(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي - حمد الحمد   (حمد الحمد)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي

المؤلف: حمد بن عبد الله بن عبد العزيز الحمد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

আস-সাদীর ফিকহী মূলনীতির কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা - হামাদ আল-হামাদ   (হামাদ আল-হামাদ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: আস-সাদীর ফিকহী মূলনীতির কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা

লেখক: হামাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হামাদ

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৪টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌فقه القواعد الفقهية [1]
ফিকহী মূলনীতিমালার ফিকহ [১]
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الفرق بين القواعد الأصولية والفقهية والضوابط

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد: فأشكر القائمين على هذه الدورة في دولة قطر على تهيئة هذا اللقاء بإخواني طلبة العلم في هذه المجالس، سائلاً الله جل وعلا أن يجعل ذلك في ميزان حسنات الجميع، من نظم وحضر وحاضر إنه جل وعلا مجيب الدعاء.

وبين أيدينا رسالة نافعة للشيخ العلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي المتوفى سنة ألف وثلاثمائة وست وسبعين من الهجرة النبوية، والشيخ رحمه الله تعالى له مؤلفات كثيرة بسط فيها العلم، وقربه لطلبته مع تحقيق قوي، فجمع بين بسط العلم وتقريبه والتحقيق فيه، فلذا ينبغي لطالب العلم أن يعتني بمؤلفات الشيخ رحمه الله تعالى رحمة واسعة.

وبين أيدينا هذه المنظومة للشيخ رحمه الله تعالى التي جمع فيها ما تيسر من القواعد الفقهية، فذكر قواعد فقهية كثيرة نافعة ينبغي لطالب العلم أن يحسن فهمها، حتى يفهم علم الفقه الذي ينبني على فهم هذه القواعد.

ونحتاج إلى أن نفرق بين القواعد الفقهية والقواعد الأصولية والقواعد المذهبية والضوابط، وعندما نقول: هذه قاعدة فقهية أو نقول هذا ضابط أو نقول هذه قاعدة أصولية، أو نقول: هذه قاعدة في مذهب أحمد، أو قاعدة في مذهب الشافعي، أو قاعدة في مذهب مالك، أو في مذهب أبي حنيفة، فنحتاج إلى أن نفرق بين هذه القواعد.

والقاعدة في اللغة هي الأساس الذي يبنى عليه الشيء، فقاعدة البيت أي: أساسه من إسمنت وحديد يوضع في جوف الأرض.

والقاعدة الفقهية هي التي تقصد في هذه الدروس، وعندنا قاعدة أصولية، وعندنا ضابط، وعندنا قاعدة مذهبية.
উসুলী ও ফিকহী কায়েদা (মূলনীতি) এবং দাওয়াবিত (নিয়মাবলী)-এর মধ্যবর্তী পার্থক্য

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: আমি কাতার রাষ্ট্রে আয়োজিত এই কোর্সের ব্যবস্থাপকদের ধন্যবাদ জানাই এই মজলিসগুলোতে আমার ইলমে দ্বীনের তলেবে ইলম ভাইদের সাথে এই সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর আয়োজক, উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং আলোচক—সকলের নেক আমলের পাল্লায় এটি যুক্ত করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান সত্তা, দুআ কবুলকারী।

আমাদের সামনে রয়েছে আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস-সা’দী (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরী)-এর একটি উপকারী রিসালাহ (পুস্তিকা)। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনেক গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি ইলমকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সূক্ষ্ম তাহকীকসহ তা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজবোধ্য করে দিয়েছেন। তিনি ইলমের বিস্তার, এর সহজবোধ্যতা এবং তাহকীকের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাই তলেবে ইলমদের উচিত শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা।

আমাদের সামনে রয়েছে শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই মানজুমা (কাব্যগ্রন্থ), যাতে তিনি সাধ্যানুযায়ী ফিকহী কায়েদাহসমূহ (মূলনীতি) একত্রিত করেছেন। তিনি এখানে অনেকগুলো উপকারী ফিকহী কায়েদাহ উল্লেখ করেছেন যা তলেবে ইলমদের ভালোভাবে বোঝা উচিত, যাতে তারা ফিকহ শাস্ত্রকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে, যা মূলত এই কায়েদাহসমূহের উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল।

আমাদের ফিকহী কায়েদাহ, উসুলী কায়েদাহ, মাযহাবী কায়েদাহ এবং দাওয়াবিত (নিয়মাবলী)-এর মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন। যখন আমরা বলি: এটি একটি ফিকহী কায়েদাহ, অথবা এটি একটি দাওয়াবিত (নিয়ম), কিংবা এটি উসুলী কায়েদাহ; অথবা আমরা বলি: এটি আহমদের মাযহাবের কায়েদাহ, বা শাফেয়ী মাযহাবের কায়েদাহ, বা মালিকি মাযহাবের কায়েদাহ, অথবা আবু হানীফার মাযহাবের কায়েদাহ—তখন আমাদের এই কায়েদাহগুলোর মধ্যকার পার্থক্য জানা প্রয়োজন।

শাব্দিক অর্থে 'কায়েদাহ' হলো ভিত্তি যার ওপর কোনো কিছু নির্মিত হয়। যেমন গৃহের কায়েদাহ বা ভিত্তি হলো সিমেন্ট ও রড যা মাটির গভীরে স্থাপন করা হয়।

এই পাঠগুলোতে মূলত ফিকহী কায়েদাহ-ই উদ্দেশ্য; তবে আমাদের সামনে উসুলী কায়েদাহ আছে, দাওয়াবিত আছে এবং মাযহাবী কায়েদাহও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌التعريف بالقاعدة الأصولية

أما القاعدة الأصولية، وهي التي يتكلم عنها علماء أصول الفقه؛ فهي القاعدة التي تؤخذ من الأدلة الإجمالية أو من دلالات الألفاظ.

كقولهم: الأمر للوجوب، والنهي للتحريم، هذه تسمى قاعدة أصولية، هذه القواعد تذكر في كتب أصول الفقه.

فقواعد الأمر للوجوب أخذت من قول الله جل وعلا في كتابه الكريم: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور:63] قال ذلك في الذين يتركون أمره عليه الصلاة والسلام.

{وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36] هذه كذلك آية أخرى في أن الأمر للوجوب.

وكذلك قول النبي عليه الصلاة والسلام: (لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة)، فهذا دليل أيضاً يدل على أن الأمر للوجوب.

هذا كما تقدم ليس بحثنا في هذه الدروس، هذا محل البحث فيه في كتب أصول الفقه.
উসুলি মূলনীতির পরিচিতি

আর উসুলি মূলনীতি হলো সেটি, যা সম্পর্কে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ আলোচনা করেন; এটি এমন মূলনীতি যা সাধারণ প্রমাণসমূহ অথবা শব্দের অর্থগত তাৎপর্য থেকে আহরণ করা হয়।

যেমন তাঁদের উক্তি: আদেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতা বোঝায় এবং নিষেধ হারাম বা নিষিদ্ধতা বোঝায়; একে উসুলি মূলনীতি বলা হয়। এই মূলনীতিগুলো উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহে আলোচিত হয়।

‘আদেশ ওয়াজিব হওয়া’ সংক্রান্ত মূলনীতিগুলো মহান আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থের এই বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে} [আন-নূর: ৬৩]। যারা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) আদেশ বর্জন করে, তাদের সম্পর্কে তিনি এটি বলেছেন।

{আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না} [আল-আহজাব: ৩৬]। এটিও আরেকটি আয়াত যা নির্দেশ করে যে, আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।

অনুরূপভাবে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী: (যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম)। এটিও একটি দলিল যা প্রমাণ করে যে, আদেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতা বোঝায়।

যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পাঠগুলোতে এটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়; এ বিষয়ে আলোচনার উপযুক্ত স্থান হলো উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌التعريف بالقاعدة الفقهية والضابط

أما القاعدة الفقهية: فهي حكم شرعي كلي تندرج تحته مسائل كثيرة في أبواب متفرقة، كقولهم: الأمور بمقاصدها أو الأعمال بالنيات، فتجد مسألة في الطهارة تندرج في هذه القاعدة، فيشترط للوضوء النية، وتجد مسألة كذلك في الزكاة، وتجد مسألة في الصلاة.

إذاً مسائل كثيرة شتى في أبواب متفرقة، وتلاحظ أن هذه القاعدة هي حكم شرعي، بخلاف القاعدة الأصولية فإن الحكم الشرعي يؤخذ منها.

أما القاعدة الفقهية فهي حكم شرعي اندرجت تحته مسائل كثيرة في أبواب متفرقة.

وقولنا: (في أبواب متفرقة) هذا احتراز من الضابط، فالضابط في باب واحد.

وعلى ذلك فالضابط حكم شرعي كلي تندرج تحته مسائل في باب واحد.

فعندما نقول: إن أحكام سجود التلاوة كأحكام سجود الصلاة من جهة أنه يشترط لها الطهارة وستر العورة واستقبال القبلة وأن يقال فيها ما يقال في سجود الصلاة، هذا يسمى بالضابط؛ لأنه تدخل فيه مسائل في باب واحد، وهو باب سجود التلاوة.

فالضابط حكم شرعي كلي، تندرج تحته مسائل عدة لكن في باب واحد، فهذا يسمى بالضابط، إذاً ليس لنا أن نسمي الحكم الشرعي الكلي الذي تدخل فيه مسائل في أكثر من باب أن نسميه بالضابط، لأن الضابط يكون في باب واحد.

وأما القاعدة المذهبية: فهي قاعدة تعنى بجمع مسائل شتى في أبواب الفقه لكنها مرتبطة بمذهب معين، فتقول: هذه قاعدة في مذهب الإمام أحمد، كما في القواعد لـ ابن رجب، أو في الأشباه والنظائر للسيوطي في مذهب الإمام الشافعي، فهذه قواعد وضوابط تعنى بجمع المسائل بغض النظر عن الراجح، وترتبط بمذهب معين فتسمى بالقواعد المذهبية.

إذاً تحرر لنا موضوع درسنا، وأنه في القواعد الفقهية، وأن القواعد الفقهية هي أحكام شرعية كلية تندرج تحتها مسائل عدة في أبواب متفرقة.
ফিকহী মূলনীতি (কায়িদাহ) ও বিধানের (দাবিত) পরিচিতি

ফিকহী মূলনীতি (কায়িদাহ) প্রসঙ্গে বলা যায়: এটি এমন একটি সামগ্রিক শরঈ বিধান যার অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের অসংখ্য মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন ফকীহগণের উক্তি: 'কাজকর্ম তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল' অথবা 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'। দেখা যায় যে, পবিত্রতা অধ্যায়ের একটি মাসআলা এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, অর্থাৎ ওযুর জন্য নিয়ত শর্ত। একইভাবে যাকাতের একটি মাসআলা এবং সালাতের একটি মাসআলাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

সুতরাং বিভিন্ন অধ্যায়ের বহুবিধ মাসআলা এতে রয়েছে। আর লক্ষ্যণীয় যে, এই মূলনীতিটি নিজেই একটি শরঈ বিধান; পক্ষান্তরে উসূলী মূলনীতি তেমন নয়, বরং উসূলী মূলনীতি থেকে শরঈ বিধান আহরণ করা হয়।

অতএব ফিকহী মূলনীতি হলো এমন একটি শরঈ বিধান যার অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আমাদের উক্তি— '(বিভিন্ন অধ্যায়ে)'—এটি মূলত 'দাবিত' (বিধান) থেকে পৃথক করার জন্য বলা হয়েছে; কারণ 'দাবিত' বা বিধান কেবল একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

সেই অনুযায়ী, 'দাবিত' হলো এমন এক সামগ্রিক শরঈ বিধান যার অধীনে কেবল একটি অধ্যায়ের মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়।

সুতরাং যখন আমরা বলি: সিজদায়ে তিলাওয়াতের বিধানসমূহ সিজদায়ে সালাতের বিধানের মতোই; যেমন এর জন্য পবিত্রতা, সতর ঢাকা ও কিবলামুখী হওয়া শর্ত এবং এতে তাই বলা হবে যা সালাতের সিজদায় বলা হয়—তখন একে 'দাবিত' বলা হবে। কারণ এর অন্তর্ভুক্ত মাসআলাসমূহ একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের, আর তা হলো 'সিজদায়ে তিলাওয়াত' অধ্যায়।

অতএব 'দাবিত' হলো এমন এক সামগ্রিক শরঈ বিধান যার অধীনে একাধিক মাসআলা থাকলেও তা কেবল একটি অধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। একেই 'দাবিত' বলা হয়। সুতরাং যে সামগ্রিক শরঈ বিধানের অধীনে একাধিক অধ্যায়ের মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়, তাকে 'দাবিত' নামে অভিহিত করা আমাদের জন্য সঠিক হবে না; কেননা 'দাবিত' কেবল একটি অধ্যায়ের মধ্যেই হয়ে থাকে।

আর মাযহাবী মূলনীতি প্রসঙ্গে বলা যায়: এটি এমন এক মূলনীতি যা ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ের বিবিধ মাসআলা একত্রিত করার কাজ করে, তবে তা একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। যেমন আপনি বলবেন: এটি ইমাম আহমাদ-এর মাযহাবের একটি মূলনীতি, যেমনটি ইবনে রজব-এর 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থে রয়েছে; অথবা ইমাম শাফিঈ-এর মাযহাব অনুযায়ী সুয়ূতী-এর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' গ্রন্থে রয়েছে। সুতরাং এগুলো এমন সব মূলনীতি ও বিধান যা বিশুদ্ধ বা শক্তিশালী (রাজীহ) মতের তোয়াক্কা না করে কেবল মাসআলাসমূহ একত্রিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এবং একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তাই এদেরকে 'মাযহাবী মূলনীতি' বলা হয়।

সুতরাং আমাদের পাঠের বিষয়টি স্পষ্ট হলো যে, এটি ফিকহী মূলনীতি বিষয়ক। আর ফিকহী মূলনীতি হলো এমন কিছু সামগ্রিক শরঈ বিধান, যার অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌القواعد الفقهية الكلية

وعندنا خمس قواعد كلية تندرج تحتها مسائل كثيرة جداً، تسمى بالقواعد الكلية الكبرى.

القاعدة الأولى: قاعدة الأمور بمقاصدها، أو: الأعمال بالنيات.

هذه القاعدة الكلية الكبرى مأخوذة من قول النبي عليه الصلاة والسلام في الصحيحين: (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى).

القاعدة الثانية: اليقين لا يزول بالشك.

القاعدة الثالثة: لا ضرر ولا ضرار.

القاعدة الرابعة: المشقة تجلب التيسير.

القاعدة الخامسة: العادة محكمة.

هذه تسمى بالقواعد الكلية الكبرى، وتندرج فيها مسائل كثيرة جداً.
ফিকহ শাস্ত্রের মৌলিক প্রধান মূলনীতিসমূহ

আমাদের নিকট পাঁচটি প্রধান মূলনীতি রয়েছে যেগুলোর অধীনে অগণিত মাসআলা অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে বৃহৎ প্রধান মূলনীতি বলা হয়।

প্রথম মূলনীতি: বিষয়সমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল, অথবা: আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

এই বৃহৎ প্রধান মূলনীতিটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে গৃহীত: (নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে)।

দ্বিতীয় মূলনীতি: নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।

তৃতীয় মূলনীতি: ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না।

চতুর্থ মূলনীতি: কাঠিন্য সহজতা আনয়ন করে।

পঞ্চম মূলনীতি: প্রথা বা লোকরীতি ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য হবে।

এগুলোকে বৃহৎ প্রধান মূলনীতি বলা হয় এবং এগুলোর অধীনে অসংখ্য মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مأخذ القواعد الفقهية

والقواعد الفقهية قد تؤخذ من النص، كقاعدة الأمور بمقاصدها، فإنها تؤخذ من قول النبي عليه الصلاة والسلام: (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى) متفق عليه.

إذاً: القاعدة الفقهية قد تؤخذ من النص، وقد تؤخذ من الإجماع كقاعدة: لا اجتهاد مع النص.

الثالثة: أن تؤخذ بالاستنباط، كقاعدة: المشقة تجلب التيسير.

إذاً: هذه القواعد الفقهية قد تؤخذ من النص، وقد تؤخذ من الإجماع، وقد تؤخذ بطريقة الاستنباط.
ফিকহী মূলনীতিসমূহের উৎস

ফিকহী মূলনীতিসমূহ কখনো 'নস' (শরয়ী পাঠ) থেকে গৃহীত হয়, যেমন এই মূলনীতি: "সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।" এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী থেকে গৃহীত হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

সুতরাং: ফিকহী মূলনীতি কখনো 'নস' থেকে গৃহীত হতে পারে, আবার কখনো ইজমা (ঐক্যমত্য) থেকেও গৃহীত হতে পারে; যেমন এই মূলনীতি: "নস বিদ্যমান থাকা অবস্থায় ইজতিহাদ বা স্বতন্ত্র গবেষণার অবকাশ নেই।"

তৃতীয়ত: এটি ইস্তিম্বাত বা গবেষণালব্ধ নির্যাস গ্রহণের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন এই মূলনীতি: "কষ্ট সহজতা বয়ে আনে।"

অতএব: এই ফিকহী মূলনীতিসমূহ কখনো 'নস' থেকে, কখনো ইজমা থেকে এবং কখনো ইস্তিম্বাত পদ্ধতিতে গৃহীত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌شرح مقدمة الناظم

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [بسم الله الرحمن الرحيم].

ابتدأ بالبسملة اقتداء بالكتاب العزيز، واقتداء بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم، فإنه كان يفتتح رسائله بالبسملة، كما في رسالته في الصحيحين إلى هرقل عظيم الروم.

[الحمد لله]: الحمد هو ذكر محاسن المحمود محبة له وإجلالاً، وكذلك كان النبي عليه الصلاة والسلام يفتتح خطبه بالحمد.

وأما ما جاء أن النبي عليه الصلاة والسلام قال: (كل كلام لا يبدأ بالحمد فهو أقطع)، فإن هذا الصواب أنه مرسل، والمرسل نوع من أنواع الحديث الضعيف، ولكن -كما تقدم- كان عليه الصلاة والسلام يفتتح خطبه بالحمد.

قال رحمه الله: [الحمد لله العلي الأرفق وجامع الأشياء والمفرق] فهو جل وعلا يجمع الأشياء بأوصاف مشتركة ويفرق بينها، فهناك أوصاف تفرق وهناك أوصاف تجمع، فالإنسان والحيوان بينهما أوصاف كثيرة مشتركة، ولذا فإن الرجل إذا ذهب عقله كان كالحيوان تماماً.

ولذا فإن الذي يفرق بين الإنسان والحيوان هو العقل الذي هو مناط التكليف، والذي لأجله علمه الله جل وعلا البيان.

فلابد أن يعتني طالب العلم بمعرفة الأشياء التي تجمع والأشياء التي تفرق؛ حتى لا يلتبس عليه الأمر، ولذا فإن علم الفروق من العلوم المهمة جداً لطالب العلم، فتجد بعض طلبة العلم لا يحسن معرفة الفروق فيقع في أخطاء، وأوضح هذا بمثال، يقول العلماء: إن من تجاوز الميقات ولو جاهلاً أو ناسياً فإن عليه دماً إلا أن يرجع إلى الميقات فيحرم منه.

إذاً لم يعذروه بالنسيان والجهل، فإذا تجاوز الميقات وهو ساهٍ فلم يحرم يقولون له: إما أن ترجع إلى الميقات أو تذبح دماً، ويقولون: على الصحيح من أتى محذوراً من محذورات الإحرام ناسياً فلا شيء عليه، وبعضهم يفرق بين المحذور الذي فيه إتلاف كالحلق والمحذور الذي لا إتلاف فيه كالطيب.

فيعذر في الثاني دون الأول.

فتجد من لا يفرق بين الأمرين فيقال له: هذا محذور فهو من باب التروك، وهذا واجب فهو من باب الأفعال ليس من باب التروك، فإحرامك من الميقات هذا من باب الأفعال، فمن نسي فلم يأت به فعليه أن يأتي به أو يجبره بدم كالذي يترك التشهد الأول في الصلاة، يجبره بسجود السهو.

لكن الذي يصلي وعلى ثوبه نجاسة هذا من باب التروك، ولذا فإن أصح القولين أننا نقول: إنه لا يعيد صلاته إذا صلى وعلى ثوبه نجاسة ناسياً أو جاهلاً؛ لأن هذا من باب التروك.

قال رحمه الله: [ذي النعم الواسعة الغزيرة] قال تعالى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لا تُحْصُوهَا} [إبراهيم:34].

قال رحمه الله [والحكم الباهرة الكثيرة ثم الصلاة مع سلام دائم على الرسول القرشي الخاتم وآله وصحبه الأبرار الحائزي مراتب الفخار] الفخار يعني: الشرف.

[اعلم هديت أن أفضل المنن علم يزيل الشك عنك والدرن] أفضل ما يمن به الله جل وعلا على العبد العلم النافع الذي يزيل الشك عنه والدرن، يعني: يزيل مرض الشبهات فتكون ذا يقين، ويزيل مرض الشهوات فتكون تقياً تاركاً للشهوات.

والدرن: الأوساخ.

فالعلم النافع يزيل الله عز وجل به عن العبد هذين المرضين: مرض الشبهات ومرض الشهوات اللذين يفسدان على المرء قلبه.

قال رحمه الله: [ويكشف الحق لذي القلوب ويوصل العبد إلى المطلوب] قوله: (ويكشف الحق لذي القلوب) أي: فيكون العبد على بصيرة من أمره، قد انكشف له الحق، قال جل وعلا: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} [التوبة:115].

قوله: [ويوصل العبد إلى المطلوب]؛ المطلوب هو رضا الله جل وعلا وجنته.

قال رحمه الله: [فاحرص على فهمك للقواعد جامعة المسائل الشوارد] فالقواعد الفقهية تجمع المسائل الشوارد، وهي تجمع مسائل كثيرة -كما تقدم- من أبواب متفرقة.

قال رحمه الله: [فترتقي في العلم خير مرتقى وتقتفي سبل الذي قد وفقا] هكذا ينبغي أن يكون طالب العلم، أعني: أن يأخذ بالعلم من طريقه الذي سلكه من قبله من أهل العلم، فإذا تعلم هذه القواعد وكان أيضاً قد تعلم علم أصول الفقه، واشتغل بالعلم من طريقه الذي سلكه من كان قبلنا من أهل العلم؛ فإنه يصل بإذن الله.

قال رحمه الله: [وهذه قواعد نظمتها من كتب أهل العلم قد حصلتها] فهذه القواعد التي نظمها الشيخ قد حصلها من كتب أهل العلم لكنه نظمها ليقربها.

قال رحمه الله: [جزاهم المولى عظيم الأجر والعفو مع غفرانه والبر]
কবিতার ভূমিকার ব্যাখ্যা

লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি]।

তিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অনুসরণ করে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পত্রসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে বর্ণিত হয়েছে।

[সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য]: ‘হামদ’ বা প্রশংসা হলো মহব্বত ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তার গুণাবলি বা মহিমা উল্লেখ করা। একইভাবে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর খুতবাগুলো প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করতেন।

আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে যে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (যে কথা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা অপূর্ণ), এর সঠিক বিষয় হলো এটি একটি ‘মুরসাল’ বর্ণনা। আর মুরসাল হলো দুর্বল হাদিসের একটি প্রকার। তবে ইতিপূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর খুতবাগুলো প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করতেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ, অত্যন্ত দয়ালু এবং সকল বিষয়কে একত্রিতকারী ও পৃথককারী]। অর্থাৎ মহান আল্লাহ বিভিন্ন বিষয়কে তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একত্রিত করেন এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যও করে দেন। কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা পৃথক করে এবং কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একত্রিত করে। যেমন মানুষ ও পশুর মধ্যে অনেকগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, এজন্য মানুষের যদি হিতাহিত জ্ঞান চলে যায়, তবে সে হুবহু পশুর মতো হয়ে পড়ে।

এজন্যই মানুষ ও পশুর মধ্যে যা পার্থক্য করে দেয় তা হলো ‘আকল’ বা বিবেক-বুদ্ধি, যা হলো শরিয়তের বিধান পালনের ভিত্তি, আর যার কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বা কথা বলা শিখিয়েছেন।

অতএব ইলম অন্বেষণকারীকে এমন বিষয়গুলো জানার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে যা বিষয়সমূহকে একত্রিত করে এবং যা পৃথক করে; যাতে তার কাছে বিষয়গুলো অস্পষ্ট হয়ে না যায়। এ কারণে ‘ইলমুল ফুরূক’ (পার্থক্য নির্ণয়কারী জ্ঞান) ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞান। আপনি অনেক ইলম অন্বেষণকারীকে পাবেন যারা পার্থক্যগুলো ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে না, ফলে তারা ভুল করে বসে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে আমি বিষয়টি পরিষ্কার করছি: ওলামায়ে কেরাম বলেন, কেউ যদি মিকাত অতিক্রম করে চলে যায়, চাই সে অজ্ঞতাবশত হোক বা ভুলে গিয়ে হোক, তবে তার ওপর একটি ‘দম’ (পশু জবাই) ওয়াজিব হবে, যদি না সে পুনরায় মিকাতে ফিরে এসে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধে।

সুতরাং তারা এখানে ভুল করা বা অজ্ঞতাকে ওজর হিসেবে গ্রহণ করেননি। তাই সে যদি অন্যমনস্ক হয়ে মিকাত অতিক্রম করে এবং ইহরাম না বাঁধে, তবে তারা তাকে বলেন: হয় তোমাকে মিকাতে ফিরে যেতে হবে অথবা একটি পশু জবাই করতে হবে। আবার তারা বলেন: বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কেউ যদি ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলোর কোনো একটি ভুলে করে ফেলে, তবে তার ওপর কিছুই ওয়াজিব হবে না। তাদের কেউ কেউ এমন নিষিদ্ধ কাজের মধ্যে পার্থক্য করেন যাতে কোনো কিছুর বিনাশ ঘটে—যেমন চুল কাটা—এবং এমন নিষিদ্ধ কাজ যাতে কোনো বিনাশ ঘটে না—যেমন সুগন্ধি ব্যবহার করা।

সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়টিতে ওজর কবুল করা হয়, প্রথমটিতে নয়।

আপনি এমন কাউকে পাবেন যে এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তাকে বলা হবে: এটি একটি নিষিদ্ধ কাজ যা বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আর ওটি একটি ওয়াজিব কাজ যা পালনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা পালনীয় বা আদিষ্ট কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ভুলে এটি পালন করেনি, তাকে হয় সেটি পালন করতে হবে অথবা দমের (পশু জবাই) মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যেমনটি নামাজের প্রথম তাশাহহুদ ছেড়ে দিলে সাহু সিজদার মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।

কিন্তু যে ব্যক্তি কাপড়ে অপবিত্রতা (নাজাসাত) থাকা অবস্থায় নামাজ পড়ে, এটি বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাই অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, আমরা বলব: যে ব্যক্তি ভুলে বা অজ্ঞতাবশত কাপড়ে অপবিত্রতা থাকা অবস্থায় নামাজ পড়েছে, তাকে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না; কারণ এটি বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [যিনি সুপ্রশস্ত ও প্রচুর নিআমতের অধিকারী]। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা যদি আল্লাহর নিআমত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না} [ইব্রাহিম: ৩৪]।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এবং যিনি অসংখ্য উজ্জ্বল প্রজ্ঞার অধিকারী; অতঃপর কুরাইশ বংশীয় সর্বশেষ রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক চিরস্থায়ী সালাত ও সালাম, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীদের ওপর, যারা শ্রেষ্ঠত্বের সুউচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছেন]। ‘ফাখার’ শব্দের অর্থ হলো সম্মান বা মর্যাদা।

[জেনে রেখো—তোমাকে হিদায়াত দান করা হোক—শ্রেষ্ঠতম অনুগ্রহ হলো এমন জ্ঞান যা তোমার থেকে সংশয় ও কলুষতাকে দূর করে দেয়]। মহান আল্লাহ বান্দার ওপর যে শ্রেষ্ঠ নিআমত দান করেন তা হলো উপকারী জ্ঞান, যা তার থেকে সংশয় এবং কলুষতাকে দূর করে। অর্থাৎ, যা ‘শুবুহাত’ বা সংশয়ের ব্যাধি দূর করে দেয় ফলে তুমি সুনিশ্চিত বিশ্বাসের অধিকারী হও, এবং ‘শাহাওয়াত’ বা কুপ্রবৃত্তির ব্যাধি দূর করে দেয় ফলে তুমি মুত্তাকী ও কুপ্রবৃত্তি বর্জনকারী হতে পারো।

আর ‘দারান’ অর্থ হলো ময়লা-আবর্জনা।

উপকারী জ্ঞানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার থেকে এই দুটি ব্যাধি দূর করে দেন: সংশয়ের ব্যাধি এবং কুপ্রবৃত্তির ব্যাধি, যা মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে দেয়।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এবং যা অন্তরসমূহের কাছে সত্যকে উন্মোচিত করে দেয় এবং বান্দাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়]। তাঁর কথা: (অন্তরসমূহের কাছে সত্যকে উন্মোচিত করে দেয়) এর অর্থ হলো: বান্দা তার দ্বীনের ব্যাপারে চাক্ষুষ প্রমাণের ওপর থাকে, তার কাছে সত্য উদ্ভাসিত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করার পর ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তাদের জন্য যা থেকে তারা বেঁচে থাকবে তা স্পষ্ট করে দেন} [আত-তাওবাহ: ১১৫]।

তাঁর কথা: [এবং বান্দাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়]; কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর জান্নাত।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [অতএব তুমি সেই মূলনীতিগুলো (কাওয়াইদ) বোঝার ব্যাপারে যত্নবান হও, যা বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করে দেয়]। কেননা ফিকহী মূলনীতিসমূহ বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করে এবং—ইতিপূর্বে যেমনটি বলা হয়েছে—তা বিভিন্ন অধ্যায়ের অসংখ্য মাসআলাকে একসাথে গেঁথে ফেলে।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [যাতে তুমি জ্ঞানের পথে সর্বোত্তমভাবে আরোহণ করতে পারো এবং তাদের পথ অনুসরণ করতে পারো যাদের তাওফিক দান করা হয়েছে]। ইলম অন্বেষণকারীর এমনটিই হওয়া উচিত; অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলেমগণ যে পথে ইলম অর্জন করেছেন সেই পথ অনুসরণ করা। সুতরাং সে যদি এই মূলনীতিগুলো শেখে এবং উসূলে ফিকহ শাস্ত্রও অধ্যয়ন করে এবং পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম যে পথে ইলম অর্জন করেছেন সেই পথে নিজেকে নিয়োজিত করে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এগুলো হলো কিছু মূলনীতি যা আমি ছন্দবদ্ধ করেছি, এবং ওলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহ থেকে তা সংগ্রহ করেছি]। সুতরাং শাইখ যে মূলনীতিগুলো ছন্দবদ্ধ করেছেন তা তিনি ওলামায়ে কেরামের কিতাব থেকেই সংগ্রহ করেছেন, তবে সেগুলোকে সহজবোধ্য করার জন্য পদ্যের রূপ দিয়েছেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [মালিক (আল্লাহ) তাদের মহান প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ক্ষমার সাথে মার্জনা ও কল্যাণ দান করুন]।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شرح قاعدة الأمور بمقاصدها
‘কাজসমূহ উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া’ মূলনীতির ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تعريف النية وحكم التلفظ بها

[النية شرط لسائر العمل بها الصلاح والفساد للعمل] هذه القاعدة هي أولى القواعد الخمس الكبرى وهي قاعدة الأعمال بالنيات أو الأمور بمقاصدها، فما هي النية؟ النية هي: قصد القلب وعزمه، ولذا فإنا نقول: إن النية محلها القلب، فلا يشرع التلفظ بها لا سراً ولا جهراً.

قولنا: (لا سراً) أي كمن يحرك لسانه وينطق بالحروف بحيث يسمع نفسه فقط كالذي يقرأ الفاتحة في الصلاة السرية، فإنه يسر، بمعنى: يحرك لسانه وينطق بالحروف بحيث يسمع نفسه عند جماعة كثيرة من أهل العلم، وبعضهم يكتفي بالنطق بالحروف وإخراجها من مخارجها.

وقولنا: (ولا جهراً) أي بأن يسمع غيره.

أما الجهر بالنية فهو بدعة عند عامة أهل العلم، فقول الرجل إذا أراد أن يصلي بحيث يسمع جاره: اللهم إني أريد أن أصلي صلاة الظهر، هذا جهر بالنية، وهو بدعة عند عامة العلماء.

وأما الإسرار بها فأصح القولين وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية أن ذلك لا يشرع أيضاً، وأنه بدعة؛ لأن ذلك لم يرد عن النبي عليه الصلاة والسلام.
নিয়তের সংজ্ঞা এবং তা মুখে উচ্চারণের বিধান

[নিয়ত সকল আমলের জন্য শর্ত, যার ওপর আমলের বিশুদ্ধতা ও কলুষতা নির্ভর করে] এই মূলনীতিটি পাঁচটি প্রধান মূলনীতির প্রথমটি, যা হলো ‘নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল’ বা ‘উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যাবলি’ সংক্রান্ত নীতি। তাহলে নিয়ত কী? নিয়ত হলো: অন্তরের সংকল্প ও দৃঢ় ইচ্ছা। এজন্যই আমরা বলি: নিয়তের স্থান হলো অন্তর, তাই এটি গোপনে বা প্রকাশ্য কোনোভাবেই মুখে উচ্চারণ করা শরয়িভাবে অনুমোদিত নয়।

আমাদের কথা: (গোপনে নয়) অর্থাৎ সেই ব্যক্তির মতো যে তার জিহ্বা নাড়ায় এবং বর্ণগুলো এমনভাবে উচ্চারণ করে যাতে কেবল সে নিজেই শুনতে পায়, যেমন নিঃশব্দ নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠকারী। সে এটি সংগোপনে পড়ে, যার অর্থ হলো: অধিকাংশ আলেমের মতে সে তার জিহ্বা নাড়ায় এবং বর্ণগুলো এমনভাবে উচ্চারণ করে যাতে সে নিজে শুনতে পায়; আবার কেউ কেউ কেবল বর্ণগুলো উচ্চারণ করা এবং তা মাখরাজ থেকে বের করাকেই যথেষ্ট মনে করেন।

এবং আমাদের কথা: (প্রকাশ্যে নয়) অর্থাৎ অন্যকে শুনিয়ে।

নিয়ত প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা অধিকাংশ আলেমের নিকট বিদআত। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যখন নামাজ আদায়ের ইচ্ছা করে তার প্রতিবেশীকে শুনিয়ে বলে: ‘হে আল্লাহ, আমি জোহরের নামাজ পড়ার ইচ্ছা করছি’, তবে এটি প্রকাশ্যে নিয়ত করা এবং এটি অধিকাংশ আলেমের নিকট বিদআত।

আর গোপনে নিয়ত উচ্চারণ করার বিষয়ে দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মত হলো—যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ পছন্দ করেছেন—তাও শরয়িভাবে অনুমোদিত নয় এবং সেটি বিদআত; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌وقت النية

مسألة أخرى: النية يصح أن تقارن العمل، فتقول عندما تصف للصلاة: الله أكبر.

وتنوي الصلاة، وتكون نيتك مقارنة للتكبير، بحيث إن جميع حروف التكبير تشملها النية.

فإن سبقت النية العمل نظرنا: فإن سبقت النية بزمن يسير عرفاً، فنقول: إنها تجزئ، يعني: قبل أن يصلي بزمن يسير نوى الصلاة، ثم إنه ذهل عن صلاته فما شعر إلا وقد قال: الله أكبر؛ لكنه نوى الصلاة قبل دخوله فيها بزمن يسير في العرف، فهذه النية تجزئ كما هو المشهور في مذهب الإمام أحمد وغيره.

فإن سبقته بزمن طويل في العرف، مثاله: رجل توضأ في البيت ثم خرج بنية الصلاة، ثم إنه ذهل في أمر فما شعر إلا وهو يصلي، هذا يحصل بحيث إنه يكون قد نوى قبل زمن طويل، قد يكون ربع ساعة أو نصف ساعة، وهذا زمن طويل في العرف، فمن العلماء كالحنابلة من قال: إنه لا يجزئ، ومن العلماء من قال: إنه يجزئ، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية، وهو الراجح ما لم يقطع هذه النية، لأن هذا يدخل في عموم قول النبي عليه الصلاة والسلام: (إنما الأعمال بالنيات)، وهذا قد نوى العبادة، ولم يقطع هذه النية.

ومعنى: (لم يقطعها) يعني: أراد ألا يصلي.

مثاله: رجل توضأ وهو في بيته ثم إنه أراد أن لا يصلي، أي أنه قطع نية الصلاة، ثم بعد ذلك صلى بلا نية، فهذا قد قطع نية الصلاة.

ويظهر ذلك بمثال أوضح فيما يتعلق بالصوم: فبعض الناس ينوي من أول رمضان أن يصوم الشهر كله، ثم إنه يسافر فيقطع هذه النية فنقول: إذا عدت إلى بلدك أو أردت أن تصوم في السفر فلابد أن تستأنف نية جديدة، لأنه قد قطع نيته.

أما إذا لم ينو القطع فتكفي هذه النية للشهر كله في أصح القولين.

إذاً نقول: إن الراجح أن النية إذا وقعت قبل العبادة بزمن طويل في العرف ولم يقطع هذه النية فإنها تكفي لعموم قوله عليه الصلاة والسلام: (إنما الأعمال بالنيات).

قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى: ما خرج إلى المسجد إلا وهو يريد الصلاة، لأن بعض الناس قد يقع في الوسوسة، فنقول: أنت لم تخرج من بيتك إلى المسجد إلا وأنت تريد الصلاة.

إذاً نقول: إن قارنت النية الفعل أجزأت هذه النية، وإن سبقته بزمن قصير في العرف أجزأت، وإن سبقته بزمن طويل في العرف ولم ينو القطع فأصح القولين أنها تجزئ أيضاً.
নিয়তের সময়

অন্য একটি মাসআলা: নিয়ত আমল বা কাজের সাথে একীভূত হওয়া শুদ্ধ। সুতরাং যখন আপনি সালাতের জন্য প্রস্ততি নেবেন তখন বলবেন: আল্লাহু আকবার।

এবং সালাতের নিয়ত করবেন। আপনার নিয়ত তাকবীরের সাথে একীভূত হবে, যেন তাকবীরের প্রতিটি বর্ণ নিয়তের অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আর যদি নিয়ত আমলের পূর্বেই হয়ে থাকে, তবে আমরা দেখব: যদি নিয়ত প্রথাগতভাবে অল্প সময় পূর্বে হয়ে থাকে, তবে আমরা বলব: এটি যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ: সালাত আদায়ের অল্প সময় পূর্বে সে সালাতের নিয়ত করল, এরপর সে সালাত সম্পর্কে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল এবং সংবিত ফিরে আসার পর দেখল সে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ফেলেছে; কিন্তু সে প্রথাগতভাবে সালাতে প্রবেশের অল্প সময় পূর্বেই নিয়ত করেছিল। এমতাবস্থায় এই নিয়ত যথেষ্ট হবে, যেমনটি ইমাম আহমাদ ও অন্যদের মাযহাবে প্রসিদ্ধ।

কিন্তু যদি নিয়ত প্রথাগতভাবে দীর্ঘ সময় পূর্বে হয়ে থাকে—যেমন: এক ব্যক্তি বাড়িতে ওজু করল, এরপর সালাতের নিয়ত নিয়ে বের হলো, অতঃপর সে অন্য কোনো বিষয়ে মগ্ন হয়ে গেল এবং সালাত শুরু করার আগ পর্যন্ত আর খেয়াল করল না—এটি এমন ক্ষেত্রে ঘটে যেখানে দীর্ঘ সময় পূর্বে নিয়ত করা হয়েছে, যা হতে পারে ১৫ মিনিট বা আধঘণ্টা আগে। প্রথাগতভাবে এটি দীর্ঘ সময়। এ ক্ষেত্রে হাম্বলিগণের মতো একদল আলেম বলেছেন: এটি যথেষ্ট হবে না। আবার অন্য একদল আলেম বলেছেন: এটি যথেষ্ট হবে। আর এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অভিমত এবং এটিই অগ্রগণ্য মত, যতক্ষণ না এই নিয়ত বিচ্ছিন্ন করা হয়। কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ আর এই ব্যক্তি ইবাদতের নিয়ত করেছিল এবং সেই নিয়ত সে বিচ্ছিন্ন করেনি।

‘নিয়ত বিচ্ছিন্ন না করা’র অর্থ হলো: সে সালাত না পড়ার ইচ্ছা করেনি।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি বাড়িতে থাকা অবস্থায় ওজু করল, অতঃপর সে সালাত না পড়ার সিদ্ধান্ত নিল, অর্থাৎ সে সালাতের নিয়ত বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। এরপর সে নিয়ত ছাড়াই সালাত আদায় করল; এমতাবস্থায় সে সালাতের নিয়ত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

সিয়ামের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে: যেমন কিছু মানুষ রমজানের শুরুতেই পুরো মাস রোজা রাখার নিয়ত করে। এরপর সে সফরে বের হয় এবং এই নিয়তটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমতাবস্থায় আমরা বলব: যখন আপনি আপনার এলাকায় ফিরে আসবেন অথবা সফরেও রোজা রাখতে চাইবেন, তখন আপনাকে নতুন করে নিয়ত করতে হবে। কারণ আপনি আপনার নিয়তটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।

আর যদি বিচ্ছিন্ন করার নিয়ত না করে, তবে দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী পুরো মাসের জন্য এই নিয়তই যথেষ্ট হবে।

অতএব আমরা বলব: অগ্রগণ্য মত হলো, নিয়ত যদি ইবাদতের প্রথাগতভাবে দীর্ঘ সময় পূর্বে হয় এবং সেই নিয়ত বিচ্ছিন্ন করা না হয়, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’-এর ভিত্তিতে তা যথেষ্ট হবে।

ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: সে তো সালাতের উদ্দেশ্যেই মসজিদের দিকে বের হয়েছে। কারণ কিছু মানুষ ওয়াসওয়াসায় পতিত হতে পারে, তাই আমরা বলব: আপনি তো সালাতের উদ্দেশ্য ছাড়া ঘর থেকে মসজিদের দিকে বের হননি।

সুতরাং আমরা বলতে পারি: যদি নিয়ত আমলের সাথে একীভূত হয় তবে সেই নিয়ত যথেষ্ট হবে। যদি প্রথাগতভাবে অল্প সময় পূর্বে হয় তবেও যথেষ্ট হবে। আর যদি প্রথাগতভাবে দীর্ঘ সময় পূর্বে হয় এবং নিয়ত বিচ্ছিন্ন করার সংকল্প না থাকে, তবে দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী সেটিও যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌النية شرط للعمل لا للترك

من المسائل أيضاً: أن النية كما قال الشيخ هنا: (شرط لسائر العمل) أي: فخرج الترك.

فعندنا فعل وعندنا ترك، فالترك لا تشترط له النية، وأما الفعل فتشترط له النية.

فمثلاً: هذا رجل غسل بدنه بنية التبرد فقط، ثم تبين أنه جنب، فهل يجزئه هذا الغسل؟ لا يجزئه.

فإن كان في بدنه نجاسة فغسل بدنه بنية التبرد فزالت النجاسة، فهل يطهر بدنه، أم نقول: إنه لم ينو فلا يطهر بدنه؟

 

‌‌الجواب

إن بدنه يطهر؛ لأن إزالة النجاسة من باب التروك، فلا تشترط لها النية.

كذلك لو أنه غسل ثوبه وهو لا يدري أن في ثوبه نجاسة، فطهر الثوب من هذه النجاسة ولم ينو تطهيره، فهل يطهر الثوب أم نقول لابد أن تغسله مرة أخرى بنية التطهير؟ نقول: يجزئك، ويطهر الثوب من غير نية؛ لأن هذا من باب التروك.

إذاً: التروك لا تشترط لها النية، وأما الأفعال فتشترط لها النية، ولذا قال الشيخ هنا: (النية شرط لسائر العمل).

إذاً عندنا الآن عدة مسائل: الأولى: أن النية محلها القلب، فلا يشرع الجهر بها ولا الإسرار.

الثانية: أنها تقارن العمل، فإن سبقته بزمن قصير عرفاً أجزأت، وإن سبقته بزمن طويل عرفاً فقولان: أصحهما أنها تجزئ ما لم ينو القطع.

المسألة الثالثة: أن النية شرط للعمل لا الترك، فالتروك لا تشترط لها النية.
নিয়ত আমলের জন্য শর্ত, বর্জনের জন্য নয়

মাসআলাসমূহের মধ্যে একটি হলো: নিয়ত সম্পর্কে শায়খ এখানে যেমনটি বলেছেন: (তা সকল আমলের জন্য শর্ত), অর্থাৎ এর দ্বারা বর্জন বা পরিত্যাগ করার বিষয়টি বাদ পড়েছে।

আমাদের সামনে আমল বা কাজ রয়েছে এবং বর্জন রয়েছে। বর্জনের জন্য নিয়ত শর্ত নয়, তবে আমলের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত।

উদাহরণস্বরূপ: এক ব্যক্তি শুধুমাত্র শরীর শীতল করার নিয়তে তার দেহ ধৌত করল, এরপর প্রকাশ পেল যে সে জুনুবী ছিল, তবে এই গোসল কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? না, এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

কিন্তু যদি তার শরীরে কোনো নাপাকী থাকে এবং সে শরীর শীতল করার নিয়তে দেহ ধৌত করার ফলে সেই নাপাকী দূর হয়ে যায়, তবে কি তার শরীর পবিত্র হবে? নাকি আমরা বলব: যেহেতু সে নিয়ত করেনি তাই তার শরীর পবিত্র হয়নি?

 

উত্তর

তার শরীর পবিত্র হয়ে যাবে; কারণ নাপাকী দূর করা বর্জনের অন্তর্ভুক্ত, আর এর জন্য নিয়ত শর্ত নয়।

অনুরূপভাবে সে যদি তার কাপড় ধৌত করে অথচ সে জানত না যে তার কাপড়ে নাপাকী আছে, অতঃপর কাপড়টি সেই নাপাকী থেকে মুক্ত হয়ে গেল এবং সে তা পবিত্র করার নিয়ত করেনি, তবে কি কাপড়টি পবিত্র হবে? নাকি আমরা বলব যে, তাকে পুনরায় পবিত্র করার নিয়তে ধৌত করতে হবে? আমরা বলব: এটি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং নিয়ত ছাড়াই কাপড়টি পবিত্র হয়ে যাবে; কারণ এটি বর্জনের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং: বর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত নয়, কিন্তু আমলের জন্য নিয়ত শর্ত। আর এ কারণেই শায়খ এখানে বলেছেন: (নিয়ত সকল আমলের জন্য শর্ত)।

অতএব এখন আমাদের সামনে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি: নিয়তের স্থান হলো অন্তর, তাই এটি উচ্চস্বরে উচ্চারণ করা কিংবা নিচু স্বরে মুখে বলা শরীয়তসম্মত নয়।

দ্বিতীয়টি: এটি আমলের সাথে সাথে হতে হবে। যদি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আমলের সামান্য আগে হয় তবে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দীর্ঘ সময় আগে হয় তবে এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: এর মধ্যে বিশুদ্ধতর মতটি হলো, যতক্ষণ না সে নিয়ত ছিন্ন করার সংকল্প করে ততক্ষণ তা যথেষ্ট হবে।

তৃতীয় মাসআলা: নিয়ত আমলের জন্য শর্ত, বর্জনের জন্য নয়। সুতরাং বর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌النية تميز العبادات عن العادات وتميز رتب العبادات

المسألة الرابعة: أن النية شرعت للتمييز، فهي تميز المعمول له، وتميز العبادة عن العبادة، وعن العادة.

أولاً: تميز المعمول له: وهذا هو الإخلاص، وهذا بحثه في كتب السلوك وفي كتب التوحيد ومعناه أن تخلص عملك لله جل وعلا.

هذا رجل يصلي لكنه قد يريد بصلاته ثواب الله وقد يريد الدنيا، فالنية تميز المعمول له، وهذا هو الإخلاص.

ثانياً: النية تميز العبادة عن العبادة: ذلك: رجل استيقظ لصلاة الصبح فدخل المسجد فصلى بنية تحية المسجد ركعتين، فلما انتهى من الركعتين التفت فإذا بالناس يخرجون من المسجد، فعلم أن الصلاة قد أديت، فقال: إذاً تحية المسجد هي صلاة الفجر، فهل يجزئه ذلك؟

 

‌‌الجواب

لا.

لأن هذه عبادة وهي تحية المسجد، وصلاة الفجر عبادة أخرى.

مثال آخر: رجل تصدق بعشرة آلاف ريال بنية التطوع، فلما قبضها الفقير تذكر المتصدق أن عليه زكاةً لم يخرجها، فقال: هذه عن زكاة مالي، فنقول له: لا يجزئك ذلك؛ لأن هذه عبادة وهذه عبادة.

ثالثاً: تميز العبادة عن العادة: مثاله: رجل ترك الطعام والشراب بنية الصوم، هذه عبادة، وآخر ترك الطعام والشراب للصحة، فهذه عادة.

رجل اغتسل بنية التبريد، وآخر اغتسل بنية رفع الحدث، نقول: هذه عبادة وهذه عادة.

إذاً: النية هي التي تميز بين العبادة والعادة، وتميز بين العبادة والعبادة الأخرى.

وتميز العمل للمعمول له جل وعلا، وهذا الإخلاص.
নিয়ত ইবাদাতসমূহকে সাধারণ অভ্যাস থেকে পৃথক করে এবং ইবাদাতের স্তরসমূহকে একে অপরের থেকে পৃথক করে

চতুর্থ মাসআলা: নিয়ত প্রবর্তন করা হয়েছে পার্থক্য করার জন্য। সুতরাং তা যার জন্য আমল করা হচ্ছে তাকে পৃথক করে, এবং এক ইবাদাতকে অন্য ইবাদাত থেকে ও সাধারণ অভ্যাস থেকে পৃথক করে।

প্রথমত: যার জন্য আমল করা হচ্ছে তাকে পৃথক করা: এটিই হলো ইখলাস। এ বিষয়ের আলোচনা আত্মশুদ্ধির কিতাবসমূহে এবং তাওহীদের কিতাবসমূহে রয়েছে। এর অর্থ হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য আপনার আমলকে একনিষ্ঠ করা।

এই ব্যক্তি সালাত আদায় করছে, কিন্তু সে তার সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর পুরস্কার চাইতে পারে আবার দুনিয়াও চাইতে পারে। সুতরাং নিয়ত যার জন্য আমল করা হচ্ছে তাকে পৃথক করে দেয়, আর এটাই হলো ইখলাস।

দ্বিতীয়ত: নিয়ত এক ইবাদাতকে অন্য ইবাদাত থেকে পৃথক করে: যেমন: এক ব্যক্তি ফজরের সালাতের জন্য জাগ্রত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করল এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদের নিয়তে দুই রাকাত সালাত আদায় করল। যখন সে দুই রাকাত শেষ করল, তখন সে লক্ষ্য করল যে মানুষ মসজিদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তখন সে বুঝতে পারল যে জামাতের সাথে সালাত আদায় হয়ে গেছে। সে বলল: তাহলে এই তাহিয়্যাতুল মাসজিদই আমার ফজরের সালাত। এটা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে?

 

‌‌উত্তর

না।

কারণ এটি একটি ইবাদাত যা তাহিয়্যাতুল মাসজিদ, আর ফজরের সালাত অন্য একটি ইবাদাত।

অন্য উদাহরণ: এক ব্যক্তি নফল সদকার নিয়তে দশ হাজার রিয়াল দান করল। যখন দরিদ্র ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, তখন দাতা স্মরণ করল যে তার ওপর এমন কিছু জাকাত অবশিষ্ট আছে যা সে প্রদান করেনি। তখন সে বলল: এটি আমার মালের জাকাতের পক্ষ থেকে। আমরা তাকে বলব: এটি আপনার জন্য যথেষ্ট হবে না; কারণ এটি একটি ইবাদাত এবং সেটি অন্য একটি ইবাদাত।

তৃতীয়ত: ইবাদাতকে অভ্যাস থেকে পৃথক করা: এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি সিয়ামের নিয়তে পানাহার ত্যাগ করল, এটি একটি ইবাদাত। আর অন্য ব্যক্তি স্বাস্থ্যের জন্য পানাহার ত্যাগ করল, এটি একটি অভ্যাস।

এক ব্যক্তি শরীর শীতল করার নিয়তে গোসল করল, আর অন্যজন নাপাকি দূর করার নিয়তে গোসল করল। আমরা বলব: এটি ইবাদাত এবং সেটি অভ্যাস।

সুতরাং: নিয়তই ইবাদাত ও অভ্যাসের মধ্যে পার্থক্য করে এবং এক ইবাদাত ও অন্য ইবাদাতের মধ্যে পার্থক্য করে।

এবং তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমলকে অন্যদের থেকে পৃথক করে দেয়, আর এটিই হলো ইখলাস।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌النية شرط للعمل الصالح

من المسائل أيضاً: أن النية شرط للعمل الصالح، أي: العبادة: وعلى ذلك فإذا كان العمل ليس بعبادة لم تشترط له النية، فليست شرطاً فيما ليس بعبادة من العمل، مثل قضاء الدين فليس بعبادة، وإن كان إذا نوى العبادة فيه أثيب.

وعلى ذلك فلو أنك ذهبت إلى غريم صاحبك، فقلت: خذ هذا المال عن الدين الذي لك في ذمة صاحبي، فأخذه برئت ذمة صاحبك مع أنه لم ينو قضاء الدين ومع ذلك فإنها تبرأ.

أما العبادة فلابد فيها من نية، فمثلاً: هذا رجل ذهب إلى جمعية لأمر فوجد أن عندهم صدقة فطر، فأعطاهم ألف ريال عن مائة نفس، عشر ينفق عليها وتسعون لا ينفق عليها، لكنهم من أصحابه وإخوانه الذين لا ينفق عليهم، ثم أخبرهم وقال: إني قد أخرجت عنكم صدقة الفطر، فهل يجزئ ذلك؟

 

‌‌الجواب

لا يجزئ، لأن صدقة الفطر عبادة، لابد أن ينويها من يخرجها، لكن أولادك الذين تنفق عليهم وكذلك امرأتك التي تنفق عليها تكفي نيتك؛ لأن الصدقة واجبة عليك أنت، لأنك أنت الذي ينفق.

هذا رجل آخر أتاه جباة الزكاة، فقالوا: إن عليك في مالك كذا، فأعطاهم إياه وقالوا: لمن هذا المال؟ قال: هذا لأخي، قالوا: إن عليه كذا، فأعطاهم عنه من ماله، فنقول: يجزئ حتى ينوي أخوه لأنها زكاة، لكن لو أخذها الجباة من مال أخيك، فهؤلاء قد أخذوها من ماله، فهم جباة وقد أخذوا الحق ممن هو عليه فيجزئ، لكن عندما تتبرع أنت لأخيك فتقول: هذه زكاة عني وهذه زكاة عن أخي، فنقول: لابد أن ينوي، لأن النية شرط لسائر العمل، بها الصلاح والفساد للعمل.

والله أعلم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
সৎকর্মের জন্য নিয়ত একটি শর্ত

একটি বিষয় হলো: নিয়ত সৎকর্মের জন্য শর্ত, অর্থাৎ ইবাদতের ক্ষেত্রে। সে অনুযায়ী, আমলটি যদি ইবাদত না হয়, তবে তার জন্য নিয়ত শর্ত নয়। সুতরাং যেসব আমল ইবাদত নয় সেগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত নয়, যেমন ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ পরিশোধ করা মূলত ইবাদত নয়, তবে কেউ যদি এতে ইবাদতের নিয়ত করে তবে সে সওয়াব লাভ করবে।

সে অনুযায়ী, আপনি যদি আপনার বন্ধুর পাওনাদারের কাছে যান এবং বলেন: "আমার বন্ধুর কাছে আপনার যে পাওনা ছিল, তার বিনিময়ে এই অর্থ গ্রহণ করুন", আর সে তা গ্রহণ করে, তবে আপনার বন্ধুর জিম্মা দায়মুক্ত হয়ে যাবে; যদিও সে ঋণ পরিশোধের নিয়ত করেনি, তবুও সে দায়মুক্ত হবে।

কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: জনৈক ব্যক্তি কোনো প্রয়োজনে একটি সংস্থায় গেল এবং দেখল যে সেখানে সদকাতুল ফিতর সংগ্রহ করা হচ্ছে। তখন সে একশত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক হাজার রিয়াল প্রদান করল। এই একশত জনের মধ্যে দশজন এমন ছিল যাদের ভরণপোষণ সে বহন করে এবং বাকি নব্বইজন এমন ছিল যাদের ভরণপোষণ সে বহন করে না; বরং তারা ছিল তার বন্ধু ও ভাই। এরপর সে তাদের অবগত করল এবং বলল: "আমি তোমাদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করে দিয়েছি।" এমতাবস্থায় তা কি যথেষ্ট হবে?

 

‌‌উত্তর

তা যথেষ্ট হবে না। কারণ সদকাতুল ফিতর হলো একটি ইবাদত, তাই যে ব্যক্তি এটি আদায় করছে তাকে অবশ্যই নিয়ত করতে হবে। তবে আপনার সন্তান এবং আপনার স্ত্রী যাদের ভরণপোষণ আপনি করেন, তাদের ক্ষেত্রে আপনার নিয়তই যথেষ্ট; কারণ এই সদকা প্রদান আপনার ওপরই ওয়াজিব, যেহেতু আপনিই তাদের ভরণপোষণকারী।

অন্য এক ব্যক্তির কাছে জাকাত সংগ্রহকারীরা আসল এবং বলল: "আপনার মালের ওপর এই পরিমাণ পাওনা রয়েছে।" সে তাদের তা দিয়ে দিল। তারা জিজ্ঞাসা করল: "এই মাল কার?" সে বলল: "এটি আমার ভাইয়ের।" তারা বলল: "তার ওপরও এই পরিমাণ জাকাত রয়েছে", তখন সে নিজের মাল থেকে ভাইয়ের পক্ষ হয়ে তা প্রদান করল। এমতাবস্থায় আমরা বলব: তার ভাই নিয়ত না করা পর্যন্ত তা যথেষ্ট হবে না, কারণ এটি জাকাত। কিন্তু যদি সংগ্রহকারীরা স্বয়ং আপনার ভাইয়ের সম্পদ থেকে তা গ্রহণ করে, তবে যেহেতু তারা আদায়কারী এবং যার ওপর পাওনা ছিল তার সম্পদ থেকেই তা গ্রহণ করেছে, তাই এটি যথেষ্ট হবে। কিন্তু আপনি যখন আপনার ভাইয়ের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় তা প্রদান করবেন এবং বলবেন: "এটি আমার জাকাত এবং এটি আমার ভাইয়ের জাকাত", তখন আমরা বলব: অবশ্যই তাকে নিয়ত করতে হবে। কারণ সকল আমলের জন্য নিয়ত একটি শর্ত, আর আমলের শুদ্ধতা ও ত্রুটি এর ওপরই নির্ভর করে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي - حمد الحمد   (حمد الحمد)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي

المؤلف: حمد بن عبد الله بن عبد العزيز الحمد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

আস-সাদির ফিকহী মূলনীতিমালার পদ্যের ব্যাখ্যা - হামাদ আল-হামাদ   (হামাদ আল-হামাদ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিমালা


গ্রন্থ: আস-সাদির ফিকহী মূলনীতিমালার পদ্যের ব্যাখ্যা

লেখক: হামাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হামাদ

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৪টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌فقه القواعد الفقهية [2]
ফিকহি মূলনীতিসমূহের ফিকহ [২]
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌قاعدة جلب المصالح ودرأ المفاسد

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

قال الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله تعالى: [الدين مبني على المصالح في جلبها والدرء للقبائح] هذا البيت من هذه المنظومة اشتمل على قاعدة مهمة، وهي: أن الشريعة الإسلامية مبنية على جلب المصالح، وعلى درء المفاسد، فهي تجلب المصالح وتكثرها، وتدرأ المفاسد أو تقللها.

فالشريعة الإسلامية إذاً مبنية على جلب المصالح وتكثيرها ودرأ المفاسد وتقليلها.
কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের মূলনীতি

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।

শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসের আস-সা'দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কল্যাণ আনয়ন এবং মন্দ প্রতিরোধের ওপর] এই কাব্যের এই পঙক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, আর তা হলো: ইসলামী শরীয়ত কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ বা ক্ষতি প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; সুতরাং এটি কল্যাণসমূহ নিয়ে আসে ও তা বৃদ্ধি করে এবং অকল্যাণসমূহ প্রতিহত করে অথবা তা হ্রাস করে।

অতএব, ইসলামী শরীয়ত কল্যাণ আনয়ন ও তা বৃদ্ধি এবং অকল্যাণ প্রতিহত করা ও তা হ্রাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌النوع الأول من المصالح حفظ الضرورات

واعلم أن المصالح على ثلاثة أنواع: النوع الأول: مصلحة حفظ الضرورات، والضرورات إذا اختلت ترتب على الناس خلل في أمر دينهم ودنياهم، حتى لا يصلح أمر الدين ولا أمر الدنيا إلا باعتبار هذه الضرورات، فإذا لم تراع اختل نظام الناس في حياتهم وترتب على ذلك فساد أمر دينهم ودنياهم.

فهذه هي مصلحة الضرورات، والضرورات خمس: الأولى: مصلحة حفظ الدين.

والثانية: مصلحة حفظ النفس.

والثالثة: مصلحة حفظ العقل.

والرابعة: مصلحة حفظ المال.

والخامسة: مصلحة حفظ العرض والنسل.

أولى هذه الضرورات ضرورة حفظ الدين: وقد شرع الله الشرائع، وبين للخلق العقائد، وأرسل الرسل، وأنزل الكتب؛ لحفظ الدين.

وشرع الله جل وعلا الجهاد وكذلك قتل الزنديق، وتعزير الداعية إلى البدعة بالقتل أو ما هو دونه؛ كل ذلك من أجل حفظ ضرورة الدين.

إذاً: فالجهاد قد شرع مع ما فيه من سفك للدم، ومن تعرض لسلب المال وسبي النساء وغير ذلك؛ كل ذلك لأجل حفظ هذه الضرورة، وهي ضرورة حفظ الدين.

الثانية: ضرورة حفظ النفس: فشرع الله القصاص لحفظ النفوس أن يعتدى عليها، وكذلك أيضاً فيما يتعلق بالقصاص في الأطراف وفي الجراح، فهذا كله لأجل ضرورة حفظ النفس.

والثالثة: ضرورة حفظ المال: وقد شرع الله جل وعلا حد السرقة، وحرم الاعتداء على الأموال، وجعل أموال المسلمين حراماً، فلا يحل لمسلم أن يأخذ مال أخيه بغير حق، هذا من أجل هذه الضرورة، وهي ضرورة حفظ المال.

وأما الضرورة الرابعة: فهي ضرورة حفظ العرض والنسل: فحرم الله الزنا، وشرع حده من رجم أو جلد، وكذلك حرم القذف، وحرم الاعتداء على الأعراض بكل شكل؛ هذا كله من أجل حفظ ضرورة العرض والنسل.

وأما الضرورة الخامسة: فهي ضرورة حفظ العقل: فحرم الله شرب الخمر، وشرع حده من أجل حفظ هذه الضرورة.

إذاً هذه هي الضرورات الخمس التي إذا لم تراعى ترتب على ذلك فساد وخلل في أمر الدين والدنيا، وهذه هي أعلى المصالح.
জনকল্যাণের প্রথম প্রকার: মৌলিক প্রয়োজনসমূহ সংরক্ষণ

জেনে রাখুন যে, জনকল্যাণ বা মাসলাহাত তিন প্রকার: প্রথম প্রকার: মৌলিক প্রয়োজনসমূহ (দ্বোরুরাত) সংরক্ষণের কল্যাণ। আর এই মৌলিক প্রয়োজনগুলোতে যদি কোনো ত্রুটি ঘটে, তবে মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়; এমনকি এই মৌলিক প্রয়োজনগুলো বিবেচনা করা ছাড়া দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো বিষয়ই সুসংহত হয় না। সুতরাং যদি এগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা না হয়, তবে মানুষের জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যায় এবং এর ফলে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে বিপর্যয় নেমে আসে।

এগুলোই হলো মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত কল্যাণ। আর মৌলিক প্রয়োজন পাঁচটি: প্রথম: দ্বীন সংরক্ষণের কল্যাণ।

দ্বিতীয়: জীবন সংরক্ষণের কল্যাণ।

তৃতীয়: বুদ্ধি সংরক্ষণের কল্যাণ।

চতুর্থ: সম্পদ সংরক্ষণের কল্যাণ।

পঞ্চম: সম্মান ও বংশধারা সংরক্ষণের কল্যাণ।

এই মৌলিক প্রয়োজনগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো দ্বীন সংরক্ষণের আবশ্যকতা: দ্বীন সংরক্ষণের লক্ষ্যেই আল্লাহ তাআলা শরিয়তের বিধানসমূহ প্রণয়ন করেছেন, সৃষ্টির জন্য আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা করেছেন, রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।

মহান আল্লাহ জিহাদ করার বিধান দিয়েছেন এবং একইভাবে জিন্দিককে হত্যা করার এবং বিদআতের দিকে আহ্বানকারীকে মৃত্যুদণ্ড বা তার চেয়ে লঘু দণ্ডের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের বিধান দিয়েছেন; এই সবকিছুই দ্বীন রক্ষার মৌলিক প্রয়োজনে করা হয়েছে।

অতএব: রক্তপাত, সম্পদ লুণ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি এবং নারীদের বন্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জিহাদকে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; এই সবকিছুই করা হয়েছে এই মৌলিক প্রয়োজন অর্থাৎ দ্বীন সংরক্ষণের তাগিদে।

দ্বিতীয়: জীবন সংরক্ষণের আবশ্যকতা: জীবনের ওপর যেন আক্রমণ করা না হয় সেজন্য আল্লাহ কিসাসের বিধান দিয়েছেন। একইভাবে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং জখমের ক্ষেত্রেও কিসাস বিধিবদ্ধ করেছেন। এই সবকিছুই জীবন সংরক্ষণের মৌলিক প্রয়োজনে করা হয়েছে।

তৃতীয়: সম্পদ সংরক্ষণের আবশ্যকতা: মহান আল্লাহ চুরির দণ্ড নির্ধারণ করেছেন এবং সম্পদের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ হারাম করেছেন। তিনি মুসলিমদের সম্পদকে পরস্পরের জন্য হারাম করেছেন; ফলে কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা বৈধ নয়। এটি করা হয়েছে সম্পদ সংরক্ষণের মৌলিক প্রয়োজনের খাতিরে।

আর চতুর্থ আবশ্যকতাটি হলো: সম্মান ও বংশধারা সংরক্ষণ: আল্লাহ ব্যভিচার হারাম করেছেন এবং পাথর নিক্ষেপ বা চাবুক মারার মাধ্যমে এর দণ্ড নির্ধারণ করেছেন। একইভাবে তিনি অপবাদ দেওয়া এবং যে কোনোভাবে সম্মানের ওপর আঘাত করা হারাম করেছেন; এই সবকিছুই সম্মান ও বংশধারা সংরক্ষণের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য।

আর পঞ্চম আবশ্যকতাটি হলো: বুদ্ধি সংরক্ষণ: আল্লাহ মদ পান করা হারাম করেছেন এবং এই মৌলিক প্রয়োজনটি রক্ষার স্বার্থেই এর দণ্ড বিধিবদ্ধ করেছেন।

সুতরাং, এই হলো সেই পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন, যেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা না হলে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়; আর এগুলোই হলো সর্বোচ্চ স্তরের মাসলাহাত বা জনকল্যাণ।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌النوع الثاني من المصالح حفظ الحاجيات

النوع الثاني من المصالح الحاجيات: وهي التي إذا لم تراع لحق الناس حرج من عدم مراعاتها.

يعني: لو أن الشارع لم يراع هذه المصلحة -وهي الحاجيات- لترتب على ذلك حرج، كالإجارة والمساقاة والمزارعة ونحو ذلك؛ فهذه يحتاج إليها الناس، فلو أن الشارع حرم الإجارة مثلاً لترتب على ذلك حرج، كذلك الهبات.

إذاً هذه هي الحاجيات، وهي النوع الثاني من المصالح.
দ্বিতীয় প্রকারের মাসলাহাত: হাজিয়াত সংরক্ষণ

দ্বিতীয় প্রকারের মাসলাহাত হলো হাজিয়াত (প্রয়োজনীয় বিষয়াদি): আর এগুলো এমন বিষয়, যদি তা রক্ষা করা না হয়, তবে সেগুলো রক্ষা না করার কারণে মানুষের সংকীর্ণতা বা কষ্টের সৃষ্টি হয়।

অর্থাৎ: শারিয়াত প্রণেতা যদি এই মাসলাহাত—তথা হাজিয়াত—এর প্রতি লক্ষ্য না রাখতেন, তবে তার ফলে সংকীর্ণতা বা কষ্টের উদ্ভব হতো; যেমন ইজারা (ভাড়া), মুসাকাত (সেচ চুক্তি), মুজারাআ (বর্গা চাষ) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। মানুষের এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। অতএব, শারিয়াত প্রণেতা যদি উদাহরণস্বরূপ ইজারাকে হারাম করতেন, তবে তার ফলে সংকীর্ণতা তৈরি হতো; হেবা বা দানের বিষয়টিও তদ্রূপ।

সুতরাং এগুলোই হলো হাজিয়াত, যা মাসলাহাতের দ্বিতীয় প্রকার।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌النوع الثالث من المصالح الأخذ بمحاسن العادات

وأما النوع الثالث من المصالح فهي التحسينات: يعني: الأخذ بمحاسن العادات والأخلاق، فشرع الله جل وعلا شرائع روعيت فيها هذه المصلحة، وهي مصلحة التحسينات أو التزيينات، وهذه المصلحة هي الأخذ بمحاسن العادات والأخلاق.

مثال ذلك: الولي في النكاح شرط فيه على الصحيح، وهو قول الجمهور، فما هي المصلحة من مشروعية ذلك؟

 

‌‌الجواب

المصلحة هي أن المرأة يقبح أن تتولى أمر إنكاح نفسها، فلما كان الأمر كذلك شرع الولي، ولأنه في العادة يحسن النظر لها أيضاً فيختار لها الكفء المناسب.

من ذلك أيضاً: أمور الفطرة كإعفاء اللحية وقص الشارب، وعلى ذلك فالتحسينات منها ما يكون واجباً ومنها ما يكون مستحباً.

وكذلك أيضاً من التحسينات الأمر بإزالة النجاسة من الثوب والبقعة، هذه من التحسينات وهي شرط في الصلاة لا تصح الصلاة إلا بثوب طاهر وبقعة طاهرة وبدن طاهر.

إذاً: الشريعة مبنية على جلب المصالح وعلى درء المفاسد.
তৃতীয় প্রকারের জনকল্যাণ: উত্তম অভ্যাসসমূহ গ্রহণ করা

আর জনকল্যাণের (মাসলাহাত) তৃতীয় প্রকার হলো তাহসিনাত (সৌন্দর্যবর্ধক বিষয়াদি): অর্থাৎ, উত্তম রীতিনীতি ও চরিত্র গ্রহণ করা। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এমন সব বিধান প্রবর্তন করেছেন যেখানে এই কল্যাণটি রক্ষা করা হয়েছে, আর তা হলো তাহসিনাত বা সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কল্যাণ। এই কল্যাণের সারকথা হলো উত্তম অভ্যাস ও চরিত্রের অনুসরণ করা।

এর উদাহরণ হলো: বিশুদ্ধ মতানুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবক (ওয়ালী) থাকা একটি শর্ত, যা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকীহদের অভিমত। এখন প্রশ্ন হলো, এটি বিধিবদ্ধ করার পেছনে মূল কল্যাণটি কী?

 

উত্তর

এর কল্যাণ হলো এই যে, একজন নারীর জন্য নিজে নিজের বিবাহের ব্যবস্থা করা অশোভন। যেহেতু বিষয়টি এমনই, তাই অভিভাবকের বিধান রাখা হয়েছে। তা ছাড়া সাধারণত অভিভাবক নারীর কল্যাণের বিষয়টি উত্তমরূপে বিবেচনা করতে পারেন, ফলে তিনি তার জন্য উপযুক্ত ও সমপর্যায়ের পাত্র নির্বাচন করেন।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু বিষয় হলো ফিতরাতি বা স্বভাবজাত সুন্নাতসমূহ, যেমন দাড়ি লম্বা করা এবং গোঁফ ছোট করা। এর ভিত্তিতে তাহসিনাতের কিছু বিষয় ওয়াজিব আবার কিছু বিষয় মুস্তাহাব হয়ে থাকে।

অনুরূপভাবে পোশাক ও স্থান থেকে নাপাকি দূর করার নির্দেশও তাহসিনাতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো নামাজের শর্ত; পবিত্র পোশাক, পবিত্র স্থান এবং পবিত্র শরীর ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না।

সুতরাং, শরিয়ত জনকল্যাণ সাধন এবং অনিষ্টতা দূর করার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تزاحم المصالح والمفاسد
কল্যাণ ও অকল্যাণের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌إذا تزاحمت المصالح قدمت الأعلى

قال المصنف رحمه الله: [فإن تزاحم عدد المصالح يقدم الأعلى من المصالح] إذا تزاحمت عندنا المصالح فإنا نقدم الأعلى منها، عندنا مصلحة ومصلحة وتعارضتا عند هذا المكلف، فإما أن يفعل هذه المصلحة وإما أن يفعل المصلحة الأخرى، فيقدم الأعلى منهما.

إذا أتيت إلى المسجد وقد أقيمت صلاة الصبح فهل تشرع بنافلة الصبح القبلية أو تصلي الصبح؟ نقول: تصلي الفريضة مع الإمام؛ لأن النبي عليه الصلاة والسلام قال كما في صحيح مسلم: (إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة).

إذاً: نقدم الفريضة على النافلة.

وإذا كانت العبادة ذات نفع متعد كالعلم، وعارضتها عبادة ذات نفع لازم كصيام التطوع؛ فإنا نقدم العبادة ذات النفع المتعدي.

إذاً: نقدم الأعلى من المصالح.
যখন জনকল্যাণসমূহ পরস্পরবিরোধী হয়, তখন উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [যদি একাধিক কল্যাণ বা উপকারিতা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে সেগুলোর মধ্যে উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে]। যখন আমাদের সামনে একাধিক কল্যাণ বা জনকল্যাণ পরস্পরবিরোধী হয়, তখন আমরা সেগুলোর মধ্যে উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দিই। আমাদের কাছে একটি কল্যাণ ও আরেকটি কল্যাণ রয়েছে এবং এই মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) নিকট সেগুলো পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়ল, এমতাবস্থায় সে হয় এই কল্যাণটি পালন করবে অথবা অন্যটি পালন করবে; সুতরাং সে এই দুটির মধ্যে উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেবে।

আপনি যদি মসজিদে আসেন এবং ফজরের নামায শুরু হয়ে যায় (ইকামত হয়ে যায়), তবে কি আপনি ফজরের পূর্ববর্তী সুন্নাত শুরু করবেন নাকি ফজরের নামায পড়বেন? আমরা বলি: আপনি ইমামের সাথে ফরয নামায পড়বেন; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহীহ মুসলিমে যেমনটি বলেছেন: (যখন নামাযের ইকামত হয়ে যায়, তখন ফরয নামায ব্যতীত অন্য কোনো নামায নেই)।

অতএব: আমরা নফলের ওপর ফরযকে অগ্রাধিকার প্রদান করি।

আর যদি ইবাদতটি এমন হয় যার উপকারিতা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন ইলম বা জ্ঞান অর্জন, এবং তার বিপরীতে এমন একটি ইবাদত এসে পড়ে যার উপকারিতা নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ, যেমন নফল রোযা; তবে আমরা সেই ইবাদতটিকে অগ্রাধিকার দেব যার উপকারিতা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

অতএব: আমরা কল্যাণ বা উপকারিতাগুলোর মধ্যে উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করি।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌إذا تزاحمت المفاسد ارتكبت الأدنى

قال المصنف رحمه الله: [وضده تزاحم المفاسد يرتكب الأدنى من المفاسد] كذلك إذا تعارضت المفاسد وتزاحمت فإنا نرتكب الأدنى منها ونجتنب الأعلى، ولذا فإن النبي عليه الصلاة والسلام كما في الصحيحين من حديث أنس بن مالك: أنه لما بال الأعرابي في المسجد فزجره الناس، نهاهم النبي عليه الصلاة والسلام، وذلك لتعارض مفسدتين، الأولى: البول في المسجد فينجس.

المفسدة الثانية: أن يحبس بوله فيتضرر، يعني: يلحق بدنه الضرر، وكذلك أيضاً قد ينتشر هذا في المسجد لأنه يقوم وتنتقل النجاسة إلى مواضع أخرى من المسجد.

فنهاهم النبي عليه الصلاة والسلام من باب الوقوع في المفسدة الصغرى، فإذا تعارضت عندنا مفسدتان قدمنا المفسدة الصغرى في الوقوع، فنقع في المفسدة الصغرى ونجتنب المفسدة الكبرى.

ومن ذلك قول النبي عليه الصلاة والسلام: (لولا أن قومك حديثو عهد بكفر لهدمت الكعبة وبنيتها على قواعد إبراهيم)، متفق عليه.

فهنا عندنا مفسدة، وهي بقاء الكعبة فيها نقص من الجهة التي فيها حجر إسماعيل، فإن قريشاً قصرت بهم النفقة فقصروا البناء من جهة حجر إسماعيل، فالنبي عليه الصلاة والسلام أراد أن يهدم الكعبة ويبنيها على قواعد إبراهيم كاملة؛ لكنه خشي مفسدة أعظم، وهي أن يرتد الناس عن الإسلام لأنهم كانوا حديثي عهد بكفر.
যখন একাধিক অনিষ্টের সংঘাত ঘটে, তখন লঘুতরটি গ্রহণ করা হয়

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এবং এর বিপরীত হলো অনিষ্টসমূহের সংঘাত; সেক্ষেত্রে অনিষ্টগুলোর মধ্যে লঘুতরটি গ্রহণ করা হয়] একইভাবে যখন অনিষ্টসমূহ পরস্পর বিরোধী হয় এবং সংঘাতপূর্ণ হয়, তখন আমরা সেগুলোর মধ্যে লঘুতরটি গ্রহণ করি এবং গুরুতরটি বর্জন করি। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - যেমনটি বুখারি ও মুসলিমের আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে: যখন এক গ্রাম্য আরব মসজিদে প্রস্রাব করেছিল এবং লোকেরা তাকে ধমক দিচ্ছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন। আর এটি ছিল দুটি অনিষ্টের সংঘাতের কারণে। প্রথমটি: মসজিদে প্রস্রাব করা, যার ফলে তা অপবিত্র হয়ে যায়।

দ্বিতীয় অনিষ্টটি হলো: সে যদি প্রস্রাব আটকে রাখত তবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, অর্থাৎ তার শরীরে ক্ষতি পৌঁছাত; একইভাবে এটি মসজিদে ছড়িয়েও পড়তে পারত, কারণ সে (ধমক খেয়ে) দাঁড়িয়ে পড়লে নাপাকি মসজিদের অন্যান্য স্থানে স্থানান্তরিত হতো।

তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষুদ্রতর অনিষ্টটি মেনে নেওয়ার নীতি অনুযায়ী তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন। অতএব যখন আমাদের সামনে দুটি অনিষ্ট পরস্পর বিরোধী হয়, তখন আমরা সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতর অনিষ্টটিকে প্রাধান্য দিই; অর্থাৎ আমরা ক্ষুদ্রতর অনিষ্টে লিপ্ত হই এবং বৃহত্তর অনিষ্টটি বর্জন করি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমার কওম যদি কুফরি যুগ থেকে নিকটবর্তী না হতো, তবে আমি অবশ্যই কাবা ভেঙে ফেলতাম এবং ইবরাহীমের ভিত্তির ওপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এখানে আমাদের সামনে একটি অনিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো হিজর ইসমাঈলের দিক থেকে কাবার অপূর্ণাবস্থায় থেকে যাওয়া। কেননা কুরাইশদের নিকট অর্থের সংকুলান না হওয়ায় তারা হিজর ইসমাঈলের দিক থেকে নির্মাণ কাজ সংক্ষিপ্ত করেছিল। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চেয়েছিলেন কাবা ভেঙে ইবরাহীমের ভিত্তির ওপর পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণ করতে; কিন্তু তিনি এর চেয়েও বড় অনিষ্টের আশঙ্কা করেছিলেন, আর তা হলো মানুষ ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া, কারণ তারা কুফর ত্যাগ করে ইসলামে নতুন ছিল।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تعارض المصالح والمفاسد

قال المصنف رحمه الله: [والشرع من أصوله التيسير في كل أمر نابه تعسير] إذا تعارضت عندنا مصلحة ومفسدة فإنا نقدم أعظمهما، فقد نقدم الوقوع بالمفسدة وتحصيل المصلحة، وقد نقدم درء المفسدة وتفويت المصلحة.

فننظر إلى هذه المصلحة: فإن كانت المصلحة هي الغالبة فإنا نحصلها وإن وقعنا بالمفسدة.

وإن كانت المفسدة هي الغالبة، فإنا ندرأ المفسدة وإن فاتت المصلحة، أوضح هذا بالمثال: الربا فيه مصلحة للغني من زيادة ماله، وفيه كذلك دفع حاجة الفقير، لكن المفاسد فيه من الظلم أعظم من المصالح، ولذا حرمه الله جل وعلا وأحل البيع الذي فيه غنية عنه.

وكذلك الخمر فيه منافع؛ ولكن مفسدة زوال العقل فيه أشد وأعظم، ولذا نهى الله عنه: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} [البقرة:219].

هنا الآن قدمنا درء المفسدة وحصل تفويت للمصلحة، فالمصلحة التي في الربا فوتناها والمصلحة التي في الخمر فوتناها، درأً للمفسدة فيهما.

وأما إذا كانت المصلحة أعظم فإنا نقدمها فنحصلها وإن وقعنا في المفسدة.

مثال ذلك: الجهاد في سبيل الله فيه مفاسد، منها أنه يعرض النفوس للإزهاق، ومنها أنه يعرض مال المسلم للسلب، ويعرض النساء للسبي، لكن هذه المفاسد مرجوحة لما فيه من المصلحة العظمى، وهي إعلاء كلمة لا إله إلا الله.

إذاً: هنا أخذنا بالمصلحة مع وجود مفاسد، وقد ندرأ المفسدة مع وجود مصالح.

إذاً: ننظر إلى الأرجح والأعظم فنأخذ به، فإذا كانت المصالح أعظم فإنا نرجحها، وإذا كانت المفاسد أعظم فإنا ندرؤها.
মাসলাহাত (কল্যাণ) ও মাফাসাদ (অকল্যাণ)-এর সংঘাত

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হলো—যেখানে কঠোরতা পরিলক্ষিত হয়, সেখানে সহজীকরণ করা] যখন আমাদের কাছে কোনো কল্যাণ এবং অকল্যাণ পরস্পর বিরোধী হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমরা সে দুটির মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী বা বড় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিই। আমরা কখনো অকল্যাণের সম্মুখীন হয়েও কল্যাণ অর্জনকে প্রাধান্য দিই, আবার কখনো কল্যাণ হাতছাড়া করে হলেও অকল্যাণ দূর করাকে প্রাধান্য দিই।

সুতরাং আমরা এই কল্যাণের দিকে লক্ষ্য করি: যদি কল্যাণটিই প্রবল হয়, তবে অকল্যাণের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা তা অর্জন করি।

আর যদি অকল্যাণটিই প্রবল হয়, তবে কল্যাণ হাতছাড়া হলেও আমরা সেই অকল্যাণ দূর করি। উদাহরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করছি: সুদের মধ্যে ধনীর সম্পদ বৃদ্ধির এক প্রকার কল্যাণ রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দরিদ্রের প্রয়োজন পূরণও হয়, কিন্তু এর মধ্যে যে জুলুম বা অন্যায়ের অকল্যাণ রয়েছে তা কল্যাণের তুলনায় অনেক বড়। এ কারণেই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা একে হারাম করেছেন এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন যা এটি থেকে অভাবমুক্ত রাখে।

একইভাবে মদে কিছু উপকারিতা রয়েছে; কিন্তু এর মধ্যে বিবেক বিলুপ্ত হওয়ার যে অকল্যাণ রয়েছে তা অধিক তীব্র ও বড়। এ কারণেই আল্লাহ তা থেকে নিষেধ করেছেন: {তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা} [সূরা আল-বাকারাহ: ২১৯]।

এখানে আমরা অকল্যাণ দূর করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং এতে কল্যাণ হাতছাড়া হয়েছে। সুতরাং সুদের মধ্যে থাকা কল্যাণ এবং মদের মধ্যে থাকা কল্যাণকে আমরা বিসর্জন দিয়েছি এ দুটির অকল্যাণ প্রতিহত করার জন্য।

পক্ষান্তরে কল্যাণ যদি অধিকতর বড় হয়, তবে অকল্যাণে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমরা সেই কল্যাণ অর্জনকেই অগ্রাধিকার দিই।

এর উদাহরণ: আল্লাহর পথে জিহাদে কিছু অকল্যাণ রয়েছে, যেমন এতে জীবন নাশের ঝুঁকি থাকে, মুসলিমদের সম্পদ লুণ্ঠনের সম্ভাবনা থাকে এবং নারীদের বন্দি হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই অকল্যাণগুলো সেই সুমহান কল্যাণের তুলনায় অতি নগণ্য যা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর বাণীকে সমুন্নত করা।

অতএব: এখানে অকল্যাণ থাকা সত্ত্বেও আমরা কল্যাণকে গ্রহণ করেছি, আবার কখনো কল্যাণ থাকা সত্ত্বেও আমরা অকল্যাণ প্রতিহত করি।

সারকথা: আমরা অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য ও মহত্তর বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করি এবং সেটিই গ্রহণ করি। যদি কল্যাণসমূহ মহত্তর হয় তবে আমরা সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিই, আর যদি অকল্যাণসমূহ বড় হয় তবে আমরা তা প্রতিহত করি।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌قاعدة المشقة تجلب التيسير

قال المصنف رحمه الله: [والشرع من أصوله التيسير في كل أمر نابه تعسير] هذه قاعدة (المشقة تجلب التيسير)، ومعناها أن الشريعة الإسلامية جاءت بنفي الحرج، قال جل وعلا: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج:78].

وقال عليه الصلاة والسلام كما في البخاري: (إن هذا الدين يسر، ولن يشاد الدين أحد إلا غلبه).

وجاء في البخاري: (ما خير النبي عليه الصلاة والسلام بين أمرين إلا اختار أيسرهما ما لم يكن إثماً).

وعلى ذلك فنقول: (إن المشقة تجلب التيسير)، فحيث وجد سبب التعسير نأخذ بالتيسير، ولذا قال الشيخ هنا: [في كل أمر نابه تعسير] ومن قواعد شرعنا: التيسير في كل أمر نابه تعسير، إذاً: المشقة تجلب التيسير.

لا شك أن الأحكام قد تشتمل على مشاق، ولذا قال الله جل وعلا: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ} [البقرة:216] يعني: وهو شاق عليكم.

وأيضاً قال الله جل وعلا: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ} [البقرة:45] يعني: وإنها لشاقة ثقيلة، لكن هذه المشقة تحتمل فهي مشقة يسيرة، وهي توجد في العبادة، وهذا النوع من المشاق -وهي المشقة التي تحتمل- لا تمنع التكليف.

فهذه المشاق موجودة في العبادة، لكن إذا كانت المشقة شديدة بحيث إن المكلف يلحقه حرج فنقول: هذه المشقة تجلب التيسير؛ لكن الوضوء مثلاً في اليوم البارد والماء فيه برودة فيه نوع مشقة، كذلك إذا كان الماء حاراً فهذا فيه نوع مشقة، ولذا فهي مكاره كما جاء في الشرع.

كذلك الخروج إلى المسجد قد يكون فيه مشقة لكن هذه المشقة ليست شديدة، وهذه المشقة تلازم العبادات غالباً، وإنما المراد بالمشقة المشقة الشديدة التي يلحق المكلف فيها الحرج.

والمشقة لا يكاد الناس ينضبطون فيها، فهذا الرجل قد يرى الشيء الشاق سهلاً، والآخر قد يرى الشيء اليسير شاقاً، ولذا فإنا لا نعلق الأمر بنفس المشقة، وإنما نعلقه بالوصف الذي توجد معه المشقة غالباً.

فهناك أوصاف توجد فيها المشقة في الغالب، فهي مظنة المشقة، هذه هي طريقة الشرع، وذلك كالسفر، فإنه وصف توجد فيه المشقة في الغالب، فشرع للمسافر القصر، وشرع له الجمع بين الصلاتين، وكذلك له أن يمسح على خفيه ثلاثة أيام بلياليهن.

كذلك الخوف وصف شرعت فيه صلاة الخائف، وشرع له أيضاً ترك الجماعة إن كان يخاف على نفسه أو أهله أو ماله.

فالخوف هنا وصف توجد فيه المشقة في الغالب، إذاً: يعلق الأمر بوصف توجد فيه هذه المشقة في الغالب كالسفر والخوف ونحو ذلك.
কষ্ট কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: [শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হলো প্রতিটি কঠিন বিষয়ে সহজসাধ্যতা দান করা] এটি হলো 'কষ্ট কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে' নামক মূলনীতি। এর অর্থ হলো ইসলামি শরীয়ত সংকীর্ণতা দূর করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "আর তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।" [হজ: ৭৮]।

এবং নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই দীন সহজ; যে কেউ এই দীনের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করবে, দীন তাকে পরাস্ত করবে।"

এবং বুখারিতে আরও এসেছে: "নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তিনি তখনই তাদের মধ্যে সহজটি গ্রহণ করেছেন, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজ হয়।"

সেই ভিত্তিতে আমরা বলি: "কষ্ট কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে"। সুতরাং যখনই কঠিন অবস্থার কারণ সৃষ্টি হয়, আমরা সহজ পদ্ধতি গ্রহণ করি। এজন্য শায়খ এখানে বলেছেন: [প্রতিটি কঠিন বিষয়ে যা তাকে আক্রান্ত করে]। আর আমাদের শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হলো: প্রতিটি কঠিন বিষয়ে সহজসাধ্যতা দান করা। অতএব: কষ্ট কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বিধানাবলি কষ্টের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এজন্য মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়।" [বাকারা: ২১৬]। অর্থাৎ: যা তোমাদের ওপর কষ্টসাধ্য।

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আরও বলেছেন: "তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; এবং নিশ্চয়ই এটি কঠিন বিষয়, কিন্তু বিনীতদের জন্য নয়।" [বাকারা: ৪৫]। অর্থাৎ: এটি বেশ কষ্টসাধ্য ও ভারী। তবে এই কষ্ট সহনীয়, তাই এটি সাধারণ কষ্টের অন্তর্ভুক্ত যা ইবাদতে পাওয়া যায়। এই ধরনের কষ্ট—যা সহনীয়—তা ইবাদত পালনের বাধ্যবাধকতার (তাকলিফ) পথে বাধা নয়।

সুতরাং ইবাদতে এই কষ্টগুলো বিদ্যমান। তবে যদি কষ্টটি এমন তীব্র হয় যে মুকাল্লাফ (যার ওপর বিধান প্রযোজ্য) সংকীর্ণতার সম্মুখীন হয়, তখন আমরা বলি: এই কষ্ট সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে। উদাহরণস্বরূপ, শীতের দিনে ঠাণ্ডা পানিতে অজু করা এক ধরণের কষ্টসাধ্য কাজ; একইভাবে পানি যদি খুব গরম হয় তাতেও এক ধরণের কষ্ট রয়েছে। আর সে কারণেই শরীয়তে এগুলোকে 'অপছন্দনীয় বিষয়' (মাকারিহ) বলা হয়েছে।

একইভাবে মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা কষ্ট থাকতে পারে, তবে এই কষ্ট তীব্র নয়। ইবাদত সমূহের সাথে সাধারণত এই ধরণের কষ্ট লেগেই থাকে। কিন্তু এখানে কষ্টের অর্থ হলো এমন তীব্র কষ্ট, যা মুকাল্লাফকে সংকীর্ণতার মধ্যে ফেলে দেয়।

মানুষ সচরাচর কষ্টের পরিমাপ নিরূপণে সুশৃঙ্খল নয়। দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি কঠিন কাজকে সহজ মনে করছে, আবার অন্যজন একটি সহজ কাজকে কঠিন মনে করছে। এই কারণে আমরা বিষয়টি কেবল কষ্টের অনুভূতির ওপর ছেড়ে দেই না, বরং আমরা এটিকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত করি যেগুলোর উপস্থিতিতে সাধারণত কষ্ট বিদ্যমান থাকে।

এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে সাধারণত কষ্ট পাওয়া যায়, আর সেগুলোকেই কষ্টের সম্ভাব্য কারণ ধরা হয়। এটিই শরীয়তের পদ্ধতি। যেমন—সফর (ভ্রমণ); এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যাতে সচরাচর কষ্ট বিদ্যমান থাকে। তাই মুসাফিরের জন্য কসর এবং দুই সালাত একত্রে পড়ার বিধান দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সে তিন দিন তিন রাত মোজার ওপর মাসাহ করতে পারবে।

তেমনিভাবে ভয় এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার জন্য ভয়কালীন সালাতের বিধান দেওয়া হয়েছে। এবং যদি কেউ তার নিজের ওপর, পরিবারের ওপর বা সম্পদের ওপর আশঙ্কার সম্মুখীন হয়, তবে তার জন্য জামাত ছেড়ে দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

সুতরাং এখানে ভয় হলো এমন একটি অবস্থা যাতে সাধারণত কষ্ট বিদ্যমান থাকে। অতএব, বিষয়টি এমন বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত করা হয় যেখানে সাধারণত এই কষ্ট পাওয়া যায়, যেমন সফর, ভয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌لا واجب مع العجز ولا محرم مع الضرورة

قال المصنف رحمه الله: [وليس واجب بلا اقتدار ولا محرم مع اضطرار] هذا البيت اشتمل على قاعدتين: الأولى: لا واجب مع العجز.

والقاعدة الثانية: لا محرم مع الضرورة.

فنقول: لا واجب مع العجز، قال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن:16].

وقال صلى الله عليه وسلم كما في الصحيحين: (إذا أمرتكم بأمر فأتوا منهم ما استطعتم).

فلا واجب مع العجز، فمن كان لا يقدر على الصلاة قائماً فإنه يصلي قاعداً، قال عليه الصلاة والسلام: (صل قائماً، فإن لم تستطع فقاعداً، فإن لم تستطع فعلى جنب)، رواه البخاري.

كذلك إذا كان يقدر لكن تلحقه مشقة شديدة، بحيث إنه يخاف أن يستمر مرضه أو أن يتأخر برؤه، فله كذلك أن يصلي قاعداً.

ومن فروع هذه المسألة أيضاً -لا واجب مع العجز- ما اختاره شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم من أن المنفرد إذا لم يجد فرجة يصلي خلف الصف وحده وتصح صلاته؛ لأنه يعجز عن أن يصلي في الصف، فإن كان يجد فرجة وتركها فصلى خلف الصف لم تصح صلاته.

أما القاعدة الثانية فهي: لا محرم مع الضرورة: فالضرورات تبيح المحرمات، فإذا اضطر المكلف لفعل المحرم بحيث إن ضرورته لا تندفع إلا به، فلا حرج عليه أن يأتيه، كأن يأكل الميتة في مفازة من الأرض ليس فيها طعام يأكله، ويخشى أن تتلف نفسه وليس عنده ما يغنيه عن الحرام.

فلو كان عنده ما يكره من الطعام فليس له أن يأكل الميتة، بل يأكل المكروه ويترك المحرم؛ لكن هذا لا يجد شيئاً يدفع به ضرورته فنقول: له أن يأكل الميتة: {فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ} [البقرة:173].

كذلك: إذا غص بالطعام فلم يجد ما يزيل به هذا الغصة إلا جرعة من خمر فلا حرج عليه؛ لأن هذه ضرورة، ولا محرم مع الضرورة.

لكن إذا كان يمكنه أن يستغني بمكروه أو بمباح، كأن وجد رجلاً يقرضه مالاً يشتري به طعاماً والطعام موجود، أو وجد من يقرضه الطعام، فنقول: إنه ليس له أن يأكل الحرام ما دام يمكنه أن يستغني بالحلال المباح أو المكروه.
অক্ষমতার সাথে কোনো ওয়াজিব নেই এবং অতি প্রয়োজনের সাথে কোনো হারাম নেই

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [সক্ষমতা ছাড়া কোনো ওয়াজিব নেই এবং নিরুপায় অবস্থায় কোনো হারাম নেই] এই কবিতাটি দুটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করেছে: প্রথমটি: অক্ষমতার সাথে কোনো ওয়াজিব নেই।

এবং দ্বিতীয় মূলনীতিটি হলো: অতি প্রয়োজনের সাথে কোনো হারাম নেই।

আমরা বলি: অক্ষমতার সাথে কোনো ওয়াজিব নেই, মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]।

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রয়েছে: (যখন আমি তোমাদের কোনো আদেশ করি, তখন তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন করো)।

সুতরাং অক্ষমতার সাথে কোনো ওয়াজিব নেই; তাই যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম নয়, সে বসে সালাত আদায় করবে। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: (দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাও সক্ষম না হও তবে কাত হয়ে), এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে যদি সে সক্ষম হয় কিন্তু তার তীব্র কষ্ট হয়, এমনভাবে যে সে তার রোগ স্থায়ী হওয়ার বা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার ভয় করে, তবে তার জন্যও বসে সালাত আদায় করা বৈধ।

এই মাসআলার—অক্ষমতার সাথে কোনো ওয়াজিব নেই—শাখাগুলোর মধ্যে একটি হলো যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম পছন্দ করেছেন যে, একা ব্যক্তি যদি কাতারে খালি জায়গা না পায়, তবে সে কাতারের পেছনে একাকী সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সহীহ হবে; কারণ সে কাতারের ভেতরে সালাত আদায় করতে অক্ষম। তবে যদি সে খালি জায়গা পায় এবং তা ছেড়ে দিয়ে কাতারের পেছনে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত সহীহ হবে না।

আর দ্বিতীয় মূলনীতিটি হলো: অতি প্রয়োজনের সাথে কোনো হারাম নেই। কেননা অতি প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে দেয়। সুতরাং যদি কোনো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) হারাম কাজ করতে এমনভাবে বাধ্য হয় যে, তার সেই অতি প্রয়োজন তা ছাড়া দূর হবে না, তবে তা করাতে তার কোনো গুনাহ নেই; যেমন কোনো জনমানবহীন প্রান্তরে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা যেখানে খাওয়ার মতো কোনো খাবার নেই, এবং সে আশঙ্কা করে যে তার প্রাণ নষ্ট হয়ে যাবে আর হারামের বিকল্প কোনো কিছু তার কাছে নেই।

তবে যদি তার কাছে অপছন্দনীয় (মাকরূহ) কোনো খাবার থাকে, তবে তার জন্য মৃত প্রাণী খাওয়া বৈধ হবে না; বরং সে মাকরূহ খাবার খাবে এবং হারাম বর্জন করবে। কিন্তু এই ব্যক্তি তার অতি প্রয়োজন দূর করার মতো কিছুই পাচ্ছে না, তাই আমরা বলি: তার জন্য মৃত প্রাণী খাওয়া বৈধ: {তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু সে অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ নেই} [আল-বাকারাহ: ১৭৩]।

অনুরূপভাবে: যদি গলায় খাবার আটকে যায় এবং সেই আটকা ভাব দূর করার জন্য মদের ঢোক ছাড়া আর কিছুই না পায়, তবে তার কোনো গুনাহ নেই; কারণ এটি একটি অতি প্রয়োজন, আর অতি প্রয়োজনের সাথে কোনো হারাম নেই।

কিন্তু যদি তার পক্ষে কোনো মাকরূহ বা মুবাহ জিনিসের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হয়, যেমন সে এমন কাউকে পেল যে তাকে টাকা ধার দেবে যা দিয়ে সে খাবার কিনতে পারবে এবং খাবার বিদ্যমান রয়েছে, অথবা কাউকে পেল যে তাকে খাবার ধার দেবে, তবে আমরা বলব: যতক্ষণ পর্যন্ত সে হালাল-মুবাহ বা মাকরূহ জিনিসের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম, ততক্ষণ তার জন্য হারাম খাওয়া বৈধ নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌قاعدة الضرورة تقدر بقدرها

قال المصنف رحمه الله: [وكل محظور مع الضرورة بقدر ما تحتاجه الضرورة] الضرورة تقدر بقدرها؛ فليس له أن يزيد على قدر ما يدفع به ضرورته، فإذا أكل الميتة فليس له أن يأكل حتى يشبع، بل يأكل بقدر ما يحصل به قيام بدنه من غير شبع، ولذا قال الله جل وعلا: {فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ} [البقرة:173]، والباغي هو الذي يريد أكل الميتة مع أنه يمكنه أن يستغني عنها بغيرها، والعادي هو الذي يأكل ما يزيد على دفع ضرورته.

إذاً: يأكل بقدر ما يدفع ضرورته؛ لكن إذا قال: إني يغلب على ظني أني لا أجد شيئاً أمامي وأنا أريد أن أمشي في الصحراء، فله أن يأكل حتى الشبع، أو أن يحمل منها، وذلك لأنه إذا منع فقد لا يجد في طريقه شيئاً فيهلك.

إذاً: ليس له أن يأكل حتى الشبع إلا إذا كان يقول: أنا لا أدري هل أجد شيئاً أم لا، أما إذا كان يغلب على ظنه أنه يجد أو يتيقن أنه يجد الطعام عند حاجته بعد ذلك فليس له أن يأكل فوق حاجته.

وكما أن الضرورة تقدر بقدرها فالحاجة أيضاً تقدر بقدرها، فالطبيب إذا أراد أن يكشف موضعاً من بدن المرأة يحتاج إلى علاج فإنه يقدر هذا بقدره ولا يزيد، فإذا كان الداء بوجهها فليس له أن يكشف شعرها بل يكتفي بكشف الوجه، وكذلك الشاهد ينظر من المرأة ما يحتاج إليه فقط ولا يزيد.
প্রয়োজন তার পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি নিষিদ্ধ বিষয় কেবল ততটুকুই গ্রহণ করা যাবে যতটুকু প্রয়োজন মেটাতে লাগে] প্রয়োজন তার পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; সুতরাং নিজের বিপদ কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করার অধিকার কারোর নেই। যদি কেউ মৃত প্রাণী আহার করে, তবে তার পেট ভরে খাওয়ার সুযোগ নেই; বরং পেট না ভরে কেবল শরীর টিকিয়ে রাখা যায় এমন পরিমাণ আহার করবে। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু অবাধ্যতা বা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়} [আল-বাকারা: ১৭৩]। আর 'বাগি' (অবাধ্য) হলো সেই ব্যক্তি যে মৃত প্রাণী খেতে চায় অথচ তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে প্রয়োজন মেটানো তার পক্ষে সম্ভব। আর 'আদি' (সীমালঙ্ঘনকারী) হলো সেই ব্যক্তি যে প্রয়োজন মেটানোর অতিরিক্ত আহার করে।

সুতরাং: সে কেবল ততটুকুই আহার করবে যা দিয়ে তার বিপদ দূর হয়; কিন্তু যদি সে বলে: "আমার প্রবল ধারণা যে সামনে আমি আর কিছু পাব না এবং আমি মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলতে চাই", তবে তার পেট ভরে খাওয়া অথবা সাথে নিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে। আর তা এ কারণে যে, তাকে যদি বাধা দেওয়া হয় তবে পথে সে আর কিছু না-ও পেতে পারে এবং এতে সে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

অতএব: তার পেট ভরে খাওয়ার অধিকার নেই যতক্ষণ না সে বলে: "আমি জানি না সামনে কিছু পাব কি না"। তবে যদি তার প্রবল ধারণা থাকে যে সে খাবার পাবে অথবা সে নিশ্চিত হয় যে পরে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার পাবে, তবে তার জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার সুযোগ নেই।

যেমনভাবে জরুরি প্রয়োজন তার পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, তেমনি সাধারণ প্রয়োজনও তার পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অতএব একজন চিকিৎসক যখন কোনো নারীর শরীরের এমন কোনো স্থান দেখতে চান যার চিকিৎসা প্রয়োজন, তখন তিনি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণই দেখবেন এবং তার বেশি নয়। যদি রোগ তার চেহারায় হয় তবে তার চুল উন্মুক্ত করার অধিকার চিকিৎসকের নেই, বরং কেবল মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করাই যথেষ্ট। একইভাবে একজন সাক্ষী কোনো নারীর কেবল ততটুকুই দেখবে যতটুকু তার প্রয়োজন এবং তার বেশি নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي - حمد الحمد   (حمد الحمد)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: شرح منظومة القواعد الفقهية للسعدي

المؤلف: حمد بن عبد الله بن عبد العزيز الحمد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

সাদী-এর ফিকহী মূলনীতির পদ্যের ব্যাখ্যা - হামাদ আল-হামাদ   (হামাদ আল-হামাদ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


বই: সাদী-এর ফিকহী মূলনীতির পদ্যের ব্যাখ্যা

লেখক: হামাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-হামাদ

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠ যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখককৃত

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৪টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শা'বান ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ৩) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌فقه القواعد الفقهية [3]
ফিকহি মূলনীতিসমূহের ফিকহ [৩]
(খণ্ড: ৩) শারহু মানযুমাতিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী - হামাদ আল-হামাদ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌قاعدة اليقين لا يزول بالشك

قال المصنف رحمه الله: [وترجع الأحكام لليقين فلا يزيل الشك لليقين] هذه أيضاً قاعدة من القواعد الفقهية الكبرى، وهي: اليقين لا يزول بالشك: ومرادهم بهذه القاعدة أن الشيء المتيقن والشيء يغلب على الظن وجوده لا يزول بالشك.

فاليقين عند الفقهاء يدخل فيه الشيء المتيقن المجزوم به، ويدخل في ذلك أيضاً غالب الظن، فإذا كان عندك تردد بين أمرين لا تدري أيهما الصواب، فنقول: ارجع إلى اليقين أو غلبة الظن.

ويدل على ذلك ما جاء في الصحيحين من حديث عبد الله بن زيد: (أن النبي عليه الصلاة والسلام سئل عن الرجل يجد الشيء في الصلاة، فقال: لا ينصرف حتى يسمع صوتاً أو يجد ريحاً).

فإذا كنت متيقناً أنك على وضوء وعندك شك هل حصل ناقض لهذا الوضوء أم لا، فأنت -مثلاً- متيقن أنك توضأت لصلاة المغرب، فلما حضرت صلاة العشاء صرت لا تدري هل انتقض الوضوء أم لا؟ فنقول: المتيقن هو الوضوء والناقض مشكوك فيه، وعلى ذلك فنأخذ بالمتيقن وهو الوضوء فنقول: أنت على وضوء، واليقين لا يزول بالشك.

وإذا كان الأمر بالعكس، كأن تيقنت الناقض وشككت في الوضوء بعده؛ فمثلاً تقول: إنك قد قضيت حاجتك بعد صلاة المغرب وتقول: أنا لا أدري هل توضأت بعد أن قضيت حاجتي أم لا؟ فنقول: هنا المتيقن هو الحدث والوضوء مشكوك فيه، وعلى ذلك فخذ بالمتيقن وهو عدم الوضوء، فاليقين لا يزول بالشك.

إذا كنت لا تدري في صلاتك هل صليت ثلاثاً أم أربعاً، فالمتيقن هو الأقل، فتصلي رابعة وتسجد للسهو قبل السلام.

وإذا كنت في الطواف فحصل عندك شك هل طفت ستاً أم سبعاً، فنقول: الأقل هو المتيقن، فأنت في حكم من طاف ستة أشواط وعليك أن تطوف الشوط السابع.

كذلك إذا شك هل طلق امرأته أم لا؟ فنقول: الأصل بقاء النكاح لأنه المتيقن.

وإذا شك كذلك هل طلق امرأته طلقة أو طلقتين فنقول: المتيقن هو طلاق مرة، وأما القدر الزائد فهو مشكوك فيه.

وهكذا، فاليقين لا يزول بالشك.
নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না—এই মূলনীতি

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [বিধানসমূহ নিশ্চয়তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, সুতরাং সন্দেহ নিশ্চয়তাকে দূরীভূত করে না]। এটিও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান একটি মূলনীতি, আর তা হলো: ‘নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না’। এই মূলনীতির দ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য হলো: সুনিশ্চিত বিষয় এবং যেটির অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রবল ধারণা জন্মে, তা সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না।

ফকীহগণের নিকট ‘নিশ্চয়তা’ বা ইয়াকীনের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন বিষয় যা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, এবং এর মধ্যে প্রবল ধারণাও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যখন আপনার নিকট দুটি বিষয়ের মধ্যে দোদুল্যমানতা তৈরি হয় এবং আপনি জানেন না কোনটি সঠিক, তখন আমরা বলি: আপনি নিশ্চয়তা অথবা প্রবল ধারণার দিকে ফিরে যান।

এর সপক্ষে দলিল হলো সহীহাইন-এ বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ-এর হাদিস: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে নামাযের মধ্যে কোনো কিছু অনুভব করে। তখন তিনি বললেন: সে যেন নামায ত্যাগ না করে যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা দুর্গন্ধ পায়)।

সুতরাং আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনি ওযুর অবস্থায় আছেন এবং ওযু ভেঙেছে কি না সে বিষয়ে আপনার মনে সন্দেহ জাগে—যেমন ধরুন আপনি নিশ্চিত যে আপনি মাগরিবের নামাযের জন্য ওযু করেছেন, কিন্তু যখন এশার নামাযের সময় হলো তখন আপনি বুঝতে পারছেন না যে ওযু কি ভেঙেছে নাকি ভাঙেনি? এমতাবস্থায় আমরা বলব: নিশ্চিত বিষয়টি হলো ওযু থাকা, আর ওযু ভেঙে যাওয়াটি সন্দেহযুক্ত। সুতরাং আমরা নিশ্চিত বিষয়টিকেই গ্রহণ করব—যা হলো ওযু। আমরা বলব: আপনি ওযুর অবস্থাতেই আছেন, কারণ নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।

আর যদি বিষয়টি এর উল্টো হয়, অর্থাৎ আপনি ওযু ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত কিন্তু এরপর ওযু করেছেন কি না সে বিষয়ে আপনার সন্দেহ হয়; উদাহরণস্বরূপ আপনি নিশ্চিত যে মাগরিবের নামাযের পর আপনি শৌচকার্য সম্পাদন করেছেন, কিন্তু এরপর ওযু করেছেন কি না তা আপনি জানেন না। এমতাবস্থায় আমরা বলব: এখানে নিশ্চিত বিষয়টি হলো অপবিত্রতা, আর ওযু করাটি সন্দেহযুক্ত। অতএব নিশ্চিত বিষয়টিকেই গ্রহণ করুন, আর তা হলো ওযু না থাকা। কারণ নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।

আপনি যদি নামাযের মধ্যে না জানেন যে তিন রাকাত পড়েছেন নাকি চার রাকাত, তবে কম সংখ্যাটিই হলো নিশ্চিত। সুতরাং আপনি চতুর্থ রাকাত পূর্ণ করবেন এবং সালামের আগে সাহু সিজদাহ প্রদান করবেন।

আর যদি তাওয়াফের সময় আপনার মনে সন্দেহ জাগে যে আপনি ছয় চক্কর দিয়েছেন নাকি সাত চক্কর, তবে আমরা বলব: কম সংখ্যাটিই নিশ্চিত। এমতাবস্থায় আপনার বিধান সেই ব্যক্তির ন্যায় যে ছয় চক্কর দিয়েছে, আর আপনাকে সপ্তম চক্করটি সম্পন্ন করতে হবে।

অনুরূপভাবে, কেউ যদি সন্দেহ করে যে সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে কি না, তবে আমরা বলব: মূল বিধান হলো বিবাহ বহাল থাকা, কারণ এটিই সুনিশ্চিত।

আবার যদি সে সন্দেহ করে যে সে তার স্ত্রীকে এক তালাক দিয়েছে নাকি দুই তালাক, তবে আমরা বলব: নিশ্চিত বিষয়টি হলো এক তালাক, আর অতিরিক্ত পরিমাণটি সন্দেহযুক্ত।

এভাবেই, নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।