(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: -)
صفات الله وآثارها فى إيمان العبد   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: صفات الله وآثارها فى إيمان العبد

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানে এগুলোর প্রভাব   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানে এগুলোর প্রভাব

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১)
صفات الله وآثارها في إيمان العبد -‌‌ المقدمة

من أعظم ما أوجبه الله على عباده أن يعرفوه سبحانه كما أخبر عن نفسه، وكما أخبر عنه نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، فيعرفوا أسماءه وصفاته كما وردت في النصوص بغير زيادة ولا نقصان، والقاعدة الجامعة المانعة التي تمنع العقول من التعدي في أسماء الله وصفاته هي قوله تعالى: (ليس كمثله شيء وهو السميع البصير).
আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানের ওপর এর প্রভাব -‌‌ ভূমিকা

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা আবশ্যক করেছেন তার মধ্যে অন্যতম মহান বিষয় হলো বান্দারা তাঁকে সেভাবেই চিনবে যেভাবে তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং যেভাবে তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। সুতরাং তারা তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিকে সেভাবেই জানবে যেভাবে তা কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই মূল ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে। আর সেই সংহত ও সুনির্দিষ্ট মূলনীতি যা বিবেক-বুদ্ধিকে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত রাখে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌قواعد في الأسماء والصفات

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فإن أهم العلوم وأشرفها هو علم التوحيد، والقاعدة عند العلماء: تقديم الأهم على المهم، ولا أهم من توحيد الله جل في علاه، وشرف هذا العلم ينبثق من شرف المعلوم وهو الله جل في علاه، ولا أحد أشرف من الله عز وجل.
নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত কিছু মূলনীতি

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।” [আল-ইমরান: ১০২]।

“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।” [আন-নিসা: ১]।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।” [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত জ্ঞান হলো তাওহীদের জ্ঞান। আলেমগণের নিকট মূলনীতি হলো: গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া। আর সুউচ্চ মহান আল্লাহর তাওহীদের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। এই জ্ঞানের মর্যাদা উদ্ভূত হয়েছে জ্ঞাত সত্তার (আল্লাহর) মর্যাদা থেকে, আর তিনি হলেন সুউচ্চ মহান আল্লাহ। আর মহান প্রতাপশালী আল্লাহ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান কেউ নেই।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌التسليم التام لظاهر كلام الله ورسوله

يجب على كل إنسان أن يعلم: أن الله أنزل الكتاب بلسان عربي مبين؛ لكي يفقه كل عربي عن الله مراده من ظاهر كلام الله جل في علاه، قال الله تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:192 - 195].

ويقول تعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [يوسف:2]، والحكمة من كونه عربياً أن تعقلون ما يقال لكم؛ لأنه نزل بلغتكم.

إذاً: فالضابط الأول: أن نأخذ بظاهر اللفظ من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وأن نسلم لكلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، فمثلاً قوله تعالى: {يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح:10]، ظاهر اللفظ أن لله يداً، واليد عند العرب معناها اليد التي بها يكون البطش، فإذا كانت معلومة يجب علينا أن نأخذ بظاهرها، فتبقى كلمة اليد على ما هي عليه في اللغة، ولا يجوز تأويلها بالنعمة أو القدرة؛ لأن الله أنزل القرآن بلسان عربي مبين وقال: {يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح:10].

ولله سبحانه وتعالى أصابع، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله يحمل الأشجار على ذه،، ويشير إلى أصابعه)، وأقر النبي صلى الله عليه وسلم اليهودي على أن لله أصابع، وجاء في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه أنه قال: (قلوب بني آدم بين إصبعين من أصابع الرحمن يقلبها كيف يشاء) سبحانه جل في علاه.

فهنا أثبت النبي صلى الله عليه وسلم أن لله أصابع، فالواجب علينا أن نسلم لكلامه صلى الله عليه وسلم، ولا نؤول الأصبع بالنعمة أو القدرة.

وقال الله تعالى عن سفينة نوح: ((تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا))، فالعين معلومة في اللغة العربية، ومعنى ذلك أن لله عيناً، وقد قال الله لموسى: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه:39]، فالواجب أن يمر هذا اللفظ على ظاهره، وقال الله تعالى: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلا يَسْتَطِيعُونَ} [القلم:42] فله سبحانه وتعالى ساق.

إذاً: فالضابط الأول أن نمرر قول الله على ما هو عليه بنفس المعنى العربي المبين، ومن أوّل (اليد) بالقدرة و (العين) بالرعاية فقد وقع في ما حذر الله منه بقوله: {وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [البقرة:169] وقوله: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [الإسراء:36]، ولا يجوز كذلك أن نؤول الضحك بالرحمة، ونقول: إن الله يضحك: أي يرحم، فقد جاء أحد الصحابة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم عندما أخبر أن الله يضحك، فقال: يا رسول الله! ما الذي يضحك الرب؟ (قال: أن تخلع درعك) يعني: تظهر الشجاعة والصدق، (أن تخلع درعك وتدخل على العدو تقاتل من أجل الله فتقتل مقبل غير مدبر) قال: يضحك ربنا من ذلك؟ قال: يضحك ربنا من ذلك، فخلع درعه ثم قال: لن نعدم خيراً من رب يضحك)، فقد علم ذلك الصحابي أن الله يضحك، ولازم الضحك أنه سيثيب عباده الذين ضحك لهم.

قال الله تعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ * أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ * وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ} [الفيل:1 - 3].

قال محمد عبده رحمه الله وغفر له زلاته -وهو من المدرسة العقلانية مدرسة الاعتزال، وهم يقدمون العقل على النقل- يقول: إن معنى طيراً أبابيل أي الجدري، ومرة أخرى يقول: المد والجزر، فأول وحرف كلام الله، وبدلاً من أن يفسره بلسان عربي مبين جعله أعجمياً فأوله وحرفه، وكأنه بلسان حاله يقول: ربنا! ليس هذا الكلام الذي نعقله عنك بصحيح، فكأن كلام الله جل في علاه لا يعقله أحد من العرب، والله أنزله بلسان العرب.

إذاً فالضابط الأول: التسليم التام لكلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم.
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর প্রকাশ্য অর্থের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ

প্রত্যেক মানুষের জন্য এটি জানা আবশ্যক যে: আল্লাহ সুষ্পষ্ট আরবি ভাষায় কিতাব অবতীর্ণ করেছেন; যাতে প্রত্যেক আরব ব্যক্তি সুমহান আল্লাহর বাণীর প্রকাশ্য অর্থ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত রূহ তা নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুষ্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুআরা: ১৯২ - ১৯৫]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।" [ইউসুফ: ২]। একে আরবি ভাষায় করার হিকমত হলো যাতে তোমাদেরকে যা বলা হচ্ছে তা তোমরা বুঝতে পার; কারণ এটি তোমাদের নিজস্ব ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।

অতএব, প্রথম মূলনীতি: আমরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে শব্দের প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করব এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রতি আত্মসমর্পণ করব। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে।" [আল-ফাতহ: ১০]। শব্দের প্রকাশ্য অর্থ হলো আল্লাহর হাত রয়েছে। আর আরবদের নিকট 'হাত' বলতে সেই হাতকে বোঝায় যা দ্বারা পাকড়াও করা হয়। যেহেতু বিষয়টি পরিচিত, তাই আমাদের ওপর এর প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করা আবশ্যক। সুতরাং 'হাত' শব্দটি ভাষায় যেভাবে আছে সেভাবেই বহাল থাকবে। একে 'নিয়ামত' বা 'ক্ষমতা' দ্বারা ব্যাখ্যা করা বৈধ নয়; কারণ আল্লাহ সুষ্পষ্ট আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে।" [আল-ফাতহ: ১০]।

সুুউচ্চ ও মহান আল্লাহর আঙ্গুলসমূহ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহ গাছপালাকে এর ওপর বহন করবেন, এবং তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলোর দিকে ইশারা করেন)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আঙ্গুল থাকার ব্যাপারে জনৈক ইহুদির কথাকে সমর্থন করেছেন। সহীহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আদম সন্তানের অন্তরসমূহ দয়াময় আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে পরিবর্তন করেন), তিনি অত্যন্ত সুমহান ও মহিমান্বিত।

এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জন্য আঙ্গুল সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং আমাদের ওপর আবশ্যক হলো তাঁর বাণীর প্রতি আত্মসমর্পণ করা এবং 'আঙ্গুল'কে 'নিয়ামত' বা 'ক্ষমতা' দ্বারা ব্যাখ্যা না করা।

নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যা চলত আমার চোখের সামনে।" আরবি ভাষায় 'চোখ' একটি পরিচিত বিষয়, আর এর অর্থ হলো আল্লাহর চোখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালামকে বলেছিলেন: "যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও।" [ত্বহা: ৩৯]। সুতরাং এই শব্দটিকে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "যেদিন আল্লাহর পা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তারা সক্ষম হবে না।" [আল-কলম: ৪২]। সুতরাং সুমহান আল্লাহর পা রয়েছে।

অতএব, প্রথম মূলনীতি হলো: আল্লাহর বাণীকে সুষ্পষ্ট আরবি অর্থের ওপর ভিত্তি করে যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা। আর যে ব্যক্তি 'হাত'কে 'ক্ষমতা' এবং 'চোখ'কে 'তত্ত্বাবধান' দ্বারা ব্যাখ্যা করল, সে আল্লাহ যা থেকে সতর্ক করেছেন সেই পাপে লিপ্ত হলো: "আর আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না।" [আল-বাকারা: ১৬৯] এবং তাঁর বাণী: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।" [আল-ইসরা: ৩৬]। অনুরূপভাবে 'হাসি'কে 'দয়া' দ্বারা ব্যাখ্যা করাও বৈধ নয়। আমরা বলব না যে: আল্লাহ হাসেন অর্থাৎ তিনি দয়া করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল্লাহর হাসার সংবাদ দিলেন, তখন এক সাহাবী এসে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিসে রবকে হাসায়? (তিনি বললেন: তোমার বর্ম খুলে ফেলা) অর্থাৎ: সাহসিকতা ও সত্যবাদিতা প্রদর্শন করা, (তোমার বর্ম খুলে ফেলে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া এবং আল্লাহর জন্য লড়াই করা, এমতাবস্থায় যে তুমি সম্মুখপানে অগ্রসরমান, পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী নও)। তিনি বললেন: আমাদের রব কি এ কারণে হাসেন? নবীজি বললেন: আমাদের রব এতে হাসেন। তখন তিনি তাঁর বর্ম খুলে ফেললেন এবং বললেন: আমরা এমন রবের পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হব না যিনি হাসেন। সেই সাহাবী উপলব্ধি করেছিলেন যে আল্লাহ হাসেন, আর হাসার অনিবার্য ফল হলো তিনি যাদের উদ্দেশ্যে হাসেন সেই বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি? এবং তিনি তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন।" [আল-ফীল: ১ - ৩]।

মুহাম্মদ আবদুহ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন) -যিনি যুক্তিবাদী মুতাজিলা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং তারা বর্ণনার ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়- তিনি বলেন: ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির অর্থ হলো বসন্ত রোগ। আবার অন্য সময় তিনি বলেন: জোয়ার-ভাটা। তিনি আল্লাহর বাণীর অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি ঘটিয়েছেন। সুষ্পষ্ট আরবি ভাষায় ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে তিনি একে অনারবি সদৃশ করে ফেলেছেন, ফলে তিনি অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি ঘটিয়েছেন। যেন তিনি নিজের অবস্থা দ্বারা বলছেন: হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমরা যা বুঝি এই কথাগুলো সঠিক নয়। যেন সুমহান আল্লাহর বাণী কোনো আরবই বোঝেনি, অথচ আল্লাহ এটি আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন।

সুতরাং প্রথম মূলনীতি: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أسماء الله كلها حسنى

تحت هذه القاعدة فروع كثيرة، الفرع الأول: أن أسماء الله كلها حسنى، أي: بالغة في الحسن غايته، وكون أسماء الله حسنى يتضمن أمرين: الأمر الأول: أن الاسم علامة على ذات الله.

الأمر الثاني: كل اسم من أسماء الله يتضمن صفة كمال، وهذا الذي يبلغ بالاسم غاية الحسن، فأسماء الله جل في علاه كلها غاية في الحسن والكمال؛ لأنها تتضمن صفات الكمال، وإذا انضم اسم مع اسم آخر انضم كمال مع كمال، فإذا قلت: الرحمن الرحيم فهو أكمل من أن تقول: الرحمن فقط، أو الرحيم فقط.

إذاً: فأسماء الله حسنى؛ لأنها دالة على الله، ولأنها تتضمن صفات الكمال، فالكريم اسم من أسماء الله، وهو غاية في الحسن، وذلك لأمرين: أولاً: لأنه علامة على ذات الله، وثانياً: لأنه يتضمن صفة كمال وهي الكرم.

والحي اسم من أسماء الله، كما قال الله تعالى: {الم * اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ} [آل عمران:1 - 2]، فهو اسم من أسماء الله، وهو غاية في الحسن والكمال لأمرين: أولاً: لأنه علامة على ذات الله، ثانياً: لأنه يتضمن صفة كمال وهي الحياة، وحياته سبحانه أزلية أبدية، فهي صفة كمال، وبما أن كل أسماء الله حسنى فالدهر إذاً ليس اسماً من أسماء الله.

فإن قيل: إن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (قال الله تعالى: لا تسبوا الدهر؛ فإني أنا الدهر) فكيف نقول: إن الدهر ليس اسماً من أسماء الله؟

و

‌‌الجواب

أولاً: ننظر هل هو علامة على ذات الله أم لا؟ ثانياً: ننظر هل يتضمن صفة كمال أم لا؟ فإذا نظرنا إلى ذلك فسوف نجد أنه ليس بعلامة على ذات الله، وإن قلنا: إنه علامة على ذات الله فهو لا يتضمن صفة كمال، فالدهر نهار وليل ليس فيه كمال، إذاً: ليس اسماً لله جل في علاه.

وإذا طبقنا هذه القاعدة على الموجود وهل هو من أسماء الله أم لا؟ فلا بد من أمرين: الأول: هل هذا الاسم علامة على ذات الله؟ الجواب: ليس علامة على ذات الله، والثاني: هل يتضمن كمال؟ والجواب: بل يتضمن نقصاً؛ لأن كل شيء موجود له موجد؛ لذلك فالله هو الواجد الذي أوجد كل ما في الكون وليس الموجود، إذاً: فالموجود ليس اسماً من أسماء الله.

والقديم في شرح الطحاوية أنه اسم من أسماء الله الحسنى؛ لأنه علامة على ذات الله، والأشاعرة يقولون: أخص صفات الله القدم، فلا يشترك أحد مع الله في هذه الصفة، ولكنه ليس اسماً من أسماء الله، لأنه لا يتضمن صفة كمال؛ لأن كل قديم فهناك من هو أقدم منه، والاسم الصحيح الذي يوضع مكان القديم هو الأول.

إذاًً: فأخص صفات الله الأولية؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أنت الأول فليس قبلك شيء) وهذا لا يقال في القديم؛ لأن القديم هناك من هو أقدم منه.

فهذا الضابط يجعلك تعرف هل هذا الاسم من أسماء الله الحسنى أو ليس اسماً من أسماء الله الحسنى.

الفرع الثاني: أن أسماء الله غير محصورة بعدد معين.

الفرع الثالث: أن أسماء الله لا تثبت بالعقل وإنما تثبت بالشرع، والعلماء يقولون: أسماء الله وصفاته توقيفية، ومعنى توقيفية: الوقوف عند كلام الله وكلام رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا فيه رد على من يسمي الله بأسماء ليست موجودة في الكتاب والسنة، فالنصارى يسمون الله الأب، والأب ليس من أسماء الله جل في علاه، ولم ينزل الله به من سلطان لا في التوراة ولا في الإنجيل ولا في القرآن، فقد سموا الله بغير اسمه، وهذا إلحاد في أسماء الله، فإذا قلنا: أسماء الله توقيفية فمعنى ذلك: أن هناك آية في الكتاب تثبت الاسم، أو حديث من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك اختلف العلماء في النور، هل هو من أسماء الله أم لا، وقد جاء حديث ذكرت فيه التسعة والتسعون اسماً، وهو ضعيف ليس بصحيح، ولم يرد من السنة ما يثبت أن النور اسماً من أسماء الله.

الفرع الرابع: كل اسم من أسماء الله يدل على ذاته ويتضمن صفة كمال، والصفات نوعان: متعدية ولازمة، فاللازمة كاسم الله العظيم، فإنه اسم من أسماء الله، ويتضمن صفة كمال، وهذه الصفة التي يتضمنها هي صفة العظمة، وهي صفة لازمة وليست معتدية.

والعزيز اسم لازم غير متعدي؛ لأن العزة صفة من صفات الذات، وأما الأسماء التي لها صفات متعدية فهي الأسماء التي تتضمن صفات الفعل، كالْرَّحَيمِ، فالرحيم اسم من أسماء الله غاية في الحسن؛ لأنه يتضمن صفة كمال وهي الرحمة، والرحمة صفة متعدية؛ لأن الله يرحم عباده، فهو رحيم قبل أن يخلق الخلق ويرحمهم.
আল্লাহর সকল নামই সুন্দর

এই মূলনীতির অধীনে অনেকগুলো শাখা রয়েছে। প্রথম শাখা: আল্লাহর সকল নামই সুন্দর; অর্থাৎ, সৌন্দর্যের দিক থেকে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আল্লাহর নামসমূহ সুন্দর হওয়ার বিষয়টি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথম বিষয়: এই নাম আল্লাহর সত্তার পরিচয় বহনকারী চিহ্ন।

দ্বিতীয় বিষয়: আল্লাহর প্রতিটি নাম একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে, আর এটাই নামটিকে সৌন্দর্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। মহান আল্লাহর সকল নামই সৌন্দর্য ও পূর্ণতায় চূড়ান্ত; কারণ এগুলো পূর্ণতার গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যখন একটি নামের সাথে অন্য একটি নাম যুক্ত হয়, তখন পূর্ণতার সাথে আরও পূর্ণতা যোগ হয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন: ‘আর-রাহমান আর-রাহিম’, তখন এটি কেবল ‘আর-রাহমান’ বা কেবল ‘আর-রাহিম’ বলার চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

অতএব, আল্লাহর নামসমূহ সুন্দর; কারণ সেগুলো আল্লাহর সত্তার প্রমাণ দেয় এবং পূর্ণতার গুণাবলি ধারণ করে। যেমন ‘আল-কারিম’ আল্লাহর নামসমূহের একটি, যা সৌন্দর্যের দিক থেকে চূড়ান্ত। এর কারণ দুটি: প্রথমত, এটি আল্লাহর সত্তার একটি পরিচয়, এবং দ্বিতীয়ত, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা হলো ‘কারাম’ (উদারতা)।

‘আল-হাই’ আল্লাহর নামসমূহের একটি, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আলিফ লাম মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব} [আলে ইমরান: ১-২]। এটি আল্লাহর একটি নাম এবং এটি সৌন্দর্য ও পূর্ণতায় চূড়ান্ত হওয়ার কারণ দুটি: প্রথমত, এটি আল্লাহর সত্তার পরিচয়, দ্বিতীয়ত, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে যা হলো ‘হায়াত’ (জীবন)। আর মহান আল্লাহর জীবন অনাদি ও অনন্ত, যা একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ। যেহেতু আল্লাহর সকল নামই সুন্দর, তাই ‘দাহর’ (কাল) আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যদি প্রশ্ন করা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো বলেছেন: (মহান আল্লাহ বলেছেন: তোমরা কালকে গালি দিও না; কারণ আমিই কাল)। তবে আমরা কীভাবে বলছি যে ‘দাহর’ আল্লাহর কোনো নাম নয়?

ও

উত্তর

প্রথমত, আমরা দেখব এটি আল্লাহর সত্তার কোনো পরিচয় কি না? দ্বিতীয়ত, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে কি না? যদি আমরা সেদিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাব যে এটি আল্লাহর সত্তার কোনো পরিচয় নয়। আর যদি আমরা ধরেও নিই যে এটি সত্তার পরিচয়, তবুও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ ‘দাহর’ হলো দিন ও রাতের সমষ্টি যাতে কোনো পূর্ণতা নেই। অতএব, এটি মহান আল্লাহর কোনো নাম নয়।

আর যদি আমরা এই নীতিটি ‘আল-মাওজুদ’ (অস্তিত্ববান)-এর ওপর প্রয়োগ করি যে এটি আল্লাহর নাম কি না, তবে সেক্ষেত্রে দুটি বিষয় আবশ্যক: প্রথমত, এই নামটি কি আল্লাহর সত্তার পরিচয়? উত্তর: এটি আল্লাহর সত্তার পরিচয় নয়। দ্বিতীয়ত, এটি কি কোনো পূর্ণতা অন্তর্ভুক্ত করে? উত্তর: বরং এটি ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ প্রতিটি বিদ্যমান (মাওজুদ) বস্তুরই একজন অস্তিত্বদানকারী (মুজিদ) থাকে। এ কারণেই আল্লাহ হলেন ‘আল-ওয়াজিদ’ (অস্তিত্বদানকারী) যিনি মহাবিশ্বের সবকিছুর অস্তিত্ব দিয়েছেন, তিনি ‘আল-মাওজুদ’ নন। সুতরাং, ‘আল-মাওজুদ’ আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

‘শারহুত তাহাবিয়্যাহ’-তে ‘আল-কাদিম’ (অনাদি)-কে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; কারণ এটি আল্লাহর সত্তার পরিচয় দেয়। আশআরীগণ বলেন: আল্লাহর সবচেয়ে বিশিষ্ট গুণ হলো ‘কিদাম’ (অনাদিত্ব), এই গুণে আল্লাহর সাথে কেউ শরিক নয়। কিন্তু এটি আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে না; কেননা প্রতিটি ‘কাদিম’ বা পুরাতনের চেয়েও পুরাতন কিছু থাকতে পারে। আর ‘আল-কাদিম’-এর স্থলে যে নামটি রাখা সঠিক তা হলো ‘আল-আউয়াল’।

অতএব, আল্লাহর সবচেয়ে বিশিষ্ট গুণ হলো ‘আউয়ালিয়া’ (সর্বাগ্রে হওয়া); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই নেই)। এটি ‘কাদিম’ শব্দের ক্ষেত্রে বলা যায় না; কারণ ‘কাদিম’-এর চেয়েও পুরাতন কিছু থাকতে পারে।

এই মানদণ্ডটি আপনাকে জানতে সাহায্য করবে যে, কোনো নাম আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত কি না।

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

তৃতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ বিবেক দিয়ে সাব্যস্ত হয় না, বরং তা শরীয়তের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। ওলামায়ে কেরাম বলেন: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি ‘তাওকিফিয়্যাহ’ (দলিল নির্ভর)। ‘তাওকিফিয়্যাহ’ এর অর্থ হলো: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। এটি তাদের প্রতিবাদ স্বরূপ, যারা আল্লাহকে এমন সব নামে অভিহিত করে যা কুরআন ও সুন্নাহতে নেই। যেমন খ্রিস্টানরা আল্লাহকে ‘পিতা’ বলে ডাকে, অথচ ‘পিতা’ মহান আল্লাহর কোনো নাম নয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাজিল করেননি—না তাওরাতে, না ইঞ্জিলে, আর না কুরআনে। তারা আল্লাহকে তাঁর নাম ব্যতিরেকে অন্য নামে ডেকেছে, আর এটি আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে বিকৃতি (ইলহাদ)। সুতরাং আমরা যখন বলি আল্লাহর নামসমূহ ‘তাওকিফিয়্যাহ’, তখন এর অর্থ হলো: কিতাবে এমন কোনো আয়াত থাকতে হবে যা সেই নামটি সাব্যস্ত করে, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোনো হাদিস থাকতে হবে। একারণেই আলেমগণ ‘আন-নূর’ আল্লাহর নাম কি না, তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। একটি হাদিস এসেছে যাতে নিরানব্বইটি নামের কথা উল্লেখ আছে, তবে তা দুর্বল, সহীহ নয়। আর সুন্নাহ থেকে এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি যা সাব্যস্ত করে যে ‘আন-নূর’ আল্লাহর নামসমূহের একটি।

চতুর্থ শাখা: আল্লাহর প্রতিটি নাম তাঁর সত্তার ওপর প্রমাণ বহন করে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে। গুণাবলি (সিফাত) দুই প্রকার: মুতাআদ্দি (কর্মবাচক) এবং লাজিম (সত্তাগত)। লাজিম গুণের উদাহরণ হলো আল্লাহর নাম ‘আল-আজিম’। এটি আল্লাহর নামসমূহের একটি এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে। এই নামটি যে গুণটি অন্তর্ভুক্ত করে তা হলো ‘আজমত’ (মহত্ব), যা একটি লাজিম গুণ, মুতাআদ্দি নয়।

‘আল-আজিজ’ একটি লাজিম নাম, মুতাআদ্দি নয়; কারণ ‘ইজ্জত’ (পরাক্রম) হলো সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। আর যেসব নামের গুণাবলি মুতাআদ্দি, সেগুলো এমন সব নাম যা ক্রিয়াগত গুণাবলি (সিফাতুল ফিল) অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ‘আর-রাহিম’। ‘আর-রাহিম’ আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে সৌন্দর্যে চূড়ান্ত; কারণ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ অন্তর্ভুক্ত করে যা হলো ‘রাহমত’ (দয়া)। আর ‘রাহমত’ হলো একটি মুতাআদ্দি বা কর্মবাচক গুণ; কারণ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর দয়া করেন। সুতরাং তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টির আগে থেকেই রাহিম এবং তিনি তাদের ওপর দয়া করেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌صفات الله كمال من كل وجه

هذه هي القاعدة الثالثة في صفات الله، وتحتها فروع: الفرع الأول: صفات الله كمال من كل وجه؛ لأن الله جل وعلا قال: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَى} [النحل:60]، وقال: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4]، وقال سبحانه وتعالى: {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا} [الإسراء:43]، فلله جل وعلا العلو المطلق، وصفاته لها الكمال المطلق من كل وجه، كالعزة والرحمة والكرم والجود والبر والمنع والعطاء والإحسان والعطف والرأفة والعظمة والكبرياء، فكل هذه صفات كمال من كل وجه، وهناك كمال لكنه ليس من كل وجه، فهو كمال من وجه ونقص من وجه كالاستهزاء والخداع والمكر، فيوصف بها الله حين تكون كمالاً، وتنفى عنه حين تكون نقصاً، فالعبد الماكر منبوذ، {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَى} [النحل:60] لكن العبد الذي يمكر بالماكرين يكون المكر فيه من الكمال، فالله يستدرج الماكرين ويعلمهم قوته وعزته، وهذا كمال حين المقابلة، فتقول: يمكر بالماكرين، ويستهزئ بالمستهزئين، لكن لا يمكن أن تقول: إن الله ماكر أو مخادع، حاشا لله! لأن ذلك تنقص من قدر الله جل في علاه، فالصفات التي هي كمال من وجه ونقص من وجه نصف بها الله حين تكون كمالاً، وننفيها عنه حين تكون نقصاً، كقوله تعالى: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [الأنفال:30].

الفرع الثاني: صفات الله تنقسم إلى قسمين: ثبوتية وسلبية، فالثبوتية هي التي أثبتها الله في كتابه وأثبتها على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته، فيكون قسم ثبت في كتاب الله، وقسم ثبت على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا نقول: على لسان الله فنثبت لله لساناً، بل نسكت كما سكت السلف، فإنهم لم يثبتوا لله لساناً ولم ينفوها عنه، فلا نقول على الله ما لا نعلم قال تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [الإسراء:36].

إذاً: فالصفات الثبوتية أثبتها الله لنفسه في كتابه كقوله سبحانه: {فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا} [النساء:139]، وقوله عز وجل: {وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَوَاتِ} [الجاثية:37]، وأثبتها له رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: (أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق)، وقال: (يكشف الله عن ساقه) فالنبي صلى الله عليه وسلم أثبت لله ساقاً، وأثبت لله كلاماً، فتكون هذه الصفات ثابتة في الكتاب والسنة.

والصفات السلبية هي التي نفاها الله عن نفسه في الكتاب، ونفاها عنه نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، كقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا} [يونس:44]، وقوله سبحانه: {وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [فصلت:46]، وقوله: {وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق:38]، وقوله: {لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ} [البقرة:255]، والنبي صلى الله عليه وسلم ينفي عن ربه النوم فقال: (إن الله لا ينام ولا ينبغي له أن ينام) أي: يستحيل في حقه النوم سبحانه.

فكل صفة نقص لا بد أن ننفيها عن الله جل في علاه.

الفرع الثالث: الصفات الثبوتية تنقسم إلى قسمين: ذاتية وفعلية، ويزاد على ذلك الخبرية، والبعض يرى أن الخبرية تنزل منزلة الذاتية، والصفة الذاتية: هي التي لا تنفك عن الله بحال من الأحوال كالحياة، فإنها صفة ذاتية لا تنفك عن الله، ولا يمكن أن نقول: كان الله حياً؛ لأن الصفة الذاتية أزلية أبدية يتصف الله بها أزلاً وأبداً.

والصفة الفعلية هي المتجددة، فيمكن أن يفعلها الليلة ولا يفعلها غداً، ويمكن أن يفعلها اليوم ولا يفعلها بعد غد، كالكلام فإن ربنا جل في علاه تكلم مع موسى حين جاء موسى للشجرة، لكنه سبحانه لم يكن في الأزل يتكلم وفي الآخر يتكلم، وكذلك ينزل الله في ثلث الليل ولا ينزل نهاراً، فالصفات الفعلية تتجدد، وهي متعلقة بمشيئة الله، إن شاء الله فعل وإن شاء لم يفعل، فإن شاء استوى وإن شاء لم يستو، وإن شاء تكلم وإن شاء لم يتكلم، وإن شاء أعطى وإن شاء لم يعط.

والصفات الخبرية هي التي نسميها أجزاء وأبعاض، كاليد فإنها صفة لله، وهي بالنسبة لنا أجزء، وليست جزء من الله بل صفة له، وكالعين فإنها صفة لله وهي جزء منا، والساق صفة لله وهي جزء منا كذلك.

ومن الأمثلة على الصفات الذاتية: الحياء: فإنها صفة ذاتية؛ لأن الله يستحي، فعندما يتكلم عن الجماع يقول: {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ} [النساء:43]، قال ابن عباس: معناها: جامعتم.

ومن الصفات الذاتية: الكرم فهي فعلية؛ لأنه سبحانه إن شاء أكرم زيداً وإن شاء لم يكرمه، لكنها في الأصل ذاتية.

الفرع الرابع: كل صفة من صفات الله فإنه يتوجه عليها ثلاثة أسئلة: السؤال الأول: هل هي حقيقة أم هي مجاز؟ السؤال الثاني: هل لها كيفية معلومة أو مجهولة؟ السؤال الثالث: هل تماثل صفات المخلوقين أم لا؟

و

‌‌الجواب

أن صفات الله لا بد أن نثبتها بلا تمثيل، ولا تشبيه، ولا تكييف، ولا تحريف، ولا تأويل.

والمماثلة: المطابقة في الصفة، كأن يقول المشبه: يد الله مثل يد محمد - أعوذ بالله -، وصفات الله تثبت بلا تمثيل؛ لقول الله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].

ومعنى التشبيه أن تقول: عين الله تقارب عين المخلوق، وحاشا لله! لأن الله صفاته لا تشبه صفات المخلوق.

ومعنى التكييف أن تقول: يد الله طولها كذا وأصبعه صفتها كذا دون أن تأتي لها بالمماثل، فتكيف لله جل وعلا هيئة وتتصور صفته في ذهنك، وهذا لا يجوز أيضاً في حق الله؛ لأن الله تعالى يقول: {وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا} [طه:110] والإنسان يكيف الصفة إذا رأى صاحب الصفة، وهو ير الله، أو أخبره من رأى صاحب الصفة بكيفية الصفة ولم يخبرنا النبي صلى الله عليه وسلم بكيفية الصفة، أو رأى مثيلاً لصاحب الصفة، فينظر إليه فيقول: كيفية صفتك كذا وكيفية صفة لله كذا تعالى الله عن ذلك {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].

وبلا تأويل، أي: بلا تحريف.

فهذه هي القاعدة الأولى: أن يمر اللفظ على ظاهره.
আল্লাহর গুণাবলি সব দিক থেকেই পরিপূর্ণ

এটি আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ক তৃতীয় নীতি, এবং এর অধীনে কয়েকটি শাখা রয়েছে: প্রথম শাখা: আল্লাহর গুণাবলি সব দিক থেকেই পরিপূর্ণ; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত} [আন-নাহল: ৬০], এবং তিনি বলেছেন: {আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ৪], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তারা যা বলে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত এবং বহু ঊর্ধ্বে} [আল-ইসরা: ৪৩]। সুতরাং মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ উচ্চতা, এবং তাঁর গুণাবলি সব দিক থেকেই নিরঙ্কুশ পরিপূর্ণতার অধিকারী, যেমন: মর্যাদা, রহমত, দানশীলতা, বদান্যতা, নেকি, প্রদান করা ও বিরত রাখা, অনুগ্রহ, মমতা, দয়া, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব। এই সবগুলোই সব দিক থেকে পরিপূর্ণতার গুণ। আবার এমন কিছু গুণ আছে যা সব দিক থেকে পরিপূর্ণ নয়, বরং এক দিক থেকে পরিপূর্ণ এবং অন্য দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ, যেমন: বিদ্রূপ করা, প্রতারণা করা এবং কৌশল (মকর) অবলম্বন করা। এই গুণগুলোকে আল্লাহর জন্য তখনই সাব্যস্ত করা হয় যখন সেগুলো পরিপূর্ণতা প্রকাশ করে, আর যখন সেগুলো ত্রুটি বোঝায় তখন আল্লাহর থেকে তা অস্বীকার করা হয়। যেমন একজন প্রতারক বান্দা নিন্দনীয়, {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত} [আন-নাহল: ৬০], কিন্তু যে বান্দা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করে, তার ক্ষেত্রে সেই কৌশল অবলম্বন করা একটি গুণ বা পরিপূর্ণতা। সুতরাং আল্লাহ ষড়যন্ত্রকারীদের ক্রমশ পাকড়াও করেন এবং তাদেরকে তাঁর শক্তি ও মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন; এটি মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি পরিপূর্ণতা। তাই আপনি বলবেন: তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে কৌশল অবলম্বন করেন এবং বিদ্রূপকারীদের সাথে বিদ্রূপ করেন। কিন্তু আপনি এটি বলতে পারেন না যে: আল্লাহ একজন ষড়যন্ত্রকারী বা প্রতারক, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র! কারণ এটি মহান আল্লাহর মর্যাদাকে খাটো করে। সুতরাং যে গুণগুলো এক দিক থেকে পরিপূর্ণতা এবং অন্য দিক থেকে ত্রুটি, সেগুলো আমরা আল্লাহর জন্য তখনই সাব্যস্ত করব যখন তা পরিপূর্ণতা হয়, এবং যখন তা ত্রুটি হয় তখন আমরা তা আল্লাহর থেকে অস্বীকার করব। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারাও কৌশল অবলম্বন করছিল এবং আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করছিলেন, আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী} [আল-আনফাল: ৩০]।

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর গুণাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক ও নেতিবাচক। ইতিবাচক গুণাবলি সেগুলো যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং এক ভাগ আল্লাহর কিতাবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অন্য ভাগ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা 'আল্লাহর জবানে' বলি না কারণ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর জন্য জিহ্বা সাব্যস্ত করে ফেলি; বরং আমরা চুপ থাকি যেমন সালাফরা চুপ থেকেছেন। কারণ তাঁরা আল্লাহর জন্য জিহ্বা সাব্যস্ত করেননি এবং তা অস্বীকারও করেননি। তাই আমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলব না যা আমরা জানি না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না} [আল-ইসরা: ৩৬]।

অতএব: ইতিবাচক গুণাবলি সেগুলো যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বস্তুত সমস্ত মর্যাদা আল্লাহরই জন্য} [আন-নিসা: ১৩৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আকাশমন্ডলীতে তাঁরই জন্য শ্রেষ্ঠত্ব} [আল-জাথিয়া: ৩৭]। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: (আমি আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমা সমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি), এবং তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তাঁর পা উন্মোচন করবেন)। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জন্য পা সাব্যস্ত করেছেন এবং আল্লাহর জন্য কথা বলা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং এই গুণগুলো কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

আর নেতিবাচক গুণাবলি সেগুলো যা আল্লাহ কিতাবে নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে অস্বীকার করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি সামান্যতম জুলুম করেন না} [ইউনূস: ৪৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার রব বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নন} [ফুসসিলাত: ৪৬], এবং তাঁর বাণী: {কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করেনি} [ক্বাফ: ৩৮], এবং তাঁর বাণী: {তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না} [আল-বাকারা: ২৫৫]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের থেকে ঘুমকে অস্বীকার করে বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর জন্য সমীচীন নয়), অর্থাৎ: মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে ঘুম অসম্ভব।

সুতরাং প্রতিটি ত্রুটিপূর্ণ গুণ অবশ্যই মহান আল্লাহ থেকে অস্বীকার করতে হবে।

তৃতীয় শাখা: ইতিবাচক গুণাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: সত্তাগত ও কর্মগত। এর সাথে সংবাদনির্ভর (খবরিয়া) গুণাবলি যোগ করা হয়। কেউ কেউ মনে করেন সংবাদনির্ভর গুণাবলি সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। সত্তাগত গুণাবলি সেগুলো যা কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, যেমন: জীবন। এটি একটি সত্তাগত গুণ যা আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আমরা এমন বলতে পারি না যে: আল্লাহ একসময় জীবিত ছিলেন; কারণ সত্তাগত গুণ অনাদি ও অনন্ত এবং আল্লাহ অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল এই গুণে গুণান্বিত।

আর কর্মগত গুণাবলি সেগুলো যা নতুনভাবে ঘটে। যেমন তিনি এটি আজ রাতে করতে পারেন আবার কাল নাও করতে পারেন, আজ করতে পারেন আবার পরশু নাও করতে পারেন। যেমন: কথা বলা। আমাদের রব যখন মূসা গাছের কাছে এলেন তখন তাঁর সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি অনাদিকাল থেকে একটানা কথা বলছেন এবং অনন্তকাল ধরে বলছেন এমন নয় (বরং যখন ইচ্ছা বলেন)। অনুরূপভাবে আল্লাহ রাতের এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসেন কিন্তু দিনে নামেন না। সুতরাং কর্মগত গুণাবলি নতুনভাবে ঘটে এবং তা আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ চাইলে করেন এবং না চাইলে করেন না। তিনি চাইলে উঠেন এবং না চাইলে উঠেন না, তিনি চাইলে কথা বলেন এবং না চাইলে বলেন না, তিনি চাইলে দান করেন এবং না চাইলে করেন না।

আর সংবাদনির্ভর (খবরিয়া) গুণাবলি সেগুলো যেগুলোকে আমরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বলে থাকি, যেমন: হাত। এটি আল্লাহর একটি গুণ। এটি আমাদের ক্ষেত্রে অঙ্গ, কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে তা তাঁর অংশ নয় বরং তাঁর গুণ। যেমন: চোখ। এটি আল্লাহর একটি গুণ এবং আমাদের ক্ষেত্রে এটি একটি অঙ্গ। পা-ও আল্লাহর একটি গুণ এবং আমাদের ক্ষেত্রে এটি একটি অঙ্গ।

সত্তাগত গুণাবলির উদাহরণ হলো: লজ্জা। এটি একটি সত্তাগত গুণ; কারণ আল্লাহ লজ্জা করেন। যখন তিনি সহবাস সম্পর্কে কথা বলেন তখন বলেন: {অথবা যদি তোমরা নারীদের স্পর্শ করো} [আন-নিসা: ৪৩]। ইবনে আব্বাস বলেছেন: এর অর্থ হলো: তোমরা সহবাস করেছ।

আর দানশীলতা বা মহানুভবতা সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, আবার এটি কর্মগতও; কারণ তিনি চাইলে জায়েদকে সম্মানিত করেন আর না চাইলে করেন না। কিন্তু মূলত এটি একটি সত্তাগত গুণ।

চতুর্থ শাখা: আল্লাহর প্রতিটি গুণের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: প্রথম প্রশ্ন: এটি কি প্রকৃত অর্থে নাকি রূপক অর্থে? দ্বিতীয় প্রশ্ন: এর কি কোনো জানা ধরণ আছে নাকি অজানা? তৃতীয় প্রশ্ন: এটি কি সৃষ্টির গুণের সদৃশ নাকি নয়?

ও

উত্তর

হলো: আল্লাহর গুণাবলি আমাদের অবশ্যই সাব্যস্ত করতে হবে কোনো প্রকার সদৃশ প্রদান, তুলনা, ধরণ নির্ধারণ, বিকৃতি এবং অপব্যাখ্যা ছাড়াই।

সদৃশ প্রদান (মুমাসালাহ) হলো: গুণের হুবহু মিল করা। যেমন একজন উপমাকারী বলে: আল্লাহর হাত মুহাম্মদের হাতের মতো - নাউজুবিল্লাহ -। আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করতে হবে সদৃশ প্রদান ছাড়াই; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শূরা: ১১]।

তুলনা (তাশবিহ) এর অর্থ হলো আপনি বলবেন: আল্লাহর চোখ সৃষ্টির চোখের কাছাকাছি। আল্লাহ তা থেকে অনেক পবিত্র! কারণ আল্লাহর গুণাবলি সৃষ্টির গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

ধরণ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) এর অর্থ হলো আপনি বলবেন: আল্লাহর হাতের দৈর্ঘ্য এতটুকু এবং তাঁর আঙুলের ধরণ এমন, কোনো সদৃশ উদাহরণ না দিয়েই। অর্থাৎ আপনি মহান আল্লাহর জন্য একটি অবয়ব নির্ধারণ করলেন এবং আপনার হৃদয়ে তাঁর গুণের একটি কাল্পনিক চিত্র তৈরি করলেন। এটিও আল্লাহর ক্ষেত্রে জায়েজ নেই; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} [তাহা: ১১০]। মানুষ কোনো গুণের ধরণ তখনই বর্ণনা করতে পারে যখন সে সেই গুণের অধিকারীকে দেখেছে - অথচ সে আল্লাহকে দেখেনি, অথবা গুণের অধিকারীকে দেখেছে এমন কেউ যদি তাকে ধরণ সম্পর্কে খবর দেয় - অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গুণের ধরণ সম্পর্কে বলেননি, অথবা সে গুণের অধিকারীর কোনো সদৃশ কিছু দেখে থাকে - তখন সে তার দিকে তাকিয়ে বলতে পারে যে আপনার গুণের ধরণ এমন হলে আল্লাহর গুণের ধরণও এমন হবে। আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শূরা: ১১]।

এবং অপব্যাখ্যা ছাড়া, অর্থাৎ বিকৃতি ছাড়া।

এটিই হলো প্রথম নীতি: শব্দকে তার প্রকাশ্য অর্থেই গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الرد على المعطلة

المعطلة قسمان: معطلة تعطيلاً كاملاً محضاً، ومعطلة تعطيلاً ناقصاً، والمعطلة تعطيلاً كاملاً هم الجهمية، وهم الذين عطلوا الاسم والصفة، فيقولون: لا سميع ولا سمع، ولا بصير ولا بصر، ولا كريم ولا كرم، ولا قدير ولا قدرة، فالمعطلة الجهمية ينفون عن الله الاسم وينفون عنه الصفة، والله يقول: {بِسْمِ اللَّهِ الْرَّحمَنِ الْرَّحَيمِ * الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة:1 - 2]، وهم يقولون: لا رحمن ولا رحيم، ويقول: {وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} [سبأ:6]، وهم يقولون: لا عزيز ولا عزة، فهم إذاً يعبدون عدماً.

والمعطلة تعطيلاً ناقصاً هم المعتزلة، وهم الذين يثبتون لله الاسم وينفون عنه الصفة، فيقولون: الله عزيز لكن بلا عزة وسميع بلا سمع، وهذا تناقض، فلو قلت: محمد السميع فمعنى ذلك أنه يسمع الكلام ويتصف بصفة السمع، ولذلك كانت عائشة تقول: سبحان الذي وسع سمعه الأصوات كلها، فالمرأة تشكو زوجها للرسول صلى الله عليه وسلم وأنا في ناحية المسجد يخفى علي بعض حديثها، فأنزل الله: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} [المجادلة:1].
মুআত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) খণ্ডন

মুআত্তিলা বা অস্বীকারকারীগণ দুই প্রকার: যারা পূর্ণাঙ্গ ও নিছক অস্বীকারকারী এবং যারা আংশিক অস্বীকারকারী। পূর্ণাঙ্গ অস্বীকারকারী হলো জাহমিয়া সম্প্রদায়; তারা আল্লাহর নাম ও গুণ উভয়কেই অস্বীকার করে। তারা বলে: আল্লাহ শ্রবণকারী নন এবং তাঁর শ্রবণগুণও নেই; আল্লাহ দ্রষ্টা নন এবং তাঁর দর্শনগুণও নেই; তিনি দয়ালু নন এবং তাঁর দয়া নেই; তিনি সর্বশক্তিমান নন এবং তাঁর শক্তিও নেই। সুতরাং জাহমিয়া অস্বীকারকারীরা আল্লাহর নাম এবং তাঁর গুণাবলি উভয়কেই নাকচ করে দেয়। অথচ আল্লাহ বলেন: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক" [আল-ফাতিহা: ১-২]। কিন্তু তারা বলে: কোনো রহমান (পরম করুণাময়) নেই এবং কোনো রাহিম (দয়ালু) নেই। আল্লাহ আরও বলেন: "এবং তিনি পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করেন" [সাবা: ৬]। আর তারা বলে: কোনো পরাক্রমশালী নেই এবং কোনো পরাক্রমও নেই। অতএব, তারা মূলত এক অস্তিত্বহীন সত্তার ইবাদত করছে।

আংশিক অস্বীকারকারী হলো মুতাজিলা সম্প্রদায়; তারা আল্লাহর নামসমূহ সাব্যস্ত করে কিন্তু তাঁর গুণাবলি অস্বীকার করে। তারা বলে: আল্লাহ পরাক্রমশালী কিন্তু তাঁর কোনো পরাক্রম নেই এবং তিনি শ্রবণকারী কিন্তু তাঁর কোনো শ্রবণগুণ নেই। এটি একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য। আপনি যদি বলেন, 'মুহাম্মদ শ্রবণকারী', তবে এর অর্থ হলো তিনি কথা শোনেন এবং শ্রবণগুণে গুণান্বিত। এই কারণেই আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলতেন: "সেই সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি যাঁর শ্রবণশক্তি সমস্ত শব্দকে পরিবেষ্টন করে আছে।" সেই নারী যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলেন, তখন আমি মসজিদের এক কোণে ছিলাম এবং তাঁর কিছু কথা আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল" [আল-মুজাদালা: ১]।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: -)
صفات الله وآثارها فى إيمان العبد   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: صفات الله وآثارها فى إيمان العبد

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানের ওপর এর প্রভাব   (মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানের ওপর এর প্রভাব

লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলামি নেটওয়ার্ক (IslamWeb) ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১)
صفات الله وآثارها في إيمان العبد -‌‌ شرح صفة الأولية والآخرية لله عز وجل

الأول والآخر اسمان من أسماء الله عز وجل، ويتضمن هذان الاسمان صفتين من صفاته سبحانه، وهما: الأولية والآخرية.

ولهاتين الصفتين أثرهما على إيمان العبد وعبوديته لربه، فالله هو الأول وكل شيء بدايته بيده، وهو سبحانه الآخر وكل شيء خاتمته إليه.
আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানে সেগুলোর প্রভাব -‌‌ মহান আল্লাহর আউয়ালিয়াত (অনাদ্যন্ততা) ও আখিরিয়াত (অনন্তত্ব) গুণের ব্যাখ্যা

‘আল-আউয়াল’ এবং ‘আল-আখির’ মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নাম, আর এই নাম দুটি তাঁর সুমহান সত্তার দুটি গুণকে শামিল করে, আর তা হলো: আউয়ালিয়াত ও আখিরিয়াত।

এই গুণ দুটির প্রভাব রয়েছে বান্দার ঈমান এবং তার রবের প্রতি বন্দেগির ওপর; কেননা আল্লাহই প্রথম এবং প্রতিটি বিষয়ের সূচনা আল্লাহর হাতে, আর তিনি পবিত্র সত্তা হিসেবে শেষ এবং প্রতিটি বিষয়ের সমাপ্তি তাঁরই কাছে।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أهمية علم العقيدة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعه، وكل بدعة ضلاله، وكل ضلاله في النار، ثم أما بعد: فإن علم العقيدة من أشرف العلوم؛ لأنه يتعلق بصفات الرب جلا في علاه، ولا أحد أشرف من الله، والعبد مربوب لله جلا في علاه، والله جلا في علاه يقول: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56]، والعلم من أجل العبادات، فبه يتعرف الإنسان على ربه حق المعرفة، فيعرفه بأسمائه الحسنى وبصفاته العلى، كما يعرف كمال الله وجلاله سبحانه وتعالى، ولا بد أن يعرف الإنسان كيف يتعبد لله جلا في علاه بصفاته التي علمه إياها.
আকিদা শাস্ত্রের গুরুত্ব

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয়ের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্‌ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতঃপর: নিশ্চয়ই আকিদা শাস্ত্র হলো শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটি সুউচ্চ মহান রবের গুণাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। বান্দা তার সুউচ্চ মহান রবের সৃষ্টি ও লালিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]। আর জ্ঞান অর্জন করা মহান ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কেননা এর মাধ্যমেই মানুষ তার রবকে প্রকৃতভাবে চিনতে পারে। ফলে সে তাঁকে তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে জানতে পারে, যেমনটি সে আল্লাহর পূর্ণতা এবং মহিমা সম্পর্কে জানতে পারে। আর মানুষের জন্য অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে, আল্লাহ তাকে যে সকল গুণের কথা শিখিয়েছেন, সেগুলোর মাধ্যমে সে কীভাবে সুউচ্চ মহান রবের ইবাদত করবে।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفرق بين الصفات الثبوتية والصفات السلبية

إن الفرق بين الصفات الثبوتيه والصفات السلبية هو أن الصفات الثبوتية يثبت الله لنفسه بها الكمال، وأما الصفات السلبية فينفي الله عن نفسه بها النقص، فالصفة الثبوتية كقول الله تعالى: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} [البقرة:255]، ففي هذه الآية أثبت الله لنفسه صفة الحياة والقيومية، وهما من صفات الكمال، وكقول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث القدسي كما في الصحيحين (الكبرياء ردائي والعظمة إزاري).
ইতিবাচক গুণাবলি এবং নেতিবাচক গুণাবলির মধ্যকার পার্থক্য

নিশ্চয়ই ইতিবাচক গুণাবলি (সিফাত ছুবুতিয়্যাহ) এবং নেতিবাচক গুণাবলির (সিফাত সালবিয়্যাহ) মধ্যকার পার্থক্য হলো এই যে, ইতিবাচক গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহ নিজের জন্য পূর্ণতা সাব্যস্ত করেন, আর নেতিবাচক গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহ নিজের থেকে ত্রুটি ও অপূর্ণতাকে অস্বীকার করেন। সুতরাং ইতিবাচক গুণাবলি যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক} [আল-বাকারাহ: ২৫৫], এই আয়াতে আল্লাহ নিজের জন্য জীবন এবং কাইয়ূমিয়্যাত (সর্বসত্তার ধারক হওয়া)-এর গুণ সাব্যস্ত করেছেন, আর এই উভয়টিই পূর্ণতার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। এবং যেমন সহীহাইন-এ বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (অহংকার আমার চাদর এবং মহিমা আমার লুঙ্গি)।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المعطلة من الجهمية والمعتزلة ومنهجهم في الصفات

المعطلة هم الذين عطلوا الأسماء والصفات فنفوها أو أولوها، كالجهمية والمعتزلة.

وهم قسمان: المعتزلة والجهمية، فالمعتزلة نفوا الصفات وأثبتوا الأسماء، والجهمية نفوا الأسماء والصفات، وعليه فإن التعطيل قسمان: تعطيل ناقص كتعطيل المعتزلة، وتعطيل كامل كتعطيل الجهمية.

فالمعتزلة يقولون: إن الله له اسم السميع لكن بلا سمع، وعند الجواب عليهم وإلزامهم بالحجة لا بد أن نأتي على المتفق عليه بيننا وبينهم، ثم نرد على المختلف فيه والمتفق عليه بين أهل السنة والجماعة وبين المعتزلة هو إثبات الذات لله جل وعلا، والمختلف فيه بينهم هو إثبات الصفات، فيكون الجواب على المعتزلة بقاعدة: القول في الصفات كالقول في الذات؛ لأن الصفة معنى قائم بالذات، فإذا قالوا: إن الله جلا وعلا له ذات مقدسه، وأثبتوا أن الله سميع مثلاً فيلزمهم أن يثبتوا المعنى القائم بهذه الذات وهو صفة السمع، فالقول في الصفات كالقول بالذات.
জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মধ্য থেকে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী (মুয়াত্তিলা) এবং সিফাতের ক্ষেত্রে তাদের মানহাজ

মুয়াত্তিলা হলো তারা যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে অর্থহীন করেছে, ফলে তারা সেগুলো অস্বীকার করেছে অথবা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে; যেমন জাহমিয়া ও মুতাজিলা।

তারা দুই ভাগে বিভক্ত: মুতাজিলা ও জাহমিয়া। মুতাজিলারা গুণাবলি অস্বীকার করেছে কিন্তু নামসমূহ সাব্যস্ত করেছে, আর জাহমিয়ারা নাম ও গুণাবলি উভয়ই অস্বীকার করেছে। এর ওপর ভিত্তি করে তাতিল বা গুণাবলি অস্বীকার করা দুই প্রকার: অপূর্ণাঙ্গ তাতিল যেমন মুতাজিলাদের তাতিল, এবং পূর্ণাঙ্গ তাতিল যেমন জাহমিয়াদের তাতিল।

মুতাজিলারা বলে: আল্লাহর ‘সর্বশ্রোতা’ নাম রয়েছে কিন্তু তাঁর কোনো শ্রবণগুণ নেই। তাদের উত্তর দেওয়ার সময় এবং দলিলের মাধ্যমে তাদের নিরুত্তর করার জন্য আমাদের ও তাদের মাঝে যে বিষয়গুলো নিয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে তা অবশ্যই তুলে ধরতে হবে; এরপর যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তার জবাব দিতে হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এবং মুতাজিলাদের মধ্যে ঐকমত্যের বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর সত্তা সাব্যস্ত করা, আর তাদের মাঝে মতভেদের বিষয়টি হলো গুণাবলি সাব্যস্ত করা। সুতরাং মুতাজিলাদের উত্তরের ক্ষেত্রে এই মূলনীতি ব্যবহার করতে হবে যে: গুণাবলির ক্ষেত্রে বক্তব্য ঠিক সত্তার ক্ষেত্রে বক্তব্যের মতোই। কারণ গুণ হলো এমন একটি অর্থ যা সত্তার সাথে বিদ্যমান থাকে। অতএব তারা যদি বলে যে মহান আল্লাহর একটি পবিত্র সত্তা রয়েছে এবং তারা যদি সাব্যস্ত করে যে আল্লাহ সর্বশ্রোতা, তবে তাদের জন্য সেই সত্তার সাথে বিদ্যমান অর্থটি সাব্যস্ত করাও আবশ্যক হয়ে পড়ে, আর তা হলো শ্রবণগুণ। মূলত গুণাবলির ক্ষেত্রে বক্তব্য সত্তার ক্ষেত্রে বক্তব্যের মতোই।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إثبات صفة الأولية لله عز وجل

إن صفة الأولية من الصفات الذاتية الثبوتيه، وهي أخص صفه من صفات الله جلا في علاه، فالله جلا وعلا أول ليس قبله شيء.

والقاعدة في الصفات أنها توقيفه كلها، بمعني أننا لا بد أن نأخذها من الكتاب والسنة، وصفة الأولية ثبتت لله في الكتاب السنة نصاً واستنباطاً.

فأما النص فقد قال الله تعالى: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ} [الحديد:3]، فالاسم هو الأول، وإذا ذكر الله الاسم فقد ذكر الصفة، للقاعدة التي قعدها أهل العلم وهي: أن كل اسم يتضمن صفة كمال، إذاً: فاسم الله الأول يتضمن صفة الأولية.

وأما من السنة فكان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (اللهم أنت الأول)، ثم يفسر ذلك فيقول: (ليس قبلك شيء)، وأشار إلى هذا المعنى كما في الصحيحين، فقال صلى الله عليه وسلم (كان الله ولم يكن شيء معه أو قبله)، فهذه الأدلة تثبت هذه الصفة.
মহামহিম আল্লাহর অনাদিত্বের গুণ সাব্যস্তকরণ

নিশ্চয়ই অনাদিত্বের গুণটি আল্লাহর সত্তাগত ইতিবাচক গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে একটি অতি বিশেষ গুণ। কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ হচ্ছেন প্রথম, যাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না।

আর গুণাবলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এগুলোর সবই ওহীর ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ), অর্থাৎ এগুলোকে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর জন্য অনাদিত্বের গুণটি কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট পাঠ এবং নির্যাস উভয় মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে।

সুস্পষ্ট পাঠের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গোপন।" [সূরা আল-হাদীদ: ৩]। এখানে নাম হলো 'আল-আউয়াল' (প্রথম)। আর আল্লাহ যখন কোনো নাম উল্লেখ করেন, তখন তিনি সেই গুণটিও উল্লেখ করেন; এটি আলেমদের নির্ধারিত সেই মূলনীতি অনুযায়ী যে, প্রতিটি নামই একটি পূর্ণতার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, আল্লাহর 'আল-আউয়াল' নামটি অনাদিত্বের গুণটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: "হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম", এরপর তিনি এর ব্যাখ্যায় বলতেন: "আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না"। তিনি এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেমনটি বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, যেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর সাথে অথবা তাঁর পূর্বে আর কিছুই ছিল না"। সুতরাং এই দলিলসমূহ এই গুণটিকে সাব্যস্ত করে।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌كيفية التعبد لله بصفة الأولية

إذا أثبت العبد لله جلا في علاه صفة الأولية، وعلم أن الله هو الأول فلا بد أن يتعبد بهذه الصفة.

والتعبد بهذه الصفة تتضمن عدة أمور: أولاها: الرد على الفلاسفة، فإذا اعتقد العبد اعتقاد جازماً بأن الله هو الأول، وأن الله كان ولم يكن شيء معه، فسوف يرد على الفلاسفة الذين يقولون بالتسلسل، والتسلسل قول مردود فالله كان ولا شيء معه، والكل كان عدماً، وما كان إلا الله جلا في علاه، والعبد لم يكن في هذا الكون إلا بعد أن خلقه الله جلا وعلا، وأسبغ عليه نعمه، قال الله تعالى: {هَلْ أَتَى عَلَى الإِنسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا} [الإنسان:1]، فالله جلا في علاه كوّن هذا الإنسان وخلقه، وأسبغ عليه نعمه ظاهرة وباطنه، وأخرجه من بطن أمه لا يعلم شياً.

إذاً: فأول شيء يتعبد به الإنسان لله جلا في علاه في صفة الأولية: هو الرد على الفلاسفة الذين يشوشون على عقائد الناس.

ثانيها: أن العجب داء، وهو من أشد الأمراض التي تميت القلوب، وهذا المرض لا يأتي إلا بالتخلف عن فهم أولية الله جلا في علاه، فداء العجب يورث الكبر، والكبر يورث النار؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال (لا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال ذره من كبر).

وأصل الكبر هو أن يعجب الإنسان بعلمه، أو بقوته، أو بغناه، أو بكثرته وكثرة من معه، فالتعبد لله بصفة الأولية، يقلل من داء العجب في القلب؛ لأن العبد إذا تدبر أن الله هو الأول، وهو الذي ابتدأ خلقه وأنعم عليه، وهو الذي علمه وأطعمه وسقاه، وهو الذي أوجده في هذه الدنيا على الإسلام، فإذا تدبر ذلك علم أولاً: أن العلم الذي هو فيه لم يأت من عنده نفسه، وإنما هو من عند الله، فلا يقول كما قال قارون: {قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي} [القصص:78] بل سيقول: إن الله هو الذي علمني بعد أن كنت جاهلاً يقول الله تعالى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنِ اللَّهِ} [النحل:53] أي: ليس للعبد فيها شأن، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: ليس مني شيء، وليس بي شيء، وليس لي شيء، إن الأمر كله لله، أوله ونهايته لله جلا في علاه؛ فالله هو الذي رزق هذا الإنسان العلم والقوة والمال، وهداه إلى الإسلام، فإذا تدبر العبد ذلك فلا يمكن أن يحتقر أحداً، أو يصل إلى قلبه داء العجب؛ لأنه يعلم أن الله جلا وعلا هو الذي ابتدأ الخير الذي هو فيه، قال الله تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ} [النحل:78]، وهذا معنى من معاني أوليته جل في علاه، فهو الذي ابتدأ هذا الخير وأعطاه إياه، وهو الذي يستطيع أن يمنعه منه، بل ويسحب منه كل النعم التي أوصلها إليه.

ثالثها: إن أفضل عبادة على اللسان هي ذكر الله، قال النبي صلى الله عليه وسلم -عندما نصح رجلاً كان يستنصحه في آخر عمره-: (لا يزال لسانك رطباً بذكر الله)، وكفى للذاكرين فضلاً أن الله يذكر من ذكره، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (قال الله تعالى: أنا مع عبدي ما ذكرني وتحركت بي شفتاه، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملإ ذكرته في ملإ خير من).

وذكْر الله جلا في علاه ليس بقوة العبد ولا بجهده، وإنما الله بأوليته هو الذي ابتدأ على لسانه أن يذكره، ثم بعد ذلك قبل منه هذا الذكر، ثم كافأه بأن ذكره في الملأ الأعلى، وهذه نعمة عظيمة ينبغي على الإنسان أن يتفكر فيها، فإنه ما ذكر الله إلا بأوليته، وما سجد لله ليرتفع درجة إلا بأوليته، فكيف لا يهفو قلبه إلى خالقه الذي ابتدأ الإنعام عليه؟ إن العبد إذا قال: لا إله إلا الله فهي ليست منه، إنما هي من الأول، فهو الذي ابتدءها على لسانه، ثم كافأه بأن ذكره في الملأ الأعلى.
‌‌আল্লাহর আউওয়ালিয়্যাহ বা অনাদিত্বের গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার পদ্ধতি

যখন কোনো বান্দা মহান আল্লাহর জন্য 'আউওয়ালিয়্যাহ' বা প্রথম হওয়ার গুণ সাব্যস্ত করে এবং জানতে পারে যে আল্লাহই হলেন 'আল-আউওয়াল' (প্রথম), তখন তাকে অবশ্যই এই গুণের মাধ্যমে ইবাদত করতে হবে।

এই গুণের মাধ্যমে ইবাদত করা কয়েকটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমত: দার্শনিকদের জবাব দেওয়া। বান্দা যখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহই প্রথম এবং আল্লাহ ছিলেন অথচ তাঁর সাথে আর কিছুই ছিল না, তখন সে সেইসব দার্শনিকদের জবাব দিতে পারবে যারা অসীম পরম্পরায় (তাসালসুল) বিশ্বাস করে। অসীম পরম্পরার দাবিটি একটি প্রত্যাখ্যাত মতবাদ; কারণ আল্লাহ ছিলেন অথচ তাঁর সাথে কিছুই ছিল না, সবকিছুই ছিল অনস্তিত্ব। মহান আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আর এই মহাবিশ্বে বান্দার কোনো অস্তিত্ব ছিল না যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার ওপর তাঁর নেয়ামত ঢেলে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মানুষের ওপর কি এমন এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?} [আল-ইনসান: ১]। মহান আল্লাহ এই মানুষকে অস্তিত্ব দান করেছেন, তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামত বর্ষণ করেছেন এবং তাকে তার মায়ের উদর থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে সে কিছুই জানত না।

সুতরাং: আল্লাহর আউওয়ালিয়্যাহ বা প্রথম হওয়ার গুণের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর জন্য প্রথম যে ইবাদতটি করে তা হলো—সেইসব দার্শনিকদের প্রতিবাদ করা যারা মানুষের আকিদায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত: আত্মমুগ্ধতা একটি ব্যাধি, আর এটি এমন এক কঠিন রোগ যা অন্তরকে মৃত করে দেয়। এই রোগটি মহান আল্লাহর আউওয়ালিয়্যাহ বা অনাদিত্বের বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হওয়া থেকেই জন্ম নেয়। আত্মমুগ্ধতার ব্যাধি অহংকার জন্ম দেয়, আর অহংকার জাহান্নাম ডেকে আনে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না)।

অহংকারের মূল উৎস হলো মানুষ তার জ্ঞান, শক্তি, সম্পদ অথবা তার জনবল ও সাথীদের আধিক্য নিয়ে গর্বিত হওয়া। আল্লাহর আউওয়ালিয়্যাহ বা প্রথম হওয়ার গুণের মাধ্যমে ইবাদত করা অন্তরের আত্মমুগ্ধতার ব্যাধি কমিয়ে দেয়; কারণ বান্দা যখন চিন্তা করে যে আল্লাহই প্রথম, তিনিই তার সৃষ্টি শুরু করেছেন এবং তার ওপর নেয়ামত দান করেছেন, তিনিই তাকে জ্ঞান দিয়েছেন, আহার করিয়েছেন এবং পানীয় পান করিয়েছেন এবং তিনিই তাকে এই পৃথিবীতে ইসলামের ওপর অস্তিত্ব দান করেছেন—তখন সে চিন্তা করে বুঝতে পারে যে: প্রথমত, তার মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে তা তার নিজের পক্ষ থেকে আসেনি, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে কারূনের মতো বলবে না যে: {সে বলল, আমাকে তো আমার নিজের জ্ঞানের কারণেই এটি দেওয়া হয়েছে} [আল-কাসাস: ৭৮]। বরং সে বলবে: আমি যখন অজ্ঞ ছিলাম তখন আল্লাহই আমাকে জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই} [আন-নাহল: ৫৩]। অর্থাৎ এতে বান্দার নিজস্ব কোনো কৃতিত্ব নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: আমার পক্ষ থেকে কিছু নেই, আমার দ্বারা কিছু হয় না এবং আমার কোনো কিছু নেই; সমস্ত বিষয় আল্লাহর জন্য, এর শুরু এবং শেষ মহান আল্লাহরই। আল্লাহই এই মানুষকে জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে ইসলামের দিকে হেদায়াত দিয়েছেন। বান্দা যখন এই চিন্তা করবে তখন সে কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করতে পারবে না অথবা তার অন্তরে আত্মমুগ্ধতার ব্যাধি প্রবেশ করতে পারবে না; কারণ সে জানে যে সে বর্তমানে যে কল্যাণের মধ্যে আছে তা মহান আল্লাহই শুরু করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে তোমরা কিছুই জানতে না এবং তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় সৃষ্টি করেছেন} [আন-নাহল: ৭৮]। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর আউওয়ালিয়্যাহর অন্যতম একটি অর্থ। কারণ তিনিই এই কল্যাণের সূচনা করেছেন এবং তাকে তা দান করেছেন এবং তিনিই তা ছিনিয়ে নিতে সক্ষম, এমনকি তার কাছে পৌঁছানো সকল নেয়ামত তিনি ফিরিয়ে নিতে পারেন।

তৃতীয়ত: জিহবার সর্বোত্তম ইবাদত হলো আল্লাহর জিকির। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যখন একজন ব্যক্তি তাঁর শেষ জীবনে তাঁর কাছে উপদেশ চেয়েছিলেন তখন তাঁকে—বলেছিলেন: (তোমার জিহবা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে)। জিকিরকারীদের মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাদের স্মরণ করেন যারা তাঁকে স্মরণ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার বান্দার সাথেই থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমার স্মরণে তার ঠোঁট দুটি নড়াচড়া করে। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে তবে আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি, আর সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি)।

মহান আল্লাহর জিকির করা বান্দার কোনো শক্তি বা প্রচেষ্টায় হয় না, বরং আল্লাহ তাঁর আউওয়ালিয়্যাহ বা অনাদিত্বের গুণের বদৌলতে স্বয়ং বান্দার জিহবায় তাঁর জিকিরের সূচনা ঘটিয়ে দেন। এরপর তিনি তার পক্ষ থেকে এই জিকির কবুল করেন, তারপর তাকে উচ্চতর সভায় স্মরণ করার মাধ্যমে পুরস্কৃত করেন। এটি এক মহান নেয়ামত যা নিয়ে মানুষের চিন্তা করা উচিত। কেননা সে আল্লাহকে স্মরণ করতে পেরেছে কেবল তাঁর আউওয়ালিয়্যাহর কারণেই, আর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদা করতে পেরেছে কেবল তাঁরই অনাদিত্বের কারণে। তাহলে তার অন্তর কেন সেই স্রষ্টার প্রতি ব্যাকুল হবে না যিনি তাকে নেয়ামত দেওয়া শুরু করেছেন? বান্দা যখন বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তা তার নিজের পক্ষ থেকে হয় না, বরং তা সেই প্রথম বা অনাদি সত্তার পক্ষ থেকেই হয়। তিনিই তার জিহবায় এর সূচনা ঘটিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তাকে উচ্চতর সভায় স্মরণ করে পুরস্কৃত করেছেন।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التعبد لله بأوليته عند أصحاب المعاصي

كل إنسان منا يقع في معصية الله عز وجل وجل، فنحن لسنا ملائكة، فقد يعصي الإنسان ربه إما بقلبه بالتفكير في غير الله جلا في علاه، أو بشهوة من شهوات هذه الدنيا، أو بغفلة القلب عن ذكر الله جلا في علاه، وقد يعصي بلسانه فيسب أو يشتم أو يغتاب، أو بعينه فينظر إلى ما حرم الله، فكيف يمكن أن يتعبد الإنسان لربه بصفة الأولية وهو يعصى الله؟ والجواب هو: إن الله جلا في علاه جعل العبد يعمل المعصية، فإن كان مؤمناً فإن الله جلا في علاه أراد أن يرده إليه رداً جميلاً، وهذا من أولية الله جل في علاه، فبعد أن يعصي العبد ربه يسمع كلام النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (وخير الخطائين التوابون)، فيذهب ليتوب إلى الله، وهذه التوبة ليست منه إنما هي من الله.

وكثير من الناس من يعصي الله ويقول: سوف أتوب، ولا يتوب؛ ذلك لأن التوبة ليست بيد الناس ولا بقلوبهم مع أن الله أمرهم بها لكنها ليست بأيديهم، فقد يعصي العبد ويتعدى حدود الله، ثم يريد أن يتوب فلا تكون منه، وإنما تكون من الأول، والدليل على ذلك قول الله تعالى في الذين خلفوا: {ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا} [التوبة:118]، فما تابوا من أنفسهم، بل إن الله هو الذي ابتدأ لهم التوبة، فأودع في قلوبهم الندم على المعصية، ثم بعد ذلك وفق اليد أن ترتفع لتتضرع وتتذلل وتتمسكن، ثم وفق اللسان أن يخشع ساكناً لربه جل في علاه معترفاً بذنبه، فيقول ما قاله يونس: {لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء:87].

فينبغي على العبد أن يتعبد الله بصفة الأولية فيقول: توبتي ليست بيدي، بل هي بيد الأول سبحانه وتعالى.

والتوبة منّة عظيمة منّ الله بها على العبد بعد أن عصاه، وهو قادر على أن يأخذه، فالله يملي للظالم حتى إذا أخذه لم يفلته، ولكنه سبحانه ابتدأ له الخير بأوليته فوفق قلبه للندم على المعصية، ثم بعد ذلك ذلل لسانه بالذكر والاستغفار، ثم رفع يديه إلى ربه فقبل منه توبته.
পাপীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর আউয়ালিয়াত (অনাদ্যতা) গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা

আমাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকেই মহান আল্লাহর অবাধ্যতা বা গুনাহ সংঘটিত হয়, কারণ আমরা ফেরেশতা নই। মানুষ তার রবের অবাধ্য হতে পারে হৃদয়ের মাধ্যমে—মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার দ্বারা, অথবা দুনিয়ার কোনো কামনা-বাসনার বশবর্তী হয়ে, কিংবা মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে অন্তরের অসতর্কতার কারণে। আবার সে অবাধ্য হতে পারে তার জিহ্বার মাধ্যমে—কাউকে গালি দিয়ে, মন্দ বলে বা গীবত করে; অথবা চোখের মাধ্যমে—আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার দিকে তাকিয়ে। এমতাবস্থায় একজন মানুষ যখন আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন সে কীভাবে তার রবের আউয়ালিয়াত (অনাদ্যতা) গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করতে পারে? উত্তর হলো: মহান আল্লাহ বান্দাকে দিয়ে গুনাহ করিয়েছেন (তাকদির অনুযায়ী)। অতঃপর সে যদি মুমিন হয়, তবে মহান আল্লাহ তাকে সুন্দরভাবে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিতে চান। আর এটি মহান আল্লাহর আউয়ালিয়াত বা অনাদ্যতারই বহিঃপ্রকাশ। বান্দা তার রবের অবাধ্য হওয়ার পর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী শোনে যে: "অপরাধীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তওবা করে", তখন সে তওবা করার জন্য আল্লাহর কাছে যায়। আর এই তওবা তার নিজের পক্ষ থেকে নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

অনেক মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং বলে: "আমি শীঘ্রই তওবা করব", কিন্তু সে তওবা করে না। এর কারণ হলো, তওবা মানুষের হাতে নয় এবং তাদের অন্তরের নিয়ন্ত্রণেও নয়, যদিও আল্লাহ তাদের তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন; কিন্তু এটি তাদের নিজ ক্ষমতায় নেই। বান্দা হয়তো গুনাহ করে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, এরপর সে তওবা করতে চায় কিন্তু তা তার নিজের পক্ষ থেকে ঘটে না। বরং তা ঘটে আল-আউয়াল (যিনি অনাদি ও প্রথম) তাঁর পক্ষ থেকে। এর দলিল হলো সেইসব লোকদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল: "অতঃপর তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন (তৌফিক দিলেন) যেন তারা তওবা করে" [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৮]। তারা নিজেরা তওবা করেনি, বরং আল্লাহই তাদের জন্য তওবার সূচনা করেছিলেন। ফলে তিনি তাদের অন্তরে গুনাহের জন্য অনুশোচনা সৃষ্টি করে দিলেন। এরপর তিনি বান্দার হাতকে উপরে উঠার তাওফিক দিলেন যাতে সে বিনীতভাবে রোনাজারি ও কাকুতি-মিনতি করতে পারে। এরপর তিনি জিহ্বাকে তার সুমহান রবের সামনে স্থির ও বিনম্র হওয়ার তাওফিক দিলেন যেন সে তার গুনাহ স্বীকার করে নেয়। তখন সে ইউনুস আলাইহিস সালাম যা বলেছিলেন তা-ই বলে: "তুমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তুমি অতি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত" [সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭]।

সুতরাং বান্দার উচিত আল্লাহর আউয়ালিয়াত গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা এবং বলা: "আমার তওবা আমার নিজের হাতে নয়, বরং তা আল্লাহর হাতে (আল-আউয়াল সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে)।"

তওবা হলো এক মহান অনুগ্রহ যা আল্লাহ বান্দার অবাধ্যতার পরও তাকে দান করেছেন। অথচ তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম ছিলেন। আল্লাহ তো জালিমকে অবকাশ দেন, কিন্তু যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন আর ছাড়েন না। কিন্তু তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আউয়ালিয়াত গুণের মাধ্যমে বান্দার জন্য কল্যাণের সূচনা করেন; ফলে তার অন্তরকে গুনাহের ওপর লজ্জিত হওয়ার তাওফিক দেন। এরপর তার জিহ্বাকে জিকির ও ইস্তেগফারের জন্য অনুগত করে দেন। অতঃপর সে তার হাত দুটিকে তার রবের দিকে উত্তোলন করে এবং আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الدعاء تعبد لله بصفة الأولية

إن كل إنسان له مطلب عند ربه، والطمع في الدين محمود، والطمع في الله فقه لم يصل إليه أي أحد إلا أيوب عليه السلام، فقد بين لنا قاعدة عظيمة في التعامل مع الكريم، فإذا لقيت كريماً من أهل الدنيا فإن أكثرت عليه بالسؤال قال: إن كان حبيبك عسلاً فلا تلحسه كله، فلسانك سينقطع.

ولكن الله عز وجل كريم وليس لكرمه حد ولا نهاية، يقول جل في علاه كما في الحديث: (لو أن أولكم وآخركم، وإنسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد فسألوني فأعطيت كل واحد مسألته ما نقص ذلك من ملكي شيء).

فأيوب عليه السلام بعدما أغناه الله جلا في علاه، وأنزل عليه جراداً من ذهب، وهو يحثوا الذهب قال الله له: ألم أكن قد أغنيتك؟ قال: لا غنى لي عن بركتك، وإني اطمع في كرمك.

وما من أحد إلا ويعلم أن خزائن السموات والأرض بيد الله سبحانه، والموفق من وفقه الله بطلب الدعاء، يقول عمر بن الخطاب: إني لا أحمل هم الإجابة، ولكن أحمل همّ الدعاء؛ لأنه يعلم تعبداً بأولية الله أن الدعاء توفيق من الله، وأن رفع اليد والتذلل، وبكاء القلب قبل بكاء العين كله من الله، فإذا دعا العبد ربه بصدق نال منه ما يريد، وإذا تعبد الإنسان لربه بأوليته وصل بها إلى آخريته سبحانه جلا في علاه.

فالله هو الأول الذي ابتدأ لك التوفيق أن تدعوه، وهو الذي يعقب بعد ذلك بأن يستجيب لك الدعاء، فهذا هو التعبد لله بصفته العظيمة الجليلة الكاملة: صفة الأولية.
আল্লাহর ‘আউওয়ালিয়্যাহ’ (অনাদ্য হওয়া) গুণের মাধ্যমে দোয়ার ইবাদত

নিশ্চয়ই প্রত্যেক মানুষের তার রবের কাছে কোনো প্রার্থনা থাকে, আর দ্বীনের বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা প্রশংসনীয়। আল্লাহর প্রতি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এমন এক গভীর প্রজ্ঞা যেখানে আইয়ুব আলাইহিস সালাম ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি। তিনি দানশীল আল্লাহর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের এক মহান মূলনীতি শিখিয়েছেন। আপনি যদি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে কোনো দাতার সাক্ষাৎ পান এবং তাকে অধিক সওয়াল বা প্রশ্ন করেন, তবে সে বলবে: তোমার বন্ধু যদি মধুও হয় তবে তাকে সম্পূর্ণ চেটে খেও না, কারণ তাতে তোমার জিহ্বা কেটে যাবে।

কিন্তু মহান আল্লাহ অসীম দাতা এবং তাঁর দানশীলতার কোনো সীমা বা অন্ত নেই। তিনি বলেন (যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে): (তোমাদের আদি ও অন্ত, মানব ও জিন যদি সকলে এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে এবং আমি প্রত্যেকের চাওয়া পূরণ করি, তবে তা আমার রাজত্ব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না)।

আইয়ুব আলাইহিস সালামকে যখন আল্লাহ প্রাচুর্য দান করলেন এবং তাঁর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল বর্ষণ করলেন, তখন তিনি সেই স্বর্ণ কুড়াচ্ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে বললেন: আমি কি তোমাকে অভাবমুক্ত করিনি? তিনি বললেন: আপনার বরকত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই, আর আমি আপনার করুণার প্রতি লালায়িত।

আসমান ও জমিনের যাবতীয় ভাণ্ডার যে আল্লাহর হাতে, তা কারোরই অজানা নয়। আর সফল সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ দোয়া করার তাওফিক দান করেছেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: আমি দোয়া কবুল হওয়ার দুশ্চিন্তা করি না, বরং আমি দোয়ার তাওফিক লাভের চিন্তা করি। কারণ তিনি আল্লাহর অনাদ্য গুণের ইবাদত হিসেবে জানতেন যে, দোয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক তাওফিক; আর আল্লাহর সামনে হাত তোলা, বিনয়াবনত হওয়া এবং চোখের কান্নার আগে হৃদয়ের কান্নার উদ্রেক হওয়া—এর সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। যখন কোনো বান্দা একনিষ্ঠতার সাথে তার রবকে ডাকে, তখন সে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করে। আর মানুষ যখন তার রবের ‘আউওয়ালিয়্যাহ’ (অনাদ্য হওয়া) গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে, তখন সে তাঁর ‘আখিরিয়্যাহ’ (অনন্ত হওয়া) পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

সুতরাং আল্লাহই হলেন ‘আল-আউওয়াল’ (প্রথম), যিনি আপনাকে তাঁকে ডাকার তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে সূচনা করেছেন। আর তিনিই সেই সত্তা যিনি এরপর আপনার দোয়া কবুল করার মাধ্যমে উপসংহার টানেন। এটাই হলো আল্লাহর মহান, মহিমান্বিত ও নিখুঁত গুণ—‘আউওয়ালিয়্যাহ’ বা তাঁর অনাদ্য হওয়ার গুণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইবাদত নিবেদন করা।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أصناف الناس في التعبد لله بصفة الأولية

هناك قصة تبين لنا كيف أن الله يميز بين عباده، ويفرق بين من يتقن صفات الله ويتقن التعبد بها ممن لا يتقن ذلك، فقد كان هناك ثلاثة من بني إسرائيل: أقرع وأبرص وأعمى، ولكي يبين الله لنا كيف نعتقد فيه حق الاعتقاد، ثم نتعبد له حق التعبد جاء الملك إلى هؤلاء الثلاثة فقال للأول -وكان أصلع-: ماذا تطلب؟ فقال الأصلع: أطلب شعراً أتزين به أمام الناس، فمنحه الله شعراً جميلاً، ثم جاء إلى الأعمى وقال: ماذا تطلب؟ قال: أريد البصر، فرد الله عليه بصره، ثم جاء إلى الأبرص فقال له: ماذا تطلب؟ قال: أطلب جلداً طيباً؛ فقد قذرني الناس مما أنا فيه، فأبدله الله جلداً طيباً، وأذهب عنه البرص.

وقال هذا الملك لكل واحد من الثلاثة: أي المال أحب إليك؟ فقال أحدهم: الإبل، وقال الثاني: البقر، وقال الثالث: الغنم، فأعطى كل واحد منهم ما تمنى، حتى صار للثلاثة واد من الإبل وواد من البقر وواد من الغنم.

ثم جاء الملك على صورة رجل فقير فقال للأول: اعطني مما أعطاك الله؟ فنظر إليه فقال: الحقوق كثيرة، ولم يعطه شيئاً، فقال: كأني أعلم أنك كنت قد قذرك الناس، وكنت فقيراً، فقال له: إني ورثت هذه المال كابراً عن كابر، وجحد بأولية الله جلا في علاه، ونسي أن تلك النعم هي أولاً من الله، وتمثل فيه قول قارون عندما قال: ((إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي)) [القصص:78]، فقال له الملك: صيرك الله إلى ما كنت عليه، فأذهب الله جل وعلا عنه ذلك المال، وعاد إلى ما كان عليه من البرص.

ثم جاء الملك إلى الثاني فقال له: أعطني مما أعطاك الله، فقال: الحقوق كثيرة، وجحد بأولية الله، فقال له الملك: كنت أراك رجلاً أصلع والناس يتقززون منك، وقد أعطاك الله ما أنت فيه، قال: إنما ورثت ذلك كابراً عن كابر، فقال: صيرك الله إلى ما كنت عليه إن كنت كاذباً، فصيره الله إلى ما كان عليه من قبل.

ثم جاء إلى الثالث وقال مثلما قال للأول والثاني، فقال: نعم، إني كنت فقيراً فأغناني الله، وكنت مريضاً فشفاني الله، وانظر إلى هذا الوادي فأي المال أحببت فخذ ما شئت منه.

فتعبد الله بأوليته، وأقر بأن هذه النعم إنما هي من الله وحده، فدعا له الملك، وثبت الله له هذا الخير.

ومن جحد نعم الله عليه فلا يلومن إلا نفسه، ومن شكر فإن الله يشكره، ومن أعطى فإن الله يعطيه، ويخلف عليه.

فينبغي على الإنسان أن يجلس مع نفسه، ويمعن النظر متدبراً في صفات الله، وليحاسب نفسه على هذه النعم التي أنعم الله بها عليه، وليشكر الله تعالى على هذه النعم، فإن هذه النعم ابتداءً هي من الله لا من غيره، ولذلك جاء في الإسرائيليات أن أحد أبناء بني إسرائيل كان يتضرع إلى الله ويقول: كيف أشكرك والشكر منك نعمة فتسلسل الشكر ليس مني، بل هو منك يا الله.

إذاً: الصفة الأولى من الصفات الذاتية التي لا بد لكل امرئ أن يتدبرها ويتعبد بها لله هي الأولية.
আল্লাহর 'আউয়ালিয়্যা' (সবকিছুর আগে হওয়া) গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার ক্ষেত্রে মানুষের প্রকারভেদ

এখানে একটি কাহিনী রয়েছে যা আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে আল্লাহ কীভাবে তাঁর বান্দাদের মধ্যে পার্থক্য করেন, এবং আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা ও সে অনুযায়ী ইবাদত পালনে পারঙ্গম ব্যক্তির সাথে পারঙ্গম নয় এমন ব্যক্তির পার্থক্য নির্ধারণ করেন। বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি ছিল: এক জন টাকওয়ালা, এক জন কুষ্ঠরোগী এবং এক জন অন্ধ। আল্লাহ আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট করার জন্য যে কীভাবে আমরা তাঁর প্রতি সঠিক বিশ্বাস পোষণ করব এবং যথাযথভাবে তাঁর ইবাদত করব, একজন ফেরেশতা পাঠালেন। সেই ফেরেশতা এই তিনজনের কাছে আসলেন এবং প্রথম জনকে—যিনি টাকওয়ালা ছিলেন—বললেন: তুমি কী চাও? টাকওয়ালা বললেন: আমি সুন্দর চুল চাই যার মাধ্যমে আমি মানুষের সামনে নিজেকে সজ্জিত করতে পারি। আল্লাহ তাকে সুন্দর চুল দান করলেন। এরপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির কাছে গিয়ে বললেন: তুমি কী চাও? তিনি বললেন: আমি দৃষ্টিশক্তি চাই। ফলে আল্লাহ তাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর কুষ্ঠরোগীর কাছে গিয়ে বললেন: তুমি কী চাও? তিনি বললেন: আমি সুন্দর চামড়া চাই; কেননা আমার বর্তমান অবস্থার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফলে আল্লাহ তাকে সুন্দর চামড়া দিলেন এবং তার কুষ্ঠরোগ দূর করে দিলেন।

এরপর সেই ফেরেশতা তাদের প্রত্যেকের কাছে জানতে চাইলেন: কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিক প্রিয়? তাদের একজন বললেন: উট, দ্বিতীয়জন বললেন: গরু এবং তৃতীয়জন বললেন: ছাগল। ফলে তাদের প্রত্যেককে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সম্পদ দেওয়া হলো, এমনকি তাদের প্রত্যেকের জন্য উট, গরু ও ছাগলে পূর্ণ একটি করে উপত্যকা হয়ে গেল।

এরপর ফেরেশতা এক দরিদ্র মানুষের বেশে প্রথম জনের কাছে আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা থেকে আমাকে কিছু দাও? সে লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল: অনেক দায়-দায়িত্ব ও পাওনাদার রয়েছে (তাই দেওয়া সম্ভব নয়), এবং তাকে কিছুই দিল না। ফেরেশতা বললেন: আমার যেন মনে পড়ছে যে মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত এবং তুমি দরিদ্র ছিলে। সে তাকে বলল: আমি তো এই সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি। এভাবে সে আল্লাহর 'আউয়ালিয়্যা'কে (অর্থাৎ তিনিই যে সবকিছুর মূল ও সূচনাকারী) অস্বীকার করল এবং ভুলে গেল যে এই নেয়ামতগুলো মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে। তার মধ্যে কারূনের সেই উক্তির প্রতিফলন ঘটল যখন সে বলেছিল: "আমি তো এটা লাভ করেছি আমার কাছে থাকা জ্ঞানের কারণে" [সূরা কাসাস: ৭৮]। তখন ফেরেশতা তাকে বললেন: তুমি যেমন ছিলে আল্লাহ তোমাকে পুনরায় তেমন করে দিন। ফলে মহান আল্লাহ তার কাছ থেকে সেই সম্পদ কেড়ে নিলেন এবং সে পুনরায় তার পূর্বের কুষ্ঠরোগগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে গেল।

এরপর ফেরেশতা দ্বিতীয়জনের কাছে আসলেন এবং তাকে বললেন: আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু দাও। সে-ও বলল: অনেক দায়-দায়িত্ব ও পাওনাদার রয়েছে। সে আল্লাহর 'আউয়ালিয়্যা'কে অস্বীকার করল। ফেরেশতা তাকে বললেন: আমি তো তোমাকে একজন টাকওয়ালা লোক হিসেবে দেখতাম যাকে মানুষ ঘৃণা করত, আর আল্লাহ তোমাকে এই সম্পদ দান করেছেন। সে বলল: আমি তো এটা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি। ফেরেশতা বললেন: তুমি যদি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহ তোমাকে তোমার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন। ফলে আল্লাহ তাকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিলেন।

এরপর ফেরেশতা তৃতীয়জনের কাছে আসলেন এবং প্রথম ও দ্বিতীয়জনকে যা বলেছিলেন তাই বললেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি দরিদ্র ছিলাম আল্লাহ আমাকে ধনী করেছেন, আমি অসুস্থ ছিলাম আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দিয়েছেন। এই উপত্যকার দিকে তাকান এবং আপনার যা পছন্দ হয় তা থেকে যা ইচ্ছা নিয়ে নিন।

এভাবে তিনি আল্লাহর 'আউয়ালিয়্যা' গুণের মাধ্যমে ইবাদত করলেন এবং স্বীকার করলেন যে এই নেয়ামতগুলো একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই। ফলে ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তার এই কল্যাণকে স্থায়িত্ব দিলেন।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করে। আর যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল্লাহ তাকে পুরস্কার দেন, আর যে দান করে আল্লাহ তাকে দান করেন এবং তার বিনিময় প্রদান করেন।

তাই মানুষের উচিত একান্তে নিজের সাথে বসা এবং আল্লাহর গুণাবলি নিয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করা। আল্লাহ তাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তার হিসাব নেওয়া এবং সেই নেয়ামতসমূহের জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কারণ এই নেয়ামতসমূহ সূচনালগ্ন থেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে, অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়। এই কারণেই ইসরাঈলি বর্ণনায় এসেছে যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করে বলতেন: আমি কীভাবে আপনার শুকরিয়া আদায় করব, অথচ আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারাটাও আপনারই পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত! তাই কৃতজ্ঞতার এই ধারাবাহিকতা আমার পক্ষ থেকে নয়, বরং হে আল্লাহ এটি আপনারই পক্ষ থেকে।

সুতরাং: আল্লাহর সেই সকল সত্তাগত গুণাবলির মধ্যে প্রথম গুণটি—যা প্রত্যেকের চিন্তা করা এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা উচিত—তাহলো তাঁর 'আউয়ালিয়্যা' (অনাদিত্ব)।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌إثبات صفة الآخرية لله وكيفية التعبد بها

الصفة الثانية من الصفات الذاتية: الآخرية، وهي آخرية الله جل في علاه وهي صفة ثبوتية فعلية، وآخرية على وزن فعلية.
আল্লাহর জন্য আল-আখিরিয়্যাহ (সর্বশেষ হওয়া) গুণটি সাব্যস্ত করা এবং এর মাধ্যমে ইবাদত করার পদ্ধতি

সত্তাগত গুণাবলির মধ্য থেকে দ্বিতীয় গুণটি হলো: আল-আখিরিয়্যাহ; আর এটি হলো মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সর্বশেষ হওয়া। এটি একটি সাব্যস্তকারী কর্মবাচক গুণ এবং 'আখিরিয়্যাহ' শব্দটি 'ফিলিইয়্যাহ' এর ওজনে।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفرق بين الصفات الذاتية والفعلية

إن الفرق بين الصفات الذاتية والفعلية أن الصفات الذاتية لا تنفك عن الله بحال من الأحوال، ولا يصح أن يقال: إن الله يتصف بها في وقت دون آخر، كصفة القوة، فإنها لا تنفك عن الله، ولا يصح أن يقال: إن الله يتصف بها في وقت دون آخر.

وأما الصفات الفعلية فهي التي يتصف بها الله عز وجل وجل متى أراد، كالكلام والضحك، يقول الله تعالى: {وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ} [الأعراف:143]، فالله عز وجل تكلم لما جاء موسى.

ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: (يضحك الله من رجلين قتل أحدهما الآخر فدخلا الجنة)، ووجه الدلالة من الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم أثبت صفة الضحك لله عز وجل، وكان ضحكه سبحانه حينما رأى ما فعله الرجلان.
সত্তাগত এবং কর্মগত গুণাবলির মধ্যে পার্থক্য

সত্তাগত এবং কর্মগত গুণাবলির মধ্যে পার্থক্য হলো, সত্তাগত গুণাবলি কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ থেকে পৃথক হয় না। আর এটি বলা সঠিক নয় যে, আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে এই গুণে গুণান্বিত হন এবং অন্য সময়ে হন না। যেমন শক্তির গুণ; এটি আল্লাহ থেকে কখনো পৃথক হয় না এবং এটি বলাও সঠিক নয় যে, আল্লাহ কোনো এক সময়ে এই গুণে গুণান্বিত হন এবং অন্য সময়ে হন না।

আর কর্মগত গুণাবলি হলো সেগুলো, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত যখন ইচ্ছা গুণান্বিত হন; যেমন কথা বলা এবং হাসা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যখন মুসা আমার নির্ধারিত সময়ে আসলেন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন} [আল-আরাফ: ১৪৩]। সুতরাং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তখনই কথা বলেছেন যখন মুসা এসেছিলেন।

নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেন: (আল্লাহ এমন দুইজন ব্যক্তিকে দেখে হাসেন যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করেছে, অতঃপর তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করেছে)। এই হাদিস থেকে প্রমাণের বিষয়টি হলো: নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) আল্লাহর জন্য হাসির গুণটি সাব্যস্ত করেছেন, এবং মহান আল্লাহর হাসাটি ছিল তখন, যখন তিনি ব্যক্তিদ্বয়ের কৃতকর্ম দেখেছিলেন।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أدلة اتصاف الله بصفة الآخرية

إن صفة الآخرية صفة ذاتية ثبوتية ثبتت لله بالكتاب والسنة، فمن الكتاب: قول الله تعالى: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ} [الحديد:3]، ووجه الدلالة: أن الآخر اسم من أسماء الله جلا في علاه يتضمن صفة الآخرية، وهي صفة من صفات الكمال والجلال.

ومن السنة: قول النبي صلى الله عليه وسلم: (اللهم أنت الآخر فليس بعدك شيء).
আল্লাহর ‘আখিরিয়্যাহ’ (সর্বশেষতা) গুণে গুণান্বিত হওয়ার প্রমাণাদি

নিশ্চয়ই ‘আখিরিয়্যাহ’ গুণটি একটি সত্তাগত ইতিবাচক গুণ যা কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য প্রমাণিত হয়েছে। কিতাব থেকে দলিল হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই প্রথম এবং তিনিই শেষ} [আল-হাদীদ: ৩]। দলিলের ধরণ হলো: ‘আল-আখির’ মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম যা ‘আখিরিয়্যাহ’ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর এটি পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ।

আর সুন্নাহ থেকে দলিল হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (হে আল্লাহ, আপনিই সর্বশেষ, তাই আপনার পরে আর কিছুই নেই)।
(খণ্ড: ২) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التعبد لله بصفة الآخرية

إن التعبد لله بصفة الآخرية يكون بالتدبر في زوال كل شيء وأن كل شيء له آخر، والله ليس له آخر، وأن آخرة هذا الإنسان وهذا الكون كله بيد الآخر سبحانه وتعالى، قال الله تعالى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ * وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ} [الرحمن:26 - 27].

فعلى الإنسان أن يعلم أن آخريته بيد الله جلا في علاه، وأن الأعمال بالخواتيم، وهذه الخواتيم بيد الآخر سبحانه جل في علاه، فإذا علم الإنسان ذلك تضرع إلى ربه أن يختم له في آخر حياته بالتوحيد والهدى والتقوى والإحسان، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إذا أحب الله عبداً عسله، قالوا: وما علسه يا رسول الله؟! قال: إذا أحب الله عبداً وفقه لعمل الخير، ثم قبضه على هذا العمل)، فكانت خاتمته بالأعمال الصالحة.

وكما أن آخرة الإنسان في هذه الدنيا بالله جلا في علاه، فإن آخرته يوم القيامة بيد الآخر سبحانه، فليدع ربه أن يختم له بخاتمة حسنة بقول: لا إله إلا الله، عملاً بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (من كان آخر كلامه من الدنيا لا إله إلا الله دخل الجنة).

إن الصحابة والتابعين ومن بعدهم كانوا يتدبرون أسماء الله الحسنى وصفاته العلى، ويتعبدون لله بها، فهذا عمر بن الخطاب كان يحفظ القرآن عشر آيات عشر آيات، فحفظ البقرة في ست؛ فيتعلم القراءة، ثم يحفظ العشر الآيات، ثم يعمل بها تعبداً لله جلا في علاه.

وكان ابن عمر يقول: تعلمنا الإيمان، ثم تعلمنا القرآن، فجاء نور القرآن على نور الإيمان، فتم نور الله في قلب المؤمن.

وهذا أبو زرعة رحمه الله جبل من جبال أهل العلم، وكان حافظاً ثقة ثبتاً، وكان يعرض عليه صحيح مسلم فيقرأ فيه ويقول: هؤلاء القوم ما أرادوا إلا الشهرة؛ لأنه تكلم عن بعض الروايات في صحيح مسلم، منها: روايات أبو الزبير عن جابر، وكان أبو زرعة مجتهداً في رواية الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكان ينتقي من الأحاديث الضعيفة والموضوعة فيتعبد لله بالآخرية، فكافأه الله عند احتضاره بخاتمة حسنة، فعندما كان على فراش الموت اجتمع عنده المحدثون يذكرون حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم، فيقول أحدهم: حدثني فلان عن فلان عن فلان أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: كذا وكذا وكذا، ويذكر أحاديث، فقال له أبو زرعة: هذا الحديث عندي، وهو أشبه بحديث فلان، فتكلم في آخر لحظات حياته وقال: حدثني فلان عن فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة) ثم مات، فلما اعتقد اعتقاداً جازماً بأن آخرته لا تكون إلا لله تعبداً لله، كانت آخرته أن رضي الله عنه ورطب لسانه بلا إله إلا الله، ثم مات عليها.

وهذا الإمام الفذ مسلم بن الحجاج ثاني علماء الأمة، وكتابه ثاني أصح الكتب بعد كتاب الله جلا في علاه، وبعد كتاب البخاري، عندما علم أن الله هو الآخر، وأن آخرته بيد الله، ابتدءها أولاً بالإحسان، فختمها الله له بالإحسان، قال الله تعالى: {هَلْ جَزَاءُ الإِحْسَانِ إِلَّا الإِحْسَانُ} [الرحمن:60]، وهيئ له أسباباً للآخرية الصالحة؛ وروي أنه جلس في مجلس تحديث ومذاكرة مع بعض العلماء فذكروا له حديثاً لم يعرفه، فقام طوال الليل يبحث عن الحديث، وينظر في كل المصنفات، وكان يأخذ تمرةٍ ويقرأ حديثاً وهكذا، حتى ظفر بالحديث فأخذ التمرة، وحمد الله وهو ينظر إلى الحديث ويقرؤه، ثم مات على ذلك وهو يقرأ حديث النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن المعاصرين: الشيخ كشك رحمة الله عليه، فقد كان دائماً ينافح عن دين الله، ويدل الناس على الخير، ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، ولما كانت آخريته بيد الله ختم الله له بخاتمة حسنة فمات وهو ساجد؛ لأنه دعا الله ألا يقبضه إلا ساجداً.

إن آخرة كل إنسان وموته بيد المليك المقتدر، فإذا تبعد لربه بأن الآخرية بيده، واعتقد ذلك اعتقاداً جازماً، والتجأ قلبه إلى صاحب الآخرية، فإنه لا يمكن أن تكون آخرته إلى الشيطان؛ لأن الشيطان يقعد عند رأس المرء عند موته وآخرته فيقول له: إن أباك مات على النصرانية، إن أباك مات على اليهودية، إن أباك مات على المجوسية، ذلك هو الدين الحق، بل ويمثل له أباه وأمه، وهذا الذي حدث مع صناديد أهل العلم، فقد تمثل للإمام أحمد، وقال له: يا أحمد! لقد ظفرت بك، وسوف آخذ منك ما أريد، ولا أحد يستطيع أن ينقذك مني، والإمام أحمد يقول: لا، وابنه يقول له: يا أبتي! قل: لا إله إلا الله، وهو يقول للشيطان: لا، فدهش الولد مما يقول أبوه، فلما أفاق الإمام أحمد قال له: يا أبتي! أقول لك: قل: لا إله إلا الله، وتقول: لا، فقال له: تمثل لي الشيطان، فقال لي: الآن أظفر منك يا أحمد، وأنا أقول: لا لا، وهذا يدل على قوة اعتقاده بآخرية الله، فوفقه الله أن يموت على: لا إله إلا الله، نحسبه كذلك، ونسأل الله له الدرجات العلى.

نسأل الله جل في علاه أن يوفقنا وإياكم إلى التعبد له بصفاته العلية الكاملة، بأن نعرف كل صفة، وكيف نتعبد بها له سبحانه.
‌‌আল্লাহর 'আল-আখির' (সবার শেষে বিদ্যমান থাকা) গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা

আল্লাহর 'আল-আখির' গুণের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার অর্থ হলো—সবকিছুর নশ্বরতা এবং সবকিছুরই যে একটি শেষ আছে তা নিয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করা। কিন্তু আল্লাহর কোনো শেষ নেই। মানুষের এবং এই মহাবিশ্বের সমাপ্তি 'আল-আখির' সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে। মহান আল্লাহ বলেন: "ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর। আর কেবল আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের সত্তাই অবশিষ্ট থাকবে।" [আর-রাহমান: ২৬-২৭]।

সুতরাং মানুষের জানা উচিত যে, তার শেষ পরিণতি মহান আল্লাহর হাতে। নিশ্চয়ই আমলের বিচার হয় শেষ পরিণতির ওপর ভিত্তি করে। আর এই পরিসমাপ্তি 'আল-আখির' সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে। মানুষ যখন এটি জানবে, তখন সে তার রবের কাছে জীবনের শেষ মুহূর্তে তাওহিদ, হিদায়াত, তাকওয়া ও ইহসানের ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে 'আসাল' (মিষ্টতা দান) করেন। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! 'আসাল' করা কী? তিনি বললেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন, অতঃপর সেই আমলের ওপরই তার জান কবজ করেন।" ফলে তার সমাপ্তি হয় নেক আমলের মাধ্যমে।

এই দুনিয়ায় মানুষের পরিসমাপ্তি যেমন মহান আল্লাহর হাতে, তেমনি কিয়ামতের দিনের শেষ পরিণতিও 'আল-আখির' সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে। অতএব, সে যেন তার রবের কাছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমে উত্তম পরিসমাপ্তির দোয়া করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী অনুযায়ী: "দুনিয়াতে যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

নিশ্চয়ই সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তীগণ আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করতেন। এই যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু দশটি করে আয়াত করে কুরআন মুখস্থ করতেন। এভাবে তিনি ছয় বছরে সূরা বাকারা মুখস্থ করেছিলেন। তিনি প্রথমে তিলাওয়াত শিখতেন, তারপর দশটি আয়াত মুখস্থ করতেন, এরপর আল্লাহর ইবাদত হিসেবে সে অনুযায়ী আমল করতেন।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: "আমরা ঈমান শিখেছি, এরপর কুরআন শিখেছি। ফলে ঈমানের নূরের ওপর কুরআনের নূর যুক্ত হয়েছে এবং মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর নূর পূর্ণতা পেয়েছে।"

আর আবু যুরআহ রহিমাহুল্লাহ ছিলেন ইলম অন্বেষণকারীদের পাহাড় সদৃশ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন হাফেজ ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাঁর সামনে সহীহ মুসলিম উপস্থাপন করা হলে তিনি তা পড়তেন এবং বলতেন: "এই লোকগুলো কেবল খ্যাতি চেয়েছেন।" কারণ তিনি সহীহ মুসলিমের কিছু বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যার মধ্যে জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আবু যুবায়েরের বর্ণনাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবু যুরআহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনায় অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি দুর্বল ও জাল হাদিসগুলো চিহ্নিত করতেন এবং আল্লাহর 'আল-আখির' গুণের ওপর বিশ্বাস রেখে ইবাদত করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁকে উত্তম পরিসমাপ্তি দান করে পুরস্কৃত করেছিলেন। তিনি যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তাঁর কাছে মুহাদ্দিসগণ একত্রিত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস আলোচনা করছিলেন। তাঁদের একজন বলছিলেন: "আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন অমুক থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই এই..." এভাবে তিনি হাদিসগুলো উল্লেখ করছিলেন। তখন আবু যুরআহ তাঁকে বললেন: "এই হাদিসটি আমার কাছে আছে এবং এটি অমুকের হাদিসের মতো।" জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি কথা বললেন এবং বললেন: "আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন অমুক থেকে, অমুক থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে, তিনি বলেছেন: 'যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'।" এরপরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি যখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে তাঁর শেষ পরিণতি কেবল আল্লাহর ইবাদতের জন্যই হবে, তখন তাঁর শেষ অবস্থায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর জিহ্বা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র মাধ্যমে সিক্ত করে দিলেন, অতঃপর তিনি সেই অবস্থায় ইন্তেকাল করলেন।

আর উম্মতের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, যাঁর কিতাব মহান আল্লাহর কিতাব এবং বুখারীর পর দ্বিতীয় বিশুদ্ধতম কিতাব। তিনি যখন জানলেন যে আল্লাহই 'আল-আখির' এবং তাঁর শেষ পরিণতি আল্লাহর হাতে, তখন তিনি প্রথমে ইহসানের (নিষ্ঠার) সাথে কাজ শুরু করেন। ফলে আল্লাহ তাঁকে ইহসানের সাথেই পরিসমাপ্তি দান করেন। মহান আল্লাহ বলেন: "সদাচরণের পুরস্কার কি সদাচরণ ছাড়া অন্য কিছু?" [আর-রাহমান: ৬০]। আল্লাহ তাঁর জন্য উত্তম পরিসমাপ্তির উপায়সমূহ তৈরি করে দিয়েছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি কয়েকজন আলেমের সাথে হাদিস চর্চা ও আলোচনার মজলিসে বসেছিলেন। সেখানে তাঁরা এমন একটি হাদিস উল্লেখ করলেন যা তাঁর জানা ছিল না। ফলে তিনি সারা রাত সেই হাদিসটি খুঁজতে থাকলেন এবং সমস্ত কিতাবপত্র ঘাটতে লাগলেন। তিনি একটি করে খেজুর খেতেন আর একটি করে হাদিস পড়তেন। এভাবে তিনি হাদিসটি খুঁজে পেলেন এবং শেষ খেজুরটি মুখে দিলেন। হাদিসটি দেখার সময় তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তা পড়তে পড়তে সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস পাঠরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলো।

সমসাময়িকদের মধ্যে শায়খ কিশক রহিমাহুল্লাহর কথা বলা যায়। তিনি সর্বদা আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করতেন, মানুষকে কল্যাণের পথ দেখাতেন এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতেন। যেহেতু তাঁর শেষ পরিণতি আল্লাহর হাতে ছিল, তাই আল্লাহ তাঁকে উত্তম পরিসমাপ্তি দান করেছিলেন। তিনি সিজদারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন; কারণ তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন সিজদারত অবস্থা ছাড়া তাঁর জান কবজ না করা হয়।

প্রত্যেক মানুষের শেষ পরিণতি ও মৃত্যু সেই সর্বশক্তিমান অধিপতির হাতে। যখন কেউ তাঁর রবের জন্য এই ইবাদত করবে যে, শেষ পরিণতি কেবল তাঁরই হাতে এবং এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে, আর তাঁর অন্তর 'আল-আখির' সত্তার দিকে ধাবিত হবে, তখন তাঁর শেষ পরিণতি শয়তানের দিকে হওয়া সম্ভব নয়। কারণ মৃত্যুর সময় ও শেষ মুহূর্তে শয়তান মানুষের মাথার কাছে বসে বলে: "তোমার বাবা খ্রিষ্টান হয়ে মারা গেছে, তোমার বাবা ইহুদি হয়ে মারা গেছে, তোমার বাবা অগ্নিপূজক হয়ে মারা গেছে, সেটিই ছিল সত্য ধর্ম।" এমনকি শয়তান তার বাবা-মায়ের রূপ ধরে আসে। বড় বড় আলেমদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। যেমন ইমাম আহমদের সামনে শয়তান আত্মপ্রকাশ করে বলেছিল: "হে আহমদ! আমি তোমার ওপর জয়ী হয়েছি। আমি তোমার কাছ থেকে যা চাই তা ছিনিয়ে নেব এবং কেউ তোমাকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।" ইমাম আহমদ বলছিলেন: "না।" আর তাঁর ছেলে তাঁকে বলছিল: "আব্বাজান! বলুন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।" কিন্তু তিনি শয়তানকে বলছিলেন: "না।" ছেলেটি তার বাবার কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। ইমাম আহমদ যখন চেতনা ফিরে পেলেন, ছেলে তাঁকে বলল: "আব্বাজান! আমি আপনাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে বলছি, আর আপনি বলছেন 'না'!" তিনি বললেন: "শয়তান আমার সামনে এসে বলেছিল, হে আহমদ! এখন আমি তোমার ওপর জয়ী হলাম। আর আমি বলছিলাম, না, না।" এটি আল্লাহর 'আল-আখির' গুণের প্রতি তাঁর বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রমাণ করে। তাই আল্লাহ তাঁকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে তেমনই মনে করি এবং আল্লাহর কাছে তাঁর উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করি।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর সুউচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মাধ্যমে ইবাদত করার তাওফিক দান করেন। যেন আমরা প্রতিটি গুণ সম্পর্কে জানতে পারি এবং সেগুলোর মাধ্যমে কীভাবে তাঁর ইবাদত করতে হয় তা শিখতে পারি।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: -)
صفات الله وآثارها فى إيمان العبد   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: العقيدة


الكتاب: صفات الله وآثارها فى إيمان العبد

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

আল্লাহর গুণাবলী এবং বান্দার ঈমানের ওপর সেগুলোর প্রভাবসমূহ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আল্লাহর গুণাবলী এবং বান্দার ঈমানের ওপর সেগুলোর প্রভাবসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ১)
صفات الله وآثارها في إيمان العبد -‌‌ شرح صفة الأحدية والباطنية والتبارك لله عز وجل

مسكين من تجشم وحدث عما لا تحيط به الكلمات والأوصاف ولا تدرك كنهه العقول، وحسبنا أن نفسر ما وصف به نفسه من صفات، فالله أحد لا ند له؛ وفرد لا مثيل له، عرفناه بوحدانيته فاتجهت قلوب موحديه إليه وحده فلهجت باسمه، وخلصت لتنفيذ مراده وأمره، فهو الباطن القريب من عباده، يعلم سرهم وجهرهم وما تكنه صدورهم، فعجباً لمن يعصيه وهو قريب منه، ولا يستحيي ممن لا يخفى عليه أمره، إنه القائل عن نفسه: (تبارك)، وهل البركة إلا منه وإليه، فطوبى لمن حلت بركة الله بداره.
আল্লাহর গুণাবলি এবং বান্দার ঈমানের ওপর সেগুলোর প্রভাব - মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর এককত্ব, গোপনতা এবং বরকতময় হওয়ার গুণাবলির ব্যাখ্যা

সেই ব্যক্তি বড়ই অসহায় যে এমন বিষয় নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায় যা শব্দ ও বর্ণনার আয়ত্তে আসে না এবং যার প্রকৃত সত্তা বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি নিজেকে যে সকল গুণে গুণান্বিত করেছেন আমরা কেবল সেগুলোরই ব্যাখ্যা প্রদান করব। কেননা আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো সমতুল্য নেই। আমরা তাঁকে তাঁর একত্বের মাধ্যমেই চিনেছি, ফলে একত্ববাদীদের অন্তর কেবল তাঁর দিকেই ধাবিত হয়েছে এবং তাদের জিহ্বা তাঁর মহিমা কীর্তনে মুখরিত হয়েছে। তারা তাঁর ইচ্ছা ও নির্দেশ পালনে একনিষ্ঠ হয়েছে। তিনি অতি নিকটবর্তী গোপন সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাদের অত্যন্ত নিকটে; তিনি তাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় এবং তাদের অন্তরে যা লুকায়িত থাকে তা জানেন। সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে তাঁর অবাধ্য হয় অথচ তিনি তার অতি নিকটে, আর সে তাঁর প্রতি লজ্জা বোধ করে না যার নিকট তার কোনো বিষয়ই গোপন থাকে না। তিনিই নিজের সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি বরকতময়)। আর বরকত তো কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই আসে এবং তাঁর নিকটেই পর্যবসিত হয়। অতএব, সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যার গৃহে আল্লাহর বরকত অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌صفة الأحدية

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71]، أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.

ثم أما بعد: من الصفات الثبوتية الذاتية التي لا تنفك عن الله جل في علاه أزلاً وأبداً، صفة الأحدية، فالله جل وعلا هو الواحد الأحد الذي لا ند له، ولا شبيه له، ولا سمي له، وهذه الصفة ثبتت لله جل في علاه بالكتاب والسنة وإجماع أهل السنة.

فأما الكتاب: فقد قال الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص:1]، فوصف نفسه بأنه أحد.

وأما السنة: فقد ذكر النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث القدسي: أن الله جل وعلا يقول: (وأنا الله الواحد الأحد)، أو قال: (وأنا الله الأحد الصمد)، ومعلوم أن لفظ الجلالة (الله) إذا أضيف إليه أي اسم من أسماء الله فإنه يعتبر الاسم المضاف إليه صفة.

ورجحنا فيما سبق أن لفظ الجلالة (الله) هو الاسم الأعظم لله جل في علاه، وأن كل الأسماء تضاف إليه على أنها صفات، ولا يضاف هو إلى هذه الأسماء، ففي الحديث السابق قال الله تعالى: (أنا الله الأحد)، فالأحد هنا صفة لله، وصفة الأحدية صفة ذاتية لله جل وعلا ثبوتية لا تنفك عن الله أزلاً وأبداً.

وقد أجمع أهل السنة والجماعة على اتصاف الله بصفة الأحدية.
একত্বের গুণ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য কামনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের ভুল কর্মসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১]। অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।

অতঃপর: মহান আল্লাহর সেই সকল সত্তাগত ইতিবাচক গুণাবলির মধ্যে একটি হলো একত্বের গুণ, যা অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত তাঁর সত্তা থেকে পৃথক হয় না। মহান আল্লাহ হলেন এক ও অদ্বিতীয়, যাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, কোনো সদৃশ নেই এবং তাঁর সমকক্ষ নামের কেউ নেই। এই গুণটি কুরআন, সুন্নাহ এবং আহলে সুন্নাতের ঐকমত্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহর জন্য প্রমাণিত হয়েছে।

কুরআনের দলীল হলো: মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়} [ইখলাস: ১], এভাবে তিনি নিজেকে অদ্বিতীয় হিসেবে গুণান্বিত করেছেন।

আর সুন্নাহর দলীল হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে কুদসীতে উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়), অথবা তিনি বলেছেন: (আর আমিই আল্লাহ, অদ্বিতীয় ও অমুখাপেক্ষী)। আর এটি জানা কথা যে, মহান আল্লাহর পবিত্র নামের (আল্লাহ) সাথে যখন আল্লাহর অন্য কোনো নাম যুক্ত হয়, তখন সেই যুক্ত নামটি একটি গুণ হিসেবে গণ্য হয়।

আমরা ইতিপূর্বে অধিকতর সঠিক মত হিসেবে উল্লেখ করেছি যে, 'আল্লাহ' শব্দটিই মহান আল্লাহর মহানতম নাম, এবং অন্য সকল নাম এর সাথে গুণ হিসেবে যুক্ত হয়, কিন্তু এই নামটি অন্য কোনো নামের দিকে গুণ হিসেবে যুক্ত হয় না। পূর্বোক্ত হাদীসে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আমি আল্লাহ, অদ্বিতীয়), সুতরাং এখানে 'অদ্বিতীয়' শব্দটি আল্লাহর একটি গুণ। আর এই একত্বের গুণটি আল্লাহর একটি সত্তাগত ইতিবাচক গুণ যা অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত আল্লাহর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আল্লাহ তাআলার একত্বের গুণে গুণান্বিত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أثر صفة الأحدية في إيمان العبد

إن الله جل في علاه هو الواحد الأحد المتفرد بالجمال والجلال والكمال والبهاء والعظمة سبحانه جل في علاه، فإذا اعتقدت هذا اعتقاداً راسخاً في قلبك علمت أن الله جل في علاه متفرد في الإلهية، فلا يستحق العبادة أحد غيره، ولا تصرف عبادة إلا له، فلا يذبح إلا له، ولا ينذر إلا له، ولا يخاف إلا منه، ولا يسجد إلا له، ولا يدعى أحد غيره سبحانه وتعالى، وإذا علمت أن ربك جل في علاه هو الذي يتفرد بالملك والإحياء والإماتة، ويتفرد بالإعطاء وبالمنع، واعتقد ذلك قلبك؛ فلن يميل إلا للواحد الأحد، كما أنك إذا توجه قلبك وعبادتك إلى الواحد الأحد فلن تتشتت معنوياً ولا حسياً.

وأما من يعتقد غير ذلك كمن يتعبد بالثالون، فيقول: باسم الأب، وباسم الابن، وباسم روح القدس، فتجده متشتتاً لا يدري أيرضي الأول، أم يرضي الثاني، أم يرضي الثالث؟ ولا يدري أيصرف هذه العبادة للأول أم للثاني أم للثالث؟ وإذا ألم به ضر فأراد كشفه أيدعو الأول أم الثاني أم الثالث؟ ومثلهم من يقول: إن عزيزاً هو الله -حاشا لله جل في علاه-، فيتحير هل يتعبد لـ عزير أم يتعبد لله جل في علاه؟ وهنا يدرك المرء منّة الله عليه أن وحد عبادته له وحده، فهو الواحد الأحد الفرد الصمد.

ومن آثار هذه الصفة على إيمان العبد أيضاً أن الله جل في علاه أراد أن يطهر قلبك بهذه الصفة -صفة الأحدية-، فإذا رأيت نفسك وأنت تتعبد لله بعبادة، أو تتصدق لله بصدقة، أو تجاهد لله جل وعلا حق الجهاد وقد حدث في قلبك شيء أرابك، كأن تريد أن يرى الناس فعلك، أو أن يروا مكانك، فتقول: لا والله إن صفة الله تأبى ذلك، فإن الأحدية تأبى التشريك، والله جل في علاه قد صرح بذلك في أكثر من موضع من كتابه ومن سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ومن أجلى وأوضح ما صرح به ما جاء في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله تعالى: (أنا أغنى الشركاء عن الشرك، فمن عمل عملاً أشرك فيه معي غيري تركته وشركه)، فإن الذي يتعبد لغير الله جل في علاه لم يتقن هذه الصفة، فكيف يكون عبداً مربوباً لله جل في علاه، ويعلم أن الله هو الواحد الأحد المتفرد المستحق لإفراد العبادة له جل في علاه، ثم يشرك معه غيره! وقد ثبت في الصحيح: (أن أول من تسعر بهم النار ثلاثة: العالم، والمجاهد، والمنفق)، ومع أنهم هم قوام الأمة ومعلوم أن أعلى الطبقات والمراتب بعد النبوة والصديقية؛ هي طبقات العلماء والمجاهدين والمنفقين، وما ذاك إلا لأن العالم تعلم لا لله جل في علاه، فلم يتعبد الله بهذه الصفة العظيمة الجليلة، وأن المجاهد لم يجاهد من أجل رفع راية لا إله إلا الله! بل جاهد من أجل أن يقال له: شهيد، والشهادة ليست مقصودة بذاتها، بل المقصود بذاته هو رفع راية لا إله إلا الله، وأن المنفق لم ينفق من أجل التقرب إلى الله بإعانة عباده! بل من أجل أن يقال: سخي.

إن صفة الأحدية تأمرك أن توحد العمل في القلب لله الواحد المتفرد في العبادة سبحانه وتعالى، فقد ثبت في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه وأرضاه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أول من تسعر بهم النار ثلاثة: عالم ومجاهد ومتصدق، فأما العالم فيأتي به الله جل في علاه فيعرفه نعمه عليه، فيقول: فما فعلت فيما أنعمت عليك؟ فيقول: تعلمت العلم فيك وعلمته فيك، فيقال: كذبت)؛ لأنه لم يتعبد بهذه الصفة الجليلة: صفة الأحادية فلم يوحد الاتجاه لله جل في علاه، بل لينظر الناس أو يسمعوا به، وكأنه لم يعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من راءى راءى الله به، ومن سمع سمع الله به) فكان ذلك -والعياذ بالله- جزاءً وفاقاً وأجراً طباقاً، فلما فعل ذلك جهلاً منه قال الله تعالى له: (كذبت! بل تعلمت ليقال: عالم وقد قيل، ثم يزج به في نار جهنم.

وأما المتصدق -الذي ينفق كل ماله، أو شطر ماله، أو ينفق كثيراً من ماله- فيؤتى به يوم القيامة ثم يقول الله جل في علاه له: ماذا فعلت فيما أنعمت به عليك؟ فيقول: أنفقت فيك يا رب العالمين! فيقول الله جل في علاه: بل فعلت ذلك ليقال: متصدق، وقد قيل)، أي: قد أخذت حظك في الدنيا، فأنت لم تتعبد بهذه الصفة الجليلة، فلم توحد قلبك لربك الواحد المستحق للعبادة سبحانه وتعالى، والمستحق لإفراد العبادة له، فيقال له: (قد قيل، ثم يزج به في نار جهنم).

وأما المجاهد فهو الذي أهلك نفسه وروحه، ويا لها من خسارة وعار على رجل باع نفسه زيفاً وزوراً، وهو الذي قاتل وجاهد فيما يرى الناس؛ لتكون كلمة الله هي العليا، وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً شجاعاً يقاتل يميناً ويساراً، فيهجم على الأعداء بكل شجاعة وقوة، فقال: (هذا في النار)، أي: أنه ليس من أهل الجنة، ومثله هذا الرجل الذي يسعر به في نار جهنم، حيث يقول الله جل في علاه له: (فما فعلت بما أنعمت عليك؟ فيقول: قاتلت فيك حتى قتلت، فيقول الله جل في علاه: كذبت! بل فعلت ذلك ليقال: شجاع أو يقال: مجاهد وقد قيل، ثم يزج به في نار جهنم) مصداقاً لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الرجل ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع)، في رواية أخرى وهي التي تفسر هذه الرواية: (فيما يبدو للناس) أما القلب الذي كلف أن يوحد لم يفرد الله جل وعلا بالعبادة، ولم يصدق الله جل في علاه في النفقة، ولا في العلم، ولا في الجهاد، فقال: (فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها، وإنكم لترون الرجل يعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينها وبينها إلا ذراع، ثم يسبق عليه الكتاب)، والرواية الأخرى: (فيما يبدو للناس) إذ أن الله أعلم بالسرائر، فإن كل سريرة عند ربنا جل وعلا علانية، كما أن مقياس الناس عند رب الناس هو القلب، والتوحد المحض ليس في الظاهر بل في القلب، فقد ترى الرجل قائماً عابداً صائماً قائماً منفقاً وهو عند الله جل وعلا لا يزن جناح بعوضة.

قال ابن القيم: يصلي الرجل وبجانبه الرجل وما بينهما كما بين السماء والأرض من التفاوت، وما ذلك إلا لما في القلب من التوحيد الخالص لله جل في علاه، فكلاهما يقرأ الفاتحة، وكلاهما يركع، وكلاهما يسجد، لكن التفاوت بينهما تفاوت في القلوب، فأحدهم صدق الله في الأحدية، فتعبد لله وقلبه متجه لمن فوق العرش كما قال علي بن أبي طالب: كونوا بين الناس بأجسادكم، وأرواحكم حول العرش تحوم.

يريد: عليكم أن توحدوا الله في قلوبكم التوحيد الخالص.

وفي حديث البطاقة: (أن رجلاً وزنت سجلات معاصيه وسجلات حسناته فرجحت كفة السيئات، وعلم الرجل أنه قد هلك، ثم يقال له: عندنا شيء لك، فيقول: ما هو؟ فيقال له: البطاقة، فيقول: وما تفعل هذه البطاقة مع هذه السجلات؟! فيقول الله جل في علاه: لا ظلم اليوم، فيأخذ البطاقة وفيها: لا إله إلا الله، -ولابد أن يعلم أنه ما من مسلم إلا وهو يقول: لا إله إلا الله، وليس كل أحد سينال ما ناله صاحب البطاقة- فتؤخذ البطاقة فتوضع في سجلات الحسنات، فترجح كفة الحسنات)؛ لأن صاحب البطاقة وحد الله بحق، وتعبد بقلبه بصفة الأحادية وما ترك عبادة إلا وقصد بها ربه، ولم يرد للناس منظراً أو مكانة أبداً.

وينبغي أن يعلم المتعبد لله بصفة الأحدية أن التوحد الخالص، والانفراد التام المطلق لا يكون إلا لله جل في علاه، فلا يطمع في الأحادية وإن كان كل واحد منا فيه هذه الصفة، فتراه يحب أن يتفرد أمام الناس، ويكون هو المتفوق، وهذا يحدث لكل إنسان، فالغني يحب أن يكون هو أغنى الناس؛ حتى يتفرد عن الناس، فالأحادية متغلغلة فينا، والربوبية داخلة فينا؛ لكن منا من يقمع هذا برحمة الله له، فيوفقه الله جل في علاه لعبادته، ومنا من تنفجر عنده والعياذ بالله كفرعون الذي قال: {أَنَا رَبُّكُمُ الأَعْلَى} [النازعات:24]، فهي موجودة في كل إنسان، إلا أن الإنسان إذا تعبد الله بالأحدية لم يطمع أن يكون متفرداً في الساحة وحده، فلا يقول: أنا العالم ولا عالم غيري فإن الله خلق الألف والآلاف والملايين من العلماء، فاعلم أنك لن تتوحد، ولا يمكن لك أن تنفرد في الساحة، فييأس من ذلك فيخضع لله جل في علاه، ويقول: نشترك أنا وإخوتي لرفع راية لا إله إلا الله، ولا أتصارع معهم.

ولذلك نرى بين كثير من الدعاة وطلبة العلم انتشار الحسد والحقد؛ لأنهم لم يتقنوا كيفية التعبد لله في الأحادية، فهم لا يعلمون أن الله جل وعلا أبى أن يتفرد أحد الانفراد المطلق إلا هو سبحانه وتعالى، فالعالم لا يمكن أن يكون متفرداً عالماً، بل سيجد قريناً له، وسيجد خليلاً له، وسيجد عالماً مثله، وسيجد من يجتهد أكثر منه، ولذلك قال الله تعالى: {وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ} [المطففين:26]، فلك أن تسابق لكن لن تكون وحيداً في عصرك، فإن الله خلق منك الكثير، فإذا استيقن المرء في قلبه أن الانفراد المطلق لله لم يطمع أن يكون وحيد عصره وفريد دهره، ولن يحقد على غيره أو يحسده، بل سيدعو الله أن يوفق إخوانه وأن يجعلهم عوناً له على طاعة الله ورضوانه.

كما أنك عندما تتدبر تدبراً عميقاً في قلبك وخاصة خلواتك -لأن الخلوات هي أهم ساعات العبادة، وتدبر القلوب هو أهم العبادات- الأحدية فقلت: نزل بي البلاء إلى من أذهب؟ إلى أخي سيقف بجانبي، وإلى أبي سيعطيني، وإلى أمي ستدعو لي، إلى من أذهب؟ إلى عمي إلى خالي إلى القريب، إلى من أذهب؟ فإذا تدبر الأحدية فسيقول: هذا البلاء نزل من الواحد ولن يرتفع إلا من الواحد، وإنما تفعل ذلك إذا كنت تعتقد اعتقاداً جازماً بأن الواحد الأحد هو المتفرد بالعطاء وهو المتفرد بالمنع، وهو المتفرد بكشف البلاء سبحانه وتعالى، فإن قلبك لن يميل أبداً إلا لربك، فاكشف عن قلبك الآن، وارجع إلى الوراء حتى تنظر عندما نزلت بك البلية أنزلتها بغير الله أم لا؟ فوالله ما منا من أحد إلا وقد نزلت عليه البلية فأنزلها بغير الله جل في علاه، ووالله أقول ذل
‌‌বান্দার ঈমানের ওপর 'আহাদিয়াত' (একত্ব) গুণের প্রভাব

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহান ও উচ্চ; তিনি এক, অদ্বিতীয় এবং সৌন্দর্য, মহিমা, পূর্ণতা, শ্রী ও শ্রেষ্ঠত্বে অনন্য। তিনি সুমহান ও সুউচ্চ। আপনি যখন আপনার অন্তরে এই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে গেঁথে নেবেন, তখন জানতে পারবেন যে আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়। সুতরাং তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয় এবং তাঁর ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত নিবেদন করা যাবে না। কেবল তাঁর জন্যই জবেহ করা হবে, কেবল তাঁর জন্যই মানত করা হবে, কেবল তাঁকেই ভয় করা হবে, কেবল তাঁর জন্যই সিজদা করা হবে এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা হবে না। যখন আপনি জানবেন যে আপনার রব-ই রাজত্ব, জীবন দান, মৃত্যু দান এবং প্রদান ও বারণ করার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং আপনার অন্তর তা বিশ্বাস করবে, তখন আপনার অন্তর সেই এক ও অদ্বিতীয় সত্তা ছাড়া অন্য কারো দিকে ঝুঁকে পড়বে না। যেভাবে আপনার অন্তর ও ইবাদত যখন সেই এক ও অদ্বিতীয় সত্তার প্রতি নিবদ্ধ হবে, তখন আপনি মানসিক বা বাহ্যিকভাবে কোনোভাবেই লক্ষ্যবিচ্যুত হবেন না।

পক্ষান্তরে, যারা এর বিপরীতে বিশ্বাস করে—যেমন যারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী হয়ে ইবাদত করে এবং বলে: পিতার নামে, পুত্রের নামে এবং পবিত্র আত্মার নামে—তাদের আপনি লক্ষ্যবিচ্যুত পাবেন। তারা জানে না প্রথমজনকে সন্তুষ্ট করবে, না দ্বিতীয়জনকে, নাকি তৃতীয়জনকে? সে জানে না এই ইবাদত কি প্রথমজনের জন্য নিবেদন করবে, না দ্বিতীয়জনের জন্য, নাকি তৃতীয়জনের জন্য? যখন তার কোনো বিপদ স্পর্শ করে এবং সে তা দূর করতে চায়, তখন সে দ্বিধায় ভোগে যে প্রথমজনকে ডাকবে, না দ্বিতীয়জনকে, নাকি তৃতীয়জনকে? তাদের মতোই যারা বলে: উযাইর হলেন আল্লাহ—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এসব থেকে পবিত্র—সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে যে সে কি উযাইরের ইবাদত করবে নাকি আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহুর ইবাদত করবে? এখানেই মানুষ তার ওপর আল্লাহর নিআমত উপলব্ধি করতে পারে যে, তিনি তার ইবাদতকে কেবল তাঁর একার জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কেননা তিনি এক, অদ্বিতীয়, একক এবং অভাবমুক্ত সত্তা।

বান্দার ঈমানের ওপর এই গুণের আরও একটি প্রভাব হলো, আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু এই গুণের—অর্থাৎ আহাদিয়াত বা একত্বের গুণের—মাধ্যমে আপনার অন্তরকে পবিত্র করতে চেয়েছেন। সুতরাং যখন আপনি আল্লাহর জন্য কোনো ইবাদত করবেন, বা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সদকা করবেন, কিংবা আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করবেন এবং আপনার অন্তরে এমন কিছু উদয় হয় যা আপনাকে বিচলিত করে—যেমন আপনি চান যে মানুষ আপনার কাজ দেখুক বা আপনার অবস্থান দেখুক—তখন আপনি বলবেন: না, আল্লাহর শপথ! আল্লাহর এই গুণ তা অস্বীকার করে। নিশ্চয়ই একত্বের দাবি হলো অংশীদারিত্ব বর্জন করা। আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট প্রমাণ হলো সহীহাইনে বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: (অংশীদারিত্ব থেকে আমি সকল অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কাজ করল এবং তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি)। যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করে, সে মূলত এই গুণটিকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। সে কীভাবে আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর দ্বারা লালিত-পালিত এক বান্দা হতে পারে এবং কীভাবে সে এটা জানার পর যে আল্লাহ-ই একমাত্র উপাস্য যিনি এককভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য, তাঁর সাথে অন্যকে শরিক করতে পারে! সহীহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে: (কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তিকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে: আলেম, মুজাহিদ এবং দানশীল)। যদিও তারা উম্মতের মূল ভিত্তি এবং এটা সুবিদিত যে নবুওয়াত ও সিদ্দীকিয়াতের পর সর্বোচ্চ স্তর ও মর্যাদা হলো আলেম, মুজাহিদ ও দানশীলদের। কিন্তু এমনটি হওয়ার কারণ হলো, সেই আলেম আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহুর জন্য জ্ঞান অর্জন করেনি, তাই সে আল্লাহর এই মহান ও মহিমান্বিত গুণের ইবাদত করেনি। আর সেই মুজাহিদ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ঝাণ্ডা সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করেনি! বরং সে জিহাদ করেছে যাতে তাকে 'শহীদ' বলা হয়। অথচ শাহাদাত নিজে উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ঝাণ্ডা সমুন্নত করা। আর সেই দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর বান্দাদের সাহায্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দান করেনি! বরং সে দান করেছে যাতে তাকে 'দানবীর' বলা হয়।

আহাদিয়াত বা একত্বের গুণ আপনাকে নির্দেশ দেয় যে, অন্তরের প্রতিটি কাজ যেন কেবল সেই একক সত্তার জন্যই হয় যিনি ইবাদতের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়, সুবহানাহু ওয়া তাআলা। সহীহাইনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তিকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে: আলেম, মুজাহিদ ও সদকাকারী। আলেমের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাকে উপস্থিত করবেন এবং তাকে প্রদত্ত নিআমতসমূহ স্মরণ করাবেন। এরপর বলবেন: আমি তোমাকে যে নিআমত দিয়েছিলাম, তা দিয়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে: আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্যই তা শিক্ষা দিয়েছি। তখন বলা হবে: তুমি মিথ্যা বলছ)। কারণ সে এই মহিমান্বিত গুণ—একত্বের গুণের ইবাদত করেনি, সে তার উদ্দেশ্যকে কেবল আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করেনি। বরং সে চেয়েছিল মানুষ যেন তাকে দেখে বা তার প্রশংসা শুনে। যেন সে জানত না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি লোকদেখানো কাজ করে, আল্লাহ তাকে লোকসমক্ষে লাঞ্ছিত করবেন। আর যে ব্যক্তি নামডাকের জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার স্বরূপ প্রকাশ করে দেবেন)। এটি ছিল—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—উপযুক্ত প্রতিদান। যখন সে তার অজ্ঞতাবশত এমনটি করল, আল্লাহ তাআলা তাকে বললেন: (তুমি মিথ্যা বলছ! বরং তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ যাতে তোমাকে 'আলেম' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে)। অতঃপর তাকে টেনে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

আর সদকাকারী—যে ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পদ, বা অর্ধেক সম্পদ, কিংবা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করেছে—কিয়ামতের দিন তাকে আনা হবে। এরপর আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু তাকে বলবেন: আমি তোমাকে যা দিয়েছিলাম তা দিয়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে: হে রব্বুল আলামীন! আমি তোমার পথেই ব্যয় করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন: (বরং তুমি তা করেছ যাতে তোমাকে 'দানশীল' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে)। অর্থাৎ দুনিয়াতে তুমি তোমার পাওনা বুঝে নিয়েছ। তুমি এই মহিমান্বিত গুণের ইবাদত করনি এবং ইবাদতের যোগ্য তোমার একক রবের জন্য তোমার অন্তরকে একনিষ্ঠ করনি। অতঃপর তাকে বলা হবে: (বলা হয়েছে, এরপর তাকে টেনে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে)।

আর মুজাহিদ হলো সে ব্যক্তি, যে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। সেই ব্যক্তির জন্য কতই না বড় ক্ষতি ও লাঞ্ছনা যে নিজেকে মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে বিলিয়ে দিয়েছে! সে মানুষের দৃষ্টিতে লড়াই ও জিহাদ করেছে যেন আল্লাহর বাণী সমুন্নত হয়। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাহসী ব্যক্তিকে দেখলেন যে ডানে-বামে লড়াই করছে এবং অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সাথে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তখন তিনি বললেন: (এ জাহান্নামী)। অর্থাৎ সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ব্যক্তিও সেই ব্যক্তির মতো যাকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে। যেখানে আল্লাহ তাকে বলবেন: (আমি তোমাকে যা দিয়েছিলাম তা দিয়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে: আমি তোমার পথে লড়াই করেছি এমনকি নিহত হয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ! বরং তুমি তা করেছ যাতে তোমাকে 'সাহসী' বা 'বীর' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: (নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের মতো আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে)। অন্য রেওয়ায়েতে এর ব্যাখ্যা এসেছে: (যা মানুষের দৃষ্টিতে মনে হয়)। কিন্তু যে অন্তরকে একনিষ্ঠ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করেনি এবং দান, জ্ঞান অর্জন বা জিহাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সত্যবাদী ছিল না। এরপর বলা হয়েছে: (তার ওপর তাকদির প্রবল হয় এবং সে জাহান্নামীদের আমল করে ফলে তাতে প্রবেশ করে। আবার তোমরা কোনো ব্যক্তিকে জাহান্নামীদের মতো আমল করতে দেখ এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এরপর তার ওপর তাকদির প্রবল হয়)। অন্য রেওয়ায়েত অনুযায়ী: (যা মানুষের দৃষ্টিতে মনে হয়)। কেননা আল্লাহ অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আমাদের রবের কাছে প্রতিটি গোপন বিষয়ই প্রকাশ্য। মানুষের রবের কাছে মানুষের পরিমাপের মানদণ্ড হলো অন্তর। প্রকৃত একনিষ্ঠতা প্রকাশ্য অবয়বে নয় বরং অন্তরে। আপনি হয়তো একজন ব্যক্তিকে নামাজি, ইবাদতকারী, রোজাদার ও দানশীল হিসেবে দেখছেন, অথচ আল্লাহর কাছে তার ওজন মশার ডানার সমানও নয়।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: একজন ব্যক্তি নামাজ পড়ছে এবং তার পাশে আরেকজন নামাজ পড়ছে, অথচ তাদের দুজনের মধ্যে আসমান ও জমিনের মতো ব্যবধান রয়েছে। এর কারণ কেবল আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহুর প্রতি অন্তরের সেই বিশুদ্ধ তাওহীদ বা একনিষ্ঠতা। তারা উভয়েই সূরা ফাতিহা পড়ছে, উভয়েই রুকু করছে, উভয়েই সিজদা করছে, কিন্তু তাদের মাঝে ব্যবধান হলো অন্তরের ব্যবধান। তাদের একজন একত্বের বিষয়ে আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতা বজায় রেখেছে, ফলে সে আল্লাহর ইবাদত করেছে এমতাবস্থায় যে তার অন্তর আরশের উপরে যিনি উঠেছেন সেই সত্তার দিকে নিবদ্ধ। যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: তোমাদের শরীর যেন মানুষের মাঝে থাকে, আর তোমাদের রুহ যেন আরশের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে।

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন: আপনাদের অন্তরে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ তাওহীদ বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা আবশ্যক।

'বীতাকা' বা কার্ড সংক্রান্ত হাদিসে এসেছে: (এক ব্যক্তির গুনাহের খাতা এবং নেকির খাতা ওজন করা হবে। তার পাপের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে এবং সে নিশ্চিত হবে যে সে ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন তাকে বলা হবে: আমাদের কাছে তোমার একটি জিনিস রয়েছে। সে বলবে: সেটি কী? তাকে বলা হবে: একটি কার্ড। সে বলবে: এই বিশাল গুনাহের খাতার সামনে এই সামান্য কার্ড কী কাজে আসবে? আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু বলবেন: আজ কোনো জুলুম করা হবে না। এরপর সেই কার্ডটি নেওয়া হবে যাতে লেখা ছিল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। —তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, প্রত্যেক মুসলিমই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, কিন্তু সবাই সেই কার্ডের অধিকারীর মতো মর্যাদা পাবে না— কার্ডটি নেকির পাল্লায় রাখা হবে এবং তার নেকির পাল্লা ভারী হয়ে যাবে)। কারণ সেই কার্ডের অধিকারী ব্যক্তি যথাযথভাবে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করেছিল এবং তার অন্তরের 'আহাদিয়াত' গুণের মাধ্যমে ইবাদত করেছিল। সে এমন কোনো ইবাদত করেনি যাতে তার রবের উদ্দেশ্য ছিল না এবং মানুষের বাহবা বা কোনো উচ্চ পদের আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না।

একত্বের (আহাদিয়াত) গুণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতকারীর এটি জানা উচিত যে, বিশুদ্ধ এককত্ব এবং নিরঙ্কুশ অনন্যতা কেবল আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহুর জন্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং সে যেন এই অনন্যতা অর্জনের লোভ না করে, যদিও আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই এই গুণের একটি অংশ বিদ্যমান। আপনি দেখবেন, মানুষ মানুষের সামনে অনন্য হতে পছন্দ করে এবং শ্রেষ্ঠ হতে চায়। এটি প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে। ধনী ব্যক্তি চায় সে যেন সবচেয়ে ধনী হয় যাতে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে পারে। সুতরাং এই একত্বের আকাঙ্ক্ষা আমাদের ভেতরে প্রোথিত এবং প্রভুত্বের আকাঙ্ক্ষাও আমাদের মাঝে বিদ্যমান। তবে আমাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর রহমতে এটিকে দমন করে, ফলে আল্লাহ তাকে তাঁর ইবাদতের তাওফিক দেন। আর কারো কারো ক্ষেত্রে এটি প্রকাশ পেয়ে যায় যেমনটি ফেরাউনের ক্ষেত্রে হয়েছিল, সে বলেছিল: {আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রব} [নাযিআত: ২৪]। এটি প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই থাকে, তবে মানুষ যখন আহাদিয়াত গুণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে, তখন সে একা এই ময়দানে অদ্বিতীয় হওয়ার লোভ করে না। সে বলে না যে আমিই আলেম আর আমার বাইরে কোনো আলেম নেই। কেননা আল্লাহ হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ আলেম সৃষ্টি করেছেন। অতএব জেনে রাখুন, আপনি কখনোই অদ্বিতীয় হতে পারবেন না এবং এই ময়দানে একা হওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে সে সেই আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে আল্লাহর সামনে বিনীত হয় এবং বলে: আমি এবং আমার ভাইয়েরা মিলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ঝাণ্ডা সমুন্নত করার কাজে শরিক হব, আমি তাদের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হব না।

এ কারণেই আমরা অনেক দায়ী (আহ্বায়ক) এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে হিংসা ও বিদ্বেষের বিস্তার দেখি; কারণ তারা আহাদিয়াত গুণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করার পদ্ধতি সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারেনি। তারা জানে না যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তিনি ব্যতীত আর কারো জন্য নিরঙ্কুশ অনন্যতা পছন্দ করেন না। একজন আলেম কখনোই একমাত্র অদ্বিতীয় আলেম হতে পারে না, বরং সে তার সমকক্ষ কাউকে পাবে, কোনো বন্ধুকে পাবে, তার মতো অন্য আলেমকে পাবে এবং এমন কাউকে পাবে যে তার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক} [মুতাফফিফীন: ২৬]। সুতরাং আপনার প্রতিযোগিতার সুযোগ আছে কিন্তু আপনি আপনার যুগে একমাত্র ব্যক্তি হতে পারবেন না, কারণ আল্লাহ আপনার মতো অনেক সৃষ্টি করেছেন। যখন কোনো ব্যক্তির অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাবে যে নিরঙ্কুশ অনন্যতা কেবল আল্লাহর জন্য, তখন সে তার যুগের একমাত্র বা অনন্য ব্যক্তি হওয়ার লোভ করবে না। সে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না বা হিংসা করবে না, বরং সে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে যেন তিনি তার ভাইদের তাওফিক দান করেন এবং আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে তাদের সহযোগী বানিয়ে দেন।

একইভাবে, যখন আপনি আপনার অন্তরে এবং বিশেষ করে নির্জনে গভীর চিন্তা করবেন—কারণ নির্জনতার সময়গুলোই ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং অন্তরের চিন্তা-ভাবনাই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত—আপনি যখন এই একত্ব বা আহাদিয়াত নিয়ে ভাববেন, তখন আপনি বলবেন: আমার ওপর বিপদ এসেছে, আমি কার কাছে যাব? আমার ভাইয়ের কাছে? সে আমার পাশে দাঁড়াবে। আমার বাবার কাছে? সে আমাকে সাহায্য করবে। আমার মায়ের কাছে? সে আমার জন্য দোয়া করবে। আমি কার কাছে যাব? আমার চাচার কাছে, মামার কাছে নাকি নিকটাত্মীয়ের কাছে? কার কাছে যাব? যখন সে আল্লাহর অদ্বিতীয় হওয়া নিয়ে ভাববে, তখন সে বলবে: এই বিপদ সেই এক সত্তার পক্ষ থেকেই এসেছে এবং সেই এক সত্তা ব্যতীত কেউ তা দূর করতে পারবে না। আপনি তখনই এটি করতে পারবেন যখন আপনি এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করবেন যে, সেই এক ও অদ্বিতীয় সত্তাই দান করার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়, বারণ করার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং বিপদ দূর করার ক্ষেত্রেও তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অদ্বিতীয়। তখন আপনার অন্তর আপনার রব ছাড়া অন্য কারো দিকে কখনোই ঝুঁকবে না। সুতরাং এখন আপনার অন্তরকে পরীক্ষা করুন এবং অতীতে ফিরে তাকান; যখন আপনার ওপর বিপদ এসেছিল, তখন আপনি কি তা আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে পেশ করেছিলেন? আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ওপর বিপদ আসেনি এবং সে তা আল্লাহ জাল্লা ফি উলাহু ছাড়া অন্যের কাছে পেশ করেনি। আল্লাহর কসম! আমি বলছি যে...
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌من يتعبد الله بالأحدية لا يخاف إلا الله

إن علمت أن ربك هو الواحد الأحد فإنك لن تعبد غيره، ولم تخف إلا منه جل في علاه، وإذا وقعت في أمر جلل فإن اعتقادك الصحيح سيكون بالواحد، وقد علمنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك، فقد صح عنه أنه (نام ذات مرة تحت شجرة وسيفه معلق بالشجرة، فقام رجل كافر من الأعراب على رأس رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخترط السيف ثم قال له: يا محمد! -بعدما أيقضه- من ينقذك مني؟ هذا سيف مصلت على رقبة رسول الله صلى الله عليه وسلم! ولنا أن نتساءل من منا يمكن أن يتدبر هذا الاعتقاد الصحيح، ويستحضر أن الواحد الأحد هو الذي يملك يد هذا الرجل، فيملك أن يشل هذه اليد في وقتها وفي لحظتها، بل يملك ما هو أعظم من ذلك! أن يقبض روح هذا الرجل! إن ذلك لا يكون إلا لمن يعتقد الاعتقاد الجازم في أحدية الله، وهو حين يعتقد ذلك لن يخف من أحد أبداً، ولن يوقع همه إلا في الله جل في علاه.

وجسد ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قال للأعرابي: (الله هو الذي ينقذني منك)، فلما قال ذلك وقع السيف من يد الرجل.

فرسول الله صلى الله عليه وسلم يعلم أن الله متفرد بالإحياء والإماتة، ويحول بين المرء وقلبه، فكل يد لا تتحرك إلا بالله جل في علاه، وكل نَفَس لا يخرج ولا يدخل إلا بمشيئة الله جل في علاه، ولذا فكل من اعتقد ذلك وعمل به فقد فاز في هذه الدنيا والآخرة، وأصبح سيداً على الناس، وكان خير من طبقها رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ثم أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم السيف وقال للرجل: (من ينقذك مني؟ فقال الرجل: كن خير آخذ) فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم خير آخذ.

كما أنك إذا تعبدت لربك بصفة الأحدية فإنك تعلم أن الممدوح بحق من مدحه الله، والمذموم بحق من ذمه الله جل في علاه، فالواحد هو الذي يمدح والواحد هو الذي يذم، فلو اجتمع من بأقطار الأرض ليمدحوك فلن ينفعوك بشيء، ولو اجتمع من بأقطارها ليذموك فلن يضروك بشيء أبداً إلا بإذن الله.

وقد جاء أن أعرابياً دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! أعطني -يعني: أعطني من الفيء- أعطني فإن مدحي زين وذمي شين، فقال النبي صلى الله عليه وسلم وهو المتعبد لربه بهذه الصفة العظيمة الجليلة-: (ذاك الله)، فعلم أن المدح بحق من الواحد الأحد، وأن الذم بحق من الواحد الأحد، وأيما قلب عمِّر بهذا الإيمان، واعتقد هذا الاعتقاد فأنى يخسر في هذه الدنيا، وأنى تبور أعماله في الآخرة، بل سيكون من الفائزين المكرمين يوم القيامة.
‌‌যিনি আল্লাহর এককত্বের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করেন তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করেন না

আপনি যদি জানেন যে আপনার রব হলেন সেই অদ্বিতীয় একক সত্তা, তবে আপনি তিনি ছাড়া আর কারও ইবাদত করবেন না এবং মহিমান্বিত ও সুউচ্চ সত্তা ছাড়া আর কাউকে ভয় করবেন না। আর আপনি যখন কোনো গুরুতর বিষয়ে পতিত হবেন, তখন আপনার সঠিক বিশ্বাস হবে সেই একক সত্তার প্রতি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে এটি সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, (একবার তিনি একটি গাছের নিচে ঘুমাচ্ছিলেন এবং তাঁর তরবারিটি গাছে ঝুলানো ছিল। তখন বেদুইনদের মধ্য থেকে এক কাফের ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার কাছে এসে দাঁড়ালো এবং তরবারিটি কোষমুক্ত করল। এরপর তাঁকে জাগিয়ে দিয়ে সে বলল: হে মুহাম্মদ! আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে? এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘাড়ের ওপর উদ্যত এক তরবারি! আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত যে, আমাদের মধ্যে কে এই সঠিক বিশ্বাস নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং এটি হৃদয়ে উপস্থিত করতে পারে যে, সেই অদ্বিতীয় একক সত্তাই এই লোকটির হাতের মালিক। তিনি চাইলে সেই মুহূর্তে এবং সেই ক্ষণেই এই হাতটিকে অবশ করে দিতে পারেন; বরং তিনি এর চেয়েও বড় কিছুর ক্ষমতা রাখেন! আর তা হলো এই লোকটির প্রাণ হরণ করা! এটি কেবল তাঁর পক্ষেই সম্ভব যিনি আল্লাহর এককত্বের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন। আর যখন তিনি এই বিশ্বাস রাখবেন, তখন তিনি কখনও কাউকে ভয় করবেন না এবং মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে নিজের চিন্তার বিষয় বানাবেন না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বাস্তবে রূপদান করেছিলেন যখন তিনি সেই বেদুইনকে বলেছিলেন: (আল্লাহই আমাকে তোমার হাত থেকে রক্ষা করবেন)। যখন তিনি এ কথা বললেন, তখন লোকটির হাত থেকে তরবারিটি পড়ে গেল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, জীবন দান ও মৃত্যু দানে আল্লাহ অদ্বিতীয় এবং তিনি মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান। সুতরাং প্রতিটি হাত মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহর হুকুম ছাড়া নড়ে না এবং প্রতিটি নিশ্বাস আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বের হয় না বা ভেতরে প্রবেশ করে না। অতএব, যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস পোষণ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হবে এবং মানুষের ওপর নেতৃত্ব লাভ করবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ছিলেন এই বিশ্বাসের সর্বোত্তম প্রয়োগকারী।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরবারিটি নিলেন এবং লোকটিকে বললেন: (আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে? লোকটি বলল: আপনি উত্তম গ্রহণকারী হোন)। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম গ্রহণকারী হলেন।

একইভাবে আপনি যখন আপনার রবের ইবাদত তাঁর এককত্বের গুণের মাধ্যমে করবেন, তখন আপনি জানবেন যে প্রকৃতপক্ষে প্রশংসিত সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ প্রশংসা করেছেন এবং প্রকৃতপক্ষে নিন্দিত সেই যাকে মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ নিন্দা করেছেন। সুতরাং সেই একক সত্তাই প্রশংসা করেন এবং সেই একক সত্তাই নিন্দা করেন। পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষ যদি আপনার প্রশংসা করার জন্য সমবেত হয়, তবে তারা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি তারা সবাই আপনার নিন্দা করার জন্য একত্রিত হয়, তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না।

বর্ণিত আছে যে, জনৈক বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দিন—অর্থাৎ গণিমতের মাল থেকে দিন—আমাকে দান করুন; কারণ আমার প্রশংসা অলঙ্কারস্বরূপ এবং আমার নিন্দা কলঙ্কস্বরূপ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যিনি তাঁর রবের এই সুমহান ও মর্যাদাপূর্ণ গুণের মাধ্যমে ইবাদত করতেন—বললেন: (তা তো কেবল আল্লাহরই বৈশিষ্ট্য)। সুতরাং তিনি জানতেন যে প্রকৃত প্রশংসা সেই অদ্বিতীয় একক সত্তার পক্ষ থেকে এবং প্রকৃত নিন্দা সেই অদ্বিতীয় একক সত্তার পক্ষ থেকেই আসে। আর যে অন্তরই এই ঈমান দিয়ে আবাদ হবে এবং এই বিশ্বাস লালন করবে, সে দুনিয়াতে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং আখেরাতে তার আমলসমূহ কখনো বিফল হবে না; বরং সে কিয়ামতের দিন সম্মানিত সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌صفة الباطنية لله تعالى

من الصفات الذاتية لله جل في علاه التي لا بد للإنسان أن يتعبد لله جل وعلا بها: صفة الباطنية، والباطنية لها معنيان: المعنى الأول: الباطن هو القريب من العبد، فهو أقرب إليك من عنق راحلتك، وأقرب إليك من حبل الوريد.

والمعنى الثاني في الباطنية: هو الخفاء والاحتجاب، فقولنا: الله الباطن، أي: الذي احتجب عن عباده فلا يعلمون كيفية صفاته سبحانه جل في علاه، ولا يتفكرون في كيفية صفاته، ولن يصلوا إلى كيفية صفاته جل في علاه.

وهذه الصفة صفة ذاتية ثبوتية لا تنفك عن الله جل وعلا وقد ثبتت لله بالكتاب، وبالسنة، وبإجماع أهل السنة.

أما بالكتاب فقد قال الله تعالى: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ} [الحديد:3].

وأما بالسنة: فقد جاء في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (وأنت الباطن فليس دونك شيء) فالله سبحانه هو أقرب للإنسان من حبل الوريد، وهو أقرب إلى العبد من عنق الراحلة، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (أربعوا على أنفسكم؛ إنكم لا تدعون أصمّ ولا غائباً إنما تدعون سميعاً بصيراً).

وفي رواية أخرى قال: (إنما تدعون من هو أقرب إلى أحدكم من عنق راحلته).
আল্লাহ তাআলার অপ্রকাশ্য ও নিকটবর্তী হওয়ার গুণ (আল-বাতিনিয়্যাহ)

মহান আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলির মধ্যে একটি গুণ, যার মাধ্যমে মানুষের জন্য মহান আল্লাহর ইবাদত করা আবশ্যক, তা হলো আল্লাহ তাআলার অপ্রকাশ্য ও নিকটবর্তী হওয়ার গুণ। এই গুণের দুটি অর্থ রয়েছে: প্রথম অর্থ: 'আল-বাতিন' হলেন তিনি, যিনি বান্দার অত্যন্ত নিকটবর্তী; তিনি আপনার নিকট আপনার বাহনের গ্রীবা অপেক্ষাও নিকটতর এবং শাহরগ অপেক্ষাও নিকটতর।

এই গুণের দ্বিতীয় অর্থ হলো: অদৃশ্য বা অন্তরালে থাকা। সুতরাং আমাদের বক্তব্য: 'আল্লাহ আল-বাতিন', এর অর্থ হলো: যিনি তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে অন্তরালে রয়েছেন, ফলে তারা মহান আল্লাহর গুণাবলির ধরন সম্পর্কে অবগত নয়, তারা তাঁর গুণাবলির ধরন নিয়ে চিন্তাও করে না এবং মহান আল্লাহর গুণাবলির ধরন বা প্রকৃত হাকিকত পর্যন্ত তারা কখনোই পৌঁছাতে পারবে না।

এই গুণটি একটি সুসাব্যস্ত সত্তাগত গুণ যা মহান আল্লাহর সত্তা থেকে কখনো পৃথক হয় না। এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং আহলে সুন্নাতের ঐকমত্যের মাধ্যমে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হয়েছে।

কুরআনের দলীল হিসেবে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য} [সূরা আল-হাদিদ: ৩]।

সুন্নাহর দলীল হিসেবে: সহীহাইন গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (এবং আপনিই অপ্রকাশ্য ও নিকটতর, আপনার চেয়ে নিকটতর আর কিছুই নেই)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের শাহরগের চেয়েও নিকটতর এবং তিনি বান্দার নিকট তার বাহনের গ্রীবা অপেক্ষাও নিকটতর। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও; তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না, বরং তোমরা সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকেই ডাকছ)।

অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেছেন: (তোমরা তো তাঁকে ডাকছ, যিনি তোমাদের কারো নিকট তার বাহনের গ্রীবা অপেক্ষাও নিকটতর)।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌قرب الله لا ينافي علوه

اعلم أن قرب الله من عباده لا ينافي علو الله جل في علاه؛ لأن التأصيل العام والتقعيد العام الذي قعده الله لنا في كتابه هو قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]، ولذلك نقول: لا ينافي العلو القرب، فهو قريب في علوه، وعليّ في قربه جل في علاه، ولا يقال: إن الله حال فينا كما قال غلاة الصوفية، فهم يقولون: بأن الله في كل مكان، حتى قال قائلهم وهو ابن عربي الكافر النكرة عليه من الله ما يستحق، وقال: وكل كلام في الكون كلامه.

يعني: كل الكلام الذي يقال فهو كلام الله.

وكان الحلاج يقول: ما في الجبة إلا الله، فهؤلاء يقولون بقرب الله وأن الله في كل مكان، وهم أصحاب عقيدة الاتحاد والحلول والعياذ بالله.

أما أهل السنة فيقولون: قريب في علوه، عليّ في قربه، وجاء عن ابن عباس أنه قال: إن الكون كله بمراميه الشاسعة في يد الرحمن كحبة خردل في يدك أنت، فكيف لا تقتنع ولا تستيقن بأن الله قريب منك وهو على العرش مستوٍ سبحانه جل في علاه.

ومن معاني الباطن: أنه يعلم كل شيء، فيعلم دقائق الأمور وجليلها، قال تعالى: {يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ} [غافر:19]، فالله قريب إلى قلبك، يعلم نبضات قلبك سبحانه جل في علاه، فلا تواري عنه سماء سماءً، ولا أرض أرضاً، ولا بحر ما في قعره، ولا جبل ما في وعره سبحانه، فهو قريب يسمع دبيب النملة السوداء، على الصخرة الصماء، في الليلة الظلماء، ويرى مخ سوقها سبحانه سبحانه سبحانه.

وهو لقربه منا يعلم أنفاسنا، ويعلم ما يختلج في الصدور.
আল্লাহর নৈকট্য তাঁর উচ্চতার পরিপন্থী নয়

জেনে রাখুন যে, তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর নৈকট্য মহান সুউচ্চ আল্লাহর উচ্চতার পরিপন্থী নয়; কারণ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের জন্য যে সাধারণ মূলনীতি ও ভিত্তি স্থাপন করেছেন তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], আর সেই কারণেই আমরা বলি: উচ্চতা নৈকট্যের পরিপন্থী নয়, সুতরাং তিনি তাঁর উচ্চতায় থাকা সত্ত্বেও নিকটবর্তী এবং তাঁর নৈকট্যে থাকা সত্ত্বেও সুউচ্চ, তিনি তাঁর সুউচ্চ মহিমায় মহিমান্বিত। আর এ কথা বলা যাবে না যে: আল্লাহ আমাদের মধ্যে মিশে আছেন, যেমনটি চরমপন্থী সূফীরা বলে থাকে। তারা বলে যে আল্লাহ সর্বস্থানে বিদ্যমান, এমনকি তাদের একজন বক্তা—যে হলো কাফির এবং অখ্যাত ইবনে আরাবী, তার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা প্রাপ্য তা-ই বর্ষিত হোক—সে বলেছে: মহাবিশ্বের প্রতিটি কথাই হলো তাঁর কথা।

অর্থাৎ: যে কোনো কথা যা বলা হয়, তা-ই আল্লাহর কথা।

আর হাল্লাজ বলত: আলখেল্লার ভেতরে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। এরা আল্লাহর নৈকট্যের কথা বলে এবং আল্লাহ সর্বস্থানে বিদ্যমান বলে দাবি করে; আর তারা হলো ইত্তিহাদ এবং হুলুল আকিদার অনুসারী, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ বলেন: তিনি তাঁর উচ্চতায় নিকটবর্তী, তাঁর নৈকট্যে সুউচ্চ। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: সমগ্র মহাবিশ্ব তার বিশালতা নিয়ে দয়াময় আল্লাহর হাতের মধ্যে ঠিক তেমনই যেমন তোমার হাতে একটি সরিষার দানা। সুতরাং কেন তুমি এটি বিশ্বাস করবে না এবং নিশ্চিত হবে না যে, আল্লাহ তোমার নিকটবর্তী অথচ তিনি আরশের উপর উঠেছেন, তিনি পবিত্র ও তাঁর সুউচ্চ মহিমায় মহিমান্বিত।

আর 'আল-বাতিন' নামের একটি অর্থ হলো: তিনি সব কিছু জানেন, সুতরাং তিনি বিষয়ের সূক্ষ্ম ও বৃহৎ উভয় অংশই জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে তা জানেন} [গাফির: ১৯]। সুতরাং আল্লাহ আপনার হৃদয়ের নিকটবর্তী, তিনি আপনার হৃদস্পন্দন সম্পর্কে জানেন, তিনি পবিত্র ও তাঁর সুউচ্চ মহিমায় মহিমান্বিত। কোনো আসমান অন্য আসমানকে তাঁর থেকে আড়াল করতে পারে না, কোনো জমিন অন্য জমিনকে আড়াল করতে পারে না, কোনো সমুদ্র তার তলদেশের কিছুকে গোপন করতে পারে না এবং কোনো পাহাড় তার দুর্গম অংশের কিছুকে তাঁর থেকে লুকিয়ে রাখতে পারে না, তিনি পবিত্র। তিনি অতি নিকটবর্তী, তিনি অন্ধকার রাতে নিরেট পাথরের ওপর দিয়ে কালো পিঁপড়ার চলার শব্দ শুনতে পান এবং তিনি তাদের পায়ের অস্থির মজ্জাও দেখতে পান, তিনি অতি পবিত্র, অতি পবিত্র, অতি পবিত্র।

আমাদের প্রতি তাঁর নৈকট্যের কারণে তিনি আমাদের নিশ্বাস সম্পর্কে জানেন এবং অন্তরে যা আন্দোলিত হয় তাও তিনি জানেন।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أثر صفة الباطنية في إيمان العبد

إذا تعبد العبد لله بهذه الصفة -صفة الباطنية- علم أن الله منه قريب، وإذا علم أن الله قريب منه علم أن دعائه لا بد أن يكون مسموعاً، ويستلزم من ذلك أن يكون مستجاباً، ويقال: مستجاباً وعلى قرب الإجابة حتى ولو طال الزمن؛ لأن ما هو آت فهو قريب، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (يستجاب لأحدكم ما لم يعجل يقول: دعوت ودعوت فلم يستجب لي)، قال الله تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} [البقرة:186].

ومن العجب أن يبخل المرء على نفسه بالدعاء وهو يعتقد بأن الله قريب منه، وأنه يسمع همساته وبكائه وتضرعه! فلا يرفع يديه ليطلب من ربه جل وعلا ما يطمع في الحصول عليه من حاجة أخروية أو دنيوية.

كما أنك إذا علمت أن ربك قريب، فستعلم أن الدعاء لا ينبغي أن تنزله إلا بالله جل في علاه، وقدوتك في ذلك الأنبياء، فهذا زكريا عليه السلام دخل على مريم فوجد عندها رزقاً، قال المفسرون: كان يجد رزق الشتاء في الصيف ورزق الصيف في الشتاء، فسألها كما أخبر الله عنه: {قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هَذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} [آل عمران:37]، فلما علم القرب الحقيقي دعا ربه قائلاً: {قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا * وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا * يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا} [مريم:4 - 6]، وفي موطن آخر أخبر الله عنه أنه دعاه قائلاً: {رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً} [آل عمران:38]، فاستجاب الله له في التو، وأصبح له ولد هبة من الله سبحانه وتعالى، فالله قريب من دعاء عباده، فلا يبخلن أحد على نفسه بأن يتقرب إلى القريب فيدعوه بحاجته، فإن الله سيقضي له حاجته.

كما أنك إذا تعبدت لربك في الباطنية بالقرب استحييت من ربك، فإذا دنت منك المعصية علمت أن الله قريب منك يرى ما تفعل، ويسمع ما تقول، ويعلم نبضات قلبك، فاستحييت من ربك وابتعدت عن هذه المعصية، وقلت كما قال الأولون: إذا ما خلوت الدهر يوماً فلا تقل خلوت ولكن قل علي رقيب وإذا علمت أن الله جل في علاه رقيب منك، وأن باطنية الله جل في علاه في قلبك، فستوقن أنه على قرب منك، فيسمع الغيبة والنميمة، ويرى السرقة، ولا يخفى عليه النظر الحرام، ولا تغيب المعاصي عنه، وهو على قربه منك يمهلك ولا يهملك، وإذا أخذك لم يفلتك سبحانه جل في علاه.

كما أنك إذا تعبدت لربك بهذه الصفة؛ بلغت إلى مرتبة الإحسان، ومراتب الدين ثلاث: المرتبة الأولى: الإسلام، والثانية: الإيمان، والثالثة: الإحسان، فمن أراد أن يرتقي من مرتبة الإسلام إلى الإيمان ثم الإحسان؛ فعليه أن يتدبر هذه الاسم الباطن، وعليه أن يتدبر هذه الصفة الجليلة ويسعى جاهداً لأن يتعبد لله جل في علاه، بهذه الصفة العظيمة.

وقد ذكروا أن رجلاً عالماً كان يقرب منه طالباً من طلبة العلم فقالوا له: لِمَ تقرب هذا الطالب وتبعد هؤلاء الطلبة؟! ولِمَ يحظى هذا الطالب بالحفاوة عن هؤلاء وكلهم يدرسون عندك؟ فقال العالم: أريكم منه شيئاً تعرفون منه لِمَ أقرب هذا عن أصحابه وزملائه، فقال للذين يطلبون عنده العلم بعد أن أعطى كل واحد طيراً: كل واحد منكم يأخذ هذا الطير ويذبحه في مكان لا يراه أحد فيه، فأخذ كل طالب علم طيراً من هذه الطير وأخذ يجتهد أن يبحث عن مكان لا يراه أحد فيه، فيذبح الطير فيه، فذبح طيره الأول والثاني والثالث والرابع والخامس وجاءوا جميعاً إلى هذا العالم كل يحكي: كنت قد اختبأت فذبحته ولم يرني أحد، والآخر يقول كما قال الأول وهكذا، ثم يأتي هذا الطالب النجيب الأريب الفقيه وقد أتى بطيره ولم يذبحه، فقال له العالم: لِمَ لمْ تذبح طيرك؟! فقال: يا معلمي! بحثت في كل مكان لا يراني الله فيه فما وجدت مكاناً إلا والله يراني فيه، كيف لا وهو الرقيب سبحانه وتعالى.

ولذا ينبغي أن تدرك أن باطنية الله قرب من العبد، وكما أن هذا الطالب قُرب في الدنيا فسيكون في الآخرة من المقربين؛ لأنه تعبد الله بالإحسان، وهذه هي ثمرة الإحسان على المتورعين المتقين.

وذكر أن أبا الإمام البخاري ذلك العلم الحبر، المحدث الفقيه، الذي قال فيه العلماء: أصح كتاب بعد كتاب الله هو كتاب صحيح البخاري، ذكر أن أباه وهو يتصبب عرقاً من سكرات الموت كان يقول: يا بني! قد تركت لك ألف ألف دينار فيها دينار فيه شبهة، فكان الإمام البخاري هو ثمرة التعبد لله بالباطنية! فالأب كان يعلم أن الله يراه، ولم يقل يوماً كما يقول البعض اليوم: أتركها في رقبة عالم وأصبح سالماً، بل كان يتعبد لله لقربه منه، وأما نحن فنسأل الله أن يغفر لنا ما اجترأنا عليه من معاصي وما تجاوزنا من حدود الله جل في علاه، وما ذاك إلا لأننا جهلنا هذه الصفة.

فالمتعلم دائماً يكون أفضل من الجاهل؛ لأن المتعلم بعدما يرجع إلى ربه يتعبد لله بهذا العلم، نسأل الله أن يغفر الله لنا اجتراءنا على معاصيه.
‌বান্দার ঈমানে ‘আল-বাতিনিয়্যাহ’ (নিগূঢ়তা) গুণের প্রভাব

যখন কোনো বান্দা আল্লাহর এই গুণ—আল-বাতিনিয়্যাহ—এর মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে, তখন সে জানতে পারে যে আল্লাহ তার অতি নিকটে। আর যখন সে জানতে পারে যে আল্লাহ তার নিকটে, তখন সে বুঝতে পারে যে তার দোয়া অবশ্যই শ্রবণ করা হচ্ছে এবং এর অনিবার্য ফলাফল হলো দোয়া কবুল হওয়া। বলা হয়: দোয়া কবুল হবে এবং কবুল হওয়ার সময়ও নিকটবর্তী, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়; কারণ যা আগত তা নিকটবর্তী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কারো দোয়া ততক্ষণ কবুল করা হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে বলে: আমি দোয়া করেছি, দোয়া করেছি কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে} [আল-বাকারা: ১৮৬]।

এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, মানুষ নিজের জন্য দোয়া করতে কার্পণ্য করে অথচ সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তার নিকটে এবং তিনি তার ফিসফিসানি, কান্না ও আকুতি শোনেন! তাই সে তার রবের কাছে ইহকাল বা পরকালের কোনো প্রয়োজনের আকাঙ্ক্ষায় হাত তোলে না।

যখন আপনি জানবেন যে আপনার রব নিকটবর্তী, তখন আপনি এটাও জানবেন যে দোয়া বা প্রার্থনা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে পেশ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে আপনার আদর্শ হলেন নবীগণ। যেমন জাকারিয়া আলাইহিস সালাম মারিয়ামের কাছে প্রবেশ করে তার নিকট খাদ্য দেখতে পেলেন। মুফাসসিরগণ বলেন: তিনি গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল এবং শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল দেখতে পেতেন। আল্লাহ যেমনটি জানিয়েছেন, তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: {তিনি বললেন, হে মারিয়াম! তোমার কাছে এগুলো কোথা থেকে এলো? তিনি বললেন, এগুলো আল্লাহর নিকট থেকে} [আল-ইমরান: ৩৭]। যখন তিনি প্রকৃত নৈকট্য সম্পর্কে জানলেন, তখন তিনি তাঁর রবের কাছে দোয়া করে বললেন: {তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে, আমার মাথা বার্ধক্যের শুভ্রতায় জ্বলে উঠেছে, আর হে আমার রব! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি। আমি আমার পর উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন। যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব বংশের উত্তরাধিকারী হবে, আর হে আমার রব! তাকে আপনার পছন্দনীয় করুন} [মারিয়াম: ৪ - ৬]। অন্য এক স্থানে আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে জানিয়েছেন যে তিনি দোয়া করে বলেছিলেন: {হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান করুন} [আল-ইমরান: ৩৮]। আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ একটি পুত্র সন্তান লাভ করলেন। সুতরাং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়ার অতি নিকটে। তাই কেউ যেন নিজের জন্য সেই নিকটবর্তীর নৈকট্য লাভে কার্পণ্য না করে এবং নিজের প্রয়োজনের কথা তাঁকে না বলে। কারণ আল্লাহ অবশ্যই তার প্রয়োজন পূরণ করবেন।

যখন আপনি আপনার রবের ‘আল-বাতিনিয়্যাহ’ গুণের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্যের সাথে ইবাদত করবেন, তখন আপনি আপনার রবকে লজ্জা পাবেন। যখন কোনো পাপে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হবে, তখন আপনি জানবেন যে আল্লাহ আপনার নিকটে আছেন, আপনি যা করছেন তা দেখছেন, আপনি যা বলছেন তা শুনছেন এবং আপনার হৃদস্পন্দনও তিনি জানেন। তখন আপনি আপনার রবকে লজ্জা পাবেন এবং সেই পাপ থেকে দূরে সরে যাবেন। আপনিও সে কথাই বলবেন যা পূর্ববর্তীরা বলেছিলেন: যখন তুমি কখনো নির্জনে থাকো, তখন বলো না যে আমি একা; বরং বলো যে আমার ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন। আর যখন আপনি জানবেন যে সুমহান আল্লাহ আপনার তত্ত্বাবধায়ক এবং আল্লাহর নিগূঢ়তা আপনার অন্তরে রয়েছে, তখন আপনি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করবেন যে তিনি আপনার অতি নিকটে। তিনি গীবত ও চোগলখুরি শোনেন, তিনি চুরি দেখেন, তাঁর কাছে কোনো হারাম দৃষ্টি গোপন থাকে না এবং কোনো পাপই তাঁর অগোচরে ঘটে না। তিনি আপনার নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও আপনাকে অবকাশ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না; আর যখন তিনি আপনাকে পাকড়াও করবেন, তখন আর রেহাই দেবেন না।

যখন আপনি এই গুণের মাধ্যমে আপনার রবের ইবাদত করবেন, তখন আপনি ইহসানের স্তরে পৌঁছাবেন। দ্বীনের স্তর তিনটি: প্রথম স্তর ইসলাম, দ্বিতীয় স্তর ঈমান এবং তৃতীয় স্তর ইহসান। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের স্তর থেকে ঈমান এবং তারপর ইহসানের স্তরে উন্নীত হতে চায়, তাকে এই ‘আল-বাতিন’ নাম নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তাকে এই মহান গুণ নিয়ে গবেষণা করতে হবে এবং এই মহান গুণের মাধ্যমে সুমহান আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

বর্ণিত আছে যে, এক আলেম তাঁর একজন ছাত্রকে অত্যন্ত কাছে রাখতেন। অন্যরা তাকে প্রশ্ন করল: কেন আপনি এই ছাত্রকে এত কাছে রাখেন এবং আমাদের দূরে রাখেন?! কেন এই ছাত্রটি আপনার কাছে এত সমাদর পায় অথচ সবাই আপনার কাছেই পড়ছে? আলেম বললেন: আমি তোমাদের এমন কিছু দেখাব যা থেকে তোমরা বুঝতে পারবে কেন আমি তাকে তার সহপাঠীদের তুলনায় বেশি কাছে রাখি। তিনি তাঁর ছাত্রদের প্রত্যেককে একটি করে পাখি দিয়ে বললেন: তোমাদের প্রত্যেকে এই পাখিটি নিয়ে যাও এবং এমন এক জায়গায় জবেহ করো যেখানে কেউ তোমাকে দেখতে পাবে না। প্রত্যেক ছাত্র একটি করে পাখি নিল এবং এমন এক জায়গা খুঁজতে চেষ্টা করল যেখানে কেউ তাকে দেখতে পাবে না। সেখানে গিয়ে সে পাখিটি জবেহ করল। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ছাত্র সবাই জবেহ করে ফিরে এসে নিজ নিজ কাহিনী বর্ণনা করল: আমি অমুক জায়গায় লুকিয়েছিলাম এবং কেউ আমাকে দেখেনি। অন্যজনও প্রথমজনের মতো বলল এবং এভাবেই সবাই বলল। অতঃপর সেই মেধাবী ও প্রাজ্ঞ ছাত্রটি তার পাখিটি না জবেহ করেই নিয়ে এল। আলেম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কেন পাখিটি জবেহ করোনি?! সে বলল: হে আমার শিক্ষক! আমি এমন সব জায়গা খুঁজেছি যেখানে আল্লাহ আমাকে দেখেন না, কিন্তু আমি এমন কোনো জায়গা পাইনি যেখানে আল্লাহ আমাকে দেখেন না। তিনি তো সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণকারী।

অতএব আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে যে, আল্লাহর ‘বাতিনিয়্যাহ’ বান্দার অতি নিকটে হওয়াকে বোঝায়। আর এই ছাত্র যেমন দুনিয়াতে নৈকট্য লাভ করেছে, তেমনি আখেরাতেও সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ সে ইহসানের সাথে আল্লাহর ইবাদত করেছে। আর পরহেযগার মুত্তাকীদের জন্য এটাই হলো ইহসানের ফল।

বর্ণিত আছে যে, ইমাম বুখারীর পিতা—যিনি একজন বড় আলেম, বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকীহ ছিলেন, যার সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হলো সহীহ বুখারী—উল্লেখ করা হয় যে তাঁর পিতা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ঘামছিলেন, তখন বলছিলেন: হে বৎস! আমি তোমার জন্য দশ লক্ষ দিনার রেখে যাচ্ছি যার মধ্যে একটি দিনারেও কোনো সন্দেহ নেই। ইমাম বুখারী ছিলেন ‘আল-বাতিনিয়্যাহ’ গুণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করার ফল! তাঁর পিতা জানতেন যে আল্লাহ তাঁকে দেখছেন। তিনি আজকের দিনের কিছু লোকের মতো বলেননি: কোনো আলেমের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমি দায়মুক্ত হয়ে যাই। বরং তিনি আল্লাহর নৈকট্যের কারণে তাঁরই ইবাদত করতেন। আর আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে আমরা তাঁর অবাধ্যতায় যা কিছু দুঃসাহস করেছি এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছি। আর এর কারণ কেবল এটাই যে আমরা এই গুণটি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম।

শিক্ষিত ব্যক্তি সর্বদা মূর্খ অপেক্ষা উত্তম; কারণ শিক্ষিত ব্যক্তি তার রবের দিকে ফিরে আসার পর এই জ্ঞানের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর নাফরমানির ব্যাপারে আমাদের দুঃসাহসের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ৩) সিফাতুল্লাহি ওয়া আসারুহা ফী ইমানিল আব্দ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌صفة التبارك لله تعالى

الصفة الثالثة من صفات الله تعالى: صفة التبارك، وتبارك معناه البركة؛ لكن التبارك خاص لله جل وعلا، ولذا يمكنك أن تقول: هذا العبد بركة، ولا تقول هذا العبد تبارك، ومن الأول ما قاله: السخاوي في ترجمة النووي: النووي بركة، ويقولون: كثيراً على أصحاب التقى، وأصحاب الحسنات الزاهرات الظاهرة، يقولون عن هؤلاء: الجلسة معهم بركة، فالصحيح أن نصف الله بتبارك ولا نصفه بالبركة، فلا يقال: بركة الله، وإنما يقال: تبارك الله، كما قال الله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [الملك:1]، وقد ثبتت هذه الصفة لله في الكتاب، قال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا} [الفرقان:61]، وقال الله تعالى أيضاً: {رَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ} [هود:73].

وثبتت هذه الصفة بالسنة فقد جاء في السنن: (أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر أن نبيناً من الأنبياء خر عليه جراد الذهب فجعل يحثو، فقيل له: ألم أكن قد أغنيتك؟! فقال: لا غنى لي عن بركتك)، فصفة التبارك صفة خاصة بالله جل في علاه.
মহান আল্লাহর মহিমান্বিত হওয়ার (তাবারুক) বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো: তাবারুক (মহিমান্বিত হওয়া) বৈশিষ্ট্য। তাবারুক অর্থ হলো বরকত; তবে 'তাবারুক' শব্দটি মহান আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট। এ কারণে আপনি বলতে পারেন: এই বান্দাটি বরকতস্বরূপ, কিন্তু আপনি বলতে পারবেন না যে, এই বান্দাটি 'তাবারুক' (মহিমান্বিত) হয়েছে। প্রথমোক্ত বিষয়ের উদাহরণ হলো ইমাম সাখাবী ইমাম নববীর জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন: নববী হলেন বরকত। আর আলিমগণ মুত্তাকী এবং উজ্জ্বল নেক আমলকারীদের সম্পর্কে প্রায়ই বলে থাকেন: তাঁদের সাথে বসা বরকতের বিষয়। সুতরাং সঠিক বিষয় হলো আমরা আল্লাহকে 'তাবারা-কা' (মহিমান্বিত হওয়া) গুণ দ্বারা বিশেষিত করব, তাঁকে 'বারাকাহ' (বিশেষ্য) দ্বারা বিশেষিত করব না। সুতরাং (সত্তার ক্ষেত্রে) 'আল্লাহর বরকত' বলা যাবে না, বরং 'তাবারাকাল্লাহ' (আল্লাহ মহিমান্বিত) বলতে হবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "মহিমান্বিত তিনি যাঁর হাতে রয়েছে রাজত্ব এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।" [আল-মুলক: ১]। আর মহান আল্লাহর জন্য এই গুণটি কিতাব (কুরআন) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "মহিমান্বিত তিনি যিনি আকাশে নক্ষত্ররাজি স্থাপন করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও আলোদানকারী চাঁদ।" [আল-ফুরকান: ৬১]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "হে গৃহবাসীগণ, তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ বর্ষিত হোক।" [হুদ: ৭৩]।

আর এই গুণটি সুন্নাহর মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী নবীদের মধ্য হতে এক নবীর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল বর্ষিত হতে লাগল, তখন তিনি তা দুই হাতে কুড়াতে লাগলেন। তাঁকে বলা হলো: আমি কি আপনাকে অভাবমুক্ত করিনি?! তিনি বললেন: আপনার বরকত থেকে আমার অমুখাপেক্ষী হওয়ার উপায় নেই)। সুতরাং 'তাবারুক' (মহিমান্বিত হওয়া) বৈশিষ্ট্যটি সুউচ্চ মহান আল্লাহর জন্য একটি বিশেষ গুণ।