(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية - محمد حسن عبد الغفار القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য’ নামক কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য’ নামক কিতাবের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৯টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১)
عبادات أهل الإسلام والإيمان وأهل الشرك والنفاق -
مقدمة كتاب قاعدة عظيمة في الفرقشيخ الإسلام ابن تيمية من الأئمة الأفذاذ الذين منّ الله تعالى لهم على هذه الأمة، وقد ولد في عصر كان العالم أحوج ما يكون إلى فقهه وعلمه، وذلك لما جاء به من حمل راية التجديد ومحاربة ما يخالف الدين، وأعانه على ذلك قوة علمه وحصافة فهمه كما شهد له بذلك علماء عصره، ومن كتبه الجديرة بالعناية كتاب: قاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق.
ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদত -
পার্থক্য নিরূপণে এক মহান মূলনীতি গ্রন্থের ভূমিকাশায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই সকল অনন্য সাধারণ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। তিনি এমন এক যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন বিশ্ব তাঁর ফিকহ ও ইলমের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী ছিল। এর কারণ ছিল তাঁর সংস্কারের ঝাণ্ডা ধারণ এবং দ্বীন-পরিপন্থী বিষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই। তাঁর ইলমের শক্তি এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ বোধ এক্ষেত্রে তাঁকে সহায়তা করেছিল, যেমনটি তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর গুরুত্ববহ গ্রন্থসমূহের অন্যতম হলো: ‘ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণে এক মহান মূলনীতি’।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة تعريفية بشيخ الإسلام ابن تيمية
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পরিচিতিমূলক ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
مولده ونشأتهإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا:-} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: الإخوة الكرام: نحن على موعد مع كتاب منهجي مهم جداً، يتكلم فيه مؤلفه على التوسل المشروع والتوسل الممنوع، ويتكلم فيه عن زيارة القبور، ولكن لا بد لنا من مقدمة بين يدي هذا الكتاب.
واسم الكتاب: قاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق، وهذا الكتاب هو من تأليف شيخ الإسلام أحمد ابن عبد الحليم بن تيمية رحمه الله، وشيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية توفي سنة سبعمائة وثمانية وعشرين.
إن ولادة الإمام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية تظهر حكمة الله جل في علاه، وتظهر أن الله جل في علاه ما شرع هذا الدين إلا ليحفظه مصداقاً لقوله جل في علاه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9].
فيوم مولد شيخ الإسلام هو يوم موت سلطان العلماء العز بن عبد السلام ففي سنة وفاته جعل الله تعالى شمس شيخ الإسلام تشرق على الدنيا.
أيضاً الإمام أبو حنيفة كان موته ينبئ بولادة الإمام الشافعي، فـ الشافعي ولد بعد موت الإمام أبي حنيفة، وهذا يدل على أن الله جل في علاه يحفظ دينه، فـ العز بن عبد السلام كان آمراً بالمعروف ناهياً عن المنكر، وسيرة شيخ الإسلام ابن تيمية كانت كسيرة سلطان العلماء العز بن عبد السلام حذو القذة بالقذة.
وكان شيخ الإسلام ابن تيمية يجهر بالخير آمراً بالمعروف وناهياً عن المنكر، سواء كان باللسان أوبالسنان، وولد بحران.
তাঁর জন্ম ও শৈশবনিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [নিসা: ১]।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। [আহজাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর প্রিয় ভাইয়েরা: আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত কিতাবের সামনে রয়েছি, যেখানে লেখক বৈধ ও নিষিদ্ধ উসিলা এবং কবর জিয়ারত নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এই কিতাবটি শুরু করার আগে আমাদের একটি ভূমিকা প্রয়োজন।
কিতাবটির নাম: ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও নিফাকপন্থীদের ইবাদতের পার্থক্যের মহা মূলনীতি। এই কিতাবটি শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা। শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ সাতশত আঠাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
ইমাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহর জন্ম সুউচ্চ মহান আল্লাহর হিকমতকে প্রকাশ করে এবং এটি দেখিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তাআলা এই দীনকে কেবল তা সংরক্ষণের জন্যই প্রবর্তন করেছেন, যা তাঁর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: “নিশ্চয়ই আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।” [হিজর: ৯]।
শায়খুল ইসলামের জন্মের দিনটি ছিল সুলতানুল উলামা ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালামের মৃত্যুর দিন। তাঁর ইন্তেকালের বছরেই আল্লাহ তাআলা শায়খুল ইসলামের সূর্যকে দুনিয়ায় উদিত করেন।
অনুরূপভাবে ইমাম আবু হানিফার মৃত্যু ইমাম শাফিঈর জন্মের জানান দিচ্ছিল, কেননা শাফিঈ জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর পর। এটি প্রমাণ করে যে, সুউচ্চ মহান আল্লাহ তাঁর দীনকে রক্ষা করেন। ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম সৎ কাজের আদেশ দিতেন ও মন্দ কাজে নিষেধ করতেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীও ছিল হুবহু সুলতানুল উলামা ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালামের জীবনীর মতো।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ প্রকাশ্যে কল্যাণের কথা বলতেন, তিনি সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং মন্দ কাজে বাধা দিতেন, হোক তা জবানের মাধ্যমে কিংবা তরবারির মাধ্যমে। তিনি হাররানে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
مكانته العلميةكان ابن تيمية عالماً نحريراً، ولو قلتُ: إنه العلم الأوحد الفرد والبحر الذي لا ساحل له ما أبعدتُ، فهو نحرير في اللغة، نحرير في البلاغة، نحرير في الحديث، نحرير في الفقه، نحرير في الفلسفة، نحرير في العقيدة، وما من علم إلا وغاص فيه شيخ الإسلام ابن تيمية، كما قال عنه ابن القيم: إنه بحر لا ساحل له.
لقد كان الإمام ابن تيمية ينافح عن دين الله باللسان وبالسنان، وكان العلماء قاطبة يمدحون شيخ الإسلام، العدو منهم والحبيب.
إن الإمام ابن تيمية حفظ كتاب الله جل في علاه من الصغر، ثم بعد ذلك حفظ الصحيحين، ثم تعلم فقه الإمام أحمد بن حنبل، ثم قرأ فقه الإمام الشافعي، ويقال: إنه أخذ هذا العلم على الإمام النووي لكن يُرجع للتاريخ في هذا؛ لأن في هذه النسبة نظراً.
وأخذ أيضاً فقه المالكية وفقه الأحناف، ولذلك قالوا: كان إذا ناظر شافعياً تراه أعلم من هذا الشافعي بفقه الشافعي، وإذا ناظر المالكي كان أعلم بمذهب المالكية من المالكي، وكان شيخ الإسلام محرراً لمواطن النزاع، مرجحاً لأبواب الفقه والحديث.
وكان شيخ الإسلام ابن تيمية محدثاً حافظاً.
لقد كان العلماء يختلفون في علومهم فمنهم من يكون مشتغلاً بالفقه، ومنهم من يشتغل بالنحو، ومنهم من يشتغل بالحديث، أما شيخ الإسلام فاشتغل بكل هذه العلوم، وفاق العلماء في كل هذه العلوم.
তাঁর ইলমী মর্যাদাইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন এক অনন্য প্রাজ্ঞ পণ্ডিত। আমি যদি বলি যে, তিনি ছিলেন এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড এবং কূলহীন সমুদ্র, তবে আমি সত্য থেকে দূরে থাকব না। তিনি ভাষা বিজ্ঞানে সুনিপুণ, অলঙ্কার শাস্ত্রে সুনিপুণ, হাদীস শাস্ত্রে সুনিপুণ, ফিকহ শাস্ত্রে সুনিপুণ, দর্শনে সুনিপুণ এবং আকীদাহ শাস্ত্রেও সুনিপুণ ছিলেন। এমন কোনো ইলম নেই যাতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ গভীর ডুব দেননি, যেমনটি তাঁর সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম বলেছিলেন: নিশ্চয়ই তিনি এক কূলহীন সমুদ্র।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ জিহ্বা এবং বর্শা (অর্থাৎ কথা ও যুদ্ধ) উভয় মাধ্যমেই আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করতেন। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সকল আলিমই শাইখুল ইসলামের প্রশংসা করতেন।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ শৈশবেই সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কিতাব হিফজ করেছিলেন। অতঃপর তিনি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) মুখস্থ করেন। এরপর তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ শিক্ষা করেন এবং ইমাম শাফিয়ীর ফিকহ অধ্যয়ন করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইমাম নববীর নিকট থেকে এই ইলম অর্জন করেছেন, তবে এ বিষয়ে ইতিহাসের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন; কেননা এই সূত্রের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
তিনি মালিকী ও হানাফী ফিকহও গ্রহণ করেছিলেন। এ কারণেই আলিমগণ বলতেন: যখন তিনি কোনো শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারীর সাথে বিতর্ক করতেন, তখন দেখা যেত যে তিনি সেই শাফিয়ীর চেয়েও শাফিয়ী ফিকহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। আবার যখন কোনো মালিকী মাযহাবের অনুসারীর সাথে বিতর্ক করতেন, তখন তিনি সেই মালিকীর চেয়েও মালিকী মাযহাব সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। শাইখুল ইসলাম ছিলেন বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের সার্থক নিরসনকারী এবং ফিকহ ও হাদীসের অধ্যায়সমূহে সঠিক মতের প্রাধান্য দানকারী।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন একজন মুহাদ্দিস ও হাফিজ।
আলিমগণ তাঁদের জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে ব্যাপৃত থাকতেন; তাঁদের কেউ ফিকহ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, কেউ ব্যাকরণ নিয়ে, আবার কেউ হাদীস নিয়ে। কিন্তু শাইখুল ইসলাম এই সকল শাস্ত্রেই নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং প্রতিটি শাস্ত্রেই তিনি অন্যান্য আলিমদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
شهادة العلماء لهدخل على شيخ الإسلام ابن تيمية علم من أعلام الأمة وكان هذا العلم مفخرة للمصريين في العصر المتأخر، وهو ابن دقيق العيد وكان ابن دقيق العيد عالماً نحريراً، وكان من العلماء في علم الحديث وعلم الفقه، كان مالكياً، ثم بعد ذلك انتقل إلى الفقه الشافعي، فأتقن علم المالكية وعلم الشافعية، وكان هو القاضي في مصر، وكان أحمد بن طولون على مذهب الإمام مالك، وكان الإمام ابن دقيق العيد هو المستشار الوحيد له، وهو قاضي القضاة في مصر.
فسمع ابن دقيق العيد عن شيخ الإسلام ابن تيمية فرحل إليه إلى الشام، وكان شيخ الإسلام ابن تيمية شاباً يافعاً، فدخل ابن دقيق العيد على شيخ الإسلام ابن تيمية فسلم عليه وتكلم معه في مسألة علمية، فسكت ابن دقيق العيد وأخذ شيخ الإسلام يشرق ويغرب شمالاً وجنوباً في الكلام على ما يخص هذه المسألة بكل الأدلة من الكتاب ومن السنة ومن النظر ومن الأثر، فلما سمع ابن دقيق العيد ذلك منه لم يرد عليه بشيء وبعد أن سلم عليه خرج من مجلسه، فقام الناس صفوفاً يسألون ابن دقيق العيد: هل رأيته؟ قال: رأيته.
قالوا: كلمته؟ قال: كلمته.
قالوا: ماذا تقول فيه؟ قال: أقول: لم ير مثل نفسه.
وهذه شهادة من ابن دقيق العيد لشيخ الإسلام ابن تيمية.
وكفى فخراً لـ شيخ الإسلام أن كل الطوائف من أهل البدع يستدلون به.
وكان الرجل كما يقول المؤرخون: لا يعرف الفرق بين الدرهم والدينار.
وكان كما قال ابن القيم: إذا نزلت بنا الملمات نزلنا على مجلس شيخ الإسلام فاطمأنت قلوبنا.
قالوا: وكنا ننظر إلى شيخ الإسلام فتطمئن قلوبنا.
فهذا الرجل كأن الله لم يخلقه لهذه الدنيا، إذ لا يعرف شيئاً عن هذه الدنيا، ولذلك ابتلي ابتلاء شديداً ونزلت عليه النكبات تترا؛ لأنه كان ينافح عن دين الله جل في علاه.
والإمام الذهبي ترجم لشيخ الإسلام ابن تيمية قريباً من ثلاثة أسطر، وذلك لأنه يقول: شيخ الإسلام ابن تيمية يغني عنه ترجمته.
وقد كان الذهبي يقول: إن الحديث الذي لا يعرفه شيخ الإسلام ليس بحديث، وهذا يدل على سعة علم الرجل واطلاعه، ولذلك قالوا: إنه في عصر ابن تيمية لم يحفظ أحد مسند أحمد إلا ابن تيمية.
والإمام ابن كثير يقول: رأيت في الدنيا ثلاثة: ابن تيمية وابن دقيق العيد والثالث المزي صاحب تحفة الأشراف، وكان المزي عالماً نحريراً في علم الرجال، قال ابن كثير: فدخلت عليهم، فرأيت أحفظهم لمتن رسول الله في الحديث شيخ الإسلام ابن تيمية، ورأيت أعلمهم بالرجال المزي، ورأيت أفقههم في المتون ابن دقيق العيد.
وكان هذا في صغر سن شيخ الإسلام ابن تيمية، لكن لما كبر سن شيخ الإسلام ابن تيمية واتسعت العلوم والفهوم عنده أصبح لا نظير له ولا ند له.
তার স্বপক্ষে উলামায়ে কিরামের সাক্ষ্যশায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কাছে উম্মতের এক মহান ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হলেন, যিনি পরবর্তী যুগে মিশরীয়দের জন্য গর্বের বিষয় ছিলেন। তিনি হলেন ইবনে দাকীকুল ঈদ। ইবনে দাকীকুল ঈদ ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলিম। তিনি ইলমে হাদীস এবং ইলমে ফিকহের অন্যতম বিশেষজ্ঞ ছিলেন। প্রথমে তিনি মালিকী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, পরবর্তীতে শাফেয়ী ফিকহে স্থানান্তরিত হন এবং উভয় মাযহাবের জ্ঞানে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি মিশরের বিচারক ছিলেন। আহমাদ ইবনে তুলুন ইমাম মালিকের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ ছিলেন তার একমাত্র উপদেষ্টা ও মিশরের প্রধান বিচারপতি।
ইবনে দাকীকুল ঈদ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে শুনে সিরিয়ায় তার কাছে সফর করলেন। তখন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ছিলেন একজন তরুণ যুবক। ইবনে দাকীকুল ঈদ শায়খুল ইসলামের কাছে প্রবেশ করে তাকে সালাম দিলেন এবং একটি ইলমী মাসআলা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। তখন ইবনে দাকীকুল ঈদ নীরব হয়ে গেলেন এবং শায়খুল ইসলাম কুরআন, সুন্নাহ, যুক্তি ও আছারের (পূর্বসূরীদের বাণী) সমস্ত দলীল সহকারে সেই মাসআলার প্রতিটি দিক নিয়ে পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণ তথা বিস্তারিত আলোচনা করতে শুরু করলেন। ইবনে দাকীকুল ঈদ যখন তার কাছ থেকে এই পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা শুনলেন, তখন তিনি কোনো পাল্টা উত্তর দিলেন না। সালাম বিনিময় করে তিনি মজলিস থেকে বের হয়ে এলেন। তখন লোকজন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ইবনে দাকীকুল ঈদকে জিজ্ঞেস করতে লাগল: আপনি কি তাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি তাকে দেখেছি।
তারা বলল: আপনি কি তার সাথে কথা বলেছেন? তিনি বললেন: আমি তার সাথে কথা বলেছি।
তারা বলল: তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমি বলব, তিনি নিজের মতো আর কাউকেও দেখেননি।
এটি ছিল শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার স্বপক্ষে ইবনে দাকীকুল ঈদের এক মহান সাক্ষ্য।
শায়খুল ইসলামের জন্য এটাই যথেষ্ট গৌরবের বিষয় যে, বিদআতী দলগুলোর সকলেই তার থেকে দলীল গ্রহণ করে থাকে।
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী এই মহান ব্যক্তিটি দিরহাম ও দিনারের (পার্থিব অর্থের) পার্থক্য বুঝতেন না।
যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: যখন আমাদের ওপর কোনো বিপদ আসত, তখন আমরা শায়খুল ইসলামের মজলিসে গিয়ে বসতাম এবং আমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়ে যেত।
তারা বলতেন: আমরা শায়খুল ইসলামের দিকে তাকাতাম আর আমাদের অন্তর প্রশান্ত হয়ে যেত।
এই লোকটিকে দেখে মনে হতো আল্লাহ যেন তাকে এই দুনিয়ার জন্য সৃষ্টি করেননি, যেহেতু তিনি এই দুনিয়া সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। একারণেই তাকে কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল এবং তার ওপর একের পর এক মুসিবত নেমে এসেছিল; কারণ তিনি সুমহান আল্লাহর দ্বীন রক্ষায় সদা সচেষ্ট ছিলেন।
ইমাম আয-যাহাবী শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার জীবনী মাত্র তিন লাইনের কাছাকাছি লিখেছিলেন, কারণ তিনি বলতেন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার পরিচিতি প্রদানের জন্য তার নামই যথেষ্ট।
আয-যাহাবী আরও বলতেন: যে হাদীস শায়খুল ইসলাম জানেন না, সেটি আসলে কোনো হাদীসই নয়। এটি তার ইলমের বিশালতা ও গভীর পর্যবেক্ষণের প্রমাণ দেয়। একারণেই বলা হতো যে, ইবনে তাইমিয়ার যুগে তিনি ছাড়া আর কেউই ‘মুসনাদে আহমাদ’ মুখস্থ করতে পারেননি।
ইমাম ইবনে কাসীর বলেন: আমি দুনিয়াতে তিনজনকে (অদ্বিতীয়) দেখেছি: ইবনে তাইমিয়া, ইবনে দাকীকুল ঈদ এবং তৃতীয়জন হলেন ‘তুহফাতুল আশরাফ’ প্রণেতা আল-মিযযী। আল-মিযযী ছিলেন রিজাল শাস্ত্রে (বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানে) অত্যন্ত পারদর্শী। ইবনে কাসীর বলেন: আমি তাদের সান্নিধ্যে গিয়ে দেখলাম, হাদীসে রাসূলের মতন বা পাঠ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া হলেন শ্রেষ্ঠ হাফিয; রিজাল শাস্ত্রে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী হলেন আল-মিযযী এবং মতন বা হাদীসের মূল ভাষ্যের গভীর বুঝের ক্ষেত্রে ইবনে দাকীকুল ঈদ হলেন সবচেয়ে বড় ফকীহ।
আর এ অবস্থা ছিল শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার অল্প বয়সে। কিন্তু যখন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বয়স বাড়ল এবং তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আরও বিস্তৃত হলো, তখন তিনি হয়ে উঠলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অতুলনীয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
محنته وكراماته ووفاتهابتلي شيخ الإسلام ابتلاء شديداً، فأولاً: سجن، ثم بعد ذلك نفي، ثم بعد ذلك مات في سجنه، وكان يقول: ماذا يريد أعدائي مني؟ إن سجنوني فسجني خلوة بربي، وإن قتلوني فقتلي شهادة، وإن نفوني فنفيي سياحة، لذلك حاروا فيه فاجتمعوا جميعاً وقال بعضهم: اقتلوه، وقال الثاني: لا، اقطعوا لسانه، وقال الثالث: عزروه.
فانظروا إلى كرامات شيخ الإسلام ابن تيمية فإنه ما لبث بعدما قالوا ذلك كثيراً إلا والذي قال: اقتلوه قد قتل، والذي قال: اقطعوا لسانه قد قطع لسانه، والذي قال عزروه قد عزر!! وهذه كرامة لشيخ الإسلام ابن تيمية.
والكرامة الأعظم له حدثت عند موته، وذلك أنه نزل مصر -وهذه الرسالة تهتم بما قاله في مصر- ليبين لهم التوسل المشروع والتوسل الممنوع، والكلام على الأموات، والكلام على الحلف بغير الله، وشد الرحال للقبور، فأبطل هذه الأصول، فحسدوه، ثم سجنوه، ثم بعد ذلك عندما خرج من سجنه سجنوه في الشام حتى مات، وصدق فيه كلام الإمام أحمد حين قال: بيننا وبينهم الجنائز.
فقال ابن القيم وابن كثير: وأما جنازة ابن تيمية فكانت أعظم ما تكون، اجتمع فيها الرجال والشيوخ والأطفال والنساء والنصارى واليهود، أو قال: والنصارى.
فاجتمع هؤلاء جميعاً في جنازة ابن تيمية تكريماً من الله له كما كرم الله قبله صحابة رسوله والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وكانت وفاته في سنة (728هـ) فرحمه الله رحمة واسعة.
তাঁর পরীক্ষা, অলৌকিক নিদর্শন ও মৃত্যুশাইখুল ইসলাম কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। প্রথমে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়, অতঃপর নির্বাসিত করা হয় এবং এরপরে তিনি কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলতেন: "আমার শত্রুরা আমার কী-ই বা করতে পারে? যদি তারা আমাকে কারারুদ্ধ করে, তবে আমার কারাবাস হবে আমার রবের সাথে নির্জন কথোপকথন; যদি তারা আমাকে হত্যা করে, তবে আমার মৃত্যু হবে শাহাদাত; আর যদি তারা আমাকে নির্বাসিত করে, তবে আমার নির্বাসন হবে পর্যটন।" একারণে তারা তাঁকে নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল এবং তারা সকলে একত্রিত হলো। তাদের কেউ বলল: "তাঁকে হত্যা করো", দ্বিতীয়জন বলল: "না, তাঁর জিহ্বা কেটে দাও", আর তৃতীয়জন বলল: "তাঁকে কঠোর শাস্তি দাও।"
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কারামত বা অলৌকিক নিদর্শনাদির দিকে লক্ষ্য করুন; তারা এই কথাগুলো বলার পর খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি যে, যে ব্যক্তি বলেছিল "তাঁকে হত্যা করো" সে নিজেই নিহত হলো, যে বলেছিল "তাঁর জিহ্বা কেটে দাও" তার জিহ্বা কাটা পড়ল এবং যে বলেছিল "তাঁকে কঠোর শাস্তি দাও" তাকেই কঠোর শাস্তি দেওয়া হলো!! এটি ছিল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি কারামত।
তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কারামতটি তাঁর মৃত্যুর সময় প্রকাশ পেয়েছিল। বিষয়টি হলো, তিনি মিশরে আগমন করেছিলেন—আর এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটি মিশরে তাঁর প্রদত্ত আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়েই গুরুত্বারোপ করেছে—যাতে তিনি তাদের নিকট শরীয়তসম্মত উসীলা ও নিষিদ্ধ উসীলা, মৃতদের বিষয়ে বক্তব্য, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা এবং কবরের উদ্দেশ্যে সফর করার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন। তিনি এই ভিত্তিহীন নীতিগুলোকে বাতিল করে দিয়েছিলেন। ফলে তারা তাঁর প্রতি হিংসা পোষণ করল এবং তাঁকে কারারুদ্ধ করল। অতঃপর যখন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন, তখন তাঁকে শাম দেশে (সিরিয়া) কারারুদ্ধ করা হলো এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম আহমাদের সেই উক্তিটি তাঁর ক্ষেত্রে সত্যে পরিণত হয়েছে যখন তিনি বলেছিলেন: "আমাদের এবং তাদের মাঝে জানাযাই ফয়সালা করবে।"
ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে কাসীর বলেন: "ইবনে তাইমিয়্যাহর জানাযা ছিল অভাবনীয় বিশাল; সেখানে পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু, নারী এমনকি খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা—অথবা তিনি বলেছিলেন খ্রিষ্টানরা—সমবেত হয়েছিল।"
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মান প্রদানের নিমিত্তে তারা সকলে ইবনে তাইমিয়্যাহর জানাযায় সমবেত হয়েছিল, যেমনিভাবে আল্লাহ তাঁর পূর্বে রাসূলের সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেঈদের সম্মানিত করেছেন।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৭২৮ হিজরী সনে। আল্লাহ তাঁর প্রতি অবারিত রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة في قاعدة مهمة في العبادة
ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি সংক্রান্ত ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفرق بين التوسل والاستغاثة بغير اللهإن هذا الكتاب العظيم يختص بتوحيد العبادات.
قبل أن أدخل على الكتاب أذكر قاعدةً مهمةً جداً ألا وهي: إن كل عبادة ثبت بالشرع أنها عبادة فصرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك.
وهذا قوام كل ما سنأتي عليه بالتفصيل، ومعنى (ثبت بالشرع) أي: بالكتاب أو السنة، وبالمثال يتضح المقال: قال الله تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر:60] فقوله: (ادعوني) فيه دلالة على أن الدعاء عبادة صرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك.
أولاً: نثبت أن الدعاء عبادة بالدليل، قال الله تعالى: ((ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ))، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (الدعاء هو العبادة)، أو قال: (الدعاء مخ العبادة).
إذاً: لدينا حديثان وآية، الآية قوله تعالى: ((ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ))، والحديث: (الدعاء مخ العبادة) وهو حديث ضعيف، والحديث الصحيح هو: (الدعاء هو العبادة).
ونريد تطبيق القاعدة السابقة على عبادة الدعاء، والمثال: لو أن رجل نزلت به البلايا فاعتكف في المنبر ودعا ربه عز وجل فقد أتى بالتوحيد عملاً بقول الله تعالى: {أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ} [النمل:62].
لكن هناك رجل ذهب إلى البدوي يدعوه مخاطباً: فقال يا بدوي، أنت عند ربك الآن، وأنت ولي من أولياء الله الصالحين، وإن الكربة قد نزلت بي فأرجو أن تدعوَ الله لي أن يكشف عني هذه الكربة، وهذه كرامة لك؛ لأنك من أولياء الله الصالحين الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون، فهل هذا الرجل الآن صرف العبادة لغير الله، أم لم يصرفها لغير الله؟ قبل الجواب نتذكر القاعدة وهي: أن كل عبادة ثبت بالشرع أنها عبادة فصرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك.
نذكر مثالاً آخر ليتضح المقال أكثر: جاء رجل آخر إلى البدوي وقال له: يا بدوي! نزلت بي الكربة فاكشف عني هذه الكربة وأعطني.
فما هو الفرق بين المثال الأول والمثال الثاني؟
الجواب إننا قلنا: إن العبادة إذا ثبت بالشرع أنها عبادة فصرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك، فالأول عندما قال للبدوي: يا بدوي! أنت قريب من ربك، ادع الله أن يكشف عني الكربة، فهو لم يدع البدوي، وهذه هي مسألة التوسل، وهي مسألة أخرى سنتكلم عنها، وواجب على طلبة العلم وغيرهم أن يعرفوا التفريق بين الشرك الأصغر والشرك الأكبر، وبين التوسل والاستغاثة والطلب، فالأول لما ذهب إليه وقال: ادع الله لي ففعله هذا توسل وليس بدعاء، فهو ما طلب منه أنه يجلب له الخير، أو يدفع عنه الضر، بل طلب من الله أن يدفع عنه الضر ويجلب له الخير، ولكن عن طريق دعاء هذا الولي، فيعتبر هذا توسلاً وليس من الاستغاثة وإن كان بينهما عموم وخصوص.
وفي الصورة الثانية: عندما قال الرجل: يا بدوي! اكشف عني الكربة، فقد صرف عبادة لغير الله، وهذه العبادة هي الدعاء.
তওয়াসসুল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাছা)-র মধ্যে পার্থক্যনিশ্চয়ই এই মহান কিতাবটি ইবাদতের তাওহীদের (তাওহীদুল ইবাদাহ) সাথে সুনির্দিষ্ট।
কিতাবটির মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি উল্লেখ করছি, আর তা হলো: শরীয়ত কর্তৃক যে বিষয়টি ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করা তাওহীদ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক।
এটিই আমাদের বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তি। আর "শরীয়ত কর্তৃক সাব্যস্ত" হওয়ার অর্থ হলো: কুরআন বা সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া। উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে: আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত করতে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে} [গাফির: ৬০]। এখানে তাঁর বাণী: (তোমরা আমাকে ডাকো) এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, দুআ একটি ইবাদত। সুতরাং তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করা তাওহীদ এবং অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক।
প্রথমত: আমরা দলীল দিয়ে প্রমাণ করি যে দুআ একটি ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন: ((তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব)), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (দুআই হলো ইবাদত), অথবা তিনি বলেছেন: (দুআ হলো ইবাদতের মজ্জা)।
সুতরাং আমাদের সামনে দুটি হাদীস এবং একটি আয়াত রয়েছে। আয়াতটি হলো আল্লাহর বাণী: ((তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব)), আর হাদীস দুটির মধ্যে: (দুআ হলো ইবাদতের মজ্জা) এটি একটি দুর্বল (যঈফ) হাদীস, আর সহীহ হাদীসটি হলো: (দুআই হলো ইবাদত)।
আমরা দুআ নামক ইবাদতের ওপর পূর্বোক্ত মূলনীতিটি প্রয়োগ করতে চাই। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়ে মিম্বরে অবস্থান নেয় এবং তার মহান রবকে ডাকে, তবে সে আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করার মাধ্যমে তাওহীদ পালন করল: {নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন?} [আন-নামল: ৬২]।
কিন্তু এমন এক ব্যক্তি আছে যে বাদাবীর কাছে গিয়ে তাকে সম্বোধন করে ডাকল এবং বলল: হে বাদাবী, আপনি এখন আপনার রবের নিকট আছেন এবং আপনি আল্লাহর নেককার ওলীগণের একজন। আমার ওপর বিপদ আপতিত হয়েছে, তাই আমি আশা করছি যে আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করবেন যেন তিনি আমার থেকে এই বিপদ দূর করে দেন। এটি আপনার একটি কারামত; কারণ আপনি আল্লাহর সেই নেককার ওলীগণের অন্তর্ভুক্ত যাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। এখন প্রশ্ন হলো, এই ব্যক্তি কি এখন ইবাদতকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য নিবেদন করল, নাকি করল না? উত্তর দেওয়ার আগে আমরা মূলনীতিটি স্মরণ করি, আর তা হলো: শরীয়ত কর্তৃক যে বিষয়টি ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করা তাওহীদ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য আমরা আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি: অন্য এক ব্যক্তি বাদাবীর কাছে গিয়ে বলল: হে বাদাবী! আমার ওপর বিপদ এসেছে, আপনি আমার এই বিপদ দূর করে দিন এবং আমাকে দান করুন।
তাহলে প্রথম এবং দ্বিতীয় উদাহরণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরআমরা বলেছি: ইবাদত যখন শরীয়ত দ্বারা ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তখন তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করা তাওহীদ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক। প্রথম ব্যক্তি যখন বাদাবীকে বলেছিল: হে বাদাবী! আপনি আপনার রবের নিকটবর্তী, আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমার বিপদ দূর করে দেন—তখন সে আসলে বাদাবীকে ডাকেনি (তার কাছে প্রার্থনা করেনি)। এটি হলো তওয়াসসুলের মাসআলা, যা একটি ভিন্ন বিষয় এবং এ সম্পর্কে আমরা পরে আলোচনা করব। ইলম অন্বেষণকারী এবং অন্যদের জন্য ছোট শিরক ও বড় শিরকের মধ্যে পার্থক্য এবং তওয়াসসুল, ইস্তিগাছা ও প্রার্থনার মধ্যে পার্থক্য জানা আবশ্যক। প্রথম ব্যক্তি যখন তার কাছে গিয়ে বলল: "আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন", তখন তার এই কাজটি ছিল তওয়াসসুল, এটি দুআ (ইবাদত হিসেবে) নয়। কারণ সে তার কাছে কল্যাণ আনয়ন বা অকল্যাণ দূর করার দাবি করেনি, বরং সে আল্লাহর কাছেই অকল্যাণ দূর করার এবং কল্যাণ আনয়নের প্রার্থনা করেছে, তবে তা এই ওলীর দুআর মাধ্যমে। সুতরাং এটি তওয়াসসুল হিসেবে গণ্য হবে, ইস্তিগাছা নয়, যদিও এই দুটির মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান।
আর দ্বিতীয় চিত্রে: যখন লোকটি বলল: হে বাদাবী! আপনি আমার বিপদ দূর করে দিন, তখন সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে ইবাদত নিবেদন করল, আর এই ইবাদতটি হলো দুআ।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفرق بين الشرك في النذر والمعصية بهالمثال الثاني: النذر عبادة، ومعروف مشهور بين العامة أنهم يقولون: نذرت للسيدة زينب شمعاً لنجاح ابنتي، فهل هذا يجوز أو لا؟ نرجع للقاعدة قبل أن نقول: يجوز أو لا يجوز، ونضبط المسألة أولاً ونقول: هل النذر عبادة أو لا؟
الجواب النذر عبادة، الدليل على ذلك قوله تعالى: {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ} [الإنسان:7] ووجه الدلالة سنعرفه من خلال بيان تعريف العبادة، والعبادة هي: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأفعال الظاهرة والباطنة.
وبعد هذا التعريف نقول: إن الله تعالى إذا مدح شيئاً فقد أحبه، وسياق آية النذر سياق مدح؛ لأن الله إذا مدح عباده بفعل شيء فقد دل ذلك على أن هذا الشيء عبادة؛ لأن الله يحبه وقد مدحه، فالله لا يمدح إلا ما يحب، وهذا هو وجه الدلالة استنباطاً.
أما التأصيل الصريح فهو في قول الله تعالى: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا} [مريم:26]، ووجه الدلالة في ذلك هو إقرار الله لها على النذر، فدل ذلك على أنه عبادة.
وأيضاً في الآية الأخرى قال تعالى: {إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا} [آل عمران:35]، وهي نذرت هنا للمسجد، وهذا فيه دلالة على أن النذر عبادة، فإذاً: النذر عبادة فصرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك.
مثال آخر: رجل قال: إن ابني مريض فإن شفي الله ابني فسأتصدق بألف درهم.
والثاني قال: إن ابني إن نجح لأذبحن عند البدوي ذبيحة وأفرقها على الفقراء.
والثالث قال: إن أتى أبي ورأيته بعيني، فامرأتي طالق.
فالصحيح في ذلك أن نقول: إن النذر الأول توحيد؛ لأنه عبادة صرفه لله جل في علاه.
والنذر الثاني فيه توحيد وفيه شرك، والنبي صلى الله عليه وسلم بين أن الذبح في مكان يعبد فيه غير الله جل في علاه منهي عنه، ولما رأى رجلاً يذبح إبلاً ببوانة نهاه صلى الله عليه وسلم عن ذلك؛ لأنه قد كان فيها صنم يعبد، وإنما نهاه لأنه ذريعة للشرك ولا يقال له: شرك؛ لأنه لم يصرف عبادة لغير الله جل في علاه، بل هو نذر أن يذبح لله، فإذا نذر أن يذبح لله فهو توحيد لله وليس شركاً، لكنه وقع في منهي عنه وهو أنه ذبح في مكان يعبد فيه غير الله جل في علاه.
وأما الثالث فهو نذر ينزل منزلة اليمين المعلقة، على قول الجمهور، وأما على قول شيخ الإسلام ابن تيمية فينظر في نيته: إن كانت نيته تهديداً فلا تطلق زوجته، وإن كانت نيته الطلاق فتطلق امرأته.
ختاماً لهذه المسألة نقول: إن العبادة هي اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأفعال الظاهرة والباطنة.
قال ابن القيم: وتدور رحى العبادة على خمسة عشر أمراً، وذلك أن المكلف يتكون من لسان وقلب وجوارح، وأحكام الشرع التكليفية خمسة: واجب، ومستحب، ومباح، ومكروه، ومحرم.
فيتعلق بكل عضو من الأعضاء سواء القلب أو اللسان أو الجوارح خمسة أحكام.
فالحاصل من ضرب ثلاثة أعضاء في خمسة أحكام يساوي خمسة عشر أمراً.
فيجب على القلب التصديق، وهو قول القلب، ويجب عليه التوكل والإنابة والخوف والرجاء فكل ذلك من واجبات القلب، أما واجب اللسان فهو قول لا إله إلا الله، فلن يدخل أحد الإسلام إلا بقوله: لا إله إلا الله محمد رسول الله.
وأما واجبات الجوارح فالصلاة والجهاد وغيرها، فالثلاثة الأعضاء لكل عضو منها خمسة أحكام، فتكون الجملة خمسة عشر أمراً كما قال الإمام ابن القيم.
وللعبادة ركنان: غاية الذل مع غاية المحبة.
وشروط العبادة: الإخلاص ومتابعة النبي صلى الله عليه وسلم.
والعبادة عبادتان: عبادة عامة وعبادة خاصة.
أو: عبادة القهر: وهي عبادة الربوبية.
وعبادة الاختيار: وهي عبادة الإلهية، إذاً العبادة عبادتان: عبادة عامة ويدخل فيها المؤمن والكافر والمشرك، وعبادة خاصة وهي لا تكون إلا من المؤمن وهي العبادة الاختيارية.
فعبادة القهر هي عبادة الربوبية التي قال الله عنها: {إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا} [مريم:93] فسواء كنت طويلاً أو قصيراً، أو أبيض أو أسمر، إذا أراد الله أن يقدر عليك المرض فلا تستطيع أن ترد هذا القدر، بل أنت فيه عبد لله رغم أنفك، قال الله تعالى: {وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا} [آل عمران:83]، فهذه هي عبادة القهر.
والعبادة الثانية خاصة بالمؤمنين: وهي عبادة الإلهية التي قال الله فيها: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا} [الإسراء:23]، فهل كل الناس عبدوا الله جل في علاه؟ لا، بل منهم من عبد ومنهم من لم يعبد الله جل في علاه، فهذه هي العبادة الاختيارية.
মানতের ক্ষেত্রে শিরক এবং এর মাধ্যমে সংঘটিত পাপাচারের মধ্যে পার্থক্যদ্বিতীয় উদাহরণ: মানত হলো একটি ইবাদত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ যে তারা বলে থাকে: আমার মেয়ের সাফল্যের জন্য আমি সায়্যিদা যাইনাবের নামে মোমবাতি মানত করলাম। এখন প্রশ্ন হলো, এটি কি বৈধ নাকি বৈধ নয়? উত্তর দেওয়ার আগে আমরা মূলনীতির দিকে ফিরে যাই এবং বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করি। আমরা প্রথমে বলব: মানত কি ইবাদত নাকি ইবাদত নয়?
উত্তরমানত হলো একটি ইবাদত। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা মানত পূর্ণ করে} [সূরা ইনসান: ৭]। এর মাধ্যমে কীভাবে প্রমাণিত হয় যে এটি ইবাদত, তা আমরা ইবাদতের সংজ্ঞা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানতে পারব। ইবাদত হলো: এমন একটি সামষ্টিক নাম যা মহান আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সংজ্ঞার পর আমরা বলতে পারি যে, মহান আল্লাহ যখন কোনো কিছুর প্রশংসা করেন, তখন নিশ্চিতভাবেই তিনি তা ভালোবাসেন। মানত সংক্রান্ত আয়াতের প্রেক্ষাপট হলো প্রশংসাসূচক; কারণ আল্লাহ যখন কোনো কাজ করার কারণে তাঁর বান্দাদের প্রশংসা করেন, তখন সেটি প্রমাণ করে যে ওই কাজটি একটি ইবাদত। যেহেতু আল্লাহ তা ভালোবাসেন এবং এর প্রশংসা করেছেন; আর আল্লাহ কেবল তা-ই প্রশংসা করেন যা তিনি ভালোবাসেন। এটিই হলো ইস্তিনবাত বা গবেষণালব্ধ প্রমাণের দিক।
আর সুস্পষ্ট মৌলিক প্রমাণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আমি পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে রোজা (মৌনতা) পালনের মানত করেছি, সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না} [সূরা মারইয়াম: ২৬]। এখানে প্রমাণের দিকটি হলো মানতের বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে স্বীকৃতি প্রদান করা, যা প্রমাণ করে যে এটি একটি ইবাদত।
তদপুরি অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন: {আমার গর্ভে যা আছে তাকে আমি একান্তভাবে তোমার জন্য উৎসর্গ করার মানত করেছি} [সূরা আল-ইমরান: ৩৫]। এখানে তিনি মসজিদের খেদমতের জন্য মানত করেছিলেন। এটিও প্রমাণ করে যে মানত একটি ইবাদত। সুতরাং, মানত যেহেতু একটি ইবাদত, তাই এটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা তাওহীদ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করা শিরক।
অন্য একটি উদাহরণ: এক ব্যক্তি বলল, যদি আমার ছেলে অসুস্থতা থেকে মুক্তি পায়, তবে আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে এক হাজার দিরহাম সদকা করব।
দ্বিতীয় জন বলল, আমার ছেলে যদি সফল হয়, তবে আমি বাদভী (র.)-এর কবরের কাছে একটি পশু জবাই করব এবং তা ফকীরদের মধ্যে বিলিয়ে দেব।
তৃতীয় জন বলল, আমার বাবা যদি ফিরে আসেন এবং আমি তাকে স্বচক্ষে দেখি, তবে আমার স্ত্রীকে তালাক।
এক্ষেত্রে সঠিক বিষয় হলো, আমরা বলব: প্রথম মানতটি তাওহীদ; কারণ এটি একটি ইবাদত যা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মানতটির মধ্যে তাওহীদও আছে আবার শিরকের দিকও আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা হয় এমন স্থানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। যখন তিনি দেখলেন এক ব্যক্তি বুওয়ানা নামক স্থানে উট জবাই করার মানত করেছে, তখন তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন; কারণ সেখানে ইবাদত করা হতো এমন একটি মূর্তি ছিল। তিনি তাকে নিষেধ করেছিলেন কারণ এটি শিরকের একটি মাধ্যম (যারিয়াহ), তবে এটাকে সরাসরি শিরক বলা হবে না; কারণ সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদত নিবেদন করেনি। বরং সে আল্লাহর উদ্দেশ্যেই জবাই করার মানত করেছিল। সুতরাং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জবাই করার মানত করা তাওহীদ, শিরক নয়। কিন্তু সে একটি নিষিদ্ধ কাজ করতে চেয়েছিল, আর তা হলো এমন স্থানে জবাই করা যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করা হয়।
আর তৃতীয়টি হলো এমন মানত যা জমহুর ওলামাদের মতে ঝুলন্ত শপথের (ইয়ামিন) মর্যাদা রাখে। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার মতে, এক্ষেত্রে তার নিয়ত বা উদ্দেশ্যের দিকে তাকাতে হবে: যদি তার উদ্দেশ্য কেবল ভয় দেখানো বা ধমক দেওয়া হয় তবে তার স্ত্রী তালাক হবে না, আর যদি তার উদ্দেশ্য সত্যিই তালাক দেওয়া হয় তবে তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে।
এই প্রসঙ্গের সমাপ্তিতে আমরা বলব: ইবাদত হলো এমন একটি সামষ্টিক নাম যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন এমন সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: ইবাদতের চাকা পনেরোটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়। কারণ একজন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি জবান (জিহ্বা), অন্তর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত। আর শরীয়তের বিধান হলো পাঁচটি: ওয়াজিব (আবশ্যক), মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), মুবাহ (বৈধ), মাকরুহ (অপছন্দনীয়) এবং হারাম (নিষিদ্ধ)।
অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—এই প্রতিটি অঙ্গের সাথে উক্ত পাঁচটি বিধান সংশ্লিষ্ট।
ফলে তিনটি অঙ্গকে পাঁচটি বিধান দিয়ে গুণ করলে মোট পনেরোটি বিষয় পাওয়া যায়।
অন্তরের ওপর অর্পিত ওয়াজিব হলো বিশ্বাস স্থাপন করা—যা অন্তরের কথা; এবং তার ওপর ওয়াজিব হলো তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), ইনাবাত (প্রত্যাবর্তন), ভয় ও আশা। এই সবই অন্তরের ওয়াজিব কাজ। আর জিহ্বার ওয়াজিব হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা; কেননা কেউ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' না বলে ইসলামে প্রবেশ করতে পারবে না।
আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওয়াজিব কাজ হলো নামাজ, জিহাদ ইত্যাদি। সুতরাং এই তিনটি অঙ্গের প্রতিটির জন্য পাঁচটি করে বিধান রয়েছে, যার মোট সমষ্টি হলো পনেরোটি বিষয়—যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন।
ইবাদতের রুকন বা স্তম্ভ হলো দুটি: চূড়ান্ত ভালোবাসার সাথে চূড়ান্ত বিনয়।
আর ইবাদতের শর্তসমূহ হলো: ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ।
ইবাদত দুই প্রকার: সাধারণ ইবাদত এবং বিশেষ ইবাদত।
অথবা: বাধ্যবাধকতামূলক ইবাদত (ইবাদাতুল কাহর)—যা রুবুবিয়্যাতের ইবাদত।
এবং ইচ্ছাধীন ইবাদত (ইবাদাতুল ইখতিয়ার)—যা উলুহিয়্যাতের ইবাদত। সুতরাং ইবাদত দুই প্রকার: একটি হলো সাধারণ ইবাদত যার অন্তর্ভুক্ত মুমিন, কাফের ও মুশরিক সকলেই। আর অন্যটি হলো বিশেষ ইবাদত যা কেবল মুমিনের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে এবং এটিই হলো স্বেচ্ছাধীন বা ইচ্ছামূলক ইবাদত।
বাধ্যবাধকতামূলক ইবাদত হলো রুবুবিয়্যাতের অধীন দাসত্ব যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে পরম করুণাময়ের কাছে দাস হিসেবে উপস্থিত হবে না} [সূরা মারইয়াম: ৯৩]। সুতরাং আপনি লম্বা হন বা খাটো, ফর্সা হন বা শ্যামল—আল্লাহ যদি আপনার ওপর অসুস্থতা নির্ধারণ করেন, তবে আপনি সেই তাকদীরকে প্রতিহত করতে পারবেন না। বরং আপনি আপনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে আল্লাহর একনিষ্ঠ দাস। মহান আল্লাহ বলেন: {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে} [সূরা আল-ইমরান: ৮৩]। এটিই হলো বাধ্যবাধকতামূলক দাসত্ব বা ইবাদত।
আর দ্বিতীয় ইবাদতটি মুমিনদের জন্য বিশেষায়িত: এটি হলো উলুহিয়্যাতের ইবাদত যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো} [সূরা আল-ইসরা: ২৩]। এখন প্রশ্ন হলো, সব মানুষ কি মহান আল্লাহর ইবাদত করেছে? না, বরং তাদের মধ্যে কেউ ইবাদত করেছে আবার কেউ মহান আল্লাহর ইবাদত করেনি। এটিই হলো স্বেচ্ছাধীন বা ইখতিয়ারী ইবাদত।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية - محمد حسن عبد الغفار القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য' কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: আকিদা
কিতাব: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য' কিতাবের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৯টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১)
عبادات أهل الإسلام والإيمان وأهل الشرك والنفاق -
العبادة وأصناف الناس فيهاإن العبادة لا تكون إلا لله جل وعلا، فما ثبت في الشرع أنه عبادة فصرفه لله توحيد وصرفه لغير الله شرك، وذلك كالنذر والدعاء، لكن ينبغي التفريق بين دعاء غير الله والتوسل في الدعاء.
وأصناف الناس تجاه العبادة ثلاثة: المؤمنون والكافرون والمنافقون، فالمؤمنون: هم الذين حققوا عبوديتهم لله تعالى مع غاية الذل والمحبة، والكافرون: هم الذين عبدوا غير الله تعالى وأشركوا معه بعض مخلوقاته، والمنافقون: هم أهل الأهواء والضلال، عبدوا الله تعالى بغير التوحيد، واتبعوا أهواءهم، وقدموا العقل على النقل.
ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদত -
ইবাদত এবং এতে মানুষের শ্রেণিবিভাগনিশ্চয়ই ইবাদত একমাত্র সুমহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্যই, সুতরাং শরিয়তে যা ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করা তাওহীদ এবং তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক। আর তা হলো মানত ও দোয়ার মতো, তবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট দোয়া করা এবং দোয়ার মধ্যে উসিলা গ্রহণ করার মাঝে পার্থক্য করা বাঞ্ছনীয়।
ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণিবিভাগ তিনটি: মুমিনগণ, কাফিরগণ এবং মুনাফিকগণ। মুমিনগণ হলেন তারা, যারা চরম বিনয় ও ভালোবাসার সাথে মহান আল্লাহর প্রতি নিজেদের দাসত্বকে বাস্তবায়ন করেছেন। আর কাফিরগণ হলেন তারা, যারা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করেছেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কিছু সৃষ্টিকে শরিক করেছেন। আর মুনাফিকগণ হলো খেয়াল-খুশি ও পথভ্রষ্টতার অনুসারী, তারা তাওহীদ ছাড়াই মহান আল্লাহর ইবাদত করেছেন, নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছেন এবং বর্ণিত দলীলের (নকল) ওপর যুক্তির (আকল) প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ২)
العبادة
ইবাদত
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفرق بين العبادة والشركإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: القاعدة العظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان، وعبادات أهل الشرك والنفاق هي: كل عبادة ثبت بالشرع أنها عبادة فصرفها لله توحيد، وصرفها لغير الله شرك، مثال ذلك الطواف.
ইবাদত ও শিরকের মধ্যে পার্থক্যনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের ভুল কাজগুলোর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আল্লাহর অনুগত) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী।} [আন নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করেছে।} [আল আহজাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর মূল কথা: ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্যের মহান মূলনীতিটি হলো: শরিয়তের মাধ্যমে যা ইবাদত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করাই তাওহীদ, আর তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করাই শিরক; এর উদাহরণ হলো তাওয়াফ।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعريف العبادة وأركانهاالعبادة هي: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه، من الأقوال والأفعال الظاهرة والباطنة.
ولها ركنان، وهما: غاية الذل مع غاية الحب.
ولابد من اقتران الحب مع الذل؛ لأنه لو اختل ركن من الركنين لم تكن عبادة، فالذي يتعبد الله بالذل أو بالقهر دون المحبة، فإنه سيكون حرورياً يقنط من رحمة الله.
مثال ذلك: الخوارج فقد قنطوا عباد الله من رحمة الله، فقالوا: فاعل الكبيرة كافر يخرج من الملة، فمن شرب الخمر فإنه خالد مخلد في نار جهنم والعياذ بالله! فهؤلاء الخوارج تعبدوا لله بالذل فقط.
والطرف الآخر: وهم المرجئة تعبدوا لله بالمحبة فقط، فصار عندهم غلو في الرجاء فلا يهتمون بأوامر الله، ولا يرجون لله وقاراً ولا تعظيماً، فمن تعبد لله بالذل فإنه لا يكون محباً لله، ومن تعبد لله بالحب دون الذل فإنه لا يكون معظماً لله جل في علاه.
وفي بني البشر يمكن للإنسان أن يذل للإنسان وهو لا يحبه، كأن يكون مقهوراً له، أو يكون عليه دين له، فيكون المذل أبغض الناس إليه، فهذا الذل لغير الله.
ويمكن للإنسان أن يحب إنساناً، ولا يكون له ذليلاً، بل يكون فوقه ومتكبراً عليه، فغاية الذل مع غاية المحبة لا تكون مجتمعة إلا لله.
ইবাদতের সংজ্ঞা ও এর রোকনসমূহইবাদত হলো: আল্লাহ যা কিছু ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এমন সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের একটি সমন্বিত নাম।
এর দুটি রোকন বা স্তম্ভ রয়েছে, আর তা হলো: চরম বিনয় ও আনুগত্যের সাথে চরম ভালোবাসা।
ভালোবাসার সাথে বিনয় ও আনুগত্যের সংমিশ্রণ থাকা অপরিহার্য; কারণ যদি এই দুই রোকনের কোনো একটির অভাব ঘটে তবে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি ভালোবাসা ব্যতীত কেবল বিনয় বা বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে, সে হারুরি (খারেজি) হয়ে যাবে, যে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে।
এর উদাহরণ হলো: খারেজি সম্প্রদায়; তারা আল্লাহর বান্দাদের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে দিয়েছে। তারা বলেছে: কবীরা গুনাহকারী ব্যক্তি কাফের এবং সে ধর্ম থেকে বহিষ্কৃত। সুতরাং যে ব্যক্তি মদ্যপান করবে সে চিরকাল জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে—আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! এই খারেজিরা আল্লাহর ইবাদত করেছে কেবল ভীতির মিশ্রিত বিনয়ের মাধ্যমে।
আর অন্য পক্ষ হলো: মুরজিয়া সম্প্রদায়; তারা আল্লাহর ইবাদত করেছে কেবল ভালোবাসার মাধ্যমে। ফলে তাদের মাঝে আশার ক্ষেত্রে চরমপন্থা সৃষ্টি হয়েছে, তাই তারা আল্লাহর আদেশের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না এবং আল্লাহর জন্য কোনো মর্যাদা বা মহিমাও পোষণ করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কেবল বিনয়ের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে সে আল্লাহর প্রকৃত প্রেমিক হতে পারে না, আর যে ব্যক্তি বিনয় ব্যতীত কেবল ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে সে সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহর প্রকৃত মহিমা ঘোষণাকারী হতে পারে না।
মানবজাতির মধ্যে এমন হতে পারে যে, একজন মানুষ অন্য মানুষের সামনে বিনীত হলো অথচ সে তাকে ভালোবাসে না; যেমন কেউ কারো দ্বারা নিপীড়িত হওয়া অথবা কারো কাছে ঋণী থাকা। এমতাবস্থায় যার সামনে সে বিনীত হচ্ছে, সে ব্যক্তি তার কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় হতে পারে। এই বিনয় হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য।
আবার এমনও হতে পারে যে, একজন মানুষ অন্য একজনকে ভালোবাসে কিন্তু তার সামনে বিনীত নয়; বরং সে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব বা অহংকার প্রদর্শন করে। সুতরাং চরম বিনয় ও আনুগত্যের সাথে চরম ভালোবাসার এই সম্মিলন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
أقسام الناس تجاه العبادةوالناس على أقسام ثلاثة: مؤمنون خلص، وكافرون خلص، وبين بين وهم منافقون خلص.
وقد بينها شيخ الإسلام فقال: أهل التوحيد والإيمان.
وأهل الشرك والإلحاد.
وأهل البدعة والضلالة.
ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকারভেদআর মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত: বিশুদ্ধ মুমিন, বিশুদ্ধ কাফির এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যারা হলো বিশুদ্ধ মুনাফিক।
শাইখুল ইসলাম এগুলো বর্ণনা করে বলেছেন: তাওহীদ ও ঈমানের অনুসারী।
শিরক ও নাস্তিক্যের অনুসারী।
এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টতার অনুসারী।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعريف أهل التوحيد والإيمانفأهل التوحيد والإيمان هم الذين عبدوا الله بالتوحيد الكامل، فلم يشركوا معه غيره، وعبدوه بما شرع، كما بين الله جل في علاه أنه ما خلق الخلق إلا لعبادته، قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56].
وما أرسل رسولاً إلا وبين أن الحكمة العظيمة والجسيمة لإرسالهم هي التوحيد، قال الله تعالى مبيناً لنا قول كل رسول بعثه إلى قومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف:59].
وقال الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل:36].
{فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} [البقرة:256].
وقد قال الله تعالى على لسان عيسى بن مريم: {إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} [آل عمران:51].
وعلى لسان نوح عليه السلام: {إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ * أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ} [نوح:1 - 3] فيعبدون الله أي: يوحدونه بما شرع على ألسنة رسله صلوات الله وسلامه عليهم، فكل رسول كان على الإسلام.
তওহীদ ও ঈমানওয়ালাদের পরিচয়তওহীদ ও ঈমানওয়ালা হলেন তাঁরাই, যাঁরা পূর্ণ তওহীদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করেছেন, তাঁর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করেননি এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করেছেন। যেমন সুমহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সৃষ্টিজগতকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আদ-যারিয়াত: ৫৬]।
আর তিনি এমন কোনো রাসূল পাঠাননি যিনি এ কথা স্পষ্ট করেননি যে, তাঁদের প্রেরণের মহান ও গুরুতর হিকমত হলো তওহীদ। আল্লাহ তাআলা তাঁর পাঠানো প্রত্যেক রাসূলের কথা আমাদের নিকট বর্ণনা করে বলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।" [আল-আরাফ: ৫৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬]।
"অতএব, যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল।" [আল-বাকারা: ২৫৬]।
আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনে মারইয়ামের জবানে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব, সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো; এটিই সরল পথ।" [আলে ইমরান: ৫১]।
আর নূহ আলাইহিস সালামের জবানে বলেছেন: "আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট যন্ত্রণাদায়ক আযাব আসার পূর্বেই তাদেরকে সতর্ক করো। সে বলল: হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী। (আর তা হলো) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।" [নূহ: ১ - ৩]। সুতরাং তাঁরা আল্লাহর ইবাদত করে অর্থাৎ: তাঁর রাসূলগণের (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) জবানে প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী তাঁকে একক হিসেবে মেনে চলে। কেননা প্রত্যেক রাসূলই ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
تعريف الإسلاموالإسلام معناه: التوحيد الخالص.
أي: أن توحد الله جل في علاه ولا تشرك به شيئاً، كما قال الله تعالى لإبراهيم عليه السلام: {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ} [البقرة:131] أي: استسلمت {لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [البقرة:131].
وقال تعالى حاكياً عن يوسف: {تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ} [يوسف:101].
وعن نوح عليه السلام: {فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [يونس:72].
وقال إسماعيل وإبراهيم: {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً} [البقرة:128].
وقال سحرة فرعون: {رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ} [الأعراف:126].
وقال جل وعلا: {إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا} [المائدة:44].
وقال جل في علاه عن بلقيس عندما أسلمت مع سليمان: {رب إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [النمل:44].
وقال عن أتباع المسيح عليه السلام: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} [المائدة:111].
وقال جل في علاه: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُوْلُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ * إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمران:18 - 19].
فما من نبي إلا وهو على الإسلام، ولكن اختلفت الشرائع، فكل الأديان دين واحد، وليست أدياناً متعددة، بل كلها دين سماوي واحد وهو الإسلام، قال الله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمران:19] فموسى ويوسف وعيسى ونوح وإبراهيم وشعيب وصالح وآدم كانوا على الإسلام.
فالإسلام معناه: توحيد الله جل في علاه، والاختلاف بين الأديان كان في الشرائع، قال الله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة:48] وصح عن نبينا صلى الله عليه وسلم أنه قال: (الأنبياء إخوة لعلات) أي: إخوة من أب واحد، والأمهات شتى، مثال ذلك: الرجل الذي تزوج بأربع نساء فخلف من كل واحدة منهن أولاداً، فالأولاد يسمون إخوة لعلات، لأن أمهاتهم شتى، وأباهم واحد، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (الأنبياء إخوة لعلات دينهم واحد وشرائعهم شتى).
وهذا ظاهر جلي لمن تفحص في شرائع الذين سبقونا، فمثلاً: في شريعة التوراة أو الشريعة اليهودية إذا وقعت النجاسة على ثوب واحد منهم فتطهيرها بأن يقص ذلك الجزء من الثوب الذي وقعت فيه النجاسة.
أما في ديننا وشريعتنا: إذا وقعت النجاسة فإنه يطهرها بالماء.
وأيضاً: في شريعتنا أن الزاني المحصن حده الرجم حتى الموت، لكن في التوراة المحرفة حده الجلد والتحميم.
وكذلك في شريعتنا: حل الغنائم للمجاهدين الذين يذبون عن الإسلام، وعن أهل الإسلام، فعندما يغنمون الغنائم فإنهم يأكلونها هنيئاً مريئاً، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (وأحلت لي الغنائم ولم تحل لنبي قبلي) وكان في شريعتهم أن الغنيمة تؤخذ كلها فتوضع قرباناً فتنزل نار من السماء فتأخذها، ولذلك فإن بعضهم سرق شيئاً من الذهب فلم تقبل، فقال نبيهم: فيكم الغلول، فصافح مقدم كل قبيلة حتى لصقت يد واحد منهم فأخرجه من قومه، فجاءت نار من السماء فأكلتها.
فالغنيمة في الشرائع التي سبقت لم تكن حلالاً، وفي شريعتنا حلت، فهذا مصداق لقول الله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة:48].
إذاً: دين الأنبياء واحد وهو الإسلام، لكن الشرائع مختلفة، فهؤلاء هم الموحدون الخلص أو المؤمنون الخلص.
ইসলামের সংজ্ঞাএবং ইসলামের অর্থ হলো: বিশুদ্ধ তাওহীদ।
অর্থাৎ: আপনি মহান আল্লাহকে এক বলে জানবেন এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবেন না, যেমন আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {যখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’, তিনি বললেন, ‘আমি বিশ্বজাহানের রবের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম’} [বাকারা: ১৩১]।
এবং আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আলাইহিস সালামের কথা বর্ণনা করে বলেন: {তুমি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দাও এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করো} [ইউসুফ: ১০১]।
এবং নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে: {অতঃপর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাইনি; আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর ওপরই। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই} [ইউনুস: ৭২]।
এবং ইসমাইল ও ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন: {হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত (মুসলিম) করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত জাতি তৈরি করুন} [বাকারা: ১২৮]।
এবং ফেরাউনের জাদুকরেরা বলেছিল: {হে আমাদের রব! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং মুসলিম হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান করুন} [আরাফ: ১২৬]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাজিল করেছি, যাতে ছিল হিদায়াত ও আলো। আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নবীগণ এর মাধ্যমে ইয়াহুদিদের বিচার করতেন} [মায়েদা: ৪৪]।
এবং মহান আল্লাহ বিলকিস সম্পর্কে বলেন যখন তিনি সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন: {হে আমার রব! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম} [নামল: ৪৪]।
এবং ঈসা আলাইহিস সালামের অনুসারীদের সম্পর্কে বলেন: {আর যখন আমি হাওয়ারিদের প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম যে, ‘আমার প্রতি ও আমার রাসুলের প্রতি ঈমান আনো’, তখন তারা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম’} [মায়েদা: ১১১]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ আলেমগণও; তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৮-১৯]।
সুতরাং এমন কোনো নবী নেই যিনি ইসলামের ওপর ছিলেন না, তবে শরিয়তগুলো ভিন্ন ভিন্ন ছিল। অতএব সমস্ত ধর্মই আসলে একটি ধর্ম, এটি একাধিক ধর্ম নয়; বরং সবগুলিই এক আসমানি ধর্ম এবং তা হলো ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৯]। সুতরাং মুসা, ইউসুফ, ঈসা, নূহ, ইবরাহীম, শুয়াইব, সালেহ এবং আদম ইসলামের ওপর ছিলেন।
মূলত ইসলামের অর্থ হলো: মহান আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদ। আর ধর্মগুলোর মধ্যে পার্থক্য ছিল কেবল শরিয়তের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি} [মায়েদা: ৪৮]। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাই)। অর্থাৎ: তারা একই পিতার সন্তান কিন্তু তাদের মা ভিন্ন ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তি যিনি চারজন নারীকে বিয়ে করেছেন এবং প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার সন্তান রয়েছে; এই সন্তানদের বৈমাত্রেয় ভাই বলা হয়, কারণ তাদের মায়েরা ভিন্ন কিন্তু পিতা একজনই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাই; তাদের দ্বীন এক কিন্তু শরিয়ত ভিন্ন ভিন্ন)।
যারা আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়তগুলো পরীক্ষা করেছেন তাদের কাছে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। যেমন: তাওরাত বা ইয়াহুদি শরিয়তে যদি কারো পোশাকে নাপাকি লাগত, তবে তা পবিত্র করার উপায় ছিল পোশাকের সেই অংশটি কেটে ফেলা যেখানে নাপাকি লেগেছে।
পক্ষান্তরে আমাদের দ্বীন ও শরিয়তে: নাপাকি লাগলে তা পানি দিয়ে পবিত্র করা হয়।
আরও একটি বিষয়: আমাদের শরিয়তে বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি হলো মৃত্যু পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ করা, কিন্তু বিকৃত তাওরাতে এর শাস্তি ছিল বেত্রাঘাত এবং মুখ কালো করে দেওয়া।
অনুরূপভাবে আমাদের শরিয়তে: ইসলাম ও মুসলিমদের রক্ষা দানকারী মুজাহিদদের জন্য গণিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে। ফলে যখন তারা গণিমত লাভ করেন, তারা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করতে পারেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার জন্য গণিমত হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীর জন্য হালাল করা হয়নি)। আর তাদের শরিয়তে নিয়ম ছিল যে, গণিমতের সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে উৎসর্গের জন্য রাখা হতো, এরপর আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তা পুড়িয়ে নিত। এ কারণে একবার তাদের কেউ কিছু সোনা চুরি করেছিল, ফলে তা কবুল হয়নি। তখন তাদের নবী বললেন: তোমাদের মধ্যে খেয়ানতকারী রয়েছে। এরপর তিনি প্রত্যেক গোত্রপ্রধানের সাথে মুসাফাহা করলেন যতক্ষণ না একজনের হাত নবীর হাতের সাথে আটকে গেল। তখন তিনি তাকে তার কওম থেকে বের করে আনলেন এবং আকাশ থেকে আগুন এসে তা গ্রাস করল।
সুতরাং পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোতে গণিমত হালাল ছিল না, কিন্তু আমাদের শরিয়তে তা হালাল হয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি} [মায়েদা: ৪৮]।
অতএব: নবীদের দ্বীন এক আর তা হলো ইসলাম, কিন্তু তাদের শরিয়তগুলো ভিন্ন। এরাই হলেন খাঁটি তাওহীদপন্থী বা খাঁটি মুমিন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
تعريف أهل الكفرالصنف الثاني: الكافرون الخلص: وهم عباد الأصنام الذين يشركون مع الله غيره في العبادة.
فمنهم من عبد البقر، ومنهم من عبد البشر، ومنهم من عبد الأصنام، فهؤلاء عبدوا الله لا على التوحيد، ولا بما شرع الله جل في علاه، كما قال الله تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة:31].
وأيضاً: قال الله فيهم على لسانهم: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر:3] وكذبهم الله في ذلك وبين أنها لا تملك شيئاً مع الله.
কুফরের অধিকারীদের পরিচয়দ্বিতীয় প্রকার: খাঁটি কাফিরগণ: তারা হলো মূর্তিপূজারী, যারা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করে।
তাদের মধ্যে কেউ গাভীর উপাসনা করে, কেউ মানুষের উপাসনা করে, আবার কেউ মূর্তিপূজা করে। সুতরাং এরা তাওহিদের ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করেনি এবং মহান আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন সে অনুযায়ীও আমল করেনি, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।” [আত-তওবা: ৩১]।
আরও: আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: “আমরা তাদের পূজা একারণেই করি যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে।” [আয-যুমার: ৩] আর আল্লাহ তাদের এই দাবিতে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর মুকাবিলায় তারা কোনো কিছুরই মালিক নয়।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৯)
تعريف أهل النفاقأما الصنف الثالث: فهم بين بين، وهم أهل الأهواء والضلال، أو أهل النفاق.
وهم الذين يعبدون الله بغير التوحيد، لأنهم أدخلوا هواهم في التوحيد، فكلما هووا شيئاً عملوه، قال الله تعالى: {أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا} [الفرقان:43].
وأيضاً: قدموا العقل على النقل، فما عبدوا الله بالتوحيد الخالص، وما اتبعوا رسول الله الاتباع الخالص فلو خالف العقل النقل قدموا العقل على النقل.
وقد ذمهم الله جل في علاه، وذمهم رسوله صلى الله عليه وسلم، وصدق فيهم قول الله تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} [يوسف:106].
أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
মুনাফিকদের পরিচয়তৃতীয় প্রকার হলো: তারা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, তারা কুপ্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্টতার অনুসারী অথবা মুনাফিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
তারা হলো সেই লোক যারা তাওহীদ ব্যতিরেকে আল্লাহর ইবাদত করে, কারণ তারা তাওহীদের মধ্যে তাদের খেয়ালখুশি বা কুপ্রবৃত্তিকে প্রবেশ করিয়েছে। ফলে তারা যখনই কোনো কিছু কামনা করে, তখনই তারা তা সম্পন্ন করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার কুপ্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে? তবে কি আপনি তার কর্মবিধায়ক হবেন?} [আল-ফুরকান: ৪৩]।
অধিকন্তু: তারা দলীল বা ওহীর ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়। ফলে তারা খাঁটি তাওহীদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করেনি এবং আল্লাহর রাসূলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করেনি। সুতরাং যদি যুক্তি ওহীর বিরোধী হয়, তবে তারা ওহীর ওপর যুক্তিকেই প্রাধান্য দেয়।
মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিন্দা করেছেন। তাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণী সত্য হয়েছে: {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তবে শিরক করা অবস্থায়।} [ইউসুফ: ১০৬]।
আমি আমার এই কথাই বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية - محمد حسن عبد الغفار القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘আহলুল ইসলাম ও আহলুল ঈমানের ইবাদত এবং আহলুশ শিরক ও আহলুন নিফাকের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘আহলুল ইসলাম ও আহলুল ঈমানের ইবাদত এবং আহলুশ শিরক ও আহলুন নিফাকের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
কিতাবের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ৯টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১)
عبادات أهل الإسلام والإيمان وأهل الشرك والنفاق -
التوسل [1]الدعاء عبادة لله تعالى فلا يجوز صرفها لغيره، ويشرع للداعي أن يقدم بين يدي دعائه وسيلة تكون سبباً لإجابة دعائه، ولكن يجب أن تكون هذه الوسيلة مشروعة، ومن الوسائل المشروعة التوسل إلى الله بأسمائه وصفاته وأفعاله، والتوسل بالأعمال الصالحة، وبدعاء الأحياء أو حال الداعي.
ইসলাম ও ঈমানদারদের এবং শিরক ও নিফাকপন্থীদের ইবাদত -
উসিলা গ্রহণ [১]দুয়া মহান আল্লাহর ইবাদত, তাই এটি অন্য কারো জন্য নিবেদন করা জায়েজ নয়। দুয়াকারীর জন্য এটি বিধিবদ্ধ যে, সে তার দুয়ার আগে এমন মাধ্যম পেশ করবে যা তার দুয়া কবুল হওয়ার কারণ হয়। তবে এই মাধ্যমটি অবশ্যই শরীয়তসম্মত হতে হবে। শরীয়তসম্মত মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট উসিলা তালাশ করা, এবং নেক আমল, জীবিত ব্যক্তিদের দুয়া অথবা দুয়াকারীর নিজ অবস্থার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ২)
تعريف التوسلإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: التوسل في اللغة هو: الشيء الموصل للغرض المقصود.
والتوسل عموماً في الشرع هو: الوسيلة أو الطريقة المتخذة للوصول إلى رضا الله وجناته.
وأما خصوصاً فهو: اتخاذ الوسيلة بين يدي الدعاء للاستجابة.
والتوسل عبادة، قال تعالى: {وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ} [المائدة:35].
قوله: (ابتغوا) أمر من الله بابتغاء الوسيلة، والله عز وجل لا يأمر إلا بما يحب، إذاً: فالوسيلة يحبها الله عز وجل، فإذا كان الله عز وجل يحبها فهي داخلة تحت مسمى (العبادة)، والعبادة: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه.
وقال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي} [غافر:60] فسمى الدعاء عبادة، ولازم الدعاء اتخاذ الوسيلة بين يدي هذا الدعاء، ولازم الشيء يأخذ اسمه وحكمه.
إذاً: إن كانت الوسيلة عبادة، فصرفها لله توحيد، وصرفها لغير الله شرك، ومن هذا المنطلق فالتوسل على نوعين: توسل مشروع، وتوسل ممنوع.
তাওয়াসসুলের সংজ্ঞানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: আভিধানিক অর্থে তাওয়াসসুল হলো: উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম।
সাধারণভাবে শরিয়তের পরিভাষায় তাওয়াসসুল হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের উদ্দেশ্যে গৃহীত মাধ্যম বা পদ্ধতি।
আর বিশেষভাবে তা হলো: দুআ কবুলের জন্য দুআর পূর্বে কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা।
আর তাওয়াসসুল একটি ইবাদত। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম অন্বেষণ করো} [আল-মায়িদাহ: ৩৫]।
তাঁর বাণী: (অন্বেষণ করো) এটি মাধ্যম অন্বেষণ করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ। আর মহান আল্লাহ কেবল তা-ই নির্দেশ দেন যা তিনি পছন্দ করেন। সুতরাং, মাধ্যম বা ওসিলা এমন বিষয় যা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন। আর মহান আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তা 'ইবাদত'-এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ইবাদত হলো: আল্লাহ যা কিছু পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এমন সবকিছুর এক ব্যাপক নাম।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের রব্ব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত করতে অহংকার করে...} [গাফির: ৬০]। এখানে তিনি দুআকে ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর দুআর আবশ্যিক অনুষঙ্গ হলো এই দুআর পূর্বে কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা। আর কোনো জিনিসের আবশ্যিক অনুষঙ্গ সেই জিনিসেরই নাম ও বিধান গ্রহণ করে।
সুতরাং: যদি মাধ্যম বা ওসিলা ইবাদত হয়ে থাকে, তবে তা কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদন করা 'তাওহীদ', আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য নিবেদন করা 'শিরক'। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাওয়াসসুল দুই প্রকার: শরিয়তসম্মত তাওয়াসসুল এবং নিষিদ্ধ তাওয়াসসুল।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
أنواع التوسل
তাওয়াসসুলের প্রকারভেদ
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
التوسل المشروع وأنواعه
শরয়ি তাওয়াসসুল ও তার প্রকারভেদ
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
التوسل بذات الله تعالى وأسمائه وصفاته وأفعالهوالتوسل المشروع على أربعة أنواع: الأول: التوسل بذات الله تعالى وبأسمائه وصفاته وأفعاله.
فأما التوسل بأسماء الله تعالى، فقد قال تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ} [الأعراف:180]، أي: اتخذوها وسيلة.
وقال جل في علاه: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء:110].
وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يتوسل إلى الله بأسمائه الحسنى، وكان عليه الصلاة والسلام يقول: (اللهم إني أسألك بكل اسم هو لك؛ سميت به نفسك، أو علمته أحداً من خلقك، أو أنزلته في كتابك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك)، فكان يتوسل بأسماء الله تعالى.
ومنه: (وأعوذ بعزتك أن تضلني، أنت الحي الذي لا يموت، والجن والإنس يموتون).
و (مر النبي صلى الله عليه وسلم على رجل يدعو في المسجد ويقول: اللهم إني أسألك بأني أشهد أنك أنت الله، لا إله إلا أنت، الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: قد سأل باسمه الأعظم الذي إذا سئل به أعطى، وإذا دعي به أجاب) فهذا توسل بأسماء الله تعالى وهذا لا يصل إليه إلا الفقيه المتدبر الذي اعتقد اعتقاداً صحيحاً في ربه.
والمسلم إذا أراد أن يسأل الله ويتوسل بأسمائه فليأت بالاسم المناسب في المقام الذي يريده، فمثلاً: إذا أرا أن يطلب من الله الرحمة، فلا يقل: يا عزيز! يا جبار! يا منتقم! ارحمني، لأن هذا سوء أدب مع الله، لأن الجبار يناسبه أن ينتقم، لا أن يرحم، فهو قد وضع اسم الله في غير موضعه، لذا فمن الآداب التي لا بد أن يراعيها العبد وهو يتعبد لله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى توسلاً: أن يأتي بالاسم الذي يوافق المقام.
وكذلك إن أراد الرزق فلا يقل: يا مانع ارزقني، وإنما ليقل: يا رزاق ارزقني.
وإن أراد النصر فيكون أنسب ما يقول: إنك نِعم المولى ونعم النصير.
وإن أراد الموت قال: {أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ} [يوسف:101].
وقد علم النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر رضي الله عنه أن يتوسل باسم من أسماء الله في مقام مناسب، وذلك في آخر الصلاة بقوله: (قل: اللهم إني ظلمت نفسي ظلماً كثيراً ولا يغفر الذنوب إلا أنت، فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم).
إذاً: عند التوسل بأسماء الله جل في علاه تأتي بالاسم المناسب للمقام الذي تدعو له وتتوسل به.
وأما التوسل بصفات الله جل في علاه، فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يتوسل بصفات الله جل وعلا فيقول: (أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق) فهنا النبي صلى الله عليه وسلم توسل بصفة من صفات الله الفعلية، وهي: الكلام.
وأما التوسل بصفات الله تعالى الذاتية، فكأن يتوسل العبد بالرحمة فهي صفة ذاتية، لكن أصرح من ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (أعوذ بعزة الله وقدرته وسلطانه من شر ما أجد وأحاذر) فالصفة الذاتية هنا: العزة والقدرة والسلطان، وكلها صفات ذاتية لا تنفك عن الله جل في علاه.
وأما التوسل بأفعال الله تعالى، فمعناها: أن ينظر النبي صلى الله عليه وسلم، أو ينظر الصحابي، أو ينظر المؤمن التقي في فعل من أفعال الله في أمة من الأمم فيقول: يا رب كما فعلت كذا فافعل بي، أو كما هديت فلاناً فاهدني أو كما أنعمت على فلان فأنعم علي، أو كما رزقت فلان فارزقني.
وأصرح من ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (اللهم عليك بهم اللهم اجعلها عليهم سنين كسني يوسف) أي: اللهم ابتلى قريشاً بسنين كسني يوسف، لأنهم جحدوا وكفروا، فكان كل واحد منهم ينظر إلى الميتة فيطعمها من البلاء والجوع.
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: (اللهم انصرنا كما نصرتنا على الأحزاب).
وأفعال الله تعالى لا تنتهي بحال من الأحوال.
মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কর্মসমূহের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণবৈধ ওসিলা চার প্রকার: প্রথমত: মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং তাঁর কর্মসমূহের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা।
মহান আল্লাহর নামসমূহের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করার বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো; আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি ঘটায়} [আল-আরাফ: ১৮০], অর্থাৎ: সেগুলোকে ওসিলা হিসেবে গ্রহণ করো।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো বা ‘রাহমান’ নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই} [আল-ইসরা: ১১০]।
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ওসিলা করতেন। তিনি বলতেন: (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রত্যেকটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা যা আপনি আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা যা আপনি আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা যা আপনি নিজের কাছে ইলমে গায়েবে বা অদৃশ্য জ্ঞানে সংরক্ষণ করেছেন), সুতরাং তিনি মহান আল্লাহর নামসমূহের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করতেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: (আর আমি আপনার ইজ্জত বা সম্মানের আশ্রয় গ্রহণ করছি যেন আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট না করেন; আপনিই সেই চিরঞ্জীব যিনি কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না, অথচ জিন ও মানুষ সবাই মৃত্যুবরণ করবে)।
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে দোয়া করছিল: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ সাক্ষ্যের মাধ্যমে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেয়া হয়নি এবং যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে আল্লাহর সেই সুমহান নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করেছে, যা দিয়ে চাইলে তিনি দান করেন এবং যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন)। এটি আল্লাহর নামসমূহের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ, আর এ পর্যায়ে কেবল সেই বিজ্ঞ চিন্তাশীল ব্যক্তিই পৌঁছাতে পারেন যিনি তাঁর রবের প্রতি সঠিক আকিদা বা বিশ্বাস পোষণ করেন।
একজন মুসলিম যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে চায় এবং তাঁর নামসমূহের মাধ্যমে ওসিলা করতে চায়, তখন তার উচিত প্রেক্ষিত অনুযায়ী উপযুক্ত নাম বেছে নেয়া। উদাহরণস্বরূপ: সে যদি আল্লাহর কাছে রহমত বা দয়া প্রার্থনা করতে চায়, তবে সে যেন এ কথা না বলে: হে মহাপরাক্রমশালী! হে মহাপ্রতাপশালী! হে প্রতিশোধ গ্রহণকারী! আমাকে দয়া করুন। কারণ এটি আল্লাহর সাথে শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ। কেননা 'মহাপ্রতাপশালী' বা 'জব্বার' নামটি প্রতিশোধ গ্রহণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দয়া করার সাথে নয়। সে আল্লাহর নামকে তার সঠিক স্থানের বাইরে ব্যবহার করেছে। অতএব, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করে ইবাদত করার ক্ষেত্রে বান্দার যে শিষ্টাচারগুলো মেনে চলা আবশ্যক তা হলো: প্রেক্ষিতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাম ব্যবহার করা।
অনুরূপভাবে যদি সে রিজিক চায়, তবে সে যেন না বলে: হে রিজিক দান থেকে বিরতকারী! আমাকে রিজিক দিন। বরং সে যেন বলে: হে রিজিকদাতা! আমাকে রিজিক দিন।
আর যদি সে সাহায্য বা বিজয় চায়, তবে তার জন্য সবচেয়ে উপযোগী কথা হলো: নিশ্চয়ই আপনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
আর যদি সে মৃত্যু কামনা করে তবে সে বলবে: {আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক; আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন} [ইউসুফ: ১০১]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একটি উপযুক্ত ক্ষেত্রে আল্লাহর নামসমূহের একটির মাধ্যমে ওসিলা করতে শিখিয়েছেন, আর তা হলো সালাতের শেষে এ কথা বলা: (বলো: হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু)।
সুতরাং: মহান আল্লাহর নামসমূহের মাধ্যমে ওসিলা করার সময় প্রার্থনার প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাম ব্যবহার করতে হবে এবং তার মাধ্যমেই ওসিলা গ্রহণ করতে হবে।
আর মহান আল্লাহর গুণাবলির মাধ্যমে ওসিলা করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে যে, তিনি আল্লাহর গুণাবলির মাধ্যমে ওসিলা করতেন এবং বলতেন: (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম বা বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর একটি কর্মগত গুণের মাধ্যমে ওসিলা করেছেন, আর তা হলো: কালাম বা কথা বলা।
আর মহান আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলির মাধ্যমে ওসিলা করা হলো, যেমন বান্দা 'রহমত' বা দয়ার মাধ্যমে ওসিলা করবে; কেননা এটি একটি সত্তাগত গুণ। তবে এর চেয়েও স্পষ্ট হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: (আমি আল্লাহর ইজ্জত বা সম্মান, ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের মাধ্যমে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা আমি অনুভব করছি এবং যার ভয় করছি)। এখানে সত্তাগত গুণাবলি হলো: ইজ্জত, কুদরত বা ক্ষমতা এবং সুলতান বা কর্তৃত্ব; আর এগুলো সবই মহান আল্লাহর সত্তাগত গুণ যা মহান আল্লাহর সত্তা থেকে কখনো পৃথক হয় না।
আর আল্লাহর কর্মসমূহের মাধ্যমে ওসিলা করার অর্থ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা কোনো সাহাবী অথবা কোনো পরহেযগার মুমিন কোনো জাতির ক্ষেত্রে আল্লাহর কোনো একটি কর্মের দিকে লক্ষ করে বলবেন: হে রব! আপনি যেমন অমুক কাজ করেছেন, আমার ক্ষেত্রেও তেমন করুন; অথবা আপনি যেমন অমুককে হিদায়াত দিয়েছেন তেমনি আমাকেও হিদায়াত দিন; অথবা যেমন অমুককে নিয়ামত দিয়েছেন তেমনি আমাকেও নিয়ামত দিন; অথবা যেমন অমুককে রিজিক দিয়েছেন তেমনি আমাকেও রিজিক দিন।
এর চেয়েও স্পষ্ট হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (হে আল্লাহ! আপনি তাদের পাকড়াও করুন; হে আল্লাহ! আপনি তাদের ওপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন)। অর্থাৎ: হে আল্লাহ! কুরাইশদেরকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের ন্যায় দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলুন। কারণ তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং কুফরি করেছিল, ফলে তাদের প্রত্যেকেই দুর্ভিক্ষের যাতনা ও ক্ষুধার তাড়নায় মৃত পশুর চামড়াও খেতে বাধ্য হয়েছিল।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উক্তি: (হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সাহায্য করুন যেভাবে আপনি আমাদের আহযাবের যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন)।
আর মহান আল্লাহর কর্মসমূহের কোনো শেষ নেই।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
التوسل بالأعمال الصالحةالثاني: التوسل بالأعمال الصالحة: وقد ثبت ذلك بالكتاب والسنة؛ فقال الله تعالى حاكياً لنا عن الحواريين عندما توسلوا لربهم بالأعمال الصالحة، فقالوا: {رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ} [آل عمران:53].
وقوم محمد صلى الله عليه وسلم قالوا: {رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا} [آل عمران:193] فهم سألوا الله بأعمالهم الصالحة، وهي: الإيمان بالله، والإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قالوا: {رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا} [آل عمران:193] وهل يصح سؤاله عز وجل بحبه وحب رسوله صلى الله عليه وسلم؟
الجواب نعم، يصح للمرء أن يقول: اللهم إني أسألك بحبي لك ولدينك، وحبي لنبيك أن تحببني فيك وتحبب عبادك في، أو: أن تحببني إلى الصالحين وتحبب الصالحين إليّ، فتدعو الله جل وعلا بالعمل الصالح، وهو حبك لله وحبك لرسول الله صلى الله عليه وسلم.
وأصرح من ذلك فعلياً قصة الثلاثة الذين أغلق عليهم الغار، وكيف أنهم توسلوا لله بالأعمال الصالحة.
فأما الأول: فتوسل بأنه أخذ اللبن الذي أتى به لأمه وأبيه أولاً وأولاده حوله يبكون يريدون اللبن فما أعطاهم؛ فبقي هكذا حتى بزغ الفجر، فسقى أباه وأمه براً بهما، وترك أولاده وفلذات كبده.
فهذا عمل صالح، فذكره ثم قال: (اللهم إن كان هذا العمل إخلاصاً لوجهك الكريم فافرج عنا فانفرجت فرجة ينظرون منها ولا يستطيعون الخروج.
فجاء الثاني فقال: اللهم إنك كنت تعلم أنه كان لي ابنة عم، وكنت أحبها حباً جماً، فطلبت مني مالاً فراودتها عن نفسها، فلما تمكنت منها وكنت منها بمكان الزوج من زوجه، قالت: اتق الله لا تفض الخاتم إلا بحقه) فارتدع الرجل، وهنا انظر الدين والإخلاص، فإن الرجل جاءه الرادع فارتدع، قال: (فأعطيتها المال، وهي أحب إلي خوفاً منك، اللهم إن كان هذا إخلاصاً لوجهك الكريم فافرج عنا ففرج الله عنهم.
وجاء فقال: اللهم إنه كان لي أجراء فكان من هؤلاء أجير لم يأخذ أجره فأخذت أجره فنميته له، فلما جاء الرجل قال: أجري؟ قلت: انظر إلى هذا الوادي من الغنم والبقر، قال: لا تستهزئ بي واتق الله، قلت: والله إن هذا أجرك، ثم قال: اللهم إن كنت فعلت ذلك إخلاصاً لوجهك فافرج عنا، ففرج الله عنهم).
فهذا توسل بالأعمال الصالحة.
সৎ আমলের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণদ্বিতীয়টি: সৎ আমলের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ: এটি কুরআন এবং সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত; আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট হাওয়ারীদের কথা বর্ণনা করে বলেছেন যখন তারা তাদের রবের কাছে সৎ আমলের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করেছিল, তারা বলেছিল: {হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের আনুগত্য করেছি, সুতরাং আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন} [আলে ইমরান: ৫৩]।
এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত বলেছিল: {হে আমাদের রব! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, 'তোমরা তোমাদের রবের ওপর ঈমান আনো', তাই আমরা ঈমান এনেছি} [আলে ইমরান: ১৯৩]। তারা তাদের সৎ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিল, আর তা হলো: আল্লাহর ওপর ঈমান এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান, এরপর তারা বলেছিল: {হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন} [আলে ইমরান: ১৯৩]। আর মহান আল্লাহর কাছে তাঁর প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে প্রার্থনা করা কি সঠিক?
উত্তরহ্যাঁ, একজন ব্যক্তির জন্য এটি বলা সঠিক যে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা এবং আপনার দ্বীনের প্রতি আমার ভালোবাসার মাধ্যমে এবং আপনার নবীর প্রতি আমার ভালোবাসার মাধ্যমে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে আপনার ভালোবাসার পাত্র বানান এবং আপনার বান্দাদের হৃদয়ে আমার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করেন, অথবা: আমাকে নেককারদের নিকট প্রিয় করে দিন এবং নেককারদের আমার নিকট প্রিয় করে দিন। এভাবে আপনি মহান আল্লাহর কাছে সৎ আমলের মাধ্যমে দুআ করবেন, আর তা হলো আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আপনার ভালোবাসা।
এর চেয়েও স্পষ্ট ব্যবহারিক প্রমাণ হলো গুহায় আটকে পড়া সেই তিন ব্যক্তির কাহিনী, এবং কীভাবে তারা আল্লাহর কাছে সৎ আমলের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করেছিলেন।
প্রথম ব্যক্তি এই বলে অসিলা ধরেছিলেন যে, তিনি তার মা-বাবার জন্য যে দুধ নিয়ে এসেছিলেন তা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন অথচ তার সন্তানেরা তার চারপাশে দুধের জন্য কাঁদছিল, কিন্তু তিনি তাদের তা দেননি; তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত এভাবেই থাকলেন, অতঃপর তার বাবা-মাকে পান করালেন তাদের প্রতি সদাচার হিসেবে এবং তার সন্তানদের তথা নিজের কলিজার টুকরোদের অপেক্ষা করিয়ে রাখলেন।
এটি একটি সৎ আমল, তিনি এটি উল্লেখ করে বললেন: (হে আল্লাহ! যদি এই কাজটি আপনার মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে করা হয়ে থাকে তবে আমাদের বিপদ মুক্ত করুন। তখন পাথরটি একটু সরে গেল যা দিয়ে তারা বাইরে দেখতে পাচ্ছিল কিন্তু বের হতে পারছিল না)।
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে বললেন: (হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে আমার এক চাচাতো বোন ছিল এবং আমি তাকে ভীষণ ভালোবাসতাম। সে আমার কাছে কিছু অর্থ সাহায্য চাইলে আমি তার সাথে কুকর্মের প্রস্তাব দিই। অতঃপর যখন আমি তার ওপর সক্ষম হলাম এবং তার সাথে এমন অবস্থায় উপনীত হলাম যেমন একজন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে থাকে, তখন সে বলল: 'আল্লাহকে ভয় করো, বৈধ অধিকার ছাড়া সতীত্ব নষ্ট করো না')। তখন লোকটি নিবৃত্ত হলো। এখানে দ্বীনদারি ও ইখলাস লক্ষ্য করুন, যখনই তাকে সতর্ক করা হলো তখনই সে নিবৃত্ত হলো। সে বলল: (অতঃপর আমি তাকে সেই অর্থ দিয়ে দিলাম অথচ সে ছিল আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, কেবলমাত্র আপনার ভয়ে। হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে করা হয়ে থাকে তবে আমাদের বিপদ মুক্ত করুন। তখন আল্লাহ তাদের বিপদ কিছুটা লাঘব করলেন)।
এরপর (তৃতীয় ব্যক্তি) এসে বললেন: (হে আল্লাহ! আমার কিছু শ্রমিক ছিল, তাদের মধ্যে একজন তার মজুরি না নিয়েই চলে গিয়েছিল, অতঃপর আমি তার সেই মজুরি ব্যবসায় বিনিয়োগ করে বৃদ্ধি করলাম। তারপর যখন সেই লোকটি এসে বলল: 'আমার মজুরি দিন', তখন আমি বললাম: 'ঐ উপত্যকাভর্তি ছাগল ও গরুর দিকে তাকাও'। সে বলল: 'আমাকে নিয়ে উপহাস করবেন না এবং আল্লাহকে ভয় করুন'। আমি বললাম: 'আল্লাহর কসম, এটিই তোমার মজুরি'। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এটি করে থাকি তবে আমাদের বিপদ মুক্ত করুন। তখন আল্লাহ তাদের বিপদ পুরোপুরি দূর করে দিলেন)।
এটিই হলো সৎ আমলের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
التوسل بدعاء الصالحين الأحياءالثالث: التوسل بدعاء الصالحين الأحياء: والتوسل بالصالحين على نوعين: إما توسل بالذات، وإما توسل بالدعاء، وسنبين أن التوسل الممنوع هو: التوسل بالذات، وأما التوسل بدعاء الصالحين فهو ثابت بالكتاب والسنة: أما من الكتاب: فقوله تعالى: {قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا} [يوسف:97].
وقوله تعالى على لسان إبراهيم عليه الصلاة والسلام: {رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ} [إبراهيم:41] فهو قد دعا لهم.
وأيضاً قول الله تعالى عن التابعين: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ} [الحشر:10].
وأما من السنة: ففي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه جلس بين أصحابه فقال: (يدخل الجنة سبعون ألفاً بغير حساب ولا عذاب، فبات الناس يدوكون: مَنْ هؤلاء؟ لعلهم الذين أسلموا ولم يعبدوا صنماً، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: هؤلاء الذين لا يتطيرون ولا يكتوون ولا يسترقون).
وفي رواية: (لا يرقون ولا يسترقون وعلى ربهم يتوكلون) وقوله: (ولا يرقون) هذه الرواية عند مسلم، وهي شاذة؛ لأن الحديث المتفق عليه في البخاري ومسلم قال: (لا يسترقون)، وإلا لو قلنا: (لا يرقون) فقد رقى النبي صلى الله عليه وسلم، وأمر بالرقية فقال: (أرقوها)، ورقى جبريل عليه السلام، فكيف نقول: (لا يرقون) وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: إن هذه الرواية شاذة، أما القول بأنهم لا يرقون الرقية الشرعية فهذا كلام خطأ، وهو كلام المتأخرين.
والشاهد: أن عكاشة بن محصن قال: يا رسول الله! ادع الله أن أكون منهم، فقال: (أنت منهم) فوجه الدلالة: أنه طلب الدعاء من النبي صلى الله عليه وسلم.
وأيضاً: الاستسقاء، فيدخل الرجل فيقول: يا رسول الله! هلكت الأموال والزروع فاستسق لنا.
وهناك حديث يحتج به شيخ الإسلام يقول: عندما ذهب عمر بن الخطاب إلى العمرة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يا أخانا لا تنسنا من صالح دعائك)، وهذا حديث ضعيف، ويكفينا الأحاديث الصحيحة التي تكلمنا بها.
জীবিত নেককারদের দোয়ার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণতৃতীয়: জীবিত নেককারদের দোয়ার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ: নেককারদের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ দুই প্রকার: হয় সত্তার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ, অথবা দোয়ার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ। আমরা শীঘ্রই স্পষ্ট করব যে, নিষিদ্ধ অসিলা হলো সত্তার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ। আর নেককারদের দোয়ার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন থেকে এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [ইউসুফ: ৯৭]।
এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ভাষায় মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে} [ইব্রাহিম: ৪১]। এখানে তিনি তাদের জন্য দোয়া করেছেন।
এছাড়াও তাবেঈদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে} [হাশর: ১০]।
আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণ হলো: সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মাঝে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: (হিসাব ও আজাব ছাড়াই সত্তর হাজার ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন লোকেরা এই নিয়ে আলোচনায় মগ্ন হলো যে, তারা কারা? সম্ভবত তারা ঐ সকল লোক যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং কখনও মূর্তিপূজা করেনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তারা ঐ সকল লোক যারা অশুভ লক্ষণ মানে না, আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিকিৎসা করে না এবং ঝাড়ফুঁক করার অনুরোধ করে না)।
অন্য এক বর্ণনায় আছে: (তারা নিজেরা ঝাড়ফুঁক করে না এবং ঝাড়ফুঁক করার অনুরোধও করে না এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে)। এই বর্ণনার (তারা নিজেরা ঝাড়ফুঁক করে না) অংশটি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে এবং এটি একটি শায (ভিন্ন/ব্যতিক্রমী) বর্ণনা; কারণ বুখারি ও মুসলিমের মুত্তাফাকুন আলাইহি বর্ণনায় বলা হয়েছে: (তারা ঝাড়ফুঁক করার অনুরোধ করে না)। অন্যথায়, আমরা যদি বলি যে (তারা নিজেরা ঝাড়ফুঁক করে না), তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো স্বয়ং ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং ঝাড়ফুঁক করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: (তাকে ঝাড়ফুঁক করো), আর জিবরাইল আলাইহিস সালামও ঝাড়ফুঁক করেছেন। অতএব আমরা কীভাবে বলতে পারি যে (তারা নিজেরা ঝাড়ফুঁক করে না)? শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এই বর্ণনাটি শায। আর তারা শরয়ি ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) করে না—একথা বলা ভুল, এবং এটি পরবর্তী যুগের লোকদের বক্তব্য।
এখানে মূল প্রমাণের বিষয়টি হলো: উক্কাশা বিন মিহসান বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হই। তিনি বললেন: (তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত)। সুতরাং প্রমাণের দিকটি হলো: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
অনুরূপভাবে: বৃষ্টির জন্য দোয়ার ক্ষেত্রে, এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ও শস্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদের জন্য বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন।
সেখানে আরও একটি হাদিস রয়েছে যা দিয়ে শাইখুল ইসলাম দলিল পেশ করেন; যেখানে বলা হয়েছে যে, যখন উমর ইবনুল খাত্তাব উমরাহ পালন করতে যাচ্ছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: (হে ভাই, তোমার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যেও না)। এটি একটি দুর্বল হাদিস, আর আমরা যে সহীহ হাদিসগুলো আলোচনা করেছি সেগুলোই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
التوسل بحال المرءالرابع: التوسل بحال المرء، وهذا تذلل يوافق كرم الله، فالله جل وعلا يرفع الكربة به، كأن يقول العبد: اللهم أنت تعلم ما نزل بي من البلاء، اللهم ارفع عني هذا البلاء.
وأصل التوسل به ثابت في الكتاب والسنة: أما من الكتاب فقد قال الله تعالى حاكياً عن سيدنا أيوب أنه قال: {مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [الأنبياء:83].
وعن موسى عليه الصلاة والسلام: {فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص:24]، أي: فقير إلى رحمتك، فقير إلى عطائك، فقير إلى كرمك.
وأما من السنة: حالة الاستسقاء؛ لأنهم يخرجون على هيئة رثة يستعطفون ربهم جل في علاه.
ولذلك نرى أن من السنة في صلاة الاستسقاء أن الحاكم، أو ولي الأمر، أو المهذب، أو المعلم، أو الإمام يعلم من يذهبون إلى الاستسقاء فيقول لهم: صوموا يوماً أو يومين وتصدقوا، ثم لا بد أن تذهبوا إلى ربكم بثياب بالية، وذلك هو فعل النبي صلى الله عليه وسلم، ثم خالف بين ردائه، وفي ذلك إشارة إلى التحويل، وقد قال ذلك العباس عندما قال: (أيدينا مرفوعة إليك بالذنوب- أي: حالنا أننا من أهل الذنوب- لكنا نرجو رحمتك)، فكانوا إذا استسقوا بـ العباس سقاهم الله فضلاً منه ورحمة ونعمة.
ব্যক্তির অবস্থার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণচতুর্থ: ব্যক্তির অবস্থার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ, আর এটি হলো এমন এক প্রকার বিনয় যা আল্লাহর বদান্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বিপদ দূর করে দেন, যেমন বান্দা বলে: হে আল্লাহ, আমার ওপর যে মুসিবত আপতিত হয়েছে তা আপনি জানেন, হে আল্লাহ, আমার থেকে এই মুসিবত দূর করে দিন।
এর মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণের মূল ভিত্তি কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত: কিতাব (কুরআন) থেকে দলিল হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা আইয়ুব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: "আমি কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি এবং আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু" [আল-আম্বিয়া: ৮৩]।
এবং মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে বর্ণিত: "অতঃপর তিনি বললেন, হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী" [আল-কাসাস: ২৪]। অর্থাৎ: আপনার রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী, আপনার দানের প্রতি মুখাপেক্ষী, আপনার বদান্যতার প্রতি মুখাপেক্ষী।
আর সুন্নাহ থেকে দলিল হলো: ইস্তিসকার (বৃষ্টির প্রার্থনার) অবস্থা; কারণ তারা জরাজীর্ণ বেশে বের হয় যাতে তাদের সুমহান রবের করুণা প্রার্থনা করা যায়।
এজন্য আমরা দেখতে পাই যে, ইস্তিসকার সালাতে সুন্নাত হলো শাসক, বা দায়িত্বশীল, বা সংস্কারক, বা শিক্ষক অথবা ইমাম যারা ইস্তিসকায় যাচ্ছে তাদেরকে শিক্ষা দেবেন এবং বলবেন: তোমরা একদিন বা দুই দিন রোজা রাখো এবং সদকা করো, এরপর অবশ্যই জরাজীর্ণ পোশাকে তোমাদের রবের সমীপে যাবে। আর এটিই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম। এরপর তিনি তাঁর চাদর উল্টিয়ে নিয়েছিলেন, আর এর মধ্যে ছিল অবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এটিই বলেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: "পাপের কারণে আমাদের হাতগুলো আপনার দিকে উত্তোলিত—অর্থাৎ আমাদের অবস্থা হলো আমরা গুনাহগার—কিন্তু আমরা আপনার রহমতের আশা করি।" ফলে তারা যখন আব্বাসের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করত, আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, রহমত ও নেয়ামত হিসেবে তাদের বৃষ্টি দান করতেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাকি লিইবনি তাইমিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية - محمد حسن عبد الغفار القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইবনে তাইমিয়া রচিত 'ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য' কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: আকিদা
কিতাব: ইবনে তাইমিয়া রচিত 'ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য' কিতাবের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
কিতাবের উৎস: ইসলামি নেটওয়ার্ক (Islamweb) ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিপি করা অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ৯টি পাঠ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২