(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد - عبد الرحيم السلمي (عبد الرحيم السلمي)
القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب التوحيد
المؤلف: عبد الرحيم بن صمايل العلياني السلمي
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা - আবদুর রহিম আস-সুলামি (আবদুর রহিম আস-সুলামি)
বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা
লেখক: আবদুর রহিম বিন সামায়েল আল-উলইয়ানি আস-সুলামি
গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৯টি পাঠ]
শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১২ই শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب التوحيد [1]توحيد الإلهية هو إفراد الله تعالى بالعبادة والكفر بما يعبد سواه، وهذا هو معنى لا إله إلا الله المتضمنة لنفي عبادة غير الله وإثبات العبادة له سبحانه، وهذان الركنان (النفي والإثبات) لا يتحقق التوحيد بدونهما، وقد جاءت النصوص مبينة فضل توحيد الألوهية وأهميته، ومنزلة محققيه وفلاحهم ونجاتهم وفوزهم في الدنيا والآخرة.
কিতাবুত তাওহিদ [১]তাওহিদে উলুহিয়্যাহ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলাকে একক করা এবং তিনি ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করা; আর এটিই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদতকে অস্বীকার করা এবং কেবল মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই দুই রুকন (অস্বীকার ও স্বীকৃতি) ব্যতীত তাওহিদ বাস্তবায়িত হয় না। তাওহিদে উলুহিয়্যাহর মর্যাদা ও গুরুত্ব এবং যারা এটি অর্জন করে দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উচ্চ মর্যাদা, সফলতা, মুক্তি ও বিজয়ের বর্ণনায় বহু দলীল অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
طرق شرح كتاب التوحيدالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين، اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وزدنا علماً، وارزقنا الإخلاص في القول والعمل، إنك على كل شيء قدير.أما بعد: فإن الدرس الذي سنبدأ فيه -بإذن الله تعالى- هو درس في (كتاب التوحيد) للشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى، وهذا الكتاب من الكتب المتميزة في شرح قضايا توحيد الألوهية شرحاً مفصلاً ودقيقاً إلى درجة كبيرة، وهذا الكتاب يمكن أن يشرح شرحاً طويلاً، ويستغرق سنوات طويلة، ويمكن أن يختصر شرحه في أسابيع بحسب طريقة الشرح، وطريقة العرض والمناقشة.والطول والقصر في الدروس راجعان إلى الطريقة التي يتم بها الدرس، فيمكن أن تكون هناك طريقة متوسعة، بحيث يشرح فيها كل ما يتعلق بالآية أو الحديث أو المسائل التي ذكرها الشيخ، ويفصل في ذلك كثيراً، ويمكن أن يختصر ذلك، فيكون الشرح بطريقة التقعيد والتأسيس، ولهذا شرح الكتاب بهاتين الطريقتين: فشرحه بالطريقة الأولى الشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في كتابه المشهور: (تيسير العزيز الحميد)، لكنه لم يكمل هذا الشرح، حيث قتل شهيداً -رحمه الله تعالى- على يد إبراهيم بن محمد علي باشا المتعصرن الذي جاء إلى نجد في تلك الفترة، وأتم هذا الشرح وأكمله عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في كتابه المشهور (فتح المجيد).وفي هذه الطريقة الأولى -طريقة التوسع والتطويل- قد تذكر مسائل كثيرة لا صلة لها في موضوع التوحيد؛ لتضمن النص القرآني أو الحديث النبوي لها، أو المسألة التي أشار إليها الشيخ.وهناك الشرح المختصر الذي يمكن أن يقتصر فيه على مسائل توحيد الألوهية بشكل مباشر، وبشكل منظم، وكان من أفضل هذه الشروح شرح الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله تعالى في كتاب (القول السديد في شرح كتاب التوحيد)، وهو كتاب مشهور ومطبوع، شرح فيه كتاب التوحيد شرحاً مختصراً جداً، حيث يأتي إلى الباب ويذكر فيه الكلام الأساسي الذي من أجله عقد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله الباب.والطريقة التي سنتبعها في الشرح بإذن الله تعالى هي أننا سنأخذ الأبواب الموجودة في كتاب التوحيد -وهي ستة وستون باباً- ونجعلها على شكل محاور وموضوعات أساسية، وهذه الموضوعات الأساسية يمكن تطويلها، ويمكن ضم بعضها إلى بعض، وقد جعلناها ثمانية محاور، وكل محور يوجد فيه عشرة أبواب أو أقل.وهذه الطريقة في الدراسة يمكن أن نسميها الطريقة الموضوعية؛ لأنه ليس الهدف من دراسة الكتاب هو الوقوف على كل لفظة وشرحها، والحديث عنها بشكل مفصل، وإنما المقصود بيان الهدف الأساسي الذي أراد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله أن يوصله إلى الناس من خلال كتابه هذا الذي هو (كتاب التوحيد).والشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله لم يؤلف هذا الكتاب في مجلس واحد، وإنما ألفه في فترات متعددة، حيث كان يستعرض القرآن والأحاديث النبوية، ويجمع كل ما يتعلق بتوحيد الألوهية من الآيات والأحاديث، وبعد سنوات اجتمعت لديه مجموعة كبيرة من الآيات، ومجموعة كبيرة من الأحاديث، فصنفها على شكل أبواب، مثل طريقة العلماء السابقين، كطريقة الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه، فخرجت هذه الأبواب الموجودة، إلا أن كل كتاب يكون للمبوب له نظرة في تبويبه، وقد تكون هناك نظرة أخرى لغيره فيها، ولهذا اجتهدنا في هذه الطريقة التي هي محاولة تقسيم الكتاب على شكل محاور، ومناقشة هذه المحاور، ثم استعراض الكتاب، ثم استعراض هذه الأبواب، والتعليق عليها بشكل مختصر.
কিতাবুত তাওহীদ ব্যাখ্যার পদ্ধতিসমূহপ্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর অনুসারী হবে তাদের ওপর অনেক অনেক সালাম। হে আল্লাহ, যা আমাদের উপকারে আসবে তা আমাদের শেখান, এবং যা আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন, আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস (নিষ্ঠা) দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।এরপর: নিশ্চয়ই আমরা যে দরস শুরু করতে যাচ্ছি -আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়- তা হলো সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এর রচিত 'কিতাবুত তাওহীদ' এর ওপর একটি দরস। এই কিতাবটি তাওহীদে উলুহিয়্যাহর বিষয়সমূহ অত্যন্ত বিস্তারিত ও সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি অনন্য কিতাব। ব্যাখ্যার পদ্ধতি, উপস্থাপনা ও আলোচনার ধরন অনুযায়ী এই কিতাবটি দীর্ঘ সময় নিয়ে কয়েক বছর ধরে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, আবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেও এর ব্যাখ্যা সংক্ষেপ করা সম্ভব।পাঠের দৈর্ঘ্য বা সংক্ষিপ্ততা নির্ভর করে যে পদ্ধতিতে পাঠ প্রদান করা হচ্ছে তার ওপর। একটি বিস্তারিত পদ্ধতি হতে পারে যেখানে শায়খ কর্তৃক প্রতিটি আয়াত, হাদিস বা মাসআলা সম্পর্কিত সবকিছু ব্যাখ্যা করা হবে এবং তাতে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। আবার এটি সংক্ষেপ করাও সম্ভব, যাতে ব্যাখ্যাটি মূলনীতি ও ভিত্তি প্রদানের পদ্ধতিতে হবে। এই কারণে কিতাবটি এই দুই পদ্ধতিতেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে: প্রথম পদ্ধতিতে এটি ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'তয়সীরুল আযীযিল হামীদ'-এ। কিন্তু তিনি এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করতে পারেননি, কারণ তিনি সেই সময় নজদে আগত আধুনিকতাঘেঁষা ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আলী পাশার হাতে শহীদ হয়েছিলেন -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আর এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন ও পূর্ণ করেছেন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'ফাতহুল মাজীদ'-এ।এই প্রথম পদ্ধতিতে -অর্থাৎ বিস্তারিত ও দীর্ঘ করার পদ্ধতিতে- এমন অনেক মাসআলা উল্লেখ করা হতে পারে যার সাথে তাওহীদ বিষয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; মূলত কুরআন বা হাদিসের মূল পাঠে তা বিদ্যমান থাকার কারণে অথবা শায়খ যে মাসআলার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তার কারণে তা উল্লেখ করা হয়।আবার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও রয়েছে যেখানে সরাসরি এবং সুশৃঙ্খলভাবে তাওহীদে উলুহিয়্যাহর মাসআলাসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব। এই ধরনের ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হলো শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর 'আল-কাওলুস সাদীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ' কিতাবটি। এটি একটি বিখ্যাত ও মুদ্রিত কিতাব, যাতে তিনি কিতাবুত তাওহীদের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা করেছেন। সেখানে তিনি প্রতিটি পরিচ্ছেদে আসেন এবং সেই মূল কথাটি উল্লেখ করেন যার উদ্দেশ্যে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) পরিচ্ছেদটি রচনা করেছেন।ইনশাআল্লাহ আমরা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করব তা হলো, কিতাবুত তাওহীদে বিদ্যমান পরিচ্ছেদগুলোকে -যা সংখ্যায় ৬৬টি- আমরা মূল বিষয়বস্তু বা থিম আকারে সাজাব। এই মূল বিষয়বস্তুগুলোকে দীর্ঘ করা সম্ভব আবার কয়েকটি বিষয়কে একত্রে যুক্ত করাও সম্ভব। আমরা এগুলোকে আটটি মূল অক্ষে বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি অক্ষে দশটি বা তার কম পরিচ্ছেদ রয়েছে।অধ্যয়নের এই পদ্ধতিকে আমরা 'বিষয়ভিত্তিক পদ্ধতি' বলতে পারি; কারণ এই কিতাবটি অধ্যয়নের উদ্দেশ্য প্রতিটি শব্দের ওপর থামা এবং তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা আলোচনা করা নয়, বরং মূল উদ্দেশ্য হলো শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর এই 'কিতাবুত তাওহীদ' এর মাধ্যমে মানুষের কাছে যে মূল লক্ষ্যটি পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করা।শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই কিতাবটি এক বৈঠকে রচনা করেননি, বরং তিনি এটি বিভিন্ন সময়ে রচনা করেছেন। তিনি কুরআন ও হাদিসসমূহ পর্যালোচনা করতেন এবং আয়াত ও হাদিস থেকে তাওহীদে উলুহিয়্যাহর সাথে সম্পর্কিত যা কিছু পেতেন তা সংগ্রহ করতেন। কয়েক বছর পর তাঁর নিকট আয়াতের একটি বড় সংগ্রহ এবং হাদিসের একটি বড় সংগ্রহ জমা হয়। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী আলেমদের পদ্ধতিতে এগুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেন, যেমনটি ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর সহীহ গ্রন্থে করেছেন। এভাবে বর্তমানের এই পরিচ্ছেদগুলো প্রকাশ পায়। তবে প্রতিটি কিতাবের সংকলকের পরিচ্ছেদ বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে এবং অন্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। এই কারণেই আমরা এই পদ্ধতিতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি যা কিতাবটিকে বিভিন্ন মূল অক্ষে বিভক্ত করার একটি প্রচেষ্টা, অতঃপর সেই অক্ষগুলো নিয়ে আলোচনা করা, তারপর কিতাবটি পর্যালোচনা করা এবং পরিচ্ছেদগুলো পর্যালোচনা করে তার ওপর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقسيم التوحيدالمحور الأول الذي سنبدأ به -إن شاء الله تعالى- هو توحيد الألوهية، مفهومه، وأهميته، وفضله، وحماية الرسول صلى الله عليه وسلم له، فالكلام هو فيما يتعلق بتوحيد الألوهية في ذاته من ناحية تعريف هذا التوحيد وتفسيره، ومن ناحية أهمية هذا التوحيد، ومن ناحية فضل هذا التوحيد، ومن ناحية حماية النبي صلى الله عليه وسلم له.وهذا المحور قد استغرق قرابة سبعة أبواب سنتحدث عنها إن شاء الله بالتفصيل، وهناك محاور تتعلق بالشرك وأنواعه سنأخذها بالتفصيل، وهناك محاور أخرى سنأخذها بشكل متتال إن شاء الله تعالى.إن توحيد الألوهية هو نوع من أنواع التوحيد، والتوحيد ينقسم بحسب الاعتبار الذي ينظر إليه المقسم، فإذا جاء إلى التوحيد باعتبار الموحِّد قسمه إلى قسمين: توحيد المعرفة والإثبات، وتوحيد القصد والطلب، أو التوحيد العلمي الخبري، والتوحيد الإرادي الطلبي.وإذا جاء إلى التوحيد باعتبار جهة الموحد وجده ينقسم إلى ثلاثة أقسام: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات، فإذا عرفنا الجهة التي ينظر من خلالها إلى التوحيد نفهم سبب التقسيم عند أهل العلم، واختلاف التقسيم عند أهل العلم؛ إذ إننا نجد بعض العلماء يقسمه إلى ثلاثة أقسام، وبعضهم يقسمه إلى قسمين، والحقيقة هي أن التقسيم عمل فني أكثر من كونه معنوياً، حيث ينظرون إلى المعاني ثم يقسمونها، ولهذا يقسمون الواجب في أصول الفقه إلى قسمين: واجب عيني، وواجب كفائي، ثم يقسمونه إلى واجب موسع، وواجب مضيق، وهكذا في عامة العلوم الأخرى.ونحن سنشرح هذه الأنواع الثلاثة بناءً على التقسيم المشهور، وهو التقسيم باعتبار الموحَّد، وهو الله سبحانه وتعالى، فينقسم إلى ثلاثة أقسام: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات.أما توحيد الربوبية فهو توحيد الله عز وجل وإفراده سبحانه وتعالى بالخلق والرزق والتدبير.وأما توحيد الألوهية فهو إفراد الله بالعبادة والتأله.وتوحيد الأسماء والصفات: هو إفراد الله عز وجل بالأسماء الحسنى والصفات العليا، التي وصف بها نفسه أو وصفه بها رسوله صلى الله عليه وسلم.وهذا التقسيم لأنواع التوحيد الثلاثة مبني على الاستقراء، وذلك أن العلماء نظروا في النصوص الشرعية واستقرءوها فوجدوا أن التوحيد فيها ينقسم إلى هذه الأقسام الثلاثة.
তাওহীদের প্রকারভেদপ্রথম যে বিষয়টি নিয়ে আমরা শুরু করব—ইনশাআল্লাহ তায়ালা—তা হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ; এর ধারণা, গুরুত্ব, ফজিলত এবং এর সুরক্ষায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদক্ষেপ। অর্থাৎ আলোচনা হবে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা, এর গুরুত্ব, এর ফজিলত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক একে সুরক্ষা প্রদানের প্রেক্ষাপট নিয়ে।এই বিষয়টি প্রায় সাতটি অধ্যায় জুড়ে রয়েছে, যা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আলোচনা করব। এছাড়া শিরক ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কিত আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা আমরা বিস্তারিতভাবে জানব। আরও অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো তাওহীদের প্রকারসমূহের মধ্য থেকে একটি প্রকার। বিভাজনকারীর দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে তাওহীদের বিভাজনও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি তাওহীদকে 'মুওয়াহহিদ' (একত্ব ঘোষণাকারী)-এর দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তবে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: পরিচয় ও স্বীকৃতির তাওহীদ এবং সংকল্প ও প্রার্থনার তাওহীদ; অথবা জ্ঞান ও সংবাদ বিষয়ক তাওহীদ এবং ইচ্ছা ও প্রার্থনা বিষয়ক তাওহীদ।আর যদি তাওহীদকে 'মুওয়াহহাদ' (যার একত্ব ঘোষণা করা হয়)-এর দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তবে একে তিন ভাগে বিভক্ত পাওয়া যায়: তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত। সুতরাং আমরা যদি তাওহীদকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা দিকটি জানতে পারি, তবে আলেমদের মাঝে এর বিভাজন এবং বিভাজনের পার্থক্যের কারণটি বুঝতে পারব। আমরা দেখি যে, কিছু আলেম একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। বাস্তবতা হলো, এই বিভাজনটি তাত্ত্বিক বা অর্থগত হওয়ার চেয়ে পদ্ধতিগত কাজ বেশি। তারা অর্থের দিকে লক্ষ্য করেন এবং তারপর সেগুলোকে বিভক্ত করেন। যেমনটি তারা উসূলে ফিকহে ওয়াজিবকে দুই ভাগে ভাগ করেন: ওয়াজিব আইনি ও ওয়াজিব কিফায়ি; আবার একে ওয়াজিব মুওয়াসসা ও ওয়াজিব মুদাইয়্যাক হিসেবেও ভাগ করেন। অন্যান্য সাধারণ বিজ্ঞানেও এমনই হয়ে থাকে।আমরা এই তিন প্রকার তাওহীদকে সেই প্রসিদ্ধ বিভাজনের আলোকে ব্যাখ্যা করব যা 'মুওয়াহহাদ' অর্থাৎ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিক থেকে করা হয়েছে। আর তা হলো তিন প্রকার: তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ হলো সৃষ্টি, রিজিক এবং বিশ্ব-পরিচালনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে সাব্যস্ত করা।আর তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো ইবাদত ও উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত হলো: মহান আল্লাহকে সেই সকল সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলীতে একক সাব্যস্ত করা, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বিশেষিত করেছেন।তাওহীদের এই তিন প্রকারের বিভাজন 'ইস্তিকরা' (অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ)-এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কারণ উলামায়ে কেরাম শরয়ি দলিলসমূহ পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখতে পেয়েছেন যে, সেখানে তাওহীদ এই তিন ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
توحيد الربوبيةأما توحيد الربوبية فمثاله قول الله عز وجل: {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ} [الأعراف:54].ووجه الاستدلال بهذه الآية هو أنه قدم ما حقه التأخير لفائدة؛ إذ إن أصل الجملة في تركيبتها: (الخلق والأمر له) فقدم الجار والمجرور لفائدة بلاغية، وهي إفادة الحصر والقصر والاختصاص، وهذا هو معنى التوحيد.والخلق معروف، وأما الأمر فينقسم إلى قسمين: أمر كوني، وأمر شرعي.فأما الأمر الكوني فهو موافق لمعنى الخلق، وأما الأمر الشرعي فهو التشريع الذي هو إحلال الحلال وتحريم الحرام، وهو حق خالص لله سبحانه وتعالى.
তাওহীদে রুবুবিয়্যাহতাওহীদে রুবুবিয়্যাহর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ কেবল তাঁরই} [আল-আরাফ: ৫৪]।এই আয়াত থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, যে অংশটি পরে আসার কথা ছিল তা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে আগে আনা হয়েছে; কারণ বাক্যটির মূল গঠন ছিল: (সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই), কিন্তু এখানে 'জার ও মাজরুর' (সম্বন্ধসূচক পদগুচ্ছ) অলঙ্কারশাস্ত্রীয় এক উদ্দেশ্যে আগে আনা হয়েছে, যা সীমাবদ্ধতা ও বিশেষত্বের অর্থ প্রদান করে, আর এটিই হলো তাওহীদের মূল নির্যাস।সৃষ্টির বিষয়টি সুপরিচিত, তবে 'নির্দেশ' দুই ভাগে বিভক্ত: মহাজাগতিক নির্দেশ এবং শরীয়ত সংক্রান্ত নির্দেশ।মহাজাগতিক নির্দেশ সৃষ্টির অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর শরীয়ত সংক্রান্ত নির্দেশ হলো আইন প্রণয়ন—যার কাজ হলো হালালকে বৈধ করা এবং হারামকে নিষিদ্ধ করা—যা একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলারই নিরঙ্কুশ অধিকার।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
توحيد الألوهيةوأما توحيد الألوهية فهو إفراد الله بالعبادة؛ لأن الله سبحانه وتعالى يقول: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [النساء:36].وأخبر تعالى عن دعوة الرسل بأنه كلما جاء رسول يدعو قومه قال لهم: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف:59]، وهذا هو معنى (لا إله إلا الله) كما سيأتي معنا مفصلاً.ووجه الحصر والاختصاص والقصر في كلمة التوحيد (لا إله إلا الله) هو الجمع بين الإثبات والنفي والاستثناء، والاستثناء هنا يدل على الحصر في المستثنى، وهو الله تعالى، وهذا يدل على أن الألوهية الحقة مستثناة لما بعد أداة الاستثناء (إلا)، وهو الله سبحانه وتعالى.
তাওহীদুল উলূহিয়্যাহআর তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ হলো আল্লাহকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না} [আন-নিসা: ৩৬]।আর আল্লাহ তায়ালা রাসূলগণের দাওয়াত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখনই কোনো রাসূল তাঁর কওমকে দাওয়াত দিতে আসতেন, তিনি তাদের বলতেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো সত্য মাবুদ নেই} [আল-আ'রাফ: ৫৯], আর এটিই হলো (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর অর্থ, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।তাওহীদের বাণী (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধকরণ, বিশেষত্ব দান এবং সীমিতকরণের দিকটি হলো নাস্তি (নফি), অস্তি (ইসবাত) এবং ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা)-এর সমন্বয়। আর এখানে ব্যতিক্রমটি যাকে আলাদা করা হয়েছে (মুসতাসনা) তার মধ্যে সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে, আর তিনি হলেন আল্লাহ তায়ালা। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, সত্য উলূহিয়্যাহ বা উপাস্য হওয়ার প্রকৃত গুণটি ব্যতিক্রমবোধক অব্যয় (ইল্লা)-এর পরবর্তী সত্তার জন্য নির্দিষ্ট, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
توحيد الأسماء والصفاتأما توحيد الأسماء والصفات فقد بينه الله سبحانه وتعالى بقوله: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف:180]، وهذا أيضاً يفيد الحصر بنفس الطريقة التي أفادها الحصر في توحيد الربوبية، حيث قدم الجار والمجرور، وتقديم الجار والمجرور يراد به إفادة الحصر والاختصاص.ولكل واحد من الأنواع الثلاثة أمثلة كثيرة غير ما ذكرنا.
নাম ও গুণাবলির তাওহিদআর নাম ও গুণাবলির তাওহিদের বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।} [আল-আরাফ: ১৮০]। এটিও ঠিক সেই পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে, যে পদ্ধতিতে রুবুবিয়্যাহর তাওহিদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছিল। কেননা এখানে জার ও মাজরুর-কে আগে আনা হয়েছে; আর জার ও মাজরুর-কে আগে আনার উদ্দেশ্য হলো সীমাবদ্ধতা ও বিশেষত্ব প্রদান করা।আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও এই তিন প্রকারের প্রত্যেকটির আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
مفهوم توحيد الألوهيةأما توحيد الألوهية فهو إفراد الله سبحانه وتعالى بالعبادة، ومعنى العبادة يبينه ابن تيمية رحمه الله في رسالته (العبودية) بقوله: هي اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة.والعبادة مأخوذة من التعبد، يقال: طريق معبد: إذا ذللته الأقدام بالسير عليه، فالتعبد في اللغة مأخوذ من الذل والخضوع، وزاد الشرع فيه المحبة أيضاً، فأصبحت العبادة في الاصطلاح الشرعي يراد بها تمام الذل والخضوع مع كمال المحبة، فإذا حصل هذان فإن العمل يكون عبادة، فإذا صرفت لله عز وجل فهي توحيد، وإذا صرفت لغيره فهي شرك وتنديد.
তৌহিদ আল-উলুহিয়্যাহ-এর ধারণাআর তৌহিদ আল-উলুহিয়্যাহ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে একক করা। ইবাদতের অর্থ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-উবুদিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন: এটি এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টিজনক সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।আর ইবাদত শব্দটি ‘তআব্বুদ’ (দাসত্ব প্রকাশ) থেকে গৃহীত। বলা হয়: ‘তরিকুন মুআব্বাদ’ (সুগম পথ), যখন অবিরাম পথচলার মাধ্যমে পদতলে পিষ্ট হয়ে পথটি চলাচলের যোগ্য হয়। সুতরাং আভিধানিক অর্থে ‘তআব্বুদ’ শব্দটি হীনতা বা চরম বিনয় এবং আনুগত্য থেকে গৃহীত। শরিয়ত এতে ভালোবাসাকেও যুক্ত করেছে। ফলে শরিয়তের পরিভাষায় ইবাদত বলতে পূর্ণ ভালোবাসা সহকারে পরিপূর্ণ হীনতা ও আনুগত্যকে বোঝানো হয়। সুতরাং যখন এই দুটির সমন্বয় ঘটে, তখন সেই কাজটি ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি তা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়, তবে তা তৌহিদ; আর যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়, তবে তা শিরক ও সমকক্ষ সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
مفهوم توحيد الألوهية عند أهل السنةومفهوم العبادة واضح عند أهل السنة، لكن هناك طوائف -مثل القبوريين- يخالفون في مفهوم العبادة، فيجعلون العبادة إفراد الله بالخلق، مع أن الألوهية مشتقة من الإله، والإله بإجماع النحاة وإجماع المفسرين معناه (المعبود)، و (إله) فعال بمعنى (مفعول)، أي: مألوه، ومعنى (مألوه) معبود بالمحبة والتوكل والرضا والخوف والإنابة والرغبة والرهبة، وما إلى ذلك من أنواع العبادات، ولهذا يقول الله عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهٌ وَفِي الأَرْضِ إِلَهٌ} [الزخرف:84] قال قتادة -كما روى ابن جرير الطبري -: معبود في السماء ومعبود في الأرض.هذا هو ما يتعلق بمفهوم توحيد الألوهية، وقد يعبر عن توحيد الألوهية بتوحيد العبادة، وهو تعبير آخر، فتوحيد الإلهية: نظر فيه إلى جانب الإله، وتوحيد العبادة ينظر فيه إلى جانب العبد، فتوحيد الألوهية يعني: توحيد التأله لله سبحانه وتعالى، وتوحيد العبادة يعني: توحيد فعل العبد -الذي هو عبادته- لله سبحانه وتعالى، وسيأتي معنا عند قراءتنا للنصوص كيف يكون الربط بين مفهوم (لا إله إلا الله) وبين النصوص التي تدل على العبادة.وبعض العلماء يقسم توحيد الألوهية إلى قسمين: توحيد التنسك أو النسك، وتوحيد الطاعة والتشريع، والحقيقة هي أن القسمين عبادة لله سبحانه وتعالى، فالنسك والتنسك مثل: الذبح، والخضوع، والذل، والمحبة، والخوف ونحو ذلك من أفعال العبد، فهي تنسك وهي تعبد في ذات الوقت.والطاعة والتشريع أيضاً من العبادة، ولهذا يقول الله عز وجل: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [يوسف:40] فسمى الحكم عبادة.و (لا إله إلا الله) هي كلمة مركبة من جملتين: الجملة الأولى: هي جملة النفي (لا إله)، والجملة الثانية: هي جملة الإثبات (إلا الله)، فأما الجملة الأولى التي هي جملة النفي (لا إله) فمعناها: لا معبود ولا مربوب ولا مشرع ولا محبوب محبة تأله بحق إلا الله سبحانه وتعالى، فيجب أن يعبد وحده دون شريك، فهي تتضمن أمرين: الأمر الأول: إيجابي، وهو التعبد لله عز وجل، بمعنى: صرف العبادة له، وهذا مأخوذ من الإثبات.والأمر الثاني: سلبي، وهو البراءة من كل معبود غير الله عز وجل، وقد يسمى الطاغوت، وقد يسمى الشرك، وقد يسمى الكفر، وقد يسمى النفاق، وكل معبود ومألوه تصرف له العبادة غير الله عز وجل يجب بغضه وكرهه والبراءة منه، كما سيأتي معنا تفصيلاً، وهذا هو مفهوم الألوهية.
আহলুস সুন্নাহর নিকট তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ধারণাআহলুস সুন্নাহর নিকট ইবাদতের ধারণা অত্যন্ত স্পষ্ট, কিন্তু কুবুরিয়্যাহর মতো এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা ইবাদতের ধারণার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে। তারা কেবল সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করাকেই ইবাদত মনে করে। অথচ উলুহিয়্যাহ শব্দটি ‘ইলাহ’ থেকে উদ্ভূত। ব্যাকরণবিদ ও মুফাসসিরগণের ঐকমত্য অনুযায়ী ইলাহ শব্দের অর্থ হলো ‘মা’বুদ’ (উপাস্য)। আর ‘ইলাহ’ শব্দটি ‘ফি’আল’ ওজনে ‘মাফ’উল’ তথা ‘মা’লুহ’ অর্থ প্রদান করে। মা’লুহ শব্দের অর্থ হলো ভালোবাসা, ভরসা, সন্তুষ্টি, ভয়, প্রত্যাবর্তন, আকাঙ্ক্ষা ও ভীতি এবং এ জাতীয় সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে যার উপাসনা করা হয়। এজন্যই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: "আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং যমীনেও ইলাহ" [যুখরুফ: ৮৪]। ইবনে জারীর তাবারী কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ আসমানেও উপাস্য এবং যমীনেও উপাস্য।এটিই হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। তাওহীদে উলুহিয়্যাহকে কখনো তাওহীদে ইবাদত হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়, যা কেবল একটি ভিন্ন অভিব্যক্তি। সুতরাং তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে ইলাহর দিকটি বিবেচনা করা হয়, আর তাওহীদে ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দার দিকটি লক্ষ্য করা হয়। অতএব তাওহীদে উলুহিয়্যাহর অর্থ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য উপাসনাকে একক করা। আর তাওহীদে ইবাদত মানে হলো: বান্দার কর্মকে—যা তার ইবাদত—তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য একক করা। আমরা যখন মূল পাঠগুলো অধ্যয়ন করব তখন আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে কীভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর ধারণার সাথে ইবাদত নির্দেশক দলীলগুলোর সংযোগ স্থাপিত হয়।কিছু আলেম তাওহীদে উলুহিয়্যাহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: আনুগত্যমূলক উপাসনার তাওহীদ এবং আনুগত্য ও বিধান প্রণয়নের তাওহীদ। প্রকৃতপক্ষে এই উভয় প্রকারই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত। কারণ জবেহ করা, বিনয়, হীনতা, ভালোবাসা, ভয় এবং বান্দার এ জাতীয় কার্যাবলি যেমন উপাসনা, তেমনি তা ইবাদত হিসেবেও গণ্য।অনুরূপভাবে আনুগত্য ও বিধান প্রণয়নও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: "বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না" [ইউসুফ: ৪০]। এখানে তিনি ফয়সালা বা বিধান প্রদানকে ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন।আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো এমন একটি কালিমা যা দুটি বাক্য দ্বারা গঠিত: প্রথমটি হলো না-বোধক বাক্য (লা ইলাহা), আর দ্বিতীয়টি হলো হাঁ-বোধক বাক্য (ইল্লাল্লাহ)। প্রথম অংশ অর্থাৎ না-বোধক বাক্য ‘লা ইলাহা’-এর অর্থ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত সত্য কোনো মা’বুদ নেই, কোনো রব নেই, কোনো বিধানদাতা নেই এবং ঐশ্বরিক ভালোবাসার যোগ্য আর কেউ নেই। সুতরাং কোনো অংশীদার ছাড়াই একমাত্র তাঁর ইবাদত করা ওয়াজিব। এটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমটি হলো ইতিবাচক, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর ইবাদত করা অর্থাৎ ইবাদতকে তাঁর জন্য নিবেদন করা, যা হাঁ-বোধক অংশ থেকে গৃহীত।দ্বিতীয় বিষয়টি হলো নেতিবাচক, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা। একে কখনো তাগুত বলা হয়, কখনো শিরক, কখনো কুফর আবার কখনো নিফাক বলা হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য যে সকল উপাস্য ও মা’লুহ-এর উদ্দেশ্যে ইবাদত নিবেদন করা হয়, তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ওয়াজিব, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে। এটিই হলো উলুহিয়্যাহর মূল ধারণা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
مفهوم توحيد الألوهية عند القبوريينأما القبوريون فإنهم يرون أن الألوهية مشتقة من الإله، و (إله) على وزن فعال بمعنى (فاعل) أي: (آله) بمعنى: خالق، فهم يفسرون توحيد الألوهية بأنه توحيد الربوبية، فيجعلون توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية بمعنى واحد لا يفرقون بينهما، ويقولون: التفريق بينهما خطأ كبير، وبناءً على هذا جعلوا الشرك منحصراً في الربوبية فقط، فمن نسب الخلق لغير الله عز وجل، أو نسب التدبير لغير الله عز وجل؛ فإنهم يعتبرونه مشركاً، أما لو صرف الخوف والمحبة وأنواع المرادات لغير الله عز وجل فإنهم لا يعتبرونه مشركاً، ومن هنا وقعت الخصومة الكبرى بين أهل السنة من جهة، وبين القبوريين من جهة أخرى، فأعمال عباد القبور عند القبور -مثل: الطواف حول القبر، والذبح لصاحب القبر، والنذر، والاستغاثة، ودعاء صاحب القبر ونحو ذلك -نرى أنها شرك أكبر؛ لأنها صرف للعبادة لغير الله عز وجل، أما هم فإنهم لا يرونها شركاً؛ لأنهم يقولون: إن هؤلاء لا ينسبون الخلق لغير الله، فقلنا لهم: وإذا كانوا لا ينسبون الخلق لغير الله فهل يعني هذا أنهم من الموحدين؟ فقالوا: نعم؛ لأن التوحيد هو إثبات أن الله هو الخالق الرازق المحيي المميت.أما نحن فنقول: التوحيد ليس هو إثبات أن الله هو الخالق والرازق والمحيي والمميت فقط، بل هو أيضاً إفراد الله بالعبادة، ولهذا كان المشركون يعرفون أن الله هو الخالق الرازق المحيي المميت ولم ينفعهم ذلك، يقول الله سبحانه وتعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} [يوسف:106] فأثبت لهم شيئاً من الإيمان، لكنه لا ينفعهم، قال ابن عباس في هذا الإيمان الذي لا ينفعهم: إذا سألت أحدهم: من خلق السماء؟ من خلق الأرض؟ قال: الله، فهذا لا ينفعه؛ لأنه سبحانه قال: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} [يوسف:106].ومن هنا لما جاءهم النبي صلى الله عليه وسلم قال لهم: قولوا: لا إله إلا الله، وهم يعترفون بأن الله الخالق والرازق والمحيي والمميت، فلم يقولوا ذلك موافقة له؛ لأنهم عرفوا حقيقة دين الرسول صلى الله عليه وسلم فقالوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ} [ص:5] يعني: المعبودات {إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص:5].وعندما نوقشوا في كونهم يعبدون الآلهة وهي أصنام قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر:3] فصرحوا بلفظ العبادة فقالوا: ((مَا نَعْبُدُهُمْ))، فلم ينسبوا إليهم الخلق والرزق والإحياء والإماتة كما يظن القبوريون، وإنما عبدوهم من دون الله سبحانه وتعالى.فحقيقة توحيد الألوهية هي صرف العبادة لله، والموحدون يتفاوتون في توحيد الألوهية، فبعضهم عنده أصل التوحيد، ولكن عنده ذنوب ومعاص تقلل من توحيده، وبعضهم توحيده تام كامل؛ لإتيانه بأصول العبادات والواجبات والمستحبات، ولهذا سيأتي معنا أن التوحيد ينقسم إلى قسمين: توحيد تام يكون لصاحبه الأمن والاهتداء التام، وتوحيد ناقص يكون لصاحبه أصل الأمن والاهتداء، ولكن ليس له الأمن التام، فقد يخاف، ولكن مرده إلى الأمن بإذن الله تعالى.
কবরপূজারীদের নিকট তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ধারণাপক্ষান্তরে কবরপূজারীদের মতে, উলুহিয়্যাহ শব্দটি ইলাহ থেকে উদ্ভূত, আর 'ইলাহ' শব্দটি 'ফে'আল' এর ওজনে 'ফা'ইল' অর্থাৎ 'আলিহ' এর অর্থে ব্যবহৃত, যার অর্থ হলো: স্রষ্টা। তারা তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ব্যাখ্যা তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর মাধ্যমে করে থাকে। ফলে তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে উলুহিয়্যাহকে একই অর্থে গণ্য করে এবং এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তারা বলে: এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা একটি বড় ভুল। এর ওপর ভিত্তি করে তারা শিরককে কেবল রুবুবিয়্যাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি সৃষ্টির নিসবত করবে বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি পরিচালনার নিসবত করবে, তাকেই কেবল তারা মুশরিক হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু যদি কেউ ভয়, ভালোবাসা এবং বিভিন্ন প্রকার উপাসনা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করে, তবে তারা তাকে মুশরিক মনে করে না। এখান থেকেই একদিকে আহলুস সুন্নাহ এবং অন্যদিকে কবরপূজারীদের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। কবরের নিকট কবরপূজারীদের কার্যাবলি—যেমন: কবরের চারদিকে তাওয়াফ করা, কবরস্থ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে যবেহ করা, মানত করা, সাহায্য প্রার্থনা করা এবং কবরস্থ ব্যক্তিকে ডাকা ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়—আমাদের দৃষ্টিতে শিরকে আকবর; কারণ এগুলো আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য ইবাদত নিবেদন করা। কিন্তু তারা এগুলোকে শিরক মনে করে না; কারণ তাদের মতে এরা তো আল্লাহ ছাড়া অন্যের প্রতি সৃষ্টির নিসবত করছে না। আমরা তাদের বলি: তারা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যের প্রতি সৃষ্টির নিসবত না-ও করে, তবে কি এর অর্থ এই যে তারা তাওহীদবাদী? তারা বলে: হ্যাঁ; কারণ তাওহীদ হলো আল্লাহই যে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা—তা সাব্যস্ত করা।আর আমরা বলি: তাওহীদ কেবল আল্লাহকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা হিসেবে সাব্যস্ত করার নাম নয়; বরং ইবাদতের ক্ষেত্রেও আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার নাম। এ কারণেই মুশরিকরা জানত যে আল্লাহই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা, কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু তারা মুশরিক।" [ইউসুফ: ১০৬]। তিনি তাদের জন্য কিছু ঈমান সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু তা তাদের উপকারে আসে না। ইবনে আব্বাস এই ঈমান সম্পর্কে বলেছেন যা তাদের উপকারে আসে না: তুমি যদি তাদের কাউকে জিজ্ঞেস করো: কে আকাশ সৃষ্টি করেছে? কে জমিন সৃষ্টি করেছে? সে বলবে: আল্লাহ। এটি তাকে কোনো উপকার দেবে না; কারণ তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু তারা মুশরিক।" [ইউসুফ: ১০৬]।এ কারণেই যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট আসলেন, তখন তিনি তাদের বললেন: তোমরা বলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। অথচ তারা স্বীকার করত যে আল্লাহই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা। কিন্তু তারা তাঁর সাথে একমত হয়ে এটি বলেনি; কারণ তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের হাকীকত জানত। তাই তারা বলেছিল: "তিনি কি বহু উপাস্যকে (অর্থাৎ মা'বুদদের) এক উপাস্যে পরিণত করেছেন? এটি তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!" [সোয়াদ: ৫]।আর যখন মূর্তিপূজা করার ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করা হলো, তখন তারা বলেছিল: "আমরা তাদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।" [যুমার: ৩]। এখানে তারা ইবাদত শব্দটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছে এবং বলেছে: "আমরা তাদের ইবাদত করি"। তারা তাদের প্রতি সৃষ্টি, রিযিক, জীবনদান বা মৃত্যুদান সাব্যস্ত করেনি—যেমনটি কবরপূজারীরা ধারণা করে থাকে—বরং তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত করত।প্রকৃতপক্ষে তাওহীদে উলুহিয়্যাহর হাকীকত হলো ইবাদতকে আল্লাহর জন্য নিবেদন করা। তাওহীদবাদীদের তাওহীদে উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে স্তরভেদ রয়েছে। কারো নিকট তাওহীদের মূল ভিত্তি রয়েছে, কিন্তু তার গুনাহ ও পাপাচার রয়েছে যা তার তাওহীদকে কমিয়ে দেয়। আবার কারো তাওহীদ পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত; কারণ সে ইবাদতের মূল ভিত্তি, ওয়াজিবাত এবং মুস্তাহাব বিষয়গুলো আদায় করেছে। এই কারণেই আমাদের সামনে আসবে যে, তাওহীদ দুই ভাগে বিভক্ত: পূর্ণাঙ্গ তাওহীদ, যার অধিকারীর জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা ও হিদায়াত রয়েছে। আর অপূর্ণাঙ্গ তাওহীদ, যার অধিকারীর জন্য মূল নিরাপত্তা ও হিদায়াত রয়েছে, কিন্তু পূর্ণ নিরাপত্তা নেই। ফলে সে ভীত হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় পরিণামে সে নিরাপত্তার দিকেই ফিরে যাবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
باب تفسير التوحيد وشهادة أن لا إله إلا اللهقال المؤلف رحمه الله تعالى: [باب تفسير التوحيد وشهادة أن لا إله إلا الله، وقول الله تعالى: {أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء:57]].عقد المؤلف هذا الباب ليبين أن ترك الشرك ركن أساسي في توحيد الألوهية؛ لأن الآية تخبر عن المشركين الذين يعبدون الصالحين، حيث قال تعالى: ((أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ)) يعني: يدعونهم.فالمقصود بقوله: ((أُوْلَئِكَ)) الإشارة إلى من يدعوهم المشركون، ((يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ)) يعني: من الأنبياء والصالحين المعبودين من دون الله سبحانه وتعالى.فترك الشرك والبراءة منه داخل في أساس الدين وفي أصل الدين، فلو أن إنساناً قال: أنا أعبد الله، لكن لا أتبرأ من الشرك، ولا أقر بأن المشرك يكون من أهل جهنم، فإنه لا يعتبر موحداً.ولهذا فإن الدعاوى الموجودة في هذا العصر التي يرددها بعض الناس، حيث يقولون: إن اليهود والنصارى ليسوا كفاراً، وإننا نحن وإياهم نلتقي في الملة الإبراهيمية، وإننا جميعاً من أهل الجنة، وإن الإسلام طريق إلى الله، واليهودية طريق إلى الله، والنصرانية طريق إلى الله، هذه الدعاوى كفر أكبر، وقائلها لم يحقق أصل الدين.قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقول الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ * إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ * وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الزخرف:26 - 28]].قال المفسرون في قوله تعالى: ((وَجَعَلَهَا كَلِمَةً)) قالوا: الكلمة هي (لا إله إلا الله)؛ لأن هذه الآية مطابقة لمعنى (لا إله إلا الله)، فقوله: ((إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ)) يطابق (لا إله)، وقوله: {إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} [الزخرف:27] يطابق: (إلا الله).قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة:31]].هذه الآية أيضاً مطابقة لمعنى لا إله إلا الله، فقوله: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة:31] يعني: أشركوا مع الله عز وجل الأحبار -وهم علماء اليهود- والرهبان، -وهم عباد النصارى- حيث اتخذوهم أرباباً؛ لأنهم يحلون لهم الحرام فيتبعونهم، ويحرمون عليهم الحلال فيتبعونهم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (فتلك عبادتهم)، وهذا هو معنى قول الله عز وجل: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [يوسف:40].ولم يكتف المؤلف رحمه الله بالآية الأولى في الدلالة على مطابقة كلمة التوحيد لدعوة إبراهيم عليه السلام لأن الذي جاء في الآية الأولى آية الزخرف، -وهو قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ} [الزخرف:26] هو صنف من أصناف العبادة، وهذا صنف آخر، وهو الحكم والتشريع.قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ} [البقرة:165]].هذه الآية فيها بيان للمحبة ووقوع الشرك فيها، وسيعقد الشيخ لها باباً مستقلاً بإذن الله تعالى.قال المؤلف رحمه الله تعالى: [في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه، وحسابه على الله عز وجل].قوله: (من قال: لا إله إلا الله) هذا هو الجانب الإيجابي، وهو فعل العمل الصالح، يعني أن قول (لا إله إلا الله) والصلاة والصيام والمحبة والخوف كل ذلك ينبغي أن يُصرف لله سبحانه وتعالى، وهذا موافق لقوله: (إلا الله).وأما الجانب السلبي الآخر فهو قوله: (وكفر بما يعبد من دون الله)، فقد جعل الكفر بما يعبد من دون الله داخلاً في أصل الدين، حتى إنه لا يقبل إسلام الشخص إذا لم يكفر بما يعبد من دون الله؛ لأنه قال: (حرم ماله ودمه وحسابه على الله).فهذا الباب المقصود به بيان حقيقة توحيد الألوهية، وتفسير شهادة أن لا إله إلا الله، وأنها مركبة من ركنين أساسيين: الركن الأول: النفي، ومعناه: نفي الأرباب ونفي الأنداد ونفي الطواغيت ونفي الآلهة.الركن الثاني: إثبات العبادة لله وحده سبحانه وتعالى.
তাওহীদের ব্যাখ্যা এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্যের অধ্যায়লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেন: [তাওহীদের ব্যাখ্যা এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্যের অধ্যায়, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের আযাব ভীতিপ্রদ।} [আল-ইসরা: ৫৭]]।লেখক এই অধ্যায়টি রচনা করেছেন এটা বর্ণনা করার জন্য যে, শিরক বর্জন করা তাওহীদে উলুহিয়্যাহর একটি মৌলিক রুকন; কারণ আয়াতটি ঐসব মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছে যারা নেককার বান্দাদের ইবাদত করত। মহান আল্লাহ বলেছেন: ((তারা যাদেরকে আহ্বান করে)) অর্থাৎ: তারা যাদের ডাকে।এখানে ((তারা)) বলতে তাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যাদেরকে মুশরিকরা আহ্বান করে, আর ((তারা তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে)) অর্থাৎ: নবীগণ এবং নেককার বান্দাগণ যাদেরকে মহান আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।শিরক বর্জন করা এবং তা থেকে দায়মুক্ত হওয়া দ্বীনের ভিত্তি ও মূলের অন্তর্ভুক্ত। যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আমি আল্লাহর ইবাদত করি, কিন্তু শিরক থেকে দায়মুক্ত হই না, অথবা মুশরিকরা জাহান্নামী হবে বলে স্বীকার করি না, তবে তাকে একত্ববাদী হিসেবে গণ্য করা হবে না।এ কারণেই বর্তমান যুগে প্রচলিত কিছু দাবি যা কিছু লোক পুনরাবৃত্তি করে থাকে, যেখানে তারা বলে: ইহুদি ও খ্রিস্টানরা কাফের নয়, এবং আমরা ও তারা ইব্রাহিমি মিল্লাতের ওপর একত্রিত আছি, আর আমরা সবাই জান্নাতবাসী, এবং ইসলাম আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ, ইহুদি ধর্ম আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ এবং খ্রিস্টধর্ম আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ—এই দাবিগুলো বড় কুফর, এবং এর প্রবক্তা দ্বীনের মূল বিষয় অর্জন করতে পারেনি।লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেন: [এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যার ইবাদত করো তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তাঁর কথা ভিন্ন যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, কারণ নিশ্চয় তিনি আমাকে হেদায়েত দান করবেন। আর তিনি এটাকে তার উত্তরসূরিদের মাঝে এক স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছেন যাতে তারা ফিরে আসে।} [আয-যুখরুফ: ২৬-২৮]]।মুফাসসিরগণ মহান আল্লাহর বাণী: ((তিনি এটাকে এক বাণী হিসেবে রেখে গেছেন)) সম্পর্কে বলেন: বাণীটি হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'; কারণ এই আয়াতটি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই বাণীর অর্থের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং তাঁর বাণী: ((তোমরা যার ইবাদত করো তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই)) 'কোনো উপাস্য নেই'-এর সাথে মিলে যায়, এবং তাঁর বাণী: {তবে তাঁর কথা ভিন্ন যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন} [আয-যুখরুফ: ২৭] 'আল্লাহ ছাড়া'-এর সাথে মিলে যায়।লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেন: [এবং আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়াম তনয় মাসীহকেও। অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি পবিত্র।} [আত-তাওবাহ: ৩১]]।এই আয়াতটিও 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই বাণীর অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাঁর বাণী: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ৩১] এর অর্থ হলো: তারা মহান আল্লাহর সাথে তাদের আহবার—যারা ইহুদিদের আলেম—এবং রুহবান—যারা খ্রিস্টানদের ইবাদতকারী—তাদেরকে শরিক করেছে। তারা তাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে কারণ তারা তাদের জন্য হারামকে হালাল করে দিত আর তারা তাদের অনুসরণ করত, এবং হালালকে হারাম করে দিত আর তারা তাদের অনুসরণ করত। তাই নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (এটাই ছিল তাদের ইবাদত), আর এটাই মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ: {বিধান কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না।} [ইউসুফ: ৪০]।লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) তাওহীদের বাণীর সাথে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দাওয়াতের মিল বুঝানোর ক্ষেত্রে কেবল আয-যুখরুফ সূরার প্রথম আয়াতের ওপর ক্ষান্ত হননি; কারণ সেই আয়াতে যা এসেছে—অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {যখন ইব্রাহিম তার পিতাকে বলল, তোমরা যার ইবাদত করো তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই} [আয-যুখরুফ: ২৬]—তা হলো ইবাদতের প্রকারগুলোর মধ্যে একটি প্রকার, আর এটি হলো অন্য একটি প্রকার, যা হলো বিধান ও আইন প্রণয়ন।লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেন: [এবং তাঁর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অনেক বেশি দৃঢ়।} [আল-বাকারা: ১৬৫]]।এই আয়াতে ভালোবাসার বর্ণনা রয়েছে এবং তাতে শিরক ঘটার বিষয়টি রয়েছে, আর শাইখ আল্লাহর ইচ্ছায় এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করবেন।লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেন: [সহীহ গ্রন্থে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি বলল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করল, তার সম্পদ ও রক্ত নিরাপদ হয়ে গেল এবং তার হিসাব মহান আল্লাহর ওপর)।]তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি বলল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই') এটি হলো ইতিবাচক দিক, যা হলো সৎ কাজ সম্পাদন করা। অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলা এবং সালাত, সিয়াম, ভালোবাসা ও ভয়—এসবই মহান আল্লাহর জন্য নিবেদন করা উচিত, যা 'আল্লাহ ছাড়া' বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ।আর অন্যটি হলো নেতিবাচক দিক, যা হলো তাঁর বাণী: (এবং আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করল)। তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকে অস্বীকার করাকে দ্বীনের মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এমনকি কোনো ব্যক্তির ইসলাম ততক্ষণ কবুল হবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকে অস্বীকার করবে; কারণ তিনি বলেছেন: (তার সম্পদ ও রক্ত নিরাপদ হয়ে গেল এবং তার হিসাব আল্লাহর ওপর)।সুতরাং এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করা এবং 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা প্রদান করা। আর এটি দুটি মৌলিক রুকনের সমন্বয়ে গঠিত: প্রথম রুকন: নফি (অস্বীকার করা), এর অর্থ হলো—সব প্রভু, সমকক্ষ, তাগুত এবং উপাস্যদের অস্বীকার করা।দ্বিতীয় রুকন: ইসবাত (সাব্যস্ত করা), যার অর্থ হলো ইবাদতকে কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أهمية توحيد الألوهيةلهذا المحور الذي سنتحدث عنه أهمية كبيرة جداً؛ لأن الإنسان إذا عرف توحيد الألوهية علم أنه هو حقيقة الإسلام، ثم إذا أراد أن يتحدث عن أهمية الإسلام فإنه يجد شيئاً كثيراً، ولكننا سنحصر أنفسنا فيما ذكره الشيخ.فقد ذكر الشيخ مجموعة من الأمور التي تدل على أهمية التوحيد: الأمر الأول: الحكمة أن من خلق الجن والإنس هي تحقيق توحيد الألوهية، فالله عز وجل ما خلق الناس في هذه الدنيا إلا ليوحدوه ويفردوه بالعبادة سبحانه وتعالى، والعبادة لا تصح إلا بهذا التوحيد، وهذا مذكور في قوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56].الأمر الثاني: أن توحيد الألوهية هو حقيقة دعوة الرسل، فالرسل عليهم السلام حين جاءوا لدعوة أقوامهم جاءوهم بالدعوة إلى توحيد الألوهية؛ لأن توحيد الألوهية هو أصل الإسلام، فإذا آمن به الشخص؛ فلابد من أن يؤمن بتوحيد الربوبية معه، ولابد من أن يؤمن بتوحيد الأسماء والصفات معه أيضاً.يقول الله عز وجل: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل:36]، فقوله تعالى: ((أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ)) موافق للإثبات في (إلا الله)، ((وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ)) موافق للنفي في (لا إله)، ويمكن أن نستعرض القرآن ونستخرج منه كثيراً من الأمثلة بهذه الطريقة.الأمر الثالث: أن توحيد الألوهية هو أول أمر أمر الله سبحانه وتعالى به، يقول الله عز وجل: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا} [الإسراء:23]، فقوله: (وقضى) معناه: أمر ووصى، فأول أمر من الأوامر الشرعية أمر الله عز وجل به هو توحيد الألوهية، وهذا يدل على أهميته وفضله.يقول الله عز وجل: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [النساء:36] في سياق جملة من الحقوق، فجعل توحيد الإلهية أول حق من الحقوق.الأمر الرابع: أن الشرك هو أعظم محرم، فإذا كان التوحيد هو أعظم أمر أمر الله سبحانه وتعالى به، فالشرك الذي هو عكسه هو أعظم محرم في نفس الوقت، يقول الله عز وجل: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [الأنعام:151]، ولهذا قال ابن مسعود رضي الله عنه عن هذه الآية: من أراد أن ينظر إلى وصية محمد صلى الله عليه وسلم التي عليها خاتمه فليقرأ قوله تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [الأنعام:151] إلى قوله: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ} [الأنعام:153].وهذه الآيات تسمى آيات الوصايا العشر، وقد بدأها الله سبحانه وتعالى بالتحذير من الشرك الذي هو رأس المحرمات.الأمر الخامس: أن التوحيد حق لله سبحانه وتعالى، وهذا وارد في حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه عندما قال: (كنت رديف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار فقال لي: يا معاذ! أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال: حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئاً)، وهذا هو توحيد الألوهية، فقوله: (أن يعبدوه) بمعنى: (إلا الله)، (ولا يشركوا به شيئاً) بمعنى: (لا إله)، فهو نفس معنى (لا إله إلا الله).ثم قال صلى الله عليه وسلم: (وحق العباد على الله ألا يعذب من لا يشرك به شيئاً.قلت: أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا).إذاً: يمكن أن نبرز أهمية توحيد الألوهية باعتبار أنه لا يمكن أن يثبت للإنسان اسم الإسلام ووصفه وحقوق الإسلام إلا إذا جاء بتوحيد الألوهية، وأما إذا لم يأت بتوحيد الألوهية فإنه لا يثبت له شيء من أوصاف الإسلام؛ لما جاء في الحديث: (من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه، وحسابه على الله) يعني أن من لم يحقق ذلك فدمه حلال وماله حلال؛ لأنه ليس من المسلمين، وهذا يدل على أهمية توحيد الألوهية.
উলুহিয়্যাহর তাওহীদের গুরুত্বআমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তার গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম; কারণ মানুষ যখন উলুহিয়্যাহর তাওহীদ সম্পর্কে অবগত হয়, তখন সে বুঝতে পারে যে এটাই ইসলামের প্রকৃত রূপ। এরপর সে যদি ইসলামের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে চায়, তবে সে অনেক কিছুই খুঁজে পাবে, কিন্তু আমরা এখানে শাইখ যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।শাইখ তাওহীদের গুরুত্ব নির্দেশকারী কতগুলো বিষয় উল্লেখ করেছেন: প্রথম বিষয়: জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করার পেছনে যে হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে তা হলো উলুহিয়্যাহর তাওহীদ বাস্তবায়ন করা। মহান আল্লাহ এই পৃথিবীতে মানুষকে কেবল তাঁর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর এই তাওহীদ ব্যতীত ইবাদত সঠিক হয় না। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।দ্বিতীয় বিষয়: উলুহিয়্যাহর তাওহীদই হলো রাসূলগণের দাওয়াতের প্রকৃত বাস্তবতা। রাসূলগণ যখন তাঁদের জাতির নিকট দাওয়াত দিতে আসতেন, তখন তাঁরা উলুহিয়্যাহর তাওহীদের দাওয়াত নিয়েই আসতেন; কারণ উলুহিয়্যাহর তাওহীদই হলো ইসলামের মূল ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি যখন এতে ঈমান আনে, তখন তাকে এর সাথে সাথে রুবুবিয়্যাহর তাওহীদেও বিশ্বাস করতে হয় এবং আবশ্যিকভাবে এর সাথে নাম ও গুণাবলির তাওহীদেও বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়।মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই মর্মে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬]। এখানে মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো" অংশটি (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এর) হাঁ-বোধক অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং "তাগুতকে বর্জন করো" অংশটি (কোনো উপাস্য নেই—এর) না-বোধক অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা কুরআন পর্যালোচনা করলে এই পদ্ধতিতে আরও অনেক উদাহরণ বের করতে পারি।তৃতীয় বিষয়: উলুহিয়্যাহর তাওহীদ হলো প্রথম নির্দেশ যা মহান আল্লাহ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনার রব ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।" [আল-ইসরা: ২৩]। এখানে "ফয়সালা করেছেন" এর অর্থ হলো: আদেশ দিয়েছেন ও অসিয়ত করেছেন। সুতরাং শরীয়তের নির্দেশনাসমূহের মধ্যে প্রথম যে নির্দেশের আদেশ মহান আল্লাহ দিয়েছেন তা হলো উলুহিয়্যাহর তাওহীদ। এটি এর গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে।মহান আল্লাহ একগুচ্ছ অধিকারের বর্ণনার প্রেক্ষিতে বলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।" [আন-নিসা: ৩৬]। এখানে তিনি ইলাহিয়্যাহর তাওহীদকে সকল অধিকারের মধ্যে সর্বপ্রথম অধিকার হিসেবে গণ্য করেছেন।চতুর্থ বিষয়: শিরক হলো সবচাইতে বড় হারাম কাজ। তাওহীদ যদি মহান আল্লাহর নির্দেশিত সবচাইতে বড় নির্দেশ হয়ে থাকে, তবে শিরক—যা তাওহীদের বিপরীত—তা একই সাথে সবচাইতে বড় নিষিদ্ধ কাজ। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, এসো তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি পাঠ করি, (তাহলো) তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।" [আল-আনআম: ১৫১]। এজন্য ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন: যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সেই অসিয়তনামা দেখতে চায় যার ওপর তাঁর মোহর রয়েছে, সে যেন মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করে: "বলুন, এসো তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি পাঠ করি..." [আল-আনআম: ১৫১] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো।" [আল-আনআম: ১৫৩]।এই আয়াতগুলোকে "দশটি অসিয়তের আয়াত" বলা হয়, যা মহান আল্লাহ শিরক থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে শুরু করেছেন, আর শিরক হলো সকল নিষিদ্ধ কাজের মূল।পঞ্চম বিষয়: তাওহীদ হলো মহান আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার। এটি মুয়ায ইবনে জাবাল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "আমি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পেছনে একটি গাধার পিঠে বসা ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে মুয়ায! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর কী অধিকার এবং আল্লাহর ওপর বান্দার কী অধিকার? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হলো তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।" আর এটাই হলো উলুহিয়্যাহর তাওহীদ। তাঁর কথা: "তারা তাঁর ইবাদত করবে" এর অর্থ হলো: হাঁ-বোধক অংশ, আর "তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না" এর অর্থ হলো: না-বোধক অংশ। অর্থাৎ এটি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এরই মর্মার্থ।অতঃপর তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "আর আল্লাহর ওপর বান্দার অধিকার হলো তিনি ওই ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না।আমি বললাম: আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, কারণ তবে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে।"অতএব, আমরা উলুহিয়্যাহর তাওহীদের গুরুত্বকে এভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি যে, মানুষের জন্য ইসলাম নাম, এর বিশেষণ এবং ইসলামের অধিকারসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে উলুহিয়্যাহর তাওহীদ গ্রহণ করে। আর যদি সে উলুহিয়্যাহর তাওহীদ পালন না করে তবে ইসলামের কোনো বৈশিষ্ট্যই তার জন্য সাব্যস্ত হবে না। যেমনটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি বলল—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এবং আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করল, তার সম্পদ ও রক্ত হারাম হয়ে গেল, আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" অর্থাৎ যে ব্যক্তি এটি বাস্তবায়ন করবে না তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ; কারণ সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি উলুহিয়্যাহর তাওহীদের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
فضل توحيد الألوهيةقسم الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله الحديث عن فضل توحيد الإلهية إلى قسمين: الأول: الحديث عن فضله بشكل عام، فقد بوب له باباً وقال: [باب فضل التوحيد وما يكفر من الذنوب].الثاني: فضل من حققه، يعني: من جاء بحقيقته، وبوب له باباً خاصاً سماه (باب من حقق التوحيد دخل الجنة بغير حساب).إذاً: فباب فضل التوحيد، وباب من حقق التوحيد يجتمعان في نقطة واحدة، وهي فضل التوحيد عموماً، فالأول: فضل عام، والثاني: فضل خاص لفئة معينة، وهي التي جاءت بتحقيق التوحيد.
উলুহিয়্যাহর তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্বশায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) ইলাহিয়্যাহর তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত আলোচনাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথমত: সাধারণভাবে এর শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করা। তিনি এর জন্য একটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: [তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং যা পাপ মোচন করে সেই সংক্রান্ত অধ্যায়]।দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি একে প্রকৃতভাবে বাস্তবায়ন করবে তার শ্রেষ্ঠত্ব। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি এর হাকীকত বা বাস্তবতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। তিনি এর জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন যার নামকরণ করেছেন (যে ব্যক্তি তাওহীদকে প্রকৃতভাবে বাস্তবায়ন করবে সে হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে—সংক্রান্ত অধ্যায়)।অতএব: তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্বের অধ্যায় এবং যে ব্যক্তি তাওহীদকে বাস্তবায়ন করেছে তার অধ্যায়—উভয়ই একটি বিন্দুতে মিলিত হয়, আর তা হলো সাধারণভাবে তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব। সুতরাং প্রথমটি হলো সাধারণ শ্রেষ্ঠত্ব, আর দ্বিতীয়টি হলো একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব, আর তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি যারা তাওহীদের প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حصول الأمن والاهتداءأما فضل التوحيد فقد جاء فيه بأنواع من الفضل يمكن أن نلخصها في الأمور الآتية: الأمر الأول: أن التوحيد سبب في الأمن والاهتداء، وهذا الفضل أخذناه من آية الأنعام التي ذكرها، وهي قول الله عز وجل: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأنعام:82]، فقوله: ((الَّذِينَ آمَنُوا)) يعني: وحدوا، والتوحيد والإيمان بمعنى واحد، ((وَلَمْ يَلْبِسُوا)) يعني: لم يخلطوا، ((إِيمَانَهُمْ)) يعني: توحيدهم، ((بِظُلْمٍ)) يعني: بشرك.وعرفنا أن الظلم هنا المقصود به الشرك بما ثبت في حديث ابن مسعود رضي الله عنه أنه لما نزلت هذه الآية قال الصحابة رضوان الله عليهم: (أينا لم يظلم نفسه يا رسول الله؟ قال: ليس الظلم الذي تظنون، ألم تقرءوا قول العبد الصالح: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان:13]).إذاً: فترك الشرك والإتيان بالتوحيد سبب في الأمن والاهتداء في الدنيا والآخرة.والأمن والاهتداء ينقسم كل منهما إلى تام وناقص كما ينقسم التوحيد، فالأمن التام يكون لصاحب التوحيد التام، والأمن الناقص يكون لصاحب التوحيد الناقص، والأمن التام هو ألا يدخل صاحبه النار أبداً، ولا يمسه شيء من النار، ومعنى الأمن الناقص أنه قد يعذب في النار ويحصل له الخوف، لكنه لا يخلد فيها، ولهذا قد يعبر بعض العلماء -مثل ابن تيمية رحمه الله في كلامه عن هذه الآية بالأمن المطلق ومطلق الأمن، والأمن المطلق هو الأمن التام، والاهتداء المطلق هو الاهتداء التام، ومطلق الأمن ومطلق الاهتداء يراد به أصل الأمن وأصل الاهتداء، فقد يخالط الأمن خوف كما يخالط التوحيد شيء من الذنوب والمعاصي، لكن أصل الأمن والاهتداء موجود.
নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভতাওহীদের ফযীলত সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে যা আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপ করতে পারি: প্রথম বিষয়: তাওহীদ হলো নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভের কারণ। আর এই ফযীলতটি আমরা সূরা আল-আনআামের সেই আয়াত থেকে গ্রহণ করেছি যা তিনি উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-আনআম: ৮২]। এখানে তাঁর বাণী: ((যারা ঈমান এনেছে)) অর্থাৎ: যারা তাওহীদ অবলম্বন করেছে, আর এখানে তাওহীদ ও ঈমান একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ((এবং মিশ্রিত করেনি)) অর্থাৎ: তারা সংমিশ্রণ করেনি। ((তাদের ঈমানকে)) অর্থাৎ: তাদের তাওহীদকে। ((যুলুমের সাথে)) অর্থাৎ: শিরকের সাথে।আর আমরা জানতে পেরেছি যে, এখানে ‘যুলুম’ বলতে শিরক উদ্দেশ্য, যা ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো তখন সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের নফসের ওপর যুলুম করেনি? তিনি বললেন: তোমরা যা ধারণা করছ যুলুম সেরূপ নয়; তোমরা কি নেককার বান্দার উক্তিটি পড়নি: {নিশ্চয়ই শিরক বড় যুলুম} [লুকমান: ১৩]।’সুতরাং শিরক বর্জন করা এবং তাওহীদ গ্রহণ করা দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভের কারণ।নিরাপত্তা ও হিদায়াতের প্রত্যেকটিই পূর্ণ ও অপূর্ণ—এই দুই ভাগে বিভক্ত, যেমনটি তাওহীদও বিভক্ত হয়। সুতরাং পূর্ণ নিরাপত্তা হলো পূর্ণ তাওহীদপন্থীর জন্য, আর অপূর্ণ নিরাপত্তা হলো অপূর্ণ তাওহীদপন্থীর জন্য। পূর্ণ নিরাপত্তা বলতে বোঝায় যে, এর অধিকারী ব্যক্তি কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না এবং জাহান্নামের কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না। আর অপূর্ণ নিরাপত্তা বলতে বোঝায় যে, তাকে হয়তো জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হতে পারে এবং তার মধ্যে ভয় সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সে সেখানে চিরস্থায়ী হবে না। এই কারণেই কোনো কোনো আলিম—যেমন ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘পরম নিরাপত্তা’ এবং ‘নিছক নিরাপত্তা’ পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। পরম নিরাপত্তা হলো পূর্ণ নিরাপত্তা, এবং পরম হিদায়াত হলো পূর্ণ হিদায়াত। আর নিছক নিরাপত্তা ও নিছক হিদায়াত বলতে নিরাপত্তার মূল ভিত্তি ও হিদায়াতের মূল ভিত্তি বোঝানো হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার সাথে ভীতি মিশ্রিত হতে পারে যেমনটি তাওহীদের সাথে কোনো কোনো গুনাহ ও পাপাচার মিশ্রিত হয়, কিন্তু নিরাপত্তা ও হিদায়াতের মূল ভিত্তি বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصيرورة إلى الجنةالأمر الثاني: أن التوحيد أن الموحد مصيره إلى الجنة ولو حصل له شيء من العذاب، وهذه قاعدة من قواعد أهل السنة، وهي أن الموحد الذي مات على التوحيد فلم يقع في شيء من الكفر لابد من أن يكون من أهل الجنة عند الله سبحانه وتعالى، ولو حصل له شيء من العذاب أو مسه شيء من العذاب؛ لحديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمداً عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجنة حق والنار حق، أدخله الله الجنة على ما كان من العمل) يعني: ولو كان عنده شيء من العمل المحرم أو شيء من العمل الناقص، فإن الله عز وجل سيدخله الجنة، ونهايته إلى الجنة.وتوحيد الإلهية الكائن في هذا الحديث مذكور في بدايته في قوله: (من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمداً عبده ورسوله).
জান্নাতে গমনদ্বিতীয় বিষয়: তাওহীদ হলো এই যে, মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) ব্যক্তির গন্তব্য হলো জান্নাত, যদিও তার কোনো শাস্তি হয়ে থাকে। এটি আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের একটি নীতি, আর তা হলো: যে মুওয়াহহিদ তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে এবং কোনো কুফরিতে লিপ্ত হয়নি, সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট অবশ্যই জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তার কোনো শাস্তি হয় বা তাকে আজাব স্পর্শ করে। উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যাই হোক না কেন)। অর্থাৎ: যদিও তার মধ্যে কোনো নিষিদ্ধ কাজ বা ত্রুটিপূর্ণ আমল থাকে, তবুও আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার চূড়ান্ত পরিণতি হবে জান্নাত।এই হাদিসে বিদ্যমান তাওহীদে ইলাহিয়্যাহ এর সূচনায় এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: (যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أن التوحيد لا يعدله شيءالأمر الثالث: أن التوحيد لا يعدله شيء؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (قال موسى: يا رب! علمني شيئاً أذكرك وأدعوك به، قال: قل يا موسى: لا إله إلا الله، قال: يا رب! كل عبادك يقولون هذا، قال: يا موسى، لو أن السماوات السبع وعامرهن غيري، والأرضين السبع في كفة، و (لا إله إلا الله) في كفة، مالت بهن (لا إله إلا الله)) رواه ابن حبان والحاكم وصححه، وهذا الحديث فيه ضعف؛ لأن في إسناده دراجاً أبا السمح، وهو ضعيف، ولكن له شاهد في مسند الإمام أحمد في قصة لنوح عليه السلام مشابهة لهذه الرواية، فتكون شاهداً له لهذا الحديث، ويرتقي إلى درجة الحسن، فهو من المحتج به.
তাওহীদের সমতুল্য কিছু নেইতৃতীয় বিষয়: তাওহীদের সমতুল্য কিছু নেই; আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: হে আমার রব! আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যার মাধ্যমে আমি আপনার যিকির করব এবং আপনাকে ডাকব। আল্লাহ বললেন: হে মূসা! বল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি বললেন: হে আমার রব! আপনার সকল বান্দাই তো এটি বলে। আল্লাহ বললেন: হে মূসা! যদি সাত আসমান এবং আমি ব্যতীত তার অধিবাসীগণ এবং সাত যমীন এক পাল্লায় থাকে, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অন্য পাল্লায় থাকে, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর পাল্লাটিই ঝুঁকে পড়বে (ভারী হবে))। এটি ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটিতে দুর্বলতা রয়েছে; কারণ এর সনদে দাররাজ আবুল সামহ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল। কিন্তু মুসনাদে ইমাম আহমাদে নূহ আলাইহিস সালাম-এর একটি ঘটনায় এই বর্ণনার সদৃশ একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে, যা এই হাদীসের জন্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত হবে। সুতরাং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تكفير الذنوب ومحوهاالأمر الرابع: أن التوحيد يكفر الذنوب ويمحوها، وذَكَر له شاهداً عند الترمذي من حديث أنس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (قال الله تعالى: يا ابن آدم! لو أتيتني بقراب الأرض خطايا، ثم لقيتني لا تشرك بي شيئاً لأتيتك بقرابها مغفرة) يعني: لو أتيتني بما يقارب الأرض خطايا ثم جئتني بعيداً عن الشرك؛ فإن هذه الذنوب تغفر بفضل توحيد الألوهية؛ لمكانته وأهميته.وتوحيد الألوهية له فضائل أخرى كثيرة تتعلق بالنفس، وتتعلق بالمجتمع، وتتعلق بالحياة كلها، ولكن الشيخ لم يزد على هذه الفضائل التي أشار إليها، ولو رجعت إلى (القول السديد) لوجدت مجموعة أخرى من الفضائل التي أشار إليها المؤلف بشكل مختصر.
গুনাহসমূহের কাফফারা ও তা মিটিয়ে দেওয়াচতুর্থ বিষয়: নিশ্চয়ই তাওহীদ গুনাহসমূহকে মোচন করে এবং তা মিটিয়ে দেয়। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ইমাম তিরমিযী বর্ণিত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, অতঃপর আমার সাথে কাউকে শরীক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট আসব।) অর্থাৎ: তুমি যদি পৃথিবী সমান গুনাহ নিয়ে আসো এবং শিরক থেকে মুক্ত হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, তবে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ-এর মর্যাদা ও গুরুত্বের কারণে এই তাওহীদের বদৌলতে সেই গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ-এর আরও অনেক ফযীলত রয়েছে যা ব্যক্তি, সমাজ এবং সমগ্র জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু শায়খ এখানে কেবল এই ফযীলতগুলোই উল্লেখ করেছেন। আপনি যদি (আল-কাওলুস সাদীদ) কিতাবটির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে সেখানে লেখক সংক্ষিপ্তভাবে যে আরও কিছু ফযীলতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فضل من حقق التوحيدالنوع الثاني من أنواع الفضائل التي أشار إليها هو فضل من حقق التوحيد، وأن من حقق التوحيد دخل الجنة بغير حساب، ومعنى (حقق التوحيد): خلصه وصفاه من الشرك والبدع والمعاصي؛ إذ الشرك والبدع والمعاصي تنقص وتضعف التوحيد، فمن صفّى توحيده من الشرك الأكبر والأصغر، والبدع القولية والعملية، والمكفرة وغير المكفرة، والكبائر والصغائر من المعاصي؛ فإنه يدخل الجنة بغير حساب ولا عذاب.ثم ذكر دليلاً على ذلك، وهو خبر إبراهيم عليه السلام، يقول الله عز وجل: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ * شَاكِرًا لِأَنْعُمِهِ} [النحل:120 - 121].فهذه مجموعة من الأعمال قام بها إبراهيم، منها: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً} [النحل:120] يعني: إماماً، والإمام لا يكون إماماً إلا إذا حقق تمام الصبر وتمام اليقين؛ لأن الله عز وجل يقول: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة:24].ومنها: أنه حنيف، والحنيف هو المنحرف عن الشرك.ومنها: أنه لم يك من المشركين، وهذه كلها تدل على تمام التوحيد عنده.ومنها: أنه كان قانتاً لله، والقنوت هو دوام الطاعة والاستمرار عليها.ومنها: قوله تعالى: {شَاكِرًا لِأَنْعُمِهِ} [النحل:121] فهذه خمسة أعمال قام بها إبراهيم، فكانت النتيجة خمس فضائل: الأولى: أنه اجتباه، أي: اصطفاه.الثانية: قوله تعالى: {وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [النحل:121].الثالثة: قوله تعالى: {وَآتَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً} [النحل:122]، والمقصود بالحسنة التي آتاه الله عز وجل إياها في الدنيا: الذكر الحسن.الرابعة: قوله تعالى: {وَإِنَّهُ فِي الآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ} [النحل:122] يعني: من أهل الجنة.الخامسة: قوله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا} [النحل:123] يعني أنه متبوع لتمام إمامته.وأما الآية الثانية التي جاء بها في المحققين للتوحيد فهي قوله تعالى: {وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ} [المؤمنون:59] وهذه الآية قبلها وبعدها آيات في هذا الموضوع، وهي قول الله عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ * وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ * أُوْلَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ} [المؤمنون:57 - 61].فهذه هي أعلى درجات توحيد الألوهية.ثم ساق حديثاً طويلاً في قصة السبعين ألفاً الذين يدخلون الجنة بغير حساب ولا عذاب، وأن السبب في تفضيلهم ودخولهم الجنة بغير حساب ولا عذاب هو تمام التوحيد؛ لأنه صلى الله عليه وسلم لما ذكر أوصافهم قال: (هم الذين لا يسترقون) يعني: لا يطلبون الرقية، والرقية سيأتي الحديث عنها إن شاء الله، (ولا يكتوون، ولا يتطيرون) يعني: لا يتشاءمون بالطيور أو غيرها، (وعلى ربهم يتوكلون)، وهذا يدل على أنهم من أهل التوحيد التام الكامل ولهذا كانوا من الذين يدخلون الجنة بغير حساب ولا عذاب.
তওহীদকে পূর্ণতা দানকারীর ফযীলততিনি যে সকল প্রকার ফযীলতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তার মধ্যে দ্বিতীয় প্রকারটি হলো তওহীদকে পূর্ণতা দানকারীর ফযীলত। আর যে ব্যক্তি তওহীদকে পূর্ণতা দান করবে, সে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। 'তওহীদ পূর্ণ করা'-এর অর্থ হলো: একে শিরক, বিদআত এবং পাপাচার থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। কেননা শিরক, বিদআত এবং পাপাচার তওহীদকে ত্রুটিযুক্ত ও দুর্বল করে দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের তওহীদকে বড় শিরক ও ছোট শিরক থেকে, কথা ও কাজের বিদআত থেকে, কুফরী পর্যায়ে নিয়ে যায় এমন ও এমন নয় এমন বিদআত থেকে এবং কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখবে; সে বিনা হিসেবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।এরপর তিনি এর স্বপক্ষে একটি দলীল উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সংবাদ। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন একনিষ্ঠ অনুগত এক উম্মাহ (ইমাম বা নেতা), তিনি ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অভিমুখী এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন আল্লাহর নেয়ামতসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞ।" [আন-নাহল: ১২০-১২১]।এগুলো ইবরাহীম কর্তৃক সম্পাদিত একগুচ্ছ আমল। তন্মধ্যে: "নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মাহ" [আন-নাহল: ১২০]। এর অর্থ হলো: ইমাম। আর একজন ইমাম ততক্ষণ ইমাম হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি ধৈর্য ও ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস) পূর্ণতা অর্জন করেন। কারণ মহান আল্লাহ বলেন: "আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত; যখন তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।" [আস-সাজদাহ: ২৪]।আর তন্মধ্যে রয়েছে: তিনি ছিলেন হানিফ। আর হানিফ হলো শিরক থেকে বিমুখ ব্যক্তি।এবং তন্মধ্যে রয়েছে: তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এই সবকটি বিষয় তার তওহীদের পূর্ণতা নির্দেশ করে।আরও রয়েছে: তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রতি কানিত (একনিষ্ঠ অনুগত)। আর কুনুত হলো আনুগত্যের ওপর সর্বদা অটল ও অবিচল থাকা।আরও রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি ছিলেন আল্লাহর নেয়ামতসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞ" [আন-নাহল: ১২১]। এগুলো হলো পাঁচটি আমল যা ইবরাহীম সম্পাদন করেছিলেন, ফলে এর ফলাফল হিসেবে পাঁচটি ফযীলত অর্জিত হয়েছিল: প্রথমত: আল্লাহ তাকে চয়ন করেছেন, অর্থাৎ মনোনীত করেছেন।দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি তাকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।" [আন-নাহল: ১২১]।তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি" [আন-নাহল: ১২২]। দুনিয়াতে আল্লাহ তাকে যে কল্যাণ দান করেছেন তার উদ্দেশ্য হলো: উত্তম খ্যাতি।第四ত: মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আখিরাতেও তিনি অবশ্যই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।" [আন-নাহল: ১২২]। অর্থাৎ: জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।পঞ্চমত: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের আদর্শ অনুসরণ করুন।" [আন-নাহল: ১২৩]। এর অর্থ হলো, তার ইমামতের পূর্ণতার কারণে তিনি অনুসৃত।আর তওহীদ পূর্ণকারীদের বিষয়ে তিনি দ্বিতীয় যে আয়াতটি এনেছেন তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না।" [আল-মুমিনূন: ৫৯]। এই আয়াতের আগে ও পরে এই বিষয় সংশ্লিষ্ট আরও কিছু আয়াত রয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে, আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না, আর যারা যা দান করার তা দান করে এবং তাদের অন্তর কম্পিত থাকে এই ভেবে যে, তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে। তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজসমূহ এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়।" [আল-মুমিনূন: ৫৭-৬১]।আর এটিই হলো তওহীদুল উলুহিয়্যাহর সর্বোচ্চ স্তর।এরপর তিনি সেই সত্তর হাজার ব্যক্তির ঘটনায় একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন যারা বিনা হিসেবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিনা হিসেবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশের কারণ হলো তওহীদের পূর্ণতা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদের গুণাবলী বর্ণনা করেছেন তখন বলেছেন: "তারা এমন লোক যারা রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) প্রার্থনা করে না" অর্থাৎ তারা রুকইয়াহ করার জন্য অন্যের কাছে অনুরোধ করে না। আর রুকইয়াহ সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচনা আসবে। "এবং তারা আগুনের ছেঁকা নেয় না, এবং তারা কুলক্ষণ গ্রহণ করে না" অর্থাৎ তারা পাখি বা অন্য কিছু দেখে অমঙ্গল কল্পনা করে না, "বরং তারা তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে"। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, তারা পূর্ণ ও নিখুঁত তওহীদের অধিকারী এবং একারণেই তারা বিনা হিসেবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حماية النبي صلى الله عليه وسلم لجناب التوحيدإن النبي صلى الله عليه وسلم لتعظيمه لتوحيد الألوهية، ولمكانة توحيد الألوهية -إذ هو أساس الدين وأصله- فقد حمى ما حوله، ولهذا حذر من أفعال قد توقع فيما ينقض أو يُنقص كمال توحيد الألوهية، وحذر من أقوال قد توقع أيضاً فيما ينقض التوحيد، ولهذا بوب الشيخ في حماية المصطفى لجناب التوحيد بابين: الباب الأول: في بداية الكتاب، وهو الباب الكائن برقم (21).والباب الثاني: في آخر الكتاب، وهو الباب الكائن برقم (65).وبعض الناس قد يقول لماذا بوب الشيخ بابين؟ ألا يكفي باب واحد؟ والجواب هو أن الباب الأول في حماية المصطفى لجناب التوحيد من الأعمال التي قد تخدش فيه.والباب الثاني في الأقوال، وهناك فرق بين الأعمال والأقوال.فأما الباب الأول فهو (باب ما جاء في حماية المصطفى صلى الله عليه وسلم لجناب التوحيد وسده كل طريق يوصل إلى الشرك، وهذا الباب أيضاً يدخل في أهمية التوحيد ومكانته ومنزلته، ولذا نلحظ أن هذه المجموعة من الأبواب متفرقة في أماكن متعددة، ومع ذلك يصلح أن ينظمها سلك واحد، وهو مفهوم توحيد الألوهية وما يتعلق به من الفضائل والحماية.قال المؤلف رحمه الله تعالى: [باب ما جاء في حماية المصطفى صلى الله عليه وسلم جناب التوحيد، وسده كل طريق يوصل إلى الشرك، وقول الله تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة:128]].هذه الآية تدل على حرص النبي صلى الله عليه وسلم على أمته، فقوله تعالى: (عَزِيزٌ عَلَيْهِ) يعني: يصعب عليه (مَا عَنِتُّمْ) أي: مشاقتكم وعنتكم، فـ (ما) هنا مصدرية، فتكون هي والفعل الذي بعدها مؤولان بالمصدر، بمعنى: عزيز عليه عنتكم.والعنت: هو المشقة، ((حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ)).فإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم حريصاً على الناس في أمورهم المعيشية؛ فإن حرصه عليهم في تاج الإسلام -وهو التوحيد- أشد وأعظم، وستأتي نماذج من ذلك.قال المؤلف رحمه الله: [عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تجعلوا بيوتكم قبوراً، ولا تجعلوا قبري عيداً، وصلوا علي؛ فإن صلاتكم تبلغني حيث كنتم) رواه أبو داود بإسناد حسن، ورواته ثقات.وعن علي بن الحسين: (أنه رأى رجلاً يجيء إلى فرجة كانت عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم فيدخل فيها فيدعو، فنهاه وقال: ألا أحدثك حديثاً سمعته من أبي عن جدي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! قال: لا تتخذوا قبري عيداً، ولا بيوتكم قبوراً، وصلوا علي؛ فإن تسليمكم يبلغني حيث كنتم) رواه في المختارة].هذا الحديث يدل على حماية النبي صلى الله عليه وسلم لجناب التوحيد، حيث يقول عليه الصلاة والسلام: (لا تجعلوا بيوتكم قبوراً).وهذا القول يحتمل معنيين: الأول: لا تدفنوا الموتى فيها.والمعنى الثاني: لا تجعلوها مثل المقبرة التي لا يصلى فيها، وكلا المعنيين يدلان على حرص النبي صلى الله عليه وسلم على تطهير جناب التوحيد من أي خدش فيه، فأما على المعنى الأول -وهو: النهي عن دفن الموتى في البيوت- فإن دفن الموتى في البيوت نوع من أنواع الغلو، وهو يفضي إلى التعظيم، ولهذا نلحظ في تاريخ المسلمين أن أكثر من أن يصنع هذا هم السلاطين والوجهاء، وأصحاب الأماكن العالية، فقد يبني أحدهم قصراً ويجعله مقبرة لنفسه، وهذا يضفي شيئاً من التعظيم على القبر الذي يدفن فيه.وقد يقول قائل: لماذا دفن النبي صلى الله عليه وسلم في بيته مع أنه نهى عن ذلك؟! فنقول: هذا من خصائصه، والدليل على كونه من خصائصه هو حديث أبي بكر الصديق رضي الله عنه عندما اختلفوا في مكان دفنه، فأخبرهم أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (ما من نبي يقبض إلا يدفن حيث قبض) يعني: يكون محل دفنه هو المكان الذي يقبض فيه ويموت فيه.وقوله: (ولا تجعلوا قبري عيداً) العيد: هو الشيء المعتاد، فهو يتضمن معنى التكرار والإعادة، ولهذا سمي بذلك عيد الأضحى وعيد الفطر لأنهما يعودان كل سنة.فقوله: (لا تجعلوا قبري عيداً) أي: لا تجعلوا زيارة قبري مثل العيد تعاودونه في كل سنة، أو في كل شهر، أو في كل فرض، أو في كل يوم، أو نحو ذلك، فمن اتخذ زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم عيداً منتظماً؛ فإنه يدخل في عموم نهيه، وهذا نص صريح على بدعة الزيارة الرجبية التي اعتادها كثير من الناس، والزيارة الرجبية هي أنهم يزورون قبر النبي صلى الله عليه وسلم في كل رجب، فهذه بدعة؛ لأنهم جعلوا زيارته في رجب عيداً يعتادونه، وهي بدعة ومنكر.وهناك كثير من الناس يعترض علينا عندما نذكر أنواعاً من الزيارات البدعية أو التصرفات البدعية في التعامل مع النبي صلى الله عليه وسلم بأننا لا نحب النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا باطل وفاسد، فإن أهل التوحيد هم من أشد الناس محبة وتعظيماً للنبي ص
তাওহীদের পবিত্রতা রক্ষায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদক্ষেপনিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদতগত তাওহীদের (তাওহীদ আল-উলুহিয়্যাহ) প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন এবং এর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে—যেহেতু এটিই দ্বীনের ভিত্তি ও মূল উৎস—এর চারপাশকে সুরক্ষিত করেছেন। এই কারণেই তিনি এমন সব কাজ থেকে সতর্ক করেছেন যা তাওহীদের পূর্ণতাকে নষ্ট করে বা এর পূর্ণতায় ঘাটতি সৃষ্টি করে। তিনি এমন সব কথা থেকেও সতর্ক করেছেন যা তাওহীদকে বিনষ্ট করতে পারে। এজন্য শায়খ তাওহীদের পবিত্রতা রক্ষায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদক্ষেপ সম্পর্কে দুটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন: প্রথম অধ্যায়টি বইয়ের শুরুতে, যা ২১ নম্বর অধ্যায়।আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি বইয়ের শেষে, যা ৬৫ নম্বর অধ্যায়।কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, কেন শায়খ দুটি অধ্যায় নির্ধারণ করলেন? একটি কি যথেষ্ট ছিল না? এর উত্তর হলো, তাওহীদের পবিত্রতা রক্ষায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম অধ্যায়টি এমন সব আমল বা কাজ সম্পর্কিত যা এতে ফাটল ধরাতে পারে।আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি কথা বা বাচনিক বিষয় সম্পর্কিত। আর আমল ও কথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।প্রথম অধ্যায়টি হলো: 'তাওহীদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিরকের দিকে ধাবিতকারী প্রতিটি পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার বর্ণনা।' এই অধ্যায়টিও তাওহীদের গুরুত্ব ও মর্যাদার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। আমরা লক্ষ্য করি যে, এই অধ্যায়গুলো বইয়ের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকলেও এগুলোকে একটি সুতোয় গাঁথা সম্ভব, আর তা হলো তাওহীদ আল-উলুহিয়্যাহর ধারণা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মর্যাদা ও সুরক্ষা।লেখক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: [অধ্যায়: তাওহীদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিরকের দিকে ধাবিতকারী প্রতিটি পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার বর্ণনা। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, যা তোমাদের কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়াময়।} (সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮)]।এই আয়াতটি তাঁর উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবল মমত্ববোধ ও আকাঙ্ক্ষার প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তাআলার বাণী: (আযীযুন আলাইহি) অর্থাৎ তাঁর জন্য অসহনীয় বা কঠিন হয় (মা আনিত্তুম) অর্থাৎ তোমাদের কষ্টে নিপতিত হওয়া। এখানে 'মা' শব্দটি ক্রিয়ামূলের (মাসদারিয়া) অর্থ প্রদান করে, ফলে এটি এবং এর পরবর্তী ক্রিয়াটি সম্মিলিতভাবে ক্রিয়ামূলের অর্থ দেয়, যার অর্থ হলো: তোমাদের কষ্টে নিপতিত হওয়া তাঁর জন্য পীড়াদায়ক।আর 'আনাত' মানে হলো কষ্ট বা ক্লান্তি। {তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়াময়।}নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়ে এতটা ব্যাকুল হয়ে থাকেন, তবে ইসলামের মুকুট—অর্থাৎ তাওহীদের—ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাকুলতা আরও তীব্র ও মহান। এর কিছু নমুনা সামনে আসবে।লেখক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: [আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর দরূদ পাঠ করো; কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে।) এটি আবু দাউদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।আলী ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত: (তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের কাছে একটি ছিদ্রপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে এবং সেখানে দোয়া করছে। তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদিস শোনাব না যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে, তিনি আমার দাদার কাছ থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন: তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর সালাম পাঠ করো; কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের সালাম আমার কাছে পৌঁছে।) এটি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।]এই হাদিসটি তাওহীদের মর্যাদা রক্ষায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কতার প্রমাণ দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন: (তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না)।এই বাণীর দুটি অর্থ হতে পারে: প্রথমত, তোমাদের মৃতদের ঘরে দাফন করো না।আর দ্বিতীয় অর্থ হলো: ঘরগুলোকে এমন কবরস্থানের মতো করো না যেখানে সালাত আদায় করা হয় না। উভয় অর্থই তাওহীদের পবিত্রতাকে যে কোনো আঘাত থেকে মুক্ত রাখার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রথম অর্থ অনুযায়ী—অর্থাৎ ঘরে মৃতদেহ দাফন করতে নিষেধ করা—ঘরে দাফন করা এক প্রকার অতিরঞ্জন, যা অতি-ভক্তির দিকে নিয়ে যায়। এ কারণেই আমরা মুসলিম ইতিহাসে লক্ষ্য করি যে, শাসকবর্গ, প্রভাবশালী এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই এটি বেশি করে থাকেন। তাদের কেউ হয়তো একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং সেটিকে নিজের কবরস্থানে পরিণত করেন, যা সেখানে দাফনকৃত কবরের প্রতি এক ধরনের মহিমা বা অতি-ভক্তি আরোপ করে।এখন কেউ বলতে পারেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তাঁর ঘরে দাফন হলেন অথচ তিনি তা নিষেধ করেছেন? আমরা বলব: এটি তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের (খাসায়েস) অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হলো আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিস, যখন সাহাবীগণ তাঁর দাফনের স্থান নিয়ে মতভেদ করছিলেন, তখন তিনি তাদের জানিয়েছিলেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: (কোনো নবী মৃত্যুবরণ করেন না যতক্ষণ না তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয় যেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন)। অর্থাৎ তাঁর দাফনের স্থান হবে সেই জায়গা যেখানে তাঁর জান কবজ করা হয়েছে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।আর তাঁর বাণী: (এবং আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না)। উৎসব (ঈদ) হলো এমন বিষয় যা নিয়মিত পুনরাবৃত্তি হয়। এটি পুনরাবৃত্তি ও বারবার ফিরে আসার অর্থ বহন করে, আর এই কারণেই ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরকে এই নামে অভিহিত করা হয় যেহেতু এগুলো প্রতি বছর ফিরে আসে।সুতরাং তাঁর কথা: (আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না)-এর অর্থ হলো: আমার কবর যিয়ারতকে উৎসবের মতো করো না যা তোমরা প্রতি বছর, প্রতি মাসে, প্রতি ওয়াক্তে বা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পালন করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে পালিত নিয়মিত উৎসবের রূপ দেবে, সে এই সাধারণ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি 'রজবীয়াহ যিয়ারত' নামক বিদআতের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট দলিল যা অনেক মানুষ অভ্যাসে পরিণত করেছে। রজবীয়াহ যিয়ারত হলো তারা প্রতি রজব মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করে। এটি একটি বিদআত; কারণ তারা তাঁর যিয়ারতকে রজব মাসের জন্য একটি উৎসবে পরিণত করেছে যা তারা নিয়মিত পালন করে। এটি একটি বিদআত ও অন্যায় কাজ।অনেকে আমাদের ওপর আপত্তি তোলেন যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রকার বিদআতি যিয়ারত বা বিদআতি আচরণের কথা উল্লেখ করি এই বলে যে, আমরা নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি না। এটি একটি বাতিল ও ভ্রান্ত কথা। কারণ তাওহীদপন্থীরাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
طرق دراسة التوحيد والإيمانإن طريقة دراسة العلماء لتوحيد الألوهية هي مثل طريقة دراسة كتاب الإيمان، وذلك أنهم يدرسون الإيمان والتوحيد بطريقتين: الطريقة الأولى: طريقة التأصيل أو التصحيح.الطريقة الثانية: طريقة التعميق.ومعنى طريقة التصحيح: أن يصحح مفهوم التوحيد، ويصحح ما حوله من المفاهيم؛ حتى لا يقع فيها غبش ولا يقع فيها إشكال، ويحفظ للأمة دينها إلى قيام الساعة، فيعرف الإنسان ما هو توحيد مما هو شرك، ويميز الإنسان الإيمان عن الكفر، فهذه الطريقة تسمى طريقة التصحيح، وذلك لأن المفاهيم الشرعية -كالإيمان، وتوحيد الألوهية وغيرهما- دخل فيها غبش كثير بسبب الفرق الضالة، فاحتاج أهل السنة إلى أن يصححوا المفاهيم الشرعية للرد على الفرق الضالة، ولبيان المعتقد الصحيح من واقع الكتاب والسنة.وهذه الطريقة الأولى هي الطريقة التي نسير عليها في شرحنا هنا.وأما طريقة التعميق فهي: تربية القلب والتطبيق الفعلي لتوحيد الألوهية والإيمان، وذلك التطبيق منازل عظيمة، ولذلك ألف ابن القيم رحمه الله (مدارج السالكين في منازل إياك نعبد وإياك نستعين) يعني: في منازل العبودية، ومنازل العبودية هي نفسها منازل توحيد الألوهية، وتوحيد الألوهية هو نفسه توحيد العبودية، فأدخل فيها التوكل على الله، والمحبة، والرجاء، والصدق مع الله، والإخلاص، والتوكل والإنابة ونحو ذلك من المنازل العظيمة من منازل الإيمان التي تشرح الصدر وتنير العقل، وتنير للإنسان طريقه، وتجعله في أعلى درجات الإيمان.وهذه الطريقة الثانية هي التي تربى عليها أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قبل ظهور الفرق الضالة التي غيرت المفاهيم الشرعية، مثل: مفهوم توحيد الألوهية، أو مفهوم توحيد الأسماء والصفات، أو مفهوم الإيمان، فالصحابة رضوان الله عليهم ما كانوا يدرسون الإيمان بأنه قول وعمل يزيد وينقص، وغير ذلك من التعريفات التي نقرؤها في متون العقيدة، وإنما كانوا يطبقون ذلك عملياً في حياتهم.ودليل ذلك أن لقيط بن صبرة جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله يضحك من قنوط عباده وقرب غِيَرِهِ) فلم يكتف لقيط بن صبرة إثبات صفة الضحك فقط، بل قال: (يا رسول الله! أو يضحك الرب؟! قال: نعم.قال: لن نعدم من رب يضحك خيراً) يعني أن الرب الذي يضحك لن نعدم منه الخير، فاستفاد منه عبادة قلبية، وهي الرجاء، والرجاء سيدفعه إلى المحبة، وهكذا منازل الإيمان يقرب بعضها من بعض.فانظر كيف استفاد من توحيد الأسماء والصفات في رفعة الإيمان القلبي، ولهذا كان لابد من التنبه لهذه القضية، وبيان أن الدراسة تكون بطريقتين: طريقة التصحيح، وطريقة التعميق، ونحن بحاجة إلى دراسة التوحيد والإيمان بهاتين الطريقتين، ولا يصح الاكتفاء بواحدة دون الأخرى.
তৌহিদ ও ঈমান অধ্যয়নের পদ্ধতিসমূহওলামায়ে কেরাম যেভাবে উলুহিয়্যাহর তৌহিদ অধ্যয়ন করেন, তা ঠিক ঈমান অধ্যায় অধ্যয়নের পদ্ধতির মতোই। আর তা হলো তাঁরা ঈমান ও তৌহিদকে দুটি পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেন: প্রথম পদ্ধতি: মূলনীতি নির্ধারণ বা সংশোধন পদ্ধতি।দ্বিতীয় পদ্ধতি: গভীরতা অর্জন পদ্ধতি।সংশোধন পদ্ধতির অর্থ হলো: তৌহিদের সঠিক ধারণাকে সংশোধন করা এবং এর চারপাশের ধারণাগুলোকে ত্রুটিমুক্ত করা; যাতে তাতে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা তৈরি না হয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের দ্বীন সুরক্ষিত থাকে। ফলে মানুষ বুঝতে পারে কোনটি তৌহিদ আর কোনটি শিরক, এবং মানুষ ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এই পদ্ধতিকে সংশোধন পদ্ধতি বলা হয়, কারণ বিভ্রান্ত ফেরকাগুলোর কারণে ঈমান এবং উলুহিয়্যাহর তৌহিদসহ বিভিন্ন শরয়ি ধারণায় অনেক অস্পষ্টতা প্রবেশ করেছে। তাই আহলে সুন্নাতের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল কুরআন ও সুন্নাহর বাস্তবতা থেকে সঠিক আকিদা বর্ণনা করার মাধ্যমে এই শরয়ি ধারণাগুলোকে সংশোধন করা এবং বিভ্রান্ত ফেরকাগুলোর জবাব দেওয়া।আর এই প্রথম পদ্ধতিটিই হলো সেই পথ, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা এখানে আমাদের ব্যাখ্যা প্রদান করছি।আর গভীরতা অর্জন পদ্ধতি হলো: অন্তরের তারবিয়ত বা প্রশিক্ষণ এবং উলুহিয়্যাহর তৌহিদ ও ঈমানের বাস্তব প্রয়োগ। সেই প্রয়োগের স্তরগুলো অত্যন্ত মহান, আর সেজন্যই ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) 'মাদারিজুস সালিকিন ফি মানাজিলি ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন' (অর্থাৎ: একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য চাই—এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত দাসত্বের স্তরসমূহে পথিকদের মঞ্জিলসমূহ) রচনা করেছেন। অর্থাৎ দাসত্বের স্তরসমূহ; আর দাসত্বের এই স্তরগুলোই হলো মূলত উলুহিয়্যাহর তৌহিদের স্তর। উলুহিয়্যাহর তৌহিদই মূলত ইবাদতের তৌহিদ। এর মধ্যে তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা, ভালোবাসা, আশা, আল্লাহর প্রতি সততা, নিষ্ঠা, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং ঈমানের এ জাতীয় মহান স্তরগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা বক্ষকে প্রশস্ত করে, জ্ঞানকে আলোকিত করে, মানুষের পথকে উদ্ভাসিত করে এবং তাকে ঈমানের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেয়।এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটির ওপর ভিত্তি করেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ সেই সব বিভ্রান্ত ফেরকা আত্মপ্রকাশ করার আগে গড়ে উঠেছিলেন, যারা উলুহিয়্যাহর তৌহিদ, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তৌহিদ কিংবা ঈমানের মতো শরয়ি ধারণাগুলোকে পরিবর্তন করে ফেলেছিল। সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন) ঈমানকে এভাবে পাঠ করতেন না যে, 'এটি কথা ও কাজের সমষ্টি যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়', কিংবা আকিদার কিতাবগুলোতে আমরা যে ধরণের সংজ্ঞা পড়ি সেভাবেও নয়; বরং তাঁরা এগুলো তাঁদের জীবনে বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করতেন।এর প্রমাণ হলো, লাকিত বিন সাবরাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হতাশা এবং তাঁর করুণার নৈকট্য দেখে হাসেন।" লাকিত বিন সাবরাহ কেবল আল্লাহর হাসার গুণটি সাব্যস্ত করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিপালক কি হাসেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"তিনি বললেন: "যে প্রতিপালক হাসেন, আমরা তাঁর থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হব না।" অর্থাৎ যে প্রতিপালক হাসেন তাঁর কাছ থেকে আমরা অবশ্যই কল্যাণ পাব। তিনি এখান থেকে একটি আত্মিক ইবাদত গ্রহণ করলেন, আর তা হলো 'আশা'। আর এই আশাই তাকে 'ভালোবাসা'র দিকে ধাবিত করবে। এভাবেই ঈমানের স্তরগুলো একে অপরের নিকটবর্তী করে দেয়।লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তৌহিদ থেকে অন্তরের ঈমানি উন্নতির ফায়দা হাসিল করলেন। এজন্যই এই বিষয়টি অনুধাবন করা এবং এটি স্পষ্ট করা জরুরি যে, অধ্যয়ন দুই পদ্ধতিতে হতে হবে: সংশোধন পদ্ধতি এবং গভীরতা অর্জন পদ্ধতি। আমাদের তৌহিদ ও ঈমানকে এই উভয় পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন, একটিকে ছেড়ে কেবল অন্যটির ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الدعوة إلى توحيد الألوهيةإن الدعوة إلى توحيد الألوهية هي حقيقة دعوة الرسل، فالرسل جميعاً يدعون إلى توحيد الألوهية، يقول الله عز وجل: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل:36].فعبادة الله واجتناب الطاغوت هما مفهوم (لا إله إلا الله)، وهو توحيد الألوهية، وهذا يدل على أن التوحيد هو أول أمر يجب أن يبدأ به الإنسان في الدعوة إلى الله عز وجل، وينبغي على الداعي إلى الله عز وجل أن تكون العقيدة هي محور دعوته، وأن يربط كل قضايا دعوته بالعقيدة؛ لأن العقيدة هي أساس الدين، ولهذا لما أرسل النبي صلى الله عليه وسلم معاذاً إلى اليمن قال له: (إنك تأتي قوماً من أهل الكتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله)، وفي بعض الألفاظ: (إلى أن يوحدوا الله).وهذا يدل على أن أول واجب يجب على الناس هو توحيد الله، وأول ما يجب أن ندعو إليه هو العقيدة والتوحيد.وبهذا يتضح لنا فساد كثير من المناهج الضالة، ومن ذلك فساد حوار الأديان أو حوار الحضارات، وحوار الحضارات هو نفسه حوار الأديان؛ إلا أن كلمة (الأديان) حينما كانت حساسة جاء وابدلا عنها بكلمة الحضارات، والحضارات المقصود بها الطريقة التي تكون متبعة في الغالب لدين من الأديان؛ إذ الأديان ليست طريقة واحدة، وإنما هي طرق متعددة.فمن الناس من يدعو إلى توحيد الأديان، فلا ينكر بعضهم على بعض، ولا يكفر بعضهم بعضاً، وهذه الدعوة بهذا المفهوم هي شرك وكفر؛ لأن ترك تكفير أهل الكتاب من الكفر، هذا النوع الأول.ومن الناس من يدعو إلى حوار الأديان، كما يحصل لكثير من الدعاة إلى الله عز وجل، فيقولون: نحن ندعو إلى حوار الأديان، ويقولون: نحن نكفرهم، وإنما نسكت عن القضايا الخلافية، ونبحث في القضايا المشتركة فيما بيننا.ومن القضايا المشتركة -مثلاً-: القضاء على الفقر والمخدرات، والتعاون على رفع الظلم عن المظلومين وعن الشعوب المضطهدة، وهكذا.وأما القضايا التي يكون فيها خلاف بيننا وبين اليهود أو بيننا وبين النصارى فهذه لا نثيرها؛ لأنا إذا أثرناها سيصبح هناك خلاف.فما هو حكم هذا النوع من أنواع الحوار؟ نقول: هذا بدعة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم والأنبياء من قبله كان بينهم وبين أقوامهم حوار، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتي إلى قومه ويحاورهم، فكيف كان حوار النبي صلى الله عليه وسلم مع قومه ومع أهل الأديان، وحوار الأنبياء السابقين مع أهل الأديان؟ لقد كان عن طريق دعوتهم إلى التوحيد، فقد كان الرسل يأتون إلى أقوامهم ويقولون لهم: ما أنتم عليه شرك أكبر، والواجب هو أن تسلموا لهذا الدين.ثم يقومون بإثبات هذا الدين بالأدلة التفصيلية وإبطال دينهم بالأدلة التفصيلية.أما حوار الأديان الموجود الآن فهو بدعة؛ لأنه يجتمع فيه مجموعة من القساوسة ومجموعة من المسلمين في مكان واحد، ولا يقول المسلمون للقساوسة أسلموا، ولا يقولون لهم: هذا الدين خير لكم، ونحن نثبت لكم بالبراهين والأدلة أن الإسلام دين صحيح وأن دين النصرانية فاسد، بل يتواصون بترك ذلك، ويقولون: لا نريد أن نثير الخلاف فيما بيننا، فأنتم لكم خصائص دينكم، ونحن لنا خصائص ديننا، وأنتم ترون ديننا باطلاً، ونحن نرى دينكم باطلاً، ولكننا لا نريد النقاش في هذا الموضوع؛ لأن هذا الموضوع يفرق بيننا، ونحن لا نريد أن نتفرق، بل نريد أن نجتمع، فيتناقشون في دفع الفقر، فيقولون: هناك بلاد فقيرة، فلنتعاون على أن ندفع الفقر الموجود فيها، أو يقولون: هناك شعوب مضطهدة نريد أن ندافع عنها.والمسلمون الذين يشاركون في حوار الأديان عندما يدخلون فيها يكون هدفهم هو تحريك النصارى لإنكار عمل اليهود في فلسطين، ومع هذا ما استطاعوا أن يصنعوا شيئاً، وربما أنكرت مجموعة منهم، ومجموعة لم تنكر.ومن أهداف أولئك المحاورين من المسلمين ما يعبرون عنه بقولهم: إننا نعيش في مرحلة استضعاف، وما دام أننا نعيش في مرحلة استضعاف فمن الخطأ الكبير أن يكون بيننا وبين الحضارات الأخرى -مثل: الحضارة الغربية- صدام، فهذا لا يمكن؛ لأننا لا نستطيع الصدام.ولهذا فإن الذين يدعون إلى حوار الحضارات يجرون في ركب الحضارة القوية ويتابعونها، ويقولون: نحن لا نريد الصراع بين الحضارات.مع أن الحقيقة هي أن الصراع مستمر بين الحق والباطل، سواءٌ أكان هذا الحق ديناً أم حضارة وسواء أكان الباطل ديناً أم حضارة، فلابد من الصراع.والواجب هو الالتزام بالحق والدفاع عنه، ودعوة الناس إليه، بأن نقول لهم: ندعوكم إلى هذا الدين بالبراهين ولترك ما أنتم عليه من الدين؛ لأن فيه فساداً.وبهذه الطريقة نستطيع أن ندخل معهم في الدعوة، أما أن نسكت عن القضايا الخلافية فلا؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم عندما جاء إلى كفار قريش لم يسكت عن القضايا الخلافية، مثل عبادة الأصنام، ومثل عدم تصديق النبوة الجديدة، ولم يقل: علينا أن نجتمع ليصير بيننا وبينك
উলুহিয়্যাহর তাওহিদের প্রতি দাওয়াতনিশ্চয়ই উলুহিয়্যাহর তাওহিদের দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হচ্ছে রাসূলগণের দাওয়াতের প্রকৃত সারবত্তা। কেননা সকল রাসূলই উলুহিয়্যাহর তাওহিদের দিকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬]।সুু্তরাং আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাগুতকে বর্জন করাই হলো (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর মূল মর্মার্থ, যা মূলত উলুহিয়্যাহর তাওহিদ। এটি প্রমাণ করে যে, তাওহিদই হলো প্রথম বিষয় যা দিয়ে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে একজন মানুষের শুরু করা উচিত। আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর উচিত আকিদাকেই তার দাওয়াতের কেন্দ্রবিন্দু বানানো এবং দাওয়াতের সকল বিষয়কে আকিদার সাথে সম্পৃক্ত করা; কারণ আকিদাই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" কিছু বর্ণনায় এসেছে: "যতক্ষণ না তারা আল্লাহর একত্ববাদকে (তাওহিদ) গ্রহণ করে।"এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের ওপর প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কাজ হলো আল্লাহর তাওহিদ এবং আমাদের পক্ষ থেকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রথম আবশ্যকীয় বিষয় হলো আকিদা ও তাওহিদ।এর মাধ্যমে আমাদের কাছে অনেক পথভ্রষ্ট মানহাজ বা পদ্ধতির অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি হলো আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বা সভ্যতার সংলাপের অসারতা। সভ্যতার সংলাপ মূলত আন্তঃধর্মীয় সংলাপেরই নামান্তর; তবে 'ধর্ম' শব্দটি সংবেদনশীল হওয়ার কারণে তারা এর পরিবর্তে 'সভ্যতা' শব্দটি ব্যবহার করেছে। আর সভ্যতা বলতে সাধারণত কোনো ধর্মের অনুসৃত পথকেই বোঝানো হয়; যেহেতু ধর্মগুলো কোনো একক পথ নয়, বরং সেগুলো বিভিন্ন বহুমুখী পথ।মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ধর্মের ঐক্য বা সকল ধর্ম একীভূত করার দিকে আহ্বান করে। ফলে তারা একে অপরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে না এবং একে অপরকে কাফির বলে গণ্য করে না। এই চিন্তাধারার দাওয়াত হলো শিরক এবং কুফর; কারণ আহলে কিতাবদের কাফির মনে না করাও কুফরি। এটি হলো প্রথম প্রকার।আবার মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আন্তঃধর্মীয় সংলাপের দিকে আহ্বান জানায়, যেমনটা আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারী অনেক দয়ীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তারা বলে: আমরা আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আহ্বান জানাই এবং আমরা তাদের কাফির মনে করি, কিন্তু আমরা মতভেদের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলি এবং আমাদের মধ্যকার অভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি।অভিন্ন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যেমন—দারিদ্র্য বিমোচন, মাদক নির্মূল এবং মজলুম ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর ওপর থেকে জুলুম দূর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ইত্যাদি।আর আমাদের এবং ইহুদি বা খ্রিস্টানদের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সেগুলো আমরা উত্থাপন করি না; কারণ সেগুলো উত্থাপন করলে মতভেদ সৃষ্টি হবে।এই ধরণের সংলাপের বিধান কী? আমরা বলব: এটি একটি বিদআত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের সাথে তাঁদের কওম বা জাতির সংলাপ হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের কাছে আসতেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করতেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওম ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে এবং পূর্ববর্তী নবীগণ তাঁদের সমসাময়িক ধর্মাবলম্বীদের সাথে কীভাবে সংলাপ করতেন? তা ছিল মূলত তাদের তাওহিদের দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে। রাসূলগণ তাঁদের জাতির কাছে আসতেন এবং বলতেন: তোমরা যে পথে আছ তা হলো শিরকে আকবর বা বড় শিরক, আর তোমাদের ওপর ওয়াজিব হলো এই দ্বীনের অনুগত হওয়া।অতঃপর তারা বিস্তারিত দলিলের মাধ্যমে এই দ্বীনকে সত্য প্রমাণ করতেন এবং বিস্তারিত দলিলের মাধ্যমেই তাদের বাতিল ধর্মকে অসার প্রমাণ করতেন।পক্ষান্তরে বর্তমানে প্রচলিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ একটি বিদআত; কারণ এখানে একদল পাদ্রি এবং একদল মুসলিম একস্থানে মিলিত হয়, অথচ মুসলিমরা পাদ্রিদের ইসলাম গ্রহণ করার কথা বলে না। তারা তাদের বলে না যে: এই দ্বীনই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর আমরা দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তোমাদের কাছে এটি প্রমাণ করছি যে ইসলামই একমাত্র সত্য দ্বীন এবং খ্রিস্টধর্ম বাতিল। বরং তারা এসব বিষয় বর্জন করার ব্যাপারে আপস করে এবং বলে: আমরা আমাদের মধ্যকার মতভেদগুলোকে উস্কে দিতে চাই না। আপনাদের ধর্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, আমাদের ধর্মেরও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। আপনারা আমাদের দ্বীনকে বাতিল মনে করেন এবং আমরাও আপনাদের ধর্মকে বাতিল মনে করি, তবে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই না; কারণ এই বিষয়টি আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করবে। আর আমরা বিভেদ চাই না, বরং ঐক্য চাই। এরপর তারা দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে আলোচনা করে এবং বলে: অমুক দেশগুলো দরিদ্র, চলুন আমরা সবাই মিলে সেখানকার দারিদ্র্য দূর করতে সহযোগিতা করি। অথবা তারা বলে: অমুক নিপীড়িত জাতিগুলোকে আমরা রক্ষা করতে চাই।যেসব মুসলিম এই আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশ নেয়, তাদের উদ্দেশ্য থাকে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে খ্রিস্টানদের উদ্বুদ্ধ করা। অথচ তা সত্ত্বেও তারা কিছুই করতে পারেনি। বড়জোর তাদের মধ্যে একদল প্রতিবাদ করেছে, অন্য দল করেনি।এই মুসলিম আলোচকদের অন্যতম একটি লক্ষ্য হলো—যেমনটি তারা তাদের ভাষায় প্রকাশ করে—আমরা এখন দুর্বল অবস্থায় আছি। আর যতক্ষণ আমরা দুর্বল অবস্থায় আছি, ততক্ষণ অন্যান্য সভ্যতার সাথে—যেমন পশ্চিমা সভ্যতা—সংঘাতে লিপ্ত হওয়া হবে এক বিরাট ভুল। এটি সম্ভব নয়; কারণ আমাদের সংঘাত করার সক্ষমতা নেই।এই কারণেই যারা সভ্যতার সংলাপের দিকে আহ্বান জানায়, তারা শক্তিশালী সভ্যতার অনুগামী হয়ে চলে এবং বলে: আমরা সভ্যতার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব চাই না।অথচ বাস্তবতা হলো—হক ও বাতিলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব চিরন্তন; চাই সেই হক কোনো দ্বীন হোক বা সভ্যতা, আর চাই সেই বাতিল কোনো দ্বীন হোক বা সভ্যতা। সেখানে দ্বন্দ্ব অনিবার্য।সুতরাং আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো হকের ওপর অটল থাকা, হকের প্রতিরক্ষা করা এবং মানুষকে এর দিকে দাওয়াত দেওয়া। আমরা তাদের বলব: আমরা আপনাদের দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে এই দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিচ্ছি এবং আপনারা যে ধর্মের ওপর আছেন তা বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি; কারণ তাতে ভ্রষ্টতা রয়েছে।এই পদ্ধতিতেই আমরা দাওয়াতের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারি। তবে মতভেদের বিষয়গুলোতে চুপ থাকা যাবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরাইশ কাফিরদের কাছে এসেছিলেন, তখন তিনি মতভেদের বিষয়গুলোতে—যেমন মূর্তিপূজা এবং তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করার বিষয়গুলো নিয়ে—চুপ থাকেননি। তিনি বলেননি যে: আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই যাতে আমাদের ও আপনাদের মাঝে...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الجمع بين كون مآل مرتكب الكبيرة إلى الجنة وما جاء من النصوص في خلوده في النار السؤال ذكرتم أن صاحب التوحيد مصيره إلى الجنة، فما قولكم في قوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا} [النساء:93]، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: (من تردى من جبل فقتل نفسه فهو في نار جهنم يتردى فيها خالداً مخلداً فيها)؟ الجواب هناك قاعدة من القواعد في الاستدلال، وهي أن أي مسألة من المسائل لابد من جمع الأدلة فيها، فقول الله عز وجل: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا} [النساء:93] هو في مسألة قتل المسلم لأخيه المسلم، لكن هناك آيات أخرى اعتبرت القاتل مسلماً، منها قوله تعالى: {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ} [البقرة:178] فوصفه بالأخوة في الدين، ولو كان كافراً مخلداً في النار لما كان أخاً في الدين.ثم إن من الأحكام المجمع عليها في مسألة القتل أن ولي الدم يجوز أن يعفو عن القاتل، ولو كان كافراً خالداً في النار لما جاز العفو عنه، ولقتل بسبب الردة والكفر لو كان القتل في ذاته كفراً، وكذلك في سورة الحجرات يقول الله عز وجل: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا} [الحجرات:9] فوصفهما بالإيمان مع وجود الاقتتال بينهما، فكل هذا يدل على أن القتل ليس كفراً مخرجاً من الملة، بل هو من الذنوب والمعاصي.وأما قوله تعالى: {خَالِدًا فِيهَا} [النساء:93] فإن الخلود نوعان: الأول: خلود أبدي، وهذا لا يكون إلا للكافر الذي ليس بمسلم.الثاني: طول المكث، ولهذا عندما يسمون شخصاً باسم خالد هل يقصدون أنه خالد فعلاً لا يموت؟! لا، فهم يعرفون أنه سيموت، ولكن يتمنون له طول الحياة، ولهذا سموه بهذا الاسم، وهذا أمر سائغ في لغة العرب ولا إشكال فيه، وهكذا يفهم حديث: (من تردى من جبل فقتل نفسه فهو في نار جهنم يتردى فيها خالداً مخلداً فيها).
কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির শেষ পরিণতি জান্নাত হওয়া এবং জাহান্নামে চিরকাল থাকা সংক্রান্ত দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় প্রশ্নআপনারা উল্লেখ করেছেন যে, তাওহীদপন্থী ব্যক্তির গন্তব্য হলো জান্নাত। তাহলে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী: "আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার প্রতিদান হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে" [আন-নিসা: ৯৩], এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল একইভাবে পাহাড় থেকে পড়তে থাকবে"? উত্তরদলীল গ্রহণের অন্যতম একটি নীতি হলো, যেকোনো মাসআলায় সংশ্লিষ্ট সকল দলীল একত্রিত করা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: "আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার প্রতিদান হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে" [আন-নিসা: ৯৩] - এটি একজন মুসলিম কর্তৃক তার অপর মুসলিম ভাইকে হত্যার মাসআলা সংক্রান্ত। কিন্তু আরও কিছু আয়াত রয়েছে যেখানে হত্যাকারীকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর যার জন্য তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়" [আল-বাকারাহ: ১৭৮]। এখানে তাকে দ্বীনী ভ্রাতৃত্বের গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে; সে যদি কাফির এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হতো, তবে সে দ্বীনী ভাই হতো না।তদুপরি, হত্যার মাসআলায় সর্বসম্মত একটি বিধান হলো যে, নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য হত্যাকারীকে ক্ষমা করা জায়েজ। সে যদি কাফির এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হতো, তবে তাকে ক্ষমা করা বৈধ হতো না; বরং হত্যা স্বয়ং কুফর হলে তাকে মুরতাদ হওয়া ও কুফরের কারণে হত্যা করা হতো। অনুরূপভাবে সূরা আল-হুজুরাতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়" [আল-হুজুরাত: ৯]। এখানে তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদেরকে ঈমানের গুণে গুণান্বিত করেছেন। সুতরাং এই সবকিছু প্রমাণ করে যে, হত্যা এমন কোনো কুফর নয় যা একজনকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়, বরং এটি বড় গুনাহ ও নাফরমানির অন্তর্ভুক্ত।আর আল্লাহ তাআলার বাণী "সেখানে সে চিরকাল থাকবে" [আন-নিসা: ৯৩] এর ক্ষেত্রে বক্তব্য হলো, 'খুলুদ' বা চিরকাল থাকা দুই প্রকার: প্রথমত: অনন্তকালীন অবস্থান, যা কেবল সেই কাফিরের জন্য প্রযোজ্য যে মুসলিম নয়।দ্বিতীয়ত: দীর্ঘকাল অবস্থান করা। একারণেই যখন লোকে কোনো ব্যক্তির নাম 'খালিদ' রাখে, তখন তারা কি এই উদ্দেশ্য নেয় যে সে বাস্তবে চিরকাল বেঁচে থাকবে এবং কখনো মরবে না?! না, বরং তারা জানে যে সে মারা যাবে, কিন্তু তারা তার দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা করে এবং একারণেই তাকে এই নামে ডাকে। এটি আরবি ভাষায় একটি প্রচলিত বিষয় এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। একইভাবে এই হাদীসটিও বুঝতে হবে: "যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল একইভাবে পাহাড় থেকে পড়তে থাকবে"।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الرد على المستدل بثبوت الإسلام للناطق بكلمة التوحيد على الإصرار على المعاصي السؤال يستدل بعض الناس بحديث: (من قال: لا إله إلا الله، وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه، وحسابه على الله) على إصرارهم على فعل المعاصي، فكيف نرد على ذلك؟ الجواب ليس في الحديث أي دليل يدل على الإصرار على المعاصي؛ لأنه قال: (من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله) يريد الكفر بالشرك، أما الذنوب والمعاصي فقد وردت نصوص كثيرة تدل على أن الإنسان إذا فعلها ولم يتب فإنه تحت مشيئة الله عز وجل، فإن شاء عذبه، وإن شاء غفر له.
তৌহিদের বাণী উচ্চারণকারীর জন্য ইসলাম সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিকে পাপাচারে লিপ্ত থাকার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণকারীর প্রতিবাদ প্রশ্ন কিছু মানুষ এই হাদিস দ্বারা: (যে ব্যক্তি বলল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করল, তার সম্পদ ও রক্ত হারাম হয়ে গেল, আর তার হিসাব আল্লাহর নিকট) তাদের পাপাচারে লিপ্ত থাকার স্বপক্ষে দলিল পেশ করে; আমরা এর উত্তর কীভাবে দেব? উত্তর এই হাদিসে পাপাচারে লিপ্ত থাকার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই; কারণ তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি বলল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করল) এর দ্বারা শিরককে অস্বীকার করা উদ্দেশ্য। আর গুনাহ ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, মানুষ যদি তা করে এবং তওবা না করে, তবে সে মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন, আর চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وجه دفن أبي بكر وعمر في بيت عائشة مع النهي عن جعل البيوت قبوراً السؤال كيف دفن أبو بكر وعمر في بيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو من خصائصه؟ الجواب الخصيصة التي للنبي صلى الله عليه وسلم هي كونه دفن في بيته، فبعد أن دفن في بيته خرجت عائشة رضي الله عنها من هذا البيت، فأصبح مكاناً غير مسكون، فلم يعد بيتاً، فدفن فيه أبو بكر وعمر باعتبار أنهما من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ولمكانتهما منه، ولفظ حديث النهي: (لا تجعلوا بيوتكم قبوراً)، وحجرة عائشة رضي الله عنها بعد أن دفن فيها النبي صلى الله عليه وسلم لم تعد بيتاً لـ عائشة، ولا بيتاً -أيضاً- لـ أبي بكر، ولا بيتاً لـ عمر، فلا يشملها النهي.
আয়িশার ঘরে আবু বকর ও উমরের দাফনের কারণ এবং ঘরকে কবর বানানোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রশ্ননবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘরে আবু বকর ও উমরকে কীভাবে দাফন করা হলো, যেখানে এটি তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল? উত্তরনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য ছিল যে তাঁকে তাঁর ঘরে দাফন করা হয়েছে। তাঁর ঘরে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সেই ঘর থেকে বের হয়ে যান, ফলে সেটি একটি অনাবাসিক স্থানে পরিণত হয় এবং তখন আর সেটি ঘর হিসেবে অবশিষ্ট ছিল না। তাই আবু বকর ও উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী হওয়ার কারণে এবং তাঁর কাছে তাঁদের উচ্চ মর্যাদার খাতিরে সেখানে দাফন করা হয়েছে। আর নিষেধাজ্ঞার হাদিসের শব্দ হলো: "তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে দাফন হওয়ার পর আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কক্ষটি আর আয়িশার ঘর হিসেবে থাকেনি, আর সেটি আবু বকর বা উমরেরও ঘর ছিল না। ফলে সেই নিষেধাজ্ঞা একে অন্তর্ভুক্ত করে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نظرة في كتاب (القول المفيد على كتاب التوحيد) السؤال ما رأيكم في كتاب (القول المفيد على كتاب التوحيد)؟ الجواب هو كتاب جيد، ولكنه شرح كتاب التوحيد بالطريقة الأولى، وهي طريقة التفصيل والتطويل.
(আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহীদ) গ্রন্থের ওপর একটি পর্যালোচনা প্রশ্ন(আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহীদ) গ্রন্থটি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? উত্তরএটি একটি উত্তম গ্রন্থ, তবে এটি কিতাবুত তাওহীদকে প্রথম পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করেছে, যা হলো বিস্তারিত ও দীর্ঘ আলোচনা করার পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفرق بين الأمن المطلق ومطلق الأمن السؤال ما الفرق بين الأمن المطلق، ومطلق الأمن؟ الجواب الأمن المطلق هو الأمن التام، ومطلق الأمن هو أصل الأمن، كما تقول: مطلق العموم والعموم المطلق، والعموم المطلق هو العموم التام، ومطلق العموم هو أصل العموم، وهكذا في غير هذا المثال.
পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার সাধারণ রূপের মধ্যে পার্থক্য প্রশ্ন পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার সাধারণ রূপের মধ্যে পার্থক্য কী? উত্তর পূর্ণ নিরাপত্তা হলো পরিপূর্ণ নিরাপত্তা, এবং নিরাপত্তার সাধারণ রূপ হলো নিরাপত্তার মূল ভিত্তি; যেমন আপনি বলেন: ব্যাপকতার সাধারণ রূপ এবং পূর্ণ ব্যাপকতা। পূর্ণ ব্যাপকতা হলো পরিপূর্ণ ব্যাপকতা এবং ব্যাপকতার সাধারণ রূপ হলো ব্যাপকতার মূল ভিত্তি। অনুরূপভাবে অন্যান্য উদাহরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حكم تبليغ السلام للرسول السؤال نسمع بعض الناس يقول لغيره: إذا ذهبت إلى المدينة فبلغ سلامي للرسول صلى الله عليه وسلم، فما حكم ذلك؟ الجواب هذا جاهل؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر أن الإنسان إذا سلم عليه في أي مكان فإن سلامه يبلغه حيث كان.
রাসুলের নিকট সালাম পৌঁছানোর বিধান প্রশ্নআমরা কিছু মানুষকে অন্যকে বলতে শুনি: "আপনি যখন মদিনায় যাবেন, তখন আল্লাহর রাসুলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) নিকট আমার সালাম পৌঁছে দেবেন।" এর বিধান কী? উত্তরএটি অজ্ঞতা; কারণ নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) সংবাদ দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি যেকোনো স্থান থেকে তাঁর প্রতি সালাম পাঠালে, সেই সালাম তাঁর নিকট পৌঁছে যায় তিনি যেখানেই থাকুন না কেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حكم الوقوف عند قبر القريب للدعاء له السؤال عند زيارتي للقبور لإحياء السنة هل يجوز لي أن أقف بجوار قبر والدي لأدعو له؟ الجواب نعم يجوز أن تقف بجواره وأن تدعو له.
আত্মীয়র কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুআ করার বিধান প্রশ্ন সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমি যখন কবর যিয়ারত করি, তখন কি আমার পিতার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দুআ করা আমার জন্য বৈধ হবে? উত্তর হ্যাঁ, তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁর জন্য দুআ করা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حكم تارك الصلاة والصيام مع نطقه بالشهادتين ودعواه الإسلام السؤال ما رأيكم فيمن يقول: (لا إله إلا الله) ولكنه لا يصلي ولا يصوم، ويقول: إنه مسلم؟ الجواب لا يكفي قول (لا إله إلا الله) بدون الالتزام بشروطها ومقتضياتها، فلا إله إلا الله لها شروط ومقتضيات من حققها كان موحداً، ومن لم يحققها فإنه لا يكون موحداً، منها أنه يشترط في (لا إله إلا الله) أن يقولها صاحبها وهو مخلص يبتغي بذلك وجه الله، وأن يكفر بالطاغوت، وأن يقولها عن يقين، وأن يلتزم بها، ولهذا جاء في قصة اليهوديين اللذين أتيا إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنهما قالا: (نشهد أنك رسول الله فقال: ما يمنعكما أن تتبعاني؟ فقالا: تقتلنا يهود)، فتركا الالتزام بها، ولم يكن قولهما: (نشهد أنك رسول الله) مفيداً لهما بأي حال من الأحوال؛ لأنه لابد من الالتزام والانقياد لكلمة التوحيد، ولهذا فإن هرقل عظيم الروم عندما جاءه كتاب النبي صلى الله عليه وسلم عرف أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقال: (والله لو خلصت إليه لغسلت عن قدميه وشربت ماءهما) وكان يعرف أنه رسول الله، ولهذا جمع أساقفته في (دسكرة) واحدة وخرج عليهم من شرفة، ونصحهم بأن يلتزموا بالإسلام، ولكنهم اتجهوا إلى الأبواب فوجدوها مغلقة، فقال: ردوهم علي، ثم قال: إنما كنت أختبر التزامكم بدينكم.أسأل الله عز وجل أن يوفقنا وإياكم لكل خير، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
কালিমা শাহাদাত পাঠ করা এবং ইসলাম দাবি করা সত্ত্বেও সালাত ও সিয়াম পরিত্যাগকারীর বিধান প্রশ্নসেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে বলে: (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), কিন্তু সে সালাত আদায় করে না এবং সিয়াম পালন করে না, অথচ সে দাবি করে যে সে একজন মুসলিম? উত্তরএর শর্ত ও দাবিগুলো মেনে চলা ব্যতিরেকে কেবল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলা যথেষ্ট নয়। কারণ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর এমন কিছু শর্ত ও দাবি রয়েছে যা যে ব্যক্তি পূরণ করবে সে-ই তাওহীদবাদী হবে, আর যে তা পূরণ করবে না সে তাওহীদবাদী হবে না। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠকারীকে তা অত্যন্ত একনিষ্ঠতার সাথে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বলতে হবে, তাগুতকে অস্বীকার করতে হবে, দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলতে হবে এবং এর প্রতি অনুগত থাকতে হবে। এই কারণেই সেই দুই ইহুদির কাহিনীর বর্ণনা এসেছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিল এবং বলেছিল: (আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল)। তখন তিনি বললেন: (আমার অনুসরণ করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে?) তারা উত্তর দিল: (ইহুদীরা আমাদের হত্যা করবে)। ফলে তারা এর প্রতি আনুগত্য ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বর্জন করল। তাদের এই বলা: (আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল) কোনো অবস্থাতেই তাদের জন্য ফলপ্রসূ হয়নি; কারণ কালিমায়ে তাওহীদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া এবং আত্মসমর্পণ করা অপরিহার্য। ঠিক একারণেই রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াস যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র পেলেন, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেছিলেন: (আল্লাহর কসম, আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতাম, তবে অবশ্যই তাঁর দুই পা ধুইয়ে দিতাম এবং সেই পানি পান করতাম)। তিনি জানতেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল, এজন্যই তিনি তাঁর বিশপদের একটি বিশেষ কক্ষে সমবেত করেছিলেন এবং একটি বারান্দা থেকে তাঁদের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁদের ইসলামের প্রতি অনুগত হওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা দরজার দিকে ছুটল এবং দেখল সেগুলো বন্ধ। তখন তিনি বললেন: (তাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো)। এরপর তিনি বললেন: (আমি কেবল তোমাদের ধর্মের প্রতি তোমাদের অবিচলতা পরীক্ষা করছিলাম)।আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের সকল কল্যাণের তাওফীক দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।