(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح عقيدة السلف للصابوني - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 19 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সাবুনীর আকীদাতুস সালাফের ব্যাখ্যা - নাসির আল-আকল   (নাসির আল-আকল)

বিভাগ: আকীদা


বই: আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীসের ব্যাখ্যা

লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৯টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ১)
شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث ‌‌[1]

لقد اهتم السلف بعلم التوحيد، فألفوا فيه المطولات والمختصرات، وممن كان له اهتمام بذلك الأمر العظيم -الذي هو توحيد الخالق سبحانه- شيخ الإسلام الصابوني في كتابه عقيدة السلف وأصحاب الحديث، فقد قام بجمع أهم مسائل أصول الدين بكلمات مختصرة مع شمول واستيفاء، ووفق منهج السلف في التلقي والاستدلال والتقرير.
সালাফ ও আসহাবে হাদীসের আকিদার ব্যাখ্যা [১]

সালাফগণ তাওহীদ বিদ্যার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, তাই তাঁরা এই বিষয়ে দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। আর মহান এই বিষয়ের প্রতি—যা হলো মহান স্রষ্টার তাওহীদ—যাঁদের বিশেষ মনোযোগ ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খুল ইসলাম আস-সাবুনী তাঁর 'আকিদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদীস' গ্রন্থে। তিনি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোকে সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে ব্যাপকতা ও পূর্ণাঙ্গতার সাথে সংকলন করেছেন, যা ইলম গ্রহণ, দলীল উপস্থাপন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতির অনুসারী।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌نبذة من ترجمة الإمام أبي عثمان الصابوني

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

الصابوني هو: أبو عثمان إسماعيل بن عبد الرحمن بن أحمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن عامر بن عابد الصابوني النيسابوري الحافظ المفسر المحدث الفقيه الواعظ الملقّب بشيخ الإسلام، وأما لفظ (الصابوني) فقد ذكر السمعاني في كتاب (الأنساب) أنه نسبة إلى عمل الصابون، وقال: هو بيت كبير بنيسابور الصابونية، لعل بعض أجدادهم عمل الصابون فعرفوا به، وأما نسبه من جهة أمه فقد ذكر تاج الدين السبكي في طبقات الشافعية الكبرى نقلاً عن عبد الغافر الفارسي في كتابه (السياق في ذيل تاريخ نيسابور) أنه النسيب المعم المخول المدلي من جهة الأمومة إلى الحنفية والفضلية والسيشانية والقرشية والتميمية والمزنية والضبية من الشعب النازلة إلى الشيخ أبي سعد يحيى بن منصور السلمي الزاهد الأكبر على ما هو مشهور من أنسابهم عند جماعة من العارفين بالأنساب؛ لأنه أبو عثمان إسماعيل بن زين البيت ابنة الشيخ أبي سعد الزاهد بن أحمد بن مريم بنت أبي سعد الأكبر الزاهد].

حياته: ولد في بوشنج من نواحي هراة في النصف من جمادى الآخرة، سنة (373هـ).

قال عبد الغافر الفارسي: كان أبوه عبد الرحمن أبو نصر من كبار الواعظين بنيسابور ففتك به لأجل التعصب والمذهب وقتل.

وإسماعيل بعد حول سبع سنين أقعد بمجلس الوعظ مقام أبيه، وحضر أئمة الوقت مجالسه، وأخذ الإمام أبو الطيب سهل بن محمد الصعلوكي في تربيته وتهيئة أسبابه، وكان يحضر مجالسه ويثني عليه، وكذلك سائر الأئمة كالأستاذ أبي إسحاق الإسفراييني والأستاذ الإمام أبي بكر بن فورك، وسائر الأئمة كانوا يحضرون مجلس تفسيره، ويتعجبون من كمال ذكائه وعقله وحسن إيراده الكلام عربيه وفارسيه، وحفظه للأحاديث، حتى كبر وبلغ مبلغ الرجال ولم يزل يرتفع شأنه حتى صار إلى ما صار إليه، وهو في جميع أوقاته مشتغل بكثرة العبادات ووظائف الطاعات، بالغ في العفاف والسداد وصيانة النفس، معروف بحسن الصلاة وطول القنوت واستشعار الهيبة حتى كان يُضرب به المثل، ووصفه عبد الغافر بأنه الإمام شيخ الإسلام الخطيب المفسّر المحدث الواعظ، أوحد وقته في طريقته، وعظ المسلمين في مجالس التذكير سبعين سنة، وخطب وصلى في الجامع -يعني: بنيسابور- نحواً من عشرين سنة.

وقال: كان أكثر أهل العصر من المشايخ سماعاً وحفظاً ونشراً لمسموعاته وتصنيفاته، وجمعاً وتحريضاً على السماع، وإقامة لمجالس الحديث، سمع الحديث بنيسابور وبسرخس وبهراة وبالشام وبالحجاز وبالجبال، وحدث بكثير من البلاد، وأكثر الناس في السماع منه.

وقد ذكر السيوطي والداوودي في كتابيهما (طبقات المفسرين) وأوردا أنه أقام شهراً في تفسير آية، وهذا يدل على سعة علمه في تفسير القرآن الكريم، وكان الصابوني رحمه الله يحترم الحديث ويهتم بالأسانيد.

وقد حكى الفقيه أبو سعيد السكري عن بعض من يوثق بقوله من الصالحين أن الصابوني قال: ما رويت خبراً ولا أثراً في المجلس إلا وعندي إسناده، وما دخلت بيت الكتب قط إلا على طهارة، وما رويت الحديث ولا عقدت المجلس ولا قعدت للتدريس إلا على طهارة.

ولعل هذا القدر كافٍ في تقديم نبذة عن الصابوني، وأيضاً من أراد أن يستزيد فهذا موجود في الكتاب، خاصة ثناء العلماء عليه؛ لأن هذا يبيّن منزلة الصابوني رحمه الله عند أهل السنة.
ইমাম আবু উসমান আস-সাবুনীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।

আস-সাবুনী হলেন: আবু উসমান ইসমাইল ইবন আবদুর রহমান ইবন আহমাদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহীম ইবন আমির ইবন আবিদ আস-সাবুনী আন-নাইসাবুরী; হাফিয, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং ওয়ায়িয, যিনি 'শাইখুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত। আর 'আস-সাবুনী' শব্দের ব্যাপারে আস-সামআনী 'আল-আনসাব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি সাবান তৈরির পেশার সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন: এটি নাইসাবুরের সাবুনিয়্যাহ নামক একটি বড় বংশ, সম্ভবত তাঁদের কোনো এক পূর্বপুরুষ সাবান তৈরি করতেন বিধায় তাঁরা এ নামে পরিচিত হয়েছেন। আর তাঁর মায়ের দিক থেকে বংশপরিচয়ের ব্যাপারে তাজউদ্দীন আস-সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থে আবদুল গাফির আল-ফারিসীর 'আস-সিয়াক ফী যাইলি তারিখি নাইসাবور' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মাতামহ ও মাতুলালয় থেকে অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বংশের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মাতামহী বংশধারা হানাফী, ফাযলী, সিশানী, কুরাইশী, তামীমী, মুযানী এবং যাব্বী গোত্রের শাখাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রখ্যাত আবিদ শাইখ আবু সাদ ইয়াহইয়া ইবন মানসুর আস-সুলামীর দিকে ধাবিত হয়েছে, যা বংশবিশারদদের নিকট তাঁদের সুপরিচিত বংশধারা; কারণ তিনি হলেন আবু উসমান ইসমাইল ইবন যায়নুল বাইত, যিনি ছিলেন শাইখ আবু সাদ আল-যাহিদ ইবন আহমাদ ইবন মারইয়াম বিনতে আবু সাদ আল-আকবার আল-যাহিদের কন্যা।

তাঁর জীবন: তিনি ৩৭৩ হিজরির জমাদিউল আখিরাত মাসের মাঝামাঝি সময়ে হিরাতের নিকটবর্তী বুশাঞ্জ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।

আবদুল গাফির আল-ফারিসী বলেন: তাঁর পিতা আবদুর রহমান আবু নাসর ছিলেন নাইসাবুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওয়ায়িয (উপদেশদাতা), কিন্তু ধর্মীয় গোঁড়ামি ও মাযহাবগত বিদ্বেষের কারণে তাঁকে অতর্কিত আক্রমণ করে হত্যা করা হয়েছিল।

আর ইসমাইলকে সাত বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত করে ওয়াজ মাহফিলের আসনে বসানো হয়। সে সময়ের ইমামগণ তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন। ইমাম আবু তাইয়্যেব সাহল ইবন মুহাম্মদ আস-সা'লুকী তাঁর লালন-পালন ও তাঁকে যোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। অনুরূপভাবে অন্যান্য ইমামগণও, যেমন উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়িনী এবং উস্তাদ ইমাম আবু بকর ইবন ফুরাক এবং অন্যান্য সকল ইমাম তাঁর তাফসীর মজলিসে উপস্থিত হতেন। তাঁরা তাঁর পূর্ণ মেধা, বুদ্ধি এবং আরবি ও ফারসি উভয় ভাষায় চমৎকার বর্ণনাশৈলী ও হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হতেন। এমনকি তিনি বড় হলেন এবং পূর্ণ বয়সে পদার্পণ করলেন। সর্বদা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান। তিনি তাঁর জীবনের সর্বক্ষণ অধিক পরিমাণে ইবাদত ও আনুগত্যের কাজে লিপ্ত থাকতেন। তিনি পবিত্রতা, সঠিক পথ অনুসরণ এবং আত্মমর্যাদা রক্ষায় চরম উৎকর্ষ লাভ করেছিলেন। তিনি সুন্দর সালাত, দীর্ঘ কুনুত এবং আল্লাহভীতির অনুভূতির জন্য পরিচিত ছিলেন, এমনকি এ বিষয়ে তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো। আবদুল গাফির তাঁকে ইমাম, শাইখুল ইসলাম, খতিব, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ওয়ায়িয হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর সমসাময়িক কালে স্বীয় পদ্ধতিতে অনন্য ছিলেন। তিনি সত্তর বছর ধরে নসিহতের মজলিসগুলোতে মুসলিমদের উপদেশ দিয়েছেন এবং নাইসাবুরের জামে মসজিদে প্রায় বিশ বছর খুতবা দিয়েছেন ও সালাত আদায় করিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন: তিনি সমসাময়িক মাশায়েখদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদিস শ্রবণকারী, সংরক্ষণকারী এবং তাঁর শ্রুত বিষয় ও রচনাবলী প্রচারকারী ছিলেন। তিনি হাদিস সংগ্রহ ও শ্রবণে মানুষকে উৎসাহিত করতেন এবং হাদিসের মজলিস কায়েম করতেন। তিনি নাইসাবুর, সারাখস, হিরাত, সিরিয়া, হিজায ও পার্বত্য অঞ্চলে হাদিস শুনেছেন এবং বহু দেশে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ মানুষ তাঁর থেকে হাদিস শোনার জন্য সমবেত হতো।

আস-সুয়ুতী এবং আদ-দাউদী তাঁদের 'তাবাকাতুল মুফাসসিরীন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একটি মাত্র আয়াতের তাফসীর করতে এক মাস অতিবাহিত করেছিলেন। এটি পবিত্র কুরআনের তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অগাধ জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। সাবুনী রহ. হাদিসকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং সনদের (সূত্র) ব্যাপারে খুবই যত্নবান ছিলেন।

ফকিহ আবু সাঈদ আস-সুকারী জনৈক বিশ্বস্ত নেককার ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন যে, সাবুনী বলেছেন: আমি মজলিসে এমন কোনো খবর বা আসার বর্ণনা করিনি যার সনদ আমার নিকট সংরক্ষিত নেই। আমি কখনো পবিত্রতা (উযু) ব্যতীত কুতুবখানায় (লাইব্রেরি) প্রবেশ করিনি। আর আমি পবিত্রতা ব্যতিরেকে কখনো হাদিস বর্ণনা করিনি, কোনো মজলিস পরিচালনা করিনি এবং দরস দিতেও বসিনি।

সম্ভবত সাবুনী সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত পরিচিতিই যথেষ্ট। এ ছাড়া কেউ যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান তবে তা কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের ভূয়সী প্রশংসা; কারণ এটি আহলুস সুন্নাহর নিকট সাবুনী রহ.-এর সুউচ্চ মর্যাদা স্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أهم ما تميز به كتاب عقيدة السلف أصحاب الحديث

قبل أن نبدأ بقراءة مقطع من الكتاب، أحب أن أشير إلى أهم ما يتميز به هذا الكتاب: هذا الكتاب الذي هو عقيدة السلف للصابوني تميز بالتزام منهج السلف في التأليف والتقرير، فهو من حيث ترتيب مسائل العقيدة التزم منهج السلف بالبدء بمسائل التوحيد العظمى بتقرير الشهادتين، ثم بالصفات وما يجب لله عز وجل، ثم بأصول الدين بحسب ترتيبها حسب الأهمية.

كما أنه التزم منهج السلف في الاستدلال، فكان واضح الاستدلال من الكتاب والسنة.

وأيضاً تميّز بالاستيفاء والشمول، وقد عرض أكثر أصول الدين عرضاً جيداً ومرتباً، والتزم في ذلك منهج السلف.

وأخطاؤه في الاعتقاد هي في جزئيات الاعتقاد وهي قليلة؛ أقول هذا لأنه من المعلوم أنه لا يسلم عالم من خطأ أو مخالفة لرأي جمهور السلف، وهو لم يخالف الإجماع في شيء، ولم يخالف القضايا القطعية، ولم يقع في بدعة بحمد الله، لكنه أحياناً قد يرجّح المرجوح، وقد يميل إلى قول يخالفه فيه أكثر العلماء من السلف، وهذه مسألة بدهية ينبغي أن يعرف كل طالب علم أنها لا بد أن توجد عند كل عالم، لكنها تقل أو تكثر بحسب توفيق الله عز وجل للعالم وتبحّره وإمامته.

ثم إنه أيضاً كان سياقه لكثير من مسائل أصول الدين فيه سهولة وبساطة وليس فيه تعقيد، وهو بعيد عن المسائل الكلامية والتعبيرات الفلسفية التي قد يقع فيها أحياناً حتى بعض السلف من غير قصد، فكان أسلوبه سهلاً، والتزامه لألفاظ السلف من أحسن ما رأينا من كتب السلف.

ثم إنه تميّز بالإيجاز مع الإسناد، قلّ أن نجد من كتب السلف الشاملة في قضايا العقيدة أن تكون موجزة، فقد تميّز مع وجود الإسناد بالإيجاز، ويعتبر كتابه خلاصة سهلة لأصول السلف يستوعبها طالب العلم المتبحر ويستيفد منها، كما أنه يستفيد منها طالب العلم المبتدئ ولا تصعب عليه.

ولو جرد من الأسانيد أيضاً لصار مثل كثير من متون العقيدة السهلة، وأتمنى أن يتصدى أحد الإخوان لاستخلاص قضايا العقيدة من كتاب الصابوني، وتجريدها من التكرار والأسانيد، لمن أراد أن يحفظها أو يقرأها ويدرسها، وأيضاً الأسانيد لها ميزة؛ لأنها تربط القارئ بأعلام السلف وبأعلام الحديث من الرواة، ثم يتبين بالسند مدى صحة كل رواية وكل أثر أو حديث، وهذا مخدوم الآن بحمد الله، فالآن أكثر كتب السلف -ومنها هذا الكتاب- خدم بتحقيق نصوصه، فممكن أن يشار في كل نص يرد إلى ما توصل إليه الباحثون والعلماء من حكمه وقول أهل العلم فيه.

وفي البداية يحسن أننا نقرأ الروايات بأسانيدها حتى نتعرف على أشهر رجال الإسناد عند الصابوني.
আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস কিতাবটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

কিতাবটির একটি অংশ পাঠ শুরু করার আগে, আমি এই কিতাবটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করতে চাই: আস-সাবুনী রহ.-এর 'আকীদাতুস সালাফ' নামক এই কিতাবটি রচনা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। আকীদার মাসআলাসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি তাওহীদের মহান বিষয়সমূহ তথা শাহাদাতাইনের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করার মাধ্যমে সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করেছে, এরপর সিফাত বা আল্লাহর গুণাবলি এবং মহান আল্লাহর জন্য যা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব তা আলোচনা করেছে, অতঃপর গুরুত্বানুসারে দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ বিন্যস্ত করেছে।

অনুরূপভাবে এটি দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রেও সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করেছে; ফলে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর দলিল গ্রহণ পদ্ধতি অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল।

এছাড়াও এটি পূর্ণাঙ্গতা ও ব্যাপকতার দিক থেকেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এটি দ্বীনের অধিকাংশ মৌলিক বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দর ও সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ বজায় রেখেছে।

আর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর ভুলগুলো কেবল আকীদার কিছু শাখা-প্রশাখায় এবং তা খুবই সামান্য। আমি এটি একারণেই বলছি যে, এটি সুবিদিত যে কোনো আলেমই ভুল বা সালাফদের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের বিরোধিতার ঊর্ধ্বে নন। তিনি কোনো বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্যের খেলাফ করেননি, অকাট্য বিষয়সমূহেরও বিরোধিতা করেননি এবং আল্লাহর প্রশংসায় কোনো বিদআতেও লিপ্ত হননি। তবে তিনি কখনো কখনো অপেক্ষাকৃত দুর্বল মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আবার কখনো এমন মতের দিকে ঝুঁকেছেন যার বিরোধিতা সালাফদের অধিকাংশ আলেম করেছেন। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা প্রত্যেক ইলম অন্বেষণকারীর জানা উচিত যে, প্রত্যেক আলেমের ক্ষেত্রেই এমনটা হওয়া অনিবার্য। তবে মহান আল্লাহর তাওফীক এবং আলেমের গভীর জ্ঞান ও ইমামতের স্তরের ওপর ভিত্তি করে এটি কম বা বেশি হয়ে থাকে।

তদুপরি, দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রকাশভঙ্গি ছিল সহজ-সরল এবং এতে কোনো জটিলতা নেই। এটি কালামশাস্ত্রীয় জটিলতা এবং দার্শনিক পরিভাষা থেকে মুক্ত, যাতে কখনো কখনো কিছু সালাফ অনিচ্ছাকৃতভাবে লিপ্ত হয়েছেন। তাঁর শৈলী ছিল সহজ, আর সালাফদের শব্দাবলির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আমাদের দেখা সালাফদের কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।

এরপর এটি সনদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ততার জন্যও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আকীদার বিষয়গুলোতে সালাফদের পূর্ণাঙ্গ কিতাবসমূহের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কিতাব খুব কমই পাওয়া যায়। সনদ থাকা সত্ত্বেও এটি সংক্ষিপ্ত হওয়ার গুণে গুণান্বিত। তাঁর কিতাবটিকে সালাফদের মূলনীতিসমূহের একটি সহজ সারসংক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয় যা একজন গভীর জ্ঞানের অধিকারী শিক্ষার্থী যেমন আয়ত্ত করতে পারে এবং তা থেকে উপকৃত হতে পারে, তেমনি একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীও তা থেকে উপকৃত হতে পারে এবং এটি তার জন্য কঠিন হবে না।

যদি এটি থেকে সনদসমূহ বাদ দেওয়া হতো তবে এটি অন্যান্য অনেক সহজ আকীদার মূল পাঠের মতো হয়ে যেত। আমি আশা করি কোনো ভাই সাবুনীর কিতাব থেকে আকীদার বিষয়গুলো নির্যাস হিসেবে বের করার উদ্যোগ নেবেন এবং যারা এটি মুখস্থ করতে বা পড়তে ও অধ্যয়ন করতে চান তাদের জন্য এর পুনরাবৃত্তি ও সনদগুলো বাদ দেবেন। তবে সনদেরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে; কারণ এটি পাঠককে সালাফদের মহান ইমাম এবং হাদীসের রাবী ইমামদের সাথে সংযুক্ত করে। অতঃপর সনদের মাধ্যমে প্রতিটি বর্ণনা, আছার বা হাদীসের বিশুদ্ধতার মান স্পষ্ট হয়। আল্লাহর প্রশংসায় বর্তমানে এটি সম্পাদিত হয়েছে। বর্তমানে সালাফদের অধিকাংশ কিতাবই—যার মধ্যে এই কিতাবটিও রয়েছে—এর মূল পাঠের গবেষণার মাধ্যমে সেবা করা হয়েছে। সুতরাং প্রতিটি উদ্ধৃতিতে গবেষক ও আলেমগণ সেটির হুকুম এবং এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মন্তব্য যা পেয়েছেন তা উল্লেখ করা সম্ভব।

শুরুতে আমাদের জন্য উত্তম হবে যে আমরা সনদসহ বর্ণনাগুলো পাঠ করি যাতে আমরা সাবুনীর নিকট সনদের প্রসিদ্ধ রাবীদের সম্পর্কে জানতে পারি।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌سند كتاب عقيدة السلف أصحاب الحديث إلى مؤلفه

قال رحمه الله تعالى: [أخبرنا قاضي القضاة بدمشق نظام الدين عمر بن إبراهيم بن محمد بن مفلح الصالحي الحنبلي إجازة مشافهة أخبرنا الحافظ أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أحمد بن المحب المقدسي إجازة إن لم يكن سماعاً، أخبرنا الشيخان: جمال الدين عبد الرحمن بن أحمد بن عمر بن شكر وأبو عبد الله محمد بن المحب عبد الله بن أحمد بن محمد المقدسيان.

قال الأول: أخبرنا إسماعيل بن أحمد بن الحسين بن محمد العراقي سماعاً أخبرنا أبو الفتح عبد الله بن أحمد الخرقي إجازة.

وقال الثاني: أنبأنا أحمد بن عبد الدائم رحمه الله، وأخبرنا المحدث تاج الدين محمد بن الحافظ عماد الدين إسماعيل بن محمد بن بردس البعلي في كتابه، أنبأنا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن الخباز شفاهاً، أخبرنا أحمد بن عبد الدائم إجازة إن لم يكن سماعاً، أنبأنا الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي، أنبأنا الخرقي سماعاً، أنبأنا أبو بكر عبد الرحمن بن إسماعيل الصابوني حدثنا والدي شيخ الإسلام أبو عثمان إسماعيل بن عبد الرحمن فذكره.

وأخبرنا قاضي القضاة عز الدين عبد الرحيم بن محمد بن الفرات الحنفي إجازة مشافهة، أنبأنا محمود بن خليفة بن محمد بن خلف المنبجي إجازة أنبأنا الجمال عبد الرحمن بن أحمد بن عمر بن شكر بسنده قال:
আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস গ্রন্থের রচয়িতা পর্যন্ত সনদ

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [দামেস্কের প্রধান বিচারপতি নিযামুদ্দীন উমর ইবন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুফলিহ আল-সালিহি আল-হানবালী আমাদের মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবনুল মুহিব আল-মাকদিসী আমাদের অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ: জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবন আহমাদ ইবন উমর ইবন শুকর এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল মুহিব আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-মাকদিসীদ্বয়।

প্রথমজন বলেন: ইসমাঈল ইবন আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ আল-ইরাকী আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফাতহ আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ আল-খারাকী আমাদের অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।

দ্বিতীয়জন বলেন: আহমাদ ইবন আব্দুল দায়িম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং মুহাদ্দিস তাজউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনুল হাফিয ইমাদুদ্দীন ইসমাঈল ইবন মুহাম্মাদ ইবন বারদাস আল-বালী তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল ইবনুল খাব্বায আমাদের মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবন আব্দুল দায়িম আমাদের অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে, আল-হাফিয আব্দুল গনী ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আলী ইবন সুরূর আল-মাকদিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-খারাকী আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আব্দুর রহমান ইবন ইসমাঈল আস-সাবুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আমার পিতা শাইখুল ইসলাম আবু উসমান ইসমাঈল ইবন আব্দুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

এবং প্রধান বিচারপতি ইযযুদ্দীন আব্দুর রহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল ফুরাত আল-হানাফী আমাদের মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবন খলীফা ইবন মুহাম্মাদ ইবন খালাফ আল-মানবিজী আমাদের অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আল-জামাল আব্দুর রহমান ইবন আহমাদ ইবন উমর ইবন শুকর তাঁর সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌سبب تأليف الصابوني كتابه عقيدة السلف أصحاب الحديث

[الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين، وصلى الله على محمد، وآله وصحبه أجمعين.

أما بعد].

بدأ كلام الصابوني الآن بعد ذكر السماعات وذكر أسانيد الكتاب نفسه، وهذه عادة أهل العلم قديماً كانوا يثبتون الروايات والكتب بالإسناد، وهذا أمر طيب، وهو مما يدل على حرصهم على توثيق العلوم، كحرصهم على توثيق الحديث.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [فإني لما وردت آمد طبرستان وبلاد جيلان متوجهاً إلى بيت الله الحرام وزيارة قبر نبيه محمد صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه الكرام].

مسألة الزيارة من الأمور التي عبّر فيها المؤلف الصابوني رحمه الله بغير منهج السلف؛ لأن قصد المدينة لا ينبغي أن يعبّر عنه بزيارة القبر وإنما يعبّر عنه بزيارة المسجد؛ لأنه من المساجد التي تشد إليها الرحال، لكن أطلق ذلك نظراً إلى أن من يأتي من الآفاق ويزور المسجد لابد أن يسلّم على النبي صلى الله عليه وسلم، ومن المشروع له أن يسلّم على عموم الصحابة كذلك، ويسلّم على أهل المقابر هناك، فبعضهم قد يتجاوز ويعبّر عن السفر إلى زيارة المسجد بزيارة القبر، وربما ذلك من تعظيم الرسول صلى الله عليه وسلم، لكن العبارة لا توافق السنة في التعبير العام، ولذلك علّق عليه المحقق تعليقاً جيداً وقال: لعله يقصد السفر إلى مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم، فإن بعض العلماء يسمون السفر لزيارة المسجد ويصرفون العبارة إلى معنى زيارة القبر؛ لوجود القبر هناك، وهذا فيه لبس، لكن مع ذلك قد يلتمس فيه العذر لمثل الصابوني، وقد يكون يرى خلاف رأي الجمهور، وليس هناك ما يمنع أن يرى خلاف رأي الجمهور، وتكون هذه من أخطائه رحمه الله، لكنها ليست في الأمور التي تخالف القطعيات.

ثم قال: إن شيخ الإسلام ذكر أن طائفة من العلماء يسمون السفر للصلاة في المسجد زيارة لقبره صلى الله عليه وسلم، ويقولون: تستحب زيارة قبره أو السفر لزيارة قبره، ومقصودهم بالزيارة هو السفر إلى مسجده، وأن يفعل في مسجده ما يشرع من الصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وسلم والدعاء له والثناء عليه.

أقول: يحتمل هذا، يحتمل أنهم أحياناً يعبّرون بهذا عن ذلك، تغليباً لحق الرسول صلى الله عليه وسلم بالسلام عليه، لكن لا يقصدون إنشاء السفر الإنشاء البدعي، وإنما إنشاء السفر لزيارة المسجد.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [سألني إخواني في الدين أن أجمع لهم فصولاً في أصول الدين التي استمسك بها الذين مضوا من أئمة الدين، وعلماء المسلمين، والسلف الصالحين، وهدوا ودعوا الناس إليها في كل حين، ونهوا عمّا يضادها وينافيها جملة المؤمنين المصدقين المتقين، ووالوا في اتباعها وعادوا فيها، وبدّعوا وكفّروا من اعتقد غيرها، وأحرزوا لأنفسهم ولمن دعوهم إليها بركتها وخيرها، وأفضوا إلى ما قدموه من ثواب اعتقادهم لها، واستمساكهم بها، وإرشاد العباد إليها، وحملهم إياهم عليها، فاستخرت الله تعالى وأثبت في هذا الجزء ما تيسر منها على سبيل الاختصار؛ رجاء أن ينتفع به أولو الألباب والأبصار، والله سبحانه يحقق الظن، ويجزل علينا المن بالتوفيق والاستقامة على سبيل الرشد والحق بمنه وفضله].

نقف على هذا المقطع لنبدأ -إن شاء الله- من بداية تقريره لأصول الدين، ونسأل الله التوفيق، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله، وصحبه أجمعين.
সাবুনী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ ‘আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস’ রচনার কারণ

[সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:]

কিতাবটির শ্রুতি ও এর সনদসমূহ উল্লেখ করার পর এখন সাবুনীর কথা শুরু হচ্ছে। এটি প্রাচীন উলামায়ে কিরামের একটি রীতি ছিল যে, তারা বর্ণনা ও কিতাবসমূহকে সনদের মাধ্যমে সাব্যস্ত করতেন। এটি একটি উত্তম বিষয় এবং এটি তাদের ইলমকে নথিভুক্ত করার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে, যেমনটি হাদীস নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ ছিল।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আমি যখন তাবারিলস্তানের আমোদ এবং জিলান অঞ্চলে এসে উপস্থিত হলাম—আল্লাহর সম্মানিত ঘর (কা’বা) এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের যিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার প্রাক্কালে—]।

যিয়ারতের বিষয়টি এমন একটি বিষয় যেখানে লেখক সাবুনী (রহিমাহুল্লাহ) সালাফদের মানহাজ বহির্ভূত শব্দ প্রয়োগ করেছেন। কারণ মদীনা গমনের উদ্দেশ্যকে 'কবর যিয়ারত' হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়, বরং 'মসজিদ যিয়ারত' হিসেবে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এটি সেই মসজিদগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ। তবে তিনি এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন এই দৃষ্টিতে যে, দূর-দূরান্ত থেকে যারা মসজিদে যিয়ারতে আসেন, তাদের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দেওয়া আবশ্যক। একইভাবে সাধারণভাবে সাহাবায়ে কিরাম ও তথাকার কবরবাসীদের সালাম দেওয়াও তাঁর জন্য শরীয়তসম্মত। তাই কেউ কেউ হয়তো মসজিদ যিয়ারতের সফরকে কবর যিয়ারত বলে বাড়িয়ে বলে থাকেন, সম্ভবত এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি অতি সম্মানের কারণে। কিন্তু এই শব্দ চয়ন সাধারণ পরিভাষায় সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। একারণেই মুহাক্কিক (গবেষক) এখানে একটি সুন্দর টীকা দিয়েছেন এবং বলেছেন: সম্ভবত তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে সফর করাকেই বুঝিয়েছেন। কেননা কিছু আলিম মসজিদের সফরের নামও যিয়ারত দিয়ে থাকেন এবং সেখানে কবর থাকার কারণে শব্দটিকে কবর যিয়ারতের অর্থের দিকে ঘুরিয়ে দেন। এতে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে, তবে সাবুনীর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ওজর (অজুহাত) তালাশ করা যেতে পারে। আবার হতে পারে তিনি জমহুরের (সংখ্যাগরিষ্ঠের) মতের বিপরীতে ভিন্ন মত পোষণ করতেন। জমহুরের মতের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, আর এটি তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) ভুলগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা নিশ্চিত প্রমাণিত (কাত্’য়ী) বিষয়গুলোর বিরোধী।

এরপর তিনি বলেন: শাইখুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, একদল আলিম মসজিদে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সফরকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর যিয়ারত বলে নামকরণ করেছেন। তারা বলেন: তাঁর কবর যিয়ারত করা বা যিয়ারতের জন্য সফর করা মুস্তাহাব। যিয়ারত দ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য হলো তাঁর মসজিদে সফর করা এবং তাঁর মসজিদে সেই সব আমল করা যা শরীয়তসম্মত, যেমন: তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করা, তাঁর জন্য দুআ করা এবং তাঁর প্রশংসা করা।

আমি বলছি: এর সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা মাঝে মাঝে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর সালাম দেওয়ার হককে প্রাধান্য দিতে গিয়ে একে ওভাবে প্রকাশ করেছেন। তবে তারা কোনো বিদআতী সফর শুরু করার সংকল্প করেন না, বরং মসজিদ যিয়ারতের জন্য সফর শুরু করার সংকল্পই করেন।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [দ্বীনি ভাইয়েরা আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁদের জন্য দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসুলুদ্দীন) ওপর কিছু অধ্যায় সংকলন করি, যে মূলনীতিগুলোকে পূর্ববর্তী দ্বীনের ইমামগণ, মুসলিম উলামায়ে কিরাম এবং নেককার সালাফগণ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তাঁরা সর্বদা মানুষকে এর দিকে হেদায়েত দিয়েছেন ও আহ্বান করেছেন। মুমিন, সত্যায়নকারী ও মুত্তাকীদের জামাতকে তাঁরা এর পরিপন্থী ও বিরোধী বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করেছেন। তাঁরা এই মূলনীতিগুলো অনুসরণের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব করেছেন এবং এর ভিত্তিতেই শত্রুতা করেছেন। যারা এর বাইরে ভিন্ন বিশ্বাস পোষণ করত তাদের তাঁরা বিদআতী ও কাফির বলেছেন। তাঁরা নিজেদের জন্য এবং যাদেরকে এর দিকে আহ্বান করেছেন তাদের জন্য এর বরকত ও কল্যাণ হাসিল করেছেন। তাঁরা সেই সওয়াবের দিকে পৌঁছেছেন যা তাঁরা এই বিশ্বাসের কারণে, একে আঁকড়ে ধরার কারণে, বান্দাদেরকে এর দিকে পথপ্রদর্শনের কারণে এবং মানুষকে এর ওপর পরিচালিত করার কারণে পেশ করেছিলেন। তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং সংক্ষিপ্ত আকারে এই অংশে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করেছি; এই আশায় যে, এর মাধ্যমে বুদ্ধিমান ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা উপকৃত হবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন আমাদের এই ধারণাকে সত্য করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় সঠিক পথ ও সত্যের ওপর তাওফীক ও অবিচলতা দান করে আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন।]

আমরা এই পরিচ্ছেদে বিরতি দিচ্ছি, যাতে ইনশাআল্লাহ আমরা তাঁর দ্বীনের মূলনীতিসমূহ বর্ণনার শুরু থেকে আরম্ভ করতে পারি। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফীক কামনা করি। সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌حكم قول: قاضي القضاة

 

‌‌السؤال

ما حكم قول المصنف: قاضي القضاة؟

 

‌‌الجواب

هذه من العبارات التي يتساهل بها العلماء إذا كان المقصود بها مجرد الثناء، ليس المقصود بها التعظيم الذي يخرج عن الحد الشرعي، وتجدون هذا في كثير مما يكتبه علماء السلف في تراجمهم للأعلام، فـ الذهبي مثلاً وهو من أدق الناس وأحرصهم على تفادي العبارات المبالغ فيها، والعبارات التي لا تجوز شرعاً نجده في مسألة الوصف والثناء -خاصة للأموات- تكون عنده بعض العبارات المبالغ فيها، ولكن ليس قصدهم معاندة الحق، وإنما قصدهم مجرد الثناء لا التعظيم الممنوع، فعلى هذا إذا كان القصد وصف الواقع بالتعبير في قاضي القضاة عن كونه رئيساً للقضاة، أو أكبر القضاة، أو مرجع القضاة أو ما يشبه هذه العبارات فأرجو ألا يكون في ذلك حرج، بمعنى أن نعذر أئمة السلف الذين عبّروا بهذا التعبير، وقصدوا بقاضي القضاة أنه كبيرهم أو رئيسهم أو شيخهم أو مرجعهم أو أكبرهم أو أعلمهم إلى آخره، فهذا مما يصلح التجوز فيه، والله أعلم.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
‘বিচারপতিদের বিচারপতি’ (ক্বাযিল কুযাত) বলার বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

লেখকের ‘বিচারপতিদের বিচারপতি’ বলার বিধান কী?

 

‌‌উত্তর

এগুলো এমন সব পরিভাষা যেগুলোর ক্ষেত্রে আলেমগণ শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, যদি এর দ্বারা নিছক প্রশংসা উদ্দেশ্য হয় এবং এমন কোনো অতিশয়োক্তিপূর্ণ সম্মান উদ্দেশ্য না হয় যা শরয়ি সীমা অতিক্রম করে। সালাফ আলেমগণ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী লিখতে গিয়ে এমনটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আয-যাহাবি—যিনি অতিরঞ্জিত এবং শরয়িভাবে অবৈধ শব্দাবলি বর্জনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সজাগ ছিলেন—তার ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, বর্ণনা ও প্রশংসার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, কিছু অতিরঞ্জিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সত্যের বিরোধিতা করা ছিল না, বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিছক প্রশংসা করা, নিষিদ্ধ কোনো সম্মান প্রদর্শন নয়। সুতরাং, যদি ‘বিচারপতিদের বিচারপতি’ শব্দটির দ্বারা বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি বিচারকদের প্রধান, অথবা সবচেয়ে বড় বিচারপতি, অথবা বিচারকদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস কিংবা এই জাতীয় কিছু, তবে আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ, আমরা ঐ সকল সালাফ ইমামদের ওজর কবুল করব যারা এই পরিভাষা ব্যবহার করেছেন এবং ‘বিচারপতিদের বিচারপতি’ বলতে তাদের প্রধান, শাইখ, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কিংবা সবচেয়ে বিজ্ঞ হওয়া ইত্যাদি বুঝিয়েছেন। এটি এমন বিষয় যেখানে নমনীয়তা বা রূপক অর্থ গ্রহণ করা চলে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح عقيدة السلف للصابوني - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 19 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সাবুনির আকিদাতুস সালাফ-এর ব্যাখ্যা - নাসির আল-আকল   (নাসির আল-আকল)

বিভাগ: আকিদা


বই: আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিসের ব্যাখ্যা

লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারিম আল-আলি আল-আকল

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব নেট সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও লেকচারসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ১৯টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ১)
شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث ‌‌[2]

أجمع السلف الصالح على إثبات ما أثبته الله لنفسه من الأسماء والصفات على الوجه اللائق به في كتابه، وما أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته، ونفي ما نفاه سبحانه عن نفسه، وما نفاه عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فالسلف أهل السنة وسط، فهم لا يشبهون الله بخلقه، ولا يعطلونه عن أسمائه وصفاته، بل يثبتونها إثباتاً يليق بجلاله سبحانه من غير تأويل ولا تحريف ولا تشبيه ولا تعطيل.
আকীদা আস-সালাফ আসহাবে হাদীসের ব্যাখ্যা [২]

সলফে সালেহীন আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজের জন্য যেসকল নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোকে তাঁর শানের উপযোগী পন্থায় সাব্যস্ত করার এবং মহান আল্লাহ নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে যা অস্বীকার করেছেন, তা অস্বীকার করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং সলফ তথা আহলুস সুন্নাহ হলেন মধ্যপন্থী; তাঁরা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করেন না এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার বা অর্থহীন করেন না। বরং তাঁরা কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, বিকৃতি, সাদৃশ্য প্রদান বা অর্থহীন করা ছাড়াই মহান আল্লাহর মহিমার উপযোগী পন্থায় সেগুলোকে সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌عقيدة السلف أصحاب الحديث في صفات الله عز وجل

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

قال الإمام أبو عثمان الصابوني رحمه الله تعالى: [قلت وبالله التوفيق: أصحاب الحديث -حفظ الله أحياءهم ورحم أمواتهم- يشهدون لله تعالى بالوحدانية].

مما يحسن التنبيه له أن الشيخ دائماً في تعبيره عن أصحاب الحديث هو وغيره من أئمة السلف يقصدون بالسلف أهل السنة والجماعة، وعُبِّر عنهم بأصحاب الحديث لأنهم هم حملة الحديث دراية ورواية، ولأنهم أجدر الناس بالاستمساك بالسنة؛ ولأنهم هم الذين عنوا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم من كل وجه بأصولها ومناهجها وقواعدها وتصحيحها وتضعيفها، وكل ما تعنيه الكلمة من حمل الحديث الذي تضمن الدين كله، وأصحاب الحديث لا يخرجهم هذا الوصف عن أن يكونوا أصحاب قرآن، بل أهل السنة والجماعة هم أهل القرآن والسنة، ويعبر عنهم بالفرقة الناجية، والسلف الصالح، والطائفة المنصورة، فمن أوصافهم أنهم أصحاب الحديث، كما أن من أوصافهم أنهم أهل السنة، وأنهم الجماعة، والفرقة الناجية، والطائفة المنصورة، والسلف الصالح ونحو ذلك.

فهذه كلها أوصاف حقيقية لأهل السنة والجماعة وليست من الأوصاف المتغايرة، بل كلها تعني أهل الحق والاستقامة أصحاب السنة.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [أصحاب الحديث -حفظ الله تعالى أحياءهم ورحم أمواتهم- يشهدون لله تعالى بالوحدانية، وللرسول صلى الله عليه وسلم بالرسالة والنبوة، ويعرفون ربهم عز وجل بصفاته التي نطق بها وحيه وتنزيله، أو شهد له بها رسوله صلى الله عليه وسلم على ما وردت الأخبار الصحاح به، ونقلت العدول الثقات عنه، ويثبتون له جل جلاله ما أثبت لنفسه في كتابه، وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسم، ولا يعتقدون تشبيهاً لصفاته بصفات خلقه، فيقولون: إنه خلق آدم بيديه].

هذه قاعدة عند السلف أجمعوا عليها، وهي: إثبات ما أثبته الله لنفسه في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ونفي ما نفاه الله عن نفسه أو نفاه عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يعتقدون التشبيه؛ نظراً لأن الإثبات مظنة التشبيه عند قاصري الفهم والفقه، فإن السلف لا يعتقدون التشبيه، ثم ضرب أمثلة لذلك.

[فيقولون: إنه خلق آدم بيديه، كما نص سبحانه عليه في قوله عز من قائل: {قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص:75]، ولا يحرفون الكلم عن مواضعه بحمل اليدين على النعمتين أو القوتين، تحريف المعتزلة الجهمية أهلكهم الله].

والذين يقولون بهذا الآن هم الأشاعرة والماتريدية، فهم أخذوا هذه المقولة عن الجهمية، ولذلك متأخرو السلف لا يفرقون بين الأشاعرة والماتريدية والجهمية، بل يصفونهم جميعاً بأنهم جهمية، وذلك راجع إلى أنهم أخذوا أصول الجهمية في الصفات وقالوا بها تماماً، حتى إن الأشاعرة لا يثبتون إلا سبع صفات، ومذهبهم هذا قريب جداً بل هو نسخة جديدة لمذهب الجهمية، فالجهمية الذين ثار عليهم السلف وذموهم وحذروا منهم كان هذا مذهبهم: تأويل الصفات؛ لأن الجهمية مرت بمراحل: المرحلة الأولى في القرن الثاني أو أغلب القرن الثاني: كانت تُنكر الصفات إنكاراً بالكلية، لكنها في القرن الثالث ومع كثرة المحاورات بينها وبين السلف، ومع وجود الكتب والآثار والمصنفات التي كتبها أئمة الإسلام لطّفوا المذهب فقالوا بالتأويل، وأول من اشتهر عنه التأويل بشر المريسي، فهذا المريسي أوّل الصفات تأويلاً ولم ينكرها كما أنكرتها الجهمية الأوائل، ومع ذلك عد مذهبه امتداداً للجهمية، وهو جهمي جلد، ولذلك فإن منهجه هذا أخطر على المسلمين من مناهج السابقين؛ فالسابقون الذين ينكرون الأسماء والصفات بالكلية أو ينكرون الصفات كالمعتزلة كان الناس ينفرون من مذاهبهم؛ لأنها مذاهب مصادمة للعقل السليم والفطرة والنصوص مصادمة تامة، لكن حينما جاء هذا الرجل الخبيث بشر المريسي ترك التعطيل الذي هو الإنكار وبدأ يؤوّل، وكتب في ذلك مصنفات في تأويل الصفات، ومر على الصفات في القرآن وعلى الصفات في السنة فكان إما أن يؤوّل وإما أن يرد النصوص، وخاصة الأحاديث، ثم هذا التأويل انتقل من الجهمية إلى بعض المنتسبة للمذاهب مثل ابن شجاع الثلجي الحنفي، فقد أخذ مذهب المريسي وقال به، ونسب مصنفه إلى نفسه، ثم انتقل هذا إلى الأحناف، ثم صار من أصول الأشاعرة والماتريدية بعد ذلك، وأوائل الأشاعرة والماتريدية لم يكونوا يتعرضون للصفات، إلا بعض الصفات الفعلية، فإنهم أنكروا أنها تتعلق بمشيئة الله عز وجل متابعة لـ ابن كلاب، حتى جاء القرن السادس والسابع والثامن فانتقلت أصول الجهمية المتأخرة إلى الأشاعرة والماتريدية، وتولى نشرها وتبناها أولاً أبو المعالي الجويني قبل رجعته إلى مذهب أهل السنة والجماعة، ثم الرازي، والرازي قعّد لها وأسسها كما كان يفعل المريسي
মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে আসহাবুল হাদীস সালাফদের আকিদা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

ইমাম আবু উসমান আস-সাবূনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আমি বলছি এবং আল্লাহর কাছেই তাওফীক চাচ্ছি: আসহাবুল হাদীস—আল্লাহ তাদের জীবিতদের হিফাযত করুন এবং মৃতদের প্রতি দয়া করুন—তারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেন।]

যে বিষয়টি সতর্ক করা সমীচীন তা হলো, শাইখ এবং সালাফের অন্যান্য ইমামগণ আসহাবুল হাদীস বলতে সবসময় সালাফ বা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকেই বুঝিয়েছেন। তাঁদের আসহাবুল হাদীস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তাঁরাই জ্ঞান ও বর্ণনার দিক থেকে হাদীসের ধারক-বাহক এবং তাঁরাই সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে অধিক যোগ্য। কারণ তাঁরাই ছিলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যারা আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর প্রতিটি দিক—এর মূলনীতি, পদ্ধতি, নিয়মাবলি, বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা এবং এই হাদীস বহন করার প্রতিটি অর্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যা সমগ্র দ্বীনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আসহাবুল হাদীস বলার অর্থ এই নয় যে তাঁরা কুরআনের অনুসারী নন, বরং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হচ্ছেন কুরআনের অনুসারী ও সুন্নাহর অনুসারী। তাঁদেরকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (ফিরকা নাজিয়াহ), সালাফ সালেহীন এবং সাহায্যপ্রাপ্ত দল (তায়েফা মানসুরা) বলা হয়। সুতরাং তাঁদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা আসহাবুল হাদীস, যেমন তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা আহলুস সুন্নাহ, তাঁরাই জামাআত, মুক্তিপ্রাপ্ত দল, সাহায্যপ্রাপ্ত দল, সালাফ সালেহীন ইত্যাদি।

এই সবগুলোই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রকৃত গুণাবলি এবং এগুলো পরস্পর ভিন্ন কোনো সত্তার বর্ণনা নয়, বরং এর সবগুলো দ্বারাই সত্য ও সঠিক পথের অনুসারী সুন্নাহর অনুসারীদের বোঝানো হয়।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আসহাবুল হাদীস—আল্লাহ তাআলা তাদের জীবিতদের হিফাযত করুন এবং মৃতদের প্রতি দয়া করুন—তারা আল্লাহর জন্য একত্বের এবং রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য রিসালাত ও নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেন। তারা তাদের মহান রবকে তাঁর সেই গুণাবলির মাধ্যমে চেনেন যা তাঁর ওহী ও অবতীর্ণ কিতাব বর্ণনা করেছে অথবা তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের যবানে নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তাঁরাও তাঁর জন্য তা সাব্যস্ত করেন। তাঁরা আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশ করার (তাশবীহ) বিশ্বাস পোষণ করেন না। ফলে তাঁরা বলেন: নিশ্চয়ই তিনি আদমকে তাঁর দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।]

এটি সালাফদের নিকট একটি মূলনীতি যার ওপর তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আর তা হলো: আল্লাহ নিজের জন্য তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যবানে যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন বা তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করা। তাঁরা সাদৃশ্যদান (তাশবীহ) বিশ্বাস করেন না; কারণ বোধশক্তি ও ফিকহ কম এমন ব্যক্তিদের নিকট গুণাবলি সাব্যস্ত করা মানেই হলো সাদৃশ্য দেওয়ার আশঙ্কা থাকা। কিন্তু সালাফগণ তাশবীহ বিশ্বাস করেন না। এরপর তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন।

[ফলে তাঁরা বলেন: নিশ্চয়ই তিনি আদমকে তাঁর দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: {হে ইবলিস, আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [সূরা সদ: ৭৫]। তাঁরা শব্দকে তার মূল স্থান থেকে বিচ্যুত (তাহরীফ) করেন না 'দুই হাত'কে 'দুইটি নেয়ামত' বা 'দুইটি শক্তি' অর্থে গ্রহণ করার মাধ্যমে, যা পথভ্রষ্ট মুতাজিলা ও জাহমিয়্যারা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন।]

যারা বর্তমানে এই কথা বলে তারা হলো আশআরি ও মাতুরিদিরা। তারা এই বক্তব্য জাহমিয়্যাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে। এই কারণেই পরবর্তী যুগের সালাফগণ আশআরি, মাতুরিদি এবং জাহমিয়্যাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না, বরং তাঁদের সবাইকে জাহমিয়্যাহ হিসেবেই অভিহিত করতেন। এর কারণ হলো তারা গুণাবলির ক্ষেত্রে জাহমিয়্যাদের মূলনীতি গ্রহণ করেছে এবং হুবহু সেই কথাই বলেছে। এমনকি আশআরিরা সাতটি গুণ ছাড়া আর কিছু সাব্যস্ত করে না। তাদের এই মতবাদ জাহমিয়্যাদের মতবাদের খুবই কাছাকাছি, বরং এটি জাহমিয়্যা মতবাদের একটি নতুন সংস্করণ। সালাফগণ যে জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন, নিন্দা করেছিলেন এবং যাদের থেকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের মাযহাব এমনই ছিল: গুণাবলির অপব্যাখ্যা (তাবীল) করা। কারণ জাহমিয়্যারা কয়েকটি স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে: প্রথম স্তর ছিল দ্বিতীয় হিজরি শতকে বা এর অধিকাংশ সময় জুড়ে: তারা গুণাবলিকে পুরোপুরি অস্বীকার করত। কিন্তু তৃতীয় হিজরি শতকে এসে সালাফদের সাথে অধিক বিতর্কের কারণে এবং ইসলামের ইমামদের লেখা বিভিন্ন কিতাব ও বর্ণনার উপস্থিতির কারণে তারা তাদের মতবাদকে কিছুটা নমনীয় করে এবং অপব্যাখ্যার (তাবীল) কথা বলে। যাদের থেকে এই তাবীল সর্বপ্রথম প্রসিদ্ধি লাভ করে সে হলো বিশর আল-মারীসী। এই মারীসী গুণাবলিকে তাবীল করত কিন্তু প্রথম দিকের জাহমিয়্যাদের মতো পুরোপুরি অস্বীকার করত না। তা সত্ত্বেও তার মতবাদকে জাহমিয়্যাদেরই একটি ধারা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সে ছিল একজন কট্টর জাহমিয়্যাহ। তাই তার এই পদ্ধতিটি মুসলমানদের জন্য পূর্ববর্তীদের পদ্ধতির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক; কারণ যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে পুরোপুরি অস্বীকার করত বা মুতাজিলাদের মতো গুণাবলি অস্বীকার করত, মানুষ তাদের মতবাদ থেকে দূরে থাকত; কারণ তাদের মতবাদ ছিল সুস্থ বিবেক, স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং ধর্মীয় পাঠের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। কিন্তু যখন এই খবীস ব্যক্তি বিশর আল-মারীসী আসলো, সে সরাসরি অস্বীকার করা (তাতীল) ছেড়ে দিয়ে তাবীল করা শুরু করল। সে আল্লাহর গুণাবলির তাবীলের ওপর অনেক গ্রন্থ লিখেছে। কুরআনের গুণাবলি এবং সুন্নাহর গুণাবলি যখনই আসত, সে হয় তাবীল করত অথবা সেই দলীলগুলো প্রত্যাখ্যান করত, বিশেষ করে হাদীসগুলো। এরপর এই তাবীল জাহমিয়্যাদের থেকে মাযহাবের সাথে যুক্ত কিছু ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরিত হয়, যেমন ইবনে শুজা আস-সালজি আল-হানাফী। সে মারীসীর মতবাদ গ্রহণ করে সে অনুযায়ী কথা বলে এবং মারীসীর গ্রন্থটি নিজের নামে চালিয়ে দেয়। এরপর এটি হানাফীদের (একটি অংশের) মধ্যে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে আশআরি ও মাতুরিদিদের অন্যতম মূলনীতিতে পরিণত হয়। প্রথম দিকের আশআরি ও মাতুরিদিরা কোনো গুণের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করত না, কেবল কিছু কর্মবাচক গুণের ক্ষেত্রে তারা ইবনুল কুল্লাবের অনুসরণে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার সাথে তা সংশ্লিষ্ট হওয়াকে অস্বীকার করত। অবশেষে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম হিজরি শতকে জাহমিয়্যাদের পরবর্তী যুগের মূলনীতিগুলো আশআরি ও মাতুরিদিদের কাছে চলে যায়। এটি প্রচার করার এবং ধারণ করার দায়িত্ব সর্বপ্রথম আবু আল-মাআলী আল-জুওয়াইনী গ্রহণ করেন—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবে ফিরে আসার আগে। এরপর আর-রাযী আসেন; আর-রাযী একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেন যেমনটি মারীসী করেছিল।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌معنى قول السلف: ويجرون اللفظ على الظاهر

قال رحمه الله تعالى: [وكذلك يقولون في جميع الصفات التي نزل بذكرها القرآن، ووردت بها الأخبار الصحاح من السمع، والبصر، والعين، والوجه، والعلم، والقوة، والقدرة، والعزة، والعظمة، والإرادة، والمشيئة، والقول، والكلام، والرضا، والسخط، والحب والبغض، والفرح، والضحك وغيرها، من غير تشبيه لشيء من ذلك بصفات المربوبين المخلوقين، بل ينتهون فيها إلى ما قاله الله تعالى، وقاله رسوله صلى الله عليه وسلم من غير زيادة عليه، ولا إضافة إليه، ولا تكييف له، ولا تشبيه، ولا تحريف، ولا تبديل، ولا تغيير، ولا إزالة للفظ الخبر عما تعرفه العرب وتضعه عليه بتأويل منكر يستنكر، ويجرونه على الظاهر، ويكلون علمه إلى الله تعالى، ويقرون بأن تأويله لا يعلمه إلا الله، كما أخبر الله عن الراسخين في العلم أنهم يقولونه في قوله تعالى: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُوْلُوا الأَلْبَابِ} [آل عمران:7]].

نقف عند هذا، لكن يحسن التعليق على العبارة التي سبقت قبل قليل وهي قوله: (ويجرونه على الظاهر)، هذه العبارة في الحقيقة مزلة عند كثير من الناس الذين لا يفهمون معناها إذ قالها السلف، بمعنى: أنهم يمرّون نصوص الصفات على ظاهرها، ويعنون بذلك الظاهر الذي يفهمه المخاطبون في الجملة؛ لأن الظاهر ممكن أن يصرف على معنيين: المعنى الأول -وهو المقصود في صفات الله عز وجل: وهو أن الظاهر منها في خطاب الله عز وجل حينما أخبرنا بأسمائه وصفاته كذلك حينما أخبرنا رسوله صلى الله عليه وسلم بأسمائه وصفاته، فإن ظاهر الخبر وظاهر النصوص إثبات ذلك على الحقيقة، فالظاهر هو الحقيقة التي تليق بالله عز وجل، فإذا سمعنا قوله عز وجل: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة:64] فالظاهر من ذلك إثبات اليدين لله عز وجل حقيقة على ما يليق بالله، هذا معنى إجراء النصوص على ظواهرها عند السلف، بمعنى: أننا ما دمنا خوطبنا فالظاهر من الخطاب أو الأمر الذي يظهر من الخطاب أن الله ما خاطبنا إلا بالحقيقة، وقوله: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة:64] ظاهرها إثبات اليد لله عز وجل على ما يليق بجلاله، فهذا المعنى الظاهر الذي هو الحقائق.

وهناك معنى آخر قد يقصد به كلمة الظاهر: وهذا المعنى هو الذي اضطرب فيه كثير ممن أخطئوا فهم أقوال السلف، أو لجئوا إلى هذه العبارة من أجل إثبات تأويلاتهم، فزعموا أن الظاهر هو التشبيه، وزعموا أن قوله عز وجل: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة:64] ظاهره مجرد اللفظ، فعلى هذا لابد أن يصرف إلى معنى آخر، أو أن ظاهره المشابهة، أو الجارحة، أو ما يتوهم الإنسان مما يفهمه من المعاني في عالم الشهادة أن الظاهر هو المعاني التي يدركها الإنسان بحواسّه، فيقولون: ما دمنا فهمنا هذا الظاهر، فإذاً لابد أن يكون للصفة معنى آخر غير الظاهر وهو ما قصدوا به النفي أو التأويل.

فإذاً: ليس مقصود السلف الظاهر الذي هو التشبيه، أو الظاهر الذي يتوهمه الإنسان ويقيس به على عالم المخلوقات، إنما الظاهر هو المعنى الحقيقي، وهو بالنسبة لصفات الله إثبات الصفة على ما يليق بجلاله، وهذا يعبّر به السلف كثيراً؛ فيقولون: تجرى على ظاهرها، هذا يترك على ظاهره إلى آخر ما يعبّرون به عن الإثبات إثبات الحقيقة وعدم التكييف، وعدم الكلام في الكيفية، والله أعلم.

والسلف يكلون علم الكيفية إلى الله عز وجل لا علم الحقيقة، فالحقيقة لابد أن تثبت، وهذا هو الفارق بين فهم السلف وفهم غيرهم، سواء من المشبّهة أو المعطّلة، هو أن السلف يفهمون من معاني صفات الله الحقيقة، وأولئك ينكرون الحقيقة، هذا هو الفارق، فالسلف يثبتون الحقيقة على ما يليق بجلال الله عز وجل؛ لأن الله ليس كمثله شيء.
সালাফদের বাণীর অর্থ: তাঁরা শব্দকে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালনা করেন

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [অনুরূপভাবে তাঁরা সেই সকল সিফাত বা গুণের ক্ষেত্রেও একই কথা বলেন যা কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে এবং শ্রবণযোগ্য সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে; যেমন— শ্রবণ (শোনা), দর্শন (দেখা), চোখ, চেহারা, জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা, মর্যাদা, মাহাত্ম্য, ইচ্ছা, অভিপ্রায়, কথা, বাণী, সন্তুষ্টি, অসন্তুষ্টি, ভালোবাসা, ঘৃণা, আনন্দ, হাসি এবং অন্যান্য বিষয়। তবে এগুলোর কোনোটিকেই লালিত ও সৃষ্ট মাখলুকের গুণের সাথে তুলনা না করে; বরং তাঁরা এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেন না, এর সাথে কোনো কিছু যোগ করেন না, এর ধরণ নির্ধারণ করেন না, কোনো তুলনা করেন না, কোনো বিকৃতি ঘটান না, কোনো পরিবর্তন বা রদবদল করেন না এবং আরবরা শব্দের যে অর্থ বোঝে ও ব্যবহার করে, তা থেকে কোনো প্রকার ঘৃণ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে শব্দের সংবাদকে সরিয়ে দেন না। বরং তাঁরা একে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালনা করেন এবং এর জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকট সোপর্দ করেন। তাঁরা স্বীকার করেন যে এর ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, যেমন আল্লাহ তাআলা ইলমে পারদর্শী লোকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলে: {আর যারা ইলমে পারদর্শী তারা বলে, আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে; আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে} [আলে ইমরান: ৭]]।

আমরা এখানে থামছি, তবে কিছুক্ষণ আগে অতিক্রান্ত হওয়া বাক্যটির ওপর মন্তব্য করা উচিত, যা হলো: (আর তাঁরা একে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালনা করেন)। এই বাক্যটি প্রকৃতপক্ষে অনেক মানুষের পদস্খলনের কারণ যারা সালাফদের বলা এর অর্থ বোঝে না। এর অর্থ হলো: তাঁরা সিফাত বা গুণের নসসমূহ এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর অতিবাহিত করেন; এবং এর দ্বারা তাঁরা সেই প্রকাশ্য অর্থই উদ্দেশ্য নেন যা সাধারণভাবে সম্বোধিত ব্যক্তিরা বুঝতে পারে। কারণ 'প্রকাশ্য অর্থ' (জাহির) দুটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে: প্রথম অর্থ— যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র গুণের ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট: তা হলো আল্লাহ যখন আমাদের তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং যখন তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, তখন সেই সংবাদের এবং নসসমূহের প্রকাশ্য অর্থ হলো সেগুলোকে হাকীকত বা প্রকৃত অর্থে সাব্যস্ত করা। সুতরাং প্রকাশ্য অর্থ হলো সেই বাস্তবতা যা আল্লাহর শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যখন আমরা আল্লাহর এই বাণী শুনি: {বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত} [মায়েদাহ: ৬৪], তখন এর প্রকাশ্য অর্থ হলো আল্লাহর জন্য হাকীকীভাবে বা প্রকৃতপক্ষে দুই হাত সাব্যস্ত করা যা আল্লাহর শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সালাফদের নিকট নসসমূহকে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালনার অর্থ এটাই। অর্থাৎ, যেহেতু আমাদের সম্বোধন করা হয়েছে, তাই সম্বোধনের প্রকাশ্য রূপ বা সম্বোধন থেকে যা প্রকাশ পায় তা হলো আল্লাহ আমাদের সত্য ও বাস্তব বিষয় দিয়েই সম্বোধন করেছেন। আর তাঁর বাণী: {বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত} [মায়েদাহ: ৬৪]-এর প্রকাশ্য অর্থ হলো আল্লাহর মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আল্লাহর হাত সাব্যস্ত করা। সুতরাং এটিই সেই প্রকাশ্য অর্থ যা মূলত হাকীকত বা বাস্তবতা।

প্রকাশ্য অর্থ বা 'জাহির' শব্দটির দ্বারা অন্য একটি অর্থও উদ্দেশ্য হতে পারে: এই অর্থটি নিয়েই তারা বিভ্রান্তিতে পড়েছে যারা সালাফদের বক্তব্য বুঝতে ভুল করেছে অথবা যারা তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যাসমূহ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই বাক্যটির আশ্রয় নিয়েছে। তারা দাবি করে যে, প্রকাশ্য অর্থ মানেই হলো তুলনা করা। তারা দাবি করে যে, আল্লাহর বাণী: {বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত} [মায়েদাহ: ৬৪]-এর প্রকাশ্য অর্থ কেবল একটি শব্দ মাত্র, তাই একে অবশ্যই অন্য অর্থে সরিয়ে নিতে হবে। অথবা তারা দাবি করে যে এর প্রকাশ্য অর্থ হলো সদৃশ হওয়া, অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হওয়া, অথবা মানুষ দৃশ্যমান জগতে যা বোঝে সে অনুযায়ী যা কল্পনা করে যে প্রকাশ্য অর্থ হলো সেই অর্থ যা মানুষ তার পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করে। এরপর তারা বলে: যেহেতু আমরা এই প্রকাশ্য অর্থটি বুঝেছি, তাই এই সিফাতের অবশ্যই প্রকাশ্য অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ থাকতে হবে; আর এর মাধ্যমেই তারা অস্বীকার বা অপব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্য পূর্ণ করে।

অতএব, সালাফদের উদ্দেশ্য এমন প্রকাশ্য অর্থ নয় যা মূলত তুলনা করা, অথবা এমন প্রকাশ্য অর্থ যা মানুষ কল্পনা করে এবং মাখলুকের জগতের ওপর অনুমান করে। বরং প্রকাশ্য অর্থ হলো প্রকৃত অর্থ, আর আল্লাহর গুণের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো তাঁর মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গুণটি সাব্যস্ত করা। সালাফগণ এটি প্রায়ই ব্যক্ত করেন; তাঁরা বলেন: এটি এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালিত হবে, এটি এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে— ইত্যাদি অভিব্যক্তির মাধ্যমে তাঁরা বাস্তবতা সাব্যস্ত করা এবং ধরণ নির্ধারণ না করা এবং ধরণ নিয়ে কথা না বলার বিষয়টিই প্রকাশ করেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

সালাফগণ গুণাবলীর ধরণের জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন, হাকীকত বা বাস্তব অর্থের জ্ঞান নয়। কারণ হাকীকত বা বাস্তবতা অবশ্যই সাব্যস্ত করতে হবে। আর এটাই হলো সালাফদের বুঝ এবং অন্যদের বুঝের মধ্যে পার্থক্য, তা সে তুলনাপ্রবণ মুশাব্বিহা হোক বা অস্বীকারকারী মুয়াত্তালা হোক। পার্থক্য হলো এই যে, সালাফগণ আল্লাহর গুণাবলীর অর্থ থেকে হাকীকত বা বাস্তবতা বোঝেন, আর অন্যরা হাকীকতকে অস্বীকার করে। এটাই হলো পার্থক্য। সুতরাং সালাফগণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হাকীকত বা বাস্তবতা সাব্যস্ত করেন; কারণ আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছুই নেই।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مدى صحة كون الطيب والمطلب من أسماء الله عز وجل

 

‌‌السؤال

هل الطيب والمطّلب من أسماء الله عز وجل؟

 

‌‌الجواب

الطيب من أوصاف الله عز وجل وليس من أسمائه، وأما المطّلب فليس من أسماء الله عز وجل.
‘আত-তায়্যিব’ এবং ‘আল-মুত্তালিব’ মহান আল্লাহর নাম হওয়ার বিশুদ্ধতা কতটুকু

 

প্রশ্ন

‘আত-তায়্যিব’ এবং ‘আল-মুত্তালিব’ কি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত?

 

উত্তর

‘আত-তায়্যিব’ মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর ‘আল-মুত্তালিব’ মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حكم تقسيم التوحيد إلى أكثر من ثلاثة أقسام

 

‌‌السؤال

أصناف التوحيد الثلاثة: هل صحيح أن بعض أهل العلم قسّموه إلى أكثر من ذلك؟

 

‌‌الجواب

نعم، مسألة التقسيمات هذه أمور اصطلاحية ترجع إلى استقراء المعاني واستقراء الألفاظ، فتوحيد الله عز وجل لا ينقسم، لكن من الناحية العلمية التنظيرية لا شك أننا نجد أنه أقسام فالخبر عن الله عز وجل هو توحيد الأسماء، والخبر عن صفات الله هو توحيد الصفات، والخبر عن أفعال الله هو توحيد الأفعال وما يتعلق بتوحيد الربوبية، أما ما يتعلق بالعبادة لله عز وجل فيسمى توحيد العبادة أو الإلهية، ويمكن تقسيم التوحيد إلى أكثر من ذلك أيضاً إلى خمسة أقسام أو عشرة، هذا ممكن؛ لأنك إذا أخذت مفردات العبادة وجدت أن كلها توحيد، فمثلاً: توحيد التوكل معناه: وحّدت التوكل على الله عز وجل، وهكذا توحيد الإنابة، وتوحيد اليقين، وتوحيد الإحسان، وتوجه الإنسان إلى الله عز وجل، وتوحيد التدبير لله عز وجل، وتوحيد الرزق؛ لأنه لا رازق إلا الله وهكذا، لا يوجد أي مانع، فتقسيم التوحيد تقسيم اصطلاحي علمي فني، يقتضيه الفهم للإنسان، فأي إنسان يستقرئ نصوص التوحيد يجد أنها أنواع فمثلاً: الأشياء التي تتعلق بإثبات الربوبية هذه من الممكن أن تسمى: توحيد الربوبية، والأشياء التي تتعلق بإثبات الإلهية ممكن أن تسمى: توحيد الإلهية، والنصوص التي تتعلق بإثبات الصفات لله عز وجل ممكن أن نسميها: توحيد الصفات، والأسماء ممكن أن نسميها: توحيد الأسماء، وأفعال الله عز وجل ممكن أن نسميها: توحيد الأفعال، وليس في ذلك حرج.

لكن الأقسام الرئيسية للتوحيد هي ثلاثة: الربوبية، وهذا واضح جداً.

الإلهية، وهذا واضح جداً.

الأسماء والصفات، وهذا واضح جداً.

ويمكن أيضاً اختصار أنواع التوحيد إلى اثنين: توحيد الربوبية وتوحيد الإلهية، وتدخل الأسماء والصفات في توحيد الربوبية من وجه وفي توحيد الإلهية من وجه آخر، وأغلب الأسماء والصفات تدخل في توحيد الربوبية.
তওহিদকে তিনটির বেশি ভাগে বিভক্ত করার বিধান

 

‌প্রশ্ন

তওহিদের তিনটি প্রকার: এটা কি সঠিক যে কোনো কোনো আলেম একে এর চেয়েও বেশি ভাগে বিভক্ত করেছেন?

 

‌উত্তর

হ্যাঁ, এই বিভক্তির বিষয়টি পারিভাষিক বিষয় যা অর্থ ও শব্দের বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। মহান আল্লাহর তওহিদ মূলত বিভাজ্য নয়, কিন্তু তাত্ত্বিক ও ইলমি দৃষ্টিভিকোণ থেকে আমরা নিঃসন্দেহে একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত দেখতে পাই। মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান হলো নামসমূহের তওহিদ, আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান হলো গুণাবলির তওহিদ এবং আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান হলো কার্যাবলির তওহিদ এবং যা রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) তওহিদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আল্লাহর ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ইবাদতের তওহিদ বা উলুুহিয়্যাহর (উপাসনার) তওহিদ বলা হয়। তওহিদকে এর চেয়েও বেশি ভাগে বিভক্ত করা সম্ভব, এমনকি পাঁচটি বা দশটি ভাগেও; এটা সম্ভব। কারণ আপনি যদি ইবাদতের প্রতিটি বিষয়কে পৃথকভাবে দেখেন তবে দেখবেন তার সবই তওহিদ। উদাহরণস্বরূপ: তাওয়াক্কুলের তওহিদ এর অর্থ হলো আপনি আল্লাহর ওপর ভরসাকে একনিষ্ঠ করেছেন। একইভাবে ইনাবাহর (প্রত্যাবর্তনের) তওহিদ, ইয়াকিনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) তওহিদ, ইহসানের তওহিদ, আল্লাহর দিকে মানুষের অভিমুখী হওয়া, আল্লাহর মহাবিশ্ব পরিচালনার তওহিদ এবং রিজিকের তওহিদ; কারণ আল্লাহ ছাড়া কোনো রিজিকদাতা নেই—এভাবে আরও হতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। কারণ তওহিদের এই বিভক্তি হলো একটি পারিভাষিক, ইলমি ও প্রায়োগিক বিভাজন, যা মানুষের অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন হয়। সুতরাং যে কেউ তওহিদ সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহ বিশ্লেষণ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে সেগুলো বিভিন্ন প্রকারের। উদাহরণস্বরূপ: প্রভুত্ব প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে 'তওহিদুর রুবুবিয়্যাহ' বলা যেতে পারে, আর উপাস্য হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে 'তওহিদুল উলুুহিয়্যাহ' বলা যেতে পারে। আর মহান আল্লাহর গুণাবলি প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যগুলোকে আমরা 'গুণাবলির তওহিদ' নাম দিতে পারি, নামগুলোর ক্ষেত্রে 'নামসমূহের তওহিদ' নাম দিতে পারি এবং আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে 'কার্যাবলির তওহিদ' নাম দিতে পারি; এতে কোনো অসুবিধা নেই।

তবে তওহিদের প্রধান প্রকার হলো তিনটি: রুবুবিয়্যাহ, এটি অত্যন্ত স্পষ্ট।

উলুুহিয়্যাহ, এটিও অত্যন্ত স্পষ্ট।

নাম ও গুণাবলি, এটিও অত্যন্ত স্পষ্ট।

আবার তওহিদের প্রকারগুলোকে সংক্ষেপে দুটিতেও নিয়ে আসা সম্ভব: রুবুবিয়্যাহর তওহিদ এবং উলুুহিয়্যাহর তওহিদ। তখন একদিক থেকে নাম ও গুণাবলি রুবuবিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অন্যদিক থেকে উলুুহিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে অধিকাংশ নাম ও গুণাবলি রুবুবিয়্যাহর তওহিদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفرق بين السلف وأصحاب الحديث

 

‌‌السؤال

عنون الصابوني رحمه الله كتابه (عقيدة السلف أصحاب الحديث)، فهل هناك فرق بينهما؟

 

‌‌الجواب

ليس هناك فرق بين السلف وأصحاب الحديث، لكن من باب توضيح العبارة، والسلف كانوا يطلقونها في ذلك الوقت، وعنوان الصابوني دليل على أن السلف كانوا يعرفون هذه العبارة، بل كان إطلاق السلف وأصحاب الحديث هي الأصل عندهم.

فأصحاب الحديث هم أهل السنة، وأهل السنة كلهم أصحاب حديث حتى العوام منهم، وبهذا يفرّق بينهم وبين الفرق المخالفة لأهل السنة، فالشيعة، والخوارج، والقدرية، والمرجئة، والجهمية، والمعتزلة، والمتكلمة والأشاعرة والماتريدية هم خلاف أهل الحديث، فكل الفرق جانب وأهل الحديث جانب آخر، فمخالفوهم لا يسمون أصحاب حديث، ولذلك هم أنفسهم يلمزون أهل الحديث، وهذا مما يعد تزكية ورداً قاطعاً على أهل الأهواء، فأهل الأهواء لا ينتسبون لأهل الحديث كلهم، وليس هناك منهم من ينتسب لأهل الحديث إلا أفراد، وأما فرقة فما أعرف فرقة من الفرق التي اشتهرت في التاريخ تنسب نفسها لأهل الحديث، وهذا من فضل الله عز وجل؛ لئلا يلتبس الأمر على الناس، مع وجود من ينتسب لأهل السنة والجماعة من الأشاعرة، وهذا الأمر فيه واضح.
সালাফ এবং আসহাবুল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য

 

প্রশ্ন

আস-সাবুনী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের শিরোনাম দিয়েছেন (আকীদাতুস সালাফ আসহাবিল হাদিস), তবে কি এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে?

 

উত্তর

সালাফ এবং আসহাবুল হাদিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে এটি কেবল পরিভাষাটি স্পষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সেকালে সালাফগণ এই পরিভাষাটি ব্যবহার করতেন। আস-সাবুনীর কিতাবের শিরোনামটি প্রমাণ করে যে, সালাফগণ এই পরিভাষাটির সাথে পরিচিত ছিলেন। বরং সালাফ এবং আসহাবুল হাদিস পরিভাষা দুটির ব্যবহারই তাদের নিকট মূল ভিত্তি ছিল।

আসহাবুল হাদিসই হলেন আহলে সুন্নাত। আর আহলে সুন্নাতের সকলেই আসহাবুল হাদিস, এমনকি তাদের সাধারণ মানুষও। এর মাধ্যমেই আহলে সুন্নাতের বিরুদ্ধাচরণকারী দলগুলোর সাথে তাদের পার্থক্য নিরূপিত হয়। শিয়া, খারেজি, কাদারিয়া, মুরজিয়া, জাহমিয়া, মুতাজিলা, কালামশাস্ত্রবিদ (মুতাকাল্লিমুন), আশায়েরা এবং মাতুরিদিয়াহগণ আসহাবুল হাদিসের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন। সুতরাং সকল দল একদিকে আর আসহাবুল হাদিস অন্যদিকে। তাদের বিরোধীদের আসহাবুল হাদিস নামে অভিহিত করা হয় না। এই কারণেই তারা নিজেরাই আসহাবুল হাদিসের নিন্দা ও সমালোচনা করে, যা মূলত আসহাবুল হাদিসের জন্য এক প্রকার প্রশংসা এবং প্রবৃত্তি পূজারীদের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত ও অকাট্য জবাব। প্রবৃত্তি পূজারীদের কেউই নিজেদের আসহাবুল হাদিস হিসেবে পরিচয় দেয় না; তাদের মধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন দু-একজন ব্যক্তি ব্যতীত এমন কাউকেও পাওয়া যায় না যারা নিজেদের আসহাবুল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত দাবি করে। আর দলগতভাবে ইতিহাসের প্রসিদ্ধ কোনো দল সম্পর্কেই আমার জানা নেই যারা নিজেদের আসহাবুল হাদিসের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করে। এটি মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ; যাতে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে। যদিও আশায়েরা সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে নিজেদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত দাবি করার প্রবণতা বিদ্যমান, তবে এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার।
(খণ্ড: ২) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أفضل المتون العلمية في علم العقيدة والحض على حفظ المنظومات فيها

 

‌‌السؤال

ما هي أفضل المتون العلمية في علم العقيدة؟ وما رأيك في حفظ المنظومات؟

 

‌‌الجواب

المتون العلمية أشهرها الآن متن الطحاوية، وليس الشرح، ولمعة الاعتقاد، وبعض الكتب التي ألّفها مشايخنا فسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز له متن جيد في العقيدة، والشيخ صالح الفوزان كذلك له متن جيد في العقيدة، والشيخ محمد بن عثيمين له متن جيد في العقيدة وكلها جيدة ومختصرة وليست بالطويلة، وتصلح للحفظ.

أما حفظ المنظومات في العقيدة فهو جيد جداً، ومن أحسنها منظومة الشيخ حافظ الحكمي.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
আকিদা শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ইলমি মতনসমূহ এবং এতে কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান

 

প্রশ্ন

আকিদা শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ইলমি মতনসমূহ কী কী? আর কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করার ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

 

উত্তর

ইলমি মতনসমূহের মধ্যে বর্তমানে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো আকিদাহ আত-তহাবিইয়্যাহ-এর মূল পাঠ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা শরহ নয়), এবং লুমআতুল ইতিকাদ। এ ছাড়া আমাদের শায়খদের রচিত কিছু কিতাব রয়েছে; যেমন—মান্যবর শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ আকিদার ওপর একটি ভালো মতন রচনা করেছেন, শায়খ সালিহ আল-ফাওজানও আকিদার ওপর একটি ভালো মতন রচনা করেছেন এবং শায়খ মুহাম্মাদ বিন উসাইমিনও আকিদার ওপর একটি ভালো মতন রচনা করেছেন। এগুলোর সবই উত্তম ও সংক্ষিপ্ত, এগুলো দীর্ঘ নয় এবং মুখস্থ করার জন্য উপযুক্ত।

আর আকিদা বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করার বিষয়টি অত্যন্ত ভালো; এর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো শায়খ হাফিজ আল-হাকামির কাব্যগ্রন্থ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح عقيدة السلف للصابوني - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 19 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সাবুনীর আকীদাতুস সালাফের ব্যাখ্যা - নাসির আল-আকল   (নাসির আল-আকল)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীসের ব্যাখ্যা

লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল

কিতাবের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৯টি পাঠ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ১)
شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث ‌‌[3]

القرآن العظيم كلام الله منه بدأ وإليه يعود، وهو كتابه ووحيه وتنزيله، غير مخلوق؛ لأنه صفة من صفاته سبحانه، ومن اعتقد أن القرآن مخلوق فهو على ضلال مبين، وهو الذي تحفظه الصدور، وتتلوه الألسنة، ويكتب في المصاحف.
সলফ ও আসহাবুল হাদিসের আকিদার ব্যাখ্যা [৩]

মহান কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর নিকটেই এর প্রত্যাবর্তন। এটি তাঁর কিতাব, তাঁর ওহী এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বাণী; এটি সৃষ্টি নয়, কারণ এটি মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে কুরআন সৃষ্টি, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে। এটি সেই কালাম যা বক্ষসমূহ ধারণ করে, জিহ্বা তিলাওয়াত করে এবং যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌عقيدة السلف أصحاب الحديث في القرآن الكريم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أحب أن أنبّه إلى عبارة الشيخ التي كان يستعملها كثيراً ويستعملها السلف في وقته كثيراً أيضاً وهي التعبير عن أهل السنة والجماعة والسلف بكلمة (أهل الحديث)، ولا يقصد أهل الحديث مجرد الرواة أو المحدثين، إنما يقصد أهل الحديث الذين هم أهل السنة والجماعة؛ لأن أهل السنة والجماعة قدوتهم أهل الحديث المستمسكون بالحديث العالمون بالحديث دراية ورواية؛ فينبغي أن يفهم هذا أنه كلما يقول: أهل الحديث، إنما يقصد أهل السنة والجماعة، ولذلك سمى الكتاب: عقيدة السلف أصحاب الحديث، وجعل كلمة (أصحاب الحديث) مرادفة للسلف، وهم أهل السنة والجماعة.

قال الإمام أبو عثمان الصابوني رحمه الله تعالى: [ويشهد أهل الحديث ويعتقدون أن القرآن كلام الله، وكتابه، ووحيه، وتنزيله غير مخلوق، ومن قال بخلقه واعتقده فهو كافر عندهم].

ستأتي كثيراً الإشارة إلى كفر من قال بخلق القرآن، وهذا اتفاق عند السلف: أن من قال بأن القرآن مخلوق فقد كفر؛ لأن القضية استبانة بأدلتها، ثم إنها إجماع عند السلف، والعجيب أن هذه المسألة مع مسألة الرؤية من الأمور التي لم يشذ فيها أحد من السلف عن بقيتهم، فكثير من مسائل الأصول قد يكون لبعض الأئمة فيها قول ربما لم يكن عليه السلف إما في جملة القول أو في بعض الجزئيات، إلا هذه المسألة مسألة القول بأن القرآن منزّل من الله غير مخلوق، ومسألة القول بإثبات الرؤية؛ فهذه من المسائل القطعية التي لم يشذ فيها أحد ممن يعتد به، فهي إجماع.

كذلك ذكر أن من اعتقد بأن القرآن مخلوق فقد كفر، وهذا حكم لكن لا يعني الحكم على المعيّن بإطلاق، فإن المعيّن الذي يقول بأن القرآن مخلوق نقول: بأنك قلت كفراً، لكن لا نكفّره حتى نعرف أنه عرف الدليل وعرف الحق وعرف وجه الاستدلال، ووجدت في حقه شروط التكفير، وانتفت موانع التكفير فإذا وجدت كُفّر المعيّن، أما ما عدا ذلك فيبقى الحكم عاماً، وربما يقول قائل: إن السلف ما كانوا يقولون بهذا القول في وقتهم، وأقول: نعم، حينما اشتهرت في ذلك الوقت قضية القول بخلق القرآن عند المعتزلة والجهمية وابتلي الناس بها قامت الحجة على الناس؛ لأن السلف أقاموا الحق، وصارت هذه القضية مشهورة في كل مجلس وفي كل مسجد وفي كل مكان وقامت الحجة فيها على الناس جميعاً؛ لأن السلف تكلموا وكتبوا وتحدثوا عند ذلك في المنابر والمناظرات، ولم يعد لأحد حجة في وقتهم، فكان من قال بخلق القرآن حُكم بكفره؛ لأنه قال ضد الحق، أما حين يغفل الناس عن هذه المسائل مثل ما يكون في عصرنا فيحتاج الأمر إلى تأن، فمن قال بأن القرآن مخلوق فهو كافر، لكن إذا حدث من معيّن هذا القول فيجب أن نتثبت من حاله، فقد يكون جاهلاً، فالجاهل يعلّم، وهذا هو الغالب في أكثر الناس، وأكثر الناس لو امتحنته -والامتحان بدعة- ربما يقول الباطل ويظنه هو الحق، فالعامي ما الذي يدريه؟ بل حتى طالب العلم المبتدئ والشاب الناشئ لو سألته ربما يقول الباطل ويظنه هو الحق.

فإذاً: لا ينبغي امتحان الناس في هذه المسألة ولا التعجّل في حكم الكفر على المعيّن، لكن الحكم العام على العين والرأس؛ لأنه إجماع ولا يجوز لأحد أن يحيد عن هذا الإجماع.
কুরআনুল কারীমের বিষয়ে আস-সালাফ আসহাবুল হাদীসের আকীদা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

আমি শায়খের সেই পরিভাষাটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যা তিনি এবং সেই সময়ের সালাফগণ প্রচুর ব্যবহার করতেন; আর তা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত এবং সালাফদের বোঝাতে 'আহলুল হাদীস' শব্দটির ব্যবহার। তিনি আহলুল হাদীস বলতে কেবল রেওয়ায়াতকারী বা মুহাদ্দিসদের বোঝাননি, বরং তিনি সেই আহলুল হাদীসদের বুঝিয়েছেন যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত; কারণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আদর্শ হলেন সেই আহলুল হাদীসগণ যারা হাদীসের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং রেওয়ায়াত ও দেরায়াত (বর্ণনা ও এর মর্মার্থ) উভয় দিক থেকেই হাদীস সম্পর্কে জ্ঞানী। সুতরাং এটি বোঝা উচিত যে, যখনই তিনি আহলুল হাদীস বলেন, তার মাধ্যমে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতকেই উদ্দেশ্য করেন। এই কারণেই তিনি কিতাবটির নাম রেখেছেন: 'আস-সালাফ আসহাবুল হাদীসের আকীদা' এবং 'আসহাবুল হাদীস' শব্দটিকে 'সালাফ' শব্দের সমার্থক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর তারা হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত।

ইমাম আবু উসমান আস-সাবূনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আহলুল হাদীস সাক্ষ্য দেন এবং বিশ্বাস করেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর কিতাব, তাঁর ওহী এবং তাঁর অবতীর্ণ কিতাব যা মাখলুক নয় (অসৃষ্ট)। আর যে ব্যক্তি একে সৃষ্টি বলবে এবং তা বিশ্বাস করবে, তাদের নিকট সে কাফির]।

কুরআন সৃষ্টির কথা যে বলবে তার কুফরীর দিকে বারবার ইঙ্গিত আসবে। এটি সালাফদের নিকট একটি সর্বসম্মত বিষয় যে, যে ব্যক্তি বলবে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), সে কাফির হয়ে যাবে। কারণ বিষয়টি তার দলীলসহ স্পষ্ট হয়েছে। অধিকন্তু এটি সালাফদের নিকট একটি ইজমা (সর্বসম্মত ঐকমত্য)। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এই মাসআলাটি এবং রুইয়াত (আল্লাহকে দেখা) সংক্রান্ত মাসআলাটি এমন বিষয় যার মধ্যে সালাফদের কেউ তাদের অন্যদের থেকে বিচ্যুত হননি। উসূলের অনেক মাসআলায় এমন হতে পারে যে কোনো কোনো ইমামের এমন মত থাকতে পারে যা হয়তো সালাফদের সামগ্রিক বা কোনো আংশিক মতের সাথে মেলেনি, কিন্তু এই দুটি মাসআলা ব্যতীত: একটি হলো কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং তা মাখলুক নয় এ কথা বলা, আর দ্বিতীয়টি হলো রুইয়াত (আল্লাহকে দেখা) সাব্যস্ত করার মাসআলা। এগুলো অকাট্য মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যাতে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কেউ বিচ্যুত হননি, বরং এটি ইজমা।

তেমনিভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে যে কুরআন মাখলুক সে কাফির হয়ে যাবে। এটি একটি বিধান, তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর ঢালাওভাবে এই বিধান প্রয়োগ করা হবে। কারণ যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বলে যে কুরআন মাখলুক, তাকে আমরা বলব যে: আপনি কুফরী কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা তাকে কাফির বলব না যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হই যে সে দলীল সম্পর্কে জানে, সত্যটি জানে এবং দলীলের প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে, আর তার ক্ষেত্রে তাকফীরের শর্তাবলী পাওয়া গেছে এবং তাকফীরের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর হয়েছে। যখন এগুলো পাওয়া যাবে, তখন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির বলা হবে। এছাড়া বাকি ক্ষেত্রে বিধানটি সাধারণ থাকবে। হয়তো কেউ বলতে পারেন: সালাফগণ কি তাদের যুগে এ কথাটি বলতেন না? আমি বলব: হ্যাঁ, সেই সময় যখন মুতাযিলা ও জাহমিয়্যাহদের মাঝে কুরআন সৃষ্টির বিষয়টি প্রসিদ্ধ হয়েছিল এবং মানুষ এর দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল, তখন মানুষের ওপর হুজ্জাত (দলীল) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কারণ সালাফগণ সত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এই বিষয়টি প্রতিটি মজলিসে, মসজিদে এবং সর্বত্র প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং এর স্বপক্ষে সকল মানুষের ওপর হুজ্জাত কায়েম হয়েছিল। কারণ তখন সালাফগণ মিম্বারে এবং মুনাযারায় (বিতর্কে) কথা বলেছেন, লিখেছেন এবং আলোচনা করেছেন। ফলে তাদের সময়ে কারো জন্য কোনো ওজর অবশিষ্ট ছিল না। তাই যারা কুরআন সৃষ্টির কথা বলত, তাদের কাফির হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হতো; কারণ সে সত্যের বিপরীতে কথা বলেছে। কিন্তু যখন মানুষ এই মাসআলাগুলো সম্পর্কে গাফেল হয়ে যায়, যেমনটি আমাদের যুগে ঘটে থাকে, তখন বিষয়টি নিয়ে ধীরস্থিরভাবে এগোনো প্রয়োজন। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে যে কুরআন মাখলুক সে কাফির, তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি থেকে এই কথাটি প্রকাশ পেলে আমাদের তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ সে জাহিল (অজ্ঞ) হতে পারে, আর জাহিলকে শিক্ষা দিতে হয়। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এটিই বেশি ঘটে থাকে। অধিকাংশ মানুষকে যদি আপনি পরীক্ষা করেন—আর পরীক্ষা করা তো বিদআত—হয়তো সে বাতিল কথা বলবে অথচ সেটাকে সে সত্য মনে করছে। একজন সাধারণ মানুষ কী-ই বা বুঝবে? এমনকি একজন প্রাথমিক স্তরের তালিবে ইলম বা একজন নবীন যুবককে যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন, তবে হয়তো সে বাতিল কথা বলবে অথচ সেটাকে সে সত্য মনে করছে।

সুতরাং, এই মাসআলায় মানুষকে পরীক্ষা করা উচিত নয় এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর কুফরীর বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। তবে সাধারণ বিধানটি শিরোধার্য; কারণ এটি ইজমা বা সর্বসম্মত বিষয়, আর কারো জন্যই এই ইজমা থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েয নেই।
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حقيقة القرآن وحكم من زعم أن القرآن مخلوق أو لفظي بالقرآن مخلوق

قال المصنف رحمه الله تعالى: [والقرآن الذي هو كلام الله ووحيه هو الذي نزل به جبريل على الرسول صلى الله عليه وسلم {قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ * بَشِيرًا وَنَذِيرًا} [فصلت:3 - 4]، كما قال عز وجل: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:192 - 195]، وهو الذي بلغه الرسول صلى الله عليه وسلم أمته، كما أمر به في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} [المائدة:67] فكان الذي بلغهم بأمر الله تعالى كلامه عز وجل، وفيه قال صلى الله عليه وسلم: (أتمنعونني أن أبلّغ كلام ربي؟)، وهو الذي تحفظه الصدور، وتتلوه الألسنة ويكتب في المصاحف، كيفما تُصُرِّفَ بقراءة قارئ، ولَفْظِ لافظ وحفظ حافظ، وحيث تلي، وفي أي موضع قرئ وكتب في مصاحف أهل الإسلام، وألواح صبيانهم وغيرها، كله كلام الله جل جلاله غير مخلوق، فمن زعم أنه مخلوق فهو كافر بالله العظيم.

سمعت شيخنا الحاكم أبا عبد الله الحافظ رحمه الله يقول: سمعت أبا الوليد حسان بن محمد يقول: سمعت الإمام أبا بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة يقول: القرآن كلام الله غير مخلوق، فمن قال: إن القرآن مخلوق، فهو كافر بالله العظيم، لا تقبل شهادته، ولا يعاد إن مرض، ولا يصلى عليه إن مات، ولا يدفن في مقابر المسلمين، ويستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه.

فأما اللفظ بالقرآن فإن الشيخ أبا بكر الإسماعيلي الجرجاني ذكر في رسالته التي صنفها لأهل جيلان: أن من زعم أن لفظه بالقرآن مخلوق يريد به القرآن فقد قال بخلق القرآن].

هذا احتراز جيد، يعني: أن من زعم أن لفظه بالقرآن مخلوق، وقصده القرآن نفسه كما كان يفعل الجهمية حينما اشتد نكير السلف، ورجحت كفة السلف حتى عند السلطان أيام المتوكل وما بعده، فإنه حينما قويت شوكة السلف ضد المخالفين لجأ الجهمية إلى مثل هذه العبارات الموهمة، فبدلاً من أن يقول أحدهم: القرآن مخلوق، يقول: بأن لفظه بالقرآن مخلوق، ويقصد الملفوظ نفسه، وهو كلام الله، فهذا عبارة عن تحايل على القول الباطل وهروب من التصريح بما يصادم قول السلف، فلجأ كثير من الجهمية إلى مثل هذا التعبير، كما أن بعض الناس أيضاً يقول هذا من باب السفسطة ومجرد التفلسف، والسلف كانوا يكرهون هذا في العقيدة ويبدّعون من فعله.

إذاً: من قال: لفظي بالقرآن مخلوق، وإن كان قصده حركة لسانه والصوت الذي هو صوته الذي خلقه الله عز وجل، فينبغي أن يبدّع؛ لأن هذا ذريعة إلى حيل الجهمية، وقول على الله بغير علم، وتلبيس على الناس؛ فأغلب الناس يلتبس عليه الأمر، ولا يفرق بين لفظه بالقرآن وبين القرآن نفسه، فلذلك السلف بدّعوا من قال هذا الأمر على القصدين: أما من قصده قول الجهمية فهذا كفر.

قال رحمه الله تعالى: [وذكر ابن مهدي الطبري في كتاب (الاعتقاد) الذي صنفه لأهل هذه البلاد: أن مذهب أهل السنة والجماعة القول بأن القرآن كلام الله سبحانه ووحيه وتنزيله وأمره ونهيه غير مخلوق، ومن قال: مخلوق، فهو كافر بالله العظيم، وأن القرآن في صدورنا محفوظ، بألسنتنا مقروء، في مصاحفنا مكتوب، وهو الكلام الذي تكلم الله عز وجل به، ومن قال: إن القرآن بلفظي مخلوق، أو لفظي به مخلوق، فهو جاهل ضال كافر بالله العظيم].

حينما يقول: القرآن بلفظي مخلوق أو لفظي به مخلوق، فهو جاهل ضال كافر بالله العظيم، يعني: بالاحتراز السابق، وهو: أنه أراد بذلك القرآن نفسه الذي هو كلام الله، هذا أمر، الأمر الآخر كما قلت: إن الجزم بكفره بالله العظيم مبني على حال الناس في ذلك الوقت في وقت السلف في القرون السابقة، فكان الناس الأمر عندهم مستبين، والقضية قضية من القضايا الكبرى بين أهل السنة والمخالفين، ويعتبر القول بخلق القرآن هو شعار الجهمية، وهذا أمر بيّن عند العوام وغير العوام، فكان ذلك مقتضى هذا الحكم القاسي؛ لأن الناس قامت عليهم الحجة.

قال رحمه الله تعالى: [وإنما ذكرت هذا الفصل بعينه من كتاب ابن مهدي لاستحساني ذلك منه، فإنه اتبع السلف أصحاب الحديث فيما ذكره، مع تبحره في الكلام وتصانيفه الكثيرة فيه وتقدمه وتبرزه عند أهله.

أخبرنا أبو عبد الله الحافظ رحمه الله قال: قرأت بخط أبي عمرو المستملي سمعت أبا عثمان سعيد بن إشكاب الساش يقول: سألت إسحاق بن إبراهيم بنيسابور عن اللفظ بالقرآن؟ فقال: لا ينبغي أن يناظر في هذا، القرآن كلام الله غير مخلوق.

وذكر أبو جعفر محمد بن جرير الطبري رحمه الله في كتابه (الاعتقاد) الذي صنفه في هذه المسألة، وقال: أما القول في ألفاظ ا
কুরআনের প্রকৃত স্বরূপ এবং কুরআন মাখলুক বা কুরআনের উচ্চারণ মাখলুক—এমন দাবিদারদের বিধান

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এবং কুরআন, যা আল্লাহর বাণী ও তাঁর ওহী, তা-ই যা নিয়ে জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হয়েছিলেন: "আরবি কুরআন, সে কওমের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।" [ফুসসিলাত: ৩-৪], যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত রূহ (জিবরাঈল) এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]। এটিই সেই বাণী যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে নির্দেশিত হয়েছে: "হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন।" [আল-মায়িদাহ: ৬৭]। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশে তিনি যা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তা মহান আল্লাহরই বাণী। এ সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কি আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছে দিতে বাধা দেবে?" এটিই সেই কিতাব যা অন্তরে সংরক্ষিত থাকে, জিহ্বায় পঠিত হয় এবং মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ থাকে। ক্বারীর কিরাত, উচ্চারণকারীর উচ্চারণ এবং হাফিযের মুখস্থ করার মাধ্যমে এটি যেভাবে এবং যেখানেই পঠিত হোক না কেন, এবং মুসলিমদের মাসহাফে ও শিশুদের তখতি বা অন্য যে কোনো স্থানে এটি যেখানেই লিখিত হোক না কেন—এর সবটুকুই মহান আল্লাহর বাণী, যা সৃষ্টি (মাখলুক) নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে এটি মাখলুক, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল।

আমি আমাদের শায়খ হাকিম আবু আব্দুল্লাহ হাফিয (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়ালিদ হাসান বিন মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহকে বলতে শুনেছি: কুরআন আল্লাহর বাণী, যা মাখলুক নয়। সুতরাং যে বলবে কুরআন মাখলুক, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া হবে না, সে মারা গেলে তার জানাজা পড়া হবে না এবং মুসলিমদের গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে না। তাকে তাওবাহ করতে বলা হবে; যদি সে তাওবাহ করে তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে।

আর কুরআনের উচ্চারণের ব্যাপারে শায়খ আবু বকর আল-ইসমাঈলী আল-জুরজানী জিলানবাসীদের জন্য রচিত তাঁর রিসালায় উল্লেখ করেছেন: যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআনের সাথে তার উচ্চারণ (লফয) মাখলুক এবং এর মাধ্যমে সে কুরআনকেই বুঝাতে চায়, তবে সে কুরআন মাখলুক হওয়ার মতই পোষণ করল।

এটি একটি উত্তম সতর্কতা। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি দাবি করল যে কুরআনের সাথে তার উচ্চারণ মাখলুক এবং তার উদ্দেশ্য স্বয়ং কুরআনই—যেমনটি জাহমিয়্যারা করত যখন সালাফদের প্রতিবাদ কঠোর রূপ নিয়েছিল এবং খলীফা মুতাওয়াক্কিলের সময় ও তার পরবর্তীতে সালাফদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছিল। যখন বিরোধীদের বিরুদ্ধে সালাফদের প্রভাব বৃদ্ধি পেল, তখন জাহমিয়্যারা এমন বিভ্রান্তিকর শব্দের আশ্রয় নিতে শুরু করল। ফলে তাদের কেউ 'কুরআন মাখলুক' বলার পরিবর্তে বলতে লাগল: 'কুরআনের সাথে আমার উচ্চারণ মাখলুক', অথচ সে এর দ্বারা পঠিত বিষয়টিকেই (অর্থাৎ আল্লাহর বাণী) বুঝাত। এটি ছিল মূলত বাতিল মতবাদের পক্ষে একটি অপকৌশল এবং সালাফদের বক্তব্যের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। অনেক জাহমিয়্যা এই ধরনের শব্দ ব্যবহার শুরু করে। আবার কিছু মানুষ তর্কাভিলাষ বা কেবল দার্শনিক বিতর্কের খাতিরেও এটি বলত। সালাফগণ আকিদার বিষয়ে এমন কাজ অপছন্দ করতেন এবং যারা এমনটি করত তাদের বিদআতি বলতেন।

সুতরাং: যে ব্যক্তি বলে 'কুরআনে আমার উচ্চারণ মাখলুক', যদিও তার উদ্দেশ্য হয় তার জিহ্বার নড়াচড়া এবং শব্দ যা তার কণ্ঠস্বর এবং যা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন, তবুও তাকে বিদআতি বলা উচিত। কারণ এটি জাহমিয়্যাদের অপকৌশলের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা ইলম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার শামিল। কেননা অধিকাংশ মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তারা নিজের উচ্চারণ ও স্বয়ং কুরআনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এ কারণেই সালাফগণ উভয় উদ্দেশ্যেই এটি বলা ব্যক্তিকে বিদআতি বলেছেন। তবে যার উদ্দেশ্য জাহমিয়্যাদের মতবাদ পোষণ করা, সেটি কুফরি।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: ইবনে মাহদী আত-তাবারী এই অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য রচিত 'আল-ইতিিকাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো এই কথা বলা যে—কুরআন মহান আল্লাহর বাণী, তাঁর ওহী, তাঁর নাযিলকৃত কিতাব এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ; যা মাখলুক নয়। আর যে ব্যক্তি বলবে এটি মাখলুক, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। কুরআন আমাদের অন্তরে সংরক্ষিত, আমাদের জিহ্বায় পঠিত এবং আমাদের মাসহাফে লিখিত। এটিই সেই বাণী যা মহান আল্লাহ নিজে বলেছেন। আর যে বলবে 'কুরআন আমার উচ্চারণ হিসেবে মাখলুক' অথবা 'এর সাথে আমার উচ্চারণ মাখলুক', সে একজন জাহিল, পথভ্রষ্ট এবং মহান আল্লাহর সাথে কুফরি প্রকাশকারী।

যখন তিনি বলেন: 'কুরআন আমার উচ্চারণ হিসেবে মাখলুক' বা 'এর সাথে আমার উচ্চারণ মাখলুক' সে জাহিল, পথভ্রষ্ট ও কাফির—তা মূলত পূর্ববর্তী সতর্কতার আলোকে। অর্থাৎ: এর মাধ্যমে সে যদি স্বয়ং কুরআনকেই উদ্দেশ্য করে থাকে যা আল্লাহর বাণী। দ্বিতীয়ত: যেমনটি আমি বলেছি যে, তাকে কাফির বলার বিষয়টি তৎকালীন সালাফদের যুগের মানুষের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ছিল। সে সময় বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ছিল এবং এটি আহলুস সুন্নাহ ও বিরোধীদের মধ্যে একটি প্রধান সংকট ছিল। 'কুরআন মাখলুক' বলা তখন জাহমিয়্যাদের পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং এটি সাধারণ ও অসাধারণ সবার কাছেই স্পষ্ট ছিল। এ কারণেই এই কঠোর বিধান প্রযোজ্য ছিল, কারণ মানুষের ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি ইবনে মাহদীর কিতাব থেকে বিশেষভাবে এই পরিচ্ছেদটি উল্লেখ করেছি তাঁর এই বর্ণনাটি আমার কাছে চমৎকার লেগেছে বলে। কারণ তিনি কালাম শাস্ত্র এবং এ বিষয়ে তাঁর বহু রচনা ও পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও সালাফ ও হাদীসপন্থী ইমামদের অনুসরণ করেছেন।

আমাদেরকে আবু আব্দুল্লাহ হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আমর আল-মুস্তামলীর হাতের লেখায় পড়েছি যে, তিনি আবু উসমান সাঈদ বিন ইশকাব আল-সাশ-কে বলতে শুনেছেন: আমি নিশাপুরে ইসহাক বিন ইবরাহীমকে কুরআনের লফয বা উচ্চারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তিনি বললেন: এ বিষয়ে বিতর্ক করা উচিত নয়; কুরআন আল্লাহর বাণী, যা মাখলুক নয়।

আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারীর আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ে রচিত তাঁর 'আল-ইতিিকাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আর উচ্চারণের বিষয়ে কথা হলো...
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بيان ما يترتب على القول بخلق القرآن وقصد القائلين بذلك

 

‌‌السؤال

ما الذي يترتب على القول بخلق القرآن؟ وماذا يقصد المعتزلة والجهمية عندما أخذوا بهذا القول؟

 

‌‌الجواب

القول بخلق القرآن يؤدي إلى إنكار كلام الله عز وجل، ويؤدي إلى القول بأن الله لم يتكلم، وهذا استنقاص لله عز وجل، فإن الكلام صفة كمال، ثم إنه يؤدي إلى إنكار أفعال الله عز وجل؛ لأن كلام الله من أفعاله، وإنكار أفعال الله عز وجل إنكار لكثير من صفات الكمال، لأن من يفعل أعظم ممن لا يفعل، فالأفعال من صفات الكمال.

ولأن القول بخلق القرآن يؤدي إلى ضعف تقديس القرآن؛ لأنه إذا اعتقد المسلم أن هذا القرآن الذي بين يديه مخلوق، لم تعد عنده القداسة كما لو كان يعتقد أن هذا القرآن كلام الله، وهذا فرق يجده كل مسلم في نفسه، ولذلك تجرأ بعض المعتزلة على تحريف كلام الله على أساس أنه مخلوق، حرّفوا بعض الآيات، وتعمد بعضهم التحريف، وبعضهم صرّح بأنه يتمنى لو يحك بعض آيات القرآن من المصحف؛ لأنه لو كان يعتقد أن القرآن كلام الله ما قال هذا القول، ولما استطاع أن يجرؤ عليه.

فمن اعتقد من الناس بأن القرآن غير كلام الله ضعف تقديسه عندهم، ثم إنه سيكون هناك أيضاً زعزعة لثقة المسلمين بدينهم؛ لأنهم إذا اعتقدوا أن القرآن كلام البشر أو فعل المخلوق أو كلام المخلوق لم يعد له قوة في أحكامه وأوامره ونواهيه وأخباره، وصار محلاً للشك وللتأويل وغير ذلك، ولذلك الذين قالوا بخلق القرآن هم الذين حرّفوه، وهم الذين أولوه، وهم الذين قالوا فيه الأقوال الشنيعة وصرفوه عن معانيه.

أما ماذا يقصد الجهمية والمعتزلة؟ فيقصدون إنكار صفات الله عز وجل الفعلية وما يستتبع ذلك من إنكار بقية الصفات، ثم إنهم لو قالوا: إن القرآن كلام الله لزمهم أن يثبتوا الصفات التي أنكروها، وهم لا يلتزمون بهذا الالتزام وغير ذلك من الأمور التي تتعلق بفلسفتهم في أسماء الله وصفاته وأفعاله، وأعظم من ذلك هو تصورهم الخاطئ عن الله عز وجل، فإن الجهمية والمعتزلة لا يرون أن الله له وجود ذاتي، ولا أنه يفعل ما يشاء، ولا أنه يتكلم، ولا أنه يجيء وينزل، ويرون أن وجود الله وجوداً معنوياً أو عقلياً أو روحياً فقط، فإذا أثبتوا الكلام لزمهم أن يثبتوا لله عز وجل الكمالات والصفات التي ينفونها.
কুরআন সৃষ্টির মতবাদের পরিণাম এবং এই প্রবক্তাদের উদ্দেশ্যের বর্ণনা

 

প্রশ্ন

কুরআন সৃষ্টির মতবাদ অবলম্বনের ফলে কী কী বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে? আর মুতাজিলা ও জাহমিয়ারা যখন এই মতবাদ গ্রহণ করেছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল?

 

উত্তর

কুরআন সৃষ্টির মতবাদ মহান আল্লাহর কালামকে (কথা) অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যায় এবং এই কথার দিকে ধাবিত করে যে, আল্লাহ কথা বলেননি। এটি মহান আল্লাহর জন্য একটি অবমাননাকর বিষয়; কেননা কথা বলা একটি পূর্ণতার গুণ। উপরন্তু, এটি মহান আল্লাহর কার্যাবলিকে অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যায়; কারণ আল্লাহর কথা বলা তাঁর কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। আর মহান আল্লাহর কার্যাবলিকে অস্বীকার করা তাঁর অনেক পূর্ণতার গুণকেই অস্বীকার করার নামান্তর। কেননা যে সত্তা কাজ করেন, তিনি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ যিনি কাজ করেন না। সুতরাং কার্যাবলি হলো পূর্ণতার গুণের অন্তর্ভুক্ত।

আর যেহেতু কুরআন সৃষ্টির কথা বলা কুরআনের পবিত্রতাবোধকে দুর্বল করে দেয়; কারণ কোনো মুসলিম যখন বিশ্বাস করবে যে তার সামনে থাকা এই কুরআন সৃষ্টি, তখন তার কাছে সেই পবিত্রতা আর অবশিষ্ট থাকে না যা সে কুরআনকে আল্লাহর কালাম মনে করলে অনুভব করত। এটি এমন এক পার্থক্য যা প্রত্যেক মুসলিম তার নিজের মধ্যে অনুভব করে। একারণেই কিছু মুতাজিলা আল্লাহর কালামকে বিকৃত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এই ভিত্তিতে যে এটি সৃষ্টি। তারা কিছু আয়াত বিকৃত করেছে এবং তাদের কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতি সাধন করেছে। তাদের কেউ কেউ তো স্পষ্টভাবে বলেছে যে, সে যদি মুসহাফ থেকে কুরআনের কিছু আয়াত মুছে ফেলতে পারত! কেননা সে যদি বিশ্বাস করত যে কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে সে এই কথা বলত না এবং এর ধৃষ্টতা দেখাতে পারত না।

সুতরাং মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে যে কুরআন আল্লাহর কালাম নয়, তাদের কাছে এর পবিত্রতা কমে যাবে। তাছাড়া এর ফলে মুসলমানদের তাদের দ্বীনের প্রতি আস্থাও টলে যাবে; কারণ তারা যদি বিশ্বাস করে যে কুরআন মানুষের কথা বা কোনো সৃষ্টির কাজ অথবা সৃষ্টির কথা, তবে এর বিধান, আদেশ, নিষেধ ও সংবাদের মধ্যে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট থাকবে না। এটি সন্দেহ ও অপব্যাখ্যার স্থলে পরিণত হবে। এই কারণেই যারা কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা, তারাই একে বিকৃত করেছে, তারাই এর অপব্যাখ্যা করেছে এবং তারাই এ সম্পর্কে জঘন্য কথা বলেছে ও এর প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছে।

আর জাহমিয়া ও মুতাজিলারা কী উদ্দেশ্য পোষণ করে? তাদের উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর কার্যাবলি সংক্রান্ত গুণাবলি অস্বীকার করা এবং এর আনুষঙ্গিক হিসেবে অন্যান্য গুণাবলিও অস্বীকার করা। তাছাড়া তারা যদি বলত যে কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে তাদের জন্য সেই গুণগুলো সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত যা তারা অস্বীকার করেছে। তারা আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি সংক্রান্ত তাদের দর্শনের কারণে এই দায়বদ্ধতা গ্রহণ করতে চায় না। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা; কেননা জাহমিয়া ও মুতাজিলারা মনে করে না যে আল্লাহর কোনো সত্তাগত অস্তিত্ব আছে, অথবা তিনি যা চান তা করেন, অথবা তিনি কথা বলেন, অথবা তিনি আসেন ও অবতরণ করেন। তারা মনে করে আল্লাহর অস্তিত্ব কেবল আধ্যাত্মিক, বুদ্ধিভিত্তিক বা তাত্ত্বিক। ফলে তারা যদি কথা বলা সাব্যস্ত করে, তবে মহান আল্লাহর জন্য সেই পূর্ণতা ও গুণাবলি সাব্যস্ত করাও তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে যা তারা অস্বীকার করে আসছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حكم قراءة الأذكار لما يترتب عليها

 

‌‌السؤال

من يقرأ بعض الأدعية المأثورة: أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق، قد يقرؤها يريد ما يترتب عليها مما ورد، بحفظ الله لصاحبها، هل هذا على الصواب أم لا؟

 

‌‌الجواب

نعم لا حرج، لكن ينبغي أن يكون بذلك ممتثلاً لطاعة الله عز وجل وعابداً ومتوجهاً إليه، يتأله لله، ثم بعد ذلك لا يمنع أن يقصد بالتعوذ دفع الشر عنه، بل هذا هو الحكمة من تشريع هذه التعوذات التي ذكرها النبي صلى الله عليه وسلم مثل: أعوذ بكلمات الله التامات فالحكمة منها أن يدفع الإنسان بها الشرور والضر، فليس عليه حرج أن يقصد بها حفظ نفسه، فما شرعت إلا لذلك، مع التعبد والتوجه إلى الله عز وجل بذلك.
যিকিরসমূহের মাধ্যমে যে ফলাফল অর্জিত হয় তার উদ্দেশ্যে সেগুলো পাঠ করার বিধান

 

প্রশ্ন

যিনি হাদীসে বর্ণিত কিছু দোয়া পাঠ করেন, যেমন: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’—হয়তো তিনি এটি পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণিত সেই ফলাফল প্রত্যাশা করেন যা পাঠকারীকে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিফাজত বা সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এটি কি সঠিক নাকি ভুল?

 

উত্তর

হ্যাঁ, এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে উচিত হলো এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রদর্শন করা, তাঁর ইবাদত করা, তাঁর অভিমুখী হওয়া এবং তাঁরই উপাসনা করা। অতঃপর সেই আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের থেকে অনিষ্ট দূর করার উদ্দেশ্য রাখাতে কোনো বাধা নেই। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বর্ণিত এই আশ্রয় প্রার্থনামূলক বাক্যগুলোর—যেমন: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’—প্রবর্তনের রহস্যই হলো এর দ্বারা মানুষ যেন অনিষ্ট ও ক্ষতি প্রতিহত করতে পারে। সুতরাং এর মাধ্যমে নিজেকে হিফাজত করার নিয়ত করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ ইবাদত ও মহান আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার পাশাপাশি এগুলো এই উদ্দেশ্যেই প্রবর্তিত হয়েছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌حكم قول: (مولانا) للرجل

 

‌‌السؤال

ما الحكم في قول: مولانا، للرجل؟

 

‌‌الجواب

ينبغي تجنب الكلمة؛ لأن الله عز وجل هو المولى.
মানুষের ক্ষেত্রে ‘মাওলানা’ বলার বিধান

 

প্রশ্ন

মানুষের ক্ষেত্রে ‘মাওলানা’ বলার বিধান কী?

 

উত্তর

এই শব্দটি পরিহার করা উচিত; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই হলেন প্রকৃত মাওলা।
(খণ্ড: ১) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح عقيدة السلف للصابوني - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 19 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সাবুনীর ‘আকিদাতুস সালাফ’-এর ব্যাখ্যা - নাসের আল-আকল   (নাসের আল-আকল)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিসের ব্যাখ্যা

লেখক: নাসের বিন আব্দুল কারিম আল-আলি আল-আকল

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ১৯টি পাঠ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৪) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ১)
شرح عقيدة السلف أصحاب الحديث ‌‌[4]

يعتقد السلف أهل الحديث ويشهدون أن الله سبحانه فوق سماواته، مستو على عرشه استواء يليق بجلاله، بخلاف أهل البدع من المؤولة والمعطلة والمفوضة، فأهل الحديث يثبتون ما أثبته الله له من العلو والفوقية والاستواء وغير ذلك مما أثبته لنفسه وأثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم.
সালাফ আসহাবুল হাদীসের আকিদার ব্যাখ্যা [৪]

সালাফ ও আহলে হাদীসগণ বিশ্বাস করেন এবং সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে রয়েছেন, তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন এমনভাবে যা তাঁর মহিমার উপযুক্ত; বিদআতী দল যেমন: ব্যাখ্যাপ্রদানকারী, অস্বীকারকারী এবং সোপর্দকারীদের মতের বিপরীতে। সুতরাং আহলে হাদীসগণ আল্লাহর জন্য উচ্চতা, উপরিত্ব, আরশের উপর উঠা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় সাব্যস্ত করেন যা আল্লাহ নিজের জন্য এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ৪) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌عقيدة السلف أصحاب الحديث في استواء الله وعلوه على عرشه

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

قبل أن نبدأ بالقراءة أحب أن أنبه إلى أن هذا عنوان لمسألة جديدة وهي مسألة العلو والفوقية والاستواء، جمعها الشيخ الصابوني في موضع واحد، وذلك لاقتران هذه الأمور بعضها ببعض، فالاستواء يدل على العلو والفوقية، وكذلك العلو والفوقية تضمنت معنى الاستواء، بمعنى: أن أدلة الاستواء تدل على العلو والفوقية، وكذلك أدلة العلو والفوقية تؤيد أدلة الاستواء فهو هنا يقرر العلو والفوقية والاستواء لما بينهما من الاقتران، ولذلك الذين أولوا الاستواء اضطروا إلى تأويل الفوقية والعلو، وكذلك العكس أيضاً، فالذين أولوا العلو والفوقية اضطروا إلى تأويل الاستواء، وإن كانت مسألة الاستواء هي أول ما بدأ المعطلة فيها، بمعنى: أن تعطيل الاستواء كان قبل الكلام في العلو والفوقية، خاصة عند المتكلمين الذين ورثوا الجهمية والمعتزلة، فإنهم تجرءوا على تأويل الاستواء قبل جرأتهم على إنكار العلو والفوقية لله عز وجل، أي: بذاته سبحانه، وكذلك الجهمية كانت الشرارة الأولى لإنكار العلو عندهم بدأت بإنكار الاستواء، فهي متلازمة؛ لأن من أثبت العلو والفوقية جاز أن يثبت في مبدئه الاستواء ما دام ثبت فيه النص، وكذلك العكس من أثبت الاستواء لله عز وجل كما يليق بجلاله لزمه بالضرورة إثبات العلو والفوقية لله تعالى بذاته.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [ويعتقد أهل الحديث ويشهدون أن الله سبحانه فوق سبع سماوات على عرشه كما نطق به كتابه في قوله عز وجل في سورة الأعراف: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]، وقوله في سورة يونس: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ} [يونس:3]، وقوله في سورة الرعد: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الرعد:2]، وقوله في سورة الفرقان: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا} [الفرقان:59]، وقوله في سورة السجدة: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [السجدة:4]، وقوله في سورة طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]].

هنا قرر المصنف أدلة الاستواء أولاً؛ لأنها أدلة قاطعة في إثبات الاستواء لله عز وجل بذاته على ما يليق بجلاله، ثم إنها مستلزمة للدلالة على العلو، وكذلك سيبدأ الآن بعد قليل في المقطع التالي في إثبات أدلة العلو؛ لأنها عاضدة لأدلة الاستواء؛ فأدلة العلو تعضد أدلة الاستواء، بينما أدلة الاستواء تستلزم إثبات العلو.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [وأخبر الله سبحانه عن فرعون اللعين أنه قال لـ هامان: {ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ * أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر:36 - 37]، وإنما قال ذلك لأنه سمع موسى عليه السلام يذكر أن ربه في السماء، ألا ترى إلى قوله: {وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر:37] يعني: في قوله: إن في السماء إلهاً.

وعلماء الأمة وأعيان الأئمة من السلف رحمهم الله لم يختلفوا في أن الله تعالى على عرشه، وعرشه فوق سماواته].

أيضاً في كلام فرعون الذي ذكره الله عز وجل وفي محاولته الرقي في السماء فيه دلالة على أن مسألة العلو مسألة فطرية، وأن فرعون نظراً لأنه في الباطن مستيقن ببعض الأمور الفطرية بما فيها علو الله عز وجل، ففرعون طلب من هامان أن يبني له صرحاً، فلو لم يكن عنده شيء من المعرفة الفطرية بأن الله في السماء مع ورود ذلك على لسان موسى لما كلّف نفسه وأخذ هذا الأمر بجد، لكن عنده نزعة فطرية للاعتراف بأنه إن كان هناك إله لموسى فإنه سيكون في السماء، هذه تدل عليها الآية، والله أعلم.

قال المصنف رحمه الله تعالى: [يثبتون من ذلك ما أثبته الله تعالى ويؤمنون به، ويصدقون الرب جل جلاله في خبره، ويطلقون ما أطلقه سبحانه وتعالى من استوائه على عرشه، ويمرونه على ظاهره، ويكلون علمه إلى الله].

في هذه العبارات شيء من الترادف وشيء من الخلاف أيضاً؛ لأن هذه العبارات في الحقيقة عبارات موجزة في سطرين لكنها ترمز إلى قواعد، فقوله: (يثبتون من ذلك ما أثبته الله لنفسه)، يعني بذلك: أن الأصل في كل ما ورد عن الله تعالى وعن رسوله صلى الله عليه وسلم في أسماء الله وصفاته وأفعاله إثبات ما أثبته الله لنفسه، ليس للناس في ذلك دخل، وليس لعقول الناس تدخل في هذا الأمر، هذه القاعدة الأولى.

القاعدة الثانية: قال: (ويؤمنون به
‌‌আল্লাহর আরশের উপর উঠা এবং তাঁর সুউচ্চ হওয়া প্রসঙ্গে আসহাবে হাদীস সালাফগণের আকিদা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

পাঠ শুরু করার আগে আমি এই বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, এটি একটি নতুন মাসআলার শিরোনাম, আর তা হলো আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া (উলুউ), উপরে হওয়া (ফাওকিয়্যাহ) এবং আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) সংক্রান্ত মাসআলা। শেখ সাবুনি এগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করেছেন, কারণ এই বিষয়গুলো একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া এবং উপরে হওয়াকে প্রমাণ করে। তেমনিভাবে সুউচ্চ হওয়া এবং উপরে হওয়া বিষয়টিও আরশের উপর উঠার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ: আরশের উপর উঠার দলিলসমূহ আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া ও উপরে হওয়ার প্রমাণ দেয়, আবার সুউচ্চ হওয়া ও উপরে হওয়ার দলিলসমূহ আরশের উপর উঠার দলিলগুলোকে সমর্থন করে। তাই তিনি এখানে সুউচ্চ হওয়া, উপরে হওয়া এবং আরশের উপর উঠা—সবগুলোই সাব্যস্ত করছেন কারণ এগুলোর মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। এই কারণেই যারা আরশের উপর উঠার অপব্যাখ্যা করেছে, তারা উপরে হওয়া এবং সুউচ্চ হওয়ার অপব্যাখ্যা করতেও বাধ্য হয়েছে; আবার এর বিপরীতটিও সত্য। অর্থাৎ যারা সুউচ্চ হওয়া এবং উপরে হওয়াকে অপব্যাখ্যা করেছে তারা আরশের উপর উঠার অপব্যাখ্যা করতেও বাধ্য হয়েছে। যদিও আরশের উপর উঠার বিষয়টিই ছিল সেই প্রথম বিষয় যেখান থেকে সিফাত অস্বীকারকারীরা তাদের কাজ শুরু করেছিল। এর অর্থ হলো: আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করার বিষয়টি আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া এবং উপরে হওয়া নিয়ে কথা বলার আগেই শুরু হয়েছিল, বিশেষ করে সেই কালাম শাস্ত্রবিদদের কাছে যারা জাহমিয়্যাহ এবং মুতাজিলাদের উত্তরাধিকারী ছিল। তারা মহান আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া—অর্থাৎ তাঁর সত্তাগতভাবে সুউচ্চ হওয়া—অস্বীকার করার সাহস পাওয়ার আগেই আরশের উপর উঠার অপব্যাখ্যা করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তেমনিভাবে জাহমিয়্যাহদের কাছেও আল্লাহর উচ্চতা অস্বীকার করার প্রথম স্ফুলিঙ্গ শুরু হয়েছিল আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে। সুতরাং এগুলো অবিচ্ছেদ্য; কারণ যে ব্যক্তি উচ্চতা এবং উপরে হওয়া সাব্যস্ত করে, তার পক্ষে আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করাও সম্ভব যতক্ষণ পর্যন্ত সে বিষয়ে দলিল বিদ্যমান থাকে। তেমনিভাবে এর বিপরীতটিও সত্য, অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য তাঁর মহিমা অনুযায়ী আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করে, তার জন্য অনিবার্যভাবে আল্লাহর সত্তাগত উচ্চতা ও উপরে হওয়া সাব্যস্ত করাও আবশ্যক হয়ে পড়ে।

গ্রন্থকার রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: [আসহাবে হাদীসগণ বিশ্বাস করেন এবং সাক্ষ্য দেন যে, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর সাত আসমানের ঊর্ধ্বে রয়েছেন, যেমনটি তাঁর কিতাব সূরা আল-আরাফ-এর এই বাণীতে উচ্চারিত হয়েছে: {নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আল-আরাফ: ৫৪]। আর সূরা ইউনুসে তাঁর বাণী: {নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই} [ইউনুস: ৩]। আর সূরা আর-রাদে তাঁর বাণী: {আল্লাহই আসমানসমূহকে খুঁটি ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আর-রাদ: ২]। আর সূরা আল-ফুরকানে তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন, তিনি পরম দয়াময়; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যে সম্যক অবগত তাকে জিজ্ঞেস করো} [আল-ফুরকান: ৫৯]। আর সূরা আস-সাজদাহয় তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আস-সাজদাহ: ৪]। আর সূরা ত্বোয়া-হা-তে তাঁর বাণী: {পরম দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বোয়া-হা: ৫]]।

এখানে গ্রন্থকার প্রথমেই আরশের উপর উঠার দলিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন; কারণ এগুলো মহান আল্লাহর তাঁর মহিমা অনুযায়ী সত্তাগতভাবে আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অকাট্য দলিল। তদুপরি, এগুলো আল্লাহর উচ্চতার প্রমাণকেও অপরিহার্য করে তোলে। তেমনিভাবে তিনি এখন থেকে কিছুক্ষণ পর পরবর্তী অনুচ্ছেদে আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার দলিলসমূহ সাব্যস্ত করতে শুরু করবেন; কারণ সেগুলো আরশের উপর উঠার দলিলসমূহের পরিপূরক। সুতরাং উচ্চতার দলিলসমূহ আরশের উপর উঠার দলিলকে শক্তিশালী করে, আর আরশের উপর উঠার দলিলসমূহ উচ্চতা সাব্যস্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে।

গ্রন্থকার রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: [মহান আল্লাহ অভিশপ্ত ফেরাউন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, সে হামানকে বলেছিল: {তুমি আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো যাতে আমি সেই সব পথে পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের পথে, অতঃপর আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই; আর নিশ্চয় আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি} [গাফির: ৩৬-৩৭]। সে কেবল এই কারণেই বলেছিল কারণ সে মূসা আলাইহিস সালাম-কে বলতে শুনেছিল যে, তাঁর প্রতিপালক আসমানে আছেন। আপনি কি তার এই বাণীর দিকে লক্ষ্য করবেন না: {আর নিশ্চয় আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি} [গাফির: ৩৭], অর্থাৎ: মূসার এই দাবিতে যে, আসমানে একজন ইলাহ আছেন।

উম্মতের আলেমগণ এবং সালাফদের বিশিষ্ট ইমামগণ রহিমাহুমুল্লাহ এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের উপর রয়েছেন এবং তাঁর আরশ তাঁর আসমানসমূহের উপরে অবস্থিত।]

ফেরাউনের যে কথার উল্লেখ মহান আল্লাহ করেছেন এবং আসমানে আরোহণের যে প্রচেষ্টা সে চালিয়েছিল, তাতেও এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার বিষয়টি একটি স্বভাবজাত বিষয়। ফেরাউন তার অন্তরে আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া সহ কিছু স্বভাবজাত বিষয়ে নিশ্চিত ছিল বলেই সে হামানকে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করতে বলেছিল। যদি মূসা আলাইহিস সালাম-এর মুখে এই কথা শোনার সাথে সাথে আল্লাহ আসমানে থাকার ব্যাপারে তার মধ্যে কোনো স্বভাবজাত জ্ঞান না থাকত, তবে সে নিজেকে এই কষ্টে ফেলত না এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিত না। কিন্তু তার মধ্যে এই স্বভাবজাত প্রবণতা ছিল যে, যদি মূসার কোনো ইলাহ থেকে থাকে তবে তিনি আসমানেই থাকবেন। এই আয়াতটি সেই বিষয়েরই ইঙ্গিত দেয়, আল্লাহই ভালো জানেন।

গ্রন্থকার রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: [আল্লাহ যা সাব্যস্ত করেছেন তাঁরা তা সাব্যস্ত করেন এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেন। প্রতিপালক জল্লা জালালুহু তাঁর সংবাদে যা বলেছেন তা তাঁরা সত্য বলে গ্রহণ করেন। মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠার ব্যাপারে যা ব্যক্ত করেছেন তাঁরা তাকে সেভাবেই ব্যক্ত করেন, একে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখেন এবং এর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট সমর্পণ করেন।]

এই বাক্যগুলোর মধ্যে যেমন কিছু সমার্থক দিক রয়েছে, তেমনি কিছু ভিন্নতাও রয়েছে। কারণ এই বাক্যগুলো প্রকৃতপক্ষে দুই লাইনের সংক্ষিপ্ত কথা হলেও এগুলো কিছু মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করে। তাঁর কথা: (আল্লাহ যা সাব্যস্ত করেছেন তাঁরা তা সাব্যস্ত করেন), এর অর্থ হলো: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আল্লাহর নাম, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার মূলনীতি হলো আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা। এতে মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ নেই এবং মানুষের বিবেকেরও এতে কোনো প্রবেশাধিকার নেই। এটি হলো প্রথম মূলনীতি।

দ্বিতীয় মূলনীতি: তিনি বলেছেন: (এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেন)
(খণ্ড: ৪) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أنواع العلم بأسماء الله وصفاته وبيان معناها وذكر الأدلة

قوله: (ويكلون علمه إلى الله) وعلم أسماء الله وصفاته على نوعين: النوع الأول: إثبات الحقائق كما يليق بجلال الله، فهذا لابد أن يعتقد ولا يفوّض.

النوع الثاني وهو الذي قصده الصابوني هنا في قوله: (ويكلون علمه): وهو الكيفيات، ليس المقصود بالعلم الحقيقة هنا، المقصود بالعلم هنا الكيفية، فالسلف يكلون حقيقة أسماء الله وصفاته وأفعاله إلى الله عز وجل، والمراد كيفياتها، أما حقيقتها التي هي معانيها الثابتة فليست محل إشكال ولا توقف؛ لأن الله خاطبنا بها بلسان عربي مبين، والله عز وجل خاطبنا بها لنعتقدها له سبحانه، ولنعتقد له الكمال من خلالها.

فمن هنا لابد أن يفهم في هذه العبارة وما يشبهها على ألسنة السلف -وهي كثيرة- أن قولهم: (ويكلون علمه إلى الله) ليس المقصود تفويض الأمر بلا إثبات، وليس المقصود التوقف بلا إثبات، وليس المقصود التأويل، إنما المقصود الكيفيات، فالكيفيات لا يعلمها إلا الله عز وجل، فتكون من باب الأمور الغيبية التي يوكل علمها إلى الله.

قال رحمه الله تعالى: [ويقولون: {آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُوْلُوا الأَلْبَابِ} [آل عمران:7] كما أخبر الله تعالى عن الراسخين في العلم أنهم يقولون ذلك، ورضي منهم فأثنى عليهم به.

أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن إبراهيم بن محمد بن يحيى المزكي حدثنا محمد بن داود بن سليمان الزاهد أخبرني علي بن محمد بن عبيد أبو الحسن الحافظ من أصله العتيق حدثنا أبو يحيى بن كبيسة الوراق حدثنا محمد بن الأشرس الوراق أبو كنانة حدثنا أبو المغيرة الحنفي حدثنا قرة بن خالد عن الحسن عن أمه عن أم سلمة رضي الله عنها في قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] قالت: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإقرار به إيمان، والجحود به كفر.

وحدثنا أبو الحسن بن إسحاق المدني حدثنا أحمد بن الخضر أبو الحسن الشافعي حدثنا شاذان حدثنا ابن مخلد بن يزيد القهستاني حدثنا جعفر بن ميمون قال: سئل مالك بن أنس عن قوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] كيف استوى؟ قال: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وما أراك إلا ضالاً، وأَمر به أن يُخرج من مجلسه].

هذه الكلمات تمثل قواعد أيضاً عند السلف، ولا تزال هي القواعد التي يرد بها على المؤولة؛ لأنها محكمة من كل وجه، وهي عصارة فهم السلف لمقتضى النصوص، فهذا التقعيد للإثبات هو خلاصة مقتضى نصوص الشرع الواردة في الكتاب والسنة فيما يتعلق بأسماء الله وصفاته، وذكرت على عدة وجوه كلها متشابهة ومتقابلة، فالكلام الذي نسب إلى أم سلمة سواء ثبت عنها أو لم يثبت هو قواعد صحيحة ذهبية ميّزت منهج السلف عن غيرهم في هذا الأمر في صفة الاستواء وفي غيرها، فهذه قاعدة تقال في جميع الصفات، فيقال: الاستواء غير مجهول، ويقال: النزول غير مجهول، ويقال: المجيء غير مجهول، ويقال: الغضب لله عز وجل غير مجهول، وهو كما يليق بجلاله، وهكذا بقية الصفات، والكيف غير معقول فالاستواء أو غيره من الصفات يقال: إنه غير مجهول، بمعنى أنه عُلم بخبر الله تعالى وخبر رسوله صلى الله عليه وسلم أولاً، وثانياً: عُلم بأنه حقيقة لله عز وجل على ما يليق بجلاله، فهو غير مجهول لدى المخاطبين لا سيما أن المخاطب المؤمن إذا سمع كلام الله عز وجل في صفاته أو كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم في صفات الله أثبتها لأول وهلة على الحقيقة، ثم زال عنه التشبيه باستشعار القاعدة الأخرى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11]، فلابد من استشعار هذا المعنى دائماً، وإثبات الصفة لله عز وجل على الحقيقة؛ لأنا خوطبنا بحقائق نعلمها، لكن الكيفيات المعلومة في المخلوقات منفية عن الله عز وجل، فتثبت الصفات لله عز وجل مع نفي التشبيه والمماثلة.

إذاً: فالاستواء غير مجهول، بمعنى: أن له حقيقة، هذه الحقيقة هي بالنسبة للمخلوقات لها معنى ناقص، وبالنسبة لله عز وجل لها معنى كامل، فاستواء الله عز وجل يناسب كماله وهو غير مجهول.

وكذلك الكيف غير معقول، بمعنى: أن العقول لا تدرك الكيفيات، وليس بأنه غير معقول لا تؤمن به العقول، بل هنا غير معقول، بمعنى: لا تدركه العقول على جهة الكيفية، وبعض الناس فهمهم غلط، وكثير من المؤولة استندوا إلى هذه المسألة وجعلوها وسيلة للتأويل إلى هذه العبارة، خاصة متأخرة الأشاعرة والماتريدية، ففسروا كلمة (الكيف غير معقول) بأن معنى ذلك أن ظواهر أسماء الله وصفاته غير معقولة، وغير معروفة الحقيقة، أو لا يؤمن بحقائقها، فلجئوا إلى التأويل، أما السلف فمقصودهم بغير
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত জ্ঞানের প্রকারভেদ, সেগুলোর অর্থের বর্ণনা এবং দলীলসমূহের উল্লেখ

তাঁর বক্তব্য: (এবং তারা এর জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন)। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান দুই প্রকার: প্রথম প্রকার: বাস্তবতাকে সাব্যস্ত করা যেভাবে তা আল্লাহর মহিমার উপযুক্ত হয়। এটি অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে এবং একে সোপর্দ করা যাবে না।

দ্বিতীয় প্রকার: আর এটিই সাবুনি এখানে তাঁর বক্তব্যে উদ্দেশ্য করেছেন (এবং তারা এর জ্ঞান সোপর্দ করেন): অর্থাৎ ধরন বা পদ্ধতি। এখানে জ্ঞান দ্বারা বাস্তবতা উদ্দেশ্য নয়, বরং ধরন বা পদ্ধতি উদ্দেশ্য। সুতরাং সালাফগণ আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির হাকীকত বা বাস্তবতাকে নয়, বরং সেগুলোর ধরন বা পদ্ধতিকে মহান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন। আর সেগুলোর বাস্তবতা তথা সাব্যস্ত অর্থসমূহের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা বা সংশয় নেই; কারণ আল্লাহ আমাদের সাথে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কথা বলেছেন। আর মহান আল্লাহ আমাদের সাথে এগুলোর মাধ্যমে কথা বলেছেন যাতে আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি এবং এর মাধ্যমে তাঁর পূর্ণতার প্রতি বিশ্বাস রাখি।

এখান থেকেই এই বাক্যটি এবং সালাফদের বক্তব্যে এর অনুরূপ যা রয়েছে—যা সংখ্যায় অনেক—তা বুঝতে হবে যে, তাঁদের কথা: (এবং তারা এর জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন) এর অর্থ সাব্যস্ত করা ছাড়া বিষয়টি সোপর্দ করা নয়, সাব্যস্ত করা ছাড়া থেমে যাওয়া নয়, এবং এটি ব্যাখ্যা করাও নয়; বরং এর দ্বারা ধরন বা পদ্ধতি উদ্দেশ্য। কেননা ধরন বা পদ্ধতি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। ফলে এটি অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয় যার জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা হয়।

তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: [এবং তারা বলে: {আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর কেবল বোধশক্তিসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে} [আলে ইমরান: ৭]। যেমন আল্লাহ তাআলা জ্ঞানে পরিপক্বদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা এটি বলে, আর তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের প্রশংসা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন দাউদ বিন সুলাইমান আয-যাহিদ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আবুল হাসান আল-হাফিয তাঁর প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া বিন কাবীসাহ আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আশরাস আল-ওয়াররাক আবু কিনানাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল মুগীরা আল-হানাফি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুররাহ বিন খালিদ, হাসান থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], তিনি বলেছেন: ‘উঠা’ অজানা নয়, আর এর ধরন বা পদ্ধতি বুদ্ধিগম্য নয়, এর স্বীকৃতি দেওয়া ঈমান এবং একে অস্বীকার করা কুফরি।

এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান বিন ইসহাক আল-মাদানি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আল-খিজর আবুল হাসান আশ-শাফিঈ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাযান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মাখলাদ বিন ইয়াযিদ আল-কাহেস্তানি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মাইমুন, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাসকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি বলেন: ‘উঠা’ অজানা নয়, এর ধরন বা পদ্ধতি বুদ্ধিগম্য নয়, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আর আমি তোমাকে একজন পথভ্রষ্ট লোক ছাড়া আর কিছুই মনে করছি না। অতঃপর তিনি তাকে তাঁর মজলিস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।]

এই শব্দগুলো সালাফদের নিকট মূলনীতি হিসেবেও গণ্য হয়। যারা অপব্যাখ্যা করে তাদের জবাব দেওয়ার জন্য এগুলো এখনও অকাট্য মূলনীতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; কারণ এগুলো সবদিক থেকেই সুসংহত। এগুলো দলীলের দাবি সম্পর্কে সালাফদের বুঝের সারবস্তু। সুতরাং এই সাব্যস্ত করার মূলনীতি হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলীলের দাবির সারসংক্ষেপ যা আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত। এটি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে যার সবই সদৃশ এবং সমান্তরাল। উম্মে সালামাহ-র দিকে যে বক্তব্যটি নিসবত করা হয়েছে, তা তাঁর থেকে সাব্যস্ত হোক বা না হোক, এগুলো হলো সঠিক ও স্বর্ণালি মূলনীতি যা এই বিষয়ে তথা ‘উঠা’ ও অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতিকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে। এই মূলনীতি সকল গুণাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই বলা হয়: ‘উঠা’ অজানা নয়, ‘নামা’ অজানা নয়, ‘আসা’ অজানা নয়, মহান আল্লাহর ‘ক্রোধ’ অজানা নয়—যা তাঁর মহিমার উপযুক্ত। এভাবেই অবশিষ্ট গুণাবলিগুলোর ক্ষেত্রেও। আর ধরন বা পদ্ধতি বুদ্ধিগম্য নয়। সুতরাং ‘উঠা’ বা অন্য কোনো গুণ সম্পর্কে বলা হয় যে: তা অজানা নয়—অর্থাৎ প্রথমত তা আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের বাণীর মাধ্যমে জানা গেছে। দ্বিতীয়ত: এটি আল্লাহর জন্য তাঁর মহিমার উপযুক্ত বাস্তব সত্তা হিসেবে জানা গেছে। সুতরাং সম্বোধিত মুমিনদের কাছে এটি অজানা নয়, বিশেষ করে মুমিন ব্যক্তি যখন আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে আল্লাহর কালাম বা রাসূলুল্লাহর বাণী শোনে, তখন সে প্রথমবারেই তা বাস্তব অর্থে সাব্যস্ত করে। এরপর অন্য মূলনীতিটি অনুধাবনের মাধ্যমে তার মধ্য থেকে সাদৃশ্য প্রদানের বিষয়টি দূর হয়ে যায়: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} [শূরা: ১১]। সুতরাং সর্বদা এই অর্থটি অনুধাবন করা জরুরি এবং আল্লাহর জন্য গুণাবলিকে বাস্তব অর্থে সাব্যস্ত করা প্রয়োজন; কারণ আমাদের এমন কিছু বাস্তবতা দিয়ে সম্বোধন করা হয়েছে যা আমরা জানি। তবে সৃষ্টির মাঝে যে ধরনের পদ্ধতি জানা যায়, তা আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্বীকার করা হয়। সুতরাং সাদৃশ্য প্রদান অস্বীকার করার পাশাপাশি আল্লাহর গুণাবলিকে সাব্যস্ত করতে হবে।

অতএব: ‘উঠা’ অজানা নয়—এর অর্থ হলো: এর একটি বাস্তবতা রয়েছে। এই বাস্তবতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ অর্থ বহন করে, আর আল্লাহর ক্ষেত্রে তা পূর্ণাঙ্গ অর্থ বহন করে। সুতরাং আল্লাহর ‘উঠা’ তাঁর পূর্ণতার সাথে মানানসই এবং তা অজানা নয়।

অনুরূপভাবে ধরন বা পদ্ধতি বুদ্ধিগম্য নয়—এর অর্থ হলো: বুদ্ধি বা বিবেক এর ধরন বা পদ্ধতি অনুধাবন করতে পারে না। এমন নয় যে তা বুদ্ধিবৃত্তিক নয় বিধায় বিবেক এতে ঈমান আনবে না, বরং এখানে ‘বুদ্ধিগম্য নয়’ এর অর্থ হলো: ধরন বা পদ্ধতির দিক থেকে বিবেক তা উপলব্ধি করতে পারে না। কিছু মানুষ এগুলো ভুল বুঝেছে এবং অনেক অপব্যাখ্যাকারী এই বিষয়টিকে ভিত্তি বানিয়ে একে অপব্যাখ্যার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে পরবর্তীকালের আশআরী ও মাতুরিদীগণ। তারা ‘ধরন বা পদ্ধতি বুদ্ধিগম্য নয়’ এই বাক্যের ব্যাখ্যা এভাবে করেছে যে—আল্লাহর নাম ও গুণাবলির বাহ্যিক অর্থ বুদ্ধিগম্য নয়, এর বাস্তবতা জানা নেই, অথবা এর বাস্তবতার প্রতি ঈমান আনা যাবে না। ফলে তারা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে সালাফদের উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ৪) শারহু আকিদাতুস সালাফ লিস সাবুনি - নাসিরুল আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌كلام ابن خزيمة فيمن أنكر علو الله عز وجل

قال المصنف رحمه الله تعالى: [سمعت الحاكم أبا عبد الله الحافظ في كتاب (التاريخ) الذي جمعه لأهل نيسابور، وفي كتابه (معرفة الحديث) اللذين جمعهما ولم يسبق إلى مثلهما، يقول: سمعت أبا جعفر محمد بن صالح بن هانئ يقول: سمعت أبا بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة يقول: من لم يقل بأن الله عز وجل على عرشه قد استوى فوق سبع سماواته، فهو كافر بربه، حلال الدم، يستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه، وألقي على بعض المزابل حتى لا يتأذى المسلمون ولا المعاهدون بنتن رائحة جيفته، وكان ماله فيئاً لا يرثه أحد من المسلمين، إذ المسلم لا يرث الكافر، كما قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: (لا يرث المسلم الكافر ولا الكافر المسلم) رواه البخاري].

في مثل كلام ابن خزيمة رحمه الله نجد أن السلف أحياناً يلجئون إلى مثل هذه الأساليب القوية الرادعة، لكن ذلك عندهم على شروط وضوابط، يعني: هذا الكلام قد يقول بعض الناس: إنه كلام فيه قوة وفيه قسوة، لكن الصحيح أنه مقتضى الضرورة والحال في ذلك الوقت؛ ففي عهد ابن خزيمة رحمه الله ظهرت بعض نبتات الجهمية والمعتزلة وقويت، ثم إنه كان في وقته بداية ميل للمتكلمين إلى أصول الجهمية؛ فمتكلمة الأشاعرة والماتريدية في عهد ابن خزيمة بدأت مناهجهم تميل إلى مسالك الجهمية والمعتزلة في صفات الله عز وجل، فاضطر إلى مثل هذه العبارات القوية؛ لأن فيها حماية لعقائد الأمة، لاسيما وهو إمام من الأئمة الكبار، فإذا صدر عنهم مثل هذا الكلام -وهم ممن تعتد الأمة بإمامتهم وتعتبرهم قدوة كـ ابن خزيمة في وقته فإنه كان يعتبر إمام المسلمين-، فإن صدور مثل هذا الكلام يعتبر بمثابة البيان الرادع القوي الذي يخوف به أهل الأهواء والبدع، ثم إنه يبين لأهل الغيرة من أهل الحل والعقد أن الأمر يحتاج إلى إجراء يحمي عقيدة الأمة، ثم إنه أيضاً يحصن العوام وأمثال العوام من عقائد الجهمية والمعتزلة ومن سلك سبيلهم بمثل هذه الكلمات القوية الرادعة.

ولذلك يصدر هذا الكلام عن إمام لكن لا يمكن أن يصدر مثله عن طويلب علم مبتدئ؛ لأن هذا في الغالب يكون فيه تجاوز للحد من قبل من لم يكن له إمامة في الدين، ولذلك نجد أن الأمة في القرون الثلاثة الفاضلة كانت تمثل مثل هذه الأقوال القوية للسلف في حق رءوس الأهواء وكبارهم، فمثلاً: لما استفحل أمر معبد الجهني في القدر وقفت منه الأمة موقفاً حازماً بولاتها وعلمائها وعوامها، ثم لما ورث غيلان هذه البدعة القدرية وصار يدعو إليها علناً قسا معه السلف قسوة أدت إلى قتله لكف شره، مع أنهم لم يقولوا بكفره، لكن حكموا عليه بمثل حكم ابن خزيمة هنا، فصار حكمهم من أقوى المحصنات للأمة الرادعة لأهل الأهواء من ناحية والحامية لعامة المسلمين من العوام وطلاب العلم من ناحية أخرى؛ لأن الناس إذا سمعوا مثل هذا الكلام عن الأئمة عرفوا أن الأمر شنيع؛ فإذا قيل: إن غيلان قتل من أجل بدعته لا يجرؤ عامي ولا طالب علم أن يفكر باستساغة هذه البدعة مرة أخرى.

ثم لما ظهر الجعد بن درهم كذلك وأعلن القول بالتعطيل وحاوره العلماء ولم يجدوا منه استجابة للرجوع إلى الحق حكموا بقتله؛ كفاً لشره وفساده، وكان حكمهم -قبل أن ينفذ عليه الحد الشرعي- فيه واضح، ثم قالوا ذلك في الجهم بن صفوان، ثم قالوا ذلك في عدد من كبار المعتزلة والجهمية، وكما قال الشافعي في حق حفص الفرد، وكما قال غيره في ابن الراوندي وغيره في المريسي ثم لما صار وقت ابن خزيمة بدأت الجهمية والمعتزلة وأفراخ المتكلمين الأوائل تخرج أعناقها ببدعتها، فاضطر ابن خزيمة لمثل هذا الكلام، سواء امتثل كلامه أو لم يمتثل، فهو بمثابة الروادع القوية، ومن هنا نفسر قسوة ابن خزيمة رحمه الله على أهل البدع في ذلك الوقت؛ لأنه كان لابد من مثل هذا الإجراء والعبارات القاسية التي يكون بها الردع وتكون بها الحماية، وكذلك أي إمام تكون له إمامة وقبول عند الأمة قد يحمي الأمة بمثل هذه العبارات وبمثل هذه المواقف القوية، لكن ليس مثل هذا لكل من طلب العلم أو لكل من تصدى لبدعة، فقد ينتكس عليه منهجه، وقد يستفز الخصوم بمثل هذه العبارات إذا استعملها وهو غير مطاع، ولكن يأخذ الأمور على أصولها الشرعية بهدوء وحكمة.
মহান আল্লাহর উচ্চতাকে (উলুউ) অস্বীকারকারীদের বিষয়ে ইবনে খুযাইমার বক্তব্য

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আমি হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিযকে নিশাপুরের অধিবাসীদের জন্য সংকলিত তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে এবং তার ‘মা’রিফাতুল হাদীস’ গ্রন্থে—যে দুটি গ্রন্থ তিনি সংকলন করেছেন এবং যেগুলোর কোনো নজির আগে ছিল না—বলতে শুনেছি: তিনি বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ ইবনে হানিকে বলতে শুনেছি: তিনি বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি এই কথা স্বীকার করবে না যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সাত আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, সে তার রবের সাথে কুফরি করল; তার রক্ত বৈধ, তাকে তওবা করতে বলা হবে, যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে কোনো আবর্জনার ভাগাড়ে নিক্ষেপ করা হবে যেন তার লাশের পচা দুর্গন্ধে মুসলমান বা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের (মুআহিদ) কষ্ট না হয়। আর তার সম্পদ হবে ‘ফায়’ (রাষ্ট্রীয় সম্পদ), যা মুসলমানদের কেউ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে না। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না)। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।]

ইবনে খুযাইমা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এ জাতীয় কথার মধ্যে আমরা দেখতে পাই যে, সালফে সালেহীন কখনও কখনও এই ধরণের কঠোর ও প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। তবে তা তাদের কাছে নির্দিষ্ট শর্ত ও মূলনীতির ভিত্তিতে ছিল। অর্থাৎ, কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন যে এই কথায় কঠোরতা ও রূঢ়তা রয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই সময়ের প্রয়োজন ও পরিস্থিতিই একে অনিবার্য করে তুলেছিল। ইবনে খুযাইমা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের কিছু শাখা প্রকাশিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। উপরন্তু, তার সময়ে ইলমুল কালামের অনুসারীদের মাঝে জাহমিয়াদের মূলনীতির প্রতি ঝোঁক তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল। ইবনে খুযাইমার যুগে আশআরি ও মাতুরিদি তাত্ত্বিকদের মানহাজ আল্লাহর গুণাবলীর (সিফাত) ক্ষেত্রে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের পথের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল। তাই তিনি এ জাতীয় কঠোর বাক্য ব্যবহারে বাধ্য হয়েছিলেন; কারণ এর মাধ্যমে উম্মাহর আকিদার সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে তিনি ছিলেন বড় ইমামদের একজন। সুতরাং যখন তাদের মতো কারো কাছ থেকে এই ধরণের কথা আসে—যাদের ইমামতকে উম্মাহ মান্য করে এবং যাদেরকে আদর্শ মনে করা হয়, যেমন ইবনে খুযাইমা সেই সময়ে মুসলমানদের ইমাম হিসেবে গণ্য হতেন—তখন এই ধরণের কথা এক শক্তিশালী সতর্কবাণী হিসেবে বিবেচিত হয় যা প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের মনে ভীতি সঞ্চার করে। এছাড়া এটি শাসক ও সমাধানকারী (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ) শ্রেণির ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, বিষয়টি এমন একটি পদক্ষেপ দাবি করে যা উম্মাহর আকিদাকে রক্ষা করবে। পাশাপাশি এটি সাধারণ মানুষ এবং সাধারণদের ন্যায় ব্যক্তিদের জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং তাদের পথ অনুসরণকারীদের আকিদা থেকে এই ধরণের কঠোর ও প্রতিরোধমূলক শব্দের মাধ্যমে সুরক্ষা প্রদান করে।

এই কারণে এ জাতীয় কথা কোনো ইমামের পক্ষ থেকেই আসা সম্ভব, কিন্তু তা একজন প্রাথমিক স্তরের তালিবে ইলমের পক্ষ থেকে আসা সম্ভব নয়। কারণ যার দ্বীনের মধ্যে ইমামত বা নেতৃত্ব নেই, তার পক্ষ থেকে এমন কথা বললে সাধারণত তা সীমা লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। একারণেই আমরা দেখি যে, উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রথম তিন শতাব্দীতে সালাফরা প্রবৃত্তিপূজারীদের নেতা ও তাদের বড়দের ব্যাপারে এই ধরণের কঠোর উক্তি করতেন। উদাহরণস্বরূপ: যখন তাকদীরের বিষয়ে মাবাদ আল-জুহানির ফিতনা চরমে পৌঁছাল, তখন উম্মাহর শাসক, উলামা এবং সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। এরপর যখন গায়লান এই কাদারিয়া বিদআতের উত্তরাধিকারী হলো এবং প্রকাশ্যে এর দিকে আহ্বান জানানো শুরু করল, তখন সালাফগণ তার প্রতি এতটাই কঠোর হয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত তার অনিষ্ট বন্ধ করতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল—যদিও তারা তাকে কাফির বলেননি। কিন্তু তারা তার ওপর এখানে ইবনে খুযাইমার বর্ণিত হুকুমের মতোই হুকুম দিয়েছিলেন। ফলে তাদের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন উম্মাহর জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে এবং বিদআতিদের প্রতিহত করেছে, অন্যদিকে সাধারণ মুসলিম এবং তালিবে ইলমদের আকিদাকে সুরক্ষা দিয়েছে। কারণ মানুষ যখন ইমামদের কাছ থেকে এমন কথা শোনে, তখন তারা বুঝতে পারে যে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। যেমন যখন বলা হয় যে গায়লানকে তার বিদআতের কারণে হত্যা করা হয়েছে, তখন কোনো সাধারণ মানুষ বা তালিবে ইলম দ্বিতীয়বার সেই বিদআতকে গ্রহণ করার চিন্তা করার সাহস পায় না।

এরপর যখন জাদ ইবনে দিরহাম আবির্ভূত হলো এবং প্রকাশ্য আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার (তাতীল) করার কথা ঘোষণা করল, তখন উলামায়ে কেরাম তার সাথে বিতর্ক করলেন। কিন্তু যখন তারা দেখলেন যে সে সত্যের দিকে ফিরে আসছে না, তখন তার অনিষ্ট ও ফাসাদ বন্ধ করার জন্য তাকে হত্যার ফয়সালা দিলেন। শরয়ী দণ্ড কার্যকর হওয়ার আগেই তার ব্যাপারে তাদের ফয়সালা সুস্পষ্ট ছিল। এরপর তারা একই কথা জাহম ইবনে সাফওয়ান সম্পর্কে বলেছিলেন। এরপর মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের অনেক বড় নেতার ব্যাপারেও তারা অনুরূপ বলেছিলেন। যেমন ইমাম শাফেয়ী হাফস আল-ফারদের ব্যাপারে বলেছিলেন, এবং অন্যরা ইবনুর রাওয়ান্দি, আল-মারিসি ও অন্যদের ব্যাপারে বলেছিলেন। এরপর যখন ইবনে খুযাইমার সময় এল, তখন জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং প্রাথমিক যুগের কালামতাত্ত্বিকদের উত্তরসূরিরা তাদের বিদআত নিয়ে মাথাচাড়া দিতে শুরু করল। ফলে ইবনে খুযাইমা এই ধরণের কথা বলতে বাধ্য হলেন, তার সেই বক্তব্য বাস্তবায়িত হোক বা না হোক। এটি শক্তিশালী প্রতিরোধের নামান্তর। এখান থেকেই আমরা সেই সময়ে বিদআতিদের প্রতি ইবনে খুযাইমা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কঠোরতার ব্যাখ্যা পাই। কারণ সেই সময় এই ধরণের পদক্ষেপ ও কঠোর বাক্যের প্রয়োজন ছিল যার মাধ্যমে প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। একইভাবে, যে ইমামের উম্মাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব রয়েছে, তিনি এই ধরণের বাক্য ও কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে উম্মাহকে সুরক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু এমনটি প্রত্যেক তালিবে ইলম বা বিদআতের প্রতিবাদকারী প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ যে ব্যক্তির কথা কেউ মানে না, সে যদি এই ধরণের বাক্য ব্যবহার করে তবে তার মানহাজ উল্টো ফল দিতে পারে এবং তা প্রতিপক্ষকে উস্কানি দিতে পারে। বরং তাকে বিষয়গুলোকে শান্তভাবে ও হিকমতের সাথে শরয়ী মূলনীতির ওপর গ্রহণ করতে হবে।