(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: -)
المختصر النصيح في تهذيب الكتاب الجامع الصحيح   (المهلب بن أبي صفرة)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الْمُخْتَصَرُ النَّصِيحُ فِي تَهْذِيبِ الْكِتَابِ الْجَامِعِ الْصَّحِيحِ

المؤلف: المُهَلَّبُ بنُ أَحْمَدَ بنِ أَبِي صُفْرَةَ أَسِيْدِ بنِ عَبْدِ اللهِ الأَسَدِيُّ الأَنْدَلُسِيُّ، المَرِيِيُّ (ت 435هـ)

المحقق: أَحْمَدُ بْنُ فَارِسٍ السَّلوم

الناشر: دار التوحيد، دار أهل السنة - الرياض

الطبعة: الأولى، 1430هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 4

مصدر الكتاب/ مكتبة ملتقى أهل الحديث

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 محرم 1433

আল-মুখতাসার আন-নাসীহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামি' আস-সাহীহ   (মুহাল্লাব ইবনে আবী সুফরা)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-মুখতাসার আন-নাসীহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামি' আস-সাহীহ

লেখক: মুহাল্লাব ইবনে আহমাদ ইবনে আবী সুফরা আসীদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদী আল-আন্দালুসী, আল-মারিয়ী (মৃ. ৪৩৫ হিজরী)

তাহকীক: আহমাদ ইবনে ফারিস আস-সাল্লূম

প্রকাশক: দারুত তাওহীদ, দারু আহলিস সুন্নাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

কিতাবের উৎস/ মাকতাবাতু মুলতাকা আহলিল হাদীস

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণকপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ মুহাররাম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১)
اخْتِصَارُ صَحِيحِ الْبُخَارِيّ المسَمَّى:

 

الْمُخْتَصَرُ النَّصِيحُ

فِي تَهْذِيبِ الْكِتَابِ الْجَامِعِ الْصَّحِيحِ

 

تَأليف

الْقَاضِي الْمُحَدِّث الْفَقِيه الْمُهَلَّب بْنِ أبِي صُفْرَةَ التَّمِيمِيِّ الْمَالِكِيِّ الأَنْدَلُسِيِّ

مِنْ رِوَايَتِهِ عَنْ الأَصِيلِيِّ وَالْقابِسِيِّ وَغَيْرِهِمَا

 

(هَذَّبَهُ بِتَحْرِيرِ الأَسَانِيدِ وَجَمْعِ الرِّوَايَاتِ دُونَ إِخْلالٍ بِأَلْفَاظِهِ وَأَسَانِيدِهِ، مَع شَرْح أحَادِيثهِ وَبَيَانِ فِقْهِهِا، وَبَيانِ أَمَاكِنِها في الصَّحِيحِ)

 

ضَبَطَ النُّسْخَةَ وَعَلَّقَ عَلَيْهَا

الدّكتُور: أَحْمَدُ بْنُ فَارِسٍ السَّلوم

عَفَا اللهُ عَنْهُ
সহীহ আল-বুখারীর সংক্ষিপ্তসার, যার নাম:

 

আল-মুখতাসার আন-নাসিহ

আল-কিতাব আল-জামি আস-সহীহ-এর বিন্যাসে

 

রচনা

আল-কাজি আল-মুহাদ্দিস আল-ফকিহ আল-মুহাল্লাব বিন আবি সুফরা আত-তামিমি আল-মালিকি আল-আন্দালুসি

আল-আসিলি, আল-কাবেসি এবং অন্যান্যদের থেকে তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়াত অনুযায়ী

 

(তিনি সনদসমূহ সম্পাদনা এবং বর্ণনাগুলো সংকলনের মাধ্যমে গ্রন্থটিকে পরিমার্জিত করেছেন এর শব্দাবলি ও সনদের কোনো রূপ হানি না ঘটিয়ে, সাথে হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা, ফিকহী বিশ্লেষণ এবং সহীহ বুখারীতে সেগুলোর অবস্থান বর্ণনা করেছেন)

 

পাণ্ডুলিপি যাচাই ও টীকা প্রদান করেছেন

ডক্টর: আহমদ বিন ফারেস আস-সাল্লুম

আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة المحقق]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الواحد الأحد، والصلاة والسلام على النبي الخاتم، وعلى آله وصحبه والتابعين، وعلى تابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.

{رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ}.

{رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ}.

أما بعد:

أَلْهَمَنِي الله وإياك الرشد واليقين، ورزقنا العلم النافع، والعمل الصالح، ونفعني وإياك بهذا الكتاب النصيح الذي هذَّب بهِ القاضي المهلبُ بن أبِي صفرة التميمي الأندلسي صحيحَ الإمام أبِي عبد الله البخاري رحمهما الله تعالى.

فإنَّ هذا الكتاب النصيح مبني على تهذيب روايتين مشهورتين لصحيح البخاري، هما رواية الأصيلي ورواية القابسي، وإن كانت رواية القابسي فرع عن رواية الأصيلي، لاجتماع الشيخين على الأخذ عن أبِي زيد المروزي في مكة المكرمة - شرفها الله - أولًا، ولاعتماد القابسي على أبِي محمد الأصيلي في ضبط النسخة عن أبِي زيد ثانيًا، وعن هذين العالمين الكبيرين والإمامين المحدثين - وعن غيرهما - تلقى القاضي المحدث العالم المهلب بن أبِي صفرة صحيح البخاري، ضبطه
[মুহাক্কিকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক ও অদ্বিতীয়, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবীর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

{হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর তেমন গুরুভার অর্পণ করবেন না, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পণ করেছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন কোনো ভার চাপিয়ে দেবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক; সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।}

{হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই সব ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছেন এবং যারা ঈমান এনেছেন তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু।}

অত:পর:

আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে সঠিক পথ ও দৃঢ় বিশ্বাসের দিকনির্দেশনা দান করুন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল নসিব করুন। আর এই হিতোপদেশমূলক কিতাবটির মাধ্যমে আমাকে ও আপনাকে উপকৃত করুন, যার মাধ্যমে কাজী মুহাল্লাব বিন আবি সুফরাহ আত-তামিমি আল-আন্দালুসি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারীর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন) সহীহ গ্রন্থটিকে সুবিন্যস্ত করেছেন।

নিশ্চয়ই এই হিতোপদেশমূলক গ্রন্থটি সহীহ বুখারীর দুটি প্রসিদ্ধ বর্ণনার পরিমার্জনের ওপর ভিত্তি করে রচিত; তা হলো আল-আসিলির বর্ণনা এবং আল-কাবিসির বর্ণনা। যদিও আল-কাবিসির বর্ণনাটি আল-আসিলির বর্ণনারই একটি শাখা, কারণ এই দুই শাইখ প্রথমত পবিত্র মক্কায়—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—আবু যাইদ আল-মারওয়াযীর নিকট থেকে ইলম অর্জনে একত্রিত হয়েছিলেন, এবং দ্বিতীয়ত আবু যাইদ থেকে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপির শুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আল-কাবিসি আবু মুহাম্মদ আল-আসিলির ওপর নির্ভর করেছিলেন। এই দুই মহান আলিম ও মুহাদ্দিস ইমামের নিকট থেকে—এবং অন্যদের নিকট থেকেও—মুহাদ্দিস ও আলিম কাজী মুহাল্লাব বিন আবি সুফরাহ সহীহ বুখারী গ্রহণ করেছেন এবং এটি সুবিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وسمعه ودرسه على شيخه وأبي زوجته أبِي محمد الأصيلي، ثم أخذه عن أبِي الحسن القابسي، ثم رحل وسمعه في المشرق على أبِي ذر الهروي بروايته عن شيوخه الثلاثة المشاهير.

وليس المقصود من تهذيب واختصار هذا الكتاب ما يتبادر إلى الذهن من حذف للأسانيد، واقتصار على بعض الألفاظ دون بعض، بل هو تهذيب على نحو مبتكر مبني على جمع الطرق في مكان واحد، محافظا فيه على أسانيد الحديث المختلفة، حاشدا ألفاظه ورواياته الكثيرة، كما سنذكره عند الكلام على منهج المصنف فيه.

ولآل أبِي صفرة عناية بصحيح البخاري فائقة، واهتمام به بالغ، والمهلب هو الذي قيل فيه: أَحْيَا كِتَابَ البخاري في بلاد الأندلس.

وللمهلب بن أبِي صفرة على الصحيح كتابان:

الأول: هذا المختصر النصيح، الذي أقدمه لك، نبه مؤلفه عن أهميته بقوله في أوله: «كتابي هذا: يحتاج إليه طبقات العلم الثلاث؛ أعني المسندين، والمتفقهين، والمتحفظين».

هذب فيه صحيح البخاري على نحوٍ حسن بديع، من غير إخلال بمتونه وأسانيده، ولا تطويل بتكريره وتقطيعه، فقرب بذلك الاستفادة منه، وسهل التعامل معه، ولو شئت لقلت إن المفاضلة التي وقعت بين البخاري ومسلم وقيل فيها إن مسلما فاق البخاري بحسن الصناعة وجودة الصياغة من حيث إنه يجمع الروايات في مكان واحد، ويحشد الطرق في أول ورودها، ولا يقطع الحديث، ولا يكرره ونحو ذلك مما تقدم به مسلم على البخاري عند بعضهم، قد أتى به المهلب
তিনি এটি শ্রবণ করেছেন এবং অধ্যয়ন করেছেন তাঁর শাইখ ও তাঁর শ্বশুড় আবু মুহাম্মদ আল-আসিলির কাছে। অতঃপর তা গ্রহণ করেছেন আবু আল-হাসান আল-কাবেসি থেকে। এরপর তিনি সফর করেন এবং প্রাচ্যে আবু যার আল-হারাউয়ির কাছে তাঁর তিন প্রখ্যাত শাইখের বর্ণনা অনুযায়ী এটি শ্রবণ করেন।

এই কিতাবের সংস্কার ও সংক্ষেপণের উদ্দেশ্য এটি নয় যা সাধারণত মনে উদয় হয়—অর্থাৎ সনদসমূহ বাদ দেওয়া এবং কিছু শব্দের পরিবর্তে অন্য কিছুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। বরং এটি একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে করা সংস্কার, যা বর্ণনাসূত্রগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে হাদিসের বিভিন্ন সনদসমূহ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং এর বহু শব্দ ও বর্ণনাকে পুঞ্জীভূত করা হয়েছে, যেমনটি আমরা গ্রন্থকারের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় উল্লেখ করব।

সহীহ বুখারীর প্রতি আবু সুফরার বংশধরদের রয়েছে অনন্য যত্ন এবং অত্যন্ত গভীর গুরুত্বারোপ। আর মুহাল্লাব হলেন সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: তিনি আন্দালুস ভূখণ্ডে বুখারীর কিতাবকে পুনর্জীবিত করেছেন।

সহীহ বুখারীর ওপর মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরার দুটি কিতাব রয়েছে:

প্রথমটি হলো: এই 'আল-মুখতাসার আন-নাসিহ', যা আমি আপনার সামনে উপস্থাপন করছি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে লেখক এর শুরুতেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: "আমার এই কিতাবটি ইলমের তিনটি স্তরের লোকদের প্রয়োজন হবে; অর্থাৎ মুসনিদগণ, ফকিহগণ এবং হাফেজগণ।"

তিনি এতে সহীহ বুখারীকে এক চমৎকার ও সুনিপুণ পদ্ধতিতে সংস্কার করেছেন, এর মূল পাঠ ও সনদসমূহে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে এবং এর পুনরাবৃত্তি ও খণ্ডন করার মাধ্যমে দীর্ঘ না করে। ফলে তিনি এর থেকে উপকৃত হওয়াকে নিকটতর করেছেন এবং এর ব্যবহারকে সহজ করেছেন। আপনি যদি চান তবে বলতে পারেন যে, বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করা হয় এবং যাতে বলা হয় যে—উত্তম বিন্যাস ও উন্নত সংকলনশৈলীর দিক থেকে ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারীকে ছাড়িয়ে গেছেন, যেহেতু তিনি বর্ণনাগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করেন, হাদিস আসার শুরুতেই সূত্রগুলোকে জড়ো করেন, হাদিস ছিন্ন করেন না এবং পুনরাবৃত্তি করেন না ইত্যাদি, যার কারণে কারও কারও মতে ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারীর ওপর অগ্রগণ্য হয়েছেন—সেই বৈশিষ্ট্যগুলোই মুহাল্লাব এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৭)
في هذا النصيح على الوجه، مع المحافظة على ما امتاز به البخاري من دقائق الاستنباطات، ولطائف التراجم والتبويبات، وفوائد التصديرات، فجمع في هذا النصيح محاسن المناهج التي هي في الصحيحين مفرقة، كما سأبينه لاحقًا عند الحديث عن منهج المؤلف في هذا الكتاب.

وقد تكلم في هذا النصيح على المشكل، وشرح فقه أحاديثه، وعلل وجرح وصحح وضعف، وذلك كله محرر بقلم فقيه محدث اجتمعت فيه العلوم، واكتملت فيه الأهلية.

الثاني: شرح صحيح البخاري، فإن المهلب رحمه الله لما عمل النصيح وعد بشرحه، وسأل الله تيسير ذلك له، ثم إنه وفى بما وعد، ويسر الله له ما أراد، فعمل شرحا على البخاري، اعتنى فيه ببيان مناسبة الأحاديث للتراجم، وجمع الفوائد الحديثية والفقهية، مع التنكيت على البخاري، وتتبعه في بعض ما أورده في المتابعات، والتنبيه على ما وقع في ألفاظه من زوائد للرواة، إلا أن الكتاب لم يصلنا كاملًا، ولكن تلميذه ابن بطال قد ضمنه شرحه الكبير، المشهور بين الناس بشرح ابن بطال، فمن اطلع على كلام المهلب فيه علم قيمة شرحه، وجودة فهمه، وحسن استنباطه، ويكفيك في معرفة ذلك كله مطالعة هذا المختصر وتعاليقه وتعقباته، فإنك ستستدل بتعاليقه اليسيرة على أفضلية شرحه الكبير، ولم لا يكون كذلك والمهلب ممن فرغ عمره لصحيح البخاري، ووقف وقته عليه، وقطع حياته فيه، فأقرأه ودرسه ورواه دهرًا طويلًا.

قال أَبُوالأصبغ القاضي: كان أَبُوالقاسم من كبار أصحاب الأصيلي، وبأبي القاسم حَيَا كتابُ البخاريِّ بالأندلس، لأنه قُرئ عليه تفقهًا، أيام حياته، وشرحه
এই 'নাসিহ' গ্রন্থে বুখারীর সেই সকল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে যথোপযুক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা সূক্ষ্ম উদ্ভাবন বা গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ, অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ বিন্যাসের নিপুণতা এবং প্রারম্ভিক আলোচনার উপকারিতার জন্য সুপরিচিত। তিনি এই 'নাসিহ' গ্রন্থে সেই সকল পদ্ধতির সৌন্দর্য একত্রিত করেছেন যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ পৃথকভাবে ছড়িয়ে ছিল, যা আমি পরবর্তীতে এই গ্রন্থের লেখকের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার সময় ব্যাখ্যা করব।

এই 'নাসিহ' গ্রন্থে তিনি অস্পষ্ট বা জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, হাদিসের ফিকহী দিকসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং হাদিসের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, রাবীদের সমালোচনা এবং হাদিস সহীহ ও যয়ীফ নির্ধারণের কাজ করেছেন। এই সবকিছুই একজন ফকিহ ও মুহাদ্দিসের কলমে সুনিপুণভাবে সম্পাদিত হয়েছে, যাঁর মধ্যে সকল শাস্ত্রের জ্ঞান পুঞ্জীভূত হয়েছিল এবং যাঁর যোগ্যতা ছিল পূর্ণাঙ্গ।

দ্বিতীয়ত: সহীহুল বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আল-মুহাল্লাব (রহিমাহুল্লাহ) যখন 'নাসিহ' রচনা করেন, তখন তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর কাছে এর সহজসাধ্যতা প্রার্থনা করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য তাঁর অভিপ্রায় সহজ করে দিয়েছেন। ফলে তিনি বুখারীর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি অধ্যায়ের শিরোনামের সাথে হাদিসের উপযুক্ততার বর্ণনায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং হাদিসতত্ত্ব ও ফিকহী উপকারিতাগুলো একত্রিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি বুখারীর ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন এবং বুখারীর বর্ণিত কিছু মুতাবাআত (সমর্থনকারী বর্ণনা) অনুসরণ করেছেন। এছাড়া বর্ণনাকারীদের শব্দপ্রয়োগে যে বাড়তি অংশ এসেছে সেগুলোর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে কিতাবটি আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছেনি, কিন্তু তাঁর ছাত্র ইবনে বাত্তাল তাঁর নিজের বিখ্যাত বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যা মানুষের নিকট ইবনে বাত্তালের শরহ হিসেবে পরিচিত—তাতে একে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে মুহাল্লাবের বক্তব্যগুলো দেখবেন, তিনি তাঁর ব্যাখ্যার মান, বুঝের গভীরতা এবং চমৎকার উদ্ভাবন ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এই সবকিছু অনুধাবনের জন্য এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ এবং এর ওপর তাঁর টীকা ও পর্যালোচনাগুলো পাঠ করাই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা আপনি তাঁর সংক্ষিপ্ত টীকাগুলো থেকেই তাঁর বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন। আর কেনই বা তা হবে না? মুহাল্লাব তো এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি তাঁর পুরো জীবন সহীহুল বুখারীর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর সময় এর পেছনে ব্যয় করেছিলেন এবং এর মধ্যেই জীবন কাটিয়েছিলেন; ফলে দীর্ঘকাল তিনি এটি পড়িয়েছেন, পাঠদান করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন।

কাযী আবুল আসবাগ বলেন: আবুল কাসেম ছিলেন আল-আসীলীর শ্রেষ্ঠ সাহচর্যপ্রাপ্তদের অন্যতম। আর আবুল কাসেমের মাধ্যমেই আন্দালুসে বুখারীর কিতাবটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে; কারণ তাঁর জীবদ্দশায় গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁর কাছে এটি পড়া হতো এবং তিনি এর ব্যাখ্যা করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৮)
واختصره، وله في البخاري، اختصار مشهور، سماه: كتاب النصيح في اختصار الصحيح، وعلق عليه تعليقًا في شرحه مفيد أهـ.

مع أنَّ الأصيلي والقابسي سبقاه لاختصار الصحيح، لكن ذلك لم يشع عنهما.

وكذلك أخوه الإمام أَبُوعبد الله محمد بن أبِي صفرة له شرح مشهور على مختصر القابسي لم يتصل بنا في هذا العصر، ينقل منه المهلب وغيره، وفي هذا الكتاب وغيره.

وقد ظهر لي أن الحافظ ابن حجر لم يطلع مباشرة على روايتي الأصيلي والقابسي، مع أن في الفتح عبارات قد توهم اطلاعه على الروايتين (1)، ولا على كتابي المهلب النصيح والشرح، وإنما ينقل الروايتين بواسطة بعض الشراح كابن التين وابن بطال وغيرهم، واعتماده على ابن بطال أكثر، وينقل عن المهلب بواسطة ابن بطال غالبا، ولم أجد عنده نقلا عن المهلب ليس في ابن بطال، ويحتاج الأمر إلى استقراء أكثر، وهو ما لم أفعله في هذه الجزئية، وقد نقل الحافظ عن الأصيلي والمهلب مصحفا عندما صحف ابن بطال في النقل عنهما، واعتمده الحافظ ثقةً به، كما سأذكره في موضعه، وذلك مما زادني بهذا النصيح احتفاء.

وشيء آخر ظهر لي بالتتبع والاستقراء، وهو أن ذاك الجزم القاطع الذي يطلقه الحافظ أحيانًا - وغيره - عن نسخ البخاري، - فيقولون مثلًا: في نسخة فلان كذا وقد تفردت به عن سائر النسخ -، قد لا يجوز هذا القطع في أحيان

--------------------------------------------

(1) وقد اطلعت على نسخة الحافظ أبِي زرعة العراقي لصحيح البخاري، وهي من أصح النسخ المخطوطة وأضبطها، وقد ذكر فيها أسانيده، فلم يسند روايتي الأصيلي ولا القابسي، واسند رواية أبِي ذر عن الشيوخ الثلاثة، ورواية الداوودي، ورواية كريمة، وهذه هي الروايات المعروفة في مصر زمن الحافظ ابن حجر، والله أعلم.
তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং বুখারির ওপর তাঁর একটি বিখ্যাত সংক্ষেপণ রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: 'কিতাবুন নাসিহ ফি ইখতিসারিস সাহিহ'। তিনি তাঁর উপাদেয় ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর ওপর একটি টীকাও প্রদান করেছেন। (সমাপ্ত)

যদিও আসিলি এবং ক্বাবিসি 'সহিহ' (বুখারি) সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামী ছিলেন, তবে তাঁদের সেই কাজ তাঁদের মাধ্যমে সেভাবে প্রচার পায়নি।

একইভাবে তাঁর ভাই ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি সাফরাহ্-এর ক্বাবিসির সংক্ষেপিত ভাষ্যের ওপর একটি বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যা বর্তমান যুগে আমাদের নিকট পৌঁছায়নি। মুহাল্লাব এবং অন্যান্যরা সেই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেন, এবং এই গ্রন্থ ও অন্যান্য স্থানেও তা উদ্ধৃত হয়েছে।

আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হাফেয ইবনে হাজার সরাসরি আসিলি এবং ক্বাবিসির বর্ণনাদ্বয় পর্যবেক্ষণ করেননি, যদিও 'আল-ফাতহ্' (ফাতহুল বারি)-এ এমন কিছু অভিব্যক্তি রয়েছে যা সেই দুই বর্ণনার ওপর তাঁর অবহিত থাকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে (১), আর না তিনি মুহাল্লাবের 'আন-নাসিহ' এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সরাসরি দেখেছেন। বরং তিনি ইবনেুত তীন, ইবনে বাত্তাল এবং অন্যান্যদের মতো কিছু ব্যাখ্যাদাতার মাধ্যমে এই দুই বর্ণনা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন। আর ইবনে বাত্তালের ওপর তাঁর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি ইবনে বাত্তালের মাধ্যমেই মুহাল্লাব থেকে উদ্ধৃতি দেন। আমি তাঁর কাছে মুহাল্লাব থেকে এমন কোনো উদ্ধৃতি খুঁজে পাইনি যা ইবনে বাত্তালের গ্রন্থে নেই। বিষয়টি আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার দাবি রাখে, যা আমি এই নির্দিষ্ট অংশে করিনি। হাফেয (ইবনে হাজার) যখন আসিলি এবং মুহাল্লাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তখন তাতে অনুলিখনজনিত ভুল রয়ে গেছে, কারণ ইবনে বাত্তাল তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় ভুল করেছিলেন। আর হাফেয তাঁর ওপর আস্থার কারণে তা গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি আমি যথাস্থানে উল্লেখ করব। এটিই 'আন-নাসিহ'-এর প্রতি আমার গুরুত্ব ও আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তা হলো, হাফেয এবং অন্যান্যরা মাঝেমধ্যে বুখারির পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পর্কে যে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন—যেমন তাঁরা বলেন: "অমুকের পাণ্ডুলিপিতে এমন রয়েছে এবং এটি অন্যান্য সমস্ত পাণ্ডুলিপি থেকে ভিন্ন"—এরূপ সুনিশ্চিত দাবি মাঝেমধ্যে সঠিক নাও হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আমি সহিহ বুখারির হাফেয আবু যুরআ আল-ইরাকির পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি, যা অন্যতম বিশুদ্ধ ও নির্ভুল পাণ্ডুলিপি। তিনি সেখানে তাঁর সনদসমূহ উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি আসিলি বা ক্বাবিসির বর্ণনাদ্বয় উদ্ধৃত করেননি। তবে তিনি তিন শাইখের সূত্রে আবু যরের বর্ণনা, দাঊদির বর্ণনা এবং কারিমাহর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। হাফেয ইবনে হাজারের যুগে মিশরে এ বর্ণনাগুলোই প্রসিদ্ধ ছিল। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৯)
كثيرة، إذ أنه قد ظهر لي خلافه، ولا نشك أن الحافظ جمع من النسخ وحشد من الروايات الشيء الكثير، واحتفى برواية أبِي ذر والنَّسفيِّ ونسخة الصاغاني، إلا أنه فاته من ذلك روايات، نبه على بعضها المزي في أطرافه، فينقلها الحافظ مستغربًا لها، لَمَّا لم يعرفها، وعلى كُلٍ مَنْ قارن نسختنا بما يذكره الحافظ من هذه الأحكام يظهر له هذا الذي أقوله، وقد كنتُ هممتُ أنْ أُنَبه على ذلك في مواضعه، إلا أنني رغبت عنه لَمَّا رأيتُ أن ذلك يطول الكتاب ويكثر الحواشي، فاكتفيت بالتنبيه، والحر تكفيه الإشارة.

والسبب في ذلك: أن أصحاب الروايات لهم نسخ مشهورة تختلف فيما بينها، لأمور قد ترجع إلى السامع أو إلى المسمع أو إلى النسخة المنقول عنها، وعن هؤلاء - أعني أصحاب النسخ - فروع كثيرة كتبها أصحابهم وهي تختلف أيضًا كما اختلفت نسخ شيوخهم، وللأسباب نفسها، فتجد نسخا كثيرة منسوبة لأبي ذر مثلًا بينها ائتلاف واختلاف، والنظر في مجموع نسخ موثوقة يصحح لك روايةً ما.

وهذه مقدمة مختصرة بين يدي الكتاب أتناول فيها ترجمة المصنف ابن أبِي صفرة، وترجمة شيخيه صاحبي الرواية، وأعرج على روايات صحيح البخاري، ثم أبين منهج المهلب في هذا الكتاب النصيح وأعرف به.

أسأل الله العظيم رب العرش العظيم أنْ يتقبل مني هذا العمل، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، عدةً صالحة لي يوم ألقاه، يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

وأن يجعله في ميزان حسناتي، وحسنات مؤلفه، وقارئه، وناشره، والناظر فيه إلى يوم الدين، آمين.
অনেক, কারণ আমার কাছে এর বিপরীতটিই স্পষ্ট হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাফিয (ইবনে হাজার) অনেক পাণ্ডুলিপি এবং অসংখ্য বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন; তিনি আবু যার, নাসাফি এবং সাগানির বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এর মাঝেও কিছু বর্ণনা তাঁর অগোচরে থেকে গেছে, যার কয়েকটির ব্যাপারে আল-মিযযি তাঁর ‘আতরাফ’ গ্রন্থে নির্দেশ করেছেন। হাফিয সেগুলো বিস্ময়ের সাথে উদ্ধৃত করেছেন যেহেতু তিনি সেগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। মোটের ওপর, যে ব্যক্তি আমাদের পাণ্ডুলিপির সাথে হাফিযের উল্লেখিত এই সিদ্ধান্তগুলোর তুলনা করবে, তার কাছে আমার বক্তব্যের সত্যতা প্রকাশ পাবে। আমি গ্রন্থটির সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে এ বিষয়ে সচেতন করার সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং টীকা সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি তা থেকে বিরত থেকেছি। সংক্ষেপে উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি, আর বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

এর কারণ হলো: বর্ণনাকারীদের প্রসিদ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এর কারণ কখনো শ্রোতা, কখনো পাঠক আবার কখনো মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আর এই পাণ্ডুলিপিকারদের থেকে আরও অনেক শাখা তৈরি হয়েছে যা তাঁদের অনুসারীরা লিপিবদ্ধ করেছেন; সেগুলোতেও ঠিক তেমনি পার্থক্য রয়েছে যেমনটি তাঁদের শায়খদের পাণ্ডুলিপিগুলোতে ছিল এবং তা একই কারণে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আবু যারের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এমন অনেক পাণ্ডুলিপি পাবেন যেগুলোর মধ্যে মিল এবং অমিল উভয়ই বিদ্যমান। নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সমষ্টির ওপর গবেষণামূলক দৃষ্টিপাত কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সঠিকতা নিরূপণ করে দেয়।

এটি এই গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা যেখানে আমি গ্রন্থকার ইবনে আবি সুফরা এবং বর্ণনার অধিকারী তাঁর দুইজন শায়খের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া আমি সহীহ বুখারীর বর্ণনাগুলোর ওপর আলোকপাত করেছি, অতঃপর এই হিতোপদেশমূলক গ্রন্থে আল-মুহাল্লাবের অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছি এবং এর পরিচয় তুলে ধরেছি।

আমি সুমহান আল্লাহর কাছে, যিনি মহান আরশের রব, প্রার্থনা করছি—তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন এবং একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে গণ্য করেন। এটি যেন আমার জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনের এক উত্তম পাথেয় হয়; যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর কাছে সুস্থ ও পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

আর তিনি যেন একে আমার নেক আমলের পাল্লায় এবং এর লেখক, পাঠক, প্রকাশক ও কিয়ামত পর্যন্ত এতে যারা দৃষ্টিপাত করবেন, তাঁদের সকলের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আমীন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(التراجم)

روى المهلبُ صحيحَ البخاري عن شيخين عن أبِي زيد المروزي، استفتح بذكر الإسناد قبل الشروع بتهذيب الصحيح، فقال:

«وها أنا حين أبتدئ بتهذيب الكتاب الجامع الصحيح، الذي:

حدثنا به سماعًا الفقيه الحافظ أَبُومحمد عبد الله بن إبراهيم بن محمد بن جعفر الأصيلي، رضي الله عنه وأرضاه واللفظ له، ولم ألق مثله.

وحدثنا به أيضا الشيخ الفقيه الفاضل أَبُوالحسن محمد بن خلف القابسي رحمه الله، وأكرم مثواه، إجازةً.

قالا: حدثنا أَبُوزيدٍ محمد بن أحمد المروزي، قال: نا محمد بن يوسف الفربري قال: حدثنا محمد بن إسماعيل البخاري رضي الله عنه».

وروى المهلب الصحيح أيضًا من طريق شيخه أبِي ذر، فقال في كتاب المناقب، باب مناقب الزبير:

نا أَبُوذر، نا أَبُوالهيثم، نا الفربري، نا البخاري، ثم ساق حديثا ظننتُ أنه ليس في رواية أبِي زيد، ولأجل ذلك احتاج أن يرويه من طريق أبِي ذر.

واستدرك سقطًا في رواية أبِي زيد من رواية أبِي ذر.

فقال في المغازي، باب معناه ذكر من قتل من المشركين يوم بدر:

سَقَطَ هَاهُنَا مِنْ كِتَابِ أبِي زَيْدٍ رحمه الله وَرَقَتَانِ فَانْقَطَعَ حَدِيثُ الزُّبَيْرِ.

قال الْمُهَلَّبُ: وَنَا بِهِ أَبُوذَرٍّ بِمَكَّةَ نَا أَبُوالْهَيْثَمِ وَغَيْرُهُ حَدَّثَنَا الْفِرَبْرِيُّ نَا الْبُخَارِيُّ.
(জীবনীসমূহ)

আল-মুহাল্লাব দুইজন শায়খের মাধ্যমে আবু যাইদ আল-মারওয়াযী থেকে সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন। তিনি সহীহ গ্রন্থের পরিমার্জন শুরু করার আগে সনদ উল্লেখ করে এর সূচনা করেন এবং বলেন:

«এবং এখন আমি যখন ‘আল-জামি আল-সহীহ’ গ্রন্থটির পরিমার্জন শুরু করছি, যা:

আমাদের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন ফকিহ ও হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-আসীলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন); বর্ণনাটি তাঁরই শব্দে এবং আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

এবং শায়খ, ফকিহ ও বিজ্ঞজন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-কাবিসীও (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর আবাসস্থলকে সম্মানিত করুন) ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু যাইদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।»

আল-মুহাল্লাব তাঁর শায়খ আবু যর-এর সূত্রেও সহীহ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি ‘কিতাবুল মানাকিব’-এর ‘যুবাইরের মর্যাদা’ পরিচ্ছেদে বলেছেন:

আবু যর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফিরাবরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা আমার মনে হয়েছে যে সেটি আবু যাইদের বর্ণনায় নেই; আর এ কারণেই তিনি এটি আবু যর-এর সূত্রে বর্ণনা করার প্রয়োজন বোধ করেছেন।

এবং তিনি আবু যর-এর বর্ণনার মাধ্যমে আবু যাইদের বর্ণনায় বাদ পড়া একটি অংশ সংশোধন করেছেন।

অতঃপর তিনি ‘আল-মাগাযী’ অংশে, বদর যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের বর্ণনার পরিচ্ছেদে বলেছেন:

আবু যাইদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে এখানে দুটি পৃষ্ঠা বাদ পড়ে গিয়েছিল, যার ফলে যুবাইরের হাদিসটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আল-মুহাল্লাব বলেন: আবু যর মক্কায় আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, আবুল হাইসাম ও অন্যান্যরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফিরাবরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الإمام المهلب بن أبِي صفرة (1)

لم تصلنا أخبار هذا الإمام كما ينبغي، مع شهرته وإمامته وتصدره للتدريس والقضاء، والمصادر التي ترجمته فيها تكرار كثير، وقد لخصت هذه الترجمة وهذبتها من المصادر التي ذكرتها في الحاشية.

 

‌‌اسمه وكنيته:

هو أَبُوالقاسم المهلب بن أحمد بن أَسيد، وهو أَبُوصُفْرَة، بن عبد الله الأسدي التميمي الأندلسي.

من أهل الْمَرِّيَّة، وهي مدينة كبيرة من كورة ألبيرة من أعمال الأندلس، كانت هي وبُجَّانة بابي الشرق، منها يركب التجار وفيها تحل مراكبهم (2).

 

‌‌يشاركه في الاسم والشهرة:

فارس الأزد، ورجل الدولة الأموية، الأمير المظفر: المهلب بن أبِي صفرة الأزدي، من طبقة التابعين، صاحب الوقائع والحروب، وكاسر الخوارج، وفي أخباره وأخبار أبنائه النابهين كتب على حيالها، وقليل العلم يتوهم أنه صاحب الشرح الذي ينقل منه ابن حجر!.

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: جذوة المقتبس 352، ترتيب المدارك 4/ 751، الصلة 2/ 626، بغية المتلمس 471، العبر 3/ 184، السير 17/ 579، شذرات الذهب 3/ 255.

‌‌(2) معجم البلدان 5/ 119.
ইমাম আল-মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা (১)

এই ইমামের খ্যাতি, ইমামত এবং শিক্ষকতা ও বিচারকার্যে তাঁর নেতৃত্বের সুখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও তাঁর সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। যে সকল উৎসে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোতে অনেক পুনরাবৃত্তি রয়েছে। আমি টীকায় উল্লিখিত উৎসসমূহ থেকে এই জীবনীটি সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত করেছি।

 

তাঁর নাম ও উপনাম:

তিনি হলেন আবুল কাসেম মুহাল্লাব ইবনে আহমাদ ইবনে আসিদ, এবং তিনি আবু সুফরা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি আত-তামিমি আল-আন্দালুসি।

তিনি আল-মারিয়া-এর অধিবাসী ছিলেন। এটি আন্দালুসের আলবিরা অঞ্চলের একটি বড় শহর। এটি এবং বুজ্জানা ছিল পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার। এখান থেকেই বণিকরা যাত্রা করত এবং এখানেই তাদের জাহাজগুলো নোঙর করত (২)।

 

নাম ও খ্যাতিতে তাঁর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তি:

আল-আযদ গোত্রের অশ্বারোহী, উমাইয়া রাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বিজয়ী আমির: মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা আল-আযদি; তিনি তাবেয়ি প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, বহু যুদ্ধ ও ঘটনার নায়ক এবং খারিজিদের দমনকারী। তাঁর এবং তাঁর মেধাবী সন্তানদের সংবাদ সম্পর্কে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে। অল্প জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিরা মনে করে বসেন যে, তিনিই সেই ব্যাখ্যাকার (শারহ-কার), যাঁর থেকে ইবনে হাজার উদ্ধৃতি প্রদান করেন!

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: জাযওয়াতুল মুকতাবিস ৩৫২, তারতিবুল মাদারিক ৪/৭৫১, আস-সিলাহ ২/৬২৬, বুগইয়াতুল মুতালতামিস ৪৭১, আল-ইবার ৩/১৮৪, আস-সিয়ার ১৭/৫৭৯, শাযারাতুয যাহাব ৩/২৫৫।

(২) মু'জামুল বুলদান ৫/১১৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌طلبه للعلم:

صحب أَبُوالقاسم المهلب بن أبِي صفرة أبا محمدٍ الأصيلي، وسمع عليه جملة من كتب العلم، ثم صاهره على ابنته، وأخذ عنه صحيح البخاري وموطأ مالك وسنن النسائي، وأشياء أخرى.

ثم رحل أَبُوالقاسم إلى المشرق في طلب العلم، كما رحل شيخه الأصيلي من قبل، فسمع بالقيروان، ومصر، ومكة، والمشرق، من جماعة من الحفاظ، منهم: أَبُوالحسن القابسي القيرواني (1)، وأبو ذر الهروي، وروى عنهما الصحيح وغيره، ويحيى بن محمد الطحان، وأبو الحسن علي بن محمد القزويني، وأبو الحسن علي بن فهرٍ، وعبد الوهاب بن الحسن بن منير الخشاب، وأخوه عبد الله، وأبو بكر بن يزيد الأنطاكي، ومحمد بن عباس، وأبو جعفر بن مسمار، وأبو عبد الله بن يسار، وأبو بكر بن إبراهيم البغدادي، المعروف بابن الحداد، وأبو إسحاق المصري، وأبو عبد الله بن صالح المصري، ومحمد بن شاكر، وروى عن أبِي الحسن الطائي العابد كتبه.

وقد سمع المهلب أيضا من أخيه أبِي عبد الله محمد، وسمع أَبُوعبد الله منه، واستفاد المهلب من شرح أخيه على ملخص أبِي الحسن القابسي لصحيح البخاري، وقد شحن كتابه هذا بالنقولات عن أخيه أبِي عبد الله صاحب الشرح.

وأخوه محمد هذا توفي في القيروان.

--------------------------------------------

(1) وله نسخة مشهورة من رواية القابسي لصحيح البخاري، وقد انتسخ منها بعض العلماء نسخا للتحبيس (إفادة النصيح ص110).
তাঁর ইলম অন্বেষণ:

আবুল কাসিম মুহাল্লাব ইবনে আবি সাফরা আবু মুহাম্মাদ আল-আসিলির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট ইলমি কিতাবসমূহের একটি বৃহৎ অংশ শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করার মাধ্যমে তাঁর সাথে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি তাঁর নিকট থেকে সহিহ আল-বুখারি, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আন-নাসায়ি এবং আরও অন্যান্য কিতাব গ্রহণ করেন।

অতঃপর আবুল কাসিম ইলম অন্বেষণে প্রাচ্যের দেশসমূহে সফর করেন, যেমনটি তাঁর শাইখ আল-আসিলি ইতিপূর্বে সফর করেছিলেন। তিনি কায়রাওয়ান, মিশর, মক্কা এবং প্রাচ্যের একদল হাফেজে হাদিসের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল হাসান আল-কাবেসি আল-কায়রাওয়ানি (১), আবু যর আল-হারাউই—যাঁদের থেকে তিনি সহিহ ও অন্যান্য কিতাব বর্ণনা করেছেন—ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাহহান, আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাজউইনি, আবুল হাসান আলি ইবনে ফিহর, আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হাসান ইবনে মুনির আল-খাশ্শাব ও তাঁর ভাই আবদুল্লাহ, আবু বকর ইবনে ইয়াযিদ আল-আন্তাকি, মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাস, আবু জাফর ইবনে মিসমার, আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াসার, আবু বকর ইবনে ইবরাহিম আল-বাগদাদি (যিনি ইবনে আল-হাদ্দাদ নামে পরিচিত), আবু ইসহাক আল-মিসরি, আবু আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-মিসরি এবং মুহাম্মাদ ইবনে শাকির। এছাড়াও তিনি আবেদ আবুল হাসান আত-তাঈ-এর কিতাবসমূহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাল্লাব তাঁর ভাই আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদের নিকট থেকেও হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং আবু আবদুল্লাহও তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। মুহাল্লাব তাঁর ভাইয়ের রচিত আবুল হাসান আল-কাবেসির সহিহ আল-বুখারির সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি তাঁর এই কিতাবটিকে তাঁর ভাই আবু আবদুল্লাহর (যিনি উক্ত ব্যাখ্যাকারক) উদ্ধৃতিসমূহ দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন।

তাঁর এই ভাই মুহাম্মাদ কায়রাওয়ানে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) সহিহ আল-বুখারির আল-কাবেসির বর্ণনা সম্বলিত তাঁর একটি প্রসিদ্ধ পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা থেকে কতিপয় আলেম ওয়াকফ করার উদ্দেশ্যে আরও কিছু অনুলিপি তৈরি করেছিলেন (ইফাদাতুন নাসিহ, পৃষ্ঠা ১১০)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم عاد المهلب إلى الأندلس، فولي القضاء بمالقة، وتفرغ لصحيح البخاري تحديثًا وتدريسًا وشرحًا، حتى تلقفه الناس عنه، واشتهر الكتاب بسببه في تلك الديار، واشتهر هو بهذا الكتاب، فلا يذكر المهلب إلا ويذكر معه البخاري.

 

‌‌الرواة عنه:

حدث عن أبِي القاسم جماعة من أهل العلم في الأندلس، منهم:

أحمد بن رشيق التغلبي، وأحمد بن مروان بن قيصر الأموي، وإبراهيم بن خلف الغساني، وطاهر بن هشام الأزدي، وعيسى بن محمد الرعيني، ومحمد بن أحمد بن حسان البياسي، والقاضي ابن المرابط، راوي هذا الكتاب عنه، وأبو عمر بن الحذاء، وأبو العباس الدلائي، وحاتم الطرابلسي، وابو عبد الله بن عابد.

 

‌‌ثناء العلماء على المهلب:

رزق المهلب فطانة وفصاحة، وذكاء وفهمًا، وصفه بذلك كبار أصحابه، وَمَنْ ترجمه من العلماء.

فقال تلميذه أَبُوعمر بن الحذاء: كان أذهن من لقيت، وأفهمهم وأفصحهم.

وقال أَبُوالأصبغ بن سهل القاضي: كان أَبُوالقاسم من كبار أصحاب الأصيلي، وبأبي القاسم حَيَا كتاب البخاري بالأندلس، لأنه قرئ عليه تفقهًا، أيام حياته، وشرحه واختصره، وله في البخاري، اختصار مشهور، سماه: كتاب النصيح في اختصار الصحيح، وعلق عليه تعليقًا في شرحه مفيد.

قال عياض: من أهل العلم الراسخين فيه، المتفننين في الفقه والحديث والعبارة والنظر ..
এরপর মুহাল্লাব আন্দালুসে ফিরে আসেন এবং মালাগায় বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সহীহ বুখারীর বর্ণনা, পাঠদান ও ব্যাখ্যার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেন, এমনকি মানুষ তাঁর কাছ থেকে এটি গ্রহণ করতে থাকে। তাঁর কারণেই সেই অঞ্চলে এই কিতাবটি প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তিনিও এই কিতাবের মাধ্যমে বিখ্যাত হন। তাই যখনই মুহাল্লাবের কথা উল্লেখ করা হয়, তখনই তাঁর সাথে বুখারীর নামও আলোচিত হয়।

 

‌‌তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ:

আবুল কাসিম থেকে আন্দালুসের একদল আলিম বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

আহমাদ বিন রাশীক আত-তাগলিবি, আহমাদ বিন মারওয়ান বিন কায়সার আল-উমাবী, ইবরাহীম বিন খালাফ আল-গাসসানী, তাহির বিন হিশাম আল-আযদি, ঈসা বিন মুহাম্মাদ আর-রুআইনী, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাসসান আল-বায়াসি, কাজী ইবনুল মুরাবিত—যিনি তাঁর থেকে এই কিতাবটি বর্ণনা করেছেন, আবু উমর ইবনুল হাজ্জা, আবুল আব্বাস আদ-দালাই, হাতিম আত-তরাবুলুসী এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিদ।

 

‌‌মুহাল্লাবের বিষয়ে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:

মুহাল্লাব তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, প্রাঞ্জল ভাষা, মেধা ও প্রজ্ঞা লাভ করেছিলেন। তাঁর বড় বড় সাথীবৃন্দ এবং তাঁর জীবনীকার উলামায়ে কিরাম তাঁকে এভাবেই বিশেষিত করেছেন।

তাঁর ছাত্র আবু উমর ইবনুল হাজ্জা বলেন: আমি যত মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন, সমঝদার ও প্রাঞ্জলভাষী।

কাজী আবুল আসবাগ বিন সাহল বলেন: আবুল কাসিম ছিলেন আল-আসীলির বড় সাথীদের অন্তর্ভুক্ত। আবুল কাসিমের মাধ্যমেই আন্দালুসে বুখারীর কিতাবটি পুনরুজ্জীবিত হয়, কারণ তাঁর জীবদ্দশায় ফিকহী গভীরতা লাভের উদ্দেশ্যে এটি তাঁর কাছে পাঠ করা হতো। তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং একে সংক্ষিপ্ত করেছেন। বুখারীর ওপর তাঁর একটি প্রসিদ্ধ সংক্ষিপ্তসার রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: ‘কিতাবুন নাসিহ ফী ইখতিসারিস সহীহ’ এবং এর ব্যাখ্যায় তিনি একটি উপকারী টীকাও সংযোজন করেছেন।

আইয়ায বলেন: তিনি ছিলেন জ্ঞানের গভীরে প্রবেশকারী সুপ্রতিষ্ঠিত আলিমদের অন্তর্ভুক্ত, যিনি ফিকহ, হাদীস, ভাষার প্রয়োগ এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির ক্ষেত্রে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الذهبي: وكان من أهل الذكاء المفرط، والاعتناء التام بالعلوم.

وكذا قال ابن العماد.

وقال الذهبي: كان أحد الأئمة الفصحاء الموصوفين بالذكاء.

وقال ابن بشكوال: وكان من أهل العلم والمعرفة والذكاء والفهم، من أهل التفنن في العلوم والعناية الكاملة بها، وله كتابٌ في شرح البخاري أخذه الناس عنه واستقضي بالمرية.

 

‌‌مؤلفاته:

لأبي القاسم على الصحيح كتابان كما ذكرت ذلك أول المقدمة، هذا المختصر النصيح، وشرح صحيح البخاري.

وقد اختصر شرح المهلب على صحيح البخاري القاضي محمد بن خلف بن المرابط الأندلسي الصدفي (ت485) وزاد عليه فوائد.

ولأبي القاسم أيضًا معجم شيوخه، سننقل عنه لاحقًا نصًا في ترجمة شيخه الأصيلي.

فتلك ثلاثة كتب للمهلب، وقد يكون له كتب أخرى لم يصلنا خبرها، فالله أعلم.

 

‌‌وفاته:

اختلف في وفاة المهلب، فقيل إنه توفي سنة ستٍّ وثلاثين وأربع مائة (436).
যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা এবং ইলমের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনুল ইমাদও তদ্রূপ বলেছেন।

যাহাবী আরও বলেন: তিনি ছিলেন মেধাবী হিসেবে প্রসিদ্ধ সুবক্তা ইমামদের একজন।

ইবনে বাশকুয়াল বলেন: তিনি ছিলেন ইলম, মা’রিফাত, প্রজ্ঞা ও গভীর বোধসম্পন্ন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ও সেগুলোর প্রতি পূর্ণ যত্নবান। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যার ওপর তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যা মানুষ তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেছে; তিনি আল-মেরিয়ায় বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আবুল কাসিমের দুটি গ্রন্থ রয়েছে, যা আমি ভূমিকার শুরুতে উল্লেখ করেছি: এই ‘আল-মুখতাসার আন-নাসিহ’ এবং ‘শারহু সহীহিল বুখারী’।

আর আল-মুহাল্লাব কৃত সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে কাযী মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন আল-মুরাবিত আল-আন্দালুসী আস-সাদাফী (মৃত ৪৮৫ হি.) সংক্ষেপ করেছেন এবং এতে তিনি অতিরিক্ত কিছু ইলমী ফায়দা যুক্ত করেছেন।

আবুল কাসিমের ‘মু’জামু শুয়ুখ’ (তাঁর শিক্ষকদের জীবনীগ্রন্থ) নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে, যেখান থেকে আমরা পরবর্তীতে তাঁর উস্তাদ আল-আসীলীর জীবনী আলোচনায় সরাসরি উদ্ধৃতি প্রদান করব।

এগুলো হলো আল-মুহাল্লাবের তিনটি গ্রন্থ; তাঁর হয়তো আরও গ্রন্থ থাকতে পারে যেগুলোর সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আল-মুহাল্লাবের মৃত্যুর সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে যে, তিনি চারশত ছত্রিশ (৪৩৬) হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال: أَبُوبكر بن رزق: توفي المهلب يوم الاثنين لثلاث عشرة ليلة خلت من شوال وقت الظهر، ودفن يوم الثلاثاء بعد العصر سنة خمسٍ وثلاثين وأربع مائة (435).

وقيل سنة ثلاث وثلاثين (433)، وقيل غير ذلك، وقول ابن رزق أصح، والله أعلم.

قال العماد: توفي في سن الشيخوخة.
আবু বকর ইবনে রিজক বলেন: শাওয়াল মাসের তেরো দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার জোহরের সময় মুহাল্লাব মৃত্যুবরণ করেন এবং চারশ পঁয়ত্রিশ (৪৩৫) হিজরি সনের মঙ্গলবার আসরের পর তাঁকে দাফন করা হয়।

বলা হয়েছে যে, এটি চারশ তেত্রিশ (৪৩৩) হিজরি সন ছিল, আবার কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে ইবনে রিজকের বক্তব্যই অধিকতর সঠিক, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইমাদ বলেন: তিনি বার্ধক্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌راويا النسخة الأصيلي والقابسي

‌‌1 - أَبُومحمد الأصيلي (1):

هو عبد الله بن إبراهيم بن محمد، أصله من كورة شذونة، ورحل به أبوه إلى أصيلة من بلاد المغرب، فسكنها ونشأ أَبُومحمد بها، ثم ارتحل إلى قرطبة فتفقه بشيخيها اللؤلؤي وأبي إبراهيم.

وقيل: بل ولد بأصيلة، سنة 324هـ.

قال الفرضي: سمعتَهُ يقول: قدمْتُ قرطُبة سنة اثنتين وأرْبَعين (342هـ، أي وله قريب من 18 سنة)، فسمعتُ بها: من أحمد بن مُطَرّفٍ، وأحمد بن سَعيد، ومحمد بن مُعاوية القرشي، وأبي بكر اللؤْلؤيّ، وأبي إبراهِيم، ورحلتُ إلى وادِي الحِجارة إلى وهْب بن مَسَرّة فسمعت منهُ وأقَمْت عنده سبْعة أشْهر.

قال ابن عائدٍ تلميذُ الأصيلي: تفقه أَبُومحمد بقرطبة منذ صباه بشيخيها: اللؤلؤي وأبي ابراهيم، وسمع ابنَ حزم، وابن المشاط، والقاضي ابن السليم، وابن الأحمق، وأبان بن عيسى بن دينار الأصغر ونظرائهم.

وأخذ عن وهب بن مسرة بوادي الحجارة، وعن ابن فحلون ببجانة أهـ.

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته:

تاريخ علماء الأندلس 1/ 249، طبقات الشيرازي 164، جذوة المقتبس 257، ترتيب المدارك 4/ 642، بغية الملتمس 340، تذكرة الحفاظ 3/ 1024، السير 16/ 560، العبر 3/ 52، الديباج المذهب 1/ 433، شذرات الذهب 3/ 140.
আসিলি ও কাবিসি সংস্করণের দুই বর্ণনাকারী

‌১ - আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি (১):

তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ। তাঁর আদি নিবাস ছিল শাযুনা অঞ্চল। তাঁর পিতা তাঁকে মাগরিব (মরক্কো) অঞ্চলের আসিলাহ-তে নিয়ে যান, তিনি সেখানেই বসবাস করেন এবং আবু মুহাম্মদ সেখানেই বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি কর্ডোভায় (কুরতুবা) গমন করেন এবং সেখানকার দুই প্রধান শায়খ আল-লু’লুয়ি ও আবু ইবরাহিমের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ৩২৪ হিজরিতে আসিলাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন।

আল-ফারাযি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি ৩৪২ হিজরিতে (অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স প্রায় ১৮ বছর) কর্ডোভায় পদার্পণ করি। সেখানে আমি আহমাদ ইবনে মুতাররিফ, আহমাদ ইবনে সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে মুআবিয়া আল-কুরাশি, আবু বকর আল-লু’লুয়ি ও আবু ইবরাহিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছি। আমি ওয়াদি আল-হিজারায় ওয়াহাব ইবনে মাসাররাহ-র নিকট সফর করি এবং তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করি ও সেখানে সাত মাস অবস্থান করি।

আল-আসিলির ছাত্র ইবনে আইদ বলেন: আবু মুহাম্মদ তাঁর শৈশব থেকেই কর্ডোভায় এর দুই প্রধান শায়খ আল-লু’লুয়ি ও আবু ইবরাহিমের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ইবনে হাযম, ইবনে আল-মাশাত, কাজি ইবনে আস-সালিম, ইবনে আল-আহমাক, আবান ইবনে ঈসা ইবনে দিনার আল-আসগার এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি ওয়াদি আল-হিজারায় ওয়াহাব ইবনে মাসাররাহ এবং বিজজানায় ইবনে ফাহলুন থেকে ইলম অর্জন করেছেন। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

তারিখ উলামাউল আন্দালুস ১/২৪৯, তাবাকাতুশ শিরাজী ১৬৪, জাযওয়াতুল মুকতাবিস ২৫৭, তারতীবুল মাদারিক ৪/৬৪২, বুগয়াতুল মুলতামিস ৩৪০, তাযকিরাতুল হুফফায ৩/১০২৪, আস-সিয়ার ১৬/৫৬০, আল-ইবার ৩/৫২, আদ-দীবাজ আল-মুযাহহাব ১/৪৩৩, শাযারাতুয যাহাব ৩/১৪০।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم ارتحل أَبُومحمد إلى المشرق، فسمعه الفرضيُّ يقول: كانَت رحْلَتي إلى المَشْرِق: في المحرَم سنة إحدى وخَمْسين وثلاثِ مائةٍ (1/ 351 هـ، وله نحو 27سنة).

فدخل مصر، ولقي فيها القاضي أبا الطاهر البغدادي، وابن رشيق، وحمزة الكناني الحافظ، وأبا إسحاق ابن شعبان، ومحمد بن عبد الله بن زكريا النيسابوري، وغيرهم.

وكان معه في الرحلة أَبُوالحسن القابسي، وأبو موسى عيسى بن سعادة (1).

ففي أول لقاء جمع هؤلاء النفر مع حمزة الكناني جرت لهم قصة، ذكرها ابن بشكوال في ترجمة عمر بن عبيد الله بن زاهر:

قال أَبُوالحسن القابسي: قال لنا حمزة بن محمد الكناني حين دخلت عليه أنا وأبو موسى عيسى بن سعادة وأبو محمد الأصيلي، ووافقناه نازلًا في الدرج، درج مسجد يقال إنه مسجد ابن لهيعة في حضرموت، فقال: من هؤلاء؟ فقيل له: قوم مغاربة، فوقف فسلمنا عليه، ثم رجع فنظر في وجوهنا وقال: ما أرى إلا خيرًا، حدثونا عن محمد بن كثير، عن سفيان الثوري، عن عمرو بن قيس الملائي، عن عطية العوفي، عن أبِي سعيد الخدري، أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إحذروا فراسة المؤمن، فإنه ينظر بنور الله»، وتلا {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ}

--------------------------------------------

(1) ليس أَبُوموسى هذا بصاحب النسخة التي يقال لها نسخة ابن سعادة، بل هو آخر متقدم روى عن المروزي والكناني والطبقة، وصاحب النسخة أيضا أندلسي إلا انه متأخر الوفاة، فقد توفي أول سنة 566، وهو من تلاميذ أبِي علي الصدفي، ممن لازمه وصاهره واختص بصحبته، ولما توفي أَبُوعلي آلت إليه نسخه وأصوله، فنسخة ابن سعادة هذه فرع عن نسخة أبِي علي الصدفي المشهورة، ونسخة الصدفي فرع عن رواية أبِي ذر عن شيوخه الثلاثة.

مع أن ابن سعادة رحل إلى مكة وأخذ عن أصحاب كريمة المروزية صاحبة النسخة المشهورة.
এরপর আবু মুহাম্মদ প্রাচ্যের অভিমুখে যাত্রা করেন। আল-ফারজি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আমার প্রাচ্য সফর শুরু হয়েছিল ৩ ৫১ হিজরির মহররম মাসে (তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২৭ বছর)।

তিনি মিসরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কাজি আবু তাহের আল-বাগদাদি, ইবনে রাশিক, হাফেজ হামজা আল-কিনানি, আবু ইসহাক ইবনে শাবান, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাকারিয়া আন-নিশাপুরি এবং আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এই সফরে তাঁর সাথে ছিলেন আবুল হাসান আল-কাবেসি এবং আবু মুসা ঈসা বিন সাআদাহ (১)।

হামজা আল-কিনানির সাথে এই দলটির প্রথম সাক্ষাতে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা ইবনে বাশকুওয়াল ওমর বিন উবায়দুল্লাহ বিন জহির-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন:

আবুল হাসান আল-কাবেসি বলেন: হামজা বিন মুহাম্মদ আল-কিনানি আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যখন আমি, আবু মুসা ঈসা বিন সাআদাহ এবং আবু মুহাম্মদ আল-আছিলি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখলাম; সেটি ছিল একটি মসজিদের সিঁড়ি, যা হাদরামাউতে ইবনে লাহিয়া-র মসজিদ নামে পরিচিত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এরা কারা?" তাঁকে বলা হলো: "মরক্কোবাসী একদল লোক।" তিনি থামলেন এবং আমরা তাঁকে সালাম দিলাম। তারপর তিনি ফিরে আমাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমি কেবল কল্যাণই দেখছি। আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে মুহাম্মদ বিন কাসির থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আমর বিন কাইস আল-মুলায়ি থেকে, তিনি আতিয়্যাহ আল-আউফি থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'তোমরা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি থেকে সতর্ক থাকো, কারণ সে আল্লাহর নূর দিয়ে দেখে।' এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন—'নিশ্চয়ই এতে পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে'।"

--------------------------------------------

(1) এই আবু মুসা সেই ব্যক্তি নন যিনি 'ইবনে সাআদাহর পান্ডুলিপি' নামে পরিচিত পান্ডুলিপির সংকলক। বরং তিনি পূর্ববর্তী অন্য এক ব্যক্তি, যিনি মারওয়াজি, কিনানি এবং সেই স্তরের উলামাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে পান্ডুলিপির সংকলকও একজন আন্দালুসীয়, তবে তিনি পরবর্তী সময়ের এবং ৫৬৬ হিজরির শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আবু আলী আস-সদাফি-র ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর সাথে বৈবাহিক আত্মীয়তা ছিল এবং তাঁর বিশেষ সহচর ছিলেন। যখন আবু আলী ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর সংগৃহীত পান্ডুলিপি ও পাণ্ডুলিপির মূল কপিগুলো তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়। ফলে ইবনে সাআদাহর এই পান্ডুলিপিটি আবু আলী আস-সদাফির বিখ্যাত পান্ডুলিপির একটি শাখা, আর আস-সদাফির পান্ডুলিপিটি আবু জার-এর তাঁর তিন উস্তাদ থেকে বর্ণিত পান্ডুলিপির শাখা।

যদিও ইবনে সাআদাহ মক্কায় সফর করেছিলেন এবং বিখ্যাত পান্ডুলিপির অধিকারিণী কারিমা আল-মারওয়াজিয়া-র শাগরেদদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الفرضي عنه: ودَخَلتُ بَغدادَ وصاحبُ الدّولة بها أحمد بن بُويه الأقْطَع.

قلت: فحج في رحلته تلك قبل أن يدخل بغداد، فلقي بمكة سنة ثلاث وخمسين (353هـ) الراوية أبا زيد المروزي، فسمع منه صحيح البخاري، ولقي بمكة أبا بكر الآجري، ثم سافر إلى المدينة فلقي قاضيها أبا مروان المالكي، ثم سار إلى العراق فلقي بها أبا بكر الأبهري، رئيس المالكية، فأخذ عن الأبهري، وأخذ عنه الأبهري أيضًا، وحدث عن الدارقطني، وحدث عنه الدارقطني أيضا.

وبقي في الرحلة في المشرق قريبا من ثلاثة عشر (13) عامًا.

وهناك قال الدارقطني: حدثني أَبُومحمد الأصيلي ولم أر مثله.

ثم سمع ببغداد عرضته الثانية في صحيح البخاري من أبِي زيد المروزي، سنة 59 وحضر العرضة الثانية أَبُوبكر الأبهري، وابن مجاهد البصري المتكلم (1).

وسمع صحيح البخاري أيضًا من أبِي أحمد محمد بن محمد بن يوسف الجرجاني، وهما شيخاه في صحيح البخاري وعليهما يعتمد فيه، وأكثر اعتماده على أبِي زيد، إذ في الجرجاني ما فيه (2).

 

‌‌شيوخه:

قد روى الأصيلي عن جماعة من علماء المغرب والمشرق، فمن شيوخه الذين روى عنهم:

--------------------------------------------

(1) إفادة النصيح 111.

‌‌(2) وقع تصحيف في بعض مصادر ترجمة الجرجاني: أَبُوأحمد الجرجاني راوي صحيح البخاري عن التبريزي، فهذا تصحيف، إنما هو: الفربري.
আল-ফারাজি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমি বাগদাদে প্রবেশ করলাম যখন সেখানকার রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন আহমাদ ইবনে বুওয়াইহ আল-আকতা।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি তাঁর সেই সফরে বাগদাদে প্রবেশের পূর্বে হজ সম্পাদন করেন। অতঃপর ৩৫৩ হিজরি সনে মক্কায় বর্ণনাকারী আবু জায়েদ আল-মারওয়াযীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট সহীহ বুখারী শ্রবণ করেন। মক্কায় তিনি আবু বকর আল-আজুরীর সাথেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর মদীনায় সফর করে সেখানকার কাযী আবু মারওয়ান আল-মালিকীর সাথে দেখা করেন। অতঃপর ইরাক গমন করে সেখানে মালিকী মাযহাবের প্রধান আবু বকর আল-আভহারীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। তিনি আল-আভহারীর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন এবং আল-আভহারীও তাঁর থেকে গ্রহণ করেন। তিনি আদ-দারা কুতনী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দারা কুতনীও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি প্রাচ্যের এই সফরে প্রায় তেরো (১৩) বছর অবস্থান করেন।

সেখানে আদ-দারা কুতনী বলেছেন: আবু মুহাম্মাদ আল-আসীলী আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

এরপর তিনি ৩৫৯ সনে বাগদাদে আবু জায়েদ আল-মারওয়াযীর নিকট দ্বিতীয়বার সহীহ বুখারী পাঠ শ্রবণ করেন। এই দ্বিতীয় পাঠের সময় আবু বকর আল-আভহারী এবং মুতাকাল্লিম ইবনে মুজাহিদ আল-বসরী উপস্থিত ছিলেন (১)।

তিনি আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-জোরজানী থেকেও সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। সহীহ বুখারীর ক্ষেত্রে তাঁরা উভয়ই তাঁর উস্তাদ এবং তাঁদের ওপরই তিনি এই কিতাবের বর্ণনায় নির্ভর করেন। তবে আবু জায়েদের ওপরই তাঁর নির্ভরতা বেশি ছিল, কারণ আল-জোরজানীর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল (২)।

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

আল-আসীলী মাগরিব (পাশ্চাত্য) ও মাশরিকের (প্রাচ্য) একদল আলিমের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর যে সকল উস্তাদের নিকট থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) ইফাদাতুন নাসিহ ১১১।

‌‌(২) আল-জোরজানীর জীবনীর কিছু উৎসে শব্দের বিকৃতি ঘটেছে: "আবু আহমাদ আল-জোরজানী আত-তাবরিযীর সূত্রে সহীহ বুখারী বর্ণনাকারী"—এটি একটি বিকৃতি; প্রকৃতপক্ষে এটি হবে: আল-ফারাবরী।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عبد الوارث بن سفيان بن جُبرون بن سليمان يعرف بالحبيب، أسند عنه الأصيلي في غير موضع من كتاب الدلائل، وأبو مروان عبد الله بن محمد بن عبد العزيز بن أحمد بن عبد الرحمن المديني، وعبد الله بن أحمد بن ابراهيم بن إسحاق المعروف بالإبياني، أخذ عنه أول الرحلة، وأبو بكر محمد بن عبد الله بن صالح الفقيه الأبهري، وهو صاحبه في السماع الثاني.

وكانت للأصيلي حظوة عند أبِي زيد المروزي، وكان أَبُوزيد يدنيه، فكان الأصيلي يضبط النسخ عنه، ويقيد السماعات، فممن ضبط اسمه في مجلس السماع على أبِي زيد المروزي وشوهد سماعه بخط الأصيلي في كتابه من صحيح البخاري: أَبُوبكر الأبهري، وأبو عبد الله محمد بن أحمد بن مجاهد الطائي المتكلم، والأبهري الصغير محمد بن عبد الله، وأحمد بن محمد بن زيد القزويني.

فضلا عن رفيقه في الرحلة أبِي الحسن القابسي الضرير، وسماع القابسي مع الأصيلي هو السماع الأول بمكة شرفها الله سنة 353.

ثم انصرف أَبُومحمد بعد طول رحلة إلى الأندلس وكان الحكم قد سمع به وهو بالمشرق مدة طويلة، فأقبل الأصيلي الى الأندلس، فلما وصل المرية مات الحكم، فانعكس أمل الأصيلي وبقي حائرًا هائمًا.

ثم نهض إلى قرطبة ونشر بها علمه، فسار ذكره، وشرق به فقهاء البلد، فبقي مدة مضاعًا، حتى همّ بالانصراف إلى المشرق، إلى أنْ عرفه ابن أبِي عامر فنوه به، وأمر بإجراء الرزق عليه، وكان انصرافه إلى الأندلس: سنة ست وستين (366هـ).
আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান ইবনে জুবরুন ইবনে সুলাইমান, যিনি আল-হাবীব নামে পরিচিত। আল-আসিলি তার থেকে 'কিতাবুদ দালায়েল'-এর একাধিক স্থানে বর্ণনা করেছেন। আরও রয়েছেন আবু মারওয়ান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাদিনি, এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইসহাক যিনি আল-ইবইয়ানি নামে পরিচিত; সফরের শুরুতে তিনি তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। আর আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-ফকিহ আল-আবহরি, যিনি দ্বিতীয় শ্রবণের সময় তার সঙ্গী ছিলেন।

আবু যায়েদ আল-মারওয়াজির নিকট আল-আসিলির বিশেষ মর্যাদা ছিল এবং আবু যায়েদ তাকে নিজের কাছে রাখতেন। আল-আসিলি তার নিকট থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করতেন এবং শ্রবণের বিবরণ লিখে রাখতেন। আবু যায়েদ আল-মারওয়াজির পাঠদান মজলিসে যাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং যাদের শ্রবণ আল-আসিলির নিজের হাতের লেখায় সহিহ বুখারির কিতাবে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর আল-আবহরি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুজাহিদ আত-তাঈ আল-মুতাকাল্লিম, আল-আবহরি আস-সগির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যায়েদ আল-কাজউইনি।

এ ছাড়াও তার সফরসঙ্গী ছিলেন আবু হাসান আল-কাবেসি আদ-দারির। আল-আসিলির সাথে আল-কাবেসির সেই শ্রবণটি ছিল ৩৫৩ হিজরিতে মক্কায় (আল্লাহ একে সম্মানিত করুন) প্রথম শ্রবণ।

অতঃপর দীর্ঘ সফর শেষে আবু মুহাম্মদ আন্দালুসে ফিরে যান। খলিফা আল-হাকাম দীর্ঘকাল ধরে তার সম্পর্কে শুনে আসছিলেন যখন তিনি প্রাচ্যে অবস্থান করছিলেন। এরপর আল-আসিলি আন্দালুসের দিকে রওয়ানা হলেন, কিন্তু তিনি যখন আল-মেরিয়াতে পৌঁছালেন, তখন আল-হাকামের মৃত্যু হয়। এতে আল-আসিলির আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েন।

এরপর তিনি কর্ডোভায় গমন করেন এবং সেখানে তার জ্ঞান প্রচার করতে থাকেন। ফলে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের ফকিহগণ তার প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েন। তিনি সেখানে দীর্ঘকাল অবহেলিত অবস্থায় ছিলেন, এমনকি তিনি পুনরায় প্রাচ্যে ফিরে যাওয়ার মনস্থ করেন। অবশেষে ইবনে আবি আমির তার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন ও তার জন্য ভাতা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। আন্দালুসে তার এই প্রত্যাবর্তনের বছর ছিল হিজরি ৩৬৬ সাল।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فأقام بقرطبة وابن أبِي عامر على غاية التعظيم له، فانتهت إليه الرئاسة بالأندلس في المالكية، وأقبل الناس على الأخذ منه.

وولي قضاء سرقسطة، وقام بالشورى بقرطبة، حتى كان نظير ابن أبِي زيد بالقيروان.

 

‌‌وروى عنه أمم لا يحصون، فممن روى عنه:

أحمد بن عبد الرحمن بن غالب بن حزم، وأحمد بن ثابت بن أبِي الجهم الواسطي، وكان يتولى القراءة على الأصيلي، وأحمد بن محمد بن ملاس الفزاري، وإسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن عباد اللخمي، قاضي إشبيلية، وأصبغ بن سعيد بن أصبغ، وكان صهرًا للأصيلي، وجهور بن محمد بن جهور رئيس قرطبة المشهور، والحسن بن بكر القيسي، وحيون بن خطاب بن محمد، وخلف بن عثمان الأندلسي بن اللجام، وسراج بن سراج بن محمد بن سراج، وابن عمه سراج بن عبد الله بن محمد بن سراجٍ، وسيد بن أحمد بن محمد الغافقي ثم الشاطبي، وداود بن خالد الخولاني، وعبد الله بن أحمد بن قند اللغوي، وعبد الله بن أحمد بن غالب بن زيدون المخزومي، وعبد الله بن سعيد بن عبد الله الأموي، وعبد الله بن محمد بن سعيد الأموي، المعروف بالبشكلاري، وأبو محمد عبد الله بن محمد بن قيد، المعروف بالطليطلي، وعبد الله بن غالب بن تمام بن محمد الهمداني، وعبيد الله بن أحمد بن عبيد الله بن معمر القرشي التيمي، وعبد الرحمن بن أحمد الكتامي المالكي، وعبد الرحمن بن محمد بن عيسى بن فطين بن أصبغ، وعبد الرحمن بن أحمد بن سعيد بن محمد بن بشر بن غوية، وعبد الرحمن بن مسلمة بن عبد الملك بن الوليد القرشي المالقي، والحاكم أَبُوشاكر عبد الواحد بن محمد بن موهب القبري، وقد
তিনি কর্ডোভায় অবস্থান করেন এবং ইবনে আবি আমির তাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেন। পরিশেষে আন্দালুসে মালেকি মাজহাবের নেতৃত্ব তার কাছে এসে পৌঁছে এবং মানুষ তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য ধাবিত হয়।

তিনি সারাগোসার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্ডোভায় উপদেষ্টা পরিষদে নিযুক্ত ছিলেন, এমনকি তিনি কায়রাওয়ানের ইবনে আবি যাইদের সমকক্ষ হয়ে ওঠেন।

 

‌‌তার কাছ থেকে অসংখ্য লোক বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:

আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন গালিব বিন হাজম, আহমদ বিন সাবিত বিন আবিল জাহাম আল-ওয়াসিতি (তিনি আসিলি-র নিকট পাঠ শ্রবণ পরিচালনা করতেন), আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাল্লাস আল-ফাজারি, ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন আব্বাদ আল-লাখমি (সেভিলের বিচারক), আসবাক বিন সাঈদ বিন আসবাক (যিনি আসিলি-র জামাতা ছিলেন), কর্ডোভার বিখ্যাত প্রধান জাহওয়ার বিন মুহাম্মদ বিন জাহওয়ার, হাসান বিন বকর আল-কাইসি, হাইয়ুন বিন খাত্তাব বিন মুহাম্মদ, খালাফ বিন উসমান আল-আন্দালুসি বিন আল-লাজ্জাম, সিরাজ বিন সিরাজ বিন মুহাম্মদ বিন সিরাজ, তার চাচাতো ভাই সিরাজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সিরাজ, সাইয়্যিদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-গাফেকি (অতঃপর আশ-শাতিবি), দাউদ বিন খালিদ আল-খাওলানি, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন কান্দ আল-লুগাভি, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন গালিব বিন যাইদুন আল-মাখজুমি, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাউয়ি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-উমাউয়ি (আল-বাশাকলারি নামে পরিচিত), আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন কাইদ (আত-তুলাইতুলি নামে পরিচিত), আব্দুল্লাহ বিন গালিব বিন তামাম বিন মুহাম্মদ আল-হামদানি, উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন মামার আল-কুরাশি আত-তাইমি, আব্দুর রহমান বিন আহমদ আল-কুতামি আল-মালিকি, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন ফাতিন বিন আসবাক, আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন বিশর বিন গুয়াইয়্যাহ, আব্দুর রহমান বিন মাসলামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-ওয়ালিদ আল-কুরাশি আল-মালাকি এবং বিচারক আবু শাকির আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মাওহাব আল-কাবরি; আর অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২২)
روى ابن عبد البر الحافظ عنه عن الأصيلي، وعثمان بن خلف بن مفرج الأنصاري، وعمران بن عبد ربه بن غزلون المعافري، ومحمد بن عطاء الله النحوي، ومحمد بن أحمد بن يحيى المعروف بابن الفصال، ومحمد بن أصبغ البلوي، ومحمد بن يحيى التميمي، ومحمد بن عبد الله بن ربيع بن بنوش التميمي، ومحمد بن سعيد بن إسحاق بن يوسف الأموي، ومحمد بن جماهر بن محمد بن جماهر الحجري، ومحمد بن عبد الله بن أحمد البكري، ومحمد بن عبد الله بن سعيد بن عابد المعافري، وكان آخر من بقي بقرطبة ممن يحمل عن الشيخ أبِي محمد الأصيلي ويروي عنه، ومحمد بن موسى بن فتح الأنصاري، ومحمد بن أبِي صفرة أخو المهلب، وموسى بن عيسى بن أبِي حاج، ومحمد بن يحيى التميمي المالكي، ومروان بن علي الأسدي القطان، ومفرج بن محمد بن الليث، وسمع منه صحيح البخاري سنة ثمانٍ وثمانين وثلاث مائة، وهشام بن أحمد بن عبد الله بن محمد بن أكدر، والمهلب بن أبِي صفرة صاحب هذا الكتاب، وهشام بن محمد بن هشام، وهارون بن سعيد المرسي، ويحيى بن عبد الله بن محمد القرشي، ويحيى بن يحيى بن عبد السلام، ويوسف بن حمود بن خلف بن أبِي مسلم الصدفي، وآخرون.

قال الفرضي: وكانَ حرِج الصّدر، ضَيِّق الخُلْق، وكان عالِمًا بالكَلام والنّظر، مَنسُوبًا إلى مَعرِفة الحديث.

وقد كتب عنه الفقيه ابن أبِي زيد عن شيوخه الأندلسيين، ثم حصل ما أوجب القطيعة بينهما، بسبب حرج الصدر وضيق الخلق، فحُكيَ أنه ناظر ابن أبِي زيد يومًا في مسألة، فتغير مزاجه، وضاق صدره، فقال له ابن أبِي زيد: قال خلاف قولك فلان، فقال: لو قالها فلان ما صدقته، أو لكان خطأ، أو نحو هذا من
হাফিজ ইবনে আব্দিল বার তাঁর থেকে আল-আসিলি থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং উসমান বিন খালাফ বিন মুফাররাজ আল-আনসারি, ইমরান বিন আব্দ রাব্বিহি বিন গজলুন আল-মাআফিরি, মুহাম্মাদ বিন আতাউল্লাহ আন-নাহবি, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়াহইয়া যিনি ইবনুল ফাসসাল নামে পরিচিত, মুহাম্মাদ বিন আসবাগ আল-বালাবি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আত-তামিমি, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাবি বিন বানুশ আত-তামিমি, মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন ইসহাক বিন ইউসুফ আল-উমাবি, মুহাম্মাদ বিন জামাহির বিন মুহাম্মাদ বিন জামাহির আল-হাজরি, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-বাকরি, এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবিদ আল-মাআফিরি—যিনি শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আসিলির শিষ্যদের মধ্যে কর্ডোবায় জীবিত থাকা সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন—মুহাম্মাদ বিন মুসা bin ফাতহ আল-আনসারি, আল-মুহাল্লাবের ভাই মুহাম্মাদ বিন আবি সাফরা, মুসা বিন ঈসা বিন আবি হাজ, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আত-তামিমি আল-মালিকি, মারওয়ান বিন আলি আল-আসাদি আল-কাত্তান, মুফাররাজ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-লায়স—যিনি ৩৮৮ হিজরি সনে তাঁর নিকট থেকে সহিহ আল-বুখারি শ্রবণ করেছেন—হিশাম বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকদার, এই কিতাবের লেখক আল-মুহাল্লাব বিন আবি সাফরা, হিশাম বিন মুহাম্মাদ বিন হিশাম, হারুন বিন সাঈদ আল-মুরসি, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাশি, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুস সালাম, ইউসুফ বিন হামুদ বিন খালাফ বিন আবি মুসলিম আস-সাদাফি এবং আরও অনেকে।

আল-ফারাদি বলেন: তিনি অস্থিরচিত্ত ও রুক্ষ স্বভাবের ছিলেন। তিনি ইলমুল কালাম ও যুক্তিবিদ্যায় (নজর) পারদর্শী ছিলেন এবং হাদিসের জ্ঞানেও তাঁর পরিচিতি ছিল।

ফকিহ ইবনে আবি যাইদ তাঁর আন্দালুসি শায়খদের সূত্রে তাঁর নিকট থেকে লিখেছিলেন। অতঃপর তাঁদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের কারণ ঘটেছিল তাঁর অস্থিরচিত্ততা ও রুক্ষ স্বভাবের দরুন। বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি ইবনে আবি যাইদের সাথে একটি মাসআলা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন, তখন তাঁর মেজাজ বিগড়ে যায় এবং তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। ইবনে আবি যাইদ তাঁকে বললেন: অমুক ব্যক্তি আপনার মতের বিপরীতে কথা বলেছেন। তখন তিনি বললেন: যদি অমুক ব্যক্তি এ কথা বলে থাকেন তবে আমি তা বিশ্বাস করি না, অথবা তা ভুল হবে, কিংবা এই জাতীয় কিছু তিনি বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الكلام مما أسرف فيه، وغلا بفرط حرجه، فانتدب له البرادعي وتولاه ووجد للمقال سبيلًا، وأنكر عليه كل من حضر، ولكن تولى ذلك البرادعي، بفرط حرج منه هو أيضًا، فخرج الأصيلي، فكان ذلك سبب مقاطعته مجلس ابن أبِي زيد.

فيقال إن ابن أبِي زيد قال للبرادعي: لقد حرمتنا فوائد الشيخ بإسرافك في الرد عليه.

وكانت بين الأصيلي وبين ابن زرب القاضي وأصحابه مشاحنة، أثارتها النفاسة، وعلو كعب الأصيلي في العلم، وإزراؤه عليهم، فأراد ابن أبِي عامر صلاح حالهم بتفريقهم، فقلد الأصيلي قضاء سرقسطة، فدارت بين الأصيلي وواليها بين يدي ابن أبِي عامر منافسة، ومحارجة لأشياء أنكرها عليه الأصيلي، فاستعفى من القضاء فعوفي، وقيل بل حلف الوالي أن لا يلي معه.

فصرفه ابن أبِي عامر عن القضاء صرفًا جميلًا، فأقام رأسًا في أهل الشورى بقرطبة، ولاسيما بعد وفاة ابن زرب، فإنه استكملت رئاسته، حتى كان بالأندلس نظير ابن أبِي زيد بالقيروان وعلى هديه، إلا أنه كان فيه ضجر شديد، يخرجه أوقات القيظ إلى غير صفته، ذكر بعضهم أنه هنأه بالشورى حين تقلدها، فقال: لعن الله الشورى إنْ لم أرفعها، ولعنني إنْ رفعتني، ونحو هذا!

وكان مقبلًا على إفادة تلاميذه والاستفادة منهم.

جاء في الصلة لابن بشكوال في ترجمة أبِي عبد الله محمد بن أصبغ البلوي: أنه رحل إلى المشرق مع أبِي عبد الله بن عابد، وهما تلميذان للأصيلي، فسمعا هناك من أبِي بكر بن إسماعيل وغيره.
আলোচনাটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যেখানে তিনি সীমালঙ্ঘন করলেন এবং তীব্র সংকীর্ণতার কারণে চরম বাড়াবাড়ি করলেন। অতঃপর আল-বারাদায়ি এর জন্য এগিয়ে এলেন এবং এর দায়িত্ব নিলেন ও আলোচনার একটি পথ খুঁজে পেলেন। উপস্থিত সকলেই তার তীব্র প্রতিবাদ করলেন, কিন্তু বারাদায়ি নিজেও তীব্র সংকীর্ণতার বশবর্তী হয়ে এর ভার গ্রহণ করলেন। ফলে আল-আসিলি সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং এটিই ছিল ইবনে আবি যাইদের মজলিস বর্জন করার কারণ।

বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে আবি যাইদ আল-বারাদায়িকে বলেছিলেন: "শায়খের ওপর তোমার অতিমাত্রায় প্রত্যাঘাতের মাধ্যমে তুমি আমাদেরকে তাঁর জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা থেকে বঞ্চিত করেছ।"

আল-আসিলি এবং বিচারক ইবনে যারাব ও তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে একপ্রকার বিবাদ বিদ্যমান ছিল, যা পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জ্ঞানে আল-আসিলির সুউচ্চ মর্যাদা এবং অন্যদের প্রতি তাঁর অবজ্ঞার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। ইবনে আবি আমির তাঁদেরকে পৃথক করে দিয়ে পরিস্থিতি সংশোধন করতে চাইলেন। তাই তিনি আল-আসিলিকে সারাকুস্তার বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিলেন। এরপর আল-আসিলি এবং সেখানকার গভর্নরের মধ্যে ইবনে আবি আমিরের উপস্থিতিতেই কিছু বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিবাদ সৃষ্টি হলো যা আল-আসিলি অস্বীকার করেছিলেন। ফলে তিনি বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন করলেন এবং তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আবার বলা হয় যে, গভর্নর শপথ করেছিলেন যে তিনি তাঁর সাথে দায়িত্ব পালন করবেন না।

ইবনে আবি আমির অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে তাঁকে বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতি দিলেন। এরপর তিনি কর্ডোভার শুরা (পরামর্শক) সভার একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অবস্থান করেন, বিশেষ করে ইবনে যারাবের মৃত্যুর পর তাঁর নেতৃত্ব পূর্ণতা পায়। এমনকি তিনি আন্দালুসে কায়রোয়ানের ইবনে আবি যাইদের সমতুল্য এবং তাঁরই আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তবে তাঁর মধ্যে তীব্র মেজাজ ছিল, যা প্রচণ্ড গরমের সময় তাঁকে তাঁর স্বাভাবিক স্বভাবের বাইরে নিয়ে যেত। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন শুরা সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হলেন তখন তাকে অভিনন্দন জানানো হলে তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ শুরার ওপর লানত বর্ষণ করুন যদি আমি একে উচ্চাসনে না বসাই, আর যদি এটি আমাকে উচ্চাসনে বসায় তবে তিনি আমার ওপর লানত বর্ষণ করুন!" অথবা এই জাতীয় কিছু!

তিনি তাঁর ছাত্রদের জ্ঞান দানে এবং তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণে মনোযোগী ছিলেন।

ইবনে বাশকুওয়ালের 'আস-সিলা' গ্রন্থে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আসবাগ আল-বালাউয়ির জীবনীতে এসেছে যে: তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিদ এর সাথে প্রাচ্যের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন; তাঁরা উভয়েই ছিলেন আল-আসিলির ছাত্র। তাঁরা সেখানে আবু বকর বিন ইসমাইল এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال ابن عابد: ولما قدمنا معًا بمسند شعبة، تصنيف أبِي بشر الدولابي الذي سمعناه بمصر من أبِي بكر بن إسماعيل أخذه أَبُومحمد الأصيلي فاستغربه، وعظم قدر علو سنده، فقرأه عليه محمد بن أصبغ، وكان تلميذه، وسمعه منه الأصيلي رحمه الله.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال أَبُوإسحاق الشيرازي: وممن انتهى إليه هذا الأمر من المالكية بالأندلس أَبُومحمد الأصيلي، وانتهت إليه الرئاسة.

قال ابن عفيف: رحل وتفقه فاحتوى على علم عظيم، وقدم الأندلس ولا نظير له فيها في الفهم والنبل.

وقال غيره: كان من جلة العلماء نسيج وحده، رحل الى الأمصار ولقي الرجال وتفنن في الرأي ونقد الحديث وعلله وألف كتبًا نافعة.

قال فيه المهلب بعد أن ذكر مشيخته: فأجلّهم علمًا وفقهًا، وأثبتهم نقلًا، وأصحهم ضبطًا، وأرفعهم حالًا، وأعدلهم قولًا، أَبُومحمد الأصيلي.

وقال ابن حيان: كان أَبُومحمد في حفظ الحديث، ومعرفة الرجال، والإتقان للنقل، والبصر بالنقد، والحفظ للأصول، والحذق برأي أهل المدينة، والقيام بمذهب المالكية، والجدل فيه على أصول البغداديين، فردًا لا نظير له في زمانه.

قال الذهبي: الإمام شيخ المالكية عالم الأندلس.

ولما ورد أَبُويحيى ابن الأشج من أهل المشرق، وكان قد روى كتاب البخاري، سئل إسماعه، فقال: لا يراني الله أحدث به والأصيلي حي أبدًا.
ইবন আবিদ বলেন: আমরা যখন একত্রে আবু বিশর আদ-দুলাবি রচিত ‘মুসনাদে শুবা’ নিয়ে আসলাম, যা আমরা মিসরে আবু বকর ইবন ইসমাইলের নিকট শুনেছিলাম, তখন আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি সেটি গ্রহণ করলেন এবং এটি দেখে বিস্মিত হলেন। এর সনদের উচ্চমর্যাদাকে তিনি অনেক বড় মনে করলেন। এরপর মুহাম্মদ ইবন আসবাগ—যিনি তাঁর ছাত্র ছিলেন—তাঁর কাছে এটি পাঠ করলেন এবং আল-আসিলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করলেন।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

আবু ইসহাক আশ-শিরাজি বলেন: আন্দালুসের মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে যাদের কাছে এই ইলমি নেতৃত্বের বিষয়টি পৌঁছেছিল, আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি তাদের অন্যতম এবং তাঁর কাছেই সেই নেতৃত্বের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল।

ইবন আফিফ বলেন: তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন এবং ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেছেন, ফলে তিনি বিশাল জ্ঞান আয়ত্ত করেছিলেন। তিনি যখন আন্দালুসে আসলেন, তখন প্রজ্ঞা ও আভিজাত্যে তাঁর সমকক্ষ কেউ সেখানে ছিল না।

অন্যান্য আলেমগণ বলেন: তিনি ছিলেন মহান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং নিজ কর্মগুণে অনন্য। তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন, মনীষীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইজতিহাদি অভিমত, হাদিস সমালোচনা ও তার সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং বহু উপকারী কিতাব রচনা করেছেন।

আল-মুহাল্লাব তাঁর শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করার পর তাঁর সম্পর্কে বলেন: জ্ঞান ও ফিকহের দিক থেকে তাদের মধ্যে সবচেয়ে মহান, বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, নির্ভুলতায় সবচেয়ে সঠিক, মর্যাদায় সবচেয়ে উন্নত এবং বক্তব্যে সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ব্যক্তি হলেন আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি।

ইবন হাইয়ান বলেন: আবু মুহাম্মদ হাদিস মুখস্থ রাখা, বর্ণনাকারীদের পরিচয় জ্ঞান, বর্ণনার নিপুণতা, সমালোচনার অন্তর্দৃষ্টি, মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করা, মদিনাবাসীদের মতামতে দক্ষতা, মালিকি মাজহাবের প্রতিষ্ঠা এবং বাগদাদিদের মূলনীতির আলোকে বিতর্কের ক্ষেত্রে তাঁর সময়ে এক অনন্য ব্যক্তি ছিলেন যার কোনো তুলনা ছিল না।

আয-যাহাবি বলেন: তিনি ইমাম, মালিকি মাজহাবের শায়খ এবং আন্দালুসের আলেম।

পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ থেকে আবু ইয়াহইয়া ইবনুল আশাজ যখন আসলেন—যিনি ইমাম বুখারির কিতাব বর্ণনা করতেন—তখন তাঁকে সেটি বর্ণনা করে শোনানোর অনুরোধ করা হলো। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে এমন অবস্থায় কখনোই দেখবেন না যে, আল-আসিলি জীবিত থাকা অবস্থায় আমি হাদিস বর্ণনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال أَبُوالوليد: لما دخلت القيروان أتيت أبا محمد ابن أبِي زيد فقال لي: ما حاجتك؟ قلت: الأخذ عنك، فقال لي: ألم يقدم عليك الأصيلي؟ قلت: بلى، قال لي: تركت والله العلم وراءك، فكيف حاله مع أهل بلده؟ فأخبرته بظلمهم له، قال: جهلوا ما أتى به، وأتيت القابسي فجرى لي معه مثل ذلك، وقال لي مثل قوله.

وأحضره ابن أبِي عامر في جملة الفقهاء، فاستشارهم في أرض موقوفة على بعض كنائس أهل الذمة، أراد شراءها، فمنعه جماعة الفقهاء منها، غير الأصيلي وحده فإنه أفتاه بجوازه، واحتج لذلك.

وكان يأخذ بالأثر ويترك المذهب المالكي في مسائله الضعيفة، وكان يخطئ القول بنبوة مريم أم عيسى عليهما السلام، ويقول: هي صدّيقة، ويرد القول بإتيان النساء في إعجازهن كراهة من غير تحريم، على أن الآثار في ذلك شديدة، وقد روي في بعضها التحريم ولعنة فاعله، وكان ينكر الغلو في كرامات الأولياء، ويثبت منها ما صح سنده أو كان بدعاء الصالحين.

قال المهلب: وكان يعمل بالمزارعة على الثلث والربع، ويرى ذلك ولا يقول بمنعها في المذهب، ويقول هي ألين مسائلنا وأضعفها، وحجته حديث معاملة النبي صلى الله عليه وسلم أهل خيبر، وأن النبي صلى الله عليه وسلم عاملهم في أن يزرعوها ويعملوها ولهم شطر ما يخرج منها، وما حكي عن عمر وجماعة أهل المدينة.

قلت: وبذا قال المهلب في هذا الكتاب في ذلك الباب.

وللأصيلي كتاب الدلائل في الاختلاف مشهور، ونوادر الحديث خمسة أجزاء، والانتصار، ورسالة المواعد المنتجزة، ورسالة الرد على من استحل عن
আবু আল-ওয়ালিদ বলেন: যখন আমি কাইরাওয়ানে প্রবেশ করলাম, তখন আমি আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি যাইদের নিকট আসলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনার প্রয়োজন কী?" আমি বললাম: "আপনার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা।" তখন তিনি আমাকে বললেন: "আপনার নিকট কি আসিলি আসেননি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, এসেছেন।" তিনি আমাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আপনি তো ইলমকে আপনার পেছনেই ফেলে এসেছেন। নিজ শহরের অধিবাসীদের সাথে তাঁর অবস্থা কেমন?" আমি তাঁকে তাঁর প্রতি তাদের যুলুমের কথা জানালাম। তিনি বললেন: "তিনি যা নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে তারা অজ্ঞ ছিল।" এরপর আমি কাবিসীর নিকট আসলাম এবং তাঁর সাথেও আমার একই ঘটনা ঘটল এবং তিনি তাঁর (ইবনে আবি যাইদের) কথার মতোই বললেন।

ইবনে আবি আমির তাঁকে ফকীহগণের সমাবেশে উপস্থিত করলেন এবং তাঁদের নিকট যিম্মি সম্প্রদায়ের কিছু গির্জার জন্য ওয়াকফকৃত একটি জমি সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন, যা তিনি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন। ফকীহগণের জামাত তাঁকে তা থেকে নিষেধ করলেন, কেবল আসিলি ছাড়া; কেননা তিনি তা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন এবং এর স্বপক্ষে দলীল পেশ করেছিলেন।

তিনি আছার (রেওয়ায়েত) অনুসরণ করতেন এবং মালিকি মাযহাবের দুর্বল মাসআলাসমূহ বর্জন করতেন। তিনি ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর মাতা মারিয়ামের নবুওয়াতের মতটিকে ভুল মনে করতেন এবং বলতেন: তিনি সিদ্দীকা (পরম সত্যবাদী)। তিনি নারীদের পশ্চাৎপথে সঙ্গম করার মতটিকে হারাম না বলে অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হিসেবে প্রত্যাখ্যান করতেন, যদিও এ বিষয়ে আছারসমূহ অত্যন্ত কঠোর, এমনকি কোনো কোনো বর্ণনায় হারাম হওয়া এবং অভিশাপের (লানত) কথা বর্ণিত হয়েছে। তিনি ওলীগণের কারামতের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি অস্বীকার করতেন এবং সেগুলোকে সাব্যস্ত করতেন যেগুলোর সনদ সহীহ অথবা যা নেককার বান্দাদের দুআর মাধ্যমে প্রকাশ পেত।

মুহাল্লাব বলেন: তিনি এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ভিত্তিতে বর্গা চাষ (মুযারাআহ) করতেন এবং একে বৈধ মনে করতেন; মাযহাবে এর নিষেধাজ্ঞার কথা বলতেন না। তিনি বলতেন, এটি আমাদের মাসআলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও দুর্বল। তাঁর দলীল ছিল খায়বারবাসীদের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লেনদেনের হাদীস; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেছিলেন যে তারা সেখানে চাষাবাদ ও কাজ করবে এবং যা উৎপন্ন হবে তার অর্ধেক তারা পাবে। এ ছাড়া যা উমর ও মদীনার একদল অধিবাসী থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আমি বলছি: এই কিতাবের উক্ত অধ্যায়ে মুহাল্লাবও এই কথাই বলেছেন।

আসিলির 'আদ-দালাইল ফিল ইখতিলাফ' নামক একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে, আরও রয়েছে পাঁচ খণ্ডের 'নাওয়াদিরুল হাদীস', 'আল-ইনতিসার', 'রিসালাতুল মাওয়াঈদিল মুনতাজাযাহ' এবং সেই ব্যক্তির খণ্ডনে রিসালাহ যে হালাল মনে করত...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورسالة الرد على ما شذ فيه الأندلسيون، وغير ذلك.

 

‌‌وفاته:

تُوفّي لَيْلَة الخَميس لإحدى عَشْرة ليلة بَقيت من ذي الحجّة سنة اثنتين وتِسْعِين وثلاثِ مائةٍ.

ودُفِنَ يوم الخَميس بعد صَلاة العصرِ بِمَقْبَرة الرّصافة، وصلّى عليه القاضي أحمد بن عبد الله وهوَ ابن ثمانٍ وستين سنة.

وكان جَمْعُهُ مشهودًا، وأوصى أن يكفن في خمسة أثواب، وكان آخر ما سمع منه حين احتضر: اللهم إنك قد وعدت الجزاء على المصيبة ولا مصيبة علي أعظم من نفسي فأحسن جزائي فيها يا أرحم الراحمين، ثم خفت.

وكان أراد ابنه أن يدفنه ليلًا ولا يعلم بجنازته، فرده عن ذلك صهره المهلب بن أبِي صفرة، وأوصى أن يدفن في خمسة أثواب.

وكان قد أعد قبره لنفسه، يقف عليه ويتعظ به، وكان كثيرًا ما يتخوف من سنة أربعمائة، وما يجري فيها من الفتن، فذكر يومًا شأنها في مجلسه، ودعا الله تعالى أن يتوفاه قبلها، وابنه محمدًا، وسأل من حضر التأمين.

وكره ابنه محمد ذلك، ففعل من حضر ذلك، وأجيب دعاؤه، فتوفي عما قريب، وتوفي ابنه بعده بأعوام، ثم كانت سنة أربعمائة، فكان فيها من الفتن، وخراب الأندلس ما كان.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং আন্দালুসীয়দের মাঝে যে সব বিষয়ে বিচ্যুতি ঘটেছে তার খণ্ডনমূলক পত্র, এবং অন্যান্য।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৩৯২ হিজরি সনের যিলহজ মাসের এগারো রাত অবশিষ্ট থাকতে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁকে বৃহস্পতিবার আসরের নামাযের পর রুসাফা গোরস্থানে দাফন করা হয় এবং কাযী আহমদ বিন আব্দুল্লাহ তাঁর জানাযার নামায পড়ান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল আটষট্টি বছর।

তাঁর জানাযায় মানুষের বিশাল সমাগম হয়েছিল। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়। তাঁর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর থেকে শোনা সর্বশেষ কথাগুলো ছিল: হে আল্লাহ! আপনি বিপদে প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন, আর আমার কাছে নিজের জীবনের চেয়ে বড় কোনো বিপদ নেই; সুতরাং হে পরম দয়ালু, এর বিনিময়ে আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এরপর তাঁর কণ্ঠ স্তিমিত হয়ে এল।

তাঁর ছেলে চেয়েছিলেন তাঁকে রাতের বেলা দাফন করতে যাতে তাঁর জানাযার কথা কেউ জানতে না পারে, কিন্তু তাঁর জামাতা মুহাল্লাব বিন আবি সাফরা তাঁকে তা থেকে বিরত রাখেন। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়।

তিনি নিজের জন্য নিজেই কবর তৈরি করে রেখেছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নসিহত গ্রহণ করতেন। তিনি ৪০০ হিজরি সন এবং তাতে সঙ্ঘটিতব্য ফিতনাসমূহ নিয়ে খুব বেশি আশঙ্কিত থাকতেন। একদিন তাঁর মজলিসে তিনি এর বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন তিনি তাঁকে এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদকে এর আগেই মৃত্যু দান করেন। তিনি মজলিসে উপস্থিত সকলকে 'আমীন' বলতে অনুরোধ করেন।

তাঁর ছেলে মুহাম্মদ বিষয়টি অপছন্দ করলেও উপস্থিত সবাই 'আমীন' বলেন এবং তাঁর দোয়া কবুল হয়। ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর পুত্র তাঁর কয়েক বছর পর ইন্তেকাল করেন। এরপর ৪০০ হিজরি সন আসে এবং তাতে আন্দালুসে যে ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিতনা হওয়ার কথা ছিল, তা-ই ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌2 - أَبُوالحسن القابسي (1):

هو أَبُوالحسن علي بن محمد بن خلف المعافري.

من أهل القيروان البلد المعروف في تونس، ولد فيها سنة أربع وعشرين وثلاثمائة (324هـ)، وكان ضريرًا.

قال الداني: مولده في رجب لست ليال مضين منه سنة أربع وعشرين وثلاثماية (6/ 7/324هـ).

يعرف بالقابسي، قيل إنها نسبة إلى مدينة اسمها قابس بإفريقية، بين الإسكندرية والقيروان، كَأنَّ أصلهم منها، وقيل: إنما قيل له القابسي لأنَّ عمه كان يشد عمامته شدة قابسية، فاشتهر لذلك بالقابسي، وهذا من غرائب النسب.

قال الداني: ولم يكن أَبُوالحسن قابسيًّا، وإنما كان له عَمٌّ يشد عمامته مثل القابسيين فسمي بذلك، وهو قيرواني الأصل أهـ، وهذا أصح في النسبة، فالداني من خاصته.

سمع أَبُوالحسن أول ما سمع من رجال إفريقية كأبي العباس الإبياني، وأبي الحسن علي بن محمد بن مسرور، ودراس بن إسماعيل الفاسي وغيرهم.

ثم ارتحل عام ثلاثمائة واثنين وخمسين (352هـ وله من العمر28 سنة) قاصدًا الحج، فسمع بمصر ومكة من جماعة من الكبار، كـ: حمزة بن محمد الكناني، وأبي الحسن التلباني، وابن أبِي الشريف، وأبي الحسن ابن حبونه النيسابوري، وأبي

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته:

ترتيب المدارك 4/ 616، وفيات الأعيان 3/ 20، تذكرة الحفاظ 3/ 1079، السير 17/ 158، العبر 3/ 85، البداية والنهاية 11/ 51، الديباج 2/ 101، غاية النهاية 1/ 567، شذرات الذهب 3/ 168.
২ - আবুল হাসান আল-কাবেসি (১):

তিনি হলেন আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-মাআফিরি।

তিনি তিউনিসিয়ার সুপরিচিত শহর কায়রাওয়ানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি সেখানে তিনশ চব্বিশ (৩২৪ হিজরি) সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন।

আদ-দানি বলেন: তাঁর জন্ম তিনশ চব্বিশ সনের রজব মাসের ছয় তারিখ রাতে (৬/৭/৩২৪ হিজরি)।

তিনি আল-কাবেসি নামে পরিচিত। বলা হয় যে, এটি আফ্রিকা (তদানীন্তন ইফরিকা) মহাদেশের কাবেস নামক একটি শহরের সম্বন্ধসূচক নাম, যা আলেকজান্দ্রিয়া ও কায়রাওয়ানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত; সম্ভবত তাঁদের আদি নিবাস সেখানে ছিল। আবার বলা হয় যে, তাঁকে কাবেসি বলা হতো কারণ তাঁর চাচা কাবেসিদের মতো করে পাগড়ি বাঁধতেন, ফলে তিনি কাবেসি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এটি বংশনামের এক অদ্ভুত ধরণ।

আদ-দানি বলেন: আবুল হাসান মূলত কাবেসি ছিলেন না, বরং তাঁর এক চাচা কাবেসিদের মতো পাগড়ি বাঁধতেন বলে তাঁকে এই নামে ডাকা হতো। তিনি মূলত কায়রাওয়ানি বংশোদ্ভূত। সমাপ্ত। বংশ পরিচয়ের ক্ষেত্রে এটিই অধিকতর সঠিক মত, কেননা আদ-দানি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আবুল হাসান সর্বপ্রথম ইফরিকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, যেমন আবুল আব্বাস আল-ইবইয়ানি, আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসরুর, দিরস ইবনে ইসমাইল আল-ফাসি এবং অন্যান্যদের থেকে।

অতঃপর তিনি তিনশ বায়ান্ন সনে (৩৫২ হিজরি, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর) হজের উদ্দেশ্যে সফর করেন। তিনি মিশর ও মক্কায় একদল বরেণ্য আলেমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, যেমন: হামজা ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি, আবুল হাসান আত-তিলবানি, ইবনে আবিশ শরিফ, আবুল হাসান ইবনে হাবুনাহ আন-নাইসাবুরি এবং আবুল...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

তারতিবুল মাদারিক ৪/৬১৬, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২০, তাজকিরাতুল হুফফাজ ৩/১০৭৯, আস-সিয়ার ১৭/১৫৮, আল-ইবার ৩/৮৫, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/৫১, আদ-দিবাজ ২/১০১, গায়াতুন নিহায়া ১/৫৬৭, শাজারাতুজ জাহাব ৩/১৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الحسن بن أبِي هلال، وأبي الحسن بن شعبان الطحان، وأبي الحسن بن هاشم، وأبي الطاهر محمد بن عبد الغني، وأبي الحسن الأسيوطي، وأبي بكر أحمد بن عبد الله بن عبد المؤمن، وأبي أحمد بن المفسر، وأبي الفتح بن يرمين، وأبي إسحاق عبد الحميد بن أحمد بن عيسى.

ولم يدخل العراق، فكتب إليه من بغداد أَبُوبكر ابن خلاد.

وبمكة سمع من أبِي زيد صحيح البخاري، ضبط له النسخة والسماع رفيقه أَبُومحمد الأصيلي بخط يده رحمهم الله تعالى، وذلك عام 353 كما ذكرت آنفا في ترجمة الأصيلي.

وبمصر عرض على أبِي الفتح بن بدهن المقرئ القرآن، فهو إسناده في القراءة.

قال الداني: وأقرأ القرآن بالقيروان دهرًا، ثم قطع القراءة لما بلغه أن بعض أصحابه استقرأه الوالي فقرأ عليه، ودرس الحديث والفقه إلى أن رأس فيهما، وبرع إلى أن صار إمام عصره وفاضل دهره أهـ.

وقد مكث أَبُوالحسن في الرحلة خمس سنين، ثم عاد إلى القيروان سنة سبع وخمسين وثلاثمائة، (357 وله من العمر 33 سنة).

وكان أَبُوالحسن رحمه الله واسع الرواية عالمًا بالحديث وعلله ورجاله، فقيهًا أصوليًا متكلمًا مؤلفًا مجيدًا، وكان من الصالحين المتقين الزاهدين الخائفين.

وكان أهل العلم يعظمونه.

وذكر ابن سعدون: أن أبا الحسن لما جلس للناس وعزم عليه في الفتوى تأبّى وسدّ بابه دون الناس، فقال لهم أَبُوالقاسم ابن شبلون: اكسروا عليه بابه لأنه قد وجب عليه فرض الفتيا، هو أعلم من بقي بالقيروان، فلما رأى ذلك خرج إليهم ينشد:
আল-হাসান বিন আবি হিলাল, আবু আল-হাসান বিন শাবান আত-তাহহান, আবু আল-হাসান বিন হাশিম, আবু আত-তাহির মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি, আবু আল-হাসান আল-আসয়ুতি, আবু বকর আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুমিন, আবু আহমদ বিন আল-মুফাসসির, আবু আল-ফাতহ বিন ইয়ারমিন এবং আবু ইসহাক আব্দুল হামিদ বিন আহমদ বিন ঈসা।

তিনি ইরাকে প্রবেশ করেননি, তাই বাগদাদ থেকে আবু বকর ইবনে খাল্লাদ তাকে চিঠি লিখেছিলেন।

আর মক্কায় তিনি আবু যাইদ-এর নিকট সহীহ বুখারী শ্রবণ করেন; তার সফরসঙ্গী আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি নিজ হাতে তার জন্য পাণ্ডুলিপি ও শ্রবণলিপি নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করেন, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহম করুন। এটি ৩৫৩ হিজরির ঘটনা, যেমনটি আমি পূর্বে আল-আসিলির জীবনীতে উল্লেখ করেছি।

আর মিসরে তিনি কারী আবু আল-ফাতহ বিন বুদহান-এর নিকট কুরআন পেশ করেন, আর এটিই কিরাআতের ক্ষেত্রে তার সনদ।

আদ-দানি বলেন: তিনি দীর্ঘকাল কায়রোয়ানে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, অতঃপর যখন তিনি জানতে পারলেন যে তার জনৈক সঙ্গী শাসকের অনুরোধে তার কাছে কুরআন পাঠ করেছে, তখন তিনি তিলাওয়াত বন্ধ করে দেন। তিনি হাদিস ও ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং উভয় শাস্ত্রে নেতৃত্ব লাভ করেন এবং পারদর্শী হয়ে ওঠেন, এমনকি তিনি তার যুগের ইমাম ও সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন—সমাপ্ত।

আবু আল-হাসান তার জ্ঞানার্জনের সফরে পাঁচ বছর অবস্থান করেন, অতঃপর ৩৫৭ হিজরিতে কায়রোয়ানে ফিরে আসেন (৩৫৭ হিজরি এবং তখন তার বয়স ছিল ৩৩ বছর)।

আবু আল-হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী এবং হাদিস, এর সূক্ষ্ম ত্রুটি ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি একাধারে ফকিহ, উসুলবিদ, কালামশাস্ত্রবিদ এবং একজন দক্ষ লেখক ছিলেন। তিনি ছিলেন নেককার, মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ এবং আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

আলেম সমাজ তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।

ইবনে সাদুন উল্লেখ করেছেন: আবু আল-হাসান যখন জনগণের জন্য বসলেন এবং ফতোয়া প্রদানের বিষয়ে তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হলো, তখন তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন এবং মানুষের জন্য তার দরজা বন্ধ করে দিলেন। তখন আবু আল-কাসিম ইবনে শিবলুন তাদেরকে বললেন: "তার দরজা ভেঙে ফেলো, কারণ ফতোয়া প্রদান করা এখন তার ওপর ফরজ হয়ে গেছে; তিনি কায়রোয়ানে অবশিষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম।" যখন তিনি এটি দেখলেন, তখন তিনি তাদের নিকট এই কবিতা আবৃত্তি করতে করতে বেরিয়ে আসলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لعمر أبيك ما نُسب المعلى … الى كرم وفي الدنيا كريم

ولكن البلاد إذا اقشعرّت … وصوّح نبتُها رُعِي الهشيم

 

قال حاتم الطرابلسي صاحبه: كان أَبُوالحسن فقيهًا عالمًا محدثًا ورعًا متقللًا من الدنيا، لم أرَ أحدًا ممن يشار إليه بالقيروان بعلم إلا وقد جاء اسمه عنده وأخذ عنه، يعترف الجميع بحقه ولا ينكر فضله.

وقال محمد بن عمار الهوزني: متأخر في زمانه متقدم في شأنه العلم والعمل والرواية والدراية، من ذوي الاجتهاد في العباد والزهاد مجاب الدعوة، له مناقب يضيق عنها الكتاب، عالمًا بالأصول والفروع والحديث وغير ذلك من الرقائق.

وذكره أَبُوعبد الله ابن أبِي صفرة فقال: كان فقيه الصدر.

قال أَبُوالحسن: لما رحلت الى الإبياني أنا وأبو محمد الأصيلي، وعيسى بن سعادة الفاسي كنا نسمع عليه، فإذا كان بعد العصر ذاكرنا في المشكل، فتذاكرنا يومًا وطال الذكر فخصني بأن قال لي: يا أبا الحسن، لتضربن إليك آباط الإبل من أقصى المغرب، فقلت له: ببركتك إن شاء الله، ولما نرجوه من النفع بك إن شاء الله.

ثم جرى لي منه ذلك يومًا آخر، ثم ذاكرني يومًا ثالثًا فهمني له، فقال مثل ذلك، فقلت له ببركتك إن شاء الله فقال: والله لتضربن إليك آباط الإبل من أقصى المغرب.
তোমার পিতার জীবনের শপথ, দুনিয়াতে কোনো বদান্য ব্যক্তি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় মুয়াল্লাকে দাতা হিসেবে গণ্য করা হয়নি।

কিন্তু দেশ যখন শস্যহীন হয়ে পড়ে এবং তার উদ্ভিদরাজি শুকিয়ে যায়, তখন শুষ্ক খড়কুটোই ভক্ষণ করা হয়।

 

তাঁর সঙ্গী হাতেম আত-তরাবুলুসি বলেন: আবুল হাসান ছিলেন একজন ফকিহ, আলেম, মুহাদ্দিস, খোদাভীরু এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি। কায়রোয়ানে ইলমের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এমন কাউকেই আমি দেখিনি, যে তাঁর নিকট আগমন করেনি এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেনি; সকলেই তাঁর অধিকার স্বীকার করে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কেউ অস্বীকার করে না।

মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আল-হাওজানি বলেন: তিনি কালানুক্রমিকভাবে পরবর্তী হলেও তাঁর মর্যাদা, ইলম, আমল, বর্ণনা ও প্রজ্ঞার দিক থেকে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি কঠোর ইবাদতকারী ও দুনিয়াব্যাগী মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত এবং মুজাবুদ দাওয়াহ ছিলেন। তাঁর এমন সব গুণাবলি রয়েছে যা কিতাবে সংকুলান করা দুঃসাধ্য; তিনি উসুল, ফুরু, হাদিস এবং আধ্যাত্মিক বিষয়সমূহে (রাকায়েক) অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন।

আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবি সাফরা তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত উঁচু স্তরের ফকিহ।

আবুল হাসান বলেন: যখন আমি, আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি এবং ঈসা ইবনে সাআদাহ আল-ফাসি আল-ইবিয়ানির নিকট সফর করলাম, তখন আমরা তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করতাম। আছরের পর তিনি আমাদের সাথে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন। একদিন আমরা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলাম, তখন তিনি আমাকে নির্দিষ্ট করে বললেন: হে আবুল হাসান, অদূর ভবিষ্যতে সুদূর মাগরিব থেকে উটের বগল প্রকম্পিত করে (অর্থাৎ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে) মানুষ অবশ্যই তোমার নিকট আসবে। আমি তাঁকে বললাম: ইনশাআল্লাহ আপনার বরকতে এবং আপনার নিকট থেকে আমরা যে উপকারের আশা রাখি তার মাধ্যমে।

এরপর অন্য একদিনও তাঁর পক্ষ থেকে আমার সাথে এমনটি ঘটল। অতঃপর তৃতীয় দিন তিনি আমার সাথে আলোচনা করলেন এবং আমার প্রতি মনোনিবেশ করলেন, তখনও তিনি অনুরূপ কথা বললেন। আমি তাঁকে বললাম: ইনশাআল্লাহ আপনার বরকতে। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, সুদূর মাগরিব থেকে উটের বগল প্রকম্পিত করে মানুষ অবশ্যই তোমার নিকট আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الرواة عنه:

روى عن أبِي الحسن جماعة من العلماء، منهم الحافظ الكبير أَبُوعمرو الداني شيخ الإسلام في علوم القراءات والحديث، وأبو عمران الفاسي، وأبو القاسم البيري، وأبو بكر عتيق السوسي، وأبو القاسم ابن الحساري، وابن سمحان، وابن أبِي طالب العابد، وأبو عمرو ابن العتاب، وابن محرز، وابن سفيان، وأبو محمد اللوبي، وأبو حفص العطار، وأبو عبد الله الخواص، وأبو عبد الله المالكي، ومكي القيسي، وابن الأجدابي.

ومن الأندلسيين سوى من ذكرنا المهلب ابن أبِي صفرة، وأخوه أَبُوعبد الله، وحاتم بن محمد الطرابلسي، وأبو عمرو الداني الحافظ المذكور آنفا أشهرهم.

 

‌‌مؤلفاته:

لأبي الحسن تواليف عديدة، أشهرها: ملخص الموطأ، وله من الكتب: المهذب في الفقه، وأحكام الديانة، وكتاب المنقذ من شبه التأويل، وكتابه المنبه للفطن من غوائل الفتن، والرسالة المعظمة لأحوال المتقين، وأحكام المتعلمين والمعلمين، وكتاب الاعتقادات، وكتاب مناسك الحج، وكتاب الذكر والدعاء، ورسالة كشف المقالة في التوبة، وغير ذلك.

ولأبي الحسن أحوال وكرامات مشهورة، ذكر له القاضي عياض بعضها، وكان مجاب الدعوة، يعرف بذلك.

قال أَبُوعمرو المقرئ: توفي أَبُوالحسن بالقيروان سنة ثلاث وأربعماية، ودفن بباب تونس، وقد بلغ الثمانين أو نحوها بيسير.

قال الذهبي: توفي في ربيع الآخر سنة 403.
তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ:

আবুল হাসান থেকে একদল আলেম বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: কিরাত ও হাদীস শাস্ত্রে শাইখুল ইসলাম বড় হাফেজ আবু আমর আদ-দানী, আবু ইমরান আল-ফাসী, আবু আল-কাসিম আল-বীরী, আবু বকর আতীক আস-সূসী, আবু আল-কাসিম ইবনে আল-হাসসারী, ইবনে সামহান, ইবনে আবি তালিব আল-আবিদ, আবু আমর ইবনে আল-আত্তাব, ইবনে মুহরিজ, ইবনে সুফিয়ান, আবু মুহাম্মদ আল-লুবী, আবু হাফস আল-আত্তার, আবু আব্দুল্লাহ আল-খাওওয়াস, আবু আব্দুল্লাহ আল-মালিকী, মাক্কী আল-কাইসী এবং ইবনে আল-আজদাবী।

আমরা যাদের উল্লেখ করেছি তাঁরা ব্যতীত আন্দালুসীয়দের মধ্যে রয়েছেন মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা, তাঁর ভাই আবু আব্দুল্লাহ এবং হাতিম বিন মুহাম্মদ আত-তরাবুলসী; আর ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাফেজ আবু আমর আদ-দানী তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

 

তাঁর রচনাবলী:

আবুল হাসানের বহু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: মুলাখখাস আল-মুওয়াত্তা। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: আল-মুহাজজাব ফিল ফিকহ, আহকামুদ দিয়ানাহ, কিতাবুল মুনকিজ মিন শুবহাতিত তাউয়িল, কিতাবুল মুনাব্বিহ লিল ফাতান মিন গাউয়াইলিল ফিতান, আর-রিসালাতুল মুয়াযযামাহ লি-আহওয়ালিল মুত্তাকীন, আহকামুল মুতাআল্লিমীন ওয়াল মুআল্লিমীন, কিতাবুল ইতিকাদাত, কিতাবুল মানাসিকিল হাজ্জ, কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দুআ, রিসালাতু কাশফিল মাক্বালাহ ফিত তাওবাহ এবং আরও অন্যান্য।

আবুল হাসানের অনেক প্রসিদ্ধ অবস্থা ও কারামাত (অলৌকিক নিদর্শন) রয়েছে, যার কিছু অংশ কাজী আইয়ায উল্লেখ করেছেন। তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ (যাঁর দোয়া কবুল হয়) ছিলেন এবং তিনি এ নামেই পরিচিত ছিলেন।

আবু আমর আল-মুদরি বলেন: আবুল হাসান চারশত তিন হিজরীতে কাইরাওয়ানে ইন্তেকাল করেন এবং বাবে তিউনিসে তাঁকে দাফন করা হয়। তখন তাঁর বয়স আশি বা তার কাছাকাছি ছিল।

জাহাবী বলেন: তিনি ৪০৩ হিজরীর রবিউস সানী মাসে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أبو زيد المروزي راوي الصحيح عن الفربري (1):

هو الشيخ الامام المفتى القدوة الزاهد، شيخ الشافعية، أَبُوزيد محمد بن أحمد بن عبد الله بن محمد المروزي، راوي صحيح البخاري عن الفربري.

وسمع أيضا من أحمد بن محمد المنكدري، وأبي العباس محمد بن عبد الرحمن الدغولي، وعمر بن علك، ومحمد بن عبد الله السعدي، وطائفة.

وأكثر الترحال، وروى الصحيح في أماكن.

سُمِعَ أَبُوزيد يقول: ولدت سنة إحدى وثلاث مئة (301هـ)

وسئل أَبُوزيد: متى لقيتَ الفربري؟ فقال: سنة ثماني عشرة وثلاثمائة (318هـ وله من العمر 17 سنة).

حدث عنه بالصحيح وغيره أمم، منهم: الحاكم، وأبو عبد الرحمن السلمي، وأبو الحسن الدارقطني وهو من طبقته، وعبد الوهاب الميداني، والهيثم بن أحمد الدمشقي الصباغ، وأبو الحسن بن السمسار، وأبو بكر البرقاني، ومحمد بن أحمد المحاملي، والاصيلي والقابسي، وغيرهم.

قال الحاكم: كان أحد أئمة المسلمين، ومن أحفظ الناس للمذهب، وأحسنهم نظرًا، وأزهدهم في الدنيا، سمعت أبا بكر البزاز يقول: عادلت الفقيه أبا زيد من نيسابور إلى مكة، فما أعلم أنَّ الملائكة كتبت عليه خطيئة.

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته:

تاريخ بغداد 1/ 314، السير 16/ 313، العبر 2/ 360، طبقات السبكي 3/ 71، شذرات الذهب 3/ 76، والترجمة من السير بتصرف يسير.
আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী, ফির্যাবরী থেকে সহীহ-এর বর্ণনাকারী (১):

তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, মুফতী, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, যাহিদ (সংসারবিরাগী), শাফেয়ী মাযহাবের শায়খ, আবু যায়েদ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী, ফির্যাবরী থেকে সহীহ বুখারীর বর্ণনাকারী।

তিনি আরও ইলম অর্জন করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মানকাদারি, আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাগুলি, উমর ইবনে আলাক, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাদী এবং এক দল মুহাদ্দিস থেকে।

তিনি প্রচুর সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন।

আবু যায়েদকে বলতে শোনা গেছে: আমি তিনশত এক হিজরী (৩০১ হি.) সালে জন্মগ্রহণ করেছি।

আবু যায়েদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কখন ফির্যাবরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বললেন: তিনশত আঠারো হিজরী (৩১৮ হি.) সালে (তখন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর)।

তাঁর থেকে সহীহ বুখারী ও অন্যান্য কিতাব অসংখ্য মানুষ বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-হাকিম, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী—যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন—আব্দুল ওয়াহহাব আল-মাইদানী, হাইসাম ইবনে আহমাদ আদ-দিমাশকী আস-সাব্বাগ, আবুল হাসান ইবনে আস-সামসার, আবু বকর আল-বারকানী, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-মাহামিলী, আল-আসীলী, আল-কাবিসী এবং অন্যান্যরা।

আল-হাকিম বলেন: তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম ছিলেন, মাযহাবের মাসায়েল বর্ণনায় মানুষের মধ্যে অন্যতম হাফেয (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন), তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন এবং দুনিয়ার প্রতি সর্বাধিক বিরাগী ছিলেন। আমি আবু বকর আল-বায্যাযকে বলতে শুনেছি: আমি ফকীহ আবু যায়েদের সাথে নিশাপুর থেকে মক্কা পর্যন্ত সফরসঙ্গী ছিলাম, আমার জানা মতে ফেরেশতারা তাঁর আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখেননি।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ:

তারীখে বাগদাদ ১/৩১৪, আস-সিয়ার ১৬/৩১৩, আল-ইবার ২/৩৬০, তাবাকাতুস সুবকী ৩/৭১, শাযারাতুয যাহাব ৩/৭৬ এবং জীবনীটি সামান্য পরিমার্জনসহ আস-সিয়ার থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال الخطيب: حدث أَبُوزيد ببغداد، ثم جاور بمكة، وحدث هناك بالصحيح، وهو أجل من رواه.

قلت: جاور بمكة سبعة أعوام.

 

‌‌وأبو زيد صاحب الرؤية المشهورة:

سُمع أَبُوزيد يقول: كنت نائما بين الركن والمقام، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا أبا زيد إلى متى تدرس كتاب الشافعي ولا تدرس كتابي؟ فقلت: يا رسول الله وما كتابك؟ قال: جامع محمد بن إسماعيل، يعني البخاري.

وكان فقيرًا يقاسي البرد ويتكتم ويقنع باليسير.

أقبلت عليه الدنيا في آخر أيامه، فسقطت أسنانه، فكان لا يتمكن من المضغ، فقال: لا بارك الله في نعمة أقبلت حيث لا ناب ولا نصاب، وعمل في ذلك أبياتًا.

توفي بمرو في رجب سنة إحدى وسبعين وثلاث مئة (371 وله من العمر سبعون سنة).
আল-খাতীব বলেন: আবু যাইদ বাগদাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি মক্কায় অবস্থান করেছেন এবং সেখানে 'সহীহ' বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি মক্কায় সাত বছর অবস্থান করেছিলেন।

 

‌‌আর আবু যাইদ হলেন সেই বিখ্যাত স্বপ্নের অধিকারী:

আবু যাইদকে বলতে শোনা গেছে: আমি রুকন ও মাকামের মাঝে ঘুমিয়ে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি বললেন: হে আবু যাইদ! আর কতকাল তুমি শাফেয়ীর কিতাব অধ্যয়ন করবে আর আমার কিতাব অধ্যয়ন করবে না? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কিতাব কোনটি? তিনি বললেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের 'জামে', অর্থাৎ বুখারী।

তিনি দরিদ্র ছিলেন, শীতের কষ্ট সহ্য করতেন এবং তা গোপন রাখতেন আর অল্পেই তুষ্ট থাকতেন।

তাঁর জীবনের শেষ সময়ে দুনিয়া তাঁর কাছে ধরা দিয়েছিল, কিন্তু তখন তাঁর দাঁত পড়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি চিবিয়ে খেতে পারতেন না। তখন তিনি বলেছিলেন: আল্লাহ সেই নিআমতে বরকত না দিন যা এমন সময় এল যখন না আছে দাঁত, না আছে ভোগ করার সামর্থ্য; এবং এই বিষয়ে তিনি কিছু পঙক্তি রচনা করেছিলেন।

তিনি ৩৭১ হিজরীর রজব মাসে মার্ভে ইন্তেকাল করেন (৩৭১ হিজরী এবং তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছর)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুন নাসিহ ফী তাহযীবিল কিতাবিল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌(رُواة صحيح البخاري)

قصد الناس الإمامَ البُخاريَ لسماع الصحيح منه من كل حدب وصوب، وكان البخاري يحدث به أينما حل، فروى الفقيه إبراهيم بن أحمد البلخي قال: سمعت أحمد بن عبد الله الصفار البلخي يقول: سمعت أبا إسحاق إبراهيم بن أحمد المستملى يروي عن محمد بن يوسف الفربري أنه كان يقول: سمع كتاب الصحيح لمحمد بن إسماعيل تسعون ألف رجل فما بقي أحد يرويه عنه غيري (1).

ومع أن هذه الرواية حكاية حال من الفربري، وفيها ما فيها، إلا أن البخاري كان ولا شك وجهة الناس، وقصد الراحلين من أجل السماع، فقد كان صحيحه بلغت شهرته الأفاق، وتنافس العامة والخاصة في سماعه.

وفي رواة صحيح البخاري كتب وبحوث، وسأشير في هذا المبحث إلى أشهر الروايات عنه، التي لها ذكر وإسناد في كتب الروايات.

 

‌‌ويتعلق بالرواة عن البخاري مسألة مهمة:

ألا وهي: متى سُمِعَ الكتاب على البخاري، ومتى كان السماع الأخير عليه؟ وهل حدث بالكتاب بعد الفتنة التي تعرض لها، والتعصب الذي أوذي بسببه؟.

وسنبحث هذه المسألة عند ذكر رواية الفربري، لأن هذه المسألة أكثر مماسة لرواية الفربري من غيره، إذ أن على الفربري مدار الأسانيد، وعلى روايته اعتماد العلماء قديما وحديثًا.

--------------------------------------------

(1) القصة في تاريخ بغداد 2/ 12.
(সহিহ বুখারির বর্ণনাকারীগণ)

মানুষ প্রতিটি প্রান্ত থেকে সহিহ শোনার উদ্দেশ্যে ইমাম বুখারির অভিমুখী হতেন এবং বুখারি যেখানেই অবস্থান করতেন সেখানেই এটি বর্ণনা করতেন। ফকিহ ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-বালখি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আল-বালখিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-মুস্তামলিকে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাবরি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলতেন: নব্বই হাজার লোক মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের নিকট থেকে সহিহ কিতাবটি শ্রবণ করেছেন, কিন্তু আমি ব্যতীত এটি বর্ণনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট নেই (১)।

যদিও এই বর্ণনাটি আল-ফারাবরির ব্যক্তিগত অবস্থার একটি বিবরণ এবং এতে কিছু পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, তবুও ইমাম বুখারি যে নিঃসন্দেহে মানুষের গন্তব্য এবং হাদিস শ্রবণের জন্য ভ্রমণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর সহিহ কিতাবটি দিগন্তজোড়া খ্যাতি লাভ করেছিল এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট উভয় শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ এটি শোনার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন।

সহিহ বুখারির বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বহু কিতাব ও গবেষণা রয়েছে এবং আমি এই পরিচ্ছেদে তাঁর থেকে বর্ণিত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েতগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব, বর্ণনার কিতাবসমূহে যেগুলোর উল্লেখ ও সনদ বিদ্যমান রয়েছে।

 

ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনাকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

আর তা হলো: ইমাম বুখারির নিকট থেকে কিতাবটি কখন শ্রবণ করা হয়েছে এবং তাঁর নিকট সর্বশেষ শ্রবণের সময় কোনটি ছিল? আর তাঁর প্রতি যে ফিতনা ও গোঁড়ামির মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তারপর কি তিনি কিতাবটি বর্ণনা করেছিলেন?

আমরা আল-ফারাবরির বর্ণনার আলোচনার সময় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, কারণ এই বিষয়টি অন্যদের তুলনায় আল-ফারাবরির বর্ণনার সাথে বেশি সংশ্লিষ্ট। কেননা আল-ফারাবরির ওপরই সনদগুলোর আবর্তন এবং প্রাচীন ও বর্তমান কালের উলামায়ে কেরাম তাঁর বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ঘটনাটি তারিখু বাগদাদ ২/১২-তে বর্ণিত হয়েছে।