(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - عبد الرحيم السلمي القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الواسطية
المؤلف: عبد الرحيم بن صمايل العلياني السلمي
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 21 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আবদুর রহিম আস-সুলামী বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
লেখক: আবদুর রহিম বিন সুমাইল আল-ইলইয়ানী আস-সুলামী
কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি (ট্রান্সক্রিপ্ট) করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ২১টি পাঠ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
العقيدة الواسطية [1]يعتقد أهل السنة والجماعة أصول الإيمان وأركانه الستة، ومن جملة تلك الأصول الإيمان بصفات الله تعالى من غير تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل، في جملة عظيمة من مسائل الاعتقاد في هذا الباب المدونة في كتبهم، ومن أهمها كتاب العقيدة الواسطية لشيخ الإسلام ابن تيمية الذي عني به مؤلفه وعني به العلماء من بعده.
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ [১]আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ঈমানের মূলনীতিসমূহ ও এর ছয়টি স্তম্ভের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে। আর সেই মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর গুণাবলির প্রতি কোনো প্রকার বিকৃতি, অর্থহীনকরণ, ধরন নির্ধারণ এবং সদৃশ করা ব্যতিরেকে ঈমান আনা। তাদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ এই অধ্যায়ের আকিদাহ সংক্রান্ত মহান বিষয়াবলির সমষ্টির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ গ্রন্থটি, যার প্রতি এর লেখক এবং তাঁর পরবর্তী উলামায়ে কেরাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
أهمية العلم الشرعي في العصر الحاضرالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين، وعلى آله وصحبه، وبعد: فإن هذه الأمة بخير وإلى خير ولله الحمد، فنحن في هذه الأيام نعيش صحوة ويقظة إسلامية واضحة، يراها الإنسان في كثرة طلاب العلم والمشتغلين بالدعوة إلى الله عز وجل، فضلاً عن الملتزمين بأحكام الدين والمشتغلين بالعبادة ونحوها، ولكننا نعيش في نفس الوقت فترة حرجة في حياة هذه الأمة، وذلك لكثرة الأفكار والآراء والاتجاهات التي نعيشها في هذا الزمان، فقد كثرت الأفكار والآراء والمناهج والأحزاب والتيارات التي تنادي بالكفر، وتدعو إلى البدع، وإلى الضلالة، وأصبحت هذه التيارات والمناهج والفرق ذات قوة كبيرة في حياة الناس، وتمتلك قوة مالية وإعلامية لتوصيل هذه الأفكار والمناهج إلى كل أقطار الدنيا.
ينبغي علينا ونحن في هذه الفترة الحرجة أن نعلم العلاج الذي ينقذنا أولاً، والذي ييسر لنا إنقاذ أمتنا ثانياً، ولا يمكن أن يكون ذلك إلا بالعلم، فالعلم بالشرع وبأحكام الدين والتعلم هما الوسيلة الناجحة للخروج والخلوص من هذه المزالق الوعرة، ومن هذه التيارات والأفكار والمناهج التي تهدد عقيدة الإنسان وفكره ومنهجه في الحياة.
ومن هنا كان للاهتمام بالعلم وبدراسته أهمية كبرى، ومكانة عظمى في إنقاذ الإنسان لنفسه ولغيره من الناس عندما يكون داعية إلى الله سبحانه وتعالى، فلا بد إذاً من دراسة العلم دراسة تفصيلية يتفقه الإنسان من خلالها في أحكام دينه، ويتعلم فيها العقيدة الصحيحة، ومناهج الاستدلال الصحيحة بعيداً عن الآراء الضالة والمناهج المنحرفة، وهي خطيرة كل الخطر، تمتلك أدوات قوية جداً لنقل أفكارها ومناهجها، ومن هنا كان طلب العلم مهم جداً في إنقاذ الإنسان لنفسه.
বর্তমান যুগে শরয়ী ইলমের গুরুত্বসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অতঃপর: নিশ্চয়ই এই উম্মাহ কল্যাণের মধ্যে রয়েছে এবং কল্যাণের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে, আল্লাহরই প্রশংসা। বর্তমান দিনগুলোতে আমরা একটি সুস্পষ্ট ইসলামী জাগরণ ও পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি, যা ইলম অন্বেষণকারী এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আধিক্যের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। এর পাশাপাশি দ্বীনের বিধানসমূহ পালনকারী এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন ব্যক্তিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে একই সাথে আমরা এই উম্মাহর জীবনে একটি সংকটময় সময় অতিবাহিত করছি। এর কারণ হলো বর্তমান সময়ে আমাদের মাঝে বিদ্যমান নানাবিধ চিন্তা, মতবাদ ও আদর্শের প্রাচুর্য। বর্তমানে এমন অনেক চিন্তা, মতাদর্শ, পন্থা, দল ও গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুফরির দিকে আহ্বান করে এবং বিদআত ও গোমরাহীর দিকে ডাক দেয়। এই সকল গোষ্ঠী, মতাদর্শ ও দলগুলো মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদের এই ভ্রান্ত চিন্তা ও মতাদর্শ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের হাতে রয়েছে বিশাল আর্থিক ও প্রচারমাধ্যমের শক্তি।
এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের সেই প্রতিকার সম্পর্কে জানা উচিত যা প্রথমত আমাদের নিজেদের রক্ষা করবে এবং দ্বিতীয়ত আমাদের উম্মাহকে রক্ষা করা সহজতর করবে। আর তা ইলম বা জ্ঞান অর্জন ব্যতীত কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শরয়ী জ্ঞান ও দ্বীনের বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাই হলো এই বন্ধুর পিচ্ছিল পথ এবং মানুষের আকিদা, চিন্তা ও জীবনধারাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া এই সকল মতাদর্শ ও চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র সফল উপায়।
এ কারণেই ইলম এবং এর অধ্যয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন মানুষ যখন মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হন, তখন নিজেকে ও অন্যদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে এর মর্যাদা অতি মহান। অতএব, ইলম বা জ্ঞানকে বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা অপরিহার্য, যার মাধ্যমে মানুষ তার দ্বীনের বিধিবিধান সম্পর্কে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করবে এবং ভ্রান্ত মতবাদ ও বিচ্যুত পথ থেকে দূরে থেকে সঠিক আকিদা ও সঠিক দলিল গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ শিখবে। এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ তাদের চিন্তা ও মতাদর্শ প্রচারের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী সরঞ্জাম তাদের নিকট রয়েছে। তাই নিজেকে রক্ষা করার জন্য ইলম অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
معالم في منهج دراسة العلموقد أمر الله سبحانه وتعالى بالعلم، وحث عليه، وبين فضله وفضل أهله، وبين منزلتهم، حتى أن أهل العلم صنفوا كتباً مستقلة في هذا الموضوع تبين منهج الإنسان في دراسته للعلم، والعلم يحتاجه كل مسلم، وطالب العلم على وجه الخصوص يحتاجه أكثر، كما لا بد لطالب العلم من دراسة المنهج الذي يسير عليه حتى يصل إلى العلم بالطريقة الصحيحة؛ فإنه ليس كل مشتغل بالعلم أو كل قارئ للعلم يكون طالب علم فعلاً، فإنه في بعض الأحيان قد يقرأ الإنسان كثيراً ويشتغل بالعلم كثيراً، لكنه يشتغل على منهج خاطئ، وحينئذٍ قد تمر عليه السنتان والثلاث والعشر فلا يستفيد شيئاً بسبب الطريقة التي سلكها في دراسة العلم، ومن هنا كانت المنهجية في طلب العلم مهمة جداً لطالب العلم حتى يصل إلى نتيجة صحيحة بإذن الله تعالى.
ومن معالم هذا المنهج الذي نحن بحاجة إليه: أن يدرس الإنسان صغار كتب العلم قبل كباره، وأن يتدرج الإنسان في طلبه للعلم، وأن يبدأ أول ما يبدأ بالعلم في العقيدة والأحكام، فيتعلم العقيدة الصحيحة، ويعلم الأحكام الفقهية التي يصح بها عمله، وكذلك ينبغي على طالب العلم أثناء دراسته لذلك أن يهتم بالمنهج الصحيح في الاستدلال، وينبغي أن يعرف قواعد أهل العلم في الاستدلال الصحيح، فليس كل استدلال يكون صحيحاً، عندما يأتي إنسان مثلاً ويبني عقيدة أو فكرة أو رأياً على قصة أو رؤيا أو قول من أقوال أهل العلم السابقين، ويترك النصوص الشرعية الواردة في ذات الموضوع، فلا شك في أنه مخالف للمنهج الصحيح في الاستدلال والوصول إلى الرأي الحق والمنهج الصحيح.
إذاً: لا بد أن يتعلم الإنسان قواعد الاستدلال، فأول ما يستدل ينبغي أن يستدل بالقرآن وبالسنة الصحيحة الثابتة، ثم بالإجماع، ثم بالقياس الصحيح المنضبط الذي تتحقق فيه شروط القياس وتنتفي عنه موانعه عند عدم وجود الأدلة السابقة، وليس الكلام على مناهج الاستدلال وقواعده مرادنا، وإنما المراد الإشارة إلى أهمية الاستدلال وضرورته لطالب العلم.
إذاً: لا بد من المنهجية في دراسة العلم، ومن هنا كانت هذه الدروس التي تعقد -ولله الحمد- في المساجد بين الفينة والأخرى لتعليم العقيدة والأحكام ومناهج الاستدلال وقواعده حتى تصح عقيدة الإنسان، ويصح منهجه، وبالتالي يصح كل ما يبنى عليه، مثل الدعوة إلى الله عز وجل، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، والجهاد في سبيل الله، ونحو ذلك مما تحتاجه الأمة لتنمية نفسها وتطويرها.
والعقيدة الواسطية هي لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وهو عالم معروف له قيمته العلمية في تاريخ العلم الشرعي، وقد ترجم له كثير من العلماء بل صنفت بشأنه تراجم مستقلة رحمه الله تعالى.
ولا يمكن لنا لطول سيرة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله أن نستعرضها بشكل مفصل، لكن يمكن مراجعة سيرته بشكل مفصل في الكتب التي ترجمت له، ومن الكتب العصرية التي ترجمت له بشكل منظم: كتاب الدكتور عبد الرحمن المحمود: (موقف ابن تيمية من الأشاعرة)، فقد ترجم له ترجمة طويلة.
জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতির নিদর্শনসমূহআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং জ্ঞানের ফজিলত ও জ্ঞানীদের মর্যাদা ও অবস্থান বর্ণনা করেছেন। এমনকি জ্ঞানীরা এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যা জ্ঞান অর্জনে মানুষের পদ্ধতি কেমন হবে তা বর্ণনা করে। প্রত্যেক মুসলিমের জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে, আর বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীর ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। তেমনিভাবে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য সেই পদ্ধতি অধ্যয়ন করা অপরিহার্য যার ওপর চলে সে সঠিক উপায়ে ইলম অর্জন করতে পারে। কেননা, ইলম নিয়ে ব্যস্ত থাকা বা ইলম পাঠ করা প্রত্যেকেই প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত ইলম অন্বেষণকারী নয়। অনেক সময় মানুষ প্রচুর পড়াশোনা করে এবং ইলম নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকে, কিন্তু সে একটি ভুল পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হয়। এমতাবস্থায় তার ওপর দিয়ে দুই, তিন বা দশ বছর পার হয়ে যেতে পারে, অথচ ইলম অর্জনে অনুসৃত ভুল পদ্ধতির কারণে সে কোনো সুফল পায় না। এখান থেকেই ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত হওয়া ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাতে সে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সঠিক ফলাফলে পৌঁছাতে পারে।
আমরা যে পদ্ধতির মুখাপেক্ষী, তার কিছু নিদর্শন হলো: মানুষ বড় বড় কিতাবের আগে ছোট ছোট ইলমি কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করবে, ইলম অন্বেষণে ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে এবং ইলম অন্বেষণের শুরুতে আকিদা ও আহকাম (বিধান) দিয়ে শুরু করবে। ফলে সে সঠিক আকিদা শিখবে এবং সেই ফিকহী বিধানসমূহ জানবে যার মাধ্যমে তার আমল সঠিক হবে। একইভাবে ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এই বিষয়গুলো অধ্যয়নের সময় দলীল উপস্থাপনের সঠিক পদ্ধতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আলেমদের মূলনীতিসমূহ তার জানা উচিত। কেননা প্রতিটি দলীল উপস্থাপনই সঠিক হয় না। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোনো ব্যক্তি আকিদা, চিন্তা বা মতাদর্শের ভিত্তি কোনো গল্প, স্বপ্ন অথবা পূর্ববর্তী আলেমদের কোনো উক্তির ওপর স্থাপন করে এবং উক্ত বিষয়ে বর্ণিত শরয়ি নির্দেশনাসমূহ বর্জন করে, তখন নিঃসন্দেহে সে দলীল উপস্থাপন এবং সত্য মত ও সঠিক পদ্ধতিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতির বিরোধিতা করে।
অতএব, মানুষকে দলীল উপস্থাপনের নিয়মাবলি শিখতে হবে। দলীল হিসেবে সর্বপ্রথম কুরআন এবং সাব্যস্তকৃত সহীহ সুন্নাহকে পেশ করতে হবে, এরপর ইজমা, তারপর সুশৃঙ্খল সঠিক কিয়াস—যাতে কিয়াসের শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং পূর্ববর্তী দলীলসমূহের অবর্তমানে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি বা এর নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা নয়, বরং ইলম অন্বেষণকারীর জন্য দলীল উপস্থাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করা।
সুতরাং, ইলম অর্জনে পদ্ধতিগত হওয়া আবশ্যক। এখান থেকেই ঐসব দরসের উৎপত্তি যা আলহামদুলিল্লাহ মাঝেমধ্যে মসজিদগুলোতে আকিদা, আহকাম এবং দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি ও নিয়মাবলি শেখানোর জন্য অনুষ্ঠিত হয়; যাতে মানুষের আকিদা সঠিক হয়, তার পদ্ধতি সঠিক হয় এবং ফলশ্রুতিতে এর ওপর ভিত্তি করে যা কিছু গড়ে ওঠে তাও সঠিক হয়—যেমন আল্লাহর পথে দাওয়াত, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং উম্মাহর আত্মগঠন ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াদি।
আল-আকিদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ হলো শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা। তিনি শরয়ি ইলমের ইতিহাসে একজন সুপরিচিত আলেম যার ইলমি মর্যাদা অপরিসীম। অনেক আলেম তার জীবনী লিখেছেন, বরং তার ব্যাপারে স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থও রচিত হয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমাদের পক্ষে তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। তবে তার জীবনী সংবলিত কিতাবসমূহ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া সম্ভব। আধুনিক কিতাবসমূহের মধ্যে যা সুশৃঙ্খলভাবে তার জীবনী তুলে ধরেছে তা হলো ডক্টর আব্দুর রহমান আল-মাহমুদের কিতাব: (আশআরিদের ব্যাপারে ইবনু তাইমিয়্যাহর অবস্থান); এতে তিনি একটি দীর্ঘ জীবনী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
منهج دراسة العقيدةقبل أن نتحدث عن العقيدة الواسطية، أحب أن أتحدث عن منهج دراسة العقيدة قبل ذلك، وذلك أن منهج دراسة العقيدة مبني على أصلين: الأصل الأول: تأصيل العقيدة وتصحيحها، وذلك بدراسة العقيدة المأخوذة من الكتاب والسنة بشكل صحيح، وهذه الدراسة دراسة نظرية، وقد صنف فيها أهل العلم كتباً كثيرة، ومن هذه الكتب العقيدة الواسطية.
والأصل الثاني: تأصيل العقيدة في القلوب، ومعنى هذا: العناية بآثار العقيدة في النفوس، فعندما يؤمن الإنسان بأن الله عز وجل هو العليم يكون له أثر كبير جداً في نفسه، ويورث في قلبه مراقبة الله عز وجل، ومراقبة الله عز وجل -الذي هو عمل من أعمال القلوب- حصل بناءً على إيمانه بأن الله عز وجل هو العليم الرقيب، وهكذا تجد أن لموضوعات العقيدة آثاراً سلوكية مؤثرة في قلب الإنسان وسلوكه وآدابه، وتجد أن أكثر أعمال القلوب مبنية على أصل عقائدي سابق؛ فمثلاً محبة الله عز وجل تنشأ عندما يعلم الإنسان أن الله عز وجل رحيم بعباده، وأنه سبحانه وتعالى كريم، وأنه سبحانه وتعالى جواد.
أيضاً الخوف من أعمال القلوب، وهو ينشأ عندما يعلم الإنسان أن الله عز وجل شديد العقاب ذو انتقام سبحانه وتعالى، وأنه سبحانه وتعالى الكبير.
وهكذا تنشأ كثير من الأعمال الموجودة في قلب الإنسان بناءً على هذه العقائد.
أيضاً عقيدة الإيمان باليوم الآخر وبالقدر وبالملائكة كل هذه لها آثار سلوكية عظيمة جداً في حياة الإنسان، فهذا نوع آخر من دراسة العقيدة، وهو مهم جداً لطالب العلم أن يهتم به، وأن يستفيد منه.
আকিদাহ অধ্যয়নের পদ্ধতিআল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ সম্পর্কে আলোচনা করার আগে, আমি আকিদাহ অধ্যয়নের পদ্ধতি সম্পর্কে কথা বলতে চাই। আকিদাহ অধ্যয়নের পদ্ধতি দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথম মূলনীতি: আকিদাহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং তা বিশুদ্ধ করা; আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত আকিদাহ সঠিকভাবে অধ্যয়নের মাধ্যমে। এই অধ্যয়নটি হলো তাত্ত্বিক অধ্যয়ন। এ বিষয়ে জ্ঞানতাপসগণ অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ এই কিতাবগুলোর অন্যতম।
দ্বিতীয় মূলনীতি: অন্তরে আকিদাহকে সুদৃঢ় করা। এর অর্থ হলো: অন্তরে আকিদাহর প্রভাবসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়া। যখন কোনো মানুষ বিশ্বাস করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বজ্ঞ, তখন তার মনে এর এক বিরাট প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং তা তার অন্তরে আল্লাহর পর্যবেক্ষণের (মুরাকাবা) অনুভূতি জাগ্রত করে। আর আল্লাহর পর্যবেক্ষণ—যা অন্তরের অন্যতম একটি আমল—তা অর্জিত হয়েছে আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ ও সদা-পর্যবেক্ষণকারী হওয়ার প্রতি তার ঈমান বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে। এভাবে আপনি দেখতে পাবেন যে, আকিদাহর বিষয়সমূহের মানুষের অন্তর, আচরণ ও শিষ্টাচারের ওপর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আচরণগত প্রভাব রয়েছে। আপনি আরও দেখতে পাবেন যে, অন্তরের অধিকাংশ আমলই পূর্ববর্তী কোনো আকিদাহগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তখনই সৃষ্টি হয় যখন মানুষ জানতে পারে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু, তিনি অত্যন্ত সম্মানিত এবং তিনি অত্যন্ত দানশীল।
একইভাবে ‘ভয়’ও অন্তরের আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি তখনই সৃষ্টি হয় যখন মানুষ জানতে পারে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা, প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং তিনি সুমহান।
এভাবে এই সকল আকিদাহর ওপর ভিত্তি করে মানুষের অন্তরে অনেক আমল বা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও পরকাল, তাকদির এবং ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের আকিদাহ—এসবেরই মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আচরণগত প্রভাব রয়েছে। এটি আকিদাহ অধ্যয়নের আরেকটি ধরন। একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা এবং এ থেকে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
نبذة تعريفية بالعقيدة الواسطيةيمكن أن نتحدث عن العقيدة الواسطية في خمس نقاط:
আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহর পরিচিতিমূলক সংক্ষিপ্ত বিবরণআকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ সম্পর্কে আমরা পাঁচটি পয়েন্টে আলোচনা করতে পারি:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
تاريخ تأليف العقيدة الواسطيةأولاً: تاريخ تأليفها: كل الشراح الذين شرحوا هذه العقيدة لم يؤرخوا لتأليفها، وتاريخ تأليف هذه العقيدة هو في سنة 698هـ.
يدل على ذلك: أن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عندما امتحن في رجب من سنة 705هـ، وجاء مرسوم السلطان من مصر إلى نائب السلطنة في بلاد الشام، وجمع نائب السلطنة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله والقضاة والمفتين والعلماء المشهورين في بلاد الشام في تلك الفترة، وقال له: إن هذا المجلس عقد من أجل مسائلتك عن اعتقادك.
أراد شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في بداية الأمر أن يملي لهم اعتقاده، فلما أملى عليهم شيئاً من اعتقاده توقف، وقال لهم: قد تقولون: إن الإنسان إذا أملى من حفظه أنه يداري ويداهن، لكنني سآتي لكم بعقيدة كتبتها قبل سبع سنين قبل دخول التتر لبلاد الشام، فجاء بالعقيدة الواسطية.
وهكذا سماها شيخ الإسلام رحمه الله العقيدة الواسطية، فقرئت عليهم.
وستأتي الإشارة إلى ما حصل في هذه المجالس التي نوقش فيها شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى عن هذه العقيدة.
وهذا النص من كلام ابن تيمية رحمه الله يدل على أن تاريخ تأليف هذه العقيدة كان في سنة 698هـ، فإن تاريخ الامتحان له كان في 705هـ، وإذا أخذت منها السبع سنين المذكورة تحصل لك أنه كتبها في سنة 698هـ.
আকীদা ওয়াসিতিয়্যাহ রচনার ইতিহাসপ্রথমত: এটি রচনার ইতিহাস: এই আকীদার যতজন ব্যাখ্যাকার ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁদের কেউ এটি রচনার তারিখ উল্লেখ করেননি; আর এই আকীদা রচনার তারিখ হলো ৬৯৮ হিজরী।
এর প্রমাণ হলো: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যখন ৭০৫ হিজরীর রজব মাসে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হন, এবং মিশরের সুলতানের পক্ষ থেকে সিরিয়ার সুলতানের প্রতিনিধির কাছে রাজকীয় ফরমান আসে, তখন সুলতানের প্রতিনিধি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এবং তৎকালীন সিরিয়ার বিচারকগণ, মুফতিগণ ও প্রখ্যাত আলেমদের একত্র করেন এবং তাঁকে বলেন: আপনার আকিদা সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যই এই মজলিস আহ্বান করা হয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) শুরুর দিকে তাঁদের কাছে নিজের আকিদা মুখস্থ বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি নিজের আকিদার কিছুটা অংশ শোনালেন, তখন তিনি থেমে গেলেন এবং তাঁদের বললেন: আপনারা হয়তো বলবেন যে, মানুষ যখন তার মুখস্থ থেকে কিছু বলে, তখন সে হয়তো সতর্কতা অবলম্বন করে বা তোষামোদ করে; তবে আমি আপনাদের কাছে এমন একটি আকিদা নিয়ে আসব যা আমি তাতারীদের সিরিয়ায় প্রবেশের সাত বছর আগে লিখেছি। এরপর তিনি আকীদা ওয়াসিতিয়্যাহ নিয়ে আসেন।
এভাবেই শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এর নাম দিয়েছিলেন আকীদা ওয়াসিতিয়্যাহ, এবং এটি তাঁদের সামনে পাঠ করা হয়েছিল।
এই মজলিসগুলোতে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে এই আকিদা সম্পর্কে যে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, অচিরেই তার বর্ণনা আসবে।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই আকিদা রচনার তারিখ ছিল ৬৯৮ হিজরী। কারণ তাঁকে পরীক্ষা করার তারিখ ছিল ৭০৫ হিজরী, আর সেখান থেকে উল্লিখিত সাত বছর বাদ দিলে এটি স্পষ্ট হয় যে তিনি এটি ৬৯৮ হিজরীতে লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
سبب تأليف العقيدة الواسطيةثانياً: سبب تأليفها: ذكر شيخ الإسلام رحمه الله في حكايته للمناظرة التي حصلت بسبب العقيدة الواسطية: أنه جاءه قاضٍ من واسط، وواسط مدينة تقع بين الكوفة والبصرة في جنوب العراق -سميت واسطاً لتوسطها بين الكوفة والبصرة- جاء هذا القاضي حاجاً ومر ببلاد الشام، ووجد شيخ الإسلام رحمه الله، وطلب منه أن يكتب له عقيدة، وذكر له أن الناس اختلفوا في العقائد، فقال له: أريدك أن تكتب لي عقيدة أنقلها عنك، فقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في بداية الأمر: إن الناس كتبوا عقائد كثيرة فارجع إليها، فألح عليه هذا القاضي، وسماه ابن تيمية رحمه الله رضي الدين الواسطي، ونسبه إلى مذهب الشافعي رحمه الله، فكتب شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله هذه العقيدة، وهذا السبب نص عليه شيخ الإسلام ابن تيمية، فهو ليس مأخوذاً من كتب التاريخ، أو من توقعات بعض تلاميذه، وإنما هي مأخوذة من كلام شيخ الإسلام رحمه الله نفسه.
وقد عظمها شيخ الإسلام ابن تيمية كثيراً عندما حكى المناظرة التي حصلت له مع أهل الكلام من الأشاعرة والماتريدية وغيرهم، وقال: إن هذه العقيدة جمعت أبواباً كثيرة، وأن في كل كلمة منها خلافاً مع فرقة من الفرق، وهذا يدل على أنه كان يكتب هذه العقيدة بعناية تامة، وأنه كان في كل كلمة يعرف من يقصد وماذا يقصد، وما هو ميزانها، مع أنه كتبها رحمه الله تعالى في جلسة بعد صلاة العصر، وكان عمره في تلك الفترة ثلاثة وثلاثين سنة، يعني: كان في بداية نشأته العلمية، إلا أنه رحمه الله كان عالماً فحلاً عظيماً أجيز بالإفتاء قبل العشرين.
আকীদা ওয়াসিতিয়্যাহ রচনার কারণদ্বিতীয়: এটি রচনার কারণ: শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ আকীদা ওয়াসিতিয়্যাহর কারণে সংঘটিত বিতর্কের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে: ওয়াসিত থেকে একজন কাযী (বিচারক) তাঁর নিকট এসেছিলেন। ওয়াসিত হলো দক্ষিণ ইরাকের কুফা ও বসরার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি শহর—কুফা ও বসরার মাঝখানে অবস্থানের কারণেই একে ওয়াসিত বলা হয়। এই কাযী হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন এবং শাম দেশ অতিক্রম করার সময় শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহর সাক্ষাৎ পান। তিনি শাইখুল ইসলামের নিকট একটি আকীদা লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মানুষ আকীদার বিষয়ে নানাবিধ মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বললেন: আমি চাই আপনি আমার জন্য এমন একটি আকীদা লিখে দিন যা আমি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে পারি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ শুরুতে বললেন: মানুষ ইতিপূর্বে অনেক আকীদাগ্রন্থ রচনা করেছে, আপনি সেগুলোর সাহায্য নিন। কিন্তু উক্ত কাযী তাঁকে অত্যন্ত পিড়াপিড়ি করতে লাগলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর নাম রাযীউদ্দীন আল-ওয়াসিতী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে নিসবত করেছেন। অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এই আকীদাটি রচনা করেন। রচনার এই কারণটি স্বয়ং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি ইতিহাসের কোনো কিতাব বা তাঁর কোনো ছাত্রের অনুমান থেকে নেওয়া নয়, বরং এটি খোদ শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহর নিজস্ব বক্তব্য থেকে গৃহীত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই আকীদাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন যখন তিনি আশআরী, মাতুরিদী ও অন্যান্য কালামশাস্ত্রবিদদের সাথে তাঁর বিতর্কের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এই আকীদাটি বহু অধ্যায়কে একত্রিত করেছে এবং এর প্রতিটি শব্দের মাঝে কোনো না কোনো ভ্রান্ত ফিরকার সাথে বিরোধ বিদ্যমান। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি অত্যন্ত নিবিড় মনোযোগের সাথে এই আকীদাটি রচনা করেছিলেন। প্রতিটি শব্দের মাধ্যমে তিনি কাকে উদ্দেশ্য করছেন, কী বুঝাতে চাচ্ছেন এবং তার মানদণ্ড কী—সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। অথচ তিনি এটি রাহিমাহুল্লাহ তাআলা আসরের নামাযের পর এক বসাতেই লিখে শেষ করেছিলেন এবং সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র তেত্রিশ বছর। অর্থাৎ তিনি তখন তাঁর ইলমী জীবনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি রাহিমাহুল্লাহ একজন প্রথিতযশা ও মহান আলেম ছিলেন, যাঁকে বিশ বছর বয়সের পূর্বেই ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
حكاية المناظرة بين شيخ الإسلام ومناوئيه فيما تضمنته العقيدة الواسطيةثالثاً: المناظرة: شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عندما دعي بمرسوم السلطان الذي جاء إلى نائب السلطنة إلى هذا المجلس، واجتمع قضاة المذاهب الأربعة ومع المفتون وأيضاً عدد كبير من أهل العلم، وأملى عليهم شيخ الإسلام رحمه الله في البداية شيئاً من هذه العقيدة، إلا أنه توقف وجاء بهذه العقيدة من منزله، وهم يعلمون أن الكلام الذي يقوله في حال السراء والضراء واحد، وأنه لا يتردد في ذلك، فجيء بهذه العقيدة ونوقش في ثلاث مجالس، كان المجلس الواحد يبتدئ من الضحى ولا ينتهي إلا في منتصف الليل، وكان قوي الحجة رحمه الله تعالى، ومن أراد أن يقف على هذه القصة فيمكن أن يراجع المجلد الثالث من مجموع الفتاوى في صفحة مائة وستين؛ فإنه ذكر مناقشة هؤلاء له بشكل مفصل، ومن ذلك.
يقول بعد المقدمة: [أما بعد: فقد سئلت غير مرة أن أكتب ما حضرني ذكره مما جرى في المجالس الثلاثة المعقودة للمناظرة في أمر الاعتقاد، بمقتضى ما ورد به كتاب السلطان من الديار المصرية إلى نائبه أمير البلاد، لما سعى إليه قومه من الجهمية والاتحادية والرافضية وغيرهم من ذوي الأحقاد، فأمر الأمير بجمع قضاة المذاهب الأربعة وغيرهم من نوابهم والمفتين والمشائخ ممن له حرمة وبه اعتداد، وهم لا يدرون ما قصد بجمعهم في هذا الميعاد، وذلك في يوم الإثنين ثامن رجب المبارك عام خمس وسبعمائة، فقال لي: هذا المجلس عقد لك، فقد ورد مرسوم السلطان بأن أسألك عن اعتقادك وعما كتبت به إلى الديار المصرية من الكتب التي تدعو بها الناس إلى الاعتقاد، وأظنه قال: وأن أجمع القضاة والفقهاء وتتباحثون في ذلك، فقلت: أما الاعتقاد فلا يؤخذ عني، ولا عمن هو أكبر مني، بل يؤخذ عن الله، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، وما أجمع عليه سلف الأمة].
وفي هذا درس عظيم جداً في منهج التعلم، وهو: أن الإنسان في بنائه لعقيدته ولدينه ينبغي أن يعرف أن المصدر الأساسي هو القرآن والسنة وإجماع السلف الأولون، وألا يكون مقلداً في أمور العقائد، وأن يتفهم أحكام الشرع الواردة في القرآن والسنة.
قال: [فما في القرآن وجب اعتقاده، وكذلك ما ثبت في الأحاديث الصحيحة، مثل صحيح البخاري ومسلم إلى غير ذلك].
ثم يقول: [ثم قلت للأمير والحاضرين: أنا أعلم أن أقواماً يكذبون علي كما قد كذبوا علي غير مرة].
وصدق فإن شيخ الإسلام رحمه الله كذب عليه كثيراً، وأنتم تعلمون أن ابن بطوطة صاحب الرحلة المشهورة كذب عليه، فإنه قال: رأيت ابن تيمية في جامع دمشق -يعني: الجامع الأموي- يخطب في الناس، ويقول: إن الله تعالى ينزل من السماء إلى السماء الدنيا -ونزل من المنبر- كنزولي هذا، والعجيب أن ابن بطوطة دخل في تلك السنة التي كان شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله مسجوناً فيها، فهي كذبة صريحة واضحة، فقد كُذب عليه كثيراً حتى أنهم قالوا عنه: إنه كاتب التتر، وأراد مصانعتهم، مع أنه له موقف عظيم جداً من قازان يعرفه كثير من طلاب العلم الذين قرءوا ترجمته رحمه الله.
بل إنه كان من صلاحه كما يذكر هو: أنه تحدث عن قضية الجن والشياطين والاعتقاد السخيف فيهم، ثم قال: إنه في بعض الأحيان قد يوجد من الجن الصالحين من يدعو الإنس إلى الله عز وجل، وذكر قصة وهي: أن أحد أمراء الروم قاتل في معركة، ثم هزم فيها، فهام على وجهه أي: ضل الطريق، وبينما هو في أثناء الطريق إذ جاءه رجل وكان ذلك القائد يكاد أن يموت من الجوع والعطش، فدعاه إلى الله عز وجل، فلما أسلم ونطق الشهادتين أعطاه شيئاً من الأكل والشرب، فلما قال له: من أنت؟ قال: أنا ابن تيمية، يقول: فجاء هذا الأمير وأخبر صاحب ماردين، وصاحب ماردين أخبر صاحب مصر، وكان ابن تيمية رحمه الله في تلك الفترة مسجوناً في سجن الجب في مصر، يقول: فتعجبوا كيف حصل هذا! فقلت: هذا أحد الجن الصالحين كان ينظر إلى طريقتنا في دعوة التتار، وهي: أننا ندعوهم إلى الله عز وجل، فإذا أسلموا أعطيناهم من الأكل والشرب ما نستطيعه، فأعجب بطرقتنا فعملها لهذا الرجل، فقال له بعض أصحابه ممن كان معهم في السجن: لعله ملك، قال: لا، فإن الملك لا يكذب، الشاهد: هو أن هذا الرجل الصالح لما ظهر ذكره، وانتشر خبره، وعرفت منزلته كثر حساده، وكثر أعداؤه.
وإذا الفتى بلغ السماء بمجده جاءت كأعداد النجوم عداه فأصبحوا يكذبون عليه، وقد يكتبون الرسائل في بعض الأحيان باسمه وهي كذب، كما قال رحمه الله: [كما قد كذبوا علي غير مرة].
قال: [وإن أمليت الاعتقاد من حفظي ربما يقولون: كتم بعضه، أو داهن ودارى، فأنا أحضر عقيدة من نحو سبع سنين قبل مجيء التتر إلى الشام] إلى آخر كلامه معهم رحمه الله، وذكر بعض الاعتراضات التي اعترضوا بها على هذه العقيدة بسبب منطلقاتهم العقدية غير الصحيحة، فهو عندما ذم منهج التأويل، قالوا: كيف تذمه، معنى هذا أنك تكفر المتكلمين من أصحابنا، فر
শাইখুল ইসলাম এবং আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-তে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে বিষয়ে তাঁর বিরোধীদের মধ্যে বিতর্কের কাহিনীতৃতীয়ত: বিতর্ক: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) যখন সুলতানের ফরমান অনুযায়ী—যা সুলতানের প্রতিনিধির কাছে এসেছিল—এই মজলিসে আমন্ত্রিত হলেন, সেখানে চার মাযহাবের বিচারকগণ, মুফতিগণ এবং বিপুল সংখ্যক আলেম একত্রিত হলেন। শুরুতে শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁদের সামনে এই আকিদাহর কিছু অংশ পাঠ করে শোনালেন, কিন্তু পরে তিনি থেমে যান এবং তাঁর ঘর থেকে এই আকিদাহর লিখিত কপিটি আনেন। তাঁরা জানতেন যে, সচ্ছলতা ও প্রতিকূলতা উভয় অবস্থায় তাঁর কথা একই থাকে এবং তিনি এতে দ্বিধাবোধ করেন না। সুতরাং এই আকিদাহটি আনা হলো এবং তিনটি মজলিসে এটি নিয়ে আলোচনা করা হলো। প্রতিটি মজলিস চাশতের সময় শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলত। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তির অধিকারী ছিলেন। যারা এই ঘটনাটি বিস্তারিত জানতে চান, তারা 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-এর তৃতীয় খণ্ডের ১৬০ পৃষ্ঠায় দেখতে পারেন; সেখানে তিনি বিস্তারিতভাবে তাদের সাথে তাঁর আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ভূমিকার পর তিনি বলেন: [অতঃপর: আকিদাহ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য অনুষ্ঠিত তিনটি মজলিসে যা ঘটেছিল, মিশরের সুলতানের পক্ষ থেকে এদেশের আমীরের (প্রতিনিধির) কাছে প্রেরিত চিঠির প্রেক্ষিতে যা যা মনে পড়ছে তা লিখতে আমাকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ জাহমিয়া, ইত্তিহাদিয়া, রাফেজি এবং অন্যান্য বিদ্বেষপরায়ণ একদল লোক এর বিরুদ্ধে চেষ্টা চালিয়েছিল। আমীর তখন চার মাযহাবের বিচারক, তাঁদের প্রতিনিধি, মুফতি এবং মর্যাদাবান ও গণ্যমান্য মাশায়েখদের একত্রিত করার নির্দেশ দেন। তাঁদের কেন একত্রিত করা হচ্ছে তা তাঁরা জানতেন না। এটি ছিল ৭০৫ হিজরির মুবারক রজব মাসের আট তারিখ সোমবার। তিনি আমাকে বললেন: এই মজলিসটি আপনার জন্যই আয়োজিত হয়েছে। সুলতানের নির্দেশ এসেছে যেন আমি আপনার আকিদাহ সম্পর্কে এবং আপনি মিশরে যেসব কিতাব পাঠিয়েছেন সে সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করি, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মানুষকে আকিদাহর দিকে আহ্বান করছেন। সম্ভবত তিনি বলেছিলেন: এবং আমি যেন বিচারক ও ফকিহদের একত্রিত করি এবং আপনারা এ বিষয়ে বিতর্ক করেন। তখন আমি বললাম: আকিদাহ আমার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না, এমনকি আমার চেয়ে বড় কারো কাছ থেকেও না; বরং তা গ্রহণ করতে হবে আল্লাহর কাছ থেকে, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে এবং উম্মতের সালাফরা যে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন তার থেকে।]
এর মধ্যে শিক্ষা অর্জনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি মহান শিক্ষা রয়েছে, আর তা হলো: একজন মানুষের তার আকিদাহ ও দ্বীন গঠনের ক্ষেত্রে জানা উচিত যে, মূল উৎস হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং প্রথম যুগের সালাফদের ইজমা (ঐক্যমত)। আকিদাহর বিষয়ে তাকে মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) হওয়া উচিত নয় এবং কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত শরীয়তের বিধানগুলো বুঝতে হবে।
তিনি বলেন: [কুরআনে যা আছে তা বিশ্বাস করা ওয়াজিব এবং একইভাবে যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, যেমন সহীহ বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্য।]
এরপর তিনি বলেন: [অতঃপর আমি আমীর এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের বললাম: আমি জানি যে একদল লোক আমার নামে মিথ্যা রটনা করে, যেমনটি তারা এর আগেও বারবার করেছে।]
আর তিনি সত্যই বলেছেন, কারণ শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা বলা হয়েছে। আপনারা জানেন যে, বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমি ইবনে তাইমিয়াকে দামেস্ক জামে মসজিদে (উমাইয়া মসজিদে) মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে দেখেছি, সেখানে তিনি বলছিলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আসমান থেকে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন—এরপর তিনি মিম্বর থেকে নিচে নামলেন—ঠিক যেমনটি আমি এখন নামছি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইবনে বতুতা সেই বছর দামেস্কে প্রবেশ করেছিলেন যখন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) কারাগারে বন্দী ছিলেন। সুতরাং এটি একটি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য মিথ্যা। তাঁর নামে এত বেশি মিথ্যা বলা হয়েছে যে, তারা এমনকি এটিও বলেছিল যে তিনি তাতারদের সহযোগী ছিলেন এবং তাদের তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন। অথচ গাজান খানের প্রতি তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত মহান, যা তাঁর জীবনী পাঠকারী অধিকাংশ তালিবে ইলম জানেন।
বরং তাঁর তাকওয়ার একটি নিদর্শন ছিল যা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন: তিনি জিন, শয়তান এবং তাদের সম্পর্কে বিদ্যমান কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে কথা বলছিলেন। এরপর তিনি বললেন: মাঝে মাঝে নেককার জিনদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে যারা মানুষদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করে। তিনি একটি কাহিনী বর্ণনা করেন যে: রোমের একজন আমীর যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং পরাজিত হন, তারপর তিনি পথ হারিয়ে দিগ্বিদিক ঘুরতে থাকেন। পথিমধ্যে যখন সেই সেনাপতি ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় প্রায় মৃতপ্রায়, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং কালিমা পাঠ করলেন, তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে কিছু খাবার ও পানীয় দিলেন। যখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি ইবনে তাইমিয়া। সেনাপতি ফিরে এসে মারদিনের অধিপতিকে তা জানালেন এবং মারদিনের অধিপতি মিশরের অধিপতিকে জানালেন। অথচ ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) সেই সময় মিশরের জুব্ব কারাগারে বন্দী ছিলেন। তিনি বলেন: তারা আশ্চর্য হয়ে গেল যে এটি কীভাবে সম্ভব! তখন আমি বললাম: এটি কোনো নেককার জিন হতে পারে, যে তাতারদের দাওয়াত দেওয়ার আমাদের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করছিল। আর আমাদের পদ্ধতি হলো: আমরা তাদের আল্লাহর দিকে ডাকি, আর তারা ইসলাম গ্রহণ করলে সাধ্যমতো তাদের পানাহার করাই। সে আমাদের এই পদ্ধতি পছন্দ করেছিল এবং এই লোকটির সাথেও তাই করেছে। তাঁর সাথে কারাগারে থাকা কয়েকজন সঙ্গী বললেন: হয়তো তিনি কোনো ফেরেশতা ছিলেন। তিনি বললেন: না, কারণ ফেরেশতারা মিথ্যা বলেন না। মূল কথা হলো: এই নেককার মানুষটির খ্যাতি যখন প্রকাশ পেল এবং তাঁর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর মর্যাদা সুবিদিত হলো, তখন তাঁর প্রতি হিংসুক ও শত্রুর সংখ্যাও বেড়ে গেল।
যখন কোনো যুবক তার মর্যাদার দ্বারা আকাশে পৌঁছায়, তখন তার শত্রুরা নক্ষত্রের সংখ্যার মতো দলে দলে আসে। তারা তাঁর নামে মিথ্যা বলতে শুরু করল এবং মাঝে মাঝে তাঁর নামে চিঠিও লিখত যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, যেমনটি তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [যেমনটি তারা এর আগেও বারবার আমার নামে মিথ্যা বলেছে।]
তিনি বলেন: [আর আমি যদি মুখস্থ থেকে আকিদাহ বলতাম, তবে হয়তো তারা বলত: তিনি কিছু গোপন করেছেন অথবা তোষামোদ ও কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তাই আমি একটি আকিদাহর পান্ডুলিপি পেশ করছি যা তাতারদের শাম দেশে আসার প্রায় সাত বছর আগে লেখা] - এভাবেই তাঁদের সাথে তাঁর আলোচনা শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁদের কিছু আপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন যা তাঁরা তাঁদের ভুল আকিদাহগত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এই আকিদাহর ওপর তুলেছিলেন। তিনি যখন 'তাওয়ীল' (অপব্যাখ্যা) পদ্ধতির নিন্দা করলেন, তখন তারা বলল: আপনি কেন এর নিন্দা করছেন? এর অর্থ তো এই যে আপনি আমাদের কালামশাস্ত্রবিদদের কাফির বলছেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
أبواب العقيدة الواسطيةرابعاً: أبواب هذه العقيدة: اشتملت هذه العقيدة على مجموعة من الأبواب، منها: الصفات، ووسطية أهل السنة، واليوم الآخر، والقدر، والإيمان، والصحابة وأهل البيت، وكرامات الأولياء، وطريقة أهل السنة في السلوك والعمل، فهذه العقيدة ليست خاصة بالصفات كما يظن بعض طلاب العلم، فإن بعض طلاب العلم عندما يبدأ بدراسة هذه العقيدة فإن أول باب يواجهه هو باب الصفات، ويظن أن هذا الكتاب خاص بالصفات، وهو ليس خاصاً بالصفات، فأنتم تلاحظون أنه اشتمل على ثمانية أبواب من أبواب العقيدة، لهذا يعتبر هذا المختصر على صغر حجمه من أهم كتب العقيدة الشاملة والمركزة في هذه الأبواب.
আকিদায়ে ওয়াসিতিয়ার অধ্যায়সমূহচতুর্থত: এই আকিদার অধ্যায়সমূহ: এই আকিদা গ্রন্থটি বেশ কিছু অধ্যায়ের সমষ্টি, যার মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর গুণাবলি, আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা, পরকাল, তাকদির, ইমান, সাহাবায়ে কিরাম ও আহলে বাইত, আউলিয়াদের কারামত এবং আচার-আচরণ ও আমলের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর পদ্ধতি। সুতরাং এই আকিদা গ্রন্থটি কেবল আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত নয়, যেমনটি কোনো কোনো তালিবে ইলম মনে করে থাকে। কেননা কিছু তালিবে ইলম যখন এই আকিদা গ্রন্থটি অধ্যয়ন শুরু করে, তখন প্রথম যে অধ্যায়টির সম্মুখীন হয় তা হলো আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত অধ্যায় এবং সে মনে করে যে এই বইটি কেবল আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত, অথচ এটি কেবল আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত নয়। আপনারা লক্ষ্য করবেন যে এটি আকিদার আটটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে; এই কারণেই এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি তার ছোট কলেবর সত্ত্বেও এই সকল অধ্যায়ে আকিদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাপক ও সুসংহত একটি গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
شروح العقيدة الواسطيةخامساً: شروحها: هذه العقيدة لم تشرح إلا في القرن الرابع عشر وما بعده، وممن شرح هذه العقيدة الشيخ محمد بن عبد العزيز المانع رحمه الله، فقد كتب شرحاً مختصراً على هذه العقيدة، وكذلك شرحها الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي في كتاب سماه: (التعليقات اللطيفة على ما احتوته العقيدة الواسطية)، وممن شرح هذا الكتاب أيضاً زيد بن فياض رحمه الله، شرحها بكتاب سماه: (الروضة الندية في شرح العقيدة الواسطية)، وكذلك ممن شرحها الشيخ عبد العزيز بن ناصر الرشيد رحمه الله، المتوفى عام ألف وأربعمائة وثمانية، شرحها بكتاب سماه: (التنبيهات السنية في شرح العقيدة الواسطية)، وكذلك ممن شرحها الشيخ عبد العزيز السلمان، شرحها في كتاب سماه: (الكواشف الجلية في شرح العقيدة الواسطية)، واختصره في كتابه: الأسئلة والأجوبة الأصولية على العقيدة الواسطية، وممن شرحها أيضاً الشيخ محمد بن عثيمين حفظه الله تعالى في شرحه الكبير للعقيدة الواسطية في مجلدين، وكذلك من التعليقات على هذه العقيدة هذا التعليق واسمه: (التعليقات المفيدة على العقيدة الواسطية) لأحد المحققين، اسمه عبد الله بن عبد الرحمن الشريف.
هذه بعض الشروح لهذه الرسالة المختصرة.
والشروح لأي كتاب من الكتب نوعان: النوع الأول: شروح تحليلة، والمقصود بها شروح تفصيلية لألفاظ الكتاب ولمسائله، وقد يكون فيها كثير من الاستطرادات، ويمثل هذه الشروح في شروح العقيدة الواسطية كتاب الشيخ ابن عثيمين حفظه الله، وكتاب: (الروضة الندية)، (والتنبيهات السنية)، (والكواشف الجلية)، فكل هذه من الشروحات المبسوطة التي أطالوا فيها، وقد يكون هناك استطرادات ضمن هذه الشروح.
النوع الثاني: الشروح التي تهتم بالقواعد الأساسية في كل باب من هذه الأبواب، ويمثل هذا النوع من شروح العقيدة الواسطية شرح الشيخ السعدي رحمه الله، فإنه لم يكن شرحاً تفصيلاً، فالآيات التي أوردها شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في العقيدة آيات كثيرة جداً بعضها محل الشاهد منه جزء من الآية، فالذي يعتمد الشرح التحليلي يستطرد في أجزاء أخرى من الآيات لا علاقة لها بموضوعات العقيدة، بينما الشيخ السعدي رحمه الله ساق آيات العقيدة بأكملها، فلما انتهى منها قال: هذه الآيات تشتمل على أصول لأهل السنة والجماعة في باب الصفات، يمكن أن أجملها فيما يلي: الأصل الأول، الأصل الثاني، الأصل الثالث، ثم جمع الأصول جميعاً، وهذا نوع من أنواع الشروح يكون المقصود منه التقعيد لهذه الأبواب دون التفصيل والتحليل للألفاظ، فالطريقة التي سنعتمدها -بإذن الله- هو التوسط وعدم الاستغراق في الكلام في الألفاظ، وإنما يكون التركيز في شرحنا -بإذن الله تعالى- حول القواعد الأساسية من كل باب، مع الاهتمام بالأدلة، ووجه الاستدلال، وآراء الفرق الضالة، والرد عليها.
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাসমূহপঞ্চম: এর ব্যাখ্যাসমূহ: এই আকিদাহ গ্রন্থটি চতুর্দশ হিজরী শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের আগে ব্যাখ্যা করা হয়নি। যারা এই আকিদাহর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানি' (রহমাতুল্লাহি আলাইহি); তিনি এই আকিদাহর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা লিখেছেন। একইভাবে শেখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী এটি ব্যাখ্যা করেছেন এমন একটি গ্রন্থে যার নাম তিনি রেখেছেন: (আত-তালিকাতুল লতিফাহ আলা মা আহতাওয়াতহুল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ)। এই গ্রন্থটি যারা ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে জায়েদ বিন ফাইয়াদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও রয়েছেন; তিনি এটি (আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ফি শারহিল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ) নামক কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন। একইভাবে শেখ আব্দুল আজিজ বিন নাসির আর-রশিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), যিনি চৌদ্দশত আট হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, তিনি এটি (আত-তানবিহাতুস সানিইয়্যাহ ফি শারহিল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ) নামক কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আরও যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ আব্দুল আজিজ আস-সালমান; তিনি এটি (আল-কাওয়াশিফুল জালিয়্যাহ ফি শারহিল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ) নামক কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং (আল-আসইলাতু ওয়াল আজওয়িবাতুল উসুলিয়্যাহ আলাল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ) গ্রন্থে একে সংক্ষিপ্ত করেছেন। এটি আরও ব্যাখ্যা করেছেন শেখ মুহাম্মদ বিন উসাইমিন (হাফিজাহুল্লাহু তা'আলা) আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর দুই খণ্ডের এক বৃহৎ ব্যাখ্যায়। একইভাবে এই আকিদাহর টীকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একজন গবেষকের এই টীকা যার নাম: (আত-তালিকাতুল মুফিদাহ আলাল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ), তাঁর নাম আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আশ-শরীফ।
এগুলো হচ্ছে এই সংক্ষিপ্ত রিসালাহটির কিছু ব্যাখ্যা।
যেকোনো কিতাবের ব্যাখ্যা সাধারণত দুই প্রকারের হয়: প্রথম প্রকার: বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যা, এর উদ্দেশ্য হলো কিতাবের শব্দাবলি এবং মাসআলাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা, যাতে অনেক ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের বাইরে আলোচনার বিস্তৃতি থাকতে পারে। আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে শেখ ইবনে উসাইমিন (হাফিজাহুল্লাহ)-এর কিতাব এবং (আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ), (আত-তানবিহাতুস সানিইয়্যাহ) ও (আল-কাওয়াশিফুল জালিয়্যাহ) গ্রন্থগুলো এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর সবই বিস্তারিত ব্যাখ্যা যেখানে তাঁরা দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক অন্য আলোচনাও থাকতে পারে।
দ্বিতীয় প্রকার: সেই সমস্ত ব্যাখ্যা যা প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক নিয়মাবলির প্রতি গুরুত্ব দেয়। আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে শেখ আস-সাদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ব্যাখ্যাটি এই প্রকারের উদাহরণ। কারণ এটি কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা ছিল না। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই আকিদাহর মধ্যে অনেক আয়াত উল্লেখ করেছেন, যার কোনো কোনোটির একটি অংশই কেবল মূল আলোচ্য বিষয়। সুতরাং যারা বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেন, তাঁরা আয়াতের অন্যান্য অংশ নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা করেন যার সাথে আকিদাহর বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। পক্ষান্তরে শেখ আস-সাদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আকিদাহর আয়াতগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন, তারপর যখন সেগুলো শেষ হয়েছে তখন বলেছেন: এই আয়াতগুলো সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের কিছু মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করে, যা আমি নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরছি: প্রথম মূলনীতি, দ্বিতীয় মূলনীতি, তৃতীয় মূলনীতি। এরপর তিনি সমস্ত মূলনীতিগুলো একত্রিত করেছেন। এটি এমন এক প্রকারের ব্যাখ্যা যার উদ্দেশ্য হলো শব্দাবলির বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ব্যবচ্ছেদ না করে এই অধ্যায়গুলোর জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করা। সুতরাং আমরা যে পদ্ধতিটি অনুসরণ করব -ইনশাআল্লাহ- তা হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা এবং শব্দের বিশ্লেষণে অতিরিক্ত নিমগ্ন না হওয়া। বরং আমাদের ব্যাখ্যায় -ইনশাআল্লাহ তা'আলা- প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক নিয়মাবলির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে, সাথে সাথে দলিল-প্রমাণ, দলিলে প্রয়োগের ধরন, ভ্রান্ত দলগুলোর মতবাদ এবং তাদের খণ্ডনের প্রতিও নজর রাখা হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أصول الإيمان وأركانه عند أهل السنة والجماعةقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: [بسم الله الرحمن الرحيم.
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إقراراً به وتوحيداً، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً مزيداً، أما بعد: فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة، أهل السنة والجماعة، وهو الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره].
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমানের মূলনীতি ও স্তম্ভসমূহশায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: [পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন তাকে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁর প্রতি স্বীকৃতি স্বরূপ এবং তাঁর তাওহীদ ঘোষণার উদ্দেশ্যে। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও অধিকহারে সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর: এটি কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দল—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ। আর তা হলো—আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা; আর তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা।]
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
مأخذ وصف أهل السنة والجماعة بالفرقة الناجية المنصورةيقول شيخ الإسلام رحمه الله: (فهذا اعتقاد الفرقة الناجية)، الوصف بالناجية مأخوذ من حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (ستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة)، فلما سئل عنها النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي).
والنجاة في هذا الحديث نوعان: نجاة من التفرق والاختلاف، ونجاة من النار التي ورد الوعيد في الحديث عنها.
وأما المنصورة فهذا الوصف مأخوذ من حديث آخر، وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين)، وفي لفظ: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق منصورة لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله وهم على ذلك).
ومعنى النصر: أنهم أصحاب ظهور وبيان وقوة في الحجة، وفي بعض الأحيان قد يكون قوة بالسيف.
فقد قال الشيخ عبد الرحمن أبا بطين في شرحه لهذا الحديث: ظاهرين بالحجة دائماً، وبالسيف أحياناً، وكذلك النصر؛ فإن النصر قد يكون نصراً بالحجة، وقد يكون في بعض الأحيان نصراً بالقوة، فأما النصر بالحجة فمعناه: أن أهل السنة والجماعة هم أقوى الناس حجة، وهم أقوى الناس استدلالاً، وقد تكون لهم في بعض الأحيان دولة وجهاداً وقوة وشوكة، وقد لا تكون لهم في بعض الأحيان هذه القوة المادية، أما الحجة فهي دائمة، وهم منصورون دائماً بالحجة والبيان والظهور، ومصدر استمداد أهل السنة والجماعة لهذا النصر مأخوذ من قوة المنهج نفسه.
فإن المنهج الذي اعتمده أهل السنة والجماعة هو منهج القرآن والسنة، وما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وهو منهج قوي في الحجة والبيان والوضوح يقتنع به كل من أراد الحق، وذلك أن الصوارف التي تصرف الإنسان عن الحق نوعان: الجهل: وهو قلة العلم، والهوى: وهو اتباع الشهوة مع العلم، فإذا كان الإنسان جاهلاً ليس عنده علم؛ فإن في منهج أهل السنة -هذا المنهج القوي- ما يكفيه للاقتناع والاهتداء والاستفادة، أما إذا كان الإنسان الذي صرفه عن الحق هو الهوى فمثل هذا لا يمكن أن يقتنع، وعلاجه يكون بالسيف وبالتأديب والسلطان.
يقول: (فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة)، هناك حديث يورده بعض الشراح، وهو أن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق منصورة)، جاء في بعض الروايات: (لا تزال عصابة من أمتي يقاتلون على أمر الله ظاهرين لا يضرهم من خالفهم حتى تأتيهم الساعة وهم على ذلك) فقوله: (حتى تأتيهم الساعة، وهم على ذلك) يشكل عليه حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تقوم الساعة حتى لا يقال في الأرض: الله الله)، فهذا اللفظ فيه: (لا يضرهم من خالفهم حتى تأتيهم الساعة وهم على ذلك)، والحديث الآخر: (لا تقوم الساعة حتى لا يقال في الأرض: الله الله) وهذا الحديث رواه مسلم، واللفظة الأولى لفظة صحيحة ثابتة.
والجمع بينها أن يقال: إن هذه الطائفة تكون قائمة بأمر الله عز وجل إلى قبيل الساعة، فتأتي ريح طيبة وتأخذ أرواحهم، ولا يبقى إلا شرار الخلق، وعليهم تقوم الساعة، ويدل على هذا ما رواه الحاكم في مستدركه وصححه عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: لا تقوم الساعة إلا على شرار الخلق، هم شر أهل الجاهلية، فقال عقبة لـ عبد الله بن عمر: اعلم ما تقول؟ -يعني: كأنه استغرب هذا القول منه- أما أنا فسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تزال عصابة من أمتي يقاتلون على أمر الله ظاهرين لا يضرهم من خالفهم حتى تأتيهم الساعة وهم على ذلك)، فقال عبد الله: يبعث الله ريحاً ريحها ريح المسك، مسها مس الحرير؛ فلا تترك أحداً في قلبه مثقال ذرة من إيمان إلا قبضته، ثم يبقى شرار الناس فعليهم تقوم الساعة.
وهذا ورد مرفوعاً عن النبي صلى الله عليه وسلم، وبهذا يزول الإشكال الذي ذكره بعض الشراح.
أما قوله: (أهل السنة والجماعة) فالوصف بالسنة هو لاتباعهم للسنة.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল হিসেবে অভিহিত করার উৎসশাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (এটি হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদা)। ‘মুক্তিপ্রাপ্ত’ (নাজিয়াহ) বিশেষণটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস থেকে গৃহীত: (এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, একটি বাদে যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে)। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: (আমি আজ যে বিষয়ের ওপর রয়েছি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর রয়েছেন, যারা তার ওপর থাকবে)।
এই হাদিসে ‘মুক্তি’ (নাজাত) দুই প্রকার: দলাদলি ও মতভেদ থেকে মুক্তি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি, যে জাহান্নামের ভয় এই হাদিসে দেখানো হয়েছে।
আর ‘সাহায্যপ্রাপ্ত’ (মানসুরাহ) বিশেষণটি অন্য একটি হাদিস থেকে গৃহীত, যা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে)। অন্য শব্দে এসেছে: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় বা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে)।
সাহায্যের অর্থ হলো: তারা হবে বিজয়, সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং অকাট্য দলিলের অধিকারী; আর কোনো কোনো সময় তা তরবারির শক্তির মাধ্যমেও হতে পারে।
শাইখ আব্দুর রহমান আবা বাতিন এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: সর্বদা দলিলের মাধ্যমে বিজয়ী এবং কোনো কোনো সময় তরবারির মাধ্যমে বিজয়ী। অনুরূপভাবে সাহায্যও; সাহায্য কখনো দলিলের মাধ্যমে হয়, আবার কখনো শক্তির মাধ্যমে হয়। দলিলের মাধ্যমে সাহায্যের অর্থ হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত দলিলের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তারা দলিল উপস্থাপনে সবচেয়ে পারদর্শী। কোনো কোনো সময় তাদের রাষ্ট্র, জিহাদ, শক্তি ও প্রভাব থাকতে পারে, আবার কোনো কোনো সময় তাদের এই বৈষয়িক শক্তি না-ও থাকতে পারে। তবে দলিলের শক্তি সর্বদা বিদ্যমান থাকে; তারা দলিল, সুস্পষ্ট বর্ণনা ও বিজয়ের মাধ্যমে সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের এই সাহায্যের উৎস মূলত তাদের মানহাজ বা পদ্ধতির নিজস্ব শক্তি থেকে গৃহীত।
কারণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত যে মানহাজ বা পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর মানহাজ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যার ওপর ছিলেন। এটি দলিল, স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার দিক থেকে এমন এক শক্তিশালী মানহাজ যে, সত্যপিয়াসী যে কেউ এতে সন্তুষ্ট হবে। মানুষ যে দুটি কারণে সত্য থেকে বিচ্যুত হয় তা হলো: অজ্ঞতা (অর্থাৎ ইলমের স্বল্পতা) এবং প্রবৃত্তি (অর্থাৎ ইলম থাকা সত্ত্বেও লালসার অনুসরণ করা)। যদি কোনো মানুষ অজ্ঞ হয় এবং তার ইলম না থাকে, তবে আহলুস সুন্নাহর এই শক্তিশালী মানহাজে তার সন্তুষ্টি, হিদায়াত ও উপকারের জন্য যথেষ্ট রসদ রয়েছে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তিকে প্রবৃত্তি সত্য থেকে বিচ্যুত করেছে, তাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়; তার প্রতিকার হলো তরবারি, শাসন ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে।
তিনি বলেন: (কিয়ামত পর্যন্ত এটিই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলের আকিদা)। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী একটি হাদিস উল্লেখ করেন যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে)। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: (আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর নির্দেশের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং বিজয়ী থাকবে; বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না কিয়ামত তাদের নিকট উপস্থিত হয় এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে)। তাঁর এই উক্তি—(যতক্ষণ না কিয়ামত তাদের নিকট উপস্থিত হয় এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে)—এর সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য একটি হাদিসের বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, যা হলো: (ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পৃথিবীতে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলা হবে)। এখানে এক বর্ণনায় বলা হয়েছে—(বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না কিয়ামত তাদের নিকট উপস্থিত হয় এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে)—আর মুসলিম বর্ণিত অন্য হাদিসে বলা হয়েছে—(ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পৃথিবীতে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলা হবে)। আর প্রথম বাক্যটি একটি সহিহ ও সুপ্রমাণিত বর্ণনা।
এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে: এই দলটি কিয়ামতের আগমুহূর্ত পর্যন্ত মহান আল্লাহর নির্দেশের ওপর অটল থাকবে, এরপর একটি পবিত্র বাতাস প্রবাহিত হবে যা তাদের আত্মা কবজ করে নেবে। এরপর কেবল নিকৃষ্টতম সৃষ্টিরাই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। হাকেম তার ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন; আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কেবল নিকৃষ্টতম সৃষ্টিদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে, তারা জাহেলিয়াতের যুগের লোকদের চেয়েও মন্দ হবে। তখন উকবা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বললেন: আপনি কি বলছেন ভেবে দেখুন? —অর্থাৎ তিনি যেন তাঁর এই উক্তিতে আশ্চর্য হলেন— জবাবে তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর নির্দেশের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং বিজয়ী থাকবে; বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না কিয়ামত তাদের নিকট উপস্থিত হয় এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে)। এরপর আব্দুল্লাহ বললেন: আল্লাহ তাআলা কস্তুরীর মতো সুঘ্রাণযুক্ত এবং রেশমের মতো কোমল এক বাতাস পাঠাবেন; যার অন্তরে অণুপরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট থাকবে এটি তাকে মৃত্যু দান করবে। এরপর কেবল নিকৃষ্ট মানুষেরাই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে।
এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই ব্যাখ্যাকারীদের উল্লিখিত সমস্যার নিরসন হয়।
আর তাঁর উক্তি: (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত) —এখানে ‘সুন্নাহ’ বিশেষণটি তাদের সুন্নাহ অনুসরণের কারণে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مأخذ تخصيص أهل السنة في الوصف بالإضافة إلى السنة دون القرآنوهنا يرد
السؤال لماذا لم يقل: أهل القرآن، ولماذا خص السنة؟
و
الجواب أنهم سموا بأهل السنة؛ لأنهم يتميزون بالاستدلال بالسنة، فالقرآن -كما قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: فإنه حمال وجوه، ولهذا تجد بعض الطوائف قد يستدل بالقرآن ويغير الاستدلال لمصلحته، لكن دلائل السنة أصرح في المراد، ولهذا لما ذهب ابن عباس رضي الله عنه لمناقشة الخوارج قال له علي بن أبي طالب رضي الله عنه في وصيته المشهورة: إذا جئتهم فلا تستدل عليهم بالقرآن بل استدل بالسنة؛ فإن القرآن حمال وجوه، ومعنى هذا: أن القرآن جاء بالقواعد العامة، وتفصيلاتها موجودة في السنة النبوية، ولهذا جاء الأمر الأكيد في أكثر من تسعين آية في القرآن الكريم باتباع السنة، والاهتمام بأقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله ونحو ذلك.
ولهذا يلاحظ أن الذين يتميزون باتباع السنة، وبالاهتمام بالحديث وبتطبيقه هم أهل السنة، ولهذا جاء في بعض كلام أهل العلم، عندما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق)، قال الإمام أحمد رحمه الله: إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري منهم؟! وقال أبو عبد الله البخاري: هم أهل العلم يعني: المشتغلين بالسنة والحديث.
وأما قوله: (والجماعة)، فالإضافة إلى الجماعة لها دلالات عظيمة جداً، منها: الاهتمام بالألفة والبعد عن التفرق وأسبابها الموصلة إليها، ومنها: حجية الإجماع، ومنها: أن الجماعة هي الحق، ولو كان الإنسان وحده، فلتعظيم الحق سمي جماعة، ولو كان واحداً، ولهذا قال ابن مسعود رضي الله عنه: (الجماعة هي الحق وإن كنت وحدك).
ثم قال شيخ الإسلام: (وهو الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره)، وهذه هي أصول الإيمان الواردة في حديث جبريل عليه السلام الطويل.
ثم بعد أن ذكر هذا العموم خصصه بالكلام عن الإيمان وبالذات في الصفات.
কুরআনের পরিবর্তে সুন্নাহর দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহকে বিশেষিত করার উৎসএখানে একটি
প্রশ্নউত্থিত হয়: কেন 'আহলুল কুরআন' বলা হলো না এবং কেন সুন্নাহকে বিশেষায়িত করা হলো?
এবং
উত্তরহলো: তাদের 'আহলুস সুন্নাহ' নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তারা সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট। কেননা কুরআন সম্পর্কে আলী ইবন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যেমনটি বলেছেন: তা বহু অর্থের ধারক। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে কিছু দল কুরআন থেকে দলিল পেশ করে এবং তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সেই দলিলের ব্যাখ্যা পরিবর্তন করে। তবে সুন্নাহর প্রমাণাদি উদ্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট। এই কারণেই ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন খাওয়ারিজদের সাথে বিতর্কের জন্য গেলেন, তখন আলী ইবন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সেই বিখ্যাত ওসিয়তে তাকে বলেছিলেন: "তুমি যখন তাদের কাছে যাবে তখন কুরআনের মাধ্যমে তাদের ওপর দলিল পেশ করো না, বরং সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল পেশ করো। কেননা কুরআন বহু অর্থের ধারক।" এর অর্থ হলো: কুরআন সাধারণ মূলনীতিসমূহ নিয়ে এসেছে, আর সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নববী সুন্নাহতে বিদ্যমান। এই কারণেই পবিত্র কুরআনের নব্বইটিরও বেশি আয়াতে সুন্নাহর অনুসরণ করার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী, কর্ম ও এই জাতীয় বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের ব্যাপারে জোরালো নির্দেশ এসেছে।
এই কারণে লক্ষ্য করা যায় যে, যারা সুন্নাহর অনুসরণ এবং হাদিসের প্রতি যত্নবান হওয়া ও তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট, তারাই হলেন আহলুস সুন্নাহ। এ জন্যই কোনো কোনো আলিমের বক্তব্যে এসেছে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর অটল থাকবে", তখন ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন: "তারা যদি আহলুল হাদিস না হয় তবে আমি জানি না তারা কারা!" আর আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি বলেছেন: "তারা হলেন ইলমের অধিকারী", অর্থাৎ যারা সুন্নাহ ও হাদিস চর্চায় নিয়োজিত।
আর তার উক্তি: "ওয়াল জামা'আহ" (এবং জামাআত), এই জামাআতের দিকে সম্বন্ধ করার পেছনে অত্যন্ত মহান কিছু তাৎপর্য রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং অনৈক্য ও এর কারণগুলো থেকে দূরে থাকা। অন্যটি হলো: ইজমার (ঐক্যমত্যের) প্রামাণিকতা। আরও একটি হলো: জামাআত বলতে হককেই বোঝায়, যদিও মানুষ একা হয়। হকের মহত্ত্বের কারণে একে 'জামাআত' বলা হয় যদিও তা একজন হয়। এই কারণেই ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "জামাআত হলো হকের অনুসারী হওয়া, যদিও তুমি একা হও।"
অতঃপর শাইখুল ইসলাম বলেন: "আর তা হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা।" আর এগুলোই হলো ঈমানের সেই মূলনীতিসমূহ যা জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর তিনি এই সাধারণ বর্ণনার পর ঈমান সম্পর্কে এবং বিশেষ করে আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে একে বিশেষায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
معتقد أهل السنة والجماعة في الصفاتقال: [ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه، وبما وصفه به رسوله من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل].
هذه الفقرة من العقيدة الواسطية ليست من اختراع شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وإنما هي من كلام السلف السابقين، فمثلاً الإمام أحمد رحمه الله يقول: لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه، أو وصفه به رسوله، لا يتجاوز القرآن والحديث، ويقول حماد رحمه الله -وهو من مشايخ البخاري -: من شبه الله بخلقه فقد كفر، ومن نفى ما أثبته الله لنفسه فقد كفر.
সিফাত (গুণাবলী) বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাতিনি বলেন: [আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ নিজের কিতাবে নিজের যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, তার প্রতি কোনো প্রকার বিকৃতি ও অস্বীকার করা ছাড়া এবং ধরন নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান ছাড়া ঈমান আনা]।
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর এই অনুচ্ছেদটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিজস্ব উদ্ভাবন নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সালাফদের কথা থেকেই নেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহকে কেবল সেই গুণেই গুণান্বিত করা যাবে যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; কুরআন ও হাদিসকে অতিক্রম করা যাবে না। আর হাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) —যিনি ইমাম বুখারীর অন্যতম শিক্ষক— বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরি করল, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করল সেও কুফরি করল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أنواع الصفات وأقسامها عند أهل السنةقوله: (ومن الإيمان بالله؛ الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم.
هذا يدعونا إلى الحديث عن أنواع الصفات، فإن الصفات قسمها أهل العلم إلى أقسام، وهي ثلاثة أقسام بثلاث اعتبارات: قسموها باعتبار الدليل إلى صفات شرعية وصفات عقلية، ومعنى هذا: أن الصفات باعتبار نوع الدليل الذي يدل عليها قد يدل عليها العقل استقلالاً، وقد لا يدل عليها العقل استقلالاً، وإنما يدل عليها الشرع، وسيأتي معنا الحديث عن منزلة الاستدلال على العقيدة، فمن الصفات العقلية: صفة الحياة؛ فإن أي عاقل يعلم أن الإله لا بد أن يكون حياً؛ لأنه لا يتصور إله معبود وهو ميت، وكذلك العلم والقدرة؛ فإنه لا يتصور أن يكون إله جاهل أو عاجز، وهذا بالبداهة يعرفه أول ما تعرض عليه، وهو ما يسميه العلماء، الضرورة العقلية.
وهناك من الصفات ما لا يدل العقل عليها استقلالاً مثل صفة الوجه لله عز وجل، وصفة اليدين، والنزول ونحو ذلك من الصفات، فهذه الصفات لو لم ترد النصوص الشرعية بالتنبيه عليها لما عرفناها، ولهذا سميت شرعية.
النوع الثاني من أنواع الصفات هو: باعتبار تعلقها بالمشيئة فإن الصفات باعتبار تعلقها بالمشيئة نوعان: صفات ذاتية وصفات فعلية، أما الصفات الذاتية فهي التي لا تنفك عن الله عز وجل بأي وجه من الوجوه، وهي الصفات الدائمة التي لا تعلق لها بالإرادة والمشيئة، مثل: صفة العلم والحياة واليدين والعينين ونحو ذلك من الصفات.
وأما الصفات الفعلية فهي: الصفات المتعلقة بمشيئة الله عز وجل، إن شاء فعلها وإن شاء تركها، مثل: صفة النزول والاستواء والمجيء والإتيان والخلق، ونحو ذلك من الصفات.
والصفات الفعلية يسميها العلماء الصفات الاختيارية، وكلاهما بمعنى واحد، وهي تنقسم إلى قسمين: صفات فعلية متعدية، وصفات فعلية لازمة، فالصفات الفعلية المتعدية هي: التي يكون لها آثار مباشرة على الخلق، مثل: صفة الخلق والتدبير والإحياء والإماتة ونحو ذلك.
والنوع الثاني: صفات فعلية لازمة: مثل صفة النزول، فهذه ليس لها آثار على العباد، وقد ذكر هذا التقسيم شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في المجلد الثاني من كتاب: درء تعرض العقل والنقل، وهذا المجلد كله خاص بالصفات الاختيارية، فقد أورد آيات كثيرة جداً، وبين وجه الاستدلال منها على هذه الصفات، وأحاديث وآثار عن الصحابة التابعين، ونقل نصوصاً كثيرة جداً لعلماء أهل السنة -من كتب بعضها مفقود- تدل على هذا الأمر، وقد اهتم بهذا شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله لقوة الخلاف بين أهل السنة والأشاعرة الذين ورثوا الانحراف في هذا الباب عن الكلابية.
النوع الثالث من الصفات: باعتبار النفي والإثبات؛ فإن الصفات باعتبار النفي والإثبات تنقسم إلى قسمين: صفات ثبوتية وصفات منفية، فمعنى فالصفات الثبوتية مثل إثبات الله عز وجل لنفسه العلم والحياة والقدرة ونحو ذلك، والصفات المنفية هي ما نفاها الله عز وجل عن نفسه مثل: نفي الند والمثيل والسِنة والعجز، {وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق:38]، {لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ} [البقرة:255].
আহলুস সুন্নাহর নিকট সিফাত বা গুণাবলীর প্রকারভেদ ও এর শ্রেণিবিন্যাসতাঁর উক্তি: (আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো—তিনি নিজের কিতাবে নিজেকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন, তার প্রতি ঈমান আনা।
এটি আমাদের সিফাত বা গুণাবলীর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। কেননা ইলম অন্বেষণকারীগণ সিফাতসমূহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। তিনটি বিবেচনার ভিত্তিতে এগুলো তিন প্রকার। প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁরা একে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: শরয়ি সিফাত ও যৌক্তিক (আকলি) সিফাত। এর অর্থ হলো: দলিলের প্রকারভেদে এমন কিছু সিফাত আছে যা আকল বা যুক্তি স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণ করতে পারে, আবার কিছু সিফাত আকল স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণ করতে পারে না বরং কেবল শরয়ি দলিলই তা প্রমাণ করে। আকিদার ক্ষেত্রে দালিলিক অবস্থানের বিষয়টি আমাদের সামনে বিস্তারিত আসবে। আকলি বা যৌক্তিক সিফাতের অন্তর্ভুক্ত হলো: হায়াত বা জীবন; কেননা যেকোনো সুস্থ মস্তিস্কের মানুষই জানে যে, ইলাহকে অবশ্যই চিরঞ্জীব হতে হবে; কারণ মৃত কোনো সত্তাকে ইলাহ হিসেবে কল্পনা করা যায় না। তদ্রূপ জ্ঞান ও ক্ষমতা; কেননা একজন অজ্ঞ বা অক্ষম ইলাহ হওয়া অকল্পনীয়। কোনো মানুষের সামনে এটি পেশ করা মাত্রই সে সহজাতভাবে তা বুঝতে পারে, যাকে উলামায়ে কেরাম ‘অপরিহার্য যৌক্তিক জ্ঞান’ বলে অভিহিত করেন।
এমন কিছু সিফাত রয়েছে যা আকল স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণ করতে পারে না, যেমন: আল্লাহর চেহারা, আল্লাহর হাত, নামা এবং এই জাতীয় অন্যান্য সিফাতসমূহ। শরয়ি নসসমূহ (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) যদি এগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ না করত, তবে আমরা এগুলো জানতে পারতাম না। এই কারণে এগুলোকে ‘শরয়ি সিফাত’ বলা হয়।
সিফাতের দ্বিতীয় প্রকার হলো: আল্লাহর ইচ্ছার (মাশিয়াহ) সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে। ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে সিফাত দুই প্রকার: সত্তাগত সিফাত এবং কর্মগত সিফাত। সত্তাগত সিফাত হলো সেগুলো যা কোনোভাবেই আল্লাহর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। এগুলো এমন চিরস্থায়ী গুণাবলী যার সাথে ইচ্ছা বা মর্জির কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন: জ্ঞান, জীবন, আল্লাহর হাত, আল্লাহর চোখ এবং এই জাতীয় অন্যান্য গুণাবলী।
আর কর্মগত সিফাত হলো: ঐ সকল গুণাবলী যা আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি চাইলে তা করেন এবং চাইলে তা করেন না। যেমন: আল্লাহর নামা, আরশের উপর উঠা, আগমন করা, আসা, সৃষ্টি করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য গুণাবলী।
আলেমগণ কর্মগত সিফাতসমূহকে ঐচ্ছিক সিফাতও বলে থাকেন। উভয়টির অর্থ একই। এটি আবার দুই প্রকার: সকর্মক কর্মগত সিফাত এবং অকর্মক কর্মগত সিফাত। সকর্মক কর্মগত সিফাত হলো: সৃষ্টির ওপর যার সরাসরি প্রভাব পড়ে। যেমন: সৃষ্টি করা, পরিচালনা করা, জীবন দান করা, মৃত্যু দান করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য সিফাত।
দ্বিতীয় প্রকার হলো: অকর্মক কর্মগত সিফাত; যেমন আল্লাহর নামা। বান্দাদের ওপর এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি’ কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডে এই বিভাজনটি উল্লেখ করেছেন। পুরো খণ্ডটিই ঐচ্ছিক সিফাতের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। সেখানে তিনি প্রচুর আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং সেই আয়াতগুলো থেকে এই সিফাতসমূহ প্রমাণের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত অসংখ্য হাদিস ও আসার উল্লেখ করেছেন। তিনি আহলুস সুন্নাহর উলামায়ে কেরামের কিতাব থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন—যার কিছু বর্তমানে হারিয়ে গেছে—যা এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কারণ আহলুস সুন্নাহ এবং আশআরিদের মধ্যে এই নিয়ে জোরালো মতভেদ রয়েছে, যারা কুল্লাবিদের থেকে এই বিচ্যুতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
সিফাতের তৃতীয় প্রকার: ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতার বিচারে। ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতার বিচারে সিফাত দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক সিফাত ও নেতিবাচক সিফাত। ইতিবাচক সিফাত হলো আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, যেমন: জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা এবং এই জাতীয় বিষয়। আর নেতিবাচক সিফাত হলো আল্লাহ তাআলা নিজের থেকে যা নাকচ করেছেন, যেমন: সমকক্ষতা, সাদৃশ্যতা, তন্দ্রা ও অক্ষমতা। যেমন: “এবং ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি” [ক্বফ: ৩৮], “তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না” [আল-বাকারা: ২৫৫]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معنى إثبات الصفات من غير تحريف ولا تعطيلأما قوله: (من غير تحريف) فالتحريف هو تغيير المعنى أو اللفظ، والتحريف ينقسم إلى قسمين، فأما تغيير اللفظ فلا يعرف له مثال واضح وإن كان بعض أهل البدع تمناه، فهذا عمرو بن عبيد يقول: وددت لو أني حككت قوله تعالى: {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11]، وكتبت: {وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [إبراهيم:4]، يعني: وددت لو أني حككتها من المصاحف، وجاء رجل إلى القارئ المشهور أبي عمرو بن العلاء وقال له: اقرأ: (وكلم اللهَ موسى تكليماً)، حتى ينسب صفة التكليم والكلام إلى موسى ولا ينسبها إلى الله عز وجل، والآية هي: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء:164]، فقال: هب أنني قرأت ما أردت، فماذا تصنع في قول الله عز وجل: {وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ} [الأعراف:143] وهذا نص صريح، يعني: لو أني غيرت لك ما تريد وذاع وانتشر على أنها قراءة، فكيف تعمل بالنص الثاني؟ فخصم ذلك الخبيث.
وأما النوع الثاني وهو المشهور والكثير فهو: تحريف المعنى، أي: تغيير دلالته، فمثلاً قول الله عز وجل: {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص:75] غيرت اليد هنا بمعنى النعمة، أو كما في قوله تعالى: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة:64]، أو تأويل وتحريف قوله عليه الصلاة والسلام: (ينزل ربنا)، قالوا: ينزل أمره، فهذا التغيير للمعاني هو التحريف، وهذا هو الذي يسميه أهل البدع والضلالة التأويل تلطيفاً للعمل الذي عملوه، وإضفاءً للشرعية عليه.
كما أن هؤلاء استشكلوا قوله: (من غير تحريف ولا تعطيل)، عندما ناظرهم شيخ الإسلام قالوا: ماذا تقصد بالتحريف والتعطيل؟ قال: أنا اعتنيت في هذه الرسالة بأن أستخدم الألفاظ الشرعية، فقوله من غير تحريف يدل عليه قول الله عز وجل: {وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ} [المائدة:41]، بمعنى: يغيرون معناه، وهم يغيرون معناه ودلالته، بحيث إن كلمة تصرف عن معناها الحقيقي.
قوله: (ولا تعطيل)، التعطيل هو: التخلية والترك، ولهذا يقول الله عز وجل: {وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ} [الحج:45] يعني: خالية من الماء، أو معطلة من الرعاة الذين يأتونها، بمعنى: متروكة، فمعنى قوله: (ولا تعطيل) يعني: من دون تفريغ لمعناها ومحتواها، فإن أهل البدع فرغوها من معناها الصحيح، فهو يقصد بقوله: (من غير تحريف): أهل الكلام الذين أولوا الصفات، ويقصد بقوله: (ولا تعطيل): أهل التأويل الذين عطلوا الصفة عن معناها، وإن كانوا لم يثبتوا معنى آخر لها، وذلك أن أهل البدع أول ما يبدءون في الكلام في آيات الصفات يعطلونها من معناها الحقيقي، فيقولون: الله عز وجل ليس له صفة اليدين والعينين ونحو ذلك، وهذا يسمى تعطيلاً.
كما ينقسموا إلى طائفتين: طائفة تسكت، وسموا أنفسهم المفوضة، أي: مفوضة أمرها إلى الله عز وجل.
وطائفة ثانية تؤول، يعني: أن تأتي بمعنى للآية غير المعنى الحقيقي، والأشاعرة والماتريدية يعتقدون أن السلف على مذهب التفويض، الذي هو تخلية النص الشرعي من معناه الحقيقي، ثم يقولون: إن السلف تركوا الآية بدون تفسير لها، فيقولون: منهج السلف أسلم، يعني: من الخطأ؛ لأنهم قد يأتون بمعنى فيكون خطأ، ويقولون: ومنهج الخلف -الذين هم متأخري أهل الكلام- أعلم وأحكم؛ لأنهم يأتون بالمعنى الشرعي الصحيح فيما يظنوه ويعتقدوه، وسيأتي الحديث عن هؤلاء بشكل مفصل.
বিকৃতি ও নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত গুণাবলি সাব্যস্ত করার অর্থতাঁর বক্তব্য: (বিকৃতি ব্যতীত) প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তাহরীফ বা বিকৃতি হলো অর্থ অথবা শব্দের পরিবর্তন ঘটানো। বিকৃতি দুই প্রকার; শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিকৃতি করার সুষ্পষ্ট কোনো উদাহরণ জানা নেই, যদিও বিদআতিদের কেউ কেউ এমনটা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছে। যেমন আমর ইবন উবাইদ বলেছিল: আমি যদি মহান আল্লাহর এই বাণীটি: 'এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা' [সূরা আশ-শূরা: ১১] মুসহাফ থেকে মুছে ফেলতে পারতাম এবং তার স্থলে 'এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়' [সূরা ইবরাহীম: ৪] লিখতে পারতাম! অর্থাৎ সে মুসহাফ থেকে তা মুছে ফেলার আকাঙ্ক্ষা করেছিল। জনৈক ব্যক্তি বিখ্যাত ক্বারী আবু আমর ইবনুল আলার কাছে এসে বলল: আপনি পাঠ করুন— 'ওয়াকাল্লামাল্লাহা মুসা তাকলীমা' (অর্থাৎ আল্লাহকে কর্মপদ বা অবজেক্ট বানিয়ে পড়া), যাতে কথা বলার গুণটি মুসার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয়। অথচ প্রকৃত আয়াতটি হলো: 'এবং আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন' [সূরা আন-নিসা: ১৬৪]। আবু আমর বললেন: ধরুন আমি আপনার কথামতো পাঠ করলাম, কিন্তু মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন: 'এবং যখন মুসা আমাদের নির্ধারিত সময়ে আসলেন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন' [সূরা আল-আরাফ: ১৪৩]। এটি একটি সুস্পষ্ট অকাট্য দলিল। অর্থাৎ আমি যদি আপনার চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন করি এবং তা পাঠরীতি হিসেবে ছড়িয়েও পড়ে, তবে এই দ্বিতীয় দলিলের ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? ফলে সেই পাপিষ্ঠ ব্যক্তি নিরুত্তর হয়ে গেল।
দ্বিতীয় প্রকার বিকৃতি যা অত্যন্ত সুপরিচিত এবং বহুল প্রচলিত, তা হলো: অর্থের বিকৃতি। অর্থাৎ শব্দের মর্মার্থ পরিবর্তন করে ফেলা। উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহর বাণী: 'যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি' [সূরা সোয়াদ: ৭৫]। এখানে 'হাত' শব্দটিকে পরিবর্তন করে 'নেয়ামত' অর্থে গ্রহণ করা। অথবা যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত' [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৪]। কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: 'আমাদের রব নামেন'—এর ব্যাখ্যা ও বিকৃতি করে তারা বলে: 'তাঁর আদেশ নামে'। অর্থের এই পরিবর্তনই হলো বিকৃতি (তাহরীফ), যাকে পথভ্রষ্ট বিদআতিরা তাদের কাজের বৈধতা দিতে এবং একে মার্জিত রূপ দান করতে 'তাউইল' বা ব্যাখ্যা বলে নামকরণ করে থাকে।
তেমনিভাবে তারা যখন শাইখুল ইসলামের সাথে বিতর্ক করছিল, তখন 'কোনো প্রকার বিকৃতি ও নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত'—তাঁর এই কথাটি নিয়ে আপত্তি তুলল। তারা বলল: বিকৃতি ও নিষ্ক্রিয়করণ দ্বারা আপনি কী বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি বললেন: আমি এই রিসালায় শরয়ি শব্দাবলি ব্যবহার করার প্রতি যত্নবান হয়েছি। 'বিকৃতি ব্যতীত'—তাঁর এই কথার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: 'আর ইয়াহুদীদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা মিথ্যার ওপর কান পাতে... তারা কথাকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃতি করে' [সূরা আল-মায়িদাহ: ৪১]। অর্থাৎ তারা এর অর্থ পরিবর্তন করে ফেলে। তারা শব্দের অর্থ ও মর্ম এমনভাবে পরিবর্তন করে যাতে শব্দটি তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
তাঁর বক্তব্য: (এবং নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত); তা’তীল বা নিষ্ক্রিয়করণ অর্থ হলো: খালি করা ও বর্জন করা। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেন: 'পরিত্যক্ত কূপ ও সুউচ্চ প্রাসাদ' [সূরা আল-হাজ্জ: ৪৫]। অর্থাৎ পানি শূন্য কূপ, অথবা রাখালরা যে কূপে আসে না এমন পরিত্যক্ত কূপ। সুতরাং 'নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত' কথাটির অর্থ হলো: এর অর্থ ও মর্মবস্তু শূন্য করা ছাড়া। কারণ বিদআতিরা একে এর সঠিক অর্থ থেকে শূন্য করে ফেলেছে। তিনি 'বিকৃতি ব্যতীত' দ্বারা সেই সব ইলমুল কালামপন্থীদের বুঝিয়েছেন যারা আল্লাহর গুণাবলির অপব্যাখ্যা করে। আর 'নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতীত' দ্বারা বুঝিয়েছেন সেই সব অপব্যাখ্যাকারীদের যারা গুণাবলিকে তার অর্থ থেকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যদিও তারা এর জন্য অন্য কোনো অর্থ সাব্যস্ত করে না। বিষয়টি হলো, বিদআতিরা যখন গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করে, তখন প্রথমেই তারা একে এর প্রকৃত অর্থ থেকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। তারা বলে: মহান আল্লাহর হাত, চোখ এবং এই জাতীয় কোনো গুণ নেই—আর একেই বলা হয় নিষ্ক্রিয়করণ (তা’তীল)।
তারা আবার দুই ভাগে বিভক্ত: একদল চুপ থাকে, তারা নিজেদের 'মুফাওয়িদা' (সোপর্দকারী) বলে পরিচয় দেয়। অর্থাৎ তারা এই বিষয়টির জ্ঞান মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে দেয়।
দ্বিতীয় দল হলো যারা 'তাউইল' বা ব্যাখ্যা করে। অর্থাৎ আয়াতের প্রকৃত অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ প্রদান করা। আশআরি এবং মাতুরিদিরা বিশ্বাস করে যে, সালাফগণ 'তাফবীদ' (অর্থ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা) মতাদর্শের ওপর ছিলেন, যার অর্থ হলো শরয়ি নস বা পাঠকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে খালি করে দেয়া। এরপর তারা বলে যে, সালাফগণ আয়াতের কোনো ব্যাখ্যা না করেই তা ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলে: সালাফদের পদ্ধতি অধিক নিরাপদ (ভুল থেকে); কারণ তারা কোনো অর্থ করতে গেলে তা ভুল হতে পারত। আর তারা বলে: খালাফদের পদ্ধতি—যারা হলো পরবর্তী যুগের ইলমুল কালামপন্থী—অধিক জ্ঞানগর্ভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ; কারণ তারা তাদের ধারণা ও বিশ্বাস মতে সঠিক শরয়ি অর্থটি উপস্থাপন করে। এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
معنى إثبات الصفات من غير تكييف ولا تمثيلقال: [من غير تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل].
التكييف هو حكاية كيفية معينة للصفة، ولا شك أن صفات الله عز وجل لها كيفية في ذاتها لكن لا نعلمها نحن، فالله عز وجل لم يخبرنا بكيفية صفاته فهي من الغيب الذي لا نعلمه، لكن نعلم معانيها وما تدل عليه.
والفائدة من بيان الله عز وجل لنا لهذه الصفات من جهة المعاني وجعل كيفياتها غيباً هو: أن معانيها عندما ندركها نستفيد منها سلوكاً وآداباً وأعمالاً نستثمرها في التعبد لله عز وجل.
وأما إدراك الكيفية فإن العقل لا يمكن أن يدركه الآن؛ لأن العقل لا يدرك الشيء إلا برؤيته، أو برؤية نظيره، أو بخبر الصادق عنه، ونحن لم نر الله عز وجل بأعيننا في الدنيا، وكذلك لم نر شبيهاً له، وهو سبحانه وتعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11]، وكذلك لم يخبرنا الصادق عن كيفية محددة لها، ولهذا لما جاء الرجل إلى الإمام مالك رحمه الله، وقال: يقول الله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] كيف استوى؟ فقال الإمام مالك قاعدة، وهذا من بركة علوم السلف؛ فإن السلف رحمهم الله كما يقول ابن القيم رحمه الله: كان كلامهم قليل لكنه كثير البركة، وكلام الخلف كثير لكنه قليل البركة، فهذا الإمام مالك رحمه الله عندما قال له الرجل ذلك قال: الاستواء معلوم.
يعني: في اللغة، وفي لفظ آخر: الاستواء غير مجهول.
يعني: معلوم من ناحية دلالته.
والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة.
وصفات الله عز وجل لها كيف في الحقيقة، لكننا لا ندرك كيفياتها؛ لأننا لم نرها، ولم نر مثيلاً لها، ولم يخبرنا الصادق -وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم عن مثيل لها.
والتمثيل هو: حكاية مثل معين، وشيخ الإسلام رحمه الله في هذه العقيدة كان دقيقاً، فهذه العقيدة محررة حتى في الألفاظ، كما تلاحظون: تمثيل دون تشبيه، وقال: ولا تكييف ولا تمثيل؛ لأن استخدام كلمة تشبيه خطأ؛ إذ لا بد أن يوجد بين أي شيئين مشابهة ولو في الألفاظ، وهذا ما سيأتي معنا إن شاء الله الحديث عنه في الكلام على القدر المشترك بين صفات الله عز وجل وصفات خلقه.
তাকিয়িফ (ধরণ নির্ধারণ) ও তামসিল (সাদৃশ্য প্রদান) ব্যতিরেকে সিফাতসমূহ (গুণাবলি) সাব্যস্ত করার অর্থতিনি বলেছেন: [তাহরিফ (বিকৃতি), তাতিল (অস্বীকৃতি), তাকিয়িফ (ধরণ নির্ধারণ) এবং তামসিল (সাদৃশ্য প্রদান) ছাড়াই।]
তাকিয়িফ হলো কোনো গুণের একটি নির্দিষ্ট ধরন বর্ণনা করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহর গুণাবলির একটি প্রকৃত ধরন বা অবস্থা রয়েছে, কিন্তু আমরা তা জানি না। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণাবলির ধরন সম্পর্কে আমাদের জানাননি, তাই এটি অদৃশ্যের (গায়েব) অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা এগুলোর অর্থ এবং এগুলো যা নির্দেশ করে তা জানি।
আল্লাহ তাআলা অর্থের দিক থেকে আমাদের কাছে এই গুণাবলি বর্ণনা করা এবং এর ধরনকে অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত রাখার উদ্দেশ্য হলো: আমরা যখন এগুলোর অর্থ উপলব্ধি করি, তখন তা থেকে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আদব এবং আমলগত উপকার লাভ করি, যা আমরা আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি।
আর গুণের ধরন উপলব্ধি করার বিষয়টি বর্তমানে বিবেকের পক্ষে সম্ভব নয়; কারণ বিবেক কোনো কিছুকে তখনই উপলব্ধি করতে পারে যখন সে তা দেখে, অথবা তার অনুরূপ কিছু দেখে, অথবা কোনো সত্যবাদী সংবাদদাতার কাছ থেকে সে সম্পর্কে খবর পায়। আর আমরা দুনিয়াতে সচক্ষে আল্লাহ তাআলাকে দেখিনি, তেমনি তাঁর কোনো সদৃশও দেখিনি। আর তিনি পবিত্র ও মহান: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শূরা: ১১]। তদ্রূপ কোনো সত্যবাদী সংবাদদাতাও আমাদের কাছে এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ধরনের খবর দেননি। এই কারণেই যখন এক ব্যক্তি ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে এসে বলল: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দয়াময় রহমান আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন ইমাম মালিক একটি মূলনীতি বর্ণনা করেন; আর এটি সালাফদের ইলমের বরকতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন: সালাফদের কথা ছিল কম কিন্তু তাতে বরকত ছিল অনেক, আর পরবর্তীকালের লোকেদের কথা অনেক কিন্তু তাতে বরকত কম। সুতরাং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) যখন সেই ব্যক্তি তাঁকে এ কথা জিজ্ঞেস করল, তখন তিনি বললেন: উপরে উঠা বা ইস্তিওয়ার বিষয়টি জানা।
অর্থাৎ: ভাষায়, আর অন্য শব্দে: ইস্তিওয়া বা উপরে উঠার বিষয়টি অজানা নয়।
অর্থাৎ: এর অর্থের দিক থেকে তা জানা।
আর ধরন অজানা, এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।
আর আল্লাহ তাআলার গুণাবলির বাস্তবে একটি ধরন রয়েছে, কিন্তু আমরা সেই ধরনগুলো উপলব্ধি করতে পারি না; কারণ আমরা তা দেখিনি, তার কোনো সদৃশও দেখিনি এবং কোনো সত্যবাদী সংবাদদাতা—যিনি হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—আমাদের কাছে এর কোনো সদৃশ বা ধরন সম্পর্কে সংবাদ দেননি।
আর তামসিল হলো: কোনো নির্দিষ্ট সদৃশ বর্ণনা করা। শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) এই আকিদাহ বর্ণনায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিলেন, এই আকিদাহর শব্দ চয়নও অত্যন্ত সুসংহত। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন: তিনি তাশবিহ (সাদৃশ্য) না বলে তামসিল ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন: তাকিয়িফ ও তামসিল ব্যতিরেকে; কারণ তাশবিহ শব্দটি ব্যবহার করা ভুল; কেননা যেকোনো দুটি জিনিসের মধ্যে অন্তত শব্দগতভাবে হলেও কিছু সাদৃশ্য থাকা অনিবার্য। আর এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির মধ্যে সাধারণ অংশ (কদর মুশতারাক) সম্পর্কিত আলোচনায় আমাদের সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إجمال عقيدة أهل السنة في صفات الله سبحانه وتعالىيقول: [بل يؤمنون بأن الله سبحانه ليس كمثله شيء وهو السميع والبصير].
قوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11] دليل على الصفات المنفية، وقوله: {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11] دليل على الصفات الثبوتية، وسيأتي شرح هذه الآية في كلامه رحمه الله.
قال: [فلا ينفون عنه ما وصف به نفسه، ولا يحرفون الكلم عن مواضعه].
يقصد رحمه الله: المعطلة والجهمية بالذات بكل درجاتهم، والذين نفوا صفات الله سبحانه وتعالى.
قال: [ولا يلحدون في أسماء الله وآياته].
أما الإلحاد فمعناه: الميل عن الحق، والإلحاد في أسماء الله عز وجل، يقول الله عز وجل عنه: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف:180]، وأما في آياته فقد دل القرآن عليها كذلك: {إِنَّ الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي آيَاتِنَا لا يَخْفَوْنَ عَلَيْنَا أَفَمَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَنْ يَأْتِي آمِنًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [فصلت:40].
وقد ذكر أهل العلم في الإلحاد في آيات الله عز وجل أنواعاً، وممن ذكر ذلك ابن القيم رحمه الله في كتابه (بدائع الفوائد)، فقد ذكر قواعد ممتازة جداً في الأسماء والصفات، وأكثر من ذكر قواعد الأسماء استقى منه وأخذ، فيقول: إن الإلحاد في أسماء الله عز وجل أنواع منها: تسمية الله عز وجل بما لم يسم به نفسه، مثل: تسمية الفلاسفة له: علة غائية، أو علة فاعلة، وكتسمية النصارى له أباً.
ومن الإلحاد: نفي أسماء الله عز وجل كما هي عقيدة الجهمية، فإن الجهمية قالوا: لا اسم له ولا صفة.
ومن الإلحاد: نفي ما دلت عليه الأسماء من الصفات، وهذا هو مذهب المعتزلة.
ومن الإلحاد: نفي بعض صفات الله عز وجل، وهذا هو مذهب الأشاعرة.
ومن الإلحاد: إثبات أن صفات الله عز وجل كصفات خلقه.
هذه خمسة أنواع من أنواع الإلحاد في أسماء الله عز وجل يمكن أن تراجع في كتاب ابن القيم رحمه الله وغيرها من شروط هذه العقيدة.
قال: [ولا يكيفون ولا يمثلون صفاته بصفات خلقه].
هذا فيه رد على الممثلة والمشبهة، وهم نوعان: من يشبه المخلوق بالخالق، مثل من يقول: فلان مثل الله عز وجل، أو من يشبه الخالق بالمخلوق، فأما الذين يشبهون المخلوق بالخالق فهم غلاة الصوفية الذين رفعوا أولياءهم إلى درجة الألوهية، وأما النوع الثاني، وهو تشبيه الخالق بالمخلوق، فهو عقيدة المشبهة من الرافضة وغيرهم، والتشبيه أصلاً جاء من اليهود، ثم انتقل إلى الرافضة، ثم جاء عند الكرامية، ثم انقرض بعد الكرامية.
মহান আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর আকিদার সারসংক্ষেপতিনি বলেন: [বরং তারা ঈমান রাখেন যে, মহান আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা]।
তাঁর কথা: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" [শূরা: ১১] এটি নেতিবাচক গুণাবলির দলিল, এবং তাঁর কথা: "আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [শূরা: ১১] এটি ইতিবাচক গুণাবলির দলিল। তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) আলোচনায় সামনে এই আয়াতের ব্যাখ্যা আসবে।
তিনি বলেন: [অতএব তারা আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করেন না এবং শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেন না]।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর দ্বারা বিশেষ করে মুয়াত্তিলা এবং জাহমিয়্যাহদের সকল স্তরকে বুঝিয়েছেন, যারা মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করেছে।
তিনি বলেন: [এবং তারা আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ (বিকৃতি) করেন না]।
আর ইলহাদ মানে হলো: সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া। মহান আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ করে তাদের বর্জন করো; তারা যা করে তার প্রতিফল শীঘ্রই তাদের দেওয়া হবে" [আরাফ: ১৮০]। আর তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ সম্পর্কে কুরআন একইভাবে নির্দেশ করেছে: "নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ করে তারা আমার অগোচরে নয়। তবে যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদ হয়ে আসবে সে? তোমরা যা চাও করো; তোমরা যা করো নিশ্চয় তিনি তা দেখেন" [ফুসসিলাত: ৪০]।
আলেমগণ মহান আল্লাহর আয়াতসমূহে ইলহাদের বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'বাদাইউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে অত্যন্ত চমৎকার কিছু মূলনীতি উল্লেখ করেছেন এবং যারা নামের মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন তাদের অধিকাংশই তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছেন ও নিয়েছেন। তিনি বলেন: মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদ কয়েক প্রকারের, যার মধ্যে রয়েছে: মহান আল্লাহর এমন নামকরণ করা যা দিয়ে তিনি নিজের নামকরণ করেননি, যেমন: দার্শনিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে 'চূড়ান্ত কারণ' বা 'কার্যকর কারণ' নামকরণ করা, এবং খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে তাঁকে 'পিতা' নামকরণ করা।
ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান আল্লাহর নামসমূহকে অস্বীকার করা, যেমনটি জাহমিয়্যাহদের আকিদা। কেননা জাহমিয়্যাহরা বলে: তাঁর কোনো নাম নেই এবং কোনো গুণও নেই।
ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো: নামসমূহ যে গুণাবলির ওপর প্রমাণ বহন করে তা অস্বীকার করা; আর এটি হলো মুতাযিলাদের মাযহাব।
ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান আল্লাহর কিছু গুণাবলি অস্বীকার করা; আর এটি আশআরীগণের মাযহাব।
ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির মতো সাব্যস্ত করা।
এগুলো মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদের পাঁচটি প্রকার, যা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব এবং এই আকিদার অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থে দেখা যেতে পারে।
তিনি বলেন: [এবং তারা আল্লাহর গুণাবলির ধরন নির্ধারণ করেন না এবং তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করেন না]।
এর মধ্যে মুমাসসিলাহ ও মুশাব্বিহাহদের খণ্ডন রয়েছে। তারা দুই প্রকার: একদল যারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করে, যেমন কেউ বলে: অমুক ব্যক্তি মহান আল্লাহর মতো। অন্য দল যারা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে। যারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করে তারা হলো চরমপন্থী সুফি যারা তাদের ওলিদের উলুহিয়্যাতের স্তরে উন্নীত করেছে। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা, এটি হলো রাফেযী ও অন্যান্য মুশাব্বিহাহদের আকিদা। মূলত তুলনার উৎপত্তি হয়েছে ইহুদিদের থেকে, এরপর তা রাফেযীদের কাছে স্থানান্তরিত হয়, এরপর তা কাররামিয়্যাহদের মাঝে দেখা দেয়, তারপর কাররামিয়্যাহদের পর তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تنزه الله تعالى عن السمي والكفء والندقال: [لأنه سبحانه لا سمي له].
ودليل هذه الفقرة: قول الله عز وجل: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم:65]، وهذا استفهام إنكاري تضمن النفي.
وقد ذكر الشيخ محمد بن عثيمين فائدة جليلة في الاستفهام الإنكاري المتضمن للنفي، حيث قال: إنه يتضمن كذلك التحدي، فإن أي استفهام إنكاري يزيد على النفي التحدي، فيصبح معنى الآية: لا يوجد سمي له، أو: أتحدى أن يوجد سمي له.
وهو لا يوجد.
قال: [ولا كفء له].
دليل هذه الفقرة: قول الله سبحانه وتعالى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4].
قال: [ولا ند له].
دليلها: {فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة:22].
সমনামধারী, সমকক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে মহান আল্লাহর পবিত্রতাতিনি বলেছেন: [কেননা তাঁর কোনো সমনামধারী নেই]।
এই অনুচ্ছেদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাঁর কোনো সমনামধারী সম্পর্কে জানেন?} [মারইয়াম: ৬৫], আর এটি একটি অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন যা নেতিবাচক অর্থ নির্দেশ করে।
শায়খ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন নেতিবাচক অর্থজ্ঞাপক অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন, তিনি বলেছেন: এটি চ্যালেঞ্জকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ যেকোনো অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন নেতিবাচক অর্থের অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জকেও শামিল করে, ফলে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়: তাঁর কোনো সমনামধারী নেই, অথবা: আমি চ্যালেঞ্জ করছি যে তাঁর কোনো সমনামধারী পাওয়া যাবে।
আর বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
তিনি বলেছেন: [এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই]।
এই অনুচ্ছেদের দলিল হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ৪]।
তিনি বলেছেন: [এবং তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই]।
এর দলিল হলো: {কাজেই তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী স্থির করো না} [আল-বাকারা: ২২]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أسماء الله عز وجل وصفاته توقيفيةقال: [ولا يقاس بخلقه سبحانه وتعالى].
وهذا يدعونا إلى الحديث عن أسماء الله عز وجل وصفاته، هل هي توقيفية أم أنها اجتهادية؟ أسماء الله عز وجل وصفاته توقيفية لا مجال للاجتهاد فيها، فما دلت عليه النصوص من أسمائه سبحانه وتعالى آمنا به، وما دلت عليه أيضاً من صفاته آمنا به، وما لم تدل عليه فإنه لا يثبت ولا ينفى إلا إذا كان يتضمن معنىً باطلاً فإنه حينئذٍ يرد، وأما الألفاظ التي تشتمل على معانٍ من الحق ومن الباطل فلا بد أن يستفصل فيها.
إذاً القاعدة: أن أسماء الله عز وجل توقيفية، وكذلك صفات الله عز وجل توقيفية.
وأما الإخبار عن الله عز وجل بالمعنى الصحيح فإنه جائز لا شيء فيه، ومن هنا جاء جواز ترجمة معاني صفات الله عز وجل بلغات أخرى، فإنه عندما يوجد مسلم حديث عهد بإسلام مثلاً لا يعرف اللغة العربية، ونريد أن نخبره عن الله عز وجل فيجوز أن تترجم له معانيها، ولا يعني هذا أن الكلمات الانجليزية أو أي لغة أخرى هي في لفظها صفات لله عز وجل، وإنما معناها صحيح وثابت عن الله عز وجل، وحينئذٍ يجوز الإخبار عن الله عز وجل بكل معنىً صحيح.
فما ننسبه إلى الله عز وجل ثلاثة أشياء: الأسماء والصفات -وهذه توقيفية- والإخبار عن الله عز وجل إذا كان بمعنىً صحيح فلا شيء فيه.
أما الألفاظ المحدثة الجديدة مثل الجهة والجسم، مثلاً لو قال لك إنسان: هل الله عز وجل له جسم، تقول: كلمة جسم هذه لم يرد في القرآن ولا في السنة إثباتها، ولم يرد فيهما نفي هذه اللفظة، فماذا يُقصد بجسم؟ فإن كان يقصد به البدن كما هو في اللغة العربية، وما نعرفه من الأبدان، فإن هذا معنى باطل ننفيه عن الله عز وجل؛ لأنه ليس كمثله شيء، وإن كنت تقصد به اصطلاحاً خاصاً لكل موصوف؛ فإن الله عز وجل موصوف بصفة.
ونحن نقول: إن هذا الاستعمال من حيث اللفظ بدعة؛ لأنه لم يرد في القرآن ولا السنة، وفي بعض الأحيان قد يمتحن بعض أهل البدع أهل السنة والجماعة بألفاظ يستخدمونها يقولون لهم: هل تثبتونها أو تنفونها؟ فمثل هذه الألفاظ من حيث الاستعمال بدعة، ومن حيث المعنى لا يصح نفيها؛ لأنك إذا نفيتها قد تنفي شيئاً من الحق، ولا يصح إثباتها؛ لأنك إذا أثبتها قد تثبت شيئاً من الباطل لكن نستفصل فيها.
مثل قول بعضهم: هل الله عز وجل في جهة؟ نقول: ماذا تعني بجهة؟ إن كنت تعني جهة العلو؛ فإن الله في العلو، وإن كنت تعني أنه محصور بمكان، فالله عز وجل غير محصور سبحانه وتعالى، وحينئذ يستطيع الإنسان أن يثبت المعنى الصحيح وينفي المعنى الباطل.
মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি ‘তাওকিফী’ (দলিল নির্ভর)তিনি বলেছেন: [এবং তাঁর পবিত্র সত্তাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যাবে না]।
এটি আমাদের মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনার দিকে নিয়ে যায়—সেগুলো কি ‘তাওকিফী’ (দলিল নির্ভর) নাকি ‘ইজতিহাদী’ (গবেষণা নির্ভর)? মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি ‘তাওকিফী’, এতে গবেষণার কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং দলিলসমূহ তাঁর মহান সত্তার যে সকল নামের প্রতি নির্দেশ করে আমরা তাতে ঈমান আনি, এবং যেগুলো তাঁর গুণাবলির প্রতি নির্দেশ করে আমরা তাতেও ঈমান আনি। আর দলিলের মাধ্যমে যা প্রমাণিত নয়, তা সাব্যস্তও করা যাবে না এবং অস্বীকারও করা যাবে না—যতক্ষণ না তা কোনো বাতিল অর্থ বহন করে, তখন তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যেসব শব্দ সত্য এবং মিথ্যা উভয় প্রকার অর্থ বহন করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করতে হবে।
সুতরাং মূলনীতি হলো: মহান আল্লাহর নামসমূহ ‘তাওকিফী’, এবং একইভাবে মহান আল্লাহর গুণাবলিও ‘তাওকিফী’।
আর মহান আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক অর্থে কোনো সংবাদ প্রদান করা জায়েজ, এতে কোনো সমস্যা নেই। এখান থেকেই মহান আল্লাহর গুণাবলির অর্থ অন্য ভাষায় অনুবাদ করার বৈধতা এসেছে। যেমন যখন এমন কোনো নতুন মুসলিম পাওয়া যায় যে আরবি জানে না এবং আমরা তাকে মহান আল্লাহ সম্পর্কে জানাতে চাই, তখন তার জন্য এগুলোর অর্থ অনুবাদ করা জায়েজ। এর অর্থ এই নয় যে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষার শব্দগুলোই আল্লাহর গুণাবলি, বরং এর অর্থ সঠিক এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রমাণিত, আর এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ সম্পর্কে প্রতিটি সঠিক অর্থে সংবাদ দেওয়া বৈধ।
সুতরাং আমরা আল্লাহর দিকে যা নিসবত করি তা তিনটি বিষয়: নামসমূহ এবং গুণাবলি—এই দুটি ‘তাওকিফী’—আর মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান, যদি তা সঠিক অর্থ প্রকাশ করে তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত শব্দাবলি যেমন দিক এবং দেহ; উদাহরণস্বরূপ কেউ যদি আপনাকে বলে: মহান আল্লাহর কি দেহ আছে? আপনি বলবেন: এই ‘দেহ’ শব্দটি কুরআন বা সুন্নাহতে সাব্যস্ত করার জন্য আসেনি, আবার এটি অস্বীকার করার জন্যও আসেনি। তাহলে দেহ বলতে কী উদ্দেশ্য? যদি এর দ্বারা শরীর বোঝানো হয় যেমনটি আরবি ভাষায় প্রচলিত এবং শরীর বলতে আমরা যা জানি, তবে এটি একটি বাতিল অর্থ যা আমরা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্বীকার করি; কারণ তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। আর যদি আপনি এটি দ্বারা গুণবিশিষ্ট সত্তার জন্য একটি বিশেষ পারিভাষিক শব্দ বুঝাতে চান, তবে মহান আল্লাহ গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত।
আর আমরা বলি: এই শব্দের ব্যবহার একটি বিদআত; কারণ এটি কুরআন বা সুন্নাহতে আসেনি। কখনো কখনো বিদআতিরা এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে পরীক্ষা করতে চায় এবং তাদের জিজ্ঞাসা করে: তোমরা কি এগুলো সাব্যস্ত করো নাকি অস্বীকার করো? এ জাতীয় শব্দগুলো ব্যবহারের দিক থেকে বিদআত, কিন্তু অর্থের দিক থেকে এগুলো অস্বীকার করা সঠিক নয়; কারণ আপনি যদি তা অস্বীকার করেন তবে আপনি হয়তো সত্য কোনো কিছুকে অস্বীকার করে বসবেন। আবার এগুলোকে সরাসরি সাব্যস্ত করাও সঠিক নয়; কারণ আপনি যদি সাব্যস্ত করেন তবে হয়তো বাতিল কোনো কিছু সাব্যস্ত করে ফেলবেন। বরং এগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করতে হবে।
যেমন কারো কথা: মহান আল্লাহ কি কোনো দিকে আছেন? আমরা বলব: দিক বলতে আপনি কী বুঝাচ্ছেন? আপনি যদি উচ্চতার দিক বুঝান, তবে আল্লাহ ঊর্ধ্বেই আছেন। আর যদি আপনি বুঝাতে চান যে তিনি কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ, তবে মহান আল্লাহ সীমাবদ্ধ নন, পবিত্র তিনি। এমতাবস্থায় একজন মানুষ সঠিক অর্থটিকে সাব্যস্ত করতে পারে এবং ভ্রান্ত অর্থটিকে অস্বীকার করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أنواع القياس وما يصح منه في حق الله تعالى وما لا يصحقال: [ولا يقاس بخلقه سبحانه وتعالى].
والقياس ثلاثة أنواع كما ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية في درء التعارض: قياس الشمول، وقياس التمثيل، وقياس الأولى.
فأما قياس الشمول فمعناه: اللفظ الذي يشتمل فيه عدة معانٍ، فمثلاً: الحي: يشمل الإنسان والحيوان والنبات، والله عز وجل حي فهل يقاس بهذه الطريقة؟ نقول: لا.
قياس الشمول الذي تستوي فيه الأفراد لا يصح؛ لأن هذا فيه تمثيل لله عز وجل بخلقه.
وأما قياس التمثيل فهو: قياس الفرع على أصل، وهو القياس الفقهي المشهور، وهذا لا يصح استخدامه في صفات الله سبحانه وتعالى بأي وجه من الوجوه؛ لأن الله عز وجل لا يقاس بأحد من خلقه.
وأما قياس الأولى فمعناه: إذا وصف المخلوق بصفة كمال فإن الله عز وجل أولى بها، ودليل هذا القياس هو قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَى} [النحل:60]، فما وصف به المخلوق من الكمال الذي لا نقص فيه بوجه من الوجوه فالله عز وجل أولى به.
وفي بعض الأحيان قد يكون هناك كمال بالنسبة للمخلوق لكن لا يكون كمالاً بالنسبة للخالق، مثل الزواج، هذا كمال بالنسبة للمخلوق، لكنه غير كمال بالنسبة للخالق، ولهذا جاء القيد في قولنا: لا نقص فيه بوجه من الوجوه.
কিয়াসের (অনুমানের) প্রকারভেদ এবং মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এর কোনটি সঠিক ও কোনটি সঠিক নয়তিনি বলেন: [এবং মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যাবে না]।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'দারউত তাআরুদ' গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, কিয়াস তিন প্রকার: কিয়াসে শুমুল (অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুমান), কিয়াসে তামসিল (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) এবং কিয়াসে আওলা (শ্রেয়তর অনুমান)।
কিয়াসে শুমুল-এর অর্থ হলো: এমন শব্দ যা একাধিক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: 'জীবন্ত' শব্দটি মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর মহান আল্লাহও জীবন্ত, তবে কি এই পদ্ধতিতে তুলনা করা হবে? আমরা বলি: না।
যে কিয়াসে শুমুল-এ প্রতিটি সত্তা সমান স্তরের হয়, তা সঠিক নয়; কারণ এতে মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সদৃশ করা হয়।
আর কিয়াসে তামসিল হলো: কোনো শাখাকে মূলের সাথে তুলনা করা, যা একটি প্রসিদ্ধ ফিকহী কিয়াস। মহান আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীর ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবেই ব্যবহার করা বৈধ নয়; কারণ মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির কারো সাথে তুলনা করা যায় না।
আর কিয়াসে আওলা-এর অর্থ হলো: সৃষ্টিকে যদি কোনো পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা হয়, তবে মহান আল্লাহ সেই গুণের অধিকতর যোগ্য। এই কিয়াসের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ} [নাহল: ৬০]। সুতরাং সৃষ্টিকে এমন যে কোনো পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা হয় যাতে কোনোভাবেই কোনো খুঁত নেই, মহান আল্লাহ তার জন্য অধিকতর যোগ্য।
আবার কোনো সময় এমন কিছু থাকতে পারে যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে পূর্ণতা কিন্তু স্রষ্টার ক্ষেত্রে পূর্ণতা নয়; যেমন বিবাহ, এটি সৃষ্টির ক্ষেত্রে পূর্ণতা হলেও স্রষ্টার ক্ষেত্রে পূর্ণতা নয়। একারণেই আমাদের বক্তব্যে এই শর্তটি যুক্ত করা হয়েছে যে: 'যাতে কোনোভাবেই কোনো খুঁত নেই'।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
توجيه بشأن دراسة قطر الندى لغير المتمكن في النحو
السؤال هل يحسن بمن لم يدرس في النحو غير المنهج الدراسي أن يحضر درس قطر الندى؟ وهل من السهل أن يفهم هذا الكتاب؟
الجواب يمكن له أن يحضر هذا الدرس، وأن يجرب نفسه؛ فإذا شعر أنه استفاد وأن عنده القدرة على التفهم يستمر، وإذا شعر أنه لا يستطيع يتركه.
مستوى متن قطر الندى هو بعد الآجرومية، يعني بعدما يدرس الإنسان الآجرومية يدرس قطر الندى، ونحن سنشرح المتن وليس شرحاً للشرح.
নাহু শাস্ত্রে পারদর্শী নন এমন ব্যক্তির জন্য ‘কাতরুন নাদা’ অধ্যয়ন বিষয়ক নির্দেশনা প্রশ্ন যার স্কুল বা সাধারণ শিক্ষাক্রমের বাইরে নাহু শাস্ত্রে অন্য কোনো পড়াশোনা নেই, তার জন্য কি ‘কাতরুন নাদা’র পাঠে উপস্থিত হওয়া সংগত হবে? আর এই কিতাবটি বোঝা কি সহজসাধ্য?
উত্তর তিনি এই পাঠে উপস্থিত হতে পারেন এবং নিজেকে যাচাই করতে পারেন; যদি তিনি অনুভব করেন যে তিনি উপকৃত হচ্ছেন এবং বোঝার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে, তবে তিনি চালিয়ে যাবেন। আর যদি তিনি অনুভব করেন যে তিনি পারছেন না, তবে তা ছেড়ে দেবেন।
‘কাতরুন নাদা’ মূল পাঠের স্তর হলো ‘আজরুমিয়্যাহ’র পরে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি আজরুমিয়্যাহ অধ্যয়ন করার পর ‘কাতরুন নাদা’ অধ্যয়ন করে থাকে। আর আমরা মূল পাঠটি (মাতান) ব্যাখ্যা করব, এটি কোনো ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা (শারহুর শারহ) নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
اشتقاق لفظ الجلالة وحكم إطلاق لفظ القديم على الله تعالى
السؤال قال بعض العلماء في لفظ الجلالة (الله): إنه اسم جامد غير مشتق؛ لأن الاشتقاق يستلزم مادة يشتق منها، واسمه تعالى قديم لا مادة له، كيف يكون الرد على هؤلاء، حيث إن الله تعالى هو الأول وأن أسماءه توقيفية؟
الجواب لفظ الجلالة الذين قالوا: إنه مشتق، لا يقصدون أن الإله نفسه مشتق، وإنما يقصدون أن نفس اللفظة مشتقة.
وأما قول السائل: واسمه تعالى قديم.
فهذا لم يرد عن السلف الصالح رضوان الله عليهم أنهم كانوا يقولون: إن أسماء الله عز وجل قديمة؛ لأن أسماء الله عز وجل غير مخلوقة.
هذا المعروف في كلام أهل العلم، وأما لفظ القدم فإنه غير معروف، وأسماء الله عز وجل مأخوذة من القرآن الكريم، والقرآن الكريم نفسه غير مخلوق، وذكر شيخ الإسلام رحمه الله: أنه لا يصح أن يقال: إنه قديم؛ لأن صفة الكلام لله عز وجل صفة فعلية ليست صفة ذاتية، وإنما هي صفة فعلية قد تكون حادثة الآحاد، وإن كانت قديمة النوع، كما ذكر شيخ الإسلام ذلك في أكثر من موطن.
'আল্লাহ' শব্দের বুৎপত্তি এবং আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে 'কাদিম' (অনাদি) শব্দটি ব্যবহারের বিধান
প্রশ্ন কিছু আলেম 'আল্লাহ' শব্দ সম্পর্কে বলেছেন যে: এটি একটি জামিদ (অপরিবর্তনীয়) নাম, যা অন্য কোনো শব্দ থেকে বুৎপন্ন নয়; কারণ বুৎপত্তির জন্য এমন একটি মূল উপাদানের প্রয়োজন হয় যেখান থেকে এটি উৎপন্ন হবে, আর মহান আল্লাহর নাম অনাদি যার কোনো মূল উপাদান নেই। এদের প্রতি উত্তর কী হবে, যেহেতু আল্লাহ তাআলা হলেন 'আল-আউয়াল' (সর্বপ্রথম) এবং তাঁর নামসমূহ তাওকিফিয়্যাহ (শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত)?
উত্তর 'আল্লাহ' শব্দ সম্পর্কে যারা বলেছেন যে এটি বুৎপন্ন, তারা এ কথা বুঝাতে চাননি যে স্বয়ং ইলাহ (উপাস্য) বুৎপন্ন, বরং তারা বুঝাতে চেয়েছেন যে স্বয়ং শব্দটিই বুৎপন্ন।
আর প্রশ্নকারীর এই কথা: "এবং মহান আল্লাহর নাম অনাদি (কাদিম)"—
এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে তারা বলতেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহর নামসমূহ অনাদি (কাদিম)'; কারণ আল্লাহর নামসমূহ হলো অসৃষ্ট।
আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে এটিই সুপরিচিত কথা। তবে 'কাদিম' শব্দটি ব্যবহারের বিষয়টি সুপরিচিত নয়। মহান আল্লাহর নামসমূহ পবিত্র কুরআন থেকে গৃহীত, আর পবিত্র কুরআন নিজেই অসৃষ্ট। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, একে 'কাদিম' বলা সঠিক নয়; কারণ মহান আল্লাহর কথা বলার গুণ (সিফাতুল কালাম) একটি কর্মবাচক গুণ (সিফাতে ফেলিইয়াহ), এটি সত্তাগত গুণ (সিফাতে জাতিয়াহ) নয়। বরং এটি এমন এক কর্মবাচক গুণ যা একক ঘটনা বা ব্যক্তিপর্যায়ে নতুন হতে পারে, যদিও এটি জাতিগতভাবে অনাদি। যেমনটি শাইখুল ইসলাম একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حكم استخدام قياس الشمول في صفات الله تعالى
السؤال هل قياس الشمول يجوز؟
الجواب لا يجوز قياس الشمول؛ لأن قياس الشمول هو القياس الذي تستوي فيه الأفراد، فإذا قاس الإنسان قياس الشمول -وهو القياس المنطقي- فإنه حينئذٍ يسوي بين الله عز وجل وبين بقية خلقه، وهذا منفي عن الله عز وجل بقوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].
আল্লাহ তাআলার গুণাবলির ক্ষেত্রে কিয়াসুশ শুমূল ব্যবহারের বিধান প্রশ্ন কিয়াসুশ শুমূল কি জায়েয?
উত্তর কিয়াসুশ শুমূল জায়েয নয়; কারণ কিয়াসুশ শুমূল হলো এমন এক তুলনা যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য সমান হয়ে থাকে। সুতরাং কোনো মানুষ যখন কিয়াসুশ শুমূল—যা মূলত যুক্তিবিদ্যার কিয়াস—প্রয়োগ করে, তখন সে মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টিজগতের অন্যান্যদের মাঝে সমতা বিধান করে। অথচ আল্লাহর শানে এটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নাকচ করা হয়েছে: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শূরা: ১১]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - عبد الرحيم السلمي القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الواسطية
المؤلف: عبد الرحيم بن صمايل العلياني السلمي
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 21 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর শারহ - আবদুর রহিম আস-সুলামী বিভাগ: আকিদাহ
বই: আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর শারহ
লেখক: আবদুর রহিম বিন সুমায়িল আল-উলইয়ানী আস-সুলামী
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠ যা ইসলামওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ২১টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
العقيدة الواسطية [2]يتعلق بباب الأسماء والصفات مسائل مهمة، ومن جملتها أن مصدر تلقيها منحصر في القرآن الكريم والسنة النبوية، ومن ذلك سورة الإخلاص التي تضمنت صفة الوحدانية وصفة الصمدية وغيرهما، وأن توحيد الأسماء والصفات مبني على قاعدتي النفي والإثبات للدلالة على الانفراد والاختصاص، وأن للصفات طرقًا ومسالك تؤخذ بها من نصوص الشرع، وغير ذلك من مسائل هذا الباب العظيم.
আল-আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ [২]আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়ের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সংশ্লিষ্ট। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো—এই নাম ও গুণাবলি গ্রহণের উৎস কেবল পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মাঝেই সীমাবদ্ধ। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-ইখলাস, যা আল্লাহর একত্ববাদ ও অমুখাপেক্ষিতার গুণসহ অন্যান্য গুণাবলি ধারণ করে। আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ 'নফী' (অস্বীকৃতি) ও 'ইসবাত' (স্বীকৃতি)—এই দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা আল্লাহর এককত্ব ও বিশেষত্ব নির্দেশ করে। শরীয়তের দলিলাদি থেকে গুণাবলি আহরণের সুনির্দিষ্ট কিছু পন্থা ও পদ্ধতি রয়েছে; এগুলি এবং এ জাতীয় আরও অনেক মাসআলা এই মহান অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
القرآن والسنة مصدر تلقي العقيدة عند أهل السنة والجماعةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمداً عبده ورسوله؛ بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين.
أما بعد: قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإنه أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلاً، وأحسن حديثاً من خلقه.
ثم رسله صادقون مصدقون، بخلاف الذين يقولون عليه ما لا يعلمون، ولهذا قال: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ * وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ * وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الصافات:180 - 182]، فسبح نفسه عما وصفه به المخالفون للرسل، وسلم على المرسلين لسلامة ما قالوه من النقص والعيب، وهو سبحانه قد جمع فيما وصف وسمى به نفسه بين النفي والإثبات، فلا عدول لأهل السنة والجماعة عما جاء به المرسلون؛ فإنه الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين].
شرع المصنف رحمه الله تعالى في بيان المصدر الذي تؤخذ منه العقائد، فقال: (فإنه أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلاً، وأحسن حديثاً من خلقه).
وهذا هو المصدر الأول وهو القرآن الكريم، ثم قال: (ثم رسله صادقون مصدقون، بخلاف الذين يقولون عليه ما لا يعلمون).
وهذا هو المصدر الثاني، وهو كلام النبي صلى الله عليه وسلم، فالمصدر إذاً في العقائد يكون بالقرآن والسنة، ويكون بما دل عليه القرآن أنه مصدر مثل الإجماع؛ فإن الإجماع مصدر من مصادر التشريع لدلالة القرآن الكريم عليه، {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء:115]، فقوله: {وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} [النساء:115] المقصود به الإجماع، وكل الآيات الواردة في الأمر بالجماعة والائتلاف، والنهي عن التفرق والاختلاف يؤخذ منها حجية الإجماع، والإجماع حجة معتبرة، وحجيته مأخوذة من القرآن الكريم.
إذاً: القرآن الكريم والسنة النبوية هما المصدران الأساسيان في تلقي العقائد، ولا يصح أن تتلقى العقائد من غير القرآن والسنة، وذلك أن العقائد تشتمل على جزء كبير من الغيبيات، والغيب محجوب عنا لا نستطيع أن نعرفه بالقياس، ولا بأي مصدر من المصادر إلا بخبر الصادق، وخبر الصادق المراد به هنا هو كلامه سبحانه وتعالى، وكلام النبي صلى الله عليه وسلم؛ فمن اتخذ مصدراً للعقائد غير هذين المصدرين فقد ضل وانحرف.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের নিকট আকীদা গ্রহণের উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তাঁর কাছে মৃত্যু (ইয়াকিন) এসেছে।
অতঃপর: লেখক (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা) বলেছেন: [নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন। তাঁর কথা সবচেয়ে সত্য এবং তাঁর সৃষ্টি জগতের কথার চেয়ে তাঁর কথা অধিক সুন্দর।
অতঃপর তাঁর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত সত্যনিষ্ঠ, তাদের বিপরীতে যারা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তারা জানে না। এই কারণেই তিনি বলেছেন: {পবিত্রতা ও মহিমা আপনার পালনকর্তার, যিনি ইজ্জতের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এবং সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য।} (আস-সাফফাত: ১৮০-১৮২)। সুতরাং তিনি রাসূলদের বিরোধীরা তাঁর যে গুণগান বর্ণনা করে তা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, এবং রাসূলগণ যা বলেছেন তা ত্রুটি ও দোষমুক্ত হওয়ার কারণে তাঁদের ওপর সালাম বর্ষণ করেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নিজের যে গুণাবলি ও নাম বর্ণনা করেছেন তাতে নফি (অস্বীকৃতি) ও ইসবাত (স্বীকৃতি)-এর সমন্বয় ঘটিয়েছেন। সুতরাং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; কারণ এটাই হলো সিরাতাল মুস্তাকিম (সরল পথ), ঐসব লোকদের পথ যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং নেককার বান্দাগণ।]
লেখক (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা) আকীদা গ্রহণের উৎস বর্ণনা করতে শুরু করেছেন, তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই তিনি নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন, তাঁর কথা সবচেয়ে সত্য এবং তাঁর সৃষ্টি জগতের কথার চেয়ে তাঁর কথা অধিক সুন্দর)।
এটি হলো প্রথম উৎস, আর তা হলো কুরআনুল কারীম। অতঃপর তিনি বলেছেন: (অতঃপর তাঁর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং সত্যনিষ্ঠ, তাদের বিপরীতে যারা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তারা জানে না)।
এটি হলো দ্বিতীয় উৎস, আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা। সুতরাং আকীদার উৎস কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, এবং কুরআন যেটিকে উৎস হিসেবে নির্দেশ করেছে যেমন ইজমা—সেটির মাধ্যমেও নির্ধারিত হয়। কেননা কুরআনুল কারীমের দলিলের ভিত্তিতে ইজমা হলো শরীয়তের অন্যতম উৎস। {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরিয়ে দেব যে পথে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস।} (আন-নিসা: ১১৫)। এখানে তাঁর বাণী: {মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে} বলতে 'ইজমা' উদ্দেশ্য। জামায়াতবদ্ধ থাকা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আদেশ এবং অনৈক্য ও দলাদলি থেকে নিষেধ করে বর্ণিত সকল আয়াত থেকে ইজমার প্রামাণ্যতা গ্রহণ করা হয়। ইজমা একটি গ্রহণযোগ্য দলিল এবং এর প্রামাণ্যতা কুরআনুল কারীম থেকে গৃহীত।
সুতরাং: কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহ হলো আকীদা গ্রহণের মূল দুটি উৎস। কুরআন ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো কিছু থেকে আকীদা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ আকীদার একটি বড় অংশ অদৃশ্যের (গায়েবি) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আর গায়েব আমাদের কাছে পর্দার আড়ালে, যা আমরা কিয়াসের (অনুমান) মাধ্যমে জানতে পারি না, অথবা সত্য সংবাদদাতার সংবাদ ব্যতীত অন্য কোনো উৎসের মাধ্যমেও জানতে পারি না। আর এখানে সত্য সংবাদদাতার সংবাদ বলতে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কালাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি উৎস ব্যতীত অন্য কিছুকে আকীদার উৎস হিসেবে গ্রহণ করল, সে পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত হলো।
(খণ্ড: ২)
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مخالفة الفرق المنحرفة لأهل السنة في مصدر تلقي العقيدةولهذا نجد أن الطوائف والفرق الضالة كان من أعظم الأسباب التي جعلتها تخالف الصراط المستقيم، والمنهج القويم، هو مخالفة أهل السنة في المصدر، فنجد مثلاً: أن أهل الكلام يعتقدون أن العقل مصدراً من مصادر تلقي العقيدة، ونجد أن الصوفية يعتبرون الكشف مصدراً من مصادر تلقي العقيدة، ونجد أن بعض المقلدين يعتبرون أئمتهم مصدراً لتلقي العقائد، وكل هذه المصادر باطلة، وإنما المصدر الذي تؤخذ منه العقائد هو القرآن والسنة، ولهذا وقعت كثير من الفرق الضالة في الانحراف بهذا السبب.
نجد أيضاً أن المعتزلة والأشاعرة عندما أرادوا تقرير العقائد جعلوا المصدر الأساسي في تقريرها العقل، فما لا يدل العقل عليه لا يقبلونه، وبدأوا في ذلك من أساسيات الاعتقاد وهو وجود الله عز وجل، حيث أنهم خاصموا أصحاب الأديان الأخرى -لا سيما الملاحدة- فوجدوا أن الملاحدة لا يعترفون بالنصوص، لذا فهم عندما يناقشونهم لا يقولون لهم: قال الله قال رسول الله؛ لأنهم أصلاً لا يؤمنون بالله من حيث المبدأ، ولا يؤمنون بالرسول صلى الله عليه وسلم، فأرادوا مناقشة هؤلاء الملاحدة بنفس المنهج الذي ارتضوه وهو المنهج العقلي، فلما ناقشوهم به عظموا العقل تعظيماً كبيراً، فأصبحوا يفرضون على كل مسلم الاستدلال العقلي، ولهذا تجدون في كتب الأشاعرة أن من أوليات العقائد التي يبدأون بها: أن إثبات وجود الله عز وجل ووحدانيته لا بد لها من النظر، يعني: يوجبون النظر على الإنسان، وبعضهم يربطه بالبلوغ مثل الأشاعرة، وبعضهم يربطه بالتمييز مثل المعتزلة، فيرون أن النظر العقلي لإثبات وجود الله عز وجل، وإثبات وحدانية الله عز وجل، وإثبات أسمائه وصفاته هو العقل فقط، ولهذا يوجبون النظر على الناس، وقد جعلوا هذا الوجوب عاماً على كل مسلم ومسلمة يبلغ حد التمييز عند المعتزلة، أو حد البلوغ عند الأشاعرة، يلزمونه بالنظر في مخلوقات الله عز وجل وآلائه للتوصل إلى وجود الله سبحانه وتعالى.
ولا شك أن أهل الكلام من المعتزلة والأشاعرة أخطئوا في أمرين: الأمر الأول: أنهم عندما ناظروا وناقشوا الملاحدة من أصحاب الأديان الأخرى بدون رجوع إلى النصوص الشرعية، فقد أحدثوا أدلة عقلية جاءوا بها من عندهم لإقناع هؤلاء الملاحدة لإثبات وجود الله عز وجل ووحدانيته، وكان الواجب عليهم أن يرجعوا إلى الكتاب والسنة فيعرفوا ما تضمناه من الأدلة العقلية، فالقرآن والسنة ممتلآن بالأدلة العقلية التي تكفي كل أحد يريد أن يصل إلى الحق، وبالأدلة العقلية الكافية في إثبات وجود الله ووحدانيته عز وجل، وإثبات المعاد، والنبوات، وكل العقائد.
ومثال ذلك: إثبات أن الله عز وجل هو الخالق الرازق المحيي المميت، مع أنه فطرة موجودة عند كل أحد -كما سيأتي معنا في الجانب الثاني الذي أخطأ فيه هؤلاء- يمكن الاستدلال العقلي عليه من خلال القرآن والسنة، يقول الله عز وجل: {أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [يوسف:39]، هذه الآية فيها دليل عقلي لإثبات أن الله عز وجل هو الخالق وحده لا شريك له، وكذلك من الأدلة العقلية: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} [الطور:35]، وهذا كما ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله نص عقلي في إثبات أن الله وحده هو الخالق، {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} [الطور:35] حصر عقلي.
والإنسان والمخلوقات الموجودة له حالتان: الحالة الأولى: أن يكون خلق من غير شيء.
وهذا يرده العقل بالبداهة؛ لأنه لا يمكن لهذا النظام الدقيق، وهذه العناية العجيبة، وهذا الوضع المتناسق المرتب أن يأتي هكذا.
الحالة الثانية: أن يكونوا هم خلقوا أنفسهم، وقد دل العقل على أنهم لم يخلقوا أنفسهم، وهم يعرفون ذلك؛ لأننا قبل مائة سنة لم نكن شيئاً مذكوراً، ثم كنا، ونحن نعرف أننا لم نوجد أنفسنا في هذه الدنيا، ولا أنفسنا أوجدتنا، وإنما أوجدنا الله عز وجل.
فلما أبطلت المقدمتان العقليتان ثبت أن الخالق هو الله سبحانه وتعالى، وهو غير المخلوقات الموجودة.
وهكذا إذا جئتم إلى البعث والمعاد تجدون أدلة عقلية واضحة في أن الله عز وجل قادر على أن يحيي العظام وهي رميم، فعندما احتج ذلك المشرك على النبي صلى الله عليه وسلم، وأخذ العظم وفته بيده وقال: (يا محمد! هل ترى أن الله يحيي هذه العظام بعد أن صارت رميماً؟ قال: نعم، ويدخلك النار)، فأنزل الله عز وجل: {وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ} [يس:78] يعني: نسي خلقه أول مرة، فإنه خلقه وأنشأه وطوره، وجعل النطفة تستحيل إلى علقة، ثم تستحيل إلى مضغة، ثم تتغير هذه المضغة لتكون عظاماً، ثم يكسو هذه العظام لحماً، ثم يشق بصره، وينشئ عقله، سبحانه وتعالى، لا يمكن أن يكون هذا كله حصل بدون وجود خالق، وبالتالي فإن الذي خلقه أول مرة قادر على إحيائه المرة الثانية.
إذاً: هذا دليل عقلي مأخوذ من القرآن الكريم على إثبات
আকিদা গ্রহণের উৎসের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর সাথে বিভ্রান্ত দলসমূহের বিরোধিতাএজন্য আমরা দেখতে পাই যে, ভ্রান্ত দল ও উপদলসমূহ সঠিক পথ ও সরল পন্থা থেকে বিচ্যুত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আকিদা গ্রহণের উৎসের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর বিরোধিতা করা। উদাহরণস্বরূপ আমরা দেখতে পাই: কালাম শাস্ত্রবিদরা বিশ্বাস করে যে, আকল (বিবেক-বুদ্ধি) আকিদা গ্রহণের অন্যতম উৎস। আবার আমরা দেখি যে, সুফিরা কাশফকে (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) আকিদা গ্রহণের একটি উৎস মনে করে। আবার কোনো কোনো অন্ধ অনুসারী তাদের ইমামদেরকে আকিদা গ্রহণের উৎস মনে করে। এসব উৎসের প্রতিটিই বাতিল। বরং আকিদা যে উৎস থেকে গ্রহণ করতে হবে তা হলো কুরআন ও সুন্নাহ। এ কারণেই মূলত অনেক বিভ্রান্ত দল এই বিচ্যুতিতে নিপতিত হয়েছে।
আমরা আরও দেখতে পাই যে, মুতাজিলা ও আশআরিরা যখন আকিদা সাব্যস্ত করতে চেয়েছে, তখন তারা আকিদা সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে আকলকে (বিবেক-বুদ্ধি) মূল উৎস বানিয়েছে। তাই আকল যা নির্দেশ করে না, তারা তা গ্রহণ করে না। তারা আকিদার মৌলিক বিষয় তথা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রেও এখান থেকেই শুরু করেছে। যেহেতু তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে—বিশেষ করে নাস্তিকদের সাথে—তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তারা দেখতে পেল যে নাস্তিকরা নস বা দলিলসমূহ স্বীকার করে না। ফলে তাদের সাথে আলোচনার সময় তারা 'আল্লাহ বলেছেন' বা 'রাসূলুল্লাহ বলেছেন' বলত না; কারণ তারা তো মূলত আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপরও ঈমান রাখে না। তাই তারা এই নাস্তিকদের সাথে সেই পদ্ধতিতেই আলোচনা করতে চেয়েছে যা তারা পছন্দ করে, আর তা হলো যৌক্তিক পদ্ধতি। যখন তারা এই পদ্ধতিতে তাদের সাথে বিতর্ক করল, তখন তারা আকলকে অত্যন্ত মহিমান্বিত করল। ফলে তারা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আকলি ইস্তিদলাল (যুক্তিপ্রসূত প্রমাণ গ্রহণ) আবশ্যক করে দিল। এজন্যই আপনারা আশআরিদের আকিদার কিতাবসমূহে দেখতে পাবেন যে, তারা আকিদার প্রারম্ভিক যে বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করে তা হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব এবং তাঁর একত্ববাদ প্রমাণের জন্য 'নযর' (চিন্তা ও গবেষণা) অপরিহার্য। অর্থাৎ তারা মানুষের ওপর নযর বা চিন্তাভাবনা করাকে ওয়াজিব বা আবশ্যক করে দেয়। তাদের কেউ কেউ একে সাবালক হওয়ার সাথে যুক্ত করে যেমন আশআরিরা, আবার কেউ কেউ একে হিতাহিত জ্ঞানসম্পন্ন (তাময়িয) হওয়ার সাথে যুক্ত করে যেমন মুতাজিলারা। তারা মনে করে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি প্রমাণের জন্য একমাত্র মাধ্যম হলো আকল। এজন্যই তারা মানুষের ওপর নযর বা চিন্তাভাবনা করা ওয়াজিব করে। তারা এই আবশ্যকতাকে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ব্যাপক করে দিয়েছে—মুতাজিলাদের মতে যখন সে তাময়িযের স্তরে পৌঁছায় এবং আশআরিদের মতে যখন সে সাবালক হয়। তারা তাকে আল্লাহর সৃষ্টি ও নেয়ামতসমূহের প্রতি চিন্তা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সন্ধান পেতে বাধ্য করে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুতাজিলা ও আশআরিদের মতো কালাম শাস্ত্রবিদরা দুটি বিষয়ে ভুল করেছেন: প্রথমত: তারা যখন অন্য ধর্মাবলম্বী নাস্তিকদের সাথে শরয়ি নসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন না করেই বিতর্ক ও আলোচনা করেছে, তখন তারা আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদ প্রমাণের জন্য নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবিত কিছু আকলি (যুক্তিভিত্তিক) দলিল নিয়ে এসেছে। অথচ তাদের ওপর আবশ্যক ছিল কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত আকলি দলিলগুলোকে চেনা। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ এমন আকলি দলিলে পরিপূর্ণ যা সত্যে পৌঁছাতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ, পরকাল, নবুওয়ত এবং সমস্ত আকিদা প্রমাণের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর আকলি দলিলগুলোই পর্যাপ্ত।
এর উদাহরণ হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই যে একমাত্র স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী—তা প্রমাণ করা। যদিও এটি প্রত্যেকের ফিতরাতের (সহজাত স্বভাব) মধ্যেই বিদ্যমান—যেমনটি আমাদের সামনে আসবে যে দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে তারা ভুল করেছে—তবুও কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে এর ওপর আকলি দলিল পেশ করা সম্ভব। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক কি উত্তম, নাকি এক ও প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহ?" [ইউসুফ: ৩৯]। এই আয়াতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই যে একমাত্র অংশীদারহীন স্রষ্টা, তা প্রমাণের জন্য আকলি দলিল রয়েছে। অনুরূপভাবে আকলি দলিলসমূহের অন্যতম হলো: "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" [আত-তূর: ৩৫]। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি আল্লাহ যে একমাত্র স্রষ্টা তা প্রমাণের জন্য একটি আকলি নস। "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" এটি একটি যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা।
মানুষ এবং বিদ্যমান সৃষ্টিজগতের দুটি অবস্থা হতে পারে: প্রথম অবস্থা: তারা কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে।
সুস্থ বিবেক স্বতঃস্ফূর্তভাবেই একে প্রত্যাখ্যান করে; কারণ এই নিখুঁত শৃঙ্খলা, এই বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা এবং এই সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাস এমনি এমনি চলে আসা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেছে। অথচ আকল প্রমাণ করেছে যে, তারা নিজেদের সৃষ্টি করেনি। তারা নিজেরাও তা জানে; কারণ একশ বছর আগে আমরা উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলাম না, তারপর আমাদের অস্তিত্ব এসেছে। আমরা জানি যে, আমরা নিজেদের এই পৃথিবীতে অস্তিত্ব দিইনি, আর আমাদের সত্তাও আমাদের সৃষ্টি করেনি, বরং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই আমাদের সৃষ্টি করেছেন।
যখন এই দুটি যৌক্তিক প্রাঙ্গণ বাতিল হয়ে গেল, তখন প্রমাণিত হলো যে স্রষ্টা হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, এবং তিনি বিদ্যমান সৃষ্টিজগত থেকে ভিন্ন।
একইভাবে আপনারা যদি পুনরুত্থান ও পরকালের আলোচনায় আসেন, তবে সেখানেও সুস্পষ্ট আকলি দলিল পাবেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জীর্ণ হাড়কেও জীবিত করতে সক্ষম। যখন সেই মুশরিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিতর্ক করল এবং হাড় নিয়ে নিজ হাতে তা চূর্ণ করে বলল: "হে মুহাম্মদ! তুমি কি মনে করো যে, এই হাড়গুলো জীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ এগুলোকে পুনর্জীবিত করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং তিনি তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।" তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: "সে আমার বিষয়ে উদাহরণ পেশ করে অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে গেছে" [ইয়াসিন: ৭৮]। অর্থাৎ সে তার প্রথমবার সৃষ্টির কথা ভুলে গেছে; কেননা তিনিই তাকে সৃষ্টি করেছেন, অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন এবং তার বিকাশ ঘটিয়েছেন। শুক্রাণুকে রক্তপিণ্ডে রূপান্তরিত করেছেন, রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে রূপান্তরিত করেছেন, তারপর এই মাংসপিণ্ডকে হাড়ে রূপান্তরিত করেছেন, অতঃপর এই হাড়কে মাংস দিয়ে আবৃত করেছেন। তারপর তার দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন এবং তার বিবেক সৃষ্টি করেছেন—সুবহানাহু ওয়া তাআলা। একজন স্রষ্টা ছাড়া এই সব কিছু হওয়া সম্ভব নয়। ফলশ্রুতিতে, যিনি তাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাকে দ্বিতীয়বার জীবিত করতেও সক্ষম।
সুতরাং: এটি কুরআনুল কারিম থেকে গৃহীত একটি আকলি দলিল যা প্রমাণের জন্য...