(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 34 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

ইবনে খুজাইমার কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: ইবনে খুজাইমার কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৩৪টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب -‌‌ نبذة عن سيرة الإمام ابن خزيمة

إمام الأئمة محمد بن إسحاق بن خزيمة هو الإمام الحافظ الحجة الفقيه، كان بحراً من بحور العلم، طاف البلاد ورحل إلى الآفاق في طلب الحديث والعلم، فكتب الكثير، وصنف وجمع، وهو من المجتهدين في دين الإسلام، جاهد أهل البدع بلسانه وبنانه، وبين بطلان عقائدهم الزائفة، وفصل عقائد السلف وبينها وأظهرها بدلائل القرآن والسنن والآثار.
কিতাবুত তাওহীদ এবং রবের গুণাবলি সাব্যস্তকরণের ব্যাখ্যা -‌‌ ইমাম ইবনে খুযায়মাহ-এর জীবনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ইমামুল আইম্মাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুযায়মাহ হলেন ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাহ ও ফকীহ। তিনি ছিলেন ইলমের এক বিশাল সমুদ্র। তিনি হাদীস ও ইলম অন্বেষণে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং দিগন্তজুড়ে সফর করেছেন। তিনি প্রচুর লিখেছেন, গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মের মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তার যবান ও কলম দ্বারা বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন এবং তাদের ভ্রান্ত আকীদাসমূহের অসারতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি সালাফদের আকীদাসমূহ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করেছেন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও আসারের দলীলাদি দ্বারা তা প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌فضل العلماء وطلب العلم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فأشرف الناس على الإطلاق هم العلماء الذين هم واسطة بين الخالق وبين المخلوق، قال ابن عيينة: أفضل البشر على الإطلاق هم الواسطة بين رب البشر وبين البشر، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (العلماء هم ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا درهماً ولا ديناراً، ولكن ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر).

العلم العلم، والطلب الطلب، فإن شمس البدعة قد بزغت، ولا تخمد نار الفتنة إلا بالطلب، ولما ظهرت البدع في القرون الخيرية في القرن الثالث انبرى لها أساطين العلم، ومن أفاضل الأمة على الإطلاق هذا الإمام العظيم إمام الأئمة ابن خزيمة.

وعلم التوحيد هو أشرف العلوم على الإطلاق، إذ شرف العلم من شرف المعلوم، ولا أحد أشرف من الله جل وعلا، بل قال ابن القيم: لن ترسخ معرفة أحد ولا قدم أحد في الإيمان ولن يستقيم إيمان أحد حتى يتعرف على رب البرية جل وعلا في صفاته وأسمائه جل وعلا.

والعلم علمان: علم بالله، وعلم بأمر الله ونهيه، والعلم بالله هو الأصل، والعلم بأمر الله ونهيه هو علم الفروع كالفقه وغيره، فعلم الأصول هو العلم بالله جل وعلا وبأسمائه الحسنى وصفاته العلى، وتوحيد ربوبيته، وتوحيد الإلهية.

وأشرف الناس هم العلماء، وطلبة العلم الذين يسيرون على درب العلماء، ولن يستقيم إيمان عبد إلا بالعلم، قال الله تعالى في مطلع الوحي: ((اقْرَأْ))، ما قال الله: بلغ، ولا قال: تعبد، ولا قال: وحد، بل قال له: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق:1]، وفي التوحيد قال: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد:19]، لأنك لن توحد الله حتى تعلم.

وطلب العلم هو أشرف العبادات، كما قال الإمام أحمد: لا أرى عبادة مثل طلب العلم لمن خلصت نيته.
আলেমদের মর্যাদা ও ইলম অন্বেষণ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

এরপর: নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েত। আর সবচাইতে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এরপর: মানুষের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে সম্মানিত হলেন আলেম সমাজ, যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে মাধ্যমস্বরূপ। ইবনে উয়াইনাহ বলেছেন: মানুষের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ হলেন তারা, যারা মানুষের প্রতিপালক ও মানুষের মধ্যে মাধ্যমস্বরূপ। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা দিরহাম বা দিনার উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তারা রেখে গেছেন ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল)।

ইলম অর্জন করুন, ইলম অর্জন করুন; অন্বেষণ করুন, অন্বেষণ করুন; কেননা বিদআতের সূর্য উদিত হয়েছে, আর ইলম অন্বেষণ ছাড়া ফেতনার আগুন নেভানো সম্ভব নয়। যখন খাইরুল কুরুন বা সোনালী প্রজন্মের তৃতীয় শতাব্দীতে বিদআতের উদ্ভব ঘটেছিল, তখন ইলমের সুউচ্চ স্তম্ভগণ তার মোকাবিলায় দাঁড়িয়েছিলেন। আর এই উম্মতের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন আইম্মাহগণের ইমাম, মহান ইমাম ইবনে খুযাইমাহ।

আর তাওহীদের ইলম হলো নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠতম ইলম, কেননা বিষয়ের মর্যাদা নির্ভর করে ওই বিষয়ের জ্ঞানের ওপর। আর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-এর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান আর কেউ নেই। বরং ইবনে কাইয়্যিম বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কারো মারিফত সুদৃঢ় হবে না এবং ঈমানের পথে কারো পা মজবুত হবে না এবং কারো ঈমান সঠিক হবে না, যতক্ষণ না সে সৃষ্টিজগতের রব জাল্লা ওয়া আলা-এর সিফাত (গুণাবলী) ও আসমা (নামসমূহ) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে।

ইলম দুই প্রকার: আল্লাহ সম্পর্কিত ইলম এবং আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কিত ইলম। আল্লাহ সম্পর্কিত ইলমই হলো মূল, আর আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কিত ইলম হলো শাখা-প্রশাখার ইলম যেমন ফিকহ ইত্যাদি। অতএব, উসুলের ইলম হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ, সুউচ্চ গুণাবলী, তাঁর রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ এবং উলুহিয়্যাতের তাওহীদ সম্পর্কে জ্ঞান।

আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হলেন আলেমগণ এবং ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীরা যারা আলেমদের পথে চলেন। ইলম ছাড়া কোনো বান্দার ঈমান সঠিক হবে না। আল্লাহ তাআলা ওহীর সূচনায় বলেছেন: ((পাঠ করো)), আল্লাহ বলেননি: প্রচার করো, বা বলেননি: ইবাদত করো, কিংবা বলেননি: তাওহীদ কায়েম করো, বরং তিনি তাঁকে বলেছেন: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} [আল-আলাক: ১]। আর তাওহীদের ক্ষেত্রে বলেছেন: {সুতরাং জেনে রাখো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই} [মুহাম্মদ: ১৯], কারণ তুমি আল্লাহকে না জানা পর্যন্ত তাঁর তাওহীদ সাব্যস্ত করতে পারবে না।

আর ইলম অন্বেষণ করা হলো শ্রেষ্ঠতম ইবাদত, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন: যার নিয়ত বিশুদ্ধ, তার জন্য ইলম অন্বেষণের মতো শ্রেষ্ঠ ইবাদত আমি আর কিছু দেখি না।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أهمية كتاب التوحيد لابن خزيمة

سندرس بإذن الله في هذا الكتاب العظيم: كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب عز وجل لـ ابن خزيمة، وهذا كتاب جليل مهم جداً، فوائده جليلة وقيمة، تناول مؤلفه فيه صفات الله جل وعلا وأسمائه الحسنى، وتناول الكلام عن الإيمان بالغيبيات والقبر ومنازل الآخرة، وتناول أيضاً الكلام عن القدر.

وقد ألفه مؤلفه رداً على أهل البدعة والضلالة، إذ في عصره بزغت شمس البدعة من الخوارج والشيعة والجبرية والقدرية والمعتزلة والجهمية، فقام هذا العالم الجليل يرد على أهل الأهواء وأهل البدع، ومن ضمن المصنفات التي كانت نوراً في سماء العلم هذا الكتاب العظيم الخاص بالتوحيد، كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب عز وجل.
ইবনে খুজাইমার কিতাবুত তাওহীদের গুরুত্ব

আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় এই মহান কিতাবটি অধ্যয়ন করব: ইবনে খুজাইমা রচিত ‘কিতাবুত তাওহীদ ওয়া ইসবাতু সিফাতিল রাব্ব আযযা ওয়া জাল্লা’। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত কিতাব, এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক ও মূল্যবান। এর লেখক এতে আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও তাঁর সুন্দর নামসমূহ আলোচনা করেছেন এবং অদৃশ্যের বিষয়াবলির প্রতি ঈমান, কবর ও পরকালের স্তরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি তাকদীর নিয়েও আলোচনা করেছেন।

লেখক এটি বিদআত ও ভ্রষ্টতায় লিপ্ত লোকদের খণ্ডন হিসেবে রচনা করেছেন; কেননা তাঁর যুগে খারেজী, শিয়া, জাবরিয়া, কাদরিয়া, মুতাজিলা এবং জাহমিয়াদের পক্ষ থেকে বিদআতের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। অতঃপর এই মহান আলেম প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের খণ্ডন করতে তৎপর হন। ইলমের আকাশে যে সকল গ্রন্থ আলোর দিশারী হিসেবে বিদ্যমান, তার মধ্যে তাওহীদ বিষয়ক এই মহান কিতাবটিও অন্যতম, যা হলো ‘কিতাবুত তাওহীদ ওয়া ইসবাতু সিফাতিল রাব্ব আযযা ওয়া জাল্লা’।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌التعريف بابن خزيمة

مؤلف هذا الكتاب هو أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة بن المغيرة بن صالح بن بكر السلمي النيسابوري الحافظ الحجة الفقيه، جمع الله له العلمين، فكان فارساً في ميدان الحديث أستاذاً في علم النقد والجرح والتعديل، وأيضاً كان فقيهاً مستنبطاً، ولا عجب أن يكون كذلك وقد أخذ العلم عن أكابر علماء الشافعية عن المزني والربيع، وكان يروي عنهما كتب الشافعي، وكان حافظاً حجة فقيهاً، وكان على فقه الإمام الشافعي، ولقب بإمام الأئمة صاحب التصانيف.
ইবনে খুজাইমার পরিচয়

এই গ্রন্থের রচয়িতা হলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা ইবনুল মুগীরা ইবনে সালিহ ইবনে বকর আস-সুলামী আন-নাইসাবুরী; যিনি হাফেজ, হুজ্জাত ও ফকিহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য উভয় জ্ঞানকে (হাদিস ও ফিকহ) একত্রিত করেছিলেন, ফলে তিনি ছিলেন হাদিসের ময়দানে একজন দক্ষ অশ্বারোহী এবং সমালোচনা বিদ্যা ও জারাহ-তাদিল শাস্ত্রের একজন উস্তাদ। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন ইস্তিনবাতকারী (বিধান উদঘাটনকারী) ফকিহ। এটি আশ্চর্যের কিছু নয় যে তিনি এমন হবেন, কেননা তিনি মুযানী ও রাবী’র মতো শাফেয়ী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন এবং তাঁদের থেকে ইমাম শাফেয়ীর কিতাবসমূহ বর্ণনা করতেন। তিনি ছিলেন হাফেজ, হুজ্জাত ও ফকিহ এবং ইমাম শাফেয়ীর ফিকহের অনুসারী। তাঁকে ‘ইমামুল আইম্মাহ’ (ইমামদের ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مولده ونشأته

ولد إمام الأئمة في شهر صفر من عام 223 في نيسابور، ونشأ بها وطلب الحديث منذ حداثة سنه، فسمع من عالم خراسان ومحدثها الإمام إسحاق بن راهويه.

كان تقياً زاهداً عابداً، وثمرة العلم تظهر عند التطبيق، فالعلم وسيلة لا غاية، والغاية من العلم هي التطبيق، وكان كثير من طلبة العلم لا يأخذون عن أحد العلم حتى ينظروا في صلاته وفي ذكره وفي تعبده، وينظروا في تقواه وفي ورعه، فكان هذا الإمام ممن تعلم ليعمل، فكان تقياً زاهداً ورعاً قواماً صواماً، وكان كريماً سخياً شجاعاً رضي الله عنه وأرضاه، ورضي عن السلف أجمعين الذين حملوا لنا هذا العلم العظيم.

سلك الإمام ابن خزيمة طريقة طلاب العلم في عصره وهي تلقي العلم أولاً عن شيوخ بلده ثم الرحلة في الطلب، والرحلة هذه كأنها سنة أميتت، وهي لم تمت بحمد لله، لكن الله جل وعلا عوضنا بكسلنا وبقلة همتنا وضعف الوازع عندنا بأن العلماء وإن كانوا في مشارق الأرض ومغاربها يصل إلينا علمهم عن طريق الاسطوانات أو عن طريق شرائط الكاسيت.

سمع في صغره كما أسلفنا من علماء نيسابور مثل ابن راهويه ومحمد بن حميد، وكان يرغب في الذهاب إلى قتيبة فاستأذن أباه فأجابه: اقرأ القرآن أولاً، وأنا أهيب بكل طالب علم أنه لا بد أولاً أن يصبر نفسه في الحفظ، أنا جلست مع بعض مشايخي وسألته عن الجد في الطلب فقال: لا تسأل عن شيء حتى تحفظ القرآن، أصل العلم في القرآن، والشيخ محمد بن إسماعيل دائماً يقول: احفظ القرآن ثم بعد ذلك تكلم عن الطلب، وهذا تأصيل أصله الشيخ أسامة العظيم من مشايخ القاهرة، لو قلنا: إنه حلية زهاد هذا العصر فهو كذلك، فهو دكتور في الأزهر متخصص في أصول الفقه، وقد درس وأخذ بكالوريوس هندسة، ثم بكالوريوس شريعة، ثم ماجستير، ثم دكتوراه في أصول الفقه، رجل عابد يقيم الليل، نسأل الله جل وعلا أن يرفعه في عليين مع الصحابة الكرام مع النبي صلى الله عليه وسلم، إذا قام الليل بالإخوة في رمضان لا ينتهي إلا قرب الفجر، الذين يصلون خلفه يريدون السحور وهو ما يفكر إلا بالعبادة.

رأيته في الحج وقد اسودت الوجوه من شدة حر الشمس، فرأيته ورب السماوات والأرض وكأن وجهه يشع نوراً! فالرجل متعبد جداً وزاهد، وهو شافعي المذهب، فـ الشافعي كان يقول: تفقهوا قبل أن تسودوا، وكان هو يبين هذا ويقول: لا يتزوج أحد حتى يطلب العلم؛ حتى تكون امرأته تحته، فمن كان ذا علم سيستطيع أن يسير امرأته خلفه، فكان يقول: ما يتزوج أحد حتى يحفظ القرآن.

وكان السلف لهم منهج في طلب العلم، يقول العالم لمن أراد العلم: احفظ القرآن، فإذا حفظ القرآن وجاء إلى مجلس التحديث، قالوا: لا تجلس مجلس التحديث حتى تتعلم الفرائض، لأن هذا أول علم يندثر، فيتعلم علم المواريث ثم بعد ذلك يبدأ بطلب الحديث.

هنا الأب فعل ذلك مع الابن فقال له: لن تذهب إلى قتيبة لتسمع عنه وتروي عنه حتى تحفظ القرآن، والآن في عصرنا هذا لا تستطيع أن تقول لرجل كبر سنه: لا تطلب العلم حتى تحفظ القرآن؛ فتضيعه، الآن نحن نقول لمن كبر سنه وما استطاع أن يستدرك هذه المسألة: اطلب علم التوحيد، فعلم التوحيد هو أهم العلوم، وإن لم يستطع أن يجمع بين حفظ القرآن وعلم التوحيد فعلم التوحيد يقدم؛ لأنك لن تصل إلى ربك إلا بتوحيد خالص، ولن تخلد في الجنة وتنجو من نار جهنم إلا بتوحيد خالص.

يقول ابن خزيمة: فاستظهرت القرآن، يعني: حفظته عن ظهر قلب، فقال لي: امكث حتى تصلي بالختمة، ففعلت، فلما عيدنا أذن لي، فخرجت إلى مرو وسمعت بمرو من محمد بن هشام وغيره.

ثم واصل رحلاته في طلب العلم ورحل إلى بلدان كثيرة، رحل إلى بغداد، والري، والشام، والبصرة، والكوفة، والجزيرة، ومصر، وواسط، وفي هذه المدن سمع من علماء أعلام في السنة والفقه وغيرها من العلوم.
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আইম্মায়ে কেরামের ইমাম ২২৩ হিজরি সনের সফর মাসে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং শৈশব থেকেই হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি খোরাসানের শ্রেষ্ঠ আলিম ও মুহাদ্দিস ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

তিনি অত্যন্ত মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার ছিলেন। আর ইলমের ফল তো আমলের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়; কারণ ইলম হলো একটি মাধ্যম, কোনো লক্ষ্য নয়; আর ইলমের মূল লক্ষ্য হলো আমল করা। অনেক তালিবে ইলম কারো কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না তারা তার সালাত, জিকির ও ইবাদত পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তার তাকওয়া ও পরহেজগারি লক্ষ্য করতেন। এই ইমাম ছিলেন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত যারা আমল করার জন্যই ইলম অর্জন করতেন। তিনি ছিলেন মুত্তাকি, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার এবং অধিক পরিমাণে নফল সালাত আদায়কারী ও রোজা পালনকারী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, দানশীল ও সাহসী; আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং সকল সালাফদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন যারা আমাদের কাছে এই মহান ইলম পৌঁছে দিয়েছেন।

ইমাম ইবনে খুজাইমাহ তাঁর যুগের তালিবে ইলমদের অনুসৃত পথ অবলম্বন করেছিলেন; যা হলো প্রথমে নিজ শহরের শায়েখদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করা এবং এরপর ইলম অন্বেষণে সফরে বের হওয়া। এই সফর যেন আজ একটি মৃত সুন্নাহে পরিণত হয়েছে। তবে আল্লাহর প্রশংসায় তা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি; কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদের অলসতা, হিম্মতের অভাব এবং অনুপ্রেরণার দুর্বলতার বিপরীতে এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যে, আলেমরা পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে বা পশ্চিমপ্রান্তে যেখানেই থাকুন না কেন, সিডি বা ক্যাসেট পন্থায় তাঁদের ইলম আমাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

তিনি শৈশবে, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, নিশাপুরের আলেমদের কাছ থেকে যেমন ইবনে রাহওয়াইহ এবং মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ-এর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর কুতায়বাহ-এর কাছে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল, তাই তিনি তাঁর পিতার কাছে অনুমতি চাইলেন। পিতা উত্তর দিলেন: আগে কুরআন পড়ো। আমি প্রত্যেক তালিবে ইলমের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তাকে অবশ্যই প্রথমে হিফজ করার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমি আমার জনৈক শায়েখের সাথে বসেছিলাম এবং তাঁকে ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: কুরআন হিফজ না করা পর্যন্ত কোনো কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না। ইলমের মূল উৎস হলো কুরআন। শায়েখ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল সর্বদা বলেন: কুরআন হিফজ করো, এরপর ইলম অন্বেষণ নিয়ে কথা বলো। কায়রোর অন্যতম শায়েখ, শায়েখ উসামা আল-আজিম এই মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা যদি বলি যে তিনি এই যুগের জাহিদদের ভূষণ, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। তিনি আল-আজহারের একজন ডক্টর এবং উসুলে ফিকহ বিশেষজ্ঞ। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেছেন, এরপর শরীয়াহতে স্নাতক, তারপর মাস্টার্স এবং শেষে উসুলে ফিকহ-এর ওপর পিএইচডি করেছেন। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার একজন মানুষ যিনি রাত জেগে ইবাদত করেন। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে উচ্চ মাকামে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে স্থান দান করেন। রমজানে যখন তিনি ভাইদের নিয়ে কিয়ামুল লাইল করেন, তখন ফজর হওয়ার আগ পর্যন্ত তা শেষ হয় না। যারা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেন তারা সাহরি খাওয়ার কথা ভাবেন, অথচ তিনি ইবাদত ছাড়া অন্য কিছু ভাবেন না।

আমি তাঁকে হজে দেখেছি, সূর্যের প্রখর তাপে যখন মানুষের মুখমণ্ডল কালো হয়ে গিয়েছিল, তখন আসমান ও জমিনের রবের কসম করে বলছি, আমি দেখলাম তাঁর মুখমণ্ডল থেকে যেন নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে! তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার এবং দুনিয়াবিমুখ মানুষ। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। ইমাম শাফেয়ী বলতেন: নেতৃত্ব লাভের আগেই ফিকহ অর্জন করো। তিনি এটি ব্যাখ্যা করে বলতেন: ইলম অর্জন না করা পর্যন্ত কেউ যেন বিবাহ না করে; যাতে তার স্ত্রী তার অধীনে থাকে। কারণ যার ইলম আছে সে তার স্ত্রীকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে। তিনি বলতেন: কুরআন হিফজ না করা পর্যন্ত কেউ যেন বিবাহ না করে।

জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে সালাফদের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল। আলিমগণ জ্ঞানপ্রার্থীকে বলতেন: কুরআন হিফজ করো। যখন সে কুরআন হিফজ করে হাদিসের মজলিসে আসত, তখন তারা বলতেন: ফারায়েজ না শেখা পর্যন্ত হাদিসের মজলিসে বসো না। কারণ এটিই প্রথম ইলম যা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে সে প্রথমে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ইলম অর্জন করত এবং এরপর হাদিস অন্বেষণ শুরু করত।

এখানে পিতাও পুত্রের সাথে তেমনটিই করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: কুরআন হিফজ না করা পর্যন্ত তুমি কুতায়বাহ-এর কাছে হাদিস শোনার বা বর্ণনা করার জন্য যেতে পারবে না। আর বর্তমান যুগে কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে আপনি বলতে পারেন না যে কুরআন হিফজ না করা পর্যন্ত ইলম অর্জন করো না; এতে আপনি তাঁকে ইলম থেকে বঞ্চিত করবেন। বর্তমানে আমরা বয়োজ্যেষ্ঠদের—যারা এই বিষয়টি আগে সংশোধন করতে পারেননি—বলি যে: তাওহিদের ইলম অর্জন করুন। কারণ তাওহিদের ইলমই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইলম। যদি কেউ কুরআন হিফজ এবং তাওহিদের ইলম একসাথে করতে না পারেন, তবে তাওহিদের ইলমকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ খাঁটি তাওহিদ ছাড়া আপনি আপনার রবের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না এবং খাঁটি তাওহিদ ছাড়া জান্নাতে চিরস্থায়ী হতে ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারবেন না।

ইবনে খুজাইমাহ বলেন: অতঃপর আমি কুরআন মুখস্থ করলাম, অর্থাৎ আমি তা হিফজ করলাম। তখন পিতা আমাকে বললেন: কুরআন খতমের মাধ্যমে সালাত আদায় না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। আমি তাই করলাম। এরপর যখন আমরা ঈদ উদযাপন করলাম, তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। ফলে আমি মার্ভের উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং সেখানে মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ও অন্যদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করলাম।

এরপর তিনি তাঁর ইলমি সফর অব্যাহত রাখেন এবং বহু দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি বাগদাদ, রায়, শাম, বসরা, কুফা, জাজিরা, মিসর এবং ওয়াসিত সফর করেন। এই শহরগুলোতে তিনি সুন্নাহ, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের প্রথিতযশা আলেমদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌شيوخه

كان ابن خزيمة من قرناء البخاري ومسلم، وأعظم الشيوخ الذين سمع منهم: محمد بن يحيى الذهلي شيخ البخاري، وأيضاً إسحاق بن راهويه.

أما مكانته العلمية فكانت مرموقة جداً بين أهل العلم، وكفاه فخراً أن لقب بإمام الأئمة.

كان يجمع بين علم الحديث والفقه، وقد قلنا: من طلب الحديث دون الفقه زل في المسائل الفقهية وضعف، ومن طلب الفقه دون الحديث احتج بالضعيف ولم يستطع أن يتقوى، ولا بد من الجمع بين الحديث والفقه، وأنا أسأل ربي أن ييسر علي إتمام بحث معين سميته فقهاء المحدثين، فهؤلاء هم أفاضل الناس، هؤلاء الشموس هم العلماء بحق الذين يحتذى حذوهم، قال الإمام أحمد: كنا نسمي أهل الحديث صيادلة، وكنا نسمي أهل الفقه أطباء، فخرج علينا الشافعي، فكان طبيباً صيدلانياً جمع بين الفقه وبين الحديث.

والعلماء يعيبون جداً على يحيى بن معين الناقد الجهبذ الذي كانت ترتعد فرائص أي عالم من علماء الحديث إذا وجد يحيى بن معين؛ لأنه كان نقاداً في علم الجرح والتعديل، ومع هذا كانوا يعيبون عليه عدم علمه بفقه الحديث، جاءته امرأة تسأله: هل لي أن أغسل زوجي الذي مات وأنا حائض؟ وكان قد وصى أن تغسله، فوقف يحيى بن معين حائراً يضرب أخماساً في أسداس كما يقولون، ثم مر أبو ثور الكلبي صاحب الشافعي، فقال يحيى: اسألي هذا الرجل، فقال أبو ثور: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج رأسه لـ عائشة فترجله وهي حائض، وهذا قياس الأولى، فلما أبيح للحائض أن تفعل ذلك، والمعتكف يمكنه ذلك، فالذي هو أحوج إلى التغسيل والتنظيف فالحائض يحل لها أن تغسله.

فقال يحيى بن معين: نعم هذا الحديث جاءنا من طريق فلان عن فلان عن فلان، وطريق فلان وفلان، وأتى بكل الطرق، فقالت المرأة: ولماذا لم تجبني لما سألت؟! وأين فلان وفلان التي تتحدث عنهم عندما سألتك؟! فعابوا عليه ذلك.

والإمام أحمد بن حنبل اشتد على يحيى بن معين؛ لأنه كان يتكلم في الشافعي، والشافعي جبل لا يؤثر فيه كلام أحد، حتى وإن كان يحيى بن معين، فـ الشافعي إمام كالشمس، فكان يتكلم فيه يحيى بن معين فعابوا عليه ذلك، واشتكوا إلى أحمد بن حنبل ذلك وقالوا: أما تسمع صاحبك يتكلم في الشافعي؟! فقال أحمد بن حنبل: أما إن يحيى بن معين يجهل ما يقوله الشافعي، ومن جهل شيئاً عاداه.

أيضاً شيخ الإسلام ابن تيمية كان يجلس مع مناظريه وهم مقلدة، يحفظون الفروع من الفقه فقط، ولا يعرفون فقه الأدلة، بينما شيخ الإسلام ابن تيمية أعطاه الله قوة في العلم وبسط له، فكان يقف يناظرهم، فيقولون: هذا رجل ما يفقه شيئاً! نسأله عن الشمال فيتكلم عن الجنوب والشرق والغرب ويبعد عن المسألة، قال ابن القيم: هذا من سعة علمه وفقهه وغوصه في الأدلة، ومن شدة جهلهم وضيق أفقهم، فأي إنسان يجهل ما يقال يعادي صاحب المقولة.
তাঁর উস্তাদগণ

ইবনে খুযাইমাহ ছিলেন বুখারী ও মুসলিমের সমসাময়িক। তিনি যেসব মহান উস্তাদদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: বুখারীর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ।

ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান আলেমদের মাঝে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁকে ‘ইমামুল আইম্মাহ’ (ইমামদের ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

তিনি ইলমে হাদীস ও ফিকহ—উভয় জ্ঞানকে একত্রিত করেছিলেন। আমরা ইতোপূর্বেই বলেছি: যে ব্যক্তি ফিকহ ছাড়া হাদীস অন্বেষণ করে, সে ফিকহী মাসআলাসমূহে পদস্খলিত হয় ও দুর্বল হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি হাদীস ছাড়া ফিকহ অন্বেষণ করে, সে দুর্বল দলীল দ্বারা দলীল পেশ করে এবং নিজেকে শক্তিশালী করতে পারে না। তাই হাদীস ও ফিকহ—উভয়টিকে একত্রিত করা অপরিহার্য। আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার জন্য ‘ফিকহুল মুহাদ্দিসীন’ নামক একটি বিশেষ গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করা সহজ করে দেন। এরাই হলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এই উজ্জ্বল নক্ষত্ররাই হলেন প্রকৃত আলেম, যাদের অনুসরণ করা উচিত। ইমাম আহমাদ বলেন: আমরা হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ‘ফার্মাসিস্ট’ (ঔষধ বিক্রেতা) বলতাম এবং ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ‘চিকিৎসক’ বলতাম। এরপর আমাদের মাঝে শাফিঈর আগমন ঘটল; তিনি ছিলেন এমন এক চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট যিনি ফিকহ ও হাদীস—উভয়কে একত্রিত করেছিলেন।

আলেমগণ বিজ্ঞ সমালোচক ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের কঠোর সমালোচনা করতেন, যাঁর ভয়ে হাদীসের যে কোনো আলেম কম্পমান থাকতেন যখন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে পাওয়া যেত; কারণ তিনি ‘জারহ ওয়া তা’দীল’ (হাদীস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্রে একজন অত্যন্ত দক্ষ সমালোচক ছিলেন। তা সত্ত্বেও আলেমগণ হাদীসের ফিকহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের অভাবের কারণে তাঁর সমালোচনা করতেন। একদিন জনৈকা মহিলা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘আমি ঋতুবতী অবস্থায় কি আমার মৃত স্বামীকে গোসল করাতে পারি?’ অথচ স্বামী তাকে গোসল করানোর জন্য ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং লোকে যেমন বলে ‘পাঁচ-ছয় গুণছিলেন’ (দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া)। এরপর শাফিঈর ছাত্র আবু সাওর আল-কালবী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ইয়াহইয়া বললেন: ‘এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করো।’ আবু সাওর বললেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং তিনি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়ে দিতেন। এটি ‘কিয়াস আল-আওলা’ (প্রাধান্যমূলক অনুমান) এর অন্তর্ভুক্ত। যখন ঋতুবতী মহিলার জন্য এটি করা বৈধ এবং এতেকাফকারীও এটি করতে পারে, তবে যার গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন বেশি, সেই মৃত ব্যক্তিকে ঋতুবতী মহিলার জন্য গোসল করানো বৈধ হবে।’

তখন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বললেন: ‘হ্যাঁ, এই হাদীসটি আমাদের কাছে অমুক থেকে অমুক সূত্রে পৌঁছেছে...’ এভাবে তিনি সমস্ত সূত্রের কথা উল্লেখ করলেন। তখন সেই মহিলাটি বলল: ‘আমি যখন জিজ্ঞাসা করলাম তখন আপনি আমাকে উত্তর দিলেন না কেন?! আর আমি যখন আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম তখন আপনার এই ‘অমুক অমুক’রা কোথায় ছিল যাদের কথা আপনি এখন বলছেন?!’ এ কারণেই আলেমগণ তাঁর সমালোচনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের ওপর কঠোর হয়েছিলেন; কারণ তিনি শাফিঈর সমালোচনা করতেন। অথচ শাফিঈ ছিলেন এমন এক পাহাড়, যাঁর ওপর কারো সমালোচনা কোনো প্রভাব ফেলে না, এমনকি তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন হলেও। শাফিঈ ছিলেন সূর্যের মতো একজন ইমাম। কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সমালোচনা করতেন বিধায় আলেমগণ তাঁর দোষ ধরতেন। তারা আহমাদ বিন হাম্বলের কাছে এর অভিযোগ করে বললেন: ‘আপনি কি শুনছেন না যে আপনার সঙ্গী শাফিঈর সমালোচনা করছেন?!’ তখন আহমাদ বিন হাম্বল বললেন: ‘আসলে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন শাফিঈ যা বলেন তা বুঝতে অক্ষম। আর মানুষ যে বিষয়ে অজ্ঞ থাকে, সেটিরই শত্রুতা করে।’

অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর প্রতিপক্ষের সাথে বসতেন যারা ছিল কেবল মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী)। তারা কেবল ফিকহের শাখা-প্রশাখা মুখস্থ করত, কিন্তু দলীলভিত্তিক ফিকহ বুঝত না। অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে ইলমের শক্তি ও প্রশস্ততা দান করেছিলেন। ফলে তিনি যখন তাদের সাথে বিতর্ক করতেন, তারা বলত: ‘এই ব্যক্তি তো কিছুই বোঝে না! আমরা তাকে উত্তর মেরু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি আর সে দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম নিয়ে কথা বলে মাসআলা থেকে দূরে সরে যায়!’ ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: ‘এটি ছিল তাঁর ইলম ও ফিকহের ব্যাপকতা এবং দলীলের গভীরে ডুব দেওয়ার কারণে, আর তাদের চরম অজ্ঞতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। কেননা যে কোনো মানুষ যা বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকলে সে বক্তার শত্রু হয়ে যায়।’
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثناء العلماء على ابن خزيمة

ابن خزيمة شهد له فحول العلماء بالحفظ والفقه، والقدرة على الاستنباط والفهم، وقد جاء هذا الاعتراف والثناء من تلاميذه الذين أخذوا عنه العلم، ومن شيوخه الذين تلقى عنهم، مثل أبي حاتم الرازي الذي قيل: إنه أحفظ من البخاري، ومثل أبي زرعة الذي كان أيضاً أحفظ من البخاري، لكن البخاري كان أتقن منهما في العلل وغير ذلك، سئل أبو حاتم عن محمد بن خزيمة فقال: ويحكم! هو يسأل عنا ولا نسأل عنه، هو إمام يقتدى به، وهذا كما سئل يحيى بن معين عن أحمد بن حنبل فقال: أو أحمد يسأل عنه؟! هو يسأل عنا، أحمد إمام الدنيا.

والربيع صاحب الشافعي حامل فقهه، هو أحد من تفقه عليه ابن خزيمة، قال لبعض تلاميذه: هل تعرفون ابن خزيمة؟ قلنا: نعم، قال: استفدنا منه أكثر مما استفاد هو منا.

قال الدارقطني: كان ابن خزيمة إماماً عديم النظير.

قال الذهبي: كان هذا الإمام جهبذاً عالماً بالحديث، بصيراً بالرجال.

وقال أيضاً: ابن خزيمة الإمام الحافظ الحجة الفقيه.

وقال ابن حبان: ما رأيت من يحسن صناعة السنن ويحفظ ألفاظها الصحاح وزيادتها حتى كأن السنن كلها بين عينيه إلا ابن خزيمة.

قال ابن كثير عنه: كان بحراً من بحور العلم، طاف البلاد ورحل إلى الآفاق في الحديث وطلب العلم، فكتب الكثير وصنف وجمع، وهو من المجتهدين في دين الإسلام.

قال أبو علي: لم أر مثل محمد بن إسحاق كان يحفظ الفقهيات من حديثه كما يحفظ القارئ السورة، وهذا معناه أنه كان يذكر الحديث وأيضاً يفقه متن هذا الحديث.

فقد كان محدثاً وفقيهاً مثل البخاري جبل الحفظ، فكتاب البخاري يدلك على فهم دقيق واستنباط بديع من الأحاديث، كان يقطع الأحاديث ويبوبها على أبواب، فتراجم أبواب البخاري تثبت لك أنه كان فقيهاً؛ ولذلك تنازعه الحنابلة والشافعية فكل ينسبه إلى مذهبه، فالشافعية كتبوا: البخاري شافعي المذهب، وفي تراجمه كثيراً ما يرجح مذهب الشافعي، وقال الحنابلة: حدث عن شيخه الإمام أحمد بن حنبل في الصحيح، والراجح أنه إمام مجتهد مطلق.

قال الذهبي: كان لـ ابن خزيمة عظمة في النفوس وجلالة في القلوب؛ لعلمه ودينه، ولاتباعه لسنة النبي صلى الله عليه وسلم.
ইবনে খুজাইমার প্রতি আলেমদের প্রশংসা

ইবনে খুজাইমার মুখস্থ শক্তি, ফিকহ এবং হাদিস থেকে বিধান আহরণ ও অনুধাবনের ক্ষমতার ব্যাপারে বড় বড় আলেমগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই স্বীকৃতি ও প্রশংসা এসেছে তাঁর সেসব ছাত্রদের পক্ষ থেকে যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর সেসব উস্তাদদের পক্ষ থেকেও যাদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন। যেমন আবু হাতিম আর-রাজি, যাঁর সম্পর্কে বলা হতো যে তিনি বুখারীর চেয়েও বড় হাফেজ; এবং আবু জুরআহ, তিনিও বুখারীর চেয়ে বড় হাফেজ ছিলেন। তবে বুখারী হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের চেয়ে অধিক পারদর্শী ছিলেন। আবু হাতিমকে মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “তোমাদের দুর্ভোগ হোক! তাকে আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা উচিত, আমাদের তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা সাজে না। তিনি এমন এক ইমাম যাকে অনুসরণ করা হয়।” এটি ঠিক তেমনি যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে আহমদ বিন হাম্বল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: “আহমদ সম্পর্কে কি জিজ্ঞাসা করা হয়?! তাকে আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; আহমদ তো পৃথিবীর ইমাম।”

শাফিয়ীর ছাত্র এবং তাঁর ফিকহের বাহক রাবী হলেন তাঁদের একজন যার কাছে ইবনে খুজাইমা ফিকহ শিখেছিলেন। তিনি তাঁর কিছু ছাত্রকে বললেন: “তোমরা কি ইবনে খুজাইমাকে চেনো?” আমরা বললাম: “হ্যাঁ।” তিনি বললেন: “তিনি আমাদের কাছ থেকে যা শিখেছেন, আমরা তাঁর কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি।”

দারাকুতনি বলেন: “ইবনে খুজাইমা ছিলেন এক অতুলনীয় ইমাম।”

আয-যাহাবী বলেন: “এই ইমাম ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে এক সুদক্ষ পণ্ডিত এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ।”

তিনি আরও বলেন: “ইবনে খুজাইমা হলেন ইমাম, হাফেজ, হুজ্জাহ ও ফকিহ।”

ইবনে হিব্বান বলেন: “আমি ইবনে খুজাইমা ছাড়া আর কাউকে দেখিনি যিনি সুন্দরভাবে সুনানসমূহ বিন্যস্ত করতে পারেন এবং সেগুলোর সহিহ শব্দসমূহ ও অতিরিক্ত অংশগুলো মুখস্থ রাখেন, এমনকি মনে হয় যেন সমগ্র সুনান শাস্ত্র তাঁর চোখের সামনে রয়েছে।”

ইবনে কাসির তাঁর সম্পর্কে বলেন: “তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্রসমূহের মাঝে এক সমুদ্র। তিনি হাদিস ও জ্ঞান অন্বেষণে বিভিন্ন দেশ ও দিগন্তে সফর করেছেন। তিনি অনেক লিখেছেন, গ্রন্থনা করেছেন এবং সংকলন করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মের মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

আবু আলী বলেন: “আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মতো কাউকে দেখিনি; তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিস থেকে ফিকহি মাসআলাগুলো এমনভাবে মুখস্থ রাখতেন যেমন একজন ক্বারী সূরা মুখস্থ রাখেন।” এর অর্থ হলো তিনি হাদিস উল্লেখ করতেন এবং সেই হাদিসের মূল পাঠের গভীর মর্মার্থও অনুধাবন করতেন।

তিনি বুখারীর মতো মুহাদ্দিস ও ফকিহ ছিলেন—যিনি ছিলেন মুখস্থ শক্তির এক বিশাল পাহাড়। বুখারীর কিতাব হাদিস থেকে তাঁর সূক্ষ্ম উপলব্ধি ও চমৎকার বিধান আহরণের পরিচয় দেয়। তিনি হাদিসগুলোকে খণ্ড খণ্ড করতেন এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করতেন। বুখারীর অধ্যায়গুলোর শিরোনামগুলো প্রমাণ করে যে তিনি একজন ফকিহ ছিলেন; এ কারণে হাম্বলি ও শাফেয়ীরা তাঁকে নিয়ে বিতর্ক করেন এবং প্রত্যেকেই তাঁকে নিজেদের মাযহাবের বলে দাবি করেন। শাফেয়ীরা লিখেছেন: “বুখারী শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী”, এবং তাঁর শিরোনামগুলোতে অনেক সময় শাফেয়ী মাযহাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাম্বলিরা বলেছেন: “তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে নিজ উস্তাদ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন।” তবে সঠিক মত হলো তিনি একজন স্বতন্ত্র মুজতাহিদ ইমাম ছিলেন।

আয-যাহাবী বলেন: “ইবনে খুজাইমার জ্ঞান, দ্বীনদারী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণের কারণে মানুষের অন্তরে তাঁর জন্য বিশাল মর্যাদা ও মহিমা ছিল।”
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌عقيدة ابن خزيمة

كان ابن خزيمة سلفي العقيدة على طريقة أهل الحديث، يقول بما قاله الصحابة رضي الله تعالى عنهم والتابعون وتابعوهم، ومما يبين هذا قوله في هذا الكتاب: فنحن وجميع علمائنا من أهل الحجاز وتهامة واليمن والعراق والشام ومصر مذهبنا: أنا نثبت لله جل وعلا ما أثبته لنفسه، نقر بذلك بألسنتنا ونطبق بذلك بقلوبنا من غير أن نشبه وجه خالقنا بوجه أحد من المخلوقين، وعز ربنا عن أن نشبهه بالمخلوقين، وجل ربنا عن مقالة المعطلين، وعز أن يكون عدماً كما قاله المبطلون.

والفرق بين التشبيه والتمثيل أن التشبيه هو المطابقة في أغلب الصفات، والتمثيل: في كل الصفات، قال الله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَي} [الشورى:11].

فكل معطل مشبه باللزوم؛ لأنه شبه أولاً فخشي من إثبات التشبيه فقال: يد الله كيد البشر، عين الله كعين البشر، لا، ليس له يد ولا عين؛ فعطل خوفاً من التشبيه.

والتعطيل تعطيلان: تعطيل كلي وجزئي، تعطيل بنفي الاسم والصفة، وهو تعطيل غلاة الجهمية، يقولون: لا عليم ولا علم، ولا كريم ولا كرم، ولا عزيز ولا عزة، أعوذ بالله من هذا الضلال المبين والكفر الفاحش، فغلاة الجهمية ينفون عن الله الاسم والصفة، هذا هو التعطيل الكلي، نفي الاسم والصفة.

والتعطيل الجزئي: نفي الصفة دون الاسم، يثبتون الاسم فيقولون: الله من أسمائه الحسنى العليم، لكن لا يثبتون العلم، ولذلك كثير من القدرية يقولون: الله لا يعلم أفعال العباد حتى يعملوها، فهؤلاء عطلوا الصفة دون الاسم.

وهم في تعطيل الصفة متفاوتون، فمنهم من يعطل جميع الصفات، ومنهم من يعطل أغلب الصفات وهم الأشاعرة الذين أثبتوا السبع الصفات التي يدل عليها العقل كما زعموا.

وقال ابن خزيمة أيضاً: نحن نقول: إن الله سميع بصير كما أعلمنا خالقنا وبارئنا، ونقول: من له سمع وبصر من بني آدم فهو سميع وبصير، ولا نقول: إن هذا تشبيه المخلوق بالخالق، ونقول: إن لله عز وجل يدين يمينين لا شمال فيهما، ونقول: إن من كان في بني آدم سليم الجوارح والأعضاء فله يدان يمين وشمال، ولا نقول: إن يد المخلوق كيد الخالق عز ربنا عن أن تكون يده كيد خلقه.

ومعنى كلامه أن الأسماء والصفات توقيفية، يعني: لا بد من وجود نص من كتاب أو من سنة حتى نقول: هذا اسم لله أو هذه صفة من صفات الله جل وعلا.

والله جل وعلا اسمه السميع البصير، ويوصف المرء بالسمع والبصر، فيقال: إنه سميع بصير، فاتفقا في التسمية لكن يختلفان في الكيفية، قال الله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].

وأسماء الله تتضمن صفات كمال، لكن الإنسان قد يسمى باسم لا يتضمن الصفة، فمثلاً: يسمى كريماً وهو أبخل البشر، أو شجاعاً وهو أجبن الناس.

وهنا قال ابن خزيمة: إن لله جل وعلا يدين لا شمال فيهما، والدليل على أن لله يدين اثنتين قول الله جل وعلا: {مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا} [يس:71] فهو من باب التعظيم، والعظمة كلها لله، فحق لله أن يعظم نفسه، أما ترى أن الملك مثلاً يقول لأتباعه: إن الملك يأمر بكذا، وما يقول: أنا، يعظم نفسه.

أما قوله: لا شمال فيهما فقد اختلف العلماء في ذلك على قولين: القول الأول: لله يد يمين ويد شمال؛ بدليل الحديث الذي في صحيح مسلم قال: (ثم يأخذ السماوات بشماله) فصرح بالشمال.

القول الثاني: قالوا: في الحديث: (كلتا يدي ربي يمين)، فلا نثبت لله يد شمال.

ونحن نقول: إذا ثبت أن لله شمالاً سمعنا وأطعنا، وأثبتنا ما أثبته الله لنفسه، وأثبتنا ما أثبته له رسوله، لكن الزيادة في هذا الحديث ضعيفة، إذ إن الثقة خالف الثقات وذكر لفظة (الشمال)، فلا شمال لله جل وعلا؛ لضعف هذا الحديث، ولو ثبت لأثبتا الشمال لله.

قال ابن خزيمة: ونحن نقول: لربنا الخالق عينان يبصر بهما ما تحت الثرى وتحت الأرض السابعة السفلى، وما في السماوات العلى، وما بينهما من صغير وكبير لا يخفى على خالقنا خافية في السماوات السبع والأرضين السبع، ولا ما بينهما ولا فوقهن ولا أسفل منهن، لا يغيب عن بصره من ذلك شيء، يرى ما في جوف البحار كما يرى عرشه الذي هو مستو عليه، وبنو آدم وإن كانت لهم عيون يبصرون بها فإنهم إنما يرون ما قرب من أبصارهم، مما لا حجاب ولا ستر بين المرء وبين أبصارهم.

أقول قولي هذا، وأستغفر الله لي ولكم.
ইবনে খুজাইমার আকিদা

ইবনে খুজাইমা আকিদার ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের পদ্ধতিতে সালাফি ছিলেন। তিনি তা-ই বলতেন যা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম), তাবেয়ি এবং তাদের অনুসারীরা বলেছেন। এই কিতাবে তাঁর নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এর প্রমাণ দেয়: "আমরা এবং হেজাজ, তিহামাহ, ইয়ামেন, ইরাক, সিরিয়া ও মিশরের আমাদের সকল আলেমদের মাযহাব হলো: আমরা আল্লাহর জন্য তা-ই সাব্যস্ত করি যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আমরা আমাদের জিহ্বা দ্বারা তা স্বীকার করি এবং অন্তর দিয়ে তা বিশ্বাস করি; আমাদের স্রষ্টার মুখমণ্ডলকে (وجه) সৃষ্টিজগতের কারো মুখমণ্ডলের সাথে সাদৃশ্য প্রদান না করে। আমাদের রব সৃষ্টিজগতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া থেকে পবিত্র এবং তিনি গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (মুআত্তিলিন) বক্তব্য থেকে ঊর্ধ্বে। আর বাতিলপন্থীরা যেভাবে তাঁকে অস্তিত্বহীন মনে করে, তিনি তেমন হওয়া থেকেও পবিত্র।"

সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) এবং হুবহু তুলনা (তামসিল)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—সাদৃশ্য প্রদান হলো অধিকাংশ গুণের ক্ষেত্রে মিল থাকা, আর হুবহু তুলনা হলো সকল গুণের ক্ষেত্রে মিল থাকা। আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই} [শূরা: ১১]।

তাই প্রত্যেক গুণাবলি অস্বীকারকারী (মুআত্তিল) আবশ্যিকভাবে সাদৃশ্য প্রদানকারী (মুসাব্বিহ); কারণ সে প্রথমে সাদৃশ্য কল্পনা করেছে, অতঃপর সেই সাদৃশ্য সাব্যস্ত করার ভয়ে তা অস্বীকার করেছে। সে বলেছে: আল্লাহর হাত মানুষের হাতের মতো, আল্লাহর চোখ মানুষের চোখের মতো; (নাউযুবিল্লাহ), না—তাঁর কোনো হাত নেই, চোখ নেই। এভাবে সে সাদৃশ্যের ভয়ে গুণাবলি অস্বীকার করেছে।

আর এই গুণাবলি অস্বীকার (তাতিল) দুই প্রকার: পূর্ণ ও আংশিক। নাম ও গুণ উভয়কে অস্বীকার করা হলো চরমপন্থী জাহমিয়্যাহদের নীতি। তারা বলে: আল্লাহর কোনো জ্ঞান নেই এবং তিনি জ্ঞানীও নন, তাঁর দয়া নেই এবং তিনি দয়ালুও নন, তাঁর সম্মান নেই এবং তিনি সম্মানিতও নন। আমি এই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতা ও জঘন্য কুফরি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। চরমপন্থী জাহমিয়্যাহরা আল্লাহর নাম ও গুণ উভয়কেই অস্বীকার করে; এটিই হলো পূর্ণ অস্বীকার।

আংশিক অস্বীকার হলো: নাম সাব্যস্ত করা কিন্তু গুণ অস্বীকার করা। তারা নাম সাব্যস্ত করে বলে: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ), কিন্তু তারা তাঁর 'ইলম' বা জ্ঞান গুণটি সাব্যস্ত করে না। এই কারণেই অনেক কাদারিয়্যাহ বলে: আল্লাহ বান্দার কাজ ঘটার আগ পর্যন্ত তা জানেন না। এরা নাম সাব্যস্ত করলেও গুণটি অস্বীকার করেছে।

গুণ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন স্তরের। তাদের মধ্যে কেউ সমস্ত গুণ অস্বীকার করে, আবার কেউ অধিকাংশ গুণ অস্বীকার করে; যেমন আশআরিরা, যারা কেবল সাতটি গুণ সাব্যস্ত করে—যেগুলো বুদ্ধি দ্বারা প্রমাণিত বলে তারা দাবি করে।

ইবনে খুজাইমা আরও বলেছেন: "আমরা বলি: আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, যেমনটা আমাদের স্রষ্টা ও উৎপাদনকারী আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বলি: আদম সন্তানের মধ্যে যার শ্রবণ ও দর্শন শক্তি আছে সেও শ্রবণকারী ও দর্শনকারী। কিন্তু আমরা বলি না যে এটি সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে সাদৃশ্য প্রদান করা। আমরা বলি: মহান আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে যা উভয়ই ডান, তাতে কোনো বাম নেই। আমরা আরও বলি: আদম সন্তানদের মধ্যে যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ তার দুটি হাত রয়েছে—একটি ডান ও একটি বাম। তবে আমরা বলি না যে সৃষ্টির হাত স্রষ্টার হাতের মতো; আমাদের রব এর থেকে পবিত্র যে তাঁর হাত তাঁর সৃষ্টির হাতের মতো হবে।"

তাঁর কথার অর্থ হলো, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি 'তাওকিফিয়্যাহ' (দলিল নির্ভর); অর্থাৎ কোনো নাম বা গুণকে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করতে হলে অবশ্যই কুরআন বা সুন্নাহর দলিল থাকতে হবে।

মহান আল্লাহর নাম হলো 'আস-সামি' (সর্বশ্রোতা) ও 'আল-বাসির' (সর্বদ্রষ্টা)। মানুষকেও শ্রবণ ও দর্শন গুণে গুণান্বিত করা হয় এবং বলা হয় সে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। ফলে নামকরণের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে মিল থাকলেও এর ধরণ বা কাইফিয়াতের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [শূরা: ১১]।

আল্লাহর নামসমূহ তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু মানুষকে এমন নামে ডাকা হতে পারে যা তার মধ্যে বিদ্যমান গুণের সাথে মিলে না। উদাহরণস্বরূপ: কাউকে 'করিম' (দয়ালু/দানশীল) নাম দেওয়া হলো অথচ সে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ, অথবা 'শুজা' (বীর) নাম দেওয়া হলো অথচ সে সবচেয়ে ভীরু।

এখানে ইবনে খুজাইমা বলেছেন: মহান আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে যাতে কোনো বাম নেই। আল্লাহর হাত দুটি হওয়ার দলিল হলো আল্লাহর বাণী: {আমি নিজ হাতে যা সৃষ্টি করেছি} [ইয়াসিন: ৭১]। এটি মূলত মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য বলা হয়েছে, আর সকল মহিমা আল্লাহরই। আল্লাহর জন্য এটি সংগত যে তিনি নিজেকে মহিমান্বিত করবেন। আপনি কি দেখেন না যে একজন রাজা তাঁর অনুসারীদের বলেন, 'রাজা এটি আদেশ করছেন', তিনি 'আমি' না বলে নিজেকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন।

আর তাঁর বক্তব্য 'তাতে কোনো বাম নেই'—এ বিষয়ে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথম মত: আল্লাহর একটি ডান হাত এবং একটি বাম হাত রয়েছে। এর দলিল হলো সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস যেখানে বলা হয়েছে: (অতঃপর তিনি আকাশসমূহকে তাঁর বাম হাত দিয়ে ধরবেন)। এখানে স্পষ্টভাবে 'বাম' শব্দের উল্লেখ আছে।

দ্বিতীয় মত: তারা বলেন, হাদিসে এসেছে: (আমার রবের উভয় হাতই ডান), তাই আমরা আল্লাহর জন্য 'বাম' হাত সাব্যস্ত করি না।

আমরা বলি: যদি আল্লাহর জন্য 'বাম' সাব্যস্ত হওয়া প্রমাণিত হতো, তবে আমরা তা শুনতাম ও মেনে নিতাম। আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন আমরা তা-ই সাব্যস্ত করতাম। কিন্তু এই হাদিসে 'বাম' শব্দের অতিরিক্ত অংশটি দুর্বল; কারণ এখানে একজন বিশ্বস্ত রাবি (বর্ণনাকারী) অন্যান্য অধিকতর বিশ্বস্ত রাবিদের বিরোধিতা করে 'বাম' শব্দটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই হাদিসটি দুর্বল হওয়ার কারণে আল্লাহর জন্য কোনো বাম হাত নেই। তবে এটি যদি সহিহভাবে প্রমাণিত হতো, তবে আমরা আল্লাহর জন্য বাম হাত সাব্যস্ত করতাম।

ইবনে খুজাইমা বলেছেন: "আমরা বলি: আমাদের রব স্রষ্টার দুটি চোখ রয়েছে যা দিয়ে তিনি মাটির নিচে এবং সপ্তম জমিনের নিচে যা আছে তা দেখেন, আর সপ্তম আসমানে যা আছে এবং এই দুইয়ের মাঝে ছোট-বড় যা কিছু আছে তাও দেখেন। সাত আসমান ও সাত জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে, উপরে বা নিচে যা কিছু আছে তার কিছুই আমাদের স্রষ্টার কাছে গোপন নয়। সমুদ্রের অতল গহ্বরে যা আছে তাও তাঁর দৃষ্টির আড়ালে নয়; তিনি সমুদ্রের তলদেশের সবকিছু দেখেন যেভাবে তিনি তাঁর আরশ দেখেন যার উপর তিনি উঠেছেন। আর আদম সন্তানদের চোখ থাকলেও তারা কেবল তা-ই দেখে যা তাদের চোখের কাছে থাকে এবং যেক্ষেত্রে তাদের ও তাদের দৃষ্টির মাঝে কোনো পর্দা বা আবরণ থাকে না।"

আমি আমার এই কথা বলছি এবং নিজের জন্য ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 34 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

ইবনে খুযাইমাহ-র কিতাবুত তাওহীদের শারহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইবনে খুযাইমাহ-র কিতাবুত তাওহীদের শারহ

লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও লেকচার যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৩৪টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب -‌‌ المقدمة

أمر التوحيد أمر عظيم، فهو أول ما يجب على العبد في الإسلام، وهو آخر مطلوب من العبد، وهو المدخل إلى الجنة والمنقذ من النار، وقد قسمه العلماء إلى أقسام؛ كي يسهل فهمه وتتيسر دراسته، وهذا التقسيم له ما يشهد له من الأدلة.
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা এবং রবের গুণাবলি সাব্যস্তকরণ -‌‌ ভূমিকা

তাওহীদের বিষয়টি এক মহান বিষয়; কেননা এটিই ইসলামে বান্দার ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব এবং এটিই বান্দার নিকট থেকে কাম্য সর্বশেষ বিষয়। এটি জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী। আলেমগণ একে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন যাতে এটি বোঝা সহজ হয় এবং এর অধ্যয়ন সহজসাধ্য হয়; আর এই বিভাজনের স্বপক্ষে দলীল-প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أقسام التوحيد

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: إخوتي الكرام! بمناسبة افتتاح هذا الكتاب الكريم العظيم؛ كتاب التوحيد لـ ابن خزيمة سنذكر مقدمة أصيلة وتأصيلاً كاملاً لعلم التوحيد؛ حتى يظهر جلياً لطلبة العلم ما يأسسون عليه بنيانهم، ثم يسيرون على نهجه.

إن التوحيد هو أشرف العلوم على الإطلاق، فشرف العلم -كما بينا سابقاً- من شرف المعلوم، ولا أحد أشرف من الله جل وعلا، والناس حاجتهم إلى التوحيد أشد من حاجتهم إلى الماء والهواء، فلا يستقيم إيمان عبد، ولا يقبل عند ربه جل وعلا، ولا ينجيه الله من الخلود في نار جهنم إلا بالتوحيد الخالص من الشرك.

والتوحيد قسمه بعض المتأخرين تقسيماً استنباطياً اجتهادياً، وقد استنبط هذا شيخ الإسلام، وهذا التقسيم هو تقسيم التوحيد إلى قسمين: القسم الأول: هو التوحيد العلمي الخبري.

القسم الثاني: التوحيد الإرادي الطلبي.

أو بتقسيم آخر: توحيد العبادة، أو توحيد الله جل وعلا بأفعاله.

القسم الثاني: توحيد الله بأفعال العباد.
তাওহীদের প্রকারভেদ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ এবং আমাদের আমলসমূহের পাপাচার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শনকারী হতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল, সে এক মহা সাফল্য অর্জন করল} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: আমার সম্মানিত ভাইয়েরা! ইবনে খুজায়মাহ-এর এই মহিমান্বিত ও মহান গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহীদ’ শুরু করার প্রাক্কালে আমরা তাওহীদ শাস্ত্রের একটি মৌলিক ভূমিকা ও পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি আলোচনা করব; যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের সামনে তাদের ভিত্তিটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং তারা সেই পথ অনুযায়ী চলতে পারে।

নিশ্চয়ই তাওহীদ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম। কারণ ইলমের মর্যাদা নির্ধারিত হয়—যেমনটি আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি—যার সম্পর্কে ইলম অর্জন করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে। আর মহান আল্লাহ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউ নেই। মানুষের কাছে তাওহীদের প্রয়োজন পানি ও বাতাসের প্রয়োজনের চেয়েও অধিক তীব্র। কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না এবং তা তার রবের নিকট গৃহীত হয় না, আর আল্লাহ তাকে শিরকমুক্ত বিশুদ্ধ তাওহীদ ব্যতীত জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন থেকে মুক্তি দেবেন না।

পরবর্তীকালের কোনো কোনো আলেম ইজতিহাদ ও গবেষণার মাধ্যমে তাওহীদকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। শায়খুল ইসলাম এটি উদ্ভাবন করেছেন। এই বিভক্তি অনুযায়ী তাওহীদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: প্রথম ভাগ: ইলমী ও খবরী তাওহীদ (জ্ঞান ও সংবাদ ভিত্তিক একত্ববাদ)।

দ্বিতীয় ভাগ: ইরাদী ও তালাবী তাওহীদ (ইচ্ছা ও প্রার্থনা মূলক একত্ববাদ)।

অথবা অন্য একটি বিভাজন অনুযায়ী: ইবাদতের তাওহীদ, অথবা আল্লাহর কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করা।

দ্বিতীয় ভাগ: বান্দার কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌توحيد المعرفة والإثبات

القسم الأول من التوحيد هو توحيد المعرفة والإثبات، وهو نوعان: توحيد الربوبية، وتوحيد الأسماء والصفات.

وتوحيد الربوبية: هو أن تعتقد اعتقاداً جازماً لا شك فيه أن الله هو الرب الخالق الرازق المدبر السيد الآمر الناهي، وأن له مطلق السيادة ومطلق الحكم والأمر والنهي، فأما الخالق فقال الله تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الرعد:16]، وأما الرازق فقال: {مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ * إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات:57 - 58]، فالرزق المطلق هو من قبل الله جل وعلا، والخلق المطلق هو من قبل الله، وهناك خلق آخر ناقص وليس بكامل، يقوم به الإنسان كما قال الله تعالى: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} [المؤمنون:14]، فالخلق المطلق وهو الإيجاد من العدم يتفرد به الله جل وعلا.

وأما الخلق الناقص وهو النقل من صورة إلى صورة، كنقل الحديد إلى سيارة، والخشب إلى باب، فهذا يسمى خلقاً لكنه خلق ناقص وليس بخلق مطلق.

وهو المدبر، قال تعالى: {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [السجدة:5]، وقال الله تعالى مبيناً ذلك بياناً جلياً: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} [الرحمن:29].

قال ابن مسعود: يرفع أقواماً ويخفض آخرين، ويعطي هذا ويمنع هذا، ويميت هذا ويحيي هذا.

وكل ذلك من لوازم الربوبية.

وله الحكم المطلق، {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} [يوسف:40]، وقال الله تعالى: {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ} [الأعراف:54].

فالخلق إن كان من لوازم الربوبية فالأمر أيضاً والتشريع من لوازم الربوبية، فالأمر كله لله جل وعلا.

فهذا هو معنى توحيد الربوبية: أن تعتقد اعتقاداً جازماً بهذه الصفات التي هي من لوازم الربوبية.

ولم يشرك أحد في الربوبية، بل إن كل المشركين إلا النزر اليسير كانوا يؤمنون بالربوبية ولم يشككوا فيها، والنبي صلى الله عليه وسلم لما أتى بشريعته إلى مشركي العرب ما عارضوه في ربوبية الله جل وعلا، وإنما عارضوه في الإلهية، فقالوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص:5]، وقال الله تعالى مبيناً أنهم يقرون بالربوبية: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [الزمر:38]، وهذا يدلك على خطأ بعض العلماء المعاصرين الذين فسروا قول الله تعالى: {لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد:19] لا رب إلا الله، فهذا ليس بصحيح.

وقالوا أيضاً: إذا أتى بلوازم الربوبية واعتقد اعتقاداً جازماً أن الخالق والمكون والمدبر هو الله فقد تم توحيده، ودخل الجنة، وهذا خطأ فاحش، إذ إن المشركين يقرون بذلك، والفارق بين المشرك والمؤمن هو توحيد الإلهية كما سنبين.

فلم يشرك إلا النزر اليسير في توحيد الربوبية، وجحد به من جحد وهو عالم به كفرعون، {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} [النمل:14].

وأيضاً المانوية والثانوية، فهم يقولون: إن للكون خالقين، خالق للنور وخالق للظلمة، فهؤلاء أشركوا في الربوبية، وأيضاً الشيوعيون الدهريون في عصرنا الذين يقولون: ما يهلكنا إلا الدهر، ويقولون: هكذا خلقت، والناس خلقوا صدفة، والطبيعة هي التي أوجدتهم! فهؤلاء نزر يسير، وأما المشركون قاطبة فهم مقرون بربوبية الله جل وعلا.

والنوع الثاني من القسم الأول وهو من أهم وأجل أقسام التوحيد، وهو الذي زلت فيه الأقدام، وظهرت فيه البدعة على أوجها، ألا وهو: توحيد الأسماء والصفات.

ومعنى توحيد الأسماء والصفات: أن تعتقد اعتقاداً جازماً أن لله جل وعلا أسماء حسنى وصفات علا، هذه الأسماء أعلام على ذات الله جل وعلا، وكلها حسنى؛ لأنها تتضمن صفات كمال، فالله اسم من أسماء الذات الإلهية، وعلم على ذات الله جل وعلا، وهو يتضمن صفة كمال ألا وهي الإلهية، والكريم اسم من أسماء الله جل وعلا، وهو من الأسماء الحسنى؛ لأنه يتضمن صفة الكمال وهي الكرم، والقدير اسم من أسماء الله الحسنى، وهو علم على ذات الله، وإذا قيل لك: العليم القدير فذهنك ينصرف إلى الذات الإلهية المقدسة، فكل اسم يتضمن صفة كمال.
‌জ্ঞান ও সাব্যস্তকরণের তাওহিদ

তাওহিদের প্রথম ভাগ হলো জ্ঞান ও সাব্যস্তকরণের তাওহিদ, আর এটি দুই প্রকার: তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।

তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ হলো: আপনি এই অকাট্য ও সংশয়হীন বিশ্বাস পোষণ করবেন যে, আল্লাহই হলেন সেই রব যিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, পরিচালক, অধিপতি, আদেশদাতা ও নিষেধকারী। তাঁর জন্যই রয়েছে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এবং নিরঙ্কুশ বিচার, আদেশ ও নিষেধ। সৃষ্টিকর্তা হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা} [রা'দ: ১৬]। আর রিযিকদাতা হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন: {আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, প্রবল শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী} [যারিয়াত: ৫৭-৫৮]। সুতরাং নিরঙ্কুশ রিযিক একমাত্র আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে এবং নিরঙ্কুশ সৃষ্টিও একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। তবে সৃষ্টি করার আরও একটি অর্থ আছে যা অপূর্ণাঙ্গ এবং পূর্ণ নয়, যা মানুষ সম্পাদন করে থাকে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব আল্লাহ কতই না বরকতময়, যিনি শ্রেষ্ঠতম স্রষ্টা} [মুমিনুন: ১৪]। সুতরাং নিরঙ্কুশ সৃষ্টি—যা অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনা—তাতে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা একক।

আর অপূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি হলো এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা, যেমন লোহাকে গাড়িতে রূপান্তর করা অথবা কাঠকে দরজায় রূপান্তর করা; একে 'সৃষ্টি' বলা হলেও তা অপূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি, নিরঙ্কুশ সৃষ্টি নয়।

তিনিই সবকিছুর পরিচালক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন একদিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছর} [সাজদাহ: ৫]। আল্লাহ তাআলা এটি আরও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: {প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো কাজে রত} [আর-রাহমান: ২৯]।

ইবনে মাসউদ বলেন: তিনি কোনো জাতিকে উচ্চ করেন আবার অন্যকে নিচু করেন, কাউকে দান করেন আবার কাউকে বঞ্চিত করেন, কাউকে মৃত্যু দেন আবার কাউকে জীবিত করেন।

এসবই রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের অপরিহার্য দাবি।

নিরঙ্কুশ বিধান বা ফয়সালার মালিক তিনিই: {বিধান তো কেবল আল্লাহরই} [ইউসুফ: ৪০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং আদেশ তাঁরই} [আরাফ: ৫৪]।

সৃষ্টি করা যদি রুবুবিয়্যাহর দাবি হয়, তবে আদেশ ও বিধান দানও রুবুবিয়্যাহরই দাবি। অতএব সকল আদেশ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্য।

তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর অর্থ এটাই: আপনি এই গুণাবলিগুলোর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখবেন যা রুবুবিয়্যাহর জন্য অপরিহার্য।

আর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে কেউ শিরক করেনি; বরং অতি সামান্য অংশ ছাড়া সমস্ত মুশরিকই রুবুবিয়্যাহর ওপর বিশ্বাস রাখত এবং এ নিয়ে তারা কোনো সন্দেহ পোষণ করত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরব মুশরিকদের কাছে তাঁর শরীয়ত নিয়ে আসলেন, তারা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্ব নিয়ে তাঁর বিরোধিতা করেনি। বরং তারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল উলুহিয়্যাহ বা ইলাহ হওয়ার বিষয়ে। তারা বলেছিল: {সে কি সমস্ত ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয়} [সোয়াদ: ৫]। তারা যে রুবুবিয়্যাহকে স্বীকার করত, তা স্পষ্ট করে আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ} [যুমার: ৩৮]। এটি আপনাকে বর্তমান সময়ের সেই সব আলিমদের ভুল ধরিয়ে দেয় যারা আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই} [মুহাম্মদ: ১৯]-এর ব্যাখ্যা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই' হিসেবে করেছেন; এটি সঠিক নয়।

তারা আরও বলেন: যদি কেউ রুবুবিয়্যাহর দাবিগুলো মেনে নেয় এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, অস্তিত্বদানকারী ও পরিচালক, তবে তার তাওহিদ পূর্ণ হয়ে গেল এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে—এটি একটি মারাত্মক ভুল। কেননা মুশরিকরাও এসব স্বীকার করত। মুশরিক ও মুমিনের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ, যা আমরা পরে বর্ণনা করব।

তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহতে অতি সামান্য লোক ছাড়া আর কেউ শিরক করেনি। তবে যারা এটি অস্বীকার করেছে, তারা মূলত সব জেনেবুঝেই অস্বীকার করেছে, যেমন ফেরাউন: {তারা অন্যায় ও অহংকারবশত নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল} [নামল: ১৪]।

তদ্রূপ মানুবী ও দ্বিবাদী সম্প্রদায়; তারা বলে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা দুইজন—আলোর স্রষ্টা এবং অন্ধকারের স্রষ্টা। এরা রুবুবিয়্যাহতে শিরক করেছে। এছাড়া বর্তমান যুগের দহরি বা বস্তুবাদী কমিউনিস্টরা, যারা বলে: কাল বা সময় ছাড়া আমাদের আর কেউ ধ্বংস করে না, এবং তারা বলে: এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ দৈবক্রমে সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকৃতিই তাদের অস্তিত্ব দিয়েছে! এরা হলো অতি নগণ্য অংশ। পক্ষান্তরে সমস্ত মুশরিকই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার রুবুবিয়্যাহর ব্যাপারে স্বীকৃতি প্রদানকারী।

প্রথম ভাগের দ্বিতীয় প্রকারটি তাওহিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান শাখাগুলোর একটি, যেখানে অনেকের পদস্খলন ঘটেছে এবং যেখানে বিদআতের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে; আর তা হলো: তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলির একত্ববাদ)।

তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের অর্থ হলো: আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবেন যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলি রয়েছে। এই নামগুলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার সত্তার পরিচয় নির্দেশক এবং এর সবগুলোই অতীব সুন্দর; কারণ এগুলো পূর্ণাঙ্গ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন 'আল্লাহ' হলো মহান সত্তার অন্যতম নাম এবং এটি তাঁর সত্তার পরিচয় নির্দেশক, যা উলুহিয়্যাহর মতো পূর্ণাঙ্গ গুণকে শামিল করে। 'আল-কারিম' আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার একটি সুন্দর নাম, কারণ এটি মহানুভবতার মতো পূর্ণাঙ্গ গুণকে শামিল করে। 'আল-قدیر' (সর্বশক্তিমান) আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর একটি এবং এটি তাঁর সত্তার পরিচয় নির্দেশক। যখন আপনাকে 'আল-আলিম' বা 'আল-কাদির' বলা হয়, তখন আপনার মন সেই পবিত্র মহান সত্তার দিকেই ধাবিত হয়। সুতরাং প্রতিটি নামই এক একটি পূর্ণাঙ্গ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌قواعد في الأسماء والصفات

هنا قواعد مهمة تضبط لنا هذه الأسماء: أولها: كل هذه الأسماء حسنى؛ لأنها تتضمن صفات كمال، وباب الأسماء أضيق من باب الصفات، وباب الصفات أوسع؛ لأن كل اسم يحمل صفة ولا عكس، فليست كل صفة تحمل اسماً، فالعزيز يتضمن صفة العزة، والرءوف يتضمن صفة الرأفة، وهكذا الكريم والرحيم والرحمن، وأما الصفات فلا تستطيع أن تشتق من كل صفة اسماً، قال الله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] فصفة الاستواء لا نستطيع أن نشتق منها اسماً وهو المستوى، وهذا يدلك على أن باب الأسماء أضيق من باب الصفات.

ثانيها: أسماء الله لا تنحصر، فهي كثيرة وعديدة ولا تنحصر في عدد، ودليل ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (اللهم إني عبدك وابن عبدك وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماضٍ فيّ حكمك، عدل فيّ قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك، سميت به نفسك، أو علمته أحداً من خلقك).

إذاً: فهناك بعض الخلق يعلمون من أسماء لله ما لا يعرفها الآخرون.

ثم قال: (أو أنزلته في كتابك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك)، فهناك أسماء لله كثيرة يعلمها الله ولا يعلمها أحد من خلقه، فهذه دلالة على أن أسماء الله كثيرة جداً وليست محصورة بعدد.

وأيضاً حديث النبي صلى الله عليه وسلم في الشفاعة العظمى وفيه: أن آدم يقول: اذهبوا إلى نوح، اذهبوا إلى إبراهيم، اذهبوا إلى موسى، حتى تحال إلى النبي صلى الله عليه وسلم فيقول: (أنا لها أنا لها، فيذهب تحت العرش فيسجد يقول: فيعلمني الله جل وعلا محامد أحمده بها) أي: محامد الآن تعلمتها، والحمد ثناء على الله جل وعلا بما هو أهل له، فيثني على الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلا، إذاً: ففيها أسماء لا يعلمها النبي صلى الله عليه وسلم إلا عندما يسجد عند العرش، ويدلك ذلك على أن أسماء الله لا تنحصر.

ولا يشكل علينا حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (إن لله تسعة وتسعين اسماً من أحصاها دخل الجنة)، فالإجابة يسيرة جداً وهي: أن هذه الأسماء التسعة والتسعين لها ميزة خاصة عن بقية الأسماء كلها، وهذه الميزة هي: (من أحصاها دخل الجنة)، ومعنى أحصاها أي: حفظها عن ظهر قلب، وتعبد بها لله، يعني: ما يتوسل إلا بها، فقد حفظ اسم الكريم فيقول: يا كريم! أكرمني برضاك عني، وحفظ اسم القدير فيقول: يا قدير! أنجني من الظالمين، يا عزيز أعزني بطاعتك، فيتعبد لله بهذه الأسماء.

وأيضاً أن يتخلق بآثار هذه الصفات، فالله جل وعلا رءوف يحب كل رءوف، وكريم يحب كل كريم، فأنت من تعبدك لله بالاسم أو بالصفة أن تتخلق بأثر هذا الاسم، فاسم الله الكريم فأنت تكون كريماً، واسم الله العفو، فهو عند المقدرة يعفو، فأنت إن كنت قادراً على ظالم فاعف عنه إلا أن يكون في هذه مساءة، أو يكون هذا فيه زيادة كبر لهم، وإن كنت تعلم أن الله عزيز فاعتز أنت بطاعته، وتخلق بآثار هذه الصفات.

فالتسعة والتسعون اسماً من أحصاها دخل الجنة، فهذه هي الميزة لها، ولا يخفى علينا أن لله أسماء كثيرة كما في هذه الأحاديث.

وقبل أن ننتقل إلى الكلام في الصفات أضبط لطالب العلم قاعدة مهمة جداً وهي: أن الاشتراك في الاسم لا يستلزم الاشتراك في المسمى، فإذا قلت: الله الرحيم، أو الله الكريم، وسمي أحد الناس كريماً، فهذا الاشتراك هو بالنسبة للاسم والصفة، وهو لا يدل على الاستواء، فكرم الله جل وعلا فيه الكمال المطلق، وكرم هذا المخلوق ناقص ولو كان كرمه ككرم حاتم الطائي.

وأيضاً قال الله تعالى: {يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح:10] فالله له يد، والإنسان له يد، فاشتركا في الاسم، فهذه يد وهذه يد، لكن لا يلزم من ذلك أن تتساوى يد الله ويد المخلوق أبداً، {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].
নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত কিছু মূলনীতি

এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে যা এই নামসমূহকে আমাদের জন্য সুসংজ্ঞায়িত করে: প্রথমত: এই সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর (হুসনা); কারণ এগুলো পূর্ণাঙ্গ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। নামের পরিধি গুণের পরিধির চেয়ে সংকীর্ণ এবং গুণের পরিধি অধিক প্রশস্ত; কারণ প্রতিটি নামই একটি গুণ বহন করে কিন্তু এর উল্টোটি হয় না, অর্থাৎ প্রতিটি গুণ একটি নাম বহন করে না। যেমন 'আযীয' নামটির মধ্যে সম্মানের গুণ রয়েছে, 'রাউফ' নামটির মধ্যে মায়া-মমতার গুণ রয়েছে, অনুরূপভাবে 'কারীম', 'রাহীম' ও 'রাহমান' নামের ক্ষেত্রেও। তবে গুণাবলির ক্ষেত্রে আপনি প্রতিটি গুণ থেকে একটি করে নাম উদ্গত করতে পারবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫]। এখানে 'ইস্তিওয়া' বা উঠার গুণ থেকে আমরা 'আল-মুস্তাবী' নামক কোনো নাম উদ্গত করতে পারি না। এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, নামের পরিধি গুণের পরিধির চেয়ে সংকীর্ণ।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর নামসমূহ সীমাবদ্ধ নয়। সেগুলো অনেক ও অসংখ্য এবং কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (হে আল্লাহ, আমি আপনার বান্দা, আপনার দাসের সন্তান এবং আপনার দাসীর সন্তান। আমার কপাল আপনার হাতে। আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকরী, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়সংগত। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন)।

সুতরাং: সৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর এমন কিছু নাম জানে যা অন্যরা জানে না।

এরপর তিনি বললেন: (অথবা যা আপনি আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা যা আপনি আপনার নিকট গায়েবি ইলমে সংরক্ষিত রেখেছেন)। সুতরাং আল্লাহর এমন অনেক নাম রয়েছে যা আল্লাহ জানেন এবং তাঁর সৃষ্টির কেউ জানে না। এটিই প্রমাণ করে যে আল্লাহর নামসমূহ অত্যন্ত অনেক এবং তা সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

এছাড়া মহান শাফায়াত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসেও এর প্রমাণ রয়েছে। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আদম বলবেন: তোমরা নূহের কাছে যাও, ইব্রাহীমের কাছে যাও, মূসার কাছে যাও, এভাবে শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি আসবে। তখন তিনি বলবেন: (আমিই এর জন্য, আমিই এর জন্য। এরপর তিনি আরশের নিচে গিয়ে সেজদাবনত হবেন। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমাকে এমন কিছু প্রশংসাবাক্য শিখিয়ে দেবেন যা দিয়ে আমি তাঁর প্রশংসা করব)। অর্থাৎ এমন কিছু প্রশংসাগীতি যা আমি তখন শিখব। আর প্রশংসা হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্য তাঁর যোগ্যতানুসারে গুণকীর্তন করা। তিনি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি দ্বারা তাঁর প্রশংসা করবেন। সুতরাং এতে এমন কিছু নাম রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরশের নিচে সেজদাবনত হওয়ার আগ পর্যন্ত জানতেন না। এটিও আপনাকে প্রমাণ দেয় যে আল্লাহর নামসমূহ সীমাবদ্ধ নয়।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি যেন আমাদের মনে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)। এর উত্তর খুবই সহজ, আর তা হলো: এই নিরানব্বইটি নামের অন্যান্য সকল নামের চেয়ে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর সেই বৈশিষ্ট্য হলো: (যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)। গণনা করা বা আয়ত্ত করার অর্থ হলো: সেগুলো মুখস্থ করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা। অর্থাৎ সে এগুলোর মাধ্যমেই উসিলা তালাশ করে। যেমন সে 'কারীম' নামটি মুখস্থ করেছে, তাই সে বলে: হে কারীম! আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন। সে 'কাদীর' নামটি মুখস্থ করেছে, তাই সে বলে: হে কাদীর! আমাকে জালেমদের হাত থেকে রক্ষা করুন। হে আযীয! আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন। এভাবে সে এই নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে।

এছাড়াও এই গুণাবলির প্রভাব নিজের চরিত্রে ধারণ করা। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা অত্যন্ত দয়ালু, তিনি প্রত্যেক দয়ালুকে ভালোবাসেন; তিনি অত্যন্ত মহানুভব, তিনি প্রত্যেক মহানুভবকে ভালোবাসেন। সুতরাং নাম বা গুণের মাধ্যমে আপনার আল্লাহর ইবাদত করার একটি দিক হলো এই নামের প্রভাব নিজের চরিত্রে ধারণ করা। আল্লাহর নাম যেহেতু 'কারীম', তাই আপনিও মহানুভব বা উদার হবেন। আল্লাহর নাম 'আফউ' (ক্ষমাশীল), তিনি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করেন। তাই আপনিও যদি কোনো জালেমের ওপর সামর্থ্যবান হন, তবে তাকে ক্ষমা করে দিন—যদি না এতে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে বা তাদের অহংকার বৃদ্ধি পায়। আর যদি আপনি জানেন যে আল্লাহ 'আযীয', তবে আপনি তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে সম্মানিত করুন এবং এই গুণাবলির প্রভাবগুলো নিজের চরিত্রে ধারণ করুন।

সুতরাং এই নিরানব্বইটি নাম যারা গণনা করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে—এটিই হলো এগুলোর বিশেষত্ব। আর এটি আমাদের অজানা নয় যে আল্লাহর অনেক নাম রয়েছে, যেমনটি এই হাদিসগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।

গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনায় যাওয়ার আগে আমি জ্ঞানান্বেষীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি সুনির্দিষ্ট করে দিচ্ছি, তা হলো: নামের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকা সত্তার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকাকে আবশ্যক করে না। আপনি যখন বলেন: আল্লাহ দয়ালু (রাহীম) অথবা আল্লাহ মহানুভব (কারীম), আর কোনো মানুষকেও 'কারীম' (মহানুভব) নাম দেওয়া হয়, তবে এই সাদৃশ্যটি কেবল নাম ও গুণের ক্ষেত্রে। এটি সমতা বা অভিন্নতা বোঝায় না। কেননা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার মহানুভবতা হলো নিরঙ্কুশ পূর্ণাঙ্গ, আর এই সৃষ্টির মহানুভবতা ত্রুটিপূর্ণ—যদিও তার মহানুভবতা হাতেম তায়ীর মতোও হয়।

এছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে} [ফাতহ: ১০]। আল্লাহর হাত আছে এবং মানুষেরও হাত আছে। তারা নামের ক্ষেত্রে শরিক হয়েছে—এটিও হাত, ওটিও হাত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আল্লাহর হাত এবং সৃষ্টির হাত কখনো সমান হবে। {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [শূরা: ১১]।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌صفات الله تعالى

الصفات تنقسم إلى قسمين: صفات ثبوتية، وصفات سلبية.

فالصفات الثبوتية: هي الصفات التي أثبتها الله لنفسه في كتابه، وأثبتها له رسوله في سنته.

وهذا يعني: أن أسماء الله كلها توقيفية، وهذا فيه رد على النصارى الذين يسمون الله جل وعلا بالأب.

وأما الصفات السلبية فهي الصفات المنفية التي نفاها الله عن نفسه، ونفاها عنه رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته.

والصفات الثبوتية قد ذكرها الله بنفسه في كتابه ورسوله في سنته، قال الله تعالى: {وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [الحجرات:8]، فأثبت لنفسه صفة العلم والحكمة، وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: (أربعوا على أنفسكم إنكم تدعون سميعاً بصيراً)، فأثبت له السمع والبصر.

إذاً: الصفات الثبوتية أثبتها الله لنفسه وأثبتها له رسوله صلى الله عليه وسلم.
মহান আল্লাহর গুণাবলি

গুণাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক গুণাবলি এবং নেতিবাচক গুণাবলি।

ইতিবাচক গুণাবলি হলো সেই সকল গুণ যা আল্লাহ নিজের জন্য তাঁর কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর সুন্নাহতে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।

এর অর্থ হলো: আল্লাহর সকল নামই তাওকিফিয়্যাহ (শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল), এবং এর মধ্যে ঐ সকল খ্রিস্টানদের খণ্ডন করা হয়েছে যারা মহান আল্লাহকে 'পিতা' বলে অভিহিত করে।

আর নেতিবাচক গুণাবলি হলো সেই সকল গুণ যা আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে নাকচ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে তাঁর থেকে নাকচ করেছেন।

ইতিবাচক গুণাবলি আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল তাঁর সুন্নাহতে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" [আল-হুজুরাত: ৮], ফলে তিনি নিজের জন্য জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার গুণ সাব্যস্ত করেছেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও, নিশ্চয়ই তোমরা ডাকছো সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকে", এভাবে তিনি আল্লাহর জন্য শ্রবণ ও দর্শনের গুণ সাব্যস্ত করেছেন।

অতএব: ইতিবাচক গুণাবলি আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الصفات الثبوتية

الصفات الثبوتية تنقسم إلى أقسام ثلاثة: صفات ذاتية، وصفات فعلية، وصفات خبرية.

فالصفات الذاتية هي الصفات التي لا تنفك عن الله بحال من الأحوال، فهي أزلية أبدية لم يزل متصفاً بها ولا يزال، مثل العلم، فالله لم يزل متصفاً به ولا يزال، فليس هناك لحظة لا يعلم الله جل وعلا فيها كما قالت القدرية، فهم يقولون: إن الله لا يعلم أفعال العباد إلا بعدما تفعل! وهذا غير صحيح، فهذا علم أزلي لم يزل الله ولا يزال متصفاً به.

وأيضاً العزة والقدرة والحياة فكل هذه صفات ذاتية أزلية أبدية لا تنفك عن الله بحال من الأحوال.

النوع الثاني: الصفات الفعلية، وهي الصفات التي تتجدد وتتعلق بالمشيئة، مثال ذلك: النزول، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (ينزل ربكم إلى السماء الدنيا في ثلث الليل الآخر)، فالله ينزل نزولاً يليق بجلاله وكماله جل وعلا، وأما البشر فنزولهم يليق بنقصهم.

وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم: (يضحك ربكم من رجلين يقتل أحدهما الآخر ويدخلان الجنة)، فالله يضحك ضحكاً يليق بكماله، كما قال الصحابي للرسول صلى الله عليه وسلم: (أيضحك ربنا؟ قال: نعم، قال: إذاً لم نعدم خيراً من رب يضحك)؛ لأن لازم هذا الضحك أن يرحمنا، وأنت لو دخلت على صديق لك مسرور وطلبت منه أي شيء فإنه يعطيك إياه برحابة صدر، ولله المثل الأعلى، فإن كان ربك يضحك فلازم ذلك أن يغدق عليك النعم ويرحمك رحمة واسعة، فهذه الصفات تسمى صفات فعلية.

النوع الثالث: الصفات الخبرية وهي: الصفات التي لا مدخل للعقل فيها، وأما الصفات الأزلية الأبدية فالعقل يثبتها ويقبلها وإن كانت توقيفية، فالعقل يثبتها ولا يعارضها، كالعلم، فهذا الكون وهذه البحار وهذه الجبال وهذه الأشجار والنجوم والشمس التي تطلع في الصباح وتغرب في المساء، كل هذا الكون المدبَّر لابد أن يكون نابعاً عن علم وعن حكمة، فهذه تدلك على إثبات العلم والحكمة عقلاً.

وأما الصفات الخبرية فلا مدخل للعقل فيها، وضابطها: أن مسماها بالنسبة لنا أجزاء وأبعاض، كاليد والساق والعين، فاليد جزء مني لكنها بالنسبة لله تسمى صفة خبرية، ولا يقال: جزء من الله، بل هي صفة من صفات الخبرية.

فلله يد {يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح:10]، ولله ساق {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلا يَسْتَطِيعُونَ} [القلم:42]، ولله عين {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر:14]، {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه:39]، وهذا كله {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11].

إذاً: فهذه الصفات الثبوتية تضبطها قاعدة مهمة جداً وهي: أنها كل ما أثبته الله لنفسه وأثبته له رسوله بلا تمثيل؛ لأن الله جل وعلا قال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11]، وننزه الله بلا تعطيل.
সাব্যস্তকৃত গুণাবলি

সাব্যস্তকৃত গুণাবলি তিন ভাগে বিভক্ত: সত্তাগত গুণাবলি, কর্মগত গুণাবলি এবং শ্রবণনির্ভর গুণাবলি।

সত্তাগত গুণাবলি হলো সেই সকল গুণ যা কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। এগুলো অনাদি ও অনন্ত; আল্লাহ সর্বদা এগুলোতে ভূষিত ছিলেন এবং থাকবেন। যেমন জ্ঞান, আল্লাহ সর্বদা এতে ভূষিত ছিলেন এবং থাকবেন। এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন মহান আল্লাহ কিছু জানতেন না, যেমনটি কাদরিয়্যাহ সম্প্রদায় দাবি করে। তারা বলে: ‘বান্দা কাজ করার আগে আল্লাহ তা জানেন না!’ এটি সঠিক নয়। বরং এটি আল্লাহর অনাদি জ্ঞান যার দ্বারা আল্লাহ সর্বদা গুণান্বিত ছিলেন ও থাকবেন।

অনুরূপভাবে সম্মান, ক্ষমতা এবং জীবন—এসবই হলো অনাদি ও অনন্ত সত্তাগত গুণাবলি যা কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

দ্বিতীয় প্রকার: কর্মগত গুণাবলি। এগুলো হলো সেই সকল গুণ যা নতুনভাবে প্রকাশিত হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট। উদাহরণস্বরূপ: নেমে আসা, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন)। আল্লাহ তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই নেমে আসেন। আর মানুষের নেমে আসা তাদের অপূর্ণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: (তোমাদের রব এমন দুইজন ব্যক্তির অবস্থা দেখে হাসেন যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করে কিন্তু তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে)। আল্লাহ তাঁর পূর্ণতার উপযোগী করেই হাসেন, যেমনটি এক সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: (আমাদের রব কি হাসেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন সাহাবী বললেন: তাহলে আমরা হাসেন এমন রবের পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হব না)। কেননা এই হাসির অনিবার্য ফলাফল হলো আমাদের প্রতি রহম করা। আপনি যদি আপনার কোনো সন্তুষ্ট বন্ধুর কাছে গিয়ে কিছু চান, তবে সে প্রশস্ত চিত্তে তা আপনাকে দান করবে। আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ। যদি তোমার রব হাসেন, তবে তার অনিবার্য অর্থ হলো তিনি তোমার ওপর নেয়ামত বর্ষণ করবেন এবং তোমাকে প্রশস্ত রহমত দান করবেন। এই গুণাবলিকেই কর্মগত গুণাবলি বলা হয়।

তৃতীয় প্রকার: শ্রবণনির্ভর গুণাবলি। এগুলো হলো সেই সকল গুণ যেগুলোতে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। পক্ষান্তরে অনাদি-অনন্ত গুণাবলিকে বিবেক সাব্যস্ত করে এবং গ্রহণ করে, যদিও সেগুলো ওহী নির্ভর; বিবেক এগুলোকে সাব্যস্ত করে এবং এর বিরোধিতা করে না, যেমন জ্ঞান। কারণ এই মহাবিশ্ব, সমুদ্র, পাহাড়, গাছপালা, নক্ষত্র এবং সকালে উদিত হয়ে সন্ধ্যায় অস্ত যাওয়া সূর্য—সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব অবশ্যই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ হতে হবে। সুতরাং এগুলো যুক্তি দিয়েও জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাব্যস্তকরণকে নির্দেশ করে।

তবে শ্রবণনির্ভর গুণাবলির ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো স্থান নেই। এর নিয়ম হলো: আমাদের ক্ষেত্রে এগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিসেবে পরিচিত, যেমন হাত, পা এবং চোখ। হাত আমার একটি অংশ, কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে এগুলোকে শ্রবণনির্ভর গুণ বলা হয়। একে ‘আল্লাহর অংশ’ বলা যাবে না, বরং এটি শ্রবণনির্ভর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ।

সুতরাং আল্লাহর হাত রয়েছে, {আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে} [আল-ফাতহ: ১০]। আল্লাহর পা রয়েছে, {যেদিন পা উন্মোচন করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না} [আল-কালাম: ৪২]। আল্লাহর চোখ রয়েছে, {যা আমাদের চোখের সামনে পথ চলে} [আল-কামার: ১৪], {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে গড়ে ওঠো} [ত্বহা: ৩৯]। আর এ সবই হলো এমন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই} [আশ-শূরা: ১১]।

অতএব, এই সাব্যস্তকৃত গুণাবলি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, আর তা হলো: আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই গ্রহণ করা; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই} [আশ-শূরা: ১১]। আমরা কোনো প্রকার গুণ অস্বীকার ছাড়াই আল্লাহকে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করি।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الصفات السلبية

القسم الثاني من الصفات: الصفات السلبية، أي الصفات المنفية عن الله، وهي الصفات التي نفاها الله عن نفسه ونفاها عنه رسوله صلى الله عليه وسلم، كما قال الله تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق:38]، فنفى اللغوب، واللغوب: هو الإعياء والتعب، أي: ما مسنا من تعب ولا إعياء، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله لا ينام ولا ينبغي له أن ينام)، فنفى عنه صفة النوم.

إذاً: الصفات المنفية هي التي نفاها الله عن نفسه أو نفاها عنه رسوله صلى الله عليه وسلم، وضابط هذه الصفات أن يتقدمها (ما) أو (لا) أو أي حرف من حروف النفي، ولا نتعبد لله بها بالنفي المحض، فالنفي المحض ليس فيه كمال، ونحن قد قعدنا قاعدة وهي: أن لله أسماء حسنى وصفات علا، فهي كلها كاملة، والنفي المحض لا كمال فيه، فتنفي لتثبت كمال الضد، فأقول: إن الله لا ينام؛ لكمال حياته وكمال قيوميته.

والله خلق السموات والأرض ولم يمسه تعب ولا لغوب؛ لكمال قوته وكمال قدرته، إذاً فتنفي هذه الصفات عن الله مع إثبات كمال الضد.

وأيضاً من الأدب عند النفي أن تنفي نفياً مجملاً ولا تفصل، فلا تقول: الله ليس بعرض ولا بجوهر ولا بكذا ولا بكذا؛ لأن تعدد النفي فيه إساءة أدب مع الله جل وعلا، وأما تعدد صفات الإثبات ففيه أدب مع الله ومدح وثناء عليه جل وعلا.
নেতিবাচক গুণাবলী

সিফাতের দ্বিতীয় প্রকার হলো: নেতিবাচক গুণাবলী (সিফাত আল-সালবিয়্যাহ), অর্থাৎ ঐ সকল গুণ যা আল্লাহ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর এগুলো সেই সকল গুণ যা আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে নেফি (অস্বীকার) করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে নেফি করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, যমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি} [ক্বাফ: ৩৮]। এখানে তিনি 'লুগুব' নেফি করেছেন; আর 'লুগুব' হলো অবসাদ ও ক্লান্তি। অর্থাৎ: আমাকে কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ স্পর্শ করেনি। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয় নয়), সুতরাং তিনি তাঁর সত্তা থেকে ঘুমের গুণটি নেফি করেছেন।

অতএব: নেফিকৃত গুণাবলী হলো সেগুলো যা আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে নেফি করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে নেফি করেছেন। এই গুণগুলোর মানদণ্ড হলো এগুলোর শুরুতে (মা) অথবা (লা) কিংবা অন্য কোনো না-বোধক অব্যয় থাকবে। আর আমরা কেবল নিছক না-বোধক (নেফি) দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করি না; কারণ নিছক নেফির মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই। আমরা একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছি যে: আল্লাহর জন্য সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলী রয়েছে, যার সবগুলোই পূর্ণাঙ্গ। আর নিছক নেফির মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই, তাই আপনি নেফি করবেন তার বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করার জন্য। সুতরাং আমি বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না—তাঁর হায়াত (জীবন) ও কাইয়ূমিয়্যাতের পূর্ণতার কারণে।

আর আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছেন এবং কোনো অবসাদ বা ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করেনি—তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার পূর্ণতার কারণে। অতএব, এই গুণগুলো আল্লাহ থেকে নেফি করতে হবে তার বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করার সাথে সাথে।

এছাড়াও নেফি বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে আদব (শিষ্টাচার) হলো যে, আপনি ঢালাওভাবে নেফি করবেন এবং বিস্তারিত বিবরণ দিবেন না। সুতরাং আপনি বলবেন না: আল্লাহ 'আরায' (আকস্মিক গুণ) নন, 'জাওহার' (মৌলিক পদার্থ) নন, এমন নন বা তেমন নন; কারণ নেফির আধিক্যের মধ্যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার সাথে শিষ্টাচার লঙ্ঘন রয়েছে। পক্ষান্তরে ইতিবাচক (ইসবাত) গুণাবলীর আধিক্য প্রদর্শনের মধ্যে আল্লাহর প্রতি আদব এবং তাঁর জন্য প্রশংসা ও গুণকীর্তন নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌توحيد العبادة

القسم الثاني: توحيد العبادة، أو توحيد الله في أفعال العباد، وهذا هو الذي من أجله أنزل الله الكتب، وخلق الخلق، ومن أجله ضرب الصراط، ومن أجله جعل الجنة والنار، وهو توحيد الإلهية.

ومعناه: إفراد الله جل وعلا بالعبادة، والقاعدة: أن كل عبادة ثبتت بالكتاب والسنة أنها عبادة فصرفها لله توحيد، وصرفها لغير الله شرك، وأيضاً: كل سبب شرعه الله فالأخذ به توحيد، والأخذ بالأسباب التي لم يشرعها الله جل وعلا ولا رسوله شرك.

وتفسير ذلك مثلاً: أن تأتي إلى سبب شرعه الله جل وعلا كالتبرك بشرب ماء زمزم، فهذا سبب في الشفاء، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (ماء زمزم لما شرب له)، فهذا توحيد، وأما إذا أخذت سبباً لم يسببه الله جل وعلا، ولم يشرعه في كتابه ولا على لسان النبي صلى الله عليه وسلم، فقد دخلت في باب من أبواب الشرك، مثال ذلك: قول النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيح: (أصبح من عبادي مؤمن بي وكافر، فمن قال: مطرنا بفضل الله ورحمته فهذا مؤمن بي كافر بالكوكب، ومن قال: مطرنا بنوء كذا وكذا فهذا كافر بي مؤمن بالكوكب).

وهذا فيه تفصيل، فإن اعتقد أن النجم يتحكم في الكون من دون الله، وهو الذي ينزل المطر، فهذا الاعتقاد كفر يخرج من الملة؛ لأنه اعتقد الربوبية في غير الله جل وعلا، فإن اعتقد أن هناك من يدبر الأمر غير الله كالذين يدعون في الأولياء وأرواح الأولياء فكل هذه الشركيات تخرج من الملة.

وأما إذا اعتقد أن النجوم سبب في نزول المطر كالسحاب فهذا من الشرك الأصغر؛ لأنك جعلت سبباً لم يشرعه الله، والله جل وعلا يقول: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى:21]، فالله جل وعلا قد بين لك سبب المطر وهو: أنه يثير سحاباً، وهذا السحاب يتراكم وينزل بسببه المطر.

إذاً فتوحيد الإلهية هو إفراد الله بالعبادة، فكل عبادة تصرفها لله بعد ثبوتها بالشرع فهي توحيد، وصرفها لغير الله شرك.
ইবাদতের তাওহীদ

দ্বিতীয় বিভাগ: ইবাদতের তাওহীদ, অথবা বান্দাদের কার্যাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা। এটিই সেই তাওহীদ যার জন্য আল্লাহ কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং যার জন্যই তিনি সিরাত (পুলসিরাত) স্থাপন করেছেন এবং জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারণ করেছেন; আর এটিই হলো ইলাহিয়্যাতের তাওহীদ।

এর অর্থ হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা। আর এর মূলনীতি হলো: কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা যা কিছুই ইবাদত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য নিবেদন করাই তাওহীদ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক। অনুরূপভাবে, আল্লাহ তাআলা যে সকল মাধ্যম বা উপকরণ শরীয়তসম্মত করেছেন তা গ্রহণ করা তাওহীদ, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে সকল উপকরণ শরীয়তসম্মত করেননি তা গ্রহণ করা শিরক।

এর ব্যাখ্যা স্বরূপ উদাহরণ হলো: আপনি যদি আল্লাহ তাআলা প্রবর্তিত কোনো কারণ বা উপকরণ গ্রহণ করেন, যেমন যমযমের পানি পানের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা; এটি আরোগ্যের একটি কারণ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা তারই জন্য"। এটি তাওহীদ। কিন্তু আপনি যদি এমন কোনো কারণ বা উপকরণ গ্রহণ করেন যা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেননি এবং তাঁর কিতাবে বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে প্রবর্তন করেননি, তবে আপনি শিরকের একটি দরজায় প্রবেশ করলেন। এর উদাহরণ হলো সহীহ হাদীসে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মুমিন হিসেবে এবং কেউ কাফির হিসেবে সকাল অতিবাহিত করেছে। যে বলেছে: আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে: অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।"

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, নক্ষত্র আল্লাহকে ছাড়াই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেটিই বৃষ্টি বর্ষণ করে, তবে এই বিশ্বাস কুফর যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেবে; কারণ সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের মধ্যে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে বিশ্বাস করেছে। তেমনিভাবে যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ মহাবিশ্ব পরিচালনা করে—যেমন যারা অলি-আউলিয়া এবং তাদের রূহের কাছে দুআ করে—তবে এই সকল শিরক তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেবে।

পক্ষান্তরে, যদি কেউ বিশ্বাস করে যে নক্ষত্র মেঘের মতো বৃষ্টি বর্ষণের একটি কারণ বা মাধ্যম মাত্র, তবে এটি ছোট শিরক; কারণ আপনি এমন কিছুকে কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন যা আল্লাহ সাব্যস্ত করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" [শূরা: ২১]। আল্লাহ তাআলা আপনার কাছে বৃষ্টির কারণ স্পষ্ট করেছেন, আর তা হলো: তিনি মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন এবং সেই মেঘমালা ঘনীভূত হয় এবং এর ফলে বৃষ্টি বর্ষিত হয়।

সুতরাং, ইলাহিয়্যাতের তাওহীদ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা। অতএব, শরীয়ত দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পর প্রতিটি ইবাদত আল্লাহর জন্য নিবেদন করাই হলো তাওহীদ, আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য নিবেদন করা হলো শিরক।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الإسلام والإيمان

الإسلام والإيمان من التوحيد، والإسلام معناه: الاستسلام التام والخضوع والإذعان لله جل وعلا، وقد مدح الله إبراهيم فقال: {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [البقرة:131] أي: لأوامر الله، وهذا لما أمره أن يذبح ابنه، فقام ليذبحه استسلاماً لأوامر الله جل وعلا.

وأركان الإسلام خمسة كما في الحديث: (بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت لمن استطاع إليه سبيلاً).

والإيمان في اللغة معناه: التصديق، وفي الشرع: هو التصديق المستلزم للقبول والإذعان، فلا ينفع التصديق فقط، ولابد من تصديق مستلزم للخضوع والمسكنة، ومستلزم للقبول والإذعان.

وهو يتعدى بنفسه ويتعدى باللام ويتعدى بالباء، فإذا تعدى بنفسه فإنه يكون بمعنى الأمان، تقول: أمنته، أي: أعطيته الأمان ضد الخوف، قال الله تعالى: {فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ * الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ} [قريش:3 - 4]، وإذا تعدى بالباء مثل: آمنت بالله وآمنت برسول الله، فمعناه: صدقت بربوبية الله وبإلهية الله جل وعلا، وصدقت برسالة الرسول صلى الله عليه وسلم، فإذا تعدى بالباء فيكون معناه التصديق.

وإذا تعدى باللام فيكون معناه الاستسلام والخضوع والانقياد، مثل: آمنت لله، أي: انقدت وخضعت واستسلمت لأوامر الله، ومثل آمنت لرسول الله، أي: استسلمت في اتباعي لرسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ} [العنكبوت:26] يعني: اتبعه واستسلم له.

فالذي يتعدى باللام معناه الاتباع والانقياد التام.
ইসলাম ও ঈমান

ইসলাম ও ঈমান তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের অর্থ হলো: মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, বিনয় ও আনুগত্য। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশংসা করে বলেছেন: {যখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো', তিনি বললেন, 'আমি বিশ্বজগতের রবের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম'} [আল-বাকারা: ১৩১]। অর্থাৎ: আল্লাহর নির্দেশের প্রতি। আর এটি তখন ঘটেছিল যখন তিনি তাকে তার পুত্রকে জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করে তাকে জবেহ করতে উদ্যত হন।

ইসলামের রুকন বা স্তম্ভ পাঁচটি, যেমনটি হাদীসে এসেছে: (ইসলাম পাঁচটি জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; রমজানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা)।

আভিধানিক অর্থে ঈমান হলো: বিশ্বাস করা বা সত্যায়ন করা। আর শরীয়তের পরিভাষায়: এটি এমন সত্যায়ন যা গ্রহণ ও আনুগত্যকে আবশ্যক করে। সুতরাং শুধুমাত্র বিশ্বাস বা সত্যায়ন যথেষ্ট নয়, বরং এমন সত্যায়ন হতে হবে যা বিনয় ও দীনতা এবং গ্রহণ ও আনুগত্যকে আবশ্যক করে।

এটি (ঈমান শব্দটি) কখনো সরাসরি ব্যবহৃত হয়, কখনো 'লাম' অক্ষরের মাধ্যমে এবং কখনো 'বা' অক্ষরের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। যখন এটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়, তখন এটি নিরাপত্তার অর্থে আসে। যেমন আপনি বললেন: আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি, অর্থাৎ ভয়ের বিপরীতে তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছি। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে * যিনি তাদের ক্ষুধার সময় অন্ন দিয়েছেন এবং ভয়ের সময় তাদের নিরাপদ করেছেন} [কুরাইশ: ৩-৪]। আর যখন এটি 'বা' অক্ষরের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, যেমন: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি, তখন এর অর্থ হয়: আমি মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) সত্য বলে স্বীকার করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। সুতরাং যখন এটি 'বা' এর মাধ্যমে আসে তখন তার অর্থ হয় সত্যায়ন বা বিশ্বাস করা।

আর যখন এটি 'লাম' অক্ষরের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয় আত্মসমর্পণ, বিনয় ও আনুগত্য। যেমন: আমি আল্লাহর জন্য ঈমান এনেছি, অর্থাৎ আমি আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অনুগত হয়েছি, বিনয় প্রকাশ করেছি এবং আত্মসমর্পণ করেছি। অনুরূপভাবে আমি আল্লাহর রাসূলের জন্য ঈমান এনেছি, অর্থাৎ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে আত্মসমর্পণ করেছি। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর লুত তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন} [আল-আনকাবুত: ২৬] অর্থাৎ: তিনি তাঁর অনুসরণ করলেন এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করলেন।

অতএব, যা 'লাম' অক্ষরের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তার অর্থ হলো অনুসরণ এবং পূর্ণ আনুগত্য।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌العلاقة بين الإسلام والإيمان

العلاقة بين الإسلام والإيمان أنهما إذا اجتمعا افترقا، وإذا افترقا اجتمعا، بمعنى أنه إذا اجتمع الإسلام والإيمان في الذكر افترقا في المعنى، فيكون الإسلام معناه الأفعال الظاهرة، والإيمان معناه الأفعال الباطنة، وأظهر مثال لذلك حديث جبريل عليه الصلاة والسلام قال: (أخبرني عن الإسلام، قال: أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة) إلى آخر هذه الأفعال الظاهرة، وسأله عن الإيمان -فاجتمع في الذكر هنا مع الإسلام- فقال: (أخبرني عن الإيمان، قال: أن تؤمن بالله وملائكته) أي: أن تقر في قلبك كما سنبين أنه قول وعمل، فتقر في قلبك بالله وملائكته وكتابه ورسله إلى آخر الحديث.

إذاً: إذا اجتمعا في الذكر افترقا في المعنى، فيكون الإسلام بمعنى الفعل الظاهر، وكان الإيمان بمعنى الفعل الباطن، قال الله تعالى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14] يعني: في الظاهر {وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} [الحجرات:14].

وإذا افترقا في الذكر اجتمعا في المعنى، فإذا ذكر الإسلام وحده دخل تحته الإيمان، وإذا ذكر الإيمان وحده دخل تحته الإسلام، قال الله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمران:19]، فكل الأفعال الظاهرة والأفعال الباطنة هي الدين المذكور في هذه الآية: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمران:19]، فيدخل معه الإيمان والإحسان، وكما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (هذا جبريل جاءكم يعلمكم أمر دينكم).

والإيمان: قول وعمل، فهو قول باللسان وقول بالقلب، وعمل بالجوارح وعمل بالقلب.

قول باللسان، أي: أن تقول: لا إله إلا الله محمد رسول الله، وقول بالقلب، أي: أن تصدق وتقر بأن الله جل وعلا هو الخالق الرازق المدبر إلى آخر هذه المعاني التي شرحناها، وعمل بالأركان أي: أن تصلي وتزكي وتجاهد وتحج، وعمل بالقلب ومعناه المحبة والرجاء والخوف والتوكل واليقين والخشية والإنابة، فهذا هو عمل القلب، وكل ذلك مترابط، والإيمان كل متكامل.
ইসলাম ও ঈমানের মধ্যকার সম্পর্ক

ইসলাম ও ঈমানের মধ্যকার সম্পর্ক হলো এই যে, যখন তারা একত্রে উল্লিখিত হয় তখন তারা পৃথক অর্থ প্রকাশ করে, আর যখন তারা পৃথকভাবে উল্লিখিত হয় তখন তারা একে অপরের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর অর্থ হলো, যদি ইসলাম ও ঈমান একই বর্ণনায় একত্রে আসে, তবে অর্থের দিক থেকে তারা ভিন্ন হয়ে যায়। তখন ইসলামের অর্থ হয় বাহ্যিক কর্মকাণ্ড এবং ঈমানের অর্থ হয় অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড। এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের হাদিস, যেখানে তিনি বলেছিলেন: (আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: আপনি সাক্ষ্য দেবেন যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করবেন, জাকাত প্রদান করবেন) এভাবে অন্যান্য বাহ্যিক কাজগুলো পর্যন্ত। এরপর তিনি তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন—যেহেতু এখানে ঈমান ইসলামের সাথে একত্রে উল্লিখিত হয়েছে—তখন তিনি বললেন: (আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি) অর্থাৎ: আপনি আপনার অন্তরে তা স্বীকার করে নেবেন যেমনটি আমরা অচিরেই স্পষ্ট করব যে এটি কথা ও কাজের সমষ্টি; সুতরাং আপনি আপনার অন্তরে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস ও স্বীকৃতি দেবেন... হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

সুতরাং: যখন তারা বর্ণনায় একত্রে আসে তখন তারা অর্থের দিক থেকে পৃথক হয়ে যায়; তখন ইসলাম বাহ্যিক কাজের অর্থে এবং ঈমান অভ্যন্তরীণ কাজের অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {মরুবাসীরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘ তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’} [আল-হুজুরাত: ১৪] অর্থাৎ: বাহ্যিকভাবে {এবং এখনও তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি} [আল-হুজুরাত: ১৪]।

আর যখন তারা বর্ণনায় পৃথকভাবে আসে, তখন তারা অর্থের দিক থেকে একত্রিত হয়ে যায়। সুতরাং যখন শুধু ইসলাম উল্লেখ করা হয়, তখন ঈমানও তার অধীনে প্রবেশ করে; আর যখন শুধু ঈমান উল্লেখ করা হয়, তখন ইসলামও তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৯]। সুতরাং সমস্ত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডই হলো সেই ধর্ম যা এই আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৯]। ফলে এর সাথে ঈমান ও ইহসানও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ইনি জিবরাঈল, তোমাদেরকে তোমাদের ধর্মের বিষয়সমূহ শেখাতে এসেছেন)।

আর ঈমান হলো: কথা ও কাজের নাম। সুতরাং তা হলো জিহ্বার কথা ও অন্তরের কথা, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ ও অন্তরের কাজ।

জিহ্বার কথা অর্থাৎ: আপনার এই সাক্ষ্য দেওয়া যে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর অন্তরের কথা অর্থাৎ: আপনি বিশ্বাস করবেন ও স্বীকার করে নেবেন যে আল্লাহ মহানই হলেন একমাত্র স্রষ্টা, রিযিকদাতা ও সকল বিষয়ের পরিচালক—সেই সমস্ত অর্থ পর্যন্ত যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ অর্থাৎ: আপনার নামাজ পড়া, জাকাত দেওয়া, জিহাদ করা এবং হজ সম্পাদন করা। আর অন্তরের কাজ বলতে বোঝায় ভালোবাসা, আশা, ভয়, নির্ভরতা, দৃঢ় বিশ্বাস, ভীতি এবং তাঁর দিকে ফিরে আসা। এগুলোই হলো অন্তরের আমল বা কাজ। আর এই সবকিছুই একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এবং ঈমান হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিভাজ্য একক।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حكم صاحب الكبيرة

وهنا مسألة وهي: من فعل كبيرة من الكبائر فهل ينسحب الإيمان منه؟ وهل يخرج من الملة ويخلد في نار جهنم؟ الخوارج غلوا وقالوا: إنه يخرج من الملة ويخلد في النار، وأهل السنة والجماعة يقولون: فاعل الكبيرة تحت مشيئة الله، فإن شاء عذبه، وإن شاء غفر له ورحمه.

ولا يشكل علينا قول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن)، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لعن المؤمن كقتله)، وقوله: (لا ترجعوا بعدي كفاراً يضرب بعضكم رقاب بعض)، وقوله: (من غشنا فليس منا)، وقوله: (أنا بريء ممن جلس بين أظهر المشركين)، فلا يشكل علينا ذلك؛ لأنه مؤول، فقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن) نفى عنه الإيمان المطلق، أي: كمال الإيمان، وأما أصل الإيمان وهو الإسلام فهو موجود في القلب لا يرتفع عنه، ويدل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: (إن جبريل جاءني فبشرني أن من مات من أمتي وهو يقول: لا إله إلا الله دخل الجنة، فقال أبو ذر: يا رسول الله! وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق، قال: وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق، وعلى رغم أنف أبي ذر)، فهذا فيه دلالة على أن الزاني والسارق وشارب الخمر تحت مشيئة الله، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم عن ابن النعيمان: (ما أراه إلا يحب الله ورسوله)، وكان معتاداً على شرب الخمر، ومع ذلك لم ينزع من قلبه حب الله والرسول صلى الله عليه وسلم.
কবীরা গুনাহকারীর বিধান

এখানে একটি মাসআলা বা বিষয় রয়েছে, আর তা হলো: কেউ যদি কবীরা গুনাহসমূহের কোনো একটি করে, তবে কি তার থেকে ঈমান চলে যায়? আর সে কি ধর্ম থেকে বের হয়ে যায় এবং জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী হবে? খাওয়ারিজরা এ ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন করেছে এবং বলেছে: সে ধর্ম থেকে বের হয়ে যায় এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে: কবীরা গুনাহকারী আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন, আর চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন ও তার প্রতি দয়া করবেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী আমাদের জন্য কোনো অস্পষ্টতা তৈরি করে না যে: (ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (মুমিনকে অভিশাপ দেওয়া তাকে হত্যা করার সমান), এবং তাঁর বাণী: (তোমরা আমার পর একে অপরের ঘাড় কর্তনকারী কাফির হিসেবে ফিরে যেয়ো না), এবং তাঁর বাণী: (যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়), এবং তাঁর বাণী: (আমি ঐ ব্যক্তি থেকে মুক্ত যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে)। এ বিষয়গুলো আমাদের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না; কারণ এগুলো ব্যাখ্যাযোগ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না) এর মাধ্যমে তার থেকে পূর্ণাঙ্গ ঈমান অর্থাৎ ঈমানের পূর্ণতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর ঈমানের মূল ভিত্তি, যা হলো ইসলাম, তা অন্তরে বিদ্যমান থাকে এবং তা তার থেকে অপসারিত হয় না। এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার নিকট এসে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এই সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন আবু যার বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। তিনি আবারো বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে এবং আবু যারের নাক ধূলিমলিন হওয়া সত্ত্বেও)। এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, ব্যভিচারী, চোর এবং মদ্যপায়ী আল্লাহর ইচ্ছাধীন; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে নুআইমান সম্পর্কে বলেছিলেন: (আমি তাকে কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে বলেই জানি)। অথচ সে মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিল, তা সত্ত্বেও তার অন্তর থেকে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أنواع الكفر

الكفر كفران: كفر أكبر وكفر أصغر، كما أن الشرك شركان: شرك أكبر وشرك أصغر.

فالكفر الأكبر: هو الذي يخرج به صاحبه من الملة، ويخلد في نار جهنم، والكفر الأصغر صاحبه على شفا هلكة لكنه أيضاً تحت مشيئة الله جل وعلا، والكفر الأصغر: مثل الحلف بغير الله، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من حلف بغير الله فقد أشرك)، أو من اتخذ سبباً لم يشرعه الله كالتمائم، وإذا اعتقد أن السبب ينفع ويضر من دون الله فهذا شرك أكبر وكفر أكبر.

والفرق بينهما أن صاحب الشرك الأكبر والكفر الأكبر في نار جهنم خالد مخلداً، وأما صاحب الشرك الأصغر والكفر الأصغر فهو تحت المشيئة، فقد يدخل الجنة من أول وهلة، وقد يعذب بخطيئته ثم بعد ذلك يدخل الجنة.

ولا يمكن لإنسان بحال من الأحوال أن يكفر أحداً إلا الجهال المتجرئون، فهم الذين يطلقون التكفير، فلا يمكن لأحد أياً كان أن يكفر أحداً من المسلمين حتى يكون معه دليل أوضح من شمس النهار، خوفاً على نفسه من أن يقع في قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من قال لأخيه: يا كافر! فقد باء بها أحدهما)، فإن كان كافراً بحق ثبتت عليه، وإن لم يكن حارت ورجعت على هذا المكفر الجاهل الذي تكلم بما لا يعي ولا يعلم، فلا يصح لأي إنسان أن يتجرأ على مسألة التكفير، فإذا كان هناك دليل كشمس النهار على التكفير فهذا مخرج.

ولا يلزم من الوقوع في الكفر تكفير الفاعل، فالقول قد يكون كفراً، والفعل قد يكون كفراً، ومع ذلك لا يكون القائل والفاعل كافراً حتى تقام عليه الحجة وتزال عنه الشبهة، إلا فيما هو معلوم من الدين بالضرورة، كرجل يقوم في وسط الطريق فيسب الله جهاراً نعوذ بالله من ذلك، فهذا كفر وفاعله كافر ولا يلزم إقامة الحجة عليه ولا إزالة الشبهة؛ إذ إن هذا معلوم من الدين بالضرورة، أو رجل يسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهذا لابد أن يقتل، وهو كافر، ولابد على ولي الأمر أن يقتله، وحتى ولو تاب فلابد على ولي الأمر أن يقتله، فهذا كفر معلوم من الدين بالضرورة.

وهنا أمر وهو: أن المعلوم من الدين بالضرورة أمر متفاوت، فقد يكون الحكم معلوماً من الدين بالضرورة في بلد، ولا يكون معلوماً من الدين بالضرورة في بلد آخر، فالذي نشأ ببادية بعيدة ولم يعلم من أحكام الشرع شيئاً لا نطبق عليه هذه القاعدة.
কুফরের প্রকারভেদ

কুফর বা অবিশ্বাস দুই প্রকার: বড় কুফর ও ছোট কুফর, যেমনিভাবে শিরক বা অংশীদারিত্ব দুই প্রকার: বড় শিরক ও ছোট শিরক।

বড় কুফর হলো সেই বিষয় যার মাধ্যমে লিপ্ত ব্যক্তি দ্বীন বা ধর্মাদর্শ থেকে বের হয়ে যায় এবং সে জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী হবে। আর ছোট কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকে, তবে সে মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ছোট কুফরের উদাহরণ হলো: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল)। অথবা এমন কোনো কিছুকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি, যেমন তামায়েম বা কবচ। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে এই মাধ্যমটি আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকেই নিজে নিজে উপকার বা অপকার করতে সক্ষম, তবে তা বড় শিরক এবং বড় কুফর বলে গণ্য হবে।

এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, বড় শিরক ও বড় কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামের আগুনে চিরকাল অবস্থান করবে। পক্ষান্তরে ছোট শিরক ও ছোট কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; সে হয়তো প্রথমবারেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথবা তার পাপের কারণে শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে প্রবেশ করবে।

দুঃসাহসী মূর্খরা ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের পক্ষে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়; তারাই মূলত গণহারে কাফের ঘোষণার বিষয়টি ছড়িয়ে থাকে। কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে কাফের বলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয় যতক্ষণ না তার কাছে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট দলিল থাকে। এটি করা হয় নিজের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর আশঙ্কায়: (যে ব্যক্তি তার ভাইকে বলল: হে কাফের! তবে তাদের যে কোনো একজনের ওপর তা আপতিত হবে)। যদি সে সত্যিই কাফের হয়ে থাকে তবে তো হলোই, অন্যথায় এই অপবাদ সেই মূর্খ ব্যক্তির ওপর ফিরে আসবে যে না বুঝে এবং না জেনে কথা বলেছে। সুতরাং কোনো মানুষের জন্যই কাউকে কাফের বলার বিষয়ে দুঃসাহস দেখানো সঠিক নয়। তবে যদি কাফের সাব্যস্ত করার পেছনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট দলিল থাকে, তবে সেটিই দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ।

কুফরিতে লিপ্ত হওয়া মানেই আবশ্যিকভাবে সেই ব্যক্তিকে কাফের বলা নয়। কোনো কথা কুফরি হতে পারে, কোনো কাজও কুফরি হতে পারে, তা সত্ত্বেও সেই কথা বলনেওয়ালা বা কাজ সম্পাদনকারীকে কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ না তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার সংশয় দূর করা হয়। তবে দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। যেমন কোনো ব্যক্তি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে আল্লাহকে গালি দিল—আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—এটি কুফরি এবং এর কর্তাও কাফের; এক্ষেত্রে তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠা বা সংশয় দূর করার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি দ্বীনের একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। অথবা কোনো ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দিল, তবে তাকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে এবং সে একজন কাফের। শাসকের জন্য তাকে হত্যা করা অপরিহার্য, এমনকি সে তওবা করলেও শাসকের ওপর তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। এটি দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ কুফরি।

এখানে একটি বিষয় হলো: দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বা অকাট্য বিষয়গুলো স্থান ও পরিবেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো একটি বিধান কোনো দেশে দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হতে পারে, আবার অন্য দেশে তা না-ও হতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি দূরবর্তী জনশূন্য মরুভূমিতে বেড়ে উঠেছে এবং শরীয়তের বিধান সম্পর্কে কিছুই জানে না, তার ক্ষেত্রে আমরা এই নিয়ম প্রয়োগ করব না।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الكلام في القدر

القدر إجمالاً: هو قدرة الله، وهو فعل الله، فالله فعال لما يريد، ولا يستقيم إيمان عبد حتى يؤمن بالقدر، وأن ما أصابه لم يكن ليخطئه، وما أخطأه لم يكن ليصيبه، فكل شيء بقدر كما قال الله تعالى: {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ * وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} [القمر:52 - 53].

فكل شيء مقدر، والقدر هو فعل الله جل وعلا وقدرته، وهو من لوازم ربوبية الله جل وعلا.
তাকদীর প্রসঙ্গে আলোচনা

তাকদীর সংক্ষেপে হলো: আল্লাহর কুদরত বা সক্ষমতা, এবং এটি আল্লাহর কাজ; কারণ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। আর কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে এবং এই বিশ্বাস করে যে, যা তার ভাগ্যে জুটেছে তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে পেতে ভুল হয়েছে (অর্জিত হয়নি) তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না। সুতরাং সবকিছুই তাকদীর অনুযায়ী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তারা যা কিছু করেছে তার সবকিছুই আমলনামায় রয়েছে। এবং ছোট ও বড় প্রতিটি বিষয়ই লিপিবদ্ধ আছে।" [সূরা আল-কামার: ৫২-৫৩]।

সুতরাং প্রতিটি বিষয়ই নির্ধারিত, আর তাকদীর হলো মহান আল্লাহর কাজ ও তাঁর সক্ষমতা; এবং এটি মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের অন্যতম অপরিহার্য দাবি।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌مراتب القدر

الإيمان بالقدر يستقيم عندما تؤمن بأربع مراتب: علم فكتابة فإرادة فخلق، فتؤمن بعلم الله جل وعلا، وهو يشمل كل شيء، وأن الله قد أحاط بكل شيء علماً، فهو يعلم ما كان وما يكون وما لم يكن لو كان كيف سيكون، وهكذا كما قال الله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا} [الأنعام:27] أي: الكفار، {إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ * بَلْ بَدَا لَهُمْ مَا كَانُوا يُخْفُونَ مِنْ قَبْلُ وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} [الأنعام:27 - 28].

المرتبة الثانية: الكتابة، فكل شيء مكتوب {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ * وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} [القمر:52 - 53] يعني: في اللوح المحفوظ.

والكتابة أربع كتابات: كتابة أزلية، كتابة عمرية، كتابة عامية، كتابة يومية.

فالكتابة الأزلية في اللوح المحفوظ كانت قبل أن يخلق الله الخلق بخمسين ألف سنة، فكتب كل شيء، كتب هذا المجلس الذي سنجلس فيه، وكتب ما نتكلم به، وكتب حركاتنا وسكناتنا ونومنا وقيامنا، فكل ذلك مكتوب قبل أن يخلق الله السموات والأرض بخمسين ألف سنة.

والكتابة الثانية: كتابة عمرية، أي: في عمرك، وهذه الكتابة هي التي في صحف الملائكة، فعندما يأتي الملك بعد مائة وعشرين يوماً يقول: أي رب! أذكر أم أنثى؟ أي رب! الرزق؟ أي رب! الأجل؟ أي رب! أشقي أم سعيد؟ فيكتب.

كتابة عامية: وهي في ليلة القدر، {فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ} [الدخان:4]، قال ابن عباس: يكتب الحاج والمعتمر، ويكتب الميت والحي، والذي يرزق، والذي يولد له، والذي يتزوج إلى آخره.

الرابعة: كتابة يومية، فالملائكة الذين يتعاقبون ويتقابلون في العصر والفجر يكتبون ما يجري في اليوم.

وكل هذه الكتابات التي في صحف الملائكة يمكن أن يبدلها الله جل وعلا إلا التي كتبت في اللوح المحفوظ، فالكتابة العمرية والعامية واليومية يمكن أن تبدل، ويدل على ذلك عمل عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه، فقد كان يطوف بالكعبة ويقول: اللهم إن كنت قد كتبتني شقياً فامحها واكتبني عندك سعيداً، ثم يتلو {يَمْحُوا اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ} [الرعد:39].

إذاً: الذي يتبدل ويتغير ويمحى هو ما في صحف الملائكة، وأما اللوح المحفوظ فلا يتبدل فيه شيء بحال من الأحوال، وفهم هذا يخرج المرء من إشكال عظيم وهو: إذا كان القدر نازلاً لا محالة فكيف يذكر النبي صلى الله عليه وسلم أن القدر والدعاء يعتلجان، وأن القوي منهما يدفع الآخر، فكيف يكون ذلك والقدر قد قدر وانتهى الأمر؟

و

‌‌الجواب

أن في اللوح المحفوظ أن هنا الرجل سيدعو الله والله يقبل دعاءه فيرد القدر بهذا الدعاء، لكن ليس هذا مكتوباً في صحف الملائكة، فالملائكة القدر الذي في صحفهم سينزل عليه ولكنه يأتي الدعاء فيرفعه، فيمحى من صحف الملائكة، والله تعالى أعلى وأعلم.

المرتبة الثالثة: الإرادة، فما من شيء في هذا الكون إلا وهو بإرادة الله جل وعلا، {إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ} [المائدة:1] سبحانه وتعالى، وإرادة الله إرادتان: إرادة كونية وإرادة شرعية.

فالإرادة الكونية: هي المشيئة، فما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، وهذه ضابطها أنها تقع لا محالة، فلا مرد لها، وتكون فيما يحبه الله وما لا يحبه الله، فكفر أبي جهل أراده الله كوناً، وكفر أبي لهب أراده الله كوناً، هو لا يحبه لكن أراده كوناً لحكمة عنده، قال الله تعالى: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ} [الأنعام:125] يعني: يريد إرادة كونية، {وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} [الأنعام:125]، {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [القصص:56].

والإرادة الثانية: الإرادة الشرعية، وهي المحبة، وهذه فيما يحبه الله فقط، وقد تقع وقد لا تقع، وهذه خاصة بالإيمان والتيسير للطاعات، {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة:185]، {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [الإسراء:23] فقد تقع وقد لا تقع، فكثير من الناس أشركوا بالله جل وعلا وكفروا به، فالإرادة الشرعية هي المحبة.

وقد يكون الشيء مراداً شرعاً وكوناً كإيمان أبي بكر.

وأما غير المراد كوناً ولا شرعاً فمثل كفر المؤمن، فالله لا يرضاه شرعاً وأيضاً لم يقدره كوناً.

المرتبة الرابعة: الخلق، والخلق المطلق لله جل وعلا، {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر:62]، ومن الخلق أن الله خلق أفعال العباد، خلق العبد وخلق أفعاله، قال الله تعالى: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات:96]، وفي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله خلق كل صانع وصنعته).
তকদিরের স্তরসমূহ

তকদির বা ভাগ্যের প্রতি ঈমান তখনই সঠিক ও সুদৃঢ় হয়, যখন আপনি চারটি স্তরের প্রতি ঈমান আনবেন: জ্ঞান, লিখন, ইচ্ছা এবং সৃষ্টি। সুতরাং আপনি মহান আল্লাহর জ্ঞানের প্রতি ঈমান আনবেন, যা সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। যা ঘটে গেছে, যা ঘটছে এবং যা ঘটেনি—তা যদি ঘটত তবে কীভাবে ঘটত, সে সম্পর্কেও তিনি জানেন। যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন তাদের আগুনের ওপর দাঁড় করানো হবে} [আনআম: ২৭] অর্থাৎ কাফেরদের; {যখন তাদের আগুনের ওপর দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: ‘হায়! যদি আমাদের পুনরায় পাঠানো হতো, তবে আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ বরং তারা আগে যা গোপন করত তা এখন তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেছে। আর যদি তাদের পুনরায় পাঠানো হতো, তবে তাদের যা নিষেধ করা হয়েছিল তারা আবার তা-ই করত; নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।} [আনআম: ২৭-২৮]।

দ্বিতীয় স্তর: লিখন। প্রতিটি বিষয় লিখিত আছে। {তারা যা কিছু করেছে তা আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। আর প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয় তাতে লেখা আছে।} [ক্বামার: ৫২-৫৩] অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে বা সংরক্ষিত ফলকে।

আর এই লিখন চার প্রকার: অনাদি লিখন, জীবনকালীন লিখন, বার্ষিক লিখন এবং দৈনিক লিখন।

অনাদি লিখন হলো লাওহে মাহফুজে রক্ষিত সেই লিখন, যা আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে লিখেছেন। সেখানে তিনি সব কিছু লিখে রেখেছেন; আমাদের এই মজলিস যেখানে আমরা বসব, আমরা যা যা কথা বলব, আমাদের নড়াচড়া, স্থির থাকা, ঘুম এবং জাগরণ—সব কিছুই আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে লিখে রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় লিখন: জীবনকালীন লিখন, অর্থাৎ আপনার জীবনকাল নিয়ে যা লেখা হয়। এই লিখনটি ফেরেশতাদের খাতা বা সহিফায় থাকে। যখন মাতৃগর্ভে একশত বিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ফেরেশতা আসেন, তখন তিনি বলেন: ‘হে আমার রব! এটি কি পুরুষ নাকি নারী? হে আমার রব! এর রিজিক কী? হে আমার রব! এর আয়ু কতটুকু? হে আমার রব! এ কি হতভাগ্য নাকি সৌভাগ্যবান?’ এরপর তা লিখে ফেলা হয়।

বার্ষিক লিখন: এটি লাইলাতুল কদরে নির্ধারিত হয়। {তাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।} [দুখান: ৪]। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এই রাতে হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের নাম লেখা হয়, মৃত ও জীবিতদের নাম লেখা হয়, কার কত রিজিক হবে, কার সন্তান হবে এবং কার বিবাহ হবে—এই সবকিছুই লেখা হয়।

চতুর্থ: দৈনিক লিখন। আসর এবং ফজরের সময় যে ফেরেশতারা পালাবদল করে আসা-যাওয়া করেন, তারা প্রতিদিন যা ঘটছে তা লিখে রাখেন।

ফেরেশতাদের সহিফায় বা খাতায় যে সমস্ত লিখন রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে তার পরিবর্তন করতে পারেন; কেবল লাওহে মাহফুজে যা লেখা আছে তার পরিবর্তন হয় না। সুতরাং জীবনকালীন, বার্ষিক এবং দৈনিক লিখন পরিবর্তিত হতে পারে। এর প্রমাণ হলো উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল; তিনি কাবার চারদিকে তাওয়াফ করতেন আর বলতেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি যদি আমাকে হতভাগ্য হিসেবে লিখে থাকেন, তবে তা মুছে দিন এবং আপনার কাছে আমাকে সৌভাগ্যবান হিসেবে লিখে নিন।’ এরপর তিনি তিলাওয়াত করতেন: {আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব।} [রাদ: ৩৯]।

সুতরাং যা পরিবর্তিত হয়, পরিবর্তিত হয় এবং মুছে ফেলা হয়, তা হলো ফেরেশতাদের খাতায় থাকা বিষয়সমূহ। আর লাওহে মাহফুজের কোনো কিছুই কোনো অবস্থায় পরিবর্তিত হয় না। এই বিষয়টি বুঝতে পারলে মানুষ একটি বড় সংশয় থেকে মুক্তি পায়, আর তা হলো: যদি তকদির অবধারিতই হয়, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন উল্লেখ করেছেন যে, তকদির এবং দোয়া পরস্পর লড়াই করে এবং দোয়া তকদিরকে প্রতিহত করে? তকদির যদি আগে থেকেই নির্ধারিত এবং সমাপ্ত হয়ে থাকে, তবে এটি কীভাবে সম্ভব?

এবং

‌‌উত্তর

উত্তর হলো, লাওহে মাহফুজে এটি লেখা আছে যে, এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করবে এবং আল্লাহ তার দোয়া কবুল করবেন, ফলে এই দোয়ার মাধ্যমে তকদির বা বিপদটি দূর হয়ে যাবে। কিন্তু ফেরেশতাদের খাতায় এটি সেভাবে লেখা থাকে না। ফেরেশতাদের খাতায় যে তকদির লেখা থাকে তা তার ওপর আপতিত হওয়ার কথা, কিন্তু দোয়া এসে তাকে সরিয়ে দেয় এবং তা ফেরেশতাদের খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়। আর মহান আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

তৃতীয় স্তর: ইচ্ছা। এই মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটে তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে। {নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন সেই নির্দেশ দেন।} [মায়েদাহ: ১]। আল্লাহর ইচ্ছা দুই প্রকার: সৃষ্টিগত ইচ্ছা (কাওনিয়া) এবং শরীয়তগত ইচ্ছা (শরয়ীয়া)।

সৃষ্টিগত ইচ্ছা হলো আল্লাহর অভিপ্রায় (মাশিয়াহ); আল্লাহ যা চান তা হয় এবং যা চান না তা হয় না। এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি অবশ্যই ঘটবে, একে কেউ রদ করতে পারে না। এটি আল্লাহ যা ভালোবাসেন এবং যা ভালোবাসেন না—উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। যেমন আবু জেহেলের কুফর আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে ইচ্ছা করেছেন, আবু লাহাবের কুফর আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে ইচ্ছা করেছেন। তিনি এটি পছন্দ করেন না, কিন্তু তাঁর কোনো এক হিকমতের কারণে সৃষ্টিগতভাবে তা ইচ্ছা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান...} [আনআম: ১২৫] অর্থাৎ সৃষ্টিগতভাবে ইচ্ছা করেন; {যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন, মনে হয় সে যেন আকাশে আরোহণ করছে।} [আনআম: ১২৫]। {আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন।} [কাসাস: ৫৬]।

দ্বিতীয় ইচ্ছা: শরীয়তগত ইচ্ছা, যা হলো আল্লাহর মহব্বত বা ভালোবাসা। এটি কেবল আল্লাহ যা পছন্দ করেন তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটি ঘটতে পারে আবার নাও ঘটতে পারে। এটি ঈমান এবং ইবাদতের তাওফিকের সাথে সংশ্লিষ্ট। {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না।} [বাক্বারাহ: ১৮৫]। {আপনার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না।} [ইসরা: ২৩]। কিন্তু এটি ঘটতে পারে আবার নাও ঘটতে পারে; যেমন অনেক মানুষ আল্লাহর সাথে শিরক করেছে এবং তাঁকে অস্বীকার করেছে। সুতরাং শরীয়তগত ইচ্ছা হলো আল্লাহর ভালোবাসা।

কখনো কখনো কোনো বিষয় একই সাথে শরীয়তগত ও সৃষ্টিগত উভয় ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যেমন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঈমান।

আর যা সৃষ্টিগত বা শরীয়তগত কোনো ইচ্ছারই অন্তর্ভুক্ত নয়, তার উদাহরণ হলো একজন মুমিনের কুফরি। আল্লাহ শরীয়তগতভাবে এটি পছন্দ করেন না এবং সৃষ্টিগতভাবেও এটি নির্ধারণ করেননি।

চতুর্থ স্তর: সৃষ্টি। নিরঙ্কুশ সৃষ্টির ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহর। {আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা।} [জুমার: ৬২]। সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ বান্দার কাজসমূহও সৃষ্টি করেছেন; তিনি বান্দাকেও সৃষ্টি করেছেন এবং তার কাজকেও সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা করো তাও।} [সাফফাত: ৯৬]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক কারিগর এবং তার কারিগরিকে সৃষ্টি করেছেন)।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌خلق الله تعالى للمعاصي والشرور

هنا مسألة في القدر وهي: هل المعاصي خلقها الله أم لم يخلقها؟

 

‌‌الجواب

الله خلقها، فهو خالق كل شيء، لكن الشر لا ينسب إليه، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (والشر ليس إليك) أي: لا ينسب الشر إليك بحال من الأحوال؛ تأدباً مع الله، فالذي يمرض والذي يشفي هو الله سبحانه، لكن انظر إلى التأدب مع الله من نبيه إبراهيم عليه السلام حيث قال: {وَإِذَا مَرِضْتُ} [الشعراء:80] فأضاف المرض إلى نفسه؛ لأن الله هو الذي خلق فيه المرض، {وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ} [الشعراء:80] تأدباً مع الله فلا تنسبه إلى لله مع أن الله جل وعلا هو الذي خلقه وأوجده.

والله لم يخلق شراً محضاً، لكن خلق الشر نسبياً إضافياً، فهو يضاف إلى المخلوق لا إلى الخالق.

إذاً: يكتنف الشر فعلان: فعل الله وفعل العبد، فأما بالنسبة لله فكل أفعال الله جل وعلا كمال، وهي خارجة عن صفات كمال وأسماء حسنى، فكل فعل الله جل وعلا ممدوح، وكل فعل لله جل وعلا خير، وأما بالنسبة للعبد فهو على حسب فعله إن كان معصية أو كان طاعة.

فمثال ذلك: أن الله جل وعلا خلق زيداً، فذهب زيد فشرب الخمر، فالله خلق فيه هذا الفعل، فإذا نسبته إلى الله جل وعلا فإنك ستنسبه إليه خلقاً وإيجاداً، وستنسبه إلى العبد فعلاً واكتساباً فهو الذي شرب الخمر.
আল্লাহ তাআলার পাপ ও অকল্যাণ সৃষ্টি

এখানে তাকদির সংক্রান্ত একটি মাসআলা রয়েছে, আর তা হলো: পাপ কি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন নাকি তিনি তা সৃষ্টি করেননি?

 

উত্তর

আল্লাহ এগুলো সৃষ্টি করেছেন, কারণ তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। তবে অকল্যাণকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয় না, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আর অকল্যাণ আপনার দিকে নয়)। অর্থাৎ: আল্লাহর প্রতি আদব বজায় রেখে কোনো অবস্থাতেই অকল্যাণকে আপনার দিকে সম্বন্ধ করা হয় না। সুতরাং যিনি অসুস্থ করেন এবং যিনি আরোগ্য দান করেন, তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তবে তাঁর নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি আদব প্রদর্শনের বিষয়টি লক্ষ্য করুন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: {যখন আমি অসুস্থ হই} [আশ-শুআরা: ৮০]। তিনি অসুস্থতাকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন; যদিও আল্লাহই তাঁর মাঝে অসুস্থতা সৃষ্টি করেছেন। {আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন} [আশ-শুআরা: ৮০]। আল্লাহর প্রতি আদব প্রদর্শনার্থে তিনি একে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করেননি, অথচ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-ই তা সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন।

আল্লাহ নিরঙ্কুশ অকল্যাণ সৃষ্টি করেননি, বরং আপেক্ষিক বা আনুষঙ্গিক অকল্যাণ সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এটি সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, স্রষ্টার দিকে নয়।

অতএব, অকল্যাণের সাথে দুটি কাজ জড়িত: আল্লাহর কাজ এবং বান্দার কাজ। আল্লাহর ক্ষেত্রে বলতে গেলে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র সমস্ত কাজই পরিপূর্ণ। আর সেগুলো তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলি ও সুন্দরতম নামসমূহ থেকেই উৎসারিত। সুতরাং আল্লাহর প্রতিটি কাজই প্রশংসিত এবং আল্লাহর প্রতিটি কাজই কল্যাণকর। আর বান্দার ক্ষেত্রে বিষয়টি তার কৃতকর্ম অনুযায়ী গণ্য হয়—সেটি পাপ হোক বা আনুগত্য হোক।

এর উদাহরণ হলো: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যায়েদকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর যায়েদ গিয়ে মদ পান করল। আল্লাহ তার মধ্যে এই কাজটি সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আপনি যদি এটিকে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র দিকে সম্বন্ধ করেন, তবে তা সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দানের দিক থেকে সম্বন্ধ করবেন। আর বান্দার দিকে তা কাজ এবং অর্জনের দিক থেকে সম্বন্ধ করবেন; কারণ সে-ই মদ পান করেছে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌عدم جواز الاحتجاج بالقدر على المعاصي

هل يجوز الاحتجاج بالقدر؟ مثل أن يذهب رجل فيزني، فإذا أنكرت عليه قال: هذا قضاء وقدر، وقد جاء أن رجلاً من الجبرية دخل على امرأته فوجد رجلاً يزني بها فقال: ما هذا يا فاعلة الفاحشة؟ فقالت: مهلاً فإن هذا بقدر الله، قال: نعم بقدر الله، وسكت هذا الغبي، فلما رأت ذلك قالت: والله ما هذا بدين بحال من الأحوال، أصبح الرجل ديوثاً بسبب فقهه بهذه العقيدة الخربة.

فالمعصية لا يحتج عليها بالقدر لكن القاعدة: أن القدر يحتج به في المصائب لا في المعايب، فأي مصيبة تنزل عليك فإنك تقول: قدر الله وما شاء فعل، إنا لله وإنا إليه راجعون، اللهم أجرني في مصيبتي واخلفني خيراً منها، قال الله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الأَرْضِ وَلا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد:22]، فيؤمن بها ويرضى بها قلبه، فالله جل وعلا يسلم قلبه ويزيده على ذلك إيماناً، وتنزل عليه برداً وسلاماً.

ففي المصائب لك أن تحتج بالقدر وأما في المعايب فلا تحتج بالقدر بحال من الأحوال، والحديث الذي يبين لنا هذا جلياً هو حديث احتجاج موسى مع آدم، قال النبي صلى الله عليه وسلم يبين لنا أن آدم عليه السلام كانت معه الحجة القوية: (قال موسى لآدم: أنت آدم أبو البشر خلقك الله بيده، ونفخ فيك من روحه، أخرجتنا ونفسك من الجنة؟ فقال آدم: أنت موسى الذي اصطفاك الله بكلامه، وخط لك التوراة بيده، أتلومني على أمر قد قدره الله علي قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة؟! فقال النبي صلى الله عليه وسلم: فحج آدمُ موسى، فحج آدمُ موسى).

وللعلماء تأويلات كثيرة جداً لهذا الحديث، والراجح أن موسى احتج على آدم بخروجه من الجنة، وهذه مصيبة كبرى أنّا خرجنا من الجنة، ولم يحتج على آدم بمعصيته وأكله من الشجرة، فلما احتج عليه في المصيبة كانت الحجة مع آدم، فقال: قدر الله علي هذه المصيبة، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (فحج آدمُ موسى، فحج آدمُ موسى، فحج آدمُ موسى).
পাপাচারে তাকদিরকে অজুহাত হিসেবে পেশ করার অবৈধতা

তাকদিরকে কি অজুহাত হিসেবে পেশ করা জায়েজ? যেমন—একজন লোক ব্যভিচার করতে গেল, আর যখন আপনি তাকে বাধা দিলেন, তখন সে বলল: এটি আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির। বর্ণিত আছে যে, জাবরিয়া মতবাদের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করে দেখল যে এক লোক তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করছে। সে বলল: হে পাপাচারিণী, এটি কী হচ্ছে? স্ত্রী বলল: থামুন, নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর তাকদিরে ছিল। সে বলল: হ্যাঁ, আল্লাহর তাকদিরে ছিল; আর এই নির্বোধ চুপ হয়ে রইল। যখন স্ত্রী এটি দেখল, তখন সে বলল: আল্লাহর কসম, এটি কোনোভাবেই কোনো দ্বীন হতে পারে না। লোকটি তার এই ধ্বংসাত্মক আকিদাগত বুঝের কারণে দায়ুস হয়ে গেল।

সুতরাং পাপের ক্ষেত্রে তাকদিরকে অজুহাত হিসেবে পেশ করা যাবে না। তবে মূলনীতি হলো: তাকদিরকে বিপদ-মুসিবতের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করা যায়, কিন্তু দোষ-ত্রুটি বা পাপের ক্ষেত্রে নয়। আপনার ওপর যে কোনো বিপদ আপতিত হলে আপনি বলবেন: আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন; নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন; হে আল্লাহ, আমার এই বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং আমাকে এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করুন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আসে, তা আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে} [হাদিদ: ২২]। ফলে মুমিন ব্যক্তি তাতে ঈমান আনে এবং তার অন্তর তাতে সন্তুষ্ট থাকে। এতে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তার অন্তরকে শান্ত করে দেন এবং তার ঈমান বাড়িয়ে দেন, আর তার ওপর প্রশান্তি ও নিরাপত্তা অবতীর্ণ হয়।

অতএব, বিপদ-আপদে আপনি তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করতে পারেন, কিন্তু দোষ-ত্রুটির ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করবেন না। যে হাদিসটি আমাদের নিকট এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে তা হলো মুসা ও আদমের বিতর্কের হাদিস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আদম আলাইহিস সালামের কাছে জোরালো যুক্তি ছিল: (মুসা আদমকে বললেন: আপনি আদম, মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রুহ ফুঁকে দিয়েছেন; আপনি কি আমাদের এবং নিজেকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন? তখন আদম বললেন: আপনি মুসা, যাকে আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং আপনার জন্য তাওরাত তাঁর হাত দিয়ে লিখে দিয়েছেন; আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের ওপর তিরস্কার করছেন যা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই আল্লাহ আমার ওপর নির্ধারণ করে রেখেছেন?! অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এভাবে আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন, আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন)।

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরামের অনেক বক্তব্য রয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত হলো, মুসা আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামকে জান্নাত থেকে বের হওয়ার বিষয়ের ওপর অভিযুক্ত করেছিলেন; আর এটি একটি মহাবিপদ যে আমরা জান্নাত থেকে বের হয়ে গেছি। তিনি আদমকে তাঁর পাপাচার বা গাছ থেকে ফল খাওয়ার কারণে অভিযুক্ত করেননি। যখন তিনি মুসিবত বা বিপদের বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করলেন, তখন দলিল আদমের পক্ষেই ছিল। তাই তিনি বললেন: আল্লাহ আমার ওপর এই বিপদটি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন, আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন, আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন)।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مراتب الصحابة في الأفضلية وحكم من سبهم

أختم هذا الدرس بهذه المسألة وهي: أن الصحابة أفضل البشر على الإطلاق بعد الأنبياء والمرسلين، وأفضلهم على الإطلاق بعد محمد صلى الله عليه وسلم هو أبو بكر، وهم في الفضل على ترتيب الخلافة، فأفضل هذه الأمة بعد نبينا أبو بكر ثم عمر ثم عثمان ثم علي، ولا يقدم علي على عثمان أبداً، والنبي صلى الله عليه وسلم لم يوص لأحد، وأبو بكر فقط هو الذي خلافته إما بالنص الصريح أو بالتلميح، والصحيح الراجح أنها بالاستنباط والتلميح وليست بالنص الصريح.

وأما حكم من سب الصحابة فقد قسمنا من سب الصحابة إلى أربعة أقسام، فثلاثة منهم كفرة خرجوا من الملة، وقسم واحد ليسوا بكفرة.

فالأول: هم الذين يسبون الصحابة ويقولون: هم كفرة كفروا بعد رسول الله، فهؤلاء الغلاة يدخلون في حيز الكفر؛ لأنهم كذبوا الله ورسوله، فقد عدلهم الله في كتابه وهم يقولون: هم كفرة.

الثاني: الذين يسبونهم من أجل دينهم، فيسبون أبا بكر أو عمر أو عثمان من أجل دينه، فهذا أيضاً يكفر.

الثالث: الذين يسبون عائشة بالذات في شرفها، فيقولون: لم يبرئها الله، وهذه فعلت كذا وكذا.

الرابع: الذين يسبون بعضهم من أجل ميلهم إلى أحدهم وتركهم للآخر، كالذين يسبون مثلاً: عماراً ويسبون علياً من أجل معاوية مثلاً، أو يسبون معاوية من أجل علي، فهذا ليس بكفر؛ لأنهم لم يسبونهم لدينهم، لكن هذا من الميل الأعمى مع الجهل المطبق، فيجعله من الفسقة لا من الكفرة.

وكما بينا أن منهج أهل السنة والجماعة أنهم يترضون عن جميع الصحابة رضي الله عنهم المصيب منهم والمخطئ، والذي أصاب له أجران والذي أخطأ له أجر.

أقول قولي هذا، وأستغفر الله لي ولكم، وجزاكم الله خيراً.
সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের স্তরসমূহ এবং তাঁদের গালি প্রদানকারীর বিধান

আমি এই পাঠটি এই মাসআলার মাধ্যমে সমাপ্ত করছি যে: নবী ও রাসূলগণের পর সাহাবীগণই হচ্ছেন নিঃশর্তভাবে শ্রেষ্ঠ মানব। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর তাঁদের মধ্যে নিঃশর্তভাবে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর। তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে খিলাফতের ক্রমধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত; সুতরাং আমাদের নবীর পর এই উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, এরপর উমর, এরপর উসমান, এরপর আলী। আলীকে কখনোই উসমানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো জন্য খিলাফতের অসিয়ত (উত্তরাধিকারী মনোনীত) করে যাননি। কেবল আবু বকরের খিলাফতই হয় স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে অথবা ইঙ্গিতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মত হলো, এটি ইস্তিনবাত (উদ্ঘাটন) ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে নয়।

আর যারা সাহাবীগণকে গালি দেয় তাদের বিধানের ক্ষেত্রে আমরা তাঁদেরকে চার ভাগে ভাগ করেছি। তাদের মধ্যে তিন প্রকার হলো কাফির যারা ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত, আর এক প্রকার হলো যারা কাফির নয়।

প্রথম প্রকার: তারা হলো যারা সাহাবীগণকে গালি দেয় এবং বলে যে: তাঁরা কাফির, আল্লাহর রাসূলের পর তাঁরা কুফরী করেছেন। এই চরমপন্থীরা কুফরের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। কেননা আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা করেছেন, অথচ তারা বলছে যে তাঁরা কাফির।

দ্বিতীয় প্রকার: যারা তাঁদের দ্বীনের কারণে তাঁদের গালি দেয়। যেমন—আবু বকর, উমর বা উসমানকে তাঁদের দ্বীনদারির কারণে গালি দেওয়া; এটিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির করে দেবে।

তৃতীয় প্রকার: যারা বিশেষভাবে আয়েশার সম্মান ও পবিত্রতা নিয়ে তাঁকে গালি দেয় এবং বলে যে: আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেননি, আর সে নাউযুবিল্লাহ এই এই কাজ করেছে।

চতুর্থ প্রকার: যারা কারো প্রতি অন্ধ আবেগ এবং অন্য কারো প্রতি বিরাগের কারণে তাঁদের কিছু ব্যক্তিকে গালি দেয়। যেমন যারা মুয়াবিয়ার কারণে আম্মার বা আলীকে গালি দেয়, অথবা আলীর কারণে মুয়াবিয়াকে গালি দেয়। এটি কুফর নয়; কারণ তারা তাঁদের দ্বীনের কারণে গালি দেয়নি। বরং এটি চরম মূর্খতার সাথে অন্ধ পক্ষপাতের ফল। এটি তাকে ফাসিকদের অন্তর্ভুক্ত করবে, কাফিরদের নয়।

যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ হলো—তাঁরা সকল সাহাবীর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন, চাই তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হোন কিংবা ভুল করুন। যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার, আর যিনি ভুল করেছেন তাঁর জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب التوحيد لابن خزيمة

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 34 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

ইবনে খুযায়মাহর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকীদা


বই: ইবনে খুযায়মাহর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক শ্রুতিলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ৩৪টি পাঠ ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب -‌‌ ضوابط مهمة في التفريق بين الاسم والصفة

ذكر العلماء ضوابط في أسماء الله الحسنى وصفاته العلى، وهذه الضوابط مستنبطة من الأدلة، ومنها أن كل اسم فيه صفة ولا عكس، وباب الصفات أوسع من باب الأسماء، وأسماء الله توقيفية، وهي بالغة الغاية في الحسن.
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা এবং রবের গুণাবলির সাব্যস্তকরণ -‌‌ নাম ও গুণের মধ্যে পার্থক্য করার গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা

উলামায়ে কেরাম আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে কিছু নীতিমালা উল্লেখ করেছেন। আর এই নীতিমালাগুলো দলীলসমূহ হতে উদ্ভাবিত। এর মধ্যে একটি হলো—প্রত্যেকটি নাম একটি গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়। গুণাবলির অধ্যায় নামসমূহের অধ্যায় অপেক্ষা অধিক প্রশস্ত। আল্লাহর নামসমূহ ‘তাওকীফী’ (শরীয়তের দলীলনির্ভর), আর এগুলো সৌন্দর্যের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাওহীদ লিইবনি খুযাইমাহ - মুহাম্মাদ হাসান আবদিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌العلاقة بين اسم الله وصفته

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: الاسم مشتق من السمة، والسمة هي العلامة، واسم الله علامة على ذات الله جل وعلا.

وهو مشتق من السمو والعلو وهذا في حق الله حق، وأسماء الله جل في علاه في غاية الحسن والكمال والجلال والعظمة، فكل اسم من أسماء الله يتضمن صفة من صفات الكمال، وهذه دلالة على غاية الحسن في أسماء الله جل في علاه.

فإذا قلنا: الكريم اسم من أسماء الله، فهو يتضمن صفة من صفات الكمال والجلال وهي الكرم.

ومن كمال الحسن أن الاسم الذي يتضمن صفة من صفات الكمال يستلزم بعض صفات الكمال أيضاً، فتزيد الكمال كمالاً فإذا قلنا: اسم الله القدير، فالقدير اسم من أسماء الله جل وعلا يتضمن صفة كمال وهي: القدرة.

ومن الصفات التي تستلزمها القدرة: الإرادة فلا أحد يقدر على شيء وهو لا يريده؟ ومنها: الحياة؛ لأن القدير لا يمكن أن يكون قديراً إلا وهو حي.

فهي أعلام وأوصاف تتضمن صفات كمال، وأسماء الله جل في علاه ليست محصورة في عدد، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم فيمن أصابه هم أو غم أن يقول: (اللهم! إني عبدك، وابن عبدك، وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماضٍ فيَّ حكمك، عدل فيَّ قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك، سميت به نفسك، أو علمته أحداً من خلقك، أو أنزلته في كتابك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك)، وهذه دلالة على أن هناك أسماء استأثر الله بها في علم الغيب ولم يعلمها أحد إلا هو سبحانه جل في علاه، وهذه فيها دلالة كبيرة جداً على أن أسماء الله لا تنحصر في عدد.

وحديث النبي صلى الله عليه وسلم في الشفاعة قال: (فأذهب تحت العرش فأخر ساجداً لربي فأحمده بمحامد يعلمنيها) يعني: يعلمني محامد ما كنت أعلمها في الدنيا، والمحامد من الحمد، والحمد هو: الثناء الجميل على المحمود بصفات الكمال والأسماء الحسنى، أي: أن النبي صلى الله عليه وسلم يحمد الله بمحامد ما كان يعلمها في الدنيا وعلمها عندما يخر ساجداً قبل الشفاعة، فإنه يتعلمها في ذلك الوقت فقط، فأسماء الله جل وعلا في علم الغيب خبأها الله عن عباده، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، فهي غير محصورة في عدد، لكن يشكل علينا حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (إن لله تسعة وتسعين اسماً من أحصاها دخل الجنة)، فحصرها في تسعة وتسعين، والإجابة على ذلك كما هو مشهور أن التسعة والتسعين لهم ميزة، وهذه الميزة هي: أن من حفظها، وأحصاها، وعدها، وتعبد بها لله جل في علاه، وتخلق بآثارها فإنه يدخل الجنة، أما أن يقال: هذه دلالة على أن الله جل وعلا ليس له أسماء غيرها فهذا خطأ، كأن تقول: أعددت خمسة دراهم للصدقة، فهل في هذا دلالة أنني ليس معي غير هذه الخمس؟

 

‌‌الجواب

لا، وإنما الخمس الدراهم لها ميزة وهي أنها للنفقة، ولي مال آخر فهذا الحديث ليس فيه حصر لأسماء الله جل في علاه.
আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণের মধ্যকার সম্পর্ক

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

এরপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

অতঃপর: 'ইসম' বা নাম শব্দটি 'সিমা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো চিহ্ন বা আলামত। আল্লাহর নাম হলো আল্লাহর সত্তার ওপর একটি আলামত বা চিহ্ন।

এটি 'সুমু' এবং 'উলু' (উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব) শব্দ থেকেও উদ্ভূত, যা আল্লাহর ক্ষেত্রে যথার্থ সত্য। আল্লাহর অতি উচ্চ ও মহান নামসমূহ সৌন্দর্য, পূর্ণতা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আল্লাহর প্রতিটি নাম একটি কামালি বা পূর্ণ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর এটিই আল্লাহর অতি উচ্চ ও মহান নামসমূহের পরম সৌন্দর্যের প্রমাণ।

যদি আমরা বলি: 'আল-কারিম' আল্লাহর নামসমূহের একটি, তবে এটি পূর্ণতা ও মহিমার একটি গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা হলো 'কারাম' (সৃজনশীলতা বা বদান্যতা)।

সৌন্দর্যের পূর্ণতা হলো এই যে, যে নাম একটি পূর্ণ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা আরও কিছু পূর্ণ গুণেরও আবশ্যকতা রাখে। ফলে তা পূর্ণতার ওপর পূর্ণতা বৃদ্ধি করে। যেমন যদি আমরা বলি: আল্লাহর নাম 'আল-কাদির'। আল-কাদির আল্লাহর নামসমূহের একটি যা একটি পূর্ণ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো: 'কুদরত' বা ক্ষমতা।

আর কুদরত বা ক্ষমতা যে গুণগুলোর আবশ্যকতা রাখে তার মধ্যে অন্যতম হলো: 'ইরাদা' বা ইচ্ছা। কারণ যে কিছুর ইচ্ছা রাখে না, সে কি তার ওপর সক্ষম হতে পারে? এর মধ্যে আরও রয়েছে: 'হায়াত' বা জীবন; কারণ আল-কাদির কেবল তখনই কাদির হতে পারেন যখন তিনি 'হাই' বা চিরঞ্জীব।

সুতরাং এগুলো এমন সব নাম ও বিশেষণ যা পূর্ণ গুণাবলি ধারণ করে। আল্লাহর মহান নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো দুঃখ বা চিন্তায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন: (হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার সন্তান এবং আপনার দাসীর সন্তান। আমার নাসিয়াহ [ললাট] আপনার হাতে। আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার প্রতি আপনার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ। আমি আপনার প্রতিটি নামের ওসিলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করছি—যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টিজীবের কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার নিকট অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন)। এটি প্রমাণ করে যে এমন কিছু নাম আছে যা আল্লাহ তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন এবং তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। এটি একটি বড় দলিল যে আল্লাহর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

শাফায়াত বা সুপারিশ বিষয়ক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে এসেছে, তিনি বলেছেন: (অতঃপর আমি আরশের নিচে যাব এবং আমার রবের উদ্দেশে সিজদাবনত হব। তখন তিনি আমাকে এমন কিছু প্রশংসাগীতি শিখিয়ে দেবেন যা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব)। অর্থাৎ: তিনি আমাকে এমন কিছু প্রশংসা শিখিয়ে দেবেন যা দুনিয়াতে আমি জানতাম না। 'মাহামিদ' এসেছে 'হামদ' থেকে, আর হামদ হলো: প্রশংসিত সত্তার সুন্দর গুণাবলি এবং সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর উত্তম প্রশংসা করা। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর এমন সব প্রশংসা করবেন যা তিনি দুনিয়াতে জানতেন না, বরং শাফায়াতের আগে সিজদাবনত হওয়ার সময় তিনি তা জানবেন; কেবল তখনই তিনি তা শিখবেন। সুতরাং আল্লাহর মহান নামসমূহ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে গোপন রেখেছেন। অতএব তা কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তবে আমাদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিসটি খটকা তৈরি করতে পারে: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ/আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)। এখানে নিরানব্বই সংখ্যার কথা উল্লেখ করে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর উত্তর হলো যেমনটি প্রসিদ্ধ যে, এই নিরানব্বইটি নামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেই বৈশিষ্ট্য হলো: যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে, আয়ত্ত করবে, গণনা করবে, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করবে এবং এর প্রভাব নিজের চরিত্রে ধারণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যদি বলা হয় যে, এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলার এগুলো ছাড়া আর কোনো নাম নেই, তবে তা ভুল হবে। যেমন আপনি যদি বলেন: 'আমি সদকা করার জন্য পাঁচটি দিরহাম প্রস্তুত রেখেছি', তবে কি এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আপনার কাছে এই পাঁচটি ছাড়া আর কিছুই নেই?

 

‌‌উত্তর

না, বরং ওই পাঁচটি দিরহামের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা হলো এগুলো ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, আর আমার কাছে অন্য সম্পদও রয়েছে। সুতরাং এই হাদিসে আল্লাহর মহান নামসমূহকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি।