(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح الآجرومية - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح المقدمة الآجرومية في النحو

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আল-আজরুমীয়ার ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: নাহু শাস্ত্রে মুকাদ্দিমাতুল আজরুমীয়ার ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ১৬টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح المقدمة الآجرومية -‌‌ فضل تعلم اللغة العربية

القرآن الكريم هو دستور هذه الحياة، فهو كلام الله جل في علاه، نزل بلسان عربي مبين، ولا يتم تفسيره إلا بتعلم اللغة التي أنزل بها، نحواً وصرفاً وغيرهما، وبوضع قواعد وأصول تحفظ للمسلمين لغتهم ودينهم، وكتاب الآجرومية من الكتب التي صنفت لجمع قواعد النحو، وهو أول سلم لطالب العلم في معرفة النحو.
শারহুল মুকাদ্দিমাতিল আজুররুমিয়্যাহ -‌‌ আরবি ভাষা শিক্ষার ফযিলত

পবিত্র কুরআন হলো এই জীবনের জীবনবিধান; এটি মহান আল্লাহর কালাম, যিনি সুউচ্চ। এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর যে ভাষায় এটি অবতীর্ণ হয়েছে তার নাহু, সরফ ও অন্যান্য শাস্ত্র শিক্ষা করা ব্যতীত এর তাফসির সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। মুসলমানদের জন্য তাদের ভাষা ও দ্বীনকে সুরক্ষা প্রদানকারী নিয়ম ও মূলনীতিসমূহ প্রণয়নের মাধ্যমেই তা সম্ভব। নাহুর নিয়মাবলি সংকলনের জন্য রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘আল-আজুররুমিয়্যাহ’ অন্যতম এবং এটি নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনে একজন তালিবে ইলমের জন্য প্রথম সোপান।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌فضل تعلم اللغة العربية

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71]، أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ثم أما بعد:
আরবি ভাষা শেখার ফযিলত

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে (অধিকার) চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১], অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতঃপর:
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أهمية التمسك بالقرآن وفهم معانيه

القرآن الكريم هو دستور هذه الحياة، والقرآن الكريم هو شرف هذه الأمة، ولا تعتز الأمة إلا بالتمسك بهذا الكتاب العظيم، الذي هو كلام الله جل في علاه.

إن الله جل في علاه أناط الشرف والقيادة والسيادة والريادة لهذه الأمة بهذا الكتاب، حيث قال جل في علاه: {لَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ} [الأنبياء:10] أي: إن شرفكم وعلوكم وسيادتكم وقيادتكم وريادتكم لا تكون إلا بالكتاب.

ووافقت هذه الآية قول النبي صلى الله عليه وسلم: (تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي) ألا وهو كتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

والسنة لا يمكن أن تفترق عن الكتاب، فكتاب الله هو عز هذه الأمة، والتمسك بكتاب الله شرف هذه الأمة، والقيادة والسيادة والريادة لا تكون إلا بهذا الكتاب، ولذلك قال عمر بن الخطاب عندما أرسل باعثه إلى مكة وجاء له بالوالي فقال له: من تركت أو من خلفت في مكة؟ قال: فلاناً من الموالي، قال: أتركته يتسيد عليهم؟ قال: إنه يحفظ كتاب الله ويعلم الفرائض، فقال له عمر: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن الله يرفع بهذا القرآن أقواماً ويخفض به آخرين).

فالناس يرتفعون لفهمهم كلام الله جل في علاه ومراد الله في كتابه، وهذا لا يكون إلا باللغة العربية، ولذلك فإن عمر بن الخطاب كان يضرب بالدرة على ذلك، ويقول: تعلموا العربية فإنها لغة القرآن.

ونحن أعاجم لسنا بعرب، فكثير من كلمات المصنفين لا نستطيع أن نعرف معانيها إلا بالرجوع إلى المعاجم اللغوية، فاللغة العربية لها أهمية قصوى؛ لأنها من علوم الآلة التي بها استقامة اللسان، واستقامة اللسان ممدحة في الشرع، وكذلك العقل عن الله جل في علاه وفهم كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم.

واللغة العربية فيها التقديم والتأخير، فيتقدم المفعول على الفاعل والخبر على المبتدأ، وهذا يجعلك تتوسع في فهم كلام الله جل في علاه، فعندما يقرأ القارئ قول الله تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر:28] فإن لم يعرف المفعول من الفاعل ولم يعرف سهولة هذه اللغة التي فيها التقديم والتأخير، وأن هذا التقديم فيه أسلوب الحصر، فإنه لا يعرف مراد الله جل في علاه، فيتعجب العامي من سماع هذه الآية ويقول: إن الله يخشى منهم؟ فهذا من الفحش؛ لأنه أخطأ ولم يتعلم العربية، فلو علم أن المفعول يتقدم على الفاعل علم معنى الآية، فـ (الله) لفظ الجلالة مفعول به منصوب وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة، والعلماء: فاعل، فهم الذين يخشون الله جل في علاه.

ومن ذلك قول الله تعالى: {لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلا دِمَاؤُهَا} [الحج:37].

فالتقديم والتأخير عندما يعرفه المسلم فإنه يفهم ويعقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مراده، ولذلك كان من الأهمية تعلم اللغة العربية، وكانت العرب قبل الإسلام أصحاب سليقة وفصاحة وبلاغة وشعر، فكان لهم علو كعب في اللغة العربية، وجاء الإسلام بفضل الله وبهذا الكتاب العظيم الذي ينظم ويرتب هذه اللغة ويجعلها في زيها الجميل الذي نراه الآن، والدين كله كان في الجزيرة العربية.
কুরআন আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব এবং এর অর্থ অনুধাবন

পবিত্র কুরআন হলো এই জীবনের জীবনবিধান এবং পবিত্র কুরআন হলো এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব। এই মহান কিতাবকে আঁকড়ে ধরা ব্যতীত এই উম্মত সম্মানিত হতে পারে না, যা সুউচ্চ ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী।

নিশ্চয়ই সুউচ্চ ও মহিমান্বিত আল্লাহ এই উম্মতের মর্যাদা, নেতৃত্ব, সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বকে এই কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। যেমনটি মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমাদের মর্যাদা নিহিত রয়েছে।” [সূরা আম্বিয়া: ১০] অর্থাৎ: তোমাদের সম্মান, উচ্চমর্যাদা, আধিপত্য, নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব এই কিতাব ব্যতীত সম্ভব নয়।

আর এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ: “আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।” আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ।

সুন্নাহকে কিতাব (কুরআন) থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। আল্লাহর কিতাবই হলো এই উম্মতের সম্মান এবং আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরাই এই উম্মতের মর্যাদা। নেতৃত্ব, আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব এই কিতাব ব্যতীত অর্জিত হয় না। এই কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব যখন মক্কায় তাঁর প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন এবং সে যখন তাঁর কাছে গভর্নরকে নিয়ে এল, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি মক্কায় কাকে স্থলাভিষিক্ত করে এসেছ? তিনি বললেন: জনৈক আযাদ করা দাসকে। উমর বললেন: তুমি কি একজন দাসকে তাদের নেতা বানিয়ে এসেছ? তিনি বললেন: সে আল্লাহর কিতাব মুখস্থ রেখেছে এবং ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তখন উমর তাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কুরআনের মাধ্যমে অনেক জাতিকে উচ্চাসীন করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্য অনেককে নিম্নগামী করেন।”

সুতরাং মানুষ মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী এবং তাঁর কিতাবে আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুধাবন করার মাধ্যমেই উচ্চ মর্যাদা লাভ করে। আর এটি আরবি ভাষা ব্যতীত সম্ভব নয়। এই কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব এ বিষয়ে কঠোরতা করতেন এবং বলতেন: তোমরা আরবি ভাষা শেখো, কেননা তা কুরআনের ভাষা।

আমরা অনারব, আমরা আরব নই। তাই গ্রন্থকারদের অনেক শব্দের অর্থ আমরা আভিধানিক সাহায্য ছাড়া বুঝতে সক্ষম নই। ফলে আরবি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম; কারণ এটি সেই সহায়ক জ্ঞান যার মাধ্যমে জিহ্বা সংশোধন হয়। আর বাচনভঙ্গি সঠিক হওয়া শরীয়তে প্রশংসনীয়, একইভাবে মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান অনুধাবন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বোঝার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

আরবি ভাষায় অগ্রগমন ও পশ্চাদগমন (তাকদীম ও তা'খীর) রয়েছে। এতে কর্মপদ কখনো কর্তার আগে আসে এবং সংবাদ (বিধেয়) উদ্দেশ্যের আগে আসে। এটি আপনাকে মহিমান্বিত আল্লাহর কালাম বুঝতে সহায়তা করবে। যখন কোনো পাঠক আল্লাহর এই বাণী পাঠ করে: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে” [সূরা ফাতির: ২৮], তখন সে যদি কর্মপদ ও কর্তার পার্থক্য না জানে এবং এই ভাষার সহজবোধ্যতা সম্পর্কে অবগত না হয় যেখানে অগ্রগমন ও পশ্চাদগমন ঘটে থাকে, আর এই অগ্রগমন যে সীমাবদ্ধতার পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা না বোঝে, তবে সে মহিমান্বিত আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারবে না। ফলে একজন সাধারণ মানুষ এই আয়াত শুনে আশ্চর্য হয়ে বলতে পারে: আল্লাহ কি তাদের ভয় পান? এটি অত্যন্ত জঘন্য বিষয়; কারণ সে ভুল করেছে এবং আরবি শেখেনি। সে যদি জানত যে এখানে কর্মপদটি কর্তার আগে এসেছে, তবে সে আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে পারত। এখানে (আল্লাহ) শব্দটি 'শব্দে জালালাত' যা জবরযুক্ত কর্মপদ, আর 'আলেমগণ' হলো কর্তা। সুতরাং আলেমরাই মহিমান্বিত আল্লাহকে ভয় করেন।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: “আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও নয়।” [সূরা হাজ্জ: ৩৭]

সুতরাং এই অগ্রগমন ও পশ্চাদগমন সম্পর্কে যখন একজন মুসলিম অবগত হয়, তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর উদ্দেশ্য বুঝতে ও অনুধাবন করতে পারে। এই কারণেই আরবি ভাষা শিক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম পূর্ব যুগে আরবরা স্বভাবজাতভাবে বাকপটু, প্রাঞ্জল ও কাব্যপ্রতিভার অধিকারী ছিল। আরবি ভাষায় তাদের গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। আল্লাহর অনুগ্রহে ইসলাম এবং এই মহান কিতাব আসার পর এই ভাষাকে সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং একে সেই সুন্দর রূপে সজ্জিত করা হয়েছে যা আমরা বর্তমানে দেখতে পাই। আর এই দ্বীন পুরোটাই ছিল আরব উপদ্বীপে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ذكر أصناف عرب الجزيرة

والعرب في الجزيرة العربية ينقسمون إلى عرب الشمال، وعرب الجنوب، ويسمى عرب الجنوب العرب العاربة وهم القحطانيون ومنهم الذين في اليمن أما عرب الشمال الذين هم من ولد إسماعيل وهم العدنانيون، واللغة التي كانت تجمعهم هي اللغة العربية، لكن كان هناك اختلاف في اللهجات، ولذلك نزل القرآن على سبعة أحرف كلها في اللغة العربية مع اختلاف ظاهره (فتثبتوا) كانت تقرأ (تبينوا) و (لامستم) تقرأ (لمستم)، و (أماناتهم) تقرأ (أمانتهم)، فهذا هو الخلاف في القراءات، ويجمعها أصول اللغة العربية.
আরব উপদ্বীপের আরবদের প্রকারভেদের বর্ণনা

আরব উপদ্বীপের আরবরা উত্তর আরব এবং দক্ষিণ আরব—এই দুই ভাগে বিভক্ত। দক্ষিণ আরবদের 'আরবে আরিবা' বলা হয়, তারা মূলত কাহতানি এবং তাদের এক অংশ ইয়ামেনে বসবাস করে। অন্যদিকে উত্তর আরবরা ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর, তারা আদনানি হিসেবে পরিচিত। তাদের ঐক্যবদ্ধকারী ভাষা ছিল আরবি ভাষা, তবে বিভিন্ন উপভাষার মধ্যে বৈচিত্র্য বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই কুরআন সাতটি 'আহরুফ' বা পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে, যার প্রতিটিই আরবি ভাষার অন্তর্গত, যদিও সেগুলোর বাহ্যিক রূপ কিছুটা ভিন্ন। যেমন (ফাতাসাব্বাতু) শব্দটি (তাবাইইয়ানু) হিসেবে পঠিত হতো, (লামাস্তুম) শব্দটি (লামাস্তুম) রূপে এবং (আমানাতা-হিম) শব্দটি (আমানাতা-হুম) হিসেবে পঠিত হতো। কিরাতসমূহের মধ্যকার এই ভিন্নতা মূলত আরবি ভাষার মূলনীতির আলোকেই সংগৃহীত ও সমন্বিত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تأثير الأعاجم على اللغة العربية

ولما دخل الإسلام جزيرة العرب ألبس اللغة الثوب الجديد، ثم بعد ذلك فتح الله الأمصار على يد المهاجرين والأنصار الذين رفعهم الله بتمسكهم بكتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم، فحدث الجهاد مع الأعاجم، ثم حصل السبي للعبيد والإماء، فلما دخل الأعاجم بلاد الإسلام أصبحت اللغة العربية يحدث فيها الغلط واللحن، فلما ظهر اللحن ابتدأ جهابذة اللغة والسنة والكتاب، وقالوا: لا بد من حفظ كتاب ربنا وسنة نبينا، ولا يكون ذلك إلا بالضوابط والقواعد النحوية؛ حتى لا يحدث اللحن في ديننا وفي كتاب ربنا، وهذا الذي أهال عمر بن الخطاب عندما جاءه أعرابي يطلب منه أن يقرأ عليه القرآن، فأخذه رجل ليعلمه القرآن فأضاعه، فقرأ في سورة براءة قوله تعالى: {وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} [التوبة:3] بخفض لرسوله) فقال الأعرابي: أبرأ ممن برأ منه الله جل في علاه، أي: يبرأ من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذه التي تهدم الدين بأسره، فلما قال الأعرابي ذلك وسمعه عمر قال له: لا تقرأ هكذا، فقرأ عليه ((أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ)) [التوبة:3] فقال: أبرأ ممن برأ منه الله ورسوله، ففهم الأعرابي لما شكل له التشكيل الصحيح فهماً صحيحاً.

من هنا قال العلماء: إن عمر بن الخطاب أمر أبا الأسود الدؤلي أن يبدأ في وضع قواعد النحو والصرف.

وبعض العلماء قال بأن علي بن أبي طالب هو أول من أشار على أبي الأسود أن يضع القواعد في اللغة، ولا مشاحة في ذلك، فاللغة قد وضعت لها القواعد سواء بأمر عمر أو علي أو بسبب أبي الأسود الدؤلي.
আরবি ভাষার উপর অনারবদের প্রভাব

যখন ইসলাম আরব উপদ্বীপে প্রবেশ করল, তখন তা এই ভাষাকে এক নতুন পোশাকে সজ্জিত করল। এরপর আল্লাহ মুহাজির ও আনসারদের হাত ধরে বিভিন্ন জনপদ বিজিত করলেন, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর কিতাব এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার কারণে উচ্চ মর্যাদা দান করেছিলেন। তখন অনারবদের সাথে জিহাদ সঙ্ঘটিত হলো এবং এরপর দাস-দাসীরা যুদ্ধবন্দী হিসেবে আসতে থাকল। ফলে যখন অনারবরা ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করল, তখন আরবি ভাষায় ভুল এবং ব্যাকরণগত বিচ্যুতি প্রকাশ পেতে শুরু করল। যখন এই বিচ্যুতি প্রকাশ পেল, তখন ভাষা, সুন্নাহ এবং কিতাবের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ এগিয়ে এলেন এবং তাঁরা বললেন: আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবীর সুন্নাহকে অবশ্যই হিফাজত করতে হবে; আর ব্যাকরণগত নিয়ম ও মূলনীতি ছাড়া এটি সম্ভব নয়, যাতে আমাদের দ্বীন এবং আমাদের রবের কিতাবে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি প্রবেশ করতে না পারে। এটিই উমর ইবনুল খাত্তাবকে বিচলিত করেছিল যখন একজন গ্রাম্য আরব তাঁর কাছে এসে তাকে কুরআন পড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করল। তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে কুরআন শেখানোর দায়িত্ব নিলেন কিন্তু তাকে ভুল শিক্ষা দিলেন; তিনি সূরা বারাআতে আল্লাহর এই বাণীটি: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে মহান হজের দিনে মানুষের প্রতি এক ঘোষণা যে, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও} [আত-তাওবাহ: ৩] পড়ার সময় 'রাসূল' শব্দটিকে যের (কাসরা) দিয়ে পড়লেন। তখন সেই গ্রাম্য আরব বলল: আল্লাহ যাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, আমিও তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। অর্থাৎ সে বুঝল যে আল্লাহ তাঁর রাসূলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন (নাউযুবিল্লাহ); আর এটি এমন একটি বিষয় যা গোটা দ্বীনকেই ধ্বংস করে দেয়। যখন সেই লোক এটি বলল এবং উমর তা শুনলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: এভাবে পড়ো না। এরপর তিনি তাকে পড়ে শোনালেন: {নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও} [আত-তাওবাহ: ৩]। তখন সে বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, আমিও তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। সুতরাং সঠিক হরকত প্রদান করায় সেই গ্রাম্য আরব বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হলো।

এখান থেকেই আলেমগণ বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে নাহু ও সরফের (ব্যাকরণের) নিয়মাবলী প্রণয়ন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আবার কোনো কোনো আলেম বলেন যে, আলী ইবনে আবি তালিবই সর্বপ্রথম আবু আল-আসওয়াদকে ভাষার নিয়মাবলী প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর এ নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই; কারণ উমর কিংবা আলী—যাঁর নির্দেশেই হোক অথবা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির মাধ্যমেই হোক, ভাষার ব্যাকরণগত নিয়মাবলী তো প্রণীত হয়েছেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أشهر علماء النحو واللغة

وأشهر النحاة الذين انبروا في ساحات اللغة عند أهل الإسلام منهم أبو الأسود الدؤلي وأيضًا أبو عمرو بن العلاء والخليل بن أحمد وتلميذه العظيم في اللغة سيبويه وهذا الاسم فارسي، سيب معناه: التفاح، وويه: الرائحة، فإذاً سيبويه: رائحة التفاح، ونفطويه رائحة النفط أي: رائحة البترول، فأشهر النحاة سيبويه وأيضًا والفراء والكسائي.

ومهبط وضع قواعد اللغة كان في البصرة، وأهل العراق عندنا فرسان الميدان في اللغة وفي غيرها، فاللغة أصالة مهبطها البصرة، ولذلك ترى كثيراً من المتمكنين يقولون: واختلف في هذه المسألة البصريون والكوفيون فأول علماء اللغة برعوا في البصرة، ثم تتلمذ على أيديهم أهل الكوفة، وأصبح الخلاف بين أهل الكوفة وأهل البصرة.
ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্বের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ পণ্ডিতগণ

ইসলামি পরিমণ্ডলে ভাষাতত্ত্বের ময়দানে যেসব প্রসিদ্ধ ব্যাকরণবিদ আত্মপ্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, আবু আমর ইবনে আল-আলা, আল-খালিল ইবনে আহমদ এবং ভাষাতত্ত্বে তাঁর মহান ছাত্র সিবওয়াইহ। এই নামটি ফারসি; 'সিব' অর্থ আপেল এবং 'ওয়াইহ' অর্থ ঘ্রাণ। সুতরাং সিবওয়াইহ মানে হলো আপেলের ঘ্রাণ। আর নাফতাওয়াইহ অর্থ নাফতের ঘ্রাণ অর্থাৎ পেট্রোলিয়ামের ঘ্রাণ। সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাকরণবিদদের মধ্যে রয়েছেন সিবওয়াইহ, আল-ফাররা এবং আল-কিসায়ী।

আর ভাষাতত্ত্বের নিয়মাবলী প্রণয়নের সূতিকাগার ছিল বসরা। আমাদের কাছে ভাষাতত্ত্ব ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইরাকবাসীরা হলেন এই ময়দানের অগ্রগামী বীর। মূলগতভাবে ভাষাতত্ত্বের উদ্ভবস্থল হলো বসরা। এজন্যই আপনি অনেক দক্ষ পণ্ডিতকে বলতে শুনবেন: "এই বিষয়ে বসরা ও কুফার পণ্ডিতগণ মতভেদ করেছেন।" সুতরাং ভাষাতত্ত্বের প্রথম পণ্ডিতগণ বসরাতেই পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, পরবর্তীতে কুফাবাসীরা তাদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং এভাবেই কুফাবাসী ও বসরাবাসীদের মধ্যে তাত্ত্বিক মতভেদের সূচনা হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌فضل علم النحو

وعلم النحو علم شريف عظيم، ولا يمكن لطالب علم أن يطلب العلم من دونه، كأن يطلب العلم والنحو ولا يجد في طلبه؛ لأنه من علوم الآلة، فهذا لا بد أن يعض عليه بالنواجذ، حتى وإن انتهى مثلاً من الآجرومية وما بعدها من تكملة الآجرومية، لأن الأهم هو أن يستقيم لسانه، وأن يعقل عن الله مراده، وكذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
নাহু শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব

নাহু শাস্ত্র একটি অত্যন্ত সম্মানিত ও মহান শাস্ত্র। কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারীর পক্ষে এই শাস্ত্র ব্যতিরেকে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। কেউ জ্ঞান অন্বেষণ করতে চায় অথচ নাহু শাস্ত্র অন্বেষণে সচেষ্ট হয় না—এমনটি হওয়া সম্ভব নয়; কারণ এটি হলো সহায়ক জ্ঞানসমূহের (উলূমুল আলাহ) অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং একে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরা (অর্থাৎ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকা) আবশ্যক, এমনকি যদি সে উদাহরণস্বরূপ আজুররূমিয়্যাহ এবং এর পরবর্তী পরিশিষ্টসমূহ (তাকমিলাহ) সমাপ্তও করে থাকে তবুও। কেননা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেন তার ভাষা সঠিক হয় এবং সে যেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারে, আর একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্যও অনুধাবন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الفرق بين النحو والصرف

وعلم النحو يبحث في الجمل، وعلم الصرف يبحث في بنية الكلمة، فعلم النحو يبحث في الجمل وينظر في أواخر الكلمة من حيث الرفع أو الخفض أو الجزم أو النصب، تقول مثلاً في كلمة القرآن: القرآن كلام الله، بالرفع، وقوله تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ} [الإسراء:82]، بالخفض، وقوله تعالى: {عَلَّمَ الْقُرْآنَ} [الرحمن:2] بالنصب، والقرآن غير مخلوق، هذا أصل أصيل عند أهل السنة والجماعة، بخلاف أهل البدعة والضلالة كالمعتزلة.

فالأولى: (القرآن كلام)، القرآن مبتدأ مرفوع وعلامة رفعه الضمة الظاهرة على آخره.

والثانية قال الله تعالى {عَلَّمَ الْقُرْآنَ} [الرحمن:2] فالقرآن: مفعول به منصوب وعلامة النصب الفتحة الظاهرة على آخره.

والثالثة: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ} [الإسراء:82] فالقرآن اسم مخفوض وعلامة خفضه الكسرة الظاهرة على آخره.

أيضًا نقول: يشرب محمد اللبن، ولن يشربَ محمد اللبن، ولم يشربْ محمد اللبن.

فيشربُ الأولى: فعل مضارع مرفوع وعلامة رفعه الضمة الظاهرة على آخره؛ لأنه لم يسبقه ناصب ولا جازم.

ولن يشرب: فعل مضارع منصوب؛ لأنه سبقه ناصب وهو لن.

ولم يشرب: فعل مضارع مجزوم بالسكون؛ لأنه سبقه جازم وهو لم من أدوات الجزم.

فعلم النحو يبين لنا هذا التغيير ويفسره التدريب العملي، قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ} [الفتح:29]، وقول المؤذن: أشهد أن محمداً رسول الله، وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (ذاق طعم الإيمان من رضي بالله رباً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبياً ورسولاً)، فالأولى محمدٌ والثانية محمداً، والثالثة محمدٍ، فالأولى مبتدأ مرفوع وعلامة رفعه الضمة الظاهرة على آخره، والثانية اسم أن منصوب وعلامة نصبه الفتحة، وأن حرف نصب، والثالثة اسم مجرور وعلامة جره الكسرة الظاهرة على آخره، والعامل هو الباء حرف الجر.
নাহু (বাক্যতত্ত্ব) এবং সরফ (শব্দতত্ত্ব)-এর মধ্যে পার্থক্য

নাহু বিজ্ঞান বাক্য নিয়ে আলোচনা করে এবং সরফ বিজ্ঞান শব্দের গঠন নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং নাহু বিজ্ঞান বাক্য নিয়ে আলোচনা করে এবং রফ (পেশ), খফদ বা জর (জের), জজম (সুকুন) অথবা নসব (যবর)-এর দিক থেকে শব্দের শেষাংশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি 'কুরআন' শব্দটির ক্ষেত্রে বলতে পারেন: 'কুরআন আল্লাহর কালাম', এখানে শব্দটি রফপ্রাপ্ত (পেশ যুক্ত)। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমরা কুরআন থেকে অবতীর্ণ করি} [বনী ইসরাঈল: ৮২], এখানে শব্দটি খফদ বা জরপ্রাপ্ত (জের যুক্ত)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন} [আর-রাহমান: ২], এখানে শব্দটি নসবপ্রাপ্ত (যবর যুক্ত)। আর কুরআন সৃষ্ট নয়—এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি সুদৃঢ় মৌলিক মূলনীতি, যা মুতাজিলার মতো বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত।

প্রথম উদাহরণে: (কুরআন আল্লাহর কালাম), এখানে 'কুরআন' শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে রফপ্রাপ্ত এবং এর রফ হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ (দম্মা)।

দ্বিতীয় উদাহরণে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন} [আর-রাহমান: ২], এখানে 'কুরআন' শব্দটি মাফউল বিহি (কর্ম) হিসেবে নসবপ্রাপ্ত এবং এর নসবের চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য যবর (ফাতহা)।

তৃতীয় উদাহরণে: {এবং আমরা কুরআন থেকে অবতীর্ণ করি} [বনী ইসরাঈল: ৮২], এখানে 'কুরআন' শব্দটি একটি খফদপ্রাপ্ত (মাজরুর) বিশেষ্য এবং এর খফদ হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য জের (কাসরা)।

অনুরূপভাবে আমরা বলি: মুহাম্মদ দুধ পান করছে, মুহাম্মদ কখনো দুধ পান করবে না এবং মুহাম্মদ দুধ পান করেনি।

প্রথম বাক্যে 'পান করছে' (ইয়াশরাবু): এটি রফপ্রাপ্ত ফেয়েলে মুজারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া), আর এর রফ হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ (দম্মা); কারণ এর পূর্বে নসব প্রদানকারী বা জজম প্রদানকারী কোনো অব্যয় আসেনি।

দ্বিতীয় বাক্যে 'পান করবে না' (লান ইয়াশরাবা): এটি নসবপ্রাপ্ত ফেয়েলে মুজারে; কারণ এর পূর্বে নসব প্রদানকারী অব্যয় 'লান' এসেছে।

তৃতীয় বাক্যে 'পান করেনি' (লাম ইয়াশরাব): এটি সুকুন দ্বারা জজমপ্রাপ্ত ফেয়েলে মুজারে; কারণ এর পূর্বে জজম প্রদানকারী অব্যয় সমূহের অন্তর্ভুক্ত 'লাম' এসেছে।

নাহু বিজ্ঞান আমাদের কাছে এই পরিবর্তনগুলো ফুটিয়ে তোলে এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা প্রদান করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে} [আল-ফাতহ: ২৯]। মুয়াজ্জিনের ঘোষণা: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'। এবং সহীহাইন-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে।" এখানে প্রথম ক্ষেত্রে 'মুহাম্মদ' শব্দটি রফপ্রাপ্ত (মুহাম্মদুন), দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নসবপ্রাপ্ত (মুহাম্মদান) এবং তৃতীয় ক্ষেত্রে জরপ্রাপ্ত (মুহাম্মাদিন) হয়েছে। প্রথমটি মুবতাদা হিসেবে রফপ্রাপ্ত এবং এর রফ হওয়ার চিহ্ন হলো শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ (দম্মা)। দ্বিতীয়টি 'আন্না'-র ইসিম হিসেবে নসবপ্রাপ্ত এবং এর নসবের চিহ্ন হলো যবর (ফাতহা), আর এখানে 'আন্না' হলো নসব প্রদানকারী অব্যয়। তৃতীয়টি মাজরুর ইসিম এবং এর জর হওয়ার চিহ্ন হলো শেষাক্ষরে প্রকাশ্য জের (কাসরা), আর এখানে প্রভাবক (আমেল) হলো 'বা' নামক হরফে জর।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تعريف الكلام وشروطه

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [الكلام هو اللفظ المركب المفيد بالوضع].

أي: الكلام في اللغة له قيود وشروط، حتى إذا أتتك الكلمات مضمومة مع بعضها تقول هذا كلام، فالكلام له معادلة رياضية، وهي لفظ + مركب + مفيد + بالوضع.

فشروط الكلام: أن يكون لفظاً مركباً مفيداً بالوضع، أي وضع اللغة العربية، فالشرط الأول أن يكون لفظاً: فاللفظ لا بد له من صوت يسمع وحرف، فخرج بذلك الإشارة والكتابة، فإشارة السيد إلى عبده، أو المدير إلى الفراش، أو إلى عامله أو إلى ساعيه، فإنها معروفة ومفهومة عند الناس، يستفاد منها أمره بالمجيء أو بالجلوس، لكنها ليست بكلام، لأنها ليست بلفظ.

الكتابة كأن يكتب رجل في ورقة: أريد طعاماً أو أريد من الماء، ويبعثها إلى عبده أو ساعيه، فإذا قرأها العبد أو الساعي فإنهما يفهمان من الكتابة فهماً جيداً، وهو أن سيدهما يريد منهما طعاماً أو شراباً، لكن الكتابة لا تدخل أيضًا في الكلام؛ لأنها ليست بلفظ.

والشرط الثاني: أن يكون مركباً، والتركيب: أن يتركب الكلام من كلمتين فأكثر، كأن تقول مثلاً: محمد كريم، زيد أسد، عمر شجاع، محمد رسول الله، الإسلام ديننا، فهذه الجمل مركبة من كلمتين فأكثر.

والتركيب له حالتان: إظهار وإضمار، فالإظهار مثل: محمد رسول الله، زيد كريم، عمر شجاع، محمد أسد، فالكلمة الثانية ظهرت.

والإضمار هو الذي لا تظهر فيه الكلمة الثانية، مثلاً: ننجح، فهذه كلمة واحدة فيها إضمار، والتقدير: نحن ننجح.

وكذلك يأتي اللاعب الذي يرى فارس الميدان ومعه الكرة، فيقول له: العب، والتقدير: العب أنت.

فالكلام إن كان من كلمتين أو أكثر فهو مركب، مثل: محمد رسول الله، زيد شجاع، أحمد أسد، فالكلمة الأولى انضمت إلى الثانية، فأصبح تركيباً، أما الكلمات محمد وأحمد، وزيد، وعمر، والكرة، واللبن، والتفاح، فهذا ليس بكلام لأن الكلمات ليست مركبة.

والتركيب إما ظاهر وإما مضمر، أي: مستتر، والمستتر يوجد فيه الفعل ويضمر الفاعل، مثل: آكل، والتقدير آكل أنا، فأشرب اللبن، والتقدير: أشرب أنا اللبن.

والشرط الثالث: الإفادة: وهو الذي تستفيد منه جملة مفيدة، فلا تتطلع لشيء ثان، كأن يتكلم معك بجملة مكونة من مبتدأ وخبر، نحو: محمد كريم، أما لو قال: محمد ابن عمك، وسكت، فهذا ليس مفيداً؛ لأن السامع ينتظر الخبر.

ومعنى أن يفيد: أن يحسن السكوت عنده، فلا يبقى السامع منتظراً لشيء آخر، والإفادة تكون بشيء يعرف ويحسن السكوت عليه، كقول الله تعالى مثلاً: {رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُوا صُحُفًا مُطَهَّرَةً} [البينة:2] فنفهم من هذه الجمل أن محمداً رسول الله يتلو الصحف التي أوحيت إليه من الله جل في علاه، ومثل قوله تعالى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4] فنفهم من هذه الجملة بأن الله الواحد الذي له صفات الجمال والكمال ونعوت الجلال لا يساميه أحد، ولا يمكن أن يكون أحد كفؤاً لله جل في علاه، فالكلام المفيد: هو الذي إذا وقفت عنده لا يطلب السامع منك أن تزيده كلاماً، فيحسن السكوت عنده بالوضع.

والوضع له معنيان: المعنى الأول: القصد، وهو أن القائل يقصد هذا الكلام، كأن يكون معه العصا؛ فقال: سأضرب زيداً أو طالب العلم الكسول، أو الفاسق، أو العاصي، أي: فهو يقصد ذلك، فخرج من هذا القصد كلام السكران والمجنون والطفل.

فقصد الكلام هو فهمه وتعقله.

والمعنى الثاني: الوضع العربي أي: عند أهل اللغة الفصحاء البلغاء الأعراب، فإذا قيل لك يحرم عليك أن تقول: ضربت محمد، فهذا حرام لغة أي: لا يجوز في عرف أهل اللغة.

إذاً الكلام هو: اللفظ المركب المفيد بالوضع، والوضع له معنيان: المعنى الأول: القصد، فخرج منه كلام المجنون فلا يعتبر كلامه.

وكذلك السكران أو من ذهب عقله.

والمعنى الثاني: وضع أهل اللغة الفصحاء البلغاء الذين كانت لغتهم سليقة، فيؤخذ الكلام العربي منهم، أما إذا لم يكن في لغتهم ولا معروفاً عندهم فلا يؤخذ منهم، وأشهر ما يقال في ذلك قول القائل: قد استوى بشر على العراق من غير سيف أو دم مهراق فالأشاعرة قالوا: الاستواء بمعنى الاستيلاء، فإن اللغة الأصيلة تدل على ذلك لقول الشاعر في البيت السابق.

فرد عليهم العلماء بأن هذا البيت ليس بعربي أصيل، فلا تعرفه العرب إنما هو لنصراني غير معروف عند أهل اللغة الفصحاء البلغاء.
কালামের সংজ্ঞা ও তার শর্তাবলি

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [কালাম হলো এমন শব্দ যা সুসংবদ্ধ, অর্থবহ এবং ভাষাগত রীতি অনুযায়ী গঠিত]।

অর্থাৎ: ভাষায় কালাম বা কথার কিছু সীমাবদ্ধতা ও শর্ত রয়েছে। যখন শব্দগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে আপনার কাছে আসে, তখন আপনি তাকে কালাম বলতে পারেন। কালামের একটি গাণিতিক সমীকরণ রয়েছে, তা হলো: শব্দ + সুসংবদ্ধ + অর্থবহ + ভাষাগত রীতি।

কালামের শর্তাবলি হলো: একে শব্দ হতে হবে, সুসংবদ্ধ হতে হবে, অর্থবহ হতে হবে এবং ভাষাগত রীতি অর্থাৎ আরবি ভাষার রীতি অনুযায়ী হতে হবে। প্রথম শর্ত হলো একে শব্দ হতে হবে: শব্দের জন্য অবশ্যই শ্রবণযোগ্য আওয়াজ এবং বর্ণ থাকতে হবে। এর ফলে ইঙ্গিত ও লেখা কালামের বহির্ভূত হয়ে গেল। যেমন মনিবের তার দাসের প্রতি, অথবা পরিচালকের তার পিয়নের প্রতি, অথবা তার শ্রমিকের প্রতি বা বার্তাবাহকের প্রতি ইঙ্গিত করা; যা মানুষের কাছে পরিচিত ও বোধগম্য এবং যার মাধ্যমে তাকে আসা বা বসার নির্দেশ দেওয়া বোঝা যায়, কিন্তু একে কালাম বলা হবে না, কারণ এটি শব্দ নয়।

লেখা যেমন কোনো ব্যক্তি কাগজে লিখল: 'আমি খাবার চাই' অথবা 'আমি পানি চাই' এবং তা তার দাসের কাছে বা বার্তাবাহকের কাছে পাঠাল। দাস বা বার্তাবাহক যখন তা পড়বে, তখন তারা লেখাটি থেকে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে যে তাদের মনিব তাদের কাছে খাবার বা পানীয় চাচ্ছেন; কিন্তু লেখাও কালামের অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ এটি শব্দ নয়।

দ্বিতীয় শর্ত: একে সুসংবদ্ধ হতে হবে। সুসংবদ্ধতা হলো: কালামটি দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হওয়া। যেমন আপনি বললেন: মুহাম্মদ দয়ালু, যায়েদ সিংহ, উমর সাহসী, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, ইসলাম আমাদের দ্বীন—এই বাক্যগুলো দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে সুসংবদ্ধ বা গঠিত।

সুসংবদ্ধতার দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য। প্রকাশ্য যেমন: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, যায়েদ দয়ালু, উমর সাহসী, মুহাম্মদ সিংহ। এখানে দ্বিতীয় শব্দটি প্রকাশ পেয়েছে।

অপ্রকাশ্য হলো যেখানে দ্বিতীয় শব্দটি প্রকাশ পায় না। যেমন: "আমরা সফল হব", এখানে একটি শব্দে অপ্রকাশ্য ভাব রয়েছে, আর এর মূল রূপ হলো: আমরা সফল হব।

একইভাবে কোনো খেলোয়াড় যখন মাঠের বীরকে বলসহ দেখে তাকে বলে: "খেলো", এর মূল রূপ হলো: "তুমি খেলো"।

সুতরাং কালাম যদি দুই বা ততোধিক শব্দের হয় তবেই তা সুসংবদ্ধ, যেমন: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, যায়েদ সাহসী, আহমদ সিংহ। এখানে প্রথম শব্দটি দ্বিতীয়টির সাথে যুক্ত হয়েছে, ফলে এটি একটি সুসংবদ্ধ রূপ লাভ করেছে। আর মুহাম্মদ, আহমদ, যায়েদ, উমর, বল, দুধ, আপেল—এগুলো কালাম নয় কারণ শব্দগুলো সুসংবদ্ধ নয়।

সুসংবদ্ধতা হয় প্রকাশ্য নতুবা অপ্রকাশ্য অর্থাৎ উহ্য। উহ্য রূপে ক্রিয়াটি উপস্থিত থাকে এবং কর্তা উহ্য থাকে, যেমন: "খাই", এর মূল রূপ হলো "আমি খাই"। "দুধ পান করি", এর মূল রূপ হলো "আমি দুধ পান করি"।

তৃতীয় শর্ত: অর্থবহ হওয়া। এটি হলো যা থেকে একটি পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়, ফলে অন্য কিছুর আকাঙ্ক্ষা থাকে না। যেমন কেউ আপনার সাথে উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে গঠিত একটি বাক্যে কথা বলল, যেমন: "মুহাম্মদ দয়ালু"। কিন্তু সে যদি বলে: "মুহাম্মদ তোমার চাচাতো ভাই..." এবং চুপ হয়ে যায়, তবে এটি অর্থবহ নয়; কারণ শ্রোতা পরবর্তী সংবাদের অপেক্ষায় থাকে।

অর্থবহ হওয়ার অর্থ হলো: যেখানে কথা শেষ করা সঠিক হয়, শ্রোতা যেন অন্য কিছুর অপেক্ষায় না থাকে। অর্থবহ হওয়া এমন কিছুর মাধ্যমে হয় যা পরিচিত এবং যার ওপর কথা থামানো সংগত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল, যিনি পবিত্র সহীফা পাঠ করেন} [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ২]। আমরা এই বাক্য থেকে বুঝতে পারি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তিনি সেই সহীফাগুলো পাঠ করেন যা সুমহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ওহী হিসেবে এসেছে। আরও যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই} [সূরা আল-ইখলাস: ৪]। এই বাক্য থেকে আমরা বুঝি যে আল্লাহ এক, যাঁর সৌন্দর্য ও পূর্ণতার গুণাবলি এবং মহত্ত্বের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাঁর সমান কেউ হতে পারে না এবং সুমহান আল্লাহর সমকক্ষ হওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং অর্থবহ কালাম হলো: যার ওপর থামলে শ্রোতা আপনার কাছে আর কথা বাড়ানোর দাবি করবে না, বরং সেই রীতি অনুযায়ী সেখানে কথা শেষ করা সঠিক হবে।

'ওয়াদ' বা রীতির দুটি অর্থ রয়েছে: প্রথম অর্থ: উদ্দেশ্য (কাসদ)। অর্থাৎ বক্তা এই কথাটির সংকল্প করবেন। যেমন তার কাছে লাঠি আছে এবং সে বলল: "আমি যায়েদকে অথবা অলস জ্ঞানান্বেষীকে অথবা পাপিষ্ঠকে অথবা অবাধ্যকে প্রহার করব।" অর্থাৎ সে এটি করার উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা করেছে। এই উদ্দেশ্য থাকার শর্তের কারণে মাতাল, পাগল ও শিশুর কথা কালামের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

সুতরাং কালামের সংকল্প হলো তা অনুধাবন করা ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গ্রহণ করা।

দ্বিতীয় অর্থ: আরবি রীতি অনুযায়ী হওয়া। অর্থাৎ প্রাঞ্জল, অলঙ্কারপূর্ণ ও ভাষাবিদ আরবদের নিকট প্রচলিত হওয়া। যদি আপনাকে বলা হয় যে, আপনার জন্য "আমি মুহাম্মদকে প্রহার করেছি" বাক্যটি ব্যাকরণগত ভুলভাবে উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ, তবে এটি ভাষাগতভাবে নিষিদ্ধ; অর্থাৎ ভাষাবিদদের পরিভাষায় এটি বৈধ নয়।

অতএব কালাম হলো: সুসংবদ্ধ ও অর্থবহ শব্দ যা ভাষাগত রীতি অনুযায়ী গঠিত। এখানে রীতির দুটি অর্থ: প্রথম অর্থ: উদ্দেশ্য, ফলে পাগলের কথা এর বাইরে চলে গেল, তার কথাকে কালাম গণ্য করা হবে না।

একইভাবে মাতাল বা যার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা।

দ্বিতীয় অর্থ: সেই সকল প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ ভাষাবিদ আরবদের রীতি অনুযায়ী হওয়া যাদের ভাষা ছিল স্বভাবজাত। সুতরাং আরবি কালাম তাদের থেকেই গ্রহণ করতে হবে। তবে যদি তা তাদের ভাষায় না থাকে বা তাদের কাছে পরিচিত না হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কথা হলো জনৈক কবির উক্তি: "নিশ্চয়ই বিশর কোনো তলোয়ার বা রক্তপাত ছাড়াই ইরাকের ওপর উঠেছেন"। আশায়েরাপন্থীরা বলে: ইস্তিওয়া (উঠা) এর অর্থ হলো ইস্তিলা (কর্তৃত্ব নেওয়া), কারণ আদি আরবি ভাষা উক্ত কবির চরণের মাধ্যমে এটিই প্রমাণ করে।

আলেমগণ তাদের এই দাবি খণ্ডন করে বলেছেন যে, এই কবিতার চরণটি আদি আরবি নয়। আরবরা এটি চেনে না; বরং এটি মূলত একজন খ্রিস্টানের কবিতা, যে ব্যক্তি প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ আরবি ভাষাবিদদের নিকট পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح الآجرومية - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح المقدمة الآجرومية في النحو

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আজরূমিয়্যার ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: নাহু শাস্ত্রের আল-মুকাদ্দিমাতুল আজরূমিয়্যার ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ নম্বর - ১৬টি পাঠ ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح المقدمة الآجرومية -‌‌ أقسام الكلام وعلامات الاسم

ينقسم الكلام إلى ثلاثة أقسام: اسم، وفعل، وحرف، ولكل قسم علامات خاصة به، فللاسم خمس علامات: الإسناد، والجر، والتنوين، والنداء، وقبول الألف واللام.
আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমিয়্যাহর ব্যাখ্যা -‌‌ কালামের প্রকারভেদ এবং ইসমের আলামতসমূহ

কালাম তিন ভাগে বিভক্ত: ইসম, ফি’ল এবং হারফ। প্রতিটি প্রকারের জন্য স্বতন্ত্র আলামত রয়েছে। ইসমের জন্য পাঁচটি আলামত নির্দিষ্ট: ইসনাদ, জ্বর, তানউইন, নিদা এবং আলিফ ও লাম গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أقسام الكلام

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.

أقسام الكلام ثلاثة: اسم وفعل وحرف، وهذا بالاستقراء والتتبع، أي: أن العلماء تتبعوا لغة العرب وذهبوا إلى الأعراب، وسافروا ورحلوا في الفيافي والقفار، حتى يعلموا لغة العرب.

ولا بد أن نعلم أنَّ النحو يهتم بالجملة، وأما الصرف فيهتم بالكلمة، فالجملة العربية جملتان: جملة اسمية، وجملة فعلية.

وهذه الجمل تتمثل في أقسام الكلام: اسم وفعل وحرف.

فالاسم: هو اللفظ الذي دل على معنى في نفسه غير مقترن بزمان، فلا يحتاج للزمان حتى يظهر معناه.

والفعل: ما دل على معنى في نفسه لكنه يقترن بزمان.

والحرف: لا يدل على معنى في نفسه ويدل على معنى في غيره.
কথার প্রকারভেদ

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আহযাব: ৭০-৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

কথার প্রকারভেদ তিনটি: বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)। এটি আরোহ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে; অর্থাৎ, আলেমগণ আরবি ভাষা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তারা বেদুইনদের নিকট গিয়েছেন, আর তারা মরুভূমি ও প্রান্তরে ভ্রমণ ও সফর করেছেন, যাতে তারা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, নাহু (ব্যাকরণ) বাক্য নিয়ে আলোচনা করে, আর সরফ (শব্দতত্ত্ব) শব্দ নিয়ে আলোচনা করে। আরবি বাক্য দুই প্রকার: বিশেষ্যমূলক বাক্য এবং ক্রিয়ামূলক বাক্য।

আর এই বাক্যগুলো কথার প্রকারভেদগুলোর মাধ্যমেই গঠিত হয়: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়।

বিশেষ্য (ইসম): এটি এমন শব্দ যা নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের (সময়ের) সাথে যুক্ত নয়। এর অর্থ প্রকাশের জন্য সময়ের প্রয়োজন হয় না।

ক্রিয়া (ফেল): যা নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে তবে তা কোনো কালের সাথে যুক্ত থাকে।

অব্যয় (হরফ): এটি নিজের সত্তাগত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, বরং অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌علامات الاسم

وللاسم خمس علامات: العلامة الأولى: الإسناد، وهي أقوى ما يعرف به الاسم.

العلامة الثانية: الخفض عند الكوفيين، وعند البصريين الجر.

العلامة الثالثة: التنوين.

العلامة الرابعة: أن يقترن بالألف واللام.

العلامة الخامسة: أن يدخل عليه حرف النداء.
ইসমের আলামতসমূহ

ইসমের পাঁচটি আলামত রয়েছে: প্রথম আলামত: ইসনাদ; আর এটি ইসম চেনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

দ্বিতীয় আলামত: কুফাবাসীদের নিকট 'আল-খাফদ' এবং বসরার আলেমদের নিকট 'আল-জার'।

তৃতীয় আলামত: তানভীন।

চতুর্থ আলামত: শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত হওয়া।

পঞ্চম আলামত: তার ওপর হরফে নিদা (আহ্বানসূচক অব্যয়) প্রবেশ করা।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌العلامة الأولى الإسناد، والأمثلة على ذلك

فالإسناد: أن يسند إليه اسم أو فعل، تقول مثلاً: نجح محمدٌ، فكلمة (نجح) أسندت إلى محمد، إذاً (محمد) اسم.

مثال آخر: أكل عمرو، (أكل) فعل أسند إلى (محمد) إذاً (عمرو) هذا أسند إليه فيكون اسماً.

ضرب محمدٌ زيداً، فالفاعل (محمد) يُعد اسماً؛ لأنه أسند إلى فعل.

قال الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا} [إبراهيم:35]، القول هذا فعل أسند إلى (إبراهيم)، إذاًً: (إبراهيم) اسم.

أيضاً قال الله تعالى: {إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا} [يوسف:4]، القول أسند إلى (يوسف)، إذاً (يوسف) اسم.
প্রথম আলামত: আল-ইসনান্দ (আরোপণ), এবং এর উদাহরণসমূহ

ইসনান্দ হলো: তার প্রতি কোনো নাম বা ক্রিয়াকে সম্পৃক্ত করা বা আরোপ করা। উদাহরণস্বরূপ আপনি বলেন: মুহাম্মদ সফল হয়েছে। এখানে ‘সফল হয়েছে’ শব্দটি মুহাম্মদের প্রতি আরোপ করা হয়েছে, সুতরাং ‘মুহাম্মদ’ একটি বিশেষ্য (ইসিম)।

অন্য একটি উদাহরণ: আমর খেয়েছে। এখানে ‘খেয়েছে’ একটি ক্রিয়া যা (মুহাম্মদের) প্রতি আরোপ করা হয়েছে, সুতরাং এই ‘আমর’ যার প্রতি এটি আরোপ করা হয়েছে সে একটি বিশেষ্য (ইসিম)।

মুহাম্মদ যায়েদকে প্রহার করেছে। এখানে কর্তা (মুহাম্মদ) একটি বিশেষ্য হিসেবে গণ্য; কারণ তার প্রতি একটি ক্রিয়াকে আরোপ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার রব! আপনি এই শহরকে নিরাপদ করে দিন” [ইব্রাহিম: ৩৫]। এই বলা একটি ক্রিয়া যা (ইব্রাহিম)-এর প্রতি আরোপ করা হয়েছে, সুতরাং (ইব্রাহিম) একটি বিশেষ্য (ইসিম)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “যখন ইউসুফ তার পিতাকে বললেন: হে আমার পিতা! আমি স্বপ্নে এগারোটি নক্ষত্র দেখেছি” [ইউসুফ: ৪]। এখানে বলা (ক্রিয়াটি) (ইউসুফ)-এর প্রতি আরোপ করা হয়েছে, সুতরাং (ইউসুফ) একটি বিশেষ্য (ইসিম)।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌العلامة الثانية الجر وأقسامه، والأمثلة على كل قسم

العلامة الثانية: الجر.

والجر ثلاثة أقسام: الأول: جر بحرف، أي: بأن يسبقه حرف من حروف الجر.

الثاني: جر بالإضافة.

الثالث: جر بالتبعية، أي يكون تبعاً، والتبعية أربعة فروع: أن يكون نعتاً، فالصفة دائماً تتبع الموصوف، أو يكون معطوفاً، أو يكون توكيداً، أو يكون بدلاً؛ لأن البدل أيضاً يتبع المبدل منه.

وحروف الجر لا يمكن أن تسبق الفعل، فلا تستطيع أن تقول: إلى يشرب، مِنْ يأكل، مِنْ قُمْ، فِي قُمْ، فحرف الجر لا يسبق الفعل في أي حال من الأحوال، وأيضاً الفعل لا يمكن أن يكون مجروراً، فالاسم علاماته المشهورة أن يقبل الجر، وأن تسبقه حروف الجر.

من الأمثلة على ذلك: قال الله تعالى: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} [التوبة:65].

وقال الله تعالى: {بِسْمِ اللَّهِ الْرَّحمَنِ الْرَّحَيمِ} [الفاتحة:1].

وقال جل في علاه: {وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ} [الذاريات:22].

فقوله تعالى: ((قُلْ أَبِاللَّهِ)) [التوبة:65]، الباء سبقت (الله)، إذاً: (الله) اسم؛ لأنه سبقه حرف الجر.

وقوله تعالى: ((وآياته ورسوله)) مجرورتان بالتبعية وهي العطف.

وقوله الله تعالى: {وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ} [الذاريات:22].

حرف الجر (في) سبق (السماء)، إذاً: (السماء) اسم.

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (المدينة حرم من ثور إلى عير) فالاسم هنا: (ثور) لأنه سبقه حرف الجر (من).

وقال الإمام الشافعي: آمنت بالله، وبما جاء عن الله، على مراد الله، وآمنت برسول الله، وبما جاء عن رسول الله، على مراد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فقوله: آمنت بالله، (الله) اسم؛ لأنه سبقه حرف الجر وهو الباء.

وقوله: وبما جاء عن الله، (الله) أيضاً اسم؛ لأنه سبق بحرف الجر (عن)، وقوله: وعلى مراد الله، (مراد) أيضاً اسم؛ لأنه سبقه حرف الجر (على).

والاسم إما أن يكون اسماً خالصاً، أو اسم فعل كصه، وآمين، وهيهات.

وكلمة (الله) في قوله: (على مراد الله) اسم؛ لأنها مضافة إلى كلمة (مراد).

قال: آمنت برسول الله، وبما جاء عن رسول الله، وعلى مراد رسول الله.

فقوله: آمنت برسول الله: كلمة (رسول) سبقه حرف الباء، إذاً: (رسول) اسم، وقوله: (وعلى مراد رسول الله) (رسول) اسم، و (الله) اسم مجرور بالإضافة.

وقال الله تعالى: {بِسْمِ اللَّهِ الْرَّحمَنِ الْرَّحَيمِ} [الفاتحة:1].

اسم: من الأسماء سبقه حرف الجر الباء.

الله: من الأسماء؛ لأنه مضاف إليه.

الرحمن: اسم، صفة للموصوف، والقاعدة في العقيدة قلنا: الله إذا أسند إليه أي اسم آخر فالاسم يكون بالنسبة له صفة.
দ্বিতীয় চিহ্ন: ‘জর’ (জের হওয়া), এর প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের উদাহরণ।

দ্বিতীয় চিহ্ন: ‘জর’।

আর ‘জর’ তিন প্রকার: প্রথমত: হরফের মাধ্যমে ‘জর’ হওয়া, অর্থাৎ তার পূর্বে ‘হরফে জর’ (অব্যয়) আসা।

দ্বিতীয়ত: ইযাফাত (সম্বন্ধ) এর মাধ্যমে ‘জর’ হওয়া।

তৃতীয়ত: অনুগামী (তাবে) হওয়ার মাধ্যমে ‘জর’ হওয়া, অর্থাৎ তা অনুগামী হবে। আর অনুগামী হওয়ার শাখা চারটি: না’ত (গুণবাচক) হওয়া; কেননা সিফাত সর্বদা মাউসুফের অনুগামী হয়। অথবা আতফ (সংযোজক) হওয়া, অথবা তাকিদ (দৃঢ়তাসূচক) হওয়া, অথবা বদল (পরিবর্ত) হওয়া; কারণ বদলও তার মুব্দাল মিনহু-এর অনুগামী হয়।

আর হরফে জর কখনো ক্রিয়ার (ফে’ল) পূর্বে আসতে পারে না। সুতরাং আপনি বলতে পারেন না: ‘ইলা ইয়াশরাবু’ (পানের দিকে), ‘মিন ইয়াকুলু’ (খাওয়া থেকে), ‘মিন কুম’ (দাঁড়ানো থেকে), ‘ফি কুম’ (দাঁড়ানোর মধ্যে)। অতএব হরফে জর কোনো অবস্থাতেই ক্রিয়ার পূর্বে আসে না। তেমনিভাবে ক্রিয়া কখনো মাজরুর (জেরযুক্ত) হতে পারে না। সুতরাং বিশেষ্যের (ইসম) প্রসিদ্ধ চিহ্ন হলো তা ‘জর’ গ্রহণ করা এবং তার পূর্বে হরফে জর আসা।

এর উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তবে কি তোমরা আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?} [আত-তাওবা: ৬৫]।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।} [আল-ফাতিহা: ১]।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।} [আয-যারিয়াত: ২২]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: ((বলুন, আল্লাহর সাথে কি)) [আত-তাওবা: ৬৫], এখানে ‘বা’ হরফটি (আল্লাহ) শব্দের পূর্বে এসেছে। সুতরাং ‘আল্লাহ’ শব্দটি একটি ইসম (বিশেষ্য); কারণ এর পূর্বে হরফে জর এসেছে।

এবং তাঁর বাণী: ((এবং তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূল)), শব্দ দুটি অনুগামী হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে, আর তা হলো আতফ (সংযোজক)।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।} [আয-যারিয়াত: ২২]।

এখানে হরফে জর ‘ফি’ শব্দটি ‘আস-সামা’ (আকাশ) এর পূর্বে এসেছে। সুতরাং ‘আস-সামা’ একটি ইসম।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (মদিনা ‘সওর’ পাহাড় থেকে ‘আইর’ পাহাড় পর্যন্ত হারাম বা সম্মানিত)। এখানে ইসম হলো: ‘সওর’; কারণ এর পূর্বে হরফে জর ‘মিন’ এসেছে।

এবং ইমাম শাফিঈ রহ. বলেছেন: আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর, আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী। এবং আমি আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি, এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর, আল্লাহর রাসূলের ইচ্ছা অনুযায়ী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

তাঁর উক্তি: ‘আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি’, এখানে ‘আল্লাহ’ একটি ইসম; কারণ এর পূর্বে হরফে জর ‘বা’ এসেছে।

এবং তাঁর উক্তি: ‘এবং যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে’, এখানেও ‘আল্লাহ’ একটি ইসম; কারণ এর পূর্বে হরফে জর ‘আন’ এসেছে। আর তাঁর উক্তি: ‘এবং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর’, এখানে ‘মুরাদ’ (ইচ্ছা) একটি ইসম; কারণ এর পূর্বে হরফে জর ‘আলা’ এসেছে।

আর ইসম হয় খাঁটি ইসম হবে, অথবা ইসমে ফে’ল (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য) হবে, যেমন- সাহ, আমীন এবং হাইহাতা।

এবং ‘আল্লাহর ইচ্ছার ওপর’ বাক্যে ‘আল্লাহ’ শব্দটি একটি ইসম; কারণ এটি ‘মুরাদ’ শব্দের প্রতি মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধযুক্ত) হয়েছে।

তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর, এবং আল্লাহর রাসূলের ইচ্ছা অনুযায়ী।

তাঁর উক্তি: ‘আমি আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি’—এখানে ‘রাসূল’ শব্দের পূর্বে ‘বা’ হরফ এসেছে, সুতরাং ‘রাসূল’ একটি ইসম। আর তাঁর উক্তি: ‘এবং আল্লাহর রাসূলের ইচ্ছা অনুযায়ী’—এখানে ‘রাসূল’ একটি ইসম এবং ‘আল্লাহ’ শব্দটি ইযাফাতের কারণে মাজরুর হওয়া ইসম।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।} [আল-ফাতিহা: ১]।

ইসম: বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার পূর্বে হরফে জর ‘বা’ এসেছে।

আল্লাহ: বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি মুদাফ ইলাইহি।

আর-রাহমান: এটি একটি ইসম, যা মাউসুফের সিফাত (গুণ)। আর আকিদার একটি নীতি হলো: আল্লাহর দিকে যদি অন্য কোনো নাম সম্বন্ধ করা হয়, তবে সেই নামটি তাঁর জন্য সিফাত বা গুণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌العلامة الثالثة التنوين، والأمثلة على ذلك

العلامة الثالثة: التنوين، وهو نون زائدة لفظاً لا خطاً، أي: لا تكتب نون ساكنة.

ومن الأمثلة على ذلك: قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} [الفتح:29].

محمدٌ: اسم؛ لأنه قبل التنوين، ولا يمكن للفعل أن يقبل التنوين بحال من الأحوال.

وقال الله تعالى: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ} [الغاشية:8].

وجوه: اسم؛ لأنها قبلت التنوين، ناعمةٌ: اسم؛ لأنها قبلت التنوين.

وقال الله تعالى: {تَصْلَى نَارًا حَامِيَةً} [الغاشية:4].

ناراً: اسم؛ لأنها قبلت التنوين.

حامية: اسم لأنها قبلت التنوين، وجاءت صفة.

مثال آخر: نقول: (من محمدٍ رسول الله إلى هرقل عظيم الروم أسلم تسلم).

محمدٍ: اسم؛ لأنه قبل التنوين، إذاً التنوين علامة من علامات الاسم.
তৃতীয় চিহ্ন: তানভিন এবং এর উদাহরণসমূহ

তৃতীয় চিহ্ন: তানভিন; এটি উচ্চারণে অতিরিক্ত নুন কিন্তু লেখায় নয়, অর্থাৎ এটি সাকিনযুক্ত নুন হিসেবে লেখা হয় না।

এর উদাহরণসমূহের মধ্য হতে: মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে সহানুভূতিশীল} [আল-ফাতহ: ২৯]।

মুহাম্মাদুন: এটি একটি বিশেষ্য (ইসিম); কেননা এটি তানভিন গ্রহণ করেছে, আর কোনো অবস্থাতেই ক্রিয়ার (ফেল) পক্ষে তানভিন গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে সজীব ও লাবণ্যময়} [আল-গাশিয়া: ৮]।

উজুহুন: বিশেষ্য; কারণ এটি তানভিন গ্রহণ করেছে। না-ইমাতুন: বিশেষ্য; কারণ এটি তানভিন গ্রহণ করেছে।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা অত্যন্ত উত্তপ্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে} [আল-গাশিয়া: ৪]।

নারান: বিশেষ্য; কারণ এটি তানভিন গ্রহণ করেছে।

হামিয়াতান: বিশেষ্য; কারণ এটি তানভিন গ্রহণ করেছে এবং এটি বিশেষণ হিসেবে এসেছে।

অন্য একটি উদাহরণ: আমরা বলি: (আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি; ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন)।

মুহাম্মাদিন: বিশেষ্য; কারণ এটি তানভিন গ্রহণ করেছে, সুতরাং তানভিন হলো বিশেষ্যের চিহ্নসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি চিহ্ন।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌العلامة الرابعة قبول الألف واللام، والأمثلة على ذلك

العلامة الرابعة: قبول الألف واللام، ولا يصح أن يدخل الألف واللام على الفعل بحال من الأحوال، فكلما ما رأيت لفظة تقترن بالألف واللام فقل: هذا اسم دون أن تتدبر المسألة.

تقول مثلاً: الأحمدون قادمون، الأحمدون: جمع الأحمد.

الزيانب صالحات، الزيانب: جمع الزينب.

قال الله تعالى: {وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ * وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ * النَّجْمُ الثَّاقِبُ} [الطارق:1 - 3].

فالأسماء هنا: السماء، الطارق، النجم، الثاقب؛ لدخول الألف واللام.

فإذا قلت: اليشرب محمد اللبن، فهذا خطأ؛ لأن هذا ليس من الوضع العربي.

ومن الأمثلة على دخول الألف واللام على الأسماء: قال الله تعالى: {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالأُنْثَى * إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى * فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل:1 - 10].

فالأسماء هنا: الليل، النهار، الذكر، الأنثى، الحسنى، اليسرى، العسرى.

إذاً: دخول الألف واللام أيضاً علامة من علامات الأسماء.
চতুর্থ চিহ্ন: ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ গ্রহণ করা এবং এর উদাহরণসমূহ

চতুর্থ চিহ্ন: ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ (আল) গ্রহণ করা। কোনো অবস্থাতেই ক্রিয়ার (ফেল) শুরুতে ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত হওয়া সঠিক নয়। সুতরাং যখনই আপনি কোনো শব্দকে ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত দেখবেন, তখনই বিষয়টি নিয়ে আর চিন্তা না করেই বলবেন: এটি একটি বিশেষ্য (ইসম)।

উদাহরণস্বরূপ আপনি বলবেন: ‘আল-আহমাদুন’ (আহমাদগণ) আগত। এখানে ‘আল-আহমাদুন’ শব্দটি ‘আহমাদ’-এর বহুবচন।

‘আয-যায়ানিব’ (যায়নাবগণ) পুণ্যবতী। এখানে ‘আয-যায়ানিব’ শব্দটি ‘যায়নাব’-এর বহুবচন।

মহান আল্লাহ বলেন: {শপথ আকাশের এবং রাতে আত্মপ্রকাশকারীর। আর আপনি কি জানেন রাতে আত্মপ্রকাশকারী কী? তা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।} [আত-তারিক: ১-৩]।

এখানে বিশেষ্যগুলো (ইসম) হলো: আস-সামাউ (আকাশ), আত-তারিকু (রাতের আগন্তুক), আন-নাজমু (নক্ষত্র), আছ-ছাকিবু (উজ্জ্বল); কারণ এগুলোর শুরুতে ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত হয়েছে।

এখন যদি আপনি বলেন: ‘আল-ইয়াশরাবু মুহাম্মাদুন আল-লাবানা’ (মুহাম্মাদ পান করছে দুধ), তবে এটি ভুল হবে; কারণ এটি আরবি ভাষাগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিশেষ্যের শুরুতে ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেন: {শপথ রাত্রির যখন তা আচ্ছন্ন করে। শপথ দিবসের যখন তা উদ্ভাসিত হয়। শপথ তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকার। সুতরাং যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, এবং যা উত্তম তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। আর যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে, এবং যা উত্তম তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠিন পথ।} [আল-লায়ল: ১-১০]।

এখানে বিশেষ্যগুলো (ইসম) হলো: আল-লায়ল (রাত্রি), আন-নাহার (দিবস), আয-যাকার (নর), আল-উনছা (নারী), আল-হুসনা (উত্তম), আল-ইউসরা (সহজ), আল-উসরা (কঠিন)।

অতএব: ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত হওয়াও বিশেষ্যের (ইসম) অন্যতম একটি চিহ্ন।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌العلامة الخامسة أن يدخل عليه حرف النداء، والأمثلة على ذلك

أيضاً حرف النداء لا يدخل أبداً على الفعل.

وحرف النداء يأتي ظاهراً ومضمراً، وإذا دخل لا يدخل إلا على الأسماء.

فمن الأمثلة على ذلك: تقول: يا محمد مر بي من الشارع، أو خذني إلى البيت.

وقال الله تعالى: {وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ * قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا} [الصافات:104 - 105]، فكلمة (إبراهيم) هنا: اسم؛ لأنه قبل حرف النداء.

وقال الله تعالى: {قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالاتِي وَبِكَلامِي} [الأعراف:144].

موسى: هنا: اسم؛ لأنه قبل حرف النداء.

دخل أعرابي يسمع له دوي يقول: يا محمد زعم رسولك، وأتم الحديث.

محمد هنا: اسم؛ لأنه قبل حرف النداء.

وأيضاً في الصحيحين عن عمر بن الخطاب أن جبريل جاء في صورة رجل غريب، لا يرى عليه أثر السفر، فدخل عليهم فجلس، فأسند ركبتيه إلى ركبة النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قال: يا محمد أخبرني ما الإسلام؟ إلى آخر الحديث.

فمحمد هنا: اسم؛ لأنه قبل حرف النداء؛ وحروف النداء هذه ظاهرة.

أيضاً يقبل حرف نداء مضمر، قال الله جل في علاه حاكيا عن قصة يوسف: {يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا وَاسْتَغْفِرِي لِذَنْبِكِ) [يوسف:29]، والتقدير: يا يوسف أعرض عن هذا، فهنا (يوسف) اسم؛ لأنه قبل حرف نداء.

قال الله تعالى: {سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلانِ} [الرحمن:31]، التقدير: سنفرغ لكم يا أيها الثقلان.

ومن الأمثلة على حرف النداء المضمر: قال تعالى: {يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ أَفْتِنَا} [يوسف:46] أي: يا يوسف يا أيها الصديق أفتنا.

قوله تعالى: {أَنْ أَدُّوا إِلَيَّ عِبَادَ اللَّهِ إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ} [الدخان:18] أي: أن أدوا إلي يا عباد الله.
পঞ্চম আলামত বা চিহ্ন হলো সম্বোধনমূলক হরফ (হরফে নিদা) প্রবেশ করা এবং এর উদাহরণসমূহ

সম্বোধনমূলক হরফ কখনোই ক্রিয়ার (ফে'ল) ওপর প্রবেশ করে না।

সম্বোধনমূলক হরফ কখনো প্রকাশিত অবস্থায় আসে, আবার কখনো উহ্য থাকে। এটি যখনই প্রবেশ করে, কেবল বিশেষ্যের (ইসম) ওপরই প্রবেশ করে।

এর উদাহরণ হলো: আপনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে চলো, অথবা আমাকে বাড়িতে নিয়ে চলো।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ।} [আস-সাফফাত: ১০৪-১০৫]। এখানে 'ইবরাহীম' শব্দটি একটি বিশেষ্য (ইসম); কারণ এটি সম্বোধনমূলক হরফ গ্রহণ করেছে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তিনি বললেন, হে মূসা! আমি আমার রিসালাত ও আমার কথোপকথনের মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।} [আল-আরাফ: ১৪৪]।

মূসা: এখানে একটি বিশেষ্য (ইসম); কারণ এটি সম্বোধনমূলক হরফ গ্রহণ করেছে।

এক গ্রাম্য ব্যক্তি গুনগুন শব্দ করতে করতে প্রবেশ করল এবং বলল: হে মুহাম্মদ, আপনার রাসূল দাবি করেছেন... এরপর সে হাদীসটি পূর্ণ করল।

মুহাম্মদ এখানে একটি বিশেষ্য (ইসম); কারণ এটি সম্বোধনমূলক হরফ গ্রহণ করেছে।

আরও সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল একজন অপরিচিত ব্যক্তির বেশে আসলেন, যার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। তিনি তাদের কাছে প্রবেশ করে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন। তারপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন ইসলাম কী? হাদীসের শেষ পর্যন্ত।

এখানে মুহাম্মদ শব্দটি একটি বিশেষ্য (ইসম); কারণ এটি সম্বোধনমূলক হরফ গ্রহণ করেছে; আর এই সম্বোধনমূলক হরফগুলো এখানে প্রকাশিত।

এছাড়াও এটি উহ্য সম্বোধনমূলক হরফও গ্রহণ করে। সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহ তাআলা ইউসুফের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: {ইউসুফ, তুমি এ বিষয়টি উপেক্ষা করো এবং তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।} [ইউসুফ: ২৯]। এর মূল পাঠ হলো: হে ইউসুফ, তুমি এ বিষয়টি উপেক্ষা করো। সুতরাং এখানে 'ইউসুফ' একটি বিশেষ্য (ইসম); কারণ এটি একটি সম্বোধনমূলক হরফ গ্রহণ করেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে জিন ও মানব জাতি! অচিরেই আমি তোমাদের হিসাব গ্রহণের জন্য অবসর হব।} [আর-রাহমান: ৩১]। এর অর্থ হলো: অচিরেই আমি তোমাদের জন্য অবসর হব হে জিন ও মানব জাতি।

উহ্য সম্বোধনমূলক হরফের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা বলেন: {ইউসুফ, হে সত্যবাদী! আমাদের সমাধান দিন।} [ইউসুফ: ৪৬]। অর্থাৎ: হে ইউসুফ, হে সত্যবাদী, আমাদের সমাধান দিন।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {যে, আল্লাহর বান্দাগণকে আমার কাছে সোপর্দ করো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।} [আদ-দুখান: ১৮]। অর্থাৎ: হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা আমার কাছে সোপর্দ করো।
(খণ্ড: ২) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تطبيقات نحوية على علامات الاسم

قال الله تعالى: {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ * وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ * وَشَاهِدٍ وَمَشْهُودٍ * قُتِلَ أَصْحَابُ الأُخْدُودِ} [البروج:1 - 4]، الآيات.

قوله تعالى: {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ} [البروج:1]، السماء: اسم؛ لأنه قبل الألف واللام وقبل الجر بواو القسم.

وذات: اسم؛ لأنها صفة.

البروج: اسم؛ لأنه مضاف إليه، وقبل الألف واللام.

واليوم: اسم؛ لأنه معطوف على (السماء)؛ ولأنه قبل الألف واللام، والموعود: اسم؛ لأنه قبل الألف واللام، ولأنه مجرور على التبعية (صفة).

وشاهد ومشهود: اسمان؛ لأنهما مجروران، وقبلا التنوين.

أصحاب: اسم؛ لأنه أسند إليه الفعل (قُتِل).

الأخدود: اسم؛ لأنه قبل الألف واللام، وقبل الإضافة.

{قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى * وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى * بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا * وَالآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} [الأعلى:14 - 17]، أين الاسم؟ فقوله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى} [الأعلى:14] من: اسم موصول بمعنى الذي؛ لأنه أسند إليه الفعل (أفلح).

وقوله تعالى: {وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} [الأعلى:15].

(اسم): من الأسماء؛ لأنه مسند إليه الفعل (ذكر).

ربه: اسم؛ لأنه مضاف إليه، والضمير (الهاء) اسم مجرور بالإضافة.

قال الله تعالى: {وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ} [الزخرف:77].

مالك: اسم؛ لأنه قبل حرف النداء.

ربك: اسم؛ لأنه مسند إليه (ليقض)، والضمير (نا): اسم؛ لأنه قبل حرف الجر (على).

قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لتمرن الظعينة من صنعاء إلى حضرموت لا تخشى إلا الله والذئب على الغنم).

الظعينة: اسم؛ لأنها قبلت الألف واللام.

حضرموتَ: اسم؛ لأنها قبلت حرف الجر (إلى)، لكن تجر بالفتحة نيابة عن الكسرة؛ لأنها اسم ممنوع من الصرف.

ومثلها قول القائل: خرجت من مساجدَ شتى، وتربيت في مساجدَ شتى، وذهبت إلى مساجدَ شتى فكلمة (مساجد): اسم؛ لأنها قبلت حروف الجر: من، في، إلى، لكنها مجرورة بالفتحة نيابة عن الكسرة؛ لأنها اسم ممنوع من الصرف.

وكذلك قولك: تزوج زيدٌ هندَ.

فزيد وهند: اسمان؛ لأن (زيدٌ) قبل التنوين والإسناد، و (هند) قبل الإسناد.

وقولك: ذهبت من البيت إلى المدرسة.

البيت والمدرسة: اسمان؛ لأن كلاً منهما قبل حرف الجر، والألف واللام.

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم، وصلِّ اللهم وسلم على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
বিশেষ্যের চিহ্নাদির উপর নাহবী প্রয়োগ

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {শপথ নক্ষত্ররাজিখচিত আকাশের * এবং প্রতিশ্রুত দিবসের * এবং উপস্থিতের ও যা উপস্থিত করা হয় তার * ধ্বংস হয়েছে গর্তওয়ালারা} [বুরুজ: ১ - ৪], আয়াতসমূহ।

মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ নক্ষত্ররাজিখচিত আকাশের} [বুরুজ: ১], এখানে 'আকাশ' (সামাউ) হলো বিশেষ্য (ইসিম); কারণ এটি আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে এবং শপথের 'ওয়াও'-এর মাধ্যমে যের (জার) গ্রহণ করেছে।

এবং 'যাত' (অধিকারী) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি একটি বিশেষণ (সিফাত)।

'বুরুজ' (নক্ষত্ররাজি) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি মুদাফ ইলাইহি এবং এটি আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে।

এবং 'ইয়াওম' (দিবস) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি 'আকাশ' শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে এবং আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে। আর 'মাওউদ' (প্রতিশ্রুত) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে এবং অনুবর্তী (সিফাত) হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে।

'শাহিদ' (উপস্থিত) ও 'মাশহুদ' (যাকে উপস্থিত করা হয়) হলো দুটি বিশেষ্য; কারণ তারা উভয়ই মাজরুর এবং তানভীন গ্রহণ করেছে।

'আসহাব' (অধিবাসী/সঙ্গী) হলো বিশেষ্য; কারণ এর দিকে 'কুতিলা' (নিহত হয়েছে/ধ্বংস হয়েছে) ক্রিয়াটিকে সম্বন্ধ (ইসনাদ) করা হয়েছে।

'উখদুদ' (গর্ত) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে এবং এর পূর্বে ইদাফাত (সম্বন্ধ) হয়েছে।

{নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে সে, যে আত্মশুদ্ধি করেছে * এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে * বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও * অথচ আখিরাত হলো উৎকৃষ্টতর ও চিরস্থায়ী} [আলা: ১৪ - ১৭], এখানে বিশেষ্য কোনটি? মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে সে, যে আত্মশুদ্ধি করেছে} [আলা: ১৪] এখানে 'মান' (যে) হলো 'আল্লাযী' (যিনি/যে) অর্থে ব্যবহৃত ইসমে মাওসুল বা বিশেষ্য; কারণ এর দিকে 'আফলাহা' (সফল হয়েছে) ক্রিয়াটিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে} [আলা: ১৫]।

'ইসম' (নাম) বিশেষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর দিকে 'যাকারা' (স্মরণ করল) ক্রিয়াটিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

'রব্বুহু' (তার রব): এখানে 'রব' হলো বিশেষ্য; কারণ এটি মুদাফ ইলাইহি। আর 'হু' (তার) সর্বনামটি (জমির) ইদাফাতের কারণে মাজরুর হওয়া একটি বিশেষ্য।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এবং তারা ডাকবে: হে মালিক! আপনার রব যেন আমাদের ফয়সালা করে দেন। সে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা অবস্থানকারী} [যুখরুফ: ৭৭]।

'মালিক' হলো বিশেষ্য; কারণ এটি নিদা বা আহ্বানের অব্যয়ের পরে এসেছে।

'রব্বুকা' (আপনার রব): এখানে 'রব' হলো বিশেষ্য; কারণ এটি 'লিয়াকদি' ক্রিয়ার কর্তা (মুসনাদ ইলাইহি)। এবং 'না' (আমাদের) সর্বনামটি (জমির) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি 'আলা' অব্যয়ের (হরফে জার) পরে এসেছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (অবশ্যই সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত হাওদা আরোহিনী নারী ভ্রমণ করবে, সে আল্লাহ এবং ছাগলের পালের ওপর নেকড়ে বাঘের ভয় ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না)।

'যাইনাহ' (হাওদা আরোহিনী নারী) হলো বিশেষ্য; কারণ এটি আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে।

'হাজরামাউত' হলো বিশেষ্য; কারণ এটি 'ইলা' হরফে জার গ্রহণ করেছে, তবে এটি যেরের পরিবর্তে ফাতহা (যবর) দ্বারা মাজরুর হয়েছে; কারণ এটি একটি পরিবর্তনহীন বিশেষ্য (মামনু মিনাছ ছারফ)।

এর উদাহরণ যেমন বক্তার কথা: "আমি বিভিন্ন মসজিদ থেকে বের হলাম", "আমি বিভিন্ন মসজিদে বড় হয়েছি", এবং "আমি বিভিন্ন মসজিদে গেলাম"। এখানে 'মাজাজিদ' (মসজিদসমূহ) শব্দটি বিশেষ্য; কারণ এটি মিন, ফী ও ইলা—এই হরফে জারগুলো গ্রহণ করেছে। তবে এটি যেরের পরিবর্তে ফাতহা দ্বারা মাজরুর হয়েছে; কারণ এটি একটি মামনু মিনাছ ছারফ।

তদ্রূপ আপনার কথা: "যায়েদ হিন্দকে বিবাহ করল।"

এখানে 'যায়েদ' ও 'হিন্দ' হলো দুটি বিশেষ্য; কারণ 'যায়েদ' তানভীন ও ইসনাদ গ্রহণ করেছে এবং 'হিন্দ' ইসনাদ গ্রহণ করেছে।

এবং আপনার কথা: "আমি বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দিকে গেলাম।"

'বাড়ি' ও 'বিদ্যালয়' হলো দুটি বিশেষ্য; কারণ তাদের প্রত্যেকটি হরফে জার এবং আলিফ ও লাম গ্রহণ করেছে।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর নিকট আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح الآجرومية - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح المقدمة الآجرومية في النحو

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

শরহ আল-আজুরুম্মিয়্যাহ - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: নাহু শাস্ত্রের আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুরুম্মিয়্যাহর ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ১৬টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح المقدمة الآجرومية -‌‌ علامات الفعل والحرف

أقسام الفعل ثلاثة: ماض ومضارع وأمر، وللفعل علامات يتميز بها عن الاسم والحرف، وأما الحرف فعلامته ألا يقبل علامات الاسم ولا علامات الفعل، ولا يكون له معنى إلا عند ارتباطه بغيره.
শারহুল মুকাদ্দিমাতুল আজরুমিয়্যাহ -‌‌ ক্রিয়া এবং অব্যয়ের আলামতসমূহ

ক্রিয়ার প্রকারভেদ তিনটি: অতীতকাল, বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল এবং আদেশসূচক। ক্রিয়ার এমন কিছু আলামত রয়েছে যার মাধ্যমে তা বিশেষ্য এবং অব্যয় থেকে পৃথক হয়। আর অব্যয়ের আলামত হলো এই যে, তা বিশেষ্যের আলামত কিংবা ক্রিয়ার আলামত—কোনোটিই গ্রহণ করে না এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া এর কোনো অর্থ হয় না।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌حقيقة الفعل وأقسامه

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

إن تعلم العربية مهم؛ ولذلك فإن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه كان يضرب على ذلك ويقول: تعلموا العربية فإنها لغة القرآن.

لقد تكلمنا عن الكلام وقلنا: إنه اسم وفعل وحرف، وتكلمنا عن الاسم، وبينا العلامات التي يعرف بها الاسم، واليوم سنتكلم بمشيئة الله عن الفعل والحرف والعلامات التي يتميز بها الفعل والعلامات التي يتميز بها الحرف.

الفعل يشمل حدثاً وزمناً، مثل: ضرب، فالحدث الضرب، والزمن هو الماضي، وكيضرب مثلاً في الزمن المستقبل أو الحال، واضرب في الزمن المستقبل.

الفعل هو: ما دل على معنى في نفسه والزمن جزء منه، أو نقول: واقترن بزمان، سواء الزمان الماضي أو المضارع أو المستقبل.

والفعل له علامات إجمالاً وتفصيلاً: أما الإجمال فيعرف الفعل بتقدم (قد) والسين و (سوف)، وكلما وجدت (قد) فما يأتي بعدها فهو فعل وكذا إذا تقدمه (السين) و (سوف).

فمثلاً: إذا قال المؤذن: قد قامت الصلاة، فإعراب الجملة (قد): حرف تحقيق لا عمل له، وقام: فعل ماض.

والتاء: تاء التأنيث.

والصلاة: فاعل مرفوع وعلامة رفعه الضمة الظاهرة على آخره.

أو تقول: {كَلَّا سَيَعْلَمُونَ * ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ} [النبأ:4 - 5]، القاعدة أن (السين) يأتي بعدها الفعل، إذاًَ: (يعلمون) فعل مضارع مرفوع وعلامة رفعه ثبوت النون؛ لأنه من الأفعال الخمسة.

إذاً الفعل: هو ما دل على معنى في نفسه ويقترن بزمان، أو الزمان جزء منه، ويعرف بقد وبالسين وسوف.
ক্রিয়ার হাকিকত ও এর প্রকারভেদ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

আরবি ভাষা শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর জন্য প্রহার করতেন এবং বলতেন: তোমরা আরবি ভাষা শেখো, কেননা তা কুরআনের ভাষা।

আমরা কথা (কালাম) সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং বলেছি যে: তা হলো বিশেষ্য (ইসিম), ক্রিয়া (ফে'ল) ও অব্যয় (হরফ)। আমরা বিশেষ্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং বিশেষ্য চেনার আলামত বা চিহ্নসমূহ বর্ণনা করেছি। আজ ইনশাআল্লাহ আমরা ক্রিয়া ও অব্যয় সম্পর্কে এবং যে সকল চিহ্ন দ্বারা ক্রিয়া ও অব্যয়কে পৃথক করা যায়, সে সম্পর্কে আলোচনা করব।

ক্রিয়া কাজ ও সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: ‘সে প্রহার করেছে’ (দরাবা), এখানে কাজ হলো প্রহার করা আর সময় হলো অতীত। ‘সে প্রহার করছে বা করবে’ (ইয়াদরিবু) যেমন ভবিষ্যৎ বা বর্তমান কাল বোঝায়, আর ‘তুমি প্রহার করো’ (ইদরিব) ভবিষ্যৎ কাল বোঝায়।

ক্রিয়া হলো: যা নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করে এবং সময় যার অংশ বিশেষ, অথবা আমরা বলতে পারি: যা কোনো কালের সাথে যুক্ত হয়, চাই তা অতীত কাল হোক বা বর্তমান কাল হোক কিংবা ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার সাধারণ ও বিস্তারিত কিছু আলামত রয়েছে: সাধারণ আলামত হলো, শব্দের শুরুতে ‘ক্বাদ’, ‘সীন’ এবং ‘সাওফা’ আসা দ্বারা ক্রিয়া চেনা যায়। আপনি যখনই ‘ক্বাদ’ পাবেন, তখন এরপর যা আসবে তা ক্রিয়া হবে। অনুরূপভাবে যদি তার আগে ‘সীন’ এবং ‘সাওফা’ আসে।

উদাহরণস্বরূপ: মুয়াজ্জিন যখন বলেন, ‘নামাজ দাঁড়িয়ে গেছে’ (ক্বাদ ক্বমাতিস সালাহ), তখন এই বাক্যের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ হলো: ‘ক্বাদ’ হলো একটি নিশ্চয়তাসূচক অব্যয় যার কোনো আমল নেই, আর ‘ক্বামা’ হলো অতীতকালীন ক্রিয়া।

এবং ‘তা’ হলো স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’।

আর ‘আস-সালাহ’ হলো কর্তা (ফায়েল), যা রফ্-যুক্ত এবং এর রফ্ হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষ অক্ষরের ওপর দৃশ্যমান পেশ (জম্মাহ)।

অথবা আপনি বলতে পারেন: {কখনোই নয়, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে। তারপর কখনোই নয়, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।} [আন-নাবা: ৪ - ৫], নিয়ম হলো ‘সীন’-এর পরে ক্রিয়া আসে, সুতরাং: ‘তারা জানতে পারবে’ (ইয়া’লামুন) হলো বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা রফ্-যুক্ত এবং এর রফ্ হওয়ার চিহ্ন হলো ‘নুন’ অক্ষরের স্থায়িত্ব; কারণ এটি ‘পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার’ (আফআলুল খামসাহ) অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং ক্রিয়া হলো: যা নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করে এবং কোনো সময়ের সাথে যুক্ত হয়, অথবা সময় তার একটি অংশ, আর এটি ‘ক্বাদ’, ‘সীন’ ও ‘সাওফা’ দ্বারা চেনা যায়।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفعل الماضي

الفعل ينقسم إلى أقسام ثلاثة: فعل ماض، وفعل مضارع، وفعل أمر.
অতীতকালীন ক্রিয়া

ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত: অতীতকালীন ক্রিয়া, বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং আদেশবাচক ক্রিয়া।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تعريف الفعل الماضي

الفعل الماضي: هو الذي دل على معنى في زمان قبل النطق به، يعني: فات زمانه، نحو: قال الله تعالى: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا} [الزمر:23]، قوله ((نزل)) هذا في الزمان الماضي.

إذاً: الفعل هو التنزيل، والزمن المقترن به هو الزمان الماضي.

قال الله تعالى: {تَبَارَكَ} [الفرقان:1]، أيضاً في الزمان الماضي، ((تبارك)) هذه كلمة لا تطلق إلا على الله فقط، وهذا الفارق بين مبارك وتبارك، فلا يصح أن تقول في حق الله: مبارك قط؛ لأن البركة من عند الله، فكيف يباركه غيره؟! إذاً: قول الله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ} [الفرقان:1]، وقول الله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا} [الفرقان:61]، تبارك للزمن الماضي.

وأيضاً قال الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة:30]، ((قال)) هذا أيضاً فعل ماض يدل على الحدث، والحدث هنا هو القول، لكن الزمن هو الماضي.

إذاً الفعل الماضي هو ما يدل على حدث في الزمن الماضي لا في الزمن الحال ولا المستقبل.
অতীতকালীন ক্রিয়ার সংজ্ঞা

অতীতকালীন ক্রিয়া: যা উচ্চারণের পূর্ববর্তী কোনো সময়ে কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ করে, অর্থাৎ: যার সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সামঞ্জস্যপূর্ণ} [যুমার: ২৩]। তাঁর বাণী "অবতীর্ণ করেছেন" এটি অতীতকালের।

সুতরাং: এখানে ক্রিয়াটি হলো অবতরণ করানো, আর এর সাথে সম্পৃক্ত সময়টি হলো অতীতকাল।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরকতময় তিনি} [ফুরকান: ১], এটিও অতীতকালের শব্দ। "তাবারা-কা" (বরকতময় হওয়া) এই শব্দটি কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই ব্যবহৃত হয়। আর এটিই হলো 'মুবারক' এবং 'তাবারা-কা' এর মধ্যে পার্থক্য। সুতরাং আল্লাহর ক্ষেত্রে 'মুবারক' বলা কখনোই সঠিক নয়; কারণ বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, সুতরাং অন্য কেউ তাঁকে কীভাবে বরকত দেবে?! অতএব, আল্লাহ তাআলার বাণী: {বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন} [ফুরকান: ১], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বরকতময় তিনি যিনি আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ স্থাপন করেছেন} [ফুরকান: ৬১], এখানে 'তাবারা-কা' শব্দটি অতীতকাল নির্দেশ করছে।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি} [বাকারা: ৩০]। এখানে "বললেন" শব্দটিও একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা কোনো কাজের ওপর প্রমাণ করে। এখানে কাজটি হলো 'বলা', কিন্তু এর সময় হলো অতীত।

অতএব, অতীতকালীন ক্রিয়া হলো তা যা অতীত সময়ের কোনো কাজের ওপর প্রমাণ করে, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সময়ের ওপর নয়।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌علامات الفعل الماضي

العلامات التي تميز الفعل الماضي: العلامة الأولى: أنه يقبل ضمير الفاعل المتحرك، سواء للمخاطب أو للمخاطبة أو للمتكلم، تقول: ضربتَ عمراً.

ضرب: فعل ماض، والتاء ضمير الفاعل المتحرك، وهو للمخاطب هنا.

أما للمتكلم، فتقول: ضربتُ أحمد، وأكلتُ الطعام.

أكل: فعل ماضٍ، وعرفت أنه فعل ماض بوجود ضمير الرفع المتحرك في آخره.

كذلك شربتُ اللبن: شرب: فعل ماضٍ.

والتاء ضمير رفع متحرك في محل رفع فاعل.

فأول علامة يعرف بها الماضي أنه يتصل بضمير الرفع المتحرك سواء للمخاطبة أو المتكلم.

العلامة الثانية: أنه يقبل تاء التأنيث الساكنة، كطلعت الشمس، ويصح أن يقال: طلع الشمس؛ لأن الشمس مؤنث مجازي.

أيضاً قال الله تعالى: {قَالَتِ امْرَأَةُ الْعَزِيزِ الآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ} [يوسف:51]، وقال تعالى: {وَقَالَتِ اخْرُجْ عَلَيْهِنَّ} [يوسف:31].

وإعرابها: (قالت) قال: فعل ماضٍ، والتاء تاء التأنيث، فالفعل هنا فعل ماضٍ؛ لأنه اتصل بتاء التأنيث، وهذه علامة من العلامات التي يعرف بها الفعل الماضي.
অতীতকালবাচক ক্রিয়ার আলামতসমূহ

অতীতকালবাচক ক্রিয়াকে স্বতন্ত্র করার আলামতসমূহ: প্রথম আলামত: এটি গতিশীল কর্তাবাচক সর্বনাম গ্রহণ করে, চাই তা মধ্যম পুরুষ (পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক) কিংবা উত্তম পুরুষের জন্য হোক। আপনি বলবেন: তুমি আমরকে প্রহার করেছ।

প্রহার করেছে: এটি অতীতকালবাচক ক্রিয়া, আর 'তা' হলো গতিশীল কর্তাবাচক সর্বনাম, যা এখানে মধ্যম পুরুষের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

আর উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: আমি আহমদকে প্রহার করেছি, এবং আমি খাবার খেয়েছি।

খাওয়া: এটি অতীতকালবাচক ক্রিয়া; আর এটি যে অতীতকালবাচক ক্রিয়া তা এর শেষে গতিশীল কর্তৃবাচক সর্বনামের উপস্থিতি দ্বারা চেনা গেছে।

অনুরূপভাবে আমি দুধ পান করেছি: এখানে পান করা হলো অতীতকালবাচক ক্রিয়া।

আর 'তা' হলো গতিশীল কর্তৃবাচক সর্বনাম যা কর্তা হিসেবে রাফার স্থলে রয়েছে।

সুতরাং অতীতকালবাচক ক্রিয়াকে চেনার প্রথম আলামত হলো এটি গতিশীল কর্তৃবাচক সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়, চাই তা মধ্যম পুরুষ স্ত্রীবাচকের জন্য হোক কিংবা উত্তম পুরুষের জন্য।

দ্বিতীয় আলামত: এটি স্থির স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা' গ্রহণ করে, যেমন: সূর্য উদিত হয়েছে। এক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গবোধক চিহ্ন ছাড়াও বলা সঠিক; কারণ সূর্য শব্দটি রূপক স্ত্রীলিঙ্গ।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আযীযের স্ত্রী বলল, এখন সত্য প্রকাশিত হয়েছে} [ইউসুফ: ৫১], এবং আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {সে বলল, তাদের সামনে বেরিয়ে এসো} [ইউসুফ: ৩১]।

এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ হলো: (সে বলল) 'বলল' হলো অতীতকালবাচক ক্রিয়া এবং 'তা' হলো স্ত্রীলিঙ্গবোধক চিহ্ন। সুতরাং এখানে ক্রিয়াটি অতীতকালবাচক; কারণ এটি স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা'-এর সাথে যুক্ত হয়েছে। আর এটি অতীতকালবাচক ক্রিয়া চেনার আলামতসমূহের অন্যতম একটি আলামত।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أمثلة تطبيقية للفعل الماضي

قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ} [آل عمران:33].

وقال تعالى: {إِذْ قَالَتِ امْرَأَةُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ * فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنْثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ} [آل عمران:35 - 36].

فالفعل الماضي من هذه الآيات، (اصطفى) وهو مبني والدليل على أنه ماضٍ أن نضع له علامة من العلامتين لنعلم هل سيقبلها أم لا؟ وهنا يصح أن تقول: اصطفيت محمداً لنفسي.

إذاً: فهو ماضٍ والحدث هو الاصطفاء، والزمن هو الماضي.

لكن الفعل (كان) ناقص وليس كاملاً؛ لأنه يدل على زمن ولا يدل على الحدث.

إذاً: (اصطفى) فعل ماض، ودخل عليه ضمير الرفع المتحرك في قولك: اصطفيت محمداً من الناس.

الفعل الثاني: (نذرت) نذر فعل ماضٍ، والتاء ضمير رفع متحرك في محل رفع فاعل.

الفعل في قوله تعالى: {إِذْ قَالَتِ امْرَأَةُ عِمْرَانَ} [آل عمران:35]، الفعل (قال) دخلت عليه تاء التأنيث، وهي من علامات الفعل الماضي، وهي تاء ساكنة تحركت هنا بسبب التقاء الساكنين.

((سميتها)) الفعل (سميت) والتاء ضمير الرفع المتحرك، والهاء ضمير متصل في محل نصب مفعول به.

((وضعتها)) الفعل الماضي (وضعت) والعلامة هي تاء التأنيث.

إذاً: الفعل الماضي يعرف بارتباطه بتاء التأنيث، وأيضاً يعرف بضمير الرفع المتحرك.
অতীতকালীন ক্রিয়ার (ফেল-এ-মাজি) প্রয়োগিক উদাহরণ

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইব্রাহীমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে বিশ্বজগতের উপর মনোনীত করেছেন।" [আলে ইমরান: ৩৩]।

এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "স্মরণ করুন, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিলেন: হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে তা আমি একান্তভাবে আপনার জন্য উৎসর্গ করার মানত করলাম, সুতরাং আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। এরপর যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি। আর তিনি যা প্রসব করেছেন আল্লাহ সে সম্পর্কে ভালো জানেন; আর পুত্র তো কন্যার মতো নয়। আর আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম।" [আলে ইমরান: ৩৫ - ৩৬]।

এই আয়াতগুলোর মধ্যে অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেল-এ-মাজি) হলো, (মনোনীত করেছেন); এটি একটি অপরিবর্তনীয় রূপের শব্দ। এটি যে অতীতকালীন ক্রিয়া তার প্রমাণ হলো এর সাথে আমরা ওই দুটি চিহ্নের কোনো একটি যুক্ত করে দেখব যে এটি তা গ্রহণ করে কি না। এখানে আপনার পক্ষে বলা সঠিক হবে: "আমি আমার নিজের জন্য মুহাম্মদকে মনোনীত করেছি।"

অতএব: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, এর ঘটনাটি হলো মনোনয়ন এবং সময়টি হলো অতীতকাল।

তবে (ছিল) ক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ নয়; কারণ এটি কেবল সময়কে নির্দেশ করে কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা ঘটনাকে নির্দেশ করে না।

সুতরাং: (মনোনীত করেছেন) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, এবং আপনার বক্তব্য "আমি মানুষের মধ্য থেকে মুহাম্মদকে মনোনীত করেছি"-তে এর সাথে একটি স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় ক্রিয়াটি হলো: (মানত করেছি)। এখানে 'মানত করা' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, আর 'তা' হলো স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যা কর্তার স্থলাভিষিক্ত।

আল্লাহ তায়ালার বাণী: "যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিলেন" [আলে ইমরান: ৩৫]-এর মধ্যে ক্রিয়াটি হলো (বলা), এর সাথে স্ত্রীবাচক 'তা' যুক্ত হয়েছে, যা অতীতকালীন ক্রিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি মূলত একটি সাকিনযুক্ত 'তা', যা এখানে দুটি সাকিনযুক্ত বর্ণের মিলনের কারণে স্বরযুক্ত হয়েছে।

((আমি তার নাম রেখেছি)) এখানে ক্রিয়াটি হলো (নাম রেখেছি), যেখানে 'তা' হলো স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম, আর 'হা' হলো কর্মকারকের স্থলাভিষিক্ত একটি সংযুক্ত সর্বনাম।

((তিনি তাকে প্রসব করেছেন)) এখানে অতীতকালীন ক্রিয়া হলো (প্রসব করেছেন) এবং এর চিহ্ন হলো স্ত্রীবাচক 'তা'।

অতএব: অতীতকালীন ক্রিয়া চেনা যায় এর সাথে স্ত্রীবাচক 'তা' যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এবং স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনামের মাধ্যমেও এটি চেনা যায়।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفعل المضارع

الفعل ينقسم إلى أقسام ثلاثة: فعل ماض، وفعل مضارع، وفعل أمر.
বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া

ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত: অতীতকালীন ক্রিয়া, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং আদেশসূচক ক্রিয়া।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تعريف الفعل المضارع

القسم الثاني من الأفعال: المضارع.

المضارعة هي في اللغة المشابهة، والمضارع لفظ يدل على معنى، هذا المعنى يتحقق في زمن الحال أو الاستقبال، مثل قوله تعالى: {قَوْلٌ مَعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى} [البقرة:263]، الفعل المضارع هو: ((يتبعها)).

وقال الله تعالى: {يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ} [الأعراف:53]، ((يأتي)) فعل مضارع في زمن الاستقبال.

وقال الله تعالى أيضاً: {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ} [الأنعام:158]، فهنا (يأتي) و ((ينظرون)) فعلان مضارعان أيضاً.
ফেল মুদারে-এর সংজ্ঞা

ক্রিয়ার দ্বিতীয় প্রকার: মুদারে।

আভিধানিক অর্থে ‘মুদারাআ’ হলো সাদৃশ্য। আর মুদারে হলো এমন একটি শব্দ যা এমন কোনো অর্থের নির্দেশ করে যা বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎকালে বাস্তবায়িত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {উত্তম কথা ও ক্ষমা সেই সদকা অপেক্ষা শ্রেয় যার পেছনে কষ্টদায়ক আচরণ থাকে} [আল-বাকারা: ২৬৩], এখানে ফেল মুদারে হলো: ((পেছনে আসা))।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যেদিন এর চূড়ান্ত ফলাফল আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে তা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে} [আল-আরাফ: ৫৩], এখানে ((আসবে)) শব্দটি ভবিষ্যৎকালীন ফেল মুদারে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তারা কি কেবল এরই প্রতীক্ষা করছে যে, তাদের নিকট ফেরেশতা আসবে অথবা আপনার প্রতিপালক আসবেন?} [আল-আনআম: ১৫৮], এখানে (আসবেন) এবং ((প্রতীক্ষা করছে)) শব্দ দুটিও ফেল মুদারে।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আজুরূমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌علامات الفعل المضارع

الفعل المضارع له علامات تميزه عن غيره، وهذه العلامات هي: دخول النصب والجزم، والكلام عن الفعل المضارع يأتي من أكثر من وجه: الوجه الأول: أن له حروفاً تميزه، وهذه الحروف إذا ابتدأ الفعل بها قلنا: هذا الفعل فعل مضارع، وهذه حروف تجمع في كلمة نأيت أو أنيت، فأي حرف من هذه الحروف تراها في فعل فاعلم أن هذا الفعل مضارع.

الوجه الثاني: أن هذا الفعل يضم أوله في حالتين: الحالة الأولى: إن كان الماضي منه رباعياً أو مبنياً للمجهول، أما الماضي الرباعي فهو مثل: سافر، فنقول: في المضارع منه: نسافر ويُسافر وأُسافر بالضم وتُسافر كلها بالضم، وهذه قاعدة لا بد على طالب العلم أن يتقنها؛ ليعلم متى يضم الفعل المضارع.

وأيضاً (حَاضَرَ) فعل ماضٍ، فنقول في مضارعه: يحاضر ونُحاضر وأُحاضر وتُحاضر، كلها بالضم.

والحالة الثانية التي يضم فيها أوله: المبني للمجهول، وذلك مثل يُضْرَبُ ويُكْرَمُ.

ويفتح أوله في الثلاثي وغيره، فيكون المضارع مفتوح الأول، أي: أول حرف فيه يكون مفتوحاً، وذلك مثل: (قام) يقال في مضارعه: يَقوم، تَقوم، نَقوم، أَقوم.

إذاًً: يكون أوله مفتوحاً.

نعود إلى علامات الفعل المضارع وهي: أنه يقبل حروف الجزم والنصب، قال الله تعالى: {هَلْ أَتَى عَلَى الإِنسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا} [الإنسان:1] (لم) حرف جزم، و (يكن) فعل مضارع؛ لأنه سبقه حرف جزم.

قال الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} [الإخلاص:1 - 3]، فالفعل (يلد) مضارع؛ لأنه سبقه جازم.

وقال تعالى: {مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ} [البقرة:114]، الفعل المضارع ((يدخلوها)) وسبقه ناصب وهو (أن).

قال الله تعالى: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا} [البقرة:24]، تفعلوا الأولى فعل مضارع؛ لأنه سبقها جازم وهي الأداة لم، والثانية فعل مضارع لأنه سبقها حرف نصب وهي الأداة لن.
ফেলে মুজারের আলামতসমূহ

ফেলে মুজারের (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) এমন কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে যা তাকে অন্যান্য ক্রিয়া থেকে পৃথক করে। এই আলামতগুলো হলো: নসব (নসব প্রদানকারী অব্যয়) এবং জজম (জজম প্রদানকারী অব্যয়) এর প্রবেশ। ফেলে মুজারে সম্পর্কে আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে আসে: প্রথম দিক: এর নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ রয়েছে যা একে স্বতন্ত্র করে। ক্রিয়া যদি এই বর্ণগুলো দিয়ে শুরু হয়, তবে আমরা বলি: এটি একটি ফেলে মুজারে। এই বর্ণগুলো 'নাআইতু' অথবা 'আনইতু' শব্দের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। সুতরাং এই বর্ণগুলোর কোনো একটি যদি আপনি কোনো ক্রিয়ার শুরুতে দেখেন, তবে জেনে রাখুন যে সেটি ফেলে মুজারে।

দ্বিতীয় দিক: দুটি অবস্থায় এই ক্রিয়ার প্রথম বর্ণে পেশ (যম্মা) হয়। প্রথম অবস্থা: যদি এর মাজি (অতীতকাল) চার বর্ণবিশিষ্ট (রুবায়ী) হয় অথবা মাজহুল (কর্মবাচ্য) হয়। চার বর্ণবিশিষ্ট মাজির উদাহরণ যেমন: 'সাফারা' (সফর করল), এর মুজারেতে আমরা বলি: 'নুসাফিরু', 'ইউসাফিরু', 'উসাফিরু' এবং 'তুসাফিরু'—সবকটিই পেশযুক্ত। এটি এমন একটি নিয়ম যা ইলমের তালিবে ইলমদের (শিক্ষার্থীদের) ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে; যাতে সে জানতে পারে কখন ফেলে মুজারের শুরুতে পেশ হবে।

তদ্রূপ (হাদ্বারা) একটি ফেলে মাজি, আমরা এর মুজারেতে বলি: 'ইউহাদ্বিরু', 'নুহাদ্বিরু', 'উহাদ্বিরু' এবং 'তুহাদ্বিরু'—সবকটিই পেশযুক্ত।

দ্বিতীয় অবস্থা যাতে শুরুতে পেশ হয়: মাজহুল (কর্মবাচ্য), যেমন: 'ইউদরাবু' এবং 'ইউকরামু'।

আর তিন বর্ণবিশিষ্ট (সুলাসি) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শুরুতে জবর (ফাতহা) হয়। অর্থাৎ মুজারের প্রথম বর্ণটি জবরযুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ: (ক্ব-মা), এর মুজারেতে বলা হয়: 'ইয়াক্বূমু', 'তাক্বূমু', 'নাক্বূমু', 'আক্বূমু'।

সুতরাং: এর প্রথম বর্ণটি জবরযুক্ত হবে।

আমরা পুনরায় ফেলে মুজারের আলামত প্রসঙ্গে ফিরে আসি, আর তা হলো: এটি জজম এবং নসব প্রদানকারী অব্যয়সমূহ গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: "মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়নি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না?" [সূরা ইনসান: ১]। এখানে 'লাম' হলো জজম প্রদানকারী অব্যয় এবং 'ইয়াকুন' হলো ফেলে মুজারে; কারণ এর আগে জজমের অব্যয় এসেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি।" [সূরা ইখলাস: ১-৩]। এখানে 'ইয়ালিদ' ক্রিয়াটি মুজারে; কারণ এর আগে জজম প্রদানকারী অব্যয় এসেছে।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ব্যতীত তাদের পক্ষে তাতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না।" [সূরা বাকারাহ: ১১৪]। এখানে ফেলে মুজারে হলো 'ইয়াদখুলূহা' এবং এর আগে নসব প্রদানকারী অব্যয় 'আন' এসেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তোমরা যদি তা না করো এবং তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না।" [সূরা বাকারাহ: ২৪]। এখানে প্রথম 'তাফআলূ' শব্দটি ফেলে মুজারে; কারণ এর আগে জজম প্রদানকারী অব্যয় তথা 'লাম' এসেছে। আর দ্বিতীয় 'তাফআলূ' শব্দটি ফেলে মুজারে; কারণ এর আগে নসব প্রদানকারী অব্যয় তথা 'লান' এসেছে।