৬৯) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এতে আলী বিন ইয়াজিদ রয়েছে এবং সে দুর্বল (ضعيف)। ইরাকি তাখরিজুল ইহয়া-তে (২/২৬৯) তার দুর্বলতার (ضعفه) দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

(২) ইবনে মাসউদের হাদিসটি তাবারানি মুজামুল কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উবাইদাহ আব্দুল ওয়ারিস ইবনে ইব্রাহিম আল-আসকারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাইফ ইবনে মিসকিন আল-আসওয়ারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুবারক ইবনে ফাদলাহ বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি আতি আল-সাদি থেকে বর্ণনা করেছেন। আতি বলেন: আমি ইলম অন্বেষণে বের হলাম এবং কুফায় আসলাম। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে কুফাবাসীদের মাঝে বিদ্যমান পেলাম। আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম এবং তাঁর কাছে যাওয়ার পথ পেলাম। তিনি জামে মসজিদে ছিলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান, আমি আপনার কাছে এসেছি আপনার থেকে জ্ঞান অর্জন করতে; যেন আল্লাহ আপনার পরে আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কোন বংশের লোক? আমি বললাম: বসরাবাসী একজন লোক। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন: কার মধ্য থেকে? আমি বললাম: বনু সাদ গোত্রের এই পাড়া থেকে। তিনি আমাকে বললেন: হে সাদি, আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করব যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি আপনাকে এমন এক কওমের কথা বলব না যাদের অনেক সম্পদ ও প্রতিপত্তি রয়েছে, আপনি তাদের থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করতে পারবেন? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তারা কারা?)) লোকটি বলল: তারা মরু অঞ্চলের এই বনু সাদ গোত্রের লোক। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((আল্লাহর কাছে বনু সাদিদের বড় সৌভাগ্যের অংশ রয়েছে। হে সাদি, তুমি প্রশ্ন করো।)) আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান, কিয়ামতের কি এমন কোনো আলামত আছে যার দ্বারা কিয়ামত সম্পর্কে জানা যাবে? তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: হে সাদি, তুমি আমাকে সেই প্রশ্নই করেছ যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে করেছিলাম। আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামতের কি এমন কোনো আলামত আছে যার দ্বারা কিয়ামত সম্পর্কে জানা যাবে? তখন তিনি আমাকে বললেন: ((হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের কিছু নিশান ও শর্ত রয়েছে। জেনে রেখো, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে সন্তান বিরক্তির কারণ হবে এবং বৃষ্টি হবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত। পাপিষ্ঠরা সংখ্যায় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলা হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে খিয়ানতকারীকে বিশ্বাস করা হবে এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী গণ্য করা হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে উঁচু তলার মানুষেরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং রক্তীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক গোত্রের নেতৃত্ব দেবে তাদের মুনাফিকরা এবং প্রত্যেক বাজারের নেতৃত্ব দেবে তাদের পাপাচারীরা। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে মসজিদসমূহ চাকচিক্যময় করা হবে কিন্তু অন্তরগুলো হবে বিধ্বস্ত। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে কোনো গোত্রের মুমিন ব্যক্তিটি হবে একটি নগণ্য মুদ্রার চেয়েও লাঞ্ছিত। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে পুরুষেরা পুরুষদের দ্বারা এবং নারীরা নারীদের দ্বারা তুষ্ট হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে মসজিদসমূহ ঘন হবে এবং মিম্বরসমূহ উঁচু হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে দুনিয়ার জনশূন্য স্থানগুলো আবাদ করা হবে এবং আবাদি স্থানগুলো ধ্বংস হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদ পান করা হবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে মদ পান করা। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে পুলিশ বাহিনী, ইশারা-ইঙ্গিতে অপবাদ দানকারী ও গিবতকারীদের আধিক্য ঘটবে। হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের নিশান ও শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে ব্যভিচারজাত সন্তানের সংখ্যা বেড়ে যাবে।)) আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান, তারা কি তখন মুসলিম হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান, তাদের কাছে কি তখন কুরআন থাকবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান, তবে এটি কীভাবে হবে? তিনি বললেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন একজন লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেবে, তারপর আবার তার তালাকের কথা অস্বীকার করবে এবং তার সাথে সহবাস অব্যাহত রাখবে; ফলে তারা যতক্ষণ এই অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ তারা ব্যভিচারী হিসেবে গণ্য হবে। এটি তাবারানি মুজামুল কাবীর (১০/২২৯) এবং মুজামুল আওসাত (৫/১২৭)-এ বর্ণনা করেছেন। নূরুদ্দিন হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (৭/৩২৩) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এতে সাইফ ইবনে মিসকিন রয়েছে এবং সে দুর্বল (ضعيف)। ইবনে হাজার লিসানুল মিজান-এ এই সাইফের জীবনীতে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: সে বসরার একজন শাইখ যে ওলটপালট করা (مقلوبات) এবং জাল (موضوعة) বিষয় নিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنه: عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((الكُوبَةُ حرامٌ، والدن حرامٌ، والمعازِفُ حرامٌ، والمزامِيرُ حرامٌ))؛ رواه مسدد، والبيهقي فِي "سننه الكبرى" موقوفًا، ورواه البزار مرفوعًا، ولفظه عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم أَنَّه حرَّم الميتة، والميسِر، والكُوبة - يعني: الطبل - وقال: ((كلُّ مسكرٍ حرامٌ)) (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البيهقي (10/ 222) من طريق عبدالكريم الجزري عن أبي هاشمٍ الكوفي عن ابن عباس موقوفًا، وأورده ابن حجر في "المطالب العالية" (10/ 222 رقم 2193) وعَزاه لمسدَّد في مسنده، وقال ابن رجب في "نزهة الأسماع" (1/ 55): إسناده صحيح، وأخرجه أحمد في "المسند" (1/ 289، 350)، وفي "الأشربة" (1/ 38 رقم 193)، والطحاوي في "شرح معاني الأثار" (4/ 216)، والدارقطني في "سننه" (3/ 7)، والبيهقي (10/ 221 رقم 20779) من طريق عبدالكريم الجزري، عن قيس بن حبتر الربعي، عن ابن عباس مرفوعًا، وأخرجه أحمد (1/ 274)، وأبو داود (3696)، وأبو يعلى (5/ 114 رقم 2729)، والبيهقي (10/ 221 رقم 20780)، وصحَّحه ابن حبان (5365) من طريق علي بن بذيمة، عن قيس بن حبتر، عن ابن عباس مرفوعًا.

এ থেকেই বর্ণিত: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কুবাহ (এক প্রকার ঢোল) হারাম, মদের বড় পাত্র হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম এবং বাঁশি হারাম"; এটি মুসাদ্দাদ এবং বায়হাকি তাঁর 'সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল-বাযযার এটি রাসুলুল্লাহর বাণী (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত প্রাণী, জুয়া ও কুবাহ—অর্থাৎ ঢোল—হারাম করেছেন এবং বলেছেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম" (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বায়হাকি (১০/ ২২২) আবদুল কারিম আল-জাজরি সূত্রে আবু হাশিম আল-কুফি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার এটি 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' (১০/ ২২২ নম্বর ২১৯৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং মুসাদ্দাদের মুসনাদ-এর দিকে এর নিসবত বা সম্বন্ধ করেছেন। ইবনে রাজাব 'নুযহাতুল আসমা' (১/ ৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদটি সহিহ (إسناده صحيح)। ইমাম আহমদ এটি 'মুসনাদ' (১/ ২৮৯, ৩৫০) ও 'আল-আশরিবা' (১/ ৩৮ নম্বর ১৯৩) গ্রন্থে, তাহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' (৪/ ২১৬) গ্রন্থে, দারাকুতনি তাঁর 'সুনান' (৩/ ৭) গ্রন্থে এবং বায়হাকি (১০/ ২২১ নম্বর ২০৭৭৯) আবদুল কারিম আল-জাজরি সূত্রে কায়েস বিন হাবতার আর-রাবঈ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি রাসুলুল্লাহর বাণী (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ (১/ ২৭৪), আবু দাউদ (৩৬৯৬), আবু ইয়ালা (৫/ ১১৪ নম্বর ২৭২৯), বায়হাকি (১০/ ২২১ নম্বর ২০৭৮০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান (৫৩৬৫) একে সহিহ (صحَّحه) সাব্যস্ত করেছেন, যা আলি বিন বাযিমা সূত্রে কায়েস বিন হাবতার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি রাসুলুল্লাহর বাণী (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعن أبي هُرَيرة أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((يُمسَخ قومٌ من أمَّتي في آخِر الزَّمان قردةً وخنازير)) قالوا: يا رسول الله، أمسلمون هم؟ قال: ((نعم؛ يشهدون أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، ويصومون، [ويُصلُّون]))، قالوا: فما بالهم يا رسول الله؟ قال: ((اتَّخذوا المعازف، والقينات، والدفوف، وشربوا هذه الأشربة، فباتوا على شَرابهم ولهوهم، فأصبحوا وقد مُسِخوا))؛ رواه مُسدَّد، وابن حبان، ولفظه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تقومُ الساعة حتى يكون … )) (1).

وعن سهل بن سعدٍ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يكونُ في هذهِ الأُمَّةِ خسفٌ ومسخٌ وقذفٌ))، قيل: ومتى ذلك يا رسولَ الله؟ قال: ((إذا ظهَرت القَيْنات والمعازف، واستُحِلَّت الخمر))؛ رواه عبدُ بن حميد واللفظ له، وابن ماجه مختصرًا، ومَدار مسانيدهما على: عبدالرحمن بن زيد بن أسلم وهو ضعيف (2)، وصَحَّ من طُرُقٍ خلافًا لما وهم فيه ابن حزم، فقد علَّقَه البخاري، ووصَلَه الإسماعيلي، وأحمد، وابن ماجه، وأبو نعيم، وأبو داود بأسانيد صحيحة لا مَطعَن فيها، وصحَّحه جماعةٌ آخَرون

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم في "الحلية" (3/ 119) في ترجمة حسان بن أبي سنان، وأورده البوصيري في "إتحاف الخيرة المهرة" (9/ 308 ط دار الوطن) وعَزاه إلى مسدَّد، وابن حزم في "المحلى" (9/ 58) وعزاه لسعيد بن منصور، وفيه راوٍ لم يُسمَّ، والشوكاني في "نيل الأوطار" (2/ 86/ ط دار الجيل) وعزاه لابن أبي الدنيا في "الملاهي".

(2) أخرجه عبد بن حميد في "المنتخب من مسنده" (452) وابن ماجَهْ (4060)، والطبراني في "الكبير" (6/ 150 رقم 5810)، والخطيب في "تاريخه" (10/ 272) من طريق عبدالرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبي حازم سلمة بن دينار، عن سهل بن سعد.
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((শেষ জামানায় আমার উম্মতের একদল লোককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করা হবে))। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কি মুসলিম হবে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ; তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তারা রোজা রাখে এবং [নামাজ পড়ে]))। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তাদের এই অবস্থা কেন হবে? তিনি বললেন: ((তারা বাদ্যযন্ত্র, গায়িকা এবং দফ গ্রহণ করবে এবং তারা এসব পানীয় পান করবে। তারা তাদের পানাহার ও আমোদ-প্রমোদে রাত কাটাবে, আর সকালে তারা রূপান্তরিত অবস্থায় উপনীত হবে)); এটি বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ও ইবনে হিব্বান, আর এর শব্দ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না … )) (১)।

সহল বিন সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((এই উম্মতের মধ্যে ভূমিধস, রূপান্তর এবং আসমানি বিপর্যয় ঘটবে))। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তা কখন হবে? তিনি বললেন: ((যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদকে হালাল মনে করা হবে)); এটি বর্ণনা করেছেন আব্দ বিন হুমাইদ (শব্দাবলী তার) এবং ইবনে মাজাহ সংক্ষেপে। তাদের মুসনাদসমূহের মূল কেন্দ্র (مدار) হলো: আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম, আর তিনি হলেন দুর্বল (ضعيف) (২)। তবে এটি বিভিন্ন সূত্রে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, ইবনে হাজম এ বিষয়ে যে বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন তার বিপরীতে। কেননা বুখারি এটি মুয়াল্লাক (معلق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইসমাইলি, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আবু নুয়াইম ও আবু দাউদ এটি সহিহ (صحيحة) এবং ত্রুটিমুক্ত সনদে সংযুক্ত (موصل) করেছেন। এছাড়াও একদল আলেম একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আবু নুয়াইম এটি হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/১১৯) গ্রন্থে হাসসান বিন আবি সিনানের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। আল-বুসিরি ইত্তিহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা (৯/৩০৮, দারুল ওয়াতান সংস্করণ) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং মুসাদ্দাদের দিকে নিসবত করেছেন। ইবনে হাজম আল-মুহাল্লা (৯/৫৮) গ্রন্থে সাঈদ বিন মানসুরের দিকে নিসবত করেছেন, আর এতে একজন নামহীন বর্ণনাকারী রয়েছেন। আশ-শাওকানি নাইলুল আউতার (২/৮৬, দারুল জিল সংস্করণ) গ্রন্থে ইবনে আবিদ দুনিয়ার আল-মালাহি গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছেন।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আব্দ বিন হুমাইদ আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদিহি (৪৫২) গ্রন্থে, ইবনে মাজাহ (৪০৬০), তাবারানি আল-কাবির (৬/১৫০, নম্বর ৫৮১০) এবং খতিব বাগদাদি তাঁর তারিখে (১০/২৭২) আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম সূত্রে, তিনি আবু হাজিম সালামাহ বিন দীনার থেকে, তিনি সহল বিন সাদ থেকে।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ১৯)
من الأئمَّة كما قاله بعض الحفَّاظ: أنَّه صلى الله عليه وسلم قال: ((لَيكونَنَّ في أمَّتي أقوامٌ يستَحِلُّون الخزَّ، والحرير، والخمر، والمعازف)) (1)، وهذا صريحٌ ظاهرٌ في تحريم جميع آلات اللهو المطربة.

وعن علي رضي الله عنه أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا فعلَتْ [ز1/ 3/أ] أمَّتى خمس عشرة خصلةً حَلَّ بها البلاءُ: إذا كان المغنم دولاً، والأمانة مغنمًا، والزكاة مغرمًا، وأطاع الرجل زوجته وعقَّ أمه، وبرَّ صديقه وجفا أباه، وارتفعت الأصوات في المساجد، وكان زعيم القوم أرذَلهم وأُكرِم الرجل مخافةَ شرِّه، وشُرِبت الخمر، ولُبِسَ الحرير، واتُّخذت القَيْنات والمعازف، ولعن آخِرُ هذه الأمَّة أوَّلها، فليرتَقِبوا عند ذلك ريحًا حمراء أو خَسْفًا أو مَسْخًا))؛ رواه الترمذي (2).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((أُمِرتُ بهدمِ الطبلِ والمِزمار)) (3)؛ أخرجه الديلمي.

وعن ابن مسعودٍ رضي الله عنه أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((الغِناء يُنبِت النِّفاق في القلب، كما يُنبِت الماء البقل)) رواه البيهقي،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5590) معلقًا "باب ما جاء فيمَن يستحلُّ الخمر ويسمِّيه بغير اسمه"، وأبو داود (4039)، والبيهقي في "السنن الكبرى" (10/ 221)، "والشعب" (5115)، وصحَّحه ابن حبان (6754) من حديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه.

(2) أخرجه الترمذي (2210) وقال: هذا حديثٌ غريبٌ لا نعرفه من حديث عليِّ بن أبى طالب إلَاّ من هذا الوجه، ولا نعلَم أحدًا رواه عن يحيى بن سعيدٍ الأنصارى غير الفرج بن فضالة، والفرج بن فضالة قد تكلَّم فيه بعض أهل الحديث وضعَّفه من قِبَلِ حِفظِه وقد رواه عنه وكيع وغيرُ واحدٍ من الأئمَّة.

(3) أورده الديلمي في "فردوس الأخبار" (1/ 483/ ط دار الريان).
ইমামগণের মধ্য হতে যেমনটি কোনো কোনো হাফেজ (الحفَّاظ) বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দল হবে যারা রেশমি কাপড়, সিল্ক, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে" (১)। এটি সকল প্রকার আনন্দদায়ক বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য দলিল।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন আমার উম্মত [জ১/ ৩/আ] পনেরটি কাজ করবে, তখন তাদের ওপর বিপদ নেমে আসবে: যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানতকে লুণ্ঠিত সম্পদ জ্ঞান করা হবে, জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে ও মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সাথে সদাচার করবে ও পিতার সাথে রুক্ষতা করবে, মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোল হবে, জাতির নিকৃষ্ট ব্যক্তি তাদের নেতা হবে, কোনো ব্যক্তিকে তার অনিষ্টের ভয়ে সম্মান করা হবে, মদ পান করা হবে, সিল্ক পরিধান করা হবে, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র গ্রহণ করা হবে এবং এই উম্মতের শেষ অংশ তার প্রথম অংশকে অভিশাপ দেবে; তখন তারা রক্তবর্ণের বায়ু কিংবা ভূমিধস অথবা আকৃতি বিকৃতির অপেক্ষা করুক।" এটি তিরমিজি (২) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে ঢোল ও বাঁশি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" (৩)। এটি দাইলামি সংকলন করেছেন।

ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "গান অন্তরে কপটতা বা নিফাক উৎপাদন করে, যেমন পানি শাকসবজি উৎপাদন করে।" এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৫৫৯০) মুআল্লাক (معلقًا) হিসেবে 'যে ব্যক্তি মদকে হালাল মনে করবে এবং তার ভিন্ন নাম দিবে' পরিচ্ছেদে সংকলন করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ (৪০৩৯), বায়হাকি 'সুনানুল কুবরা' (১০/২২১) ও 'শুয়াবুল ইমান' (৫১১৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান (৬৭৫৪) আবু মালিক আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে একে বিশুদ্ধ (صحَّحه) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

(২) এটি তিরমিজি (২২১০) সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি গরিব (غريبٌ), আলী ইবনে আবি তালিবের হাদিস থেকে এই সূত্র ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই। ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি থেকে ফারাজ ইবনে ফাদালাহ ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আর ফারাজ ইবনে ফাদালাহ সম্পর্কে কোনো কোনো হাদিস বিশারদ সমালোচনা করেছেন এবং তার স্মৃতির অসংলগ্নতার কারণে তাকে দুর্বল (ضعَّفه) বলেছেন। তবে ওয়াকি ও অন্যান্য অনেক ইমাম তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি দাইলামি তার 'ফিরদাউসুল আখবার' (১/৪৮৩/ দারুর রাইয়ান সংস্করণ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২০)
وابن أبي الدُّنيا، وكذا أبو داود لكن بدون التشبيه، ورواه البيهقي أيضًا موقوفًا (1)، وفي الباب عن أبي هريرة أيضًا رواه ابن عدي (2).

واعلم أنَّ بعض الصوفيَّة الذين لا يعرفون مواقع الألفاظ ومدلولاتها قال: المراد بالغناء هنا غنى المال، وكأنَّه لم يُفرِّق بين الغناء الممدود، والمقصور؛ إذ الرواية إنما هي الغناء بالمد، وأمَّا غنى المال فهو مقصورٌ لا غير، ذكَرَه الأئمَّة.

واستدلَّ له شيخُ الإسلام الحافظ العسقلاني بحديث ابن مسعود الموقوف بأنَّ فيه: "والذِّكر ينبت الإيمان في القلب، كما ينبت الماء البقل"، ألَا تراه جعل ذِكر الله مُقابلاً للغناء؛ لكونه ذكر الشيطان، كما قابَل الإيمان بالنِّفاق، ا. هـ (3).

وسيأتي أنَّ ذلك حديثٌ مرفوع أيضًا، ولعلَّ الحافظ لم يستحضره وقتَ كتابته لذلك.

وعن عليٍّ - كرم الله وجهه -: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ضرب الدفِّ ولعب [الصج] (4) وضرب الزَّمَّارة؛ أخرجه الخطابي (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (4927)، والبيهقي (10/ 223)، وقال ابن حجر في "تلخيص الحبير" (4/ 366): حديث: ((الغناء يُنبِت النفاق في القلب كما يُنبِت الماء البقل)) أبو داود بدون التشبيه، والبيهقي من حديث ابن مسعود مرفوعا، وفيه شيخ لم يسمَّ، ورواه البيهقي أيضًا موقوفا، وفي الباب عن أبي هريرة رواه ابن عدي، وقال ابن طاهر: أصحُّ الأسانيد في ذلك أنَّه من قول إبراهيم.

(2) لم أقفْ عليه من حديث أبي هريرة.

(3) "التلخيص الحبير" (4/ 366/ ط قرطبة).

(4) في (ز2): (الصنج).

(5) أخرجه الآجري في "تحريم النرد والشِّطرَنج" (63) بلفظ: عن مطر بن سالم، أنَّ علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ضرب الدف، ولعب الطبل، وصوت الزَّمَّارة"، وأورده الشوكاني في "نيل الأوطار" (8/ 113/ ط دار الحديث)، وعزاه إلى القاسم بن سلام بلفظ الآجري، وقال المناوي في "فيض القدير" (9490): حديثٌ ضعيفٌ يردُّه خبر صحيح ((فصلُ بين الحلال والحرام الضرب بالدفِّ))، وقال لِمَن قال: نذرت إنْ ردَّك الله سالِمًا أضرب بين يديك بالدفِّ ((أوفِ بنذرك))؛ رواهما ابن حبان وغيره، (ولعب الصنج) العربي يتَّخذ من صفر يضرب أحدهما بالآخر أو العجمي وهو ذو الأوتار وكلٌّ منهما حرام و (ضرب الزمارة)؛ أي: المزمار العراقي أو اليَراع وهو الشبابة وكلاهما حرام.

(تنبيه) سُئِلَ جدِّي شيخ الإسلام قاضي القضاة محيي الدين يحيى المناوي - رحمه الله تعالى - عن جماعةٍ يجتمعون يضربون بالدُّفوف المشتملة على الصراصير النحاس والمزامير وآلات الطرب فما يجب عليهم إذا اعتقدوا حلَّه أو تحريمه؟ وما يجب على مَن حضرَهُم وهو يعتقد التحريم ولم يُنكِره؟ وهل لكلِّ مسلم الإنكار عليهم والتعرُّض لمنعهم؟ وهل يُثاب ولي الأمر على منعهم؟

فأجاب بما نصُّه: أمَّا الأوتار فإنهم يُمنَعون منها ويأثَم الفاعل والحاضر والقادر على الإنكار ولم يُنكِر، ويُثاب ولي الأمر على منعهم (خط) في ترجمة نصر المعدل (عن عليٍّ) أمير المؤمنين وفيه إسماعيل بن عيَّاش وقد مرَّ ضعفُه، وعبدالله بن ميمون القدَّاح قال أبو حاتم: متروك، ومطر بن أبي سالم مجهول.
এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া, অনুরূপভাবে আবু দাউদ, তবে উপমা ব্যতীত; এবং বায়হাকিও এটি মাওকুফ (موقوف) (১) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণিত রয়েছে যা ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন (২)।

জেনে রাখুন যে, কিছু সুফি যারা শব্দের প্রয়োগস্থল ও এর অর্থ সম্পর্কে অবগত নন, তারা বলেছেন: এখানে 'গিনা' বলতে সম্পদের প্রাচুর্য উদ্দেশ্য। মনে হচ্ছে তিনি দীর্ঘস্বরযুক্ত 'গিনা' (সংগীত) এবং হ্রস্বস্বরযুক্ত 'গিনা' (প্রাচুর্য)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি। কারণ বর্ণনায় এটি দীর্ঘস্বরযুক্ত 'গিনা' (সংগীত) হিসেবেই এসেছে। পক্ষান্তরে সম্পদের প্রাচুর্য বুঝাতে এটি কেবল হ্রস্বস্বরযুক্ত হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, যা ইমামগণ উল্লেখ করেছেন।

শায়খুল ইসলাম হাফেজ আসকালানি ইবনে মাসউদের মাওকুফ (موقوف) হাদিস দ্বারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যাতে রয়েছে: "আর জিকির অন্তরে ইমান উৎপন্ন করে, যেমন পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে।" আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি আল্লাহর জিকিরকে সংগীতের বিপরীতে রেখেছেন; কেননা সংগীত হলো শয়তানের জিকির, যেমন তিনি ইমানকে নিফাকের বিপরীতে রেখেছেন। সমাপ্ত (৩)।

সামনে আসবে যে এটি একটি মারফু (مرفوع) হাদিসও বটে। সম্ভবত হাফেজ (ইবনে হাজার) এটি লেখার সময় তার স্মরণে ছিল না।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) দফ বাজানো, [সানজ] (৪) নিয়ে খেলা করা এবং বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেছেন; এটি খাত্তাবি বর্ণনা করেছেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৪৯২৭) এবং বায়হাকি (১০/ ২২৩) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার 'তালখিসুল হাবির' (৪/ ৩৬৬) গ্রন্থে বলেছেন: হাদিস: ((সংগীত অন্তরে নিফাক উৎপন্ন করে যেমন পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে)) আবু দাউদ উপমা ব্যতীত বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাতে এমন একজন শায়খ রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বায়হাকি এটি মাওকুফ (موقوف) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণিত আছে যা ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন। ইবনে তাহির বলেন: এই বিষয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো এটি ইব্রাহিমের উক্তি।

(২) আমি আবু হুরায়রার হাদিস থেকে এটি অবগত হতে পারিনি।

(৩) "তালখিসুল হাবির" (৪/ ৩৬৬/ কুরতুবা সংস্করণ)।

(৪) (জেড২) পাণ্ডুলিপিতে: (সানজ)।

(৫) আজুরি এটি "তাহরিমুন নারদি ওয়াস শাতরানিজ" (৬৩) গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: মাতার বিন সালিম থেকে বর্ণিত যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেছেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.) দফ বাজাতে, তবলা নিয়ে খেলতে এবং বাঁশির শব্দ থেকে নিষেধ করেছেন।" শাওকানি "নাইলুল আওতার" (৮/ ১১৩/ দারুল হাদিস সংস্করণ) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং কাসেম বিন সালামের উদ্ধৃতিতে আজুরির শব্দের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। মুনাবি "ফাইজুল কাদির" (৯৪৯০) গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস যা একটি সহিহ (صحيح) হাদিস দ্বারা খণ্ডিত হয়, সেটি হলো: ((হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য হলো দফ বাজানো))। অনুরূপভাবে তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে বলেছিল, 'আমি মানত করেছি যে আল্লাহ যদি আপনাকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনেন তবে আমি আপনার সামনে দফ বাজাবো', রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: ((তোমার মানত পূর্ণ করো))। ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন। (সানজ নিয়ে খেলা করা) এটি আরবদের ব্যবহৃত পিতলের তৈরি যন্ত্র যা একটির সাথে অন্যটি আঘাত করে বাজানো হয় অথবা পারস্যদের ব্যবহৃত তারবিশিষ্ট যন্ত্র, যার উভয়টিই হারাম। আর (বাঁশি বাজানো) অর্থাৎ ইরাকি বাঁশি বা ইয়ারা' যা এক ধরণের বাঁশি বিশেষ এবং উভয়টিই হারাম।

(সতর্কবার্তা) আমার দাদা শায়খুল ইসলাম কাজিউল কুজাত মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া মুনাবি (রহ.)-কে এমন এক দল লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা একত্রিত হয়ে তামাটে ঝুনঝুনিযুক্ত দফ, বাঁশি এবং বাদ্যযন্ত্র বাজায়; তারা যদি একে হালাল বা হারাম মনে করে তবে তাদের ক্ষেত্রে কী ওয়াজিব? আর যে ব্যক্তি একে হারাম মনে করা সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত থাকে এবং প্রতিবাদ করে না, তার ক্ষেত্রে কী ওয়াজিব? প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কি তাদের প্রতিবাদ করা এবং তা প্রতিরোধ করা জায়েজ? আর শাসক কি তাদের তা থেকে বিরত রাখার জন্য সওয়াব পাবেন?

তিনি এই মর্মে উত্তর দিয়েছেন: বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রে তাদের তা থেকে বাধা প্রদান করা হবে। যে এটি করে, যে উপস্থিত থাকে এবং যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবাদ করে না, তারা সকলেই গুনাহগার হবে। আর শাসক তাদের বিরত রাখার জন্য সওয়াব পাবেন। খাত্তাবি 'নাসর আল-মুআদ্দিল'-এর জীবনীতে আমীরুল মুমিনীন আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ রয়েছে যার দুর্বলতা (ضعف) পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহ রয়েছে যাকে আবু হাতিম পরিত্যক্ত (متروك) বলেছেন এবং মাতার বিন আবি সালিম অজ্ঞাত (مجهول)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২১)
وعن أنسٍ رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم – أنَّه قال: ((مَن قعَد إلى قَيْنةٍ يستَمِع منها صَبَّ الله في أذنَيْه الآنُك (1) يومَ القيامة))؛ رواه ابن صصري فِي "أماليه"، وابن عساكر فِي "تاريخه" (2).

وعن صفوان بن أميَّة، أنَّ عمرو بن قُرَّة قال: "كُتِبتْ عليَّ الشقوة، فلا أرى أُرزَق [ز1/ 3/ب] إلا من دفِّي، فَأْذَنْ لي في الغناء من غير فاحشة؟ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا آذَنُ لك ولا كرامة ولا نعمة

--------------------------------------------

(1) الآنُك: هو الرَّصاص الأبيض أو الأسود أو الخالص منهما.

(2) أخرجه ابن عساكر (51/ 263)، وقال ابن الجوزي في "العلل المتناهية" (2/ 786 ط دار الكتب العلمية) قال أحمد بن حنبل: هذا حديث باطل، وأورده الشوكاني في "نيل الأوطار" (8/ 113) بلفظ: ((مَن قعَد إلى قَيْنَةٍ يسمع صُبَّ في أذُنِه الآنُكُ))، وعَزاه إلى أبي يَعقوبَ محَمَّد بن إسحاقَ النيسابوريُّ، وأورده ابن حجر في ترجمة "عبيد بن هشام" من "تهذيب التهذيب" فقال: قال الآجري: عن أبي داود ثقة، إلا أنَّه تغيَّر في آخِر أمره، لُقِّنَ أحاديث ليس لها أصلٌ، لُقِّنَ عن ابن المبارك عن معمر عن الزهري عن أنس حديثًا منكرًا، وقال النسائي: ليس بالقوي، وقال الحاكم: أبو أحمد حدَّث عن ابن المبارك عن مالك بن أنس أحاديث لا يُتابَع عليها.

قلت: وقال صالح جزرة: صدوق، ولكنه ربما غلط، حَكاه الحاكم في "تاريخه"، وقال أبو العرب القيرواني في "الضعفاء" قال أبو الطاهر أحمد بن محمد بن عثمان: "عبيد بن هشام" ضعيفٌ، وقال الخليلي: صالح، وأخرج الدارقطني في "الغرائب" عن ابن المبارك، عن مالك، عن محمد بن المنكدر، عن أنسٍ رفعه: ((مَن قعَد إلى قينة يستمع منها صُبَّ في أذنَيْه الآنُكُ يوم القيامة))، قال الدارقطني: تفرَّد به أبو نعيم، ولا يثبت هذا عن مالك ولا عن ابن المنكدر.
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গায়িকার গান শোনার জন্য বসবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দুই কানে সিসা ঢেলে দেবেন।" এটি ইবনে সাসারি তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

সাফওয়ান ইবনে উমাইয়্যাহ হতে বর্ণিত যে, আমর ইবনে কুররাহ বলেছেন: "আমার ভাগ্যে দুর্ভাগ্য লিপিবিদ্ধ হয়েছে, তাই আমি দেখছি না যে আমার দফ (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র) ব্যতিরেকে আমাকে রিযিক দেওয়া হবে। সুতরাং আপনি কি আমাকে অশ্লীলতা বর্জিত গান গাওয়ার অনুমতি দেবেন?" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: "আমি তোমাকে অনুমতি দেব না, তোমার জন্য কোনো সম্মান নেই এবং কোনো কল্যাণ নেই..."

--------------------------------------------

(১) আল-আনুক: এটি হলো সাদা বা কালো সিসা অথবা এই দুইয়ের মধ্য থেকে খাঁটি সিসা।

(২) ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন (৫১/২৬৩), এবং ইবনে আল-জাওজি তাঁর 'আল-ইলাল আল-মুতানাহিইয়াহ' (২/৭৮৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) গ্রন্থে বলেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "এটি একটি ভিত্তিহীন (باطل) হাদিস।" আশ-শাওকানি 'নাইলুল আওতার' (৮/১১৩) গ্রন্থে এটি এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গায়িকার গান শোনার জন্য বসবে, তার কানে সিসা ঢালা হবে।" তিনি এটি আবু ইয়াকুব মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আন-নাইসাবুরির দিকে নিসবত করেছেন। ইবনে হাজার তাঁর 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে ওবায়দ ইবনে হিশামের জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আল-আজুরি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে জীবনের শেষ দিকে তাঁর অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল; তাঁকে এমন কিছু হাদিস তালকিন করা হয়েছিল (শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল) যার কোনো ভিত্তি নেই। তাঁকে ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণিত একটি অস্বীকৃত (منكر) হাদিস তালকিন করা হয়েছিল। আন-নাসায়ি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। আল-হাকিম বলেছেন: আবু আহমাদ ইবনুল মুবারক থেকে এবং তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর সমর্থন পাওয়া যায় না (لا يُتابَع عليها)।

আমি বলছি: সালিহ জাযারা বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে সম্ভবত তিনি ভুল করতেন; আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু আল-আরব আল-কায়রাওয়ানি 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে বলেছেন, আবুুত তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উসমান বলেছেন: ওবায়দ ইবনে হিশাম দুর্বল (ضعيف)। আল-খালিলি বলেছেন: তিনি সৎ (صالح)। আদ-দারাকুতনি 'আল-গারায়েব' গ্রন্থে ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি আনাস থেকে মারফু (رفعه) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গায়িকার গান শোনার জন্য বসবে, কিয়ামতের দিন তার কানে সিসা ঢালা হবে।" আদ-দারাকুতনি বলেছেন: আবু নুআইম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرَّد به), আর এটি মালিক বা ইবনুল মুনকাদির কারো পক্ষ থেকেই সাব্যস্ত নয় (لا يثبت)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২২)
عين، كذبت أيْ عدو الله، لقد رزقَكَ الله حلالاً طيِّبًا، واخترتَ ما حرَّم الله عليك من رزقه مكانَ ما أحلَّ الله لك من حَلاله، ولو كنت تقدَّمت إليك - أيْ بالنهي - قبل الآن لفعلتُ بك وفعلتُ، قُمْ عنِّي وتُبْ إلى الله، أمَا إنَّك لو قلت بعد التقدمة شيئًا - أي: لو فعلت ما نهيتك عنه - بعد الآن ضربتك ضربًا وجيعًا، وحلقت رأسك، ونفيتك عن أهلك، وأحللت سلبك نهبةً لفتيان المدينة، هؤلاء العصاة - أي: الذين يفعلون مثل فعل عمرو هكذا - مَن مات منهم بغير توبةٍ حشَرَه الله - تعالى - يوم القيامة كما كان في الدنيا: مخنثًا عريانًا، لا يستتر من الناس [بهدبةٍ كلَّما قام صُرِعَ] (1)))؛ رواه البيهقي، والطبراني، ورواه الديلمي إلى قوله: ((وتُبْ إلى اللهِ))، وزاد: ((وأوسع على نفسك وعيالك حلالاً؛ فإنَّ ذلك جهادٌ في سبيل الله، واعلَمْ أنَّ عون الله مع صالحي التجَّار)) (2).

وعن عليٍّ رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((مَن مات وله قَيْنَةٌ فلا تصلُّوا عليه))؛ رواه الحاكم فِي "تاريخه"، والديلمي وسنده ضعيف (3).

وعن السائب بن يزيد أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال لعَائِشَةَ وقد دخلت لها قينة مغنية: ((يا عائشة، تَعرِفين هذه؟ هذه قَيْنةُ بنى فلان، أتحبِّين

--------------------------------------------

(1) هكذا في (ز2)، وفي (ز1): يهدي به كلَّما قام صدع.

(2) أخرجه ابن ماجَهْ (2/ 871 رقم 2613)، وقال البوصيرى (3/ 119): في إسناده بشر بن نُمَير البصري، قال فيه يحيى القطان: كان ركنًا من أركان الكذب، وقال أحمد: ترك الناس حديثه، وكذا قال غيره، ويحيى بن العلاء، قال أحمد: يضَعُ الحديث، وقريبٌ منه ما قال غيره، والديلمى (5/ 142، رقم 7760) والطبراني في "الكبير" (8/ 51 رقم 7342) بنحوه.

(3) أورده أبو شجاع الديلمي في "الفردوس بمأثور الخطاب" (3/ 507، رقم 5574).
হে আউন, তুমি মিথ্যা বলেছ হে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহ তোমাকে পবিত্র ও হালাল রিজিক দান করেছিলেন, অথচ তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য নির্ধারিত হালাল রিজিকের পরিবর্তে যা তিনি তোমার জন্য হারাম করেছেন তাকে বেছে নিয়েছ। আমি যদি এর আগে তোমাকে সতর্ক (নিষেধ) করতাম, তবে তোমার সাথে কঠোর আচরণ করতাম। আমার সম্মুখ থেকে দূর হও এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করো। জেনে রেখো, এই সতর্কবার্তার পর যদি তুমি আর কিছু বলো—অর্থাৎ আমি যা নিষেধ করেছি তা যদি তুমি পুনরায় করো—তবে আমি তোমাকে কঠোরভাবে প্রহার করব, তোমার মাথা মুণ্ডন করে দেব, তোমাকে তোমার পরিবার থেকে বহিষ্কার করব এবং তোমার মালসামান মদিনার যুবকদের জন্য লুণ্ঠনযোগ্য করে দেব। এই অবাধ্যরা—অর্থাৎ যারা আমরের মতো এরূপ কাজ করবে—তাদের মধ্যে যারা তাওবা ছাড়া মারা যাবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদের দুনিয়ার অবস্থার ন্যায় হিজড়া ও নগ্ন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন; তারা মানুষের দৃষ্টি থেকে সামান্য কাপড় দিয়েও নিজেদের আবৃত করতে পারবে না [সে যখনই দাঁড়াতে চাইবে তখনই আছাড় খেয়ে পড়ে যাবে] (১)। আল-বায়হাকি ও আত-তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। আর আদ-দাইলামি ‘আল্লাহর কাছে তাওবা করো’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত উদ্ধৃত হয়েছে: “তুমি নিজের এবং তোমার পরিবারের জন্য হালাল উপায়ে প্রশস্ততা অর্জন করো; কেননা তা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ স্বরূপ। আর জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য সৎ ব্যবসায়ীদের সাথে থাকে” (২)।

আলী (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে তার নিকট গায়িকা দাসী ছিল, তবে তোমরা তার জানাজা আদায় করো না”; আল-হাকিম তাঁর ‘তারিখ’-এ এবং আদ-দাইলামি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف) (৩)।

সায়েব বিন ইয়াজিদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) আয়িশা (রাযি.)-কে বললেন যখন তাঁর কাছে একজন গায়িকা দাসী প্রবেশ করেছিল: “হে আয়িশা, তুমি কি একে চেনো? এ হলো অমুক গোত্রের গায়িকা দাসী; তুমি কি চাও...

--------------------------------------------

(১) (য২) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর (য১)-এ আছে: সে যখনই দাঁড়াতে চায় তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

(২) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (২/৮৭১, নং ২৬১৩)। আল-বুসিরি (৩/১১৯) বলেছেন: এর সনদে বিশর বিন নুমাইর আল-বাসরি রয়েছে। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তার সম্পর্কে বলেছেন: সে ছিল মিথ্যার অন্যতম স্তম্ভ। ইমাম আহমাদ বলেছেন: মানুষ তার হাদিস বর্জন (ترك) করেছে; অন্যান্যরাও তদ্রূপ বলেছেন। আর ইয়াহইয়া বিন আল-আলা সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন: সে হাদিস জালকারী (يضع الحديث); অন্যরাও তার সম্পর্কে অনুরূপ বলেছেন। আদ-দাইলামি (৫/১৪২, নং ৭৭৬০) এবং আত-তাবারানি ‘আল-কাবির’-এ (৮/৫১, নং ৭৩৪২) সমজাতীয় বর্ণনা করেছেন।

(৩) আবু শুজা আদ-দাইলামি এটি ‘আল-ফিরদাউস বি-মাসুরিল খিতাব’-এ (৩/৫০৭, নং ৫৫৭৪) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৩)
أنْ تغنيك؟)) قالت: نعم، فغنَّتها، فقال: ((لقد نفَخ الشيطان في مِنْخَرَيْها))؛ رواه أحمد، والطبراني (1).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال ((إنَّ الله حرَّم على أمَّتي الخمرَ، والميسرَ، والكُوبةَ في أشياء عدَّدَها))؛ رواه أحمد، وأبو داود، وابن حبان، زاد البيهقي: وهي - أي: الكُوبَة - الطبل؛ أي: الآتي (2).

ورواه أبو داود من حديث ابن عمرٍو زاد ((والغُبَيْراء)) (3)، وزاد أحمد فيه ((والمزْرَ)) (4)، ورواه أحمد أيضًا من حديث قيس بن سعد بن عبادة رضي الله عنهما (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (3/ 449)، والنسائي في "السنن الكبرى" (5/ 310 رقم 8960)، والطبراني في "المعجم الكبير" (7/ 158)، وقال الهيثمي في "المجمع" (8/ 130): رجال أحمد رجال الصحيح.

(2) أخرجه أحمد (1/ 274)، وأبو داود (3694)، وأبو يعلى (5/ 114)، والطحاوي في "شرح معاني الأثار" (4/ 216)، والطبراني في "الكبير" (12/ 102)، و"الأوسط" (7388)، والبيهقي في "الشعب" (5116)، وصحَّحه ابن حبان (12/ 187 رقم 5365)، والحديث أخرجه مسلم (2004) بلفظ: "سأل قومٌ ابنَ عباس عن بيع الخمر وشِرائها والتجارة فيها فقال: أمسلمون أنتم؟ قالوا: نعم، قال: فإنَّه لا يصلح بيعها ولا شِراؤها ولا التجارة فيها، قال: فسألوه عن النبيذ، فقال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفرٍ ثم رجع وقد نبذ ناسٌ من أصحابه في حناتم ونقير ودباء، فأمر به فأهريق، ثم أمر بسقاء فجعل فيه زبيب وماء فجعل من الليل فأصبح فشرب منه يومه ذلك وليلته المستقبلة ومن الغد حتى أمسى فشرب وسقى، فلمَّا أصبح أمَر بما بقي منه فأهريق".

(3) أخرجه أحمد (2/ 165)، وأبو داود (3685)، والبيهقي (10/ 221) من حديث عبدالله بن عمرو بن العاص أنَّ نبيَّ الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الخمر والميسِر والكُوبة والغُبَيراء وقال: ((كلُّ مسكرٍ حرامٌ))، قال أبو داود: قال ابن سلام أبو عبيد: الغُبَيراء السكركة تُعمَل من الذرة شرابٌ يعمله الحبشة، وهذا لفظ أبي داود.

(4) المزْرُ: نبيذ الشَّعير والحبوب ويُقال: نبيذ الذُّرَةِ خاصَّة والمزارة: مصدر المزير وهو القويُّ النافذُ في الأمور والمَزْرُ: الذوق والشُّرْبُ القليل ويقال: الشُّرْبُ بمرَّة قال: (تكونُ بعدَ الحَسْوِ والتَّمَزُّرِ … في فمه مثلَ عَصير السُّكَّرِ)؛ "العين"؛ للخليل بن أحمد مادة "مزر"، والحديث أخرجه أحمد (2/ 165) بلفظ: عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنَّ الله حرَّم على أمَّتى الخمر والميسر والمزر والقنين والكُوبة، وزاد لي صلاة الوتر)).

(5) أخرجه ابن أبي شيبة (5/ 98)، وأحمد (3/ 422)، وأبو يعلى (3/ 26)، والطبراني في "الكبير" (18/ 352)، والبيهقي (10/ 222)، وقال الهيثمي في "المجمع" (5/ 70): فيه عُبَيدالله بن زحر، وثَّقه أبو زرعة والنسائي، وضعَّفه الجمهور.
"তোমাকে কি গান গেয়ে শোনাবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন সে তাকে গান গেয়ে শোনাল। এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: "নিশ্চয়ই শয়তান তার নাসারন্ধ্রে ফুঁ দিয়েছে।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও তাবারানি (১)।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া এবং 'কুবাহ' (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র) হারাম করেছেন।" তিনি আরও কিছু জিনিসের নাম উল্লেখ করেছেন। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বান। বায়হাকি বর্ধিত আকারে বর্ণনা করেছেন যে: সেটি—অর্থাৎ কুবাহ—হলো ঢোল; অর্থাৎ যা পরবর্তী বর্ণনায় আসছে (২)।

আবু দাউদ এটি ইবনে আমর (রা.) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে 'গুবাইরা' (ভুট্টা থেকে তৈরি বিশেষ মদ) শব্দটির সংযোজন রয়েছে (৩)। আহমাদ এতে 'মিযর' (ভুট্টা বা যবের মদ) শব্দটির সংযোজন করেছেন (৪)। আহমাদ এটি কায়েস ইবনে সাদ ইবনে উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি বের করেছেন আহমাদ (৩/৪৪৯), নাসাঈ তার "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৫/৩১০, নং ৮৯৬০) এবং তাবারানি তার "মুজামুল কাবীর" গ্রন্থে (৭/১৫৮)। হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে (৮/১৩০) বলেছেন: আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) এর বর্ণনাকারী।

(২) এটি বের করেছেন আহমাদ (১/২৭৪), আবু দাউদ (৩৬৯৪), আবু ইয়ালা (৫/১১৪), তাহাবি "শরহু মাআনিল আসার" গ্রন্থে (৪/২১৬), তাবারানি "আল-কাবীর" (১২/১০২) ও "আল-আওসাত" গ্রন্থে (৭৩৮৮) এবং বায়হাকি "শুআবুল ঈমান" গ্রন্থে (৫১১৬)। ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন (১২/১৮৭, নং ৫৩৬৫)। এই হাদিসটি মুসলিম (২০০৪) নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: একদল লোক ইবনে আব্বাসকে মদের বেচাকেনা ও ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তোমরা কি মুসলিম?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর বেচাকেনা, ক্রয় এবং এর ব্যবসা সঠিক নয়।" বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তারা তাকে নাবিয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সফরে বের হয়েছিলেন, অত:পর ফিরে এলেন। তখন তাঁর কিছু সাহাবী মাটির পাত্র, কাঠের খোদাই করা পাত্র এবং লাউয়ের খোলে নাবিয তৈরি করেছিলেন। তিনি তা ঢেলে দেওয়ার আদেশ দিলেন। এরপর তিনি চামড়ার মশক আনতে আদেশ দিলেন এবং তাতে কিসমিস ও পানি রাখা হলো। এটি রাতে তৈরি করা হলো। সকালে তিনি সারাদিন এবং পরবর্তী রাত এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তা পান করলেন এবং অন্যদের পান করালেন। যখন সকাল হলো, তখন তিনি অবশিষ্ট অংশ ঢেলে দেওয়ার আদেশ দিলেন।"

(৩) এটি বের করেছেন আহমাদ (২/১৬৫), আবু দাউদ (৩৬৮৫), বায়হাকি (১০/২২১) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এর হাদিস থেকে যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদ, জুয়া, কুবাহ এবং গুবাইরা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম।" আবু দাউদ বলেন: ইবনে সালাম আবু উবায়েদ বলেছেন: গুবাইরা হলো 'সুকারকাহ', যা ভুট্টা থেকে তৈরি এক প্রকার পানীয়, যা হাবশীরা তৈরি করে। এটি আবু দাউদের শব্দ।

(৪) মিযর: এটি হলো যব ও শস্য থেকে তৈরি নাবিয। বলা হয়: এটি বিশেষভাবে ভুট্টার নাবিয। মাযারাহ: এটি 'মাযীর' এর মাসদার, যার অর্থ কোনো কাজে পারদর্শী ও কার্যকর ব্যক্তি। মাযর: অর্থ হলো স্বাদ গ্রহণ এবং অল্প পান করা। আরও বলা হয়: একবারে পান করা। খলিল ইবনে আহমাদের "আল-আইন" কিতাবের "মাজর" পরিচ্ছেদে এসেছে: (চুমুক দিয়ে পানের পর... তার মুখে চিনির রসের মতো অনুভূত হয়)। হাদিসটি আহমাদ (২/১৬৫) নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, মিযর, কিন্নিন এবং কুবাহ হারাম করেছেন।" এবং তিনি এতে বিতর সালাতের কথা সংযোজন করেছেন।

(৫) এটি বের করেছেন ইবনে আবি শায়বাহ (৫/৯৮), আহমাদ (৩/৪২২), আবু ইয়ালা (৩/২৬), তাবারানি "আল-কাবীর" গ্রন্থে (১৮/৩৫২) এবং বায়হাকি (১০/২২২)। হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে (৫/৭০) বলেছেন: এতে উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর রয়েছেন। তাকে আবু যুরআ ও নাসাঈ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, তবে জমহুর (الجمهور) তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৪)
واختلف فِي تفسير ((الغُبَيْرَاء)) فقيل: الطُّنْبُور، وقيل: العُود، وقيل: البَربَط، وقيل غير ذلك، وعن ابن عباسٍ رضي الله عنهما أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا كان يومُ القيامةِ [ز1/ 4/أ] قال اللهُ عز وجل: أين الذين كانوا يُنزِّهون أسماعهم وأبصارهم عن مَزامِير الشَّيْطانِ؟ ميزوهم فيميزوهم فِي كثب المسك والعنبر، ثم يقول لملائكتِه: أسمعوهم تسبيحي [وتحميدي] وتمجيدي فيسمعون بأصواتٍ لم يسمع السامعون مثلها)) أخرَجَه الديلمي (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((حبُّ الغِناء يُنبِت النِّفاق في القلب، كما يُنبِت الماء العشب))؛ أخرجه الديلمي (2).

وعن ابن مسعود رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إيَّاكم [وإسماع] (3) المعازف والغناء فإنهما ينبتان النِّفاق في القلب كما ينبت الماءُ البقلَ))؛ رواه ابن صصري في أماليه (4).

--------------------------------------------

(1) لم أقفْ عليه عن ابن عباس، ولكن له شاهد من حديث محمد بن المنكدر، وقد أخرجه ابن المبارك في "الزهد" (1/ 12)، وأبو القاسم البغوي في "الجعديات" (1/ 254)، وأبو نعيم في "الحلية" (3/ 151) بلفظ: «إن الله تعالى يقول يوم القيامة أين الذين كانوا ينزهون أنفسهم وأسماعهم عن اللهو ومزامير الشيطان أدخلوهم في رياض الجنة ثم يقول للملائكة أسمعوهم حمدي وثنائي وأخبروهم أن لا خوف عليهم ولا هم يحزنون» وهذا لفظ أبي نعيم.

(2) لم أقفْ عليه من حديث أبي هريرة، وأخرجه أبو داود (4927)، والبيهقي (10/ 223) من حديث ابن مسعود، وقال ابن حجر في "تلخيص الحبير" (4/ 367) حديث: ((الغناء يُنبِت النِّفاق في القلب، كما يُنبِت الماء البقل)) أبو داود بدون التشبيه، والبيهقي من حديث ابن مسعود مرفوعًا، وفيه شيخ لم يسمَّ، ورواه البيهقي أيضًا موقوفًا، وفي الباب عن أبي هريرة رواه ابن عدي، وقال ابن طاهر: أصحُّ الأسانيد في ذلك أنَّه من قول إبراهيم.

(3) في (ز2): وسماع.

(4) لم أقف عليه.
"আল-ঘুবাইরা" (الغُبَيْرَاء)-এর ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: তম্বুর (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র), কেউ বলেছেন: উদ (বীণা), কেউ বলেছেন: বারবাত, আবার কেউ অন্য কিছু বলেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যখন কিয়ামতের দিন [য১/ ৪/আ] উপস্থিত হবে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলবেন: তারা কোথায় যারা শয়তানের বাদ্যযন্ত্র থেকে তাদের কান ও চোখকে পবিত্র রাখত? তাদের পৃথক করো; অতঃপর ফেরেশতারা তাদের কস্তুরী ও আম্বরের টিলার ওপর পৃথক করে রাখবে। এরপর তিনি তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন: তাদের আমার তাসবিহ, [তাহমিদ] ও মহিমা শোনাও। তখন তারা এমন আওয়াজ শুনবে যার সদৃশ শ্রবণকারীরা কখনো শোনেনি।)) এটি দাইলামি উদ্ধৃত করেছেন (১)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((গানের প্রতি ভালোবাসা অন্তরে নিফাক (মুনাফেকি) উৎপন্ন করে, যেভাবে পানি ঘাস উৎপন্ন করে)); এটি দাইলামি উদ্ধৃত করেছেন (২)।

ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা বাদ্যযন্ত্র ও গান [শোনা] (৩) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এই দুটি অন্তরে নিফাক (মুনাফেকি) উৎপন্ন করে যেভাবে পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে)); এটি ইবনে সাসারি তার আমালি-তে বর্ণনা করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি আমি পাইনি, তবে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বর্ণিত একটি হাদিস এর শাহেদ (شاهد) হিসেবে রয়েছে। হাদিসটি ইবনুল মুবারক 'যুহদ' (১/ ১২)-এ, আবুল কাসিম বাগাওয়ী 'আল-জাদিয়্যাত' (১/ ২৫৪)-এ এবং আবু নুআইম 'হিলয়াহ' (৩/ ১৫১)-তে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন: তারা কোথায় যারা খেলতামাশা ও শয়তানের বাদ্যযন্ত্র থেকে নিজেদের নফস ও কানকে পবিত্র রাখত? তাদের জান্নাতের বাগানে প্রবেশ করাও। এরপর তিনি ফেরেশতাদের বলবেন: তাদের আমার প্রশংসা ও স্তুতি শোনাও এবং তাদের জানিয়ে দাও যে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না» এটি আবু নুআইমের পাঠ।

(২) আবু হুরায়রার হাদিস হিসেবে আমি এটি পাইনি। ইবনে মাসউদের হাদিস হিসেবে এটি আবু দাউদ (৪৯২৭) এবং বায়হাকি (১০/ ২২৩) বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার 'তালখিসুল হাবির' (৪/ ৩৬৭)-এ বলেছেন: ((গান অন্তরে নিফাক উৎপন্ন করে যেভাবে পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে)) হাদিসটি আবু দাউদ উপমা ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন, আর বায়হাকি ইবনে মাসউদ থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে জনৈক নামহীন শায়খ (شيخ لم يسم) রয়েছেন। বায়হাকি এটি মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা থেকে ইবনে আদি একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে তাহির বলেছেন: এই বিষয়ে সর্বাধিক সহিহ সনদ (أصح الأسانيد) হলো এটি ইব্রাহিমের উক্তি।

(৩) (য২) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এবং শোনা।

(৪) এটি আমি পাইনি।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأخرج الديلمي أنَّه صلى الله عليه وسلم قال: ((الغناء واللهو يُنبِتان النِّفاق في القلب، كما يُنبِت الماء العشب، والذي نفسي بيده إنَّ القُرآن والذِّكر لينبتان الإيمانَ في القلبِ كما ينبت الماءُ العُشبَ)) (1).

وعن جابرٍ رضي الله عنه أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((الغناء يُنبِت النِّفاق في القلب، كما يُنبِت الماء الزرع)) (2).

وعن أبي موسى رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((مَن استمع إلى صوت غناء لم يُؤذن له أنْ يستَمِع إلى صوت الروحانيين في الجنَّة))؛ رواه الحكيم الترمذي (3).

وعن أنسٍ وعائشةَ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((صوتان مَلعونان في الدُّنيا والآخِرة: مِزمار عند نِعمةٍ، ورنَّة عند مُصِيبة))؛ رواه البزار، وابن مردويه، والبيهقي (4).

وعن ابن عمرَ رضي الله عنهما أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الغِناء والاستماع إلى الغناء، وعن الغيبة والاستماع إلى الغيبة، ونهى عن النميمة والاستماع إلى النميمة؛ رواه الطبراني، والخطابي (5).

--------------------------------------------

(1) أورده الديلمي في "الفردوس" (3/ 115، رقم 4319) من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه وقال العجلوني في "كشف الخفاء" (2/ 103): رواه الديلمي عن أنسٍ مرفوعًا بزيادة: ((والذي نفسي بيده إنَّ القُرآن والذِّكر لينبتان الإيمان في القلب كما ينبت الماء العشب))، ولا يصحُّ، كما قاله النووي.

(2) أخرجه البيهقي في "الشعب" (5100) من حديث أبي الزبير، عن جابر.

(3) أورده الحكيم الترمذي في "نوادر الأصول" (2/ 87/ ط دار الجيل)، والمناوي في "فيض القدير" (6/ 60).

(4) أخرجه الضياء في "المختارة" (6/ 189)، وأورده الديلمي في "الفردوس" (2/ 400)، والمنذري في "الترغيب والترهيب" (4/ 184)، ونور الدين الهيثمي في "المجمع" (3/ 13) من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه وقال المنذري، والهيثمي: رواه البزار ورجاله ثقات، ولم أقفْ على حديث أم المؤمنين عائشة، وإنْ كان قد نبَّه عليه الشوكاني في "نيل الأوطار" (8/ 268) إلى أنَّه في "مسند البزار" أيضًا.

(5) أخرجه الطبراني في "الأوسط " (2393) وقال الهيثمي في "المجمع" (8/ 91): فيه فرات بن السائب، وهو متروكٌ، وقال المناوي في "فيض القدير" (6/ 320): قال العراقي: سنده ضعيف.
দাইলামি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "গান এবং অনর্থক আমোদ-প্রমোদ অন্তরে মুনাফেকি উৎপন্ন করে, যেমন পানি ঘাস উৎপন্ন করে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই কুরআন এবং জিকির অন্তরে ঈমান উৎপন্ন করে, যেমন পানি ঘাস উৎপন্ন করে।" (১)

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "গান অন্তরে মুনাফেকি উৎপন্ন করে, যেমন পানি শস্য উৎপন্ন করে।" (২)

আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি গানের আওয়াজ শুনবে, তাকে জান্নাতে রুহানিদের (আধ্যাত্মিক সত্তা) আওয়াজ শোনার অনুমতি দেওয়া হবে না"; এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাকিম আল-তিরমিজি (৩)।

আনাস এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "দুনিয়া ও আখেরাতে দুটি শব্দ অভিশপ্ত: নেয়ামতের সময় বাদ্যযন্ত্র এবং বিপদের সময় বিলাপের সুর"; এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাযযার, ইবনে মারদুওয়াহ এবং আল-বায়হাকি (৪)।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) গান গাওয়া ও গান শোনা থেকে, গিবত করা ও গিবত শোনা থেকে এবং চোগলখুরি করা ও চোগলখুরি শোনা থেকে নিষেধ করেছেন; এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি এবং খাত্তাবি (৫)।

--------------------------------------------

(১) দাইলামি এটি "আল-ফিরদাউস" (৩/১১৫, নং ৪৩১৯) গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন। আজলুনি "কাশফুল খাফা" (২/১০৩) গ্রন্থে বলেছেন: দাইলামি এটি আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে এই অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই কুরআন এবং জিকির অন্তরে ঈমান উৎপন্ন করে যেমন পানি ঘাস উৎপন্ন করে।" ইমাম নববী যেমনটি বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ নয় (لا يصح)।

(২) বায়হাকি এটি "শুয়াবুল ঈমান" (৫১০০) গ্রন্থে আবু জুবায়ের থেকে, জাবিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-হাকিম আল-তিরমিজি এটি "নাওয়াদিরুল উসুল" (২/৮৭/দার আল-জিল সংস্করণ) গ্রন্থে এবং মুনাবি "ফয়জুল কাদির" (৬/৬০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৪) আল-দিয়া এটি "আল-মুখতারা" (৬/১৮৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং দাইলামি "আল-ফিরদাউস" (২/৪০০) গ্রন্থে, মুনযিরি "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব" (৪/১৮৪) গ্রন্থে এবং নুরউদ্দিন হাইসামি "আল-মাজমা" (৩/১৩) গ্রন্থে এটি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন। মুনযিরি ও হাইসামি বলেছেন: এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আমি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি খুঁজে পাইনি, যদিও শাওকানি "নাইলুল আওতার" (৮/২৬৮) গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন যে এটি মুসনাদ আল-বাযযার-এও রয়েছে।

(৫) তাবারানি এটি "আল-আওসাত" (২৩৯৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি "আল-মাজমা" (৮/৯১) গ্রন্থে বলেছেন: এতে ফুরাত ইবনে সাইব রয়েছে, আর সে পরিত্যক্ত (متروك)। মুনাবি "ফয়জুল কাদির" (৬/৩২০) গ্রন্থে বলেছেন: আল-ইরাকি বলেছেন যে এর সনদ দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن ابن مسعودٍ أنَّه سُئِلَ عن قوله - تعالى -: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الحَدِيثِ} فقال: "الغناء، والذي لا إله إلا هو [لا] غيره"؛ رواه ابن أبي شيبة بإسناد صحيح، وأخرجه الحاكم وصحَّحه، والبيهقي [وغيره] (1).

* * *

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه ابن أبي شيبة (4/ 368 رقم 21130)، والحاكم (3542) والبيهقي (10/ 223)، وقال الحاكم: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، وقال ابن حجر في "تلخيص الحبير" (4/ 200): حديث ابن مسعود في قوله - تعالى -: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} [لقمان: 6] قال: "هو والله الغناء"، ابن أبي شيبة بإسناد صحيح: أنَّ عبدالله سُئِلَ عن قوله - تعالى -: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} [لقمان: 6] قال: "الغناء، والذي لا إله غيره"، وأخرجه الحاكم وصحَّحه، والبيهقي.
ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত যে, তাঁকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা অসার বাক্য (লাহওয়াল হাদিস) ক্রয় করে}; তিনি বললেন: "তা হলো গান; সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য মাবুদ নেই।" এটি ইবনে আবি শায়বাহ একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন ও একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন, আর বায়হাকিও [ও অন্যান্যরা] এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

* * *

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি ইবনে আবি শায়বাহ (৪/ ৩৬৮, নম্বর ২১১৩০), হাকিম (৩৫৪২) এবং বায়হাকি (১০/ ২২৩) বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد) কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। ইবনে হাজার ‘তালখিসুল হাবির’ (৪/ ২০০) গ্রন্থে বলেছেন: মহান আল্লাহর এই বাণী— {আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা অসার বাক্য ক্রয় করে} [লুকমান: ৬]—প্রসঙ্গে ইবনে মাসউদের হাদিস; তিনি বলেছেন: "আল্লাহর কসম, তা হলো গান"। ইবনে আবি শায়বাহ একটি সহিহ (صحيح) সনদ সহ বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ (রা.)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা অসার বাক্য ক্রয় করে} [লুকমান: ৬]; তিনি বললেন: "তা হলো গান; সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য মাবুদ নেই"। এবং হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন ও একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, আর বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الباب الأول: في أقسام الغناء المحرَّم وغيره

‌‌القسم الأول: فِي سماع مجرد الغناء من غير آلة

اعلَمْ أنَّ مذهبنا أنَّه يُكرَه الغناء وسماعه إلا إنِ اقتَرَن به ما يأتي، وقال بعض العلماء: إنَّه سنَّة فِي العُرْسِ [ز1/ 4/ب] ونحوه، وقال الغزالي وابن عبدالسلام من أئمَّتنا: إنَّه سنَّة إنْ حرَّك بحال سني مُذكِّر للآخِرة، ا. هـ.

[وبه يُعلَم أنَّ كلَّ شِعر فيه الأمر بالطاعة، أو كان حكمةً] (1)، أو كان فِي مكارم الأخلاق أو الزهد ونحو ذلك من خِصال البر؛ كحثٍّ على طاعة أو سنة، أو اجتناب معصية يكون كلٌّ من إنشائه وإنشاده وسماعِه سنَّة؛ كما صرَّح به غيرُ واحد من أئمَّتنا، وهو ظاهر؛ إذ وسيلةُ الطاعة طاعةٌ.

قال الأذرعي (2): وما أحسن قول الماوردي: الشعر فِي كلام العرب:

مستحب: إنْ حذَّر من الدُّنْيَا أو رغَّب فِي الآخِرة، أو حثَّ على مكارم الأخلاق.

ومباح: وهو ما سَلِمَ من فُحش وكذب.

ومحظور: وهو ما اقترن بأحدهما (3).

فإنْ قلت: نقل القاضي الحسين عن سيِّد الطائفة أبي القاسم الجنيد (4) وهو من أكابر الشافعيَّة أنَّ السماع على ثلاثة أقسام:

--------------------------------------------

(1) في (ز2): وبه يعلم أنَّ كلَّ شِعر فيه مدح النبوة والإسلام، أو كان حكمه.

(2) الأذرعي: شهاب الدين أحمد بن حمدان الشافعي الدمشقي تُوفِّي سنة 783، من تصانيفه تعليقةٌ على المهمات شرح للأسنوي، والتوسط والفتح بين الروضة والشرح في الفرع (انظر: (1/ 61) "هدية العارفين" للباباني).

(3) "الحاوي"؛ للماوردي (17/ 202 - 210) ط دار الفكر، وقد أطنب الماوردي في تفصيل حُكم الشعر وبيان الخلاف فيه، وما كان عليه سلف الأمَّة فيه.

(4) سيد الطائفة: جنيد بن محمد بن الجنيد البغدادي أبو القاسم القواريري الزاهد الحنفي مفتي الثقلين تُوفِّي سنة 298، من تصانيفه: أمثال القرآن، ومعاني الهمم في الفتاوى، والمقصد إلى الله - تعالى - في التصوف، (انظر: (1/ 138) "هدية العارفين"؛ للباباني).
‌‌প্রথম অধ্যায়: নিষিদ্ধ গান ও অন্যান্য প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত নিছক গান শোনার প্রসঙ্গে

জেনে রাখুন যে, আমাদের মাযহাব (মতামত) হলো, গান গাওয়া এবং তা শোনা অপছন্দনীয় (يُكره), যদি না এর সাথে পরবর্তী বিষয়গুলো যুক্ত হয়। কতিপয় আলিম বলেছেন: বিবাহ [য১/ ৪/খ] এবং এই জাতীয় অনুষ্ঠানে এটি সুন্নাত (سنة)। আমাদের ইমামগণের মধ্য হতে ইমাম গাজালি এবং ইবনে আব্দুস সালাম বলেছেন: যদি এটি আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন কোনো মহৎ আধ্যাত্মিক অবস্থা জাগ্রত করে, তবে তা সুন্নাত (سنة)। (সমাপ্ত)

[এর দ্বারা জানা যায় যে, যে সকল কবিতায় আনুগত্যের নির্দেশ রয়েছে অথবা যা প্রজ্ঞাপূর্ণ (حكمة)] (১), কিংবা যা সচ্চরিত্র বা দুনিয়াবিমুখতা (زهد) এবং এই জাতীয় নেক আমল সংশ্লিষ্ট; যেমন আনুগত্য বা সুন্নাত (سنة)-এর প্রতি উৎসাহ প্রদান, কিংবা গুনাহ বর্জন করা—সেই কবিতা রচনা করা, আবৃত্তি করা এবং শোনা সুন্নাত (سنة); যেমনটি আমাদের ইমামগণের একাধিক ইমাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর এটিই সুস্পষ্ট; কারণ আনুগত্যের মাধ্যমও আনুগত্য হিসেবে গণ্য।

আল-আযরায়ী (২) বলেন: ইমাম মাওয়ার্দীর বক্তব্য কতই না চমৎকার: আরবদের পরিভাষায় কবিতা হলো:

মুস্তাহাব (مستحب): যদি তা দুনিয়া থেকে সতর্ক করে কিংবা আখেরাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে অথবা সচ্চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করে।

মুবাহ (مباح): যা অশ্লীলতা ও মিথ্যা থেকে মুক্ত।

নিষিদ্ধ (محظور): যা এই দুটির (অশ্লীলতা ও মিথ্যা) কোনো একটির সাথে যুক্ত (৩)।

আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কাজী হুসাইন সুফিদের সরদার আবুল কাসেম জুনাইদ (৪) থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি শাফেয়ী মাযহাবের বিশিষ্ট ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত—যে, গান শোনা তিন প্রকার:

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (য২)-এ রয়েছে: এর দ্বারা জানা যায় যে, যে সকল কবিতায় নবুওয়াত ও ইসলামের প্রশংসা রয়েছে অথবা যা প্রজ্ঞাপূর্ণ (حكمه)।

(২) আল-আযরায়ী: শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন হামদান আশ-শাফেয়ী আদ-দিমাশকি, মৃত্যু ৭৮৩ হিজরি। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে আল-মুহিম্মাত (আসনাউয়ির শারহ) এর ওপর একটি তালীকা (টীকা), এবং ফিকহ শাস্ত্রের আত-তাওয়াসসুত ওয়াল ফাতহু বাইনার রওদাতি ওয়াশ-শারহ (দ্রষ্টব্য: বাবানি রচিত ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ১/৬১)।

(৩) মাওয়ার্দী রচিত ‘আল-হাভি’ (১৭/ ২০২ - ২১০), দারুল ফিকর সংস্করণ। ইমাম মাওয়ার্দী কবিতার বিধান, এ বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদ এবং এ ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (সালাফ) অবস্থান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

(৪) সাইয়িদুত তায়েফা: জুনাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-জুনাইদ আল-বাগদাদি আবু কাসেম আল-কাওয়ারিরি, বিরাগী (زاهد), হানাফি, মুফতিউস সাকালাইন, মৃত্যু ২৯৮ হিজরি। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আমসালুল কুরআন, মা’আনিল হিমাম ফিল ফাতাওয়া, এবং তাসাউফ বিষয়ক আল-মাকসাদ ইলাল্লাহ তা’আলা (দ্রষ্টব্য: বাবানি রচিত ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ১/১৩৮)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৮)
سماع العوام: وهو حرامٌ عليهم؛ لبقاء نفوسهم.

وسماع الزهَّاد: وهو مباح لهم؛ لحصول مجاهدتهم.

وسماع العارفين: فيستحبُّ لهم لحياة قُلوبهم، فجعل من السماع ما هو حرام، وصحَّح ما قاله السهروردي فِي "عوارف المَعارِف" (1) وهو من كبار الشافعية أيضًا، وذكر نحوه أبو طالب المكي وهو خلاف ما مرَّ.

قلت: لم ينفرد الجنيد بذلك بل صرَّح به من كبار أئمَّتنا أقضى القضاة الماوردي وغيره، وليس خلافًا لما ذكر؛ لأنَّ الذي مر مفروضٌ فِي سماعٍ لم يخشَ منه فتنة، ولم يقترنْ به منكرٌ بوجه، ومراد الجنيد رضي الله عنه بهذا الحرام ما خُشِي منه فتنة؛ كأنْ سمعه من امرأةٍ أجنبيَّة، [أو أمرد حسن، أو ما اقترن به منكر؛ كهوًى نشَأ] من عشقٍ محرَّم كما هو الغالب على العامَّة، ثم رأيت بعض الشافعيَّة قال: الظاهر أنَّ الجنيد لم يرد التحريم الاصطلاحي، وإنما أراد أنَّه لا ينبغي، ا. هـ.

وما قرَّرت به كلامه أولى كما لا يخفى على مُتأمِّل، وكأنَّ الغزالي أخَذ من كلام الجنيد هذا قوله في "الإحياء": السماع إمَّا مندوب لِمَن غلب عليه حبُّ الله وحبُّ لقائه، فإنَّه يستخرج منه أحوالاً ومُلاطفات ومُكاشفات، وإمَّا مباحٌ لعاشقٍ عشقًا مباحًا لزوجته أو أمَتِه، أو لعامي لم يغلبْ عليه حبُّ

--------------------------------------------

(1) "عوارف المعارف في التصوف": للشيخ شهاب الدين أبي حفص عمر بن محمد بن عبدالله السهروردي المتوفَّى سنة 632، وهو مشتملٌ على: ثلاثةٍ وستين بابًا كلها في سير القوم وأحوالهم، ("كشف الظنون"؛ للحاج خليفة (2/ 1177)).
সাধারণ মানুষের (عوام) গান শোনা (سماع): এটি তাদের প্রবৃত্তি (نفوس) বিদ্যমান থাকার কারণে তাদের জন্য নিষিদ্ধ (حرام)।

জাহিদদের (زهاد) গান শোনা (سماع): এটি তাদের জন্য বৈধ (مباح); তাদের সাধনা (مجاهدة) অর্জিত হওয়ার কারণে।

আরিফ বা আল্লাহওয়ালাদের (عارفين) গান শোনা (سماع): এটি তাদের অন্তরের সজীবতার জন্য মুস্তাহাব (مستحب)। এভাবে তিনি ‘সামা’ বা গান শোনার কিছু অংশকে নিষিদ্ধ (حرام) সাব্যস্ত করেছেন। তিনি "আওয়ারিফুল মাআরিফ" গ্রন্থে সোহরাওয়ার্দী যা বলেছেন তাকে সঠিক (صحح) বলে গণ্য করেছেন। সোহরাওয়ার্দী নিজেও বড় মাপের শাফেয়ি আলেম ছিলেন। আবু তালিব আল-মাক্কিও অনুরূপ বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা পূর্বে বর্ণিত আলোচনার পরিপন্থী।

আমি বলছি: জুনাইদ এই মত পোষণে একক নন, বরং আমাদের বড় ইমামদের মধ্যে প্রধান বিচারপতি মাওয়ার্দী ও অন্যান্যরা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত (صرح) করেছেন। এটি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পরিপন্থী নয়; কারণ পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা এমন গান শোনা (سماع) সম্পর্কিত যেখানে ফিতনার আশঙ্কা নেই এবং কোনোভাবেই কোনো গর্হিত কাজের (منكر) সংশ্লেষ ঘটেনি। জুনাইদ (রা.) এই ‘হারাম’ (حرام) দ্বারা ঐ বিষয়কে বুঝিয়েছেন যাতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে; যেমন কোনো বেগানা নারীর কণ্ঠে শোনা, [অথবা কোনো সুদর্শন কিশোরের থেকে শোনা, কিংবা যার সাথে কোনো গর্হিত কাজ (منكر) যুক্ত হয়; যেমন কোনো নিষিদ্ধ আসক্তি থেকে সৃষ্ট প্রবৃত্তি], যা সাধারণত সাধারণ মানুষের (عامة) ক্ষেত্রে প্রবল থাকে। এরপর আমি জনৈক শাফেয়ি আলেমকে বলতে দেখেছি: বাহ্যত জুনাইদ এখানে পারিভাষিক নিষিদ্ধতা (تحريم اصطلاحي) বুঝাননি, বরং তিনি বুঝিয়েছেন যে এটি অনুচিত। সমাপ্ত।

তার বক্তব্য সম্পর্কে আমি যা নির্ধারণ করেছি তাই অধিকতর উপযোগী, যা কোনো সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তির কাছে গোপন নয়। সম্ভবত ইমাম গাজালি জুনাইদের এই বক্তব্য থেকেই "এহিয়া" গ্রন্থে তার এই কথাটি গ্রহণ করেছেন: গান শোনা (سماع) হয় মানদুব (مندوب) ঐ ব্যক্তির জন্য যার অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়েছে; কেননা তা বিভিন্ন আধ্যাত্মিক অবস্থা (أحوال), সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং কাশফ (مكاشفات) উন্মোচন করে। অথবা এটি বৈধ (مباح) এমন প্রেমিকের জন্য যে তার স্ত্রী বা দাসীর প্রতি বৈধ আসক্তি রাখে, অথবা এমন সাধারণ ব্যক্তির জন্য যার অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা প্রবল হয়ে ওঠেনি...

--------------------------------------------

(১) "আওয়ারিফুল মাআরিফ ফিত তাসাউউফ": এটি শেখ শিহাবুদ্দিন আবু حفص উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দীর (মৃত্যু: ৬৩২ হিজরি) রচনা। এটি ৬৩টি অধ্যায় সম্বলিত, যার সবগুলোই সুফিয়াদের জীবনচরিত ও আধ্যাত্মিক অবস্থা (أحوال) সম্পর্কে। (হাজি খলিফা রচিত "কাশফুয যুনুন": ২/ ১১৭৭)।
(খণ্ড: ১) কাফফুল রুআ-আ আন মুহাররামাতিল লাহউই ওয়াস সামা (পৃষ্ঠা: ২৯)
الله ولا الهوى، وإمَّا محرَّم لِمَن غلب عليه هوى محرم (1)، وسُئِل العزُّ بن عبدالسلام [ز1/ 5/أ] عن استماع الإنشاد فِي المحبَّة والرقص؟ فقال: الرقص بدعةٌ لا يتعاطاه إلا ناقص العقل، ولا يصلح إلَاّ للنساء، وأمَّا سماع الإنشاد المحرِّك للأحوال السنيَّة المذكِّر لأمور الآخرة فلا بأس به، بل يُندَب عند الفتور وسآمَة القلب، ولا يحظر [إلا] لِمَن فِي قلبه هوًى خبيث فإنَّه يُحرِّك ما فِي القلب.

وقال أيضا: السماع يختلف باختلاف السامعين والمسموع منهم وهم أقسام:

أحدها: العارفون بالله، ويختلف سماعهم باختلاف أحوالهم؛ فمَن غلب عليه الخوف أثَّر فيه سماع المخوفات وظهر أثَرها عليه من البكاء وتغيُّر اللون والحزن، والخوف إمَّا خوف عِقاب أو فَوات ثواب أو فَوات الأنس والقُرب، وهذا من أفضل الخائفين وأفضل السامعين، فمثله لا يتصنَّع بها، ولا يصدر منه إلَاّ ما غلب من آثار الخوف، وهذا إذا سمع القرآن كان تأثيرُه فيه أشدَّ من تأثير الإنشاد والغناء.

الثاني: مَن غلب عليه الوجدُ، فهذا يُؤثِّر فيه ذِكرُ المرجيات، [فإنْ كان رجاه] للأنس والقُرب كان سماعُه أفضل من كلِّ سماع أو للثواب فهو مفضول.

--------------------------------------------

(1) لم أقف على النصِّ بلفظه، ووقفتُ على معناه، قال الغزالي في "الإحياء" (2/ 306/ط دار المعرفة): السماع قد يكون حرامًا محضًا، وقد يكونُ مباحًا، وقد يكون مكروهًا، وقد يكون مستحبًّا، أمَّا الحرام فهو لأكثر الناس من الشُّبَّان ومَن غلبت عليهم شهوةُ الدنيا، فلا يحرك السماع منهم إلا ما هو الغالب على قلوبهم من الصفات المذمومة، وأمَّا المكروه فهو لمن لا ينزله على صورة المخلوقين ولكنَّه يتَّخِذه عادةً له في أكثر الأوقات على سبيل اللهو، وأمَّا المباح فهو لمن لا حظَّ له منه إلا التلذُّذ بالصوت الحسن، وأمَّا المستحب فهو لمن غلب عليه حبُّ الله - تعالى - ولم يحرك السماع منه إلا الصفات المحمودة.
...আল্লাহর জন্য এবং কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে নয়; আর এটি এমন ব্যক্তির জন্য হারাম (محرم) যার ওপর কোনো নিষিদ্ধ প্রবৃত্তি প্রবল হয় (১)। ইজ্জ ইবনে আবদুস সালামকে [জ১/ ৫/অ] ভালোবাসা বিষয়ক সংগীত শোনা এবং নাচ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: নাচ হচ্ছে একটি নবউদ্ভাবন (بدعة), যা কেবল বুদ্ধিহীন ব্যক্তিরাই করে থাকে এবং এটি নারীদের ছাড়া আর কারো জন্য শোভনীয় নয়। পক্ষান্তরে মহৎ আধ্যাত্মিক অবস্থা জাগ্রতকারী এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন সংগীত শোনার মধ্যে কোনো দোষ নেই। বরং অবসাদ ও হৃদয়ের ক্লান্তি দূর করতে তা পছন্দনীয় (يندب)। আর এটি কেবল তার জন্যই নিষিদ্ধ (يحظر), যার হৃদয়ে কোনো কলুষিত প্রবৃত্তি রয়েছে; কেননা এটি তার হৃদয়ে বিদ্যমান কুমন্ত্রণাগুলোকে জাগ্রত করে।

তিনি আরও বলেন: শ্রবণ বা শোনা, শ্রবণকারী এবং যাদের নিকট থেকে শোনা হচ্ছে তাদের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তারা কয়েক প্রকার:

প্রথম: আল্লাহ সম্পর্কে মারেফাত লাভকারী বা আরিফগণ। তাদের অবস্থাভেদে শ্রবণের প্রভাবে ভিন্নতা আসে। যাদের ওপর ভয় প্রবল থাকে, তাদের ওপর ভীতিপ্রদ বিষয়গুলো প্রভাব ফেলে এবং তাদের ওপর এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে কান্না, গায়ের রঙ পরিবর্তন হওয়া এবং বিষণ্নতা প্রকাশ পায়। এই ভয় হয় শাস্তির ভয়, অথবা সওয়াব হারানোর ভয়, কিংবা আল্লাহর নৈকট্য ও মহব্বত হারানোর ভয়। এরা সর্বোত্তম ভীতু এবং সর্বোত্তম শ্রবণকারী। তাদের মতো ব্যক্তিরা কৃত্রিমতা প্রদর্শন করে না এবং তাদের থেকে ভয়ের প্রবল প্রভাব ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ পায় না। আর তারা যখন কুরআন শোনে, তখন তাদের ওপর সংগীত বা গানের চেয়ে কুরআনের প্রভাব অধিকতর প্রবল হয়।

দ্বিতীয়: যাদের ওপর ভাবাবেশ প্রবল থাকে। তাদের ওপর আশাব্যঞ্জক বিষয়গুলোর আলোচনা প্রভাব ফেলে। [যদি তার আশা] আল্লাহর মহব্বত ও নৈকট্য লাভের জন্য হয়, তবে তার শ্রবণ করা অন্য যেকোনো শ্রবণের চেয়ে উত্তম। আর যদি সওয়াব লাভের জন্য হয়, তবে তা অপেক্ষাকৃত কম ফযিলতপূর্ণ (مفضول)।

--------------------------------------------

(১) আমি এই উদ্ধৃতিটি হুবহু শব্দে পাইনি, তবে এর অর্থগত মিল খুঁজে পেয়েছি। গাজালি 'এহিয়া' (২/ ৩০৬/দারুল মা’রিফাহ সংস্করণ) গ্রন্থে বলেছেন: শোনা কখনো পুরোপুরি হারাম (حرام) হতে পারে, কখনো বৈধ (مباح), কখনো মাকরূহ (مكروه), আবার কখনো মুস্তাহাব (مستحب) হতে পারে। যা হারাম (حرام), তা হচ্ছে অধিকাংশ যুবক এবং যাদের ওপর দুনিয়ার মোহ প্রবল তাদের জন্য; ফলে শ্রবণ তাদের হৃদয়ে বিদ্যমান মন্দ গুণাবলী ছাড়া অন্য কিছু জাগ্রত করে না। আর যা মাকরূহ (مكروه), তা এমন ব্যক্তির জন্য যে তা সৃষ্টির রূপক অর্থে গ্রহণ করে না, বরং অধিকাংশ সময় খেল-তামাশা হিসেবে একে অভ্যাসে পরিণত করে নেয়। আর যা মুবাহ (مباح), তা এমন ব্যক্তির জন্য যার সুন্দর কণ্ঠের স্বাদ গ্রহণ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আর যা মুস্তাহাব (مستحب), তা এমন ব্যক্তির জন্য যার ওপর মহান আল্লাহর ভালোবাসা প্রবল এবং শ্রবণ তার মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় গুণাবলীকেই জাগ্রত করে।