(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح مختصر الصارم المسلول - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح مختصر البعلي لكتاب الصارم المسلول على شاتم الرسول لابن تيمية

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

শারহু মুখতাসার আস-সারিম আল-মাসলুল - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'আস-সারিম আল-মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল' গ্রন্থের আল-বালি কৃত সংক্ষিপ্তকরণের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مختصر الصارم المسلول على شاتم الرسول -‌‌ ترجمة عن شيخ الإسلام ابن تيمية

لقد كان شيخ الإسلام نادرة من النوادر، فقد شابه الصحابة رضوان الله عليهم في جمعه بين العلم والعمل، وجهاده باللسان وبالسنان، وقد فاق أقرانه في شتى المجالات، فما من فن من الفنون إلا وله فيه الحظ الأوفر، فهو فارس الميدان في مجال الجهاد في سبيل الله، وفي مجال مناظرة أهل البدع، وفي مجال الفقه والحديث والتفسير واللغة وغير ذلك، فرحمه الله رحمة واسعة.
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে ‘আস-সারিমুল মাসলুল’-এর সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থের ব্যাখ্যা - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর জীবনী

শাইখুল ইসলাম ছিলেন যুগের এক বিরল প্রতিভা। ইলম ও আমলের সমন্বয় এবং মুখ ও তলোয়ারের মাধ্যমে জিহাদ করার ক্ষেত্রে তিনি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সদৃশ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এমন কোনো শাস্ত্র ছিল না যেখানে তাঁর ব্যাপক অবদান বা বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল না। আল্লাহর পথে জিহাদের ময়দানে, বিদআতিদের সাথে বিতর্ক করার ক্ষেত্রে এবং ফিকহ, হাদিস, তাফসীর, ভাষাতত্ত্ব ও অন্যান্য ময়দানে তিনি ছিলেন এক অকুতোভয় বীর। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ترجمة شيخ الإسلام ابن تيمية

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فقبل أن نبدأ الكلام على هذا الكتاب الجليل العظيم: (الصارم المسلول)، وهذا الكتاب من أنفع ما كتب في هذه المسألة، كتاب: (الصارم المسلول) لشيخ الإسلام ابن تيمية، وأيضاً هذا الاختصار الجيد للإمام البعلي فلا بد أن نمر على الشيخين ونتكلم عنهما بترجمة وجيزة.

فشيخ الإسلام ابن تيمية هو علم الأعلام، والإمام الهمام، وفارس الميدان، وإن صح التعبير فهو كما يقولون: فريد عصره، ووحيد دهره، وهو البحر الذي لا ساحل له، كما سئل عنه ابن القيم فقال: هذا البحر الذي لا ساحل له.

ولا بد أن نتكلم عن ابن تيمية في كل شيء، نتكلم عنه خلقاً وديناً ونسكاً وعبادةً وعلماً وشجاعةً وكرماً وسخاءً وجهاداً في سبيل الله.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার জীবনী

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

অতঃপর: এই মহান ও মহিমান্বিত কিতাব: (আস-সারিমুল মাসলুল) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করার আগে; এই মাসআলা বা বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার এই 'আস-সারিমুল মাসলুল' কিতাবটি অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া ইমাম আল-বালির চমৎকার এই সংক্ষিপ্তসারটিও রয়েছে, তাই আমাদের অবশ্যই এই দুই শাইখ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করতে হবে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ হলেন শ্রেষ্ঠতম পণ্ডিতদের শিরোমণি, এক মহান ইমাম এবং জ্ঞান-ময়দানের বীর অশ্বারোহী। যদি সঠিকভাবে ব্যক্ত করা হয়, তবে তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং কালের অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি এক কূলহীন সমুদ্রের মতো, যেমনটি তাঁর সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: তিনি এমন এক সমুদ্র যার কোনো কিনারা নেই।

ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ে আমাদের আলোচনা করা প্রয়োজন; তাঁর চরিত্র, দ্বীনদারি, কৃচ্ছ্রসাধনা, ইবাদত, জ্ঞান, সাহসিকতা, মহানুভবতা, দানশীলতা এবং আল্লাহর পথে তাঁর জিহাদ সম্পর্কে আমাদের বলতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مولد شيخ الإسلام ونشأته

ولد شيخ الإسلام ابن تيمية سنة (661هـ) ونشأ في أسرة عريقة امتلأت بالفقه والحكمة والعلم، وامتلأت بالكرم والسخاء والشجاعة، فلذلك نبتت لنا هذه النبتة، هي نبتة شيخ الإسلام ابن تيمية، قد ولد في حران وجلس فيها حتى سن السابعة من عمره، ثم بعد ذلك لما هجم التتار عليهم فرقوهم أوزاعاً فرحلوا إلى الشام، وكان أبوه عبد الحليم من علماء الحنابلة، وكان من علماء الحديث، وكان مدرساً لعلم الحديث في الشام، وهو الذي أجلسه مجلسه بعدما أصبح شاباً يافعاً حافظاً لعلم الحديث، فانتقل والده بسبب التتار إلى الشام.

وهذا الطفل الصغير كان كريماً شجاعاً ناسكاً عابداً لله جل في علاه.

فقد ظهرت نجابته أولاً في المناظرة بينه وبين أبيه عندما عاتبه على الرحيل من حران، فقال لوالده: لم تترك حران؟ فقال: التتار لا يتركون أخضر ولا يابساً إلا أتوا عليه وأكلوه وأنهوا أمره وقتلوا من في البلدة، فناظره بكلمات واستدل بآيات يستدل بها كثيراً في هذا الكتاب، فقال لأبيه: ألم يقل الله تعالى: {قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ} [التوبة:14]، فلا بد من الجهاد، والله ينصر المجاهدين في سبيله.

لكن قدر الله الرحلة إلى دمشق، فلما رحل إلى دمشق كانت فاتحة الخير عليه.
শাইখুল ইসলামের জন্ম ও তাঁর বেড়ে ওঠা

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ৬৬১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং এক প্রাচীন ও অভিজাত পরিবারে বেড়ে ওঠেন যা ফিকহ, হিকমত ও ইলমে ভরপুর ছিল, এবং যা মহানুভবতা, দানশীলতা ও সাহসিকতায় পরিপূর্ণ ছিল। ফলে আমাদের জন্য এই চারাগাছটি অঙ্কুরিত হয়েছে, আর তা হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর চারাগাছ। তিনি হাররানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সাত বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এরপর যখন তাতাররা তাদের ওপর আক্রমণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, তখন তারা শামের দিকে পাড়ি জমান। তাঁর পিতা আবদুল হালিম ছিলেন হাম্বলি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের আলেম। তিনি শামে ইলমে হাদিসের শিক্ষক ছিলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ যখন হাদিস শাস্ত্রে হাফেজ এক টগবগে যুবক হিসেবে গড়ে ওঠেন, তখন তাঁর পিতাই তাঁকে নিজের আসনে স্থলাভিষিক্ত করেন। মূলত তাতারদের কারণেই তাঁর পিতা শামে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

আর এই ছোট শিশুটি ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত উদার, সাহসী, নিবেদিতপ্রাণ ও ইবাদতকারী।

তাঁর বিচক্ষণতা সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় তাঁর ও তাঁর পিতার মধ্যকার এক বিতর্কে, যখন তিনি হাররান ত্যাগ করার কারণে তাঁর পিতাকে অনুযোগ করেছিলেন। তিনি তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কেন হাররান ছেড়ে যাচ্ছেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "তাতাররা যা কিছু পায় তার কোনো কিছুই ছাড়ে না, বরং সবকিছু ধ্বংস করে দেয় এবং জনপদের অধিবাসীদের হত্যা করে।" তখন তিনি কিছু কথার মাধ্যমে তাঁর পিতার সাথে বিতর্ক করেন এবং এমন কিছু আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যা তিনি এই কিতাবে অনেকবার উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর পিতাকে বললেন: "আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতেই তাদের শাস্তি দেবেন} [আত-তাওবাহ: ১৪]। সুতরাং জিহাদ তো অবশ্যই করতে হবে, আর আল্লাহ তাঁর পথের মুজাহিদদের সাহায্য করেন।"

কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে দামেশকে সফরের ফয়সালা নির্ধারিত ছিল। অতঃপর যখন তিনি দামেশকে হিজরত করলেন, তা তাঁর জন্য কল্যাণের সূচনাকারী হিসেবে প্রমাণিত হলো।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أخلاق شيخ الإسلام

قبل أن نتكلم على أهم ما في حياة شيخ الإسلام ابن تيمية وهي حياته العلمية، نتكلم عن صفات اعتلى بها، وهي صفاته الخُلقية، هو شيخ الإسلام الخلوق الذي حباه الله، فقد كان ذا أخلاق سامقة يرتفع بها، فكان كريماً سخياً على ضيق يد، فلم يكن يعرف الفرق بين الدرهم والدينار كما وصفه كثير من المؤرخين، أي: لم يكن ينشغل بالدرهم والدينار، كما قال الذهبي: كان زاهداً ورعاً كريماً مع زهده ومع فقره وضيق حاله، ولقد أتى بكرم الأخلاق أولاً، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (فاتقوا النار ولو بشق تمرة) فلا يمكن أن تحتووا الناس بأموالكم، لكن لا بد أن تحتووا الناس بأخلاقكم الكريمة، فكان كريماً بأخلاقه مع الناس.

ولما طلع نجمه، وبزغت شمسه في الأوطان جميعاً، كانت الجوائز تنهال عليه، فإن جاءته جائزة من السلطان بمال فرقها عن بكرة أبيها على إخوته وأصدقائه وعلى إخوانه وطلبة العلم ومشايخه، فكان كريماً سخياً.
শাইখুল ইসলামের চারিত্রিক গুণাবলি

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন নিয়ে আলোচনা করার আগে, আমরা এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা বলব যার মাধ্যমে তিনি সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করেছিলেন, আর তা হলো তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি। তিনি ছিলেন মহান চরিত্রের অধিকারী শাইখুল ইসলাম, যাকে আল্লাহ তাআলা এই নিয়ামত দান করেছিলেন। কেননা তাঁর চারিত্রিক নৈতিকতা ছিল সুউচ্চ যা তাঁকে মহিমান্বিত করেছিল। সম্পদের সল্পতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার ও দানশীল। অনেক ইতিহাসবিদ তাঁকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন যে, দিরহাম ও দিনারের মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য বুঝতেন না। অর্থাৎ: তিনি দিরহাম ও দিনার নিয়ে মগ্ন থাকতেন না। ইমাম যাহাবী যেমনটি বলেছেন: তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার এবং তাঁর অল্পে তুষ্টি ও দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি ছিলেন দানশীল। আর তিনি সর্বোপরি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধাংশের বিনিময়ে হয়)। তোমাদের সম্পদ দিয়ে তোমরা মানুষকে আপন করে নিতে পারবে না, তবে তোমাদের মহৎ চরিত্র দিয়ে অবশ্যই মানুষকে আপন করে নিতে হবে। ফলে মানুষের সাথে তাঁর আচরণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মহানুভব।

যখন তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং সমস্ত জনপদে তাঁর জ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্বলিত হলো, তখন তাঁর ওপর পুরস্কারের বৃষ্টি হতে লাগল। সুলতানের পক্ষ থেকে যদি কোনো আর্থিক পুরস্কার তাঁর কাছে আসত, তবে তিনি তার সবটুকুই তাঁর ভাই, বন্ধু-বান্ধব, দ্বীনি ভাই, ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থী এবং তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। সুতরাং তিনি ছিলেন অত্যন্ত মহানুভব ও দানশীল।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌عبادة شيخ الإسلام وورعه وتقواه وصبره على الأذى

وقد كان عابداً ناسكاً، وعبادة شيخ الإسلام ابن تيمية إذا محضت النظر فيها قلت: هذا الرجل قبر من قبور الصحابة انشق وخرج منه هذا الصحابي.

فقد كان عابداً لله جل في علاه بالعبادة الظاهرة، والعبادة الباطنة، عبادة الجوارح: بالجهاد في سبيل الله باللسان وبالسنان، وكان عابداً بالجوارح قواماً لليل صواماً للنهار، وعبادته في الباطن هي أجل العبادات التي قدمها ابن تيمية لنا نبراساً نأتسي به.

ويدل على ذلك كلام ابن القيم حين قال: كان إذا ادلهم بنا الخطب واشتد بنا الكرب ذهبنا إلى ابن تيمية فنظرنا إلى وجهه فذهب عنا كل شيء.

سبحان الله! جعل الله رؤيته ذكراً لله، وجعل الله في رؤيته الأمان لعباد الله جل في علاه، قال: إذا ادلهم بنا الخطب واشتد بنا الكرب، واشتد الخوف في قلوبنا ذهبنا إلى ابن تيمية، فنظرنا إلى وجهه فازددنا طمأنينة.

سبحان الله! وهذا من شدة ورع هذا الشيخ الكريم، ومن شدة عبادته وقربه من الله جل في علاه، ولك فيما قاله بيان جليٌ لشدة ورع وتقوى هذا الرجل وعبادته لله جل في علاه، فمن المعلوم أنه عندما يبزغ نجم عالم، أو طالب علم، أو رجل جعله الله نبراساً لأناس يأتسون به، لا بد من الحسد والحقد أن يغلي في الأوساط، ولا بد من بتره وقتله وطمس هويته، فكان ذلك الحظ الأوفر والنصيب الأعظم لشيخ الإسلام لـ ابن تيمية؛ لأن الحساد كثر ل شيخ الإسلام؛ لأنه كان وحيد عصره بحق كما قال ابن دقيق العيد كما سنبين.

فكانت الوشاية كثيرة على شيخ الإسلام ابن تيمية، فكانوا يسجنونه ويجلدونه ويعزرونه ويعذبونه، حتى مات مظلوماً في سجن القلعة، فشيخ الإسلام ابن تيمية لما سجنوه قال كلمات تحفر في الصدور بماء الذهب، وهي تدل على عبادة هذا الرجل وقربه من الله جل في علاه ويقينه في أن ربه جل في علاه هو الرب القادر الكريم المليك لهذا الكون كله، الذي يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ، فقال: ماذا يريد أعدائي بي لو سجنوني فسجني خلوة بربي، أي: المراقبة والإحسان والتفكر والتدبر وذكر القلب؛ لأن ذكر القلب هو الذي يرتقي بالعبد، قال عز وجل: {رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلأَوَّابِينَ غَفُورًا} [الإسراء:25].

وفي الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال (ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله).

فـ شيخ الإسلام اعتنى بذكر قلبه، فكان يقول: لو سجنوني فسجني خلوة بربي، ونعم الأنيس جل في علاه.

ثم قال: ولو قتلوني فقتلي شهادة.

فهو يعلم أنه في وظيفة عظيمة في هذه الدنيا، وهي العبادة لله جل في علاه، ونشر دين الله جل في علاه، وتعبيد العباد لرب العباد.

ثم يقول: ولو نفوني فنفيي سياحة.

أي: أنظر في هذا الكون الشاسع، وأنظر إلى ربوبية الله جل في علاه، وعظمة خلق الله جل في علاه.

وكان ابن تيمية يتقرب من الله جل في علاه بالذكر الخفي حتى في أبواب العلم، قال: كنت إذا استغلقت علي مسألة ذهبت إلى مسجد مهجور أخلو فيه بربي، كما قال ابن القيم: إنه كان مسجداً مهجوراً وكان يمرغ نفسه بالتراب، فهو بذلك يبين أن بوابة الدخول إلى الله هو الذل لله، ورسول الله صلى الله عليه وسلم كان يتذلل لربه ويخضع، فهو لما كان في غزوة بدر واشتد الأمر عليهم، وكاد المسلمون أن يفتنوا رفع يديه متذللاً خاضعاً متمسكناً لربه جل في علاه حتى سقط الرداء وهو يقول: (اللهم أنجز لي ما وعدت).

فـ ابن تيمية كان يفقه ذلك ويعلم أن بداية الطريق الصحيح هو الذل التام والخضوع التام لله جل في علاه، وكيف لا؟ وهو الذي بين لنا أن ركني العبادة هما: غاية الحب، مع غاية الذل، فكان يمرغ نفسه في التراب ذلاً وخضوعاً لله جل في علاه، ثم يدعو مبيناً أن النعمة بأسرها بيد الله: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنِ اللَّهِ} [النحل:53] فقال: اللهم يا معلم إبراهيم، ولذلك كان دائماً ما يقول: ليس مني شيء ليس بي شيء، الكل من الله جل في علاه، وكان يقول: يا معلم آدم وإبراهيم علمني، ويا مفهم سليمان فهمني.

وهذه الدعوة تدل على دقة نظر ابن تيمية وشدة تقربه من الله جل في علاه، فهو يخضع ثم ينسب النعمة لباريها، حتى ينال ما يريد من ربه جل في علاه.
শাইখুল ইসলামের ইবাদত, পরহেজগারি, তাকওয়া এবং কষ্টের ওপর তাঁর ধৈর্য

তিনি ছিলেন একজন আবিদ ও জাহিদ। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর ইবাদতের দিকে যদি আপনি গভীর দৃষ্টি দেন, তবে আপনি বলবেন: এই ব্যক্তি সাহাবীদের কবরের মধ্য থেকে বের হয়ে আসা একজন সাহাবী।

তিনি মহান আল্লাহর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় মাধ্যমেই ইবাদত করতেন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ইবাদত: জিহ্বায় ও তলোয়ারে আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ইবাদতে রত থাকতেন, রাতে দীর্ঘক্ষণ সালাতে দাঁড়াতেন ও দিনে সিয়াম পালন করতেন। তাঁর অভ্যন্তরীণ ইবাদতগুলোই ছিল ইবনু তাইমিয়্যাহ কর্তৃক আমাদের জন্য রেখে যাওয়া সর্বোত্তম আদর্শ যা আমরা অনুসরণ করি।

ইবনুল কায়্যিমের কথা এর প্রমাণ দেয় যখন তিনি বলেন: যখন আমাদের ওপর কোনো বিপদ নেমে আসত এবং আমাদের কষ্ট চরম আকার ধারণ করত, তখন আমরা ইবনু তাইমিয়্যাহর কাছে যেতাম এবং তাঁর চেহারার দিকে তাকাতাম, অমনি আমাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যেত।

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাঁর দেখাকেই আল্লাহর জিকির বানিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর দর্শনের মধ্যে আল্লাহর বান্দাদের জন্য নিরাপত্তা রেখেছিলেন। তিনি বলেন: যখন আমাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসত, আমাদের কষ্ট তীব্র হতো এবং অন্তরে ভয় বেড়ে যেত, তখন আমরা ইবনু তাইমিয়্যাহর কাছে যেতাম এবং তাঁর চেহারার দিকে তাকাতাম, ফলে আমাদের প্রশান্তি বেড়ে যেত।

সুবহানাল্লাহ! এটি ছিল এই সম্মানিত শাইখের চরম পরহেজগারি, তাঁর গভীর ইবাদত এবং মহান আল্লাহর নৈকট্যের ফল। তাঁর বক্তব্য থেকে এই ব্যক্তির চরম পরহেজগারি, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর ইবাদতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটা সুবিদিত যে, যখন কোনো আলিম, ইলম অন্বেষী বা এমন কোনো ব্যক্তি উদিত হন যাকে আল্লাহ মানুষের জন্য আদর্শ বানান, তখন চারপাশের মানুষের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষ ফুটতে শুরু করে এবং তাকে বিচ্ছিন্ন করা, হত্যা করা বা তার পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর ক্ষেত্রেও এর বড় অংশ জুটেছিল; কারণ শাইখুল ইসলামের হিংসুক ছিল অনেক। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি, যেমনটি ইবনু দাকীকুল ঈদ বলেছেন যা আমরা বর্ণনা করব।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর বিরুদ্ধে প্রচুর কুৎসা রটানো হতো। ফলে তারা তাঁকে কারাবন্দি করত, চাবুক মারত, শাস্তি দিত এবং নির্যাতন করত, এমনকি দুর্গের কারাগারে তিনি মজলুম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তিনি এমন কিছু কথা বলেছিলেন যা স্বর্ণাক্ষরে হৃদয়ে খোদাই করার মতো। এটি তাঁর ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য এবং তাঁর রবের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসের পরিচায়ক যে, তাঁর রব হচ্ছেন সর্বশক্তিমান, সম্মানিত এবং এই মহাবিশ্বের মালিক, যিনি যা ইচ্ছা করেন তা হয়ে যায়। তিনি বলেছিলেন: আমার শত্রুরা আমার কী করতে পারে? যদি তারা আমাকে কারাবন্দি করে, তবে আমার কারাবাস হবে আমার রবের সাথে নির্জনবাস। অর্থাৎ: মুরাকাবা, ইহসান, চিন্তা-গবেষণা এবং হৃদয়ের জিকির; কেননা হৃদয়ের জিকিরই একজন বান্দাকে উন্নত করে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমাদের প্রতিপালক ভালো করেই জানেন; যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য ক্ষমাশীল।" [বনী ইসরাঈল: ২৫]।

সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীর সংশোধিত হয়, আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায় তবে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়।"

শাইখুল ইসলাম তাঁর হৃদয়ের জিকিরের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। তিনি বলতেন: যদি তারা আমাকে কারাবন্দি করে, তবে আমার কারাবাস হবে আমার রবের সাথে নির্জনবাস, আর মহান আল্লাহ কতই না উত্তম সঙ্গী।

অতঃপর তিনি বলেন: আর যদি তারা আমাকে হত্যা করে, তবে আমার মৃত্যু হবে শাহাদাত।

তিনি জানতেন যে তিনি এই পৃথিবীতে একটি মহান দায়িত্বে নিয়োজিত, আর তা হলো আল্লাহর ইবাদত করা, আল্লাহর দ্বীন প্রচার করা এবং বান্দাদেরকে কেবল আল্লাহরই গোলামে পরিণত করা।

অতঃপর তিনি বলেন: আর যদি তারা আমাকে নির্বাসিত করে, তবে আমার নির্বাসন হবে পর্যটন।

অর্থাৎ: আমি এই বিশাল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করব এবং মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ ও তাঁর সৃষ্টির মহিমা অবলোকন করব।

ইবনু তাইমিয়্যাহ গোপন জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতেন, এমনকি ইলমের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন: যখন আমার কাছে কোনো মাসআলা জটিল হয়ে যেত, তখন আমি একটি পরিত্যক্ত মসজিদে যেতাম যেখানে আমি আমার রবের সাথে নির্জনে থাকতাম। ইবনুল কায়্যিম যেমনটি বলেছেন: সেটি ছিল একটি পরিত্যক্ত মসজিদ এবং তিনি সেখানে ধুলোবালিতে নিজের চেহারা ঘষতেন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর প্রবেশদ্বার হলো আল্লাহর কাছে নিজেকে তুচ্ছ ও হীন করা। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের কাছে নিজেকে তুচ্ছ করতেন ও বিনয় প্রকাশ করতেন। যখন বদরের যুদ্ধে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করল এবং মুসলিমরা বিপর্যয়ের মুখে পড়ার উপক্রম হলো, তখন তিনি রবের সামনে অত্যন্ত বিনীতভাবে ও কাকুতি-মিনতি করে হাত তুললেন, এমনকি তাঁর চাদর পড়ে গেল এবং তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা পূর্ণ করুন।"

ইবনু তাইমিয়্যাহ এটি বুঝতেন এবং জানতেন যে সঠিক পথের সূচনা হলো মহান আল্লাহর সামনে পূর্ণ লাঞ্ছনা ও পূর্ণ আনুগত্য। কেনই বা হবে না? তিনিই তো আমাদের শিখিয়েছেন যে ইবাদতের দুটি স্তম্ভ হলো: চরম ভালোবাসা এবং চরম বিনয়। তিনি আল্লাহর সামনে বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করতে ধুলোবালিতে নিজেকে লুটিয়ে দিতেন। অতঃপর তিনি দোয়া করতেন এই বিশ্বাস নিয়ে যে সকল নিআমত আল্লাহর হাতে: "তোমাদের কাছে যে নিআমত আছে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে।" [আন-নাহল: ৫৩]। তিনি বলতেন: হে আল্লাহ! হে ইব্রাহীমের শিক্ষক! এ কারণেই তিনি সর্বদা বলতেন: আমার নিজের কিছুই নেই, আমা হতে কিছুই নয়, সব কিছুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি বলতেন: হে আদম ও ইব্রাহীমের শিক্ষক, আমাকে শিক্ষা দিন; হে সুলাইমানের বোধদাতা, আমাকে বোধ দান করুন।

এই দোয়া ইবনু তাইমিয়্যাহর সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর নৈকট্যের পরিচয় দেয়। তিনি প্রথমে বিনীত হন, তারপর নিআমতকে তার স্রষ্টার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, যাতে তিনি তাঁর রবের কাছ থেকে যা চান তা লাভ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌جهاد شيخ الإسلام باللسان وبالسنان في سبيل الله

كان شجاعاً يجاهد في سبيل الله باللسان وبالسنان، ولك أن تعلم أن في عصر شيخ الإسلام ابن تيمية انتشر مذهب الأشاعرة على أنه مذهب أهل السنة والجماعة، وهذا النووي وغير النووي وقبل النووي وبعد النووي فكلهم كانوا في دمشق يعلمون أن المذهب الحق هو مذهب الأشاعرة، ويحسبون أنه مذهب أهل السنة والجماعة، ناهيك عن انتشار النصارى واليهود، وناهيك أيضاً عن وجود الرافضة والشيعة والصوفية، وغير هؤلاء.

فناضل شيخ الإسلام ابن تيمية وناظر كل مبتدع ضال في بدعته، فكان يناظرهم جميعاً، ومن شدة تحريه لسنة النبي صلى الله عليه وسلم ونشر الدين الصحيح، والتأصيل العقدي السديد الصحيح كما كان عليه السلف الصالح، فإن رسائله كلها التي سجن من أجلها تبين لك كيف انبرى لهؤلاء الفرق المتعددة المبتدعة؛ ليبين لهم العقيدة السديدة عقيدة السلف.

ومن هذه الرسائل: الرسالة الحموية، والرسالة الواسطية، فكل هذه الرسائل التي صنفها ابن تيمية كانت رداً على هؤلاء المبتدعة، وكان يبين فيها العقيدة الناصعة البيضاء عقيدة السلف الصالح.

فكان يناظر باللسان، وكان يجاهد في ساحة الوغى، فلم يكن عالماً متقاعساً بل كان يجاهد باللسان وبالسنان.

أما جهاده بالسنان: فهو لما وقف قازان على أبواب دمشق وكاد يدمر كل دمشق، قام شيخ الإسلام ووقف في وجهه معلناً أنه عبد لله جل في علاه لا يخاف إلا من الله، فقال لصاحب القلعة أو لأمير البلدة الذي كان يتحصن في القلعة: لا تسلم القلعة، وإن لم تجد من السيوف والرماح، وحتى لو قاتلت بالأظافر وبالأحجار فلا تسلم القلعة، ثم ذهب إلى قازان وكان قد أسر من المسلمين وأسر أيضاً من الذميين، فكلمه كلاماً شديداً بلهجة شديدة، لا سيما وأن قازان كان قد أعلن وأشهر إسلامه بين الناس، فاشتدت عليه الوطأة من شيخ الإسلام ابن تيمية حتى ارتجف ورعب قلب قازان، فسلم له الذميين قبل المسلمين ثم سلم له المسلمين ورحل عن الشام، فلما عاودته وساوسه مرة ثانية أن يأتي ويقتحم الشام واجتمعت التتار لهلاك المسلمين، ذهب شيخ الإسلام ابن تيمية يستنفر الناس، ومنهم: قلاوون؛ لأنه كان أميراً للمؤمنين في تلك العصور، وكان في مصر فذهب إليه وقال له: والله إن لم تكن حاكماً للشام ومصر، واستنفروك في الدين فعليك النصر لزوماً ووجوباً، من قول الله تعالى: {وَإِنِ اسْتَنصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ} [الأنفال:72] فاستنفر السلطان قلاوون الناس وحثهم على القتال وكانت المعركة في رمضان، وكان شيخ الإسلام يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر أصحابه بالفطر في ساحة الوغى؛ ليتقوى المسلمون على أعدائهم، وكان يقول لكل أمير يستنهضه أو يستحثه على القتال: قاتلوا والنصر لكم، فقال له رجل: لمَ لم تقل: إن شاء الله، فقال له شيخ الإسلام ابن تيمية بقلب ثابت راسخ مستيقن بربه جل في علاه: أقول: إن شاء الله تحقيقاً لا تعليقاً.

هذا يقين بالله جل في علاه، ولا تبعد إذا قلت: إنه قسم على الله، وكم من امرئ أشعث أغبر لو أقسم على الله لأبره، وقد كان النصر للمسلمين بسبب هذا الشيخ الذي كان شجاعاً في ساحة الوغى.
আল্লাহর পথে জিহ্বা ও তরবারির মাধ্যমে শাইখুল ইসলামের জিহাদ

তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন এবং আল্লাহর পথে জিহ্বা ও তরবারি দ্বারা জিহাদ করতেন। আপনার জানা উচিত যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগে আশআরি মাজহাব আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মাজহাব হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইমাম নববী এবং নববীর পূর্বে ও পরের অন্যান্যরা সবাই দামেস্কে থেকে মনে করতেন যে হক মাজহাব হলো আশআরিদের মাজহাব; তারা এটাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মাজহাব বলে গণ্য করতেন। এছাড়াও খ্রিস্টান ও ইহুদিদের প্রভাব তো ছিলই, পাশাপাশি রাফেজি, শিয়া, সুফি এবং অন্যদের উপস্থিতিও ছিল।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ প্রত্যেক পথভ্রষ্ট বিদআতিদের সাথে তাদের বিদআতের বিষয়ে সংগ্রাম ও বিতর্ক করেছেন। তিনি তাদের সকলের সাথেই বিতর্ক করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর গভীর অনুসন্ধান, সঠিক দ্বীন প্রচার এবং সালাফে সালেহীন যে তাত্ত্বিক আকিদার উপর ছিলেন, সেই সঠিক আকিদা প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণে তাঁর সমস্ত রিসালা বা পত্রগুলো (যার জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল) আপনাকে স্পষ্ট করে দেয় যে কীভাবে তিনি এই বহুবিধ বিদআতি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যাতে তাদের সামনে সালাফদের সঠিক আকিদা স্পষ্ট করা যায়।

এই রিসালাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: আর-রিসালাতুল হামাউইয়্যাহ এবং আর-রিসালাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ। ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক সংকলিত এই সমস্ত রিসালা বা পত্রগুলো ছিল মূলত সেই সব বিদআতিদের খণ্ডনস্বরূপ, এবং এতে তিনি সালাফে সালেহীনের উজ্জ্বল ও শুভ্র আকিদাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

তিনি জিহ্বার মাধ্যমে যেমন বিতর্ক করতেন, তেমনি যুদ্ধের ময়দানেও জিহাদ করতেন। তিনি কোনো আলস বা কর্মবিমুখ আলেম ছিলেন না, বরং জিহ্বা ও তরবারি উভয় মাধ্যমেই জিহাদ করতেন।

তরবারির মাধ্যমে তাঁর জিহাদ ছিল এমন: যখন গাজান খান দামেস্কের দ্বারে এসে উপস্থিত হলো এবং প্রায় পুরো দামেস্ক ধ্বংস করার উপক্রম করেছিল, তখন শাইখুল ইসলাম উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন যে তিনি সুউচ্চ মহিয়ান আল্লাহর একজন বান্দা এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না। তিনি দুর্গের অধিপতি বা শহরের আমিরকে—যিনি দুর্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন—বললেন: "দুর্গ সমর্পণ করবেন না। যদি তরবারি বা বর্শা না-ও পান, এমনকি যদি নখ বা পাথর দিয়েও লড়াই করতে হয়, তবুও দুর্গ সমর্পণ করবেন না।" এরপর তিনি গাজান খানের কাছে গেলেন। গাজান তখন মুসলমানদের পাশাপাশি জিম্মিদেরও (অমুসলিম নাগরিক) বন্দি করে রেখেছিল। তিনি তার সাথে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কথা বললেন, বিশেষ করে যেহেতু গাজান লোকসমক্ষে তার ইসলাম গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেছিল। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার ওপর এতটাই মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যে গাজানের হৃদয় প্রকম্পিত ও ভীত হয়ে পড়েছিল। সে মুসলমানদের আগে জিম্মিদের মুক্তি দিল, এরপর মুসলমানদের মুক্ত করল এবং সিরিয়া ত্যাগ করল। পরবর্তীতে যখন সে পুনরায় সিরিয়া আক্রমণ করার কুমন্ত্রণা পেল এবং তাতাররা মুসলমানদের ধ্বংস করতে সমবেত হলো, তখন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মানুষকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বেরিয়ে পড়লেন। তাদের মধ্যে কালাউনও (সুলতান) ছিলেন; কারণ তিনি সেই যুগে মুমিনদের আমির ছিলেন এবং মিশরে অবস্থান করছিলেন। শাইখুল ইসলাম তাঁর কাছে গিয়ে বললেন: "আল্লাহর কসম, আপনি যদি সিরিয়া ও মিসরের শাসক না-ও হতেন এবং আপনাকে যদি দ্বীনের খাতিরে সাহায্যের জন্য ডাকা হতো, তবে আপনার ওপর সাহায্য করা অপরিহার্য ও ওয়াজিব হয়ে যেত।" মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য} [আল-আনফাল: ৭২]। ফলে সুলতান কালাউন মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করলেন এবং যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করলেন। যুদ্ধটি হয়েছিল রমজান মাসে। শাইখুল ইসলাম বলতেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের ময়দানে তাঁর সাহাবীদের রোজা ভাঙার নির্দেশ দিতেন যাতে মুসলমানরা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হতে পারে। তিনি প্রত্যেক আমিরকে যুদ্ধে উৎসাহিত করার সময় বলতেন: "আপনারা লড়াই করুন, বিজয় আপনাদেরই হবে।" তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: "আপনি 'ইনশাআল্লাহ' কেন বললেন না?" শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর সুউচ্চ মহিয়ান রবের প্রতি অবিচল ও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বললেন: "আমি ইনশাআল্লাহ বলছি বিষয়টি নিশ্চিতভাবে ঘটার বিশ্বাস থেকে (তাহকিক), কেবল সম্ভাবনার ওপর ছেড়ে দিয়ে (তা’লিক) নয়।"

এটি সুউচ্চ মহিয়ান আল্লাহর প্রতি এক দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি যদি বলেন যে এটি আল্লাহর ওপর করা একটি কসম, তবে তা অতুক্তি হবে না। এমন কতই না আলুথালু ও ধূলিধূসরিত ব্যক্তি আছেন যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। যুদ্ধের ময়দানে সাহসী এই শাইখের কারণেই মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌علم شيخ الإسلام وفقهه وسعة حفظه

ندخل في أهم ساحات شيخ الإسلام ابن تيمية ألا وهي ساحة العلم، حق لنا أن نقول: إن ابن تيمية عالم فريد وحيد لم يأت مثله بعده؛ لأنه كان بحراً في العلوم وكان حبراً لهذه الأمة، ما من علم نجم في الساحة إلا وتعلمه ابن تيمية، وما جلس أصحاب كل علم مع ابن تيمية إلا قالوا: ما أتقن ابن تيمية إلا هذا العلم، في الفلسفة في المنطق في اللغة حتى إنه عودي؛ لأنه أخذ مآخذ على سيبويه، وسيبويه فحل اللغة فـ ابن تيمية استدرك عليه، ولذلك كانوا يأتونه من كل حدب وصوب، يتعلمون منه اللغة، وكان يعلم العقائد المختلفة عقائد اليهودية والنصرانية، وألف في ذلك التصانيف النافعة التي ترد على هذه العقائد، فألف كتاباً رد فيه على النصارى واسمه: (الجواب الصحيح في الرد على من بدل دين المسيح)، وألف كتاباً في الرد على الإثني عشرية وعلى القدرية واسمه: (منهاج السنة).

وأيضاً ألف الرسائل الكثيرة التي ترد على الأشاعرة، والفتاوى كلها موجودة تبين لنا كيف رد شيخ الإسلام ابن تيمية على هذه العقائد، فـ ابن تيمية كان بحراً للعلوم ظهرت نجابته من صغره، فما قرأ شيئاً إلا حفظه، كما قيل عن الشافعي: إنه كان إذا فتح المصحف يضع يده على الصفحة التي لا يقرؤها حتى لا يحفظها فتختلط عليه بالصفحة التي يحفظها.

كذلك كان ابن تيمية إذا أخذ الورقة فقرأها يضعها، ويأت بها عن بكرة أبيها حفظاً، فسمع بنجابة ابن تيمية الطفل الصغير شيخ محدث حلبي، فذهب إلى دمشق وقال لبعض المعلمين: أين هذا الطفل الذي تسمونه ابن تيمية؟ فقال: عندما يمر مع الصبيان سأعرفك به، فجلس الرجل ساعة حتى مر ابن تيمية، فقال المعلم: أرأيت هذا الطفل الذي معه اللوح الكبير؟ هذا ابن تيمية، فذهب الحلبي إليه فقال: يا بني! تعال، فجاءه، فقال الحلبي: ما هذا؟ قال: هذا اللوح أكتب فيه قال: امسح ما فيه، فمسح ما فيه، فقال الحلبي: سأملي عليك بعض الأحاديث فهل تكتبها؟ قال: أكتبها، فأملى عليه متون أكثر من عشرة أحاديث وهو يكتب، فبعدما كتبها ابن تيمية قال: تردد علي هذه الأحاديث؟ فرددها عليه كأحسن ما يكون، فلما سمع هذه الأحاديث من هذا الطفل البارع النجيب وهو يسردها حفظاً بعدما كتبها في اللوح ونظر إليها مرة واحدة اندهش اندهاشاً عجيباً، ثم قال: امسح يا بني ما كتبت، فمسح الأحاديث، فقال: أملي عليك الأسانيد وهذه أعظم من الأولى؛ لأن متون الأحاديث لها نور، ومن السهل جداً أن تحفظ المتون، ولذلك أسهل كتاب على وجه الأرض يحفظ هو كتاب الله؛ لأن الله تعالى يسره لكل مدكر متذكر، فالقرآن سهل جداً أن تحفظه، وكذلك الأحاديث؛ لأن لها نوراً يدخل في القلوب.

فهذا الحلبي انتقى بعض الأسانيد المشكلة وأملى عليه هذه الأسانيد وهو يكتب الأسانيد، فبعدما كتب الأسانيد شيخ الإسلام ابن تيمية، قال الحلبي: تقرؤها علي؟ فوضع اللوح وسرد عليه هذه الأسانيد حفظاً، فقال: اعتنوا بهذا الطفل.

وانظروا إلى الإنصاف، فهو رجل عالم محدث يمكن أن يغار ويقول في نفسه: هذا الرجل قد يأخذ مني الأضواء فلا بد أن يطمس وأن يشوه وتدفن نجابته، ولكن كان من الذين يعملون للدين، فالعمل للدين له رونق آخر، فقال الشيخ المحدث: اعتنوا بهذا الطفل فلم أر مثله، فسيكون له شأن عظيم.

وقد كان شيخ الإسلام ابن تيمية علم الأعلام والفارس الهمام، فشيخ الإسلام ابن تيمية حافظته القوية وسرعة الحفظ جعلت ابن كثير يقول: الدنيا ما فيها إلا ثلاثة لا رابع لهم، فقال: أولهم وأبرعهم شيخ الإسلام ابن تيمية، والثاني: ابن دقيق العيد، مع أن ابن دقيق العيد يعتبر من طبقات شيوخه، ثم ثلث بـ السبكي.

والسبكي كان بارعاً حافظاً فقيهاً أصولياً.

وقال ابن كثير أيضاً: ثلاثة من الناس ما رأيت مثلهم: ابن تيمية والمزي وابن دقيق العيد، وأحفظهم للمتون هو ابن تيمية، ولذلك قال ابن عبد الهادي: -الإحاطة لله فقط- حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث، وهذا الذي قاله الذهبي في ذيل طبقات الحنابلة، فقد قال: حديث قال فيه ابن تيمية: لا أعرفه فليس بحديث؛ لسعة اطلاع الرجل، فـ ابن دقيق العيد يبين لنا أن ابن تيمية كأن الكتب الستة والمسند أمام عينيه، يأخذ ما شاء وينتزع ما شاء من الأدلة.

وكان ينتزع الآيات ويستدل بها على المسائل كأبرع ما يكون، فهو يستحضر الدليل في وقته، بينما الواحد منا لو سئل يظل يفكر ويذكر ويقول: ذكروني بالآية، والثاني يقول: ما هو متن الحديث؟! أما شيخ الإسلام فقد كانت الأسئلة تنهال عليه ويستحضر الدليل وينتزعه من كتاب الله جل في علاه ومن سنة النبي صلى الله عليه وسلم، مع استحضار أصل الدليل.

والمزي قليل من يعرفه، قال ابن كثير: وأفقههم في المتون ابن دقيق العيد يعني: كان أفقه ما يكون، فله كتاب إحكام الأحكام، أملاه ابن دقيق العيد إملاء، وإذا نظرت في كتاب ابن دقيق العيد رأيت الدرر.

إذاً: فـ ابن تيمية برع في ساحة العلم في كل شيء، ففي الحديث كان أوسع الناس حفظاً، كما قال الذهبي وغيره: الحديث الذي لا يعرفه ابن تيمية ليس بحديث، وكان ينتزع الحديث من المسند أو من الكتب الستة ويستحضره في أوانه.

وكان عالماً بالرجال وبالأسانيد، فترى في الفتاوى كثيراً ما يضعف ويصحح، لكن ما تخصص في علم الحديث استقلالاً، فهذا الرجل جمع الله له العلوم كلها، علم الحديث وعلم الفقه، أما إذا دخلت على علم الأصول فهو فارس الميدان يقعد ويؤصل، وقواعد ابن رجب ترى فيها درراً من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية واختيارات ابن تيمية.

أما في الفقه فساحته، فلا يستطيع أحد أن ينازع ابن تيمية في الفقه، فقد كان العلماء يقولون: صعب علينا الفقه وسهل على ابن تيمية، نعم والله فقد كان يأتي بالفقه من القلب، كان يأتي بالمسائل الفقهية ويقربها للناس بعدما يبين المذاهب، وكان كثير من أهل المذاهب يناظرونه فيعيد كل صاحب مذهب لمذهبه، ويقول: أنت ما أتقنت هذه المسألة في المذهب، بل وهو طفل صغير يذكر بعض أهل السير: أنه جلس في مجلس كان فيه قاض من الشافعية وكان يتكلم في مسألة الاستعانة بالمشركين، فقال: إن الشافعي يرى جواز الاستعانة بالمشركين، وبعد ما سكت قام له شيخ الإسلام وقال: تجاوزت كلام الشافعي دون أن تأتي بشروطه وقيوده، فانزعج، كيف تتكلم معي في مذهب أنا مؤصله وأنا أتعلم على مذهب الشافعي؟ فقال: إن الشافعي ما أطلق الاستعانة بالمشركين، لكن قيد قيوداً واشترط شروطاً منها: أن يكون في المسلمين حاجة لأمثال هؤلاء الكفار، واشترط أن تنطوي راية الكفر تحت راية المسلمين وتحت لواء المسلمين، فلما ذكر له القيود رجع إلى كلام ابن تيمية، فالفقه ساحته وهو الذي برع فيه، وانظر في الفتاوى.
শাইখুল ইসলামের ইলম, ফিকহ ও হিফজের বিশালতা

আমরা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র অর্থাৎ ইলমের ময়দানে প্রবেশ করছি। আমাদের জন্য এটা বলা যথার্থ যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ একজন অনন্য ও অতুলনীয় আলেম ছিলেন, যাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ তাঁর পরে আসেনি। কারণ তিনি ছিলেন জ্ঞানের সমুদ্র এবং এই উম্মতের একজন মহান পন্ডিত। তৎকালীন সময়ে যে জ্ঞানই ময়দানে উদ্ভাসিত ছিল, ইবনে তাইমিয়্যাহ তা অর্জন করেছিলেন। যেকোনো শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরাই যখন ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা বলতেন: ইবনে তাইমিয়য়াহ যেন কেবল এই শাস্ত্রেই পারদর্শী। দর্শন, যুক্তিবিদ্যা এমনকি ভাষাতত্ত্বেও তিনি এতটাই পারদর্শী ছিলেন যে, তিনি সিবওয়াইহর মতো ভাষাবিদদেরও সমালোচনা করেছিলেন। সিবওয়াইহ ছিলেন আরবি ভাষার দিকপাল, অথচ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর ভুল ধরেছেন। এই কারণেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর কাছে আসত ভাষা শিখতে। তিনি বিভিন্ন আকিদা সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতেন, যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আকিদা। এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন যা এই ভ্রান্ত আকিদাগুলোর খণ্ডন করে। তিনি খ্রিস্টানদের খণ্ডন করে একটি কিতাব লেখেন যার নাম: 'আল-জাওয়াবুস সহীহ ফিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ'। এছাড়া দ্বাদশী শিয়া এবং কাদারিয়্যাদের খণ্ডন করে 'মিনহাজুস সুন্নাহ' নামক গ্রন্থটি রচনা করেন।

এছাড়াও তিনি আশআরীদের খণ্ডন করে অসংখ্য রিসালাহ বা পত্র লিখেছেন। তাঁর সকল ফাতাওয়া বিদ্যমান রয়েছে যা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয় যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কীভাবে এই আকিদাগুলোর জবাব দিয়েছিলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন ইলমের সমুদ্র, যাঁর প্রতিভা শৈশব থেকেই প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি যা-ই পড়তেন, তা-ই তাঁর মুখস্থ হয়ে যেত। যেমনটি ইমাম শাফিঈ সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি যখন কুরআন শরিফ খুলতেন, তখন যে পৃষ্ঠাটি পড়তেন না তার ওপর হাত রেখে দিতেন যাতে তা মুখস্থ হয়ে পঠিত পৃষ্ঠার সাথে মিশে না যায়।

ইবনে তাইমিয়্যাহও তেমন ছিলেন, তিনি যখন কোনো পৃষ্ঠা একবার পড়ে রেখে দিতেন, তখন তা হুবহু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ শুনিয়ে দিতে পারতেন। শিশু ইবনে তাইমিয়য়াহর এই প্রখর মেধার কথা আলেপ্পোর একজন মুহাদ্দিস শাইখ শুনতে পান। তিনি দামেস্কে গিয়ে জনৈক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলেন: "সেই শিশুটি কোথায় যাকে আপনারা ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন?" শিক্ষক বললেন: "সে যখন শিশুদের সাথে এই পথ দিয়ে যাবে, তখন আমি তাকে চিনিয়ে দেব।" সেই ব্যক্তি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন ইবনে তাইমিয়্যাহ সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, শিক্ষক বললেন: "আপনি কি সেই শিশুটিকে দেখছেন যার সাথে একটি বড় তখতি রয়েছে? সেই-ই ইবনে তাইমিয়্যাহ।" তখন সেই আলেপ্পোর ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বললেন: "হে বৎস! এদিকে এসো।" তিনি এলে সেই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: "এটা কী?" তিনি বললেন: "এটি একটি তখতি, এতে আমি লিখি।" তিনি বললেন: "এতে যা আছে তা মুছে ফেলো।" তিনি মুছে ফেললেন। তখন সেই ব্যক্তি বললেন: "আমি তোমাকে কিছু হাদিস বলছি, তুমি কি তা লিখবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, লিখব।" তখন তিনি দশটিরও বেশি হাদিসের মতন বা মূল পাঠ বললেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ তা লিখে নিলেন। লেখা শেষ হলে ইবনে তাইমিয়্যাহকে বলা হলো: "তুমি কি এগুলো আমাকে পড়ে শোনাবে?" তখন তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেগুলো মুখস্থ শুনিয়ে দিলেন। এই মেধাবী ও প্রতিভাধর শিশুর মুখে একবার পড়েই তখতির দিকে তাকিয়ে হুবহু মুখস্থ বর্ণনা শুনে সেই ব্যক্তি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: "বৎস! যা লিখেছ তা মুছে ফেলো।" তিনি হাদিসগুলো মুছে দিলেন। সেই ব্যক্তি বললেন: "এবার আমি তোমাকে সনদগুলো বলব, যা আগের চেয়েও কঠিন; কারণ হাদিসের মতনের একটি নূর থাকে এবং মতন মুখস্থ করা খুব সহজ। এই কারণেই পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ মুখস্থ করার কিতাব হলো আল্লাহর কিতাব; কারণ আল্লাহ তাআলা এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। কুরআন মুখস্থ করা অত্যন্ত সহজ, তেমনি হাদিসও; কারণ এগুলোর একটি নূর আছে যা হৃদয়ে প্রবেশ করে।"

সেই আলেপ্পোর ব্যক্তি কিছু জটিল সনদ নির্বাচন করলেন এবং সেগুলো বলতে থাকলেন আর ইবনে তাইমিয়্যাহ তা লিখতে থাকলেন। লেখা শেষ করার পর সেই ব্যক্তি বললেন: "তুমি কি এগুলো আমাকে পড়ে শোনাবে?" তখন তিনি তখতিটি রেখে দিয়ে মুখস্থ সনদগুলো হুবহু শুনিয়ে দিলেন। তখন সেই ব্যক্তি বললেন: "এই শিশুটির যত্ন নিন।"

আর তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা দেখুন, তিনি একজন আলেম ও মুহাদ্দিস হয়েও হিংসা করতে পারতেন এবং মনে মনে বলতে পারতেন: "এই শিশুটি তো ভবিষ্যতে আমার খ্যাতি কেড়ে নিতে পারে, তাই একে দমিয়ে রাখতে হবে বা এর প্রতিভাকে সমাহিত করতে হবে।" কিন্তু তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা দ্বীনের জন্য কাজ করতেন। দ্বীনের খিদমতের স্বাদই আলাদা। সেই মুহাদ্দিস শাইখ বললেন: "এই শিশুটির যত্ন নিন, কারণ আমি এর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। ভবিষ্যতে সে অনেক বড় মর্যাদার অধিকারী হবে।"

আর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সত্যিই বড় বড় আলেমদের মধ্যমণি এবং এক বীর সিপাহসালার হয়েছিলেন। শাইখুল ইসলামের শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি ও দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা দেখে ইবনে কাসীর বলেছিলেন: "দুনিয়াতে মাত্র তিনজনই আছেন যাদের চতুর্থ কোনো বিকল্প নেই।" তিনি বললেন: "তাদের মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে দক্ষ হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, দ্বিতীয় হলেন ইবনে দাকীক আল-ঈদ—যদিও ইবনে দাকীক আল-ঈদ তাঁর উস্তাদদের স্তরের ছিলেন—আর তৃতীয় হলেন আস-সুবকী।"

আস-সুবকী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ, হাফেজ, ফকিহ এবং উসুলবিদ।

ইবনে কাসীর আরও বলেন: "মানুষের মধ্যে তিনজনের মতো আমি আর কাউকে দেখিনি: ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-মিযযী এবং ইবনে দাকীক আল-ঈদ। আর হাদিসের মতন মুখস্থ রাখায় ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন সবচেয়ে পারদর্শী।" এই কারণেই ইবনে আব্দুল হাদী বলেছিলেন—যদিও পূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহর—"যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, তা হাদিসই নয়।" আর ইমাম আয-যাহাবী 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা'-তে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "যে হাদিস সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন যে তিনি তা জানেন না, সেটি হাদিসই নয়।" কারণ তাঁর পড়াশোনা ও জানার পরিধি ছিল অত্যন্ত বিশাল। ইবনে দাকীক আল-ঈদ আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন যে, ইবনে তাইমিয়্যাহর কাছে কুতুবে সিত্তা এবং মুসনাদ যেন তাঁর চোখের সামনে উপস্থিত থাকত, তিনি যখন যা ইচ্ছা সেখান থেকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতেন।

তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন মাসআলায় দলিল পেশ করতেন। তিনি যথাসময়ে দলিল উপস্থিত করতে পারতেন। অথচ আমাদের কাউকে প্রশ্ন করা হলে আমরা চিন্তা করতে থাকি, মনে করার চেষ্টা করি বা বলি: "আয়াতটি একটু মনে করিয়ে দিন তো!" আর অন্য কেউ বলে: "হাদিসের মতনটি কী যেন ছিল?!" কিন্তু শাইখুল ইসলামের ওপর যখন প্রশ্নের পর প্রশ্ন আসত, তিনি সাথে সাথে সুউচ্চ মহান আল্লাহর কিতাব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে মূল দলিলসহ প্রমাণ পেশ করতেন।

আর আল-মিযযীকে খুব কম মানুষই চেনে। ইবনে কাসীর বলেছেন: "হাদিসের মতনের ফিকহ বা মর্ম অনুধাবনে সবচেয়ে বড় ফকিহ ছিলেন ইবনে দাকীক আল-ঈদ।" অর্থাৎ তাঁর ইলম ছিল গভীর। তাঁর 'ইহকামুল আহকাম' নামক একটি কিতাব রয়েছে যা তিনি মুখস্থ বলতেন আর তা লেখা হতো। ইবনে দাকীক আল-ঈদের কিতাবের দিকে তাকালে আপনি তাতে জ্ঞানের মুক্তোরাজি দেখতে পাবেন।

সুতরাং, ইবনে তাইমিয়্যাহ ইলমের প্রতিটি ময়দানেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় হাফেজ। যেমনটি যাহাবী ও অন্যরা বলেছেন: "যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ চেনেন না, তা হাদিস নয়।" তিনি মুসনাদ বা কুতুবে সিত্তা থেকে তৎক্ষণাৎ হাদিস পেশ করতে পারতেন।

তিনি রাবী এবং সনদ সম্পর্কেও বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁর ফাতাওয়ায় দেখা যায় তিনি অনেক হাদিসকে দুর্বল বা সহীহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যদিও তিনি স্বতন্ত্রভাবে হাদিস শাস্ত্রকেই তাঁর একমাত্র বিশেষায়িত ক্ষেত্র বানাননি। আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে সকল জ্ঞান একত্রিত করেছিলেন—হাদিস এবং ফিকহ। আর উসুলুল ফিকহের ময়দানে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর। তিনি মূলনীতি তৈরি করতেন। ইবনে রজবের 'কাওয়াইদ' গ্রন্থে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অনেক মূল্যবান বক্তব্য ও ইখতিয়ারসমূহ দেখতে পাওয়া যায়।

আর ফিকহ ছিল তাঁর নিজস্ব বিচরণক্ষেত্র। ফিকহের ময়দানে ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে বিতর্ক করার সাধ্য কারও ছিল না। আলেমরা বলতেন: "ফিকহ আমাদের কাছে কঠিন মনে হয়, কিন্তু ইবনে তাইমিয়্যাহর জন্য তা ছিল অতি সহজ।" হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি অন্তর থেকে ফিকহ বর্ণনা করতেন। তিনি ফিকহি মাসআলাগুলো পেশ করতেন এবং বিভিন্ন মাযহাবের মতামত উল্লেখ করার পর তা মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তুলতেন। বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীরা যখন তাঁর সাথে বিতর্ক করত, তিনি প্রত্যেককে তাঁর নিজের মাযহাবের দলিল দিয়ে উত্তর দিতেন। তিনি বলতেন: "আপনার নিজের মাযহাবেই তো এই মাসআলাটি আপনি ভালোভাবে আয়ত্ত করেননি।" এমনকি তিনি যখন ছোট শিশু ছিলেন, জীবনীকাররা উল্লেখ করেন যে, তিনি এক মজলিসে বসা ছিলেন যেখানে শাফিঈ মাযহাবের একজন বিচারক উপস্থিত ছিলেন। সেই বিচারক মুশরিকদের সাহায্য নেওয়া প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন এবং বলছিলেন যে, ইমাম শাফিঈ মুশরিকদের সাহায্য নেওয়া জায়েজ মনে করেন। তিনি থামলে শাইখুল ইসলাম দাঁড়িয়ে বললেন: "আপনি ইমাম শাফিঈর কথা তাঁর শর্ত ও সীমাবদ্ধতাগুলো উল্লেখ না করেই বলে ফেলেছেন।" বিচারক বিরক্ত হয়ে বললেন, "তুমি আমার সাথে এই মাযহাব নিয়ে কথা বলছ যে মাযহাবের আমি একজন মূল প্রবক্তা এবং আমি শাফিঈ মাযহাবে পড়াশোনা করেছি?" তখন তিনি বললেন: "ইমাম শাফিঈ মুশরিকদের সাহায্য নেওয়াকে শর্তহীনভাবে বলেননি, বরং তিনি কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো: মুসলিমদের এমন কাফেরদের প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো: কুফরের পতাকা যেন মুসলিমদের পতাকা ও নেতৃত্বের অধীনে থাকে।" যখন তিনি এই শর্তগুলো উল্লেখ করলেন, তখন সেই বিচারক ইবনে তাইমিয়্যাহর কথার সত্যতা স্বীকার করলেন। সুতরাং ফিকহ ছিল তাঁর নিজস্ব ক্ষেত্র এবং এতেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। আপনি তাঁর ফাতাওয়ার দিকে তাকালেই তা বুঝতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المسائل التي انفرد بها شيخ الإسلام خلافاً للجمهور

وسنبين بفضل الله ختاماً لهذا المجلس المسائل التي انفرد بها شيخ الإسلام خلافاً للجمهور، وأكثر وأعظم هذه المسائل كان الحق مع ابن تيمية ولم يكن مع الجمهور.

ومن هذه المسائل: الطلاق ثلاثاً: فقد خالف شيخ الإسلام الجمهور فقال: الطلاق ثلاثاً لا يقع إلا واحدة.

ومن المسائل الطلاق في الحيض: أيضاً خالف شيخ الإسلام فيها، فقال: لا يقع ولا يحسب.

أيضاً من المسائل: في التورق، فـ شيخ الإسلام خالف جماهير أهل العلم وقال: بتحريم التورق.

وأيضاً: في المعاملات قال: الذهب بالذهب ربا إن كان فيه زيادة إلا إذا كانت أجرة الصنعة، يعني: لو أعطيت الذهب القديم وأخذت بدله الذهب الجديد فلك أن تعطي الفرق أجرة الصنعة، هذا كلام ابن تيمية، وانتصر له ابن القيم، وهذه المسألة الوحيدة التي لا نوافقه عليها بحال من الأحوال.

أيضاً وهذه مسألة من مسائل العقيدة: ألا وهي مسألة الزيارة وشد الرحال لزيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم وغيره، وهذه المسألة من أصعب المسائل التي سجن من أجلها ابن تيمية ومات مظلوماً محبوساً، ففي مسألة شد الرحال من أجل زيارة القبور دلس المتصوفة على ابن تيمية وقالوا: هو ينتقص من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويقول: يحرم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، فألبوا عليه السلاطين حتى سجن ومات في السجن، بسبب هذه المسألة.

أيضاً: هناك مسألة أخرى أنكرت على ابن تيمية وهي: مسألة الأسماء والصفات فهو يقول: يجب أن تثبت في الصفة كما هي بدون تأويل ولا تشبيه.

وأيضاً: بعض أهل السنة أخذوا على ابن تيمية أنه صحح حديث جلوس النبي صلى الله عليه وسلم إلى جنب العرش.

فهذه المسائل التي انفرد بها ابن تيمية عن الجمهور، وهذا يدلك على سعة علم الرجل في هذه المسائل.

ووفاءً لـ شيخ الإسلام نتفرغ لهذه المسائل لنبين الحق من الباطل فيها:
শাইখুল ইসলামের একক অভিমতসমূহ যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমদের মতের পরিপন্থী

আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা এই মজলিসের শেষে শাইখুল ইসলামের সেইসব একক অভিমতগুলো বর্ণনা করব যা জমহুর আলিমদের মতের পরিপন্থী। আর এই মাসআলাগুলোর অধিকাংশ এবং মহান বিষয়গুলোতে সত্য ইবনে তাইমিয়্যার সাথে ছিল, জমহুরের সাথে নয়।

এই মাসআলাগুলোর মধ্যে একটি হলো: এক মজলিসে তিন তালাক। এক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম জমহুর আলিমদের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: এক সাথে তিন তালাক দিলে তা কেবল এক তালাক হিসেবেই গণ্য হবে।

মাসআলাগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে মাসিক বা ঋতুস্রাব অবস্থায় তালাক। এক্ষেত্রেও শাইখুল ইসলাম তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: তা কার্যকর হবে না এবং গণ্য হবে না।

মাসআলাগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: 'তাওয়াররুক' (এক প্রকার ক্রয়-বিক্রয়)। শাইখুল ইসলাম এক্ষেত্রে জমহুর আলিমদের বিরোধিতা করেছেন এবং তাওয়াররুক হারাম হওয়ার কথা বলেছেন।

এছাড়াও লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের লেনদেন সুদ হবে যদি তাতে কমবেশি থাকে, তবে অলঙ্কার তৈরির মজুরি বাদে। অর্থাৎ, আপনি যদি পুরনো স্বর্ণ দিয়ে তার বদলে নতুন স্বর্ণ গ্রহণ করেন, তবে অতিরিক্ত পার্থক্যটি তৈরির মজুরি হিসেবে প্রদান করা আপনার জন্য বৈধ। এটি ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্য এবং ইবনুল কায়্যিম একে সমর্থন করেছেন। আর এটিই একমাত্র মাসআলা যেটিতে আমরা কোনোভাবেই তাঁর সাথে একমত নই।

এছাড়াও এটি আকীদার একটি মাসআলা: আর তা হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর এবং অন্যান্য কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা। এটি ছিল অন্যতম কঠিন মাসআলা যার কারণে ইবনে তাইমিয়্যা কারাবরণ করেছিলেন এবং তিনি মজলুম অবস্থায় কারাবন্দী থেকে মৃত্যুবরণ করেন। কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরের মাসআলায় সূফীরা ইবনে তাইমিয়্যার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল এবং তারা বলেছিল: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে অবমাননা করছেন এবং বলছেন যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করা হারাম। এরপর তারা তাঁর বিরুদ্ধে সুলতানদের প্ররোচিত করে, ফলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং এই মাসআলার কারণেই তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

আরেকটি মাসআলা রয়েছে যা ইবনে তাইমিয়্যার ক্ষেত্রে আপত্তিকৃত, তা হলো: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাসআলা। তিনি বলেন: গুণাবলি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই তা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব, কোনো প্রকার ব্যাখ্যা কিংবা সাদৃশ্য করা ছাড়াই।

এছাড়াও কোনো কোনো আহলে সুন্নাত ইবনে তাইমিয়্যার সমালোচনা করেছেন কারণ তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরশের পাশে বসার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

এগুলোই সেই সব মাসআলা যেগুলোতে ইবনে তাইমিয়্যা জমহুর থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যা এই মাসআলাগুলোতে উক্ত ব্যক্তির জ্ঞানের বিশালতার প্রমাণ দেয়।

আর শাইখুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমরা এই মাসআলাগুলোর জন্য সময় নির্ধারণ করব যাতে এগুলোর সত্য-মিথ্যা সুস্পষ্ট করা যায়:
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مسألة التورق

أولاً: مسألة التورق، هذه المسألة الحق فيها مع ابن تيمية خلافاً لجماهير أهل العلم من الشافعية والأحناف والمالكية وكثير من الحنابلة، فهم قالوا: يصح التورق، ومعنى التورق: أن يشتري المرء سلعة لا ينوي استعمالها وإنما أخذها لسيولة المال، فأخذها بألف نسيئة فباعها بخمسمائة نقداً أو بمائة نقداً أو بثلاثمائة نقداً لغيره، أما إن باعها من نفس البائع فهذه العينة، لكن المسألة التي خالف فيها شيخ الإسلام هي: التورق، والتي فيها أنه باع السلعة لغير البائع، فجمهور الفقهاء أن هذه المسألة تصح، واستدلوا على ذلك بأدلة كثيرة، منها: قول الله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} [البقرة:275]، وهذا يسمى بيعاً.

وأيضاً: قالوا: إن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إنما البيع عن تراض) وهنا حدث التراضي في البيع والشراء.

واستدلوا أيضاً بحديث فقالوا: عندنا حديث فصل في النزاع وهو: قول النبي صلى الله عليه وسلم عندما جاءه رجل بالتمر الجنيب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (أكل تمر خيبر هكذا؟ قال: لا والله يا رسول الله! إنا نشتري الصاع بصاعين.

فتأوه النبي صلى الله عليه وسلم وقال: أوه! عين الربا لا تفعل) ثم فتح له الباب وقال: (بع الجمع بالدراهم واشتر بالدراهم جنيباً).

فهم يقولون: هذا الحديث فصل في النزاع.

أقول: نحن مع ابن تيمية فنذكر كلامه: إذا جاءك الحديث فلك فيه طريقان: إثبات سنده، وفقه متنه.

ونقول لهم: ما وجه الدلالة من الحديث؟ قالوا: خرج من الربا، وهو ما كان المقصود منه الانتفاع بالتمر هذا ولا بالدراهم بحال من الأحوال، وهو إنما يريد التمر بالتمر فأدخل بينهما دراهم، وهذا ما يريد إلا الدراهم فأدخل بينهما ثلاجة أو سيارة، فهذا نص في محل النزاع كما قالوا.

وقالوا: عندنا أيضاً دليل من النظر وهو: أن الذي اشترى السلعة ما اشتراها إلا لينتفع بها، ووسائل الانتفاع كثيرة منها: الاستعمال.

ومنها: البيع والشراء.

ومنها: أخذ ثمنها، فقالوا: هذا اشتراها لينتفع بالثمن لا لينتفع بالاستعمال.

هذا من النظر.

إذاً: فعندهم أثر ونظر.

فجاء شيخ الإسلام فخالفهم وقال بعدم جواز التورق، ويقول ابن القيم: وروجع شيخنا في هذه المسألة كثيراً حتى يرجع عن قوله وما رجع، يعني: ابن تيمية، فقد أقاموا عليه الدنيا وما أقعدوها من أجل هذه الفتوى وما رجع؛ لأنه كان يدين لله جل في علاه.

العلم قال الله قال رسوله قال الصحابة ليس بالتمويه ثم ننظر إلى أدلة شيخ الإسلام ابن تيمية على هذه المسألة؛ لنعرف دقة فهم ابن تيمية، قال: إن العبادات والمعاملات والعقود كلها تدور على النيات، واستدل على ذلك بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمال بالنيات) وهذا الرجل يتورق، وينتوي الورق والمال والدراهم، وما ينتوي السلعة، فصورته صورة رجل جلس في مجلس فأعطى عشرة دراهم بخمسة دراهم.

انظر هنا الآن ابن تيمية يبين لنا (إنما الأعمال بالنيات)، قلنا: ما وجه الدلالة من هذا الحديث؟ قال: وجه الدلالة أن الرجل لا ينتوي السلعة ولا الانتفاع بالسلعة، بل ينتوي المال، فصورة التعامل وصورة الصرف: ذهب بذهب دون المساواة، فاختل شرط، كأنه باع عشرة دراهم بخمسة دراهم، أو أعطى الألف مقابل الخمسمائة، فاعتبرت الصورة أنه أعطى دراهم بدراهم دون المساواة، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: (الذهب بالذهب ربا إلا مثلاً بمثل سواءً بسواء يداً بيد) فقال: (يداً بيد) فلا بد من التقابض في المجلس، وهنا حدث التقابض في المجلس لكن صورته أنه لم تتوافر المثلية، فهو أعطى الألف بالخمسمائة قال: والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: (إنما الأعمال بالنيات) ثم إنه أوضح هذا الفهم وضوحاً جلياً بنقله عن ابن عباس رضي الله عنه وأرضاه، لما صوروا له الصورة فقالوا: يشتري الرجل السلع بنقد بكذا، ويبيعها على غيره بنسيئة بكذا أقل، فهل يصح أن يشتري نسيئة ويبيع بنقد أقل؟ فقال له ابن عباس: والله ما هي إلا دراهم بدراهم بينهما حريرة.

يعني: التقابض في المجلس موجود لكن جعل بينها تحايلاً حريرة.

ثم قال ابن تيمية: وقد أبطل الله الحيل تأصيلاً عاماً في القواعد الشرعية، حيث قال النبي صلى الله عليه وسلم: (قاتل الله اليهود؛ حرم الله عليهم شحوم الميتة فأذابوه فجملوه فباعوه فأكلوا ثمنه) يقول: ابن تيمية: وهذا الحديث سيهدم لنا كل ما بناه الجمهور من قواعد.

يعني: هذا الحديث نص في النزاع بين ابن تيمية وبين الجمهور، فمسألة التورق خالف ابن تيمية جماهير أهل العلم فيها، وأتى بحديث فاصل في النزاع: وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم: (قاتل الله اليهود حرم الله عليهم الشحوم فأذابوه فجملوه فباعوه فأكلوا ثمنه) ووجه الدلالة أن الله حرم عليهم أكل الشحوم، والأكل بالفم، فلو أكلوا الشحوم لوقعوا في الحرام، فهم أذابوه فباعوه، فيعتبر هذا أكلاً، فالنبي صلى الله عليه وسلم سماه أكلاً، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (يأتي زمان على أمتي يشربون الخمر يسمونها بغير اسمها) وهذا نفس الأمر، فهو حرم عليهم أكل الشحوم فقالوا: ما أكلنا ولا استطعمناه ولا اشتممنا رائحته، لكن النبي صلى الله عليه وسلم سماه أكلاً؛ لأنهم أكلوا ثمنه، فأبطل هذه الحيلة.

نعود إلى قول الجمهور لنطبق هذا الحديث عليهم، ونقول لهم: أنتم تقولون بحل التورق، وهذه هي الحيلة هنا وهي الصرف بزيادة وذلك حرام؛ لأن هذا ربا الفضل، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (الذهب بالذهب ربا إلا يداً بيد مثلاً بمثل) فقال الجمهور: لو أخذنا الألف من زيد ورددناه عليه بألف وخمسمائة مثلاً فهذا يعتبر رباً وسيقوم الناس علينا، لكن لو أدخلنا حريراً وسمي بيعاً بدلاً من أن يسمى رباً، نقول: ولو سموه بيعاً فهو رباً، فهم احتالوا وقالوا: نشتري السلعة ما نريدها وإنما نريد الدراهم، فهو اشتراها بألف نسيئة فيعتبر كأنه دخل في الصرف دراهم بدراهم وليس ثمت مساواة.

وهذا الذي قاله ابن عباس، ووافقه عمر بن العزيز وقال: التورق أصل الربا؛ لأن فيه الحيلة على الله جل في علاه، وهذا الذي جعل إبراهيم بن أدهم يقول: ويحكم كيف تتعاملون مع الله؟ تتعاملون مع الله كأنه طفل صغير تتحايلون عليه، والعملة الزائفة لا تروج على الله جل في علاه.

إذاً: فالصحيح الراجح هو كلام شيخ الإسلام ابن تيمية، وأن هذه كما قالها البحر الحبر ابن عباس: هذه دراهم بدراهم بينهما حريراً، فالراجح هو: حرمة التورق.
তওয়াররুক মাসআলা

প্রথমত: তওয়াররুক মাসআলা; এই মাসআলায় সত্য ইবনে তাইমিয়ার সাথে রয়েছে, যা শাফেয়ী, হানাফী, মালেকী এবং অনেক হাম্বলী আলেমসহ জমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মতের বিপরীত। তাঁরা বলেছেন: তওয়াররুক বৈধ। তওয়াররুকের অর্থ হলো: একজন ব্যক্তি এমন একটি পণ্য ক্রয় করবে যা ব্যবহার করার নিয়ত তার নেই, বরং সে এটি কেবল নগদ অর্থের প্রয়োজনে গ্রহণ করেছে। ফলে সে এটি এক হাজার টাকায় বাকিতে ক্রয় করল এবং অন্য কারো কাছে পাঁচশ টাকায় নগদে অথবা একশ টাকায় নগদে অথবা তিনশ টাকায় নগদে বিক্রি করে দিল। তবে যদি সে এটি মূল বিক্রেতার কাছেই বিক্রি করে, তবে তা 'ঈনাহ' (একই পণ্য ঘুরিয়ে কেনাবেচা) হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যে মাসআলায় শায়খুল ইসলাম দ্বিমত করেছেন তা হলো তওয়াররুক, যেখানে পণ্যটি মূল বিক্রেতা ব্যতীত অন্য কারো কাছে বিক্রি করা হয়। ফকিহদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এই মাসআলাটি সহীহ বা বৈধ। তাঁরা এর সপক্ষে অনেক দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} [আল-বাকারা: ২৭৫]। তাঁরা বলেন, একে কেনাবেচা বলা হয়।

আরও বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কেনাবেচা তো কেবল পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে হয়)। আর এখানে কেনাবেচায় সন্তুষ্টি বিদ্যমান।

তাঁরা একটি হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের কাছে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি হাদিস রয়েছে। সেটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন এক ব্যক্তি 'জনীব' (উন্নত মানের) খেজুর নিয়ে এলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (খায়বারের সব খেজুরই কি এমন? সে বলল: না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা এক সা' উন্নত খেজুর দুই সা' সাধারণ খেজুরের বিনিময়ে ক্রয় করি)।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আক্ষেপ করে বললেন: (উহ! এটাই তো সরাসরি সুদ। এমন করো না)। অতঃপর তিনি তার জন্য পথ খুলে দিয়ে বললেন: (সাধারণ মানের খেজুরগুলো দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো এবং সেই দিরহাম দিয়ে উন্নত মানের খেজুর ক্রয় করো)।

তাঁরা বলছেন: এই হাদিসটি বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়।

আমি বলি: আমরা ইবনে তাইমিয়ার সাথে একমত, তাই তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করছি: যখন তোমার কাছে কোনো হাদিস আসবে, তখন তোমার সামনে দুটি পথ থাকবে: এর সনদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং এর মূল পাঠের (মতন) সঠিক মর্ম অনুধাবন করা।

আমরা তাঁদের বলি: এই হাদিস থেকে দলিলের দিকটি কী? তাঁরা বললেন: এখানে সুদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা হয়েছে। কারণ, খেজুর বা দিরহাম থেকে কোনোভাবেই কোনো উপকার ভোগ করা উদ্দেশ্য ছিল না; বরং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর লাভ করাই ছিল উদ্দেশ্য, তাই মাঝে দিরহাম আনা হয়েছে। আর তওয়াররুককারী ব্যক্তি তো কেবল দিরহামই চায়, তাই সে মাঝে একটি ফ্রিজ বা একটি গাড়ি যুক্ত করেছে। তাঁরা বলেন, এটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে একটি স্পষ্ট দলিল।

তাঁরা আরও বলেন: আমাদের কাছে যুক্তিনির্ভর দলিলও রয়েছে। তা হলো: যে ব্যক্তি পণ্যটি ক্রয় করেছে, সে তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্যই ক্রয় করেছে। আর উপকারের মাধ্যম অনেক, যার মধ্যে একটি হলো ব্যবহার করা।

আরেকটি হলো ক্রয়-বিক্রয়।

আরেকটি হলো এর মূল্য গ্রহণ করা। তাই তাঁরা বলেন: এই ব্যক্তি পণ্যটি ক্রয় করেছে মূল্য দ্বারা উপকৃত হওয়ার জন্য, ব্যবহারের জন্য নয়।

এটি হলো যুক্তিনির্ভর দলিল।

সুতরাং, তাঁদের কাছে বর্ণনা এবং যুক্তি উভয়ই রয়েছে।

অতঃপর শায়খুল ইসলাম এলেন এবং তাঁদের বিরোধিতা করলেন ও তওয়াররুক নাজায়েজ হওয়ার কথা বললেন। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: আমাদের শায়খকে (ইবনে তাইমিয়াকে) এই মাসআলায় অনেকবার অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি তাঁর মত থেকে ফিরে আসেন, কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি। অর্থাৎ, ইবনে তাইমিয়ার এই ফতোয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে চারিদিকে তোলপাড় সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তবুও ফিরে আসেননি; কারণ তিনি মহান আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন।

ইলম হলো আল্লাহ যা বলেছেন, রাসুল যা বলেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম যা বলেছেন; এটি কোনো প্রতারণা বা অস্পষ্টতা নয়। এরপর আমরা এই মাসআলায় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দলিলগুলো দেখব, যাতে তাঁর বুঝের গভীরতা অনুধাবন করতে পারি। তিনি বলেন: ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন) এবং চুক্তি—সবকিছুই নিয়তের ওপর আবর্তিত হয়। তিনি এর সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। আর এই ব্যক্তি তওয়াররুক করছে, তার নিয়ত হলো দিরহাম ও অর্থ; পণ্য লাভ করা তার উদ্দেশ্য নয়। তাই তার এই লেনদেনের বাহ্যিক রূপ হলো এমন একজন ব্যক্তির মতো যে মজলিসে বসে দশ দিরহামের বিনিময়ে পাঁচ দিরহাম দিল।

দেখুন, এখানে ইবনে তাইমিয়া আমাদের কাছে 'নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'—এর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: এই হাদিস থেকে দলিলের দিকটি কী? তিনি বললেন: দলিলের দিক হলো এই যে, লোকটি পণ্যের নিয়ত করেনি এবং পণ্য থেকে উপকৃত হওয়াও তার উদ্দেশ্য নয়, বরং তার নিয়ত হলো অর্থ। ফলে লেনদেন ও বিনিময়ের রূপটি দাঁড়াল: সমতা ছাড়াই স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ গ্রহণ করা। এতে একটি শর্ত লঙ্ঘিত হলো। যেন সে দশ দিরহামের বিনিময়ে পাঁচ দিরহাম বিক্রি করল, অথবা পাঁচশ টাকার বিনিময়ে এক হাজার টাকা দিল। সুতরাং প্রতীয়মান হলো যে, সে সমতা বজায় না রেখে দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম দিয়েছে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: (স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সুদ, যদি না তা পরিমাণে সমান সমান এবং হাতে হাতে লেনদেন হয়)। তিনি বলেছেন: 'হাতে হাতে', অর্থাৎ মজলিসেই তা হস্তগত করতে হবে। এখানে যদিও মজলিসে হস্তগত করা হয়েছে, কিন্তু সমতা রক্ষা হয়নি। তাই সে পাঁচশ টাকার বদলে এক হাজার টাকা দিল। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। অতঃপর তিনি এই বুঝটিকে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বর্ণনা উদ্ধৃত করে। যখন তাঁর সামনে এই রূপটি তুলে ধরা হলো যে: এক ব্যক্তি নগদে পণ্য ক্রয় করে তা অন্য কারো কাছে বাকিতে আরও কম মূল্যে বিক্রি করে, তবে কি বাকিতে ক্রয় করে কম মূল্যে নগদে বিক্রি করা বৈধ হবে? তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: আল্লাহর কসম, এটি দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম ছাড়া আর কিছু নয়, যার মাঝে একটি রেশমি কাপড় রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ: মজলিসে লেনদেন ঠিকই হয়েছে, কিন্তু এর মাঝে প্রতারণা হিসেবে একটি রেশমি কাপড় রাখা হয়েছে।

এরপর ইবনে তাইমিয়া বলেন: আল্লাহ তায়ালা শরিয়তের সাধারণ মূলনীতির ভিত্তিতে সকল প্রতারণামূলক কৌশলকে (হিলা) বাতিল করেছেন। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; আল্লাহ তাদের ওপর মৃত পশুর চর্বি হারাম করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গলিয়ে তেল বানিয়ে বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল)। ইবনে তাইমিয়া বলেন: এই হাদিসটি জমহুর আলেমদের তৈরি করা সমস্ত মূলনীতিকে ধূলিসাৎ করে দেবে।

অর্থাৎ: এই হাদিসটি ইবনে তাইমিয়া এবং জমহুর আলেমদের মধ্যকার বিরোধের ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত দলিল। তওয়াররুক মাসআলায় ইবনে তাইমিয়া অধিকাংশ আলেমের বিরোধিতা করেছেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন, যা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; আল্লাহ তাদের ওপর চর্বি হারাম করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গলিয়ে তেল বানিয়ে বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল)। এর থেকে দলিলের দিকটি হলো, আল্লাহ তাদের ওপর চর্বি ভক্ষণ করা হারাম করেছিলেন—আর ভক্ষণ করা হয় মুখ দিয়ে। যদি তারা চর্বি খেত, তবে হারামে লিপ্ত হতো। কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করেছে, আর এটিকেও ভক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ভক্ষণ বলেই অভিহিত করেছেন। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সময় আসবে যখন তারা মদ পান করবে কিন্তু এর নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম দেবে)। এটিও ঠিক তেমনি। আল্লাহ তাদের ওপর চর্বি ভক্ষণ হারাম করেছিলেন, আর তারা বলেছিল: আমরা তো এটি খাইনি, এর স্বাদ গ্রহণ করিনি এবং এর ঘ্রাণও নেইনি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ভক্ষণ বলেছেন; কারণ তারা এর মূল্য ভক্ষণ করেছে। এভাবে তিনি এই প্রতারণামূলক কৌশলকে বাতিল করে দিয়েছেন।

আমরা জমহুর আলেমদের বক্তব্যে ফিরে যাই যাতে তাদের ওপর এই হাদিসটি প্রয়োগ করতে পারি। আমরা তাদের বলি: আপনারা তওয়াররুক হালাল হওয়ার কথা বলেন, অথচ এটি একটি কৌশল যা অতিরিক্তসহ বিনিময়ের নামান্তর, আর তা হারাম। কারণ এটি হলো 'রিবা আল-ফদল' বা অতিরিক্তের সুদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সুদ, যদি না তা হাতে হাতে এবং সমান সমান হয়)। জমহুর আলেমরা বলেন: আমরা যদি যায়েদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে তাকে পনেরশ টাকা ফেরত দিই, তবে তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে এবং মানুষ আমাদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু আমরা যদি মাঝে একটি রেশমি কাপড় রাখি এবং একে সুদের বদলে 'কেনাবেচা' নাম দিই। আমরা বলি: যদিও তারা একে কেনাবেচা নাম দেয়, তবুও এটি সুদ। তারা কৌশল অবলম্বন করে বলেছে: আমরা পণ্যটি ক্রয় করছি ঠিকই কিন্তু তা আমাদের প্রয়োজন নেই, বরং আমাদের দিরহাম প্রয়োজন। ফলে সে এটি এক হাজার টাকায় বাকিতে ক্রয় করল, যা আসলে দিরহামের বিনিময়ে দিরহামের লেনদেন হিসেবে গণ্য হলো এবং সেখানে কোনো সমতা থাকল না।

আর এটাই ইবনে আব্বাস বলেছেন এবং ওমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর সাথে একমত হয়ে বলেছেন: তওয়াররুক হলো সুদের মূল ভিত্তি; কারণ এতে মহান আল্লাহর সাথে প্রতারণা করা হয়। একারণেই ইব্রাহিম বিন আদহাম আক্ষেপ করে বলেছিলেন: তোমাদের ধিক্কার! তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন আচরণ করছ? তোমরা আল্লাহর সাথে এমন আচরণ করছ যেন তিনি কোনো ছোট শিশু, যার সাথে তোমরা প্রতারণা করছ! অথচ জাল মুদ্রা মহান আল্লাহর কাছে চলে না।

সুতরাং, সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য। আর জ্ঞানের সমুদ্র ইবনে আব্বাস যেমনটি বলেছেন: এটি দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম ছাড়া আর কিছু নয় যার মাঝে একটি রেশমি কাপড় রাখা হয়েছে। অতএব, অগ্রগণ্য মত হলো: তওয়াররুক হারাম।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مسألة الطلاق في الحيض

نأتي إلى مسألة: الطلاق في الحيض، فشيخ الإسلام ابن تيمية خالف فيها الجمهور، وقال: الطلاق في الحيض لا يقع ولا يعتد به، فمن طلق امرأته حائضاً فإن هذه التطليقة لا تحسب وامرأته كما هي في ذمته، واستدل على ذلك بأدلة منها: أولاً: رواية ابن عمر وهذه في السنن: (لما طلق ابن عمر امرأته وهي حائض ذهب عمر للنبي صلى الله عليه وسلم فأخبره بما صنع ابنه عبد الله، فقال صلى الله عليه وسلم: مره فليراجعها، فقال ابن عمر: لم يرها شيئاً) أي: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم ير هذه التطليقة شيئاً، يعني: لا تحسب، قالوا: فهذا دليل أثري، ومن الدليل الأثري أيضاً: قول النبي صلى الله عليه وسلم في الصحيحين: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد) يعني: باطل، قالوا: القاعدة عند العلماء: مطلق النهي يقتضي الفساد أو البطلان، وقالوا: قد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الطلاق في الحيض والنهي واضح، فمن ارتكب هذا النهي وطلق طلاقاً منهياً عنه، فلا يقع ولا يصح؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد) يعني: فهو باطل مردود.

أما الجمهور فلهم الأدلة الأثرية والنظرية: أما الأدلة الأثرية: فالحديث الذي في الصحيحين عن ابن عمر رضي الله عنه وأرضاه (لما طلق امرأته في الحيض وأخبر عمر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك فقال: مره فليراجعها)، قالوا: المراجعة لا تكون إلا بعد الطلاق.

قالوا: والدليل الثاني أيضاً: قول نافع عن ابن عمر في نفس الحديث المتفق عليه أنه قال: (أمر النبي صلى الله عليه وسلم عمر أن يأمر ابن عمر أن يراجع امرأته وقال: فحسبها عليّ تطليقة)، قال ابن عمر: (فحسبها) وهذا نص في النزاع.

فحسبها يعني: رسول الله علي تطليقة.

الدليل الثالث: قاعدة الراوي أعلم بما روى: فـ ابن عمر جاءه رجل فقال: (أرأيت يا ابن عمر! إن كانت امرأتي حائضاً فطلقتها؟ قال: أرأيت إن ركبت الحموقة؟ هي طالق) فأفتى ابن عمر بطلاق المرأة في الحيض.

إذاً: فهذه الأدلة واضحة على: أن الطلاق في الحيض يقع.

لكن شيخ الإسلام ابن تيمية انبرى وخالف الجمهور وقال: الطلاق في الحيض لا يقع، وأصل هذه المسألة نابعة من المجد الذي هو جد ابن تيمية فقد كان يفتي بهذه الفتوى سراً؛ لأنه يخشى أن تطير رقبته؛ لأن المذاهب الأربعة كانت على خلافه، فكان يخشى على نفسه إذا أفتى أن يقتلوه، فكان يفتي بها سراً، فشيخ الإسلام ابن تيمية أعلنها جراءة وراجعوه فيها كثيراً.

فقال: والله إن هذا الذي أدين الله به.

وأقول: الحق هنا ليس مع ابن تيمية وإنما الحق مع الجمهور؛ لأن الحديث متفق عليه عند البخاري ومسلم قال: (فحسبها علي تطليقة).

وأما الرد على ما استدل به شيخ الإسلام ابن تيمية فهو من وجوه كثيرة منها: أولاً: قوله في الحديث (فلم يرها شيئاً) الصحيح أن هذه الرواية شاذة عند المحدثين، وإن صححها الشيخ أحمد شاكر لأنها خالفت ما في الصحيحين، فهذه اللفظة شاذة، والشاذ ضعيف، فلا حجة لهم فيها.

والوجه الثاني: أن قوله: (لم يرها شيئاً) تحتمل أموراً كثيرة منها: أولاً: لم يرها من العدة شيئاً، يعني: العدة إما الأطهار وإما الحيض، والراجح الصحيح: أن العدة: الحيض؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم بين ذلك وقال: (تترك الصلاة أيام أقرائها) يعني: أيام حيضها، فهي تترك الصلاة أيام الحيض، فهنا نرجح أن العدة هي أيام الحيض.

فمعنى قوله: لم ير شيئاً من العدة يعني: هذا الدم الذي نزل لا يحسب من أيام العدة ولا يحسب من الحيضات الثلاث المطلوبة حتى تمر عدتها.

الثاني: لم يرها من السنة شيئاً، وهذا صحيح فهي مخالفة للسنة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أنكر على ابن عمر أنه طلق امرأته في الحيض فلم يرها من السنة شيئاً، وهذا راجح صحيح.

فإذاً: الرد على هذه اللفظة إن لم تكن شاذة أنه لم يرها من السنة ولم يرها من العدة شيئاً.

والقاعدة عند العلماء: ما تطرق إليه الاحتمال سقط به الاستدال -الاحتمال المعتبر لا الاحتمال المتوهم-.

أما الدليل الذي استدل به شيخ الإسلام على عدم وقوع الطلاق في زمن الحيض فهو: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا) نقول: قد طلق طلاقاً عليه أمرنا في زمن ليس عليه أمرنا، فطلاقه صحيح؛ لأنه طابق الشرع، وفي زمن لم يطابق فيه الشرع فأثم بذلك، فهذا الرد الأول.

الأمر الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يجعل الزمن ركناً ولا شرطاً لا في طلاق ولا في نكاح، ولذلك نحن نقول: المرأة الحائض يصح أن يعقد عليها، ويصح أن يدخل بها زوجها، لكن لا يجامعها في فرجها.

فنقول: هذا الجماع أو الحيض ليس شرطاً ولا ركناً لا في العقد ولا في الطلاق فإذاً: لا تأثير له في الحكم على العقد.

فهذا الرد على الدليل الثاني وبهذا تسلم أدلة الجمهور ويصح أن نقول: إن الحق مع الجمهور في هذه المسألة، وأن الطلاق في الحيض يقع ويأثم المطلق في الحيض.
মাসআলা: হায়েয (ঋতু) অবস্থায় তালাক

এখন আমরা হায়েয অবস্থায় তালাকের মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করব। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই মাসআলায় জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন: হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত হয় না এবং তা গণ্যও করা হবে না। সুতরাং কেউ যদি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়, তবে এই তালাক গণনা করা হবে না এবং স্ত্রী তার পূর্বের ন্যায় বিবাহবন্ধনেই আবদ্ধ থাকবে। তিনি এর স্বপক্ষে বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: প্রথমত: ইবনে উমরের বর্ণনা, যা সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে: (যখন ইবনে উমর তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন, তখন উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তার পুত্র আব্দুল্লাহ যা করেছেন তা অবহিত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে আদেশ করো যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয়। ইবনে উমর বলেন: তিনি একে কিছুই মনে করেননি)। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তালাককে কোনো তালাক হিসেবে গণ্য করেননি, অর্থাৎ এটি গণনা করা হবে না। তাঁরা বলেন: এটি একটি আছারি (বর্ণনাভিত্তিক) দলিল। আরেকটি আছারি দলিল হলো বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত)। অর্থাৎ তা বাতিল। তাঁরা বলেন: আলিমদের নিকট একটি মূলনীতি হলো—সাধারণ নিষেধ কোনো কাজের অসারতা বা বাতিল হওয়ার দাবি রাখে। তাঁরা আরও বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হায়েয অবস্থায় তালাক দিতে নিষেধ করেছেন এবং এই নিষেধ অত্যন্ত স্পষ্ট। সুতরাং যে ব্যক্তি এই নিষেধ অমান্য করে নিষিদ্ধ অবস্থায় তালাক প্রদান করবে, তা পতিত হবে না এবং সহিহ হবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত)। অর্থাৎ তা বাতিল ও বর্জনীয়।

অন্যদিকে জমহুর আলিমদেরও আছারি ও যৌক্তিক দলিল রয়েছে। আছারি দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে: সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস (যখন তিনি হায়েয অবস্থায় তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা জানালেন, তখন তিনি বললেন: তাকে আদেশ করো যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয়)। জমহুর আলিমগণ বলেন: তালাক পতিত হওয়া ব্যতীত 'মুনাজায়াত' বা ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তাঁরা বলেন: দ্বিতীয় দলিলটি হলো একই হাদিসে নাফে'-এর বর্ণনা, যা মুত্তাফাকুন আলাইহি: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি ইবনে উমরকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন। এবং তিনি বলেন: আমার ওপর একে এক তালাক হিসেবে গণনা করা হয়েছে)। ইবনে উমর বলেছেন: (গণনা করা হয়েছে) এবং এটি এই বিতর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট দলিল।

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে আমার ওপর এক তালাক হিসেবে গণনা করেছেন।

তৃতীয় দলিল: "বর্ণনাকারী তার বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত" এই মূলনীতি। ইবনে উমরের নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: "হে ইবনে উমর! আপনার অভিমত কী যদি আমি আমার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিই?" তিনি বললেন: "তুমি কি মনে করো তুমি বোকামি করলে পার পেয়ে যাবে? সে তালাকপ্রাপ্তা হবে।" এভাবে ইবনে উমর হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন।

সুতরাং এই দলিলসমূহ স্পষ্ট করে যে, হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত হয়।

কিন্তু শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া অগ্রসর হয়ে জমহুরের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত হয় না। এই মাসআলার মূল ভিত্তি ছিল আল-মাজদ (ইবনে তাইমিয়ার দাদা) থেকে। তিনি গোপনে এই ফতোয়া দিতেন, কারণ তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কা করতেন। যেহেতু চারটি মাজহাবই ছিল এর বিপক্ষে, তাই তিনি আশঙ্কা করতেন যে প্রকাশ্যে ফতোয়া দিলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ কারণে তিনি গোপনে এই ফতোয়া দিতেন। কিন্তু শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া সাহসিকতার সাথে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন এবং এই বিষয়ে তাকে অনেকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহকে পাওয়ার জন্য একেই দীন হিসেবে গ্রহণ করেছি।"

আমি বলব: এখানে সঠিক মত ইবনে তাইমিয়ার সাথে নয়, বরং সঠিক হলো জমহুরের মত; কারণ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (তিনি তা আমার ওপর এক তালাক হিসেবে গণনা করেছেন)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া যে দলিল পেশ করেছেন তার উত্তর অনেকভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত: হাদিসের এই অংশটি যে (তিনি একে কিছুই মনে করেননি), মুহাদ্দিসদের নিকট সহিহ মত হলো—এই বর্ণনাটি 'শায' (বিচ্ছিন্ন)। যদিও শাইখ আহমাদ শাকির একে সহিহ বলেছেন, কিন্তু এটি যেহেতু সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনার পরিপন্থী, তাই এই শব্দগুলো 'শায'। আর শায বর্ণনা দুর্বল, সুতরাং এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই।

দ্বিতীয়ত: "তিনি একে কিছুই মনে করেননি" বাক্যটি অনেকগুলো অর্থ বহন করতে পারে। যেমন: ১. তিনি একে ইদ্দতের কোনো অংশ মনে করেননি। অর্থাৎ ইদ্দত পবিত্রাবস্থা দ্বারা হবে নাকি হায়েয দ্বারা—সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: ইদ্দত হায়েয দ্বারা গণনা হবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: (সে তার হায়েযের দিনগুলোতে নামাজ বর্জন করবে)। অর্থাৎ তার ঋতুচক্রের দিনগুলোতে। সে ঋতুচক্রের দিনগুলোতে নামাজ বর্জন করবে, তাই আমরা এখানে অগ্রাধিকার দিচ্ছি যে ইদ্দত হলো হায়েযের দিনগুলো।

সুতরাং তার উক্তি "ইদ্দতের কিছুই মনে করেননি" এর অর্থ হলো—যে রক্ত নির্গত হয়েছে তা ইদ্দতের দিন হিসেবে গণনা করা হবে না এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার জন্য যে তিনটি ঋতুচক্র প্রয়োজন তার মধ্যেও একে ধরা হবে না।

২. তিনি একে সুন্নাহসম্মত তালাক হিসেবে গণ্য করেননি। এটি সঠিক, কারণ এটি সুন্নাহর পরিপন্থী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে উমরের হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়ার কাজটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাই তিনি একে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত কিছুই মনে করেননি। এটি একটি অগ্রগণ্য ও সঠিক ব্যাখ্যা।

সুতরাং যদি এই শব্দগুলো শায না-ও হয়, তবে এর উত্তর হলো—তিনি একে সুন্নাহসম্মত বা ইদ্দতের অংশ মনে করেননি।

আলিমদের নিকট একটি মূলনীতি হলো: যেখানে একাধিক ব্যাখ্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেখান থেকে দলিল গ্রহণ অসার হয়ে যায়—এটি ধর্তব্য সম্ভাবনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কাল্পনিক ক্ষেত্রে নয়।

শাইখুল ইসলাম হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত না হওয়ার জন্য যে দলিলটি (যে আমল আমাদের নির্দেশ মোতাবেক নয়...) পেশ করেছেন, তার উত্তরে আমরা বলি: তিনি তালাক দিয়েছেন যা আমাদের নির্দেশ অনুযায়ী বৈধ, কিন্তু এমন এক সময়ে দিয়েছেন যখন আমাদের নির্দেশ ছিল না। সুতরাং তার তালাকটি সঠিক ও কার্যকর; কারণ তা শরিয়তের মূল কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে সময়ের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত না হওয়ায় তিনি গুনাহগার হবেন। এটি প্রথম উত্তর।

দ্বিতীয় বিষয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালাক বা নিকাহের ক্ষেত্রে সময়কে রুকন (অপরিহার্য অংশ) বা শর্ত করেননি। এই কারণে আমরা বলি: হায়েয অবস্থায় থাকা নারীর নিকাহ সম্পন্ন করা সহিহ এবং স্বামী তার সাথে বাসর করতে পারে, তবে তার লজ্জাস্থানে সহবাস করতে পারবে না।

অতএব আমরা বলি: এই সহবাস বা হায়েয—আকদ (চুক্তি) বা তালাকের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত বা রুকন নয়। সুতরাং আকদ বা তালাকের হুকুমের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই।

এটি দ্বিতীয় দলিলের উত্তর এবং এর মাধ্যমে জমহুরের দলিলসমূহ সুরক্ষিত থাকে। সুতরাং এ কথা বলা সঠিক যে, এই মাসআলায় জমহুরের মতই সঠিক এবং হায়েয অবস্থায় তালাক পতিত হবে, তবে তালাক দাতা গুনাহগার হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مسألة شد الرحال لزيارة قبر النبي عليه الصلاة والسلام

مسألة الزيارة: هذه المسألة خالف فيها ابن تيمية جمهور أهل العلم وقال: وإن كان في الحج فشد الرحل من مكة قاصداً المدينة لزيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم فهذه بدعة ضلالة.

ولذلك وشوا به، وهم حرفوها وقالوا عنه: إنه يقول: تحرم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا لا يصح، وإنما كان يقول: يحرم إنشاء سفر لقبر النبي صلى الله عليه وسلم، واستدلاله في هذه المسألة بالأحاديث المتفق عليها في البخاري ومسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد).

وهناك حديث آخر نص في النزاع، وهو حجة لـ ابن تيمية، وهو: (أن بصرة الغفاري لقي أبا هريرة وهو عائد من الطور فقال: من أين أقبلت؟ قال: من الطور صليت فيه، قال: أما لو أدركتك قبل أن ترحل إليه ما رحلت)، -والراوي أعلم بما روى- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد) وجمهور الشافعية وهذه هي الطامة الكبرى وجمهور الحنابلة وجمهور الأحناف وجمهور المالكية يقولون: إنه يجوز للمرء أن ينشئ سفراً ليزور قبر النبي صلى الله عليه وسلم، ويستدلون بعمومات قول النبي صلى الله عليه وسلم: (ألا فزوروها فإنها تذكر بالآخرة) فقالوا: هذه عمومات لا مخصص لها.

فنقول: الصحيح الراجح هو: قول شيخ الإسلام ابن تيمية من أنه لا يجوز إنشاء سفر جديد من أجل زيارة القبر، وهذا الحديث الذي تقدم بين أيدينا حديث النبي صلى الله عليه وسلم في باب شد الرحال، وفعل أبي هريرة مخصصان لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: (فزوروها) فنحن نقول: يزور المرء القبر إذا كان في نفس المكان، لكن كونك تشد الرحل لزيارة القبر فهذا هو الذي يحرم.

سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করার মাসআলা

যিয়ারতের মাসআলা: এই মাসআলায় ইবনে তাইমিয়্যাহ জমহুর (অধিকাংশ) আলিমদের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: এমনকি হজ্জের সময়ও যদি কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনার পথে সফর করার সংকল্প করে, তবে তা একটি ভ্রষ্ট বিদআত।

এই কারণেই তারা তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে এবং তারা তাঁর কথাকে বিকৃত করে দাবি করেছে যে, তিনি নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করাকেই হারাম বলেন। অথচ এটি সঠিক নয়; বরং তিনি বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের উদ্দেশ্যে সফর শুরু করা (যাত্রা করা) হারাম। এই মাসআলায় তাঁর দলীল হলো বুখারী ও মুসলিমের মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না)।

এই বিতর্কের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য আরেকটি হাদীস রয়েছে যা ইবনে তাইমিয়্যার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ। সেটি হলো: (বাসরা আল-গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর দেখা পেলেন যখন তিনি তূর পাহাড় থেকে ফিরছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কোথা থেকে আসছেন? আবু হুরায়রা বললেন: আমি তূর পাহাড় থেকে আসছি, সেখানে সালাত আদায় করেছি। বাসরা বললেন: আমি যদি আপনার রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই আপনার দেখা পেতাম, তবে আপনি সেখানে যেতেন না)। -আর বর্ণনাকারী যা বর্ণনা করেন সে সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক অবগত- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না)। অন্যদিকে শাফেয়ী, হাম্বলী, হানাফী এবং মালিকী মাযহাবের অধিকাংশ আলিম—যা এক মহা বিপর্যয়—মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের জন্য সফর করা জায়েয। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ বাণীর মাধ্যমে দলীল পেশ করেন যে: (জেনে রেখো, তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়)। তারা বলেন: এটি একটি সাধারণ বক্তব্য যার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধকারী নেই।

আমরা বলি: সঠিক ও অগ্রগণ্য মতটি হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্য যে, শুধুমাত্র কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে নতুন করে সফর করা জায়েয নয়। সফর সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হাদীসটি আমাদের সামনে এসেছে এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল—এ দুটি বিষয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ নির্দেশ (তোমরা কবর যিয়ারত করো)-কে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। অতএব আমরা বলি: কোনো ব্যক্তি যখন সেই স্থানে (মদিনায়) থাকবে তখন কবর যিয়ারত করবে, কিন্তু কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর বা যাত্রা করা—এটিই হলো নিষিদ্ধ।

হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক, আপনার পবিত্রতা এবং আপনার প্রশংসা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح مختصر الصارم المسلول - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح مختصر البعلي لكتاب الصارم المسلول على شاتم الرسول لابن تيمية

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আস-সারিমুল মাসলুল-এর সংক্ষিপ্ত সারের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল' গ্রন্থের আল-বালি কৃত সংক্ষিপ্ত সারের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৮টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مختصر الصارم المسلول على شاتم الرسول -‌‌ المقدمة

إن الناظر في اختلاف الصحابة والأئمة في بعض المسائل يجد أن مصدر هذا الخلاف هو اختلاف الناظر نفسه في آية من كتاب الله أو حديث من سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان السلف يردون كل الأقول التي تعارض حديث النبي صلى الله عليه وسلم، بل كان يشنع بعضهم على بعض في أخذه لأقوال الصحابة دون قول رسول الله، حتى وصل الحال في هذا إلى السب والهجر ونحو ذلك، فمن حق رسول الله علينا: الدفاع عنه، والذود عن سنته، والحفاظ عليها بكل استطاعتنا وجهدنا.
আশ-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল-এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা -‌‌ ভূমিকা

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি বিভিন্ন মাসআলায় সাহাবী এবং ইমামগণের মতভেদের প্রতি লক্ষ্য করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে এই মতভেদের উৎস হলো আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর কোনো হাদীস বোঝার ক্ষেত্রে খোদ ঐ ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। সালাফগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের পরিপন্থী সকল বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করতেন; বরং রাসূলুল্লাহর বাণীর বিপরীতে সাহাবীদের বক্তব্য গ্রহণ করার কারণে তাদের কেউ কেউ অন্যের কঠোর সমালোচনা করতেন, এমনকি বিষয়টি গালমন্দ ও সম্পর্ক ত্যাগের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যেত। সুতরাং আমাদের ওপর রাসূলুল্লাহর অধিকার হলো: তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করা, তাঁর সুন্নাহর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আমাদের সর্বাত্মক সামর্থ্য ও প্রচেষ্টায় তা সংরক্ষণ করা।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مكانة النبي صلى الله عليه وسلم عند الله تعالى

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71] أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: نستهل اليوم بإذن الله شرح هذا الكتاب العظيم الجليل: الصارم المسلول على شاتم الرسول لشيخ الإسلام ابن تيمية، ونشرح مختصر الكتاب لا أصله للعلامة الشيخ محمد بن مهدي بن محمد البعلي الحنبلي.

وقبل أن نبدأ فهناك مقدمتان لابد لنا أن نقدمها بين يدي هذا الكتاب، أولاً: هناك أمر عظيم يخص أعظم البشرية وأكرم رسول، وهو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سيد الناس، وأعظمهم مكانة عند الله جل في علاه، وكفى فخراً لهذه الأمة أن رسولها هو أعظم الرسل على الإطلاق.

ففي الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أنا سيد ولد آدم ولا فخر)، والنبي صلى الله عليه وسلم أقسم الله بعمره، ولم يقسم بعمر ولا بحياة أحد على الإطلاق إلا بحياة النبي صلى الله عليه وسلم لعظم حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ولعظم مكانة النبي صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: ((لَعَمْرُكَ)) يا محمد! {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الحجر:72]؛ إظهاراً لمكانة وعظم حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ولمكانة النبي صلى الله عليه وسلم في الدنيا فقد أمره الله على الأنبياء بأسرهم، فإنه حينما أسري به صلى إماماً بالرسل، وحين عرج به فرض عليه أفضل الفرائض ألا وهي: الصلاة، وقد أوحى إليه وحياً فيه أعظم ما يكون وهو كتاب الله، ويوم القيامة يبين الله جل وعلا ويظهر كرامته ومكانته فيجعل الناس تستشفع به يوم القيامة.

إذاً: الناس سيذهبون إليه إظهاراً من الله جل في علاه لكرامة النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يمكن أن يبلغها أحد إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذلك عندما يقول: أنا لها، أنا لها، ثم يأتي يسجد تحت العرش، فالله جل وعلا يوحي إليه بمحامد لم يكن يعلمها قبل ذلك، فيحمد الله بها ثم يقول له: (يا محمد! -بأبي هو وأمي- ارفع رأسك، وسل تعطه، واشفع تشفع)، إظهاراً لكرامة النبي صلى الله عليه وسلم، ولا غرو ولا عجب، فما من نبي أرسله الله لقومه فمنحه فضلاً أو شرفاً أو فضيلة يتفضل بها على قومه إلا ومنحها رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فهذا موسى عليه السلام أفضل ما فضل الله به موسى على البشر أجمعين أنه اصطفاه بكلامه وبرسالاته، كما قال آدم عليه السلام: (أنت موسى الذي خط الله لك التوراة بيده، واصطفاك بكلامه)، وقال الله تعالى: {إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالاتِي وَبِكَلامِي} [الأعراف:144]، فهذه من أفضل الفضائل لموسى عليه السلام، وللنبي صلى الله عليه وسلم حظ منها لمكانته عند الله جل في علاه، فإن الله كلم موسى بحجاب دون واسطة، وكلم محمداً صلى الله عليه وسلم بحجاب دون واسطة أيضاً؛ لأنه لما عرج به تكلم مع الله دون واسطة ودون وحي، وفرض الله عليه خمسين صلاة، ثم تكلم مع موسى فقال موسى: أمتك لا تستطيع أن تصبر على ذلك، فرجع يعاود الكلام مع الله ويكلمه الله جل في علاه.

ويوسف عليه السلام: من أفضل ما منح الجسد فكان من أجمل الناس، حتى إن النساء قطعن أيديهن عندما رأينه، والنبي صلى الله عليه وسلم أوتي من الجمال مثل ما أوتي يوسف عليه السلام، فعندما رأى البراء النبي صلى الله عليه وسلم قال: (نظرت إلى رسول الله -بأبي هو وأمي- ونظرت إلى القمر ليلة البدر، فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجمل من القمر ليلة البدر).

ولما منح الله جل في علاه إبراهيم أبو الأنبياء الخلة، وهو أعظم الرسل على الإطلاق دون النبي صلى الله عليه وسلم -هذا عند أهل التحقيق- أيضاً منح الله جل في علاه نبينا صلى الله عليه وسلم الخلة، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لو كنت متخذاً من البشر خليلاً لاتخذت أبا بكر، ولكن صاحبكم خليل الرحمن)، وأما الحديث الذي رواه ابن عباس رضي الله عنه وأرضاه: (الخلة لإبراهيم والرؤيا لمحمد)، فلا يصح عن ابن عباس، بل الخلة لإبراهيم ولمحمد صلى الله عليه وسلم.

أيضاً: منح عيسى عليه السلام أنه يبرئ الأكمه والأبرص ويحيى الموتى بإذن الله، وهذه حدثت لنبينا صلى الله عليه وسلم كما حدثت مع عيسى عليه السلام.

وإظهاراً لشرف النبي وعظم مكانة النبي صلى الله عليه وسلم عند الله جل في علاه، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ خشبة وهزها -هذه لموسى وعيسى- فتحولت سيفاً معجزة من الله جل في علاه لنبينا صلى الله عليه وسلم فأخذها، أما موسى فلم يأخذ العصا حين تحولت إلى حية، فتحولت الخشبة سيفاً في يد النبي صلى الله عليه وسلم، وقال: (من يأخذ هذا السيف بحقه؟ فقام الزبير فقال: أنا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسكته النبي صلى الله عليه وسلم ولم يعطه إياه، ثم هز السيف مرة ثانية، وقال: من يأخذ هذا السيف بحقه، حتى قام أبو دجانة رضي الله عنه وأرضاه، فأعطاه النبي صلى الله عليه وسلم السيف)، وكان نظر النبي صلى الله عليه وسلم دقيق جداً، فهو يعلم أنه سيأخذه بحقه.

وأيضاً عيسى عليه السلام كان يبرئ الأكمه والأبرص والأعمى، ورسول الله صلى الله عليه وسلم في معركة سقطت عين صاحب من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم على خده، فأخذها النبي صلى الله عليه وسلم فوضعها مكانها، فكان يرى بها أفضل من العين الأخرى، وأيضاً في قصة قتل سلام بن أبي الحقيق اليهودي لما كسرت ركبة عبد الله بن أنيس، أخذها النبي صلى الله عليه وسلم ومسح عليها فبرئت، وهذه أيضاً لعيسى عليه السلام وحباها الله لنبينا صلى الله عليه وسلم، فكل خصال الخير كانت لرسول الله لعظم مكانته عند ربه جل في علاه.

فالأمة لها أن تفخر -ولا غرو لها- بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو سيد هذه البشرية، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو رسول هذه الأمة، فله حق عظيم على هذه الأمة.
মহান আল্লাহর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]। অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: আল্লাহর তৌফিকে আজ আমরা এই মহান ও মর্যাদাপূর্ণ কিতাবের ব্যাখ্যা শুরু করছি: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল’ (রাসূলের অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে কোষমুক্ত তলোয়ার)। আমরা মূল কিতাব নয়, বরং আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন মাহদি বিন মুহাম্মদ আল-বালি আল-হাম্বলি রচিত এই কিতাবের সারসংক্ষেপটি ব্যাখ্যা করব।

শুরু করার আগে আমাদের সামনে দুটি ভূমিকা পেশ করা প্রয়োজন। প্রথমত: মানবজাতির শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে সম্মানিত রাসূলের সাথে সম্পর্কিত একটি মহান বিষয় রয়েছে; আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষের নেতা এবং সুউচ্চ মহান আল্লাহর নিকট তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। এই উম্মতের জন্য এতটুকু গর্বই যথেষ্ট যে, তাদের রাসূল হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল।

সহিহ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আমি আদম-সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের শপথ নিয়ে আল্লাহ কসম করেছেন, অথচ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ছাড়া অন্য কারো জীবনের শপথ করেননি। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও তাঁর মর্যাদার মহানত্বের কারণেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ((আপনার জীবনের শপথ)) হে মুহাম্মদ! {আপনার জীবনের শপথ, নিশ্চয়ই তারা তাদের নেশায় অন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল} [আল-হিজর: ৭২]; এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং পৃথিবীতে তাঁর মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাঁকে সমস্ত নবীদের ওপর প্রধান্য দিয়েছেন; যখন তাঁকে ইসরা (নৈশভ্রমণ) করানো হলো, তখন তিনি সকল রাসূলের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। আর যখন তাঁকে মেরাজে (ঊর্ধ্বগমন) নেওয়া হলো, তখন তাঁর ওপর সর্বোত্তম ফরজ তথা সালাত অর্পণ করা হলো। তাঁর প্রতি এমন ওহি অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে সবচেয়ে মহান বিষয় রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব। কিয়ামতের দিনও আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ করবেন এবং সেদিন মানুষ তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করবে।

সুতরাং, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান প্রদর্শনের জন্য মানুষ সেদিন তাঁর কাছে যাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কেউ সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তখন তিনি বলবেন: আমিই এর জন্য, আমিই এর জন্য। অতঃপর তিনি আরশের নিচে এসে সিজদাবনত হবেন। তখন আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর অন্তরে এমন সব প্রশংসা ঢেলে দেবেন যা তিনি আগে জানতেন না। তিনি সেই সব বাক্য দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করবেন। অতঃপর তাঁকে বলা হবে: (হে মুহাম্মদ! -আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক- আপনার মাথা তুলুন, চান আপনাকে দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; কেননা আল্লাহ কোনো নবীকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণের সময় এমন কোনো ফযিলত বা মর্যাদা দান করেননি যা দিয়ে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও দান করা হয়নি।

এই যেমন মুসা আলাইহিস সালাম; আল্লাহ তাঁকে সমস্ত মানুষের ওপর যে বিশেষ ফযিলত দান করেছিলেন তা হলো তাঁকে তাঁর কালাম (কথা) ও রিসালাতের জন্য মনোনীত করা। যেমন আদম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: (আপনি সেই মুসা যার জন্য আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে তাওরাত লিখেছেন এবং তাঁর কালামের মাধ্যমে আপনাকে মনোনীত করেছেন)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি আমার রিসালাত ও আমার কালামের মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর মনোনীত করেছি} [আল-আরাফ: ১৪৪]। এটি মুসা আলাইহিস সালামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফযিলত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরও এতে অংশ রয়েছে আল্লাহর নিকট তাঁর বিশেষ মর্যাদার কারণে। আল্লাহ মুসার সাথে পর্দা রেখে মাধ্যম ছাড়াই কথা বলেছিলেন, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেও পর্দা রেখে মাধ্যম ছাড়াই কথা বলেছিলেন। কেননা মেরাজের সময় তিনি মাধ্যম ও ওহি ছাড়াই আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছিলেন। এরপর তিনি মুসার সাথে কথা বললেন এবং মুসা বললেন: আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না। তখন তিনি পুনরায় আল্লাহর সাথে কথা বলতে ফিরে গেলেন এবং আল্লাহ জল্লা ফি উলাহু তাঁর সাথে কথা বললেন।

ইউসুফ আলাইহিস সালাম: তাঁকে শারীরিক সৌন্দর্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ দান করা হয়েছিল এবং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরদের একজন। এমনকি নারীরা তাঁকে দেখে নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও ইউসুফ আলাইহিস সালামের মতোই সৌন্দর্য দান করা হয়েছিল। যখন বারা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকালাম -আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক- এবং পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকালাম; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর ছিলেন)।

আর আল্লাহ জল্লা ফি উলাহু যখন নবীদের পিতা ইবরাহিমকে 'খুল্লাত' (নিবিড় বন্ধুত্ব) দান করলেন—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (গবেষক আলেমদের মতে)—তেমনি আল্লাহ জল্লা ফি উলাহু আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও খুল্লাত দান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি যদি মানুষের মধ্য থেকে কাউকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (নবী নিজে) হলেন রহমানের খলিল)। আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি রয়েছে: (খুল্লাত ইবরাহিমের জন্য এবং দর্শন মুহাম্মদের জন্য), তা ইবনে আব্বাস থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত নয়; বরং খুল্লাত ইবরাহিম ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের জন্যই।

তেমনিভাবে ঈসা আলাইহিস সালামকে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন; আর আমাদের নবীর ক্ষেত্রেও ঈসা আলাইহিস সালামের মতো এমন মোজেজা সংঘটিত হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাঠের টুকরো নিয়ে নাড়া দিলেন—যা মুসা ও ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রেও হয়েছিল—তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নবীর জন্য মোজেজা হিসেবে তলোয়ারে পরিণত হলো। মুসা (আ.) তো লাঠি সাপে পরিণত হওয়ার সময় সেটি ধরেননি, কিন্তু কাঠের টুকরোটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে তলোয়ারে পরিণত হলো। তিনি বললেন: (কে এই তলোয়ারটি এর হকের সাথে গ্রহণ করবে? জুবাইর দাঁড়িয়ে বললেন: আমি হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শান্ত করলেন এবং তাকে দিলেন না। এরপর তিনি পুনরায় তলোয়ারটি নাড়া দিয়ে বললেন: কে এই তলোয়ারটি এর হকের সাথে গ্রহণ করবে? অবশেষে আবু দুজানা (রা.) দাঁড়ালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তলোয়ারটি দিলেন)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দূরদৃষ্টি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, তিনি জানতেন যে আবু দুজানাই এটি হকের সাথে গ্রহণ করবেন।

আবার ঈসা আলাইহিস সালাম জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতেন; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রেও এক যুদ্ধে তাঁর এক সাহাবীর চোখ উপড়ে গালের ওপর ঝুলে পড়েছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হাতে নিয়ে যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন, ফলে সেই চোখটি অপর চোখের চেয়েও বেশি দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেল। আবার ইহুদি সালাম বিন আবি আল-হুকাইককে হত্যার ঘটনার সময় যখন আবদুল্লাহ বিন আনীসের হাঁটু ভেঙে গিয়েছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তা সুস্থ হয়ে গেল। এটিও ঈসা আলাইহিস সালামকে দেওয়া হয়েছিল এবং আল্লাহ আমাদের নবীকেও তা দান করেছিলেন। সুতরাং সমস্ত কল্যাণময় গুণাবলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল তাঁর রবের নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে।

অতএব এই উম্মতের জন্য গর্ব করা সাজে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মানবজাতির নেতা এবং তিনি এই উম্মতের রাসূল; সুতরাং এই উম্মতের ওপর তাঁর এক মহান হক রয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته

حق النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة عظيم، لكن بدون إفراط فيه أو تفريط، ومن هذه الحقوق: أولاً: الاعتقاد الجازم والإيمان الراسخ بأنه مرسل من ربه جل في علاه، قال الله تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} [البقرة:285]، فـ: (رسله) عموم يدخل فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ} [النساء:136]، وقال: {وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ} [الحديد:28]، فهذا أمر من الله جل في علاه، أن تعتقد اعتقاداً جازماً أن محمداً صلى الله عليه وسلم رسول من الرسل الذين أوحى الله إليهم وحياً عظيماً جاء به إلى البشرية.

ثانياً: من حق النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة بعد الإيمان برسالة محمد صلى الله عليه وسلم، وأنه أوحي إليه من قبل ربه: أن رسالته عامة للثقلين، قال الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء:107]، وأيضاً قال الله تعالى: {كَافَّةً لِلنَّاسِ} [سبأ:28]، وقال الله تعالى على لسان النبي صلى الله عليه وسلم: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف:158].

وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (فضلت على الأنبياء بست -وذكر من هذه الست- وكان كل نبي يبعث في قومه خاصة وبعثت إلى الناس كافة)، بل لم يكتف بذلك، فلم يرسل النبي صلى الله عليه وسلم إلى الناس فقط، بل أرسله إلى الجن أيضاً، فهو مرسل إلى الثقلين، قال الله تعالى: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ} [الأحقاف:29].

وفي الحديث عن ابن مسعود رضي الله عنه وأرضاه أنه قال: (اختفى رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة عنهم، فبين له مكان نيران الجن وأخبره بأنه ذهب إلى الجن يتلو عليهم آيات الله جل في علاه)، فرسالته عامة، فهذا حق للنبي صلى الله عليه وسلم، وهذا الرد القوي على اليهود والنصارى الذين يقولون: هو نبي، لكن للأميين، فأنت لابد أن تعتقد اعتقاداً جازماً بأن الرسول أرسل إلى الجن وإلى الإنس.

ثالثاً: من حق النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة: تصديقه فيما أخبر صلى الله عليه وسلم -بأبي هو وأمي- ولِم لا وهو الصادق المصدوق؟ فقد أخبر من قبل ربه جل في علاه، وجبريل لم يكذبه وهو لم يكذب، قال ابن مسعود: أوصاني الصادق المصدوق، فهو صادق في قوله، وهو مصدوق فيما يأتيه، قال الله تعالى: {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4]، يعني: لا يتكلم من هوى نفسه، ولا من تلقاء نفسه، بل هو وحي من قبل الله جل في علاه.

فوجب عليك تصديق كل خبر أسند إلى النبي صلى الله عليه وسلم إسناداً صحيحاً، ومن تبعات ذلك أن تعمل به.

إن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا تكلم بكلمة وفي مجلسه عبد الله بن عمرو بن العاص كتب كل شيء يتكلم به النبي صلى الله عليه وسلم فلامه أهل قريش وأكابر المهاجرين فقالوا: كيف تكتب كل كلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو بشر يصيب ويخطئ ويغضب ويضحك ويفرح ويحزن؟ فذهب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يخبره بهذا الخبر، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (اكتب، والله ما يخرج من هنا إلا الحق، أو قال: إلا الصدق)، ما يخرج منه إلا الوحي من الله جل في علاه، حتى ولو قلنا: بأن له الاجتهاد فإن الله لا يقر رسوله صلى الله عليه وسلم على خطأ أخطأه، وليس ببعيد عنا قول الله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى * أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى} [عبس:1 - 2]، ولما اجتهد في دعوة أكابر قريش وترك ابن أم مكتوم، فأنزل الله كلاماً يعاتبه على ذلك، {عَبَسَ وَتَوَلَّى * أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى * وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى} [عبس:1 - 3]، فله أن يجتهد لكنه لا يقرر على خطأ، فلذلك قال له: (اكتب، والله ما يخرج من هنا إلا الصدق، أو ما يخرج إلا الحق).

ولذلك لما جاء هذا القميء البئيس وقال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: اعدل، فهذه قسمة ما أريد بها وجه الله، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء؟!)، كيف لا تأمنوني وقد استأمنني الله جل في علاه على الوحي وأنا أبلغ عن ربي جل في علاه.

ولنعم ما فعل خزيمة بن ثابت عندما جاء أعرابي فباع للنبي صلى الله عليه وسلم فرساً، ثم أعطوه فيه ثمناً أغلى من ذلك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (قد بعت لي؟ قال: لا ما بعت لك، عليّ بشاهدين -يعني: ائت بشهود يشهدون أنني قد بعت لك هذا الفرس- فقام خزيمة بن ثابت فقال: أنا أشهد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اشترى منك)، فتعجب رسول الله صلى الله عليه وسلم منه، فما كان هناك ثمة أحد يجلس بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين الأعرابي في البيع والشراء؟ فقال له: (يا خزيمة! كيف تشهد على شيء لم تره أو تشهده، فقال له: يا رسول الله! أصدقك في خبر السماء ألا أصدقك في خبر البيع والشراء، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: شهادة خزيمة بشهادة رجلين)، وكانت منقبة عظيمة لـ خزيمة؛ لأنه أدرك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينطق عن الهوى بحال من الأحوال.

رابعاً: من حق النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة: تعظيم النبي صلى الله عليه وسلم في وقتنا هذا، وتعظيم سنته وحملتها، إذا رأيت رجلاً يحمل سنة النبي صلى الله عليه وسلم رأيت نوراً في وجهه لقوله: (نضر الله امرءاً سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها)، فيحترم ويعظم ويوقر يحترمه ويعظمه ويوقره توقيراً لرسول الله صلى الله عليه وسلم.

فمن حق رسول الله على هذه الأمة: تعظيم النبي وتوقيره والأدب الجم معه صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا} [الفتح:9]، (تسبحوه) خاصة بالله جل في علاه، (تعزروه وتوقروه)، هذه تدل على نصرة النبي صلى الله عليه وسلم، وتعظيمه ومحبته، وأن تجعل محبة النبي صلى الله عليه وسلم فوق محبتك لنفسك ولغيرك.
উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার

এই উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার অত্যন্ত মহান, তবে এতে কোনো অতিরঞ্জন বা অবহেলা করা যাবে না। এসব অধিকারের মধ্যে রয়েছে: প্রথমত: সুদৃঢ় বিশ্বাস ও অটল ঈমান রাখা যে, তিনি তাঁর সুউচ্চ মহান রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর ওপর এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর} [আল-বাকারাহ: ২৮৫]। এখানে ‘তাঁর রাসূলগণ’ কথাটি ব্যাপক, যার মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ওপর, তাঁর রাসূলের ওপর এবং সেই কিতাবের ওপর যা তিনি তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন} [আন-নিসা: ১৩৬]। তিনি আরও বলেন: {এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো, তিনি তাঁর রহমত থেকে তোমাদের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন} [আল-হাদিদ: ২৮]। এটি সুউচ্চ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ যে, আপনি এই সুদৃঢ় বিশ্বাস লালন করবেন যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাসূলদের একজন যাদের প্রতি আল্লাহ মহান ওহি অবতীর্ণ করেছেন যা তিনি মানবজাতির জন্য নিয়ে এসেছেন।

দ্বিতীয়ত: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর ঈমান আনার পর এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হওয়ার বিশ্বাসের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার হলো: এটা বিশ্বাস করা যে তাঁর রিসালাত বা দাওয়াত মানব ও জিন জাতি উভয়ের জন্য সর্বজনীন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সমগ্র মানবজাতির জন্য} [সাবা: ২৮]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল} [আল-আরাফ: ১৫৮]।

সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আমাকে অন্য নবীদের ওপর ছয়টি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে -এবং তিনি এই ছয়টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন- প্রত্যেক নবী কেবল তাঁর নিজ কওমের কাছে প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমস্ত মানুষের কাছে)। শুধু তাই নয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মানুষের কাছেই প্রেরিত হননি, বরং তাঁকে জিনদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তিনি উভয় জগতের (মানব ও জিন) জন্য প্রেরিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {স্মরণ করুন, যখন আমি আপনার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম, যারা কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা সেখানে উপস্থিত হলো, তখন তারা বলল, চুপ থাকো। যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তারা তাদের কওমের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল} [আল-আহকাফ: ২৯]।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: (এক রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছ থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন, এরপর তিনি তাদের জিনদের আগুনের চিহ্নগুলো দেখালেন এবং জানালেন যে তিনি জিনদের কাছে গিয়েছিলেন তাদের কাছে সুউচ্চ মহান আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করার জন্য)। সুতরাং তাঁর রিসালাত সর্বজনীন, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি অধিকার। এটি ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি এক শক্তিশালী জবাব যারা বলে: তিনি নবী ঠিকই, তবে কেবল নিরক্ষরদের (আরবদের) জন্য। তাই আপনাকে অবশ্যই সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন ও ইনসান উভয়ের নিকট পাঠানো হয়েছেন।

তৃতীয়ত: এই উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার হলো: তিনি যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্যায়ন করা -তাঁর জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক- আর কেনই বা নয়, যেখানে তিনি হলেন ‘আস-সাদিকুল মাসদুক’ (সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত)? তিনি তাঁর সুউচ্চ মহান রবের পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, জিবরাইল তাঁর কাছে মিথ্যা বলেননি এবং তিনিও মিথ্যা বলেননি। ইবনে মাসউদ বলেন: আমাকে ‘আস-সাদিকুল মাসদুক’ উপদেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর কথায় সত্যবাদী এবং তাঁর কাছে যা আসে তাতেও তিনি সত্যায়িত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৪]। অর্থাৎ, তিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না, বরং তা সুউচ্চ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি।

অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সহীহ সনদে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটি সংবাদকে সত্যায়ন করা আপনার ওপর ওয়াজিব এবং এর অন্যতম দাবি হলো সেই অনুযায়ী আমল করা।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কথা বলতেন, তাঁর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বলা প্রতিটি কথা লিখে রাখতেন। কুরাইশ বংশের লোক ও বড় বড় মুহাজিররা তাকে তিরস্কার করে বললেন: তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথা কেন লিখছ, অথচ তিনি একজন মানুষ, যিনি কখনো সঠিক বলেন আবার কখনো ভুল হতে পারে, তিনি রাগান্বিত হন, হাসেন, আনন্দিত হন এবং দুঃখিত হন? তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: (তুমি লেখো, আল্লাহর কসম, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না)। তাঁর মুখ থেকে সুউচ্চ মহান আল্লাহর ওহি ছাড়া আর কিছুই বের হয় না। এমনকি যদি আমরা বলি যে তাঁর ইজতিহাদ করার অবকাশ আছে, তবুও আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ভুলের ওপর বহাল রাখেন না। আল্লাহ তাআলার এই বাণী আমাদের অজানা নয়: {তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর কাছে সেই অন্ধ লোকটি এল} [আবাসা: ১-২]। তিনি যখন কুরাইশ নেতাদের দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে ইজতিহাদ করলেন এবং ইবনে উম্মে মাকতুমকে পাশে রাখলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে সতর্ক করে আয়াত নাজিল করলেন: {তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর কাছে সেই অন্ধ লোকটি এল। আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পবিত্র হতো?} [আবাসা: ১-৩]। সুতরাং তিনি ইজতিহাদ করতে পারেন কিন্তু তাঁকে ভুলের ওপর রাখা হয় না। এই কারণেই তিনি তাকে বলেছিলেন: (লেখো, আল্লাহর কসম, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না)।

এই কারণেই যখন সেই নিকৃষ্ট ও হতভাগা লোকটি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: ন্যায়বিচার করুন, কারণ এই বণ্টন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়নি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে না, অথচ আমি আকাশের অধিপতির কাছে বিশ্বস্ত?)। তোমরা কেন আমাকে বিশ্বাস করবে না যেখানে সুউচ্চ মহান আল্লাহ আমাকে ওহির আমানতদার বানিয়েছেন এবং আমি আমার সুউচ্চ মহান রবের পক্ষ থেকে প্রচার করছি।

খুজাইমা ইবনে সাবিত কতই না চমৎকার কাজ করেছিলেন যখন এক বেদুইন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি ঘোড়া বিক্রি করল। এরপর অন্য লোক তার চেয়ে বেশি দাম দিতে চাইলে বেদুইন বলল: আপনি কি আমার কাছ থেকে ঘোড়াটি কিনেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (হ্যাঁ, তুমি আমার কাছে বিক্রি করেছ)। সে বলল: না, আমি আপনার কাছে বিক্রি করিনি, দুজন সাক্ষী আনুন -অর্থাৎ এমন সাক্ষী আনুন যারা সাক্ষ্য দেবে যে আমি আপনার কাছে এই ঘোড়াটি বিক্রি করেছি- তখন খুজাইমা ইবনে সাবিত দাঁড়িয়ে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছ থেকে এটি কিনেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অবাক হলেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সেই বেদুইনের কেনাবেচার সময় সেখানে তো কেউ উপস্থিত ছিল না। তিনি তাকে বললেন: (হে খুজাইমা! তুমি এমন বিষয়ে কেন সাক্ষ্য দিলে যা তুমি দেখনি বা যাতে উপস্থিত ছিলে না?) তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আসমানি সংবাদের বিষয়ে আপনাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করি, আর কেনাবেচার সংবাদের ক্ষেত্রে কি আপনাকে সত্যায়ন করব না? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (খুজাইমার সাক্ষ্য দুজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান)। এটি খুজাইমার জন্য এক বিরাট মর্যাদা ছিল; কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অবস্থাতেই নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না।

চতুর্থত: এই উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার হলো: বর্তমান সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করা, তাঁর সুন্নাহকে সম্মান করা এবং এর বাহকদের শ্রদ্ধা করা। আপনি যখন কোনো ব্যক্তিকে দেখবেন যে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বহন করছে, তখন তাঁর চেহারায় এক নূর দেখতে পাবেন, কারণ নবীজি বলেছেন: (আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ রেখেছে এবং ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে)। সুতরাং তাকে সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা করতে হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করার খাতিরে। এই উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহর অধিকার হলো: নবীকে সম্মান করা, তাঁকে শ্রদ্ধা করা এবং তাঁর প্রতি বিনম্র শিষ্টাচার বজায় রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে (রাসূলকে) সাহায্য করো ও তাঁকে সম্মান করো, আর সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো} [আল-ফাতহ: ৯]। ‘পবিত্রতা ঘোষণা করা’ (তাসবিহ) বিষয়টি কেবল সুউচ্চ মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। ‘তাঁকে সাহায্য করা ও সম্মান করা’ - এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করা, তাঁকে মহিমান্বিত করা ও তাঁকে ভালোবাসার নির্দেশ দেয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসাকে আপনার নিজের এবং অন্যের ভালোবাসার ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌صور من حب النبي صلى الله عليه وسلم

قال النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيحين: (لا يؤمن أحدكم حتى يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما).

وفي الصحيح أيضاً عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده ونفسه والناس أجمعين، فقام عمر فقال: يا رسول الله! أنت أحب إلي من كل شيء إلا من نفسي! قال: لا يا عمر -يعني: لم تستكمل الإيمان الواجب في قلبك حتى الآن- قال: الآن يا رسول الله! قال: الآن يا عمر -أي: استكملت الإيمان الواجب-).

فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يؤمن)، وهذا نفي قاطع: (لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده ونفسه والناس أجمعين) وصور المحبة وتقديم النبي صلى الله عليه وسلم على النفس صور عظيمة جداً، وقد ضرب أروع الأمثلة لذلك صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم بهذا يبينون لنا التطبيق العملي لقول الله تعالى: {مَا كَانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِنَ الأَعْرَابِ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ وَلا يَرْغَبُوا بِأَنفُسِهِمْ عَنْ نَفْسِهِ} [التوبة:120].
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার কতিপয় চিত্র

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হাদীসে ইরশাদ করেছেন: (তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন)।

সহীহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান, তার নিজের জীবন এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই। তখন উমর দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার কাছে নিজের জীবন ছাড়া অন্য সকল কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়! তিনি বললেন: না, হে উমর -অর্থাৎ: তোমার অন্তরে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় ঈমান এখনও পূর্ণতা পায়নি- তিনি বললেন: এখন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: এখন, হে উমর -অর্থাৎ: এখন তোমার ওয়াজিব ঈমান পূর্ণ হয়েছে-)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ঈমান আনেনি), আর এটি একটি চূড়ান্ত অস্বীকৃতি: (তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান, তার নিজের জীবন এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই)। ভালোবাসার এই রূপ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের জীবনের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত মহান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এর সর্বোত্তম উদাহরণ পেশ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আমাদের সামনে মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব প্রয়োগ ফুটিয়ে তুলেছেন: {মদীনাবাসী এবং তাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের জন্য সংগত নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পিছনে থেকে যাবে এবং নিজেদের প্রাণকে তাঁর প্রাণের চেয়ে অধিক প্রিয় মনে করবে} [আত-তাওবাহ: ১২০]।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أبو بكر الصديق

فهذا أبو بكر رضي الله عنه وأرضاه -إن صحت القصة، وفي السير يتسامح في الأسانيد- عندما دخل الغار أخر رسول الله؛ لأنه يعلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو الشمس التي تنير الدنيا؛ فدخل الغار أولاً فسد كل فوهة أو فتحة في الغار فلم يجد شيئاً غير ثيابه فسد بها، ثم وجد فتحة واحدة لا تسدها ثيابه فسدها برجله، فجاءت حية فقرصته قرصة كاد يموت منها، ودموعه تنزل على خد رسول الله صلى الله عليه وسلم، كل هذا حفاظاً على رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقدم نفس رسول الله صلى الله عليه وسلم على نفسه.

وأروع من ذلك عندما رحل معه براحلته وهو يتقدم أمام رسول الله ثم يكون خلفه، ثم عن يمنيه ثم عن يساره صلى الله عليه وسلم، فمن رآه قال: هذا رجل مجنون! كيف يتقدم ثم يتأخر، ثم يأتي يساراً ثم يميناً؟ لِم يفعل ذلك؟!! وكأنه لن يجد جواباً لفعل أبي بكر إلا قولاً واحداً هو: نفس رسول الله تقدم على نفسي، فبه الإسلام وأنا ليس بي شيء، فيقدم نفس رسول الله صلى الله عليه وسلم على نفسه.
আবু বকর আস-সিদ্দিক

এই হলেন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদ্বাহু) — যদি বর্ণনাটি সহীহ হয়ে থাকে, আর সীরাত বা জীবনীগ্রন্থের ক্ষেত্রে সনদের ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করা হয় — যখন তিনি গুহায় প্রবেশ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূলকে পেছনে রাখলেন; কারণ তিনি জানতেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সেই সূর্য যা বিশ্বজগতকে আলোকিত করে। তাই তিনি প্রথমে গুহায় প্রবেশ করলেন এবং গুহার প্রতিটি গর্ত বা ছিদ্র বন্ধ করে দিলেন। নিজের কাপড় ছাড়া তিনি আর কিছুই পেলেন না যা দিয়ে তা বন্ধ করা যায়, ফলে কাপড় দিয়েই সেগুলো বন্ধ করলেন। এরপর তিনি একটি ছিদ্র পেলেন যা তাঁর কাপড় দিয়ে ঢাকা সম্ভব ছিল না, তখন তিনি তাঁর পা দিয়ে সেটি বন্ধ করে দিলেন। তখন একটি সাপ এল এবং তাঁকে এমনভাবে দংশন করল যে, তিনি প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর চোখের পানি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গালের ওপর পড়ছিল। এই সব কিছুই ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেফাজত ও সুরক্ষার জন্য; তিনি নিজের প্রাণের ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাণকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো যখন তিনি তাঁর বাহনে চড়ে তাঁর সাথে হিজরত করছিলেন; তখন তিনি কখনও আল্লাহর রাসূলের সামনে চলতেন, আবার কখনও তাঁর পেছনে, কখনও তাঁর ডানে আবার কখনও তাঁর বামে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। যে কেউ তাঁকে দেখত সে বলত: এ তো এক উন্মাদ লোক! সে কীভাবে কখনও সামনে যাচ্ছে আবার কখনও পেছনে পড়ছে, কখনও বামে আসছে আবার কখনও ডানে? সে কেন এমন করছে?!! যেন আবু বকরের এই কাজের উত্তর একটি কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, তা হলো: আমার প্রাণের চেয়ে আল্লাহর রাসূলের প্রাণ অগ্রগণ্য; কেননা তাঁর মাধ্যমেই ইসলাম টিকে আছে আর আমি তো কিছুই নই। এভাবেই তিনি নিজের প্রাণের ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাণকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌طلحة بن عبيد الله

وهذا طلحة رضي الله عنه وأرضاه طلحة الخير، ففي غزوة أحد عندما تخلف الرماة عن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكاد المشركون أن يظفروا برسول الله، وأن يقتلوه قام النبي صلى الله عليه وسلم وقال: (من يصد القوم عنا وهو رفيقي في الجنة)، فقام طلحة الخير، فقال: لا، فأجلسه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قام رجل من الأنصار، فقال: أنا يا رسول الله! فقاتل حتى قتل، وهو ينافح عن رسول الله، ويقدم نفس رسول الله على نفسه.

فهذه هي المحبة الصادقة، وهذا هو التعظيم والتوقير الصادق.

ثم بعد ذلك يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (من يصد القوم ويكون رفيقي في الجنة)، فيقوم طلحة والنبي صلى الله عليه وسلم يقول له: (اجلس، ليس الآن) حتى مات الأنصار عن بكرة أبيهم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (ما أنصفنا إخواننا)، وفي رواية أخرى: (ثم قام طلحة ينافح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويحميه صلى الله عليه وسلم ويحتضنه، ويقول: لا ترفع رأسك يا رسول الله لئلا يأتيك سهم من سهام القوم، نحري دون نحرك يا رسول الله! ثم قاتل حتى كسر سيفه فألقاه، وأخذ ينافح عن رسول الله، ويدفع عن رسول الله السيوف التي تنهال عليه حتى شلت يده، فقال لـ أبي بكر وعمر عندما أتيا: (دونكم صاحبكم فقد أوجب) أي: أوجب الجنة بما فعل، لما قدم نفس رسول الله على نفسه.
তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ

আর ইনি হলেন তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু, যাকে আল্লাহ সন্তুষ্ট করেছেন এবং তিনিও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট—তিনি হলেন তালহা আল-খাইর। উহুদ যুদ্ধের সময় যখন তীরন্দাজরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালনে ত্রুটি করেছিল এবং মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর প্রায় বিজয় লাভ করে তাঁকে হত্যা করার উপক্রম করেছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: "কে এই শত্রুদের আমাদের থেকে প্রতিহত করবে এবং জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে?" তখন তালহা আল-খাইর উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "না", এবং তাঁকে বসিয়ে দিলেন। এরপর আনসারদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি।" অতঃপর তিনি লড়াই করে শহীদ হলেন; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রাণের ওপর রাসূলুল্লাহর প্রাণকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

এটিই হলো প্রকৃত ভালোবাসা এবং এটিই হলো যথাযথ সম্মান ও ভক্তি।

এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন: "কে এই লোকদের প্রতিহত করবে এবং জান্নাতে আমার সাথী হবে?" তখন তালহা পুনরায় দাঁড়ালেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "বসো, এখন নয়।" এভাবে একে একে আনসার সাহাবীগণ সকলেই শাহাদাত বরণ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমরা আমাদের ভাইদের প্রতি ইনসাফ করতে পারিনি।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "অতঃপর তালহা দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করতে শুরু করলেন, তাঁকে আগলে রাখলেন এবং বলতে লাগলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার মাথা উঁচু করবেন না, পাছে শত্রুদের কোনো তীর আপনার গায়ে বিঁধে যায়। আমার বুক আপনার বুকের সামনে ঢাল হিসেবে রয়েছে হে আল্লাহর রাসূল! এরপর তিনি লড়াই করতে থাকলেন এমনকি তাঁর তলোয়ারটি ভেঙে গেলে তিনি তা ফেলে দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করতে থাকলেন এবং তাঁর ওপর ধেয়ে আসা তলোয়ারের আঘাতগুলো প্রতিহত করতে লাগলেন যতক্ষণ না তাঁর হাতটি অবশ হয়ে গেল।" তখন আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন সেখানে পৌঁছালেন, নবীজি বললেন: "তোমরা তোমাদের সাথীর দিকে মনোযোগ দাও, সে জান্নাত অবধারিত করে নিয়েছে।" অর্থাৎ, সে নিজের প্রাণের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহর প্রাণ রক্ষা করার মাধ্যমে নিজের জন্য জান্নাত অবধারিত করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌سعد بن أبي وقاص

ولما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من يحمي رسول الله؟! قام سعد مدججاً بسلاحه، وقال: أنا يا رسول الله! حتى أنزل الله جل في علاه: {وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة:67])، فهو حق عظيم لرسول الله صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة، فإن لم نجد جسد النبي صلى الله عليه وسلم بينناً فسنة النبي صلى الله عليه وسلم تعظم وتوقر وتفدى بالأنفس، كما أن النبي صلى الله عليه وسلم لو كان حياً بين أظهرنا لوجب علينا أن نفديه بأنفسنا فكذلك سنته لها نفس المكانة، وحملة سنة النبي صلى الله عليه وسلم لهم مكانة، فهم ورثة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস

যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (কে রাসূলুল্লাহকে রক্ষা করবে?! তখন সাদ তার অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আছি! যতক্ষণ না আল্লাহ, যিনি তাঁর উচ্চতায় মহান, অবতীর্ণ করলেন: {এবং আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন} [আল-মায়েদাহ: ৬৭]), এটি এই উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এক মহান অধিকার। যদি আমরা আমাদের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দেহ মুবারক নাও পাই, তবে তাঁর সুন্নাহকে সম্মান করতে হবে, গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের জীবন দিয়ে রক্ষা করতে হবে। ঠিক যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে জীবিত থাকলে তাঁকে নিজেদের জীবন দিয়ে রক্ষা করা আমাদের ওপর আবশ্যক হতো, তেমনিভাবে তাঁর সুন্নাহর মর্যাদাও একই পর্যায়ের। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর বাহকদেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কারণ তারা হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উত্তরাধিকারী।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الأدب مع رسول الله

ومن أروع الأمثلة في الأدب تلك التي ضربها الصحابة أدباً مع رسول الله، حتى تتأدب أنت مع رسول الله، وإذا قيل لك: قال رسول الله! فما عليك إلا أن تطأطئ رأسك متأدباً مع سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ولا تعارض بعقلك بحال من الأحوال، بل تقول: سمعت وأطعت، وتتبنى قول الشافعي: آمنت بالله، وبما جاء عن الله، على مراد الله، وآمنت برسول الله، وبما جاء عن رسول الله، على مراد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد ضرب لنا الصحابة أروع الأمثلة في الأدب مع رسول الله، فقبل غزوة الحديبية عندما ذهب النبي صلى الله عليه وسلم، قبل أن يأتي عروة بن مسعود الثقفي، لما بعث النبي صلى الله عليه وسلم عثمان ليحاور القوم أشيع بينهم أنه قد قتل، فقام النبي صلى الله عليه وسلم تحت الشجرة فبايع على الموت، فأخذ يبايع على الموت والتف الصحابة حول رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقام معقل بن يسار -انظروا إلى الأدب- وأخذ غصن الشجرة فجعلها فوق النبي صلى الله عليه وسلم ليستظل به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يكل ولا يمل أدباً مع رسول الله.

وهذا الذي فعله أبو بكر حتى يعلم الناس أن هذا هو رسول الله، وأن هذا هو صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكانوا يتأدبون مع رسول الله أعظم الأدب، فعندما كان في صلح الحديبية قام عروة ينظر في الناس، وينظر في رسول الله، فيجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم ويأخذ عروة بلحية النبي صلى الله عليه وسلم فيلعب بها، وهو يريد أن يترفق ويتلطف مع رسول الله، لعله يستجيب لقوله، ويقول: يا محمد! أرأيت أحداً قبلك عصف بقومه، أرأيت أحداً قتل أباه، أو قتل أخاه، أو قتل ابنه مثلما تفعل أنت، أرأيت إن كانت الأخرى، والله إني ما أرى حولك إلا أوباشاً من الناس يفرون عنك عند اللقاء، فقام المغيرة -وكان ابن أخته- فأخذ غمد السيف، وضرب بها على يديه أدباً مع رسول الله، وهو يقول له: انزع يدك عن لحية رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأبو بكر لما سمع عروة وهو يقول: (أوباشاً من الناس) يعني: أخلاطاً سيفرون عنك، قال الكلمة الفظيعة التي لم ترد على لسان أبي بكر بحال من الأحوال إلا في هذا المحل أدباً وتعظيماً لمكانة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الصحابة، قال: نحن نفر عن رسول الله! امصص بظر اللات! وأقر النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، قال تعالى: {لا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ} [النساء:148]، وهذه مظلمة عظيمة جداً لأصحاب رسول الله، قال: نحن نفر عن رسول الله! امصص بظر اللات! فـ عروة يقول من القائل بهذا القول؟! قالوا: أبو بكر، فقال: لولا يد لك عندي -يعني: نعمة وكرامة لك عندي- لأجبتك.

فالشاهد: قال عروة بعدما رجع إلى قريش، قال: أذعنوا لهذا الرجل، والله إني قد وفدت على كسرى وقيصر والنجاشي وما رأيت أحداً يعظمه أصحابه كما يعظم أصحاب محمد محمداً، والله -هنا الشاهد- ما تنخم نخامة فوقعت في يد أحدهم إلا دلك بها جسده ووجهه، ووالله ما توضأ إلا ورأيتهم يتقاتلون على وضوئه؛ تعظيما وأدباً وتوقيراً لرسول الله صلى الله عليه وسلم وجنابه، ووالله ما رأيته يأمر بالأمر إلا وهم يبتدرون لا يتقاعسون.

يبتدرون لامتثال أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم توقيراً وتعظيماً وأدباً لمكانة النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا عظم حق رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة.

فكل واحد منا يسأل نفسه، من عظم رسول الله حق تعظيمه؟ هل تأدب مع رسول الله حق الأدب؟ هل وقر رسول الله حق توقيره؟ والتوقير كما قلت في زماننا يكون مع سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فما نرى الآن إلا أوباشاً من الناس يقدمون قول الفقيه وقول الشيخ على قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، يربطون الناس بالأشياخ الأحياء ولا يربطونهم بالشريعة الغراء التي تحيا إلى أبد الدهر، حتى يأذن الله جل وعلا بخراب الدنيا.

هل وقرنا سنة النبي صلى الله عليه وسلم؟ هل قدمنا قول النبي صلى الله عليه وسلم على قول أي أحد؟ هل عملنا بما قاله ابن القيم وما أروع ما قاله: العلم قال الله قال رسوله قال الصحابة ليس بالتمويه ما العلم نصبك للخلاف سفاهة بين الرسول وبين قول فقيه فإذا قلت لأي إنسان منهم: قال رسول الله! يقول لك قال الشيخ الفلاني كذا! وكأنه يعظم الشيخ ولا يعظم سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ويوقر الشيخ ولا يوقر شريعة النبي صلى الله عليه وسلم، فما هذا التيه والتخبط الذي عشناه؟ ما هذا إلا سوء أدب مع سنة النبي صلى الله عليه وسلم.
রাসূলুল্লাহর প্রতি শিষ্টাচার

শিষ্টাচার বা আদবের সবচেয়ে চমৎকার উদাহরণগুলো সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহর প্রতি প্রদর্শনের মাধ্যমেই স্থাপন করেছেন, যাতে আপনিও রাসূলুল্লাহর প্রতি আদব রক্ষা করতে পারেন। যখন আপনাকে বলা হয়: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি আদব প্রদর্শন করে আপনার মাথা নত করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। কোনো অবস্থাতেই নিজের বিবেক দিয়ে এর বিরোধিতা করবেন না, বরং বলবেন: 'শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।' আপনি ইমাম শাফিয়ীর সেই নীতিটি গ্রহণ করবেন: "আমি আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান আনলাম; আর আমি রাসূলুল্লাহর ওপর এবং রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর রাসূলুল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান আনলাম।"

সাহাবীগণ আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর প্রতি শিষ্টাচারের চমৎকার সব উদাহরণ পেশ করেছেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সেখানে গেলেন, তখন উরওয়া ইবনে মাসউদ আস-সাকাফি আসার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমানকে কুরাইশদের সাথে আলোচনার জন্য পাঠালেন। তখন তাদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর ওপর বাইয়াত (শপথ) গ্রহণ করতে শুরু করলেন। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিরে ধরলেন। মাকাল ইবনে ইয়াসার—তাঁর আদব দেখুন—একটি গাছের ডাল ধরলেন এবং রাসূলুল্লাহর ওপর তা উঁচিয়ে ধরলেন যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছায়া পান। রাসূলুল্লাহর প্রতি শিষ্টাচারবশত তিনি এতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি বা বিরক্তি অনুভব করেননি।

আবু বকরও তাই করেছিলেন যাতে মানুষ জানতে পারে যে ইনিই আল্লাহর রাসূল এবং আবু বকর হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী। তাঁরা রাসূলুল্লাহর প্রতি সর্বোচ্চ শিষ্টাচার প্রদর্শন করতেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় উরওয়া লোকদের এবং রাসূলুল্লাহর গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন আর উরওয়া বারবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি ধরে নাড়াচাড়া করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠতা ও নম্রতা দেখাতে চাচ্ছিলেন যাতে তিনি তার কথা মেনে নেন। তিনি বলছিলেন: "হে মুহাম্মদ! আপনি কি আপনার আগে এমন কাউকে দেখেছেন যে নিজ গোত্রকে ধ্বংস করেছে? আপনি কি দেখেছেন কেউ আপনার মতো নিজের বাবা, ভাই বা সন্তানকে হত্যা করেছে? আর যদি পরিস্থিতি ভিন্ন হয়, তবে আল্লাহর কসম, আমি আপনার চারপাশে কিছু নীচ ও অখ্যাত লোক ছাড়া কাউকে দেখছি না যারা যুদ্ধের সময় আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে।" তখন মুগীরা—যিনি ছিলেন উরওয়ার ভাগ্নে—তাঁর তরবারির খাপ দিয়ে উরওয়ার হাতে আঘাত করলেন রাসূলুল্লাহর প্রতি আদব প্রদর্শনার্থে। তিনি তাকে বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি থেকে তোমার হাত সরাও।" আর আবু বকর যখন উরওয়াকে বলতে শুনলেন: "নীচ ও অখ্যাত লোক যারা পালিয়ে যাবে", তখন তিনি এমন এক কঠোর শব্দ উচ্চারণ করলেন যা রাসূলুল্লাহর মর্যাদার প্রতি আদব ও সম্মানের খাতিরে ছাড়া অন্য কোনো অবস্থাতেই আবু বকরের মুখ থেকে বের হতো না। তিনি বললেন: "আমরা রাসূলুল্লাহকে ছেড়ে পালিয়ে যাব! লাত প্রতিমার গোপনাঙ্গ চোষো!" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি সমর্থন করলেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মন্দ কথা উচ্চস্বরে বলা আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন" [আন-নিসা: ১৪৮]। রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল অপবাদ ও জুলুম। তিনি বললেন: "আমরা রাসূলুল্লাহকে ছেড়ে পালিয়ে যাব! লাত প্রতিমার গোপনাঙ্গ চোষো!" উরওয়া জিজ্ঞেস করলেন, "এ কথা কে বলেছে?" তারা বললেন: "আবু বকর।" তখন তিনি বললেন: "তোমার একটা অনুগ্রহ যদি আমার ওপর না থাকত, তবে আমি অবশ্যই এর জবাব দিতাম।"

মূল বিষয় হলো: কুরাইশদের কাছে ফিরে গিয়ে উরওয়া বললেন: "তোমরা এই লোকটির আনুগত্য করো। আল্লাহর কসম, আমি কিসরা (পারস্য সম্রাট), কায়সার (রোম সম্রাট) এবং নাজাশির (আবিসিনিয়ার রাজা) দরবারে প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, কিন্তু মুহাম্মদের সাহাবীগণ তাকে যেভাবে সম্মান করে, আমি আর কোনো রাজাকে তার অনুসারীদের নিকট সেভাবে সম্মানিত হতে দেখিনি। আল্লাহর কসম—এটাই মূল লক্ষ্য—তিনি যখনই কফ বা থুথু ফেলতেন, তা তাদের কারো না কারো হাতে পড়ত এবং তারা তা দিয়ে তাদের শরীর ও মুখ মলে ফেলতেন। আল্লাহর কসম, তিনি যখনই ওযু করতেন, আমি দেখতাম তারা তাঁর ওযুর ব্যবহৃত পানির জন্য মারামারি করার উপক্রম করত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সুমহান মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচারবশত। আল্লাহর কসম, আমি যখনই তাঁকে কোনো আদেশ করতে দেখেছি, তখনই দেখেছি তারা তা পালনে প্রতিযোগিতা করত, কেউ পিছিয়ে থাকত না।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও আদবের খাতিরে তারা তাঁর আদেশ পালনের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। এটিই এই উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের বিশালতা।

সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজেকে প্রশ্ন করা—কে রাসূলুল্লাহকে যথাযথভাবে সম্মান করেছে? কে রাসূলুল্লাহর প্রতি যথাযথ শিষ্টাচার বজায় রেখেছে? কে রাসূলুল্লাহর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে? আর যেমনটি বলেছি, আমাদের যুগে শ্রদ্ধা প্রদর্শন হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি।

কিন্তু আমরা এখন এমন কিছু মূর্খ ও অখ্যাত লোকদের দেখতে পাচ্ছি যারা ফকীহ ও শায়খের কথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা মানুষকে জীবিত শায়খদের সাথে বেঁধে ফেলছে, কিন্তু সেই উজ্জ্বল শরীয়তের সাথে যুক্ত করছে না যা কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ দুনিয়া ধ্বংসের অনুমতি দেবেন।

আমরা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে যথাযথ সম্মান করেছি? আমরা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাকে অন্য যে কারো কথার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছি? আমরা কি ইবনুল কাইয়্যিম যা বলেছেন সে অনুযায়ী আমল করেছি? তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন: "প্রকৃত জ্ঞান হলো আল্লাহ যা বলেছেন, রাসূল যা বলেছেন এবং সাহাবীগণ যা বলেছেন; এর মাঝে কোনো বিভ্রান্তি নেই। প্রকৃত জ্ঞান মানে এই নয় যে, আপনি মূর্খতাবশত রাসূলের বাণীর বিপরীতে কোনো ফকীহর মতামতের দ্বন্দ্ব তৈরি করবেন।" সুতরাং তাদের কাউকে যখন বলা হয়: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন!", তখন সে আপনাকে বলে, "অমুক শায়খ তো এমন বলেছেন!" মনে হয় যেন সে শায়খকে সম্মান করছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে সম্মান করছে না; সে শায়খকে শ্রদ্ধা করছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তকে শ্রদ্ধা করছে না। এই বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা কেন যাতে আমরা বাস করছি? এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি চরম বেয়াদবি ছাড়া আর কিছুই নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وجوب التحاكم إلى رسول الله في حياته وإلى سنته بعد وفاته

ومن حق النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة: اتباع النبي صلى الله عليه وسلم وتعظيم السنة والتمسك بها، والعمل بها، والتحاكم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، واعلم أنك كلما تنازعت في شيء فلا يحل لك هذا الشيء إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء:59]، ولم يجعل طاعة أولي الأمر مستقلة بل تابعة لطاعة رسول الله وطاعة رب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [آل عمران:132]، وانظر ودقق النظر وتدبر في كتاب الله جل في علاه، قال: (لعلكم ترحمون) قال ابن عباس: (لعل) في القرآن قاطعة، يعني: لا بد أن تتحقق، فهي ليست للرجاء، بل هي متحققة، والله جل وعلا يبين لكم أن تحقق الرحمات يكون باتباع رسول الله، قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ)) [آل عمران:132] يعني: إذا أطعتم الرسول صلى الله عليه وسلم سترحمون.

وأيضاً قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} [محمد:33]، يعني: ستبطلون أعمالكم إن لم تتبعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأناط التسديد والتوفيق والرحمات بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} [محمد:33] يعني: بعدم اتباع النبي صلى الله عليه وسلم، وبمخالفة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقال الله تعالى مبيناً أن طاعة الرسول هي طاعة الله {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء:80].

وأيضاً يقول الله جل في علاه مبيناً عظم مكانة اتباع النبي صلى الله عليه وسلم من هذا الدين، وقد زعم قوم أنهم أحبوا الله فاختبرهم الله بآية المحنة، كما قال الحسن: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي} [آل عمران:31].

فعلامة محبة الله جل في علاه: اتباع السنة، فإذا رأيت الرجل يذكرك بربك، ويزعم أنه يعمل لله، ولم يتبع النبي صلى الله عليه وسلم، فاعلم أنه كاذب -ليس مطلقاً- في بعض أقواله، كيف والله جل في علاه قد أناط علامة المحبة باتباع رسول الله؟ (قل إن كنتم) شرطية قاطعة {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران:31]، وهذه بالمفهوم: إن لم تتبع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلست محباً لله جل في علاه، وهذه الآية قاطعة للظهور، قاصمة لكل رجل يدعي محبة الله أو يدعي التدين وهو لا يتبع رسول الله، بل يعانده صلى الله صلى الله عليه وسلم ويحادده صلى الله عليه وسلم، وكثير من أهل التصوف الآن يزعمون محبة آل البيت، ويتغنون بمحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم يخالفون النبي صلى الله عليه وسلم في أصل الأصول وهو أهم ما يكون في هذه الدنيا وفي هذه الشريعة ألا وهو صحة العقيدة في الله جل في علاه: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران:31].

بل أناط الله جل في علاه الإيمان بالتحاكم لرسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ} [الأحزاب:36]، فنفى الإيمان، فلا يمكن أن يكون مؤمناً من لم يعمل بهذه الآية {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36]، فإذا قيل لك: قال رسول الله في المسألة فاضرب قول أي أحد عرض الحائط، وخذ بقول النبي صلى الله عليه وسلم: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36].

قال تعالى: ((فَلا وَرَبِّكَ))، وهذه الآية من أقوى ما يكون، وهي زاجر ورادع شديد لكل من لا يتحاكم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أو يتحاكم إلى كتاب الله جل في علاه: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65]، هذه الآية من أقوى الآيات في الحث على الاتباع والتحاكم لله ولرسوله، وفيها أمور ثلاثة: قال الله تعالى: ((فَلا وَرَبِّكَ))، وهو قسم فيه مؤكدات ثلاثة ((فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ)) حتى: جعلها للغاية، فالتحكيم ليس فقط هو الذي يدل على الإيمان، بل لابد من أمور أخرى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65].

 

‌‌السؤال

لقد أقسم الله بربوبيته على نفي الإيمان عمن لم يتحاكم إلى شرعه فهل لا يؤمن حتى يحكم الشرع لله أم لا يؤمن حتى تتوفر أمور أخرى؟

 

‌‌الجواب

هناك قاعدة قعدها شيخ الإسلام ابن تيمية: أن الحكم إذا أنيط بعلل أو بشروط لا يكون متحققاً إلا بتوفر الشروط، ولو غاب شرط واحد لا يتحقق الحكم، إذاً: قول الله تعالى: (لا يؤمنون) نفى الإيمان، ((حَتَّى يُحَكِّمُوكَ)) هذا أول شرط حتى يكون الإيمان متواجداً في القلب: (يحكموك) فلا بد أن تتحاكم لله ولرسوله، قال الله تعالى: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى:10] يعني: إلى كتابه وإذا قال (إلى الله) يتضمن ذلك إلى الرسول لأنه مبلغ عن الله، وإذا قلنا: (إلى الله) يعني: إلى كتاب الله، وكتاب الله قد أمرنا باتباع النبي صلى الله عليه وسلم: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر:7].

قال: {فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} [النساء:65]، صغير أو كبير، دقيق أو جليل، وحتى في البيوت نحن نقول للمرأة مع زوجها: إن أردت الخير فاجعلي الشرع حاكماً بينك وبين زوجك، {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء:59]، {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى:10].

فلنعم البيت الذي يقام على الشرع! ولنعم البيت الذي يتحاكم فيه الزوج مع الزوجة بشرع الله جل في علاه، ولنعم التربية إن كانت على سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وإن كان الخلل موجوداً، لكن رأس الأمر عند الرجل والمرأة والأولاد والأصدقاء والإخوان هو: أن مردنا إلى الله ورسوله فهو أهم شيء، أما الآن فالمرد إلى الأهواء أو الخبراء، والصحيح: أن المرد لابد أن يكون لله وللرسول.

قال تعالى: {حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} [النساء:65].

هذا الشرط الثاني.

قال: (ثم لا يجدوا في أنفسهم) فلو وجد امرؤ وهو يتحاكم لله ولرسوله الحرج، نقول له: الإيمان قد انتفى من صدرك.

فالشرط الثالث هو: التسليم العام، فلابد بعد أن تحركم بشرع الله ألا لا تجد في صدرك حرجاً، وأن تسلم تسليماً كاملاً.

وما أروع هذا المثل وإن كان الحديث ضعيف لكن نستأنس به: فقد اختصم رجل يهودي مع منافق، فقال له اليهودي: تعال معي يفصل بيننا رسول الله، فذهبا إلى رسول الله، فحكم لليهودي؛ لأن الحق كان مع اليهودي، فلم يرضَ المنافق بحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقال: لا أرضى! قال اليهودي: ما ترتضي بحكم رسول الله؟ قال المنافق: لا، إلا أن أذهب إلى أبي بكر، فذهبا إلى أبي بكر فحكم فوافق حكمه حكم النبي صلى الله عليه وسلم، فحكم لليهودي فقال: والله لا أرضى، قال: ولا ترضى بـ أبي بكر؟ قال: ولا أرضى إلا أن نذهب إلى عمر بن الخطاب، فذهبا إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه فقصا عليه القصة، فقال: عمر أو ترضى بحكمي؟ قال: أرضى بحكمك؟ فدخل فاستل سيفه ففصل عنقه من جسده قال: هذا حكم الله! قال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء:59]، وقال: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى:10]، ولو صح هذا الحديث لقلت: قد اجتهد عمر، وعلم أن من لم يرضَ بحكم رسول الله فهو كافر، لكن لابد أن تقام الحجة وترفع الشبهة، ويبدو أن عمر كان يرى أن هذا الأمر معلوم من الدين بالضرورة، قال الله تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ} [النساء:65].
রাসূলুল্লাহর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুন্নাহর কাছে বিচারপ্রার্থনা করার আবশ্যকতা

এই উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম অধিকার হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা, সুন্নাহকে সম্মান করা ও তাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা, সে অনুযায়ী আমল করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিচারপ্রার্থনা করা। জেনে রাখুন, আপনি যখনই কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হবেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা ছাড়া আপনার জন্য সেই বিষয়টি বৈধ হবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা কর্তৃত্বশীল তাদেরও} [আন-নিসা: ৫৯]। এখানে তিনি কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্যকে স্বতন্ত্র করেননি, বরং একে রাসূলের আনুগত্য এবং রাসূলের রবের আনুগত্যের অনুগামী করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} [আল-ইমরান: ১৩২]। মহান আল্লাহর কিতাবের দিকে লক্ষ্য করুন, সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং চিন্তা করুন। তিনি বলেছেন: (যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কুরআনে ‘লাআল্লাহ’ (যাতে/সম্ভবত) শব্দটি সুনিশ্চিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে; এটি কেবল আশার জন্য নয়, বরং তা সুনিশ্চিত। মহান আল্লাহ আপনাদের নিকট স্পষ্ট করছেন যে, রহমত প্রাপ্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} [আল-ইমরান: ১৩২], অর্থাৎ: যদি তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো তবে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না} [মুহাম্মদ: ৩৩]। অর্থাৎ: তোমরা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ না করো তবে তোমাদের আমলসমূহ বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং তিনি সঠিক পথ প্রাপ্তি, তৌফিক এবং রহমতকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না} [মুহাম্মদ: ৩৩], অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ না করার মাধ্যমে এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করার মাধ্যমে (আমল বিনষ্ট করো না)।

আল্লাহ তাআলা এটি স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন যে, রাসূলের আনুগত্যই মূলত আল্লাহর আনুগত্য: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]।

মহান আল্লাহ এই দ্বীনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের সুউচ্চ মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করেছেন। একদল লোক দাবি করেছিল যে তারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন আল্লাহ তাদের ‘পরীক্ষার আয়াত’ (আয়াতুল মিহনা) দিয়ে পরীক্ষা করলেন, যেমনটি হাসান বসরী (রহ.) বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো} [আল-ইমরান: ৩১]।

সুতরাং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হলো সুন্নাহর অনুসরণ। তাই আপনি যখন এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখবেন যে আপনাকে রবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দাবি করে যে সে আল্লাহর জন্য কাজ করছে, কিন্তু সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে না, তবে জেনে রাখুন যে সে মিথ্যাবাদী—পুরোপুরি না হলেও—তার কিছু কথায় সে অবশ্যই মিথ্যাবাদী। কারণ মহান আল্লাহ ভালোবাসার নিদর্শনকে রাসূলের অনুসরণের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। {বলুন, যদি তোমরা}—এটি একটি চূড়ান্ত শর্তবাচক বাক্য—{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন} [আল-ইমরান: ৩১]। এর বিপরীত অর্থ হলো: আপনি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ না করেন, তবে আপনি মহান আল্লাহকে ভালোবাসেন না। এই আয়াতটি অত্যন্ত অকাট্য এবং এটি সেই প্রত্যেক ব্যক্তির দম্ভ চূর্ণকারী যে আল্লাহর ভালোবাসা বা ধার্মিকতার দাবি করে অথচ সে রাসূলের অনুসরণ করে না; বরং তাঁর বিরোধিতা করে এবং তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে। বর্তমানে অনেক সুফিপন্থী আহলে বাইত বা নবীবংশের প্রতি ভালোবাসার দাবি করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমের গীত গায়, অথচ তারা মৌলিক বিষয়ে (আসলে উসুল) নবীর বিরোধিতা করে। আর এই দুনিয়া ও শরীয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহর প্রতি সঠিক আকিদা বা বিশ্বাস পোষণ করা: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন} [আল-ইমরান: ৩১]।

বরং মহান আল্লাহ ঈমানকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিচারপ্রার্থনার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সংগত নয়...} [আল-আহজাব: ৩৬]। এখানে ঈমানকে নাকচ করা হয়েছে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই আয়াত অনুযায়ী আমল করবে না সে মুমিন হতে পারে না। {আর কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সংগত নয় যে, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দেন, তখন সেই বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ থাকবে} [আল-আহজাব: ৩৬]। সুতরাং যখন আপনাকে বলা হবে: এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেছেন, তখন আপনি অন্য যে কারো কথাকে দেওয়ালে ছুড়ে মারুন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা গ্রহণ করুন: {আর কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সংগত নয় যে, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দেন, তখন সেই বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ থাকবে} [আল-আহজাব: ৩৬]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: ((অতঃপর আপনার রবের কসম)), আর এই আয়াতটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী ও বাধা যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বা মহান আল্লাহর কিতাবের কাছে বিচারপ্রার্থনা করে না: {অতএব আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]। এই আয়াতটি আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ ও বিচারপ্রার্থনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী আয়াত। এতে তিনটি বিষয় রয়েছে: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ((অতঃপর আপনার রবের কসম)), এটি একটি শপথ যাতে তিনটি গুরুত্বারোপকারী উপাদান রয়েছে। ((তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে))। এখানে ‘হাত্তা’ (যতক্ষণ না) শব্দটিকে চূড়ান্ত সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং কেবল বিচারক নিয়োগ করাই ঈমানের একমাত্র প্রমাণ নয়, বরং আরও কিছু বিষয় প্রয়োজন: {অতএব আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]।

 

‌‌প্রশ্ন

আল্লাহ তাঁর রুবুবিয়াতের কসম খেয়ে সেই ব্যক্তির ঈমানকে নাকচ করেছেন যে তাঁর শরীয়তের কাছে বিচারপ্রার্থনা করে না; তাহলে কি সে ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য শরীয়তকে বিচারক মানবে, নাকি অন্য কোনো বিষয় পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সে মুমিন হবে না?

 

‌‌উত্তর

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একটি মূলনীতি বর্ণনা করেছেন: কোনো হুকুম বা বিধান যদি কতগুলো কারণ বা শর্তের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে সেই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই বিধানটি কার্যকর হয় না। যদি একটি শর্তও অনুপস্থিত থাকে, তবে বিধানটি বাস্তবায়িত হয় না। সুতরাং আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা মুমিন হবে না)—এখানে ঈমানকে নাকচ করা হয়েছে। ((যতক্ষণ না তারা আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে))—এটি অন্তরে ঈমান বিদ্যমান থাকার প্রথম শর্ত: (আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে)। অর্থাৎ অবশ্যই আপনাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট বিচারপ্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই নিকট} [আশ-শূরা: ১০]। অর্থাৎ তাঁর কিতাবের নিকট। আর যখন বলা হয় ‘আল্লাহর নিকট’, তখন তার মধ্যে রাসূলও অন্তর্ভুক্ত হন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেন। আর আমরা যখন বলি: ‘আল্লাহর নিকট’, তার অর্থ হলো আল্লাহর কিতাবের নিকট; আর আল্লাহর কিতাব আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]।

তিনি বলেছেন: {তাদের বিবাদমান বিষয়ে} [আন-নিসা: ৬৫], তা ছোট হোক বা বড়, সূক্ষ্ম হোক বা গুরুতর। এমনকি ঘরের ভেতরেও আমরা কোনো নারীকে তার স্বামীর বিষয়ে বলি: যদি তুমি কল্যাণ চাও তবে তোমার ও তোমার স্বামীর মাঝে শরীয়তকে বিচারক বানাও। {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯]। {আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই নিকট} [আশ-শূরা: ১০]।

কতই না উত্তম সেই ঘর যা শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত! কতই না উত্তম সেই ঘর যেখানে স্বামী-স্ত্রী মহান আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী একে অপরের বিচারপ্রার্থনা করে! আর কতই না উত্তম সেই লালন-পালন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী হয়! যদিও কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে, কিন্তু স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু এবং ভাইদের মূল বিষয়টি হওয়া উচিত এই যে: আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল হলো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল; আর এটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ এখন মানুষের প্রত্যাবর্তনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবৃত্তি অথবা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ; কিন্তু সঠিক হলো—প্রত্যাবর্তন অবশ্যই আল্লাহ ও রাসূলের নিকট হতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে} [আন-নিসা: ৬৫]।

এটি ছিল দ্বিতীয় শর্ত।

তিনি বলেছেন: (অতঃপর তারা তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে)। সুতরাং কোনো ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট বিচারপ্রার্থনা করার সময় যদি অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা বা দ্বিধা অনুভব করে, তবে আমরা তাকে বলব: তোমার অন্তর থেকে ঈমান অপসৃত হয়েছে।

তৃতীয় শর্তটি হলো: পূর্ণ আত্মসমর্পণ। আল্লাহর শরীয়তকে বিচারক মানার পর অবশ্যই আপনার অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা থাকা চলবে না এবং আপনাকে তা পূর্ণরূপে মেনে নিতে হবে।

এই দৃষ্টান্তটি কতই না চমৎকার, যদিও হাদিসটি দুর্বল কিন্তু আমরা এটি আলোচনার খাতিরে ব্যবহার করতে পারি: একজন ইহুদি ও একজন মুনাফিকের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল। ইহুদি ব্যক্তিটি বলল: আমার সাথে এসো, রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। তারা রাসূলুল্লাহর কাছে গেল এবং তিনি ইহুদির পক্ষে ফয়সালা দিলেন; কারণ সত্য ইহুদির পক্ষেই ছিল। কিন্তু মুনাফিক ব্যক্তিটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালায় সন্তুষ্ট হলো না এবং বলল: আমি এতে সন্তুষ্ট নই! ইহুদি বলল: তুমি রাসূলুল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট নও? মুনাফিক বলল: না, আমি আবু বকরের কাছে যাব। তারা আবু বকরের কাছে গেল এবং তিনি যে ফয়সালা দিলেন তা নবীর ফয়সালার মতোই হলো। তিনি ইহুদির পক্ষে ফয়সালা দিলে মুনাফিক বলল: আল্লাহর কসম, আমি এতেও সন্তুষ্ট নই। আবু বকর বললেন: তুমি আমার ফয়সালাতেও সন্তুষ্ট নও? সে বলল: না, আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে না যাওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হব না। তারা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করল। উমর বললেন: তুমি কি আমার ফয়সালায় সন্তুষ্ট হবে? সে বলল: হ্যাঁ, আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট হব। তখন উমর ভেতরে গিয়ে তলোয়ার নিয়ে বের হলেন এবং তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। তিনি বললেন: এটাই আল্লাহর ফয়সালা! আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯]। এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই নিকট} [আশ-শূরা: ১০]। এই হাদিসটি যদি সহিহ হতো তবে আমি বলতাম: উমর (রা.) ইজতিহাদ করেছিলেন এবং তিনি জানতেন যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয় না সে কাফির। তবে বিচার করার আগে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সংশয় নিরসন করা আবশ্যক। মনে হয় উমরের নিকট এই বিষয়টি দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বা ‘জরুরিয়াতে দ্বীন’ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে} [আন-নিসা: ৬৫]।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌صور من تحاكم الصحابة لرسول الله

وما أروع تمسك صحابة رسول الله بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، وتقديم قول رسول الله على كل شيء، وتقديم فعل رسول الله وإقراره على كل رأي وهوى! إن الله أوحى إلى نبيه أن يبلغ الأمة بأسرها أن تعض على سنته بالنواجذ، فقال كما في الصحيحين من حديث أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قالوا: يا رسول الله! ومن يأبى؟! -أي اندهشوا من هذا الذي يأبى أن يدخل الجنة- قال: من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى).

وقال صلى الله عليه وسلم: (من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله)، بل ارتقى إلى قول أكثر من ذلك، قال: (من أطاع أميري فقد أطاعني)، ومن أطاع رسول الله فقد أطاع الله جل في علاه، (ومن عصى أميري فقد عصاني)، ومن عصى رسول الله فقد عصى الله جل في علاه.

فهو يؤسس أصلاً لا بد من العمل به.

وأيضاً صح عنه صلى الله عليه وسلم في مسند أحمد ورواية في سنن أبي داود: قوله (لا ألفين أحدكم على أريكته شبعان، يأتيه الأمر من أمري فيقول: ننظر في كتاب الله!)، فلا يحق له أن يفعل ذلك، فما علمنا كيفية الظهر والعصر والمغرب والعشاء والفجر إلا من سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وفي رواية الحاكم قال: (لا ألفين أحدكم شبعان على أريكته يأتيه الأمر من أمري فيقول: ننظر في كتاب الله، فما وجدناه حلالاً أحللناه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ألا وإني أوتيت القرآن ومثله معه، ألا وإن ما حرم رسول الله كما حرم الله، وما أحل رسول الله كما أحل الله).

وفي المسند من حديث العرباض بن سارية قال: (وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة بليغة، فقلنا: يا رسول الله! كأنها موعظة مودع فأوصنا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة)، وفي رواية للنسائي قال: (وكل بدعة في النار).

لذلك وعى الصحابة الدرس عن رسول الله، وتمسكوا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم فقادوا وسادوا، وكانت لهم الريادة المطلقة؛ لأنهم حكَّموا رسول الله، وقول رسول الله، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في كل دقيق وجليل، في كل صغير وكبير.
রাসূলুল্লাহর বিচারে সাহাবীগণের আত্মসমর্পণের কিছু চিত্র

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতি সাহাবীগণের অবিচল থাকা, প্রতিটি বিষয়ের ওপর রাসূলুল্লাহর বাণীকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যেকোনো মত ও প্রবৃত্তির ওপর রাসূলুল্লাহর আমল ও মৌন সম্মতিকে প্রধান্য দেওয়া কতই না চমৎকার! আল্লাহ তাঁর নবীকে ওহী পাঠিয়েছেন যেন তিনি সমগ্র উম্মতকে এই সংবাদ পৌঁছে দেন যে, তারা যেন তাঁর সুন্নাহকে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে। তাই তিনি বলেছেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে?! -অর্থাৎ তারা এমন ব্যক্তির কথা শুনে আশ্চর্যান্বিত হলেন যে জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে- তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে মূলত অস্বীকার করল)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো)। বরং তিনি এর চেয়েও উচ্চতর কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন: (যে আমার নিযুক্ত আমিরের আনুগত্য করল সে আমারই আনুগত্য করল), আর যে রাসূলুল্লাহর আনুগত্য করল সে মহান আল্লাহরই আনুগত্য করল, (আর যে আমার আমিরের অবাধ্য হলো সে আমারই অবাধ্য হলো), আর যে রাসূলুল্লাহর অবাধ্য হলো সে মহান আল্লাহরই অবাধ্য হলো।

অতএব, তিনি একটি মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করছেন যার ওপর আমল করা অপরিহার্য।

এ ছাড়া মুসনাদে আহমাদ এবং সুনানে আবু দাউদের একটি বর্ণনায় তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে: তিনি বলেছেন: (আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে উদরপূর্তি করে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় না পাই যে, তার কাছে আমার নির্দেশসমূহের মধ্য হতে কোনো নির্দেশ আসলো আর সে বলল: আমরা আল্লাহর কিতাবে দেখব!), তার এমনটি করার কোনো অধিকার নেই। কারণ আমরা যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাতের নিয়মাবলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকেই জেনেছি। হাকেমের বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: (আমি যেন তোমাদের কাউকে উদরপূর্তি করে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসলো আর সে বলল: আমরা আল্লাহর কিতাবে দেখব, যা আমরা তাতে হালাল পাব তা হালাল মানব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: জেনে রেখো, আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ আরেকটি বস্তু দেওয়া হয়েছে। জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই মতো, আর রাসূলুল্লাহ যা হালাল করেছেন তা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তারই মতো)।

মুসনাদে আহমাদে ইরবায ইবনে সারিয়াহ বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী উপদেশ, তাই আমাদের কিছু অসিয়ত করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো। তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা), নাসাঈর এক বর্ণনায় রয়েছে: (এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম)।

এই কারণেই সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে এই শিক্ষাটি অনুধাবন করেছিলেন এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন, যার ফলে তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তাঁদের জন্যই ছিল নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব; কারণ তাঁরা প্রতিটি সূক্ষ্ম ও মহৎ এবং প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ে রাসূলুল্লাহকে, রাসূলুল্লাহর বাণীকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে বিচারক হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أبو بكر الصديق

هذا أبو بكر رضي الله عنه وأرضاه عندما أراد أن يقاتل مانعي الزكاة عقد مجلس الشورى، فقام عمر بن الخطاب، والذي لا بد أن يناصره قام مخالفاً له، وأعلن المخالفة الصريحة لـ أبي بكر، فقال: كيف تقاتل قوماً قالوا: لا إله إلا الله، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله -وقد قالوها-)؟ وهنا أبو بكر رضي الله عنه وأرضاه يعلن السنة النبوية، قال: (والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة؛ فقد سوى الله بينهما، ولذلك أيد قول أبي بكر أبو هريرة رضي الله عنه برواية عن النبي صلى الله عليه وسلم، فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة؛ فإن فعلوا ذلك -من إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة- عصموا مني دماءهم وأموالهم)، ومفهوم المخالفة: أنهم إن لم يفعلوا كل ما ذكر فإنهم لن يكونوا معصومي الدم ولا المال؛ ولذلك قاتلهم أبو بكر، وقال عمر بن الخطاب: (والله لقد وجدت أن الله جل في علاه شرح صدر أبي بكر للقتال فوافقت على ذلك).

أيضاً: فرسول الله صلى الله عليه وسلم جيَّش الجيوش وجعل عليها أسامة ليرد على الروم، بل وجعل أسامة -انتصاراً لأبيه زيد رضي الله عنه وأرضاه- أميراً على هذا الجيش وهو لم يبلغ العشرين من عمره، فقام عمر بن الخطاب وقام المهاجرون والأنصار يقولون لـ عمر: كيف يؤمر هذا الصبي على هذا الجيش العرمرم، فقال عمر نكلم أبا بكر ألا ينفذ جيش أسامة، فقال أبو بكر: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد رفع لواء الجيش، فوالله! لو جرت الكلاب بأرجل أمهات المؤمنين لأنفذت جيش أسامة؛ وهذا لأنه يرى الخير كل الخير فيما رفعه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويرى الخير كل الخير في العض بالنواجذ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وجاءت الجدة تسأل أبا بكر رضي الله عنه وأرضاه عن ميراثها، فقال: (لا أعرف لك في كتاب الله شيئاً، ولا أعرف في سنة النبي صلى الله عليه وسلم شيئاً، لكن أسأل أصحاب رسول الله، فإن كان قد أعطاك رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً أعطيناك إياه).

وهذا قمه الاتباع والتحري لسنة النبي صلى الله عليه وسلم، فقد جهل هذه السنة، لكنه أراد أن يتعلمها من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعقد مجلس الشورى، فشهد المغيرة بن شعبة ومحمد بن مسلمة أن رسول الله أعطى الجدة السدس، فأعطاها أبو بكر السدس، تحرياً لسنة النبي صلى الله عليه وسلم.
আবু বকর আস-সিদ্দিক

ইনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যখন তিনি যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তিনি মজলিসে শূরা আহ্বান করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে গেলেন—যাঁর তাঁকে সমর্থন করা অবধারিত ছিল—কিন্তু তিনি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলেন এবং আবু বকরের নিকট সুস্পষ্ট ভিন্নমত প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন: "আপনি কীভাবে এমন এক কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন যারা বলেছে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আর তারা তা বলেছে)?" এখানে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নববী সুন্নাহর ঘোষণা দিলেন এবং বললেন: (আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে; কেননা আল্লাহ এ দুটির মধ্যে সমতা বিধান করেছেন)। এ কারণেই আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসের মাধ্যমে আবু বকরের অভিমতকে সমর্থন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে। যদি তারা এটি করে—অর্থাৎ সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা—তবে তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও জানমাল নিরাপদ করে নিল)। এর বিপরীত অর্থ হলো: যদি তারা উল্লেখিত সব কাজ না করে, তবে তাদের রক্ত বা মাল নিরাপদ থাকবে না। একারণেই আবু বকর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আর উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: (আল্লাহর কসম! আমি দেখতে পেলাম যে মহান আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি তার সাথে একমত হলাম)।

আরও একটি বিষয়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোমকদের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন এবং উসামাকে তার প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। বরং তিনি উসামার পিতা যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সম্মানার্থে উসামাকে এই বিশাল বাহিনীর আমির নিযুক্ত করেছিলেন, যদিও তখনো তাঁর বয়স বিশ বছর পূর্ণ হয়নি। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব এবং মুহাজির ও আনসারগণ দাঁড়িয়ে উমরকে বলতে লাগলেন: "কীভাবে এই কিশোরকে এই সুবিশাল বাহিনীর ওপর আমির নিযুক্ত করা হলো?" তখন উমর বললেন, আমরা আবু বকরের সাথে কথা বলি যেন তিনি উসামার বাহিনীকে না পাঠান। আবু বকর বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং এই বাহিনীর পতাকা উত্তোলন করেছেন। আল্লাহর কসম! যদি কুকুরেরা উম্মুল মুমিনীনগণের পা ধরে টেনে নিয়ে যেত, তবুও আমি উসামার বাহিনী প্রেরণ করতাম।" এটি এ কারণে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু শুরু করেছেন তার মধ্যেই সকল কল্যাণ নিহিত দেখতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই প্রকৃত মঙ্গল দেখতেন।

একদা দাদী আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে তাঁর মিরাস (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: (আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য আমি কিছুই জানি না, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতেও এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে আমি রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের নিকট জিজ্ঞাসা করব। যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কোনো অংশ দিয়ে থাকেন, তবে আমরা তোমাকে তা প্রদান করব)।

এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ ও অনুসন্ধানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি এই সুন্নাহটি জানতেন না, তবে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের নিকট থেকে তা শিখতে চাইলেন। অতঃপর তিনি মজলিসে শূরা আহ্বান করলে মুগীরা ইবনে শু'বা এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাদীকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন। তখন আবু বকর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসন্ধানের খাতিরে তাকে ষষ্ঠাংশ প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌عمر بن الخطاب

وعمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه، فقد كان يتحرى دائماً سنة النبي صلى الله عليه وسلم ولا يحكم إلا بها، أرأيت في مرض موته عندما قالوا له: (استخلف! قال: إن استخلفت فقد استخلف من هو أفضل مني يريد أبا بكر، وإن لم أستخلف فلم يستخلف من هو خير مني يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فكانت سنة النبي أوفق له من سنة أبي بكر، مع أن سنة أبي بكر سنة متبعة، لكن سنة النبي صلى الله عليه وسلم كانت أريح لقلب عمر بن الخطاب فقال: هو في هؤلاء الستة ولم يستخلف صراحة.

وأيضاً عمر بن الخطاب لما سئل عن الجنين في بطن أمه يقتل خطأ فما فيه من دية؟ فما كان عمر يعلم، فعقد مجلس الشورى حتى قالوا له: إن رسول الله حكم في الجنين بغرة، فأخذ به وحكم بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فهؤلاء قوم تحروا سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فلا يسيرون يميناً ولا يساراً، ولا يتقدمون ولا يتأخرون إلا بسنة، عملاً بقول الثوري، ولنعم ما قال الثوري ولنكتب في صدورنا هذا القول بماء الذهب: لا تحك رأسك إلا بأثر.
উমর ইবনুল খাত্তাব

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু), তিনি সর্বদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসন্ধান করতেন এবং তা ব্যতীত কোনো ফয়সালা দিতেন না। আপনি কি তাঁর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন সময়ের অবস্থা দেখেছেন? যখন তাঁকে বলা হলো: "আপনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করে যান!" তিনি বললেন: "যদি আমি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করি, তবে আমার চেয়ে যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন—তিনি আবু বকরকে উদ্দেশ্য করেছেন—তিনিও স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। আর যদি আমি কাউকে স্থলাভিষিক্ত না করি, তবে আমার চেয়ে যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন—তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করেছেন—তিনিও কাউকে স্থলাভিষিক্ত করেননি।"

ফলে আবু বকরের সুন্নাহ অনুসরণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহই উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট অধিকতর সঙ্গত মনে হয়েছিল; কারণ নবীর সুন্নাহ ছিল উমর ইবনুল খাত্তাবের হৃদয়ের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক। তাই তিনি বললেন: "খিলাফতের বিষয়টি এই ছয়জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে" এবং তিনি স্পষ্টভাবে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করলেন না।

আবার উমর ইবনুল খাত্তাবকে যখন মায়ের গর্ভস্থ ভ্রূণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—যাকে ভুলবশত হত্যা করা হয়েছে—যে তার রক্তপণ (দিয়ত) কী হবে? উমর তা জানতেন না। ফলে তিনি পরামর্শ সভা আহ্বান করলেন, যতক্ষণ না তাঁরা তাঁকে বললেন: "আল্লাহর রাসূল ভ্রূণের ক্ষেত্রে একটি 'গুররাহ' (দাস বা দাসী) প্রদানের ফয়সালা দিয়েছেন।" তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা দিলেন।

এঁরা ছিলেন এমন এক সম্প্রদায় যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তাঁরা সুন্নাহ ব্যতীত ডানে-বামে চলতেন না এবং অগ্র-পশ্চাৎ কোনো পদক্ষেপ নিতেন না। তাঁরা আস-সাওরীর উক্তি অনুযায়ী আমল করতেন। আস-সাওরী কতই না চমৎকার বলেছেন, যা আমাদের হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা উচিত: "তুমি কোনো দালিলিক বর্ণনা পাওয়া ব্যতীত এমনকি তোমার মাথাও চুলকাবে না।"
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌عثمان رضي الله عنه

وهذا عثمان بن عفان رضي الله عنه وأرضاه، عندما عز عليه معرفة سنة النبي صلى الله عليه وسلم في المرأة التي مات عنها زوجها أين تعتد؟ قال: أتحرى، ولا أتحرى إلا سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ولا أتكلم برأيي في هذه المسألة، فكانت السنة في المسألة حديث فريعة بنت مالك أخت أبي سعيد الخدري: أنه مات عنها زوجها، فأمرها -هنا وجه الشاهد- رسول الله أن تعتد في بيتها، فأبلغ محمد بن مسلمة عثمان بن عفان، فقال: أحكم بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فلا غرو ولا عجب، فإن هؤلاء القوم يعلمون أن النجاة في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، كما قال السيوطي: علمنا أن النجاة في التمسك بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

إذاً: فالهلاك كل الهلاك في التمسك بأقوال الفقهاء والضرب بسنة النبي صلى الله عليه وسلم عرض الحائط.
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

আর এই হচ্ছেন উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু); যখন তাঁর নিকট সেই নারীর ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ জানা দুষ্কর হয়ে পড়ল যার স্বামী মারা গেছেন যে, তিনি কোথায় ইদ্দত পালন করবেন? তিনি বললেন: "আমি অনুসন্ধান করব, আর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছু অনুসন্ধান করব না এবং এই মাসআলায় আমি নিজের মত দিয়ে কোনো কথা বলব না।" অতঃপর এই মাসআলায় সুন্নাহ ছিল আবু সাঈদ আল-খুদরীর বোন ফুরাইআ বিনতে মালিকের হাদীস: তাঁর স্বামী মারা গিয়েছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নির্দেশ দিলেন—আর এখানেই হলো মূল দলীল—যেন তিনি নিজ বাড়িতেই ইদ্দত পালন করেন। অতঃপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ উসমান বিন আফফানকে বিষয়টি অবহিত করলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ীই ফয়সালা দিচ্ছি।"

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এই মহান ব্যক্তিগণ জানতেন যে মুক্তি নিহিত রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মাঝে; যেমনটি সুয়ূতী বলেছেন: "আমরা জেনেছি যে মুক্তি নিহিত রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাঝে।"

অতএব: চরম ধ্বংস নিহিত রয়েছে ফকীহদের মতামতকে আঁকড়ে ধরা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে দেয়ালে ছুঁড়ে মারার (উপেক্ষা করার) মধ্যে।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌علي بن أبي طالب يتبع السنة ويخالف عثمان

وهذا علي بن أبي طالب يخالف عثمان من أجل سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان عثمان يتم الصلاة في منى، وكان عثمان في المدينة، فعليه إذا سافر إلى الحج أن يقصر الصلاة، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقصر في منى، فيصلي الظهر في وقته والعصر في وقته قصراً دون الجمع، فتأول عثمان بأن له بيتاً في مكة فكأنه من المقيمين، فقال: أتم، فقام ابن مسعود يصلي خلفه، وقال: الخلاف شر كله، ثم قال: وسنة النبي أن يقصر، وأعلنها أمام الناس.

أما موقف علي بن أبي طالب فهو عندما قال عثمان: لا متعة في الحج، يعني: لا تعتمر ثم تحل ثم تحرم بعد ذلك بالحج، فقال علي بن أبي طالب أمام البشر أجمعين، وهذه الحالة لها تأويل؛ لأن المفروض أن تنصح ولاة الأمور إذا أردت أن تنصحهم سراً أو بالكتابة لا علناً، لكن علياً بن أبي طالب له الوجاهة أمام الناس، وهو يعظم سنة النبي صلى الله عليه وسلم والناس يعظمونها كما يعظمون عثمان بن عفان، فقام في منى أمام الناس جميعاً، وقال: لا والله لا أترك سنة رسول الله لقول أحد كائناً من كان، ولو كان أمير المؤمنين، ولو كان عثمان ذا النورين.

فقال: لبيك اللهم بعمرة متمتعاً بها إلى الحج، عملاً بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وقد سب علي بن أبي طالب ابن عباس، وأغلظ له في القول، فإن ابن عباس كان يقول بالمتعة للمضطر، ويفتي بها للمضطرين، فقام علي بن أبي طالب فقال لـ ابن عباس: إنك رجل تائه، أمام البشر، يقول ذلك في ابن عباس حبر الأمة، وبحر العلوم والتفسير، لكن علياً بن أبي طالب جعل الفاصل بينه وبين ابن عباس ليست الخلافة، ولا لأنه أمير المؤمنين، لكنه يلقمه الحجر بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

قال علي بن أبي طالب: يا ابن عباس! إنك رجل تائه، إن رسول الله قد حرم زواج المتعة.

وهذا الذي فعله عبد الله بن الزبير أمام الملأ لما كان أميراً على مكة في خلافته لما بويع، فقد قال: وانظروا إلى الشدة من أجل الحفاظ على السنة، لتعلموا عظم حق سنة النبي صلى الله عليه وسلم عليكم، قام خطيباً في الناس، فقال: ما لي أرى أقواماً قد أعمى الله بصيرتهم كما أعمى أبصارهم، وكان ابن عباس قد عمي في آخر حياته، فقال له ابن عباس: ما لي أراك جلفاً أعرابياً غليظاً، فقال له ابن الزبير: افعلها إن شئت وسترى كيف أرجمك أمام الناس؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قد حرم المتعة، فكيف تفتي أنت فتوى خلاف سنة النبي صلى الله عليه وسلم؟ انظروا كيف تكون الشدة والغلظة من أجل الحفاظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وهذا الذي اعتبر به الذهبي وكثير من المحققين في شدة مسلم على البخاري في مسألة المعاصرة؛ لأن مسألة المعاصرة ومسألة اللقيا حصل بينهما تفريق عند بعض العلماء، فاشتد مسلم جداً في مقدمة صحيحه على البخاري وعلى علي بن المديني لِم يقولون باللقيا ويتركون المعاصرة؟ فالعلماء قالوا: اشتد مسلم على البخاري مع أن البخاري شيخه بل هو أجل شيوخه.

قال الذهبي: وكان في مسلم حدة، فاحتد على البخاري، حتى إنه لم يروِ له رواية واحدة في صحيحه.

قالوا: ويعتذر لـ مسلم أنه أراد الحفاظ على سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو كان البخاري جبل الحفظ، وأمير المؤمنين في الحديث، وله المنة عليه بأن علمه علل الحديث، مع ذلك حفاظاً على السنة يقول صراحة كما قال ابن القيم: شيخ الإسلام حبيب إلينا والحق أحب إلينا منه.
আলী ইবনে আবু তালিব সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং উসমানের বিরোধিতা করতেন

আর এই যে আলী ইবনে আবু তালিব, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর কারণে উসমানের বিরোধিতা করতেন। উসমান মিনায় সালাত পূর্ণ করে আদায় করতেন, অথচ উসমান মদিনার অধিবাসী ছিলেন। তাই হজ্জের সফরে গেলে তার জন্য সালাত কসর করা আবশ্যক ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় কসর করতেন; তিনি যোহর ও আসর নিজ নিজ ওয়াক্তে জমা না করে কসর করে পড়তেন। উসমান ব্যাখ্যা করলেন যে, মক্কায় তার একটি বাড়ি রয়েছে, তাই তিনি যেন একজন অধিবাসী। ফলে তিনি বললেন: আমি পূর্ণ সালাত পড়ব। তখন ইবনে মাসউদ তার পেছনে সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: ‘মতবিরোধ সবটুকুই অকল্যাণ।’ এরপর তিনি বললেন: ‘নবীর সুন্নাহ হলো কসর করা’ এবং তিনি মানুষের সামনে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন।

আলী ইবনে আবু তালিবের অবস্থানের ব্যাপারে বলা যায়, যখন উসমান বললেন: ‘হজ্জে তামাত্তু নেই’—অর্থাৎ হজ্জের আগে উমরা করে ইহরাম খুলে ফেলা এবং পরে আবার হজ্জের ইহরাম গ্রহণ করা যাবে না—তখন আলী ইবনে আবু তালিব সকল মানুষের সামনে কথা বললেন। এই পরিস্থিতির একটি ব্যাখ্যা রয়েছে; কারণ নীতিগতভাবে শাসকবর্গকে নসীহত করতে চাইলে গোপনে বা পত্রের মাধ্যমে করা উচিত, প্রকাশ্যে নয়। কিন্তু মানুষের কাছে আলী ইবনে আবু তালিবের বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং মানুষও সুন্নাহকে তদ্রূপ সম্মান করত যেমন তারা উসমান বিন আফফানকে সম্মান করত। তাই তিনি মিনায় সকল মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: ‘না, আল্লাহর কসম! আমি কারো কথার কারণে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ বর্জন করব না, তিনি যেই হোন না কেন; এমনকি তিনি যদি আমীরুল মুমিনীনও হন, কিংবা যুন-নুরাইন উসমানও হন।’

এরপর তিনি বললেন: ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-উমরাতিন মুতামাত্তিআন বিহা ইলাল হাজ্জ’ (হে আল্লাহ! আমি হজ্জের সাথে উমরার মাধ্যমে তামাত্তুকারী হিসেবে উপস্থিত), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে।

আলী ইবনে আবু তালিব ইবনে আব্বাসকে ধমক দিয়েছিলেন এবং তার প্রতি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন। কারণ ইবনে আব্বাস অনন্যোপায় ব্যক্তির জন্য ‘মুতআ’ বিবাহের পক্ষে মত দিতেন এবং অনন্যোপায় ব্যক্তিদের জন্য এ ফতোয়া দিতেন। তখন আলী ইবনে আবু তালিব দাঁড়িয়ে মানুষের সামনে ইবনে আব্বাসকে বললেন: ‘তুমি একজন পথভ্রষ্ট লোক।’ তিনি উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, ইলম ও তাফসীরের সমুদ্র ইবনে আব্বাস সম্পর্কে এ কথা বললেন। কিন্তু আলী ইবনে আবু তালিব নিজের ও ইবনে আব্বাসের মধ্যে পার্থক্যের মানদণ্ড খিলাফতকে বানাননি, কিংবা তিনি আমীরুল মুমিনীন বলেও তা করেননি; বরং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে তাকে অকাট্য জবাব দিচ্ছিলেন।

আলী ইবনে আবু তালিব বললেন: ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমি একজন পথভ্রষ্ট লোক, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল মুতআ বিবাহ হারাম করেছেন।’

আর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর যখন মক্কার আমীর হিসেবে তার খিলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করেন, তখন তিনি জনসমক্ষে একই কাজ করেছিলেন। সুন্নাহ রক্ষায় এই কঠোরতার দিকে লক্ষ্য করুন, যাতে আপনারা আপনাদের ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর হকের বিশালতা বুঝতে পারেন। তিনি জনগণের সামনে খতিব হিসেবে দাঁড়িয়ে বললেন: ‘আমি এমন কিছু লোককে কেন দেখছি যাদের অন্তরকে আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন যেমন তিনি তাদের দৃষ্টিকে অন্ধ করেছেন?’ ইবনে আব্বাস জীবনের শেষ দিকে দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: ‘আমি তোমাকে কেন এমন কর্কশ ও রূঢ় বেদুইন স্বভাবের দেখছি?’ ইবনে যুবাইর তাকে বললেন: ‘তুমি চাইলে তা করো, তখন দেখবে আমি কীভাবে তোমাকে জনসমক্ষে পাথর মারি; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতআ হারাম করেছেন। এমতাবস্থায় তুমি কীভাবে নবীর সুন্নাহর বিপরীত ফতোয়া দাও?’ দেখুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ রক্ষার খাতিরে কঠোরতা ও রূঢ়তা কেমন হতে পারে।

এটিই ইমাম যাহাবী এবং অনেক গবেষক ‘মুআসারাহ’ (সমসাময়িক হওয়া) এর মাসআলায় বুখারীর প্রতি মুসলিমের কঠোরতার কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাৎ হওয়া—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কিছু আলেমের নিকট পার্থক্য ছিল। ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (ভূমিকায়) ইমাম বুখারী ও আলী ইবনুল মাদীনীর ওপর অত্যন্ত কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন এই কারণে যে, কেন তারা সাক্ষাতের শর্ত করেন এবং শুধু সমসাময়িক হওয়াকে বর্জন করেন? আলেমগণ বলেছেন: মুসলিম বুখারীর ওপর কঠোর হয়েছেন অথচ বুখারী তাঁর শিক্ষক ছিলেন, বরং তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইমাম যাহাবী বলেন: ‘মুসলিমের মেজাজে কিছুটা উগ্রতা ছিল, ফলে তিনি বুখারীর প্রতি কঠোরতা দেখান, এমনকি তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বুখারী থেকে একটি বর্ণনাও উল্লেখ করেননি।’

আলেমগণ বলেন: ইমাম মুসলিমের পক্ষ থেকে এই ওজর পেশ করা হয় যে, তিনি মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর হিফাযত করতে চেয়েছিলেন। যদিও বুখারী ছিলেন হিফাযতের সুউচ্চ পাহাড় এবং হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন, আর মুসলিমের ওপর তাঁর অশেষ অবদান ছিল কারণ তিনিই তাঁকে হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ শিখিয়েছিলেন; তবুও সুন্নাহ রক্ষার খাতিরে তিনি স্পষ্টভাবে তা-ই বলতেন যা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছিলেন: ‘শাইখুল ইসলাম আমাদের কাছে প্রিয়, কিন্তু সত্য আমাদের কাছে তাঁর চেয়েও বেশি প্রিয়।’
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ابن عمر يسب ولده لمخالفته الحديث

وانظروا إلى ابن عمر رضي الله عنه وأرضاه، وما أروع ما قاله وفعله ابن عمر عندما سرد حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تمنعوا إماء الله مساجد الله)، فقام ابنه فقال له: والله لمنعهن، إذاً يتخذنه دغلاً، فقال له حفاظاً على السنة: لعنة الله عليك.

هذه كلمة ليست بالهينة، هذه الكلمة معناها: أنه يدعو عليه أن يطرد من رحمة الله جل في علاه، وانظروا إلى الحفاظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم ماذا فعل بأصحاب رسول الله؟ هذه الشدة لفلذة كبده، يقول لابنه: لعنة الله عليك.

وفي بعض الروايات: أن ابن عمر لم يكلم ابنه هذا إلى أن مات، حفاظاً على سنة النبي صلى الله عليه وسلم، قال ابن عمر: لعنة الله عليك، أقول لك: قال رسول الله، وتقول: نمنعهن.
হাদীসের বিরোধিতা করার কারণে ইবনে উমর কর্তৃক তাঁর পুত্রকে তিরস্কার

আপনারা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু)-এর দিকে লক্ষ্য করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করার সময় ইবনে উমর যা বলেছিলেন এবং করেছিলেন তা কতই না চমৎকার ছিল; তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন: (তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না)। তখন তাঁর পুত্র দাঁড়িয়ে তাঁকে বলল: আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব, কারণ তারা একে অনর্থক কাজের মাধ্যম বানিয়ে নেবে। তখন সুন্নাহর হিফাযতের খাতিরে তিনি তাকে বললেন: তোমার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।

এটি কোনো সাধারণ কথা নয়; এই কথার অর্থ হলো: তিনি তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে এই দুআ করছেন যেন তাকে সুমহান আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর সুরক্ষার বিষয়টি রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের মাঝে কেমন ছিল তা লক্ষ্য করুন। নিজের কলিজার টুকরা সন্তানের প্রতি এই কঠোরতা! তিনি নিজের পুত্রকে বলছেন: তোমার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি মর্যাদাবোধের কারণে ইবনে উমর তাঁর এই পুত্রের সাথে মৃত্যু পর্যন্ত আর কথা বলেননি। ইবনে উমর বলেছিলেন: তোমার ওপর আল্লাহর লানত হোক, আমি তোমাকে বলছি: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আর তুমি বলছো: আমরা তাদের বাধা দেব।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌عبد الله بن مغفل يهجر ابن عمه لمخالفته الحديث

وهذا أيضاً عبد الله بن المغفل المزني رضي الله عنه وأرضاه، فقد كان يروي حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الخذف، فقال: إنه لا يصيد صيداً ولا ينكأ عدواً، وإنما يكسر السن، ويفقأ العين)، فلما قال ذلك لابن عمه وجده في اليوم التالي يفعل ما كان يفعله، قال: أقول لك نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحذف وتحذف، والله الذي لا إله إلا هو لا ساكنتك مرة أخرى، أو قال: لا كلمتك حياتي، حفاظاً على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وهذا أبو هريرة رضي الله عنه وأرضاه، فقد كان يروي حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (أنه كان يتوضأ مما مست منه النار)، فقام ابن عباس فزعاً فقال: أنتوضأ من الحميم.

الآن: لو جاء الماء الساخن على جسدي أو شربت ماءاً ساخناً أتوضأ منه؟ أنتوضأ من الحميم؟ قال أبو هريرة: وهو أروى الناس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، والذي حفظ حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ويعلم أن النجاة في سنة النبي، قال: يا ابن أخي! إذا رويت لك حديثاً عن النبي فلا تضرب له الأمثال.

ولا تدخل عقلك بحال من الأحوال، بل قل: آمنت بالله وبما جاء عن الله على مراد الله، وآمنت برسول الله وبما جاء عن رسول الله على مراد رسول الله.
আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল হাদীসের বিরোধিতার কারণে তাঁর চাচাতো ভাইকে বর্জন করেন

ইনিও সেই আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুগাফফাল আল-মুযানী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন), যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতেন যে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর বা ছোট কণা ছুঁড়ে মারতে [খাযফ] নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: এর দ্বারা কোনো শিকার করা যায় না এবং শত্রুকেও ঘায়েল করা যায় না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে)। অতঃপর তিনি যখন তাঁর চাচাতো ভাইকে এই কথা বললেন, পরদিন দেখলেন সে ঠিক ওই কাজটিই করছে। তিনি বললেন: আমি তোমাকে বলছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর ছোঁড়া নিষেধ করেছেন, আর তুমি পাথর ছুঁড়ছ! সেই আল্লাহর কসম যাঁর ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি তোমার সাথে আর কখনো একত্রে বসবাস করব না। অথবা বললেন: আমি তোমার সাথে সারাজীবনেও কথা বলব না। এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে।

আর এই হচ্ছেন আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন), যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতেন যে: (তিনি আগুনের স্পর্শ পাওয়া খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে অজু করতেন)। তখন ইবনে আব্বাস উৎকণ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন: আমরা কি গরম পানির কারণেও অজু করব?

এখন কথা হলো: যদি আমার শরীরে গরম পানি লাগে অথবা আমি গরম পানি পান করি, তবে কি আমি তার জন্য অজু করব? আমরা কি গরম পানির ব্যবহারের ফলে অজু করব? আবু হুরায়রা—যিনি মানুষের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী, যিনি নবীর হাদীস মুখস্থ করেছিলেন এবং জানতেন যে মুক্তি কেবল নবীর সুন্নাহর মধ্যেই নিহিত—তিনি বললেন: হে ভাতিজা! আমি যখন তোমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তুমি তার বিপরীতে যুক্তি বা উদাহরণ দিতে যেও না।

আর কোনো অবস্থাতেই তোমার বুদ্ধিকে সেখানে প্রবেশ করিও না; বরং বলো: আমি আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী ঈমান এনেছি, এবং আমি আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি রাসূলের অভিপ্রায় অনুযায়ী ঈমান এনেছি।
(খণ্ড: ২) শারহু মুখতাসারিস সারিমিল মাসলূল - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ابن عباس يغلظ على من يأخذ بقول أبي بكر وعمر في متعة الحج ويدع قول الرسول

وهذا ابن عباس نفسه رضي الله عنه وأرضاه كان يقول بوجوب متعة الحج، والصحيح الراجح: أنها سنة وليست بواجب، لكنه كان يقول بوجوب المتعة ويقول: هي سنة نبيكم، فقام رجل فقال: أبو بكر لا يقول بذلك، وعمر لا يقول بذلك، فاشتد غضب ابن عباس وقال: أوشكت السماء أن تمطر عليكم حجارة، أقول لكم: قال رسول الله، وتقولون قال أبو بكر وعمر! إن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تقدم على قول أي أحد، وابن عمر حدث له نفس الأمر في مسألة المتعة، فقد راجعوه بعدما قال بها، وقالوا: إن عمر يخالفك ويقول بعدم المتعة، فقال: أمرنا باتباع النبي وما أمرنا باتباع عمر، يعني: عند المخالفة.
ইবনে আব্বাস সেই ব্যক্তির ওপর কঠোরতা করেন যে হজ্জে তামাত্তু’র বিষয়ে আবু বকর ও উমরের কথা গ্রহণ করে এবং রাসূলের কথা ছেড়ে দেয়

আর স্বয়ং এই ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু) হজ্জে তামাত্তু ওয়াজিব হওয়ার কথা বলতেন। তবে বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মত হলো: এটি সুন্নাহ, ওয়াজিব নয়। কিন্তু তিনি তামাত্তু ওয়াজিব হওয়ার কথা বলতেন এবং বলতেন: এটি তোমাদের নবীর সুন্নাহ। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: আবু বকর তো এমন কথা বলেন না, আর উমরও এমন কথা বলেন না। এতে ইবনে আব্বাস প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: শীঘ্রই আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পাথর বর্ষিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে! আমি তোমাদের বলছি: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা বলছ আবু বকর ও উমর বলেছেন! নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ যেকোনো ব্যক্তির কথার ওপর অগ্রগণ্য। আর ইবনে উমরের ক্ষেত্রেও তামাত্তু’র মাসআলায় একই ঘটনা ঘটেছিল; তিনি যখন এর পক্ষে মত দিলেন তখন লোকেরা তাঁর কাছে আপত্তি তুলে বলল: উমর তো আপনার বিরোধিতা করেন এবং তিনি তামাত্তু না করার কথা বলেন। তখন তিনি বললেন: আমাদের নবীকে অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, উমরকে অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়নি; অর্থাৎ: বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রে।