(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجمل أصول أهل السنة (ناصر العقل)
القسم: العقيدة
الكتاب: مجمل أصول أهل السنة
المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের সংক্ষিপ্তসার (নাসির আল-আকল)
বিভাগ: আকীদা
বই: আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের সংক্ষিপ্তসার
লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল
বইয়ের উৎস: অডিও লেকচার যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট (ইসলামওয়েব) থেকে অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১০টি পাঠ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مجمل أصول أهل السنة - أهمية علم العقيدةالعقيدة هي الالتزام بالأصول والمسلمات والقطعيات في أبواب الدين كله، وللعقيدة أهمية بالغة؛ إذ إنها هي الأسس والركائز التي يقوم عليها الدين، وللعقيدة الإسلامية خصائص وسمات منها: الوضوح والكمال والشمول، ونقاء المصادر، والبقاء والديمومة، بخلاف بقية العقائد الملفقة التي نهايتها الزوال والاضمحلال.
আহলুস সুন্নাহর মূলনীতির সংক্ষিপ্তসার - আক্বীদা শাস্ত্রের গুরুত্বআক্বীদা হলো দ্বীনের সকল ক্ষেত্রে মূলনীতি, স্বতঃসিদ্ধ বিষয় এবং অকাট্য বিষয়সমূহের প্রতি অবিচল থাকা। আক্বীদার গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম; যেহেতু এটিই সেই ভিত্তি ও স্তম্ভ যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। ইসলামী আক্বীদার কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: স্পষ্টতা, পূর্ণতা ও ব্যাপকতা, উৎসের বিশুদ্ধতা এবং স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা; যা অন্যান্য বানোয়াট আক্বীদার বিপরীত, যেগুলোর শেষ পরিণতি হলো বিলুপ্তি ও ধ্বংস।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مفهوم العقيدةالحمد لله، حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، كما ينبغي لجلال وجهه وعظيم سلطانه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ورضي الله عن صحابته والتابعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين)، وإن أعظم الفقه في الدين هو الفقه الأكبر كما سماه السلف الصالح، أعني: فقه العقيدة والأصول والمسلمات والثوابت التي يقوم عليها الدين، لاسيما وأن المتأمل لحال المسلمين اليوم يجد أن حاجتهم إلى تثبيت العقيدة وأصول الدين ملحة، بل ضرورية؛ لأنها اختلت عند الكثيرين وجهلوها، ثم لأن العقيدة هي التي تحكم علاقة المسلم بربه عز وجل، وعلاقته بالخلق على منهج سليم يرضي الله سبحانه وتعالى، ويحقق له السعادة في الدنيا والفلاح في الآخرة والنجاة.ثم أصول الدين والمسلمات هي الرابط الأبقى والأقوى بين المسلمين في كل زمان إلى قيام الساعة، كما أنها أيضاً الرابط فيما بينهم وبين الأمم الأخرى والبشرية جمعاء، وهي الرابط السليم بين عالم الشهادة وعالم الغيب، لأنها جاءت من لدن حكيم خبير.ومن هنا تأكدت ضرورة تثبيت العقيدة في قلوب المسلمين، وغرسها بين أجيال الأمة، ومن هذا المنطلق أيضاً كان لابد على علماء الأمة خاصة وطلاب العلم عامة، أن تتظافر جهودهم عبر وسائل الإعلام للقيام بهذا الواجب.ونظراً لأنه في بداية كل علم لابد من الوقوف على مصطلحاته، فلابد هنا أن نستهل هذا الدرس بالتعريف بأهم مصطلحات الموضوع أو مصطلحات العقيدة وما يرادفها.
আকিদাহর ধারণাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন অধিক, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা যা তাঁর চেহারার মহিমা ও তাঁর রাজত্বের মাহাত্ম্যের জন্য উপযুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর এবং তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীদের উপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন)। আর দ্বীনের সবচেয়ে মহান ফিকহ হলো 'আল-ফিকহুল আকবার', যেমনটি সালাফে সালেহীন এর নামকরণ করেছেন; অর্থাৎ: আকিদাহ, মূলনীতি, স্বতঃসিদ্ধ বিষয় এবং ধ্রুব সত্যের ফিকহ যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে বর্তমানে মুসলমানদের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আকিদাহ ও দ্বীনের মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি, বরং অপরিহার্য; কারণ অনেকের মাঝে এটি বিঘ্নিত হয়েছে এবং তারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাছাড়া আকিদাহ-ই হচ্ছে সেই মাপকাঠি যা আল্লাহর সাথে একজন মুসলিমের সম্পর্ক এবং সৃষ্টির সাথে তার সম্পর্ককে এমন এক সঠিক পদ্ধতির ওপর পরিচালিত করে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে এবং দুনিয়াতে তার জন্য সুখ ও আখেরাতে সফলতা ও মুক্তি নিশ্চিত করে।অতঃপর দ্বীনের মূলনীতি এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ হলো কিয়ামত পর্যন্ত সকল সময়ের মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে স্থায়ী ও শক্তিশালী বন্ধন। ঠিক তেমনি এটি তাদের এবং অন্যান্য জাতি ও সমগ্র মানবজাতির মধ্যকারও একটি বন্ধন। এটি দৃশ্যমান জগত এবং অদৃশ্য জগতের মধ্যে এক সঠিক যোগসূত্র, কারণ এটি এক প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে এসেছে।এখান থেকেই মুসলমানদের অন্তরে আকিদাহ সুদৃঢ় করা এবং উম্মতের প্রজন্মের মাঝে তা রোপণ করার প্রয়োজনীয়তা সুনিশ্চিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিশেষভাবে উম্মতের আলেমদের এবং সাধারণভাবে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য অপরিহার্য যে, তারা প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে এই দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালায়।যেহেতু প্রতিটি জ্ঞানের সূচনায় তার পরিভাষাসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক, তাই এখানে আমাদের জরুরি যে এই পাঠের শুরুতে বিষয়ের প্রধান পরিভাষাসমূহ তথা আকিদাহর পরিভাষা এবং এর সমার্থক শব্দগুলোর সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করা।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تعريف العقيدة لغةأولاً: العقيدة لغة: مأخوذة من العقد وهو الشد والربط والإحكام بقوة، ولذلك فمما هو جارٍ على ألسنة الناس تسمية كل أمر ذي بال بأنه عقد؛ فإجراء النكاح عقد، وإجراء البيع عقد، وهكذا سائر العقود والعهود تسمى عقداً، مما يدل على أهميتها.فالعقيدة تنبني على اليقين والعقد الذي يستقر في القلب، ويسلم به العقل ويحكم المشاعر والعواطف.
আকিদাহর আভিধানিক সংজ্ঞাপ্রথমত: আভিধানিকভাবে আকিদাহ: এটি 'আকদ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো শক্ত করে বাঁধা, জোড়া দেওয়া এবং দৃঢ়তার সাথে সুসংহত করা। এই কারণেই মানুষের ভাষায় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে 'আকদ' বা চুক্তি হিসেবে নামকরণ করা প্রচলিত; যেমন—বিবাহ সম্পাদন করা একটি আকদ, ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদন করা একটি আকদ, এবং এভাবেই অন্যান্য সকল চুক্তি ও অঙ্গীকারকে 'আকদ' বলা হয়, যা এগুলোর গুরুত্বের ওপর প্রমাণবহ।সুতরাং আকিদাহ বা বিশ্বাস নির্মিত হয় এমন এক সুনিশ্চিত প্রত্যয় ও বন্ধনের ওপর যা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায়, বিবেক-বুদ্ধি যাকে নির্দ্বিধায় মেনে নেয় এবং যা মানুষের অনুভূতি ও আবেগকে পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعريف العقيدة اصطلاحاًأما العقيدة في الاصطلاح فلها معنيان: معنى عام يشمل كل عقيدة، العقيدة الحق أو العقيدة الباطلة عند أهل الباطل، وهي تعني الإيمان واليقين الجازم الذي لا يتطرق إليه شك لدى معتقده.أما العقيدة الإسلامية، فهي تعني: اليقين والتسليم والإيمان الجازم بالله عز وجل، وما يجب له من التوحيد والعبادة والطاعة، ثم بملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر وسائر أصول الإيمان، ثم أركان الإسلام، والقطعيات الأخرى، وهي كثيرة، كالشفاعة والرؤية، والأمور العملية التي هي من قطعيات الدين؛ كالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والجهاد، والحب في الله والبغض في الله، ونحو ذلك مما يندرج في الواجبات، وفي العلاقات بين المسلمين كحب الصحابة رضي الله عنهم، وحب السلف الصالح، وحب العلماء وحب الصالحين، ونحو ذلك مما هو مندرج في أصول الاعتقاد وثوابته.وعلى هذا فإن أمور العقيدة هي: كل ما ثبت بالشرع، فسائر ما ثبت من أمور الغيب هو من أصول العقيدة، والأخبار التي جاءت في كتاب الله وصحت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم هي من العقيدة، والثوابت والمسلمات العلمية أو العملية داخلة في أصول الاعتقاد، ومن ذلك التزام شرع الله عز وجل في الجملة، والتزام أصول الفضائل والأخلاق الحميدة ونفي ما يضاد ذلك، كل هذا داخل في مسمى الأصول والقطعيات، التي هي في مجموعها تسمى العقيدة.فالعقيدة: هي الأسس التي يقوم عليها الدين، اعتقادية وعلمية وعملية، وهي بمثابة الأسس للبناء، ولذلك جاء وصفها في الشرع بالأركان، وهي من أسس الدين والعقيدة، فأسس الإسلام تسمى أركاناً، وكذلك بقية الأصول.وهذه الأسس ليست محصورة بأركان الإيمان وأركان الإسلام، بل حتى أن أصول الإيمان وأركان الإسلام لها قواعد هي من قطعيات الدين، فمثلاً: الإيمان بالملائكة مبدأ قد يقر به الكثيرون، لكن قد يوجد عند بعض الجاهلين أو بعض أصحاب الشبهات والأهواء من ينكر ملكاً من الملائكة، كما كان من بعض الأمم التي تنكرت لجبريل عليه السلام، فلهذا ينتقض الإيمان، مع أن الفرد قد يقول: إني مؤمن بالملائكة.فالعقيدة هي الأسس التي يقوم عليها الدين، وهي الركائز الكبرى، وتسمى ثوابت، وتسمى مسلمات، وتسمى قطعيات، وتسمى أصولاً وغير ذلك من المعاني المرادفة التي يفهم منها أن العقيدة هي أصول الدين العظمى التي ينبني عليها الدين للفرد والجماعة.
পারিভাষিক অর্থে আকিদার সংজ্ঞাপারিভাষিক অর্থে আকিদার দুটি অর্থ রয়েছে: একটি সাধারণ অর্থ যা সকল আকিদাকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা সত্য আকিদা হোক বা বাতিলপন্থীদের নিকট বাতিল আকিদা হোক; আর তা হলো বিশ্বাসীর নিকট এমন ঈমান ও সুদৃঢ় ইয়াকিন যার মধ্যে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না।আর ইসলামি আকিদা বলতে বোঝায়: মহান আল্লাহর প্রতি ইয়াকিন, আত্মসমর্পণ ও সুদৃঢ় ঈমান এবং তাঁর জন্য অত্যাবশ্যক তাওহিদ, ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি বিশ্বাস; অতঃপর তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল, তকদির ও ঈমানের অন্যান্য মূলনীতির প্রতি বিশ্বাস; এরপর ইসলামের রোকনসমূহ এবং অন্যান্য অকাট্য বিষয়াদি, যা সংখ্যায় অনেক, যেমন: শাফায়াত ও আল্লাহকে দেখা, এবং দ্বীনের অকাট্য বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত আমলি বা ব্যবহারিক বিষয়সমূহ; যেমন: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, জিহাদ, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা এবং এই জাতীয় ওয়াজিব বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ; এছাড়া মুসলমানদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন সাহাবিদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) প্রতি ভালোবাসা, সালাফে সালেহীনদের প্রতি ভালোবাসা, আলেম ও নেককারদের প্রতি ভালোবাসা এবং আকিদার মূলনীতি ও অটল বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।এর ভিত্তিতে আকিদার বিষয়সমূহ হলো: শরিয়ত দ্বারা প্রমাণিত সকল বিষয়। সুতরাং গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয়াবলি যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে তা আকিদার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত সংবাদসমূহ আকিদার অংশ। জ্ঞানগত বা আমলি অটল ও স্বীকৃত বিষয়সমূহ আকিদার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে সামগ্রিকভাবে মহান আল্লাহর শরিয়ত মেনে চলা, মৌলিক সচ্চরিত্র ও উত্তম আখলাক অবলম্বন করা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জন করাও অন্তর্ভুক্ত। এ সবই মূলনীতি ও অকাট্য বিষয়াবলির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, যা সমষ্টিগতভাবে আকিদা নামে পরিচিত।সুতরাং আকিদা হলো: সেই সব ভিত্তি যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত—চাই তা বিশ্বাসগত, জ্ঞানগত বা আমলি হোক। এগুলো দালানের ভিত্তিস্বরূপ। একারণেই শরিয়তে এগুলোকে রোকন বা স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এগুলো দ্বীন ও আকিদার ভিত্তি। ইসলামের ভিত্তিগুলোকে রোকন বলা হয়, তেমনি অন্যান্য মূলনীতিগুলোকেও।আর এই ভিত্তিগুলো কেবল ঈমানের রোকন এবং ইসলামের রোকনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ঈমানের মূলনীতি ও ইসলামের রোকনগুলোর এমন কিছু নিয়ম রয়েছে যা দ্বীনের অকাট্য বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা এমন একটি মূলনীতি যা অনেকেই স্বীকার করে থাকে, কিন্তু কিছু জাহেল বা সংশয় ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্যে এমন লোক পাওয়া যেতে পারে যারা কোনো একজন ফেরেশতাকে অস্বীকার করে, যেমনটি কোনো কোনো জাতি জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-কে অস্বীকার করার মাধ্যমে করেছিল। এর ফলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়, যদিও সেই ব্যক্তি দাবি করতে পারে যে, আমি ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান রাখি।অতএব আকিদা হলো সেই সব ভিত্তি যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো বড় স্তম্ভ, আর এগুলোকে অটল বিষয়, স্বীকৃত বিষয়, অকাট্য বিষয়, মূলনীতি ইত্যাদি সমার্থক শব্দে অভিহিত করা হয়। এ থেকে বোঝা যায় যে, আকিদা হলো দ্বীনের সেই মহান মূলনীতি যার ওপর ব্যক্তি ও সমষ্টির দ্বীন গড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مفهوم السلفومن العبارات التي يلزم استعمالها وارتباطها في ذهن المسلم، وهي من المصطلحات المهمة في تعريف العقيدة، كلمة السلف.السلف المقصود بهم: القدوة في هذه الأمة، وهم الرواد الذين رسموا لنا منهج العقيدة على ضوء الكتاب والسنة؛ لأن منهج العقيدة: علمي وعملي، وهذا لا يمكن أن يكون واضحاً وبيناً إلا بقدوة؛ لأن الإسلام ليس مجرد نظريات أو علوم بل الإسلام منهج حياة يتمثل بأمة بأفرادها وعلى رأسها العلماء ومن دونهم؛ فنظراً لأن القدوة أصل في رسم معالم العقيدة وبيان مسلماتها، فلابد أن نتعرف على أول قدوة منهم، وهم السلف الصالح.السلف الصالح: هم صدر هذه الأمة، والسلف هم الذين سلفوا وقضوا من القدوات، فالسلف هم صدر هذه الأمة من الصحابة والتابعين وأئمة الهدى في القرون الثلاثة الفاضلة، وعلى هذا يطلق هذا الوصف أيضاً من باب التوسع في الوصف كما هو معروف عند تقرير الاصطلاحات، فيطلق هذا الوصف على كل من التزم هذا المنهج وإن كان معاصراً، فهو سلفي بمعنى أنه على نهج السلف.إذاً: فالسلف لها معنيان: معنى خاص: وهم خيار هذه الأمة ابتداء من عصر الصحابة إلى يومنا هذا، والمعنى الآخر: هم من كان على هذا النهج وإن كان من المعاصرين.
সালাফের ধারণাসেই সমস্ত পরিভাষা যা ব্যবহার করা এবং একজন মুসলিমের মানসপটে গেঁথে থাকা আবশ্যক এবং যা আকিদাহ বা বিশ্বাসের সংজ্ঞায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা, তা হলো ‘সালাফ’ শব্দটি।সালাফ বলতে যাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে তারা হলেন: এই উম্মতের আদর্শ ব্যক্তিত্ব। তাঁরাই হলেন সেই অগ্রপথিক যারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আমাদের জন্য আকিদাহর মানহাজ বা পদ্ধতি অঙ্কন করেছেন; কেননা আকিদাহর মানহাজ হলো জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয়ই, আর কোনো আদর্শ ব্যতিরেকে এটি স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট হওয়া সম্ভব নয়। কারণ ইসলাম কেবল কতগুলো তত্ত্ব বা নিছক জ্ঞান নয়, বরং ইসলাম হলো একটি জীবনপদ্ধতি যা উম্মতের ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, যাদের শীর্ষে রয়েছেন ওলামায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গ। যেহেতু আকিদাহর রূপরেখা অঙ্কন এবং এর স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে আদর্শ বা নমুনা হওয়া একটি মূল ভিত্তি, তাই আমাদের জন্য তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ের আদর্শদের চেনা অপরিহার্য, আর তাঁরাই হলেন ‘সালাফে সালেহীন’ বা সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ।সালাফে সালেহীন হলেন এই উম্মতের অগ্রবর্তী দল। সালাফ হলেন আদর্শ ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা অতীতে অতিবাহিত ও গত হয়েছেন। সুতরাং সালাফ হলেন এই উম্মতের প্রথম সারির সেই সকল ব্যক্তিবর্গ যারা সাহাবী, তাবেয়ী এবং শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের হিদায়াতের ইমামগণ। আর এরই ভিত্তিতে, পরিভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ব্যাপক অর্থে এই বিশেষণটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয় যারা এই মানহাজ বা পদ্ধতির অনুসরণ করেন, যদিও তারা সমকালীন হন; অতএব তিনি একজন ‘সালাফী’, যার অর্থ হলো তিনি সালাফদের আদর্শের অনুসারী।অতএব, ‘সালাফ’ শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে: একটি বিশেষ অর্থ, আর তারা হলেন সাহাবীদের যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ; এবং অন্য অর্থটি হলো, যারা এই মানহাজের ওপর রয়েছেন, যদিও তারা সমকালীনদের অন্তর্ভুক্ত হন।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
حكم من أنكر أصلاً من أصول الدين السؤال حكم من أنكر أصلاً من أصول الدين؟ وحكم من أنكر الرؤية؟ الجواب القاعدة في إنكار أي أصل من أصول الدين أنه ينقض الإيمان وينقض الإسلام ويخرج به المسلم من مقتضى الإسلام، مع مراعاة عند الحكم فيها على المعين تطبيق شروط التكفير، بمعنى: أن الذي ينكر أصلاً من أصول الدين قد يكون جاهلاً فيعذر بجهله، وقد يكون متأولاً فيكون التبس عليه الأمر، وقد يكون مكرهاً، وقد يكون عنده اشتباه، وهكذا هناك صوارف كثيرة، فالمعنى أننا نحكم على المعين إذا صدر منه ما يقتضي إنكار أصل من الأصول، أما الحكم المجرد، فلا شك أن من أنكر أصلاً من الأصول فإن هذا كفر، لكن يبقى حكماً مجرداً، فتطبيقه على الأعيان لابد فيه من تحقيق شروط وانتفاء الموانع.أما إنكار الرؤية، فالرؤية المقصود بها: رؤية المؤمنين لربهم في الجنة، وهذا أصل ثابت في قطعيات النصوص؛ في القرآن والسنة وبتصريح النبي صلى الله عليه وسلم بذلك عندما فسر آيات الرؤية، قال: (إنكم سترون ربكم عياناً).فعلى هذا تعتبر الرؤية بهذا المفهوم أصلاً قطعياً من أصول الدين.ومن أنكر الرؤية يحكم عليه بالحكم السابق؛ ونظراً لأن مسألة الرؤية من المسائل التي لا تستبين لكثير من عامة المسلمين، ولا يعرفون معانيها على وجه التفصيل، فإن من ينكر الرؤية لابد أن تقام عليه الحجة ويبين له وجه الدليل، ولا يحكم بكفره من أول وهلة، لكن إذا تبين له وجه الدليل والحق واستبان له، ولكنه عاند وكابر، فإنه يكون أنكر أصلاً من أصول الدين فحكمه ما سبق.
দ্বীনের কোনো মূলনীতি অস্বীকারকারীর বিধান প্রশ্ন দ্বীনের কোনো মূলনীতি অস্বীকারকারীর বিধান কী? আর (আল্লাহকে) দেখা (রুইয়াত) অস্বীকারকারীর বিধান কী? উত্তর দ্বীনের যেকোনো মূলনীতি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, এটি ঈমানকে ভঙ্গ করে এবং ইসলামকে বিনষ্ট করে এবং এর দ্বারা একজন মুসলিম ইসলামের দাবি থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাকফীরের শর্তাবলি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো মূলনীতি অস্বীকার করে, সে হয়তো অজ্ঞ হতে পারে, ফলে তার অজ্ঞতার কারণে সে ওজর পেতে পারে; অথবা সে ভুল ব্যাখ্যাকারী হতে পারে যার ফলে বিষয়টি তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে; অথবা সে বাধ্য হতে পারে, কিংবা তার কোনো সংশয় থাকতে পারে। এভাবে আরও অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সুতরাং মূল কথা হলো, নির্দিষ্ট ব্যক্তির থেকে যখন এমন কিছু প্রকাশ পাবে যা কোনো মূলনীতি অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে, তখন আমরা তার ওপর হুকুম আরোপ করব। আর সাধারণ হুকুমের ক্ষেত্রে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি কোনো মূলনীতি অস্বীকার করবে তা কুফরি, তবে এটি সাধারণ হুকুম হিসেবেই গণ্য হবে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর তা প্রয়োগ করার জন্য অবশ্যই শর্তাবলি পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হওয়া আবশ্যক।আর রুইয়াত বা দর্শন অস্বীকার করার বিষয়টি হলো: জান্নাতে মুমিনদের তাদের রবকে দেখা। এটি কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দর্শনের আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন, তখন তিনি স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে চাক্ষুষ দেখতে পাবে)।অতএব, এই ধারণা অনুযায়ী দর্শন বা রুইয়াত দ্বীনের অকাট্য মূলনীতিগুলোর একটি হিসেবে গণ্য।আর যে ব্যক্তি রুইয়াত অস্বীকার করবে তার ওপর পূর্বোক্ত বিধানই প্রযোজ্য হবে। যেহেতু রুইয়াতের বিষয়টি অনেক সাধারণ মুসলিমের কাছে স্পষ্ট নয় এবং তারা এর বিস্তারিত অর্থ জানে না, তাই যে ব্যক্তি রুইয়াত অস্বীকার করবে তার ওপর অবশ্যই প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে হবে এবং দলিলের দিকগুলো তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রথমবারেই তাকে কাফির হিসেবে হুকুম দেওয়া যাবে না। কিন্তু যখন তার কাছে দলিলের দিক ও সত্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে এবং সে তা বুঝতে পারবে, তবুও যদি সে হঠকারিতা ও অহংকার করে, তবে সে দ্বীনের একটি মূলনীতি অস্বীকার করল এবং তার বিধান হবে পূর্বোল্লিখিত বিধানের মতোই।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحكم على الفعل ليس كالحكم على الفاعل السؤال هل الحكم على الفعل ليس هو كالحكم على الفاعل؟ الجواب من ثوابت الاجتهاد عند السلف، بل هي أصل من أصول الأحكام على الناس، أن نفرق بين الاعتقاد والقول والفعل وبين من صدر عنه ذلك، فكما قد يقول المسلم قولاً كفرياً أو يفعل فعلاً كفرياً، أو يعتقد اعتقاداً كفرياً فيما يظهر لنا، فإنه لا يعني ذلك أن نحكم عليه بالكفر، حتى تنطبق عليه شروط التكفير، وتنتفي عنه الموانع، ويطبق ذلك أهل الرسوخ في العلم؛ لأن هذه من المصالح العظمى ومن القضايا الكبرى التي لا يتاح الحكم فيها لأفراد الأمة، ولا حتى سائر طلاب العلم، فالغالب أن هذه لا يحكم بها إلا الراسخون في العلم؛ لأنها حكم على العباد بحكم الله عز وجل، وهو أمر خطير قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم فيما صح عنه في البخاري وغيره: (إذا قال الرجل لأخيه: يا كافر فقد باء بها أحدهما)، فالأمر خطير جداً.وكذلك المنافق إذا ظهر منه ما يقتضي الردة فإننا لا نستطيع أن نحكم عليه؛ لأن النفاق الخالص قلبي لا يعلمه إلا الله عز وجل.
কর্মের ওপর বিধানারোপ করা কর্তার ওপর বিধানারোপ করার মতো নয় প্রশ্ন কর্মের ওপর বিধানারোপ করা কি কর্তার ওপর বিধানারোপ করার মতো নয়? উত্তর সালাফদের নিকট ইজতিহাদের অন্যতম সুসাব্যস্ত বিষয়, বরং এটি মানুষের ওপর বিধানারোপের মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি মূলনীতি যে, আমরা বিশ্বাস, কথা ও কাজ এবং যার থেকে তা প্রকাশ পেয়েছে—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করব। সুতরাং একজন মুসলিম হয়তো কুফরি কথা বলতে পারে, কুফরি কাজ করতে পারে কিংবা বাহ্যিকভাবে আমাদের কাছে কুফরি মনে হয় এমন কোনো বিশ্বাস পোষণ করতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা তাকে কাফির হিসেবে গণ্য করব, যতক্ষণ না তার ওপর তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) শর্তসমূহ প্রযোজ্য হয় এবং সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হয়। আর ইলমে গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই এটি প্রয়োগ করবেন; কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসলাহাত এবং বড় ধরণের বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যেখানে উম্মাহর সাধারণ ব্যক্তি বা সাধারণ জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য ফয়সালা দেওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণত ইলমে গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে ফয়সালা দেন না; কারণ এটি মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তাঁর বান্দাদের ওপর ফয়সালা প্রদান করার নামান্তর। এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়, যা সম্পর্কে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদিসে বলেছেন: (যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: "হে কাফির", তখন তাদের দুজনের যেকোনো একজনের ওপর তা ফিরে আসে)। সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ।অনুরূপভাবে কোনো মুনাফিকের থেকে যদি এমন কিছু প্রকাশ পায় যা ধর্মত্যাগ করার দাবি রাখে, তবুও আমরা তার ওপর সরাসরি বিধানারোপ করতে পারি না; কারণ বিশুদ্ধ নিফাক হলো অন্তরকেন্দ্রিক বিষয় যা মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مفهوم السنة والجماعةومن المصطلحات المهمة في هذا الباب: السنة والجماعة أو أهل السنة والجماعة، وهذه المسألة من المسائل المستفيضة عند كثير من الناس، ويسمع بها أغلب المسلمين، لكن قد لا يفهم حقيقتها الكثيرون، ونحتاج إلى أن نقف على معناها.أهل السنة والجماعة: هم كل من كان على ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته والتابعون وأئمة الهدى، أي: من كان على السنة فهو من أهل السنة.وسموا أهل السنة لاستمساكهم بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، ولأنهم أخذوا بوصية النبي صلى الله عليه وسلم عندما ذكر الأهواء والافتراق، قال: (فعليكم بسنتي)؛ فسموا أهل السنة لأنهم أخذوا بهذه الوصية، وكذلك لاتباعهم نهج السنة على جهة العموم.وكذلك وصف الجماعة؛ وهي غالباً ما تقرن بالسنة، فيقال: السنة والجماعة.فالسنة منهج، والجماعة كيان، والكيان: هم جماعة المسلمين الذين استمسكوا بالسنة وأخذوا بوصية النبي صلى الله عليه وسلم واتبعوا السنة، وعلى هذا فإنهم وصفوا بالجماعة؛ لأنهم أخذوا بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (عليكم بالجماعة) ولأنهم اجتمعوا على الحق وأجمعوا عليه، واجتمعوا على الأصول الكبرى والمعاني العظمى ومسلمات الدين وثوابتها، وعلى مصالح الأمة العظمى، كبيعة إمام السمع والطاعة للوالي بالمعروف، وغير ذلك من المصالح العظمى فهم يجتمعون عليها، كما اجتمعوا على المصالح واجتمعوا على ما عليه سلف الأمة، والتزموا أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالجماعة.وعلى هذا فإن وصف السنة والجماعة ليس شعاراً، ولا حزباً ولا مذهباً، بل هو وصف شرعي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، أما الذين يدعون العلم والتعالم ثم يطعنون في مفهوم السنة والجماعة ويزعمون أن هذا تحزب، أو يظنون أن هذا من صنع العلماء أو من صنع السلف، وأنهم اخترعوه ليميزوا أنفسهم عن غيرهم، فهذا خطأ فادح، والحق أن وصف السنة والجماعة وأهل السنة والجماعة وصف شرعي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، حين ذكر الافتراق وحذر منه وذكر الفتن والاختلاف، قال: (إنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي)، وهذا إذا وجد الاختلاف.فمع الاختلاف هؤلاء تمسكوا بالسنة هم أهل السنة الذين أخذوا بالوصية، فهذا وصف شرعي.كذلك الجماعة، لما ذكر السلف والفرقة قال: (وعليكم بالجماعة)، وقال: (فعليكم بالجماعة)، وقال: (إن يد الله مع الجماعة)، فالجماعة وصف شرعي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهكذا الوصف بمجمله أهل السنة والجماعة أو السنة والجماعة: منهج شرعي يمثل الإسلام بمصادره ومنهجه، وليس فرقة ولا طائفة.
সুন্নাহ ও জামাআতের ধারণাএই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: সুন্নাহ ও জামাআত অথবা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। এই বিষয়টি অনেক মানুষের কাছে বহুল প্রচলিত এবং অধিকাংশ মুসলিমই এটি শুনে থাকেন, কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই এর প্রকৃত রূপটি বোঝেন না। তাই আমাদের এর অর্থ স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত: তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং হেদায়েতের ইমামগণ যা কিছুর ওপর ছিলেন, তার ওপর অটল থাকেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর থাকবে, সেই আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার কারণে তাঁদেরকে আহলুস সুন্নাহ বলা হয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রবৃত্তি ও অনৈক্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তখন তিনি যে ওসিয়ত করেছিলেন তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছিলেন: (তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো); সুতরাং এই ওসিয়ত পালন করার কারণে এবং সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর পথ অনুসরণ করার কারণে তাঁদেরকে আহলুস সুন্নাহ নামকরণ করা হয়েছে।একইভাবে জামাআত বিশেষণটিও; এটি প্রায়শই সুন্নাহর সাথে যুক্ত করে বলা হয়: সুন্নাহ ও জামাআত।সুন্নাহ হলো একটি আদর্শ বা মানহাজ, আর জামাআত হলো একটি সত্তা। এই সত্তা বা জামাআত হলো সেই মুসলিম জনসমষ্টি যারা সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়ত গ্রহণ করেছেন এবং সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন। এই ভিত্তিতেই তাঁদেরকে জামাআত হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী গ্রহণ করেছেন: (তোমরা জামাআতকে আঁকড়ে ধরো)। আরও এ কারণে যে, তাঁরা সত্যের ওপর একত্রিত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তাঁরা দ্বীনের মূলনীতি, মহান তাৎপর্য, দ্বীনের অকাট্য ও অপরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ এবং উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। যেমন—নেতার প্রতি আনুগত্যের বায়াত এবং শাসকের ন্যায়সঙ্গত আদেশ মেনে চলাসহ অন্যান্য বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হন। যেমনিভাবে তাঁরা স্বার্থ ও সালাফদের আদর্শের ওপর একত্রিত হয়েছেন এবং জামাআতবদ্ধ থাকার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করেছেন।এই প্রেক্ষিতে, সুন্নাহ ও জামাআত কেবল কোনো স্লোগান, দল বা মাযহাব নয়, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত একটি শরয়ী বিশেষণ। আর যারা জ্ঞানের দাবি করে বা পাণ্ডিত্য জাহির করে সুন্নাহ ও জামাআতের ধারণার ওপর কটাক্ষ করে এবং দাবি করে যে এটি একটি দলাদলি, অথবা মনে করে যে এটি আলেমদের বা সালাফদের নিজস্ব সৃষ্টি এবং তাঁরা অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা করার জন্য এটি উদ্ভাবন করেছেন—তাদের এই ধারণা এক মারাত্মক ভুল। সত্য কথা হলো, সুন্নাহ ও জামাআত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত একটি শরয়ী বিশেষণ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসেছে। যখন তিনি বিভক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন এবং তা থেকে সতর্ক করেছিলেন এবং ফিতনা ও মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: (তোমাদের মধ্যে আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে; সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো)। এটি তখনই হবে যখন মতভেদ দেখা দেবে।সুতরাং মতভেদের সময় যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেন, তারাই হলেন আহলুস সুন্নাহ যারা ওসিয়তটি গ্রহণ করেছেন। অতএব, এটি একটি শরয়ী বিশেষণ।একইভাবে জামাআত সম্পর্কেও যখন সালাফগণ এবং অনৈক্য সম্পর্কে আলোচনা এসেছে, তখন তিনি বলেছেন: (তোমরা জামাআতের সাথে থাকো), তিনি আরও বলেছেন: (তোমরা অবশ্যই জামাআতকে আঁকড়ে ধরবে) এবং বলেছেন: (নিশ্চয়ই জামাআতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে)। সুতরাং জামাআত একটি শরয়ী বিশেষণ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। এভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বা সুন্নাহ ও জামাআত—এই সামগ্রিক বিশেষণটি একটি শরয়ী মানহাজ বা পদ্ধতি যা ইসলামের উৎস ও আদর্শকে প্রতিনিধিত্ব করে, এটি কোনো উপদল বা গোষ্ঠী নয়।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مفهوم أهل الحديث وأهل الأثركذلك لأهل السنة والجماعة أوصاف: إما أن تكون أوصافاً حقيقية انطبقت عليهم لغة أو أوصافاً شرعية جاءت في السنة، أو أوصافاً أثرت عن السلف الصالح، ولا بأس من استعمال هذه الأوصاف إذا لم تقتض تعصباً، مثل: أهل الحديث، فأهل السنة هم أهل الحديث، وبعض الناس قد يفهم من أهل الحديث أنهم رواة الحديث فقط، مع أن من أعظم خصائص أهل السنة أنهم رواة الحديث، لكن لا يقف وصفهم على هذا، فهم أهل الحديث العاملون بحديث النبي صلى الله عليه وسلم رواية ودراية، والحديث يرادف السنة؛ لأن الحديث هو حديث النبي صلى الله عليه وسلم سواء من قوله أو فعله أو تقريره، فهو مرادف لكلمة السنة.ومن أوصافهم: أنهم أهل الأثر؛ لأنهم على أثر رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى أثر السلف الصالح، ومن أوصافهم أنهم السلف، ومن أوصافهم أنهم أهل الاتباع، ومن أوصافهم أنهم الطائفة المنصورة، أي: أن الله عز وجل تكفل بنصرها إذا أخذت بأسباب النصر، وكذلك الفرقة الناجية.ومن عداها من أهل الافتراق الذين ما خرجوا عن الملة، وما خرجوا عن مسمى الإسلام وهم الذين اتبعوا السبل ولم يخرجوا من الملة وهم أكثر فرق الأمة، ومن فرق الثنتين والسبعين التي خرجت عن السنة هم من المسلمين، لكنهم خرجوا عن السبيل، واتبعوا السبل، وخرجوا عن السنة فيسمون أهل الأهواء، ويسمون أهل الافتراق، ويسمون أهل البدع، ويسمون الفرق المفارقة؛ لأنهم اتبعوا السبل التي نهى الله عنها ونهى عنها الرسول صلى الله عليه وسلم، فلا يخرجون من مسمى الإسلام، لكنهم لا يسمون أهل السنة والجماعة ولا يستحقون هذا الوصف؛ لأنهم خالفوا وصية النبي صلى الله عليه وسلم بالاستمساك بالسنة.
আহলুল হাদিস এবং আহলুল আসার-এর ধারণাঅনুরূপভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতেরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে: এগুলো হয় এমন কিছু প্রকৃত বিশেষণ যা আভিধানিকভাবে তাদের ওপর প্রযোজ্য, অথবা এমন কিছু শরয়ী বিশেষণ যা সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, কিংবা সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই বিশেষণগুলো ব্যবহারে কোনো দোষ নেই যদি তা কোনো গোঁড়ামির দাবি না করে। যেমন: আহলুল হাদিস; কেননা আহলুস সুন্নাহরাই হলেন আহলুল হাদিস। কিছু মানুষ আহলুল হাদিস বলতে কেবল হাদিসের বর্ণনাকারীদের বুঝে থাকতে পারেন, যদিও আহলুস সুন্নাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো তারা হাদিসের বর্ণনাকারী। তবে তাদের পরিচয় কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তারা হলেন এমন আহলুল হাদিস যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বর্ণনা এবং মর্ম—উভয় দিক থেকেই তার ওপর আমল করেন। আর হাদিস সুন্নাহর সমার্থক; কারণ হাদিস হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি, তাই এটি সুন্নাহ শব্দের সমার্থক।তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: তারা আহলুল আসার; কারণ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক এবং সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তাদের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য হলো যে তারা সালাফ, তারা আহলুল ইত্তিবা (অনুসরণকারী দল), এবং তারা হলো আত-তায়েফাতুল মানসুরাহ (বিজয়ী দল)। অর্থাৎ: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই দলের বিজয়ের জিম্মাদার হয়েছেন যদি তারা বিজয়ের উপকরণসমূহ গ্রহণ করে। তেমনিভাবে তারা হলো আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ (নাজাতপ্রাপ্ত দল)।তারা ব্যতীত অন্য যারা বিচ্ছিন্নতার অনুসারী, যারা ধর্মাদর্শ থেকে বের হয়ে যায়নি এবং ইসলামের নাম থেকে বহিষ্কৃত হয়নি; তারা মূলত বিভিন্ন ভুল পথের অনুসরণ করেছে কিন্তু ধর্মচ্যুত হয়নি। উম্মাহর অধিকাংশ দলই তাদের অন্তর্ভুক্ত। সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত বাহাত্তরটি দলের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা মুসলিমদের মধ্যেই গণ্য, তবে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করেছে। তারা সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হওয়ায় তাদের 'আহলুল আহওয়া' (প্রবৃত্তি পূজারী), 'আহলুল ইফতিরাক' (বিচ্ছিন্নতাবাদী), 'আহলুল বিদআ' (বিদআতি) এবং 'বিচ্ছিন্ন দল' বলা হয়। কারণ তারা এমন সব পথের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। ফলে তারা ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় না, তবে তাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলা হয় না এবং তারা এই বিশেষণের যোগ্যও নয়; কারণ তারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ বা অসিয়তের বিরোধিতা করেছে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
سمات وخصائص عقيدة أهل السنةومن الأمور التي يجب أن نقف عندها في هذا التأصيل، هي: خصائص عقيدة السلف، لأن عقيدة أهل السنة والجماعة عقيدة السلف هي العقيدة الحقة، ولكن كيف نتعرف عليها؟ وكيف نعرف سماتها؟ وكيف نعرف الركائز التي تنبني عليها أو تعرف بها؟ ولاسيما في هذا العصر الذي كثر فيه تشقيق العلوم وعنصرتها أو ما يمكن أن يسمى بتعليب العلوم، فالناس كما علبت لهم المعلومات، فهم الآن يحتاجون أيضاً إلى ما يشبه تعليب العلوم أي: تيسيرها وتسهيلها، وبيان صفات المناهج والأصول والمفردات في هذه المناهج.فلا بد من معرفة المنهج الحق الذي هو الإسلام بمصادره ومناهجه، الذي هو منهج أهل السنة والجماعة، الذي يتميز بخصائص كثيرة وركائز وسمات، وأهمها:
আহলুস সুন্নাহর আকিদার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীএই মৌলিক ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর ওপর আমাদের আলোকপাত করা আবশ্যক, তা হলো: সালাফদের আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অর্থাৎ সালাফদের আকিদাই হলো সত্য আকিদা। কিন্তু আমরা কীভাবে তা অনুধাবন করব? কীভাবে এর বৈশিষ্ট্যগুলো জানব? এবং কীভাবে আমরা সেই স্তম্ভগুলো জানব যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত অথবা যার দ্বারা এটি পরিচিত? বিশেষত এই যুগে, যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখা ও বিন্যাস অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, অথবা যাকে ‘জ্ঞানের প্রক্রিয়াজাতকরণ’ বলা যেতে পারে। মানুষের নিকট তথ্যসমূহ যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করে উপস্থাপন করা হয়, বর্তমানে তাদের জন্য জ্ঞানকেও অনুরূপভাবে প্রক্রিয়াজাত করা প্রয়োজন; অর্থাৎ: বিষয়গুলোকে সহজ ও প্রাঞ্জল করা এবং এই মানহাজ বা পদ্ধতিগুলোর বৈশিষ্ট্য, মূলনীতি ও উপাদানসমূহ বর্ণনা করা।তাই সত্য মানহাজ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক যা তার উৎস ও পদ্ধতিসহ মূলত ইসলাম; আর এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ। এটি বহু বৈশিষ্ট্য, স্তম্ভ ও গুণাবলী দ্বারা স্বতন্ত্র, যার মধ্যে প্রধানতম হলো:
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الكمال والشمولأولاً: أبرز سمة وأهم سمة هي: الكمال والشمول؛ لأنها دين الله، ودين الله كامل وشامل لكل زمان ولكل مكان ولكل فئة ولكل مجتمع ولكل دولة، وإن تخلفت في بعض الأزمان والأمكنة، فهذا بسبب تقصير المسلمين، وإلا فإن أبرز سمة للدين كله والذي تمثله السنة والجماعة هو الكمال والشمول؛ لأنها ربانية: {تَنزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42]، وهو سبحانه العليم الخبير بمصالح العباد.
পূর্ণতা ও ব্যাপকতাপ্রথমত: সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: পূর্ণতা ও ব্যাপকতা; কারণ এটি আল্লাহর দ্বীন, আর আল্লাহর দ্বীন সকল কাল, সকল স্থান, সকল গোষ্ঠী, সকল সমাজ এবং সকল রাষ্ট্রের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক। যদি কোনো কাল বা স্থানে এর প্রতিফলন না ঘটে, তবে তা মুসলিমদের ত্রুটি ও অবহেলার কারণে। অন্যথায়, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত যে দ্বীনকে উপস্থাপন করে তার সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যই হলো পূর্ণতা ও ব্যাপকতা; কারণ এটি রব্বানী বা ঐশী: “এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” [ফুসসিলাত: ৪২], আর তিনি পবিত্র মহান, বান্দাদের কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نقاء المصادرثانياً: نقاء المصادر وسلامة المصادر، وأعني بذلك: أن مصادر السنة هي مصادر الدين النقية، بخلاف ما وقع فيه أهل الأهواء والبدع والافتراق، فإنهم تعكرت مصادرهم، وابتدعوا في الدين، وأخذوا من مصادر غير صافية، إما آراء الرجال، وإما الأهواء، وإما الابتداع، وإما غير ذلك فمصدرها القرآن وسنة النبي صلى الله عليه وسلم القولية والفعلية والتقريرية، أي: ما ثبت من سنة النبي صلى الله عليه وسلم ومصدر الدين.أما الإجماع فهو مبني على الكتاب والسنة، كما سيأتي فيما بعد.
উৎসের বিশুদ্ধতাদ্বিতীয়ত: উৎসের বিশুদ্ধতা ও উৎসের সঠিকতা; আর এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে: সুন্নাহর উৎসসমূহ হলো দ্বীনের বিশুদ্ধ উৎস, যা প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী লোকদের অবস্থার বিপরীত। কারণ তাদের উৎসসমূহ ঘোলাটে হয়ে গেছে এবং তারা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবন করেছে। তারা অস্বচ্ছ উৎস থেকে গ্রহণ করেছে; চাই তা মানুষের মতামত হোক, কিংবা প্রবৃত্তি হোক, কিংবা বিদআত হোক অথবা অন্য কিছু। সুতরাং এর উৎস হলো কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাচনিক, কর্মগত ও মৌনসম্মতিমূলক সুন্নাহ; অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে যা প্রমাণিত এবং যা দ্বীনের উৎস।আর ইজমা বা ঐক্যমত্যের বিষয়টি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
البقاء والحرصثالثاً: البقاء والحرص؛ لأنه الدين الحق، والدين قد تكفل الله بحفظه، كما قال عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9]، والله عز وجل كما تكفل بحفظ القرآن بحروفه وبمعانيه حفظاً كاملاً، كما تكفل بحفظ السنة، فالكفالة بالحفظ ليست للقرآن فقط، لكن القرآن له خصائص أن الله تكفل بحفظه بمعانيه وحروفه بحيث لا يزيد ولا ينقص منه ولا يمكن أن يتعرض له بأي تحريف أو نقص، أما السنة فقد تروى بعضها بمعانٍ، وقد تروى بالسلوك والقدوة، ومع ذلك فهي محفوظة؛ لأنها مصدر الدين.وقد يقول قائل: أليس من عدا أهل السنة والجماعة عندهم مصادر محفوظة؟ نقول: نعم، فيما أخذوا به من القرآن والسنة محفوظ، لكن اعترتهم مصادر أخرى يعتريها جميع أنواع الاعتلال التي تعتري البشر من النسيان والنقص والخلل والفناء التي هي نتاج البشر الذي أدخلوه وجعلوه باسم الدين، وهذا لا شك أنه ناقص، وليس مصدراً، فمن هنا لا تتوفر صفات الثبات والبقاء والحرص والنقاء إلا لأصول أهل السنة والجماعة.
স্থায়িত্ব এবং ঐকান্তিক নিষ্ঠাতৃতীয়ত: স্থায়িত্ব এবং ঐকান্তিক নিষ্ঠা; কারণ এটিই সত্য দ্বীন। আর আল্লাহ স্বয়ং এই দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর প্রকৃত সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]। মহান আল্লাহ যেভাবে কুরআনের শব্দ এবং অর্থের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, তেমনি তিনি সুন্নাহ সংরক্ষণেরও দায়িত্ব নিয়েছেন। সুতরাং সংরক্ষণের এই জিম্মাদারি কেবল কুরআনের জন্যই নয়, বরং কুরআনের বিশেষত্ব হলো আল্লাহ এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই এমনভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন যাতে এতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি না ঘটে এবং কোনো প্রকার বিকৃতি বা অভাব একে স্পর্শ করতে না পারে। অন্যদিকে সুন্নাহর কিছু অংশ কখনও মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণিত হয়, আবার কখনও তা বাস্তব আমল ও আদর্শের মাধ্যমেও বর্ণিত হয়; তা সত্ত্বেও এটি সংরক্ষিত, কারণ সুন্নাহ দ্বীনের অন্যতম উৎস।কেউ বলতে পারেন: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ব্যতীত অন্যদের কাছে কি কোনো সংরক্ষিত উৎস নেই? আমরা বলব: হ্যাঁ, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তারা যতটুকু গ্রহণ করেছে তা সংরক্ষিত। কিন্তু তাদের কাছে এমন কিছু অন্যান্য উৎসের অনুপ্রবেশ ঘটেছে যা মানুষের বিভিন্ন প্রকার দুর্বলতার শিকার—যেমন বিস্মৃতি, অপূর্ণতা, ত্রুটি এবং বিলুপ্তি—যা মূলত মানুষেরই তৈরি এবং তারা একে দ্বীনের নামে চালিয়ে দিয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তা ত্রুটিপূর্ণ এবং তা নির্ভরযোগ্য উৎস নয়। তাই স্থায়িত্ব, টিকে থাকা, ঐকান্তিক সুরক্ষা এবং বিশুদ্ধতার এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেবল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহেই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الاستدلال بالأكثرية على صحة المنهج أو بطلانه السؤال هل يشترط للجماعة أن تكون هي الأغلبية؛ لأن هذا اللفظ يلتبس على كثير من الناس، ويستدلون بأن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بالجماعة، أم أن الأشاعرة مثلاً هم أكثر أعيان المسلمين، فهم إذاً على الصواب؟ الجواب أولاً: ليس من شرط البقاء على الحق الأكثرية، بل نصوص ودلائل قطعيات النصوص تدل على عكس ذلك، خاصة في بعض الأزمان وبعض الأحوال، ولذلك وصف النبي صلى الله عليه وسلم أهل الحق أنهم في بعض الأحوال غرباء حينما يكثر الفساد ويبقى الصالحون قلة.ثانياً: تشير النصوص إلى أن أهل السنة والجماعة ضمن فرق المسلمين فرقة من العديد من الفرق، كما جاء في حديث الافتراق، وعدد الفرق ثلاث وسبعين فرقة، واحدة الناجية واثنتان وسبعون وقعت في الافتراق والأهواء، فالواحدة من ثلاثة وسبعين قليلة، وإن كان هذا لا يتعلق بالعدد، لكن فيه إشارة إلى أن أهل الحق يقلون خاصة في بعض الأزمان وبعض الظروف.ثالثاً: أن النبي صلى الله عليه وسلم لما ذكر الافتراق واتباع السنن، خاطب المجموع، مما يدل على أن الأكثرية ستقع فيما وقعت فيه الأمم من الافتراق والأهواء والاختلاف في الدين، فقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: (لتتبعن سنن من كان قبلكم)، الخطاب لعموم الأمة، ولا يعني ذلك كلها، إنما الأغلب لأن الحديث يدل على الأغلب، وإلا فهذا العموم مستثنى بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين، لا يضرهم من خذلهم ولا من عاداهم إلى أن تقوم الساعة)، ولذلك فإن النصوص ينبغي أن يرد بعضها إلى بعض، لنأخذ النص العام ولا نخصصه بالجميع، وإذا خصصناه فسوف نقع في الهلكة أو الاعتقاد والتصور الخاطئ عن الناس.إذاً: هذه الأدلة بمجموعها والواقع أيضاً ظاهر يدل على أن أهل الحق قد يقلون، بل أحياناً قد يتشتتون في بعض البلاد، فقد تجد في بعض الأماكن وبعض البلاد أهل السنة قلة، وقد تجد في بعض الأرياف والقرى البعيدة التي هيمنت عليها البدع واحداً صاحب سنة والبقية يكونون وقعوا في البدع والأهواء.والله أعلم.إذاً: الأكثرية ليست هي القاعدة في كل زمان وفي كل مكان، إنما المعيار هو الحق، كما قال أحد السلف: الجماعة ما وافق الحق ولو كنت وحدك.
মানহাজ বা পদ্ধতির সঠিকতা কিংবা ভ্রষ্টতার প্রমাণ হিসেবে সংখ্যাধিক্যকে গ্রহণ করা প্রশ্ন 'জামায়াত' হওয়ার জন্য কি সংখ্যাগুরু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া শর্ত? কেননা এই বিষয়টি অনেক মানুষের নিকট অস্পষ্ট এবং তারা দলিল পেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামায়াতের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন অনেকে বলে থাকে, আশআরিরাই কি মুসলিমদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ নয়? তাহলে কি তারাই সঠিক পথের ওপর রয়েছেন? উত্তর প্রথমত: হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া কোনো শর্ত নয়। বরং বিভিন্ন দলীল ও অকাট্য টেক্সটসমূহ (নসুস) এর বিপরীতটাই প্রমাণ করে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এবং নির্দিষ্ট কিছু অবস্থায়। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হকের অনুসারীদের কিছু অবস্থায় 'অপরিচিত' বা 'ঘোরাবা' হিসেবে অভিহিত করেছেন যখন ফাসাদ বা বিপর্যয় বৃদ্ধি পায় এবং সৎকর্মশীলরা সংখ্যায় অল্প হয়ে যায়।দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন বর্ণনা নির্দেশ করে যে, মুসলিমদের বিভিন্ন উপদলের মধ্যে 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত' হলো অসংখ্য দলের মধ্যে একটি মাত্র দল। যেমনটি উপদলীয় বিভক্তি বা 'ইফতিরাক' বিষয়ক হাদিসে এসেছে। সেখানে দলগুলোর সংখ্যা বলা হয়েছে তেহাত্তরটি; যার মধ্যে একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত (মুক্তিপ্রাপ্ত) এবং বাহাত্তরটি দল বিভক্তি ও প্রবৃত্তি পূজার মধ্যে নিপতিত। সুতরাং তেহাত্তরটির মধ্যে একটি দল সংখ্যায় অল্পই হয়। যদিও এই বিষয়টি কেবল সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত নয়, তবে এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে হকের অনুসারীরা বিশেষ করে কিছু সময়ে এবং পরিস্থিতিতে সংখ্যায় অল্প হয়ে থাকেন।তৃতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বিভক্তি এবং পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি সামগ্রিক সমষ্টিকে সম্বোধন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মতো বিভক্তি, প্রবৃত্তি পূজা এবং দ্বীনের ব্যাপারে মতভেদে লিপ্ত হবে। সহিহ হাদিসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে", এখানে সম্বোধনটি উম্মতের সাধারণ জনগণের প্রতি। তবে এর অর্থ এই নয় যে উম্মতের সকলেই এমন করবে, বরং এটি অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ হাদিসটি আধিক্য বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্দেশ করে। অন্যথায়, এই সাধারণ বক্তব্যটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে বিশিষ্ট বা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় বা তাদের সাথে শত্রুতা করে তারা কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" অতএব, দলিলসমূহের একটিকে অপরটির সাথে মিলিয়ে অনুধাবন করা উচিত, যাতে আমরা সাধারণ কোনো বক্তব্য গ্রহণ করে সেটিকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না করে ফেলি। যদি আমরা তা করি, তবে আমরা ধ্বংসের মুখে পড়ব অথবা মানুষের সম্পর্কে ভুল আকিদা ও ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত হব।সুতরাং: এই সমস্ত দলিল এবং বাস্তব পরিস্থিতিও স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, হকের অনুসারীদের সংখ্যা কমে যেতে পারে; এমনকি কখনো কখনো তারা বিভিন্ন জনপদে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে। আপনি হয়তো কিছু স্থানে বা কিছু দেশে আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের সংখ্যায় অল্প দেখতে পাবেন। আবার কিছু গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিদআতের প্রভাব প্রবল, সেখানে হয়তো কেবল একজন সুন্নাহর অনুসারী পাওয়া যাবে এবং বাকি সবাই বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসারী হবে।আল্লাহই ভালো জানেন।অতএব: সংখ্যাগরিষ্ঠতা সব সময় এবং সব স্থানের জন্য কোনো মূলনীতি নয়। বরং মানদণ্ড হলো 'হক' বা সত্য। যেমনটি সালাফদের একজন বলেছেন: "জামায়াত হলো তা-ই যা হকের অনুকূলে থাকে, যদিও তুমি একা হও।"
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
موانع تكفير المعين السؤال مسألة التكفير خطيرة جداً، وذكرتم موانع التكفير للمعين، فما هي لو تفضلتم يا شيخ؟ الجواب موانع التكفير كثيرة، أهمها: أولاً: الجهل، وثانياً: الإكراه، وثالثاً: التأويل، ورابعاً: الاشتباه، هذه أغلب قواعد الإعذار، ومع ذلك فالإعذار لا يتناهى، وأحياناً الإنسان قد يكون له ظرف معين يلتبس بأحوال يعذر بها دون هذه الأعذار الكبرى.
নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার পথে অন্তরায়সমূহ প্রশ্ন তাকফিরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আপনি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার পথে অন্তরায়সমূহের কথা উল্লেখ করেছেন; হে শায়খ, অনুগ্রহ করে সেগুলো কী কী তা জানাবেন কি? উত্তর তাকফিরের অন্তরায় অনেক। তন্মধ্যে প্রধান হলো: প্রথমত: অজ্ঞতা, দ্বিতীয়ত: জবরদস্তি, তৃতীয়ত: ভুল ব্যাখ্যা এবং চতুর্থত: সংশয়। এগুলো ওজর বা ক্ষমা পাওয়ার অধিকাংশ মূলনীতি। তা সত্ত্বেও, ওজর গ্রহণের বিষয়টি অশেষ; কখনো কখনো কোনো ব্যক্তির এমন বিশেষ পরিস্থিতি থাকতে পারে যা এমন অবস্থার সাথে মিশে যায় যেখানে তাকে এই বড় বড় ওজরগুলো ছাড়াও অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تابع سمات وخصائص أهل السنة والجماعة
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির ধারাবাহিকতা
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الوضوح والنقاءومن خصائص السنة والجماعة: الوضوح، منهج أهل السنة والجماعة يتميز بالوضوح والنقاء، ولذلك وصفه النبي صلى الله عليه وسلم بالبيضاء، يقول في الحديث الصحيح: (تركتكم على البيضاء، ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك)، ويقول صلى الله عليه وسلم أيضاً: (جئتكم بيضاء نقية) أي: لا يعتريها أي غبش، وهذا الذي يصحب أصول السنة إلى قيام الساعة؛ لأنه لا يعقل أن يعتري السنة أي غبش؛ لأن هذا يقتضي النقص في الدين وحاجة الناس إلى الوحي، وقد انقطع الوحي بنبينا صلى الله عليه وسلم، وانقطعت النبوة وتكفل الله بحفظ الدين، وهذا يقتضي البقاء والنقاء والوضوح لكل من أعطاه الله بصيرة، والوضوح أمر نسبي لمن وفقه الله للهدى، وإلا فأهل الأهواء والافتراق هو عليهم عمى، قد تعمى عليهم الواضحات نسأل الله العافية، إنما هو واضح لمن جد في تحصيل الحق، ولمن صدق في البحث عن الحقيقة، ولمن وفقه الله وهداه، ولمن سلك وسائل وأسباب الهداية عن تجرد وإخلاص، فإنه يجدها واضحة نقية كما وصفها النبي صلى الله عليه وسلم.
স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতাআহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: স্বচ্ছতা। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একে শুভ্র ও উজ্জ্বল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সহীহ হাদীসে বলেন: "আমি তোমাদের এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: "আমি তোমাদের কাছে একটি শুভ্র ও বিশুদ্ধ দ্বীন নিয়ে এসেছি।" অর্থাৎ: এতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা নেই। আর কিয়ামত পর্যন্ত সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের সাথে এই বৈশিষ্ট্যটিই বিদ্যমান থাকবে; কারণ সুন্নাহর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা আসা বিবেকগ্রাহ্য নয়; কেননা তা দ্বীনের অসম্পূর্ণতা এবং মানুষের ওহীর প্রয়োজনীয়তাকে আবশ্যক করে তুলবে, অথচ আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে ওহীর আগমন সমাপ্ত হয়েছে, নবুওয়াত শেষ হয়ে গেছে এবং আল্লাহ দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আর এটি আল্লাহ যাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন তার জন্য দ্বীনের স্থায়িত্ব, বিশুদ্ধতা ও স্বচ্ছতাকে অনিবার্য করে। আর স্বচ্ছতা বিষয়টি তাদের জন্য আপেক্ষিক যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াতের তাওফীক দিয়েছেন, নতুবা কুপ্রবৃত্তি ও বিভেদের অনুসারীদের জন্য এটি অন্ধত্বস্বরূপ। তাদের কাছে স্পষ্ট বিষয়গুলোও অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে, আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। মূলত এটি তার জন্যই স্পষ্ট যে সত্য অর্জনে সচেষ্ট থাকে, যে সত্য অনুসন্ধানে নিষ্ঠাবান, যাকে আল্লাহ তাওফীক ও হিদায়াত দিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি মোহমুক্ত হয়ে একনিষ্ঠতার সাথে হিদায়াতের মাধ্যম ও কারণসমূহ অবলম্বন করেছে; তবেই সে একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনানুযায়ী স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ হিসেবে পাবে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الاعتدال والوسطيةومن سمات أهل السنة والجماعة الاعتدال والوسطية في كل شيء، ولذلك فإن أهل السنة والجماعة دائماً في أصول الدين وسط بين طرفين: طرف أهل الغلو وطرف أهل التساهل والإعراض في سائر أمور الدين؛ في أركان الإيمان وفي أركان الإسلام وفي مسائل النظر إلى الغيبيات وفي الأحكام على العباد، وفي تطبيق الشرع والعمل به، وفي العبادات.فمثلاً: في الوعد والوعيد: هم وسط بين المرجئة الذين لا يضعون أي اعتبار للوعيد، وبين الخوارج الذين لا يضعون أي اعتبار للوعد، فالخوارج يأخذون بنصوص الوعيد على أشد محاملها، والمرجئة يأخذون بنصوص الوعد على أشد محاملها، فأهل السنة بين هذا وذاك، يؤمنون بالوعيد وأنه صدق وحق، ويؤمنون بالوعد ويردون هذا إلى هذا؛ لأن نصوص الشرع لابد أن تتكامل، لاسيما أن نصوص الوعيد كثير منها ما يقصد به الزجر، وله استثناءات، وله نصوص أخرى تفسره، فعلى هذا فأهل السنة في جميع أمور الدين الاعتقادية والقولية والعملية هم وسط، وهم منهج الاعتدال.حتى في الأحداث المعاصرة نجد مواقف أهل الاعتدال، مثل: مشايخنا الكبار، والعلماء، والدعاة الذين استقاموا على السنة، نجد أن منهجهم هو منهج الاعتدال إزاء طائفتين من الأمة، طائفة الغلو الذين سلكوا مسالك التكفير والفساد في الأرض والتفجيرات، وطائفة الإعراض والتساهل الذين تميعوا في الدين وأضاعوا حقائق الدين والولاء والبراء والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فهم وسط بين هذا وذاك.
ভারসাম্য ও মধ্যপন্থাআহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা বজায় রাখা। আর এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত দ্বীনের মূলনীতিসমূহে সর্বদা দুটি প্রান্তিকের মাঝে মধ্যম অবস্থানে থাকেন: একটি হলো চরমপন্থীদের প্রান্ত এবং অন্যটি হলো শিথিলকারী ও বিমুখদের প্রান্ত; দ্বীনের সকল বিষয়েই তারা এমন—ঈমানের রুকনসমূহ, ইসলামের রুকনসমূহ, অদৃশ্য বিষয়াবলির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, বান্দাদের ওপর হুকুম প্রদান, শরীয়তের প্রয়োগ ও সে অনুযায়ী আমল এবং ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে।উদাহরণস্বরূপ: প্রতিশ্রুত পুরস্কার এবং শাস্তির হুমকির বিষয়ে তারা মুরজিয়া—যারা শাস্তির হুমকির কোনো গুরুত্ব দেয় না—এবং খারেজীদের—যারা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতির কোনো গুরুত্ব দেয় না—মাঝে মধ্যমপন্থী। খারেজীরা শাস্তির হুমকি সম্বলিত দলীলসমূহকে তাদের চরম কঠোর অর্থে গ্রহণ করে, আর মুরজিয়ারা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত দলীলসমূহকে তাদের চরম শিথিল অর্থে গ্রহণ করে। আহলুস সুন্নাহ এই দুইয়ের মাঝামাঝি; তারা শাস্তির হুমকির ওপর ঈমান রাখেন এবং বিশ্বাস করেন যে তা সত্য ও যথার্থ, আবার তারা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতির ওপরও ঈমান রাখেন এবং এক জাতীয় দলীলকে অন্যটির সাথে সমন্বয় করেন। কারণ শরীয়তের দলীলসমূহ অবশ্যই একটি অপরটির পরিপূরক হতে হবে। বিশেষ করে শাস্তির হুমকি সম্বলিত অনেক দলীলের উদ্দেশ্য হলো ধমক দেওয়া বা সতর্ক করা, যার আবার ব্যতিক্রমও রয়েছে এবং অন্য দলীলসমূহ তা ব্যাখ্যা করে। সুতরাং আহলুস সুন্নাহ দ্বীনের সকল আকীদাগত, বাচনিক এবং আমলী বিষয়ে মধ্যমপন্থী এবং তারা ভারসাম্যপূর্ণ মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত।এমনকি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রেও আমরা মধ্যমপন্থীদের অবস্থান দেখতে পাই, যেমন: আমাদের প্রবীণ শায়খগণ, ওলামায়ে কেরাম এবং সুন্নাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত দাঈগণ। আমরা দেখি যে, উম্মতের দুটি দলের বিপরীতে তাদের মানহাজ হলো ভারসাম্যের মানহাজ—একদল হলো চরমপন্থী যারা তাকফীর, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং বিস্ফোরণের পথ বেছে নিয়েছে, আর অন্য দল হলো বিমুখ ও শিথিলকারী যারা দ্বীনের বিষয়ে আপসকামিতা করে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিষয়গুলোকে বিসর্জন দিয়েছে। সুতরাং তারা এই দুইয়ের মাঝে মধ্যমপন্থী।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الالتزام بالدليل والوقوف على النصثم إنها توقيفية، منهج أهل السنة والجماعة توقيفي، لا مجال للاختراع فيه ولا الزيادة ولا النقص، بل موقوف على ما جاء في كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما أن أصول الاعتقاد الأصول والمسلمات والثوابت ليست مجالاً للاجتهاد، وهذا معنى كونها ثابتة، ولو كانت مجالاً للاجتهاد لما استقرت، ولو كان فيها مجال لإدخال العقل والعواطف والأهواء والرغبات والأمزجة، لما وجد فيها كمال ولا نقاء ولا سلامة ولا بقاء ولا وضوح ولا اعتدال ولا توقيفية، لكن نظراً لأن العقيدة هي الأصول والثوابت فهي محل إجماع عند السلف، وإن خالف فيها المخالفون فهذا لا يعني أنه اعتراها النقص، وإنما النقص فيمن خالفوا وليس فيها.إذاً: هي توقيفية موقوفة على ثوابت القرآن والسنة، وموقوفة على ما أجمع عليه السلف، ومن هنا فلا مجال للاجتهاد فيها، إنما الاجتهاد في مسائل الأحكام في الفقه والأمور الأخرى، بل حتى في الفرعيات التي تتفرع عن مسائل العقيدة التي لم تثبت أدلتها، وفي مسائل تشكل على بعض طلاب العلم تدخل في بحوث العقيدة هي محل خلاف عند أهل العلم، ويظن بعض الناس أنها في العقيدة، ومنها ظنوا أن الخلاف فيها خلاف في العقيدة وهذا خطأ، بل هي مسائل تفرعت عن مسائل العقيدة وليست على أساسيات العقيدة، مثل رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في المعراج، فهذه ثابتة، لكن هل هي رؤية عينية أو قلبية؟ هذا محل خلاف، فكونه محل خلاف لا يعني أن أصله غير ثابت.
দলীলের অনুসরণ এবং নসের (মূল পাঠের) ওপর নির্ভরতাএরপর এটি হলো ওহিনির্ভর (তাওকিফিয়্যাহ); আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মানহাজ ওহিনির্ভর, এতে নতুন কিছু উদ্ভাবন, বৃদ্ধি বা হ্রাসের কোনো সুযোগ নেই। বরং তা আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহয় যা এসেছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ। ঠিক তেমনি বিশ্বাসের মূলনীতিসমূহ, স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ এবং অটল বিষয়গুলো ইজতিহাদের ক্ষেত্র নয়, আর এটিই এগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ। যদি এগুলো ইজতিহাদের ক্ষেত্র হতো তবে তা স্থির হতো না। যদি এতে বুদ্ধি-বিবেক, আবেগ, খেয়াল-খুশি, কামনা-বাসনা এবং রুচি প্রবেশের অবকাশ থাকত, তবে এতে পূর্ণতা, বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব, স্পষ্টতা, ভারসাম্য কিংবা ওহিনির্ভরতা খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু যেহেতু আকীদা হলো মূল ভিত্তি ও অটল বিষয়াবলি, তাই এটি সালাফদের নিকট ঐকমত্যের বিষয়। যদি বিরোধিতাকারীরা এতে বিরোধিতা করে তবে তার অর্থ এই নয় যে এতে কোনো ঘাটতি দেখা দিয়েছে, বরং ঘাটতি তাদের মধ্যেই যারা বিরোধিতা করেছে, এর মধ্যে নয়।সুতরাং: এটি ওহিনির্ভর (তাওকিফিয়্যাহ), যা কুরআন ও সুন্নাহর অটল বিষয়সমূহ এবং সালাফদের ঐকমত্যের ওপর নির্ভরশীল। আর এখান থেকেই বুঝা যায় যে এতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই। ইজতিহাদ কেবল ফিকহের বিধিবিধান সংক্রান্ত মাসআলা এবং অন্যান্য বিষয়ে হতে পারে। এমনকি আকীদার মাসআলা থেকে নির্গত এমন সব শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রেও ইজতিহাদ হতে পারে যেগুলোর দলীল সুনিশ্চিত নয়, এবং এমন কিছু মাসআলা যা কিছু তালিবে ইলমের নিকট অস্পষ্ট মনে হতে পারে এবং যা আকীদার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আলিমদের নিকট মতবিরোধপূর্ণ। কিছু মানুষ মনে করে যে এগুলো আকীদার অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা ধারণা করে যে এসব বিষয়ে মতবিরোধ মানেই আকীদার ক্ষেত্রে মতবিরোধ, আর এটি একটি ভুল ধারণা। বরং এগুলো আকীদার মাসআলা থেকে নির্গত শাখা-প্রশাখা মাত্র, আকীদার মৌলিক ভিত্তি নয়। যেমন মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবকে দেখা; এটি প্রমাণিত সত্য। তবে এটি কি চাক্ষুষ দেখা ছিল নাকি অন্তরের দেখা? এটি মতবিরোধের বিষয়। সুতরাং এটি মতবিরোধপূর্ণ হওয়ার অর্থ এই নয় যে এর মূল বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تحقيق الأمن والسعادة في الدارينإن عقيدة السلف الصالح أهل السنة والجماعة نظراً لأنها تمثل الإسلام بمصادره ومنهجه الإسلام الحق، فهي التي تحقق الأمن والسعادة في الدارين لأفراد الأمة ومجموعاتها، والله عز وجل يقول: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ} [الأنعام:82]، والأمن ليس فقط الأمن الظاهري وإن كان مقصوداً شرعاً، لكن الأمن الباطني هو مرتكز الأمن أمن القلوب وأمن النفوس وأمن العقول، ولذلك جاء الدين بحفظ الضروريات الخمس التي لا يمكن أن تحفظ إلا بالأمن، فقد جاء بحفظ الدين، وحفظ العرض، وحفظ المال، وحفظ النفس، وحفظ العقل، وهذه الأمور لا يمكن أن تقوم إلا على أساس الدين، وتحقيق الأمن والسعادة في الدارين.ولذلك فإن مما ينبغي أن يتنبه له المسلمون جميعاً في ظل الظروف القاسية التي تعيشها الأمة، وفي ظل الأحداث المؤلمة، وفي ظل الوهن والضعف والتفلت والفرقة، يجب أن نذكر المسلمين بأنه لا يمكن أن يستقيم لهم أمر ولا يعتزوا وينتصروا ولا يجتمع شملهم، ولا يخذل عدوهم إلا باستقامة العقيدة، بل لا يمكن أن تزدهر لهم مدنية وحضارة على وجه كامل إلا باستقامة العقيدة، والأمم الأخرى قد يعطيهم الله الحياة الدنيا، أي أمة من الأمم غير المسلمة قد تزدهر دنياها، وقد تملك حضارة مدنية، حتى لو لم تلتزم بشرع الله؛ لأن الله عز وجل تكفل للكفار بأن يعطيهم حظهم من الحياة الدنيا وليس لهم في الآخرة من نصيب، لكن المسلمين عزهم، واجتماعهم، ونصرهم ووحدتهم لا يمكن أن تكون إلا بالاجتماع على المعتقد الذي جعله الله عز وجل أصل الاجتماع وهو المعتقد السلفي.فالسنة والجماعة تعني الإسلام نفسه في مصادره وأصوله وقواعده وأحكامه، فليست السنة والجماعة فرقة ولا مذهباً ولا حزباً، بل هي الدين الذي ارتضاه الله لعباده، ولذلك يجب التنبيه إلى ما يقع فيه بعض الجهلة من المنتسبين للسنة، من رفع السنة شعاراً أو انتماءات يكون عليها تعصب أو ولاء وبراء على أمور خلافية، وهذا مما تسبب في تشويه صورة السنة والجماعة عند كثير من المسلمن وغير المسلمين، فوجود طائفة ممن لا يعرفون هذا الأصل قد يتحزبون وقد يتكتلون تكتلات غير مشروعة تحت شعار السنة والجماعة، والسنة والجماعة إنما هو منهج أمة ينتمي إليه كل من سلكه دون أن يكون هناك تعصب لأفراد ولا لأصول يصنعها الناس ولا لتنظيمات ولا لتجمعات، فهو الدين الحق، والدين الحق يشمل كل من اعتنقه بدون أي وسيط.فأهل السنة والجماعة هم الذين التزموا نهج النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة من المسلمين، وبقية الفرق تبقى تحت مسمى الإسلام ومسمى المسلمين، لا لأن الإسلام ينقسم، لكن لأن المسلمين انقسموا على الإسلام، وانقسموا حوله، والإسلام لا ينقسم، ولأن الذين خرجوا عن السنة كان خروجهم ليس خروج ردة، فبقوا تحت مسمى الإسلام، لكنهم بأوصاف أخرى، والفرق معروفة ووصفت قديماً وحديثاً بأوصاف عامة، مثل: أهل الأهواء أهل البدع أهل الافتراق، فيبقون تحت مسمى الإسلام والمسلمين، وعلى هذا ليس كل المسلمين على السنة إلا من التزم هذا المنهج.وأغلب عوام المسلمين الذين لم يتلبسوا بالبدع، ولم يكن عندهم اعتقادات باطلة، بقوا على الفطرة والسلامة، فالأصل فيهم أنهم أهل السنة والجماعة حتى ولو لم يعرفوا ذلك، ولو لم يعلنوا ذلك، أو حتى ولو انتموا لبعض الفرق مجرد انتماء، وإن كان الانتماء بدعة، لكنها زلة لا تخرج الإنسان من السنة، فأغلبية عوام المسلمين نظراً لأنهم ليسوا أهل بدع في اعتقاداتهم ولا عندهم أيضاً تأصيل للبدع، تبعيتهم تبعية غير بصيرة، وأيضاً لا يمارسون البدع العملية الكثيرة، وأغلبيتهم إن شاء الله يدخلون في مسمى السنة والجماعة.
ইহকাল ও পরকালে নিরাপত্তা ও সুখ অর্জনআহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সালফে সালেহীনের আকিদা মূলত ইসলামকে তার উৎস ও পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি উম্মতের ব্যক্তি ও সমষ্টির জন্য ইহকাল ও পরকালে নিরাপত্তা ও সুখ নিশ্চিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে অন্যায়ের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা রয়েছে} [আনআম: ৮২]। আর নিরাপত্তা কেবল বাহ্যিক নিরাপত্তা নয়—যদিও এটি শরিয়তের উদ্দেশ্য—বরঞ্চ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই হলো নিরাপত্তার মূল ভিত্তি; যা হলো হৃদয়ের নিরাপত্তা, প্রাণের নিরাপত্তা এবং বুদ্ধির নিরাপত্তা। এই কারণেই দ্বীন পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন সংরক্ষণের জন্য এসেছে যা নিরাপত্তা ব্যতীত রক্ষা করা সম্ভব নয়। তা হলো: দ্বীন সংরক্ষণ, মান-সম্মান সংরক্ষণ, ধন-সম্পদ সংরক্ষণ, জীবন সংরক্ষণ এবং বুদ্ধি সংরক্ষণ। আর এই বিষয়গুলো কেবল দ্বীনের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং ইহকাল ও পরকালে নিরাপত্তা ও সুখ নিশ্চিত করতে পারে।তাই মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যে বেদনাদায়ক ঘটনাবলি, দুর্বলতা, শিথিলতা এবং অনৈক্যের শিকার হয়েছে, সে অবস্থায় সকল মুসলমানের একটি বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, আকিদার বিশুদ্ধতা ব্যতীত তাদের কোনো বিষয় সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তারা সম্মানিত হতে পারে না, বিজয়ী হতে পারে না, তাদের ঐক্য ফিরে আসতে পারে না এবং তাদের শত্রুরা লাঞ্ছিত হতে পারে না। বরং আকিদার সঠিকতা ব্যতীত তাদের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা ও সংস্কৃতিও বিকশিত হতে পারে না। অন্যান্য জাতিদের আল্লাহ দুনিয়াবী জীবন দান করতে পারেন; অমুসলিম জাতিসমূহের দুনিয়াবী উন্নতি হতে পারে এবং তাদের পার্থিব সভ্যতা থাকতে পারে, এমনকি তারা আল্লাহর শরিয়ত পালন না করলেও। কারণ আল্লাহ তাআলা কাফেরদের দুনিয়াবী জীবনের অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিন্তু মুসলমানদের সম্মান, ঐক্য, বিজয় এবং সংহতি কেবল সেই বিশ্বাসের ওপর একত্রিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব যাকে আল্লাহ তাআলা ঐক্যের ভিত্তি বানিয়েছেন, আর তা হলো সালাফী আকিদা।সুতরাং সুন্নাত ও জামায়াত বলতে স্বয়ং ইসলামকেই বোঝায় তার উৎস, মূলনীতি, ভিত্তি এবং বিধানের আলোকে। সুন্নাত ও জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দল, মাজহাব বা গোষ্ঠী নয়; বরং এটি সেই দ্বীন যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন। তাই সুন্নাহর অনুসারী বলে দাবিদার কিছু অজ্ঞ লোক যে ভুলগুলো করে, সে ব্যাপারে সতর্ক করা প্রয়োজন। যেমন: সুন্নাহকে নিছক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা বা এমন কোনো গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যার ওপর ভিত্তি করে মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে গোঁড়ামি বা বন্ধুত্ব ও শত্রুতা তৈরি হয়। আর এটিই অনেক মুসলিম ও অমুসলিমের কাছে সুন্নাত ও জামায়াতের চিত্রকে কলঙ্কিত করার কারণ হয়েছে। এই মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ একদল লোক সুন্নাত ও জামায়াতের নামে অবৈধ দলাদলি বা জোটবদ্ধ হতে পারে। অথচ সুন্নাত ও জামায়াত হলো একটি উম্মতের মানহাজ বা পদ্ধতি, যে ব্যক্তিই এই পথে চলবে সে এর অন্তর্ভুক্ত হবে; এখানে কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধভক্তি, মানুষের তৈরি কোনো মূলনীতি, কোনো সংগঠন বা কোনো জোটের প্রতি গোঁড়ামি থাকবে না। এটিই সত্য দ্বীন, আর সত্য দ্বীন কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই এর অনুসারী প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে।সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত হলো তারা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের পথকে আঁকড়ে ধরেছেন। অবশিষ্ট দলগুলো ইসলামের নামে এবং মুসলিম পরিচয়েই গণ্য হবে; এর অর্থ এই নয় যে ইসলাম বিভক্ত হয়েছে, বরং এর অর্থ হলো মুসলমানরা ইসলামের ওপর এবং ইসলামের বিষয়ে বিভক্ত হয়েছে। ইসলাম বিভক্ত হয় না। যেহেতু যারা সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের বিচ্যুতি মুরতাদ হওয়ার মতো ছিল না, তাই তারা ইসলামের পরিচয়ের মধ্যেই রয়ে গেছে, তবে অন্যান্য বিশেষণে বিশেষায়িত হয়েছে। এই দলগুলো পরিচিত এবং প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাদের সাধারণ কিছু নামে ডাকা হয়, যেমন: প্রবৃত্তিপূজারী, বিদআতী, এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী। তারা ইসলাম ও মুসলমান পরিচয়ের মধ্যেই থাকে। এই হিসেবে, সেই ব্যক্তি ব্যতীত সকল মুসলিম সুন্নাহর ওপর নেই যে এই মানহাজ বা পদ্ধতি অনুসরণ করে।সাধারণ মুসলমানদের অধিকাংশ যারা বিদআতে লিপ্ত হয়নি এবং যাদের ভ্রান্ত আকিদা নেই, তারা ফিতরাত বা স্বভাবজাত বিশুদ্ধতার ওপর বহাল আছে। তাই মূলনীতি অনুযায়ী তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি যদি তারা তা না জানে বা ঘোষণা না করে, অথবা কোনো দলের সাথে কেবল নামমাত্র সম্পৃক্ত থাকে। যদিও সেই সম্পৃক্ততা বিদআত, তবে সেটি একটি পদস্খলন যা মানুষকে সুন্নাহ থেকে বের করে দেয় না। সুতরাং সাধারণ মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যেহেতু তাদের আকিদায় বিদআতী নয় এবং তাদের মধ্যে বিদআতের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও নেই, তাদের আনুগত্য মূলত অন্ধ আনুগত্য নয় এবং তারা অধিক পরিমাণে আমলী বিদআতেও লিপ্ত নয়; ইনশাআল্লাহ তাদের অধিকাংশই সুন্নাত ও জামায়াত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قواعد في أصول التلقي ومنهج الاستدلالومن الأمور المهمة ما يتعلق بقواعد وأصول التلقي والاستدلال، وهذه من المصطلحات الحديثة، لكنها مصطلحات صحيحة، فمنهج التلقي والاستدلال مصطلح معاصر، لكنه صحيح؛ لأن معناه مصادر الدين، وكيف نستمد الدين منها، فمصادر الدين هي مصادر التلقي، وكيف نستمدها؟ هذا ما يسمى منهج الاستدلال.وعندما نقول: مصادر الدين فقد يتفق معنا أغلبية المسلمين حتى الذين وقعوا في الأهواء والبدع والافتراق على أنها مصادر الكتاب والسنة، وكل يدعي وصلاً بليلى، بل لا تجد فرقة إلا وتدعي أنها تلتزم الكتاب والسنة، لكن كل دعوة لها حقيقة، لابد أن نميز الأمور بأصول شرعية، أيضاً الحقيقة أنا أفرضها على الآخرين ولا يفرضها علي الآخرون، حقيقة تحرير مصادر التلقي مصادر الدين وكيف نستمد منها؟ هذه حقيقة لها أصول شرعية رسمها النبي صلى الله عليه وسلم ورسمها أصحابه، وهذه الحقيقة تسمى منهج التلقي والاستدلال، وتتركز في الأصول التالية:
গ্রহণ ও প্রমাণের মূলনীতির নিয়মাবলীগুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে গ্রহণ ও প্রমাণের নিয়ম ও মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়াবলি। এগুলো আধুনিক পরিভাষা হলেও সঠিক পরিভাষা। গ্রহণ ও প্রমাণের পদ্ধতি একটি সমসাময়িক পরিভাষা, তবে তা সঠিক; কারণ এর অর্থ হলো দ্বীনের উৎসসমূহ এবং কীভাবে আমরা তা থেকে দ্বীন গ্রহণ করব। দ্বীনের উৎসগুলোই হলো গ্রহণের উৎস, আর আমরা কীভাবে তা থেকে গ্রহণ করব? একেই বলা হয় প্রমাণের পদ্ধতি।যখন আমরা ‘দ্বীনের উৎস’ বলি, তখন অধিকাংশ মুসলিম—এমনকি যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ, বিদআত ও বিভেদে লিপ্ত হয়েছে তারাও—আমাদের সাথে একমত হতে পারে যে, এগুলো হলো কিতাব ও সুন্নাহর উৎস। প্রত্যেকেই লাইলার সাথে সম্পর্কের দাবি করে (অর্থাৎ সবাই নিজেকে সত্যের অনুসারী বলে দাবি করে), বরং আপনি এমন কোনো দল পাবেন না যারা কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের দাবি করে না। কিন্তু প্রতিটি দাবির একটি বাস্তবতা থাকে। আমাদের অবশ্যই শরয়ী মূলনীতির মাধ্যমে বিষয়গুলোকে পৃথক করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সত্য তাই যা আমি অন্যের সামনে পেশ করি, অন্য কেউ তা আমার ওপর চাপিয়ে দেয় না। গ্রহণের উৎস তথা দ্বীনের উৎস নিরূপণ এবং কীভাবে আমরা তা থেকে আহরণ করব—এর স্বরূপ কী? এই স্বরূপের কিছু শরয়ী মূলনীতি রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ নির্ধারণ করেছেন। এই বাস্তবতাকে গ্রহণ ও প্রমাণের পদ্ধতি বলা হয় এবং এটি নিম্নলিখিত মূলনীতিসমূহের ওপর কেন্দ্রীভূত:
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مصدر العقيدة هو الكتاب والسنة والإجماعالأصل الأول: مصدر الدين عموماً والعقيدة على وجه الخصوص، هو كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الصحيحة، وقلنا: الصحيحة؛ لأن ما لم يصح فلا يستمد منه الدين، ولا يعتبر مصدراً للدين؛ لأن الكلام عن الدين بأصوله وثوابته ومسلماته، لا الاجتهاديات، مع أن الاجتهاد أيضاً يرتكز على أدلة أحياناً في الأمور الاجتهادية، فمثلاً: مسألة الأخلاق والفضائل قد يستمد العالم بدليل ليس ثابتاً لكنه أيضاً قد يكون الدليل ضعيفاً، لكن فيه حكمة، فيعتبر على الأقل حكمة، وهذا بالأمور الاجتهادية، أما في قطعيات الدين والعقيدة والثوابت والمسلمات فلا يمكن أن يرد مصدر غير الكتاب والسنة والإجماع وإن كان الإجماع لابد أن يرتكز على الكتاب والسنة، ولذلك بحمد الله لا يوجد إجماع عند السلف لا يعتمد على النصوص؛ لأن الإجماع مبناه على الحق، ومصادر الحق: الوحي المعصوم (القرآن والسنة)، ومصادر الحق لابد أن تتضمن بعض الأصول التي تحتاج إلى استنباط، فهناك أشياء أجمع عليها السلف؛ لأنها إما أن تنبني على قاعدة جاءت بنص أو قاعدة جاءت بمجموعة نصوص، أو منهج علمي وعملي رسمه النبي صلى الله عليه وسلم في سيرته ورسمه الصحابة في سنة الخلفاء الراشدين، فصار هذا المنهج العملي إجماعاً؛ لأنه راجع إلى تطبيق الدين، وهذا يسمى منهجاً.وأيضاً إذا قلنا: إن مصادر الدين: الكتاب والسنة وإجماع السلف الصالح، فقد يرد تساؤل: أليس العقل مصدراً؟ حيث أن العقل نعمة من الله عز وجل كرم الله بها العباد، وجعلها مناط التكليف؟ نقول: العقل وسيلة لا يستقل بتقرير الدين، نعم هو مناط التكليف ووسيلة الاجتهاد، ولولا أن الله أعطانا عقولاً ما عرفنا الهدى الذي يسره الله لنا، وإن كان هذا بتوفيق الله، لكن من توفيق الله أن أعطى البشر عقولاً يهتدون بها، فهو وسيلة وليس مصدراً، وكما أن العقل السليم يدرك المجملات دون تفصيلات الأصول وتفصيلات الشرائع، فيدرك مثلاً ضرورة التزام الصدق، والدين جاء بوجوب الصدق، ويدرك خطورة الكذب، والدين جاء بتحريم الكذب، وبعض العقول المتميزة قد تدرك ضرورة البحث؛ لأنه عندما يرى حياة الناس وما فيها من تفاوت وما فيها من ظلم وما فيها من مشاكل ولأواء يدرك بعقله أنه لابد من حياة أخرى يكون فيها إنصاف وعدل، وهذا الإدراك الإجمالي للعقل، أما أن يدرك به صاحبه البعث والنشور والصراط والميزان والحوض فلا يمكن لأنها أمور غيبية بحتة، والعقل لا يدركها على جهة التفصيل.فلذلك العقل أحالنا على النص، فمادام أحالنا على النص أصبح العقل وسيلة وليس مصدراً، والعقل من مصادر العلوم الإنسانية والعلوم التجريبية، بل الله عز وجل أعطى العقل من التكاليف ما ينوء به ما يستطيع، ولذلك فإن عقول البشر التي كدت وكلت في البحث عن أسرار الكون إلى الآن ما انتهت إلا إلى جزء يسير جداً من أسرار هذا الكون.
আকিদার উৎস হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমাপ্রথম মূলনীতি: সাধারণভাবে দ্বীন এবং বিশেষভাবে আকিদার উৎস হলো আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহীহ সুন্নাহ। আমরা বলেছি: "সহীহ"; কারণ যা সহীহ নয় তা থেকে দ্বীন আহরণ করা যায় না এবং তা দ্বীনের উৎস হিসেবে গণ্য হয় না। কেননা এখানে দ্বীনের মূলনীতি, ধ্রুব সত্য এবং অকাট্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, ইজতিহাদী বিষয় নিয়ে নয়। যদিও ইজতিহাদী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে দলিলের ওপর ভিত্তি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: আখলাক ও ফযিলতের ক্ষেত্রে কোনো আলেম এমন দলিল ব্যবহার করতে পারেন যা সাব্যস্ত নয় কিন্তু দুর্বল, তবে তাতে হিকমত (প্রজ্ঞা) রয়েছে, তাই অন্তত হিকমত হিসেবে তা গণ্য হয়; এটি ইজতিহাদী বিষয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু দ্বীনের অকাট্য বিষয়, আকিদা এবং ধ্রুব সত্যের ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা ব্যতীত অন্য কোনো উৎস হওয়া সম্ভব নয়। যদিও ইজমাকে অবশ্যই কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করতে হয়। এজন্যই আল্লাহর প্রশংসায় সালফে সালেহীনের এমন কোনো ইজমা পাওয়া যায় না যা নসের (শরয়ি পাঠ) ওপর নির্ভরশীল নয়। কারণ ইজমার ভিত্তি হলো সত্যের ওপর, আর সত্যের উৎস হলো মাসুম ওহি (কুরআন ও সুন্নাহ)। সত্যের উৎসের মধ্যে এমন কিছু মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক যা থেকে মাসয়ালা ইস্তিনবাত (আহরণ) করার প্রয়োজন হয়। তাই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার ওপর সালাফগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন; কারণ সেগুলো হয় কোনো নস (পাঠ) থেকে আগত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত, অথবা একগুচ্ছ নসের সমষ্টি থেকে আগত কোনো মূলনীতি, কিংবা এমন কোনো ইলমি ও আমলি মানহাজ (পদ্ধতি) যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সীরাতে এবং সাহাবীগণ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। ফলে এই আমলি মানহাজটি ইজমায় পরিণত হয়েছে; কারণ এটি দ্বীনের প্রয়োগের সাথে সম্পৃক্ত, আর একেই মানহাজ বলা হয়।এছাড়াও আমরা যদি বলি: দ্বীনের উৎস হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং সালফে সালেহীনের ইজমা, তবে একটি প্রশ্ন আসতে পারে: আকল (বিবেক-বুদ্ধি) কি কোনো উৎস নয়? যেহেতু আকল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত যার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের সম্মানিত করেছেন এবং একেই শরয়ি দায়বদ্ধতার (তাকলীফ) ভিত্তি বানিয়েছেন। আমরা বলব: আকল একটি মাধ্যম মাত্র, এটি স্বতন্ত্রভাবে দ্বীন নির্ধারণ করতে পারে না। হ্যাঁ, এটি শরয়ি দায়বদ্ধতার ভিত্তি এবং ইজতিহাদের মাধ্যম। আল্লাহ যদি আমাদের আকল না দিতেন, তবে তিনি আমাদের জন্য যে হিদায়াত সহজ করেছেন তা আমরা চিনতে পারতাম না। যদিও এটি আল্লাহর তাওফীকের মাধ্যমেই হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকের একটি অংশ হলো তিনি মানুষকে আকল দিয়েছেন যা দ্বারা তারা পথ খুঁজে পায়। অতএব এটি একটি মাধ্যম, কোনো উৎস নয়। সুস্থ আকল যেমন কোনো বিষয়ের সারমর্ম অনুধাবন করতে পারে কিন্তু মূলনীতি ও শরীয়তের বিস্তারিত খুঁটিনাটি বুঝতে পারে না। যেমন আকল সত্যবাদিতা অবলম্বনের আবশ্যকতা বুঝতে পারে, আর দ্বীনও সত্যবাদিতা ওয়াজিব হওয়ার বিধান নিয়ে এসেছে। আকল মিথ্যাচারের ভয়াবহতা বুঝতে পারে, আর দ্বীনও মিথ্যাকে হারাম ঘোষণা করে এসেছে। কিছু প্রখর মেধাসম্পন্ন আকল হয়তো (পরকাল) অন্বেষণের আবশ্যকতা বুঝতে পারে; কারণ যখন সে মানুষের জীবন এবং এর মধ্যকার ভেদাভেদ, জুলুম, সমস্যা ও কষ্ট দেখে, তখন সে তার আকল দিয়ে বুঝতে পারে যে অবশ্যই আরেকটি জীবন থাকা প্রয়োজন যেখানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম হবে। এটি হলো আকলের একটি সামগ্রিক উপলব্ধি। কিন্তু এর মাধ্যমে আকলের অধিকারী ব্যক্তি পুনরুত্থান, হাশর, সিরাত, মীযান এবং হাওয সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে না; কারণ এগুলো সম্পূর্ণ অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয় এবং আকল এগুলো বিস্তারিতভাবে অনুধাবন করতে পারে না।তাই আকল আমাদের নস বা শরয়ি পাঠের দিকে সোপর্দ করে। যেহেতু এটি আমাদের নসের দিকে সোপর্দ করে, তাই আকল একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়, উৎস হিসেবে নয়। তবে আকল হলো মানবিক বিজ্ঞান এবং পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের অন্যতম উৎস। বরং মহান আল্লাহ আকলকে এমন অনেক দায়িত্ব দিয়েছেন যা বহন করতে সে হিমশিম খায়। একারণেই মানুষের আকল মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধানে যে পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে, তার মাধ্যমে তারা আজ পর্যন্ত এই মহাবিশ্বের রহস্যের অতি সামান্য অংশই উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التمسك بالعقيدة في زمن الفتن السؤال ما هو الطريق السليم للتمسك بعقيدة أهل السنة والجماعة في هذا الزمن الذي كثرت فيه الفتن وأصبحت البلاد تعج بها؟ الجواب أهل السنة والجماعة يجب أن يبذلوا كل وسيلة مشروعة لنشر السنة، لا لمجرد تكثير الناس وهذا مطلب شرعي، أنه كما يهتدي الناس على أيدينا هذا مطلب شرعي، لكن لأن الله أوجب ذلك، وأوجب علينا الدعوة إلى الحق والنصح للأمة، فمن مقتضى نصيحة هذه الأمة أن يسعى أهل السنة والجماعة إلى تحصيل كل وسيلة مشروعة لنصر السنة، وهي تنبني على الأسس التالية: أولاً: الدعوة بالقدوة، ولو أن أهل السنة خاصة الشباب والدعاة المتحمسين ركزوا على وجود القدوة في تعاملهم مع الله عز وجل وتعاملهم مع الخلق، وإظهار السنة على سلوكياتهم لكان هذا كافياً عن كثير مما نقوله من محاضرات وندوات ووسائل، ولذلك نجد أكبر مؤثر في نشر السنة، بل وفي نشر الإسلام أيضاً عبر التاريخ هو القدوة، والقدوة بالسنة.ثانياً: لا بد من ضرورة تحقيق الاجتماع الذي أمر الله به، والاجتماع يأخذ مراحل، وكثير من أهل السنة يطمح إلى جمع الأمة، وهذا مطمح كبير، لكن ينبغي أن يتدرج؛ لأن يجمع جهود أهل السنة للقيام بالنصيحة لباقي الأمة، ويكون ذلك بأن تتظافر الجهود لتطبيق السنة بين أهل السنة ثم القدوة ثم وسائل النشر تتكاتف الجهود وتتظافر بالوسائل المتاحة.ثالثاً: أن نشر السنة ينبني على النصيحة، وأعني بذلك أن يبتعد دعاة السنة مما يقع فيه بعضهم مع الأسف من القسوة والتشهير والعنف في الكلمة وفي التعامل، ونأخذ وصية النبي صلى الله عليه وسلم، حيث يقول: (ما كان الرفق في شيء إلا زانه، ولا نزع من شيء إلا شانه)، ويقول صلى الله عليه وسلم في حديث آخر: (إن الله ليعطي بالرفق ما لا يعطي بالعنف).
ফিতনার সময়ে আকিদাকে আঁকড়ে ধরা প্রশ্ন এই সময়ে যখন ফিতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশগুলো তাতে ছেয়ে গেছে, তখন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর আকিদাকে আঁকড়ে ধরার সঠিক পথ কোনটি? উত্তর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর উচিত সুন্নাহ প্রচারের জন্য সকল বৈধ মাধ্যম অবলম্বন করা। এটি কেবল লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়—যদিও মানুষ আমাদের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করবে এটি একটি শরয়ি উদ্দেশ্য—বরং এজন্য যে, আল্লাহ তা আবশ্যক করেছেন এবং আমাদের ওপর সত্যের দাওয়াত ও উম্মতকে নসিহত করা ফরজ করেছেন। এই উম্মতের প্রতি নসিহতের দাবি হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ সুন্নাহর সাহায্যের জন্য সকল বৈধ উপায় অর্জনে সচেষ্ট হবে। আর এটি নিম্নোক্ত ভিত্তিগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত: প্রথমত: আদর্শ আচরণের মাধ্যমে দাওয়াত। যদি আহলুস সুন্নাহর অনুসারীগণ, বিশেষ করে যুবক ও উৎসাহী দায়িগণ মহান আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্কে এবং সৃষ্টির সাথে তাদের লেনদেনে আদর্শ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করতেন এবং তাদের আচার-আচরণে সুন্নাহর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন, তবে আমরা যেসব লেকচার, সেমিনার এবং মাধ্যমের কথা বলি, তার চেয়ে এটিই যথেষ্ট হতো। এজন্য আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহর প্রসারে, এমনকি ইতিহাসের পরিক্রমায় ইসলামের প্রসারেও সবচেয়ে বড় প্রভাবশালী বিষয়টি হলো আদর্শ হওয়া, আর তা হলো সুন্নাহর ভিত্তিতে বাস্তব নমুনা হওয়া।দ্বিতীয়ত: আল্লাহ যে ঐক্যের নির্দেশ দিয়েছেন তা অর্জন করা অপরিহার্য। ঐক্য বিভিন্ন স্তরে সম্পন্ন হয়। আহলুস সুন্নাহর অনেকে সমগ্র উম্মতকে ঐক্যবদ্ধ করার আকাঙ্ক্ষা রাখেন, এটি একটি মহৎ লক্ষ্য, তবে তা ধারাবাহিকভাবে হওয়া উচিত; যাতে উম্মতের অবশিষ্ট অংশকে নসিহত করার জন্য আহলুস সুন্নাহর প্রচেষ্টাগুলোকে সুসংহত করা যায়। আর এটি তখনই সম্ভব হবে যখন আহলুস সুন্নাহর নিজেদের মধ্যে সুন্নাহর প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো হবে, অতঃপর আদর্শ নমুনা হওয়া এবং প্রচারের মাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রে উপলব্ধ উপায়গুলোর সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হবে।তৃতীয়ত: সুন্নাহর প্রসার নসিহতের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। এর দ্বারা আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, সুন্নাহর দায়িদের সেই কঠোরতা, মানহানি এবং কথা ও আচরণের উগ্রতা থেকে দূরে থাকতে হবে, যাতে দুঃখজনকভাবে তাদের কেউ কেউ নিপতিত হন। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসিয়ত গ্রহণ করি, যেখানে তিনি বলেন: "কোমলতা যে জিনিসেই থাকে তা তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে, আর যা থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তা তাকে কলঙ্কিত করে।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য একটি হাদিসে বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমলতার বিনিময়ে যা দান করেন, কঠোরতার বিনিময়ে তা দেন না।"
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وسائل المحافظة على منهج أهل السنة السؤال كيف يمكن للمسلم أن يحافظ على أن يكون من أهل السنة والجماعة في هذا الزمان الذي اختلف عن زمان أهلنا؟ الجواب المحافظة على السنة يسيرة ولله الحمد؛ لأن الله عز وجل جعلها نقية بينة وظاهرة وسهلة أيضاً؛ لأنها تحتاج إلى بذل أسباب الصدق: أولاً ينبني على التزام السنة الصدق مع الله عز وجل، والصدق في البحث عن الحق.ثانياً: تأسيس السنة والجماعة من حيث المعتقد والمنهج بالتعلم، تعلم منهج السنة والجماعة خاصة عوامهم أو الذين أخذوا السنة والجماعة بالتبعية للآباء والأجداد وما ثبتوا أصول السنة في قلوبهم عن طريق التعليم، ويحتاج من يريد أن يثبت على السنة أن يتعلم الأصول الضرورية، ولا أقصد أن يكون عالماً في العقيدة، بل يتعلم بدهيات ومسلمات الدين التي ينبني عليها عقيدة أهل السنة والجماعة.ثالثاً: النظر إلى القدوة، فالعلماء الذين يمثلون السنة والجماعة يجب أن يكونوا هم مرجعية صاحب السنة، بل يجب أن يكونوا مرجعية الأمة كلها، لكن هذا من أسباب البقاء على السنة، أن يكون العالم هو قدوتك ومرجعيتك.رابعاً: تهيئة جو المخالطة والمجالسة؛ لأن المرء بجليسه، فيحرص المسلم والمسلمة على أن تكون مخالطته ومعايشته لمن حوله مع من يلتزمون السنة؛ ليسلم من غوائل الخلطة بأهل الأهواء.
আহলুস সুন্নাহর মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমসমূহ প্রশ্ন বর্তমান যুগে, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগ থেকে ভিন্নতর, একজন মুসলিম কীভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি বজায় রাখতে পারে? উত্তর সুন্নাহর ওপর অটল থাকা সহজ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একে স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট, প্রকাশ্য এবং সহজও করেছেন; কেননা এটি অর্জনের জন্য সত্যবাদিতার উপকরণসমূহ ব্যয় করা প্রয়োজন: প্রথমত, সুন্নাহর আনুগত্যের ভিত্তি হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে সত্যনিষ্ঠ হওয়া এবং সত্য অনুসন্ধানে আন্তরিক হওয়া।দ্বিতীয়ত: জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আকিদাহ ও মানহাজের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ অথবা যারা কেবল পূর্বপুরুষদের অনুসরণে আহলুস সুন্নাহর পথ গ্রহণ করেছে এবং শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের অন্তরে সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেনি, তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যে ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর অটল থাকতে চায়, তাকে অত্যাবশ্যকীয় মূলনীতিসমূহ শিখতে হবে। আমি এমনটি বোঝাচ্ছি না যে তাকে আকিদাহ শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ আলেম হতে হবে, বরং তাকে দ্বীনের সেই স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে হবে যার ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর ভিত্তি স্থাপিত।তৃতীয়ত: আদর্শ ব্যক্তিত্বের দিকে লক্ষ্য রাখা। সুতরাং যে আলেমগণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রতিনিধিত্ব করেন, সুন্নাহর অনুসারীদের নিকট তারাই হতে হবে মানদণ্ড বা আশ্রয়স্থল। বরং তারাই হওয়া উচিত সমগ্র উম্মাহর আশ্রয়স্থল। সুন্নাহর ওপর অটল থাকার অন্যতম একটি উপায় হলো আলেমকে আপনার আদর্শ ও মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা।চতুর্থত: মেলামেশা ও ওঠাবসার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা; কারণ মানুষ তার সঙ্গীর আদর্শে প্রভাবিত হয়। তাই মুসলিম পুরুষ ও নারীদের উচিত তাদের মেলামেশা ও সাহচর্য কেবল তাদের সাথেই রাখা যারা সুন্নাহর অনুসারী; যাতে প্রবৃত্তিপূজারিদের সাথে মেলামেশার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ضابط البدعة المغلظة السؤال من يرتكب البدعة المغلظة هل يعتبر ذلك تكفيراً يا شيخ؟ الجواب لا، البدعة من حيث التقسيم تنقسم إلى ثلاثة أقسام: القسم الأول: بدعة مكفرة فهذه كفر، وتخرج صاحبها من الملة، كالشرك بالله عز وجل، ودعاء غير الله، فهذا شرك، وإن كان يدخل في منظومة البدع بالمفهوم العام، لكنها بدع شركية مخرجة من الملة، وهذا في العموم، ومع ذلك فإن إخراج الفرد يحتاج إلى تطبيق الشروط التي سبق ذكرها.القسم الثاني: البدع التي لا تخرج من الملة وهي نوعان: بدع مغلظة وهي من الكبائر، كالبدع المنهجية الكبرى، أو مغلظة بمعنى أنه ورد فيها الوعيد، وبدع صغرى، مثل بعض أنواع التوسل البدعي، وبعض التبرك البدعي التي هي محل نزاع، أو بدع إضافية، فالبدع الكبرى والبدع الصغرى لا تخرج من الملة، ويبقى صاحبها صاحب بدعة، ويقال: إنه من أهل البدع إذا تكاثرت عنده، ومن هنا نحكم على الشخص بأنه مبتدع، أولاً: لا نحكم على المسلم بأنه خرج من الملة ببدعته إلا بتطبيق الشروط.ثانياً: إذا وقع في البدعة، ولا نقل: هذا مبتدع ومن أهل الأهواء والبدع إلا عندما تجتمع هذه الشروط في وصفين: الوصف الأول: إذا كان على نهج فرقة من الفرق المبتدعة، يلتزم نهجها ويدين بها ويعتقد ما تقوله في الجملة ولو لم يكن يعرف التفاصيل؛ إذا انتمى إلى فرقة مبتدعة وتسلم بنهجها فهو مبتدع.الوصف الثاني: إذا كان صاحب البدعة تكاثرت عنده البدع، حتى أصبح هديه وسمته وسلوكه سلوك أهل البدع، فهذا يسمى مبتدعاً، أما إذا عمل بدعة صغيرة جزئية وبقية أموره على السنة فهذه زلة، ولا يقال: صاحبها مبتدع؛ لئلا ينفر من السنة، والزلة تقع من المسلم وهي من باب الخطأ.
গুরুতর বিদআতের মানদণ্ড প্রশ্নহে শায়খ, কেউ যদি গুরুতর বিদআত করে, তবে কি তা তাকফীর (কাফির হওয়া) হিসেবে বিবেচিত হবে? উত্তরনা, বিদআত বিভাজনের দিক থেকে তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম প্রকার: কুফরী বিদআত। এটি কুফর এবং এটি লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা; এটি শিরক, যদিও তা সাধারণ অর্থে বিদআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু এগুলো হলো শিরকী বিদআত যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। এটি সাধারণ বিধানের ক্ষেত্রে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করার জন্য পূর্বে বর্ণিত শর্তাবলি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।দ্বিতীয় প্রকার: সেই সকল বিদআত যা ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। এগুলো আবার দুই প্রকার: গুরুতর বিদআত যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, যেমন বড় ধরণের মানহাজী (নীতিগত) বিদআত, অথবা ‘গুরুতর’ হওয়ার অর্থ হলো সে বিষয়ে শাস্তির হুঁশিয়ারি এসেছে। এবং ছোট বিদআত, যেমন কিছু ধরণের বিদআতী উসীলা তালাশ করা এবং কিছু বিদআতী তাবাররুক যা মতপার্থক্যের বিষয়, অথবা অতিরিক্ত বিদআত। সুতরাং বড় ও ছোট বিদআতসমূহ ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, এবং লিপ্ত ব্যক্তি বিদআতী হিসেবেই গণ্য থাকে। যদি তার মাঝে বিদআতের আধিক্য দেখা দেয় তবে তাকে ‘আহলুল বিদআত’ (বিদআতী) বলা হয়। এখান থেকেই আমরা কোনো ব্যক্তির ওপর বিদআতী হওয়ার হুকুম দেই। প্রথমত: শর্তাবলি প্রয়োগ করা ছাড়া আমরা কোনো মুসলমানের বিদআতের কারণে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে বলে হুকুম দেই না।দ্বিতীয়ত: যদি কেউ বিদআতে লিপ্ত হয়, তবে আমরা তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ‘বিদআতী’ বা ‘প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতী’ বলবো না, যতক্ষণ না দুটি বৈশিষ্ট্যে এই শর্তাবলি একত্রিত হয়। প্রথম বৈশিষ্ট্য: যদি সে কোনো বিদআতী দলের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর থাকে, তাদের নীতি অনুসরণ করে, সেটিকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের সামগ্রিক মতবাদে বিশ্বাস পোষণ করে—যদিও সে বিস্তারিত বিষয়গুলো না জানে। সে যদি কোনো বিদআতী দলের সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং তাদের পদ্ধতি মেনে নেয়, তবে সে বিদআতী।দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তির কাছে যদি বিদআতের আধিক্য ঘটে, এমনকি তার পথনির্দেশ, স্বভাব ও আচরণ বিদআতীদের আচরণের মতো হয়ে যায়, তবে তাকে বিদআতী বলা হয়। কিন্তু যদি সে কোনো আংশিক ছোট বিদআত করে এবং তার অবশিষ্ট বিষয়গুলো সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে এটি একটি বিচ্যুতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদআতী বলা যাবে না, যাতে সে সুন্নাহ থেকে দূরে সরে না যায়। মুসলমানের পক্ষ থেকে বিচ্যুতি ঘটতে পারে এবং তা ভুলের পর্যায়ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মুজমালু উসূলি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
التسمي بأهل السنة وأهل الحديث السؤال بعض الجماعات المعاصرة الآن يرون أنه لا ينبغي التسمي بأهل السنة والجماعة، وإنما يتسمون بأهل الحديث، قالوا: لأن الأشاعرة يتسمون بذلك؟ الجواب هذه من الأوصاف المترادفة، فأهل السنة والجماعة أو أهل الحديث أو الطائفة المنصورة والفرقة الناجية، أو أهل الأثر والاتباع، أو سبيل المؤمنين أو الصراط المستقيم ونحو ذلك، هذه أوصاف شرعية معتبرة، ولكن متى يتسمى بها صاحب السنة ومتى لا يتسمى؟ هذا راجع إلى ظروف المسلم أو صاحب السنة في المكان الذي هو فيه، فمثلاً: عندنا في المملكة العربية السعودية وفي عموم جزيرة العرب في اليمن وفي الخليج غالبية الناس على السنة، فلا نحتاج إلى أن نأتي بتمييز آخر، لكن نجد في بلاد أخرى قد تتسمى بعض الفرق بأهل السنة والجماعة وتكون كثيرة، فيقع الخلط واللبس، فلأهل السنة أن يتميزوا بوصف شرعي صحيح دون تعصب، حتى السلفية، يعني: مثلاً قد يكون بعض الفئات يحتاج إلى أن يقول: فلان سلفي ونحن على السلفية، وإن كنت أتحفظ على هذا الإطلاق؛ لأن فيه من التشويش والحرج الشيء الكثير، لكن مع ذلك فقد نعذر بعض الذين يضطرون لاستعمال هذا الوصف إذا كان الوصف الآخر يلتبس، فمتى التبس وصف من الأوصاف الشرعية نلجأ إلى وصف آخر، والله أعلم.
আহলে সুন্নাহ এবং আহলে হাদিস নামে নামধারণ করা প্রশ্ন বর্তমানে কিছু সমসাময়িক দল মনে করে যে, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত নামে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়, বরং তাদের আহলে হাদিস নামে পরিচয় দেওয়া উচিত। তারা বলে: কারণ আশআরীগণও নিজেদের এই নামে পরিচয় দিয়ে থাকে? উত্তর এগুলো সমার্থক গুণাবলি। সুতরাং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, অথবা আহলে হাদিস, অথবা সাহায্যপ্রাপ্ত দল ও নাজাতপ্রাপ্ত দল, অথবা আহলে আছার ও অনুসরণের অনুসারী, অথবা মুমিনদের পথ কিংবা সিরাতুল মুস্তাকিম এবং এই জাতীয় নামগুলো শরয়িভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য গুণাবলি। কিন্তু সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তি কখন এই নামগুলো গ্রহণ করবেন আর কখন করবেন না? এটি নির্ভর করে ওই মুসলমান বা সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তি যে স্থানে অবস্থান করছেন সেই স্থানের পরিস্থিতির ওপর। উদাহরণস্বরূপ: আমাদের সৌদি আরবে এবং সমগ্র আরব উপদ্বীপে, ইয়ামেনে ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অধিকাংশ মানুষ সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই আমাদের আলাদা কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমরা অন্যান্য দেশে দেখি যে, সেখানে কিছু ফেরকা নিজেদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হিসেবে পরিচয় দেয় এবং তাদের সংখ্যাও অনেক বেশি, ফলে একটি সংমিশ্রণ ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়। এমতাবস্থায় আহলে সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য কোনো গোঁড়ামি ছাড়াই একটি সঠিক শরয়ি বৈশিষ্ট্য দ্বারা স্বতন্ত্র হওয়া জায়েজ। এমনকি 'সালাফি' পরিভাষার ক্ষেত্রেও; অর্থাৎ: উদাহরণস্বরূপ কোনো কোনো গোষ্ঠীর হয়তো বলার প্রয়োজন হতে পারে যে: অমুক ব্যক্তি সালাফি এবং আমরা সালাফিয়াতের ওপর আছি। যদিও আমি এই নামকরণের ব্যাপক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করি; কারণ এতে অনেক বিভ্রান্তি ও সংকীর্ণতা রয়েছে। তবুও, আমরা সেই সকল ব্যক্তিদের ওজর গ্রহণ করতে পারি যারা এই বর্ণনাটি ব্যবহার করতে বাধ্য হন যদি অন্য কোনো বর্ণনা বা নাম অস্পষ্টতা তৈরি করে। সুতরাং যখনই কোনো শরয়ি গুণাবলি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তখন আমরা অন্য একটি বর্ণনার আশ্রয় গ্রহণ করি। আল্লাহই ভালো জানেন।