(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل الإعجاز ت هنداوي القسم: البلاغة
الكتاب: دلائل الإعجاز في علم المعاني
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471هـ)
المحقق: د. عبد الحميد هنداوي
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى،1422هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 364
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو القعدة 1432
দালাইলুল ইজায (হিন্দাওয়ী সম্পাদিত) বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)
বই: দালাইলুল ইজায ফি ইলমিল মাআনী
লেখক: আবু বকর আবদুল ক্বাহির ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ, মূলগতভাবে পারস্যের এবং বাসস্থান জুরজানের (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. আবদুল হামিদ হিন্দাওয়ী
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ যিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[دلائل الإعجاز في علم المعاني]ـ
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (المتوفى: 471هـ)
المحقق: د. عبد الحميد هنداوي
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى،1422هـ - 2001 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[ইলমুল মাআনিতে অলৌকিকত্বের প্রমাণসমূহ]
গ্রন্থকার: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ, বংশগতভাবে পারস্যের অধিবাসী ও জুরজানের বাসিন্দা (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরী)
মুহাক্কিক: ড. আব্দুল হামীদ হিন্দাউই
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٣)
مقدمة المحققبسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله الكريم المنان، الرحيم الرحمن، ذي الطول والإحسان، الذي علّم القرآن، وخلق الإنسان، فعلمه البيان.
وأصلي وأسلم على النبي العدنان حامل لواء الفصاحة والبيان، وصاحب المقام المحمود بأشرف مكان، المرسل بالهداية والرحمة إلى الإنس والجان.
وبعد؛ فقد كان من توفيق الله وفضله أن قمت بكتابة بعض التعليقات والحواشي على كتاب أسرار البلاغة لأوحد زمانه في علوم البلاغة العالم الجليل الأديب النحوي الفقيه المتكلم أبي بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الجرجاني ت 471 أو 474 هـ، وهو من هو في رسوخ قدمه وعلو مكانته وتقدمه في هذا العلم الذي تناثرت كتابات الناس فيه قبله وكثرت؛ ولكنها على كثرتها كأن لم تكن شيئا بجانب ما صنف، فصار ينسب إليه وحده تأسيس هذا العلم وإقامة فسطاطه لما كانت له اليد الطولى في ضبطه ونصب فسطاطه.
وكان من توفيق الله ومنّه وفضله أن أتم عليّ نعمته بتيسير التعليق على هذا الكتاب الآخر الفذ الذي لم يصنّف مثله في علوم البلاغة وهو كتابنا هذا الموسوم بدلائل الإعجاز، وهو كتاب بديع في بابه، تفرد فيه صاحبه بتأسيس نظرية النظم التي هي عمود الدراسات البلاغية، والتي لولا ما رسمه لها واختطته فيها من علامات هادية للسبيل لضلت خطى الناس من بعده في هذا العلم الضلال المبين.
ولكن يأبى الله الكمال إلا لكتابه فلقد كان يفترض أن يكون هذا الكتاب هو المقدّم لدى دارس البلاغة في العصور التالية لزمان مصنفه، فحال دون ذلك ما جاء عليه الكتاب من عدم ترتيب صاحبه له الترتيب اللائق له، والاعتناء بتقسيم مباحثه، وتبويب أبوابه.
وعذر المصنف في ذلك أنه كان منشغلا بالرد على متكلمي زمانه السابقين له
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা মহানুভব, করুণা বর্ষণকারী, দয়াময় ও পরম দয়ালু আল্লাহর জন্য, যিনি অশেষ দান ও অনুগ্রহের অধিকারী; যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাষা ও ভাব প্রকাশের ক্ষমতা শিখিয়েছেন।
আর আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি আদনানি নবীর ওপর, যিনি সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার পতাকাবাহী এবং সর্বোত্তম স্থানে প্রশংসিত মাকামের (মাকামে মাহমুদ) অধিকারী, যাকে মানব ও জিনের নিকট হিদায়াত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।
অতঃপর; এটি আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহ যে, আমি অলংকার শাস্ত্রের (বালাগাত) তৎকালীন যুগের অদ্বিতীয় পণ্ডিত, মহান আলেম, সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, ফকিহ ও ধর্মতাত্ত্বিক আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ বা ৪৭৪ হিজরি)-র 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থের ওপর কিছু টীকা ও ব্যাখ্যা লিখেছি। তিনি এই শাস্ত্রে স্বীয় গভীর পাণ্ডিত্য ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। যদিও তাঁর পূর্বে এই বিষয়ে মানুষের বহু লেখালেখি বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যমান ছিল; তবে সেসবের আধিক্য সত্ত্বেও তাঁর রচনার তুলনায় সেগুলো যেন কিছুই ছিল না। ফলে এই শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন ও এর কাঠামো নির্মাণের কৃতিত্ব কেবল তাঁকেই দেওয়া হয়; কারণ এটি সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করতে এবং এর ভিত্তি স্থাপনে তাঁর সুদীর্ঘ হাত (বিশেষ ভূমিকা) ছিল।
আর এটিও আল্লাহর তাওফিক, অনুগ্রহ ও মেহেরবানি যে, তিনি অলংকার শাস্ত্রে এই অনন্য সাধারণ গ্রন্থের ওপরও টীকা লেখার কাজ সহজ করে দিয়ে আমার ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেছেন, যার সমতুল্য কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি; আর তা হলো আমাদের এই গ্রন্থ 'দালাইলুল ই’জায'। এটি নিজ বিষয়ে এক চমৎকার গ্রন্থ, যাতে লেখক 'নাজম' (শব্দবিন্যাস) তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপনে অনন্য বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন, যা মূলত অলংকার শাস্ত্রের গবেষণার মূল ভিত্তি। তিনি যদি এর দিকনির্দেশক রেখাচিত্র ও মানচিত্র অঙ্কন না করতেন, তবে তাঁর পরবর্তী সময়ে এই শাস্ত্রের অনুসারীরা নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট হতো।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা একমাত্র তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য পূর্ণতা রাখেননি। লেখকের পরবর্তী যুগে অলংকার শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট এই গ্রন্থটিই অগ্রগণ্য হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু গ্রন্থটির যথাযথ বিন্যাস না থাকা এবং এর আলোচ্য বিষয়গুলোর বিভাগ ও অধ্যায় অনুযায়ী সাজানোর ক্ষেত্রে লেখকের অমনোযোগিতা এতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এ ক্ষেত্রে লেখকের ওজর বা কারণ এই ছিল যে, তিনি তাঁর পূর্ববর্তী সময়ের কালাম শাস্ত্রবিদদের জবাব প্রদানে ব্যস্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٤)
ممن تكلموا في أمر الفصاحة والبلاغة بغير علم كالقاضي عبد الجبار وغيره من أئمة المعتزلة، فكان ذلك هو شغله الشاغل، الذي صرف إليه جلّ همه وعزمه.
ولو أن المصنف- رحمه الله قصد إلى أن يكون كتابه كتابا تعليميا لكان على غير هذا الوضع، ولكن هذا شيء لم يقصد إليه.
وهذا ما دعا المتأخرين بعد زمان عبد القاهر الذين أفادوا من كتابي عبد القاهر هذين كل الإفادة، أن يتداركوا هذا الأمر وأن ينظموا ما تناثر من درره في هذين الكتابين في نظام واحد في هذا التقسيم الثلاثي الصارم لعلوم البلاغة الذي أتى به أبو يعقوب يوسف السكاكي في كتابه (مفتاح العلوم) الذي بلغ به الغاية من دقة التقسيم والتبويب والترتيب على ما يؤخذ عليه من المبالغة في هذا التقسيم والترتيب واعتماده فيه حدود المنطق وقواعده.
غير أنه لم يخل من عيب قاتل كذلك وهو جفاف مادته وعبارته، وشدّة إيجازه واقتضابه، وقلّة شواهده، وعدم اعتنائه بتحليل شواهده تحليلا بلاغيا أدبيا يضارع ما كان عليه أسلوب عبد القاهر من سلاسة ورقة وبهاء ورونق وهيهات هيهات فدونه وعبارة عبد القاهر وأسلوبه كما بين المشرق والمغرب.
ورغم ما قصد إليه أبو يعقوب السكاكي من الغاية التعليمية بجمع القواعد وترتيب المباحث والتقسيم إلى فصول وأبواب وفنون، رغم ذلك كلّه فقد أخفق في غايته في تذليل علوم البلاغة للدارس بل سلك بها مسلكا مضادا لغاية البلاغة ومقصدها؛ فإذا كانت غاية البلاغة تنمية الذوق الأدبي والارتقاء به؛ فإن طريقة السكاكي ومن سلكوا دربه من بعده قد أورثت الذوق العربي في ذلك الوقت عقما لازمه إلى عصرنا هذا حتى استيقظ الناس من سباتهم تلك القرون وأدركوا أنهم قد ضلوا السبيل إلى الفصاحة والبلاغة والبيان، وقامت صحوة بلاغية عرفت لعبد القاهر حقه فراحت تلتمس خطاه، وتلتقط درره، وتستلهم روحه وأفكاره في بعث بلاغي جديد لحمته وسداه قضية النظم التي ما فتئ عبد القاهر يدندن عليها في كتابه هذا،. ولعلّ هذا يبين لنا سرّ الاهتمام بهذين الكتابين الجليلين للإمام عبد القاهر الجرجاني وكثرة تداولهما، والإقبال على نسخهما من طلاب البلاغة في عصرنا هذا.
وهذا مما حفزني على الإقبال على الاعتناء بتخريج شواهد هذا الكتاب تخريجا مفصلا لا تجده في نشرة من نشراته السابقة، مع الاعتناء بشرح غريبه، وبيان
যাঁরা জ্ঞান ছাড়াই অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতার বিষয়ে কথা বলেছেন, যেমন কাজী আব্দুল জব্বার এবং মুতাজিলাদের অন্যান্য ইমামগণ, এটিই ছিল তাঁর (আব্দুল কাহিরের) প্রধান ব্যস্ততা, যাতে তিনি তাঁর অধিকাংশ চিন্তা ও সংকল্প ব্যয় করেছিলেন।
যদি গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—তাঁর বইটিকে একটি শিক্ষামূলক পাঠ্যবই হিসেবে তৈরি করতে চাইতেন, তবে তা এই বিন্যাসে হতো না; কিন্তু এটি এমন একটি বিষয় ছিল যা তিনি উদ্দেশ্য করেননি।
আর এটিই আব্দুল কাহিরের পরবর্তী যুগের আলিমগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিল—যাঁরা আব্দুল কাহিরের এই কিতাব দুটি থেকে পূর্ণ ফায়দা হাসিল করেছিলেন—যাতে তাঁরা এই অভাবটি পূরণ করেন এবং এই কিতাব দুটিতে ছড়িয়ে থাকা তাঁর মণি-মুক্তোগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে অলঙ্কারশাস্ত্রের সেই কঠোর ত্রিভুজাকার বিভাজনে বিন্যস্ত করেন, যা আবু ইয়াকুব ইউসুফ আস-সাক্কাকি তাঁর 'মিফতাহুল উলুম' গ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে বিভাজন, বিন্যাস ও ক্রমবিন্যাসের সূক্ষ্মতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন, যদিও এই বিভাজন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন এবং এর মধ্যে যুক্তিবিদ্যার সীমা ও নিয়মাবলির ওপর নির্ভরশীলতার জন্য তাঁর সমালোচনা করা হয়।
তবে এটিও একটি মারাত্মক ত্রুটি থেকে মুক্ত ছিল না, আর তা হলো এর বিষয়বস্তু ও ভাষার শুষ্কতা, চরম সংক্ষিপ্ততা ও সংক্ষেপণ, উদাহরণের স্বল্পতা এবং উদাহরণগুলোর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ, যা আব্দুল কাহিরের সাবলীলতা, কোমলতা, আভা ও সৌন্দর্যের সমকক্ষ হতে পারে না। আব্দুল কাহিরের ভাষা ও শৈলীর তুলনায় সাক্কাকির রচনা যেন পূর্ব ও পশ্চিমের ন্যায় ব্যবধানপূর্ণ।
যদিও আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি নিয়মাবলি সংকলন, আলোচ্য বিষয়গুলোর বিন্যাস এবং অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিভক্ত করার মাধ্যমে একটি শিক্ষামূলক লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন, তবুও তিনি শিক্ষার্থীর জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রকে সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তিনি একে অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিপরীত পথে নিয়ে গেছেন; কেননা অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্দেশ্য যদি হয় সাহিত্যিক রুচির বিকাশ ও উন্নতি ঘটানো, তবে সাক্কাকির পদ্ধতি এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের ধারা তৎকালীন আরবি রুচিকে এমন এক বন্ধ্যাত্ব উপহার দিয়েছে যা আমাদের যুগ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ কয়েক শতাব্দীর সেই ঘুম থেকে জেগে উঠেছে এবং অনুধাবন করেছে যে, তারা বাকপটুতা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জল বর্ণনার সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর একটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় নবজাগরণ ঘটে যা আব্দুল কাহিরের প্রাপ্য মর্যাদা স্বীকার করে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করে। তারা তাঁর মণি-মুক্তাগুলো সংগ্রহ করতে থাকে এবং একটি নতুন অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পুনর্জাগরণে তাঁর চেতনা ও চিন্তা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে, যার মূল ভিত্তি ছিল 'নাজম' (বিন্যাস) তত্ত্ব, যা আব্দুল কাহির তাঁর এই গ্রন্থে নিরন্তর আলোচনা করেছেন। সম্ভবত এটিই ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানির এই মহান কিতাব দুটির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার এবং বর্তমান যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট এর অনুলিপি সংগ্রহের প্রবল আগ্রহের রহস্য স্পষ্ট করে।
আর এটিই আমাকে এই কিতাবের উদাহরণগুলোর একটি বিস্তারিত উৎস-বিশ্লেষণ (তাখরিজ) করার প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা আপনি এর পূর্ববর্তী কোনো সংস্করণেই পাবেন না। সেই সাথে এর কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٥)
مراد مؤلفه من كلماته وألفاظه ما أمكن، مع ما تجود به القريحة من كلمة أو تعليق عفو الخاطر بعد ذلك، غير أننا قد حجبنا أكثر تعليقاتنا لنشرها في دراسة مستقلة لئلا يطول حجم الكتاب وتثقل تكلفته على مبتغيه من قرّائه وطلابه.
ونشير هنا إلى أننا أفدنا كثيرا من تعليقات الفاضلين الشيخ رشيد رضا والشيخ محمود شاكر ونبهنا على ذلك مرارا «1».
والله نسأل أن يوفق القائمين على صفه وضبطه ومراجعته بدار الكتب العلمية للعناية به وإخراجه في ثوبه اللائق به، وأن يجزي كل من أعان في إخراجه خير الجزاء.
وكتبه د. عبد الحميد هنداوي المدرس بكلية دار العلوم غفر الله له ولوالديه وللمسلمين الجيزة في منتصف رمضان المعظم 1421 هـ
--------------------------------------------
লেখকের শব্দ ও ভাষ্য থেকে তাঁর উদ্দেশ্য যতটা সম্ভব অনুধাবন করা হয়েছে, পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে মনে আসা কোনো শব্দ বা মন্তব্যও যুক্ত করা হয়েছে। তবে, আমরা আমাদের অধিকাংশ মন্তব্য পরবর্তী একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় প্রকাশের জন্য তুলে রেখেছি, যাতে বইয়ের কলেবর বৃদ্ধি না পায় এবং পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এর মূল্য অত্যধিক না হয়ে পড়ে।
আমরা এখানে উল্লেখ করছি যে, আমরা দুই গুণী ব্যক্তিত্ব শায়খ রশিদ রিদা এবং শায়খ মাহমুদ শাকিরের টিকা ও মন্তব্য থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং আমরা বারবার সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছি «১»।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ-তে এর বিন্যাস, সম্পাদনা ও নিরীক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের এটি যত্নসহকারে সম্পন্ন করার এবং একে এর উপযুক্ত রূপে প্রকাশ করার তাওফিক দান করেন। আর যারা এটি প্রকাশে সহায়তা করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
এটি লিখেছেন ড. আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি, দারুল উলুম অনুষদের শিক্ষক; আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। গিজা, ১৪২১ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٧)
[المدخل في دلائل الإعجاز- وهو مقدمة الكتاب لمؤلفه]بسم الله الرحمن الرحيم توكّلت على الله وحده قال الشّيخ الإمام، مجد الإسلام، أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الجرجاني رحمه الله تعالى.
الحمد لله ربّ العالمين حمد الشاكرين، وصلواته على محمد سيّد المرسلين، وعلى آله أجمعين.
هذا كلام وجيز يطّلع به الناظر على أصول النحو جملة، وكلّ ما به يكون النّظم دفعة «1»، وينظر منه في مرآة تريه الأشياء المتباعدة الأمكنة قد التقت له حتى رآها في مكان واحد، ويرى بها مشئما «2» قد ضمّ إلى معرق «3»، ومغرّبا قد أخذ بيد مشرّق، وقد وصلت بأخرة «4» إلى كلام من أصغى إليه وتدبّره تدبّر ذي دين وفتوّة «5»، دعاه إلى النّظر في الكتاب الذي وضعناه «6»، وبعثه على طلب ما دوّنّاه، والله تعالى الموفّق للصواب، والملهم لما يؤدّي إلى الرّشاد، بمنّه وفضله. قال رضي الله تعالى عنه:
معلوم أن ليس النّظم سوى تعليق الكلم بعضها ببعض، وجعل بعضها بسبب «7» من بعض.
--------------------------------------------
[দালাইলুল ই'জাযের ভূমিকা- এটি লেখকের নিজের লেখা গ্রন্থের মুখবন্ধ]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। শাইখুল ইমাম, মাজদুল ইসলাম, আবু বকর আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-জুরজানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যেমন প্রশংসা কৃতজ্ঞরা করে থাকে। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের প্রতি।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যার মাধ্যমে পাঠক নাহু বা ব্যাকরণের মূলনীতিসমূহ এবং যার মাধ্যমে বাক্য বিন্যাস বা ‘নাযম’ গঠিত হয় তার সবকিছু একনজরে দেখতে পাবেন। তিনি এর মধ্যে এমন এক আয়না দেখতে পাবেন যা তাকে দূরবর্তী স্থানসমূহের বস্তুসমূহকে এমনভাবে দেখাবে যেন সেগুলি একত্রে মিলিত হয়ে এক স্থানে রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সিরিয়া অভিমুখীকে ইরাক অভিমুখীর সাথে মিলিত এবং পশ্চিমগামীকে পূর্বগামীর হাত ধরা অবস্থায় দেখতে পাবেন। পরিশেষে আমি এমন এক আলোচনায় উপনীত হয়েছি যে, যদি কেউ তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে এবং দ্বীনদার ও আদর্শবান ব্যক্তির ন্যায় তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, তবে তা তাকে আমাদের রচিত কিতাবটি পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং যা আমরা সংকলন করেছি তা অন্বেষণ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথের তাওফিক দানকারী এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় কল্যাণের পথে চলার অনুপ্রেরণা দানকারী। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:
এটি জানা কথা যে, বাক্য বিন্যাস (নাযম) হচ্ছে এক শব্দকে অন্য শব্দের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং একে অপরের কারণ বা অনুষঙ্গ হিসেবে স্থাপন করা ছাড়া আর কিছু নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٨)
والكلم ثلاث: اسم، وفعل، وحرف. وللتعليق فيما بينها طرق معلومة، وهو لا يعدو ثلاثة أقسام: تعلّق اسم باسم، وتعلّق اسم بفعل، وتعلّق حرف بهما.
فالاسم يتعلّق بالاسم بأن يكون خبرا عنه، أو حالا منه، أو تابعا له صفة أو تأكيدا، أو عطف بيان، أو بدلا، أو عطفا بحرف، أو بأن يكون الأوّل مضافا إلى الثّاني، أو بأن يكون الأوّل يعمل في الثّاني عمل الفعل، ويكون الثاني في حكم الفاعل له أو المفعول. وذلك في اسم الفاعل كقولنا: «زيد ضارب أبوه عمرا» «1».
وكقوله تعالى: أَخْرِجْنا مِنْ هذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُها [النساء: 75]، وقوله تعالى:
وَهُمْ يَلْعَبُونَ. لاهِيَةً قُلُوبُهُمْ [الأنبياء: 2 - 3]، واسم المفعول كقولنا: «زيد مضروب غلمانه»، وكقوله تعالى: ذلِكَ يَوْمٌ مَجْمُوعٌ لَهُ النَّاسُ [هود: 105] والصفة المشبّهة كقولنا: «زيد حسن وجهه، وكريم أصله، وشديد ساعده»، والمصدر كقولنا: «عجبت من ضرب زيد عمرا»، وكقوله تعالى: أَوْ إِطْعامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ يَتِيماً [البلد: 14 - 15]، أو بأن يكون تمييزا قد جلاه، ومنتصبا عن تمام الاسم- ومعنى «تمام الاسم»، أن يكون فيه ما يمنع من الإضافة، وذلك بأن يكون فيه نون تثنية، كقولنا: «قفيزان «2» برّا»، أو نون جمع كقولنا: «عشرون درهما»، أو تنوين كقولنا: «راقود «3» خلّا»، و «ما في السّماء قدر راحة سحابا»، أو تقدير تنوين كقولنا: «خمسة عشر رجلا»، أو يكون قد أضيف إلى شيء، فلا يمكن إضافته مرّة أخرى، كقولنا: «لي ملؤه عسلا»، وكقوله تعالى: مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَباً [آل عمران: 91].
وأمّا تعلّق الاسم بالفعل، فبأن يكون فاعلا له، أو مفعولا، فيكون مصدرا قد انتصب به كقولك: «ضربت ضربا»، ويقال له المفعول المطلق. أو مفعولا به كقولك: «ضربت زيدا»، أو ظرفا مفعولا فيه، زمانا أو مكانا، كقولك: «خرجت يوم الجمعة، ووقفت أمامك»، أو مفعولا معه كقولنا: «جاء البرد والطّيالسة» و «لو تركت الناقة وفصيلها لرضعها»، أو مفعولا له «4» كقولنا: «جئتك إكراما لك، وفعلت ذلك
--------------------------------------------
শব্দ তিন প্রকার: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়। তাদের মধ্যকার সম্পর্কের জ্ঞাত পদ্ধতিসমূহ রয়েছে, যা তিনটি প্রকারের বাইরে নয়: বিশেষ্যের সাথে বিশেষ্যের সম্পর্ক, বিশেষ্যের সাথে ক্রিয়ার সম্পর্ক এবং তাদের উভয়ের সাথে অব্যয়ের সম্পর্ক।
বিশেষ্য বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তার সংবাদ (খবর) হওয়ার মাধ্যমে, অথবা তা থেকে অবস্থা (হাল) হওয়ার মাধ্যমে, অথবা তার অনুসারী (তাবে) হওয়ার মাধ্যমে গুণ (সিফাত), দৃঢ়তা (তাকিদ), ব্যাখ্যামূলক অব্যয় (আতফে বয়ান), পরিবর্তন (বদল), অথবা অব্যয়ের মাধ্যমে সমন্বয় (আতফ) হওয়ার মাধ্যমে; অথবা প্রথমটি দ্বিতীয়টির সাথে সম্বন্ধিত (মুদাফ) হওয়ার মাধ্যমে; অথবা প্রথমটি দ্বিতীয়টির মধ্যে ক্রিয়ার ন্যায় আমল করার মাধ্যমে, এবং দ্বিতীয়টি তার কর্তা (ফায়েল) বা কর্ম (মাফউল) এর বিধানে হওয়ার মাধ্যমে। আর এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (ইসমে ফায়েল) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন আমাদের কথা: “যায়েদ এমন ব্যক্তি যার পিতা আমরকে প্রহারকারী”।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: আমাদেরকে এই জনপদ থেকে বের করুন যার অধিবাসীরা জালেম [আন-নিসা: ৭৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী:
তারা খেলছে। তাদের অন্তরগুলো অন্যমনস্ক [আল-আম্বিয়া: ২ - ৩]। এবং কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল) যেমন আমাদের কথা: “যায়েদ এমন ব্যক্তি যার ভৃত্যদের প্রহার করা হয়েছে”, এবং মহান আল্লাহর বাণী: এটি এমন এক দিন যাতে মানুষদেরকে একত্রিত করা হবে [হুদ: ১০৫]। এবং স্থায়ী গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাতে মুশাব্বাহ) যেমন আমাদের কথা: “যায়েদের চেহারা সুন্দর, তার বংশ মর্যাদা গৌরবান্বিত এবং তার বাহু শক্তিশালী”। এবং ক্রিয়ামূল (মাসদার) যেমন আমাদের কথা: “যায়েদ কর্তৃক আমরকে প্রহারে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম”, এবং মহান আল্লাহর বাণী: অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান করা এতিমকে [আল-বালাদ: ১৪-১৫]। অথবা এটি পরিচ্ছেদক (তাময়িজ) হওয়ার মাধ্যমে যা অস্পষ্টতাকে দূর করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ বিশেষ্য থেকে যবরযুক্ত (মানসুব) হওয়ার মাধ্যমে—আর “পূর্ণাঙ্গ বিশেষ্য”-এর অর্থ হলো তাতে এমন কিছু থাকা যা সম্বন্ধ (ইদাফত) করা থেকে বাধা দেয়; আর তা হলো দ্বিবচনের ‘নুন’ থাকা, যেমন আমাদের কথা: “দুই কাফিজ গম”, অথবা বহুবচনের ‘নুন’ থাকা যেমন আমাদের কথা: “বিশ দিরহাম”, অথবা তানউইন থাকা যেমন আমাদের কথা: “এক কলস সিরকা”, এবং “আকাশে হাতের তালু পরিমাণ মেঘ নেই”, অথবা তানউইনের অনুমান থাকা যেমন আমাদের কথা: “পনেরোজন পুরুষ”, অথবা তা কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধিত হয়ে যাওয়া যার ফলে দ্বিতীয়বার সম্বন্ধ করা সম্ভব নয়, যেমন আমাদের কথা: “আমার কাছে এটি মধু দ্বারা পূর্ণ”, এবং মহান আল্লাহর বাণী: পুরো পৃথিবী পূর্ণ সোনা [আল-ইমরান: ৯১]।
আর ক্রিয়ার সাথে বিশেষ্যের সম্পর্কের বিষয়টি হলো তার কর্তা (ফায়েল) হওয়া, অথবা কর্ম (মাফউল) হওয়া; ফলে এটি এমন ক্রিয়ামূল হতে পারে যা তার মাধ্যমে যবরযুক্ত হয়েছে, যেমন তোমার কথা: “আমি প্রহারের মতো প্রহার করেছি”, এবং একে পরম কর্ম (মাফউলে মুতলাক) বলা হয়। অথবা সাধারণ কর্ম (মাফউলে বিহি) হওয়া যেমন তোমার কথা: “আমি যায়েদকে প্রহার করেছি”, অথবা স্থান বা কালবাচক কর্ম (মাফউল ফিহি/যরফ) হওয়া, সময়ের ক্ষেত্রে বা স্থানের ক্ষেত্রে, যেমন তোমার কথা: “আমি জুমার দিন বের হয়েছি এবং তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি”, অথবা সহগামী কর্ম (মাফউলে মা’আ) হওয়া যেমন আমাদের কথা: “শীতকাল এবং চাদরসমূহ এসেছে” এবং “যদি উষ্ট্রী ও তার শাবককে ছেড়ে দেওয়া হতো তবে সে তাকে দুধ পান করাত”, অথবা উদ্দেশ্যবাচক কর্ম (মাফউলে লাহু) হওয়া যেমন আমাদের কথা: “আমি তোমার সম্মানের জন্য তোমার কাছে এসেছি এবং আমি তা করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٩)
إرادة الخير بك»، وكقوله تعالى: وَمَنْ يَفْعَلْ ذلِكَ ابْتِغاءَ مَرْضاتِ اللَّهِ [النساء:
114]، أو بأن يكون منزّلا من الفعل منزلة المفعول، وذلك في خبر كان وأخواتها، والحال والتمييز المنتصب عن تمام الكلام، مثل: «طاب زيد نفسا، وحسن وجها، وكرم أصلا»، ومثله الاسم المنتصب على الاستثناء، كقولك: «جاءني القوم إلّا زيدا»، لأنّه من قبيل ما ينتصب عن تمام الكلام.
وأما تعلّق الحرف بهما، فعلى ثلاثة أضرب:
أحدها: أن يتوسّط بين الفعل والاسم، فيكون ذلك في حروف الجرّ التي من شأنها أن تعدّي الأفعال إلى ما لا تتعدّى إليه بأنفسها من الأسماء، مثل أنّك تقول:
«مررت»، فلا يصل «1» إلى نحو «زيد، وعمرو»، فإذا قلت: «مررت بزيد، أو على زيد»، وجدته قد وصل «بالباء» أو «على». وكذلك سبيل الواو الكائنة بمعنى «مع» في قولنا: «لو تركت الناقة وفصيلها لرضعها»، بمنزلة حرف الجر في التوسّط بين الفعل والاسم وإيصاله إليه، إلّا أنّ الفرق أنّها لا تعمل بنفسها شيئا، لكنها تعين الفعل على عمله النّصب. وكذلك حكم «إلّا» في الاستثناء، فإنها عندهم بمنزلة هذه «الواو» الكائنة بمعنى «مع» في التوسط، وعمل النّصب في المستثنى للفعل، ولكن بوساطتها وعون منها.
والضّرب الثاني من تعلّق الحرف بما يتعلّق به: «العطف»، وهو أن يدخل الثاني في عمل العامل في الأول، كقولنا: «جاءني زيد وعمرو» و «رأيت زيدا وعمرا»، و «مررت بزيد وعمرو».
والضّرب الثالث: تعلّق بمجموع الجملة، كتعلّق حرف النّفي والاستفهام والشّرط والجزاء بما يدخل عليه، وذلك أن من شأن هذه المعاني أن تتناول ما تتناوله، وبعد أن يسند إلى شيء.
معنى ذلك: أنك إذا قلت: «ما خرج زيد»، و «ما زيد خارج»، لم يكن النفي الواقع بها متناولا الخروج على الإطلاق، بل الخروج «2» واقعا من «زيد» ومسندا إليه.
ولا يغرّنّك قولنا في نحو «لا رجل في الدار»: إنها لنفي الجنس، فإن المعنى في ذلك أنها لنفي الكينونة في الدار عن الجنس. ولو كان يتصوّر تعلّق النفي بالاسم
--------------------------------------------
আপনার জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করা», এবং মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায়: «আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তা করবে» [আন-নিসা: ১১৪], অথবা এটি ক্রিয়া থেকে কর্মের স্থলাভিষিক্ত হওয়া, আর এটি 'কানা' ও তার সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর খবরের ক্ষেত্রে এবং অবস্থা (হাল) ও পার্থক্যকারী (তামিইজ) বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যা পূর্ণাঙ্গ বাক্যের পর নসব প্রাপ্ত হয়। যেমন: «যায়েদ মনের দিক থেকে প্রফুল্ল হলো, সে চেহারার দিক থেকে সুন্দর হলো এবং সে বংশের দিক থেকে মর্যাদাবান হলো», আর তদ্রূপ ব্যতিক্রমের (ইস্তিসনা) ভিত্তিতে নসব প্রাপ্ত বিশেষ্যও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন আপনার উক্তি: «লোকেরা আমার কাছে এসেছে যায়েদ ব্যতীত», কারণ এটিও পূর্ণাঙ্গ বাক্যের পর নসব প্রাপ্ত হওয়ার প্রকারভেদ।
আর বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের সাথে হরফের সংশ্লিষ্টতা তিন প্রকার:
প্রথমটি: ক্রিয়া এবং বিশেষ্যের মধ্যে মধ্যস্থতা করা। এটি সেই সকল হরফে জরের ক্ষেত্রে হয় যাদের কাজ হলো ক্রিয়াকে এমন সব বিশেষ্যের দিকে পৌঁছে দেওয়া যেগুলোর দিকে ক্রিয়া নিজে নিজে পৌঁছাতে পারে না। যেমন আপনি বলেন:
«আমি অতিক্রম করেছি», যা সরাসরি «যায়েদ এবং আমর»-এর মতো শব্দের দিকে পৌঁছাতে পারে না «১»। কিন্তু আপনি যখন বলেন: «আমি যায়েদকে অতিক্রম করেছি, অথবা যায়েদের ওপর দিয়ে গিয়েছি», তখন আপনি দেখতে পান যে এটি «বা» অথবা «আলা» হরফের মাধ্যমে পৌঁছেছে। তদ্রূপ «ওয়াও»-এর বিষয়টিও যা «সাথে» অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আমাদের উক্তি: «যদি তুমি উটনী এবং তার শাবকটিকে ছেড়ে দিতে তবে সে তাকে দুধ পান করাত», এটি ক্রিয়া এবং বিশেষ্যের মাঝে মধ্যস্থতা করা এবং তার নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হরফে জরের স্থলাভিষিক্ত। তবে পার্থক্য হলো, এটি নিজে কোনো আমল করে না, বরং ক্রিয়াকে নসব দেওয়ার কাজে সহায়তা করে। তদ্রূপ ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে «ইল্লা»-এর বিধানও একই, কারণ তাঁদের মতে এটি মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে «সাথে» অর্থবোধক এই «ওয়াও»-এর সমতুল্য। আর ব্যতিক্রমকৃত বিশেষ্যে নসব দেওয়ার কাজটি ক্রিয়ার পক্ষ থেকেই হয়, তবে তার মধ্যস্থতা ও সহায়তায়।
হরফের সংশ্লিষ্টতার দ্বিতীয় প্রকার হলো: «সংযোজন» (আতফ)। এটি হলো দ্বিতীয় শব্দটিকে প্রথম শব্দের প্রভাবকের আমলের অন্তর্ভুক্ত করা। যেমন আমাদের উক্তি: «যায়েদ এবং আমর আমার নিকট এসেছে», «আমি যায়েদ ও আমরকে দেখেছি» এবং «আমি যায়েদ ও আমরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি»।
তৃতীয় প্রকার: পূর্ণাঙ্গ বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। যেমন না-বোধক, প্রশ্নবোধক, শর্ত ও প্রতিদান প্রকাশক হরফসমূহ যার ওপর প্রবেশ করে তার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। আর তা হলো, এই অর্থগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো বিষয়বস্তুকে তখনই গ্রহণ করে যখন তা কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়।
এর অর্থ হলো: আপনি যখন বলেন: «যায়েদ বের হয়নি» এবং «যায়েদ বের হওয়া ব্যক্তি নয়», তখন এর মাধ্যমে সংঘটিত না-বোধক অর্থটি কেবল নিরঙ্কুশভাবে বের হওয়াকে নাকচ করে না, বরং যায়েদ থেকে বের হওয়া সংঘটিত হওয়া «২» এবং তার দিকে তা সম্বন্ধিত হওয়াকে নাকচ করে।
এবং «ঘরে কোনো পুরুষ নেই»-এর মতো বাক্যে আমাদের এই কথা যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে যে, এটি পুরো জাতিকে নাকচ করার জন্য। কেননা এর অর্থ হলো ঘর থেকে ওই জাতির অস্তিত্বকে নাকচ করা। আর যদি বিশেষ্যের সাথে না-বোধক অর্থের সংশ্লিষ্টতা কল্পনা করা যেত—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المفرد، لكان الذي قالوه في كلمة التوحيد من أن التقدير فيها: «لا إله لنا، أو في الوجود، إلّا الله»، فضلا من القول، وتقديرا لما لا يحتاج إليه. وكذلك الحكم أبدا.
وإذا قلت: «هل خرج زيد» لم تكن قد استفهمت عن الخروج مطلقا، ولكن عنه واقعا من «زيد». وإذا قلت: «إن يأتني زيد أكرمه»، لم تكن جعلت الإتيان شرطا، بل الإتيان من «زيد»، وكذا لم تجعل الإكرام على الإطلاق جزاء للإتيان، بل الإكرام واقعا منك. كيف؟ وذلك يؤدي إلى أشنع ما يكون من المحال، وهو أن يكون هاهنا إتيان من غير آت، وإكرام من غير مكرم، ثم يكون هذا شرطا وذلك جزاء.
ومختصر كلّ الأمر أنه لا يكون كلام من جزء واحد، وأنه لا بدّ من مسند ومسند إليه، وكذلك السبيل في كل حرف رأيته يدخل على جملة، كإنّ وأخواتها، ألا ترى أنك إذا قلت: «كأنّ»، يقتضي مشبّها ومشبّها به؟ كقولك: «كأنّ زيدا الأسد». وكذلك إذا قلت «لو» و «لولا»، وجدتهما يقتضيان جملتين، تكون الثّانية جوابا للأولى.
وجملة الأمر أنه لا يكون كلام من حرف وفعل أصلا، ولا من حرف واسم، إلا في النداء نحو: «يا عبد الله»، وذلك إذا حقّق الأمر كان كلاما بتقدير الفعل المضمر الذي هو «أعني» و «أريد» و «أدعو»، و «يا» دليل عليه، وعلى قيام معناه في النفس.
فهذه هي الطرق والوجوه في تعلّق الكلم بعضها ببعض، وهي، كما تراها، معاني النحو وأحكامه.
وكذلك السبيل في كلّ شيء كان له مدخل في صحّة تعلّق الكلم بعضها ببعض، لا ترى شيئا من ذلك يعدو أن يكون حكما من أحكام النحو ومعنى من معانيه، ثم إنّا نرى هذه كلّها موجودة في كلام العرب، ونرى العلم بها مشتركا بينهم.
وإذا كان ذلك كذلك، فما جوابنا لخصم يقول لنا: إذا كانت هذه الأمور وهذه الوجوه من التعلّق التي هي محصول النظم، موجودة على حقائقها وعلى الصحة وكما ينبغي في منثور كلام العرب ومنظومه، ورأيناهم قد استعملوها وتصرّفوا فيها وكملوا بمعرفتها، وكانت حقائق لا تتبدّل ولا يختلف بها الحال؛ إذ لا يكون للاسم- بكونه خبرا لمبتدإ، أو صفة لموصوف، أو حالا لذي حال، أو فاعلا أو مفعولا لفعل في كلام- حقيقة «1» هي خلاف حقيقته في كلام آخر، فما هذا الذي تجدّد بالقرآن من
--------------------------------------------
একবচন, তবে তাওহীদের কালিমার ব্যাপারে তারা যা বলেছে—অর্থাৎ এতে যে উহ্য মান ধরা হয়: ‘আমাদের কোনো ইলাহ নেই’ অথবা ‘অস্তিত্বে কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া’—তা হতো কথার বাহুল্য এবং এমন কিছুর প্রাক্কলন যার প্রয়োজন নেই। এবং সর্বদা হুকুম এমনই হয়।
আর যখন আপনি বলেন: ‘সায়েদ কি বের হয়েছে?’, তখন আপনি সাধারণভাবে বের হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন না, বরং সায়েদ কর্তৃক সংঘটিত হওয়া বের হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন। আর যখন আপনি বলেন: ‘সায়েদ যদি আমার কাছে আসে, তবে আমি তাকে সম্মান করব’, তখন আপনি আসাকে শর্ত বানাননি, বরং সায়েদের পক্ষ থেকে আসাকে শর্ত বানিয়েছেন। একইভাবে, আপনি সাধারণভাবে সম্মান করাকে আসার প্রতিদান বানাননি, বরং আপনার পক্ষ থেকে সংঘটিত সম্মানকে প্রতিদান বানিয়েছেন। কেন? কারণ তা না হলে এক জঘন্য অসম্ভব পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে, আর তা হলো—আগত ব্যক্তি ছাড়া আসা এবং সম্মানকারী ছাড়া সম্মান সংঘটিত হওয়া, অতঃপর এটি শর্ত এবং ওটি প্রতিদান হওয়া।
সারকথা হলো, এক অংশ বিশিষ্ট কোনো বাক্য হয় না এবং অবশ্যই বিধেয় ও উদ্দেশ্য থাকতে হয়। একইভাবে প্রতিটি অব্যয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম যা কোনো বাক্যের শুরুতে আসে, যেমন ‘ইন্না’ ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহ। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন বলেন ‘যেন’, তখন তা একটি তুলনাযোগ্য বিষয় ও যার সাথে তুলনা করা হয় তা দাবি করে? যেমন আপনার উক্তি: ‘সায়েদ যেন সিংহ’। একইভাবে যখন আপনি ‘যদি’ এবং ‘যদি না’ বলেন, তখন আপনি দেখবেন যে তারা দুটি বাক্য দাবি করছে, যার দ্বিতীয়টি প্রথমটির উত্তর হয়ে থাকে।
মোদ্দাকথা হলো, মূলত অব্যয় এবং ক্রিয়া দিয়ে কোনো বাক্য গঠিত হয় না, না হয় অব্যয় এবং বিশেষ্য দিয়ে; তবে আহ্বানের ক্ষেত্রটি ভিন্ন, যেমন: ‘হে আল্লাহর বান্দা’। বিষয়টি যখন গভীরভাবে যাচাই করা হয়, তখন দেখা যায় এটি একটি বাক্য যা এক উহ্য ক্রিয়ার ভিত্তিতে গঠিত, আর তা হলো—‘আমি বুঝাচ্ছি’, ‘আমি চাচ্ছি’ অথবা ‘আমি ডাকছি’; আর ‘হে’ শব্দটি হলো সেই উহ্য ক্রিয়া এবং মনের মধ্যে থাকা তার অর্থের অস্তিত্বের প্রমাণ।
সুতরাং শব্দরাজির একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার পদ্ধতি ও দিকগুলো এগুলোই; আর আপনি যেমনটি দেখছেন, এগুলোই হলো ব্যাকরণের অর্থ ও বিধান।
একইভাবে প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম যা শব্দের পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতার সঠিকতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। আপনি এর কোনোটিকেই ব্যাকরণের কোনো বিধান বা এর কোনো অর্থের বাইরে পাবেন না। অতঃপর আমরা দেখি যে, এই সব বিষয়ই আরবদের ভাষায় বিদ্যমান এবং তাদের মধ্যে এর জ্ঞান সর্বজনীন।
যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে আমাদের সেই প্রতিপক্ষের উত্তর কী হবে যে আমাদের বলে: যখন এই বিষয়গুলো এবং সংশ্লিষ্টতার এই দিকগুলো—যা বিন্যাসের ফসল—আরবদের গদ্য ও পদ্যে তাদের প্রকৃত রূপে, নির্ভুলভাবে এবং যথাযথভাবে বিদ্যমান রয়েছে, এবং আমরা দেখেছি তারা সেগুলো ব্যবহার করেছে, সেগুলোতে বৈচিত্র্য এনেছে এবং সেই জ্ঞানে তারা পূর্ণতা অর্জন করেছে; এবং সেগুলো এমন ধ্রুব সত্য যা পরিবর্তিত হয় না এবং যার অবস্থা ভিন্নতর হয় না—কেননা কোনো বাক্যে প্রারম্ভিক পদের খবর, বিশেষিত পদের বিশেষণ, অবস্থার বর্ণনা, অথবা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্ম হওয়ার কারণে বিশেষ্যের এমন কোনো বাস্তবতা তৈরি হয় না যা অন্য কোনো বাক্যে তার বাস্তবতার বিপরীত হতে পারে—তবে কুরআনের মাধ্যমে এমন নতুন কী এসেছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١١)
عظيم المزيّة، وباهر الفضل، والعجيب من الرّصف، حتى أعجز الخلق قاطبة، وحتى قهر من البلغاء والفصحاء القوى «1» والقدر «2»، وقيّد الخواطر والفكر، حتى خرست الشّقاشق «3»، وعدم نطق الناطق، وحتى لم يجر لسان، ولم يبن بيان، ولم يساعد إمكان، ولم ينقدح لأحد منهم زند، ولم يمض له حدّ، وحتى أسال الوادي عليهم عجزا، وأخذ منافذ القول عليهم أخذا؟ أيلزمنا أن نجيب هذا الخصم عن سؤاله، ونردّه عن ضلاله، وأن نطبّ لدائه، ونزيل الفساد عن رائه «4»؟ فإن كان ذلك يلزمنا، فينبغي لكل ذي دين وعقل أن ينظر في الكتاب الذي وضعناه «5»، ويستقصي التأمّل لما أودعناه، فإن علم أنه الطريق إلى البيان، والكشف عن الحجة والبرهان، تبع الحقّ وأخذ به، وإن رأى له طريقا غيره أومأ لنا إليه، ودلّنا عليه، وهيهات ذلك! وهذه أبيات في مثل ذلك:
إنّي أقول مقالا لست أخفيه
… ولست أرهب خصما، إن بدا، فيه
ما من سبيل إلى إثبات معجزة
… في النّظم، إلّا بما أصبحت أبديه «6»
فما لنظم كلام أنت ناظمه
… معنى سوى حكم إعراب تزجّيه «7»
اسم يرى وهو أصل للكلام، فما
… يتمّ من دونه قصد لمنشيه
وآخر هو يعطيك الزّيادة في
… ما أنت تثبته أو أنت تنفيه
تفسير ذلك: أنّ الأصل مبتدأ
… تلقى له خبرا من بعد تثنيه
وفاعل مسند، فعل تقدّمه،
… إليه، يكسبه «8» وصفا ويعطيه
هذان أصلان، لا تأتيك فائدة
… من منطق لم يكونا من مبانيه
وما يزيدك من بعد التّمام، فما
… سلّطت فعلا عليه في تعدّيه
--------------------------------------------
মহান বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, বিস্ময়কর শ্রেষ্ঠত্বপূর্ণ এবং চমৎকার বিন্যাসশৈলী সম্পন্ন, যা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে পুরোপুরি অক্ষম করে দিয়েছে, এমনকি প্রাঞ্জলভাষী ও অলঙ্কারবিদদের শক্তি ও সামর্থ্যকেও পরাভূত করেছে। এটি চিন্তা ও ভাবনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে, এমনকি বাগ্মীদের রসনাও রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং বক্তার বাকশক্তি লুপ্ত হয়েছে। কোনো জিহ্বা নড়াচড়া করতে পারেনি, কোনো বর্ণনা স্পষ্ট হতে পারেনি এবং কোনো সক্ষমতাই সাহায্য করতে পারেনি। তাদের কারো কাছে কোনো স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হয়নি এবং কোনো সীমাও অতিবাহিত হয়নি। এমনকি অক্ষমতা তাদের ওপর উপত্যকার মতো প্রবাহিত হয়েছে এবং কথা বলার সমস্ত পথ তাদের জন্য রুদ্ধ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় এই প্রতিপক্ষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, তাকে গোমরাহি থেকে ফিরিয়ে আনা, তার ব্যাধির চিকিৎসা করা এবং তার চিন্তাধারার কলুষতা দূর করা কি আমাদের জন্য অপরিহার্য নয়? যদি তা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়, তবে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত আমরা যে কিতাবটি রচনা করেছি সেটি দেখা এবং আমরা এতে যা গচ্ছিত রেখেছি তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। যদি সে জানতে পারে যে এটিই হচ্ছে বর্ণনার পথ এবং দলিল ও প্রমাণের রহস্য উন্মোচনকারী, তবে সে যেন হকের অনুসরণ করে এবং তা গ্রহণ করে। আর যদি সে এর পরিবর্তে অন্য কোনো পথ দেখতে পায়, তবে সে যেন আমাদের সেদিকে ইঙ্গিত করে এবং আমাদের পথ দেখায়। কিন্তু তা কতই না সুদূরপরাহত! এ বিষয়ে কিছু পঙক্তি নিম্নরূপ:
আমি এমন এক কথা বলছি যা আমি গোপন করি না
… আর এতে যদি কোনো প্রতিপক্ষ প্রকাশ পায়, তবে আমি তাকে ভয় পাই না।
বাকরীতির বিন্যাসে মুজিযা বা অলৌকিকত্ব প্রমাণের কোনো পথ নেই
… কেবল তা ছাড়া যা আমি আজ প্রকাশ করছি।
তুমি যে কালামের বিন্যাস করছো তার কোনো অর্থ নেই
… কেবল ইরাবের বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের বিধান ছাড়া যা তুমি পরিচালনা করছো।
বিশেষ্য (ইসিম) যা দেখা যায় এবং যা কালামের মূল ভিত্তি
… এর রচয়িতার উদ্দেশ্য এটি ছাড়া পূর্ণ হয় না।
এবং অন্যটি (ক্রিয়া) যা তোমাকে সেই বিষয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে
… যা তুমি সাব্যস্ত করছো অথবা তুমি অস্বীকার করছো।
এর ব্যাখ্যা হলো: মূল ভিত্তি হলো মুক্তাদা (উদ্দেশ্য)
… যার পরে তুমি তার খবর (বিধেয়) খুঁজে পাবে।
এবং ফায়েল (কর্তা) যার দিকে একটি ফেল (ক্রিয়া) সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যা তার আগে এসেছে
… যা তাকে একটি বৈশিষ্ট্য দান করে এবং তা প্রদান করে।
এই দুটিই মূল ভিত্তি, কোনো কথা থেকে তুমি কোনো ফায়দা পাবে না
… যদি না কথাটি এই কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
আর যা কালাম পূর্ণ হওয়ার পরে অতিরিক্ত হিসেবে আসে
… তবে তা এমন ফেলের মাধ্যমে হবে যা তার কর্মের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
هذي قوانين تكفي من تشعّبها،
… ما يشبه البحر فيضا من نواجيه
فلست تأتي إلى باب لتعلمه،
… إلّا انصرفت بعجز عن تقصّيه «1»
هذا كذاك، وإن كان الذين ترى
… يرون أنّ المدى دان لباغيه «2»
ثمّ الذي هو قصدي أن يقال لهم،
… بما يجيب الفتى خصما يماريه
نقول: من أين أن لا نظم يشبهه
… وليس من منطق في ذاك يحكيه
وقد علمنا بأنّ النظم ليس سوى
… حكم من النحو نمضي في توخّيه «3»
لو نقّب الأرض باغ غير ذاك له
… معنى، وصعّد «4» يعلو في ترقّيه
ما عاد إلّا بخسر في تطلّبه
… ولا رأى غير غيّ في تبغّيه «5»
ونحن ما إن بثثنا الفكر ننظر في
… أحكامه ونروّي في معانيه
كانت حقائق تلقى العلم مشتركا
… بها، وكلّا تراه نافذا فيه
فليس معرفة من دون معرفة
… في كل ما أنت من باب تسمّيه
ترى تصرّفهم في الكلّ مطّردا
… يجرونه باقتدار في مجاريه
فما الذي زاد في هذا الذي عرفوا
… حتى غدا العجز يهمي «6» سيل واديه
قولوا، وإلّا فأصغوا للبيان تروا
… كالصّبح منبلجا «7» في عين رائيه
الحمد لله وحده، وصلواته على رسوله محمد وآله.
--------------------------------------------
এগুলো এমন কিছু নিয়ম যা বিভ্রান্ত ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট,
… যা এর গূঢ় রহস্য থেকে নির্গত প্রবাহে সমুদ্রের মতো সদৃশ।
তুমি এর কোনো অধ্যায় শিখতে আসবে না,
… বরং তার শেষ সীমানায় পৌঁছাতে অক্ষম হয়েই ফিরে যাবে। «১»
এটিও সেরকমই, যদিও যাদের দেখছ
… তারা মনে করে যে এর লক্ষ্য অন্বেষণকারীর নিকটবর্তী। «২»
এরপর আমার উদ্দেশ্য হলো তাদের কাছে এটি বলা হোক,
… যা দিয়ে এক যুবক তাকে বিবাদে লিপ্ত হওয়া প্রতিপক্ষকে জবাব দেয়।
আমরা বলি: কোন দিক থেকে এমন কোনো বিন্যাস নেই যা এর সদৃশ?
… অথচ কোনো বক্তব্যই নেই যা একে অনুকরণ করে।
আমরা জেনেছি যে, বিন্যাস ব্যাকরণিক বিধান ছাড়া আর কিছুই নয়
… যা আমরা যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট হই। «৩»
যদি কোনো অন্বেষণকারী সেই অর্থটি ছাড়া অন্য কিছুর সন্ধানে পৃথিবী খুঁড়ে ফেলে,
… এবং উপরে ওঠার জন্য সচেষ্ট হয়। «৪»
তবে সে তার অনুসন্ধানে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই লাভ করবে না,
… এবং তার অন্বেষণে গোমরাহি ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। «৫»
আর যখনই আমরা আমাদের চিন্তা প্রসারিত করি এর বিধানগুলো দেখতে
… এবং এর অর্থগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবি।
তখন এমন সব সত্য প্রকাশিত হয় যার মাধ্যমে জ্ঞানকে অভিন্নরূপে পাওয়া যায়,
… আর তুমি প্রত্যেককেই তাতে পারদর্শী দেখতে পাও।
কোনো একটি বিষয়ের জ্ঞান অন্য বিষয়ের জ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়,
… তুমি একে যে নামেই ডাকো না কেন।
তুমি সবক্ষেত্রে তাদের প্রয়োগকে সুশৃঙ্খল দেখতে পাবে,
… তারা পূর্ণ সক্ষমতার সাথে একে নিজ ধারায় প্রবাহিত করে।
তারা যা জানত, তাতে এমন কী যোগ হলো
… যার ফলে অক্ষমতা তার উপত্যকায় প্লাবনের মতো ঝরতে শুরু করল। «৬»
তোমরা বলো, অন্যথায় বর্ণনার প্রতি কর্ণপাত করো, তবে তা দেখতে পাবে
… প্রত্যক্ষকারীর চোখে প্রভাতের মতো উদ্ভাসিত। «৭»
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি দরুদ ও সালাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فاتحة المؤلف فى بيان مكانة العلمبسم الله الرّحمن الرّحيم حسبي ربّي الحمد لله ربّ العالمين حمد الشاكرين، نحمده على عظيم نعمائه، وجميل بلائه، ونستكفيه نوائب الزمان، ونوازل الحدثان «1»، ونرغب إليه في التوفيق والعصمة، ونبرأ إليه من الحول والقوّة ونسأله يقينا يملأ الصّدر، ويعمر القلب، ويستولي على النفس، حتّى يكفّها إذا نزغت «2»، ويردّها إذا تطلّعت، وثقة بأنه عز وجل الوزر «3»، والكالئ والراعي والحافظ، وأنّ الخير والشّرّ بيده، وأن النّعم كلّها من عنده، وأن لا سلطان لأحد مع سلطانه، نوجّه رغباتنا إليه، ونخلص نيّاتنا في التوكّل عليه، وأن يجعلنا ممن همه الصدق، وبغيته الحقّ، وغرضه الصواب، وما تصحّحه العقول وتقبله الألباب، ونعوذ به من أن ندّعي العلم بشيء لا نعلمه، وأن نسدّي «4» قولا لا نلحمه، وأن نكون ممّن يغرّه الكاذب من الثناء، وينخدع للمتجوّز في الإطراء، وأن يكون سبيلنا سبيل من يعجبه أن يجادل بالباطل، ويموّه
على السامع، ولا يبالي إذا راج عنه القول أن يكون قد خلّط فيه، ولم يسدّد في معانيه، ونستأنف الرغبة إليه عز وجل في الصلاة على خير خلقه، والمصطفى من بريّته، محمد سيد المرسلين، وعلى أصحابه الخلفاء الراشدين، وعلى آله الأخيار من بعدهم أجمعين.
وبعد فإنّا إذا تصفّحنا الفضائل لنعرف منازلها في الشّرف، ونتبيّن مواقعها من العظم؛ ونعلم أيّ أحقّ منها بالتّقديم، وأسبق في استيجاب التعظيم، وجدنا العلم أولاها بذلك، وأوّلها هنالك؛ إذ لا شرف إلّا وهو السبيل إليه، ولا خير إلّا وهو الدّليل عليه، ولا منقبة «5» إلّا وهو ذروتها وسنامها، ولا مفخرة إلّا وبه صحّتها وتمامها. ولا
--------------------------------------------
ইলমের (জ্ঞানের) উচ্চমর্যাদা বর্ণনায় লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমার রব-ই আমার জন্য যথেষ্ট। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, যা কৃতজ্ঞদের প্রশংসার ন্যায়। আমরা তাঁর মহান নিয়ামতসমূহ এবং তাঁর সুন্দর পরীক্ষার জন্য তাঁর প্রশংসা করছি। আমরা কালের বিপর্যয় ও সময়ের দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরই পর্যাপ্ততা কামনা করি, আর আমরা তাঁর কাছে তাওফিক (সফলতা) ও ইসমা (পাপমুক্ত থাকা) প্রার্থনা করি। আমরা নিজেদের ক্ষমতা ও শক্তি থেকে মুক্ত হয়ে কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হই এবং তাঁর কাছে এমন ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) প্রার্থনা করি যা বক্ষ পূর্ণ করবে, অন্তরকে আবাদ করবে এবং নফসের উপর প্রভাব বিস্তার করবে; যাতে এটি নফসকে কুপ্ররোচনা থেকে বিরত রাখে এবং যখন নফস কোনো মন্দ আকাঙ্ক্ষা করে তখন তাকে ফিরিয়ে দেয়। আর এই আস্থার সাথে যে, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আশ্রয়স্থল, রক্ষাকারী, লালনকারী ও হেফাযতকারী। মঙ্গল ও অমঙ্গল আল্লাহর হাতে, সকল নিয়ামত তাঁরই পক্ষ থেকে। তাঁর রাজত্বের সামনে অন্য কারো কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমরা আমাদের সকল আকাঙ্ক্ষাকে তাঁর দিকেই নিবদ্ধ করি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়তকে একনিষ্ঠ করি। তিনি যেন আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের প্রধান চিন্তা হলো সত্যবাদিতা, অন্বেষণ হলো সত্য এবং উদ্দেশ্য হলো সঠিক পন্থা ও যা বিবেক দ্বারা শুদ্ধ এবং বুদ্ধি যা গ্রহণ করে। আমরা তাঁর কাছে আশ্রয় চাই এমন কোনো বিষয়ে ইলম দাবি করা থেকে যা আমরা জানি না এবং এমন কোনো কথা বলা থেকে যার কোনো ভিত্তি নেই। আর আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই যাদেরকে মিথ্যা প্রশংসা প্রতারিত করে এবং যারা অতিরঞ্জিত চাটুকারিতায় বিভ্রান্ত হয়। আমাদের পথ যেন তাদের মত না হয় যারা বাতিলের মাধ্যমে বিতর্ক করতে পছন্দ করে এবং শ্রোতাদের বিভ্রান্ত করে; আর যখন তার কথা মানুষের কাছে প্রচার পায় তখন সে এর পরোয়া করে না যে, সে তাতে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করেছে কি না কিংবা তার অর্থসমূহ সঠিক হয়েছে কি না। আমরা পুনরায় মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও মনোনীত মুহাম্মদ—যিনি রাসুলদের সরদার—এবং তাঁর সাথী খুলাফায়ে রাশেদিন এবং তাদের পরবর্তী নেককার পরিবারবর্গের সকলের উপর দরুদ কামনায় প্রার্থনা করি।
অতঃপর, আমরা যখন বিভিন্ন মর্যাদাসমূহকে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের স্তর অনুযায়ী জানার জন্য এবং মহত্ত্বের বিচারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য পর্যালোচনা করি; এবং জানতে চাই যে কোনটি অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিক যোগ্য এবং কোনটি সম্মান লাভের ক্ষেত্রে অগ্রগামী, তখন আমরা ইলমকেই (জ্ঞান) এর জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত এবং প্রথম সারিতে দেখতে পাই। কারণ ইলম ব্যতীত এমন কোনো মর্যাদা নেই যার দিকে পৌঁছানোর অন্য কোনো পথ আছে, ইলম ব্যতীত এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে সে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে না। ইলম ব্যতীত এমন কোনো সৎগুণ নেই যার শীর্ষচূড়া এটি নয় এবং ইলম ব্যতীত এমন কোনো গৌরব নেই যার শুদ্ধতা ও পূর্ণতা এর মাধ্যমে সাধিত হয় না। আর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
حسنة إلّا وهو مفتاحها؛ ولا محمدة إلّا ومنه يتّقد مصباحها، هو «1» الوفيّ إذا خان كلّ صاحب، والثقة إذا لم يوثق بناصح، لو لاه لما بان الإنسان من سائر الحيوان إلّا بتخطيط صورته، وهيئة جسمه وبنيته، لا، ولا وجد إلى اكتساب الفضل طريقا، ولا وجد بشيء من المحاسن خليقا. ذاك لأنّا وإن كنّا لا نصل إلى اكتساب فضيلة إلّا بالفعل، وكان لا يكون فعل إلّا بالقدرة، فإنّا لم نر فعلا زان فاعله وأوجب الفضل له، حتى يكون عن العلم صدره «2»، وحتى يتبيّن ميسمه «3» عليه وأثره. ولم نر قدرة قطّ كسبت صاحبها مجدا وأفادته حمدا، دون أن يكون العلم رائدها فيما تطلب، وقائدها حيث يؤمّ ويذهب، ويكون المصرّف لعنانها «4»؛ والمقلّب لها في ميدانها.
فهي إذن مفتقرة في أن تكون فضيلة إليه، وعيال في استحقاق هذا الاسم عليه، وإذا هي خلت من العلم أو أبت أن تمتثل أمره؛ وتقتفي أثره ورسمه، آلت ولا شيء أحشد للذمّ على صاحبها منها، ولا «شين أشين «5»» من أعماله لها.
فهذا في فضل العلم لا تجد عاقلا يخالفك فيه، ولا ترى أحدا يدفعه أو ينفيه.
فأما المفاضلة بين بعضه وبعض، وتقديم فنّ منه على فنّ، فإنك ترى الناس فيه على آراء مختلفة، وأهواء متعادية، ترى كلّا منهم لحبّه نفسه، وإيثاره أن يدفع النقص عنها، يقدّم ما يحسن من أنواع العلم على ما لا يحسن، ويحاول الزّراية «6» على الذي لم يحظ به، والطّعن على أهله والغضّ منهم، ثم تتفاوت أحوالهم في ذلك، فمن مغمور قد استهلكه هواه، وبعد في الجور مداه، ومن مترجّح فيه بين الإنصاف والظلم، يجور تارة ويعدل أخرى في الحكم، فأمّا من يخلص في هذا المعنى من الحيف حتى لا يقضي إلّا بالعدل، وحتى يصدر في كل أمره عن العقل، فكالشيء الممتنع وجوده. ولم يكن ذلك كذلك، إلا لشرف العلم وجليل محلّه، وأنّ محبته مركوزة في الطباع، ومركّبة في النفوس، وأن الغيرة عليه لازمة للجبلّة، وموضوعة في
--------------------------------------------
এমন কোনো মহৎ কর্ম নেই যার চাবিকাঠি জ্ঞান নয়; এমন কোনো প্রশংসনীয় কাজ নেই যার প্রদীপ জ্ঞান থেকে প্রজ্বলিত হয় না। জ্ঞানই সেই বিশ্বস্ত বন্ধু যখন অন্য সব সঙ্গী বিশ্বাসঘাতকতা করে, এবং সেই নির্ভরযোগ্য আশ্রয় যখন কোনো উপদেশদাতার ওপর ভরসা করা যায় না। জ্ঞান যদি না থাকত, তবে কেবল আকৃতি ও শারীরিক গঠন ছাড়া মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর কোনো পার্থক্য থাকত না। না, মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের কোনো পথ খুঁজে পেত না, আর না সে কোনো সুকৃতির যোগ্য হতে পারত। এর কারণ হলো, আমরা যদিও কেবল কাজের মাধ্যমেই কোনো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করি, আর কাজ করার জন্য সামর্থ্যের প্রয়োজন হয়, তবুও আমরা এমন কোনো কাজ দেখি না যা তার সম্পাদনকারীকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে এবং তার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করেছে, যতক্ষণ না সেই কাজের উৎস হয় জ্ঞান এবং যতক্ষণ না সেই কাজের ওপর জ্ঞানের চিহ্ন ও প্রভাব সুস্পষ্ট হয়। আমরা এমন কোনো সামর্থ্যও দেখিনি যা তার অধিকারীকে মর্যাদা দান করেছে এবং তাকে প্রশংসিত করেছে, যতক্ষণ না জ্ঞান তার অভীষ্ট অন্বেষণে অগ্রদূত এবং তার গন্তব্যের পথে চালক হিসেবে থাকে, আর তার রাশ নিয়ন্ত্রণকারী ও কর্মক্ষেত্রে তাকে পরিচালনাকারী হয়।
সুতরাং, কোনো সামর্থ্য বা কর্ম শ্রেষ্ঠত্বে পরিণত হওয়ার জন্য জ্ঞানের প্রতি মুখাপেক্ষী এবং এই নাম পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আর যখন তা জ্ঞানশূন্য হয় অথবা জ্ঞানের নির্দেশ পালনে ও তার পদাঙ্ক অনুসরণে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তা তার অধিকারীর জন্য নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; এবং এর চেয়ে বড় কোনো কলঙ্ক তার কাজের জন্য আর কিছু হতে পারে না।
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের এই বিষয়ে আপনি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে আপনার বিরোধিতা করতে দেখবেন না, এবং এমন কাউকে পাবেন না যে একে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করে।
তবে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ এবং এক শাস্ত্রকে অন্য শাস্ত্রের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে আপনি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন মত ও পরস্পরবিরোধী প্রবৃত্তির অনুসারী দেখতে পাবেন। তাদের প্রত্যেককেই দেখবেন নিজের প্রতি ভালোবাসার কারণে এবং নিজের অপূর্ণতা দূর করার উদ্দেশ্যে সেই শাস্ত্রকেই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ শাখা হিসেবে উপস্থাপন করছে যা সে নিজে ভালো জানে। আর যে বিষয়ে সে অংশ পায়নি, সেটিকে তুচ্ছজ্ঞান করার এবং সেই বিষয়ের পণ্ডিতদের দোষারোপ ও অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থার তারতম্য ঘটে; তাদের মধ্যে কেউ তো স্বীয় প্রবৃত্তির মোহে এমনভাবে আচ্ছন্ন যে সে অবিচারে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আবার কেউ ইনসাফ ও জুলুমের মাঝে দোদুল্যমান; সে বিচারে কখনো অবিচার করে আবার কখনো ন্যায়পরায়ণ হয়। আর যে ব্যক্তি এই পক্ষপাতিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে কেবল ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার প্রতিটি কাজে বুদ্ধিকে অনুসরণ করে, তার অস্তিত্ব দুষ্প্রাপ্য। এটি কেবল একারণেই হয়েছে যে, জ্ঞানের মর্যাদা মহান ও সুউচ্চ, আর এর প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বভাবে ও অন্তরে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ মানুষের প্রকৃতিগত এবং মজ্জাগত একটি বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الفطرة، وأنه لا عيب أعيب عند الجميع من عدمه، ولا ضعة أوضع من الخلوّ عنه، فلم يعاد إذن إلّا من فرط المحبة، ولم يسمح به إلا لشدة الضّنّ.
ثم إنّك لا ترى علما هو أرسخ أصلا، وأبسق «1» فرعا، وأحلى جنى، وأعذب وردا، وأكرم نتاجا، وأنور سراجا، من علم البيان، الذي لولاه لم تر لسانا يحوك الوشي، ويصوغ الحلي، ويلفظ الدّرّ، وينفث السّحر، ويقري الشّهد «2»، ويريك بدائع من الزّهر، ويجنيك الحلو اليانع من الثّمر، والذي لولا تحفّيه بالعلوم، وعنايته بها، وتصويره إيّاها، لبقيت كامنة مستورة، ولما استبنت لها يد الدهر «3» صورة، ولاستمرّ السّرار «4» بأهلّتها، واستولى الخفاء على جملتها، إلى فوائد لا يدركها الإحصاء، ومحاسن لا يحصرها الاستقصاء.
إلّا أنّك لن ترى على ذلك نوعا من العلم قد لقي من الضّيم ما لقيه، ومني من الحيف بما مني به، ودخل على الناس من الغلط في معناه ما دخل عليهم فيه، فقد سبقت إلى نفوسهم اعتقادات فاسدة وظنون رديّة، وركبهم فيه جهل عظيم وخطأ فاحش، ترى كثيرا منهم لا يرى له معنى أكثر ممّا يرى للإشارة بالرأس والعين، وما يجده للخطّ والعقد «5»، يقول: إنّما هو خبر واستخبار، وأمر ونهي، ولكل من ذلك لفظ قد وضع له، وجعل دليلا عليه، فكل من عرف أوضاع لغة من اللغات، عربية كانت أو فارسية، وعرف المغزى من كلّ لفظة، ثم ساعده اللسان على النطق بها، وعلى تأدية أجراسها وحروفها، فهو بين في تلك اللغة، كامل الأداة، بالغ من البيان المبلغ الذي لا مزيد عليه،
منته إلى الغاية التي لا مذهب بعدها. يسمع الفصاحة والبلاغة والبراعة فلا يعرف لها معنى سوى الإطناب في القول، وأن يكون المتكلم في ذلك جهير الصوت، جاري اللسان، لا تعترضه لكنة «6»، ولا تقف به حبسة «7»،
--------------------------------------------
এটি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়, এবং এর অনুপস্থিতির চেয়ে বড় কোনো দোষ কারও কাছে নেই, আর এর থেকে রিক্ত হওয়ার চেয়ে নিচু কোনো হীনতা নেই। সুতরাং, একমাত্র চরম ভালোবাসার কারণেই একে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, আর কেবল অত্যন্ত কার্পণ্যের কারণেই একে হাতছাড়া করা হয় না।
অতঃপর, আপনি অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বয়ান) চেয়ে অধিক সুদৃঢ় মূল বিশিষ্ট, অধিক উচ্চ শাখা-প্রশাখা সম্বলিত, অধিক সুমিষ্ট ফলদায়ক, অধিক তৃপ্তিদায়ক উৎস সম্পন্ন, অধিক সম্মানজনক পরিণাম বিশিষ্ট এবং অধিক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা সদৃশ আর কোনো জ্ঞান দেখতে পাবেন না। যার সাহায্য ব্যতীত আপনি এমন কোনো ভাষা দেখতে পাবেন না যা সুনিপুণ কারুকাজ বুনন করে, অলঙ্কার গড়ে, মুক্তা বর্ষণ করে, জাদু উগরে দেয়, মধু পরিবেশন করে, আপনাকে প্রস্ফুটিত পুষ্পের চমৎকারিত্ব দেখায় এবং ফল থেকে সুমিষ্ট ও পরিপক্ব নির্যাস আহরণ করে দেয়। আর যদি এই শাস্ত্র বিজ্ঞানের প্রতি মনোযোগী না হতো, একে গুরুত্ব না দিত এবং এর রূপায়ণ না করত, তবে তা (জ্ঞানরাজি) সুপ্ত ও আবৃত থেকে যেত, মহাকালের পরিক্রমায় তার কোনো রূপ স্পষ্ট হতো না, এর নতুন চাঁদগুলো চিরকাল অমানিশার অন্ধকারে ডুবে থাকত এবং এর সামগ্রিক বিষয়ের ওপর অস্পষ্টতা আধিপত্য বিস্তার করত। এমন আরও অগণিত উপকারিতা রয়েছে যা গণনা করা অসম্ভব এবং এমন অসংখ্য সৌন্দর্য আছে যা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণেও শেষ করা যায় না।
তা সত্ত্বেও, আপনি এমন কোনো শাস্ত্র পাবেন না যা এর মতো জুলুমের শিকার হয়েছে, এর মতো অবিচারের সম্মুখীন হয়েছে এবং এর মর্মার্থ অনুধাবনে মানুষের মাঝে এমন বিভ্রান্তি প্রবেশ করেছে যা এতে ঘটেছে। তাদের অন্তরে ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মন্দ ধারণা আগেই গেড়ে বসেছে এবং তাদের মধ্যে চরম মূর্খতা ও জঘন্য ভুল চেপে বসেছে। আপনি তাদের অনেককেই দেখবেন যারা এর অর্থকে মাথা বা চোখের ইশারার চেয়ে বেশি কিছু মনে করে না, কিংবা রেখা অঙ্কন বা আঙুলের ইঙ্গিতের মাধ্যমে যা বোঝা যায় তার চেয়ে অধিক কিছু পায় না। তারা বলে: এটি তো স্রেফ সংবাদ আদান-প্রদান এবং আদেশ ও নিষেধ ছাড়া আর কিছুই নয়; আর এর প্রতিটির জন্য একটি করে শব্দ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং তাকে সেই অর্থের নির্দেশক বানানো হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো একটি ভাষার পারিভাষিক প্রয়োগসমূহ সম্পর্কে জানে—তা আরবি হোক বা ফারসি—এবং প্রতিটি শব্দের উদ্দেশ্য বোঝে, অতঃপর সেই শব্দ উচ্চারণে এবং এর ধ্বনি ও বর্ণমালা প্রকাশে তার জিহ্বা সহায়তা করে, তবে সেই ব্যক্তি ওই ভাষায় প্রাঞ্জলভাষী, পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন এবং বাগ্মিতার এমন স্তরে পৌঁছে গেছে যার ওপর আর কিছু নেই,
যা এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো যার পরে আর কোনো গন্তব্য নেই। সে 'ফাসাহাত' (বাকপটুতা), 'বালাগাত' (অলঙ্কারিতা) এবং 'বারায়াত' (শ্রেষ্ঠত্ব) শব্দগুলো শোনে, কিন্তু কথার দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়া এর অন্য কোনো অর্থ খুঁজে পায় না। আর সে মনে করে বক্তাকে উচ্চকণ্ঠ ও সাবলীল জিহ্বার অধিকারী হতে হবে, যাতে কোনো তোতলামি বাধা না দেয় এবং জড়তা তাকে থামিয়ে না দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وأن يستعمل اللفظ الغريب، والكلمة الوحشيّة، فإن استظهر للأمر وبالغ في النظر، فأن لا يلحن فيرفع في موضع النصب، أو يخطئ فيجيء باللفظة على غير ما هي عليه في الوضع اللغويّ، وعلى خلاف ما ثبتت به الرواية عن العرب.
وجملة الأمر أنه لا يرى النقص يدخل على صاحبه في ذلك، إلّا من جهة نقصه في علم اللغة، لا يعلم أن هاهنا دقائق وأسرارا طريق العلم بها الرّويّة والفكر، ولطائف مستقاها العقل، وخصائص معان ينفرد بها قوم قد هدوا إليها، ودلّوا عليها، وكشف لهم عنها، ورفعت الحجب بينهم وبينها، وأنّها السبب في أن عرضت المزيّة في الكلام، ووجب أن يفضل بعضه بعضا، وأن يبعد الشأو في ذلك، وتمتدّ الغاية، ويعلو المرتقى، ويعزّ المطلب، حتّى ينتهي الأمر إلى الإعجاز، وإلى أن يخرج من طوق البشر.
ولما لم تعرف هذه الطائفة هذه الدقائق، وهذه الخواصّ واللطائف، لم تتعرّض لها ولم تطلبها، ثمّ عنّ لها بسوء الاتفاق رأي صار حجازا بينها وبين العلم بها وسدّا دون أن تصل إليها وهو أن ساء اعتقادها في الشعر الذي هو معدنها، وعليه المعوّل فيها، وفي علم الإعراب الذي هو لها كالناسب الذي ينميها إلى أصولها، ويبيّن فاضلها من مفضولها، فجعلت تظهر الزّهد في كل واحد من النوعين، وتطرح كلّا من الصنفين، وترى التشاغل عنهما أولى من الاشتغال بهما، والإعراض عن تدبرهما أصوب من الإقبال على تعلّمهما.
أما الشّعر فخيّل إليها أنه ليس فيه كثير طائل، وأن ليس إلّا ملحة «1» أو فكاهة، أو بكاء منزل أو وصف طلل، أو نعت ناقة أو جمل، أو إسراف قول في مدح أو هجاء، وأنه ليس بشيء تمسّ الحاجة إليه في صلاح دين أو دنيا.
وأما النّحو، فظنّته ضربا من التكلّف، وبابا من التعسّف، وشيئا لا يستند إلى أصل، ولا يعتمد فيه على عقل، وأنّ ما زاد منه على معرفة الرّفع والنّصب وما يتّصل بذلك مما تجده في المبادئ، فهو فضل لا يجدي نفعا، ولا تحصل منه على فائدة، وضربوا له المثل بالملح كما عرفت «2»، إلى أشباه لهذه الظنون في القبيلين، وآراء لو علموا مغبّتها وما تقود إليه؛ لتعوّذوا بالله منها، ولأنفوا لأنفسهم من الرّضا بها، ذاك
--------------------------------------------
এবং তিনি যেন অপরিচিত শব্দ ও দুর্লভ শব্দাবলি ব্যবহার করেন। আর যদি তিনি এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি যেন ব্যাকরণগত ভুল না করেন—অর্থাৎ নসবের স্থানে রফা না করেন, অথবা এমন ভুল না করেন যেখানে শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর পরিপন্থী কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয় অথবা আরবদের থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ ভাষাতীতির বিরুদ্ধ কিছু নিয়ে আসা হয়।
সারকথা হলো, তিনি মনে করেন না যে এই বিষয়ে তার সঙ্গীর কোনো ত্রুটি রয়েছে, যদি না ভাষাতত্ত্বে তার কোনো কমতি থাকে। তিনি জানেন না যে এখানে এমন কিছু সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে যা জানার পথ হলো গভীর চিন্তা ও গবেষণা; এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যার উৎস হলো বুদ্ধি; এবং অর্থের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা কেবল সেই বিশেষ শ্রেণির মানুষেরাই অনুধাবন করতে পারেন যাদেরকে এই পথের দিশা দেওয়া হয়েছে, পথ দেখানো হয়েছে, যাদের সামনে রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং তাদের ও সেই রহস্যের মাঝখানের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই হলো সেই কারণ যার ফলে বাক্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব পরিলক্ষিত হয় এবং একটির ওপর অন্যটির শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমেই ভাষার লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হয়, উদ্দেশ্য বিস্তৃত হয়, মর্যাদা সুউচ্চ হয় এবং অভীষ্ট বস্তু দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে, যতক্ষণ না বিষয়টি অলৌকিকত্বের (ই'জায) পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং মানুষের সাধ্যাতীত হয়ে পড়ে।
যখন এই দলটি এই সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং এই বৈশিষ্ট্য ও সূক্ষ্মতাগুলো সম্পর্কে জানতে পারল না, তখন তারা এর সম্মুখীন হওয়ার বা এটি অন্বেষণ করার প্রয়োজন বোধ করল না। অতঃপর এক দুর্ভাগ্যজনক সংযোগবশত তাদের সামনে এমন এক মতবাদ উপস্থিত হলো যা তাদের ও এই জ্ঞানের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল এবং সেখানে পৌঁছানোর পথে প্রতিবন্ধক হয়ে গেল। তা হলো কবিতা সম্পর্কে তাদের কুধারণা—যা মূলত এই জ্ঞানের খনি এবং যার ওপর এই শাস্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। একইভাবে ই’রাব (ব্যাকরণ) শাস্ত্র সম্পর্কেও তাদের কুধারণা—যা এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে সেই বংশবিশারদের মতো, যে একে তার মূল উৎসের দিকে নিয়ে যায় এবং এর শ্রেষ্ঠ ও নিম্নতর অংশের পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। ফলে তারা এই উভয় বিষয়ের প্রতি অনীহা প্রকাশ করতে শুরু করল, উভয় প্রকার জ্ঞানকে বর্জন করল এবং এই দুটি নিয়ে চর্চা করার চেয়ে তা থেকে বিমুখ থাকাকেই শ্রেয় মনে করল; তাদের কাছে এগুলো গভীর অভিনিবেশ সহকারে অনুশীলনের চেয়ে এগুলোর শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়াকেই অধিকতর সঠিক মনে হলো।
কবিতার ব্যাপারে তাদের ধারণা হলো যে এতে বিশেষ কোনো সার্থকতা নেই; এটি কেবলই কিছু চমৎকার বাক্য বা কৌতুক, কিংবা পরিত্যক্ত গৃহের জন্য বিলাপ বা ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা, অথবা উষ্ট্রী বা উটের গুণকীর্তন, কিংবা প্রশংসা বা নিন্দায় অতিশয়োক্তি মাত্র। তাদের মতে, দ্বীন বা দুনিয়ার সংশোধনের জন্য কবিতার কোনো আবশ্যকতা নেই।
আর নাহু বা ব্যাকরণ সম্পর্কে তারা মনে করল যে এটি এক প্রকার কৃত্রিমতা এবং জবরদস্তির একটি পথ; এমন এক বস্তু যার কোনো মূল ভিত্তি নেই এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো নির্ভরতা নেই। তাদের মতে, প্রাথমিক পাঠ্যবইগুলোতে রফা ও নসব এবং তৎসংশ্লিষ্ট যতটুকু জানা যায়, তার অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা সবই নিরর্থক যা কোনো উপকারে আসে না এবং তা থেকে কোনো ফায়দা হাসিল হয় না। তারা এর উদাহরণ হিসেবে লবণের কথা উল্লেখ করেছে যেমনটি আপনি জেনেছেন; এই উভয় ক্ষেত্রে তাদের এমন আরও অনেক ধারণা ও মতবাদ রয়েছে, যার অশুভ পরিণতি এবং এটি কোথায় নিয়ে যায় তা যদি তারা জানত, তবে তারা এর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করত এবং এ ধরনের মতবাদে সন্তুষ্ট থাকাকে নিজেদের জন্য অপমানজনক মনে করত। সেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
لأنه بإيثارهم الجهل بذلك على العلم، في معنى الصادّ عن سبيل الله، والمبتغي إطفاء نور الله تعالى.
وذاك أنّا إذا كنّا نعلم- أن الجهة التي منها قامت الحجة بالقرآن وظهرت، وبانت وبهرت، هي أن كان على حدّ من الفصاحة تقصر عنه قوى البشر، ومنتهيا إلى غاية لا يطمح إليها بالفكر، وكان محالا أن يعرف كونه كذلك، إلّا من عرف الشّعر الذي هو ديوان العرب، وعنوان الأدب، والذي لا يشكّ أنّه كان ميدان القوم إذا تجاروا في الفصاحة والبيان، وتنازعوا فيهما قصب الرّهان، ثم بحث عن العلل التي بها كان التباين في الفضل، وزاد بعض الشعر على بعض- كان الصّادّ «1» عن ذلك صادّا عن أن تعرف حجة الله تعالى، وكان مثله مثل من يتصدّى للناس فيمنعهم عن أن يحفظوا كتاب الله تعالى ويقوموا به ويتلوه ويقرءوه، ويصنع في الجملة صنيعا يؤدّي إلى أن يقلّ حفّاظه والقائمون به والمقرءون له. ذاك لأنّا لم نتعبّد بتلاوته وحفظه، والقيام بأداء لفظه على النّحو الذي أنزل عليه، وحراسته من أن يغيّر ويبدّل، إلّا لتكون الحجة به قائمة على وجه الدهر، تعرف في كل زمان، ويتوصّل إليها في كل أوان، ويكون سبيلها سبيل سائر العلوم التي يرويها الخلف عن السّلف، ويأثرها الثاني عن الأوّل، فمن حال بيننا وبين ما له كان حفظنا إيّاه، واجتهادنا في أن نؤدّيه ونرعاه، كان كمن رام أن ينسيناه جملة ويذهبه من قلوبنا دفعة، فسواء من منعك الشيء الذي تنتزع منه الشاهد والدليل، ومن منعك السبيل إلى انتزاع تلك الدلالة، والاطّلاع على تلك الشهادة، ولا فرق بين من أعدمك الدواء الذي تستشفى به من دائك، وتستبقي به حشاشة نفسك، وبين من أعدمك العلم بأنّ فيه شفاء، وأنّ لك فيه استبقاء.
فإن قال منهم قائل: إنك قد أغفلت فيما رتّبت، فإنّ لنا طريقا إلى إعجاز القرآن غير ما قلت، وهو علمنا بعجز العرب عن أن يأتوا بمثله وتركهم أن يعارضوه، مع تكرار
التّحدّي عليهم، وطول التقريع لهم بالعجز عنه «2». ولأن الأمر كذلك، ما «3» قامت به الحجّة على العجم قيامها على العرب، واستوى الناس قاطبة، فلم يخرج الجاهل بلسان العرب من أن يكون محجوجا بالقرآن.
قيل له: خبرنا عما اتّفق عليه المسلمون من اختصاص نبيّنا صلى الله عليه وسلم بأن كانت
--------------------------------------------
কারণ তারা এর ওপর অজ্ঞতাকে জ্ঞানের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর পথ থেকে বাধাদানকারী এবং মহান আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চেষ্টাকারীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আর তা এই কারণে যে, আমরা যদি জানি—যে দিক থেকে কুরআনের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল হয়েছে, তা হলো এটি এমন এক অলঙ্কারশাস্ত্রের উচ্চশিখরে উপনীত যা মানুষের শক্তির উর্ধ্বে এবং এমন এক চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছেছে যেখানে চিন্তা-গবেষণা পৌঁছাতে পারে না। আর এমনটা হওয়া জানা অসম্ভব, যতক্ষণ না কেউ সেই কবিতা সম্পর্কে জানবে যা হলো আরবের কাব্যসংকলন এবং সাহিত্যের শিরোনাম; এবং যে কাব্য ছিল সেই জাতির প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র যখন তারা অলঙ্কার ও ভাষার লালিত্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা করত এবং শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে লিপ্ত হতো। অতঃপর সে সেই কারণগুলো অনুসন্ধান করল যার ফলে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং কোনো কোনো কবিতা অন্য কবিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে—তবে সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি এ থেকে মানুষকে বিমুখ করল, সে মহান আল্লাহর প্রমাণাদি সম্পর্কে জানা থেকে মানুষকে বিমুখ করল। তার দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো যে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করা, তা পালন করা, তিলাওয়াত করা এবং পাঠ করা থেকে বিরত রাখে। সামগ্রিকভাবে সে এমন কাজ করে যা কুরআনের হাফেজ, এর বিধান প্রতিষ্ঠাকারী এবং পাঠকারীদের সংখ্যা হ্রাস করার দিকে পরিচালিত করে। এটি এ কারণে যে, আমরা কুরআনের তিলাওয়াত, হিফজ এবং এর শব্দাবলি যে পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে সে অনুযায়ী আদায় করা এবং একে কোনো প্রকার পরিবর্তন ও পরিমার্জন থেকে রক্ষা করার ইবাদতে আদিষ্ট হয়েছি কেবল এজন্যই, যেন কিয়ামত পর্যন্ত এর মাধ্যমে আল্লাহর দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, যা প্রতিটি যুগে পরিচিত হবে এবং প্রতিটি সময়ে এর নিকট পৌঁছানো যাবে। আর এর পথ হবে অন্যান্য ইলমের পথের মতো যা পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণনা করেন এবং পরের জন পূর্বের জনের থেকে গ্রহণ করেন। অতএব, যে ব্যক্তি আমাদের এবং সেই জিনিসের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করল যার কারণে আমাদের এটি মুখস্থ করা এবং তা আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রচেষ্টা ছিল, সে যেন এমন ব্যক্তির মতো হলো যে আমাদের হৃদয় থেকে একযোগে তা সম্পূর্ণ ভুলিয়ে দিতে এবং তা মুছে ফেলতে চাইল। সুতরাং যে ব্যক্তি আপনাকে ওই বস্তু থেকে বিরত রাখল যা থেকে আপনি সাক্ষ্য ও প্রমাণ আহরণ করবেন, আর যে ব্যক্তি আপনাকে সেই দলিল আহরণ ও সেই সাক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পথ থেকে বিরত রাখল, তারা উভয়ই সমান। যে ব্যক্তি আপনাকে সেই ওষুধ থেকে বঞ্চিত করল যার মাধ্যমে আপনি আপনার রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন এবং আপনার প্রাণের অবশিষ্ট স্পন্দন রক্ষা করেন, আর যে ব্যক্তি আপনাকে এটি জানা থেকে বঞ্চিত করল যে তাতে শিফা রয়েছে এবং আপনার জন্য তাতে জীবনের অস্তিত্ব রয়েছে—তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
যদি তাদের মধ্যে কেউ বলে: আপনি আপনার বিন্যাসে একটি বিষয় উপেক্ষা করেছেন। কেননা আপনি যা বলেছেন তা ছাড়াও কুরআনের অলৌকিকত্ব বোঝার আমাদের জন্য একটি পথ রয়েছে, আর তা হলো কুরআনের সমকক্ষ কিছু নিয়ে আসতে আরবদের অক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এবং তাদের পক্ষ থেকে এর মোকাবিলা বর্জন করা, যদিও তাদের বারবার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অক্ষমতার কারণে তিরস্কার করা হয়েছিল। আর বিষয়টি যেহেতু এমনই, তাই অনারবদের ওপরও এর দলিল সেভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেভাবে আরবদের ওপর হয়েছে, এবং সকল মানুষ সমান হয়েছে। সুতরাং আরবি ভাষায় অজ্ঞ ব্যক্তিও কুরআনের দলিল দ্বারা দায়বদ্ধ হওয়ার বাইরে থাকেনি।
তাকে বলা হবে: মুসলমানরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বৈশিষ্ট্যের ওপর একমত হয়েছেন তা আমাদের জানান যে, তাঁর মুজিযা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
معجزته باقية على وجه الدهر، أتعرف له معنى غير أن لا يزال البرهان منه لائحا معرضا لكل من أراد العلم به، وطلب الوصول إليه، والحجة فيه وبه ظاهرة لمن أرادها، والعلم بها ممكنا لمن التمسه؟ فإذا كنت لا تشك في أن لا معنى لبقاء المعجزة بالقرآن إلّا أنّ الوصف الذي له كان معجزا قائم فيه أبدا، وأنّ الطريق إلى العلم به موجود، والوصول إليه ممكن، فانظر أيّ رجل تكون إذا أنت زهدت في أن تعرف حجّة الله تعالى، وآثرت فيه الجهل على العلم، وعدم الاستبانة على وجودها، وكان التقليد فيها أحبّ إليك، والتعويل على علم غيرك آثر لديك، ونحّ الهوى عنك، وراجع عقلك، واصدق نفسك، يبن لك فحش الغلط فيما رأيت، وقبح الخطأ في الذي توهّمت. وهل رأيت رأيا أعجز، واختيارا أقبح، ممّن كره أن تعرف حجة الله تعالى من الجهة التي إذا عرفت منها كانت أنور وأبهر، وأقوى وأقهر، وآثر أن لا يقوى سلطانها على الشّرك كلّ القوة، ولا تعلو على الكفر كل العلوّ؟ والله المستعان.
فصل في الكلام على من زهد في رواية الشعر وحفظه، وذمّ الاشتغال بعلمه وتتبّعهلا يخلو من كان هذا رأيه من أمور:
أحدها: أن يكون رفضه وذمّه إياه من أجل ما يجده فيه من هزل أو سخف، وهجاء وسبّ وكذب وباطل على الجملة.
والثاني: أن يذمّه لأنه موزون مقفّى، ويرى هذا بمجرّده عيبا يقتضي الزّهد فيه والتّنزّه عنه «1».
والثالث: أن يتعلّق بأحوال الشعراء وأنها غير جميلة في الأكثر، ويقول: قد ذمّوا في التنزيل.
وأيّ كان من هذه رأيا له، فهو في ذلك على خطأ ظاهر وغلط فاحش، وعلى خلاف ما يوجبه القياس والنّظر، وبالضّد مما جاء به الأثر، وصحّ به الخبر.
أمّا من زعم أنّ ذمّه له من أجل ما يجد فيه من هزل وسخف وكذب وباطل،
--------------------------------------------
তাঁর মুজিযা মহাকালের বক্ষে চিরস্থায়ী। আপনি কি এর অন্য কোনো অর্থ জানেন যে, এর দলিল সর্বদা সুস্পষ্ট থাকবে এবং যারা এটি জানতে চায় ও এর নিকট পৌঁছাতে চায় তাদের সবার সামনে তা উপস্থাপিত হবে? যারা এটি চায় তাদের জন্য এতে বিদ্যমান প্রমাণ সুস্পষ্ট হবে এবং যারা এর সন্ধান করে তাদের জন্য এর জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হবে? সুতরাং আপনি যদি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ না করেন যে, কুরআনের মুজিযা অবশিষ্ট থাকার অর্থ কেবল এটাই যে, যে বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি মুজিযা হয়েছিল তা এতে চিরকাল বিদ্যমান থাকবে এবং তা জানার পথ উন্মুক্ত ও এর নিকট পৌঁছানো সম্ভব—তবে আপনি ভেবে দেখুন আপনি কেমন মানুষ হবেন যদি আল্লাহর হুজ্জাত বা প্রমাণ জানার ক্ষেত্রে বিমুখ হন এবং জ্ঞানের পরিবর্তে অজ্ঞতাকে এবং প্রমাণের অস্তিত্বের পরিবর্তে তা অস্পষ্ট থাকাকে বেছে নেন? আর আপনার নিকট এতে তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণ বেশি প্রিয় হয় এবং নিজের পরিবর্তে অন্যের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করা আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয় হয়? আপনি আপনার প্রবৃত্তি দূর করুন, আপনার বুদ্ধির দিকে ফিরে আসুন এবং নিজের কাছে সত্যবাদী হোন; তবে আপনি যা ভেবেছিলেন তাতে ভুল কতটা জঘন্য এবং যা কল্পনা করেছিলেন তাতে ত্রুটি কতটা কুৎসিত তা আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে। আপনি কি এমন কারো চিন্তার চেয়ে বেশি অক্ষম চিন্তা এবং কারো পছন্দের চেয়ে বেশি কুৎসিত পছন্দ আর দেখেছেন, যে আল্লাহর হুজ্জাত বা দলিলকে সেই দিক থেকে জানতে অপছন্দ করে যে দিক থেকে জানলে তা হবে অধিক প্রোজ্জ্বল, বিস্ময়কর, শক্তিশালী ও বিজয়ী? আর সে পছন্দ করে যে শিরকের বিরুদ্ধে এর আধিপত্য পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী না হোক এবং কুফরের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব পুরোপুরি উচ্চকিত না হোক? আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
পরিচ্ছেদ: যারা কবিতা বর্ণনা ও মুখস্থ করার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এবং এর জ্ঞান অর্জন ও অনুসন্ধানের নিন্দা করে, তাদের আলোচনার বিবরণেযাদের এমন অভিমত, তারা নিচের বিষয়গুলো থেকে মুক্ত নয়:
প্রথমত: কবিতায় বিদ্যমান কৌতুক, অসারতা, নিন্দা, গালিগালাজ, মিথ্যা এবং সামগ্রিকভাবে বাতুলতা বা নিরর্থকতার কারণে সেটির বর্জন বা নিন্দা করা।
দ্বিতীয়ত: কবিতা ছন্দবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত হওয়ার কারণে সেটির নিন্দা করা এবং কেবল এই গুণটিকেই একটি ত্রুটি মনে করা যা এর প্রতি বিমুখতা ও এটি থেকে পবিত্র থাকার দাবি রাখে।
তৃতীয়ত: কবিদের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া যে, তাদের অধিকাংশের অবস্থা সুন্দর নয় এবং বলা যে, পবিত্র কুরআনে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে তার অভিমত যা-ই হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে সে এক প্রকাশ্য ভুল ও জঘন্য ভ্রান্তিতে লিপ্ত এবং তা যুক্তি ও বিবেচনার পরিপন্থী এবং বর্ণিত আসার ও সহীহ সংবাদের বিপরীত।
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, তার নিন্দা মূলত কবিতায় বিদ্যমান কৌতুক, অসারতা, মিথ্যা ও বাতুলতার কারণে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فينبغي أن يذمّ الكلام كلّه، وأن يفضّل الخرس على النّطق، والعيّ على البيان. فمنثور كلام الناس على كل حال أكثر من منظومه، والذي زعم أنه ذمّ الشعر من أجله وعاداه بسببه فيه أكثر، لأن الشعراء في كل عصر وزمان معدودون، والعامّة ومن لا يقول الشعر من الخاصّة عديد الرمل. ونحن نعلم أن لو كان منثور الكلام يجمع كما يجمع المنظوم، ثم عمد عامد فجمع ما قيل من جنس الهزل والسخف نثرا في عصر واحد، لأربى على جميع ما قاله الشعراء نظما في الأزمان الكثيرة، ولغمره حتى لا يظهر فيه.
ثم إنّك لو لم ترو من هذا الضرب شيئا قطّ، ولم تحفظ إلا الجدّ المحض، وإلا ما لا معاب عليك في روايته، وفي المحاضرة به، وفي نسخه وتدوينه، لكان في ذلك غنى ومندوحة «1»، ولوجدت طلبتك ونلت مرادك، وحصل لك ما نحن ندعوك إليه من علم الفصاحة، فاختر لنفسك، ودع ما تكره إلى ما تحبّ.
هذا، وراوي الشعر حاك، وليس على الحاكي عيب، ولا عليه تبعة، إذا هو لم يقصد بحكايته أن ينصر باطلا، أو يسوء مسلما، وقد حكى الله تعالى كلام الكفار.
فانظر إلى الغرض الذي له روي الشعر، ومن أجله أريد، وله دوّن، تعلم أنك قد زغت عن المنهج، وأنك مسيء في هذه العداوة، وهو العصبية منك على الشعر. وقد استشهد العلماء لغريب القرآن وإعرابه بالأبيات فيها الفحش، وفيها ذكر الفعل القبيح، ثم لم يعبهم ذلك؛ إذ كانوا لم يقصدوا إلى ذلك الفحش ولم يريدوه، ولم يرووا الشعر من أجله.
قالوا: وكان الحسن البصريّ رحمه الله يتمثّل في مواعظه بالأبيات من الشعر، وكان من أوجعها عنده: [من الكامل]
اليوم عندك دلّها وحديثها
… وغدا لغيرك كفّها والمعصم «2»
وفي الحديث عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ذكره المرزبانيّ «3» في كتابه
--------------------------------------------
সুতরাং সকল প্রকার কথাবার্তাকেই নিন্দা করা এবং বাকপটুতার চেয়ে মূক থাকাকে এবং প্রাঞ্জলতার চেয়ে বাকপ্রতিবন্ধিতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মানুষের গদ্য বা সাধারণ কথা যেকোনো অবস্থাতেই পদ্যের চেয়ে বেশি এবং যে অসারতার কারণে সে কবিতার নিন্দা করার ও তার সাথে শত্রুতা করার দাবি করেছে, তা গদ্যেই অধিক বিদ্যমান। কারণ প্রত্যেক যুগে ও সময়ে কবিগণ সংখ্যায় সীমিত, অথচ সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে যারা কবিতা বলেন না, তাদের সংখ্যা বালুকণার ন্যায় অগণিত। আমরা জানি যে, গদ্য কথাকেও যদি পদ্যের ন্যায় সংকলন করা হতো এবং এরপর কোনো সংকলক এক যুগের গদ্যে বলা তামাশা ও নির্বুদ্ধিতার বিষয়গুলো একত্রিত করার ইচ্ছা করতেন, তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে কবিদের বলা সমস্ত পদ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি হতো এবং তাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলত যে সেখানে আর কিছুই প্রকাশ পেত না।
অতঃপর আপনি যদি এই শ্রেণির (অসার) কোনো কিছুই বর্ণনা না করেন এবং বিশুদ্ধ সারগর্ভ বিষয় ছাড়া আর কিছু মুখস্থ না করেন—যাতে আপনার বর্ণনায়, তা নিয়ে আলোচনায় কিংবা তা অনুলিপি বা সংকলন করায় আপনার কোনো নিন্দা না হয়—তবে আপনার জন্য তাতে পর্যাপ্ত সুযোগ ও প্রশস্ততা থাকবে। এতে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাবেন এবং আপনার উদ্দেশ্য অর্জিত হবে। ফলে বাগ্মিতার যে জ্ঞানের দিকে আমরা আপনাকে আহ্বান করছি তা হাসিল হবে। সুতরাং আপনি আপনার নিজের জন্য পছন্দ করে নিন এবং যা অপছন্দ করেন তা বর্জন করে যা ভালোবাসেন তার দিকে অগ্রসর হোন।
তদুপরি, কবিতার বর্ণনাকারী কেবল একজন বর্ণনাকারী মাত্র; আর বর্ণনাকারীর ওপর কোনো দোষ বা দায় বর্তায় না, যদি না সে বর্ণনার মাধ্যমে কোনো বাতিলকে সাহায্য করার কিংবা কোনো মুসলিমের ক্ষতি করার সংকল্প করে। স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা কাফিরদের কথাবার্তা উদ্ধৃত করেছেন।
অতএব, কবিতা যে উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে, যার জন্য তাকে চাওয়া হয়েছে এবং যার জন্য তাকে সংকলন করা হয়েছে—তা লক্ষ্য করুন; তবেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং এই শত্রুতার ক্ষেত্রে আপনি ভুল পথে আছেন, আর এটি কবিতার প্রতি আপনার গোঁড়ামি মাত্র। অথচ আলিমগণ কুরআনের অপরিচিত শব্দ ও তার ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের জন্য এমন সব পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যাতে অশ্লীলতা ও মন্দ কার্যের উল্লেখ রয়েছে। তবুও এটি তাদের জন্য দোষের কারণ হয়নি; কেননা তারা সেই অশ্লীলতার সংকল্প করেননি, তা কামনাও করেননি এবং তার জন্য তারা কবিতা বর্ণনা করেননি।
তারা বলেন: হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নসিহতের মধ্যে কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করতেন। তাঁর নিকট সবচেয়ে মর্মস্পর্শী পঙক্তিগুলোর মধ্যে ছিল: [কামিল ছন্দ থেকে]
আজ তোমার কাছে রয়েছে তার সোহাগ ও আলাপচারিতা ... আর কাল অন্যের জন্য হবে তার হাত ও কবজি।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, যা মারযুবানী তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
بإسناد، عن عبد الملك بن عمير أنه قال: أتي عمر رضوان الله عليه بحلل من اليمن، فأتاه محمد بن جعفر بن أبي طالب، ومحمد بن أبي بكر الصدّيق، ومحمد بن طلحة ابن عبيد الله، ومحمد بن حاطب، فدخل عليه زيد بن ثابت رضي الله عنه فقال: يا أمير المؤمنين، هؤلاء المحمّدون بالباب يطلبون الكسوة. فقال: ائذن لهم يا غلام.
فدعا بحلل، فأخذ زيد أجودها حلّة وقال: هذه لمحمد بن حاطب، وكانت أمّه عنده، وهو من بني لؤيّ، فقال عمر رضي الله عنه: أيهات أيهات «1»! وتمثّل بشعر عمارة بن الوليد: [من الطويل]
أسرّك لمّا صرّع القوم نشوة
… خروجي منها سالما غير غارم
بريئا، كأنّي قبل لم أك منهم
… وليس الخداع مرتضى في التّنادم «2»
ردّها. ثم قال: ائتني بثوب فألقه على هذه الحلل. وقال: أدخل يدك فخذ حلّة وأنت لا تراها، فأعطهم. قال عبد الملك: فلم أر قسمة أعدل منها «3».
وعمارة، هذا: هو «عمارة بن الوليد بن المغيرة»، خطب امرأة من قومه «4» فقالت لا أتزوجك أو تترك الشراب. فأبى، ثم اشتدّ وجده بها فحلف لها أن لا يشرب، ثم مرّ بخمار عنده شرب يشربون، فدعوه فدخل عليهم وقد أنفدوا ما عندهم، فنحر لهم ناقته وسقاهم ببرديه، ومكثوا أياما، ثم خرج فأتى أهله، فلما رأته امرأته قالت: ألم تحلف أن لا تشرب؟ فقال:
ولسنا بشرب أمّ عمرو إذا انتشوا
… ثياب النّدامى عندهم كالغنائم
ولكنّنا يا أمّ عمرو نديمنا
… بمنزلة الرّيّان ليس بعائم «5»
--------------------------------------------
আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে বর্ণিত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ইয়েমেন থেকে কিছু পোশাক আনা হলো। তখন তাঁর নিকট মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি তালিব, মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক, মুহাম্মদ বিন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ এবং মুহাম্মদ বিন হাতিব আসলেন। যাইদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, এই মুহাম্মদগণ দরজায় দাঁড়িয়ে পোশাক প্রার্থনা করছেন। তিনি বললেন: হে বালক, তাদের ভেতরে আসতে দাও।
অতঃপর তিনি পোশাকগুলো চাইলেন। যাইদ সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পোশাকটি নিলেন এবং বললেন: এটি মুহাম্মদ বিন হাতিবের জন্য। তার মা যাইদের নিকট ছিলেন এবং তিনি বনু লুয়াই গোত্রের ছিলেন। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: অসম্ভব, অসম্ভব «১»! অতঃপর তিনি উমারা বিন আল-ওয়ালিদের এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন: [তবিল ছন্দে]
এটি কি তোমাকে আনন্দিত করেছে যখন কওম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ছিল... তখন আমার সেখান থেকে নিরাপদ ও ঋণমুক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসা;
এমন নিষ্কলঙ্ক অবস্থায় যেন ইতিপূর্বে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলামই না... আর পানসঙ্গীদের মাঝে প্রতারণা করা মোটেও পছন্দনীয় নয় «২»।
উমর বললেন: ওটা ফেরত দাও। অতঃপর বললেন: আমার নিকট একটি কাপড় নিয়ে এসো এবং এই স্তূপীকৃত পোশাকগুলোর উপর বিছিয়ে দাও। এরপর বললেন: তুমি তোমার হাত প্রবেশ করাও এবং না দেখে একটি করে পোশাক নাও এবং তাদের দাও। আব্দুল মালিক বলেন: আমি এর চেয়ে অধিক ন্যায়সঙ্গত বণ্টন আর দেখিনি «৩»।
আর এই উমারা হলেন: 'উমারা বিন আল-ওয়ালিদ বিন আল-মুগিরা'। তিনি তাঁর গোত্রের এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন «৪»। নারীটি বলল: আমি তোমাকে বিয়ে করব না যতক্ষণ না তুমি মদ পান ছেড়ে দাও। তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেন, পরে তার প্রতি অনুরাগ তীব্র হলে তিনি শপথ করলেন যে আর পান করবেন না। এরপর তিনি এক শরাব বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একদল লোক পান করছিল। তারা তাকে ডাকলে তিনি তাদের নিকট প্রবেশ করলেন। তাদের নিকট যা ছিল তা শেষ হয়ে গেলে তিনি তাদের জন্য নিজের উটটি জবাই করলেন এবং নিজের চাদর দিয়ে তাদের পান করালেন। এভাবে তারা কয়েকদিন অবস্থান করল। এরপর তিনি বের হয়ে নিজ পরিবারের নিকট আসলেন। যখন তাঁর স্ত্রী তাকে দেখল, সে বলল: তুমি কি শপথ করোনি যে আর পান করবে না? তখন তিনি বললেন:
আমরা উম্মে আমরের পানসঙ্গীদের মতো নই যারা নেশাগ্রস্ত হলে... তাদের নিকট সাথীদের পোশাকগুলো গনিমতের মালের মতো হয়ে যায়;
বরং হে উম্মে আমর, আমাদের পানসঙ্গী... তৃপ্ত ব্যক্তির মর্যাদায় থাকে, সে বিপদে ভাসমান থাকে না «৫»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أسرّك، البيتين؟ فإذن ربّ هزل صار أداة في جدّ، وكلام جرى في باطل ثمّ استعين به على حقّ، كما أنه ربّ شيء خسيس، توصّل به إلى شريف، بأن ضرب مثلا فيه، وجعل مثالا له، كما قال أبو تمام: [من الكامل]
والله قد ضرب الأقلّ لنوره
… مثلا من المشكاة والنّبراس «1»
وعلى العكس، فربّ كلمة حق أريد بها باطل «2»، فاستحقّ عليها الذمّ، كما عرفت من خبر الخارجي مع علي رضوان الله عليه. وربّ قول حسن لم يحسن من قائله حين تسبّب به إلى قبيح، كالذي حكى الجاحظ قال: «رجع طاوس «3» يوما عن مجلس محمد بن يوسف «4»، وهو يومئذ والي اليمن فقال: ما ظننت أنّ قول:
«سبحان الله» يكون معصية لله تعالى حتى كان اليوم، سمعت رجلا أبلغ ابن يوسف عن رجل كلاما، فقال رجل من أهل المجلس: «سبحان الله»، كالمستعظم لذلك الكلام، «ليغضب ابن يوسف» «5».
فبهذا ونحوه فاعتبر، واجعله حكما بينك وبين الشّعر.
وبعد، فكيف وضع من الشّعر عندك، وكسبه المقت منك، أنك وجدت فيه الباطل والكذب وبعض ما لا يحسن، ولم يرفعه في نفسك، ولم يوجب له المحبة من قلبك، أن كان فيه الحقّ والصّدق والحكمة وفصل الخطاب، وأن كان مجنى ثمر العقول والألباب، ومجتمع فرق الآداب، والذي قيّد على الناس المعاني الشريفة، وأفادهم الفوائد الجليلة، وترسّل بين الماضي والغابر، ينقل مكارم الأخلاق إلى الولد عن الوالد، ويؤدّي ودائع الشرف عن الغائب إلى الشاهد، حتّى ترى به آثار الماضين، مخلّدة في الباقين، وعقول الأوّلين، مردودة في الآخرين، وترى لكل من رام الأدب، وابتغى الشّرف، وطلب محاسن القول والفعل، منارا مرفوعا وعلما منصوبا وهاديا مرشدا،
ومعلّما مسدّدا، وتجد فيه للنّائي عن طلب المآثر، والزاهد في اكتساب
--------------------------------------------
ঐ দুই চরণ কি তোমাকে আনন্দিত করেছে? তাহলে দেখা যায়, কত ঠাট্টা-তামাশা গুরুত্বের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, এবং কত কথা যা বাতিলের পথে উচ্চারিত হয়েছিল কিন্তু পরে তা সত্যের সপক্ষে সাহায্যকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে কত তুচ্ছ বস্তু মহৎ বস্তুর মাধ্যম হয়েছে—তার জন্য উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত পেশ করার মাধ্যমে; যেমনটি আবু তাম্মাম বলেছেন: [কামিল ছন্দ থেকে]
এবং আল্লাহ তাঁর নূরের জন্য অতি সামান্য বস্তুর … উদাহরণ দিয়েছেন কুলুঙ্গি ও প্রদীপের মাধ্যমে। «১»
আবার এর বিপরীতও ঘটে; কত সত্য কথা যার মাধ্যমে বাতিল উদ্দেশ্য করা হয় «২», ফলে তা নিন্দার যোগ্য হয়ে দাঁড়ায়; যেমনটি আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে খারেজীর ঘটনার সংবাদ থেকে তুমি জেনেছ। আবার কত সুন্দর কথা যা তার বক্তার পক্ষ থেকে সুন্দর বলে গণ্য হয় না যখন সেটিকে কোনো মন্দ কাজের উসিলা করা হয়। যেমন আল-জাহিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তাউস «৩» একদিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের «৪» মজলিস থেকে ফিরে আসলেন—যিনি তখন ইয়ামেনের ওয়ালি ছিলেন—এবং বললেন: আমি কখনো ভাবিনি যে,
“সুবহানাল্লাহ” বলা আল্লাহর অবাধ্যতা হতে পারে, যতক্ষণ না আজ আমি তা দেখলাম। আমি শুনলাম এক ব্যক্তি ইবনে ইউসুফকে অন্য এক ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু কথা পৌঁছে দিচ্ছে, তখন মজলিসের এক লোক বলে উঠল: “সুবহানাল্লাহ”, যেন সে কথাটিকে অনেক বড় মনে করছে, যাতে ইবনে ইউসুফ রাগান্বিত হন» «৫»।
সুতরাং এই এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করো এবং একে তোমার ও কবিতার মাঝে ফয়সালাকারী বানাও।
এরপর কথা হলো, কবিতার মর্যাদা তোমার কাছে কীভাবে কমে গেল এবং তা তোমার ঘৃণার পাত্র হলো এজন্য যে, তুমি তাতে মিথ্যা, বাতিল এবং কিছু অসুন্দর বিষয় পেয়েছ? অথচ তাতে যে সত্য, সততা, হিকমত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা কি তোমার হৃদয়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি এবং তার প্রতি ভালোবাসাকে অনিবার্য করেনি? কবিতা হলো জ্ঞান ও বুদ্ধির ফল আহরণের স্থান, আদব ও শিষ্টাচারের মিলনস্থল, যা মানুষের জন্য মহান অর্থগুলোকে গেঁথে রেখেছে এবং তাদের সুমহান উপকারিতা দান করেছে। এটি অতীত ও বর্তমানের মাঝে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে, পিতা থেকে সন্তানে উত্তম চরিত্রগুলো স্থানান্তর করে এবং অনুপস্থিত থেকে উপস্থিতের কাছে সম্মানের আমানতগুলো পৌঁছে দেয়। এমনকি তুমি এর মাধ্যমে পরবর্তীদের মাঝে পূর্ববর্তীদের কীর্তিসমূহ অক্ষয় দেখতে পাও এবং পূর্বসূরীদের জ্ঞান উত্তরসূরীদের মাঝে ফিরে আসতে দেখ। যে ব্যক্তি আদব প্রত্যাশা করে, সম্মান চায় এবং কথা ও কাজের সৌন্দর্য কামনা করে, তার জন্য তুমি কবিতাকে পাবে এক সমুন্নত আলোকবর্তিকা, স্থাপিত নিশান এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে,
এক নির্ভুল শিক্ষক হিসেবে। আর এতে তুমি তার জন্যও রসদ পাবে যে গৌরব অর্জনে বিমুখ এবং মহৎ গুণাবলি অর্জনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
المحامد، داعيا ومحرّضا، وباعثا ومحضّضا، ومذكّرا ومعرّفا، وواعظا ومثقّفا. فلو كنت ممّن ينصف كان في بعض ذلك ما يغيّر هذا الرأي منك، وما يحدوك على رواية الشعر وطلبه، ويمنعك أن تعيبه أو تعيب به، ولكنك أبيت إلّا ظنّا سبق إليك، وإلا بادي رأي عنّ لك «1»، فأقفلت عليك قلبك، وسددت عما سواه سمعك، فعيّ النّاصح بك، وعسر على الصديق الخليط تنبيهك.
نعم، وكيف رويت: «لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحا، فيريه، خير له من أن يمتلئ شعرا» «2»، ولهجت به، وتركت قوله صلى الله عليه وسلم: «إنّ من الشّعر لحكمة وإنّ من البيان لسحرا» «3» وكيف نسيت أمره صلى الله عليه وسلم بقول الشعر، ووعده. عليه الجنة، وقوله لحسان: «قل وروح القدس معك» «4»، وسماعه له، واستنشاده إيّاه، وعلمه صلى الله عليه وسلم به، واستحسانه له، وارتياحه عند سماعه؟.
أمّا أمره به، فمن المعلوم ضرورة، وكذلك سماعه إيّاه، فقد كان حسّان وعبد الله بن رواحة وكعب بن زهير يمدحونه، ويسمع منهم، ويصغي إليهم، ويأمرهم بالردّ على المشركين، فيقولون في ذلك ويعرضون عليه. وكان عليه السلام يذكر لهم بعض ذلك، كالذي روي من أنه صلى الله عليه وسلم قال لكعب: «ما نسي ربّك، وما كان ربّك نسيّا، شعرا قلته»، قال: وما هو يا رسول الله؟ قال: أنشده يا أبا بكر. فأنشده أبو بكر رضوان الله عليه: [من الكامل]
زعمت سخينة أن ستغلب ربّها
… وليغلبنّ مغالب الغلّاب «5»
وأمّا استنشاده إيّاه فكثير، من ذلك الخبر المعروف في استنشاده، حين استسقى فسقي، قول أبي طالب: [من الطويل]
--------------------------------------------
প্রশংসাসমূহ, আহ্বানকারী ও প্ররোচনাকারী, উদ্দীপনাকারী ও উৎসাহ প্রদানকারী, স্মরণকারী ও পরিচয় দানকারী এবং উপদেশদাতা ও শিষ্টতা দানকারী হিসেবে। যদি তুমি ন্যায়পরায়ণ হতে, তবে এই বিষয়ের কিয়দংশই তোমার এই মত পরিবর্তন করে দিত এবং তোমাকে কাব্য বর্ণনায় ও অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করত, আর একে দোষারোপ করা বা এর দ্বারা কাউকে কলঙ্কিত করা থেকে বিরত রাখত। কিন্তু তুমি তোমার পূর্ববর্তী ধারণা এবং তোমার মনে উদিত হওয়া প্রাথমিক অভিমত ছাড়া অন্য সব কিছু প্রত্যাখ্যান করেছ, ফলে তুমি তোমার হৃদয়কে তালাবদ্ধ করে রেখেছ এবং অন্য সকল কিছুর বিপরীতে তোমার কান বন্ধ করে দিয়েছ; এতে উপদেশদাতা তোমার বিষয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পক্ষে তোমাকে সচেতন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হ্যাঁ, আর তুমি কীভাবে এই বর্ণনাটি গ্রহণ করলে: "তোমাদের কারো উদর পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হওয়া, যা তাকে গলিয়ে দেয়, তা কবিতা দ্বারা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম"? তুমি একেই আঁকড়ে ধরলে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী পরিত্যাগ করলে: "নিশ্চয় কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে এবং কিছু বাগ্মিতায় যাদু রয়েছে।" আর তুমি কীভাবে ভুলে গেলে যে তিনি কাব্য রচনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? আর হাসসানের প্রতি তাঁর সেই উক্তি: "তুমি বলো, আর রূহুল কুদুস তোমার সাথে আছেন।" আর তিনি কবিতা শুনতেন, তা আবৃত্তি করার অনুরোধ করতেন, কবিতা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল, তিনি একে পছন্দ করতেন এবং তা শুনে প্রফুল্ল বোধ করতেন?
তাঁর নির্দেশ প্রদানের বিষয়টি অনস্বীকার্যভাবে সুবিদিত; তেমনি তাঁর কবিতা শোনার বিষয়টিও। হাসসান, আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহা এবং কা’ব ইবন যুহাইর তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তিনি তা শুনতেন ও তাঁদের প্রতি মনোযোগ দিতেন। তিনি তাঁদেরকে মুশরিকদের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, ফলে তাঁরা কবিতা রচনা করতেন এবং তা তাঁর সামনে পেশ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে এর কিছু বিষয়ের স্মৃতিচারণ করতেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কা’বকে বলেছিলেন: "তোমার রব ভুলে যাননি, আর তোমার রব বিস্মৃত হওয়ার নন—সেই কবিতাটি যা তুমি বলেছিলে।" কা’ব বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কোনটি? তিনি বললেন: "হে আবু বকর, তুমি তা আবৃত্তি করো।" তখন আবু বকর (রা.) তা আবৃত্তি করলেন: [কামিল ছন্দে]
সাখিনা দাবি করেছিল যে তারা তাদের রবকে পরাজিত করবে
… অথচ সকল পরাক্রমশালীর ওপর বিজয়ী সত্তাই অবশ্যই জয়ী হবেন।
আর তাঁর পক্ষ থেকে কবিতা পাঠের অনুরোধের বিষয়টি অনেক। তার মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা হলো যখন তিনি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেন এবং বৃষ্টি বর্ষিত হলো, তখন আবু তালিবের সেই কবিতাটি পাঠের অনুরোধ করা হয়: [তবিল ছন্দে]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وأبيض يستسقى الغمام بوجهه
… ثمال اليتامى، عصمة للأرامل
يطيف به الهلّاك من آل هاشم،
… فهم عنده في نعمة وفواضل «1»
الأبيات. وعن الشعبي رضي الله عنه، عن مسروق، عن عبد الله قال: لما نظر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى القتلى يوم بدر مصرّعين فقال صلى الله عليه وسلم لأبي بكر رضي الله عنه: لو أنّ أبا طالب حيّ لعلم أن أسيافنا قد أخذت بالأنامل» «2». قال: وذلك لقول أبي طالب:
كذبتم، وبيت الله، إن جدّ ما أرى
… لتلتبسن أسيافنا بالأنامل
وينهض قوم في الدّروع إليهم
… نهوض الرّوايا في طريق حلاحل «3»
ومن المحفوظ في ذلك حديث محمّد بن مسلمة الأنصاري، جمعه وابن أبي حدرد الأسلمي الطريق، قال: فتذاكرنا الشّكر والمعروف، قال فقال محمد: كنا يوما عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال لحسان بن ثابت: أنشدني قصيدة من شعر الجاهلية، فإنّ الله تعالى قد وضع عنا آثامها في شعرها وروايته، فأنشده قصيدة للأعشى هجا بها علقمة بن علاثة: [من السريع]
--------------------------------------------
তিনি উজ্জ্বল কান্তিবিশিষ্ট, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয় … তিনি ইয়াতীমদের আশ্রয় এবং বিধবাদের রক্ষক।
বনী হাশেমের নিঃস্বরা তাঁকে ঘিরে থাকে, ফলে তারা তাঁর সান্নিধ্যে নেয়ামত ও অনুগ্রহের মাঝে অবস্থান করে। (১)
উপরিউক্ত পঙক্তিমালা। শাবী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি মাসরুক হতে, তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) হতে বর্ণনা করেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের যুদ্ধের দিন শায়িত নিহতদের প্রতি তাকালেন, তখন তিনি আবু বকর (রা.)-কে বললেন: "আবু তালিব যদি আজ জীবিত থাকতেন, তবে তিনি জানতেন যে আমাদের তরবারিগুলো আঙ্গুলের অগ্রভাগকে পাকড়াও করেছে।" (২) তিনি বলেন: এটি আবু তালিবের এই বাণীর কারণে:
আল্লাহর ঘরের কসম, তোমরা মিথ্যা বলেছ যে আমি যা দেখছি তা যদি গুরুতর রূপ নেয় … তবে অবশ্যই আমাদের তরবারিগুলো আঙ্গুলের সাথে জড়িয়ে পড়বে।
এবং বর্ম পরিহিত এক জাতি তাদের দিকে অগ্রসর হবে … দুর্গম পথে পানিবাহী উটের ক্ষিপ্র গতির ন্যায়। (৩)
এ বিষয়ে সংরক্ষিত বর্ণনাসমূহের মধ্যে মুহাম্মাদ বিন মাসলামা আল-আনসারী ও ইবনে আবি হাদরাদ আল-আসলামীর হাদীসটি উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন: আমরা কৃতজ্ঞতা ও সদাচরণ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। মুহাম্মাদ বলেন: আমরা একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি হাসসান বিন সাবিতকে বললেন: আমাকে জাহেলী যুগের একটি কবিতা শুনিয়ে দাও, কারণ আল্লাহ তাআলা এর কবিতা ও বর্ণনার মাঝে যা পাপ ছিল তা আমাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আল-আশা রচিত একটি কবিতা পাঠ করলেন যাতে আলকামা বিন উলাসাহকে বিদ্রূপ করা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
علقم ما أنت إلى عامر
… النّاقض الأوتار والواتر «1»
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا حسّان لا تعد تنشدني هذه القصيدة بعد مجلسك هذا». فقال: يا رسول الله، تنهاني عن رجل مشرك مقيم عند قيصر؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا حسّان، أشكر الناس للناس أشكرهم لله تعالى، وإنّ قيصر سأل أبا سفيان ابن حرب عنّي فتناول منّي» - وفي خبر آخر: «فشعّث منّي» «2» - وإنه سأل هذا عنّي فأحسن القول. فشكره رسول الله صلى الله عليه وسلم على ذلك. وروي من وجه آخر أنّ حسان قال:
يا رسول الله، من نالتك يده وجب علينا شكره.
ومن المعروف في ذلك خبر عائشة رضوان الله عليها أنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثيرا ما يقول: أبياتك. فأقول: [من الكامل]
ارفع ضعيفك، لا يحربك ضعفه
… يوما فتدركه العواقب قد نمى
يجزيك، أو يثني عليك، وإنّ من
… أثنى عليك بما فعلت فقد جزى «3»
قالت فيقول عليه السلام: يقول الله تبارك وتعالى لعبد من عبيده: صنع إليك عبدي معروفا فهل شكرته عليه؟ فيقول: يا ربّ، علمت أنه منك فشكرتك عليه.
قال فيقول الله عز وجل: «لم تشكرني، إذ لم تشكر من أجريته على يده» «4».
وأمّا علمه عليه السلام بالشعر، فكما روي أن سودة أنشدت «5»:
عديّ وتيم تبتغي من تحالف فظنّت عائشة وحفصة رضي الله عنهما أنّها عرّضت بهما، وجرى بينهنّ كلام في هذا المعنى، فأخبر النبيّ صلى الله عليه وسلم، فدخل عليهن وقال: «يا ويلكنّ، ليس في عديّكنّ «6» ولا تيمكنّ «7» قيل هذا، وإنّما قيل هذا في عديّ تميم وتيم تميم».
وتمام هذا الشعر وهو لقيس بن معدان الكليبيّ، من بني يربوع: [من الطويل]
--------------------------------------------
আলকামা, তুমি আমিরের তুলনায় কিছুই নও
… যে জ্যা ছিন্নকারী এবং জ্যা সংযোজনকারী «১»
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে হাসান, তোমার এই মজলিসের পর আমাকে আর এই কাসিদা শুনিও না»। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাকে এমন এক মুশরিক ব্যক্তি সম্পর্কে নিষেধ করছেন যে কায়সারের দরবারে অবস্থান করছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে হাসান, মানুষের প্রতি যে সর্বাধিক কৃতজ্ঞ, সে-ই মহান আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক কৃতজ্ঞ। কায়সার যখন আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন সে আমার সমালোচনা করেছিল» - অন্য এক বর্ণনায় আছে: «সে আমাকে তুচ্ছ করেছিল» «২» - «আর এই ব্যক্তি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে সুন্দর কথা বলেছে»। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তার শুকরিয়া আদায় করলেন। অন্য এক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হাসান বলেছিলেন:
হে আল্লাহর রাসূল, যার হাত আপনার নিকট পৌঁছেছে (অর্থাৎ যে আপনার উপকার করেছে), তার শুকরিয়া আদায় করা আমাদের ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বলতেন: তোমার সেই পঙক্তিগুলো শোনাও। তখন আমি বলতাম: [কামিল ছন্দে]
তোমার দুর্বলকে সাহায্য করো, তার দুর্বলতা যেন তোমাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে
… কোনো একদিন তার শুভ পরিণাম বৃদ্ধি পেয়ে তোমার নিকট ফিরে আসবে
সে তোমাকে প্রতিদান দেবে অথবা তোমার প্রশংসা করবে; আর যে
… তোমার কৃতকর্মের জন্য তোমার প্রশংসা করল, সে প্রকৃতপক্ষে প্রতিদানই দিল «৩»
আয়িশা (রা.) বলেন, তখন নবী আলাইহিস সালাম বলতেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে বলবেন: আমার অমুক বান্দা তোমার সাথে ভালো আচরণ করেছিল, তুমি কি তার শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে: হে রব, আমি জানতাম যে সেটি আপনার পক্ষ থেকে ছিল, তাই আমি আপনারই শুকরিয়া আদায় করেছি।
তিনি (নবী) বলেন, তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল বলবেন: «তুমি আমার শুকরিয়া আদায় করোনি, যেহেতু তুমি তার শুকরিয়া আদায় করোনি যার হাতের মাধ্যমে আমি তা সম্পন্ন করেছি» «৪»।
আর কবিতা সম্পর্কে নবী আলাইহিস সালামের জ্ঞানের বিষয়টি এমন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, সাওদা আবৃত্তি করেছিলেন «৫»:
আদি এবং তায়ম গোত্র মৈত্রী কামনা করছে; এতে আয়িশা ও হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মনে করলেন যে, তিনি তাদের বিদ্রূপ করছেন এবং তাদের মধ্যে এই বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাদের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: «তোমাদের দুর্ভোগ! এটি তোমাদের আদি «৬» কিংবা তোমাদের তায়ম «৭» গোত্র সম্পর্কে বলা হয়নি, বরং এটি তামীম গোত্রের আদি এবং তামীম গোত্রের তায়ম শাখা সম্পর্কে বলা হয়েছে»।
এই কবিতার অবশিষ্টাংশ যা বনু ইয়ারবু'র কায়স ইবনে মা'দান আল-কুলাইবির রচিত: [তওয়ীল ছন্দে]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فحالف، ولا والله تهبط تلعة
… من الأرض إلّا أنت للذّلّ عارف
ألا من رأى العبدين، أو ذكرا له؟
… عديّ وتيم تبتغي من تحالف «1»
وروى الزّبير بن بكّار «2» قال: مرّ رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه أبو بكر رضي الله عنه برجل يقول في بعض أزقّة مكة: [من الكامل]
يا أيّها الرجل المحوّل رحله
… هلّا نزلت بآل عبد الدّار
فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا أبا بكر، أهكذا قال الشاعر؟ قال: لا، يا رسول الله، ولكنه قال:
يا أيّها الرّجل المحوّل رحله
… هلّا سألت عن آل عبد مناف «3»
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هكذا كنّا نسمعها.
وأمّا ارتياحه صلى الله عليه وسلم للشعر واستحسانه له، فقد جاء فيه الخبر من وجوه. من ذلك حديث النّابغة الجعدي قال: أنشدت رسول الله صلى الله عليه وسلم قولي: [من الطويل]
بلغنا السّماء، مجدنا وجدودنا
… وإنّا لنرجو فوق ذلك مظهرا «4»
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أين المظهر يا أبا ليلى؟ فقلت: الجنّة، يا رسول الله. قال:
أجل إن شاء الله. ثم قال: أنشدني، فأنشدته من قولي:
ولا خير في حلم، إذا لم تكن له
… بوادر تحمي صفوه أن يكدّرا
ولا خير في جهل، إذا لم يكن له
… حليم إذا ما أورد الأمر أصدرا «5»
--------------------------------------------
সুতরাং তুমি মিত্রতা করো, আল্লাহর শপথ, তুমি জমিনের কোনো উচ্চভূমিতে অবতরণ করবে না
… তবে তুমি লাঞ্ছনার কাছে বশ্যতা স্বীকারকারী হবে।
সাবধান! সেই দুই দাসকে কে দেখেছে, অথবা কার কাছে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
… আদি এবং তায়িম গোত্র, তুমি কার সাথে মিত্রতা করতে চাচ্ছ? «১»
যুবায়ের ইবন বাক্কার «২» বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার কোনো এক গলিপথে যাচ্ছিলেন, তাঁর সাথে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন। তখন তাঁরা এক ব্যক্তিকে কবিতা বলতে শুনলেন: [কামিল ছন্দে]
হে ব্যক্তি! যে তার সওয়ারি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
… তুমি কেন আব্দুদ দার বংশের কাছে অবতরণ করলে না?
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে আবু বকর! কবি কি এভাবেই বলেছেন?" তিনি বললেন, "না, হে আল্লাহর রাসূল। বরং তিনি বলেছেন:
হে ব্যক্তি! যে তার সওয়ারি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
… তুমি কেন আব্দে মানাফ বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে না? «৩»
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমরা এভাবেই এটি শুনতাম।"
আর কবিতার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দ এবং এর প্রশংসা করার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো নাবিগাহ আল-জা'দির হাদীস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার এই কবিতাটি পাঠ করলাম: [তওয়ীল ছন্দে]
আমাদের মর্যাদা ও পূর্বপুরুষদের গৌরব আকাশচুম্বী হয়েছে
… আর আমরা এর চেয়েও উচ্চতর কোনো আরোহণের স্থানের আশা রাখি। «৪»
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু লায়লা! সেই আরোহণের স্থান কোথায়?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, তা হলো জান্নাত।" তিনি বললেন:
"হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ।" এরপর তিনি বললেন: "আমাকে আরও শোনাও।" তখন আমি তাকে আমার এই কবিতাটি শুনালাম:
সেই সহনশীলতায় কোনো কল্যাণ নেই, যার এমন কোনো
… তেজ নেই যা তার নির্মলতাকে ঘোলাটে হওয়া থেকে রক্ষা করে।
আর সেই অজ্ঞতায় কোনো কল্যাণ নেই, যার জন্য এমন কোনো
… সহনশীল ব্যক্তি নেই যে কোনো বিষয় উপস্থিত হলে তা সঠিকভাবে সমাধান করবে। «৫»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فقال صلى الله عليه وسلم: أجدت، لا يفضض الله فاك. قال الراوي: فنظرت إليه، فكأنّ فاه البرد المنهلّ، ما سقطت له سنّ ولا انفلّت، ترفّ غروبه «1».
ومن ذلك حديث كعب بن زهير. روي أن كعبا وأخاه بجيرا خرجا إلى رسول صلى الله عليه وسلم حتى بلغا أبرق العزّاف «2»، فقال كعب لبجير: الق هذا الرجل وأنا مقيم هاهنا، فانظر ما يقول. وقدم بجير على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعرض عليه الإسلام فأسلم، وبلغ ذلك كعبا، فقال فى ذلك شعرا، فأهدر النبي صلى الله عليه وسلم دمه فكتب إليه بجبر يأمره أن يسلم ويقبل إلى النبي صلى الله عليه وسلم ويقول إنّ من شهد أن لا الله وأن محمدا رسول الله، قبل منه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسقط ما كان قبل ذلك قال: فقدم كعب وأنشد النبي صلى الله عليه وسلم قصيدته المعروفة:
بانت سعاد فقلبي اليوم متبول
… متيّم إثرها، لم يفد، مغلول
وما سعاد غداة البين إذ رحلت
… إلّا أغنّ غضيض الطّرف مكحول
تجلو عوارض ذي ظلم إذا ابتسمت
… كأنّه منهل بالرّاح معلول
سحّ السّقاة عليها ماء محنية
… من ماء أبطح أضحى وهو مشمول
ويلمها خلّة لو أنّها صدقت
… موعودها، أو لو أنّ النّصح مقبول «3»
--------------------------------------------
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি চমৎকার বলেছ, আল্লাহ তোমার মুখকে দাঁতহীন না করুন (অর্থাৎ তোমার দাঁতসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখুন)।” বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তাঁর মুখগহ্বর যেন বর্ষিত শিলাবৃষ্টির মতো শুভ্র ও উজ্জ্বল ছিল; তাঁর কোনো দাঁত পড়েনি বা ভাঙেনি, বরং তাঁর দাঁতের অগ্রভাগগুলো উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছিল «১»।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কা’ব ইবনে জুহাইরের হাদিস। বর্ণিত আছে যে, কা’ব এবং তার ভাই বুজাইর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিমুখে যাত্রা করেন এবং আবরাকুল আজ্জাফ নামক স্থানে পৌঁছান «২», অতঃপর কা’ব বুজাইরকে বললেন: “তুমি এই লোকটির (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করো, আমি এখানে অবস্থান করছি, দেখো তিনি কী বলেন।” অতঃপর বুজাইর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তিনি তার সামনে ইসলাম পেশ করলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এই সংবাদ কা’বের নিকট পৌঁছালে তিনি এ বিষয়ে কবিতা (নিন্দা করে) রচনা করলেন, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্ত বৈধ (তাকে হত্যার নির্দেশ) ঘোষণা করলেন। তখন বুজাইর তাকে এই মর্মে পত্র লিখলেন যেন সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়। তিনি আরও লিখলেন যে, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেন এবং ইতিপূর্বে যা হয়েছে তা মিটিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর কা’ব উপস্থিত হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সেই প্রসিদ্ধ কাসিদা শোনালেন:
সুয়াদ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আজ আমার অন্তর ব্যথিত
… তার পিছে মোহগ্রস্ত, মুক্তিপণহীন ও শৃঙ্খলিত।
বিচ্ছেদের প্রভাতে সুয়াদ যখন চলে গেল, তখন সে
… সুললিত কণ্ঠের সলাজ ও সুরমা মাখা হরিণীর মতো ছিল।
সে যখন হাসে, তখন তার উজ্জ্বল দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়
… যেন তা সুরা মিশ্রিত শীতল সুপেয় পানিতে সিক্ত।
বর্ষণকারী মেঘমালা যার উপর উপত্যকার বাঁকের পানি বর্ষণ করেছে
… সেই আবতাহ-এর স্বচ্ছ পানি যা উত্তরীয় বাতাসে শীতল হয়েছে।
আফসোস তার বন্ধুত্বের প্রতি! যদি সে তার প্রতিশ্রুতি
… রক্ষা করত, অথবা যদি সদুপদেশ গ্রহণ করা হতো «৩»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
حتى أتى على آخرها، فلما بلغ مديح رسول الله صلى الله عليه وسلم:
إنّ الرّسول لسيف يستضاء به
… مهنّد من سيوف الله مسلول
في فتية من قريش قال قائل
… ببطن مكّة، لمّا أسلموا: زولوا
زالوا، فما زال أنكاس ولا كشف
… عند اللقاء، ولا ميل معازيل
لا يقع الطّعن إلّا في نحورهم
… وما بهم عن حياض الموت تهليل
شمّ العرانين أبطال، لبوسهم
… من نسج داود في الهيجا، سرابيل «1»
أشار رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحلق أن اسمعوا. قال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون من أصحابه مكان المائدة من القوم، يتحلّقون حلقة دون حلقة، فيلتفت إلى هؤلاء وإلى هؤلاء.
والأخبار فيما يشبه هذا كثيرة، والأثر به مستفيض.
وإن زعم أنه ذمّ الشعر من حيث هو موزون مقفّى، حتى كأنّ الوزن عيب، وحتى كأن الكلام إذا نظم نظم الشعر، اتّضع في نفسه، وتغيرت حاله، فقد أبعد، وقال قولا لا يعرف له معنى، وخالف العلماء في قولهم: «إنّما الشّعر كلام فحسنه حسن، وقبيحه قبيح» «2»، وقد روي ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا أيضا.
فإن زعم أنه إنّما كره الوزن، لأنه سبب، لأن يتغنّى في الشعر ويتلهّى به، فإنّا إذا كنا لم ندعه إلى الشعر من أجل ذلك، وإنما دعوناه إلى اللّفظ الجزل، والقول الفصل، والمنطق الحسن، والكلام البيّن، وإلى حسن التمثيل والاستعارة، وإلى التلويح والإشارة، وإلى صنعة تعمد إلى المعنى الخسيس فتشرّفه، وإلى الضّئيل فتفخّمه، وإلى النّازل فترفعه، وإلى الخامل فتنوّه به، وإلى العاطل «3» فتحلّيه، وإلى المشكل فتجلّيه، فلا متعلّق له علينا بما ذكر، ولا ضرر علينا فيما أنكر، فليقل في الوزن ما شاء،
--------------------------------------------
এমনকি যখন তিনি এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন, যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসামূলক অংশে পৌঁছালেন:
নিশ্চয়ই রাসূল হলেন এমন এক তরবারি যার দ্বারা আলোকবর্তিকা পাওয়া যায়
… আল্লাহর তরবারিগুলোর মধ্যে হিন্দুস্তানী এক কোষমুক্ত তরবারি।
কুরাইশের একদল যুবকের মধ্যে এক বক্তা
… মক্কার অভ্যন্তরে বলেছিলেন, যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন: তোমরা প্রস্থান করো।
তারা প্রস্থান করলেন, যুদ্ধের ময়দানে তারা দুর্বল বা কাপুরুষ ছিলেন না
… আর তারা লক্ষ্যচ্যুত বা অস্ত্রহীনও ছিলেন না।
আঘাত কেবল তাদের কণ্ঠনালীতেই পতিত হয়
… আর মৃত্যুর কূয়া থেকে ফিরে আসার কোনো দ্বিধা তাদের নেই।
উন্নত নাসিকার বীর তারা, যুদ্ধের ময়দানে
… তাদের পোশাক দাউদের বুনন করা বর্ম। «১»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকাহ বা বৃত্তগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন যে, তোমরা শোনো। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মাঝে এমনভাবে অবস্থান করতেন যেমনটি মজলিসে দস্তরখানের স্থান হয়; তারা একের পর এক বৃত্ত হয়ে বসতেন এবং তিনি এদের দিকে ও তাদের দিকে মনোযোগ দিতেন।
এই জাতীয় সংবাদের সংখ্যা অনেক এবং এ সংক্রান্ত বর্ণনা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
যদি কেউ দাবি করে যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবিতার ছন্দ ও অন্ত্যমিল হওয়ার কারণে একে নিন্দা করেছেন—যেন ছন্দ একটি ত্রুটি, আর কথা যখন কবিতায় বিন্যস্ত হয় তখন তা নিজ সত্তায় তুচ্ছ হয়ে যায় এবং তার অবস্থা পরিবর্তিত হয়—তবে সে সত্য থেকে দূরে সরে গেল। সে এমন কথা বলল যার কোনো অর্থ পাওয়া যায় না এবং সে আলেমদের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করল যে: «কবিতা তো কেবলই কথা; এর ভালোটা ভালো এবং মন্দটা মন্দ» «২», এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আর যদি সে দাবি করে যে তিনি ছন্দ অপছন্দ করেছেন কারণ এটি কবিতায় সুর দেওয়া বা আমোদ-প্রমোদে মেতে ওঠার মাধ্যম, তবে উত্তর হলো—আমরা তাকে এই উদ্দেশ্যে কবিতার দিকে আহ্বান জানাই না। বরং আমরা তাকে আহ্বান জানাই গাম্ভীর্যপূর্ণ শব্দাবলী, অকাট্য কথা, সুন্দর যুক্তি, স্পষ্ট ভাষা, চমৎকার উপমা ও রূপক এবং ইশারা-ইঙ্গিতের দিকে। এমন এক শিল্পের দিকে যা নগণ্য বিষয়কে মহিমান্বিত করে, ক্ষুদ্রকে বিশাল করে, নিম্নমানের বিষয়কে উচ্চে তুলে ধরে, অখ্যাতকে পরিচিত করে, অলঙ্কারহীনকে সজ্জিত করে এবং জটিল বিষয়কে সুস্পষ্ট করে। সুতরাং সে যা উল্লেখ করেছে সে বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে তার কোনো যুক্তি নেই এবং সে যা অস্বীকার করেছে তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। ছন্দের বিষয়ে সে যা ইচ্ছা বলতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وليضعه حيث أراد، فليس يعنينا أمره، ولا هو مرادنا من هذا الذي راجعنا القول فيه.
وهذا هو الجواب لمتعلق إن تعلّق بقوله تعالى: وَما عَلَّمْناهُ الشِّعْرَ وَما يَنْبَغِي لَهُ [يس: 69]، وأراد أن يجعله حجّة في المنع من الشعر، ومن حفظه وروايته.
وذاك أنّا نعلم أنه صلى الله عليه وسلم لم يمنع الشعر من أجل أن كان قولا فصلا، وكلاما جزلا، ومنطقا حسنا، وبيانا بيّنا، كيف؟ وذلك يقتضي أن يكون الله تعالى قد منعه البيان والبلاغة، وحماه الفصاحة والبراعة، وجعله لا يبلغ مبلغ الشعراء في حسن العبارة وشرف اللفظ. وهذا جهل عظيم، وخلاف لما عرفه البلغاء وأجمعوا عليه من أنّه صلى الله عليه وسلم كان أفصح العرب، وإذا بطل أن يكون المنع من أجل هذه المعاني، وكنا قد أعلمناه أنّا ندعوه إلى الشعر من أجلها، ونجدوه بطلبه على طلبها، كان الاعتراض بالآية محالا والتعلّق بها خطلا من الرأي وانحلالا.
فإن قال: إذا قال الله تعالى: وَما عَلَّمْناهُ الشِّعْرَ وَما يَنْبَغِي لَهُ [يس: 69]، فقد كره للنبي صلى الله عليه وسلم الشعر ونزّهه عنه بلا شبهة، وهذه الكراهة وإن كانت لا تتوجّه إليه من حيث هو كلام، ومن حيث أنه بليغ بيّن وفصيح حسن ونحو ذلك، فإنها تتوجّه إلى أمر لا بدّ لك من التلبّس به في طلب ما ذكرت أنه مرادك من الشعر، وذلك أنه لا سبيل لك إلى أن تميّز كونه كلاما عن كونه شعرا، حتى إذا رويته التبست به من حيث هو كلام، ولم تلتبس به من حيث هو شعر، هذا محال، وإذا كان لا بدّ من ملابسة موضع الكراهة، فقد لزم العيب برواية الشّعر وإعمال اللّسان فيه.
قيل له: هذا منك كلام لا يتحصّل. وذلك أنه لو كان الكلام إذا وزن حطّ ذلك من قدره، وأزرى به، وجلب على المفرغ له في ذلك القالب إثما، وكسبه ذمّا، لكان من حقّ العيب فيه أن يكون على واضع الشّعر، أو من يريده لمكان الوزن خصوصا، دون من يريده لأمر خارج منه، ويطلبه لشيء سواه.
فأمّا قولك: إنك لا تستطيع أن تطلب من الشعر ما لا يكره حتى تلتبس بما يكره، فإني إذا لم أقصده من أجل ذلك المكروه، ولم أرده له، وأردته لأعرف به مكان بلاغة، وأجعله مثالا في براعة، أو أحتجّ به في تفسير كتاب وسنّة، وأنظر إلى نظمه ونظم القرآن، فأرى موضع الإعجاز، وأقف على الجهة التي منها كان، وأتبيّن الفصل والفرقان، فحقّ «1» هذا التلبّس أن لا يعتدّ عليّ ذنبا، وأن لا أؤاخذ به، إذ لا تكون مؤاخذة حتى يكون عمد إلى أن تواقع المكروه وقصد «2» إليه، وقد تتبع العلماء الشّعوذة والسحر، وعنوا بالتوقّف على حيل المموّهين، ليعرفوا فرق ما بين
--------------------------------------------
তিনি একে যেখানে ইচ্ছা রাখুন, তাঁর বিষয়টি আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়, এবং আমরা যা নিয়ে আলোচনা পুনর্বিবেচনা করছি তা আমাদের উদ্দেশ্যও নয়।
আর এটিই সেই ব্যক্তির উত্তর, যে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাথে সম্পর্কযুক্ত করতে চায়: "আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয়ও নয়" [ইয়াসিন: ৬৯], এবং সে একে কবিতা নিষিদ্ধ করার এবং তা মুখস্থ ও বর্ণনা করার ব্যাপারে দলিল হিসেবে পেশ করতে চায়।
আর তা এই কারণে যে, আমরা জানি যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবিতাকে এজন্য নিষিদ্ধ করেননি যে তা ছিল মীমাংসাকারী কথা, সাবলীল বক্তব্য, সুন্দর আলাপ কিংবা স্পষ্ট বর্ণনা। তা কীভাবে সম্ভব? কারণ এর অর্থ দাঁড়াবে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে বর্ণনাভঙ্গি ও অলঙ্কারশাস্ত্র থেকে বিরত রেখেছেন এবং তাঁকে বাকপটুতা ও পারদর্শিতা থেকে রক্ষা করেছেন, আর তাঁকে উত্তম প্রকাশভঙ্গি ও শব্দের আভিজাত্যের ক্ষেত্রে কবিদের পর্যায়ে পৌঁছাতে দেননি। এটি এক বিরাট মূর্খতা এবং আলঙ্কারিকদের জ্ঞাত ও সর্বসম্মত বিষয়ের পরিপন্থী, যা হলো—তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন আরবদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী। যখন এটি বাতিল সাব্যস্ত হলো যে নিষেধ করাটা এই গুণাবলির কারণে ছিল, অথচ আমরা জানিয়েছি যে আমরা এই গুণাবলির কারণেই কবিতার দিকে আহ্বান করি এবং তা অন্বেষণের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো অর্জনে তাকে সাহায্য করি, তখন এই আয়াতের মাধ্যমে আপত্তি তোলা অসম্ভব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া একটি ভ্রান্ত মত ও বিচ্যুতির শামিল।
যদি কেউ বলে: যখন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয় নয়" [ইয়াসিন: ৬৯], তখন তিনি নিঃসন্দেহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য কবিতাকে অপছন্দ করেছেন এবং তাঁকে তা থেকে পবিত্র রেখেছেন। আর এই অপছন্দনীয়তা যদিও কথা হিসেবে এবং তা সাবলীল, স্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও সুন্দর হওয়ার দিক থেকে তাঁর প্রতি নির্দেশিত নয়, তবুও তা এমন একটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশিত যা ছাড়া আপনার পক্ষে কবিতার যে উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা অর্জন করা সম্ভব নয়। তা হলো—কথা হওয়া এবং কবিতা হওয়া এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার কোনো পথ আপনার নেই। ফলে যখনই আপনি তা বর্ণনা করবেন, কথা হিসেবে যেমন আপনি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হবেন, কবিতা হিসেবেও তেমনি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে বাধ্য হবেন—এটি অসম্ভব যে আপনি শুধু কথা হিসেবে সংশ্লিষ্ট হবেন আর কবিতা হিসেবে হবেন না। আর যখন অপছন্দনীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন কবিতা বর্ণনা করা এবং তাতে জিহ্বাকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে ত্রুটি সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়।
তাকে বলা হবে: আপনার এই কথাটি অসার। কারণ, কথা যদি ছন্দোবদ্ধ হওয়ার কারণে তার মান ক্ষুণ্ণ হতো, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করত এবং যে ব্যক্তি কথাকে সেই ছাঁচে ঢেলে দেয় তার জন্য পাপ বয়ে আনত ও তাকে নিন্দিত করত, তবে সেক্ষেত্রে এই ত্রুটিটি বিশেষ করে কবিতা রচয়িতা বা ছন্দোবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যে তা চায় তার ওপর বর্তানোই সংগত ছিল, কিন্তু যে ব্যক্তি এর বাইরের কোনো উদ্দেশ্যে তা চায় বা অন্য কিছুর জন্য তা অন্বেষণ করে তার ওপর নয়।
আর আপনার বক্তব্য: আপনি কবিতা থেকে অপছন্দনীয় নয় এমন অংশটুকু অন্বেষণ করতে পারবেন না যতক্ষণ না অপছন্দনীয় অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট হচ্ছেন—এর উত্তর হলো, আমি যদি সেই অপছন্দনীয় উদ্দেশ্যে কবিতা অন্বেষণ না করি এবং সেটির জন্য তা না চাই, বরং আমি তা চাই এর মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্রের স্থান জানতে এবং একে পারদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করতে, অথবা কিতাব ও সুন্নাহর তাফসিরে একে দলিল হিসেবে পেশ করতে, এবং এর বিন্যাস ও কুরআনের বিন্যাসের দিকে দৃষ্টিপাত করতে যাতে আমি অলৌকিকত্বের স্থানসমূহ দেখতে পাই এবং যে দিক থেকে তা সাধিত হয়েছে তা অবগত হতে পারি, আর সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করতে পারি—তবে এই সংশ্লিষ্টতাকে আমার বিরুদ্ধে পাপ হিসেবে গণ্য না করাই সংগত এবং এর জন্য আমাকে পাকড়াও না করাই উচিত। কারণ, যতক্ষণ না কেউ স্বেচ্ছায় কোনো অপছন্দনীয় কাজে লিপ্ত হওয়ার সংকল্প করে এবং সেদিকে ধাবিত হয়, ততক্ষণ পাকড়াও করার অবকাশ থাকে না। আর আলিমগণ ভেলকিবাজি ও জাদুকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রতারকদের কৌশলসমূহ অবগত হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে তারা পার্থক্য বুঝতে পারেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
المعجزة والحيلة، فكان ذلك منهم من أعظم البرّ؛ إذ كان الغرض كريما والقصد شريفا.
هذا، وإذا نحن رجعنا إلى ما قدّمنا من الأخبار، وما صحّ من الآثار، وجدنا الأمر على خلاف ما ظنّ هذا السائل، ورأينا السبيل في منع النبي صلى الله عليه وسلم الوزن، وأن ينطلق لسانه بالكلام الموزون، غير ما ذهبوا إليه، وذاك أنّه لو كان منع تنزيه وكراهة، لكان ينبغي أن يكره له سماع الكلام موزونا، وأن ينزّه سمعه عنه كما نزّه لسانه، ولكان صلى الله عليه وسلم لا يأمر به ولا يحثّ عليه، وكان الشاعر لا يعان على وزن الكلام وصياغته شعرا، ولا يؤيّد فيه بروح القدس.
وإذا كان هذا كذلك، فينبغي أن يعلم أن ليس المنع في ذلك منع تنزيه وكراهة، بل سبيل الوزن في منعه عليه السلام إياه سبيل الخطّ، حين جعل عليه السلام لا يقرأ ولا يكتب، في أن لم يكن المنع من أجل كراهة كانت في الخطّ، بل لأن تكون الحجة أبهر وأقهر، والدلالة أقوى وأظهر، ولتكون أكعم «1» للجاحد، وأقمع للمعاند، وأردّ لطالب الشبهة، وأمنع من ارتفاع الريبة.
وأما التعلّق بأحوال الشعراء بأنه قد ذمّوا في كتاب الله تعالى، فما أرى عاقلا يرضى به أن يجعله حجّة في ذمّ الشعر وتهجينه، والمنع من حفظه وروايته، والعلم بما فيه من بلاغة، وما يختصّ به من أدب وحكمة، ذاك لأنه يلزم على قود «2» هذا القول أن يعيب العلماء في استشهادهم بشعر امرئ القيس وأشعار أهل الجاهليّة في تفسير القرآن، وفي غريبه وغريب الحديث، وكذلك يلزمه أن يدفع سائر ما تقدّم ذكره من أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالشّعر، وإصغائه إليه، واستحسانه له.
هذا ولو كان يسوغ ذمّ القول من أجل قائله، وأنه يحمل ذنب الشاعر على الشعر، لكان ينبغي أن يخصّ ولا يعمّ، وأن يستثنى، فقد قال الله عز وجل: إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيراً [الشعراء: 227]. ولولا أن القول يجرّ بعضه بعضا، وأنّ الشيء يذكر لدخوله في القسمة، لكان حقّ هذا ونحوه أن لا يتشاغل به، وأن لا يعاد ويبدأ في ذكره.
وأمّا زهدهم في النحو واحتقارهم له، وإصغارهم أمره، وتهاونهم به، فصنيعهم
--------------------------------------------
অলৌকিকত্ব এবং কৌশল; এটি ছিল তাদের পক্ষ থেকে এক মহান পুণ্যকাজ, কারণ এর উদ্দেশ্য ছিল মহৎ এবং লক্ষ্য ছিল সম্মানিত।
বিষয়টি হলো, আমরা যদি ইতিপূর্বে পেশকৃত বর্ণনা এবং সহিহ আসারসমূহের (পূর্বসূরীদের বাণী) দিকে ফিরে তাকাই, তবে আমরা বিষয়টিকে এই প্রশ্নকারীর ধারণার বিপরীতে দেখতে পাব। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ছন্দোবদ্ধ কথা (ওজন) বলা থেকে বিরত রাখা এবং তাঁর জিহ্বা দিয়ে ছন্দোবদ্ধ বচন উচ্চারিত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমরা যা লক্ষ্য করেছি, তা তাদের ধারণা থেকে ভিন্ন। আর তা এই কারণে যে, এই নিষেধাজ্ঞা যদি কেবল পবিত্রতা রক্ষা (তানজিহ) এবং অপছন্দনীয়তার (কারাহাত) কারণে হতো, তবে ছন্দোবদ্ধ কথা শোনাও তাঁর জন্য অপছন্দনীয় হওয়া উচিত ছিল এবং যেভাবে তাঁর জিহ্বাকে এর থেকে পবিত্র রাখা হয়েছে, তেমনিভাবে তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয়কেও এর থেকে পবিত্র রাখা হতো। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাব্যচর্চার নির্দেশ দিতেন না এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন না। আর কবিকে কথার ছন্দ ঠিক করতে ও তা কবিতার ছাঁচে তৈরি করতে সাহায্য করা হতো না এবং রুহুল কুদুস (জিবরাঈল আ.-এর) মাধ্যমে তাকে সমর্থন দেওয়া হতো না।
আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন এটি জেনে রাখা উচিত যে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল পবিত্রতা রক্ষা বা অপছন্দনীয়তার কারণে নয়। বরং ছন্দোবদ্ধ কথা থেকে তাঁকে (আলাইহিস সালাম) বিরত রাখা ছিল লিখনশৈলী (খত) থেকে তাঁকে বিরত রাখার মতোই। যখন তাঁকে এমন অবস্থায় রাখা হয়েছিল যে তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না; তখন এই বারণ লিখনশৈলীর প্রতি কোনো অপছন্দের কারণে ছিল না, বরং তা ছিল এই জন্য যেন দলিল-প্রমাণ অধিকতর উজ্জ্বল ও পরাক্রমশালী হয়, নিদর্শন অধিকতর শক্তিশালী ও প্রকাশ্য হয়, অস্বীকারকারীর মুখ অধিকতর বন্ধকারী (১) হয়, বিদ্বেষীকে দমনে অধিকতর কঠোর হয়, সন্দেহ অন্বেষণকারীর দাঁতভাঙ্গা জবাব হয় এবং সংশয় সৃষ্টিতে অধিকতর প্রতিবন্ধক হয়।
আর কবিদের অবস্থার ওপর নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার কিতাবে তাদের যে নিন্দা করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি মনে করি না যে, কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কবিতাকে মন্দ বলা ও তা তুচ্ছজ্ঞান করার ক্ষেত্রে, অথবা কবিতা মুখস্থ ও বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে, কিংবা কবিতার অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য ও প্রজ্ঞার জ্ঞান অর্জন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে সন্তুষ্ট হবেন। কারণ, এই যুক্তির ধারা (২) অনুযায়ী কুরআন মাজিদের তাফসিরে এবং কুরআনের অপ্রচলিত শব্দ (গারিবুল কুরআন) ও হাদিসের অপ্রচলিত শব্দের (গারিবুল হাদিস) ব্যাখ্যায় ইমরুল কায়েসের কাব্য ও জাহেলি যুগের কবিদের কাব্য থেকে আলেমদের দলিল পেশ করাকেও দোষারোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তেমনিভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক কাব্যচর্চার নির্দেশ দেওয়া, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাকে পছন্দ করা সংক্রান্ত ইতিপূর্বে বর্ণিত বিষয়গুলোকেও অস্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়বে।
বক্তার কারণে তার বক্তব্যকে মন্দ বলা যদি বৈধ হতো এবং কবির পাপের দায় যদি কবিতার ওপর চাপানো হতো, তবে তা সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত ছিল, ব্যাপক নয়; এবং সেখানে ব্যতিক্রম থাকাও আবশ্যক ছিল। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে" [আশ-শুআরা: ২২৭]। আর কথা যদি কথার পিঠে না আসত এবং বিষয়টি যদি বিভাজনের (আলোচনার শ্রেণিবিভাগের) খাতিরে না আসত, তবে এই জাতীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হওয়াই ছিল সংগত এবং তা বারবার পুনরাবৃত্তি বা নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন ছিল না।
আর নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের প্রতি তাদের অনীহা, একে তুচ্ছজ্ঞান করা, এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখা এবং এর প্রতি তাদের অবজ্ঞা—তাদের এই আচরণটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
في ذلك أشنع من صنيعهم في الذي تقدّم، وأشبه بأن يكون صدّا عن كتاب الله، وعن معرفة معانية، ذاك لأنهم لا يجدون بدّا من أن يعترفوا بالحاجة إليه فيه؛ إذ كان قد علم أنّ الألفاظ مغلقة على معانيها حتى يكون الإعراب هو الذي يفتحها، وأنّ الأغراض كامنة فيها حتى يكون هو المستخرج لها، وأنه المعيار الذي لا يتبيّن نقصان كلام ورجحانه حتى يعرض عليه، والمقياس الذي لا يعرف صحيح من سقيم حتى يرجع إليه، لا ينكر ذلك إلّا من ينكر حسّه، وإلا من غالط في الحقائق نفسه، وإذا كان الأمر كذلك، فليت شعري ما عذر من تهاون به وزهد فيه، ولم ير أن يستقيه من مصبّه، ويأخذه من معدنه، ورضي لنفسه بالنقص والكمال لها معرض، وآثر الغبينة وهو يجد إلى الرّبح سبيلا.
فإن قالوا: إنّا لم نأب صحّة هذا العلم، ولم ننكر مكان الحاجة إليه في معرفة كتاب الله تعالى، وإنما أنكرنا أشياء كثّر تموه بها، وفضول قول تكلّفتموها، ومسائل عويصة تجشّمتم الفكر فيها، ثم لم تحصلوا على شيء أكثر من أن تغربوا على السامعين، وتعايوا بها الحاضرين.
قيل لهم: خبرونا عمّا زعمتم أنه فضول قول، وعويص لا يعود بطائل، ما هو؟
فإن بدءوا فذكروا مسائل التصريف التي يضعها النحويون للرياضة، ولضرب من تمكين المقاييس في النفوس، كقولهم: كيف تبني من كذا كذا؟ وكقولهم: ما وزن كذا؟ - وتتبّعهم في ذلك الألفاظ الوحشيّة،، كقولهم: ما وزن «عزويت» «1»؟ وما وزن «أرونان» «2»؟ وكقولهم في باب ما لا ينصرف: لو سميت رجلا بكذا، كيف يكون الحكم؟ - وأشباه ذلك، وقالوا: أتشكّون أنّ ذلك لا يجدي إلّا كدّ الفكر وإضاعة الوقت؟.
قلنا لهم: أمّا هذا الجنس، فلسنا نعيبكم إن لم تنظروا فيه ولم تعنوا به، وليس يهمّنا أمره، فقولوا: فيه ما شئتم، وضعوه حيث أردتم، فإن تركوا ذلك وتجاوزوه إلى الكلام على أغراض واضع اللغة، على وجه الحكمة في الأوضاع، وتقرير المقاييس التي اطّردت عليها، وذكر العلل التي اقتضت أن تجرى على ما أجريت عليه، كالقول
--------------------------------------------
এ বিষয়ে তাদের কর্মকাণ্ড পূর্বোক্ত বিষয়ের চেয়েও জঘন্য এবং এটি আল্লাহর কিতাব ও তার অর্থ অনুধাবন থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ারই নামান্তর। কারণ, তারা এটি স্বীকার করতে বাধ্য যে এর (কিতাবের) ক্ষেত্রেও ব্যাকরণের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এটি জানা কথা যে, শব্দসমূহ তাদের অর্থের ওপর তালাবদ্ধ থাকে যতক্ষণ না ব্যাকরণ (ইরাব) এসে তা উন্মুক্ত করে। আর উদ্দেশ্যসমূহ তাতে নিহিত থাকে যতক্ষণ না ব্যাকরণ তা নিংড়ে বের করে। এটি এমন এক মানদণ্ড যার নিকট পেশ করা ছাড়া কোনো কথার ত্রুটি বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না, এবং এটি এমন এক পরিমাপক যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়া কোনোটি শুদ্ধ আর কোনোটি অশুদ্ধ তা চেনা যায় না। কেবল সেই ব্যক্তিই একে অস্বীকার করতে পারে যে নিজের ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানকে অস্বীকার করে, অথবা যে নিজের নফসের সাথে সত্যের বিষয়ে প্রতারণা করে। আর যখন বিষয়টি এমন, তবে আমি জানিনা সেই ব্যক্তির অজুহাত কী হতে পারে যে একে অবজ্ঞা করে এবং এতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, আর একে এর মূল উৎস থেকে গ্রহণ করতে চায় না? সে নিজের জন্য অপূর্ণতাকে বেছে নিল অথচ তার সামনে পূর্ণতার সুযোগ ছিল, এবং সে লোকসানকেই অগ্রাধিকার দিল অথচ তার সামনে লাভের পথ উন্মুক্ত ছিল।
যদি তারা বলে: আমরা এই ইলমের সঠিকতাকে প্রত্যাখ্যান করছি না, এবং মহান আল্লাহর কিতাব বোঝার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করছি না; আমরা কেবল সেই বিষয়গুলোকে অস্বীকার করছি যা দ্বারা তোমরা বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছ, এবং সেই অতিরিক্ত কথাবার্তাকে যা তোমরা কষ্ট করে তৈরি করেছ, আর সেই সব জটিল মাসআলাকে যার চিন্তায় তোমরা নিজেদের নিয়োজিত করেছ; অথচ পরিশেষে তোমরা শ্রোতাদের কাছে অদ্ভুত কিছু পেশ করা এবং উপস্থিতদের বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারোনি।
তাদের বলা হবে: তোমরা যে বিষয়টিকে অতিরিক্ত কথা এবং নিরর্থক জটিলতা বলে দাবি করছ, তা কী তা আমাদের জানাও।
যদি তারা শুরুতেই সরফ বা রূপান্তরের সেই মাসআলাগুলো উল্লেখ করে যা ব্যাকরণবিদগণ কেবল অনুশীলনের জন্য এবং অন্তরে ভাষাগত নীতিগুলো সুদৃঢ় করার জন্য তৈরি করেছেন; যেমন তাদের বলা: অমুক শব্দ থেকে অমুক শব্দটি কীভাবে গঠন করবে? এবং তাদের কথা: অমুক শব্দের ওজন কী? এবং এ ক্ষেত্রে অপরিচিত ও অদ্ভুত শব্দসমূহ অনুসন্ধান করা; যেমন তাদের জিজ্ঞাসা: ‘আযওয়িত’ (১) শব্দের ওজন কী? ‘আরওনান’ (২) শব্দের ওজন কী? এবং ‘গায়রে মুনসারিফ’ (যে শব্দে তানভীন হয় না) অধ্যায়ে তাদের কথা: যদি তুমি কোনো ব্যক্তির নাম অমুক রাখো, তবে তার বিধান কী হবে? - এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ; আর তারা যদি বলে: তোমরা কি এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করো যে, এসব মেধার অপচয় এবং সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কোনো উপকারে আসে না?
আমরা তাদের বলব: এই প্রকারের মাসআলার ক্ষেত্রে তোমরা যদি এতে দৃষ্টিপাত না করো বা এর প্রতি গুরুত্ব না দাও, তবে আমরা তোমাদের দোষ দেব না এবং এটি আমাদের নিকট কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সুতরাং এ সম্পর্কে তোমরা যা ইচ্ছা তা বলো এবং একে যেখানে ইচ্ছা সেখানে স্থান দাও। কিন্তু তারা যদি এই বিষয়গুলো ত্যাগ করে ভাষার রচয়িতার উদ্দেশ্যের ওপর আলোচনার দিকে ধাবিত হয়—ভাষার বিন্যাসের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞার দিক থেকে, এবং যে নীতিগুলোর ওপর ভাষা পরিচালিত হয়েছে তা সুসংহত করার দিক থেকে, আর সেই সব কারণ উল্লেখ করার দিক থেকে যা ভাষাকে তার নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করা আবশ্যক করে দেয়, যেমন এ কথা বলা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায ত হিন্দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
في المعتلّ، وفيما يلحق الحروف الثلاثة التي هي الواو والياء والألف من التغيير بالإبدال والحذف والإسكان، أو ككلامنا مثلا على التثنية وجمع السلامة، لم كان إعرابهما على خلاف إعراب الواحد، ولم تبع النصب فيهما الجرّ؟ وفي «النون» أنّه عوض عن الحركة والتنوين في حال، وعن الحركة وحدها في حال.
والكلام على ما ينصرف وما لا ينصرف، ولم كان منع الصرف؟ وبيان العلّة فيه، والقول على الأسباب التّسعة وأنها كلّها ثوان لأصول، وأنه إذا حصل منها اثنان في اسم،
أو تكرّر سبب، صار بذلك ثانيا من جهتين، وإذا صار كذلك أشبه الفعل، لأن الفعل ثان للاسم، والاسم المقدّم والأوّل، وكلّ ما جرى هذا المجرى؟.
قلنا: إنّا نسكت عنكم في هذا الضرب أيضا، نعذركم فيه ونسامحكم على علم منّا بأن قد أسأتم الاختيار، ومنعتم أنفسكم ما فيه الحظّ لكم، ومنعتموها الاطّلاع على مدارج الحكمة، وعلى العلوم الجمّة. فدعوا ذلك، وانظروا في الذي اعترفتم بصحّته وبالحاجة إليه، هل حصلتموه على وجهه؟ وهل أحطتم بحقائقه؟
وهل وفّيتم كل باب منه حقّه، وأحكمتموه إحكاما يؤمنكم الخطأ فيه إذا أنتم خضتم في التفسير، وتعاطيتم على التأويل، ووازنتم بين بعض الأقوال وبعض، وأردتم أن تعرفوا الصّحيح من السقيم، وعدتم في ذلك وبدأتم، وزدتم ونقصتم؟.
وهل رأيتم؛ إذ قد عرفتم صورة المبتدأ والخبر، وأن إعرابهما الرفع، أن تتجاوزوا ذلك إلى أن تنظروا في أقسام خبره، فتعلموا أنه يكون مفردا وجملة، وأن المفرد ينقسم إلى ما يحتمل ضميرا له، وإلى ما لا يحتمل الضمير، وأنّ الجملة على أربعة أضرب، وأنه لا بدّ لكل جملة وقعت خبرا لمبتدإ من أن يكون فيها ذكر يعود إلى المبتدأ، وأن هذا الذّكر ربما حذف لفظا وأريد معنى، وأنّ ذلك لا يكون حتى يكون في الحال دليل عليه، إلى سائر ما يتّصل بباب الابتداء من المسائل اللطيفة والفوائد الجليلة التي لا بدّ منها؟.
وإذا نظرتم في الصّفة مثلا، فعرفتم أنها تتبع الموصوف، وأنّ مثالها قولك:
«جاءني رجل ظريف» و «مررت بزيد الظريف»، هل ظننتم أنّ وراء ذلك علما، وأنّ هاهنا صفة تخصّص، وصفة توضّح وتبيّن، وأن فائدة التّخصيص غير فائدة التوضيح، كما أنّ فائدة الشّياع «1» غير فائدة الإبهام، وأن من الصفة صفة لا يكون فيها
--------------------------------------------
ইল্লতযুক্ত শব্দে, এবং ওয়াও, ইয়া ও আলিফ—এই তিনটি হরফ আবদাল (পরিবর্তন), হজফ (বিলোপ) ও ইসকান (স্থিরকরণ) জনিত যে পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়, সেই সম্পর্কে; অথবা যেমন দ্বিবচন ও জমা সালেম (নিরাপদ বহুবচন) সম্পর্কে আমাদের আলোচনা, কেন এগুলোর বিভক্তি একবচনের বিভক্তির বিপরীত হলো এবং কেন এগুলোর নসব (দ্বিতীয়া) জর (ষষ্ঠী)-এর অনুগামী হলো? আর ‘নুন’ সম্পর্কে আলোচনা যে, কোনো অবস্থায় তা হরকত ও তানভীনের স্থলাভিষিক্ত হয়, আর কোনো অবস্থায় তা কেবল হরকতের স্থলাভিষিক্ত হয়।
আর মুনসারিফ (পরিবর্তনশীল) ও গায়র মুনসারিফ (অপরিবর্তনশীল) সম্পর্কিত আলোচনা, কেন রূপান্তর নিষিদ্ধ হলো? এবং এর কারণ বর্ণনা করা, আর নয়টি মূল কারণ সম্পর্কে বক্তব্য এবং এই যে এগুলো সবগুলোরই মূলে একটি দ্বিতীয় রূপ রয়েছে; আর যখন কোনো নামপদে এর দুটি পাওয়া যায়,
অথবা কোনো একটি কারণ পুনরাবৃত্ত হয়, তবে তা দুই দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত হয়। আর যখন তা এমন হয়, তখন তা ক্রিয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়; কারণ ক্রিয়া হলো বিশেষ্যের অনুগামী বা দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত, আর বিশেষ্য হলো অগ্রগণ্য ও মৌলিক; এবং এই ধারায় চলমান সকল বিষয় সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কী?
আমরা বলব: আমরা এই পর্যায়টিতেও আপনাদের বিষয়ে নীরব থাকব, আপনাদের ওজর কবুল করব এবং আপনাদের ছাড় দেব; যদিও আমরা জানি যে আপনারা ভুল পথ বেছে নিয়েছেন, নিজেদের সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করেছেন যা আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক ছিল এবং হিকমতের সোপানসমূহ ও বিপুল জ্ঞানরাজির ওপর দৃষ্টিপাত করা থেকে নিজেদের নিবৃত্ত রেখেছেন। সুতরাং এগুলো ছেড়ে দিন এবং সেই বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করুন যার যথার্থতা ও প্রয়োজনীয়তা আপনারা স্বীকার করেছেন। আপনারা কি তা যথাযথভাবে হাসিল করতে পেরেছেন? আপনারা কি এর গূঢ় রহস্যগুলো পূর্ণরূপে অনুধাবন করেছেন?
আপনারা কি এর প্রতিটি অধ্যায়ের হক আদায় করেছেন এবং একে এমন সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করেছেন যা আপনাদের ভুলভ্রান্তি থেকে নিরাপদ রাখবে, যখন আপনারা তাফসীরে মনোনিবেশ করবেন, রূপক ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, বিভিন্ন মতের মধ্যে তুলনা করবেন, সঠিক ও ভ্রান্তের পার্থক্য করতে চাইবেন এবং এ কাজে বারবার নিবিষ্ট হবেন এবং এর হ্রাস-বৃদ্ধি করবেন?
আপনারা কি ভেবে দেখেছেন; যেহেতু আপনারা মুবতাদা ও খবরের রূপ সম্পর্কে জেনেছেন এবং জেনেছেন যে উভয়ের বিভক্তি হলো রফা, তখন কি আপনারা এ থেকে অগ্রসর হয়ে খবরের প্রকারভেদসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন? আপনারা কি জেনেছেন যে খবর একক শব্দ এবং বাক্য উভয়ই হতে পারে? এবং একক শব্দটি এমন দুই ভাগে বিভক্ত যার একটিতে সর্বনাম উহ্য থাকার সম্ভাবনা থাকে এবং অন্যটিতে থাকে না? আর বাক্য যে চার প্রকারের হয় এবং মুবতাদার খবর হিসেবে ব্যবহৃত প্রতিটি বাক্যে এমন একটি প্রসঙ্গ থাকা আবশ্যক যা মুবতাদার দিকে ফিরে যায়? আর কখনো সেই প্রসঙ্গটি উচ্চারণে বিলুপ্ত থাকে কিন্তু অর্থগতভাবে উদ্দীষ্ট থাকে এবং তা ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ না সেখানে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে? এ ছাড়াও ইবতিদা অধ্যায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূক্ষ্ম মাসআলা ও মহান ফায়দাহসমূহ সম্পর্কে আপনাদের কী রায়, যা না জানলেই নয়?
আর উদাহরণস্বরূপ যখন আপনারা সিফাত লক্ষ্য করেন এবং জানতে পারেন যে তা মাউসুফের অনুগামী হয় এবং তার উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি:
“আমার নিকট একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসেছে” এবং “আমি বুদ্ধিমান যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম”, তখন আপনারা কি মনে করেন যে এর পেছনে আর কোনো জ্ঞান নেই? এখানে এমন সিফাতও রয়েছে যা বিশিষ্টতা প্রদান করে এবং এমন সিফাতও রয়েছে যা স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে। আর বিশিষ্টতা প্রদানের উপকারিতা স্পষ্টীকরণের উপকারিতা হতে ভিন্ন, যেমনটি ব্যাপকতার উপকারিতা অস্পষ্টতার উপকারিতা হতে ভিন্ন। এবং এমন কিছু সিফাত রয়েছে যাতে...
--------------------------------------------