(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: -)
صلاح البيوت   (محمد علي محمد إمام)

القسم: كتب عامة


الكتاب: صلاح البيوت في جهد الرسول - صلى الله عليه وسلم

المؤلف: محمد علي محمد إمام

الناشر: مطبعة السلام - ميت غمر، مصر

الطبعة: الأولى، 2009 م

عدد الصفحات: 451

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 محرم 1433

পরিবার সংশোধন   (মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


বই: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রচেষ্টায় পরিবার সংশোধন

লেখক: মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম

প্রকাশক: আস-সালাম প্রেস - মিত গামর، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২)
دار الكتب والوثائق القومية

بطاقة فهرسة

فهرسة أثناء النشر إعداد الهيئة العامة لدار الكتب المصرية

إدارة الشئون الفنية

إمام / محمد على محمد

صلاح البيوت فى جهد الرسول

إعداد / محمد على محمد إمام - ميت غمر

الطبعة الأولى 2009

عدد الصفحات (451)

المقاس (18 × 21 سم)

1) الأسرة فى الإسلام

أ- العنوان - 1/ 219

رقم الإيداع

(15748)

تاريخ الإيداع

6/ 8 / 2009

حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস

ক্যাটালগ কার্ড

মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের সাধারণ সংস্থা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রকাশনাকালীন সূচিকরণ

কারিগরি বিষয়ক বিভাগ

ইমাম / মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ

সালাহুল বুয়ুত ফি জুহদির রাসূল

প্রস্তুতকরণ / মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম - মিত গামর

প্রথম সংস্করণ ২০০৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৫১)

পরিমাপ (১৮ × ২১ সেমি)

১) ইসলামে পরিবার

ক- শিরোনাম - ১/ ২১৯

জমাদান নম্বর

(১৫৭৪৮)

জমাদানের তারিখ

৬/ ৮ / ২০০৯

সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌إهداء

الحمد لله حق حمده والصلاة والسلام علي من لا نبي بعده، وبعد: أهدي كتابي هذا إلي كل (أم .. وأخت .. وبنت) مؤمنة تريد أن تحيا الحياة الطيبة التي وعد الله عز وجل في كتابه فقال: {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مّن ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىَ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنّهُ حَيَاةً طَيّبَةً وَلَنَجْزِيَنّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} (1)

أهدي كتابي إلي كل مؤمنة تحب الله ورسوله وتريد أن تهتدي بهديهما وتسير علي نهجهما لتنال شرف الدنيا وكرامة الآخرة. أهدي كتابي هذا إلي كل مؤمنة تُحب أن تحشر مع أمهات المؤمنين ونساء الصحابة رضي الله عنهم أجمعين .. وقد ذكرت لكِ من أخبارهن وصلاحهن ما يأخذ بقلبك وروحك إلي الاقتداء بهن والسير علي نهجهن .. فذكر الصالحين والصالحات يُزيد الإيمان، ويرفع الهمم، وحادي يحدو القلوب إلي حب الرب المعبود، وحادي يحدو الأرواح إلي بلاد الأفراح. ولقد منَّ الله عز وجل عليَّ وجمعت لكِ هذا الكتاب الطيب المبارك، المملوء بصفات، وأفعال، وأحوال النساء الأُول: نساء القرن، الذي مدحه النبي صلى الله عليه وسلم وبين خيريته، فقال: " خير أمتي قرني ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم،

--------------------------------------------

(1) سورة النحل - الآية 97.
উৎসর্গ

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি প্রকৃত প্রশংসার দাবিদার। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর: আমি আমার এই বইটি এমন প্রত্যেক মুমিনা (মা... বোন... এবং কন্যা)-এর জন্য উৎসর্গ করছি, যারা সেই পবিত্র জীবন যাপন করতে চায় যার প্রতিশ্রুতি মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে দিয়ে বলেছেন: {যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান প্রদান করব।} (১)

আমি আমার বইটি উৎসর্গ করছি এমন প্রত্যেক মুমিনার প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে এবং তাঁদের হিদায়াত অনুযায়ী চলতে ও তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, যাতে সে দুনিয়ার সম্মান ও আখেরাতের মর্যাদা লাভ করতে পারে। আমি আমার এই বইটি এমন প্রত্যেক মুমিনার জন্য উৎসর্গ করছি, যে উম্মাহাতুল মুমিনিন এবং নারী সাহাবিদের (রাজিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) সাথে হাশর হতে পছন্দ করে। আমি আপনার জন্য তাঁদের জীবনসংবাদ ও নেক আমলের এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছি যা আপনার অন্তর ও আত্মাকে তাঁদের অনুসরণ ও তাঁদের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে। কেননা নেককারদের আলোচনা ঈমান বৃদ্ধি করে, সংকল্পকে সুদৃঢ় করে এবং এটি এমন এক চালিকাশক্তি যা অন্তরসমূহকে মাবুদ রবের ভালোবাসার দিকে ধাবিত করে এবং আত্মাসমূহকে জান্নাতের সুখের জনপদের দিকে নিয়ে যায়। মহান আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি আপনার জন্য এই উত্তম ও বরকতময় বইটি সংকলন করতে পেরেছি, যা প্রথম যুগের নারীদের গুণাবলি, কার্যাবলি ও জীবনযাত্রার বিবরণে সমৃদ্ধ; অর্থাৎ সেই প্রজন্মের নারীগণ, যাঁদের প্রশংসা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন এবং যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে..."

--------------------------------------------

(১) সুরা আন-নাহল - আয়াত ৯৭।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৪)
الخ الحديث " متفق عليه (1).فكما أن رجال هذه القرون خير رجال فكذلك نساءهم كن خير النساء .. وهم نساء النبي صلى الله عليه وسلم ونساء الصحابة رضي الله عنهم والتابعين وهن النسخة الأصلية التي وجب عليكن يا نساء القرن الحادي والعشرين أن تصححن حياتكن على حياتهن .. فقد رضي الله عن حياتهن، ومن تبعهن بإحسان فقال: {وَالسّابِقُونَ الأوّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأنْصَارِ وَالّذِينَ اتّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدّ لَهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فيها أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (2) وفى قوله " اتّبَعُوهُم " دليل رضي الله عز وجل وجوب الأتباع لهن .... وإلا، لا يرضى الله عز وجل عن حياة إلا الحياة المماثلة لحياتهن، ولهذا بدأ لله عز وجل في كثير من الأحكام بذكرهن أولا لأنهن قدوة لمن أتى بعدهن فقال: {يا نِسَآءَ النّبِيّ لَسْتُنّ كَأَحَدٍ مّنَ النّسَآءِ إِنِ اتّقَيْتُنّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلاً مّعْرُوفاً} (3)

--------------------------------------------

(1) مشكاة المصابيح - كتاب مناقب الصحابة 1/ 1695.

(2) سورة التوبة - الآية 100.

(3) سورة الأحزاب - الآية 32.
...ইত্যাদি হাদিস "ঐক্যমতে প্রমাণিত (متفق عليه)" (১)। যেমন এই যুগের পুরুষগণ ছিলেন শ্রেষ্ঠ পুরুষ, তেমনি তাদের নারীরাও ছিলেন শ্রেষ্ঠ নারী। তাঁরা হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্নীগণ এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও তাবিঈগণের মহীয়সী নারীগণ। তাঁরাই হলেন সেই মূল আদর্শ নমুনা, যাঁর ভিত্তিতে হে একবিংশ শতাব্দীর নারীরা! তোমাদের নিজেদের জীবনকে সংশোধন করে নেওয়া আবশ্যক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদের জীবনধারার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের প্রতিও। তিনি ইরশাদ করেছেন: “আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।” (২) আর তাঁর বাণী “তাঁদের অনুসরণ করেছে”-এর মধ্যে তাঁদের অনুসরণ করার আবশ্যকতা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রমাণ নিহিত রয়েছে। অন্যথায়, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁদের জীবনের সদৃশ জীবন ব্যতীত অন্য কোনো জীবনধারার ওপর সন্তুষ্ট হবেন না। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা অনেক বিধানের ক্ষেত্রে প্রথমে তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ তাঁরা পরবর্তীগণের জন্য আদর্শ। তিনি ইরশাদ করেছেন: “হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমরা কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলো।” (৩)

--------------------------------------------

(১) মিশকাতুল মাসাবিহ - কিতাব মানাকিব আস-সাহাবাহ ১/ ১৬৯৫।

(২) সুরা আত-তাওবাহ - আয়াত ১০০।

(৩) সুরা আল-আহজাব - আয়াত ৩২।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৫)
وفى آية الحجاب قال تعالى: {يَأَيّهَا النّبِيّ قُل لأزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنّ مِن جَلَابِيبِهِنّ ذَلِكَ أَدْنَىَ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُوراً رّحِيماً} (1).

وعندما تقرأ في تاريخ الإسلام وتتصفح سير المؤمنات عبر القرون تجد عجيبٌ أمر هذه الأمَّة؛ كما أخرجت رجالاً لا يُعرف لهم مثيلٌ في تاريخ الأمم، أخرجت أيضًا النّساء الفُضْليَات القدوات التي لا تطاولهن نساء أمة من الأمم.

وقد كتبتُ في كتابي هذا لكثير من فضليات الأمة ما تيسر لي أن أذكره، وإلا فمنهم الكثيرات والكثيرات، مما لم يطلعني الله عليهن.

وقد سميت هذا الكتاب بصلاح البيوت في جهد الرسول صلى الله عليه وسلم .. وأعنى بجهد الرسول صلى الله عليه وسلم كل قول أو فعل قام به الرسول صلى الله عليه وسلم خلال ثلاثة وعشرين عاما إذا قامت به الأمة نساءً ورجالاً .. لأصبحت بيوتهم تحيا حياة السعادة والراحة والطمأنينة.

أخوكم

أبو على

محمد على محمد إمام

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب - الآية 59.
পর্দা সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (১)।

যখন আপনি ইসলামের ইতিহাস পাঠ করবেন এবং শতাব্দীকাল ধরে মুমিন নারীদের জীবনচরিত (سير) পর্যালোচনা করবেন, তখন আপনি এই উম্মাহর বিষয়টি বিস্ময়কর দেখতে পাবেন; যেভাবে এই উম্মাহ এমন পুরুষদের সৃষ্টি করেছে যাদের সমতুল্য অন্য কোনো জাতির ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনিভাবে এটি এমন শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ নারীগণকেও সৃষ্টি করেছে যাদের সমকক্ষ কোনো জাতির নারীরা হতে পারে না।

আমি আমার এই গ্রন্থে উম্মাহর অনেক মহীয়সী নারীর কথা বর্ণনা করেছি যা উল্লেখ করা আমার জন্য সহজ হয়েছে; নতুবা তাদের মধ্যে আরও অসংখ্য নারী রয়েছেন যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ আমাকে অবগত করেননি।

আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহনতে ঘরের সংশোধন’ নামে.. আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহনত বলতে আমি তেইশ বছর ব্যাপী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথা (قول) অথবা কাজ (فعل)-কে বুঝিয়েছি যা যদি এই উম্মাহর নারী ও পুরুষগণ পালন করে, তবে তাদের ঘরগুলো সুখ, স্বস্তি ও প্রশান্তিময় জীবনে পরিণত হবে।

আপনাদের ভাই

আবু আলী

মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব - আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مقصد خلق الإنسان

قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنّ وَالإِنسَ إِلاّ لِيَعْبُدُونِ} (1)

قال تعالى: {يا َأَيّهَا النّاسُ إِنّا خَلَقْنَاكُم مّن ذَكَرٍ وَأُنْثَىَ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوَاْ إِنّ أَكْرَمَكُمْ عَندَ اللهِ أَتْقَاكُمْ إِنّ اللهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (2)

- أول من آمن بالله ورسوله امرأة: وهي خديجة بنت خويلد رضي الله عنها وقد وردت الآثار بذلك:

فعن ابن بريدة عن أبيه رضي الله عنه قال: خديجة أول من أسلم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه الطبراني.

وعن قتادة بن دعامة رضي الله عنه قال: توفيت خديجة كل سنة وأنتم طيبون قبل الهجرة بثلاث سنين، وهي أول من آمن بالنبي صلى الله عليه وسلم من النساء والرجال. رواه الطبراني.

وقال ابن شهاب رضي الله عنه: كانت خديجة أول من آمن بالله وصدق رسوله، قبل أن تفرض الصلاة " المعجم الكبير للطبراني.

وقال أبو عمر بن عبد البر: اتفقوا علي أن خديجة رضي الله عنها أول من آمن.

--------------------------------------------

(1) سورة الداريات - الآية 56.

(2) سورة الحجرات - الآية 13.
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য

মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} (১)

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত} (২)

- আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তি ছিলেন একজন নারী: তিনি হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা (آثار) বর্ণিত হয়েছে:

ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: খাদিজা হলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হিজরতের তিন বছর পূর্বে খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল করেন, এবং তিনি নারী ও পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে শিহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সালাত ফরজ হওয়ার পূর্বেই খাদিজা সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেন এবং তাঁর রাসুলকে সত্য বলে স্বীকার করেন। "তাবারানির আল-মু'জাম আল-কাবির"।

আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেন: এ বিষয়ে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সর্বপ্রথম ঈমান এনেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যারিয়াত - আয়াত ৫৬।

(২) সূরা আল-হুজুরাত - আয়াত ১৩।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال أبو الحسن بن الأثير: خديجة أول خلق الله إسلاما بإجماع المسلمين، لم يتقدمها رجل ولا امرأة " في كتابه الكامل وأقره الحافظ الناقد أبو عبد الله الذهبي. (1)

 

- - - - -

--------------------------------------------

(1) سبل الهدى والرشاد في سيرة خير العباد ـ باب بعض فضائل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد.
আবুল হাসান ইবনুল আসির বলেছেন: "মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে খাদিজা সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কোনো পুরুষ বা নারী তাঁর অগ্রগামী হতে পারেননি"—এটি তিনি তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং হাফিজ (الحافظ) ও সমালোচক (الناقد) আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি একে সমর্থন করেছেন। (১)

 

- - - - -

--------------------------------------------

(১) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতি খাইরিল ইবাদ — উম্মুল মুমিনিন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-এর কিছু মর্যাদা সংক্রান্ত অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌آيات

وردت في الرجال والنساء

قال تعالى: {وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَداً حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هََذِهِ الشّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الْظّالِمِينَ} (1)

وقال تعالى: {وَمِن كُلّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلّكُمْ تَذَكّرُونَ} (2)

وقال تعالى: {وَأَنّهُ خَلَقَ الزّوْجَيْنِ الذّكَرَ وَالاُنثَىَ} (3)

وقال تعالى: {خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا} (4)

وقال تعالى: {يَأَيّهَا النّاسُ اتّقُواْ رَبّكُمُ الّذِي خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتّقُواْ اللهَ الّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (5)

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة - الآية 35.

(2) سورة الذاريات - الآية 56.

(3) سورة النجم - الآية 45.

(4) سورة الزمر - الآية 6.

(5) سورة النساء - الآية 1.
আয়াতসমূহ

যা পুরুষ ও নারী প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (১)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো} (২)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর নিশ্চয়ই তিনিই সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়—পুরুষ ও নারী} (৩)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন} (৪)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তা বন্ধন অটুট রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (৫)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা - আয়াত ৩৫।

(২) সূরা আয-যারিয়াত - আয়াত ৫৬।

(৩) সূরা আন-নাজম - আয়াত ৪৫।

(৪) সূরা আয-যুমার - আয়াত ৬।

(৫) সূরা আন-নিসা - আয়াত ১।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال تعالى: {هُوَ الّذِي خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَماّ تَغَشّاهَا حَمَلَتْ حَمْلاً خَفِيفاً فَمَرّتْ بِهِ فَلَمّا أَثْقَلَتْ دّعَوَا اللهَ رَبّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحاً لّنَكُونَنّ مِنَ الشّاكِرِينَ} (1)

وقال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لّتَسْكُنُوَاْ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مّوَدّةً وَرَحْمَةً إِنّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لّقَوْمٍ يَتَفَكّرُونَ} (2)

وقال تعالي: {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مّن ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىَ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنّهُ حَيَاةً طَيّبَةً وَلَنَجْزِيَنّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} (3)

وقال تعالى: {مَنْ عَمِلَ سَيّئَةً فَلَا يُجْزَىَ إِلاّ مِثْلَهَا وَمَنْ عَمِلَ صَالِحاً مّن ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىَ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُوْلََئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ} (4)

وقال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ} (5)

وقال تعالى: {فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبّهُمْ أَنّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مّنْكُمْ مّن ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىَ بَعْضُكُم مّن بَعْضٍ فَالّذِينَ هَاجَرُواْ وَأُخْرِجُواْ مِن

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف - الآية 189.

(2) سورة الروم - الآية 21.

(3) سورة النحل – الآية 97.

(4) سورة غافر – الآية 40.

(5) سورة التوبة – الآية 71.
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারে। অতঃপর যখন সে তাকে আবৃত করল, তখন সে এক হালকা গর্ভ ধারণ করল এবং তা নিয়ে চলাফেরা করতে লাগল। অতঃপর যখন সে গর্ভভারাক্রান্ত হলো, তখন তারা উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করল, ‘যদি আপনি আমাদেরকে এক নেক সন্তান দান করেন তবে আমরা অবশ্যই আপনার কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব’।} (১)

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে সেই কওমের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে যারা চিন্তা-গবেষণা করে।} (২)

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {মুমিন অবস্থায় পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যে কেউ নেক আমল করবে, আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদেরকে অবশ্যই তাদের কৃতকর্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান প্রদান করব।} (৩)

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল দেওয়া হবে; আর পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যারা মুমিন হয়ে নেক আমল করবে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে হিসাব ছাড়াই রিযিক প্রদান করা হবে।} (৪)

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু।} (৫)

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোনো আমলকারীর আমলই বৃথা যেতে দেব না, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী, তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ - আয়াত ১৮৯।

(২) সূরা আর-রুম - আয়াত ২১।

(৩) সূরা আন-নাহল – আয়াত ৯৭।

(৪) সূরা গাফির – আয়াত ৪০।

(৫) সূরা আত-তাওবাহ – আয়াত ৭১।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১০)
دِيَارِهِمْ وَأُوذُواْ فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُواْ وَقُتِلُواْ لاُكَفّرَنّ عَنْهُمْ سَيّئَاتِهِمْ وَلاُدْخِلَنّهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأنْهَارُ ثَوَاباً مّن عِندِ اللهِ وَاللهُ عِندَهُ حُسْنُ الثّوَابِ} (1)

وقال تعالى: {يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَىَ نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (2)

وقال تعالى: {إِنّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصّادِقِينَ وَالصّادِقَاتِ وَالصّابِرِينَ وَالصّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدّقِينَ وَالْمُتَصَدّقَاتِ والصّائِمِينَ والصّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذّاكِرِينَ اللهَ كَثِيراً وَالذّاكِرَاتِ أَعَدّ اللهُ لَهُم مّغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} (3)

وقال تعالى: {إِنّ الْمُصّدّقِينَ وَالْمُصّدّقَاتِ وَأَقْرَضُواْ اللهَ قَرْضاً حَسَناً يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ} (4)

- - - - -

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران – الآية 195.

(2) سورة الحديد – الآية 12.

(3) سورة الأحزاب – الآية 35.

(4) سورة الحديد – الآية 18.
{...তাদের স্বদেশ হতে বহিষ্কৃত হয়েছে এবং আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং তারা যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ মোচন করব এবং অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করব যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার এবং আল্লাহর নিকটই রয়েছে উত্তম পুরস্কার।} (১)

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবেন যে, তাদের নূর তাদের সামনে এবং তাদের ডান পার্শ্বে ধাবিত হচ্ছে। (বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ হলো জান্নাত, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটাই হলো মহাসাফল্য।} (২)

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও সিয়াম পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযতকারী পুরুষ ও হিফাযতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী—আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।} (৩)

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, তাদের জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।} (৪)

- - - - -

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান – আয়াত ১৯৫।

(২) সূরা আল-হাদিদ – আয়াত ১২।

(৩) সূরা আল-আহযাব – আয়াত ৩৫।

(৪) সূরা আল-হাদিদ – আয়াত ১৮।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المرأة والمساواة

الله عز وجل خلق الرجل والمرأة من نفس ٍواحدةٍ، قال تعالى: {يا َأَيّهَا النّاسُ اتّقُواْ رَبّكُمُ الّذِي خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتّقُواْ اللهَ الّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (1)

وقال تعالى: {خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَأَنزَلَ لَكُمْ مّنَ الأنْعَامِ ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمّهَاتِكُمْ خَلْقاً مّن بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ ذَلِكُمُ اللهُ رَبّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ لآ إِلََهَ إِلاّ هُوَ فَأَنّىَ تُصْرَفُونَ} (2)

--------------------------------------------

(1) سورة النساء - الآية 1.

(2) سورة الزمر - الآية 6.
নারী ও সমতা

মহান আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে এক সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা হতে তাঁর সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন; আর তাঁদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (১)

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি হতে, অতঃপর তিনি তা হতে তাঁর সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদের তোমাদের মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেন পর্যায়ক্রমে এক স্তরের পর অন্য স্তরে ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতএব তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?} (২)

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা - আয়াত ১।

(২) সূরা আয-যুমার - আয়াত ৬।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال تعالى: {هُوَ الّذِي خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَماّ تَغَشّاهَا حَمَلَتْ حَمْلاً خَفِيفاً فَمَرّتْ بِهِ فَلَمّآ أَثْقَلَتْ دّعَوَا اللهَ رَبّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحاً لّنَكُونَنّ مِنَ الشّاكِرِينَ} (1)

فالله عز وجل خلق آدم .. وأراد أن يؤنسه فأخذ ضلعا من جانبه الأيسر وخلق منه حواء .. والجانب الأيسر قريب من القلب لتكون قريبة من قلب آدم .. وكذلك من نفسه .. فالأصل واحد، ومن طينة واحدة، ومن جنب واحد، إذ الجنس إلي جنسه أكثر ميلاً .. وأنساً .. وقرباً.

فالسكون إلي الأزواج والأنس بهم مما ورثوه عن آبائهم، ولا يسكن الرجل إلي شيء كسكونه إلي زوجته المواتية، الموافقة له، قال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُمْ مّن تُرَابٍ ثُمّ إِذا أَنتُمْ بَشَرٌ تَنتَشِرُونَ * وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لّتَسْكُنُوَاْ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مّوَدّةً وَرَحْمَةً إِنّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لّقَوْمٍ يَتَفَكّرُونَ} (2)

فالمرأة: سكن .. ومودة .. ورحمة .. ولباس .. لزوجها، وزوجها لباس لها، قال تعالى: {هُنّ لِبَاسٌ لّكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لّهُنّ} (3)

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف - الآية 189.

(2) سورة الروم - الآيتان 20 - 21.

(3) سورة البقرة - الآية 187.
আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র প্রাণ (সত্তা) থেকে এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তাঁর নিকট প্রশান্তি লাভ করেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর সাথে সংগত হলেন, তখন তিনি এক লঘু গর্ভ ধারণ করলেন এবং তা নিয়ে চলাফেরা করতে লাগলেন। এরপর যখন গর্ভটি ভারী হলো, তখন তারা উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন, ‘যদি আপনি আমাদের এক নেক সন্তান দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই আপনার কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব’।" (১)

সুতরাং মহান আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন... এবং তাঁকে শান্ত্বনা প্রদানের ইচ্ছা করলেন। তাই তিনি তাঁর বাম পাজরের একটি হাড় নিলেন এবং তা থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন... আর বাম পাশ হৃদপিণ্ডের নিকটবর্তী যাতে তিনি আদমের হৃদয়ের নিকটবর্তী হতে পারেন... এবং একইভাবে তাঁর প্রাণেরও... সুতরাং মূল এক, এবং এক মাটি থেকে, এবং এক পাশ থেকেই, কেননা সমজাতীয় সত্তা তার স্বজাতীয়র প্রতি অধিকতর ঝোঁক, হৃদ্যতা এবং নৈকট্য অনুভব করে।

সুতরাং স্ত্রীদের নিকট প্রশান্তি লাভ এবং তাদের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখা এমন বিষয় যা তারা তাদের পিতৃপুরুষদের নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে। আর পুরুষ কোনো কিছুর নিকট তেমন প্রশান্তি পায় না যেমনটি সে তার অনুগত ও অনুকূল স্ত্রীর নিকট পেয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমরা মানুষ হয়ে ছড়িয়ে পড়লে। আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে হৃদ্যতা ও মমতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" (২)

সুতরাং নারী হলো: প্রশান্তি... হৃদ্যতা... মমতা... এবং তার স্বামীর জন্য পোশাক। আর স্বামীও তার জন্য পোশাক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।" (৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ - আয়াত ১৮৯।

(২) সূরা আর-রূম - আয়াত ২০ - ২১।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ - আয়াত ১৮৭।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال درهم صلى الله عليه وسلم: " إنما النساء شقائق الرجال " رواه أحمد والترمذي وحسنه.

دل هذا الحديث علي أن النساء نظائر الرجال وأمثالهم لأنهم شققن منهن .. حيث أن المرأة خلقت من الرجل.

وسوي الإسلام بين الرجل والمرأة، وليس مساواة النهار بالنهار والليل بالليل، ولكن مساواة الليل بالنهار في الأهمية، وفي عدم استغناء الحياة المثالية عنهما، كما أن اليوم الكامل لا يستغني عن النهار أو الليل 0

فالرجل والمرأة يشبهان الليل والنهار اللذان يؤلفان اليوم .. ومثل: التيار الموجب والسالب اللذين يؤلفان التيار الكهربائي الذي يبعث الحياة في كثير من الجمادات (1) 0

ويقول د/ نعمان أبو الليل: الرجل والمرأة مثل الليل والنهار {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى} (2) فلا تداخل ولا هضم حقوق، ولا تعالي نوع علي نوع بل الاثنان في تعاون وتناسق وتكامل.

والمرأة لها دور في الحياة تقوم به، والرجل له دور يقوم به ولا يستطيع كل منهما أن يقوم بدور الآخر0

--------------------------------------------

(1) كتاب تساؤلات حول الإسلام وتعليقات د سعيد إسماعيل صيني - الناشر رابطة العالم الإسلامي.

(2) سورة الليل الآيتان 1، 2.
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহিলারা পুরুষদের সহোদর সদৃশ।" এটি আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান (حسن) বলেছেন।

এই হাদিসটি এ কথার প্রমাণ দেয় যে, মহিলারা পুরুষদের সমকক্ষ ও অনুরূপ, কেননা তারা তাদেরই অংশবিশেষ... যেহেতু নারী পুরুষ থেকেই সৃজিত হয়েছে।

ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা বিধান করেছে; তবে এটি দিনের সাথে দিনের কিংবা রাতের সাথে রাতের সমতা নয়, বরং গুরুত্বের দিক থেকে দিনের সাথে রাতের সমতার মতো। একটি আদর্শ জীবন যেমন এই উভয়কে ছাড়া চলতে পারে না, তেমনি একটি পূর্ণাঙ্গ দিন দিন অথবা রাত ব্যতিরেকে সম্পন্ন হয় না।

সুতরাং নারী ও পুরুষ রাত এবং দিনের মতো, যারা মিলে একটি দিন গঠন করে। এটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক তড়িৎ প্রবাহের মতো, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে এবং অনেক জড়বস্তুর মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে (১)।

ড. নুমান আবু লাইল বলেন: নারী ও পুরুষ রাত এবং দিনের মতো— {শপথ রাতের যখন তা আচ্ছন্ন হয় * এবং শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয়} (২)। এখানে কোনো অনধিকার প্রবেশ নেই, অধিকার খর্ব করা নেই এবং এক লিঙ্গের ওপর অন্য লিঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; বরং উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতা, সুসমন্বয় এবং পরিপূরকতার ভিত্তিতে অবস্থান করে।

জীবনে নারীর একটি সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে যা সে পালন করে এবং পুরুষেরও একটি ভূমিকা রয়েছে যা সে পালন করে। তাদের কেউই অন্যের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম নয়।

--------------------------------------------

(১) কিতাব তাসাউলাত হাওলাল ইসলাম ওয়া তালি-কাত ড. সাঈদ ইসমাইল সিনি - প্রকাশক: রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামি।

(২) সূরা আল-লাইল, আয়াত ১, ২।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعندما تم التساوي بينهما في أمور معروفة (1) انهارت أخلاق الرجل والمرأة .. وكان نتاج ذلك خروج أجيال من الطرفين في غاية الانحلال والانحطاط البشري .. لأنه عندما تم التساوي في أمور التخصص، ضاعت حقوق الأسرة الرجل والمرأة والأولاد0

أسباب دخول الدين في حياة الرجل، هو نفس دخول الدين في حياة المرأة، والله كرم الرجل والمرأة، قال تعالي: (ولقد كرمنا بني آدم)

وقد مدحت النساء، فقال الثعالبي في استقبال مولود: أهلا وسهلا بعقيلة النساء .. وأم الأبناء .. وجالبة الأصهار .. والأولاد الأطهار.

ولو كان النساء كمثل هذى … لفضلت النساء علي الرجال

فما التأنيث لاسم الشمس عيب … ولا التذكير فخر للهلال

 

ـ والله يعرفك البركة في مطلعها، والسعيدة بموقعها.

ـ الدنيا مؤنثة: والناس يخدمونها، وذكورا يعمرونها.

ـ والأرض مؤنثة: وهي قوام الأبدان، وملاك الحيوان.

ـ والحياة مؤنثة: ولولاها لم تتصرف الأجسام، ولا تحرك الأنام.

--------------------------------------------

(1) ومن المساواة التي ينادون بها ولم يقبلها أي مسلم:

- أن تسوى في ولاية الزواج، بمعنى رفع ولاية الرجل عنها.

- أن تسوى في الطلاق، على معنى أنه يسحب الطلاق من الرجل ويوضع لدى القاضي.

- المساواة في الميراث.

- إسقاط حق الرجل في التفرد.

- المساواة في الشهادة.
এবং যখন পরিচিত কিছু বিষয়ে (১) উভয়ের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করা হলো, তখন পুরুষ ও নারীর নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটলো... আর এর ফলশ্রুতিতে উভয় পক্ষ থেকে এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব হলো যারা চরম চারিত্রিক স্খলন ও মানবিক অধঃপতনের শিকার... কারণ যখন বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে সমতা আনা হলো, তখন পরিবার, পুরুষ, নারী ও সন্তানদের অধিকার বিলুপ্ত হয়ে গেল।

পুরুষের জীবনে দ্বীন প্রবেশের কারণসমূহ ঠিক তেমনই যেমন নারীর জীবনে দ্বীন প্রবেশের কারণসমূহ। আর আল্লাহ পুরুষ ও নারী উভয়কে সম্মানিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি অবশ্যই বনী আদমকে সম্মানিত করেছি।"

এবং নারীদের প্রশংসা করা হয়েছে। আস-সাআলাবি এক নবজাতকের আগমনে বলেছিলেন: স্বাগতম ও সম্ভাষণ এক মহীয়সী নারী, পুত্রদের জননী, বৈবাহিক আত্মীয়তা আনয়নকারী এবং পবিত্র সন্তানদের জননীকে।

যদি নারীগণ এমন হতেন … তবে নিশ্চয়ই নারীদের পুরুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হতো।

সূর্যের নাম স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া কোনো ত্রুটি নয় … আর নতুন চাঁদের নাম পুংলিঙ্গ হওয়াও কোনো গর্বের বিষয় নয়।

 

ـ আল্লাহ আপনাকে এর প্রারম্ভে বরকত এবং এর অবস্থানে সৌভাগ্যের পরিচয় করিয়ে দেবেন।

ـ দুনিয়া শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ: এবং মানুষ তার সেবা করে, আর পুরুষরা একে আবাদ করে।

ـ পৃথিবী শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ: এটিই দেহের মূল ভিত্তি এবং প্রাণীকুলের আশ্রয়স্থল।

ـ জীবন শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ: এটি না থাকলে দেহসমূহ সচল হতো না এবং সৃষ্টিজগতও গতিশীল হতো না।

--------------------------------------------

(১) আর তারা এমন কিছু সমতার আহ্বান জানায় যা কোনো মুসলিম গ্রহণ করে না:

- বিবাহের অভিভাবকত্বে সমতা, যার অর্থ হলো নারীর ওপর থেকে পুরুষের অভিভাবকত্ব বিলোপ করা।

- তালাকের ক্ষেত্রে সমতা, যার অর্থ হলো পুরুষের নিকট থেকে তালাকের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বিচারকের ওপর ন্যস্ত করা।

- উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।

- পুরুষের একক কর্তৃত্বের অধিকার বাতিল করা।

- সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে সমতা।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৫)
ـ والجنة مؤنثة: وبها وعد المتقون، وفيها تنعم المرسلون.

ـ وخرج من بطون النساء (الأنبياء والمرسلون .. والصديقون .. والشهداء والصالحون .. والعباد والزهاد)

 

- - - - -
ـ জান্নাত শব্দগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ: এর মাধ্যমেই খোদাভীরুগণকে (المتقون) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং এতেই রাসূলগণ (المرسلون) নেয়ামত লাভ করবেন।

ـ আর নারীদের গর্ভ থেকেই আগমন করেছেন (নবীগণ (الأنبياء) ও রাসূলগণ (المرسلون) .. সত্যনিষ্ঠগণ (الصديقون) .. শহীদগণ (الشهداء) ও নেককারগণ (الصالحون) .. ইবাদতকারীগণ (العباد) ও সংসারবিরাগীগণ (الزهاد))

 

- - - - -
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌القوامة

قال تعالى: {الرّجَالُ قَوّامُونَ عَلَى النّسَآءِ بِمَا فَضّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلَىَ بَعْضٍ وَبِمَآ أَنْفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللهُ وَاللاّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنّ فَعِظُوهُنّ وَاهْجُرُوهُنّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُواْ عَلَيْهِنّ سَبِيلاً إِنّ اللهَ كَانَ عَلِيّاً كَبِيراً} (1)

وقال تعالى: {وَلِلرّجَالِ عَلَيْهِنّ دَرَجَةٌ وَاللهُ عَزِيزٌ حَكُيمٌ} (2)

قال تعالى: {وَلَيْسَ الذّكَرُ كَالاُنْثَىَ وَإِنّي سَمّيْتُهَا مَرْيَمَ وِإِنّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرّيّتَهَا مِنَ الشّيْطَانِ الرّجِيم ِ} (3)

أي ليسوا سواء في الجسم والعقل والتكوين، بل لكل منهم طبيعته التي تهيئه للقيام علي وظيفته.

والمرأة عاطفية: وهى في حاجة إلي هذه العاطفة، في تربية أولادها، وتضميد جراح زوجها إذا رجع إليها وشكي إليها عناء السعي والعمل، فيسمع منها كلمة تكون سبباً لراحته، كما كانت تفعل أمنا خديجة رضي الله عنها مع النبي صلي الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء - الآية 34.

(2) سورة البقرة - الآية 228.

(3) سورة آل عمران - الآية 36.
‌তত্ত্বাবধান

মহান আল্লাহ বলেন: {পুরুষগণ নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহর হেফাযতে তারা হেফাজতকারিনী। আর যাদের অবাধ্যতার তোমরা আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও, শয্যায় তাদের বর্জন করো এবং তাদের প্রহার করো। অতঃপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান।} (১)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা রয়েছে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (২)

মহান আল্লাহ বলেন: {আর পুত্রসন্তান কন্যাসন্তানের মতো নয়। আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।} (৩)

অর্থাৎ তারা দেহ, বুদ্ধি ও শারীরিক গঠনের দিক থেকে সমান নয়, বরং প্রত্যেকের রয়েছে ভিন্ন প্রকৃতি যা তাকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলে।

আর নারী আবেগপ্রবণ; সন্তানদের লালন-পালন এবং স্বামীর ক্ষত উপশমে তার এই আবেগের প্রয়োজন রয়েছে। স্বামী যখন তার নিকট ফিরে আসে এবং কর্মব্যস্ততা ও শ্রমের ক্লান্তির কথা বলে, তখন সে তার নিকট থেকে এমন কথা শুনতে পায় যা তার প্রশান্তির কারণ হয়; যেমনটি আমাদের মাতা খাদিজা (রাদিআল্লাহু আনহা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে করতেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা - আয়াত ৩৪।

(২) সূরা আল-বাকারাহ - আয়াত ২২৮।

(৩) সূরা আলে ইমরান - আয়াত ৩৬।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৭)
والرجل يغلب عقله عاطفته، وذلك ليحكم الأمور في البيت، وخارج البيت.

وعلي المرأة أن تفهم أن القوامة للرجل .. ومن قوامة الرجل للمرأة، أن يحافظ علي عرضها، وما لها، ودينها، وقد أشار الله إلى ذلك في كتابه قال تعالى: {يَأَيّهَا الّذِينَ آمَنُواْ قُوَاْ أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لاّ يَعْصُونَ اللهَ مَآ أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (1).

- يقول ابن كثير رحمه الله في قوله تعالي: {الرّجَالُ قَوّامُونَ عَلَى النّسَآءِ} (2) أي الرجل قيم علي المرأة، أي هو رئيسها وكبيرها والحاكم عليها، ومؤدبها إذا اعوجت0 (3)

- ويقول العلامة الشنقيطي:

أشار إلي أن الرجل أفضل من المرأة، وذلك لأن الذكورة شرف وكمال، والأنوثة نقص خلقي طبيعي، لأن الأنثى يجعل لها جميع الناس أروع الزينة والحلي، وذلك إنما هو لجبر النقص الخلقي الطبيعي، ولا عبرة بنوادر النساء لأن النادر لا حكم عليه0 (4)

--------------------------------------------

(1) سورة التحريم – الآية 6.

(2) سورة النساء – الآية 34.

(3) تفسير ابن كثير 1/ 491.

(4) أضواء البيان للشنقيطي 1/ 136
পুরুষের ক্ষেত্রে তার বুদ্ধি আবেগের ওপর প্রাধান্য লাভ করে, আর এটি এজন্য যে তিনি ঘরের ভেতরে এবং বাইরের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

আর নারীর এটা বোঝা উচিত যে কর্তৃত্ব (القوامة) পুরুষের জন্য... আর নারীর ওপর পুরুষের কর্তৃত্বের (القوامة) অন্যতম দাবি হলো, তিনি তার সম্ভ্রম, সম্পদ এবং দ্বীন রক্ষা করবেন। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাবের শক্তিশালী ফেরেশতারা, যারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তাই করে।" (১)।

- ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: "পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল (قوامون)" (২) এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ পুরুষ নারীর ওপর দায়িত্বশীল (قيم), অর্থাৎ তিনি তার প্রধান, অভিভাবক ও শাসক এবং তাকে সংশোধনকারী যদি সে বিপথগামী হয়। (৩)

- আল্লামা শানকীতি বলেন:

তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ পুরুষত্ব হলো মর্যাদা ও পূর্ণতা, আর নারীত্ব হলো একটি প্রাকৃতিক সৃষ্টিগত অপূর্ণতা। কেননা সকল মানুষ নারীর জন্য চমৎকার সাজসজ্জা ও অলংকারের ব্যবস্থা করে থাকে, আর এটি মূলত সৃষ্টিগত প্রাকৃতিক অভাব পূরণের জন্য। আর ব্যতিক্রমী নারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধর্তব্য নেই, কারণ বিরল (النادر) বিষয়ের ওপর কোনো বিধান কার্যকর হয় না। (৪)

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাহরীম – আয়াত ৬।

(২) সূরা আন-নিসা – আয়াত ৩৪।

(৩) তাফসিরে ইবনে কাসীর ১/ ৪৯১।

(৪) আদওয়াউল বায়ান লিল শানকীতি ১/ ১৩৬
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৮)
- أسباب القوامة:

1) كمال العقل والتمييز: قال الإمام القرطبي: إن الرجال لهم فضيلة في زيادة العقل والتدبير، فجعل لهم حق القيام عليهن لذلك 0

2) كمال الدين: لأن المرأة تحيض وتنفس، فلا تصلي ولا تصوم في هذه الفترة بخلاف الرجل0

3) بذل المال: مثل الصداق والنفقة، فهذا واجب علي الرجل دون المرأة .. ولذا قال الفقهاء: إذا امتنع الزوج عن النفقة علي المرأة، فلها الفسخ عن طريق القضاء0

والخلاصة:

أن القوامة للرجل، فإذا أنفقت عليه وعلي نفسها وأولادها، فإنه يكون من الإحسان كما قال الله تعالي: {وَآتُواْ النَّسَاء صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا * وَلَا تُؤْتُواْ السُّفَهَاء أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِيَاماً وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُواْ لَهُمْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا} (1) (2) 0

فإذا نزعت القوامة من الرجل، وأصبحت القوامة للمرأة، نزعت البركة من البيت، وكثرت المشاكل، لمخالفة سنن الله عز وجل 0

 

- - - - -

--------------------------------------------

(1) سورة النساء _ الآيتان 4، 5.

(2) انظر أحكام القرآن للجصاص 2/ 188 تفسير القرطبي2/ 169 أضواء البيان للشنقيطي 1/ 136 أحكام القرآن لابن العربي 1/ 531.
অভিভাবকত্বের কারণসমূহ:

১) আকল ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা: ইমাম কুরতুবী বলেন: নিশ্চয়ই বিবেক-বুদ্ধি ও ব্যবস্থাপনার আধিক্যের ক্ষেত্রে পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, ফলে সেই কারণে তাদের নারীদের উপর অভিভাবকত্ব (قوامة) প্রদানের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

২) দ্বীনের পূর্ণতা: কারণ নারী ঋতুস্রাব ও নিফাসগ্রস্ত হয়, ফলে সে এই সময়ে সালাত আদায় করে না এবং সিয়াম পালন করে না, যা পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

৩) সম্পদ ব্যয় করা: যেমন মোহরানা (صداق) ও ভরণপোষণ (نفقة), যা পুরুষের উপর আবশ্যক কিন্তু নারীর উপর নয়। এ কারণে ফকিহগণ (فقهاء) বলেছেন: যদি স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আদালতের মাধ্যমে তার বিবাহ বিচ্ছেদের (فسخ) অধিকার রয়েছে।

সারসংক্ষেপ:

অভিভাবকত্ব (قوامة) পুরুষের জন্য, তবে নারী যদি স্বামীর উপর, নিজের উপর এবং সন্তানদের উপর ব্যয় করে, তবে তা অনুগ্রহ (إحسان) হিসেবে গণ্য হবে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও। অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো। আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সেই সম্পদ অর্পণ করো না যা আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনযাত্রার অবলম্বন করেছেন। বরং তা থেকে তাদের আহার ও পরিধেয় প্রদান করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।} (১) (২)

যদি পুরুষের নিকট থেকে অভিভাবকত্ব (قوامة) ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তা নারীর হাতে চলে যায়, তবে ঘর থেকে বরকত (بركة) দূরীভূত হয় এবং সমস্যার আধিক্য ঘটে; যা মহান আল্লাহর সুন্নাহর (سنن) পরিপন্থী।

 

- - - - -

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা - আয়াত ৪, ৫।

(২) দেখুন আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/ ১৮৮; তাফসীরে কুরতুবী ২/ ১৬৯; আদওয়াউল বায়ান লিশ শানকিতী ১/ ১৩৬; আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবী ১/ ৫৩১।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌نماذج

من إيمان النساء بالغيب وتكذيب المشاهد

- زوجة عبد الله بن رواحه رضي الله عنها:

عن عكرمة رضي الله عنه قال: كان ابن رواحة رضي الله عنه مضجعا إلي جنب امرأته فقام إلي جارية له في ناحية الحجرة، فوقع عليها، وفزعت امرأته، فلم تجده في مضجعه، فقامت، وخرجت، فرأته علي جارية، فرجعت إلي البيت فأخذت الشفرة، ثم خرجت، وفرغ فقام، فلقيها تحمل الشفرة فقال: مهيم؟ فقالت: مهيم؟ لو أدركتك حيث رأيتك علي الجارية، فقال: ما رأيتني، وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقرأ أحدنا القرآن وهو جنب، قالت: فقرأ! فقال:

أتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم يتلو كتابه … كما لاح مشهور من الفجر ساطع

أتى بالهدى بعد العمى فقلوبنا … به موقنات أن ما قال واقع

يبيت يجافي جنبه عن فراشه … إذا استثقلت بالمشركين المضاجع
অদৃশ্যের (غيب) প্রতি নারীদের বিশ্বাস (إيمان) এবং প্রত্যক্ষ করা বিষয়কে অস্বীকার করার কিছু দৃষ্টান্ত

- আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী:

ইকরিমাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর স্ত্রীর পাশে শুয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর এক দাসীর নিকট কামরার এক কোণে গেলেন এবং তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তাঁর স্ত্রী সজাগ হয়ে গেলেন এবং বিছানায় তাঁকে না পেয়ে উঠে বাইরে বের হলেন। তিনি তাঁকে দাসীর সাথে দেখতে পেলেন। এরপর তিনি ঘরে ফিরে একটি বড় ছুরি নিলেন এবং পুনরায় বের হলেন। ইতিমধ্যে ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাজ শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন এবং স্ত্রীর মুখোমুখি হলেন। তিনি তাঁকে ছুরি হাতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন: "কী ব্যাপার?" স্ত্রী বললেন: "কী ব্যাপার মানে? আমি যদি আপনাকে সেখানে পেতাম যেখানে আমি আপনাকে দাসীর সাথে দেখেছি!" তিনি বললেন: "তুমি আমাকে দেখনি; আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাউকে অপবিত্র (جنب) অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।" স্ত্রী বললেন: "তবে পাঠ করুন!" তখন তিনি (কবিতার ছন্দে) বললেন:

আমাদের নিকট রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিতাব তিলাওয়াত (تلاوة) করতে করতে এসেছেন … যেমনটি সুবহে সাদেকের প্রদীপ্ত নূর সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়

তিনি অন্ধত্বের পর হিদায়াত (هدى) নিয়ে এসেছেন, ফলে আমাদের অন্তরসমূহ … তাঁর প্রতি সুনিশ্চিত বিশ্বাসী (موقنات) যে, তিনি যা বলেছেন তা বাস্তব সত্য

তিনি রাত কাটান বিছানা থেকে তাঁর পার্শ্বদেশকে আলাদা রেখে … যখন মুশরিকদের (مشركين) শয্যাসমূহ (নিদ্রার ভারে) গুরূভার হয়ে যায়
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২০)
فقالت: آمنت بالله وكذبت البصر … ثم غدا علي رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره، فضحك حتى رأيت نواجذه. رواه الدارقطني. (1)

 

- - - - -

--------------------------------------------

(1) حياة الصحابة (إيمان الصحابة بالغيب بإخبار النبي صلى الله عليه وسلم ـ تكذيب التجربات والمشاهدات 3/ 10.
তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং দৃষ্টিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি … অতঃপর তিনি পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। এতে তিনি এমনভাবে হাসলেন যে, আমি তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো দেখতে পেলাম।" এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন। (১)

 

- - - - -

--------------------------------------------

(১) হায়াতুস সাহাবা (নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরামের অদৃশ্যের প্রতি ঈমান — অভিজ্ঞতা ও চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণকে প্রত্যাখ্যান) ৩/১০।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌يقين المرأة المسلمة

- هاجر المصرية (زوجة الخليل إبراهيم .. وأم إسماعيل عليه السلام):

عن ابن عباس رضي الله عنه قال: جاء إبراهيم عليه السلام بأم إسماعيل وبابنها إسماعيل وهي ترضعه، حتى وضعهما عند البيت، عند دوحة فوق زمزم في أعلى المسجد، وليس بمكة يومئذ أحد، وليس بها ماء، فوضعها هناك، ووضع عندهما جرابا فيها تمر، وسقاء فيه ماء، ثم قفي إبراهيم منطلقا فتبعته أم إسماعيل فقالت: يا إبراهيم أين تذهب وتتركنا بهذا الوادي الذي ليس فيه أنيس ولا شيء؟ فقالت له ذلك مرارا، وجعل لا يلتفت إليها .. قالت له: الله أمرك بهذا؟ قال: نعم، قالت: إذا لا يضيعنا … ثم رجعت، .... الخ الحديث " رواه البخاري (1)

كم سنه صحبت هاجر إبراهيم عليه السلام حتى تتحصل علي هذا اليقين؟!!

أتدرين أختي المسلمة .. أين كانت تعيش هاجر كانت في بيئة كافرة حتى أخدمها جبار مصر لسارة عليها السلام .. وأنت كم صحبت والديك المسلمين؟، ثم انتقلت من صحبة والديك … إلى زوجك المسلم أيضاً .. فكم جاء عندك من اليقين.

وازني بين يقينك، ويقين هاجر عليها السلام .. تصوري، لو أنك مكانها .. على الحال التي كانت عليها حين تركها الخليل إبراهيم، كما وصف ابن عباس عليه السلام، وتركك زوجك وذهب في سبيل الله .. فكيف تفعلين وماذا تقولين؟ ..

--------------------------------------------

(1) رياض الصالحين ـ باب المنثورات والملح صـ633ـ.
মুসলিম নারীর সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين)

- হাজেরা আল-মিসরীয়াহ (খলীল ইবরাহীমের স্ত্রী এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালামের জননী):

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ইসমাঈলের জননী এবং তাঁর পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে আসলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁকে স্তন্যদান করছিলেন। অবশেষে তিনি তাঁদেরকে বাইতুল্লাহর নিকট, মাসজিদুল হারামের উঁচু অংশে যমযমের উপরে অবস্থিত একটি বিশাল গাছের নিচে রেখে দিলেন। তখন মক্কায় কোনো মানুষ ছিল না এবং সেখানে কোনো পানিও ছিল না। তিনি তাঁদেরকে সেখানে রেখে দিলেন এবং তাঁদের নিকট একটি চামড়ার থলেতে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পানি রেখে দিলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ফিরে চলতে শুরু করলেন, তখন ইসমাঈলের জননী তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন: হে ইবরাহীম! আপনি আমাদেরকে এমন এক উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছেন যেখানে কোনো জনমানুষ নেই এবং অন্য কিছুও নেই? তিনি তাঁকে বারবার এ কথা বললেন, কিন্তু তিনি (ইবরাহীম) তাঁর দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন না। তখন হাজেরা তাঁকে বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন হাজেরা বললেন: তবে তিনি আমাদেরকে ধ্বংস হতে দেবেন না … অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (১)

হাজেরা (আলাইহিস সালাম) কত বছর ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সাহচর্যে ছিলেন যে তিনি এই সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) অর্জন করেছিলেন?!!

হে মুসলিম বোন, আপনি কি জানেন হাজেরা কোথায় বসবাস করতেন? তিনি একটি কাফির পরিবেশে ছিলেন, যতক্ষণ না মিশরের এক স্বৈরাচারী শাসক তাঁকে সারাহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেবিকা হিসেবে প্রদান করেন। আর আপনি আপনার মুসলিম পিতা-মাতার সাহচর্যে কতকাল কাটিয়েছেন? অতঃপর আপনি পিতা-মাতার সাহচর্য থেকে আপনার মুসলিম স্বামীর সাহচর্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে আপনার মাঝে কতটুকু সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) অর্জিত হয়েছে?

আপনার সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) এবং হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-এর সুদৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) মাঝে তুলনা করুন। কল্পনা করুন, আপনি যদি তাঁর স্থানে হতেন—যে অবস্থায় খলীল ইবরাহীম তাঁকে রেখে গিয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন—এবং আপনার স্বামী যদি আপনাকে আল্লাহর পথে রেখে চলে যেতেন, তবে আপনি কী করতেন এবং কী বলতেন? ..

--------------------------------------------

(১) রিয়াদুস সালিহীন - বিবিধ ও চিত্তাকর্ষক ঘটনাবলী অধ্যায়, পৃষ্ঠা-৬৩৩।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২২)
- يقين الصديقة مريم عليها السلام:

قال تعالى: {فَتَقَبّلَهَا رَبّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتاً حَسَناً وَكَفّلَهَا زَكَرِيّا كُلّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقاً قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنّىَ لَكِ هََذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللهِ إنّ اللهَ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} (1)

قال ابن جريج في قوله " وأنبتها نباتا حسنا " قال: نبتت في غذاء الله. (2)

وأجمع المفسرون مثل:" مجاهد .. ابن عباس .. ابن جريج، في قال تعالى: {وَجَدَ عِندَهَا رِزْقاً} أنه وجد عندها فاكهة الجنة. الفاكهة الغضة حين لا توجد الفاكهة عند أحد .. فاكهة الصيف في الشتاء، وفاكهة الشتاء في الصيف.

فقال زكريا عليه السلام: {أَنّىَ لَكِ هََذَا} يعني من أين لك هذا؟ ومن أتى لك بهذا في غير حينه؟ {قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللهِ إنّ اللهَ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} فالذي يقوم علي جهد الدعوة إلي الله عز وجل ويلزم بيوت الله عز وجل .. فالله عز وجل يرزقه اليقين الذي رزقه لمريم عليها السلام، التي تربت في بيت الله " بيت المقدس " فهكذا الله عز وجل يربي أولياءه وأحبابه رجالا ونساء.

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران – الآية 37.

(2) الدر المتثور في التفسير بالمأثور للسيوطي 2/ 185.
সিদ্দীকা মারইয়াম আলাইহাস সালামের ইয়াকীন (يقين):

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে উত্তমভাবে বর্ধিত করলেন। আর তিনি তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে দিলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবে তাঁর নিকট প্রবেশ করতেন, তখনই তাঁর কাছে রিযিক পেতেন। তিনি বললেন, হে মারইয়াম! তোমার কাছে এগুলো কোথা থেকে এলো? তিনি বললেন, এগুলো আল্লাহর নিকট থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।} (১)

ইবনে জুরাইজ "আর তাঁকে উত্তমভাবে বর্ধিত করলেন" এ বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: তিনি আল্লাহর দেওয়া রিযিকের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। (২)

মুজাহিদ, ইবনে আব্বাস ও ইবনে জুরাইজ-এর ন্যায় মুফাসসিরগণ (مفسرون) আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি তাঁর নিকট রিযিক দেখতে পেলেন}-এর বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর নিকট জান্নাতের ফলমূল দেখতে পেতেন। সতেজ ফলমূল যা তখন অন্য কারো কাছে পাওয়া যেত না... শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল।

অতঃপর যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বললেন: {তোমার কাছে এগুলো কোথা থেকে এলো?} অর্থাৎ, এগুলো তোমার কাছে কোত্থেকে এলো? আর অসময়ে এগুলো তোমার কাছে কে নিয়ে এল? {তিনি বললেন, এগুলো আল্লাহর নিকট থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।} সুতরাং, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে দাওয়াতের মেহনতে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহর ঘরসমূহকে আঁকড়ে ধরে... মহান আল্লাহ তাকে সেই ইয়াকীন (يقين) দান করেন যা তিনি মারইয়াম আলাইহাস সালামকে দান করেছিলেন, যিনি আল্লাহর ঘর "বাইতুল মুকাদ্দাস"-এ লালিত-পালিত হয়েছিলেন। এভাবেই আল্লাহ তাআলা তাঁর ওলীগণ (أولياء) ও প্রিয়জনদের—সে পুরুষ হোক বা নারী—লালন-পালন করে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান – আয়াত ৩৭।

(২) সুয়ূতী রচিত আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসীর বিল মাসুর ২/১৮৫।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৩)
- يقين أم موسي عليها السلام:

قال تعالي: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ * فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ * وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِّي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ * وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِن كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَن رَّبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ * وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ * وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ * فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} (1)

--------------------------------------------

(1) سورة القصص _ الآيات من 7: 13.
মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাতার দৃঢ় বিশ্বাস:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর আমি মুসার জননীকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তাকে স্তন্যদান করো। অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না। নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসুলদের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত করব। অতঃপর ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান ও তাদের বাহিনী ছিল অপরাধী। ফেরাউনের স্ত্রী বলল, 'সে আমার ও তোমার নয়নপ্রীতি; তাকে হত্যা করো না, হয়তো সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেব।' অথচ তারা (পরিণাম) বুঝতে পারছিল না। আর মুসার জননীর অন্তর ব্যাকুল হয়ে পড়ল। আমি যদি তার অন্তরকে সুদৃঢ় না করতাম যাতে সে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে সে তার পরিচয় প্রকাশ করেই দিত। আর তিনি (মুসার মা) তার বোনকে বললেন, 'তার পিছু নাও।' অতঃপর সে দূর থেকে তাকে প্রত্যক্ষ করল অথচ তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি। আর আমি পূর্ব থেকেই তার জন্য ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করেছিলাম। অতঃপর সে (মুসার বোন) বলল, 'আমি কি তোমাদের এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব যারা তোমাদের হয়ে তার লালন-পালনের ভার গ্রহণ করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?' অতঃপর আমি তাকে তার জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখিত না হয়, আর সে যেন জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তা জানে না।} (১)

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-কাসাস - আয়াত: ৭-১৩।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال ابن عبّاس وغيره دخل حديث بعضهم في بعض: إنّ الله تعالى لما قبض يوسف وهلك الملك الذي كان معه وتوارثت الفراعنة ملك مصر ونشر الله بني إسرائيل لم يزل بنو إسرائيل تحت يد الفراعنة وهم على بقايا من دينهم مما كان يوسف ويعقوب وإسحاق وإبراهيم شرعوا فيهم من الإسلام حتى كان فرعون موسى وكان أعتاهم علي الله وأعظمهم قولًا وأطولهم عمرًا واسمه فيما ذكر الوليد بن مصعب وكان سيء الملكة على بني إسرائيل يعذبهم ويجعلهم خولًا ويسومهم سوء العذاب.

فلما أراد الله أن يستنفذهم بلغ موسى الأشدّ وأعطي الرسالة وكان شأن فرعون قبل ولادة موسى أنه رأى في منامه كأن نارًا أقبلت من بيت المقدس حتى اشتملت علي بيوت مصر فأحرقت القبط وتركت بني إسرائيل، وأخربت بيوت مصر فدعا السحرة والكهنة فسألهم عن رؤياه فقالوا: يخرج من هذا البلد يعنون بيت المقدس الذي جاء بنو إسرائيل منه رجل وقيل: إنه لما تقارب زمان موسى أتى منجمو فرعون إليه فقالوا: اعلم أنّا نجد في علمنا أن مولودًا من بني إسرائيل قد أظلّك زمانه الذي يولد فيه يسلبك ملكك ويغلبك على سلطانك ويبدل دينك فأمر بقتل كلّ مولود يولد في بني إسرائيل.

أراد فرعون بحوله وقوته أن ينجو من موسى، فما نفعه ذلك مع قدرة الإله العظيم الذي لا يخالف أمره ولا يغلب، بل نفذ حكمه في القدم بأن يكون هلاك فرعون على يديه، بل يكون هذا الغلام الذي احترزت من وجوده وقتلت بسببه ألوفاً من الولدان، إنما منشؤه ومرباه على فراشك، وفي دارك، وغذاؤه من طعامك، وأنت تربيه وتدلله وتتفاداه وحتفك وهلاكك وهلاك جنودك على يديه، لتعلم أن رب السماوات العلا هو القاهرون فيها الغالب العظيم، القوي العزيز الشديد المحال الذي ما شاء كان وما لم يشأ لم يكن.
ইবনে আব্বাস ও অন্যরা বলেন—তাঁদের একজনের বর্ণনা বা হাদিস অন্যটির সাথে মিশ্রিত হয়ে গেছে—যখন মহান আল্লাহ ইউসুফকে (আ.) মৃত্যু দান করলেন এবং তাঁর সমসাময়িক রাজা ধ্বংস হলেন, ফেরাউনরা মিশরের রাজত্বের উত্তরাধিকারী হলো এবং আল্লাহ বনী ইসরাঈলদের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেন, তখন বনী ইসরাঈলরা ফেরাউনদের অধীনস্থ ছিল। তারা ইউসুফ, ইয়াকুব, ইসহাক এবং ইব্রাহিম (আলাইহিমুস সালাম) তাঁদের মাঝে ইসলামের যে বিধান প্রবর্তন করেছিলেন, সেই দ্বীনের অবশিষ্টাংশের ওপর অটল ছিল। অবশেষে মুসার (আ.) সময়ের ফেরাউনের যুগ এলো; সে ছিল আল্লাহর অবাধ্যতায় অত্যন্ত উদ্ধত, কথায় অত্যন্ত দাম্ভিক এবং দীর্ঘজীবী। বিভিন্ন বর্ণনায় তার নাম আল-ওয়ালিদ ইবন মুসআব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে বনী ইসরাঈলদের ওপর অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিল, সে তাদের ওপর নির্যাতন চালাত, তাদের দাসে পরিণত করেছিল এবং জঘন্য শাস্তি প্রদান করত।

অতঃপর যখন আল্লাহ তাদের উদ্ধার করতে চাইলেন, তখন মুসা (আ.) পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং তাঁকে নবুওয়াত (رسالة) প্রদান করা হলো। মুসার (আ.) জন্মের পূর্বে ফেরাউনের অবস্থা এমন ছিল যে, সে স্বপ্নে দেখল যেন বাইতুল মাকদিস থেকে একটি আগুন ধেয়ে এসে মিশরের ঘরবাড়ি গ্রাস করছে; সেই আগুন কিবতিদের পুড়িয়ে দিচ্ছে কিন্তু বনী ইসরাঈলদের অক্ষত রাখছে এবং মিশরের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিচ্ছে। তখন সে জাদুকর ও গণকদের ডেকে পাঠাল এবং নিজের স্বপ্নের কথা তাদের জিজ্ঞেস করল। তারা বলল: এই ভূখণ্ড অর্থাৎ বাইতুল মাকদিস থেকে—যেখান থেকে বনী ইসরাঈলরা এসেছে—একজন ব্যক্তির আবির্ভাব হবে। আরও বলা হয়েছে যে, যখন মুসার (আ.) আগমনের সময় ঘনিয়ে এলো, তখন ফেরাউনের জ্যোতিষীরা তার কাছে এসে বলল: জেনে রাখুন, আমরা আমাদের বিদ্যায় দেখতে পাচ্ছি যে, বনী ইসরাঈলদের মধ্যে এক নবজাতকের জন্মের সময় সমাগত, যে আপনার রাজত্ব কেড়ে নেবে, আপনার কর্তৃত্বের ওপর জয়লাভ করবে এবং আপনার দ্বীন (دين) পরিবর্তন করে দেবে। তখন সে বনী ইসরাঈলদের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি পুত্রসন্তানকে হত্যার নির্দেশ দিল।

ফেরাউন তার সামর্থ্য ও শক্তি দিয়ে মুসা (আ.) থেকে রক্ষা পেতে চেয়েছিল; কিন্তু মহান ইলাহের কুদরতের সামনে তা কোনো কাজে আসেনি, যাঁর আদেশ অলঙ্ঘনীয় এবং যাঁর ওপর বিজয়ী (غالب) হওয়া অসম্ভব। বরং অনাদি কাল থেকেই তাঁর এই ফয়সালা কার্যকর ছিল যে, ফেরাউনের ধ্বংস হবে তাঁরই হাতে। এমনকি যে বালকের অস্তিত্ব থেকে বাঁচতে তুমি সতর্কতা অবলম্বন করেছিলে এবং যার কারণে তুমি হাজার হাজার শিশুকে হত্যা করেছিলে, সেই বালকের জন্ম ও লালন-পালন হলো তোমারই শয্যায়, তোমারই ঘরে; সে তোমারই খাবার খেয়ে বড় হলো; তুমিই তাকে লালন করলে, স্নেহ করলে এবং রক্ষা করলে। অথচ তোমার মৃত্যু ও ধ্বংস এবং তোমার বাহিনীর বিনাশ নির্ধারিত ছিল তাঁরই হাতে। যেন তুমি জানতে পারো যে, সুউচ্চ আসমানসমূহের রব হচ্ছেন পরাক্রমশালী (قاهر), মহান বিজয়ী (غالب), মহাবলবান, মহাপরাক্রান্ত এবং কঠোর কৌশলধারী (شديد المحال); তিনি যা চান তা-ই হয় এবং যা চান না তা হয় না।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৫)
ذكروا أن فرعون لما أكثر من قتل ذكور بني إسرائيل، خافت القبط أن يفني بني إسرائيل فيلون هم ما كانوا يلونه من الأعمال الشاقة، فقالوا لفرعون: أنه يوشك إن استمر هذا الحال أن يموت شيوخهم، وغلمانهم يقتلون، ونساؤهم لا يمكن أن تقمن بما تقوم به رجالهم من الأعمال فيخلص إلينا ذلك، فأمر بقتل الولدان عاماً وتركهم عاماً، فولد هارون عليه السلام في السنة التي يتركون فيها الوالدان، وولد موسى في السنة التي يقتل فيها الولدان، وكان لفرعون موكلون بذلك وقوابل يدرن على النساء، فمن رأينها قد حملت أحصوا اسمها، فإذا كان وقت ولادتها لا يقبلها إلا نساء القبط، فإن ولدت المرأة جارية تركنها وذهبن، وإن ولدت غلاماً دخل أولئك الذباحون بأيديهم الشفار المرهفة فقتلوه ومضوا، قبحهم الله تعالى، فلما حملت أم موسى به عليه السلام لم يظهر عليها مخايل الحمل كغيرها ولم تفطن لها الدايات، ولكن لما وضعته ذكراً ضاقت به ذرعاً، وخافت عليه خوفاً شديداً وأحبته حباً زائداً، وكان موسى عليه السلام لا يراه أحد إلا أحبه، قال تعالى: {وألقيت عليك محبة مني} فلما ضاقت به ذرعاً ألهمت في سرها ونفث في روعها، كما قال تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ} وذلك أنه كانت دارها على حافة النيل، فاتخذت تابوتاً ومهدت فيه مهداً، وجعلت ترضع ولدها، فإذا دخل عليها أحد ممن تخافه ذهبت فوضعته في ذلك التابوت، وسيرته في البحر وربطته في بحبل عندها، فلما كان ذات يوم دخل عليها من تخافه، فذهبت فوضعته في ذلك التابوت، وأرسلته في البحر، وذهلت أن تربطه، فذهب مع الماء واحتمله حتى مر به على دار فرعون فالتقطه الجواري، فاحتملنه فذهبن به إلى امرأة فرعون ولا يدرين ما فيه، وخشين أن يفتتن فتحه دونها، فلما كشفت عنه إذا هو غلام من أحسن الخلق وأجمله

বর্ণিত আছে যে, ফেরাউন যখন বনী ইসরাঈলের পুত্র সন্তানদের হত্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিল, তখন কিবতিরা আশঙ্কা করল যে, এর ফলে বনী ইসরাঈল নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং তাদের সেই শ্রমসাধ্য কাজগুলো কিবতিদেরই করতে হবে যা বনী ইসরাঈল করত। তারা ফেরাউনকে বলল: ‘এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই তাদের বৃদ্ধরা মারা যাবে এবং কিশোররা তো হত্যা করা হচ্ছেই; আর তাদের নারীরা পুরুষদের মতো সেই শ্রমসাধ্য কাজগুলো সম্পাদন করতে সক্ষম হবে না, ফলে সেই কষ্টের দায় আমাদের ওপরই বর্তাবে।’ তখন সে এক বছর নবজাতক সন্তানদের হত্যা করার এবং এক বছর তাদের জীবিত ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিল। হারুন (আলাইহিস সালাম) সেই বছর জন্মগ্রহণ করেন যখন নবজাতকদের ছেড়ে দেওয়া হতো এবং মুসা (আলাইহিস সালাম) সেই বছর জন্মগ্রহণ করেন যখন নবজাতকদের হত্যা করা হতো। ফেরাউনের এ কাজে নিয়োজিত তদারককারী এবং ধাত্রীরা ছিল যারা নারীদের পর্যবেক্ষণ করত। যাকে তারা গর্ভবতী দেখত তার নাম তালিকাভুক্ত করে নিত। প্রসবকালে কেবল কিবতি নারীরাই ধাত্রী হিসেবে উপস্থিত হতে পারত। যদি সেই নারী কন্যা সন্তান প্রসব করত তবে তারা তাকে ছেড়ে চলে যেত, আর যদি পুত্র সন্তান প্রসব করত তবে সেই জল্লাদ বাহিনী ধারালো ছুরি নিয়ে প্রবেশ করত এবং তাকে হত্যা করে চলে যেত—আল্লাহ তাআলা তাদের লাঞ্ছিত করুন। মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জননী যখন তাকে গর্ভে ধারণ করলেন, তখন অন্য নারীদের মতো তার মাঝে গর্ভাবস্থার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি এবং ধাত্রীরাও তা টের পায়নি। কিন্তু যখন তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সংকটে পড়লেন এবং তার ব্যাপারে প্রচণ্ড ভীত হলেন, সেই সাথে তার প্রতি মমতা ও ভালোবাসা বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। মুসা (আলাইহিস সালাম) এমন ছিলেন যে, যে কেউ তাকে দেখত, সে-ই তাকে ভালোবেসে ফেলত। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আমি তোমার ওপর আমার পক্ষ থেকে মহব্বত ঢেলে দিয়েছিলাম।’ যখন তিনি অত্যন্ত সংকটে পড়লেন, তখন তার অন্তরে ইলহাম বা বিশেষ প্রেরণা প্রদান করা হলো, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আর আমি মুসার জননীর প্রতি ওহি পাঠালাম যে, তাকে স্তন্যদান করো। যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করো। তুমি ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না; নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে প্রেরিত রসূলগণের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত করব।’ ব্যাপারটি এমন ছিল যে, তার গৃহটি ছিল নীল নদের তীরে। তিনি একটি সিন্দুক প্রস্তুত করে তাতে বিছানা পেতে দিলেন এবং শিশুকে দুগ্ধদান করতে লাগলেন। যখনই তার কাছে আশঙ্কাজনক কেউ প্রবেশ করত, তিনি তাকে সেই সিন্দুকে রেখে দরিয়ায় ভাসিয়ে দিতেন এবং একটি দড়ি দিয়ে তা নিজের কাছে বেঁধে রাখতেন। একদিন যখন আশঙ্কাজনক কেউ প্রবেশ করল, তিনি তাকে সিন্দুকে রেখে দরিয়ায় ভাসিয়ে দিলেন কিন্তু উত্তেজনার বশে সেটি বাঁধতে বিস্মৃত হলেন। ফলে সিন্দুকটি পানির স্রোতে ভেসে চলল এবং ফেরাউনের প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দাসীরা তা কুড়িয়ে নিল। তারা এটি নিয়ে ফেরাউনের স্ত্রীর কাছে গেল অথচ তারা জানত না এর ভেতরে কী আছে; তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাকে ব্যতীত সিন্দুকটি উন্মোচন করলে কোনো বিপত্তি ঘটে কি না। যখন তিনি আবরণ উন্মোচন করলেন, দেখলেন সেটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশ্রী এক শিশু।

(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأحلاه وأبهاه، فأوقع الله محبته في قلبها حين نظرت إليه، وذلك لسعادتها وما أراد الله من كرامتها وشقاوة بعلها، ولهذا قال: {فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا} الآية، قال محمد بن إسحاق: اللام هنا لام العاقبة لا لام التعليل لأنهم لم يريدوا بالتقاطه ذلك، قال تعالى: {إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ}، وقوله تعالى: {وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِّي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} الآية، يعني أن فرعون لما رآه هم بقتله خوفاً من أن يكون من بني إسرائيل فشرعت امرأته آسية بنت مزاحم تخاصم عنه وتذب دونه وتحببه إلى فرعون، فقالت: {قُرَّتُ عَيْنٍ لِّي وَلَكَ}، فقال فرعون: أما لك فنعم، وأما لي فلا، فكان كذلك وهداها الله بسببه وأهلكه الله على يديه، وقوله: {عَسَى أَن يَنفَعَنَا} وقد حصل لها ذلك وهداها الله به وأسكنها الجنة بسببه، وقوله: {عَسَى أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا} أي أرادت أن تتخذه ولداً وتتبناه، وذلك أنه لم يكن لها ولد منه، وقوله تعالى: {وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} أي لا يدرون ما أراد الله منه بالتقاطهم إياه من الحكمة العظيمة البالغة والحجة القاطعة.

قول تعالى مخبراً عن فؤاد أم موسى حين ذهب ولدها في البحر أنه أصبح فارغاً، أي من كل شيء من أمور الدنيا إلا من موسى، قاله ابن عباس ومجاهد {وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِن كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَن رَّبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ}: أي إن كادت من شدة وجدها وحزنها
এবং তিনি ছিলেন মিষ্টতম ও উজ্জ্বলতম; ফলে আল্লাহ তার প্রতি ভালোবাসা তার (আছিয়ার) অন্তরে সঞ্চার করলেন যখন সে তার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এটি ছিল তার সৌভাগ্যের কারণে এবং আল্লাহ তার জন্য যে সম্মান এবং তার স্বামীর জন্য যে দুর্ভাগ্যের ইচ্ছা করেছিলেন তার ফলশ্রুতিতে। এ কারণেই তিনি বলেছেন: {অতঃপর ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়} (আয়াত)। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলেন: এখানে 'লাম' বর্ণটি হলো পরিণামবাচক, কারণবাচক নয়; কেননা তারা তাকে কুড়িয়ে নেওয়ার সময় এমনটি উদ্দেশ্য করেনি। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় ফেরাউন, হামান ও তাদের সেনাবাহিনী ছিল অপরাধী}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর ফেরাউনের স্ত্রী বলল, 'সে আমার ও তোমার নয়নপ্রীতিকর, একে হত্যা করো না; হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করব।' আর তারা উপলব্ধি করতে পারছিল না} (আয়াত)। অর্থাৎ ফেরাউন যখন তাকে দেখল, তখন সে বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যার সংকল্প করল। তখন তার স্ত্রী আছিয়া বিনতে মুযাহিম তার পক্ষ নিয়ে বিতর্ক শুরু করলেন এবং তাকে রক্ষা করতে লাগলেন এবং ফেরাউনের নিকট তাকে প্রিয় করে তোলার চেষ্টা করলেন। তিনি বললেন: {সে আমার ও তোমার নয়নপ্রীতিকর}। তখন ফেরাউন বলল: 'তোমার জন্য হতে পারে, কিন্তু আমার জন্য নয়।' বাস্তবে তা-ই হয়েছিল; আল্লাহ তার উসিলায় তাকে হেদায়েত দান করেন এবং তার মাধ্যমেই ফেরাউনকে ধ্বংস করেন। আর তাঁর বাণী: {হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে}—আর তা তার ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছিল; আল্লাহ এর মাধ্যমে তাকে হেদায়েত দিয়েছিলেন এবং এর উসিলায় তাকে জান্নাতবাসী করেছিলেন। আর তাঁর বাণী: {হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করব} অর্থাৎ তিনি তাকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে ও পালক নিতে চেয়েছিলেন, কারণ ফেরাউনের ঔরসে তার কোনো সন্তান ছিল না। মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা উপলব্ধি করতে পারছিল না} অর্থাৎ তারা জানত না যে, তাদের মাধ্যমে তাকে কুড়িয়ে নেওয়ার মাঝে আল্লাহর সুমহান প্রজ্ঞা এবং অকাট্য দলীল কী ছিল।

মহান আল্লাহ মূসার মায়ের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন তার সন্তান সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হলো, তখন তার অন্তর রিক্ত হয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ মূসা ছাড়া দুনিয়ার অন্য যাবতীয় বিষয় থেকে তার অন্তর খালি হয়ে গিয়েছিল—একথা ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ বলেছেন। {আর মূসার মায়ের অন্তর রিক্ত হয়ে পড়ল। যদি আমি তার অন্তরকে সুদৃঢ় না করে দিতাম, যাতে সে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে সে তো প্রায় তার পরিচয় প্রকাশ করে দিচ্ছিল}। অর্থাৎ, তার তীব্র ব্যাকুলতা ও দুঃখের কারণে সে প্রায়...
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৭)
لتظهر أنه ذهب لها ولد، وتخبر بحالها لولا أن الله ثبتها وصبرها، فأمرت ابنتها وكانت كبيرة تعي ما يقال لها فقالت لها: اتبعي أثره وخذي خبره، وتطلبي شأنه من نواحي البلد فخرجت لذلك {فَبَصُرَتْ بِهِ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} قال ابن عباس: عن جانب، وقال مجاهد: وقال مجاهد: بصرت به عن بعيد. وقال قتادة: جعلت تنظر إليه وكأنها لا تريده، وذلك أنه لما استقر موسى عليه السلام بدار فرعون، وأحبته امرأة الملك عرضوا عليه المراضع التي في دارهم، فلم يقبل ثدياً وأبى أن يقبل شيئاً من ذلك، فخرجوا به إلى السوق لعلهم يجدون امرأة تصلح لرضاعته، فلما رأته بأيديهم عرفته، ولم يظهر ذلك ولم يشعروا بها، قال تعالى: {وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ} أي تحريماً قدرياً وذلك لكرامته عند الله وصيانته له أن يرتضع غير ثدي أمه، ولأن الله سبحانه وتعالى جعل ذلك سبباً إلى رجوعه إلى أمه لترضعه وهي آمنة بعدما كانت خائفة فلما رأتهم حائرين فيمن يرضعه {فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ}؟ قال ابن عباس: فلما قالت ذلك أخذوها وشكوا في أمرها، وقالوا لها: وما يدريك بنصحهم له وشفقتهم عليه؟ فقالت لهم: نصحهم له وشفقتهم عليه رغبتهم في سرور الملك ورجاء منفعته فأرسلوها، فلما قالت لهم ذلك وخلصت من أذاهم ذهبوا معها إلى منزلهم، فدخلوا به على أمه، فأعطته ثديها، فالتقمه ففرحوا بذلك فرحاً شديداً وذهب البشير إلى امرأة الملك، فاستدعت أم موسى، وأحسنت إليها وأعطتها عطاء جزيلاً وهي لا تعرف أنها أمه في الحقيقة ولكن لكونه وافق ثديها، ثم سألتها آسية أن تقيم عندها فترضعه فأبت عليها وقالت: إن لي بعلاً وأولاداً ولا أقدر على المقام عندك، ولكن إن أحببت أن أرضعه في بيتي فعلت، فأجابتها امرأة فرعون إلى ذلك وأجرت عليها النفقة والصلات والإحسان الجزيل،
যাতে এটি প্রকাশিত হয় যে তাঁর সন্তান হারিয়ে গেছে এবং তিনি নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে দিতেন যদি না আল্লাহ তাঁকে অবিচল রাখতেন ও ধৈর্য দান করতেন। তিনি তাঁর কন্যাকে আদেশ করলেন—যে বয়সে বড় ছিল এবং তাকে যা বলা হতো তা বুঝতে পারত—অতঃপর তিনি তাকে বললেন: 'তুমি তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করো, তাঁর সংবাদ নাও এবং শহরের আনাচে-কানাচে তাঁর অবস্থা অনুসন্ধান করো।' সে এই উদ্দেশ্যে বের হলো, {অতঃপর সে তাঁকে দূর থেকে দেখতে পেল অথচ তারা তা অনুভব করতে পারেনি}। ইবনে আব্বাস বলেন: 'এক পাশ থেকে।' মুজাহিদ বলেন: 'তিনি তাঁকে দূর থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন।' কাতাদাহ বলেন: 'সে তাঁর দিকে এমনভাবে তাকাতে লাগল যেন তাঁর প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই।' আর তা এ কারণে যে, যখন মুসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের প্রাসাদে থিতু হলেন এবং রাজমহিষী তাঁকে ভালোবেসে ফেললেন, তখন তাঁরা তাঁদের প্রাসাদের ধাত্রীদের তাঁর সামনে উপস্থিত করল; কিন্তু তিনি কারো স্তন্য গ্রহণ করলেন না এবং তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে তাঁরা তাঁকে নিয়ে বাজারে বের হলো এই আশায় যে, হয়তো তাঁরা এমন কোনো মহিলা পাবে যিনি তাঁকে দুধ পান করানোর উপযুক্ত হবেন। যখন সে (মুসার বোন) তাঁকে তাঁদের হাতে দেখল, সে তাঁকে চিনে ফেলল; কিন্তু সে তা প্রকাশ করল না এবং তাঁরাও তা বুঝতে পারল না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি পূর্ব থেকেই তাঁর জন্য ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম} অর্থাৎ এটি ছিল তাকদিরি বা পূর্বনির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা; আর তা ছিল আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা এবং তাঁকে রক্ষার খাতিরে, যাতে তিনি নিজ মায়ের স্তন্য ছাড়া অন্য কারো স্তন্যপান না করেন। আরও একারণে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে তাঁর মায়ের নিকট ফিরে যাওয়ার মাধ্যম বানিয়েছিলেন, যাতে তিনি শঙ্কাগ্রস্ত হওয়ার পর এখন নিরাপদ অবস্থায় তাঁকে দুধ পান করাতে পারেন। যখন সে তাঁদেরকে তাঁকে দুধ পান করানোর বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেখল, {তখন সে বলল, আমি কি তোমাদের এমন এক পরিবারের কথা বলব যারা তোমাদের জন্য এর লালন-পালনের দায়িত্ব নেবে এবং তারা তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষী হবে?} ইবনে আব্বাস বলেন: যখন সে এ কথা বলল, তাঁরা তাকে পাকড়াও করল এবং তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল; তাঁরা তাকে বলল: 'তুমি কীভাবে জানলে যে তাঁরা তাঁর প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী ও মমতাবান হবে?' সে তাঁদের বলল: 'তাঁর প্রতি তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষা ও মমতার কারণ হলো রাজাকে সন্তুষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশা।' অতঃপর তাঁরা তাকে ছেড়ে দিল। যখন সে তাঁদেরকে এ কথা বলল এবং তাঁদের অনিষ্ট হতে মুক্তি পেল, তাঁরা তাঁর সাথে তাঁর বাড়িতে গেল। তাঁরা তাঁকে তাঁর মায়ের নিকট নিয়ে প্রবেশ করল, অতঃপর তিনি তাঁকে স্তন্য দান করলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। এতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং সুসংবাদদাতা রাজমহিষীর নিকট চলে গেল। অতঃপর তিনি মুসার মাকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর প্রতি সদয় হলেন ও তাঁকে প্রভূত উপঢৌকন প্রদান করলেন; যদিও তিনি জানতেন না যে বাস্তবে তিনিই তাঁর মা, বরং কেবল শিশুটি তাঁর স্তন্য গ্রহণ করার কারণেই তা করেছিলেন। অতঃপর আসিয়া তাঁকে তাঁর নিকট অবস্থান করে দুধ পান করানোর অনুরোধ জানালেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: 'আমার স্বামী ও সন্তানাদি রয়েছে, তাই আপনার নিকট অবস্থান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আপনি যদি চান যে আমি আমার নিজ বাড়িতে রেখে তাঁকে দুধ পান করাই, তবে আমি তা করতে পারি।' ফেরাউনের পত্নী তাতে সম্মত হলেন এবং তাঁর জন্য ভরণপোষণ, পুরস্কার ও প্রভূত অনুদানের ব্যবস্থা করে দিলেন।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৮)
فرجعت أم موسى بولدها راضية مرضية، قد أبدلها الله بعد خوفها أمناً في عز وجاه ورزق دارّ، ولهذا جاء في الحديث: (مثل الذي يعمل ويحتسب في صنعته الخير كمثل أم موسى ترضع ولدها وتأخذ أجرها)، ولم يكن بين الشدة والفرج إلا القليل يوم وليلة، فسبحان من بيده الأمر، يجعل لمن اتقاه بعد كل هم فرجاً، وبعد كل ضيق مخرجاً، ولهذا قال تعالى: {فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا} أي به {وَلَا تَحْزَنَ} أي عليه {وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ} أي فيما وعدها من رده إليها وجعله من المرسلين، وقوله تعالى: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} أي حكم الله في أفعاله وعواقبها المحمودة، فربما يقع الأمر كريهاً إلى النفوس وعاقبته محمودة في نفس الأمر، كما قال تعالى: {فعسى أن تكرهوا شيئاً ويجعل الله فيه خيراً كثيراً} هذه القصة من أعظم القصص في اليقين علي الله جل جلاله، حيث أن الوحي الذي أوحاه الله عز وجل لأم موسى كان وحي إلهام، ومع ذلك امتثلت ما أمرها به ربها مع شدة حبها لابنها

- يقين أم المؤمنين خديجة بنت خويلد رضي الله عنها:

عندما رجع الحبيب محمد صلى الله عليه وسلم من الغار وقص عليها مجيء جبريل عليه السلام، فقال له: اقرأ ...... وأخبرها الخبر، وقال لقد خشيت علي نفسي، فقالت خديجة: كلا، والله لا يخزيك الله أبداً … إنك لتصل الرحم، وتقرى الضيف، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتعين علي نوائب الحق .. فو الله! لقد صدق يقينها وما أخزاه الله أبدا ..

واختاره لنبوته ورسالته، وجعله خليله .. وحبيبه .. ومصطفاه صلى الله عليه وسلم.
মুসার মাতা তাঁর সন্তানকে নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে ফিরে এলেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর ভয়ের পরিবর্তে সম্মান, মর্যাদা ও অফুরন্ত জীবিকার সাথে নিরাপত্তা দান করলেন। এইজন্যই হাদিসে এসেছে: (যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় নেক কাজ করে, তার উদাহরণ মুসার মাতার মতো, যিনি নিজের সন্তানকেই দুধ পান করাচ্ছিলেন আবার তার পারিশ্রমিকও গ্রহণ করছিলেন)। বিপদ ও মুক্তির মাঝে সামান্য সময়—মাত্র একদিন ও একরাত—ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। সুতরাং মহিমান্বিত সেই সত্তা যাঁর হাতে সকল বিষয় নিহিত, তিনি তাঁর মুত্তাকি বান্দাদের জন্য প্রতিটি দুশ্চিন্তার পর মুক্তি এবং প্রতিটি সংকটের পর নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আমি তাকে তার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায়} অর্থাৎ তার মাধ্যমে {এবং সে যেন দুঃখিত না হয়} অর্থাৎ তার জন্য {এবং সে যেন জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য} অর্থাৎ তাকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাকে রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না} অর্থাৎ আল্লাহর কার্যাবলীর হিকমত ও এর প্রশংসনীয় পরিণাম সম্পর্কে। কখনও কখনও কোনো বিষয় মানুষের কাছে অপছন্দনীয় মনে হতে পারে, অথচ বাস্তবে এর পরিণাম অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়। যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হয়তো তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছ, অথচ আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন}। এই কাহিনীটি মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। কারণ, আল্লাহ তাআলা মুসার মাতাকে যে ওহি (وحي) করেছিলেন, তা ছিল ইলহামি ওহি (وحي إلهام); তা সত্ত্বেও সন্তানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর রবের আদেশের অনুগত হয়েছিলেন।

- উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)-এর দৃঢ় বিশ্বাস (يقين):

যখন প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সা.) হেরা গুহা থেকে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা (রা.)-এর কাছে জিবরাঈল (আ.)-এর আগমনের ঘটনা বর্ণনা করলেন—যে তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "পড়ুন"... এবং তিনি তাঁকে সব সংবাদ জানালেন ও বললেন, "আমি আমার জীবনের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছি।" তখন খাদিজা (রা.) বললেন: "কখনোই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপদস্থ করবেন না … আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, মেহমানদারি করেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন এবং সত্য পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।" আল্লাহর শপথ! তাঁর সেই দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) সত্য প্রমাণিত হয়েছিল এবং আল্লাহ তাঁকে কখনোই অপদস্থ করেননি।

এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর নবুওয়ত (نبوة) ও রিসালাতের (رسالة) জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর খলিল (خليل), হাবিব (حبيب) ও মুস্তাফা (مصطفى) (সা.) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ২৯)
- يقين أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها:

عن مالك أنه بلغه عن عائشة زوج النبى صلى الله عليه وسلم رضي الله عنها: أن مسكينا سألها وهي صائمة، وليس في بيتها إلا رغيف، فقالت لمولاة لها: أعطيها إياه، فقالت: ليس لك ما تفطرين عليه، فقالت: أعطيها إياه، قالت: ففعلت، فلما أمسينا أهدى لنا أهل بيت أو إنسان ما كان يهدى لنا شاة وكتفها فدعتني عائشة رضي الله عنها فقالت: كلي من هذا! هذا خير من قرصك. (1)

- يقين الزهراء (فاطمة بنت محمد صلى الله عليه وسلم وريحانته (:

فعن جابر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقام أياما لم يطعم طعاما، حتى شق ذلك عليه، فطاف في منازل أزواجه فلم يجد عند واحدة منهن شيئا، فأتى فاطمة، فقال: " يا بنية! هل عندك شيء أكله فإني جائع "؟ فقالت: لا والله. فلما خرج من عندها بعثت إليها جارة لها برغيفين وقطعة لحم، فأخذته منها فوضعته في جفنه لها وقالت: والله لأوثرن هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم علي نفسي ومن عندي، وكانوا جميعا محتاجين إلي شبعة طعام، فبعثت حسنا أو حسينا إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجع إليها، فقالت له: يا أبي أنت وأمي ـ قد أتى الله بشيء قد خبأته لك فقال: هلمي يا بنية بالجفنة .. فكشفت عن الجفنة ـ فإذا هي مملوءة خبزاً ولحماً، فلما نظرت إليها بهت وعرفت أنها بركة من الله … فحمدت الله تعالى وقدمته إلي النبي صلى الله عليه وسلم، فلما رآه حمد الله وقال: من أين لك هذا يا بنية؟ قالت: يا أبت " هو

--------------------------------------------

(1) رواه مالك في الموطأ صـ390ـ.
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস):

ইমাম মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে (بلغة) যে: একদা এক মিসকিন তাঁর কাছে কিছু চাইল, তখন তিনি রোজা পালনরত ছিলেন এবং তাঁর ঘরে একটি মাত্র রুটি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তিনি তাঁর এক দাসীকে বললেন: "তাকে তা দিয়ে দাও।" দাসী বলল: "আপনার ইফতার করার মতো তো আর কিছুই নেই।" তিনি পুনরায় বললেন: "তাকে তা দিয়ে দাও।" দাসী বর্ণনা করেন: "অতঃপর আমি তা-ই করলাম। যখন সন্ধ্যা হলো, তখন কোনো এক পরিবার অথবা কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে এমন কিছু উপহার পাঠাল যা তারা আগে কখনো পাঠাত না—একটি বকরি এবং তার রানের অংশ। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাকে ডেকে বললেন: 'এখান থেকে খাও! এটি তোমার সেই রুটির চেয়েও উত্তম।'" (১)

- জাহরা (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা এবং তাঁর নয়নমণি ফাতিমা)-এর ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস):

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকদিন যাবত কোনো খাবার গ্রহণ করেননি, এমনকি তা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠল। তিনি তাঁর পত্নীগণের গৃহসমূহে খোঁজ নিলেন কিন্তু কারো কাছেই কিছু পেলেন না। অতঃপর তিনি ফাতিমার নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে বৎসা! তোমার কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? আমি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত।" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম।" যখন তিনি তাঁর নিকট থেকে বিদায় নিলেন, তখন তাঁর এক প্রতিবেশিনী তাঁর নিকট দুটি রুটি এবং এক টুকরো গোশত পাঠালেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং একটি পাত্রে রেখে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজের এবং আমার কাছে যারা আছে তাদের ওপর অগ্রাধিকার দেব।" অথচ তারা সকলেই তখন খাদ্যের তীব্র মুখাপেক্ষী ছিলেন। অতঃপর তিনি হাসান অথবা হোসাইনকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠালেন। তিনি (নবীজি) তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করলে ফাতিমা বললেন: "হে আমার পিতা—আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন—আল্লাহ তাআলা এমন কিছু দান করেছেন যা আমি আপনার জন্য গচ্ছিত রেখেছি।" তিনি বললেন: "হে বৎসা, পাত্রটি নিয়ে এসো।" তিনি পাত্রটি উন্মোচন করলেন—দেখলেন সেটি রুটি ও গোশতে পরিপূর্ণ। যখন তিনি এর দিকে তাকালেন, বিস্ময়াভিভূত হলেন এবং বুঝতে পারলেন যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ বরকত … অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পেশ করলেন। যখন তিনি তা দেখলেন, আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন: "হে বৎসা, তুমি এটি কোথা থেকে পেলে?" তিনি বললেন: "হে আব্বাজান, এটি

--------------------------------------------

(১) ইমাম মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (رواه), পৃষ্ঠা ৩৯০।
(খণ্ড: ১) সালাহুল বুয়ুত (পৃষ্ঠা: ৩০)
من عند الله، إن الله يرزق من يشاء بغير حساب " فحمد الله، ثم قال: الحمد لله الذي جعلك شبيهة سيدة نساء بني إسرائيل فإنها كانت إذا رزقها الله عز وجل رزقا فسئلت عنه، قالت: هو من عند الله إن الله يرزق من يشاء بغير حساب " أخرجه أبو يعلى (1)

- يقين المرأة المجادلة: خولة بنت ثعلبة رضي الله عنها:

عن خولة بنت ثعلبة رضي الله عنها، قالت: في والله وفي أوس بن الصامت أنزل الله صدر سورة المجادلة، قالت: كنت عنده وكان شيخا كبيراً قد ساء خلقه، قالت: فدخل عليَّ يوما فراجعته بشئ فغضب، فقال، أنت عليَّ كظهر أمي، قالت: ثم خرج فجلس في نادي قومه ساعة، ثم دخل عليَّ فإذا هو يريدني عن نفسي، قلت كلا والذي نفس خويلة بيده لا تخلص إليَّ وقد قلت ما قلت، حتى يحكم الله ورسوله فينا بحكمه، قالت: فواثبني، فامنتعت بما تغلب به المرأة الشيخ الضعيف، فألقيته عني، قالت: ثم خرجت إلي بعض جاراتي فاستعرت منها ثيابا، ثم خرجت حتى جئت إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلست بين يديه، فذكرت له ما لقيت منه وجعلت أشكو إليه ما ألقي من سوء خلقه، قالت: فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " يا خويلة ابن عمك شيخ كبير فاتقي الله فيه "، فو الله! ما برحت، حتى نزل فيَّ قرآن فتغشى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كان يغشاه، ثم سري عنه، فقال لي: " يا خويلة قد أنزل الله فيكِ وفي صاحبك قرآن " ثم قرأ علينا: {

--------------------------------------------

(1) (الدر المنثور في التفسير بالمأثور للسيوطي 2/ 186 - سبل الهدى والرشاد في سيرة

خير العباد).
"আল্লাহর পক্ষ থেকে, নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।" অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে বনী ইসরাঈলের নারীদের নেত্রীর সদৃশ করেছেন। কারণ, মহান আল্লাহ যখন তাঁকে কোনো রিযিক দান করতেন এবং সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন'।" এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন (১)

- অভিযোগকারিণী নারীর দৃঢ় বিশ্বাস: খাওলা বিনতে সালাবা (রাযিয়াল্লাহু আনহা):

খাওলা বিনতে সালাবা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! আমার এবং আউস ইবনে সামিতের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুজাদালার প্রথমাংশ নাযিল করেছেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর স্ত্রী ছিলাম এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ মানুষ যাঁর স্বভাব রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন: একদিন তিনি আমার ঘরে এলেন এবং আমি কোনো একটি বিষয়ে তাঁকে পুনরায় কিছু বললে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, "তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মতো (যিহার)।" তিনি বলেন: এরপর তিনি ঘর থেকে বের হয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের মজলিসে কিছুক্ষণ বসলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় আমার কাছে এলেন এবং আমার সাথে অন্তরঙ্গ হতে চাইলেন। আমি বললাম, "কখনোই নয়! যাঁর হাতে খুওয়াইলার প্রাণ তাঁর শপথ, আপনি আমার সান্নিধ্যে আসতে পারবেন না—যেহেতু আপনি যা বলার তা বলে ফেলেছেন—যতক্ষণ না আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাদের ব্যাপারে কোনো ফয়সালা প্রদান করেন।" তিনি বলেন: এরপর তিনি আমার ওপর চড়াও হলেন, কিন্তু আমি তাঁকে প্রতিহত করলাম ঠিক যেভাবে একজন নারী একজন দুর্বল (ضعيف) বৃদ্ধকে পরাস্ত করে থাকে। আমি তাঁকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিলাম। তিনি বলেন: তারপর আমি আমার এক প্রতিবেশীর নিকট গেলাম এবং তাঁর নিকট থেকে কিছু কাপড় ধার করলাম। এরপর আমি বেরিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং তাঁর সামনে বসলাম। আমি তাঁর নিকট আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিলাম এবং তাঁর মেজাজের রুক্ষতা সম্পর্কে অভিযোগ করতে লাগলাম। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে লাগলেন, "হে খুওয়াইলা! তোমার চাচাতো ভাই একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।" আল্লাহর শপথ! আমি সেখান থেকে প্রস্থান করার আগেই আমার বিষয়ে কুরআন নাযিল হলো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর সেই অবস্থা আচ্ছন্ন হলো যা ওহী নাযিলের সময় তাঁকে আচ্ছন্ন করত। এরপর তাঁর থেকে সেই অবস্থা অপসারিত হলে তিনি আমাকে বললেন: "হে খুওয়াইলা! আল্লাহ তোমার এবং তোমার স্বামীর ব্যাপারে কুরআন নাযিল করেছেন।" অতঃপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করলেন: {

--------------------------------------------

(১) (সুয়ূতী রচিত আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসির বিল-মাসুর ২/ ১৮৬ - সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতি

খায়রিল ইবাদ)।