(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الخطوط العريضة للأسس التي قام عليها دين الشيعة الإمامية الاثني عشرية القسم: الفرق والردود
الكتاب: الخطوط العريضة للأسس التي قام عليها دين الشيعة الإمامية الاثني عشرية
المؤلف: محب الدين بن أبي الفتح بن عبد القادر بن صالح بن عبد الرحيم بن محمد الخطيب (ت 1389 هـ)
تقديم: محمد نصيف
الناشر: بدون
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
بهوامش هذه النسخة الإلكنرونية تعليقات للشيخ الألباني على الكتاب، تم تفريغها من شريطين مسجلين له، وليست بالمطبوع
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
দ্বাদশ ইমামি শিয়া মতবাদের মূল ভিত্তিসমূহের রূপরেখা বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: দ্বাদশ ইমামি শিয়া মতবাদের মূল ভিত্তিসমূহের রূপরেখা
রচয়িতা: মুহিব্বুদ্দীন বিন আবি আল-ফাতহ বিন আব্দুল কাদির বিন সালিহ বিন আব্দুর রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-খতীব (মৃত্যু ১৩৮৯ হিজরি)
উপস্থাপনা: মুহাম্মাদ নাসীফ
প্রকাশক: নেই
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের পাদটীকায় বইটির ওপর শাইখ আলবানীর মন্তব্য রয়েছে, যা তাঁর দুটি রেকর্ডকৃত অডিও ক্যাসেট থেকে অনুলিখন করা হয়েছে এবং তা মূল মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান নেই।
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الخطوط العريضة للأسس التي قام عليها دين الشيعة الإمامية الاثني عشرية
للعلامة/ محب الدين الخطيب
--------------------------------------------
শিয়া ইমামীয়া ইসনা আশারিয়া ধর্মের মূলভিত্তিগুলোর রূপরেখা
আল্লামা মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব কর্তৃক প্রণীত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين وآله وصحبه أجمعين.
وبعد: إن الدعوة التي قامت في السنوات الأخيرة للتقريب بين دين الشيعة الإمامية الاثني عشرية، ومخالفيهم من أهل السنة، والزيدية والإباضية، قد لفتت الأنظار إلى دراسة هذا الموضوع، دراسة علمية. وقد قام الكاتب الإسلامي، السيد محب الدين الخطيب بهذه الدراسة من أمهات كتب الشيعة لتحري وسائل التقريب فيها. وقد تبين له استحالة ذلك (1)، لأن واضعي أسس الدين الشيعي لم يتركوا في أصولهم وسيلة لهذا التقريب بعد أن أقاموه على دعائم منافية لما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم، ودعاء إليه أصحابه، وتركهم بعده على محجة واضحة منيرة لا ينحرف عنها منحرف إلا هلك.
ولما كانت النقول التي وردت في هذه الدراسة مأخوذة من الكتب المعتمدة عند الطائفة الإمامية الاثني عشرية،
--------------------------------------------
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতপর: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিয়া ইমামিয়া ইছনা আশারিয়া এবং তাদের বিরোধী আহলুস সুন্নাহ, যায়দিয়া ও ইবাদিয়াদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা এই বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রখ্যাত ইসলামী লেখক জনাব মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব শিয়াদের মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে এই গবেষণাকর্মটি সম্পন্ন করেছেন যেন তাতে ঐক্যের উপায়সমূহ অনুসন্ধান করা যায়। তবে তার নিকট এর অসম্ভবতা (১) সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে; কেননা শিয়া ধর্মের ভিত্তি স্থাপনকারীরা তাদের মূলনীতিতে এই ঐক্যের কোনো পথ অবশিষ্ট রাখেননি, যেহেতু তারা একে এমন সব স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠা করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত আদর্শ ও তাঁর সাহাবীগণের দাওয়াতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে এক উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট রাজপথের ওপর রেখে গিয়েছেন, যা থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি কেবল ধ্বংসই প্রাপ্ত হয়।
যেহেতু এই গবেষণায় উপস্থাপিত উদ্ধৃতিসমূহ শিয়া ইমামিয়া ইছনা আশারিয়া সম্প্রদায়ের নিকট নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومدلول عليها بأرقام صفحاتها، وبيان طبعات الكتب المأخوذة منها ولا يستطيع أن يماري فيها أحد، لذلك رأينا أن نضعها أمام أنظار الناس ليحي من حي عن بينه ويهلك من هلك عن بينه والله ولي المهتدين.
(محمد نصيف).
এসবের সূত্রসমূহ পৃষ্ঠা নম্বরসহ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যে সকল গ্রন্থ থেকে এগুলো সংগৃহীত হয়েছে সেগুলোর সংস্করণের বিবরণও প্রদান করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক করার অবকাশ কারো নেই। এ কারণেই আমরা এগুলো মানুষের দৃষ্টিগোচরে আনা সমীচীন মনে করেছি, যাতে যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে এবং যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়। আর আল্লাহ হিদায়াতপ্রাপ্তদের অভিভাবক।
(মুহাম্মদ নাসিফ)।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الخطوط العريضة للأسس التي قام عليها دين الشيعة (1) الإمامية الاثني عشرية، واستحالة التقريب بينهم وبين أصول الإسلام (2) في جميع مذاهبه وفرقه:
التقريب بين المذاهب والفرق الإسلامية:التقريب بين المسلمين في تفكيرهم، واقتناعاتهم واتجاهاتهم وأهدافهم من أعظم مقاصد الإسلام ومن أهم وسائل القوة والنهوض والإصلاح وهو من الخير لشعوبهم وجامعتهم في كل زمان ومكان.
والدعوة إلى هذا التقريب إذا كانت بريئة من الغرض، ولا يترتب عليها في تفاصيلها ضرر يطغى على ما يرجى من نفعها، فإن على كل مسلم أن يستجيب لها، وأن يتعاون مع المسلمين على إنجاحها (3).
وقد كثر الحديث في السنوات الأخيرة عن هذه الدعوة (4) ثم تطور التأثر به وبها حتى بلغ الأزهر، وهو أشهر وأضخم معهد ديني لأهل السنة المنتسبين إلى المذاهب الفقهية الأربعة، فتبنى الأزهر فكرة التقريب هذه بأوسع من نطاقه الذي التزمه بلا انقطاع من أيام صلاح الدين الأيوبي إلى الآن، فخرج الأزهر عن ذلك النطاق إلى رغبته في التعرف إلى المذاهب الأخرى (5)، وفي طليعتها مذهب الشيعة الإمامية الاثني عشرية، ولا يزال الأزهر حتى هذه الساعة في بداية هذا الطريق. لذلك كان هذا الموضوع الخطير جديرا بالبحث، والدراسة والعرض من كل مسلم له إلمام به، ووقوف على ما يلابسه، وما يؤدي إليه من عوارض ونتائج.
--------------------------------------------
দ্বাদশী ইমামি শিয়া ধর্মের (১) ভিত্তিপ্রস্তরসমূহের রূপরেখা এবং ইসলামের সকল মাযহাব ও ফেরকার মূলনীতিসমূহের (২) সাথে তাদের সমন্বয় সাধনের অসম্ভবতা:
ইসলামি মাযহাব ও ফেরকাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন:মুসলিমদের চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন ইসলামের মহত্তম উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম এবং শক্তি অর্জন, জাগরণ ও সংস্কারের প্রধান মাধ্যম। এটি সর্বকালে ও সর্বস্থানে তাদের জাতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর।
আর এই সমন্বয়ের আহ্বান যদি অসৎ উদ্দেশ্যমুক্ত হয় এবং এর বিস্তারিত খুঁটিনাটিতে এমন কোনো ক্ষতি নিহিত না থাকে যা এর প্রত্যাশিত উপকারিতাকে ছাপিয়ে যায়, তবে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো এতে সাড়া দেওয়া এবং এর সফলতায় মুসলিমদের সাথে সহযোগিতা করা (৩)।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আহ্বান (৪) সম্পর্কে প্রচুর আলোচনা হয়েছে এবং এর প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে আল-আযহার পর্যন্ত পৌঁছেছে—যা চার ফিকহি মাযহাবের অনুসারী আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে বিখ্যাত ও বৃহত্তম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আল-আযহার সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির সময়কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যে সীমাবদ্ধ গণ্ডি মেনে আসছিল, তার চেয়েও বিস্তৃত পরিসরে এই সমন্বয়ের ধারণাটি গ্রহণ করেছে। ফলে আল-আযহার সেই গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য মাযহাবের (৫) সাথে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যার অগ্রভাগে রয়েছে দ্বাদশী ইমামি শিয়া মাযহাব। আল-আযহার আজও এই পথের শুরুতেই রয়েছে। তাই এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে গবেষণা, অধ্যয়ন এবং উপস্থাপনা করা সেই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সমীচীন, যার এ বিষয়ে জ্ঞান আছে এবং যে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল সম্পর্কে অবগত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولما كانت المسائل الدينية بطبيعتها شائكة، فإن معالجتها ينبغي أن تكون بحكمة وبصيرة وسداد، وأن يكون المتصدي لدراستها على بينه من دخائلها، وعلى نور من الله وإنصاف في التحري والحكم، لتؤدي هذه المعالجة الغرض المطلوب منها، ولتنتج النتائج النافعة إن شاء الله.
وأول ما نلاحظه في هذا الأمر وفي كل أمر له علاقة بأكثر من طرف واحد أن من أقوى أسباب نجاحه أن يكون هناك تجاوب بين الطرفين، أو الأطراف ذات العلاقة به. ونضرب بذلك مثلاً بمسألة التقريب بين أهل السنة والشيعة: فقد لوحظ أنه أنشأت لدعوة التقريب بينهما دار في مصر ينفق عليها من الميزانية الرسمية لدولة شيعية (1)، وهذه الدولة الشيعية الكريمة آثرتنا بهذه المكرمة فاختصتنا بهذا السخاء الرسمي، وضنت بمثله على نفسها وعلى أبناء مذهبها، فلم تسخ مثل هذا السخاء لإنشاء دار تقريب في طهران أو قم أو النجف أو جبل عامل أو غيرها من مراكز الدعاية والنشر للمذهب الشيعي. (2)
--------------------------------------------
যেহেতু ধর্মীয় বিষয়সমূহ প্রকৃতিগতভাবেই স্পর্শকাতর, তাই এগুলোর পর্যালোচনা প্রজ্ঞা, অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক নির্দেশনার ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যক। এর গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে এর অন্তর্নিহিত জটিলতাসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হেদায়াত ও অনুসন্ধান ও বিচারে ইনসাফের অধিকারী হতে হবে; যাতে এই পর্যালোচনা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় উপকারী ফলাফল বয়ে আনে।
এই বিষয়ে এবং একাধিক পক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে আমরা প্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য করি তা হলো, এর সফলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ইতিবাচক সাড়া থাকা। এর উদাহরণ হিসেবে আমরা আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য (তাকরিব) সৃষ্টির বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারি: এটি লক্ষ্য করা গেছে যে, এই দুই পক্ষের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টির আহ্বানে মিশরে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল, যার ব্যয়ভার একটি শিয়া রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে নির্বাহ করা হতো (১)। এই মহতী শিয়া রাষ্ট্রটি আমাদের প্রতি এই বদান্যতা প্রদর্শন করেছে এবং আমাদেরকেই তাদের এই বিশেষ অনুগ্রহের জন্য বেছে নিয়েছে; অথচ তারা নিজেদের জন্য এবং তাদের মাযহাবের অনুসারীদের জন্য এই ধরণের ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেছে। তারা তেহরান, কোম, নাজাফ, জাবালে আমেল কিংবা শিয়া মাযহাবের প্রচার ও প্রসারের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে এই ধরণের নৈকট্য কেন্দ্র স্থাপনে অনুরূপ উদারতা প্রদর্শন করেনি। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وإن مراكز النشر هذه للدعاية الشيعية صدر عنها في السنين الأخيرة من الكتب التي نهدم فكرة التفاهم والتقريب ما تقشعر منه الأبدان، ومن ذلك كتاب اسمه "الزهراء" في ثلاثة أجزاء نشره علماء النجف وقالوا فيه عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب إن كان مبتلى بداء لا يشفيه منه إلا ماء الرجال (!) وقد رأى ذلك الأستاذ البشير الإبراهيمي، شيخ علماء الجزائر عند زيارته الأولى للعراق (1). فالروح النجسة التي يصدر عنها مثل هذا الفجور المذهبي هي أحوج إلى دعوة التقريب إلى حاجتنا نحن أهل السنة إلى مثل ذلك. وإذا كان الافتراق الأساسي بيننا وبينهم قائماً على دعواهم أنهم أكثر منا ولاءً لأهل البيت، وعلى دعواهم أنهم يبطنون -بل يظهرون- الحقد والضغينة لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين قام الإسلام على أكتافهم إلى درجة أن يقولوا مثل هذا الكلام القذر عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فقد كان الإنصاف يقتضي أن يبدءوا هم بتخفيف أحنتهم وضغينتهم عن أئمة الإسلام الأولين. وأن يشكروا لأهل السنة موقفهم النبيل من آل البيت وعدم تقصيرهم بشيء من واجبات الإجلال والتكريم لهم، إلا أن يكون تقصيرنا نحو آل البيت في أننا لم نتخذهم آلهة نعبدهم مع الله، كما هو مشاهد في مشاهدهم القائمة في الناحية الأخرى التي يراد التقريب بيننا وبينها.
إن التجاوب لابد منه بين الطرفين المراد تفاهمهما والتقريب
--------------------------------------------
শিয়া প্রচারণার এই প্রকাশনা কেন্দ্রগুলো থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন সব বই প্রকাশিত হয়েছে যা পারস্পরিক সমঝোতা ও নৈকট্যের ধারণাকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং যা পাঠ করলে শরীর শিউরে ওঠে। এরই একটি দৃষ্টান্ত হলো 'আল-জাহরা' নামক তিন খণ্ডের একটি কিতাব, যা নাজাফের আলেমগণ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব সম্পর্কে বলেছে যে, তিনি এমন এক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন যার উপশম পুরুষের বীর্য (!) ব্যতীত অন্য কিছুতে সম্ভব ছিল না। আলজেরিয়ার আলেমদের প্রধান উস্তাদ আল-বাশির আল-ইব্রাহিমি ইরাকে তার প্রথম সফরের সময় এটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন (১)। সুতরাং যে অপবিত্র মানসিকতা থেকে এই ধরণের মাযহাবী অনাচার প্রকাশ পায়, তাদেরই এই ঐক্যের আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা আমাদের তথা আহলুস সুন্নাহর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আমাদের এবং তাদের মধ্যে মৌলিক বিভেদ যদি তাদের এই দাবির ওপর ভিত্তি করে হয় যে তারা আমাদের চেয়ে আহলে বায়তের প্রতি বেশি অনুগত, এবং যদি এই ভিত্তিতে হয় যে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি—যাদের কাঁধে ভর করে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—বিদ্বেষ ও শত্রুতা লালন করে (এমনকি প্রকাশও করে), এবং আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে এই ধরণের নোংরা কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে ইনসাফের দাবি ছিল যে তারাই ইসলামের প্রথম যুগের ইমামদের প্রতি তাদের এই চরম বিদ্বেষ ও শত্রুতা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আর আহলুস সুন্নাহর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল আহলে বায়তের প্রতি সুন্নিদের মহানুভব অবস্থানের জন্য এবং তাঁদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের কোনো কর্তব্যে ত্রুটি না করার জন্য। তবে আহলে বায়তের প্রতি আমাদের 'অবহেলা' যদি কেবল এই হয় যে, আমরা তাঁদের আল্লাহর পাশাপাশি ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করিনি—যেমনটা তাদের সেই সব মাযারগুলোতে প্রত্যক্ষ করা যায় যেদিকের সাথে আমাদের ঐক্যের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও নৈকট্য প্রত্যাশা করা হয়, তাদের উভয়ের পক্ষ থেকেই সাড়া থাকা অপরিহার্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بينهما، ولا يكون التجاوب إلا إذا التقى السالب بالموجب ولم يقتصر نشاط الدعوة إليه والعمل لتحقيقه على جهة واحدة دون الأخرى كما هو حاصل الآن.
وما يقال عن انفراد التقريب بدار واحدة في عاصمة أهل السنة وهي مصر دون عواصم المذهب الشيعي، ومراكز النشر النشيطة جداً للدعاية له والبغي على غيره يقال كذلك عن إدخال مادة هذا التقريب في مناهج الدراسة الأزهرية (1) قبل أن يكون لذلك مقابل، ومماثل في معاهد التدريس الشيعية (2). أما إذا اقتصر الأمر كما هو واقع الآن -على طرف واحد من الطرفين- أو الأطراف ذات العلاقة به، فإنه لا يرجى له النجاح، هذا إذا لم يترتب عليه رد فعل غير حميد.
ومن أتفه وسائل التعارف أن يبدأ منها بالفروع قبل الأصول!.
الفقه الإسلاميفالفقه عند أهل السنة وعند الشيعة لا يرجع إلى أصول مسلّمة عند الفريقين (3)، والتشريع الفقهي عند الأئمة الأربعة من أهل السنة قائم على غير الأسس التي يقوم عليها التشريع الفقهي عند الشيعة، وما لم يحصل التفاهم على هذه الأسس والأصول قبل الاشتغال بفروعها وما لم يتم التجاوب في ذلك من الناحيتين، في المعاهد العلمية للطائفتين، فلا فائدة من إضاعة الوقت في الفروع قبل الأصول،
--------------------------------------------
তাদের উভয়ের মাঝে; আর পারস্পরিক সাড়াদান তখনই সম্ভব যখন নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিকের মিলন ঘটে এবং এর দাওয়াহ বা একে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা বর্তমানে যেমনটি ঘটছে সেভাবে কোনো এক পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই সম্পাদিত হয়।
আহলে সুন্নাতের রাজধানী মিশরের একটি মাত্র কেন্দ্রে এই নৈকট্য প্রচেষ্টার (তাকরিব) সীমাবদ্ধ থাকা এবং শিয়া মাযহাবের কেন্দ্রগুলোতে এর অনুপস্থিতি—যেখানে তাদের প্রচার-প্রসার এবং অন্যদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রকাশনা কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত সক্রিয়—সে সম্পর্কে যা বলা হয়, ঠিক একই কথা আল-আযহারের পাঠ্যক্রমে (১) এই নৈকট্য বিষয়ক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; যতক্ষণ না শিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (২) এর বিপরীতে অনুরূপ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি যদি বর্তমান বাস্তবতার মতো কেবল এক পক্ষের ওপর বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এর সাফল্যের কোনো আশা করা যায় না; বরং এর ফলে কোনো মন্দ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।
আর পরিচয়ের মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তুচ্ছ পদ্ধতি হলো মূলনীতির (উসুল) আগে শাখা-প্রশাখা (ফুরু) দিয়ে শুরু করা!
ইসলামী ফিকহআহলে সুন্নাত এবং শিয়াদের নিকট ফিকহ বা আইনশাস্ত্র এমন কোনো স্বীকৃত মূলনীতির (৩) দিকে প্রত্যাবর্তন করে না যা উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য। আহলে সুন্নাতের চার ইমামের ফিকহী বিধান প্রণয়ন পদ্ধতি শিয়াদের ফিকহী বিধান প্রণয়ন পদ্ধতির ভিত্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনার পূর্বে এই ভিত্তি ও মূলনীতিগুলো সম্পর্কে সমঝোতা না হবে এবং উভয় পক্ষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে পারস্পরিক সাড়া না মিলবে, ততক্ষণ মূলনীতির আগে শাখা-প্রশাখা নিয়ে সময় নষ্ট করা নিরর্থক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولا نعني بذلك أصول الفقه، بل أصول الدين عند الفريقين من جذورها الأولى.
مسألة التقيةوأول موانع التجاوب الصادق بإخلاص بيننا، وبينهم ما يسمونه "التقية" (1) فإنها عقيدة دينية، تبيح لهم التظاهر لنا بغير ما يبطنون، فينخدع سليم القلب منا بما يتظاهرون له به من رغبتهم في التفاهم والتقارب وهم لا يريدون ذلك ولا يرضون به ولا يعملون له (2)، إلا على أن يبقى من الطرف الواحد مع بقاء الطرف الآخر في عزلته لا يتزحزح عنها قيد شعرة. ولو توصل ممثلوا دور التقية منهم إلى إقناعنا بأنهم خطوا نحونا بعض الخطوات، فإن جمهور الشيعة كلهم من خاصة وعامة يبقى منفصلاً عن ممثلي هذه المهزلة، ولا يسلّم للذين يتكلمون باسمه بأن لهم حق التكلم باسمه.
الطعن في القرآن الكريموحتى القرآن الذي كان ينبغي أن يكون المرجع الجامع لنا، ولهم على التقارب نحو الوحدة، فإن أصول الدين عندهم قائمة من جذورها على تأويل آياته، وصرف معانيها إلى غير ما فهمه منها الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإلى غير ما فهمه منها أئمة الإسلام عن الجيل الذي نزل عليه القرآن. بل إن أحد كبار علماء النجف، وهو الحاج ميرزا
--------------------------------------------
আমরা এর দ্বারা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (উসুল আল-ফিকহ) বোঝাচ্ছি না, বরং উভয় দলের নিকট দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসুল আদ-দীন) প্রাথমিক শিকড়সমূহ বোঝাচ্ছি।
তাকিয়া প্রসঙ্গআমাদের এবং তাদের মধ্যে আন্তরিক ও অকপট ঐকমত্যের পথে প্রথম প্রতিবন্ধক হলো যা তারা ‘তাকিয়া’ নামে অভিহিত করে (১)। এটি তাদের একটি ধর্মীয় আকিদা, যা তাদেরকে অন্তরে যা আছে তার বিপরীত আমাদের সামনে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়। ফলে আমাদের মধ্যে যারা সরলমনা, তারা তাদের ঐক্যের ও সমঝোতার লোক দেখানো আকাঙ্ক্ষায় প্রলুব্ধ হন। অথচ তারা প্রকৃত অর্থে তা চান না, এতে সন্তুষ্টও নন এবং এর জন্য কাজও করেন না (২)। তবে শর্ত হলো, এক পক্ষ তার অবস্থানে অটল থাকবে আর অপর পক্ষ তার বিচ্ছিন্নতায় স্থির থাকবে, যেখান থেকে সে সামান্যতম নড়চড় হবে না। এমনকি যদি তাদের তাকিয়া-প্রদর্শনকারীরা আমাদের বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় যে তারা আমাদের দিকে কয়েক কদম এগিয়েছে, তবে সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল শিয়া জনগোষ্ঠীই এই প্রহসনকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে এবং যারা তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলছে, তাদের এই প্রতিনিধিত্বের অধিকারকে তারা স্বীকার করবে না।
পবিত্র কুরআনের প্রতি কটাক্ষএমনকি পবিত্র কুরআন—যা ঐক্যের পথে আমাদের ও তাদের জন্য একটি সম্মিলিত মানদণ্ড হওয়া উচিত ছিল—তাদের নিকট দ্বীনের মূলনীতিসমূহ এর আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা আয়াতের অর্থসমূহকে এমন দিকে সরিয়ে নেয় যা সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে বুঝেছেন তার পরিপন্থী, এবং ইসলামের ইমামগণ কুরআন নাজিল হওয়া প্রজন্মের নিকট থেকে যা বুঝেছেন তারও পরিপন্থী। এমনকি নাজাফের বড় আলেমদের একজন, যিনি হাজি মির্জা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
حسين بن محمد تقي النوري الطبرسي -الذي بلغ من إجلالهم له عند وفاته سنة 1320هـ أنهم دفنوه في بناء المشهد المرتضوي بالنجف في إيوان حجرة بانوا العظمى، بنت السلطان الناصر لدين الله، وهو ديوان الحجرة القبلية عن يمين الداخل إلى الصحن المرتضوي من باب القبلة في النجف بأقدس البقاع عندهم- هذا العالم النجفي ألف في سنة 1292هـ وهو في النجف عند القبر المنسوب إلى الإمام علي كتابا سماه: "فصل الخطاب في إثبات تحريف كتاب رب الأرباب" جمع فيه مئات النصوص عن علماء الشيعة ومجتهديهم في مختلف العصور بأن القرآن قد زيد فيه ونقص منه. وقد طبع كتاب الطبرسي هذا في إيران سنة 1298هـ وعند طبعه قامت حوله ضجة لأنهم كانوا يريدون أن يبقى التشكيك في صحة القرآن محصوراً في خاصتهم ومتفرقا في مئات الكتب المعتبرة عندهم، وأن لا يجمع ذلك كله في كتاب واحد، تطبع منه ألوف من النسخ، ويطلع عليه خصومهم، فيكون حجة عليهم ماثلة أمام أنظار الجميع، ولما أبدى عقلاؤهم هذه الملاحظات خالفهم فيها مؤلفه وألف كتاباً آخر سماه "رد بعض الشبهات عن فصل الخطاب في إثبات تحريف كتاب رب الأرباب" وقد كتب هذا الدفاع في أواخر حياته قبل موته بنحو سنتين، وقد كافئوه على هذا المجهود في إثبات أن القرآن محرف، بأن دفنوه في ذلك المكان الممتاز من بناء المشهد العلوي في النجف.
হুসাইন বিন মুহাম্মদ তাকি আন-নূরী আত-তাবারসি—১৩২০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর সময় শিয়াদের নিকট তিনি এতটাই মর্যাদাবান ছিলেন যে, তারা তাকে নাজাফের মাশহাদ আল-মুর্তাদাবীর (ইমাম আলীর মাজার কমপ্লেক্স) ভেতরে সুলতান আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর কন্যা বানু আল-উজমার কক্ষের বারান্দায় দাফন করে; এটি নাজাফের কিবলা দরজা দিয়ে মাজারের আঙিনায় প্রবেশের সময় ডান দিকের কিবলামুখী কক্ষের বারান্দা, যা তাদের দৃষ্টিতে পবিত্রতম স্থানগুলোর অন্যতম। নাজাফের এই আলিম ১২৯২ হিজরিতে নাজাফে ইমাম আলীর কবরের সান্নিধ্যে অবস্থানকালে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দেন: "ফাসলুল খিতাব ফি ইসবতি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব" (মহা-প্রতিপালকের কিতাব বিকৃত হওয়ার প্রমাণের চূড়ান্ত ফয়সালা)। এতে তিনি বিভিন্ন যুগের শিয়া আলিম ও মুজতাহিদদের শত শত উদ্ধৃতি ও বর্ণনা একত্রিত করেছেন এই দাবি প্রমাণ করতে যে, কুরআনে সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। তাবারসির এই গ্রন্থটি ১২৯৮ হিজরিতে ইরানে মুদ্রিত হয়। এটি প্রকাশের সময় শিয়া মহলে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়, কারণ তারা চেয়েছিল যে কুরআনের বিশুদ্ধতা নিয়ে এই সংশয় ও বিকৃতির বিশ্বাস যেন কেবল তাদের বিশেষ শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তাদের শত শত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের পাতায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। তারা চায়নি যে এই সব তথ্য একটি একক গ্রন্থে সংকলিত হোক এবং সেটির হাজার হাজার কপি মুদ্রিত হয়ে তাদের প্রতিপক্ষদের হাতে পড়ুক, যা সবার সামনে তাদের বিরুদ্ধে এক অকাট্য ও দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। যখন তাদের মধ্যকার বিচক্ষণ ব্যক্তিরা এই আপত্তির কথা জানান, তখন লেখক তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন এবং "রাদ্দু বা’দিল শুবুহাত আন ফাসলিল খিতাব ফি ইসবতি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব" নামে আরেকটি আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে মৃত্যুর প্রায় দুই বছর আগে এই দ্বিতীয় গ্রন্থটি লিখেছিলেন। কুরআন বিকৃত হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের এই প্রচেষ্টার পুরস্কারস্বরূপ তারা তাকে নাজাফের আলভী মাজারের সেই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাফন করে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومما استشهد به هذا العالم النجفي على وقوع النقص من القرآن إيراده في الصفحة 180 من كتابه سورة تسميها الشيعة (سورة الولاية) (1) مذكور فيها ولاية علي "يا أيها الذين آمنوا بالنبي، والولي اللذين بعثناهما يهديانكم إلى الصراط المستقيم
… الخ" وقد اطلع الثقة المأمون الأستاذ محمد علي سعودي -الذي كان كبير خبراء وزارة العدل بمصر، على مصحف إيراني مخطوط عند المستشرق براين. فنقل منه هذه السورة بالتلغراف، وفوق سطورها العربية ترجمتها باللغة الإيرانية.
وكما أثبتها الطبرسي في كتابه (فصل الخطاب في إثبات تحريف كتاب رب الأرباب) فإنها ثابتة أيضاً في كتابهم (دبستان مذاهب) باللغة الإيرانية لمؤلفه محسن فاني الكشميري، وهو مطبوع في إيران طبعات متعددة ونقل عنه هذه السورة المكذوبة على الله المستشرق نولدكه في كتابه (تأريخ المصاحف) ج2 ص102 ونشرتها الجريدة الآسيوية الفرنسية سنة 1842 ص431 - 439.
وكما استشهد العالم النجفي بسورة الآية على أن القرآن محرف، استشهد كذلك بما ورد في صفحة 289 من كتاب (الكافي) طبعة سنة 1278 بإيران، وهو عندهم بمنزلة صحيح البخاري عند المسلمين فقد جاء بتلك الصفحة من كتاب الكافي (2) ما نصه:
روى عدة من أصحابنا عن سهل بن زياد، عن محمد بن سليمان،
--------------------------------------------
নাজাফের এই আলেম কুরআনের অসম্পূর্ণতা প্রমাণের সপক্ষে তার গ্রন্থের ১৮০ নং পৃষ্ঠায় একটি সূরা উল্লেখ করেছেন যাকে শিয়ারা (সূরা আল-উলায়াহ) (১) বলে অভিহিত করে। এতে আলীর বেলায়েত সম্পর্কে উল্লেখ আছে: "হে মুমিনগণ! তোমরা নবী ও অলীর ওপর ঈমান আনো, যাদেরকে আমি প্রেরণ করেছি তোমাদেরকে সরল পথের দিশা দিতে
... ইত্যাদি।" নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার ব্যক্তিত্ব উস্তাদ মুহাম্মদ আলী সাউদি—যিনি মিশরের বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন—প্রাচ্যবিদ ব্রায়ানের কাছে সংরক্ষিত একটি ইরানি পাণ্ডুলিপি (মুসহাফ) দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি সেখান থেকে টেলিগ্রাফের মাধ্যমে এই সূরাটি নকল করেন, যার আরবি চরণের উপরিভাগে ফারসি ভাষায় তার অনুবাদ লেখা ছিল।
তাবারসি যেমন তার ‘ফাসলুল খিতাব ফি ইসবতি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব’ গ্রন্থে এটি প্রমাণ করেছেন, তেমনি এটি তাদের ফারসি ভাষায় রচিত ‘দাবিস্তান-ই মযাহিব’ গ্রন্থেও বিদ্যমান, যার লেখক হলেন মুহসিন ফানি কাশ্মীরি। এটি ইরানে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারী এই বানোয়াট সূরাটি প্রাচ্যবিদ নোলডেকে তার ‘তারিখুল মাসাহিফ’ (মুসহাফসমূহের ইতিহাস) গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ১০২ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করেছেন। ১৮৪২ সালে ফরাসি এশীয় সাময়িকী (Journal Asiatique) এটি ৪৩১-৪৩৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশ করে।
নাজাফের আলেম যেমন উক্ত সূরার আয়াত দিয়ে কুরআন বিকৃত হওয়ার দলিল পেশ করেছেন, তেমনি তিনি ১২৭৮ হিজরিতে ইরানে মুদ্রিত ‘আল-কাফি’ গ্রন্থের ২৮৯ নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত বিবরণ থেকেও দলিল গ্রহণ করেছেন। তাদের নিকট এই গ্রন্থটি মুসলমানদের নিকট সহিহ বুখারির সমতুল্য। ‘কাফি’ গ্রন্থের (২) উক্ত পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে তার মূল পাঠ হলো:
আমাদের একদল সাথী সাহল ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عن بعض أصحابه عن أبي الحسن عليه السلام (أي أبوالحسن الثاني علي بن موسى الرضا المتوفى سنة 206) قال: "قلت له جعلت فداك إنا نسمع الآيات في القرآن ليس هي كما نسمعها، ولا نحسن أن نقرأها كما بلغنا عنكم فهل نأثم؟ فقال: لا اقرأوا كما تعلمتم فسيجيئكم من يعلمكم"!! (1)
ولا شك أن هذا الكلام قد اختلقته الشيعة على إمامها علي بن موسى الرضا ولكن معناه عندهم الفتوى بأنه لا يأثم من قرأ القرآن كما يتعلمه الناس في المصحف العثماني، ثم إن الخاصة من الشيعة سيعلم بعضهم بعضاً ما يخالف ذلك مما يزعمون أنه موجود أو كان موجوداً عند أئمتهم من أهل البيت.
والمقارنة بين هذا الكلام المزعوم الذي يسر به بعضهم إلى بعض ولا يجهرون به عملاً بعقيدة التقية (2)، وبين ذلك القرآن المعلوم والشائع المرسوم في المصحف العثماني هي التي ألف حسين بن محمد تقي النوري الطبرسي كتابه (فصل الخطاب في إثبات تحريف كتاب رب الأرباب) للقيام بها، ومهما تظاهر الشيعة بالبراءة من كتاب النوري الطبرسي عملاً بعقيدة التقية، فإن الكتاب ينطوي على مئات النصوص عن علمائهم
--------------------------------------------
তাঁর জনৈক সঙ্গী থেকে বর্ণিত যে, আবুল হাসান আলাইহিস সালাম (অর্থাৎ আবুল হাসান আস-সানি আলী ইবনে মুসা আর-রিদা, মৃত্যু ২০৬ হিজরি) বলেছেন: "আমি তাঁকে বললাম, আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক! আমরা কুরআনের এমন কিছু আয়াত শুনি যা আমরা যেভাবে (অন্যদের থেকে) শুনি তেমন নয়, আবার আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যেভাবে পৌঁছেছে সেভাবে আমরা তিলাওয়াত করতে পারি না; তবে কি আমরা গুনাহগার হব? তিনি বললেন: না, তোমরা যেভাবে শিখেছ সেভাবেই পড়ো, অচিরেই তোমাদের কাছে এমন কেউ আসবে যে তোমাদের শিক্ষা দেবে।"!! (১)
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই কথাটি শিয়ারা তাদের ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রিদার নামে মিথ্যা আরোপ করেছে। তবে তাদের নিকট এর মর্ম হলো এই ফতোয়া প্রদান করা যে, উসমানি মুসহাফ অনুযায়ী মানুষ যেভাবে কুরআন শিখে থাকে, সেভাবে তিলাওয়াত করলে কেউ পাপী হবে না। অতঃপর শিয়াদের বিশেষ ব্যক্তিরা একে অপরকে এর বিপরীত বিষয়গুলো শিক্ষা দেবে, যে সম্পর্কে তারা দাবি করে যে সেগুলো তাদের আহলে বাইতীয় ইমামদের নিকট বিদ্যমান আছে বা ছিল।
এই কথিত কথাবার্তা—যা তারা তাকিয়া (২) পালন করতে গিয়ে গোপনে একে অপরকে বলে থাকে এবং প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে না—এবং উসমানি মুসহাফে লিপিবদ্ধ সেই সুপরিচিত ও প্রচলিত কুরআনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার উদ্দেশ্যেই হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ তাকি আন-নূরি আত-তাবারসি তার গ্রন্থ 'ফসলুল খিতাব ফি ইসবতি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব' (প্রভুর কিতাবের বিকৃতি প্রমাণের চূড়ান্ত ফয়সালা) রচনা করেছেন। শিয়ারা তাকিয়ার বশবর্তী হয়ে তাবারসির এই গ্রন্থটি থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য যতই লৌকিকতা প্রদর্শন করুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে এই গ্রন্থটি তাদের আলেমদের থেকে বর্ণিত শত শত উদ্ধৃতিতে পরিপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في كتبهم المعتبرة، يثبت بها أنهم جازمون بالتحريف، ومؤمنون به، ولكن لا يحبون أن تثور الضجة حول عقيدتهم هذه في القرآن. ويبقى بعد ذلك أن هناك قرآنين أحدهما عام معلوم، والآخر خاص مكتوم، ومنه سورة "الولاية"، وهم بذلك يعملون بالكلمة التي افتروها على إمامهم علي بن الرضا "اقرأوا كما تعلمتم، فسيجيئكم من يعلمكم". (1)
ومما تزعم الشيعة أنه أسقط من القرآن آية "وجعلنا عليا صهرك" زعموا أنها أسقطت من سورة "ألم نشرح" وهم لا يخجلون من هذا الزعم مع علمهم بأن سورة "ألم نشرح" مكية، ولم يكن علي صهراً للنبي صلى الله عليه وسلم بمكة، وإنما كان صهره الوحيد فيها العاص بن الربيع الأموي رضي الله عنه الذي أثنى عليه صلوات الله عليه على منبر مسجده النبوي، لما أراد علي رضي الله عنه أن يتزوج بنت أبي جهل على فاطمة فشكت ذلك فاطمة إلى أبيها صلوات الله عليه (2)، وإذا كان علي رضي الله عنه صهرا للنبي صلى الله عليه وسلم على إحدى بناته، فقد جعل الله عثمان رضي الله عنه صهراً له على ابنتيه الاثنتين، وقال له النبي صلى الله عليه وسلم لما توفيت الثانية: "لو كانت لنا ثالثة لزوجناكها".
ويزعم عالمهم أبومنصور أحمد بن علي بن أبي طالب الطبرسي (أحد مشايخ ابن شهر آشوب المتوفى سنة 588هـ في كتابه الاحتجاج على أهل اللجاج) أن علياً قال لأحد الزنادقة -ولم يذكر اسمه-: وأما ظهورك عليّ تناكر قوله تعالى (وإن خفتم ألا تقسطوا في اليتامى
--------------------------------------------
তাদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে এটি প্রমাণিত যে, তারা কুরআনের বিকৃতির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এতে বিশ্বাসী; কিন্তু তারা কুরআনের বিষয়ে তাদের এই আকিদা নিয়ে কোনো শোরগোল সৃষ্টি হোক তা পছন্দ করে না। এর ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, কুরআন দুটি—একটি সাধারণ ও পরিচিত, আর অন্যটি বিশেষ ও গোপন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা 'আল-বিলায়াহ'। তারা এর মাধ্যমে সেই বাণীর ওপর আমল করে যা তারা তাদের ইমাম আলী ইবনে রিদার নামে মিথ্যা আরোপ করেছে: "তোমরা সেভাবেই পড় যেভাবে শিখেছ, অচিরেই তোমাদের কাছে এমন একজন আসবেন যিনি তোমাদের শেখাবেন।" (১)
শিয়াদের দাবিসম্মত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, কুরআন থেকে "এবং আমি আলীকে আপনার জামাতা বানিয়েছি" আয়াতটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করে যে এটি সূরা 'আলাম নাশরাহ' থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই দাবি করতে তারা লজ্জিত হয় না, অথচ তারা জানে যে সূরা 'আলাম নাশরাহ' মক্কী সূরা, আর আলী (রা.) মক্কায় নবী (সা.)-এর জামাতা ছিলেন না। বরং সেখানে তাঁর একমাত্র জামাতা ছিলেন আল-আস ইবনুর রাবী' আল-উমাবী (রা.), যার প্রশংসা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর মসজিদে নববীর মিম্বরে দাঁড়িয়ে করেছিলেন, যখন আলী (রা.) ফাতিমার বর্তমানে আবু জাহেলের মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং ফাতিমা তাঁর পিতার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন (২)। আর আলী (রা.) যদি নবী (সা.)-এর এক কন্যার স্বামী হওয়ার সুবাদে তাঁর জামাতা হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ উসমান (রা.)-কে তাঁর দুই কন্যার জামাতা বানিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় কন্যার মৃত্যুর পর নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: "যদি আমাদের তৃতীয় কোনো কন্যা থাকত, তবে আমরা তাকেও তোমার সাথে বিয়ে দিতাম।"
তাদের আলেম আবু মনসুর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব আত-তাবারসি (যিনি ৫৮৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে শাহর আশুব-এর অন্যতম শিক্ষক, তাঁর 'আল-ইহতিজাজ আলা আহলিল লাজাজ' গ্রন্থে) দাবি করেন যে, আলী জনৈক নাস্তিককে—যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি—বলেছিলেন: "আর মহান আল্লাহর বাণী 'যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না' এর ক্ষেত্রে তোমাদের আপত্তির বিষয়টি হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فانكحوا ما طاب لكم من النساء) وليس يشبه القسط في اليتامى نكاح النساء، ولا كل النساء يتامى، فهو ما قدمت ذكره من إسقاط المنافقين (2) من القرآن بين القول في اليتامى، وبين نكاح النساء من الخطاب. والقصص أكثر من ثلث القرآن.
كذبهم حتى على علي رضي الله عنهوهذا من كذبهم على علي رضي الله عنه، بدليل أنه لم يعلن في مدة خلافته على المسلمين هذا الثلث الساقط من القرآن في هذا الموضع منه، ولم يأمر المسلمين بإثباته والاهتداء بهديه والعمل بأحكامه. (وانظر أيضا الموضوع السابق -الطعن في القرآن الكريم- الفقرة الأخيرة وحاشيتها)
فرحة المبشِّرِينوعند ظهور كتاب (فصل الخطاب في إثبات تحريف كتاب رب الأرباب) وانتشاره في الأوساط الشيعية وغيرها في إيران،
--------------------------------------------
...তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের বিবাহ করো) আর এতিমদের প্রতি ইনসাফ করার বিষয়টি নারীদের বিবাহের সদৃশ নয়, আর সব নারী তো এতিমও নয়। সুতরাং এটি সেই বিষয় যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুনাফিকরা (২) কুরআনের মধ্য থেকে এতিমদের প্রসঙ্গের আলোচনা এবং বিবাহের প্রসঙ্গের আলোচনার মাঝখানের অংশ ফেলে দিয়েছে। আর কাহিনীসমূহ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ওপর তাদের মিথ্যাচারএটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ওপর তাদের মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হলো, তিনি মুসলিমদের খলীফা থাকাকালীন সময়ের মধ্যে কুরআনের এই স্থান থেকে কথিত এই "বিচ্যুত এক-তৃতীয়াংশ" সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেননি এবং এটি লিপিবদ্ধ করতে, এর হেদায়েত গ্রহণ করতে কিংবা এর বিধান অনুযায়ী আমল করতে মুসলিমদের নির্দেশ দেননি। (আরও দেখুন পূর্ববর্তী বিষয় - পবিত্র কুরআনের প্রতি অপবাদ - শেষ অনুচ্ছেদ ও তার টীকা)।
মিশনারিদের আনন্দযখন 'ফাসলুল খিতাব ফি ইসবতি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব' নামক কিতাবটি আত্মপ্রকাশ করল এবং ইরানের শিয়া ও অন্যান্য মহলে ছড়িয়ে পড়ল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والنجف والبلاد الأخرى قبل بضع وثمانين سنة -وهو مشحون بالعشرات والمئات من أمثال هذه الأكاذيب على الله وصفوة خلقه- استبشر به المبشرون من أعداء الإسلام، وترجموه بلغاتهم.
ذكر ذلك محمد مهدي الأصفهاني الكاظمي في الجزء الثاني ص90 من كتابه (أحسن الوديعة) وهو ذيل على كتابهم (روضات الجنات).
وهنالك نصّان صريحان في بخاريهم الذي يسمى (الكافي) للكليني الأول منها في الصفحة 54 من طبعة سنة 1278 بإيران، وهو: "عن جابر الجعفي قال: سمعت أبا جعفر عليه السلام يقول: ما ادعى أحد من الناس أنه جمع القرآن كله، كما أنزل إلا كذاب، وما جمعه وحفظه كما أنزل إلا علي بن أبي طالب والأئمة من بعده". (1)
وكل شيعي يقرأ كتاب الكافي هذا، الذي هو عندهم بمنزلة صحيح البخاري عندنا، يؤمن بهذا النص، أما نحن أهل السنة فنقول: (إن الشيعة كذبوا ذلك على الباقر رحمه الله، بدليل أن علياً رضي الله عنه لم يكن يعمل في مدة خلافته وهو بالكوفة إلا بالمصحف الذي أنعم الله على أخيه عثمان رضي الله عنه بجمعه، وإذاعته في الأمصار، وتعميم العمل به في جميع الأعصار إلى الآن، وإلى يوم القيامة، ولو كان عند علي مصحف غيره -وهو خليفة حاكم لا ينازعه أحد في نطاق حكمه- لعمل به، ولأمر المسلمين بتعميمه
--------------------------------------------
নাজাফ এবং অন্যান্য শহরে প্রায় আশি বছর আগে—যা আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই জাতীয় দশ দশ ও শত শত মিথ্যায় পরিপূর্ণ—ইসলামের শত্রুদের মধ্য থেকে মিশনারিরা এতে আনন্দিত হয়েছিল এবং তারা এটি তাদের নিজস্ব ভাষায় অনুবাদ করেছিল।
মুহাম্মদ মাহদী আল-আসফাহানি আল-কাযমি তার 'আহসান আল-ওয়াদিয়াহ' কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ড, ৯০ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন, যা তাদের কিতাব 'রাওদাত আল-জান্নাত'-এর একটি পরিশিষ্ট।
এবং তাদের 'সহিহ বুখারি'র সমতুল্য কিতাব যা কুলাইনি রচিত 'আল-কাফি' নামে পরিচিত, সেখানে দুটি স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। প্রথমটি ইরান থেকে ১২৭৮ সালে প্রকাশিত মুদ্রণের ৫৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে, তা হলো: "জাবির আল-জু'ফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি: মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যে দাবি করে যে সে পুরো কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মতো করে সংকলন করেছে, সে একজন মিথ্যাবাদী ছাড়া আর কিছু নয়; আর আলী ইবনে আবি তালিব এবং তার পরবর্তী ইমামগণ ব্যতীত আর কেউ এটি অবতীর্ণ হওয়ার মতো করে সংকলন ও হিফজ করেনি।" (১)
এবং প্রত্যেক শিয়া যারা এই 'আল-কাফি' কিতাবটি পড়ে, যা তাদের কাছে আমাদের কাছে সহিহ বুখারির মর্যাদাসম্পন্ন, তারা এই পাঠ্যে বিশ্বাস করে। তবে আমরা আহলে সুন্নাতরা বলি: (নিশ্চয়ই শিয়ারা ইমাম বাকির রহ.-এর নামে এটি মিথ্যা আরোপ করেছে। এর প্রমাণ হলো, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফায় তাঁর খিলাফতকালে কেবল সেই মুসহাফ অনুসারেই আমল করতেন যা আল্লাহ তাঁর ভাই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সংগ্রহ করার তাওফিক দিয়েছিলেন, এবং যা তিনি বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত যা অনুসরণ করা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। আলীর কাছে যদি এটি ছাড়া অন্য কোনো মুসহাফ থাকত—যখন তিনি একজন শাসক খলিফা ছিলেন এবং তাঁর শাসনকালে কেউ তাঁর বিরোধিতা করার ছিল না—তবে তিনি সেটি অনুযায়ী আমল করতেন এবং মুসলমানদের তা সাধারণীকরণের নির্দেশ দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والعمل به ولو أنه كان عنده غيره، وكتمه عن المسلمين، لكان خائنا لله، ورسوله، والدين الإسلامي.
وجابر الجعفي الذي يزعم أنه سمع تلك الكلمة الآثمة من الإمام أبي جعفر محمد الباقر وإن كان موثوقا عندهم فهو معروف عند أئمة المسلمين بالكذب، قال أبو يحي الحماني: سمعت أبا حنيفة يقول: ما رأيت فيمن رأيت أفضل من عطاء ولا أكذب من جابر الجعفي (1).
وأكذب من هذا النص الأول في كتاب (الكافي) عن أبي جعفر، النص الثاني المكذوب على ابنه جعفر الصادق، وهو في بخاريهم (الكافي) أيضاً صفحة 57 طبعة سنة 1278 بإيران وهو: "عن أبي بصير قال: دخلت على أبي عبد الله .. إلى أن قال أبو عبد الله (أي جعفر الصادق): وإن عندنا لمصحف فاطمة عليها السلام
… قال: قلت وما مصحف فاطمة؟ قال: مصحف فيه مثل قرآنكم هذا ثلاث مرات، والله ما فيه من قرآنكم حرف واحد".!
هذه النصوص الشيعية المكذوبة على أئمة أهل البيت قديمة العهد وقد سجلها محمد بن يعقوب الكليني الرازي في كتابه (الكافي) قبل أكثر من ألف سنة، وهي أقدم منه لأنه يرويها عن أسلافه من أعلام
--------------------------------------------
এবং এর ওপর আমল করা—যদি তার কাছে এটি ছাড়া অন্য কিছু থাকত এবং তিনি তা মুসলিমদের থেকে গোপন রাখতেন, তবে তিনি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং ইসলামি দ্বীনের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে গণ্য হতেন।
আর জাবির আল-জু’ফি, যে দাবি করে যে সে ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ আল-বাকির থেকে ওই পাপপূর্ণ কথাটি শুনেছে, যদিও সে তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য, তবুও মুসলিম ইমামগণের নিকট সে মিথ্যাবাদী হিসেবে সুপরিচিত। আবু ইয়াহইয়া আল-হামমানি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: "আমি যত মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে আতা-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কাউকে দেখিনি এবং জাবির আল-জু’ফির চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী আর কাউকে দেখিনি (১)।"
আবু জাফর থেকে 'আল-কাফি' কিতাবে বর্ণিত এই প্রথম পাঠটির চেয়েও ডাহা মিথ্যা হলো তাঁর পুত্র জাফর আস-সাদিকের নামে চালিয়ে দেওয়া দ্বিতীয় পাঠটি। এটি তাদের 'বুখারি' অর্থাৎ 'আল-কাফি' কিতাবের ৫৭ পৃষ্ঠায় (১২৭৮ হিজরি, ইরান সংস্করণ) বর্ণিত হয়েছে: "আবু বাসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম... এক পর্যায়ে আবু আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ জাফর আস-সাদিক) বললেন: আমাদের নিকট ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর মুসহাফ রয়েছে
… তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ফাতিমার মুসহাফ কী? তিনি বললেন: এমন এক মুসহাফ যাতে তোমাদের এই কুরআনের মতো তিনগুণ বিষয়বস্তু রয়েছে; আল্লাহর কসম, এতে তোমাদের কুরআনের একটি অক্ষরও নেই"!!
আহলে বাইতের ইমামগণের নামে চালিয়ে দেওয়া শিয়াদের এই মিথ্যা পাঠগুলো অত্যন্ত প্রাচীন। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলাইনি আর-রাজি এক হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে তাঁর 'আল-কাফি' কিতাবে এগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এগুলো তাঁর চেয়েও প্রাচীন, কারণ তিনি এগুলো তাঁর পূর্বসূরি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الكذبة مهندسي بناء التشيع.
ويوم كانت أسبانيا تحت سلطان العروبة والإسلام كان الإمام أبومحمد بن حزم يتناظر مع قسها في نصوص كتبهم، ويقيم لهم الحجج على تحريفها بل ضياع أصولها، فكان أولئك القسس يحتجون عليه بأن الشيعة قرروا: أن القرآن أيضاً محرف؛ فأجابهم ابن حزم بأن دعوى الشيعة ليست حجة على القرآن، ولا على المسلمين لأن الشيعة غير مسلمين. (1)
رأيهم في الحكاموالحقيقة الخطيرة التي نلفت إليها أنظار حكوماتنا الإسلامية أن أصل مذهب الشيعة الإمامية الاثني عشرية التي تسمى أيضا (الجعفرية) قائم على اعتبار جميع الحكومات الإسلامية من يوم وفاة النبي صلى الله عليه وسلم إلى هذه الساعة -عدا سنوات حكم علي بن أبي طالب رضي الله عنه حكومات غير شرعية، ولا يجوز لشيعي أن يدين لهؤلاء بالولاء والإخلاص من صميم قلبه، بل يداجيها مداجاة ويتقيها تقاة، لأنها كلها ما مضى منها وما قائم الآن وما سيقوم منها فيما بعد، حكومات مغتصبة والحكام الشرعيون في دين الشيعة وصميم عقيدتهم هم الأئمة الاثني عشر وحدهم، سواء تيسر لهم مباشرة الحكم أو لم يباشروه، وكل من عداهم ممن تولوا مصالح المسلمين من أبي بكر وعمر إلى من
--------------------------------------------
মিথ্যাবাদীরাই শিয়া মতবাদ নির্মাণের স্থপতি।
যখন স্পেন আরব ও ইসলামের শাসনের অধীনে ছিল, তখন ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম তাদের পাদ্রিদের সাথে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের পাঠ্যসমূহ নিয়ে বিতর্ক করতেন এবং সেগুলোর বিকৃতি, এমনকি তাদের মূল উৎসগুলোর বিলুপ্তির সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতেন। তখন ঐ পাদ্রিরা তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে যুক্তি দেখাত যে, শিয়ারাও সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে কুরআনও বিকৃত; তখন ইবনে হাজম তাদের জবাবে বলেছিলেন যে, শিয়াদের দাবি কুরআনের বিরুদ্ধে কোনো দলিল নয় এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধেও নয়, কারণ শিয়ারা মুসলমান নয়। (১)
শাসকদের সম্পর্কে তাদের অভিমতআর সেই বিপজ্জনক সত্য যার দিকে আমরা আমাদের ইসলামি সরকারগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তা হলো—শিয়া ইমামিয়া ইসনা আশারিয়া (যাকে জাফরিয়াও বলা হয়) মাযহাবের মূল ভিত্তি এই বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের দিন থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত সমস্ত ইসলামি সরকার—আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনের কয়েক বছর ব্যতীত—অবৈধ। কোনো শিয়ার জন্য এদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আনুগত্য ও একনিষ্ঠতা পোষণ করা বৈধ নয়; বরং সে কেবল তাদের সাথে বাহ্যিক চাটুকারিতা করবে এবং সতর্কতামূলক ছদ্মবেশ (তাকিয়া) অবলম্বন করবে। কারণ এই সকল সরকার—যা অতীতে অতিবাহিত হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান আছে এবং ভবিষ্যতে যা প্রতিষ্ঠিত হবে—সবই জবরদখলকারী সরকার। শিয়া ধর্ম ও তাদের মূল আকিদা অনুযায়ী একমাত্র বারো ইমামই হলেন বৈধ শাসক, চাই তাদের জন্য সরাসরি শাসনকার্য পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হোক বা না হোক। আর তাদের ব্যতীত অন্য যারা মুসলমানদের জনস্বার্থের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—আবু বকর ও উমর থেকে শুরু করে যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بعدهم حتى الآن مهما خدموا الإسلام ومهما كابدوا في نشر دعوته وإعلاء كلمة الله في الأرض وتوسيع رقعة العالم الإسلامي، فإنهم مفتئتون مغتصبون إلى يوم القيامة.
الحقد على أبي بكر وعمرولذلك يلعن الشيعة أبابكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم، وكل من تولى الحكم في الإسلام غير علي رضي الله عنه. وقد كذبوا على الإمام أبي الحسن علي بن محمد بن علي بن موسى بأنه أقر شيعته على تسمية أبي بكر وعمر "الجبت" و"الطاغوت". (1) فقد جاء في أكبر وأكمل كتبهم في الجرح والتعديل، وهو كتاب (2) (تنقيح المقال في أحوال الرجال) لشيخ الطائفة الجعفرية العلامة الثاني آية الله المامقاني ما نقله عن الشيخ الجليل المحقق محمد بن إدريس الحلبي في آخر كتاب (السرائر) عن كتاب (مسائل الرجال ومكاتباتهم إلى مولانا أبي الحسن علي بن محمد بن علي بن موسى عليه السلام في جملة مسائل محمد بن علي بن عيسى قال: "كتبت إليه أسأله عن الناصب (أي الذي ينصب العداوة لآل البيت) هل أحتاج في امتحانه إلى أكثر من تقديمه الجبت والطاغوت (أي تقديمه الشيخين صاحبي رسول الله صلى الله عليه وسلم ووزيريه أبي بكر وعمر) واعتقاده إمامتهما؟ فرجح الجواب: من كان على هذا فهو ناصب. أي يكفي لأن يعد أي إنسان
--------------------------------------------
তাদের পরবর্তী পর্যায় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত, তারা ইসলামের যত সেবাই করুক না কেন এবং এর দাওয়াত প্রচার, পৃথিবীতে আল্লাহর বাণী সমুন্নত রাখা ও ইসলামি বিশ্বের সীমানা সম্প্রসারণে যতই কষ্ট স্বীকার করুক না কেন, তারা কিয়ামত পর্যন্ত জবরদখলকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবেই গণ্য হবে।
আবু বকর ও উমরের প্রতি বিদ্বেষআর এ কারণেই শিয়ারা আবু বকর, উমর ও উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত ইসলামে যারা শাসনভার গ্রহণ করেছেন তাদের সকলকে অভিশাপ দেয়। তারা ইমাম আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে যে, তিনি আবু বকর ও উমরকে "জিবত" ও "তাগুত" নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রে তার অনুসারীদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। (১) তাদের 'জারহ ওয়া তাদীল' (বর্ণনাকারী যাচাইকরণ) বিষয়ক সবচেয়ে বড় ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ, যা হলো জাফরিয়া সম্প্রদায়ের শায়খ, দ্বিতীয় আল্লামা আয়াতুল্লাহ আল-মামাকানি রচিত (২) 'তানকিহুল মাকাল ফি আহওয়ালির রিজাল' নামক কিতাব; সেখানে তিনি শ্রদ্ধেয় মুহাক্কিক মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-হিল্লির উদ্ধৃতি দিয়ে 'আস-সারাইর' কিতাবের শেষে 'মাসায়েলুর রিজাল ওয়া মাকাতাবাতুহুম ইলা মাওলানা আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা (আলাইহিস সালাম)' গ্রন্থ থেকে মুহাম্মদ বিন আলী বিন ঈসার একাধিক মাসআলার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি তাকে 'নাসিবী' (অর্থাৎ যারা আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে লিখলাম যে, কাউকে নাসিবী হিসেবে পরীক্ষা করার জন্য কি 'জিবত ও তাগুত'কে (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই সাথী ও উজির আবু বকর ও উমরকে) অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং তাদের ইমামত বা নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখার চেয়ে অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন আছে? উত্তরে প্রাধান্য দিয়ে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি এই বিশ্বাসের ওপর থাকবে, সে-ই নাসিবী।" অর্থাৎ কোনো মানুষকে নাসিবী হিসেবে গণ্য করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
عدواً لآل البيت إذا قدم أبابكر الصديق وعمر الفاروق واعتقد إمامتهما.! وتعبير الجبت والطاغوت يستعمله الشيعة في دعائهم الذي يسمونه (دعاء صنمي قريش) ويعنون بهما، وبالجبت والطاغوت: (أبابكر وعمر). وهذا الدعاء في كتابهم (مفتاح الجنان) ص114 وهو بمنزلة "دلائل الخيرات" في بلاد العالم الإسلامي، ونص دعائهم: "اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، والعن صنمي قريش وجبتيهما وطاغوتيهما وابنتيهما .. الخ" ويريدون بابنتيهما أم المؤمنين "عائشة" وأم المؤمنين "حفصة" رضي الله عن الجميع.
تعظيم قاتل عمر
وقد بلغ من حنقهم على مطفيء نار المجوسية في إيران، والسبب في دخول أسلاف أهلها إلى الإسلام، عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أن سمَّوا قاتله أبا لؤلؤة المجوسي بـ"أبي شجاع الدين".
روى علي بن مظاهر -من رجالهم- عن أحمد بن إسحاق القمي الأحوص (شيخ الشيعة ووافدهم) أن يوم قتل عمر بن الخطاب هو يوم العيد الأكبر ويوم المفاخرة ويوم التبجيل ويوم الزكاة العظمى ويوم البركة ويوم التسلية.
عقدة الحكمومن أبي بكر وعمر وصلاح الدين الأيوبي وجميع الذين فتحوا
...আহলে বাইতের শত্রু (গণ্য করা হয়) যদি কেউ আবু বকর আস-সিদ্দিক ও উমর আল-ফারুককে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে এবং তাঁদের ইমামতে (নেতৃত্বে) বিশ্বাস পোষণ করে। 'জিবত' ও 'তাগুত' অভিধা দুটি শিয়ারা তাদের প্রার্থনায় ব্যবহার করে, যাকে তারা 'দুআ সনামি কুরাইশ' (কুরাইশের দুই মূর্তির দুআ) বলে থাকে। জিবত ও তাগুত বলতে তারা মূলত আবু বকর ও উমরকে বুঝিয়ে থাকে। এই দুআটি তাদের 'মিফতাহুল জিনান' গ্রন্থের ১১৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে, যা মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে 'দালাইলুল খাইরাত' গ্রন্থের সমতুল্য। তাদের দুআর ভাষ্য হলো: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং কুরাইশের দুই মূর্তি, তাদের জিবত ও তাগুতদ্বয় এবং তাদের দুই কন্যার ওপর অভিশাপ দিন... ইত্যাদি।" এখানে দুই কন্যা বলতে তারা উম্মুল মুমিনীন 'আয়েশা' এবং উম্মুল মুমিনীন 'হাফসা' (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না)-কে উদ্দেশ্য করে।
উমরের হত্যাকারীকে মহিমান্বিত করা
ইরানে অগ্নিপূজার আগুন নির্বাপণকারী এবং সেখানকার অধিবাসীদের পূর্বপুরুষদের ইসলামে প্রবেশের অসিলা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি তাদের বিদ্বেষ ও ক্ষোভ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা তাঁর হত্যাকারী আবু লুলু আল-মাজুসিকে "আবু শুজাউদ্দীন" (দীনের সাহসী বীর) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
তাদের অন্যতম বর্ণনাকারী আলী ইবনে মাজাহির, আহমদ ইবনে ইসহাক আল-কুম্মি আল-আহওয়াস (শিয়াদের শায়খ ও প্রতিনিধি) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের হত্যাকাণ্ডের দিনটি হলো মহোত্তম ঈদের দিন, গৌরবের দিন, মর্যাদার দিন, মহান জাকাতের দিন, বরকতের দিন এবং আনন্দের দিন।
শাসকত্বের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাআর আবু বকর, উমর, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী এবং যারা বিজয় সম্পন্ন করেছিলেন তাদের সকলের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
للإسلام ممالك الأرض وأدخلوها في دين الله، والذين حكموها باسم الإسلام إلى هذا اليوم الذي نحن فيه -كل هؤلاء في عقيدة الشيعة التي يلقون الله عليها- حكام متغلبون ظالمون ومن أهل النار، لأنهم غير شرعيين ولا يستحقون من الشيعة الولاء والطاعة الصادقة والتعاون على الخير إلا بقدر ما تنتجه لهم عقيدة التقية والطمع في الأخذ منهم والمداجاة لهم. ومن عقائدهم الأساسية أنه عندما يقوم المهدي (وهو إمامهم الثاني عشر) الذي هو حي الآن (بزعمهم) وينتظرون خروجه -أي ثورته ليثوروا معه- وإذا ذكروه في كتبهم يكتبون في جانب اسمه حرفي "عج" أي "عجل الله فرجه" عندما يقوم هذا المهدي من نومته الطويلة التي زادت على ألف ومائة سنة، وسيحيي الله له ولآبائه جميع حكام المسلمين السابقين مع الحكام المعاصرين لقيامه -وعلى رأس الجميع أبوبكر وعمر فمن بعدهما- فيحاكمهم على اغتصابهم الحكم منه، ومن آبائه الأحد عشر إماما -لأن الحكم في الإسلام حق لهم وحدهم من الله منذ توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أن تقوم الساعة، ولا حق فيه لأحد غيرهم -وبعد محاكمة هؤلاء الطواغيت المغتصبين يقتص منهم فيأمر بقتل وإعدام كل خمسمائة معاً حتى يستوفي في قتل ثلاثة آلاف من رجال الحكم في جميع عصور الإسلام، ويكون ذلك في الدنيا قبل البعث النهائي في يوم القيامة، ثم بعد موت من يموت وإعدام من يعدم
ইসলামের জন্য যারা পৃথিবীর ভূখণ্ডসমূহ জয় করেছেন এবং সেগুলোকে আল্লাহর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং যারা বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামের নামে শাসন করেছেন—শিয়াদের আকিদা বা বিশ্বাস অনুযায়ী, যার ওপর ভিত্তি করে তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে—তারা সবাই আধিপত্যবাদী জালিম শাসক এবং জাহান্নামী। কারণ তারা অবৈধ এবং তারা শিয়াদের পক্ষ থেকে আনুগত্য, একনিষ্ঠ বাধ্যতা এবং কল্যাণের কাজে সহযোগিতার অধিকার রাখেন না; কেবল 'তাকিয়া' আকিদা বা কৌশলী ছদ্মবেশের নীতি থেকে যতটুকু প্রয়োজন এবং তাদের থেকে বৈষয়িক সুবিধা লাভের লালসা ও বাহ্যিক তোষামোদ ছাড়া। তাদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—যখন তাদের মাহদি (যিনি তাদের দ্বাদশ ইমাম) আবির্ভূত হবেন, যিনি তাদের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে জীবিত এবং তারা তার আগমনের (অর্থাৎ তার বিপ্লবের, যাতে তারা তার সাথে বিদ্রোহ করতে পারে) অপেক্ষায় আছে; এবং তারা তাদের কিতাবসমূহে তার নামের পাশে 'আইন' ও 'জিম' অর্থাৎ 'আল্লাহ তার মুক্তি ত্বরান্বিত করুন' লিখে থাকে—যখন এই মাহদি তার এক হাজার একশ বছরেরও অধিক দীর্ঘ নিদ্রা থেকে জেগে উঠবেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য এবং তার পূর্বপুরুষদের জন্য ইসলামের পূর্ববর্তী সকল শাসক এবং তার সমসাময়িক শাসকদের পুনরুত্থিত করবেন—যাদের শীর্ষে থাকবেন আবু বকর এবং উমর, তারপর পরবর্তীগণ। অতঃপর তিনি তাদের বিচার করবেন তার কাছ থেকে এবং তার পূর্ববর্তী এগারোজন ইমামের কাছ থেকে শাসনক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধে। কারণ তাদের মতে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামে শাসনক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরই অধিকার, এবং তারা ছাড়া অন্য কারো এতে কোনো অধিকার নেই। এই ক্ষমতা দখলকারী তাগুতদের বিচারের পর তিনি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। তিনি প্রতিবার একসাথে পাঁচশ করে মানুষকে হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আদেশ দেবেন, যতক্ষণ না ইসলামের সকল যুগের শাসকদের মধ্য থেকে তিন হাজার পুরুষকে হত্যার মাধ্যমে তা পূর্ণ হয়। আর এটি কিয়ামত দিবসের চূড়ান্ত পুনরুত্থানের পূর্বেই এই পৃথিবীতে ঘটবে। অতঃপর যারা মারা যাওয়ার তারা মারা যাবে এবং যাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يكون البعث الأكبر للمحشر ثم إلى الجنة أو النار. الجنة لآل البيت والذين يعتقدون فيهم هذه العقائد والنار لكل من ليس بشيعي، والشيعة يسمون هذا الإحياء والمحاكمة والقصاص باسم (الرجعة)، وهي من عقائدهم الأساسية التي لا يرتاب فيها شيعي واحد. وقد رأيت من طيبي القلب من يزعم أن أمثال هذه العقيدة قد عدل عنها الشيعة في العصور الأخيرة، وهذا خطأ كبير مخالف للواقع.
من التشيع إلى الشيوعيةوالشيعة من أيام الدولة الصفوية إلى الآن متمسكون بهذه العقائد أكثر مما كانوا قبل ذلك، وهم الآن إما مؤمنون بكل ذلك، أو متعلمون تعليماً عصريا، انحرفوا به عن هذه الخرافات إلى الشيوعية، فالشيوعية في العراق وحزب تودة في إيران يتألف من أبناء الشيعة الذين تبينت لهم أساطيرها، فأصبحوا شيوعيين بعد أن كانوا شيعة، وليس فيهم حزب وسط، إلا من يتظاهر بالتقية لمآرب مذهبية أو دبلوماسية أو حزبية أو شخصية ويضمر غير الذي يتظاهر به، ولأجل أن تعلم عقيدة (الرجعة) من كتبهم المعتبرة أذكر لك ما قاله شيخ الشيعة أبو عبد الله محمد بن محمد بن النعمان المعروف عندهم باسم (الشيخ المفيد) في كتابه (الإرشاد في تأريخ حجج الله على العباد) ص398 - 402 وهو مطبوع على الحجر في إيران طبعة قديمة، لم يذكر
হাশরের ময়দানে মহা পুনরুত্থান ঘটবে, অতঃপর জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ফয়সালা হবে। জান্নাত হবে আহলে বাইত এবং তাদের সম্পর্কে এই সকল আকিদা পোষণকারীদের জন্য, আর জাহান্নাম হবে তাদের জন্য যারা শিয়া নয়। শিয়ারা এই পুনরুজ্জীবন, বিচার এবং প্রতিশোধের বিষয়টিকে 'রাজ'আ' (প্রত্যাবর্তন) নামে অভিহিত করে। এটি তাদের অন্যতম মৌলিক আকিদা, যা নিয়ে কোনো শিয়াই বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করে না। আমি কিছু সরলমনা মানুষকে বলতে দেখেছি যারা দাবি করে যে, শিয়ারা বর্তমান যুগে এই ধরনের আকিদা থেকে সরে এসেছে; তবে এটি একটি বড় ভুল যা বাস্তবতার পরিপন্থী।
শিয়াবাদ থেকে সাম্যবাদ পর্যন্তশিয়ারা সফভী সালতানাতের সময়কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই আকিদাগুলোতে পূর্বের তুলনায় আরও বেশি সংবদ্ধ। বর্তমানে তারা হয় এ সমস্ত বিষয়ে বিশ্বাসী, অন্যথায় তারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এক গোষ্ঠী যারা এই সকল কুসংস্কার থেকে বিচ্যুত হয়ে সাম্যবাদের (কমিউনিজম) দিকে ধাবিত হয়েছে। ইরাকের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ইরানের তুদেহ পার্টি মূলত সেই সকল শিয়া সন্তানদের নিয়ে গঠিত যাদের নিকট এই সকল রূপকথার অসারতা প্রকাশ পেয়েছে, ফলে তারা শিয়া থাকার পর কমিউনিস্টে রূপান্তরিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো মধ্যপন্থী দল নেই; কেবল তারা ছাড়া যারা মাযহাবী, কূটনৈতিক, দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে 'তাকিয়া'র আশ্রয় নিয়ে লোকদেখানো ভেক ধরে থাকে এবং অন্তরে অন্য কিছু গোপন রাখে। তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে 'রাজ'আ' (প্রত্যাবর্তন) আকিদাটি সম্যকভাবে জানার জন্য আমি শিয়াদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নু'মান, যিনি তাদের নিকট 'শায়খ মুফিদ' নামে পরিচিত, তাঁর 'আল-ইরশাদ ফি তারিখি হুজ্জাতিল্লাহি আলাল ইবাদ' (পৃষ্ঠা ৩৯৮-৪০২) নামক কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করছি। এটি ইরানে পাথর-মুদ্রিত একটি প্রাচীন সংস্করণ। তিনি সেখানে উল্লেখ করেননি...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تأريخها، ولكنها طبعت على خط محمد علي محمد حسن الكلبابكاتي، روى الفضل بن شاذان، عن محمد بن علي الكوفي، عن وهب بن حفص، عن أبي بصير قال:
الرغبة في التدمير والانتقامقال أبو عبد الله (يعني جعفر الصادق) ينادي باسم القائم (أي إمامهم الثاني عشر الذي يزعمون إنه ولد منذ أكثر من أحد عشر قرناً، ولم يمت بعد لأنه سيقوم ويحكم) ينادي باسمه في ليل ثلاث وعشرين ويقوم في يوم عاشوراء لكأني به في اليوم العاشر من المحرم قائماً بين الركن والمقام، جبريل عن يمينه ينادي: البيعة لله، فتسير إليه الشيعة من أطراف الأرض تطوى لهم طيا حتى يبايعوه. وقد جاء الأثر بأنه يسير من مكة حتى يأتي الكوفة فينزل على نجفا ثم يفرق الجنود منها في الأمصار. وروى الحجال عن ثعلبة بن أبي بكر الحضرمي عن أبي جعفر عليه السلام (أي محمد الباقر) قال: كأني بالقائم عليه السلام على نجف الكوفة وسار إليها من مكة في خمسة آلاف من الملائكة، جبريل عن يمينه وميكائيل عن شماله، والمؤمنين بين يديه وهو يفرق الجنود في البلاد. وروى عبد الكريم الجعفي قال: قلت لأبي عبد الله (يعني جعفر الصادق) كم يملك القائم عليه السلام؟ قال سبع سنين. تطول الأيام حتى تكون السنة من سنيه مقدار عشر سنين من سنيكم هذه. قال له أبوبصير: جعلت فداك فكيف يطول الله
এর ইতিহাস, তবে এটি মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ হাসান আল-কালবাবকাতীর হস্তলিপিতে মুদ্রিত হয়েছে। ফজল ইবনে শাদান মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কুফী থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে হাফস থেকে, তিনি আবু বাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন:
ধ্বংস ও প্রতিশোধের লালসাআবু আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ জাফর আস-সাদিক) বলেন, কায়িম (অর্থাৎ তাদের দ্বাদশ ইমাম, যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তিনি এগারো শতাব্দীরও বেশি সময় আগে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এখনও মৃত্যুবরণ করেননি কারণ তিনি আবির্ভূত হবেন ও শাসন করবেন) এর নাম ধরে তেইশ তারিখের রাতে ঘোষণা করা হবে এবং তিনি আশুরার দিনে আবির্ভূত হবেন। আমি যেন তাকে মহররমের দশম দিনে রুকন ও মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি; জিবরাঈল তার ডান পাশে থেকে ঘোষণা করবেন: "আল্লাহর উদ্দেশ্যে আনুগত্য (বাইয়াত) গ্রহণ করো"। অতঃপর পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে শিয়ারা তার দিকে যাত্রা করবে, তাদের জন্য পথকে সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হবে যাতে তারা তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে পারে। বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি মক্কা থেকে যাত্রা করবেন যতক্ষণ না কুফায় পৌঁছান, অতঃপর তিনি নাজাফে অবতরণ করবেন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন জনপদে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করবেন। হাজ্জাল, ছালাবা ইবনে আবু বকর আল-হাদরামি থেকে এবং তিনি আবু জাফর আলাইহিস সালাম (অর্থাৎ মুহাম্মদ আল-বাকির) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যেন কায়িম আলাইহিস সালামকে কুফার নাজাফে দেখতে পাচ্ছি, তিনি মক্কা থেকে পাঁচ হাজার ফেরেশতা নিয়ে সেখানে যাত্রা করেছেন; জিবরাঈল তার ডান পাশে, মিকাইল তার বাম পাশে এবং মুমিনগণ তার সামনে রয়েছেন, আর তিনি বিভিন্ন দেশে সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করছেন। আব্দুল কারীম আল-জু’ফী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (অর্থাৎ জাফর আস-সাদিক) জিজ্ঞাসা করলাম, কায়িম আলাইহিস সালাম কতদিন রাজত্ব করবেন? তিনি বললেন: সাত বছর। দিনগুলো দীর্ঘায়িত হবে এমনকি তার রাজত্বকালের একেকটি বছর তোমাদের বর্তমান সময়ের দশ বছরের সমান হবে। আবু বাসীর তাকে বললেন: আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, আল্লাহ কীভাবে সময়কে দীর্ঘায়িত করবেন?
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السنين؟ قال يأمر الله الفلك باللبوث وقلة الحركة فتطول الأيام لذلك والسنون وإذا آن قيامه مطر الناس جمادى الآخرة وعشرة أيام من رجب مطراً لم ير الخلائق مثله فينبت الله لحوم المؤمنين وأبدانهم في قبورهم، فكأني أنظر إليهم مقبلين ينفضون شعورهم من التراب. وروى عبد الله ابن المغيرة عن أبي عبد الله (أي جعفر الصادق) عليه السلام قال: إذا قام القائم من آل محمد أقام خمسمائة من قريش فضرب أعناقهم ثم خمسمائة أخرى فضرب أعناقهم ثم أقام خمسمائة أخرى فضرب أعناقهم ثم خمسمائة أخرى حتى يفعل ذلك ست مرات. قلت: ويبلغ عدد هؤلاء هذا؟! (وإنما استغرب ذلك لأن الخلفاء الراشدين وبني أمية وبني العباس وسائر حكام المسلمين إلى زمن جعفر الصادق لا يبلغ عددهم عشر معشار هذا العدد) قال جعفر الصادق: نعم، منهم ومن مواليهم. وفي رواية أخرى: إن دولتنا آخر الدول، ولم يبق أهل بيت لهم دولة إلا ملكوا قبلنا لئلا يقولوا إذا رأوا سيرتنا: إذا مَلَكْنا سرنا بمثل سيرة هؤلاء.
وروى جابر الجعفي عن أبي عبد الله قال: إذا قام قائم آل محمد ضرب فساطيط، يعلم فيها القرآن على ما أنزل (1) فأصعب ما يكون على من حفظه اليوم (أي على ما حفظه الناس من المصحف العثماني كما هو في زمن جعفر الصادق لأنه يخالف فيه التأليف). وروى عبد الله بن عجلان
--------------------------------------------
বছরসমূহ? তিনি বললেন, আল্লাহ আকাশমন্ডলীকে অবস্থান ও মন্থর গতির নির্দেশ দেবেন, ফলে দিন ও বছর দীর্ঘায়িত হবে। আর যখন তাঁর উত্থানের সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন জুমাদাল আখিরাত মাসে এবং রজবের দশ দিন মানুষের ওপর এমন বৃষ্টি বর্ষিত হবে যার অনুরূপ সৃষ্টিজগত কখনও দেখেনি। এর মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের কবরের অভ্যন্তরে তাদের গোশত ও দেহসমূহকে অঙ্কুরিত করবেন; আমি যেন তাদের দেখতে পাচ্ছি যে তারা তাদের চুল থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে এগিয়ে আসছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুগিরা আবু আব্দুল্লাহ (জাফর আস-সাদিক) আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল-মুহাম্মাদের কায়িম (উত্থানকারী) আবির্ভূত হবেন, তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে পাঁচশ জনকে দাঁড় করাবেন এবং তাদের শিরশ্ছেদ করবেন, এরপর আরও পাঁচশ জনকে এবং তাদের শিরশ্ছেদ করবেন, এরপর আরও পাঁচশ জনকে এভাবে তিনি ছয়বার করবেন। আমি বললাম: তাদের সংখ্যা কি এতটা পৌঁছাবে?! (তিনি এটি এজন্য আশ্চর্যজনক মনে করলেন কারণ খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া, আব্বাসীয় এবং জাফর আস-সাদিকের সময় পর্যন্ত অন্যান্য মুসলিম শাসকদের মোট সংখ্যা এই সংখ্যার দশ ভাগের এক ভাগও ছিল না)। জাফর আস-সাদিক বললেন: হ্যাঁ, তারা তাদের মধ্য থেকে এবং তাদের অনুসারীদের মধ্য থেকে হবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে: নিশ্চয়ই আমাদের রাষ্ট্র হবে সর্বশেষ রাষ্ট্র; শাসনক্ষমতা লাভ করতে পারে এমন কোনো পরিবারই অবশিষ্ট থাকবে না যারা আমাদের পূর্বে শাসন করবে না, যাতে আমাদের শাসনপদ্ধতি দেখে তারা বলতে না পারে যে—আমরা যদি ক্ষমতায় থাকতাম তবে আমরাও এদের মতোই শাসন করতাম।
জাবির আল-জুফি আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল-মুহাম্মাদের কায়িম আবির্ভূত হবেন, তিনি কিছু তাবু স্থাপন করবেন যেখানে কুরআন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল (১) সেই অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হবে। ফলে যারা আজ এটি মুখস্থ করেছে (অর্থাৎ জাফর আস-সাদিকের সময়ে উসমানি পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী মানুষ যা মুখস্থ করেছে) তাদের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হবে, কারণ এর সংকলন হবে ভিন্ন। আব্দুল্লাহ ইবনে আজলান বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عن أبي عبد الله عليه السلام قال: إذا قام قائم آل محمد حكم الناس بحكم داؤود "؟ ؟؟ ". وروى الفضل بن عمر، عن أبي عبد الله قال: يخرج مع القائم عليه السلام من ظهر الكوفة سبعة وعشرون رجلاً من قوم موسى "؟؟؟ " وسبعة من أهل الكهف ويوشع ابن نون وسليمان وأبودجانة الأنصاري والمقداد ومالك الأشتر فيكونون بين يديه أنصاراً وحكاماً؟ .
وهذه النصوص منقولة بالحرف، وبكل أمانة من كتاب عالم من أعظم علمائهم وهو الشيخ المفيد، مروية بأسانيدهم المكذوبة -بلا شك- على آل البيت الذين كان من أكبر مصائبهم أن يكون هؤلاء الكذابون خاصة شيعتهم، وكتاب المفيد مطبوع في إيران ونسخته الأثرية محفوظة وموجودة.
عقيدة الرجعةولأن عقيدة (الرجعة) محاكمة حكام المسلمين هي من عقائد الشيعة الأساسية، كان يؤمن بها عالمهم السيد المرتضى، مؤلف كتاب (أمالي المرتضى) وهو أخو الشريف الرضي الشاعر، وشريكه في تزوير الزيادات على (نهج البلاغة)، ولعلها أكثر من ثلث الكتاب وهي التي فيها تعريض بالصحابة وتحامل عليهم فقال السيد المرتضى المذكور في كتابه (المسائل الناصرية): إن أبابكر وعمر يصلبان يومئذ
আবু আবদুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "যখন মুহাম্মদ পরিবারের কায়েম (পুনরুত্থানকারী) আবির্ভূত হবেন, তখন তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর বিধান অনুযায়ী মানুষের বিচার করবেন।" ফজল ইবনে উমর আবু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কায়েম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কুফার পৃষ্ঠদেশ থেকে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের সাতাশ জন ব্যক্তি, আসহাবে কাহাফের সাত জন ব্যক্তি, ইউশা ইবনে নুন, সালমান, আবু দুজানা আনসারী, মিকদাদ এবং মালিক আল-আশতার বের হবেন। তাঁরা তাঁর সামনে সাহায্যকারী ও শাসক হিসেবে থাকবেন।"
এই পাঠ্যগুলো আক্ষরিকভাবে এবং পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শাইখ আল-মুফীদের গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে আহলে বাইতের নামে তাদের মিথ্যা সনদ দ্বারা বর্ণিত—যাদের অন্যতম প্রধান মসিবত ছিল এই যে, এই মিথ্যাবাদীরাই ছিল তাঁদের বিশেষ শিয়া (অনুগামী)। মুফীদের গ্রন্থটি ইরানে মুদ্রিত এবং এর প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ও বিদ্যমান।
রাজ'আ (প্রত্যাবর্তন) আকিদাযেহেতু মুসলিম শাসকদের বিচার করার লক্ষ্যে ‘রাজ’আ’ (প্রত্যাবর্তন) আকিদা শিয়াদের মৌলিক আকিদাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের আলেম সাইয়্যেদ মুরতাজা এতে বিশ্বাস করতেন। তিনি 'আমালি আল-মুরতাজা' গ্রন্থের লেখক এবং কবি শরীফ আর-রাজীর ভাই। তিনি ‘নাহজুল বালাগা’-তে অতিরিক্ত অংশ জাল করার ক্ষেত্রে শরীফ আর-রাজীর অংশীদার ছিলেন, যা সম্ভবত গ্রন্থটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এই অংশগুলোতেই সাহাবায়ে কেরামের প্রতি কটাক্ষ ও বিদ্বেষ প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত সাইয়্যেদ মুরতাজা তার 'আল-মাসায়িল আন-নাসিরিয়া' গ্রন্থে বলেছেন: "সেদিন আবু বকর ও উমরকে শূলে চড়ানো হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
على شجرة في زمن المهدي (أي إمامهم الثاني عشر الذي يسمونه قائم آل محمد) وتكون تلك الشجرة رطبة قبل الصلب فتصير يابسة بعده.
تفكيرهم لم يتغيرإن أعلام الشيعة وأحبارهم في جميع العصور واقفون هذا الموقف المخزي من صاحبي رسول الله ووزيريه أبي بكر وعمر ومن سائر أعلام الإسلام وخلفائه وحكامه وقادته ومجاهديه وحفظته. وقد سمعنا داعيتهم الذي كان قائما على دار التقريب، وينفق عليها يزعم لمن لم يتسع وقته لدراسة هذه الأمور أن هذه العقائد كانت في الأزمان السالفة وأن الحالة تغيرت الآن. وهذا الزعم كذب وغش فالكتب التي تدرَّس في جميع معاهدهم العلمية تدرِّس هذا كله وتعتبره من ضروريات المذهب وعناصره الأولى، والكتب التي ينشرها علماء النجف وإيران وجبل عامل، في زماننا هذا شر من مؤلفاتهم القديمة وأكثرها هدماً لأمنية التقريب والتفاهم. ونضرب المثل لذلك برجل منهم ما فتيء يعلن في صباح كل يوم ومسائه أنه داعية للوحدة والتقريب وهو الشيخ محمد ابن محمد مهدي الخالصي، الذي له أصدقاء كثيرون في مصر، وغيرها ممن يدعون إلى التقريب، ويعملون له بين أهل السنة، فإن هذا الداعية إلى التقريب والتفاهم نفى عن أبي بكر وعمر حتى نعمة الإيمان وقال في كتابه (إحياء الشريعة في مذهب الشيعة)
মাহদীর জামানায় (অর্থাৎ তাদের দ্বাদশ ইমাম যাকে তারা কায়েম-ই আলে মুহাম্মাদ বলে অভিহিত করে) একটি গাছের ওপর, এবং সেই গাছটি শূলবিদ্ধ করার পূর্বে সজীব থাকলেও পরে শুষ্ক হয়ে যাবে।
তাদের চিন্তাধারায় কোনো পরিবর্তন আসেনিনিশ্চয়ই শিয়াদের শীর্ষ আলেম ও পণ্ডিতবর্গ সর্বযুগে রাসূলুল্লাহর (সা.) দুই সঙ্গী ও উজির—আবু বকর ও উমর—এবং ইসলামের অন্যান্য বরণীয় ব্যক্তিত্ব, খলিফা, শাসক, সেনাপতি, মুজাহিদ ও হিফাজতকারীদের বিরুদ্ধে এই লজ্জাজনক অবস্থানে অনড় রয়েছেন। আমরা তাদের সেই দাঈর বক্তব্য শুনেছি, যিনি 'দারুত তাকরিব' (ঐক্য কেন্দ্র)-এর দায়িত্বে ছিলেন এবং এর পেছনে অর্থ ব্যয় করতেন; তিনি ঐসব ব্যক্তিদের সামনে এমন দাবি করতেন যাদের এসব বিষয় পর্যালোচনার সুযোগ নেই যে, এই আকিদাগুলো অতীতকালের ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এই দাবিটি ডাহা মিথ্যা ও প্রতারণা; কারণ তাদের সকল দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে পাঠ্যবইগুলো পড়ানো হয়, সেগুলোতে এসবের সবটুকুই শিক্ষা দেওয়া হয় এবং একে মাজহাবের অপরিহার্য বিষয় ও মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের এই যুগে নাজাফ, ইরান ও জাবালে আমেলের আলেমগণ যেসব কিতাব প্রকাশ করছেন, সেগুলো তাদের প্রাচীন রচনাগুলোর চেয়েও নিকৃষ্ট এবং ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার আশার মূলে চরম কুঠারাঘাতকারী। এর উদাহরণ হিসেবে আমরা তাদের এমন একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করতে পারি, যিনি সকাল-সন্ধ্যা নিজেকে ঐক্য ও সংহতির আহ্বানকারী হিসেবে ঘোষণা করতে ক্লান্তি বোধ করেন না; তিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ মাহদি আল-খালিসি। মিশরে এবং অন্যান্য স্থানে তার অনেক বন্ধু রয়েছে যারা ঐক্যের ডাক দেন এবং আহলে সুন্নাতের মধ্যে এর জন্য কাজ করেন। অথচ ঐক্য ও বোঝাপড়ার এই প্রবক্তা আবু বকর ও উমরের ঈমানের নিয়ামত পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন এবং তার 'ইহইয়াউশ শরিয়া ফি মাজহাবিশ শিয়া' গ্রন্থে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الجزء الأول صفحة 63 - 64:"وإن قالوا إن أبابكر وعمر من أهل بيعة الرضوان الذين نص على الرضا عنهم في القرآن (لقد رضي الله عن المؤمنين إذ يبايعونك تحت الشجرة) أو عن الذين بايعوك لكان في الآية دلالة على الرضا عن كل من بايع ولكن لما قال (لقد رضي الله عن "المؤمنين" إذ يبايعونك فلا دلالة فيه على الرضا إلا عمن محض الإيمان).؟!.
التحايل على التاريخ الثابتومعنى ذلك أن أبا بكر وعمر لم يمحضا الإيمان فلا يشملهما رضا الله! .. وقد تقدم قبل هذا ما قاله النجفي مؤلف كتاب "الزهراء" عن عمر بن الخطاب وأنه مبتلى بمرض لا يشفيه منه إلا ماء الرجال!!، فهذان عالمان شيعيان معاصران لنا ومن أصحاب الدعوى الطويلة العريضة في الغيرة على الإسلام والمسلمين والحرص على ما فيه صلاحهما ومصلحتهما، فإذا كان هذا ما يقررانه في مؤلفاتهما العصرية المطبوعة والمنشورة عن عقيدتهما في أبي بكر وعمر وهما خير المسلمين بعد رسول الله أو على الأقل من خير المسلمين في تاريخ الإسلام. فأي أمل يرجوه أمثالنا في التفاهم والتجاوب للتقريب بين المذاهب؟! وهل هؤلاء كلهم إلا طابور خامس في قلعة المسلمين؟!.
وحينما ينزلون بأصحاب رسول الله والتابعين لهم بإحسان وجميع حكام المسلمين بعدهم إلى هذه الدركة المخزية مع أن هؤلاء هم الذين
প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা ৬৩ - ৬৪: "আর যদি তারা বলে যে আবু বকর ও উমর বায়আতে রিদওয়ান-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের সম্পর্কে কুরআনে সন্তুষ্টির কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করছিল) অথবা তাদের সম্পর্কে যারা আপনার নিকট বায়আত হয়েছিল, তবে আয়াতে বায়আত গ্রহণকারী প্রত্যেকের প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ থাকত। কিন্তু যখন তিনি বললেন (নিশ্চয়ই আল্লাহ 'মুমিনদের' প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করছিল), তখন এতে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি সন্তুষ্টির কোনো প্রমাণ নেই যে একনিষ্ঠভাবে ঈমান এনেছিল)।?!"
সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাসের সাথে কারসাজিএর অর্থ হলো আবু বকর ও উমর একনিষ্ঠভাবে ঈমান আনেননি, তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি তাদের অন্তর্ভুক্ত করে না! এবং ইতিপূর্বে 'আয-যাহরা' কিতাবের লেখক আন-নাজাফী উমর ইবনুল খাত্তাব সম্পর্কে যা বলেছেন তা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি এমন এক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন যা পুরুষের বীর্য ব্যতীত অন্য কিছুতে নিরাময় হয় না!! এই দুইজন আমাদের সমসাময়িক শিয়া আলেম এবং তারা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি আবেগ এবং তাদের সংশোধন ও স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘ চওড়া দাবিদারদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তারা যদি তাদের আধুনিক মুদ্রিত ও প্রকাশিত গ্রন্থসমূহে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে—যারা রাসূলুল্লাহর পর মুসলিমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অথবা অন্তত ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত—নিজেদের আকিদা হিসেবে এই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেন, তবে আমাদের মতো ব্যক্তিরা মাযহাবগুলোর মধ্যে নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাড়াদানে কী আশা করতে পারে?! আর এই লোকগুলো কি মুসলিমদের দুর্গে পঞ্চম বাহিনী (গুপ্ত শত্রু) ব্যতীত অন্য কিছু?!
আর যখন তারা রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ, নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সকল মুসলিম শাসকদের এই অপমানজনক স্তরে নামিয়ে আনে, অথচ এরাই হলেন তারা যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أقاموا صرح الإسلام وأوجدوا هذا العالم الإسلامي؛ فإنهم يزعمون لأئمتهم ما يتبرأ منه أولئك الأئمة، وقد سجل الكليني في كتاب (الكافي) نعوتاً وأوصافاً للأئمة الاثني عشر ترفعهم من منزلة البشر إلى منازل معبودات اليونان، في العصور الوثنية، ولو شئنا أن ننقل ذلك عن (الكافي) وكتبهم الأخرى المعتبرة عندهم في الدرجة الأولى لملأ ذلك مجلداً ضخماً، لذلك نكتفي بنقل عناوين الأبواب فقط بنصها وبالحرف عن كتاب (الكافي)، منها: "باب أن الأئمة يعلمون جميع العلوم التي خرجت إلى الملائكة والأنبياء والرسل"، و"باب أن الأئمة يعلمون متى يموتون وأنهم لا يموتون إلا باختيارهم". و "باب أن الأئمة يعلمون علم ما كان وما يكون وأنهم لا يخفى عليهم شيء". و"باب أن الأئمة عندهم جميع الكتب يعرفونها على اختلاف ألسنتها" و"باب أنه لم يجمع القرآن كله إلا الأئمة، وأنهم يعلمون علمه كله". و"باب ما عند الأئمة من آيات الأنبياء". و"باب أن الأئمة إذا ظهر أمرهم حكم بحكم داؤود!؟!؟ وآل داؤود؟!؟! ولا يسألون البينة". و"باب أنه ليس شيء من الحق في أيدي الناس إلا ما خرج من عند الأئمة وأن كل شيء لم يخرج من عندهم فهو باطل"، و"باب أن الأرض كلها للإمام" (1).
--------------------------------------------
তারা ইসলামের সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন এবং এই ইসলামি বিশ্ব গড়ে তুলেছেন; অথচ তারা তাদের ইমামদের সম্পর্কে এমন সব দাবি করে যা থেকে সেই ইমামগণ নিজেরাই দায়মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতেন। আল-কুলাইনী (তার) 'আল-কাফী' গ্রন্থে বারো ইমামের এমন সব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করেছেন যা তাদেরকে মানুষের স্তর থেকে উন্নীত করে পৌত্তলিক যুগের গ্রিক উপদেবতাদের স্তরে নিয়ে যায়। আমরা যদি 'আল-কাফী' এবং তাদের নিকট প্রথম স্তরের নির্ভরযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সেই বিবরণগুলো উদ্ধৃত করতে চাইতাম, তবে একটি বিশাল খণ্ড পূর্ণ হয়ে যেত। তাই আমরা কেবল 'আল-কাফী' গ্রন্থ থেকে অধ্যায়গুলোর শিরোনামগুলোর হুবহু পাঠ উদ্ধৃত করেই ক্ষান্ত হচ্ছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "অধ্যায়: ইমামগণ ফেরেশতা, নবী ও রাসুলদের নিকট আগত সকল জ্ঞান সম্পর্কে অবগত", এবং "অধ্যায়: ইমামগণ জানেন তারা কখন মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারা নিজ ইচ্ছা ছাড়া মৃত্যুবরণ করেন না।" এবং "অধ্যায়: যা হয়ে গিয়েছে এবং যা হবে ইমামগণ সেই সব বিষয়ের জ্ঞান রাখেন এবং তাদের নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না।" এবং "অধ্যায়: ইমামদের নিকট সকল (আসমানি) কিতাব রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন ভাষা সত্ত্বেও সেগুলো সম্পর্কে অবগত।" এবং "অধ্যায়: ইমামগণ ব্যতীত অন্য কেউ পূর্ণ কুরআন সংকলন করেনি এবং তারা এর সমস্ত জ্ঞান সম্পর্কে অবগত।" এবং "অধ্যায়: নবীদের নিদর্শনসমূহের যা কিছু ইমামদের নিকট রয়েছে।" এবং "অধ্যায়: ইমামদের শাসন যখন প্রকাশ পাবে, তখন তারা দাউদ এবং দাউদ পরিবারের বিধান অনুযায়ী বিচার করবেন!?!? এবং তারা কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ চাইবেন না।" এবং "অধ্যায়: মানুষের কাছে সত্যের এমন কিছুই নেই যা ইমামদের নিকট থেকে আসেনি এবং যা কিছু তাদের নিকট থেকে আসেনি তা বাতিল।" এবং "অধ্যায়: সমগ্র পৃথিবী ইমামের জন্য।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الغيب للأئمة!!
وبينما يدّعون لأئمتهم الاثني عشر ما لا يدعيه هؤلاء الأئمة لأنفسهم من علم الغيب، وأنهم فوق البشرية فإنهم -أي الشيعة- ينكرون على النبي صلى الله عليه وسلم ما أوحى الله به إليه من أمر الغيب، كخلق السماوات والأرض وصفة الجنة والنار. وقد سجلت ذلك مجلة (رسالة الإسلام) التي تصدرها دار التقريب في القاهرة إذ نشرت في عددها الرابع من السنة الرابعة صفحة 368 بقلم رئيس المحكمة العليا الشرعية الشيعية في لبنان، ويعدونه من ألمع علمائهم العصريين، مقالاً عنوانه: (من اجتهادات الشيعة الإمامية) نقل فيه عن مجتهدهم الشيخ محمد حسن الأشتياني أنه قال في كتابه (بحر الفوائد) ج1 ص267: أن الرسول صلى الله عليه وسلم إذا أخبر عن الأحكام الشرعية أي مثل نواقض الوضوء وأحكام الحيض والنفاس -يجب تصديقه والعمل بما أخبر به وإذا أخبر عن الأمور الغيبية مثل خلق السماوات والأرض والحور والقصور فلا يجب التدين به بعد العلم به (أي بعد العلم بصحة صدوره عن الرسول صلى الله عليه وسلم فضلاً عن الظن به.
فيا لله العجب!! يكذبون على الأئمة فينسبون إليهم علم الغيب ويؤمنون بذلك، مع أن نسبة ذلك إلى الأئمة ليست قطعية الثبوت، ويستبيحون لأنفسهم عدم وجوب التدين بأخبار الغيب التي
ইমামদের অদৃশ্যের জ্ঞান!!
একদিকে তারা তাদের বারোজন ইমামের জন্য অদৃশ্যের জ্ঞানের এমন দাবি করে যা খোদ ওই ইমামগণ নিজেদের জন্য করেননি, এবং তারা যে মানবীয় স্তরের ঊর্ধ্বে—এমন দাবি করে; অন্যদিকে তারা—অর্থাৎ শিয়াগণ—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আল্লাহ তাআলা অদৃশ্যের যেসব বিষয় ওহী করেছেন, যেমন আসমান ও জমিন সৃষ্টি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ—তা অস্বীকার করে। কায়রোস্থ 'দারুত তাকরীব' কর্তৃক প্রকাশিত 'রিসালাতুল ইসলাম' ম্যাগাজিন এটি লিপিবদ্ধ করেছে। এর চতুর্থ বর্ষের চতুর্থ সংখ্যার ৩৬৮ পৃষ্ঠায় লেবাননের শিয়া উচ্চতর শরিয়া আদালতের প্রধান—যাকে তারা তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধুনিক আলেম মনে করে—তার লিখিত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল: (শিয়া ইমামিয়াদের ইজতিহাদসমূহ)। সেখানে তিনি তাদের মুজতাহিদ শেখ মুহাম্মদ হাসান আল-আশতিয়ানি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি তার 'বাহরুল ফাওয়াইদ' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ২৬৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শরিয়তের বিধানাবলি, যেমন অজু ভঙ্গের কারণসমূহ এবং হায়েজ ও নেফাসের বিধান সম্পর্কে সংবাদ দেবেন, তখন তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। কিন্তু তিনি যখন অদৃশ্যের বিষয়াদি, যেমন আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং হুর ও প্রাসাদের সংবাদ দেবেন, তখন সেটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়া নিশ্চিতভাবে জানার পরও (ধারণার কথা তো বলাই বাহুল্য) তা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা বা তাতে বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব নয়।
আল্লাহর কী আশ্চর্য মহিমা!! তারা ইমামদের ওপর মিথ্যাচার করে তাদের প্রতি অদৃশ্যের জ্ঞান আরোপ করে এবং তাতে ঈমান পোষণ করে, অথচ ইমামদের প্রতি এর সম্পৃক্ততা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। আবার তারা অদৃশ্যের সেই সংবাদগুলো দ্বীন হিসেবে গ্রহণ না করাকে নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে যা...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صحت عن الرسول صلى الله عليه وسلم بما هو قطعي الدلالة، كالآيات والأحاديث الصحيحة في خلق السماوات والأرض وصفة الجنة والنار مع أن الرسول صلى الله عليه وسلم في كل ما صح صدوره عنه لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى. والذي يقارن بين ما نسبوه لأئمتهم، وبين ما صح عن الرسول صلى الله عليه وسلم من الغيبيات يتبين له أن ما ثبت من ذلك عن الرسول صلى الله عليه وسلم في القرآن والأحاديث المتواترة والصحيحة لا يبلغ جزءاً يسيراً مما زعمته الشيعة للأئمة الاثني عشر من علم الغيب بعد انقطاع الوحي الإلهي عن الأرض وجميع رواة الغيبيات عن الأئمة الاثني عشر معروفون عند علماء الجرح والتعديل، من أهل السنة بأنهم كانوا كذبة، لكن أتباعهم من الشيعة لا يأبهون لذلك، ويصدقونهم فيما رووه من الغيبيات عن الأئمة، في حين أن مجلة (رسالة الإسلام) التي تصدرها دار التقريب وقاضي محكمتهم الشرعية العليا في لبنان ومجتهدهم (محمد حسن الأشتباني) يصفقون ويهللون لدعوى عدم وجوب تصديق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما صح عنه من الأمور الغيبية ويريدون أن يحصروا مهمة الرسالة المحمدية في مسائل نواقض الوضوء وأحكام الحيض والنفاس وأشباهها من الفروع الفقهية
منزلة الأئمة فوق الرسولبينما هم يرفعون مرتبة أئمتهم في الأمور الغيبية فوق مرتبة
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা অকাট্য দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, যেমন আসমান ও যমীন সৃষ্টি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত আয়াত ও সহীহ হাদীসসমূহ। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু সহীহভাবে সাব্যস্ত হয়েছে তার কোনোটিই খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তি তাড়িত নয়, বরং তা কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়েছে। আর কেউ যদি তাদের ইমামদের প্রতি তারা যা আরোপ করেছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অদৃশ্যের (গায়েবী) যে বিষয়গুলো সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে তুলনা করে, তবে তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, কুরআন এবং মুতাওয়াতির ও সহীহ হাদীসসমূহে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা শিয়ারা বারো ইমামের জন্য পৃথিবীর বুক থেকে ওহী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অদৃশ্যের যে জ্ঞানের দাবি করে তার অতি সামান্য অংশও নয়। আর বারো ইমামের পক্ষ থেকে অদৃশ্যের সংবাদ বর্ণনাকারী সকল বর্ণনাকারীই আহলে সুন্নাতের জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু শিয়া অনুসারীরা সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না এবং ইমামদের থেকে বর্ণিত অদৃশ্যের সংবাদগুলোর ক্ষেত্রে তারা তাদের সত্যবাদী মনে করে। পক্ষান্তরে দারুত তাকরীব থেকে প্রকাশিত 'রিসালাতুল ইসলাম' নামক সাময়িকী এবং লেবাননে তাদের উচ্চতর শরয়ী আদালতের বিচারক ও তাদের মুজতাহিদ (মুহাম্মদ হাসান আল-অশতাবানি) এই দাবিকে সাধুবাদ জানায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অদৃশ্যের যেসব বিষয় সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা বিশ্বাস করা আবশ্যক নয়। তারা মুহাম্মদী রিসালাতের মহান দায়িত্বকে কেবল ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ, ঋতুস্রাব ও প্রসূতি অবস্থার বিধান এবং এ জাতীয় ফিকহী শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায়।
রাসুলের উপরে ইমামদের মর্যাদাঅথচ তারা অদৃশ্যের বিষয়াদির ক্ষেত্রে তাদের ইমামদের মর্যাদাকে মর্যাদার ঊর্ধ্বে তুলে ধরে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ লিল-উসুসিল্লাতি ক্বামা আলাইহা দীনুশ শীআহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الرسول صلى الله عليه وسلم مع أنه هو الذي كان يوحى إليه وهم لم يدعوا لأنفسهم الوحي، ولا ندري أي تقريب يمكن أن يكون بيننا وبينهم بعد ذلك؟!.
التملق والنفاقومما لوحظ في جميع أدوار التأريخ على جماهير الشيعة ومواقف خاصتهم وعامتهم من الحكومات الإسلامية أن أي حكومة إسلامية إذا كانت قوية وراسخة يتملقونها بألسنتهم عملاً بعقيدة "التقية" ليمتصوا خيراتها ويتبوؤا مراكزها فإذا ضعفت أو هوجمت من عدو انحازوا إلى صفوفه وانقلبوا عليها. هكذا كانوا في أواخر الدولة الأموية، عندما ثار على خلفائها بنو عمهم العباسيون، بل كانت ثورة العباسيين عليهم بتسويل الشيعة وتحريضهم ودسائسهم، ثم كانوا في مثل هذا الموقف الإجرامي مع دولة بني العباس أيضاً عندما كانت مهددة باجتياح هولاكو، والمغول الوثنيين لخلافة الإسلام وعاصمة عزه، ومركز حضارته وعلومه. فبعد أن كان حكيم الشيعة وعالمها النصير الطوسي ينظم الشعر في التزلف للخليفة العباسي المعتصم ما لبث أن انقلب في سنة 655هـ محرضا عليه، ومتعجلاً نكبة الإسلام في بغداد، وجاء في طليعة موكب السفاح هولاكو، وأشرف معه على إباحة الذبح العام في رقاب المسلمين، والمسلمات أطفالاً وشيوخاً ورضي بتغريق كتب العلم الإسلامية في دجلة حتى بقيت مياهها تجري سوداء أياما وليالي من مداد الكتب المخطوطة التي ذهب بها نفائس التراث
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — অথচ তাঁর নিকটই ওহী অবতীর্ণ হতো, আর তারা নিজেদের জন্য ওহীর দাবি করেনি; এমতাবস্থায় এরপরে আমাদের ও তাদের মাঝে আর কোন ধরণের নৈকট্য সম্ভব হতে পারে তা আমরা জানি না?!
তোষামোদ ও মুনাফেকিইতিহাসের সকল যুগে শিয়া জনসাধারণের মাঝে এবং ইসলামি সরকারগুলোর প্রতি তাদের বিশেষ ও সাধারণ শ্রেণির অবস্থানে যা লক্ষ্য করা গেছে তা হলো, যখনই কোনো ইসলামি সরকার শক্তিশালী ও সুসংহত থাকে, তখন তারা তাদের "তাকিয়া" আকিদা অনুযায়ী মুখে মুখে তোষামোদ করে যাতে তার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে এবং উচ্চপদ লাভ করতে পারে। কিন্তু যখনই তা দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা কোনো শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়, তারা সেই শত্রুর পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। উমাইয়া খিলাফতের শেষ দিকেও তারা এমনটাই ছিল, যখন তাদের চাচাতো ভাই আব্বাসীয়রা খলিফাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল; বরং শিয়াদের প্ররোচনা, উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে আব্বাসীয় বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। অতঃপর আব্বাসীয় খিলাফতের সাথেও তারা অনুরূপ অপরাধমূলক অবস্থানে লিপ্ত হয়, যখন ইসলামের খিলাফত, তার গৌরবের রাজধানী এবং তার সভ্যতা ও বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থল হালাকু খান ও পৌত্তলিক মঙ্গোলদের আক্রমণের হুমকির মুখে ছিল। শিয়াদের দার্শনিক ও পণ্ডিত নাসিরুদ্দীন তুসী আব্বাসীয় খলিফা মুতাসিমের তোষামোদিতে কবিতা রচনা করার পর বেশিদিন দেরি না করে ৬৫৫ হিজরিতে তার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিতে শুরু করেন এবং বাগদাদে ইসলামের বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেন। তিনি রক্তপিপাসু হালাকু খানের বাহিনীর অগ্রভাগে আগমন করেন এবং তার সাথে থেকে মুসলিম নর-নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নির্বিচারে গণহত্যার তদারকি করেন। তিনি দজলা নদীতে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ ডুবিয়ে দিতেও সম্মত হন, যার ফলে পাণ্ডুলিপিগুলোর কালিতে সেই নদীর পানি দিনরাত কালো হয়ে প্রবাহিত হয়েছিল এবং ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদসমূহ বিলীন হয়ে গিয়েছিল।