(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح الواسطية - يوسف الغفيص   (يوسف الغفيص)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الواسطية

المؤلف: يوسف بن محمد علي الغفيص

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 24 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

শরহে ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গুফাইস   (ইউসুফ আল-গুফাইস)

বিভাগ: আক্বীদা


গ্রন্থ: শরহে ওয়াসিতিয়্যাহ

লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আলী আল-গুফাইস

গ্রন্থের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ২৪টি দরস]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ই শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [1]

أول من اشتغل بتقسيم الدين إلى أصول وفروع، وإلى حقيقة ومجاز هم أئمة النظر من المتكلمين ومن اشتغل بشأنهم من الفقهاء ممن كتبوا في أصول الفقه. أما منهج أهل السنة والجماعة في ذلك فهو قبول هذه التقسيمات والحدود باعتبار الاصطلاح اللفظي مع اشتراط أن تنزل هذه الاصطلاحات على معان مناسبة.
‌আকিদাহ ওয়াসিতিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা [১]

দ্বীনকে মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা এবং প্রকৃত ও রূপক অর্থে বিভক্ত করার কাজে সর্বপ্রথম যারা প্রবৃত্ত হয়েছেন, তারা হলেন ইলমুল কালামের তাত্ত্বিক ইমামগণ এবং তাদের অনুসারী সেইসব ফকিহগণ যারা উসুলে ফিকহ বা মূলনীতি শাস্ত্র রচনা করেছেন। আর এই ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পদ্ধতি হলো শব্দগত পরিভাষার দিক থেকে এই বিভাজন ও সীমারেখাগুলোকে মেনে নেওয়া, তবে শর্ত হলো এই পরিভাষাগুলোকে সঠিক ও উপযুক্ত অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مقدمة شرح العقيدة الواسطية

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فنسأل الله سبحانه وتعالى بأسمائه وصفاته، وندعوه ونتوسل إليه بأنه الأحد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفواً أحد.

اللهم لك الحمد ملء السماوات وملء الأرض، وملء ما بينهما، وملء ما شئت من شيء بعد، أهل الثناء والمجد، أحق ما قال العبد، وكلنا لك عبد.

اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد.

اللهم لك الحمد أنت رب السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت قيوم السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت ملك السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت الحق، ووعدك حق، ولقاؤك حق، والجنة حق، والنار حق، والنبيون حق، ومحمد صلى الله عليه وآله وسلم حق.

اللهم لك أسلمنا وبك آمنا، وعليك توكلنا وإليك أنبنا، وبك خاصمنا وإليك حاكمنا، اللهم فاغفر لنا ما قدمنا وما أخرنا، وما أسررنا وما أعلنا، وما أنت أعلم به منا، أنت المقدم وأنت المؤخر، اللهم يا حي يا قيوم، يا ذا الجلال والإكرام.

اللهم الطف بعبادك المسلمين في قضائك وقدرك، اللهم اكف الإسلام والمسلمين شر أعدائهم، اللهم اجعل الدائرة عليهم، اللهم شتت شملهم، وأذهب أمرهم.

اللهم يا ذا الجلال والإكرام، يا قوي يا عزيز، اللهم شتت شملهم وأذهب أمرهم، واجعل الدائرة عليهم، واحفظ بلاد المسلمين وثغورهم وأعراضهم ودينهم من شر عدوك وعدوهم يا قوي يا عزيز.

ثم أما بعد:

فإن دراسة العلم الذي بعث به محمد عليه الصلاة والسلام هو قربة لله سبحانه وتعالى، وهو تعظيم لله عز وجل ونصر له؛ فإن الله يقول: {إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ} [محمد:7] ومن نصره سبحانه وتعالى العلم بما بعث به نبيه عليه الصلاة والسلام، وأشرفه العلم بمسائل أصول الدين التي بعث بها سائر الأنبياء والمرسلين، وبعث بها كذلك خاتمهم محمد عليه الصلاة والسلام، فإنه لم يختلف عن إخوانه من الأنبياء والمرسلين في تقريرها، لكنه زادها بياناً، ووضوحاً، وزادها هدىً وقرباً إلى المسلمين، وصارت رسالته عليه الصلاة والسلام محفوظة بحفظ الله لكتابه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9].

ومن شريف وفاضل كتب السنة والجماعة المصنفة في الاعتقاد الرسالة الواسطية لـ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، والتي كتبها الشيخ رحمه الله إلى بعض علماء واسط، حيث ذكر أنه طلب منه أن يكتب له شيئاً في معتقد أهل السنة والجماعة وفي أصولهم، فكتب هذه الرسالة.
‌‌শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে এই অসিলা পেশ করছি যে, তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।

হে আল্লাহ! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা—আকাশমণ্ডলী পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে, উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করে। আপনিই প্রশংসা ও গৌরবের উপযুক্ত। বান্দা যা বলে তার মধ্যে সবচেয়ে সত্য কথা হলো এটি—আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা।

হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা প্রতিহত করেন তা দেওয়ার কেউ নেই। কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে না।

হে আল্লাহ! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর রব। আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর ধারক। আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক। আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আপনি সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য এবং মুহাম্মদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সত্য।

হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমরা আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই রুজু করেছি, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি এবং আপনার কাছেই বিচার পেশ করেছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য এবং যা আপনি আমাদের চেয়েও ভালো জানেন, সেসব গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পশ্চাৎগামী করেন। হে আল্লাহ! হে চিরঞ্জীব, হে মহাধারক, হে মহিমাময় ও মহানুভব।

হে আল্লাহ! আপনার ফয়সালা ও তকদিরে আপনার মুসলিম বান্দাদের প্রতি সদয় হোন। হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তাদের শত্রুদের অনিষ্টতা থেকে আপনিই যথেষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ! মুসিবতকে তাদের দিকেই ঘুরিয়ে দিন। হে আল্লাহ! তাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করে দিন এবং তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিন।

হে আল্লাহ! হে মহিমাময় ও মহানুভব, হে শক্তিশালী, হে পরাক্রমশালী। হে আল্লাহ! তাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করে দিন এবং তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিন, মুসিবতকে তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিন এবং মুসলিমদের দেশসমূহ, সীমান্তসমূহ, সম্মান ও দ্বীনকে আপনার ও তাদের শত্রুদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন, হে শক্তিশালী, হে পরাক্রমশালী।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) যে ইলম নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা চর্চা করা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং আল্লাহ তাআলার সম্মান প্রদর্শন ও তাঁর দ্বীনের সাহায্যের নামান্তর। কেননা আল্লাহ বলেন: "যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন" [মুহাম্মদ: ৭]। আর মহান আল্লাহর সাহায্যের অন্যতম উপায় হলো তাঁর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন সেই ইলম অর্জন করা। আর এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইলম হলো দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির (উসুলুদ দ্বীন) জ্ঞান, যা নিয়ে সমস্ত নবী ও রাসূল প্রেরিত হয়েছিলেন এবং যা নিয়ে তাঁদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদও (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রেরিত হয়েছেন। আকিদাগত বিষয়গুলো বর্ণনায় তিনি তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রাসূল ভাইদের থেকে ভিন্ন ছিলেন না, বরং তিনি সেগুলো আরও স্পষ্টভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়েত ও নৈকট্যের পথ হিসেবে অধিকতর সহজবোধ্য করেছেন। তাঁর প্রেরিত রিসালাত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কিতাব সংরক্ষণের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক" [আল-হিজর: ৯]।

আকিদাহ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের রচিত শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-এর 'আর-রিসালাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ'। শাইখ এটি ওয়াসিত শহরের কিছু আলেমের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কাছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ ও উসুল সম্পর্কে কিছু লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, তাই তিনি এই রিসালাহটি রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌خصائص الرسالة الواسطية

إن الحديث عن هذه الرسالة وعظمها وفائدتها يطول، لكن أحب أن أشير إلى ثلاث خصائص فيها:

الخاصية الأولى: أنها رسالة جامعة؛ فإن ثمة رسائل في أصول الاعتقاد للشيخ -أي: لـ شيخ الإسلام - وغيره ممن قبله أو بعده من علماء السنة والجماعة لكن كثيراً من هذه الرسائل مختصة بباب من أبواب أصول الدين، كالرسالة الحموية لـ شيخ الإسلام نفسه، فإنها مختصة بمسائل الأسماء والصفات، وكبعض الرسائل المصنفة في القدر أو مسمى الإيمان أو غير ذلك من مسائل الاعتقاد.

أما هذه الرسالة فهي رسالة جامعة، ذكر فيها المصنف جمهور مسائل أصول الدين، ولا سيما المسائل التي حدث فيها نزاع بين أهل القبلة، وإن كان رحمه الله فصَّل في باب الأسماء والصفات تفصيلاً لم يفعل مثله في غيره من الأبواب، وذلك لعظم شأن هذا الباب ولكثرة الاختلاف فيه؛ ولأن الاختلاف فيه هو أخص مسائل الخلاف بين أهل القبلة، فإن سائر الأغلاط التي وقعت عند الطوائف في مسائل أصول الدين لا يقع لها من الشأن والتغليظ ما وقع لأقوال المخالفين في مسائل الإلهيات -مسائل الأسماء والصفات-.

الخاصية الثانية: أنها رسالة متأخرة في الجملة، فهي ليست من الرسائل المكتوبة زمن الأئمة المتقدمين، مع أن القراءة في كتب المتقدمين لها اختصاص من وجهٍ آخر ولها فضل السبق، لكن هذه الرسالة كتبها إمام متأخر في الجملة، أي: أنها كتبت بعد استقرار مقالات الطوائف في عقائد المسلمين، ومسائل أصول الدين؛ فإن المقولات المأثورة عن سلف الأمة من المتقدمين لم يقع فيها ذكر لمخالفة متكلمة الصفاتية من الكلابية والماتريدية والأشعرية وغيرهم؛ فجاءت هذه الرسالة منبهةً إلى تميز مذهب السلف، ليس فقط عن المذاهب التي عرف عن المتقدمين أنها مخالفة للسنة والجماعة كالجهمية والمعتزلة والقدرية وغيرها، والتي انضبطت مخالفتها، بل جاءت كذلك مميزة له عن كثير من الأقوال والمذاهب التي انتسب أصحابها إلى السنة والجماعة؛ فإن جمهور متكلمة الصفاتية من المنحرفين عن هدي السلف ينتسبون إلى السنة والجماعة، فجاءت هذه الرسالة مبينةً لهذا الوجه الذي وقع من جهته معظم الانحراف الذي دخل على أصحاب الأئمة الأربعة.

فإنك إذا نظرت إلى أتباع الأئمة الأربعة من المتأخرين، رأيت جمهور هؤلاء معرضين إعراضاً بيناً عن مقالات البدع المغلظة التي تحدث فيها أئمة السلف رحمهم الله كبدع الجهمية المحضة، أو بدع المعتزلة المحضة، أو بدع القدرية المحضة.

مع أنه قد دخلت عليهم مقالات متكلمة الصفاتية في مسائل أصول الدين.

وهذا الدخول إما أن يكون اتباعاً محضاً لهذه المذاهب، وهذه طريقة متكلمة الفقهاء من الأحناف والشافعية والمالكية، وإما أن يكون تأثراً عاماً، وهذه طريقة مقتصديهم ممن تأثر بهذه المذاهب المخالفة للسنة والجماعة.

الخاصية الثالثة: أن مصنفها رحمه الله كتبها بلسان الشريعة، أي: تقصد في مسائلها وحروفها ألفاظ الشريعة ومسائلها؛ وقد بين رحمه الله ذلك في رسالته، وهذا المنهج بيِّنٌ من خلال قراءة هذه الرسالة.

وهذه الرسالة يمكن القول فيها: إنها شرحٌ للإيمان الذي ذكره النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل المتفق عليه، فإن المصنف لما ذكر مقدمته قال: أما بعد ..

فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة، قال: وهو الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره.

وهذا الأصل الجامع للإيمان هو الذي ذكره الرسول عليه الصلاة والسلام في حديث جبريل، وهو مجمل ما ذكره الله سبحانه وتعالى في خواتيم سورة البقرة.

فجاء المصنف شارحاً لهذه الأحرف الشرعية، وقصد في شرحها أيضاً الأحرف الشرعية، فالرسالة بعيدة عن اللغة الكلامية أو المنطقية، كما أنها بعيدة أيضاً عن لغة الرد، فإن معظم هذه الرسالة بلغة التقرير لمعتقد أهل السنة والجماعة.

ولا شك أن ثمة فرقاً بين لغة الرد وبين لغة التقرير لمسائل الاعتقاد.

وهنا أنبه إلى أنه قد يقع لبعض من يقرر في مسائل أصول الدين، أو يتحدث عن ذلك في كتاب أو درس، أو من يشتغل من طلبة العلم بدراسة معتقد أهل السنة والجماعة؛ أنه يقع لبعض هؤلاء بعض القصور في إدراك مسائل الاعتقاد، وذلك أن بعضهم يتناول المسائل على لغة الرد، والأصل أن المعتقد يؤخذ تقريراً، أي: يؤخذ جملاً من كلام الله سبحانه وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وإجماع السلف، وأما الرد فإنه لا يتناهى؛ فإن البدع والاختلاف والمعارضة والخروج عن أصول السنة والجماعة لا يمكن أن يتناهى بزمنٍ أو بجملٍ معينة.

فهذه الرسالة هي رسالةٌ مقررة لمعتقد أهل السنة والجماعة، وأما الرد فإنه درجة ثانية يشتغل به فيما بعد.

لذلك لم يذكر المصنف أسماء الطوائف إلا على قدر الحاجة؛ وذلك حين يقصد تمييز مقولة أهل السنة والجماعة عن غيرهم.

وقد قصد المصنف بكتابة هذه الرسالة بلسان الشريعة أن تكون مقربةً للنفوس، فإن في زمنه رحمه الله شاع مذهب متكلمة الصفاتية، لكنه مع هذا لم يذكر مذهب الأشعرية بالتصريح، وإنما أبان أن طريقة السلف تختلف عن طريقة هؤلاء المتأخرين، فهو يشير إليهم ببعض الأسماء المجملة التي ليس فيها تخصيص لهم، وقصده من هذا رحمه الله: أن تكون رسالته جامعة لهم على قول الله سبحانه وتعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، والإجماع الذي يصرح المحققون من الأشاعرة بأنهم يقصدون إليه.
রিসালাতুল ওয়াসিতিয়্যাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই রিসালাহ (পুস্তিকা), এর মাহাত্ম্য এবং এর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ হবে, তবে আমি এতে বিদ্যমান তিনটি বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করতে চাই:

প্রথম বৈশিষ্ট্য: এটি একটি ব্যাপকধর্মী পুস্তিকা; কেননা শাইখ (অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম) এবং তাঁর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমদের আকিদার মূলনীতি বিষয়ে অনেক রিসালাহ রয়েছে, তবে এগুলোর মধ্যে অনেক রিসালাহ দ্বীনের মূলনীতির কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লিখিত। যেমন শাইখুল ইসলামের নিজের লেখা 'রিসালাতুল হামাউইয়্যাহ', যা কেবল আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (আসমা ওয়াস সিফাত) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট। আবার কোনোটি তাকদির (ভাগ্য) বা ঈমানের সংজ্ঞা অথবা আকিদার অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লিখিত।

পক্ষান্তরে এই রিসালাহটি একটি ব্যাপকধর্মী গ্রন্থ, যাতে লেখক দ্বীনের মূলনীতির অধিকাংশ মাসআলা উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে কিবলাধারী মুসলিমদের মধ্যে যে বিষয়গুলোতে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে যতটা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, অন্য কোনো অধ্যায়ে তেমনটি করেননি। এর কারণ হলো এই অধ্যায়ের গুরুত্ব এবং এতে মতভেদের আধিক্য; আর একারণে যে, এতে বিদ্যমান বিরোধ হলো আহলে কিবলার মধ্যাকার সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট মতভেদ। কারণ দ্বীনের মূলনীতির মাসআলাগুলোতে বিভিন্ন ফিরকা যেসব ভুল করেছে, সেগুলোর গুরুত্ব ও ভয়াবহতা ইলাহিয়াত বা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাসআলায় বিরোধীদের বক্তব্যের মতো নয়।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি সামগ্রিকভাবে পরবর্তী যুগের একটি রিসালাহ। এটি পূর্ববর্তী ইমামদের যুগে লিখিত রিসালাহগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও পূর্ববর্তী ইমামদের কিতাবসমূহ পাঠ করার একটি ভিন্ন গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তবে এই রিসালাহটি সামগ্রিকভাবে একজন পরবর্তী যুগের ইমাম লিখেছেন। অর্থাৎ, এটি মুসলিমদের আকিদা ও দ্বীনের মূলনীতির মাসআলাগুলোতে বিভিন্ন ফিরকার মতামতগুলো স্থির হওয়ার পর লেখা হয়েছে। কারণ উম্মাহর পূর্ববর্তী সালাফদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যগুলোতে আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকারী মুতাকাল্লিমিন যেমন কুল্লাবিয়া, মাতুরিদিয়া ও আশআরিয়া এবং অন্যদের বিরোধিতার কথা উল্লেখ ছিল না। তাই এই রিসালাহটি সালাফদের মানহাজের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরার জন্য এসেছে; কেবল জহমিয়া, মুতাজিলা, কদরিয়া ও অন্যান্য ফিরকা—যাদের সুন্নাহ ও জামাআতের বিরোধিতার বিষয়টি পূর্ববর্তীদের কাছে পরিচিত ও সুনির্ধারিত ছিল—তাদের থেকেই নয়, বরং এটি এমন অনেক মতবাদ থেকেও একে স্বতন্ত্র করেছে যারা নিজেদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দিকে সম্পৃক্ত করে। কারণ আল্লাহর গুণাবলির বিষয়ে কালাম শাস্ত্রবিদদের অধিকাংশ যারা সালাফদের হেদায়াত থেকে বিচ্যুত, তারা নিজেদের আহলুস সুন্নাহর দিকেই সম্পৃক্ত করে থাকে। ফলে এই রিসালাহটি এমন সব দিক বর্ণনা করেছে যেখান দিয়ে চার ইমামের অনুসারীদের মধ্যে অধিকাংশ বিচ্যুতি প্রবেশ করেছিল।

আপনি যদি চার ইমামের পরবর্তী অনুসারীদের দিকে তাকান, তবে দেখবেন যে তাদের অধিকাংশ ওইসব ভয়াবহ বিদআতি বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে বিমুখ যেগুলোর ব্যাপারে সালাফী ইমামগণ (রাহিমাহুল্লাহ) আলোচনা করেছেন, যেমন খাঁটি জহমিয়াদের বিদআত, বা খাঁটি মুতাজিলাদের বিদআত কিংবা খাঁটি কদরিয়াদের বিদআত।

কিন্তু তবুও তাদের মধ্যে দ্বীনের মূলনীতির বিষয়ে আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্যসমূহ প্রবেশ করেছে।

আর এই প্রবেশ হয় এই মাযহাবগুলোর নিছক অন্ধ অনুসরণের কারণে ঘটেছে—যা হানাফী, শাফেয়ী ও মালেকী ফুকাহাদের মধ্যে যারা কালাম শাস্ত্রবিদ তাদের পথ—অথবা এটি একটি সাধারণ প্রভাবের কারণে হয়েছে, যা তাদের মধ্যপন্থী লোকেদের পথ যারা সুন্নাহ ও জামাআতের বিরোধী এই মাযহাবগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এটি শরীয়তের ভাষায় লিখেছেন, অর্থাৎ তিনি এর মাসআলা ও শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে শরীয়তের পরিভাষা ও মাসআলাগুলোর অনুসরণ করেছেন। তিনি তাঁর রিসালাহতে এটি স্পষ্ট করেছেন এবং রিসালাহটি পড়ার মাধ্যমেই এই পদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই রিসালাহ সম্পর্কে এটি বলা সম্ভব যে: এটি সেই ঈমানের ব্যাখ্যা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিমের) হাদিসে জিবরীলে উল্লেখ করেছেন। কারণ লেখক যখন এর ভূমিকা উল্লেখ করেন তখন তিনি বলেন: 'আম্মা বাদ (অতঃপর)...'

এটি কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা। তিনি বলেন: আর তা হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা।

ঈমানের এই ব্যাপক মূলনীতিটিই রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হাদিসে জিবরীলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা বাকারার শেষাংশে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং লেখক এই শরয়ী বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা হিসেবে এটি নিয়ে এসেছেন এবং এর ব্যাখ্যায় তিনি শরয়ী পরিভাষাই ব্যবহার করার সংকল্প করেছেন। তাই এই রিসালাহটি কালাম শাস্ত্রীয় বা যুক্তিনির্ভর ভাষা থেকে মুক্ত। তেমনি এটি খণ্ডনমূলক ভাষা থেকেও মুক্ত; কেননা এই রিসালাহর অধিকাংশ অংশই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার সাব্যস্তকরণ বা বর্ণনামূলক ভাষায় রচিত।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, খণ্ডনমূলক ভাষা এবং আকিদার মাসআলা বর্ণনামূলক বা সাব্যস্তকরণমূলক ভাষার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এখানে আমি একটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, যারা দ্বীনের মূলনীতির মাসআলা বর্ণনা করেন, বা কোনো কিতাব বা দরসে তা নিয়ে আলোচনা করেন, অথবা যারা ইলম অন্বেষী ছাত্র আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অধ্যয়নে নিয়োজিত; তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে আকিদার মাসআলা অনুধাবনে কিছুটা অপূর্ণতা দেখা দিতে পারে। তার কারণ হলো, তাদের কেউ কেউ মাসআলাগুলোকে খণ্ডনমূলক ভাষায় গ্রহণ করেন। অথচ মূল নিয়ম হলো আকিদাকে সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করা, অর্থাৎ মহান আল্লাহর কালাম, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী এবং সালাফদের ইজমার নির্যাস থেকে আকিদা গ্রহণ করা। আর খণ্ডনের বিষয়টি তো শেষ হওয়ার নয়; কারণ বিদআত, মতভেদ, বিরোধিতা এবং সুন্নাহ ও জামাআতের মূলনীতি থেকে বিচ্যুতি কোনো নির্দিষ্ট সময় বা নির্দিষ্ট কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।

সুতরাং এই রিসালাহটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সাব্যস্তকারী একটি রিসালাহ; আর খণ্ডন বা প্রতিবাদ হলো দ্বিতীয় ধাপের কাজ যা পরে করা হয়।

একারণেই লেখক বিভিন্ন ফিরকার নাম কেবল প্রয়োজন অনুসারেই উল্লেখ করেছেন; আর তা হলো যখন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্যকে অন্যদের থেকে পৃথক করার উদ্দেশ্য থাকে।

লেখক এই রিসালাহটি শরীয়তের ভাষায় লেখার মাধ্যমে এটিই চেয়েছিলেন যেন তা হৃদয়ের নিকটবর্তী হয়। কারণ তাঁর যুগে আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত কালাম শাস্ত্রবিদদের মাযহাব ছড়িয়ে পড়েছিল, তবুও তিনি আশআরিয়া মাযহাবের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এটি স্পষ্ট করেছেন যে, সালাফদের পথ এই পরবর্তী যুগের লোকদের পথ থেকে ভিন্ন। তিনি তাদের দিকে কিছু ব্যাপক নামের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যাতে তাদের সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এর মাধ্যমে তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) উদ্দেশ্য ছিল: তাঁর এই রিসালাহ যেন তাদেরকে মহান আল্লাহর বাণী, রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ এবং সেই ইজমার ওপর ঐক্যবদ্ধ করে যার সংকল্প আশআরিয়াদের গবেষক আলেমরাও করে থাকেন বলে দাবি করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌شرح مقدمة الواسطية

قال المصنف رحمه الله: [الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إقراراً به وتوحيداً، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً مزيداً، أما بعد].

هذه المقدمة يقع في كتب شروح الواسطية -بل ويقع في كتب الشروح بعامة- تعليق على جمل فيها من جهة اللغة؛ كالباء في قوله: بسم الله الرحمن الرحيم، وتعلق الجار بالمجرور وما إلى ذلك، ثم تفسير الحمد، قالوا: ويكون باللسان وبالقلب وبالجوارح

وما إلى ذلك؛ ولهذا أرى أن التعليق على هذه المعاني من الأشياء المتداولة المكررة، ولكن أحب أن أنبه أن هذا النظم الذي يقدم به الأئمة في كتبهم أشرفه ما ذكره الرسول صلى الله عليه وسلم في خطبه، وهو قوله: إن الحمد لله، نحمده ونستعينه

إلخ، هو من النظم الشرعي الذي قد يقع به هداية أقوام من الكفر إلى الهداية؛ فإن ضماداً -والحديث رواه ابن عباس، كما في الصحيح- قدم مكة وكان من أزد شنوءة، فسمع سفهاء من أهل مكة يقولون: إن محمداً مجنون.

فقال: لو أني رأيت هذا الرجل لعل الله يشفيه على يدي، قال: فلقيه، فقال: يا محمد إني سمعت ما يقول الناس، وإني أرقي من هذه الريح فهل لك؟ -أي: فهل لك أن أرقيك أو أداويك- فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إن الحمد لله نحمده ونستعينه ..

وذكر عليه الصلاة والسلام بين يدي حديثه هذه الخطبة، فلما قال: أما بعد، قال له ضماد: أعد عليَّ كلماتك هؤلاء، فأعادها النبي صلى الله عليه وسلم مرتين، فقال له ضماد: يا محمد! لقد سمعت قول الكهنة وقول السحرة وقول الشعراء، فما سمعت مثل كلماتك هؤلاء، ولقد بلغن ناعوس البحر، هات يدك أبايعك على الإسلام!

فهذه الأحرف الشرعية المأخوذة إما اقتباساً وإما نقلاً من كلام الله سبحانه ورسوله صلى الله عليه وسلم لها شأن باعتبار نظمها؛ فإنها جمل شرعية جامعة لمسائل التوحيد ومسائل الحق ونحو ذلك، ولهذا كان صلى الله عليه وسلم يستفتح بها.

ويقع في كتب الشروح -ولا سيما المتأخرة- أنهم يعلقون كثيراً على مسألة الابتداء بـ (بسم الله الرحمن الرحيم)؛ فمنهم من يقول: إن هذا اتباع لحديث: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر) ثم يأتي التعقيب بأن هذا حديث لا يثبت، ثم يأتي الالتماس بأوجه.

وهذا فيما أحسب من غريب الحال، فإن هذه المسألة ينبغي أن تتجاوز، فإن البداءة بـ (بسم الله الرحمن الرحيم) بداءة مناسبة، بل كأنها بداءة فطرية؛ فإن القرآن بدأ بـ (بسم الله الرحمن الرحيم)، بل حتى العرب في جاهليتها كانت تبدأ كتبها ومراسلاتها باسم الله، وإن كانت لا تنطق بهذا التصريح الشرعي.

فمثل هذه التعليقات -فيما أرى- لا ينبغي لطالب العلم كثرة الاشتغال بها وكأنها من التحقيق؛ بل ينبغي في مثل هذه المسائل البينة الواضحة تجاوز النظر فيها إلى المسائل التي لها الأهمية والأولوية لينصرف إليها التأمل والبحث والنظر.

قول المصنف: (فهذا اعتقاد) هذه اللفظة -اعتقاد- ليست مستعملة في الأحرف الشرعية النبوية فضلاً عن أحرف القرآن، ولكن درج كثير من أهل السنة والجماعة -بل وغيرهم من الطوائف- على تسمية ما يختص بمسائل أصول الدين بالمعتقد.

وهذه الكلمة من جهة اللغة تدل على ما يقع في القلب من المعاني والعلم، فإن الاعتقاد محله القلب.

ونحن نعلم أن الأصول الشرعية التي يقال: إنها أصول الدين، ليست بالضرورة مقصورةً على المحال القلبية وحدها.

وهذا يستدعي أن نعلق على مسألة شاعت في كتب المتأخرين ممن كتب في أصول الدين أو مسائل أصول الفقه ونحوها، وهي تقسيم الدين إلى أصول وفروع.
ওয়াসেতিয়্যাহর ভূমিকার ব্যাখ্যা

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এটি তাঁর প্রতি স্বীকৃতি ও তাঁর একত্ববাদের ঘোষণার নিমিত্তে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও উত্তরোত্তর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর।]

ওয়াসেতিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে—বরং সাধারণভাবে সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থেই—এই ভূমিকার কিছু বাক্যাংশের ওপর ভাষাগত দিক থেকে মন্তব্য করা হয়ে থাকে; যেমন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’-এর মধ্যে ‘বা’ বর্ণের ব্যবহার, জার ও মাজরুরের সম্পৃক্ততা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এরপর ‘হামদ’ বা প্রশংসার ব্যাখ্যা করা হয়; তাঁরা বলেন: এটি জিহ্বা, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এই জাতীয় আরও অনেক কথা বলা হয়; এ কারণেই আমি মনে করি এই অর্থগুলোর ওপর মন্তব্য করা একটি বহুল প্রচলিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয়। তবে আমি এ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যে বাক্যশৈলী দিয়ে ভূমিকা পেশ করেন, তার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো সেটি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবাসমূহে উল্লেখ করতেন। আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: "নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই সাহায্য চাই..." ইত্যাদি। এটি এমন একটি শরয়ী বিন্যাস যার মাধ্যমে বহু মানুষ কুফরি থেকে হিদায়াতের পথে ফিরে এসেছে। কেননা দিমাদ—হাদীসটি ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন, যেমনটি সহীহ গ্রন্থে রয়েছে—মক্কায় এসেছিলেন, তিনি ছিলেন ‘আযদ শানুয়াহ’ গোত্রের লোক। তিনি মক্কার কিছু নির্বোধ লোককে বলতে শুনলেন যে: মুহাম্মদ একজন উন্মাদ।

তখন তিনি বললেন: আমি যদি এই লোকটির দেখা পেতাম, তবে হয়তো আল্লাহ আমার হাতে তাকে সুস্থ করে দিতেন। রাবী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! লোকেরা যা বলছে তা আমি শুনেছি। আমি এই বায়ুরোগের ঝাড়ফুঁক করি, আপনার কি কিছু বলার আছে? (অর্থাৎ: আমি কি আপনাকে ঝাড়ফুঁক বা চিকিৎসা করব?) তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই সাহায্য চাই...

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আলোচনার প্রারম্ভে এই খুতবাটি পাঠ করলেন। যখন তিনি ‘অতঃপর’ (আম্মা বাদ) বললেন, তখন দিমাদ তাঁকে বললেন: আপনার এই কথাগুলো আমার কাছে পুনরায় পাঠ করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেগুলো দুইবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন দিমাদ তাঁকে বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি গণকদের কথা শুনেছি, জাদুকরদের কথা শুনেছি এবং কবিদের কথা শুনেছি; কিন্তু আপনার এই কথাগুলোর মতো কোনো কথা আমি কখনও শুনিনি। এগুলো তো সমুদ্রের অতল তল স্পর্শ করেছে। আপনার হাত বাড়ান, আমি ইসলামের ওপর আপনার কাছে বায়াত হচ্ছি!

সুতরাং আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে গৃহীত এই শরয়ী শব্দগুলোর বিন্যাসের দিক থেকে একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেননা এগুলো হলো এমন সব সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক শরয়ী বাক্য যা তাওহীদের বিষয়াবলী এবং সত্যের মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগুলো দিয়ে শুরু করতেন।

ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে—বিশেষ করে পরবর্তী যুগের কিতাবগুলোতে—দেখা যায় যে, তাঁরা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু করার মাসআলাটির ওপর অনেক দীর্ঘ মন্তব্য করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: এটি এই হাদীসের অনুসরণ: "আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অপূর্ণাঙ্গ।" এরপর এই আলোচনা আসে যে, এটি এমন এক হাদীস যা সাব্যস্ত নয়, অতঃপর বিভিন্ন দিক থেকে এর ভিত্তি খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

আমার ধারণা মতে এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপার। এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কেননা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু করা একটি উপযুক্ত সূচনা, বরং এটি একটি সহজাত সূচনার মতো। কেননা কুরআন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু হয়েছে; এমনকি আরবরা তাদের জাহিলিয়াত যুগেও তাদের পত্র ও যোগাযোগ আল্লাহর নামে শুরু করত, যদিও তারা এই শরয়ী সুস্পষ্ট উচ্চারণটি করত না।

এই ধরণের মন্তব্যগুলোতে—আমার মতে—একজন তালিবে ইলমের খুব বেশি মগ্ন হওয়া উচিত নয় এবং একে খুব গভীর গবেষণা মনে করাও ঠিক নয়। বরং এই ধরণের সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে এমন সব মাসআলার দিকে নজর দেওয়া উচিত যার গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার রয়েছে, যেন সেদিকেই চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ নিবদ্ধ হয়।

লেখকের উক্তি: (এটি হলো বিশ্বাস বা ইতিকাদ); এই ‘ইতিকাদ’ শব্দটি শরয়ী বা নববী শব্দমালায় ব্যবহৃত হয়নি, এমনকি কুরআনের শব্দমালার মধ্যেও এটি নেই। কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনেক আলেম—বরং অন্যান্য দলও—দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহকে (উসুলুদ দ্বীন) ‘মুয়াতাকাদ’ বা বিশ্বাস নামে অভিহিত করার রীতি গ্রহণ করেছেন।

ভাষাগত দিক থেকে এই শব্দটি সেই সব অর্থ ও জ্ঞানকে নির্দেশ করে যা অন্তরে প্রোথিত হয়, কেননা ইতিকাদের স্থান হলো অন্তর।

আমরা জানি যে, শরয়ী মূলনীতিসমূহ যেগুলোকে ‘দ্বীনের মূলনীতি’ বলা হয়, সেগুলো কেবল অন্তরের অবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য নয়।

এটি আমাদের এমন একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনার দাবি রাখে যা পরবর্তী যুগের আলেমদের দ্বীনের মূলনীতি বা উসুলে ফিকহ বিষয়ক কিতাবগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে; আর তা হলো দ্বীনকে মূলনীতি (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখায় (ফুরু) বিভক্ত করা।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مسألة تقسيم الدين إلى أصول وفروع

نذكر قاعدة بين يدي هذا التقسيم، وهي أن جمهور التقاسيم سواء كانت في باب الاعتقاد أو باب الشريعة فضلاً عن مسائل العلم الأخرى كمسائل اللغة ونحوها، جمهور هذه التقاسيم اصطلاح، فينظر إليها باعتبار المعاني، أما باعتبار الألفاظ، فإن الأصل أنه لا مشاحة في الاصطلاح.

ولكن الشأن يكون باعتبار معانيها، فهل هذه الألفاظ والمصطلحات وضعت لها معانٍ مناسبة للمعاني الشرعية التي بعث بها النبي عليه الصلاة والسلام أم لا؟

هناك أمثلة كثيرة: كتقسيم الدين إلى أصول وفروع، وكمسألة الحقيقة والمجاز، والآحاد والمتواتر، وغير هذه التقاسيم، وإنما ذكرت هذه التقاسيم الثلاثة؛ لأنه يقع خلط كثير بين القول فيها باعتبارها ألفاظاً ومصطلحات، وباعتبار كونها من عوارض المعاني.

فنقول: تقسيم الدين إلى أصول وفروع، أو القول بمسألة الحقيقة والمجاز، أو القول بمسألة تقسيم السنة إلى آحاد ومتواتر، النظر في هذا باعتباره من عوارض الألفاظ يقال: إن الأصل أنه لا مشاحة في الاصطلاح، ولكن النظر يكون باعتبارها من عوارض المعاني؛ فمن قسم الدين إلى أصول وفروع، قيل له: هذا مصطلح أمره يسير، أما من جهة المعاني، فإن ثمة إجماعاً بين المسلمين أن الدين ليس درجةً واحدة، بل منه مسائل كلية، ومنه ما دون ذلك، ومنه ما هو ركن، ومنه ما هو واجب، ومنه ما هو مستحب، وأن ثمة مسائل تسمى أصول الدين، ومثل هذا المعنى متفق عليه بين سائر المسلمين على اختلاف طوائفهم؛ فإن النبي صلى الله عليه وسلم -بل وجميع الأنبياء والمرسلين- بيّن هذا الأمر.

وقد تكلم شيخ الإسلام وطائفة في نقض هذا التقسيم، لكن هذا لا يعني أنهم لا يصوبون أن تسمى مسائل توحيد الألوهية والأسماء والصفات وإثبات أن الله فوق سماواته مستوٍ على عرشه بمسائل أصول الدين؛ فإن تسميتها بمسائل أصول الدين مجمع عليه بين المسلمين، ولا ينازع فيه أحد.

وإنما تكلم شيخ الإسلام في نقض هذا التقسيم باعتباره من عوارض المعاني، فإن من استعمله وضع له حداً -أي معنى- ليس مناسباً للاعتبار الشرعي، وإن شئت فقل: ليس مناسباً للحد الشرعي.

وذلك أن أول من اشتغل بهذا التقسيم ليس أئمة السنة والجماعة، بل طوائف من أئمة النظر من المتكلمين ومن اشتغل بشأنهم من الفقهاء ممن كتبوا في أصول الفقه أو في فقه الشريعة، فصاروا يقولون: إن الأصول هي المسائل المعلومة بالسمع والعقل، ويقصدون بالسمع الكتاب والسنة، والفروع هي المسائل التي دليلها السمع وحده.

ومن الحدود المشهورة في كتبهم -أيضاً- أنهم يقولون: إن مسائل الأصول هي المسائل العلمية، ومسائل الفروع هي المسائل العملية

إلى غير ذلك من الحدود.

فهذه الحدود لا شك أنها حدود باطلة؛ فإنه لا يصح أن يقال: إن مسائل الأصول هي ما دل عليه السمع والعقل، والفروع هي ما دل عليه السمع وحده، فإن ثمة مسائل في أصول الدين لم تعلم إلا بالسمع وحده، والعقل لا يحيلها، ولكنه لا يدل عليها كمسائل الغيب المحضة، فإنها مسائل علمت بالسمع، والعقل لا يدل عليها، فإن النبي عليه الصلاة والسلام لو لم يحدث بأن الله ينزل إلى السماء الدنيا كل ليلة حين يبقى ثلث الليل الآخر، لم نعلم ذلك؛ لأن هذه المسألة لا يدركها العقل ولا يعلمها قبل ورود خطاب الشرع.

إذاً: ثمة مسائل في أصول الدين في باب الأسماء والصفات والشفاعة والغيب واليوم الآخر والقدر وما إلى ذلك ليست معلومةً إلا بالسمع، والعقل لا يدل عليها، وإن كان لا يجحدها.

والعكس كذلك؛ فإن ثمة مسائل معلومة بالسمع والعقل وهي لا تعد من مسائل الأصول، بل تعد من مسائل الفروع أو مما هو دون الأصول.

أما قول من قال: إن مسائل الأصول هي المسائل العلمية -وهذا يوافق التعبير الذي يقول: هي مسائل الاعتقاد- وأن المسائل العملية لا تكون داخلةً في مسائل أصول الدين ..

فهذا غلط أيضاً؛ لأنه لا يطرد، فإن ثمة مسائل علمية -أي: مسائل محلها عقد القلب- ومع ذلك ليست من الأصول بإجماع السنة والجماعة، بل بإجماع المسلمين أنها ليست من مسائل أصول دينهم، ومن ذلك مثلاً: الاختلاف الذي وقع بين الصحابة في سماع الميت لصوت الحي، فإن هذه مسألة علمية محلها عقد القلب، ولكن بالإجماع لا تعد من مسائل أصول الدين.

وثمة مسائل عملية تعد بإجماع المسلمين من مسائل أصول الدين كمسألة الصلاة والزكاة والحج، فإنها أركان في الدين وأركان في الإسلام.

فهل يصح أن يقال: إن الدين ينقسم إلى أصول وفروع؟

الجواب: التقسيم باعتباره اصطلاحاً لفظياً لا بأس به، لكن بشرط أن ينزل على معنىً مناسب، وحين يقال: لا بأس به ..

فهذا من باب الجواز، وليس من باب أن هذا التقسيم يقصد إلى تقريره وذكره في مسائل أصول الدين أو في تقرير طريقة أهل السنة والجماعة أو منهجهم، لكنه أمر واسع لا ينبغي الإغلاظ في شأنه.

وأما أن هذا التقسيم بدعة، فنقول: إنه لا يكون بدعة إلا إذا قصد منه معنىً لا يكون مناسباً؛ وإلا فهو من حيث الجملة لا بأس بإطلاقه، وإن كان لا يقصد إليه، فإن السلف لم يقصدوا إلى ذكره والتحدث بلغته.
দ্বীনকে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) হিসেবে বিভক্ত করার মাসআলা

এই বিভক্তির ক্ষেত্রে আমরা একটি মূলনীতি উল্লেখ করছি, আর তা হলো—আকিদা বা শরিয়তের বিষয় হোক কিংবা ভাষার মতো অন্যান্য ইলমি বিষয় হোক, এ জাতীয় অধিকাংশ বিভক্তিই হলো পরিভাষাগত। তাই এগুলোকে অর্থের বিচারে দেখা হয়। আর শব্দগত বিচারের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—পরিভাষার ব্যবহারে কোনো বিবাদ নেই।

তবে বিষয়টি নির্ভর করে এদের অর্থের ওপর। এই শব্দ ও পরিভাষাগুলো কি সেই সকল শরয়ি অর্থের অনুকূলে নির্ধারণ করা হয়েছে যা নিয়ে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন, নাকি হয়নি?

এর অনেক উদাহরণ রয়েছে: যেমন দ্বীনকে উসুল ও ফুরুতে বিভক্ত করা, হাকিকত ও মাজাযের (প্রকৃত ও রূপক) মাসআলা, আহাদ ও মুতাওয়াতির; এছাড়াও আরও অনেক বিভক্তি রয়েছে। আমি এই তিনটি বিভক্তির কথা উল্লেখ করেছি কারণ শব্দ ও পরিভাষা হিসেবে এগুলোর ব্যবহার এবং অর্থের অনুগামী হওয়া—এই দুই বিষয়ের মাঝে অনেক ক্ষেত্রে গুলিয়ে ফেলা হয়।

তাই আমরা বলি: দ্বীনকে উসুল ও ফুরুতে বিভক্ত করা, অথবা হাকিকত ও মাজাযের মাসআলা কিংবা সুন্নাহকে আহাদ ও মুতাওয়াতিরে বিভক্ত করার বিষয়টি যদি কেবল শব্দের ব্যবহারের দিক থেকে দেখা হয়, তবে বলা হবে: পরিভাষার ব্যবহারে কোনো বিবাদ নেই। কিন্তু মূল দৃষ্টি দিতে হবে অর্থের দিক থেকে। যে ব্যক্তি দ্বীনকে উসুল ও ফুরুতে ভাগ করেন, তাকে বলা হবে: এই পরিভাষাটির বিষয়টি সহজ। কিন্তু অর্থের দিক থেকে মুসলিমদের মাঝে এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত রয়েছে যে, দ্বীন একই পর্যায়ের নয়; বরং এর মধ্যে কিছু আছে মৌলিক বিষয়, কিছু আছে তার চেয়ে নিচের স্তরের, কিছু আছে রোকন বা স্তম্ভ, কিছু ওয়াজিব এবং কিছু মুস্তাহাব। আর এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোকে 'উসুলুদ দ্বীন' বা দ্বীনের মূলনীতি বলা হয়। এমন অর্থের ব্যাপারে সকল মুসলিম—তাদের বিভিন্ন দল ও উপদল নির্বিশেষে—একমত। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বরং সকল নবী ও রাসূলগণ এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

শাইখুল ইসলাম এবং একদল আলেম এই বিভক্তির খণ্ডন করেছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তারা উলুহিয়্যাতের তাওহিদ, আসমা ওয়াস সিফাত এবং আল্লাহ তাঁর আসমানসমূহের উপরে স্বীয় আরশের ওপর উঠেছেন—এ বিষয়গুলোকে 'উসুলুদ দ্বীনের মাসআলা' বলাকে অশুদ্ধ মনে করেন। কারণ এগুলোকে উসুলুদ দ্বীনের মাসআলা হিসেবে নামকরণ করার বিষয়ে মুসলিমদের মাঝে ইজমা রয়েছে এবং এতে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না।

শাইখুল ইসলাম এই বিভক্তিকে খণ্ডন করেছেন এর অর্থের দিক বিবেচনায়। কারণ যারা এটি ব্যবহার করেছেন, তারা এর জন্য এমন একটি সীমা বা সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন যা শরয়ি বিবেচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা শরয়ি সংজ্ঞার সাথে মানানসই নয়।

এর কারণ হলো, এই বিভক্তি নিয়ে সর্বপ্রথম যারা কাজ করেছেন তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ইমামগণ ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন কালাম শাস্ত্রবিদদের একদল ইমাম এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐ সকল ফকিহ যারা উসুলুল ফিকহ বা শরিয়তের ফিকহ নিয়ে লিখেছেন। তারা বলতে শুরু করলেন: উসুল (মূলনীতি) হলো সেই সকল বিষয় যা শ্রবণ (নকল) এবং বিবেক (আকল) দ্বারা জানা যায়—এখানে শ্রবণ বলতে তারা কুরআন ও সুন্নাহ বুঝিয়েছেন—আর ফুরু (শাখা-প্রশাখা) হলো সেই সকল বিষয় যার দলিল কেবল শ্রবণ (নকল)।

তাদের কিতাবসমূহে একটি প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা এও রয়েছে যে, তারা বলেন: উসুলের মাসআলাসমূহ হলো জ্ঞানগত (ইলমি) বিষয়, আর ফুরু'র মাসআলাসমূহ হলো আমলি বা কর্মগত বিষয়

এ ছাড়াও আরও অনেক সংজ্ঞা রয়েছে।

এই সংজ্ঞাগুলো নিঃসন্দেহে বাতিল সংজ্ঞা। কারণ এটি বলা সঠিক নয় যে, উসুলের মাসআলা হলো যা শ্রবণ ও বিবেক দ্বারা প্রমাণিত আর ফুরু হলো যা কেবল শ্রবণ দ্বারা প্রমাণিত। কারণ উসুলুদ দ্বীনের এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যা কেবল শ্রবণ বা ওহির মাধ্যমেই জানা যায়। বিবেক সেগুলোকে অসম্ভব মনে করে না, তবে সরাসরি সেগুলোর হদিস পায় না। যেমন নিছক অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়সমূহ; এগুলো ওহির মাধ্যমে জানা গেছে, বিবেক নিজে থেকে এগুলোর পথ দেখায় না। কারণ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম যদি সংবাদ না দিতেন যে, আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, তবে আমরা তা জানতে পারতাম না; কারণ এই বিষয়টি শরিয়তের বাণী আসার আগে বিবেক দ্বারা অনুধাবন করা বা জানা সম্ভব নয়।

সুতরাং, আসমা ওয়াস সিফাত, শাফাআত, গায়েব বা অদৃশ্য জগত, পরকাল, তকদির এবং এই জাতীয় উসুলুদ দ্বীনের এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা কেবল ওহির মাধ্যমেই জানা যায় এবং বিবেক সরাসরি সেগুলোর সন্ধান দেয় না, যদিও বিবেক সেগুলোকে অস্বীকার করে না।

এর উল্টোটাও সত্য; এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা ওহি ও বিবেক উভয় মাধ্যমেই জানা যায়, অথচ সেগুলো উসুলের মাসআলা হিসেবে গণ্য নয়, বরং ফুরু বা উসুলের চেয়ে নিচের স্তরের মাসআলা হিসেবে গণ্য।

আর যারা বলেন: উসুলের মাসআলা হলো জ্ঞানগত (ইলমি) বিষয়—যা এই কথার সাথে মিলে যায় যে এগুলো আকিদার মাসআলা—এবং কর্মগত (আমলি) বিষয়সমূহ উসুলুদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হবে না...

এটিও ভুল; কারণ এই নিয়ম সবসময় খাটে না। কেননা এমন অনেক জ্ঞানগত মাসআলা রয়েছে—অর্থাৎ যা অন্তরের বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট—তা সত্ত্বেও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ইজমা অনুযায়ী, বরং মুসলিমদের ইজমা অনুযায়ী সেগুলো তাদের উসুলুদ দ্বীনের মাসআলা নয়। উদাহরণস্বরূপ: মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পায় কি না—এ নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে যে মতভেদ হয়েছে; এটি একটি জ্ঞানগত মাসআলা যা অন্তরের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত, কিন্তু ইজমা অনুযায়ী এটি উসুলুদ দ্বীনের মাসআলা হিসেবে গণ্য নয়।

আবার এমন অনেক কর্মগত মাসআলা আছে যা মুসলিমদের ইজমা অনুযায়ী উসুলুদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: সালাত, জাকাত ও হজের মাসআলা। কারণ এগুলো দ্বীনের রোকন বা স্তম্ভ এবং ইসলামের স্তম্ভ।

তাহলে কি দ্বীনকে উসুল ও ফুরুতে বিভক্ত করা সঠিক?

উত্তর হলো: শব্দগত পরিভাষা হিসেবে এই বিভক্তিতে কোনো সমস্যা নেই, তবে শর্ত হলো একে সঠিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। আর যখন বলা হয় 'কোনো সমস্যা নেই'...

তখন তা বৈধতার পর্যায়ভুক্ত, এমন নয় যে এই বিভক্তিটি উসুলুদ দ্বীনের মাসআলা হিসেবে বা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কর্মপদ্ধতি বা মানহাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য। তবে এটি একটি প্রশস্ত বিষয়, এ নিয়ে কঠোরতা করা উচিত নয়।

আর এই বিভক্তি বিদআত কি না—সে বিষয়ে আমরা বলি: এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বিদআত হবে না যতক্ষণ না এর দ্বারা এমন কোনো অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয় যা সঠিক নয়। অন্যথায় সাধারণভাবে এটি ব্যবহার করাতে কোনো সমস্যা নেই, যদিও এটি উদ্দেশ্যমূলক নয়। কেননা সালাফে সালেহীন এটি উল্লেখ করার বা এই ভাষায় কথা বলার উদ্দেশ্য পোষণ করতেন না।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مسألة تقسيم السنة إلى متواتر وآحاد

تقسيم السنة إلى متواتر وآحاد هو تقسيم وارد في الكتب المتأخرة لعلم مصطلح الحديث.

وقد وقع في كلام بعض المتقدمين كالإمام الشافعي رحمه الله ذكر متواتر السنة، ولكن التقسيم الذي وجد في كتب أصول الفقه ودخل على كتب المصطلح المتأخرة هو تقسيم باعتبار حده لا أصل له.

ذلك أنهم يقولون في حد المتواتر: هو ما رواه جماعةٌ عن جماعةٍ يستحيل تواطؤهم على الكذب.

واختلفوا في هؤلاء الجماعة كم يكون عددهم، لكن جمهور ما يذكرونه يقارب العشرة، فعلى قولهم: لا يكون الحديث متواتراً عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا إذا رواه عنه من الصحابة عشرة، ورواه عن كل واحد من العشرة عشرة، إما من صغار الصحابة وإما من التابعين، ورواه عن كل واحد من هؤلاء المائة عشرة بحيث يصل العدد إلى ألف.

والسوء في هذا الحد في نتيجته أيضاً، فإنهم قالوا: إن الاعتقاد لا يحتج فيه إلا بمتواتر.

وهذا الكلام الذي وضعه أئمة النظار من المعتزلة ومتكلمة الصفاتية، حقيقته إبعادٌ للسنة في الجملة عن الاستدلال في مسائل أصول الدين ..

فإنه لا ينطبق شرط المتواتر اللفظي إلا على عدد قليل جداً من الأحاديث، لهذا نجد أن أهل المصطلح -كـ ابن الصلاح ونحوه- البعيدين عن شر هذا العلم الكلامي المقاربين للسنة والجماعة لا يتعرضون لذكر هذا الحد؛ لأن مثاله إن لم يكن معدوماً، فإنه يسير جداً.

وهذا يلخص نتيجة: أنه ليس هناك متواتر لفظي من كلام الرسول صلى الله عليه وسلم إلا جملة يسيرة من الأحاديث، وهذا على أحسن تقدير إن لم نقل: إنه لا مثال له من جهة السنة، فهو إن ثبت فله مثال أو مثالان أو أمثلة ليست بالكثيرة، وهذا يستلزم أن جمهور كلام النبي عليه الصلاة والسلام الذي اتفق المحدثون عليه، واتفق عليه الصحابة، بل واتفقت عليه الأمة -لولا مخالفة هؤلاء النظار- والذي هو مبنى معتقدها مع كلام الله سبحانه وتعالى؛ أنه لا يصلح حجة في مسائل الاعتقاد ومسائل أصول الدين.

ونحن إذا بحثنا عن أصل الانحراف الذي وقع في مسائل أصول الدين عند المسلمين وجدناه في الإعراض عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فإن أول انحراف وقع في مسائل أصول الدين هو قول الخوارج الذين ظهروا في آخر خلافة أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، والذين حدث النبي عليه الصلاة والسلام بشأنهم، وذكرهم الرسول عليه الصلاة والسلام فيما تواتر عنه، حتى قال الإمام أحمد: (صح الحديث في الخوارج من عشرة أوجه).

وقال شيخ الإسلام: (إن حديث الخوارج متواتر).

وقال فيهم النبي صلى الله عليه وسلم: (إنه يخرج من ضئضئ هذا -أي: ذي الخويصرة - قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم، وصيامكم مع صيامهم، وقراءتكم مع قراءتهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية) وكان أول هؤلاء ظهوراً هو هذا الرجل الذي قام بين يدي النبي عليه الصلاة والسلام وطعن في السنة، والسنة هنا هي قسمه صلى الله عليه وسلم للذهب الذي بعثه علي بن أبي طالب رضي الله عنه من اليمن، فقام هذا الرجل وطعن في قسم النبي صلى الله عليه وسلم، لما قسمه الرسول صلى الله عليه وسلم بين أربعة نفر، وحقيقة هذا الطعن أنه طعنٌ في السنة النبوية.

كذلك لما ظهر هؤلاء القوم الذين حدث النبي بشأنهم، كان أخص ما فارقوا به أصول المسلمين أو استوجب مخالفتهم لمعتقد الصحابة رضي الله عنهم هو عدم أخذهم بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، فإنهم أخذوا جملاً مجملةً من القرآن كقول الله تعالى: {إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلْ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ} [آل عمران:192] وكقوله: {كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا أُعِيدُوا فِيهَا} [السجدة:20] ونحو ذلك، وتركوا مفصل السنة الذي ذكره الرسول صلى الله عليه وسلم بشأن الجهنمية، مع أن الصحابة كانوا يحدثون به بين ظهرانيهم.

وهذا يقود إلى نتيجة: وهي أن نظرية تقسيم السنة إلى آحاد ومتواتر، والتي هي مذكورة في كتب أصول الفقه وكتب المتكلمين في أصول الدين، ودخلت على الكتب المتأخرة في علم مصطلح الحديث ..

هذه النظرية يظهر تطبيقها جلياً في أفعال الخوارج وأقوالهم؛ فإن الخوارج لم يعتبروا هذه النصوص، وإنما اعتبروا القرآن وحده، فكأنهم يقولون: إنه لا يحتج بهذه النصوص التي رواها الصحابة لكونها ليست قطعية ..

ولأنه قد يدخلها الخطأ

إلى غير ذلك.

فلما ظهر علم الكلام في قرن التابعين، وظهر النظار، كتبوا هذه النظرية التي رافقت بعض ألفاظها ألفاظاً تكلم بها أئمة الحديث من المتقدمين، فإن لفظ التواتر ولفظ الواحد من الألفاظ المستعملة في كلام متقدمي أئمة الحديث، فلما تشابهت الألفاظ لم يتبين كثيرٌ من المتأخرين الحد الذي يقصده المتقدمون من أئمة الحديث بلفظ الواحد من الحديث أو ما رواه الواحد، فإنهم لا يقصدون بما رواه الواحد ما تقصده أئمة النظار بالآحاد، وكذلك المتواتر الذي ذكره الشافعي وغيره لا يقصدون به المعنى الذي يذكره النظار من المتكلمين.

إذاً: هذا الحد لا شك أنه حد باطل؛ لأنه يستلزم أن جمهور السنة النبوية لا يصح أن يحتج بها في مسائل الاعتقاد، وهذا مبني على مسألة، وهي أن مسائل الاعتقاد لا بد أن تكون قطعية، وأن القطعي: هو الذي يثبت بعلمٍ قطعي، وأن العلم القطعي لا يثبت إلا بالمتواتر الذي شرطه أن يكون رواه جماعةٌ عن جماعة

إلخ، وأما ما عدا ذلك من الرواية والبلاغ والخبر فإنه يكون ظنياً، والظن لا يناسب أن يكون معتقداً للمسلمين.

ولا شك أن هذه الحدود وهذه التقارير لا تصح؛ فإن سائر معتقد أهل السنة والجماعة -ولا شك- ثبت بعلمٍ قطعي، ولكن الاختلاف مع هؤلاء النظار ليس في هذا، وإنما فيما يثبت به العلم، وما يكون دون ذلك من الظن، فإن المتفق عليه بين السلف أن الحديث إذا اتفق عليه المحدثون، وجرى عليه الصحابة رضي الله عنهم، ولم يقع بشأنه اختلاف، فإنه يفيد علماً ضرورياً قطعياً، وإن كان مخرجه من جهة الرواية عن الرسول عليه الصلاة والسلام من جهة رجل أو رجلين أو نحو ذلك.
সুন্নাহকে মুতাওয়াতির ও আহাদ হিসেবে বিভক্ত করার মাসআলা

সুন্নাহকে মুতাওয়াতির ও আহাদ হিসেবে বিভক্ত করার বিষয়টি ইলমে মুসতালাহুল হাদিসের পরবর্তীকালীন কিতাবসমূহে আসা একটি বিভাজন।

ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতো কিছু পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যে সুন্নাহর ‘মুতাওয়াতির’ হওয়ার কথা উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু উসূলুল ফিকহের কিতাবসমূহে যে বিভক্তি পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহে যা প্রবেশ করেছে, তা মূলত সংজ্ঞাগত এমন একটি বিভাজন যার কোনো ভিত্তি নেই।

কেননা তারা মুতাওয়াতির হাদিসের সংজ্ঞায় বলে থাকেন: যা এক দল বর্ণনাকারী এমন এক দল থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব।

বর্ণনাকারীদের এই দলের সংখ্যা কত হবে সে বিষয়ে তারা দ্বিমত করেছেন, তবে তাদের অধিকাংশের বর্ণনা অনুযায়ী তা দশের কাছাকাছি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিস ততক্ষণ পর্যন্ত মুতাওয়াতির হবে না যতক্ষণ না অন্তত দশজন সাহাবী তা বর্ণনা করেন, আর সেই দশজনের প্রত্যেকের থেকে আবার অন্তত দশজন করে বর্ণনা করেন—তারা ছোট সাহাবী হোক বা তাবেয়ী—এবং এই একশত জনের প্রত্যেকের থেকে আবার দশজন করে বর্ণনা করেন যাতে বর্ণনাকারীর সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছায়।

এই সংজ্ঞার মন্দ দিক এর ফলাফলের মধ্যেও নিহিত, কেননা তারা বলেন: আকীদার ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না।

মুতাযিলা ও গুণাবলি স্বীকারকারী কিন্তু রূপক ব্যাখ্যা প্রদানকারী মুতাকাল্লিমুন বা যুক্তিবাদীদের ইমামগণ যে কথাটি তৈরি করেছেন, তার প্রকৃত রূপ হলো দ্বীনের মূল বিষয়াদির ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে সুন্নাহর ব্যবহারের সুযোগকে সামগ্রিকভাবে দূরে ঠেলে দেওয়া।

কারণ ‘শাব্দিক মুতাওয়াতির’ (মুতাওয়াতির লাফযী)-এর এই শর্তটি খুব অল্প সংখ্যক হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, মুসতালাহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ—যেমন ইবনে সালাহ ও তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ—যারা এই কালামী ইলমের অনিষ্টতা থেকে দূরে এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকটবর্তী, তারা এই সংজ্ঞার উল্লেখ করেন না; কারণ এর উদাহরণ যদি একেবারে শূন্য নাও হয়, তবে তা অত্যন্ত নগণ্য।

এর ফলাফল এই দাঁড়ায় যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্যে অতি সামান্য কিছু হাদিস ছাড়া আর কোনো শাব্দিক মুতাওয়াতির হাদিস নেই। এটি হলো সবচেয়ে ভালো ধারণার ভিত্তিতে কথা, অন্যথায় আমরা যদি বলি সুন্নাহর দিক থেকে এর কোনো উদাহরণই নেই (তবে তা ভুল হবে না)। যদি এটি প্রমাণিতও হয়, তবে এর উদাহরণ একটি বা দুটি বা হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র। এর অর্থ দাঁড়ায়—এই যুক্তিবাদীদের বিরোধিতা না থাকলে যা উম্মতের আকিদার ভিত্তি এবং যা আল্লাহর বাণীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—মুহাদ্দিসগণ, সাহাবীগণ এমনকি সমগ্র উম্মত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ বাণীর ওপর একমত হয়েছেন, তা আকীদা ও দ্বীনের মূল বিষয়সমূহে দলিল হওয়ার যোগ্য নয়।

আমরা যদি মুসলিমদের মাঝে দ্বীনের মূল বিষয়াবলীতে যে বিচ্যুতির সূচনা হয়েছে তার মূল অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাবো তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার মধ্যেই নিহিত।

দ্বীনের মূল বিষয়ে প্রথম যে বিচ্যুতি ঘটেছিল তা ছিল খারিজিদের বক্তব্য, যারা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের শেষ দিকে আবির্ভূত হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন এবং মুতাওয়াতির বর্ণনায় তাদের কথা উল্লেখ করেছেন, এমনকি ইমাম আহমাদ বলেছেন: ‘খারিজিদের ব্যাপারে দশটি দিক থেকে হাদিস সহীহ বলে প্রমাণিত’।

শায়খুল ইসলাম বলেছেন: ‘খারিজিদের বিষয়ক হাদিসটি মুতাওয়াতির’।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেছেন: ‘এই ব্যক্তির—অর্থাৎ যুল খুওয়াইসিরাহর—বংশধরদের থেকে এমন এক জাতি বের হবে যাদের সালাতের সামনে তোমরা নিজেদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে, যাদের সিয়ামের সামনে তোমাদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে এবং যাদের কিরাআতের সামনে তোমাদের কিরাআতকে তুচ্ছ মনে করবে; তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।’ এদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিল সেই লোক, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দাঁড়িয়েছিল এবং সুন্নাহর ওপর কটাক্ষ করেছিল। এখানে সুন্নাহ বলতে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়েমেন থেকে যে স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন তার বণ্টন পদ্ধতিকে বোঝানো হয়েছে। সেই লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বণ্টনের ওপর কটাক্ষ করেছিল যখন তিনি তা চারজন ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এই কটাক্ষ ছিল নববী সুন্নাহর ওপর কটাক্ষ।

একইভাবে এই দলটির যখন আবির্ভাব ঘটল যাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মুসলিমদের মূলনীতি থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়ার বা সাহাবীদের আকিদার বিরোধিতা করার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে গ্রহণ না করা। তারা কুরআনের কিছু অস্পষ্ট ও সাধারণ আয়াতকে গ্রহণ করেছিল, যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, তাকে লাঞ্ছিত করবেন} [আল-ইমরান: ১৯২] এবং তাঁর বাণী: {তারা যখনই জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে} [আস-সাজদাহ: ২০] এবং এই জাতীয় আয়াতগুলো। তারা সুন্নাহর সেই বিস্তারিত বর্ণনাগুলো বর্জন করেছিল যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামীদের ব্যাপারে প্রদান করেছিলেন, অথচ সাহাবীগণ তাদের মাঝেই এসব হাদিস বর্ণনা করতেন।

এটি এই সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায় যে: সুন্নাহকে আহাদ ও মুতাওয়াতির হিসেবে বিভক্ত করার যে তত্ত্ব উসূলুল ফিকহের কিতাবসমূহে ও দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ক মুতাকাল্লিমদের কিতাবসমূহে আলোচিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ইলমে মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহে প্রবেশ করেছে...

এই তত্ত্বের প্রয়োগ খারিজিদের কার্যাবলি ও বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কারণ খারিজিরা এই দলিলগুলোকে আমলযোগ্য মনে করেনি, বরং তারা কেবল কুরআনকেই গ্রহণ করেছিল। যেন তারা বলতে চেয়েছিল যে, সাহাবীদের বর্ণিত এই দলিলগুলো যেহেতু অকাট্য নয়, তাই এগুলো দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না...

এবং যেহেতু এগুলোর মধ্যে ভুলের সম্ভাবনা থাকতে পারে...

ইত্যাদি অজুহাতে।

যখন তাবেয়ীদের যুগে ইলমে কালামের উদ্ভব ঘটল এবং যুক্তিবাদীদের আবির্ভাব হলো, তারা এই তত্ত্বটি লিপিবদ্ধ করল। এর কিছু শব্দ প্রাচীন মুহাদ্দিস ইমামদের ব্যবহৃত শব্দের সাথে মিলে গিয়েছিল। কারণ ‘মুতাওয়াতির’ এবং ‘ওয়াহিদ’ (আহাদ) শব্দগুলো প্রাচীন মুহাদ্দিস ইমামদের বক্তব্যেও ব্যবহৃত হতো। শব্দগুলো একই রকম হওয়ার কারণে পরবর্তীকালের অনেকেই মুহাদ্দিস ইমামগণ ‘খবরে ওয়াহিদ’ বা ‘একজনের বর্ণনা’ বলতে কী উদ্দেশ্য নিতেন তা বুঝতে ভুল করেছেন। মুহাদ্দিসগণ ‘একজনের বর্ণনা’ বলতে যা বোঝাতেন, যুক্তিবাদী ইমামগণ ‘আহাদ’ বলতে তা বোঝান না। একইভাবে ইমাম শাফিয়ী ও অন্যান্যদের উল্লিখিত ‘মুতাওয়াতির’ শব্দ দ্বারা তারা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি যা মুতাকাল্লিম যুক্তিবাদীরা বলে থাকেন।

অতএব: এই সংজ্ঞায়ন নিঃসন্দেহে একটি বাতিল পদ্ধতি; কারণ এর অনিবার্য ফলাফল হলো নববী সুন্নাহর অধিকাংশ দ্বারাই আকিদার বিষয়ে দলিল প্রদান করা সঠিক হবে না। আর এটি একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো—আকিদার বিষয়গুলো অবশ্যই অকাট্য হতে হবে, আর অকাট্য বিষয়টি কেবল অকাট্য জ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে, আর অকাট্য জ্ঞান কেবল মুতাওয়াতির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হতে পারে যার শর্ত হলো তা এক দল থেকে অন্য দল বর্ণনা করবে...

ইত্যাদি। আর এর বাইরে যা কিছু বর্ণনা, প্রচার বা খবর আছে তা হলো ধারণাপ্রসূত, আর ধারণা মুসলিমদের আকিদার ভিত্তি হওয়ার উপযুক্ত নয়।

নিঃসন্দেহে এই সংজ্ঞায়ন এবং এই বর্ণনাগুলো সঠিক নয়। কারণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সকল আকিদাগত বিষয় নিঃসন্দেহে অকাট্য জ্ঞানের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে। তবে এই যুক্তিবাদীদের সাথে পার্থক্য এই জায়গায় নয়, বরং পার্থক্য হলো কীসের মাধ্যমে জ্ঞান সাব্যস্ত হবে এবং কোনটি এর চেয়ে নিম্নস্তরের বা ধারণা প্রসূত হবে তা নির্ধারণে। সালাফদের মাঝে ঐকমত্যপূর্ণ বিষয় হলো—মুহাদ্দিসগণ যদি কোনো হাদিসের ওপর একমত হন এবং সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সেই অনুযায়ী আমল করেন এবং তাতে কোনো মতভেদ তৈরি না হয়, তবে তা অকাট্য ও আবশ্যকীয় জ্ঞান প্রদান করে; যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বর্ণনার সূত্রটি মাত্র একজন বা দুইজন বা এই জাতীয় অল্প সংখ্যক ব্যক্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌فقه الأسماء الشرعية

مسألة الأسماء -ولا سيما الأسماء الشرعية فضلاً عن الأسماء الاصطلاحية- لا بد لطالب العلم أن يفقهها.

فإن جمهور الاختلاف -كما ذكر ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله الذي وقع في مسائل أصول الدين؛ بل وفي مسائل الشريعة بين كثير من المتأخرين يرجع إلى عدم فقه الأسماء الشرعية.

أن المتتبع لنصوص القرآن يجد فيها إشارة إلى أن العلم ليس بلازم لقيام الحجة، وإنما يكفي مجرد السماع والبلاغ، فإن الله سبحانه وتعالى وصف المشركين بالجهل، وبأنهم لا يسمعون، فقال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنْ الْجِنِّ وَالإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا} [الأعراف:179] وقال تعالى: {فَإِنَّهَا لا تَعْمَى الأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} [الحج:46] وقال تعالى: {وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك:10] فهذه النصوص تبين: أن قيام الحجة على الكافر لا يلزم له العلم، وإنما مجرد السماع، وأما فقه النص وفهم المراد من الخطاب فإن هذا ليس بلازم؛ لأن الله كفر المشركين من العرب ووعدهم سقر مع أنه وصفهم بأنهم لا يعلمون وبأنهم لا يسمعون ولا يعقلون

إلى غير ذلك.

ثم نجد أن الله سبحانه وتعالى في القرآن نفسه يقول عن هؤلاء الكفار: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمْ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ} [البقرة:146] وهذا يدل على أن القوم ليس فقط عندهم معرفة مجملة، بل -أيضاً- معرفة مفصلة.

ويقول الله تعالى عن أخص من أظهر الكفر برب العالمين وهو فرعون ومن معه: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ} [النمل:14] فكيف يوصف من عندهم اليقين -يقين النفس- ومن عندهم المعرفة التي كمعرفتهم لأبنائهم بأنهم لا يعلمون؟!

فقد يظن باعتبار فساد ذوق اللغة وعدم فقه الأسماء الشرعية وسياقها في كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم أن هذا من باب التناقض، وأن وصف الإنسان بكونه مستيقناً يتناقض مع وصفه بكونه جاهلاً لا يسمع، ولا يعقل.

وبعض الناظرين من غير أولي التحقيق قد يظن أن قيام الحجة لابد فيه من الإدراك والفهم والفقه، ويستدل بمثل قول الله تعالى: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمْ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ} [البقرة:146] وبقوله تعالى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ} [النمل:14].

وبعضهم يذهب إلى الرأي الآخر، فيقول: إن الله سبحانه قال عن المشركين: {أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَاّ كَالأَنْعَامِ} [الفرقان:44] فمعناه: أنه لا يلزم لقيام الحجة على الكافر أن يكون يسمع.

وقال بعض المعاصرين ممن تكلم في هذه المسألة: إن الله سبحانه يقول: {أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ} [الفرقان:44] كما لو أن بعضهم عنده إدراك، وبعضهم ليس عنده الإدراك للفقه، لكن مع ذلك قضى بكفر الجميع؛ لأن السياق: {أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ} [الفرقان:44] فمعناه: أن ثمة معشراً منهم يسمعون ويعقلون.

وكل هذا الاختلاف والاضطراب وتوهم التناقض في الآيات القرآنية راجع إلى عدم فقه المصطلحات القرآنية: (لا يعلمون) (لا يفقهون) (لا يسمعون).

فهذه الأسماء الشرعية لابد من فقهها، وجمهور الاختلاف إنما دخل على الناس في مسائل أصول الدين بل وفي غيرها من عدم فقههم لها.
শরয়ী নামসমূহের সঠিক বুঝ (ফিকহুল আসমা আশ-শারইয়্যাহ)

নামের মাসআলা—বিশেষ করে পরিভাষাগত নাম তো বটেই, তবে শরয়ী নামসমূহের সঠিক বুঝ থাকা ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য।

কারণ, অধিকাংশ মতভেদ—যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন—যা দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত মাসআলায়, এমনকি পরবর্তী যুগের অনেক আলেমদের মাঝে শরীয়তের বিভিন্ন মাসআলায় ঘটেছে, তার মূলে রয়েছে শরয়ী নামসমূহের সঠিক বুঝের অভাব।

কুরআনের ভাষ্যসমূহ (নুসুস) অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি সেখানে এই ইঙ্গিত পাবেন যে, হুজ্জাত (প্রমাণ) কায়েম হওয়ার জন্য 'ইলম' (জ্ঞান) থাকা আবশ্যক নয়, বরং কেবল শোনা এবং দাওয়াত পৌঁছানোই যথেষ্ট। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুশরিকদের অজ্ঞতা এবং তারা শোনে না বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আর আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি, তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা অনুধাবন করে না" [আল-আরাফ: ১৭৯]। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত অন্তর" [আল-হজ্জ: ৪৬]। আল্লাহ আরও বলেন: "তারা বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটালে আমরা জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না" [আল-মুলক: ১০]। সুতরাং এই দলিলগুলো স্পষ্ট করে যে: কাফেরের উপর হুজ্জাত কায়েমের জন্য তার জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়, বরং কেবল শ্রবণই যথেষ্ট। আর নসের (ভাষ্যের) গভীর মর্ম এবং সম্বোধনের উদ্দেশ্য অনুধাবন করাও আবশ্যক নয়; কারণ আল্লাহ আরব মুশরিকদের কাফের সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের সাকার (জাহান্নাম)-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অথচ তিনি তাদের এই বলে বর্ণনা করেছেন যে তারা জানে না, তারা শোনে না এবং তারা বোঝে না... ইত্যাদি।

অতঃপর আমরা দেখি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনেই এই কাফেরদের সম্পর্কে বলছেন: "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (রাসূলকে) তেমনভাবেই চিনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে" [আল-বাকারাহ: ১৪৬]। এটি প্রমাণ করে যে, এই কওমের কেবল ভাসাভাসা পরিচয়ই ছিল না, বরং তাদের বিস্তারিত পরিচয়ও জানা ছিল।

আর বিশ্বজগতের রবের সাথে কুফর প্রকাশকারীদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য—অর্থাৎ ফেরাউন ও তার অনুসারী—দের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তারা অন্যায় ও অহঙ্কারবশত তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল" [আন-নামল: ১৪]। সুতরাং যাদের অন্তরে নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) ছিল এবং যাদের পরিচয়জ্ঞান নিজের সন্তানদের চেনার মতোই ছিল, তাদের কীভাবে এমন বিশেষণে বিশেষিত করা যায় যে তারা জানে না?!

ভাষার রুচি বিকৃত হওয়া এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহতে শরয়ী নাম ও সেগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক বুঝ না থাকার কারণে কেউ ধারণা করতে পারে যে এটি এক ধরণের স্ববিরোধিতা। অর্থাৎ একজন মানুষকে একদিকে নিশ্চিত বিশ্বাসী হিসেবে বর্ণনা করা, আবার অন্যদিকে তাকে অজ্ঞ, যে শোনে না এবং বোঝে না—এভাবে বর্ণনা করার মাঝে বৈপরীত্য রয়েছে বলে মনে হতে পারে।

তাহকীক বা গভীর অনুসন্ধান নেই—এমন কিছু পর্যবেক্ষক মনে করতে পারেন যে, হুজ্জাত কায়েম হওয়ার জন্য উপলব্ধি, অনুধাবন ও সঠিক বুঝ থাকা আবশ্যক। তারা দলিল হিসেবে আল্লাহর এই বাণীর মতো আয়াত পেশ করেন: "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে তেমনভাবেই চিনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে" [আল-বাকারাহ: ১৪৬] এবং আল্লাহর বাণী: "তারা অন্যায় ও অহঙ্কারবশত তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল" [আন-নামল: ১৪]।

আবার তাদের কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুশরিকদের সম্পর্কে বলেছেন: "তুমি কি মনে করো যে তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো" [আল-ফুরকান: ৪৪]। এর অর্থ হলো: কাফেরের উপর হুজ্জাত কায়েম হওয়ার জন্য তার শোনা আবশ্যক নয়।

এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এমন কিছু সমসাময়িক ব্যক্তি বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন: "তুমি কি মনে করো যে তাদের অধিকাংশ" [আল-ফুরকান: ৪৪]—অর্থাৎ যেন তাদের কারো কারো উপলব্ধি আছে, আবার কারো কারো সঠিক বুঝ নেই; কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সবার উপর কুফরের ফয়সালা দিয়েছেন। কারণ প্রেক্ষাপটটি হলো: "তুমি কি মনে করো যে তাদের অধিকাংশ", যার অর্থ দাঁড়ায় যে তাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা শোনে এবং বোঝে।

আর কুরআনের আয়াতসমূহের মাঝে এই সব মতভেদ, অস্থিরতা এবং স্ববিরোধিতার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হলো কুরআনিক পরিভাষাগুলোর (যেমন: তারা জানে না, তারা বোঝে না, তারা শোনে না) সঠিক বুঝ না থাকা।

সুতরাং এই শরয়ী নামগুলোর সঠিক বুঝ থাকা অপরিহার্য। দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত মাসআলায়—বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও—মানুষের মাঝে অধিকাংশ মতভেদ কেবল এই পরিভাষাগুলো সঠিকভাবে না বোঝার কারণেই প্রবেশ করেছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شروط أولي التحقيق والفقه للأسماء الشرعية

هذه الأسماء الشرعية لا يكون التحقيق فيها إلا لمن اجتمع له شرطان:
শরীয়তি নামসমূহের ক্ষেত্রে প্রকৃত অনুসন্ধান ও প্রজ্ঞার অধিকারীদের শর্তাবলি

এই শরীয়তি নামসমূহের ক্ষেত্রে প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণ কেবল সেই ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব, যার মধ্যে দুটি শর্তের সমন্বয় ঘটেছে:
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الشرط الأول: الفقه

الشرط الأول: الفقه، أي: يكون فقيهاً، حسن النظر، حسن التأمل، ولا يقع هذا إلا لمن أحسن التدبر لكتاب الله سبحانه وتعالى ..

فإن هذه المسائل ليست مسائل جزئية مصنفة في كتب الفقه: كمسألة الوضوء من لحم الإبل، أو زكاة الحلي، أو الوقوف في عرفة إلى الغروب، فهذه مسائل يسهل النظر فيها، والخطأ فيها يسير، والوصول إلى محصل الأقوال والدليل فيها يقع ببحث يسير.

لكن هذه المسائل الاستقرائية كمسائل الأسماء الشرعية وسياقها في كتاب الله سبحانه وتعالى، وفي سنة نبيه صلى الله عليه وسلم لابد فيها من فقه، ومن لم يكن له فقه فإنه يختلط ولا بد.
প্রথম শর্ত: ফিকহ

প্রথম শর্ত: ফিকহ, অর্থাৎ: তাকে ফকীহ হতে হবে, সঠিক অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক চিন্তাশক্তির অধিকারী হতে হবে; আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন কেউ মহান আল্লাহর কিতাবকে উত্তমরূপে অনুধাবন করবে...

কেননা এই মাসআলাগুলো ফিকহের কিতাবসমূহে শ্রেণীবদ্ধ কোনো আংশিক বা খুটিনাটি মাসআলা নয়: যেমন উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু করার মাসআলা, অলঙ্কারের যাকাত, কিংবা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থানের মাসআলা। এগুলো এমন মাসআলা যাতে দৃষ্টি দেওয়া সহজ, এগুলোতে ভুল হওয়ার ঝুঁকি কম এবং সামান্য অনুসন্ধানের মাধ্যমেই বিভিন্ন মত ও দলিলের সারসংক্ষেপে পৌঁছানো সম্ভব।

কিন্তু এই আরোহী (ইস্তিকরাঈ) মাসআলাসমূহ, যেমন শারঈ নামসমূহ এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে এগুলোর প্রাসঙ্গিকতা—এই ক্ষেত্রে অবশ্যই ফিকহ বা গভীর পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন। আর যার এই ফিকহ নেই, সে নিশ্চিতভাবেই বিভ্রান্তি বা তালগোলের শিকার হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الشرط الثاني: الاتباع

الشرط الثاني: الاتباع، فمن كان من أولي الفقه ولكنه ليس من أهل الاتباع فإنه يختلط، وأحياناً تنغلق عليه النصوص، فلربما ألزم نفسه بفقهٍ انتحله لنفسه؛ لأنه يرى أن هذا هو الاقتداء بقول الله سبحانه ورسوله صلى الله عليه وسلم، وإن خالف من خالف.

وهذا المزلق من أخص مزالق الانحراف.

فإنه -لا شك- أن الاعتبار بكلام الله سبحانه ورسوله صلى الله عليه وسلم، لكن يمتنع شرعاً أن يكون ما يجب اعتباره من كلام الله ورسوله مخالفاً لهدي الصحابة وهدي السلف رضي الله عنهم.

ولهذا نجد أن حماد بن أبي سليمان لما قصر في مسألة الاتباع، وتأمل بنفسه مسألة الإيمان، وجد أن الله في القرآن يقول: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البقرة:277] ففرق بين الإيمان وبين العمل، فظن أن هذا يعني أن العمل لا يدخل في مسمى الإيمان.

قد يقول قائل: إن هذا ليس بحجة له؛ لأن هذا من باب عطف الخاص على العام.

أقول: هذا جواب معروف ذكره جماعة من علماء السنة، لكنه إن لم يكن ضعيفاً فإنه ليس قاطعاً في الحجة.

وشيخ الإسلام ابن تيمية نفسه لا يستحسن هذا الجواب عند التحقيق، ويرى أن التحقيق في غيره، وسيأتي -إن شاء الله- الجواب المحقق عن هذا في مورده.

وإذا نظرت إلى كلام النبي عليه الصلاة والسلام وجدت مواضع لا يفهمها إلا أهل التحقيق من أولي الفقه والاتباع؛ ففي حديث جبريل يقول صلى الله عليه وسلم: (هو أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره).

لكنه صلى الله عليه وسلم لما جاءه وفد عبد القيس -كما في حديث ابن عباس في الصحيحين وجاء من رواية أبي سعيد عند الإمام مسلم - قال: (آمركم بالإيمان بالله وحده، هل تدرون ما الإيمان بالله وحده؟ قالوا: الله ورسوله أعلم).

فذكر لهم ما فسر به الإسلام في حديث جبريل، وهذا يدل أن جوابه صلى الله عليه وسلم يقع فيه هذا التنوع.

أيضاً يقول صلى الله عليه وسلم -كما في حديث عثمان رضي الله عنه في الصحيح-: (من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله دخل الجنة).

أيضاً جاء في الصحيحين عن أبي ذر رضي الله عنه، أنه قال: (أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو نائم عليه برد أبيض، فأتيته فإذا هو نائم، ثم أتيته وقد استيقظ فجلست إليه، فقال: ما من عبد قال: لا إله إلا الله -وفي لفظ: يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله- إلا حرم الله عليه النار، قلت: يا رسول الله! وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق، قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق، قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق على رغم أنف أبي ذر) وفي رواية: (وإن شرب الخمر).

وفي حديث محمود بن الربيع عن عتبان بن مالك في الصحيحين لما دخل النبي صلى الله عليه وسلم دار عتبان وقد ضعف بصره واتخذ مكاناً يصلي فيه، فطلب من الرسول أن يصلي فيه تبركاً بأثره الحسي في حياته عليه الصلاة والسلام، فجاء النبي يصلي فيه ومعه معشر من الصحابة، والرسول في صلاته في بيت عتبان، قال: فوقعوا في مالك بن الدخشم، وهو رجل طعن فيه بعض الصحابة بالنفاق، ثم برأه الرسول صلى الله عليه وسلم، قال: ودوا أنه دعا عليه فهلك، وودوا أنه أصابه شر، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم صلاته لم يقل: إني أعرف الرجل، ولم يشر إلى حقيقة تختص بـ مالك بن الدخشم، وإنما قال: (أليس يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله؟ قالوا: بلى يا رسول الله.

قال: لا يشهد أحد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فيدخل النار أو تطاله).

فذكر عليه الصلاة والسلام في سنته وعداً.

ولما ذكر الوعيد قال: (لا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال ذرة من كبر) وفي حديث ابن مسعود رضي الله عنه: (لا يدخل الجنة قتات) وفي الصحيح: (من اقتطع حق امرئ مسلم بيمينه فقد أوجب الله له النار وحرم عليه الجنة) وفي الحديث في البخاري: (عبدي بادرني بنفسه -لما قتل نفسه- حرمت عليه الجنة) بل في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه: (من قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يتوجأ بها في بطنه في نار جهنم خالداً مخلداً فيها أبداً) وإن كان لفظ التأبيد ليس محفوظاً على الصحيح.

في حديث سعد بن أبي وقاص في الصحيحين لما قال: (يا رسول الله! أعط فلاناً فإنه مؤمن.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: أو مسلم؟!) لا تقل: مؤمن: {قَالَتْ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14].

ومع ذلك يقول الله تعالى في من قتل عمداً: {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ} [البقرة:178].

ويقول الله تعالى: {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ} [النساء:92] ويدخل فيها الفاسق بإجماع المسلمين.

وقد ذكر الله المنافقين الذين هم في الدرك الأسفل من النار، فقال تعالى عنهم في سورة التوبة: {وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ} [التوبة:56] وفي سورة الأحزاب قال تعالى: {قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ} [الأحزاب:18] فأدخلهم في سورة الأحزاب بالإضافة وأخرجهم في سورة التوبة، لم يدخلهم في سورة الأحزاب فحسب؛ بل قال: {قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ وَالْقَائِلِينَ لإِخْوَانِهِمْ} [الأحزاب:18].

والمقصود: أن هذه السياقات الواردة في الوعد والوعيد والأسماء والأحكام وأسماء الإيمان والدين لابد من فقهها.

ومن التمس وجهاً واحداً، فإنه يقع إما في الإفراط إن أخذ بعض النصوص التي تقوده إلى الإفراط، كمن لم يعرف من كلام الله سبحانه وكلام نبيه صلى الله عليه وسلم في الوعيد إلا مثل قول الله تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا} [النساء:14] وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} [النساء:10] وما إلى ذلك من أحاديث الوعيد التي سبق الإشارة إلى شيء منها ..

فإنه يقع في الإفراط ولا بد؛ لأنه يرى أن هذه هي النصوص.

وكذلك: من لم يعرف إلا نصوص الوجه الآخر، فإنه يقع في التفريط في هذا الباب؛ وهذا الباب قد انضبط الجمع فيه، ودُرئ الإفراط والتفريط في نتائجه المقولة في الآخرة من جهة الخلود في النار أو عدمه.

ولكن الذي يقع به وهم عند بعض المتأخرين وبعض المعاصرين هو في تقدير مسائل الكفر والتكفير وقيام الحجة وعدم قيام الحجة، فإنه يقع نزاع في مسائل لم تنطق بها النصوص أصلاً، كمسألة فهم الحجة هل يشترط؟ على قولين: القول الأول: أنه يشترط، والقول الثاني: أنه لا يشترط، وهذا كله من التكلف اللفظي.

والمعاني الشرعية -ولا سيما هذا المعاني الكبار- إنما تعتبر بحقائقها التي تجمع تحتها سائر النصوص التي قد تبدو لمن ليس له فقه أن ظاهرها التعارض.
দ্বিতীয় শর্ত: অনুসরণ

দ্বিতীয় শর্ত হলো অনুসরণ (ইত্তিবা)। যে ব্যক্তি গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী কিন্তু অনুসরণের পথে চলে না, সে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। কখনও কখনও নصوص (দলিল) তার কাছে জটিল হয়ে যায়, ফলে সে হয়তো নিজের উদ্ভাবিত কোনো ফিকহকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়; কারণ সে মনে করে যে এটিই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর অনুসরণ, যদিও সে অন্যদের বিরোধিতা করে থাকে।

আর এই স্খলনটি বিচ্যুতির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীই প্রামাণ্য, কিন্তু শারঈ দৃষ্টিতে এটা অসম্ভব যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম থেকে যা গ্রহণ করা আবশ্যক তা সাহাবী এবং সালাফদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হেদায়াতের পরিপন্থী হবে।

এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান যখন অনুসরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং ঈমানের মাসআলা নিয়ে নিজে নিজে চিন্তা করেন, তখন তিনি দেখলেন যে আল্লাহ কুরআনে বলছেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে} [আল-বাকারা: ২৭৭]। এখানে তিনি ঈমান ও আমলের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পান এবং মনে করেন যে, আমল ঈমানের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: এটি তাঁর জন্য দলিল নয়; কারণ এটি সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন (আতফুল খাস আলাল আম)।

আমি বলব: এটি সুন্নাহর একদল আলিম কর্তৃক উল্লিখিত একটি পরিচিত উত্তর, কিন্তু এটি যদি দুর্বল নাও হয় তবুও এটি অকাট্য দলিল নয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ স্বয়ং সূক্ষ্ম তাহকিকের সময় এই উত্তরটিকে পছন্দ করতেন না। তিনি মনে করতেন এর বাইরে অন্য উত্তরই সঠিক। ইনশাআল্লাহ, যথাস্থানে এর যথাযথ উত্তর আসবে।

আপনি যদি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের বাণীর দিকে তাকান, তবে এমন অনেক স্থান পাবেন যা কেবল ফিকহ ও অনুসরণের অধিকারী বিজ্ঞ ব্যক্তিরাই বুঝতে সক্ষম। জিবরাইল আলাইহিস সালামের হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তা হলো এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনবে)।

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল এলো —যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের ইবনে আব্বাসের হাদিসে এবং ইমাম মুসলিমের আবু সাঈদ খুদরীর বর্ণনায় এসেছে— তিনি বললেন: (আমি তোমাদের এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনা কী? তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন)।

অতঃপর তিনি তাদের কাছে তা-ই উল্লেখ করলেন যা দ্বারা জিবরাইলের হাদিসে ইসলামকে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরে এই বৈচিত্র্য বিদ্যমান।

এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন —যেমনটি সহীহ বুখারীতে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে রয়েছে—: (যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)।

আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেন: (আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম যখন তিনি একটি সাদা চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম, তখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। তারপর আমি পুনরায় এলাম যখন তিনি জাগ্রত হলেন এবং আমি তাঁর কাছে বসলাম। তখন তিনি বললেন: যে কোনো বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে —অন্য শব্দে: সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল— আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে। আমি বললাম: যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে। আমি বললাম: যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? তিনি বললেন: আবু যরের নাক ধূলিমলিন করে হলেও (অর্থাৎ তার অপছন্দ সত্ত্বেও) যদিও সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে)। অন্য রেওয়ায়েতে আছে: (যদিও সে মদ পান করে)।

এবং মাহমুদ ইবনে রবী'র বর্ণিত ইতবান ইবনে মালিকের হাদিসে (বুখারী ও মুসলিমে) আছে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতবানের ঘরে প্রবেশ করলেন (ইতবানের দৃষ্টিশক্তি তখন ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি ঘরে একটি নামাজের জায়গা নির্ধারণ করতে চেয়েছিলেন), তখন তিনি রাসূলুল্লাহর কাছে অনুরোধ করলেন যাতে তিনি সেখানে নামাজ পড়েন এবং তাঁর পার্থিব জীবনের পবিত্র স্মৃতি হিসেবে সেখান থেকে বরকত লাভ করা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে একদল সাহাবীকে নিয়ে নামাজ পড়তে এলেন। রাসূলুল্লাহ যখন ইতবানের ঘরে নামাজে ছিলেন, তখন সাহাবীরা মালিক ইবনে দুখশুম সম্পর্কে কথা বলতে লাগলেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যাকে কিছু সাহাবী মুনাফিক হওয়ার অপবাদ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন। বর্ণনাকারী বলেন: সাহাবীরা চাচ্ছিলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে দোয়া করুন যাতে সে ধ্বংস হয়ে যায় অথবা তার কোনো বিপদ ঘটে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করলেন, তখন তিনি এটি বললেন না যে 'আমি লোকটিকে চিনি' অথবা মালিক ইবনে দুখশুমের ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন না; বরং তিনি বললেন: (সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল'? তারা বলল: অবশ্যই দেয়, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: যে কেউ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'র সাক্ষ্য দিবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না অথবা জাহান্নাম তাকে স্পর্শ করবে না)।

নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহয় পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) উল্লেখ করেছেন।

আবার যখন শাস্তির (ওয়াইদ) কথা বলেছেন, তখন বলেছেন: (যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না)। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে আছে: (চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না)। সহীহ হাদিসে আছে: (যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোনো মুসলিমের হক আত্মসাৎ করবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দিবেন এবং জান্নাত হারাম করবেন)। বুখারীর হাদিসে আছে: (আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করেছে —অর্থাৎ আত্মহত্যা করেছে— আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি)। এমনকি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে আছে: (যে ব্যক্তি কোনো ধারালো লোহা দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সেই লোহা তার হাতে থাকবে এবং জাহান্নামের আগুনে সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে এবং সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে)। যদিও 'চিরকাল' শব্দটি সহীহ মতে সংরক্ষিত নয়।

সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাদিসে আছে যখন তিনি বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে দান করুন, কেননা সে মুমিন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নাকি মুসলিম?!) অর্থাৎ মুমিন বলো না: {মরুবাসীরা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি'। বলো, 'তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বলো, আমরা আত্মসমর্পণ (ইসলাম গ্রহণ) করেছি'} [আল-হুজুরাত: ১৪]।

তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে বলেছেন: {তবে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে যাকে কিছু ক্ষমা করা হয়} [আল-বাকারা: ১৭৮]।

আবার আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {একজন মুমিন দাস মুক্ত করা} [আন-নিসা: ৯২], যেখানে মুসলিমদের ঐকমত্যে ফাসিক ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। সূরা আত-তাওবায় তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা আল্লাহর নামে কসম করে যে তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়} [আত-তাওবা: ৫৬]। আবার সূরা আল-আহজাবে বলেছেন: {আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা বাধা দানকারী} [আল-আহজাব: ১৮]। এখানে সূরা আল-আহজাবে আল্লাহ তাদের "তোমাদের অন্তর্ভুক্ত" বলে সম্বোধন করেছেন কিন্তু সূরা আত-তাওবায় তাদের বের করে দিয়েছেন। সূরা আল-আহজাবে কেবল তাদের অন্তর্ভুক্তই করেননি বরং বলেছেন: {আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা বাধা দানকারী এবং যারা তাদের ভাইদের বলে} [আল-আহজাব: ১৮]।

উদ্দেশ্য হলো: পুরস্কার, শাস্তি, নাম ও বিধান এবং ঈমান ও দ্বীনের নাম সংক্রান্ত এই প্রসঙ্গগুলো অবশ্যই গভীরভাবে বুঝতে হবে।

যে ব্যক্তি কেবল একটি দিক গ্রহণ করে, সে হয় বাড়াবাড়িতে (ইফরাত) নিপতিত হয় যদি সে এমন কিছু দলিল গ্রহণ করে যা তাকে বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে যায়। যেমন যে ব্যক্তি শাস্তির বিষয়ে আল্লাহর কালাম ও নবীর বাণীর মধ্যে কেবল এ জাতীয় আয়াত চেনে: {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে} [আন-নিসা: ১৪] এবং আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} [আন-নিসা: ১০] এবং এ জাতীয় শাস্তির অন্যান্য হাদিস যার কিছু অংশের দিকে আগে ইঙ্গিত করা হয়েছে...

সে অবশ্যই বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হবে; কারণ সে মনে করে এগুলোই একমাত্র দলিল।

একইভাবে, যে ব্যক্তি কেবল অন্য দিকের (পুরস্কারের) দলিলগুলো চেনে, সে এই বিষয়ে শিথিলতায় (তাফরিত) লিপ্ত হয়। পরকালে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া বা না হওয়ার ফলাফলের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে সমন্বয়ের ধারাটি সুনির্ধারিত এবং এর মাধ্যমে বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা দূর করা হয়েছে।

কিন্তু ইদানীংকালের কিছু পরবর্তী এবং সমসাময়িক ব্যক্তির মধ্যে কুফর, তাকফির এবং হুজ্জত (প্রমাণ) কায়েম হওয়া বা না হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়, তা এমন সব বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে যা আসলে দলিলে স্পষ্টভাবে আসেনি। যেমন: হুজ্জত বোঝা কি শর্ত? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: প্রথম মত হলো— এটি শর্ত, এবং দ্বিতীয় মত হলো— এটি শর্ত নয়। এসবই মূলত শাব্দিক কসরত।

শারঈ অর্থসমূহ —বিশেষ করে এই মহান অর্থগুলো— সেগুলোর মূল হাকিকতের মাধ্যমেই বিবেচিত হয়, যা এমন সব দলিলকে একত্রিত করে যেগুলো ফিকহ বা প্রজ্ঞা না থাকা ব্যক্তির কাছে বাহ্যত পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح الواسطية - يوسف الغفيص   (يوسف الغفيص)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الواسطية

المؤلف: يوسف بن محمد علي الغفيص

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 24 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

শারহু ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গুফাইস   (ইউসুফ আল-গুফাইস)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: শারহু ওয়াসিতিয়্যাহ

লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আলী আল-গুফাইস

কিতাবটির উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব নেটওয়ার্ক সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ২৪টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শা'বান ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [2]

سنة الله الجارية في خلقه أن يفترقوا إلى فرق ومذاهب شتى، وقد حصل هذا الافتراق في هذه الأمة، كما حصل عند من سبقها من يهود ونصارى، لكن لا تزال في الأمة المحمدية الفرقة الناجية، وهي أوسط الفرق وأعدلها.
‌শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ [২]

সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম হলো তারা বিভিন্ন দল ও মতে বিভক্ত হবে। এই বিভক্তি এই উম্মতের মধ্যেও ঘটেছে, যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে ঘটেছিল। তবে মুহাম্মদী উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি মুক্তিপ্রাপ্ত দল বিদ্যমান থাকবে, আর সেটি হলো সকল দলের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এবং সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌افتراق المسلمين إلى فرق ومذاهب

قال المصنف: [أما بعد ..

فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة].

النبي عليه الصلاة والسلام بيَّن أن أمته ستفترق، وهذا متواترٌ عن الرسول عليه الصلاة والسلام، تلقته الأمة -أعني: أهل السنة والجماعة- بالقبول، ولم ينازع فيه أحد من أئمة الحديث، فإنه تواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم من رواية جماعة من الصحابة: (أنه لا تزال طائفة من هذه الأمة على الحق ظاهرين، لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى تقوم الساعة)، وفي وجه: (حتى يأتي أمر الله).

هذا الحديث المتواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم المتلقى بالقبول يدل على أن ثمة افتراقاً سيحدث.

أيضاً ذكر النبي صلى الله عليه وسلم الاختلاف في نصوص كثيرة، كقوله صلى الله عليه وسلم -كما في الصحيحين-: (تمرق مارقة على حين فرقة من المسلمين تقتلهم أولى الطائفتين بالحق).

فمثل هذا النص وما في معناه يدل على أن ثمة افتراقاً.

أيضاً الاختلاف والافتراق من جهة الوقوع لا أحد ينكره، فإن الأمة وقع فيها افتراق واختلفت، وصار فيها طوائف متحيزة لمذاهبها وأصولها.

فمثل هذا مما لا ينبغي إنكاره أو التكلف في إنكاره.

وقد جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم -فيما رواه أهل السنن وغيرهم من حديث أبي هريرة وأنس رضي الله عنهما أنه قال: (افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة) وهذا الحديث لا يختص وحده بذكر مسألة الافتراق في هذه الأمة، وقد أخرت ذكره؛ لأن فيه طعناً من جهة صحته.

لكن من أراد أن يرفع هذا الافتراق، ويقول أنه لا وجود له، وأن الأصول السلفية وغير السلفية لا فرق بينها، وإنما هذا اجتهاد للمحدثين، وهذا اجتهاد لبعض النظار ..

وهلم جرا، ويدفع ذلك بأن الحديث المروي في الافتراق -وهو حديث: (افترقت اليهود

إلخ) - حديث ضعيف ..

فقد جاء أمراً متكلفاً وارتكب شططاً؛ فإنه لو سلم جدلاً أن الحديث ضعيف -ليس بَيِّنَ الصحة والثبوت، وإن كان الأظهر فيه أنه ثابت- فإن الحكم لا يختلف؛ لأن الحديث المتواتر بيَّن أن الأمة سيقع فيها اختلاف، وأن طائفةً منها ستختص بالصواب، وإن كان اختصاصها بالصواب لا يلزم منه أن سائر ما يقع لغيرها من الأقوال والأفعال يكون باطلاً، بل يقع لهم قدر من الصواب إما مجملاً وإما مفصلاً، ولكن الذي اقتدى بسنة النبي صلى الله عليه وسلم على تفصيلها هم أصحاب هذه الطائفة الناجية المنصورة.
মুসলমানদের বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়া

গ্রন্থকার বলেন: [অতঃপর .. এটি হলো কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বা বিশ্বাস]।

নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর উম্মত বিভক্ত হবে। এটি রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে বর্ণিত একটি মুতাওয়াতির বিষয়, যা এই উম্মত—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—গ্রহণ করে নিয়েছে এবং হাদীস বিশারদ ইমামদের কেউ এ ব্যাপারে দ্বিমত করেননি। কেননা একদল সাহাবীর বর্ণনা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে: (এই উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের অপদস্থ করতে চাইবে কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়)। অন্য বর্ণনায় এসেছে: (যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই মুতাওয়াতির হাদীসটি, যা সর্বজনগৃহীত, এটি প্রমাণ করে যে অচিরেই বিভক্তি ঘটবে।

এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক ভাষ্যে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যা সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে: (মুসলমানদের মধ্যে বিভেদের সময় একটি দল ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে বেরিয়ে যাবে। যারা হকের অধিকতর নিকটবর্তী, সেই দুই দলের মধ্যে যারা সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী তারা তাদের হত্যা করবে)।

এই জাতীয় ভাষ্য এবং এর সমার্থবোধক বর্ণনাগুলো নির্দেশ করে যে নিশ্চিতভাবেই বিভক্তি ঘটবে।

তদুপরি বাস্তবতার নিরিখে মতভেদ ও বিভক্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা উম্মতের মধ্যে বিভক্তি ঘটেছে এবং তারা মতভেদ করেছে। সেখানে এমন সব দল তৈরি হয়েছে যারা তাদের নিজস্ব মতবাদ ও মূলনীতির প্রতি পক্ষপাতি।

সুতরাং এটি এমন বিষয় যা অস্বীকার করা অনুচিত কিংবা এটি অস্বীকার করার জন্য বাড়াবাড়ি করাও সমীচীন নয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে—সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: (ইয়াহুদীরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর খ্রিষ্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর অচিরেই এই উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে)। এই উম্মতের বিভক্তির বিষয়টি বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল এই একটি হাদীস নির্দিষ্ট নয়। আমি এটি দেরিতে উল্লেখ করেছি কারণ এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে কিছুটা আপত্তি রয়েছে।

তবে যারা এই বিভক্তিকে অস্বীকার করতে চায় এবং বলতে চায় যে এর কোনো অস্তিত্ব নেই, এবং সালাফী ও গায়রে সালাফী মূলনীতির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, বরং এটি স্রেফ মুহাদ্দিসদের একটি ইজতিহাদ এবং এটি কিছু তাত্ত্বিকদের ইজতিহাদ...

ইত্যাদি বলে তারা একে এড়িয়ে যেতে চায় এই যুক্তিতে যে, বিভক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি—অর্থাৎ 'ইয়াহুদীরা বিভক্ত হয়েছিল...' হাদীসটি—একটি দুর্বল হাদীস।

প্রকৃতপক্ষে এমন ব্যক্তি একটি কষ্টকল্পিত বিষয় নিয়ে এসেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। কারণ তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয় যে হাদীসটি দুর্বল—অর্থাৎ এটি স্পষ্টভাবে সহীহ বা সাব্যস্ত নয়, যদিও প্রবল মত অনুসারে এটি সাব্যস্ত—তথাপি মূল সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কারণ মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ স্পষ্ট করেছে যে উম্মতের মধ্যে মতভেদ ঘটবে এবং তাদের একটি দল সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার বৈশিষ্ট্যে অনন্য হবে। যদিও তাদের সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার অর্থ এই নয় যে অন্যদের সকল কথা ও কাজই বাতিল হবে; বরং তাদের মধ্যেও সামগ্রিক বা বিস্তারিতভাবে কোনো না কোনো মাত্রায় সঠিক বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু যারা বিস্তারিতভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করেছে, তারাই হলো এই নাজাতপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفرقة الناجية من فرق المسلمين

هذه الطائفة ليس لها اختصاص بزمانٍ أو مكان أو جهة علمية كالحديث أو الفقه أو نحوه، إنما جاء في خصائصها أنها متبعة لكتاب الله سبحانه وتعالى ولسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، فكل من اعتبر هذين الأصلين ولم يخرج عنهما إلى غيرهما، ولم يتكلف إفساد شيء منهما، فإنه يكون منها؛ فإنه ليس هناك طائفة من طوائف أهل القبلة الخارجة عن السنة والجماعة تعتبر هذين الأصلين.

ويقع عند بعض العلماء الكبار من المحققين المعاصرين أنهم يضيفون -كثيراً-: فهم السلف الصالح، وهذه الإضافة إضافة حسنة في الجملة -ليس المقصود الاعتراض عليها- لكنها ليست شرطاً لابد من ذكره.

فإذا قيل: إن الطائفة الناجية المنصورة إنما هي معتبرة بالكتاب والسنة لكان هذا كافياً.

وقد يقول قائل: إن كثيراً من الفرق الإسلامية تقول: إنها على الكتاب والسنة، ولكن لا أحد منها يقول: إنه على فهم السلف.

فأقول: إن الاستقراء الدقيق لسائر هذه الطوائف بلا استثناء يُعلم به أنه ليس هناك طائفة تعتبر أقوالها بالكتاب والسنة وحدهما؛ إنما يقع أحد أمرين: إما أن هذه الطائفة تجعل مع الكتاب والسنة أصولاً في الاستدلال، وهذا وقعت فيه جمهور الطوائف المخالفة للسنة والجماعة، وإما -وهو حال معتقدي المخالفين من الطوائف- أنهم لم يدخلوا أصولاً في الاستدلال إلا أنهم لا يعتبرون دلالة الكتاب والسنة على الإطلاق، كقولهم أن خبر الآحاد لا يحتج به في الاعتقاد.

قد يقول قائل: إن التفسير لهذا الكلام حقيقته فهم السلف الصالح.

فنقول: نعم، ومن هنا نقول: إن من أضاف هذا القيد فقد أضاف كلاماً حسناً، وكأنه -بحسب الحدود المعروفة في المنطق- قيدٌ بياني؛ وذلك لأن إجماع السلف الصالح لا يخرج عن الكتاب والسنة، فإذا قلت: إن معتبر هذه الطائفة هو الكتاب والسنة فقد أصبت، وإذا قلت: إن معتبرها الكتاب والسنة والإجماع فقد أصبت.

وقد ورد هذا التنوع في كلام السلف من الصحابة والأئمة، فإننا نجد أنهم يذكرون الكتاب والسنة تارة، وتارة يذكرون الكتاب والسنة والهدي أو الإجماع، أو ما إلى ذلك من الأحرف المعبرة عن هذا المعنى الفاضل.

وهذه الطائفة مختصة بهذا الأمر، وهو أنها معتبرة بدليل الكتاب والسنة، وهي الطائفة الناجية -أي: من عذاب الله سبحانه وتعالى وهي المنصورة، وكأن لفظ النجاة -والله أعلم- إشارة إلى نجاتها في الآخرة، ولفظ النصر إشارة إلى حالها في الدنيا، وكأن هذا هو موجب هذا التعبير وهذا التعبير، وليس هناك اختصاص لهذه الفرقة الناجية عن الطائفة المنصورة أو عكسه.
মুসলিম দলগুলোর মধ্য থেকে নাজাতপ্রাপ্ত দল

এই দলটির কোনো নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা হাদীস বা ফিকহ বা অনুরূপ কোনো ইলমী বিষয়ের সাথে বিশেষ কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং এর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এটি এসেছে যে, তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসারী। সুতরাং যে ব্যক্তিই এই দুটি মূলনীতিকে গ্রহণ করল এবং এই দুটি ছেড়ে অন্য কোনো কিছুর দিকে ধাবিত হলো না এবং এ দুটির কোনো কিছু বিকৃত করার ধৃষ্টতা দেখাল না, সে এর অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা আহলে কিবলার দলগুলোর মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বহির্ভূত এমন কোনো দল নেই যারা এই দুটি মূলনীতিকে যথাযথভাবে গ্রহণ করে।

সমকালীন বড় বড় গবেষক আলেমদের কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা প্রায়শই একটি বিষয় যুক্ত করেন—আর তা হলো: সালাফে সালেহীনের বুঝ। এই সংযোজনটি সামগ্রিকভাবে একটি উত্তম সংযোজন—এর ওপর আপত্তি তোলা উদ্দেশ্য নয়—তবে এটি এমন কোনো শর্ত নয় যা উল্লেখ করা অনিবার্য।

সুতরাং যদি বলা হয়: নাজাতপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি মূলত কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী, তবে এটিই যথেষ্ট হতো।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: অনেক ইসলামী দলই তো দাবি করে যে তারা কিতাব ও সুন্নাহর ওপর রয়েছে, কিন্তু তাদের কেউ তো বলে না যে তারা সালাফের বুঝের ওপর রয়েছে।

আমি বলব: ব্যতিক্রমহীনভাবে এই সব দলগুলোর নিখুঁত পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি জানা যায় যে, এমন কোনো দল নেই যারা তাদের বক্তব্যকে শুধুমাত্র কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করে; বরং দুটির একটি ঘটে থাকে: হয় এই দলটি কিতাব ও সুন্নাহর পাশাপাশি দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কোনো মূলনীতি নির্ধারণ করে নেয়, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিরোধী অধিকাংশ দলের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। অথবা—যা বিরোধী দলগুলোর অনুসারীদের অবস্থা—তারা দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন কোনো মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত না করলেও তারা কিতাব ও সুন্নাহর প্রমাণের ব্যাপ্তিকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করে না; যেমন তাদের এই কথা যে, আকীদার ক্ষেত্রে একক বর্ণনা বা খবরে ওয়াহেদ দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: এই কথার ব্যাখ্যার প্রকৃত রূপ হলো সালাফে সালেহীনের বুঝ।

আমরা বলব: হ্যাঁ, আর এ কারণেই আমরা বলি যে, যিনি এই শর্তটি যুক্ত করেছেন তিনি একটি উত্তম কথা যোগ করেছেন এবং এটি—যুক্তিবিদ্যার পরিচিত সংজ্ঞা অনুযায়ী—একটি ব্যাখ্যামূলক শর্ত। কারণ সালাফে সালেহীনের ঐক্যমত্য কিতাব ও সুন্নাহর বাইরে নয়। সুতরাং আপনি যদি বলেন যে, এই দলটির মানদণ্ড হলো কিতাব ও সুন্নাহ, তবে আপনি সঠিক বলেছেন। আর আপনি যদি বলেন যে, এর মানদণ্ড হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা, তবেও আপনি সঠিক বলেছেন।

সাহাবী এবং ইমামদের ন্যায় সালাফদের বাণীতেও এই বৈচিত্র্য পাওয়া যায়। আমরা দেখি যে, তারা কখনো কিতাব ও সুন্নাহর কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনো কিতাব, সুন্নাহ ও আদর্শ বা ইজমা অথবা এই মহৎ অর্থ প্রকাশকারী অন্য কোনো শব্দের উল্লেখ করেন।

আর এই দলটি এই বিষয়ের সাথে বিশিষ্ট যে, এটি কিতাব ও সুন্নাহর দলীল দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। এটিই নাজাতপ্রাপ্ত দল—অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আজাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত—এবং এটিই সাহায্যপ্রাপ্ত দল। আর নাজাত বা মুক্তি শব্দটি—আল্লাহই ভালো জানেন—পরকালে তাদের মুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে এবং নসর বা সাহায্য শব্দটি দুনিয়াতে তাদের অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে। যেন এই দুটি শব্দ ব্যবহারের কারণ এটিই। আর এই নাজাতপ্রাপ্ত দলের সাথে সাহায্যপ্রাপ্ত দলের কোনো পার্থক্য নেই বা এর বিপরীতও নয়।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌شرح قول المصنف: (إلى قيام الساعة)

قال المصنف: [أما بعد ..

فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة].

قوله: "إلى قيام الساعة" لأن النبي صلى الله عليه وسلم بيَّن: (أنه لا تزال طائفة من هذه الأمة على الحق ظاهرين حتى يأتي أمر الله)، وفي رواية: (حتى تقوم الساعة).

مع أنه صح عن النبي صلى الله عليه وسلم -في الصحيح وغيره- أنه قال: (أن الساعة لا تقوم إلا على شرار الخلق)، ولا تقوم حتى لا يقال في الأرض: (الله الله) وهذا من التعبير العربي الواسع، فإن قوله: (حتى تقوم الساعة) ليس بالضرورة أن يدل على أن الساعة تقوم عليهم، بل عند قيامها؛ فإن من أمارات الساعة الريح التي يبعثها الله سبحانه وتعالى؛ فتأخذ نفوس المؤمنين، حتى يبقى الكفار فعليهم تقوم الساعة.

فهذا معنى قوله صلى الله عليه وسلم: (حتى تقوم الساعة)، وبهذا يتبين أنه ليس معارضاً لخبره: (أن الساعة لا تقوم إلا على شرار الخلق).
মূল লেখকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা: (কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত)

মূল লেখক বলেন: [অতঃপর...

এটি কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলের আকিদা বা বিশ্বাস]।

তাঁর কথা: "কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত" এর কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে), এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়)।

অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (কেবলমাত্র নিকৃষ্টতম সৃষ্টিদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে), এবং কিয়ামত ততক্ষণ কায়েম হবে না যতক্ষণ না পৃথিবীতে বলা হবে: (আল্লাহ, আল্লাহ)। এটি প্রশস্ত আরবী প্রকাশভঙ্গির অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁর কথা: (যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়) এর দ্বারা অবধারিতভাবে এটি বোঝায় না যে, কিয়ামত তাদের ওপর কায়েম হবে, বরং কিয়ামত কায়েম হওয়ার সময়কালে; কেননা কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হলো সেই বাতাস যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রেরণ করবেন; যা মুমিনদের জান কবজ করে নেবে, ফলে কেবল কাফেররাই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে।

এটিই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়) এর অর্থ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এটি তাঁর এই সংবাদের বিরোধী নয় যে: (নিকৃষ্টতম সৃষ্টিদের ওপর ছাড়া কিয়ামত কায়েম হবে না)।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌شرح قول المصنف: (أهل السنة والجماعة)

قال: [أما بعد ..

فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة].

أهل السنة: أي هم المتمسكون بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

قد يقول قائل: لِمَ لم يقل: أهل القرآن؟

الجواب: أنه ليس المقصود بالسنة هنا الحديث الذي هو كلام الرسول صلى الله عليه وسلم، بل معنى السنة هنا أعم من ذلك، فإنه يراد بالسنة في هذا السياق ما بعث به النبي صلى الله عليه وسلم، فسنة المرسلين هي رسالتهم، ويمكن أن يقال: إن أهل السنة هنا بمنزلة أهل الرسالة، فقوله: (أهل السنة) أي: المتمسكون بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، وسنته ليس فقط ما قاله صلى الله عليه وسلم، بل ما بعث به، وأخصه القرآن الذي هو كلام الله سبحانه وتعالى، ثم ما أوحاه الله سبحانه وتعالى إلى نبيه من الأقوال، وكذلك ما وقع له صلى الله عليه وسلم من الأفعال الشرعية.

قوله: "والجماعة" يقع في كلام بعض المتكلمين وأهل البدع أن هذا الاسم -يعنون "الجماعة"- دخل عليهم لما اجتمع الناس على معاوية رضي الله عنه، وهذا كله تكلف، فإن الجماعة لفظٌ شرعي، فقد قال الله سبحانه وتعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} [آل عمران:103] فيقصد بالجماعة الاجتماع.

وفي هذا إشارة إلى أن الإصابة الشرعية معتبرة بشرطين:

الأول: الفقه ..

وهذا ما يمكن أن نعبر عنه بقول المصنف: "السنة".

الثاني: الاتباع أو الاقتداء، وهو قوله: "الجماعة".

وهذا يستلزم نتيجةً شرعية لا بد من فقهها: أن ثمة تلازماً بين السنة والاجتماع، أو أن ثمة تلازماً بين الفقه وبين الاتباع ..

وهلم جراً من المعاني.

فمن اختص بفقه -ولاسيما في المسائل العامة التي تكلم فيها السلف- ليس عليه أثر صريح من كلام السلف فإنه ينكر عليه مهما أظهر للناظر أو للسامع أنه بناه على النصوص، وهذه النصوص من لم يفقهها فإنه يقع له اختلاطٌ كثير، ليس في مسائل الفقه، بل في مسائل فوق ذلك.

وأضرب لذلك مثلاً:

ذكر النبي صلى الله عليه وسلم الخوارج فوصفهم بقوله المتواتر عنه: (يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، ينظر -أي: الرامي- إلى نصله فلا يجد فيه شيئاً، ثم ينظر إلى رصافه فلا يجد فيه شيئاً، ثم ينظر إلى قذده فلا يجد فيه شيئاً، قد سبق الفرث والدم، لئن أدركتهم لأقتلنهم قتل عاد) وفي وجه: (قتل ثمود) وفي وجه: (قاتلوهم؛ فإن لمن قاتلهم أجراً عند الله) وفي وجه: (لو يعلم المقاتل لهم ما أعد له لنكل عن العمل).

فهذه الأحرف النبوية قد تقود الناظر فيها ابتداء -ولا سيما أنهم خرجوا على المسلمين، وكفروهم واستباحوا دماءهم، وأنهم لم يعتبروا حديث النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن هؤلاء قومٌ كفار، وأن الذي كفرهم هو الرسول عليه الصلاة والسلام؛ لأنه قال: (يمرقون من الدين) ليس أي مروق، بل: (كما يمرق السهم من الرمية، ينظر إلى نصله ..

قد سبق الفرث والدم) كالسهم إذا دخل رمية فخرج وليس فيه أي أثر لفرث أو دم، وكأنهم خرجوا من الإسلام لم يبق معهم منه أي أثر.

فالأحرف فيها كنايات قوية في ذمهم وفي مروقهم وبعدهم عن السنة وما بعث به النبي صلى الله عليه وسلم.

لكن الصحابة رضي الله عنهم مع كل هذه النصوص لم يتطرق -حسب ما نقل في الرواية- إلى صحابي واحد أن النبي صلى الله عليه وسلم قصد تكفيرهم، فإنهم لما ظهروا بآيتهم الحسية وبقتالهم للمسلمين، وبتكفيرهم لأئمة الصحابة الذين أدركوهم، وبسلهم السيف على المسلمين، لم يختلف الصحابة في قتالهم، لكن لم ينقل أي اختلاف عن الصحابة في كونهم ليسوا كفاراً، فقد أجرى فيهم علي بن أبي طالب والصحابة معه رضوان الله عليهم أجمعين سنة المسلمين، فلم يجهزوا على الجريح، ولم يتبعوا المدبر، ولم يغنموا الأموال، ولم يسبوا النساء والذراري.

بل لما قتل أحدهم علياً رضي الله عنه، وأدخل علي الدار قال: (إن مت فاقتلوه، وإن حييت فأنا ولي الدم).

فقوله رضي الله عنه: (فإن حييت فأنا ولي الدم)، يدل على أن الرجل مسلم؛ لأنه لو كان كافراً مرتداً لم يكن لـ علي رضي الله عنه ولاية في دمه، ولكان حكمه القتل مطلقاً: (من بدل دينه فاقتلوه)، وهذا ليس توانياً من علي رضي الله عنه؛ فإنه لما ظهر الكفر الصريح البواح ما تردد رضي الله عنه -بل ربما فعل أمراً عده بعض الصحابة من الزيادة- في قتل من أظهره، فإنه لما ظهر المؤلهة التناسخية -وهي فكرة زندقية فلسفية نقلت من بلاد فارس وأدخلها قوم يظهرون التشيع، وليس لها أثارة لا في العقل ولا في الشرع ولا حتى في ديانة أهل الكتاب- وألهوا علي بن أبي طالب رضي الله عنه، أحرقهم بالنار، فاعترض ابن عباس رضي الله عنهما وطائفة على مسألة الإحراق، وقال ابن عباس رضي الله عنهما -كما في البخاري -: (لو كنت أنا لم أحرقهم، ولقتلتهم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: من بدل دينه فاقتلوه).

فهذا الباب يحتاج إلى فقه واسع، ومن العجب أن ترى بعض طلبة العلم لا يجزم في بعض المسائل -وهي مسائل فقهية مفصلة- ويقول: إني متوقف فيها، مع أنها مسائل قد درست وصرح بدراستها، وضبطت في كتب الفقهاء.

لكن تراه في هذه المسائل الاستطرائية وفي شأنها تخبط كثير، إفراطاً وتفريطاً فإن التفريط فيها ليس بعيداً من جهة قدره وانتشاره عن الإفراط، فالإفراط موجود ولكن التفريط والتقصير في تحقيق هذه المسائل موجود أيضاً.
গ্রন্থকারের উক্তি: (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত)-এর ব্যাখ্যা

তিনি বলেছেন: [অতঃপর... এটি হলো কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদাহ, যারা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত]।

আহলুস সুন্নাহ: অর্থাৎ তারা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধারণকারী।

কেউ বলতে পারেন: তিনি কেন 'আহলুল কুরআন' বললেন না?

উত্তর: এখানে সুন্নাহ বলতে কেবল হাদীস বা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বুঝানো হয়নি, বরং এখানে সুন্নাহর অর্থ এর চেয়েও ব্যাপক। এই প্রেক্ষাপটে সুন্নাহ বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তাকে বুঝানো হয়েছে। অতএব, রাসুলগণের সুন্নাহ হলো তাঁদের প্রেরিত রিসালাত। আর বলা যেতে পারে যে, এখানে আহলুস সুন্নাহ মানে হলো রিসালাতের অনুসারীগণ। সুতরাং তাঁর কথা: (আহলুস সুন্নাহ) অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধারণকারী। আর তাঁর সুন্নাহ কেবল তাঁর বলা কথাই নয়, বরং তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার সবই; যার মধ্যে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআন, যা মহান আল্লাহর বাণী। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীর প্রতি যেসব কথা ওহী করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে যেসব শরয়ী আমল বা কাজ সংঘটিত হয়েছে—সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর উক্তি: "ওয়াল জামাআত" সম্পর্কে কিছু কালামশাস্ত্রবিদ ও বিদআতিদের কথায় পাওয়া যায় যে, এই নামটি—অর্থাৎ "জামাআত"—তাদের ওপর তখন থেকে এসেছে যখন মানুষ মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে একত্রিত হয়েছিল। এটি একটি নিরর্থক ও কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা। কারণ জামাআত একটি শরয়ী পরিভাষা। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" [আলে ইমরান: ১০৩]। সুতরাং জামাআত বলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বুঝানো হয়েছে।

এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শরয়ী সঠিকতা দুটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল:

প্রথমটি: ফিকহ বা প্রজ্ঞা...

যাকে গ্রন্থকার "সুন্নাহ" শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: অনুসরণ বা অনুকরণ—যা হলো তাঁর উক্তি "জামাআত"।

এটি একটি শরয়ী ফলাফলের দাবি রাখে যা বোঝা আবশ্যক: আর তা হলো সুন্নাহ এবং জামাআতের (ঐক্যের) মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, অথবা প্রজ্ঞা এবং অনুসরণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান...

এভাবেই আরও অনেক অর্থ রয়েছে।

সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো প্রজ্ঞার (বুঝের) দাবি করে—বিশেষ করে সালাফগণ যেসব সাধারণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তাতে—যার সপক্ষে সালাফদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই, তবে তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে; যদিও সে দর্শক বা শ্রোতার কাছে তা প্রকাশ করে যে সে এটি দলিলের ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে। এই দলিলগুলো যারা সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কেবল ফিকহী মাসআলায় নয় বরং তার চেয়েও উচ্চতর বিষয়ে।

আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেজিদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির বর্ণনায় তাদের এভাবে বর্ণনা করেছেন: (তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার করা বস্তু ভেদ করে বেরিয়ে যায়। শিকারি তীরের ফলার দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পায় না, এরপর তীরের কাঠের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখে না, এরপর পালকের দিকে তাকিয়েও কিছু দেখে না; অথচ তা গোবর ও রক্ত ভেদ করে চলে গেছে। আমি যদি তাদের পাই তবে আদ জাতির ন্যায় তাদের হত্যা করব)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (সামুদ জাতির ন্যায়)। অন্য বর্ণনায়: (তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো; কারণ যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে)। অন্য বর্ণনায়: (যদি যুদ্ধকারীরা জানত তাদের জন্য কী রাখা হয়েছে, তবে তারা অন্য আমল ছেড়ে দিত)।

নবীর এই শব্দগুলো প্রাথমিকভাবে পাঠকারীকে এই ধারণার দিকে নিয়ে যেতে পারে—বিশেষ করে যেহেতু তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তাদের কাফির বলেছিল, তাদের রক্ত হালাল মনে করেছিল এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে গুরুত্ব দেয়নি—যে এই লোকেরা কাফির এবং স্বয়ং রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাদের কাফির বলেছেন; কারণ তিনি বলেছেন: (তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে)। কেবল বেরিয়ে যাওয়া নয় বরং: (যেমন তীর শিকারের বস্তু থেকে বেরিয়ে যায়, সে ফলার দিকে তাকায়...

এটি গোবর ও রক্ত ভেদ করে চলে গেছে)। যেন তীর কোনো শিকারের গায়ে ঢুকে রক্ত বা গোবরের কোনো চিহ্ন ছাড়াই বেরিয়ে গেল; অর্থাৎ তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে গেছে যে তাদের কাছে ইসলামের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

এই শব্দগুলোতে তাদের নিন্দা এবং সুন্নাহ ও নবী যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়ার বিষয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে।

কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), এতসব দলিল থাকা সত্ত্বেও—বর্ণনা অনুযায়ী—একজন সাহাবী থেকেও এমন কথা পাওয়া যায় না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাফির বুঝিয়েছেন। কারণ তারা যখন তাদের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল এবং সমকালীন প্রধান সাহাবীদের কাফির বলল ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরল, তখন সাহাবায়ে কেরাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো মতভেদ করেননি। কিন্তু তারা কাফির নয়—এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য বর্ণিত হয়নি। আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) তাদের ক্ষেত্রে মুসলমানদের সুন্নাহ বা নিয়মই জারি করেছিলেন। তাই তারা আহতদের হত্যা করেননি, পলায়নকারীদের পিছু নেননি, তাদের ধনসম্পদ গনীমত হিসেবে নেননি এবং তাদের নারী ও শিশুদের বন্দি করেননি।

এমনকি যখন তাদের একজন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে আঘাত করল এবং আলীকে ঘরে আনা হলো, তখন তিনি বললেন: (যদি আমি মারা যাই তবে তাকে হত্যা করো, আর যদি আমি বেঁচে থাকি তবে আমিই আমার রক্তের মালিক)।

তাঁর এই উক্তি: (যদি আমি বেঁচে থাকি তবে আমিই আমার রক্তের মালিক) প্রমাণ করে যে ওই লোকটি মুসলিম ছিল। কারণ সে যদি কাফির বা মুরতাদ হতো, তবে তার রক্তের ব্যাপারে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা বা অধিকার থাকত না। বরং তার হুকুম হতো সরাসরি হত্যা: (যে তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)। এটি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কোনো শিথিলতা ছিল না। কারণ যখনই স্পষ্ট ও প্রকাশ্য কুফর প্রকাশ পেয়েছিল, তখন তিনি তা নির্মূল করতে দ্বিধা করেননি—বরং কখনও এমন কাজ করেছেন যা কোনো কোনো সাহাবী প্রয়োজনের অতিরিক্ত মনে করেছেন। যখন 'উলুহিয়াত' (আল্লাহত্ব) দাবিদার বা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসীরা আত্মপ্রকাশ করল—যা মূলত পারস্য থেকে আসা একটি যিন্দিক বা নাস্তিক্যবাদী দর্শন এবং যারা শিয়া মতবাদের আড়ালে এটি ঢুকিয়েছিল এবং যার কোনো ভিত্তি বিবেক, শরীয়ত বা কিতাবীদের ধর্মেও নেই—এবং তারা আলী ইবনে আবু তালিবকে ইলাহ বা উপাস্য বানিয়ে ফেলল, তখন তিনি তাদের আগুনে পুড়িয়েছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং একদল সাহাবী আগুনে পুড়িয়ে মারার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিলেন—যেমনটি বুখারীতে রয়েছে—: (আমি হলে তাদের পুড়িয়ে মারতাম না বরং হত্যা করতাম; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)।

সুতরাং এই বিষয়টি গভীর প্রজ্ঞার দাবি রাখে। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কিছু ইলম অন্বেষণকারীকে দেখা যায় তারা কিছু মাসআলায় সিদ্ধান্ত দিতে পারে না—যা বিস্তারিত ফিকহী মাসআলা—এবং বলে: আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করছি না (তাওয়াক্কুফ করছি); অথচ এই মাসআলাগুলো পঠিত এবং বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে এবং ফকীহগণের কিতাবে সুসংবদ্ধভাবে লেখা হয়েছে।

কিন্তু দেখা যায়, এই আনুসঙ্গিক বিষয়গুলোতে এবং এর প্রয়োগে অনেক বিশৃঙ্খলা ঘটে, কেউ সীমালঙ্ঘন করে আবার কেউ শিথিলতা করে। এই বিষয়গুলোতে শিথিলতা প্রদর্শন করা সীমালঙ্ঘনের চেয়ে কম নয়। সুতরাং সীমালঙ্ঘন যেমন বিদ্যমান, তেমনি এই মাসআলাগুলো সঠিকভাবে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা ও সংকীর্ণতাও বিদ্যমান।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أصول أهل السنة والجماعة في أصول الإيمان

[وهو: الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره].

قصد المصنف رحمه الله أن يكون ما يذكره في معتقد أهل السنة والجماعة من باب التفصيل للإيمان الذي بينه النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل؛ فإن هذه الأصول من الإيمان هي التي ذكرها الرسول عليه الصلاة والسلام في حديث جبريل لما فسر الإيمان، ومن هنا فإن سائر جمل المصنف التي يذكرها في باب الأسماء والصفات أو في باب الإيمان ومسماه، أو باب القدر، أو باب اليوم الآخر؛ هي داخلة في الإيمان بالله؛ فإن الإيمان بجميع ما هو من شرع الله سبحانه وتعالى -العلمي والعملي- من الإيمان به سبحانه وتعالى.

كذلك سائر هذه التفاصيل التي يذكرها المصنف رحمه الله هي من الإيمان بالكتب، ومن الإيمان بالرسل؛ لأن الدلالات يتنوع موردها، فقد يدل السياق على معنىً من المعاني بدلالة المطابقة أو بدلالة التضمن أو بدلالة التلازم، فسائر هذه المعاني تقع على هذا الوجه.

ويمكن أن يقال: إن هذه التفاصيل العقدية التي ذكرها المصنف رحمه الله وغيره في معتقد أهل السنة والجماعة حقيقتها الإيمان بالله سبحانه وتعالى.

والمصنفون إذا ذكروا الإيمان فتارةً يريدون به القول في مسماه والرد على المرجئة بذلك، وتارةً يريدون به مسائل الاعتقاد والأصول على الإطلاق.

والطريقة الأولى هي طريقة البخاري في صحيحه، والثانية هي طريقة الإمام مسلم في صحيحه، فكتاب الإيمان في صحيح البخاري هو على الطريقة الأولى، أي: القول في مسماه، فقد ذكر البخاري رحمه الله فيه مسمى الإيمان والرد على المرجئة في ذلك.

أما الإمام مسلم فإنه لما وضع في صحيحه كتاب الإيمان قصد بذلك أصول الاعتقاد، ولهذا ضمنه جمهوراً من أحاديث أصول الاعتقاد في التوحيد والقدر والشفاعة وغير ذلك.
ঈমানের মূলভিত্তির ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ

[আর তা হলো: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা]।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) ইচ্ছা করেছেন যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ সম্পর্কে তিনি যা কিছু উল্লেখ করবেন, তা যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসে বর্ণিত ঈমানের বিস্তারিত ব্যাখ্যাস্বরূপ হয়; কেননা ঈমানের এই মূলনীতিগুলোই রাসুল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসে ঈমানের ব্যাখ্যা প্রদানকালে উল্লেখ করেছেন। এখান থেকেই লেখকের উল্লেখ করা বাকি সকল বাক্য—যা তিনি আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়, ঈমান ও এর সংজ্ঞার অধ্যায়, তাকদিরের অধ্যায় অথবা পরকাল অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন—সবই আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শরিয়তের জ্ঞানগত এবং আমলগত যা কিছু আছে, তার সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা মূলত তাঁর প্রতি ঈমান আনারই অন্তর্ভুক্ত।

একইভাবে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যেসব বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান এবং রাসুলগণের প্রতি ঈমানেরও অংশ; কেননা দালালাত বা প্রমাণের উৎস বহুমুখী হয়। কখনো প্রেক্ষাপট কোনো অর্থের ওপর পূর্ণ অর্থবোধকতা (দালালাতুত মুতাবাকাহ), আংশিক অর্থবোধকতা (দালালাতুত তাদাম্মুন) কিংবা অপরিহার্য অর্থবোধকতা (দালালাতুত তালাযুম) এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং এই সকল অর্থ এই পদ্ধতিতেই বাস্তবায়িত হয়।

এবং এটি বলা সম্ভব যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্যরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ সম্পর্কে যে সকল আকিদাহগত বিবরণ উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ঈমান আনা।

লেখকগণ যখন ঈমান শব্দটি উল্লেখ করেন, তখন কখনো কখনো এর দ্বারা তারা ঈমানের সংজ্ঞা ও এর উপাদান এবং এর মাধ্যমে মুরজিআদের খণ্ডন করা উদ্দেশ্য নেন। আবার কখনো কখনো এর দ্বারা তারা সামগ্রিকভাবে আকিদাহর মাসায়েল ও মূলনীতিসমূহকে উদ্দেশ্য করেন।

প্রথম পদ্ধতিটি হলো ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাঁর সহিহ গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি, এবং দ্বিতীয়টি হলো ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাঁর সহিহ গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি। সহিহ বুখারির 'কিতাবুল ঈমান' প্রথম পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত, অর্থাৎ ঈমানের সংজ্ঞা ও স্বরূপ বর্ণনা করা; ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) সেখানে ঈমানের স্বরূপ এবং এ বিষয়ে মুরজিআদের খণ্ডন উল্লেখ করেছেন।

পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম যখন তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'কিতাবুল ঈমান' অধ্যায়টি সন্নিবেশিত করেছেন, তখন তিনি এর দ্বারা আকিদাহর মূলনীতিসমূহ উদ্দেশ্য করেছেন। এই কারণেই তিনি এর অধীনে তাওহিদ, তাকদির, শাফায়াত এবং এ জাতীয় আকিদাহর মূলনীতি সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الطريقة المثلى لتدريس العقيدة

قول المصنف: (وهو الإيمان بالله

إلخ) مما يبين أن معتقد أهل السنة والجماعة لا يخرج عن الأصول التي بعث بها النبي عليه الصلاة والسلام.

وهذا ينبه إلى مسألة، وهي: أن ما أحدثته الطوائف من أقوال بدعية في مسائل أصول الدين لا يوجب الزيادة على ما بعث به النبي صلى الله عليه وآله وسلم، بل يبقى معتقد أهل السنة والجماعة هو المعتقد الذي كان عليه الرسول عليه الصلاة والسلام وأصحابه من بعده.

ولهذا كانت الجمل المستعملة في كلام أئمة السلف التي لم ترد بألفاظها في كلام الله ورسوله أو في كلام الصحابة هي -في الغالب-: إما جملٌ سياقها يقع على النفي، أو جملٌ يقصد بها درء شبهة ودفع باطل قد طرأ على الحق.

مثلاً: شاع في كلام أئمة السنة والجماعة إذا ذكروا مسألة القرآن القول بأن القرآن غير مخلوق؛ مع أن هذه الجملة من جهة حرفها لا وجود لها في الكتاب والسنة أو في كلام الصحابة رضي الله عنهم، وإنما الذي في القرآن أنه كلام الله؛ لقول الله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} [التوبة:6].

وهذا الأمر -وله أمثلة كثيرة في كلام السلف- يبين لنا أنه حين يقرر المعتقد الواجب على سائر المسلمين أن يتبعوه، وهو معتقد أهل السنة والجماعة والمعتقد الذي بينه النبي صلى الله عليه وسلم للأمة كلها، وأوجب على الأمة أن تتبعه، فإن هذا المعتقد يجب أن يذكر بطريقة التقرير ابتداءً؛ فإنها الطريقة المعتبرة في القرآن والسنة.

أما ذكر هذا المعتقد بطريقة الردود وجمل النفي من غير ذكر لجمل الإثبات، فإن هذا ليس من منهج أئمة السلف، فضلاً عن كونه غير معرف بالحق، فإنك لو خاطبت من خاطبت من المسلمين من خاصتهم أو عامتهم بجمل من النفي، فإنهم يعلمون من هذه الجمل أن هذا المنفي ليس حقاً، لكن تعيين الحق من جهة كونه كلاماً مثبتاً مفصلاً قد لا يصلون إليه.

قد يقول قائل: إن النفي يستلزم إثبات الضد، فإذا عرف المسلم (أن القرآن غير مخلوق) علم أن السلف يرون أن القرآن كلام الله ليس مخلوقاً، وأن هذا رد لقول من قال: إنه مخلوق من الجهمية والمعتزلة ونحوها.

فأقول: إن متكلمة الصفاتية يبطلون بدعة الجهمية من جهة عمومها، فينفون أن القرآن مخلوق، ومع هذا فإنهم -أعني عبد الله بن سعيد بن كلاب من بعده من متكلمة الصفاتية- لا يثبتون معتقد أهل السنة والجماعة من كون القرآن هو كلام الله بحروفه، وأن كلام الله سبحانه وتعالى يقوم بذاته ومشيئته، وأنه بحرف وصوت مسموع

إلخ.

فالمقصود من هذا: أن تقرير المعتقد في سائر المسائل لا ينبغي أن يعتبر ابتداءً بمسألة النفي أو الرد، وإنما يعتبر بجمل التقرير، وهي الجمل الخبرية أو الجمل الأمرية التي سياقها خبري، ولكنها وقعت أمراً من الشارع، أي: ألفاظها ألفاظ خبرية، ولكنها جاءت في سياق الأمر أو التشريع.

والمصنف رحمه الله هنا أتى على هذا القصد الفاضل بقوله: (وهو الإيمان بالله).

وهذا أيضاً تأكيد لما سلف من أن معتقد أهل السنة والجماعة هو الإسلام الذي بعث به النبي صلى الله عليه وسلم، وبموجب هذا فإن سائر الطوائف التي يقال عنها أنها مخالفة للسلف هي قبل ذلك مخالفة للإسلام الذي بعث به النبي عليه الصلاة والسلام.
আকীদা পাঠদানের সর্বোত্তম পদ্ধতি

গ্রন্থকারের উক্তি: (আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা... ইত্যাদি) এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বা বিশ্বাস সেই মূলনীতিসমূহের বাইরে নয়, যা নিয়ে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম প্রেরিত হয়েছিলেন।

এটি একটি বিষয়ের দিকে আমাদের সজাগ করে দেয়, আর তা হলো: দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফেরকা যেসব বিদআতি মতবাদের উদ্ভাবন করেছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধির দাবি রাখে না। বরং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাই সেই বিশ্বাস হিসেবে অটল থাকে, যার ওপর রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

একারণেই সালাফ ইমামগণের বক্তব্যে এমন কিছু বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে যা হুবহু শব্দে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালামে কিংবা সাহাবীদের বক্তব্যে আসেনি; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো হয় এমন বাক্য যা নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা এমন বাক্য যা দ্বারা কোনো সংশয় দূর করা এবং সত্যের ওপর আপতিত বাতিলকে প্রতিহত করা উদ্দেশ্য।

উদাহরণস্বরূপ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণের বক্তব্যে এটি বহুল প্রচলিত যে, যখন তারা কুরআনের মাসআলা উল্লেখ করেন তখন বলেন—কুরআন মাখলুক বা সৃষ্টি নয়। যদিও শাব্দিক দিক থেকে এই বাক্যটির কোনো অস্তিত্ব কিতাব ও সুন্নাহ কিংবা সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের বক্তব্যে নেই। বরং কুরআনে যা আছে তা হলো—এটি আল্লাহর কালাম; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়।” [আত-তাওবা: ৬]।

এই বিষয়টি—যার অনেক উদাহরণ সালাফদের বক্তব্যে রয়েছে—আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, যখন এমন আকিদা প্রতিষ্ঠিত করা হয় যা অনুসরণ করা সমস্ত মুসলমানের জন্য ওয়াজিব, আর তা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা এবং সেই বিশ্বাস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র উম্মতের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং উম্মতের ওপর তা অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন, তখন সেই আকিদাকে শুরুতেই ইতিবাচক বর্ণনাভঙ্গিতে উল্লেখ করা জরুরি। কারণ এটিই কুরআন ও সুন্নাহর স্বীকৃত পদ্ধতি।

পক্ষান্তরে, ইতিবাচক বাক্যসমূহ উল্লেখ না করে কেবল খণ্ডনমূলক বা নেতিবাচক বাক্যের মাধ্যমে এই আকিদা বর্ণনা করা সালাফ ইমামগণের মানহাজ বা পদ্ধতি নয়। এছাড়া এটি সত্যকে সঠিকভাবে পরিচিতও করে না। কেননা আপনি যদি সাধারণ বা বিশিষ্ট কোনো মুসলিমের সামনে কেবল নেতিবাচক বাক্য দ্বারা কথা বলেন, তবে তারা এই বাক্যগুলো থেকে এটুকু বুঝতে পারবে যে, যা অস্বীকার করা হচ্ছে তা সত্য নয়। কিন্তু বিস্তারিত ইতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য কোনটি, তা হয়তো তারা অনুধাবন করতে পারবে না।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: কোনো কিছুকে অস্বীকার করলে তার বিপরীতটি প্রমাণিত হয়; সুতরাং একজন মুসলিম যখন জানবে যে ‘কুরআন সৃষ্টি নয়’, তখন সে বুঝতে পারবে যে সালাফগণ কুরআনকে আল্লাহর কালাম মনে করেন, তা সৃষ্টি নয়। আর এটি জাহমিয়া, মুতাজিলা ও তাদের সমমনাদের সেই উক্তির খণ্ডন যারা বলে যে কুরআন সৃষ্টি।

এর উত্তরে আমি বলব: সিফাতিয়া মুতাকাল্লিমগণ জাহমিয়াদের বিদআতকে সাধারণভাবে বাতিল ঘোষণা করে এবং কুরআন সৃষ্টি হওয়াকে অস্বীকার করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা—অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাব এবং তার পরবর্তী সিফাতিয়া মুতাকাল্লিমগণ—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের এই আকিদাকে সাব্যস্ত করে না যে, কুরআন তার অক্ষরসমূহসহ আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালাম তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট ও তাঁর ইচ্ছাধীন এবং তা অক্ষর ও শ্রবণযোগ্য শব্দের মাধ্যমে... ইত্যাদি।

সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো: সকল মাসআলায় আকিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুরুতেই অস্বীকার বা খণ্ডনমূলক বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং ইতিবাচক বর্ণনামূলক বাক্যের মাধ্যমে তা করা উচিত। অর্থাৎ সেই সব বর্ণনামূলক বাক্য বা আদেশসূচক বাক্য যা বর্ণনার প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু শারীআতের পক্ষ থেকে আদেশ হিসেবে গণ্য হয়েছে। অর্থাৎ সেগুলোর শব্দাবলি বর্ণনামূলক হলেও তা আদেশ বা বিধান প্রদানের প্রেক্ষাপটে এসেছে।

গ্রন্থকার রহেমাহুল্লাহ এখানে এই উত্তম উদ্দেশ্যটিই তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন: (আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা)।

এটি ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তারও একটি সমর্থন যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাই হলো সেই ইসলাম যা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন। ফলে এর অনিবার্য অর্থ দাঁড়ায় এই যে, যেসব ফেরকাকে সালাফদের বিরোধী বলা হয়, তারা প্রকৃতপক্ষে তার আগেই সেই ইসলামের বিরোধী যা নিয়ে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম প্রেরিত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌صور ورود الإيمان في النصوص

قول المصنف رحمه الله: [وهو الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره].

هذا الذي ذكره الرسول عليه الصلاة والسلام في بيان الإيمان، وسائر هذه الجمل الشرعية جمل عقدية، فإن الإيمان بالله والملائكة والكتب والقدر واليوم الآخر هي من محل القلب.

ومن هنا ظن كثير من الطوائف -ولا سيما المرجئة- أن الإيمان هو التصديق، وأهل السنة والجماعة لم يذهبوا بعيداً عن هذا الأصل الذي ذكره الشارع؛ فإنهم وإن قالوا: إن الإيمان قول وعمل، فإنهم يقولون: إن أصل الإيمان في القلب.

ولهذا فإن الشارع إذا ذكر الإيمان ومعه التفاصيل التي هي تبع لهذا المعتقد؛ فإنه يذكر الإيمان على جهة الاختصاص، وهذا هو الذي وقع في حديث جبريل عليه السلام؛ فقد جعل النبي صلى الله عليه وسلم الإيمان هو المعتقد، وجعل الإسلام هو العمل، وهو عليه الصلاة والسلام في حديث عبد القيس فسر الإيمان بما فسر به الإسلام في حديث جبريل عليه السلام.

وهذا أمر يأتي التفصيل فيه، ولكن يقال هنا: إن السلف وإن قالوا: إن الإيمان قول وعمل إلا أنهم لا يختلفون أن أصل الإيمان في القلب، وأن التصديق هو الأصل في هذا الإيمان، وهو التصديق الذي يقع معه إذعان.
নصوص বা দলীলসমূহে ঈমানের বর্ণনা আসার বিভিন্ন রূপ

মুসান্নিফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: [আর তা হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা]।

এটিই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈমানের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। এই সমস্ত শরয়ী বাক্যসমূহ হলো আকীদাহগত বাক্য; কেননা আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, তাকদীর এবং পরকালের প্রতি ঈমান হলো অন্তরের বিষয়।

এখান থেকেই অনেক দল—বিশেষ করে মুরজিআরা—ধারণা করেছে যে, ঈমান হলো কেবল তাসদীক (বিশ্বাস)। অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত শরীয়তদাতার বর্ণিত এই মূলনীতি থেকে দূরে সরে যায়নি। তারা যদিও বলেন যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ, তবুও তারা বলেন: ঈমানের মূল হলো অন্তরে।

এই কারণেই শরীয়তদাতা যখন ঈমানের সাথে এই বিশ্বাসের অনুগামী বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেন, তখন তিনি ঈমানকে বিশেষ অর্থে উল্লেখ করেন। আর এটিই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীসে ঘটেছে; যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈমানকে বিশ্বাস এবং ইসলামকে আমল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আবার আব্দুল কায়েসের হাদীসে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ঈমানের ব্যাখ্যা সেভাবেই করেছেন যেভাবে জিবরাঈলের হাদীসে ইসলামের ব্যাখ্যা করেছিলেন।

এটি এমন একটি বিষয় যার বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, তবে এখানে বলা যায়: সালাফগণ যদিও বলেছেন যে ঈমান হলো কথা ও কাজ, তবুও তারা এ বিষয়ে একমত যে, ঈমানের মূল হলো অন্তরে এবং তাসদীক বা বিশ্বাসই হলো এই ঈমানের মূল ভিত্তি। আর এটি এমন এক বিশ্বাস যার সাথে পূর্ণ আনুগত্য ও সমর্পণ মিশে থাকে।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ما اجتمع عليه أهل القبلة وما اختلفوا فيه

قال المصنف رحمه الله: [وهو الإيمان بالله وملائكته

إلخ].

المصنف في رسالته، بل جمهور من كتب من أهل السنة والجماعة في أبواب أصول الدين يعنون -إذا ذكروا مسائل أصول الدين- بالجمل الخبرية التي وقع في مناطها كثيرٌ من الاختلاف، وهذا تحته تعليقان:

الأول: أن هذه الجمل الكلية من معتقد المسلمين جمهورها متفق عليه بين سائر أهل القبلة.

فمثلاً: حين يقال: إن ثمة خلافاً بين الطوائف في مسائل الأسماء والصفات، فهذا لا شك أنه ثابت، ولكن إذا اعتبرت كليات هذا الباب وهو القول بأن الله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء، وأنه سبحانه وتعالى مستحق للكمال منزه عن النقص ..

إلى غير ذلك من هذه الكليات؛ فإن المسلمين جميعاً قد اتفقوا عليها، ولا يعقل أن أحداً ينتسب إلى الإسلام أو إلى شريعة نبي من الأنبياء صدقاً ينتقص الرب سبحانه وتعالى أو يقول بأنه ليس مستحقاً للكمال.

وفرق هنا بين الأقوال الدالة بمنطوقها على ذلك، وبين الأقوال التي تستلزم هذا أو تتضمنه، ولكن صاحبها لا يقصد بها هذا المفهوم؛ فأقوال الجهمية -بل ومن دونهم- تعطيل للرب سبحانه وتعالى عن صفات الكمال، ولكن هذا التعطيل هو إما من جهة التضمن، وإما من جهة اللزوم في مذاهبهم.

أما أنهم صرحوا بهذا التعطيل حرفاً وقصدوه، وعرفوا أنه من النقص، فهذا لم يقع لهم ولم يقع لأحد من أهل القبلة.

الثاني: جمهور المصنفين في معتقد أهل السنة والجماعة -والمصنف في هذه الرسالة- يذكرون المسائل التي هي محل نزاع من جهة تفاصيلها.

فمثلاً: قد يقول قائل: إن مسائل الربوبية -بل وحتى مسائل الألوهية- لا نراها تفصل في الكتب التي تذكر معتقد أهل السنة والجماعة، فإنه وإن كان ثمة كتب من كتب أهل السنة والجماعة مختصة بهذا الباب -كتوحيد العبادة؛ ففيه مصنفات كثيرة- لكن عند النظر فيما صنف في المعتقد نجد أن جمهور هذه الكتب لا تذكر مسألة توحيد العبادة إلا على قدر من الإجمال، ولا تذكرها تصريحاً، والمصنف في هذه الرسالة لم يعن بتقرير هذه المسألة.

وكأن هذا إشارةٌ -والله أعلم- إلى أن السلف رحمهم الله ومن بعدهم من أتباعهم اشتغلوا بذكر الأصول التي صارت مورد نزاع.

وهذا يبين أن توحيد الربوبية من جهة حقائقه، أو بتعبير أدق: من جهة نتائجه: ليس مورد نزاع، فإن هذا الأصل من حيث هو كلي كان المشركون مقرين به، وإن كان يقع لهم انحراف عن بعض تفاصيله بما هو من الشرك، لكن مسائل الربوبية لم يشتغل السلف رحمهم الله بتفصيلها وتقريرها: كمسألة إثبات وجود الله وأنه الخالق وأنه الملك وأنه المدبر

إلى غير ذلك.

وإن كانوا فصلوا في باب الأسماء والصفات الذي حقيقته أنه من أخص مقامات الربوبية لله سبحانه وتعالى، فإن غرضهم بتفصيل مسألة الأسماء والصفات هو بيان أن الله سبحانه وتعالى متصف بهذه الصفات، وأنها صفات تقوم بذاته، وهذا درءٌ للقول الذي أحدثته الجهمية والمعتزلة من القول بأن الرب سبحانه لا يقوم بذاته شيءٌ من الصفات، وإن كانت سائر طوائف المسلمين تثبت ما هو من أحكام الصفات، وإلا فإن من نفى الصفات -أي: من نفى قيام الصفات بالذات- ونفى أحكام الصفات، فإنه لا يكون من الإسلام في شيء، بل ولا ينتسب إلى ديانة نبي من الأنبياء صدقاً.

فإن الجهمية والمعتزلة وإن قالوا: إن الرب سبحانه وتعالى لا يقوم بذاته صفة العلم أو القدرة أو السمع أو البصر أو ما إلى ذلك، لكن لا أحد منهم يصف الله سبحانه وتعالى بضد ذلك، فإنهم وإن لم يقولوا بأنه يقوم بذاته العلم، فإنهم لا يصفونه بالجهل

وهلم جراً.

وأيضاً فإنهم يثبتون أحكام الصفات، أي: كون الرب سبحانه وتعالى لا يعزب عنه شيء، فهذا المعنى من جهته حكماً تثبته الجهمية والمعتزلة وسائر من نفى الصفات، وإن كانوا لا يثبتونه صفةً تقوم بذات الرب سبحانه.

إذاً: باب الربوبية لم يشتغل الأئمة بتفصيله كمسألة وجود الله ونحوها؛ لأن القرآن نفسه لم يذكر هذه المسألة على التفصيل التقريري للمؤمنين باعتبارها مسألةً فطرية، وباعتبارها محل إقرار عند جمهور الناس، وإن كان -كما أسلفت- يقع للمشركين انحراف -بل شرك- في بعض تفاصيل الربوبية.

وأما مسألة الألوهية: وهي إفراد الله سبحانه وتعالى بالعبادة، فهذه المسألة هي أخص مسألة تذكر في كتاب الله سبحانه وتعالى، ومشركو العرب كانوا مخالفين في هذا الأصل، بل هو أصل مخالفتهم هم وغيرهم من المخالفين للرسل، بل يمكن أن يقال: إن العرب لم يكونوا على إظهار للمخالفة في مسائل الأسماء والصفات، بل كان القرآن بين ظهرانيهم يسمعونه، ومع ذلك لم يعترضوا على النبي صلى الله عليه وسلم بشيء في باب الأسماء والصفات أو أن العقل يمنع شيئاً من ذلك.

وهذا المعنى من جوابات أهل السنة والجماعة على المعتزلة والجهمية الذين زعموا أن العقل يمنع ثبوت هذه الصفات، فيجيب عليهم أهل السنة بأن العرب لم يعترضوا على شيء من هذا بما يقال: إنه من الطرق العقلية التي لا تختص بأمة من الأمم.

فالذي ذُكر في القرآن على التفصيل هو توحيد العبادة الذي هو إفراد الله سبحانه وتعالى بالعبادة.

فهنا يقال: هل توحيد العبادة من المسائل التي حدث فيها نزاع بين أهل القبلة؟

هنا جهتان:

الجهة الأولى: أن يقال: إنها مسألة حدث فيه نزاع نظري.

الجهة الثانية: أن يقال: إنها مسألة حدث فيها انحرافٌ عند كثير من الطوائف.

أما على الاعتبار الأول فيقال: إن هذه المسألة باعتبار أصولها مسألة محكمة، بمعنى: أنه لم يسوّغ الشرك على الإطلاق أو يبطل التوحيد على الإطلاق أحد من الطوائف إبطالاً نظرياً، نعم وقع في كلام بعض علماء السنة والجماعة من المتأخرين ومن أخصهم الإمام ابن تيمية رحمه الله أن المتكلمين لم يشتغلوا بتقرير توحيد الألوهية، وهذا حق، فإنك إذا نظرت كتب المتكلمين من سائر طوائف المتكلمين لا ترى أن لهم اشتغالاً بتقرير هذا التوحيد، ولكن هناك فرقاً بين كون القوم لم يشتغلوا بتقريره -ولا شك أن ذلك تقصير وافتيات على الأصول- وبين كون القوم لا يقرون به أو حتى لا يعرفونه.

ولهذا: إذا قيل: إن المتكلمين لا يعرفون هذا التوحيد، فإن هذا القول على هذا الإطلاق ليس بصحيح، إلا إذا فسر بمعنىً صواب، فإذا فسّر بأنهم لا يفرقون بين توحيد الله والشرك به فهذا لم يقع لطائفة من الطوائف، بل إن الرازي مثلاً -وهو من المتكلمة المتأخرين من الأشاعرة- إذا ذكر بعض مسائل الشرك الأكبر ذكر أن هذا كفرٌ وخروج من الملة بإجماع المسلمين.

إذاً يقال: إن الذي وقع عند طوائف المتكلمين هو عدم تحقيق هذا الأصل الشريف وهو توحيد العبادة؛ لأنهم لم يشتغلوا بتقريره وبيانه والدعوة إليه والدفاع عنه ..

فهذا الحق قصر فيه هؤلاء المخالفون، وليس هو أول تقصيرهم أو خروجهم عن هدي النبي صلى الله عليه وسلم.

أما أن القوم ينكرونه أو لا يؤمنون به أو ما إلى ذلك من المعاني، فهذا ليس بصحيح، فإنه لم يقع لطائفة من الطوائف من أهل الكلام أنها نظّرت في كتبها لمسائل الشرك وأقرتها، وأبطلت مسائل توحيد العبادة وردتها.

إذاً: هذا الأصل وهو توحيد العبادة من جهة كونه أصلاً نظرياً لم يقع فيه اختلاف نظري، لكن الذي وقع هو انحراف في تطبيقه وتحقيقه، وهذا الانحراف جمهوره وقع عند القاصدين إلى مسائل العمل، ممن دخل باسم التصوف أو العبادة أو ما إلى ذلك؛ فإن جمهور هؤلاء العباد المتأخرين المنحرفين عن سبيل السنة والجماعة ومن يتبعهم من العامة وقع لهم انحراف أو تقصير في هذا التوحيد، فضلاً عن الشيعة؛ فإنهم أيضاً منحرفون في كثير من مسائل هذا التوحيد.

إذاً: هذا التوحيد وقع فيه بين طوائف المسلمين انحراف؛ بل يوجد عند بعض الطوائف انحراف يصل إلى حد الشرك الأكبر أحياناً، لكنه يقرر بوجهٍ من العمل، ليس على جهة كونه شركاً أكبر مضاداً للتوحيد، بل كما قال شيخ الإسلام رحمه الله: (إنما يقع من المخالفة في العمل عند طائفة من هؤلاء يحسبون أنها من الإيمان الذي بعث به النبي صلى الله عليه وسلم، قال: مع أنه يعلم بالضرورة أنها من الشرك الذي بعث النبي صلى الله عليه وآله وسلم بإبطاله).

فهو انحراف شائع، إما شرك أصغر وإما بدع، وتارةً يكون شركاً أكبر، وهذا الانحراف ليس مخصوصاً بهؤلاء وهؤلاء، بل حتى عند كثير من المتكلمين يقع شيءٌ من ذلك في بعض المسائل، ولا سيما بعدما امتزجت كثير من مسالك الصوفية بمسالك المتكلمين.
‌‌আহলে কিবলা (কিবলাপন্থীগণ) যে সকল বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং যে সকল বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান

ইত্যাদি]।

লেখক তাঁর রিসালায়, বরং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ লেখকই যখন দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসূলুদ দ্বীন) বিষয়গুলো উল্লেখ করেন, তখন তারা—যদি দ্বীনের মূলনীতির মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেন—এমন সব সংবাদমূলক বা বিবৃতিমূলক বাক্যকে উদ্দেশ্য করেন যেগুলোর ক্ষেত্রে প্রচুর মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। এখানে দুটি মন্তব্য রয়েছে:

প্রথমত: মুসলিমদের আকীদার এই সামগ্রিক বিষয়গুলোর অধিকাংশই সকল আহলে কিবলার মধ্যে ঐকমত্যপূর্ণ।

উদাহরণস্বরূপ: যখন বলা হয় যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফিরকার মধ্যে মতভেদ রয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত। কিন্তু যখন এই অধ্যায়ের মূল বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়, যেমন এই কথা বলা যে, মহান আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই, এবং তিনি মহান আল্লাহ পরিপূর্ণতার অধিকারী ও সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র...

এই জাতীয় অন্যান্য মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে সকল মুসলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এটি কল্পনাও করা যায় না যে, যে ব্যক্তি ইসলামের সাথে বা কোনো নবীর শরীয়তের সাথে সত্যনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত, সে মহান রবের মর্যাদাহানি করবে অথবা বলবে যে তিনি পরিপূর্ণতার অধিকারী নন।

এখানে ঐ সকল বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যা সরাসরি এর অর্থ প্রকাশ করে, আর ঐ সকল বক্তব্যের মধ্যে যা একে অবধারিত করে বা এর অন্তর্ভুক্ত করে, অথচ বক্তা সেই অর্থটি উদ্দেশ্য করেন না। জাহমিয়্যাহ—বরং তাদের চেয়েও যারা নিম্নস্তরের—তাদের বক্তব্যসমূহ মহান রবকে তাঁর পরিপূর্ণতার গুণাবলি থেকে শূন্য করে দেয়। কিন্তু এই গুণ অস্বীকার করা বা তা’তীল হয় অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে, অথবা তাদের মাযহাবের অনিবার্য পরিণতির দিক থেকে।

আর তারা এই গুণ অস্বীকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অক্ষরে অক্ষরে উচ্চারণ করেছেন এবং এটিই তারা উদ্দেশ্য করেছেন এবং তারা জেনেছেন যে এটি রবের জন্য ত্রুটি—এমনটি তাদের ক্ষেত্রে ঘটেনি এবং আহলে কিবলার কারোর ক্ষেত্রেই ঘটেনি।

দ্বিতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা বিষয়ক অধিকাংশ লেখক—এবং এই রিসালার লেখকও—সে সকল বিষয় উল্লেখ করেন যা বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে বিতর্কের ক্ষেত্র।

উদাহরণস্বরূপ: কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, রুবুবিয়্যাতের মাসআলাসমূহ—বরং এমনকি উলুহিয়্যাতের মাসআলাসমূহও—আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার কিতাবগুলোতে বিস্তারিতভাবে দেখি না। যদিও আহলুস সুন্নাহর এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা এই বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট—যেমন ইবাদতের তাওহীদ; এই বিষয়ে অনেক রচনা রয়েছে—কিন্তু সামগ্রিকভাবে আকীদার কিতাবগুলো পর্যালোচনা করলে আমরা দেখি যে, এগুলোর অধিকাংশতেই ইবাদতের তাওহীদের বিষয়টি কেবল সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়নি। এই রিসালার লেখকও এই মাসআলাটি প্রমাণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেননি।

কানা এটি এই দিকে ইশারা—আল্লাহই ভালো জানেন—যে সালফে সালেহীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) এবং তাদের পরবর্তী অনুসারীগণ ঐ সকল মূলনীতি বর্ণনায় লিপ্ত ছিলেন যা বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ এর হাকীকত বা বাস্তবতার দিক থেকে, অথবা আরও নিখুঁতভাবে বললে, এর ফলাফলের দিক থেকে বিতর্কের বিষয় ছিল না। কারণ এই মূলনীতিটি সামগ্রিকভাবে এমন ছিল যা মুশরিকরাও স্বীকার করত, যদিও এর কিছু বিস্তারিত বিষয়ে শিরক করার মাধ্যমে তাদের বিচ্যুতি ঘটত। কিন্তু রুবুবিয়্যাতের মাসআলাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা ও প্রমাণের পেছনে সালফে সালেহীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) শ্রম ব্যয় করেননি; যেমন: আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করা, তিনিই যে স্রষ্টা, মালিক ও পরিচালক

ইত্যাদি বিষয়সমূহ।

যদিও তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন—যার হাকীকত মূলত মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের অন্যতম বিশেষ স্তর। তাদের নাম ও গুণাবলির মাসআলাটি বিস্তারিত আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল এটি স্পষ্ট করা যে, মহান আল্লাহ এই গুণাবলিতে গুণান্বিত এবং এই গুণগুলো তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান। আর এটি জাহমিয়্যাহ ও মুতাযিলাদের উদ্ভাবিত সেই মতবাদকে খণ্ডন করার জন্য ছিল, যারা বলে যে মহান রবের সত্তার সাথে কোনো গুণই বিদ্যমান নেই। যদিও মুসলিমদের অন্যান্য সকল ফিরকা গুণাবলির ফলাফলগুলো স্বীকার করে। অন্যথায়, যে ব্যক্তি গুণাবলি অস্বীকার করল—অর্থাৎ সত্তার সাথে গুণাবলি বিদ্যমান থাকাকে অস্বীকার করল—এবং গুণাবলির ফলাফলগুলোও অস্বীকার করল, তবে সে ইসলামের কোনো গণ্ডিতেই থাকবে না, বরং কোনো নবীর দ্বীনের সাথেই তার প্রকৃত সম্পৃক্ততা থাকবে না।

কেননা জাহমিয়্যাহ ও মুতাযিলারা যদিও বলে যে, মহান আল্লাহর সত্তার সাথে জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ বা দৃষ্টি ইত্যাদি গুণগুলো বিদ্যমান নেই, কিন্তু তাদের কেউই আল্লাহকে এর বিপরীত গুণ দ্বারা বিশেষিত করে না। তারা যদিও বলে না যে তাঁর সত্তার সাথে জ্ঞান বিদ্যমান, কিন্তু তারা তাঁকে মূর্খতা দ্বারা বিশেষিত করে না

এভাবেই চলতে থাকে।

এছাড়াও তারা গুণাবলির ফলাফলগুলো স্বীকার করে। অর্থাৎ, মহান আল্লাহর অগোচরে কিছুই থাকে না—এই অর্থটি ফলাফলের দিক থেকে জাহমিয়্যাহ, মুতাযিলা এবং গুণাবলি অস্বীকারকারী অন্য সকল ফিরকাও স্বীকার করে, যদিও তারা একে রবের সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো গুণ হিসেবে স্বীকার করে না।

সুতরাং: রুবুবিয়্যাতের অধ্যায়টি যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব ও এই জাতীয় মাসআলাগুলো বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমামগণ লিপ্ত হননি; কারণ কুরআন নিজেই মুমিনদের সামনে প্রমাণের খাতিরে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, কেননা এটি একটি সৃষ্টিগত স্বভাবজাত বিষয় এবং অধিকাংশ মানুষের নিকট এটি স্বীকৃত বিষয়। যদিও আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, মুশরিকদের মধ্যে রুবুবিয়্যাতের কিছু বিস্তারিত বিষয়ে বিচ্যুতি—বরং শিরক—ঘটেছিল।

আর উলুহিয়্যাতের মাসআলা: যা হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা; এই মাসআলাটি মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হওয়া সবচেয়ে বিশেষ মাসআলা। আর আরবের মুশরিকরা এই মূলনীতিতেই বিরোধিতা করত। বরং এটিই ছিল তাদের এবং রাসূলদের বিরোধিতাকারী অন্যদের বিরোধিতার মূল উৎস। এমনকি বলা যেতে পারে যে, আরবরা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাসআলাগুলোতে কোনো বিরোধিতা প্রকাশ করত না। বরং কুরআন তাদের মধ্যেই ছিল, তারা তা শুনত, তবুও তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর আল্লাহর নাম ও গুণাবলির বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি অথবা বলেনি যে বিবেক এর কোনো কিছুকে বাধা দেয়।

মুতাযিলা ও জাহমিয়্যাহ যারা দাবি করে যে বিবেক এই গুণাবলি সাব্যস্ত করতে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের উত্তরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আহলুস সুন্নাহ তাদের উত্তরে বলেন যে, আরবরা এই ধরনের কোনো বিষয়ে আপত্তি করেনি যা বিবেকের পথ বলে দাবি করা হয়, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়।

সুতরাং কুরআনে যা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে তা হলো ইবাদতের তাওহীদ, যা হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে: ইবাদতের তাওহীদ কি এমন কোনো বিষয় যার মধ্যে আহলে কিবলার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে?

এখানে দুটি দিক রয়েছে:

প্রথম দিক: এটি বলা যেতে পারে যে, এটি এমন একটি মাসআলা যাতে তাত্ত্বিক মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয় দিক: এটি বলা যেতে পারে যে, এটি এমন একটি মাসআলা যাতে অনেক ফিরকার মধ্যে বিচ্যুতি ঘটেছে।

প্রথম দিকটি বিবেচনা করলে বলা যায়: এই মাসআলাটি এর মূলনীতিসমূহের দিক থেকে অত্যন্ত সুদৃঢ়। অর্থাৎ, ফিরকাগুলোর কেউ তাত্ত্বিকভাবে শিরককে বৈধ ঘোষণা করেনি বা তাওহীদকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়নি। হ্যাঁ, পরবর্তী যুগের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের কিছু আলেমের বক্তব্যে, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), এটি এসেছে যে মুতাকাল্লিমগণ উলুহিয়্যাতের তাওহীদ বর্ণনায় লিপ্ত হননি। এটি সত্য, কারণ আপনি যদি সকল ফিরকার মুতাকাল্লিমদের কিতাবগুলো দেখেন, তবে দেখবেন যে তারা এই তাওহীদ বর্ণনায় কোনো প্রচেষ্টা ব্যয় করেননি। কিন্তু তাদের এই তাওহীদ বর্ণনায় লিপ্ত না হওয়া—যা নিঃসন্দেহে একটি অবহেলা এবং মূলনীতির ওপর সীমালঙ্ঘন—এবং তাদের এটি স্বীকার না করা বা এমনকি এটি না জানার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এই কারণে: যদি বলা হয় যে মুতাকাল্লিমরা এই তাওহীদ সম্পর্কে জানতেন না, তবে এই কথাটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়, যতক্ষণ না একে সঠিক অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়। যদি এর ব্যাখ্যা এমন করা হয় যে তারা আল্লাহর তাওহীদ এবং শিরকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না, তবে এমনটি কোনো ফিরকার ক্ষেত্রে ঘটেনি। বরং উদাহরণস্বরূপ রাযী—যিনি আশাইরাদের পরবর্তী যুগের মুতাকাল্লিমদের অন্তর্ভুক্ত—যখন বড় শিরকের কিছু মাসআলা উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন যে এটি মুসলিমদের ঐকমত্যে কুফর এবং মিল্লাত থেকে বহিষ্কারকারী বিষয়।

সুতরাং বলা যায়: মুতাকাল্লিমদের বিভিন্ন ফিরকার মধ্যে যা ঘটেছে তা হলো এই মহান মূলনীতি তথা ইবাদতের তাওহীদকে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না করা; কারণ তারা এটি বর্ণনা, স্পষ্টীকরণ, এর দিকে আহ্বান এবং একে রক্ষার কাজে লিপ্ত হননি...

এই হকের ক্ষেত্রে এই বিরোধীরা অবহেলা করেছে, আর এটিই তাদের প্রথম অবহেলা নয় বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রথম ঘটনা নয়।

কিন্তু তারা একে অস্বীকার করে বা এতে বিশ্বাস করে না বা এই জাতীয় অর্থগুলো সঠিক নয়। কেননা ইলমুল কালামের অনুসারী কোনো ফিরকার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি যে তারা তাদের কিতাবগুলোতে শিরকের মাসআলাসমূহের পক্ষে তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছে এবং তা অনুমোদন করেছে, আর ইবাদতের তাওহীদের মাসআলাগুলোকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

সুতরাং: এই মূলনীতি অর্থাৎ ইবাদতের তাওহীদ তাত্ত্বিক ভিত্তি হওয়ার দিক থেকে কোনো তাত্ত্বিক মতভেদ ঘটেনি। কিন্তু যা ঘটেছে তা হলো এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি। আর এই বিচ্যুতির অধিকাংশ ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে যারা আমলের মাসআলাগুলো লক্ষ্য করে চলত, যারা তাসাউফ বা ইবাদত বা এই জাতীয় নামে প্রবেশ করেছিল। কেননা সুন্নাহ ও জামাআতের পথ থেকে বিচ্যুত এই পরবর্তী যুগের ইবাদতকারীগণ এবং তাদের অনুসারী সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এই তাওহীদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি বা অবহেলায় নিপতিত হয়েছে। শিয়াদের কথা তো বলাই বাহুল্য; তারাও এই তাওহীদের অনেক মাসআলায় বিচ্যুত।

সুতরাং: মুসলিম ফিরকাগুলোর মধ্যে এই তাওহীদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটেছে; বরং কিছু ফিরকার কাছে এমন বিচ্যুতি রয়েছে যা কখনো বড় শিরকের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কিন্তু তা আমলের একটি রূপ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়, তাওহীদের বিরোধী বড় শিরক হিসেবে নয়। বরং শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন: (এ সকল ফিরকার একটি দলের মধ্যে আমলের ক্ষেত্রে যে বিরোধিতা ঘটে, তারা মনে করে যে এটি সেই ঈমানের অংশ যা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন: অথচ এটি অনিবার্যভাবে জানা যায় যে এটি সেই শিরকের অন্তর্ভুক্ত যা বাতিল করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন)।

এটি একটি ব্যাপক বিচ্যুতি, যা হয় ছোট শিরক, না হয় বিদআত, আর কখনো কখনো বড় শিরক হয়ে থাকে। আর এই বিচ্যুতি কেবল এদের বা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেক মুতাকাল্লিমদের মধ্যেও কিছু মাসআলায় এমন কিছু ঘটে থাকে; বিশেষ করে যখন সূফীদের অনেক পথ মুতাকাল্লিমদের পথের সাথে মিশ্রিত হয়ে গিয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌امتزاج التصوف بعلم الكلام

إذا نظرت إلى من أحدث النظر وعلم الكلام من أئمة الجهمية والمعتزلة وجدت أنهم بعيدون عن المسالك العبادية -مسالك العمل- ولهذا ليس بينهم وبين الصوفية شيء من التوافق، حتى بدأ هذا العلم -أعني علم الكلام- يقرب إلى التصوف وبدأ التصوف يقرب إليه.

وكان لهذا موجبات، من أخصها: ظهور المعتزلة البغدادية، والذين كانوا متشيعين لـ علي بن أبي طالب رضي الله عنه، فحصل بين التشيع وبين الاعتزال قدر من التآلف والاختلاط، وإلا فإن أصول الشيعة كانوا على مذهب التشبيه في الصفات، ثم انحرفوا إلى مذهب التعطيل على طريقة معتزلة بغداد.

فهذا التآلف -مع ما هو معروف عند الشيعة من الغلو في آل البيت كـ الحسين بن علي وغيره- جعل مسائل النظر تدخل على هذه المسائل الأخرى من العمل، فصار هذا الانحراف النظري يشاركه انحراف في مسائل العمل.

ثم لما ظهر المتفلسفة المحضة -وهم الفلاسفة الذين يصرحون بالفلسفة ويجعلونها طريقاً صريحاً لهم، ولا سيما فلاسفة المشرق كـ أبي نصر الفارابي والحسين بن عبد الله بن سينا وأمثال هؤلاء- كان من طرقهم التي أحدثوها أن الناظر لا يلزم بالضرورة أن يكون له أخذٌ واحد، بل يكون له أخذ من جهة النظر، وأخذ من جهة العمل، فقرروا بذلك طريقاً مخترعاً، وهو أن المذهب الشخصي للواحد -أي: المعتقد للشخص الواحد- لا يلزم أن يكون معتقداً واحداً، بل يكون متعدداً.

ومن هنا تجد ابن سينا في بعض كتبه رجلاً عقلانياً نظرياً، يأخذ الطريقة العقلانية التجريدية المبالغة في العقلانية والتجريد؛ حتى لا يعتبر كثيراً من أدلة العقل، وهي الأدلة الحسية وما إلى ذلك، معتبراً أن هذه الأدلة -كما يزعم عن أرسطو وغيره- هي من الدلائل الخطابية أو من الدلائل الجدلية، وأن برهان اليقين لا يكون بمثل هذه الدلائل.

ثم تجده بعد أن استعمل طريقة التجريد العقلي الغالية في الأخذ بالعقليات والبعد عن مسائل الحس وما يتعلق بها، تجده في كتب أخرى له رجلاً صوفياً إشراقياً يعتبر مسائل النفس والعمل وما إلى ذلك، ويبتعد عن مسائل النظر والعقل.

فالاختلاط عند هؤلاء المتفلسفة لم يقتصر عليهم؛ إذ لما ظهر متكلمة الصفاتية، وكان خلق منهم قد اشتغل بالفقه، وخلق منهم قد اشتغل بعلم الكلام، وخلق منهم قد اشتغل بعلم الحديث، صار أتباعهم إلى مثل هذه الأنحاء.

فجاء -مثلاً- أبو حامد الغزالي، وهو من متكلمة الأشعرية، من أصحاب أبي المعالي الجويني، فصرف المذهب الأشعري عن صورته الأولى التي كان عليها الأشعري ومتقدمو أصحابه، وانحرف به انحرافاً باطلاً، وإن كان المذهب من أصله ليس على السنة المحضة، فوضع أبو حامد الغزالي للمذهب الأشعري منهجاً ذكره في كتابه (ميزان العمل)، وصرح بأن المذهب ليس واحداً، بل ثمة المذهب الجدل، وثمة المذهب اليقين، وثمة المذهب العام، فجعل علم الكلام مذهباً للجدل والدفع عن عقيدة المسلمين كما يقول، وجعل المذهب اليقين طريقة التصوف، الذي هو سر -كما يقول أبو حامد - بين العبد وبين ربه، وجعل للعامة مذهباً ثالثاً يخاطب به العامة من الناس الذين لا يعرفون طريق النظر ولا يؤهلون لطريق اليقين والتصوف.

فهذه الطريقة التي قررها الغزالي في كتبه انتشرت عنده وعند غيره، ومن هنا يعلم أن الانحراف -أعني الانحراف في توحيد العبادة- لم يختص بالصوفية أو الشيعة فقط، بل وقع حتى عند بعض النظار الذين قرروا مثل هذه المسائل.
ইলমুল কালাম বা কালাম শাস্ত্রের সাথে তাসাউউফের সংমিশ্রণ

যদি আপনি জাহমিয়্যাহ এবং মুতাজিলা ইমামদের মধ্যে যারা পর্যবেক্ষণ ও কালাম শাস্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন তাদের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তারা ইবাদতগত পদ্ধতি—অর্থাৎ আমলের পথ—থেকে অনেক দূরে ছিলেন। এই কারণে তাদের এবং সূফীদের মধ্যে কোনো প্রকার সামঞ্জস্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই শাস্ত্র—অর্থাৎ ইলমুল কালাম—তাসাউউফের নিকটবর্তী হতে শুরু করে এবং তাসাউউফও এর নিকটবর্তী হতে শুরু করে।

এর কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো: বাগদাদী মুতাজিলাদের উদ্ভব, যারা আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি অতিভক্তি পোষণ করত। ফলে শিয়া মতবাদ এবং মুতাজিলা মতবাদের মধ্যে এক ধরনের সখ্যতা ও সংমিশ্রণ তৈরি হয়। অথচ শিয়াদের আদি মূলনীতি ছিল সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দান (তাশবীহ) মাযহাবের ওপর, পরবর্তীতে তারা বাগদাদী মুতাজিলাদের পদ্ধতিতে গুণাবলি অস্বীকার (তাতীল) মাযহাবের দিকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

এই সখ্যতা—এবং আহলে বাইত তথা হুসাইন ইবনে আলী ও অন্যদের ব্যাপারে শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত চরমপন্থার (গুলু) কারণে—তাত্ত্বিক মাসআলাগুলো আমলের মাসআলাগুলোর মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে এই তাত্ত্বিক বিচ্যুতির সাথে সাথে আমলের ক্ষেত্রেও বিচ্যুতির সৃষ্টি হয়।

অতঃপর যখন খাঁটি দার্শনিকদের আবির্ভাব ঘটল—যারা দর্শনকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করত এবং একে নিজেদের জন্য একটি প্রকাশ্য পথ হিসেবে গ্রহণ করেছিল, বিশেষ করে প্রাচ্যের দার্শনিক যেমন আবু নাসর আল-ফারাবী, হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সিনা এবং তাদের মতো অন্যরা—তখন তাদের উদ্ভাবিত একটি পদ্ধতি ছিল এই যে, একজন পর্যবেক্ষকের জন্য কেবল একটি পথই গ্রহণ করা আবশ্যক নয়। বরং সে তাত্ত্বিক দিক থেকে এক পথ এবং আমলি বা ব্যবহারিক দিক থেকে অন্য পথ গ্রহণ করতে পারে। এভাবে তারা একটি উদ্ভাবিত পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়, তা হলো: একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত মাযহাব—অর্থাৎ একজনের আকিদাহ—একটিই হওয়া জরুরি নয়, বরং তা একাধিক হতে পারে।

এ কারণেই ইবনে সিনাকে তার কিছু কিতাবে একজন তাত্ত্বিক যুক্তিবাদী হিসেবে পাওয়া যায়, যিনি যুক্তি ও বিমূর্তায়নের ক্ষেত্রে চরমপন্থী যুক্তিবাদী পদ্ধতি গ্রহণ করেন; এমনকি তিনি অনেক যৌক্তিক প্রমাণকেও গ্রাহ্য করেন না, যেমন ইন্দ্রিয়জাত প্রমাণ ইত্যাদি। তিনি মনে করেন যে এই প্রমাণগুলো—যেমনটি তিনি এরিস্টটল ও অন্যদের পক্ষ থেকে দাবি করেন—হলো আলঙ্কারিক বা বিতর্কতামূলক দলিল, এবং নিশ্চিত প্রমাণ (বুরহানুল ইয়াকিন) এই ধরনের দলিলের মাধ্যমে অর্জিত হয় না।

অতঃপর আপনি তাকে দেখবেন যে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো গ্রহণ করা এবং ইন্দ্রিয়জাত বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে চরমপন্থী বিমূর্তায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের পর, তার অন্যান্য কিতাবে তিনি একজন ইশরাকি সূফী হিসেবে আবির্ভূত হন, যেখানে তিনি আত্মা ও আমলের মাসআলাগুলোকে গুরুত্ব দেন এবং তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো থেকে দূরে সরে যান।

এই দার্শনিকদের মধ্যকার সংমিশ্রণ কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; কারণ যখন গুণাবলি সাব্যস্তকারী কালামশাস্ত্রবিদদের (সিফাতিয়্যাহ) আবির্ভাব ঘটল, এবং তাদের একটি বড় দল ফিকহ শাস্ত্রে, একটি দল ইলমুল কালামে এবং আরেকটি দল ইলমুল হাদিসে আত্মনিয়োগ করল, তখন তাদের অনুসারীরাও এই ধরনের পথ গ্রহণ করতে শুরু করল।

উদাহরণস্বরূপ, আবু হামিদ আল-গাজালী এলেন, যিনি ছিলেন আশআরি কালামশাস্ত্রবিদ এবং আবু আল-মাআলি আল-জুওয়াইনির শিষ্যদের একজন। তিনি আশআরি মাযহাবকে তার আদি রূপ থেকে সরিয়ে দিলেন, যার ওপর ইমাম আশআরি ও তার পূর্ববর্তী অনুসারীরা ছিলেন। তিনি একে একটি বাতিল বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যান, যদিও মাযহাবটি মূলত বিশুদ্ধ সুন্নাহর ওপর ছিল না। আবু হামিদ আল-গাজালী আশআরি মাযহাবের জন্য একটি পদ্ধতি তৈরি করেন যা তিনি তার 'মিযানুল আমাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, মাযহাব কেবল একটি নয়, বরং সেখানে বিতর্কের মাযহাব আছে, নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) মাযহাব আছে এবং সাধারণের মাযহাব আছে। তিনি ইলমুল কালামকে বিতর্কের এবং তার ভাষায় মুসলমানদের আকিদাহ রক্ষার মাযহাব হিসেবে নির্ধারণ করেন। আর ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাসের মাযহাব হিসেবে তাসাউউফের পথকে নির্ধারণ করেন, যা আবু হামিদের মতে—বান্দা ও তার রবের মধ্যকার এক গোপন রহস্য। আর সাধারণ মানুষের জন্য তিনি তৃতীয় একটি মাযহাব নির্ধারণ করেন, যার মাধ্যমে তিনি সেই সব সাধারণ মানুষকে সম্বোধন করেন যারা তাত্ত্বিক আলোচনার পথ বোঝে না এবং ইয়াকিন বা তাসাউউফের পথের যোগ্যতা রাখে না।

গাজালী তার কিতাবসমূহে যে পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন তা তার মাঝে এবং অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এখান থেকেই জানা যায় যে, বিচ্যুতি—অর্থাৎ ইবাদতের তাওহিদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি—কেবল সূফী বা শিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এমন কিছু তাত্ত্বিকদের মধ্যেও তা ঘটেছে যারা এই ধরণের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح الواسطية - يوسف الغفيص   (يوسف الغفيص)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الواسطية

المؤلف: يوسف بن محمد علي الغفيص

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 24 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432

আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা - ইউসুফ আল-গাফিস   (ইউসুফ আল-গাফিস)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা

লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আলী আল-গাফিস

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ২৪টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [3]

الخلاف في أصول الدين لم يكن موجوداً في أول الإسلام، بل ولا حتى بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما كان أول ظهوره بعد توسع دولة الإسلام في عهد عمر ومن بعده عثمان رضي الله عنهما، إذ دخل في الإسلام أقوام كان لهم أديان وثقافات سابقة، وكانت هذه الثقافات أساساً في ظهور أفكار مخالفة للمنهج القويم، خصوصاً عند من لم يصْفُ إيمانه ولم تستقم عقيدته من أهل تلك البلاد.
শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ [৩]

দ্বীনের উসুল বা মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে মতভেদ ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিদ্যমান ছিল না, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পরেও নয়। বরং এর প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল উমর এবং তাঁর পরবর্তী উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে ইসলামী রাষ্ট্রের সম্প্রসারণের পর, যখন ইসলামে এমন সব জাতিগোষ্ঠী প্রবেশ করেছিল যাদের নিজস্ব পূর্ববর্তী ধর্ম ও সংস্কৃতি ছিল। এই সংস্কৃতিগুলোই সঠিক পদ্ধতির পরিপন্থী চিন্তা-চেতনা প্রকাশের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল, বিশেষ করে সেই সব অঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে যাদের ঈমান স্বচ্ছ ছিল না এবং আকিদা সঠিক ও সুদৃঢ় ছিল না।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌منهج ابن حزم في أسماء الله وصفاته

قال المصنف رحمه الله: [ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه، وبما وصفه به رسوله محمد صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل ومن غير تكييف ولا تمثيل].

يستعمل المصنف رحمه الله طريقة الإدخال على هذا الأصل الشريف الذي هو أخص الأصول، وهو الإيمان بالله سبحانه وتعالى.

قول المصنف رحمه الله: (ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم استعمل المصنف رحمه الله لفظ الوصف، مع أن هذا اللفظ لم يرد في القرآن، ولا في جمهور الحديث المروي عن النبي صلى الله عليه وسلم، إلا في بعض الروايات التي اختلف موردها عند المحدثين، بمعنى أنه: قد يتعذر الجزم بأن هذا التعبير هو الحرف الذي عبر به النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن هنا فإن أبا محمد ابن حزم رحمه الله لما ذكر في كتابه (الفصل) ما يتعلق بمعتقد أهل السنة والجماعة في مسائل الأسماء والصفات، كان مما ذكره أن هذا اللفظ لفظ مخترع، لا يضاف إلى الرب سبحانه وتعالى؛ لأنه لم يرد في الكتاب والسنة ..

وهذه طريقة متكلفة من أبي محمد ابن حزم، فإن هذا الإمام مع سعة علمه وسعة فقهه وفضل ديانته رحمه الله إلا أنه لما ذكر تقرير المعتقد عند أهل السنة والجماعة اختلط الأمر عليه في كثير من الأبواب.

فهو من جهة ذم البدع والرد على أهل البدع من سائر الطوائف قد أغلظ في الرد حتى على الطوائف التي لم يغلظ عند محققي من أهل السنة المتأخرين شأنها بدرجة التغليظ الذي قاله ابن حزم، وكذلك المقالات التي لم يغلظ في شأنها بعض أئمة السنة الكبار.

ومع هذا فإن ابن حزم في هذا الباب شديد التمسك، لدرجة أنه وقع له قدر من الزيادة فيه، أعني: في الامتداح والحث على التمسك بمذهب أهل السنة والجماعة، والذم للمذاهب المخالفة، فإن من طرق ذمه أنه يكفر بعض الأعيان من المخالفين، وهذه الطريقة ليست مستعملة في كلام متقدمي من السلف، كما أنه قد يزيد في ذم بعض الأقوال بما لم يقع مثله في كلام السلف أو في كلام محققي أهل السنة والجماعة كـ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، فهو في باب الانتساب لمذهب أهل السنة والجماعة محقق، بل عنده زيادة في التحقيق أيضاً، لكنه في باب التقرير مقصر.

هنا مسألة أحب أن ينتبه لها ولا سيما عند المتأخرين: وهي أن ثمة فرقاً بين الانتحال وبين التقرير، فإن طائفة من المتأخرين من أصحاب الأئمة ينتحلون السنة والجماعة، لكنهم يقصرون عند تقريرها، ففرق بين مقام تقرير المذهب وبين انتحاله -أي: الانتساب إليه- والولاء له والذم لمخالفه ..

فهذا الأخير سهل التحصيل في الغالب، لكن الشأن الأعظم في تقرير جمل الحق وتفاصيلها.

وهذا نجده عند أبي محمد ابن حزم، فإنه إذا انتهى إلى التفاصيل فإنه يبتعد عن الصواب، ومن أخص ذلك -بل هو أخص باب غلط فيه- باب الأسماء والصفات، فإنه انتهى فيه إلى نتيجة مركبة من مقالات أهل السنة والجماعة ومن مقالات المعتزلة، بل بعض طرقه -كما ذكر شيخ الإسلام رحمه الله هي من طرق الفلاسفة التي لم تصرح بها حتى المعتزلة.

إذاً: قوله في هذا الباب قولٌ مختلف وملفق ومركب من غير مادة، ولهذا لا يعتبر قوله في باب الأسماء والصفات؛ فإن غلطه فيه أكثر من صوابه، ولكنه رحمه الله في باب الإيمان والأسماء والأحكام قال كلاماً حسناً، وذكر معتقد أهل السنة والجماعة بصورةٍ حسنة، وإن كان حتى في هذا الباب -أعني باب الأسماء والأحكام ومسمى الإيمان- عنده غلط فيه، لكن صوابه أكثر من خطئه فيه، فطريقته ليست منتظمة على جهة واحدة.

إذاً: عند التحقيق فإن أبا محمد رحمه الله ليس ممن يؤخذ عنه التفاصيل، وكأن هذا -والله أعلم- هو المنهج اللائق بهذا الإمام حتى في فقهه؛ فإنه رجل محقق في النظر والبحث وتتبع الدليل، ولكن من جهة منهجه الفقهي فضلاً عن منهجه العقدي فإنه يقع له تقصير كثير.

ولهذا فإن من اعتبر منهجه رحمه الله على طريقة الاستفادة بعد النظر في أقوال السلف وفي أقوال الفقهاء من أصحاب المذاهب الأربعة وأئمة الاجتهاد من متقدمي السلف فإنه يقع له استفادة كبيرة من كلام ابن حزم: من تبيين بعض الأدلة أو التعليق عليها أو حسن الاستدلال أو المعارضة أو ما إلى ذلك.

ومن تأثر بطريقة ابن حزم في الفقه فضلاً عن الاعتقاد فإنه في الغالب يقع عنده كثير من الغلط والشذوذ والتقصير، والذي يعجب منه أن من يتأثر بطريقة ابن حزم لا يوافق ابن حزم على بعض أصوله، فمثلاً: ابن حزم لا يعتبر القياس، ومع ذلك فإن من تأثر بطريقته في الفقه لم يعتبر طريقته في الأصول، فإنه يرجح كثيراً من المسائل باعتبار أن الدليل فيها عند الفقهاء هو وجه من القياس، والقياس ليس معتبراً في الاستدلال عنده.
আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের মানহাজ

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো—তিনি নিজের কিতাবে নিজেকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন, তার ওপর কোনো প্রকার বিকৃতি, অর্থহীনকরণ, ধরণ নির্ধারণ এবং সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে ঈমান আনা]।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই মহান মূলনীতির অবতারণা করার পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন যা অত্যন্ত বিশেষ একটি মূলনীতি, আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান।

লেখকের উক্তি: (আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো—তিনি নিজেকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন...) লেখক এখানে 'বিশেষিত করা' (ওসফ) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যদিও এই শব্দটি কুরআনে আসেনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসেও নেই। তবে কিছু বর্ণনায় এটি এসেছে যা মুহাদ্দিসদের নিকট মতভিন্নতাপূর্ণ; এর অর্থ হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি হুবহু এই শব্দেই ভাব প্রকাশ করেছিলেন—তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হতে পারে।

এই কারণেই আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ফাসল' গ্রন্থে যখন নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা আলোচনা করেছেন, তখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই শব্দটি (ওসফ) একটি নব আবিষ্কৃত শব্দ, যা মহান রবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ এটি কিতাব ও সুন্নাহয় আসেনি...

এটি আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের একটি কষ্টকল্পিত পদ্ধতি। কারণ এই ইমাম তাঁর অগাধ ইলম, ফিকহ এবং দ্বীনদারী সত্ত্বেও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বয়ান করতে গিয়ে অনেক অধ্যায়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।

একদিক থেকে তিনি বিদআতের নিন্দা এবং বিভিন্ন উপদলের বিদআতীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন; এমনকি এমন সব দল বা মতবাদের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোর বাক্য ব্যয় করেছেন যেগুলোকে পরবর্তী যুগের আহলুস সুন্নাহর মুহাক্কিকগণ ইবনে হাজমের মতো এতটা কঠোরভাবে দেখেননি। অনুরূপভাবে এমন কিছু বক্তব্যের নিন্দায় তিনি কঠোর হয়েছেন যেগুলোকে সুন্নাহর বড় ইমামগণ এতটা কঠোরভাবে দেখেননি।

তা সত্ত্বেও ইবনে হাজম এই বিষয়ে এত বেশি অটল ছিলেন যে, এতে তাঁর কিছুটা বাড়াবাড়িও হয়ে গিয়েছিল; অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের প্রশংসা এবং তা আঁকড়ে ধরার উৎসাহ প্রদানে এবং বিরোধী মতাদর্শের নিন্দায়। তাঁর নিন্দার অন্যতম একটি দিক হলো তিনি বিরোধীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলতেন; অথচ এই পদ্ধতি সালাফদের পূর্ববর্তীদের কথায় সচরাচর পাওয়া যায় না। তেমনিভাবে তিনি কিছু মতবাদের নিন্দা করতে গিয়ে এমন সব কথা বলেছেন যা সালাফদের বা আহলুস সুন্নাহর মুহাক্কিক আলেমদের (যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ) কথায় পাওয়া যায় না। তিনি আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে মুহাক্কিক (গবেষক), এমনকি তাঁর মধ্যে গবেষণার আধিক্যও আছে, কিন্তু আকিদা বয়ান ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তিনি ত্রুটিপূর্ণ।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন, বিশেষ করে পরবর্তীদের ক্ষেত্রে: তা হলো—সম্পৃক্ত হওয়া (ইনতিহাল) এবং বিশ্লেষণ করার (তাকরীর) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইমামদের অনুসারীদের মধ্যে পরবর্তীদের একদল সুন্নাহ ও জামাআতের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে, কিন্তু যখন তা বিশ্লেষণের প্রশ্ন আসে তখন তারা পিছিয়ে পড়ে। সুতরাং মাযহাবের বিশ্লেষণ করা এবং মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া—অর্থাৎ তার প্রতি নিজেকে পরিচয় দেওয়া—তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও বিরোধীদের নিন্দা করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে...

পরের অংশটি (সম্পৃক্ততা ও আনুগত্য) অর্জন করা সাধারণত সহজ, কিন্তু সবচেয়ে বড় কাজ হলো হকের মৌলিক ও বিস্তারিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা।

আর এটিই আমরা আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের ক্ষেত্রে পাই। তিনি যখন বিস্তারিত বিষয়ে প্রবেশ করেন, তখন সত্য থেকে দূরে সরে যান। এর মধ্যে সবচেয়ে বিশেষ দিক—বরং এটিই সেই অধ্যায় যেখানে তিনি সবচেয়ে বেশি ভুল করেছেন—তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর (আসমা ওয়া সিফাত) অধ্যায়। এই বিষয়ে তিনি এমন এক মিশ্র তত্ত্বে উপনীত হয়েছেন যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং মুতাজিলাদের মতবাদের সংমিশ্রণ। এমনকি তাঁর কিছু পদ্ধতি—যেমনটি শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন—দার্শনিকদের পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত যা মুতাজিলারাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি।

অতএব, এই অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য নানামুখী, জোড়াতালি দেওয়া এবং ভিত্তিহীন উপাদানে গঠিত। এজন্য আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য ধর্তব্য নয়; কারণ এতে তাঁর শুদ্ধ বিষয়ের চেয়ে ভুলই বেশি। তবে ঈমান, নামসমূহ এবং বিধিবিধানের (আসমা ওয়া আহকাম) অধ্যায়ে তিনি সুন্দর কথা বলেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর আকিদা সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছেন। যদিও এই অধ্যায়েও—অর্থাৎ ঈমানের সংজ্ঞা ও নামের ক্ষেত্রে—তাঁর ভুল রয়েছে, কিন্তু সেখানে তাঁর ভুলের চেয়ে শুদ্ধর পরিমাণই বেশি। সুতরাং তাঁর পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে একরূপ নয়।

অতএব, সূক্ষ্ম বিচারে আবু মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) এমন ব্যক্তি নন যার কাছ থেকে আকিদার বিস্তারিত বিষয় গ্রহণ করা যাবে। আল্লাহই ভালো জানেন, এই ইমামের জন্য এটাই সমীচীন মানহাজ, এমনকি তাঁর ফিকহের ক্ষেত্রেও। তিনি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা এবং দলীল অনুসরণে অত্যন্ত দক্ষ মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর ফিকহী মানহাজ এবং বিশেষ করে আকিদাগত মানহাজে অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে।

এই কারণে, যারা সালাফদের বক্তব্য এবং চার মাযহাবের ফকীহ ও প্রাচীন মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্যের আলোকে তাঁর মানহাজ থেকে উপকৃত হতে চান, তারা ইবনে হাজমের কথা থেকে ব্যাপক উপকৃত হবেন: যেমন দলীল সুস্পষ্টকরণ, দলীলের ওপর টীকা প্রদান, সুন্দরভাবে দলীল পেশ বা খণ্ডন ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

আর যারা আকিদার কথা বাদ দিলেও কেবল ফিকহের ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হন, তারা সাধারণত অনেক ভুল, অস্বাভাবিক মতামত (শায) এবং ত্রুটির শিকার হন। বিস্ময়ের বিষয় হলো, যারা ইবনে হাজমের পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হয়, তারা তাঁর অনেক মূলনীতির সাথেই একমত হয় না। যেমন: ইবনে হাজম কিয়াসকে (অনুমানভিত্তিক সাদৃশ্য) গ্রহণ করেন না, তা সত্ত্বেও যারা ফিকহের ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তারা উসূলের (মূলনীতি) ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি মানেনি; তারা অনেক মাসআলাতে এমন সব বিষয়কে প্রাধান্য দেয় যার দলীল ফকীহদের কাছে কিয়াসের একটি ধরণ মাত্র, অথচ ইবনে হাজমের নিকট কিয়াস দলীলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যই নয়।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌من أصول أهل السنة أن الله سبحانه موصوف بصفات الكمال منزه عن صفات النقص

قول المصنف رحمه الله: [ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه].

من أصول أهل السنة والجماعة أن الله سبحانه وتعالى موصوف بصفات الكمال منزه عن صفات النقص.

قال الإمام أحمد: (لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا يتجاوز القرآن والحديث).

هذا الأصل الذي هو من أشرف وأخص أصول أهل السنة والجماعة هو أصل فطري باعتبار جمله الكلية، وهو أيضاً أصل عقلي باعتبار جمله الكلية وكثيرٍ من التفاصيل أيضاً، وهو أصل مفصل باعتبار دليل السمع.

فإن المشركين الذين بُعث النبي صلى الله عليه وسلم فيهم من أجناس الكفار لم يقع عندهم إعراض عن هذا التوحيد، أو إبطال لأسماء الرب سبحانه وتعالى وصفاته، ومن هنا تعلم أن هذا التوحيد هو الأصل في معتقد المسلمين، وأن الخروج عنه هو من الخروج عن صريح الكتاب والسنة.
আহলে সুন্নাতের অন্যতম মূলনীতি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিপূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র

গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য: [আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি নিজেকে যে সকল গুণে গুণান্বিত করেছেন তার ওপর ঈমান আনা]।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিপূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপূর্ণতা থেকে পবিত্র।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: (আল্লাহকে কেবল সেই সকল গুণেই গুণান্বিত করা যাবে, যে সকল গুণে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের সীমা অতিক্রম করা যাবে না)।

এই মূলনীতিটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও বিশেষ মূলনীতিগুলোর একটি। সামগ্রিক দিক থেকে এটি একটি সৃষ্টিগত বা ফিতরি মূলনীতি; অনুরূপভাবে সামগ্রিক দিক থেকে এবং অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি একটি যৌক্তিক মূলনীতি। আর শ্রবণগত বা শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে এটি একটি বিস্তারিত বর্ণনাসমৃদ্ধ মূলনীতি।

কারণ যে সকল কাফের ও মুশরিকদের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হয়েছিলেন, তাদের মাঝে এই তাওহীদের প্রতি বিমুখতা অথবা প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করার প্রবণতা ছিল না। এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন যে, এই তাওহীদই হলো মুসলিমদের আকিদার মূল ভিত্তি এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই স্পষ্ট কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হওয়া।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ظهور الخلاف في مسائل أصول الدين

لما توفي النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يقع بين المسلمين اختلافٌ في مسائل أصول الدين، نعم قد حدثت الردة وارتد كثير من قبائل العرب، وقاتلهم الصديق في القتال المعروف بقتال المرتدين، لكن لم يحدث نزاع في مسائل أصول الدين بين المسلمين لا في المدينة النبوية ولا في بوادي العرب، حتى جاءت خلافة عمر، وأسلمت كثير من البلاد التي لم تكن كالجزيرة العربية في أمية أهلها، ففتحت العراق وبلاد أخرى، وكان أهل هذه البلاد المفتوحة أصحاب علمٍ سابق، ونظر سابق، وأصحاب ديانات سابقة؛ فهذه البلاد التي فتحت زمن عمر رضي الله عنه وفي زمن عثمان رضي الله عنه ..

أسلم أهلها من جهة الجملة، لكن إسلامهم لا يستلزم أنهم أصبحوا من أهل الإيمان والتحقيق، فإن الله سبحانه قال عن الأعراب: {قَالَتْ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14] فأهل هذه البلاد أسلموا إسلاماً عاماً، وكثير منهم صار من المؤمنين الصادقين ومن أولياء الله سبحانه وتعالى، لكن في كثير منهم تقصير وفسوق وظلم وغير ذلك.

وقد ذكر شيخ الإسلام رحمه الله أنه كما وجد النفاق في المدينة النبوية، فإن النفاق العلمي ظهر ووجد في مثل هذه الأمصار العراقية والشامية وغيرها، والتي فتحت زمن الخلافة الراشدة، فهذه الأمصار كثير من أهلها عندهم قدر من عدم التحقيق في هذه الأبواب الشرعية.

وهذه البلاد -أيضاً- كان عندها شيء من الثقافات السابقة، فأهالي العراق وبلاد فارس كانت موطناً للفلسفات: فلسفات اليونان التي في أعالي العراق، وفلسفات الفرس، وفلسفات الهند، وهي فلسفات متداخلة.

هذه الفلسفات والأقوال والطرق بقي منها شيء، وكذلك بقي قومٌ على أصل دينهم وملتهم لم يدخلوا الإسلام

فهذا الإسلام المعروف تاريخياً هو إسلام عام لا يعني تحقيق الإيمان، فقد كان في هؤلاء المقصر وفيهم الظالم وفيهم الفاسق وفيهم المنافق النفاق العلمي

وما إلى ذلك.
দ্বীনের মূলনীতিসমূহের বিষয়ে বিরোধের উদ্ভব

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন মুসলমানদের মধ্যে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসূলে দ্বীন) বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়নি। হ্যাঁ, রিদদাহ বা ধর্মত্যাগ সংঘটিত হয়েছিল এবং অনেক আরব গোত্র ধর্মত্যাগী হয়ে গিয়েছিল; সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু তাদের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধে লড়েছিলেন যা ‘মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মদীনা মুনাওয়ারা কিংবা আরবের মরুভূমি অঞ্চলগুলোতে—কোথাও মুসলমানদের মধ্যে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের বিষয়ে কোনো বিবাদ দেখা দেয়নি। যতক্ষণ না ওমরের খেলাফতকাল আসলো এবং এমন অনেক দেশ বিজিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করল, যেখানের বাসিন্দারা আরব উপদ্বীপের লোকদের মতো নিরক্ষর ছিল না। ফলে ইরাক এবং অন্যান্য দেশ বিজিত হলো; আর এই বিজিত দেশগুলোর অধিবাসীরা ছিল পূর্ববর্তী জ্ঞান, পূর্ববর্তী দর্শন এবং পূর্ববর্তী ধর্মসমূহের অনুসারী। সুতরাং ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এবং উসমান রাদিআল্লাহু আনহুর যুগে যেসব দেশ বিজিত হয়েছিল...

তাদের অধিবাসীরা সামগ্রিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাদের ইসলাম গ্রহণের অর্থ এই ছিল না যে তারা ঈমান ও তাহকীক বা সঠিক উপলব্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মরুবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: “মরুবাসীরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো যে আমরা ইসলাম কবুল করেছি’।” [সূরা আল-হুজুরাত: ১৪]। ফলে এই দেশগুলোর অধিবাসীরা সাধারণভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল; তাদের মধ্যে অনেকে সত্যনিষ্ঠ মুমিন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অলীতে পরিণত হয়েছিলেন, তবে তাদের অনেকের মাঝে ত্রুটি-বিচ্যুতি, পাপাচার, জুলুম ইত্যাদি বিদ্যমান ছিল।

শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, যেভাবে মদীনা মুনাওয়ারাতে মুনাফিকি বা কপটতা ছিল, তদ্রূপ ইরাক, শাম এবং অন্যান্য বিজিত শহরগুলোতে তাত্ত্বিক মুনাফিকি (নিফাক ইলমী) প্রকাশ পেয়েছিল এবং দেখা গিয়েছিল, যা খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে বিজিত হয়েছিল। এই শহরগুলোর অনেক অধিবাসীর মধ্যে শরীআতের এই বিষয়গুলোতে সঠিক উপলব্ধির অভাব ছিল।

এছাড়াও এই দেশগুলোতে পূর্ববর্তী সংস্কৃতির প্রভাব বিদ্যমান ছিল; ইরাক এবং পারস্যের অধিবাসীরা ছিল বিভিন্ন দর্শনের আবাসস্থল: যেমন উত্তর ইরাকে বিদ্যমান গ্রীক দর্শন, পারস্যের দর্শন এবং ভারতীয় দর্শন—আর এগুলো ছিল একে অপরের সাথে মিশে যাওয়া নানাবিধ দর্শন।

এই দর্শনসমূহ, মতবাদ এবং পদ্ধতিগুলোর কিছু রেশ রয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি একদল লোক তাদের পূর্ববর্তী ধর্ম ও আদর্শের ওপর অটল ছিল এবং ইসলামে প্রবেশ করেনি।

সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত এই ইসলাম ছিল একটি সাধারণ পর্যায়ের ইসলাম, যা ঈমানের প্রকৃত উপলব্ধিকে নিশ্চিত করে না; তাদের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ লোক যেমন ছিল, তেমনি ছিল জালেম, ফাসেক এবং তাত্ত্বিক মুনাফিকিতে লিপ্ত ব্যক্তি।

এবং আরও অনুরূপ বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ظهور الخوارج

ومن هنا: فإن أول نزاع حدث في مسائل أصول الدين هو نزاع الخوارج، لما خرجت الخوارج وكفرت مرتكب الكبيرة من المسلمين.

ولكن الخوارج لم تأخذ هذه المقالة -وهي القول بأن مرتكب الكبيرة كافر- من ديانة سابقة أو نظرية من النظريات المعروفة في الديانات المخالفة لدين الإسلام أو حتى لدين المرسلين، بل هي مقولة دخلت على الخوارج لموجبات، أخصها: الطعن في السنة النبوية، حيث لم يعتبروا رواية الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك عدم الفقه لكتاب الله سبحانه وتعالى، ولو اعتبرت الخوارج الأولى القرآن، فإن القرآن صريح في أن أهل الكبائر ليسوا كفاراً.

ألا ترى أن الله سبحانه وتعالى يقول في كتابه: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور:2]، ولو كان الزنا كفراً لكان حكمه في كتاب الله القتل؛ لأنه (من بدل دينه فاقتلوه)؟

ألا ترى أن الله سبحانه وتعالى يقول في قتل العمد: {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ} [البقرة:178] فسوغ العفو فيه، وجعل القاتل أخاً، ولم يسقط عنه حق الأخوة.؟

ألم تر أن الله سبحانه يقول: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة:38]؟ ولم يأمر بالقتل من باب الردة … ؟ إلى غير ذلك.

والخوارج ليسوا معذورين في مسألة السنة، بل حتى القرآن؛ فإن سائر الأصول التي ضلوا فيها محققة في كتاب الله سبحانه وتعالى، فإن مسائل الأسماء والصفات، والقدر، والشفاعة، والإيمان ومسماه، والأسماء والأحكام وغيرها هي صريحة في كتاب الله، كما أنها أيضاًأيضأيضاً صريحة في سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فالمقصود: أن مقولة الخوارج هي في هذا الوجه، مع ما في نفوس الخوارج من الشدة التي لم يقيدوها بهدي الشارع، وهدي الشريعة، والتي جاءت بأن تكف النفوس عن طباعها، فإن النفوس تميل إلى هذه الشدة، والله لما ذكر الإنسان من جهة جنسه قال: {وَحَمَلَهَا الإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُوماً جَهُولاً} [الأحزاب:72] فإذا انفك الإنسان عن هدي الرسالة فإنه يميل إلى الشدة الكامنة فيه.
খারেজিদের উদ্ভব

এখান থেকেই: দ্বীনের উসুল বা মৌলিক বিষয়ে প্রথম যে বিবাদটি ঘটেছিল তা হলো খারেজিদের বিবাদ, যখন খারেজিরা বিদ্রোহ করল এবং কবিরা গুনাহে লিপ্ত মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করল।

তবে খারেজিরা এই বক্তব্যটি—অর্থাৎ কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি কাফির—পূর্ববর্তী কোনো ধর্ম বা ইসলাম অথবা নবীদের দ্বীনের পরিপন্থী অন্য কোনো ধর্মের পরিচিত কোনো তত্ত্ব থেকে গ্রহণ করেনি; বরং এটি খারেজিদের মাঝে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে প্রবেশ করেছিল। তার মধ্যে বিশেষ করে: সুন্নাহর প্রতি অপবাদ বা অনাস্থা, কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাহাবীদের বর্ণনাকে গণ্য করত না। সেইসাথে মহান আল্লাহর কিতাব অনুধাবনে তাদের বিচক্ষণতার অভাবও ছিল। প্রাথমিক যুগের খারেজিরা যদি কুরআনকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করত, তবে কুরআন স্পষ্ট করে দেয় যে, কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা কাফির নয়।

আপনি কি দেখেন না যে, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলছেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো} [আন-নূর: ২]। যদি ব্যভিচার কুফরি হতো, তবে আল্লাহর কিতাবে এর বিধান হতো মৃত্যুদণ্ড; কেননা (যে তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)?

আপনি কি দেখেন না যে, ইচ্ছাকৃত হত্যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলছেন: {অতঃপর তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে তাকে যদি কিছুটা ক্ষমা করা হয়} [আল-বাকারা: ১৭৮]। এখানে তিনি ক্ষমা করাকে বৈধ করেছেন এবং ঘাতককে ভাই হিসেবে অভিহিত করেছেন, তার থেকে ভ্রাতৃত্বের অধিকার ছিনিয়ে নেননি?

আপনি কি দেখেননি যে, মহান আল্লাহ বলেন: {চোর ও চোরনী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} [আল-মায়েদাহ: ৩৮]? তিনি মুরতাদ হওয়ার কারণে হত্যার নির্দেশ দেননি … ? এ রকম আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

সুন্নাহর ক্ষেত্রে খারেজিরা ওজরপ্রাপ্ত নয়, এমনকি কুরআনের ক্ষেত্রেও নয়; কেননা যে সমস্ত উসুল বা মূলনীতিতে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তা মহান আল্লাহর কিতাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। নিশ্চয়ই আল্লাহর নাম ও গুণাবলি, তাকদির, সুপারিশ, ঈমান ও এর সংজ্ঞায়ন, নাম ও বিধিবিধান এবং অন্যান্য বিষয়গুলো আল্লাহর কিতাবে সুস্পষ্ট, যেমনিভাবে সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতেও সুস্পষ্ট।

সারকথা হলো: খারেজিদের বক্তব্য এই প্রেক্ষাপটেই এসেছে। সেই সাথে খারেজিদের অন্তরে ছিল চরমপন্থা, যা তারা শরীয়ত প্রণেতার হেদায়েত এবং শরীয়তের নির্দেশনা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করেনি। শরীয়ত এসেছিল প্রবৃত্তি বা স্বভাবকে দমন করতে, কারণ মানুষের প্রবৃত্তি এই কঠোরতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। আল্লাহ যখন মানবজাতির প্রকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: {মানুষ তা বহন করল, নিশ্চয় সে অত্যন্ত জালিম ও অতিশয় জাহেল} [আল-আহযাব: ৭২]। সুতরাং যখনই মানুষ রিসালাতের হেদায়েত থেকে বিচ্যুত হয়, তখনই সে তার ভেতরে সুপ্ত কঠোরতার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ظهور الشيعة

ثم ظهرت الشيعة في ذلك التاريخ، فظهر ثلاثة أصناف من الشيعة: مفضلة لـ علي رضي الله عنه لم تسب أبا بكر وعمر رضي الله عنهما، واشتهرت الشيعة السابة، وهؤلاء وهؤلاء نقول: إنهم من أهل الأهواء.

ثم ظهرت الشيعة المؤلهة لـ علي بن أبي طالب، وهذا القول ليس له مورد من الاشتباه في النصوص أو في الإسلام أو في حقوق آل البيت أو نحو ذلك.
শিয়াদের আত্মপ্রকাশ

অতঃপর সেই ইতিহাসে শিয়াদের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং শিয়াদের তিনটি শ্রেণির উদ্ভব হয়: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারী দল যারা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দিত না, এবং গালি প্রদানকারী শিয়া হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভকারী দল। এই উভয় দল সম্পর্কে আমরা বলি যে, তারা প্রবৃত্তির অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর আলী বিন আবি তালিবকে উপাস্য সাব্যস্তকারী শিয়াদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আর এই মতবাদটির সপক্ষে ইসলামে, ধর্মীয় গ্রন্থাদিতে, আহলে বাইতের অধিকারে কিংবা এই জাতীয় অন্য কোনো বিষয়েই সংশয় সৃষ্টির ন্যূনতম কোনো সুযোগ নেই।
(খণ্ড: ৩) শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ - ইউসুফ আল-গাফীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أقسام البدع التي ظهرت في الإسلام

هذه الطريقة التي نتدرج في ذكرها الآن نحب أن نصل فيها إلى نتيجة وهي: أن البدع المخالفة للسنة والجماعة أو البدع المخالفة لمذهب السلف تنقسم في الجملة إلى قسمين:
ইসলামে আবির্ভূত বিদআতসমূহের প্রকারভেদ

এই পদ্ধতিটি যা আমরা এখন ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করছি, তার মাধ্যমে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই, আর তা হলো: সুন্নাহ ও জামাআতের পরিপন্থী বিদআতসমূহ অথবা সালাফদের মাযহাবের পরিপন্থী বিদআতসমূহ সামগ্রিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত: