(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: -)
مهمات في أحكام المواريث القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: مهمات في أحكام المواريث
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 15 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ বিভাগ: ফরায়েয ও ওসিয়ত
বই: উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১৫টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١)
مهمات في أحكام المواريث -
فضل علم المواريثإن علم المواريث من أهم العلوم الشرعية، وقد حض الشارع على تعلمه وبين أنه أول العلوم اندراساً، فكان لزاماً علينا تعلمه وتعليمه، لأهميته وفضله ومكانته؛ لأنه يتعلق بحقوق الناس.
মিরাস বা উত্তরাধিকার আইনের বিধানাবলির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ -
উত্তরাধিকার শাস্ত্রের ফযিলতনিশ্চয়ই উত্তরাধিকার বিদ্যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী ইলম। শরীয়ত প্রণেতা এটি শেখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এটিই সর্বপ্রথম বিলুপ্ত হওয়া ইলম। সুতরাং এর গুরুত্ব, ফযিলত ও মর্যাদার কারণে এটি শেখা এবং শেখানো আমাদের জন্য অপরিহার্য; কারণ এটি মানুষের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٢)
مقدمة في فضل علم المواريث وأهميتهإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهداً أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
نبدأ الآن الكلام على المواريث علم المواريث علم دقيق، وعلم جليل، إذا ضاع من المرء ضاع منه العلم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم بين في الآثار الصحيحة أن أول العلوم اندراساً واندثاراً هو علم المواريث، أو علم الفرائض.
وعلماؤنا دائماً عندما يرتبون العلوم يقولون: أولاً: حفظ القرآن، ثم علم المواريث، فكانوا في مجالس التحديث لا يكتبون في الذي حضر مجلس التحديث حتى يُعرف بين طلبة الحديث أنه قد حفظ القرآن، ثم تعلم المواريث ولذلك كانوا إذا جلس معهم الفتى للحديث قالوا له: هل تعلمت القرآن؟ فإذا قال: لا، قالوا: ارجع وتعلم القرآن، وإذا حفظ القرآن.
ثم رجع بعد ذلك، قالوا له: هل تعلمت الفرائض؟ فإن قال: لا.
قالوا: ارجع فتعلم الفرائض.
وأيضاً ورد عن عمر بن الخطاب: أنه لما بعث عامله إلى مكة، ثم رجع إليه، فقال له: من تركت عليهم؟ قال: تركت مولى من مواليهم قال: أتركت عليهم مولى؟! قال: نعم، إنه يحفظ القرآن، وعنده العلم بالفرائض، فقال عمر بن الخطاب: أما إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إن الله يرفع بهذا القرآن أقواماً ويخفض به آخرين).
فهذا العلمُ علم جليل.
تكفل الله ببيانه وإيضاحه؛ لأن أهل الجاهلية كانوا ظالمين في أحكامهم، فكانوا يظلمون النساء، والأطفال، كانوا لا يورثون إلا الذي يستطيع أن يأتي بالغنيمة، -أي: المقاتل- وهو الرجل البالغ، فلا يورثون النساء، ولا الصبيان.
فجاء الشرع ببيان إرث الجنين في بطن أمه.
উত্তরাধিকার শাস্ত্রের ফযিলত ও গুরুত্বের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ এবং আমাদের আমলের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথপ্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
আমরা এখন মিরাস (উত্তরাধিকার) শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করছি। মিরাস শাস্ত্র একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মহান জ্ঞান। এটি যদি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে হারিয়ে যায়, তবে তার থেকে ইলমই হারিয়ে যায়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহিহ আসার (বর্ণনা)-সমূহে বর্ণনা করেছেন যে, সর্বপ্রথম যে ইলম বিলুপ্ত ও নিঃশেষ হয়ে যাবে তা হলো মিরাস শাস্ত্র বা ফারায়েয শাস্ত্র।
আমাদের উলামাগণ যখন ইলম অর্জনের ধারাবাহিকতা সাজাতেন, তখন তারা বলতেন: প্রথমত কুরআন মুখস্থ করা, এরপর মিরাস শাস্ত্র শেখা। তারা হাদিসের মজলিসগুলোতে উপস্থিত কোনো ছাত্রের নাম ততক্ষণ লিপিবদ্ধ করতেন না যতক্ষণ না ইলমে হাদিসের ছাত্রদের মাঝে জানা যেত যে সে কুরআন মুখস্থ করেছে এবং মিরাস শাস্ত্র শিখেছে। এ কারণেই যখন কোনো তরুণ হাদিস শেখার জন্য তাদের কাছে বসত, তখন তারা তাকে বলতেন: তুমি কি কুরআন শিখেছ? সে যদি বলত: না, তখন তারা বলতেন: ফিরে যাও এবং কুরআন শেখো। এরপর যখন সে কুরআন মুখস্থ করত।
অতঃপর যখন সে ফিরে আসত, তখন তারা তাকে বলতেন: তুমি কি ফারায়েয (উত্তরাধিকার বিধিমালা) শিখেছ? সে যদি বলত: না।
তখন তারা বলতেন: ফিরে যাও এবং ফারায়েয শেখো।
ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন মক্কায় তাঁর নিয়োজিত গভর্নরকে পাঠালেন, অতঃপর সে যখন তাঁর কাছে ফিরে এল, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি তাদের ওপর কাকে দায়িত্বশীল রেখে এসেছ? সে বলল: আমি তাদের ওপর তাদেরই এক মুক্তদাসকে রেখে এসেছি। ওমর (রা.) বললেন: তুমি তাদের ওপর একজন মুক্তদাসকে দায়িত্ব দিয়েছ?! সে বলল: হ্যাঁ, সে কুরআন মুখস্থ রাখে এবং ফারায়েয শাস্ত্রের জ্ঞান রাখে। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: আমি তো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কুরআনের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উন্নত করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্য কাউকে অবনমিত করেন)।
সুতরাং এই ইলম একটি মহান ইলম।
আল্লাহ তাআলা নিজেই এর বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণের দায়িত্ব নিয়েছেন; কারণ জাহেলি যুগের লোকেরা তাদের বিচার-ফয়সালায় জালেম ছিল। তারা নারী ও শিশুদের ওপর জুলুম করত। তারা কেবল সেই ব্যক্তিকে মিরাস দিত যে গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বয়ে আনতে সক্ষম ছিল—অর্থাৎ যুদ্ধ করতে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। তারা নারী ও শিশুদের উত্তরাধিকার দিত না।
অতঃপর শরিয়ত মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রূণের মিরাসের বিবরণ নিয়ে আগমন করেছে।
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٣)
آيات المواريث وبيان طبقات الوارثينلقد ذكر الإرث في كتاب الله في حوالي خمس أو ست آيات، وحديث واحد، فمن أتقن هذه الآيات الخمس والحديث فتحت له أبواب المواريث.
وهذه -إن شاء الله- سنبينها بالتفصيل، لكن إجمالاً نقول: إن الله قد وضع المواريث في كتابه، أو نقول: قد قسم الإرث في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، أما في الكتاب: فمن أول قول الله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ} [النساء:11]، إلى آخر الآيات.
وأيضاً آخر السورة نفسها: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ إِنْ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ} [النساء:176].
وأما الحديث فهو: (ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فلأولى رجل ذكر).
هذه الآيات والحديث تبين كيف قسم الله جل في علاه المواريث، فهذا الرجل جمع المال ثم مات، إذاً: كيف نورث هذا المال أهله؟ فنقول: هذا الميت فوقه الأصول وتحته الفروع وحواليه الحواشي، فيصبح الذين سيرثون ثلاث طبقات -طبقة الأصول، وطبقة الفروع، وطبقة الحواشي- وطبقة الحواشي تكفل الله بها وفصلها كما سنبين الحديث الذي ذكر ميراثها؛ وذلك لأن طبقة الحواشي يتفرع عنها فرعان: الأول: الإخوة والأخوات.
ولهم حالات -كما سنبين-.
الثاني: الأعمام وأبناؤهم.
فإذا سئلنا فكيف نورث هؤلاء؟ نقول: نقدم الأقوى فالأقوى.
فإذا سئلنا: هل الأقوى الأصول أم الفروع أم الحواشي؟ نقول: الفروع أقوى؛ لأن الفرع جزء من الميت، وهو من الأصل، والترتيب هكذا: بنوة أبوة أخوة عمومة وذو ولاء استتم
মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহ এবং উত্তরাধিকারীদের স্তরসমূহের বর্ণনাআল্লাহর কিতাবে উত্তরাধিকার সম্পর্কে প্রায় পাঁচ বা ছয়টি আয়াত এবং একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি এই পাঁচটি আয়াত ও হাদিসটি ভালোভাবে আয়ত্ত করবে, তার জন্য মিরাসের (উত্তরাধিকার আইনের) দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এগুলো -ইনশাআল্লাহ- আমরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব, তবে সংক্ষেপে আমরা বলি: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছেন, অথবা আমরা বলতে পারি: তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যবানীতে উত্তরাধিকার বণ্টন করেছেন। আর কিতাবে যা রয়েছে তা হলো: মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; আর যদি তারা দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের তিন ভাগের দুই ভাগ।” [আন-নিসা: ১১] থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
এবং এই সূরারই শেষে বর্ণিত হয়েছে: “লোকেরা আপনার কাছে সমাধান চায়। আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতামাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে সমাধান দিচ্ছেন; যদি কোনো পুরুষ মারা যায় যার কোনো সন্তান নেই এবং তার এক বোন থাকে, তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি তার (বোনের) কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তারা দুই বোন হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের তিন ভাগের দুই ভাগ। আর যদি তারা ভাই-বোন উভয়ই হয়, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে।” [আন-নিসা: ১৭৬]।
আর হাদিসটি হলো: “তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তাদের হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।”
এই আয়াতগুলো এবং হাদিসটি বর্ণনা করে যে, মহান আল্লাহ কীভাবে মিরাস বণ্টন করেছেন। এই যে এক ব্যক্তি সম্পদ জমা করল এবং তারপর মারা গেল, এখন আমরা কীভাবে তার পরিবারকে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী করব? আমরা বলি: এই মৃত ব্যক্তির উপরে রয়েছে ‘উসূ’ল’ (মূল/উর্ধ্বতন), নিচে রয়েছে ‘ফুরূ’ (শাখা/অধস্তন) এবং চারপাশে রয়েছে ‘হাওয়াশী’ (পার্শ্বীয় আত্মীয়)। ফলে যারা উত্তরাধিকারী হবে তারা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়—উসূ’ল স্তর, ফুরূ’ স্তর এবং হাওয়াশী স্তর। আর হাওয়াশী স্তরের মিরাসের দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন এবং তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা তাদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণনা করব। এর কারণ হলো হাওয়াশী স্তর থেকে দুটি শাখা বের হয়: প্রথমত: ভাই ও বোন।
এবং তাদের বিভিন্ন অবস্থা রয়েছে -যেমন আমরা বর্ণনা করব-।
দ্বিতীয়ত: চাচা এবং তাদের পুত্রগণ।
যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আমরা তাদের কীভাবে উত্তরাধিকারী করব? আমরা বলি: আমরা অধিক শক্তিশালীকে অগ্রাধিকার দেব, অতঃপর তার পরবর্তী শক্তিশালীকে।
যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়: উসূ’ল, ফুরূ’ নাকি হাওয়াশী—কারা অধিক শক্তিশালী? আমরা বলি: ফুরূ’ বা অধস্তনরা অধিক শক্তিশালী; কারণ শাখা হলো মৃত ব্যক্তির অংশ এবং সে মূল থেকে আগত। আর ক্রমবিন্যাসটি নিম্নরূপ: পুত্রত্ব, পিতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ব, চাচাত্ব এবং মুক্তিদাতার উত্তরাধিকার। এর মাধ্যমেই বিষয়টি পূর্ণ হলো।
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٤)
طبقة الفروع وحالاتهاوالفروع لهم ثلاث حالات: الحالة الأولى: ذكور خلص، لا يوجد معهم نساء.
الحالة الثانية: إناث خلص، لا يوجد معهم أحد من الرجال.
الحالة الثالثة: رجال ونساء.
فالذكور الخلص لم يذكر الله لهم فرضاً في كتابه.
والقاعدة في المواريث: (كل من لم يذكر الله له فرضاً في الكتاب فهو معصب، أي: لا يرث إلا بالتعصيب)، وهذا ينزل تحت قول النبي صلى الله عليه وسلم: (فما بقي فلأولى رجل ذكر)، فلو مات ميت عن بنت وأم، فالبنت لها النصف، والأم لها السدس لوجود الفرع الوارث، والأب له فرض السدس ويرث أيضاً بالتعصيب.
فنأخذ بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (فما بقي فلأولى رجل ذكر).
وقد يعطي الأب الفرض فقط وذلك في حالة: لو زحمه أصحاب فروض، ولم يزاحمه أحد من المعصبين، وإن كان هو المعصب الوحيد فيأخذ بالأقوى.
وهو التعصيب أي: فيأخذ الباقي كلية تعصيباً.
فأما الإناث الخلص فلهن أحوال: إما أن نكون بنتاً واحدة أو بنتين أو أكثر من بنتين: الحالة الأولى: بنت واحدة، لقد قسم الله لها قسماً عدلاً وهو النصف، قال الله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء:11].
الحالة الثانية: بنتان فقط وإرثهما بالكتاب وبالسنة.
أما الكتاب، فقول الله تعالى: {فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ} [النساء:11] وهو وإن لم يذكر البنتين بالنص، لكن الاستدلال بالمفهوم لا بالمنطوق.
وبيانه بالآتي: قال الله تعالى: {وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء:11]، فيكون مفهومه: إن كانت أكثر من واحدة فليس لهن النصف.
ونجد في السنة أن النبي صلى الله عليه وسلم قد قسم للبنتين الثلثين، فيكون إذاً للبنتين فأكثر الثلثان.
وقد ورد في السنن (أن النبي صلى الله عليه وسلم أعطى الأم الثمن والبنتين الثلثين، وأعطى الباقي للعم تعصيباً)، فإذاً بالمفهوم في الآية، وبنص الحديث فرض البنتين الثلثان.
الحالة الثالثة: أكثر من بنتين، الآية ظاهرة في ذلك قال تعالى: {فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ} [النساء:11]، فإذاً لهن الثلثان.
إذاًَ: هذه حالات الإناث الخلص، ويبقى لنا من الكلام في الفروع حالة: التخليط بين الذكور والإناث.
فالإناث مع الذكور لا فرضية، وإنما تعصيب، وهذا التعصيب قد قسمه الله فجعل حظ الرجل مثل حظ امرأتين، قال تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ} [النساء:11]، فإذا كان هناك ذكور وإناث فنعطي الرجل نصيب امرأتين، فتكون الآية تكفلت لنا بالفروع بأحوالها الثلاثة، ذكور خلص، إناث خلص، ذكور وإناث.
বংশধরদের (ফুরু) স্তর ও তাদের অবস্থাসমূহবংশধরদের তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: শুধু পুরুষ, তাদের সাথে কোনো নারী নেই।
দ্বিতীয় অবস্থা: শুধু নারী, তাদের সাথে কোনো পুরুষ নেই।
তৃতীয় অবস্থা: নারী ও পুরুষ উভয়ই বিদ্যমান।
শুধু পুরুষদের জন্য আল্লাহ তাঁর কিতাবে কোনো নির্ধারিত অংশ (ফারজ) উল্লেখ করেননি।
উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতি হলো: (আল্লাহ যাঁর জন্য কিতাবে কোনো নির্ধারিত অংশ উল্লেখ করেননি, তিনি আসাবা বা অবশিষ্টভোগী; অর্থাৎ তিনি কেবল আসাবা হিসেবেই উত্তরাধিকারী হবেন)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: (অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের প্রাপ্য)। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ এক কন্যা এবং এক মা রেখে মারা যায়, তবে উত্তরাধিকারী বংশধর থাকায় কন্যা পাবে অর্ধেক এবং মা পাবে ষষ্ঠাংশ। পিতা নির্ধারিত ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং আসাবা হিসেবেও উত্তরাধিকারী হবেন।
তাই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী গ্রহণ করি: (অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের প্রাপ্য)।
কখনো পিতাকে কেবল নির্ধারিত অংশ দেওয়া হয়, আর তা হলো: যখন নির্ধারিত অংশীদারদের আধিক্য থাকে এবং কোনো আসাবা তার সাথে প্রতিযোগিতা না করে। আর যদি তিনি একমাত্র আসাবা হন, তবে তিনি শক্তিশালী পন্থায় অংশ গ্রহণ করবেন।
তা হলো আসাবা হওয়া; অর্থাৎ তিনি আসাবা হিসেবে অবশিষ্ট পুরো অংশই গ্রহণ করবেন।
আর শুধু নারীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: হয় এক কন্যা, অথবা দুই কন্যা, অথবা দুইয়ের অধিক কন্যা: প্রথম অবস্থা: একজন কন্যা; আল্লাহ তার জন্য একটি ন্যায়সংগত অংশ নির্ধারণ করেছেন, যা হলো অর্ধেক। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। কিন্তু যদি তারা কেবল নারী হয় এবং দুইয়ের অধিক হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ। আর যদি সে একাই হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক} [আন-নিসা: ১১]।
দ্বিতীয় অবস্থা: কেবল দুই কন্যা; তাদের উত্তরাধিকার কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
কুরআনের দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {কিন্তু যদি তারা কেবল নারী হয় এবং দুইয়ের অধিক হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ} [আন-নিসা: ১১]। যদিও এখানে স্পষ্টভাবে দুই কন্যার কথা উল্লেখ নেই, তবে এর প্রমাণ গৃহীত হয়েছে অর্থের ব্যঞ্জনা (মফহুম) থেকে, সরাসরি শব্দ (মানতুক) থেকে নয়।
এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ: আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর যদি সে একাই হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক} [আন-নিসা: ১১]। এর অর্থ দাঁড়ায়: যদি তারা একের অধিক হয়, তবে তারা অর্ধেক পাবে না।
এবং আমরা সুন্নাহতে দেখতে পাই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ বণ্টন করেছেন। সুতরাং দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য নির্ধারিত অংশ দুই-তৃতীয়াংশ।
সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকে অষ্টমাংশ এবং দুই কন্যাকে দুই-তৃতীয়াংশ দিয়েছিলেন এবং অবশিষ্ট অংশ আসাবা হিসেবে চাচাকে দিয়েছিলেন)। সুতরাং আয়াতের অর্থ এবং হাদিসের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী দুই কন্যার নির্ধারিত অংশ হলো দুই-তৃতীয়াংশ।
তৃতীয় অবস্থা: দুইয়ের অধিক কন্যা; আয়াতের স্পষ্ট অর্থেই এটি প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {কিন্তু যদি তারা কেবল নারী হয় এবং দুইয়ের অধিক হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ} [আন-নিসা: ১১]। সুতরাং তাদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ।
অতএব, এগুলোই হলো শুধু নারীদের অবস্থা। বংশধরদের মধ্যে কেবল নারী ও পুরুষের মিশ্র অবস্থার আলোচনা বাকি রইল।
পুরুষদের সাথে নারীরা থাকলে তখন আর কোনো নির্ধারিত অংশ থাকে না, বরং তা আসাবা (উভয় মিলে অবশিষ্টভোগী) হয়ে যায়। আল্লাহ এই আসাবার বিধান বণ্টন করে দিয়েছেন যে, এক পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান হবে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান} [আন-নিসা: ১১]। সুতরাং নারী ও পুরুষ একত্রে থাকলে আমরা পুরুষকে দুই নারীর সমান অংশ দেব। এভাবে এই আয়াতটি বংশধরদের তিনটি অবস্থাই—অর্থাৎ শুধু পুরুষ, শুধু নারী এবং নারী-পুরুষের মিশ্রণ—আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
طبقة الأصول وحالاتهاوبعد الفروع في القوة الأصول، والأصول هم: الآباء وإن علوا، وقد قسم الله لهم قسمة عدل في كتابه.
ولهم ثلاث حالات: الأب والأم دون وجود الفرع الوارث، هذه الحالة الأولى.
الحالة الثانية: مع وجود الفرع الوارث.
الحالة الثالثة: وجود الإخوة دون الفرع الوارث.
فالحالة الأولى: وجود الأصل مع وجود الفرع الوارث، قسم الله لهم قسماً عدلاً فقال: {وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ} [النساء:11]، إذاً: البنت لها النصف.
وهذا فرع وارث.
فما ميراث الأبوين؟ قال: السدس.
فإذا مات رجل عن بنت وأب وأم، فالبنت لها النصف، والأم لها السدس، وسدس للأب، والباقي يأخذه الأب تعصيباً.
الحالة الثانية: عدم وجود الفرع الوارث، قال: {فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ} [النساء:11]، فجعل للأم الثلث، ولم يجعل للأب شيئاً، والقاعدة: (إن لم تجد ذكراً فرض له في القرآن فاعلم أنه سيرث بالتعصيب) يعني: له الباقي.
إذاً: ترث الأم الثلث ويأخذ الأب الباقي تعصيباً.
الحالة الثالثة: عدم وجود الفرع الوارث مع وجود الإخوة قال: {فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ} [النساء:11]، ذكر هنا الإخوة، فهنا حجب الإخوة الأم من الثلث إلى السدس، وهذا الحجب يسمى عند أهل الفرائض: (حجب نقصان) فحجبوا الأم من الثلث إلى السدس.
فورثت الأم السدس، وأصبح الباقي كله للأب تعصيباً.
والإخوة ليس لهم شيء مع وجود الأب، وهو الراجح الصحيح في إرثهم مع الجد، والمعترك قوي بين أهل العلم في هذه المسألة: أي: مسألة الجد مع الإخوة.
إذاً: فالأب سيحجبهن ولن يرثن، وهذا عجب في المواريث.
كذلك الأخوات لا يرثن لوجود الأصل الذكر؛ فإنهن لا يرثن كما سنبين إلا بشرطين، وهما: عدم وجود الأصل الوارث، وعدم وجود الفرع الوارث الذكر.
মূলের (উসুলে) স্তর ও এর অবস্থাসমূহশাখাসমূহের (সন্তানসন্ততি) পর শক্তির বিচারে মূলের (পিতা-মাতা) অবস্থান। মূল হলেন: পিতা এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ। আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁদের জন্য ইনসাফপূর্ণ বণ্টন নির্ধারণ করেছেন।
তাঁদের জন্য তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা হলো—উত্তরাধিকারী শাখার অনুপস্থিতিতে পিতা ও মাতা।
দ্বিতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী শাখার উপস্থিতিতে।
তৃতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী শাখা ছাড়া ভাই-বোনদের উপস্থিতি।
প্রথম অবস্থা: উত্তরাধিকারী শাখার উপস্থিতিতে মূলের অবস্থান। আল্লাহ তাঁদের জন্য ইনসাফপূর্ণ বণ্টন করে বলেছেন: "আর যদি সে (কন্যা) একজন হয় তবে তার জন্য অর্ধেক, আর তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ ওই সম্পদ থেকে যা সে রেখে গেছে (যদি তার সন্তান থাকে)" [নিসা: ১১]। সুতরাং: কন্যার জন্য অর্ধেক।
আর এটি হলো উত্তরাধিকারী শাখা।
তাহলে পিতা-মাতার মিরাস কী? তিনি বলেছেন: এক-ষষ্ঠাংশ।
যদি কোনো ব্যক্তি এক কন্যা, পিতা ও মাতা রেখে মারা যান, তবে কন্যা পাবেন অর্ধেক, মাতা পাবেন এক-ষষ্ঠাংশ, আর পিতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ এবং অবশিষ্ট অংশ পিতা আসাবা হিসেবে (উদ্বৃত্তভোগী) গ্রহণ করবেন।
দ্বিতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী শাখার অনুপস্থিতি। তিনি বলেছেন: "যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার ওয়ারিশ হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ" [নিসা: ১১]। এখানে তিনি মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন এবং পিতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অংশ উল্লেখ করেননি। নিয়ম হলো: "যদি কুরআনে কোনো পুরুষের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত না পাও, তবে জেনে রেখো যে সে আসাবা হিসেবে মিরাস পাবে" অর্থাৎ: তার জন্য অবশিষ্ট অংশ।
সুতরাং: মা এক-তৃতীয়াংশ মিরাস পাবেন এবং পিতা অবশিষ্ট অংশ আসাবা হিসেবে গ্রহণ করবেন।
তৃতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী শাখার অনুপস্থিতি কিন্তু ভাই-বোনদের উপস্থিতি। তিনি বলেছেন: "যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার ওয়ারিশ হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ; কিন্তু যদি তার ভাই-বোন থাকে তবে তার মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ" [নিসা: ১১]। এখানে ভাই-বোনদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভাই-বোনরা মাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-ষষ্ঠাংশে কমিয়ে দিয়েছে। মিরাস শাস্ত্রবিদদের নিকট এই প্রতিবন্ধকতাকে বলা হয়: 'অংশ হ্রাসকারী প্রতিবন্ধকতা' (হাজবে নুকসান)। ফলে তারা মাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-ষষ্ঠাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
ফলে মা এক-ষষ্ঠাংশ মিরাস পেলেন এবং অবশিষ্ট সবটুকু অংশ পিতার জন্য আসাবা হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
আর পিতার উপস্থিতিতে ভাই-বোনরা কিছুই পাবে না। দাদার সাথে তাদের মিরাসের ক্ষেত্রে এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত। যদিও এই মাসআলায়—অর্থাৎ দাদার সাথে ভাই-বোনদের মিরাসের মাসআলায়—আলেমদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে।
সুতরাং: পিতা তাদের বঞ্চিত করবেন এবং তারা কোনো মিরাস পাবে না। মিরাসের ক্ষেত্রে এটি এক বিস্ময়কর বিষয়।
অনুরূপভাবে, পুরুষ মূলের (পিতা) উপস্থিতিতে বোনরা মিরাস পায় না; কেননা আমরা যেমনটি পরে বর্ণনা করব, তারা দুটি শর্ত ছাড়া মিরাস পায় না। শর্ত দুটি হলো: উত্তরাধিকারী মূলের অনুপস্থিতি এবং পুরুষ উত্তরাধিকারী শাখার অনুপস্থিতি।
(খণ্ড: ١)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
طبقة الحواشي وحالاتهابعد الأصول في القوة الحواشي، والحواشي: إخوة، وأخوات، وأعمام وأبناؤهم.
والقاعدة في المواريث؛ (لا ترث أي امرأة من الحواشي باستثناء الأخوات لكن الرجال فقط يرثون).
والحواشي لهم خمس حالات: الحالة الأولى: الإخوة والأخوات، والإخوة إما أن يكونوا إخوة لأم، أو إخوة لأب، أو إخوة أشقاء، فإن كانوا إخوة أشقاء ذكوراً وإناثاً فيرثون للذكر مثل حظ الأنثيين.
فإذا مات شخص عن إخوة أشقاء وهم: محمد وأحمد وهند وزينب، وترك ملايين النقود قلنا: ذكر التوريث لهم في آخر سورة النساء؛ لأن هذا كلالة ليس له ولد، وليس له والد، أي: ليس له أصل ولا فرع، فلا يوجد له غير الحواشي: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ إِنْ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ} [النساء:176]، إلى أن قال: {وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ} [النساء:176].
فيكون التقسيم هنا للذكر مثل حظ الأنثيين.
الحالة الثانية: إخوة وأخوات لأم، فإن كانت أختاً سيكون لها السدس، وإن كانوا أكثر من ذلك فلهم الثلث، ويرثون بالسوية للذكر مثل الأنثى.
فإذا ماتت امراة عن محمد وهند وزينب وهم إخوة وأخوات لأم، فإنهم يرثون بالسوية بين الذكر والأنثى، أما الأشقاء فيرثون للذكر مثل حظ الأنثيين، لأن الأشقاء يدلون بالذكر، أما الإخوة لأم فيدلون بالأم.
والعصبة هي التي تفرق وتجعل للذكر مثل حظ الأنثيين، فعندما عدمت العصبة في الإخوة لأم تساوت الفروض، والتقسيم للذكر وللأنثى بالسوية.
هناك فرق بين الإخوة الأشقاء، والإخوة لأم: الفرق الأول: أنه لا تقسم التركة بالسوية بين الذكر والأنثى الأشقاء، وإنما للذكر مثل حظ الأنثيين.
وأما الإخوة لأم فيقسمون التركة بالسوية.
الفرق الثاني: أن الإخوة الأشقاء يأخذون كل التركة: {لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ} [النساء:11]، أما الإخوة لأم فلا يأخذون إلا الثلث.
الحالة الثالثة: الإخوة الأب وهم مثل الأشقاء لا فرق بينهم.
الحالة الرابعة والخامسة: الأعمام وأبناء الأعمام وأبناء الإخوة، وهؤلاء لا يرث منهم إلا الرجال فإذا قيل هؤلاء كيف يرثون؟ ومن الذي أعطاهم الإرث؟ قلنا: أعطاهم النبي صلى الله عليه وسلم، بقوله في الحديث: (ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فلأولى رجل ذكر).
فإذا مات رجل عن بنت وعم فالبنت لها النصف والعم يأخذ باقي التركة تعصيباً، بدليل: (ألحقوا الفرائض)، وقد ألحقنا الفرائض بأهلها فأعطينا النصف للبنت.
وبقي النصف الآخر، ولا يوجد رجل ذكر عصبة إلا العم فأخذه.
أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
পার্শ্ববর্তী আত্মীয়দের (হাওয়াশি) স্তর ও তাদের অবস্থামূল উত্তরাধিকারীদের (উসূল) পর শক্তিমত্তার দিক থেকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়দের (হাওয়াশি) অবস্থান। পার্শ্ববর্তী আত্মীয়রা হলেন: ভাই, বোন, চাচা এবং তাদের সন্তানগণ।
উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতি হলো: বোনরা ব্যতীত পার্শ্ববর্তী আত্মীয়দের (হাওয়াশি) মধ্য থেকে কোনো নারী উত্তরাধিকারী হয় না, বরং কেবল পুরুষরাই উত্তরাধিকারী হয়।
পার্শ্ববর্তী আত্মীয়দের পাঁচটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: ভাই ও বোন। ভাইয়েরা হয় বৈপিত্রেয় ভাই, অথবা বৈমাত্রেয় ভাই, অথবা সহোদর ভাই হতে পারে। যদি তারা সহোদর ভাই ও বোন হয়, তবে তারা এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান—এই নীতিতে উত্তরাধিকার লাভ করবে।
যদি কোনো ব্যক্তি তার সহোদর ভাই-বোন—যথা: মুহাম্মদ, আহমদ, হিন্দ ও যয়নবকে রেখে মারা যায় এবং বিপুল সম্পদ রেখে যায়, তবে আমরা বলব: সূরা নিসার শেষে তাদের উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ এটি ‘কালালাহ’র অন্তর্ভুক্ত, যার কোনো সন্তান নেই এবং কোনো পিতাও নেই। অর্থাৎ তার কোনো মূল (উসূল) বা শাখা (ফুরু) নেই। তার পার্শ্ববর্তী আত্মীয় (হাওয়াশি) ছাড়া আর কেউ নেই: “তারা তোমার কাছে বিধান জানতে চায়; তুমি বল, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন; যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, আর তার এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক; আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি তার (বোনের) কোনো সন্তান না থাকে।” [নিসা: ১৭৬], শেষ পর্যন্ত যেখানে বলা হয়েছে: “আর যদি তারা ভাই ও বোন হয়, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে।” [নিসা: ১৭৬]।
সুতরাং এখানে বণ্টন হবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান—এই ভিত্তিতে।
দ্বিতীয় অবস্থা: বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন। যদি একজন বোন হয় তবে সে ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে, আর যদি তারা এর চেয়ে বেশি হয় তবে তারা তিন ভাগের এক ভাগ পাবে এবং তারা পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমানভাবে উত্তরাধিকার লাভ করবে।
যদি কোনো নারী মুহাম্মদ, হিন্দ ও যয়নবকে রেখে মারা যায় এবং তারা তার বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন হয়, তবে তারা পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমানভাবে অংশ পাবে। অন্যদিকে সহোদরদের ক্ষেত্রে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হয়, কারণ সহোদররা পুরুষের মাধ্যমে সম্পর্কিত হয়, আর বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা মায়ের মাধ্যমে সম্পর্কিত হয়।
‘আসাবাহ’ বা অবশিষ্টাংশভোগী হওয়া বিষয়টিই পার্থক্য তৈরি করে এবং পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ করে দেয়। যখন বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে ‘আসাবাহ’ হওয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, তখন নির্ধারিত অংশগুলো সমান হয়ে যায় এবং বণ্টন পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমভাবে হয়।
সহোদর ভাই-বোন এবং বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে: প্রথম পার্থক্য: সহোদর ভাই ও বোনের মধ্যে সম্পদ সমানভাবে বণ্টিত হয় না, বরং এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হয়।
আর বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে সম্পদ সমানভাবে বণ্টন করা হয়।
দ্বিতীয় পার্থক্য: সহোদর ভাই-বোনেরা সমস্ত সম্পদ গ্রহণ করতে পারে: “এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান” [নিসা: ১১] এই নীতিতে। কিন্তু বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা তিন ভাগের এক ভাগের বেশি পায় না।
তৃতীয় অবস্থা: বৈমাত্রেয় ভাই। তারা সহোদর ভাইদের মতোই, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থা: চাচা, চাচার ছেলে এবং ভাইয়ের ছেলে। তাদের মধ্য থেকে কেবল পুরুষরাই উত্তরাধিকারী হয়। যদি প্রশ্ন করা হয়, তারা কীভাবে উত্তরাধিকারী হয় এবং কে তাদের এই উত্তরাধিকারের অংশ দিয়েছেন? আমরা বলব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদিসে তাদের এই অধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “নির্ধারিত অংশগুলো (ফরায়েয) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের প্রাপ্য।”
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি এক কন্যা ও এক চাচা রেখে মারা যায়, তবে কন্যা পাবে অর্ধেক সম্পত্তি এবং চাচা অবশিষ্টাংশভোগী (আসাবাহ) হিসেবে অবশিষ্ট সম্পদ গ্রহণ করবেন। এর প্রমাণ হলো: “নির্ধারিত অংশগুলো পৌঁছে দাও”—আমরা নির্ধারিত অংশ হকদারকে পৌঁছে দিয়েছি এবং কন্যাকে অর্ধেক দিয়েছি।
আর বাকি অর্ধেক অবশিষ্ট রয়েছে, যেহেতু চাচা ছাড়া আর কোনো পুরুষ ‘আসাবাহ’ নেই, তাই তিনি তা গ্রহণ করলেন।
আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: -)
مهمات في أحكام المواريث القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: مهمات في أحكام المواريث
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 15 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী বিভাগ: ফারায়েজ ও অসিয়ত
বই: উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব সাইট দ্বারা প্রতিলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১৫টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١)
مهمات في أحكام المواريث -
أقسام الدينلقد شرع الإسلام للإنسان أحكاماً تنظم حياته، وشرع أحكاماً تنظم ما يترك من التركة بعد وفاته، وأناط بالتركة حقوقاً وواجبات ينبغي تأديتها قبل توزيع أي جزء من التركة، وهذا يدل على عدل الإسلام ومراعاته لحقوق الناس.
উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী -
ঋণের প্রকারভেদইসলাম মানুষের জন্য এমন কিছু বিধান প্রণয়ন করেছে যা তার জীবনকে সুশৃঙ্খল করে, এবং সে তার মৃত্যুর পর যে উত্তরাধিকার সম্পদ (তারকা) রেখে যায় তা বিন্যস্ত করার জন্যও বিধান দিয়েছে। আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে এমন কিছু অধিকার ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট করে দিয়েছে যা সম্পত্তির কোনো অংশ বন্টন করার পূর্বেই আদায় করা আবশ্যক। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকারের প্রতি এর সজাগ দৃষ্টিরই প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٢)
معنى التركةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: التركة: هو المال الذي يتركه الميت أو يخلفه لمن يرثه، وهم الأولاد الفروع وإن نزلوا، والآباء الأصول وإن علوا، والحواشي وهم الإخوة الأخوات.
তারিকার অর্থনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা হলো জাহান্নামে।
অতঃপর: তারিকা (উত্তরাধিকার): এটি হলো সেই সম্পদ যা মৃত ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে যায় বা ছেড়ে যায়। তারা হলো শাখা বা অধস্তন বংশধর (সন্তানাদি) যদিও তারা নিচের স্তরের হয়, মূল বা উর্ধ্বতন বংশধর (পিতা-মাতা) যদিও তারা উপরের স্তরের হয় এবং পার্শ্বীয় আত্মীয় যেমন ভাই ও বোন।
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٣)
الحقوق المتعلقة بالتركة
ত্যাজ্য সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٤)
الدين ومؤنة تجهيز الميتويتعلق بالتركة حقوق، ولا يمكن أن توزع التركة والميراث قبل وجود ومعرفة هذه الحقوق، وكثير من الإخوة يقعون في الإثم والمحظور فيوزعون التركة دون أن ينظروا إلى هذه الحقوق.
والحقوق التي تتعلق بالتركة أربعة: أولاً: الدين.
ثانياً: مئونة تجهيز الميت.
ثالثاً: الوصايا.
رابعاً: الإرث.
وتكون من التركة، وتقدم قبل أن توزع، وتقدم أيضاً على الديون وهذا قول الحنابلة، فهم يرون أن حق الميت كحقه حياً، والأئمة الثلاثة قالوا: بل الديون تقدم، وهذا الراجح الصحيح من الأثر والنظر.
أما من الأثر فإن النبي صلى الله عليه وسلم قام يصلي على رجل فاستدار قبل أن يكبر فسأل: أعليه دين؟ قالوا: نعم، فقال: أترك وفاء، فقالوا: لا، قال: صلوا على صاحبكم، وهذا أول ما يبين عظم حق الدين.
والنبي صلى الله عليه وسلم بين أن الشهيد يغفر له كل ذنب عند أول دفعة من دمه إلا الدين، قال: (سارني بذلك جبريل عليه السلام، فلعظم الدين يقدم على مئونة تجهيز الميت، لا سيما أن مؤنة التجهيز واجبة على أوليائه وعلى الورثة، فإن لم يستطيعوا فهي واجبة على ولي الأمر، وعلى بيت مال المسلمين، فلطالما أن لها مخارج، فلا بد أن يقدم الدين، وهذا هو الصحيح.
ঋণ এবং মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফনের খরচমৃতের পরিত্যক্ত সম্পদের (তারকা) সাথে কিছু অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকে। এই অধিকারগুলো চিহ্নিত ও নিশ্চিত করার পূর্বে সম্পদ এবং উত্তরাধিকার বণ্টন করা সম্ভব নয়। অনেক ভাই এই ক্ষেত্রে পাপে লিপ্ত হন এবং নিষিদ্ধ কাজ করে বসেন, কারণ তারা এই অধিকারগুলোর প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করেই সম্পদ বণ্টন করে দেন।
সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ চারটি: প্রথমত: ঋণ।
দ্বিতীয়ত: মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন ও প্রস্তুতির খরচ।
তৃতীয়ত: অসিয়ত (ইচ্ছাপত্র)।
চতুর্থত: মিরাস (উত্তরাধিকার)।
এই খরচগুলো মূল সম্পদ থেকেই মেটাতে হয় এবং তা বণ্টনের পূর্বেই প্রদান করতে হয়। এমনকি ঋণের ওপরেও একে (কাফন-দাফনের খরচকে) অগ্রাধিকার দিতে হবে—এটি হাম্বলি মাযহাবের মত। তাদের মতে, একজন ব্যক্তি জীবিত থাকাকালীন তার সম্পদের ওপর যেমন অধিকার থাকে, মৃত অবস্থায়ও তেমনই থাকে। তবে অপর তিন ইমাম বলেছেন যে, বরং ঋণকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। দলিল (আসার) এবং যুক্তির (নাজর) নিরিখে এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ ও সঠিক মত।
দলিলের দিক থেকে বিষয়টি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন, কিন্তু তাকবীর বলার আগেই তিনি ফিরে তাকালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: "তার কি কোনো ঋণ আছে?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: "সে কি তা পরিশোধের মতো কোনো সম্পদ রেখে গেছে?" তারা বললেন: "না।" তখন তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার সালাত আদায় করে নাও।" এটিই প্রথমত ঋণের হকের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বর্ণনা করেছেন যে, শহীদের রক্তের প্রথম ফোঁটা নির্গত হওয়ার সাথে সাথেই তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, কেবল ঋণ ব্যতীত। তিনি বলেছেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) গোপনে আমাকে এই সংবাদটি দিয়েছেন।" সুতরাং ঋণের এই বিশাল গুরুত্বের কারণে একে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের খরচের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিশেষ করে কাফন-দাফনের খরচ নির্বাহ করা মৃতের অভিভাবক ও উত্তরাধিকারীদের ওপর ওয়াজিব। তারা যদি অক্ষম হন, তবে তা রাষ্ট্রপ্রধান এবং মুসলিমদের বায়তুল মালের ওপর ওয়াজিব হয়। যেহেতু এই খরচ মেটানোর বিকল্প উৎস রয়েছে, তাই ঋণকেই অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে; আর এটাই সঠিক ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত।
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
أقسام الدينأقسام الدين ثلاثة: الأول: دين لله كالصيام والزكاة، والنذر، والحج وهي عبادة بدنية وعبادة مالية.
الثاني: ديون الخلق، وهناك ديون تتعلق بعين التركة ومثال ذلك: رجل ترك مالاً لأولاده، وهذا المال يمكن أن يكون سيارات، أو عقارات أو أراضي، أو زروعاً وثماراً، أو دراهم ودنانير.
فكان المتوفى قد استدان ديناً يحتاجه، فرهن الأرض مثلاً عند صاحب الدين، فيبقى الدين متعلقاً بعين التركة، أو تكون السيارة رهناً عند أحد، فهذا اسمه دين متعلق بعين التركة.
وديون مرسلة: أي: ديون معروفة وفيها شيكات، لكن لا يوجد رهونات، فهو لم يرهن شيئاً وتسمى هذه الديون غير متعلقة بعين التركة.
أما بالنسبة لما يقدم في السداد: دين الخالق أم دين الخلق، فقد اختلف العلماء، فالجمهور يرون دين الخلق يقدم على دين الخالق؛ لأن الأصل في حقوق الخلق المشاحة وعدم المسامحة، ولذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من كانت له عند أخيه مظلمة فليتحلل)؛ لأنه لا يمكن أن تزول قدمه من عند الله جل في علاه حتى يُقتص منه لصاحبه، قالوا: ولذلك قدمنا ديون الخلق.
أما الشافعية فقالوا: يتقدم حق الخالق، وعندنا دليل من الأثر، أثر يقدم حق الخالق على حق المخلوق، ففي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم (لما جاءت المرأة تقول: يا رسول الله! إن أمي ماتت وعليها صوم أفأصوم عنها -وفي رواية أمي ماتت وعليها حج- أفأحج عنها؟ قال: أرأيت لو كان على أمك دين هل كنت قاضيته؟ قالت: نعم، قال: فاقضوا الله، فالله أحق بالقضاء) وهذا النص (أحق) تدل على أنه لا بد أن يقدم.
والقولان فيهما قوة عظيمة جداً والراجح الصحيح: حق الخالق يقدم على حق المخلوق، وإن لم يف من التركة حق المخلوق، فيرضي الخالق المخلوق عن هذا المدين يوم القيامة عنه.
ঋণের প্রকারভেদঋণের প্রকারভেদ তিনটি: প্রথম: আল্লাহর ঋণ যেমন রোজা, যাকাত, মানত এবং হজ; আর এগুলো হলো শারীরিক ইবাদত ও আর্থিক ইবাদত।
দ্বিতীয়: সৃষ্টির ঋণ। কিছু ঋণ রয়েছে যা মূল সম্পদের (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ) সাথে সংশ্লিষ্ট। এর উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তি তার সন্তানদের জন্য কিছু সম্পদ রেখে গেছেন, আর এই সম্পদ হতে পারে গাড়ি, স্থাবর সম্পত্তি বা জমি, অথবা ফসল ও ফলমূল, কিংবা দিরহাম ও দিনার।
মৃত ব্যক্তি তার প্রয়োজনীয় কোনো ঋণ গ্রহণ করেছিলেন এবং উদাহরণস্বরূপ ঋণদাতার কাছে জমি বন্ধক রেখেছিলেন। ফলে সেই ঋণটি মূল সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়ে গেল। অথবা গাড়িটি কারো কাছে বন্ধক হিসেবে ছিল; একে বলা হয় মূল সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণ।
এবং সাধারণ ঋণ: অর্থাৎ এমন পরিচিত ঋণ যাতে চেক রয়েছে, কিন্তু কোনো বন্ধক নেই। তিনি কোনো কিছু বন্ধক রাখেননি এবং এই ঋণগুলোকে বলা হয় মূল সম্পদের সাথে অ-সংশ্লিষ্ট ঋণ।
পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনটি অগ্রগণ্য হবে—স্রষ্টার ঋণ নাকি সৃষ্টির ঋণ—সে বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। জুমহুর উলামাদের মতে সৃষ্টির ঋণ স্রষ্টার ঋণের চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ সৃষ্টির অধিকারের মূল ভিত্তি হলো পাওনা আদায়ে কঠোরতা ও ক্ষমা না করা। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যার নিকট তার ভাইয়ের কোনো পাওনা বা জুলুম রয়েছে, সে যেন তা মিটিয়ে নেয়); কারণ মহান সুউচ্চ আল্লাহর নিকট থেকে তার পা সরতে পারবে না যতক্ষণ না তার থেকে পাওনাদারের অনুকূলে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয়। তারা বলেন: একারণেই আমরা সৃষ্টির ঋণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।
পক্ষান্তরে শাফেয়ীগণ বলেছেন: স্রষ্টার অধিকার অগ্রগণ্য হবে। আর আমাদের কাছে হাদীস থেকে দলিল রয়েছে—এমন দলিল যা স্রষ্টার অধিকারকে সৃষ্টির অধিকারের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। সহীহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে (যখন এক মহিলা এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মারা গেছেন অথচ তার ওপর রোজা কাজা রয়ে গেছে, আমি কি তার পক্ষ থেকে রোজা রাখব? -অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আমার মা মারা গেছেন অথচ তার ওপর হজ রয়ে গেছে- আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন: তোমার কি অভিমত, যদি তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকত, তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করো, কেননা আল্লাহ পরিশোধ পাওয়ার অধিক হকদার)। এই পাঠ (অধিক হকদার) নির্দেশ করে যে, অবশ্যই একে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উভয় মতেরই অত্যন্ত জোরালো ভিত্তি রয়েছে। তবে সঠিক ও শক্তিশালী মত হলো: স্রষ্টার অধিকার সৃষ্টির অধিকারের ওপর অগ্রগণ্য হবে। আর যদি মূল সম্পদ থেকে সৃষ্টির অধিকার পূর্ণ না হয়, তবে কিয়ামতের দিন স্রষ্টা সেই দেনাদারের পক্ষ থেকে পাওনাদারকে সন্তুষ্ট করে দেবেন।
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
الوصيةثالثاً: من الحقوق المتعلقة بالتركة: الوصايا، وتوزع الوصايا بعد الانتهاء من الدين، وقد يقول قائل: كيف توزعون الدين قبل الوصية وقد قال الله تعالى: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء:11]؟ فبهذا تكونون قد خالفتم النص القرآني.
و
الجواب أن علي بن أبي طالب قال: (قضى رسول لله بالدين قبل الوصية) وقضاء الرسول فيه حجة على التقديم والتأخير، الرسول بقضائه فأعلمنا مراد الله من الآية حيث قدم الدين على الوصية، وقد أجمعت الأمة على أن تقسيم عين التركة لا يكون إلا بعد قضاء الدين ثم الوصية.
والحكمة من تقديم الدين على الوصية ظاهرة جداً، وهي أن الوصية مستحبة، والدين واجب السداد، والقاعدة العمومية: أن الواجبات تقدم على المستحبات، أما الوصية لوارث فلا تجوز، فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (قد أعطى الله لأهل الفروض حقهم، فلا وصية لوارث).
والصحيح الراجح في ذلك أن الوصية للوارث كانت معتبرة قال الله تعالى في سورة البقرة: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ} [البقرة:180].
ووجه الشاهد قوله: (للوالدين) ثم نسخت بقول الرسول صلى الله عليه وسلم: (لا وصية لوارث) فالوصية لوارث محرمة إلا أن يجيزها الورثة، ودليل ذلك: حديث الدارقطني قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ألا أن يجيز الورثة) وهذا الحديث فيه تصريح بذلك.
أما الوصية لغير الوارث فهي الأصل، لكن لا بد أن تحدد أولاً بالثلث لتصح، فقد جاء في حديث سعد عندما قال له: (أأترك أتصدق بشطر مالي؟ قال له: لا، الثلث، والثلث كثير).
والصحيح الراجح: أنها تكون بالثلث.
الحالة الثانية: الوصية بما فوق الثلث فلا تصح إلا أن يجيز الورثة أو بالإجماع على أن من كان له حق فأسقطه صح ذلك.
অসিয়ততৃতীয়ত: উত্তরাধিকার সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহের মধ্যে রয়েছে: অসিয়ত। ঋণ পরিশোধের কাজ সম্পন্ন করার পর অসিয়ত কার্যকর করা হয়। কেউ হয়তো বলতে পারেন: আপনারা অসিয়তের পূর্বে কেন ঋণ পরিশোধ করছেন, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "{সে যা অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর}" [আন-নিসা: ১১]? এর মাধ্যমে তো আপনারা কুরআনের পাঠের বিরোধিতা করছেন।
ও
উত্তরআলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা করেছেন)। অগ্রগণ্যতা এবং বিলম্বে করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর ফয়সালাই হলো দলীল। রাসূলুল্লাহ তাঁর ফয়সালার মাধ্যমে আমাদের এই আয়াত থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন যে, তিনি অসিয়তের ওপর ঋণকে প্রাধান্য দিয়েছেন। উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, মূল উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন কেবল ঋণ পরিশোধের পরেই হতে পারে, তারপর অসিয়ত।
অসিয়তের ওপর ঋণকে প্রাধান্য দেওয়ার হিকমত বা প্রজ্ঞা অত্যন্ত স্পষ্ট। তা হলো, অসিয়ত মুস্তাহাব, আর ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব। সাধারণ নিয়ম হলো: মুস্তাহাব বিষয়ের ওপর ওয়াজিব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন, সুতরাং উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই)।
এই বিষয়ে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো, উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত পূর্বে গ্রহণযোগ্য ছিল। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারায় বলেছেন: {তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য পিতামাতার অনুকূলে অসিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৮০]।
এখানে দলীলের বিষয়টি হলো তাঁর বাণী: (পিতামাতার জন্য), যা পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়েছে: (উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই)। সুতরাং উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা হারাম, তবে অন্য উত্তরাধিকারীরা যদি অনুমতি দেয় তবে ভিন্ন কথা। এর দলীল হলো দারা কুতনীর হাদীস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তবে উত্তরাধিকারীরা যদি অনুমতি দেয়)। এই হাদীসটিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য অসিয়ত করাই হলো মূল বিধান। তবে এটি বৈধ হওয়ার জন্য প্রথমে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। সা’দ-এর হাদীসে এসেছে যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: (আমি কি আমার সম্পদের অর্ধেক দান করে যাব? তিনি তাঁকে বললেন: না, এক-তৃতীয়াংশ; আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক)।
সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: এটি এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে হতে হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা হলে তা বৈধ হবে না, যদি না উত্তরাধিকারীরা তা অনুমোদন করে। অথবা এই সর্বসম্মত মতের ভিত্তিতে যে, যার কোনো অধিকার আছে সে যদি তা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে তবে তা বৈধ হবে।
(খণ্ড: ٢)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٧)
حالات إرث الزوج من الزوجةحالات إرث الزوج من الزوجة: إذا ماتت الزوجة عن زوجها، فلها حالتان: فالحالة الأولى: إذا كان لها ولد، قال الله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ} [النساء:12].
الحالة الثانية: ليس لها ولد، فله النصف مما تركت، ولم يفصل إن كان الولد من الزوج أو من غيره فهو على العموم.
স্ত্রীর থেকে স্বামীর উত্তরাধিকার লাভের অবস্থাসমূহস্ত্রীর থেকে স্বামীর উত্তরাধিকার লাভের অবস্থাসমূহ: যদি স্ত্রী তার স্বামীকে রেখে মারা যান, তবে এর দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: যদি তার সন্তান থাকে; মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। তবে যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তারা যা রেখে গেছে তার এক-চতুর্থাংশ তোমাদের জন্য" [আন-নিসা: ১২]।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি তার কোনো সন্তান না থাকে, তবে সে (স্বামী) তার পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর সন্তান এই স্বামীর হোক বা অন্য কারও, সে বিষয়ে কোনো পার্থক্য করা হয়নি; বরং তা সাধারণ বা ব্যাপক হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: -)
مهمات في أحكام المواريث القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: مهمات في أحكام المواريث
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 15 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি বিভাগ: ফারায়িয ও অসিয়ত
বই: উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠ যা ইসলামওয়েব (IslamWeb) সাইট দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১৫টি পাঠ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١)
مهمات في أحكام المواريث -
ميراث الزوجالميراث له أركان وأسباب وموانع، فلا يتحقق الميراث حتى تتحقق أسبابه وتنتفي موانعه، وإذا توفرت الأسباب ووجدت الموانع قدمت الموانع على الأسباب.
উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী -
স্বামীর মিরাসউত্তরাধিকারের নির্দিষ্ট রুকন, কারণ ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত এর কারণসমূহ সাব্যস্ত না হয় এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূরীভূত না হয়, ততক্ষণ উত্তরাধিকার বাস্তবায়িত হয় না। আর যদি কারণসমূহ বিদ্যমান থাকে এবং প্রতিবন্ধকসমূহও উপস্থিত হয়, তবে প্রতিবন্ধকসমূহ কারণসমূহের ওপর প্রাধান্য পাবে।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٢)
أركان الإرثإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: فإن الإرث له أركان وشروط وأسباب وأقسام.
وأركان الإرث ثلاثة: الركن الأول المورث.
والركن الثاني: الوارث.
والركن الثالث: الموروث.
উত্তরাধিকারের রুকনসমূহনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: উত্তরাধিকারের নির্দিষ্ট কিছু রুকন (স্তম্ভ), শর্ত, কারণ এবং প্রকার রয়েছে।
উত্তরাধিকারের রুকন তিনটি: প্রথম রুকন হলো উত্তরাধিকার প্রদানকারী (মৃত ব্যক্তি)।
দ্বিতীয় রুকন হলো উত্তরাধিকারী।
তৃতীয় রুকন হলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٣)
شرط المورثفالركن الأول: المورث هو صاحب التركة، ولا بد أن تتوفر فيه شروط حتى نأخذ ماله، الشرط الأول: الموت حقيقة، أو حكماً.
فمثلاً: رجل عنده خمسة أولاد وعنده تركة، فكل واحد منهم يريد من هذا المال فينتظر موت الوالد ليأخذ المال، فلا يستطيع أن يأخذ المال حتى يموت هذا الوارث حقيقة أو حكماً، كأن يكون مفقوداً، كأن يذهب مثلاً في سرية ليقاتل، فيرجع القوم ولا يرجع هو، ولا يعلم أحد من السرية أمات هو أم لا يزال حياً.
والدليل على اشتراط موت المورث حقيقة أو حكماً، قول الله تعالى: {إِنْ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء:176]، يعني: مات، فإذاً المال لا ينقل من المورث إلى الوارث إلا إذا مات المورث حقيقة أو حكماً.
সম্পদ প্রদানকারীর শর্তপ্রথম রুকন: সম্পদ প্রদানকারী হলেন ত্যাজ্য সম্পদের মালিক। তাঁর সম্পদ গ্রহণ করার জন্য তাঁর মাঝে কিছু শর্ত বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। প্রথম শর্ত: প্রকৃত মৃত্যু অথবা আইনি মৃত্যু।
উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তির পাঁচজন সন্তান এবং ত্যাজ্য সম্পদ আছে। তাদের প্রত্যেকেই এই সম্পদ থেকে অংশ পেতে চায়, তাই তারা সম্পদ গ্রহণের জন্য পিতার মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে। তবে এই ব্যক্তি প্রকৃতরূপে অথবা আইনিভাবে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত তারা সম্পদ গ্রহণ করতে পারে না। যেমন: তিনি নিখোঁজ হওয়া; ধরা যাক তিনি কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গেলেন, অতঃপর সেনাদল ফিরে এলেও তিনি ফিরে আসলেন না এবং সেই দলের কেউ জানে না যে তিনি মারা গেছেন নাকি এখনও জীবিত আছেন।
সম্পদ প্রদানকারীর প্রকৃত বা আইনি মৃত্যু শর্ত হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি কোনো ব্যক্তি নিঃশেষ (মৃত্যুবরণ) হয় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে} [আন-নিসা: ১৭৬], অর্থাৎ: সে মারা যায়। সুতরাং, সম্পদ প্রদানকারী প্রকৃতরূপে অথবা আইনিভাবে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত সম্পদ তাঁর নিকট থেকে উত্তরাধিকারীর নিকট স্থানান্তরিত হয় না।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٤)
شروط الوارثأما الركن الثاني وهو الوارث، فيشترط فيه شرط واحد ليتملك الإرث، وهو: الحياة بعد ممات المورث ولو لحظة واحدة، وهذا شرط مهم جداً.
فإذاً: الوارث لا يستحق المال أبداً إلا أن تكون له حياة مستقرة ولو لحظة واحدة بعد موت المورث.
فمثلاً: رجل معه ابنه وكانا في سفر، وكان الرجل من الأغنياء ومن الأعيان، وكانا في السيارة فقدر الله لها بحادث، فمات الأب وجاء الطبيب ينظر للابن فوجد فيه دقات القلب، فأخذه إلى المستشفى فمات بعده بيوم، فجاء أولاد الميت الولد يسألون هل لأبيهم ميراث أم لا؟ فنقول: نعم.
ولكن لو مات الابن قبل أبيه فليس له شيء من الميراث.
لأولاد الابن ميراث، فلابد من اشتراط الحياة ولو لحظة واحدة بعد موت المورث.
ولكن الأحناف يقولون بالوصية الواجبة، وهي أن أولاد الابن لهم حق في أموال جدهم الذي مات بعد موت والدهم، وهذا القول هو الذي تعمل به المحاكم، وهذا مخالف ومصادم للشرع.
والدليل على ذلك قول الله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ} [النساء:12]، فاللام هنا لام التمليك، ولا يتملك أحد إلا وهو في حال الحياة، ففي هذا دلالة على أنه يشترط في الوارث الحياة؛ لأنه لا يتملك إلا إذا كان حياً.
الركن الثالث: الموروث، وهو التركة.
উত্তরাধিকারীর শর্তাবলিদ্বিতীয় রুকন তথা উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে মিরাসের মালিক হওয়ার জন্য একটি শর্ত রয়েছে, আর তা হলো: মিরাস প্রদানকারীর মৃত্যুর পর অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও জীবিত থাকা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত।
সুতরাং: মিরাস প্রদানকারীর মৃত্যুর পর অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও স্থিতিশীল জীবন না থাকলে উত্তরাধিকারী কখনোই সম্পদের হকদার হবে না।
উদাহরণস্বরূপ: জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেকে নিয়ে সফরে ছিলেন; লোকটি ছিলেন ধনাঢ্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তি। তারা গাড়িতে ছিলেন, অতঃপর আল্লাহর ফয়সালায় তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন। পিতা মারা গেলেন এবং চিকিৎসক এসে ছেলেকে পরীক্ষা করে তার হৃদস্পন্দন খুঁজে পেলেন। তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন এবং এর একদিন পর সে মারা গেল। এমতাবস্থায় মৃত ছেলের সন্তানরা এসে জিজ্ঞাসা করছে যে, তাদের পিতার মিরাস বা উত্তরাধিকার প্রাপ্য কি না? আমরা বলব: হ্যাঁ।
কিন্তু যদি ছেলে তার পিতার আগে মারা যেত, তবে সে মিরাসের কিছুই পেত না।
ছেলের সন্তানদের মিরাস পাওয়ার জন্য মিরাস প্রদানকারীর মৃত্যুর পর (পিতার) অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও জীবিত থাকার শর্তটি অপরিহার্য।
তবে হানাফীগণ ‘অসিয়তে ওয়াজিবাহ’র কথা বলেন; যা হলো—পিতার মৃত্যুর পর মারা যাওয়া দাদার সম্পত্তিতে নাতি-নাতনিদের অধিকার থাকা। বর্তমানে আদালতগুলোতে এই মতানুসারেই কাজ করা হয়, যা শরীয়তের পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক।
এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক} [নিসা: ১২]। এখানে ‘লাম’ বর্ণটি মালিকানা বুঝাতে এসেছে, আর জীবিত থাকা ছাড়া কেউ কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না। এর মধ্যে এ কথারই প্রমাণ রয়েছে যে, উত্তরাধিকারীর জন্য জীবিত থাকা শর্ত; কারণ জীবিত না থাকলে মালিক হওয়া সম্ভব নয়।
তৃতীয় রুকন: যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, আর তা হলো পরিত্যক্ত সম্পদ বা তরকা।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
أسباب الإرثأسباب الإرث ثلاثة: النسب، والنكاح أو المصاهرة، والولاء.
والنسب هو القرابة، والأقارب يرثون بالفرض والتعصيب، وما كان سببه النكاح فإنه يرث بالفرض فقط لا بالتعصيب، والولاء هو كالنسب؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم بين أن الولاء لحمة كلحمة النسب.
فإذاً أسباب الإرث ثلاثة: النسب وهي القرابة، والنكاح وهي المصاهرة، والولاء لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إنما الولاء لمن أعتق).
ومعنى الولاء أن الرجل يكون رقيقاً، فيعتقه سيده، فإذا مات السيد ولا وارث له، فيرثه المعتق لأن الولاء لحمة كلحمة النسب، أو مات المعتق ولا وارث له، فيرثه سيده الذي أعتقه.
فيرث بالتعصيب، لحديث: (فلأولى رجل ذكر)، والله جل وعلا لم يقسم للمعتق نصيباً مفروضاً في كتابه، فينزل تحت قول النبي صلى الله عليه وسلم: (فلأولى رجل ذكر).
উত্তরাধিকারের কারণসমূহউত্তরাধিকারের কারণ তিনটি: বংশসূত্র, বিবাহ বা বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দাসমুক্তির সম্পর্ক (ওয়ালা)।
বংশসূত্র হলো আত্মীয়তা। আত্মীয়রা নির্ধারিত অংশ (ফারজ) এবং অবশিষ্টাংশভোগী (তাসীব) হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করে। আর বিবাহের কারণে যে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়, তাতে কেবল নির্ধারিত অংশ পাওয়া যায়, অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে নয়। আর দাসমুক্তির সম্পর্ক হলো বংশসূত্রের মতোই; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, দাসমুক্তির সম্পর্ক হলো বংশীয় সম্পর্কের মতোই একটি নিবিড় বন্ধন।
সুতরাং উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি: বংশসূত্র তথা আত্মীয়তা, বিবাহ তথা বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দাসমুক্তির সম্পর্ক; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "দাসমুক্তির অধিকার কেবল তারই, যে মুক্ত করেছে।"
দাসমুক্তির সম্পর্কের অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি দাস ছিল, অতঃপর তার মালিক তাকে মুক্ত করে দিল। এরপর যদি মালিকের মৃত্যু হয় এবং তার কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে সেই মুক্ত ব্যক্তি তার উত্তরাধিকার লাভ করবে; কারণ দাসমুক্তির সম্পর্ক হলো বংশীয় সম্পর্কের মতোই একটি নিবিড় বন্ধন। অথবা যদি মুক্ত ব্যক্তিটি মারা যায় এবং তার কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তার সেই মালিক উত্তরাধিকার লাভ করবে যে তাকে মুক্ত করেছিল।
সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে উত্তরাধিকার পাবে, এই হাদীসের ভিত্তিতে: "তবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" আর আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবে মুক্তিদাতার জন্য কোনো নির্ধারিত অংশ বণ্টন করেননি, তাই এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: "তবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।"
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
الفروض المقدرة في كتاب اللهوأقسام الإرث: الفرض والتعصيب.
والفروض في القرآن هي: النصف والربع والثمن والسدس والثلث والثلثان، قال الله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ} [النساء:12]، إلى آخر الآيات.
فالنصف نصفه ربع، ونصف نصفه ثمن، ثم الثلثان ونصفهما ثلث، ونصف نصفهما سدس.
فالفرض هو النصيب المقدر المعلوم في كتاب الله جل في علاه.
والتعصيب نصيب غير مقدر.
وإذا بدأنا في التوريث سنبدأ بما بدأ الله به، وقد بدأ الله بأصحاب الفروض والدليل على ذلك، قول الله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء:12]، ومن الحديث: (ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فلأولى رجل ذكر)، فهذا أمر يقتضي الوجوب، وسنبدأ بأهل الفرائض، ونبدأ بالمصاهرة وهي الزواج.
আল্লাহর কিতাবে সুনির্ধারিত অংশসমূহউত্তরাধিকারের প্রকারভেদ: নির্ধারিত অংশ (ফরজ) এবং আসাবা (তাসীব)।
কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত অংশগুলো হলো: অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ, এক-অষ্টমাংশ, এক-ষষ্ঠাংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং দুই-তৃতীয়াংশ। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে" [আন-নিসা: ১২], আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
অর্ধেকের অর্ধেক হলো এক-চতুর্থাংশ, এবং তার অর্ধেক হলো এক-অষ্টমাংশ; এরপর দুই-তৃতীয়াংশ, যার অর্ধেক হলো এক-তৃতীয়াংশ এবং তার অর্ধেক হলো এক-ষষ্ঠাংশ।
নির্ধারিত অংশ (ফরজ) হলো সেই সুনির্ধারিত ও জ্ঞাত অংশ যা সুউচ্চ মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
আর আসাবা (তাসীব) হলো অনির্ধারিত অংশ।
আমরা যখন উত্তরাধিকার বণ্টন শুরু করব, তখন আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তা দিয়েই শুরু করব। আল্লাহ সুনির্ধারিত অংশের অধিকারীদের দিয়ে শুরু করেছেন এবং এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। তবে যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তোমাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ; তারা যে ওসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তাদের জন্য এক-অষ্টমাংশ; তোমরা যা ওসিয়ত করো তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি এমন কোনো পুরুষ বা নারীর উত্তরাধিকার বণ্টন করা হয় যার পিতা-মাতা বা সন্তান নেই, কিন্তু তার এক ভাই বা এক বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি তারা এর চেয়ে অধিক হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশের অংশীদার হবে; যে ওসিয়ত করা হয়েছে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর, কারো ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল" [আন-নিসা: ১২]। আর হাদিস থেকে বর্ণিত: "নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" এটি একটি আদেশ যা পালন করা আবশ্যক। আমরা নির্ধারিত অংশের অধিকারীদের দিয়ে শুরু করব এবং বৈবাহিক সম্পর্ক অর্থাৎ বিবাহের মাধ্যমেই শুরু করব।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٧)
الفروض المقدرة للزوجأولاً: الزوج يرث بالفرض فقط، والزوج له حالتان: الحالة الأولى: عدم وجود الفرع الوارث للزوجة، والفرع الوارث، هو: الابن وإن نزل، سواء كان ذكراً أو أنثى، فيكون الفرع الوارث هم: الابن وابن الابن وإن نزل، والبنت وبنت الابن وإن نزلت، كبنت ابن ابن ابن.
فإذا لم يوجد الفرع الوارث للزوجة، فيرث الزوج منها النصف، والدليل على ذلك، قول الله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ} [النساء:12].
وسواء كان الولد منه أو من غيره، لعموم قول الله تعالى: {إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ} [النساء:12]، فـ (ولد) هنا نكرة، والنكرة في سياق النفي تفيد العموم؛ فتعم كل الأولاد، سواء كانوا من الزوج نفسه أو من غيره، كامرأةٍ تزوجت أربعة، وأنجبت من كل واحد منهم ولداً، وجاءت إلى الخامس فلم تنجب منه أحداً ثم ماتت، فللزوج الربع فقط لوجود الفرع الوارث للزوجة وإن لم يكن منه.
فإن وجد الفرع الوارث للميت فللزوج الربع، فمثلاً: ماتت امرأة عن بنت ابن وزوج وأب، فالزوج يستحق الربع لوجود الفرع الوارث وهو بنت الابن.
والحالة الثانية: وجود الفرع الوارث للميت، فللزوج الربع، لقول الله تعالى: {إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ} [النساء:12].
فيكون إذاً للزوج حالتان: الحالة الأولى: وجود الفرع الوارث، فله الربع.
الحالة الثانية: عدم وجود الفرع الوارث فنصيبه النصف.
স্বামীর জন্য নির্ধারিত অংশসমূহপ্রথমত: স্বামী কেবল নির্ধারিত অংশের (ফারিদাহ) মাধ্যমেই উত্তরাধিকারী হন। স্বামীর জন্য দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: স্ত্রীর কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর (ফারউ ওয়ারিস) না থাকা। উত্তরাধিকারী বংশধর বলতে বোঝায়: পুত্র এবং তার অধস্তন বংশধর, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। সুতরাং উত্তরাধিকারী বংশধরগণ হলেন: পুত্র এবং পুত্রের পুত্র ও তার অধস্তন বংশধর, এবং কন্যা ও পুত্রের কন্যা ও তার অধস্তন বংশধর, যেমন পুত্রের পুত্রের পুত্রের কন্যা।
যদি স্ত্রীর কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর না থাকে, তবে স্বামী তার থেকে অর্ধেক অংশ লাভ করবেন। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের স্ত্রীদের ত্যাজ্য সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে} [সূরা আন-নিসা: ১২]।
সন্তান এই স্বামীর হোক বা অন্য কারো, মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে} [সূরা আন-নিসা: ১২]। এখানে ‘সন্তান’ (ওয়ালাদ) শব্দটি অনির্দিষ্ট (নাকীরাহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট শব্দ ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে; ফলে এটি সকল সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে, তারা এই স্বামীর নিজের হোক বা অন্য কারো। যেমন একজন নারী চারজন ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার সন্তান ছিল, এরপর তিনি পঞ্চম ব্যক্তিকে বিয়ে করলেন এবং তার পক্ষ থেকে কোনো সন্তান হলো না, অতঃপর তিনি মারা গেলেন। এমতাবস্থায় স্ত্রীর উত্তরাধিকারী বংশধর বিদ্যমান থাকায় স্বামী কেবল এক-চতুর্থাংশ পাবেন, যদিও সন্তানটি তার নিজের নয়।
যদি মৃত ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর থাকে তবে স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন। উদাহরণস্বরূপ: এক নারী তার পুত্রের কন্যা, স্বামী এবং পিতাকে রেখে মারা গেলেন; এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী বংশধর অর্থাৎ পুত্রের কন্যা বিদ্যমান থাকায় স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
দ্বিতীয় অবস্থা: মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বংশধর থাকা, এমতাবস্থায় স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে (তবে তোমাদের জন্য অর্ধেক); আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ} [সূরা আন-নিসা: ১২]।
সুতরাং স্বামীর অবস্থা দুটি: প্রথম অবস্থা: উত্তরাধিকারী বংশধর থাকলে তিনি এক-চতুর্থাংশ পাবেন।
দ্বিতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী বংশধর না থাকলে তার অংশ হবে অর্ধেক।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٨)
مسائل في ميراث الزوجكم يستحق الزوج من بعد زوجته في هذه المسائل الآتية؟ المسألة الأولى: هلكت امرأة عن زوج وأب.
المسألة الثانية: هلكت عن زوج وابن وابن ابن وبنت ابن.
المسألة الثالثة: هلكت عن زوج وثلاث بنات.
المسألة الرابعة: هلكت عن خمس بنات ابن وزوج.
المسألة الخامسة: هلكت عن ثلاث بنات بنت وزوج.
المسألة السادسة: هلكت عن ثلاثة أولاد بنت، وأب وزوج.
المسألة السابعة: هلكت عن أخت وبنت أخت وزوج وبنت بنت بنت.
أما المسألة الأولى وهي: هلكت المرأة عن زوج وأب، فللزوج النصف، لعدم وجود الفرع الوارث، لقوله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ} [النساء:12].
المسألة الثانية وهي: هلكت عن زوج وابن وابن ابن وبنت ابن، فللزوج الربع لوجود الفرع الوارث، والفرع الوارث هو الابن أو ابن الابن وإن نزل أو بنت الابن وإن نزلت، لقوله تعالى: {فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ} [النساء:12]، فاللام التمليك، وهي تدل على اشتراط حياة الوارث بعد موت المورث.
أما المسألة الثالثة: وهي: هلكت عن زوج وثلاث بنات، فللزوج الربع لوجود الفرع الوارث، والفرع الوارث هنا هو الثلاث البنات، سواء كن بناته أو بنات زوج قبله.
أما المسألة الرابعة: هلكت عن خمس بنات ابن وزوج، فللزوج الربع، لوجود الفرع الوارث.
أما المسألة الخامسة: هلكت عن ثلاث بنات بنت وزوج، فللزوج النصف لعدم وجود الفرع الوارث، فبنات البنت من الأرحام اللاتي لا يرثن، فلسن من الفرع الوارث، وإنما الفرع الوارث بنات الابن وبنات ابن الابن وإن نزل.
أما المسألة السادسة: هلك الميت عن ثلاثة أولاد بنت، وأب وزوج، فللزوج النصف لعدم وجود الفرع الوارث.
أما المسألة السابعة: هلكت عن أخت وبنت أخت وبنت بنت بنت وزوج، فللزوج النصف لعدم وجود الفرع الوارث، أما بنت بنت البنت فإنها من ذوات الأرحام اللاتي لا يرثن.
أما لو استبدلنا بنت بنت البنت بابن ابن الابن، فإن للزوج الربع لوجود الفرع الوارث، فابن الابن يحجب الزوج من النصف إلى الربع، ويسمى هذا الحجب حجب نقصان من الفرض.
স্বামীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলাসমূহনিম্নোক্ত মাসআলাসমূহে স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী কতটুকু অংশের অধিকারী হবেন? প্রথম মাসআলা: জনৈক নারী স্বামী ও পিতা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
দ্বিতীয় মাসআলা: তিনি স্বামী, পুত্র, পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পৌত্রী (পুত্রের কন্যা) রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তৃতীয় মাসআলা: তিনি স্বামী ও তিন কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
চতুর্থ মাসআলা: তিনি পাঁচজন পৌত্রী এবং স্বামী রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
পঞ্চম মাসআলা: তিনি তিন দৌহিত্রী (কন্যার কন্যা) ও স্বামী রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ষষ্ঠ মাসআলা: মৃত ব্যক্তি তিন দৌহিত্র (কন্যার সন্তান), পিতা ও স্বামী রেখে গেছেন।
সপ্তম মাসআলা: তিনি এক বোন, এক ভাগ্নি (বোনের কন্যা), স্বামী এবং এক প্র-দৌহিত্রী (কন্যার কন্যার কন্যা) রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন।
প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে: নারী যখন স্বামী ও পিতা রেখে মৃত্যুবরণ করেন, তখন স্বামী অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন। কারণ কোনো ওয়ারিশ সন্তান (অধস্তন বংশধর) নেই। মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তোমাদের জন্য অর্ধেক অংশ, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে} [সূরা আন-নিসা: ১২]।
দ্বিতীয় মাসআলার ক্ষেত্রে: যখন তিনি স্বামী, পুত্র, পৌত্র এবং পৌত্রী রেখে মারা গেছেন, তখন স্বামী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) পাবেন। কারণ ওয়ারিশ সন্তান বিদ্যমান রয়েছে। আর ওয়ারিশ সন্তান বলতে পুত্র অথবা পৌত্র এবং তার নিম্নগামী বংশধর, কিংবা পৌত্রী এবং তার নিম্নগামী বংশধরকে বোঝায়। মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ} [সূরা আন-নিসা: ১২]। এখানে মালিকানা বোঝাতে ‘লাম’ ব্যবহৃত হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীকে জীবিত থাকতে হবে।
তৃতীয় মাসআলার ক্ষেত্রে: তিনি স্বামী ও তিন কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। এক্ষেত্রে স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন কারণ ওয়ারিশ সন্তান বিদ্যমান। এখানে ওয়ারিশ সন্তান হলো তিন কন্যা, তারা সেই স্বামীর ঔরসজাত কন্যা হোক বা পূর্বের অন্য কোনো স্বামীর কন্যা হোক।
চতুর্থ মাসআলার ক্ষেত্রে: তিনি পাঁচ পৌত্রী ও স্বামী রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। এক্ষেত্রেও স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন কারণ ওয়ারিশ সন্তান (পৌত্রীগণ) বিদ্যমান।
পঞ্চম মাসআলার ক্ষেত্রে: তিনি তিন দৌহিত্রী ও স্বামী রেখে মারা গেছেন। এক্ষেত্রে স্বামী অর্ধেক পাবেন কারণ কোনো ওয়ারিশ সন্তান নেই। কেননা দৌহিত্রী বা কন্যার কন্যারা ‘যিল আরহাম’ (দূরবর্তী আত্মীয়) ভুক্ত যারা সাধারণ অবস্থায় মিরাস পায় না, তাই তারা ওয়ারিশ সন্তানের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং ওয়ারিশ সন্তান হলো পৌত্রী (পুত্রের কন্যা) এবং প্র-পৌত্রী (পুত্রের পুত্রের কন্যা) ও তার নিম্নগামী বংশধরগণ।
ষষ্ঠ মাসআলার ক্ষেত্রে: মৃত ব্যক্তি তিন দৌহিত্র (কন্যার সন্তান), পিতা ও স্বামী রেখে গেছেন। এক্ষেত্রে স্বামী অর্ধেক পাবেন কারণ কোনো ওয়ারিশ সন্তান নেই।
সপ্তম মাসআলার ক্ষেত্রে: তিনি এক বোন, এক ভাগ্নি, এক প্র-দৌহিত্রী ও স্বামী রেখে মারা গেছেন। এক্ষেত্রে স্বামী অর্ধেক পাবেন কারণ কোনো ওয়ারিশ সন্তান নেই। আর প্র-দৌহিত্রী (কন্যার কন্যার কন্যা) হলো ‘যিল আরহাম’ ভুক্ত যারা সরাসরি উত্তরাধিকার পায় না।
তবে যদি আমরা প্র-দৌহিত্রী (কন্যার কন্যার কন্যা)-এর স্থলে প্র-পৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) ধরে নিই, তবে স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন ওয়ারিশ সন্তান বিদ্যমান থাকার কারণে। কারণ পৌত্র স্বামীকে অর্ধেক থেকে কমিয়ে এক-চতুর্থাংশে নিয়ে আসে। উত্তরাধিকার শাস্ত্রের পরিভাষায় একে ‘হাজবে নুকসান’ (অংশ কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবন্ধকতা) বলা হয়।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ٩)
موانع الإرث
উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকসমূহ
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الرق والقتل واختلاف الدين تمنع الميراثموانع الإرث ثلاثة متفق عليها بين الأئمة: الأول: الرق.
الثاني: القتل.
الثالث: اختلاف الدين.
فلا يرث الوارث من مورثه إلا إذا تحققت شروط استحقاق الإرث وانتفت موانعه.
المانع الأول: القتل: فالزوج يرث زوجته لتوفر الشرط وهو المصاهرة، فلو قتلها فإنه لا يرثها لعدم انتفاء مانع الإرث وهو القتل.
الثاني: الرق: والرق سببه الكفر، لأن الكافر أذل نفسه وعبد الشيطان دون أن يعبد الرحمن، فجعل الله المسلم عليه سيداً، فهو تقييد لحريته من أجل كفره.
والرقيق ليس لهم تمليك، ولذلك ليس لهم ميراث، فالعبد ليست له قوة ملكية، ولا يد ملكية، والدليل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من باع عبداً فماله للبائع إلا أن يشترط المبتاع)، فالعلماء فهموا من ذلك أن العبد لا يتملك شيئاً.
فمثلاً: رجل كان كافراً، وفر من المعركة ثم أسلم، وكان له ولد صغير في السبي فأسلم، فمات الأب المسلم، وابنه العبد المسلم يريد الميراث، فلا يستحق ذلك؛ لأنه ليست له ملكية، فينتقل هذا المال من يده إلى يد سيده، لأن من موانع الميراث الرق، والدليل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من باع عبداً فماله للبائع إلا أن يشترط المبتاع).
الثالث: الاختلاف في الدين، فمن أسلم وأبوه على الكفر، ثم مات الأب، فإن الابن المسلم لا يرث أباه الكافر، لوجود المانع من الميراث وهو اختلاف الدين، والدليل قول النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيح: (لا يرث المسلم الكافر، ولا يرث الكافر المسلم)، فجاء النص النبوي فمنع المسلم من أن يرث الكافر.
দাসত্ব, হত্যা এবং ধর্মের ভিন্নতা মিরাস থেকে বঞ্চিত করেমিরাসের প্রতিবন্ধকতা তিনটি যা ইমামগণের মাঝে সর্বসম্মত: প্রথমটি: দাসত্ব।
দ্বিতীয়টি: হত্যা।
তৃতীয়টি: ধর্মের ভিন্নতা।
সুতরাং উত্তরাধিকারী তার মরূস (যার থেকে মিরাস প্রাপ্ত হয়) থেকে উত্তরাধিকার পাবে না যতক্ষণ না মিরাস লাভের শর্তসমূহ পূর্ণ হয় এবং এর প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত হয়।
প্রথম প্রতিবন্ধকতা: হত্যা: স্বামী তার স্ত্রীর উত্তরাধিকার পায় শর্ত তথা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকার কারণে। কিন্তু সে যদি তাকে হত্যা করে, তবে সে তার উত্তরাধিকার পাবে না; কারণ মিরাসের প্রতিবন্ধকতা তথা হত্যা দূরীভূত হয়নি।
দ্বিতীয়টি: দাসত্ব: আর দাসত্বের কারণ হলো কুফর। কেননা কাফির নিজেকে লাঞ্ছিত করেছে এবং রহমানের ইবাদত না করে শয়তানের ইবাদত করেছে। তাই আল্লাহ মুসলিমকে তার উপর মুনিব নিযুক্ত করেছেন। সুতরাং এটি তার কুফরের কারণে তার স্বাধীনতার উপর একটি সীমাবদ্ধতা।
দাসদের মালিকানা লাভের অধিকার নেই, তাই তাদের কোনো মিরাস নেই। দাসের কোনো মালিকানা শক্তি নেই এবং মালিকানার হাত নেই। এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো দাস বিক্রয় করে, তবে সেই দাসের সম্পদ বিক্রেতার জন্যই থাকবে, যদি না ক্রেতা তা শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে।" উলামায়ে কেরাম এ থেকে বুঝেছেন যে, দাস কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না।
উদাহরণস্বরূপ: এক ব্যক্তি কাফির ছিল, সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। তার এক ছোট সন্তান যুদ্ধবন্দী হিসেবে দাসে পরিণত হয়েছিল এবং সেও ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর সেই মুসলিম পিতা মারা গেল এবং তার মুসলিম দাস পুত্র মিরাস দাবি করল। সে এর হকদার হবে না; কারণ তার মালিকানা নেই। ফলে এই সম্পদ তার হাত থেকে তার মুনিবের হাতে চলে যাবে। কারণ মিরাসের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো দাসত্ব। এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো দাস বিক্রয় করে, তবে সেই দাসের সম্পদ বিক্রেতার জন্যই থাকবে, যদি না ক্রেতা তা শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে।"
তৃতীয়টি: ধর্মের ভিন্নতা। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল আর তার পিতা কুফরের উপর অটল থাকল, অতঃপর পিতা মারা গেল, তবে মুসলিম পুত্র তার কাফির পিতার উত্তরাধিকার পাবে না; মিরাসের প্রতিবন্ধকতা তথা ধর্মের ভিন্নতা বিদ্যমান থাকার কারণে। এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী যা সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।" সুতরাং এই নববী নস (বিধান) মুসলিমকে কাফিরের উত্তরাধিকার পাওয়া থেকে বিরত রেখেছে।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١١)
أنواع الكفر وحكم كل نوع في الميراثوالكافر له أحوال ثلاثة: كفر ظاهر، وكفر باطن، وردة.
فالكفر الظاهر مانع من الإرث، فالكافر لا يرث المسلم بحال من الأحوال، فلو كان الابن كافراً وكان أبوه مسلماً فمات الأب المسلم، فلا يرث الابن الكافر من أبيه المسلم لأن الكافر لا يرث المسلم بالإجماع.
أما المسلم فهل يرث الكافر؟ فالأئمة الأربعة أنه لا يرث، ورواية عن أحمد ورجحها شيخ الإسلام ابن تيمية أن المسلم يرث الكافر من باب المصلحة، وهذا قول خاطئ، لأنه لا اجتهاد مع نص، فهذه مصادمة صريحة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يرث المسلم الكافر ولا يرث الكافر المسلم)، فالاختلاف في الدين يمنع الإرث.
أما الكفر الباطن فهو النفاق الاعتقادي، وهو قسمان: نفاق ظاهر، ونفاق باطن.
فالنفاق الظاهر كما أظهره الذين تكلموا على صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم عندما قالوا لهم: ما رأينا مثل قرائنا أرغب بطوناً، وأجبن عند اللقاء، فلما أظهروا نفاقهم ثبت فيهم الحكم، قال الله تعالى: {لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة:66]، فالنفاق الظاهر له حكم الكافر، فلا يرث ولا يورث.
وإن كان نفاقاً باطناً لم يظهر، كـ عبد الله بن أبي ابن سلول مثلاً فقد كان نفاقه باطناً، فحكمه حكم المسلم، يرث ويورث، وحسابه على الله جل في علاه.
أما الردة ففيها اختلافات كثيرة، والصحيح فيها أنها مانع من الإرث، فلا يرث المسلم قريبه المرتد بحال من الأحوال، إلا إذا أسلم قبل أن يموت أو قبل أن يقتل.
أي فالردة حكمها كحكم الكفر.
কুফরের প্রকারভেদ এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকারের বিধানএকজন কাফিরের তিনটি অবস্থা হতে পারে: প্রকাশ্য কুফর, গোপন কুফর এবং ধর্মত্যাগ (ইরতিদাদ)।
প্রকাশ্য কুফর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক। সুতরাং কাফির কোনো অবস্থাতেই মুসলিমের উত্তরাধিকারী হতে পারে না। যদি কোনো সন্তান কাফির হয় এবং তার পিতা মুসলিম হয়, এমতাবস্থায় মুসলিম পিতা মৃত্যুবরণ করলে কাফির সন্তান তার মুসলিম পিতার উত্তরাধিকার পাবে না। কারণ, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুযায়ী কাফির ব্যক্তি মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।
কিন্তু মুসলিম কি কাফিরের উত্তরাধিকারী হতে পারে? চার ইমামের অভিমত হলো—মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না। ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন যে, জনস্বার্থের খাতিরে মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হতে পারে। তবে এই বক্তব্যটি সঠিক নয়; কারণ যেখানে সুস্পষ্ট মূল পাঠ (নস) বিদ্যমান, সেখানে ইজতিহাদের কোনো সুযোগ নেই। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর স্পষ্ট বিরোধী, যেখানে তিনি বলেছেন: "মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।" সুতরাং ধর্মের ভিন্নতা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।
আর গোপন কুফর হলো বিশ্বাসগত নিফাক (ভণ্ডামি)। এটি দুই প্রকার: প্রকাশ্য নিফাক এবং গোপন নিফাক।
প্রকাশ্য নিফাক হলো তেমন, যা তারা প্রকাশ করেছিল যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ সম্পর্কে কটু কথা বলেছিল। যখন তারা বলেছিল: 'আমরা আমাদের এই পাঠকদের (সাহাবীদের) মতো পেটুক, কথায় মিথ্যাবাদী এবং যুদ্ধের ময়দানে এতোটা ভীরু আর কাউকে দেখিনি।' যখন তারা তাদের নিফাক প্রকাশ করল, তখন তাদের ওপর বিধান অবধারিত হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা ওজর পেশ করো না, তোমরা ঈমান আনার পর কুফরী করেছ} [আত-তাওবাহ: ৬৬]। সুতরাং প্রকাশ্য নিফাকের বিধান কাফিরের বিধানের মতোই; সে উত্তরাধিকার পাবে না এবং তার থেকেও কেউ উত্তরাধিকার পাবে না।
আর যদি তা এমন গোপন নিফাক হয় যা প্রকাশ পায়নি—যেমন উদাহরণস্বরূপ আব্দুল্লাহ বিন উবাই ইবনে সুলুলের নিফাক ছিল গোপন—তবে তার বিধান মুসলিমের বিধানের মতোই হবে। সে উত্তরাধিকার পাবে এবং তার থেকেও উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে। আর তার হিসাব অতি মহান সুউচ্চ আল্লাহর নিকট।
আর ধর্মত্যাগের (ইরতিদাদ) বিষয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো—এটি উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। সুতরাং কোনো মুসলিম কোনোভাবেই তার ধর্মত্যাগী নিকটাত্মীয়ের উত্তরাধিকার পাবে না, যদি না সে তার মৃত্যুর আগে অথবা তাকে দণ্ড প্রদানের আগে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে।
অর্থাৎ, ধর্মত্যাগের বিধান কুফরের বিধানের মতোই।
(খণ্ড: ٣)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أنواع القتل وحكم كل نوع في الميراثوالقتل مانع من الإرث، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم كما في سنن أبي داود (لا يرث القاتل شيئاً)، والقتل نوعان: قتل عمد، وقتل خطأ.
فاتفق أهل العلم على أن القاتل عمداً لا يرث، وأدلتهم في ذلك من الأثر والنظر.
أما الأثر فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يرث القاتل شيئاً).
وأما النظر، فإن من مقاصد الشريعة حفظ الأرواح، فلو قلنا بأن القاتل يرث، فإن هذا القول يفتح لنا باباً للشر، فلو أراد الوارث مال مورثه فله أن يقتله ليستحق منه الإرث.
أما قتل الخطأ، فاختلف العلماء فيه على قولين، القول الأول: أخذ جمهور أهل العلم بعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يرث القاتل شيئاً)، فقالوا: لا يرث القاتل خطأً أو عمداً.
والمالكية قالوا: إن قتله خطأ يرث، وإن قتله عمداً لا يرث، ولهم أدلة استدلوا بها من الأثر والنظر.
أما من الأثر فإن النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل عن المرأة التي قتلت زوجها خطأ، فقال: (لها الإرث في ماله وليس لها الإرث في ديته) وقد انتصر ابن القيم لهذا الحديث.
فجعل لها الإرث في المال، ولم يجعل لها الإرث في الدية، لأنه يجب عليها الدية.
أما من النظر، فالقاعدة عند العلماء: أن من تعجل شيئاً قبل أوانه، عوقب بحرمانه، فننظر في حاله، هل تعجل الميراث؟ ف
الجواب أنه لم يتعجل الميراث ولم يقصد بحال من الأحوال أن يقتله ليرثه، وإنما قدر الله جل وعلا أن يكون وارثه سبباً في قتله، كمن كان بديناً فوقع على أبيه فأماته، فنقول: هذا قدر محض، فهو لم يتردد في ذهنه الميراث بحال من الأحوال.
قالوا: فنقول: إذا كان القتل خطأ، فللقاتل أن يرث مورثه؛ لأنه لم يقصد قتله، ولم يتعجل شيئاً قبل أوانه.
وهذا القول له حظ كبير جداً من النظر، لكن الأسلم والأحوط حتى لا يفتح الباب وتتخذ ذريعة، أن نقول: القاتل خطأ أو عمداً ليس له ميراث من باب سد الذرائع وحسم مادة القتل.
وهذا هو الراجح الصحيح.
أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
হত্যার প্রকারভেদ এবং মিরাসে প্রতিটি প্রকারের বিধানহত্যা মিরাস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, বলেছেন: (হত্যাকারী কোনো কিছুর উত্তরাধিকারী হবে না)। আর হত্যা দুই প্রকার: ইচ্ছাকৃত হত্যা এবং অনিচ্ছাকৃত হত্যা।
আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে না। এ বিষয়ে তাদের দলিলসমূহ বর্ণনা এবং যুক্তি উভয় দিক থেকেই বিদ্যমান।
বর্ণনার ক্ষেত্রে দলিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হত্যাকারী কোনো কিছুর উত্তরাধিকারী হবে না)।
আর যুক্তির দিকটি হলো, শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জীবন রক্ষা করা। সুতরাং আমরা যদি বলি যে হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে, তবে এই বক্তব্য আমাদের জন্য মন্দের একটি দরজা খুলে দেবে। কারণ উত্তরাধিকারী যদি তার নিকটজনের সম্পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, তবে সে মিরাস লাভের যোগ্য হওয়ার জন্য তাকে হত্যা করতে পারে।
অনিচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথম মত: জমহুর বা অধিকাংশ আলেম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ব্যাপকতাকে গ্রহণ করেছেন: (হত্যাকারী কোনো কিছুর উত্তরাধিকারী হবে না)। তারা বলেছেন: হত্যাকারী ভুলবশত হত্যা করুক বা ইচ্ছাকৃত, সে উত্তরাধিকারী হবে না।
আর মালিকীগণ বলেছেন: যদি ভুলবশত হত্যা করে তবে সে উত্তরাধিকারী হবে, আর যদি ইচ্ছাকৃত হত্যা করে তবে উত্তরাধিকারী হবে না। তাদের কাছে এমন কিছু দলিল রয়েছে যা তারা বর্ণনা এবং যুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
বর্ণনার দিক থেকে দলিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন সেই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্বামীকে ভুলবশত হত্যা করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: (সে তার সম্পদের মিরাস পাবে কিন্তু তার দিয়াতের (রক্তপণ) অংশ পাবে না)। ইবনুল কাইয়্যিম এই হাদিসটির পক্ষাবলম্বন করেছেন।
তাই তিনি তাকে সম্পদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী করেছেন এবং দিয়াতের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী করেননি, কারণ দিয়াত বা রক্তপণ প্রদান করা তার ওপর ওয়াজিব।
আর যুক্তির দিক থেকে আলেমদের নিকট নীতি হলো: যে ব্যক্তি সময়ের আগে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। এখন আমরা তার অবস্থার দিকে তাকাব, সে কি মিরাস পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেছে?
উত্তরনিশ্চয়ই সে মিরাস পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেনি এবং কোনোভাবেই তাকে হত্যা করে উত্তরাধিকারী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি। বরং মহান আল্লাহ তায়ালা ফয়সালা করেছেন যে, তার উত্তরাধিকারী হওয়ার বিষয়টিই তার হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন কোনো স্থূলকায় ব্যক্তি যদি তার পিতার ওপর পড়ে যায় এবং তাকে মেরে ফেলে, তবে আমরা বলব: এটি নিছক তাকদির বা ভাগ্য, তার মনে কোনোভাবেই মিরাস লাভের চিন্তা উদয় হয়নি।
তারা বলেছেন: আমরা বলব যে, যদি হত্যা অনিচ্ছাকৃত হয়, তবে হত্যাকারীর জন্য তার মুরিসের উত্তরাধিকার লাভ করার অধিকার রয়েছে; কারণ সে তাকে হত্যার ইচ্ছা করেনি এবং সময়ের আগে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেনি।
এই মতটি যুক্তির দিক থেকে অত্যন্ত জোরালো। কিন্তু সবচেয়ে নিরাপদ এবং সতর্কতামূলক পথ হলো—যাতে এই পথটি উন্মুক্ত না হয় এবং একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা না যায়—আমরা বলব: অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত যে কোনো হত্যাকারীই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। এটি করা হবে মন্দের পথ রুদ্ধ করার এবং হত্যার ধারা সমূলে বিনাশ করার উদ্দেশ্যে।
আর এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত।
আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: -)
مهمات في أحكام المواريث القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: مهمات في أحكام المواريث
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 15 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
উত্তরাধিকারের বিধিবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ বিভাগ: ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) ও অসিয়ত
গ্রন্থ: উত্তরাধিকারের বিধিবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি পাঠ নম্বরের অনুরূপ - ১৫টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ٤)
মুহিম্মাতুন ফী আহকামিল মাওয়ারীস
(পৃষ্ঠা: ١)
مهمات في أحكام المواريث -
ميراث الزوجة، ميراث الأبوينالزوج والزوجة والأب والأم إذا وجد أحدهم في الورثة فلابد أن يرث ضرورة، ولا يسقط، لكن ميراثهم يختلف بحسب وجود الورثة الباقين، فالزوجة لها الربع مع عدم وجود الفرع الوارث ولها الثمن إن وجد، والأبوان يرث كل منهما السدس مع الفرع الوارث، وإذا لم يوجد الفرع الوارث ولا الإخوة فللأم الثلث، إلا في العمريتين.
উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী -
স্ত্রীর মিরাস, পিতা-মাতার মিরাসস্বামী, স্ত্রী, পিতা এবং মাতা—উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যদি তাদের কেউ উপস্থিত থাকে, তবে সে অবশ্যই মিরাস লাভ করবে এবং তাকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না। তবে অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তাদের মিরাসের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। উত্তরাধিকারী সন্তান বা তাদের অধস্তন কেউ না থাকলে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) পায়, আর যদি তারা থাকে তবে সে এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পায়। উত্তরাধিকারী সন্তান বা তাদের অধস্তন কেউ থাকলে পিতা-মাতার প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) করে মিরাস পায়। আর যদি উত্তরাধিকারী সন্তান বা তাদের অধস্তন কেউ না থাকে এবং ভাই-বোনও না থাকে, তবে মাতা এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাবে, কেবল 'উমারিয়্যাহ' মাসআলাদ্বয় ব্যতীত।