(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি রচিত কিতাবুত তাদলিস ফিল হাদিসের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আদ-দুমাইনি রচিত কিতাবুত তাদলিস ফিল হাদিসের ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব, ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
التدليس في الحديث -‌‌ المقدمة

لقد اهتم العلماء اهتماماً منقطعاً بعلم مصطلح الحديث، وأولوه كل عنايتهم، بل هم الذين وضعوه، وأسسوا قواعده وأصوله، وذلك حفاظاً على حديث النبي صلى الله عليه وسلم من الكذب والوضع، فوضعوا أعظم المناهج والمصطلحات في ذلك، وتتبعوا رواة الحديث وأخبارهم، وقسموا الحديث إلى أنواعه المعروفة عند أهل العلم، حتى استقر على ما هو عليه اليوم، ومن الأنواع التي وضعوها: الإرسال والتدليس، وتتبعوا رواية المرسلين والمدلسين، وصنفوها إلى طبقات، وذلك كله من أجل الحفاظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فرحمهم الله، وأجزل مثوبتهم.
হাদিসে তাদলিস -‌‌ ভূমিকা

নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম ইলমে মুসতালাহুল হাদিসের প্রতি অভূতপূর্ব গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে তাঁদের পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। বরং তাঁরাই এটি প্রণয়ন করেছেন এবং এর নিয়ম-নীতি ও মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তা করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে মিথ্যা ও জালিয়াতি থেকে রক্ষা করার জন্য। ফলে তাঁরা এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কর্মপন্থা ও পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন এবং হাদিসের বর্ণনাকারী ও তাঁদের সংবাদসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছেন। তাঁরা হাদিসকে আলেমদের নিকট পরিচিত এর বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেছেন, এমনকি এটি বর্তমান রূপে স্থিতিশীল হয়েছে। তাঁদের নির্ধারিত প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: ইরসাল ও তাদলিস। তাঁরা মুরসিল ও মুদাল্লিসদের বর্ণনাগুলোও অনুসন্ধান করেছেন এবং সেগুলোকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। আর এই সব কিছুই করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌التعريف بمؤلف كتاب: التدليس في الحديث

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: نستهل الكلام على هذا الكتاب الجليل، كتاب: (التدليس في الحديث، حقيقته وأقسامه وأحكامه ومراتبه والموصوفون به)، يعني: طبقات المدلسين، وهو للشيخ الفاضل الكريم الدكتور: مسفر بن غرم الله الدميني من الرياض، وقد أخذ الدكتوراة من الأزهر، وهو رجل وتد في علم الحديث، وإن كان ليست له تخريجات أو تعليقات أو تحقيقات، فقد كان يهتم بالجانب النظري أكثر، فهو فحل في هذا الجانب، وله كتب ماتعة، منها: نقض في السنة، ومنهج الترمذي في كتابه، وهذا الكتاب الذي نشرحه.
‘তাদলীস ফিল হাদীস’ (হাদীসে তাদলীস) গ্রন্থের লেখকের পরিচয়

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তাঁর থেকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর জোড়াকে, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য অর্জন করে।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এরপর আমরা এই মহান গ্রন্থটির ওপর আলোচনা শুরু করছি, যার নাম: ‘তাদলীস ফিল হাদীস: হাকীকাতুহু ওয়া আকসামুহু ওয়া আহকামুহু ওয়া মারাতীবুহু ওয়াল মাউসূফূনা বিহি’ (হাদীসে তাদলীস: এর হাকীকত, প্রকারভেদ, বিধান, স্তরসমূহ এবং এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ), অর্থাৎ: তবাকাতুল মুদাল্লিসীন (মুদাল্লিসদের স্তরসমূহ)। এর লেখক হলেন রিয়াদের সম্মানিত শায়খ ডক্টর মিসফির বিন গুরমুল্লাহ আদ-দুমাইনী। তিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তিনি হাদীস শাস্ত্রে একজন সুদৃঢ় স্তম্ভতুল্য ব্যক্তিত্ব। যদিও তাঁর অনেক বেশি তাখরীজ, তালীক (টীকা) বা তাহকীক নেই, তবুও তিনি তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতি অধিক মনোযোগী ছিলেন। এই ক্ষেত্রে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ আলেম। তাঁর বেশ কিছু চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে: ‘নাকদ ফিস সুন্নাহ’ এবং ‘মানহাজুত তিরমিযী ফী কিতাবিহি’, এবং এই বইটি যা আমরা ব্যাখ্যা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أهمية السنة النبوية

إن السنة النبوية من الأهمية بمكان، وتظهر أهمية السنة بعلاقتها مع كتاب الله جل في علاه، فهما صنوان متلازمان، لا يمكن أن يفترقا بحال من الأحوال.

وسنة النبي صلى الله عليه وسلم قال عنها عمران بن حصين: إن القرآن أحوج إلى السنة من السنة إلى القرآن، وما ذلك إلا لأن الله جل في علاه قال: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل:44]، وهذا التبيين يكون من النبي صلى الله عليه وسلم بسنته وبشرعه الذي شرعه، أو نقلاً لشرعه وحياً عن الله جل في علاه وقد قال الله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3 - 4].

وتظهر أهمية السنة النبوية في أنها مبينة لكلام الله جل في علاه، ومبينة لمراده جل في علاه في كتابه، وهذا التبيين أنواع: فقد تكون مفسرة للمجملات، أو مبينة للمشكلات أو مقيدة للمطلقات ومخصصة للعمومات.

فالسنة النبوية هي التي تفسر لنا وتبين لنا مراد الله في كتابه، فمثلاً: لما أمر الله بالصلاة والزكاة في قوله: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة:43]، فإنه لم يبين أن صلاة الصبح ركعتان، وصلاة الظهر والعصر أربع ركعات، وصلاة المغرب ثلاث ركعات، وصلاة العشاء أربع ركعات، ولم يبين وقت كل صلاة، ولا شروط الصلاة وأركانها، وإنما أتت الآية مجملة، آمرة بإقامة الصلاة فقط.

فبينت السنة كل هذا، وهذه الآية من أعظم ما يرد به على القرآنيين، الذين يقولون: لا نأخذ إلا بالقرآن، ويرمون بسنة النبي صلى الله عليه وسلم خلفهم ظهرياً، فإن قولهم هذا يؤدي إلى تعطيل الدين في نهاية المطاف؛ لأن أغلب الأحكام بينتها السنة، ولم تذكر في القرآن.
সুন্নাহর গুরুত্ব

নিশ্চয়ই সুন্নাহর গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সুন্নাহর যে সম্পর্ক, তা থেকেই এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কুরআন ও সুন্নাহ হলো একে অপরের পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য, যা কোনোভাবেই একটি অন্যটি থেকে পৃথক হওয়া সম্ভব নয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: সুন্নাহর প্রতি কুরআন অধিক মুখাপেক্ষী। আর এটি এজন্যই যে, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।} [নাহল: ৪৪]। এই বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সুন্নাহ ও তাঁর প্রবর্তিত শরীয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হিসেবে প্রাপ্ত শরীয়াতের বর্ণনা হিসেবে তা এসেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি হতে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [নাজম: ৩-৪]।

সুন্নাহর গুরুত্ব এখানেও প্রতীয়মান হয় যে, এটি মহান আল্লাহর কালামের ব্যাখ্যাকারী এবং তাঁর কিতাবে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যকে সুস্পষ্টকারী। এই ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে: কখনো তা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করে, কখনো জটিল বিষয়সমূহ সমাধান করে, আবার কখনো নিঃশর্ত বিষয়ের ওপর শর্তারোপ করে এবং সাধারণ বিষয়ের বিশেষীকরণ করে।

মূলত সুন্নাহই আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত তাঁর উদ্দেশ্যকে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ যখন সালাত ও যাকাতের আদেশ দিয়ে বলেছেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো ও যাকাত প্রদান করো} [বাকারা: ৪৩], তখন সেখানে তিনি এটি বর্ণনা করেননি যে ফজরের সালাত দুই রাকাত, যোহর ও আসরের সালাত চার রাকাত, মাগরিবের সালাত তিন রাকাত এবং এশার সালাত চার রাকাত। তিনি প্রতিটি সালাতের সময় কিংবা সালাতের শর্ত ও রুকনসমূহও বিস্তারিত বর্ণনা করেননি। বরং আয়াতটি কেবল সালাত কায়েমের নির্দেশের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে অবতীর্ণ হয়েছে।

সুন্নাহ এই সবকিছুই বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে। আর এই আয়াতটি তথাকথিত 'কুরআনিস্ট'দের (হাদিস অস্বীকারকারী) খণ্ডন করার জন্য অন্যতম শক্তিশালী দলিল, যারা বলে: "আমরা কুরআন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করব না" এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে অবজ্ঞা করে পেছনে ফেলে রাখে। প্রকৃতপক্ষে তাদের এই দাবি শেষ পর্যন্ত দ্বীনকে অকেজো করে দেওয়ার নামান্তর; কেননা শরীয়াতের অধিকাংশ বিধানই সুন্নাহর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যা কুরআনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أهمية صلاح الباطن في تعلم العلم

إن التوفيق مداره على صلاح الباطن لا على الظاهر؛ لأن الله جل وعلا يقول: {رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلأَوَّابِينَ غَفُورًا} [الإسراء:25]، ويقول: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنِ اللَّهِ} [النحل:53] والميزان الرباني: هو النظر إلى القلوب وإلى طهارتها، حتى العلم لا يناله إلا نقي القلب، وقد جاء عن ابن عباس بسند صحيح أنه كان يقول: يؤتى المرء الفهم بنيته.

فرد المسألة بالفهم إلى النية، وهذه أيضاً مستقاة من قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا} [الأنفال:29]، وقوله تعالى: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ} [البقرة:282].

وهذه ليست دليلاً على العلم، ولكن المعنى: إن تتقوا الله يجعل لكم فرقاناً تفرقون به بين الحق والباطل.

وأسال الله جل وعلا أن يجمعنا وإياكم مع النبي صلى الله عليه وسلم في الفردوس الأعلى، وأن يغفر لنا زلاتنا، ويستر علينا عيوبنا، ويعلمنا ما ينفعنا، وينفعنا بما علمنا.
জ্ঞান অর্জনে অন্তরের সংশোধনের গুরুত্ব

নিশ্চয়ই তাওফীক বা সফলতার মূল আবর্তন হলো অন্তরের সংশোধনের ওপর, বাহ্যিক অবস্থার ওপর নয়; কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন: "তোমাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তোমাদের প্রতিপালক সবচেয়ে ভালো জানেন। যদি তোমরা সৎকর্মশীল হও, তবে তিনি প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য পরম ক্ষমাশীল।" [বনী ইসরাঈল: ২৫], এবং তিনি বলেন: "তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।" [নাহল: ৫৩]। আর রব্বানী মানদণ্ড হলো: অন্তরের দিকে এবং তার পবিত্রতার দিকে দৃষ্টিপাত করা, এমনকি জ্ঞানও কেবল সেই ব্যক্তিই লাভ করতে পারে যার অন্তর পরিচ্ছন্ন। ইবনে আব্বাস থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: মানুষকে তার নিয়ত অনুযায়ী বুঝ বা প্রজ্ঞা দান করা হয়।

তিনি বুঝ বা ফাহম-এর বিষয়টিকে নিয়তের দিকে ফিরিয়েছেন, আর এটিও মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: "হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের মানদণ্ড তৈরি করে দেবেন।" [আনফাল: ২৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন।" [বাকারা: ২৮২]।

এটি (সরাসরি) জ্ঞানের দলিল নয়, বরং এর অর্থ হলো: যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তবে তিনি তোমাদের জন্য এমন এক 'ফুরকান' দান করবেন যার মাধ্যমে তোমরা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।

আমি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং আপনাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করেন, এবং আমাদের পদস্খলনগুলো ক্ষমা করেন, আমাদের দোষ-ত্রুটিগুলো গোপন রাখেন, আমাদের জন্য যা উপকারী তা আমাদের শেখান এবং যা আমরা শিখেছি তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌اهتمام السلف بالسنة والنبوية

القرآن والسنة صنوان لا يفترقان بحال من الأحوال؛ لأن القرآن كما قال عمران بن حصين: إن القرآن أحوج إلى السنة من السنة إلى القرآن.

وقد بينا أن السنة تبين مجملات أو مشكلات القرآن، وضربنا المثل بقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة:43] ولم يبين نصاب الزكاة، ولا اشتراط الحول لإخراجها، وإنما بينتها السنة.

ولما ظهرت أهمية السنة عند علمائنا وعند السلف الصالح علموا أنه لابد من الحفاظ على هذه السنة، وعلى هذا التراث العظيم من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنها هي المبينة لمراد الله جل في علاه، ونحن إنما خلقنا كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56].

ولن نعبد الله جل في علاه حق العبادة إلا إذا عقلنا عن الله ما أمرنا به، ولن نعقل عن الله مراده إلا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم؛ ولذلك اهتم العلماء بالسنة، وفهموا معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيحين عن أنس وعن غيره: (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار).
সুন্নাহ ও নবুওয়াতের প্রতি সালাফদের গুরুত্বারোপ

কুরআন ও সুন্নাহ হলো এমন দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যা কোনো অবস্থাতেই একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না; কারণ ইমরান ইবনুল হুসাইন যেমনটি বলেছেন: সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা সুন্নাহর কুরআনের প্রতি মুখাপেক্ষিতার চেয়েও বেশি।

আমরা বর্ণনা করেছি যে, সুন্নাহ কুরআনের অস্পষ্ট বা জটিল বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করে। এর উদাহরণ হিসেবে আমরা মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করেছি: "আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো" [আল-বাকারা: ৪৩]। এখানে জাকাতের নিসাব কিংবা জাকাত প্রদানের জন্য বছর অতিক্রান্ত হওয়ার শর্তটি বর্ণনা করা হয়নি; বরং সুন্নাহই তা বর্ণনা করেছে।

যখন আমাদের উলামায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীনের নিকট সুন্নাহর গুরুত্ব সুস্পষ্ট হলো, তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, এই সুন্নাহ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহের এই মহান ঐতিহ্যকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ সুন্নাহই সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যকে সুস্পষ্টকারী। আর আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল আল্লাহর ইবাদতের জন্য, যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

আর আমরা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারব। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ ব্যতীত আল্লাহর উদ্দেশ্য বোঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একারণেই উলামায়ে কেরাম সুন্নাহর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বুখারি ও মুসলিম শরিফে আনাস ও অন্যদের সূত্রে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর অর্থ অনুধাবন করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌شدة تحري الصحابة في حديث النبي صلى الله عليه وسلم

وقد كان الصحابة من أشد الناس تحرياً في ضبط القول، وهل قال النبي صلى الله عليه وسلم هذا اللفظ أم لا؟ ولذلك جاء عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: ما حدثني أحد - من الصحابة أو من التابعين - بحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا أمرته أن يقسم بالله، -يعني: حلفته بالله جل في علاه أسمعت هذا من رسول الله؟ إلا أبا بكر قال: وحدثني أبو بكر، وصدق أبو بكر فهو صديق من فوق سبع سماوات.

فهذا بيان لتحري الصحابة على ضبط أن هذا القول من النبي صلى الله عليه وسلم.

وكان عمر بن الخطاب لا يحدثه أحد بحديث إلا قال له: ائتني بشاهد.

وتحري عمر هذا يحتج به بعض المتنطعين الذين يقولون: لا تقبل أحاديث الآحاد لا سيما في العقائد، والرد على ذلك وجيز، وهو أن عمر بن الخطاب ما كان يرد أحاديث الآحاد في هذه المواقف، بل لقد قبل كثيراً من أحاديث الآحاد، وإنما كان شديد التحري، فمثلاً: لما حدث عمار بن ياسر بحديث اليتيم، وأنه كان مع عمر، وقد نسيه عمر، فقال له عمر: انظر ما تحدث به عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فقال: لو أردت لم أحدث به، قال: لا، أرو، ونوليك ما توليت.

فهذا يدل على أنه قبله منه، وهو حديث آحاد، بل إن القصة كان فيها عمر، وقد علم أنه قد وهم، ولذلك ترك الأمر إلى الراوي نفسه، وقال: نوليك ما توليت، فهو لا يشدد في هذه المسألة إلا لحكمة، فالمسائل التي فيها أحكام وتحتاج لضبط كان يشدد فيها ويريد الشاهد، لا لأنه يرد حديث الآحاد، وحديث عمار ظاهر جداً في أنه لا يرد حديث الآحاد.

فالغرض المقصود من هذا هو أن الصحابة كان لهم تحر فائق في أن هذا الحديث قاله النبي صلى الله عليه وسلم أم لا، وأيضاً أبو بكر قد فعل ذلك لما جاءته الجدة تطلب ميراثها فقال: لا أعلم لكن ميراثاً في كتاب الله جل في علاه ولا في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ولكن انتظري حتى نسأل المهاجرين والأنصار، فقام المغير بن شعبة فقال: عندي فيها سنة، قد أعطاها النبي صلى الله عليه وسلم السدس، فقال: ائتني بشاهد، ولم يقصد بقوله: ائتني بشاهد ليرد حديثه، وإنما لأن هذا حكم فيه مال، فأراد أن يعضده بغيره.

إذاً: كان الصحابة شديدي التحري في حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের চরম সতর্কতা

সাহাবায়ে কেরাম কথা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাণী প্রদান করেছেন কি না, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সতর্ক ছিলেন। আর এই কারণেই আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "সাহাবী বা তাবিঈদের মধ্য থেকে কেউ যখন আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন, আমি তাকে আল্লাহর নামে শপথ করতে বলতাম; অর্থাৎ, আমি তাকে মহান সুউচ্চ আল্লাহর নামে কসম করাতাম যে—আপনি কি এটি রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে শুনেছেন? তবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যতিক্রম ছিলেন। আলী বলেন: আবু বকর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন এবং আবু বকর সত্য বলেছেন, কেননা তিনি সাত আসমানের উপর থেকে 'সিদ্দীক' (মহাসত্যবাদী) হিসেবে স্বীকৃত।"

এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের সতর্কতারই একটি বর্ণনা।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নীতি ছিল এই যে, কেউ তাঁর কাছে কোনো হাদিস বর্ণনা করলে তিনি তাকে বলতেন: "আমার কাছে এর পক্ষে একজন সাক্ষী নিয়ে আসো।"

উমরের এই সতর্কতাকে সেই সব বাড়াবাড়িকারীরা দলিল হিসেবে পেশ করে যারা বলে: খবরুল ওয়াহিদ (একক সূত্রে বর্ণিত হাদিস) গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে আকিদার ক্ষেত্রে। এর উত্তর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; আর তা হলো—উমর ইবনুল খাত্তাব এই সকল ক্ষেত্রে খবরুল ওয়াহিদ প্রত্যাখ্যান করতেন না, বরং তিনি অনেক খবরুল ওয়াহিদ গ্রহণ করেছেন। তিনি কেবল অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ: আম্মার ইবনে ইয়াসির যখন এতিম সংক্রান্ত (মূল পাঠে 'এতিম' থাকলেও এটি মূলত তায়াম্মুমের ঘটনা) হাদিস বর্ণনা করেছিলেন এবং তিনি উমরের সাথেই ছিলেন, অথচ উমর তা ভুলে গিয়েছিলেন, তখন উমর তাকে বলেছিলেন: "তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কী বর্ণনা করছ, তা ভেবে দেখো।"

আম্মার বললেন: "আপনি চাইলে আমি এটি বর্ণনা করব না।" উমর বললেন: "না, বরং তুমি বর্ণনা করো। তুমি যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছ, তার দায়ভার তোমার উপরই সোপর্দ করলাম।"

এটি প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর কাছ থেকে হাদিসটি গ্রহণ করেছিলেন, অথচ এটি ছিল একটি খবরুল ওয়াহিদ। এমনকি সেই ঘটনায় উমর নিজেও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি নিজে হয়তো বিস্মৃত হয়েছেন, তাই তিনি বিষয়টি বর্ণনাকারীর নিজের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "তুমি যা গ্রহণ করেছ তার দায়ভার তোমারই"। তিনি কেবল কোনো বিশেষ হিকমতের কারণেই এই বিষয়ে কড়াকড়ি করতেন। যেসব বিষয়ে শরয়ি বিধান রয়েছে এবং অধিক সতর্কতার প্রয়োজন, কেবল সেখানেই তিনি কড়াকড়ি করতেন এবং সাক্ষী চাইতেন; খবরুল ওয়াহিদ প্রত্যাখ্যান করার জন্য নয়। আম্মারের হাদিসটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তিনি খবরুল ওয়াহিদ প্রত্যাখ্যান করতেন না।

এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, কোনো হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের অভাবনীয় সতর্কতা ছিল। অনুরূপভাবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুও এমনটি করেছিলেন যখন একজন দাদি তাঁর কাছে নিজের মিরাস (উত্তরাধিকারের অংশ) চাইতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "মহান সুউচ্চ আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কোনো মিরাসের কথা আমার জানা নেই এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতেও নেই। তবে তুমি অপেক্ষা করো যতক্ষণ না আমি মুহাজির ও আনসারদের জিজ্ঞাসা করি।" তখন মুগিরা ইবনে শুবা দাঁড়িয়ে বললেন: "এ বিষয়ে আমার কাছে একটি সুন্নাহ জানা আছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন।" আবু বকর বললেন: "আমার কাছে এর একজন সাক্ষী নিয়ে আসো।" "সাক্ষী নিয়ে আসো" বলার মাধ্যমে তিনি তাঁর হাদিস প্রত্যাখ্যান করতে চাননি, বরং এটি যেহেতু সম্পদ সংশ্লিষ্ট একটি বিধান ছিল, তাই তিনি এটিকে অন্য কারো সাক্ষ্য দ্বারা শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।

সুতরাং: সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌شدة تحري العلماء في حديث النبي صلى الله عليه وسلم

ثم جاء الجهابدة بعدهم والسلف الصالح فقالوا: لما قعد النبي صلى الله عليه وسلم هذه القاعدة: (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار)، ولما كانت السنة مكانتها من القرآن هذه المكانة فلا بد من أن نتأكد تأكداً تاماً أو غالباً على الظن أن النبي صلى الله عليه وسلم تكلم بهذا الكلام، فوضعوا له أصولاً وقواعد، لابد أن يتبعها طالب العلم، أو العالم الذي يريد أن يأخذ الحديث بسند صحيح كالشمس عن النبي صلى الله عليه وسلم، وهذه الشروط والضوابط التي وضعوها منها شروط عامة، ومنها شروط خاصة.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে আলেমগণের সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের কঠোরতা

অতঃপর তাঁদের পরে প্রাজ্ঞ হাদিস বিশারদগণ এবং সালাফে সালেহীন আসলেন এবং তাঁরা বললেন: যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মূলনীতিটি সাব্যস্ত করেছেন যে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়", এবং কুরআনের প্রেক্ষিতে সুন্নাহর অবস্থান যখন এই মর্যাদার, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাটি বলেছেন—সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া অথবা প্রবল ধারণা লাভ করা অপরিহার্য। তাই তাঁরা এর জন্য এমন কিছু মূলনীতি ও নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন, যা সেই ইলম অন্বেষণকারী বা আলেমের জন্য অনুসরণ করা আবশ্যক, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সূর্যের ন্যায় সুস্পষ্ট সহীহ সনদে হাদিস গ্রহণ করতে চান। তাঁদের প্রণীত এই শর্ত ও নীতিমালাসমূহের মধ্যে কিছু সাধারণ এবং কিছু বিশেষ শর্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الشروط العامة لصحة الحديث

فأما الشروط العامة فإن الحديث لا يقبل عندهم بحال من الأحوال إلا إذا توافرت فيه خمسة شروط أو أربعة، وهي: أن يتصل سنده بنقل العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه، من غير شذوذ ولا علة.

والضبط نوعان: ضبط صدر، وضبط كتاب، والمقصود هنا: ضبط الصدر، والفرق بين العدل والعادل: أن العادل متعدي، فهو عادل في أحكامه ومعاملاته، وأما العدل فهو ذاتي.

فالشرط الأول هو أهم الشروط، وهو ما اتصل سنده، واتصال السند لا يكون إلا من رواية التلميذ عن شيخه، بأن يسمع من شيخه، ولذلك فإن العلماء أخذوا المدلسين ووضعوا عليهم سياجاً عظيماً، وذلك مثل أبي الزبير، فإنه مدلس، وروايته في مسلم عن جابر رضي الله عنه، ولكن العلماء لم يهملوا المدلسين، سواء في الصحيح أو غير الصحيح، فمثلاً: قالوا عن أبي الزبير: إنه يقبل حديثه بدون قيد أو شرط إذا روى عنه الليث بن سعد؛ لأن الليث كان يوقفه في حديثه ويسأله: أسمعت ذلك من جابر؟ فيقول: سمعت من جابر إذا كان سمعه، وإلا قال: حدثني به فلان عن جابر.

فيكتب الليث كلامه.

إذاً: فقد كان الرواة الثقات وعلماء الجرح والتعديل شديدي الحرص على اتصال السند؛ لأنه شرط أصيل لصحة الحديث.
হাদিস সহিহ হওয়ার সাধারণ শর্তাবলি

সাধারণ শর্তাবলির ব্যাপারে বলা যায় যে, তাঁদের নিকট হাদিস কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তাতে পাঁচটি বা চারটি শর্ত পূর্ণ হয়। আর সেগুলো হলো: সনদের ধারা নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে, যেখানে একজন ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী তাঁর অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করবেন, যা কোনো বিচ্যুতি এবং ত্রুটি থেকে মুক্ত হবে।

স্মৃতিশক্তি বা সংরক্ষণ দুই প্রকার: স্মৃতিগত সংরক্ষণ এবং লিখিত সংরক্ষণ। এখানে উদ্দেশ্য হলো স্মৃতিগত সংরক্ষণ। আর 'আদল' (ন্যায়নিষ্ঠা) এবং 'আদিল' (ন্যায়বিচারক)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: 'আদিল' শব্দটি অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট গুণ, অর্থাৎ তিনি তাঁর বিচার ও লেনদেনে ইনসাফকারী। পক্ষান্তরে 'আদল' বিষয়টি হলো বর্ণনাকারীর নিজস্ব সত্তাগত গুণ।

প্রথম শর্তটি হলো শর্তসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা। সনদের নিরবচ্ছিন্নতা কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় যখন ছাত্র তার উস্তাদ থেকে বর্ণনা করে, অর্থাৎ সে সরাসরি তার উস্তাদ থেকে তা শ্রবণ করে। একারণেই ওলামায়ে কেরাম মুদাল্লিসদের (বর্ণনাকারীর নাম প্রচ্ছন্নকারী) বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশাল সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। যেমন আবু জুবায়ের; তিনি একজন মুদাল্লিস এবং জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনা সহিহ মুসলিমে রয়েছে। তবে ওলামায়ে কেরাম মুদাল্লিসদের বর্ণনাকে একেবারে বর্জন করেননি, চাই তা সহিহ গ্রন্থে হোক বা অন্য কোনো গ্রন্থে। উদাহরণস্বরূপ, তাঁরা আবু জুবায়ের সম্পর্কে বলেছেন: যদি লাইস ইবনে সাদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেন, তবে তাঁর হাদিস কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ লাইস বর্ণনার সময় তাঁকে থামাতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন: 'আপনি কি এটি জাবিরের নিকট থেকে শুনেছেন?' তখন তিনি বলতেন: 'আমি জাবিরের নিকট থেকে শুনেছি'—যদি তিনি শুনে থাকতেন। অন্যথায় তিনি বলতেন: 'অমুক ব্যক্তি জাবিরের পক্ষ থেকে আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন।'

অতঃপর লাইস তাঁর সেই বর্ণনাটি লিখে নিতেন।

সুতরাং, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং জারহ-ওয়াত-তাদিল (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ) বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম সনদের নিরবচ্ছিন্নতার বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন; কারণ এটি হাদিস সহিহ হওয়ার একটি মৌলিক ও আবশ্যিক শর্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌العلاقة بين الإرسال والتدليس

وعند الكلام عن اتصال السند لابد من الكلام عن التدليس والإرسال، والإرسال الخفي، وطبقات المدلسين؛ لأنها كلها ناتجة عن انقطاع السند.

والإرسال مرتبط ارتباطاً وثيقاً بالتدليس، والعلاقة هي الإسقاط، فالمدلس يروي عن شيخه الذي عاصره ما لم يسمع منه، والمرسل: هو أن يروي عمن لم يعاصره بصيغة محتملة للسماع.

إذاً: فهما يتفقان ويفترقان، فيتفقان في الإسقاط، ويختلفان في المعاصرة، فالمدلس قد عاصر من دلس عليه، وأما المرسل فلم يعاصر من أرسل عنه.

مثل: سليمان بن مهران الأعمش، فقد كان مدلساً، وكان بحراً ثقة، كما قال الذهبي عنه: أنه إذا صرح بالسماع فلا كلام، فإذا قال الأعمش في إسناده: عن أنس بن مالك، نظرنا هل سمعه منه أو لا؟ وهو قد رأى أنساً، ولكن هل سمع منه أم لا؟ فينظر في هذه العنعنة؛ لأن الصحيح الراجح أنه لم يسمع من أنس، فيبحث عن الواسطة بينهما، الذي أسقطه، وهل هو ثقة أو لا؟ وكذلك إذا قال سعيد بن المسيب: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن سعيداً مختلف في سماعه من عمر، فكيف يروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو لم يعاصر النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه من التابعين، وليس من الصحابة.

إذاً: المدلس عاصر من دلس عليه، وأما المرسل فلم يعاصر من أرسل عنه، وأهل التحقيق يسمون هذا النوع من التدليس: إرسالاً خفياً.
ইরসাল ও তাদলীসের মধ্যকার সম্পর্ক

সনদের নিরবচ্ছিন্নতা সম্পর্কে আলোচনার সময় তাদলীস, ইরসাল, ইরসালে খাফী এবং মুদাল্লিসগণের স্তর নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য; কারণ এ সবগুলোই সনদের বিচ্ছিন্নতা থেকে উদ্ভূত।

ইরসাল তাদলীসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এবং এদের মধ্যকার যোগসূত্র হলো বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া। সুতরাং মুদাল্লিস তার সমসাময়িক এমন উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন যার কাছ থেকে তিনি সরাসরি শোনেননি। আর মুরসাল হলো সমসাময়িক নন এমন ব্যক্তি থেকে শ্রবণ করার সম্ভাবনাযুক্ত শব্দে বর্ণনা করা।

অতএব, এ দুটি বিষয় এক দিক দিয়ে একীভূত হয় আবার অন্য দিক দিয়ে পৃথক হয়। একীভূত হওয়ার বিষয়টি হলো বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া, আর ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি হলো সমসাময়িক হওয়া। কেননা মুদাল্লিস যার থেকে তাদলীস করেন তার সমসাময়িক ছিলেন, কিন্তু মুরসালের ক্ষেত্রে তিনি যার থেকে বর্ণনা করেন তার সমসাময়িক ছিলেন না।

উদাহরণস্বরূপ: সুলায়মান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশ; তিনি একজন মুদাল্লিস ছিলেন এবং ইলমের গভীর সমুদ্র ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে যেমন বলেছেন: যখন তিনি স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেন, তখন আর কোনো সংশয় থাকে না। কিন্তু আ'মাশ যখন তার সনদে বলেন: 'আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত', তখন আমরা যাচাই করি যে তিনি তার থেকে এটি শুনেছেন কি না? তিনি আনাসকে দেখেছিলেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো তিনি কি তার থেকে সরাসরি শুনেছিলেন? এমতাবস্থায় এই 'আনআনা' (অর্থাৎ 'থেকে' শব্দ দ্বারা বর্ণনা) পর্যবেক্ষণ করা হয়; কারণ বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মতানুসারে তিনি আনাস থেকে কিছু শোনেননি। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের মধ্যবর্তী সেই মাধ্যমকে অনুসন্ধান করা হয় যাকে তিনি বাদ দিয়েছেন, এবং সেই ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য কি না তাও দেখা হয়। একইভাবে সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব যখন বলেন: 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', তখন দেখা যায় যে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সাঈদের শ্রবণের ব্যাপারেই মতভেদ রয়েছে, এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করবেন? তিনি তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক ছিলেন না; কারণ তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নন।

সুতরাং, মুদাল্লিস যার থেকে তাদলীস করেন তার সমসাময়িক ছিলেন, আর মুরসাল যার থেকে ইরসাল করেন তার সমসাময়িক ছিলেন না। গবেষক আলিমগণ এই প্রকারের তাদলীসকে 'ইরসালে খাফী' নামে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الحديث المرسل وتعريفه
মুরসাল হাদীস এবং এর সংজ্ঞা
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تعريف المرسل لغة

المرسل لغة: من أرسل الشيء، أي: أطلقه، ويأتي بمعنى: وجهه، ذلك أن المرسل هو الذي روى الحديث عمن لم يسمعه ولم يعاصره؛ فكأنه أطلقه عن راويه.

مثل أن يقول سعيد بن المسيب: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو يقول أيوب السختياني -وهو من طبقة صغار التابعين- أو الزهري أو الشعبي: عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهؤلاء أرسلوا هذا الحديث، أي: أنهم أطلقوه ولم يقيدوه براو معروف، فمثلاً: لم يقل سعيد بن المسيب: سمعت عثمان قال: قال صلى الله عليه وسلم، ولم يقل الزهري: سمعت أنس قال: عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا، وإنما أطلقوه ولم يقيدوه براو معروف، الذي هو أحد الصحابة رضي الله عنهم.

وأيضاً يأتي المرسل في اللغة بمعنى: الاسترسال، والاسترسال بمعنى: الاطمئنان، أي: أن الراوي الذي أرسل الحديث اطمئن للطبقة التي فوقه، والتي أخذ منها، مثل أن نقول: إن الزهري أخذ الحديث عن أنس، فلما أخذه عن أنس اطمئن على صحة الحديث؛ لأنه لا كلام في أنس رضي الله عنه؛ لأنه معدل من فوق سبع سماوات، فلا يحتاج إلى أن يعدله أحد، فلما اطمأن على رواية أنس أسقطه، وروى مباشرة عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه يعلم أن هذا الحديث صحيح وليس ضعيفاً؛ لأنه من رواية أنس بن مالك رضي الله عنه وأرضاه.

فكأن الراوي في مجلس التحديث استعجل، أو استعجله طلبة الحديث فروى الحديث وأسقط السند، فرواه عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأرسله عنه، أي: أنه تعجل في روايته ولم يتأن، ولم يأت بالسند الذي فوقه.
মুরসাল-এর ভাষাগত সংজ্ঞা

ভাষাগতভাবে মুরসাল: 'আরসালা' (অর্পণ করা বা ছেড়ে দেওয়া) শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ: কোনো কিছুকে ছেড়ে দেওয়া বা মুক্ত করে দেওয়া। এটি 'প্রেরণ করা' বা 'দিকনির্দেশ করা' অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এর কারণ হলো, মুরসাল বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যার নিকট থেকে তিনি তা শোনেননি এবং যার সমসাময়িকও তিনি ছিলেন না; ফলে তিনি যেন হাদিসটিকে তার বর্ণনাকারী (সূত্র) থেকে মুক্ত বা বিমুক্ত করে দিলেন।

যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব যদি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, কিংবা আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি—যিনি কনিষ্ঠ তাবিঈদের স্তরের—অথবা যুহরি কিংবা শাবি যদি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত; তবে তারা এই হাদিসটিকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তারা হাদিসটিকে উন্মুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট পরিচিত বর্ণনাকারীর সাথে একে সীমাবদ্ধ করেননি। উদাহরণস্বরূপ: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এটি বলেননি যে: "আমি উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন"। তদ্রূপ যুহরিও বলেননি যে: "আমি আনাসকে বলতে শুনেছি যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অমুক অমুক বিষয় বর্ণনা করেছেন"। বরং তারা একে উন্মুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন এবং কোনো সুপরিচিত বর্ণনাকারীর সাথে তা সীমাবদ্ধ করেননি, যিনি হলেন কোনো একজন সাহাবী (রাদিআল্লাহু আনহুম)।

আবার ভাষাগতভাবে মুরসাল শব্দটি 'ইস্তিরসাল' অর্থ থেকেও আসতে পারে, যার অর্থ হলো: প্রশান্তি বা আশ্বস্ত হওয়া। অর্থাৎ, যে বর্ণনাকারী হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার ঊর্ধ্বের স্তর (যাদের নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন) সম্পর্কে আশ্বস্ত ছিলেন। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: ইমাম যুহরি আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। যখন তিনি আনাস থেকে হাদিসটি গ্রহণ করলেন, তখন তিনি হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন; কারণ আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, কেননা তাকে সাত আসমানের ওপর থেকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং তার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের জন্য অন্য কারোর প্রয়োজন নেই। ফলে যখন তিনি আনাস-এর বর্ণনার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন, তখন তিনি তাকে (সূত্র থেকে) বাদ দিয়ে সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করলেন; কারণ তিনি জানেন যে এই হাদিসটি বিশুদ্ধ এবং এটি দুর্বল নয়, যেহেতু এটি আনাস ইবনে মালিক (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা।

ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনার আসরে তাড়াহুড়া করেছিলেন, অথবা হাদিসের শিক্ষার্থীরা তাকে তাড়াহুড়া করতে বলেছিল, তাই তিনি হাদিসটি বর্ণনা করার সময় সনদ বা সূত্রটি বাদ দিয়ে সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে দ্রুততা অবলম্বন করেছেন, ধীরস্থিরতা বজায় রাখেননি এবং তার উপরের সনদটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تعريف المرسل اصطلاحاً

وأما معنى المرسل في الاصطلاح فإن المحدثين اختلفوا في تعريفه على أقوال كثيرة جداً، وسنجملها -إن شاء الله تعالى- في ثلاثة أقوال: الأول: وهو قول كثير من المحدثين: أنه رواية التابعي الكبير عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومعنى هذا التعريف: أن الرواة بعد الصحابة إما أن يكونوا من التابعين أو لا، والتابعون قسمان: كبار وصغار، فالكبار مثل: سعيد بن المسيب وعبدالله بن عتبة بن مسعود ومسلم بن يسار، هؤلاء من طبقة كبار التابعين، وأما صغار التابعين فكـ الزهري وأيوب السختياني، وأما غير التابعين فمطلق وليس مقيداً، فقال أصحاب هذا القول في تعريف المرسل بأنه: رواية التابعي الكبير عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

كـ سعيد بن المسيب عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكـ القاسم بن محمد بن أبي بكر عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهذا هو المرسل فقط عندهم.

ووجهة ذلك: أنه لما كان النظر في الحديث المرسل إلى من أسقط من السند، فإن التقييد بكبار التابعين معناه: أن الذي أسقط سيكون صحابياً، وأن التابعي قد أرسله عن النبي صلى الله عليه وسلم بإسقاط الصحابي، قالوا: وهذا في غالب ظننا أنه لا يكون إلا من التابعي الكبير؛ لأنه لو كان تابعياً صغيراً فيحتمل أنه أخذ من التابعي الكبير ولم يأخذ عن الصحابة، إلا من عاش دهراً من الصحابة، ومنهم أنس بن مالك، وهذا نادر؛ لأنه نادر؛ ولأنه يصعب على كل صغار التابعين الرحلة إلى هذا الصحابي الذي عُمِّر، حتى يسمعوا منه هذا الحديث، هذا هو التعريف الأول للمرسل عند العلماء، وهو الصحيح الراجح.

القول الثاني: وهو قول جمهور المحدثين: أنه رواية التابعي بإطلاق عن النبي صلى الله عليه وسلم.

قالوا: لأنه لا يشق على التابعي الصغير أن يذهب إلى هذا الصحابي ليأخذ منه الحديث ويرويه عنه، وقد كان هذا موجوداً، وإذا كان موجوداً وممكناً فلابد أن نلحقه بالحكم المجاور له.

فقالوا: بأنه رواية التابعي بإطلاق عن النبي صلى الله عليه وسلم.

القول الثالث: وهو قول الأحناف: أنه رواية التابعي وغير التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولو من المتأخرين.

وهذا غير مرضي بحال من الأحوال؛ لأننا إذا قلنا بأن المرسل هو: رواية التابعي الكبير، فيكون قد أسقط فيه الصحابي، فيكون احتمال الضعف قليلاً، وإذا قلنا بأن المرسل هو: رواية من تحت التابعي، بل تحت أتباع التابعين، فإنه يكون من المحتمل أنه قد سقط من السند أكثر من راو، فيكون احتمال الضعف كبيراً.

وقال بعض العلماء: كل منقطع مرسل، فقالوا: المرسل: هو إسقاط راوٍ من أي طبقة من طبقات الإسناد، بشرط أن يكون الساقط واحداً فقط، أما لو سقط أكثر من واحد فإنه يكون معضلاً.

وهذا أيضاً توسع غير مرضي، مثل رواية مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم، فلو أسقط زيد أباه فرواه عن النبي صلى الله عليه وسلم مباشرة، أو أسقط مالك زيداً فرواه عن أسلم فإن أصحاب هذا القول يسمونه مرسلاً.
পরিভাষায় মুরসালের সংজ্ঞা

আর পারিভাষিক অর্থে মুরসালের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ অনেকগুলো মতে বিভক্ত হয়েছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা সেগুলোকে তিনটি মতে সংক্ষেপ করব: প্রথমত: এটি অনেক মুহাদ্দিসের মত যে, বড় তাবিঈর সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা। এই সংজ্ঞার অর্থ হলো: সাহাবীগণের পরবর্তী বর্ণনাকারীগণ হয় তাবিঈ হবেন অথবা অন্য কেউ। আর তাবিঈগণ দুই প্রকার: বড় এবং ছোট। বড় তাবিঈ যেমন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ এবং মুসলিম ইবনে ইয়াসার—এরা হলেন বড় তাবিঈদের স্তরভুক্ত। আর ছোট তাবিঈ যেমন: যুহরী এবং আইয়ুব সাখতিয়ানী। আর তাবিঈ ছাড়া অন্য যারা, তারা সাধারণ, কোনো নির্দিষ্ট স্তরের নয়। অতএব, এই মতের প্রবক্তারা মুরসালের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো বড় তাবিঈর সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা।

যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা, অথবা কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা। তাদের নিকট কেবল এটিই হলো মুরসাল।

এর কারণ হলো: যখন মুরসাল হাদীসের ক্ষেত্রে দেখা হয় যে সনদ থেকে কাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তখন বড় তাবিঈর সাথে একে নির্দিষ্ট করার অর্থ হলো: যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি হবেন একজন সাহাবী। আর তাবিঈ সাহাবীকে বাদ দিয়ে সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: আমাদের প্রবল ধারণা মতে এটি কেবল বড় তাবিঈর পক্ষেই সম্ভব; কারণ তিনি যদি ছোট তাবিঈ হতেন তবে সম্ভাবনা থাকত যে তিনি কোনো বড় তাবিঈর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবীর দেখা পাননি। তবে যারা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা সাহাবীদের সময় পেয়েছেন তারা ব্যতিক্রম, যেমন আনাস ইবনে মালিক। কিন্তু এটি বিরল; কারণ এটি একদিকে যেমন বিরল, তেমনি সকল ছোট তাবিঈর পক্ষে দীর্ঘজীবী সেই সাহাবীর কাছে সফর করে হাদীস শোনাও কঠিন ছিল। আলেমদের নিকট এটিই মুরসালের প্রথম সংজ্ঞা এবং এটিই সঠিক ও অগ্রগণ্য মত।

দ্বিতীয় মত: এটি জমহুর বা অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মত: তাবিঈর সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা, চাই তিনি বড় হোন বা ছোট।

তারা বলেন: কারণ একজন ছোট তাবিঈর জন্য সেই সাহাবীর কাছে গিয়ে হাদীস গ্রহণ করা এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করা কঠিন নয়, এবং বাস্তবেও এমনটি ছিল। যখন এটি বিদ্যমান এবং সম্ভব, তখন একেও এর নিকটবর্তী হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তাই তারা বলেছেন যে, তাবিঈর সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করাই হলো মুরসাল।

তৃতীয় মত: এটি আহনাফ বা হানাফীগণের মত: তাবিঈ এবং তাবিঈ ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি পরবর্তী যুগের কেউও যদি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তবে তা মুরসাল।

এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ আমরা যখন বলি যে মুরসাল হলো বড় তাবিঈর বর্ণনা, তখন সেখানে কেবল সাহাবীকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে দুর্বলতার সম্ভাবনা কম থাকে। আর যখন আমরা বলি যে মুরসাল হলো তাবিঈর পরের স্তর বা এমনকি তাবে-তাবিঈদের পরের স্তরের কারো বর্ণনা, তখন সম্ভাবনা থাকে যে সনদ থেকে একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন, ফলে দুর্বলতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

কিছু আলেম বলেছেন: প্রতিটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) হাদীসই মুরসাল। তারা বলেন: মুরসাল হলো সনদের যেকোনো স্তর থেকে একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়া, শর্ত হলো কেবল একজনই বাদ পড়তে হবে। আর যদি একের অধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে তবে তা মু'দাল (জটিল) হবে।

এটিও একটি অগ্রহণযোগ্য সম্প্রসারণ। যেমন মালিকের বর্ণনা যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। এখন যায়েদ যদি তাঁর পিতাকে বাদ দিয়ে সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, অথবা মালিক যদি যায়েদকে বাদ দিয়ে সরাসরি আসলাম থেকে বর্ণনা করেন, তবে এই মতের প্রবক্তারা একে মুরসাল বলে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌حكم العمل بالحديث المرسل

جاء في حكم العمل بالحديث المرسل تسعة أقوال، ونجملها في الأقوال الآتية: جمهور علماء الحديث كـ أحمد وابن المديني والقطان وعبد الرحمن بن مهدي ويحيى بن معين: يرون الحديث المرسل ضعيفاً، وليس بحجة، وهو قول المحققين من أهل الحديث، كما رجح ذلك الإمام النووي؛ لأننا لا نعلم من سقط منه، وهل هو صحابي أو غيره، فإن كان صحابياً فالحديث صحيح؛ لأن الصحابة كلهم عدول، وإن كان غير صحابي فلا نعلم هل هو ضعيف أو ثقة؟ فلما نشأ هذا الاحتمال ضعف الحديث المرسل، ولم يعمل به؛ لأنه يحتمل أن يكون الساقط ضعيفاً، فيضعف الحديث.

ويرى الأحناف أنه يقبل مطلقاً إذا كان المرسل ثقة، وهي رواية عن أحمد وبعض المالكية، وحجتهم: أن من أسند فقد برئ.

وهذه قاعدة عند المحدثين، ولذلك ترى كثيراً من العلماء عندما ينظرون في الكتب المتقدمة يقولون: هؤلاء قد برءوا ساحتهم، حتى ولو كان في كتبهم بعض الأحاديث الضعيفة والموضوعة؛ لأنهم قد أسندوا ما يروونه، ومن أسند فقد برئ، ومن أسند فقد أحال، أي: أحالك على التعب والشقاء والبحث، حتى ترى هذا السند صحيح أم لا؟ إذاً: فهذا الراوي الثقة عندما أرسل عن النبي صلى الله عليه وسلم فقد أراحك، وهو لم يسند ولم يحلك على غيره، وإنما قال لك: أنا أثق بأن رواية هذا الحديث صحيحة.

إذاً: فوجهة نظرهم: أنه لما أسقط فإنه قد تأكد من صحة الحديث، فحمل عنك هذا العناء، وقال لك تلميحاً: هذا الحديث صحيح، فخذه مني واعمل به.

فمن أسند فقد أحال وأتعبك في البحث، ولكن من أسقط وأعطاك وهو ثقة فهذه دلالة على أنه يعلم يقيناً أن هذا الحديث من الصحة بمكان.

القول الثالث: التفصيل، وفيه أقوال كثيرة، سنبينها ونجملها في أمرين: الأول: النظر إلى المرسل، والثاني: النظر إلى المرسَل، والمرسِل هو: الراوي، والمرسَل هو: المتن نفسه.

فقال العلماء: إذا كان المرسِل لا يرسل إلا عن ثقة فيؤخذ حديثه ويؤخذ بمرسله ويعمل به، وذلك كمراسيل ابن المسيب، وقد قال الشافعي: أحسن المراسيل بعد التتبع هي مراسيل سعيد بن المسيب، فقد كان لا يرسل إلا عن ثقة، فقد وجد بعد البحث والتتبع أنه لا يسقط إلا الثقات، فإذا كان المرسل بهذه الحال فيكون حديثه حجة.

وأما إن كان المرسِل لا يرسل عن ثقة فحديثه ليس بحجة، مثل الحسن البصري، قال فيه العلماء: مراسيله كالريح؛ لأنه كان يرسل عن الضعفاء والثقات، يأخذ من كل أحد، فمراسيله ضعيفة، وقد رجح هذا القول بعض الشافعية، وعليه تعقيب وتفصيل ليس هذا محله.

وأما من جهة النظر إلى المرسَل فقال العلماء: إنه يمكن العمل بالمرسل ويكون حجة، وذلك إذا جاء من طريق آخر مرسلاً غير الطريق الأول، وذلك مثل رواية ابن المسيب عن النبي صلى الله عليه وسلم: (كل مولود مرتهن بعقيقته)، ورواية الشعبي أيضاً عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً: (كل مولود مرتهن بعقيقته)، فيتفق هذا المرسل مع المرسل الأول، ويعضد كل منهما الآخر، فيحتج به؛ لأن العلماء يقولون: ضعيف مع ضعيف يتقوى أحدهما بالآخر، وكان بعض العلماء يضرب لطلبته مثلاً لذلك ويقول: لو أن أحداً عنده في رجله أو يده ضعف مثلاً، وجاء رجل آخر عنده نفس الضعف في رجله أو يده، فأخذ هذا بيد الآخر فإن كلاً منهما يتقوى بصاحبه، ويسيرون معاً.

إذاً: إذا جاء المرسل من طريق آخر مرسلاً فإنه يكون حجة.

وهذا كلام الشافعي.

وقال أيضاً: إذا جاء من طريق آخر مسنداً فإنه أيضاً يقوي هذا المرسل، وهذا مأخوذ من كلام الشافعي، حيث قال: والمرسل حجة عندنا إذا جاء من طريق آخر من مخرج آخر أو جاء من رواية أخرى مسندة.

فإن قيل: ولم تأخذ بالمرسل وقد أغناك الله بالمسند، فلا عبرة أن تقول هذا تقوى بالمسند؛ لأن المسند فيه غنية -وهذا مأخذ جيد-؟ فنقول: تظهر ثمرة ذلك عند الترجيح في التعارض، فلو جاء مثلاً مرسل ومسند يقول: طلاق الحائض يقع، وجاء مسند آخر يقول: لا يقع، ولم يمكن الجمع بينهما، فإننا نلجأ إلى الترجيح بينهما بطرقه المعروفة، ومن هذه الطرق: الترجيح بكثرة الطرق.

وكذلك إذا عمل به جمع غفير من العلماء، أو كانت عليه فتوى العلماء، أو عمل به علماء العصر، فإذا عمل به علماء العصر غلب على الظن أنه مرفوع للنبي صلى الله عليه وسلم.

فقال الشافعي: إن الحكم عندنا في المرسل لا الرد مطلقاً ولا القبول مطلقاً بل التفصيل؛ فننظر في المرسِل إن كان يرسل عن ثقات قبلناه، وإن كان لا يرسل عن ثقات كـ الحسن البصري فإنا لا نقبله، وأيضاً ننظر إلى المرسَل -المتن- فإن عضد بمتن آخر، أو جاء من طريق آخر أخذناه، أو كان له فتوى عالم من العلماء قبلناه أيضاً.

هذا هو التفصيل، وإذا أردنا الترجيح فلابد أولاً من التقعيد التفصيلي، ولا بد لطالب العلم أن يؤصل أولاً، حتى إذا أراد أن يخرج بعد ذلك فإنه يخرج على هذا التفصيل.

فنقول أولاً: كل مرسل ليس بحجة؛ لأنه قد اشترط العلماء في تصحيح الحديث أن يتصل إسناده، وهذا غير متصل، بل قد أسقط الراوي من روى عنه، ونحن لا نعلم أهو ثقة أو ضعيف؟ فإذاً: كل مرسل ليس بحجة، إلا إذا كان الذي أرسل لا يرسل إلا عن الثقات، وهذا ليس خاصاً بـ ابن المسيب، وإنما كل من أرسل عن الثقات فيؤخذ بإرساله، هذا هو الصحيح الراجح.

إذاً: كل مرسَل ضعيف، إلا إذا كان من أرسل لا يرسل إلا عن ثقة، أو اعتضد بغيره.
মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করার বিধান

মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করার বিধান সম্পর্কে নয়টি মত পাওয়া যায়, যা আমরা নিম্নোক্ত বক্তব্যসমূহে সংক্ষেপ করছি: হাদিস শাস্ত্রের জুমহুর বা অধিকাংশ আলেম যেমন—আহমদ, ইবনুল মাদিনী, আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাইন মুরসাল হাদিসকে দুর্বল মনে করেন এবং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটিই হাদিস শাস্ত্রের মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমদের অভিমত, যেমনটি ইমাম নববী প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ আমরা জানি না সনদ থেকে কে বাদ পড়েছে। সে কি একজন সাহাবী নাকি অন্য কেউ? যদি সে সাহাবী হয় তবে হাদিসটি সহিহ; কারণ সাহাবীদের সকলেই ন্যায়পরায়ণ। আর যদি সে সাহাবী না হয় তবে আমরা জানি না সে দুর্বল নাকি নির্ভরযোগ্য? যখন এই সংশয় তৈরি হয়, তখন মুরসাল হাদিস দুর্বল হয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করা হয় না; কারণ সম্ভাবনা থাকে যে বাদ পড়া ব্যক্তিটি দুর্বল হতে পারেন, ফলে হাদিসটিও দুর্বল হয়ে যায়।

হানাফিগণ মনে করেন যে, যদি মুরসাল বা হাদিস বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন, তবে তা নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা এবং কিছু মালিকি আলেমেরও মত। তাদের দলিল হলো: যে ব্যক্তি সনদ বর্ণনা করেছে সে দায়মুক্ত হয়েছে।

এটি মুহাদ্দিসদের একটি মূলনীতি, তাই আপনি অনেক আলেমকে দেখবেন যখন তারা প্রাচীন কিতাবগুলো দেখেন তখন বলেন: তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি যদি তাদের কিতাবে কিছু দুর্বল ও জাল হাদিসও থাকে; কারণ তারা যা বর্ণনা করেছেন তার সনদ উল্লেখ করেছেন। আর যে সনদ উল্লেখ করেছে সে দায়মুক্ত হয়েছে, এবং যে সনদ উল্লেখ করেছে সে বিষয়টি অন্যের ওপর সোপর্দ করেছে। অর্থাৎ: সে আপনাকে ক্লান্তি, কষ্ট এবং অনুসন্ধানের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যাতে আপনি দেখতে পারেন এই সনদটি সহিহ কি না। সুতরাং, এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণনা করেন, তখন তিনি আপনাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সনদ উল্লেখ করেননি এবং আপনাকে অন্যের ওপর সোপর্দ করেননি, বরং তিনি আপনাকে বলেছেন: আমি নিশ্চিত যে এই হাদিসটির বর্ণনা সঠিক।

সুতরাং, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো: তিনি যখন মাঝখানের বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন তখন তিনি হাদিসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন, ফলে তিনি আপনার পক্ষ থেকে এই পরিশ্রমের ভার গ্রহণ করেছেন এবং ইশারায় আপনাকে বলেছেন: এই হাদিসটি সহিহ, তাই এটি আমার কাছ থেকে গ্রহণ করুন এবং এর ওপর আমল করুন।

সুতরাং যে সনদ উল্লেখ করল সে বিষয়টি অন্যের ওপর সোপর্দ করল এবং আপনাকে অনুসন্ধানের পরিশ্রমে ফেলল, কিন্তু যে বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়ে আপনাকে হাদিস দিল অথচ সে নিজে নির্ভরযোগ্য, তবে এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে সে নিশ্চিতভাবে জানে এই হাদিসটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ।

তৃতীয় মত: বিস্তারিত বিশ্লেষণ। এতে অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা আমরা দুটি বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করব: প্রথমত: মুরসিল বা বর্ণনাকারীর দিকে নজর দেওয়া, এবং দ্বিতীয়ত: মুরসাল বা মূল পাঠের দিকে নজর দেওয়া। এখানে মুরসিল হলো বর্ণনাকারী আর মুরসাল হলো খোদ মতন বা মূল পাঠটি।

আলেমগণ বলেন: মুরসিল যদি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই মুরসাল হাদিস বর্ণনা করেন, তবে তার হাদিস গ্রহণ করা হবে এবং তার মুরসাল বর্ণনা অনুযায়ী আমল করা হবে। যেমন ইবনুল মুসাইয়্যিবের মুরসাল বর্ণনাগুলো। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: পর্যালোচনার পর সবচেয়ে উত্তম মুরসাল হলো সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মুরসালগুলো। কারণ তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই হাদিস বর্ণনা করতেন। অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদেরই সনদ থেকে বাদ দিতেন। সুতরাং মুরসাল বর্ণনাকারী যদি এমন অবস্থার অধিকারী হন তবে তার হাদিস দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

আর যদি মুরসিল নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তি থেকেও মুরসাল বর্ণনা করেন, তবে তার হাদিস দলিল নয়। যেমন হাসান বসরী; তার সম্পর্কে আলেমগণ বলেছেন: তার মুরসাল বর্ণনাগুলো বাতাসের মতো; কারণ তিনি দুর্বল ও নির্ভরযোগ্য সবার থেকেই মুরসাল বর্ণনা করতেন, তিনি সবার কাছ থেকেই গ্রহণ করতেন। তাই তার মুরসাল বর্ণনাগুলো দুর্বল। কিছু শাফেয়ী আলেম এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আর এর ওপর কিছু মন্তব্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে যা এখানে আলোচনার স্থান নয়।

আর মুরসাল হাদিসের পাঠের দিকে নজর দেওয়ার ক্ষেত্রে আলেমগণ বলেন: মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করা সম্ভব এবং তা দলিল হতে পারে যদি তা প্রথম সূত্রটি ছাড়া অন্য কোনো সূত্রেও মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনুল মুসাইয়্যিবের বর্ণনা: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শা'বীরও মুরসাল বর্ণনা: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে)। ফলে এই মুরসাল বর্ণনাটি প্রথম মুরসাল বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং একে অপরকে শক্তিশালী করে, তখন এটি দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারণ আলেমগণ বলেন: দুর্বল বর্ণনার সাথে দুর্বল বর্ণনা যুক্ত হলে একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। কোনো কোনো আলেম তাদের ছাত্রদের জন্য এর একটি উদাহরণ দিতেন এবং বলতেন: যদি কারও পায়ে বা হাতে দুর্বলতা থাকে এবং অন্য একজন লোক আসে যার পায়ে বা হাতে একই রকম দুর্বলতা রয়েছে, এরপর একজন অন্যজনের হাত ধরে, তবে তারা প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং তারা একসাথে চলতে পারে।

সুতরাং, যদি মুরসাল হাদিস অন্য কোনো সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

এটি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্য।

তিনি আরও বলেন: যদি এটি অন্য কোনো সূত্রে মুসনাদ হিসেবে আসে, তবে সেটিও এই মুরসাল বর্ণনাটিকে শক্তিশালী করে। এটি শাফেয়ীর বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: মুরসাল বর্ণনা আমাদের কাছে দলিল হিসেবে গণ্য হবে যদি তা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে অন্য কোনো উৎস থেকে আসে অথবা অন্য কোনো মুসনাদ বর্ণনার মাধ্যমে আসে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন আপনি মুরসাল গ্রহণ করবেন যখন আল্লাহ আপনাকে মুসনাদ দিয়ে অমুখাপেক্ষী করেছেন? সুতরাং এটি বলার প্রয়োজন নেই যে এটি মুসনাদ দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে; কারণ মুসনাদই তো যথেষ্ট -এটি একটি ভালো যুক্তি-। এর উত্তরে আমরা বলব: এর ফলাফল তখন প্রকাশ পায় যখন দুই বিপরীতধর্মী বর্ণনার মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি মুরসাল ও একটি মুসনাদ বর্ণনা আসে যা বলে: ঋতুবতী মহিলার তালাক কার্যকর হবে, আর অন্য একটি মুসনাদ বর্ণনা আসে যা বলে: কার্যকর হবে না, এবং উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা প্রচলিত পদ্ধতিতে তাদের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করব। আর এই পদ্ধতিগুলোর একটি হলো: সূত্রের আধিক্য দেখে প্রাধান্য দেওয়া।

একইভাবে যদি আলেমদের একটি বড় দল এর ওপর আমল করেন, অথবা আলেমদের ফতোয়া এর পক্ষে থাকে, কিংবা সমসাময়িক আলেমগণ এর ওপর আমল করেন। যখন সমসাময়িক আলেমগণ এর ওপর আমল করেন, তখন প্রবল ধারণা জন্মে যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: মুরসাল হাদিসের ব্যাপারে আমাদের কাছে বিধান হলো এটি ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যানও করা হবে না আবার ঢালাওভাবে গ্রহণও করা হবে না, বরং বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। আমরা মুরসিল বা বর্ণনাকারীর দিকে তাকাব, যদি তিনি নির্ভরযোগ্যদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করেন তবে আমরা তা গ্রহণ করব। আর যদি তিনি নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তি থেকেও মুরসাল বর্ণনা করেন যেমন হাসান বসরী, তবে আমরা তা গ্রহণ করব না। আবার আমরা মুরসাল বা মতনের দিকেও তাকাব, যদি তা অন্য কোনো মতন দ্বারা সমর্থিত হয় অথবা অন্য কোনো সূত্রে আসে তবে আমরা তা গ্রহণ করব, অথবা যদি এর স্বপক্ষে কোনো আলেমের ফতোয়া থাকে তবে সেটিও আমরা গ্রহণ করব।

এটিই হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ। আর যদি আমরা কোনো মতকে প্রাধান্য দিতে চাই, তবে প্রথমে বিস্তারিত মূলনীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো প্রথমে ভিত্তি স্থাপন করা, যাতে সে যখন পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়, তবে সে যেন এই বিশ্লেষণের আলোকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।

আমরা প্রথমে বলি: প্রত্যেক মুরসাল হাদিস দলিল নয়; কারণ আলেমগণ হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য সনদ সংযুক্ত হওয়ার শর্ত দিয়েছেন, আর এটি সংযুক্ত নয়। বরং বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন, আর আমরা জানি না সে নির্ভরযোগ্য নাকি দুর্বল? সুতরাং: প্রতিটি মুরসাল দলিল নয়, কেবল সেই ক্ষেত্রে ব্যতীত যখন মুরসাল বর্ণনাকারী কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই মুরসাল বর্ণনা করেন। আর এটি কেবল ইবনুল মুসাইয়্যিবের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং যে কেউ নির্ভরযোগ্যদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করবেন তার মুরসাল বর্ণনা গ্রহণ করা হবে, এটিই সঠিক ও অগ্রগণ্য মত।

সুতরাং: প্রতিটি মুরসাল বর্ণনা দুর্বল, কেবল সেই ক্ষেত্র ব্যতীত যখন মুরসাল বর্ণনাকারী কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই বর্ণনা করেন অথবা তা অন্য কোনো কিছুর দ্বারা শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌حكم مرسل الصحابي

وقد كان بعض الصحابة يرسلون الحديث، فقد جاء عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال: يقولون: أكثر أبو هريرة، والله الموعد، كان إخواننا من المهاجرين ينشغلون بالصفقة -أي: بالتجارة- وكان إخواننا من الأنصار ينشغلون بالزرع، وكنت أصحب رسول الله صلى الله عليه وسلم على شبع بطني.

ويتصور الإرسال في صغار الصحابة كـ ابن عباس وابن الزبير وعبد الله بن عمرو بن العاص، وقد أرسلت عائشة نفسها حديث بداية الوحي؛ لأنها لم تكن قد ولدت في ذلك الوقت، فقد جاء في الحديث المتفق عليه بين البخاري ومسلم عن عائشة قالت: تزوجني الرسول صلى الله عليه وسلم وأنا بنت ست سنين.

وقد تزوجها وهو في المدينة بعد الهجرة، وكان قد مكث في مكة ثلاث عشرة سنة، إذاً عائشة رضي الله عنها وأرضاها قد أرسلت هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وأيضاً ابن عباس أرسل حديث: (لا ربا إلا في النسيئة) فإنه لما روجع فيه قال: سمعته من أسامة بن زيد، فأرسله عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وقد وردت أقوال عن أهل العلم في حكم مرسل الصحابي.

القول الأول: قالوا: يقبل مطلقاً.

القول الثاني: قالوا: هو وباقي المراسيل سواء.

القول الثالث: التفصيل: فإن كان ممن يأخذ عن التابعين، فمرسله لا يكون حجة حتى في الغيبيات، وهذا كـ ابن عباس فإنه كان يأخذ عن كعب الأحبار، وكـ عبد الله بن عمرو بن العاص فإنه كان يأخذ عن كثير من التابعين، وأما غيره فيكون حجة.

والراجح الصحيح في ذلك قولاً قاطعاً: أن مرسل الصحابي صحيح، وهو حجة؛ لأنهم كلهم عدول، وقد عدلهم الله من فوق سبع سماوات، وعدلهم رسوله صلى الله عليه وسلم، فلا يحتاجون إلى التعديل، فمرسل الصحابي حجة بلا نزاع.

ونرد على من قال: إن مرسل الصحابي كباقي المراسيل بأن نقول: لا والله لا يستويان مثلاً ولا يشتركان في الفضل؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (خير الناس قرني ثم الذين يلونهم)، فهم من أهل الخيرية، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم مبيناً لعظمة مكانتهم: (النجوم أمنة للسماء، فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد، وأنا أمنة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون، وأصحابي أمنة لأمتي، فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما توعد)، وفي رواية في السنن بسند صحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (يغزو فئام من الناس فيقال لهم: أفيكم من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم، فيفتح لهم.

-بلا قتال ولا شيء بل ببركة الصحبة مع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم يغزو فئام من الناس، -وهذا أيضاً في الفضل- فيقال لهم: أفيكم من صحب من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم، فيفتح لهم)، وقال كذلك في الثالثة.

فهذا فيه دلالة على فضل الصحابة على غيرهم، فإنهم لا يستوون مع غيرهم، فقد جاء تعديلهم من فوق سبع سماوات، وعلى لسان النبي صلى الله عليه وسلم، فالصحابة كلهم عدول.

وأما قول القائل الذي قال: إنهم يأخذون عن التابعين، فهذا من الندرة بمكان، ولم يكن ابن عباس ولا عبد الله بن عمرو بن العاص يأخذون عنهم رواية عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ إذ الصحابة متوافرون، فكانوا يأخذون عنهم، ولم يكونوا ينزلون في السند، وعندهم العلو، إذ النزول مذموم إذا وجد العلو.

هذا هو الصحيح الراجح في ذلك.
মুরসাল সাহাবীর বিধান

কিছু সাহাবী হাদিস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: তারা বলে, আবু হুরায়রা অনেক বেশি হাদিস বর্ণনা করে, অথচ আল্লাহর কাছেই সবকিছুর ফয়সালা হবে। আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকতেন এবং আমাদের আনসার ভাইয়েরা চাষাবাদে ব্যস্ত থাকতেন, আর আমি কেবল পেটের ক্ষুন্নিবৃত্তির বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে থাকতাম।

অল্পবয়স্ক সাহাবীদের ক্ষেত্রে মুরসাল হওয়া ধারণা করা যায়, যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে আল-জুবায়ের এবং আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস। স্বয়ং আয়েশা (রা.) ওহীর সূচনার হাদিসটি নিজেই মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; কারণ সেই সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। বুখারী ও মুসলিমের ঐকমত্যপূর্ণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমাকে বিবাহ করেন তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর।

তিনি তাকে হিজরতের পর মদীনায় বিবাহ করেছিলেন, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। সুতরাং আয়েশা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাসও এই হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নাসীয়াহ (বাকিতে) ব্যতীত কোনো রিবা (সুদ) নেই"। যখন তাকে এ বিষয়ে পুনঃজিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: আমি এটি উসামা বিন যায়েদ থেকে শুনেছি। সুতরাং তিনি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মুরসাল সাহাবীর বিধান সম্পর্কে আলেমদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম মত: তারা বলেছেন: এটি নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয় মত: তারা বলেছেন: এটি এবং অন্যান্য মুরসাল সমান।

第三 মত: বিস্তারিত বিশ্লেষণ: যদি বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তি হন যিনি তাবেয়ীদের থেকে গ্রহণ করেন, তবে তার মুরসাল হাদিস অদৃশ্যের বিষয়গুলোতেও হুজ্জাত বা দলিল হবে না। যেমন ইবনে আব্বাস, কারণ তিনি কাব আল-আহবার থেকে গ্রহণ করতেন; এবং যেমন আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস, কারণ তিনি অনেক তাবেয়ী থেকে গ্রহণ করতেন। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এটি হুজ্জাত বা দলিল হবে।

এ বিষয়ে অকাট্যভাবে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: মুরসাল সাহাবী সহীহ এবং এটি হুজ্জাত (দলিল); কারণ তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ। আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে তাদের ন্যায়পরায়ণতা ঘোষণা করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও তাদের ন্যায়পরায়ণতা ঘোষণা করেছেন। সুতরাং তাদের নতুন করে আর ন্যায়পরায়ণ প্রমাণের প্রয়োজন নেই। তাই মুরসাল সাহাবী কোনো বিতর্ক ছাড়াই হুজ্জাত বা দলিল।

আর যারা বলেন মুরসাল সাহাবী অন্যান্য মুরসালের মতো, আমরা তাদের জবাবে বলব: না, আল্লাহর কসম, তারা উদাহরণ হিসেবে সমান নয় এবং মর্যাদার ক্ষেত্রেও অংশীদার নয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" সুতরাং তারা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মর্যাদার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে বলেছেন: "নক্ষত্ররাজি আসমানের জন্য নিরাপদ রক্ষক, যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে তখন আসমানের কাছে সেই বিপদ আসবে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপদ রক্ষক, যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের কাছে সেই বিপদ আসবে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপদ রক্ষক, যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন তখন আমার উম্মতের কাছে সেই বিপদ আসবে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।" সুনানে বর্ণিত এক সহীহ সনদের রেওয়ায়েতে এসেছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একদল মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছে? তারা বলবে: হ্যাঁ, তখন তাদের বিজয় দান করা হবে।

—যুদ্ধ বা কোনো কিছু ছাড়াই বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাহচর্যের বরকতেই বিজয় হবে। অতঃপর একদল মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত হবে—এটিও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে—তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভ করেছেন এমন ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছে? তারা বলবে: হ্যাঁ, তখন তাদের বিজয় দান করা হবে।" এবং তৃতীয়টির ক্ষেত্রেও তিনি একই কথা বলেছেন।

এটি অন্যদের ওপর সাহাবীদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। কারণ তারা অন্যদের সমান নন। সাত আসমানের উপর থেকে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবানীতে তাদের ন্যায়পরায়ণতার ঘোষণা এসেছে। সুতরাং সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ।

আর যারা বলেন যে তারা তাবেয়ীদের থেকে গ্রহণ করেন—এ বিষয়টি অত্যন্ত বিরল। ইবনে আব্বাস বা আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত কোনো রেওয়ায়েত তাদের থেকে (তাবেয়ীদের থেকে) গ্রহণ করতেন না; কেননা সাহাবীগণ পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান ছিলেন এবং তারা সাহাবীদের থেকেই গ্রহণ করতেন। তারা সনদের স্তর নিচে নামাতেন না যখন তাদের জন্য উচ্চতর সনদ বিদ্যমান থাকত; কারণ উচ্চতর সনদ বিদ্যমান থাকতে নিম্নতর সনদ গ্রহণ করা দোষণীয়।

এটাই এই বিষয়ে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الصبر على طلب العلم

إن طلب العلم شاق جداً في بدايته، فينبغي على طالب العلم أن يصبر عليه ويصابر، ويظهر لله أنه صادق في طلبه، فإن فعل ذلك فتح الله عليه الفتوح التي لا يمكن أن تفتح على مثله، وإن صدق الله صدقه، وليشرب ماء زمزم كثيراً على العلم، فقد شرب من هم أفضل منا جميعاً على طلب العلم، فمنحهم الله ما لم يتصوروا، فـ ابن حجر كان يقول: كنت آتي ماء زمزم - وهو يصحح حديث النبي صلى الله عليه وسلم أن زمزم لما شرب له - وأشرب حتى أصل لحفظ الذهبي.

فكان فحلاً موسوعة في حفظ الحديث.

قال: شربت ماء زمزم لأصل لحفظ الذهبي، فما لبثت إلا أن تفوقت على حفظ الذهبي.

وأيضاً أبو بكر بن العربي قال: شربت كثيراً ماء زمزم ليؤتيني الله الفقه والعلم، يعني: الفقه والحديث.

فآتاه الله ما طلب، فكان مفسراً محدثاً بارعاً، فقال: وليتني تداركت الأمر أن أشرب ماء زمزم على العلم والعمل.

إذاً: فاصدق الله يصدقك، وكلما استيقنت في ربك آتاك الله ما تريد، وإن الله عند ظن عبده به، وأختم: لا تحسبن المجد تمراً أنت آكله لن تبلغ المجد حتى تلعق الصبرا وبعدها ستعرف الفرق الكبير بين مجلس العلم وبين مجلس الوعظ والتذكير.

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
জ্ঞান অন্বেষণে ধৈর্য ধারণ

নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণ তার শুরুতে অত্যন্ত কঠিন। তাই জ্ঞান অন্বেষীর উচিত এর ওপর ধৈর্য ধারণ করা ও অটল থাকা এবং আল্লাহর কাছে এ কথা প্রকাশ করা যে, সে তার অন্বেষণে সত্যবাদী। যদি সে তা করে, তবে আল্লাহ তার জন্য এমন সব বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবেন যা তার মতো অন্য কারও জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর সে যদি আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতা রক্ষা করে, তবে আল্লাহও তার সাথে সত্যবাদিতা রক্ষা করবেন। জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সে যেন প্রচুর পরিমাণে যমযমের পানি পান করে। কেননা আমাদের সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তা পান করেছেন, ফলে আল্লাহ তাদের এমন কিছু দান করেছেন যা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। ইবনু হাজার বলতেন: আমি যমযমের পানির কাছে আসতাম—আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি সহিহ সাব্যস্ত করতেন যে, "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা তারই জন্য"—এবং আমি পান করতাম যেন আমি যাহাবীর মুখস্থ শক্তিতে পৌঁছাতে পারি।

ফলে তিনি হাদিস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন: আমি যাহাবীর মুখস্থ শক্তির স্তরে পৌঁছানোর জন্য যমযমের পানি পান করেছিলাম, অতঃপর কিছুকাল যেতে না যেতেই আমি যাহাবীর মুখস্থ শক্তিকেও ছাড়িয়ে গেলাম।

তদ্রূপ আবু বকর ইবনুল আরাবীও বলেছেন: আমি প্রচুর পরিমাণে যমযমের পানি পান করেছি যেন আল্লাহ আমাকে ফিকহ ও ইলম দান করেন; অর্থাৎ ফিকহ ও হাদিস।

অতঃপর আল্লাহ তাকে তা-ই দান করলেন যা তিনি চেয়েছিলেন। ফলে তিনি একজন দক্ষ মুফাসসির ও মুহাদ্দিস হলেন। এরপর তিনি বললেন: হায়! আমি যদি ইলম ও আমল—উভয়টির জন্যই যমযমের পানি পান করার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারতাম।

অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতা বজায় রাখুন, আল্লাহও আপনার সাথে সত্যবাদিতা বজায় রাখবেন। আপনার রবের প্রতি আপনার বিশ্বাস যত দৃঢ় হবে, আল্লাহ আপনাকে তা-ই দান করবেন যা আপনি চান। আর আল্লাহ তাঁর বান্দার ধারণার অনুরূপ হয়ে থাকেন। পরিশেষে আমি বলি: সম্মান ও মর্যাদাকে এমন খেজুর মনে করবেন না যা আপনি সহজেই খেয়ে নেবেন; আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্মানের উচ্চশিখরে পৌঁছাতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি তিক্ত ধৈর্যের স্বাদ আস্বাদন করবেন। এরপরই আপনি ইলমি মজলিস এবং ওয়াজ ও নসিহতের মজলিসের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

আমি আমার এই কথাই বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি রচিত কিতাবুত তাদলিস ফিল হাদিসের ব্যাখ্যা - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


কিতাব: আদ-দুমাইনি রচিত কিতাবুত তাদলিস ফিল হাদিসের ব্যাখ্যা

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

কিতাবের উৎস: অডিও দরসসমূহ যা ইসলামি নেটওয়ার্ক (Islamweb) ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১০টি দরস ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
التدليس في الحديث -‌‌ صيغ أداء الحديث مع بيان حكم الحديث المعنعن

لأداء الحديث صيغ كثيرة عند المحدثين، منها: حدثنا، وأخبرنا، وأنبأنا، وقال، وسمعت، وعن، وأن، ومن هذه الصيغ ما يدل على السماع من الشيخ، ومنها ما يدل على القراءة على الشيخ، ومنها ما يدل على الرواية بالإجازة، ومنها ما لا يدل على السماع كصيغة عن وأن، فإن كانت من مدلس لم تقبل، وإن كانت من غيره وأمكن اللقاء قبلت.
হাদিসের ক্ষেত্রে তাদলিস -‌‌ মুআনআন হাদিসের বিধান বর্ণনাসহ হাদিস বর্ণনার শব্দাবলি

মুহাদ্দিসগণের নিকট হাদিস বর্ণনার অনেক শব্দাবলি বা পরিভাষা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাদ্দাসানা, আখবারানা, আম্বাআনা, ক্বলা, সামি’তু, ‘আন এবং আন্না। এই শব্দাবলির মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা শায়খের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের প্রমাণ দেয়, আবার কিছু রয়েছে যা শায়খের নিকট পাঠ করার প্রমাণ দেয়, আর কিছু রয়েছে যা ইজাজত বা অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনার প্রমাণ দেয়। এবং সেগুলোর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা সরাসরি শ্রবণের অকাট্য প্রমাণ দেয় না, যেমন: ‘আন এবং আন্না শব্দদ্বয়। সুতরাং যদি এই শব্দগুলো কোনো মুদাল্লিস থেকে বর্ণিত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না; আর যদি তা অন্য কারো পক্ষ থেকে হয় এবং শায়খের সাথে সাক্ষাৎ সম্ভবপর হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌جهود المحدثين في تنقيح الأحاديث

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي النبي صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فما زلنا مع كتاب التدليس في الحديث للدكتور مسفر الدميني.

العلماء وضعوا القواعد والضوابط في علم الحديث ليميزوا قول النبي صلى الله عليه وسلم من قول غيره، وكانوا يقمشون ثم ينقشون، أي: يجمعون الحديث ثم يحققون ويدققون هل هذا حديث النبي أو ليس بحديث النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك وضعوا ضوابط وقواعد لمعرفة صحة الحديث.

وهذه الشروط وضعوها بالاستقراء وبالبحث والتنقيب، ومن أهم الشروط: اتصال السند، وهذا الكتاب برمته يتكلم عن مسألة اتصال السند والانقطاع وغير ذلك، وقد ذكرنا أن المرسل نوعان: مرسل مطلق ومرسل خفي.

واليوم إن شاء الله سوف نتكلم عن مسألة الحديث المعنعن، وصيغ التحمل والأداء.

والعلماء عندما نقحوا الأحاديث نظروا فقالوا: لابد أن نعلم هل هذا الحديث فيه اتصال أم فيه انقطاع، والاتصال معناه: أن التلميذ يروي مباشرة عن شيخه، فيقول: حدثني، أخبرني، أنبأني، حدثنا، أخبرنا، أنبأنا، فإذا قال: حدثنا فهذه دلالة على أنه جلس في مجلس التحديث مع أقرانه الذين يسمعون من الشيخ.

أما إذا قال: حدثني، فيكون المحدث ذكر لطالب الحديث هذا الحديث وهو يجلس معه وحده، فحدثني أقوى من حدثنا؛ لأنه يكون أتقن وأوعى وأضبط، وممكن أن يقول للشيخ: تمهل علي، وأعد هذه الكلمة، لكن ما يستطيع في مجلس التحديث أن يوقفه ويقول: أعد علينا هذا الحديث، لكن لو كان وحده يستطيع أن يفعل ذلك كما فعل مالك رحمه الله، ففي يوم العيد الناس ينشغلون بما ينشغلون به من اللحم وإدخال السرور على الناس، أما مالك فذهب فتوسد عتبة باب الزهري، فرأته الخادمة فقالت لـ الزهري: عبدك الأبيض بالباب، فأخذ لحماً وقال لها: أعطيه إياه، فأخذت اللحم وأعطته إياه، فقال: ما لهذا جئت؟ قالت: لم جئت؟ قال: هو يعرف لماذا جئت، فدخلت على الزهري فقال: أدخليه، فدخل مالك فجلس، فقال الزهري: ما تريد؟ قال: أريد حديث النبي، فسرد عليه حديثاً واحداً، ثم قال: زدني، فسرد عليه الحديث الثاني، ثم قال: زدني، قال: كفاك، قال: لا والله لا يكفيني، زدني فأعطاه الثالث إلى أن بلغ العشرين حديثاً، فلما بلغ العشرين حديثاً قال: الآن قم، قال مالك: والله ما اكتفيت زدني، قال: بشرط، قال: وما شرطك؟ قال: ردد علي هذه الأحاديث، وتلك الأحاديث يرويها الزهري بإسناده مثلاً يقول: حدثني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف عن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إنما الولاء لمن أعتق) مثلاً، فهو يذكر السند سواء كان طبقتين أو ثلاثاً، فقال مالك -كأن الأحاديث بين عينيه مكتوبة-: أما حديثك الأول: فذكرته عن الشيخ الفلاني عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم، إلى أن سرد كل الأحاديث، فقام الزهري مدهشاً معجباً بالإمام مالك فكافأه مكافأة عظيمة فقال: إنك من أوعية العلم، ارحل وليس لك شيء، فيبين له أن هذه الأحاديث ليس لأحد أن يأخذها بهذا الكم في هذا الوقت؛ ولذلك تعلم الإمام مالك من هذه القصة فقال: ضياع العلم أن تؤتيه لغير أهله؛ ولذلك نحن نقول: طالب العلم هو أخص الناس بعلم الحديث وعلم الفقه وعلم الأصول، طالب العلم لا بد أن يستغرق أوقاته ويجهد نفسه في تحصيل علم النبي صلى الله عليه وسلم، فهو أحق الناس به.
হাদীস বিশোধনে মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশনা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

অতঃপর: আমরা এখনও ড. মিসফির আদ-দুমাইনীর 'আত-তাদলীস ফিল হাদীস' কিতাবটি নিয়ে আলোচনা করছি।

উলামাগণ হাদীসশাস্ত্রে এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীকে অন্যের বাণী থেকে পৃথক করতে পারেন। তারা প্রথমে সংগ্রহ করতেন, এরপর যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করতেন। অর্থাৎ, তারা হাদীস জমা করতেন এবং এরপর তা নিয়ে গবেষণা ও সূক্ষ্ম যাচাই করতেন যে, এটি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস নাকি নয়। এই কারণেই তারা হাদীসের বিশুদ্ধতা জানার জন্য কিছু মূলনীতি ও নিয়ম স্থির করেছেন।

এই শর্তসমূহ তারা ব্যাপক অনুসন্ধান ও গভীর গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো: সনদের ধারাবাহিকতা বা সংযোগ। এই পুরো বইটি মূলত সনদের সংযোগ, বিচ্যুতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, 'মুরসাল' দুই প্রকার: মুরসাল মুতলাক এবং মুরসাল খাফী।

আজ ইনশাআল্লাহ আমরা 'মুআনআন' হাদীস এবং হাদীস গ্রহণ ও প্রদানের পরিভাষাগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

উলামাগণ যখন হাদীসসমূহ বিশোধন করেন, তখন তারা লক্ষ্য করে দেখেন এবং বলেন যে: আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এই হাদীসটিতে সনদের সংযোগ আছে কি না, নাকি কোনো বিচ্ছেদ আছে। সংযোগের অর্থ হলো: ছাত্র সরাসরি তার উস্তাদ থেকে বর্ণনা করবে। সে বলবে: 'হাদ্দাসানী' (তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন), 'আখবারানী' (তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন), 'আনবায়ানী' (তিনি আমাকে অবগত করেছেন), 'হাদ্দাসানা' (তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন), 'আখবারানা' (তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন), 'আনবায়ানা' (তিনি আমাদের অবগত করেছেন)। যদি সে বলে 'হাদ্দাসানা', তবে এটি প্রমাণ করে যে সে তার সহপাঠীদের সাথে হাদীস শোনার মজলিসে উপস্থিত ছিল যারা উস্তাদের কাছ থেকে হাদীস শুনছিলেন।

আর যদি সে বলে 'হাদ্দাসানী', তবে এর অর্থ হলো মুহাদ্দিস এই হাদীসটি কেবল সেই ছাত্রকেই শুনিয়েছেন যখন সে তার সাথে একাকী বসা ছিল। তাই 'হাদ্দাসানী' শব্দটি 'হাদ্দাসানা'র চেয়ে অধিক শক্তিশালী; কারণ এটি অধিকতর নিখুঁত, সচেতন এবং সুশৃঙ্খল হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছাত্রের জন্য উস্তাদকে বলার সুযোগ থাকে যে: 'একটু ধীরস্থিরভাবে বলুন' অথবা 'এই শব্দটি পুনরায় বলুন'। কিন্তু সাধারণ হাদীসের মজলিসে উস্তাদকে থামিয়ে দেওয়া এবং বলা সম্ভব হয় না যে: 'আমাদের নিকট এই হাদীসটি পুনরায় পাঠ করুন'। তবে সে যদি একাকী থাকে তবে এটি করা সম্ভব, যেমনটি ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) করেছিলেন। ঈদের দিনে মানুষ যখন গোশত নিয়ে ব্যস্ত ছিল এবং একে অপরকে আনন্দ দিচ্ছিল, তখন মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) গিয়ে যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ঘরের চৌকাঠে বালিশ রেখে শুয়ে পড়লেন। জনৈক দাসী তাকে দেখে যুহরীকে গিয়ে বলল: আপনার শ্বেতবর্ণের দাস দরজায় বসে আছে। তিনি কিছু গোশত নিয়ে তাকে বললেন: তাকে এটি দিয়ে দাও। দাসী গোশত নিয়ে তাকে দিতে গেলে তিনি বললেন: আমি এজন্য আসিনি। দাসী বলল: তবে কেন এসেছেন? তিনি বললেন: তিনি (যুহরী) জানেন আমি কেন এসেছি। এরপর দাসী যুহরীর কাছে ফিরে গেলে তিনি বললেন: তাকে ভেতরে আসতে দাও। মালিক ভেতরে ঢুকে বসলেন। যুহরী বললেন: তুমি কী চাও? তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস চাই। যুহরী তাকে একটি হাদীস শোনালেন। মালিক বললেন: আরও দিন। তিনি দ্বিতীয় হাদীস শোনালেন। মালিক আবার বললেন: আরও দিন। যুহরী বললেন: তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট। মালিক বললেন: না, আল্লাহর কসম, এতে আমার তৃপ্তি হচ্ছে না, আমাকে আরও দিন। এভাবে তিনি তাকে একে একে বিশটি হাদীস শোনালেন। বিশটি পূর্ণ হওয়ার পর যুহরী বললেন: এবার ওঠো। মালিক বললেন: আল্লাহর কসম, আমি পরিতৃপ্ত হইনি, আমাকে আরও দিন। যুহরী বললেন: একটি শর্তে। তিনি বললেন: আপনার শর্ত কী? যুহরী বললেন: এই হাদীসগুলো আমাকে হুবহু শুনিয়ে দাও। যুহরী সেই হাদীসগুলো তার সনদসহ বর্ণনা করেছিলেন, যেমন তিনি বলেছিলেন: 'আমাকে আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই পূর্ণ আনুগত্য কেবল তারই জন্য যে মুক্ত করে)' - উদাহরণস্বরূপ। তিনি সনদ উল্লেখ করছিলেন চাই তা দুই স্তরের হোক বা তিন স্তরের। মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) এমনভাবে হাদীসগুলো বলতে শুরু করলেন যেন সেগুলো তাঁর চোখের সামনে লিখিত অবস্থায় আছে। তিনি বললেন: আপনার প্রথম হাদীসটি ছিল এই শায়খ থেকে অমুক ব্যক্তি হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে, এভাবে তিনি সবগুলো হাদীস শুনিয়ে দিলেন। যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম মালিকের প্রতি বিস্ময় ও মুগ্ধতা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাঁকে এক মহান প্রতিদান দিয়ে বললেন: 'নিশ্চয়ই তুমি জ্ঞানের আধারসমূহর অন্যতম। তুমি চলে যাও, তোমার জন্য আর কিছু (দেওয়ার) নেই।' তিনি তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে এত অল্প সময়ে এই পরিমাণ হাদীস গ্রহণ করার ক্ষমতা সবার নেই। এই ঘটনা থেকে ইমাম মালিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: 'অযোগ্য ব্যক্তিকে জ্ঞান প্রদান করা হলো জ্ঞানের অপচয়।' এই কারণেই আমরা বলি: ইলমে হাদীস, ইলমে ফিকহ এবং ইলমে উসূলের ক্ষেত্রে তালিবে ইলম বা জ্ঞানান্বেষী ছাত্রই হলো সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তালিবে ইলমকে অবশ্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইলম অর্জনে তার সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেকে কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত করতে হবে, কেননা সে-ই এর সবচেয়ে যোগ্য হকদার।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الحديث المعنعن

قلنا: المحدثون يبحثون عن اتصال السند، وهل كل راو سمع من شيخه، فيقول مالك مثلاً: حدثني الزهري، والزهري يقول: حدثني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف ، وأبو سلمة يقول: حدثني أبو هريرة، وأبو هريرة يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم بعد ذلك جاء النساخ فيذكرون هذا الحديث هكذا: مالك عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فوقف المحدثون وقفة عظيمة وقالوا: نحن لجناب حديث النبي صلى الله عليه وسلم لا بد أن نغربل أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، لنعلم صحيحها من سقيمها، فقالوا: الآن عندنا حدثنا وحدثني وأخبرنا وأخبرني، وهذه صيغ اتفقت كلمة أهل العلم على أنها تدل على السماع، وإن كان بعضهم يخالف في مسألة أنبأني، لكن الصحيح الراجح أنها تحمل على السماع، وجاءت صيغ أخرى من صيغ الأداء فالعلماء بحثوا فيها هل هي على الاتصال أم هي على الانقطاع؟ وهذه هي صيغ العنعنة، ولذلك علماء المصطلح يفردون باباً فيقولون: الحديث المعنعن، فما معنى الحديث المعنعن؟ وما حكم الحديث المعنعن؟
মুআনআন হাদিস

আমরা বলেছি: মুহাদ্দিসগণ সনদের ধারাবাহিকতা বা সংযোগ নিয়ে গবেষণা করেন, এবং প্রতিটি বর্ণনাকারী তার উস্তাদ থেকে সরাসরি শুনেছেন কি না তা যাচাই করেন। উদাহরণস্বরূপ ইমাম মালিক বললেন: "যুহরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন", যুহরি বললেন: "আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান বিন আউফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন", আবু সালামাহ বললেন: "আবু হুরায়রা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন", এবং আবু হুরায়রা বললেন: "আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি।" এরপর যখন অনুলিপিকারগণ আসলেন, তারা এই হাদিসটিকে এভাবে উল্লেখ করলেন: "মালিক, যুহরি থেকে (আন), তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে।" তখন মুহাদ্দিসগণ এক মহান সংকল্প গ্রহণ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের মর্যাদার খাতিরে আমাদের অবশ্যই তাঁর হাদিসগুলোকে যাচাই-বাছাই করতে হবে, যেন আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ এবং দুর্বলকে আলাদা করতে পারি। তারা বললেন: বর্তমানে আমাদের কাছে 'হাদ্দাসানা', 'হাদ্দাসানি', 'আখবারানা' এবং 'আখবারানি' শব্দগুলো রয়েছে; আর এগুলো এমন পরিভাষা যার ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, এগুলো সরাসরি শ্রবণ করার প্রমাণ বহন করে। যদিও 'আনবাআনি' শব্দটির ব্যাপারে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করেছেন, তবে সঠিক ও শক্তিশালী মত হলো এটিও সরাসরি শ্রবণের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এরপর বর্ণনার আরও কিছু শব্দাবলি সামনে এলো, যেগুলোর ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম গবেষণা করেছেন যে, সেগুলো কি সনদের সংযোগ প্রমাণ করে নাকি বিচ্ছিন্নতা? আর এগুলোই হলো 'আনআনা' (থেকে থেকে শব্দ যোগে বর্ণনা করা) এর শব্দাবলি। একারণেই হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষাবিদগণ একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন: 'মুআনআন হাদিস'। তো এই মুআনআন হাদিসের অর্থ কী? এবং মুআনআন হাদিসের বিধানই বা কী?
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌صورة الحديث المعنعن

صورة الحديث المعنعن: أن يقول مالك في الموطأ: عن نافع، ونافع هذا رجل فارسي كان فحلاً في علم الفقه، عن ابن عمر، وهذه سلسلة ذهبية كما قال البخاري، قالوا: ولا أنبل من الشافعي وهو يروي عن مالك، فتزيد حلقة من الذهب أيضاً: الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر، قالوا: ولا أحد أنبل من أحمد بن حنبل وهو يروي عن الشافعي ، وفي المسند ثلاثة عشر حديثاً بهذه السلسلة: أحمد عن الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر.

فعلماء الحديث ينظرون هل مالك سمع من نافع أم لا؟ وهل نافع سمع من ابن عمر أم لا؟ وهذا البحث والتنقيب ليتحقق شرط من شروط صحة الحديث.

قال بعض العلماء: (عن) تحمل على الاتصال، وقال بعضهم: لا تحمل على الاتصال، بل يحمل على الاتصال حدثنا أو أخبرنا وهو لم يقل: حدثنا ولا أخبرنا.

مثال آخر للعنعنة: رواية حماد بن زيد عن عمرو بن دينار عن جابر بن عبد الله، هذه الروايات هي أشهر السلسة، يقول حماد: عن عمرو بن دينار عن جابر بن عبد الله، فهنا العنعنة أيضاً ينظر ويقف أمامها المحدثون هل سمع أم لم يسمع؟ نأتي إلى سلسلة أخرى مثلاً: عبد الرزاق عن معمر بن راشد عن أنس.

مثال آخر للعنعنة: عبد الرزاق عن معمر عن همام عن أبي هريرة، أو معمر عن الزهري عن أنس.

إذاً: صورة الحديث المعنعن أن يروي الراوي عن شيخه المباشر له بصيغة (عن)، فيقف المحدثون أمام هذا الحديث الذي فيه العنعنة وليس فيه تصريح بالتحديث، هل هذا الحديث يكون صحيحاً أو يكون ضعيفاً؟ وهل ينسب للنبي صلى الله عليه وسلم أو لا ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم؟ والثمرة من معرفة المعنعن: أنك إذا علمت أن هذا الحديث متصل علمت أن شرطاً من شروط الصحة قد توافر، وإن قلت: فيه انقطاع، فيكون شرط من شروط الصحة لم يتوافر، فيكون الحديث ضعيفاً.
মুআনআন হাদীসের রূপ

মুআনআন হাদীসের রূপ হলো: যেমন ইমাম মালিক মুয়াত্তায় বলবেন: নাফে থেকে বর্ণিত, আর এই নাফে ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যিনি ফিকহ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর ভাষ্যমতে এটি একটি স্বর্ণশিখল। আলিমগণ বলেন: ইমাম শাফিঈর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই যখন তিনি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেন, ফলে স্বর্ণশিখলে আরও একটি কড়া যুক্ত হয়: শাফিঈ, মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। তাঁরা আরও বলেন: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই যখন তিনি শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেন। মুসনাদ আহমাদে এই সনদে তেরোটি হাদীস রয়েছে: আহমাদ, শাফিঈ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

হাদীস বিশারদগণ পর্যবেক্ষণ করেন যে, মালিক কি নাফে থেকে শুনেছেন কি না? এবং নাফে কি ইবনে উমর থেকে শুনেছেন কি না? হাদীসের বিশুদ্ধতার অন্যতম একটি শর্ত নিশ্চিত করার জন্যই এই গবেষণা ও অনুসন্ধান।

জনৈক আলিম বলেছেন: 'আন' (থেকে) শব্দটি সনদের অবিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি অবিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে না; বরং 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) অথবা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দগুলো অবিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে, অথচ তিনি 'হাদ্দাসানা' বা 'আখবারানা' শব্দ ব্যবহার করেননি।

'আনআনা' (অর্থাৎ 'আন' শব্দ ব্যবহার)-এর আরেকটি উদাহরণ: আমর ইবনে দীনার থেকে হাম্মাদ ইবনে যাইদের বর্ণনা, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে। এই বর্ণনাগুলো অত্যন্ত প্রসিদ্ধ সনদ। হাম্মাদ বলেন: আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে। এখানেও 'আনআনা'র ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং থমকে দাঁড়ান যে, বর্ণনাকারী কি শুনেছেন নাকি শোনেননি? আমরা অন্য একটি সনদের দিকে তাকালে দেখতে পাই, যেমন: আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি আনাস থেকে।

'আনআনা'র আরেকটি উদাহরণ: আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; অথবা মা'মার, যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে।

সুতরাং: মুআনআন হাদীসের রূপ হলো বর্ণনাকারী তার প্রত্যক্ষ উস্তাদ থেকে 'আন' (থেকে) শব্দযোগে বর্ণনা করবেন। মুহাদ্দিসগণ এই 'আনআনা' সম্বলিত হাদীসটির বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করেন যাতে সরাসরি শ্রবণ বা বর্ণনার স্পষ্ট শব্দ নেই; এই হাদীসটি কি সহীহ হবে নাকি যঈফ হবে? এটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীরূপে গণ্য হবে নাকি হবে না? মুআনআন হাদীস সম্পর্কে জানার সার্থকতা হলো: যদি আপনি জানতে পারেন যে এই হাদীসটি অবিচ্ছিন্ন, তবে আপনি বুঝলেন যে সহীহ হওয়ার একটি শর্ত পূরণ হয়েছে। আর যদি আপনি মনে করেন যে এতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তবে সহীহ হওয়ার একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকল, ফলে হাদীসটি যঈফ বা দুর্বল বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌حكم الحديث المعنعن

صيغة (عن) ليست تصريحاً بالسماع، وهي تحتمل السماع، فيحتمل أن نافعاً سمعه من ابن عمر وأتى بهذه الصيغة، ويحتمل عدم السماع، وأنه قد سمعه من تلميذ ابن عمر ثم أسقط هذا التلميذ وأتى بهذه الصيغة (عن).

والمحدثون لهم في حكم المعنعن أربعة أقوال: القول الأول: المنع من قبولها مطلقاً، قالوا: تحمل هذه الصيغة على الانقطاع، ولا يصح أن نقبل حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد إلا وفيه التصريح بالسماع، قال شعبة: كل حديث ليس فيه حدثنا ولا أخبرنا فهو خل وبقل.

وهذا تشدد مرفوض؛ لأنه سيضيع علينا كثير من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم.

القول الثاني: قول أبي المظفر السمعاني قال: تقبل العنعنة بشروط: الشرط الأول: ألا يكون الراوي مدلساً.

الشرط الثاني: أن يثبت لقاء التلميذ مع الشيخ.

الشرط الثالث: طول الصحبة.

وهذا تشدد؛ إذ لا يمكن لكل محقق أن يثبت طول الصحبة أو ينفيها.

القول الثالث: قول البخاري جبل الحفظ أمير المؤمنين في الحديث شمس الحديث التي أشرقت على الدنيا فانهال الخير عليها بهذه الشمس، يقول: يشترط في قبول الحديث المعنعن ثلاثة شروط: الشرط الأول: ألا يكون الراوي مدلساً.

الشرط الثاني: المعاصرة.

الشرط الثالث: ثبوت اللقاء ولو مرة واحدة.

فمثلاً: حبيب بن أبي ثابت يروي عن عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها وأرضاها، فإذا ثبت أن حبيب بن أبي ثابت التقى مع عروة بن الزبير مرة واحدة فنقبل عنعنته، وإلا لم نقبلها؛ لأنه يحتمل أنه أرسل عنه إرسالاً خفياً ولم يسمع منه، وإمكان اللقيا تعرف بالسن وتعرف بالبلد، فينظر سنة وفاة هذا، وسنة ولادة هذا، وأيضاً: حبيب بن أبي ثابت كوفي، وقد ثبت أن عروة دخل الكوفة، فإذا دخل عروة الكوفة فلا يبعد أن يذهب إليه حبيب وهو يعلم من عروة الذي انتشر اسمه وسط كل المحدثين، وهو الذي وقف عند الكعبة يدعو الله أن يأخذ عنه الناس علم حديث النبي صلى الله عليه وسلم.

وقد تثبت اللقيا بالقصة كما قال الرواي عن عمران بن حصين: رأيت عمران بن حصين يرتدي قميصاً صفته كذا.

فهذا القول الثالث هو قول فحول أهل الحديث، قول البخاري وقول شيخه علي بن المديني، والقول الأول الذي فيه تشديد هو قول الشافعي مع شعبة، فـ الشافعي صرح بذلك في الرسالة.

القول الرابع: قول الإمام مسلم وهو الاكتفاء بالمعاصرة، فإن عنعن الراوي الذي لا يدلس عن شيخ معاصر له فإنه يقبل حديثه، وقد اشتد نكيره على البخاري في اشتراطه ثبوت اللقاء.

فإذا روى سعيد بن المسيب عن عمر، وسعيد بن المسيب ليس مدلساً، وأتى بصيغة (عن) التي تحتمل السماع، فعلى القول الأول لا يقبل حديثه، وعلى القول الثاني: لا يقبل حديثه أيضاً؛ لأنه لم يثبت أن سعيداً أطال مصاحبة عمر، وعلى القول الثالث: يقبل حديثه؛ لأنه ثبت أن سعيداً حضر خطبة عمر، وعلى القول الرابع: أيضاً يقبل حديثه؛ لأنه عاصره، وإن لم يثبت أنه التقى به.

إذاً: قول الإمام مسلم أسهل الأقوال الأربعة، وهو أن الحديث المعنعن يحمل على الاتصال بشروط ثلاثة: الأول: عدم الاتهام بالتدليس.

الثاني: أن يكون التلميذ قد عاصر شيخه.

الثالث: إمكان اللقاء في الرحلة وغيرها.
মুআনআন হাদীসের বিধান

“আন” (থেকে) পরিভাষাটি সরাসরি শ্রবণ করার সুস্পষ্ট ঘোষণা নয়, বরং এটি শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে। অর্থাৎ সম্ভাবনা রয়েছে যে, নাফে' এটি ইবনে উমর থেকে শুনেছেন এবং এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন, আবার শ্রবণ না করার সম্ভাবনাও রয়েছে; হতে পারে তিনি ইবনে উমরের কোনো ছাত্র থেকে এটি শুনেছেন, এরপর সেই ছাত্রের নাম বাদ দিয়ে এই “আন” পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।

মুহাদ্দিসগণের নিকট মুআনআন হাদীসের বিধান সম্পর্কে চারটি মত রয়েছে: প্রথম মত: এটি গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তারা বলেন: এই পরিভাষাটিকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে গণ্য করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদীস এমন কোনো সনদে গ্রহণ করা সঠিক হবে না যাতে সরাসরি শ্রবণের সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। শু'বা বলেন: যে হাদীসে “আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন” অথবা “আমাদের সংবাদ দিয়েছেন” পরিভাষা নেই, তা অসার ও মূল্যহীন।

এটি একটি বর্জনীয় কঠোরতা; কারণ এর ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদীস আমাদের থেকে হারিয়ে যাবে।

দ্বিতীয় মত: আবু মুযাফফর আস-সাম'আনী-র মত। তিনি বলেন: আনআনা (আন দিয়ে বর্ণনা) কিছু শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য: প্রথম শর্ত: বর্ণনাকারী তথ্য গোপনকারী (মুদাল্লিস) হবেন না।

দ্বিতীয় শর্ত: উস্তাদের সাথে ছাত্রের সাক্ষাৎ প্রমাণিত হতে হবে।

তৃতীয় শর্ত: দীর্ঘ সাহচর্য থাকতে হবে।

এটি একটি কঠোরতা; কারণ প্রত্যেক গবেষকের পক্ষে দীর্ঘ সাহচর্য সাব্যস্ত করা বা না করা সম্ভব নয়।

তৃতীয় মত: হিফযের পাহাড়, হাদীস শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন, হাদীসের সূর্য—যা পৃথিবীর ওপর উদিত হয়েছে এবং যার কল্যাণে বিশ্ব ধন্য হয়েছে—ইমাম বুখারীর মত। তিনি বলেন: মুআনআন হাদীস কবুল করার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে: প্রথম শর্ত: বর্ণনাকারী তথ্য গোপনকারী হবেন না।

দ্বিতীয় শর্ত: সমসাময়িক হওয়া।

তৃতীয় শর্ত: অন্তত একবার সাক্ষাৎ সাব্যস্ত হওয়া।

উদাহরণস্বরূপ: হাবীব বিন আবী সাবিত উরওয়াহ বিন যুবায়ের থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। যদি সাব্যস্ত হয় যে হাবীব বিন আবী সাবিত উরওয়াহ বিন যুবায়েরের সাথে অন্তত একবার সাক্ষাৎ করেছেন, তবে আমরা তার আনআনা কবুল করব। অন্যথায় আমরা তা গ্রহণ করব না; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি তার থেকে পরোক্ষভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সরাসরি শোনেননি। সাক্ষাতের সম্ভাবনা বয়স এবং স্থানের মাধ্যমে জানা যায়। এক্ষেত্রে একজনের মৃত্যুর সাল এবং অন্যজনের জন্মের সাল দেখা হয়। এছাড়া, হাবীব বিন আবী সাবিত ছিলেন কুফাবাসী, আর এটি প্রমাণিত যে উরওয়াহ কুফায় প্রবেশ করেছিলেন। উরওয়াহ যখন কুফায় প্রবেশ করেছিলেন, তখন হাবীবের পক্ষে তাঁর কাছে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। তিনি উরওয়াহ সম্পর্কে জানতেন, যাঁর খ্যাতি সমস্ত মুহাদ্দিসদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কাবার নিকট দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন মানুষ তাঁর নিকট থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের জ্ঞান গ্রহণ করে।

সাক্ষাৎ কোনো ঘটনার মাধ্যমেও সাব্যস্ত হতে পারে, যেমন জনৈক বর্ণনাকারী ইমরান বিন হুসাইন সম্পর্কে বলেছেন: “আমি ইমরান বিন হুসাইনকে এমন একটি জামা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি যার বৈশিষ্ট্য ছিল এই এই।”

এই তৃতীয় মতটি হলো হাদীস শাস্ত্রের দিকপালদের মত; ইমাম বুখারী ও তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীর মত। আর প্রথম মতটি—যাতে কঠোরতা রয়েছে—তা হলো শু'বার সাথে ইমাম শাফেঈর মত। ইমাম শাফেঈ তাঁর 'আর-রিসালা' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

চতুর্থ মত: ইমাম মুসলিমের মত। তিনি কেবল সমসাময়িক হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেন। যদি এমন কোনো বর্ণনাকারী—যিনি তথ্য গোপন করেন না—তাঁর সমসাময়িক কোনো উস্তাদ থেকে আনআনা করে বর্ণনা করেন, তবে তাঁর হাদীস কবুল করা হবে। সাক্ষাৎ সাব্যস্ত হওয়ার শর্তারোপের কারণে তিনি ইমাম বুখারীর ওপর কঠোর আপত্তি জানিয়েছেন।

যদি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব উমর থেকে বর্ণনা করেন, আর সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব তথ্য গোপনকারী নন এবং তিনি “আন” পরিভাষা ব্যবহার করেন যা শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে, তবে প্রথম মত অনুযায়ী তাঁর হাদীস কবুল করা হবে না। দ্বিতীয় মত অনুযায়ীও তাঁর হাদীস কবুল করা হবে না; কারণ সাঈদ দীর্ঘ সময় উমরের সাহচর্যে ছিলেন বলে সাব্যস্ত হয়নি। তৃতীয় মত অনুযায়ী তাঁর হাদীস কবুল করা হবে; কারণ এটি প্রমাণিত যে সাঈদ উমরের খুতবায় উপস্থিত ছিলেন। চতুর্থ মত অনুযায়ীও তাঁর হাদীস কবুল করা হবে; কারণ তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, যদিও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ সাব্যস্ত না হয়।

অতএব, ইমাম মুসলিমের মতটি এই চার মতের মধ্যে সবচেয়ে সহজ। তা হলো, মুআনআন হাদীসকে তিনটি শর্তে অবিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য করা হবে: প্রথম: তথ্য গোপন করার অভিযোগ না থাকা।

দ্বিতীয়: ছাত্র তাঁর উস্তাদের সমসাময়িক হওয়া।

তৃতীয়: সফর বা অন্য কোনো মাধ্যমে সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকা।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌القول الراجح في حكم الحديث المعنعن

والقول الراجح هو قول البخاري وابن المديني، وهذا الذي عليه كثير من المحدثين من أهل التحقيق، وقد ذكر مسلم كلاماً شديداً جداً في القائل بهذا القول، واختلف العلماء هل يقصد مسلم بكلامه ذلك البخاري أم يقصد ابن المديني؟ والصحيح أنه يقصد البخاري، قال الذهبي: وفي مسلم حدة في خلقه حتى أنه لم يذكر البخاري بحديث واحد في صحيحه، والدارقطني يقول: لولا البخاري ما راح مسلم ولا جاء، فـ البخاري هو الجبل بحق، وكلام مسلم الشديد هو قوله: وقال بعض المنتحلين لعلم الحديث! فهل البخاري ينتحل علم الحديث؟! هل البخاري يقال فيه: (المتشبع بما لم يعط كلابس ثوبي زور)؟! البخاري هو أبو الحديث وأم الحديث وابن الحديث، البخاري هو جبل الحديث، البخاري هو الذي أشرقت شمسه علينا، وما عرفنا حديث النبي صلى الله عليه وسلم إلا من دقة وإتقان البخاري ، فكيف يقول الإمام مسلم هذه القولة في شيخه البخاري؟! اعتذر كثير من أهل العلم لـ مسلم بأنه ما قال ذلك إلا حفاظاً على السنة، وخشي أن يأخذ المحدثون بقول البخاري لجلالة قدره ولمكانته فتضيع كثير من السنن، وما اشتدت لهجته للقدح في البخاري، بل حفاظاً على كثير من السنن من باب: شيخ الإسلام حبيب إلينا والحق أحب إلينا منه، ولو تهاون في الرد لقال العلماء: هذا هو البخاري فمن هو مسلم الذي يناطح هذا الجبل الشم الشامخ؟! وبعض العلماء رجح قول الإمام مسلم حتى لا تضيع كثير من السنن، وبعضهم رجح قول البخاري، وهذا هو القول الأقوى والأصح، وهذا هو الذي رجحه من المتأخرين ابن حجر والسخاوي؛ ولذلك كثير من المحدثين يقدمون صحيح البخاري على صحيح مسلم؛ لهذا الشرط الذي اشترطه البخاري وهو ثبوت اللقيا ولو مرة واحدة مع وجود المعاصرة.
মুআনআন হাদীসের বিধান সম্পর্কে অগ্রগণ্য মত

অগ্রগণ্য মতটি হলো ইমাম বুখারী ও ইবনুল মাদীনীর অভিমত এবং মুহাক্কিক মুহাদ্দিসগণের অনেকেই এই মতের ওপর রয়েছেন। ইমাম মুসলিম এই মতের প্রবক্তাদের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর কথা উল্লেখ করেছেন। আলেমগণ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম কি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইমাম বুখারীকে উদ্দেশ্য করেছেন নাকি ইবনুল মাদীনীকে? সঠিক বিষয় হলো, তিনি ইমাম বুখারীকেই উদ্দেশ্য করেছেন। ইমাম আয-যাহাবী বলেন: মুসলিমের স্বভাবে কিছুটা কঠোরতা ছিল, এমনকি তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইমাম বুখারী থেকে একটি হাদীসও বর্ণনা করেননি। ইমাম আদ-দারাকুতনী বলেন: যদি ইমাম বুখারী না থাকতেন, তবে মুসলিমের আসা-যাওয়াই (হাদীস শাস্ত্রে পদচারণা) সম্ভব হতো না। ইমাম বুখারী প্রকৃত অর্থেই এক অটল পাহাড়। ইমাম মুসলিমের সেই কঠোর বক্তব্যটি ছিল: "হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান দাবিদার কিছু লোক বলেছে!" ইমাম বুখারী কি হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান কেবল দাবি করেন? ইমাম বুখারীর ব্যাপারে কি এ কথা বলা যায় যে, "যে ব্যক্তি তাকে যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তৃপ্তির ভান করে, সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী"? ইমাম বুখারী হলেন হাদীসের পিতা, হাদীসের মাতা এবং হাদীসের সন্তান। ইমাম বুখারী হলেন হাদীস শাস্ত্রের সুউচ্চ পাহাড়। ইমাম বুখারীই সেই ব্যক্তি যার সূর্য আমাদের ওপর উদিত হয়েছে। ইমাম বুখারীর সূক্ষ্মতা ও নিপুণতা ছাড়া আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস চিনতে পারতাম না। তাহলে ইমাম মুসলিম তাঁর উস্তাদ ইমাম বুখারীর ব্যাপারে কীভাবে এমন উক্তি করলেন? অনেক আলেম ইমাম মুসলিমের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে বলেছেন যে, তিনি কেবল সুন্নাহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এমন কথা বলেছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, মুহাদ্দিসগণ যদি ইমাম বুখারীর সুমহান মর্যাদা ও অবস্থানের কারণে তাঁর মতটি গ্রহণ করে নেন, তবে অনেক সুন্নাহ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই কঠোর সুর ইমাম বুখারীকে হেয় করার জন্য ছিল না, বরং অনেক সুন্নাহ সংরক্ষণের তাগিদে ছিল—যাকে বলা হয়: "শাইখুল ইসলাম আমাদের নিকট প্রিয়, কিন্তু সত্য আমাদের নিকট তাঁর চেয়েও অধিক প্রিয়।" যদি তিনি এই প্রতিবাদে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন, তবে আলেমগণ বলতেন: "ইনি তো ইমাম বুখারী, এই আকাশচুম্বী সুউচ্চ পাহাড়ের সাথে টক্কর দেওয়ার মতো মুসলিম কে?" কিছু আলেম ইমাম মুসলিমের মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন যাতে অনেক সুন্নাহ হারিয়ে না যায়, আবার কেউ কেউ ইমাম বুখারীর মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর এটিই হলো অধিক শক্তিশালী ও সঠিক মত। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ইবনে হাজার ও সাখাভী এই মতটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই কারণেই অনেক মুহাদ্দিস সহীহ বুখারীকে সহীহ মুসলিমের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন; কারণ ইমাম বুখারী এই শর্তটিারোপ করেছেন যে, সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি অন্তত একবার সাক্ষাৎ প্রমাণিত হতে হবে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الحديث المؤنأن وحكمه

الحديث المؤنأن مثل الحديث المعنعن، لكن بدل كلمة (عن) يأتي بكلمة (أن) ، والحديث المؤنأن له حكم الحديث المعنعن، مثاله أن يروي الشافعي أن ابن عيينة قال عن الزهري، أو أن الزهري قال: أن أنساً قال، مثال آخر: يقول مالك أن نافعاً أخبره: (أن ابن عمر أخبره: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الولاء وهبته).

مثال آخر: أن يروي حماد بن زيد أن عمرو بن دينار قال: إن جابر بن عبد لله قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: كذا وكذا.

فصيغة (عن) و (أن) كلاهما تحتمل السماع وليست صريحة فيه.

وقد اختلف العلماء في حكم الحديث المؤنأن على أقوال: القول الأول: قول جماهير المحدثين وهو قول مالك كما نقله عنه ابن عبد البر أنه يحمل على السماع، وسووا بين العنعنة والأنأنة فقبلوها مطلقاً.

القول الثاني: قول أحمد بن حنبل: أن الأصل في الأنأنة الانقطاع، وهذا صنيع البخاري في التاريخ الكبير وفي غيره، فجعلوا حكم الأنأنة حكم العنعنة لكنها أقل رتبة منها.

وقد فصل ابن رجب الحنبلي في شرح علل الترمذي هذه المسألة تفصيلاً بديعاً، مما يدل على طول باعه وسعة اطلاعه وتضلعه في علم الحديث وعلم الفقه وعلم الأصول، وهو من فحول أهل العلم ومن فحول الفقهاء المحدثين، قال في شرح علل الترمذي: الحديث المؤنأن له حالتان: الحالة الأولى: حكاية قول، الحالة الثانية: حكاية فعل أو قصة.

مثال الأول: مالك أن نافعاً أخبره أن ابن عمر أخبره، فهذه حكاية قول، مثال آخر: عن مالك أن نافعاً قال: إن ابن عمر قال: إن رسول صلى الله عليه وسلم قال.

ومثال حكاية فعل أو قصة أن يروي محمد بن الحنفية (أن رسول الله مر بـ سلمان وهو يصلي فأشار إليه أن السلام عليكم).

قال ابن رجب: ننظر في الحالتين، أما حالة حكاية القول فهي والعنعنة سواء، وإن كانت أقل رتبة، وهذا قول البخاري وهو الراجح الصحيح، فتقبل بالشروط التي ذكرناها في العنعنة.

قال: وأما الثانية وهي حكاية الفعل فلا نقبلها إلا إذا ثبت السماع، ففي المثال السابق لا نقبل رواية محمد بن الحنفية لأنه لم يثبت سماعه من سلمان.
মুআন্নান হাদিস এবং এর বিধান

মুআন্নান হাদিস মুআন'আন হাদিসের মতো, তবে এখানে 'আন' (থেকে) শব্দের পরিবর্তে 'আন্না' (যে) শব্দ ব্যবহৃত হয়। মুআন্নান হাদিসের বিধান মুআন'আন হাদিসের বিধানের মতোই। এর উদাহরণ হলো, শাফিঈ বর্ণনা করেন যে ইবন উয়াইনা যুহরি থেকে বলেছেন, অথবা যুহরি বলেছেন যে আনাস বলেছেন। অন্য একটি উদাহরণ: মালিক বলেন যে নাফি' তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: (যে ইবন উমর তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওয়ালা (দাসমুক্তির অধিকার) বিক্রয় ও দান করতে নিষেধ করেছেন)।

আরেকটি উদাহরণ: হাম্মাদ ইবন যায়েদ বর্ণনা করেন যে আমর ইবন দীনার বলেছেন: জাবির ইবন আব্দুল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এমন বলেছেন।

সুতরাং 'আন' এবং 'আন্না' উভয় শব্দই শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে, তবে তা শ্রবণের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থহীন নয়।

মুআন্নান হাদিসের বিধানের ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছেন: প্রথম মত: জমহুর মুহাদ্দিসগণের মত, যা ইমাম মালিকের মত হিসেবে ইবন আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো—একে সরাসরি শ্রবণের ওপর গণ্য করা হবে। তাঁরা আন'আনা এবং আন্নানার মধ্যে সমতা বিধান করেছেন এবং নিঃশর্তভাবে তা গ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয় মত: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত: আন্নানার মূল ভিত্তি হলো ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা)। ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এমনটিই করেছেন। তাঁরা আন্নানার বিধানকে আন'আনার বিধানের মতো গণ্য করেছেন, তবে এর মান তার চেয়ে নিম্নতর।

ইবন রজব আল-হাম্বলি 'শারহু ইলালিত তিরমিযি' গ্রন্থে এই বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা হাদিস শাস্ত্র, ফিকহ শাস্ত্র ও উসুল শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক জ্ঞানের পরিচয় বহন করে। তিনি আলেমদের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ আলেম এবং ফকিহ মুহাদ্দিসদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি 'শারহু ইলালিত তিরমিযি' গ্রন্থে বলেছেন: মুআন্নান হাদিসের দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: বক্তব্যের বর্ণনা (হিকায়াতুল কওল); দ্বিতীয় অবস্থা: কাজ বা ঘটনার বর্ণনা (হিকায়াতুল ফিয়াল আও কিসসাহ)।

প্রথমটির উদাহরণ: মালিক থেকে বর্ণিত যে নাফি' তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে ইবন উমর তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন—এটি হলো বক্তব্যের বর্ণনা। অন্য একটি উদাহরণ: মালিক থেকে বর্ণিত যে নাফি' বলেছেন: ইবন উমর বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন।

কাজ বা ঘটনার বর্ণনার উদাহরণ হলো মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার বর্ণনা: (যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালমান-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর দিকে ইশারায় আসসালামু আলাইকুম বললেন)।

ইবন রজব বলেন: আমরা উভয় অবস্থার দিকে লক্ষ্য করব। বক্তব্যের বর্ণনার বিষয়টি আন'আনার মতোই, যদিও এর মান কিছুটা কম। এটি ইমাম বুখারির মত এবং এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত। সুতরাং আন'আনার ক্ষেত্রে আমরা যেসব শর্ত উল্লেখ করেছি, সেই শর্তসাপেক্ষে এটি গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন: আর দ্বিতীয়টি, যা কাজের বর্ণনা, তা সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা গ্রহণ করব না। অতএব পূর্বোক্ত উদাহরণে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার বর্ণনা আমরা গ্রহণ করব না, কারণ সালমান থেকে তাঁর সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني - محمد حسن عبد الغفار   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب التدليس في الحديث للدميني

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আদ-দুমাইনি বিরচিত কিতাবুত তাদলীস ফিল হাদীস-এর ব্যাখ্যা - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার   (মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: উলুমুল হাদীস


বই: আদ-দুমাইনি বিরচিত কিতাবুত তাদলীস ফিল হাদীস-এর ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: ইসলামওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১০টি পাঠ ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১)
التدليس في الحديث -‌‌ حكم الحديث المرسل والمنقطع

من أنواع الحديث الضعيف: المرسل والمنقطع والمعضل والمعلق، وكلها فيها سقط في السند، إلا أن المرسل يكون السقط من آخر الإسناد، والمنقطع يكون السقط لراوٍ من أثناء الإسناد، والمعضل ما سقط منه راويان أو أكثر على التوالي، والمعلق ما سقط منه راوٍ من أول السند، والمرسل قد يقبل بشروط ذكرها الشافعي ورضيها كثير من المحدثين، ومعلقات البخاري لها حكم خاص بالنسبة للصحة والضعف.
হাদিসে তাদলীস - মুরসাল ও মুনকাতি‘ হাদিসের বিধান

যঈফ হাদিসের প্রকারসমূহের মধ্যে রয়েছে: মুরসাল, মুনকাতি‘, মু‘দাল এবং মু‘আল্লাক। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই সনদে বিচ্ছিন্নতা বা রাবী বাদ পড়ার বিষয়টি বিদ্যমান। তবে পার্থক্য এই যে, মুরসাল হলো সেই হাদিস যার সনদের শেষ প্রান্ত থেকে রাবী বাদ পড়েছে, মুনকাতি‘ হলো যার সনদের মাঝখান থেকে কোনো রাবী বাদ পড়েছে, মু‘দাল হলো যাতে পরপর দুই বা ততোধিক রাবী বাদ পড়েছে এবং মু‘আল্লাক হলো যার সনদের শুরু থেকে কোনো রাবী বাদ পড়েছে। মুরসাল হাদিস ইমাম শাফিঈর বর্ণিত এবং বহু মুহাদ্দিস কর্তৃক পছন্দকৃত কতিপয় শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আর সহীহ ও যঈফ হওয়ার ক্ষেত্রে বুখারীর মু‘আল্লাক বর্ণনাগুলোর জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الحديث المرسل
মুরসাল হাদিস
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تعريفه

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: المرسل لغة: من أرسل بمعنى أطلق، واصطلاحاً: هو ما أضافه التابعي للنبي صلى الله عليه وسلم، وبعضهم يقول: هو الذي سقط منه الصحابي، والأولى أن نقول: ما سقط منه راوٍ من طبقات الصحابة، وليس من الصحابة؛ لأننا لو تأكدنا أن الصحابي قد سقط فإن هذا الإسناد يكون صحيحاً؛ لأن الصحابة كلهم عدول، فسواء أبهم الصحابي أو سقط الصحابي، فحكمه كأنه ذكر.

والمرسل ضعيف؛ لأن هناك احتمالات، فيحتمل أن يكون الذي سقط هو الصحابي، ويحتمل أن يكون الذي سقط هو التابعي، فلما نجم الاحتمال، والأصل في الرواية الحيطة والتشديد؛ قلنا بالضعف.
সংজ্ঞা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের ভুল কাজগুলোর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ অধিকার দাবি করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: মুরসাল আভিধানিক অর্থে: 'আর্সালা' থেকে নির্গত যার অর্থ ছেড়ে দেওয়া বা মুক্ত করা। আর পারিভাষিক অর্থে: তা হলো যা তাবেয়ি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সরাসরি সম্বন্ধ করেন। কেউ কেউ বলেন: এটি এমন হাদিস যার সনদ থেকে সাহাবী বাদ পড়েছেন। তবে অধিকতর উত্তম হলো এভাবে বলা: যার সনদ থেকে সাহাবীদের স্তরের কোনো রাবি বাদ পড়েছেন, কিন্তু তিনি সাহাবী নন (তা নিশ্চিত নয়)। কারণ আমরা যদি নিশ্চিত হতাম যে বাদ পড়া ব্যক্তিটি সাহাবী, তবে এই সনদটি সহিহ হতো; কেননা সাহাবীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য। সুতরাং সাহাবীর নাম উহ্য থাকুক বা তিনি বাদ পড়ুন, তার বিধান হলো তিনি যেন উল্লিখিতই আছেন।

আর মুরসাল হাদিস দুর্বল; কারণ এখানে একাধিক সম্ভাবনা রয়েছে। হতে পারে যিনি বাদ পড়েছেন তিনি একজন সাহাবী, আবার এও হতে পারে যে বাদ পড়া ব্যক্তিটি একজন তাবেয়ি। যখন এই সম্ভাবনার সৃষ্টি হলো, আর হাদিস বর্ণনার মূলনীতি হলো সতর্কতা ও দৃঢ়তা অবলম্বন করা; তাই আমরা একে দুর্বল বলেছি।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مثال الحديث المرسل

فالمرسل هو ما أضافه التابعي إلى النبي صلى الله عليه وسلم، كـ مالك عن نافع عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو كـ مالك عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم، فـ نافع من طبقات التابعين، والزهري أيضاً من طبقات التابعين، فأضاف التابعي ورفع الحديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم من غير أن يبين لنا الواسطة بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم.

ومثاله أيضاً أن تقول: عن الأعمش عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو عن ابن عيينة عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهذا مرسل؛ لأن طبقة الصحابي ما وجدت، وسقطت الواسطة بين الراوي وبين النبي صلى الله عليه وسلم.
মুরসাল হাদিসের উদাহরণ

সুতরাং মুরসাল হলো তা, যা একজন তাবিঈ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করেন। যেমন- মালিক থেকে নাফি‘, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; অথবা মালিক থেকে যুহরি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। এখানে নাফি‘ তাবিঈদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং যুহরিও তাবিঈদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় তাবিঈ তার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী মাধ্যমটি আমাদের কাছে স্পষ্ট না করেই হাদিসটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং উন্নীত করেছেন।

এর আরও উদাহরণ হলো আপনার এ কথা বলা: আ‘মাশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা ইবনে উয়াইনা থেকে যুহরি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি মুরসাল; কারণ এখানে সাহাবীর স্তরটি পাওয়া যায়নি এবং বর্ণনাকারী ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী মাধ্যমটি বাদ পড়ে গেছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিত তাদলীস ফিল হাদীস লিদ-দুমাইনী - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌حكم الحديث المرسل

الصحيح الراجح ضعف الحديث المرسل؛ لأننا لا نعلم هل الذي سقط صحابي أو تابعي، وسقوط طبقة من طبقات الإسناد تدل على ضعف الإسناد؛ لأن الحديث الصحيح شروطه خمسة، ومن هذه الشروط الخمسة: الاتصال، وضد الاتصال: الانقطاع أو الإسقاط، والانقطاع أو الإسقاط يدخل فيه المرسل والمنقطع والمعضل والمعلق، فالإرسال إذاً ضعف لاختلال شرط من شروط الحديث الصحيح، وهو عدم اتصال السند.
মুরসাল হাদিসের বিধান

সহীহ ও অগ্রগণ্য মত হলো মুরসাল হাদিস দুর্বল; কারণ আমরা জানি না যে, সনদ থেকে যিনি বাদ পড়েছেন তিনি কি একজন সাহাবী নাকি তাবিঈ, আর ইসনাদের কোনো স্তর বাদ পড়া ইসনাদের দুর্বলতার প্রমাণ দেয়; কেননা সহীহ হাদিসের শর্ত পাঁচটি, আর এই পাঁচটি শর্তের অন্যতম হলো: নিরবচ্ছিন্নতা, আর নিরবচ্ছিন্নতার বিপরীত হলো: বিচ্ছিন্নতা বা বিলোপ, এবং বিচ্ছিন্নতা বা বিলোপের মধ্যে মুরসাল, মুনকাতি, মুদাল ও মুআল্লাক হাদিস অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সহীহ হাদিসের একটি শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে ইরসাল একটি দুর্বলতা, আর সেই শর্তটি হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতার অভাব।