(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على من ينكر حجية السنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: الرد على من ينكر حجية السنة
المؤلف: عبد الغني محمد عبد الخالق [ت 1403 هـ]
وهو مستل من كتاب: حجية السنة، للمؤلّف
مطبوع بآخر كتاب: دفاع عن السنة، لمحمد أبي شهبة
الناشر: مكتبة السنة
الطبعة: الأولى، 1989 م
عدد الصفحات: 510
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433
সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকারকারীদের খণ্ডন বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকারকারীদের খণ্ডন
লেখক: আবদুল গনি মুহাম্মদ আবদুল খালিক [মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি]
এটি লেখকের নিমোক্ত গ্রন্থ থেকে সংকলিত: হুজজিয়াতুস সুন্নাহ
মুহাম্মদ আবু শাহবার নিমোক্ত গ্রন্থের শেষে মুদ্রিত: দিফাআন আনিস সুন্নাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১০
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ মহরম ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
[القِسْمُ الثَّالِثُ] (*): بَيَانُ الشُّبَهِ التِي أَوْرَدَهَا بَعْضُ مَنْ يُنْكِرُ حُجِيَّةَ السُنَّةِ وَالرَدِّ عَلَيْهَا:
تأليف الدكتور / عبد الغني محمد عبد الخالق
--------------------------------------------
[তৃতীয় বিভাগ] (*): সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারী কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক উত্থাপিত সংশয়সমূহের বর্ণনা এবং সেগুলোর খণ্ডন:
রচনা: ডক্টর আব্দুল গনি মুহাম্মদ আব্দুল খালিক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
قد تبين مما تقدم (*) أن حُجِّيَّةَ السُنَّةِ [ضرورة] دينية. وتبين لك أدلة حجيتها بأجلى بيان: بحيث لا يبقى معه في قلب مؤمن شبهة أو شك.
غير أن بعض من تظاهر بالإسلام والمحافظة عليه، وتطهيره مما طرأ عليه من تغيير وتبديل - يورد لضعاف العقول من المسلمين شبهًا يبطل بها حُجِّيَّةَ السُنَّةِ.
وإن ممن تأثر بهذه الشبهة الدكتور محمد توفيق صدقي: حيث أخض ينشرها في مجلة " المنار " (1)، ويزكيها ويدافع عنها تحت عنوان «الإسلام هو القرآن وحده» ظنًا منه أنه بذلك يخدم دينه ويدافع عنه.
ولو أننا ضربنا صفحًا عن حكاية هذه الشبه، وبيان فسادها، لكان منا رأيًا متينًا، ومذهبًا صحيحًا. إذ الإعراض عن القول المُطَّرَحِ أحرى لإماتته وإخمال ذكر قائله، وأجدر أن لا يكون ذلك تنبيهًا للجهال عليه.
غير أنا لما تخوفنا من شرور العواقب، واغترار الجهلة بمحدثات الأمور وإسراعهم إلى اعتقاد خطأ المخطئين والأقوال الساقطة عند العلماء، رأينا الكشف عن فساد هذه الشبهة، وَرَدِّ هذه الأقوال بقدر ما يليق بها من الرد، أجدى على الأنام، وأحمد للعاقبة إن شاء الله» (2).
فلا يتأثر بها شخص آخر مثله: ممن هو بعيد عن الفقه وأصوله ولا يدري م الدين وتعاليمه إلا القشور.
…--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পূর্বের আলোচনা (*) থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية السنة) একটি দ্বীনি অপরিহার্যতা (ضرورة)। আর আপনার নিকট এর প্রামাণ্যতার দলীলসমূহ (أدلة) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে; যার ফলে কোনো মুমিনের অন্তরে এ বিষয়ে আর কোনো সংশয় (شبهة) বা সন্দেহ (شك) অবশিষ্ট থাকে না।
তবে যারা ইসলামের অনুসারী হওয়ার এবং একে রক্ষা করার ও এতে অনুপ্রবেশ করা পরিবর্তন-পরিবর্ধন থেকে একে পবিত্র করার বাহ্যিক দাবি করে, তাদের কেউ কেউ স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন মুসলিমদের সামনে এমন কিছু সংশয় (شبهات) উত্থাপন করে, যার মাধ্যমে তারা সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে (حجية السنة) বাতিল করতে চায়।
আর এই সংশয় (شبهة) দ্বারা যারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডক্টর মুহাম্মদ তৌফিক সিদকি; তিনি 'আল-মানার' (১) সাময়িকীতে এগুলো প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং 'ইসলাম কেবল কুরআনই' শিরোনামে এগুলোকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা ও এর পক্ষে সাফাই গান। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, এর মাধ্যমে তিনি তার দ্বীনের সেবা করছেন এবং একে রক্ষা করছেন।
আমরা যদি এই সংশয়গুলো (شبهات) উল্লেখ করা এবং এগুলোর অসারতা বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতাম, তবে সেটিই হতো আমাদের পক্ষ থেকে এক বলিষ্ঠ অভিমত ও সঠিক পন্থা। কেননা, কোনো পরিত্যক্ত (مطرح) উক্তি থেকে বিমুখ থাকাই সেটিকে মিটিয়ে দেওয়ার এবং তার প্রবক্তার নামকে বিস্মৃত করার জন্য অধিকতর উপযোগী, আর এটি মূর্খদেরকে সেই ভ্রান্তির প্রতি সজাগ না করার জন্যও অধিকতর উপযুক্ত।
কিন্তু আমরা যখন এর মন্দ পরিণতির আশঙ্কা করলাম এবং নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর (محدثات الأمور) প্রতি মূর্খদের প্রলুব্ধ হওয়া এবং ভুলকারীদের ভুল ও আলিমদের নিকট অগ্রহণযোগ্য (ساقطة) উক্তিগুলো বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে তাদের দ্রুতধাবিত হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করলাম, তখন আমরা এই সংশয়ের (شبهة) অসারতা উন্মোচন করা এবং এই উক্তিগুলোর যথাযোগ্য খণ্ডন (رد) পেশ করাকেই মানুষের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং পরিণামের দিক থেকে প্রশংসনীয় মনে করেছি, ইনশাআল্লাহ (২)।
ফলে তার মতো অন্য কোনো ব্যক্তি যেন এর দ্বারা প্রভাবিত না হয়— যারা ফিকহ (فقه) ও এর উসুল (أصول) থেকে দূরে অবস্থান করে এবং দ্বীন ও এর শিক্ষা সম্পর্কে কেবল ভাসাভাসা জ্ঞান রাখে।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
الشُبْهَةُ الأُولَى: قَوْلُهُمْ بِأَنَّ الكِتَابَ قَدْ حَوَى كُلَّ شَيْءٍ مِنْ أُمُورِ الدِّينِ … :
أن الله تعالى يقول: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (1) ويقول: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} (2).
وذلك يدل على أن الكتاب قد حوى كل شيء من أمور الدين، وكل حكم من أحكامه، وأنه قد بينه بيانًا تامًا، وفصله تفصيلاً واضحًا: بحيث لا يحتاج إلى شيء آخر مثل السُنَّةِ ينص على حكم من أحكام الدين أو يبينه ويفصله، وإلا: لكان الكتاب مفرطا فيه، ولما كان تبيانا لكل شيء، فيلزم الخلف في خبره تعالى. وهو محال.
…
الجواب:أنه ليس المراد من الكتاب - في الآية الأولى -: القرآن، بل المراد به: اللوح المحفوظ، فإنه الذي حوى كل شيء، واشتمل على جميع أحوال المخلوقات كبيرها وصغيرها، جليلها ودقيقها، ماضيها وحاضرها ومستقبلها، على التفصيل التام، كما قال صلى الله عليه وسلم: «جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ».
وهذا هو المناسب لذكر هذه الجملة عقب قوله: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ} (3). فإن أظهر الأقوال - في معنى المثلية هنا: أن أحوال الدواب من العمر والرزق والأجل والسعادة والشقاء، موجودة في الكتاب المحفوظ مثل أحوال البشر في ذلك كله.
ولو سلمنا أن المراد به القرآن - كما هو في الآية الثانية: فلا يمكن حمل الآيتين على ظاهرهما: من العموم، وأن القرآن اشتمل على بيان وتفصيل كل شيء، وكل حكم، سواء أكان ذلك من أمور الدين أم من أمور الدنيا، وأنه لم يفرط في
--------------------------------------------
প্রথম সংশয়: তাদের এই দাবি যে, কিতাব (কুরআন) দ্বীনের যাবতীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে… :
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} (১) এবং তিনি বলেন: {আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ} (২)।
এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, কিতাব দ্বীনের যাবতীয় বিষয় এবং এর প্রতিটি বিধান (حكم)-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছে এবং এর প্রতিটি বিষয় এমন স্পষ্টভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে যে, সুন্নাহ (السنة)-র মতো অন্য কোনো বিষয়ের প্রয়োজন নেই যা দ্বীনের কোনো বিধান (حكم) সরাসরি বর্ণনা করবে অথবা এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ দেবে। অন্যথায়, কিতাবে অসম্পূর্ণতা থেকে যেত এবং এটি সবকিছুর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা হতো না; ফলে আল্লাহ তাআলার বাণীতে বৈপরিত্য দেখা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা অসম্ভব।
…
উত্তর:প্রথম আয়াতে 'কিতাব' দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: লাওহে মাহফুজ। কেননা তা-ই প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে এবং সৃষ্টির যাবতীয় অবস্থা—তা ছোট হোক বা বড়, মহান হোক বা সূক্ষ্ম, অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—সবকিছু পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিখে কলম শুকিয়ে গেছে।»
আর এই বাক্যটি আল্লাহর এই বাণীর পরপর উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ: {ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানায় ভর করে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো এক একটি উম্মত নয়} (৩)। কেননা এখানে 'সদৃশ হওয়া'-র অর্থের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট অভিমত হলো: হায়াত, রিজক, আয়ু, সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যের ক্ষেত্রে প্রাণীকুলের অবস্থাও লাওহে মাহফুজে মানুষের অবস্থার মতোই বিদ্যমান।
আর যদি আমরা মেনেও নেই যে এখানে 'কিতাব' দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য—যেমনটি দ্বিতীয় আয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—তবুও আয়াত দুটিকে তাদের বাহ্যিক ব্যাপক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব নয় যে, কুরআন প্রতিটি বিষয় এবং প্রতিটি বিধান (حكم)-এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা ও বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছে, চাই তা দ্বীনি বিষয় হোক বা দুনিয়াবি বিষয় হোক, আর এতে কোনো কিছুই বাদ পড়েনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
شيء منها جميعها. وإلا للزم الخلف في خبره تعالى. كما هو ظاهر بالنسبة للأمور الدنيوية، وكما يعلم مما سبق في بيان أن القرآن يتعذر العمل به وحده بالنسبة للأحكام الدينية. فيجب العدول عن ظاهرهما، وتأويلهما.
وللعلماء في تأويلهما وجوه:
الوجه الأول: أن المراد: أنه لم يفرط في شيء من أمور الدين وأحكامه، وأنه بَيَّنَهَا جميعها دون ما عداها، لأن المقصود من إنزال الكتاب: بيان الدين، ومعرفة الله، ومعرفة أحكام الله
إلا أن هذا البيان على نوعين:
بيان بطريق النص، وذلك: مثل بيانه أصول الدين وعقائده، وبيانه وجوب الصلاة والزكاة والصوم والحج، وحل البيع والنكاح، وحرمة الربا والفواحش، وحل أكل الطيبات وحرمة أكل الخبائث.
وبيان بطريق الإحالة على دليل من الأدلة الأخرى التي اعتبرها الشارع في كتابة أدلة وَحُجَجًا على خلقه. فكل حكم - مما بينته السنة أو الإجماع أو القياس أو غير ذلك من الأدلة المعتبرة: فالقرآن مبين له. لأنه بين مدركه ووجهنا نحوه، وأرشدنا إليه، وأوجب علينا العمل به. ولولا إرشاده لهذا المدرك، وإيجابه العمل بمقتضاه: لما علمنا ذلك الحكم وعملنا به. فالقرآن إذن هو: أساس التشريع، وإليه ترجع جميع أحكام الشريعة الإسلامية بهذا المعنى.
قال الشافعي (1): " فليست تنزل بأحد من أهل دين الله نازلة، إلا وفي كتاب الله الدليل على سبيل الهدى فيها. قال الله تبارك وتعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (2) وقال: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (3)، وقال: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً
--------------------------------------------
এগুলোর কোনো কিছুই (বাদ পড়েনি)। অন্যথায় আল্লাহ তাআলার সংবাদে বৈপরিত্য দেখা দেবে। পার্থিব বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এটি যেমন সুস্পষ্ট, তেমনি ইতিপূর্বে প্রদত্ত বর্ণনা থেকেও এটি জানা যায় যে, ধর্মীয় বিধিবিধানের ক্ষেত্রে শুধু কুরআনের ওপর আমল করা অসম্ভব। তাই এগুলোর বাহ্যিক অর্থ পরিহার করে ব্যাখ্যা (تأويل) করা ওয়াজিব।
এ দুটির ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে আলেমদের বেশ কিছু দিক রয়েছে:
প্রথম দিক: এর অর্থ হলো, দ্বীনি বিষয়াবলি ও তার বিধিবিধানের কোনো কিছুই উপেক্ষা করা হয়নি এবং এটি কেবল এগুলোকেই বর্ণনা করেছে, অন্য কিছু নয়। কেননা কিতাব অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্যই হলো—দ্বীন স্পষ্ট করা, আল্লাহকে চেনা এবং আল্লাহর বিধানাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়া।
তবে এই বর্ণনা দুই প্রকার:
সরাসরি পাঠের (نص) মাধ্যমে বর্ণনা। যেমন—দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও আকিদাহর বর্ণনা এবং সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজের আবশ্যকতা; ক্রয়-বিক্রয় ও বিবাহের বৈধতা; সুদ ও অশ্লীলতার নিষিদ্ধতা এবং পবিত্র বস্তু ভক্ষণের বৈধতা ও অপবিত্র বস্তু ভক্ষণের নিষিদ্ধতার বর্ণনা।
অন্য কোনো দলিলের (دليل) দিকে সোপর্দ করার মাধ্যমে বর্ণনা, যেগুলোকে শারিয়াতদাতা তাঁর কিতাবে সৃষ্টির জন্য দলিল (دليل) ও প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করেছেন। সুন্নাহ (سنة), ঐক্যমত (إجماع), অনুমান (قياس) বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিলের (دليل) মাধ্যমে যেসব বিধান বর্ণিত হয়েছে—কুরআন মূলত সেগুলোরও বর্ণনাকারী। কারণ কুরআন এগুলোর উৎস বর্ণনা করেছে, আমাদের সেদিকে পথনির্দেশ করেছে এবং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব করেছে। যদি কুরআন এই উৎসের দিকে দিকনির্দেশনা না দিত এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব না করত, তবে আমরা সেই বিধান সম্পর্কে জানতে পারতাম না এবং সে অনুযায়ী আমলও করতে পারতাম না। অতএব, কুরআনই হলো শরিয়ত প্রণয়নের মূল ভিত্তি এবং এই অর্থেই ইসলামের যাবতীয় বিধান এই অর্থে কুরআনের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
ইমাম শাফেয়ী (১) বলেন: "আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর এমন কোনো সমস্যা আপতিত হয় না, যার হেদায়েতের পথের দিশা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান নেই। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {এটি একটি কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনেন।} (২) তিনি আরও বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।} (৩) তিনি আরও বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাবটি নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত ও রহমত হিসেবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (1) وقال: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (2).
«والبيان اسم جامع لمعان مجتمعة الأصول متشبعة الفروع، فأقل ما في تلك المعاني المجتمعة المتشبعة: أنها بيان لمن خوطب بها - ممن نزل القرآن بلسانه - متقاربة الاستواء عنده وإن كان بعضها أشد تأكيد بيان من بعض. ومختلفة عند من يجهل لسان العرب».
«فجماع ما أبان الله لخلقه في كتابه مما تعبدهم به بما مضى في حكمه جل ثناؤه - من وجوه:
(فمنها): ما أبانه لخلقه نَصًّا. مثل جمل فرائضه في أن عليهم صلاة وزكاة وَحَجًّا وَصَوْمًا، وأنه حرم الفواحش ما ظهر منها وما بطن، ونص الزنا والخمر وأكل الميتة والدم ولحم الخنزير، وَبَيَّنَ لهم كيف فرض الوضوء، مع غير ذلك مما بين نَصًّا».
«ومنها: ما أحكم فرضه بكتابه، وبين كيف هو على لسان نبيه، مثل عدد الصلاة والزكاة ووقتها وغير ذلك من فرائضه التي أنزل من كتابه».
«ومنها: ما سن رسول الله صلى الله عليه وسلم مما ليس لله فيه نص حكم، وقد فرض الله في كتابة طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم والانتهاء إلى حكمه. فمن قبل عن رسول الله فبفرض الله قبل».
«ومنها: ما فرض الله على خلقه الاجتهاد في طلبه، وابتلى طاعتهم في الاجتهاد كما ابتلى طاعتهم في غيره مما فرض عليهم. فغنه يقول تبارك وتعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ} (3)،
--------------------------------------------
...এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।} (১) আর তিনি বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহ (ওহী) অবতীর্ণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে একটি আলো বানিয়েছি, যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন।} (২).
«আর আল-বায়ান (সুস্পষ্ট বর্ণনা) হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা কতগুলো সমষ্টিগত মূলসমূহ (أصول) এবং বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা (فروع) বিশিষ্ট অর্থকে শামিল করে। সেই সমষ্টিগত ও বিস্তৃত অর্থগুলোর মধ্যে ন্যূনতম বিষয় হলো: যাঁর প্রতি এগুলো সম্বোধন করা হয়েছে—যাঁর ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে—তাঁর কাছে এটি একটি স্পষ্ট বর্ণনা (بيان)। তাঁর নিকট এর বিষয়গুলো প্রায় সমপর্যায়ের, যদিও এর কিছু অংশ অন্য অংশের তুলনায় অধিকতর তাকিদপূর্ণ স্পষ্ট বর্ণনা (بيان)। তবে যারা আরবদের ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের কাছে এটি ভিন্নতর মনে হয়।»
«সুতরাং আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর সৃষ্টির জন্য যা কিছু স্পষ্ট করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদের ইবাদতকে বাধ্যতামূলক করেছেন—তাঁর পূর্বনির্ধারিত হুকুম অনুযায়ী—সেগুলো কয়েক প্রকারের:
(তার মধ্যে একটি হলো): যা তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য অকাট্য পাঠ (نص) হিসেবে স্পষ্ট করেছেন। যেমন তাঁর ফরযসমূহের সমষ্টি—যে তাদের ওপর সালাত, যাকাত, হজ ও সওম পালন করা আবশ্যক; এবং তিনি প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন। তিনি যিনা, মদ, মৃত প্রাণী, রক্ত ও শুকরের মাংস ভক্ষণকে অকাট্যভাবে (نص) নিষিদ্ধ করেছেন। আর তিনি তাদের জন্য ওযুর নিয়মাবলি ফরয হিসেবে অকাট্য বর্ণনার (نص) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং এর বাইরেও যা কিছু অকাট্য বর্ণনার (نص) মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন।»
«আরেকটি হলো: যার ফরয হওয়া তিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করেছেন এবং তা পালনের পদ্ধতি তাঁর নবীর যবানে বর্ণনা করেছেন। যেমন সালাত ও যাকাতের সংখ্যা, তাদের সময় এবং তাঁর কিতাবে নাযিলকৃত অন্যান্য ফরযসমূহ।»
«আরেকটি হলো: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ (سن) করেছেন অথচ সে বিষয়ে আল্লাহর কিতাবে কোনো অকাট্য বিধান (نص) নেই। অথচ আল্লাহ তাঁর কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা এবং তাঁর ফয়সালা মেনে নেওয়া ফরয করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর ফরয করা বিধান হিসেবেই তা গ্রহণ করল।»
«আরেকটি হলো: যা অন্বেষণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর গবেষণা বা শ্রমপ্রয়োগ (اجتهاد) করা ফরয করেছেন এবং এই শ্রমপ্রয়োগের (اجتهاد) মাধ্যমে তাদের আনুগত্যকে পরীক্ষা করেছেন, যেমনটি তিনি তাদের ওপর ফরয করা অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়েছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যকার জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের জেনে নেই এবং তোমাদের অবস্থা যাচাই করি} (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০০)
وقال: {وَلِيَبْتَلِيَ اللَّهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ} (1)، وقال: {عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} (2)، إلى آخر ما قال.
ثم قال: (3) «البيان الرابع: كل ما سَنَّ رسول الله مما ليس فيه كتاب. وفيما كتبنا في كتابنا هذا - من ذكر ما مَنَّ الله به على العباد: من تعلم الكتاب والحكمة - دليل على أن الحكمة سُنَّةُ رسول الله، مع ما ذكرنا مما افترض الله على خلقه من طاعة رسوله وبين من موضعه الذي وضعه الله به من دينه - الدليل على أن البيان في الفرائض المنصوصة في كتاب الله من أحد هذه الوجوه:
(منها): ما أتى الكتاب على غاية البيان فيه، فلم يحتج مع التنزيل فيه إلى غيره.
(ومنها): ما أتى على غاية البيان في فرضه وافترض طاعة رسوله. فبين رسول الله عن الله: كيف فرضه وعلى من فرضه؟ ومتى؟ يزول بعضه ويثبت ويجب؟
(ومنها): ما بينه عن سنة نبيه بلا نص كتاب، وكل شيء منها بيان في كتاب الله، فكل من قبل عن الله فرائضه في كتابه: قبل عن رسول الله سننه بفرض الله طاعة رسوله على خلقه، وأن ينتهوا إلى حكمه، ومن قبل عن رسول الله فعن الله قبل لما افترض الله من طاعته. فيجمع القبول لما في كتاب الله ولسنة رسول الله القبول لكل واحد منهما عن الله، وإن تفرقت فروع الأسباب التي قبل بها عنهما. كما أحل وحرم وفرض وحد بأسباب متفرقة. كما شاء - جَلَّ ثَنَاؤُهُ - {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (4) [الأنبياء: 23]. اهـ.
ومن هذا الكلام الأخير تعلم الجواب عما قاله الدكتور صدقي في مقاله (5): «لم كان بعض الدين قرآنا والبعض الآخر حديثا؟ وما الحكمة في ذلك؟».
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: {যাতে আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশোধন করেন} (১), এবং তিনি বলেছেন: {সম্ভবত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকে যমীনে স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কীভাবে আমল করো} (২), তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর তিনি বলেন: (৩) «চতুর্থ বর্ণনা (البيان): রাসূলুল্লাহ যা কিছু সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যার বিষয়ে কিতাবে (কুরআনে) কিছু নেই। আমরা আমাদের এই কিতাবে যা লিখেছি — বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে যে, তিনি তাদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিয়েছেন — তা এই বিষয়ের দলিল যে হিকমাহ হলো রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ (سنة)। এর সাথে আমরা আরও উল্লেখ করেছি যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর রাসূলের আনুগত্য ফরয (افترض) করেছেন এবং তাঁর দ্বীনে তাঁকে যে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন তাও বর্ণনা করেছেন — যা এই বিষয়ের দলিল যে, আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত ফরযসমূহের (الفرائض) বর্ণনা (البيان) নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলোর কোনো একটির মাধ্যমে হয়েছে:
(তন্মধ্যে): যা কিতাবে (কুরআনে) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, ফলে ওহী (التنزيل) অবতীর্ণ হওয়ার পর সে বিষয়ে অন্য কিছুর প্রয়োজন হয়নি।
(তন্মধ্যে): যা ফরয (فرض) হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্য করাকে ফরয (افترض) করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: কীভাবে তা ফরয (فرض) হয়েছে? কার ওপর ফরয হয়েছে? কখন? কখন তার কিছু অংশ রহিত হবে এবং কখন তা বহাল ও অপরিহার্য (يجب) হবে?
(তন্মধ্যে): যা তিনি তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) এর মাধ্যমে কিতাবের কোনো সুস্পষ্ট নস (نص) ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। এর প্রতিটি বিষয়ই আল্লাহর কিতাবেরই বর্ণনা (بيان)। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত ফরযসমূহ (فرائض) গ্রহণ করে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির ওপর রাসূলের আনুগত্য ফরয (فرض) করার কারণে এবং তাঁর বিধানের (حكم) প্রতি অনুগত হওয়ার নির্দেশের কারণে রাসূলুল্লাহর সুন্নাহসমূহকেও (سنن) গ্রহণ করে। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করল, কারণ আল্লাহই তাঁর আনুগত্য ফরয (افترض) করেছেন। সুতরাং আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা গ্রহণ করা এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহকে (سنة) গ্রহণ করা — এ উভয়টিই আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করার অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও এই দুই উৎস থেকে গ্রহণের আনুষঙ্গিক কারণগুলো ভিন্নতর হয়। যেমন তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কারণে হালাল করেছেন, হারাম করেছেন, ফরয (فرض) করেছেন এবং দণ্ডবিধি (حد) নির্ধারণ করেছেন — তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক — {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} (৪) [সূরা আল-আম্বিয়া: ২৩]। সমাপ্ত।
এবং এই সর্বশেষ আলোচনা থেকে ডক্টর সিদকির নিবন্ধে (৫) করা সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যায়: «দ্বীনের কিছু অংশ কেন কুরআন এবং বাকি অংশ কেন হাদিস হলো? আর এর পেছনের হিকমাহ কী?»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০১)
وقد حكي أن الشافعي رحمه الله كَانَ جَالِسًا فِي المَسْجِدِ الحَرَامِ فَقَالَ: «لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَاّ أَجَبْتُكُمْ فِيهِ مِنْ كِتَابِ اللهِ»، فَقَالَ رَجُلٌ: «مَا تَقُولُ فِي المُحْرِمِ إِذَا قَتَلَ الزُّنْبُورَ؟» فَقَالَ: «لَا شَيْءَ عَلَيْهِ»، فَقَالَ: «أَيْنَ هَذَا فِي كِتَابِ اللهِ؟» فَقَاَل: قَالَ اللهُ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ
… }. ثم ذكر إسنادًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ مِنْ بَعْدِي» ثم ذكر إسنادًا إلى عمر رضي الله عنه أنه قال: «لِلْمُحْرِمِ قَتْلُ الزَّنْبُورِ». فأجابه من كتاب الله مستنبطًا بثلاث درجات، وقد حكي عن ابن مسعود في لعنة الواشمة والمستوشمة نحو ذلك مما تقدم ذكره (*).
قَالَ الْوَاحِدِيُّ: وَلَيْسَ [لِلْجَلْدِ] (**) وَالتَّغْرِيبِ ذِكْرٌ فِي نَصِّ الْكِتَابِ، وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ كُلَّ مَا حَكَمَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ عَيْنُ كِتَابِ اللَّه
وقد روي في حديث العسيف الزاني: " أن أباه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: اقض بيننا بكتاب الله. فقال عليه السلام «لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ» ثم قضى بالجلد والتغريب على العسيف، وبالرجم على المرأة إن اعترفت. قَالَ الْوَاحِدِيُّ: «وَلَيْسَ [لِلْجَلْدِ] (**) وَالتَّغْرِيبِ ذِكْرٌ فِي نَصِّ الْكِتَابِ، وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ كُلَّ مَا حَكَمَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ عَيْنُ كِتَابِ اللَّه» (1). اهـ.
…الوجه الثاني: أن الكتاب لم يُفَرِّطْ في شيء من أمور الدين على سبيل الإجمال، وَبَيَّنَ جميع كليات الشريعة دون النص على جزئياتها وتفاصيلها. ومن المعلوم أنَّ ذلك لا يكفي في استنباط المجتهد مَا يُقَوِّمَ العبادة، وَيُحرِّرُ المُعَامَلَةَ. فَلَا بُدَّ له من الرجوع إلى مَا يُبيِّنُ له المُجْمَلَ وَيُفَصِّلَهُ لَهُ، وَيُبيِّنُ جزئيات هذه الكليات. وسيأتي عند الكلام على كون السُنَّة مُسْتَقِلَّةٌٌ بالتشريع - بيان آراء العلماء في هذا الوجه.
قال أبو سليمان الخطابي - في " معالم السُنن " (2) - «سمعتُ ابن الأعرابي
--------------------------------------------
وقد حكي أن الشافعي رحمه الله كَانَ جَالِسًا فِي المَسْجِدِ الحَرَامِ فَقَالَ: «لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَاّ أَجَبْتُكُمْ فِيهِ مِنْ كِتَابِ اللهِ»، فَقَالَ رَجُلٌ: «مَا تَقُولُ فِي المُحْرِمِ إِذَا قَتَلَ الزُّنْبُورَ؟» فَقَالَ: «لَا شَيْءَ عَلَيْهِ»، فَقَالَ: «أَيْنَ هَذَا فِي كِتَابِ اللهِ؟» فَقَاَل: قَالَ اللهُ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ
… }. ثم ذكر إسنادًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ مِنْ بَعْدِي» ثم ذكر إسنادًا إلى عمر رضي الله عنه أنه قال: «لِلْمُحْرِمِ قَتْلُ الزَّنْبُورِ». فأجابه من كتاب الله مستنبطًا بثلاث درجات، وقد حكي عن ابن مسعود في لعنة الواشمة والمستوشمة نحو ذلك مما تقدم ذكره (*).
বর্ণিত আছে যে, ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) মসজিদে হারামে বসা ছিলেন। তিনি বললেন: «তোমরা আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করবে, আমি আল্লাহর কিতাব থেকেই তোমাদের উত্তর দেবো», তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: «ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তি (মুহরিম) যদি ভীমরুল হত্যা করে, তবে সে বিষয়ে আপনার অভিমত কী?» তিনি বললেন: «তার উপর কোনো দায় নেই», লোকটি বললেন: «এটি আল্লাহর কিতাবের কোথায় আছে?» তিনি উত্তর দিলেন: আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন— {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো
…}। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত একটি সূত্র (إسناد) উল্লেখ করলেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরো»। তারপর তিনি ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত একটি সূত্র (إسناد) উল্লেখ করলেন যে, তিনি বলেছেন: «ইহরাম গ্রহণকারীর জন্য ভীমরুল হত্যা করা বৈধ»। অতঃপর তিনি তিন স্তরে অর্থ আহরণের (استنباط) মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব থেকেই এর উত্তর প্রদান করলেন। ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উল্কি অঙ্কনকারী ও উল্কি গ্রহণকারী নারীর অভিশাপ সম্পর্কে ইতিপূর্বে বর্ণিত ঘটনার ন্যায় অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে (*)।
ওয়াহিদী বলেন: আল্লাহর কিতাবের মূল পাঠে (نص) বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের কোনো উল্লেখ নেই। এটি প্রমাণ করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু বিধান দিয়েছেন, তা মূলত আল্লাহর কিতাবেরই নির্যাস।
ব্যভিচারী শ্রমিকের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তার পিতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন। তখন নবী (আলাইহিস সালাম) বললেন: «আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করবো» অতঃপর তিনি শ্রমিকের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের এবং নারীটি যদি স্বীকারোক্তি দেয় তবে তার ক্ষেত্রে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড বা রজম-এর ফয়সালা দেন। ওয়াহিদী বলেন: «আল্লাহর কিতাবের মূল পাঠে (نص) বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের কোনো উল্লেখ নেই। এটি প্রমাণ করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু বিধান দিয়েছেন, তা মূলত আল্লাহর কিতাবেরই নির্যাস» (১)। সমাপ্ত।
…দ্বিতীয় দিক: কিতাব (কুরআন) দ্বীনের কোনো বিষয়কেই সামগ্রিক বিচারে (إجمال) বাদ দেয়নি এবং শরীয়তের সমস্ত মৌলিক বিষয়সমূহ (كليات) বর্ণনা করেছে, তবে সেগুলোর খুটিনাটি ও বিস্তারিত শাখা-প্রশাখা (جزئيات) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন গবেষক আলেম বা মুজতাহিদের (مجتهد) পক্ষে ইবাদত শুদ্ধ করা এবং লেনদেন সংশোধন করার জন্য শুধুমাত্র এতটুকু বিষয় যথেষ্ট নয়। তাই তাকে অবশ্যই এমন উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে যা তার কাছে সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহকে (مجمل) ব্যাখ্যা করবে ও বিস্তারিত (تفصيل) করে দেবে এবং এই মৌলিক বিষয়গুলোর শাখা-প্রশাখাগুলোও স্পষ্ট করবে। সুন্নাহ যখন স্বতন্ত্র বিধান প্রণয়নের (مستقلة بالتشريع) উৎস হয়—সে বিষয়ে আলোচনার সময় এই প্রসঙ্গের উপর আলেমদের মতামত বিস্তারিত আসবে।
আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী — "মাআলিমুস সুনান" (২) গ্রন্থে — বলেন: «আমি ইবনে আরাবীকে বলতে শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০২)
يقول ونحن نسمع منه هذا الكتاب (يعني " سنن أبي داود ") فأشار إلى النسخة وهي بين يديه: «لو أن رجلا لم يكن عنده من العلم إلا المصحف الذي فيه كتاب الله ثم هذا الكتاب: لم يحتج معهما إلى شيء من العلم بتة. وهذا كما قال شك فيه: لأن الله تعالى أنزل كتابه تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ، وَقَالَ: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (1) فأخبر سبحانه أنه لم يغادر شيئا من أمر الدين لم يتضمن بيانه الكتاب إلا أن البيان على ضربين: بيان جَلِيٌّ تناوله الذكر نَصًّا، وبيان خفي اشتمل عليه معنى التلاوة ضمنا، فما كان من هذا الضرب كان تفصيل بيانه موكولا إلى النبي وهو معنى قوله سبحانه: لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون فمن جمع بين الكتاب والسنة فقد استوفى وجهي البيان». اهـ.
الوجه الثالث - وقد حكاه الألوسي (2) عن بعضهم -: أن الأمور إما دينية أو دنيوية. والدنيوية لا اهتمام للشارع بها: إذ لم يبعث له. والدينية إما أَصْلِيَّةٌ أَوْ فَرْعِيَّةٌ. والاهتمام بالفرعية دون الاهتمام بالأصلية: فإن المطلوب أولاً بالذات من بعثة الأنبياء هو التوحيد وما أشبهه، بل المطلوب من خلق العباد هو معرفته تعالى، كما يشهد له قوله سبحانه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} (3) بناء على تفسير كثير " العبادة ": بالمعرفة. وقوله تعالى - في الحديث القدسي المشهور على الألسنة المصحح من طريق الصوفية: «كُنْتُ كَنْزًا مَخْفِيًّا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُعْرَفَ. فَخَلَقْتُ الْخَلْقَ لأُعَرِّفَ» (*) والقرآن العظيم: قد تكفل بالأمور الدينية الأصلية على أتم وجه. فليكن المراد من «كُلِّ شَيْءٍ» ذلك.
--------------------------------------------
তিনি বলেন, আমরা যখন তাঁর নিকট থেকে এই কিতাবটি (অর্থাৎ "Sunan Abi Dawud") শুনছিলাম, তখন তিনি তাঁর সামনে থাকা পাণ্ডুলিপির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: «যদি কোনো ব্যক্তির কাছে আল্লাহর কিতাব সম্বলিত মাসহাফ এবং এই কিতাবটি ব্যতীত আর কোনো জ্ঞান না থাকে, তবে এই দুটির পাশাপাশি তার অন্য কোনো জ্ঞানের আদৌ প্রয়োজন হবে না।» আর বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ নাযিল করেছেন এবং বলেছেন: {আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} (১)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি দ্বীনের বিষয়ের এমন কিছুই ছেড়ে যাননি যার বর্ণনা কিতাবে অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে বর্ণনা বা ব্যাখ্যা দুই প্রকার: একটি হলো সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان جلي) যা সুস্পষ্ট পাঠের মাধ্যমে (نصا) উল্লেখ করা হয়েছে, আর অন্যটি হলো প্রচ্ছন্ন বর্ণনা (بيان خفي) যা তিলাওয়াতের অর্থের ভেতরে অন্তর্নিহিতভাবে (ضمنا) বিদ্যমান। সুতরাং যা এই দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব নবীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে; আর এটাই আল্লাহ সুবহানাহুর এই বাণীর মর্ম: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে}। অতএব, যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর মাঝে সমন্বয় করল, সে বর্ণনার উভয় দিককেই পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করল। ইতি।
তৃতীয় দিক — যা আল-আলুসি (২) জনৈক আলিমের বরাতে উল্লেখ করেছেন — হলো: বিষয়সমূহ হয় দ্বীনি অথবা দুনিয়াবী। দুনিয়াবী বিষয়াবলির প্রতি শরীয়ত প্রদাতার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই; কারণ তিনি সেজন্য প্রেরিত হননি। আর দ্বীনি বিষয়সমূহ হয় মৌলিক (أصلية) অথবা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত (فرعية)। শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়ের গুরুত্ব মৌলিক বিষয়ের গুরুত্বের চেয়ে কম। কেননা নবীগণের প্রেরণের মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাওহীদ ও তদ্রূপ বিষয়সমূহ। বরং বান্দাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহ তাআলাকে চেনা, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহুর এই বাণী সাক্ষ্য দেয়: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} (৩) — অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে 'ইবাদত'-এর ব্যাখ্যা হলো 'মারিফাত' বা পরিচয় লাভ করা। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী — যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধ এবং সূফি তরীকার মাধ্যমে বিশুদ্ধ সাব্যস্তকৃত (مصحح) কুদসি হাদিস: «আমি একটি লুক্কায়িত ভাণ্ডার ছিলাম, অতঃপর আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম, তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম যাতে তারা আমাকে চিনতে পারে।» (*) আর মহান কুরআন পূর্ণাঙ্গভাবে মৌলিক (أصلية) দ্বীনি বিষয়াবলির জিম্মাদারী গ্রহণ করেছে। সুতরাং "প্রতিটি বিষয়" বলতে যেন এটিই উদ্দেশ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৩)
الشُّبْهَةُ الثَّانِيَةُ: قَوْلُهُمْ إِنَّ اللهَ تَكَفَّلَ بِحِفْظِ القُرْآنِ دُونَ السُنَّةِ … :
أن الله تعالى تكفل بحفظ القرآن دون السُنَّةِ. كما يدل عليه قوله سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1) ولو كانت السُنَّةُ حُجَّةً ودليلاً مثل القرآن: لتكفل الله بحفظها اَيْضًا.
…
الجَوَابُ:أن الله تعالى قد تكفل بحفظ الشريعة كلها: كتابها وسنتها. كما يدل عليه قوله تعالى: {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَاّ أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (2). ونور الله: شَرْعُهُ وَدِينُهُ الذي ارتضاه للعباد وكلفهم به وضمنه مصالحهم، والذي أوحاه إلى رسوله - من قرآن أو غيره -: ليهتدوا به إلى ما فيه خيرهم وسعادتهم في الدنيا والآخرة.
وأما قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} فللعلماء في ضمير الغيبة فيه - قولان:
أحدهما: أنه يرجع إلى محمد صلى الله عليه وسلم فلا يصح التمسك بالآية حينئذ.
ثانيهما: أنه يرجع إلى الذكر، فإن فسرناه بالشريعة كلها - من كتاب وسنة - فلا تمسك بها اَيْضًا. وإن فسرناه بالقرآن فلا نسلم أن في الآية حصرا حَقِيقِيًّا. أي: بالنسبة لكل ما عدا القرآن. فإن الله تعالى قد حفظ أشياء كثيرة مما عداه: مثل حفظه النبي صلى الله عليه وسلم من الكيد والقتل، وحفظه العرش والسموات والأرض من الزوال إلى أن تقوم الساعة. والحصر الإضافي بالنسبة إلى شيء مخصوص، يحتاج إلى دليل وقرينة على هذا الشيء المخصوص ولا دليل عليه سواء أكان سنة أم غيرها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংশয়: তাদের দাবি যে আল্লাহ তাআলা সুন্নাহ ব্যতীত কেবল কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন … :
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্নাহ ব্যতীত কেবল কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণী নির্দেশ করে: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী} (১)। আর সুন্নাহ যদি কুরআনের ন্যায় প্রমাণ (حجة) ও দলিল (دليل) হতো, তবে আল্লাহ সেটির সংরক্ষণের দায়িত্বও গ্রহণ করতেন।
…
উত্তর:নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সমগ্র শরিয়তের সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন: এর কিতাব ও সুন্নাহ উভয়ই। যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা নির্দেশিত হয়: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} (২)। আর আল্লাহর নূর হলো: তাঁর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তাদের তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যাতে তাদের কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। যা তিনি তাঁর রাসূলের প্রতি ওহি (وحي) করেছেন—চাই তা কুরআন হোক বা অন্য কিছু—যাতে তারা এর মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে তাদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথে পরিচালিত হতে পারে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী}-এর ক্ষেত্রে এতে বিদ্যমান নামপুরুষের সর্বনাম (ضمير الغيبة) সম্পর্কে আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমত: এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। সেক্ষেত্রে এই আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করা সঠিক হবে না।
দ্বিতীয়ত: এটি যিকর (الذكر)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। যদি আমরা যিকর-এর ব্যাখ্যা সমগ্র শরিয়ত—কিতাব ও সুন্নাহ—দ্বারা করি, তবে সেক্ষেত্রেও এটি দ্বারা (তাদের দাবির সপক্ষে) প্রমাণ পেশ করা চলে না। আর যদি আমরা এর ব্যাখ্যা শুধু কুরআন দ্বারা করি, তবে আমরা এটি মেনে নেব না যে এই আয়াতে কোনো প্রকৃত সীমাবদ্ধতা (حصر حقيقي) বিদ্যমান। অর্থাৎ: কুরআন ব্যতীত অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআন ছাড়াও অন্য অনেক বিষয় সংরক্ষণ করেছেন: যেমন ষড়যন্ত্র ও হত্যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করা এবং কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত বিলুপ্তি থেকে আরশ, আসমান ও জমিনকে রক্ষা করা। আর বিশেষ কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত আপেক্ষিক সীমাবদ্ধতা (حصر إضافي)-এর জন্য সেই বিশেষ বিষয়ের ওপর প্রমাণ ও সূত্রের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সুন্নাহ হোক বা অন্য কিছু—এক্ষেত্রে এমন কোনো দলিল নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৪)
فتقديم الجار والمجرور ليس للحصر، وإنما هو لمناسبة رؤوس الآي.
بل: لو كان في الآية حصر إضافي بالنسبة إلى شيء مخصوص: لما جاز أن يكون هذا الشيء هو السُنَّةُ. لأن حفظ القرآن متوقف على حفظها، ومستلزم له: بما أنها حصنه الحصين، ودرعه المتين، وحارسه الأمين، وشارحه المبين: تفصل مجمله، وتفسر مشكله، وتوضح مبهمه، وتقيد مطلقه، وتبسط مختصره. وتدفع عنه عبث العابثين، ولهو اللاهين، وتأويلهم إياه على حسب أهوائهم وأغراضهم، وما تمليه عليهم رؤساؤهم وشياطينهم، فحفظها من أسباب حفظه، وصيانتها صيانة له.
ولقد حفظها الله تعالى كما حفظ القرآن: فلم يذهب منها - وَللهِ الحَمْدُ - شيء على الأمة، وإن لم يستوعبها كل فرد على حدة.
قال الشافعي (1) في صدد الكلام على لسان العرب:
«ولسان العرب: أوسع الألسنة مذهبا، وأكثرها ألفاظا، ولا نعلمه يحيط بجميع علمه إنسان غير نبي، ولكنه لا يذهب منه شيء على عامتها، حتى لا يكون موجودا فيها من يعرفه».
«والعلم به - عند العرب - كالعلم بالسنة عند أهل الفقه: لا نعلم رجلا جمع السنن: فلم يذهب منها عليه شيء».
«فإذا جُمِعَ علم عامة أهل العلم بها: أتى على السنن، وإذا فرق علم كل واحد منهم: ذهب عليه الشيء منها. ثم كان ما ذهب عليه منها موجودا عند غيره».
«وهم في العلم طبقات: (منهم): الجامع لأكثره وإن ذهب عليه بعضه
--------------------------------------------
এখানে 'যার ও মজরুর' (অন্বয়ী পদ) এর অগ্রায়ন সীমাবদ্ধতা (الحصر) বুঝানোর জন্য নয়, বরং তা কেবল আয়াতের অন্ত্যমিলের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য।
বরং: যদি আয়াতে কোনো বিশেষ বিষয়ের প্রেক্ষিতে আপেক্ষিক সীমাবদ্ধতা (حصر إضافي) থেকেও থাকে, তবে সেই বিষয়টি সুন্নাহ হওয়া সমীচীন নয়। কারণ কুরআনের সংরক্ষণ সুন্নাহর সংরক্ষণের ওপর নির্ভরশীল এবং তা এর জন্য অপরিহার্য। যেহেতু সুন্নাহ হলো কুরআনের এক সুদৃঢ় দুর্গ, মজবুত ঢাল, বিশ্বস্ত প্রহরী এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানকারী: এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়ের ব্যাখ্যা করে, দ্ব্যর্থবোধক (مبهم) বিষয়কে স্পষ্ট করে, শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (مقيد) করে এবং সংক্ষেপিত (مختصر) বিষয়কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। এটি কুরআন থেকে বিকৃতিকারীদের অনর্থক কাজ, খেলতামাশাকারীদের কৌতুক এবং তাদের প্রবৃত্তির লালসা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী অপব্যাখ্যা এবং তাদের নেতা ও শয়তানদের প্ররোচনাকে প্রতিহত করে। অতএব, সুন্নাহর সংরক্ষণ কুরআনের সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ মূলত কুরআনেরই রক্ষণাবেক্ষণ।
আল্লাহ তাআলা সুন্নাহকে সেভাবেই সংরক্ষণ করেছেন যেভাবে তিনি কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন। ফলে উম্মতের নিকট থেকে এর কোনো কিছুই হারিয়ে যায়নি—আল্লাহরই সকল প্রশংসা—যদিও তা প্রতিটি ব্যক্তি পৃথকভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করতে পারেনি।
ইমাম শাফেঈ (১) আরবি ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনার ধারায় বলেছেন:
«আরবি ভাষা হলো প্রয়োগের দিক থেকে সকল ভাষার চেয়ে প্রশস্ততর এবং সর্বাধিক শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ। নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এই ভাষার পূর্ণ জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। তবে এই ভাষার কোনো কিছুই সর্বসাধারণের নিকট থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না, এমন হয় না যে কোনো শব্দের অর্থ জানে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই।»
«আরবদের নিকট ভাষার জ্ঞান হলো ফিকহবিদদের নিকট সুন্নাহর জ্ঞানের মতো: আমরা এমন কোনো ব্যক্তির কথা জানি না যিনি সমস্ত সুন্নাহকে একত্রিত করেছেন অথচ তার নিকট থেকে এর কোনো কিছুই বাদ পড়েনি।»
«যখন এই বিষয়ে সকল বিজ্ঞ আলেমদের ইলমকে একত্রিত করা হয়, তখন তা সমস্ত সুন্নাহকে পরিবেষ্টন করে। আর যখন তাদের প্রত্যেকের ইলমকে আলাদাভাবে দেখা হয়, তখন তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকেই সুন্নাহর কিছু অংশ অজানা থেকে যায়। এরপর তার অজানায় থাকা সেই অংশটুকু অন্য কারো কাছে সংরক্ষিত থাকে।»
«আর তারা ইলমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের (طبقات): তাদের মধ্যে কেউ এমন আছেন যিনি অধিকাংশ বিষয়ই সংগ্রহ করেছেন, যদিও তার থেকে কিছু অংশ অজানা রয়ে গেছে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৫)
(ومنهم): الجامع الأقل مما جمع غيره. وليس قليل ما ذهب - من السنن - على من جمع أكثرها: دليلاً على أن يطلب علمه عند غير طبقته من أهل العلم.
بل يطلب عند نظرائه ما ذهب عليه، حتى يؤتى على جميع سنن رسول الله (بِأَبِي هُوَ وَأُمِّي): فيتفرد جملة العلماء بجمعها، وهم درجات فيما وعوا منها». اهـ.
وكما أن الله تعالى قيض للكتاب العزيز، العدد الكثير والجم الغفير: من ثقات الحفظة، في كل قرن -: لينقلوه كاملاً من السلف إلى الخلف: كذلك قيض سبحانه للسنة الشريفة مثل هذا العدد - أو أكثر -: من ثقات الحفظة، فقصروا أعمارهم - وهي الطويلة - على البحث والتنقيب عن الصحيح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: ينقلونه عمن كان مثلهم في الثقة والعدالة، إلى أن يصلوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. حتى ميزوا لنا الصحيح من السقيم، ونقلوه إلينا: سليمًا من كل شائبة، عَارِيًا عن أي شك وشبهة، واستقر الأمر، وأسفر الصبح لذي عينين.
ولأن الله تعالى قد حفظ سنة رسوله كما حفظ القرآن، وجعلها حصنه ودرعه، وحارسه وشارحه -: كانت الشجي في حلوق الملحدين، والقذى في عيون المتزندقين، والسيف القاطع: لِشُبَهِ المنافقين، وتشكيكات الكائدين.
فلا غرو إذا لم يألوا جُهْدًا، ولم يدخروا وُسْعًا: في الطعن في حجيتها، والتهوين من أمرها، والتنفير من التمسك بها، والاهتداء بهديها: لينالوا من القرآن ما يريدون، ومن هدم الدين ما ينشدون، {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَاّ أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (1).
…--------------------------------------------
(তাদের মধ্যে রয়েছে): সেই সংকলক যিনি অন্যের তুলনায় অল্প সংকলন করেছেন। আর যে ব্যক্তি সুন্নাহর অধিকাংশ সংকলন করেছেন, তার নিকট থেকে যে সামান্য অংশ বাদ পড়েছে, তা এই বিষয়ের দলিল নয় যে, তার স্তরের (طبقة) বাইরের আলেমদের নিকট সেই ইলম অনুসন্ধান করতে হবে।
বরং তার থেকে যা ছুটে গেছে তা তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছেই তালাশ করতে হবে, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (যাঁর জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক)-এর সমস্ত সুন্নাহ সংকলিত হয়। ফলে আলেম সমাজ সামগ্রিকভাবে তা সংকলনের ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবেন, আর তারা যা সংরক্ষণ করেছেন সে অনুযায়ী তারা বিভিন্ন স্তরের (درجات)। সমাপ্ত।
আর মহান আল্লাহ যেমন তাঁর মহাগ্রন্থের জন্য প্রত্যেক যুগে বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফেজদের নির্ধারণ করেছেন, যাতে তারা তা সালাফ থেকে উত্তরসূরীদের নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দেন; তেমনিভাবে তিনি সুন্নাহর জন্যও অনুরূপ বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফেজদের নির্ধারণ করেছেন। তারা তাদের দীর্ঘ আয়ু ব্যয় করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) হাদিস অনুসন্ধান ও গবেষণার কাজে। তারা এটি তাদের মতোই নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণতায় (عدالة) গুণান্বিত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেন, যতক্ষণ না তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে। এমনকি তারা আমাদের জন্য সহিহ (صحيح) হাদিসকে অসুস্থ বা ত্রুটিযুক্ত (سقيم) থেকে পৃথক করেছেন এবং তা আমাদের কাছে এমনভাবে পৌঁছে দিয়েছেন যা সকল প্রকার ত্রুটিমুক্ত এবং সন্দেহ-সংশয় বর্জিত। এর ফলে বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নদের জন্য সত্য প্রভাতের ন্যায় স্পষ্ট হয়েছে।
যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে অবিকল কুরআনের মতো সংরক্ষণ করেছেন এবং একে এর দুর্গ, বর্ম, প্রহরী ও ব্যাখ্যাকারক বানিয়েছেন; তাই তা নাস্তিকদের গলার কাঁটা, ধর্মদ্রোহীদের চোখের বালি এবং মুনাফিকদের সংশয় ও ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা নস্যাৎ করার জন্য এক শাণিত তলোয়ারে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তারা এর প্রামাণিকতার (حجية) ওপর আঘাত হানতে, একে তুচ্ছজ্ঞান করতে এবং একে আঁকড়ে ধরা ও এর মাধ্যমে হেদায়াত লাভের পথ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেনি; যাতে তারা কুরআন সম্পর্কে তাদের কুমতলব হাসিল করতে পারে এবং দ্বীন ধ্বংসের যে লক্ষ্য তারা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করতে পারে। "কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।" (১)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৬)
الشُّبْهَةُ الثَّالِثَةُ: قَوْلُهُمْ: لَوْ كَانَتْ السُنَّةُ حُجَّةً لأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكِتَابَتِهَا وَلَعَمِلَ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ عَلَى جَمْعِهَا وَتَدْوِينِهَا!!:
[قَالُوا]: لو كانت السنة حجة لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بكتابتها، ولعمل الصحابة والتابعون - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - من بعد على جمعها وتدوينها. فإن حجيتها تستدعي الاهتمام بها والعناية بحفظها والعمل على صيانتها حتى لا يعبث بها العابثون ولا يبدلها المبدلون - ولا ينساها الناسون ولا يخطئ فيها المقصرون. وحفظها وصيانتها إنما يكون بالأمر بتحصيل سبيل القطع بثبوتها للمتأخرين. فإن ظني الثبوت لا يصح الاحتجاج به كما يدل عليه قوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} (1) وقوله: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَاّ الظَّنَّ} (2) ولا يحصل القطع بثبوتها إلا بكتابتها وتدوينها كما هو الشأن في القرآن. لكن التالي باطل. فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقتصر على عدم الأمر بكتابتها بل تعدى ذلك إلى النهي عنها والأمر بمحو ما كتب منها. وكذلك فعل الصحابة والتابعون. ولم يقتصر الأمر منهم على ذلك بل امتنع بعضهم من التحديث بها أو قَلَّلَ منه ونهى الآخرين عن الإكثار منه. ولم يحصل تدوينها وكتابتها إلا بعد مضي مدة طويلة تكفي لأن يحصل فيها من الخطأ والنسيان والتلاعب والتبديل والتغيير ما يورث الشك في أي شيء منها وعدم القطع به ويجعلها جديرة بعدم الاعتماد عليها وأخذ حكم منها.
فهذا الذي حصل من النبي صلى الله عليه وسلم ومن الصحابة والتابعين يدل على أن الشارع قد أراد عدم حصول سبيل القطع بثبوتها. وهذه الإرادة تدل على أنه لم يعتبرها وأراد أن لا تكون حجة.
وإليك من الأحاديث والآثار ما يقنعك بما ادعينا حصوله من النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين:
روى مسلم عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَكْتُبُوا عَنِّي، وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي غَيْرَ الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ، وَحَدِّثُوا عَنِّي، وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ».
--------------------------------------------
তৃতীয় সংশয়: তাদের বক্তব্য: যদি সুন্নাহ দলিল (حجة) হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন এবং সাহাবী ও তাবিঈগণ এটি সংগ্রহ ও সংকলনের (تدوين) কাজ করতেন!!:[তারা বলে]: যদি সুন্নাহ দলিল (حجة) হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন এবং পরবর্তী সময়ে সাহাবী ও তাবিঈগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এটি সংগ্রহ ও সংকলনের (تدوين) কাজ করতেন। কারণ এর দলিল (حجية) হওয়ার দাবি রাখে যে এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হবে, এটি সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া হবে এবং এটি রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করা হবে যাতে কোনো বিকৃতকারী এতে কারসাজি করতে না পারে, কোনো পরিবর্তনকারী এটি বদলে দিতে না পারে, কোনো বিস্মরণশীল ব্যক্তি এটি ভুলে না যায় এবং কোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তি এতে ভুল না করে। আর এটি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেবল তখনই সম্ভব যখন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এর প্রামাণিকতায় নিশ্চিত হওয়ার পথ (سبيل القطع بثبوتها) অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হবে। কেননা যা প্রামাণিকতায় ধারণাপ্রসূত (ظني الثبوت), তা দলিল (احتجاج) হিসেবে পেশ করা সঠিক নয়, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী নির্দেশ করে: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না" (১) এবং তাঁর বাণী: "তারা কেবল ধারণার (الظن) অনুসরণ করে" (২)। আর এর প্রামাণিকতায় নিশ্চিত (القطع بثبوتها) হওয়া কেবল এটি লিখন ও সংকলনের (تدوين) মাধ্যমেই সম্ভব, যেমনটি কুরআনের ক্ষেত্রে হয়েছে। কিন্তু এর পরবর্তী বিষয়টি বাতিল (অসত্য)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এটি লিখে রাখার নির্দেশের অভাবের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি তা নিষেধ করেছেন এবং যা কিছু লেখা হয়েছিল তা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবী ও তাবিঈগণও অনুরূপ করেছেন। বিষয়টি কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন অথবা তা কমিয়ে দিতেন এবং অন্যদের অধিক হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করতেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে এর সংকলন (تدوين) ও লিখন সম্পন্ন হয়নি, যা ভুল, বিস্মৃতি, কারসাজি, বদল এবং পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট, যা এর যে কোনো অংশে সংশয় এবং এর প্রামাণিকতায় অনিশ্চয়তা (عدم القطع به) তৈরি করে এবং একে নির্ভরতা না রাখা এবং এর থেকে কোনো বিধান গ্রহণ না করার উপযোগী করে তোলে।
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে তা প্রমাণ করে যে, বিধানদাতা এর প্রামাণিকতায় নিশ্চিত হওয়ার পথ (سبيل القطع بثبوتها) হাসিল না হওয়াটাই চেয়েছেন। আর এই ইচ্ছা প্রমাণ করে যে, তিনি একে নির্ভরযোগ্য গণ্য করেননি এবং একে দলিল (حجة) হিসেবে চাননি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবিঈগণের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে বলে আমরা দাবি করেছি, সে বিষয়ে আপনার সন্তুষ্টির জন্য কিছু হাদিস ও বর্ণনা (آثار) তুলে ধরা হলো:
মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ছাড়া কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। আর তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করো, তাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كُنَّا قُعُودًا نَكْتُبُ مَا نَسْمَعُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ عَلَيْنَا، فَقَالَ: «مَا هَذَا تَكْتُبُونَ؟» فَقُلْنَا: مَا نَسْمَعُ مِنْكَ، فَقَالَ: «أَكِتَابٌ مَعَ كِتَابِ اللهِ؟» فَقُلْنَا: مَا نَسْمَعُ، فَقَالَ: «أَكِتَابٌ [غَيْرُ] كِتَابَ اللهِ امْحِضُوا كِتَابَ اللهِ، [وَأَخْلِصُوهُ]» قَالَ: فَجَمَعْنَا مَا كَتَبْنَا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ أَحْرَقْنَاهُ بِالنَّارِ، قُلْنَا: أَيْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم. أَنَتَحَدَّثُ عَنْكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ تَحَدَّثُوا عَنِّي وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ أَنَتَحَدَّثُ عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ؟ قَالَ: " نَعَمْ، تَحَدَّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، فَإِنَّكُمْ لَا تَحَدَّثُونَ عَنْهُمْ بِشَيْءٍ إِلَاّ وَقَدْ كَانَ فِيهِمْ أَعْجَبَ مِنْهُ».
وروى أبو داود عَنِْ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ أَنَّهُ قَالَ: دَخَلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، [عَلَى] مُعَاوِيَةَ رضي الله عنهما فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثٍ [فَأَمَرَ إِنْسَانًا يَكْتُبُهُ]، فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا أَنْ لَا نَكْتُبَ شَيْئًا مِنْ حَدِيثِهِ». فَمَحَاهُ.
وأخرج الحاكم عن القاسم بن محمد أنه قال: قالت عائشة: جمع أبي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانت خمسمائة حديث. فبات ليلة يتقلب كثيرا. فغمني فقلت: تتقلب لشكوى أو لشيء بلغك فلما؟ أصبح قال: أي بنية هلمي الأحاديث التي عندك. فجئته بها. فدعا بنار فأحرقها وقال: «خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ وَهِيَ عِنْدَكِ فَيَكُونُ فِيهَا أَحَادِيثٌ عَنْ رَجُلٍ اِئْتَمَنْتُهُ وَوَثِقْتُ بِهِ وَلَمْ يَكُنْ كَمَا حَدَّثَنِي. فَأَكُونُ قَدْ تَقَلَّدْتُ ذَلِكَ». وأخرجه اَيْضًا أبو أمية الأحوص بن المفضل الغلابي، عن القاسم أو ابنه عبد الرحمن. وزاد: «وَيَكُونُ قَدْ بَقِيَ حَدِيثٌ لَمْ أَجِدْهُ». (1) فيقال: لو كان قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم ما خفي على أبي بكر. «إِنِّي حَدَّثْتُكُمْ الحَدِيثَ وَلَا أَدْرِي لَعَلِّي لَمْ أَسْمَعْهُ حَرْفًا حَرْفًا». ذكره في " منتخب كنز العمال ". وذكره الذهبي في " التذكرة " (*) عن الحاكم بنحو الرواية الأولى، وقال: «فَهَذَا لَا يَصِحُّ»
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বসে নবী (ﷺ) থেকে যা শুনছিলাম তা লিখছিলাম। তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমরা এগুলো কী লিখছ?" আমরা বললাম: আপনার থেকে যা শুনি (তা-ই লিখছি)। তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবের সাথে কি অন্য কিতাব?" আমরা বললাম: আমরা যা শুনি (তা-ই লিখছি)। তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কিতাব? আল্লাহর কিতাবকে নির্ভেজাল করো এবং একে একনিষ্ঠ করো।" রাবি বলেন: অতঃপর আমরা যা লিখেছিলাম তা এক ময়দানে একত্রিত করলাম, তারপর তা আগুনে পুড়িয়ে দিলাম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমরা কি আপনার থেকে হাদিস বর্ণনা করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার থেকে বর্ণনা করো এবং এতে কোনো বাধা নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" রাবি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো এবং এতে কোনো বাধা নেই। কারণ তোমরা তাদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবে না যার চেয়েও বিস্ময়কর কিছু তাদের মধ্যে ছিল।"
আবু দাউদ আল-মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: জায়েদ বিন সাবিত মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি (মুয়াবিয়া) তাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং এক ব্যক্তিকে তা লিখে নিতে নির্দেশ দিলেন। জায়েদ তাকে বললেন: "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তাঁর হাদিসের কোনো কিছু না লিখি।" অতঃপর তিনি তা মুছে ফেললেন।
আল-হাকিম কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন, যা সংখ্যায় ছিল পাঁচশত হাদিস। এক রাতে তিনি বিছানায় খুব বেশি এপাশ-ওপাশ করছিলেন। এতে আমি ব্যথিত হলাম এবং বললাম: আপনি কি কোনো অসুস্থতার কারণে নাকি আপনার কাছে পৌঁছানো কোনো সংবাদের কারণে অস্থির হয়ে আছেন? যখন সকাল হলো, তিনি বললেন: হে বৎসা! তোমার কাছে যে হাদিসগুলো আছে তা নিয়ে এসো। আমি সেগুলো নিয়ে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি আগুন আনালেন এবং সেগুলো পুড়িয়ে ফেললেন এবং বললেন: "আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, আমি মৃত্যুবরণ করব এমতাবস্থায় যে এগুলো তোমার কাছে থাকবে; আর এতে এমন কোনো ব্যক্তির থেকে বর্ণিত হাদিস থাকতে পারে যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করেছি এবং যার ওপর আস্থাশীল (وثقت به) ছিলাম, কিন্তু বিষয়টি তেমন ছিল না যেমন সে আমাকে বর্ণনা করেছে। ফলে আমি তার দায়ভার গ্রহণকারী হয়ে যাব।" আবু উমাইয়া আল-আহওয়াস ইবনুল মুফাদ্দাল আল-গালাবি-ও এটি কাসিম অথবা তার পুত্র আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "এবং এমন কোনো হাদিস বাকি থেকে যেতে পারে যা আমি খুঁজে পাইনি।" (১) এতে বলা হয়: যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটি বলতেন তবে তা আবু বকরের কাছে গোপন থাকত না। "আমি তোমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছি অথচ আমি জানি না, সম্ভবত আমি তা প্রতিটি অক্ষর অনুযায়ী শুনিনি।" এটি "মুনতাখাব কানযুল উম্মাল"-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আয-যাহাবি এটি "তাদকিরাতুল হুফফাজ"-এ আল-হাকিম থেকে প্রথম বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এটি সঠিক (لا يصح) নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৮)
وقال الحافظ الذهبي في " التذكرة ": ومن مراسيل ابن أبي مليكة أَنَّ الصِدِّيقَ جَمَعَ النَّاسَ بَعْدَ وَفَاةِ نَبِيِّهِمْ فَقَالَ: «إِنَّكُم تُحَدِّثُونَ عَنْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ تَخْتَلِفُونَ فِيهَا وَالنَّاسُ بَعْدَكُمْ أَشَدُّ اخْتِلَافاً. فَلَا تُحَدِّثُوا عَنْ رَسُولِ اللهِ شَيْئاً. فَمَنْ سَأَلَكُمْ فَقُولُوا: بَيْنَنَا وَبَيْنكُمْ كِتَابُ اللهِ. فَاسْتَحِلُّوا حَلَالَهُ وَحَرِّمُوا حَرَامَهُ» (1).
وروى ابن عبد البر عَنْ قَرَظَةَ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ قَالَ: «خَرَجْنَا نُرِيدُ العِرَاقَ فَمَشَى مَعَنَا عُمَرُ إِلَى «صِرَارٍ» (2) فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ اثْنَتَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: " أَتَدْرُونَ لِمَ مَشَيْتُ مَعَكُمْ؟ " قَالُوْا: " نَعَمْ نَحْنُ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَشَيْتَ مَعَنَا "، فَقَالَ: " إِنَّكُمْ تَأْتُونَ أَهْلَ قَرْيَةٍ لَهُمْ دَوِيٌّ بِالقُرْآنِ كَدَوِيِّ النَّحْلِ فَلَا تَصُدُّوهُمْ بِالحَدِيثِ فَتَشْغَلُوهُمْ، [جَوِّدُوا] القُرْآنَ وَأَقِلُّوا الرِّوَايَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَامْضُوا وَأَنَا شَرِيكُكُمْ "، فَلَمَّا قَدِمَ قَرَظَةُ قَالُوا: " حَدِّثْنَا "، قَالَ: " نَهَانَا عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ "» وذكره الذهبي مختصرًا.
وروى الذهبي في " التذكرة ": أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ سُئِلَ: أَكُنْتَ تُحَدِّثُ فِي زَمَانِ عُمَرَ هَكَذَا فَقَالَ: «لَوْ كُنْتُ أُحَدِّثُ فِي زَمَانِ عُمَرَ مِثْلَ مَا أُُحَدِّثُكُمْ لَضَرَبَنِي بِمِخْفَقَتِهِ»
وروى شعبة عن سعد بن إبراهيم، عن أبيه: أن عمر حبس ثلاثة: ابن مسعود وأبا الدرداء، وأبا مسعود الأنصاري، فقال: «قَدْ أَكْثَرْتُمْ الحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم».
وروى البيهقي في " المدخل "، وابن عبد البر، عن عروة بن الزبير: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أراد أن يكتب السنن فاستفتى أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك فأشاروا عليه بأن يكتبها. فطفق عمر يستخير الله فيها شهرا ثم أصبح يوما وقد عزم الله له فقال: إني كنت أريد أن أكتب السنن وإني ذكرت قوما كانوا قبلكم كتبوا كتبا فأكبوا عليها وتركوا كتاب الله. وإني والله لا أشوب كتاب الله بشيء أبدا
عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْر: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ السُّنَنَ [فَاسْتَشَارَ فِي ذَلِكَ] أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارُوا عَلَيْهِ أَنْ يَكْتُبَهَا. فَطَفِقَ عُمَرُ يَسْتَخِيرُ اللَّهَ فِيهَا شَهْرًا، ثُمَّ أَصْبَحَ يَوْمًا وَقَدْ عَزَمَ اللَّهُ لَهُ، قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ أَنْ أَكْتُبَ السُّنَنَ، وَإِنِّي ذَكَرْتُ قَوْمًا كَانُوا قَبْلَكُمْ كَتَبُوا كُتُبًا فَأَكَبُّوا عَلَيْهَا وَتَرَكُوا كِتَابَ اللَّهِ وَإِنِّي وَاللَّهِ لَا [أَلْبَسُ] كِتَابَ اللَّهِ بِشَيْءٍ أَبَدًا».
--------------------------------------------
এবং হাফিজ আয-যাহাবী 'তাদকিরা' গ্রন্থে বলেন: ইবনে আবি মুলাইকা-র বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, সিদ্দীক (আবু বকর রা.) নবীজির ইন্তেকালের পর মানুষকে সমবেত করলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করছ যাতে তোমরা নিজেরা মতভেদ করছ, আর তোমাদের পরবর্তী লোকেরা আরও বেশি মতভেদে লিপ্ত হবে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর রাসূল থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করো না। কেউ যদি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করে, তবে বলো: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে। সুতরাং তোমরা এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করো» (১)।
এবং ইবনে আবদিল বার কারাজা বিন কাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «আমরা ইরাকের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন উমর (রা.) আমাদের সাথে 'সিরার' (২) নামক স্থান পর্যন্ত পায়ে হেঁটে আসলেন। তিনি অজু করলেন এবং অঙ্গসমূহ দুইবার করে ধৌত করলেন। এরপর বললেন: "তোমরা কি জানো কেন আমি তোমাদের সাথে হেঁটে আসলাম?" তারা বললেন: "হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাই আপনি আমাদের সাথে আসলেন।" তিনি বললেন: "তোমরা এমন এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে যাচ্ছ যাদের মাঝে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কুরআনের গুঞ্জন রয়েছে। সুতরাং তোমরা হাদিস শুনিয়ে তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করো না এবং তাদেরকে ব্যস্ত করে ফেলো না। তোমরা কুরআন সুন্দর করে পড়ো এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা (رواية) কমিয়ে দাও। তোমরা এগিয়ে যাও, আমি তোমাদের সাথে শরিক আছি।" কারাজা যখন সেখানে পৌঁছালেন, লোকেরা তাকে বলল: "আমাদের হাদিস শোনান।" তিনি বললেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আমাদের নিষেধ করেছেন"» আয-যাহাবী এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন।
এবং আয-যাহাবী 'তাদকিরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেন: আবু হুরায়রা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি উমরের যুগেও এভাবে হাদিস বর্ণনা করতেন? তিনি বললেন: «আমি যদি উমরের যুগে তোমাদের কাছে বর্ণনা করার মতো হাদিস বর্ণনা করতাম, তবে তিনি আমাকে তার চাবুক দিয়ে প্রহার করতেন»
এবং শু'বা সা'দ বিন ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: উমর (রা.) তিনজনকে বন্দি করেছিলেন: ইবনে মাসউদ, আবু দারদা এবং আবু মাসউদ আনসারী। তিনি বলেছিলেন: «তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করছ।»
এবং বায়হাকী 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে এবং ইবনে আবদিল বার উরওয়াহ বিন যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুনানসমূহ লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের পরামর্শ চাইলে তারা তা লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। এরপর উমর (রা.) এ ব্যাপারে এক মাস যাবত আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে থাকেন। একদিন সকালে আল্লাহ তাকে দৃঢ় সংকল্প দান করলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি সুনানসমূহ লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে পড়ল তোমাদের পূর্ববর্তী এক কওমের কথা, যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়েছিল আর আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কখনোই অন্য কিছু মিশ্রিত করব না।"
উরওয়াহ বিন যুবায়ের থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুনানসমূহ লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন। তারা তা লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। এরপর উমর (রা.) এক মাস যাবত আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে থাকেন। একদিন সকালে আল্লাহ তাকে দৃঢ় সংকল্প দান করলেন। তিনি বললেন: «আমি সুনানসমূহ লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা করেছিলাম। কিন্তু আমার মনে পড়ল তোমাদের পূর্ববর্তী এক কওমের কথা, যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়েছিল আর আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর কিতাবকে কখনোই অন্য কিছুর সাথে আবৃত বা মিশ্রিত করব না।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০৯)
وَرَوَى ابْنُ عَبْدِ البَرِّ (*) عَنْ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا، يُحَدِّثُ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ هَذِهِ الأَحَادِيثَ، أَوْ كَتَبَهَا، ثُمَّ قَالَ: «لَا كِتَابَ مَعَ كِتَابِ اللَّهِ». قَالَ مَالِكٌ رحمه الله: «لَمْ يَكُنْ مَعَ ابْنِ شِهَابٍ كِتَابٌ إِلَاّ كِتَابٌ فِيهِ نَسَبُ قَوْمِهِ. قَالَ: وَلَمْ يَكُنِ الْقَوْمُ يَكْتُبُونَ إِنَّمَا كَانُوا يَحْفَظُونَ، فَمَنْ كَتَبَ مِنْهُمُ الشَّيْءَ فَإِنَّمَا كَانَ يَكْتُبُهُ لِيَحْفَظَهُ. فَإِذَا حَفِظَهُ مَحَاهُ».
وَرَوَى عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ السُّنَّةَ، ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ لَا يَكْتُبَهَا، ثُمَّ كَتَبَ فِي الأَمْصَارِ: «مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَمْحُهُ».
وَرَوَى عَنْ جَابِرِ [عَنْ] عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا يَخْطُبُ يَقُولُ: «أَعْزِمُ عَلَى كُلِّ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ كِتَابٌ إِلَاّ رَجَعَ فَمَحَاهُ، فَإِنَّمَا هَلَكَ النَّاسُ حَيْثُ تَتَبَّعُوا أَحَادِيثَ عُلَمَائِهِمْ وَتَرَكُوا كِتَابَ رَبِّهِمْ».
وَرَوَى عَنْ أَبِي نَضْرَةَ أَنَّهُ قَالَ: قِيلَ لأَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ: لَوِ اكْتَتَبْتَنَا الْحَدِيثَ فَقَالَ: «لَا نُكْتِبُكُمْ خُذُوا عَنَّا كَمَا أَخَذْنَا عَنْ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم».
وَرَوَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: «قُلْتُ لأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَلَا نَكْتُبُ مَا نَسْمَعُ مِنْكَ؟ قَالَ: «أَتُرِيدُونَ أَنْ تَجْعَلُوهَا مَصَاحِفَ!، إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحَدِّثُنَا فَنَحْفَظُ، فَاحْفَظُوا كَمَا كُنَّا نَحْفَظُ».
وَرَوَى عَنْهُ اَيْضًا أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ لأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه: إِنَّكَ تُحَدِّثُنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا عَجِيبًا، وَإِنَّا نَخَافُ أَنْ نَزِيدَ فِيهِ أَوْ نَنْقُصَ. قَالَ: «أَرَدْتُمْ أَنْ تَجْعَلُوهُ قُرْآنًا؟، لَا، وَلَكِنْ خُذُوا عَنَّا كَمَا أَخَذْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم».
وَرَوَى عَنْ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: «نَحْنُ لَا نَكْتُبُ وَلَا نُكْتِبُ».
وَرَوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّا لَا نَكْتُبُ الْعِلْمَ وَلَا نُكْتِبُهُ».
وَرَوَى عَنْهُ اَيْضًا أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنْ كِتَابَةِ الْعِلْمِ، وَقَالَ: «إِنَّمَا [ضَلَّ] مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالْكُتُبِ».
--------------------------------------------
ইবনুল বার (*) ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালেককে বর্ণনা (يحدث) করতে শুনেছি যে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এই হাদিসসমূহ লিখে রাখতে চেয়েছিলেন, অথবা লিখেছিলেন, তারপর তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কোনো কিতাব থাকবে না।» ইমাম মালেক (র.) বলেন: «ইবনে শিহাবের কাছে তাঁর গোত্রের বংশপরিচয় সম্বলিত একটি কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব ছিল না। তিনি বলেন: সেই সময়কার লোকেরা লিখতেন না, বরং তাঁরা মুখস্থ (يحفظون) রাখতেন। ফলে তাঁদের মধ্যে কেউ যদি কিছু লিখতেন, তবে তা কেবল মুখস্থ (يَحْفَظَهُ) রাখার জন্যই লিখতেন। যখন তিনি তা মুখস্থ (حفظه) করে নিতেন, তখন তা মুছে ফেলতেন।»
এবং ইয়াহইয়া ইবনে জাদা থেকে বর্ণিত (روى) যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুন্নাহ লিখে রাখার ইচ্ছা করেছিলেন, অতঃপর তা না লেখার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়। এরপর তিনি বিভিন্ন জনপদে লিখে পাঠালেন: «যার কাছে (লিখিত) কিছু আছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।»
এবং জাবির থেকে [ও] আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আমি আলীকে (রা.) খুতবায় বলতে শুনেছি: «যার কাছে কোনো কিতাব আছে, আমি তাকে আদেশ দিচ্ছি যে, সে যেন ফিরে গিয়ে তা মুছে ফেলে। কারণ পূর্ববর্তী মানুষরা তখনই ধ্বংস হয়েছে যখন তারা তাদের আলিমদের কথাগুলোর (হাদিসগুলোর) অনুসরণ করেছে এবং তাদের রবের কিতাব বর্জন করেছে।»
এবং আবু নাদরা থেকে বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলা হলো: আপনি যদি আমাদের জন্য হাদিস লিখে দিতেন! তখন তিনি বললেন: «আমরা তোমাদের লিখে দেব না, বরং তোমরা আমাদের কাছ থেকে সেভাবেই গ্রহণ করো, যেভাবে আমরা আমাদের নবী (সা.)-এর কাছ থেকে গ্রহণ করেছি।»
এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেন: «আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বললাম: আমরা আপনার কাছ থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব না? তিনি বললেন: তোমরা কি এগুলোকে কিতাব বানাতে চাও! তোমাদের নবী (সা.) আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং আমরা তা মুখস্থ (فنحفظ) রাখতাম। সুতরাং তোমরাও সেভাবেই মুখস্থ (احفظوا) করো যেভাবে আমরা মুখস্থ (نحفظ) রাখতাম।»
এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-কে বললাম: আপনি আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বিস্ময়কর সব হাদিস বর্ণনা করেন, আর আমরা আশঙ্কা করি যে, তাতে হয়তো কিছু বাড়িয়ে দেব অথবা কমিয়ে ফেলব। তিনি বললেন: «তোমরা কি এটাকে কুরআনের মতো বানাতে চাও? না, বরং আমাদের কাছ থেকে সেভাবেই গ্রহণ করো যেভাবে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে গ্রহণ করেছি।»
এবং আবু কাসির থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি: «আমরা লিখি না এবং অন্যকেও লিখে দেই না।»
এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেছেন: «আমরা জ্ঞান (ইলম) লিখি না এবং কাউকে লিখেও দেই না।»
এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روى) যে, তিনি জ্ঞান (ইলম) লিখে রাখতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: «তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কিতাবসমূহের অনুসরণ করার কারণেই কেবল [পথভ্রষ্ট] হয়েছিল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১০)
وَرَوَى عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ مَرْوَانَ، دَعَا زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَقَوْمًا يَكْتُبُونَ وَهُوَ لَا يَدْرِي، فَأَعْلَمُوهُ فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ لَعَلَّ كُلَّ شَيْءٍ حَدَّثْتُكُمْ بِهِ لَيْسَ كَمَا حَدَّثْتُكُمْ».
وَرَوَى عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: «كَتَبْتُ عَنْ أَبِي كِتَابًا [كَبِيرًا] فَقَالَ: " ائْتِنِي بِكُتُبِكَ "، فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَغَسَلَهَا».
وَرَوَى عَنْ [سُلَيْمِ] بْنِ أَسْوَدَ الْمُحَارِبِيِّ قَالَ: «كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ [رضي الله عنه] يَكْرَهُ كِتَابَةَ الْعِلْمِ».
وَرَوَى عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ قَالَ: «أُتِيَ عَبْدُ اللَّهِ بِصَحِيفَةٍ فِيهَا حَدِيثٌ. فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَحَاهَا، ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا [فَأُخْرِجَتْ]، ثُمَّ قَالَ: «أُذَكِّرُ بِاللَّهِ رَجُلاً يَعْلَمُهَا عِنْدَ أَحَدٍ إِلَاّ أَعْلَمَنِي بِهِ، وَاللَّهِ لَوْ أَعْلَمُ أَنَّهَا بِدِيرِ هِنْدٍ لَبَلَغْتُهَا، بِهَذَا هَلَكَ أَهْلُ الْكِتَابِ قَبْلَكُمْ حِينَ نَبَذُوا كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ».
وَرَوَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ [الأَسْوَدِ]، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَصَبْتُ أَنَا وَعَلْقَمَةُ، صَحِيفَةً فَانْطَلَقَ مَعِي إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ بِهَا وَقَدْ زَالَتِ الشَّمْسُ أَوْ كَادَتْ تَزُولُ، فَجَلَسْنَا بِالْبَابِ، ثُمَّ قَالَ لِلْجَارِيَةِ: «انْظُرِي مَنْ بِالْبَابِ»، فَقَالَتْ: «عَلْقَمَةُ وَالأَسْوَدُ»، فَقَالَ: «ائْذَنِي لَهُمَا، فَدَخَلْنَا فَقَالَ: «كَأَنَّكُمَا قَدْ أَطَلْتُمَا الْجُلُوسَ؟»، قُلْنَا: «أَجَلْ»، قَالَ: «فَمَا مَنَعَكُمَا أَنْ تَسْتَأْذِنَا؟» قَالَا: «خَشِينَا أَنْ تَكُونَ نَائِمًا»، قَالَ: «مَا أُحِبُّ أَنْ تَظُنُّوا بِي هَذَا إِنَّ هَذِهِ سَاعَةٌ كُنَّا نَقِيسُهَا بِصَلَاةِ اللَّيْلِ»، فَقُلْنَا: «هَذِهِ صَحِيفَةٌ فِيهَا حَدِيثٌ حَسَنٌ»، فَقَالَ: «يَا جَارِيَةُ هَاتِي الطَّسْتَ وَاسْكُبِي فِيهِ مَاءً»، قَالَ: «فَجَعَلَ يَمْحُوهَا بِيَدِهِ (1) وَيَقُولُ: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ} (2)»، فَقُلْنَا: «انْظُرْ فِيهَا فَإِنَّ فِيهَا حَدِيثًا عَجَبًا»، فَجَعَلَ يَمْحُوهَا وَيَقُولُ: «إِنَّ هَذِهِ الْقُلُوبَ أَوْعِيَةٌ فَاشْغِلُوهَا بِالْقُرْآنِ وَلَا تَشْغَلُوهَا بِغَيْرِهِ».
وَرَوَى عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: كَانَ أَبُو مُوسَى يُحَدِّثُنَا بِأَحَادِيثَ فَقُمْنَا لِنَكْتُبَهَا، فَقَالَ: «أَتَكْتُبُونَ مَا سَمِعْتُمْ مِنِّي؟» قُلْنَا: نَعَمْ قَالَ: «فَجِيئُونِي بِهِ»، فَدَعَا بِمَاءٍ فَغَسَلَهُ،
--------------------------------------------
এবং শাবি থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ান যাইদ ইবন সাবিতকে ডাকলেন এবং কিছু লোক তা লিখে নিচ্ছিল অথচ তিনি তা জানতেন না। যখন তাঁকে জানানো হলো, তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো? সম্ভবত আমি তোমাদের যা কিছু বলেছি, তা ঠিক তেমনটি নয় যেমনটি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করেছি।»
এবং আবু বুর্দা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আমার পিতার নিকট থেকে একটি [বড়] কিতাব লিখেছিলাম। তিনি বললেন: "তোমার কিতাবগুলো আমার কাছে নিয়ে আসো।" আমি সেগুলো তাঁর কাছে নিয়ে এলাম এবং তিনি সেগুলো ধুয়ে (মুছে) ফেললেন।»
এবং সুলাইম ইবন আসওয়াদ আল-মুহারিবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ইবন মাসউদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ইলম লিখে রাখাকে অপছন্দ করতেন।»
এবং আসওয়াদ ইবন হিলাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আবদুল্লাহর নিকট একটি পাণ্ডুলিপি আনা হলো যাতে হাদিস ছিল। তিনি পানি চাইলেন এবং তা মুছে ফেললেন, তারপর তিনি তা ধুয়ে ফেললেন এবং সেটি [বের করে নেওয়ার] নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে সেই ব্যক্তিকে বলছি যে জানে যে কারো কাছে এমন কিছু আছে, সে যেন আমাকে তা জানায়। আল্লাহর কসম, আমি যদি জানতাম যে এটি দাইরে হিন্দ-এ আছে, তবে আমি সেখানে পৌঁছাতাম। এভাবেই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ ধ্বংস হয়েছিল যখন তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করেছিল, যেন তারা কিছুই জানত না।»
এবং আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং আলকামা একটি পাণ্ডুলিপি পেলাম। আমি তা নিয়ে আলকামার সাথে ইবন মাসউদের নিকট গেলাম। তখন সূর্য ঢলে পড়েছে বা ঢলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা দরজায় বসলাম। অতঃপর তিনি দাসীকে বললেন: «দেখো দরজায় কে?», সে বলল: «আলকামা এবং আসওয়াদ।» তিনি বললেন: «তাদের অনুমতি দাও।» আমরা ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি বললেন: «মনে হচ্ছে তোমরা দীর্ঘক্ষণ বসে আছো?», আমরা বললাম: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: «তোমাদের অনুমতি চাইতে কিসে বাধা দিল?» তারা বলল: «আমরা ভয় পাচ্ছিলাম যে আপনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন।», তিনি বললেন: «তোমরা আমার ব্যাপারে এমনটি ধারণা করো তা আমি পছন্দ করি না; এটি এমন একটি সময় যা আমরা রাতের সালাতের সাথে তুলনা করতাম।’ আমরা বললাম: «এটি একটি পাণ্ডুলিপি যাতে উত্তম (حسن) হাদিস রয়েছে।» তিনি বললেন: «হে দাসী, একটি তশত (পাত্র) নিয়ে এসো এবং তাতে পানি ঢালো।’ বর্ণনাকারী বলেন: «অতঃপর তিনি নিজ হাতে তা মুছতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: {আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি}।’’ আমরা বললাম: «এর ভেতরে দেখুন, কারণ এতে চমৎকার হাদিস রয়েছে।’ তিনি তা মুছতে থাকলেন এবং বলতে লাগলেন: «নিশ্চয়ই এই অন্তরগুলো পাত্রস্বরূপ, তাই একে কুরআন দ্বারা পূর্ণ করো এবং কুরআন ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে একে ব্যস্ত রেখো না।»
এবং আবু বুর্দা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মুসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন। আমরা সেগুলো লিখে নেওয়ার জন্য দাঁড়ালাম। তিনি বললেন: «তোমরা কি আমার থেকে যা শুনেছ তা লিখছো?» আমরা বললাম: «হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: «তবে তা আমার কাছে নিয়ে এসো।’ এরপর তিনি পানি চাইলেন এবং তা ধুয়ে ফেললেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১১)
وَقَالَ: «احْفَظُوا عَنَّا كَمَا حَفِظْنَا».
وَرَوَى عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: «[كَتَبَ إِلَيَّ] أَهْلُ الْكُوفَةِ مَسَائِلَ أَلْقَى فِيهَا ابْنَ عُمَرَ فَلَقِيتُهُ فَسَأَلْتُهُ مِنَ الْكِتَابِ وَلَوْ عَلِمَ أَنَّ مَعِيَ كِتَابًا لَكَانَتِ الْفَيْصَلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ».
وفي رواية أخرى: «كُنَّا نَخْتَلِفُ فِي أَشْيَاءَ [فَكَتَبْتُهَا] فِي كِتَابٍ، ثُمَّ أَتَيْتُ بِهَا ابْنَ عُمَرَ أَسْأَلُهُ عَنْهَا خُفْيًا فَلَوْ عَلِمَ بِهَا كَانَتِ الْفَيْصَلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ».
وَرَوَى عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّهُ قَالَ لِعَلْقَمَةَ: «اكْتُبْ لِيَ النَّظَائِرَ»، قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْكِتَابَ يُكْرَهُ؟»، قَالَ: «بَلَى، إِنَّمَا أُرِيدُ أَنْ أَحْفَظَهَا ثُمَّ أَحْرِقَهَا».
وَرَوَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ: قُلْتُ لِعَبِيدَةَ: «أَكْتُبُ مَا أَسْمَعُ مِنْكَ؟»، قَالَ: «لَا» قُلْتُ: «وَإِنْ وَجَدْتُ كِتَابًا أَقْرَأَهُ عَلَيْكَ؟»، قَالَ: «لَا».
وَرَوَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: كُنْتُ أَكْتُبُ [عِنْدَ] عَبِيْدَةَ، فَقَالَ لِي: «لَا تُخَلِّدَنَّ عَنِّي كِتَابًا».
وَرَوَى عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْمُرَادِيِّ قَالَ: «لَمَّا حَضَرَ عُبَيْدَةَ الْمَوْتُ دَعَا بِكُتُبِهِ فَمَحَاهَا».
وَرَوَى عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ أَنَّهُ دَعَا بِكُتُبِهِ عِنْدَ الْمَوْتِ، فَمَحَاهَا فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَخْشَى أَنْ يَلِيَهَا قَوْمٌ يَضَعُونَهَا غَيْرَ مَوْضِعِهَا».
وَرَوَى عَنِْ الْقَاسِمِ (*): «أَنَّهُ كَانَ لَا يَكْتُبُ الْحَدِيثَ».
وَرَوَى عَنِْ سَعِيدَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَقُولُ: «مَا مَا كَتَبْتُ حَدِيثًا قَطُّ».
وَرَوَى عَنِْ االشَّعْبِيَّ أَنَّهُ قَالَ: «مَا كَتَبْتُ سَوْدَاءَ فِي بَيْضَاءَ قَطُّ وَلَا اسْتَعَدْتُ حَدِيثًا مِنْ إِنْسَانٍ مَرَّتَيْنِ». وفي رواية أخرى زيادة: «وَلَقَدْ نَسِيتُ مِنَ [الْحَدِيثِ] مَا لَوْ حَفِظَهُ إِنْسَانٌ كَانَ بِهِ عَالِمًا».
وَرَوَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ [النَّخَعِي]: «أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَكْتُبَ الأَحَادِيثَ فِي الْكَرَارِيسِ»
وَرَوَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: «لَا تَكْتُبُوا فَتَتَّكِلُوا».
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেন: "আমরা যেভাবে মুখস্থ করেছি তোমরাও আমাদের থেকে সেভাবেই মুখস্থ করো।"
সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: "[কুফাবাসী আমার কাছে] কিছু মাসআলা লিখে পাঠিয়েছিল যাতে আমি সেগুলো ইবনে উমর (রা.)-এর সামনে পেশ করি। আমি তাঁর দেখা পেলাম এবং লিখিত পাণ্ডুলিপি দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি যদি জানতেন যে আমার সাথে কোনো কিতাব রয়েছে, তবে তা আমার ও তাঁর মাঝে বিচ্ছেদের কারণ হতো।"
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "আমরা বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতাম, [ফলে আমি সেগুলো] একটি কিতাবে লিখে নিই। এরপর আমি সেগুলো নিয়ে ইবনে উমরের কাছে আসি এবং গোপনে তাঁকে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি যদি সে সম্পর্কে জানতে পারতেন তবে তা আমার ও তাঁর মাঝে বিচ্ছেদের কারণ হতো।"
মাসরুক থেকে বর্ণিত (روى) যে, তিনি আলকামাহকে বললেন: "আমার জন্য সমজাতীয় বিষয়গুলো লিখে দাও।" তিনি বললেন: "তুমি কি জানো না যে লিখে রাখা অপছন্দনীয় (يكره)?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ জানি, আমি শুধু এগুলো মুখস্থ করতে চাই, তারপর পুড়িয়ে ফেলব।"
মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আমি উবাইদাহকে বললাম: "আমি আপনার থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "যদি আমি কোনো পাণ্ডুলিপি পাই তবে কি তা আপনাকে পড়ে শোনাব?" তিনি বললেন: "না।"
ইবরাহিম থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আমি উবাইদাহর [নিকটে] লিখে রাখতাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: "আমার পক্ষ থেকে কোনো কিতাব চিরস্থায়ী করো না।"
আবু ইয়াজিদ আল-মুরাদী থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: "যখন উবাইদাহর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন তিনি তাঁর কিতাবগুলো আনিয়ে সেগুলো মুছে ফেললেন।"
নুমান ইবনে কায়াস থেকে বর্ণিত (روى), তিনি উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মৃত্যুর সময় তাঁর কিতাবগুলো আনিয়ে সেগুলো মুছে ফেললেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমি আশঙ্কা করছি এমন একদল লোক এগুলোর উত্তরাধিকারী হবে যারা এগুলোকে সঠিক স্থানে ব্যবহার করবে না।"
কাসিম (*) থেকে বর্ণিত (روى) যে: "তিনি হাদিস লিখে রাখতেন না।"
সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: "আমি কখনো কোনো হাদিস লিখে রাখিনি।"
আশ-শাবি থেকে বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেছেন: "আমি সাদা কাগজে কখনো কালো কালিতে কিছু লিখিনি এবং কখনো কারো কাছে একই হাদিস দুইবার বলতে অনুরোধ করিনি।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত অংশ হিসেবে রয়েছে: "আমি হাদিসের এমন পরিমাণ অংশ ভুলে গিয়েছি যা কেউ মুখস্থ রাখলে সে অনেক বড় আলিম হয়ে যেত।"
ইবরাহিম [আন-নাখায়ি] থেকে বর্ণিত (روى) যে: "তিনি পাণ্ডুলিপিতে হাদিসসমূহ লিখে রাখা অপছন্দ (يكره) করতেন।"
তাঁর থেকে বর্ণিত (روى) যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা লিখো না, অন্যথায় তোমরা (স্মৃতিশক্তির বদলে লেখার ওপর) নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
وَرَوَى عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّهُ قَالَ: " قُلْتُ لإِبْرَاهِيمَ: إِنِّي أَتَيْتُكَ وَقَدْ جَمَعْتُ الْمَسَائِلَ. فَإِذَا رَأَيْتُكَ كَأَنَّمَا تَخْتَلِسُ مِنِّي وَأَنْتَ تَكْرَهُ الْكِتَابَةَ. قَالَ: «لَا عَلَيْكَ. فَإِنَّهُ قَلَّ مَا طَلَبَ إِنْسَانٌ عِلْمًا إِلَاّ آتَاهُ اللَّهُ مِنْهُ مَا يَكْفِيهِ، وَقَلَّ مَا كَتَبَ رَجُلٌ كِتَابًا إِلَاّ اتَّكَلَ عَلَيْهِ».
وَرَوَى عنْ إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ قَالَ: قُلْتُ لِجَرِيرٍ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْحَمِيدِ، «أَكَانَ مَنْصُورٌ (يَعْنِي ابْنَ الْمُعْتَمِرِ) يَكْرَهُ كِتَابَ الْحَدِيثِ؟»، قَالَ: «نَعَمْ، مَنْصُورٌ، وَمُغِيرَةُ، وَالأَعْمَشُ كَانُوا يَكْرَهُونَ كِتَابَ الْحَدِيثِ».
وَرَوَى عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: «أَدْرَكْتُ النَّاسَ يَهَابُونَ الكُتُبَ حَتَّى كَانَ الآنَ حَدِيثًا. قَالَ: وَلَوْ كُنَّا نَكْتُبُ لَكَتَبْتُ مِنْ عِلْمِ سَعِيدٍ وَرِوَايَتِهِ شَيْئًا كَثِيرًا».
وَرَوَى عَنْ الأَوْزَاعِيَّ يَقُولُ: «كَانَ هَذَا الْعِلْمُ شَيْئًا شَرِيفًا إِذْ كَانَ مِنْ أَفْوَاهِ الرِّجَالِ يَتَلَاقَوْنَهُ وَيَتَذَاكَرُونَهُ، فَلَمَّا صَارَ فِي الْكُتُبِ ذَهَبَ نُورُهُ وَصَارَ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ».
وروا هـ ابن الصلاح في " علوم الحديث " (1) مختصرًا بلفظ: «كَانَ هَذَا الْعِلْمُ كَرِيمًا يَتَلَقَّاهُ الرِّجَالُ بَيْنَهُمْ فَلَمَّا دَخَلَ فِي الكُتُبِ دَخَلَ فِيهِ غَيْرُ أَهْلِهِ».
…
الجَوَابُ:قد اشتملت هذه الشبهة على عدة مسائل حاد فيها صاحبها عن سبيل الحق وتجنب طريق الصواب. فينبغي لنا أن نشرحها مسألة مسألة، ونبين ما في كل منها من خطأ وفساد رأي. حتى تنهار هذه الشبه من جميع نواحيها ويتضح لك بطلانها وتقتنع تمام الاقتناع بفسادها. فنقول:
--------------------------------------------
ফুদাইল ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি ইব্রাহিমকে বললাম: আমি আপনার কাছে এসেছি এবং আমি মাসআলাসমূহ (المسائل) একত্রিত করেছি। কিন্তু আমি যখন আপনাকে দেখি, তখন মনে হয় আপনি যেন আমার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন এবং আপনি লিখে রাখা অপছন্দ করেন। তিনি বললেন: 'এতে তোমার কোনো দোষ নেই। কেননা খুব কম মানুষই এমন আছে যে ইলম অন্বেষণ করেছে অথচ আল্লাহ তাকে তার জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান দান করেননি; আর খুব কম লোকই কোনো কিতাব লিখেছে অথচ সে তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েনি'।"
ইসহাক ইবনে ইসমাইল আল-তালকানি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি জারিরকে অর্থাৎ ইবনে আব্দুল হামিদকে বললাম, "মানসুর (অর্থাৎ ইবনে আল-মুতামির) কি হাদিস লিখে রাখা অপছন্দ করতেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, মানসুর, মুগিরা এবং আমাশ হাদিস লিখে রাখা অপছন্দ করতেন।"
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহকে ভয় পেতে দেখেছি, এমনকি বর্তমানে এটি হাদিস চর্চায় পরিণত হয়েছে। তিনি বললেন: যদি আমরা লিখে রাখতাম, তবে সাঈদের ইলম এবং তার বর্ণনা (روايته) থেকে অনেক কিছুই লিখে রাখতাম।"
আওযায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "এই ইলম একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয় ছিল যখন তা মানুষের মুখ থেকে গৃহীত হতো, তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করত এবং তা নিয়ে আলোচনা (يتذاكرونه) করত। কিন্তু যখন এটি কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ হলো, তখন এর নূর চলে গেল এবং তা অযোগ্যদের হাতে পৌঁছে গেল।"
এবং ইবনে আস-সালাহ তার উলুমুল হাদিস গ্রন্থে এটি সংক্ষেপে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "এই ইলম ছিল সম্মানিত, যা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করত, কিন্তু যখন এটি কিতাবে প্রবেশ করল, তখন এতে অযোগ্য ব্যক্তিরা প্রবেশ করল।"
...
উত্তর:এই সংশয়টি বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর পর্যবসিত, যেখানে এর প্রবক্তা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং সঠিক পথ পরিহার করেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত প্রতিটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলোর প্রত্যেকটির ভুল ও ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা, যাতে এই সংশয়গুলো সব দিক থেকে ধসে পড়ে এবং আপনার নিকট এর অসারতা সুস্পষ্ট হয় এবং আপনি এর অসারতা সম্পর্কে পূর্ণরূপে আশ্বস্ত হন। আমরা বলছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
إِنَّمَا تَحْصُلُ صِيَانَةُ الحُجَّةِ بِعَدَالَةِ حَامِلِهَا:المعول عليه في المحافظة على ما هو حجة وصيانته من التبديل والخطأ هو أن يحمله الثقة العدل حتى يوصله لمن هو مثله في هذه الصفة. وهكذا. سواء أكان الحمل له على سبيل الحفظ للفظه أو الكتابة له أو الفهم لمعناه فهما دقيقا مع التعبير عن ذلك المعنى بلفظ واضح الدلالة عليه بدون لبس ولا إبهام. فأي نوع من هذه الأنواع الثلاثة يكفي في الصيانة ما دامت صفة العدالة متحققة. فإذا اجتمعت هذه الثلاثة مع العدالة كان ذلك الغاية والنهاية في المحافظة. وإذا اجتمعت وانتفت العدالة لم يجد اجتماعها نفعا ولم يغن فتيلا. ولم نأمن حينئذ من التبديل والعبث بالحجة.
ومن باب أولى ما إذا انفردت الكتابة عن الحفظ والفهم وعدالة الكاتب أو الحامل للمكتوب. فإنا لا نثق حينئذ بشيء من المكتوب. ألا ترى أن اليهود والنصارى كانوا يكتبون التوراة والإنجيل ومع ذلك وقع التبديل والتغيير فيهما لما تجردوا من صفة العدالة حتى لا يمكننا أن نجزم ولا أن نظن بصحة شيء منهما. بل قد نجزم بمخالفة لأصلهما. قال الله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ} (1).
الكِتَابَةُ لَيْسَتْ مِنْ لَوَازِمِ الحُجِّيَةِ:فإذا كان المهم في المحافظة على الحجة عدالة الحامل لها - على أي وجه كان حملها - تحققنا أن الكتابة ليست من لوازم الحُجِّيَةِ وأن صيانة الحجة غير متوقفة عليها. وأنها ليست السبيل الوحيد لذلك. وهذا أمر واضح كل الوضوح ولكنا نزيده بيانًا وتثبيتًا بما سنذكره من الأدلة. فنقول:
أولاً: إنا نعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرسل السفراء من الصحابة إلى القبائل المختلفة ليدعوا الناس إلى الإسلام ويعلموهم أحكامه ويقيموا بينهم شعائره. ولم يرسل مع
--------------------------------------------
দলিল (حجة) সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো এর বাহকের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة):যে বিষয়টি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য, তার হেফাজত এবং একে পরিবর্তন ও ভুল থেকে সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি তা বহন করবেন, যতক্ষণ না তিনি একে তাঁর মতো একই গুণসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেন। এভাবেই ধারাটি চলতে থাকে। চাই সেই বহন করাটা শব্দের মুখস্থকরণের (حفظ) মাধ্যমে হোক, কিংবা তা লিখে রাখার মাধ্যমে, অথবা অর্থ স্পষ্টভাবে অনুধাবনের (فهم) মাধ্যমে—যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা সংশয় ছাড়াই অর্থটি সুস্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। এই তিন পদ্ধতির যেকোনো একটি পদ্ধতিই সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট, যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) গুণটি বিদ্যমান থাকে। আর যদি ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সাথে এই তিনটি গুণই একত্রিত হয়, তবে তা সংরক্ষণ বা হেফাজতের সর্বোচ্চ শিখর হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি এই তিনটি গুণ উপস্থিত থাকে অথচ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অনুপস্থিত থাকে, তবে সেগুলোর একত্র হওয়া কোনো কাজে আসবে না এবং তা সামান্যতম উপকারও করবে না। সেক্ষেত্রে আমরা দলিলকে (حجة) পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ মনে করতে পারব না।
আর বিষয়টি আরও জোরালো হয় যখন মুখস্থকরণ (حفظ), অনুধাবন (فهم) এবং লেখক বা বাহকের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ছাড়াই কেবল লিখন পদ্ধতি অবশিষ্ট থাকে। তখন আমরা লিখিত সেই বিষয়ের ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারি না। আপনি কি দেখেন না যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাওরাত ও ইঞ্জিল লিখত, তা সত্ত্বেও সেগুলোতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটেছিল; কারণ তারা ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) গুণ হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি এখন আমাদের পক্ষে এগুলোর কোনো কিছুর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বা প্রবল ধারণা পোষণ করাও সম্ভব নয়। বরং আমরা এগুলোর মূল থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি। মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে, তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের ধ্বংস।" (১)।
লিখন পদ্ধতি দলিল হওয়ার (حجية) জন্য কোনো অপরিহার্য শর্ত নয়:সুতরাং দলিল (حجة) সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যখন বাহকের ন্যায়পরায়ণতাই (عدالة) মূল বিষয়—তা যে মাধ্যমেই বহন করা হোক না কেন—তখন আমরা নিশ্চিত হলাম যে, লিখন পদ্ধতি দলিল হওয়ার (حجية) জন্য কোনো অপরিহার্য শর্ত নয় এবং দলিলের (حجة) সুরক্ষা কেবল এর ওপর নির্ভরশীল নয়। এমনকি এটিই সুরক্ষার একমাত্র পথও নয়। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট একটি বিষয়, তবে আমরা সামনে বর্ণিত দলিলের (أدلة) মাধ্যমে একে আরও ব্যাখ্যা ও সুদৃঢ় করব। আমরা বলছি:
প্রথমত: আমরা জানি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন গোত্রের নিকট সাহাবীদের মধ্য থেকে দূত পাঠাতেন, যেন তারা মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেন, তাদেরকে এর বিধানাবলি শিক্ষা দেন এবং তাদের মধ্যে ইসলামের নিদর্শনসমূহ কায়েম করেন। তিনি প্রেরিতদের সাথে কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
كل سفير مكتوبًا من القرآن يكفي لإقامة الحجة على جميع الأحكام التي يبلغها السفير للمرسل إليهم ويلزمهم بها. ولا يستطيع أحد أن يثبت أنه كان يكتب لكل سفير هذا القدر من القرآن. والغالب فيما كان يفعله صلى الله عليه وسلم هو أن يكتب للسفير كتابًا يثبت به سفارته ويصحح به بعثته. وفي بعض الأحيان كان يكتب له كتابًا مشتملاً على بعض الأحكام من السُنَّةِ وليس فيه نص قرآني أو فيه نص قرآني إلا أنه لا يكفي لإقامة الحجة على جميع الأحكام التي يراد تبليغها.
فيتبين لنا من هذا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرى في عدالة السفير وحفظه لما حفظه من القرآن والسنة - اللذين لم يكتبهما - الكفاية في إقامة الحجة على المرسل إليهم وإلزامهم اتباعه.
وثانيًا: إنا نعلم أن الصلاة - وهي القاعدة الثانية من قواعد الإسلام - لا يمكن للمجتهد أن يهتدي إلى كيفيتها من القرآن وحده. بل لا بد من بيان الرسول صلى الله عليه وسلم. ولم يثبت أنه صلى الله عليه وسلم قد أمر بكتابة كيفيتها التي شرحها بفعله وقوله. ولو كانت الكتابة من لوازم الحُجِّيَّةِ لما جاز أن يترك النبي صلى الله عليه وسلم هذا الأمر الخطير الذي لا يهتدي إليه المجتهدون من التابعين فمن بعدهم بمحض عقولهم أو باجتهادهم في القرآن - بدون أن يأمر بكتابته التي تقنعهم بالحُجِّيَةِ كما هو الفرض.
وثالثًا: إنا قد بينا أن حجية السُنَّةِ ضرورية دينية وزدنا على ذلك أن أقمنا عليها من الأدلة ما لا سبيل إلى إنكار دلالته أو الشك فيه. ومع ذلك لم يأمر صلى الله عليه وسلم أمر إيجاب بكتابة كل ما صدر منه. ولو كانت الحُجِّيَةُ متوقفة على الكتابة لما جاز له صلى الله عليه وسلم أن يهمل الأمر بها وإيجابها على الصحابة.
ثم نقول: لو جاءت اليهود والنصارى لصاحب هذه الشبهة فقالوا له: إن القرآن ليس بحجة. فإنه لم ينزل من السماء مكتوبًا، ولو كان حجة لاهتم الشارع بأمره وأنزله مكتوبًا كما أنزل التوراة والإنجيل فماذا يكون جوابه وهو يذهب أن الكتابة من لوازم الحُجِّيَةِ؟ إن قال لهم: إن عصمة النبي صلى الله عليه وسلم من الخطأ والتبديل
প্রত্যেক দূতের নিকট কুরআনের এমন কোনো লিখিত লিপি থাকতো না যা সেই সকল বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে প্রমাণ (الحجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো, যা সেই দূত প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের জন্য তা মানা বাধ্যতামূলক করতেন। আর কেউ এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক দূতের জন্য কুরআনের এই পরিমাণ অংশ লিখে দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাধারণত যা করতেন তা হলো, তিনি দূতের জন্য একটি পত্র লিখে দিতেন যা দ্বারা তাঁর দৌত্য কর্ম প্রমাণিত হতো এবং তাঁর প্রেরণকে শুদ্ধ ও বিধিবদ্ধ করা হতো। মাঝে মাঝে তিনি তাঁর জন্য এমন পত্র লিখে দিতেন যাতে সুন্নাহ (السنة) থেকে সংগৃহীত কিছু বিধান (الأحكام) অন্তর্ভুক্ত থাকতো, যেখানে কোনো কুরআনি নস (نص) থাকতো না অথবা কুরআনি নস (نص) থাকলেও তা সেই সকল বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে প্রমাণ (الحجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো না যা প্রচার করা উদ্দেশ্য ছিল।
এর দ্বারা আমাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দূতের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) থেকে তিনি যা মুখস্থ করেছেন—যা তিনি লিখে নেননি—তাকেই প্রাপকদের ওপর প্রমাণ (الحجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাঁদের জন্য তাঁর অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করতেন।
দ্বিতীয়ত: আমরা জানি যে, সালাত—যা ইসলামের দ্বিতীয় রুকন বা ভিত্তি—কোনো মুজতাহিদ (المجتهد)-এর পক্ষে কেবল কুরআন থেকে এর সঠিক পদ্ধতি বা রূপরেখা অবগত হওয়া সম্ভব নয়। বরং এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনার মুখাপেক্ষী হওয়া অপরিহার্য। আর এটা প্রমাণিত নয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের সেই পদ্ধতি লিখে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন যা তিনি তাঁর কাজ ও কথার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যদি লিখিত হওয়া প্রামাণিকতা (الحجية)-এর জন্য আবশ্যিক শর্ত হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বাদ দেওয়া বৈধ হতো না, যে বিষয়ে তাবেয়ি (التابعين) ও তাঁদের পরবর্তী মুজতাহিদগণ (المجتهدون) কেবল নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি বা কুরআনের গবেষণার মাধ্যমে সঠিক হেদায়েত পেতেন না—যদি না তিনি তা লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন যা তাঁদের নিকট প্রামাণিকতা (الحجية) বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রদান করতো, যেমনটি কল্পনা করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: আমরা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছি যে, সুন্নাহর (السنة) প্রামাণিকতা (حجية) একটি দ্বীনি অপরিহার্যতা এবং এর সপক্ষে আমরা এমন সব দলিলসমূহ (الأدلة) পেশ করেছি যার কার্যকারিতা অস্বীকার করার বা সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করার কোনো উপায় নেই। তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে নিঃসৃত সব কিছু লিখে রাখার জন্য কোনো আবশ্যিক নির্দেশ প্রদান করেননি। যদি প্রামাণিকতা (الحجية) লেখার ওপর নির্ভরশীল হতো, তবে তাঁর পক্ষে সাহাবিদের (الصحابة) ওপর তা লিখে রাখার আদেশ দিতে বা তা বাধ্যতামূলক করতে অবহেলা করা বৈধ হতো না।
অতঃপর আমরা বলি: যদি ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এই সংশয়বাদীর নিকট এসে বলে যে, "কুরআন কোনো প্রমাণ (حجة) নয়। কারণ এটি আকাশ থেকে লিখিত আকারে নাজিল হয়নি। যদি এটি প্রমাণ (حجة) হতো, তবে শরিয়ত প্রণেতা এর প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলের ন্যায় এটিকেও লিখিত আকারে নাজিল করতেন।" তখন সেই ব্যক্তির উত্তর কী হবে—যে মনে করে লিখিত হওয়া প্রামাণিকতা (الحجية)-এর জন্য অপরিহার্য শর্ত? যদি সে তাঁদের বলে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভুল ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষাই...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
فيه تغني عن نزوله مكتوبًا. قالوا له: إن موسى وعيسى عليهما السلام كانا معصومين اَيْضًا مما ذكرت ومع ذلك اهتم الشارع بكتابيهما فأنزلهما مكتوبين وما ذلك إلا لأن العصمة وحدها لا تغني.
وقلنا له نحن معاشر المسلمين من قبلنا: كما أغنت العصمة عن نزوله مكتوبًا تغنينا عدالة الراوي عن كتابة ما هو حجة قرآنًا أو سنة. كل ما في الأمر أن العصمة تفيدنا اليقين والعدالة تفيدنا الظن. والشارع قد تعبدنا بالظن في الفروع ولم يكلفنا بتلمس سبيل اليقين في كل حكم من الأحكام لما في ذلك من الحرج والتعذر {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} (1). على أن النقلة والحاملين للحجة إذا بلغوا حد التواتر أفادنا نقلهم اليقين، كالعصمة وإن لم يكن على سبيل الكتابة. وكثير من السنة قد نقل على هذا الوجه. وصاحب الشبهة يزعم: أنه لا شيء من السنة بحجة، وأن القرآن وحده هو الحجة.
إذن لا بد لصاحب الشبهة - إن كان مسلمًا - أن يعترف معنا أن الكتابة ليست شرطًا في الحُجِّيَةِ. وأن بلوغ الرواة حد التواتر أو عدالتهم وقوة حفظهم - وإن كانوا آحَادًا - قائم كل منهما مقام عصمة النبي صلى الله عليه وسلم في صيانة ما هو حجة وثبوت حجيته. حتى يمكنه أن يرد على اليهود والنصارى ما أوردوه.
الكِتَابَةُ لَا تُفِيدُ القَطْعَ:قد علمت أن كتابة غير العدل لا تفيدنا قطعًا ولا ظنًا. وكذلك إذا كتب العدل وحمل المكتوب إلينا غير عدل.
فأما إذا حصلت من عدل وحمل المكتوب إلينا عدل مثله، فإنها لا تفيد القطع بل الظن، لأن احتمال التغيير والخطأ باق وإن كان ضعيفا لوجود العدالة. نعم إن بلغ كل من الكاتبين والحاملين عدد التواتر، استفدنا القطع، وكذلك إذا كتب واحد
--------------------------------------------
এতে এটি (নিষ্পাপতা) লিখিতভাবে অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। তারা তাকে বলেছে: নিশ্চয়ই মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম) আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে নিষ্পাপ (معصوم) ছিলেন, তা সত্ত্বেও শরিয়ত প্রণেতা তাঁদের কিতাবদ্বয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সেগুলোকে লিখিত অবস্থায় অবতীর্ণ করেছেন; আর এটি কেবল এ কারণেই যে, একা নিষ্পাপতা (العصمة) যথেষ্ট নয়।
আর আমরা মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের পক্ষ থেকে তাকে বলেছি: যেভাবে নিষ্পাপতা (العصمة) একে লিখিতভাবে অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন থেকে মুক্ত করেছে, তেমনি বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الراوي) কুরআন বা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত যা কিছু দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত, তা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করে। মূল বিষয়টি হলো এই যে, নিষ্পাপতা (العصمة) আমাদের নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) প্রদান করে এবং ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) আমাদের প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে। আর শরিয়ত প্রণেতা আমাদের শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় প্রবল ধারণার (الظن) ভিত্তিতে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রতিটি বিধানের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) পথ অন্বেষণের কষ্ট আমাদের ওপর চাপিয়ে দেননি; কারণ এতে সংকীর্ণতা ও দুঃসাধ্যতা রয়েছে—{আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না} (১)। তদুপরি, দলিল বহনকারী বর্ণনাকারীগণ যখন মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছান, তখন তাঁদের বর্ণনা আমাদের নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) প্রদান করে, ঠিক নিষ্পাপতার (العصمة) মতোই, যদিও তা লিখিত আকারে না হয়। সুন্নাহর একটি বড় অংশ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর সংশয়বাদী দাবি করে যে, সুন্নাহর কোনো কিছুই দলিল (حجة) নয়, বরং কেবল কুরআনই দলিল (حجة)।
সুতরাং সংশয়বাদীকে—যদি সে মুসলিম হয়—আমাদের সাথে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, দলিল (حجة) হওয়ার জন্য লিখিত হওয়া শর্ত নয়। আর বর্ণনাকারীগণ (الرواة) মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছানো অথবা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও মুখস্থশক্তির প্রখরতা—যদিও তাঁরা একক (آحاد) হন—তা দলিল (حجة) হওয়া বিষয়ের সংরক্ষণ এবং এর প্রামাণিকতা (الحجية) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষ্পাপতার (العصمة) স্থলাভিষিক্ত। যাতে করে সে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উত্থাপিত আপত্তির জবাব দিতে পারে।
লিখন নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে না:আপনি জেনেছেন যে, ন্যায়পরায়ণ নয় (غير العدل) এমন ব্যক্তির লিখনী আমাদের নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) বা প্রবল ধারণা (الظن) কোনোটিই প্রদান করে না। তেমনিভাবে যদি কোনো ন্যায়পরায়ণ (العدل) ব্যক্তি লেখেন এবং সেই লিখিত বিষয়টি আমাদের কাছে এমন কেউ বহন করে নিয়ে আসে যে ন্যায়পরায়ণ নয় (غير العدل)।
কিন্তু যদি এটি কোনো ন্যায়পরায়ণ (العدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয় এবং তাঁর মতো অপর কোনো ন্যায়পরায়ণ (العدل) ব্যক্তি আমাদের কাছে তা বহন করে আনেন, তবে তা নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে না বরং প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে। কারণ পরিবর্তন ও ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যায়, যদিও ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) বিদ্যমান থাকার কারণে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। হ্যাঁ, যদি লেখক ও বাহক প্রত্যেকের সংখ্যা মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে আমরা নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) লাভ করি। অনুরূপভাবে যদি একজন লেখেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৬)
وأقرا المكتوب جمع بلغ عدد التواتر وحمله عدد مثله. والقطع على كل حال لم نستفده من محض الكتابة وخصوصيتها، وإنما هو من التواتر الكتابي في الحالة الأولى، أو اللفظي بإقرارهم في الحالة الثانية.
الكِتَابَةُ دُونَ الحِفْظِ قُوَّةً:ومع أن الكتابة تفيد الظن - على ما علمت فهي دون الحفظ في هذه الإفادة. ولذلك ترى: أن علماء الأصول إذا تعارض حديث مسموع وحديث مكتوب، يُرَجِّحُونَ الأول، قال الآمدي (1): «وَأَمَّا مَا يَعُودُ إِلَىَ الْمَرْوِيَِّ فَتَرْجِيحَاتٌ. الأَوَّلَ: أَنْ تَكُونَ رِوَايَةُ أَحَدِ الخَبَرَيْنِ عَنْ سَمَاعِ مِنَ الْنَّبِيِِّ صلى الله عليه وسلم، وَالرِّوَايَةُ الأُخْرَى عَنْ كِتَابٍ، فَرِوَايَةُ السَّمَاعِ أَوْلَى، لِبُعْدِهَا عَنْ تَطَرُّقِ الْتَّصْحِيْفِ وَالْغَلَطِ».
وترى (اَيْضًا): أن علماء الحديث - بعد اتفاقهم على صحة رواية الحديث بالسماع - قد اختلفوا في صحة روايته بطريق المناولة أو المكاتبة. (فمنهم): من أجازها مُحْتَجًّا: بأن النبي صلى الله عليه وسلم كتب لأمير سرية كِتَابًا وقال: «لَا تَقْرَأْهُ حَتَّى تَبْلُغَ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا». فلما بلغ ذلك المكان قرأه على الناس، وأخبرهم بأمر النبي صلى الله عليه وسلم كما في تعاليق البخاري في " صحيحه ". و (منهم): من لم يجزها دافعًا ما تقدم بأن الحجة إنما وجبت بكتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم المذكور، لعدم توهم التبديل والتغيير فيه، لعدالة الصحابي، بخلاف من بعدهم، حكاه البيهقي. وهو دفع ضعيف كما ترى. ولذلك كان الصحيح: صحة الرواية بأحدهما ما دامت العدالة متحققة، وانتفى ما يوجب الشك في المكتوب. قال ابن حجر (2): «وَأَقُولُ: شَرْطُ قِيَامِ الْحُجَّةِ بِالْمُكَاتَبَةِ أَنْ يَكُونَ الكِتَابُ مَخْتُومًا وَحَامِلهُ مُؤْتَمَنًا وَالْمَكْتُوبُ إِلَيْهِ يَعْرِفُ خَطَّ الشَّيْخِ، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الشُّرُوطِ الدَّافِعَةِ لِتَوَهُّمِ التَّغْيِيرِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ». اهـ.
وبالجملة: فالمكاتبة فيها من الاحتمالات أكثر مما في التحديث شفاها.
--------------------------------------------
লিখিত বিষয় পাঠ করেছেন এমন একদল লোক যারা মুতাওয়াতির (تواتر) সংখ্যায় পৌঁছেছেন এবং সমসংখ্যক লোকই তা বহন করেছেন। আর কোনো অবস্থাতেই আমরা কেবল লেখার বিষয়বস্তু বা এর বৈশিষ্ট্য থেকে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করিনি; বরং তা প্রথম অবস্থায় লিখিত মুতাওয়াতির (تواتر) থেকে অথবা দ্বিতীয় অবস্থায় তাদের স্বীকৃতির মাধ্যমে মৌখিক মুতাওয়াতির থেকে প্রাপ্ত।
নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে মুখস্থবিদ্যার নিচে লিখনির অবস্থান:যদিও লেখা প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে—যেমনটি আপনি জেনেছেন—তবুও এই উপযোগিতার ক্ষেত্রে এটি মুখস্থবিদ্যার (হিফয) নিচে। এ কারণেই আপনি দেখবেন: উসুলবিদগণ যখন কোনো শ্রুত হাদিস এবং লিখিত হাদিসের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখন প্রথমটিকে প্রাধান্য দেন। আল-আমিদি (১) বলেন: «আর যা বর্ণিত বিষয়ের (المروي) সাথে সম্পৃক্ত, তাতে কিছু অগ্রাধিকারের বিষয় রয়েছে। প্রথমত: দুটি সংবাদের (الخبر) মধ্যে একটির বর্ণনা (رواية) যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শ্রবণ করার মাধ্যমে হয় এবং অন্য বর্ণনাটি (رواية) যদি কিতাব বা লিখিত কপি থেকে হয়, তবে শ্রুত বর্ণনাটিই (رواية) অধিক উত্তম; কারণ এটি শব্দবিকৃতি (تصحيف) ও ভুলের সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকে»।
আপনি আরও দেখবেন যে, হাদিস বিশারদগণ—শ্রবণের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা (رواية) সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর—মুনওয়ালাহ (مناولة) বা মুকাতাবাহ (مكاتبة) পদ্ধতিতে বর্ণনা (رواية) সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। (তাদের মধ্যে কেউ কেউ): এটিকে বৈধ বলেছেন এই দলিলে যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুদ্ধাভিযানের আমিরের জন্য একটি পত্র লিখেছিলেন এবং বলেছিলেন: «তুমি এটি পড়বে না যতক্ষণ না তুমি অমুক অমুক স্থানে পৌঁছাও»। অতঃপর তিনি যখন সেই স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি তা মানুষের সামনে পাঠ করলেন এবং তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করলেন, যেমনটি সাহিহ বুখারি-এর তা’লিক (تعاليق) বর্ণনাসমূহে উল্লেখ রয়েছে। (আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ): এটিকে বৈধ মনে করেননি এবং পূর্বোক্ত দলিলটি এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লিখিত পত্রটি দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা ওয়াজিব হয়েছিল কারণ তাতে কোনো রদবদল বা পরিবর্তনের সংশয় ছিল না, যেহেতু সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সুনিশ্চিত; যা তাদের পরবর্তী লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়—বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন। তবে আপনি যেমনটি দেখছেন, এটি একটি দুর্বল (ضعيف) খণ্ডন। এ কারণে সঠিক (صحيح) মত হলো: যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিদ্যমান থাকবে এবং লিখিত বিষয়ে সন্দেহের কারণসমূহ দূরীভূত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলোর মাধ্যমে বর্ণনা (رواية) সহিহ (صحيح) হবে। ইবনে হাজার (২) বলেন: «আমি বলি: মুকাতাবাহ (مكاتبة)-এর মাধ্যমে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার শর্ত হলো যে, পত্রটি মোহরকৃত হতে হবে, এর বাহক বিশ্বস্ত হতে হবে এবং প্রাপক শায়খের হস্তলিপি চিনতে হবে। এছাড়াও পরিবর্তনের সংশয় দূর করার মতো অন্যান্য শর্তাবলী বিদ্যমান থাকতে হবে। আল্লাহই ভালো জানেন»। সমাপ্ত।
সারকথা হলো: মৌখিক বর্ণনার তুলনায় মুকাতাবাহ (مكاتبة)-তে (ভুল বা পরিবর্তনের) সম্ভাবনা বেশি থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
فلذلك وقع الخلاف فيها دونه، وإن كان الصحيح جواز الاعتماد عليها بالشروط التي صرح ببعضها ابن حجر.
… الكتابة دون الحفظ قوة خصوصا من العرب ومن على شاكلتهم:
وذلك أنا نعلم: أن العرب كانوا أمة أمية، يندر فيهم من يعرف الكتابة، ومن يعرفها منهم قد لا يتقنها، فيتطرق إلى مكتوبه احتمال الخطأ احتمالا قويا، وإذا أتقنها الكاتب فقد لا يتقن قراءتها القارئ منهم: فيقع في اللبس والخطأ، خُصُوصًا قبل وضع قواعد النقط والشكل والتمييز بين الحروف المعجمة والمهملة، الذي لم يحدث قبل عهد عبد الملك (1) بن مروان، ولذلك كان جل اعتمادهم في تورايخهم وأخبارهم ومعاوضاتهم وسائر أحوالهم على الحفظ حتى قويت هذه الملكة عندهم، وندر أن يقع منهم خطأ أو نسيان لشيء مما حفظوه. بخلاف من يعتمد على الكتابة من الأمم المتعلمة المتمرنة عليها: فإنه تضعف فيهم ملكة الحفظ ويكثر عندهم الخطأ والنسيان لما حفظوه، وهذه الحال مشاهدة فيما بيننا: فإنا نجد الأعمى أقوى حفظا لما يسمعه من البصير، لأنه جعل كل اعتماده على ملكة الحفظ. بخلاف البصير فإنه يعتمد على الكتاب وأنه سينظر فيه عند الحاجة، وكذلك التاجر الأمي قد يعقد من الصفقات في اليوم الواحد نحو المائة ومع ذلك نجده يحفظ جميع ماله عند الغير وما عليه له بدون ما خطأ أو نسيان لدانق واحد. بخلاف التاجر المتعلم الذي اتخذ الدفاتر في متجره واعتمد عليها في معرفة الصفقات وما له وما عليه: فإنا نجده سريع النسيان لما لم يكتبه كثير الخطأ فيه. ونظير ذلك حاسة السمع عند الأعمى: فإنها أقوى منها بكثير عند البصير. لأن الأول لما فقد بصره استعمل سمعه في إدراك أشياء كثيرة كان يميزها بالبصر لو كان بصيرًا. فقوي عنده السمع وكذلك نجد حواس الحيوانات المفترسة من شم وسمع وبصر أقوى منها في الإنسان
--------------------------------------------
সেই কারণেই তাঁর (অর্থাৎ লেখনীর) ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাঁর (অর্থাৎ মুখস্থের) ক্ষেত্রে হয়নি। যদিও বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, ইবনে হাজার বর্ণিত কিছু শর্তসাপেক্ষে এর ওপর নির্ভর করা বৈধ।
… মুখস্থকরণের পরিবর্তে লিখনী একটি শক্তির উৎস, বিশেষ করে আরব এবং তাদের সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে:
আর এর কারণ হলো, আমরা জানি যে আরবরা ছিল একটি নিরক্ষর জাতি; তাদের মধ্যে লিখনী জানা লোক ছিল বিরল। আর তাদের মধ্যে যারা তা জানত, তারা হয়তো তাতে পারদর্শী ছিল না। ফলে তাদের লিখিত বক্তব্যে ভুলের প্রবল সম্ভাবনা থেকে যেত। আবার লেখক যদি পারদর্শী হতোও, তবে পাঠক হয়তো তা সঠিকভাবে পড়তে সক্ষম হতো না। ফলে অস্পষ্টতা ও ভুলের সৃষ্টি হতো, বিশেষ করে নুকতা (বিন্দু), হরকত (চিহ্ন) এবং নুকতাযুক্ত (معجمة) ও নুকতাহীন (مهملة) বর্ণের মধ্যে পার্থক্য করার নিয়মাবলী প্রবর্তিত হওয়ার আগে, যা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগের আগে ঘটেনি। এ কারণেই তাদের ইতিহাস, সংবাদ, লেনদেন এবং জীবনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে তাদের অধিকাংশ নির্ভরতা ছিল মুখস্থ শক্তির ওপর; যার ফলে তাদের মধ্যে এই প্রতিভা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। তারা যা মুখস্থ করত, তাতে ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা ছিল খুবই বিরল। এর বিপরীতে যারা শিক্ষিত ও লিখনীতে অভ্যস্ত জাতিসমূহের মতো লেখনীর ওপর নির্ভর করে, তাদের মধ্যে মুখস্থ করার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের মুখস্থকৃত বিষয়ে ভুল ও বিস্মৃতি বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি আমাদের মাঝেও দৃশ্যমান। যেমন আমরা দেখতে পাই, একজন অন্ধ ব্যক্তি দৃষ্টিমান ব্যক্তির চেয়ে তার শ্রুত বিষয় অধিক শক্তিশালীভাবে মুখস্থ রাখতে সক্ষম; কারণ সে তার সমস্ত নির্ভরতা মুখস্থ শক্তির ওপর ন্যস্ত করেছে। পক্ষান্তরে দৃষ্টিমান ব্যক্তি কিতাবের ওপর নির্ভর করে এবং মনে করে যে প্রয়োজনে সে তাতে দেখে নেবে। অনুরূপভাবে, একজন নিরক্ষর ব্যবসায়ী দিনে হয়তো প্রায় একশটি লেনদেন সম্পন্ন করে, তবুও আমরা দেখতে পাই যে সে অন্যের কাছে তার পাওনা এবং অন্যের পাওনা সম্পর্কে সবকিছু নির্ভুলভাবে মনে রাখে, এমনকি একটি সামান্য পরিমাণও সে ভুলে যায় না। এর বিপরীতে সেই শিক্ষিত ব্যবসায়ী, যে তার দোকানে খাতা বা রেজিস্টার ব্যবহার করে এবং লেনদেন ও দেনা-পাওনা জানার জন্য তার ওপর নির্ভর করে, আমরা তাকে দেখতে পাই যে সে যা লিখে রাখেনি তা দ্রুত ভুলে যায় এবং তাতে অনেক ভুল করে। এর দৃষ্টান্ত হলো অন্ধ ব্যক্তির শ্রবণশক্তি; যা একজন দৃষ্টিমান ব্যক্তির তুলনায় অনেক বেশি প্রখর। কারণ প্রথম ব্যক্তি যখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, তখন সে অনেক কিছু অনুধাবনের জন্য তার শ্রবণশক্তিকে ব্যবহার করেছে, যা সে দৃষ্টিমান হলে চোখের সাহায্যে পৃথক করতে পারত। ফলে তার শ্রবণশক্তি প্রবল হয়েছে। একইভাবে আমরা শিকারি প্রাণীদের ঘ্রাণশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী দেখতে পাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
بمراحل. لأنها تعتمد على هذه الحواس في حياتها أكثر من اعتماد الإنسان عليها.
ولقد ساعد العرب على تقوية ملكة الحفظ عندهم طبيعة جوهم وبساطة معيشتهم، وَحِدَّةَ ذكائهم. وقوة فهمهم لما يحدث بينهم، وَسَعَةَ خِبْرَتِهِمْ بأساليب لسانهم وطرق بيانهم.
… وَخُصُوصًا الصَّحَابَةَ وَالتَّابِعِينَ مِنْهُمْ:
وهذه حالة العرب في جاهليتهم. فما بالك بالصحابة رضي الله عنهم الذين قَيَّضَهُمْ اللهُ لحفظ الشرع وصيانته وحمله وتبليغه لمن بعدهم. وملأ قلوبهم بالإيمان والتقوى والرهبة والخوف: أن يبلغوا من بعدهم شيئًا من أحكام الدين على خلاف ما سمعوا ورأوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومن غير أن يتأكدوا ويتثبتوا أنه هو الحق من ربهم ومن رسوله صلى الله عليه وسلم. والذين حصلت لهم بركة صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتتلمذوا له وتخرجوا على يديه. واستنارت قلوبهم بنوره، وتأدبوا بأدبه واهتدوا بهديه واستنوا بسنته. ودعا لهم بالحفظ والعلم والفقه كما ورد في أبي هريرة وابن عباس.
وقريب من الصحابة في هذا المقام: من اجتمع بهم وشاهد أحوالهم واتبع خطاهم واقتفى آثارهم من التابعين، كل ذلك يكاد ينفي عن سامع الحديث من أحدهم توهم خطأ أو نسيان أو تبديل أو اختلاق.
والأخبار التي تدل على قوة الحفظ عند العرب كثيرة يعلمها الخاصة والعامة.
ولقد كان كثير من الصحابة والتابعين مطبوعين على الحفظ مخصوصين بذلك كابن عباس والشعبي وَالزُّهْرِيِّ وَالنَّخَعِي وَقَتَادَةَ. فكان أحدهم يجتزئ بالسمعة، ألا ترى ما جاء عن ابن عباس رضي الله عنه أنه حفظ قصيدة عمر بن أبي ربيعة التي أولها:
أَمِنْ آلِ نُعْمٍ أَنْتَ غَادٍ فَمُبْكِرُ *
… *
… * غَدَاةَ غَدٍ أَمْ رَائِحٌ فَمُهْجِرٌ؟
في سمعة واحدة ، وهي خمسة وسبعون بيتًا. وما جاء عن الزهري أنه كان
বহুগুণ বেশি। কেননা তারা তাদের জীবনে এই ইন্দ্রিয়গুলোর ওপর মানুষের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভর করে।
আর আরবদের আবহাওয়ার প্রকৃতি, তাদের জীবনযাত্রার সরলতা এবং তাদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা তাদের মুখস্থ করার ক্ষমতা (ملكة الحفظ) বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল। এছাড়া তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো অনুধাবনের প্রবল শক্তি এবং তাদের ভাষার শৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি সম্পর্কে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাও এতে সহায়ক ছিল।
… বিশেষত তাদের মধ্য থেকে সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈগণ (تابعين):
জাহিলিয়াত যুগে আরবদের অবস্থা ছিল এমনই। তাহলে সেই সাহাবী (صحابة) -রাযিয়াল্লাহু আনহুম- এর ব্যাপারে কী ধারণা করা যায়, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা শরীয়ত সংরক্ষণ (حفظ), সুরক্ষা, বহন এবং পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। তিনি তাদের অন্তরকে ঈমান, তাকওয়া (تقوى), ভয় ও ভীতির দ্বারা পূর্ণ করে দিয়েছিলেন যেন তারা দ্বীনের বিধি-বিধানের এমন কোনো কিছু পরবর্তীদের কাছে না পৌঁছায় যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শোনা ও দেখার বিপরীত হয়। এবং তাদের রব ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আগত সত্য হিসেবে সুনিশ্চিত ও যাচাই (تثبت) না করে কোনো কিছু বর্ণনা না করেন। তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তিত্ব যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যের বরকত লাভ করেছেন, তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছেন। তাঁদের অন্তর তাঁর নূরে আলোকিত হয়েছিল, তাঁরা তাঁর আদব গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর হেদায়েত দ্বারা পথপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মুখস্থ শক্তি (حفظ), জ্ঞান (علم) এবং প্রজ্ঞা (فقه)-এর জন্য দোয়া করেছিলেন, যেমনটি আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।
এই মর্যাদার ক্ষেত্রে সাহাবী (صحابة)-দের কাছাকাছি পর্যায়ের হলেন তাঁরা, যারা তাবিঈ (تابعين)-দের মধ্যে তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ ও অনুকরণ করেছেন। এই সব কিছুই তাঁদের কারো কাছ থেকে হাদিস শ্রবণকারীর মন থেকে ভুল (خطأ), বিস্মৃতি (نسيان), পরিবর্তন (تبديل) বা মিথ্যা উদ্ভাবনের (اختلاق) সব ধরণের সংশয় দূর করে দেয়।
আরবদের মুখস্থ শক্তির প্রখরতার প্রমাণবাহী বর্ণনাগুলো অনেক, যা বিজ্ঞ সমাজ ও সাধারণ মানুষ—সবাই অবগত।
সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈ (تابعين)-দের মধ্যে অনেকেই মুখস্থ করার স্বভাবজাত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং এ ব্যাপারে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। যেমন— ইবনে আব্বাস, শাবি, যুহরি, নাখয়ি এবং কাতাদাহ। তাঁদের কেউ একবার শুনেই মুখস্থ করে নিতে পারতেন। আপনি কি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বর্ণিত সেই ঘটনাটি দেখেননি যে, তিনি ওমর ইবনে আবি রাবিআ-র সেই কাসিদাটি মুখস্থ করে ফেলেছিলেন যার শুরুটা ছিল:
তুমি কি সকালে 'নুআম'-এর পরিজনের কাছ থেকে প্রস্থান করবে নাকি ভোরে? *
… *
… * আগামীকালের ভোরে না কি শেষ রাতে প্রস্থান করবে?
মাত্র একবার শুনেই তিনি পঁচাত্তরটি পঙ্ক্তি বা শ্লোক মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। আর ইমাম যুহরি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
يقول: «إِنِّي لأَمُرُّ بِالْبَقِيعِ فَأَسُدُّ آذَانِي مَخَافَةَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهَا شَيْءٌ مِنَ الخَنَا. فَوَاللَّهِ مَا دَخَلَ أُذُنِي شَيْءٌ قَطُّ فَنَسِيتُهُ» وقد جاء نحوه عن الشعبي.
وبالجملة: فالحفظ والكتابة يتناوبان في المحافظة على الشيء. وفي الغالب يضعف أحدهما إذا قوي الآخر. ومن هنا نفهم سَبَبًا من الأسباب التي حملت الصحابة على حث تلاميذهم على الحفظ ونهيهم إياهم عن الكتابة، وذلك لأنهم كانوا يرون أن الاعتماد على الكتابة يضعف فيهم ملكة الحفظ. وهي ملكة قد طبعوا عليها ، والنفس تميل إلى ما طبعت عليه وتكره ما يخالفه ويضعفه.
الحِفْظُ أَعْظَمُ مِنَ الكِتَابِةِ فَائِدَةً وَأَجْدَى نَفْعًا:وبيان ذلك: أن الحفظ في الغالب لا يكون إلا مع الفهم وإدراك المعنى والتحقق منه، حتى يستعين بذلك على عدم نسيان اللفظ ثم إنه يحمل المرء على مراجعة ما حفظه واستذكاره آنًا بَعْدَ آنٍ حتى يأمن من زواله. ثم إن محفوظه يكون معه في صدره في أي وقت وفي أي مكان، فيرجع إليه في جميع الأحوال عند الحاجة ولا يكلفه ذلك الحمل مؤونة ولا مشقة. بخلاف الكتابة: فإنها كثيرا ما تكون بدون فهم المعنى عاجلا وآجلا. أو سببا في عدم الفهم في الحال اعتمادًا على ما سوف يفهم فيما بعد. وقد تضيع عليه الفرصة في المستقبل لضياع المكتوب أو عدم وجوده معه عند الحاجة إليه، أو عدم وجود من يفهمه المكتوب ويشرحه له. ثم إن الكاتب لا يجد في الغالب باعثًا يدعوه إلى مراجعة ما كتبه. ثم إنه يجد مشقة ومؤونة في حمل المكتوب معه في كل وقت ومكان. وبذلك كله يكون نقلة العلم جُهَّالاً. مثلهم كمثل الحمار يحمل أسفارًا. وأعظم به سببًا في ضياع العلم. وانتشار الجهل.
يرشدك إلى ما قررنا قول إبراهيم النخعي المتقدم: «لَا تَكْتُبُوا فَتَتَّكِلُوا». وقوله: «
… فَإِنَّهُ [قَلَّ مَا] طَلَبَ إِنْسَانٌ عِلْمًا إِلَاّ آتَاهُ اللَّهُ مِنْهُ مَا يَكْفِيهِ، [وَقَلَّ مَا] كَتَبَ رَجُلٌ كِتَابًا إِلَاّ اتَّكَلَ عَلَيْهِ». وقول الأوزاعي: «كَانَ هَذَا الْعِلْمُ شَيْئًا شَرِيفًا إِذْ كَانَ مِنْ أَفْوَاهِ الرِّجَالِ يَتَلَاقَوْنَهُ وَيَتَذَاكَرُونَهُ، فَلَمَّا صَارَ فِي الْكُتُبِ ذَهَبَ نُورُهُ وَصَارَ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ». وقول بعض
তিনি বলেন: "আমি বাক্বী-এর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার সময় নিজের কান দু’টি বন্ধ করে রাখি, পাছে অশ্লীল কোনো কথা তাতে ঢুকে পড়ে। আল্লাহর কসম, কোনো কিছু একবার আমার কানে প্রবেশ করার পর আমি তা কখনো ভুলে যাইনি।" অনুরূপ বর্ণনা শাবি থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে: মুখস্থ করা (حفظ) এবং লিখে রাখা (كتابة) কোনো কিছু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত, এদের একটি শক্তিশালী হলে অন্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এখান থেকেই আমরা সেই কারণগুলোর একটি বুঝতে পারি, যা সাহাবীদেরকে তাদের ছাত্রদের মুখস্থ করার (حفظ) প্রতি উৎসাহিত করতে এবং লিখে রাখার (كتابة) ব্যাপারে নিষেধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কারণ, তারা মনে করতেন যে লেখার ওপর নির্ভরতা তাদের মুখস্থ করার (حفظ) শক্তি বা প্রতিভাকে দুর্বল করে দেয়। এটি এমন এক প্রতিভা যা তাদের স্বভাবজাত ছিল, আর মানুষের মন স্বভাবজাত বিষয়ের দিকেই ঝুঁকে থাকে এবং যা তার বিপরীত বা যা তাকে দুর্বল করে দেয় তা অপছন্দ করে।
উপকারিতা ও কার্যকারিতার দিক থেকে মুখস্থ করা (حفظ) লেখার (كتابة) চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ:এর ব্যাখ্যা হলো: সাধারণত মুখস্থ করা (حفظ) তখনই সম্ভব হয় যখন বিষয়টি অনুধাবন করা হয়, অর্থ উপলব্ধি করা হয় এবং তা যাচাই করা হয়, যাতে করে এটি শব্দের বিস্মৃতি রোধে সহায়ক হয়। তদুপরি, এটি মানুষকে তার মুখস্থ (محفوظ) করা বিষয়টি বারবার পাঠ এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্মরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে তা হারিয়ে যাওয়ার ভয় না থাকে। তাছাড়া, তার মুখস্থ (محفوظ) করা বিষয়টি যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে তার অন্তরেই বিদ্যমান থাকে; ফলে প্রয়োজনে সব অবস্থায় সে সেটির দিকে ফিরে যেতে পারে এবং এটি বহন করার জন্য তাকে কোনো খরচ বা পরিশ্রম করতে হয় না। লেখার (كتابة) বিষয়টি এর বিপরীত: কেননা এটি প্রায়শই তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী সময়ে অর্থ অনুধাবন ছাড়াই সম্পন্ন হয়। অথবা পরে বুঝে নেওয়ার ওপর নির্ভর করে বর্তমানে না বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার ভবিষ্যতে লিখিত অংশটি হারিয়ে যাওয়ার কারণে বা প্রয়োজনের সময় কাছে না থাকার কারণে, অথবা সেটি বুঝিয়ে দেওয়ার বা ব্যাখ্যা করার মতো কাউকে না পাওয়ার কারণে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তদুপরি, লেখক সাধারণত যা লিখেছেন তা পুনরায় দেখার কোনো বিশেষ তাগিদ অনুভব করেন না। অধিকন্তু, লিখিত বিষয়বস্তু সব সময় সব জায়গায় সাথে বহন করাও কষ্টসাধ্য ও পরিশ্রমের কাজ। এর ফলে জ্ঞান বহনকারীরা (نقلة) অজ্ঞ থেকে যান। তাদের উদাহরণ সেই গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। আর ইলম হারিয়ে যাওয়া এবং মূর্খতা ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত বড় কারণ।
আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি সেদিকে ইব্রাহিম নাখয়ীর পূর্বোল্লিখিত উক্তিটি পথপ্রদর্শন করে: "তোমরা লিখো না, অন্যথায় তোমরা সেটির ওপরই নির্ভর করে বসবে।" এবং তাঁর উক্তি: «
… কেননা খুব কমই এমন হয়েছে যে কোনো মানুষ ইলম অন্বেষণ করেছে অথচ আল্লাহ তাকে তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ইলম দান করেননি। আর খুব কমই এমন হয়েছে যে কোনো ব্যক্তি কিছু লিখেছে অথচ সে সেটির ওপরই নির্ভর করে বসেনি।" এবং আওজায়ীর উক্তি: "এই ইলম ততক্ষণ পর্যন্ত একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয় ছিল যতক্ষণ তা মানুষের মুখ থেকে গৃহীত হতো, তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করত এবং এটি নিয়ে আলোচনা করত। যখন এটি কিতাবসমূহে আবদ্ধ হয়ে গেল, তখন এর নূর চলে গেল এবং এটি অযোগ্যদের হাতে পৌঁছে গেল।" এবং কারো উক্তি-
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
الأعراب: «حَرْفٌ فِي تَامُورِكَ خَيْرٌ مِنْ عَشَرَةٍ فِي كُتُبِكَ». وَقَوْلُ يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ رَجُلاً يُنْشِدُ:
اسْتَوْدَعَ الْعِلْمَ قِرْطَاسًا فَضَيَّعَهُ *
… *
… * وَبِئْسَ مُسْتَوْدَعُ الْعِلْمِ الْقَرَاطِيسُ -:
[فَقَالَ يُونُسُ]: «قَاتَلَهُ اللَّهُ مَا أَشَدَّ صِيَانَتَهُ لِلْعِلْمِ وَصَيَانَتَهُ لِلْحِفْظِ، إِنَّ عِلْمَكَ مِنْ رُوحِكَ، وَإِنَّ مَالَكَ مِنْ بَدَنِكَ، فَصُنْ عِلْمَكَ صِيَانَتَكَ رُوحَكَ، وَصُنْ مَالَكَ صَيَانَتَكَ بَدَنَكَ».
وقول الخليل أحمد:
لَيْسَ بِعِلْمٍ مَا حَوَى الْقِمَطْرُ *
… *
… * مَا الْعِلْمُ إِلَّا مَا حَوَاهُ الصَّدْرُ
وقول محمد بن بشير:
أَمَا لَوْ أَعِي كُلَّ مَا أَسْمَعُ *
… *
… * وَأَحَفْظَ مِنْ ذَاكَ مَا أَجْمَعُ
وَلَمْ أَسْتَفِدْ غَيْرَ مَا قَدْ جَمَعْتُ *
… *
… * لَقِيلَ هُوَ الْعَالِمُ الْمَقْنَعُ
وَلَكِنَّ نَفْسِي إِلَى كُلِّ فَنِّ *
… *
… * مِنَ الْعِلْمِ تَسْمَعْهُ تَنْزَعُ
فَلَا أَنَا أَحْفَظُ مَا قَدْ جَمَعْتُ *
… *
… * وَلَا أَنَا مِنْ جَمْعِهِ أَشْبَعُ
وَمَنْ يَكُ فِي عِلْمِهِ هَكَذَا *
… *
… * يَكُنْ دَهْرَهَ الْقَهْقَرِيَّ يَرْجِعُ
إِذَا لَمْ تَكُنْ حَافِظًا وَاعِيًا *
… *
… * فَجَمْعُكَ لِلْكُتْبِ لَا يَنْفَعُ
أَأَحْضُرُ بِالْجَهْلِ فِي مَجْلِسٍ *
… *
… * وَعِلْمِي فِي الْكُتُبِ مُسْتَوْدَعُ
وقول أبي العتاهية:
مَنْ مُنِحَ الْحِفْظَ وَعَى *
… *
… * مَنْ ضَيَّعَ الْحِفْظَ وَهِمَ
وقول منصور الفقيه:
عِلْمِي مَعِي حَيْثُ مَا يَمَّمْتُ أَحْمِلُهُ *
… *
… * بَطْنِي وِعَاءٌ لَهُ لَا بَطْنَ صُنْدُوقِ
إِنْ كُنْتُ فِي الْبَيْتِ كَانَ الْعِلْمُ فِيهِ مَعِي *
… *
… * أَوْ كُنْتُ فِي السُّوقِ كَانَ الْعِلْمُ فِي السُّوقِ
জনৈক বেদুঈন বলেছেন: «তোমার অন্তরে রক্ষিত একটি বর্ণ তোমার কিতাবে থাকা দশটি বর্ণের চেয়ে উত্তম।» এবং ইউনুস ইবনে হাবীবের উক্তি যখন তিনি এক ব্যক্তিকে এই কবিতাটি আবৃত্তি করতে শুনলেন:
সে তার ইলমকে কাগজের কাছে আমানত রাখল এবং একে হারিয়ে ফেলল *
… *
… * আর ইলম আমানত রাখার জন্য কাগজ কতই না মন্দ আধার -:
[অতঃপর ইউনুস বললেন]: «আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন! ইলম সংরক্ষণ ও মুখস্থ (حفظ) রাখার প্রতি তার একাগ্রতা কতই না তীব্র। নিশ্চয়ই তোমার ইলম তোমার রূহের অংশ এবং তোমার সম্পদ তোমার শরীরের অংশ। অতএব, তোমার ইলমকে সেভাবে হিফাযত করো যেভাবে তুমি তোমার রূহকে হিফাযত করো এবং তোমার সম্পদকে সেভাবে রক্ষা করো যেভাবে তুমি তোমার শরীরকে রক্ষা করো।»
এবং খলিল ইবনে আহমদের উক্তি:
বই রাখার সিন্দুক যা ধারণ করে তা ইলম নয় *
… *
… * ইলম তো কেবল তা-ই যা অন্তর ধারণ করে
এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশীরের উক্তি:
হায়! আমি যা কিছু শুনি তা যদি আয়ত্ত (وعى) করতে পারতাম *
… *
… * এবং যা কিছু আমি সংগ্রহ করি তা যদি মুখস্থ (حفظ) রাখতে পারতাম
আমি যা সংগ্রহ করেছি তার অতিরিক্ত কিছু যদি অর্জন না-ও করতাম *
… *
… * তবুও বলা হতো যে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য আলিম
কিন্তু ইলমের প্রতিটি শাখার প্রতিই আমার মন *
… *
… * যখনই তা শোনে, তখনই সেদিকে ধাবিত হয়
ফলে যা আমি সংগ্রহ করেছি তা মুখস্থ (حفظ) রাখতে পারি না *
… *
… * আবার ইলম সংগ্রহের নেশায় আমার তৃপ্তিও আসে না
যার ইলমের অবস্থা এমন হয় *
… *
… * সে সারাজীবন কেবল পশ্চাৎপদই হতে থাকে
যদি তুমি মুখস্থকারী (حافظ) ও প্রজ্ঞাবান (واع) না হও *
… *
… * তবে তোমার কিতাব সংগ্রহ কোনো উপকারে আসবে না
আমি কি কোনো মজলিসে অজ্ঞতা নিয়ে উপস্থিত হব *
… *
… * যখন আমার ইলম কিতাবসমূহের মাঝে গচ্ছিত রয়ে যাবে?
এবং আবু আল-আতাহিয়ার উক্তি:
যাকে মুখস্থ (حفظ) রাখার ক্ষমতা দান করা হয়েছে সে তা আয়ত্ত করেছে *
… *
… * আর যে মুখস্থ (حفظ) করার শক্তি হারিয়েছে সে ভ্রান্তিতে (وهم) নিপতিত হয়েছে
এবং মনসুর আল-ফকিহের উক্তি:
আমার ইলম আমার সাথেই থাকে আমি যেখানেই যাই তা বহন করি *
… *
… * আমার বক্ষই এর পাত্র, কোনো সিন্দুকের উদর নয়
যদি আমি বাড়িতে থাকি তবে ইলম আমার সাথেই সেখানে থাকে *
… *
… * অথবা যদি আমি বাজারে থাকি তবে ইলমও বাজারেই থাকে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
ومما ذكرنا لك من فضل الحفظ على الكتابة وأنه أجدى نَفْعًا وأعظم فائدة تفهم سَبَبًا آخر من الأسباب التي حملت كثيرًا من الصحابة والتابعين على كراهة كتابة الحديث. فإنهم خافوا ضياع العلم بالاتكال على الكتابة وعدم تفهم المكتوب عَلَى مَا بَيَنَّا.
…
القَطْعُ بِالقُرْآنِ إِنَّمَا حَصَلَ بِالتَّوَاتُرِ اللَّفْظِيِّ:العمدة في قطعنا بالقرآن وبجميع ألفاظه إنما هو التواتر اللفظي وهو وحده كاف في ذلك. والكتابة لا دخل لها في هذا القطع ولم يتوقف عليها ولم ينشأ عنها. وإن حصل بها نوع من التأكيد لما علمت من أنها إنما تفيد الظن. فلو فرضنا أنه تواتر لفظه ولم يكتب لوجد هذا القطع بلا ريب. ولو فرضنا العكس لم يحصل لنا قطع بشيء منه. فإن النسخة أو النسخ التي سطرها كتاب الوحي ليست بأيدينا ولو فرض أنها بين أيدينا فمن أين نقطع أن هذا الخط هو خط كتاب الوحي ومن؟ أين نقطع أنه لم يحصل فيه تبديل أو زيادة أو نقص لا؟ يمكننا أن نقطع بشيء من ذلك إلا بإخبار قوم يؤمن تواطؤهم على الكذب بأن هذه الكتابة كتابة كتاب الوحي بدون زيادة ولا نقصان ولا تحريف. عن قوم مثلهم عن قوم مثلهم. وهكذا إلى أن نصل إلى قوم بهذه الصفة رأوا كتاب الوحي البالغين عدد التواتر المتفقين على كتابه كل حرف منه وهم يكتبون. ومع أن هذه السبيل لم تحصل لنا كما هو معلوم بالضرورة فإنا نجد أننا مع فرض وقوعها قد اعتمدنا نحن وجميع من قبلنا ما عدا الطبقة الذين رأوا كتاب الوحي وهم يكتبون. على التواتر اللفظي بأن هذه كتابة كتاب الوحي. ولولا هذا التواتر لما حصل القطع بشيء، كل ما في الأمر أننا نكون قد استبدلنا تواترا بلفظ القرآن بتواتر بلفظ أن هذا الخط خط كتاب الوحي.
ولا يخفى أن الأول أقوى وأقطع، وأما الذين رأوا كتاب الوحي وهم يكتبون فليسوا في حاجة إلى كتابتهم ولا إلى تواتر لفظي ليقطعوا بلفظ القرآن. لأنهم مستغنون عن ذلك كله بالسماع من النبي صلى الله عليه وسلم نفسه ككتاب الوحي أنفسهم.
আমরা ইতিপূর্বে মুখস্থ রাখার যে শ্রেষ্ঠত্ব লেখার ওপর উল্লেখ করেছি এবং এটি যে অধিক ফলপ্রসূ ও মহা উপকারী, তা থেকে আপনি সেই সকল কারণের মধ্য থেকে অন্য একটি কারণ বুঝতে পারবেন যা অনেক সাহাবী ও তাবেয়ীকে হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে অপছন্দ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিল। কারণ তারা আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী লেখার ওপর নির্ভরতা এবং লিখিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম না করার ফলে ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করতেন।
…
কুরআনের অকাট্য প্রামাণিকতা কেবল শাব্দিক মুতাওয়াতির (التواتر اللفظي) দ্বারা অর্জিত হয়েছে:কুরআন এবং এর সকল শব্দের ব্যাপারে আমাদের অকাট্য বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো শাব্দিক মুতাওয়াতির (التواتر اللفظي), এবং এ ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট। এই অকাট্য বিশ্বাসের ক্ষেত্রে লেখার কোনো ভূমিকা নেই, তা লেখার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা থেকে উৎপন্নও হয়নি। যদিও লেখার মাধ্যমে এক প্রকারের নিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে আপনি জানেন যে এটি কেবল ধারণা (الظن) প্রদান করে। যদি আমরা ধরে নিই যে, এর শব্দাবলী মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা লেখা হয়নি, তবে নিঃসন্দেহে এই অকাট্য বিশ্বাস বিদ্যমান থাকত। আর যদি আমরা এর বিপরীতটি ধরে নিই, তবে কুরআনের কোনো অংশের ব্যাপারেই আমাদের অকাট্য বিশ্বাস অর্জিত হতো না। কারণ ওহী লেখকদের লিখিত কপি বা অনুলিপিগুলো আমাদের নিকট সংরক্ষিত নেই। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে সেগুলো আমাদের সামনে আছে, তবে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো যে এটিই ওহী লেখকদের হস্তলিপি? এবং আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো যে এতে কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন ঘটেনি? আমরা এগুলোর কোনোটির ব্যাপারেই নিশ্চিত হতে পারি না, কেবল এমন এক দল লোকের সংবাদ ছাড়া যাদের মিথ্যা (الكذب) বলার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব বলে গণ্য হয়—যে এই লেখাটি কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি বা বিকৃতি ছাড়াই ওহী লেখকদের প্রকৃত লেখা। তাদের থেকে তাদের ন্যায় এক দল, তাদের থেকে তাদের ন্যায় এক দল—এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না আমরা এমন গুণসম্পন্ন একদল লোকের নিকট পৌঁছাই যারা ওহী লেখকদেরকে এর প্রতিটি বর্ণ লেখার ব্যাপারে একমত হওয়া অবস্থায় এবং মুতাওয়াতির (التواتر) সংখ্যক হওয়া অবস্থায় লিখতে দেখেছেন। আর যেহেতু এই পথটি আমাদের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়নি—যেমনটি স্বতসিদ্ধভাবে জানা যায়—তাই আমরা দেখতে পাই যে, এটি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও আমরা এবং আমাদের পূর্ববর্তী সকলেই—সেই স্তর (طبقة) ব্যতীত যারা ওহী লেখকদের লিখতে দেখেছেন—শাব্দিক মুতাওয়াতির (التواتر اللفظي)-এর ওপরই নির্ভর করেছি যে এটিই ওহী লেখকদের লেখা। এই মুতাওয়াতির (التواتر) না থাকলে কোনো কিছুর ব্যাপারেই অকাট্য বিশ্বাস আসত না; বড়জোর আমরা কুরআনের শব্দের মুতাওয়াতির (التواتر)-কে এই মুতাওয়াতির (التواتر) দ্বারা প্রতিস্থাপন করতাম যে এই হস্তলিপিটি ওহী লেখকদের হস্তলিপি।
এটা স্পষ্ট যে, প্রথমটি অধিক শক্তিশালী ও অকাট্য। আর যারা ওহী লেখকদেরকে লিখতে দেখেছেন, কুরআনের শব্দের ব্যাপারে অকাট্য জ্ঞান লাভের জন্য তাদের জন্য সেই লেখার বা শাব্দিক মুতাওয়াতির (التواتر اللفظي)-এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ স্বয়ং ওহী লেখকদের ন্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমেই তারা এই সবকিছুর থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
فنخرج من ذلك بأن القطع بالقرآن لم يتوقف على الكتابة في طبقة من الطبقات.
ولعل قائلا يقول: لسنا في حاجة إلى وجود النسخة أو النسخ التي كتبها كتاب الوحي، ولا إلى إخبار هؤلاء الأقوام - بما ذكرت. فإنه يغنينا عن ذلك كله التواتر الكتابي بعد عصر الخلفاء الراشدين وتعدد النسخ المكتوبة (المتفقة في جميع حروفه) في العصر الثاني وما بعده - تَعَدُّدًا يؤمن منه التواطؤ على زيادة أو نقص أو تحريف. فإن هذا يفيدنا القطع بأن المكتوب جميعه هو القرآن.
فنقول: من أين لنا أن نثبت أن هذه النسخ المتأخرة قد نسخت من نسخ متعددة يؤمن تواطؤها على ما ذكرت؟ أليس من الجائز أن تكون جميعها مصدرها نسخة واحدة لزيد بن ثابت أو عثمان مثلا؟ بل الواقع كذلك كما هو معلوم لمن له إلمام بتاريخ كتابة القرآن.
وإذا كان المصدر نسخة آحادية - فمن أين لنا أن نجزم بما فيها؟! وبما أخذا عنها؟!.
فإن قال هذا القائل: نحن نجزم بما فيها: لأن الصحابة جميعهم قد أقروا ما في هذه النسخة واعترفوا بصحته.
قلنا: فقد رجعت في النهاية إلى التواتر اللفظي بأن ما في هذه النسخة هو كل القرآن بلا زيادة ولا نقصان ولا تبديل، والتواتر اللفظي هو الذي تنكر دلالته على القطع، وتدعي أن الاعتماد كله - في القطع - إنما هو على الكتابة.
هذا وإليك بعض ما ذكره الأئمة لتأييد ما قلنا:
قال ابن حجر (1): «وَالْمُسْتَفَاد مِنْ [بَعْثِهِ] المَصَاحِفِ إِنَّمَا هُوَ ثُبُوتُ إِسْنَادِ صُورَةِ الْمَكْتُوبِ فِيهَا إِلَى عُثْمَانَ، لَا أَصْلَ ثُبُوتِ الْقُرْآنِ فَإِنَّهُ مُتَوَاتِرٌ
--------------------------------------------
এখান থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, কুরআনের অকাট্যতা (القطع) কোনো স্তরেই (طبقة) শুধু লেখার ওপর নির্ভরশীল ছিল না।
সম্ভবত কেউ বলতে পারেন: আমাদের ওহী লেখকদের লিখিত পাণ্ডুলিপি বা পাণ্ডুলিপিসমূহের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই, আর আপনার উল্লিখিত ওই সকল ব্যক্তিবর্গের সংবাদেরও প্রয়োজন নেই। কারণ খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের পর লিখিত নিরবচ্ছিন্নতা (التواتر) এবং দ্বিতীয় যুগ ও তার পরবর্তী সময়ে লিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহের (যা সকল হরফের ক্ষেত্রে অভিন্ন) প্রাচুর্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট—এমন প্রাচুর্য যা কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর জন্য পারস্পরিক যোগসাজশ করার সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ রাখে। আর এটিই আমাদের এই অকাট্যতা (القطع) প্রদান করে যে, লিখিত সবকিছুই কুরআন।
আমরা বলি: আমরা কীভাবে প্রমাণ করব যে, পরবর্তী সময়ের এই পাণ্ডুলিপিসমূহ এমন একাধিক পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে যা আপনার উল্লিখিত যোগসাজশ থেকে নিরাপদ? এমন হওয়া কি সম্ভব নয় যে, এগুলোর সবকিছুর উৎস জায়েদ ইবনে সাবিত বা উসমানের কোনো একটি একক পাণ্ডুলিপি? বরং বাস্তবতা এমনই, যা কুরআন সংকলনের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য অবগত ব্যক্তিদের কাছেও সুবিদিত।
আর যদি উৎসটি একক বর্ণনাভিত্তিক (آحادية) পাণ্ডুলিপি হয়—তবে আমরা কীভাবে এর মধ্যকার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত হব?! এবং যা তা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে কীভাবে নিশ্চিত হব?!
যদি সেই বক্তা বলেন: আমরা এর মধ্যকার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত; কারণ সকল সাহাবী এই পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা অনুমোদন করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) স্বীকার করেছেন।
আমরা বলি: শেষ পর্যন্ত আপনি শব্দগত নিরবচ্ছিন্নতার (التواتر اللفظي) দিকেই ফিরে আসলেন যে, এই পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই সম্পূর্ণ কুরআন, যাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন নেই। অথচ এই শব্দগত নিরবচ্ছিন্নতাকেই (التواتر اللفظي) আপনি অকাট্য (القطع) প্রমাণের ক্ষেত্রে অস্বীকার করছিলেন এবং দাবি করছিলেন যে, অকাট্যতা (القطع) অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্ণ নির্ভরতা কেবল লেখার ওপর।
আমাদের বক্তব্যের সমর্থনে ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:
ইবনে হাজার (১) বলেছেন: «মুসহাফসমূহ প্রেরণের মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা কেবল এই যে, তাতে লিখিত রূপের সনদ (إسناد) উসমান পর্যন্ত সাব্যস্ত হওয়া; কুরআনের মূল সাব্যস্ত হওয়া নয়, কারণ কুরআন তো নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) সূত্রে সাব্যস্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মান ইউনকিরু হুজ্জিয়াতাস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
عِنْدَهُمْ». اهـ.
وقال ابن الجزري (1): «إِنَّ الاعْتِمَادَ فِي نَقْلِ الْقُرْآنِ عَلَى حِفْظِ الْقُلُوبِ وَالصُّدُورِ لَا عَلَى حِفْظِ الْمَصَاحِفِ وَالْكُتُبِ، وَهَذِهِ أَشْرَفُ خَصِيصَةٍ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِهَذِهِ الأُمَّةِ، فَفِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الَّذِي رَوَاهُ " مُسْلِمٌ " (*) أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ رَبِّي قَالَ لِي: قُمْ فِي قُرَيْشٍ فَأَنْذِرْهُمْ فَقُلْتُ لَهُ: "رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي حَتَّى يَدَعُوهُ خُبْزَةً"، فَقَالَ: " مُبْتَلِيكَ وَمُبْتَلِي بِكَ وَمُنْزِلٌ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ، تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ، فَابْعَثْ جُنْدًا أَبْعَثْ مِثْلَهُمْ، وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ، وَأَنْفِقْ يُنْفَقْ عَلَيْكَ ". فَأَخْبَرَ تَعَالَى أَنَّ الْقُرْآنَ لَا يَحْتَاجُ فِي حِفْظِهِ إِلَى صَحِيفَةٍ تُغْسَلُ بِالْمَاءِ، بَلْ يَقْرَءُوهُ فِي كُلِّ حَالٍ كَمَا جَاءَ فِي صِفَةِ أُمَّتِهِ: " أَنَاجِيلُهُمْ فِي صُدُورِهِمْ "، وَذَلِكَ بِخِلَافِ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ لَا يَحْفَظُونَهُ لَا فِي الْكُتُبِ وَلَا يَقْرَءُونَهُ كُلَّهُ إِلَاّ نَظَرًا لَا عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ».
«وَلَمَّا خَصَّ اللَّهُ تَعَالَى بِحِفْظِهِ مَنْ شَاءَ مِنْ أَهْلِهِ: أَقَامَ لَهُ أَئِمَّةً ثِقَاتٍ، تَجَرَّدُوا لِتَصْحِيحِهِ، وَبَذَلُوا أَنْفُسَهُمْ فِي إِتْقَانِهِ وَتَلَقَّوْهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَرْفًا حَرْفًا، لَمْ يُهْمِلُوا مِنْهُ حَرَكَةً وَلَا سُكُونًا وَلَا إِثْبَاتًا وَلَا حَذْفًا، وَلَا دَخَلَ عَلَيْهِمْ فِي شَيْءٍ مِنْهُ شَكٌّ وَلَا وَهْمٌ، وَكَانَ مِنْهُمْ مَنْ حَفِظَهُ كُلَّهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ حَفِظَ أَكْثَرَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ حَفِظَ بَعْضَهُ، كُلُّ ذَلِكَ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم». اهـ.
…
يَجِبُ العَمَلُ بِظَنِّيِّ الثُبُوتِ فِي الفُرُوعِ:قد فهم صاحب الشبهة أن الكتابة وحدها هي التي تفيد القطع بثبوت ما هو حجة، وقد علمت بطلان ذلك.
ثم إنه فرع على هذا الفهم: أن النهي عن كتابة السُنَّةِ دليل على إرادة الشارع
--------------------------------------------
তাদের কাছে।" সমাপ্ত।
ইবনুল জাযারি (১) বলেন: «কুরআন বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরতা অন্তর ও বক্ষস্থ হিফযের ওপর, পাণ্ডুলিপি বা কিতাব সংরক্ষণের ওপর নয়। আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য প্রাপ্ত এক বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব। কেননা সহিহ (صحيح) হাদিসে যা "মুসলিম" (*) বর্ণনা করেছেন, তাতে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে বলেছেন: কুরাইশদের মাঝে দাঁড়াও এবং তাদের সতর্ক করো। আমি তাঁকে বললাম: 'হে প্রতিপালক, তাহলে তো তারা আমার মাথা চূর্ণ করে দেবে এবং একে রুটির মতো দলা পাকিয়ে ফেলবে।' তখন তিনি বললেন: 'আমি তোমাকে পরীক্ষা করব এবং তোমার মাধ্যমে (অন্যদের) পরীক্ষা করব। আর আমি তোমার ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করব যাকে পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারবে না, তুমি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত সর্বাবস্থায় পাঠ করবে। অতএব, তুমি সৈন্য প্রেরণ করো, আমি তাদের সমপরিমাণ সৈন্য দিয়ে সাহায্য পাঠাব। যারা তোমার আনুগত্য করবে তাদের নিয়ে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। আর তুমি ব্যয় করো, তোমার ওপরও ব্যয় করা হবে।' মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, কুরআন সংরক্ষণের জন্য এমন কোনো লিপির প্রয়োজন নেই যা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়, বরং তারা এটি সর্বাবস্থায় পড়বে; যেমনটি তাঁর উম্মতের গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: 'তাদের ইঞ্জিলসমূহ তাদের বক্ষসমূহে বিদ্যমান'। এটি আহলে কিতাবদের বিপরীত, যারা কিতাব ছাড়া তা মুখস্থ রাখতে পারে না এবং তারা না দেখে সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করতে পারে না, বরং কিতাবের দিকে তাকিয়ে পড়ে; মুখস্থ পড়তে পারে না।"» সমাপ্ত।
«আর আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর যোগ্য বান্দাদের মধ্য থেকে যাদের চেয়েছেন একে সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তখন তিনি এর জন্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) ইমামগণকে নিযুক্ত করেছেন, যারা একে বিশুদ্ধ (تصحيح) করার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন এবং একে নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি প্রতিটি অক্ষর ধরে ধরে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা এর কোনো হরকত (স্বরচিহ্ন), সুকুন, স্থায়ীকরণ বা বিলোপ সাধন—কোনো কিছুই উপেক্ষা করেননি। এর কোনো বিষয়েই তাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ বা সংশয় প্রবেশ করেনি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুরো কুরআন হিফয করেছেন, কেউ অধিকাংশ এবং কেউ কিছু অংশ। এ সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সম্পন্ন হয়েছিল।’ সমাপ্ত।
…
শারীআতের গৌণ বিষয়াবলীতে প্রবল ধারণাপ্রসূত (ظني الثبوت) দলিলের ওপর আমল করা আবশ্যক:সংশয়বাদী ব্যক্তি এটি বুঝতে পেরেছেন যে, কেবল লিখনই এমন প্রমাণ প্রদান করে যা অকাট্যতা (قطع) নিশ্চিত করে; অথচ আপনি ইতিপূর্বেই এর অসারতা জেনেছেন।
অতঃপর তিনি এই বুঝের ওপর ভিত্তি করে এই শাখা বের করেছেন যে: সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করা শরীয়ত প্রণেতার ইচ্ছারই প্রমাণ
--------------------------------------------