(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
وجهة العالم الإسلامي القسم: كتب عامة
الكتاب: وجهة العالم الإسلامي
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
الناشر: دار الفكر معاصر بيروت-لبنان / دار الفكر دمشق - سورية
الطبعة: 1431هـ = 2002م / ط1: 1986م
عدد الصفحات: 200
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433
মুসলিম বিশ্বের অভিমুখে বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: মুসলিম বিশ্বের অভিমুখে
লেখক: মালিক বিন আল-হাজ্জ উমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হি.)
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুআসির বৈরুত-লেবানন / দারুল ফিকর দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: ১৪৩১ হি. = ২০০২ খ্রি. / ১ম সংস্করণ: ১৯৮৬ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
وجهة العالم الإسلامي
دار الفكر معاصر بيروت-لبنان
دار الفكر دمشق - سورية
মালিক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
মুসলিম বিশ্বের অভিমুখ
দারুল ফিকর মুয়াসির, বৈরুত-লেবানন
দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
وجهة العالم الإسلامي
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মুসলিম বিশ্বের অভিমুখ
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
وجهة العالم الإسلامي
ترجمة عبد الصبور شاهين
بإشراف ندوة مالك بن نبي
دار الفكر
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সংকটসমূহ
মুসলিম বিশ্বের অভিমুখ
অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন
মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে
দারুল ফিকর
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
إعادة
1431هـ = 2002م
ط1: 1986م
পুনর্মুদ্রণ
১৪৩১ হিজরি = ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
১ম সংস্করণ: ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391هـ الموافق 10 حزيران (يونيو) 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف (ندوة مالك بن نبي).
والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.
وهي مشروع نطرحه بوصفه نواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيه إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان
18 ربيع الأول 1399هـ
15 شباط (فبراير) 1979 م
عمر مسقاوي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে একটি অসিয়ত রেখে গেছেন, যা ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে। এতে তিনি তাঁর গ্রন্থরাজির বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈষয়িক সকল দায়-দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেছেন।
এই মহান দায়িত্ব বহনের তাগিদে এবং সেই জ্ঞানসভাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যা আমাদের স্বচ্ছ চিন্তার পিপাসায় বারিধারা যুগিয়েছিল, লেখকের অসিয়ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘মালিক বিন নবী সেমিনার’।
এই নামকরণটি মূলত মালিক বিন নবীর বন্ধু ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তাঁরা বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর সূচিত পদ্ধতিটি অব্যাহত রাখেন।
এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের বন্ধু ও পাঠকদের নিকট অনুরোধ করছি, আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদকৃত কিংবা মূল ভাষায় প্রকাশিত তাঁর সকল রচনার ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করতে। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমাকে এই স্বত্ব সংরক্ষণ এবং তাঁর বই প্রকাশের অনুমতির দায়িত্ব প্রদান করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুমতির কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ সংস্করণ বলে গণ্য হবে; আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যেন সেই বিষয়ে আমাদের জানানো হয়।
ত্রিপোলি, লেবানন
১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
ওমর মেসকাওয়ী
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإهداءإلى الشعب الجزائري الثائر
إنني أحيي كفاحك أيها الشعب الكريم
لأن عدالة القضية تخلع عليه القداسة
إنني أحييه لأن كفاح الطفل الجزائري، سبيل
مستقبله، ولأنه كفاح المرأة الجزائرية من أجل أمن بيتها
وسعادة أسرتها، ولأنه كفاح الشهداء ولأنه كفاح
الأبطال الذين يريقون دماءهم من أجل الحق المقدس
للطفل وللمرأة
… ولأنه كفاحك أيها الشعب الكريم من
أجل البقاء والكرامة والحرية.
إن الله الذي يبارك صراع الأبرار يبارك كفاحك
ويقوده إلى النصر تحت الراية المقدسة التي كتب
عليها وعده الصادق:
{وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ}
مالك
উৎসর্গবিপ্লবি আলজেরীয় জনগণের প্রতি
হে মহৎ জাতি, আমি আপনার সংগ্রামকে অভিবাদন জানাই
কারণ এই সংগ্রামের ন্যায়সংগততা একে পবিত্রতা দান করেছে
আমি একে অভিবাদন জানাই কারণ আলজেরীয় শিশুর সংগ্রামই তার ভবিষ্যতের
পথ, এবং এটি আলজেরীয় নারীর সংগ্রাম তার গৃহের নিরাপত্তা
ও পরিবারের সুখের জন্য; এবং এটি শহিদদের সংগ্রাম ও এটি সেই
বীরদের সংগ্রাম যারা শিশু ও নারীর পবিত্র অধিকারের তরে
নিজেদের রক্ত বিসর্জন দিচ্ছেন
… এবং হে মহৎ জাতি, এটি অস্তিত্ব রক্ষা,
মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য আপনার সংগ্রাম।
নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি পুণ্যবানদের লড়াইকে বরকতময় করেন, তিনি আপনার সংগ্রামকেও বরকত দান করবেন
এবং একে সেই পবিত্র পতাকার অধীনে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবেন যেখানে
তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ রয়েছে:
{“মুমিনদের সাহায্য করা আমার জন্য অবধারিত কর্তব্য।”}
মালেক
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
تقديمبقلم الأستاذ محمد المبارك
ــ
ينتمي مؤلف هذا الكتاب الأستاذ (مالك بن نبي) إلى بلد عربي إسلامي، عانى من تجربة الصدام بين المجتمع الأوربي المادي والمجتمع الإسلامي العربي، ما لم يعانه بلد آخر، سواء في طول المدة أو قوة الصراع أو عمق الأثر. إن الجزائر تمثل هذه التجربة في نواحيها المؤلمة ومآسيها، وفي جوانبها المنتجة الموقظة المبشرة، كما أن المؤلف نفسه عانى هذه التجربة فكرياً ونفسياً، كأشد ما يعانيها إنسان مثقف مرهف الشعور والحس.
ولعل قراء الأستاذ مالك لا يعرفون أنه مهندس كهربائي تخرج من كبريات المعاهد الهندسية العالية في فرنسا، وسلخ من حياته أكثر من ثلاثين سنة عاشها في أوربا، وكانت هذه السنون الطويلة والخصبة بالنسبة إلى رجل مثقف عميق الثقافة سبباً في إظهار ذاتيته، وإيقاظ الشعور في نفسه وفكره: إنه عربي مسلم، ليس هو من المجتمع الأوربي الذي عاش فيه بجسمه في شيء، وكان تعمقه في الثقافة الأوربية سبباً في تحرره من نفوذها، ومعرفته لمصادرها ومواردها، لدوافعها الخفية وبواعثها العميقة، ولا سيما أنه جمع إلى جانب الثقافة العلمية، ثقافة فلسفية واجتماعية واسعة الأرجاء، عميقة الأغوار، كما تدل عليه آثاره ومؤلفاته العديدة التي قرأناها. والمهم في الأمر أن ثقافته هذه لم تكن ثقافة فكرية تقتصر على ساحة الفكر، ولكنها نضحت بحرارة المأساة التي كانت تعيش فيها الجزائر، مأساة الاستعمار والاستعلاء والسلب، واستخدام أرفع النظريات
উপস্থাপনাউস্তাদ মুহাম্মদ আল-মুবারকের কলমে
—
এই গ্রন্থের লেখক উস্তাদ (মালিক বিন নবী) এমন এক আরব ইসলামি দেশের অধিবাসী, যেটি বস্তুবাদী ইউরোপীয় সমাজ এবং আরব ইসলামি সমাজের মধ্যকার সংঘাতের এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা অন্য কোনো দেশ করেনি; চাই তা সময়ের দীর্ঘতার দিক থেকে হোক, কিংবা সংগ্রামের তীব্রতা অথবা প্রভাবের গভীরতার দিক থেকে। আলজেরিয়া এই অভিজ্ঞতাকে তার বেদনাদায়ক ও বিয়োগান্তক দিক থেকে যেমন ফুটিয়ে তোলে, তেমনি এর গঠনমূলক, জাগরণী ও আশাব্যঞ্জক দিক থেকেও তুলে ধরে। লেখক নিজেও এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিকভাবে অতিবাহিত হয়েছেন, যেভাবে একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ তা অনুভব করেন।
সম্ভবত উস্তাদ মালিকের পাঠকরা জানেন না যে, তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং ফ্রান্সের প্রধান প্রধান উচ্চতর প্রকৌশল ইনস্টিটিউটগুলো থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। তিনি তার জীবনের ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ইউরোপে অতিবাহিত করেছেন। গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন একজন ব্যক্তির জন্য এই দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বছরগুলো তার স্বকীয়তা প্রকাশের এবং তার অন্তরে ও চিন্তায় এই বোধ জাগ্রত করার কারণ হয়েছিল যে—তিনি একজন আরব মুসলিম; যে ইউরোপীয় সমাজে তিনি শারীরিকভাবে বসবাস করতেন, তার সাথে তার কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই। ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে তার গভীর অবগাহনই তাকে এর প্রভাব থেকে মুক্ত করার এবং এর উৎস, উপাদান, গোপন উদ্দেশ্য ও গভীর উদ্দীপনাগুলো জানার পথ প্রশস্ত করেছিল; বিশেষ করে এই কারণে যে, তিনি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের পাশাপাশি একটি বিস্তৃত ও গভীর দার্শনিক ও সামাজিক পাণ্ডিত্যকেও ধারণ করেছিলেন, যা তার অসংখ্য রচনাবলী ও গ্রন্থসমূহ থেকে স্পষ্ট হয় যা আমরা পাঠ করেছি। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার এই পাণ্ডিত্য কেবল চিন্তার জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা আলজেরিয়ার সেই বিয়োগান্তক পরিস্থিতির উত্তাপে সিক্ত ছিল—যা ছিল উপনিবেশবাদ, শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও লুণ্ঠনের ট্র্যাজেডি এবং যেখানে উচ্চতর তত্ত্বসমূহকে অপব্যবহার করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
العلمية لأحط الغايات وأخس الأهداف. لقد تجمعت في قلبه ونفسه، في عاطفته وشعوره، في عقله وتفكيره، مآسي أولئك الملايين من البشر، الذين يعيشون على أرض الجزائر ضحايا لمدنية القرن العشرين، وأمثلة بارزة لانحطاط أهدافها وغاياتها.
ولذلك لا تجد لهذا الكتاب خصوصاً، وكتب مالك عموماً، شبيهاً في كتب المشارقة من أبناء البلاد العربية، الذين لا يزال أكثر كتابهم يقفون من الحضارة الأوربية موقفاً آخر؛ هو موقف التلميذ المعجب الذي لم ينقض إعجابه، والمستجدي لأفكارها ومقاييسها، لأنه لم يعرف منها إلا مظاهرها، وإلا جوانبها الفكرية، ولم يعرف حين يعرفها إلا زائراً، ولو طالت زيارته لها بضع سنين.
لقد كانت أوربا بالنسبة إلى الأستاذ مالك تربة صالحة لتنمية جذوره التي لا تزال متصلة ببلده، مغموسة بتاريخ أمته.
إنك حين تقرأ هذا الكتاب تشعر أنك لست تقرأ كتاباً، ولكنك تعيش مأساة أمة، وتعيش معها خلال عشرة قرون أو أكثر، وتمر بعقد قصتها خلال هذه القرون.
إن مسرح المأساة والبلد الذي تمثل عليه هو العالم الإسلامي بمجموعه، لا يخص المؤلف فيه بلداً دون بلد، بل يبحث مشكلته المشتركة، يستعرض تاريخها منذ ظهور الإسلام، والمراحل التي مرت بها، ثم يقف بنا طويلاً في العقدة الأساسية في المرحلة الحاضرة من مراحل الإنسانية، ويوسع حينئذٍ مسرح المأساة ليرينا إياها في صورتها العالية، ويقفنا على مأساة الإنسانية التي تمثل على مسرح العالم، في جانبها الأوربي الأمريكي، وفي جانبها الإسلامي، بل يرينا من بعيد وجهها الهندوكي البوذي؛ كل ذلك ليدلنا على المخرج وعلى حل العقدة بنور يسلطه على المجتمع الإسلامي، وعلى هذه الرقعة من العالم التي تمتد من مراكش إلى إندونيسيا.
জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়গুলো আজ নিকৃষ্টতম লক্ষ্য ও হীনতম উদ্দেশ্য হাসিলের শিকারে পরিণত হয়েছে। তাঁর হৃদয়ে ও সত্তায়, তাঁর আবেগ ও অনুভূতিতে এবং তাঁর বুদ্ধি ও চিন্তায় সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের ট্র্যাজেডি পুঞ্জীভূত হয়েছিল, যারা আলজেরিয়ার মাটিতে বিংশ শতাব্দীর সভ্যতার শিকার হয়ে বেঁচে আছে এবং যারা এই সভ্যতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর অধঃপতনের সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এই কারণেই বিশেষভাবে এই বইটির এবং সাধারণভাবে মালেক বেননাবীর রচনাবলির কোনো সাদৃশ্য আরব দেশগুলোর সেই সব প্রাচ্যদেশীয় লেখকদের রচনায় খুঁজে পাওয়া যায় না, যাদের অধিকাংশ লেখক ইউরোপীয় সভ্যতার প্রতি ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন; তা হলো একজন মুগ্ধ ছাত্রের দৃষ্টিভঙ্গি, যার মুগ্ধতা কখনও লোপ পায় না এবং যে ওই সভ্যতার চিন্তা ও মানদণ্ডের একজন যাঞ্চাকারী। এর কারণ হলো, তারা সেই সভ্যতার কেবল বাহ্যিক রূপ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলোই দেখেছে; আর যখন তারা তা জেনেছে, তখন কেবল একজন আগন্তুক হিসেবেই জেনেছে, যদিও সেই সফর কয়েক বছর দীর্ঘ ছিল।
উস্তাদ মালেকের নিকট ইউরোপ ছিল তাঁর সেই শিকড়গুলোকে বিকশিত করার এক উর্বর ভূমি, যা এখনও তাঁর নিজ দেশের সাথে সম্পৃক্ত এবং তাঁর জাতির ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।
আপনি যখন এই বইটি পাঠ করবেন, তখন আপনার মনে হবে না যে আপনি স্রেফ একটি বই পড়ছেন, বরং আপনার মনে হবে আপনি একটি জাতির ট্র্যাজেডির ভেতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। আপনি তাদের সাথে দশ শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে বেঁচে আছেন এবং এই শতাব্দীগুলোতে তাদের ইতিহাসের যে জটিল সন্ধিক্ষণগুলো এসেছে, তা প্রত্যক্ষ করছেন।
এই ট্র্যাজেডির রঙ্গমঞ্চ ও যে ভূখণ্ডের ওপর তা অভিনীত হচ্ছে, তা হলো সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। লেখক এখানে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অন্য দেশ থেকে আলাদা করেননি, বরং তাদের সবার অভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ইসলামের আবির্ভাব থেকে শুরু করে এর ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো পর্যালোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি মানব সভ্যতার বর্তমান সময়ের যে মূল সংকট, সেখানে আমাদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন এবং সেই ট্র্যাজেডির পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেন যাতে আমরা এর সুউচ্চ রূপটি দেখতে পাই। তিনি আমাদের সেই মানবিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি দাঁড় করান যা আজ বিশ্বমঞ্চে অভিনীত হচ্ছে—তার ইউরোপীয়-আমেরিকান প্রেক্ষাপটে এবং তার ইসলামী প্রেক্ষাপটে; এমনকি দূর থেকে তিনি আমাদের এর হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রেক্ষাপটও দেখান। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো মুসলিম সমাজ এবং মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল ভূখণ্ডের ওপর আলোকপাত করে সংকটের উত্তরণ ও সমাধানের পথ নির্দেশ করা।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
إن طريقة المؤلف في كتابه هذا لا تقوم على سد التفاصيل والحوادث، بل على تحليل عميق- أعانه عليه ثقافة قوية واطلاع واسع- لمراحل التاريخ، وسير المدنية وتطورها، وهو يقسم تاريخ المجتمع الإسلامي إلى ثلاث مراحل: أولاها: مرحلة الإسلام الأولى في دفعته الإيمانية الحية، وهي أقوى هذه المراحل في حيويتها وقوتها الدافعة وخصبها، وتنتهي في معركة صفين. وثانيتها: مرحلة المدنية الإسلامية، وهي مرحلة التفكير والازدهار الحضاري، وتنتهي بسقوط دولة الموحدين. وثالثتها: مرحلة الجمود والانحطاط؛ ويصف كل مرحلة من هذه المراحل وصفاً تحليلياً عميقاً، ويخص المرحلة الأخيرة بالعناية لأنها المرحلة التي لا نزال نعيش في رواسبها وآثارها، ولأنها تمثل في نظره الصائب مرحلة القابلية للاستعمار.
وهو إذ يصل بتحليله التاريخي إلى هذه النقطة، يلتفت إلى العالم الأوربي، فيستعرض نشأة حضارته وصفاتها الأساسية العميقة التي ترتد إلى عهد بعيد، ويرجع بصفاتها إلى بيئتها الزراعية التي انبثقت عنها، ويسير معها في تطورها حتى يصل بها إلى العصر الحاضر، يذكر في خلال ذلك مناقبها وعيوبها والعناصر المختلفة التي تظاهرت على تكوينها: من مادية منظمة تولدت من زراعة الأرض، إلى روحية غزتها من خارجها وسطوحها بالمسيحية القادمة من الشرق، التي انكمشت وتقلصت واصطبغت بصبغة الحضارة المحلية، إلى العقلية الديكارتية التي تركت في التفكير الحديث أثراً عميقا، إلى الصناعة الكبرى وما آلت إليه من ثورة في القيم والمفاهيم، وأنظمة الحكم والأخلاق.
ثم يقابل المؤلف هنا بين الحلقتين الأخيرتين المتقابلتين من سلسلتي التطور في أوربا وفي البلاد الإسلامية، ويصف ما يكون من التقاء عالمين أحدهما حطت فيه المدنية رحالها، وتردت بردائه، واتسمت بصفاته، وانتهت إلى عهد الاستعمار، وإلى المادية، مادية البورجوازيين (المتمولين) التي تجلت في
এই গ্রন্থে লেখকের পদ্ধতি কেবল বিস্তারিত বিবরণ ও ঘটনাবলি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং ইতিহাসের পর্যায়সমূহ এবং সভ্যতার গতিধারা ও বিবর্তনের এক গভীর বিশ্লেষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত—যা তাঁর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ব্যাপক অধ্যয়ন দ্বারা সমর্থিত। তিনি ইসলামি সমাজের ইতিহাসকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন: প্রথমত: ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়, যা এর জীবন্ত ঈমানি উদ্দীপনার সময়; এটি এর জীবনীশক্তি, চালিকাশক্তি এবং উর্বরতার দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়, যার সমাপ্তি ঘটে সিফফিনের যুদ্ধে। দ্বিতীয়ত: ইসলামি সভ্যতার পর্যায়, যা চিন্তাশীলতা ও তামাদ্দুনিক উৎকর্ষের যুগ এবং মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের পতনের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। তৃতীয়ত: স্থবিরতা ও অধঃপতনের পর্যায়; তিনি এই পর্যায়গুলোর প্রত্যেকটির অত্যন্ত গভীর ও বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি শেষ পর্যায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, কারণ আমরা এখনও সেই সময়ের অবশিষ্টাংশ ও প্রভাবের মধ্যে বসবাস করছি এবং তাঁর সঠিক দৃষ্টিতে এটি ছিল উপনিবেশবাদের প্রতি নতি স্বীকারের পর্যায়।
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের এই পর্যায়ে পৌঁছে তিনি ইউরোপীয় বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। তিনি সেখানে তাদের সভ্যতার উদ্ভব ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করেন যা সুদূর অতীতকাল থেকে চলে আসছে। তিনি এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উৎস হিসেবে তাদের কৃষিভিত্তিক পরিবেশকে চিহ্নিত করেছেন যেখান থেকে এর জন্ম। তিনি এর বিবর্তনের ধারার সাথে বর্তমান সময় পর্যন্ত এগিয়ে যান। এই প্রক্রিয়ায় তিনি এর গুণাবলি ও ত্রুটিসমূহ এবং এর গঠনে সহায়ক বিভিন্ন উপাদানগুলো উল্লেখ করেন: যেমন ভূমির কৃষি থেকে উদ্ভূত সুশৃঙ্খল জড়বাদ; প্রাচ্য থেকে আসা খ্রিস্টধর্মের মাধ্যমে যা বাইরে থেকে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা পরবর্তীতে সংকুচিত হয়ে স্থানীয় সভ্যতার রঙে রঞ্জিত হয়েছিল; দেকার্তীয় চিন্তাধারা যা আধুনিক চিন্তাশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে; এবং বৃহৎ শিল্পায়ন ও এর ফলে মূল্যবোধ, ধারণা, শাসনব্যবস্থা ও নৈতিকতায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
অতঃপর লেখক এখানে ইউরোপ ও ইসলামি বিশ্বের বিবর্তনের ধারার শেষ দুটি বিপরীতমুখী পর্যায়ের মধ্যে তুলনা করেছেন। তিনি এমন দুটি বিশ্বের মিলনকে বর্ণনা করেছেন যার একটিতে সভ্যতা থমকে দাঁড়িয়েছে, তার জীর্ণতায় আচ্ছন্ন হয়েছে এবং তার নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত হয়েছে; যার পরিণতি ঘটেছে উপনিবেশবাদ ও জড়বাদের যুগে—যা বুর্জোয়াদের (বিত্তশালীদের) জড়বাদ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الرأسمالية، ومادية الكادحين الفقراء (البروليتاريا) التي تجلت في الشيوعية.
وأما العالم الآخر (البلاد الإسلامية) فقد رحلت عنه المدنية بعد أن تركته هيكلاً فارغاً تجلى عليه الجمود في مرافقه كلها، وركدت تلك النفحة الإيمانية، واستبدل بها ألفاظاً جامدة جوفاء، حتى غدا هذا العالم كما وصفه المؤلف قابلاً للاستعمار قبل أن يُستعمر.
ويستثير الأستاذ مالك هنا تفكيرنا وحماستنا في آن واحد، ويتنبأ بحل جديد لهذه العقدة، ويبشرنا برحلة جديدة بدت طلائعها في انهيار الحضارة الغربية؛ حضارة الاستعمار والمادية، وفي استيقاظ العالم الإسلامي وفقاً لنظريته التي بسطها في أول كتابه في (دورات المدنية وانتقالها)، ويقف بنا أمام تحليل رائع لواقعنا ولحركاتنا الحديثة في التجديد والتقليد والإصلاح، كاشفاً عن سطحية بعض هذه الحركات والمظاهر التجددية، مشيراً إلى نواحي الأصالة والعمق في حركات الإصلاح والثورات الحقيقية من جهة أخرى.
ويرى كاتبنا الفيلسوف أن هذا العالم الإسلامي هو الذي يحقق الظروف النفسية لظهور (الإنسان الجديد)، وأن رسالته في هذا العصر التوفيق بين العلم والضمير، بين الأخلاق والصناعة، بين الطبيعة وما وراء الطبيعة، وأنه في منتصف الطريق إلى هذه الغاية، وأنه وإن كان يجب عليه بلوغ مستوى المدنية الحالية المادي، باستخدام مؤهلاته كلها على اعتياد النظام، في العهد الذري الذي يسيطر عليه الفكر الصناعي العلمي سيطرة شديدة؛ غير أن مهمته تظل روحية تقوم على التخفيف من حدة الفكر المادي والأنانية القومية.
غير أنه يعتقد أن مركز الثقل في هذا العالم سينتقل من البحر المتوسط إلى آسيا، وأنه يتجه اليوم نحو جاكرتا مستفيداً من تلك النفحة الصوفية التي لا تزال سارية في العالم البوذي والهندوسي، الذي يتصل به العالم الإسلامي في آسيا ويجاوره.
পুঁজিবাদ এবং শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের (প্রলেতারিয়েত) বস্তুবাদ, যা কমিউনিজমের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
আর অন্য বিশ্ব (ইসলামি দেশসমূহ) থেকে সভ্যতা বিদায় নিয়েছে, তাকে একটি শূন্য কাঠামো হিসেবে রেখে যাওয়ার পর যেখানে তার সকল ক্ষেত্রে স্থবিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সেই ঈমানি চেতনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং তার পরিবর্তে অসার ও প্রাণহীন শব্দাবলি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; এমনকি এই বিশ্ব এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যা লেখক বর্ণনা করেছেন যে, এটি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে আসার আগেই 'উপনিবেশযোগ্য' হয়ে পড়েছিল।
উস্তাদ মালেক এখানে একই সাথে আমাদের চিন্তাশক্তি ও উদ্দীপনাকে জাগ্রত করেছেন এবং এই জটিলতার একটি নতুন সমাধানের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি আমাদের একটি নতুন যাত্রার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার অগ্রযাত্রা পশ্চিমা সভ্যতার—অর্থাৎ উপনিবেশবাদ ও বস্তুবাদের সভ্যতার—পতনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে; এবং তাঁর 'সভ্যতার আবর্তন ও রূপান্তর' বইয়ের শুরুতে বর্ণিত তত্ত্ব অনুযায়ী ইসলামি বিশ্বের জাগরণের মাধ্যমে যা সূচিত হয়েছে। তিনি আমাদের বর্তমান বাস্তবতা এবং আধুনিক নবায়ন, অনুকরণ ও সংস্কার আন্দোলনের এক চমৎকার বিশ্লেষণের সামনে দাঁড় করিয়েছেন; যেখানে তিনি একদিকে কিছু আন্দোলনের অগভীরতা ও নবায়নের বাহ্যিক দিকগুলোকে উন্মোচন করেছেন এবং অন্যদিকে প্রকৃত সংস্কার ও বিপ্লবগুলোর মৌলিকত্ব ও গভীরতার দিকগুলো নির্দেশ করেছেন।
আমাদের এই দার্শনিক লেখক মনে করেন যে, এই ইসলামি বিশ্বই 'নতুন মানুষ' আবির্ভূত হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি করবে এবং এই যুগে তার মূল লক্ষ্য হবে জ্ঞান ও বিবেকের মধ্যে, নৈতিকতা ও শিল্পের মধ্যে এবং প্রকৃতি ও অতিপ্রাকৃতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। তিনি মনে করেন, এই ইসলামি বিশ্ব এখন এই লক্ষ্যের মাঝামাঝি পথে রয়েছে। যদিও বর্তমান পারমাণবিক যুগে—যেখানে শিল্প ও বৈজ্ঞানিক চিন্তা তীব্রভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে—শৃঙ্খলার অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের সকল যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সভ্যতার বস্তুগত পর্যায়ে পৌঁছানো তার জন্য আবশ্যক, তবুও তার মূল দায়িত্ব হবে আধ্যাত্মিক; যা বস্তুবাদী চিন্তা ও জাতীয়তাবাদী অহংবোধের তীব্রতা প্রশমিত করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই বিশ্বের গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু ভূমধ্যসাগর থেকে এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হবে এবং আজ এটি জাকার্তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি সেই সুফি আধ্যাত্মিক চেতনার সুফল ভোগ করছে যা এখনও বৌদ্ধ ও হিন্দু বিশ্বে বিদ্যমান, যার সাথে এশিয়ায় ইসলামি বিশ্ব সংযুক্ত ও পার্শ্ববর্তী।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد أخالف المؤلف في نظرته هذه، ذلك أني- على تقديري للنهضة الرائعة التي تبدو في اندونيسيا وبعض البلاد الآسيوية الإسلامية- أرى أن للعالم العربي م كانت هـ ووظيفته الحيوية في قلب هذا العالم الإسلامي، وأنه أوتي القدرة على التوفيق بين القيم المادية والروحية، وإقامة التوازن بينهما، وأنه بحسن تفهمه للغة القرآن الكريم ولرسالة الحياة الجامعة بين المقاييس المادية والروحية، والجهد المادي والخلقي، لا يزال محط الأمل وموضع الرجاء، دون أن ينقص ذلك من قيمة الشعوب الإسلامية الأخرى، ومن خصائص عبقريتها، ولو أن العالم العريي لا يزال وعيه لم يبلغ العمق المطلوب، ولا يزال شعور الاضطلاع بحمل عبء هذه الرسالة الحضارية الكبرى ضعيفاً خافتاً، ولكن القوى المحركة، والبواعث النفسية، والدفقات الإيمانية لا تسير بسرعة منتظمة، بل بوثبات تتجاوز حساب الحاسبين. وأعتقد أن الأستاذ مالك في كتابه (فكرة الإفريقية الآسيوية) يبدو أقرب لرأيي هذا.
وعلى كل حال نستطيع أن نقول: إن هذا الكتاب يكشف في مالك بن نبي عن مفكر كبير احتل بسرعة فائقة مكانه اللائق في طليعة العالم العربي والعالم الإسلامي، وبرز بسلسلة من المؤلفات الأخرى (الظاهرة القرآنية، مشكلة الثقافة، شروط النهضة
… ) جعلته رمزاً لهذه المرحلة الجديدة التي بدأناها: مرحلة التحرر الفكري، التحرر من الاستعمار، والنفوذ الفكري، والتبعية الثقافية والحضارية، مرحلة الاستقلال الحقيقي والشعور بالذات، والاضطلاع بالعبء، والثقة بالقدرة على البناء، والسير بركب الحضارة، بعد التحرر من رواسب عصر الانحطاط والتشويه وقلب القيم، والفراغ الفكري والروحي، ومن الشعور بالنقص واحتقار الذات والإعجاب السطحي بمدنية أشرفت على نهايتها، وبدت عيوبها ونقائصها.
إن مالكاً يبدو في كتابه هذا وفي مجموع آثاره لا مفكراً كبيراً وصاحب نظرية
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি লেখকের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতে পারি; কারণ ইন্দোনেশিয়া এবং কিছু এশীয় মুসলিম দেশে যে চমৎকার জাগরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও আমি মনে করি যে, মুসলিম বিশ্বের হৃদকেন্দ্রে আরব বিশ্বের একটি বিশেষ মর্যাদা এবং অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা রয়েছে। আরব বিশ্বকে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে সমন্বয় সাধনের এবং তাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার সক্ষমতা দান করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের ভাষা এবং বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক মানদণ্ড তথা পার্থিব ও নৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত জীবনের পয়গাম সম্পর্কে সঠিক অনুধাবনের কারণে আরব বিশ্ব আজও আশা ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এতে অন্য মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মর্যাদা বা তাদের প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যসমূহ বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ন হয় না। যদিও আরব বিশ্বের সচেতনতা এখনও কাঙ্ক্ষিত গভীরতায় পৌঁছায়নি এবং এই মহান সভ্যতাগত পয়গামের বোঝা বহনের দায়িত্ববোধ এখনও দুর্বল (ضعيف) ও ক্ষীণ রয়ে গেছে, তবে চালিকাশক্তি, মনস্তাত্ত্বিক প্রেরণা এবং ঈমানি জোয়ার সবসময় একই গতিতে চলে না; বরং এটি এমন উল্লম্ফনের মাধ্যমে এগিয়ে যায় যা গণনাকারীদের হিসাবকে ছাড়িয়ে যায়। আমি মনে করি, জনাব মালিক তাঁর (ফিকরাতুল আফ্রিকিয়্যাহ আল-আসিউয়্যিইয়াহ) গ্রন্থে আমার এই মতের কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
যাই হোক, আমরা বলতে পারি যে, এই গ্রন্থটি মালিক বিন নবীর মাঝে এমন একজন বড় চিন্তাবিদকে উন্মোচিত করে যিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আরব বিশ্ব ও মুসলিম বিশ্বের অগ্রযাত্রায় তাঁর উপযুক্ত স্থান করে নিয়েছেন। তিনি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থাবলির (আজ-জাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ, মুশকিলাতুস সাকাফাহ, শুরুনুত নাহদাহ
… ) মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করেন, যা তাঁকে আমাদের সূচিত এই নতুন যুগের প্রতীকে পরিণত করেছে: বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা, উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরাধীনতা থেকে মুক্তির যুগ। এটি প্রকৃত স্বাধীনতা এবং আত্মপরিচয়বোধের যুগ, দায়িত্ব গ্রহণ ও নির্মাণের সক্ষমতায় আত্মবিশ্বাসের যুগ। এটি অধঃপতন ও বিকৃতির যুগের অবশিষ্টাংশ এবং মূল্যবোধের বিপর্যয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক শূন্যতা থেকে মুক্তির পর সভ্যতার কাফেলার সাথে পথচলার যুগ। এটি হীনম্মন্যতা, আত্ম-অবজ্ঞা এবং এমন এক সভ্যতার প্রতি অগভীর মুগ্ধতা থেকে মুক্তির যুগ যা তার পরিণতির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে এবং যার ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ প্রকাশ পেয়েছে।
মালিককে তাঁর এই গ্রন্থে এবং তাঁর সামগ্রিক রচনায় কেবল একজন বড় চিন্তাবিদ এবং তাত্ত্বিক হিসেবেই মনে হয় না...
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فلسفية في الحضارة فحسب، بل داعياً مؤمناً يجمع بين نظرة الفيلسوف المفكر ومنطقه، وحماسة الداعية المؤمن وقوة شعوره، وإن آثاره في الحقيقة تحوي تلك الدفعة المحركة التي سيكون لها في بلاد العرب أولاً، وفي بلاد الإسلام ثانياً، أثرها المنتج وقوتها الدافعة. وقلما استطاع كاتب مفكر أن يجمع كما جمع بين سعة الإطار والرقعة التي هي موضوع البحث، وعمق النظر والبحث، وقوة الإحساس والشعور- أنا لا أقول إنه (ابن نبي)، ولكني أقول إنه ينهل من نفحات النبوة، وينابيع الحقيقة الخالدة.
محمد المبارك
دمشق في
20 من صفر 1379هـ
26 من آب (اغسطس) 1959م
...সভ্যতার নিছক একজন দার্শনিকই নন, বরং তিনি একজন বিশ্বাসী আহ্বায়ক, যিনি একজন চিন্তাশীল দার্শনিকের দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির সাথে একজন মুমিন আহ্বায়কের কর্মোদ্দীপনা ও অনুভূতির তীব্রতাকে একীভূত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁর রচনাবলি সেই গতিশীল প্রেরণা ধারণ করে যা প্রথমত আরব ভূখণ্ডে এবং দ্বিতীয়ত সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ফলপ্রসূ প্রভাব ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। খুব কম চিন্তাশীল লেখকই গবেষণার বিষয়বস্তুর বিশালতা ও পরিধি, চিন্তার গভীরতা ও গবেষণা এবং অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার শক্তিতে এমন চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন—আমি বলছি না যে তিনি (ইবনে নবী), বরং আমি বলছি যে তিনি নবুওয়তের সৌরভ এবং চিরন্তন সত্যের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান সুধা পান করছেন।
মোহাম্মদ আল-মুবারক
দামেস্কে
২০ সফর ১৩৭৯ হিজরি
২৬ আগস্ট (আগস্ট) ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تنبيهيظهر كتاب (وجهة العالم الإسلامي) بعد تحريره بسنوات أربع، دون أدنى تعديل يتصل بما جد من أحداث، خلال تلك الفترة، اللهم إلا ما رآه المؤلف ضرورياً فسجله تعليقاً على الهامش مؤرخاً بعام 1954.
فإذا لم يعد ممكناً تطبيق آراء المؤلف، التي سجلها غداة الأزمة الفلسطينية، على الأوضاع الراهنة في العالم الإسلامي، فإن تنقيح هذه الآراء لن يفيد في علاج الأوضاع الجديدة، أما إذا كان من الممكن تطبيقها، فسيستطيع القارئ من باب أولى أن يقدر مدى صلاحيتها بوصفها مقياساً لما جدّ من أحداث.
أية كانت وجهة الأمر، فإن صناعة تاريخ العالم الإسلامي لم تعد من مهمة المؤامرات الخارجية التي قعدت به إلى حين عن التطور والازدهار، وإنما هو العمل الصامت المضني، المنبعث عن حركته الداخلية. وهو ما جهد المؤلف للكشف عنه في الصفحات التي نقدمها إلى القارئ الكريم.
حزيران (يونيو)، 1954
সতর্কবার্তা (تنبيه)‘মুসলিম বিশ্বের অভিমুখ’ গ্রন্থটি এর সম্পাদনার চার বছর পর আত্মপ্রকাশ করছে। এই দীর্ঘ সময়ে ঘটে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন করা হয়নি; তবে লেখক যা কিছু অপরিহার্য মনে করেছেন, তা ১৯৫৪ সালের তারিখসহ পাদটীকায় মন্তব্য হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন।
ফিলিস্তিন সংকটের অব্যবহিত পরে লেখক যে মতামতগুলো নথিবদ্ধ করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যদি সেগুলো আর প্রয়োগযোগ্য না হয়, তবে এই মতামতের পরিমার্জন (تنقيح) নতুন সংকট নিরসনে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। পক্ষান্তরে যদি সেগুলো প্রয়োগযোগ্য হয়, তবে পাঠকই অধিকতর স্পষ্টভাবে এর উপযোগিতা ও যাথার্থ্য পরিমাপ করতে পারবেন যে, নতুন ঘটনাবলির মানদণ্ড হিসেবে তা কতটা সার্থক।
বিষয়টি যেভাবেই দেখা হোক না কেন, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস বিনির্মাণ এখন আর বাহ্যিক কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয় নয়—যা একদা একে প্রগতি ও সমৃদ্ধি থেকে বিচ্যুত করে রেখেছিল—বরং এটি হচ্ছে এর অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মধ্য থেকে উৎসারিত এক নিরব ও নিবিড় কর্মসাধনা। লেখক সম্মানিত পাঠকের সামনে নিবেদিত এই পৃষ্ঠাগুলোতে সেই বিষয়টিই উন্মোচনের চেষ্টা করেছেন।
জুন, ১৯৫৪
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مدخل الدراسةكنت قد فرغت من تخطيط هذه الدراسة، عندما جاءني أحد أصدقائي، وقد كان على علم بمشروعي، فأطلعني على المؤلف القيم الذي وضعه الأستاذ (جب) بعنوان (الاتجاهات الحديثة في الفكر الإسلامي) Les tendances modernes de L'Islam. فوجدت أن موقف المؤلف الكبير يشبه في مواطن كثيرة موقفي الذي حاولت مع قصر باعي أن أجلوه.
فهل كان عليّ أن أراعي هذا التشابه، فأكتفي بإحالة القارئ إلى آراء أستاذ أكسفورد، وخاصة فيما يتصل بالفصلين الثاني والثالث من هذا الكتاب .. ؟ لقد آثرت أن أواصل طريقي متخذاً منه سنداً يؤيد رأيي، وهو سند له عندي وزن كبير.
غير أنه يبدو لي من الضروري أن أشير إلى بعض المواطن التي اختلفنا فيها كيلا أعود إليها داخل الكتاب تجنباً للجدل.
فأنا لا أعتقد أن صفة (الذرية) (1) - تلك اللازمة من لوازم العقل العاجز عن التعميم- خاصة فطرية من خواص الفكر العربي، على ما أكده المستشرق الإنجليزي المحترم، بل هي طراز من طرز العقل الإنساني عامة عندما يقصر عن بلوغ درجة معينة من التطور والنضج، أو عندما يفوتها، وبعبارة أدق يقع العقل المعمم في التطور التاريخي بين مرحلتين من مراحل (الذرية).
فالفكر غالباً ما يكون ذرياً في خطواته الأولى، كما كانت الحال في أوربا
--------------------------------------------
গবেষণার ভূমিকাআমি এই গবেষণার পরিকল্পনা সমাপ্ত করেছিলাম, এমন সময় আমার এক বন্ধু আমার কাছে এলেন। তিনি আমার এই প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এবং তিনি আমাকে প্রফেসর (গিব) কর্তৃক রচিত ‘ইসলামি চিন্তাধারায় আধুনিক প্রবণতা’ (Les tendances modernes de L'Islam) শীর্ষক মূল্যবান গ্রন্থটি দেখালেন। আমি লক্ষ্য করলাম যে, এই মহান লেখকের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে আমার অবস্থানের অনুরূপ, যা আমি আমার সীমিত সাধ্য সত্ত্বেও স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছি।
তবে কি এই সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমার উচিত ছিল কেবল অক্সফোর্ড অধ্যাপকের মতামতের প্রতি পাঠককে নির্দেশ করা, বিশেষ করে এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে...? আমি আমার পথ অনুসরণ করাকেই শ্রেয় মনে করেছি এবং এটিকে আমার মতের সপক্ষে একটি সনদ (سند) হিসেবে গ্রহণ করেছি; আর এটি এমন এক সনদ (سند) যা আমার নিকট অত্যন্ত গুরুত্ববহ।
তবে তর্কের অবতারণা এড়িয়ে চলার জন্য এবং মূল গ্রন্থের ভেতরে যেন পুনরায় এগুলোর দিকে ফিরে আসতে না হয়, সেজন্য আমাদের মধ্যকার মতপার্থক্যের কিছু ক্ষেত্র নির্দেশ করা আমি প্রয়োজনীয় মনে করছি।
আমি মনে করি না যে, ‘আণবিকতা’ (১)—যা সাধারণীকরণে অক্ষম মস্তিষ্কের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য—তা আরবীয় চিন্তাধারার কোনো সহজাত বৈশিষ্ট্য, যেমনটি সম্মানিত ইংরেজ প্রাচ্যবিদ জোর দিয়ে বলেছেন। বরং এটি সাধারণভাবে মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির এমন একটি ধরন যখন তা বিকাশ ও পরিপক্কতার একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় অথবা যখন তা অতিক্রম করে যায়। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, ঐতিহাসিক বিবর্তনে সাধারণীকরণ করতে সক্ষম মস্তিষ্ক আণবিকতার দুটি পর্যায়ের মধ্যবর্তী স্তরে অবস্থান করে।
চিন্তাধারা সাধারণত তার প্রাথমিক পদক্ষেপে আণবিক প্রকৃতির হয়ে থাকে, যেমনটি ইউরোপের ক্ষেত্রেও ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قبل (ديكارت)، وكما صارت إليه الحال بعد عصر ابن خلدون في العالم الإسلامي، عندما توقف كل جهد عقلي.
ولكن التراث الثقافي الخطير الذي خلفته الحضارة الإسلامية للحضارة الحديثة، يظل شاهداً على ما كان يتصف به الفكر الإسلامي في عصوره الذهبية، فلقد اتسم كفاحه في مجالاته كافة بالإحساس (بالقانون)، وهو يستلزم القدرة على التركيب، فوضعت النظريات القانونية وبناها الفقهاء على قواعد (الأصول). وهكذا نجد التشريع الإسلامي يحمل للمرة الأولى في تاريخ التشريع طابع نظام فلسفي يقوم على مبادئ أساسية، بينما لا يعدو القانون الروماني أن يكون مجموعة من الملفقات القانونية العفوية، ليس بينها رباط عقلي.
وبوسعنا أن نذكر أيضاً ما حققه العلامة (أبو الوفا) في علم الفلك من اكتشاف للتغيير في حركة القمر، وهو ما يطلق عليه اسم (اللا متساوية الثانية)، وما حققه العلامة (ابن خلدون)، الذي يرجع إليه الفضل في استنباط قوانين التاريخ وعلاقاتها بأوجه نشاط المجتمعات، وهذا دليل على أن الفكر العربي كان يحمل حاسة القانون وذوقه.
ولست أيضاً مع العالم الإنجليزي، فيما ذهب إليه حين تحدث عن (الاتجاه الإنساني) في الحركة الإسلامية الحديثة، فعزاه إلى تأثير الثقافة الأوربية. فإن من الواجب أولاً أن نحدد مصطلحاتنا: فإذا كنا نتحدث عن نزعة إنسانية تقليدية أو دبلوماسية، فإنا نعترف مختارين بأن الثرثرة الإنسانية ذات جرس جميل، وبأن المتاع اللغوي لدى بعض المسلمين المحدثين قد أثرى ببعض الجمل المنمقة، وببعض الأشعرة الخلابة.
بيد أنه ربما وجب علينا أن نبحث الوقائع وأن نذر الألفاظ، وذلك بأن
(ডেকার্ট)-এর পূর্বে, এবং ইবনে খালদুন পরবর্তী যুগে মুসলিম বিশ্বে যেমনটি ঘটেছিল—যখন সকল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু ইসলামি সভ্যতা আধুনিক সভ্যতার জন্য যে তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রেখে গেছে, তা ইসলামি চিন্তাধারার স্বর্ণযুগসমূহের বৈশিষ্ট্যের সাক্ষ্য বহন করে। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের সকল ক্ষেত্রই (আইন)-এর বোধ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যার জন্য প্রয়োজন ছিল সমন্বয় সাধনের সক্ষমতা। ফলে আইনি তত্ত্বসমূহ প্রণীত হয়েছিল এবং ফকিহগণ তা উসুল (الأصول)-এর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছিলেন। এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, আইনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইসলামি বিধান প্রণয়ন একটি দার্শনিক ব্যবস্থার রূপ পরিগ্রহ করেছে যা মৌলিক নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত; পক্ষান্তরে রোমান আইন ছিল কেবল কতগুলো স্বতঃস্ফূর্ত আইনি সংকলন মাত্র, যার মধ্যে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক যোগসূত্র ছিল না।
আমরা জ্যোতির্বিজ্ঞানে আল্লামা (আবুল ওয়াফা)-এর অর্জিত সাফল্যের কথাও উল্লেখ করতে পারি, যা ছিল চন্দ্রের গতির পরিবর্তন বিষয়ক আবিষ্কার, যাকে (দ্বিতীয় অসমতা) বলা হয়। সেই সাথে আল্লামা (ইবনে খালদুন)-এর কৃতিত্বও স্মরণীয়, যাঁর ওপর ইতিহাসের নিয়মাবলি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিকের সাথে তার সম্পর্ক উদ্ভাবনের কৃতিত্ব বর্তায়। এটিই প্রমাণ করে যে, আরব চিন্তাধারায় আইনের চেতনা ও রুচি বিদ্যমান ছিল।
আধুনিক ইসলামি আন্দোলনে (মানবিক প্রবণতা) সম্পর্কে ব্রিটিশ পণ্ডিত যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, আমি তাঁর সাথেও একমত নই; কারণ তিনি একে ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব বলে অভিহিত করেছেন। প্রথমত আমাদের পরিভাষাগুলো সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক: আমরা যদি কোনো প্রথাগত বা কূটনৈতিক মানবিক প্রবণতার কথা বলি, তবে আমরা স্বেচ্ছায় স্বীকার করছি যে, মানবিক বাগাড়ম্বর শুনতে বেশ শ্রুতিমধুর এবং কিছু আধুনিক মুসলমানের শব্দভাণ্ডার কিছু অলংকৃত বাক্য ও চিত্তাকর্ষক কাব্যিকতা দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে।
তবে সম্ভবত আমাদের উচিত প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ অনুসন্ধান করা এবং শব্দসর্বস্বতাকে বর্জন করা, আর তা হলো
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
نتناول النزعة الإنسانية في معادنها الأصيلة من التسامح والإيثار واحترام شخص الإنسان.
ولا مجال في مثل هذا الكتاب لعقد مثل هذه الموازنة، إذ ينبغي أن نبدأ فيما يخص الإنسانية في الإسلام، بذكر (القيمة الدينية) التي قررها القرآن للفرد، كما أكدنا ذلك في دراستنا عن (الظاهرة القرآنية)، في الفصل الذي درسنا فيه (علاقة القرآن بالكتاب المقدس).
وربما كان من الواجب أن نورد أيضاً ما أوصى به أبو بكر الصديق، رضي الله عنه، جيش المسلمين من أن ((لا يقتلوا الأعزل، ولا الراهب في صومعته، ولا يقتلوا الأنعام، ولا يحرقوا الزرع)) (1).
ثم يرد بعد ذلك الموقف الجليل الذي وقفه عمر، رضي الله عنه، عندما استولى المسلمون على بيت المقدس، فقد أبى أن يؤدي الصلاة داخل كنيسة القيامة، واكتفى بأن يسجد عند بابها الخارجي في خشوع، مؤمّناً بذلك النصارى من جسارة الجند المسلمين، كما أننا لا نستطيع أن نضرب صفحاً عن سعة الصدر التي امتازت بها مدارس الفكر في العالم الإسلامي في عصرها الذهبي، حين تتلمذ عليها الفكر الإنساني دونما قيد أو شرط؛ كان العلم أمراً مباحاً للراهب (جربرت)، وللكاهن (ميمون)، على حد سواء. فإذا ما رجعنا البصر إلى الحضارة الأوربية الحديثة، وجدناها تدل بعلمها على البلدان المتخلفة أو على الأصح: البلدان التي صيرتها متخلفة، فلا يمكن أن ننسى فداحة الثمن الذي تكبده بعض مثقفينا المسلمين من الأشغال الشاقة والسجن المؤبد.
--------------------------------------------
আমরা মানবতাবাদের মূল উপাদানসমূহ যথা—সহনশীলতা, পরার্থপরতা এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে আলোচনা করছি।
এই ধরনের বইয়ে এমন তুলনামূলক আলোচনার কোনো সুযোগ নেই, বরং ইসলামে মানবিকতার প্রসঙ্গে আমাদের উচিত কুরআনের পক্ষ থেকে ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত (ধর্মীয় মূল্যবোধ) উল্লেখ করার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করা; যেমনটি আমরা (কুরআনিক প্রপঞ্চ) বিষয়ক আমাদের গবেষণায় এবং (বাইবেলের সাথে কুরআনের সম্পর্ক) নামক অধ্যায়ে গুরুত্বারোপ করেছি।
সম্ভবত এটিও উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মুসলিম বাহিনীকে এই মর্মে নসিহত করেছিলেন যেন তারা: "অস্ত্রহীন ব্যক্তি এবং গির্জায় ইবাদতরত সন্ন্যাসীদের হত্যা না করে, গবাদিপশু নিধন না করে এবং ফসল পুড়িয়ে না দেয়।" (১)।
এরপর উমর (রা.)-এর সেই মহান অবস্থানের কথা আসে যখন মুসলমানরা বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করেছিলেন। তিনি চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার-এর ভেতরে সালাত আদায় করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিনীতভাবে কেবল এর বাইরের দরজায় সেজদা করেন; এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম সৈন্যদের সম্ভাব্য দুঃসাহসিকতা থেকে খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। একইভাবে, আমরা মুসলিম বিশ্বের স্বর্ণযুগে চিন্তাধারার স্কুলগুলোর যে উদারতা ছিল তাকে উপেক্ষা করতে পারি না, যখন কোনো শর্ত ছাড়াই মানবিক চিন্তা সেখানে বিকাশ লাভ করেছিল। জ্ঞানার্জন সন্ন্যাসী (গার্বার্ট) এবং পাদ্রী (মাইমন)-এর জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ছিল। আমরা যদি আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতার দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে আমরা দেখতে পাই যে তারা তাদের বিজ্ঞানের মাধ্যমে অনগ্রসর দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে; অথবা সঠিক অর্থে বললে: সেই দেশগুলোর ওপর যাদের তারা অনগ্রসর বানিয়েছে। তাই আমাদের কতিপয় মুসলিম বুদ্ধিজীবীকে যে সশ্রম কারাদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাবাসের মতো চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, তা আমরা ভুলে যেতে পারি না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فكيف يتأتى للعالم الإسلامي أن يبحث عن إلهام فلسفته الإنسانية فيما وراء تقاليده العريقة .. ؟ إن حديثنا عن إنسانية أوربا لا يكون إلا حديثاً عن نزعة إنسانية (جذبية) دون إشعاع، وفي هذه الحالة نراها تعني (إنسانية أوربية) في الداخل، و (إنسانية استعمارية) في الخارج، وهذه الأخيرة قائمة على أقبح المعادلات السياسية وأشنعها: (فالإنسان) في عرفها مضروباً في (المعامل الاستعماري) يساوي مستعمراً.
أياً ما كان الأمر، فإن كتاب العالم الإنجليزي يستحق اهتمام كل مسلم يريد أن يختط بعض المعالم لأفكاره، وأن يقوِّم موضوعياً، لا أقول القيم الإيجابية في نهضته فحسب، ولكن القيم السلبية التي تعد حالياً أساس الفوضى في العالم الإسلامي.
ويتحدث (جب) على الأخص عن (النزعة الأدبية)، وهو ما سبق أن نددنا به تحت عنوان (الحرفية) في الثقافة (1).
كما يتحدث عن سمة غالبة يرمز إليها بذوق الفخر والمديح، وبالنزعة الرومانتيكية التي تتسم بها ثقافتنا، حتى عند بعض كبار المفكرين المحدثين، ولهذا الحديث قيمة كبرى في كتابه، وخاصة لدى من يذهبون إلى القول إن محرك التقدم ودليله إنما هو (الحقيقة)، والفخر إنما يكون دائماً على حساب (الحقيقة)، فهو خيانة لها، وبالتالي خيانة للتاريخ نفسه.
ولكن إذا كان من الخيانة للحقيقة أن نسرف في الحديث عن أنفسنا، فمن الخيانة لها أيضاً أن نجهل قدر أنفسنا، فنقلل من شأنها، ولهذا يبدو أن (جب) قد أغفل الحديث عن مركب النقص الذي يتصف به بعض المثقفين والقادة المسلمين.
--------------------------------------------
সুতরাং মুসলিম বিশ্বের পক্ষে কীভাবে সম্ভব যে, সে তার সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের বাইরে নিজের মানবিক দর্শনের অনুপ্রেরণা খুঁজবে..? ইউরোপীয় মানবতাবাদ সম্পর্কে আমাদের আলোচনা কেবল বিচ্ছুরণহীন একটি আকর্ষণীয় (আকর্ষণীয়) মানবিক প্রবণতা নিয়ে আলোচনা মাত্র; এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাই যে, এর অর্থ দাঁড়ায় অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে 'ইউরোপীয় মানবতাবাদ' এবং বাহ্যিক ক্ষেত্রে 'উপনিবেশবাদী মানবতাবাদ'। আর এই শেষোক্ত বিষয়টি জঘন্যতম ও নিকৃষ্টতম রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত: তাদের পরিভাষায় (মানুষ)-কে যখন (উপনিবেশবাদী গুণক) দিয়ে গুণ করা হয়, তখন তার ফল দাঁড়ায় একজন উপনিবেশিত ব্যক্তি।
যাই হোক না কেন, এই ইংরেজ পণ্ডিতের বইটি এমন প্রত্যেক মুসলিমের মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে, যে তার চিন্তাকাঠামোর জন্য কিছু পথনির্দেশক চিহ্ন অঙ্কন করতে চায় এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করতে চায়—আমি কেবল তার রেনেসাঁর ইতিবাচক মূল্যবোধের কথাই বলছি না, বরং সেই নেতিবাচক মূল্যবোধগুলোর কথাও বলছি যা বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে বিশৃঙ্খলার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
(গিব) বিশেষভাবে (সাহিত্যিক প্রবণতা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে (আক্ষরিকতা) শিরোনামে নিন্দা করেছি (১)।
তিনি একটি প্রবল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন যা আত্মগর্ব ও প্রশংসার রুচি এবং আমাদের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত রোমান্টিক প্রবণতা দ্বারা চিহ্নিত, এমনকি কিছু প্রথিতযশা আধুনিক চিন্তাবিদদের ক্ষেত্রেও তা পরিলক্ষিত হয়। তাঁর গ্রন্থে এই আলোচনার বিশাল গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষ করে তাদের নিকট যারা মনে করেন যে অগ্রগতির চালিকাশক্তি ও পথপ্রদর্শক হলো (সত্য); অথচ আত্মগর্ব সর্বদা (সত্য)-এর বিনিময়েই অর্জিত হয়, যা মূলত সত্যের প্রতি এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা এবং পরিণামে ইতিহাসের প্রতিও বিশ্বাসঘাতকতা।
কিন্তু সত্যের প্রতি যদি নিজেদের সম্পর্কে অত্যধিক আলোচনা করা বিশ্বাসঘাতকতা হয়, তবে নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং একে খাটো করে দেখাও সত্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। একারণেই মনে হয় (গিব) মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও নেতাদের কারও কারও মাঝে বিদ্যমান হীনম্মন্যতা সম্পর্কে আলোচনা এড়িয়ে গেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأعود فأكرر القول إن كتاب المستشرق الإنجليزي يعد مرشداً ثميناً لكتابي هذا في دراسة الأمراض (شبه الصبيانية) في العالم الإسلامي، ولكم أتمنى أن يتأمل موضوعاته كثيرون من المسلمين، كما تأملتها، وأن يقدروا فيه نزاهته التي سمت على كل مركب عقيدي أو سياسي.
***
আমি পুনরায় একথারই পুনরাবৃত্তি করছি যে, মুসলিম বিশ্বের (আধা-শিশুসুলভ) ব্যাধিগুলো অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ইংরেজ প্রাচ্যবিদের এই গ্রন্থটি আমার এই গ্রন্থের জন্য এক মূল্যবান নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত। আমি প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করি যে, বহু মুসলিম যেন এর বিষয়বস্তুগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, ঠিক যেমনটি আমি করেছি; এবং তারা যেন তাঁর সেই নিরপেক্ষতাকে মূল্যায়ন করেন, যা যেকোনো আদর্শিক বা রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে।
***
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأولمجتمع ما بعد الموحدين{تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ}
[البقرة: 2/ 134، 141}
ــ
প্রথম পরিচ্ছেদমুওয়াহহিদ-পরবর্তী সমাজ{তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য। তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।}
[আল-বাকারা: ২/ ১৩৪, ১৪১}
ــ
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الظَّاهِرَةُ الدَّوْرِيَّةُ{وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ}
[آل عمران: 3/ 140]
ــ
لدراسة التاريخ جوانب متعددة، فإذا ما تناولناه بالقياس إلى الفرد كان دراسة نفسية، إذ يكون دراسة للإنسان بوصفه عاملاً نفسياً زمنياً في بناء حضارة، ولكن هذه الحضارة تعد مظهراً من مظاهر الحياة والفكر الجماعي، ومن هذا الجانب يعد التاريخ دراسة اجتماعية، إذ يكون دراسة لشرائط نمو مجتمع معين لا يقوم نموه على حقائق الجنس أو عوامل السياسة، بقدر ما يخضع لخصائصه الأخلاقية والجمالية والصناعية المتوافرة في رقعة تلك الحضارة.
على أن هذا المجتمع ليس معزولاً، بل إن تطوره مشروط ببعض الصلات الضرورية مع بقية المجموعة الإنسانية، ومن هذا الجانب يصبح التاريخ ضرباً من الميتافيزيقا، إذ أن مجاله يمتد إلى ما وراء السببية التاريخية، لكي يلم بالظواهر في غايتها. هذا الجانب الميتافيزيقي يضم الأسباب التي لا تدخل ضمن ما أطلق عليه توينبي (مجال الدراسة) لحضارة ما.
فالمؤرخون حين يدرسون مثلاً انهيار الامبراطورية الرومانية، يقصرون الأسباب التي حتمت ذلك الانهيار على نطاق معين ينطبق على رقعة تلك الإمبراطورية من ناحية، وعلى السهول الشمالية التي تدفقت منها القبائل الجرمانية من ناحية أخرى، خلال القرنين الرابع والخامس، فهذا بالتحديد هو المجال الذي يرى فيه المؤرخون تأثير الأسباب التاريخية التي حللت إمبراطورية روما. وهناك تكونت الموجة الجرمانية التي أطلق عليها المؤرخون الألمان
আবর্তনশীল প্রপঞ্চ{আর এই দিনসমূহকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি}
[আলে ইমরান: ৩/ ১৪০]
ــ
ইতিহাস অধ্যয়নের বহুমুখী দিক রয়েছে। আমরা যদি ব্যক্তির নিরিখে ইতিহাসকে মূল্যায়ন করি, তবে তা হবে একটি মনস্তাত্ত্বিক অধ্যয়ন; কারণ তখন তা সভ্যতা বিনির্মাণে মানুষকে একটি মনস্তাত্ত্বিক-কালিক প্রভাবক হিসেবে অধ্যয়ন করে। তবে এই সভ্যতা হলো সামষ্টিক জীবন ও চিন্তার একটি বহিঃপ্রকাশ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস একটি সামাজিক অধ্যয়ন হিসেবে গণ্য হয়; কারণ তখন তা একটি নির্দিষ্ট সমাজের বিকাশের শর্তাবলির অধ্যয়ন হয়ে দাঁড়ায়, যার বিকাশ জাতিগত সত্য বা রাজনৈতিক প্রভাবকের চেয়ে বরং ওই সভ্যতার ভৌগোলিক পরিসীমায় বিদ্যমান নৈতিক, নান্দনিক ও শিল্পগত বৈশিষ্ট্যের ওপর অধিক নির্ভরশীল।
তবে এই সমাজ বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এর বিবর্তন মানবগোষ্ঠীর অপরাপর অংশের সাথে কিছু অপরিহার্য সম্পর্কের দ্বারা শর্তযুক্ত। এই দিক থেকে ইতিহাস এক প্রকার পরাবিদ্যায় রূপান্তরিত হয়; যেহেতু এর পরিধি ঐতিহাসিক কার্যকারণতত্ত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রপঞ্চসমূহকে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের নিরিখে উপলব্ধি করার জন্য বিস্তৃত হয়। এই পরাবিদ্যক দিকটি এমন সব কারণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা টয়েনবি কোনো সভ্যতার 'অধ্যয়নের ক্ষেত্র' হিসেবে যা অভিহিত করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত নয়।
ঐতিহাসিকরা যখন উদাহরণস্বরূপ রোমান সাম্রাজ্যের পতন নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা সেই পতনের অনিবার্য কারণগুলোকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। এটি একদিকে যেমন সেই সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার ওপর প্রযোজ্য, তেমনি অন্যদিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে যে উত্তর সমভূমি থেকে জার্মানীয় উপজাতিরা ধেয়ে এসেছিল তার ওপরেও প্রযোজ্য। সুনির্দিষ্টভাবে এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে ঐতিহাসিকরা সেই ঐতিহাসিক কারণগুলোর প্রভাব প্রত্যক্ষ করেন যা রোমান সাম্রাজ্যকে খণ্ডিত করেছিল। আর সেখানেই সেই জার্মান তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল যাকে জার্মান ঐতিহাসিকরা অভিহিত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
Volkerwanderung أي (هجرة الشعوب)، والتي تحطمت مرات على الحدود، إلى أن استطاعت أن تحطم كل شيء في طريقها.
إن من الممكن أن نقف عند هذا الجانب، أما إذا أردنا دراسة أسباب مد تلك الشعوب، فسنجد أنفسنا أمام عملية متسلسلة في عناصر تكونها، توجد خارج المجال الروماني والمجال الجرماني.
ففي نص ساقه إلينا المؤرخ (بيير ريشيه Pierre Richèe)، وصف القديس (أمبرواز Ambroise) الحالة التي نتحدث عنها كما رآها فقال: ((انقضت قبائل الشعوب الهونية على القبائل الجرمانية القاطنة على حدود روسيا les Alains وانقضّ هؤلاء على القوط، وحين جلا القوط عن بلادهم زحفوا علينا فأجبرونا على الهجرة إلى إقليم الليريا، وليس هذا هو كل شيء
… الخ)).
فمن هذا نرى أن الموجة التي أغرقت الإمبراطورية الرومانية، لم تتولد في النطاق الإمبراطوري أو في النطاق الجرماني، بل هنالك بعيداً، في شمال آسيا.
فإذا أضفنا إلى ذلك، أن سقوط أسرة (الهان) في الصين فجر القرن الثالث، هو الذي حرك قبائل (الهون) الذين استهوتهم الإمبراطورية الصينية في فترة من فترات أزماتها، وأن قبيلة المغول المسماة Toun-gouses هي التي حولت هجرة الشعوب الهونية نحو الغرب، أدركنا بذلك أن الأسباب الرئيسية التي حتمت نهاية الإمبراطورية الرومانية إنما تكمن وراء (مجال الدراسة) الذي يقدم عادة تفسير أحداث التاريخ في الغرب.
وهكذا نرى أن تأثير (رد الفعل) الذي حدث في سفح سور الصين قد استغرق قرنين من الزمان، قبل أن يصل إلى حدود االإمبراطورية الرومانية.
فهناك إذن خلف الأسباب القريبة أسباب بعيدة، تخلع على تفسير التاريخ طابعاً ميتافيزيقياً أو كونياً، أياً ذلك كان.
Volkerwanderung অর্থাৎ (জনগোষ্ঠীর হিজরত), যা বারবার সীমান্তে প্রতিহত হয়েছিল, যতক্ষণ না এটি তার পথের সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ করতে সক্ষম হয়।
আমাদের পক্ষে এই দিকটিতে থেমে থাকা সম্ভব, তবে আমরা যদি এই জাতিগুলোর বিস্তারের কারণগুলো অধ্যয়ন করতে চাই, তবে আমরা নিজেদেরকে এমন এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি পাব যার উপাদানগুলো রোমান ও জার্মান বলয়ের বাইরে বিদ্যমান।
ঐতিহাসিক পিয়েরে রিশে (Pierre Richèe) আমাদের কাছে যে পাঠ্যটি উপস্থাপন করেছেন, সেখানে সেন্ট আমব্রোজ (Ambroise) বর্ণিত অবস্থাটি যেভাবে দেখেছিলেন তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: ((হুন জনগোষ্ঠীর গোত্রগুলো রাশিয়ার সীমান্তে বসবাসকারী আলানস (les Alains) নামক জার্মান গোত্রগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং তারা আবার গোথদের ওপর আক্রমণ করেছিল। যখন গোথরা তাদের ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হলো, তখন তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে আমাদেরকে ইলিরিয়া প্রদেশে হিজরত করতে বাধ্য করল; আর এখানেই সব শেষ নয়
… ইত্যাদি))।
এ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, যে ঢেউটি রোমান সাম্রাজ্যকে প্লাবিত করেছিল, তার জন্ম সাম্রাজ্যের সীমানায় কিংবা জার্মান বলয়ে হয়নি, বরং তা অনেক দূরে উত্তর এশিয়ায় জন্ম নিয়েছিল।
এর সাথে যদি আমরা আরও যোগ করি যে, তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে চীনে 'হান' রাজবংশের পতনই মূলত হুন গোত্রগুলোকে চালিত করেছিল—যাদেরকে তাদের সংকটের সময় চীনা সাম্রাজ্য প্রলুব্ধ করেছিল—এবং তুনগুস (Toun-gouses) নামক মঙ্গোলীয় গোত্রটিই হুন জনগোষ্ঠীর হিজরতকে পশ্চিমের দিকে ধাবিত করেছিল; তবে আমরা বুঝতে পারব যে, রোমান সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য করে তোলা মূল কারণগুলো সেই 'গবেষণার ক্ষেত্রের' ওপারে লুকায়িত যা সাধারণত পশ্চিমে ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা দিতে ব্যবহৃত হয়।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, চীনের মহাপ্রাচীরের পাদদেশে যে (প্রতিক্রিয়া) ঘটেছিল তার প্রভাব রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তে পৌঁছাতে প্রায় দুই শতাব্দী সময় লেগেছিল।
সুতরাং প্রত্যক্ষ কারণগুলোর পেছনে কিছু পরোক্ষ কারণ থাকে, যা ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে একটি অধিবিদ্যক বা মহাজাগতিক রূপ দান করে, তা সে যাই হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لقد تناولنا في دراسة سابقة هذا الموضوع من جانب الفرد، كيما نستخرج الشروط التي ينبغي عليه أن يسهم بها في نمو حضارة يعد هو فيها العامل الحاسم. ونحن هنا نتناول الناحيتين الأخريين، لكي ندرس التطور الحديث في العالم الإسلامي، آخذين بعين الاعتبار علاقات هذا التطور القائمة أو الممكنة مع الحركة العامة في التاريخ الإنساني.
وإنه لمما يشق علينا أن نعرف جذور هذه الحركة في المكان والزمان، وليس يفيدنا في شيء أن نتساءل هنا عما إذا كانت قد بدأت في مصر أو في غيرها، كل ما نقوم به هو أن نلاحظ استمرارها عبر الأجيال، فإذا ما أردنا أن نحدد أبعادها (التاريخية) وجدناها تشير إلى رقعة غير ثابتة، حتى إن ما نلاحظه من الاستمرار في حركة التاريخ العامة، قد يختفي وراء (انفصال) يظهر عندما ننظر إلى تعاقب مجالي الحضارة.
والواقع أن لنا هنا جانبين جوهريين: الجانب الميتافيزيقي أو الكوني، وهو جانب ذو هدف عام وذو غاية. والجانب (التاريخي) الاجتماعي، وهو جانب مرتبط بسلسلة من الأسباب.
والحضارة من هذا الجانب الأخير تتمثل أمامنا كأنها مجموعة عددية تتتابع في وحدات متشابهة، ولكنها غير متماثلة. وهكذا تتجلى لأفهامنا حقيقة جوهرية في التاريخ هي: (دورة الحضارة)، وكل دورة محددة بشروط نفسية زمنية خاصة بمجتمع معين، فهي (حضارة بهذه الشروط). ثم إنها تهاجر وتنتقل بقيمها إلى بقعة أخرى، وهكذا تستمر في هجرة لا نهاية لها، تستحيل خلالها شيئاً آخر، لتعد كل استحالة تركيباً خاصاً للإنسان والتراب والوقت.
ولقد يحدث أن يقوم بعض الكتاب ببتر المفهوم التاريخي، كما فعل (توسيديد) حين أبطل ماضي الإنسانية كله بقوله: ((إن حدثاً مهماً لم يقع في
আমরা ইতিপূর্বে একটি গবেষণায় এই বিষয়টি ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছি, যাতে আমরা সেই শর্তাবলি উদঘাটন করতে পারি যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে এমন একটি সভ্যতার বিকাশে অবদান রাখতে হয় যেখানে সে নিজেই চূড়ান্ত নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত। আর এখানে আমরা অন্য দুটি দিক নিয়ে আলোচনা করছি, যাতে মুসলিম বিশ্বে আধুনিক বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা যায়; এক্ষেত্রে মানব ইতিহাসের সাধারণ ধারার সাথে এই বিবর্তনের বিদ্যমান বা সম্ভাব্য সম্পর্কগুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
স্থান ও কালের নিরিখে এই আন্দোলনের শিকড় নির্ণয় করা আমাদের জন্য বেশ দুঃসাধ্য। এটি মিশরে শুরু হয়েছে নাকি অন্য কোথাও—সেই প্রশ্ন এখানে আমাদের কোনো উপকারে আসবে না। আমরা কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এর ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা যদি এর (ঐতিহাসিক) মাত্রাগুলো নির্ধারণ করতে চাই, তবে দেখব যে তা একটি অস্থির ভূখণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে। এমনকি ইতিহাসের সাধারণ ধারায় আমরা যে নিরবচ্ছিন্নতা লক্ষ্য করি, তা হয়তো একটি (বিচ্ছিন্নতা)-র অন্তরালে ঢাকা পড়ে যেতে পারে, যা সভ্যতার দুটি ক্ষেত্রের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রকৃতপক্ষে এখানে আমাদের দুটি মৌলিক দিক রয়েছে: অধিবিদ্যক বা মহাজাগতিক দিক, যা একটি সাধারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পন্ন; এবং সামাজিক (ঐতিহাসিক) দিক, যা কতগুলো কার্যকারণ পরম্পরার সাথে যুক্ত।
শেষোক্ত এই দিক থেকে সভ্যতা আমাদের সামনে এমন একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক সমষ্টির মতো প্রতীয়মান হয়, যা সদৃশ কিন্তু অভিন্ন নয় এমন কিছু এককের পর্যায়ক্রমিক ধারায় অগ্রসর হয়। এভাবেই ইতিহাসের একটি মৌলিক সত্য আমাদের উপলব্ধিতে ধরা দেয়, আর তা হলো: (সভ্যতার আবর্তন); প্রতিটি আবর্তন একটি নির্দিষ্ট সমাজের বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক ও কালগত শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ, ফলে তা হলো (উক্ত শর্তাবলি সাপেক্ষে একটি সভ্যতা)। অতঃপর এটি স্বীয় মূল্যবোধ নিয়ে অন্য কোনো জনপদে হিজরত বা স্থানান্তরিত হয়। এভাবে এটি এক অন্তহীন অভিপ্রয়াণ জারি রাখে, যার মধ্য দিয়ে এটি ভিন্ন কিছুতে রূপান্তরিত হয়, যাতে প্রতিটি রূপান্তর মানুষ, মাটি ও সময়ের এক বিশেষ সমন্বয় হিসেবে গণ্য হয়।
কখনো কখনো এমন ঘটে যে কিছু লেখক ঐতিহাসিক ধারণাকে খণ্ডিত করে ফেলেন, যেমনটি করেছিলেন (থুসিডাইডিস); তিনি এই বলে সমগ্র মানবজাতির অতীতকে অসার প্রতিপন্ন করেছিলেন যে: "এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেনি যা...
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العالم قبل عصره))، فمثل هذه الأقوال هي التي تخلق (ثقافة الامبراطورية)، تلك الثقافة التي تقوم على أساطير السيادة العنصرية، والاستعمار
… ناشر الحضارة .. !!
ومع ذلك فعندما تذهب الفلسفة الماركسية إلى أن (التطور التاريخي والاجتماعي) يبدأ من (الحيوانية البدائية) إلى عهد يسود فيه (الرخاء والضمير والحرية) فإنها تغفل فكرة (الدورة) الجوهرية، مع أن غاية هذه النظرة ونتيجتها تتعارض مع منطقها الجدلي ذاته.
كان ابن خلدون وحده، هو أول من استنبط فكرة (الدورة) في نظريته عن (الأجيال الثلاثة) إذ يختفي عمق الفكرة خلف مصطلحات ضيقة ضحلة؛ فقد رد نطاق الحضارة إلى حدود العصبية الأسرية، وعلى الرغم من ضيق هذه النظرة التي قد تعكس لنا عناصر النفس الإسلامية آنذاك، فإنها تدفعنا إلى تأكيد الجانب الانتقالي في الحضارة، أي إننا لا نرى فيها سوى تعاقب ظواهر عضوية، لكل منها بالضرورة في مجالها المعين بداية ونهاية.
وتأتي أهمية هذه النظرة من أنها تتيح لنا الوقوف على عوامل التقهقر والانحطاط، أي على قوى الجمود داخل الحضارة، إلى جانب شرائط النمو والتقدم، فهي تتيح لنا أن نجمع كلاً لا تتجزأ مراحله. ومن الملاحظ أن التعارض الداخلي بين أسباب الحياة والموت في أية عملية حيوية (بيولوجية)، هو الذي يؤدي بالكائن إلى قمة نموه ثم إلى نهاية تحلله، أما في المجال الاجتماعي، فإن هذه الحتمية محدودة بل مشروطة، لأن اتجاه التطور وأجله يخضعان لعوامل نفسية زمنية، يمكن للمجتمع المنظم أن يعمل في نطاقها حين يعدل حياته، ويسعى نحو غاياته في صورة متجانسة منسجمة.
هذه الملاحظات تدفعنا إلى أن ننتقد مسلك بعض الباحثين حين ينظرون
(যুগের চেয়ে অগ্রগামী মনীষী)), এই জাতীয় উক্তিগুলোই (সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতি) তৈরি করে; সেই সংস্কৃতি যা বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্বের রূপকথা এবং উপনিবেশবাদ
… সভ্যতার বিস্তারকারী—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে.. !!
তা সত্ত্বেও মার্কসীয় দর্শন যখন মনে করে যে (ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবর্তন) (আদিম পশুত্ব) থেকে শুরু হয়ে এমন এক যুগে গিয়ে পৌঁছায় যেখানে (প্রাচুর্য, বিবেক ও স্বাধীনতা) বিরাজ করে, তখন তা (আবর্তন বা চক্রের) মৌলিক ধারণাটিকে উপেক্ষা করে; যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষ্য ও ফলাফল তার নিজস্ব দ্বান্দ্বিক যুক্তির সাথেই সাংঘর্ষিক।
একমাত্র ইবনে খালদুনই সর্বপ্রথম তাঁর (তিন প্রজন্মের) তত্ত্বে (আবর্তন বা চক্রের) ধারণাটি উদ্ভাবন করেছিলেন, যদিও কিছু সংকীর্ণ ও অগভীর পরিভাষার অন্তরালে এই ধারণার গভীরতা ঢাকা পড়ে গেছে; তিনি সভ্যতার পরিধিকে গোষ্ঠীগত সংহতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা সত্ত্বেও—যা আমাদের কাছে তৎকালীন ইসলামি মনস্তত্ত্বের উপাদানগুলোকে প্রতিফলিত করতে পারে—তা আমাদের সভ্যতার বিবর্তনীয় বা ক্রান্তিকালীন দিকটি নিশ্চিত করতে উদ্বুদ্ধ করে; অর্থাৎ আমরা এতে জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহের পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ছাড়া আর কিছুই দেখি না, যার প্রতিটিরই নিজ নিজ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শুরু ও শেষ থাকা অনিবার্য।
এই দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব এখানে যে, এটি আমাদের পশ্চাৎগমন ও অবক্ষয়ের কারণসমূহ, অর্থাৎ সভ্যতার ভেতরের স্থবিরতার শক্তির পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির শর্তাবলি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এটি আমাদের এমন এক পূর্ণাঙ্গ সত্তাকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেয় যার পর্যায়গুলো অবিচ্ছেদ্য। লক্ষণীয় যে, যেকোনো জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) প্রক্রিয়ায় জীবন ও মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই একটি প্রাণসত্তাকে তার বিকাশের চরম শিখরে এবং পরবর্তীতে পচনের পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। তবে সামাজিক ক্ষেত্রে এই অনিবার্যতা সীমিত বরং শর্তযুক্ত; কারণ বিবর্তনের গতিপথ ও সময়সীমা মনস্তাত্ত্বিক ও সাময়িক কারণসমূহের ওপর নির্ভরশীল, একটি সুশৃঙ্খল সমাজ যখন তার জীবনধারা সংশোধন করে এবং সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তার লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে এই পরিসরের মধ্যেই কাজ করতে পারে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো আমাদের কিছু গবেষকের কর্মপন্থাকে সমালোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে যখন তারা দেখেন
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إلى ظاهرة (الحضارة) منفصلة عن ظاهرة (الانحطاط)؛ وإن العالم الإسلامي لفي مسيس الحاجة في هذه النقطة إلى أفكار واضحة تهدي سعيه نحو النهضة ولهذا فإن مما يهمنا في المقام الأول أن نتأمل الأسباب البعيدة التي حتمت تقهقره وانحطاطه.
فلقد عرف هذا العالم أول انفصال في تاريخه في معركة صفين عام 38 للهجرة، إذ كان يحمل بين جنبيه بعد قليل من سنوات ميلاده تعارضاً داخلياً؛ كانت (حمية الجاهلية) تصطرع مع (الروح القرآني)، فجاء معاوية، رضي الله عنه، فحطم ذلك البناء الذي قام لكي يعيش، ربما إلى الأبد، بفضل ما ضُمِّنه من توازن بين عنصر الروح وعنصر الزمن.
ومنذ ذلك الانفصال الأول- الذي سنعود إليه فيما بعد- فقد العالم الإسلامي توازنه الأولي، على الرغم من بقاء الفرد المسلم متمكساً في قرارة نفسه بعقيدته التي نبض بها قلبه المؤمن. ومع ذلك فنحن ندين لتلك (الحضارة) المنحرفة التي ازدهرت في دمشق في ظل الأمو ين باكتشاف النظام المئوي، وتطبيق المنهج التجريبي في الطب، واستخدام فكرة الزمن الرياضية (1)، وهذه هي المعالم الأولى للفكر الصناعي.
وربما اتضح لنا ذات يوم أن (تفاحة نيوتن) التي اكتشف بها عالم الفلك قوة الجاذبية الأرضية، ذات اتصال معين بما قام به (ابنا موسى) من أعمال علمية (2). ومع ذلك فإن هذه الحضارة ليست- من الناحية العضويه التاريخية
--------------------------------------------
'সভ্যতা' (حضارة) এবং 'অধঃপতন' (انحطاط) এর প্রেক্ষাপট দুটিকে পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন; বর্তমান এই মুহূর্তে মুসলিম বিশ্ব এমন কিছু স্বচ্ছ ধারণার তীব্র মুখাপেক্ষী যা তার রেনেসাঁ বা নবজাগরণের পথকে নির্দেশ করবে। এজন্যই আমাদের নিকট এখন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই সুদূরপ্রসারী কারণগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা যা মুসলিম বিশ্বের পশ্চাৎগমন ও অধঃপতনকে অবধারিত করে তুলেছিল।
এই জগত (মুসলিম উম্মাহ) হিজরি ৩৮ সনে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধে তার ইতিহাসের প্রথম বিচ্ছেদ প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন তার জন্মের মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই এর অভ্যন্তরে একটি অন্তর্দ্বন্দ্ব দানা বেঁধে উঠেছিল; যেখানে 'জাহিলি আভিজাত্যবোধ' (حمية الجاهلية) 'কুরআনিক চেতনা'র (الروح القرآني) সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অতঃপর মুআবিয়া (রা.) আসলেন এবং সেই ইমারতটিকে ভেঙে দিলেন যা হয়তো চিরকাল টিকে থাকার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; এবং যে ইমারতটি গড়ে উঠেছিল রূহানি উপাদান ও জাগতিক উপাদানের এক ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে।
আর সেই প্রথম বিচ্ছেদ থেকেই—যে বিষয়ে আমরা পরবর্তীতে আলোকপাত করব—মুসলিম বিশ্ব তার প্রাথমিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, যদিও ব্যক্তি মুসলিম তার অন্তরের অন্তঃস্থলে সেই আকিদা বা বিশ্বাসের প্রতি অবিচল ছিল যা তার মুমিন হৃদয়কে স্পন্দিত করত। তা সত্ত্বেও, দামেস্কে উমাইয়াদের শাসনামলে যে বিচ্যুত 'সভ্যতা' (حضارة) বিকশিত হয়েছিল, তার নিকট আমরা দশমিক পদ্ধতির উদ্ভাবন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগ এবং গাণিতিক সময়ের ধারণার (১) ব্যবহারের জন্য ঋণী; আর এগুলোই ছিল শিল্প-চিন্তার প্রাথমিক দিকচিহ্ন।
হয়তো কোনো একদিন আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিউটন যে 'আপেল' (تفاحة نيوتن) এর মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেছিলেন, তার সাথে 'বনু মুসা'র (ابنا موسى) বৈজ্ঞানিক কর্মকা-ের (২) একটি সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। তবে এই সভ্যতা—ঐতিহাসিক গঠনগত দিক থেকে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التي تهمنا- سوى صورة مشوهة عن البناء الأصلي الذي شاده القرآن، والذي قام على أساس من التوازن بين العقل والروح، أي على الأساس المزدوج، الروحي المادي، الضروري لكل بناء اجتماعي أهل للخلود.
والحق، أن العالم الإسلامي لم يقو على البقاء إبان تلك الأزمة الأولى في تاريخه وبعدها، إلا بفضل ما تبقى فيه من دفعة قرآنية حية قوية، وكان سر تماسكه رجال من أمثال عقبة بن نافع، وعمر بن عبد العزيز، والإمام مالك، رضي الله عنهم أجمعين، لا لأن أولهم كان فاتحاً كبيراً، والثاني خليفة عظيماً، والثالث إمام مدرسة كبرى في التشريع، بل لأن فضائل الإسلام الفطرية العظيمة قد تجسدت فيهم بصورة أو بأخرى.
هذا هو (عقبة)، وقد وقف في عاصمة الفاطميين المقبلة، التي زحف منها جيش المسلمين لفتح إفريقيا الشمالية، وقف يودع أبناءه الوداع الأخير، ثم صرخ وهو يمتطي صهوة جواده داعياً: ((اللهم تقبل عملي واجعلني في عبادك الصالحين)).
وعمر بن عبد العزيز، هو الذي ارتأى أن من الظلم أن يتولى أمراً، يخص في نظره- نسل علي، كرم الله وجهه، فآثر أن يتنازل عنه.
والإمام مالك، هو الذي تعرض للجلد في الأماكن العامة، لأنه دافع سلطاناً باغياً. تلكم هي الفضائل: احتقار مجد حان موعده، ورفض سلطة لا تقوى على حق، وتحدّ يجابه به ظالم باغ، وهي التي حفظت في العالم الإسلامي سر الحياة الذي أودعه فيه القرآن.
ومن هنا ندرك سر القيمة التي خص بها (عالم الاجتماع) محمد صلى الله عليه وسلم، الفضائل الخلقية باعتبارها قوة جوهرية في تكوين الحضارات. ولكن أوضاع القيم تنقلب في عصور الانحطاط لتبدو الأمور ذات خطر كبير، فإذا ما حدث هذا الانقلاب
আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো— পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে নির্মিত মূল কাঠামোর একটি বিকৃত প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর কিছুই নয়। যা গড়ে উঠেছিল বিবেক এবং আত্মার ভারসাম্যের ভিত্তিতে, অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ও পার্থিব এই দ্বৈত ভিত্তির ওপর, যা যেকোনো শাশ্বত সামাজিক কাঠামোর জন্য অপরিহার্য।
বস্তুত, মুসলিম বিশ্ব তার ইতিহাসের সেই প্রথম সংকটকালীন সময়ে এবং এর পরবর্তীকালে টিকে থাকতে সক্ষম হয়নি, কেবল তাতে অবশিষ্ট থাকা একটি শক্তিশালী ও জীবন্ত কুরআনী প্রেরণার বদৌলতেই তা সম্ভব হয়েছিল। আর এর সুদৃঢ় সংহতির মূলে ছিলেন উকবা ইবনে নাফি, উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর মতো মহান ব্যক্তিবর্গ। এটা কেবল এই কারণে নয় যে, তাঁদের প্রথমজন ছিলেন এক মহান বিজেতা, দ্বিতীয়জন ছিলেন এক মহান খলিফা এবং তৃতীয়জন ছিলেন বিধান প্রণয়নের একটি প্রধান শাস্ত্রীয় ধারার ইমাম; বরং এজন্য যে ইসলামের সুমহান স্বভাবজাত গুণাবলি তাঁদের চরিত্রে কোনো না কোনোভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।
এই সেই (উকবা), যিনি ফাতেমীয়দের ভবিষ্যৎ রাজধানীতে দাঁড়িয়েছিলেন—যেখান থেকে উত্তর আফ্রিকা বিজয়ের উদ্দেশ্যে মুসলিম বাহিনী অগ্রসর হয়েছিল—তিনি তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে উচ্চকণ্ঠে প্রার্থনা করলেন: “হে আল্লাহ! আমার আমল কবুল করুন এবং আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
আর উমর ইবনে আবদুল আজিজ ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মনে করেছিলেন যে এমন একটি বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করা অবিচার হবে, যা তাঁর দৃষ্টিতে আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর বংশধরদের প্রাপ্য; ফলে তিনি তা থেকে সরে দাঁড়ানোকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন।
এবং ইমাম মালিক ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব, যাঁকে জনসমক্ষে বেত্রাঘাত সহ্য করতে হয়েছিল, কারণ তিনি এক স্বৈরাচারী শাসকের বিরোধিতা করেছিলেন। এগুলিই হলো সেই মহৎ গুণাবলি: আসন্ন পার্থিব প্রতিপত্তিকে উপেক্ষা করা, সত্যবিবর্জিত ক্ষমতাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং জালেম ও স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আর এই গুণাবলিই মুসলিম বিশ্বে সেই জীবন-রহস্যকে টিকিয়ে রেখেছে, যা কুরআন তাদের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছিল।
আর এখান থেকেই আমরা সেই বিশেষ গুরুত্বের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারি যা (সমাজবিজ্ঞানী) মুহাম্মদ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নৈতিক গুণাবলির ওপর প্রদান করেছেন; যা সভ্যতা বিনির্মাণের এক মৌলিক শক্তি। তবে অবক্ষয়ের যুগে মূল্যবোধের মানদণ্ড উল্টে যায় এবং বিষয়গুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর যখনই এই বিপর্যয় ঘটে...
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
انهار البناء الاجتماعي، إذ هو لا يقوى على البقاء بمقومات الفن والعلم والعقل فحسب، لأن الروح، والروح وحده، هو الذي يتيح للإنسانية أن تنهض وتتقدم، فحيثما فقد الروح سقطت الحضارة وانحطت، لأن من يفقد القدرة على الصعود لا يملك إلا أن يهوي بتأثير جاذبية الأرض.
وعندما يبلغ مجتمع ما هذه المرحلة، أي عندما تكف الرياح التي منحته الدفعة الأولى عن تحريكه، تكون نهاية (دورة) وهجرة (حضارة) إلى بقعة أخرى، تبدأ فيها دورة جديدة، طبقاً لتركيب عضوي تاريخي جديد.
وفي البقعة المهجورة يفقد العلم معناه كله، فأينما توقف إشعاع الروح يخمد إشعاع العقل، إذ يفقد الإنسان تعطشه إلى الفهم، وإرادته للعمل عندما يفقد الهمة و (قوة الإيمان).
فالعقل يختفي لأن آثاره تتبدد في وسط لا يستطيع أن يفهمها أو يستخدمها، ومن هذا الوجه يبدو أن أفكار ابن خلدون قد جاءت إما مبكرة أو متأخرة عن أوانها: فلم تستطع أن تنطبع في العبقرية الإسلامية التي فقدت مرونتها الخاصة، ومقدرتها على التقدم والتجدد. حتى إذا وهنت الدفعة القرآنية توقف العالم الإسلامي، كما يتوقف المحرك عندما يستنزف آخر قطرة من الوقود. وما كان لأي معوض زمني أن يقوم خلال التاريخ مقام المنبع الوحيد للطاقة الإنسانية، ألا وهو: (الإيمان). ولذا لم تستطع (النهضة التيمورية) التي ازدهرت في القرن الرابع عشر حول مغاني سمرقند، أو الإمبراطورية العثمانية، كلاهما أن تمنح العالم الإسلامي (حركة) لم يعد هو في ذاته يملك مصدرها.
لقد بلغت عوامل التعارض الداخلية قمتها، وانتهت إلى وعدها المحتوم، وهو تمزق عالم واهن، وظهور مجتمع جديد ذي معالم وخصائص واتجاهات جديدة، ف كانت تلك مرحلة الانحطاط، إذ لم يعد الإنسان والتراب والوقت عوامل حضارة، بل أضحت عناصر خامدة ليس لها فيما بينها صلة مبدعة.
সামাজিক কাঠামোর পতন ঘটেছিল, কারণ এটি কেবল শিল্প, বিজ্ঞান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানের ওপর টিকে থাকতে সক্ষম নয়। কেননা রূহ (الروح), এবং কেবল রূহই (الروح) মানবতাকে জাগ্রত হতে এবং অগ্রসর হতে সাহায্য করে। যেখানেই রূহের (الروح) অভাব ঘটে, সেখানেই সভ্যতা (حضارة) ধসে পড়ে এবং তার অবক্ষয় ঘটে। কারণ যার ঊর্ধ্বগমনের সক্ষমতা হারিয়ে যায়, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে তার নিচে পতিত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
যখন কোনো সমাজ এই পর্যায়ে পৌঁছায়—অর্থাৎ যখন সেই বায়ুপ্রবাহ থেমে যায় যা তাকে প্রাথমিক চালিকাশক্তি প্রদান করেছিল—তখন একটি আবর্তনের (دورة) সমাপ্তি ঘটে এবং সভ্যতার (حضارة) হিজরত বা প্রস্থান ঘটে অন্য কোনো ভূখণ্ডের দিকে; যেখানে একটি নতুন ঐতিহাসিক জৈব কাঠামোর আলোকে পুনরায় নতুন আবর্তন (دورة) শুরু হয়।
সেই পরিত্যক্ত ভূখণ্ডে বিজ্ঞান তার যাবতীয় অর্থ হারিয়ে ফেলে। রূহের (الروح) বিচ্ছুরণ যেখানেই থেমে যায়, সেখানেই আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির (عقل) বিচ্ছুরণও নির্বাপিত হয়। কেননা মানুষ যখন তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা (همة) এবং ঈমানের শক্তি (قوة الإيمان) হারিয়ে ফেলে, তখন সে উপলব্ধির তৃষ্ণা এবং কর্মের ইচ্ছাশক্তিও হারিয়ে ফেলে।
ফলে আকল (عقل) অদৃশ্য হয়ে যায়, কারণ এমন এক পরিবেশে এর প্রভাব বিলীন হয়ে যায় যা এটি বুঝতে বা ব্যবহার করতে সক্ষম নয়। এই দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে খালদুনের চিন্তাধারা হয় সময়ের অনেক আগে এসেছিল অথবা অনেক দেরিতে। ফলে তা সেই ইসলামি প্রতিভার (العبقرية) মাঝে রেখাপাত করতে পারেনি যা তার নিজস্ব নমনীয়তা এবং প্রগতি ও পুনর্গঠনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি যখন কুরআনী প্রেরণা (الدفعة القرآنية) স্তিমিত হয়ে এল, তখন মুসলিম বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়ল; ঠিক যেভাবে জ্বালানির শেষ বিন্দুটি ফুরিয়ে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ইতিহাসের কোনো জাগতিক বিকল্পই মানব শক্তির একমাত্র উৎস তথা ঈমানের (الإيمان) স্থলাভিষিক্ত হতে পারেনি। তাই চতুর্দশ শতাব্দীতে সমরখন্দের উপকণ্ঠে বিকশিত তৈমুরি রেনেসাঁ কিংবা অটোমান সাম্রাজ্য—উভয়ের কেউই মুসলিম বিশ্বকে সেই গতিশীলতা (حركة) দান করতে পারেনি যার উৎস তার নিজের ভেতর আর অবশিষ্ট ছিল না।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের উপাদানগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তার অনিবার্য পরিণতির দিকে ধাবিত হয়েছিল; যা ছিল একটি দুর্বল বিশ্বের ছিন্নভিন্ন হওয়া এবং নতুন বৈশিষ্ট্য ও গতিপথ সম্পন্ন এক নতুন সমাজের আবির্ভাব। আর সেটিই ছিল পতনের (انحطاط) পর্যায়। কারণ তখন মানুষ, মাটি এবং সময় আর সভ্যতার (حضارة) উপাদান হিসেবে কার্যকর ছিল না, বরং সেগুলো প্রাণহীন উপাদানে পরিণত হয়েছিল যাদের মধ্যে কোনো সৃজনশীল সংযোগ অবশিষ্ট ছিল না।
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ومع ذلك فمن المناسب أن نزيل هنا لبساً قد يقع فيه بعض القراء: هو أن الإيمان لم يفقد مطلقاً سيطرته في العالم الإسلامي، حتى في عهود الانحطاط، بل إن هذه الملاحظة تصبح جوهرية حين يكون الأمر أمر تقويم أخروي للقيم الروحية، أما حين نتناول المشكلة من الوجهة التاريخية والاجتماعية فينبغي ألا نخلط نجاة المرء في عاقبة أمره بتطور المجتمعات.
فدور الدين الاجتماعي منحصر في أنه يقوم (بتركيب) يهدف إلى تشكيل قيم، تمر من الحالة الطبيعية إلى وضع نفسي زمني، ينطبق على مرحلة معينة لحضارة، وهذا التشكيل يجعل من (الإنسان) العضوي وحدة اجتماعية، ويجعل من (الوقت) - الذي ليس سوى مدة زمنية مقدرة (بساعات تمر) - وقتاً اجتماعياً مقدراً (بساعات عمل)، ومن (التراب) - الذي يقدم بصورة فردية مطلقة غذاء الإنسان في صورة استهلاك بسيط- مجالاً مجهزاً مكيفاً تكييفاً فنياً، يسد حاجات الحياة الاجتماعية الكثيرة، تبعاً لظروف عملية الإنتاج.
فالدين إذن هو (مركِّب) القيم الاجتماعية، وهو يقوم بهذا الدور في حالته الناشئة، حالة انتشاره وحركته، عندما يعبر عن فكرة جماعية.
أما حين يصبح الإيمان إيماناً جذبياً دون إشعاع، أعني نزعة فردية، فإن رسالته التاريخية تنتهي على الأرض، إذ يصبح عاجزاً عن دفع الحضارة وتحريكها، إنه يصبح إيمان رهبان، يقطعون صلاتهم بالحياة، ويتخلون عن واجباتهم ومسؤلياتهم، كأولئك الذين لجؤوا إلى صوامع المرابطين منذ عهد ابن خلدون.
فالتاريخ يبدأ بالإنسان المتكامل الذي يطابق دائماً بين جهده وبين مثله الأعلى وحاجاته الأساسية، والذي يؤدي في المجتمع رسالته المزدوجة، بوصفه ممثلاً
তা সত্ত্বেও, এখানে একটি বিভ্রান্তি নিরসন করা সমীচীন যা কোনো কোনো পাঠকের মনে উদয় হতে পারে: তা হলো, ঈমান কখনোই মুসলিম বিশ্বে তার প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি, এমনকি অবক্ষয়ের যুগেও নয়। বরং যখন আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের পারলৌকিক মূল্যায়নের বিষয়টি আসে, তখন এই পর্যবেক্ষণটি মৌলিক হয়ে ওঠে। তবে যখন আমরা সমস্যাটিকে ঐতিহাসিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করি, তখন পরিণতির বিচারে ব্যক্তির মুক্তিকে সমাজের বিবর্তনের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
সামাজিকভাবে ধর্মের ভূমিকা কেবল এই যে, এটি এমন একটি (সমন্বয়) সাধন করে যার লক্ষ্য হলো মূল্যবোধ গঠন করা; যা প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে একটি মনস্তাত্ত্বিক-কালগত অবস্থায় উপনীত হয় এবং সভ্যতার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। এই গঠন প্রক্রিয়াই জৈবিক (মানুষকে) একটি সামাজিক ইউনিটে রূপান্তরিত করে। আর (সময়কে) — যা নির্দিষ্ট (অতিক্রান্ত ঘণ্টা) ব্যতিরেকে আর কিছুই নয় — তা সামাজিক সময়ে (কাজের ঘণ্টায়) রূপান্তরিত করে। এবং (মাটিকে) — যা কেবল এককভাবে মানুষের সাধারণ ভোগের খোরাক জোগায় — তাকে একটি সুসজ্জিত ও কারিগরিভাবে বিন্যস্ত ক্ষেত্রে পরিণত করে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সামাজিক জীবনের বহুবিধ প্রয়োজন মেটায়।
অতএব, ধর্ম হলো সামাজিক মূল্যবোধের একটি (সমন্বয়ক)। এটি তার প্রারম্ভিক অবস্থায়, অর্থাৎ প্রচার ও প্রসারের গতিশীল পর্যায়ে এই ভূমিকা পালন করে, যখন এটি একটি সামষ্টিক চিন্তাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
কিন্তু যখন ঈমান কোনো বিকিরণ ছাড়া নিছক এক আত্মকেন্দ্রিক আকর্ষণে পরিণত হয়, অর্থাৎ একটি ব্যক্তিগত প্রবণতায় রূপ নেয়, তখন পৃথিবীতে এর ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটে। কেননা তখন এটি সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে বা গতিশীল করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এটি তখন সন্ন্যাসীদের ঈমানে পরিণত হয়, যারা জীবনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিত্যাগ করে; যেমনটি ইবনে খালদুনের যুগ থেকে মুরবিতুনদের খানকাহগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
ইতিহাস শুরু হয় সেই পূর্ণাঙ্গ মানুষের মাধ্যমে, যে সর্বদা তার প্রচেষ্টা এবং তার সুউচ্চ আদর্শ ও মৌলিক চাহিদার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং সমাজে তার দ্বিমুখী মিশন পালন করে; একজন প্রতিনিধি হিসেবে
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وشاهداً (1). وينتهي التاريخ بالإنسان المتحلل؛ بالجزيء المحروم من قوة الجاذبية، بالفرد الذي يعيش في مجتمع منحل، لم يعد يقدم لوجوده أساساً روحياً، أو أساساً مادياً.
فليس أمامه حينئذ إلا أن يفر إلى صوامع المرابطين، أو إلى أي مستقر آخر، وهذا الفرار صورة فردية للتمزق الاجتماعي.
--------------------------------------------
এবং একজন সাক্ষী (شاهد) (১)। আর ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটে বিশ্লিষ্ট মানুষের মাধ্যমে; মহাকর্ষ বল বর্জিত অণুর মাধ্যমে, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে যে এক বিশৃঙ্খল সমাজে বসবাস করে, যা তার অস্তিত্বের জন্য আর কোনো আধ্যাত্মিক ভিত্তি কিংবা বস্তুগত ভিত্তি প্রদান করে না।
এমতাবস্থায় তার সামনে মুরবিতদের (সীমান্তরক্ষীদের) মঠ বা অন্য কোনো আশ্রয়ের দিকে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। আর এই পলায়ন হলো সামাজিক ভাঙনের এক ব্যক্তিগত চিত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উইজহাতুল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
إنسان ما بعد الموحدين(يا للهول، لقد اقتربت الساعة التي لن يطلق الإنسان بعدها سهم هواه فوق رؤوس البشر، ويومئذ تكف أوتار قوسه عن الرنين).
((نيتشه))
ــ
عندما نقوم بتحليل نشاط الأفراد وأذواقهم في بيئة معينة، نجد عوائد سائدة، تنتقل فيما بينهم كابراً عن كابر، فهناك وراثة اجتماعية، كما أن هناك وراثة جسمية.
ومن اليسير علينا أن نلاحظ هذا الأمر في بلاد كانجلترا، حيث (يميل) الناس إلى المحافظة، كما أن هذا (الميل) أكثر ظهوراً في العالم الإسلامي، خلال عصور الانحطاط، حينما أصيبت الأوضاع الاجتماعية كلها بالجمود.
على أن هذين الشكلين من أشكال (الميل) ليسا من نوع واحد، إذ أن أحدهما يدل على الكفاءة، والآخر يدل على العطل؛ فالإنجليزي يتمسك بمجموعة من التقاليد، يراها ضرورية للتوازن القومي المطبوع بطابع الحركة، وهو يتمسك بها عن طيب خاطر، على حين أن الفرد في المجتمع الإسلامي عاجز عن التقدم، والتخلي عما تعارف عليه الناس، عاجز عن اجتياز مراحل تاريخية جديدة، عاجز عن ابتكار المعاني والأشياء الجديدة وتمثلها، فالميل إلى المحافظة هنا ليس إرادياً، بل هو حقيقة افتقار ونقص.
মুওয়াহহিদ-উত্তর যুগের মানুষ(হায় কী আতঙ্ক! সেই সময় ঘনিয়ে এসেছে যখন মানুষ আর অন্যের মাথার ওপর তার প্রবৃত্তির তীর নিক্ষেপ করবে না; সেদিন তার ধনুকের ছিলার ঝংকারও স্তব্ধ হয়ে যাবে।)
((নিৎশে))
--
যখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড এবং রুচি বিশ্লেষণ করি, তখন আমরা সেখানে কিছু প্রচলিত রীতিনীতি দেখতে পাই, যা তাদের মাঝে বংশপরম্পরায় স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং সেখানে যেমন শারীরিক বংশগতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে সামাজিক বংশগতিও।
ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে আমাদের জন্য বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা সহজ, যেখানে মানুষ রক্ষণশীলতার প্রতি (ঝোঁক) পোষণ করে। মুসলিম বিশ্বে অবক্ষয়ের যুগে এই (প্রবণতা) আরও প্রকটভাবে প্রকাশ পেয়েছিল, যখন সমগ্র সামাজিক অবস্থা স্থবিরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল।
তবে এই দুই প্রকারের (প্রবণতা) একজাতীয় নয়; কারণ এর একটি সক্ষমতার পরিচায়ক এবং অন্যটি অক্ষমতার। ইংরেজরা এমন কিছু ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে থাকে যেগুলোকে তারা গতিশীলতার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত জাতীয় ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য মনে করে এবং তারা তা স্বেচ্ছায় পালন করে। পক্ষান্তরে, মুসলিম সমাজের ব্যক্তিরা অগ্রসর হতে এবং জনসমাজে প্রচলিত প্রথাগুলো বর্জন করতে অক্ষম; তারা ইতিহাসের নতুন স্তরগুলো অতিক্রম করতে এবং নতুন ধারণা ও বস্তু উদ্ভাবন ও আত্মস্থ করতে অপরাগ। ফলে এখানে রক্ষণশীলতার প্রতি এই ঝোঁকটি ঐচ্ছিক নয়, বরং তা মূলত রিক্ততা ও অপূর্ণতারই বাস্তব চিত্র।