(খণ্ড: ১)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصارات الإسلامية في كشف شبه النصرانية القسم: العقيدة
الكتاب: الانتصارات الإسلامية في كشف شبه النصرانية
المؤلف: سليمان بن عبد القوي بن الكريم الطوفي الصرصري، أبو الربيع، نجم الدين (ت 716هـ)
المحقق: سالم بن محمد القرني
الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الأجزاء: 2
أعدّه للشاملة/ عويسيان التميمي البصري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 ذو الحجة 1432
খ্রিস্টীয় সংশয় উন্মোচনে ইসলামি বিজয়সমূহ বিভাগ: আকাইদ
বই: খ্রিস্টীয় সংশয় উন্মোচনে ইসলামি বিজয়সমূহ
লেখক: সুলায়মান বিন আব্দুল কাবি বিন আল-কারিম আল-তুফি আস-সারসারী, আবু আল-রাবি, নাজমুদ্দীন (মৃত্যু ৭১৬ হিজরি)
গবেষক: সালিম বিন মুহাম্মদ আল-কারনি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উবাইকান - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ উওয়াইসিয়ান আল-তামিমি আল-বাসরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الانتصارات الإسلامية في كشف شبه النصرانية]ـ
المؤلف: سليمان بن عبد القوي بن الكريم الطوفي الصرصري، أبو الربيع، نجم الدين (المتوفى: 716هـ)
المحقق: سالم بن محمد القرني
الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الأجزاء: 2
أعدّه للشاملة/ عويسيان التميمي البصري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[খ্রিস্টধর্মের সংশয় নিরসনে ইসলামি বিজয়সমূহ]
লেখক: সুলাইমান বিন আব্দুল কাবি বিন আল-কারিম আত-তুফি আস-সারসারি, আবুুর রবি, নাজমুদ্দিন (মৃত্যু: ৭১৬ হিজরি)
সম্পাদক: সালেম বিন মুহাম্মদ আল-কুরানি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উবাইকান - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উওয়ায়সিয়ান আত-তামিমি আল-বাসরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
[الجزء الأول]
أولا: المقدمة- سبب اختيار الموضوع.
- أهميته العلمية.
- العمل الذي عملته في الكتاب.
[প্রথম খণ্ড]
প্রথমত: ভূমিকা- বিষয়টি নির্বাচনের কারণ।
- এর ইলমি গুরুত্ব।
- কিতাবটিতে আমি যে কাজ সম্পাদন করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
المقدمةالحمد لله الذي بعث في كل أمة رسولا ليعبدوه مخلصين له الدين وجعل خاتمهم وأفضلهم محمدا صلى الله عليه وآله وسلم أخذ العهد والميثاق على النبيين إن أدركوه في حياته ليؤمن به، وليكونن من أنصاره وأتباعه، ناداهم بأسمائهم وناده بوصف النبوة والرسالة، وأنزل عليه القرآن الكريم ومثله معه، فكان معجزة خالدة، أعجز البلغاء والفصحاء والحكماء، وتكفل الله بحفظه إلى يوم القيامة وجعله مهيمنا على الكتب قبله، وحجة على من بلغه. وجادل به أهل الكتاب فأقام عليهم الحجة ونصره الله به في إظهار دينه وأيده.
وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله- صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن اتبع هديه ونصر شريعته إلى يوم الدين وسلم تسليما كثيرا-.
أما بعد:
فإن الصراع بين الحق والباطل منذ خلق الله آدم- عليه السلام فقد كان في صراع مع إبليس الذي أمره الله بالسجود لآدم فأبى واستكبر وتوعد بإغواء آدم وذريته وَلَقَدْ خَلَقْناكُمْ ثُمَّ صَوَّرْناكُمْ ثُمَّ قُلْنا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ (11) إلى قوله تعالى: يا بَنِي آدَمَ لا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطانُ كَما أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُما لِباسَهُما لِيُرِيَهُما سَوْآتِهِما إِنَّهُ يَراكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّياطِينَ أَوْلِياءَ لِلَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ (27) «1» واستمر هذا بين حزب الله المفلحين وحزب الشيطان الخاسرين في كل عصر. وبين
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রত্যেক উম্মতের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যেন তারা একনিষ্ঠভাবে তাঁরই দ্বীন পালনের মাধ্যমে কেবল তাঁরই ইবাদত করে। আর তিনি তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে নির্ধারণ করেছেন। তিনি নবীগণের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে, যদি তাঁরা তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে পান, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারী হবেন। তিনি তাঁদেরকে (অন্যান্য নবীদের) তাঁদের নাম ধরে ডেকেছেন, আর তাঁকে (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) নবুওয়াত ও রিসালাতের গুণাবলী দ্বারা সম্বোধন করেছেন। তিনি তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন এবং তাঁর সাথে তদ্রূপ আরেকটি (সুন্নাহ) নাযিল করেছেন, যা এক চিরন্তন মুজিযা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এটি অলঙ্কারিক, বাগ্মী এবং প্রজ্ঞাবানদেরকে অক্ষম করে দিয়েছে। আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত একে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর তদারককারী ও যার কাছে এটি পৌঁছেছে তার জন্য দলিল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লাহ এর মাধ্যমেই তাঁর দ্বীনকে প্রকাশ ও বিজয়ী করার ক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য ও সমর্থন প্রদান করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল—আল্লাহর দরুদ ও অনেক অনেক সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করবে ও তাঁর শরীয়তকে সাহায্য করবে তাদের ওপর।
অত:পর:
নিশ্চয়ই সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব আল্লাহ যখন থেকে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই বিদ্যমান। তিনি ইবলিসের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলেন, যাকে আল্লাহ আদমের সামনে সিজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; কিন্তু সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং আদম ও তাঁর সন্তানদের বিভ্রান্ত করার হুমকি দিল। "আর আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, এরপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, এরপর ফেরেশতাদের বলেছি, আদমকে সিজদাহ করো; তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদাহ করল, সে সিজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না" (১১)—আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল—তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য তাদের পোশাক খুলে নিয়েছিল। নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু বানিয়েছি যারা ঈমান আনে না" (২৭)। আর এটি প্রতিটি যুগে আল্লাহর সফলকাম দল এবং শয়তানের ক্ষতিগ্রস্ত দলের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে। এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الأنبياء والمعاندين من المشركين والكافرين.
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَالْأَحْزابُ مِنْ بَعْدِهِمْ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ وَجادَلُوا بِالْباطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كانَ عِقابِ (5) وَكَذلِكَ حَقَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ أَصْحابُ النَّارِ (6) «1»
وَما نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَيُجادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْباطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوا آياتِي وَما أُنْذِرُوا هُزُواً (56) «2»
إلى أن جاءت رسالة محمد صلى الله عليه وآله وسلم فكانت خاتمة الرسالات وكانت سنة الله جارية في ذلك الصراع، ومنه الصراع الذي كان مستمرا بين نبي الله وأهل الكتاب: اليهود والنصارى، فكانوا دائما يحاولون التشكيك في القرآن الكريم وفي نبوة محمد صلى الله عليه وآله وسلم منذ نزول الوحي بمكة، ويحرض اليهود كفار قريش في انكار دعوته صلى الله عليه وآله وسلم وإثارة الشبه حول ما جاء به.
وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمانِكُمْ كُفَّاراً حَسَداً مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ ما تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (109) «3».
وَلَنْ تَرْضى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصارى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْواءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ما لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا نَصِيرٍ (120) «4».
ومن هؤلاء: النصارى الضلال الذين اتخذوا من شخص محمد صلى الله عليه وآله وسلم والقرآن
--------------------------------------------
নবীগণ এবং মুশরিক ও কাফিরদের মধ্য হতে হঠকারীরা।
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরের দলগুলোও (সত্যকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। প্রতিটি উম্মত তাদের রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা মিথ্যা দিয়ে বিতর্ক করেছিল যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম; সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি? (৫) এভাবেই কাফিরদের বিরুদ্ধে আপনার প্রতিপালকের বাণী সত্য হয়েছে যে, তারা আগুনের অধিবাসী। (৬) «১»
আমি তো রাসূলগণকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি। আর যারা কুফরি করে তারা মিথ্যা দিয়ে বিতর্ক করে, যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে এবং তারা আমার আয়াতসমূহ ও যা দিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে সেগুলোকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করেছে। (৫৬) «২»
অবশেষে মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর রিসালাত আগমন করল, যা ছিল রিসালাতসমূহের পরিসমাপ্তি। এই দ্বন্দ্বে আল্লাহর নীতিই কার্যকর ছিল; আর তারই অংশ ছিল আল্লাহর নবী এবং আহলে কিতাব—ইহুদি ও খ্রিস্টানদের—মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব। মক্কায় ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকেই তারা সর্বদা কুরআন মাজিদ এবং মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর নবুয়তের বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা করত। ইহুদিরা কুরাইশ কাফিরদেরকে তাঁর দাওয়াত অস্বীকার করার জন্য প্ররোচিত করত এবং তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন সে সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করত।
আহলে কিতাবদের অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তাদের নিজেদের পক্ষ হতে বিদ্বেষবশত চায় যে, তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় তোমাদেরকে কাফির হিসেবে ফিরিয়ে দিতে। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো ও মার্জনা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর আদেশ নিয়ে আসেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। (১০৯) «৩»।
আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার ওপর কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করেন। বলুন, নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াতই প্রকৃত হিদায়াত। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর আপনি যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। (১২০) «৪»।
আর এদের অন্তর্ভুক্ত হলো: পথভ্রষ্ট খ্রিস্টানরা, যারা মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর ব্যক্তিত্ব এবং কুরআনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الكريم والسنة المطهرة، هدفا يصوبون إليه سهامهم المسمومة، ويوجهون نحوها الدعاوى الباطلة، والمطاعن الكاذبة؛ استمروا على ذلك منذ فجر الإسلام، ولقد سجل القرآن الكريم بعض مواقفهم مع النبيّ صلى الله عليه وآله وسلم ومناظرتهم له، كما في قصة وفد نجران التي انتهت بالمباهلة التي امتنعوا منها لعلمهم بأن محمدا صلى الله عليه وآله وسلم على الحق وخوفهم أن يقصمهم الله لعنادهم ومكابرتهم وكتمانهم الحق «1».
واستمر ذلك عبر القرون التالية لعصر النبوة والخلافة الراشدة. وظل الاسلام يخوض معهم حروبا ساخنة بالسيف والقلم كما حدث في الحروب الصليبية
…والاستعمار الغربي الصليبي في أول القرن الحاضر، ولا تزال آثار هذه الحروب باقية إلى اليوم.
ولقد اشتدت الحرب الفكرية الشيطانية في هذه، الأيام واستطاعت أن تستخدم المؤسسات التعليمية والوسائل المقروّة والمرئية والمسموعة بل وتستعمل العقول الجاهلة والضالة لترويج تلك السموم والدعاوى الباطلة، والمطاعن الكاذبة التي رددها أسلاف هؤلاء النصارى الصلبيين.
لقد نهجوا في ذلك أساليب كثيرة، واتخذوا وسائل متعددة ففتحوا الجامعات اللاهوتية لدراسة الإسلام وتتبع نصوص القرآن الكريم والسنة المطهرة، والسيرة النبوية الشريفة، في محاولات جادة لإثارة الشبه والمطاعن حولها، وتخرج من هذه الجامعات مجموعة من عصابات الاستشراق والتنصير، وانطلقوا بقلوب مليئة بالحقد والتعصب، على خطط متضافرة على العمل ضد الإسلام تمدها ميزانيات ضخمة من الدول الأوروبية والأمريكية الكافرة.
--------------------------------------------
আল-কুরআনুল কারীম এবং পবিত্র সুন্নাহকে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, যার দিকে তারা তাদের বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ করে এবং এর বিরুদ্ধে মিথ্যা দাবি ও ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপ করে। ইসলামের উষালগ্ন থেকেই তারা এটি অব্যাহত রেখেছে। পবিত্র কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাদের কিছু অবস্থান এবং বিতর্কের কথা লিপিবদ্ধ করেছে, যেমন নাজরানের প্রতিনিধি দলের ঘটনা, যা মুবাহালার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছিল। তারা মুবাহালা থেকে বিরত ছিল কারণ তারা জানত যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সত্যের ওপর আছেন এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে তাদের হঠকারিতা, দম্ভ ও সত্য গোপনের কারণে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন (১)।
নবুওয়াত এবং খিলাফাতে রাশেদাহর পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও এটি অব্যাহত ছিল। ইসলাম তাদের সাথে তলোয়ার ও কলমের মাধ্যমে তুমুল যুদ্ধ চালিয়ে গেছে, যেমনটি ক্রুসেড যুদ্ধের সময় ঘটেছিল
…এবং বর্তমান শতাব্দীর শুরুতে পশ্চিমা ক্রুসেডার উপনিবেশবাদ; আর এসব যুদ্ধের প্রভাব আজও বিদ্যমান।
বর্তমান সময়ে শয়তানি বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে এবং এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পঠনযোগ্য, দৃশ্যমান ও শ্রবণযোগ্য মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে; এমনকি এই বিষবাষ্প, মিথ্যা দাবি এবং ভিত্তিহীন অপবাদগুলো প্রচারের জন্য তারা অজ্ঞ ও বিভ্রান্ত মস্তিষ্কগুলোকে ব্যবহার করছে, যা এই ক্রুসেডার খ্রিস্টানদের পূর্বসূরিরা বারবার আওড়াতো।
এ ক্ষেত্রে তারা বহু পদ্ধতি অবলম্বন করেছে এবং নানাবিধ মাধ্যম গ্রহণ করেছে। তারা ইসলাম নিয়ে গবেষণা করার জন্য এবং আল-কুরআনুল কারীম, পবিত্র সুন্নাহ ও সুমহান সীরাতুন্নবী থেকে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলেছে, যাতে এগুলোর চারপাশে সংশয় ও অপবাদ সৃষ্টির ঐকান্তিক চেষ্টা চালানো যায়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একদল প্রাচ্যবিদ ও মিশনারি গোষ্ঠী বের হয়েছে এবং তারা বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিতে পূর্ণ হৃদয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য সম্মিলিত পরিকল্পনায় মাঠে নেমেছে, যাদেরকে কাফের ইউরোপীয় ও আমেরিকান রাষ্ট্রগুলো বিশাল বাজেট সরবরাহ করছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولقد كانت لهم الآثار الكبيرة في المعاهد والمدارس، والمنشآت الطبية والدوائية، والأندية الرياضية، والجمعيات الثقافية، والملاجئ، ودور التكافل الاجتماعي، والكنيسة وتحركاتها التنصيرية.
وكان وقوف المسلمين في هذا العصر أمام هذه الحرب الضروس قليلا، فلم تتحرك الدول الإسلامية في مقابل تحركات الدول الغربية بدعم قساوستهم ومنصريهم، بل اقتصر الأمر على جهود فردية قليلة أخذت تدافع وتصد هجوم هؤلاء الأعداء عن طريق التأليف والنشر
… والمناظرات مع القساوسة، مثل مناظر الشيخ رحمة الله الهندي مع القس فندر، ومجموعة من العلماء في مصر مع مجموعة من القساوسة في السودان، ومناظرة أحمد ديدات مع بعض النصارى أخيرا.
فتركز في ذهني ضرورة الذب عن حياض الدين وعن شخص محمد صلى الله عليه وآله وسلم والقرآن الكريم والسنة المطهرة، وفضح أباطيل النصارى، وكشف خدعهم، فأخذت أبحث في تراث علماء الإسلام عن مؤلف يحقق الهدف، ليقيني بأن حجتهم أقوى، وردهم أبلغ وأعمق.
فوقع اختياري على كتاب الانتصارات الإسلامية في كشف شبه النصرانية للإمام سليمان بن عبد القوي الطوفي، وذلك للأسباب التالية:
أولا:
إن الإمام الطوفي- رحمه الله نقض في هذا الكتاب دعاوى للنصارى ما زال أحفادهم يرددونها في زماننا هذا، ويتولى كبرها طائفة من المتخصصين في جامعاتهم اللاهوتية التي أنشئت لهذا الغرض.
ইনস্টিটিউট ও বিদ্যালয়, চিকিৎসা ও ওষুধ কেন্দ্র, ক্রীড়া ক্লাব, সাংস্কৃতিক সমিতি, আশ্রয়কেন্দ্র, সামাজিক সংহতি কেন্দ্র এবং গির্জা ও তাদের ধর্মপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের বিশাল প্রভাব ছিল।
এই যুগে এই ভয়াবহ যুদ্ধের সামনে মুসলিমদের অবস্থান ছিল সামান্যই। পশ্চিমা দেশগুলো যখন তাদের পাদ্রি ও ধর্মপ্রচারকদের সমর্থন দিয়ে আসছিল, তার বিপরীতে মুসলিম দেশগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং বিষয়টি কেবল মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যারা লেখালেখি, প্রকাশনা
… এবং পাদ্রিদের সাথে বিতর্কের মাধ্যমে এই শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে শুরু করেছিলেন। যেমন— পাদ্রি ফেন্ডারের সাথে শেখ রহমতুল্লাহ আল-হিন্দীর বিতর্ক, সুদানে একদল পাদ্রির সাথে মিসরের একদল আলেমদের বিতর্ক এবং সবশেষে কিছু খ্রিষ্টানদের সাথে আহমদ দিদাতের বিতর্ক।
ফলশ্রুতিতে আমার মনে দীনের সীমানা রক্ষা, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা, পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং খ্রিষ্টানদের অসারতা ও তাদের প্রতারণা উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা দানা বাঁধে। তাই আমি ইসলামি আলেমদের ঐতিহ্যে এমন একটি রচনার সন্ধান করতে শুরু করি যা এই লক্ষ্য পূরণ করবে; কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে তাদের দলিল অনেক শক্তিশালী এবং তাদের জবাব অনেক বেশি প্রাঞ্জল ও গভীর।
অতঃপর আমি ইমাম সুলাইমান ইবন আব্দুল কাবি আত-তুফি রচিত 'আল-ইন্তিসারাত আল-ইসলামিয়্যাহ ফি কাশফি শুবাহ আন-নাসরানিয়্যাহ' বইটি নির্বাচন করি, আর তা নিম্নোক্ত কারণে:
প্রথমত:
নিশ্চয়ই ইমাম তুফি (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবে খ্রিষ্টানদের এমন সব দাবি খণ্ডন করেছেন যা তাদের উত্তরসূরিরা বর্তমান সময়েও পুনরাবৃত্তি করে চলেছে এবং তাদের ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে— যা এই উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— একদল বিশেষজ্ঞ এই কাজের মূল দায়িত্ব পালন করছে।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ثانيا:
إن في المجتمع الإسلامي بعض الجهال وأمي الفكر. ومن انخدع بما يأتي به النصارى والمنصرون من شبهات عبر ما يكتبونه وينشرونه في المجتمع الإسلامي، ويظنون أن هذه الشبهات والدعاوى الباطلة هي وليدة هذا العصر، وأن السابقين من المسلمين لا يدرون بها، وأنهم يجهلونها، وحسبوا أن النصارى فيها على شيء وما هم على شيء- والحمد لله- وما علم هؤلاء المغفلون والجهال أن النصارى ضلوا في الربوبية فقالوا: إن الخالق ثلاثة وإن الثلاثة واحد، وفي الألوهية فعبدوا عيسى- عليه السلام من دون الله، ووصفوا الله بصفات المخلوق وجعلوه إنسانا وجعلوا الإنسان إلها- تعالى الله عن قولهم علوا كبيرا- فكيف يأخذ كلامهم بعد من له أدنى تمييز.
ثالثا:
إن الإمام الطوفي- رحمه الله مشهور بذكائه وغزارة علمه وقوة حجته على المخالفين للحق تشهد بذلك كتبه في الأصول وشتى العلوم والفنون وخصوصا في مجال الجدل الذي برع فيه وألف بعض المؤلفات في ذلك، ولا شك أن من كان كذلك فهو أهل لمجادلة النصارى ورد شبهاتهم ود حض مفترياتهم وإظهار مساوئهم.
رابعا:
إنه يتحقق بإخراج هذا الكتاب ودراسته وتحقيقه الهدف النبيل في الدفاع عن الإسلام في هذه الحرب الشعواء التي يشنها أعداء الإسلام في هذا الزمان من النصارى وغيرهم من الملاحدة والمنافقين المحسوبين على الإسلام.
خاصة أن الكتاب لم يخدم خدمة علمية جيدة ولم توثق نصوصه وتخرج
দ্বিতীয়ত:
নিশ্চয়ই মুসলিম সমাজে কিছু অজ্ঞ ও চিন্তাগতভাবে অনগ্রসর ব্যক্তি রয়েছে। যারা খ্রিস্টান ও মিশনারিদের দ্বারা মুসলিম সমাজে প্রচারিত ও প্রকাশিত বিভিন্ন সংশয়ের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। তারা মনে করে যে, এই সংশয় ও বাতিল দাবিগুলো বর্তমান যুগের নতুন সৃষ্টি এবং পূর্ববর্তী মুসলিমগণ এগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না কিংবা তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন। তারা ধারণা করে নিয়েছে যে, খ্রিস্টানরা কোনো সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, অথচ তারা কোনো কিছুর ওপরই নেই—সকল প্রশংসা আল্লাহর। এই নির্বোধ ও অজ্ঞরা জানে না যে, খ্রিস্টানরা রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্ব) ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়েছে; তারা বলেছে যে, স্রষ্টা তিনজন এবং এই তিনজন মিলেই এক। তারা উলুহিয়্যাতের (উপাসনা) ক্ষেত্রেও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং আল্লাহর পরিবর্তে ঈসা আলাইহিস সালামের ইবাদত করেছে। তারা আল্লাহকে সৃষ্টির গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করেছে এবং তাঁকে মানুষে রূপান্তর করেছে, আর মানুষকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে—তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে ও সুমহান। সুতরাং যার সামান্যতম বিচারবুদ্ধি আছে, সে কীভাবে তাদের কথা গ্রহণ করতে পারে?
তৃতীয়ত:
নিশ্চয়ই ইমাম তূফী—রহিমাহুল্লাহ—তাঁর প্রখর মেধা, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সত্যের বিরোধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী যুক্তির জন্য সুপ্রসিদ্ধ। উসুল (মূলনীতি) এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখায় তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ এর সাক্ষ্য বহন করে; বিশেষ করে বিতর্কশাস্ত্রে, যেটিতে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি এই গুণের অধিকারী, তিনি খ্রিস্টানদের সাথে বিতর্ক করার, তাদের সংশয় নিরসন করার, তাদের অপবাদসমূহ খণ্ডন করার এবং তাদের ভ্রান্তিগুলো প্রকাশ করে দেওয়ার যোগ্য।
চতুর্থত:
এই গ্রন্থটি প্রকাশ, অধ্যয়ন এবং সম্পাদনার (তাহকীক) মাধ্যমে বর্তমান যুগে ইসলামের শত্রুদের—খ্রিস্টান এবং ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নাস্তিক ও মুনাফিকদের—পক্ষ থেকে পরিচালিত ভয়াবহ যুদ্ধের মোকাবিলায় ইসলামকে রক্ষা করার মহান লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষ করে এই গ্রন্থটির যথাযথ তাত্ত্বিক সেবা (খেদমত) করা হয়নি এবং এর মূল পাঠসমূহ প্রামাণ্যভাবে যাচাই ও তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ (তাখরীজ) করা হয়নি।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أحاديثه وتعرف أعلامه ليسهل على الباحث الاستفادة منه.
وسيأتى لهذا زيادة بيان- إن شاء الله- في الحديث عن أهمية الكتاب العلمية وبعض الفصول الأخرى.
وقد كان عملي في هذا البحث علي قسمين: دراسة وتحقيق:
أما القسم الدراسي فقد كان قسمين أيضا.
القسم الأول: تعريف موجز بالطوفي وعصره.
وتحته فصلان:
- الفصل الأول: ما له أثر في حياة الطوفي.
أ- الحالة السياسية: وقد تحدثت في هذه الفقرة عن الأحداث السياسية: التي كانت في زمنه وعلى الأخص حرب التتار والحروب الصليبية لما للأولى من أثر على بغداد وما حولها موطن الطوفي، ولما للثانية من أثر على الإسلام والمسلمين في جميع بلدانهم، ولأن هذه الحروب كانت من أسباب طغيان النصارى وبث أفكارهم السيئة، ورد الطوفي وغيره عليهم.
ب- الحالة الاجتماعية: وقد بنيت الحياة الاجتماعية واختلاط المسلمين بغيرهم من التتار والأتراك والنصارى وما طرأ على حياة المسلمين من التأثر بهذه الأجناس.
তার হাদিসসমূহ এবং এর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি, যাতে গবেষকদের জন্য এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়।
এর বিস্তারিত বর্ণনা—ইনশাআল্লাহ—গ্রন্থটির জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং অন্যান্য কিছু অধ্যায় আলোচনার সময় সামনে আসবে।
এই গবেষণায় আমার কাজ ছিল দুই ভাগে বিভক্ত: অধ্যয়ন ও তাহকিক (সম্পাদনা)।
আর অধ্যয়নমূলক অংশটি ছিল আবার দুই ভাগে বিভক্ত।
প্রথম অংশ: আত-তুফী এবং তাঁর যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
এর অধীনে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: আত-তুফীর জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়সমূহ।
ক- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: এই অনুচ্ছেদে আমি রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেছি, যা তাঁর যুগে ঘটেছিল; বিশেষ করে তাতার যুদ্ধ এবং ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ। কারণ, প্রথমটির প্রভাব ছিল বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর, যা ছিল আত-তুফীর আবাসভূমি। আর দ্বিতীয়টির প্রভাব ছিল সমস্ত জনপদে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর। তাছাড়া এই যুদ্ধগুলো ছিল খ্রিস্টানদের সীমালঙ্ঘন ও তাদের মন্দ চিন্তাধারা প্রচারের অন্যতম কারণ, যার প্রতিউত্তর দিয়েছেন আত-তুফী ও অন্যান্যরা।
খ- সামাজিক প্রেক্ষাপট: আমি এখানে সামাজিক জীবন এবং তাতার, তুর্কি ও খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের মেলামেশা এবং এসব জনগোষ্ঠীর প্রভাবে মুসলমানদের জীবনে যে পরিবর্তনগুলো সূচিত হয়েছিল, তা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ج- الحالة الثقافية والفكرية: أوضحت فيها اتساع الثقافة الإسلامية وازدهارها رغم العوائق الكبيرة والصعبة التي كانت في طريقها وكيف صمد العلماء أمام تلك العقبات والمشكلات وردوا كيد أصحابها في نحورهم.
الفصل الثاني: حياة الطوفي
وقد كان الحديث في هذا الفصل عن:
1 - مولده ونسبه.
2 - كنيته ولقبه.
3 - نشأته وأسرته.
4 - طلبه للعلم وفقهه.
5 - أثاره العلمية ومصنفاته.
6 - شيوخه وتلامذته.
7 - عقيدته ومذهبه.
8 - وفاته وأقوال الناس فيه.
وقد توسعت قليلا في موضوع الطوفي وعقيدته فتحدثت فيه عن أمور مهمة:
الأمر الأول: اتهام الطوفي بالرفض، وقد بينت من خلال كتبه وما فهمته في هذا الموضوع أن الاتهام غير صحيح وليس عليه دليل.
গ- সাংস্কৃতিক ও তাত্ত্বিক অবস্থা: এতে আমি ইসলামি সংস্কৃতির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি স্পষ্ট করেছি, যদিও এর পথে বিশাল ও কঠিন সব বাধা বিদ্যমান ছিল; এবং ওলামায়ে কেরাম কীভাবে সেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার মোকাবিলায় অবিচল ছিলেন এবং চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তা তুলে ধরেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তূফী-র জীবন
এই অধ্যায়ে যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:
১ - তাঁর জন্ম ও বংশপরিচয়।
২ - তাঁর উপনাম ও উপাধি।
৩ - তাঁর বেড়ে ওঠা ও পরিবার।
৪ - তাঁর ইলম অন্বেষণ ও ফিকহ।
৫ - তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান ও রচনাবলি।
৬ - তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
৭ - তাঁর আকীদা ও মাযহাব।
৮ - তাঁর মৃত্যু ও তাঁর সম্পর্কে মানুষের মন্তব্য।
আমি তূফী ও তাঁর আকীদা বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছি:
প্রথম বিষয়: তূফীর বিরুদ্ধে রাফেযী হওয়ার অভিযোগ। আমি তাঁর লিখিত কিতাবসমূহ এবং এই বিষয়ে আমার উপলব্ধির আলোকে স্পষ্ট করেছি যে, এই অভিযোগটি সঠিক নয় এবং এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الأمر الثاني: موقف الطوفي من توحيد الأسماء والصفات وقد ظهر لي أنه يوافق الأشاعرة في بعض مذهبهم. وقد نقلت ما يؤيد ذلك من كتبه.
الأمر الثالث: موقف الطوفي من المصلحة المرسلة ومخالفته لجمهور الفقهاء والأصوليين واستقلاله بقوله الخاص في ذلك.
الأمر الرابع: موقف الطوفي من خبر الآحاد. والقول الحق في ذلك وصلة هذا بقوله في المصلحة المرسلة.
أما القسم الثاني:
فقد تحدثت فيه عن الأمور التالية:
1) - اسم الكتاب ونسبته إلى الطوفي.
2) - سبب تأليف الطوفي لكتاب الانتصارات.
3) زمن ومكان تأليف الكتاب.
4) منهج الطوفي فيه.
5) مقارنة هذا الكتاب بغيره مما كتب في الرد على النصارى.
6) المصادر التي اعتمد عليها الطوفي في تأليف هذا الكتاب.
7) أهمية هذا الكتاب العلمية.
8) وصف النسخ الخطية التي اعتمدتها في التحقيق، وقد بينت في ذلك
দ্বিতীয় বিষয়: আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) তাওহিদের বিষয়ে তুফির অবস্থান; এবং আমার নিকট এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে তিনি তাঁদের মাযহাবের কিছু ক্ষেত্রে আশআরিগণের সাথে একমত হয়েছেন। আর আমি তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে এর সপক্ষে প্রমাণাদি উদ্ধৃত করেছি।
তৃতীয় বিষয়: মাসলাহা মুরসালাহ্ (অনির্ধারিত জনকল্যাণ) প্রসঙ্গে তুফির অবস্থান এবং জমহুর ফকিহ ও উসুলবিদগণের সাথে তাঁর মতবিরোধ ও এ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব স্বতন্ত্র মত।
চতুর্থ বিষয়: খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) সম্পর্কে তুফির অবস্থান। এ বিষয়ে সঠিক বক্তব্য এবং মাসলাহা মুরসালাহ্ সম্পর্কে তাঁর মতের সাথে এর যোগসূত্র।
দ্বিতীয় অংশ প্রসঙ্গে:
এতে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি:
১) - গ্রন্থের নাম এবং তুফির প্রতি এর সম্বন্ধ।
২) - তুফি কর্তৃক 'আল-ইনতিসারাত' গ্রন্থটি রচনার কারণ।
৩) গ্রন্থটি রচনার সময় ও স্থান।
৪) এতে তুফির অনুসৃত পদ্ধতি।
৫) খ্রিস্টানদের খণ্ডনে রচিত অন্যান্য গ্রন্থের সাথে এই গ্রন্থের তুলনা।
৬) এই গ্রন্থটি রচনায় তুফি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন।
৭) এই গ্রন্থের ইলমি গুরুত্ব।
৮) তাহকিকের ক্ষেত্রে আমি যেসব পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বিবরণ, এবং আমি তাতে স্পষ্ট করেছি...
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الأخطاء التي ارتكبها الدكتور أحمد حجازي السقا في إخراجه الكتاب أثناء إعداد البحث، واعتزالياته وانكاره للسنة والطعن فيها، وأن ذلك سبب في تشويه الكتاب والحط من قيمته العلمية.
أما القسم الثاني من العمل فهو القسم التحقيقي وقد كان على النحو التالي:
1 - حققت نص الكتاب وذلك بمقابلته ومراجعته على ثلاثة أصول خطية.
وقد تبين أن هناك فروقا بينها، وأثبت ما يكون ساقطا من بعضها، واخترت ما أراه هو الصواب من ألفاظ تلك النسخ. وأشرت إلى ذلك في الهامش.
2 - أثبت الفوارق بين النسخ في الهامش وهي قليلة- بحمد الله- وصححت أخطاء النساخ النحوية والاملائية الواردة في النص.
3 - عزوت النصوص إلى مصادرها.
4 - رقمت الآيات القرآنية الكريمة.
5 - وثقت ما نقله المؤلف من كتب العهدين القديم والحديث.
6 - شرحت المصطلحات والمفردات الغريبة.
7 - علقت على بعض المسائل التي رأيت أنها بحاجة إلى ذلك.
8 - خرجت الأحاديث النبوية الشريفة، واجتهدت في الحكم على أسانيدها إن لم تكن في الصحيحين أو لم يصححها أحد من العلماء أو من الدارسين لأسانيد تلك الأحاديث.
ডক্টর আহমদ হিজাজি আস-সাক্কা গবেষণা প্রস্তুতির সময় কিতাবটি সম্পাদনায় যেসব ভুল করেছেন, তার মুতাজিলাপন্থী মতাদর্শ, সুন্নাহর প্রতি তার অস্বীকৃতি ও এর সমালোচনা; এবং এ বিষয়গুলো যে কিতাবটির বিকৃতি ও এর ইলমি মর্যাদা হ্রাসের কারণ হয়েছে।
কাজের দ্বিতীয় অংশটি হলো তাহকিক (গবেষণা ও সম্পাদনা) বিভাগ, যা নিম্নরূপ ছিল:
১ - আমি কিতাবের মূল পাঠ্যটি তিনটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাহকিক করেছি।
এটি স্পষ্ট হয়েছে যে সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান, এবং কোনো কোনোটি থেকে যা বাদ পড়েছিল আমি তা সংযোজন করেছি। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর শব্দাবলির মধ্য থেকে যেটিকে আমি সঠিক মনে করেছি সেটি নির্বাচন করেছি। আর তা আমি টীকায় উল্লেখ করেছি।
২ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যসমূহ টীকায় সাব্যস্ত করেছি, যা -আল্লাহর প্রশংসায়- সংখ্যায় খুবই কম। এছাড়া মূল পাঠ্যে বিদ্যমান লিপিকারদের ব্যাকরণগত ও বানানগত ভুলগুলো সংশোধন করেছি।
৩ - আমি উদ্ধৃতিগুলোকে তাদের মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি।
৪ - আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান করেছি।
৫ - লেখক ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্টের কিতাবসমূহ থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, আমি তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই বা তথ্যসূত্র নিশ্চিত করেছি।
৬ - আমি পরিভাষা ও অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি।
৭ - আমি এমন কিছু বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি যেগুলোকে আমি প্রয়োজনীয় মনে করেছি।
৮ - আমি হাদিসে নববি সমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং সেগুলোর সনদের মান নির্ধারণের চেষ্টা করেছি, যদি সেগুলো সহিহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) না থাকে অথবা উলামায়ে কেরাম কিংবা হাদিসের সনদ গবেষকদের কেউ যদি তা সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত না করে থাকেন।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
9 - عرفت بالأماكن والبقاع والأعلام والفرق والملل.
10 - وضعت فهارس عامة للآيات القرآنية والأحاديث والآثار والأعلام والأماكن والبقاع المذكورة في البحث والمصطلحات والمفردات الغريبة، والأمثال العربية، والأشعار، والفرق والملل، وفقرات الكتب التي بأيدي النصارى، والمصادر والمراجع، وموضوعات الدراسة والكتاب.
وعلى العموم فقد أفرغت جهدي وطاقتي في هذا البحث متوخيا الدقة وسبل التحقيق، راجيا الثواب من رب العباد، وأسأل الله تعالى أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به الإسلام والمسلمين، وأن يظهر الحق ويدحر المشركين والملحدين والضالين ومن في قلبه مرض.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم
كتبه:
سالم بن محمد القرني- عفا الله عنه- الرياض 18/ 10/ 1407 هـ
9 - আমি স্থানসমূহ, ভূখণ্ডসমূহ, প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দল ও ধর্মমতগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।
10 - আমি গবেষণায় উল্লিখিত কুরআনের আয়াত, হাদিস, আসার (সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণী), প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, স্থান ও ভূখণ্ডসমূহ, পরিভাষা ও দুর্লভ শব্দাবলি, আরবি প্রবাদসমূহ, কবিতা, দল ও ধর্মমতসমূহ, নাসারাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবসমূহের অনুচ্ছেদসমূহ, উৎস ও তথ্যসূত্র এবং এই গবেষণা ও গ্রন্থের বিষয়বস্তুর জন্য সাধারণ নির্ঘণ্ট (সূচি) প্রস্তুত করেছি।
সামগ্রিকভাবে, আমি এই গবেষণায় যথাযথ সতর্কতা ও অনুসন্ধানের পথ অনুসরণ করে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করেছি। আমি বান্দাদের রবের নিকট প্রতিদানের আশা করছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই আমলটিকে একান্তই তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন, এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন, সত্যকে বিজয়ী করেন এবং মুশরিক, নাস্তিক, পথভ্রষ্ট ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তাদের পরাভূত করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন:
সালিম বিন মুহাম্মাদ আল-কুরানি —আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন— রিয়াদ ১৮/১০/১৪০৭ হিজরি।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ثانيا: قسم الدراسة1 - تعريف موجز بالمؤلف وعصره
الفصل الأول
1 - الحالة السياسية.
ب- الحالة الاجتماعية.
ح- الحالة الفكرية والثقافية.
দ্বিতীয়ত: অধ্যয়ন অংশ১ - লেখক এবং তাঁর যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
প্রথম অধ্যায়
১ - রাজনৈতিক অবস্থা।
খ- সামাজিক অবস্থা।
গ- বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ثانيا: الدراسة
1 - تعريف موجز بالطوفي وعصره:
الفصل الأول: ما له أثر في حياة الطوفي:لا بد أن يكون للبيئة التي يعيش فيها المرء أثر واضح في شخصيته فيظهر ذلك في سلوكه وفكره وإنتاجه واهتمامه، وتختلف البيئات من حيث تأثيرها، ونوعيته، فبعضها أقوى في التأثير من البعض الآخر، فالذي يعيش في البيئة العلمية الجدلية يكون أقوى ممن يعيش في غيرها من حيث قوة المناظرة والمجادلة والإدلاء بالحجة والبراهين، والمران على إقناع الخصم أو إفحامه.
والبيئة التي تجتمع فيها المؤثرات العلمية والسياسية والاجتماعية ينشأ فيها نماذج من نوع خاص، استجابة للمؤثرات المختلفة.
ولهذا أرى أنه عند دراسة شخصية الطوفي لا بد من التعرف على بيئته وعلى المؤثرات التي تسودها حتى يتسنى لنا الحكم على شخصيته بصورة واضحة ودقيقة.
وعند النظر في تاريخ حياة الطوفي نجد أنه عاش في الفترة من سنة سبع وخمسين وستمائة من الهجرة النبوية وهو العام الذي ولد فيه إلى سنة سبعمائة وست عشرة من الهجرة، وهي السنة التي مات فيها ولذلك فإن الحديث عن ما له أثر في حياته سيكون في نقاط ثلاث:
দ্বিতীয়: গবেষণা
১ - তুফী এবং তাঁর যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তুফীর জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়াবলি:একজন ব্যক্তি যে পরিবেশে বসবাস করেন, তার ব্যক্তিত্বে সেই পরিবেশের একটি সুস্পষ্ট প্রভাব থাকা অনিবার্য; যা তার আচরণ, চিন্তা, কর্ম ও আগ্রহের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। প্রভাবের গভীরতা ও প্রকৃতির দিক থেকে পরিবেশের ভিন্নতা রয়েছে; কোনো কোনো পরিবেশের প্রভাব অন্যগুলোর তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়। ফলে যারা জ্ঞানতাত্ত্বিক ও তাত্ত্বিক বিতর্কবহুল পরিবেশে বাস করেন, তারা বিতর্ক পরিচালনা, প্রমাণাদি উপস্থাপন এবং প্রতিপক্ষকে আশ্বস্ত করতে কিংবা নিরুত্তর করতে অন্যদের চেয়ে অধিক পারঙ্গম হয়ে থাকেন।
আর যে পরিবেশে জ্ঞানতাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকসমূহ একত্রিত হয়, সেখানে বিভিন্ন প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ ধরনের আদর্শ ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।
এই কারণে আমি মনে করি যে, তুফীর ব্যক্তিত্ব পর্যালোচনার সময় তাঁর পরিবেশ এবং সেখানে বিদ্যমান প্রভাবকসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমরা একটি স্পষ্ট ও নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি।
তুফীর জীবন ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তিনি হিজরি ৬৫৭ সাল (যে বছর তিনি জন্মগ্রহণ করেন) থেকে হিজরি ৭১৬ সাল (যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন) পর্যন্ত সময়কালে জীবিত ছিলেন। তাই তাঁর জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা তিনটি পয়েন্টে উপস্থাপিত হবে:
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ا- الحالة السياسية:
شهدت الفترة المتقدمة على ولادة الطوفى كثيرا من الأحداث التي أثرت على المسلمين تأثيرا مؤلما. فقد كانت هناك الحروب الصليبية الشرسة التي اشتعلت نارها في آخر المائة الخامسة من الهجرة، واستمرت نحو قرنين من الزمان «1»، أظهر فيها الصليبيون حقدهم على الإسلام والمسلمين، وغيرها من المدن الإسلامية في بلاد الشام والأندلس، واشتبك معهم المسلمون في معارك كثيرة في بلاد الشام ومصر وإفريقية وغيرها.
وقد ذكر المؤرخون عدة أسباب لهذه الحروب منها:
1 - تدهور الحالة الاقتصادية في أوربا في القرن الخامس والسادس الهجريين، مما حدا بالنصارى إلى الزحف على بلاد إفريقية والشام «2».
2 - استنجاد صاحب القسطنطينية «الأرثوذكسي» بملوك أوربا النصارى ضد السلاجقة الذين فرضوا عليه الضرائب، على أن يتنازل عن أرثوذكسيته «3».
3 - أن بعض حجاج بيت المقدس من النصارى كانوا يلقون سوء معاملة من المسلمين أثناء وجودهم في القدس، وكان منهم" بطرس السائح أو الناسك" الذي اتجه إلى البابا" أوبانس الثاني" وصور له تلك الحال، وطلب منه تخليص أرض المسيح من أيدي المسلمين، حتى ألهب حماسهم لذلك «4».
--------------------------------------------
১- রাজনৈতিক অবস্থা:
তুফি-এর জন্মের পূর্ববর্তী সময়কাল এমন বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল যা মুসলিমদের ওপর অত্যন্ত বেদনাদায়ক প্রভাব ফেলেছিল। মূলত সেখানে ভয়াবহ ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়েছিল যার অগ্নিশিখা পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে প্রজ্বলিত হয় এবং তা প্রায় দুই শতাব্দীকাল স্থায়ী হয়েছিল «১»; এতে ক্রুসেডাররা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি তাদের চরম বিদ্বেষ প্রকাশ করেছিল। সিরিয়া (শাম), আন্দালুস ও অন্যান্য মুসলিম নগরীতে তারা এই বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং সিরিয়া, মিশর, আফ্রিকা ও অন্যান্য স্থানে মুসলিমরা তাদের সাথে বহু যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
ঐতিহাসিকগণ এই যুদ্ধগুলোর বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে ইউরোপের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি, যা খ্রিস্টানদের আফ্রিকা ও সিরিয়ার (শাম) দিকে ধাবিত হতে প্ররোচিত করেছিল «২»।
২ - কনস্টান্টিনোপলের 'অর্থোডক্স' অধিপতি কর্তৃক সেলজুকদের বিরুদ্ধে ইউরোপের খ্রিস্টান রাজাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা, কারণ তারা (সেলজুকরা) তার ওপর কর আরোপ করেছিল; বিনিময়ে তিনি তার অর্থোডক্স মতবাদ ত্যাগ করার শর্ত দিয়েছিলেন «৩»।
৩ - বায়তুল মাকদিসে আসা কিছু খ্রিস্টান তীর্থযাত্রী জেরুজালেমে অবস্থানকালে মুসলিমদের পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হতেন; তাদেরই একজন ছিলেন "পিটার দ্য হারমিট" (বুতরুস আস-সাইয়িহ বা আন-নাসিক), যিনি পোপ "দ্বিতীয় আরবান"-এর কাছে গিয়ে সেই পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন এবং মুসলিমদের হাত থেকে মসীহ্-এর ভূমি মুক্ত করার অনুরোধ জানান, যা তাদের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছিল «৪»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
4 - ولكن هناك سبب رئيس جدير بالمعرفة أشار إليه ابن تيمية «1» - رحمه الله تعالى- في رسالته «الفرقان بين الحق والباطل» ص 145 ط المدني بالقاهرة، قال:" فلما ظهر النفاق والبدع والفجور المخالف لدين الرسول، سلطت عليهم الأعداء، فخرجت الروم النصارى إلى الشام والجزيرة مرة بعد مرة
…إلى أن قال:" وكان أهل الشام بأسوإ حال بين الكفار والنصارى والمنافقين الملاحدة" اه.
ولعل تلك الأسباب مجتمعة هي التي سببت هذه الحرب غير أنها كانت عقدية قبل أن تكون اقتصادية: ولَنْ تَرْضى عَنْكَ الْيَهُودُ ولَا النَّصارى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدى ولَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْواءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ما لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ ولا نَصِيرٍ (120) «2»
وكانت حال المسلمين السياسية طوال فترة الحروب الصليبية وقبلها عاملا مشجعا لاستمرار حرب النصارى الإفرنج، فقد انشغل الحكام المسلمون بالتنافس على الملك وضرب بعضهم بعضا من أجل ذلك؛ بل وصل الأمر إلى أن بعضهم كان يعطي بعض التنازلات للنصارى في بعض المدن والمناطق مقابل حمايته أو إعانته على أخيه المسلم الذي ينافسه على الملك «3».
واستمرت هذه الحروب إلى سنة 691 هـ، أي قبل وفاة الطوفي بست وعشرين سنة.
--------------------------------------------
4 - তবে জানার যোগ্য একটি প্রধান কারণ রয়েছে যেটির দিকে ইবনে তাইমিয়া «১» -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- কায়রোর আল-মাদানি সংস্করণ থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল’ নামক রিসালার ১৪৫ পৃষ্ঠায় ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: "যখন রাসূলের দ্বীনের পরিপন্থী নিফাক (কপটতা), বিদআত (নবউদ্ভাবন) এবং ফুজুর (পাপাচার) প্রকাশ পেল, তখন তাদের ওপর শত্রুদের চাপিয়ে দেওয়া হলো। ফলে রোমান খ্রিস্টানরা সিরিয়া ও জাজিরা অভিমুখে বারবার আক্রমণ শুরু করল
…এক পর্যায়ে তিনি বলেন: "সিরিয়ার অধিবাসীরা কাফির, খ্রিস্টান এবং নাস্তিক মুনাফিকদের মাঝে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় ছিল।" (সমাপ্ত)
সম্ভবত এই কারণগুলো সম্মিলিতভাবেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল, তবে এটি অর্থনৈতিক হওয়ার আগে মূলত আকিদাগত যুদ্ধ ছিল: "আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ) অনুসরণ করেন। আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর হিদায়াতই হলো প্রকৃত হিদায়াত। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর আপনি যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে আপনাকে রক্ষা করার মতো কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না" (১২০) «২»
ক্রুসেড যুদ্ধের পুরো সময়কাল এবং তার পূর্ববর্তী সময়ে মুসলমানদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি উৎসাহব্যঞ্জক কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। কারণ মুসলিম শাসকরা রাজত্ব লাভের প্রতিযোগিতায় এবং একে অপরকে আঘাত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন; এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের সুরক্ষা অথবা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাহায্য পাওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে খ্রিস্টানদের হাতে সুবিধা বা ছাড় তুলে দিচ্ছিলেন «৩»।
এই যুদ্ধসমূহ ৬৯১ হিজরি পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, অর্থাৎ আল-তুফির মৃত্যুর ২৬ বছর পূর্ব পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وليست الأحداث السياسية في عصر الطوفي منحصرة في هذه الحرب ولا فيما فعله النصارى من خراب البلاد والمدن، والتجبر والفساد في الأرض الإسلامية، ولكن تعرض المسلمون وبلادهم إلى أمر عظيم لا يقل سوءا عن الحروب الصليبية، بل هو أمرّ وأحلك من ذلك الأمر. هو غزو التتار الذين أسقطوا الخلافة الإسلامية ودمروا المدن العامرة، وقتلوا الأنفس البريئة، حتى سالت الدماء في كل موطن دخلوه، من شدة فتكهم بالعباد، وكثرة قتلهم لهم.
ففي سنة 656 هـ أي قبل ولادة الطوفي بعام واحد تقريبا تعرضت دار الخلافة" بغداد" لهجوم التتار الذي غير معالمها وجمالها وبهاءها، وألبسها ثوب الحزن والهوان، بعد أن كانت منارة إشعاع العلم والمعرفة، ومركز المدنية والحضارة، ودارا للخلافة أكثر من خمسمائة سنة.
وكان دخولهم إليها بمساعدة وتدبير الرافضي الخبيث ابن العلقمي «1» الذي كان وزيرا للمستعصم بالله «2» آخر خلفاء بني العباس في بغداد فقد كان متعصبا لطائفته متحاملا على أهل السنة، فجاء بالتتار ظنا منه أنه سيكسب بذلك التأييد لطائفته وستصبح له ولها السيادة والزعامة على غيرهم.
ولكن الله أخزاه وفضحه فلم يظفر من خيانته بما يسره، بل لقد ندم أشد الندم، لأنه فقد ما كان فيه من الصولة والعزة التي كان يتمتع بها أيام الخليفة العباسي، وأهانته التتار حتى مات مغموما «3».
--------------------------------------------
তুফীর যুগের রাজনৈতিক ঘটনাবলী কেবল এই যুদ্ধ কিংবা খ্রিস্টানদের দ্বারা দেশ ও নগর ধ্বংস করা এবং মুসলিম ভূখণ্ডে তাদের জবরদস্তি ও ফাসাদ সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মুসলমান ও তাদের দেশসমূহ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল যা ক্রুসেড যুদ্ধের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না, বরং তা ছিল তার চেয়েও তিক্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। তা হলো তাতারদের আক্রমণ, যারা ইসলামি খিলাফতের পতন ঘটিয়েছিল এবং আবাদকৃত শহরগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল, আর নিরপরাধ প্রাণ হত্যা করেছিল। এমনকি তারা যেখানেই প্রবেশ করেছে, সেখানেই রক্তের বন্যা বয়ে গেছে; বান্দাদের প্রতি তাদের চরম নিষ্ঠুরতা ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কারণে।
৬৫৬ হিজরি সনে, অর্থাৎ তুফীর জন্মের প্রায় এক বছর আগে, খিলাফতের কেন্দ্রবিন্দু ‘বাগদাদ’ তাতারদের আক্রমণের শিকার হয়, যা এর বৈশিষ্ট্য, সৌন্দর্য ও মহিমা পরিবর্তন করে দেয় এবং একে শোক ও অপমানের চাদরে আবৃত করে। অথচ এটি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় ধরে খিলাফতের রাজধানী।
আর সেখানে তাদের প্রবেশ ঘটেছিল খবীস রাফেজি ইবনুল আলকামী «১» এর সাহায্য ও ষড়যন্ত্রে, যে বাগদাদের আব্বাসীয় বংশের সর্বশেষ খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহর «২» উজির ছিল। সে তার নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি চরম অন্ধবিশ্বাসী এবং আহলে সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ছিল। ফলে সে তাতারদের নিয়ে আসে এই ধারণায় যে, এর মাধ্যমে সে তার সম্প্রদায়ের জন্য সমর্থন লাভ করবে এবং অন্যদের ওপর তার ও তার দলের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
কিন্তু আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করলেন। ফলে সে তার বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, বরং সে চরমভাবে অনুতপ্ত হয়েছিল। কারণ আব্বাসীয় খলিফার আমলে সে যে শৌর্য-বীর্য ও সম্মান ভোগ করত, তা সে হারিয়ে ফেলেছিল এবং তাতাররা তাকে এমনভাবে অপমানিত করেছিল যে, শেষ পর্যন্ত সে চরম মনস্তাপে মৃত্যুবরণ করে «৩»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
عند ما دخل التتار بغداد قتلوا الخليفة ومن ظفروا به معه من العلماء، والوزراء، والقواد والعباد، حتى أن عدد القتلى بلغ ما يقارب ألف ألف نسمة، حتى سال الدم مثل الأنهر في الشوارع، وكثرت الجثث وأصبحت الخيل تدوسها من كثرة انتشارها في الطرقات، وفسد الهواء من رائحتها، وانتشر الوباء بسببها حتى وصل إلى الشام كما يقال «1».
واعتدوا على التراث الإسلامي في بغداد ورموه في النهر حتى أن ماءه اسودّ من كثرة تلك الكتب.
وبقي التتار فيها على تلك الحال يعيثون ويقتلون أربعين يوما، ثم رحل قائدهم هولاكو عنها وعين من ينوب عنه في حكم بغداد وما حولها.
وقد وصف ابن الأثير «2» هذا الحدث في كتابه الكامل في التاريخ (12/ 36) وصفا مبكيا ومحزنا.
وبقيت بلاد المسلمين بلا خلافة إلى عام 659 هـ ثم نصّب المستنصر بالله «3» في مصر، وبقي حكم العراق تحت أيدي التتار طوال حياة الطوفي.
ولم تستقر الأمور إبان حكمهم بل كانوا متناحرين فيما بينهم على السلطة وهكذا كانت حالة العراق، بلد الطوفي فإنه إن سلم ولو قليلا من أذى الصليبيين
--------------------------------------------
তাতারীরা যখন বাগদাদে প্রবেশ করল, তারা খলিফা এবং তাঁর সাথে থাকা আলেম, মন্ত্রী, সেনাপতি ও ইবাদতগুজারদের যাকে পেল তাকেই হত্যা করল। এমনকি নিহতের সংখ্যা প্রায় দশ লক্ষে গিয়ে পৌঁছাল। রাজপথগুলোতে নদীর মতো রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। লাশের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেল যে, রাস্তাঘাটে সেগুলো ছড়িয়ে থাকার কারণে ঘোড়াগুলো লাশের ওপর দিয়ে চলতে লাগল। লাশের পচা গন্ধে বাতাস দূষিত হয়ে গেল এবং এর ফলে মহামারি ছড়িয়ে পড়ল, যা বলা হয়ে থাকে যে সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল «১»।
তারা বাগদাদে ইসলামী ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ চালাল এবং সেগুলো নদীতে নিক্ষেপ করল, এমনকি সেই বিপুল সংখ্যক কিতাবের কারণে নদীর পানি কালো হয়ে গিয়েছিল।
তাতারীরা সেখানে চল্লিশ দিন যাবত এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চালাতে থাকল। এরপর তাদের নেতা হালাকু খাঁ সেখান থেকে প্রস্থান করল এবং বাগদাদ ও এর আশপাশের এলাকা শাসনের জন্য তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করল।
ইবনুল আসীর «২» তাঁর ‘আল-কামিল ফিত তারিখ’ (১২/৩৬) গ্রন্থে এই ঘটনার অত্যন্ত করুণ ও বেদনাদায়ক বর্ণনা দিয়েছেন।
৬৫৯ হিজরি পর্যন্ত মুসলিম ভূখণ্ড খিলাফতবিহীন ছিল। এরপর মিশরে আল-মুস্তানসির বিল্লাহকে «৩» খলিফা নিযুক্ত করা হয়। আর তুফীর সারা জীবন জুড়ে ইরাকের শাসনভার তাতারীদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
তাদের শাসনামলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না, বরং তারা ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। তুফীর দেশ ইরাকের অবস্থাও এমনই ছিল; যা ক্রুসেডারদের ক্ষতি থেকে সামান্য নিস্তার পেলেও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فإن هؤلاء التتار قد جعلوا حاله وحال أهله أسوأ من حال بقية المسلمين مع الصليبيين في الشام ومصر.
ولم يكن أذى التتار وهجومهم وحروبهم مع المسلمين مقصورا على العراق بل امتد ذلك إلى الشام فعبروا نهر الفرات أيام حكم آخر سلاطين الأيوبيين ووصلوا إلى حلب عام 658 هـ وحاصروها ثم سلمت إليهم بشرط الأمان فخانوا العهد وفتكوا بالمسلمين وفعلوا قريبا من فعلتهم في بغداد، ثم دخلوا دمشق بيسر وسهولة ودون مقاومة «1».
ثم كانت بينهم وبين الظاهر بيبرس «2» موقعة عين جالوت التي انتصر فيها المسلمون نصرا محققا ولاحقوا التتار حتى أخرجوهم من حلب «3»، واستمرت الحرب بين المسلمين والتتار حتى بعد انتهاء الحروب الصليبية بل استمرت إلى ما بعد وفاة الطوفي سنة 716 هـ.
وفي أثناء تلك الحروب الصليبية والتترية لم تسلم البلاد الإسلامية من الانقسام والاختلاف والاقتتال بين السلاطين، بل شهدت تلك الفترة كثيرا من التمزق والاختلاف، كما حصل من الأيوبيين فيما بينهم والمماليك الذين انتقلت سلطة الأيوبيين إليهم ابتداء بمصر سنة 648 هـ. وأصبحت مصر بعد سقوط بغداد
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই এই তাতাররা তার এবং তার পরিবারের অবস্থাকে শাম এবং মিশরে ক্রুসেডারদের সাথে থাকা অবশিষ্ট মুসলমানদের অবস্থার চেয়েও খারাপ করে তুলেছিল।
মুসলমানদের সাথে তাতারদের অনিষ্ট, তাদের আক্রমণ এবং তাদের যুদ্ধ কেবল ইরাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা শাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তারা আইয়ুবী সুলতানদের সর্বশেষ শাসনামলে ফোরাত নদী পার হয়ে ৬৫৮ হিজরিতে হালাবে পৌঁছায় এবং তা অবরোধ করে। অতঃপর নিরাপত্তার শর্তে শহরটি তাদের কাছে সমর্পণ করা হয়, কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করে। তারা বাগদাদে যা করেছিল, হালাবেও প্রায় একই রকম আচরণ করে। এরপর তারা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই অত্যন্ত সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে দামেস্কে প্রবেশ করে «১»।
অতঃপর তাদের এবং আল-জাহির বাইবার্সের «২» মধ্যে আইন জালুত যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে মুসলমানরা এক সুনিশ্চিত বিজয় লাভ করে এবং তাতারদের ধাওয়া করে হালাব থেকে বের করে দেয় «৩»। এমনকি ক্রুসেড যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও মুসলমান ও তাতারদের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল; বরং তা ৭১৬ হিজরিতে আল-তূফীর মৃত্যু পর্যন্তও জারি ছিল।
সেই ক্রুসেড এবং তাতার যুদ্ধের সময়কালে মুসলিম দেশগুলো সুলতানদের মধ্যকার বিভক্তি, মতভেদ এবং পারস্পরিক যুদ্ধ থেকে মুক্ত ছিল না। বরং সেই সময়টি চরম অনৈক্য ও মতভেদের সাক্ষী ছিল, যেমনটি আইয়ুবীদের নিজেদের মধ্যে এবং মামলুকদের মাঝে ঘটেছিল, যাদের হাতে ৬৪৮ হিজরি থেকে মিশরে আইয়ুবী কর্তৃত্ব হস্তান্তরিত হয়েছিল। আর বাগদাদের পতনের পর মিশর হয়ে ওঠে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مقرا للخلافة العباسية التي لم يكن لها أي سلطة تذكر، وإنما كان وجودهم مظهرا دعائيا حرص سلطان المماليك على وجوده تسكينا لنفوس الناس وصرفا لهم عن التفكير في شرعية حكمهم. ولا أدل على ذلك من الإهانات والاعتقالات التي كان يلقاها الخلفاء من المماليك حتى أنه ليصل الأمر إلى عزل الخلفاء واستبدالهم كما أرادوا «1».
ولا بد أن هذه الحوادث جميعا، قد أحدثت أثرا بارزا في الرأي العام للأمة وبالأخص العلماء، لأنهم هم الممثلون الحقيقيون لها، فتميزت تلك الفترة- فترة حياة الطوفي- 657 - 716 هـ- ببروز مجموعة كبيرة من العلماء العاملين المجاهدين في سبيل الله، وقفوا في وجه أعداء الإسلام من الصليبيين والتتار، فهذا ابن تيمية- رحمه الله «2» - يشارك في قتال التتار هو ومجموعة من أعيان المسلمين ضد التتار لما حاصروا دمشق، وسافر سنة سبعمائة إلى مصر ليستحث واليها على قتالهم، ويشارك في بعض المعارك ضدهم كمعركة" شقحب" سنة 702 هـ «3».
وللعز بن عبد السلام والإمام النووي- رحمهما الله- مواقف جليلة في نصرة الحق سواء ضد التتار أو الصليبيين أو في القضاء على الفساد الضار بالمسلمين الناجم عن تساهل السلاطين «4».
--------------------------------------------
আব্বাসীয় খিলাফতের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যে খিলাফতের উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষমতা ছিল না। বরং তাদের অস্তিত্ব ছিল কেবল একটি প্রচারণামূলক প্রদর্শনী, যা বজায় রাখার ব্যাপারে মামলুক সুলতানরা অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন যাতে জনগণের মন শান্ত থাকে এবং তারা মামলুকদের শাসনের বৈধতা নিয়ে চিন্তা করা থেকে বিরত থাকে। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছুই হতে পারে না যে, খলিফারা মামলুকদের পক্ষ থেকে অবমাননা ও গ্রেপ্তারের শিকার হতেন, এমনকি খলিফাদের পদচ্যুত করা এবং তাদের ইচ্ছামতো অন্যকে স্থলাভিষিক্ত করার পর্যায়েও বিষয়টি পৌঁছেছিল «১»।
নিঃসন্দেহে এই সমস্ত ঘটনা উম্মাহর জনমত এবং বিশেষ করে উলামায়ে কেরামের ওপর একটি গভীর প্রভাব ফেলেছিল, কারণ তারাই হলেন উম্মাহর প্রকৃত প্রতিনিধি। তুফির জীবনকাল (৬৫৭ - ৭১৬ হিজরি) এমন এক সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল যখন এক বিশাল দল আমলকারী ও আল্লাহর পথে জিহাদকারী আলেমদের উদ্ভব ঘটেছিল, যারা ইসলামের শত্রু ক্রুসেডার ও তাতারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এই যে ইবনে তাইমিয়া—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন «২»—তিনি মুসলিমদের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন যখন তারা দামেস্ক অবরোধ করেছিল। তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সেখানকার গভর্নরকে উৎসাহিত করতে তিনি ৭০০ হিজরিতে মিশরে সফর করেন এবং ৭০২ হিজরিতে সংগঠিত 'শাকহাব' যুদ্ধের মতো তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত কিছু যুদ্ধে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন «৩»।
আল-ইযয বিন আবদুস সালাম এবং ইমাম নববী—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সত্যের সমর্থনে মহান ভূমিকা রেখেছিলেন, তা তাতার বা ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধেই হোক কিংবা সুলতানদের শিথিলতার ফলে সৃষ্ট মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর দুর্নীতি নির্মূলের ক্ষেত্রেই হোক «৪»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ولعل من الأمر الواضح الجلي أن كل من كل من ينشأ في أوضاع مثل هذه الأوضاع لا بد أن يتأثر بها، وتنطبع حياته بما تأثر به، ومن أثر الأحداث المتقدمة: اهتمام الطوفي بمحاربة أعداء الإسلام باليد والقلم، وخاصة النصارى الضلال، لأنهم ينشرون فكرهم وشبههم، ويجب التصدي لهم وإبطال كيدهم، ولذلك خص بعض كتبه لذلك، كما سيأتي.
ب- الحالة الاجتماعية «1»:
من البديهي أن تتأثر الحياة الاجتماعية بالحياة السياسية التي تحيط بها، فاستقرار الأحوال الاجتماعية مرهون باستقرار الأحوال السياسية ويكون هناك مد وجزر كما يكون في الأخرى.
واختلاط المسلمين بغيرهم من الكفار سيكون له أثره في سلوك الفريقين، وقد اختلط بالمسلمين النصارى القادمون من أوروبا والتتار الكفار الذين لا يؤمنون بدين ولا يعرفون أخلاقا ولا فضيلة، فظهرت عادات غريبة، لأن الوافد يحمل معه عاداته، ومن عادة الكفار التفسخ والانحلال ولأن في المجتمع الإسلامي من تستهويه تلك العادات وينصهر في بوتقة الآخرين، لضعف دينه وتغلب نفسه الأمارة بالسوء عليه.
كما أن نزوح القبائل والأسر من مكان إلى آخر أوجد اختلاطا بين أجناس كثيرة من الناس مختلفة طبائعهم ومتفاوتة درجاتهم في التمسك بدين الله
--------------------------------------------
সম্ভবত এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রতীয়মান যে, যারা এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে ওঠে, তারা অনিবার্যভাবে এর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাদের জীবন সেই প্রভাবের দ্বারা ছাপযুক্ত হয়। পূর্বোক্ত ঘটনাবলির একটি প্রভাব হলো: হাত ও কলমের মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদের মোকাবিলা করার বিষয়ে তুফির গুরুত্বারোপ, বিশেষ করে পথভ্রষ্ট খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে; কারণ তারা তাদের চিন্তা ও সংশয় ছড়ায় এবং তাদের মোকাবিলা করা ও তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা আবশ্যক। এই কারণেই তিনি তাঁর কিছু গ্রন্থ এ বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যা সামনে আলোচনা করা হবে।
খ- সামাজিক অবস্থা «১»:
এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, সামাজিক জীবন তার চারপাশের রাজনৈতিক জীবন দ্বারা প্রভাবিত হয়। কারণ সামাজিক অবস্থার স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানেও জোয়ার-ভাটা থাকে যেমনটি অন্যটিতে (রাজনৈতিক অবস্থায়) হয়ে থাকে।
কাফেরদের সাথে মুসলিমদের মেলামেশা উভয় পক্ষের আচরণের ওপর প্রভাব ফেলবে। ইউরোপ থেকে আগত খ্রিস্টান এবং কাফের তাতাররা—যারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না এবং কোনো চরিত্র বা গুণাবলি চেনে না—তাদের সাথে মুসলিমদের সংমিশ্রণ ঘটেছিল। ফলে অদ্ভুত সব আচার-আচরণ প্রকাশ পায়; কারণ নবাগতরা তাদের নিজস্ব অভ্যাস সাথে নিয়ে আসে। কাফেরদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নৈতিক অবক্ষয় ও শিথিলতা। আর মুসলিম সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের এই অভ্যাসগুলো প্রলুব্ধ করে এবং তারা অন্যের ছাঁচে মিশে যায়, যার কারণ তাদের দ্বীনের দুর্বলতা এবং তাদের ওপর মন্দপ্রবণ নফসের আধিপত্য।
তেমনিভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গোত্র ও পরিবারগুলোর স্থানান্তরের ফলে অনেক জাতির মানুষের মধ্যে সংমিশ্রণ তৈরি হয়েছে, যাদের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন এবং আল্লাহর দ্বীন আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে যাদের পর্যায়ও বিভিন্ন রকম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
- عز وجل فقد اختلط الأتراك مع البربر، والأكراد مع الأقباط، والعرب مع العجم بسبب القلاقل والأحداث وسوء المعيشة التي أجبرت الناس على التنقل من مكان إلى اخر، ومن قطر إلى قطر. فكان كل عرق يحمل معه عاداته وتقاليده المغايرة لغيرها، ولديه من التقصير والبدع ما لم يعرفه المجتمع الذي نزل به.
وكانت تتغلب تلك العادات والسلوكيات بحسب قوة أهلها وتأثيرهم في الناس كما أنه كان يقيم بين المسلمين عدد كبير من اليهود والنصارى والزنادقة الملحدين، مما سبب في وقوع الصراعات الفكرية والعقدية واستفحالها في ظل الحروب الصليبية والتترية فأشغلت المفكرين والعلماء في المجتمع الإسلامي وعكف كثير منهم للتصدي لهذه العقائد الفاسدة والشبهات الخبيثة.
وساءت الأحوال الاقتصادية بين العامة والزهاد، وانتشرت الفاقة وعم البؤس وكثر قطاع الطرق واللصوص، واشتد الغلاء، وعمد الناس إلى الغش والخداع والحيل والاحتكار، والتطفيف في الكيل والميزان، فألف العلماء بسبب ذلك المؤلفات ليشاركوا في حل هذه المشكلة حلا إسلاميّا، ودعوا إلى النظر في مصالح العامة وفرض التسعيرات الجبرية عند اشتداد الغلاء، والضرب على أيدي المطففين والمحتكرين. من ذلك ما كتبه شيخ الطوفي وابن عمره، شيخ الإسلام ابن تيمية- رحمه الله في كتاب الحسبة في الإسلام، والسياسة الشرعية في إصلاح الراعي والرعية. في حين أن السلاطين وذوي الوزارات والوجاهات يعيشون في ترف وبذخ. فقصور الأمراء والأعيان فيها من مظاهر المتعة والأثاث وسائر الممتلكات ما يشهد بذلك.
فالأمراء والسلاطين يستولون على أموال كثيرة أثناء الحروب، وخاصة في عهد المماليك فيتلاعبون بها ويقطعون الأمراء والنواب والموالين لهم الاقطاعات
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ইচ্ছায় গোলযোগ, বিভিন্ন ঘটনা এবং মানবেতর জীবনযাত্রার কারণে তুর্কিদের সাথে বারবার, কুর্দিদের সাথে কিবতি এবং আরবদের সাথে অনারবদের সংমিশ্রণ ঘটে। এই পরিস্থিতি মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরের জন্য বাধ্য করেছিল। ফলে প্রতিটি জাতিসত্তা তাদের সাথে অন্যের চেয়ে ভিন্নধর্মী নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার ও ঐতিহ্য বহন করত। তাদের মধ্যে এমন কিছু বিচ্যুতি এবং বিদআত বা নবউদ্ভাবিত প্রথা বিদ্যমান ছিল যা সেই সমাজের নিকট পরিচিত ছিল না যেখানে তারা আগমন করেছিল।
সেই সব রীতি-নীতি এবং আচরণসমূহ তাদের ধারকদের শক্তি এবং মানুষের ওপর তাদের প্রভাবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে প্রাধান্য বিস্তার করত। এছাড়া মুসলমানদের মাঝে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইয়াহুদি, নাসারা এবং নাস্তিক যিনদিকরা বসবাস করত। এটি বৌদ্ধিক এবং আকিদাগত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে এবং ক্রুসেড ও তাতারদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ফলশ্রুতিতে ইসলামী সমাজের চিন্তাবিদ এবং ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে নিমগ্ন হন এবং তাঁদের অনেকেই এই সকল ভ্রান্ত আকিদা ও কুৎসিত সংশয়সমূহ নিরসনে আত্মনিয়োগ করেন।
সাধারণ জনগণ এবং যাহেদদের মাঝে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভাব-অনটন ছড়িয়ে পড়ে, দুর্দশা সর্বত্র বিস্তার লাভ করে এবং ডাকাত ও চোরদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি তীব্র হয় এবং মানুষ প্রতারণা, জালিয়াতি, কূটকৌশল, মজুতদারি এবং মাপ ও ওজনে কম দেওয়ার আশ্রয় গ্রহণ করে। ওলামায়ে কেরাম এই সমস্যার ইসলামী সমাধানকল্পে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁরা জনস্বার্থের প্রতি দৃষ্টিপাত করার এবং দ্রব্যমূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে বাধ্যতামূলক মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানান। এছাড়া মাপে কম দানকারী এবং মজুতদারদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি জানান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তুফি, ইবনে উমরাহ এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক রচিত 'আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম' এবং 'আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ ফি ইসলাহির রাঈ ওয়ার রাইয়্যাহ' গ্রন্থসমূহ। অথচ সেই সময়ে সুলতানগণ এবং মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ বিলাসিতা ও আড়ম্বরের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। আমির ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রাসাদসমূহের ভোগবিলাস, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদই এর সাক্ষী।
আমির এবং সুলতানগণ যুদ্ধের সময় প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত করতেন, বিশেষ করে মামলুকদের শাসনামলে। তাঁরা এই সম্পদ নিয়ে যথেচ্ছাচার করতেন এবং আমির, নায়েব ও তাঁদের অনুসারীদের জায়গির বা ইকতা প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الكبيرة، ويعطونهم العطايا الجزيلة، وكانت أوضاع قصورهم وخدمهم تنبئ عن الإسراف في الانفاق الذي لا يعرف ضابطا ولا رادعا، وكانوا يستحدثون من الأبهات ما لم يسبقهم إليه أحد من السلاطين الأقدمين.
بالإضافة إلى الاحتفالات الكبيرة التي أحدثوها عند تولي خليفة أو سلطان الملك، أو ولادة مولود للسلطان، أو زواج لأحدهم أو أحد الأمراء أو غير ذلك من المناسبات التي يحبون التعبير عنها بهذه الحفلات «1».
ومما يميز القرن السابع في عهد الفاطميين قبل ذلك أن المرأة كانت فيه لا تختلط بالأجانب ولا يسمح لها بذلك وقيدت باللباس الساتر وأبعدت عن المفسدات أو القرب منها، حتى أن بعض السلاطين كان يسلب حلي النساء اللاتي بدون أزواج ويضايقهن حتى يتزوجن بخلاف عهد الفاطميين الذي وصلت فيه المرأة من التحلل والاختلاط ومشابهة الرجال في بعض الملابس ما لم يقع في غيره من العصور «2».
ولا شك أن هذا الوضع الاجتماعي المضطرب، والعادات الاجتماعية الوافدة، وسوء المعيشة، واشتداد النزاع بين أهل القبلة، وكثرة البدع والمنكرات، وترويج العقائد الفاسدة، وغياب السلطة التي يهمها أمر الإسلام والمسلمين، قد أحدث اضطرابا شديدا في فترة حياة الطوفي، لعلي لا أبالغ في القول بأنه من أشد القرون فتنة واضطرابا .. حتى أنه قد سقط في وحلها كثير من العلماء والأذكياء الأفذاذ فحدث لهم من الأخطاء أو الانحراف ما كان. والله المستعان.
--------------------------------------------
বিশাল এবং তারা তাদের প্রচুর দান-উপহার প্রদান করতেন। তাদের প্রাসাদ ও ভৃত্যদের অবস্থা ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন অপব্যয়ের ইঙ্গিত দিত, যার কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বাধা ছিল না। তারা এমন সব আড়ম্বর ও শান-শওকত উদ্ভাবন করত, যা পূর্ববর্তী সুলতানদের মধ্যে আর কেউ করেনি।
এর পাশাপাশি তারা খলিফা বা সুলতানের ক্ষমতা গ্রহণ, সুলতানের সন্তান জন্মদান, তাদের বা কোনো আমীরের বিবাহ অথবা অন্যান্য উপলক্ষ্যে বিশাল সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করত, যা তারা এই উৎসবগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পছন্দ করত (১)।
সপ্তম শতাব্দীকে এর আগের ফাতেমি যুগের তুলনায় যা স্বতন্ত্র করে তোলে তা হলো—তখন নারীরা পরপুরুষের সাথে মেলামেশা করত না এবং তাদের তা করার অনুমতি দেওয়া হতো না। তারা পর্দাশীল পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাদের চারিত্রিক বিপর্যয় বা তার নিকটবর্তী হওয়া থেকে দূরে রাখা হতো। এমনকি কোনো কোনো সুলতান স্বামীহীন নারীদের অলঙ্কার কেড়ে নিতেন এবং বিয়ে না করা পর্যন্ত তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। এটি ফাতেমি যুগের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যে যুগে নারীদের নৈতিক অবক্ষয়, অবাধ মেলামেশা এবং কিছু পোশাকে পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা অন্য কোনো যুগে দেখা যায়নি (২)।
নিঃসন্দেহে এই অস্থির সামাজিক পরিস্থিতি, বিজাতীয় সামাজিক রীতিনীতি, নিম্নমানের জীবনযাত্রা, আহলে কিবলার মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বিদআত ও গর্হিত কাজের আধিক্য, ভ্রান্ত আকিদার প্রসার এবং ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী শক্তিশালী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি তুফীর জীবদ্দশায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। আমি সম্ভবত বাড়িয়ে বলছি না যদি বলি যে, এটি ছিল ফিতনা ও অস্থিরতার দিক থেকে কঠিনতম শতাব্দীগুলোর একটি... এমনকি অনেক প্রথিতযশা আলেম ও মেধাবী ব্যক্তি এর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন, যার ফলে তাদের মাঝে অনেক ভুল বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ج- الحالة الفكرية والثقافية:
تبين لنا مما أوضحنا في الناحيتين السياسية والاجتماعية الظروف الصعبة التي عاشها المسلمون مما يصعب معه التهيؤ للنشاط العلمي، إذ يحتاج إلى استقرار وهدوء، وأنّى للمفكرين والعلماء أن يعملوا في جو الإرهاب الذي ساد الحياة في بغداد التي فقدت رئاستها الفكرية والثقافية في سنة 656 هـ؟ وفي الشام ومصر التي داهمتها الحروب الصليبية وأشغلت الأمراء والعلماء عن التوجه إلى العلم والاشتغال به؟ إضافة إلى الصراعات الداخلية بين السلاطين والأمراء، من ناحية الحكم، والخلافات الفكرية بين الطوائف والفرق المتعددة. وإلى أن أكثر الكتب الإسلامية والعلمية في بغداد رميت في النهر. إلا أن الناحية العلمية لم تهن ولم تضعف، بل كادت تصل إلى درجة النبوغ العلمي في كافة التخصصات التي ميزتها عن غيرها في العصور المختلفة، وذلك يرجع إلى أنها كانت قوية متينة في العصور السابقة لهذا العصر، ولم يكن من السهل القضاء عليها.
فما هي إلا فترة وجيزة بعد غزو التتار لبغداد إلا وقد جعل الله بعد الضيق مخرجا والشدة فرجا، فاستقرت الأوضاع نوعا ما، وقل الخوف والفزع وتهيأت النفوس لطلب العلم، ولقى العلماء تشجيعا من الأمراء، فأنشئوا دور العلم وأنفقوا على الأساتذة وطلبة العلم وأجروا عليهم الأرزاق من الطعام وغيره «1».
بل كان بعضهم يجلس بنفسه لطلب العلم وبخاصة الفقه والحديث «2».
هذه العناية وهذا الاهتمام دفعا بطلاب العلم إلى التسابق في مضماره والإقبال عليه بصدق، كما دفعا بالعلماء أيضا إلى التأليف وحل عويص المسائل
--------------------------------------------
গ- বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা:
আমরা রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট করেছি তা থেকে আমাদের কাছে সেই কঠিন পরিস্থিতি প্রতিভাত হয় যা মুসলমানরা অতিবাহিত করেছিল, যার ফলে জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা কঠিন ছিল; কারণ এর জন্য স্থিতিশীলতা ও প্রশান্তির প্রয়োজন। আর চিন্তাবিদ ও আলিমগণ সেই ত্রাসের পরিবেশে কীভাবে কাজ করবেন যা ৬৫৬ হিজরি সনে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব হারানো বাগদাদের জীবনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল? এবং সিরিয়া ও মিশরের অবস্থা কেমন ছিল, যা ক্রুসেড যুদ্ধের কবলে পড়েছিল এবং যা আমির ও আলিমদের ইলমের দিকে মনোনিবেশ ও তাতে ব্যস্ত থাকা থেকে বিচ্যুত করেছিল? এর সাথে যুক্ত হয়েছিল শাসনক্ষমতা নিয়ে সুলতান ও আমিরদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক মতভেদ। এবং এর সাথে আরও ছিল যে, বাগদাদের অধিকাংশ ইসলামি ও বৈজ্ঞানিক কিতাবাদি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকটি দুর্বল বা নিস্তেজ হয়ে পড়েনি, বরং তা প্রায় সকল বিশেষায়িত শাস্ত্রে এমন এক পাণ্ডিত্যের স্তরে পৌঁছেছিল যা একে বিভিন্ন যুগের অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছিল; আর এর কারণ ছিল এই যে, এই যুগের পূর্ববর্তী যুগগুলোতে তা অত্যন্ত শক্তিশালী ও মজবুত ছিল, ফলে একে নির্মূল করা সহজ ছিল না।
তাতারীদের বাগদাদ আক্রমণের অল্পকাল পরেই আল্লাহ সংকটের পর নিষ্কৃতি এবং কষ্টের পর স্বস্তি দান করেন, ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়, ভয় ও আতঙ্ক হ্রাস পায় এবং জ্ঞান অন্বেষণের জন্য মনমানসিকতা প্রস্তুত হয়। আর আলিমগণ আমিরদের পক্ষ থেকে উৎসাহ লাভ করেন, ফলে তাঁরা জ্ঞানকেন্দ্রসমূহ নির্মাণ করেন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করেন এবং তাদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করেন «১»।
এমনকি তাঁদের কেউ কেউ জ্ঞান অন্বেষণের জন্য, বিশেষ করে ফিকহ ও হাদিস শিখতে নিজেও বসতেন «২»।
এই যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান শিক্ষার্থীদেরকে এই ময়দানে প্রতিযোগিতা করতে এবং আন্তরিকতার সাথে জ্ঞানার্জনে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেমন এটি আলিমদেরকেও গ্রন্থ রচনা এবং জটিল মাসআলাসমূহ সমাধানের দিকে ধাবিত করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
والرد على النصارى وغيرهم ممن يريد النيل من دين الإسلام فحظي عصر الطوفي بنخبة من العلماء الأفذاذ في بغداد ودمشق ومصر والأندلس ألفوا عددا من المؤلفات في جميع فروع العلوم والفنون.
ومن دور العلم التي اشتهرت في ذلك العصر، وأسهمت في إبراز النهضة العلمية في بغداد:
1 - المدرسة المستنصرية ببغداد: التي بناها الخليفة المستنصر بالله العباسي، وكمل بناؤها سنة 631 هـ وافتتحت في تلك السنة، ولم يبن مدرسة قبلها مثلها، ووقفت على المذاهب الأربعة: من كل طائفة اثنان وستون فقيها، وأربعة معيدين، ومدرس لكل مذهب فقهي، وشيخ للحديث، وقارئان وعشرة مستمعين، وشيخ طب، وعشرة من المسلمين يشتغلون بعلم الطب، ومكتب للأيتام، وقدر للجميع من الخبز واللحم والحلوى، والنفقة بما فيه كفاية وافرة لكل أحد، ووقفت كثير من الكتب عليها «1».
2 - المدرسة النظامية: أنشأها نظام الملك «2»، ابتدئ بعمارتها في ذي الحجة سنة 457 هـ وفتحت يوم السبت العاشر من ذي القعدة سنة 459 هـ «3»، ثم توقفت عن العمل كغيرها عند ما أغارت التتار على بغداد ثم لما دبت الحياة مرة أخرى في بغداد عادت للتدريس.
--------------------------------------------
খ্রিস্টান ও অন্যদের রদ (খণ্ডন) করা যারা ইসলাম ধর্মকে হেয় করতে চায়, তুফি-র যুগ বাগদাদ, দামেস্ক, মিশর ও আন্দালুসে এমন একদল অনন্য সাধারণ আলেম পেয়েছিল যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
সেই যুগে প্রসিদ্ধি লাভকারী এবং বাগদাদের ইলমি জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে অবদান রাখা ইলমের কেন্দ্রসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১ - বাগদাদের আল-মাদরাসা আল-মুস্তানসিরিয়্যাহ: যা আব্বাসী খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন। এর নির্মাণ কাজ ৬৩১ হিজরিতে সমাপ্ত হয় এবং সেই বছরই এটি উদ্বোধন করা হয়। এর পূর্বে এমন মাদরাসা আর নির্মিত হয়নি। এটি চারটি মাযহাবের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছিল: প্রত্যেক মাযহাব থেকে ৬২ জন ফকিহ, ৪ জন মুঈদ (সহকারী শিক্ষক), প্রতিটি ফিকহি মাযহাবের জন্য একজন মুদাররিস (শিক্ষক), একজন শাইখুল হাদিস, ২ জন ক্বারি ও ১০ জন শ্রোতা, একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের শাইখ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত ১০ জন মুসলিম। এছাড়া ইয়াতীমদের জন্য একটি মক্তব ছিল। প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত রুটি, গোশত, মিষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের ব্যবস্থা নির্ধারিত ছিল এবং এখানে অসংখ্য কিতাব ওয়াকফ করা হয়েছিল (১)।
২ - আল-মাদরাসা আন-নিজামিয়্যাহ: এটি নিজামুল মুলক (২) প্রতিষ্ঠা করেন। এর নির্মাণ কাজ ৪৫৭ হিজরির জিলহজ মাসে শুরু হয় এবং ৪৫৯ হিজরির ১০ই জিলকদ শনিবার এটি উদ্বোধন করা হয় (৩)। পরবর্তীতে বাগদাদে তাতারীদের আক্রমণের সময় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অতপর বাগদাদে যখন পুনরায় প্রাণের স্পন্দন ফিরে আসে, তখন এটি আবার পাঠদানের কাজে ফিরে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
أما في الشام فإن المدارس والجوامع والزوايا قد كثرت لأن رئاسة العلم ومنارته قد انتقلت من بغداد بعد عبث التتار بها وقتل العلماء وتشريدهم منها ومن حولها من البلدان، وأصبحت دمشق والقاهرة تتجاذبان الرئاسة والسيادة ومن تلك المدارس والجوامع في الشام:
1 - الجامع الأموي:
وهو أشهر وأكبر مؤسسة تعليمية في ذلك الوقت، فقد كان به عدد من الحلقات التي تشتغل بالعلم وتهتم به، وفيه حلقات كثيرة لتدريس القرآن الكريم وعلومه، والحديث الشريف وعلومه. وبه عدد من المدارس هي:
الغزالية، والأسدية (شافعية)، والمنجائية (حنبلية)، والقوصية والسفينة والمقصورة الكبيرة (ثلاثتها حنفية) والزاوية المالكية «1».
2 - المدرسة الأتابكية الشافعية بصالحية دمشق:
أنشأتها الحجة الأتابكية امرأة الأشرف موسى تركان بنت الملك عز الدين مسعود بن قطب الدين مودود بن أتابك زنكي المتوفاة سنة أربعين وستمائة للهجرة «2».
--------------------------------------------
শামে (সিরিয়া) মাদরাসা, জামে মসজিদ এবং জাউইয়াগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ তাতারদের তান্ডব, আলেমদের হত্যা এবং তাদের ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বিতাড়িত করার পর জ্ঞানের কেন্দ্র ও মিনার বাগদাদ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ফলে দামেস্ক ও কায়রো জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের নেতৃত্বের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। শামের সেই মাদরাসা ও জামে মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - জামে উমায়্যি:
এটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও বৃহত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে জ্ঞানের চর্চা ও গবেষণার জন্য বেশ কিছু ইলমি হালকাহ (শিক্ষাবৃত্ত) ছিল এবং পবিত্র কুরআন ও তার সংশ্লিষ্ট জ্ঞান এবং হাদিস শরিফ ও তার সংশ্লিষ্ট জ্ঞান পাঠদানের জন্য অনেকগুলো হালকাহ ছিল। এর অধীনে বেশ কিছু মাদরাসা ছিল, সেগুলো হলো:
আল-গাজালিয়্যাহ, আল-আসাদিয়্যাহ (শাফেয়ি), আল-মানজায়িয়্যাহ (হাম্বলি), আল-কুসিয়্যাহ, আস-সাফীনাহ এবং আল-মাকসুরাতুল কাবিরা (এই তিনটিই হানাফি) এবং আল-জাউইয়্যাতুল মালিকিয়্যাহ «১»।
২ - দামেস্কের সালিহিয়্যাহ এলাকায় অবস্থিত মাদরাসা আল-আতাবেকিয়্যাহ আশ-শাফেয়িয়্যাহ:
এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আল-হুজ্জাহ আল-আতাবেকিয়্যাহ, যিনি আল-আশরাফ মুসার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাদশাহ ইজ্জুদ্দীন মাসউদ বিন কুতুবুদ্দীন মওদুদ বিন আতাবেক জেঙ্কির কন্যা। তিনি হিজরি ৬৪০ সনে মৃত্যুবরণ করেন «২»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
3 - المدرسة الأسدية الشافعية الحنفية:
أنشأها الملك المظفر أسد الدين شيركوه بن شادي بن مروان المتوفى سنة 564 هـ «1».
4 - المدرسة الأصفهانية «2».
5 - المدرسة الإقبالية التي افتتحت سنة ثمان وعشرين وستمائة «3».
6 - المدرسة العادلية الكبرى بدمشق:
المنسوبة إلى الملك العادل محمد بن أبي الشكر أيوب بن شاذي المتوفى سنة 615 هـ «4».
7 - المدرسة الصلاحية ببيت المقدس:
التي أنشأها الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب الأيوبي فاتح بيت المقدس- رحمه الله المتوفى سنة 659 هـ «5»، وقد كانت كنيسة من زمن الروم تعرف بقبر حنة أم مريم- عليها السلام كما يقال- «6».
8 - المدرسة الجوزية
: التي أنشأها ابن الشيخ أبو الفرج عبد الرحمن بن الجوزي- رحمه الله المتوفى سنة ست وخمسين وستمائة للهجرة «7».
--------------------------------------------
৩ - আল-মাদরাসাতুল আসাদিয়া আশ-শাফিঈয়্যাহ আল-হানাফিয়্যাহ:
এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আল-মালিকুল মুজাফ্ফার আসাদউদ্দীন শিরকুহ বিন শাদি বিন মারওয়ান, যিনি ৫৬৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন «১»।
৪ - আল-মাদরাসাতুল আসফাহানিয়্যাহ «২»।
৫ - আল-মাদরাসাতুল ইকবালিয়্যাহ, যা ৬২৮ হিজরি সনে উদ্বোধন করা হয়েছিল «৩»।
৬ - দামেস্কের আল-মাদরাসাতুল আদিলিয়্যাহ আল-কুবরা:
যা আল-মালিকুল আদিল মুহাম্মদ বিন আবিশ শুকর আইয়ুব বিন শাদি-এর সাথে সম্পর্কিত, যিনি ৬১৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন «৪»।
৭ - বাইতুল মাকদিসের আল-মাদরাসাতুস সালাহিয়্যাহ:
যা প্রতিষ্ঠা করেছেন বাইতুল মাকদিস বিজয়ী আল-মালিকুন নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব আল-আইয়ুবি -রাহিমাহুল্লাহ-, যিনি ৬৫৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন «৫»; এটি রোমানদের আমলের একটি গির্জা ছিল যা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর মাতা হান্নার সমাধি হিসেবে পরিচিত ছিল -যেমনটি বলা হয়ে থাকে- «৬»।
৮ - আল-মাদরাসাতুল জাওজিয়্যাহ
: যা প্রতিষ্ঠা করেছেন শায়খ আবু ফরাজ আবদুর রহমান বিন আল-জাওজি-এর পুত্র -রাহিমাহুল্লাহ-, যিনি ৬৫৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন «৭»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وهناك عدد كبير من المدارس المنتشرة في الشام كالجادلية، والأوحدية، والمعظمية، والميمونية، والقيمرية، وغيرها «1».
وكانت القاهرة عامرة بدور العلم والعلماء والمكتبات الحافلة بمجالس العلم والأدب، وكان اهتمام الناس بالكتب أمر يسترعي الانتباه، فالقاهرة غاصة بأسواق الكتبيين والوراقين وكذلك كان الحال في دمشق.
ومن الجوامع والمدارس المشهورة في القاهرة:
1) الجامع العتيق «2»: وهو من أكبر أماكن المدارس فقد كانت به عدد من الزوايا الفقهية كزاوية الشافعي، والمجدية، والصاحبية، والكاملية، والتاجية، والمعينية، والعلائية والزينية. وأدرك بعض العلماء فيه سنة 749 هـ بضعا وأربعين حلقة لإقراء العلم لا تكاد تبرح منه «3».
2) جامع ابن طالون الذي كانت ترتب فيه دروس التفسير والحديث والفقه على المذاهب الأربعة، والقراءات، والطب، والميقات «4».
3) الجامع الأزهر: ضم مقصورة كبيرة رتب فيها جماعة من الفقهاء لقراءة الفقه على مذهب الشافعي- رحمه الله ورتب فيها أيضا محدث يسمع الحديث النبوي والرقائق
… وسبعة قراء لقراءة القرآن الكريم «5».
--------------------------------------------
আর শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা ছিল, যেমন জাদালিয়্যাহ, আওহাদিয়্যাহ, মুয়ায্যামিয়্যাহ, মাইমুনিয়্যাহ, কাইমারিয়্যাহ এবং অন্যান্য «১»।
কায়রো শহর জ্ঞানকেন্দ্র, ওলামায়ে কেরাম এবং জ্ঞান ও সাহিত্যের আসরে পরিপূর্ণ পাঠাগার দ্বারা আবাদ ছিল। বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়; কায়রো বই বিক্রেতা ও পাণ্ডুলিপি লেখকদের বাজারে ঠাসা ছিল এবং দামেস্কের অবস্থাও ছিল তদ্রূপ।
কায়রোর বিখ্যাত জামে মসজিদ ও মাদ্রাসাসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১) আল-জামে আল-আতিক «২»: এটি মাদ্রাসার জন্য অন্যতম বৃহৎ স্থান ছিল, যেখানে শাফেয়ী, মাজদিয়্যাহ, সাহিবিয়্যাহ, কামিলিয়্যাহ, তাজিয়্যাহ, মুঈনিয়্যাহ, আলাইয়্যাহ এবং যয়নিয়্যাহর মতো বেশ কয়েকটি ফিকহি হালকা বা কোণ বিদ্যমান ছিল। ৭৪৯ হিজরি সনে কিছু আলেম সেখানে জ্ঞানদানের চল্লিশটিরও বেশি পাঠচক্র (হালকা) দেখতে পান, যা সেখান থেকে প্রায় কখনোই বন্ধ হতো না «৩»।
২) জামে ইবনে তুলুন: যেখানে তাফসীর, হাদীস, চার মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ, ক্বিরাআত, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত বিদ্যার (মিআত) পাঠ পরিচালিত হতো «৪»।
৩) আল-জামে আল-আযহার: এতে একটি বড় কক্ষ ছিল যেখানে ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ পাঠের জন্য একদল ফকীহকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও সেখানে একজন মুহাদ্দিস নিযুক্ত ছিলেন যিনি নববী হাদীস ও হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা (রাকায়িক) শোনাতেন
… এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের জন্য সাতজন ক্বারী ছিলেন «৫»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল ইন্তিসারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফী কাশফি শুবাহিন নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
4) جامع الحاكم باب الفتوح أحد أبواب القاهرة، وكان شيخ الطوفي سعد الدين يدرس فيه «1».
5) المدرسة الناصرية التي بنيت بجوار الجامع العتيق، وأصبح اسمها فيما بعد الشريفية وبها تولى الطوفي الإعادة في ولاية سعد الدين الحارثي كما سيأتي «2».
6) المدرسة المنصورية أنشأها الملك المنصور قلاوون أبو المعالي سيف الدين التركي الصالحي المتوفي سنة 689 هـ «3».
وفيها أيضا تولى الطوفي الإعادة في ولاية سعد الدين الحارثي كما سيأتي.
وذكر مؤلف الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد أنه كان بقوص في أيامه ستة عشر مكانا للتدريس «4» وذلك في أيام الطوفي الذي استقر بقوص فترة طويلة يقال إن له بها خزانة كتب.
وغير هذه الجوامع والمدارس كثير، كانت مصدر إشعاع للعلم في بغداد والشام والقاهرة ودمياط والصعيد، إضافة إلى المكتبات الكثيرة التي تضم آلاف النسخ والكتب المتكررة في الشام ومصر وقوص وبلاد المغرب والأندلس التي أعرضنا عن الحديث عنها مخافة التطويل.
لقد كانت العناية قي القرن السابع الهجري وأول الثامن- فترة حياة الطوفي- بجميع أنواع المعارف النقلية والفكرية.
--------------------------------------------
4) কায়রোর অন্যতম তোরণ 'বাবুল ফুতুহ'-এ অবস্থিত জামে' আল-হাকিম; তুফির শায়খ সা'দ আদ-দীন এখানে পাঠদান করতেন «১»।
5) আল-মাদরাসাতুন নাসিরিয়্যাহ, যা জামে' আল-আতিকের পার্শ্বে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এর নাম হয় আশ-শারিফিয়্যাহ। এখানে তুফি, সা'দ আদ-দীন আল-হারিসির অধীনে পুনরাবৃত্তি শিক্ষকের (মুয়িদ) দায়িত্ব পালন করেন, যা সামনে আলোচিত হবে «২»।
6) আল-মাদরাসাতুল মানসুরিয়্যাহ, যা সুলতান আল-মানসুর কালাউন আবুল মাআলি সাইফ আদ-দীন আত-তুর্কি আস-সালিহি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যিনি ৬৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন «৩»।
এখানেও তুফি, সা'দ আদ-দীন আল-হারিসির অধীনে পুনরাবৃত্তি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, যা সামনে আলোচিত হবে।
'আত-তালি' আস-সাঈদ আল-জামি' আসমাউ নুজাবা আস-সাইদ' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সময়ে 'কুস'-এ পাঠদানের জন্য ষোলটি স্থান ছিল «৪»। এটি ছিল তুফির সমসাময়িক কাল, যিনি দীর্ঘ সময় কুস-এ অবস্থান করেছিলেন; বলা হয় যে, সেখানে তাঁর একটি কুতুবখানা (লাইব্রেরি) ছিল।
এই সকল জামে' মসজিদ ও মাদ্রাসা ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল, যা বাগদাদ, শাম, কায়রো, দমিইয়াত এবং সাঈদে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করত। এর সাথে যুক্ত ছিল অগণিত লাইব্রেরি, যেগুলোতে শাম, মিশর, কুস, মাগরিব ও আন্দালুসে হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থরাজি সংরক্ষিত ছিল, যেগুলোর বর্ণনা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা পরিহার করেছি।
সপ্তম হিজরি শতাব্দী এবং অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে—যা তুফির জীবনকাল ছিল—নকলি (শরয়ি) ও আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) সকল প্রকার জ্ঞানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হতো।
--------------------------------------------