(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 18 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সেসব বিষয় যাতে আল্লাহর রাসূল জাহেলিয়ার অধিবাসীদের বিরোধিতা করেছেন   (মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আক্বীদা


গ্রন্থ: সেসব বিষয় যাতে আল্লাহর রাসূল জাহেলিয়ার অধিবাসীদের বিরোধিতা করেছেন

লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ১৮টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية -‌‌ المقدمة

لقد جاء الرسول صلى الله عليه وسلم من عند ربه تعالى بالدين الحق ليذهب به ظلام الباطل والشرك، ولأجل ذلك فقد خالف عليه الصلاة والسلام أهل الجاهلية والشرك في كثير مما كانوا عليه، فكان لابد لكل من أراد تمام التوحيد أن يتميز عن أهل الباطل بما يجعله مستعلياً بإيمانه بالله تعالى.
সেসব বিষয় যাতে রাসূলুল্লাহ জাহেলিয়াতের লোকদের বিরোধিতা করেছেন -‌‌ ভূমিকা

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন যেন তিনি এর মাধ্যমে বাতিল ও শিরকের অন্ধকার দূর করেন। আর এই উদ্দেশ্যেই তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জাহেলিয়াত ও শিরকের অনুসারীদের অনেক বিষয়ের বিরোধিতা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহীদের পূর্ণতা অর্জন করতে চায়, তার জন্য বাতিলপন্থীদের থেকে স্বতন্ত্র হওয়া অপরিহার্য, যা তাকে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের মাধ্যমে উচ্চমর্যাদাশীল করবে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌منزلة العبودية عند الله تعالى وفضلها

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

لا شك أن الله جل في علاه خلق الخلق لمهمة عظيمة، ولحكمة جسيمة، قال جل في علاه في علاه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56].

والعبودية لله هي من أرقى المنازل التي يمكن أن يعلو المرء إليها، وهي أشرف المنازل، وأرقى المراتب، وأعلى المقامات التي يمكن أن يصلها العبد، ويتشرف بها في هذه الدنيا والآخرة، والنجاة في الآخرة لا تكون إلا على تمام العبودية، أما رأيتم أن الله جل في علاه شرف نبيه صلى الله عليه وسلم وعظمه وكرمه بهذه المنزلة، حيث قال في مقام الإعجاز: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ} [الإسراء:1]؛ ليبين أن هذه المنزلة التي أنزلها الله لرسوله صلى الله عليه وسلم هي أفضل المنازل التي يمكن أن يرتقي إليها عبد من عباد الله جل في علاه.

وقال تعالى أيضاً في مقام التحدي لأهل الكفر: {وَإِنْ كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ} [البقرة:23]، فأخبر أنه رفعه إلى منزلة عظيمة وهي منزلة العبودية، وذلك في قوله: (على عبدنا).

وأيضاً في مقام الدعوة إلى الله وسمه بأرقى الصفات، وهي صفة العبودية، حيث قال الله تعالى: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا} [الجن:19].

وأيضاً في مقام الوحي وصفه الله بهذه المنزلة العظيمة، فقال: {فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى} [النجم:10].

فمنزلة العبودية هي أرقى المنازل التي يمكن لعبد أن يرتقي إليها، وهذه المنزلة لا يمكن أن ينزلها المرء حتى يرتقي إلى كمال التوحيد، فالعبد لا يرتقي عند ربه إلا بتمام التوحيد وكماله، وبين مراتب العباد مفاوز، بل بين درجات الجنة كما بين السماء والأرض.
মহান আল্লাহর নিকট দাসত্বের মর্যাদা ও এর ফযীলত

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ এক সুমহান লক্ষ্য এবং এক গুরুত্বপূর্ণ হিকমতের জন্য সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় বলেছেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত (দাসত্ব) করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬]

আল্লাহর দাসত্ব হলো এমন এক উচ্চতর মর্যাদা যেখানে একজন মানুষ আরোহণ করতে পারে এবং এটিই সবচেয়ে সম্মানিত স্থান, সর্বোন্নত স্তর এবং সুউচ্চ মর্যাদা যা একজন বান্দা অর্জন করতে পারে এবং এর মাধ্যমে এই দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হতে পারে। আখিরাতে মুক্তি কেবল পূর্ণ দাসত্বের মাধ্যমেই সম্ভব। আপনারা কি দেখেননি যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই মর্যাদার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, মহান করেছেন এবং ভূষিত করেছেন? যেখানে তিনি অলৌকিকত্বের বর্ণনায় বলেছেন: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে নৈশভ্রমণে নিয়ে গিয়েছিলেন।} [আল-ইসরা: ১]; যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে মর্যাদা দান করেছেন তা হলো মহান আল্লাহর কোনো বান্দার জন্য আরোহণযোগ্য সর্বোত্তম মর্যাদা।

কুফরি পোষণকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেছেন: {আমরা আমাদের বান্দার উপর যা নাযিল করেছি তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো।} [আল-বাকারা: ২৩]। এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে এক মহান মর্যাদায় উন্নীত করেছেন আর তা হলো দাসত্বের মর্যাদা, যা তাঁর এই বাণীতে স্পষ্ট: (আমাদের বান্দার উপর)।

আবার আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁকে সর্বোন্নত বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত করেছেন, যা হলো দাসত্বের গুণ। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা তার চারপাশে ভিড় করে প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো।} [আল-জিন: ১৯]

ওহী নাযিলের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাঁকে এই মহান মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।} [আন-নাজম: ১০]

সুতরাং দাসত্বের মর্যাদা হলো সর্বোচ্চ মর্যাদা যা কোনো বান্দা অর্জন করতে পারে। আর এই মর্যাদা কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না সে তাওহীদের পূর্ণতায় আরোহণ করে। একজন বান্দা তার রবের কাছে কেবল তাওহীদের পূর্ণতা ও পরিপূর্ণতার মাধ্যমেই মর্যাদা লাভ করে। বান্দাদের স্তরের মধ্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান, এমনকি জান্নাতের স্তরসমূহের মাঝখানে আসমান ও যমীনের মতো ব্যবধান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أقسام الأمن والهداية وارتباطهما بالتوحيد

إن كمال التوحيد يكون به كمال الأمن، ويكون به كمال المتعة، قال الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ} [الأنعام:82] يعني: الأمن التام، وليس مطلق الأمن، بل الأمن المطلق.

والأمن أمنان: أمن في الدنيا، وأمن في الآخرة، والهداية هدايتان: هداية في الدنيا، وهداية في الآخرة، والأمن التام في الدنيا هو الأمن القلبي؛ لأنهم قد لا يأمنون جسدياً؛ وذلك بأن يبتليهم الله تعالى بتسليط الأعداء.

فالأمان الحقيقي هو أمان القلب، ولو ذبحوني فقلبي مملوء بالتوحيد، كما قال شيخ الإسلام: ماذا يفعل أعدائي بي، إن سجنوني فسجني خلوة بربي، وإن نفوني فنفيي سياحة، وإن قتلوني فقتلي شهادة، أنا جنتي في قلبي.

إذاً: فالأمن التام يكون في القلب.

وأما الأمن في الآخرة فهو أمن كامل، أمن من كل المصاعب والمتاعب، يأمن حتى في عرصات يوم القيامة، عندما يقوم الناس فزعين هو لا يفزع، عندما يشتد عليهم الكرب والعطش، فإن الله جل وعلا يرويه؛ لأنه أتم التوحيد، بل أول من يدخل الجنة على صورة القمر سبعون ألفاً من غير حساب ولا عذاب كما جاء في الحديث، وفي رواية أخرى: مع كل واحد من السبعين ألفاً، سبعون ألفاً يدخلون الجنة، وجوههم كالقمر، كل واحد منهم كما وصف النبي صلى الله عليه وسلم يأخذ بيد أخيه، فالكل يدخلون مرة واحدة، وهذا يسمى الأمن التام أو الأمن المطلق.
নিরাপত্তা ও হিদায়াতের প্রকারভেদ এবং তাওহীদের সাথে এগুলোর সম্পর্ক

নিশ্চয়ই তাওহীদের পূর্ণতার মাধ্যমেই নিরাপত্তার পূর্ণতা এবং পরম আনন্দের পূর্ণতা অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (শিরকের) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা।" [আল-আনআম: ৮২] অর্থাৎ: এটি হলো পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা; নিছক সামান্য নিরাপত্তা নয়, বরং এটি হলো চূড়ান্ত ও অখণ্ড নিরাপত্তা।

নিরাপত্তা দুই প্রকার: ইহকালীন নিরাপত্তা ও পরকালীন নিরাপত্তা। অনুরূপভাবে হিদায়াতও দুই প্রকার: ইহকালীন হিদায়াত ও পরকালীন হিদায়াত। পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলতে হৃদয়ের নিরাপত্তাকে বোঝায়; কারণ মুমিনরা শারীরিকভাবে নিরাপদ নাও থাকতে পারে, যেহেতু আল্লাহ তাআলা শত্রুদের আধিপত্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করতে পারেন।

কাজেই প্রকৃত নিরাপত্তা হলো হৃদয়ের নিরাপত্তা; এমনকি তারা যদি আমাকে জবাইও করে ফেলে, তবুও আমার হৃদয় তাওহীদে ভরপুর থাকবে। যেমনটি শাইখুল ইসলাম বলেছেন: "আমার শত্রুরা আমার কী ক্ষতি করতে পারে? যদি তারা আমাকে কারারুদ্ধ করে, তবে তা হবে আমার রবের সাথে নির্জনবাস। যদি তারা আমাকে নির্বাসিত করে, তবে তা হবে আমার জন্য পর্যটন। আর যদি তারা আমাকে হত্যা করে, তবে তা হবে শাহাদাত। আমার জান্নাত তো আমার হৃদয়ের ভেতরেই রয়েছে।"

সুতরাং, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা হৃদয়েই অবস্থান করে।

আর পরকালীন নিরাপত্তা হলো এক সর্বাঙ্গীণ নিরাপত্তা—যা সকল প্রকার বিপদ ও ক্লেশ থেকে মুক্ত। এমনকি কিয়ামতের ময়দানেও সে নিরাপদ থাকবে। যখন মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়বে, তখন সে ভীত হবে না। যখন মানুষের ওপর চরম দুঃখ-কষ্ট ও তৃষ্ণা জেঁকে বসবে, তখন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাকে তৃপ্ত করবেন; কারণ সে তাওহীদকে পূর্ণতা দান করেছিল। বরং সর্বপ্রথম সত্তর হাজার ব্যক্তি চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতিতে বিনা হিসেবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: সেই সত্তর হাজারের প্রত্যেকের সাথে আরও সত্তর হাজার ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে যাদের চেহারা হবে চাঁদের মতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের যেভাবে বর্ণনা করেছেন—তাদের প্রত্যেকে তার ভাইয়ের হাত ধরে থাকবে এবং তারা সকলেই একযোগে প্রবেশ করবে। একেই বলা হয় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বা চূড়ান্ত নিরাপত্তা।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الفرق بين الأمن المطلق ومطلق الأمن

إن الفرق بين مطلق الأمن والأمن المطلق: أن مطلق الأمن هو أصل الأمن، وهو يحصل بأدنى جزء منه، وأما الأمن المطلق فهو كمال الأمن، فلا يكون ذلك إلا بتمام التوحيد؛ لذا فنحن نركز بفضل الله سبحانه وتعالى في دروس العقيدة على الكلام على التوحيد، لاسيما وأن التوحيد هو فرض عين، وأن على كل إنسان أن يتعلم علم التوحيد وما ينافيه من الشرك؛ لأنه لن يسلم المرء بين يدي ربه جل في علاه، ولن يرضى الله عنه حتى يتم التوحيد بأصله وكماله.
পরিপূর্ণ নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম নিরাপত্তার মধ্যকার পার্থক্য

ন্যূনতম নিরাপত্তা এবং পরিপূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে পার্থক্য হলো: ন্যূনতম নিরাপত্তা হলো নিরাপত্তার মূল ভিত্তি, যা এর সামান্যতম অংশ অর্জনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর পরিপূর্ণ নিরাপত্তা হলো নিরাপত্তার পূর্ণতা, যা তাওহীদের পূর্ণতা ব্যতীত সম্ভব নয়। এই কারণে আমরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আকীদার পাঠগুলোতে তাওহীদের আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করি। বিশেষত যেহেতু তাওহীদ অর্জন করা প্রত্যেকের জন্য ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য, তাই প্রত্যেক মানুষের জন্য তাওহীদের জ্ঞান এবং এর পরিপন্থী শিরক সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করা অপরিহার্য। কারণ কোনো ব্যক্তিই তার সুমহান রবের সামনে মুক্তি পাবে না এবং আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না, যতক্ষণ না সে তাওহীদকে এর মূল ভিত্তি ও পূর্ণতাসহ সম্পন্ন করে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أقسام التوحيد

التوحيد قسمان: التوحيد العلمي الخبري، وتوحيد القصد والطلب، فأما التوحيد العلمي الخبري فهو توحيد الأسماء والصفات، وتوحيد الربوبية، وأما توحيد القصد والطلب فهو توحيد العبادة، أو توحيد الله بأفعال العباد.

فأما توحيد الأسماء والصفات فقد أشبعنا القول فيه.
তাওহীদের প্রকারভেদ

তাওহীদ দুই প্রকার: জ্ঞান ও সংবাদ বিষয়ক তাওহীদ এবং সংকল্প ও অন্বেষণ বিষয়ক তাওহীদ। জ্ঞান ও সংবাদ বিষয়ক তাওহীদ হলো নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ এবং রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ। আর সংকল্প ও অন্বেষণ বিষয়ক তাওহীদ হলো ইবাদতের তাওহীদ, অথবা বান্দার কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা।

আর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক তাওহীদের ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌توحيد الربوبية

توحيد الربوبية: هو أن تعتقد اعتقاداً جازماً بأن الله جل في علاه هو الخالق الرازق المدبر السيد الآمر الناهي المطاع.

والاعتقاد من أفعال القلوب، ودليل هذا النوع قوله تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر:62] وهذا نص عام يدخل تحته أفعال العباد، فالله هو خالقها وخالق كل شيء.

وفي هذا رد على القدرية الذين يقولون: إن العبد هو خالق فعل نفسه، فالله جل في علاه خلق كل شيء، وما خلق شيئاً من دقيق ولا جليل إلا بقوله: (كن فيكون) كما قال الله تعالى: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [النحل:40]، واختص الله جل في علاه، من ذلك تكريماً وتعظيماً وتشريفاً أموراً ثلاثة فخلقها بيده: فخلق الله جل في علاه آدم بيده المقدسة سبحانه جل في علاه، قال الله تعالى: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص:75].

وخط التوراة بيده، كما في الصحيحين: (أن آدم عليه السلام قال لموسى: أنت موسى اصطفاك الله بكلامه، وخط لك التوراة بيده).

وغرس كرامة أهل الفردوس الأعلى بيده، أما باقي الخلق (فبكن) كما في قوله تعالى: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [النحل:40].

وتوحيد الربوبية قال الله عنه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ * مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ * إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات:56 - 58]، وقال تعالى: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ} [الحجر:21].

والرزق رزقان: رزق القلوب، ورزق الأبدان، فأما رزق القلوب فهو الأتم والأكمل، وهو رزق العلم، ورزق محبة الله جل في علاه، ورزق كمال الإيمان، وهذا لا يؤتاه إلا من اصطفاه الله من الخلق، فهو خاص بالمؤمنين.

وأما رزق الأبدان فهو يعم الكافر والمؤمن، والصالح والطالح، والبر والفاجر، فلم يمنع الله منه أحد، أما رأيتم قول النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيح: (ما رأيت أحداً أصبر على أذى من الله، يسبونه وينسبون له الولد وهو يعافيهم ويرزقهم).

فهو رزق لكل مخلوق، بل أهل الكفر والإلحاد ينعمون في الدنيا، حتى إذا وقفوا في عرصات يوم القيامة بين يدي ربهم ومليكهم جل في علاه لم يجدوا حسنة يجازون بها، وأما رزق القلوب فهو بتمام الإيمان، وتمام محبته سبحانه، وتمام العمل بطاعته سبحانه، فهذا لا يكون إلا للمؤمنين؛ لأن الله يغار، وغيرة الله أن يضع الشيء في غير موضعه، فهو لا يضع ذلك إلا في قلب صافٍ نقي.

وأما رزق الأبدان فهو الذي يمنح المرء التوكل التام على الله جل في علاه، كما قال الله تعالى: {وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ} [الذاريات:22] فما جعله الله في الأرض؛ لأنه يملكه جل في علاه، {وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ} [الذاريات:22].

وصح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (نفث في روعي الروح الأمين: أنه لن تموت نفس حتى تستوفي رزقها كما تستوفي أجلها)، وفي رواية أخرى صحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن الرزق ليسعى خلف ابن آدم كما يسعى خلفه الموت)، فلا يُتعبن أحد نفسه، ولا يشغلن باله في أمر الرزق؛ فإن الله قد كفاه هذا الأمر، فما على العبد إلا أن يعتقد اعتقاداً جازماً بأن الله جل في علاه قد قدر له في اللوح المحفوظ أجراً ورزقاً فسيأتيه، فإما أن يتعجله بالمعصية فسيأخذه مذموماً، وإما أن ينتظره ويعمل بنصيحة النبي صلى الله عليه وسلم إذ قال: (فاتقوا الله وأجملوا في الطلب)، فأجمل الطلب، فالله جل في علاه يمنحك إياه بطاعة وكنت عنده محموداً.

والنبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيحين يقول: (قال الله تعالى: يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد فسألوني، فأعطيت كل واحد مسألته ما نقص ذلك مما عندي من شيئاً).

فالله جل وعلا بيده خزائن السماوات والأرض، فهذا الاعتقاد يجرك إلى ألا يميل قلبك لأحد غير الله جل في علاه، فما من شيء دقيق ولا جليل في الكون كله من شئون حياتك وحياة الخلق أجمعين إلا قد دبره الله جل في علاه، قال الله تعالى: {أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ} [الرعد:33]، فهو قائم على كل نفس بكل شيء مما ينفعها وييسر عليها أمر الطاعة، أو يغلق عليها باب المعصية، أو يفتح عليها من الفتوحات، فهذا كله بيد الله جل في علاه، قال الله تعالى: {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [السجدة:5] وقال الله تعالى: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} [الرحمن:29].

وقال ابن مسعود في تفسير هذه الآية: يرفع أقواماً ويخفض آخرين، ويعز أقواماً ويذل آخرين، وينصر أقواماً ويهزم آخرين، ينزع الملك ممن يشاء، ويؤتي الملك من يشاء سبحانه وتعالى.

فهذا من تمام تدبير الله جل في علاه.

ومن الاعتقاد الجازم في ربوبية الله جل في علاه: الاعتقاد بأن السيد المطاع هو الله، فلا آمر إلا الله، ولا سمع ولا طاعة إلا لله جل في علاه، وأي سمع وطاعة لأي أحد غير الله فهو سمع وطاعة تابعة لطاعة الله، أما رأيتم الله جل وعلا وهو يقول: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء:59]، فجعل السمع والطاعة واجبة عليك لولي الأمر مادامت تابعة لطاعة الله وطاعة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولما دخل النبي صلى الله عليه وسلم عليهم قالوا: (أنت سيدنا وابن سيدنا فقال: قولوا بقولكم أو بعض قولكم، ولا يستهوينكم الشيطان، ثم قال: إن الله هو السيد).

فالسيادة المطلقة لا تكون إلا لله جل في علاه؛ لأنه الخالق الرازق المدبر السيد الآمر الناهي المطاع سبحانه وتعالى.

فهذا مجمل الكلام على توحيد الربوبية، وله علاقة وطيدة بتوحيد الإلهية.
তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ (প্রভুর একত্ববাদ)

তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ: এটি হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহই হলেন একমাত্র স্রষ্টা, রিজিকদাতা, পরিচালক, সার্বভৌম কর্তা, আদেশদাতা, নিষেধকারী এবং আনুগত্যের একমাত্র অধিকারী।

আর এই বিশ্বাস পোষণ করা হলো অন্তরের আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকারের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা} [সূরা যুমার: ৬২]। এটি একটি সাধারণ বর্ণনা যার অধীনে বান্দাদের কর্মসমূহও অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং আল্লাহই হলেন সেইসব কর্মের এবং সবকিছুর স্রষ্টা।

এর মাধ্যমে কাদারিয়্যা সম্প্রদায়ের খণ্ডন করা হয়েছে, যারা বলে: বান্দাই তার নিজের কর্মের স্রষ্টা। অথচ সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তুচ্ছ হোক বা মহান—কোনো কিছুই তাঁর "হও" (কুন) বলা ব্যতীত সৃষ্টি করেননি; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করি, তখন তাকে কেবল বলি 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।} [সূরা নাহল: ৪০]। তবে আল্লাহ তাআলা সম্মান, মহিমা ও মর্যাদা স্বরূপ তিনটি বিষয়কে স্বতন্ত্র করেছেন এবং সেগুলো তিনি তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন: মহান আল্লাহ আদমকে তাঁর পবিত্র হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: {আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [সূরা সোয়াদ: ৭৫]।

আর তিনি তাওরাত তাঁর হাত দিয়ে লিখেছেন, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে: (আদম আলাইহিস সালাম মূসাকে বললেন: আপনিই সেই মূসা যাকে আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং আপনার জন্য তাওরাত তাঁর হাত দিয়ে লিখেছেন)।

এবং তিনি জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসীদের মর্যাদাকে তাঁর হাত দিয়ে রোপণ করেছেন। আর বাকি সৃষ্টিজগত "হও" (কুন) বলার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আমি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করি, তখন তাকে কেবল বলি 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।} [সূরা নাহল: ৪০]।

তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাক। নিশ্চয়ই আল্লাহই রিজিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, পরাক্রমশালী।} [সূরা যারিয়াত: ৫৬-৫৮]। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {প্রত্যেক জিনিসের ভাণ্ডার আমারই কাছে রয়েছে।} [সূরা হিজর: ২১]।

রিজিক দুই প্রকার: অন্তরের রিজিক এবং শরীরের রিজিক। অন্তরের রিজিক হলো অধিকতর পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ; আর তা হলো ইলমের (জ্ঞান) রিজিক, আল্লাহর মহব্বতের রিজিক এবং ঈমানের পূর্ণতার রিজিক। এটি কেবল তাকেই দেওয়া হয় যাকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে মনোনীত করেছেন, তাই এটি মুমিনদের জন্য বিশেষ।

আর শরীরের রিজিক কাফের-মুমিন, সৎ-অসৎ, পুণ্যবান-পাপিষ্ঠ সবার জন্য ব্যাপক; আল্লাহ কাউকে তা থেকে বঞ্চিত করেন না। আপনারা কি সহীহ হাদিসে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী দেখেননি: (কষ্টদায়ক কথার ওপর আল্লাহর চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল আর কাউকে আমি দেখিনি; তারা তাঁকে গালি দেয় এবং তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে, তবুও তিনি তাদের সুস্থতা দান করেন এবং রিজিক দেন)।

এটি প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রিজিক, এমনকি কুফরি ও নাস্তিকতায় লিপ্ত ব্যক্তিরাও দুনিয়াতে নেয়ামত ভোগ করে। কিন্তু যখন তারা কিয়ামতের ময়দানে তাদের প্রতিপালক ও মহান অধিপতির সামনে দাঁড়াবে, তখন তারা বিনিময় পাওয়ার মতো কোনো নেকি খুঁজে পাবে না। আর অন্তরের রিজিক হলো ঈমানের পূর্ণতা, তাঁর প্রতি ভালোবাসার পূর্ণতা এবং তাঁর আনুগত্যে আমল করার পূর্ণতার মাধ্যমে। এটি কেবল মুমিনদের জন্যই হয়ে থাকে; কারণ আল্লাহ আত্মমর্যাদাবান, আর আল্লাহর আত্মমর্যাদা হলো কোনো কিছুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে না রাখা। তাই তিনি এই রিজিক কেবল স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরেই স্থাপন করেন।

আর শরীরের রিজিকই মানুষকে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) করার সুযোগ করে দেয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক।} [সূরা যারিয়াত: ২২]। আল্লাহ একে জমিনে রাখেননি কারণ তিনি নিজেই এর মালিক। {আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।} [সূরা যারিয়াত: ২২]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (পবিত্র আত্মা জিবরীল আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার নির্ধারিত রিজিক পূর্ণভাবে প্রাপ্ত হবে, যেমনটি সে তার আয়ু পূর্ণ করে)। অন্য এক সহীহ রেওয়ায়েতে আছে: (নিশ্চয়ই রিজিক আদম সন্তানের পেছনে সেভাবে ছুটে বেড়ায় যেভাবে মৃত্যু তার পেছনে ছুটে)। সুতরাং কেউ যেন নিজেকে অতিরিক্ত ক্লান্ত না করে এবং রিজিকের বিষয়ে দুশ্চিন্তায় মগ্ন না হয়; কেননা আল্লাহ এই বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। বান্দার কাজ কেবল এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, মহান আল্লাহ লওহে মাহফুজে তার জন্য যে প্রতিদান ও রিজিক নির্ধারণ করেছেন তা অবশ্যই তার কাছে পৌঁছাবে। হয় সে অবাধ্যতার মাধ্যমে তাড়াহুড়ো করে তা গ্রহণ করবে এবং নিন্দিত হবে, অথবা সে অপেক্ষা করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নসিহত অনুযায়ী আমল করবে, যিনি বলেছেন: (সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় সন্ধান করো)। আপনি উত্তম পন্থায় সন্ধান করুন, মহান আল্লাহ আনুগত্যের মাধ্যমেই আপনাকে তা দান করবেন এবং তাঁর কাছে আপনি প্রশংসিত হবেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহাইন-এর বর্ণনা অনুযায়ী বলেন: (মহান আল্লাহ বলেছেন: হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি-অন্ত, মানুষ ও জিন যদি সবাই এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে চায় এবং আমি প্রত্যেককে তার চাওয়া অনুযায়ী দান করি, তবে তা আমার কাছে যা আছে তা থেকে বিন্দুমাত্রও কমাবে না)।

আসমান ও জমিনের ভাণ্ডারসমূহ মহান আল্লাহর হাতে। এই বিশ্বাস আপনাকে এই দিকে পরিচালিত করবে যে আপনার অন্তর মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে ঝুঁকে পড়বে না। কারণ মহাবিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বা বিশাল বিষয়—আপনার জীবন এবং সমস্ত সৃষ্টির জীবন সংশ্লিষ্ট সবকিছুই মহান আল্লাহ পরিচালনা করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {যিনি প্রত্যেকটি প্রাণীর কর্মের ওপর নজর রাখেন (তিনি কি অন্যদের মতো)?} [সূরা রা'দ: ৩৩]। তিনি প্রতিটি প্রাণের এমন সবকিছুর তত্ত্বাবধানকারী যা তার উপকারে আসে, আনুগত্যের পথ সহজ করে দেয়, নাফরমানির দরজা বন্ধ করে দেয় অথবা যার জন্য বিজয়ের দুয়ার খুলে দেয়; এই সবকিছুই মহান আল্লাহর হাতে। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তা তাঁর কাছে এমন একদিনে পৌঁছাবে যার পরিমাণ তোমাদের গণনা অনুযায়ী এক হাজার বছর।} [সূরা সাজদাহ: ৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {প্রতিটি দিন তিনি কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে রত।} [সূরা রহমান: ২৯]।

ইবনে মাসউদ এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: তিনি কোনো কওমকে উন্নত করেন এবং অন্যদের অবনমিত করেন, কাউকে সম্মানিত করেন এবং কাউকে লাঞ্ছিত করেন, কাউকে সাহায্য করেন এবং কাউকে পরাজিত করেন; তিনি যার কাছ থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং যাকে চান রাজত্ব দান করেন।

এটি মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ পরিচালনারই অংশ।

মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের অন্যতম অংশ হলো: এই বিশ্বাস করা যে, আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য একমাত্র প্রভু হলেন আল্লাহ। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কোনো নির্দেশদাতা নেই এবং মহান আল্লাহ ছাড়া নিরঙ্কুশ শ্রবণ ও আনুগত্য আর কারো জন্য নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য যে শ্রবণ ও আনুগত্য রয়েছে, তা আল্লাহর আনুগত্যের অনুগামী মাত্র। আপনারা কি দেখেননি মহান আল্লাহ বলছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলুল আমুর (কর্তৃত্বশীল) তাদেরও।} [সূরা নিসা: ৫৯]। এখানে উলুল আমুর বা কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিদের কথা শ্রবণ ও আনুগত্য করা আপনার ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে যতক্ষণ তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের অনুগামী থাকে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন, তারা বললেন: (আপনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র)। তখন তিনি বললেন: (তোমরা তোমাদের কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, শয়তান যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে)। এরপর তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন একমাত্র সার্বভৌম প্রভু)।

সুতরাং নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব কেবল মহান আল্লাহর জন্যই; কারণ তিনিই হলেন একমাত্র স্রষ্টা, রিজিকদাতা, পরিচালক, সার্বভৌম কর্তা, আদেশদাতা, নিষেধকারী এবং আনুগত্যের একমাত্র অধিকারী।

এটি তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যার সাথে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌توحيد الألوهية

أما توحيد الألوهية أو توحيد الإلهية: فهو توحيد القصد والطلب، أو هو توحيد الله بأفعال العباد، أو هو توحيد العبادة، وهو إفراد الله جل في علاه بالعبادة، فكل عبادة ثبت بالشرع أنها عبادة لله جل في علاه فلا تصرفها لغير الله جل في علاه، فالذبح والنذر والتوكل والإنابة كل ذلك لا تصرفه إلا لله وحده لا شريك له.

فهذا هو مجمل توحيد الإلهية، وتوحيد الإلهية هو الذي من أجله ميز الله بين الكافرين وبين المؤمنين، فأهل الجاهلية كانوا يقرون بربوبية الله جل في علاه، قال الله تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [لقمان:25] وقال سبحانه: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [الزخرف:87]، فأقروا بربوبية الله جل في علاه لكن نازعوا في الإلهية وقالوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص:5]؛ ولذلك أرسل الله جل في علاه الرسل من أجل التمايز بين الناس في توحيد الإلهية، قال الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ} [النحل:36] وهذا توحيد العبادة.

ولقد بين الله جل في علاه أنه ما أرسل من رسول إلا ليدل على توحيده جل في علاه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56]، فأهل الإلحاد ومشركي العرب ما كفروا إلا بتوحيد الإلهية.
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ

আর তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বা তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ হলো: সংকল্প ও প্রার্থনার একত্ববাদ, অথবা বান্দার কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ প্রকাশ করা, অথবা এটি ইবাদতের তাওহীদ। আর তা হলো সুউচ্চ মহান আল্লাহকে ইবাদতে একক করা। সুতরাং শরীয়তের মাধ্যমে যে কাজই ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করা যাবে না। অতএব পশু জবাই, মানত, তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) এবং ইনাবাহ (প্রত্যাবর্তন)—এসবের কোনোটিই লা-শরীক একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য করা যাবে না।

এটিই হলো তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর সারসংক্ষেপ। আর এই তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর কারণেই আল্লাহ কাফির ও মুমিনদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা সুউচ্চ মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) স্বীকার করত। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে, কে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ।" [লোকমান: ২৫]। তিনি আরও বলেন: "আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ।" [যুখরুফ: ৮৭]। তারা সুউচ্চ মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত স্বীকার করত ঠিকই, কিন্তু ইলাহিয়্যাত তথা উপাস্য হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক করত এবং বলত: "সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে একজন মাত্র উপাস্য সাব্যস্ত করেছে? এটি তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!" [সোয়াদ: ৫]। আর এ কারণেই সুউচ্চ মহান আল্লাহ তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো।" [নাহল: ৩৬]। আর এটিই হলো ইবাদতের তাওহীদ।

সুউচ্চ মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো রাসূলকেই প্রেরণ করেননি তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদের দিকে নির্দেশনা প্রদান করা ব্যতীত: "আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [যারিয়াত: ৫৬]। সুতরাং নাস্তিক সম্প্রদায় এবং আরবের মুশরিকরা কেবল তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর কারণেই কুফরি করেছিল।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌العلاقة بين توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية وأدلة ذلك

إن العلاقة بين توحيد الربوبية وتوحيد الإلهية هي علاقة استلزام، أي: أن توحيد الربوبية يستلزم توحيد الإلهية، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} [البقرة:21] هذا توحيد إلهية، ثم قال: {الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ} [البقرة:21 - 22]، وهذا هو اللازم، وهو الخلق للإنسان والأرض والسماء، وكأن الله جل وعلا يقول للناس: طالما أنتم أقررتم بربوبية الله، وبأن الله هو الذي خلقكم وخلق الأرض والسماء ورزقكم، فيلزمكم بهذا الإقرار أن تفردوه بالعبادة.

إذاً: فالربوبية تستلزم الإلهية، والأدلة على ذلك من الكتاب كثيرة.

فالله جل في علاه أراد أن يلزم الخصم بما أقر به، وقد ذكرت في (شرح المهذب): أن هذه قاعدة استنبطها العلماء وهي: رد المخالف إلى الأمر المتفق عليه، وإلزامه به.

فألزمهم الله بما سلموا به وهو الربوبية في المختلف فيه الذي هو الإلهية، فقال الله جل في علاه مبيناً ذلك في سورة النمل: {أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَئِلَهٌ مَعَ اللَّهِ} [النمل:60]، فصدَّر الآية بالخلق، فيستلزم من الخلق ألا يكون هناك إله مع الله، فلابد أن تفردوه بالعبادة.

وأيضاً في سورة المؤمنون قال الله تعالى: {قُلْ لِمَنِ الأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَذَكَّرُونَ} [المؤمنون:84 - 85]، فالله جل وعلا يبين لهم أن الذي يملك من في السماوات ومن في الأرض لابد أن تفردوه بالعبادة.

وأيضاً في الآية الثانية قال: {قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَتَّقُونَ} [المؤمنون:86 - 87] والتقوى هي توحيد عبادة.

والمشركون مع إشراكهم في الإلهية قد أخبر الله أنهم إذا مسهم الضر في الفلك دعوا الله مخلصين له الدين، فهم يدعون الله من دون الشركاء.

فالذين أقروا بالربوبية لم يقبل الله منهم إقرارهم بالربوبية حتى يقروا بتوحيد الإلهية.
তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে উলুহিয়্যাহ-র মধ্যকার সম্পর্ক এবং এর প্রমাণাদি

নিশ্চয়ই তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে ইলাহিয়্যাহ-র মধ্যকার সম্পর্ক হলো অনিবার্যতার সম্পর্ক; অর্থাৎ, তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ তাওহীদে ইলাহিয়্যাহকে অনিবার্য করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো" [আল-বাকারা: ২১]। এটি হলো তাওহীদে ইলাহিয়্যাহ। এরপর তিনি বলেছেন: "যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা ও আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন..." [আল-বাকারা: ২১-২২]। আর এটিই হলো দলিল বা অনিবার্য বিষয়, যা হলো মানুষ, পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করা। যেন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা মানুষদের বলছেন: যেহেতু তোমরা আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিয়েছ এবং মেনে নিয়েছ যে আল্লাহই তোমাদেরকে এবং পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে রিযিক দিয়েছেন, সেহেতু এই স্বীকৃতির দাবি হলো তোমাদের ওপর এটি আবশ্যক যে তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে।

সুতরাং, রুবুবিয়্যাহ ইলাহিয়্যাহকে অনিবার্য করে। আর কুরআনে এর বহু প্রমাণ রয়েছে।

আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহ্ বিরোধীদেরকে তারা যা স্বীকার করেছে তার মাধ্যমে নিরুত্তর করতে চেয়েছেন। আমি 'শরহুল মুহাযযাব'-এ উল্লেখ করেছি যে, এটি একটি মূলনীতি যা আলেমগণ উদ্ভাবন করেছেন, আর তা হলো: বিরোধীকে সেই বিষয়ে ফিরিয়ে আনা যে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত, এবং তার মাধ্যমে তাকে সত্য গ্রহণে বাধ্য করা।

তাই আল্লাহ তাদের ওপর সেই বিষয়ের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন যা তারা মেনে নিয়েছিল—অর্থাৎ রুবুবিয়্যাহ—সেই বিতর্কিত বিষয়ে যা নিয়ে তারা মতভেদ করত—অর্থাৎ ইলাহিয়্যাহ। আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহ্ সূরা আন-নামলে এটি স্পষ্ট করে বলেছেন: "নাকি তিনি, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যার মাধ্যমে আমি মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছি; যার বৃক্ষাদি উৎপাদন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে?" [আন-নামল: ৬০]। তিনি আয়াতের শুরুতে সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন; আর এই সৃষ্টি করার বিষয়টি অনিবার্য করে তোলে যে আল্লাহর সাথে আর কোনো ইলাহ থাকবে না, তাই তোমাদের অবশ্যই একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে।

এছাড়াও সূরা আল-মু'মিনুনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলো, এই পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার? যদি তোমরা জানো। তারা বলবে, আল্লাহর। বলো, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?" [আল-মু'মিনুন: ৮৪-৮৫]। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাদের নিকট স্পষ্ট করছেন যে, যিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক, অবশ্যই তোমাদের একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে।

আবার পরবর্তী আয়াতে তিনি বলেছেন: "বলো, সাত আসমানের রব এবং মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহ। বলো, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?" [আল-মু'মিনুন: ৮৬-৮৭]। আর তাকওয়া হলো ইবাদতের তাওহীদ।

মুশরিকরা ইলাহিয়্যাহর ক্ষেত্রে শিরক করা সত্ত্বেও আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা যখন সমুদ্রে বিপদে পড়ে, তখন তারা একমাত্র আল্লাহর নিকটই একনিষ্ঠভাবে দোয়া করে। অর্থাৎ তারা তখন তাদের শরিকদের বাদ দিয়ে শুধু আল্লাহকেই ডাকে।

সুতরাং যারা রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিয়েছিল, আল্লাহ তাদের সেই রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না তারা তাওহীদে ইলাহিয়্যাহর স্বীকৃতি প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌قواعد مهمة تتعلق بتوحيد الألوهية مع الأمثلة

لما كان توحيد الإلهية من الأهمية بمكان اخترنا كتاباً مهماً يتكلم عن هذه المسألة، وهو كتاب (المسائل التي خالف فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل الجاهلية).

وسنأخذ مختارات مهمة جداً مركزة في توحيد الإلهية من هذا الكتاب، وقبل أن أبدأ في الكلام على الجاهلية والفرق بينها وبين الإسلام أقعد قواعد مهمة؛ لأن كل مسائل التوحيد الإلهية ستتعلق بها.

القاعدة الأولى: كل ما ثبت في الشرع أنه عبادة فصرفه لله توحيد، وصرفه لغير الله شرك.

يعني: أن كل عبادة ثبت في الشرع أنها عبادة فصرفها لله من كمال التوحيد، بل من أصل التوحيد، وصرفها لغير الله من الشرك بمكان، فمثلاً: الذبح عبادة، والدليل قوله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر:2]، وجه الدلالة على أنه عبادة أن قوله: ((وَانْحَرْ)) أمر، والله جل وعلا لا يأمر إلا بما يحب، والعبادة: هي اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه.

ووجه الدلالة أيضاً أن النحر اقترن بالصلاة، والصلاة عبادة، فكذلك النحر، لكن دلالة الاقتران يمكن أن ينازع فيها؛ لأنها دلالة ضعيفة، وعلى كل الاستدلال الأول لا منازع فيه، فالنحر عبادة؛ لأن الله لا يأمر إلا بما يحب، فإذا ثبت في الشرع أنها عبادة، فصرفها لله توحيد، وصرفها لغير الله شرك، فمن ذبح لغير الله فقد أشرك، من ذبح للبدوي أو لـ عبد القادر الجيلاني، أو لـ أبي العباس، أو لـ أبي الدرداء أو للأولياء فقد أشرك، ومن أفرد الذبح لله جل في علاه فقد وحد.

مثال آخر على القاعدة الأولى: النذر عبادة، فصرفها لله توحيد، وصرفها لغير الله شرك، والدليل على أن النذر عبادة قوله تعالى: {وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} [الحج:29].

وجه الدلالة: أن الله مدح الوفاء بالنذر في الآية، والله لا يمتدح إلا العبادة، سواء كانت مستحبة أو واجبة، فهنا ثبت بالشرع أنها عبادة، فصرفها لله توحيد وصرفها لغير الله شرك، فالنذر للسيدة زينب مثلاً عند نجاح الابن شرك؛ لأنه صرف عبادة لغير الله، لكن من نذر لله جل وعلا أن يصوم إذا نجح ابنه، فهذا النذر توحيد؛ لأنه صرفه لله جل في علاه.

القاعدة الثانية: من اتخذ سبباً لم يشرعه الله سبباً مع تمام اعتقاده في الله، فقد أشرك شركاً أصغر، ومن اعتقد في السبب فقد أشرك شركاً أكبر.

ونذكر مثالاً على هذه القاعدة لتتضح، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (تداووا عباد الله ولا تتداووا بحرام)، والحديث صحيح.

فهنا شرع الله لنا التداوي، وجعل له سببين: سبباً شرعياً، وسبباً طبياً وهو السبب المجرب، والسبب الشرعي هو الرقية الشرعية، قال الله تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [الإسراء:82] فمن اعتقد أن الله جل في علاه هو الذي يشفي، وليس القرآن ذاته، فقد وحد الله؛ لأنه أخذ بشرع الله، واعتقد اعتقاداً جازماً بأن الله جل وعلا هو النافع الضار سبحانه وتعالى، فهذه الأسباب التي شرعها الله.

وأما الأسباب التي لم يشرعها الله جل في علاه، فذلك مثل: الرجل الذي يجعل صوفة في يده وهذه الصوفة لا تشفي طبياً، فيعتقد أن هذه الصوفة سبب من الأسباب التي يستشفي بها عند المرض، فهذه الصوفة لم يشرعها الله جل في علاه، ولم يجعلها سبباً للشفاء، فمن اتخذها سبباً فقد خالف الشرع، ووقع في الشرك الأصغر لا الأكبر.

وأما سبب كونها شركاً؛ فلقول الله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى:21]، فيكون قد وقع في الشرك الأصغر، أو في بدعة وهي ذريعة للشرك، وليست شركاً أكبر؛ لأنه يعتقد أن النافع والضار هو الله، لكن لو اعتقد أن الصوفة تشفيه فقد اعتقد في غير الله ما لا يصح أن يكون إلا لله، فيكون واقعاً في الشرك الأكبر.

ومثل ذلك من يضع شيئاً على الحصان، ويقول: إنها تدفع العين، فإذا اعتقد أنه يدفع العين فهذا انتقل من الشرك الأصغر إلى الشرك الأكبر، لكن لو قال هو سبب لرد العين، والله هو الذي يتحكم في ذلك، فقد أشرك شركاً أصغر؛ لأنه اتخذ سبباً لم يشرعه الله جل في علاه.

مثال آخر: لو أن رجلاً ذبح على السيارة الجديدة ذبيحة دفعاً للعين، وقال: أنا أفرقها لله جل في علاه، فلو قال: ذبحنا لله ولدفع العين، فقد اعتقد أن النافع والضار هو الله جل في علاه، ولكنه اتخذ سبباً لم يشرعه الله لدفع العين، فالله شرع لدفع العين الرقية بالمعوذات، أو التبرك، بأن يقول إذا رأى ما يعجبه: بارك الله لك فيما رزقك، كما ورد في حديث صحيح: (أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر الذي يخشى أن يعين غيره أن يدعو بالبركة).

فلم يشرع الذبح لدفع العين، فمن فعله وهو يعتقد أن هذا سبب من الأسباب التي يدفع الله بها الحسد، فقد وقع في الشرك الأصغر؛ لأنه اتخذ سبباً لم يشرعه الله جل في علاه.
‌তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের একত্ববাদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূলনীতি ও উদাহরণ

যেহেতু তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ বা ইবাদতের একত্ববাদ অত্যন্ত গুরুত্ববহ, তাই আমরা এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব নির্বাচন করেছি, আর তা হলো— (আল-মাসাইলুল্লাতী খালাফা ফিহা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহলাল জাহিলিয়্যাহ—অর্থাৎ জাহিলিয়াত যুগের লোকদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন)।

আমরা এই কিতাব থেকে তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট কিছু অংশ গ্রহণ করব। জাহিলিয়াত এবং ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি স্থির করছি; কারণ তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর সমস্ত মাসআলা এর সাথেই সম্পৃক্ত।

প্রথম মূলনীতি: শরিয়তে যা কিছু ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য করা 'তাওহীদ' এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য করা 'শিরক'।

অর্থাৎ: শরিয়তে যে কাজই ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা আল্লাহর জন্য পালন করা তাওহীদের পূর্ণতা, বরং তাওহীদের মূল ভিত্তি। আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নিবেদন করা চরম শিরক। উদাহরণস্বরূপ: পশু জবাই বা কুরবানি করা একটি ইবাদত। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন} [সূরা কাওসার: ২]। এখানে ইবাদত হওয়ার প্রমাণ হলো, তাঁর বাণী: ((কুরবানি করুন)) একটি নির্দেশ। আর মহান আল্লাহ কেবল তা-ই নির্দেশ দেন যা তিনি ভালোবাসেন। আর ইবাদত হলো: এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সব কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আরও একটি প্রমাণের দিক হলো, কুরবানিকে সালাতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, আর সালাত একটি ইবাদত, তাই কুরবানিও ইবাদত। তবে অনুষঙ্গ বা যুক্ত করার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকতে পারে; কারণ এটি একটি দুর্বল প্রমাণ। যা-ই হোক, প্রথম দলিলটির ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। সুতরাং কুরবানি একটি ইবাদত; কারণ আল্লাহ কেবল তা-ই নির্দেশ দেন যা তিনি ভালোবাসেন। যখন শরিয়তে এটি ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হলো, তখন তা আল্লাহর জন্য করা তাওহীদ এবং অন্য কারও জন্য করা শিরক। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে পশু জবাই করল, সে শিরক করল। যে ব্যক্তি বদভী, আব্দুল কাদির জিলানী, আবুল আব্বাস, আবু দারদা অথবা ওলীদের নামে পশু জবাই করল, সে শিরক করল। আর যে ব্যক্তি কেবল মহান সুউচ্চ আল্লাহর উদ্দেশ্যেই কুরবানি করল, সে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করল।

প্রথম মূলনীতির আরেকটি উদাহরণ: মানত করা একটি ইবাদত। সুতরাং তা আল্লাহর জন্য করা তাওহীদ এবং অন্য কারও জন্য করা শিরক। মানত যে ইবাদত তার দলিল হলো আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যেন তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন গৃহের (কাবা) তাওয়াফ করে} [সূরা হজ: ২৯]।

প্রমাণের দিক হলো: আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে মানত পূর্ণ করার প্রশংসা করেছেন। আর আল্লাহ কেবল ইবাদতেরই প্রশংসা করেন, তা মুস্তাহাব হোক বা ওয়াজিব। সুতরাং এখানে শরিয়ত দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে এটি একটি ইবাদত। অতএব তা আল্লাহর জন্য করা তাওহীদ এবং অন্য কারও জন্য করা শিরক। যেমন, সন্তানের সফলতায় সায়্যিদা যায়নাবের নামে মানত করা শিরক; কারণ এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও উদ্দেশ্যে ইবাদত নিবেদন। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এই মানত করল যে, তার সন্তান সফল হলে সে রোজা রাখবে, তবে এই মানত তাওহীদ; কারণ সে তা মহান সুউচ্চ আল্লাহর জন্যই নিবেদন করেছে।

দ্বিতীয় মূলনীতি: যে ব্যক্তি এমন কিছুকে মাধ্যম (সাবাব) হিসেবে গ্রহণ করল যা আল্লাহ মাধ্যম হিসেবে শরিয়তসম্মত করেননি, অথচ আল্লাহর ওপর তার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে—সে ছোট শিরক (শিরক আসগর) করল। আর যে ব্যক্তি সেই মাধ্যমের ওপর (নিজস্ব ক্ষমতার) বিশ্বাস রাখল, সে বড় শিরক (শিরক আকবর) করল।

এই মূলনীতিটি স্পষ্ট করার জন্য আমরা একটি উদাহরণ দিচ্ছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো, তবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করো না), হাদীসটি সহীহ।

এখানে আল্লাহ আমাদের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করাকে বৈধ করেছেন এবং এর দুটি মাধ্যম রেখেছেন: একটি শরয়ী মাধ্যম এবং একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত মাধ্যম যা পরীক্ষিত। শরয়ী মাধ্যম হলো শরয়ী রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক)। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমি কোরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা বা আরোগ্য এবং রহমত} [সূরা ইসরা: ৮২]। সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে মহান সুউচ্চ আল্লাহই আরোগ্য দান করেন, খোদ কোরআন নয়, সে ব্যক্তি আল্লাহর তাওহীদ রক্ষা করল; কারণ সে আল্লাহর বিধান গ্রহণ করেছে এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছে যে কেবল আল্লাহই উপকার ও অপকার করার মালিক। এগুলি হলো সেই মাধ্যম যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেছেন।

আর যেসব মাধ্যম মহান আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি, তার উদাহরণ হলো: যেমন কোনো ব্যক্তি তার হাতে একটি পশমি সুতো বাঁধল, অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সুতোর কোনো রোগ নিরাময় ক্ষমতা নেই। সে বিশ্বাস করল যে এই সুতোটি অসুস্থতার সময় আরোগ্য লাভের একটি মাধ্যম। এই সুতোটি আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি এবং একে আরোগ্যের মাধ্যমও বানাননি। সুতরাং যে একে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করল, সে শরিয়তের বিরোধিতা করল এবং ছোট শিরকে লিপ্ত হলো, বড় শিরকে নয়।

এটি শিরক হওয়ার কারণ হলো আল্লাহর বাণী: {তবে কি তাদের এমন কিছু অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [সূরা শূরা: ২১]। এমতাবস্থায় সে ছোট শিরকে বা বিদআতে লিপ্ত হলো যা শিরকের একটি পথ, কিন্তু এটি বড় শিরক নয়; কারণ সে বিশ্বাস করে যে উপকার ও অপকার করার মালিক আল্লাহ। কিন্তু সে যদি বিশ্বাস করত যে এই সুতোই তাকে আরোগ্য দান করে, তবে সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের মধ্যে এমন গুণ সাব্যস্ত করল যা কেবল আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে সে বড় শিরকে লিপ্ত হতো।

অনুরূপভাবে যারা ঘোড়ার ওপর কিছু ঝুলিয়ে রাখে এবং বলে যে এটি নজর (কু-দৃষ্টি) ঠেকাবে। সে যদি বিশ্বাস করে যে এটিই নজর ঠেকায়, তবে সে ছোট শিরক থেকে বড় শিরকে স্থানান্তরিত হলো। কিন্তু যদি সে বলে এটি নজর ফেরানোর একটি মাধ্যম মাত্র, আর আল্লাহই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে সে ছোট শিরক করল; কারণ সে এমন মাধ্যম গ্রহণ করেছে যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি।

অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি নতুন গাড়ির ওপর নজর থেকে বাঁচার জন্য পশু জবাই করে এবং বলে: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এটি বণ্টন করছি। সে যদি বলে: আমরা আল্লাহর জন্যই এবং নজর থেকে বাঁচার জন্য জবাই করেছি, তবে সে বিশ্বাস করল যে উপকার ও অপকার করার মালিক কেবল আল্লাহ। কিন্তু সে নজর থেকে বাঁচার জন্য এমন একটি মাধ্যম গ্রহণ করল যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি। কারণ আল্লাহ নজর থেকে বাঁচার জন্য মাউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) দিয়ে রুকইয়াহ করা বা বরকতের দোয়া করার বিধান দিয়েছেন। যেমন কোনো পছন্দনীয় কিছু দেখলে বলবে: আল্লাহ তোমার রিজিকে বরকত দিন। সহীহ হাদীসে এসেছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, যার দ্বারা অন্যের নজর লাগার ভয় থাকে, সে যেন বরকতের দোয়া করে)।

সুতরাং নজর থেকে বাঁচার জন্য পশু জবাই করার বিধান দেওয়া হয়নি। তাই যে ব্যক্তি এটি করল এবং বিশ্বাস করল যে এটি আল্লাহ কর্তৃক নজর বা হিংসা দূর করার একটি মাধ্যম, সে ছোট শিরকে লিপ্ত হলো; কারণ সে এমন মাধ্যম গ্রহণ করেছে যা মহান সুউচ্চ আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مفهوم الجاهلية وأقسام الجهل

إن الجاهلية مشتقة من الجهل، والجهل هو ضد العلم، وكفى بالجاهلية والجهل ذماً أن صاحبهما لا يقبل أن تسمه بالجهل حتى وإن كان جاهلاً؛ لأنه مذمة، أما العلم فهو ممدحة، وكفى بالعلم فخراً أن تشرئب أعناق الجهال إليه ليوصفوا بالعلم.

والجهل ثلاثة أقسام: جهل بسيط، وجهل مركب، وجهالة.

القسم الأول: الجهل البسيط: وهو عدم العلم بالشيء، فلو أن رجلاً من أدغال إفريقيا نشأ ببادية بعيدة ثم أسلم فقلت له: أتعرف أن الله قد فرض خمس صلوات في اليوم والليلة؟ قال: نعم، ولو قلت له: أتعرف أن هناك صلاة تسمى صلاة الظهر؟ لقال: نعم، فتسأله: كم ركعة في صلاة الظهر؟ فقال لك: لا أعلم، فهذا جهل بسيط؛ لأنه لا يعلم شيئاً فقال: لا أعلم، فهذا يمكن أن تعلمه وتقول له: الظهر أربع ركعات.

القسم الثاني: الجهل المركب، وهو التصور الخاطئ للأشياء مع اعتقاد أن تصوره صحيح، فعنده علم مخالف للعلم الصحيح.

فلو جئت إلى رجل أعرابي جلف فسألته: هل أنت عالم؟ يقول: أنا أعلم أهل الأرض، فتقول له: صلاة الظهر كم ركعة؟ فيقول لك: هذا السؤال الذي أتعبت نفسك لتسألني إياه؟! الظهر سبع ركعات.

وهذا يذكرنا بحمار الحكيم توما، وكان هذا الرجل دائماً يزعم أنه حكيم، ويفتي بالخطأ دائماً، فالحمار لم يحتمل هذه الفتوى المزعومة، فقالوا على لسانه: قال حمار الحكيم توما لو أنصف الناس كنت أركبْ لأنني جاهل بسيط وصاحبي جاهل مركَّبْ القسم الثالث: الجهالة، هي العلم بالشيء والتطبيق الخطأ له، وذلك كأن تعلم أن المعصية حرام، التطبيق الصحيح لهذا العلم أن تجتنب هذه المعصية، فإن ارتكبت المعصية فهذه جهالة، فلو كنت تعلم أن النظر إلى المرأة الأجنبية العارية حرام فنظرت، فهذا النظر يعتبر منك جهالة؛ لأنك تعلم أنه حرام وارتكبته، وأدل ما يكون على ذلك من كتاب الله قول الله تعالى: {كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ} [الأنعام:54] إلى أن قال: {مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأنعام:54]، يعني: أنه علم أنه سوء ثم فعله، فيسمى عاملاً للسوء بجهالة.

وأما معنى الجاهلية في الاصطلاح: فهي ما كان عليه الناس من محادة لدين الله جل في علاه قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، أو هي الحالة التي تكون عليها أمة من الأمم قبل الهدي الإلهي، والبشارة والرحمة النبوية لها.

وهذه الحالة كانت في الأمة التي جاءها النبي صلى الله عليه وسلم، فخالفت أمر النبي وشرعه صلى الله عليه وسلم من كل وجه.

والجهالة جهالتان: جهالة عامة، وجهالة خاصة، أو جهالة مطلقة وجهالة مقيدة، فالجهالة المطلقة هي: مخالفة الشرع من كل وجه، ومحادة دين الله جل في علاه من كل وجه، وهذه الجهالة المطلقة هي جهالة أهل الكفر الذين كانوا قبل النبي صلى الله عليه وسلم، أو أهل الفترة الذين كانوا قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم.

وأما الجهالة المقيدة: فهي مشابهة أهل الإسلام لأهل الشرك بعد بعثة النبي صلى الله عليه وسلم في بعض الأفعال، مثال ذلك: النياحة على الميت، فهذه فيها مشابهة لأخلاقيات الجاهلية الجهلاء التي كانت قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، وما زالت عند النساء في هذه الأوقات، في لطم الخدود، وشق الجيوب، والنياحة على الميت، وكذلك الفخر بالأحساب والطعن في الأنساب.

وأدل ما يكون على الجهالة المقيدة: حديث أبي ذر رضي الله عنه وأرضاه، وذلك عندما قال لـ بلال: (يا ابن السوداء! فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: أعيرته بأمه؟ إنك امرئ فيك جاهلية).

فوسمه بهذه الجاهلية؛ لأنها مثل جاهلية أهل الشرك قبل الإسلام، وهذه الجاهلية معصية وليست بشرك.
জাহিলিয়াতের ধারণা ও মূর্খতার প্রকারভেদ

নিশ্চয়ই জাহিলিয়াত শব্দটি জাহল বা মূর্খতা থেকে উদ্ভূত। মূর্খতা হলো ইলম বা জ্ঞানের বিপরীত। জাহিলিয়াত ও মূর্খতার নিন্দার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, একজন মূর্খ ব্যক্তিও তাকে মূর্খ হিসেবে আখ্যায়িত করা পছন্দ করে না, যদিও সে প্রকৃতপক্ষে মূর্খ; কারণ এটি একটি নিন্দনীয় গুণ। পক্ষান্তরে জ্ঞান একটি প্রশংসনীয় বিষয়, আর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, মূর্খরাও জ্ঞানের দিকে ঘাড় উঁচিয়ে তাকায় যাতে তাদেরকে জ্ঞানী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

মূর্খতা তিন প্রকার: সরল মূর্খতা, জটিল মূর্খতা এবং জাহালাহ বা আচরণগত মূর্খতা।

প্রথম প্রকার: সরল মূর্খতা: এটি হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। উদাহরণস্বরূপ, যদি আফ্রিকার গহীন জঙ্গল থেকে আসা কোনো ব্যক্তি কোনো প্রত্যন্ত মরু অঞ্চলে বেড়ে ওঠে এবং এরপর ইসলাম গ্রহণ করে, আর আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন: আপনি কি জানেন যে আল্লাহ দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন? সে বলবে: হ্যাঁ। যদি আপনি তাকে বলেন: আপনি কি জানেন যে যোহর নামক একটি সালাত আছে? সে বলবে: হ্যাঁ। এরপর আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন: যোহর সালাতে কত রাকাত? সে বলবে: আমি জানি না। এটিই হলো সরল মূর্খতা; কারণ সে বিষয়টি সম্পর্কে জানে না এবং বলছে যে সে জানে না। তাকে আপনি শিক্ষা দিতে পারেন এবং বলতে পারেন: যোহর চার রাকাত।

দ্বিতীয় প্রকার: জটিল মূর্খতা। এটি হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করা এবং সেই সাথে বিশ্বাস করা যে তার সেই ধারণাই সঠিক। অর্থাৎ তার কাছে সঠিক জ্ঞানের বিপরীত একটি ধারণা বিদ্যমান রয়েছে।

যেমন, আপনি যদি একজন রূঢ় মরুবাসীর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন: আপনি কি একজন জ্ঞানী? সে বলবে: আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। আপনি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: যোহর সালাত কত রাকাত? সে আপনাকে বলবে: এই প্রশ্নের জন্যই কি আপনি এত কষ্ট করে আমাকে জিজ্ঞেস করতে এসেছেন?! যোহর সাত রাকাত।

এটি আমাদের হাকীম তুমার গাধার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই লোকটি সর্বদা নিজেকে বিজ্ঞ দাবি করত এবং সবসময় ভুল ফতোয়া দিত। সেই গাধাটি এই স্বঘোষিত ফতোয়া সহ্য করতে না পেরে তার ভাষায় লোকে বলত: হাকীম তুমার গাধা বলেছে, যদি মানুষেরা ন্যায়বিচার করত তবে আমিই আরোহী হতাম, কারণ আমি হলাম সরল মূর্খ আর আমার মালিক হলো জটিল মূর্খ।

তৃতীয় প্রকার: জাহালাহ (আচরণগত মূর্খতা)। এটি হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও তার ভুল প্রয়োগ করা। যেমন আপনি জানেন যে পাপাচার হারাম। এই জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ হলো সেই পাপাচার থেকে বিরত থাকা। কিন্তু আপনি যদি সেই পাপাচারটি করেন, তবে সেটিই হলো জাহালাহ। আপনি যদি জানেন যে পরনারীর দিকে তাকানো হারাম এবং এরপরও আপনি তাকান, তবে আপনার এই দৃষ্টিপাত আপনার পক্ষ থেকে জাহালাহ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ আপনি জানেন যে এটি হারাম এবং এরপরও আপনি তা করেছেন। আল্লাহর কিতাব থেকে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমাদের রব নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন" থেকে এই পর্যন্ত যে: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ জাহালাহ বশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তার পরে তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" অর্থাৎ, সে জানত যে এটি মন্দ কাজ, তবুও সে তা করেছে, তাই তাকে জাহালাহ বশত মন্দ কাজ সম্পাদনকারী বলা হয়।

আর পারিভাষিক অর্থে জাহিলিয়াতের পরিচয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরণের পূর্বে মানুষ মহান আল্লাহর দ্বীনের সাথে যে শত্রুতা ও বিরোধিতায় লিপ্ত ছিল তাকে জাহিলিয়াত বলে। অথবা এটি হলো ঐ অবস্থা যাতে কোনো জাতি ঐশ্বরিক হিদায়াত, সুসংবাদ ও নববী রহমত আসার পূর্বে অবস্থান করে।

এই অবস্থাটি সেই উম্মতের মধ্যেও ছিল যাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছিলেন, কিন্তু তারা সব দিক থেকে নবীর আদেশ ও শরয়ি বিধানের বিরোধিতা করেছিল।

জাহালাহ দুই প্রকার: সাধারণ জাহালাহ ও বিশেষ জাহালাহ, অথবা নিরঙ্কুশ জাহালাহ ও আপেক্ষিক জাহালাহ। নিরঙ্কুশ জাহালাহ হলো: সব দিক থেকে শরয়ি বিধানের বিরোধিতা করা এবং সব দিক থেকে মহান আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করা। এই নিরঙ্কুশ জাহালাহ হলো কুফরের অনুসারীদের জাহালাহ যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বে ছিল অথবা ঐ সময়ের লোক যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরণের পূর্ববর্তী সন্ধিক্ষণে ছিল।

আর আপেক্ষিক জাহালাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরণের পর মুসলিমদের কোনো কোনো কাজে মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য রাখা। উদাহরণস্বরূপ: মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা। এটি জাহিলিয়াতের সেই অন্ধকার যুগের আচরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরণের পূর্বে ছিল এবং বর্তমান সময়েও নারীদের মাঝে গাল চাপড়ানো, জামার কলার ছিঁড়ে ফেলা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করার মাধ্যমে বিদ্যমান রয়েছে। একইভাবে আভিজাত্যের বড়াই করা এবং বংশমর্যাদা নিয়ে কটাক্ষ করা।

আপেক্ষিক জাহালাহর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস। তিনি যখন বিলালকে বলেছিলেন: "হে কৃষ্ণাঙ্গ নারীর সন্তান!" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তুমি কি তাকে তার মা নিয়ে গালি দিলে? তুমি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে জাহিলিয়াত বিদ্যমান।"

নবীজি তাকে জাহিলিয়াতের এই গুণে চিহ্নিত করেছেন কারণ এটি ইসলামপূর্ব মুশরিকদের জাহিলিয়াতের মতো ছিল। আর এই জাহিলিয়াত একটি পাপাচার, এটি শিরক নয়।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌نصوص نبوية تحض على مخالفة أهل الجاهلية

لقد أمرنا الله بالفرار من هذه الجاهلية، سواء الجاهلية المطلقة أو الجاهلية المقيدة؛ حتى نتقن التوحيد ونتمه، وذلك في قوله صلى الله عليه وسلم: (من تشبه بقوم فهو منهم)، وفي رواية أخرى: (نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس، ونهى عن الصلاة بعد الفجر حتى تشرق الشمس)، والعلة كما قال النبي صلى الله عليه وسلم في نهاية الحديث: (فيسجد آنذاك أهل الكفر للشمس في هذا الوق).

ويقيناً أن المؤمن الذي يصلي بعد العصر أنه يسجد لله لا للشمس، ومع ذلك نهاه النبي صلى الله عليه وسلم؛ حتى لا يشابه أفعال أهل الجاهلية.

وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم عن صبغ الشعر: (حمروا أو صفروا، وخالفوا أهل الكتاب)، يعني: في اللحية البيضاء، فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالتحمير والتصفير؛ لأن أهل الكتاب لا يصبغون، فقال: اصبغوا مخالفة لأهل الكتاب.

وأيضاً في حديث أبي أمامة بسند حسن (أن بعض الصحابة قالوا: يا رسول الله إن اليهود يتسرولون ولا يتزرون، فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: تسرولوا واتزروا)، مخالفة لأهل الكتاب.

وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم: (صلوا في نعالكم؛ فإن أهل الكتاب لا يصلون في نعالهم).

وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم منكراً على من يتبع أهل الشرك من اليهود والنصارى وغيرهم في أفعالهم: (لتتبعن سنن الذين من قبلكم حذو القذة بالقذة)، وفي رواية أخرى قال: (شبراً بشبر، وذراعاً بذراع، حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه).

وقال الله تعالى محذراً نبيه، وبالتالي محذراً الأمة: {وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ} [البقرة:145]، فبمخالفة أهل الجاهلية يتم لنا التوحيد ويكمل.

أقول قولي هذا، وأستغفر الله لي ولكم.
জাহেলিয়াতের অনুসারীদের বিরোধিতার প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী নববী বাণীসমূহ

মহান আল্লাহ আমাদের এই জাহেলিয়াত থেকে পলায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিরঙ্কুশ জাহেলিয়াত হোক বা সীমিত জাহেলিয়াত হোক; যেন আমরা তাওহীদকে সুনিপুণ ও পূর্ণাঙ্গ করতে পারি। আর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে স্পষ্ট: (যে ব্যক্তি কোনো জাতির সদৃশতা অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত), এবং অন্য বর্ণনায় এসেছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর সূর্য ডোবা পর্যন্ত এবং ফজর পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন)। এর কারণ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসের শেষে বলেছেন: (কেননা সেই সময়ে কুফর অবলম্বনকারীরা সূর্যের প্রতি সিজদাবনত হয়)।

এটি নিশ্চিত যে, কোনো মুমিন যখন আসরের পর সালাত আদায় করে, তখন সে আল্লাহর প্রতিই সিজদাবনত হয়, সূর্যের প্রতি নয়; তবুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা করতে নিষেধ করেছেন, যেন জাহেলিয়াতের অনুসারীদের কার্যাবলীর সাথে সাদৃশ্য তৈরি না হয়।

চুল বা দাড়ি রাঙানো সম্পর্কেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা লাল বা হলুদ করো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো), অর্থাৎ সাদা দাড়ির ক্ষেত্রে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল ও হলুদ রঙ করার নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ আহলে কিতাবরা চুলে রঙ করে না, তাই তিনি বলেছেন: আহলে কিতাবদের বিরোধিতার খাতিরে তোমরা রঙ করো।

আবু উমামাহ বর্ণিত হাসান সনদের একটি হাদীসে এসেছে (কিছু সাহাবী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদীরা পাজামা পরে কিন্তু লুঙ্গি বা ইজার পরে না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: তোমরা পাজামাও পরো এবং লুঙ্গিও পরো), আহলে কিতাবদের বিরোধিতার জন্য।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (তোমরা তোমাদের জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করো; কেননা আহলে কিতাবরা তাদের জুতা পরে সালাত আদায় করে না)।

এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা ইহুদী, নাসারা এবং অন্যান্য মুশরিকদের কার্যাবলীর অনুসরণ করে তাদের নিন্দা করে বলেছেন: (তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতিকে হুবহু অনুকরণ করবে), অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: (বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে)।

আর মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে এবং ফলশ্রুতিতে উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন: {আর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর তুমি যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো, তবে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল-বাকারা: ১৪৫]। সুতরাং জাহেলিয়াতের অনুসারীদের বিরোধিতার মাধ্যমেই আমাদের তাওহীদ সুসম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ হয়।

আমি আমার এই কথাই বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 18 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

সেসব বিষয় যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের লোকেদের বিরোধিতা করেছেন   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকীদা


বই: যেসব বিষয় যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের লোকেদের বিরোধিতা করেছেন

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৮টি পাঠ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مسائل خالف فيها رسول الله أهل الجاهلية -‌‌ صفة الحكمة لله عز وجل

من عقيدة أهل السنة والجماعة إثبات صفة الحكمة لله عز وجل من غير تكييف ولا تعطيل، فما من شيء يقدره الله سبحانه وتعالى إلا وله فيه الحكمة البالغة، فحكمته ظاهرة في كل شيء حتى في الابتلاءات التي تحصل لأنبيائه ورسله وأوليائه، ولم يقدح في حكمة الله جل وعلا إلا المنافقون قديماً وحديثاً، وشرذمة من أهل البدع والضلال.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের অধিবাসীদের যেসব বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন -‌‌ মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার (হিকমত) গুণ

মহান আল্লাহর জন্য কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে এবং একে অস্বীকার করা ব্যতিরেকে প্রজ্ঞার (হিকমত) গুণ সাব্যস্ত করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা কিছু নির্ধারণ করেন, তার প্রতিটি বিষয়েই তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞা নিহিত থাকে। তাঁর প্রজ্ঞা প্রতিটি বিষয় এমনকি তাঁর নবী, রাসূল ও ওলীদের ওপর আপতিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যেও সুস্পষ্ট। মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা কেবল প্রাচীন ও বর্তমান কালের মুনাফিক এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীই করেছে।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌إثبات صفة الحكمة لله عز وجل

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

(دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على رجل يسمى بـ أبي الحكم فسأله لِمَ تكنى بهذه الكنية؟ فقال: كانوا إذا اختصموا تحاكموا إلي فحكمت بينهم، فأيما كان حكمي أخذوا به، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: إن الله هو الحكم) أي: أن الله جل وعلا هو الذي له الحكم المطلق وله الحكمة البالغة.

ثم قال له: (ما اسم ابنك الكبير؟ قال: شريح؛ قال: أنت أبو شريح) وغير كنيته.

فنستدل بهذا الحديث على أن الاسم الذي يسمى به العبد إذا وافق اسم الله جل في علاه ولم يفرغ من المعنى فلا بد من تغيير هذا الاسم.

إن من صفات كمال الله جل في علاه أنه حكيم، وما من آية إلا وقرنت بين العلم والحكمة، وبين الحكمة والخبرة، فهو حكيم خبير عليم حكيم سبحانه جل في علاه.
মহান আল্লাহর জন্য হিকমত (প্রজ্ঞা) গুণটি সাব্যস্ত করা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম হিদায়াত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিদায়াত, আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দীনের মধ্যে নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করলেন যাকে আবু আল-হাকাম বলে ডাকা হতো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: কেন তোমাকে এই কুনিয়াত (উপনাম) দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: তারা যখন কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হতো তখন বিচারের জন্য আমার কাছে আসত, আর আমি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিতাম, এতে উভয় পক্ষই আমার ফয়সালা মেনে নিত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন 'আল-হাকাম' বা প্রকৃত ফয়সালাকারী) অর্থাৎ: মহান আল্লাহই হলেন সেই সত্তা যাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ ফয়সালা করার অধিকার এবং যাঁর রয়েছে সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা।

অতঃপর তিনি তাকে বললেন: (তোমার বড় ছেলের নাম কী? তিনি বললেন: শুরাইহ; তিনি বললেন: তাহলে তুমি হলে আবু শুরাইহ) এবং এভাবে তিনি তার কুনিয়াত পরিবর্তন করে দিলেন।

এই হাদীস থেকে আমরা এই দলিল গ্রহণ করি যে, বান্দার জন্য এমন কোনো নাম রাখা হলে যা সুউচ্চ মহান আল্লাহর নামের সাথে হুবহু মিলে যায় এবং আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট অর্থের ব্যাপকতা থেকে মুক্ত না হয়, তবে সেই নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক।

সুউচ্চ মহান আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো যে তিনি হাকীম (প্রজ্ঞাবান)। এমন কোনো আয়াত নেই বললেই চলে যেখানে আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মধ্যে অথবা তাঁর প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় করেননি। তিনি সুউচ্চ মহান সত্তা, তিনি প্রজ্ঞাবান, সম্যক অবগত এবং সর্বজ্ঞানী।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌معنى كونه جل وعلا حكيماً وله الحكمة البالغة

إن معنى أن الله جل في علاه هو الحكيم وله الحكمة البالغة، أي: أنه يضع الشيء في موضعه، فإن الله جل وعلا من تمام حكمته أنه يضع الصالح في مكان الصلاح، ويضع الطالح في مكان الفساد، فإن الله جل في علاه يفرق بين المختلفين ويسوي بين المتماثلين، وهذا من تمام وكمال حكمة الله جل في علاه.

والله جل في علاه له الحكمة التامة البالغة فيما يقدره سبحانه جل في علاه، فهو لم يقدر على المرء من بلايا ونوازل، ومن فرح وسرور، ومن تضييق وحزن إلا وله الحكمة البالغة سبحانه جل في علاه، فهو لا يخرج منه إلا الخير، ولا يقدر إلا الخير سبحانه جل في علاه، وما أمر أمراً إلا وفيه المصلحة الراجحة، وما نهى عن شيء إلا وفيه المفسدة الراجحة.

قال الله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا} [البقرة:219] أي: ما من شيء نهانا الله عن أن نقترب منه إلا وفيه المفسدة الراجحة، وما من أمر أمرنا به إلا وفيه المصلحة الراجحة.

وقال الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} [البقرة:222] أي: من النفع أن الرجل يتمتع ويقضي شهوته مع امرأته حتى لا ينظر إلى المحرم، لكن الأذى أعظم والفساد أعظم، فلحكمة الله جل في علاه نهى أن يأتي الرجل زوجته في حيضها، وأيضاً في الدبر كما في الحديث: (اتق الحيضة والدبر).

وقال تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ} [البقرة:220] أي: ما من أمر يأمر الله به إلا وفيه الخير كل الخير، وما من نهي ينهى عنه الله جل في علاه إلا وفيه الشر كل الشر، والمسألة تدور على الغالب.
মহান আল্লাহ্ ‘হাকিম’ (প্রজ্ঞাময়) হওয়ার এবং তাঁর সুনিপুণ প্রজ্ঞা থাকার অর্থ

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ ‘হাকিম’ হওয়ার এবং তাঁর সুনিপুণ প্রজ্ঞা থাকার অর্থ হলো: তিনি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেন। মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ এই যে, তিনি যোগ্য ব্যক্তিকে কল্যাণের স্থানে এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে ফাসাদ বা বিপর্যয়ের স্থানে রাখেন। মহান আল্লাহ্ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন এবং সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা করেন; এটি মহান আল্লাহর সুমহান ও পরিপূর্ণ প্রজ্ঞারই অংশ।

মহান আল্লাহ্ যা কিছু নির্ধারণ করেন, তাতে তাঁর পূর্ণাঙ্গ ও সুনিপুণ প্রজ্ঞা বিদ্যমান। মানুষের ওপর তিনি যে সকল বিপদ-আপদ, সুখ-শান্তি, সংকীর্ণতা ও দুঃখ-কষ্ট নির্ধারণ করেন, তার প্রতিটিতে মহান আল্লাহর সুনিপুণ প্রজ্ঞা রয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে কেবল কল্যাণই নির্গত হয় এবং তিনি কেবল কল্যাণই ফয়সালা করেন। তিনি যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তার মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য অকল্যাণ নিহিত রয়েছে।

আল্লাহ্ তায়ালা বলেন: "তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকার; কিন্তু এ দুটির পাপ এদের উপকার অপেক্ষা অনেক বড়।" [সূরা আল-বাকারা: ২১৯]। অর্থাৎ, আল্লাহ্ আমাদের এমন কোনো বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলেননি যাতে প্রাধান্যযোগ্য অকল্যাণ নেই এবং এমন কোনো কাজের নির্দেশ দেননি যাতে প্রাধান্যযোগ্য কল্যাণ নিহিত নেই।

আল্লাহ্ তায়ালা বলেন: "আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো।" [সূরা আল-বাকারা: ২২২]। অর্থাৎ, পুরুষের জন্য নিজ স্ত্রীর সাথে কামবাসনা চরিতার্থ করার মধ্যে উপকার রয়েছে যাতে সে হারামের দিকে দৃষ্টিপাত না করে, কিন্তু ঋতুস্রাবকালীন মিলনে ক্ষতির মাত্রা ও অনিষ্ট অনেক বেশি। তাই মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী তিনি ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলন করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে পায়ুপথে মিলন করতেও নিষেধ করা হয়েছে, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "ঋতুস্রাবকালীন মিলন এবং পায়ুপথে মিলন থেকে বেঁচে থাকো।"

আল্লাহ্ তায়ালা আরও বলেন: "আর তারা তোমাকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তাদের জন্য সংশোধন করা উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে বসবাস করো, তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই।" [সূরা আল-বাকারা: ২২০]। অর্থাৎ, আল্লাহ্ এমন কোনো আদেশ দেননি যাতে কেবল কল্যাণই নিহিত নেই এবং মহান আল্লাহ্ এমন কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেননি যাতে কেবল অকল্যাণই নিহিত নেই। আর বিষয়টি অধিকাংশ অবস্থার বিচারে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الحكمة من خلق الجن والإنس
জিন ও মানুষ সৃষ্টির হিকমত
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الحكمة من خلق الجن والإنس

نحن اليوم مع صفة من صفات الكمال والجلال لله جل في علاه، وقد قدح فيها أهل الجاهلية، ولا يزال الجاهليون الذين يعيشون في عصرنا يقدحون في هذه الصفة وهي: صفة الحكمة لله جل في علاه، وكما قلت: ما قدر الله قدراً إلا وفيه حكمة، وما أمر أمراً إلا وفيه حكمة، وما نهى عن شيء إلا وفيه حكمة، فالله جل في علاه ما خلق الخلق بأسرهم إلا لحكمة، قال الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56]، فهذه حكمة بليغة جسيمة، وهي عبادة الله جل وعلا والتذلل والمسكنة والتضرع له جل في علاه.

وقال الله تعالى: {أَيَحْسَبُ الإِنسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى} [القيامة:36] أي: لا يؤمر ولا ينهى ولا يثاب ولا يعاقب على ما يفعل، لا والله لابد أن يعلم أن المآل والمرجع إلى الله جل في علاه؛ ليجازي الله جل في علاه من عمل صالحاً بإحسانه ومن أساء بما فعل، قال الله تعالى: {إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا إِنَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ} [يونس:4].

فالله جل في علاه من حكمته البالغة: أن خلق الخلق ليعبدوه، ثم الثواب والعقاب على ذلك.
জিন ও মানুষ সৃষ্টির হিকমত

আজ আমরা মহান আল্লাহর কামাল (পূর্ণতা) এবং জালাল (মহিমা) সম্পর্কিত অন্যতম একটি গুণ নিয়ে আলোচনা করছি, জাহিলিয়াতের অনুসারীরা যে গুণের নিন্দা বা বিরুদ্ধাচারণ করেছে। বর্তমান যুগের জাহিলরা আজও এই গুণের সমালোচনা করে থাকে, আর তা হলো: মহান আল্লাহর হিকমত (প্রজ্ঞা) গুণ। আমি যেমনটি বলেছি: আল্লাহ যা কিছু নির্ধারণ করেছেন তার পেছনে হিকমত রয়েছে, তিনি যা কিছু আদেশ করেছেন তার পেছনে হিকমত রয়েছে, এবং তিনি যা কিছু নিষেধ করেছেন তার পেছনেও হিকমত রয়েছে। মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতকে কেবল হিকমতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]। এটি একটি অত্যন্ত গভীর ও সুমহান হিকমত, আর তা হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর মহান দরবারে নিজেকে বিনীত, নিঃস্ব ও প্রার্থনাশীল হিসেবে উপস্থাপন করা।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {মানুষ কি মনে করে যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে?} [আল-কিয়ামাহ: ৩৬] অর্থাৎ, তাকে কোনো আদেশ দেওয়া হবে না, কোনো নিষেধ করা হবে না এবং তার কাজের জন্য কোনো পুরস্কার বা শাস্তি দেওয়া হবে না? না, আল্লাহর কসম! তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, চূড়ান্ত গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তন মহান আল্লাহরই দিকে; যাতে মহান আল্লাহ সৎকর্মশীলদের তাদের নেক আমলের প্রতিদান দিতে পারেন এবং পাপাচারীদের তাদের কৃতকর্মের সাজা দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। নিশ্চয়ই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন যাতে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের ইনসাফের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরি করেছে, তাদের কুফরির কারণে তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [ইউনুস: ৪]।

অতএব, মহান আল্লাহর সুগভীর হিকমতের অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর এর ভিত্তিতেই পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الحكمة من خلق السماوات والأرض

قال الله تعالى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لاعِبِينَ} [الدخان:38] فحاشا لله، بل خلقها لحكمة بليغة.

ثم قال سبحانه: {مَا خَلَقْنَاهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ} [الدخان:39].

وأيضاً قال في الآية الأخرى: {لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ} [الأنبياء:17].

وأيضاً يقول الله جل وعلا: {مَا خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُسَمًّى} [الأحقاف:3]، فإن الله جل وعلا ما خلق الخلق إلا لعلة ولحكمة جسيمة.
আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির হিকমত

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি" [আদ-দুখান: ৩৮]। আল্লাহর শানে এমনটি হওয়া অসম্ভব, বরং তিনি তা এক সুগভীর হিকমতের কারণেই সৃষ্টি করেছেন।

অতঃপর তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "আমি এ দুটিকে কেবল যথাযথ সত্যের সাথেই সৃষ্টি করেছি" [আদ-দুখান: ৩৯]।

অন্য আয়াতে তিনি আরও বলেছেন: "যদি আমি খেল-তামাশা গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি তা আমার নিজের নিকট হতেই গ্রহণ করতাম, যদি আমি তা করতে চাইতাম" [আল-আম্বিয়া: ১৭]।

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আরও বলেন: "আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু কেবল যথাযথ সত্যের সাথে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আল-আহকাফ: ৩]। সুতরাং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কোনো কারণ এবং সুমহান হিকমত ছাড়া এই সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেননি।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌القدح في حكمة الله من صفات أهل الجاهلية وغيرهم من المشركين واليهود

قال الله تعالى: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} [المؤمنون:115] لا والله، فهذا من اعتقادات الجاهلية، فهم يقدحون في حكمة الله جل في علاه، فكانوا ينظرون إلى أفعال الله فينتقصونها ويقدحون في حكمة الله جل في علاه، وتشابهت قلوبهم، وهذا هو دأب الأمم السالفة، فهذا فرعون لما نظر إلى موسى قدح في حكمة الله، كيف يبعث رجلاً مثل هذا يكون نبياً ويأخذ هذا الشرف.

وهو الذي قال: {أَنَا رَبُّكُمُ الأَعْلَى} [النازعات:24]، وقال عن موسى: {أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلا يَكَادُ يُبِينُ} [الزخرف:52]، فهو يرى أن له ملك مصر، وهذه الأنهار تجري من تحته، فكيف يأتي موسى ويقول: إنه مرسل من قبل الله رب العالمين.

وأيضاً اليهود أنفسهم لما طلبوا من نبي لهم أن يبعث لهم ملكاً، قال نبيهم: {إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا} [البقرة:247] يقدحون في حكمة الله جل في علاه: كيف يختار الله هذا ليكون ملكاً علينا؟! فقالوا: {قَالُوا أَنَّى يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِنَ الْمَالِ} [البقرة:247] وكأنهم يقولون لله بلسان حالهم: كيف تختار هذا وهو لا يصلح أن يكون ملكاً ولا يصلح أن يكون نبياً؟! وأيضاً اليهود أنفسهم عندما حول القبلة من بيت المقدس إلى الكعبة اعترضوا فقال الله تعالى عنهم: {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ} [البقرة:142] فسماهم بالسفهاء؛ لأنهم يقدحون في حكمة الله جل في علاه، {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ} [البقرة:142].

وأول حكمة من ذلك: قول الله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة:143].

الحكمة الثانية: قال: {وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ} [البقرة:143]، فهذه حكمة بليغة، وسنبين كيف أن الله جل وعلا يخلق الشر لا للشر ولكن ليميز بين الصفين.

وأيضاً اليهود في تعاملهم مع النبي صلى الله عليه وسلم، فقد ادعوا بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم من الكاذبين ومن السحرة ومن الكهنة، وما زالوا على ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم يتقدم خطوة بعد خطوة، ويمكن الله له في الأرض، وتتسع البقعة الإسلامية، ويدخل الناس في دين الله أفواجاً، ومع ذلك فاليهود لم يؤمنوا، بل ما زال ادعاؤهم على رسول الله بالكذب، وهم أهل كتاب، ويقرءون التوراة والإنجيل ومع ذلك لا يزالون على دعواهم بكذب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فهذا قدح في حكمة الله جل في علاه؛ لأن من حكمة الله جل في علاه أنه لا يمكن لكافر ولا لساحر ولا لكاهن، فكونهم يقفون أمام النبي صلى الله عليه وسلم ويقولون: هو كذاب، وما زال الناس يدخلون في دين الله أفواجاً، فهذا يدل على أنهم كذبة؛ لأن من حكمة الله جل في علاه أن يبتلي الرسل أولاً ثم يمكن لهم.

فهؤلاء الذين كانوا في عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم نظروا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأول ما قدحوا فيه أنهم قدحوا في المرسل سبحانه جل في علاه، {وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ} [الزخرف:31] أي: أن هذا الرسول ليس أهلاً لأن يكون رسولاً، بل لابد أن يكون رجلاً من هاتين القريتين عظيم، فيكون صاحب جاه ومال وأولاد، ويكون صاحب مكانة، فهذا هو الذي يستحق هذه الرسالة على حسب زعمهم، فقدحوا في حكمة الله وكأنهم يقولون: كيف ترسل هذا الضعيف الفقير رسولاً علينا.

وأيضاً قدحوا في هؤلاء الذين من الله عليهم بالإيمان، فقدحوا في حكمة الله جل في علاه عندما قالوا: {أَهَؤُلاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} [الأنعام:53].

وأيضاً قدحوا في حكمة الله جل في علاه عندما ردوا دين النبي صلى الله عليه وسلم، فجاء رسول الله ليفصل هذا الخط ويقول: هذا من الشرك ومن الكفر، فأنتم إذا كنتم تعبدون ربكم فعظموا ربكم، {مَا لَكُمْ لا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا} [نوح:13]، ولابد أن تنظروا إلى أفعال الله جل في علاه، واعلموا أن أفعال الله كلها حكم، وقد رد النبي صلى الله عليه وسلم على هؤلاء بآيات الله جل في علاه، ومن هذه الآيات قوله تعالى: ((أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا)) [المؤمنون:115]، وأيضاً قول الله تعالى: {مَا خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُسَمًّى} [الأحقاف:3].

وقول الله تعالى: {حِكْمَةٌ بَالِغَةٌ فَمَا تُغْنِ النُّذُرُ} [القمر:5]، فالله جل في علاه ما خلق الخلق إلا لحكمة جسيمة، فلما طعنوا في حكمة الله خرجوا من دين الله؛ لأنهم نسبوا النقائص لله جل في علاه.

وأما حال ومآل من دخل في هذا الدين ثم رد على الله الحكمة وركب هواه وحكم شهواته، فهذا يخرج من دائرة الإسلام كما يمرق السهم من الرمية.
আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি কটাক্ষ করা জাহেলিয়াতের যুগের লোক এবং অন্যান্য মুশরিক ও ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?" [আল-মুমিনুন: ১১৫] না, আল্লাহর শপথ, এটি জাহেলিয়াতের বিশ্বাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তারা মহামহিম আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি কটাক্ষ করত। তারা আল্লাহর কার্যাবলীর প্রতি নজর দিত এবং সেগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করত ও আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করত। তাদের অন্তরগুলো একে অপরের সদৃশ হয়ে গেছে। এটিই ছিল পূর্ববর্তী জাতিগুলোর স্বভাব। যেমন ফিরআউন যখন মুসার দিকে তাকাল, তখন সে আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করল যে, কীভাবে আল্লাহ এমন এক ব্যক্তিকে পাঠান যিনি নবী হবেন এবং এই মর্যাদা লাভ করবেন।

সেই তো বলেছিল: "আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পালনকর্তা।" [আন-নাজিআত: ২৪], এবং মুসা সম্পর্কে বলেছিল: "বরং আমিই তো উত্তম এই ব্যক্তি অপেক্ষা, যে হীন এবং কথা বলতেও স্পষ্ট নয়।" [আজ-জুখরুফ: ৫২]। সে মনে করত যে তার কাছে মিসরের রাজত্ব রয়েছে এবং এই নদীগুলো তার পদতল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তাহলে মুসা কীভাবে এসে বলবে যে সে রাব্বুল আলামীন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।

অনুরূপভাবে খোদ ইহুদিরাও যখন তাদের এক নবীর কাছে একজন রাজা পাঠানোর দাবি জানাল, তখন তাদের নবী বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তালুতকে তোমাদের জন্য রাজা হিসেবে পাঠিয়েছেন।" [আল-বাকারাহ: ২৪৭]। তারা মহামহিম আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করে বলল: কীভাবে আল্লাহ তাকে আমাদের ওপর রাজা হিসেবে নির্বাচন করলেন?! তারা বলল: "তারা বলল, আমাদের ওপর তার রাজত্ব কীভাবে হতে পারে অথচ আমরাই রাজত্বের বেশি হকদার এবং তাকে তো পর্যাপ্ত ধন-সম্পদ দেওয়া হয়নি।" [আল-বাকারাহ: ২৪৭]। যেন তারা তাদের অবস্থার মাধ্যমে আল্লাহকে বলছে: কীভাবে আপনি একে নির্বাচন করলেন অথচ সে রাজা হওয়ার যোগ্য নয় এবং নবী হওয়ারও যোগ্য নয়?! আবার ইহুদিরা নিজেরা যখন কিবলা বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হলো, তখন তারা আপত্তি জানাল। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বললেন: "নির্বোধরা বলবে।" [আল-বাকারাহ: ১৪২]। তিনি তাদেরকে নির্বোধ হিসেবে নামকরণ করেছেন; কারণ তারা মহামহিম আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করে। "মানুষের মধ্য থেকে নির্বোধরা অচিরেই বলবে, কিসে তাদেরকে তাদের সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল? বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই।" [আল-বাকারাহ: ১৪২]।

এর পেছনের প্রথম প্রজ্ঞা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন।" [আল-বাকারাহ: ১৪৩]।

দ্বিতীয় প্রজ্ঞা: তিনি বলেছেন: "আর আপনি যে কিবলার ওপর ছিলেন সেটিকে আমি কেবল এই জন্যই নির্ধারণ করেছিলাম যাতে আমি জেনে নিতে পারি যে কে রাসূলের অনুসরণ করে।" [আল-বাকারাহ: ১৪৩]। এটি এক গভীর প্রজ্ঞা। আর আমরা বর্ণনা করব যে, আল্লাহ তাআলা মন্দের সৃষ্টি কেবল মন্দের জন্যই করেন না, বরং দুই দলের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য করেন।

আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহুদিদের আচরণের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তারা দাবি করেছিল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত, জাদুকরদের অন্তর্ভুক্ত এবং গণকদের অন্তর্ভুক্ত। তারা এর ওপর অবিচল ছিল অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আল্লাহ জমিনে তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় করছিলেন, ইসলামের ভূখণ্ড বিস্তৃত হচ্ছিল এবং দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছিল। তা সত্ত্বেও ইহুদিরা ঈমান আনেনি, বরং রাসূলুল্লাহর প্রতি তাদের মিথ্যারোপ অব্যাহত ছিল। অথচ তারা আহলে কিতাব ছিল এবং তারা তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করত, তবুও তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিথ্যাবাদী হওয়ার দাবির ওপর অটল ছিল।

এটি মহামহিম আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি এক চরম কটাক্ষ; কারণ আল্লাহর প্রজ্ঞার দাবি হলো তিনি কোনো কাফির, জাদুকর বা গণককে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন না। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের এ কথা বলা যে: 'সে মিথ্যাবাদী', অথচ মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে—এটি প্রমাণ করে যে তারাই মিথ্যাবাদী। কারণ আল্লাহর প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি প্রথমে রাসূলদের পরীক্ষা করেন, তারপর তাঁদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যারা ছিল, তারা রাসূলুল্লাহর দিকে তাকাল এবং প্রথমেই তারা স্বয়ং প্রেরক মহামহিমের প্রজ্ঞার নিন্দা করল। "এবং তারা বলল, কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?" [আজ-জুখরুফ: ৩১]। অর্থাৎ, এই রাসূল তো রাসূল হওয়ার যোগ্য নন, বরং এই দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর তা অবতীর্ণ হওয়া উচিত ছিল, যাকে প্রভাব-প্রতিপত্তি, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হতে হবে। তাদের দাবি অনুযায়ী সেই ব্যক্তিই এই রিসালাতের যোগ্য ছিল। এভাবে তারা আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি কটাক্ষ করল যেন তারা বলতে চাচ্ছে: কীভাবে আপনি এই দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিকে আমাদের ওপর রাসূল হিসেবে পাঠালেন।

এছাড়া তারা সেই সব লোকদের ব্যাপারেও কটাক্ষ করল যাদেরকে আল্লাহ ঈমানের নেয়ামত দান করেছেন। তারা আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করে বলল: "আমাদের মধ্য থেকে কি এদেরকেই আল্লাহ অনুগ্রহ দান করলেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সমধিক অবগত নন?" [আল-আনআম: ৫৩]।

এছাড়া তারা আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি আরও কটাক্ষ করল যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করল। তখন রাসূলুল্লাহ আসলেন এই সীমারেখা স্পষ্ট করতে এবং বললেন: এটি শিরক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত। তোমরা যদি তোমাদের রবের ইবাদতকারী হয়ে থাকো তবে তোমাদের রবকে সম্মান করো। "তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর মহিমা আশা করো না?" [নূহ: ১৩]। তোমাদের অবশ্যই আল্লাহর কার্যাবলীর দিকে তাকাতে হবে এবং জানতে হবে যে আল্লাহর সকল কাজই প্রজ্ঞাপূর্ণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে তাদের জবাব দিয়েছেন। সেই আয়াতগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা কি মনে করেছিলে যে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি?" [আল-মুমিনুন: ১১৫]। এছাড়া আল্লাহর বাণী: "আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা সত্য সহকারে এবং এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আল-আহকাফ: ৩]।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "এটি এক চূড়ান্ত প্রজ্ঞা, কিন্তু সতর্কবাণীসমূহ তাদের কোনো উপকারে আসে না।" [আল-কামার: ৫]। সুতরাং মহান আল্লাহ কোনো মহৎ প্রজ্ঞা ছাড়া সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেননি। তারা যখন আল্লাহর প্রজ্ঞার নিন্দা করল, তখন তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে বের হয়ে গেল; কারণ তারা আল্লাহর সাথে ত্রুটি বা অপূর্ণতা সাব্যস্ত করল।

আর যারা এই দ্বীনে প্রবেশ করার পর আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং নিজ প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার অনুসরণ করল, তাদের অবস্থা ও পরিণতি এই যে, তারা ইসলাম থেকে সেভাবেই বের হয়ে যাবে যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌القدح في قدر الله وتكوينه قدح في حكمة الله

في هذه العصور ظهرت لنا طائفة تحذو حذو القذة بالقذة مع أهل الجاهلية، ويطعنون في حكمة الله جل في علاه، وفي خلقه، وفي قدره، وفي أمره، وفي نهيه، وفي شرعه.

فكثير من العامة يقدحون في قدر الله أو في تكوين الله جل في علاه، فتراهم إذا ابتلي الرجل الصالح بالأمراض والبلاء يقولون: هذا الرجل من الصلاح بمكان ولا يستحق هذا البلاء، ولو نزل البلاء على غيره من الفسقة لكان أولى، وهذا قدح في حكمة الله جل في علاه.

وأشهر من ذلك ما اشتهر على ألسنة العامة أنهم يقولون: لماذا هذه الأرزاق تنزل على بعض الناس، وهم في نظرهم أنهم لا يستحقون، فهذا أيضاً قدح في حكمة الله جل في علاه.

وهناك طائفة أخرى من الحسدة والحقدة كما فعل إبليس، فالحسد أصله قدح في حكمة الله؛ لأن الحاسد عندما ينظر إلى المحسود يقول: هذا لا يستحق أن يتعلم، وهذا لا يستحق أن يكون أميراً، وهذا لا يستحق أن يكون وزيراً، وكأنه بلسان حاله يقول لله جل في علاه: كيف تمكن لمثل هذا وهو لا يستحق أن تمكن له؟! والله جل في علاه يرد عليهم ويقول: {أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} [الأنعام:53].
আল্লাহর তাকদির এবং সৃষ্টির সমালোচনা করা আল্লাহর হিকমতের (প্রজ্ঞার) সমালোচনা করার নামান্তর

বর্তমান যুগে আমাদের মাঝে এমন এক দলের উদ্ভব হয়েছে যারা জাহেলিয়াতের যুগের লোকদের প্রতিটি পদক্ষেপে হুবহু অনুসরণ করছে। তারা মহান আল্লাহর হিকমত, তাঁর সৃষ্টি, তাঁর তাকদির, তাঁর আদেশ, তাঁর নিষেধ এবং তাঁর শরিয়ত নিয়ে সমালোচনা ও কটাক্ষ করছে।

সাধারণ মানুষের অনেকেই মহান আল্লাহর তাকদির অথবা তাঁর সৃষ্টি প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে। আপনি দেখবেন যে, যখন কোনো নেককার ব্যক্তি রোগব্যাধি ও বালা-মুসিবতে আক্রান্ত হন, তখন তারা বলে: "এই লোকটি অত্যন্ত নেককার ও মর্যাদাবান, সে এই বিপদের যোগ্য নয়। এই মুসিবত যদি অন্য কোনো পাপাচারী ব্যক্তির উপর নাজিল হতো তবে তা-ই শ্রেয় হতো।" এটি মূলত মহান আল্লাহর হিকমতের সমালোচনা।

এর চেয়েও প্রসিদ্ধ বিষয় যা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে রটে থাকে তা হলো তাদের এই উক্তি: "কেন এই রিজিক এমন কিছু মানুষের নিকট যাচ্ছে যারা তাদের দৃষ্টিতে এর যোগ্য নয়?" এটিও মহান আল্লাহর হিকমতের উপর এক প্রকার আক্রমণ।

এছাড়া হিংসুক ও বিদ্বেষপরায়ণদের আরেকটি দল রয়েছে যারা ইবলিসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। প্রকৃতপক্ষে হিংসার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর হিকমতের সমালোচনা করা; কারণ হিংসুক ব্যক্তি যখন অন্যের নেয়ামত দেখে তখন সে মনে মনে বলে: "এই ব্যক্তি শিক্ষা লাভের যোগ্য নয়, এই ব্যক্তি নেতা হওয়ার যোগ্য নয় কিংবা এই ব্যক্তি মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য নয়।" সে যেন তার অবস্থার ভাষায় মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলছে: "আপনি কীভাবে এমন ব্যক্তিকে সুযোগ বা সক্ষমতা দিলেন অথচ সে এর মোটেও যোগ্য নয়?!" মহান আল্লাহ তাদের প্রতিবাদ করে বলেন: "আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?" [আল-আন'আম: ৫৩]।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌رد حكم الله وشرعه قدح في حكمة الله
আল্লাহর বিধান ও তাঁর শরীয়ত প্রত্যাখ্যান করা আল্লাহর হিকমতের (প্রজ্ঞার) প্রতি অপবাদ
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الحكمة من قطع يد السارق

أيضاً هناك طوائف يردون شرع الله، فهذا أبو العلاء المعري يعترض على الشرع في الحكم بقطع يد السارق، فيقول: أليس إذا قطعت اليدان ففيهما الدية كاملة، وإذا قطعت اليد اليمنى أو اليسرى فقط ففيها نصف الدية، بينما هذه اليد التي قيمتها نصف الدية (خمسون من الإبل) لو سرقت ربع دينار، وربع الدينار لا يساوي شيئاً مقابل الخمسين من الإبل تقطع في ربع دينار؟! أقول: هذا الأعمى الذي أعمى الله بصره وبصيرته يقدح في حكمة الله، وكأنه يقول: هذه الأحكام متناقضة، فكيف يجعلها مرة بخمسين من الإبل وتقطعها في ربع دينار فهذا تناقض؟! نقول: هذا كفر مبين، ولذلك رد عليه بعض العلماء وقال له: إنها لما عفت شرفت فكان قيمتها خمسين من الإبل، لكن لما سرقت احتقرت وذلت، فقطعت في ربع دينار.

فهذا رد على هذا الذي يتغابى ويقدح في حكمة الله جل وعلا.
চোরের হাত কাটার হিকমত

এছাড়াও এমন কিছু দল রয়েছে যারা আল্লাহর শরীয়তকে প্রত্যাখ্যান করে। যেমন এই আবু আল-আলা আল-মা’আরি চোরের হাত কাটার বিধানের ব্যাপারে শরীয়তের ওপর আপত্তি উত্থাপন করে। সে বলে: যদি (অন্যায়ভাবে) দুই হাত কেটে ফেলা হয়, তবে কি তাতে পূর্ণ দিয়াত বা রক্তপণ দিতে হয় না? আর যদি কেবল ডান বা বাম হাত কাটা হয়, তবে তাতে অর্ধেক দিয়াত দিতে হয়। অথচ এই হাত—যার মূল্য অর্ধেক দিয়াত অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট—তা যদি মাত্র এক চতুর্থাংশ দিনার চুরি করে (আর এক চতুর্থাংশ দিনার তো পঞ্চাশটি উটের তুলনায় কিছুই নয়), তবে কি তা এক চতুর্থাংশ দিনারের বিনিময়ে কেটে ফেলা হবে?! আমি বলি: এই অন্ধ ব্যক্তি, যার বাহ্যিক দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি উভয়কেই আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন, সে আল্লাহর হিকমতের নিন্দা করছে। সে যেন বলতে চাচ্ছে: এই বিধানগুলো স্ববিরোধী; তিনি কীভাবে একবার একে পঞ্চাশটি উটের সমপরিমাণ মূল্যবান নির্ধারণ করলেন, আবার এক চতুর্থাংশ দিনারের বিনিময়ে তা কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন? এটি তো বৈপরীত্য! আমরা বলি: এটি স্পষ্ট কুফরি। এ কারণেই জনৈক আলেম তার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন: যখন হাতটি আমানতদার ছিল তখন তা সম্মানিত ছিল, তাই এর মূল্য ছিল পঞ্চাশটি উট। কিন্তু যখন সে চুরি করল তখন সে তুচ্ছ ও লাঞ্ছিত হয়ে গেল, তাই এক চতুর্থাংশ দিনারের বিনিময়ে তা কেটে ফেলা হলো।

এটি হলো সেই ব্যক্তির উপযুক্ত জবাব, যে আল্লাহর হিকমতের ব্যাপারে মূর্খতা প্রদর্শন করে এবং তাঁর নিন্দা জ্ঞাপন করে।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الحكمة في قتل القاتل

بعض الطوائف ظهرت لنا في هذه العصور وهي تقولون: القصاص: إن القتل، أو قطع اليد، أو الرجم حتى الموت، هذه وحشية، وهذا ليس بدين، بل هذا دين قبائل البربر.

فنقول: هؤلاء يردون حكم الله وشرعه، وهذا قدح في حكمة الله جل في علاه، ويقولون: ما الفائدة عندما تقطع يد من سرق ربع دينار، وتعطل الرَّجُل من يده فلا يكتسب، لكن لو أخذته وهددته ونصحته ثم جعلته يعمل بهذه اليد لأفدت المجتمع، واستفاد الرجل بعد ذلك بالمال وعف نفسه ولا يسرق؟ ويقولون: إن شرع الله جل في علاه لا يصح لهذه القرون التي نعيش فيها، نقول: هذا قدح في حكمة الله جل في علاه، ونحن نرد عليهم بأمر جلي، قال الله تعالى بالنسبة للقتل: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ} [البقرة:179]، فهناك حكمتان في القصاص: الحكمة الأولى: أن الإنسان إذا علم أنه إن قتل فسيقتل فإنه سيقول: وأنا لِمَ أضيع حياتي بحياة غيري؟ فليكن له ما له ولي حياتي، فلا يقدمن على القتل.

الحكمة الثانية: أنه إن أقيم عليه الحد واقتص منه في الدنيا فلا يسأل عن ذلك يوم القيامة؛ يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (فمن ارتكب من هذه الدناءات وهذه المحرمات شيئاً فعوقب به -يعني: أقيم عليه الحد- في الدنيا فهو كفارة له) أي: لا يسأل عنها يوم القيامة.

إذاً: فقتل النفس التي قال فيها النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه: (إن الله جل في علاه يقسم بعزته: لو تمالأ أهل السماوات وأهل الأرضين على قتل دم مسلم لأكبهم الله في النار ولا يبالي) هذا يدل على عظمة دم المرء المسلم عند الله جل في علاه، ومع ذلك فإن الله لا يحاسبه إذا قتل به قصاصاً، فجعل الله له المخرج يوم القيامة.

وأيضاً نفس الأمر في قطع اليد، فالشخص إذا سرق فقطعت يده ورأى الناس ذلك، فإنهم لا يقدمون على السرقة، وتجد الواحد يقول: تقطع يدي بربع دينار لا والله! بل أحفظها حتى لا تهون ولا أهون ولا أحتقر بين الناس، فيلتزم بشرع الله جل في علاه، وهذه حكمة بالغة.
হত্যাকারীকে হত্যা করার হিকমত

বর্তমান যুগে এমন কিছু দলের উদ্ভব ঘটেছে যারা বলে: কিসাস বা প্রতিশোধমূলক দণ্ডবিধি—যেমন হত্যা করা, হাত কেটে ফেলা কিংবা পাথর ছুড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা—এসব হচ্ছে বর্বরতাময় কাজ; এটি কোনো ধর্ম নয়, বরং এটি আদিম বর্বর গোত্রগুলোর রীতি।

আমরা বলি: এরা আল্লাহর বিধান ও তাঁর শরীয়তকে প্রত্যাখ্যান করছে। এটি সুমহান আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞার ওপর এক অপবাদ। তারা বলে: যে ব্যক্তি এক দিনারের চার ভাগের এক ভাগ চুরি করল, তার হাত কেটে ফেলে কী ফায়দা? এতে তো লোকটির হাত অকেজো হয়ে গেল এবং সে আর উপার্জন করতে পারবে না। কিন্তু তাকে যদি পাকড়াও করা হতো, তাকে ধমক দেওয়া হতো, নসিহত করা হতো এবং তাকে এই হাত দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হতো, তবে সমাজ উপকৃত হতো এবং সেই ব্যক্তি নিজেও পরবর্তীতে সম্পদের মাধ্যমে উপকৃত হতো ও নিজেকে পবিত্র রাখত এবং আর চুরি করত না। তারা আরও বলে যে, আমরা যে শতাব্দীতে বাস করছি তার জন্য সুমহান আল্লাহর শরীয়ত উপযুক্ত নয়। আমরা বলি: এটি সুমহান আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর এক অপবাদ। আমরা তাদের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে উত্তর প্রদান করি। আল্লাহ তাআলা হত্যার বিষয়ে বলেছেন: {হে জ্ঞানবানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে} [আল-বাকারাহ: ১৭৯]। কিসাসের ক্ষেত্রে দুটি হিকমত রয়েছে: প্রথম হিকমত হলো: মানুষ যখন জানবে যে সে কাউকে হত্যা করলে তাকেও হত্যা করা হবে, তখন সে বলবে: অন্যের জীবনের বিনিময়ে আমি কেন আমার জীবন ধ্বংস করব? তারটা তার কাছে থাকুক আর আমার জীবন আমার কাছে থাকুক; ফলে সে আর হত্যার পথে অগ্রসর হবে না।

দ্বিতীয় হিকমত হলো: যদি দুনিয়াতেই তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা হয় এবং তার কাছ থেকে কিসাস গ্রহণ করা হয়, তবে কিয়ামতের দিন তাকে এই বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন করা হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি এই ধরনের কোনো হীন কাজ বা হারাম কাজসমূহের কিছু করে এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি পায়—অর্থাৎ তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা হয়—তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা বা পাপমোচন স্বরূপ) অর্থাৎ: কিয়ামতের দিন তাকে আর এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে না।

সুতরাং, কোনো প্রাণ হত্যা করা—যার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর ইজ্জতের কসম খেয়ে বলছেন: যদি আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী মিলে একজন মুসলমানের রক্তপাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন এবং তিনি তাতে সামান্যতম পরোয়া করবেন না)—এটি সুমহান আল্লাহর নিকট একজন মুসলমানের রক্তের বিশাল গুরুত্বকে প্রমাণ করে। তা সত্ত্বেও, যদি কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করা হয় তবে আল্লাহ তাকে কিয়ামতে পাকড়াও করবেন না। এভাবে আল্লাহ তার জন্য কিয়ামতের দিনে নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

হাত কাটার বিষয়টিও ঠিক একই রকম। যখন কোনো ব্যক্তি চুরি করার অপরাধে হাত হারায় এবং মানুষ তা প্রত্যক্ষ করে, তখন তারা চুরির সাহস পায় না। তখন প্রত্যেকেই বলে: সামান্য এক চতুর্থাংশ দিনারের বিনিময়ে আমার হাত কাটা যাবে? আল্লাহর কসম, কখনই না! বরং আমি নিজের হাতকে রক্ষা করি যাতে এটি মূল্যহীন না হয়ে পড়ে, আমিও যেন লাঞ্ছিত না হই এবং মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন না হই। ফলে সে সুমহান আল্লাহর শরীয়তকে আঁকড়ে ধরে। এটিই হলো এক নিগূঢ় হিকমত।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الحكمة من إعطاء الرجل مثل حظ الأنثيين في الإرث

أيضاً من هذه الطوائف التي تأخذ بقول الجاهلية: الذين يتنطعون على دين الله جل في علاه ويقدحون في حكمة الله ويقولون: كيف نجعل للذكر مثل حظ الأنثيين في الإرث، وهناك من النساء من هن أفضل من الرجال؟ فليست من الحكمة أن تجعل للذكر مثل حظ الأنثيين.

فنقول: هذا قدح في حكمة الله جل في علاه، ونقول لهؤلاء البله السفهاء: لو نظرتم نظرة ممحصة في أحكام الله جل في علاه وعلمتم أنكم عبيد لله لما قلتم إلا سمعنا وأطعنا؛ لأن الكمال المطلق لله جل في علاه، وأفعال الله كلها كمال، فالرجل يتحمل أعباء كثيرة، يتحمل أعباء المهر والصداق للزوجة، ويتحمل بعد ذلك النفقات على الزوجة والأولاد، ويتحمل بعد ذلك النفقات على الوالد والوالدة، ويتحمل الدية، وأما المرأة فلا تشارك العاقلة في دفع الدية، وإنما المرأة تجلس في بيتها ملكة.

بهذا يتبين أن من الحكمة أن يأخذ الرجل ضعف المرأة.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষকে দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ প্রদানের হিকমত বা রহস্য

জাহেলিয়াতের পথ অনুসরণকারী দলগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে তারা, যারা মহান আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে এবং আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর দোষারোপ করে। তারা বলে: উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে একজন পুরুষকে দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ দেব, অথচ এমন অনেক নারী আছেন যারা পুরুষদের চেয়েও উত্তম? সুতরাং পুরুষকে দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ দেওয়া প্রজ্ঞাসম্মত নয়।

আমরা বলি: এটি সুমহান আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর এক প্রকার অপবাদ। আমরা এই নির্বোধ ও মূর্খদের বলি: তোমরা যদি মহান আল্লাহর বিধানসমূহের প্রতি নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করতে এবং অনুধাবন করতে যে তোমরা আল্লাহর দাস, তবে তোমরা 'আমরা শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম' ব্যতীত আর কিছুই বলতে না; কারণ নিরঙ্কুশ পূর্ণতা কেবল সুমহান আল্লাহর জন্যই, এবং আল্লাহর সকল কাজই পূর্ণাঙ্গ। একজন পুরুষকে অনেক দায়ভার বহন করতে হয়; সে স্ত্রীর মোহরের বোঝা বহন করে এবং পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যয়ভার গ্রহণ করে। এরপর পিতা ও মাতার ভরণপোষণের দায়িত্বও তাকে পালন করতে হয় এবং সে দিয়ত (রক্তপণ) প্রদানের ভারও বহন করে। পক্ষান্তরে, রক্তপণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণ করে না, বরং নারী তার গৃহে রানীর মতো অবস্থান করে।

এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, পুরুষের জন্য নারীর দ্বিগুণ অংশ লাভ করাই হচ্ছে হিকমত বা প্রকৃত প্রজ্ঞা।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الحكمة من مشروعية تزوج الرجل بأكثر من امرأة بخلاف المرأة

أيضاً هناك من يقدحون في حكمة الله في مسألة تزوج الرجل بأربع نسوة، بينما المرأة ليس لها إلا رجل واحد، فيقولون: جعلتم للرجل أربع من النساء، ولم تجعلوا للمرأة أربعة من الرجال، والنساء أكثر من يطالبن بهذا.

فنقول: إن لله حكماً عظيمة من هذا التشريع علمها من علمها وجهلها من جهلها، الحكمة الأولى: حفظ الأنساب، ودليل الأمر بحفظ الأنساب قوله صلى الله عليه وسلم: (لا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يسقي ماءه زرع غيره)، فلو جامع الرجل امرأة وخصب البويضة وجاء رجل يجامعها بعده فإن السمع والبصر والقلب والعظام واللحم تتأثر بماء الغير، ولذلك فـ علي بن أبي طالب رضي الله عنه لما حدثت قصة الرجل الذي تزوج امرأة وغاب عنها وجاء الرجل الثاني فجامعها، فولدت الولد فأقرع بينهما؛ لأن هناك مشاركة في الولد.

الحكمة الثانية: أن الله جل وعلا قدر أن النساء تكون أكثر من الرجال، ففي الحديث: (في آخر الزمان يكون للخمسين من النساء القيم الواحد).

الحكمة الثالثة: غيرة الرجل، فإن من حكمة الله جل في علاه أن جعل الغيرة من الدين، فالرجل له أن ينظر إلى أكثر من امرأة، لكن لا يستطيع أن يتحمل أن امرأته تكون فراشاً لغيره، ولذلك قال سعد بن عبادة قال: (يا رسول الله أنتظر حتى آتي بأربعة شهداء؟! والله لأعلونهم بسيفي، فقال صلى الله عليه وسلم: أتعجبون من غيرة سعد، والله إني لأغير منه، وإن الله أغير مني) وهذه من حكمة الله جل في علاه أنه ركب الغيرة في الرجال أشد منها في النساء.

الحكمة الرابعة: أن الله من حكمته البالغة أن جعل عاطفة المرأة لا تتجزأ.
নারীর বিপরীতে পুরুষের জন্য একাধিক বিবাহ বৈধ হওয়ার হিকমত

এছাড়াও এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পুরুষের চারজন স্ত্রী গ্রহণের বিপরীতে নারীর জন্য কেবল একজন স্বামী থাকার বিষয়ে আল্লাহর হিকমতের সমালোচনা করে। তারা বলে: তোমরা পুরুষের জন্য চারজন নারী নির্ধারণ করেছ, অথচ নারীর জন্য চারজন পুরুষ নির্ধারণ করোনি; আর নারীরাই এই দাবি সবচেয়ে বেশি করে থাকে।

আমরা বলি: এই বিধানের পেছনে আল্লাহর মহান হিকমত রয়েছে, যা কেউ জানে আবার কেউ জানে না। প্রথম হিকমত: বংশধারা রক্ষা করা। বংশধারা রক্ষার নির্দেশের দলিল হলো আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার জন্য অন্যের ফসলে (গর্ভে) নিজের পানি সেচন করা বৈধ নয়।" সুতরাং কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর সাথে সহবাস করে এবং ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়, অতঃপর অন্য কোনো পুরুষ এসে তার সাথে সহবাস করে, তবে শ্রবণেন্দ্রিয়, দৃষ্টিশক্তি, অন্তর, হাড় ও গোশত অন্যের বীর্য দ্বারা প্রভাবিত হয়। একারণেই আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট যখন সেই ব্যক্তির ঘটনা এসেছিল যে একজন নারীকে বিবাহ করে তার থেকে অনুপস্থিত ছিল এবং দ্বিতীয় এক ব্যক্তি এসে তার সাথে সহবাস করেছিল, অতঃপর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তিনি তাদের মধ্যে লটারি করেছিলেন; কারণ সেখানে সন্তানের মাঝে অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছিল।

দ্বিতীয় হিকমত: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নির্ধারণ করেছেন যে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি হবে। হাদিসে এসেছে: "শেষ জামানায় পঞ্চাশজন নারীর জন্য মাত্র একজন পরিচালক থাকবে।"

তৃতীয় হিকমত: পুরুষের আত্মমর্যাদাবোধ (গাইরাত)। আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহ্-র অন্যতম হিকমত হলো তিনি এই আত্মমর্যাদাবোধকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পুরুষের জন্য একাধিক নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ থাকলেও সে এটি সহ্য করতে পারে না যে তার স্ত্রী অন্যের শয্যাসঙ্গিনী হবে। একারণেই সাদ ইবনে উবাদাহ বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি চারজন সাক্ষী আনা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?! আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করব।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছ? আল্লাহর কসম, আমি তার চাইতেও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, আর আল্লাহ আমার চাইতেও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।" এটি আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহ্-র হিকমতের অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি পুরুষদের মধ্যে নারীদের তুলনায় অধিক প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি করেছেন।

চতুর্থ হিকমত: আল্লাহর সুনিপুণ হিকমতের অন্যতম হলো তিনি নারীর আবেগকে অবিভাজ্য করেছেন।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌عقيدة الأشاعرة والمعتزلة والمرجئة في حكمة الله تعالى والرد عليهم

تقول الأشاعرة: إن الله لا يخلق لحكمة ولا يفعل لحكمة، وإنما يفعل ذلك بمحض المشيئة؛ لأن الله جل في علاه لو فعل لحكمة لكانت الحكمة أو الغرض أو العلة هي المحركة لله جل في علاه، ويكون الله عز وجل عرضة للأغراض، والله ليس بعرضة للأغراض.

قلنا: خسئتم بما قلتم فردوا على أنفسكم هذا القول، فإن الله له الحكمة البالغة، بل من صفات كمال الله جل في علاه أنه لا يفعل شيئاً ولا يخلق خلقاً ولا يأمر أمراً إلا بحكمة بالغة، قال الله تعالى: {وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا * يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ فِي رَحْمَتِهِ وَالظَّالِمِينَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} [الإنسان:30 - 31].

أي: أن الله جل في علاه يدخل الذين آمنوا وعملوا الصالحات الجنات، وأما الذين ظلموا فأعد لهم عذاباً أليماً، وهذا بحكمته وعلمه جل في علاه.

وقد اتفق المعتزلة والأشاعرة على أن الله جل وعلا يفعل لا لحكمة، ولكن يفعل لمجرد ومحض المشيئة.

وأما المرجئة فقالوا: إن الله لا يفعل لحكمة؛ لأن الله لا يفرق بين مختلفين ولا يساوي بين متماثلين، بل الكل عنده سواء وهذا قدح في الحكمة؛ لأنهم قالوا: لا يضر مع الإيمان ذنب ولا ينفع مع الكفر طاعة.

فنقول: إن هؤلاء قدحوا في حكمة الله؛ لأنهم جعلوا كل الناس سواسية، فجبريل كـ أبي بكر، وأبو بكر كآحاد الناس، والمذنب الفاسق الفاجر الذي يشرب الخمر كالذي يقوم الليل ويصوم النهار، فالكل عندهم سواء ماداموا يقولون: لا إله إلا الله؛ لأنه لا يضر مع الإيمان ذنب، فهنا قدحوا في حكمة الله، والله جل في علاه يقول: {أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ} [ص:28]، إن الله جل وعلا لا يمكن أن يسوي بين المختلفين، وقال الله تعالى في سورة (ن) {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ * مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ} [القلم:35 - 36]، ولذلك قلنا: إن من رفعة هذه الأمة أنهم ينزلون الناس منازلهم، فقد أمرنا أن ننزل الناس منازلهم، ولا يعرف لأهل الفضل فضلهم إلا أهل الفضل، وأهل السنة والجماعة صفت لهم عقيدتهم؛ لأنهم اعتقدوا بأن الله جل في علاه لم يخلق خلقاً إلا لحكمة بليغة، ولم يأمر أمراً إلا وفيه المصلحة الراجحة، ولم ينه عن شيء إلا وفيه المفسدة الراجحة.
মহান আল্লাহর হিকমত (প্রজ্ঞা) সম্পর্কে আশআরি, মুতাজিলা ও মুরজিয়াদের আকিদা এবং তাদের খণ্ডন

আশআরিরা বলে: আল্লাহ কোনো হিকমতের (প্রজ্ঞার) কারণে সৃষ্টি করেন না এবং কোনো হিকমতের কারণে কাজ করেন না। বরং তিনি তা কেবল নিরঙ্কুশ ইচ্ছার মাধ্যমেই করেন। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি কোনো হিকমতের কারণে কাজ করতেন, তবে সেই হিকমত, উদ্দেশ্য বা কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াত, এবং আল্লাহ তাআলা উদ্দেশ্য বা স্বার্থের মুখাপেক্ষী হতেন; অথচ আল্লাহ উদ্দেশ্য বা স্বার্থের মুখাপেক্ষী নন।

আমরা বলি: তোমরা যা বলেছ তাতে তোমরা লাঞ্ছিত হয়েছ। তোমরা নিজেদের এই বক্তব্য নিজেদের কাছেই ফিরিয়ে নাও। কেননা আল্লাহর জন্য রয়েছে সুনিপুণ হিকমত। বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি সুনিপুণ হিকমত ব্যতীত কোনো কিছুই করেন না, কোনো সৃষ্টি সৃষ্টি করেন না এবং কোনো নির্দেশ প্রদান করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত তোমরা কিছুই চাইতে পারো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তিনি যাকে ইচ্ছা আপন রহমতে প্রবেশ করান এবং জালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [সূরা আল-ইনসান: ৩০-৩১]।

অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিন ও সৎকর্মশীলদের জান্নাতে প্রবেশ করান, আর যারা জুলুম করেছে তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর এটি তাঁর হিকমত এবং জ্ঞানের মাধ্যমেই হয়।

মুতাজিলা এবং আশআরিরা একমত হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো হিকমতের কারণে কাজ করেন না, বরং স্রেফ ও কেবল নিরঙ্কুশ ইচ্ছার মাধ্যমেই তা করেন।

আর মুরজিয়ারা বলেছে: আল্লাহ হিকমতের কারণে কাজ করেন না; কারণ আল্লাহ ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করেন না এবং সদৃশ বিষয়ের মাঝে সমতা করেন না, বরং তাঁর নিকট সবাই সমান। আর এটি মূলত হিকমতের প্রতি একটি অপবাদ। কারণ তারা বলে: ইমানের সাথে কোনো গুনাহ ক্ষতি করে না এবং কুফরের সাথে কোনো আনুগত্য উপকারে আসে না।

আমরা বলি: এরা আল্লাহর হিকমতের উপর অপবাদ আরোপ করেছে; কারণ তারা সকল মানুষকে সমান করে দিয়েছে। ফলে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) হলেন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো, আবার আবু বকর সাধারণ মানুষের মতো। আর যে পাপিষ্ঠ, ফাসেক ও পাপাচারী ব্যক্তি মদ পান করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো যে সারা রাত সালাত আদায় করে এবং দিনে সিয়াম পালন করে। তাদের নিকট সকলেই সমান যতক্ষণ তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে; কারণ তাদের মতে ইমানের সাথে কোনো গুনাহ ক্ষতি করে না। এখানে তারা আল্লাহর হিকমতের উপর অপবাদ দিয়েছে। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আমি কি মুত্তাকিদের পাপাচারীদের মতো করে দেব?} [সূরা সাদ: ২৮]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের মাঝে সমতা করতে পারেন না। আল্লাহ তাআলা সূরা নুন-এ বলেন: {আমি কি মুসলিমদের অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে ফয়সালা করো?} [সূরা আল-কালাম: ৩৫-৩৬]। এই কারণেই আমরা বলেছি যে: এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব হলো এই যে, তারা মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করে। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে মর্যাদা দিতে। আর মর্যাদাবান ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ মর্যাদাবানদের মর্যাদা বুঝতে পারে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা তাদের নিকট স্বচ্ছ; কারণ তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো সৃষ্টিই সুনিপুণ হিকমত ব্যতীত সৃষ্টি করেননি, এমন কোনো নির্দেশ দেননি যাতে কোনো শক্তিশালী কল্যাণ নিহিত নেই এবং এমন কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেননি যাতে কোনো বড় ক্ষতি নেই।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ظهور حكمة الله تعالى في الابتلاءات النازلة على عباده
বান্দাদের উপর আপতিত পরীক্ষাগুলোতে আল্লাহ তাআলার প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الحكمة من وقوع آدم في المعصية

لو أن أهل السنة والجماعة نظروا إلى الوراء إلى الأمم السابقة وإلى الأنبياء، ولو نظروا أولاً إلى آدم لعلموا حكمة الله البالغة في أنه ترك المجال لآدم عليه السلام ليعصيه، فإن الله هو الذي فتح له الباب؛ لأن الله هو الذي يتحكم في العباد، ولو أراد الله ألا يعصيه أحد لما عصاه أحد، والدليل على ذلك من الكتاب قوله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ} [الأنعام:112]، لكن الله جل وعلا لم يحفظ آدم وإنما جعله يأكل من الشجرة، فهذه من الحكم البالغة التي إذا تدبرها المسلم علم أن ربه جل في علاه حتى لو تركه للمعصية ما تركه إلا ليرفعه، فإن الله جل في علاه ترك إبليس يوسوس ويزين لآدم حتى أكل من الشجرة، ثم أنزل سبحانه آدم عليه السلام من الجنة دار النعيم إلى الدنيا دار الشقاء لحكمة بالغة، وهذه الحكمة البالغة هي أولاً: توبة آدم عليه السلام، فلما تاب وأناب ارتفع درجة فوق الدرجة التي كان عليها: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [البقرة:37].

ثانياً: أن الله جل في علاه لما أهبط آدم إلى الأرض علمه كيف يتعايش في الأرض، وكيف يخرج طعامه وشرابه، ثم جاء من نسله الأنبياء والمرسلون، بل أفضل الخلق أجمعين محمد صلى الله عليه وسلم.
আদম আলাইহিস সালামের অবাধ্যতায় পতিত হওয়ার পেছনের প্রজ্ঞা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা যদি পূর্ববর্তী উম্মতগণ ও নবীগণের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতেন এবং বিশেষভাবে যদি তারা প্রথমে আদমের অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করতেন, তবে তারা আল্লাহর সেই সুগভীর প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হতেন যে, তিনি আদম আলাইহিস সালামের জন্য অবাধ্য হওয়ার ক্ষেত্র কেন উন্মুক্ত রেখেছিলেন। মূলত আল্লাহই তাঁর জন্য সেই দ্বার উন্মোচন করেছিলেন; কেননা আল্লাহই বান্দাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহ যদি চাইতেন যে কেউ তাঁর অবাধ্য হবে না, তবে কেউই তাঁর অবাধ্য হতো না। আল্লাহর কিতাব থেকে এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে তারা তা করত না" [আল-আনআম: ১১২]। কিন্তু আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আদমকে (সেই কাজ থেকে) বিরত রাখেননি, বরং তিনি তাকে গাছ থেকে ফল খাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। এটি আল্লাহর সেই সুগভীর প্রজ্ঞাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা নিয়ে কোনো মুসলিম চিন্তা-গবেষণা করলে বুঝতে পারবে যে, তার মহিমান্বিত প্রতিপালক যদি তাকে কোনো পাপের ওপর ছেড়েও দেন, তবে তা তাকে উত্তরোত্তর উচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্যই দেন। আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু ইবলিসকে কুমন্ত্রণা দেওয়ার এবং আদমের নিকট বিষয়টিকে সুশোভিত করে তোলার অবকাশ দিয়েছিলেন যতক্ষণ না তিনি সেই গাছ থেকে ভক্ষণ করলেন। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এক সুগভীর হিকমতের কারণে আদম আলাইহিস সালামকে সুখের নিকেতন জান্নাত থেকে দুঃখ-কষ্টের আলয় পৃথিবীতে নামিয়ে আনেন। আর এই সুগভীর প্রজ্ঞাটি হলো প্রথমত: আদম আলাইহিস সালামের তওবা। যখন তিনি তওবা করলেন এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি পূর্বের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদায় উন্নীত হলেন: "অতঃপর আদম তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কিছু বাণী প্রাপ্ত হলেন, ফলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু" [আল-বাকারা: ৩৭]।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু যখন আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন, তখন তিনি তাকে শেখালেন কীভাবে পৃথিবীতে জীবন অতিবাহিত করতে হয় এবং কীভাবে নিজের খাদ্য ও পানীয় আহরণ করতে হয়। অতঃপর তাঁর বংশধরদের থেকেই নবী ও রাসূলগণ আগমন করেছেন, এমনকি সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁরই বংশধর।
(খণ্ড: ২) মাসায়িলু খালাফা ফীহা রাসূলুল্লাহি আহলাল জাহিলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الحكمة من ابتلاء إبراهيم وولده إسماعيل عليهما السلام

كذلك انظر إلى إبراهيم عليه السلام كيف أن الله جل وعلا ابتلاه، وما ابتلاه إلا ليرفعه، وليبين للناس الإكرام لإبراهيم.

إن الله ابتلى إبراهيم بلاءين من أعظم البلاءات: البلاء الأول: أنه بعدما بلغ معه الولد السعي أمره الله أن يذبح هذا الولد، وهذا البلاء من الله جل في علاه لنبيه لحكمة بالغة؛ حتى يخرج قمة الإيمان وقمة اليقين والاستسلام لله جل في علاه التام، حتى إنه لما رأى الرؤيا لم يتراجع: {قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ} [الصافات:102].

ثم يظهر الله جل في علاه الاستسلام التام من إسماعيل عليه السلام، واليقين التام في الله جل في علاه، ويطأطئ رأسه ليذبح، والآخر يذبح ولده الذي انتظره بعد أمد بعيد، فالله جل في علاه بعد ذلك يفديه بذبح عظيم، ويقول: {قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا} [الصافات:105] فارتفع إبراهيم، فجعل الله جل في علاه إبراهيم أبا الأنبياء، وجعل من ولد إسماعيل أفضل الخلق أجمعين وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم شرع لنا هذه الشعيرة العظيمة وهي الأضحية في العيد.
ইব্রাহিম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম-এর পরীক্ষার পেছনের প্রজ্ঞা

একইভাবে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি লক্ষ্য করুন, কীভাবে মহান আল্লাহ তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন কেবল তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য এবং মানুষের কাছে ইব্রাহিমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য।

নিশ্চয়ই আল্লাহ ইব্রাহিমকে মহান পরীক্ষাসমূহের মধ্য থেকে অত্যন্ত কঠিন দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন: প্রথম পরীক্ষাটি হলো, যখন সন্তান তাঁর সাথে কাজ করার বয়সে উপনীত হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে সেই সন্তানকে জবেহ করার নির্দেশ দিলেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর প্রতি এই পরীক্ষা ছিল এক সুগভীর প্রজ্ঞার কারণে; যাতে ঈমানের সর্বোচ্চ শিখর, ইয়াকিনের পূর্ণতা এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এমনকি যখন তিনি স্বপ্ন দেখলেন, তখন তিনি বিন্দুমাত্র পিছুপা হননি: "তিনি বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি।" [আস-সাফফাত: ১০২]।

অতঃপর মহান আল্লাহ ইসমাইল আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস প্রকাশ করলেন। তিনি জবেহ হওয়ার জন্য মস্তক অবনত করলেন, আর অন্যজন (ইব্রাহিম) তাঁর সেই সন্তানকে জবেহ করতে উদ্যত হলেন যাঁর জন্য তিনি দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে একটি মহান কুরবানির বিনিময়ে মুক্ত করলেন এবং বললেন: "তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ।" [আস-সাফফাত: ১০৫]। ফলে ইব্রাহিমের মর্যাদা বৃদ্ধি পেল এবং মহান আল্লাহ ইব্রাহিমকে নবীকূলের পিতা বানালেন। আর ইসমাইলের বংশধরদের মধ্য থেকে সমগ্র সৃষ্টির সেরা সত্তাকে পাঠালেন, যিনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এরপর তিনি আমাদের জন্য ঈদে কুরবানির এই মহান বিধান প্রবর্তন করলেন।