حكم العمل بالحديث المرسلجاء في حكم العمل بالحديث المرسل تسعة أقوال، ونجملها في الأقوال الآتية: جمهور علماء الحديث كـ أحمد وابن المديني والقطان وعبد الرحمن بن مهدي ويحيى بن معين: يرون الحديث المرسل ضعيفاً، وليس بحجة، وهو قول المحققين من أهل الحديث، كما رجح ذلك الإمام النووي؛ لأننا لا نعلم من سقط منه، وهل هو صحابي أو غيره، فإن كان صحابياً فالحديث صحيح؛ لأن الصحابة كلهم عدول، وإن كان غير صحابي فلا نعلم هل هو ضعيف أو ثقة؟ فلما نشأ هذا الاحتمال ضعف الحديث المرسل، ولم يعمل به؛ لأنه يحتمل أن يكون الساقط ضعيفاً، فيضعف الحديث.
ويرى الأحناف أنه يقبل مطلقاً إذا كان المرسل ثقة، وهي رواية عن أحمد وبعض المالكية، وحجتهم: أن من أسند فقد برئ.
وهذه قاعدة عند المحدثين، ولذلك ترى كثيراً من العلماء عندما ينظرون في الكتب المتقدمة يقولون: هؤلاء قد برءوا ساحتهم، حتى ولو كان في كتبهم بعض الأحاديث الضعيفة والموضوعة؛ لأنهم قد أسندوا ما يروونه، ومن أسند فقد برئ، ومن أسند فقد أحال، أي: أحالك على التعب والشقاء والبحث، حتى ترى هذا السند صحيح أم لا؟ إذاً: فهذا الراوي الثقة عندما أرسل عن النبي صلى الله عليه وسلم فقد أراحك، وهو لم يسند ولم يحلك على غيره، وإنما قال لك: أنا أثق بأن رواية هذا الحديث صحيحة.
إذاً: فوجهة نظرهم: أنه لما أسقط فإنه قد تأكد من صحة الحديث، فحمل عنك هذا العناء، وقال لك تلميحاً: هذا الحديث صحيح، فخذه مني واعمل به.
فمن أسند فقد أحال وأتعبك في البحث، ولكن من أسقط وأعطاك وهو ثقة فهذه دلالة على أنه يعلم يقيناً أن هذا الحديث من الصحة بمكان.
القول الثالث: التفصيل، وفيه أقوال كثيرة، سنبينها ونجملها في أمرين: الأول: النظر إلى المرسل، والثاني: النظر إلى المرسَل، والمرسِل هو: الراوي، والمرسَل هو: المتن نفسه.
فقال العلماء: إذا كان المرسِل لا يرسل إلا عن ثقة فيؤخذ حديثه ويؤخذ بمرسله ويعمل به، وذلك كمراسيل ابن المسيب، وقد قال الشافعي: أحسن المراسيل بعد التتبع هي مراسيل سعيد بن المسيب، فقد كان لا يرسل إلا عن ثقة، فقد وجد بعد البحث والتتبع أنه لا يسقط إلا الثقات، فإذا كان المرسل بهذه الحال فيكون حديثه حجة.
وأما إن كان المرسِل لا يرسل عن ثقة فحديثه ليس بحجة، مثل الحسن البصري، قال فيه العلماء: مراسيله كالريح؛ لأنه كان يرسل عن الضعفاء والثقات، يأخذ من كل أحد، فمراسيله ضعيفة، وقد رجح هذا القول بعض الشافعية، وعليه تعقيب وتفصيل ليس هذا محله.
وأما من جهة النظر إلى المرسَل فقال العلماء: إنه يمكن العمل بالمرسل ويكون حجة، وذلك إذا جاء من طريق آخر مرسلاً غير الطريق الأول، وذلك مثل رواية ابن المسيب عن النبي صلى الله عليه وسلم: (كل مولود مرتهن بعقيقته)، ورواية الشعبي أيضاً عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً: (كل مولود مرتهن بعقيقته)، فيتفق هذا المرسل مع المرسل الأول، ويعضد كل منهما الآخر، فيحتج به؛ لأن العلماء يقولون: ضعيف مع ضعيف يتقوى أحدهما بالآخر، وكان بعض العلماء يضرب لطلبته مثلاً لذلك ويقول: لو أن أحداً عنده في رجله أو يده ضعف مثلاً، وجاء رجل آخر عنده نفس الضعف في رجله أو يده، فأخذ هذا بيد الآخر فإن كلاً منهما يتقوى بصاحبه، ويسيرون معاً.
إذاً: إذا جاء المرسل من طريق آخر مرسلاً فإنه يكون حجة.
وهذا كلام الشافعي.
وقال أيضاً: إذا جاء من طريق آخر مسنداً فإنه أيضاً يقوي هذا المرسل، وهذا مأخوذ من كلام الشافعي، حيث قال: والمرسل حجة عندنا إذا جاء من طريق آخر من مخرج آخر أو جاء من رواية أخرى مسندة.
فإن قيل: ولم تأخذ بالمرسل وقد أغناك الله بالمسند، فلا عبرة أن تقول هذا تقوى بالمسند؛ لأن المسند فيه غنية -وهذا مأخذ جيد-؟ فنقول: تظهر ثمرة ذلك عند الترجيح في التعارض، فلو جاء مثلاً مرسل ومسند يقول: طلاق الحائض يقع، وجاء مسند آخر يقول: لا يقع، ولم يمكن الجمع بينهما، فإننا نلجأ إلى الترجيح بينهما بطرقه المعروفة، ومن هذه الطرق: الترجيح بكثرة الطرق.
وكذلك إذا عمل به جمع غفير من العلماء، أو كانت عليه فتوى العلماء، أو عمل به علماء العصر، فإذا عمل به علماء العصر غلب على الظن أنه مرفوع للنبي صلى الله عليه وسلم.
فقال الشافعي: إن الحكم عندنا في المرسل لا الرد مطلقاً ولا القبول مطلقاً بل التفصيل؛ فننظر في المرسِل إن كان يرسل عن ثقات قبلناه، وإن كان لا يرسل عن ثقات كـ الحسن البصري فإنا لا نقبله، وأيضاً ننظر إلى المرسَل -المتن- فإن عضد بمتن آخر، أو جاء من طريق آخر أخذناه، أو كان له فتوى عالم من العلماء قبلناه أيضاً.
هذا هو التفصيل، وإذا أردنا الترجيح فلابد أولاً من التقعيد التفصيلي، ولا بد لطالب العلم أن يؤصل أولاً، حتى إذا أراد أن يخرج بعد ذلك فإنه يخرج على هذا التفصيل.
فنقول أولاً: كل مرسل ليس بحجة؛ لأنه قد اشترط العلماء في تصحيح الحديث أن يتصل إسناده، وهذا غير متصل، بل قد أسقط الراوي من روى عنه، ونحن لا نعلم أهو ثقة أو ضعيف؟ فإذاً: كل مرسل ليس بحجة، إلا إذا كان الذي أرسل لا يرسل إلا عن الثقات، وهذا ليس خاصاً بـ ابن المسيب، وإنما كل من أرسل عن الثقات فيؤخذ بإرساله، هذا هو الصحيح الراجح.
إذاً: كل مرسَل ضعيف، إلا إذا كان من أرسل لا يرسل إلا عن ثقة، أو اعتضد بغيره.
মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করার বিধানমুরসাল হাদিসের ওপর আমল করার বিধান সম্পর্কে নয়টি মত পাওয়া যায়, যা আমরা নিম্নোক্ত বক্তব্যসমূহে সংক্ষেপ করছি: হাদিস শাস্ত্রের জুমহুর বা অধিকাংশ আলেম যেমন—আহমদ, ইবনুল মাদিনী, আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাইন মুরসাল হাদিসকে দুর্বল মনে করেন এবং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটিই হাদিস শাস্ত্রের মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমদের অভিমত, যেমনটি ইমাম নববী প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ আমরা জানি না সনদ থেকে কে বাদ পড়েছে। সে কি একজন সাহাবী নাকি অন্য কেউ? যদি সে সাহাবী হয় তবে হাদিসটি সহিহ; কারণ সাহাবীদের সকলেই ন্যায়পরায়ণ। আর যদি সে সাহাবী না হয় তবে আমরা জানি না সে দুর্বল নাকি নির্ভরযোগ্য? যখন এই সংশয় তৈরি হয়, তখন মুরসাল হাদিস দুর্বল হয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করা হয় না; কারণ সম্ভাবনা থাকে যে বাদ পড়া ব্যক্তিটি দুর্বল হতে পারেন, ফলে হাদিসটিও দুর্বল হয়ে যায়।
হানাফিগণ মনে করেন যে, যদি মুরসাল বা হাদিস বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন, তবে তা নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা এবং কিছু মালিকি আলেমেরও মত। তাদের দলিল হলো: যে ব্যক্তি সনদ বর্ণনা করেছে সে দায়মুক্ত হয়েছে।
এটি মুহাদ্দিসদের একটি মূলনীতি, তাই আপনি অনেক আলেমকে দেখবেন যখন তারা প্রাচীন কিতাবগুলো দেখেন তখন বলেন: তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি যদি তাদের কিতাবে কিছু দুর্বল ও জাল হাদিসও থাকে; কারণ তারা যা বর্ণনা করেছেন তার সনদ উল্লেখ করেছেন। আর যে সনদ উল্লেখ করেছে সে দায়মুক্ত হয়েছে, এবং যে সনদ উল্লেখ করেছে সে বিষয়টি অন্যের ওপর সোপর্দ করেছে। অর্থাৎ: সে আপনাকে ক্লান্তি, কষ্ট এবং অনুসন্ধানের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যাতে আপনি দেখতে পারেন এই সনদটি সহিহ কি না। সুতরাং, এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণনা করেন, তখন তিনি আপনাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সনদ উল্লেখ করেননি এবং আপনাকে অন্যের ওপর সোপর্দ করেননি, বরং তিনি আপনাকে বলেছেন: আমি নিশ্চিত যে এই হাদিসটির বর্ণনা সঠিক।
সুতরাং, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো: তিনি যখন মাঝখানের বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন তখন তিনি হাদিসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন, ফলে তিনি আপনার পক্ষ থেকে এই পরিশ্রমের ভার গ্রহণ করেছেন এবং ইশারায় আপনাকে বলেছেন: এই হাদিসটি সহিহ, তাই এটি আমার কাছ থেকে গ্রহণ করুন এবং এর ওপর আমল করুন।
সুতরাং যে সনদ উল্লেখ করল সে বিষয়টি অন্যের ওপর সোপর্দ করল এবং আপনাকে অনুসন্ধানের পরিশ্রমে ফেলল, কিন্তু যে বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়ে আপনাকে হাদিস দিল অথচ সে নিজে নির্ভরযোগ্য, তবে এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে সে নিশ্চিতভাবে জানে এই হাদিসটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ।
তৃতীয় মত: বিস্তারিত বিশ্লেষণ। এতে অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা আমরা দুটি বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করব: প্রথমত: মুরসিল বা বর্ণনাকারীর দিকে নজর দেওয়া, এবং দ্বিতীয়ত: মুরসাল বা মূল পাঠের দিকে নজর দেওয়া। এখানে মুরসিল হলো বর্ণনাকারী আর মুরসাল হলো খোদ মতন বা মূল পাঠটি।
আলেমগণ বলেন: মুরসিল যদি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই মুরসাল হাদিস বর্ণনা করেন, তবে তার হাদিস গ্রহণ করা হবে এবং তার মুরসাল বর্ণনা অনুযায়ী আমল করা হবে। যেমন ইবনুল মুসাইয়্যিবের মুরসাল বর্ণনাগুলো। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: পর্যালোচনার পর সবচেয়ে উত্তম মুরসাল হলো সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মুরসালগুলো। কারণ তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই হাদিস বর্ণনা করতেন। অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদেরই সনদ থেকে বাদ দিতেন। সুতরাং মুরসাল বর্ণনাকারী যদি এমন অবস্থার অধিকারী হন তবে তার হাদিস দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
আর যদি মুরসিল নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তি থেকেও মুরসাল বর্ণনা করেন, তবে তার হাদিস দলিল নয়। যেমন হাসান বসরী; তার সম্পর্কে আলেমগণ বলেছেন: তার মুরসাল বর্ণনাগুলো বাতাসের মতো; কারণ তিনি দুর্বল ও নির্ভরযোগ্য সবার থেকেই মুরসাল বর্ণনা করতেন, তিনি সবার কাছ থেকেই গ্রহণ করতেন। তাই তার মুরসাল বর্ণনাগুলো দুর্বল। কিছু শাফেয়ী আলেম এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আর এর ওপর কিছু মন্তব্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে যা এখানে আলোচনার স্থান নয়।
আর মুরসাল হাদিসের পাঠের দিকে নজর দেওয়ার ক্ষেত্রে আলেমগণ বলেন: মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করা সম্ভব এবং তা দলিল হতে পারে যদি তা প্রথম সূত্রটি ছাড়া অন্য কোনো সূত্রেও মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনুল মুসাইয়্যিবের বর্ণনা: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শা'বীরও মুরসাল বর্ণনা: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে)। ফলে এই মুরসাল বর্ণনাটি প্রথম মুরসাল বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং একে অপরকে শক্তিশালী করে, তখন এটি দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারণ আলেমগণ বলেন: দুর্বল বর্ণনার সাথে দুর্বল বর্ণনা যুক্ত হলে একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। কোনো কোনো আলেম তাদের ছাত্রদের জন্য এর একটি উদাহরণ দিতেন এবং বলতেন: যদি কারও পায়ে বা হাতে দুর্বলতা থাকে এবং অন্য একজন লোক আসে যার পায়ে বা হাতে একই রকম দুর্বলতা রয়েছে, এরপর একজন অন্যজনের হাত ধরে, তবে তারা প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং তারা একসাথে চলতে পারে।
সুতরাং, যদি মুরসাল হাদিস অন্য কোনো সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
এটি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্য।
তিনি আরও বলেন: যদি এটি অন্য কোনো সূত্রে মুসনাদ হিসেবে আসে, তবে সেটিও এই মুরসাল বর্ণনাটিকে শক্তিশালী করে। এটি শাফেয়ীর বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: মুরসাল বর্ণনা আমাদের কাছে দলিল হিসেবে গণ্য হবে যদি তা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে অন্য কোনো উৎস থেকে আসে অথবা অন্য কোনো মুসনাদ বর্ণনার মাধ্যমে আসে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন আপনি মুরসাল গ্রহণ করবেন যখন আল্লাহ আপনাকে মুসনাদ দিয়ে অমুখাপেক্ষী করেছেন? সুতরাং এটি বলার প্রয়োজন নেই যে এটি মুসনাদ দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে; কারণ মুসনাদই তো যথেষ্ট -এটি একটি ভালো যুক্তি-। এর উত্তরে আমরা বলব: এর ফলাফল তখন প্রকাশ পায় যখন দুই বিপরীতধর্মী বর্ণনার মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি মুরসাল ও একটি মুসনাদ বর্ণনা আসে যা বলে: ঋতুবতী মহিলার তালাক কার্যকর হবে, আর অন্য একটি মুসনাদ বর্ণনা আসে যা বলে: কার্যকর হবে না, এবং উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা প্রচলিত পদ্ধতিতে তাদের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করব। আর এই পদ্ধতিগুলোর একটি হলো: সূত্রের আধিক্য দেখে প্রাধান্য দেওয়া।
একইভাবে যদি আলেমদের একটি বড় দল এর ওপর আমল করেন, অথবা আলেমদের ফতোয়া এর পক্ষে থাকে, কিংবা সমসাময়িক আলেমগণ এর ওপর আমল করেন। যখন সমসাময়িক আলেমগণ এর ওপর আমল করেন, তখন প্রবল ধারণা জন্মে যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: মুরসাল হাদিসের ব্যাপারে আমাদের কাছে বিধান হলো এটি ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যানও করা হবে না আবার ঢালাওভাবে গ্রহণও করা হবে না, বরং বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। আমরা মুরসিল বা বর্ণনাকারীর দিকে তাকাব, যদি তিনি নির্ভরযোগ্যদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করেন তবে আমরা তা গ্রহণ করব। আর যদি তিনি নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তি থেকেও মুরসাল বর্ণনা করেন যেমন হাসান বসরী, তবে আমরা তা গ্রহণ করব না। আবার আমরা মুরসাল বা মতনের দিকেও তাকাব, যদি তা অন্য কোনো মতন দ্বারা সমর্থিত হয় অথবা অন্য কোনো সূত্রে আসে তবে আমরা তা গ্রহণ করব, অথবা যদি এর স্বপক্ষে কোনো আলেমের ফতোয়া থাকে তবে সেটিও আমরা গ্রহণ করব।
এটিই হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ। আর যদি আমরা কোনো মতকে প্রাধান্য দিতে চাই, তবে প্রথমে বিস্তারিত মূলনীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো প্রথমে ভিত্তি স্থাপন করা, যাতে সে যখন পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়, তবে সে যেন এই বিশ্লেষণের আলোকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।
আমরা প্রথমে বলি: প্রত্যেক মুরসাল হাদিস দলিল নয়; কারণ আলেমগণ হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য সনদ সংযুক্ত হওয়ার শর্ত দিয়েছেন, আর এটি সংযুক্ত নয়। বরং বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন, আর আমরা জানি না সে নির্ভরযোগ্য নাকি দুর্বল? সুতরাং: প্রতিটি মুরসাল দলিল নয়, কেবল সেই ক্ষেত্রে ব্যতীত যখন মুরসাল বর্ণনাকারী কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই মুরসাল বর্ণনা করেন। আর এটি কেবল ইবনুল মুসাইয়্যিবের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং যে কেউ নির্ভরযোগ্যদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করবেন তার মুরসাল বর্ণনা গ্রহণ করা হবে, এটিই সঠিক ও অগ্রগণ্য মত।
সুতরাং: প্রতিটি মুরসাল বর্ণনা দুর্বল, কেবল সেই ক্ষেত্র ব্যতীত যখন মুরসাল বর্ণনাকারী কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই বর্ণনা করেন অথবা তা অন্য কোনো কিছুর দ্বারা শক্তিশালী হয়।