(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب نقد متون السنة للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب نقد متون السنة للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি রচিত ‘নকদু মুতূনিস সুন্নাহ’ কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস


কিতাব: আদ-দুমাইনি রচিত ‘নকদু মুতূনিস সুন্নাহ’ কিতাবের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

কিতাবের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ৯টি দরস]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مقاييس نقد متون السنة -‌‌ تدوين السنة

السنة هي المبينة للقرآن، وفيها أحكام لم تذكر في القرآن، وهي المصدر الثاني للتشريع؛ ولذا اهتم العلماء بتدوينها، فأفنوا أعمارهم في حفظها، وتمييز صحيحها من سقيمها، وبيان أحوال رواتها بما ليس له نظير في تاريخ البشرية جمعاء.
সুন্নাহর মতন সমালোচনার মানদণ্ডসমূহের ব্যাখ্যা -‌‌ সুন্নাহ সংকলন

সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং এতে এমন সব বিধান রয়েছে যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। এটি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস; আর একারণেই আলেমগণ এটি সংকলনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা এটি সংরক্ষণে এবং এর সহীহ ও যয়ীফের পার্থক্য নিরূপণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনায় এমন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন যার কোনো দৃষ্টান্ত সমগ্র মানব ইতিহাসে নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌علاقة السنة بالقرآن

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهدي الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ثم أما بعد: إخوتي الكرام: ما زلنا في شرح كتاب (نقد متون السنة) لشيخنا الفاضل: مسفر بن غرم الله الدميني، وقد تكلمنا عن أهمية السنة، وعلاقة السنة بالقرآن، وكيف أن الله جلا وعلا جند جنوداً لحفظ هذه السنة الغراء، وأن كل الأئمة أنفقوا الغالي والنفيس من أجل حفظ سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وبينّا أن السنة والقرآن بينهما علاقة وطيدة، فالسنة مفسرة ومبينة لمجملات القرآن.

فمثلاً: قال الله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ} [البقرة:43]، فكيف نقيم الصلاة؟ وفي أي وقت نقيم الصلاة؟ مع أن القرآن أشار إشارات إلى الوقت التي تقام فيه الصلاة فقال الله: {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء:78]، فدلوك الشمس وغسق الليل تكون فيه صلاة الظهر إلى العشاء، وقرآن الفجر هو صلاة الفجر، لكن التوقيت كله جاء في السنة.

وكذلك السنة مقيدة لمطلق القرآن، مثلاً: قال الله: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة:38] فبينت السنة محل قطع اليد.

وكذلك السنة مخصصة لعموم القرآن، فمثلاً قال الله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} [البقرة:275]، فالألف واللام للعموم، فتكون كل البيوع قد أحلها الله وحرم الربا، وجاءت السنة تخصص من هذا العموم بعض البيوع مثل بيوع الغرر، وبيع المرء ما ليس عنده، فهي حرام.

وأيضاً: للسنة أحكام مستقلة، مثل تحريم أكل كل ذي ناب من السباع، وتحريم الحمر الأهلية، ومثل سنن الوضوء كالاستنشاق والمضمضة، وحرمة الجمع بين المرأة وعمتها، وبين المرأة وخالتها.
কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দসমূহ এবং আমাদের কর্মসমূহের অমঙ্গল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। তারপর: আমার সম্মানিত ভাইয়েরা: আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ মুসফির বিন গুরমুল্লাহ আদ-দুমাইনী এর 'নাকদু মুতুনিল সুন্নাহ' (সুন্নাহর মতন সমালোচনা) কিতাবটির ব্যাখ্যায় রয়েছি। আমরা সুন্নাহর গুরুত্ব এবং কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক সম্পর্কে কথা বলেছি। এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কীভাবে এই গৌরবময় সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য এক বিশাল বাহিনী নিয়োজিত করেছেন এবং কীভাবে সমস্ত ইমামগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য তাদের মূল্যবান সম্পদ ও জীবন ব্যয় করেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, সুন্নাহ ও কুরআনের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে; সুন্নাহ হলো কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী।

উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো} [আল-বাকারাহ: ৪৩]। তাহলে আমরা কীভাবে সালাত কায়েম করব? কোন সময়ে সালাত কায়েম করব? যদিও কুরআন সালাত আদায়ের সময়ের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে, আল্লাহ বলেছেন: {সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করো এবং ফজরের কুরআন (পাঠ অর্থাৎ সালাত) কায়েম করো। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন (পাঠ) প্রত্যক্ষ করা হয়।} [আল-ইসরা: ৭৮]। সুতরাং সূর্যের ঢলে পড়া এবং রাতের অন্ধকার হলো জোহর থেকে এশা পর্যন্ত সময়, আর ফজরের কুরআন হলো ফজরের সালাত। কিন্তু পূর্ণ সময়সূচি সুন্নাহতেই এসেছে।

একইভাবে সুন্নাহ কুরআনের সাধারণ (নিরঙ্কুশ) বিধানকে সীমাবদ্ধ করে। যেমন: আল্লাহ বলেছেন: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও।} [আল-মায়িদাহ: ৩৮]। এক্ষেত্রে সুন্নাহ হাত কাটার নির্দিষ্ট স্থান বর্ণনা করেছে।

অনুরূপভাবে সুন্নাহ কুরআনের সাধারণ বিধানকে নির্দিষ্ট করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন।} [আল-বাকারাহ: ২৭৫]। এখানে আলিফ ও লাম (আল) ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে সব ধরনের ব্যবসাই আল্লাহর পক্ষ থেকে হালাল হওয়ার কথা এবং সুদ হারাম হওয়ার কথা। কিন্তু সুন্নাহ এই ব্যাপকতা থেকে কিছু ব্যবসাকে নির্দিষ্ট করে হারাম করেছে, যেমন ধোঁকাপূর্ণ কেনাবেচা (বায়উল গারার) এবং কোনো ব্যক্তির নিকট যা নেই তা বিক্রি করা; এগুলো হারাম।

এছাড়াও সুন্নাহর কিছু স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে। যেমন হিংস্র পশুদের মধ্যে দাঁত দিয়ে শিকার করা প্রাণীদের খাওয়া হারাম করা, গৃহপালিত গাধা হারাম করা এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ যেমন নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করা। এছাড়া কোনো মহিলাকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ বন্ধনে রাখা হারাম করা।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حكم تدوين السنة

أختلف العلماء في حكم تدوين السنة هل كانت مباحة وجائزة أم كانت محرمة؟ على قولين: القول الأول: أنها كانت غير جائزة.

واستدلوا على ذلك بأدلة منها حديث أبي سعيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا تكتبوا عني غير القرآن).

وعن أبي هريرة وزيد وأنس أن النبي صلى الله عليه وسلم (نهى عن كتابة السنة؛ خشية أن تختلط بالقرآن).

وجاء عن عمر بن الخطاب أنه عندما تردد في كتابة السنة استخار الله كثيراً ثم قال: لم تطمئن نفسي أن تُكتب السنة.

القول الثاني وهو قول جمهور أهل العلم: أن كتابة السنة كانت مباحة.

واستدلوا على ذلك بحديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه وأرضاه قال: (كنت أكتب حديث النبي صلى الله عليه وسلم فلامتني قريش فقالوا لي: تكتب حديث النبي والنبي بشر يغضب كما يغضب البشر، ويعتريه النسيان كما يعتري البشر؟! قال: فذهبت إلى رسول الله فقصصت عليه ما قيل، فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم: اكتب، فوالله ما يخرج منه إلا الحق) يعني: ما يخرج من فم النبي صلى الله عليه وسلم إلا الحق.

وهذا مصداق قول الله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3 - 4].

وأيضاً في حديث أبي هريرة في الصحيح أنه كان يقول: ليس أحد من أصحاب رسول الله أكثر حديثاً مني غير ما كان من عبد الله بن عمرو بن العاص، فإنه كان يكتب ولا أكتب.

وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم: (اكتبوا لأبي شاه)، وهذه فيها دلالة على جواز كتابة ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم.

والصحيح الراجح أن مسألة الكتابة كانت أول الأمر ممنوعة خشية أن يختلط القرآن بالسنة، ولما حفظ الناس القرآن وعلم النبي صلى الله عليه وسلم أنه لا يمكن أن تختلط السنة بالقرآن أباح لهم الكتابة.
সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিধান

সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিধান নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে যে, এটি কি বৈধ ও জায়েজ ছিল নাকি নিষিদ্ধ ছিল? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে: প্রথম মত: এটি জায়েজ ছিল না।

তারা এ বিষয়ে এমন কিছু দলিল পেশ করেছেন যার মধ্যে রয়েছে আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা আমার থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না)।

আবু হুরায়রা, যায়েদ এবং আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন; কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায়)।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হলেন, তখন অনেকবার আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলেন এবং তারপর বললেন: সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা হোক—এ বিষয়ে আমার মন আশ্বস্ত হতে পারল না।

দ্বিতীয় মত এবং এটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত: সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা বৈধ ছিল।

তারা এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন: (আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ লিখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে তিরস্কার করে বলল: তুমি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব কথা লিখবে অথচ তিনি একজন মানুষ, মানুষের মতোই তিনি রাগ করেন এবং মানুষের মতোই তাঁরও বিস্মৃতি ঘটতে পারে?! তিনি বলেন: তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বিষয়টি খুলে বললাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: লিখো, আল্লাহর কসম! এ মুখ থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না)। অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।

এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: {আর তিনি নিজ খেয়ালখুশি মত কোনো কথা বলেন না। এতো শুধু ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} [আন-নাজম: ৩-৪]।

এছাড়া সহিহ হাদিসে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ছাড়া আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা লিখে রাখার বৈধতার প্রমাণ বহন করে।

বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মত হলো, সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি শুরুর দিকে নিষিদ্ধ ছিল যাতে কুরআনের সাথে সুন্নাহর সংমিশ্রণ না ঘটে। পরবর্তীতে যখন মানুষ কুরআন মুখস্থ করে নিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিত হলেন যে কুরআনের সাথে সুন্নাহর সংমিশ্রণ ঘটা আর সম্ভব নয়, তখন তিনি তাদের জন্য তা লিপিবদ্ধ করার অনুমতি দেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌بداية تدوين السنة

لقد حدث التدوين في القرون الخيرة الثلاثة، لكن كان متأخراً وليس في الزمن الأول، والذي اهتم بجمع السنة هو عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه وأرضاه الخليفة الراشد الخامس، فقد خشي على سنة النبي صلى الله عليه وسلم فحث المحدثين على كتابة وتدوين سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وكان أول من كتب أبو الزبير محمد بن مسلم بن تدرس، وأسد بن فرات والدارمي وأيوب السختياني والحميدي، فكل هؤلاء كتبوا سنن النبي صلى الله عليه وسلم ودونوها، ومنهم سعيد بن منصور وسننه مطبوعة بعضها، وأيضاً ابن أبي شيبة، وعبد الرزاق ومعمر، فكل هؤلاء دونوا سنة النبي صلى الله عليه وسلم، والسنة الآن بفضل الله موجودة بين أيدينا.
সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের সূচনা

সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ বা সংকলন শ্রেষ্ঠ তিন শতাব্দীতে সংঘটিত হয়েছিল, তবে তা ছিল কিছুটা পরবর্তী সময়ে এবং একদম প্রাথমিক যুগে নয়। সুন্নাহ সংগ্রহের ব্যাপারে যিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন তিনি হলেন পঞ্চম খলিফায়ে রাশিদ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন, তাই তিনি মুহাদ্দিসগণকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ লিখতে ও লিপিবদ্ধ করতে উৎসাহিত করেন। যারা সর্বপ্রথম লিখেছিলেন তাদের মধ্যে আবু যুবায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে তাদরুস, আসাদ ইবনে ফুরাত, আদ-দারিমি, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি এবং আল-হুমাইদি অন্যতম। এঁরা সকলেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহসমূহ লিখেছেন এবং তা সংকলন করেছেন। তাঁদের মধ্যে সাঈদ ইবনে মানসুরও ছিলেন যাঁর সংকলিত সুন্নাহর কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে; এছাড়াও ইবনে আবি শায়বাহ, আব্দুর রাজ্জাক এবং মা'মারও ছিলেন। এঁরা সকলেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সুন্নাহ এখন আমাদের হাতে বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أهمية تدوين سنة النبي صلى الله عليه وسلم

لقد كان مهماً تدوين السنة؛ لأن الدخلاء كانوا كثر، وكانوا يدسون في حديث النبي صلى الله عليه وسلم ما ليس منه؛ ليهدموا عقائد المسلمين، وقد ظهروا وقت الفتنة، وما سنحت لهم الفرصة إلا بعد مقتل عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার গুরুত্ব

সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল; কারণ অনুপ্রবেশকারীরা সংখ্যায় অনেক ছিল এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের মধ্যে এমন সব বিষয় ঢুকিয়ে দিত যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, যাতে তারা মুসলিমদের আকিদা বা বিশ্বাসকে ধ্বংস করতে পারে। তারা ফিতনার সময় আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতের পরেই কেবল তারা এই সুযোগ পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حكم رواية الحديث بالمعنى

هنا مسألة وهي: هل يجوز رواية الحديث بالمعنى أم لا؟

و

‌‌الجواب

إذا قلنا: إن التدوين كان متأخراً فإن الصدور لا تحفظ الألفاظ وتضبطها كل هذه السنين، فلا بد أن يعتري المحدث بعض الوهم وبعض النسيان، فيتذكر معنى الحديث فيروي معنى الحديث، ورواية الحديث بالمعنى قد اختلف فيها الصحابة والتابعين ومن بعدهم، فـ ابن عمر رضي الله عنه وأرضاه كان أشد الناس في تحريم رواية الحديث بالمعنى، حتى أنه إذا غير بعض الرواة لفظاً واحداً في الحديث قال: هذا كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال سليمان بن مهران الأعمش: إن هذا العلم كان عند أقوام لأن يخر أحدهم من السماء خير لهم من أن يجعل واواً بدل الدال أو دالاً بدل الواو، بمعنى: أنهم يحفظون النص فينقلونه كما حفظوه.

واستدلوا على ذلك بأدلة منها: قول النبي صلى الله عليه وسلم: (نضر الله امرأً سمع مقالتي فوعاها، فأداها كما سمعها)، وهذا تنصيص على أن النضارة إنما تكون لمن يحفظ اللفظ ويؤديه كما حفظه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ويستدلون بحديث أوضح من ذلك وهو حديث البراء في دعاء النوم، وهو: (اللهم إني وجهت وجهي إليك، وأسلمت نفسي إليك -وفي آخره- آمنت بكتابك الذي أنزلت، وبنبيك الذي أرسلت) فلما سمعه البراء بن عازب عرضه على النبي صلى الله عليه وسلم وقال: (آمنت بكتابك الذي أنزلت، ورسولك الذي أرسلت)، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (لا، ونبيك الذي أرسلت)، فصحح له ما قاله، مع أن الرسول نبي وزيادة، فهو رواه بالمعنى، ومع ذلك فالنبي صلى الله عليه وسلم رد عليه وقال: (لا، وبنبيك الذي أرسلت)، وهذه دلالة قوية جداً عن النبي صلى الله عليه وسلم في رفض الرواية بالمعنى، ولا بد أن يأتي باللفظ.

وهذا القول يأخذ به الإمام مسلم؛ ولذلك تراه يدقق جداً في الألفاظ في صحيحه.

القول الثاني -وهو قول جمهرة أهل العلم من الصحابة والتابعين-: جواز رواية الحديث بالمعنى، وهذا الذي رجحه البخاري وقبله شيخه علي بن المديني.

ويحتجون على ذلك بأدلة منها: حديث أبي سعيد قال: كنا نكون العشرة عند رسول الله فنحفظ عنه الحديث، فيروي كل واحد منا الحديث فلا نتفق على لفظه.

فهذا صريح جداً، وظاهره أن الصحابة يحفظون الحديث وكل منهم يؤدي الحديث بالمعنى.

والراجح الصحيح أن رواية الحديث بالمعنى جائزة، وهذا الذي يظهر عملياً؛ لأن الحديث الواحد إذا تتبعت رواياته في الكتب الستة فقط فستجد أن رواية البخاري وتخالف رواية مسلم وتخالف رواية النسائي وتخالف رواية أبي داود تخالف رواية الترمذي، وهذه دلالة على أن الرواة حفظوا المعنى، ووعى كل واحد منهم المعنى بدقة، وكان عندهم فقه ولهم سليقة، فلا يحيلون المعنى، ولا يغيرون الأحكام، فالصحيح الراجح أن رواية المعنى صحيحة لا سيما الآن في عصرنا، فمن حفظ الحديث بالمعنى وقاله بالمعنى فقد أصاب.

والحديث القدسي المعنى فيه من الله واللفظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فالنبي صلى الله عليه وسلم يرويه بالمعنى.

وهنا سنبين بوضوح عملية رواية الحديث بالمعنى: فحديث: (دخل أعرابي المسجد فبال في ناحية المسجد، فقام الصحابة فكادوا يقتلونه، فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: لا تزرموه ولا تقطعوا عليه بوله، ثم قال: أهريقوا عليه سجلاً أو ذنوباً من ماء)، فسنتتبع هذه الرواية في الكتب الستة فقط، وننظر في الروايات كيف أداها الذين سمعوا هذا الحديث: فأما صحيح البخاري فالحديث فيه عن أنس بن مالك رضي الله عنه وأرضاه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تزرموه، ثم دعا بدلو من ماء فصب عليه).

وفي البخاري نفسه عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (دعوه، وأهريقوا على بوله ذنوباً من ماء أو سجلاً من ماء).

وفي صحيح مسلم عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (دعوه ولا تزرموه، قال: فلما فرغ -يعني فرغ من بوله- دعا بدلو من ماء فصبه عليه).

وفي مسلم أيضاً عن أنس قال: (فصاح به الناس، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: دعوه، فلما فرغ أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذنوب فصب على بوله).

وأيضاً عن أنس في رواية أخرى في الصحيح قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تزرموه دعوه).

وفي سنن أبي داود عن أبي هريرة قال: (فلم يلبث أن بال في ناحية المسجد، فأسرع الناس إليه فنهاهم النبي صلى الله عليه وسلم وقال: إنما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين، صبوا عليه سجلاً من ماء).

وهذه الجملة لم تذكر أصلاً في رواية من روايات الصحيح، وهذا يدل على أن الحديث روي بالمعنى.

وفي رواية قال: (صبوا عليه ذنوباً من ماء).

وفي سنن الترمذي عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (أهريقوا عليه سجلاً من ماء أو دلواً من ماء).

وفي سنن النسائي عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (دعوه ولا تزرموه، فلما فرغ دعا بدلوٍ فصبه عليه) وفي النسائي عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (دعوه وأهريقوا على بوله دلواً من ماء؛ فإنما بعثتم ميسرين).

وفيه أيضاً عن أنس: (اتركوه، فتركوه حتى بال ثم أمر بدلو من ماء).

وفي سنن ابن ماجة قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزرموه، ثم دعا بدلو من ماء فصب عليه).

وأيضاً في سنن ابن ماجة عن واثلة بن الأسقع -وهو راو ثالث- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (دعوه، ثم دعا بسجل من ماء فصب عليه).

فهذه الروايات في الكتب الستة فقط، فلا توجد رواية اتفقت مع رواية أخرى بنفس اللفظ، فالصحابة كل واحد منهم سمع رسول الله وعقل عنه، وكانت اللغة عندهم سليقة، وكانوا فقهاء، وتتوفر فيهم الشروط التي أشترطها العلماء في الرواية بالمعنى وهي: أن يكون عالماً باللغة العربية.

وأن يكون فقيهاً؛ حتى لا يغير الأحكام.

وأن يستوعب مضمون الحديث كله، ولا يحيل المعنى ولا الحكم.

فالصحيح الراجح أن رواية السنة بالمعنى جائزة، وفي هذا تيسير على كل أخ يخطب خطبة أو يتكلم كلمة، فنقول له: إذا رويت حديثاً بالمعنى فقد أصبت، ولا نحجر واسعاً؛ إذ إننا لو قلنا: لا تجوز الرواية إلا باللفظ، فإننا سنحرم على أي مدرس أو أي خطيب أو أوي متكلم يتكلم وينسب القول لرسول الله إلا بالنص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا فيه مشقة، لا سيما ونحن في عصر قل فيه الحفظ والعلم، فنسأل الله جل في علاه أن يجعلنا ممن قال النبي صلى الله عليه وسلم فيهم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين لا يضرهم من خالفهم أو خذلهم).
হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনা করার বিধান

এখানে একটি মাসআলা রয়েছে, আর তা হলো: হাদিস কি মর্মানুযায়ী (অর্থগতভাবে) বর্ণনা করা বৈধ, নাকি নয়?

এবং

উত্তর

যদি আমরা বলি যে, হাদিস সংকলন পরবর্তীতে হয়েছে, তবে দীর্ঘ এতগুলো বছর অন্তরসমূহ শব্দগুলো হুবহু মুখস্থ এবং স্মরণ রাখতে পারে না। তাই বর্ণনাকারীর কিছুটা সংশয় বা বিস্মৃতি ঘটা স্বাভাবিক; ফলে তিনি হাদিসের মর্ম মনে রাখেন এবং সে অনুযায়ী বর্ণনা করেন। হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনা করার বিষয়ে সাহাবী, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তীগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনা করার ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর ছিলেন। এমনকি কোনো বর্ণনাকারী হাদিসের একটি শব্দ পরিবর্তন করলেও তিনি বলতেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচার।

সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ'মাশ বলেন: এই ইলম (জ্ঞান) এমন এক কওমের নিকট ছিল যাদের কাছে আকাশ থেকে নিচে পড়া অধিক পছন্দনীয় ছিল হাদিসের 'ওয়াও' এর বদলে 'দাল' অথবা 'দাল' এর বদলে 'ওয়াও' বলার চেয়ে। অর্থাৎ, তারা মূল পাঠটি মুখস্থ রাখতেন এবং যেভাবে মুখস্থ করেছেন সেভাবেই পৌঁছে দিতেন।

তারা এর সপক্ষে কিছু দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনল, তা স্মরণ রাখল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিল)। এটি এই বিষয়ে স্পষ্ট দলিল যে, সতেজতা বা প্রফুল্লতা কেবল তারই প্রাপ্য যে শব্দ মুখস্থ রাখে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে মুখস্থ করেছে সেভাবেই তা পৌঁছে দেয়।

তারা এর চেয়েও স্পষ্ট একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, সেটি হলো ঘুমের দোয়ার বিষয়ে আল-বারা বিন আযিব বর্ণিত হাদিস। দোয়াটি হলো: (হে আল্লাহ! আমি আমার মুখ আপনার দিকে ফিরালাম, আমার নফসকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম -এবং এর শেষে ছিল- আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর ঈমান আনলাম)। যখন আল-বারা বিন আযিব এটি শুনলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তা পেশ করলেন এবং বললেন: (আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত রাসূলের ওপর ঈমান আনলাম)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: (না, বরং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংশোধন করে দিলেন, যদিও নবী হওয়ার মাঝে রাসূল হওয়ার গুণটিও বিদ্যমান। তিনি এটি মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেছিলেন, তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংশোধন করলেন এবং বললেন: (না, বরং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর)। এটি মর্মানুযায়ী বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ, এবং মূল শব্দই ব্যবহার করতে হবে।

ইমাম মুসলিম এই মতটি গ্রহণ করেছেন; এজন্যই আপনি তাকে তার সহীহ গ্রন্থে শব্দের ব্যাপারে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা অবলম্বন করতে দেখবেন।

দ্বিতীয় মত—যা সাহাবী ও তাবিঈদের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত: হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনা করা বৈধ। ইমাম বুখারী এবং তার উস্তাদ আলী ইবনুল মাদিনী একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

তারা এর সপক্ষে দলিল পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে: আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিস, তিনি বলেন: আমরা দশজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থাকতাম এবং হাদিস মুখস্থ করতাম। অতঃপর আমাদের প্রত্যেকেই হাদিস বর্ণনা করত কিন্তু আমাদের শব্দগুলো এক হতো না।

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট একটি বর্ণনা এবং এর বাহ্যিক দিক হলো সাহাবীগণ হাদিস মুখস্থ করতেন এবং তাদের প্রত্যেকে মর্মানুযায়ী তা বর্ণনা করতেন।

সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো—হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনা করা বৈধ। এটিই বাস্তবিকভাবে পরিলক্ষিত হয়; কারণ আপনি যদি একটি হাদিস কেবল কুতুবে সিত্তার বর্ণনাগুলোতে অনুসরণ করেন, তবে দেখবেন যে বুখারীর বর্ণনা মুসলিমের বর্ণনার বিপরীত, আবার তা নাসাঈর বর্ণনার বিপরীত, আবু দাউদ ও তিরমিযীর বর্ণনার বিপরীত। এটি এই কথার প্রমাণ যে বর্ণনাকারীগণ মর্ম অনুধাবন করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকেই সূক্ষ্মভাবে মর্মটি হৃদয়াঙ্গম করেছিলেন। তাদের ফিকহী জ্ঞান ছিল এবং ভাষার ওপর সহজাত দখল ছিল; তাই তারা মর্ম পরিবর্তন করতেন না এবং বিধানও বদলে দিতেন না। সুতরাং সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো—মর্মানুযায়ী বর্ণনা করা শুদ্ধ, বিশেষ করে বর্তমান যুগে। সুতরাং কেউ যদি হাদিসের মর্ম মুখস্থ রাখে এবং মর্ম অনুযায়ী তা বর্ণনা করে, তবে সে সঠিক কাজ করল।

হাদিসে কুদসীর মর্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মর্ম অনুযায়ী বর্ণনা করেন।

এখানে আমরা হাদিস মর্মানুযায়ী বর্ণনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করব: একটি হাদিস হলো: (এক গ্রাম্য ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এক কোণায় প্রস্রাব করল। সাহাবীগণ উঠে তাকে প্রায় মারতে উদ্যত হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: তাকে বাধা দিও না এবং তার প্রস্রাব করা বন্ধ করিও না। অতঃপর তিনি বললেন: তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি বা এক ডোল পানি ঢেলে দাও)। আমরা এই বর্ণনাটি কেবল কুতুবে সিত্তায় অনুসরণ করব এবং দেখব যারা এই হাদিসটি শুনেছেন তারা কীভাবে তা বর্ণনা করেছেন: সহীহ বুখারীতে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা এর ওপর ঢেলে দেওয়া হলো)।

সহীহ বুখারীতেই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক ডোল বা এক বালতি পানি ঢেলে দাও)।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে ছেড়ে দাও এবং বাধা দিও না। তিনি বলেন: যখন সে শেষ করল—অর্থাৎ প্রস্রাব করা শেষ করল—তখন তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা এর ওপর ঢেলে দিলেন)।

সহীহ মুসলিমে আনাসের অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (লোকেরা তাকে চিৎকার করে ধমক দিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে ছেড়ে দাও। যখন সে শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানির আদেশ দিলেন এবং তা তার প্রস্রাবের ওপর ঢালা হলো)।

আবার আনাস থেকে সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে বাধা দিও না, তাকে ছেড়ে দাও)।

সুনানে আবু দাউদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (অল্প সময়ের মধ্যেই সে মসজিদের এক কোণায় প্রস্রাব করল। লোকেরা তার দিকে দ্রুত এগিয়ে গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন এবং বললেন: তোমাদেরকে সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা অবলম্বনকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। তার ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও)।

এই বাক্যটি সহীহ বুখারী বা মুসলিমের কোনো বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে হাদিসটি মর্মানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে।

অন্য বর্ণনায় আছে: (তার ওপর এক ডোল পানি ঢেলে দাও)।

সুনানে তিরমিযীতে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তার ওপর এক বালতি বা এক ডোল পানি ঢেলে দাও)।

সুনানে নাসাঈতে আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে ছেড়ে দাও এবং বাধা দিও না। যখন সে শেষ করল, তখন তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা ঢেলে দিলেন)। নাসাঈতে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক ডোল পানি ঢেলে দাও; কেননা তোমাদেরকে সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে)।

সেখানে আনাস থেকে আরও বর্ণিত: (তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তারা তাকে ছেড়ে দিল যতক্ষণ না সে প্রস্রাব করল। তারপর তিনি এক বালতি পানির আদেশ দিলেন)।

সুনানে ইবনে মাজাহ-তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা এর ওপর ঢেলে দিলেন)।

সুনানে ইবনে মাজাহ-তে ওয়াসিলা বিন আসকা—যিনি তৃতীয় একজন বর্ণনাকারী—তার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা এর ওপর ঢেলে দিলেন)।

এই বর্ণনাগুলো কেবল কুতুবে সিত্তার। একটি বর্ণনাও অন্য বর্ণনার সাথে হুবহু শব্দে মেলেনি। সুতরাং সাহাবীগণের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন এবং তা অনুধাবন করেছেন। ভাষা ছিল তাদের সহজাত এবং তারা ছিলেন ফকীহ। তাদের মধ্যে ঐসব শর্ত বিদ্যমান ছিল যা ওলামায়ে কেরাম মর্মানুযায়ী বর্ণনা করার জন্য নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো: তাকে আরবি ভাষায় দক্ষ হতে হবে।

তাকে ফকীহ বা বিজ্ঞ হতে হবে যেন বিধান পরিবর্তন না হয়ে যায়।

হাদিসের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু তাকে আয়ত্ত করতে হবে এবং মর্ম বা বিধান বদলে দেওয়া যাবে না।

সুতরাং সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো সুন্নাহর বর্ণনা মর্মানুযায়ী দেওয়া বৈধ। এতে প্রত্যেক ভাইয়ের জন্য সহজতা রয়েছে যারা খুতবা দেন বা কোনো কথা বলেন। আমরা তাদের বলি: আপনি যদি মর্মানুযায়ী কোনো হাদিস বর্ণনা করেন তবে আপনি সঠিক করেছেন। আমরা এই প্রশস্ত বিষয়টিকে সংকীর্ণ করব না; কারণ আমরা যদি বলি মূল শব্দ ব্যতীত বর্ণনা বৈধ নয়, তবে আমরা যেকোনো শিক্ষক বা খতিব বা বক্তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দেওয়া নিষিদ্ধ করে দেব যদি না তিনি হুবহু শব্দে তা বর্ণনা করেন। এতে অনেক কষ্ট ও সংকীর্ণতা রয়েছে, বিশেষ করে আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে মুখস্থ করার শক্তি ও ইলম কমে গেছে। আমরা মহান সুউচ্চ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে বা তাদের ছেড়ে চলে যাবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌حفظ الله السنة بالمحدثين قديماً وحديثاً

عندما دونت السنة دخل فيها كثير من الأحاديث الضعيفة، فلم تحفظ السنة حفظاً تاماً، بل إن الله جل وعلا قدر كوناً أن تدخل الأحاديث الضعيفة، وأن يدخل الدخلاء على أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، فوجدت أحاديث ضعيفة موضوعة؛ ليرفع الله أقواماً ويخفض آخرين، وقد تصدى لحفظ السنة الجهابذة الذين باعوا أنفسهم لله جل في علاه، فكل أوقاتهم كانت لله وبالله ومع الله ومع سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ونذكر من المعاصرين الشيخ الألباني رحمة الله عليه، ولو تعلموا كيف كان يقضي وقته لدهشتم، ولعلمتم أن الله جند جنداً لحفظ سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فـ الألباني رحمة الله عليه كان على الأقل يطالع ثمانِ عشرة ساعة؛ حتى يحفظ سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

قال بعض المقربين من الشيخ: كان الشيخ عنده مكتبة في غرفة البيت التي يدخل فيها، ولم يكن لها باب؛ خوفاً على وقته، بحيث إنه إذا دخل لا يتأخر في فتح الباب، ويقول: ستضيع على الأقل خمس ثوان أقرأ فيها ترجمة لـ ابن معين أو لغيره! فانظروا إلى الحرص العجيب على الوقت! فأين نحن من هؤلاء الجبال الذين جندهم الله له؟! فالشيخ الألباني يطالع لمدة ثمانية عشرة ساعة من الأربعة والعشرين ساعة، فمتى يأكل؟ ومتى يكون مع امرأته؟ ومتى يطالع غير الحديث؟ وقد كان فيما نحسب عالماً عاملاً.

فهؤلاء جندهم الله وخلقهم لدينه؛ ولذلك نرى هارون الرشيد عندما أمر بقتل أحد الوضاعين الكذابين قال: ماذا ستفعل بألف حديث قد وضعتها في حديث النبي صلى الله عليه وسلم؟! قال له هارون: يعيش لها الجهابذة الذين أفنوا أعمارهم من أجل حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
আল্লাহ অতীতে এবং বর্তমানে মুহাদ্দিসগণের মাধ্যমে সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন।

যখন সুন্নাহ সংকলিত হয়েছিল, তখন তাতে অনেক দুর্বল হাদিস প্রবেশ করেছিল, ফলে সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ হয়নি। বরং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা মহাজাগতিকভাবে নির্ধারণ করেছিলেন যে কিছু দুর্বল হাদিস প্রবেশ করবে এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসের মধ্যে বহিরাগত বিষয় অনুপ্রবেশ ঘটবে। ফলে কিছু দুর্বল ও জাল হাদিস পাওয়া যায়; যাতে আল্লাহ কিছু সম্প্রদায়কে উচ্চমর্যাদা দান করেন এবং অন্যদের অবনমিত করেন। সুন্নাহ সংরক্ষণে সেই সকল বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন যারা আল্লাহ জাল্লা ফী উলাহ-এর জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের পুরো সময় ছিল আল্লাহর জন্য, আল্লাহর সাহায্যে, আল্লাহর সাথে এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর সাথে। আমরা সমসাময়িকদের মধ্যে শেখ আলবানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কথা উল্লেখ করতে পারি। যদি আপনারা জানতেন তিনি কীভাবে তাঁর সময় কাটাতেন, তবে আপনারা বিস্মিত হতেন এবং বুঝতে পারতেন যে আল্লাহ নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য একটি বাহিনী নিযুক্ত করেছেন। শেখ আলবানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত আঠারো ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন; যাতে তিনি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সংরক্ষণ করতে পারেন।

শেখের ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলেছেন: ঘরের যে কামরাটিতে শেখের লাইব্রেরি ছিল, সেখানে প্রবেশের জন্য কোনো দরজা ছিল না; সময়ের অপচয় হওয়ার ভয়ে। যাতে তিনি যখন প্রবেশ করেন তখন দরজা খোলার কারণে বিলম্ব না হয়। তিনি বলতেন: এতে অন্তত পাঁচ সেকেন্ড নষ্ট হবে, যে সময়ে আমি ইবনে মাঈন বা অন্য কারো জীবনী পড়তে পারব! সময়ের প্রতি এই আশ্চর্যজনক গুরুত্বারোপ লক্ষ্য করুন! আল্লাহর নির্ধারিত এই পাহাড়সম ব্যক্তিত্বদের তুলনায় আমরা কোথায়?! শেখ আলবানী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আঠারো ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। তাহলে তিনি কখন খাবার খেতেন? কখন স্ত্রীর সাথে সময় কাটাতেন? আর কখন হাদিস ছাড়া অন্য কিছু পড়তেন? আমাদের জানামতে তিনি ছিলেন একজন আমলকারী আলেম।

এরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য নিযুক্ত করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন। এই কারণেই আমরা দেখি যখন হারুনুর রশীদ একজন জালিয়াত ও মিথ্যাবাদীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন সে বলেছিল: "আমি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসের নামে যে এক হাজার হাদিস জাল করেছি, সেগুলোর ব্যাপারে আপনি কী করবেন?" হারুন তাকে বলেছিলেন: "সেগুলোর মোকাবিলা করার জন্য সেই সব বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ বেঁচে আছেন যারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌متى بدأ الوضع في الحديث

متى ظهر الدخيل؟ ومتى ظهر الوضع في حديث النبي صلى الله عليه وسلم؟ وهذا له علاقة وطيدة بالكلام على نقد متون السنة، فكيف نعرف أن هذا المتن موضوع أم لا؟ لقد ظهر الوضع في حديث النبي صلى الله عليه وسلم بعد خلافة عمر عندما اشتدت فتنة الخوارج، وفي الصحيح أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه قال: أيكم يحفظ حديث الفتنة؟ فقال حذيفة: أنا أحفظ (فتنة الرجل في أهله وماله تكفرها الصلاة والصيام والصدقة، فقال: لست عن هذا أسأل، إنما أسأل عن الفتنة التي تموج كموج البحر، فقال حذيفة: مالك ولها يا أمير المؤمنين؟! إن بينك وبينها باباً مغلقاً، ً فقال له عمر: أيفتح الباب أم يكسر؟ قال: بل يكسر، قال: إذاً لا يغلق أبداً) وكان يقصد بذلك أن عمر سيقتل ثم تتوالى الفتن، وقد توالت الفتن بعده، فـ عثمان رضي الله عنه وأرضاه خرج عليه الخوارج، وأرادوا أن يخلعوا عنه ثوباً قد ألبسه الله إياه، وهو ثوب الخلافة، فقالوا له: نفسك أو الخلافة، قال: والله لن أخلع ثوباً ألبسنيه الله، وقد قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن الله مقمصك قميصاً فإن أرادوك على خلعه فلا تخلعه)، فتمسك بالخلافة فقتلوه رضي الله عنه وأرضاه ظلماً وعدواناً وزوراً، ولذلك قال حذيفة: لو كان في قتل عثمان خير لهذه الأمة لحلبوا بعده لبناً، ولو كان في قتل عثمان شر لهذه الأمة لحلبوا بعده دماً عبيطاً، وقد حلبوا بعده دماً عبيطاً، ولم يقف الدم بحال من الأحوال بعد دم عثمان، فبعد ذلك قتل علي وقتل الحسين، وعظمت الفتنة وأطلت برأسها على الأمة الإسلامية، ولما ظهرت الفتنة أصبح كل إنسان يرى الحق مع فلان، فيتحزب له، فإذا تحزب له وضع الحديث من أجله، والحمد لله أننا في هذه العصور لسنا في عصور التدوين؛ لأن الخلافات بين الإخوة كثيرة، والتحزبات كثيرة، فأي واحد سيضع حديثاً سنرده على وجهه، ونقول: أنت حديثك عندنا غير مقبول، لكن ذلك الوقت كان عصر التدوين، فكانوا يضعون أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم.

فمن أسباب الوضع انتشار الفتنة والخلافات السياسية، وظهر هذا الأمر على أوجه عندما اختلف علي بن أبي طالب مع معاوية رضي الله عنهم أجمعين، وتحزب الشيعة لـ علي بن أبي طالب، وأخذوا يختلقون ويخترعون الأحاديث الموضوعة، قال الشافعي: الرافضة أشهد الناس بالزور، أو قال: ما رأيت أكذب من الرافضة.

فالشيعة دينهم الكذب، ودينهم التقية وهي الكذب، فكانوا يكذبون كثيراً على النبي صلى الله عليه وسلم، ليرفعوا من مقام علي وهو لا يحتاج إلى ذلك، فمثلاً أتوا بحديث: (أنا مدينة العلم وعلي بابها) وهو حديث موضوع.

وأيضاً رووا حديثاً موضوعاً عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (خلقت من نور، وخلق علي من نور، وكان معي على يمين العرش).

واختلقت الرافضة أحاديث كثيرة جداً على أبي بكر وعمر والخلافة، وأشهر الأحاديث حديث الوصاية، وهو أن النبي صلى الله عليه وسلم أوصى بخلافة علي بن أبي طالب؛ ولذلك عائشة أنكرت هذا إنكاراً شديداً، بل رووا بأسانيد هالكة متهالكة أن عمر بن الخطاب جلد فاطمة! وقد اختلفت فاطمة مع أبي بكر وكان الحق مع أبي بكر رضي الله عنه وأرضاه، بل إن علي بن أبي طالب تأخر في البيعة لـ أبي بكر الصديق -وهو يقر بخلافة أبي بكر الصديق رضي الله عنه وأرضاه من أجل فاطمة، ولم يتزوج ثانية من أجل فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأبو بكر وعمر أنأى من أن يؤذوا فاطمة وهم يعلمون حديث النبي صلى الله عليه وسلم (فاطمة بضعة مني يؤذيني ما يؤذيها)، فكيف يؤذون رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد مماته في فاطمة رضي الله عنها وأرضاها؟! فالرافضة عليهم من الله ما يستحقون هم أكذب البشر على الإطلاق، فدينهم الكذب.

وأيضاً كذب الخوارج الذين خرجوا على عثمان وخرجوا على علي رضي الله عنه وأرضاه، وإنه لعجب كل العجب أنهم كانوا يكذبون في حديث النبي صلى الله عليه وسلم، لكن كذبهم أقل بكثير من الشيعة، فالكذب من الخوارج عجيب لأنهم يكفرون من يرتكب الكبيرة، والكذب من أكبر الكبائر، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار) فهم يدينون لله بأن فاعل الكبيرة كافر، فكيف يكذبون على رسول الله؟! فقد ثبت عن أحدهم عندما تاب قال: أيها الناس! انظروا عمن تأخذون دينكم، إنا كنا إذا هوينا شيئاً صيرناه حديثاً، أي: إذا وجدوا قولاً يوافق عقولهم فإنهم يقولون: حدثنا فلان عن فلان ويركبون له إسناداً عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ ولذلك قال ابن سيرين: كنا لا نسأل عن الإسناد حتى ظهرت الفتنة، فقلنا: سموا لنا رجالكم، فمن رأيناه من أهل السنة أخذنا حديثه، ومن رأيناه من أهل البدعة تركنا حديثه.

وثبت عن ابن المبارك بسند صحيح أنه كان يقول: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم، وقال: لولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.

والإسناد ميزة هذه الأمة عن كل الأمم، فالنصارى لا تجد لهم إسناداً نقياً واحداً إلى عيسى عليه السلام، وحتى الإنجيل الذي يتعبدون به ليس له إسناد، فأسانيدهم كلها منقطعة لا تصل إلى عيسى عليه السلام، واليهود كذلك.

فهذه الأمة ميزها الله وشرفها بالإسناد؛ ولذلك تجد بعض المستشرقين تكلم عن مميزات الأمة الإسلامية وقال: أميز ما يميز هذه الأمة علم أسانيد الرجال، فهم يأخذون الحديث ثقة عن ثقة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
হাদিসে জালিয়াতি বা বানোয়াট করার সূচনা কখন?

অনুপ্রবিষ্ট উপাদান কখন প্রকাশিত হয়েছিল? এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে কখন জালিয়াতি বা বানোয়াট করার কাজ শুরু হয়েছিল? সুন্নাহর মতন বা পাঠ পর্যালোচনার আলোচনার সাথে এর এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; কারণ কীভাবে আমরা জানব যে এই পাঠটি বানোয়াট কি না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে জালিয়াতির প্রকাশ ঘটেছিল উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের পরে যখন খারেজিদের ফিতনা তীব্রতর হয়েছিল। সহিহ বর্ণনায় এসেছে যে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তোমাদের মধ্যে কে ফিতনা সম্পর্কিত হাদিসটি মুখস্থ রেখেছে? তখন হুযাইফা বললেন: আমি মুখস্থ রেখেছি (পরিবার, সম্পদ ও সন্তানের ব্যাপারে মানুষের ফিতনা নামাজ, রোজা এবং সদকার মাধ্যমে মোচন হয়)। তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছি না, বরং আমি সেই ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে। তখন হুযাইফা বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার সাথে এর কী সম্পর্ক?! আপনার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর তাকে বললেন: দরজাটি কি খোলা হবে নাকি ভেঙে ফেলা হবে? তিনি বললেন: বরং ভেঙে ফেলা হবে। তিনি বললেন: তাহলে তো এটি আর কখনও বন্ধ হবে না। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিহত হবেন, তারপর একের পর এক ফিতনা আসতে থাকবে। এবং তাঁর পরে ফিতনা আসতেই থাকল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে খারেজিরা বিদ্রোহ করল এবং তারা আল্লাহর দেওয়া খিলাফতের পোশাকটি তাঁর কাছ থেকে খুলে নিতে চাইল। তারা তাঁকে বলল: হয় আপনার জীবন দিন, নতুবা খিলাফত ছাড়ুন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে যে পোশাক পরিয়েছেন তা আমি কখনও খুলে ফেলব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে একটি জামা পরাবেন, যদি তারা তা খুলে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করে তবে আপনি তা খুলবেন না)। ফলে তিনি খিলাফতে অটল থাকলেন এবং তারা তাঁকে অন্যায়ভাবে, শত্রুতা পোষণ করে এবং মিথ্যা অজুহাতে হত্যা করল। এ কারণেই হুযাইফা বলেছিলেন: উসমানের হত্যায় যদি উম্মতের জন্য কোনো কল্যাণ থাকত তবে তারা এর পরে দুধ দোহন করত, আর উসমানের হত্যায় যদি উম্মতের জন্য কোনো অকল্যাণ থাকত তবে তারা এর পরে তরতাজা রক্ত দোহন করত। বাস্তবে তারা এর পরে তরতাজা রক্তই দোহন করেছিল এবং উসমানের রক্তের পর কোনোভাবেই রক্তপাত থামেনি। এরপর আলী নিহত হলেন, হুসাইন নিহত হলেন এবং ফিতনা প্রকট হয়ে মুসলিম উম্মাহর ওপর জেঁকে বসল। যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন প্রত্যেক মানুষ যার যার পক্ষে সত্য দেখতে লাগল এবং সেই ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে লাগল। আর যখন পক্ষপাতিত্ব শুরু হলো, তখন নিজের পক্ষের সমর্থনে হাদিস জাল করা শুরু হলো। আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা এখন কিতাব সংকলনের যুগে বাস করছি না; কারণ এখন ভাইয়ে ভাইয়ে মতভেদ অনেক এবং দলাদলিও অনেক। ফলে যে কেউ এখন হাদিস জাল করলে আমরা তা মুখের ওপর প্রত্যাখ্যান করে দিতাম এবং বলতাম: আপনার হাদিস আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু সেই সময়টি ছিল সংকলনের যুগ, তাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে হাদিস জাল করত।

হাদিস জাল করার অন্যতম কারণ ছিল ফিতনার বিস্তার এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য। এই বিষয়টি চরমে পৌঁছেছিল যখন আলী ইবনে আবি তালিব এবং মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন-এর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। শিয়ারা আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে শুরু করল এবং তারা বানোয়াট হাদিস উদ্ভাবন ও আবিষ্কার করতে লাগল। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: রাফেজিরা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে চরম। অথবা তিনি বলেছেন: আমি রাফেজিদের চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী আর কাউকে দেখিনি।

শিয়াদের ধর্মই হলো মিথ্যা, তাদের ধর্ম হলো তাকিয়া—যা মূলত মিথ্যা। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে প্রচুর মিথ্যাচার করত যাতে আলীর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, অথচ আলীর জন্য তার প্রয়োজন ছিল না। উদাহরণস্বরূপ তারা একটি হাদিস এনেছে: (আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা) যা একটি জাল হাদিস।

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও একটি জাল হাদিস বর্ণনা করে যে তিনি বলেছেন: (আমি নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছি, এবং আলী নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছে, এবং সে আমার সাথে আল্লাহর আরশের ডানে ছিল)।

রাফেজিরা আবু বকর, উমর এবং খিলাফত সম্পর্কে অনেক অনেক হাদিস জাল করেছে। সবচেয়ে পরিচিত জাল হাদিসটি হলো ওসিয়তের হাদিস, যেখানে দাবি করা হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনে আবি তালিবের খিলাফতের জন্য ওসিয়ত করে গেছেন। এ কারণে আয়েশা একে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি তারা অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন সনদে বর্ণনা করে যে উমর ইবনুল খাত্তাব ফাতেমাকে চাবুক মেরেছেন! ফাতেমার সাথে আবু বকরের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য হয়েছিল এবং সত্য আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষেই ছিল। এমনকি আলী ইবনে আবি তালিব ফাতেমার সম্মানে আবু বকর সিদ্দিকের বায়আত গ্রহণে কিছুটা দেরি করেছিলেন—যদিও তিনি আবু বকর সিদ্দিকের খিলাফতকে মনেপ্রাণে স্বীকার করতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমার জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিবাহও করেননি। আবু বকর এবং উমর ফাতেমাকে কষ্ট দেওয়ার চিন্তা থেকেও অনেক দূরে ছিলেন, কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিস জানতেন: (ফাতেমা আমার শরীরের একটি অংশ, যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়)। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মাধ্যমে তারা কীভাবে তাঁকে কষ্ট দিতে পারেন?! রাফেজিদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা প্রাপ্য তা বর্ষিত হোক, তারা সবকিছুর বিচারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী, তাদের ধর্মই মিথ্যা।

অনুরূপভাবে খারেজিরাও মিথ্যা বলেছিল যারা উসমান এবং আলীর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে মিথ্যাচার করত, কিন্তু তাদের মিথ্যাচারের পরিমাণ শিয়াদের চেয়ে অনেক কম ছিল। খারেজিদের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার বিস্ময়কর কারণ তারা কবিরা গুনাহকারীকে কাফের মনে করে, আর মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহগুলোর মধ্যে অন্যতম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)। তারা আল্লাহর কাছে এই বিশ্বাস পোষণ করে যে কবিরা গুনাহকারী কাফের, অথচ তারা কীভাবে রাসূলুল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে পারে?! তাদের একজনের থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে যখন সে তওবা করেছিল তখন সে বলল: হে লোকসকল! তোমরা কার থেকে ধর্ম গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো, কারণ আমরা যখন কোনো কিছু পছন্দ করতাম তখন তাকে হাদিসে পরিণত করে ফেলতাম। অর্থাৎ তারা যখন এমন কোনো কথা পেত যা তাদের চিন্তাধারার সাথে মিলে যেত, তখন তারা বলত: আমাদের অমুক ব্যক্তি অমুকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে একটি সনদ জুড়ে দিত। এ কারণেই ইবনে সিরিন বলেছিলেন: ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার আগে আমরা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম না, কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল তখন আমরা বললাম: তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। তারপর যাদের আমরা আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত দেখতাম তাদের হাদিস গ্রহণ করতাম, আর যাদের আমরা বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত দেখতাম তাদের হাদিস বর্জন করতাম।

ইবনুল মুবারক থেকে সহিহ সনদে প্রমাণিত আছে যে তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং লক্ষ্য করো তোমরা কার থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ। তিনি আরও বলেছেন: যদি সনদ না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা তাই বলত।

সনদ ব্যবস্থা হলো অন্যান্য সমস্ত জাতির থেকে এই উম্মতের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। খ্রিস্টানদের মধ্যে ঈসা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত একটিও বিশুদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন সনদ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি তারা যে ইঞ্জিল দিয়ে ইবাদত করে সেটিরও কোনো সনদ নেই, তাদের সব সনদ বিচ্ছিন্ন যা ঈসা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত পৌঁছায় না। ইহুদিদের অবস্থাও একই।

এই উম্মতকে আল্লাহ তাআলা সনদের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও সম্মানিত করেছেন। এ কারণে আপনি দেখবেন কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: এই উম্মতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বর্ণনাকারীদের সনদের ইলম। কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী থেকে অন্য বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদিস গ্রহণ করে থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أسباب الوضع في الحديث

من أسباب الوضع: القصاصون وانتشار القصص والوعظ، وانظروا إلى ما نحن فيه وما كانوا فيه، فقد كان القصاصون في العصور القديمة يلتف حولهم العوام فقط، ولا يلتفت حولهم أهل العلم وطلبة العلم لا يلتفون؛ لأنهم لا يجدون عندهم ما يشفي صدورهم ويروح قلوبهم، وأما العوام الذين لم يستضيئوا بنور العلم، والذين يميلون مع كل ريح، فكانوا يجلسون في مجالس القصاصين، وأما مجالس أهل العلم ومجالس التحديث فكانت تكتظ بطلبة العلم، وما كانوا يعبئون ولا يرون للقصاص مقداراً، فكانت مجالس القصاصين هي مجالس العوام، وهي أرذل المجالس، فالقصاصون كان العوام يلتفون حولهم ويعجبون بهم، وتراهم يصرخون على الكلمات الطيبة، فكان القصاصون يؤثرون على العامة فيغربون في القصص، ويختلقون الأحاديث، ومن ذلك ما اشتهر جداً عن الإمام أحمد والإمام يحيى بن معين عندما جلسا في مجلس قاص يقص ويأتي بالطرائف، فقال: خلق الله ملكاً له مائة رأس، وكل رأس يسبح كذا، وقال: حدثني بذلك أحمد بن حنبل ويحيى بن معين! فينظر أحمد بن حنبل إلى يحيى بن معين وقال له: أحدثته بذلك؟ قال: والله ما حدثته، وأنت هل حدثته؟ قال: والله ما حدثته، فقام أحمد بعد ما انتهى المجلس وذهب إليه وقال: يا هذا! هذا الحديث الذي ذكرته آنفاً من حدثك به؟ قال: أحمد بن حنبل ويحيى بن معين، قال: هل تعرف أحمد بن حنبل ويحيى بن معين؟ قال: ومن في الدنيا لا يعرف أحمد بن حنبل ويحيى بن معين؟! فقال: أنا أحمد بن حنبل، وهذا يحيى بن معين! فتدبر أمره ثم قال: ما رأيت أسفه منكما! ما في الدنيا أحمد بن حنبل ويحيى بن معين إلا أنتما، يوجد ألف رجل اسمه أحمد بن حنبل ويحيى بن معين!! ومن القصص أن عامر الشعبي -وهو ثقة ثبت من كبار التابعين- كان في مجلس الوعظ والتذكير يصلي، وقام القاص يقول: إن الله خلق صوراً فسينفخ فيه نفخة الصعق، وخلق صوراً آخر ينفخ فيه نفخة القيامة، فسمعه الشعبي وهو يصلي قال: فخففت صلاتي ثم قمت إليه وقلت: يا هذا اتق الله ربك، كيف تحدث أن الله خلق صورين، من الذي حدثك؟ قال: حدثني فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: هذا حديث مختلق عن رسول الله، فخلع القاص نعله وسبه وقال: تعارضني وقد حدثني بالحديث فلان، وضربه بالنعل في رأسه، قال الشعبي: فما دريت إلا وكل المجلس قد خلعوا نعالهم ويضربونني، فما تركوني حتى قلت: إن لله ثلاثين صوراً سينفخ في كل صور نفخة، فتركوني عند ذلك! وأيضاً كان بعض القصاصين يحدث عن رسول الله ويقول: حدثني الأعمش، وقد كان صيت الأعمش مشهوراً فهو أمير المؤمنين في الحديث، قال: حدثني الأعمش وحدثني الأعمش والأحاديث مختلقة، فـ الأعمش نظر إليه يحدث الناس وهم ينسجمون معه، فقام أمامهم فخلع ثيابه وأخذ ينتف شعر إبطه، فقام القاص وقال: مالي أراك سيئ الأدب في مجلس يحدث فيه بحديث النبي صلى الله عليه وسلم وتفعل هذا الذي تفعله؟! قال: اسكت فإني في خير وأنت في شر، أو قال: ما أنا فيه خير مما أنت فيه وتأويل ذلك: أن نتف الإبط من السنة، وما أنت فيه هو كذب على رسول الله.

وبعض القصاصين كانوا أصحاب تجارة يريدون المال، فرجل كان حلوانياً، والحلواني بضاعته لا تروج إلا إذا نسب بعض الأقوال إلى رسول الله، وهذه دلالة على أن الناس يسارعون إلى حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فكان دائماً ينظر في الناس ومن لم يشتر منه ويقول: حدثنا فلان عن فلان عن فلان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الهريسة تشد الظهر)، فكان كل من يسمعه يشتري منه الهريسة، فكانوا يضعون الأحاديث وينسبونها إلى النبي صلى الله عليه وسلم من أجل المال.

وهناك أسباب أخرى كأن يغتاظ رجل من رجل آخر فتراه يضع عليه حديث كما فعل هذا الإسكافي، فقد جاءه ابنه ذات مرة يبكي فقال: ما يبكيك؟! قال: ضربني معلمي، قال: والله لأؤدبنه، ثم قال: حدثني فلان عن فلان عن فلان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (شراركم معلمو صبيانكم).

ومن الأسباب: الخلافات السياسية، والمآرب الشخصية، والتعصب المذهبي، والتعصب للنسب، والتعصب للجهة، فمثلاً كانوا يقولون: العرب أفضل الناس، فإذا دخل العجم في الإسلام فإن العرب يريدون إظهار شرفهم، فيضع بعضهم حديثاً في فضائل العرب، حتى أن بعضهم قال: حدثني فلان عن فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (كلام أهل النار البخارية، وأبغض الكلام إلى الله الفارسية، وكلام أهل الجنة العربية).

ومنهم من يضع ذلك على التعصب، فيرى رجل أن إمامه يقول: رفع اليدين عند الركوع لم ترد بها سنة، والآخر يقول: وردت بها سنة، فيضع حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم من أجل أن ينصر مذهب الأحناف، وفي هذه العصور المتأخرة ظهر مثل هؤلاء، فبعضهم كان يضعف الحديث الصحيح من أجل مذهبه، ويصحح الحديث الضعيف من أجل مذهبه، بل ارتقى فوق ذلك وكان يسب الصحابة من أجل الانتصار لمذهبه، كما فعل الكوثري، والآن بعض الغماريين يفعلون ذلك، فتراهم يتشددون من أجل مذهب الأحناف فيضعفون أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، بل ويردون بعض أحاديث عن أبي هريرة وقالوا: أبو هريرة ليس بفقيه! ومن القصص أنها حصلت مشاحنة بين شافعي وحنفي، فقام الحنفي فقال: حدثني فلان عن فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: يخرج في هذه الأمة رجل هو سراج أمتي يكنى بـ أبي حنيفة، ويخرج على هذه الأمة رجل اسمه محمد بن إدريس هو أضر على هذه الأمة من إبليس.

وآخر يرى أن رفع اليدين في الركوع ليس بسنة، فقال: حدثني فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من رفع يديه في الركوع فلا صلاة له).

ومن أسباب الوضع أيضاً عداوة الإسلام وأهله، كما فعل عبد الله بن سبأ وغيره من الذين دخلوا فيه عنوة وجبراً كالمنافقين، فكانوا يتسترون بالنفاق ويحقدون على أهل الإسلام، فأرادوا أن يدمروا عقائد المسلمين بهذه الأحاديث المختلقة الموضوعة، وبعضهم وضع على النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث كثيرة، فلما أرادوا قتله بعد ما علموا أنه وضع الحديث قال: كيف تفعلون بأربعة ألاف حديث قد وضعتها على النبي صلى الله عليه وسلم أحللت بها الحرام وحرمت بها الحلال؟! فقيل له: الجهابذة ينقون هذه الأحاديث، والحمد لله الذي نصب لنا من يحافظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن أسباب الوضع: مجاملة السلاطين، فترى كثيراً من الرواة كانوا يمنعون من الدخول على السلاطين، ولا يقبلون هدايا وعطايا السلاطين؛ لأن السلطان قد تحملك مجاملته أن تقول ما لم يقله النبي صلى الله عليه وسلم، خاصة إذا كان الغرض في ذلك العطايا والهبات، وقد اشتهر في وقت الخلافة الأموية والخلافة العباسية أن الشعراء يدخلون فيمدحون الوالي، والمدحة لها ثمن كبير، والمحدثون الذين لا دين لهم والذين كان يجعلون الدين قنطرة لأمر الدنيا لا للآخرة، وباعوا دينهم بعرض رخيص وثمن بخس دراهم معدودة من أمر الدنيا؛ كانوا يدخلون على السلاطين فيأخذون المال بعدما يكذبون على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأشهر قصة في ذلك قصة غياث بن إبراهيم عندما دخل على المهدي العباسي، فوجده يلعب بالحمام، واللعب بالحمام كان الشافعي يرى أنه يخدش المروءة، ومن خدشت مروءته فلا تقبل شهادته، ولا تؤخذ روايته، ولا يؤخذ عنه والعلم، فدخل عليه غياث بن إبراهيم فوجده يلعب بالحمام، فأراد أن يطيب قلبه فقال: حدثني فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (لا سبق إلا في خف أو حافر أو نصل أو جناح)، ومعنى: (لا سبق) أي: لا عطية ولا مال: (لا سبق إلا في خف أو نصل أو حافر) فزاد (أو جناح) مجاملة لمن يلعب بالحمام، فـ المهدي كتب له بالمكافئة والعطية، فبعدما أخذ العطية وخرج من عنده قال: أشهد الله أن قفاك قفا كذاب، وأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقل هذا الحديث، ثم قال: أنا حملته على الكذب على رسول الله، فأمر بالحمام فذبح جميعاً؛ من أجل الحفاظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فهذه أسباب الوضع في حديث النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تصدى لها الجهابذة، فغربلوا الأحاديث وبينوا لنا الصحيح والحسن والضعيف والموضوع.

وهنا مسألة وهي: هل للمعاصرين أن يجتهدوا في حديث النبي فيصححوا أو يضعفوا ما لم يتكلم عليه المتقدمون؟ مذهب ابن الصلاح ووافقه كثير من المحدثين أن الاجتهاد قد أغلق بابه في العصر الأول بعد البيهقي والدارقطني ونحوهما، فإذا قال الدارقطني: ضعيف فهو ضعيف، وإذا قال الدارقطني: صحيح فهو صحيح، وليس لك أن تبحث، والواقع يخالف ذلك، فـ ابن حجر والذهبي والنووي والسبكي وابن السبكي وابن عبد الهادي الحنبلي هؤلاء كلهم صححوا وضعفوا الأحاديث، وفي عصر ابن الصلاح نفسه ابن القطان والدمياطي وغيرهما كانوا يصححون ويضعفون أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم بالآلات وبالشروط التي اشترطها العلماء، فالاجتهاد باق إلى آخر يوم تكون فيه الدنيا، فالاجتهاد باق في هذه الأمة، وهو نبراس هذه الأمة، وهو ميزة من مميزات هذه الأمة، وسنطلع على اجتهاد الأئمة ونعرف كيف نظروا في حديث النبي فقالوا: هذا حديث موضوع، وكيف عرفوا ذلك، وما هي الشروط وما هي الأدوات والآلات التي جعل
হাদিসে জালিয়াতির কারণসমূহ

হাদিস জালিয়াতির অন্যতম কারণসমূহ হলো: কিচ্ছা-কাহিনি বর্ণনাকারীদের আধিক্য এবং ওয়াজ ও নসিহতের প্রসার। আমাদের বর্তমান অবস্থা এবং পূর্ববর্তীদের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করুন; প্রাচীন যুগে কিচ্ছাকারদের চারপাশে কেবল সাধারণ মানুষই ভিড় জমাতো, আলেম সমাজ বা ইলম অন্বেষণকারীরা তাদের দিকে ফিরেও তাকাতো না। কারণ তারা তাদের কাছে এমন কিছু পেত না যা তাদের অন্তরকে প্রশান্তি দেয় বা হৃদয়কে প্রফুল্ল করে। আর সেই সমস্ত সাধারণ মানুষ যারা ইলমের আলোয় আলোকিত হতে পারেনি এবং যারা প্রতিটি বাতাসের সাথে দুলতে থাকে, তারাই এই কিচ্ছাকারদের মজলিসে বসত। অন্যদিকে, আলেমদের মজলিস এবং হাদিস পাঠের মজলিসগুলো ইলম অন্বেষণকারীদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকত। তারা এই কিচ্ছাকারদের কোনো গুরুত্বই দিত না এবং তাদের কোনো মর্যাদাও দেখত না। কিচ্ছাকারদের মজলিস ছিল মূলত সাধারণ মানুষের মজলিস এবং এগুলো ছিল নিকৃষ্টতম মজলিস। সাধারণ মানুষ কিচ্ছাকারদের ঘিরে থাকত এবং তাদের কথায় মুগ্ধ হতো; দেখা যেত তারা সুন্দর কথা শুনে চিৎকার করত। কিচ্ছাকাররা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করত, ফলে তারা কিচ্ছার মধ্যে অতিরঞ্জন করত এবং মনগড়া হাদিস তৈরি করত। এই প্রসঙ্গে ইমাম আহমদ এবং ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈনের একটি ঘটনা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। যখন তারা এক কিচ্ছাকারের মজলিসে বসলেন যে অদ্ভুত সব কিচ্ছা শোনাচ্ছিল, সে বলল: আল্লাহ একটি ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন যার একশটি মাথা আছে এবং প্রতিটি মাথা এভাবে তাসবিহ পাঠ করে। সে আরও বলল: আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন! তখন আহমদ বিন হাম্বল ইয়াহইয়া বিন মাঈনের দিকে তাকিয়ে বললেন: আপনি কি তাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে এটি বর্ণনা করিনি; আর আপনি কি তাকে এটি বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে এটি বর্ণনা করিনি। মজলিস শেষ হওয়ার পর ইমাম আহমদ দাঁড়িয়ে তার কাছে গিয়ে বললেন: হে লোক! এই যে হাদিসটি তুমি একটু আগে বর্ণনা করলে, এটি তোমাকে কে বলেছে? সে বলল: আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন। তিনি বললেন: তুমি কি আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে চেনো? সে বলল: দুনিয়ায় এমন কে আছে যে আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে চেনে না?! তখন তিনি বললেন: আমিই আহমদ বিন হাম্বল আর ইনিই ইয়াহইয়া বিন মাঈন! সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করেই বলল: তোমাদের দুজনের মতো নির্বোধ আমি আর দেখিনি! দুনিয়ায় কি আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন নামে কেবল তোমরাই আছো? আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন নামে আরও হাজারো মানুষ রয়েছে!! আরেকটি ঘটনা হলো আমির আল-শাবি—যিনি একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও উচ্চপদস্থ তাবেয়ী—তিনি একবার একটি ওয়াজ ও নসিহতের মজলিসে নামাজ পড়ছিলেন। সেখানে এক কিচ্ছাকার দাঁড়িয়ে বলতে লাগল: আল্লাহ একটি শিংগা (সূর) সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি প্রলয়ংকারী ফুঁ দেবেন এবং তিনি অন্য আরেকটি শিংগা সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি কিয়ামতের ফুঁ দেবেন। নামাজ পড়া অবস্থায় শাবি এটি শুনলেন। তিনি বললেন: আমি দ্রুত নামাজ শেষ করে তার কাছে গিয়ে বললাম: হে লোক! তোমার রব আল্লাহকে ভয় করো। তুমি কীভাবে বলছ যে আল্লাহ দুটি শিংগা সৃষ্টি করেছেন? তোমাকে এটি কে বলেছে? সে বলল: অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: এটি আল্লাহর রাসুলের নামে একটি মনগড়া হাদিস। তখন সেই কিচ্ছাকার তার জুতো খুলে তাকে গালি দিয়ে বলল: তুমি কি আমার বিরোধিতা করছ অথচ অমুক ব্যক্তি আমাকে এই হাদিস শুনিয়েছেন? এরপর সে তার জুতো দিয়ে তার মাথায় আঘাত করতে লাগল। শাবি বললেন: এরপর আমি কেবল দেখলাম যে মজলিসের সবাই জুতো খুলে আমাকে মারছে। তারা আমাকে ততক্ষণ ছাড়েনি যতক্ষণ না আমি বললাম: আল্লাহর ত্রিশটি শিংগা আছে এবং তিনি প্রতিটি শিংগায় একটি করে ফুঁ দেবেন! তখন তারা আমাকে ছেড়ে দিল! এছাড়াও কিছু কিচ্ছাকার আল্লাহর রাসুলের নামে হাদিস বর্ণনা করার সময় বলতেন: আল-আমাশ আমাকে বর্ণনা করেছেন। আমাশের সুখ্যাতি ছিল ব্যাপক, তাকে হাদিস শাস্ত্রের 'আমিরুল মুমিনিন' বলা হতো। সে বলত: আমাশ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাকে বর্ণনা করেছেন—অথচ হাদিসগুলো ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমাশ তাকে দেখলেন যে সে মানুষের সামনে হাদিস বলছে আর মানুষ তার সাথে একাত্ম হয়ে আছে। তখন আমাশ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে তার পোশাক খুলে বগলের চুল উপড়াতে শুরু করলেন। কিচ্ছাকারটি দাঁড়িয়ে বলল: আমি কি দেখছি! আল্লাহর রাসুলের হাদিসের মজলিসে তুমি এমন অভদ্র আচরণ করছ এবং এসব কাজ করছ?! তিনি বললেন: চুপ থাকো, আমি কল্যাণের মধ্যে আছি আর তুমি অকল্যাণের মধ্যে আছো। অথবা তিনি বলেছিলেন: আমি যা করছি তা তোমার কাজের চেয়ে উত্তম। এর ব্যাখ্যা হলো: বগলের চুল উপড়ানো সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত, আর তুমি যা করছ তা হলো আল্লাহর রাসুলের ওপর মিথ্যাচার।

কিছু কিচ্ছাকার ছিল ব্যবসায়ী যারা অর্থ উপার্জন করতে চাইত। যেমন একজন ব্যক্তি ছিল মিষ্টি বিক্রেতা। তার মিষ্টির ব্যবসা চলত না যতক্ষণ না সে কিছু কথা আল্লাহর রাসুলের নামে চালিয়ে দিত। এটি একটি প্রমাণ যে মানুষ আল্লাহর রাসুলের হাদিসের দিকে ধাবিত হতো। সে সবসময় মানুষের দিকে লক্ষ্য করত এবং যারা তার থেকে মিষ্টি কিনত না তাদের বলত: অমুক আমাদের বর্ণনা করেছেন অমুকের সূত্রে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'হালুয়া (হারিসা) পিঠ মজবুত করে'। তখন যারা এটি শুনত তারা সবাই তার থেকে হালুয়া কিনত। এভাবে তারা অর্থের জন্য হাদিস জাল করত এবং তা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামে চালিয়ে দিত।

আরও অন্যান্য কারণও রয়েছে, যেমন এক ব্যক্তির প্রতি অন্য ব্যক্তির ক্ষোভ। দেখা যেত এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির ওপর রাগান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে হাদিস জাল করত, যেমনটি এই মুচি করেছিলেন। একবার তার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে এলো। তিনি বললেন: কেন কাঁদছ?! সে বলল: আমার শিক্ষক আমাকে মেরেছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে শিক্ষা দেব। এরপর তিনি বললেন: আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন অমুকের সূত্রে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো শিশুদের শিক্ষকরা'।

জালিয়াতির কারণগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: রাজনৈতিক মতভেদ, ব্যক্তিগত স্বার্থ, মাযহাবী গোঁড়ামি, বংশীয় আভিজাত্য এবং আঞ্চলিক পক্ষপাত। উদাহরণস্বরূপ, তারা বলত: আরবরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। যখন অনারবরা ইসলামে প্রবেশ করল, তখন আরবরা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চাইল। ফলে তাদের কেউ কেউ আরবদের ফজিলতে হাদিস জাল করল। এমনকি কেউ কেউ তো এমনও বলেছে: আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে তিনি বলেছেন: 'জাহান্নামীদের ভাষা হলো বুখারী (এক প্রকার অনারব ভাষা), আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য ভাষা হলো ফারসি এবং জান্নাতীদের ভাষা হলো আরবি'।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার গোঁড়ামির কারণে হাদিস জাল করত। এক ব্যক্তি দেখল তার ইমাম বলছেন: রুকুতে যাওয়ার সময় হাত উঠানোর (রাফউল ইয়াদাইন) সপক্ষে কোনো সুন্নাত নেই। অন্যজন বলছেন: এর সপক্ষে সুন্নাত রয়েছে। তখন সে হানাফি মাযহাবকে সাহায্য করার জন্য আল্লাহর রাসুলের নামে একটি হাদিস জাল করল। পরবর্তী যুগেও এমন অনেকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা নিজেদের মাযহাবের স্বার্থে সহিহ হাদিসকে দুর্বল (জঈফ) বানাত এবং জঈফ হাদিসকে সহিহ বানাত। এমনকি তার চেয়েও বড় কথা, তারা নিজেদের মাযহাবের জয়ের জন্য সাহাবীদের গালি দিত, যেমনটি আল-কাওসারি করেছেন। বর্তমানে কিছু গুমারীও এমনটা করেন। দেখা যায় তারা হানাফি মাযহাবের জন্য অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন এবং আল্লাহর রাসুলের হাদিসগুলোকে জঈফ সাব্যস্ত করেন। এমনকি তারা আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে আবু হুরায়রা ফকিহ ছিলেন না! একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, একজন শাফেয়ী এবং একজন হানাফির মধ্যে বিবাদ হলো। তখন হানাফি ব্যক্তিটি দাঁড়িয়ে বলল: আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে তিনি বলেছেন: এই উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যিনি আমার উম্মতের প্রদীপ হবেন, যার কুনিয়ত হবে আবু হানিফা। আর এই উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার নাম হবে মুহাম্মদ বিন ইদরিস, সে এই উম্মতের জন্য ইবলিসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে।

অন্য আরেকজন মনে করত রুকুতে হাত উঠানো সুন্নাত নয়। সে বলল: আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি রুকুতে হাত উঠাবে তার নামাজ হবে না'।

জালিয়াতির অন্যতম কারণ হলো ইসলাম এবং এর অনুসারীদের প্রতি শত্রুতা। যেমনটি করেছিল আবদুল্লাহ বিন সাবা এবং অন্যরা যারা চাপের মুখে বা অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইসলামে প্রবেশ করেছিল, যেমন মুনাফিকরা। তারা মুনাফিকির আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখত এবং ইসলামপন্থীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত। তারা এই সমস্ত মনগড়া ও জাল হাদিসের মাধ্যমে মুসলমানদের আকিদা ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তাদের কেউ কেউ আল্লাহর রাসুলের নামে অসংখ্য হাদিস জাল করেছিল। যখন তারা জানতে পারল যে সে হাদিস জাল করে এবং তাকে হত্যার সংকল্প করল, তখন সে বলল: আমি আল্লাহর রাসুলের নামে চার হাজার হাদিস জাল করেছি যার মাধ্যমে আমি হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করেছি, সেগুলোর ব্যাপারে তোমরা কী করবে?! তাকে বলা হলো: বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ (জাহাবিদাহ) এই হাদিসগুলো যাচাই-বাছাই করে বের করে ফেলবেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য এমন ব্যক্তিবর্গ নির্ধারণ করেছেন যারা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাতকে রক্ষা করেন।

জালিয়াতির একটি কারণ হলো সুলতানদের তোষামোদ করা। আপনি দেখবেন অনেক বর্ণনাকারী সুলতানদের দরবারে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতেন এবং সুলতানদের উপহার ও উপঢৌকন গ্রহণ করতেন না। কারণ সুলতানের তোষামোদ আপনাকে এমন কথা বলতে বাধ্য করতে পারে যা আল্লাহর রাসুল বলেননি, বিশেষ করে যখন উদ্দেশ্য থাকে ধন-সম্পদ ও উপহার লাভ করা। উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের সময় এটি প্রসিদ্ধ ছিল যে কবিরা দরবারে প্রবেশ করে ওয়ালির প্রশংসা করত এবং এই প্রশংসার বড় বিনিময় পাওয়া যেত। আর সেই সমস্ত মুহাদ্দিস যাদের দ্বীন ছিল না এবং যারা দ্বীনকে পরকালের জন্য নয় বরং দুনিয়ার স্বার্থে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করত এবং সামান্য পার্থিব স্বার্থ ও তুচ্ছ দিরহামের বিনিময়ে নিজেদের দ্বীন বিক্রি করে দিত; তারা সুলতানদের দরবারে প্রবেশ করত এবং আল্লাহর রাসুলের নামে মিথ্যা বলে অর্থ গ্রহণ করত। এই বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনা হলো গিয়াস বিন ইব্রাহিমের ঘটনা। যখন তিনি আব্বাসীয় খলিফা মাহদির দরবারে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন তিনি কবুতর নিয়ে খেলছেন। ইমাম শাফেয়ী মনে করতেন কবুতর নিয়ে খেলা মানুষের ব্যক্তিত্বকে (মুরুয়ত) ক্ষুণ্ণ করে; আর যার ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ণ হয় তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না, তার বর্ণনাও গ্রহণ করা হয় না এবং তার থেকে ইলম নেওয়া হয় না। গিয়াস বিন ইব্রাহিম তার কাছে গিয়ে তাকে খুশি করতে চাইলেন এবং বললেন: আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে তিনি বলেছেন: 'ঘোড়া, উট বা তীর চালনা প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কিছুতে পুরস্কার নেই'। তিনি এখানে 'বা ডানা' (কবুতর) শব্দটি যোগ করে দিলেন সেই ব্যক্তির তোষামোদ করার জন্য যিনি কবুতর নিয়ে খেলছিলেন। খলিফা মাহদি তাকে পুরস্কার ও উপহার দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সে উপহার নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর খলিফা বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তোমার ঘাড় একজন মিথ্যুক ব্যক্তির ঘাড়, আর আল্লাহর রাসুল এই হাদিসটি বলেননি। তারপর তিনি বললেন: আমিই তাকে আল্লাহর রাসুলের নামে মিথ্যা বলতে প্ররোচিত করেছি। এরপর তিনি আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত রক্ষার খাতিরে সমস্ত কবুতর জবেহ করার নির্দেশ দিলেন।

এগুলোই ছিল আল্লাহর রাসুলের হাদিসে জালিয়াতির কারণ, এবং বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ এর মোকাবিলা করেছেন। তারা হাদিসগুলোকে যাচাই-বাছাই করেছেন এবং আমাদের সামনে সহিহ, হাসান, জঈফ এবং মওজু (জাল) হাদিসগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এখানে একটি মাসআলা হলো: বর্তমান যুগের আলেমদের কি হাদিসের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করে এমন হাদিসকে সহিহ বা জঈফ বলার সুযোগ আছে যা নিয়ে পূর্ববর্তীগণ কথা বলেননি? ইবনে সালাহ-এর মাযহাব এবং অনেক মুহাদ্দিস তার সাথে একমত হয়েছেন যে, আল-বায়হাকী, আদ-দারাকুতনী ও তাদের সমসাময়িকদের পরে প্রথম যুগের শেষেই ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং দারাকুতনী যদি বলেন 'জঈফ' তবে তা জঈফ, আর যদি বলেন 'সহিহ' তবে তা সহিহ; আপনার গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তব এর বিপরীত। ইবনে হাজার, আয-যাহাবি, আন-নববী, আস-সুবকি, ইবনে আস-সুবকি, ইবনে আব্দুল হাদি আল-হাম্বলী—এঁরা সবাই হাদিসকে সহিহ এবং জঈফ বলেছেন। স্বয়ং ইবনে সালাহ-এর যুগেও ইবনে আল-কাত্তান, আদ-দামিয়াতি এবং অন্যরা আলেমদের নির্ধারিত শর্তাবলী এবং মানদণ্ড অনুযায়ী আল্লাহর রাসুলের হাদিসগুলোকে সহিহ ও জঈফ বলতেন। সুতরাং ইজতিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। এই উম্মতের মধ্যে ইজতিহাদ অবশিষ্ট আছে, এটি এই উম্মতের আলোকবর্তিকা এবং অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আমরা আইম্মায়ে কেরামের ইজতিহাদ সম্পর্কে জানব এবং দেখব কীভাবে তারা আল্লাহর রাসুলের হাদিসের প্রতি দৃষ্টিপাত করতেন এবং বলতেন যে এটি একটি জাল হাদিস; কীভাবে তারা তা বুঝতে পারতেন এবং এর শর্ত ও মানদণ্ডগুলো কী ছিল যা তারা নির্ধারণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب نقد متون السنة للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب نقد متون السنة للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি রচিত ‘নাকদু মুতুনিল সুন্নাহ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস (হাদীস শাস্ত্র)


গ্রন্থ: আদ-দুমাইনি রচিত ‘নাকদু মুতুনিল সুন্নাহ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো দরস সংখ্যা - ৯টি দরস]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مقاييس نقد متون السنة -‌‌ المقياس الأول: عرض السنة على القرآن

لقد كانت للصحابة الكرام مقاييس وضوابط يعرفون بها كون الحديث ثابتاً عن النبي صلى الله عليه وسلم أو غير ثابت، ومن تلك الضوابط عرض الحديث على القرآن، فإن أمكن الجمع بينهما بأي صورة من الصور المقبولة أخذوا بها، وإن كان معارضاً للقرآن من كل وجه فإنهم يردونه.
সুন্নাহর মতনের যাচাইয়ের মানদণ্ডসমূহের ব্যাখ্যা - প্রথম মানদণ্ড: কুরআনের নিকট সুন্নাহ পেশ করা

সম্মানিত সাহাবীগণের নিকট এমন কিছু মানদণ্ড ও নীতিমালা ছিল যার মাধ্যমে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসটি সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি অবগত হতেন। সেই নীতিমালাগুলোর অন্যতম হলো কুরআনের নিকট হাদীস পেশ করা। যদি গ্রহণযোগ্য কোনো পন্থায় উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন সম্ভব হতো, তবে তাঁরা তা গ্রহণ করতেন। আর যদি তা সর্বতোভাবে কুরআনের পরিপন্থী হতো, তবে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করতেন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أسباب وضع الحديث

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71]، أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ثم أما بعد: مازلنا في نقد متون السنة، وقد ذكرنا كيف أنفق العلماء كل غالٍ ونفيس من أجل تنقية أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم من الدخيل فيها، وكيف باعوا أنفسهم حقاً وصدقاً لله جل في علاه؛ للتفريق بين الحديث الضعيف والصحيح والموضوع، وتكلمنا عن الأسباب التي جعلت العلماء في عصر الصحابة ثم من بعدهم لا يسألون عن الإسناد ثم إنهم شددوا بعد أن ظهرت الفتن.

وقد كانت هناك أسباب لوضع الحديث، فما هي أسباب وضع الحديث؟ من أسباب وضع الحديث: ما حدث بين معاوية، وبين علي بن أبي طالب رضي الله عنه عنهم وأرضاهم، فقد ظهرت بعدها فتنة وضع الحديث، مثاله: أن النبي صلى الله عليه وسلم أوصى لـ علي بن أبي طالب بالخلافة، ومثل: (خلقت أنا وعلي من نور).

ومن أسباب وضع الحديث التعصب المذهبي.

مثاله: (يخرج رجل من أمتي يقال له محمد بن إدريس، وهو أشد على أمتي من إبليس).

فقد وضعه الأحناف على الشافعي كما وضعوا في مدح إمام مذهبهم حديث: (أبو حنيفة سراج أمتي) وغيرها من الأحاديث التي وضعت بسبب التعصب المذهبي.

وقد كان الشيخ الكوثري يرد الأحاديث التي تخالف مذهبه وإن كانت صحيحة.

وروى أحدهم حديثاً قال فيه: (من رفع يديه في ركوعه فقد بطلت صلاته)؛ لأن مذهبه ليس كذلك، كما أن التجار قد وضعوا أحاديث من أجل أن يشتري الناس أشياءهم، منها حديث: (لو علمتم ما في الجرجير لزرعتموه تحت السرير)، وبائع الخضار لعله يحفظ هذا الحديث حقاً.

ومنها: (الهريسة تشد الظهر)، والحلواني هو من يحفظ هذا الحديث جيداً.

وفي بعض المساجد التي يتمذهب أهلها بالمذهب الحنفي يوجد في كل مكان أكثر من غطاء رأس لأن الأحناف يقولون: إن الصلاة بغير غطاء الرأس باطلة، وعندهم حديث موضوع: (تعمموا؛ فإن الشياطين لا تتعم)، والرواية الأخرى عندهم هي: (صلاة بعمامة خير من سبعين صلاة بغير عمامة)، وفي رواية: (الصلاة بعمامة خير من صلاة الرجل بغير عمامة بسبع وعشرين درجة)، أي: مثل صلاة الجماعة مع صلاة الفرد! وقد روى القصاصون أحاديث أخرى كالرجل الذي تكلم عن النفخ في الصور فقال: هما صوران، فأنكر عليه الشعبي، فضرب من أجل ذلك.

والأطرف من ذلك ما روي عن ابن جرير الطبري أنه كان يسمع من القصاصين أنهم يقولون: بأن قول الله تعالى: {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء:79]، فقالوا المقام المحمود: أن يجلسه بجانبه، أو عن يمينه في العرش حاشا لله، وهذا الحديث موضوع فقال ابن جرير الطبري: هذا حديث موضوع، وكتب على باب بيته: سبحان الذي لا أنيس له، ولا جليس عند عرشه، فأخذوا الحجارة فرجموه حتى قيل: إنهم سدوا البيت بالحجارة، حتى أنه لم يستطع أن يخرج من بيته.

وهناك أسباب أخرى كثيرة جداً للوضع ليس هذا محل الكلام عليها.

فالعلماء حين نظروا إلى حديث النبي صلى الله عليه وسلم تنقية وتنقيحاً، وجرحاً وتعديلاً نظروا إلى الإسناد ونظروا إلى المتن، ولذلك تجد أن قول العالم: هذا حديث صحيح، لا بد أن يكون قد توفر فيها خمسة شروط، لأن الحديث الصحيح هو: ما اتصل سنده بنقل العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه من غير شذوذ ولا علة.

فهذه الشروط الخمسة تختص بالمتن وبالسند.

وانظروا إلى دقة نظر علمائنا في علم الحديث، فقد يقولون: هذا حديث صحيح، وهذا حديث إسناده صحيح، وهذا حديث رجاله ثقات، فما الفرق بين الثلاثة؟ هذه مسألة ليست بالهينة يتبحر فيها من تعلم علم الحديث، لذلك ترى ابن حجر الهيثمي دائماً يقول: وهذا الحديث رجاله ثقات، فإذا قال علماء الحديث: هذا حديث صحيح، أي: أنها توفرت فيه الخمسة الشروط، وهي: اتصال سنده عن العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه من غير شذوذ ولا علة.

وأما إذا قالوا: هذا حديث إسناده صحيح، فقد تكفلوا بثلاثة شروط: اتصال السند مع نقل العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه فقط، ولم ينظروا إلى الشذوذ ولا العلة.

والإسناد المعنعن يتوقف فيه على تصريح المدلس بالتحديث، فعلماء الحديث كـ شعبة وابن عيينة والثوري يقولون: إن الإسناد المعنعن إسناد متوقف فيه ولا يصح أن نقول: إنه إسناد ضعيف.

فالعلماء حين يقولون: هذا حديث صحيح فإنهم قد نظروا في الإسناد وفي المتن.

ومعنى قولهم: هذا حديث رجاله ثقات: أن الناقد والناظر في هذا الإسناد قد تكفل بعدالة وضبط الرواة فقط، دون أن ينظر إلى اتصال السند، ودون أن يرى التدليس في الحديث المعنعن، فإذا قال: رجاله ثقات لا يلزم منه أن الحديث صحيح، وإذا قال: إسناده صحيح، لا يلزم أن الحديث صحيح؛ ولذلك ترى كثيراً من المحدثين ممن لم يبحث في الشواهد والمتابعات، ولا في الشذوذ وغيره يتورعون ويقولون: هذا حديث إسناده صحيح، ويمكن لأي طالب علم أتقن المصطلح وتدرج في مسألة التطبيق العملي أن يصل إلى مرتبة تصحيح الإسناد وتضعيفه، وأما مسألة تصحيح الحديث برمته، أو تضعيف الحديث كلياً فهذه لا تكون إلا لمن قطع شوطاً طويلاً في علم الحديث.
‌হাদিস জালকরণের কারণসমূহ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০-৭১]। অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম। অতঃপর: আমরা সুন্নাহর মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার আলোচনায় ছিলাম। আমরা উল্লেখ করেছি যে, কীভাবে উলামায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে অনুপ্রবেশকারী বিষয়গুলোকে দূর করে একে পরিচ্ছন্ন করার জন্য তাদের সর্বস্ব ব্যয় করেছেন। কীভাবে তারা জাল, দুর্বল এবং সহিহ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। আমরা সেই কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি যার ফলে সাহাবীগণের যুগে এবং পরবর্তী সময়ে উলামায়ে কেরাম শুরুতে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার পর তারা এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন শুরু করেন।

হাদিস জালকরণের পেছনে কিছু কারণ ছিল; সেই কারণগুলো কী কী? হাদিস জালকরণের অন্যতম একটি কারণ হলো: মুআবিয়া এবং আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে যা ঘটেছিল। এরপরই হাদিস জাল করার ফিতনা প্রকাশ পায়। এর উদাহরণ হলো: এমন কথা রটানো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী বিন আবি তালিবের জন্য খিলাফতের অসিয়ত করে গেছেন, কিংবা ‘আমি এবং আলী একই নূর থেকে সৃষ্টি’—এরকম কথা।

হাদিস জালকরণের আরেকটি কারণ হলো মাযহাবী গোঁড়ামি।

উদাহরণস্বরূপ: (আমার উম্মতের মধ্যে মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে, যে আমার উম্মতের জন্য ইবলিসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে)।

হানাফী (চরমপন্থী) কিছু লোক এটি ইমাম শাফেয়ীর বিরুদ্ধে জাল করেছিল। ঠিক তেমনি তারা নিজেদের মাযহাবের ইমামের প্রশংসায় হাদিস জাল করেছিল যে: (আবু হানিফা হলো আমার উম্মতের প্রদীপ) এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিস যা মাযহাবী গোঁড়ামির কারণে জাল করা হয়েছে।

শেখ কাওসারী তার মাযহাবের বিরোধী হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতেন, যদিও সেগুলো সহিহ হতো।

আবার কেউ কেউ এমন হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: (যে ব্যক্তি রুকুতে যাওয়ার সময় হাত উঠাবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে); কারণ তার মাযহাব তেমনটি ছিল না। তেমনিভাবে ব্যবসায়ীরাও মানুষের কাছে তাদের পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে হাদিস জাল করত। যেমন: (তোমরা যদি জানতে যে পালং শাকের মধ্যে কী গুণ রয়েছে, তবে তোমরা তা বিছানার নিচে চাষ করতে), সম্ভবত সবজি বিক্রেতারা এই হাদিসটি খুব ভালো করেই মুখস্থ রাখত।

আবার যেমন: (হালুয়া পিঠ কোমর মজবুত করে), মিষ্টি বিক্রেতারা এই হাদিসটি খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখত।

এমন কিছু মসজিদ আছে যেখানে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করা হয়, সেখানে প্রতিটি জায়গায় একাধিক টুপি রাখা থাকে। কারণ হানাফীরা বলেন: টুপি ছাড়া সালাত বাতিল। তাদের কাছে একটি জাল হাদিস আছে: (তোমরা পাগড়ি পরিধান করো, কারণ শয়তান পাগড়ি পরে না)। তাদের কাছে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা হলো: (পাগড়ি পরে এক ওয়াক্ত সালাত পাগড়ি ছাড়া সত্তর ওয়াক্ত সালাতের চেয়ে উত্তম)। অন্য এক বর্ণনায় আছে: (পাগড়ি পরে সালাত আদায় করা পাগড়ি ছাড়া সালাত আদায়ের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ), অর্থাৎ জামাতে সালাত ও একাকী সালাতের পার্থক্যের মতো! আবার কিচ্ছাকাররা অন্যান্য হাদিস বর্ণনা করত, যেমন এক ব্যক্তি শিঙায় ফুঁ দেওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিল: শিঙা হলো দুটি, তখন ইমাম শাবী এর প্রতিবাদ করলে তাকে এ জন্য মারধর করা হয়েছিল।

এর চেয়েও অদ্ভুত বিষয় হলো ইবনে জারীর তাবারী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি কিচ্ছাকারদের কাছে শুনতেন যে তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলত: {আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত। শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে মাকামে মাহমুদে পাঠাবেন।} [ইসরা: ৭৯]। তারা বলত, মাকামে মাহমুদ হলো: আল্লাহ তাঁকে আরশে তাঁর পাশে অথবা তাঁর ডান পাশে বসাবেন—আল্লাহ এ থেকে পবিত্র। এটি একটি জাল হাদিস। ইবনে জারীর তাবারী বলেছিলেন: এটি একটি জাল হাদিস। তিনি তাঁর ঘরের দরজায় লিখে রেখেছিলেন: পবিত্র সেই সত্তা যাঁর কোনো সঙ্গী নেই এবং তাঁর আরশের কাছে কেউ বসে নেই। এরপর তারা পাথর নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করল, এমনকি বলা হয় যে তারা পাথর দিয়ে তাঁর ঘর আটকে দিয়েছিল যাতে তিনি ঘর থেকে বের হতে না পারেন।

হাদিস জালকরণের আরও অনেক কারণ রয়েছে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।

উলামায়ে কেরাম যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসগুলোকে যাচাই-বাছাই, সংশোধন এবং রাবীদের দোষ-গুণ পর্যালোচনার দৃষ্টিতে দেখতেন, তখন তারা সনদ এবং মতন উভয় দিকেই লক্ষ্য রাখতেন। তাই আপনি যখন কোনো আলেমের উক্তি দেখেন যে—এটি সহিহ হাদিস, তখন বুঝতে হবে সেখানে অবশ্যই পাঁচটি শর্ত পূর্ণ হয়েছে। কারণ সহিহ হাদিস হলো: যার সনদ বা সূত্র পরম্পরা আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন রাবীর মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত, এবং তা শায বা ত্রুটিযুক্ত নয়।

এই পাঁচটি শর্ত মতন এবং সনদ উভয়টির সাথেই সংশ্লিষ্ট।

হাদিস শাস্ত্রে আমাদের উলামায়ে কেরামের সূক্ষ্ম দৃষ্টির দিকে লক্ষ্য করুন। তারা হয়তো বলেন: এটি সহিহ হাদিস, অথবা এই হাদিসের সনদ সহিহ, অথবা এই হাদিসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য কী? এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, যারা হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন তারাই এটি অনুধাবন করতে পারেন। এ কারণেই আপনি দেখবেন ইবনে হাজার হাইতামি সবসময় বলেন: এই হাদিসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। হাদিস বিশারদগণ যখন বলেন এটি সহিহ হাদিস, তার অর্থ হলো এতে পাঁচটি শর্তই বিদ্যমান। সেগুলো হলো: আদোপান্ত নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন রাবীর মাধ্যমে সূত্রের অবিচ্ছিন্নতা এবং হাদিসটি শায বা ত্রুটিযুক্ত না হওয়া।

আর যখন তারা বলেন এই হাদিসের সনদ সহিহ, তখন তারা কেবল তিনটি শর্তের জিম্মাদারি নেন: নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন রাবীর মাধ্যমে সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা; তারা শায বা ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) আছে কি না তা দেখেন না।

'আনআন' বর্ণিত সনদের ক্ষেত্রে মুদাল্লিস রাবীর সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভর করা হয়। শুবা, ইবনে উয়াইনা এবং সাওরির মতো হাদিস বিশারদগণ বলেন: 'আনআন' যুক্ত সনদটি স্থগিত অবস্থায় থাকে, তবে একে সরাসরি দুর্বল বলা সঠিক নয়।

সুতরাং উলামায়ে কেরাম যখন বলেন এটি সহিহ হাদিস, তখন তারা সনদ এবং মতন উভয়টিই যাচাই করেছেন।

আর তাদের এই কথার অর্থ—এই হাদিসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য: অর্থাৎ সমালোচক বা পর্যালোচনাকারী এখানে কেবল রাবীদের ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির জিম্মাদারি নিয়েছেন, সনদের নিরবচ্ছিন্নতা কিংবা 'আনআন' হাদিসের ক্ষেত্রে তাদলীস হয়েছে কি না তা তিনি দেখেননি। সুতরাং যদি তিনি বলেন রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে তা থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়া আবশ্যক হয় না। আবার যদি বলেন সনদ সহিহ, তবুও হাদিসটি সহিহ হওয়া আবশ্যক হয় না। এই কারণেই আপনি অনেক মুহাদ্দিসকে দেখবেন যারা শাহেদ ও মুতাবাআত কিংবা শায হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেননি, তারা সতর্কতা অবলম্বন করে বলেন: এই হাদিসের সনদ সহিহ। পরিভাষা শাস্ত্রে পারদর্শী এবং প্রায়োগিক বিষয়ে অভিজ্ঞ যেকোনো তালিবে ইলম সনদ সহিহ বা দুর্বল হওয়ার স্তরে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু একটি হাদিসকে সামগ্রিকভাবে সহিহ বা দুর্বল বলা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা হাদিস শাস্ত্রে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقاييس نقد المتون عند الصحابة فمن بعدهم

إن علماؤنا ينظرون إلى المتن فيقولون: هذا من مشكاة النبوة، وهذا ليس من مشكاة النبوة، فما هي الضوابط؟ وما هي الأصول التي ارتكزوا عليها ليعرفوا أن هذا الحديث من مشكاة النبوة أم لا؟ فتجد أحدهم يقول في حديث معين: هذا ليس من حديث فلان، كأن يقول: هذا ليس من حديث أبي صالح فكيف يقول: هذا ليس من حديثه؟ لأنه قد عرف أحاديث أبي صالح، ومكث معه مدة طويلة في الطلب ومجلس التحديث، فعلم كيف يحدث أبو صالح، وما هي السلسلة المنتقاة لـ أبي صالح، وهل إذا حدث عن النبي صلى الله عليه وسلم يصل به إلى النبي صلى الله عليه وسلم أم لا؟ وكذلك فعلماؤنا الذين نظروا في كلام النبوة بعد ما تبحروا في قراءة أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، واطلعوا عليها، علموا ما يخرج من فيه صلى الله عليه وسلم، وما لا يخرج من فمه الله صلى الله عليه وسلم، لكن بالضوابط والأصول التي ذكرها العلماء؛ حتى نعلم الفارق بين كلام النبي وبين كلام غيره مما هو أشبه بكلام النبوة كأمثال الحسن البصري، فقد قيل: إن كلامه يشبه كلام النبوة.
সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীগণের নিকট মতন (মূলপাঠ) পর্যালোচনার মানদণ্ডসমূহ

আমাদের উলামায়ে কিরাম হাদিসের মতনের দিকে লক্ষ্য করে বলেন: এটি নবুওয়াতের প্রদীপাধার (মিশকাত) থেকে আগত, আর এটি নবুওয়াতের প্রদীপাধার থেকে নয়। তাহলে সেই নীতিমালাগুলো কী? এবং সেই মূলনীতিগুলোই বা কী যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, এই হাদিসটি নবুওয়াতের প্রদীপাধার থেকে এসেছে কি না? আপনি তাঁদের কাউকে কোনো নির্দিষ্ট হাদিস সম্পর্কে বলতে দেখবেন: "এটি অমুকের হাদিস নয়", যেমন তিনি বলেন: "এটি আবু সালিহ-এর হাদিস নয়"। তাহলে তিনি কীভাবে বলেন যে এটি তাঁর হাদিস নয়? কারণ তিনি আবু সালিহ-এর হাদিসসমূহ চিনেছেন এবং তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জন ও হাদিস বর্ণনার মজলিসে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন। ফলে তিনি জেনেছেন আবু সালিহ কীভাবে হাদিস বর্ণনা করেন, আবু সালিহ-এর জন্য চয়নকৃত সনদ বা পরম্পরা কোনটি এবং তিনি যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তখন তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছায় কি না। অনুরূপভাবে আমাদের সেই সকল উলামায়ে কিরাম, যাঁরা নবুওয়াতের বাণীর প্রতি গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ পাঠে পারদর্শী হওয়ার এবং সেগুলোর ওপর গভীর জ্ঞান অর্জনের পর—তাঁরা জেনেছেন কোনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্র মুখনিসৃত বাণী আর কোনটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখনিসৃত বাণী নয়। তবে তা উলামায়ে কিরামের বর্ণিত নীতিমালা ও মূলনীতিসমূহের মাধ্যমেই সম্ভব; যাতে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী এবং অন্যদের বাণীর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারি, যাদের কথা নবুওয়াতের বাণীর সদৃশ, যেমন হাসান বসরী; কেননা বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর কথা নবুওয়াতের বাণীর সদৃশ।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌عرض الحديث على القرآن

وهو أصل الأصول الذي ارتكز عليه علماؤنا من الصحابة لتنقية أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، هو عرض الحديث على القرآن، والقرآن والحديث هما وحي أوحى الله بهما إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، فكيف نقول: إن عرض السنة على القرآن يظهر الحديث الصحيح من الضعيف؟ نقول: إذا أصلنا هذا الأصل بأن القرآن والسنة خرجا من مشكاة واحدة فالذي يخرج من مشكاة واحدة لا يكون فيه اختلاف، ولا تضاد، قال الله تعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء:82].

وقال النبي صلى الله عليه وسلم (ألا وإني قد أوتيت القرآن ومثله معه)، فهم يأخذون حديث النبي صلى الله عليه وسلم فيعرضونه على القرآن، فإذا راءوا المعارضة من كل وجه فلا يمكن أن نقول: إن هذا الحديث قد قاله النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم يتكلم بكلام هو وحي من الله، لكن اللفظ من النبي صلى الله عليه وسلم، فكيف يكون مخالفاً لقول الله من كل وجه؟! فهذا محال.
কুরআনের নিরিখে হাদিস যাচাই

এটি সেই মূলনীতিসমূহের মূল যার ওপর ভিত্তি করে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত আমাদের বিশেষজ্ঞগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহকে পরিশুদ্ধ করার জন্য নির্ভর করেছেন, আর তা হলো কুরআনের নিকট হাদিস পেশ করা। কুরআন এবং হাদিস উভয়ই ওহী যা আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রেরণ করেছেন। এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে বলতে পারি যে, কুরআনের নিকট সুন্নাহ পেশ করলে তা সহীহ হাদিসকে যয়ীফ থেকে পৃথক করে দেয়? আমরা বলি: যখন আমরা এই মূলনীতিটি গ্রহণ করি যে কুরআন এবং সুন্নাহ একই উৎস হতে উৎসারিত, তখন একই উৎস হতে যা নির্গত হয় তাতে কোনো বিভেদ বা বৈপরীত্য থাকতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।" [সূরা আন-নিসা: ৮২]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" সুতরাং তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস গ্রহণ করে তা কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখেন। যদি তাঁরা সবদিক থেকেই এর মাঝে বৈপরীত্য দেখতে পান, তবে এ কথা বলা সম্ভব নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেছেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথা বলেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী, যদিও শব্দগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর। সুতরাং তা কীভাবে সবদিক থেকে আল্লাহর বাণীর পরিপন্থী হতে পারে?! এটি অসম্ভব।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌صور لعرض الصحابة الحديث على القرآن
কুরআনের সামনে সাহাবায়ে কেরামের হাদিস উপস্থাপনের কিছু চিত্র
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الصورة الأولى

لقد أصل الصحابة هذا الأصل بأمثلة كثيرة منها مثلاً حديث عائشة رضي الله عنه وأرضاها عندما قيل لها بعدما مات عمر والحديث في الصحيح: إن عمر بن الخطاب دخل عليه صهيب بعد ما طعنه أبو لؤلؤة فبكى، فقال عمر: أوتبكي وقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (إن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه)، فلما مات عمر ودفن ذكر ذلك للفقيهة عائشة رضي الله عنه وأرضاها فوهمت عمر رضي الله عنه وأرضاه، وردت عليه الحديث وقالت: يرحم الله عمر! والله إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يقل ذلك وقد قال الله تعالى: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164].

فانظر كيف محصت حديث النبي صلى الله عليه وسلم عن غيره، فقد نظرت في الكلام فوجدت أن الحديث المنقول عن النبي صلى الله عليه وسلم بأن الميت يعذب ببكاء أهله عليه، ليس للميت ذنب في ذلك، من أجل أن يعذب، وإنما هذا فعله أهل الميت، فالفعل فعل أهل الميت وليس فعله، والله جل وعلا يقول في كتابه: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164].

ومعنى الآية: أنه لا يعذب أحد بفعل غيره، ويلزم من كلام عمر أن الميت سيعذب بفعل غيره فـ عائشة رضي الله عنها وأرضاها لم تنظر في الإسناد في عصرها؛ لأن الصحابة كلهم عدول، وقد ذكر الله عدالتهم من فوق سبع سموات، فيبقى النظر إلى المتن، فلما نظرت إلى المتن عرضته على كتاب الله فوجدت المعارضة، فقالت: كيف يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك وقد قال الله تعالى: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164]؟! فالمقصود أن عائشة عرضت هذا الحديث على كتاب الله.

فإن خالف الحديث كتاب الله من كل وجه فلا بد أن نقول: إن هذا الحديث لم يقله النبي صلى الله عليه وسلم جزماً؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يخالف كلام الله جل في علاه.
প্রথম দৃষ্টান্ত

সাহাবীগণ এই মূলনীতিকে বহু উদাহরণের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র বর্ণনা, যখন উমরের মৃত্যুর পর তাঁকে এ বিষয়ে বলা হয়েছিল। হাদিসটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব যখন আবু লু'লু' কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, তখন সুহাইব তাঁর নিকট প্রবেশ করে কাঁদতে লাগলেন। উমর বললেন: তুমি কি কাঁদছ? অথচ তুমি কি শোনোনি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।" অতঃপর যখন উমর মারা গেলেন এবং তাঁকে দাফন করা হলো, তখন বিদুষী ফকিহা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট বিষয়টি উল্লেখ করা হলো। তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় ভ্রম সংশোধন করে দিলেন এবং তাঁর সেই হাদিসটি খণ্ডন করে বললেন: আল্লাহ উমরের প্রতি রহম করুন! আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন কথা বলেননি, বরং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর কোনো বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না" [আল-আন'আম: ১৬৪]।

লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসকে অন্যান্য বিষয় থেকে যাচাই করে পৃথক করেছেন। তিনি বক্তব্যটি পর্যালোচনা করে দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত এই কথা—যে মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়—এতে মৃত ব্যক্তির কোনো দোষ নেই যার কারণে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কারণ এই কাজটি তো মৃত ব্যক্তির পরিবারের, তার নিজের নয়। অথচ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: "আর কোনো বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না" [আল-আন'আম: ১৬৪]।

এই আয়াতের অর্থ হলো: অন্যের কর্মের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না। কিন্তু উমরের কথা থেকে এটাই অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, মৃত ব্যক্তিকে অন্যের কাজের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে। তাই আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর যুগে সনদের (বর্ণনাসূত্র) দিকে তাকাননি; কারণ সাহাবীগণের সকলেই ন্যায়পরায়ণ, আর আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা ঘোষণা করেছেন। তাই কেবল মতনের (মূল পাঠ) দিকে তাকানোই অবশিষ্ট থাকে। যখন তিনি মতনের দিকে লক্ষ্য করলেন এবং তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখলেন, তখন তিনি এতে বৈপরীত্য খুঁজে পেলেন। ফলে তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর কোনো বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না" [আল-আন'আম: ১৬৪]?! অর্থাৎ আয়েশা এই হাদিসটিকে আল্লাহর কিতাবের নিরিখে যাচাই করেছেন।

যদি কোনো হাদিস সব দিক থেকে আল্লাহর কিতাবের বিরোধী হয়, তবে আমাদের অবশ্যই বলতে হবে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চিতভাবেই এই কথা বলেননি; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনোই মহান আল্লাহর বাণীর বিরোধিতা করেন না।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الصورة الثانية

عن أبي هريرة رضي الله عنه وأرضاه قال: ((ولد الزنا شر الثلاثة))، فسمعت عائشة رضي الله عنها وأرضاها هذا الحديث فاحتجت بنفس الآية {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164]، المرأة زنت وحملت الجنين، فكيف نقول: إن هذا هو شر الناس؟ لأنه إذا كان كذلك فلا يؤمّنّ القوم، ولا يكون خليفةً، ولا يكون رأساً في الناس، ولا يكون معلماً، وقد وردت الأدلة بأسانيد صحيحة أن النبي صلى الله عليه وسلم بين أنه يمكن أن يكون أماماً، ويمكن أن يكون خليفة؛ لأنه لا ذنب له بما جنت أمه، ولا يمكن أن يؤخذ بجريرة الرجل الذي زنى بأمه، فقد قال الله تعالى: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164].

ولذلك ابن عباس نظر في هذا الحديث أيضاً وأصل لنا نفس الأصل فقال: كيف يقولون هذا؟ لو كان كذلك لقتله النبي صلى الله عليه وسلم وهو في بطن أمه؛ لأنه لا يستحق الجنة فهو شر الثلاثة، فالأولى له أن يموت وهو في بطن أمه، ويشير ابن عباس بذلك إلى حديث النبي صلى الله عليه وسلم أن امرأة جاءت فقالت: يا رسول الله! إني حبلى من الزنا فطهرني، فقال: ارجعي حتى تضعي، فلما وضعت الجنين جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: قد وضعته فطهرني يا رسول الله! فقال: ارجعي فأرضعيه، فلو كان ليس له مكانة بين الناس لما فعل بها النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، ولقتل المرأة رجماً، وقتل جنينها في بطنها؛ لأنه لا يستحق أن يعيش فهو سيكون في النار لأنه شر الثلاثة.

فانظروا إلى ابن عباس رضي الله عنه وأرضاه فبعد أن أخذ المتن عرضه على الحديث، وهذا هو المقياس الثاني الذي سنتكلم عنه، وعرضه أيضاً على الكتاب، وعلى نفس الآية ((وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى)) [الأنعام:164].

فهذا أصل أصله الصحابة لمعرفة حديث النبي صلى الله عليه وسلم ولا عكس، فلا يمكن أن نقول: إن القرآن إذا شهد لمتن من متون الحديث أن ذلك يقويه على الراجح من أقوال أهل العلم، مثل شهادة القرآن لحديث: (إذا رأيتم الرجل يعتاد المساجد فاشهدوا له بالإيمان)، والآية التي تقويه هي: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ} [التوبة:18]، إلى آخر الآية، ومع ذلك لم يصح لأن العلماء ينظرون بعد العصور المتقدمة إلى المتن والسند، فالحديث لم يصح حتى ولو شهد القرآن.

وكذلك إذا عارض الحديث القرآن من كل وجه فإننا نقول: حتماً وجزماً أن الله لم يوح بهذا الحديث للنبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الله جل وعلا قال: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء:82].
দ্বিতীয় চিত্র

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ব্যভিচারের সন্তান তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।" আয়িশা (রা.) যখন এই হাদিসটি শুনলেন, তখন তিনি একই আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করলেন: "আর কোনো বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।" [আল-আনআম: ১৬৪]। নারী ব্যভিচার করেছে এবং গর্ভধারণ করেছে, তবে আমরা কীভাবে বলতে পারি যে এই সন্তানটিই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট? কারণ যদি তাই হতো, তবে সে লোকজনের ইমামতি করতে পারত না, খলিফা হতে পারত না, মানুষের মধ্যে প্রধান হতে পারত না এবং শিক্ষকও হতে পারত না। অথচ সহিহ সনদে এমন দলীল বর্ণিত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে সে ইমাম হতে পারে এবং খলিফাও হতে পারে; কারণ তার মা যা অপরাধ করেছে তাতে তার কোনো পাপ নেই এবং যে ব্যক্তি তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করেছে তার অপরাধের দায়ভার তার ওপর চাপানো সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর কোনো বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।" [আল-আনআম: ১৬৪]।

এ কারণেই ইবনে আব্বাস (রা.)-ও এই হাদিসটি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আমাদের জন্য একই মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি বললেন: তারা এটি কীভাবে বলে? যদি এমনটাই হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই হত্যা করতেন; কারণ সে জান্নাতের যোগ্য হতো না যেহেতু সে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। সুতরাং তার জন্য মায়ের গর্ভেই মারা যাওয়া বেশি শ্রেয় ছিল। এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে এক নারী এসে বলেছিল: হে আল্লাহর রাসুল! আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি, সুতরাং আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বললেন: ফিরে যাও যতক্ষণ না তুমি সন্তান প্রসব করো। যখন সে সন্তান প্রসব করল, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: আমি প্রসব করেছি, সুতরাং হে আল্লাহর রাসুল আমাকে পবিত্র করুন! তিনি বললেন: ফিরে যাও এবং তাকে দুধ পান করাও। যদি মানুষের মাঝে তার (সন্তানের) কোনো মর্যাদা না থাকত, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (নারীর) সাথে এমন আচরণ করতেন না এবং তিনি নারীকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতেন ও তার গর্ভস্থ সন্তানকেও তার পেটেই মেরে ফেলতেন; কারণ তখন তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার থাকত না এবং সে জাহান্নামী হতো যেহেতু সে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

লক্ষ্য করুন ইবনে আব্বাস (রা.)-এর দিকে, তিনি মতন (মূল পাঠ) গ্রহণ করার পর তা হাদিসের সাথে মিলিয়ে দেখলেন। এটিই হলো দ্বিতীয় মানদণ্ড যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। তিনি একে কিতাবের (কুরআন) সাথে এবং একই আয়াতের সাথেও মিলিয়ে দেখেছেন: "আর কোনো বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।" [আল-আনআম: ১৬৪]।

এটি একটি মূলনীতি যা সাহাবীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস চেনার জন্য নির্ধারণ করেছেন, এর উল্টোটা নয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি না যে, আলেমদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কুরআন যদি হাদিসের কোনো মতনের সাক্ষ্য দেয়, তবে তা হাদিসটিকে শক্তিশালী করে। যেমন এই হাদিসটির স্বপক্ষে কুরআনের সাক্ষ্য: "যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে মসজিদে যাতায়াত করতে অভ্যস্ত দেখবে, তখন তোমরা তার ঈমানের সাক্ষ্য দাও।" আর যে আয়াতটি একে শক্তিশালী করে তা হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে..." [আত-তাওবাহ: ১৮] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও হাদিসটি সহিহ নয়, কারণ পরবর্তী যুগের আলেমগণ মতন এবং সনদ (সূত্র) উভয়টির দিকেই লক্ষ্য করেন। সুতরাং কুরআন সাক্ষ্য দিলেও হাদিসটি সহিহ হয়নি।

একইভাবে যদি কোনো হাদিস সব দিক থেকে কুরআনের বিরোধী হয়, তবে আমরা অকাট্য ও নিশ্চিতভাবে বলব যে, আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এই হাদিসের ওহী নাজিল করেননি; কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: "তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।" [আন-নিসা: ৮২]।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الصورة الثالثة

السنة مبينة للقرآن فلا تخالف القرآن، فـ ابن عباس اشتد على أبي هريرة في هذا الأمر؛ لأنه عرض الحديث على القرآن.

وفي الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (الشؤم في ثلاثة: في المرأة، وفي الدابة، وفي الدار).

فهذا الحديث حين سمعته عائشة رضي الله عنها وأرضاها وهمت الراوي وقالت: هذا ليس بحديث النبي صلى الله عليه وسلم، إنما قال النبي صلى الله عليه وسلم (كان أهل الجاهلية يقولون: الشؤم في ثلاثة كذا وكذا)، فالمهم أنها لم تعترض على هذا الحديث بالحديث الآخر، وإنما وجهته، فقالت: ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك، قد قال الله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الأَرْضِ وَلا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد:22]، أي: فليس هناك طيرة، وقد قال الله تعالى: {إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ} [الأعراف:131]، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم (لا طيرة)، فقد نفى الطيرة أصلاً، فلا يمكن أن هناك تشاؤماً.

فعرضت عائشة رضي الله عنها وأرضاها هذا الحديث على قول الله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الأَرْضِ وَلا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد:22]، وقالت: وإن كان في كتاب فلا يمكن أن نقول إن هذه المرأة هي التي تسببت في هذه المصيبة، ولا أن هذا الرجل هو الذي تسبب في هذه المصيبة، كما يفعل بعض الجهال الذين إذا خرجوا من بيوتهم فوجدوا امرأة عجوزاً قالوا: هذه عجوز نحس، ارجع حتى لا تنزل بك مصيبة، أو مثل ما يقول بعضهم: من أن المصائب تنزل في يوم الأربعاء، فيجلس في بيته ولا يخرج، فهؤلاء القوم لم يؤمنوا بالله حق الإيمان.

والغرض هو أن عائشة قد أصلت لنا أصلاً بيناً واضحاً جلياً في عرض سنة النبي صلى الله عليه وسلم على الكتاب، فإن خالف الحديث القرآن من كل وجه فلا يمكن أن يكون قد قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم.
তৃতীয় রূপ

সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, তাই এটি কুরআনের পরিপন্থী হতে পারে না। ফলে ইবনে আব্বাস এই বিষয়ে আবু হুরায়রা-র প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন; কারণ তিনি হাদীসকে কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখতেন।

সহীহ বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (অশুভ লক্ষণ তিনটি জিনিসের মধ্যে রয়েছে: নারী, চতুষ্পদ জন্তু এবং ঘর)।

এই হাদীসটি যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুনলেন, তখন তিনি বর্ণনাকারীর ভ্রম চিহ্নিত করলেন এবং বললেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস নয়, বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন (জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা বলত: তিনটি জিনিসে অশুভ বা অলক্ষণ রয়েছে ইত্যাদি)। মূল বিষয়টি হলো, তিনি অন্য হাদীসের মাধ্যমে এই হাদীসের প্রতিবাদ করেননি, বরং তিনি এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বলেননি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার আগেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে} [আল-হাদীদ: ২২]। অর্থাৎ, সেখানে কোনো অশুভ কুলক্ষণ নেই। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের অশুভ ভাগ্য তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে} [আল-আরাফ: ১৩১]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: (কোনো অশুভ কুলক্ষণ নেই)। তিনি মূলত অশুভ কুলক্ষণ বা 'তিয়ারাহ'-কে গোড়া থেকেই অস্বীকার করেছেন, তাই সেখানে অশুভ কিছু থাকা সম্ভব নয়।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এই হাদীসটিকে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাথে মিলিয়ে দেখলেন: {পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার আগেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে} [আল-হাদীদ: ২২]। তিনি বললেন: যদি তা কিতাবেই লিপিবদ্ধ থাকে, তবে আমরা এটি বলতে পারি না যে, এই নারীর কারণেই এই বিপদটি ঘটেছে, অথবা এই লোকটির কারণেই এই বিপদটি ঘটেছে; যেমনটি কিছু মূর্খ লোক করে থাকে। যারা বাড়ি থেকে বের হয়ে কোনো বৃদ্ধাকে দেখলে বলে: এটি এক অলক্ষুণে বৃদ্ধা, ফিরে চলো যাতে তোমার ওপর কোনো বিপদ না আসে। অথবা যেমন কেউ কেউ বলে থাকে: বিপদ বুধবার দিনে অবতীর্ণ হয়; ফলে সে নিজের ঘরে বসে থাকে এবং বের হয় না। এই শ্রেণির লোকেরা আল্লাহর ওপর যথার্থ ঈমান আনেনি।

উদ্দেশ্য হলো, আয়েশা আমাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে কিতাবুল্লাহর সামনে পেশ করার একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদি কোনো হাদীস সকল দিক থেকে কুরআনের বিরোধী হয়, তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বলা কথা হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الصورة الرابعة

روى ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال عندما نزل من المعراج فقالوا له: رأيت ربك؟ فقال: (نور إني أراه).

وهذا تصحيف من الراوي والراجح في الرواية هو (نور أنى أراه) أي: كيف أراه؟ فرووا هذا الحديث عند عائشة فقالت: كما قال مسروق: قلت يا أمتاه هل رأى محمد ربه؟ ثم روى هذا الحديث فقالت: لقد قف شعري مما تقول، من حدثك أن محمداً رأى ربه فقد أعظم على الله الفرية، فردت الحديث، مع أن هذا رواه ابن عباس وغيره من الصحابة، فكيف ردته؟ لقد عرضته على كتاب الله، فقالت: كيف تقولون: إن محمداً رأى ربه وقد قال الله تعالى: {لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ} [الأنعام:103].

والغرض من هذا أننا إذا أردنا أن نعرف أن الأثر من قول رسول الله أو من قول غيره فإننا نعرضه على القرآن.

وكذلك ابن عمر فقد كان يفعل كما فعلت عائشة، فقد كان يقول: إن لحوم السباع حلال، كالأسد، وهو قول للمالكية.

فإن قيل: هل الضبع والذئب والثعلب والقرد مما يؤكل أو لا؟

و

‌‌الجواب

لقد حرم النبي صلى الله عليه وسلم كل ذي ناب من السباع، وكل ذي ظفر من الطير.

والصحيح أن الثعلب يؤكل، والضبع يؤكل.

واختلف العلماء في الذئب والقرد، فالمالكية يقولون: يؤكل، والفيل يؤكل، والصحيح الراجح في ذلك أنه لا يؤكل.

والغرض أن ابن عمر رضي الله عنه وأرضاه كان يعرض الحديث على القرآن ليميز هل هو من كلام رسول الله أم ليس من كلامه؟ وقد أكثرت من الأمثلة حتى يسهل على طالب العلم ضبط القاعدة.
চতুর্থ চিত্র

ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি মেরাজ থেকে অবতরণ করলেন, তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি বললেন: "(তিনি) নূর, আমি তাঁকে দেখি।"

এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি শব্দগত বিকৃতি (তাশহিফ), আর বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মতটি হলো: "(তিনি) নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব?" অর্থাৎ: তাঁকে দেখা কীভাবে সম্ভব? তারা এই হাদিসটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন: যেমন মাসরুক বলেছেন: আমি বললাম, হে আম্মাজান! মুহাম্মাদ কি তাঁর রবকে দেখেছেন? তারপর তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করলে আয়েশা বললেন: তুমি যা বলছ তাতে আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে। যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে মুহাম্মাদ তাঁর রবকে দেখেছেন, সে আল্লাহর নামে এক বিশাল মিথ্যা অপবাদ আরোপ করল। অতঃপর তিনি হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করলেন, যদিও এটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি কীভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন? তিনি এটি আল্লাহর কিতাবের সামনে উপস্থাপন করলেন। তিনি বললেন: তোমরা কীভাবে বলো যে মুহাম্মাদ তাঁর রবকে দেখেছেন, অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, কিন্তু তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন} [আল-আনআম: ১০৩]।

এর উদ্দেশ্য হলো, আমরা যখন কোনো আসার (বর্ণনা) রাসুলুল্লাহর বাণী নাকি অন্য কারো বাণী তা জানতে চাইব, তখন আমরা তা কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখব।

অনুরূপভাবে ইবনে উমরও তা-ই করতেন যা আয়েশা করতেন। তিনি বলতেন: হিংস্র প্রাণীর মাংস হালাল, যেমন সিংহ। আর এটি মালিকী মাযহাবের একটি মত।

যদি প্রশ্ন করা হয়: হায়না, নেকড়ে, শিয়াল ও বানর কি ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত নাকি নয়?

ও

উত্তর

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতবিশিষ্ট প্রতিটি হিংস্র পশু এবং নখবিশিষ্ট প্রতিটি শিকারি পাখি ভক্ষণ করা হারাম করেছেন।

বিশুদ্ধ মত হলো শিয়াল ভক্ষণযোগ্য এবং হায়না ভক্ষণযোগ্য।

উলামায়ে কেরাম নেকড়ে ও বানর সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। মালিকীগণ বলেন: এগুলো খাওয়া যায় এবং হাতিও খাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো এগুলো ভক্ষণযোগ্য নয়।

উদ্দেশ্য হলো যে, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করতেন যাতে পার্থক্য করতে পারেন যে সেটি রাসুলুল্লাহর বাণী নাকি তাঁর বাণী নয়? আমি অনেক উদাহরণ প্রদান করেছি যাতে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এই নিয়মটি আয়ত্ত করা সহজ হয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الصورة الخامسة

جاء رجل إلى ابن عمر فقال: (إن النبي صلى الله عليه وسلم حرم لحوم السباع)، فقال من قال هذا الحديث؟ قال: أبو ثعلبة الخشني، فقال: الأعرابي الذي يبول على ساقيه! وهذه الكلمة معروفة بين العلماء، وعندما يرد طالب علم على طالب علم أو عالم على عالم فلا يؤخذ عليه أنه يرد عليه بشدة؛ لأن هذه المسألة فيها إظهار للحق، حتى أن عائشة كانت إذا سئلت عن مسألة غابت عن الصحابة تقول: على الخبير سقطت، وكان علي بن أبي طالب في مهر المفوضة يقول: لا آخذ بقول أعرابي بوال على عقبيه وأترك كتاب الله جل في علاه.

فكان ابن عمر يقول: لا آخذ بقول أعرابي يبول على ساقيه، وأترك كتاب الله، والآية التي جعلته يقول: إن لحوم السباع حلال والتي عرض عليها الحديث هي قول الله تعالى: {قُلْ لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} [الأنعام:145]، فهذه الأربعة فقط هي التي حرمها الله جل وعلا، والاستثناء الموجود في الآية يحصر المحرم في الأربعة التي ذكرت.

فلذلك لما نظر ابن عمر إلى هذه الآية وعرض عليها الحديث قال: لا يمكن أن يخالف رسول الله صلى الله عليه وسلم قول الله أبداً؛ لأن الوحي الأول هو: الأصل الأصيل، والوحي الثاني خرج من نفس المشكاة فلا يمكن أن يتعارض قول النبي صلى الله عليه وسلم وقول الله جل في علاه.
পঞ্চম দৃষ্টান্ত

এক ব্যক্তি ইবনে উমরের কাছে এসে বললেন: (নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র প্রাণীর মাংস হারাম করেছেন), তখন তিনি বললেন: এই হাদিসটি কে বলেছে? সে বলল: আবু সালাবা আল-খুশানি। তখন তিনি বললেন: সেই বেদুঈন যে নিজের পায়ের নলার ওপর প্রস্রাব করে! এই বাক্যটি আলেমদের নিকট সুপরিচিত। যখন একজন ইলম অন্বেষণকারী অন্য ইলম অন্বেষণকারীকে কিংবা একজন আলেম অন্য আলেমকে খণ্ডন করেন, তখন তাকে কঠোরভাবে খণ্ডন করার কারণে দোষারোপ করা হয় না; কারণ এই বিষয়টি সত্যকে প্রকাশ করার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি আয়েশা যখন এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতেন যা সাহাবীদের অগোচরে ছিল, তখন তিনি বলতেন: তুমি সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছেই পৌঁছেছ। আলী ইবনে আবি তালিব 'মুফাউয়িযাহ' (যার মোহর নির্ধারিত হয়নি) নারীর মোহরের বিষয়ে বলতেন: আমি গোড়ালিতে প্রস্রাবকারী এক বেদুঈনের কথা গ্রহণ করব না এবং মহান সুউচ্চ আল্লাহর কিতাব বর্জন করব না।

ইবনে উমর বলতেন: আমি নিজের পায়ের নলার ওপর প্রস্রাবকারী এক বেদুঈনের কথা গ্রহণ করব না এবং আল্লাহর কিতাব বর্জন করব না। যে আয়াতটির কারণে তিনি হিংস্র প্রাণীর মাংস হালাল বলতেন এবং যেটির সাথে তিনি হাদিসটি তুলনা করেছিলেন, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি বলুন: আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে, তাতে আহারকারীর জন্য যা সে আহার করে তার মধ্যে আমি এমন কিছু হারাম পাই না যা মৃত জানোয়ার, কিংবা প্রবাহিত রক্ত, অথবা শূকরের মাংস না হয়—কেননা তা অপবিত্র—কিংবা যা পাপাচার স্বরূপ আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।} [সূরা আল-আনআম: ১৪৫]। সুতরাং কেবল এই চারটি বিষয়ই মহান আল্লাহ হারাম করেছেন এবং আয়াতে বর্ণিত ব্যতিক্রমটি হারামকে উল্লিখিত চারটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে।

তাই যখন ইবনে উমর এই আয়াতের দিকে তাকালেন এবং এর সাথে হাদিসটি মিলিয়ে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই আল্লাহর বাণীর বিরোধিতা করতে পারেন না; কারণ প্রথম ওহী হলো মূল ভিত্তি এবং দ্বিতীয় ওহী একই উৎস থেকে নির্গত হয়েছে। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা এবং মহান সুউচ্চ আল্লাহর কথার মধ্যে বৈপরীত্য থাকা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الصورة السادسة

قالت فاطمة بنت قيس: طلقني زوجي فبتّ طلاقي، والمبتوتة هي: المطلقة ثلاثاً، وهي التي بت طلاقها فلا تحل لزوجها إلا بعد أن تتزوج زوجاً غيره ثم يطلقها، وليس معنى ذلك أن يعقد عليها فقط، بل لابد من العقد والدخول.

قالت: فلم يجعل لي سكنى ولا نفقه، فأخذ عمر بن الخطاب: قولها وعرضه على كتاب الله فقال: لا نأخذ بكلام امرأة لا ندري أذكرت أم نسيت ونترك كتاب الله، وفي رواية: سنة رسول الله.

وهذه الرواية ليست صحيحة، بل الصحيح أنه قال: لا نترك كتاب ربنا لامرأة وهمت لا ندري أحفظت أم نسيت.

والآية التي انتقد عمر بن الخطاب هذه الرواية من خلالها هي قول الله سبحانه وتعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ} [الطلاق:6]، فهذه الآية فيها دليل واضح على السكنى، وهناك آيات أخرى تدل على النفقة، فـ عمر بن الخطاب نظر في الحديث فعرضه على كتاب الله فظهر له أنه لا يمكن أن يكون هذا من قول النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن القرآن والسنة خرجا من مشكاة واحدة فلا يمكن أن يكون بينهما تعارض.
ষষ্ঠ চিত্র

ফাতিমা বিনতে কায়স বলেন: আমার স্বামী আমাকে তালাক দেন এবং আমার তালাককে চূড়ান্ত করে দেন। আর 'মাবতুতাহ' (চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা) হলেন সেই নারী যাকে তিন তালাক দেওয়া হয়েছে; যার তালাক চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় সে তার স্বামীর জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ হয় না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে এবং এরপর সে তাকে তালাক দেয়। আর এর অর্থ কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নয়, বরং বিবাহ এবং সহবাস উভয়ই সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক।

তিনি বলেন: তিনি আমার জন্য কোনো আবাসন বা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেননি। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব তার বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেন। তিনি বললেন: আমরা এমন একজন নারীর কথা গ্রহণ করব না যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে মনে রেখেছে নাকি ভুলে গেছে, আর (এর বিনিময়ে) আমরা আল্লাহর কিতাবকে বর্জন করব না। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহকে।

আর এই বর্ণনাটি সঠিক নয়, বরং সঠিক হলো তিনি বলেছিলেন: আমরা একজন নারীর কথার কারণে আমাদের রবের কিতাব বর্জন করব না যে বিভ্রান্ত হয়েছে; আমরা জানি না সে কি তা মনে রেখেছে নাকি ভুলে গেছে।

উমর ইবনুল খাত্তাব যে আয়াতের মাধ্যমে এই বর্ণনাটি পর্যালোচনা ও সমালোচনা করেছিলেন তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে বসবাস করো, সেখানে তাদেরও বাসের ব্যবস্থা করো} [সূরা আত-তালাক: ৬]। এই আয়াতে আবাসনের ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল রয়েছে এবং অন্যান্য আয়াতও রয়েছে যা ভরণপোষণকে নির্দেশ করে। সুতরাং উমর ইবনুল খাত্তাব হাদীসটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেন, ফলে তার কাছে প্রতীয়মান হয় যে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা হতে পারে না; কারণ কুরআন এবং সুন্নাহ একই উৎস থেকে নির্গত হয়েছে, তাই তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الصورة السابعة

عن علي بن أبي طالب قال في مهر المفوضة: لا آخذ بقول بوال على عقبيه -يعني: الأعرابي- وأترك كتاب الله جل وعلا فإن الله قال: {وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ} [البقرة:236]، والذي يجعل لها المهر كاملاً مخالف لظواهر الكتاب، فالحديث مخالف للآية فلا نأخذ به، فهذا التأصيل أصله علماء الصحابة رضي الله عنهم كـ عائشة وعمر بن الخطاب قبلها، وابن عمر، وابن عباس، وعلي بن أبي طالب رضي الله عنهم وأرضاهم.
সপ্তম দৃষ্টান্ত

আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি মাহার-ই-মুফাওওয়াদাহ (যে নারীর মোহর বিয়ের সময় নির্ধারিত হয়নি) সম্পর্কে বলেছেন: আমি এমন কোনো ব্যক্তির কথা গ্রহণ করব না যে নিজের গোড়ালির ওপর প্রস্রাব করে—অর্থাৎ সেই মরুবাসী বদুঈন—এবং মহান আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করব না। কেননা আল্লাহ বলেছেন: “এবং তোমরা তাদের ভোগের সামগ্রী দান করো; সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী।” [আল-বাকারা: ২৩৬]। আর যে ব্যক্তি এই নারীর জন্য পূর্ণ মোহর নির্ধারণ করে, সে মূলত কিতাবের প্রকাশ্য অর্থের বিরোধিতা করে। সুতরাং হাদিসটি আয়াতের পরিপন্থী হওয়ার কারণে আমরা তা গ্রহণ করছি না। এই মূলনীতিটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আলেমগণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন; যেমন আয়েশা, তার আগে উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تثبت الصحابة في رواية الحديث

لقد كان الصحابة يتثبتون تثبتاً شديداً في قول النبي صلى الله عليه وسلم، ويخافون ويرتجفون من قوله صلى الله عليه وسلم (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار).

ولذلك كان علي بن أبي طالب، يقول: والله ما حدثني أحد حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا وقد أقسم بالله أنه سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم غير: أبي بكر رضي الله عنه؛ فإنه حدثني وصدقني.

فكان التثبت والتشديد في التثبت من قول النبي صلى الله عليه وسلم يجعل كل راوي لحديث النبي صلى الله عليه وسلم يقسم بالله أنه سمع ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكان عمر شديداً في التثبت، فـ أبو موسى الأشعري عندما طرق الباب على عمر بن الخطاب، وكان قد طلبه عمر بن الخطاب فاستأذن مرة فلم يرد عليه، فرجع على عقبيه، فلما استيقظ عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه سأل عنه فقالوا: جاءك ثم رحل، فرجع إليه فقال: ما منعك أن تدخل؟ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (الاستئذان ثلاثاً وإلا فارجع) فأخذه عمر من عنقه وجاء إلى مجلس الأنصار مرعوباً مفزوعاً قد خشي على نفسه من عمر رضي الله عنه وأرضاه، فإنه قال له: والله لا أتركك حتى تأتيني بآخر يشهد معك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك.

وهذا من شدة التثبت في حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فقالوا له: والله لا نبعث معك إلا أصغرنا أبا سعيد الخدري فذهب معه وشهد عند عمر رضي الله عنه وأرضاه.

وهذا يحيى بن معين وهو يموت قيل له: ما تطلب؟ قال: إسناد عالٍ وبيت خالٍ.

فيا أهل الحديث! لقد اشتهرت الإسكندرية بقلة علم الحديث فيها حتى قيل: إن أهلها ليس لهم همة في طلب الحديث، أيها الجمّاع أريدك أن تكون نقاشاً وقماشاً لا أن تكون قماشاً فقط.

فإن قيل: يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا ألفين أحدكم على أريكته شبعان يأتيه الأمر من أمري فيقول: نعرضه على كتاب الله، فإن وجدناه في كتاب الله أخذنا به، وإن لم نجده في كتاب الله لم نأخذ به، ألا وإني قد أوتيت القرآن ومثله معه)، وقد عرض الصحابة الحديث على القرآن، فهل وقعوا فيما حذر منه النبي أم لا؟

و

‌‌الجواب

أن هذا الحديث عام، فهذا الشبعان كلما جاءه حديث من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم عرضه على القرآن، فإن وجده في القرآن أخذه، وإن لم يجده لم يأخذه، وأما الصحابة فلم يفعلوا ذلك في كل الأحاديث، وإنما فعلوه في الأحاديث التي عارضت كلام الله سبحانه وتعالى، وقد علموا أن كلام النبي صلى الله عليه وسلم لا يمكن أن يعارض كلام الله جل في علاه، فحديث النبي صلى الله عليه وسلم هذا ينطبق على القرآنيين الذين يقولون: لا حاجة إلى السنة.

وأما الصحابة فإنهم كانوا يأخذون بالسنة إلا الشيء اليسير الذي عارض القرآن، فيكون فعل الصحابة مخصوص من عموم الحديث، فالنبي قال في الحديث: ((يأتيه الأمر من أمري))، وفي هذا دلالة على كل أمر من أمر النبي فإنه يعرضه على القرآن، وأما الصحابة فقد كانوا يأخذون بجميع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم إلا إذا عارض الحديث القرآن، وأذكر لكم قصة رواها لنا الشيخ أبو إسحاق، فقد ذكر أنه كان يجلس في مسجد في كفر الشيخ وكان واسعاً جداً، وكان يمتلئ من أوله إلى آخره إذا شرح حديثاً أو تكلم في موعظة، فقال مرة: لا بد أن نؤصل المسائل لطلبة العلم، فندِّرس في مصطلح الحديث، فحضر في أول مجلس نصف المسجد، فقال: الحمد لله على النصف ثم الأسبوع الذي بعده حضر الربع، فقال: الحمد لله على الربع ثم بعد ذلك لم يحضر غير ثلاثة في المسجد.

وأنا أقول: إن قوام الأمة يكون على أهل العلم، وأما الكثرة الكاثرة فقلما تكون جيده، فقد يكون هناك ضعيف مستضعف يدعو الله جل وعلا فينصر الله به الأمة، لكن هل يمكن أن يكون من قوام الأمة، ومن من الأعمدة التي ترتكز عليها الأمة؟ لا والله، وكذلك إذا نزلت المعضلات وحدثت الملمات على الناس فهل يكون الضعيف هو الذي يتصدى لها؟ لا والله، وهل هو الذي أخبر عنه النبي صلى الله عليه وسلم: (أن الله جل وعلا يجعل على رأس كل مائة عام رجل يجدد لهذه الأمة دينها)؟ لا والله، وهل يمكن أن يدخل في قول النبي صلى الله عليه وسلم (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين)، قد يدخل، والمقصود أنهم يفرون من التأصيلات، وهم لن يفقهون تحرير محل النزاع ولا الترجيح إلا بالتأصيلات، لذا فليعلم الإخوة أن التأصيل الصحيح هو الذي سيبني صرح الأمة العالي، وأنا أعرف أن من الطلاب من يتعطش للعلم لكن الطريق ليس مستنيراً أمامهم، وهنا كلمة تكتب بماء الذهب وهي من قول الشيخ محمد إسماعيل حفظه الله فقد كان يقول: بث الجذور في الأرض هو الذي يثمر، فانظروا إلى القياس البديع، فإن الفروع العالية التي نراها إذا هبت الريح القوية كسرتها وانتهت، لكن الجذور في الأرض تبقى ثابتة.

والإجابة الثانية: نقول: نحن نوافق على قاعدة أن المتن إذا عارض القرآن فهو ضعيف، وذلك بشرط أن تكون هذه المعارضة معارضة كلية، وأما إذا كانت من وجه دون وجه فلا؛ لأنه يمكن الجمع بينهما، واجتهاد الصحابة في تضعيفها لم يكن صواباً، فإن هذه الأحاديث الصحيحة قد أمكن الجمع بينها وبين القرآن، فالجمع بين قول الله: ((وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164]، وبين قول النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الميت ليعذب ببكاء أهله)، يكون من وجوه: أولاً: أن الميت يعذب ببكاء أهله عليه إذا أوصى بذلك، فإنه إذا أوصى كان معذباً بوزره وليس بوزر غيره.

ثانياً: أنه يعذب بشق الجيوب، ولطم الخدود، ويرجع هذا إلى الوجه الأول أيضاً، أي: إذا ارتضى بذلك، أما لو شقوا الجيوب، ولطمعوا الخدود وهو لا يعلم فليس عليه شيء.

ثالثاً: أن عائشة رضي الله عنها وأرضاها قالت: وهم عمر فإن النبي صلى الله عليه وسلم مرت عليه جنازة يهودية فبكى أهلها عليها فقال: (إن الميت ليعذب من بكاء أهله)، فهي واقعة عين لا يقاس عليها المسلمون، بل هي خاصة بالكفار وإن الألف واللام في (الميت) للعموم لكنه لا يراد بها العموم هنا، بل هو من باب العام الذي يراد به الخاص وهو الكافر، وهذا هو أوجه الوجوه، وأما بقية الأجوبة فليست بشيء.

والجمع بين حديث: (الشؤم في ثلاث في المرأة، والدابة، والدار) وقول الله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ} [الحديد:22]، هو أنه لو كان هناك شؤم فسيكون في ثلاث لكن ليس هناك شؤم؛ لأن الله كتب هذا في اللوح المحفوظ قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، هذه الإجابة الأولى.

الإجابة الثانية: أن هذا القول هو قول أهل الجاهلية وذكره هنا من أجل الإنكار عليهم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال (لا طيرة)، وقال: (الطيرة شرك).

والجمع بين حديث: (نهي النبي عن أكل كل ذي ناب من السباع، وكل ذي مخلب من الطير) وبين قوله سبحانه: {قُلْ لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا} [الأنعام:145]، أي: أني في وقت ما تلوت عليكم هذه الآية لم أجد فيما أوحي إلي محرماً عليكم إلا هذه الأمور، ولا يمنع ذلك أن تأتي آيات أخرى تزيد عليها أشياء محرمة، فيكون هذا الحكم الذي ورد في الحديث مما أوحاه الله إليه بعد ذلك فلا يوجد تعارض، ولا يكون هذا نسخاً بل هو إضافة، والإضافة لا تعد نسخاً إلا عند الحنفية.

والجمع بين حديث ابن عباس ((نور إني أراه) وقول الله: {لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} [الأنعام:103] أي: لا تحيط بالله جل في علاه، أن نفي الإدراك لا يلزم منه نفي الرؤيا؛ لأن إثبات الرؤيا وردت به أحاديث أخرى صحيحة تخصصه من النفي كحديث: (إنكم سترون ربكم كما ترون القمر لا تضامون في رؤيته) فلا تعارض بين الحديث والآية؛ ولذلك فالمعتزلة لما أنكروا الرؤيا استندوا إلى قول عائشة ونحن نقول: إن عائشة أخطأت في الاستدلال، وأصابت في النفي؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لن تروا ربكم حتى تموتوا)، والخطاب للأمة خطاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولما سئل: هل رأيت ربك؟ قال: (رأيت نوراً)، وهذا نور الحجاب، فلم ير الله جل في علاه، وقال أيضاً: (نور أنى أراه)، أي: كيف أراه؟ وأما تفسير قول الله تعالى في سورة النجم: ((وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى)) فقد قالت عائشة: رأى محمد جبريل مرتين، له جناح يسد الأفق.

وبهذه الإجابة عن هذه الأحاديث ننتقل إلى أصل آخر أصله الصحابة على نقد متون السنة وهو عرض السنة على السنة، لكن هذا بحر واسع جداً، وهل يصح أن نعرض السنة على السنة حتى نضعف الحديث أم لا؟ فهذا سيدخل فيه الكلام عن الإسناد في مسألة الشذوذ
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের সতর্কতা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ক্ষেত্রে সাহাবীগণ অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী শুনে ভয় পেতেন এবং প্রকম্পিত হতেন যে, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এই কারণে আলী বিন আবি তালিব বলতেন: আল্লাহর কসম, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য কেউ যখনই আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছি যে তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে শুনেছেন কি না। তবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সত্য বলেছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ব্যাপারে এই সতর্কতা ও কড়াকড়ি প্রত্যেক হাদিস বর্ণনাকারীকে আল্লাহর কসম করতে বাধ্য করত যে, তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকেই শুনেছেন।

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সতর্কতার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। আবু মুসা আল-আশআরী যখন উমর ইবনুল খাত্তাবের দরজায় করাঘাত করলেন—উমর তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন—তখন তিনি একবার অনুমতি চাইলেন কিন্তু সাড়া পেলেন না, তাই তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাগ্রত হয়ে তার কথা জিজ্ঞাসা করলে লোকেরা বলল: তিনি আপনার কাছে এসেছিলেন এবং চলে গিয়েছেন। উমর তাকে ডেকে আনলেন এবং বললেন: তোমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, "অনুমতি চাওয়া তিনবার, নতুবা ফিরে যাও।" তখন উমর তাকে ঘাড় ধরে আনসারদের মজলিসে নিয়ে আসলেন। আবু মুসা অত্যন্ত ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের ব্যাপারে উমরের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করছিলেন। কারণ উমর তাকে বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ছাড়ব না যতক্ষণ না তুমি এমন কাউকে নিয়ে আসো যে তোমার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেছেন।

হাদিসের বর্ণনায় এটি ছিল কঠোর সতর্কতার প্রমাণ। তখন মজলিসের লোকেরা তাকে বলল: আল্লাহর কসম, আমরা তোমার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্যক্তি আবু সাঈদ খুদরীকে পাঠাব। অতঃপর তিনি তার সাথে গেলেন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট সাক্ষ্য দিলেন।

আর এই হচ্ছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কী চান? তিনি বললেন: একটি উচ্চমানের সনদ এবং একটি নির্জন ঘর (ইবাদত ও ইলম চর্চার জন্য)।

হে হাদিসের অনুসারীগণ! আলেকজান্দ্রিয়া শহর সেখানে হাদিসের ইলম কম হওয়ার জন্য পরিচিতি পেয়েছিল, এমনকি বলা হতো যে সেখানের অধিবাসীদের হাদিস তলব করার কোনো আগ্রহ নেই। হে সংগ্রাহক! আমি চাই আপনি কেবল একজন সংগ্রাহকই না হন, বরং একজন সূক্ষ্ম সমঝদারও হন; কেবল কাপড় সংগ্রহকারী যেন না হন।

যদি বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে তৃপ্ত অবস্থায় বসে থাকতে না দেখি, যার কাছে আমার কোনো নির্দেশ পৌঁছালো আর সে বলল—আমরা তা আল্লাহর কিতাবের সামনে পেশ করব, যদি তা আল্লাহর কিতাবে পাই তবে গ্রহণ করব, আর যদি না পাই তবে গ্রহণ করব না। জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে।" অথচ সাহাবীগণ তো হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করেছিলেন, তবে কি তারা নবীজি যে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তাতে লিপ্ত হয়েছিলেন নাকি না?

এবং

উত্তর

হলো—এই হাদিসটি সাধারণ পর্যায়ের। এই তৃপ্ত ব্যক্তিটির অবস্থা এমন যে, যখনই তার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো হাদিস আসে, সে তা কুরআনের ওপর পেশ করে; কুরআনে পেলে গ্রহণ করে, না পেলে করে না। কিন্তু সাহাবীগণ সব হাদিসের ক্ষেত্রে এমনটি করেননি। বরং তারা কেবল সেই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি করেছেন যা আপাতদৃষ্টিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীর বিরোধী মনে হচ্ছিল। তারা জানতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী মহান আল্লাহর বাণীর বিরোধী হওয়া অসম্ভব। সুতরাং নবীজির এই হাদিসটি সেই 'কুরআনপন্থী' বা আহলে কুরআনদের ওপর প্রযোজ্য যারা বলে যে সুন্নাহর কোনো প্রয়োজন নেই।

পক্ষান্তরে সাহাবীগণ সুন্নাহকেই গ্রহণ করতেন, কেবল সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া যা কুরআনের পরিপন্থী মনে হতো। তাই সাহাবীগণের কাজ এই সাধারণ হাদিস থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। নবীজি হাদিসে বলেছেন: "আমার নির্দেশসমূহের মধ্য থেকে কোনো নির্দেশ তার কাছে আসে"; এটি নবীজির প্রতিটি নির্দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা সেই ব্যক্তি কুরআনের ওপর পেশ করে। কিন্তু সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল হাদিস গ্রহণ করতেন, কেবল যদি তা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হতো তবেই তারা পর্যালোচনা করতেন। আমি আপনাদের কাছে শেখ আবু ইসহাকের বর্ণিত একটি গল্প বলছি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কাফরুশ শায়খ-এর একটি মসজিদে বসতেন যা ছিল বিশাল। যখন তিনি কোনো হাদিসের ব্যাখ্যা করতেন বা নসিহত করতেন, তখন সেটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হয়ে যেত। একবার তিনি বললেন: আমাদের উচিত ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য বিষয়গুলো তাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপন করা, তাই আমরা 'উসুলুল হাদিস' বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা পড়াব। প্রথম মজলিসে মসজিদের অর্ধেক পূর্ণ হলো। তিনি বললেন: অর্ধেকের জন্য আল্লাহর শোকর। পরের সপ্তাহে এক চতুর্থাংশ উপস্থিত হলো। তিনি বললেন: এক চতুর্থাংশের জন্য আল্লাহর শোকর। এরপর মসজিদে মাত্র তিনজন ছাড়া আর কেউ উপস্থিত থাকল না।

আমি বলি: উম্মাহর ভিত্তি মূলত আলেমদের ওপর টিকে থাকে। আর বিশাল জনসমষ্টির সবাই সর্বদা মানসম্মত হয় না। অনেক সময় এমন দুর্বল বা সহায়হীন ব্যক্তি থাকে যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে এবং আল্লাহ তার মাধ্যমে উম্মাহকে সাহায্য করেন, কিন্তু সে কি উম্মাহর সেই ভিত্তি বা স্তম্ভ হতে পারে যার ওপর উম্মাহ দাঁড়িয়ে থাকে? না, আল্লাহর কসম। তেমনিভাবে যখন কঠিন সমস্যা বা বিপদ আপতিত হয়, তখন কি কোনো দুর্বল ব্যক্তি তার মোকাবিলা করে? না, আল্লাহর কসম। সে কি সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে নবীজি বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি এই উম্মাহর জন্য দ্বীনকে সংস্কার করবেন"? না, আল্লাহর কসম। সে কি নবীজির এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে"? হয়ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে উদ্দেশ্য হলো—তারা তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে দূরে থাকতে চায়। তারা তাত্ত্বিক ভিত্তি ছাড়া বিরোধপূর্ণ বিষয়ের স্বরূপ নির্ধারণ বা প্রধান মতটি বেছে নিতে পারবে না। তাই ভাইদের জেনে রাখা উচিত যে, সঠিক তাত্ত্বিক ভিত্তিই উম্মাহর সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করবে। আমি জানি অনেক ছাত্র ইলমের জন্য তৃষ্ণার্ত কিন্তু তাদের সামনে পথটি আলোকিত নয়। এখানে শেখ মুহাম্মদ ইসমাইল হাফিজাহুল্লাহর একটি স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো কথা রয়েছে, তিনি বলতেন: "জমিনে শিকড় গেড়ে দেওয়াই ফলদায়ক হয়।" এই চমৎকার উপমাটি দেখুন, আমরা যে উঁচু ডালপালাগুলো দেখি, প্রবল বাতাস বইলে তা ভেঙে যায় এবং শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মাটির নিচের শিকড়গুলো অবিচল থাকে।

দ্বিতীয় উত্তর হিসেবে আমরা বলব: আমরা এই মূলনীতির সাথে একমত যে, যদি কোনো হাদিসের মতন (মূল পাঠ) কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা দুর্বল। তবে শর্ত হলো এই বৈপরীত্য যেন পূর্ণাঙ্গ হয়। আর যদি এক দিক থেকে মেলে আর অন্য দিক থেকে না মেলে, তবে তা দুর্বল হবে না; কারণ দুটির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। ওই সকল হাদিস দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের ইজতিহাদ সঠিক ছিল না, কারণ এই সহিহ হাদিসগুলোর সাথে কুরআনের সমন্বয় করা সম্ভব। যেমন আল্লাহর বাণী: "কেউ অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না" [সূরা আনআম: ১৬৪] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হয়"—এই দুটির মধ্যে সমন্বয় কয়েকভাবে হতে পারে: প্রথমত: মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হয় তখন, যখন সে নিজেই এর জন্য অসিয়ত করে যায়। যদি সে অসিয়ত করে, তবে সে নিজের পাপের কারণেই আযাব ভোগ করছে, অন্যের পাপে নয়।

দ্বিতীয়ত: তাকে কাপড় ছেঁড়া বা গালে চপটাঘাত করার কারণে আযাব দেওয়া হয় এবং এটিও প্রথম বিষয়ের দিকেই ফিরে যায়, অর্থাৎ যদি সে এতে সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু যদি তারা কাপড় ছিঁড়ে বা গালে চপটাঘাত করে আর সে তা না জানে, তবে তার কোনো গুনাহ হবে না।

তৃতীয়ত: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ভুল বুঝেছেন; আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ইহুদি লাশের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার পরিবারের লোকেরা কাঁদছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয় এই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে।" এটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনা ছিল যা মুসলিমদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না, বরং এটি কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট। এখানে 'মৃত' শব্দের আগে 'আলিফ-লাম' থাকলেও তা ব্যাপক অর্থে নয়, বরং এটি এমন ব্যাপক শব্দ যা দ্বারা বিশেষ ব্যক্তি অর্থাৎ কাফেরকে বোঝানো হয়েছে। এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাখ্যা, আর বাকি উত্তরগুলো তেমন জোরালো নয়।

আর এই হাদিস: "অশুভ লক্ষণ তিনটি জিনিসে থাকে—নারী, চতুষ্পদ জন্তু এবং ঘর" এবং আল্লাহর বাণী: "কোনো বিপদই আপতিত হয় না (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া)" [সূরা হাদীদ: ২২]—এই দুটির মধ্যে সমন্বয় হলো: যদি কোথাও অশুভ থাকত তবে এই তিনটিতেই থাকত, কিন্তু বাস্তবে কোনো অশুভ নেই; কারণ আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই লাওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রেখেছেন। এটি প্রথম উত্তর।

দ্বিতীয় উত্তর: এই কথাটি ছিল জাহেলি যুগের লোকদের বক্তব্য, আর এখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রতিবাদ করার জন্য। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই" এবং তিনি বলেছেন: "অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক।"

আর নবীজির এই হাদিস: "হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট চতুষ্পদ জন্তু এবং নখ দিয়ে শিকারকারী পাখি ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি এমন কিছু হারাম পাই না..." [সূরা আনআম: ১৪৫]—এই দুটির মধ্যে সমন্বয় হলো: ওই আয়াতে বলা হয়েছে যে, যখন আয়াতটি তিলাওয়াত করা হয়েছিল তখন ওহীর মাধ্যমে এগুলো ছাড়া আর কিছু হারাম করা হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে পরে অন্য কোনো আয়াত বা হাদিসের মাধ্যমে আরও কিছু হারাম করা যাবে না। সুতরাং হাদিসে বর্ণিত এই বিধানটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তী ওহীর অংশ, তাই এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই। এটি মানসুখ বা রহিতকরণ নয় বরং এটি একটি সংযোজন, আর হানাফি মাজহাব ছাড়া অন্য কারো মতে সংযোজনকে নসখ বা রহিতকরণ বলা হয় না।

ইবনে আব্বাসের হাদিস: "নূর, আমি তা দেখেছি" এবং আল্লাহর বাণী: "দৃষ্টিসমূহ তাকে আয়ত্ত করতে পারে না" [সূরা আনআম: ১০৩]—অর্থাৎ কেউ আল্লাহ جل في علاه-কে পরিবেষ্টন করতে পারে না। এখানে আয়ত্ত বা পরিবেষ্টন (ইদরিক) অস্বীকার করার মানে এই নয় যে দেখা (রুইয়াত) অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ আল্লাহকে দেখার সপক্ষে অন্যান্য সহিহ হাদিস এসেছে যা এই সাধারণ অস্বীকৃতিকে বিশেষায়িত করে। যেমন হাদিস: "নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে যেমন তোমরা চাঁদকে দেখো, তাকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের চাপে পড়বে না।" সুতরাং হাদিস ও আয়াতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। একারণেই মুতাজিলারা যখন আল্লাহকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, তারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দলিলের ওপর নির্ভর করেছিল। আমরা বলি: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা দলিল প্রয়োগে ভুল করেছিলেন, যদিও অস্বীকারের ক্ষেত্রে তিনি সঠিক ছিলেন (দুনিয়ায় দেখার ক্ষেত্রে)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মরার আগে তোমাদের রবকে দেখতে পাবে না।" আর উম্মতের প্রতি এই সম্বোধন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যও প্রযোজ্য।

যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি বলেছিলেন: "আমি নূর দেখেছি", আর এটি ছিল পর্দার নূর, তিনি আল্লাহ جل في علاه-কে সরাসরি দেখেননি। তিনি আরও বলেছেন: "নূর, আমি কীভাবে তাকে দেখব?" আর সূরা নাজমে আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"—এর ব্যাখ্যায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে দুইবার দেখেছিলেন, যার ডানা দিগন্তকে আবৃত করে ফেলেছিল।

এই হাদিসগুলোর উত্তরের মাধ্যমে আমরা সাহাবীগণ কর্তৃক সুন্নাহর মতন বা পাঠ পর্যালোচনার অন্য একটি মূলে প্রবেশ করছি, আর তা হলো এক সুন্নাহর সাথে অন্য সুন্নাহর তুলনা করা। তবে এটি একটি বিশাল সমুদ্র। হাদিসকে দুর্বল প্রমাণ করার জন্য এক সুন্নাহর সাথে অন্য সুন্নাহর তুলনা করা কি সঠিক কি না? এটি মূলত 'শায' বা বৈসাদৃশ্যের মাসআলায় সনদের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب نقد متون السنة للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب نقد متون السنة للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 9 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি রচিত নাকদুত মুতুনিল সুন্নাহ (সুন্নাহর মূলপাঠের সমালোচনা) কিতাবের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আদ-দুমাইনি রচিত নাকদুত মুতুনিল সুন্নাহ কিতাবের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ৯টি পাঠ ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مقاييس نقد متون السنة -‌‌ المقياس الثاني: عرض السنة بعضها على بعض

لقد قام العلماء بوضع قواعد ومقاييس ومعايير دقيقة لنقد متون السنة؛ حتى لا يأتي من يرد الأحاديث بعقله، فلا بد من عرض متون السنة على الكتاب ثم على السنة، ولا يتم الترجيح بين الأدلة التي ظاهرها التعارض إلا بذلك، والعقل يقوم بعملية الفهم لذلك، وأما أن نقدم العقل على النقل فذلك هدم للنقل والعقل.
সুন্নাহর মতন সমালোচনার মানদণ্ডসমূহের ব্যাখ্যা -‌‌ দ্বিতীয় মানদণ্ড: সুন্নাহর একাংশকে অপরাংশের নিকট উপস্থাপন করা

নিশ্চয়ই আলেমগণ সুন্নাহর মতনসমূহ সমালোচনার জন্য সূক্ষ্ম নিয়মাবলি, পরিমাপক এবং মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন; যাতে এমন কেউ না আসে যে কেবল নিজের বিবেকের দ্বারা হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করবে। সুতরাং সুন্নাহর মতনসমূহকে অবশ্যই প্রথমে কুরআনের নিকট এবং এরপর সুন্নাহর নিকট উপস্থাপন করতে হবে। আপাতবিরোধী মনে হওয়া দলিলসমূহের মধ্যে এর মাধ্যমেই কেবল প্রাধান্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। আর বুদ্ধি এক্ষেত্রে অনুধাবনের কাজটি সম্পাদন করে। কিন্তু নকল (শ্রুত প্রমাণ)-এর ওপর আকল (বুদ্ধি)-কে প্রাধান্য দেওয়া মূলত নকল এবং আকল উভয়কেই ধ্বংস করা।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌حكم تقديم العقل على النقل، وآثار ذلك

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

روى أحمد في مسنده بسند صحيح عن ابن عباس رضي الله عنه وأرضاه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (بين يدي الساعة سنون خداعة، يصدق فيها الكاذب، ويكذب فيها الصادق، ويؤتمن الخائن، ويخون الأمين، وتنطق الرويبضة، قالوا: يا رسول الله! وما الرويبضة؟ قال: الفاسق أو قال: الفويسق يتكلم في أمر العامة)، وفي رواية أخرى في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من علامات الساعة أن ينتشر الجهل ويرفع العلم، وإن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من صدور العلماء، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يبق عالماً -وفي رواية: حتى إذا لم يبق عالمٌ- اتخذ الناس رءوساً جهالاً فسألوهم، فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا).

وهذه هي الأزمنة التي نعيش فيها الآن، فقد تصدر لدين الله جل وعلا من ليس أهلاً لهذا الدين، ومن ليس أهلاً للنظر في علم الشريعة، فرد حديث النبي صلى الله عليه وسلم جهاراً دون أدنى حياء؛ لأنه ما عنده هذه الآلة الذي تعلمها الأولون، ولا المقومات التي تجعله ينظر في أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، فيمحص النظر فيها تصحيحاً وتضعيفاً، ولذا ترى أن الأهواء تتحكم كثيراً في عصرنا.
ওহীর ওপর বিবেকের প্রাধান্য দেয়ার বিধান এবং এর প্রভাব

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে দাবি করে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (কিয়ামতের আগে ধোঁকাপূর্ণ কিছু বছর আসবে। সেখানে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হবে। খিয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী ভাবা হবে। আর সেখানে 'রুওয়াইবিদা' কথা বলবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! রুওয়াইবিদা কী? তিনি বললেন: পাপাচারী ব্যক্তি -অথবা বললেন: ক্ষুদ্র পাপাচারী ব্যক্তি- যে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিষয়ে কথা বলবে), বুখারি ও মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো মূর্খতা ছড়িয়ে পড়া এবং ইলম তুলে নেওয়া। আর আল্লাহ আলেমদের অন্তর থেকে টেনে বের করে ইলম তুলে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমেই ইলম তুলে নেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না -এক বর্ণনায়: যখন কোনো আলেম বাকি থাকবে না- তখন মানুষ মূর্খদের নেতা বানিয়ে নেবে। অতঃপর তাদেরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হবে, আর তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে)।

আর আমরা এখন এমন এক যুগেই বাস করছি। কারণ মহান আল্লাহর দীনের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এমন সব লোক সামনে চলে এসেছে যারা এই দীনের যোগ্য নয় এবং যারা শরয়ি জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করার যোগ্য নয়। ফলে তারা বিন্দুমাত্র লজ্জা ছাড়াই প্রকাশ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস প্রত্যাখ্যান করছে; কারণ পূর্ববর্তীরা যে জ্ঞানতাত্ত্বিক হাতিয়ার অর্জন করেছিলেন তা তাদের নেই, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও তাদের নেই, যার মাধ্যমে তারা হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা যাচাই করতে পারে। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, বর্তমান যুগে প্রবৃত্তিই অধিকতর কর্তৃত্ব করছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ذكر الأسباب المؤدية إلى رد الأحاديث

هناك أسباب جعلت مثل هؤلاء يردون حديث النبي صلى الله عليه وسلم: السبب الأول: تعظيم العقل دون تعظيم قدر النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا هو تقديم العقل على النقل.

السبب الثاني: الجهل العميق بقول النبي صلى الله عليه وسلم، والجهل العميق بالآلة التي يعرف بها التصحيح والتضعيف.

السبب الثالث: وضع الأحاديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم، إرضاء لولاة الأمور أو لغيرهم.

وهذه الأسباب موجودة في عصورنا.
হাদীস প্রত্যাখ্যানের দিকে ধাবিতকারী কারণসমূহের আলোচনা

এমন কিছু কারণ রয়েছে যা এ ধরণের ব্যক্তিদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করেছে: প্রথম কারণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদাকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে বুদ্ধিকে অত্যধিক বড় করে দেখা; আর এটিই হলো দলীলের (নকল) ওপর বুদ্ধির প্রাধান্য দেওয়া।

দ্বিতীয় কারণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী সম্পর্কে গভীর অজ্ঞতা এবং হাদীস বিশুদ্ধ (সহীহ) বা দুর্বল (যয়ীফ) কি না তা নির্ণয় করার মূলনীতি ও জ্ঞান সম্পর্কে গভীর মূর্খতা।

তৃতীয় কারণ: শাসকগোষ্ঠী বা অন্যদের সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে হাদীস জাল করা।

আর এই কারণগুলো আমাদের যুগেও বিদ্যমান।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌نماذج من الأحاديث التي ردت ممن يقدمون العقل على النقل

إن رد أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم موجود في كثير من الفضائيات وكثير من المجلات والصحائف، فهؤلاء يتكلمون عن الإسلام المستنير والبعد عن التشدد، ومن هؤلاء الذين زعموا أنهم من أصحاب الإسلام المستنير الشيخ الغزالي رحمه الله، وتلميذه الشيخ القرضاوي حفظه الله، وأماتنا جميعاً على الإسلام، وجعلنا ممن يعمل لدين الله جل في علاه، فالشيخ القرضاوي حفظه الله وردنا وإياه إلى ما يحب ويرضى رد أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وليس له بضاعة في التصحيح والتضعيف، فقد رد حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحر والحرير، والخمر والمعازف) فرد هذا الحديث وقال: هذا الحديث ضعيف، وبضاعته مزجاة في علم الحديث، وهو يعول على الشيخ الألباني كثيراً في التصحيح والتضعيف، فلم لا يأخذ بقول الألباني في هذا؟ وأيضًا الشيخ الغزالي فقد رد أحاديث كثيرة، منها: حديث شق الصدر؛ وقال الغزالي في هذا الحديث وغيره: إنها لا توافق العقل، وهذا هو منهج المعتزلة؛ فإن من أصول المعتزلة الخمسة: تقديم العقل على النقل، وأصول المعتزلة خمسة وهي: التوحيد، والعدل، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والمنزلة بين المنزلتين، والخامس: تقديم العقل على النقل.

فـ الغزالي كان متأثراً بفكر المعتزلة، ولذلك رد حديث: شق الصدر، وقال كيف -وكان طفلاً صغيراً- يشق صدره ويخرج قلبه ثم يغسله في طست ثم يرد القلب ثم يأخذ حظ الشيطان من قلب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! فرد هذا الحديث.

وأيضًا رد حديث النبي صلى الله عليه وسلم الذي في الصحيحين وهو: (لا يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة) قال: لو رأى البخاري ما تفعله تاتشر لما قال بهذا القول، وكأنه ينسب هذا القول إلى البخاري لا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، مع أننا لو نظرنا بدقة نظر فيما فعلته تاتشر فقد خربت إنجلترا، وهذا مصداق لقول النبي صلى الله عليه وسلم (لا يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة) فرده لأنه يرى في الواقع أمامه أن هناك نساء قادرات على العمل والعطاء، والآن ينادون بالمساواة بين الرجل والمرأة ويعاندون ربهم جل في علاه، يقول تعالى: {وَلا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ} [النساء:32] فلم هذه المعاندة؟! وأيضًا منهم من رد الحديث جهلاً وهو لا يعرف شيئاً فتجده يقول: حتى لو جاء في البخاري بأن النبي صلى الله عليه وسلم تزوج عائشة وهي بنت تسع سنين فلا أصدق ذلك؛ لأن عائشة لا ترضى ذلك ولا تحتمل، ولا بد أن يكون زواجها عند سن ثماني عشرة سنة، يقول: أنا لي عقل أفكر به فكيف أقبل من البخاري هذا الكلام؟! نقول: وهل البخاري أتى بهذا الكلام من كيسه، أو أتى به من عند أمه؟! لم يأت البخاري به إلا بالسند الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم.

فهذه الظاهرة ظهرت عندنا، وهي حرب على الثوابت والمبادئ والدين بطرق ملتوية، فهم لا يستطيعون أن يعلنوا هدمهم للدين؛ لأن العامة سيثورون عليهم، لكن يقولون: لا، نحن نأخذ بالدين، وفي الحقيقة هم يهدمون الدين ويهدمون السنة، فهم يعظمون العقل ولا يعظمون سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وغفل هؤلاء أو تغافلوا عن أن الله جل وعلا أغلق كل باب ولن يُقبل أحد حتى يدخل من باب رسول الله صلى الله عليه وسلم، لذلك فلابد أن تسلِّم وتعمل بقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36].

ونحن الآن ندرس نقد متون السنة، فهل الاجتهاد قد أغلق؟ نقول: الاجتهاد باق إلى يوم الدين، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرة لا يضرها من خالفها أو خذلها) وأيضًا قول الله تعالى: {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُوْلِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء:83] يعني: إلى أولي العلم، ففيها دلالة على الاجتهاد، فقوم غلوا وقالوا: لا ننظر إلى هذا، فإذا جاء الحديث خذ به، وقوم آخرون قالوا: لا، لا نقبل حتى ننظر هل يقبله العقل أم لا؟ والوسطية هم أهل السنة والجماعة الذين قالوا: ننقد الأحاديث وننظر هل هي من قول النبي صلى الله عليه وسلم أو ليست من قول النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا الانتقاد لا بد أن تكون له آلة ومقومات ومقدمات، فالعالم لا بد أن تكون عنده آلة الاجتهاد؛ ليمحص حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ويبين الصحيح من الضعيف.
নকলের (ওহী) ওপর আকলকে (বিবেচনা) প্রাধান্য প্রদানকারীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হাদিসসমূহের কিছু নমুনা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা অনেক স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং অনেক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় বিদ্যমান। এরা মূলত 'আলোকিত ইসলাম' এবং 'কঠোরতা পরিহার' করার কথা বলে। যারা নিজেদের আলোকিত ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ আল-গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর ছাত্র শেখ আল-কারযাভী (হাফিযাহুল্লাহ)। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন এবং আমাদের তাঁর দ্বীনের সেবক হিসেবে কবুল করুন। শেখ আল-কারযাভী—আল্লাহ তাঁকে এবং আমাদের তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক পথে পরিচালিত করুন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ক্ষেত্রে সহিহ বা যয়িফ (দুর্বল) নির্ণয়ে তাঁর তেমন জ্ঞান নেই। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেছেন: "অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায় আসবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।" তিনি এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে এটি যয়িফ। হাদিসশাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত, অথচ তিনি সহিহ ও যয়িফ নির্ধারণে শেখ আল-বানীর ওপর অনেক নির্ভর করেন; তবে এই ক্ষেত্রে তিনি কেন আল-বানীর মত গ্রহণ করলেন না? একইভাবে শেখ আল-গাজালিও অনেক হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার মধ্যে বক্ষ বিদারণের হাদিসটিও রয়েছে। গাজালি এই হাদিস এবং অন্যান্যের ক্ষেত্রে বলেছেন যে এগুলো বিবেকের (আকল) সাথে খাপ খায় না। আর এটিই হলো মুতাজিলাদের মানহাজ বা পদ্ধতি। কারণ মুতাজিলাদের পাঁচটি মূলনীতির একটি হলো: ওহীর ওপর বিবেকের প্রাধান্য প্রদান। মুতাজিলাদের পাঁচটি মূলনীতি হলো: তাওহীদ, আদল (ন্যায়বিচার), আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ), মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান) এবং পঞ্চমটি হলো: ওহীর ওপর বিবেকের প্রাধান্য দেওয়া।

আল-গাজালি মুতাজিলা চিন্তাধারায় প্রভাবিত ছিলেন। তাই তিনি বক্ষ বিদারণের হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, কীভাবে সম্ভব—যখন তিনি ছোট শিশু ছিলেন—তাঁর বুক চিরে হৃৎপিণ্ড বের করে আনা হবে, তারপর সেটি একটি পাত্রে ধৌত করে আবার যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃৎপিণ্ড থেকে শয়তানের অংশ বের করে ফেলা হবে?! এভাবে তিনি এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এছাড়া তিনি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটিও প্রত্যাখ্যান করেছেন: "সে জাতি কখনোই সফল হবে না যারা তাদের শাসনভার একজন নারীর হাতে অর্পণ করে।" তিনি বলেছেন, ইমাম বুখারি যদি দেখতেন থ্যাচার যা করেছেন, তবে তিনি এমন কথা বলতেন না। যেন তিনি এই কথাটি ইমাম বুখারির দিকে সম্পর্কিত করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নয়। অথচ আমরা যদি থ্যাচারের কর্মকাণ্ডের দিকে গভীরভাবে তাকাই, তবে দেখব তিনি ইংল্যান্ডকে ধ্বংস করেছেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীরই সত্যতা প্রমাণ করে যে "সে জাতি সফল হবে না যারা তাদের শাসনভার একজন নারীর হাতে অর্পণ করে।" তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন কারণ তিনি বর্তমানে দেখছেন যে মহিলারা কাজ করতে ও অবদান রাখতে সক্ষম। বর্তমানে তারা নারী-পুরুষের সমতার ডাক দিচ্ছে এবং তাদের মহান রবের বিরোধিতা করছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ তোমাদের একে অপরের ওপর যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তার আকাঙ্ক্ষা করো না।" [আন-নিসা: ৩২]। তবে কেন এই বিরোধিতা?! আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা মূর্খতাবশত হাদিস প্রত্যাখ্যান করে অথচ সে বিষয়ে কিছুই জানে না। আপনি তাকে বলতে শুনবেন: যদি বুখারিতে আসলেও বর্ণিত হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে নয় বছর বয়সে বিবাহ করেছেন, তবুও আমি তা বিশ্বাস করব না; কারণ আয়েশা তা মেনে নিতে পারেন না বা তা সহ্য করার মতো নয়, আর তাঁর বিবাহ অবশ্যই আঠারো বছর বয়সে হতে হবে। সে বলে: আমার একটি বিবেক আছে যা দিয়ে আমি চিন্তা করি, সুতরাং আমি কীভাবে বুখারির এই কথা গ্রহণ করব?! আমরা বলি: বুখারি কি এই কথা তাঁর নিজের পকেট থেকে এনেছেন, না তাঁর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন?! বুখারি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সনদের মাধ্যমেই বর্ণনা করেছেন।

এই প্রবণতা আমাদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, যা মূলত বক্র পথে দ্বীনের অকাট্য বিষয় ও মূলনীতির বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ। তারা সরাসরি দ্বীন ধ্বংসের ঘোষণা দিতে পারে না, কারণ সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। কিন্তু তারা বলে: না, আমরা দ্বীন গ্রহণ করছি। অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা দ্বীন ও সুন্নাহকে ধ্বংস করছে। তারা বিবেককে বড় করে দেখে কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে যথাযথ সম্মান করে না। তারা এই বিষয়টি ভুলে গেছে বা ভুলে থাকার ভান করছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সব পথ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ ছাড়া আর কারো পথই গ্রহণ করা হবে না। তাই আপনাকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করতে হবে: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দ খাটানোর অধিকার থাকে না।" [আল-আহযাব: ৩৬]।

আমরা এখন সুন্নাহর মতনের (মূল পাঠ) সমালোচনা নিয়ে পড়াশোনা করছি। তো ইজতিহাদের দরজা কি বন্ধ হয়ে গেছে? আমরা বলি: কিয়ামত পর্যন্ত ইজতিহাদ অব্যাহত থাকবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে বা যারা তাদের সাহায্য করা ছেড়ে দেবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" এছাড়া মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো খবর আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসূলের কাছে বা তাদের উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গ) কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণাকারী তারা অবশ্যই এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারত।" [আন-নিসা: ৮৩]। এখানে উলুল আমর বলতে ইলমসম্পন্ন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যা ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ বহন করে। একদল লোক বাড়াবাড়ি করে বলেছে: আমরা গবেষণার দিকে তাকাবই না, হাদিস এলেই তা গ্রহণ করব। অন্য একদল বলেছে: না, যতক্ষণ না আমরা দেখি যে বিবেক তা গ্রহণ করছে কি না, ততক্ষণ আমরা তা গ্রহণ করব না। আর মধ্যপন্থা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, যারা বলেছেন: আমরা হাদিসসমূহ যাচাই করব এবং দেখব তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী কি না। আর এই যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, মূলভিত্তি ও মূলনীতি থাকতে হবে। সুতরাং একজন আলেমের অবশ্যই ইজতিহাদের যোগ্যতা থাকতে হবে যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে যাচাই-বাছাই করতে পারেন এবং সহিহ থেকে যয়িফকে পৃথক করতে পারেন।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবি নাকদি মুতূনিস সুন্নাহ লিদ দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مراحل وآلات نقد متون السنة

وقد بينا أن العلماء اشتغلوا بالإسناد وبالمتن، وأمر الإسناد فيه صعوبة، وقلنا: إن المرحلة الأولى في نقد السنة: أن نتكلم على المتون، وبينا كيف كان الصحابة ينظرون إلى حديث النبي صلى الله عليه وسلم حتى يقولوا: هذا صحيح أو هذا ضعيف.
সুন্নাহর মতন (পাঠ্য) পর্যালোচনার স্তরসমূহ ও সরঞ্জামাদি

আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, আলেমগণ ইসনাদ (বর্ণনাধারা) এবং মতন (মূল পাঠ্য)—উভয়টি নিয়েই কাজ করেছেন। আর ইসনাদের বিষয়টি কিছুটা কঠিন। আমরা বলেছি যে, সুন্নাহ পর্যালোচনার প্রথম স্তর হলো মতন নিয়ে আলোচনা করা। আমরা আরও ব্যাখ্যা করেছি যে, সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, যার ভিত্তিতে তাঁরা বলতেন: এটি সহীহ (বিশুদ্ধ) অথবা এটি যঈফ (দুর্বল)।