(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد المثلى - عبد الرحيم السلمي   (عبد الرحيم السلمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح القواعد المثلى

المؤلف: عبد الرحيم بن صمايل العلياني السلمي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আবদুর রহিম আস-সুলামি   (আবদুর রহিম আস-সুলামি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা

লেখক: আবদুর রহিম বিন সামায়িল আল-আলইয়ানি আস-সুলামি

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৪টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح القواعد المثلى [1]

إن من أعظم مباحث العقيدة التي عني بها علماء سلف الأمة، والمتعلقة بذات الله جل في علاه وهو مبحث الأسماء والصفات، وهو من أوسع أبواب العقيدة والتي يجب على المسلم أن يحتوي عقله على الاعتقاد الصحيح الذي لا يشوبه أي تشويش أو بدع ضالة، ومن باب الحرص على تسهيل فهم المعتقد السليم للأسماء والصفات قام علماء الأمة الأفذاذ بإنشاء علم عُرف بقواعد الأسماء والصفات.
আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা-এর ব্যাখ্যা [১]

নিশ্চয়ই আকিদার অন্যতম মহান বিষয় যা নিয়ে উম্মাহর পূর্বসূরি (সালাফ) ওলামায়ে কেরাম বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং যা সুউচ্চ মহান আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়াস-সিফাত) আলোচনা। এটি আকিদার অন্যতম প্রশস্ত অধ্যায় এবং প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো তার চিন্তাজগতে এমন সঠিক বিশ্বাস লালন করা যাতে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা পথভ্রষ্ট বিদআতের সংমিশ্রণ নেই। আর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত সঠিক আকিদা অনুধাবন সহজতর করার ঐকান্তিক আগ্রহ থেকে উম্মাহর বরেণ্য আলেমগণ একটি শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন যা 'আল্লাহর নাম ও গুণাবলির নীতিমালা' (কাওয়ায়িদুল আসমা ওয়াস-সিফাত) নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أهمية العلم الشرعي

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد عليه وآله أفضل الصلاة وأتم التسليم.

أما بعد: فإن للعلم الشرعي أهمية كبرى في الإصلاح، وفي الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، ولهذا أمر الله سبحانه وتعالى بالعلم، وحث عليه، وأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم وحث عليه، وكان سلف الأمة يتميز بالاهتمام بالعلم، والاشتغال به، والعناية بتحصيله، ونحن أحوج ما نكون إلى العلم الشرعي لا سيّما في مثل هذه الأوقات، وفي مثل هذه الأزمان التي انتشر فيها الفساد العقائدي والأخلاقي إلى درجة كبيرة، فالعناية بالعلم أمر مهم جداً بالنسبة للدعاة إلى الله سبحانه وتعالى.

يقول الله سبحانه وتعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} [محمد:19]، ويقول سبحانه وتعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُوْلُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [آل عمران:18]، وروى البخاري عن معاوية بن أبي سفيان رضي الله تعالى عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين).

فالفقه في الدين علامة على إرادة الله سبحانه وتعالى لصاحب العلم الخير، فهو يعلم الإنسان صحة عقيدته وصحة عمله، ويعلمه الأخلاق والآداب الفاضلة، وكذلك يعلمه كيفية تصحيح عقائد الناس، وكيفية تصحيح أعمالهم وأخلاقهم وأهدافهم، والدعوة إذا خلت من العلم فهي دعوة فاشلة وباطلة؛ لأنها ستكون من البدع، وسيدعو صاحبها إلى البدع والضلالات والانحرافات، وكما وقع في تاريخ المسلمين من أشخاص ينتسبون إلى الدعوة، ويشتغلون بها، فلما اشتغلوا بها على غير بصيرة وعلى غير علم شرعي وقعوا في البدع وفي الضلالات.

ولهذا فإن رموز أهل البدع في تاريخ المسلمين كلهم ليسوا من أهل العلم، ولا يعرفون بالاشتغال بالعلم، فمثلاً: من أكبر الطوائف الضالة المنحرفة في تاريخ المسلمين الجهمية، ورأسها هو الجهم بن صفوان، وهو لا يعرف عند أهل العلم بطلب للحديث، ولا بطلب للفقه، ولا العناية ولا اشتغال به، وكذلك أئمة البدع والضلالات على مر العصور لا يعرفون بالعلم، ولا يعرفون باشتغالهم بالعلم واهتمامهم به، ولهذا وقعت منهم هذه البدع، وأصبحوا ضالين مضلين، والعياذ بالله.

ولهذا أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه في آخر الزمان عندما تظهر الفتن في حياة الناس يكون سبب ذلك انتشار وبروز الجهل، وخفاء العلم، ونسيانه عند الناس.

وأول شرك وقع فيه الإنسان كان بسبب نسيان العلم، وظهور الجهل، فوقع الشرك في أول أمة شركية وهم قوم نوح، ثم بعد ذلك جاء التوحيد على يد نوح عليه السلام، ثم بعد ذلك وقع الشرك، وهكذا حتى جاء نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وأظهر التوحيد والتزمت به هذه الأمة.

فالعلم الشرعي له أهمية كبرى في الإصلاح، وفي الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، وبين الدعوة وبين العلم ارتباط كبير جداً، وقد عني السلف الصالح رضوان الله عليهم بعلم العقيدة بالذات؛ وسبب ذلك: أن علم العقيدة هو الذي يبنى عليه صحة دين الإنسان، يعني: كونه مسلماً أو غير مسلم، وكونه من أهل الجنة الخالدين فيها، أو من أهل النار الخالدين فيها، وهذا مبني على العقيدة؛ ولهذا اعتنوا بها اعتناء كبيراً، وشرحوها ووضحوها في واقعهم العملي وفي مصنفاتهم التي كتبوها للناس.
শরয়ী ইলমের গুরুত্ব

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের প্রতি।

পরবর্তী কথা হলো: সংশোধন এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে শরয়ী ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইলম বা জ্ঞানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ইলমের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর প্রতি উৎসাহ যুগিয়েছেন। এই উম্মতের সলফে সালেহীনগণ ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ এবং তা অর্জনে যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। আমরা বর্তমান সময়ে শরয়ী ইলমের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, বিশেষ করে এমন এক যুগে যেখানে আকিদাগত ও চারিত্রিক বিপর্যয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের জন্য ইলমের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "অতএব জেনে নিন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের গুনাহের জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন।" [মুহাম্মাদ: ১৯]। তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও; তিনি ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।" [আলি ইমরান: ১৮]। ইমাম বুখারী মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফেকাহ) দান করেন।"

দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভ করা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কল্যাণের ইচ্ছার একটি নিদর্শন। এটি মানুষকে তার আকিদার বিশুদ্ধতা ও আমলের সঠিকতা শিক্ষা দেয়। এটি তাকে উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়। তেমনিভাবে এটি তাকে মানুষের আকিদা সংশোধন করার পদ্ধতি এবং তাদের আমল, চরিত্র ও লক্ষ্য সংশোধনের পথও বাতলে দেয়। ইলমবিহীন দাওয়াত একটি ব্যর্থ ও বাতিল দাওয়াত; কারণ এটি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং দাওয়াতকারী মানুষকে বিদআত, গোমরাহি ও বিচ্যুতির দিকে আহ্বান করবে। যেমনটি মুসলিম ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে যারা নিজেদের দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন, কিন্তু তারা যখন সঠিক প্রজ্ঞা ও শরয়ী ইলম ছাড়া দাওয়াত দিতে শুরু করলেন, তখন তারা বিদআত ও গোমরাহিতে লিপ্ত হলেন।

এই কারণেই মুসলিম ইতিহাসে বিদআতিদের মূল হোতারা কেউই ইলমের অধিকারী ছিলেন না এবং ইলম চর্চায় তারা পরিচিত ছিলেন না। উদাহরণস্বরূপ: মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম ভ্রান্ত ও বিচ্যুত দল হলো 'জাহমিয়া', যাদের প্রধান হলো জাহম বিন সাফওয়ান। সে ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট হাদীস চর্চা, ফিকহ চর্চা বা ইলমের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল না। একইভাবে যুগে যুগে বিদআত ও গোমরাহির ইমামগণ ইলমের অধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না এবং তারা ইলমে আত্মনিয়োগ বা এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানকারী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন না। ফলে তাদের পক্ষ থেকে এই বিদআতগুলোর উদ্ভব হয়েছে এবং তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে ও অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, শেষ জামানায় যখন মানুষের জীবনে ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে, তখন তার কারণ হবে মূর্খতার প্রসার ও বহিঃপ্রকাশ এবং ইলমের বিলুপ্তি ও মানুষের ইলম বিস্মৃত হওয়া।

মানুষের মধ্যে প্রথম শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল ইলম ভুলে যাওয়া এবং মূর্খতার প্রসারের কারণে। প্রথম শিরকে লিপ্ত উম্মত তথা নূহের সম্প্রদায়ের মধ্যে এভাবেই শিরক প্রবেশ করেছিল। এরপর নূহ আলাইহিস সালামের মাধ্যমে তাওহীদের আগমন ঘটে। পরবর্তীতে আবারও শিরকের উৎপত্তি হয় এবং এভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন পর্যন্ত চলতে থাকে, যিনি তাওহীদকে বিজয়ী করেন এবং এই উম্মত তা আঁকড়ে ধরে।

সুতরাং সংশোধন ও আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে শরয়ী ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। দাওয়াত ও ইলমের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। সলফে সালেহীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বিশেষ করে আকিদার ইলমের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এর কারণ হলো: আকিদার ইলমের ওপরই মানুষের দ্বীনের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। অর্থাৎ, সে মুসলিম নাকি অমুসলিম, সে কি জান্নাতের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবে নাকি জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবে—এসবই আকিদার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই তাঁরা আকিদার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং তাদের বাস্তব জীবনে ও মানুষের জন্য রচিত গ্রন্থাবলীতে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা ও পরিষ্কার করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌جوانب عناية السلف بالعقيدة

وكانت عناية السلف الصالح رضوان الله عليهم بالعقيدة من جانبين: الجانب الأول: هو تصحيح العقيدة.

والجانب الثاني: هو تعميق العقيدة في النفوس.

أما تصحيح العقيدة فهو: إزالة الشوائب التي قد تعلق بها سواءً من أهل البدع والضلالات، أو من تسويلات الشيطان ووساوسه التي يحدثها في نفس الإنسان، ولهذا أوضحوا العقائد وبينوها، وصححوها تصحيحاً واضحاً، وتصحيح السلف رضوان الله عليهم لهذه العقيدة اتخذ مسلكين: المسلك الأول: هو مسلك عرض العقيدة.

والمسلك الثاني: هو مسلك الرد على الطوائف الضالة في العقيدة.

وممن كتب مثلاً في عرض العقيدة وشرحها الإمام اللالكائي رحمه الله في كتابه شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة، ومنهم عبد الله بن الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله في كتابه السنة، والبربهاري في كتاب شرح السنة، وعدد كبير من أهل العلم ألفوا كتباً سموها بالسنة، ومن الأئمة المشهورين البخاري ومسلم وأصحاب السنن الأربعة، فقد جعلوا في مصنفاتهم كتباً عن العقائد، مثلاًً: كتاب الإيمان، والرد على الجهمية وكتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، وكتاب التوحيد والرد على المرجئة والجهمية، وغيرهم ممن أفرد كتباً خاصة بالسنة وبالعقيدة، يشرحون فيها العقيدة الصحيحة، ويوضحونها للناس.

وكذلك صححوا عقائد الناس عن طريق الرد على الفرق الضالة، فهذا الدارمي رحمه الله يصنف كتاباً يسميه: الرد على الجهمية، وكذلك الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله له كتاب سماه: الرد على الجهمية والزنادقة، وهناك عدد كبير من الأئمة صنفوا في الرد على الجهمية مثل ابن مندة رحمه الله فله كتاب في الرد على الجهمية، وبعض الأحيان قد يأخذون علماً من أعلام أهل البدع ويردون عليه، مثل رد الدارمي رحمه الله على بشر المريسي الحنفي بالذات، وقد خصوه برد خاص؛ لأنه كان إمام المعتزلة في زمانه، وعن بشر المريسي أخذ ابن أبي دؤاد الذي استطاع أن يقنع المأمون بفكرة خلق القرآن، وحصلت بعد ذلك الفتنة المشهورة والتي هي فتنة خلق القرآن، وامتحن بها أئمة أهل السنة، ونصر الله سبحانه وتعالى أئمة أهل السنة، وظفروا على أهل البدع، ومنذ ذلك الوقت أفل نجم المعتزلة فلم يظهر بعدها.

إذاً: هذه الجهة الأولى وهي تصحيح العقيدة.

الجهة الثانية: وهي تعميق العقيدة في النفوس، ومعنى ذلك: العناية والاشتغال بأعمال القلوب مثل: محبة الله سبحانه وتعالى، والخوف منه، والرجاء، والإنابة، والتوكل، والخشوع ونحو ذلك من أعمال القلوب، وهي من أعظم أعمال الإيمان، وهي من العقيدة؛ لأنه في فترة من الفترات ظن كثير من المنتسبين إلى السنة أن العقيدة هي مجرد عرض لبعض الأفكار في أسماء الله وفي صفاته وفي التوحيد وفي الإيمان، والرد على الفرق الضالة فقط، وظنوا أن هذه هي العقيدة، والعقيدة أشمل وأكبر من ذلك، فالعقيدة تعني: امتثال الاعتقاد الصحيح عملياً، وبناءه في النفس، ثم بعد ذلك إذا وجد ضلال في الاعتقاد فإنه يصحح، وإذا وجدت فرقة ضالة فإنه يرد عليها، والرد على أهل الضلال فرع من العقيدة وليس بأصل، فالأصل هو تعميق العقيدة في النفوس، ولهذا فإن آيات القرآن عنيت عناية كبيرة جداً في الاهتمام بتعميق الاعتقاد في نفوس الناس، فالسور المكية تتحدث كثيراً عن أسماء الله وعن صفاته، وتتحدث عن الإيمان، وعن معسكر أهل الإيمان، وتتحدث عن الكفر، وعن معسكر أهل الكفر، وعن صفات المؤمنين وعن صفات الكفار، وتميز بينهم، ففيها تمييز لصفوف أهل الإيمان وأهل الكفر، فالقرآن الكريم مليء بالعقيدة، بل لا تخلو آية من القرآن إلا وهي مبنية بناءً عقدياً، حتى الآيات التي تتحدث عن الأحكام الفقهية ففي الغالب تنتهي باسم من أسماء الله، قال تعالى: {وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [البقرة:228]، {وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [البقرة:218]، {وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} [آل عمران:154]، وحتى الآيات التي في الطلاق، والرجعة، والتي في البيع والشراء، والتي في الأموال، وهكذا نجد أنها تربط الإنسان بالعقيدة، وتبني الأحكام على العقائد، فالعقائد هي الأصول التي يبنى عليها كل شيء، فالأخلاق تنبني على العقائد، وكذلك الأعمال تنبني على العقائد، فالعقائد هي أصل وكل شيء يبنى عليها، ومن قوة المنهج السلفي أنه يربط كل شيء بالعقيدة، ويربط كل حياة الناس بالعقيدة فهو يربط الفقه بالعقيدة، ويربط السلوك والأخلاق بالعقيدة، ويربط السياسة بالعقيدة، ويربط اجتماعهم بالعقيدة، ويربط حياتهم الأسرية بالعقيدة، إذاً فالعقيدة قضية مهمة، ينبغي إدراكها والعناية بها.

والخلاف وقع في باب الأسماء والصفات، بالذات عندما ظهر الجعد بن درهم، وقد ظهرت بوادر لهذا الخلاف في بداية زمن النبي صلى الله عليه وسلم
আকীদার প্রতি সলফদের যত্নের দিকসমূহ

আকীদার প্রতি সলফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর যত্ন ছিল দুটি দিক থেকে: প্রথম দিকটি হলো: আকীদা সংশোধন করা।

আর দ্বিতীয় দিকটি হলো: অন্তরে আকীদাকে সুদৃঢ় করা।

আকীদা সংশোধন মানে হলো: এর সাথে যুক্ত হওয়া আবর্জনা দূর করা, চাই তা বিদআতী ও পথভ্রষ্টদের পক্ষ থেকে হোক কিংবা মানুষের অন্তরে শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণার মাধ্যমে হোক। এই কারণেই তাঁরা আকীদাগুলোকে ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে সংশোধন করেছেন। এই আকীদা সংশোধনে সলফগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) দুটি পথ অবলম্বন করেছেন: প্রথম পথ: আকীদা উপস্থাপনের পথ।

আর দ্বিতীয় পথ: আকীদার ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট দলগুলোর খণ্ডন করার পথ।

যারা আকীদা উপস্থাপন ও ব্যাখ্যায় গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যেমন ইমাম লালকাঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর 'শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ' গ্রন্থে, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর পুত্র আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) তাঁর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং বারবাহারী তাঁর 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক আলেম গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আস-সুন্নাহ'। প্রসিদ্ধ ইমামদের মধ্যে বুখারী, মুসলিম এবং চার সুনান গ্রন্থকারগণ তাঁদের সংকলনে আকীদা বিষয়ক কিতাব (অধ্যায়) রেখেছেন, যেমন: ঈমান অধ্যায়, জাহমিয়্যাদের খণ্ডন, কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, কিতাবুত তাওহীদ, মুরজিয়া ও জাহমিয়্যাদের খণ্ডন ইত্যাদি। এছাড়াও অনেকে সুন্নাহ ও আকীদার ওপর স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন যেখানে তাঁরা সঠিক আকীদা ব্যাখ্যা করেছেন এবং মানুষের নিকট তা স্পষ্ট করেছেন।

একইভাবে তাঁরা পথভ্রষ্ট দলগুলোর খণ্ডনের মাধ্যমে মানুষের আকীদাকে সংশোধন করেছেন। যেমন দারেমী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' (জাহমিয়্যাদের খণ্ডন)। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এরও একটি কিতাব রয়েছে যার নাম: 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যিনাদিকা' (জাহমিয়্যা ও যিন্দীকদের খণ্ডন)। জাহমিয়্যাদের খণ্ডনে বিপুল সংখ্যক ইমাম গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমন ইবনে মানদাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর জাহমিয়্যাদের খণ্ডনে একটি কিতাব রয়েছে। কখনও কখনও তাঁরা বিদআতীদের কোনো বিশেষ নেতার ওপর গ্রন্থ লিখে তাঁর খণ্ডন করেছেন, যেমন দারেমী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) কর্তৃক বিশেষভাবে বিশর আল-মারীসী আল-হানাফীর খণ্ডন। তাঁর জন্য বিশেষ খণ্ডন এই কারণে যে, তিনি তাঁর সময়ের মুতাজিলাদের ইমাম ছিলেন। এই বিশর আল-মারীসী থেকেই ইবনে আবী দুয়াদ (মতবাদ) গ্রহণ করেছিলেন, যিনি মামুনকে 'কুরআন সৃষ্টি' এই ধারণায় প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর সেই প্রসিদ্ধ ফিতনার উদ্ভব হয় যা 'কুরআন সৃষ্টির ফিতনা' হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে আহলে সুন্নাতের ইমামগণ পরীক্ষিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহলে সুন্নাতের ইমামদের সাহায্য করেছিলেন এবং তাঁরা বিদআতীদের ওপর জয়ী হয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই মুতাজিলাদের প্রভাব স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং এরপর তারা আর প্রকাশ পায়নি।

সুতরাং এটি হলো প্রথম দিক তথা আকীদা সংশোধন।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: অন্তরে আকীদাকে সুদৃঢ় করা। এর অর্থ হলো: অন্তরের আমলসমূহের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া ও সেগুলোতে আত্মনিয়োগ করা, যেমন— আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ভালোবাসা, তাঁকে ভয় করা, আশা রাখা, তাঁর অভিমুখী হওয়া, তাওয়াক্কুল বা তাঁর ওপর ভরসা করা, বিনয় ও নম্রতা এবং এ জাতীয় অন্তরের অন্যান্য আমল। এগুলো ঈমানের মহান আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং আকীদার অংশ। কারণ কোনো এক সময় সুন্নাহর অনুসারী বলে পরিচয় দানকারী অনেকের ধারণা হয়েছিল যে, আকীদা মানে কেবল আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলী, তাওহীদ ও ঈমান বিষয়ক কিছু বিষয় উপস্থাপন করা এবং কেবল পথভ্রষ্ট দলগুলোর খণ্ডন করা। তারা মনে করেছিল এটিই আকীদা। অথচ আকীদা এর চেয়েও ব্যাপক ও মহান। আকীদা মানে হলো: সঠিক বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন এবং অন্তরে তা গেঁথে নেওয়া। এরপর যদি বিশ্বাসে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া যায় তবে তা সংশোধন করা হবে এবং যদি কোনো পথভ্রষ্ট দল পাওয়া যায় তবে তাদের খণ্ডন করা হবে। আর পথভ্রষ্টদের খণ্ডন করা আকীদার একটি শাখা মাত্র, তা মূল নয়। মূল হলো অন্তরে আকীদাকে সুদৃঢ় করা। এই কারণে কুরআনের আয়াতসমূহে মানুষের অন্তরে বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মক্কী সূরাগুলোতে আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে অনেক আলোচনা করা হয়েছে, ঈমান ও ঈমানদারদের দল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং কুফর ও কাফিরদের দল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য ও কাফিরদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করে তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। এতে ঈমানদার ও কাফিরদের কাতারকে পৃথক করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন আকীদায় ভরপুর, বরং কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যা আকীদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়। এমনকি ফিকহী বিধান সম্পর্কিত আয়াতগুলোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর কোনো একটি নাম দিয়ে শেষ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" [বাকারা: ২২৮], "আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [বাকারা: ২১৮], "আর আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ অবগত" [আলে ইমরান: ১৫৪]। এমনকি তালাক, রাজআত, ক্রয়-বিক্রয় এবং ধন-সম্পদ সংক্রান্ত আয়াতগুলোতেও আমরা দেখতে পাই যে, সেগুলো মানুষকে আকীদার সাথে সম্পৃক্ত করে এবং বিধানগুলোকে আকীদার ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করায়। কারণ আকীদাই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর সবকিছু প্রতিষ্ঠিত হয়। চরিত্র বা আখলাক আকীদার ওপর গড়ে ওঠে, একইভাবে আমলসমূহও আকীদার ওপর গড়ে ওঠে। সুতরাং আকীদাই মূল এবং সবকিছু এর ওপরই নির্মিত। সলফী মানহাজের অন্যতম শক্তি হলো যে, এটি প্রতিটি বিষয়কে আকীদার সাথে সম্পৃক্ত করে। এটি মানুষের জীবনের সকল দিককে আকীদার সাথে যুক্ত করে। এটি ফিকহকে আকীদার সাথে যুক্ত করে, আচরণ ও চরিত্রকে আকীদার সাথে যুক্ত করে, রাজনীতিকে আকীদার সাথে যুক্ত করে, তাদের সামাজিক অবস্থাকে আকীদার সাথে যুক্ত করে এবং তাদের পারিবারিক জীবনকেও আকীদার সাথে যুক্ত করে। অতএব আকীদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা উপলব্ধি করা এবং যার প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক।

আর আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল মূলত যখন জা’দ বিন দিরহামের আবির্ভাব ঘটে। আর এই মতবিরোধের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালেই প্রকাশ পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة كتاب القواعد المثلى

قال المصنف رحمه الله تعالى: [بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً.

وبعد: فإن الإيمان بأسماء الله وصفاته أحد أركان الإيمان بالله تعالى، وهي: الإيمان بوجود الله تعالى، والإيمان بربوبيته، والإيمان بألوهيته، والإيمان بأسمائه وصفاته].

المعلوم أن حديث جبريل المشهور الذي سأل فيه النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام وعن الإيمان وعن الإحسان كان مما أجاب به عن الإيمان قال: (أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، وباليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره)، فبين الشيخ أن موضوع الكتاب هو الإيمان بالله؛ الذي يتضمن التوحيد بأنواعه الثلاثة: الإيمان بربوبية الله، والإيمان بألوهية الله، والإيمان بأسمائه وصفاته.

وذكر الشيخ أنه يتضمن الإيمان بوجود الله سبحانه وتعالى، وقد يفرده البعض وتكون أربعة: الإيمان بوجود الله، وبربوبيته، وبألوهية، وبأسمائه وصفاته، وبعضهم يجعل وجود الله عز وجل داخل في توحيد الربوبية، فيجعل الإيمان بالله يتضمن ثلاثة أمور: الإيمان بروبية الله، وبألوهية، وبأسمائه وصفاته.
আল-কাওয়াইদুল মুসলা কিতাবের ভূমিকা

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে তাদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। আর তা হলো: আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের প্রতি ঈমান, তাঁর রুবুবিয়্যাতের প্রতি ঈমান, তাঁর উলুহিয়্যাতের প্রতি ঈমান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান]।

এটি সুপরিচিত যে, জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর সেই বিখ্যাত হাদিসে, যাতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সেখানে ঈমান সম্পর্কে উত্তরে তিনি বলেছিলেন: (তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি)। সুতরাং শায়খ স্পষ্ট করেছেন যে, এই কিতাবের মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান; যা তিন প্রকার তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে: আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের প্রতি ঈমান, আল্লাহর উলুহিয়্যাতের প্রতি ঈমান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান।

শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্বের প্রতি ঈমানকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কেউ কেউ এটিকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেন, ফলে তা চারটি হয়: আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি ঈমান, তাঁর রুবুবিয়্যাতের প্রতি ঈমান, তাঁর উলুহিয়্যাতের প্রতি ঈমান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান। আবার কেউ কেউ মহান আল্লাহর অস্তিত্বকে তাওহীদে রুবুবিয়্যাতের অন্তর্ভুক্ত করেন, ফলে আল্লাহর প্রতি ঈমান তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের প্রতি ঈমান, উলুহিয়্যাতের প্রতি ঈমান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌منزلة العلم بأسماء الله وصفاته من الدين

قال المصنف رحمه الله تعالى: [منزلة العلم بأسماء الله وصفاته من الدين.

وتوحيد الله به أحد أقسام التوحيد الثلاثة: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات، فمنزلته في الدين عالية وأهميته عظيمة، ولا يمكن لأحد أن يعبد الله على الوجه الأكمل حتى يكون على علم بأسماء الله تعالى وصفاته ليعبده على بصيرة، قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف:180]، وهذا يشمل دعاء المسألة، ودعاء العبادة.

فدعاء المسألة: أن تقدم بين يدي مطلوبك من أسماء الله تعالى ما يكون مناسباً، مثل أن تقول: يا غفور! اغفر لي، ويا رحيم! ارحمني، ويا حفيظ! احفظني، ونحو ذلك.

ودعاء العبادة: أن تتعبد لله تعالى بمقتضى هذه الأسماء، فتقوم بالتوبة إليه؛ لأنه التواب، وتذكره بلسانك؛ لأنه السميع، وتتعبد له بجوارحك؛ لأنه البصير، وتخشاه في السر؛ لأنه اللطيف الخبير وهكذا].

أشار الشيخ في هذه المقدمة إلى أهمية توحيد الأسماء والصفات، وأنه لا يستقيم إيمان الإنسان حتى يؤمن بأسماء الله وصفاته، فإذا لم يؤمن الإنسان بأسماء الله وصفاته لم يؤمن بالله سبحانه وتعالى، وإذا لم يؤمن بالله تعالى فحينئذ لا يكون من أهل الإيمان، ولهذا ينبغي العناية بهذا الباب وللعناية به مبررات كثيرة جداً منها: أن الخلاف الكبير الذي وقع في حياة المسلمين أول ما وقع كان تقريباً في هذا الباب، والجدل الكبير في موضوع الإلهيات كما يسميه البعض هو في موضوع الأسماء والصفات، هذا من ناحية.

ومن ناحية أخرى أن الأسماء والصفات لها آثار عظيمة جداً على سلوك ودين الإنسان، وعلى آدابه وأخلاقه، ولهذا فالعناية بها لها أهمية كبيرة من ناحية أن الإنسان يتأدب بالآداب التي تتضمنها أسماء الله عز وجل وصفاته.
দ্বীনের মধ্যে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত জ্ঞানের মর্যাদা

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) বলেছেন: [দ্বীনের মধ্যে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত জ্ঞানের মর্যাদা।

এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদ হলো তাওহীদের তিনটি প্রকারের একটি: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলির তাওহীদ)। দ্বীনের মধ্যে এর মর্যাদা সুউচ্চ এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত কারো পক্ষেই তাঁকে যথাযথ পূর্ণাঙ্গভাবে ইবাদত করা সম্ভব নয়, যাতে সে চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর ইবাদত করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেগুলোর মাধ্যমেই ডাকো।" [আল-আরাফ: ১৮০]। আর এটি দোয়ায়ে মাসআলাহ (প্রার্থনামূলক দোয়া) এবং দোয়ায়ে ইবাদত (ইবাদত সংবলিত দোয়া)—উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

দোয়ায়ে মাসআলাহ হলো: তোমার কাঙ্ক্ষিত জিনিসের আগে আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্য থেকে যা উপযুক্ত তা উপস্থাপন করা। যেমন তুমি বললে: হে ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন। হে দয়াময়! আমার প্রতি দয়া করুন। হে রক্ষাকারী! আমাকে রক্ষা করুন। এবং এই জাতীয় কথা।

আর দোয়ায়ে ইবাদত হলো: এসব নামের দাবি অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা। সুতরাং তুমি তাঁর কাছে তাওবা করবে কারণ তিনি তাওবা কবুলকারী। তোমার জিহ্বা দ্বারা তাঁকে স্মরণ করবে কারণ তিনি সর্বশ্রোতা। তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে তাঁর ইবাদত করবে কারণ তিনি সর্বদ্রষ্টা। আর নির্জনে তাঁকে ভয় করবে কারণ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ। এভাবেই সব হবে।]

শায়খ এই ভূমিকায় তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতের গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। মানুষের ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না যতক্ষণ না সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনে। সুতরাং যদি মানুষ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান না আনে, তবে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ঈমান আনল না। আর যখন সে আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান আনল না, তখন সে ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এই কারণে এই অধ্যায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো: মুসলমানদের জীবনে প্রথম যে বড় মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, তা মূলত এই অধ্যায়েই ছিল। আর ইলাহিয়্যাত বা খোদাতত্ত্বের বিষয়ে যে বড় বিতর্ক—যাকে কেউ কেউ এই নামে ডাকেন—তা এই নাম ও গুণাবলির বিষয়েই। এটি একটি দিক।

অন্যদিকে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মানুষের আচরণ, দ্বীনদারি, আদব এবং আখলাকের ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব রয়েছে। এই কারণেই এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে এই দিক থেকে যে, মানুষ সেই আদবগুলো দ্বারা নিজেকে ভূষিত করে যা মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাঝে নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌سبب تصنيف الكتاب

قال المصنف رحمه الله تعالى: [ومن أجل منزلته هذه، ومن أجل كلام الناس فيه بالحق تارة وبالباطل الناشئ عن الجهل أو التعصب تارة أخرى، أحببت أن أكتب فيه ما تيسر من القواعد راجياً من الله تعالى أن يجعل عملي خالصاً لوجهه موافقاً لمرضاته نافعاً لعباده.

سميته: القواعد المثلى في صفات الله تعالى وأسمائه الحسنى].

والقواعد التي ذكرها الشيخ على قسمين: قواعد في المسائل، وقواعد في الدلائل؛ لأن العلم في العقيدة يشتمل على المسائل وعلى الدلائل، فالمسائل ذكر قواعد في أسماء الله وصفاته.

والدلائل ذكر قواعد في أدلة الأسماء أدلة الصفات، ثم ختمه في الحديث عن معية الله تعالى، وعن الرد على أهل التأويل من الأشاعرة والماتردية والمعتزلة.

والواجب هو أن يسير الإنسان على منهاج السلف الصالح رضوان الله عليهم في المسائل وفي الدلائل، فإننا مطالبون بأن نوافق سنة الرسول صلى الله عليه وسلم في مسائل العقائد، كما أننا مطالبون أيضاً بالاستدلال بمنهاج السلف في العقائد، فليست كل طريقة من طرق الاستدلال صحيحة، فأهل الكلام يستدلون مثلاً على الوحدانية بدليل التمانع، ويستدلون على وجود الله عز وجل بدليل حدوث الأجسام، ويستدلون على إبطال التسلسل بدليل القطع والتطبيق مثلاً، وعندهم أدلة يستدلون بها، وهي أدلة بدعية، مبتدعة.

والمميز والضابط بين الأدلة السنية، والتي هي على وفق منهج السلف الصالح رضوان الله عليهم، والأدلة البدعية المخالفة لمنهاج السلف هو: أولاً: أن الأدلة السلفية لا تتضمن أموراً تبطل العقيدة، أي: أنها لا تتضمن قواعد، سواء قواعد عقلية، أو غيرها، فهي لا تتضمن قواعد تبطل العقيدة، ولكنها متوافقة ومنسجمة بعضها مع بعض، فالدليل الذي ينص على توحيد الله عز وجل تجد أنه منسجم مع الدليل الذي يدل على الإيمان، ومنسجم مع الدليل الذي يدل على البعث، ومنسجم مع الدليل الذي في صفات الله، وهكذا تجد الأدلة الشرعية متناسقة يكمل بعضها بعضاً.

لكن الأدلة المبتدعة التي جاء بها أهل الكلام يضرب بعضها بعضاً، ويبطل بعضها بعضاً، وهكذا الباطل، فإنه يحطم بعضه بعضاً، ويكسر بعضه بعضاً، فتجد أن دليل حدوث الأجسام عند المتكلمين يلتزمون فيه نفي صفات الله تعالى، وفناء الجنة والنار، ويلتزمون فيه بعقائد باطلة كثيرة جداً، منها عقائد متعلقة باليوم الآخر، ومنها عقائد متعلقة بأسماء الله وصفاته وهكذا.

ولهذا وضع الشيخ قواعد -كما قلت- في المسائل، ووضع قواعد في الدلائل، وقد نبه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله إلى أهمية الاعتناء بمنهج السلف الصالح رضوان الله عليهم في المسائل وفي الدلائل في أول كتابه: درء تعارض العقل والنقل، فإنه أول ما ذكر قانون الرازي الذي يقدم العقل فيه على النقل، وبين فيه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله أن الإنسان ينبغي عليه أن يضبط عقيدته في هذين الأمرين.

والحقيقة أن هناك مصادر أخذ منها الشيخ هذه القواعد.

ومصدر الشيخ في فصل: قواعد في أسماء الله تعالى هو كتاب بدائع الفوائد، وأكثر القواعد الموجودة في هذا الفصل مأخوذة من كتاب بدائع الفوائد، لـ ابن قيم الجوزية، ففي المجلد الأول ذكر تقريباً عشرين قاعدة في أسماء الله تعالى، منها هذه القواعد التي ذكرها الشيخ.
‌‌গ্রন্থটি রচনার কারণ

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: [এর উচ্চ মর্যাদার কারণে এবং কখনো সত্যের মাধ্যমে আবার কখনো অজ্ঞতা বা গোঁড়ামি থেকে উদ্ভূত মিথ্যার মাধ্যমে এটি সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যের কারণে, আমি এতে সহজলভ্য কিছু নীতি লিখতে পছন্দ করেছি; মহান আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করবেন, তাঁর সন্তুষ্টির অনুকূল করবেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করবেন।

আমি এর নাম রেখেছি: আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (আল্লাহ তাআলার গুণাবলী ও তাঁর সুন্দর নামসমূহের শ্রেষ্ঠ মূলনীতিসমূহ)]।

শাইখ যে নীতিগুলো উল্লেখ করেছেন তা দুই প্রকার: মাসায়েল (বিষয়বস্তু) সংক্রান্ত নীতি এবং দালাইল (প্রমাণাদি) সংক্রান্ত নীতি; কারণ আকিদার ইলম মাসায়েল ও দালাইল উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। মাসায়েলের ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে কিছু নীতি উল্লেখ করেছেন।

আর দালাইলের ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর দলীলসমূহ সম্পর্কে কিছু নীতি উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আল্লাহর মাঈয়াত (সাথে থাকা) এবং আশআরী, মাতুরিদী ও মুতাজিলাদের মতো অপব্যাখ্যাকারীদের খণ্ডন সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে কিতাবটি শেষ করেছেন।

মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো মাসায়েল ও দালাইল উভয় ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর মানহাজের ওপর চলা। কারণ আকিদার মাসায়েলসমূহে আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসারী হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত দলীল গ্রহণের পদ্ধতির অনুসরণ করাও আবশ্যক। কারণ সব ধরনের দলীল গ্রহণের পদ্ধতি সঠিক নয়। আহলুল কালাম বা কালামশাস্ত্রবিদরা যেমন একত্ববাদের ক্ষেত্রে 'দলীলে তামানূ' (পারস্পরিক বাধা)-কে দলীল হিসেবে পেশ করে, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য 'দলীলে হুদূসুল আজসাম' (বস্তুর নশ্বরতা)-কে দলীল হিসেবে পেশ করে এবং সিলসিলার অসারতা প্রমাণের জন্য 'দলীলে ক্বত' ও 'তাত্ববিক'-কে দলীল হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের কাছে এমন কিছু দলীল রয়েছে যা দ্বারা তারা প্রমাণ পেশ করে, অথচ সেগুলো হলো বিদআতি ও নব আবিষ্কৃত দলীল।

সুন্নাহভিত্তিক দলীল—যা সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর মানহাজ অনুযায়ী—এবং সালাফদের মানহাজ বিরোধী বিদআতি দলীলের মধ্যে পার্থক্যকারী ও মানদণ্ড হলো: প্রথমত, সালাফী দলীলসমূহ এমন কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে না যা আকিদাকে বাতিল করে দেয়। অর্থাৎ এতে এমন কোনো নীতি (চাই তা যৌক্তিক হোক বা অন্য কিছু) অন্তর্ভুক্ত থাকে না যা আকিদাকে ধ্বংস করে। বরং সেগুলো একটি অপরটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সংগতিপূর্ণ। আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে যে দলীলটি বর্ণিত হয়েছে, আপনি দেখবেন যে তা ঈমান সংক্রান্ত দলীলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, পুনরুত্থান সংক্রান্ত দলীলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত দলীলের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এভাবে আপনি দেখবেন যে শরয়ী দলীলসমূহ সুশৃঙ্খল এবং একটি অন্যটিকে পূর্ণতা দান করে।

কিন্তু বিদআতি দলীলসমূহ যা আহলুল কালামরা নিয়ে এসেছে, সেগুলো একটি অন্যটির সাথে সাংঘর্ষিক এবং একে অপরকে বাতিল করে দেয়। মিথ্যার প্রকৃতিই এমন, তা একে অপরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধ্বংস করে দেয়। আপনি দেখবেন যে মুতাকাল্লিমদের কাছে 'দলীলে হুদূসুল আজসাম'-এর কারণে তারা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করা এবং জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রবক্তা হতে বাধ্য হয়। এছাড়াও তারা এমন অনেক বাতিল আকিদা গ্রহণ করতে বাধ্য হয় যার মধ্যে আকিদায়ে আখেরাত এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত আকিদা অন্যতম।

এই কারণেই শাইখ মাসায়েল এবং দালাইল উভয় ক্ষেত্রে কিছু নীতি নির্ধারণ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি' গ্রন্থের শুরুতে মাসায়েল ও দালাইলের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর মানহাজের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেখানে তিনি সর্বপ্রথম রাযীর সেই আইনের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে আকলকে (বিবেক) নকলের (কুরআন-সুন্নাহ) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) স্পষ্ট করেছেন যে মানুষের উচিত এই দুটি ক্ষেত্রেই তার আকিদাকে সুসংহত করা।

প্রকৃতপক্ষে, এমন কিছু উৎস রয়েছে যেখান থেকে শাইখ এই নীতিগুলো গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহর নামসমূহ সংক্রান্ত নীতিমালার পরিচ্ছেদে শাইখের উৎস হলো 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' কিতাবটি। এই পরিচ্ছেদে বিদ্যমান অধিকাংশ নীতি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রচিত 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' থেকে নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম খণ্ডে তিনি আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে প্রায় বিশটি নীতি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে শাইখের উল্লেখ করা এই নীতিগুলোও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌قواعد في أسماء الله تعالى
মহান আল্লাহর নামসমূহ সংক্রান্ত নীতিমালা
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌قاعدة: أسماء الله كلها حسنى

قال المصنف رحمه الله تعالى: [القاعدة الأولى: أسماء الله تعالى كلها حسنى، أي: بالغة في الحسن غايته، قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الأعراف:180]؛ وذلك لأنها متضمنة لصفات كاملة لا نقص فيها بوجه من الوجوه لا احتمالاً ولا تقديراً].

حسنى على وزن فعلى، وهذه الكلمة تأنيث من أحسن، مثل: كبرى، وصغرى، فهما تأنيث أكبر وأصغر، فإذا كان أصل الفعل هو حسن وأحسن، فإن حسنى هي تابعة لأحسن والذي هو اسم تفضيل يدل على كمال الصفة، فأسماء الله تعالى كلها حسنى، أي: بلغت الغاية في الحسن وفي الجمال وفي الكمال، وقد دل على ذلك أربعة آيات تقريراً من كتاب الله: الآية الأولى: في سورة الأعراف وهي قول الله سبحانه وتعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف:180].

والآية الثانية هي آية الإسراء وهي قوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَلا تَجْهَرْ بِصَلاتِكَ وَلا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا} [الإسراء:110].

والآية الثالثة هي آية طه وهي قول الله تعالى: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه:8].

والآية الرابعة هي آية الحشر وهي آخر آية في السورة وهي قول الله عز وجل: {هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الحشر:24].
নীতিমালা: আল্লাহর সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর

গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [প্রথম নীতিমালা: মহান আল্লাহর সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর, অর্থাৎ তা সৌন্দর্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ} [আল-আরাফ: ১৮০]; এর কারণ হলো, এই নামগুলো এমন পূর্ণ গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে যার মধ্যে কোনো দিক দিয়েই কোনো ত্রুটি নেই, না সম্ভাবনার দিক দিয়ে, না অনুমানের দিক দিয়ে]।

হুসনা শব্দটি ‘ফুইলা’ ছাঁচে গঠিত, আর এই শব্দটি ‘আহসান’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ; যেমন কুবরা ও সুগরা হলো আকবার ও আসগার শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। সুতরাং ক্রিয়াটির মূল যদি হয় ‘হাসুনা’ ও ‘আহসানা’, তবে ‘হুসনা’ শব্দটি ‘আহসান’-এর অনুগামী যা ‘ইসমু তাফদীল’ (আতিশয্যবোধক বিশেষ্য) হিসেবে গুণের পূর্ণতা নির্দেশ করে। অতএব, মহান আল্লাহর সকল নামই হুসনা, অর্থাৎ তা সৌন্দর্য, লাবণ্য ও পূর্ণতায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আল্লাহর কিতাব থেকে চারটি আয়াত নিশ্চিতভাবে এর প্রমাণ দেয়: প্রথম আয়াত: সূরা আল-আরাফে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো; আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করো। তারা যা করে তার প্রতিফল শীঘ্রই তাদের দেওয়া হবে} [আল-আরাফ: ১৮০]।

দ্বিতীয় আয়াতটি হলো সূরা আল-ইসরা’র আয়াত যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো, যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। আর আপনি আপনার সালাতে আওয়াজ খুব উচ্চ করবেন না এবং খুব নিচুও করবেন না, বরং এ দুইয়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করুন} [আল-ইসরা: ১১০]।

তৃতীয় আয়াতটি হলো সূরা ত্বহা-র আয়াত যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ—তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [ত্বহা: ৮]।

চতুর্থ আয়াতটি হলো সূরা আল-হাশরের আয়াত যা সূরার শেষ আয়াত। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল-হাশর: ২৪]।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌دلالات وصف أسماء الله بالحسنى

ووصف أسماء الله عز وجل بالحسنى له دلالات كثيرة، منها: أن أسماء الله سبحانه وتعالى تدل كلها على المدح والثناء والتمجيد لله سبحانه وتعالى، كما ذكر ذلك ابن القيم رحمه الله في مدارج السالكين، وذكره شيخه قبله في نقض التأسيس، وكذلك تدل على أن أسماء الله عز وجل تتضمن معان جميلة، فكما أنها تدل على المدح والكمال والجلال والتمجيد فهي كذلك تدل على معان جليلة وعظيمة وهي معاني الكمال، وهذه المعاني هي الصفات.

وكل اسم من أسماء الله عز وجل يدل على معنى، فمثلاً: اسم الله الرحمن يدل على معنى: وهو الرحمة، واسم الله سبحانه وتعالى العزيز يدل على معنى: وهي العزة، والعزة غير الرحمة، وكل اسم من أسماء الله سبحانه وتعالى يدل على معنى غير المعنى الذي يدل عليه الاسم الآخر، وإن كانت جميع أسماء الله عز وجل تدل على مسمى واحد وهو الله سبحانه وتعالى، وهذا يدل على أنها أسماء، يعني: إذا كانت أسماء الله عز وجل كل اسم منها يدل على معنى، وهي كثيرة فالمعاني التي تدل على كمال الله عز وجل كثيرة ومتعددة، ولهذا سميت حسنى.

وكذلك من الدلالات على أن أسماء الله حسنى: أنه لا يوجد اسم من أسماء الله يتضمن الشر، بل الشر في مفعولاته عز وجل، وليس في فعله، وليس في وصفه، وليس في اسمه سبحانه وتعالى، ويمكن أن نذكر مثالاً يدل على ذلك، يقول الله عز وجل: {إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ * إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ * وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ} [البروج:12 - 14]، انظروا في الاسم سمى نفسه الغفور الودود، وهي أسماء الخير والبركة، وفي مفعوله وصفه بأنه شديد، ومثل قول الله سبحانه وتعالى: {أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ * وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الأَلِيمُ} [الحجر:49 - 50]، فالعذاب نتيجة فعله سبحانه وتعالى وهي آثار فعله وقد توصف بالألم، وبما فيه ضرر بالنسبة للإنسان أو لغيره، لكن أسماء الله سبحانه وتعالى لا يمكن أن ينسب إليها شر بأي وجه من الوجوه.
আল্লাহর নামসমূহকে 'হুসনা' (সর্বোত্তম) বিশেষণে বিশেষিত করার তাৎপর্যসমূহ

মহান আল্লাহর নামসমূহকে 'হুসনা' (সর্বোত্তম) গুণে বিশেষিত করার বহু তাৎপর্য রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: মহান আল্লাহর প্রতিটি নামই তাঁর প্রশংসা, স্তুতি এবং মহিমা প্রকাশ করে। যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) 'মাদারিজুস সালিকিন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর পূর্বে তাঁর শাইখ 'নাকযুত তأسিস' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে এগুলো নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহর নামসমূহ সুন্দর অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলো যেমন প্রশংসা, পূর্ণতা, গাম্ভীর্য ও মহিমাকে নির্দেশ করে, তেমনি এগুলো মহান ও সুউচ্চ অর্থসমূহকেও নির্দেশ করে, যা মূলত পূর্ণতারই অর্থ। আর এই অর্থগুলোই হলো সিফাত বা গুণাবলি।

মহান আল্লাহর প্রতিটি নাম একটি নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহর নাম 'আর-রাহমান' একটি অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, আর তা হলো রহমত বা দয়া। সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম 'আল-আজিজ' একটি অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, আর তা হলো ইজ্জত বা পরাক্রম। আর এই ইজ্জত বা পরাক্রম রহমতের চেয়ে ভিন্ন। মহান আল্লাহর প্রতিটি নাম এমন অর্থের প্রতি নির্দেশ করে যা অন্য নামের অর্থ থেকে ভিন্ন, যদিও আল্লাহর সকল নামই এক সত্তাকেই নির্দেশ করে, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। এটি প্রমাণ করে যে এগুলো কেবল নামই নয়; অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিটি নাম যদি একটি করে অর্থ প্রকাশ করে এবং নামগুলো যদি সংখ্যায় অনেক হয়, তবে মহান আল্লাহর পূর্ণতা প্রকাশকারী এই অর্থগুলোও অনেক ও বহুমুখী। এ কারণেই এগুলোকে 'হুসনা' বলা হয়েছে।

আল্লাহর নামসমূহ 'হুসনা' বা সর্বোত্তম হওয়ার আরেকটি তাৎপর্য হলো: আল্লাহর এমন কোনো নাম নেই যা মন্দ বা অকল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। বরং অকল্যাণ বা মন্দ কেবল তাঁর সৃষ্ট বস্তুর (মفعুলাত) মধ্যে নিহিত, তাঁর কর্মে নয়, তাঁর গুণাবলিতে নয় এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামেও নয়। এর স্বপক্ষে একটি উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "নিশ্চয় তোমার রবের পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন। নিশ্চয় তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর তিনি ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময়।" [সূরা বুরুজ: ১২-১৪]। লক্ষ্য করুন, নামের ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে 'আল-গাফুর' (ক্ষমাশীল) ও 'আল-ওয়াদুদ' (পরম প্রেমময়) হিসেবে নামকরণ করেছেন, যা কল্যাণ ও বরকতের নাম। অন্যদিকে তাঁর কর্মের প্রভাবের ক্ষেত্রে কঠিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "জানিয়ে দাও যে, নিশ্চয় আমিই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর আমার শাস্তিই হলো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" [সূরা হিজর: ৪৯-৫০]। এখানে আযাব বা শাস্তি হলো তাঁর কাজের ফলাফল এবং তাঁর কর্মের প্রভাব, যাকে যন্ত্রণাদায়ক বা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহর নামসমূহের সাথে কোনোভাবেই কোনো মন্দ বা অকল্যাণকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أمثلة على أسماء الله الحسنى

قال المصنف رحمه الله تعالى: [مثال ذلك: الحي اسم من أسماء الله تعالى متضمن للحياة الكاملة التي لم تسبق بعدم ولا يلحقها زوال، الحياة المستلزمة لكمال الصفات من العلم والقدرة والسمع والبصر وغيرها].

الحي يتضمن كمال الحياة بالنسبة لله سبحانه وتعالى، وهذه الحياة لا يعتريها نقص بأي وجه من الوجوه، فهي ليست مسبوقة بعدم فلا يعتريها النقص، ولا يلحقها زوال.

والمخلوق يمكن تسميته بالحي، ومثال ذلك قوله تعالى: {يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ} [الأنعام:95]، فالمخلوق حي لكن حياته ناقصة؛ لأنه سبقها العدم، وسيأتي عليها الفناء، ولأنه يتخللها السِنَة يعني: النعاس، والنوم، فضلاً عما يدخلها من النسيان والغفلة ونحو ذلك من قوادح الحياة، لكن حياة الله عز وجل كاملة لا يعتريها نقص بأي وجه من الوجوه، فليست مسبوقة بعدم، ولا يلحقها زوال، وليس فيها نسيان، وليس فيها خطأ، وليس فيها نوم، وليس فيها نعاس، بل هو سبحانه وتعالى حي حياة دائمة مستمرة ليس لها بداية وليس لها نهاية سبحانه وتعالى، وهذا هو معنى قول الشيخ: (وذلك لأنها متضمنة لصفات كاملة لا نقص فيها بوجه من الوجوه).

قال المصنف رحمه الله تعالى: [ومثال آخر: العليم اسم من أسماء الله متضمن للعلم الكامل الذي لم يسبق بجهل ولا يلحقه نسيان، قال الله تعالى: {قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لا يَضِلُّ رَبِّي وَلا يَنسَى} [طه:52]، العلم الواسع المحيط بكل شيء جملة وتفصيلاً، سواء ما يتعلق بأفعاله أو أفعال خلقه، قال الله تعالى: {وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلا رَطْبٍ وَلا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} [الأنعام:59]، {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} [هود:6]، {يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} [التغابن:4]].

العليم: اسم من أسماء الله تعالى يتضمن صفة من صفاته وهي العلم، فهذا العلم الذي يدل عليه اسمه سبحانه وتعالى لا نقص فيه بأي وجه من الوجوه، واسمه سبحانه وتعالى العليم لا نقص فيه في أي وجه من الوجوه، وأنه لا يعتريه النسيان، ولا تعتريه غفلة، ولا يعتريه خطأ، وهذا الاسم العظيم الذي هو من أسمائه سبحانه وتعالى (العليم) يدل على سعة علمه، وأن هذا العلم ليس علماً محدوداً بشيء، وإنما هو علم محيط بكل شيء، ويستوي في ذلك أفعال عباده وأفعال غيره، فكل شيء يعلمه سبحانه وتعالى، ولهذا فعلم الله عز وجل لا يمكن أن يحد، وهذا هو وجه الحسن في الاسم؛ لأنه قد يسمى إنسان بعليم لكن كما قال تعالى: {وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف:76]، وقد يكون الإنسان عنده علم لكن علمه محدود، وربنا هو الذي يعلم كل شيء سبحانه وتعالى، سواء من الأشياء المحسوسة أو غير المحسوسة، والشرعية أو غير الشرعية.
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের উদাহরণ

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: [এর উদাহরণ: 'আল-হাই' (চিরঞ্জীব) আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম, যা এমন পূর্ণাঙ্গ জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে যা পূর্বে অস্তিত্বহীন ছিল না এবং যার কোনো অবসান নেই। এই জীবন জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন এবং অন্যান্য গুণাবলীর পূর্ণতাকে আবশ্যক করে]।

'আল-হাই' আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রে জীবনের পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই জীবনে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা স্পর্শ করে না। কারণ এটি অস্তিত্বহীনতা দ্বারা পূর্ববর্তী নয়, তাই এতে কোনো অপূর্ণতা নেই এবং এর কোনো বিনাশও নেই।

সৃষ্টিকেও 'জীবিত' বলা যেতে পারে, এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করেন} [আল-আনআম: ৯৫]। সুতরাং সৃষ্টি জীবন্ত, কিন্তু তার জীবন অপূর্ণ; কারণ এর পূর্বে অস্তিত্বহীনতা ছিল এবং পরে ধ্বংস আসবে। আর কারণ এতে তন্দ্রা অর্থাৎ ঝিমুনি এবং ঘুম প্রবেশ করে, এছাড়া বিস্মৃতি, গাফিলতি এবং জীবনের ত্রুটিস্বরূপ বিষয়গুলো তো আছেই। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জীবন পূর্ণাঙ্গ, এতে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা নেই। এটি অস্তিত্বহীনতা দ্বারা পূর্ববর্তী নয়, এর কোনো বিনাশ নেই, এতে কোনো বিস্মৃতি নেই, কোনো ভুল নেই, কোনো ঘুম নেই এবং কোনো তন্দ্রা নেই। বরং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জীবনের অধিকারী, যার কোনো শুরু নেই এবং যার কোনো শেষ নেই। আর এটাই শাইখের এই বাণীর অর্থ: (আর তা এই কারণে যে, তা এমন পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা নেই)।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: [আরেকটি উদাহরণ: 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ) আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম, যা এমন পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা অজ্ঞতা দ্বারা পূর্ববর্তী ছিল না এবং যাতে বিস্মৃতি স্পর্শ করে না। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি বললেন, এর জ্ঞান আমার রবের কাছে কিতাবে সংরক্ষিত আছে, আমার রব ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না} [ত্বহা: ৫২]। এটি এমন ব্যাপক জ্ঞান যা সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, চাই তা তাঁর নিজের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা তাঁর সৃষ্টির কাজের সাথে। মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁরই কাছে গায়েবের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনিই জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও ঝরে না এবং মাটির অন্ধকারে একটি দানাও পড়ে না, আর কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই} [আল-আনআম: ৫৯]। {আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই, আর তিনি জানেন তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থানস্থল। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে} [হুদ: ৬]। {আকাশমণ্ডলী ও জমিনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন এবং তোমরা যা গোপন করো ও যা প্রকাশ করো তাও তিনি জানেন। আর আল্লাহ অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত} [আত-তাগাবুন: ৪]]।

'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ): এটি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নাম, যা তাঁর গুণাবলী থেকে একটি গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো 'ইলম' বা জ্ঞান। সুতরাং তাঁর এই নাম যে জ্ঞানের ওপর প্রমাণ করে, তাতে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা নেই। তাঁর 'আল-আলিম' নামে কোনো দিক থেকেই কোনো ত্রুটি নেই। এতে কোনো বিস্মৃতি আসে না, কোনো গাফিলতি স্পর্শ করে না এবং কোনো ভুল হয় না। এই মহান নাম (আল-আলিম), যা তাঁর অন্যতম নাম, তা তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততার ওপর প্রমাণ করে। আর এই জ্ঞান কোনো কিছুর দ্বারা সীমাবদ্ধ জ্ঞান নয়, বরং তা সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান। এতে তাঁর বান্দাদের কাজ এবং অন্যান্যদের কাজ সবই সমান। সবকিছুই তিনি জানেন। এই কারণে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। আর এটাই এই নামের সৌন্দর্যের দিক; কারণ কোনো মানুষকেও 'আলিম' বা জ্ঞানী বলা যেতে পারে, কিন্তু মহান আল্লাহ যেমনটি বলেছেন: {প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছেন একজন মহাজ্ঞানী} [ইউসুফ: ৭৬]। মানুষের জ্ঞান থাকতে পারে তবে তার জ্ঞান সীমাবদ্ধ, আর আমাদের রবই হচ্ছেন তিনি, যিনি সবকিছু জানেন; চাই তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু হোক বা ইন্দ্রিয়াতীত, শরীয়ত সংক্রান্ত হোক বা শরীয়ত বহির্ভূত।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌معنى الحسن في أسماء الله تعالى

ويمكن التنبيه إلى عدة أمور تدل على وصف أسماء الله عز وجل بأنها حسنى: أولاً: أن الأسماء الجامدة التي لا تدل على معان ليست من أسماء الله سبحانه وتعالى؛ لأنها ليست حسنة ولا يتحقق فيها وصف الحسنى، مثل: الموجود، فلا يمكن أن يسمى الله: الموجود حتى ولو كان المعنى صحيح، فلا يسمى به، ولا يمكن أن يكون هذا له اسم؛ والسبب في ذلك: أنه ليس فيه معنى الحسن، وإنما غاية ما فيه أنه شيء موجود.

ولا يسمى الشيء بأي اسم من هذه الأسماء؛ لأنها تتضمن معنى كريماً حسناً، ويدل على هذا أن الأسماء الجامدة ليست من أسماء الله سبحانه وتعالى، فالوصف في الآيات الأربع السابقة وصف لأسماء الله بالحسنى وهذا يدل على أهمية أن تكون أسماء الله عز وجل موصوفة بهذه الصفة وهي الحسن.

كذلك لا يسمى الله سبحانه وتعالى بالاسم الذي يحتمل المدح والذم، مثل: المتكلم، فلا يقال: إن الله عز وجل هو المتكلم، فالمتكلم ليس اسماً من أسماء الله؛ لأن الكلام قد يكون حسناً وقد يكون سيئاً، وقد يكون ممدوحاً وقد يكون مذموماً، فلا يسمى الله سبحانه وتعالى بالاسم الذي يحتمل المدح ويحتمل الذم.

وقد نقد شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في شرح الأصفهانية الأشاعرة الذين سموا الله سبحانه وتعالى بهذه الأسماء التي لم يسم بها نفسه، وكان من أوجه النقد التي نقدهم من خلالها شيخ الإسلام رحمه الله: أن هذا الاسم يحتمل المعنى الممدوح على المعنى المذموم، وهذا ينافي الحسن الذي وصف الله سبحانه وتعالى به أسماءه، وكذلك ما ورد مقيداً أو مضافاً فإن هذا لا يؤخذ منه اسم من أسماء الله سبحانه وتعالى، ويمكن أن نمثل لهذا قوله تعالى: {إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ} [السجدة:22]، فلا يؤخذ من هذه الآية اسم لله وهو المنتقم؛ لأن الوصف هنا وهو قوله: {مُنتَقِمُونَ} [السجدة:22] مرتبط ومقيد بالمجرمين، لكن إذا قلت: المنتقم بشكل عام احتمل هذا أن يكون منتقماً أيضاً حتى من المؤمنين فلا يصح، وحينئذ سينافي الحسن الوارد في الآيات الأربع.

ومثل قول الله عز وجل: {عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ} [الأنعام:73]، فلا يؤخذ من هذه الآية اسم الله عز وجل العليم مثلاً أو العالم، لا يؤخذ من هذه الآية تحديداً لكنه يؤخذ من آيات أخرى تدل بشكل أصرح على اسم الله عز وجل، فالأسماء التي تأتي مقيدة ومضافة لا يصح أن يؤخذ منها اسم من أسماء الله سبحانه وتعالى، مثل: مجري السحاب، وهازم الأحزاب ونحو ذلك.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [ومثال ذلك: الرحمن اسم من أسماء الله تعالى متضمن للرحمة الكاملة التي قال عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لله أرحم بعباده من هذه بولدها) يعني: أم صبي وجدته في السبي فأخذته وألصقته ببطنها وأرضعته، ومتضمن أيضاً للرحمة الواسعة التي قال الله عنها: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} [الأعراف:156]، وقال عن دعاء الملائكة للمؤمن: {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا} [غافر:7]].

وهذا مثال يدل على أن اسم الله عز وجل الرحمن اسماً حسناً، وبين الشيخ أوجه تضمنه فقال: (لأنه يدل على الرحمة الكاملة)، ثم وصفها بالأحاديث الواردة عن الرسول صلى الله عليه وسلم عليه، وأنها واسعة، وأن الله عز وجل أرحم بعباده من الأم بولدها، وهذا لا شك أنه من الغاية في الحسن والجلال والكمال.
আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ‘হুসনা’ (সর্বোত্তম হওয়ার) অর্থ

মহান আল্লাহর নামসমূহকে ‘হুসনা’ (সর্বোত্তম) হিসেবে অভিহিত করার তাৎপর্য কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে: প্রথমত: এমন স্থবির বা জড় নাম যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, তা মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এগুলো ‘হুসনা’ বা উত্তম নয় এবং এগুলোর মধ্যে উত্তম হওয়ার বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় না। যেমন: ‘আল-মাওজুদ’ (অস্তিত্বমান)। মহান আল্লাহকে ‘আল-মাওজুদ’ নামে অভিহিত করা যাবে না, এমনকি যদি এর অর্থ সঠিকও হয়, তবুও তাঁকে এই নামে ডাকা যাবে না এবং এটি তাঁর নাম হতে পারে না। এর কারণ হলো: এর মধ্যে উত্তম কোনো অর্থ নেই, বরং এর সর্বোচ্চ অর্থ হলো এটি কেবল একটি বিদ্যমান বস্তু মাত্র।

আর কোনো কিছুকেই এই ধরণের নামে নামকরণ করা হয় না; কারণ আল্লাহর নামসমূহ একটি মহিমান্বিত ও উত্তম অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিই প্রমাণ করে যে, স্থবির বা জড় শব্দসমূহ মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং পূর্বের চারটি আয়াতে আল্লাহর নামসমূহকে ‘হুসনা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা আল্লাহর নামসমূহ এই গুণে অর্থাৎ ‘উত্তম হওয়া’র গুণে গুণান্বিত হওয়ার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

অনুরূপভাবে, মহান আল্লাহকে এমন কোনো নামে নামকরণ করা যাবে না যা একই সাথে প্রশংসা ও নিন্দা—উভয় সম্ভাবনা রাখে। যেমন: ‘আল-মুতাকাল্লিম’ (কথক)। সুতরাং এটা বলা যাবে না যে, মহান আল্লাহ হলেন ‘আল-মুতাকাল্লিম’। কারণ ‘আল-মুতাকাল্লিম’ আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা কথা কখনো উত্তম হয় আবার কখনো মন্দ হয়। কখনো তা প্রশংসনীয় হয় আবার কখনো তা নিন্দনীয় হয়। তাই মহান আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করা যাবে না যা প্রশংসা ও নিন্দা—উভয় অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) ‘শারহুল আসফাহানিয়্যাহ’ গ্রন্থে সেই আশআরিদের সমালোচনা করেছেন যারা মহান আল্লাহকে এমন সব নামে নামকরণ করেছেন যা তিনি স্বয়ং নিজের জন্য ব্যবহার করেননি। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) তাদের সমালোচনার অন্যতম একটি দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে: এই নামসমূহ প্রশংসনীয় অর্থের পাশাপাশি নিন্দনীয় অর্থও বহন করার সম্ভাবনা রাখে, যা মহান আল্লাহ তাঁর নামসমূহের জন্য যে ‘হুসনা’ বা উত্তম হওয়ার গুণ বর্ণনা করেছেন, তার পরিপন্থী। অনুরূপভাবে, যে শব্দগুলো সীমাবদ্ধ বা সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় এসেছে, তা থেকে মহান আল্লাহর কোনো নাম গ্রহণ করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী” [আস-সাজদাহ: ২২]। এই আয়াত থেকে আল্লাহর নাম হিসেবে ‘আল-মুন্তাকিম’ (প্রতিশোধ গ্রহণকারী) গ্রহণ করা যাবে না; কারণ এখানে ‘প্রতিশোধ গ্রহণকারী’ বিশেষণটি অপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্ট ও সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি সাধারণভাবে ‘প্রতিশোধ গ্রহণকারী’ বলেন, তবে তা মুমিনদের থেকেও প্রতিশোধ গ্রহণ করার সম্ভাবনা রাখে, যা সঠিক নয়। এমতাবস্থায় এটি ওই চারটি আয়াতে বর্ণিত ‘হুসনা’ বা উত্তম হওয়ার বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী হবে।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত” [আল-আন’আম: ৭৩]। এই নির্দিষ্ট আয়াত থেকে মহান আল্লাহর নাম হিসেবে উদাহরণস্বরূপ ‘আল-আলীম’ বা ‘আল-আলিম’ গ্রহণ করা যাবে না। এই আয়াত থেকে বিশেষভাবে তা নেওয়া যাবে না, তবে অন্য আয়াত থেকে তা নেওয়া যাবে যা আরও স্পষ্টভাবে মহান আল্লাহর নামকে নির্দেশ করে। সুতরাং যে নামগুলো সীমাবদ্ধ বা সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় এসেছে, তা থেকে মহান আল্লাহর কোনো নাম গ্রহণ করা সঠিক নয়। যেমন: ‘মেঘমালা চালনাকারী’, ‘বাহিনীসমূহকে পরাজিতকারী’ ইত্যাদি।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এর উদাহরণ হলো: ‘আর-রাহমান’ মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি, যা এমন এক পূর্ণ রহমতকে শামিল করে যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সেই মহিলার চেয়েও বেশি দয়ালু যে তার সন্তানকে দয়া করে।” অর্থাৎ যুদ্ধবন্দীদের মাঝে জনৈক নারী তার শিশুকে খুঁজে পেয়ে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল এবং দুধ পান করাল। আর এই নামটি এমন এক প্রশস্ত রহমতকেও শামিল করে যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: “আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে” [আল-আ’রাফ: ১৫৬]। মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের দুআ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: “হে আমাদের রব! আপনি আপনার রহমত ও জ্ঞান দ্বারা প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন” [গাফির: ৭]]।

এটি এমন এক উদাহরণ যা প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর ‘আর-রাহমান’ নামটি একটি ‘হুসনা’ বা উত্তম নাম। শাইখ এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিকগুলো বর্ণনা করে বলেছেন: (কারণ এটি পূর্ণ রহমতকে নির্দেশ করে)। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর মাধ্যমে এর গুণ বর্ণনা করেছেন যে, তা অত্যন্ত প্রশস্ত এবং মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মায়ের তাঁর সন্তানের প্রতি দয়ার চেয়েও বেশি দয়ালু। আর এটি যে সৌন্দর্য, মহিমা ও পূর্ণতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الحسن في أسماء الله باعتبار كل اسم على انفراده وجمعه إلى غيره

قال المصنف رحمه الله تعالى: [والحسن في أسماء الله تعالى يكون باعتبار كل اسم على انفراده، ويكون باعتبار جمعه إلى غيره فيحصل بجمع الاسم إلى الآخر كمال فوق كمال].

أي: أنه يمكن أن يأخذ الإنسان الحسن من اسم الله العليم لوحده، ومن اسمه القدير لوحده، ومن اسمه العزيز لوحده، ومن اسمه الحكيم لوحده، ويتضاعف الحسن عندما تضم بعض الأسماء إلى بعض، مثل: العزيز الحكيم، الغفور الرحيم، الرحمن الرحيم، وهذه الإضافة التي تجدونها في القرآن كانت لحكمة، فهي تدل على معان عظيمة.

وقد ذكر ابن القيم رحمه الله هذه القاعدة في بدائع الفوائد، وقسم أسماء الله سبحانه وتعالى إلى أقسام، وذكر من أقسام أسماء الله عز وجل: أن بعض أسماء الله عز وجل تشتمل على صفات الكمال مركبة، يعني: ضم صفة معينة مثل اسمه المجيد، يقول: اسم المجيد من أسماء الله عز وجل لا يدل على كمال في جهة معينة فقط، وإنما يدل على الكمال في كل جهة، ولهذا يعتبر اسم الله عز وجل المجيد من أعظم الأسماء الواسعة، وقال: ولهذا سمي به عرش الرحمن في قوله: {ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ} [البروج:15] على قراءة الجر، فالمجيد اسم من أسماء العرش؛ وذلك لأن اسمه المجيد يدل على السعة والعرش يدل على السعة، فناسب أن يسمى العرش بالمجيد، وهذا الكلام من أروع الكلام وقد ذكره ابن القيم في بدائع الفوائد في المجلد الأول صفحة مائة وتسعين.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [مثال ذلك: العزيز الحكيم، فإن الله تعالى يجمع بينهما في القرآن كثيراً، فيكون كلاً منها دالاً على الكمال الخاصة الذي يقتضيه وهو العزة في العزيز، والحكم والحكمة في الحكيم، والجمع بينهما دال على كمال الآخر، وهو أن عزته تعالى مقرونة بالحكمة، فعزته تقتضي ظلماً وزوراً وسوء فعل، كما قد يكون من أعزاء المخلوقين، فإن العزيز منهم قد تأخذه العزة بالإثم فيظلم ويجور ويسيء التصرف، وكذلك حكمه تعالى وحكمته مقرونان بالعز الكامل بخلاف حكم المخلوق وحكمته فإنهما يعتريهما الذل].

يدل هذا على أنه إذا اجتمع اسم العزيز واسم الحكيم فإن اجتماعها يدل على معنى عظيم وكبير وهو عز بحكمه، وحكمة بقوة؛ لأنه قد يكون العزيز في بعض الأحيان ليست لديه حكمه كما ذكر، وكذلك الحكيم وهكذا، ومثله أيضاً السميع البصير، كما قال الله عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11]، فإن السميع قد يسمع لكن قد لا يبصر في بعض الأحيان، فقال البصير؛ ولأن البصير قد لا يسمع فوجد السميع، وهكذا يكتمل المعنى بنفس الطريقة التي ذكرها الشيخ رحمه الله تعالى.
আল্লাহর নামসমূহের সৌন্দর্য—প্রতিটি নামের স্বতন্ত্র বিচারে এবং অন্য নামের সাথে যুক্ত হওয়ার বিচারে

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [আল্লাহ তাআলার নামসমূহের সৌন্দর্য প্রতিটি নামের স্বতন্ত্র বিচারেও থাকে, আবার অন্য নামের সাথে এর যুক্ত হওয়ার বিচারেও থাকে; ফলে একটি নামের সাথে অন্য নাম যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতার ওপর আরও পূর্ণতা অর্জিত হয়]।

অর্থাৎ: একজন মানুষ আল্লাহর 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ) নাম থেকে এককভাবে সৌন্দর্য লাভ করতে পারে, তেমনি তাঁর 'আল-কাদির' (সর্বশক্তিমান), 'আল-আজিজ' (মহাপরাক্রমশালী) এবং 'আল-হাকিম' (প্রজ্ঞাময়) নামগুলো থেকেও এককভাবে সৌন্দর্য গ্রহণ করতে পারে। আর এই সৌন্দর্য তখন বহুগুণ বেড়ে যায় যখন কিছু নামকে অন্য নামের সাথে যুক্ত করা হয়, যেমন: 'আল-আজিজুল হাকিম', 'আল-গফুরুর রাহিম', 'আর-রাহমানুর রাহিম'। কুরআনে আপনারা যে এই সমন্বয়গুলো দেখতে পান, তা কোনো এক হিকমত বা প্রজ্ঞার কারণেই হয়েছে; এগুলো অত্যন্ত মহান ও গভীর অর্থের জানান দেয়।

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থে এই নিয়মটি উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। আল্লাহর মহান নামের বিভিন্ন প্রকারভেদ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন: আল্লাহর কিছু নাম এমন আছে যা যৌগিকভাবে পূর্ণতার গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ, একটি বিশেষ গুণের সাথে অন্য গুণের মিলন। যেমন আল্লাহর নাম 'আল-মাজিদ' (মহিমান্বিত)। তিনি বলেন: আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে 'আল-মাজিদ' নামটি কেবল একটি বিশেষ দিকের পূর্ণতাকেই নির্দেশ করে না, বরং এটি প্রতিটি দিক থেকে পূর্ণতা নির্দেশ করে। এই কারণেই আল্লাহর 'আল-মাজিদ' নামটিকে অন্যতম প্রশস্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক নাম হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আরও বলেন: এ কারণেই আল্লাহর আরশকে 'আল-মাজিদ' নামে অভিহিত করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: "আরশের অধিকারী, মহিমান্বিত" [আল-বুরুজ: ১৫]—জের (জার) যুক্ত পাঠরীতি (কিরাত) অনুযায়ী। এক্ষেত্রে 'আল-মাজিদ' হলো আরশের একটি গুণ; কারণ 'মাজিদ' শব্দটি প্রশস্ততা ও বিশালতাকে নির্দেশ করে আর আরশও প্রশস্ততা ও বিশালতার প্রমাণ দেয়। তাই আরশকে 'মাজিদ' হিসেবে নামকরণ করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি আলোচনা যা ইবনুল কাইয়্যিম 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ১৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [এর উদাহরণ হলো: 'আল-আজিজুল হাকিম' (মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়); আল্লাহ তাআলা কুরআনে এই দুটি নামকে অনেক জায়গায় একত্রে উল্লেখ করেছেন। তখন এর প্রতিটি নাম নিজের জন্য নির্ধারিত বিশেষ পূর্ণতাকে নির্দেশ করে; যেমন 'আজিজ' নামের ক্ষেত্রে পরাক্রম এবং 'হাকিম' নামের ক্ষেত্রে বিচার ও প্রজ্ঞা। আর এই দুইয়ের মিলন অন্য একটি পূর্ণতাকে নির্দেশ করে, আর তা হলো—আল্লাহ তাআলার পরাক্রম প্রজ্ঞার সাথে যুক্ত। তাঁর পরাক্রম কোনো জুলুম, মিথ্যা বা মন্দ আচরণের জন্ম দেয় না, যা সৃষ্টির শক্তিমানদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। কারণ সৃষ্টির মধ্য থেকে যারা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়, অনেক সময় তাদের সেই শক্তি ও প্রতাপ তাদের পাপের দিকে ধাবিত করে, ফলে তারা জুলুম করে, অবিচার করে এবং মন্দ আচরণ করে। একইভাবে আল্লাহ তাআলার বিচার ও প্রজ্ঞা পূর্ণ পরাক্রমের সাথে যুক্ত, যা সৃষ্টির বিচার ও প্রজ্ঞার বিপরীত; কারণ সৃষ্টির বিচার ও প্রজ্ঞার সাথে অনেক সময় হীনতা বা দুর্বলতা মিশে থাকে]।

এটি নির্দেশ করে যে, যখন 'আজিজ' এবং 'হাকিম' নাম দুটি একত্রিত হয়, তখন তাদের এই মিলন একটি মহান ও বিশাল অর্থ প্রকাশ করে; আর তা হলো—তাঁর পরাক্রম প্রজ্ঞাময় এবং তাঁর প্রজ্ঞা শক্তিশালী। কারণ অনেক সময় এমন হতে পারে যে একজনের পরাক্রম আছে কিন্তু প্রজ্ঞা নেই, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে; আবার কারও প্রজ্ঞা আছে কিন্তু শক্তি নেই। একইভাবে 'আস-সামিউল বাসির' (সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা) নামের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শুরা: ১১]। কেননা এমন হতে পারে যে কেউ শোনে কিন্তু কখনো দেখতে পায় না, তাই 'বাসির' (সর্বদ্রষ্টা) বলা হয়েছে; আবার এমন হতে পারে যে কেউ দেখে কিন্তু শোনে না, তাই 'সামি' (সর্বশ্রোতা) বলা হয়েছে। এভাবেই পূর্ণতা অর্জিত হয় ঠিক সেই পদ্ধতিতে যা শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌عدم وجود مذهب المعتزلة بأصوله الخمسة مع وجود أفكارهم في الفرق الضالة

 

‌‌السؤال

قولك: إن مذهب المعتزلة قد أفل بعد انتهاء المحنة والفتنة، فهل تقصد بهذا أئمتهم، أم أفكارهم، مع أن بعض الكتاب وبعض الحداثيين في زماننا ينتهجون أفكار المعتزلة، وخاصة في تقديم العقل في أمور كثيرة؟

 

‌‌الجواب

أفل نجم المعتزلة بالذات بعد الفتنة في زمن الواثق والمتوكل الذي جاء بعده، كفرقة مستقلة لها أصولها التي تجتمع عليها وهي الأصول الخمسة، والمعتزلة لهم أصول خمسة، وهذه الأصول الخمسة يقال إن من جمعها فهو معتزلي، ومن لم يجمعها لا يكون معتزلياً، فأفلت المعتزلة المجتمعة على هذه الأصول، لكن بقيت الأفكار التي ذابت في معتقدات بعض الفرق، فبقيت أفكارها عند الشيعة الروافض وبقيت أفكارها كذلك عند الخوارج، فأصبح المتأخرون من الشيعة معتزلة في القدر والأسماء والصفات، وكذلك الخوارج أصبحوا معتزلة وما يزالون، أي: ما يزال إلى الآن الشيعة يقولون بمقالات المعتزلة، فكتبهم تقول: إن القرآن مخلوق، ويقولون: إن الله لا يرى يوم القيامة، وينفون القدر، ويقولون بمقالات المعتزلة الأوائل ويستندون إليها، ومن أمثلتهم ابن بابويه القمي في كتابه التوحيد، والمجلسي في بحار الأنوار، والكليني في الكافي وغيرهم من أئمة الشيعة الذين يقولون بمقالات المعتزلة وينفون الصفات جميعها: صفة اليدين، وصفة الوجه، ويقولون بنفس مقالة المعتزلة تماماً، ويحتجون بحججهم التي كانوا يحتجون بها وكذلك الخوارج وبالذات الأباضية أو الإباضية فهم يقولون بمقالات المعتزلة، ويحتجون بأدلتهم، فمثلاً: علي الخليلي مفتي عمان ألف كتاباً سماه: الحق الدامغ، وقد بناه على مسائل المعتزلة، وبناه على أن القرآن مخلوق، وأن الله لا يرى يوم القيامة، وبناه على نفي الصفات، وهو كتاب موجود الآن لمفتي الإباضية في عمان.

وكذلك وجدت أفكار المعتزلة عند أصحاب العقلانية المعاصرة، فأفكارهم موجودة وهي ما يسمونها بحرية الإرادة، وقد صنف بعض المصنفين كتباً مثل: محمود قاسم وغيره من الكتاب الذين لهم كتب عن حرية الإرادة، ويقصدون بذلك نفي القدر، وأن الله عز وجل لم يكتب الأشياء، ولم يقدرها، وينفون القدر ويقولون بمقالة المعتزلة، ويعتبرون أن المعتزلة أصحاب ثورة تحريرية عن الفكر السلفي الجامد، وما يزال أصحاب المدرسة العصرية على نفس أفكار المعتزلة في تقديم العقل على النقل، لكن المعتزلة كفرقة تؤمن بالأصول الخمسة التي ذكرها أئمتهم لا توجد الآن.
‌ভ্রান্ত দলগুলোর মাঝে মুতাযিলাদের চিন্তাধারা বিদ্যমান থাকলেও তাদের পঞ্চ-মূলনীতিসহ মুতাযিলা মাযহাবের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব না থাকা

 

‌প্রশ্ন

আপনার বক্তব্য হলো: ফিতনা শেষ হওয়ার পর মুতাযিলা মাযহাবের সূর্য অস্তমিত হয়েছে—এর দ্বারা আপনি কি তাদের ইমামদের বুঝিয়েছেন, নাকি তাদের চিন্তাধারাকে বুঝিয়েছেন? অথচ আমাদের বর্তমান সময়ের কিছু লেখক এবং আধুনিকতাবাদী মুতাযিলাদের চিন্তাধারা অনুসরণ করছে, বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিকে ওহীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে।

 

‌উত্তর

মুতাযিলাদের প্রভাব বিশেষ করে আল-ওয়াসিক এবং তার পরবর্তী খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের সময়ের ফিতনার পর একটি স্বতন্ত্র দল হিসেবে অস্তমিত হয়েছে, যাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি ছিল যেগুলোর ওপর তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল, আর তা হলো পঞ্চ-মূলনীতি। মুতাযিলাদের পাঁচটি মূলনীতি রয়েছে; আর বলা হয়ে থাকে যে, যার মাঝে এই পাঁচটি মূলনীতি একত্র হবে সে-ই মুতাযিলি, আর যার মাঝে এগুলো একত্র হবে না সে মুতাযিলি নয়। সুতরাং এই মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকা মুতাযিলা দলটি বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের চিন্তাধারাগুলো অবশিষ্ট রয়ে গেছে যা অন্যান্য ফিরকার আকিদার সাথে মিশে গেছে। এই চিন্তাধারাগুলো শিয়া রাফেযি এবং খারেজিদের মাঝে থেকে গেছে। ফলে শিয়াদের পরবর্তী প্রজন্ম তাকদির এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে মুতাযিলা হয়ে গেছে। একইভাবে খারেজিরাও মুতাযিলা হয়ে গেছে এবং এখনও তারা তেমনই আছে। অর্থাৎ বর্তমান সময় পর্যন্ত শিয়ারা মুতাযিলাদের মতবাদই প্রচার করে। তাদের কিতাবসমূহে বলা হয়েছে: কুরআন সৃষ্টি, তারা বলে: কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখা যাবে না, তারা তাকদির অস্বীকার করে এবং আদি মুতাযিলাদের বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করে। এর উদাহরণ হলো ইবনে বাবুওয়াই আল-কুম্মি তার তাওহিদ কিতাবে, আল-মাজলিসি বিহারুল আনওয়ার কিতাবে, আল-কুলাইনি আল-কাফি কিতাবে এবং শিয়াদের অন্যান্য ইমামগণ যারা মুতাযিলাদের বক্তব্য অনুযায়ী আল্লাহর সকল গুণাবলি অস্বীকার করেন: আল্লাহর দুই হাত এবং আল্লাহর চেহারার গুণ। তারা পুরোপুরি মুতাযিলাদের মতো কথা বলে এবং মুতাযিলারা যেসব যুক্তি দিত তারাও সেসব যুক্তি দেয়। একইভাবে খারেজিরা, বিশেষ করে ইবাযিরা মুতাযিলাদের মতবাদ পোষণ করে এবং তাদের দলিলগুলোই পেশ করে। যেমন: ওমানের মুফতি আলী আল-খালিলি ‘আল-হাক্কুল দামিগ’ নামে একটি কিতাব লিখেছেন, যা তিনি মুতাযিলাদের মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন। তিনি এর ভিত্তি রেখেছেন এই বিষয়ের ওপর যে—কুরআন সৃষ্টি, কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখা যাবে না এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ওপর। ওমানের ইবাযি মুফতির এই কিতাবটি বর্তমানেও বিদ্যমান।

একইভাবে বর্তমান যুগের বুদ্ধিবাদীদের মাঝেও মুতাযিলাদের চিন্তাধারা পাওয়া যায়। তাদের চিন্তাধারাগুলো তথাকথিত ‘ইচ্ছার স্বাধীনতা’ নামে বিদ্যমান। মাহমুদ কাসিম এবং অন্যান্য লেখক যারা ‘ইচ্ছার স্বাধীনতা’ বিষয়ে বই লিখেছেন, তারা মূলত তাকদির অস্বীকার করাকেই বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কোনো কিছু লিখে রাখেননি বা নির্ধারণ করেননি—এমনটিই তারা দাবি করেন। তারা তাকদির অস্বীকার করে মুতাযিলাদের মতবাদই ব্যক্ত করেন এবং মুতাযিলাদেরকে স্থবির সালাফি চিন্তাধারার বিরুদ্ধে এক মুক্তিকামী বিপ্লবী দল হিসেবে গণ্য করেন। আধুনিক ধারার অনুসারীরা ওহীর ওপর বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও মুতাযিলাদের সেই একই চিন্তাধারার ওপর অটল রয়েছে। তবে তাদের ইমামদের বর্ণিত সেই পঞ্চ-মূলনীতিতে বিশ্বাসী একটি স্বতন্ত্র দল হিসেবে মুতাযিলাদের অস্তিত্ব এখন আর নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌عدم جواز تسمية الله بالشيء

 

‌‌السؤال

قال تعالى: {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ} [الأنعام:19]، أليس فيها دليل على تسميته بالشيء؟

 

‌‌الجواب

هذه ليس فيها دليل على تسميته بالشيء، وغاية ما فيها أنه يجوز أن يخبر عنه بأنه شيء، وهو سبحانه وتعالى شيء ليس لا شيء، لكن على وجه الخبر وليس على وجه التسمية؛ لأنه لا يصح أن يسمى الله عز وجل باسم لا مدح فيه ولا ثناء ولا حسن.
আল্লাহকে ‘বস্তু’ নামে নামকরণ করার অবৈধতা

 

প্রশ্ন

মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, সাক্ষ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় বস্তু কোনটি? বলুন, আল্লাহ} [আল-আন‘আম: ১৯], এতে কি তাঁকে ‘বস্তু’ হিসেবে নামকরণের প্রমাণ নেই?

 

উত্তর

এর মধ্যে তাঁকে ‘বস্তু’ হিসেবে নামকরণের কোনো প্রমাণ নেই। এর দ্বারা বড়জোর এতটুকু সাব্যস্ত হয় যে, তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে ‘বস্তু’ বলা বৈধ। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা একটি সত্তা (বস্তু), তিনি অস্তিত্বহীন নন; তবে এটি কেবল সংবাদ (খবর) দেওয়ার প্রেক্ষিতে, নামকরণের প্রেক্ষিতে নয়। কারণ মহান আল্লাহকে এমন কোনো নামে নামকরণ করা সঠিক নয় যাতে কোনো প্রশংসা, গুণগান বা সৌন্দর্য নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المريد ليس من أسماء الله

 

‌‌السؤال

ذكر ابن القيم اسم المريد كثيراً في كتاب مدارج السالكين، فهل هو اسم من أسماء الله.

 

‌‌الجواب

عندما يذكر ابن القيم اسم المريد فهو لا يقصد به الله، وإنما يقصد به: العبد، أي: الذي يريد ترقية إيمانه، وهي لفظة يقصد بها أصحاب الإرادة، يعني: الذي يريدون تنمية إرادتهم، حينما يقبلون على الأعمال الصالحة.
‌আল-মুরিদ আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়

 

‌‌প্রশ্ন

ইবনুল কাইয়্যিম মাদারিজুস সালিকিন কিতাবে 'আল-মুরিদ' নামটি অনেকবার উল্লেখ করেছেন, তবে এটি কি আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত কোনো নাম?

 

‌‌উত্তর

ইবনুল কাইয়্যিম যখন 'আল-মুরিদ' শব্দটি উল্লেখ করেন, তখন তিনি এর দ্বারা আল্লাহকে উদ্দেশ্য করেন না, বরং তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন: বান্দাকে। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তার ঈমানকে উন্নত করতে চায়। এটি এমন একটি শব্দ যার দ্বারা 'ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন' ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করা হয়, অর্থাৎ: যারা সৎকাজে অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের ইচ্ছাশক্তিকে বিকশিত করতে চায়।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌عدم جواز الذهاب إلى قبر الرسول لطلب الاستغفار منه

 

‌‌السؤال

كيف نجيب على من يستدل بقوله تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ} [النساء:64] على جواز الذهاب إلى قبر الرسول وسؤاله أن يدعو الله له بالمغفرة؟

 

‌‌الجواب

المقصود باستغفار الرسول في حياته فقط، فيجوز أن يذهبوا إلى الرسول صلى الله عليه وسلم فيستغفر لهم في حياته، ويدعو لهم في حياته، لكن بعد أن مات لا يجوز أن يطلب منه؛ لأن كان في حياته يقدر على الاستغفار، ولكنه بعد موته لا يستطيع فلا يسأل الإنسان إلا شيئاً يقدر عليه، وبالذات أنه فصل بيننا وبينه بحياة أخرى، فنحن في الدنيا وهو في البرزخ صلى الله عليه وسلم؛ ولهذا لا يجوز أن يستغاث بالنبي صلى الله عليه وسلم، أو أن يطلب منه عند قبره شيء.
রাসূলের কবরে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য যাওয়ার অবৈধতা

 

প্রশ্ন

আমরা তাদের কীভাবে উত্তর দেব যারা মহান আল্লাহর এই বাণী: "আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার নিকট আসত এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন..." [আন-নিসা: ৬৪] - এই আয়াতটি দ্বারা রাসূলের কবরে যাওয়া এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে তাঁকে অনুরোধ করার বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করে?

 

উত্তর

রাসূলের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি কেবল তাঁর পার্থিব জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং তাঁর জীবদ্দশায় মানুষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যেতে পারত এবং তিনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন ও দুয়া করতেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নিকট কোনো কিছু চাওয়া জায়েয নয়; কারণ তিনি জীবিত অবস্থায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে সক্ষম ছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর পর তিনি তা পারেন না। আর মানুষের নিকট কেবল এমন কিছুই চাওয়া যায় যা করার সামর্থ্য তার আছে। বিশেষত, আমাদের এবং তাঁর মাঝে এখন এক ভিন্ন জগতের ব্যবধান তৈরি হয়েছে; আমরা দুনিয়াতে অবস্থান করছি আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারযাখে (কবর জগতে) অবস্থান করছেন। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা (ইস্তিগাছা) কিংবা তাঁর কবরের নিকট তাঁর কাছে কোনো কিছু চাওয়া জায়েয নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الحكمة من التقسيمات المذكورة في العقيدة

 

‌‌السؤال

ما رأيكم فيمن يقول: ليس شرطاً أن تعبد الله تعالى بهذه التقسيمات التي في العقيدة؛ لأن هذه التقسيمات أحدثها العلماء، وليست من تقسيمات القرآن أو السنة، يقصد بذلك: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات، ويقول: إنني أتعبد بما أمرني الله في كتابه وبما أمرني به الرسول صلى الله عليه وسلم في سنته دون البحث عن هذه الأقسام؟

 

‌‌الجواب

هذه التقسيمات الموجودة عند أهل العلم هي من باب التقريب لا غير، وهي عبارة عن ترتيب لبعض المعاني الذهنية، ولبعض المسائل العقلية، وهذا أمر متفق عليه بين أهل العلم، وليس فيه خلاف، والعبرة بصحة المعنى وليس العبرة بالألفاظ الموجودة، إلا إذا كانت ألفاظاً مجملة تتضمن معان باطلة فترد، فأنت إذا اعتقدت معناه حتى ولو لم تحفظ التقسيم فاعتقادك سليم وصحيح، وإنما ذكرت هذه الأقسام لتقرب المعلومات للناس.
আকিদায় বর্ণিত বিভাজনসমূহের তাৎপর্য

 

প্রশ্ন

যারা বলে: আকিদাহর এই বিভাজনগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা শর্ত নয়; কারণ এই বিভাজনগুলো আলেমগণ উদ্ভাবন করেছেন এবং এগুলো কুরআন বা সুন্নাহর কোনো বিভাজন নয়—তাদের সম্পর্কে আপনার মতামত কী? এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত। তারা আরও বলে: আমি আল্লাহর কিতাবে আল্লাহ আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহয় আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী ইবাদত করি, এই বিভাগগুলো অনুসন্ধান করা ছাড়াই?

 

উত্তর

আলেমদের নিকট বিদ্যমান এই বিভাজনগুলো কেবল বিষয়বস্তুকে সহজবোধ্য করার মাধ্যম মাত্র। এগুলো মূলত কিছু মানসিক ধারণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক মাসআলাসমূহের বিন্যাস। এটি আলেমদের মাঝে একটি ঐক্যমত্যপূর্ণ বিষয় এবং এতে কোনো মতভেদ নেই। মূল বিবেচ্য বিষয় হলো অর্থের সঠিকতা, প্রচলিত শব্দাবলি নয়; তবে যদি এমন অস্পষ্ট শব্দ হয় যা ভ্রান্ত অর্থ বহন করে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। অতএব, আপনি যদি এই বিভাজনগুলো মুখস্থ না করেও এর সঠিক অর্থ বিশ্বাস করেন, তবে আপনার আকিদাহ বা বিশ্বাস সঠিক ও নির্ভুল। এই বিভাগগুলো মূলত মানুষের কাছে তথ্যসমূহকে সহজভাবে উপস্থাপন করার জন্যই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد المثلى - عبد الرحيم السلمي   (عبد الرحيم السلمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح القواعد المثلى

المؤلف: عبد الرحيم بن صمايل العلياني السلمي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

শারহু আল-কাওয়াইদিল মুসলা - আব্দুর রহীম আস-সুলামী   (আব্দুর রহীম আস-সুলামী)

বিভাগ: আকিদা


বই: শারহু আল-কাওয়াইদিল মুসলা

লেখক: আব্দুর রহীম বিন সুমায়িল আল-উলইয়ানী আস-সুলামী

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৪টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح القواعد المثلى [2]

من القواعد المثلى: أن أسماء الله الكريم أعلام وأوصاف، لا يستحق غيره أن يسمى بها، فقد حازت على ناصية الحسن، وكمال الجمال، وغاية العظمة جل في علاه، وهناك دلالات لأسماء الله الحسنى، وصفاته العلية، وهي تتضمن أموراً يجب الاطلاع عليها وسبر أغوارها
‌'আল-কাওয়াইদুল মুসলা'-এর ব্যাখ্যা [২]

'আল-কাওয়াইদুল মুসলা'র অন্যতম মূলনীতি হলো: মহান আল্লাহর নামসমূহ একই সাথে নাম এবং গুণাবলি; তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এসকল নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য নয়। এগুলো সর্বোত্তম কল্যাণ, সৌন্দর্যের পূর্ণতা এবং মহত্ত্বের চরম শিখর স্পর্শ করেছে, তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় মহিমান্বিত। আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির কিছু তাৎপর্য রয়েছে, যা এমন কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সেগুলোর গভীরতা অনুসন্ধান করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ذكر ما يطلق على الله تعالى من الأسماء والصفات والأخبار

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الملك الحق المبين، وأشهد أن نبينا محمد إمام المتقين وقائد الغر المحجلين.

اللهم علمنا ما ينفعنا وانفعنا بما علمتنا وزدنا علماً إنك أنت العلي الحكيم.

قبل أن نبدأ في دراسة القاعدة الثانية لابد أن نذكر ما يطلق على الله سبحانه وتعالى.

فما يطلق على الله عز وجل ثلاثة أمور: الأول: الاسم.

الثاني: الصفة.

الثالث: الخبر.

وبين هذه الثلاثة الأمور فروق يمكن أن نذكر شيئاً منها.

أما الاسم: فهو ما يدل على ذات الله سبحانه وتعالى مع دلالته على صفة الكمال، وكل ما دل على ذات الله سبحانه وتعالى ودل على صفة كمال فهو اسم الله سبحانه وتعالى.

وأما الصفة: فإنها التي تدل على معنى يقوم بذات الله سبحانه وتعالى، ومن هنا نلاحظ أن الاسم يدل على أمرين، والصفة تدل على أمر واحد.

فالأمران الأولان اللذان يدل عليهما الاسم: دلالته على الذات ودلالته على صفة يحملها هذا الاسم، وأما الصفة فإنها تدل على أمر واحد وهو مجرد الوصف، هذا من جهة.

ومن جهة أخرى فإن الاسم هو الذي يعبَّد له، فيقال في الرحمن عبد الرحمن، ويقال في العزيز عبد العزيز، ويقال في الكريم عبد الكريم، لكن الصفة لا يعبد لها، فلا يقال في الرحمة مثلاً: عبد الرحمة، ولا يقال: عبد المُلك، وعبد العزة.

ومن جهة أخرى، فالاسم هو العلم في اللغة، والصفة هي المصدر، فمثلاً العزيز علم، وأما العزة فهي المصدر.

وأسماء الله سبحانه وتعالى هي الأعلام التي تدل على ذات الله عز وجل وتتضمن الصفات، فالعزيز والحليم والرحيم تتضمن العزة والحلم والرحمة وهكذا فكل اسم من أسماء الله يتضمن صفة من صفاته.

وأما الخبر فهو ما يطلق على الله عز وجل بغير توقف، كأن يقال: إن الله سبحانه وتعالى واجب الوجود مثلاً، أو إن الله سبحانه وتعالى قديم أزلي، وهذه الألفاظ لم ترد في السنة ولم ترد في القرآن، لكن يصح إطلاقها على الله عز وجل من باب الخبر، ومن هذا الباب يصح ترجمة معاني أسماء الله في أي من الألفاظ السابقة وغيرها، وأهم شيء ألا يدل هذا اللفظ على نقص أو ذم، وإنما يدل على معنى حسن أو على أقل تقدير لا يجوز على معنى سيئ، فيقال مثلاً: الله عز وجل شيء موجود، ويمكن أن يقال: واجب الوجود، وقد ذكر أهل العلم في ضمن ردودهم على الفرق الضالة ذكر بعض الأمور التي أضافوها إلى الله سبحانه وتعالى ولم يرد فيها نص من القرآن أو السنة، لكنهم لم يدرجوها على أنها أسماء من أسماء الله أو على أنها صفات من صفاته، وإنما أضافوها على سبيل الخبر والحكاية، ولهذا هناك قاعدة، وهي أن باب الخبر واسع، وباب الصفات أضيق منه، وباب الأسماء أضيق من باب الصفات.

ومن جملة الفروق بين الأسماء والصفات من جهة وبين الخبر من جهة أخرى، هو أن الأسماء والصفات توقيفية، يعني: مبنية على النص من القرآن ومن السنة، بينما الخبر ليس مبيناً على النص، لكنه مبني على المعنى الصحيح الثابت لله سبحانه وتعالى، هذا من جهة.

ومن جهة أخرى فإن الاسم يدعى به؛ فيقال: يا عزيز يا كريم، لكن ما يخبر به عن الله لا يدعى به، فلا يقال: يا واجب الوجود مثلاً.

كما أن الأسماء والصفات جميعاً قد بلغت الغاية في الحسن، بينما الأخبار لا يشترط أن تكون حسنة بمعنى: لا يشترط أن تكون أحسن ما يكون من الألفاظ، وإنما أهم شيء أن تدل على المعنى بغير تضمن للنقص وللإساءة، وإنما تدل على المعنى الصحيح، مثل الموجود فيصح أن يحكى عن الله عز وجل بأنه موجود، بينما كلمة موجود لا تتضمن مدحاً ولا تتضمن معنى حسناً، لكن يصح أن يخبر عن الله عز وجل بها، ولهذا قد يستغرب بعض طلاب العلم عندما يقرأ كلاماً -مثلاً- لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله يقول فيه إن الله عز وجل واجب الوجود وإنه قديم أزلي، ويحكي عنه بألفاظ لم ترد في الكتاب والسنة.

وذلك أن باب الأخبار واسع وأهم شيء هو أن يكون المعنى صحيحاً، وفيها ترجمة لأسماء الله سبحانه وتعالى، ويصح ترجمة أسماء الله لغير العرب وتقريب معانيها إلى أفهامهم بألفاظ ليست واردة في القرآن وليست واردة في السنة مادامت دلت على معنى صحيح.

أما القاعدة التي بين أيدينا هي: أسماء الله تعالى أعلام وأوصاف.

ومصدره فيها كتاب بدائع الفوائد، فقد ذكر ابن القيم نفس هذه القاعدة بألفاظها في بدائع الفوائد المجلد الأول صفحة مائة واثنين وستين.
আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নামসমূহ, গুণাবলি এবং সংবাদসমূহের বর্ণনা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, আর জালিমদের ব্যতীত অন্য কারো ওপর কোনো শত্রুতা নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি রাজাধিরাজ, পরম সত্য ও সুস্পষ্ট। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ মুত্তাকীদের ইমাম এবং আলোকোজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও অঙ্গবিশিষ্টদের সেনাপতি।

হে আল্লাহ! আমাদের এমন জ্ঞান দান করুন যা আমাদের উপকারে আসে এবং আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের জ্ঞান বাড়িয়ে দিন; নিশ্চয়ই আপনি সুউচ্চ ও প্রজ্ঞাময়।

দ্বিতীয় মূলনীতি অধ্যয়ন শুরু করার আগে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রে যা ব্যবহার করা হয় তা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ক্ষেত্রে যা ব্যবহার করা হয় তা তিনটি বিষয়: প্রথমত: নাম।

দ্বিতীয়ত: গুণ।

তৃতীয়ত: সংবাদ।

এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করতে পারি।

নামের ক্ষেত্রে বলা যায়: তা এমন শব্দ যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তার পাশাপাশি তাঁর পূর্ণতার গুণের ওপরও প্রমাণ বহন করে। যা কিছু আল্লাহর সত্তার ওপর প্রমাণ দেয় এবং একই সাথে পূর্ণতার গুণের ওপরও প্রমাণ দেয়, তা-ই আল্লাহর নাম।

গুণের ক্ষেত্রে বলা যায়: তা এমন বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তার সাথে সম্পৃক্ত কোনো অর্থকে বুঝায়। এখান থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, নাম দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয়, আর গুণ একটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয়।

প্রথম যে দুটি বিষয়ের ওপর নাম প্রমাণ দেয় তা হলো: সত্তার ওপর প্রমাণ এবং সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণের ওপর প্রমাণ। আর গুণের ক্ষেত্রে তা কেবল একটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয়, যা হলো নিছক বর্ণনা বা গুণ; এটি একটি দিক।

অন্য দিক থেকে, নামের সাথে দাসত্ব প্রকাশ করা যায়; যেমন আর-রহমান থেকে আবদুর রহমান বলা হয়, আল-আযীয থেকে আবদুল আযীয এবং আল-কারীম থেকে আবদুল কারীম বলা হয়। কিন্তু গুণের সাথে সম্পৃক্ত করে দাসত্বের নাম রাখা হয় না। যেমন রহমত (দয়া) থেকে 'আবদুর রহমত' বলা হয় না, তেমনি 'আবদুল মুলক' বা 'আবদুল ইযযাহ' বলা হয় না।

অন্য আরেকটি দিক থেকে, নাম হলো ভাষাগতভাবে বিশেষ্য, আর গুণ হলো মূল উৎস। উদাহরণস্বরূপ, আল-আযীয হলো বিশেষ্য, আর আল-ইযযাহ হলো তার মূল উৎস।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ হলো এমন সব বিশেষ্য যা আল্লাহর সত্তার ওপর প্রমাণ দেয় এবং গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন আল-আযীয, আল-হালীম এবং আর-রাহীম যথাক্রমে ইযযাহ (ক্ষমতা), হিলম (সহনশীলতা) এবং রহমত (দয়া) গুণগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। এভাবে আল্লাহর প্রতিটি নাম তাঁর কোনো না কোনো গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সংবাদের ক্ষেত্রে বলা যায়, তা হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ব্যাপারে কোনো প্রকার দলিলে সীমাবদ্ধ না থেকেই কোনো কথা বলা। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন (ওয়াজিবুল উজুদ), অথবা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনাদি ও অনন্ত। এই শব্দগুলো সুন্নাহ বা কুরআনে আসেনি, কিন্তু সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্র থেকে এগুলো আল্লাহর ওপর প্রয়োগ করা শুদ্ধ। এই ক্ষেত্র থেকেই আল্লাহর নামসমূহের অর্থ পূর্বোক্ত শব্দগুলো বা অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে অনুবাদ করা বৈধ হয়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শব্দটি যেন কোনো ত্রুটি বা নিন্দার ওপর প্রমাণ না দেয়, বরং উত্তম অর্থ বহন করে অথবা অন্তত কোনো মন্দ অর্থ বহন না করে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একজন বিদ্যমান সত্তা, এবং বলা যেতে পারে তিনি অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন। ওলামায়ে কেরাম বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন যার কোনো সরাসরি ভাষ্য কুরআন বা সুন্নাহতে নেই; কিন্তু তাঁরা এগুলোকে আল্লাহর নাম বা গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেননি, বরং সংবাদ ও বর্ণনার খাতিরে তা উল্লেখ করেছেন। এজন্যই একটি মূলনীতি রয়েছে যে, সংবাদের ক্ষেত্রটি প্রশস্ত, আর গুণের ক্ষেত্রটি তার চেয়ে সংকীর্ণ, এবং নামের ক্ষেত্রটি গুণের চেয়েও সংকীর্ণ।

নাম ও গুণাবলির সাথে সংবাদের পার্থক্যের মধ্যে আরও একটি দিক হলো, নাম ও গুণাবলি হলো সরাসরি দলিল নির্ভর, অর্থাৎ তা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। পক্ষান্তরে, সংবাদ কেবল ভাষ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত কোনো সঠিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে; এটি একটি দিক।

অন্য দিক থেকে, নাম ধরে আহ্বান করা যায়; যেমন বলা হয়: হে আযীয, হে কারীম! কিন্তু আল্লাহর ব্যাপারে যা সংবাদ হিসেবে দেওয়া হয় তা ধরে আহ্বান করা যায় না। যেমন উদাহরণস্বরূপ: 'হে অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন' বলা হয় না।

এছাড়া নাম ও গুণাবলি সবই সৌন্দর্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে সংবাদের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য শর্ত নয়; অর্থাৎ এটি সবচেয়ে সুন্দর শব্দ হতে হবে এমনটি জরুরি নয়। বরং মূল বিষয় হলো এটি যেন কোনো ত্রুটি বা অবমাননা অন্তর্ভুক্ত না করে সঠিক অর্থের ওপর প্রমাণ দেয়। যেমন 'বিদ্যমান' (মাওজুদ); আল্লাহর ব্যাপারে তিনি বিদ্যমান বলে সংবাদ দেওয়া শুদ্ধ, যদিও 'বিদ্যমান' শব্দটি কোনো প্রশংসা বা বিশেষ সৌন্দর্যের অর্থ বহন করে না। কিন্তু এর মাধ্যমে আল্লাহর ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া শুদ্ধ। এই কারণেই কোনো কোনো তালিবে ইলম হয়তো বিস্মিত হতে পারেন যখন তারা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.)-এর বক্তব্য পড়েন যেখানে তিনি বলেন যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন এবং তিনি অনাদি ও অনন্ত; তিনি এমন সব শব্দে বর্ণনা করেছেন যা কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি।

এর কারণ হলো সংবাদের ক্ষেত্রটি প্রশস্ত এবং মূল লক্ষ্য হলো অর্থ সঠিক হওয়া। এতে আল্লাহর নামসমূহের অনুবাদও শামিল। অনারবদের জন্য আল্লাহর নামসমূহের অনুবাদ করা এবং সেগুলোর অর্থ তাদের বোধগম্য করার জন্য এমন সব শব্দ ব্যবহার করা শুদ্ধ যা কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি, যতক্ষণ তা সঠিক অর্থের ওপর প্রমাণ দেয়।

আমাদের আলোচ্য মূলনীতিটি হলো: আল্লাহ তাআলার নামসমূহ একদিকে বিশেষ্য এবং অন্যদিকে গুণাবলি।

এক্ষেত্রে তাঁর উৎস হলো 'বাদাইউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থ। ইবনুল কাইয়্যিম 'বাদাইউল ফাওয়াইদ'-এর প্রথম খণ্ডের ১৬২ পৃষ্ঠায় হুবহু এই মূলনীতিটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌قاعدة: أسماء الله تعالى أعلام وأوصاف

قال المصنف رحمه الله تعالى: [القاعدة الثانية: أسماء الله تعالى أعلام وأوصاف.

أعلام باعتبار دلالتها على الذات، وأوصاف باعتبار ما دلت عليه من المعاني، وهي بالاعتبار الأول مترادفة لدلالتها على مسمى واحد وهو الله عز وجل، وبالاعتبار الثاني متباينة لدلالة كل واحد منهما على معناه الخاص، فالحي العليم القدير السميع البصير الرحمن الرحيم العزيز الحكيم كلها أسماء لمسمى واحد وهو الله سبحانه وتعالى، لكن معنى الحي غير معنى العليم غير معنى القدير وهكذا].

هذه قاعدة جليلة يؤخذ منها أن كل اسم من أسماء الله سبحانه وتعالى يدل على صفة من صفاته، وهذا معنى قولنا: إن أسماء الله سبحانه وتعالى مشتقة، فهي مشتقة من معانٍ وهذا من غاية الحسن.
নীতিমালা: মহান আল্লাহর নামসমূহ বিশেষ্য এবং গুণবাচক

গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [দ্বিতীয় নীতিমালা: মহান আল্লাহর নামসমূহ বিশেষ্য এবং গুণবাচক।

সত্তার প্রতি নির্দেশ করার বিবেচনায় এগুলো বিশেষ্য, এবং যে অর্থসমূহ এগুলো বহন করে সে বিবেচনায় এগুলো গুণবাচক। প্রথম বিবেচনায় এগুলো সমার্থক, কারণ এগুলো একই সত্তাকে নির্দেশ করে—আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। এবং দ্বিতীয় বিবেচনায় এগুলো ভিন্ন ভিন্ন, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটি নিজস্ব স্বতন্ত্র অর্থের প্রতি নির্দেশ করে। যেমন: চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, পরম দয়াময়, অতি দয়ালু, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়—এ সবই এক সত্তার নাম, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। কিন্তু ‘চিরঞ্জীব’-এর অর্থ ‘সর্বজ্ঞ’-এর অর্থ থেকে ভিন্ন, আবার ‘সর্বশক্তিমান’-এর অর্থ থেকে ভিন্ন এবং এভাবেই বাকিগুলো]।

এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, মহান আল্লাহর প্রতিটি নামই তাঁর কোনো না কোনো গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে। আর আমাদের এই কথার অর্থ এটাই যে: মহান আল্লাহর নামসমূহ বুৎপত্তিগতভাবে গঠিত (মুশতাক); অর্থাৎ এগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থ থেকে উদ্ভূত এবং এটিই সৌন্দর্যের চূড়ান্ত পর্যায়।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الأدلة على أن أسماء الله تتضمن صفات

هناك دليلان على أن أسماء الله سبحانه وتعالى تتضمن صفات: الدليل الأول: أن الله سبحانه وتعالى وصف أسماءه بأنها حسنى، ومعنى حسنى: أي أنها تدل على معان حسنى، وتدل على صفات حسنى، والأسماء الجامدة التي لا معاني لها ليست بحسنة، ومن هنا فكل اسم من أسماء الله عز وجل يتضمن صفة من صفاته، فالدليل على أن أسماء الله تتضمن صفات الله عز وجل مأخوذ من الآيات الواردة التي سبق أن ذكرناها والتي وصف الله سبحانه وتعالى أسماءه بأنها حسنة، مثل قول الله عز وجل: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف:180]، وقد ذكر هذا شيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه العظيم درء تعارض العقل والنقل.

الدليل الثاني: وقد ذكره المصنف وهو قوله: (وإنما قلنا بأنها أعلام وأوصاف لدلالة القرآن عليها، فإن الإنسان وهو يقرأ أسماء الله في القرآن يقرأ أيضاً صفات لله عز وجل مطابقة لهذه الأسماء).

ويمكن أن نمثل بمثال ذكره المصنف وهو قوله تعالى: {وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [يونس:107]، فالغفور يتضمن صفة المغفرة، والرحيم يتضمن صفة الرحمة، وقوله تعالى: {وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف:58]، يدل على أن الرحيم هو صاحب الرحمة، فإن الآية الثانية دلت على أن الرحيم هو المتصف بالرحمة.

ويمكن أن نذكر أمثلة أخرى، منها: أن من أسماء الله سبحانه وتعالى القوي العزيز، ويقول الله عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات:58]، فمن صفاته أنه ذو القوة، ومن أسمائه القوي، فهذا دليل على أن اسمه القوي يتضمن صفته القوة.

وأما العزيز فيقول الله عز وجل: {فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا} [فاطر:10]، فاسمه العزيز يتضمن صفة العزة.

ومن ذلك أيضاً اسمه العليم، ومن صفاته العلم، قال الله عز وجل: {وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ} [البقرة:255]، فهذا يدل على أن اسمه العليم يتضمن صفة العلم.

ويقول الله عز وجل: {فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ} [هود:14]، وهذا يدل على أن الله عز وجل اسمه العليم وله صفة متعلقة به وهي العلم.

مثال آخر: البصير من أسماء الله سبحانه وتعالى، وقد جاء في الحديث الذي رواه مسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لو كشفه) أي: لو كشف عن وجهه، (لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه)، فهذا يدل على أن له بصر، وأنه هو البصير.

وأيضاً القدير اسم من أسماء الله سبحانه وتعالى ووصف له، فقد جاء في حديث الاستخارة الثابت في البخاري من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة -إلى أن قال في دعاء الاستخارة- اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك)، فهذا يدل على أن لله قدرة وأنه هو القدير.

وهذه الأدلة التي سقناها تدل على القاعدة التي ذكرها المصنف، وهو: أن كل اسم من أسماء الله يتضمن صفة من صفات الله سبحانه وتعالى.

كما ذكر دليلاً ثالثاً، وهو إجماع أهل اللغة والعرف أنه لا يطلق عليم إلا لمن له علم، ولا يطلق: قدير إلا لمن له قدرة، ولا سميع: إلا لمن له سمع، ولا بصير: إلا لمن له بصر، وهذا أمر أوضح من أن يحتاج إلى دليل.

وهناك دليل واضح أيضاً: وهو أننا نجد في الموجودات مقدورات ومعلومات، وهذه المقدورات تدل على قدرة، وهذه المعلومات تدل على علم، فالمقدورات والمعلومات الموجودة دليل على وجود القدرة والعلم عند الباري سبحانه وتعالى، وأنها مأخوذة من اسمه العليم القدير كما سيأتي إيضاحه وشرحه.
আল্লাহর নামসমূহ যে গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত করে তার প্রমাণসমূহ

মহান আল্লাহর নামসমূহ যে গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত করে তার দুইটি প্রমাণ রয়েছে: প্রথম প্রমাণ: মহান আল্লাহ তাঁর নামসমূহকে 'হুসনা' (সর্বোত্তম) বলে অভিহিত করেছেন। 'হুসনা' শব্দের অর্থ হলো: এগুলো সর্বোত্তম অর্থের ওপর দলালত করে এবং সর্বোত্তম গুণাবলির ওপর দলালত করে। যে সকল নাম নিছক অনড় এবং যার কোনো অর্থ নেই, তা উত্তম হতে পারে না। এখান থেকেই বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলার প্রতিটি নাম তাঁর কোনো না কোনো গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আল্লাহর নামসমূহ যে আল্লাহর গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে তার প্রমাণ সেই আয়াতগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর নামসমূহকে উত্তম বলে বর্ণনা করেছেন। যেমন আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সব উত্তম নাম, কাজেই তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো।" [আল-আরাফ: ১৮০]। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর মহান গ্রন্থ 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি'-তে এটি উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় প্রমাণ: এটি গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন এবং তা হলো তাঁর এই বক্তব্য: (আমরা এগুলোকে নাম ও গুণাবলি এই জন্যই বলেছি যে কুরআন এগুলোর ওপর দলালত করে। কেননা মানুষ যখন কুরআনে আল্লাহর নামসমূহ পড়ে, তখন সে এ সকল নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আল্লাহর গুণাবলিও পাঠ করে)।

গ্রন্থকার যে উদাহরণটি উল্লেখ করেছেন আমরা সেটি এখানে পেশ করতে পারি, আর তা হলো আল্লাহর বাণী: "তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [ইউনুস: ১০৭]। এখানে 'আল-গফুর' (ক্ষমাশীল) নামটি ক্ষমা করার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং 'আর-রহিম' (দয়ালু) নামটি দয়া করার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার আল্লাহর বাণী: "আপনার প্রতিপালক পরম ক্ষমাশীল, দয়ার আধার।" [আল-কাহফ: ৫৮], এটি প্রমাণ করে যে, 'আর-রহিম' বা দয়ালু হলেন দয়ার অধিকারী। কারণ দ্বিতীয় আয়াতটি নির্দেশ করছে যে, 'আর-রহিম' সেই সত্তা যিনি রহমত বা দয়া গুণের অধিকারী।

আমরা আরও কিছু উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি। যেমন: মহান আল্লাহর অন্যতম নাম হলো 'আল-কউয়্যি' (শক্তিশালী) ও 'আল-আজিজ' (পরাক্রমশালী)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, শক্তির অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রবল।" [আয-যারিয়াত: ৫৮]। সুতরাং তাঁর একটি গুণ হলো তিনি শক্তির অধিকারী, আর তাঁর একটি নাম হলো 'আল-কউয়্যি' (শক্তিশালী)। এটিই প্রমাণ করে যে, তাঁর 'আল-কউয়্যি' নামটি তাঁর শক্তি নামক গুণটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর 'আল-আজিজ' সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: "সকল ইজ্জত বা সম্মান আল্লাহরই।" [ফাতির: ১০]। অতএব তাঁর 'আল-আজিজ' নামটি সম্মান ও পরাক্রমের গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো তাঁর 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ) নামটি এবং তাঁর একটি গুণ হলো জ্ঞান। মহান আল্লাহ বলেন: "তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।" [আল-বাকারা: ২৫৫]। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর 'আল-আলিম' নামটি জ্ঞানের গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তবে তোমরা জেনে রাখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।" [হুদ: ১৪]। এটি নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহর নাম হলো 'আল-আলিম' এবং তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুণ রয়েছে যা হলো জ্ঞান।

অন্য একটি উদাহরণ: 'আল-বাসির' মহান আল্লাহর একটি নাম। মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনি যদি তা উন্মোচন করে দিতেন" অর্থাৎ যদি তিনি তাঁর চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে দিতেন, "তবে তাঁর চেহারার জ্যোতি তাঁর সৃষ্টির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যা কিছু আল্লাহর দৃষ্টির সীমানায় রয়েছে তা পুড়িয়ে ছাই করে দিত।" এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর দৃষ্টি রয়েছে এবং তিনিই হলেন 'আল-বাসির'।

একইভাবে 'আল-কাদির' মহান আল্লাহর একটি নাম এবং গুণ। বুখারিতে সাব্যস্ত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত ইস্তিখারার হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন—ইস্তিখারার দোয়ায় তিনি বলেন—হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট মঙ্গল কামনা করছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার কাছে সামর্থ্য প্রার্থনা করছি)। এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা রয়েছে এবং তিনিই হলেন 'আল-কাদির'।

আমরা যে সকল প্রমাণ উপস্থাপন করলাম তা গ্রন্থকার উল্লিখিত সেই মূলনীতিরই প্রমাণ দেয়, আর তা হলো: আল্লাহর নামসমূহের প্রতিটি নামই মহান আল্লাহর কোনো না কোনো গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

তিনি আরও একটি তৃতীয় প্রমাণ উল্লেখ করেছেন, যা হলো ভাষাবিদ ও সাধারণের ঐকমত্য যে, যার জ্ঞান নেই তাকে 'আলিম' বলা যায় না; যার ক্ষমতা নেই তাকে 'কাদির' বলা যায় না; যার শ্রবণশক্তি নেই তাকে 'সামি' বলা যায় না এবং যার দৃষ্টিশক্তি নেই তাকে 'বাসির' বলা যায় না। বিষয়টি প্রমাণের প্রয়োজন হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি স্পষ্ট।

আরও একটি স্পষ্ট দলিল রয়েছে: তা হলো আমরা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত বস্তু ও তথ্যসমূহ দেখতে পাই। এই নিয়ন্ত্রিত বা ক্ষমতার অধীন বস্তুগুলো আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে এবং জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলো তাঁর জ্ঞানের ওপর দলালত করে। সুতরাং বিদ্যমান শক্তিনির্ভর ও জ্ঞাননির্ভর বিষয়সমূহ স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার কুদরত ও জ্ঞানের প্রমাণ, যা তাঁর 'আল-আলিম' ও 'আল-কাদির' নামসমূহ থেকে গৃহীত; যেমনটি সামনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أنواع الصفات التي تتضمنها أسماء الله تعالى

الصفات التي تتضمنها أسماء الله تعالى أربعة أنواع: النوع الأول: ما يرجع إلى صفات معنوية، فالعليم يؤخذ منه صفة معنوية وهي العلم، والقدير والسميع يؤخذ منهما صفة القدرة وصفة السمع وكلاهما صفتان معنويتان.

النوع الثاني: ما يرجع إلى أفعال الله سبحانه وتعالى، فاسمه الخالق يدل على صفة الخلق، واسمه الرازق يدل صفة الرزق وهي من الأفعال، واسمه المحيي المميت يدل على صفة الإحياء والإماتة وهي من أفاعله سبحانه وتعالى.

النوع الثالث: ما يرجع إلى التنزيه والتقديس المحض، ومن القواعد أن كل ما دل على تنزيه في أسماء الله عز وجل أو في صفاته، لابد أن يدل على كمال ضده، وسيأتي إيضاحها وتفصيلها في قواعد الصفات بإذنه تعالى، وهذا مثل القدوس، فإن القدوس هو المنزه عن كل عيب.

والنوع الرابع: هو ما يدل على جملة أوصاف متعددة، وليس له معنى واحد فقط، وإنما يدل على معانٍ متعددة مثل العظيم، فهو العظيم في كل شيء: العظيم في خلقه العظيم في أمره ومثله المجيد، والصمد، ونحو ذلك، وقد شرح ذلك ابن القيم رحمه الله في كتابه بدائع الفوائد شرحاً مطولاً.
আল্লাহ তাআলার নামের অন্তর্ভুক্ত গুণাবলির প্রকারভেদ

আল্লাহ তাআলার নামের অন্তর্ভুক্ত গুণাবলি চার প্রকার: প্রথম প্রকার: যা অর্থগত গুণাবলির (সিফাত মানউইয়্যাহ) দিকে ফিরে যায়। সুতরাং ‘আল-আলিম’ থেকে একটি অর্থগত গুণ গৃহীত হয়, আর তা হলো ‘ইলম’ (জ্ঞান)। আবার ‘আল-কাদির’ ও ‘আস-সামি’ থেকে ‘কুদরত’ (ক্ষমতা) এবং ‘সাম’ (শ্রবণ) নামক গুণদ্বয় গৃহীত হয় এবং এই উভয়টিই অর্থগত গুণ।

দ্বিতীয় প্রকার: যা মহান আল্লাহ তাআলার কার্যাবলির দিকে ফিরে যায়। সুতরাং তাঁর ‘আল-খালিক’ (স্রষ্টা) নামটি সৃষ্টির গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে, এবং তাঁর ‘আর-রাজিক’ (রিজিকদাতা) নামটি রিজিক প্রদানের গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে যা তাঁর কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। আবার তাঁর ‘আল-মুহই’ ও ‘আল-মুমিত’ নাম দুটি জীবন দান ও মৃত্যু ঘটানোর গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে, যা মহান আল্লাহর কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় প্রকার: যা কেবল পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনার (তানযিহ ও তাকদিস) দিকে ফিরে যায়। একটি মূলনীতি হলো, মহান আল্লাহর নামসমূহ বা তাঁর গুণাবলির মধ্যে যা কিছু পবিত্রতা নির্দেশ করে, তা অবশ্যই তার বিপরীত গুণের পূর্ণতাকে নির্দেশ করবে। আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই গুণাবলির মূলনীতি অধ্যায়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ আসবে। এর উদাহরণ হলো ‘আল-কুদ্দুস’; কেননা ‘আল-কুদ্দুস’ হলেন তিনি, যিনি সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র।

চতুর্থ প্রকার: যা একাধিক গুণের সমষ্টির ওপর প্রমাণ বহন করে এবং যার কেবল একটি অর্থ নেই; বরং তা একাধিক অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে। যেমন ‘আল-আযিম’ (মহান); তিনি প্রতিটি বিষয়েই মহান: তাঁর সৃষ্টিতে মহান এবং তাঁর আদেশে মহান। অনুরূপভাবে ‘আল-মাজিদ’, ‘আস-সামাদ’ ইত্যাদি। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’ গ্রন্থে এর দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌عقيدة المعتزلة والمعطلة في صفات الله

قال المصنف رحمه الله تعالى: [وإنما قلنا بأنها أعلام وأوصاف لدلالة القرآن عليه كما في قوله تعالى: {وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [يونس:107]، وقوله: {وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف:58]، فإن الآية الثانية دلت على أن الرحيم هو المتصف بالرحمة، ولإجماع أهل اللغة والعرف أنه لا يقال: عليم إلا لمن له علم ولا سميع إلا لمن له سمع ولا بصير إلا لمن له بصر، وهذا أمر أبين من أن يحتاج إلى دليل].

وعقيدة المعتزلة، وأهل التعطيل الذين عطلوا الصفات أن الله تعالى سميع بلا سمع وبصير بلا بصير وعزيز بلا عزة وهكذا، حيث إنهم فرغوا أسماء الله سبحانه وتعالى من الصفات، كما ذكر ذلك القاضي عبد الجبار بن أحمد الهمداني في كتابه شرح الأصول الخمسة، وقال: إنه يحسن إجراء الأسماء على الله تعالى من غير إذنه، وهذا يدل على أنه يرى أنه يصح أن يطلق على الله عز وجل أنه السميع وأنه العزيز وأنه الكريم، لكنه يجرد هذه الأسماء من معانيها، ويقولون -أعني المعتزلة-: إن أسماء الله عز وجل جامدة لا تدل على صفات، فهم يقولون: إنه السميع لكن بدون سمع، وإنه البصير لكن بدون بصر، وإنه الكريم لكن بدون كرم، وإنه العلي لكن بدون علو، وهكذا، فهم يفرغون أسماء الله سبحانه وتعالى من مدلولاتها ومعانيها، ويجعلونها أعلاماً محضة لا تدل على صفة، وعقيدتهم ذكرها القاضي عبد الجبار في كتاب المغني في أبواب العدل والتوحيد، وفي كتاب شرح الأصول الخمسة، وقد نسب الشهرستاني في الملل والنحل هذه العقيدة إلى المعتزلة، وكذلك البغدادي في الفرق بين الفرق.

واحتجوا بشبهة ذكرها الشيخ، وهي قوله: وعللوا ذلك بأن ثبوت الصفات يستلزم تعدد القدماء، وهذه العلة عليلة بل ميتة بدلالة السمع والعقل على بطلانها).

فهم احتجوا بأن إثبات الصفات يستلزم منه تعدد الواحد وتعدد القدماء، يقول أبو الحسين الخياط في كتابه الانتصار على ابن الراوندي: إذا قلنا: إن الله هو السميع وله سمع فلا يخلو هذا السمع من أمرين: إما أن يكون محدثاً أو يكون قديماً، فإذا كان محدثاً فيلزم حدوث الحوادث في ذاته تعالى، وإذا كان قديماً فليزم تعدد القدماء، حيث إن الإله قديم وصفته قديمة.

وهذا مبطل للتوحيد، ونحن نبطله بدليل الكلام، فهم يقولون: إن إثبات الصفات يستلزم منه تعدد الآلهة، ويظنون بقولنا: الله عز وجل له سمع أن هذا إله السمع، وإذا قلنا: إن له بصر، قالوا: هذا الإله الثاني، وإذا قلنا: إن له سبحانه وتعالى يد قالوا: هذا إله ثالث ورابع وهكذا، ولهذا أدخلوا نفي الصفات في مسمى التوحيد، وقالوا: وحدانية الله عز وجل وتوحيده تقتضي نفي الصفات؛ لأنه إذا أثبتنا الصفات فمعنى هذا أننا عددنا الآلهة وجعلناها أكثر من واحد، وهذا لا شك أنه باطل وأنهم ضالين في هذا القول، وهم يرددون أن إثبات الصفات يستلزم إبطال التوحيد، ويقولون: يجب علينا أن نثبت التوحيد لله تعالى، ويظنون أن إثبات التوحيد يستلزم نفي الصفات وردها، وقد شرح ذلك -كما قلت- القاضي عبد الجبار شرحاً مستفيضاً في الأصل الأول من الأصول الخمسة وهو التوحيد، وكلامه باطل، فإن الموصوف في الدنيا يوصف بعدة صفات وهو واحد، أي: الإنسان في الدنيا يوصف بأن له يد وعين، وأنه يسمع ويرى، ويذكر له صفات كثيرة متعددة مع أنه واحد، فلا يتصور أن الإله إذا قلنا: إن له صفات وأن له سمع وبصر وعلم وحكمة وإرادة أنه يلزم من كل صفة من هذه الصفات أن تكون إلهاً مستقلاً، هذا خطأ وضلال وانحراف.

وقد أصابتهم هذه الانحرافات في العقيدة بسبب علاقتهم بالفلاسفة.

والأدلة على بطلان هذه الشبهة أدلة كثيرة من النصوص الشرعية ومن العقل، فأما من النصوص فقد سبق أن بينا أن الله عز وجل أثبت الصفات لنفسه، وهو أعلم بنفسه سبحانه وتعالى ولا يحيطون بعلمه فنسب العلم إليه، ولو كان العلم إلهاً مستقلاً لما نسبه إليه، وكما يقول الله عز وجل: {فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ} [هود:14]، ويقول الله عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات:58]، فأعطى نفسه صفة وهي القوة، والقوة غير العلم، وقال تعالى: {وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف:58]، والرحمة غير القوة وغير العلم، ولا يلزم من هذا تعدد الآلهة كما يقولون، وإنما هو إله واحد، وأصل شبهتهم هو دليل الحدوث كما سبق أن ذكرنا أنهم استدلوا على وجود الله بدليل حدوث الأجسام، وحاولوا أن يثبتوا بدليل الحدوث وجود الله عز وجل، واستخدموا بذلك طريقة عقلية محددة وهي باطلة، فلما استخدموها التزموا بلوازم، كان من هذه اللوازم أن إثبات الصفة يستلزم تعدد الآلهة، فأخذوا هذه الشبهة من هذا الدليل الذي أرادوا به إثبات وجود الله تعالى.

وكذلك سبق أن بينا أن هذه الشبهة باطلة، والأدلة من القرآن تردها كم
আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে মুতাজিলা ও মুআত্তিলাদের আকিদা

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আর আমরা এগুলোকে নাম এবং গুণ বলেছি কারণ কুরআনে এর স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [ইউনূস: ১০৭] এবং তাঁর বাণী: {আর আপনার প্রতিপালক অতিশয় ক্ষমাশীল, দয়ার আধার} [কাহাফ: ৫৮]। দ্বিতীয় আয়াতটি প্রমাণ করে যে, 'রাহীম' (পরম দয়ালু) হলেন সেই সত্তা যিনি দয়া গুণে গুণান্বিত। এছাড়া ভাষাবিদ ও সাধারণ মানুষের ঐকমত্য এই যে, যার জ্ঞান (ইলম) আছে তাকে ছাড়া 'আলীম' (মহাজ্ঞানী) বলা হয় না, যার শ্রবণশক্তি (সাম') আছে তাকে ছাড়া 'সামি' (সর্বশ্রোতা) বলা হয় না এবং যার দৃষ্টিশক্তি (বাসার) আছে তাকে ছাড়া 'বাসীর' (সর্বদ্রষ্টা) বলা হয় না। বিষয়টি এতোটাই স্পষ্ট যে এর জন্য দলীলের প্রয়োজন নেই।]

আর মুতাজিলা এবং গুণাবলি অস্বীকারকারী মুআত্তিলাদের আকিদা হলো যে, মহান আল্লাহ শ্রবণশক্তি ছাড়াই সর্বশ্রোতা, দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই সর্বদ্রষ্টা, মর্যাদা (ইজ্জত) ছাড়াই মহাপরাক্রমশালী এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়। তারা মহান আল্লাহর নামগুলোকে গুণাবলি থেকে শূন্য করে ফেলেছে, যেমনটি কাযী আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ আল-হামাদানি তাঁর 'শারহুল উসুলিল খামসাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহর অনুমতি ছাড়াই তাঁর ওপর নাম প্রয়োগ করা সমীচীন। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি মনে করেন মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে 'সামি' (সর্বশ্রোতা), 'আজিজ' (মহাপরাক্রমশালী) এবং 'কারীম' (মহানুভব) শব্দগুলো ব্যবহার করা সঠিক, কিন্তু তিনি এই নামগুলোকে এদের অর্থ থেকে বিযুক্ত করেন। তারা অর্থাৎ মুতাজিলারা বলে: মহান আল্লাহর নামগুলো অনড় (জামিদা), এগুলো কোনো গুণ প্রকাশ করে না। তাই তারা বলে: তিনি সর্বশ্রোতা কিন্তু কোনো শ্রবণশক্তি ছাড়াই, তিনি সর্বদ্রষ্টা কিন্তু কোনো দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই, তিনি মহানুভব কিন্তু কোনো মহানুভবতা ছাড়াই, তিনি সমুন্নত কিন্তু কোনো সমুন্নত বৈশিষ্ট্য ছাড়াই। এভাবে তারা মহান আল্লাহর নামগুলোকে সেগুলোর উদ্দেশ্য ও অর্থ থেকে শূন্য করে দেয় এবং সেগুলোকে নিছক নাম হিসেবে গণ্য করে যা কোনো গুণ প্রকাশ করে না। কাযী আব্দুল জাব্বার 'আল-মুগনি' গ্রন্থের আদল ও তাওহীদ অধ্যায়ে এবং 'শারহুল উসুলিল খামসাহ' গ্রন্থে তাদের আকিদা উল্লেখ করেছেন। শাহরাস্তানি 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' গ্রন্থে এবং বাগদাদি 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক' গ্রন্থে এই আকিদাকে মুতাজিলাদের দিকে নিসবত করেছেন।

তারা একটি সংশয়কে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছে যা শায়খ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: (এবং তারা এই যুক্তি দিয়েছে যে, গুণাবলির সাব্যস্তকরণ একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্বকে আবশ্যক করে। অথচ এই যুক্তিটি অত্যন্ত দুর্বল বরং মৃতপ্রায়, কারণ শরিয়ত ও বিবেক উভয়ই এর অসারতার প্রমাণ দেয়)।

তারা যুক্তি দেয় যে, গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে একক সত্তার বহুত্ব এবং একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্ব আবশ্যক হয়। আবু হাইয়ান আল-খাইয়্যাত তাঁর 'আল-ইনতিসার আলা ইবনুর রাওয়ান্দি' গ্রন্থে বলেন: আমরা যদি বলি যে আল্লাহ সর্বশ্রোতা এবং তাঁর শ্রবণশক্তি রয়েছে, তবে এই শ্রবণশক্তি দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না: হয় এটি নতুন সৃষ্ট হবে অথবা এটি অনাদি হবে। যদি এটি নতুন সৃষ্ট হয় তবে মহান আল্লাহর সত্তায় নতুন বিষয়ের উদ্ভব হওয়া আবশ্যক হয়। আর যদি এটি অনাদি হয় তবে একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্ব আবশ্যক হয়, যেহেতু ইলাহ অনাদি এবং তাঁর গুণও অনাদি।

তাদের মতে এটি তাওহীদকে বাতিল করে দেয় এবং আমরা একে কালামশাস্ত্রীয় দলীল দ্বারা বাতিল করি। তারা বলে: গুণাবলি সাব্যস্ত করা একাধিক উপাস্যের অস্তিত্বকে আবশ্যক করে। আমরা যখন বলি যে মহান আল্লাহর শ্রবণশক্তি আছে, তখন তারা মনে করে এর অর্থ হলো 'শ্রবণশক্তির উপাস্য'। যখন আমরা বলি তাঁর দৃষ্টিশক্তি আছে, তখন তারা বলে: এটি দ্বিতীয় উপাস্য। আর যখন আমরা বলি যে মহান আল্লাহর হাত আছে, তখন তারা বলে: এটি তৃতীয় ও চতুর্থ উপাস্য এবং এভাবেই চলতে থাকে। এ কারণেই তারা গুণাবলি অস্বীকার করাকে তাওহীদের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছে। তারা বলেছে: আল্লাহর একত্ববাদ ও তাওহীদ গুণাবলি অস্বীকার করার দাবি রাখে; কারণ আমরা যদি গুণাবলি সাব্যস্ত করি তবে এর অর্থ দাঁড়ায় আমরা উপাস্যের সংখ্যা গণনা করছি এবং তাকে একের অধিক বানাচ্ছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি বাতিল এবং এই বক্তব্যে তারা পথভ্রষ্ট। তারা বারবার বলে যে, গুণাবলি সাব্যস্ত করা তাওহীদ বাতিল করাকে আবশ্যক করে। তারা বলে: আমাদের জন্য আল্লাহর তাওহীদ সাব্যস্ত করা অপরিহার্য, আর তারা মনে করে তাওহীদ সাব্যস্ত করা মানেই গুণাবলি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করা। আমি যেমনটি বলেছি, কাযী আব্দুল জাব্বার তাঁর উসুলে খামসার প্রথম মূলনীতি অর্থাৎ তাওহীদ অধ্যায়ে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য বাতিল, কারণ পৃথিবীতে যার গুণ বর্ণনা করা হয় তাকে একটি সত্তা হওয়া সত্ত্বেও অনেকগুলো গুণে গুণান্বিত করা যায়। যেমন: পৃথিবীতে একজন মানুষকে বর্ণনা করা হয় যে তাঁর হাত ও চোখ আছে, সে শোনে ও দেখে এবং তাঁর জন্য অনেকগুলো গুণের উল্লেখ করা হয় অথচ সে একজনই। সুতরাং এটা কল্পনা করা যায় না যে, আমরা যদি বলি ইলাহ বা উপাস্যের গুণাবলি আছে এবং তাঁর শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, জ্ঞান, হিকমত ও ইচ্ছা রয়েছে, তবে এই প্রতিটি গুণ আলাদা আলাদা উপাস্য হওয়া আবশ্যক হবে—এটি একটি ভুল, পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি।

দার্শনিকদের সাথে সম্পর্কের কারণেই আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এই বিচ্যুতিগুলো দেখা দিয়েছে।

এই সংশয় বাতিলের স্বপক্ষে শরিয়তের বর্ণনা ও বিবেক থেকে অনেক দলীল রয়েছে। শরিয়তের বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছি যে, মহান আল্লাহ নিজের জন্য গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন। তিনি নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন এবং তারা তাঁর জ্ঞানকে আয়ত্ত করতে পারে না, তবুও তিনি নিজের দিকে জ্ঞানকে সম্বন্ধ করেছেন। জ্ঞান যদি একটি স্বতন্ত্র উপাস্য হতো তবে তিনি একে নিজের দিকে সম্বন্ধ করতেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {তবে জেনে রাখো যে, আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই তা অবতীর্ণ করা হয়েছে} [হূদ: ১৪]। আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির আধার} [যারিয়াত: ৫৮]। এখানে তিনি নিজেকে একটি গুণ দিয়েছেন যা হলো শক্তি, আর শক্তি জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন বিষয়। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আপনার প্রতিপালক অতিশয় ক্ষমাশীল, দয়ার আধার} [কাহাফ: ৫৮]। এখানে দয়া শক্তি ও জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন। এতে একাধিক উপাস্য হওয়া আবশ্যক হয় না যেমনটি তারা বলে থাকে, বরং তিনি তো একক ইলাহ। তাদের সংশয়ের মূল উৎস হলো 'হুদুস' বা নতুনের উদ্ভব হওয়ার দলীল। যেমন আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, তারা বস্তুর নতুনের উদ্ভব হওয়ার দলীল দ্বারা আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চেয়েছে। তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য একটি নির্দিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যা বাতিল। যখন তারা এটি ব্যবহার করেছে, তখন তারা কিছু অনিবার্য পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে। তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, গুণ সাব্যস্ত করা একাধিক উপাস্যকে আবশ্যক করে। ফলে তারা এই সংশয়টি সেই দলীল থেকে গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

একইভাবে আমরা আগে স্পষ্ট করেছি যে এই সংশয়টি বাতিল এবং কুরআনের দলীলগুলো একে খণ্ডন করে যেমন...
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌عقيدة الأشاعرة في صفات الله

أما الأشاعرة فإنهم يثبتون أسماء الله تعالى، ويثبتون ما تدل عليه من الصفات إلا الصفات التي لا يثبتونها، فمثلاً: اسم العلي يقولون: إنه يتضمن صفة العلو، لكنهم يؤولون هذه الصفة، ويقولون: إن العلو الذي يتضمنه اسمه العلي هو علو القهر والشرف والمكان، ولا يثبتون علو الذات لله عز وجل، فهم لا يرون أن الله عز وجل مستو على عرشه وعال على خلقه، وكذلك غيرها من الصفات يفرغونها في بعض الأحيان من التوافق، وقد اهتم علماء الأشاعرة في شرح أسماء الله سبحانه وتعالى منهم الغزالي في المقصد الأسنى في شرح أسماء الله الحسنى، ومنهم الفخر الرازي في كتابه لوامع البينات في شرح أسماء الله تعالى والصفات، ومنهم البيهقي في الأسماء والصفات، ومنهم الحليمي في المنهاج في شعب الإيمان، وأكثر الأشاعرة الكلامية عندما يذكرون أسماء الله عز وجل فإنهم يفسرونها، فهم ليسوا من المعتزلة، فالمعتزلة يرون أن أسماء الله أعلام محضة لا تتضمن شيئاً من الصفات.

وأما الأشاعرة فإنهم يقولون: أسماء الله عز وجل تتضمن الصفات، ويعنون بذلك الصفات التي يثبتونها هم، وهي الصفات السبع المشهورة: صفة العلم والقدرة والحياة والإرادة والسمع والبصر والكلام؛ فهذه صفات يثبتونها لله عز وجل، لكن إذا دل اسم من الأسماء على معنى لا يثبتونه بل يؤولونه، ويفرغونه من محتواه.
আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ে আশআরিদের আকিদা

পক্ষান্তরে আশআরিগণ মহান আল্লাহর নামসমূহকে সাব্যস্ত করেন এবং এই নামগুলো যেসব গুণাবলির ওপর দলালত করে সেগুলোকেও সাব্যস্ত করেন, তবে সেই গুণাবলি ব্যতীত যা তারা সাব্যস্ত করেন না। উদাহরণস্বরূপ: 'আল-আলি' (সুউচ্চ) নাম সম্পর্কে তারা বলেন যে, এটি উচ্চতার (উলুউ) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে; কিন্তু তারা এই গুণটির অপব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে, 'আল-আলি' নামের অন্তর্ভুক্ত উচ্চতা হলো আধিপত্য, মর্যাদা এবং অবস্থানের উচ্চতা। তারা মহান আল্লাহর সত্তাগত উচ্চতাকে সাব্যস্ত করেন না। ফলে তারা মনে করেন না যে মহান আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির উপরে অবস্থান করছেন। একইভাবে অন্যান্য গুণের ক্ষেত্রেও তারা কখনো কখনো সেগুলোকে মূল অর্থের সামঞ্জস্য থেকে রিক্ত করে দেন। আশআরি আলেমগণ মহান আল্লাহর নামসমূহের ব্যাখ্যার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-গাজালি তাঁর 'আল-মাকসাদুল আসনা ফি শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা' গ্রন্থে, ফখর আল-রাজি তাঁর 'লাওয়ামি'উল বাইয়্যিনাত ফি শারহি আসমাইল্লাহি তা'আলা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে, আল-বায়হাকি তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে এবং আল-হালিমি তাঁর 'আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ইমান' গ্রন্থে। অধিকাংশ কালামপন্থী আশআরি যখন মহান আল্লাহর নামসমূহ উল্লেখ করেন, তখন তারা সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তারা মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত নন; কারণ মুতাজিলারা মনে করে যে আল্লাহর নামগুলো নিছক সংজ্ঞাবাচক নাম মাত্র, যা কোনো গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

পক্ষান্তরে আশআরিগণ বলেন: মহান আল্লাহর নামসমূহ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং এর মাধ্যমে তারা কেবল সেই গুণগুলোই উদ্দেশ্য করেন যা তারা নিজেরা সাব্যস্ত করেন; আর সেগুলো হলো সুপ্রসিদ্ধ সাতটি গুণ: জ্ঞান (ইলম), ক্ষমতা (কুদরত), জীবন (হায়াত), ইচ্ছা (ইরাদাহ), শ্রবণ (সাম), দর্শন (বাসার) এবং কথা (কালাম)। এগুলো সেই গুণাবলি যা তারা মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেন। কিন্তু যদি কোনো নাম এমন কোনো অর্থের ওপর দলালত করে যা তারা সাব্যস্ত করেন না, তবে তারা সেটির অপব্যাখ্যা করেন এবং সেটিকে তার মূল মর্মার্থ থেকে রিক্ত করে দেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الرد على أهل التعطيل القائلين بأن ثبوت الصفات يستلزم تعدد القدماء

قال المصنف رحمه الله تعالى: [وبهذا علم ضلال من سلبوا أسماء الله تعالى معانيها من أهل التعطيل وقالوا: إن الله تعالى سميع بلا سمع وبصير بلا بصر وعزيز بلا عزة وهكذا، وعللوا ذلك بأن ثبوت الصفات يستلزم تعدد القدماء، وهذه العلة عليلة، بل ميتة؛ لدلالة السمع والعقل على بطلانها].

والمقصود بالسمع: أدلة القرآن والسنة، وسميت سمعاً؛ لأنها تتلقى عن طريق السماع، وأدلة القرآن والسنة تنقسم إلى قسمين: أدلة عقلية تتضمن البراهين العقلية.

وأدلة خبرية: تتضمن الخبر المجرد عن الله سبحانه وتعالى.

فأصل قوله (بالسمع)، أي: ما ورد عن الله من الخبر عن صفاته، وأبطل هذه العلة أيضاً بالعقل، والذين عطلوا الصفات يعتبرون أنفسهم أرباب المعقولات، وهم في الحقيقة أرباب الجهالات وليس لهم معقولات، ومعقولاتهم هي الأهواء فقط، فإنهم يأتون إلى النصوص ويحرفون معانيها ويعبثون بها، ثم يظنون أن هذا من العقل وهم في الحقيقة أبعد الناس عن العقل، بل هي أهواء وشهوات نفسية تجعلهم يعبثون بالنصوص، ثم يسمونها معقولات، وإنما أهل العقل هم أهل السنة؛ لأنهم وافقوا النصوص، ولا يمكن أبداً أن يكون هناك خلاف بين العقل والشرع؛ لأن صاحب الشريعة هو الله سبحانه وتعالى، والذي خلق العقل هو الله سبحانه وتعالى، قال تعالى: {أَلا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك:14]، فلا يمكن حدوث تضارب بين شرعه وخبره وبين العقل، إلا أن يكون الخبر ضعيفاً، أو يكون العقل باطلاً، فالعقل الصحيح لا يعارض النقل الصحيح الصريح بأي وجه من الوجوه.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [أما السمع: فلأن الله تعالى وصف نفسه بأوصاف كثيرة مع أنه الواحد الأحد، فقال تعالى: {إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ * إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ * وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ * ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ * فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [البروج:12 - 16].

وقال تعالى: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى * الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى * وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى * وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى * فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى} [الأعلى:1 - 5].

ففي هذه الآيات الكريمة أوصاف كثيرة لموصوف واحد ولم يلزم من ثبوتها تعدد القدماء.

وأما العقل: فلأن الصفات ليست ذواتاً بائنة من الموصوف حتى يلزم من ثبوتها التعدد].

معنى قوله: (ليست ذواتاً بائنة أي: ليست منفصلة عن الموصوف، وإنما هي صفات متعلقة بالموصوف، فلا يلزم منها ثبوت التعدد كما يظنون.

قال المؤلف رحمه الله: [وإنما هي من صفات من اتصف بها فهي قائمة به، وكل موجود فلابد له من تعدد صفاته، ففيه صفة الوجود، وكونه واجب الوجود أو ممكن الوجود وكونه عيناً قائماً بنفسه أو وصفاً في غيره].

قوله: (واجب الوجود، وممكن الوجود) هي في الأصل ألفاظ فلسفية، أتى بها الفلاسفة وقسموا ما يمكن، أو ما يتخيل أن يوجد إلى ثلاثة أقسام: واجب الوجود، وممكن الوجود، ومستحيل الوجود.

فواجب الوجود: هو الذي لابد أن يكون ويجب أن يوجد، وهو الإله.

وممكن الوجود: هي المخلوقات، فإن هذه المخلوقات ممكن أن تكون موجودة وممكن ألا تكون موجودة، فقبل مائتين سنة كان بالإمكان ألا نكون وكان بالإمكان أن نكون، فكنا كما أراد الله سبحانه وتعالى، فهذا ما يسمونه ممكن الوجود، أي: أن وجودنا ليس لازماً وإنما هو ممكن وأراده الله عز وجل فكان.

وأما المستحيل أو ممتنع الوجود: فهو الأمور التي يستحيل وجودها مثل اجتماع النقائض، كاجتماع الحركة والسكون في جسم واحد، فهذا مستحيل، ولا يمكن أن توجد حركة وسكون في جسم واحد، وهذا ما يسمونه ممتنع الوجود، ولهذا ذكرها الشيخ على أنها من الصفات.
গুণাবলি সাব্যস্ত করা একাধিক অনাদি সত্তার উপস্থিতিকে আবশ্যক করে—এ কথা যারা বলে, সেই আহলে তা'তীলদের (গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) খণ্ডন

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এর মাধ্যমেই আহলে তা'তীল বা গুণাবলি অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত তাদের পথভ্রষ্টতা জানা গেল, যারা মহান আল্লাহর নামসমূহকে সেগুলোর অর্থ থেকে রিক্ত করেছে। তারা বলে: আল্লাহ তা'আলা শ্রবণকারী কিন্তু তাঁর কোনো শ্রবণগুণ নেই, তিনি দর্শনকারী কিন্তু তাঁর কোনো দৃষ্টি নেই, তিনি পরাক্রমশালী কিন্তু তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই—এভাবেই তারা বলে থাকে। তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, গুণাবলি সাব্যস্ত করা একাধিক অনাদি সত্তার উপস্থিতিকে আবশ্যক করে। তাদের এই কারণটি ত্রুটিপূর্ণ, বরং এটি মৃত (সারশূন্য); কারণ শরিয়ত ও বিবেক এর অসারতার অকাট্য প্রমাণ প্রদান করে।]

'সাম' বা শ্রবণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ। এগুলোকে 'সাম' বলা হয় কারণ এগুলো শ্রবণের মাধ্যমে (একজনের কাছ থেকে অন্যজন এভাবে) লাভ করা হয়। আর কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল, যার মধ্যে যৌক্তিক প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এবং খবরী বা বর্ণনামূলক দলিল: যার মধ্যে মহান আল্লাহ সম্পর্কে কেবল সংবাদ বা বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে।

সুতরাং তাঁর (সাম'-এর মাধ্যমে) উক্তির মূল অর্থ হলো: আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে তাঁর পক্ষ থেকে যে সংবাদ এসেছে। তিনি এই যুক্তিটিকে বিবেকের মাধ্যমেও বাতিল করেছেন। যারা গুণাবলি অস্বীকার করে, তারা নিজেদের যৌক্তিক চিন্তার অধিকারী মনে করে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা চরম অজ্ঞ এবং তাদের কোনো প্রকৃত যৌক্তিকতা নেই। তাদের তথাকথিত যৌক্তিকতা কেবল প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশিমাত্র। তারা শরয়ি টেক্সট বা নসসমূহের কাছে আসে এবং সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে ও সেগুলো নিয়ে খেলা করে। এরপর তারা মনে করে যে, এটিই আকল বা বিবেকপ্রসূত কথা; অথচ তারা বাস্তব বিচারে বিবেক-বুদ্ধি থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করছে। বরং এগুলো কেবল প্রবৃত্তি ও নফসের কামনা-বাসনা যা তাদের নসসমূহ নিয়ে খেলা করতে প্ররোচিত করে এবং এরপর তারা সেগুলোকে 'যৌক্তিকতা' নাম দেয়। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি হলেন আহলে সুন্নাহর অনুসারীরা; কারণ তারা নস বা টেক্সটের অনুসারী হয়েছেন। আর সঠিক বিবেক ও শরিয়তের মধ্যে কখনোই কোনো বিরোধ হওয়া সম্ভব নয়; কারণ শরিয়ত প্রদাতা স্বয়ং মহান আল্লাহ এবং বিবেক সৃষ্টিকারীও স্বয়ং মহান আল্লাহ। তিনি বলেছেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-মুলক: ১৪]। সুতরাং আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর সংবাদের সাথে বিবেকের কোনো সংঘর্ষ হওয়া সম্ভব নয়; যদি না বর্ণিত সংবাদটি দুর্বল হয় অথবা বিবেকটি ভ্রান্ত হয়। সঠিক বিবেক কোনোভাবেই স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ বর্ণনার (নকলের) বিরোধিতা করে না।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [শরিয়ত বা শ্রুতির দলিলের ক্ষেত্রে: কারণ আল্লাহ তা'আলা এক ও অদ্বিতীয় হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে অনেকগুলো গুণে গুণান্বিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় তোমার রবের পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন। নিশ্চয় তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, প্রেমময়, আরশের মালিক, মহিমান্বিত, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন} [আল-বুরূজ: ১২-১৬]।

তিনি আরও বলেছেন: {আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুসামঞ্জস্য করেছেন। এবং যিনি নির্ধারণ করেছেন ও পথপ্রদর্শন করেছেন। আর যিনি চারণভূমি উৎপন্ন করেছেন। অতঃপর তাকে কালচে আবর্জনায় পরিণত করেছেন} [আল-আ'লা: ১-৫]।

এই সম্মানিত আয়াতগুলোতে একজন মাত্র সত্তার অনেকগুলো বর্ণনা বা গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আর সেগুলো সাব্যস্ত করার ফলে একাধিক অনাদি সত্তা থাকা আবশ্যক হয়ে পড়েনি।

আর বিবেকের ক্ষেত্রে: কারণ গুণাবলি গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক কোনো সত্তা নয় যে, তা সাব্যস্ত করার ফলে সত্তার বহুত্ব আবশ্যক হয়ে পড়বে।]

তাঁর উক্তি: (পৃথক কোনো সত্তা নয়) এর অর্থ হলো: গুণাবলি গুণান্বিত সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং এগুলো সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরিহার্য গুণাবলি। সুতরাং এর মাধ্যমে তাদের ভ্রান্ত ধারণা অনুযায়ী বহুত্ব সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয় না।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [বরং এগুলো সেই সত্তারই গুণ যে সত্তা এর দ্বারা গুণান্বিত, সুতরাং এগুলো তাঁর সাথেই বিদ্যমান রয়েছে। আর প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর জন্যই গুণাবলির বহুত্ব থাকা অপরিহার্য। তাতে অস্তিত্বের গুণ থাকে, আর তার অস্তিত্ব 'ওয়াজিবুল উজুদ' (অপরিহার্য অস্তিত্ব) বা 'মুমকিনুল উজুদ' (সম্ভাব্য অস্তিত্ব) হওয়া এবং তার নিজ সত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকা কিংবা অন্যের আশ্রিত গুণ হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।]

তাঁর কথা: (ওয়াজিবুল উজুদ এবং মুমকিনুল উজুদ) এগুলো মূলত দার্শনিক পরিভাষা। দার্শনিকরা এগুলো ব্যবহার করেছেন এবং যা বিদ্যমান থাকা সম্ভব বা যা বিদ্যমান থাকা কল্পনা করা যায়, তাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন: ওয়াজিবুল উজুদ, মুমকিনুল উজুদ এবং মুস্তাহিলুল উজুদ।

ওয়াজিবুল উজুদ: যার অস্তিত্ব থাকা অনিবার্য এবং অবশ্যই যার অস্তিত্ব থাকতে হবে; আর তিনি হলেন ইলাহ বা উপাস্য।

মুমকিনুল উজুদ: এগুলো হলো সৃষ্টিজগত। কারণ এই সৃষ্টিসমূহ বিদ্যমান থাকা যেমন সম্ভব, তেমনি বিদ্যমান না থাকাও সম্ভব ছিল। যেমন দুইশ বছর আগে আমাদের অস্তিত্ব না থাকা সম্ভব ছিল এবং অস্তিত্ব থাকাও সম্ভব ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা যেভাবে চেয়েছেন আমরা সেভাবেই অস্তিত্ব লাভ করেছি। একেই তারা মুমকিনুল উজুদ বলে; অর্থাৎ আমাদের অস্তিত্ব থাকা সত্তাগতভাবে আবশ্যকীয় নয় বরং এটি সম্ভাব্য, আর আল্লাহ তা'আলা এটি চেয়েছেন বিধায় তা বাস্তবায়িত হয়েছে।

আর মুস্তাহিল বা মুমতানি'উল উজুদ: এটি হলো সেসব বিষয় যার অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব, যেমন দুটি বিপরীতমুখী জিনিসের একত্র হওয়া। যেমন একই বস্তুতে একই সাথে গতি এবং স্থিরতা একত্র হওয়া; এটি অসম্ভব। একটি বস্তুতে একই সাথে গতি ও স্থিরতা থাকতে পারে না। একেই তারা মুমতানি'উল উজুদ বলে। এই কারণেই শায়খ এগুলোকে গুণাবলির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدهر ليس من أسماء الله تعالى

قال المصنف رحمه الله تعالى: [وبهذا أيضاً علم أن الدهر ليس من أسماء الله تعالى؛ لأنه اسم جامد لا يتضمن معنى يلحقه بالأسماء الحسنى، ولأنه اسم للوقت والزمن، قال الله تعالى عن منكري البعث: {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية:24]، يريدون مرور الليالي والأيام.

فأما قوله صلى الله عليه وسلم: (قال الله عز وجل: يؤذيني ابن آدم يسب الدهر، وأنا الدهر بيدي الأمر أقلب الليل والنهار) فلا يدل على أن الدهر من أسماء الله تعالى؛ وذلك أن الذين يسبون الدهر إنما يريدون الزمان الذي هو محل الحوادث لا يريدون الله تعالى، فيكون معنى قوله: (وأنا الدهر) ما فسره بقوله: (بيدي الأمر أقلب الليل والنهار)، فهو سبحانه خالق الدهر وما فيه، وقد بين أنه يقلب الليل والنهار، وهما الدهر ولا يمكن أن يكون المقلِّب بكسر اللام هو المقلَّب بفتحها، وبهذا تبين أنه يمتنع أن يكون الدهر في هذا الحديث مراداً به الله تعالى].

أي: أن الدهر ليس اسماً من أسماء الله تعالى؛ فلابد أن تكون أسماؤه حسنى وأن تتضمن معان جليلة، والدهر ليس اسماً حسناً؛ لأنه -كما ذكر الشيخ- اسم للوقت والزمان، واسم لمرور الليالي والأيام، وليس فيه معنى حسناً، ولهذا فالله عز وجل يقول عن منكري البعث: {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية:24] يعني: لا يهلكنا إلا مرور الأيام، فلم ينسبوا الهلاك إلى الله تعالى.

وأما ما يروى عن الله تعالى في الحديث القدسي أنه قال: (يؤذيني ابن آدم: يسب الدهر وأنا الدهر بيدي الأمر أقلب الليل والنهار)، فليس المقصود بقوله: (وأنا الدهر) أن اسمه الدهر؛ لأن الذين يسبون الدهر في الأصل لا يريدون سب الله سبحانه وتعالى، وإنما يريدون سب الأيام والليالي النحسات التي مرت عليهم، وقوله: (وأنا الدهر) يعني: أنه سبحانه وتعالى لما خلق الأيام والليالي وهو سبحانه وتعالى مبنيها ومدبرها سبحانه وتعالى قال: (وأنا الدهر)، ثم فسر ذلك بقوله: (أقلب الليل والنهار)، وسيأتي معنا إن شاء الله جملة من النصوص الشرعية التي استغلها أهل التأويل لمحاولة زعزعة العقيدة الصحيحة وإشغال الناس بهذه النصوص، وسيأتي تفسيرها بإذن الله تعالى.

وهذه القاعدة كان مصدر المصنف فيها هو كتاب التنبيهات السنية في شرح العقيدة الواسطية للشيخ عبد العزيز بن ناصر الرشيد، فقد ذكر هذه القاعدة بنفس الطريقة التي ذكرها.
আদ-দাহর (কাল বা মহাকাল) মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এর দ্বারা ইহাও জানা গেল যে, ‘আদ-দাহর’ মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এটি একটি জড় বিশেষ্য, যা এমন কোনো অর্থ ধারণ করে না যা একে আসমাউল হুসনা বা সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করবে। এছাড়া এটি ওয়াক্ত বা সময়ের একটি নাম। পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব, আমরা মরি ও বাঁচি এবং ‘দাহর’ (কাল) ব্যতিরেকে আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না} [সূরা আল-জাছিয়া: ২৪]। এখানে তারা দিন ও রাতের অতিবাহিত হওয়াকে উদ্দেশ্য করেছে।

আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: (মহান আল্লাহ বলেন: আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়, সে কালকে গালি দেয়; অথচ আমিই কাল, আমার হাতেই সকল কর্তৃত্ব, আমিই রাত ও দিনকে পরিবর্তন করি), এটিও ‘আদ-দাহর’ আল্লাহর নাম হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না। এর কারণ হলো, যারা কাল বা সময়কে গালি দেয়, তারা কেবল সেই সময়কেই উদ্দেশ্য করে যা বিভিন্ন ঘটনার আধার, তারা মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে না। ফলে তাঁর এই বাণীর অর্থ: ‘আমিই কাল’—এর ব্যাখ্যা হলো যা তিনি পরবর্তীতে বলেছেন: ‘আমার হাতেই সকল কর্তৃত্ব, আমিই রাত ও দিনকে পরিবর্তন করি’। সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কাল এবং এতে যা কিছু আছে তার স্রষ্টা। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাত ও দিনকে পরিবর্তন করেন, আর এই রাত-দিন মিলেই হলো ‘দাহর’ বা কাল। আর এটা অসম্ভব যে, পরিবর্তনকারী এবং যা পরিবর্তিত হচ্ছে—উভয়ই এক হবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, এই হাদিসে ‘দাহর’ শব্দ দ্বারা মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা অসম্ভব]।

অর্থাৎ: ‘আদ-দাহর’ মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে কোনো নাম নয়; কেননা তাঁর নামসমূহ অবশ্যই ‘হুসনা’ (সুন্দর) হতে হবে এবং মহান অর্থবোধক হতে হবে। কিন্তু ‘আদ-দাহর’ কোনো সুন্দর নাম নয়; কারণ—যেমনটি শাইখ উল্লেখ করেছেন—এটি ওয়াক্ত ও সময়ের একটি নাম, দিন ও রাতের অতিবাহিত হওয়ার একটি নাম, আর এর মধ্যে কোনো সুন্দর অর্থ নেই। এই কারণেই মহান আল্লাহ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে বলেন: {এবং তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব, আমরা মরি ও বাঁচি এবং ‘দাহর’ ব্যতিরেকে আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না} [সূরা আল-জাছিয়া: ২৪]। অর্থাৎ: দিনের অতিবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না। তারা এই ধ্বংস হওয়াকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেনি।

আর হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়: সে কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই কাল, আমার হাতেই সকল কর্তৃত্ব, আমিই রাত ও দিনকে পরিবর্তন করি), এখানে ‘আমিই কাল’—এই উক্তি দ্বারা তাঁর নাম যে ‘দাহর’ তা উদ্দেশ্য নয়। কারণ যারা কালকে গালি দেয়, তারা মূলত মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে গালি দেওয়ার ইচ্ছা করে না; বরং তারা তাদের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হওয়া দিন ও রাতের অশুভ ক্ষণগুলোকে গালি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। আর তাঁর বাণী: ‘আমিই কাল’—এর অর্থ হলো: যেহেতু তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি এগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, তাই তিনি বলেছেন: ‘আমিই কাল’। এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: ‘আমি রাত ও দিনকে পরিবর্তন করি’। ইনশাআল্লাহ সামনে এমন কিছু শরয়ি দলিল আসবে, যেগুলোকে অপব্যাখ্যাকারীরা সঠিক আকিদা বা বিশ্বাসকে টলিয়ে দিতে এবং মানুষকে এসব বর্ণনা দিয়ে ব্যস্ত রাখতে ব্যবহার করে। ইনশাআল্লাহ সেগুলোর ব্যাখ্যা সামনে আসবে।

আর এই মূলনীতির ক্ষেত্রে লেখকের উৎস ছিল শাইখ আবদুল আজিজ বিন নাসির আল-রশিদের লিখিত ‘আত-তানবিহাতুস সুন্নিয়াহ ফি শারহিল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়াহ’ নামক গ্রন্থটি। তিনি এই মূলনীতিটি ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করেছেন যেভাবে উক্ত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহুল কাওয়ায়িদিল মুসলা - আব্দুর রাহীম আস-সুলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌دلالة أسماء الله تعالى على إثبات الاسم والصفة والأثر

وخلاصة هذه القاعدة هي: أن أسماء الله عز وجل تدل على ثلاثة أمور: الأول: إثبات الاسم لله سبحانه وتعالى.

الثاني: إثبات ما تضمنه من الصفة لله سبحانه وتعالى.

الثالث: إثبات أثرها ومقتضاها الذي يحصل للناس.

ومن الأشياء اللطيفة التي ذكرها الشيخ محمد بن عثيمين حفظه الله أن أهل العلم أخذوا حكماً فقهياً من أسماء الله وصفاته، وهذا يدل على أن أسماء الله وصفاته لها آثار على الناس، فمثلاً قول الله عز وجل في قطاع الطرق: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [المائدة:34]، فقوله: ((فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ))، يعني: إن وجدتموهم بعد أن تابوا فإن هذا يسقط عنهم الحد، وأن الله عز وجل قد غفر ذنوبهم وأسقط عنهم الحد.

والمصنف ذكر أن أسماء الله عز وجل تدل على معان وهي الصفات، ثم ذكر أن الصفات تنقسم إلى قسمين: صفات متعدية.

وصفات غير متعدية.

ثم قال: إن الصفات المتعدية إذا أُخذت من الأسماء فإن هذه الأسماء تدل على ثلاثة أشياء سابقة الذكر.

وأما الصفات غير المتعدية إذا أخذت من الأسماء فإنها تدل على أمرين فقط: وهو ثبوت الاسم وثبوت الصفة فقط.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [أسماء الله تعالى إن دلت على وصف متعد تضمنت ثلاثة أمور: أحدها: ثبوت ذلك الاسم لله عز وجل.

الثاني: ثبوت الصفة التي تضمنها لله عز وجل.

الثالث: ثبوت حكمها ومقتضاها.

ولهذا استدل أهل العلم على سقوط الحد عن قطاع الطريق بالتوبة؛ استدلوا على ذلك بقوله تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [المائدة:34]؛ لأن مقتضى هذين الاسمين أن يكون الله تعالى قد غفر لهم ذنوبهم ورحمهم بإسقاط الحد عنهم.

مثال ذلك: السميع يتضمن إثبات السميع اسماً لله تعالى، وإثبات السمع صفة له، وإثبات حكم ذلك ومقتضاه، وهو أنه يسمع السر والنجوى، كما قال تعالى: {وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} [المجادلة:1].

وإن دلت على وصف غير متعد تضمنت أمرين: أحدهما: ثبوت ذلك الاسم لله عز وجل.

الثاني: ثبوت الصفة التي تضمنتها لله عز وجل.

مثال ذلك: الحي يتضمن إثبات الحي اسماً لله عز وجل، وإثبات الحياة صفة له].

يلاحظ الآن من كلام الشيخ أنه يقسم أسماء الله عز وجل إلى قسمين: قسم يتضمن معان متعدية.

وقسم يتضمن معان غير متعدية.

فالمتعدية يكون لها آثار على المخلوقين، فيقول: الأسماء التي لها آثار على المخلوقين وهي المتعدية، تتضمن ثلاثة أمور: إثبات الاسم، وإثبات الصفة، وإثبات الأثر المتعدي على المخلوقين.

وأما الأسماء التي تتضمن معان غير متعدية فلا يؤخذ منها إلا أمرين: الأمر الأول: إثبات الاسم.

والأمر الثاني: إثبات الصفة المأخوذة من هذا الاسم فقط.

وأقول: الصحيح هو أن أسماء الله سبحانه وتعالى المتعدية وغير المتعدية تدل على ثلاثة أمور فكل أسماء الله عز وجل تدل على إثبات الاسم لله، وتدل على إثبات الصفة، وتدل على الآثار، فإنه لا يوجد اسم من أسماء الله تعالى ليس له آثار على الناس، بل كلها لها آثار، وسيأتي معنا إن شاء الله أن الصفات وبالذات الأفعال تنقسم إلى قسمين: أفعال لازمة وأفعال متعدية، فمثل الفعل اللازم الاستواء والرضا والغضب ونحو ذلك من الأفعال اللازمة، وأما الأفعال المتعدية، فهي أفعال الربوبية، مثل: الخلق والرزق والإحياء والإماتة ونحو ذلك، لكن الأسماء عموماً لابد أن يكون لها آثار، وآثارها إما أن تكون آثاراً كونية وإما أن تكون آثاراً إيمانية.

فمثلاً: اسم الخالق يؤخذ منه إثبات اسم الله الخالق ويؤخذ منه إثبات صفة الخلق لله تعالى، ويؤخذ منه إثبات أن الله سبحانه وتعالى هو خالق هذه المخلوقات الموجودة، فله أثر من آثار الفعل، ومن آثار الصفة، ومن آثار الاسم.

وأما اسمه الحي الذي ذكر الشيخ أنه يدل على أمرين فإن له أثراً؛ وهو أثر إيماني وجداني، وكل أسماء الله لابد أن يكون لها أثر إيماني وسلوكي على الإنسان، ويدل على ذلك فعل من الأفعال اللازمة التي تأثر بها أحد الصحابة رضوان الله عليهم أثراً كبيراً وهي صفة الضحك، فقد سمع لقيط بن صبرة رسول صلى الله عليه وسلم يقول: (يضحك ربنا من قنوط عباده وقرب غيره، فقال: يا رسول الله! أويضحك الرب؟ قال: نعم، قال: لن نعدم من رب يضحك خيراً) فاستفاد من هذه الصفة -وهي صفة لازمة غير متعدية- أثراً متعدياً لنفسه، ولهذا كل أسماء الله عز وجل سيكون لها تأثير في النفوس، تأثير إيماني وتأثير كوني في بعض الأحيان، فينبغي الاهتمام بهذه القضية، ولهذا يجتمع في آثار أسماء الله سبحانه وتعالى المسلكان اللذان سبق أن ذكرتهما في الدرس الماضي، فمن مسالك السلف رضوان الله عليهم في العقيدة مسلك التصحيح ومسلك التعميم، فمسلك التصحيح يكون بالتالي: أولاً:
নাম, গুণ ও প্রভাব সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নামসমূহের তাৎপর্য

এই মূলনীতির সারকথা হলো: মহান আল্লাহর নামসমূহ তিনটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে: প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য নাম সাব্যস্ত করা।

দ্বিতীয়ত: সেই নাম যে গুণের অন্তর্ভুক্ত তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য সাব্যস্ত করা।

তৃতীয়ত: এর প্রভাব এবং এর দাবি সাব্যস্ত করা যা মানুষের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়।

শেখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমিন (হাফিযাহুল্লাহ) উল্লিখিত একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো, ইলমের অধিকারীরা আল্লাহর নাম ও গুণাবলি থেকে একটি ফিকহী বিধান গ্রহণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রভাব মানুষের ওপর রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডাকাতদের বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার আগে তওবা করে, জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [আল-মায়িদাহ: ৩৪]। এখানে তাঁর বাণী: "জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" এর অর্থ হলো: যদি তোমরা তাদের তওবা করার পর পাও, তবে এটি তাদের থেকে হদ (শাস্তি) রহিত করে দেবে; কারণ মহান আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করেছেন এবং তাদের থেকে শাস্তি উঠিয়ে নিয়েছেন।

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহর নামসমূহ কিছু অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর তা হলো গুণাবলি। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গুণাবলি দুই প্রকার: কর্মবাচক বা সংক্রামক গুণ।

এবং অসংক্রামক বা আবশ্যকীয় গুণ।

অতঃপর তিনি বলেছেন: কর্মবাচক গুণগুলো যদি নাম থেকে নেওয়া হয়, তবে এই নামগুলো পূর্বে উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে।

আর যদি অসংক্রামক গুণগুলো নাম থেকে নেওয়া হয়, তবে সেগুলো কেবল দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে: তা হলো নামের স্থায়িত্ব এবং গুণের স্থায়িত্ব।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: [আল্লাহ তাআলার নামসমূহ যদি কোনো কর্মবাচক গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে, তবে তা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমত: আল্লাহ তাআলার জন্য সেই নামের স্থায়িত্ব।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলার জন্য সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণের স্থায়িত্ব।

তৃতীয়ত: এর বিধান ও দাবির স্থায়িত্ব।

একারণেই ইলমের অধিকারীরা তওবার মাধ্যমে ডাকাতদের ওপর থেকে হদ বা শাস্তি রহিত হওয়ার স্বপক্ষে দলীল পেশ করেছেন; তারা এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলীল দিয়েছেন: "তবে যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার আগে তওবা করে, জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [আল-মায়িদাহ: ৩৪]; কারণ এই নাম দুটির দাবি হলো, আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ ক্ষমা করেছেন এবং তাদের ওপর থেকে শাস্তি রহিত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি দয়া করেছেন।

এর উদাহরণ: 'আস-সামিউ' (সর্বশ্রোতা) নামটি আল্লাহর জন্য নাম হিসেবে 'আস-সামিউ' সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাঁর গুণ হিসেবে 'শ্রবণ' সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর বিধান ও দাবি সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো—তিনি গোপন কথা ও কানে কানে বলা কথা সবই শোনেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের উভয়ের কথোপকথন শোনেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [আল-মুজাদিলাহ: ১]।

আর যদি (নামগুলো) অসংক্রামক গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে, তবে তা দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমত: আল্লাহ তাআলার জন্য সেই নাম সাব্যস্ত হওয়া।

দ্বিতীয়ত: সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণটি আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত হওয়া।

এর উদাহরণ: 'আল-হাইয়্যু' (চিরঞ্জীব) নামটি আল্লাহর জন্য নাম হিসেবে 'আল-হাইয়্যু' সাব্যস্ত করা এবং গুণ হিসেবে তাঁর জন্য 'জীবন' সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।]

শেখ এর কথা থেকে এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তিনি মহান আল্লাহর নামসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: এক ভাগ যা কর্মবাচক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এবং অন্য ভাগ যা অসংক্রামক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।

কর্মবাচক গুণগুলোর প্রভাব সৃষ্টির ওপর পড়ে; তাই তিনি বলছেন: যে নামগুলোর প্রভাব সৃষ্টির ওপর রয়েছে এবং যা কর্মবাচক, তা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: নাম সাব্যস্ত করা, গুণ সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টির ওপর এর কর্মবাচক প্রভাব সাব্যস্ত করা।

আর যে নামগুলো অসংক্রামক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা থেকে কেবল দুটি বিষয় গ্রহণ করা হয়: প্রথম বিষয়: নাম সাব্যস্ত করা।

এবং দ্বিতীয় বিষয়: কেবল এই নাম থেকে গৃহীত গুণটি সাব্যস্ত করা।

আমি বলব: সঠিক মত হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কর্মবাচক এবং অসংক্রামক—উভয় প্রকার নামই তিনটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। মহান আল্লাহর সকল নামই আল্লাহর জন্য নাম সাব্যস্ত করা, গুণ সাব্যস্ত করা এবং প্রভাব সাব্যস্ত করার ওপর প্রমাণ পেশ করে। কারণ আল্লাহ তাআলার এমন কোনো নাম নেই যার প্রভাব মানুষের ওপর পড়ে না, বরং সবকটিরই প্রভাব রয়েছে। আমাদের সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে যে, গুণাবলি এবং বিশেষ করে কার্যাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: আবশ্যকীয় কাজ এবং কর্মবাচক কাজ। আবশ্যকীয় কাজের উদাহরণ হলো—উঠা, সন্তুষ্টি, ক্রোধ এবং অনুরূপ অন্যান্য আবশ্যকীয় কার্যাবলি। আর কর্মবাচক কার্যাবলি হলো রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত কাজ, যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া, জীবন দান করা, মৃত্যু দান করা ইত্যাদি। তবে সাধারণভাবে নামসমূহের অবশ্যই প্রভাব থাকতে হবে; আর এর প্রভাব হয় জাগতিক হবে নতুবা ঈমানি হবে।

উদাহরণস্বরূপ: 'আল-খালিক' (সৃষ্টিকর্তা) নাম থেকে আল্লাহর নাম 'আল-খালিক' সাব্যস্ত করা হয়, আল্লাহ তাআলার জন্য সৃষ্টির গুণ সাব্যস্ত করা হয় এবং এই বিদ্যমান সৃষ্টিসমূহের স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—এটিও সাব্যস্ত করা হয়। সুতরাং এর মধ্যে কাজের প্রভাব, গুণের প্রভাব এবং নামের প্রভাব রয়েছে।

আর তাঁর 'আল-হাইয়্যু' নাম সম্পর্কে শেখ যা উল্লেখ করেছেন যে এটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে, (প্রকৃতপক্ষে) এরও একটি প্রভাব রয়েছে; আর তা হলো ঈমানি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। আল্লাহর সকল নামেরই মানুষের ওপর ঈমানি ও আচরণগত প্রভাব থাকা আবশ্যক। এর প্রমাণ হলো একটি আবশ্যকীয় কাজের দ্বারা জনৈক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, আর তা হলো হাসির গুণ। লাকীত বিন সাবরাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: (আমাদের প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের নিরাশা এবং রহমতের নৈকট্যের পরিবর্তনের কারণে হাসেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিপালক কি হাসেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমরা এমন প্রতিপালকের কাছ থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হব না যিনি হাসেন।) ফলে তিনি এই গুণ থেকে—যা একটি আবশ্যকীয় বা অসংক্রামক গুণ—নিজের জন্য একটি সংক্রামক প্রভাব অর্জন করলেন। একারণেই মহান আল্লাহর সকল নামই অন্তরে প্রভাব ফেলবে; ঈমানি প্রভাব এবং কখনও জাগতিক প্রভাব। তাই এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একারণেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহের প্রভাবের ক্ষেত্রে সেই দুটি পদ্ধতি একত্রিত হয় যা আমি গত পাঠে উল্লেখ করেছি। আকীদার ক্ষেত্রে সালাফদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পদ্ধতিসমূহের মধ্যে একটি হলো সংশোধন পদ্ধতি এবং অন্যটি হলো সাধারণীকরণ পদ্ধতি। সংশোধনের পদ্ধতিটি নিম্নরূপ: প্রথমত: