(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير أحكام الحيض   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تيسير أحكام الحيض

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

ঋতুস্রাবের বিধানের সহজীকরণ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: ঋতুস্রাবের বিধানের সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১)
رسالة إلى كل امرأة تيسير أحكام الحيض -‌‌ تعريف الحيض وحكم دم الحيض

النساء شقائق الرجال، وقد خصهن الشرع بأحكام مستقلة عن الرجال، ومن هذه الأحكام: أحكام الحيض وما يتعلق به، لذا يلزم المرأة المسلمة أن تتفقه في دينها، وتعرف الأحكام المتعلقة بالحيض، والتي منها: أنواع الدماء الخارجة منها، وعلامات الحيض، وأصناف وأحوال النساء فيه، لأن ذلك يتعلق بقبول عملها عند الله عز وجل.
প্রত্যেক নারীর প্রতি বার্তা: ঋতুস্রাবের বিধিবিধান সহজীকরণ -‌‌ ঋতুস্রাবের সংজ্ঞা ও ঋতুস্রাবের রক্তের বিধান

নারীরা পুরুষদেরই সহোদরা, আর শরীয়ত তাদের জন্য পুরুষদের থেকে স্বতন্ত্র কিছু বিধান নির্দিষ্ট করেছে। এই বিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ঋতুস্রাব ও তৎসংশ্লিষ্ট বিধিবিধান। তাই মুসলিম নারীর জন্য নিজের দ্বীন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা এবং ঋতুস্রাব সংক্রান্ত বিধানাবলি জানা আবশ্যক; যার মধ্যে রয়েছে: শরীর থেকে নির্গত রক্তের প্রকারভেদ, ঋতুস্রাবের আলামতসমূহ এবং এ ক্ষেত্রে নারীদের বিভিন্ন শ্রেণি ও অবস্থা। কারণ, এটি মহান আল্লাহর নিকট তার আমল কবুল হওয়ার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أحكام الحيض
ঋতুস্রাবের বিধানসমূহ
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أهمية تعلم أحكام الحيض

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: لما كانت الطهارة أساساً في حياة المسلم وشرطاً لقبول عمله، كان حرياً بكل مسلم ومسلمة أن يتفقه في أحكامها، لا سيما وقد صح عن نبينا صلى الله عليه وسلم أنه قال: (طلب العلم فريضة على كل مسلم)، وتدخل المسلمة تحت حكم المسلم؛ لحديث عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (النساء شقائق الرجال) أي: في الأحكام.

وقد اختص الله تعالى النساء بأحكام مستقلة في باب الطهارة تتعلق بالحيض والنفاس، وما تفرع على ذلك من مسائل.

وقد حرصت النساء منذ العهد الأول على التفقه في أمر الدين وما يتعلق بهن من أحكام، ولذلك كانت تقول عائشة رضي الله عنها وأرضاها مادحةً نساء الأنصار: (نعم النساء نساء الأنصار لم يمنعهن الحياء أن يتفقهن في الدين).

وأشهر قصة تدل على ذلك هي: أن أم سليم دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: (يا رسول الله! إن الله لا يستحيي من الحق، ماذا على المرأة إن هي احتلمت؟) هذه الكلمة كانت فجيعة بالنسبة لـ أم سلمة وعائشة، فلم يكن يعرفن ذلك، لكن انظروا إلى أم سليم فقد علمت أنه لا حرج في الدين، والدين كله حياء، ومن قال: لا حياء في الدين فقد أخطأ، والصواب أن يقول: لا حرج في الدين.

فـ أم سليم قالت: (يا رسول الله! إن الله لا يستحيي من الحق، ماذا على المرأة إن هي احتلمت؟ فضربت أم سلمة على فمها وقالت: أو تحتلم النساء؟ فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: رحمك الله! فمن أين يأتي الشبه -أي: شبه الولد بأمه- فقالت عائشة: تربت يداك! فضحتِ النساء، فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: بل تربت أنت يداك! نعم عليها الغسل إذا رأت الماء)، فالنبي صلى الله عليه وسلم لم ينكر عليها السؤال، ولكل امرأة أن تفعل ذلك، وهذه ممدحة في حقها وليست مذمةً، فكن يسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كل شيء يخصهن، حتى تأتي المرأة بالثوب وتقول: إن إحدانا يصيب ثوبها الحيض، أتصلي به المرأة أم لا؟ فيشرح لها النبي صلى الله عليه وسلم ذلك الأمر.

وسنتكلم عن باب أفرد له الإمام النووي قرابة ثلاثمائة صفحة في المجموع يتكلم فيه، وعن مشكلاته ومعضلاته.

ومن العجب العجاب أن أكثر النساء لا يفقهن شيئاً عن حالهن، ولا يعرفن شيئاً عن الأمر الذي يخصهن كالحيض وغيره، لذا يجب وجوباً عينياً على كل امرأة أن تتفقه في مسائل الحيض والنفاس، بل ويجب على كل زوج أن يتعلم هذا الفقه لكي يُعلِّم امرأته، حتى لا يأتي الدم وهي لا تعلم أهذا دم حيض أم دم استحاضة أم دم نفاس؟! وحتى لا تأتي لتسأل زوجها فيقول: أنا لا أحيض، فلا أعرف هذه الأحكام؛ لأنها لا تخصني.

لذا فلا بد للمرأة أن تتعلم العلم الذي يترتب عليه صحة العبادة وبطلانها.
‌ঋতুস্রাবের (হায়েয) বিধান শিক্ষার গুরুত্ব

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।

এরপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

অতঃপর: যেহেতু পবিত্রতা একজন মুসলিমের জীবনের ভিত্তি এবং তার আমল কবুল হওয়ার শর্ত, তাই প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য এর বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। বিশেষ করে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ), আর মুসলিম নারীর হুকুমও মুসলিম পুরুষের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই নারীরা হলো পুরুষদের সহোদর সদৃশ) অর্থাৎ: বিধানের ক্ষেত্রে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্রতার অধ্যায়ে ঋতুস্রাব (হায়েয), নিফাস এবং এ থেকে উদ্ভূত মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কিছু বিধান নির্ধারণ করেছেন।

ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই নারীগণ দ্বীনি বিষয় এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ শেখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এই কারণেই আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আনসারী নারীদের প্রশংসা করে বলতেন: (আনসারী নারীগণ কতই না উত্তম! লজ্জা তাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা থেকে বিরত রাখেনি)।

এর প্রমাণস্বরূপ সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনা হলো: উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা বোধ করেন না। নারীর যদি স্বপ্নদোষ হয় তবে তার ওপর কী করণীয়?) এই কথাটি উম্মে সালামাহ ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় ছিল, কারণ তারা এ সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু উম্মে সুলাইমের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তিনি জানতেন যে দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো সংকোচ নেই। দ্বীন পুরোটাই লজ্জাশীলতা, আর যে বলে: দ্বীনের মধ্যে কোনো লজ্জা নেই, সে ভুল বলেছে; সঠিক হলো এই বলা যে: দ্বীনের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নেই।

উম্মে সুলাইম বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না। মহিলার যদি স্বপ্নদোষ হয় তবে তার জন্য কী বিধান? তখন উম্মে সালামাহ নিজের মুখে হাত চাপা দিলেন এবং বললেন: নারীদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন! তবে (সন্তানের মাঝে) সাদৃশ্য আসে কোথা থেকে? —অর্থাৎ: মায়ের সাথে সন্তানের সাদৃশ্য। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: তোমার হাত ধূলিমলিন হোক! তুমি তো নারীদের লজ্জিত করলে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: বরং তোমার হাতই ধূলিমলিন হোক! হ্যাঁ, যদি সে বীর্য দেখে তবে তার ওপর গোসল ফরজ)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার এই প্রশ্নের নিন্দা করেননি। প্রতিটি নারীর জন্যই এমনটি করার অধিকার রয়েছে এবং এটি তার জন্য প্রশংসনীয়, নিন্দনীয় নয়। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। এমনকি কোনো নারী তার কাপড় নিয়ে এসে বলতেন: আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগে, সে কি তা দিয়ে সালাত আদায় করবে? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সেই বিষয়টি বুঝিয়ে দিতেন।

আমরা এমন একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করব, যে বিষয়ে ইমাম নববী তাঁর 'আল-মাজমু' গ্রন্থে প্রায় তিনশ পৃষ্ঠা জুড়ে আলোচনা করেছেন এবং এর জটিল ও কঠিন মাসআলাসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, অধিকাংশ নারী তাদের নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন ঋতুস্রাব ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই প্রতিটি নারীর ওপর হায়েয ও নিফাসের মাসআলাসমূহ শিক্ষা করা ফরজে আইন (আবশ্যিক)। এমনকি প্রতিটি স্বামীর ওপরও এই ফিকহ শিক্ষা করা ওয়াজিব যাতে সে তার স্ত্রীকে শিক্ষা দিতে পারে। যাতে এমন না হয় যে, রক্ত আসা সত্ত্বেও সে জানে না এটি হায়েযের রক্ত, নাকি ইস্তিহাযার রক্ত, নাকি নিফাসের রক্ত?! এবং যাতে এমন না হয় যে, স্ত্রী তার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে স্বামী বলে: আমি তো ঋতুগ্রস্ত হই না, তাই আমি এসব বিধান জানি না; কারণ এগুলো আমার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

সুতরাং নারীর জন্য এমন জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য যার ওপর তার ইবাদত সঠিক হওয়া বা বাতিল হওয়া নির্ভর করে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تعريف الحيض

الحيض لغةً: مصدر حاض، يقال: حاض الشيء إذا فاض، وحاضت المرأة يعني: سال دمها.

فالله جل وعلا يجعل أعلى الرحم يدفع الدم جبلة؛ وهذا الدم ليس بدم فساد ولا مرض، بل يخرج على سبيل الصحة، والله جل وعلا قد ابتلى به المرأة لحكمة يعلمها جل في علاه، فهو يناسب أنوثتها وجسدها وكينونتها.

والمرَّةُ يطلق عليها حيضة، والجمع: حِيَض، والمحايض هي: الخرق التي تستثفر بها المرأة فتمص دم الحيض، كما في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: (قالوا: يا رسول الله! بئر بضاعة يلقى فيه الكلاب والنتن ويلقى فيه المحايض -يعني الخرق التي تمص الحيض- فقال النبي صلى الله عليه وسلم: الماء طهور لا ينجسه شيء)، ويقال للمرأة: حائض، مع أن كلمة: (حائض) مذكر، لكن ينسب للمرأة؛ لأنه خاص بها، ولا يمكن الاشتباه فيه مع الرجل.

وفي الاصطلاح: هو دم جبلة يخرج من أقصى الرحم للمرأة بعد بلوغها على سبيل الصحة، في أوقات معلومة بحسب أصناف النساء واختلاف أحوالهن.
ঋতুস্রাব (হায়েয)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে হায়েয: এটি ‘হাদা’ ক্রিয়াপদ থেকে আগত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। বলা হয়ে থাকে: কোনো বস্তু উপচে পড়লে বা প্রবাহিত হলে তাকে ‘হাদা’ বলা হয়। আর নারীর হায়েয হওয়ার অর্থ হলো তার রক্ত প্রবাহিত হওয়া।

মহান আল্লাহ জরায়ুর উপরিভাগকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যা প্রাকৃতিকভাবে রক্ত নির্গত করে; এই রক্ত কোনো ক্ষতিকর বা অসুস্থতাজনিত রক্ত নয়, বরং এটি সুস্থ অবস্থায় নির্গত হয়। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এক নিগূঢ় হিকমতের কারণে নারীকে এর দ্বারা পরীক্ষা করেছেন যা কেবল তিনিই জানেন। এই বিষয়টি নারীর নারীত্ব, দেহ এবং অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একবার ঋতুস্রাব হওয়াকে ‘হায়দাহ’ বলা হয়, আর এর বহুবচন হলো ‘হিয়ায’। ‘মাহায়িয’ হলো সেই সকল কাপড় বা ন্যাকড়া যা নারীরা ঋতুস্রাবের রক্ত শোষণের জন্য ব্যবহার করে থাকে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! বুযাআহ নামক কূপে কুকুরের দেহ, দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু এবং মাহায়িয —অর্থাৎ ঋতুস্রাবের রক্ত শোষণের ন্যাকড়া— নিক্ষেপ করা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না)। ঋতুবতী নারীকে ‘হায়িয’ বলা হয়, যদিও ‘হায়িয’ শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে পুংলিঙ্গ, কিন্তু এটি নারীর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়; কারণ বিষয়টি কেবল তাদের সাথেই নির্দিষ্ট এবং এতে পুরুষের সাথে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

পারিভাষিক সংজ্ঞায়: এটি এমন এক প্রাকৃতিক রক্ত যা নারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সুস্থ অবস্থায় তার জরায়ুর গভীরতম অংশ থেকে নির্গত হয়, যা নারীদের ধরণ ও অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أسماء الحيض

للحيض أسماء كثيرة منها: الطمث، والعراك، والنفاس، والضحك وغيرها، وهذه الأسماء مستنبطة من الأدلة، كما في الصحيحين: (أن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها وأرضاها كانت قد أهلت بالحج مع رسول الله، فدخل عليها وهي تبكي، فقال: ما يبكيك! أنفست؟) أي: أحضت؟
ঋতুস্রাবের নামসমূহ

ঋতুস্রাবের (হায়েযের) অনেকগুলো নাম রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: তামস, ইরাক, নিফাস, দাহিক এবং আরও অন্যান্য। এই নামগুলো শরয়ী দলিলসমূহ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে: (উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি কাঁদছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কেন কাঁদছ? তোমার কি নিফাস শুরু হয়েছে?" অর্থাৎ: তোমার কি মাসিক শুরু হয়েছে?)
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حكم دم الحيض

دم الحيض أذى، وهو نجس بالإجماع، قال تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة:222]، وفي الصحيحين عن أسماء رضي الله عنها وأرضاها قالت: (جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: أرأيت إحدانا تحيض في الثوب كيف تصنع؟ فقال: تحكه ثم تقرصه ثم تنضحه بالماء وتصلي فيه)، أي: تحكه بحجر أو بعود فتدلك به جرم الدم حتى يضيع الجرم، ثم تصب عليه الماء فتدلكه به أو تقرصه فيضيع الأثر.

قوله: (ثم تصلي فيه) هذا فيه دلالة على أن دم الحيض نجس؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم منع من الصلاة في الثوب الذي أصابه دم الحيض، واستدل الفقهاء بهذا على وجوب طهارة الثوب للصلاة، وأن ذلك شرط من شروط الصلاة، ووجه الدلالة هو مفهوم المخالفة: أي أنها إن لم تقرصه حتى يضيع الأثر والجرم فلا تصلي فيه؛ لأنه نجس.

وقد نقل النووي رحمه الله الإجماع على نجاسة دم الحيض، استناداً إلى حديث أسماء رضي الله عنها وأرضاها.

وأيضاً في البخاري عن عائشة رضي الله عنها وأرضاها قالت: (كانت إحدانا تحيض ثم تقرص الدم -أي تدلكه- من ثوبها، فتغسله وتنضح على سائره، ثم تصلي فيه).
‌‌ঋতুস্রাবের রক্তের বিধান

ঋতুস্রাবের রক্ত হলো কষ্টদায়ক বস্তু এবং সর্বসম্মতভাবে (ইজমা অনুযায়ী) তা নাপাক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা কষ্টদায়ক} [আল-বাকারা: ২২২]। সহীহাইন-এ আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেন: সে যেন তা খুঁটিয়ে ঘষে ফেলে, এরপর আঙুলের ডগা দিয়ে ডলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে এবং তাতে পানি ছিটিয়ে দেয়, এরপর সেই কাপড় পরে সালাত আদায় করে)। অর্থাৎ: কোনো পাথর বা লাঠি দিয়ে তা খুঁটিয়ে ঘষবে এবং রক্তের জমাট অংশটি ঘষে দূর করবে যাতে মূল রক্তটি বিলীন হয়ে যায়, এরপর তাতে পানি ঢেলে তা ডলে দেবে বা আঙুলের ডগা দিয়ে রগড়াবে যাতে এর চিহ্ন মুছে যায়।

তাঁর উক্তি: (এরপর তাতে সালাত আদায় করে) এতে এই প্রমাণ নিহিত যে, ঋতুস্রাবের রক্ত নাপাক; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋতুস্রাবের রক্ত লেগে থাকা কাপড়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফকীহগণ এ থেকে সালাতের জন্য কাপড় পবিত্র হওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে দলিল পেশ করেছেন এবং এটি সালাতের অন্যতম একটি শর্ত। এই দলিলের ধরণ হলো 'মাফহুমুল মুখালাফাহ' (বিপরীত অর্থবোধক ধারণা): অর্থাৎ যদি সে রক্ত ডলে এর চিহ্ন ও মূল উপাদান পরিষ্কার না করে, তবে সে তাতে সালাত আদায় করতে পারবে না; কারণ তা নাপাক।

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসের ওপর ভিত্তি করে ঋতুস্রাবের রক্ত নাপাক হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া বুখারীতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (আমাদের কেউ ঋতুবতী হলে তার কাপড় থেকে রক্ত খুঁটিয়ে ফেলতেন - অর্থাৎ তা ডলে ফেলতেন - এরপর তা ধুয়ে ফেলতেন এবং বাকি অংশে পানি ছিটিয়ে দিতেন, তারপর সেই কাপড় পরে সালাত আদায় করতেন)।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أقسام الدماء الخارجة من فرج المرأة

تنقسم الدماء الخارجة من فرج المرأة إلى ثلاثة أقسام، وهي: القسم الأول: دم الحيض.

ويخرج من أعلى الرحم.

القسم الثاني: دم النفاس.

وهو متعلق بالولادة.

وأما الدماء التي تنزل من الحامل قبل أن تلد بيومين تستقبل به الولادة، ففيه خلاف بين الفقها، فلو قلنا: إن الدم الذي ينزل من الحامل قبل أن تلد بيومين هو دم نفاس فالحكم أنها لا تصلي ولا تصوم، ولو قلنا: إنه دم فساد وعلة فالحكم أنها تصلي وتصوم حتى تلد، والراجح من أقوال أهل العلم أنه ليس بدم نفاس.

القسم الثالث: دم الاستحاضة.

وهو دم مرض وعلة، فقد تأتي طبيبة مختصة فتقول: إن هناك عرقاً هو الذي يسيل منه هذا الدم، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إنما هو عرق)، وقال: (هو ركضة من الشيطان).
নারীর যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত রক্তের প্রকারভেদ

নারীর যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত রক্ত তিন ভাগে বিভক্ত, আর সেগুলো হলো: প্রথম প্রকার: ঋতুস্রাব বা মাসিকের রক্ত।

এটি জরায়ুর উপরিভাগ থেকে নির্গত হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: প্রসবোত্তর রক্ত।

এটি সন্তান প্রসবের সাথে সংশ্লিষ্ট।

আর গর্ভবতী নারী সন্তান প্রসবের দুই দিন আগে প্রসবের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় যে রক্ত নির্গত হয়, সে বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আমরা যদি বলি যে, প্রসবের দুই দিন আগে নির্গত রক্ত প্রসবোত্তর রক্ত, তবে বিধান হলো সে সালাত আদায় করবে না এবং সিয়াম পালন করবে না। আর যদি আমরা বলি যে, এটি অসুস্থতাজনিত বা ত্রুটিযুক্ত রক্ত, তবে বিধান হলো প্রসব না করা পর্যন্ত সে সালাত আদায় করবে এবং সিয়াম পালন করবে। আলেমদের মতামতের মধ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি প্রসবোত্তর রক্ত নয়।

তৃতীয় প্রকার: ইস্তিহাযা বা রোগজনিত রক্ত।

এটি রোগ ও অসুস্থতাজনিত রক্ত। কোনো বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসক এসে হয়তো বলতে পারেন যে, সেখানে একটি রগ রয়েছে যেখান থেকে এই রক্ত প্রবাহিত হয়, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি কেবল একটি রগ মাত্র", এবং তিনি আরও বলেছেন: "এটি শয়তানের একটি আঘাত"।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌علامات دم الحيض

هناك علامات لدم الحيض التي بواسطتها تعرف المرأة أن هذا الدم هو دم الحيض، وهي أربع علامات: الأولى: اللون.

الثانية: الوصف.

الثالثة: الرائحة.

ومعرفة هذه الأمور من العلم والدين.

العلامة الأولى: اللون، فالدم الأحمر ليس بحيض، إلا أن تظهر قرائن تثبت أنه دم حيض، وإنما دم الحيض أسود؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: (دم الحيض أسود يعرف)، أي: تعرفه المرأة، ولكن البنت التي ابتدأها الحيض لا تعرف، فعليها أن تذهب إلى أمها لترى الدم، أهو دم حيض أم ليس بدم حيض؟ العلامة الثانية: الوصف، فدم الحيض غليظ، وأما دم الاستحاضة فهو خفيف رقراق، وهذا هو الفرق بين دم الحيض ودم الاستحاضة.

العلامة الثالثة: دم الحيض له رائحة كريهة منتنة، ودم الاستحاضة ليس كذلك؛ لأن دم الاستحاضة منبثق عن عرق، أما دم الحيض فهو منبثق من أعلى الرحم، فكان أوفق له أن يكون له رائحة منتنة.

العلامة الرابعة: أن دم الحيض بعد الدفع من الرحم لا يتجمد، وغيره يتجمد.
ঋতুস্রাবের রক্তের লক্ষণসমূহ

ঋতুস্রাবের রক্তের কিছু লক্ষণ রয়েছে যার মাধ্যমে একজন নারী বুঝতে পারেন যে এই রক্তটি ঋতুস্রাবের রক্ত, আর লক্ষণগুলো চারটি: প্রথমটি: বর্ণ (রঙ)।

দ্বিতীয়টি: প্রকৃতি।

তৃতীয়টি: গন্ধ।

আর এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া জ্ঞান ও দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম লক্ষণ: বর্ণ। লাল রক্ত ঋতুস্রাব নয়, যতক্ষণ না এমন কোনো আলামত প্রকাশ পায় যা এটি ঋতুস্রাব বলে সাব্যস্ত করে। প্রকৃতপক্ষে ঋতুস্রাবের রক্ত কালো হয়ে থাকে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: (ঋতুস্রাবের রক্ত কালো যা চেনা যায়), অর্থাৎ নারী তা চিনতে পারেন। কিন্তু যে মেয়ের নতুন ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে সে তা চিনে না, তাই তার উচিত তার মায়ের নিকট যাওয়া যাতে তিনি রক্তটি দেখে দেন যে, এটি কি ঋতুস্রাবের রক্ত নাকি ঋতুস্রাবের রক্ত নয়?

দ্বিতীয় লক্ষণ: প্রকৃতি। ঋতুস্রাবের রক্ত ঘন ও গাঢ় হয়, আর ইস্তিহাজার রক্ত হয় পাতলা ও স্বচ্ছ। এটিই ঋতুস্রাবের রক্ত ও ইস্তিহাজার রক্তের মধ্যে পার্থক্য।

তৃতীয় লক্ষণ: ঋতুস্রাবের রক্তের একটি কটু ও দুর্গন্ধ রয়েছে, কিন্তু ইস্তিহাজার রক্তের ক্ষেত্রে তেমনটি নয়; কারণ ইস্তিহাজার রক্ত শিরা থেকে নির্গত হয়, আর ঋতুস্রাবের রক্ত জরায়ুর উপরিভাগ থেকে নির্গত হয়, তাই এর দুর্গন্ধযুক্ত হওয়াটাই অধিক সংগতিপূর্ণ।

চতুর্থ লক্ষণ: জরায়ু থেকে নির্গত হওয়ার পর ঋতুস্রাবের রক্ত জমাট বাঁধে না, কিন্তু অন্য রক্ত জমাট বেঁধে যায়।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌سن الحيض

اختلف العلماء في سن ابتداء الحيض وانتهائه، وهل هناك حد لأقل الحيض أو أكثره أو لا؟ فذهب كثير من أهل العلم إلى أنه لا يمكن الحيض إلا بعد تسع سنين، وهذا كلام الجمهور، والدم الذي يدفعه الرحم بعد تمام خمس سنين أو سبع أو ثمان سنين لا يعتبر حيضاً عندهم.

أما الانتهاء عند الجمهور: فببلوغ المرأة خمسين سنة، وعند ذلك تصبح يائسة؛ لقول الله تعالى: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ} [الطلاق:4]، فإذا بلغت المرأة الخمسين ونزل منها الدم فلا يعتبر دم حيض، وأدلتهم في ذلك العادة الغالبة؛ لأن العادة أن البنت لا تحيض إلا عند سن التسع، وأن المرأة ينقطع حيضها عند سن الخمسين، والقاعدة عند الفقهاء: أن العادة محكمة.

ولهم أدلة من السنة: فعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا بلغت الجارية تسع سنين فهي امرأة)، فهذا دليل على أنها قبل التسع السنين لا تكون امرأة، أي: لا تكون حائضاً.

وذهب ابن حزم، ورجحه ابن المنذر وشيخ الإسلام ابن تيمية وهو الراجح الصحيح: أنه لا يصح تحديد سن للجارية، ولا يصح تحديد سن للمرأة الكبيرة، فلو رأت البنت الجارية عند خمس سنين الدم فهو حيض، ولو رأت عند سبع سنين فهو حيض، والمرأة بعد الخمسين إذا رأت الدم فهو حيض؛ لعموم قول الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة:222]، فالدم الذي نزل وهو أسود، وله رائحة وهو ثخين، فهو دم حيض، سواء في خمس سنوات أو سبع سنوات، أو نزل من المرأة بعد سن الخمسين.

وأيضاً: لأن النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل عن دم الحيض قال: (دم الحيض أسود يعرف)، ولم يقل: عندما تصل المرأة سن تسع سنين.

والحديث الذي استدل به الجمهور حديث باطل، وقد قال الله تعالى: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلاثَةُ أَشْهُرٍ} [الطلاق:4]، أي: انقطع دم الحيض عنهن، ولم يقل: واللائي بلغن الخمسين سنة.

إذاً: العبرة الانقطاع وليس هناك سن محدد لليأس.

وثمرة الخلاف: أننا إذا قلنا بقول الجمهور: بأن الجارية دون التسع سنين إذا نزل منها الدم أنها غير حائض، فهي غير مكلفة، أي: ليس عليها صوم ولا غيره؛ لأنها لم تبلغ سن المحيض، وإذا شتمت أو أخطأت فلا تكتب عليها السيئات؛ للحديث: (رفع القلم عن ثلاثة، وذكر منهم: الصبي حتى يحتلم)، والجارية كذلك، لكن الصحيح الراجح أنه إذا نزل الدم منها ولو كانت بنت ست فهي مكلفة؛ وذلك لحديث عائشة قالت: (عقد عليَّ النبي صلى الله عليه وسلم وأنا بنت ست سنين، ودخل بي وأنا بنت تسع سنين) أي: أنها كانت مكلفة وهي بنت ست.

أما بالنسبة للكبيرة اليائسة، فالثمرة: أنه إذا بلغت المرأة واحداً وخمسين سنة، وحدثت المشاحنة والمشاجرة بينها وبين زوجها، فقال زوجها: أنتِ طالق، فإن عدتها تكون بالشهور لا بالحيض؛ لأن المرأة التي تحيض عدتها كما قال الله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة:228]، أي: ثلاث حيض كما سنرجح، وقال تعالى عن المرأة اليائسة التي لا ينزل منها الدم: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلاثَةُ أَشْهُرٍ} [الطلاق:4]، لكن القول الراجح والصحيح هو خلاف قول الجمهور.

وأما الجواب على استدلال الجمهور بقولهم: العادة محكمة.

فنقول: هذا إذا لم تعارض الشرع، وقد عارضت هنا عموم قول الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة:222]، وعارضت قول الله تعالى: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ} [الطلاق:4].

وأما الحديث الذي استدلوا به من حديث ابن عمر: (أن الجارية إذا بلغت تسع سنين فهي امرأة) فهو حديث ضعيف لا يحتج به.
মাসিকের বয়স

মাসিকের শুরু এবং শেষের বয়স সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; এছাড়াও মাসিকের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ মেয়াদের কোনো সীমা আছে কি নেই তা নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। অনেক আলেম মনে করেন যে, নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মাসিক হওয়া সম্ভব নয়। এটি জমহুর বা সংখ্যাধিক্য ওলামায়ে কেরামের অভিমত। তাদের মতে, জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত যদি পাঁচ, সাত বা আট বছর বয়সে হয়, তবে তাকে মাসিক হিসেবে গণ্য করা হবে না।

জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে মাসিকের সমাপ্তিকাল হলো: মহিলার পঞ্চাশ বছর বয়সে পৌঁছানো, আর তখন সে 'আইসা' (মাসিক বন্ধ হওয়া নারী) হিসেবে গণ্য হবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যারা নিরাশ হয়েছে} [আত-তালাক: ৪]। সুতরাং কোনো মহিলা যখন পঞ্চাশ বছর বয়সে পৌঁছায় এবং তার রক্ত নির্গত হয়, তবে তা মাসিকের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে না। তাদের দলিল হলো প্রচলিত সাধারণ অভ্যাস; কারণ সাধারণত মেয়েরা নয় বছর বয়সের আগে ঋতুবতী হয় না এবং সাধারণত মহিলাদের মাসিক পঞ্চাশ বছর বয়সে বন্ধ হয়ে যায়। আর ফকিহদের নিকট একটি মূলনীতি হলো: "প্রথা বা অভ্যাস ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য"।

সুন্নাহ থেকেও তাদের দলিল রয়েছে: ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (মেয়ে যখন নয় বছর বয়সে পৌঁছায়, তখন সে পূর্ণ নারীতে পরিণত হয়)। এটি এই বিষয়ের দলিল যে, নয় বছর হওয়ার আগে সে পূর্ণ নারী হয় না, অর্থাৎ সে ঋতুবতী হয় না।

ইবনে হাজম এই মত পোষণ করেছেন এবং ইবনুল মুনযির ও শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন, আর এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত: ছোট মেয়ে বা বয়স্ক মহিলার মাসিকের কোনো নির্দিষ্ট বয়স সীমা নির্ধারণ করা সঠিক নয়। সুতরাং কোনো ছোট মেয়ে যদি পাঁচ বছর বয়সে রক্ত দেখে তবে তা মাসিক, যদি সাত বছর বয়সে দেখে তবে তাও মাসিক। তেমনিভাবে পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সী কোনো মহিলা যদি রক্ত দেখে তবে তাও মাসিক; কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {তারা আপনাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলুন: তা একটি কষ্ট বা অপবিত্রতা} [আল-বাকারা: ২২২]। সুতরাং যে রক্ত নির্গত হয় এবং তা যদি কালো, গন্ধযুক্ত ও ঘন হয়, তবে তা-ই মাসিকের রক্ত; চাই তা পাঁচ বছর বা সাত বছর বয়সে হোক কিংবা পঞ্চাশ বছরের পর কোনো মহিলার থেকে নির্গত হোক।

আরও একটি কারণ হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাসিকের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: (মাসিকের রক্ত কালো, যা চেনা যায়)। তিনি এ কথা বলেননি যে: যখন মহিলা নয় বছর বয়সে পৌঁছাবে তখন।

আর জমহুর যে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তা একটি বাতিল (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের মাসিকের আশা নেই, যদি তোমরা সন্দেহ করো, তবে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস} [আত-তালাক: ৪]। অর্থাৎ যাদের মাসিকের রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এ কথা বলেননি যে: যারা পঞ্চাশ বছরে পৌঁছেছে।

অতএব: মূল ধর্তব্য বিষয় হলো মাসিক বন্ধ হওয়া, মাসিক নিরাশার (মেনোপজ) জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই।

এই মতভেদের ফলাফল হলো: আমরা যদি জমহুরের মত গ্রহণ করি যে, নয় বছরের কম বয়সী মেয়ের রক্ত নির্গত হলে সে ঋতুবতী নয়, তবে সে মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে আদিষ্ট) নয়। অর্থাৎ তার ওপর রোজা বা অন্য কিছু ফরজ হবে না; কারণ সে মাসিকের বয়সে পৌঁছায়নি। আর যদি সে গালমন্দ করে বা ভুল করে তবে তার নামে কোনো পাপ লেখা হবে না; হাদিসে এসেছে: (তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে: শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়)। মেয়েদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। কিন্তু সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো, ছয় বছর বয়সেও যদি তার রক্ত নির্গত হয় তবে সে মুকাল্লাফ হবে; আর এটি আয়েশার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর, আর যখন আমাকে নিয়ে ঘরসংসার শুরু করেন তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর)। অর্থাৎ ছয় বছর বয়সেই তিনি মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধতার যোগ্য ছিলেন।

আর বয়স্ক নিরাশ মহিলার ক্ষেত্রে ফলাফল হলো: কোনো মহিলার বয়স যদি একান্ন বছর হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও বিবাদ সৃষ্টি হয়, অতঃপর স্বামী বলে: "তোমাকে তালাক দিলাম", তবে তার ইদ্দত মাস অনুযায়ী হবে, মাসিক অনুযায়ী নয়। কারণ ঋতুবতী মহিলার ইদ্দত সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা তিন পিরিয়ড (কুরু) পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে} [আল-বাকারা: ২২৮]। অর্থাৎ তিন মাসিক, যেমনটি আমরা প্রাধান্য দেব। আর যে নিরাশ মহিলা যার রক্ত নির্গত হয় না, তার সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের মাসিকের আশা নেই, যদি তোমরা সন্দেহ করো, তবে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস} [আত-তালাক: ৪]। তবে অগ্রগণ্য ও সঠিক মতটি জমহুরের মতের বিপরীত।

আর জমহুরের সেই দলিলের জবাব যা তারা বলেছিলেন: "প্রথা বা অভ্যাস ফয়সালাকারী"।

আমরা বলব: এটি তখনই কার্যকর যখন তা শরিয়তের পরিপন্থী না হয়। আর এখানে এটি মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার পরিপন্থী: {তারা আপনাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলুন: তা একটি কষ্ট বা অপবিত্রতা} [আল-বাকারা: ২২২] এবং এটি আল্লাহর এই বাণীরও পরিপন্থী: {আর যারা মাসিকের ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে} [আত-তালাক: ৪]।

আর ইবনে উমরের যে হাদিস দ্বারা তারা দলিল দিয়েছেন যে: (মেয়ের বয়স যখন নয় বছর হয় তখন সে পূর্ণ নারীতে পরিণত হয়), তা একটি দুর্বল হাদিস যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أقل الحيض وأكثره

أما بالنسبة لمسألة أقل مدة الحيض وأكثرها، فقد ذهب الأحناف إلى أن أقل الحيض ثلاثة أيام، بمعنى: أن المرأة إذا نزل منها دفعة واحدة من الدم فلا يعتبر عند الأحناف حيضاً، فلا بد أنه يستمر معها ثلاثة أيام، وأكثر أيام الحيض عشرة أيام، فلو زاد على عشرة أيام فهو دم استحاضة.

أما المالكية فقالوا: لا حد لأقله ولا لأكثره، فلو أن الرحم دفع دفعة واحدة من الدم، أو لحظةً واحدة، فهذا الدم دم حيض عند المالكية؛ لأنه لا حد لأقله ولا لأكثره.

أما عند الجمهور -الحنابلة والشافعية- فقالوا: أقل الحيض يوم وليلة؛ لأن الحائض عندهم لا بد أن يستمر معها الدم يوماً كاملاً، وأكثر الحيض خمسة عشر يوماً.

ويستدلون على ذلك بقول علي بن أبي طالب: (وما زاد عن الخمسة عشرة فهي استحاضة).

ودليلهم على أقل الحيض هو: استقراء عادة النساء، فقالوا: وجدناها يوماً وليلة، والعادة محكَّمةٌ، وهذا قول الشافعية والحنابلة.

وكذلك يستدلون بحديث النبي صلى الله عليه وسلم: (النساء ناقصات عقل ودين، قيل: وما نقص دينهن؟ قال: تمكث إحداهن شطر عمرها لا تصلي)، فشطر عمرها أي: نصفه، وهو: خمسة عشر يوماً بالنسبة للشهر، ففيه دلالة على أن أقصى مدة هي: خمسة عشر يوماً ليس بصحيح، بل هو ضعيف، والراجح في ذلك والذي دلت عليه الآثار ويدل عليه النظر أن الحيض لا حد لأقله ولا حد لأكثره عند شيخ الإسلام لكن الصحيح أن هناك حداً لأكثره، فإذا أرخى الرحم دفعة واحدة من الدم فهو حيض، ولو لحظة، ولا بد أن تكون دفعة كبيرة، ليس نقطة أو نقطتين؛ لأن النقطة والنقطتين كما قال علي بن أبي طالب ليست من الحيض، أي: لا تؤثر، فهي معفوٌ عنها، ودليل ذلك أن الله علَّق الحكم على وجود الدم، فإن وجد الدم فهي حائض، ولو ارتفع الدم فهي غير حائض؛ لأن الله جل وعلا قال: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ} [البقرة:222]، أي: إذا نزل فهو حيض، وإن لم ينزل فليس بحيض.

أما لو شعرت المرأة بدم الحيض داخل الفرج ولم يخرج فلا تعتبر حائضاً؛ لأن الحكم يدور مع وجود الدم، هذا هو الصحيح.

أما أكثر أيام الحيض، فالصحيح الراجح أن أكثر أيام الحيض خمسة عشر يوماً، فلو زاد الدم عن خمسة عشر يوماً فهو دم استحاضة، وعند ذلك ننظر في عادتها هل هي ستة أو سبعة أيام؟ والباقي كله نجعله استحاضة؛ لأنه لا يعقل أن تكون أكثر أيام المرأة لا تتعبد لله فيها أبداً، فهذا مخالف لمقاصد الشريعة والتكليف، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (تمكث ليالي لا تصلي)، أي: أنه حدد الأوقات التي لا تصلي فيها، ولو كان أكثر عمرها كذلك لقال النبي صلى الله عليه وسلم: تمكث أكثر أيامها لا تصلي.
ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা

ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মেয়াদের মাসআলার ক্ষেত্রে হানাফীগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন। অর্থাৎ, যদি কোনো নারীর শরীর থেকে একবার রক্ত নির্গত হয়, তবে হানাফীদের মতে সেটি ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে না। বরং তাদের নিকট এটি ঋতুস্রাব হতে হলে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকা আবশ্যক। আর ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো দশ দিন। যদি দশ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হয়, তবে তা ইস্তিহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

পক্ষান্তরে মালিকীগণ বলেছেন: এর সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। সুতরাং যদি জরায়ু একবার রক্ত নির্গত করে, অথবা এক মুহূর্তের জন্যও হয়, তবে মালিকী মাযহাব অনুযায়ী এই রক্ত ঋতুস্রাবের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তাদের মতে এর সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

আর জমহুর অর্থাৎ হাম্বলী ও শাফিয়ীগণের মতে: ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো একদিন ও একরাত। কারণ তাদের মতে ঋতুবতী নারীর জন্য রক্ত কমপক্ষে একদিন পূর্ণভাবে জারি থাকা আবশ্যক। আর ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো পনেরো দিন।

তারা এ বিষয়ে আলী ইবনে আবি তালিবের উক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: (যা পনেরো দিনের অতিরিক্ত হবে, তা ইস্তিহাযা)।

ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদের ওপর তাদের দলিল হলো: নারীদের অভ্যাসের পর্যবেক্ষণ। তারা বলেছেন: আমরা একে একদিন ও একরাত হিসেবে পেয়েছি, আর প্রচলিত অভ্যাসই হলো ফয়সালাকারী। এটি শাফিয়ী ও হাম্বলীদের উক্তি।

অনুরূপভাবে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন: (নারীরা জ্ঞান ও দ্বীনে অপূর্ণ। বলা হলো: তাদের দ্বীনের অপূর্ণতা কী? তিনি বললেন: তাদের কেউ তার জীবনের অর্ধেক সময় নামাজ না পড়ে কাটায়)। জীবনের অর্ধেক অর্থাৎ: মাসের অনুপাতে পনেরো দিন। এর মধ্যে এই নির্দেশনা রয়েছে যে সর্বোচ্চ সীমা পনেরো দিন—এই দলিলটি সঠিক নয়, বরং এটি দুর্বল। এ বিষয়ে সঠিক এবং যা আছার ও যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত তা হলো, শাইখুল ইসলামের মতে ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে সঠিক কথা হলো সর্বোচ্চ মেয়াদের একটি সীমা রয়েছে। সুতরাং যদি জরায়ু একবার রক্ত নির্গত করে তবে তা ঋতুস্রাব, যদিও তা এক মুহূর্তের জন্য হয়। তবে তা অবশ্যই রক্ত প্রবাহ হতে হবে, এক বা দুই ফোঁটা নয়; কেননা আলী ইবনে আবি তালিব যেমন বলেছেন এক বা দুই ফোঁটা ঋতুস্রাব নয়, অর্থাৎ এর কোনো হুকুম নেই এবং এটি ক্ষমার যোগ্য। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলা বিধানকে রক্তের উপস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। যদি রক্ত পাওয়া যায় তবে সে ঋতুবতী, আর রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে সে ঋতুবতী নয়; কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {এবং তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে} [বাকারা: ২২২], অর্থাৎ যখন রক্ত নির্গত হবে তখন তা ঋতুস্রাব, আর নির্গত না হলে তা ঋতুস্রাব নয়।

তবে নারী যদি লজ্জাপুঞ্জের ভেতরে ঋতুস্রাবের রক্ত অনুভব করে কিন্তু তা বাইরে বের না হয়, তবে সে ঋতুবতী হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ বিধান রক্তের উপস্থিতির (নির্গত হওয়ার) সাথে আবর্তিত হয়। এটিই সঠিক মত।

আর ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদের ক্ষেত্রে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা পনেরো দিন। যদি পনেরো দিনের বেশি রক্ত প্রবাহিত হয় তবে তা ইস্তিহাযার রক্ত। সেক্ষেত্রে আমরা তার নিয়মিত অভ্যাসের দিকে লক্ষ্য করব যে তার অভ্যাস কি ছয় দিন নাকি সাত দিন? এরপর বাকি পুরোটা সময়কে আমরা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য করব; কারণ এটি যুক্তিসঙ্গত নয় যে কোনো নারীর মাসের অধিকাংশ দিন এমন হবে যেখানে সে আল্লাহর ইবাদত একেবারেই করবে না। এটি শরীয়তের উদ্দেশ্য ও দায়বদ্ধতার পরিপন্থী। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সে কিছু রাত নামাজ না পড়ে কাটায়), অর্থাৎ তিনি এমন কিছু সময় নির্ধারণ করেছেন যখন সে নামাজ পড়বে না। যদি তার জীবনের অধিকাংশ সময় এমনই হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: সে তার অধিকাংশ দিন নামাজ না পড়ে কাটায়।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أصناف النساء في الحيض

للنساء أصناف وأحوال ثلاثة في الحيض: الصنف الأول: مبتدئة: وهي التي لم تحض قبل ذلك.

الصنف الثاني: مميزة: وهي التي تستطيع أن تميز بين دم الحيض ودم الاستحاضة.

الصنف الثالث: معتادة: وهي التي اعتادت على مجيء الحيض في وقت معين من الشهر، سواء في بدايته أو نهايته، ويمكث معها مدة معينة اعتادتها، فهي لا تميزه إلا بعادتها، فإذا زاد عن عادتها بسبب اضطرابات نفسية، أو بسبب استخدام دواء منع الحمل، فيعتبر الزائد استحاضة.
ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে নারীদের প্রকারভেদ

ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে নারীদের তিনটি শ্রেণী ও অবস্থা রয়েছে: প্রথম শ্রেণী: মুবতাদিআহ (প্রারম্ভিক); সে এমন এক নারী যার এর আগে কখনো ঋতুস্রাব হয়নি।

দ্বিতীয় শ্রেণী: মুমাইয়িযাহ (পার্থক্যকারী); সে এমন এক নারী যে ঋতুস্রাবের রক্ত এবং ইস্তিহাযার (অনিয়মিত রক্তস্রাব) রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম।

তৃতীয় শ্রেণী: মু'তাদাহ (অভ্যস্ত); সে এমন এক নারী যার মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব আসার অভ্যাস রয়েছে, চাই তা মাসের শুরুতে হোক বা শেষে, এবং তার মাঝে এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয় যা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সে কেবল তার অভ্যাসের মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করতে পারে। সুতরাং যদি মানসিক অস্থিরতার কারণে কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ ব্যবহারের কারণে তার অভ্যাসের চেয়ে অতিরিক্ত দিন রক্তস্রাব হয়, তবে সেই অতিরিক্ত সময়টুকুকে ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য করা হবে।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير أحكام الحيض   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تيسير أحكام الحيض

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

মাসিকের বিধানাবলীর সহজীকরণ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: মাসিকের বিধানাবলীর সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ১০টি পাঠ ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ২) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১)
رسالة إلى كل امرأة تيسير أحكام الحيض -‌‌ أصناف النساء في الحيض

النساء في الحيض على ثلاثة أصناف: مبتدئة، ومعتادة، ومميزة، وكل واحدة لا تخلو من أن تكون أحد هذه الأصناف الثلاثة، وكل صنف يختلف عن الآخر في تعيين زمن الحيض، وفي تمييزه عن غيره.
প্রত্যেক নারীর প্রতি একটি বার্তা: হায়েজের বিধানের সহজীকরণ -‌‌ হায়েজের ক্ষেত্রে নারীদের প্রকারভেদ

হায়েজের ক্ষেত্রে নারীরা তিন প্রকার: মুবতাদিআহ (প্রথমবার ঋতুবতী), মু'তাদাহ (অভ্যস্তা) এবং মুমাইয়্যিজাহ (রক্তের পার্থক্যকারী)। প্রত্যেক নারীই এই তিন প্রকারের কোনো না কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন। হায়েজের সময় নির্ধারণ এবং তা অন্য রক্ত থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকারের বিধান একে অপর থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ২) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أصناف وأحوال النساء في الحيض

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: وصلنا في الكلام عن الحيض إلى أصناف النساء في الحيض، أو أحوال الحائض، وقلنا: إن أصناف النساء في الحيض ثلاثة: الصنف الأول: المبتدئة.

الصنف الثاني: المعتادة.

الصنف الثالث: المميزة.
ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে নারীদের প্রকারভেদ ও অবস্থাসমূহ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর মূল প্রসঙ্গে আসা যাক: হায়য বা ঋতুস্রাব সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা নারীদের ঋতুস্রাবের প্রকারভেদ বা ঋতুবতী নারীর অবস্থাসমূহ পর্যন্ত পৌঁছেছি। আমরা বলেছি যে, ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে নারীদের প্রকারভেদ তিনটি: প্রথম প্রকার: মুবতাদিআহ (যার প্রথমবার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে)।

দ্বিতীয় প্রকার: মুতাদাহ (যার ঋতুস্রাব একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসে পরিণত হয়েছে)।

তৃতীয় প্রকার: মুমায়্যিযাহ (যে রক্তের বৈশিষ্ট্য দেখে ঋতুস্রাব শনাক্ত করতে পারে)।
(খণ্ড: ২) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المبتدئة

المبتدئة: هي التي لم يأتها الدم قبل ذلك، كأن تكون جارية عمرها تسع سنوات فنزل منها الدم، فتسمى: امرأة مبتدئة، أي: في أول حيضها، وأحوال المبتدئة بالنسبة لاستمرار الدم وانقطاعه ثلاثة أحوال: فإما أن يستمر الدم معها إلى أكثر أيام الحيض، وإما أن يستمر معها الدم أقل من أكثر أيام الحيض، وإما ألا يستمر معها.

وقد اختلف العلماء في تعيين أكثر أيام الحيض على قولين، والصحيح: أن أكثر أيام الحيض خمسة عشر يوماً، بدليل قوله صلى الله عليه وسلم: (تمكث الليالي لا تصلي ولا تصوم)، ولم يقل: أكثر الشهر أو نصفه، وإنما قال: (ليالي)، ففيه دلالة على التقليل.

وهناك دليل من النظر: وهو أن الله جل وعلا لم يخلق المرأة إلا لتتعبد له، كما قال: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56]، فلا يعقل أن الله خلقها للعبادة، ثم تمكث أكثر دهرها لا نتعبد لله جل في علاه.

وثمرة معرفة أكثر أيام الحيض هي: أن الدم لو زاد عن خمسة عشر يوماً فلابد أن تقف وتنظر في نفسها كما سنبين؛ لأنها ستعتقد أن هذا الدم ليس بدم حيض، بل هو دم فساد أو علة أو استحاضة.

فالحاصل: أن للمرأة المبتدئة ثلاثة أحوال: الحالة الأولى: أنها إذا رأت الدم خمسة أيام إلى ثلاثة عشر أو أربعة عشر يوماً، فإن هذا الدم يسمى: دم حيض، ما دام أنه لم يعبر أكثر أيام الحيض، فعليها ألا تصلي أو تصوم، ويجب عليها إذا طهرت أن تقضي الصوم دون الصلاة، وهذا الحكم مستمر معها إذا نزل الدم منها بهذه الصورة دائماً، وسيأتي معنا الحديث عن علامات الطهر للمرأة الحائض.

الحالة الثانية: أن يستمر الدم معها إلى أن يعبر أكثر مدة الحيض -أي: خمسة عشر يوماً- فعندها إن استطاعت أن تميز بين دم الحيض والاستحاضة، بأن رأت دم الحيض أسود منتناً ودم الاستحاضة غير ذلك، فالمعتبر في هذه الحالة هو: التمييز، فإذا نزل منها الدم عشرين يوماً مثلاً، وكانت مدة حيضها خمسة أيام وقدرت على التمييز، فإنها تتحيض خمسة أيام فقط وتعتبر الباقي استحاضة، فتقضي الصلاة خمسة عشر يوماً، وتقضي الصوم عشرين يوماً باعتبار زمن الحيض والاستحاضة معاً، ولابد في زمن الاستحاضة أن تتوضأ لكل صلاة، وأن تطهر المحل وأن تتحفظ، وأما في حالة الحيض فإنها تكتفي بالغسل إذا طهرت وقضاء الصوم فقط، والله أعلم.

فإن كانت غير مميزة، أي: لا تعرف التمييز، فإنها ترجع في هذه الحالة إلى عادة غالب النساء من أهلها، أو غيرهن إذا كانت بعيدةً من أهلها، فستجد أن الغالبية منهن يتحيضن ستة أو سبعة أيام، وعندها تتحيض سبعة أيام على الغالب، وما بقي فهو استحاضة، فتتوضأ لكل صلاة وتتحفظ كما سبق بيانه، والدليل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم للمرأة المستحاضة: (تحيضي في علم الله ستة أيام أو سبعة أيام)، فدل على أن هذه المدة هي الغالبة في النساء.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم: (ستة أيام أو سبعة أيام)، فالصحيح أنه على التخيير، لكن الأحوط لها: تتحيض سبعة أيام.
নবাগত ঋতুবতী

নবাগত (আল-মুবতাদিআহ) বলতে তাকে বোঝায় যার ইতিপূর্বে ঋতুস্রাব আসেনি। যেমন কোনো নয় বছর বয়সী বালিকা যার প্রথমবার রক্ত দেখা দিয়েছে; তাকে নবাগত নারী বলা হয়, অর্থাৎ সে তার ঋতুস্রাবের শুরুর অবস্থায় রয়েছে। রক্ত প্রবাহ অব্যাহত থাকা বা বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে নবাগত নারীর তিনটি অবস্থা হতে পারে: হয় রক্ত প্রবাহ ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা পর্যন্ত স্থায়ী হবে, অথবা রক্ত প্রবাহ সর্বোচ্চ সময়সীমার চেয়ে কম স্থায়ী হবে, কিংবা রক্ত প্রবাহ অব্যাহত থাকবে না।

ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণে ওলামায়ে কেরাম দুটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন। সঠিক মতটি হলো: ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা পনের দিন। এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (সে বেশ কিছু রাত অবস্থান করে যাতে সে নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না)। তিনি মাসের অধিকাংশ সময় বা অর্ধেক সময়ের কথা বলেননি, বরং 'বেশ কিছু রাত' (লিইয়ালী) বলেছেন, যা পরিমাণের স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করে।

এক্ষেত্রে যুক্তিনির্ভর দলিলও রয়েছে: আর তা হলো, মহান আল্লাহ নারীকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]। সুতরাং এটি বিবেকগ্রাহ্য নয় যে, আল্লাহ তাকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অথচ সে তার জীবনের অধিকাংশ সময় আল্লাহ جل في علاه-এর ইবাদত না করে কাটিয়ে দেবে।

ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা জানার ফলাফল হলো: রক্ত যদি পনের দিনের বেশি প্রবাহিত হয়, তবে তাকে অবশ্যই থামতে হবে এবং নিজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে যেমনটি আমরা ব্যাখ্যা করব; কারণ সে তখন নিশ্চিত হবে যে, এই রক্ত ঋতুস্রাবের রক্ত নয়, বরং এটি কোনো রোগ বা ত্রুটিজনিত রক্ত কিংবা ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব)।

সারকথা হলো: নবাগত নারীর তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: যদি সে পাঁচ দিন থেকে তের বা চৌদ্দ দিন পর্যন্ত রক্ত দেখে, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা অতিক্রম না করে, ততক্ষণ একে ঋতুস্রাবের রক্ত বলা হবে। এমতাবস্থায় সে নামাজ পড়বে না এবং রোজা রাখবে না। পবিত্র হওয়ার পর তাকে কেবল রোজার কাজা করতে হবে, নামাজের নয়। এই বিধান তার জন্য প্রযোজ্য হবে যদি সর্বদা একইভাবে তার রক্ত নির্গত হয়। ঋতুবতী নারীর পবিত্র হওয়ার আলামত সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: রক্ত প্রবাহ অব্যাহত থেকে যদি তা ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা অর্থাৎ পনের দিন অতিক্রম করে—সেক্ষেত্রে সে যদি ঋতুস্রাবের রক্ত এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয় (যেমন ঋতুস্রাবের রক্ত কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত এবং ইস্তিহাযার রক্ত অন্যরকম হওয়া), তবে এই অবস্থায় পার্থক্যকরণই (তাময়িয) গ্রহণযোগ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি তার বিশ দিন রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার ঋতুস্রাবের সময়সীমা ছিল পাঁচ দিন এবং সে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়, তবে সে কেবল পাঁচ দিন ঋতুবতী হিসেবে গণ্য হবে এবং অবশিষ্ট সময়কে ইস্তিহাযা হিসেবে বিবেচনা করবে। এমতাবস্থায় সে পনের দিনের নামাজের কাজা করবে এবং ঋতু ও ইস্তিহাযার সম্মিলিত সময়ের হিসেবে বিশ দিনের রোজার কাজা করবে। আর ইস্তিহাযার সময়ে তাকে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অজু করতে হবে, পরিচ্ছন্ন হতে হবে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা (প্যাড ইত্যাদি) গ্রহণ করতে হবে। পক্ষান্তরে ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে পবিত্র হওয়ার পর কেবল গোসল করা এবং রোজার কাজা করাই যথেষ্ট। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

যদি সে পার্থক্য করতে সক্ষম না হয়, অর্থাৎ রক্তের বৈশিষ্ট্য চিনতে না পারে, তবে এই অবস্থায় সে তার পরিবারের অন্যান্য নারীদের বা অন্য নারীদের (যদি সে পরিবার থেকে দূরে থাকে) সাধারণ অভ্যাসের দিকে ফিরে যাবে। সে দেখতে পাবে যে তাদের অধিকাংশের ঋতুস্রাব সাধারণত ছয় বা সাত দিন হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সে অধিকাংশের অনুকরণে সাত দিন ঋতুবতী গণ্য হবে এবং বাকি সময়টুকু ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। তখন তাকে ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করতে হবে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর দলিল হলো ইস্তিহাযাগ্রস্ত জনৈক নারীকে লক্ষ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (আল্লাহর জ্ঞানে তুমি ছয় বা সাত দিন ঋতুবতী থাকো)। এটি প্রমাণ করে যে, এই সময়টুকুই নারীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বা অধিকাংশ সময় হয়ে থাকে।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "ছয় দিন বা সাত দিন"-এর ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো এটি ঐচ্ছিক, তবে সতর্কতামূলক আমল হিসেবে তার জন্য সাত দিন ঋতুবতী গণ্য হওয়া উত্তম।
(খণ্ড: ২) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المعتادة

والمعتادة هي: التي نزل فيها الدم سبعة أيام أو خمسة أيام فاعتادت ذلك في أول كل شهر عربي، وعند ذلك لها عادة مستمرة مطردة تحفظها وتعرفها جيداً.

فإن قيل: وبم تثبت العادة؟ ف

 

‌‌الجواب

أن الحنابلة يرون أن العادة لا تثبت إلا بعد ثلاث مرات مثلاً، وهذا كلام باطل لا دليل عليه.

أما جمهور أهل العلم من الشافعية والمالكية والأحناف فيرون أن العادة تكون من مرة واحدة، وهذا هو الراجح، الصحيح، وهو ظاهر السنة؛ إذ أن النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل من قبل المرأة المستحاضة قال: (لتنظر عدد الأيام والليالي التي كانت تحيضهن) فردها للعادة ولم يشترط المرة الثالثة كما يقول الحنابلة، فظاهر السنة تبين أن العادة تثبت من مرة واحدة، فإذا نزل الدم من الجارية خمسة أيام من أول الشهر فإن المدة عادة مطردة مستمرة لها.

وللمرأة المعتادة ثلاثة أحوال: الحالة الأولى: وهي عدم مخالفة الدم للعادة، بمعنى: أن المرأة كانت تحيض في الشهر العربي في المنتصف، فيأتيها الدم في يوم أربعة عشر، ويستمر معها سبعة أيام إلى يوم الواحد والعشرين من كل شهر عربي، ولم يخالف الدم العادة، فهذه المرأة لا غبار عليها؛ لأنها تعتاد نزول الدم والتطهر منه في وقته الذي اعتادت عليه، فالواجب عليها في عادتها: ألا تصلي أو تصوم وقت نزول الدم، ولها أن تذكر الله جل وعلا وتسبح وتستغفر، ولا تقرأ القرآن، ولا تمس المصحف، ولا تدخل المسجد، كما سنبين ذلك تفصيلاً.

الحالة الثانية: وهي أن يعبر الدم أيام عادتها، كأن تكون معتادةً على خمسة أيام زمناً لحيضتها، فيعبر الدم في إحدى المرات الخمسة الأيام إلى السادس أو العاشر منها، ففي هذه الحالة تتحيض خمسة أيام كما هي عادتها، ثم تغتسل وتعد الدم الزائد عن هذه الأيام دم استحاضة، فتتوضأ لكل صلاة وتتطهر وتتحفظ؛ لأنها معتادة على عادة مستمرة مطردة، والدليل على ذلك: قول النبي صلى الله عليه وسلم لـ أم حبيبة بنت جحش رضي الله عنها وأرضاها عندما قالت للنبي صلى الله عليه وسلم بأنها تستحاض ولا تطهر، فقال: (امكثي قدر ما كانت تحبسك حيضتك)، فردها النبي صلى الله عليه وسلم إلى عادتها، فإذا عبر الدم عادتها جعلته دم استحاضة، والله أعلم.

الحالة الثالثة -وهي مهمة جداً-: وهي انقطاع الدم قبل العادة المطردة، وحكم هذه الحالة: أن المرأة تكون حائضاً عند نزول الدم وطاهراً عند انقطاعه، فإذا انقطع الدم عن المعتادة قبل خمسة أيام فإنها تطهر، فتغتسل وتصلي وتصوم وتؤدي العبادات، والله أعلم.

إذاً: للمعتادة ثلاث حالات: الحالة الأولى: أن يكون الدم موافقاً للعادة فلا غبار عليها.

الثانية: أن يعبر الدم أيام عادتها، فتحسب ذلك من الاستحاضة.

الثالثة: أن ينقطع الدم قبل العادة المطردة، فإن انقطع قبل العادة فهي طاهر؛ لأن حكم الحيض يدور مع الدم حيث دار وجوداً وعدماً.
নিয়মিত ঋতুচক্রের অধিকারী নারী

নিয়মিত ঋতুচক্রের অধিকারী নারী (আল-মু'তাদাহ) হলো সেই নারী, যার রক্তস্রাব সাত দিন বা পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং প্রতিটি হিজরি মাসের শুরুতে এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে তার একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত ঋতুচক্র গড়ে উঠেছে, যা সে ভালোভাবে স্মরণ রাখে এবং চেনে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: অভ্যাস বা ঋতুচক্র কিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়? তবে

 

উত্তর

হাম্বলিগণ মনে করেন যে, অভ্যাস বা ঋতুচক্র তিনবার অতিক্রান্ত হওয়ার আগে সাব্যস্ত হয় না। তবে এই বক্তব্যটি সঠিক নয় এবং এর কোনো দলিল নেই।

পক্ষান্তরে শাফেয়ি, মালিকি ও হানাফি মাজহাবের জমহুর (অধিকাংশ) আলেমগণের মতে, অভ্যাস বা ঋতুচক্র একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়ে যায়। এটিই অগ্রগণ্য ও বিশুদ্ধ মত এবং সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থও এর অনুকূলে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইস্তিহাযাগ্রস্ত (দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) নারীর বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি সেই দিন ও রাতগুলোর সংখ্যার দিকে লক্ষ্য করো যাতে তোমার ঋতুস্রাব হতো।" এখানে তিনি তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং হাম্বলিদের মতানুযায়ী তৃতীয়বারের শর্তারোপ করেননি। সুতরাং সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থ এটাই স্পষ্ট করে যে, অভ্যাস একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। অতএব, কোনো কিশোরীর যদি মাসের শুরুতে পাঁচ দিন রক্তস্রাব হয়, তবে এই সময়টিই তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত ঋতুচক্র হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মিত ঋতুচক্রের অধিকারী নারীর তিনটি অবস্থা হতে পারে: প্রথম অবস্থা: রক্তস্রাব অভ্যাসের ব্যতিক্রম না হওয়া। অর্থাৎ, কোনো নারীর ঋতুস্রাব যদি হিজরি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তথা চৌদ্দ তারিখ থেকে শুরু হয়ে একুশ তারিখ পর্যন্ত টানা সাত দিন স্থায়ী হওয়ার অভ্যাস থাকে এবং রক্তস্রাব সেই অভ্যাসের বিরোধী না হয়, তবে এই নারীর বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। কারণ সে তার নির্ধারিত সময়ে রক্ত নির্গত হওয়া এবং পবিত্র হওয়ার বিষয়ে অভ্যস্ত। এমতাবস্থায় তার জন্য ওয়াজিব হলো: রক্তস্রাব চলাকালীন সালাত আদায় না করা এবং রোজা না রাখা। তবে সে মহান আল্লাহর জিকির করতে পারবে, তাসবিহ পাঠ করতে পারবে এবং ইস্তিগফার করতে পারবে। কিন্তু সে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবে না, মুসহাফ স্পর্শ করতে পারবে না এবং মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না, যা আমরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব।

দ্বিতীয় অবস্থা: রক্তস্রাব অভ্যাসের দিনগুলো অতিক্রম করে যাওয়া। যেমন: কোনো নারীর ঋতুস্রাবের অভ্যাস যদি পাঁচ দিন থাকে, কিন্তু কোনো এক মাসে রক্তস্রাব সেই পাঁচ দিন অতিক্রম করে ষষ্ঠ বা দশম দিন পর্যন্ত গড়ায়। এমতাবস্থায় সে তার অভ্যাস অনুযায়ী পাঁচ দিন ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য করবে। এরপর সে গোসল করবে এবং ওই দিনগুলোর অতিরিক্ত রক্তস্রাবকে ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য করবে। সুতরাং সে প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করবে, পবিত্রতা অর্জন করবে এবং রক্ত নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ তার একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত ঋতুচক্র রয়েছে। এর দলিল হলো: উম্মে হাবিবা বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন যে, তার ইস্তিহাযা হচ্ছে এবং তিনি পবিত্র হতে পারছেন না, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "তোমার ঋতুস্রাব তোমাকে যতটুকু সময় আটকে রাখত, ততটুকু সময় অপেক্ষা করো।" এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার অভ্যাসের দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং রক্তস্রাব অভ্যাসের সীমা অতিক্রম করলে সেটিকে সে ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয় অবস্থা - যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তা হলো নিয়মিত অভ্যাসের আগেই রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই অবস্থার হুকুম হলো: রক্ত নির্গত হওয়ার সময় নারী ঋতুবতী হিসেবে গণ্য হবে এবং রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে পবিত্র হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং নিয়মিত অভ্যাসের অধিকারী নারীর রক্ত যদি পাঁচ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে সে পবিত্র হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সে গোসল করবে, সালাত আদায় করবে, রোজা রাখবে এবং ইবাদতসমূহ পালন করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

সুতরাং, নিয়মিত ঋতুচক্রের অধিকারী নারীর তিনটি অবস্থা: প্রথম অবস্থা: রক্তস্রাব অভ্যাসের অনুকূলে হওয়া, এতে কোনো সংশয় নেই।

দ্বিতীয় অবস্থা: রক্তস্রাব অভ্যাসের দিনগুলো অতিক্রম করা, যা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।

তৃতীয় অবস্থা: সুনির্দিষ্ট অভ্যাসের আগেই রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। যদি অভ্যাসের আগেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে সে পবিত্র; কারণ ঋতুস্রাবের বিধান রক্ত থাকা বা না থাকার (অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের) ওপরই নির্ভর করে।
(খণ্ড: ২) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المميزة

والمميزة هي: المرأة التي تميز بين دم الحيض ودم الاستحاضة.

وهناك فروقات بين دم الحيض ودم الاستحاضة: الفرق الأول: من حيث اللون، فدم الحيض أسود يعرف، ودم الاستحاضة أحمر شفاف وردي رقيق، لقوله صلى الله عليه وسلم: (دم الحيض أسود يعرف).

الفرق الثاني: أن دم الحيض يكون ثخيناً غليظاً، أما دم الاستحاضة فهو رقيق.

الفرق الثالث: دم الحيض له رائحة نفاذة منتنة، أما دم الاستحاضة فهو دون ذلك.

الفرق الرابع: دم الحيض لا يتجمد كما بينا، أما دم الاستحاضة فمن الممكن أن يتجمد بعد الدفع.

أما حكم هذا الصنف: فهو راجع للتمييز، فإذا كانت الأوصاف تدل على دم الحيض فهو دم حيض، وإلا فهو استحاضة، والله أعلم.
বিভেদকারিণী

বিভেদকারিণী হলো সেই নারী, যে ঋতুস্রাবের রক্ত এবং ইস্তিহাযার (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।

ঋতুস্রাবের রক্ত এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য রয়েছে: প্রথম পার্থক্য: বর্ণের দিক থেকে; ঋতুস্রাবের রক্ত কালো যা চেনা যায়, আর ইস্তিহাযার রক্ত লাল, স্বচ্ছ, গোলাপী ও পাতলা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ঋতুস্রাবের রক্ত কালো যা চেনা যায়)।

দ্বিতীয় পার্থক্য: ঋতুস্রাবের রক্ত ঘন ও স্থূল হয়, পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত পাতলা হয়।

তৃতীয় পার্থক্য: ঋতুস্রাবের রক্তের একটি তীব্র ও দুর্গন্ধযুক্ত ঘ্রাণ আছে, তবে ইস্তিহাযার রক্ত তেমন নয়।

চতুর্থ পার্থক্য: আমরা যেমনটি বর্ণনা করেছি, ঋতুস্রাবের রক্ত জমাট বাঁধে না; পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত নির্গত হওয়ার পর জমাট বাঁধা সম্ভব।

আর এই শ্রেণির বিধান হলো: এটি পার্থক্যের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং যদি বৈশিষ্ট্যগুলো ঋতুস্রাবের রক্তের অনুরূপ হয় তবে তা ঋতুস্রাব, অন্যথায় তা ইস্তিহাযাহ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير أحكام الحيض   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تيسير أحكام الحيض

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

হায়েযের বিধানাবলির সহজীকরণ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

কিতাব: হায়েযের বিধানাবলির সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক লিপ্যন্তর করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১)
رسالة إلى كل امرأة تيسير أحكام الحيض -‌‌ هل تحيض الحامل أم لا-علامات الطهر والاستحاضة وأحكامها

اختلف الفقهاء هل تحيض الحامل أم لا؟ فقال الأحناف والحنابلة: لا تحيض، وإذا رأت دماً فهو دم فساد، وقال المالكية والشافعية: تحيض، وإذا رأت دماً يوافق عادتها أو يطابق صفات دم الحيض فهو حيض، وللطهر من الحيض علامات تعرفها إما بالجفاف، وإما بسائل أبيض يخرج من فرجها بعد انتهاء الحيض، والمستحاضة التي لم تر الطهر بعد الحيض لها أحكام خاصبة بها بينها أهل العلم.
প্রত্যেক নারীর প্রতি বার্তা: ঋতুস্রাবের বিধানের সহজীকরণ -‌‌ গর্ভবতী কি ঋতুবতী হয় কি না - পবিত্রতার চিহ্নসমূহ এবং ইস্তিহাজা ও এর বিধানাবলী

গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হয় কি না, এ বিষয়ে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। হানাফি ও হাম্বলিগণ বলেছেন: তার ঋতুস্রাব হয় না; যদি সে রক্ত দেখে, তবে তা দূষিত রক্ত। মালিকি ও শাফিঈগণ বলেছেন: তার ঋতুস্রাব হয়; যদি সে এমন রক্ত দেখে যা তার নিয়মিত অভ্যাসের সাথে মিলে যায় অথবা ঋতুস্রাবের রক্তের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা ঋতুস্রাব। ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার কিছু আলামত রয়েছে যা সে চিনতে পারে; হয় শুষ্কতা দ্বারা, অথবা ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর তার লজ্জাস্থান থেকে নির্গত সাদা তরল দ্বারা। আর ইস্তিহাজায় আক্রান্ত নারী, যে ঋতুস্রাবের পর পবিত্রতা দেখেনি, তার জন্য বিশেষ কিছু বিধান রয়েছে যা আলেমগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أقسام النساء بالنسبة للحيض

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فإن النساء بالنسبة للحيض ثلاثة أصناف: مبتدئة، ومعتادة، ومميزة.

فالمبتدئة: هي التي نزل الدم أول مرة ولا تعرف عنه شيئاً.

والمعتادة: هي المرأة التي يأتي لها الحيض خمسة أو سبعة أيام من أول الشهر، فيكون لها عادة معينة.

والمميزة: هي التي تميز بين دم الحيض وبين غيره عن طريق علامات ابتداء دم الحيض وعلامات انتهائه، كرؤية القصة البيضاء أو الجفاف.
মাসিক বা ঋতুস্রাবের ভিত্তিতে নারীদের প্রকারভেদ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এরপর মূল কথা হলো: মাসিক বা ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে নারীরা তিন প্রকার: মুবতাদিআহ (যার প্রথম শুরু হয়েছে), মুতাদাহ (যার অভ্যাস রয়েছে) এবং মুমায়্যিযাহ (যে পার্থক্য করতে পারে)।

মুবতাদিআহ: সে ঐ নারী যার প্রথমবার রক্তস্রাব শুরু হয়েছে এবং এ সম্পর্কে সে কিছুই জানে না।

মুতাদাহ: সে ঐ নারী যার প্রতি মাসের শুরুতে পাঁচ বা সাত দিন নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী মাসিক হওয়ার নির্দিষ্ট অভ্যাস রয়েছে।

মুমায়্যিযাহ: সে ঐ নারী যে মাসিকের রক্ত এবং অন্যান্য রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে মাসিকের রক্ত শুরু ও শেষ হওয়ার আলামতসমূহের মাধ্যমে, যেমন সাদা স্রাব দেখা বা শুষ্কতা অনুভব করা।
(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حكم رؤية دم الحيض أثناء الحمل

امرأة حامل في الشهر الثالث نزل منها الدم واستمر خمسة أيام ثم انقطع، ثم عاود عليها في الشهر الرابع ونزل منها الدم واستمر خمسة أيام، ثم رأت النقاء بعد ذلك، سواء رأت الجفاف أو القصة البيضاء، ثم في الشهر السابع إلى الشهر التاسع وهو ينزل فيها الدم، فهل هذا الدم دم حيض أم دم علة وفساد ومرض؟ كل الأطباء يقولون: هو دم مرض، والقاعدة عندي أني لا آخذ بالطب قبل الشرع؛ إذ إن الطب نظريات تخطئ وتصيب، والشرع وحي من ربنا جل في علاه، ليس فيه محل للخطأ ولا الوهم، والمسألة قد اختلف فيها العلماء على قولين: القول الأول: قول الأحناف والحنابلة: إذا رأت المرأة الدم وهي حامل فإن هذا الدم يعتبر دم علة، أي: دم مرض، فعليها أن تنظف المحل وتتحفظ وتصلي كل صلاة، إذ لا يأخذ هذا الدم أحكام الحيض، قالوا: ولنا في ذلك أدلة: الدليل الأول: ما رواه أبو داود عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه وأرضاه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في سبايا أوطاس -والسبايا: هن الإماء، ويحصل عليهن بأن يجاهد المسلمون ويفتحوا بلاد الكفر ويسبوا نساءهم- (لا توطأ -أي: لا تنكح- حامل حتى تضع، ولا غير ذات حمل حتى تحيض)، فمنع الشرع الحنيف من وطء الحامل حتى تضع؛ حتى لا تسقي زرع غيرك بمائك، ثم قال: (ولا غير ذات حمل حتى تحيض) فكأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن الحامل لا تحيض؛ لأنه جعل علامة استبراء الرحم في الحامل الوضع، فقال: (لا توطأ حامل حتى تضع)، ثم قال في شأن المرأة الحائل، وهي غير الحامل: (ولا غير ذات حمل حتى تحيض)، فجعل علامة استبراء الرحم فيها أن تحيض، ففيه دلالة على أن الحامل لا تحيض، وإلا لم يفرق النبي صلى الله عليه وسلم بين الحامل والحائل، فكأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: الحامل لا تحيض، والحائل هي التي تحيض.

الدليل الثاني: ما جاء في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر عمر أن يأمر ابنه أن يطلق زوجته وهي طاهر أو حامل، فطاهر يعني: خالية من الحيض، وحامل؛ لأنها لا تحيض، فجعل الحمل علامة على عدم الحيض.

القول الثاني: قول الشافعية والمالكية: قالوا: الدم الذي تراه المرأة وقد ثبت معها، وترى بعده الطهر هو دم حيض، وإن كانت حاملاً، وقد توافرت علامته، ودم الحيض له علامات ومقدمات تعرفها المرأة، من ألم في الظهر، وألم في البطن، ثم بعد ذلك الصفات المعروفة لدم الحيض، من أنه أسود وثخين إلى غير ذلك من العلامات، ثم بعد ذلك يعقبه الطهر ورؤية القصة البيضاء.

واستدلوا على ذلك بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (دم الحيض أسود يعرف)، فجعل دم الحيض أسود يعرف، سواء أكانت حاملاً أو حائلاً.

وجاء عن عائشة رضي الله عنها وأرضاها أنها سئلت عن امرأة حامل رأت الدم فقالت: لا تصلي.

فاعتبرت هذا الدم دم حيض، فكأن عائشة تقول: الدم الذي نزل منها هو دم حيض، وانتشرت هذه الفتوى بين ابن عباس وابن عمر وزيد بن ثابت وغيرهم من فحول الصحابة وأساطين أهل العلم، فلو كانت هذه الفتوى خاطئة لخطئوا عائشة، كما خطأ علي بن أبي طالب ابن عباس في تجويزه نكاح المتعة، وقال له علي: إنك رجل تائه، إن رسول الله حرم نكاح المتعة.

وعندما قال ابن عباس: نكاح المتعة حلال، قام ابن الزبير خطيباً وهو خليفة على مكة فقال: ما لي أرى أناساً قد أعمى الله بصيرتهم كما أعمى أبصارهم يفتون بجواز المتعة! وكان ابن عباس قد عمي بصره في آخر عمره، فهذه الشدة منه لينصر دين الله، ولينصر سنة النبي، فما العلم إلا قال الله وقال رسوله، وليس قال الشيخ الفلاني وقال الشيخ العلاني.

العلم قال الله قال رسوله قال الصحابة ليس بالتمويه ما العلم نصبك للخلاف سفاهة بين الرسول وبين قول فقيه وعندما قال ابن الزبير: ما لي أرى رجلاً قد أعمى الله بصيرته كما أعمى بصره يفتي بنكاح المتعة! قال له ابن عباس: وما لي أراك أعرابياً غليظاً؟ فقال له ابن الزبير: تقول ذلك وقد حرم النبي صلى الله عليه وسلم نكاح المتعة! والذي نفسي بيده! لو سمعتك تفتي بهذا لأرجمنك حتى الموت.

وكأنه يرى أنها زنا، وهكذا كان الصحابة يحافظون على سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فـ عائشة أفتت بذلك أمام محفل من الصحابة، والصحابة سكوت لا يتكلمون ولا ينكرون، فكان سكوتهم هذا إجماعاً سكوتياً، فكأنهم وافقوا على الفتوى التي أفتت بها عائشة.

هذا من الأثر.

وأما من النظر والعقل: فإن الأصل في النساء الصحة دون المرض، والأصل في الدم الذي يرخيه الرحم أنه دم حيض، ما لم يدل دليل أو تأتي قرينة على أنه دم فساد أو دم علة، فإذا ظهرت القرينة حمل على أنه دم فساد؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إنما ذاك عرق)، وذلك عندما ظهرت له القرينة بأن الدم هذا دم فساد ودم علة.

فإذا تردد الدم النازل من الفرج بين أن يكون دم حيض أو دم فساد ومرض، وإذا تردد الدم بين الأصل والفرع قدم الأصل على الفرع.
গর্ভাবস্থায় ঋতুস্রাব দেখার বিধান

জনৈক গর্ভবতী মহিলা তার গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে রক্ত দেখলেন এবং তা পাঁচ দিন স্থায়ী হলো, এরপর তা বন্ধ হয়ে গেল। অতঃপর চতুর্থ মাসে আবার তার রক্ত দেখা দিল এবং তা পাঁচ দিন স্থায়ী হলো। তারপর তিনি পবিত্রতা প্রত্যক্ষ করলেন, চাই তা শুষ্কতা হোক কিংবা সাদা স্রাব (কাসসাতুল বায়দা) হোক। এরপর সপ্তম মাস থেকে নবম মাস পর্যন্ত তার রক্ত নির্গত হতে থাকল। এখন প্রশ্ন হলো, এই রক্ত কি ঋতুস্রাব (হায়েজ), নাকি তা ত্রুটি, কলুষতা ও অসুস্থতার রক্ত? সকল চিকিৎসকই বলেন: এটি অসুস্থতাজনিত রক্ত। আর আমার নিকট মূলনীতি হলো, আমি শরয়ি বিধানের আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে গ্রহণ করি না; কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো এমন সব তত্ত্ব যা সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। পক্ষান্তরে শরয়ি বিধান হলো আমাদের সুমহান রবের পক্ষ থেকে আসা ওহী, যাতে ভুল বা বিভান্তির কোনো স্থান নেই। এই বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম দুটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি হানাফি ও হাম্বলিদের অভিমত। যদি কোনো নারী গর্ভবতী অবস্থায় রক্ত দেখে, তবে সেই রক্তকে ত্রুটিপূর্ণ রক্ত বা অসুস্থতার রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, তাকে উক্ত স্থান পরিষ্কার করতে হবে, সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে হবে; কারণ এই রক্ত ঋতুস্রাবের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাঁরা বলেন: এই বিষয়ে আমাদের নিকট একাধিক দলিল রয়েছে:

প্রথম দলিল: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আওতাসের বন্দি নারীদের সম্পর্কে বলেছেন—বন্দি নারী হলো দাসী, যারা মুসলিমদের জিহাদ, কাফেরদের দেশ বিজয় এবং তাদের নারীদের বন্দি করার মাধ্যমে অর্জিত হয়—রাসুল (সা.) বলেছেন: “(গর্ভবতী দাসীর সাথে) সহবাস করা যাবে না যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে, আর গর্ভবতী না হলে যতক্ষণ না সে ঋতুবতী হয় (অর্থাৎ একবার ঋতুস্রাব হয়)।” সুতরাং সুমহান শরিয়ত গর্ভবতী নারীর সাথে প্রসবের আগে সহবাস নিষিদ্ধ করেছে; যাতে তুমি অন্যের ফসলে নিজের পানি না দাও। এরপর তিনি বলেছেন: “আর গর্ভবতী না হলে যতক্ষণ না সে ঋতুবতী হয়।” এর মাধ্যমে যেন নবী (সা.) বলতে চেয়েছেন যে, গর্ভবতী নারী ঋতুবতী হয় না; কারণ তিনি গর্ভবতী নারীর জরায়ু মুক্ত হওয়ার আলামত হিসেবে সন্তান প্রসবকে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: “গর্ভবতী মহিলার সাথে সহবাস করা যাবে না যতক্ষণ না সে প্রসব করে।” এরপর তিনি অ-গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে বলেছেন: “আর গর্ভবতী না হলে যতক্ষণ না সে ঋতুবতী হয়।” অর্থাৎ অ-গর্ভবতীর ক্ষেত্রে জরায়ু মুক্ত হওয়ার আলামত হিসেবে তিনি ঋতুস্রাব হওয়াকে নির্ধারণ করেছেন। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হয় না; অন্যথায় নবী (সা.) গর্ভবতী এবং অ-গর্ভবতীর মধ্যে পার্থক্য করতেন না। নবী (সা.) যেন বলতে চাচ্ছেন: গর্ভবতী নারী ঋতুবতী হয় না, বরং কেবল অ-গর্ভবতী নারীই ঋতুবতী হয়।

দ্বিতীয় দলিল: সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) উমর (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর পুত্রকে তার স্ত্রীকে পবিত্র অবস্থায় অথবা গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দিতে বলেন। এখানে ‘পবিত্র’ মানে ঋতুস্রাব মুক্ত, আর ‘গর্ভবতী’ হওয়ার কথা বলা হয়েছে কারণ সে ঋতুবতী হয় না। সুতরাং তিনি গর্ভাবস্থাকে ঋতুস্রাব না হওয়ার আলামত হিসেবে গণ্য করেছেন।

দ্বিতীয় মত: শাফিয়ি ও মালিকিদের অভিমত। তাঁরা বলেন: গর্ভবতী নারী যে রক্ত দেখে এবং তা যদি তার সাথে স্থায়ী হয় এবং এরপর পবিত্রতা দেখা যায়, তবে তা ঋতুস্রাব (হায়েজ) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে গর্ভবতী হয়। বিশেষ করে যদি এতে ঋতুস্রাবের আলামতগুলো বিদ্যমান থাকে। আর ঋতুস্রাবের কিছু আলামত ও পূর্বলক্ষণ রয়েছে যা নারীরা জানেন, যেমন পিঠে ব্যথা, পেটে ব্যথা এবং এরপর ঋতুস্রাবের রক্তের পরিচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ, যেমন রক্ত কালো ও ঘন হওয়া ইত্যাদি। এরপর পবিত্রতা অর্জন এবং সাদা স্রাব দেখা যাওয়া।

তাঁরা নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: “ঋতুস্রাবের রক্ত কালো, যা চেনা যায়।” এখানে তিনি ঋতুস্রাবের রক্তকে কালো এবং পরিচিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলেছেন, চাই সে নারী গর্ভবতী হোক বা না হোক।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জনৈক গর্ভবতী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে রক্ত দেখেছে। তিনি বললেন: “সে সালাত আদায় করবে না।”

অর্থাৎ তিনি এই রক্তকে ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য করেছেন। আয়েশা (রা.) যেন বলতে চেয়েছেন: তার থেকে নির্গত রক্তটি হলো ঋতুস্রাব। এই ফতোয়া ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, যায়েদ বিন সাবিত এবং অন্যান্য প্রথিতযশা সাহাবী ও বিজ্ঞ আলেমদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদি এই ফতোয়াটি ভুল হতো, তবে তাঁরা অবশ্যই আয়েশা (রা.)-এর ভুল ধরিয়ে দিতেন; যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ভুল ধরেছিলেন যখন তিনি মুতআ বিবাহ বৈধ মনে করতেন। আলী (রা.) তাঁকে বলেছিলেন: “তুমি পথহারা মানুষ, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.) মুতআ বিবাহ হারাম করেছেন।”

যখন ইবনে আব্বাস বললেন: মুতআ বিবাহ হালাল, তখন ইবনে যুবাইর (রা.) মক্কার খলিফা হিসেবে খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন: “আমার কী হলো যে আমি এমন সব লোক দেখছি যাদের অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ তেমনি অন্ধ করে দিয়েছেন যেমনটি অন্ধ করেছেন তাদের চোখকে, তারা মুতআ বিবাহের বৈধতার ফতোয়া দিচ্ছে!” ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর জীবনের শেষ দিকে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। ইবনে যুবাইরের এই কঠোরতা ছিল আল্লাহর দ্বীন এবং নবী (সা.)-এর সুন্নাহকে রক্ষা করার জন্য। কারণ জ্ঞান হলো কেবল তা-ই যা আল্লাহ বলেছেন এবং যা রাসুল বলেছেন, অমুক বা তমুক শেখের কথা নয়।

প্রকৃত জ্ঞান হলো যা আল্লাহ বলেছেন, যা রাসুল বলেছেন এবং যা সাহাবীগণ বলেছেন; এতে কোনো চাতুরতা নেই। প্রকৃত জ্ঞান রাসুলের বাণীর বিপরীতে কোনো ফকিহ বা ফকীহগণের মতামত দিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করা নয়, বরং তা মূর্খতা। যখন ইবনে যুবাইর বললেন: “আমার কী হলো যে আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখছি যার অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ তেমনি অন্ধ করে দিয়েছেন যেমনটি অন্ধ করেছেন তার চোখকে, সে মুতআ বিবাহের ফতোয়া দিচ্ছে!” তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: “তোমার কী হয়েছে যে তোমাকে একজন কর্কশ গ্রাম্য বেদুঈনের মতো মনে হচ্ছে?” ইবনে যুবাইর তাকে বললেন: “তুমি কি এসব বলছ অথচ নবী (সা.) মুতআ বিবাহ হারাম করেছেন! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি আমি তোমাকে এই ফতোয়া দিতে শুনি, তবে তোমাকে পাথর মেরে মৃত্যু পর্যন্ত দণ্ড দেব।”

যেন তিনি এটিকে জিনা বা ব্যভিচার মনে করতেন। সাহাবীগণ এভাবেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর হেফাজত করতেন।

আয়েশা (রা.) সাহাবীদের মজলিসে এই ফতোয়া দিয়েছিলেন এবং সাহাবীগণ নীরব ছিলেন, তাঁরা কোনো প্রতিবাদ বা অস্বীকৃতি জানাননি। তাঁদের এই নীরবতা ছিল 'ইজমায়ে সুকুতি' বা মৌন ঐক্যমত। অর্থাৎ তাঁরা আয়েশা (রা.)-এর প্রদত্ত ফতোয়ার সাথে একমত পোষণ করেছেন।

এটি হলো বর্ণনাভিত্তিক (আসার) দলিল।

আর যুক্তি ও বিবেকের দিক থেকে কথা হলো: নারীদের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো সুস্থতা, অসুস্থতা নয়। আর জরায়ু থেকে নির্গত রক্তের ক্ষেত্রে মূল হলো তা ঋতুস্রাব হওয়া, যতক্ষণ না কোনো দলিল বা আলামত পাওয়া যায় যে এটি কলুষিত বা অসুস্থতার রক্ত। যদি অসুস্থতার কোনো আলামত স্পষ্ট হয়, তবেই তাকে কলুষিত রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে; কারণ নবী (সা.) বলেছিলেন: “এটি তো কেবল একটি রগ (থেকে নির্গত রক্ত)।” এটি তিনি তখনই বলেছিলেন যখন তাঁর কাছে আলামত প্রকাশ পেয়েছিল যে এই রক্তটি কলুষিত ও অসুস্থতাজনিত।

সুতরাং লজ্জাস্থান থেকে নির্গত রক্ত যখন ঋতুস্রাব এবং অসুস্থতাজনিত রক্তের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়, আর যখন কোনো বিষয় ‘আসল’ (মূল) এবং ‘ফর’ (শাখা)-এর মধ্যে দোদুল্যমান হয়, তখন ‘আসল’-কে ‘ফর’-এর ওপর প্রাধান্য দিতে হয়।
(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌علامات الطهر من الحيض

الطهر عند المرأة له علامتان: العلامة الأولى: الجفاف، فتدخل القطنة في فرجها فتخرج جافة لا شيء فيها.

العلامة الثانية: سائل أبيض يخرج من فرجها بعد أن ينتهي الدم.

وبعض النساء لا يخرج منهن هذا السائل الأبيض عند الطهر، فيكون علامة طهرها الجفاف.
ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার চিহ্নসমূহ

নারীর পবিত্র হওয়ার দুটি চিহ্ন রয়েছে: প্রথম চিহ্ন: শুষ্কতা; সে তার লজ্জাস্থানে তুলা প্রবেশ করাবে এবং তা শুষ্ক অবস্থায় বের হয়ে আসবে, যাতে কিছুই লেগে থাকবে না।

দ্বিতীয় চিহ্ন: সাদা তরল, যা রক্ত শেষ হওয়ার পর তার লজ্জাস্থান থেকে বের হয়।

আর কিছু নারীর পবিত্রতার সময় এই সাদা তরলটি নির্গত হয় না, সেক্ষেত্রে তাদের পবিত্রতার চিহ্ন হবে শুষ্কতা।
(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الاستحاضة

الاستحاضة هي: استمرار نزول الدم وعدم انقطاعه، وقد ينزل أياماً كثيرة ثم ينقطع بحال من الأحوال.

وقد حدث مثل هذا في عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم مع صحابيات فضليات جليلات، وكانت المرأة تأتي الرسول وتقول: إني أستحاض فلا أطهر.

وتنقسم الاستحاضة إلى قسمين: استحاضة مستمرة، أي: نزول الدم بلا انقطاع بحال من الأحوال، فقد يستمر خمس سنوات، أو ست سنوات، أو سبع سنوات.

استحاضة منقطعة: وهي التي تظل مع المرأة فوق عدد عادتها، مثل امرأة عادتها أن تحيض خمسة أيام، وفي شهر استمر معها الدم سبعة عشر يوماً، فنعتبرها قد حاضت خمسة عشر يوماً، واليومان الزائدان يكونان دم استحاضة؛ لأن أكثر الحيض خمسة عشر يوماً، وما زاد عليه يعتبر دم استحاضة.

والدليل على ذلك ما رواه البخاري في صحيحه عن عائشة رضي الله عنها وأرضاها قالت: قالت فاطمة بنت أبي حبيش لرسول الله صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله! إني امرأة أستحاض فلا أطهر.

أي: الدم لا ينقطع معها، وهذه استحاضة مستمرة.

وفي مسند أحمد عن زينب بنت جحش رضي الله عنها وأرضاها أنها جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله! إني أستحاض حيضة كثيرة شديدة.

فكأنها أقل من الأولى، لكنها أيضاً مستمرة.
ইস্তিহাযা

ইস্তিহাযা হলো: রক্ত নির্গত হওয়া অব্যাহত থাকা এবং তা বন্ধ না হওয়া। কখনো তা অনেক দিন পর্যন্ত জারি থাকে এবং পরবর্তীতে কোনো এক অবস্থায় বন্ধ হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মর্যাদাবান ও মহান নারী সাহাবীদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল। কোনো নারী রাসূলুল্লাহর কাছে আসতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই আমার ইস্তিহাযা হচ্ছে, তাই আমি পবিত্র হতে পারছি না।"

ইস্তিহাযা দুই ভাগে বিভক্ত: অবিরাম ইস্তিহাযা; অর্থাৎ: কোনো অবস্থাতেই রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়া। এটি কখনো পাঁচ বছর, ছয় বছর অথবা সাত বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বিচ্ছিন্ন ইস্তিহাযা: যা কোনো নারীর নির্ধারিত অভ্যাসের অতিরিক্ত সময় ধরে চলতে থাকে। যেমন, কোনো নারীর অভ্যাস হলো পাঁচ দিন ঋতুস্রাব হওয়া, কিন্তু কোনো এক মাসে তার রক্তস্রাব সতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী হলো। এমতাবস্থায় আমরা গণ্য করব যে, তার পনের দিন ঋতুস্রাব হয়েছে এবং অতিরিক্ত দুই দিন ইস্তিহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য হবে; কারণ ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো পনের দিন, আর এর অতিরিক্ত যা কিছু হবে তা ইস্তিহাযার রক্ত বলে বিবেচিত হবে।

এর প্রমাণ হলো যা বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন একজন নারী যার ইস্তিহাযা হয়, ফলে আমি পবিত্র হতে পারি না।"

অর্থাৎ: তার রক্তপাত বন্ধ হয় না, আর এটি হলো অবিরাম ইস্তিহাযা।

মুসনাদে আহমাদে যয়নব বিনতে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার অত্যধিক ও প্রবল ইস্তিহাযা হচ্ছে।"

এটি যেন প্রথমটির তুলনায় কিছুটা কম, তবে এটিও অবিরাম।
(খণ্ড: ৩) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حكم المستحاضة

يختلف حكم المستحاضة باختلاف صنفها في الحيض، فالمرأة المميزة التي تميز بين دم الحائض وبين دم الاستحاضة كأن جاءها الدم خمسة أيام، وعرفت أن هذا الدم هو دم الحيض بلونه ورائحته وصفته المعروفة، ثم بعد خمسة أيام استمر الدم معها بالنزول، فنظرت فوجدت الدم الذي نزل بعد الخمسة أيام دماً أحمر رقيقاً، فحكمها أن تجعل الدم النازل في الخمسة الأيام الأولى دم حيض، والدم الثاني الأحمر الرقيق دم استحاضة، فتترك الصلاة في الخمسة الأيام ولا تقضيها، ثم تغتسل أولاً لطهرها، ثم تتحفظ وتتوضأ للصلاة، وتفعل ذلك في كل صلاة حتى ينقطع عنها الدم.

أما المرأة المعتادة: وهي التي تعرف عادتها وتحفظ عددها، كأن تأتيها خمسة أيام أو سبعة أيام من كل شهر، فهذه إن استمر الدم معها في النزول أكثر من العادة فنقول لها: إن كان الدم مستمراً في النزول وكانت طبقة الدم واحدة فاجعلي الدم أيام عادتك المعهودة دم حيض، وما زاد على هذه الأيام فهو دم استحاضة، ويكون حكمك في هذه الأيام حكم المستحاضة، فتتوضئين لكل صلاة، وتصومين ما عليك من فرض، إلى غير ذلك.

والدليل على حكم المميزة قول النبي صلى الله عليه وسلم لـ فاطمة بنت أبي حبيش: (دم الحيض أسود يعرف، فإذا كان ذلك فأمسكي عن الصلاة).

فكأنه يقول: أنت امرأة مميزة، ودم الحيض أسود يعرف، فإذا جاء الدم الآخر الرقيق فهو دم استحاضة، قال: (فإذا جاء الدم الآخر فتوضئي وصلي، فإنما هو عرق) أي: هو دم استحاضة وليس بحيض.

والدليل على حكم المعتادة قول النبي صلى الله عليه وسلم لـ أم حبيبة عندما قالت: إني أستحاض فلا أطهر أفأدع الصلاة؟ قال لها: (لا، إنما ذلك عرق، ولكن دعي الصلاة قدر الأيام التي كنت تحيضين فيها، ثم اغتسلي وصلي).

فكأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول لـ أم حبيبة: يا أم حبيبة! إنك لا تعرفين كيف تميزين بين دم الحيض وبين دم الاستحاضة، فأنت معتادة أن يأتيك الدم أول كل شهر سبعة أيام منذ سنوات طويلة، فعدي سبعة أيام من أول كل شهر حيضاً، فإذا مرت السبعة الأيام فعليك أن تغتسلي غسل الطهارة، ثم تتوضئين لكل صلاة وتصلي، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (ولكن دعي الصلاة قدر الأيام التي كنت تحيضين فيها، ثم اغتسلي وصلي) أي: أنك طهرت، وهذا الدم دم استحاضة.

أيضاً في صحيح مسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال النبي صلى الله عليه وسلم لـ أم حبيبة بنت جحش: (امكثي قدر ما كانت تحبسك حيضتك، ثم اغتسلي وصلي)، فالمعتادة تعد أيام العادة فتمكث لا تصلي ولا تصوم فيها، فإذا مرت العادة واستمر منها نزول الدم فإنها تعتبر نفسها مستحاضة، وتتوضأ لكل صلاة، وتصلي بعد غسل الطهر.

وأما المرأة المعتادة وغير المميزة، فهي المتحيرة، فلا تعرف لها عادة، ولا تعرف أن تميز إذا قلنا لها: دم الحيض أسود، ودم الاستحاضة أحمر، ومن أسباب هذا اللولب الذي تركبه المرأة، فهذا قيد يجعل المرأة لا تعرف لها عادة، ولا تعرف كيف تميز، وتضطرب عندها الدورة، فماذا تفعل؟ نقول لها: ارجعي إلى غالب عادة النساء، وغالب عادة النساء ستة أيام أو سبعة أيام، فاجعليها أيام حيض، ثم تطهري واغتسلي غسل الطهر، ثم بعد ذلك توضئي لكل صلاة وصلي، والدليل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم لـ حمنة بنت جحش: (إنما هذا ركضة من الشيطان، فتحيضي ستة أيام أو سبعة أيام في علم الله ثم اغتسلي، حتى إذا رأيت أنك طهرت فصلي أربعاً وعشرين أو ثلاثاً وعشرين كما تفعل النساء).
‌‌মুস্তাহাযা নারীর বিধান

মুস্তাহাযা (অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহবিশিষ্ট) নারীর বিধান তার মাসিকের প্রকারভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। যে নারী ‘মুমাইয়্যিযাহ’ বা পার্থক্যকারী, অর্থাৎ যে মাসিকের রক্ত এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে—যেমন তার পাঁচ দিন রক্ত এলো এবং সে তার বর্ণ, গন্ধ ও পরিচিত বৈশিষ্ট্য দ্বারা বুঝতে পারল যে এটি মাসিকের রক্ত, অতঃপর পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রক্ত নির্গত হওয়া অব্যাহত থাকল। সে লক্ষ্য করে দেখল যে, পাঁচ দিন পর যে রক্ত বের হচ্ছে তা লাল ও পাতলা। এমতাবস্থায় তার বিধান হলো, প্রথম পাঁচ দিনের রক্তকে সে মাসিক গণ্য করবে এবং পরবর্তী পাতলা লাল রক্তকে ইস্তিহাযা গণ্য করবে। সে ওই পাঁচ দিন সালাত বর্জন করবে এবং তা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে না। অতঃপর পবিত্রতার জন্য প্রথমে গোসল করবে, এরপর রক্ত যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ (তাতাহাফফায) করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করবে। রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সে প্রতিটি সালাতের জন্য এমনটিই করবে।

আর ‘মু’তাদাহ’ বা অভ্যাসসম্পন্ন নারী: সে হলো ওই ব্যক্তি যে নিজের মাসিকের অভ্যাস ও দিন সংখ্যা জানে। যেমন প্রতি মাসে তার পাঁচ বা সাত দিন মাসিক হওয়ার নির্দিষ্ট অভ্যাস রয়েছে। এমতাবস্থায় যদি অভ্যাসের অতিরিক্ত সময় রক্ত নির্গত হওয়া অব্যাহত থাকে, তবে আমরা তাকে বলব: যদি রক্ত প্রবাহ চলতে থাকে এবং রক্তের ধরণ অভিন্ন হয়, তবে তোমার নির্ধারিত অভ্যাসের দিনগুলোকে মাসিকের দিন গণ্য করো এবং ওই দিনগুলোর অতিরিক্ত সময়কে ইস্তিহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য করো। এই দিনগুলোতে তোমার বিধান হবে মুস্তাহাযা নারীর বিধানের অনুরূপ; ফলে তুমি প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করবে এবং তোমার ওপর অর্পিত ফরয সিয়াম পালন করবে ইত্যাদি।

পার্থক্যকারী বা মুমাইয়্যিযাহ নারীর বিধানের দলিল হলো ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (মাসিকের রক্ত কালো বর্ণের হয়ে থাকে যা চেনা যায়। যখন সেরূপ হবে তখন সালাত থেকে বিরত থাকো।)

এটি যেন এমন যে তিনি বলছেন: তুমি একজন পার্থক্যকারী নারী, আর মাসিকের রক্ত কালো যা চেনা যায়। সুতরাং যখন অন্য পাতলা রক্ত আসবে তখন তা ইস্তিহাযার রক্ত। তিনি আরও বলেছেন: (অতঃপর যখন অন্য রক্ত আসবে তখন তুমি অযু করো এবং সালাত আদায় করো, কেননা তা কেবল একটি রগ থেকে নির্গত রক্ত) অর্থাৎ: এটি ইস্তিহাযার রক্ত, মাসিক নয়।

অভ্যাসসম্পন্ন বা মু’তাদাহ নারীর বিধানের দলিল হলো উম্মে হাবীবার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, যখন তিনি বলেছিলেন: আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত থাকি এবং পবিত্র হতে পারি না, আমি কি সালাত বর্জন করব? তিনি তাকে বললেন: (না, এটি কেবল একটি রগ থেকে নির্গত রক্ত, তবে তোমার মাসিকের জন্য নির্ধারিত দিনগুলোর পরিমাণ সময় সালাত বর্জন করো, অতঃপর গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।)

এর অর্থ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন উম্মে হাবীবা-কে বলছেন: হে উম্মে হাবীবা! তুমি মাসিকের রক্ত এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছ না, কিন্তু দীর্ঘ বছর যাবত প্রতি মাসের শুরুতে তোমার সাত দিন মাসিক হওয়ার অভ্যাস রয়েছে। সুতরাং প্রতি মাসের শুরুর সাত দিনকে মাসিক হিসেবে গণনা করো। যখন সাত দিন অতিক্রান্ত হবে, তখন তোমার ওপর পবিত্রতার গোসল করা আবশ্যক, অতঃপর প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করবে ও সালাত আদায় করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তবে তোমার মাসিকের জন্য নির্ধারিত দিনগুলোর পরিমাণ সময় সালাত বর্জন করো, অতঃপর গোসল করো এবং সালাত আদায় করো) অর্থাৎ: তুমি পবিত্র হয়ে গেছ এবং এই রক্ত ইস্তিহাযার রক্ত।

অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হাবীবা বিনতে জাহাশকে বলেছেন: (তোমার মাসিক তোমাকে যতটুকু সময় আটকে রাখত ততটুকু সময় অপেক্ষা করো, এরপর গোসল করো এবং সালাত আদায় করো)। সুতরাং অভ্যাসসম্পন্ন নারী তার অভ্যাসের দিনগুলো গণনা করবে এবং ওই দিনগুলোতে সালাত ও সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকবে। অভ্যাসের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি রক্ত নির্গত হওয়া অব্যাহত থাকে, তবে সে নিজেকে মুস্তাহাযা হিসেবে গণ্য করবে এবং পবিত্রতার গোসল সম্পন্ন করার পর প্রতিটি সালাতের জন্য অযু করে সালাত আদায় করবে।

আর যে নারী অভ্যাসসম্পন্ন নয় এবং পার্থক্যকারীও নয়, সে হলো বিভ্রান্ত (মুতাহাইয়্যিরা)। সে নিজের অভ্যাস জানে না এবং পার্থক্য করতেও অক্ষম। যেমন আমরা যদি তাকে বলি: মাসিকের রক্ত কালো এবং ইস্তিহাযার রক্ত লাল; কিন্তু সে তা চিনতে পারে না। জরায়ুতে লুপ (IUD) স্থাপন করার কারণে অনেক সময় এমনটি ঘটে থাকে। এটি এমন একটি প্রতিবন্ধক যা নারীকে তার অভ্যাস ভুলিয়ে দেয় এবং সে পার্থক্য করতে পারে না, ফলে তার মাসিক চক্র এলোমেলো হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে কী করবে? আমরা তাকে বলব: তুমি সাধারণ নারীদের অভ্যাসের দিকে লক্ষ্য করো। আর সাধারণ নারীদের মাসিক সাধারণত ছয় বা সাত দিন হয়ে থাকে। সুতরাং তুমি সেই দিনগুলোকে মাসিকের সময় হিসেবে নির্ধারণ করো, এরপর পবিত্র হও এবং পবিত্রতার গোসল সম্পন্ন করো। অতঃপর প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করো ও সালাত আদায় করো। এর দলিল হলো হামনাহ বিনতে জাহাশকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (এটি শয়তানের একটি আঘাত মাত্র। সুতরাং তুমি আল্লাহর জ্ঞানে ছয় বা সাত দিন মাসিক পালন করো, এরপর গোসল করো। যখন তুমি দেখবে যে তুমি পবিত্র হয়েছ, তখন চব্বিশ বা তেইশ দিন সালাত আদায় করো, যেমন অন্য নারীরা করে থাকে।)
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير أحكام الحيض   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تيسير أحكام الحيض

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

মাসিকের বিধানাবলীর সহজীকরণ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: মাসিকের বিধানাবলীর সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও দরসসমূহ যা ইসলামওয়েব (আশ-শাবাকাতুল ইসলামিয়্যাহ) সাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো দরস নম্বর - ১০টি দরস]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব, ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ৪) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ১)
رسالة إلى كل امرأة تيسير أحكام الحيض -‌‌ أحكام الصفرة والكدرة - وماذا تفعل الحائض إذا رأت الحيض يوماً والطهر يوماً

قد اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في حكم الخارجة من المرأة، فمن قائل: إنهما حيض، ومن قائل: إنهما ليسا بحيض، وهناك قول بالتفصيل، ولكل قول حجته وأدلته.
প্রত্যেক নারীর প্রতি বার্তা: ঋতুস্রাবের বিধিবিধান সহজীকরণ -‌‌ হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবের বিধিবিধান - এবং ঋতুমতী নারী যদি একদিন ঋতুস্রাব এবং একদিন পবিত্রতা দেখে তবে সে কী করবে

নারীর দেহ থেকে নির্গত এই দুই প্রকার স্রাবের বিধান সম্পর্কে আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এ দুটিই ঋতুস্রাব; আবার কেউ বলেছেন: এ দুটি ঋতুস্রাব নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি মতও রয়েছে এবং প্রতিটি মতেরই নিজস্ব যুক্তি ও প্রমাণাদি রয়েছে।
(খণ্ড: ৪) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌في حكم الصفرة والكدرة من المرأة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، واشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد: فقد وقفنا عند الكلام عن الصفرة والكدرة، وهل هي حيض أم لا؟ وقلنا: إن الصفرة سائل أصفر، كالماء الذي يكون من الجرح، وتخرج من الرحم.

وأما الكدرة: فهو ماء ممزوج بحمرة، فيكون لونه متكدراً، وبئر الماء إذا حرك فيه التراب تكدر ماؤه.

والصفرة والكدرة ليستا دمين، بل هما ماءين، فيختلفان عن الحيض الذي هو دم.

فالمرأة قبل أن تحيض قد تنزل منها إفرازات كصفرة أو كدرة، وذلك كثير في النساء، فما حكم هذه الإفرازات؟ وهل هي حيض أم ليست بحيض، وخاصة إذا نزلت في اليوم المعتاد نزول الحيض فيه؟ اختلف العلماء في ذلك على ثلاثة أقوال: فقوم قالوا: هما حيض مطلقاً.

وقوم قالوا: ليستا بحيض مطلقاً.

وقوم قالوا: إن في المسألة تفصيلاً، إن كان في زمن الحيض أو ليس في زمن الحيض.

القول الأول: الذين قالوا: ليس بحيض مطلقاً، وهم: ابن حزم الظاهري، وهو قول للشافعية؛ فالحيض عندهم هو الدم فقط.

واستدلوا بحديث أم عطية الذي أخرجه البخاري والنسائي وابن ماجة: (كنا لا نعد الصفرة والكدرة شيئاً).

وهذا الحديث لم ترفعه أم عطية إلى النبي صلى الله عليه وسلم، بمعنى لم تقل: قال النبي صلى الله عليه وسلم، وليس فيه قالت أم عطية تبلغ به إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ولكن هذا الحديث يصح أن يكون مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الحديث إذا لم يكن محلاً للاجتهاد، أو أضيف إلى زمن النبي صلى الله عليه وسلم، فالقاعدة عند المحدثين أنه يكون مرفوعاً، وأم عطية هنا أضافت الحديث إلى زمن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنها قالت: (كنا لا نعد)، لأنهن كن يسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويسألن بعده عائشة، فالذي أعلمها ألا تعد هذا من الحيض هو رسول الله صلى الله عليه وسلم، لذا فـ ابن حزم قال: هذه سنة، وإن كانت في الظاهر موقوفة لكن لها حكم الرفع.

كما استدلوا بقول الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة:222] فسمى الدم حيضاً، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (دم الحيض أسود يعرف) ولم يقل: فيه صفرة أو كدرة، بل سماه دماً، فالحيض لا يكون إلا دماً.

القول الثاني: قول المالكية والشافعية، وهو أن الصفرة والكدرة حيض مطلقاً، فيكون هناك طرفان: طرف على أنه ليس حيضاً، وطرف على أنه حيض مطلقاً.

واستدل القائلون بأنه حيض مطلقاً: بأن الصفرة والكدرة إذا خرجت من الرحم ولها مواصفات الحيض أخذت حكمه؛ لأن القاعدة عند العلماء: أن الشبيه يأخذ حكم الشبيه، وهي قاعدة فقهية تسمى قاعدة: الحكم بالمجاورة، أي: أن المجاور يأخذ حكم مجاوره، كالماء المجاور وغيره.

فالصفرة والكدرة مجاورتان للحيض فيأخذان حكمه، وهذا دليل نظري قوي.

القول الثالث: التفصيل، وهذا القول لبعض الشافعية، وهو الراجح والصحيح الذي رجحه شيخ الإسلام على ما أذكر إن لم أكن واهماً، حيث قال: الصفرة والكدرة لها حالات: الحالة الأولى: ذهب جمهور العلماء إلى أن الصفرة والكدرة في أيام الحيض حيض؛ لأن كل مجاور يأخذ حكم مجاوره، خاصة وأن هذه الإفرازات نزلت بسبب نزول الدم فتأخذ حكمه، ولازم الشيء كالشيء، فنزول الصفرة والكدرة بعد نزول الدم ملازم للدم فيأخذ حكمه، فإذا نزل الدم وانقطع، وأرخى الرحم الإفرازات في زمن الحيض، فالصفرة والكدرة تكون حيضاً.

والدليل على ذلك: أن النساء كن يبعثن إلى عائشة بالكرسف فيها الصفرة والكدرة، فتقول: لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء، وهذا له حكم الرفع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه أن المرأة ما زالت حائضاً وإن نزل منها صفرة أو كدرة حتى ترى القصة البيضاء.

الحالة الثانية: الصفرة والكدرة بعد الطهر ليستا من الحيض، فبعد أن ترى المرأة القصة البيضاء، أو الجفاف الذي يدل على أنها قد طهرت، ونزل عليها إفرازات من صفرة وكدرة فلا تكون حيضاً، وإنما تغسل المحل وتتوضأ وتصلي.

الحالة الثالثة: هي أن تنزل الصفرة والكدرة قبل أن ينزل الدم في يوم العادة، فلا تكون حيضاً، إنما تغسل المحل وتتوضأ وتصلي وتصوم؛ لأنها من الطهر.

والدليل على ذلك هو: أن أم عطية قالت: (كنا لا نعد الصفرة والكدرة شيئاً) وهذا على الإطلاق، وهو دليل على قوله: بأن الصفرة والكدرة ليستا من الحيض مطلقاً، ولكن هذه الرواية مقيدة برواية أخرى عن أم عطية قالت: (كنا لا نعد الصفرة والكدرة بعد الطهر شيئاً) والشاهد هو قولها: بعد الطهر.

وبمفهوم المخالفة أن قبل الطهر نعده حيضاً، وهذا فيه رد على دليل ابن حزم، فالمطلق محمول على المقيد، والرواية الأولى مطلقة، والثانية مقيدة بأن عدم اعتدادهن بالصفرة والكدرة كان بعد الطهر، أما قبله فهو حيض بمفهوم المخالفة.
নারীর হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবের বিধান প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [আলে ইমরান: ১০২]

হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [নিসা: ১]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে। [আহযাব: ৭০-৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি এবং প্রতিটি গোমরাহির পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: আমরা হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব এবং তা ঋতুস্রাব কি না—সে বিষয়ে আলোচনার স্থানে উপনীত হয়েছি। আমরা বলেছি যে, হলুদ স্রাব (সোফরা) হলো হলুদ রঙের একটি তরল পদার্থ, যেমন ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পানির মতো, যা জরায়ু থেকে বের হয়।

আর ঘোলাটে স্রাব (কোদরা) হলো: লাল মিশ্রিত পানি, যার রঙ ঘোলাটে হয়ে থাকে। যেমন কূয়োর পানির তলদেশের মাটি নাড়া দিলে তার পানি ঘোলাটে হয়ে যায়।

হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব মূলত রক্ত নয়, বরং এগুলো পানিজাতীয় পদার্থ। তাই এগুলো ঋতুস্রাব থেকে ভিন্ন, যা মূলত রক্ত।

নারীদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে হলুদ বা ঘোলাটে স্রাবের মতো কিছু নির্গত হতে পারে, যা নারীদের মধ্যে বেশ প্রচলিত। এই স্রাবগুলোর বিধান কী? এগুলো কি ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে নাকি হবে না, বিশেষ করে যদি তা ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক দিনগুলোতে নির্গত হয়? এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: একদল বলেছেন, এগুলো সর্বাবস্থায় ঋতুস্রাব।

আরেক দল বলেছেন, এগুলো কোনোভাবেই ঋতুস্রাব নয়।

অন্য একদল বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে—তা ঋতুস্রাবের সময়ের কি না অথবা ঋতুস্রাবের সময়ের বাইরের কি না।

প্রথম মত: যাঁরা বলেন এগুলো একেবারেই ঋতুস্রাব নয়। তাঁরা হলেন: ইবনে হাযম জাহিরী এবং এটি শাফেয়ী মাযহাবের একটি মত। তাঁদের নিকট ঋতুস্রাব কেবল রক্তকেই বলা হয়।

তাঁরা উম্মে আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, যা বুখারী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: "আমরা হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবকে কিছুই (ঋতুস্রাব) মনে করতাম না।"

উম্মে আতিয়্যাহ এই হাদিসটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করেননি, অর্থাৎ তিনি বলেননি যে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। আবার এমনও বলেননি যে 'উম্মে আতিয়্যাহ তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন'। তবে এই হাদিসটি মারফু (রাসূলের বাণী) হিসেবে গণ্য হওয়া সঠিক; কারণ হাদিস যদি ইজতিহাদের বিষয় না হয় অথবা যদি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, তবে মুহাদ্দিসগণের নিকট নিয়ম হলো তা মারফু হিসেবে গণ্য হবে। আর উম্মে আতিয়্যাহ এখানে হাদিসটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের দিকে সম্বন্ধ করেছেন; কারণ তিনি বলেছেন: "আমরা মনে করতাম না"। কারণ তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তাঁর পরে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করতেন। সুতরাং তাঁকে যিনি এটি ঋতুস্রাব না হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন, তিনি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। একারণেই ইবনে হাযম বলেছেন: এটি সুন্নাহ, যদিও তা বাহ্যিকভাবে মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য), কিন্তু এর বিধান মারফু-এর পর্যায়ের।

তেমনিভাবে তাঁরা আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেন: "তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তা অপবিত্র।" [বাকারা: ২২২] এখানে আল্লাহ রক্তকে ঋতুস্রাব হিসেবে নামকরণ করেছেন। আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঋতুস্রাবের রক্ত কালো বর্ণের যা চেনা যায়।" তিনি বলেননি যে তাতে হলুদ বা ঘোলাটে ভাব থাকবে, বরং একে রক্ত বলেছেন। সুতরাং ঋতুস্রাব কেবল রক্তই হবে।

দ্বিতীয় মত: এটি মালিকী ও শাফেয়ী মাযহাবের মত। আর তা হলো হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব সর্বাবস্থায় ঋতুস্রাব। এখানে দুটি বিপরীত পক্ষ তৈরি হলো: এক পক্ষ বলছে এটি ঋতুস্রাব নয়, অন্য পক্ষ বলছে এটি সর্বাবস্থায় ঋতুস্রাব।

যাঁরা একে সর্বাবস্থায় ঋতুস্রাব বলেছেন তাঁদের দলিল হলো: যখন হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব জরায়ু থেকে নির্গত হয় এবং তাতে ঋতুস্রাবের বৈশিষ্ট্য থাকে, তখন তা ঋতুস্রাবের বিধানই লাভ করবে। কারণ উলামায়ে কেরামের নিকট নিয়ম হলো: "সদৃশ বস্তু সদৃশ বস্তুর বিধান লাভ করে।" এটি একটি ফিকহি নীতি যাকে বলা হয় 'পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে বিধান প্রাপ্তি'; অর্থাৎ যা পার্শ্ববর্তী থাকে তা তার পাশের বস্তুর বিধান পায়, যেমন পার্শ্ববর্তী পানি ইত্যাদি।

সুতরাং হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব যেহেতু ঋতুস্রাবের সাথে লেগে থাকে, তাই এগুলো তারই বিধান লাভ করবে। এটি একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক দলিল।

তৃতীয় মত: বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এটি কিছু শাফেয়ী আলেমের মত এবং এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহও প্রধান্য দিয়েছেন বলে আমার মনে পড়ে, যদি আমি ভুল না করে থাকি। তিনি বলেছেন: হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবের কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত হলো, ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে। কারণ যা পার্শ্ববর্তী থাকে তা পার্শ্ববর্তী বস্তুর বিধান পায়। বিশেষ করে যখন এই স্রাবগুলো রক্ত বের হওয়ার কারণে নির্গত হয়, তখন তা রক্তের বিধানই পাবে। কোনো জিনিসের অনুষঙ্গ সেই জিনিসের মতোই হয়ে থাকে। সুতরাং রক্ত নির্গত হওয়ার পর হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব যেহেতু রক্তের সাথেই লেগে থাকে, তাই তা রক্তের বিধান পাবে। ফলে যখন রক্ত নির্গত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় এবং জরায়ু ঋতুস্রাবের সময়সীমার মধ্যে এসব স্রাব নির্গত করে, তখন সেই হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে।

এর দলিল হলো: মহিলারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট তুলা পাঠিয়ে দিতেন যাতে হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব লেগে থাকত। তিনি বলতেন: "তোমরা তাড়াহুড়ো করো না যতক্ষণ না সাদা স্রাব দেখতে পাও।" এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত হওয়ার বিধান রাখে। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, নারী ঋতুবতী হিসেবেই গণ্য হবে যদিও তার থেকে হলুদ বা ঘোলাটে স্রাব নির্গত হয়, যতক্ষণ না সে শুভ্রতা বা সাদা স্রাব দেখতে পায়।

দ্বিতীয় অবস্থা: পবিত্র হওয়ার পরের হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব ঋতুস্রাব নয়। সুতরাং নারী যখন সাদা স্রাব বা এমন শুষ্কতা দেখতে পায় যা তার পবিত্র হওয়া নির্দেশ করে, এরপর যদি তার হলুদ বা ঘোলাটে স্রাব নির্গত হয় তবে তা ঋতুস্রাব হবে না। বরং সে কেবল সংশ্লিষ্ট স্থান ধুয়ে ফেলবে, ওজু করবে এবং নামাজ পড়বে।

তৃতীয় অবস্থা: ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে রক্ত আসার আগে যদি হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব নির্গত হয়, তবে তা ঋতুস্রাব হবে না। বরং সে সংশ্লিষ্ট স্থান ধুয়ে ওজু করবে, নামাজ পড়বে এবং রোজা রাখবে; কারণ এটি পবিত্র অবস্থার অন্তর্ভুক্ত।

এর দলিল হলো: উম্মে আতিয়্যাহ বলেছেন: "আমরা হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবকে কিছুই মনে করতাম না।" এটি সাধারণ বর্ণনা, যা এই মতের দলিল যে হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব আদপেই ঋতুস্রাব নয়। কিন্তু এই বর্ণনাটি উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা দ্বারা সীমাবদ্ধ বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা পবিত্র হওয়ার পর হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবকে কিছুই মনে করতাম না।" এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো তাঁর এই উক্তি: "পবিত্র হওয়ার পর।"

বিপরীত অর্থবোধক ধারণা (মাফহুমুল মুখালাফাহ) অনুযায়ী, পবিত্র হওয়ার আগের স্রাবকে আমরা ঋতুস্রাব গণ্য করতাম। এর মাধ্যমে ইবনে হাযমের দলিলের উত্তর পাওয়া যায়। নিয়ম হলো সাধারণ বর্ণনাকে (মুতলাক) নির্দিষ্ট বর্ণনার (মুয়াক্কাদ) ওপর প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম বর্ণনাটি ছিল সাধারণ, আর দ্বিতীয়টি নির্দিষ্ট যে—তাদের হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবকে গণ্য না করাটা ছিল পবিত্র হওয়ার পর। আর পবিত্র হওয়ার আগের স্রাব বিপরীত অর্থ অনুযায়ী ঋতুস্রাব।
(খণ্ড: ৪) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الحائض ترى الحيض يوماً والطهر يوماً

إذا كانت المرأة ترى الحيض يوماً وترى الطهر يوماً، فيوم السبت نزل منها دم الحيض ويوم الأحد انقطع، ويوم الإثنين نزل ويوم الثلاثاء انقطع، ويوم الأربعاء نزل ويوم الخميس انقطع، فهذه لها حالتان: الحالة الأولى: أن ينزل الدم يوم السبت، ويوم الأحد ترى الطهر، أي: أنها ترى القصة البيضاء، أو النقاء أو الجفاف، ففي هذه الحالة يكون يوم السبت حيضاً، ويوم الأحد طهراً، ويوم الإثنين حيضاً، ويوم الثلاثاء طهراً، وهكذا.

وهذا هو الراجح عند أهل التحقيق من أهل العلم، فيوم السبت لا تصلي ولا تصوم ولا تقرأ القرآن ولا تحل لزوجها ولا تمس مصحفاً ولا تدخل مسجداً، وفي يوم الأحد إذا رأت الطهر بأن ترى القصة البيضاء أو الجفاف، فتصلي وتصوم بعد الاغتسال وتفعل ما تفعله الطاهر.

واستدلوا على ذلك بأدلة: الدليل الأول: عموم قول الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة:222] فالحكم يدور مع وجود الأذى وهو الدم، فتكون حائضاً حيثما وجد الدم، وطاهراً حيثما انقطع بعد أن ترى الطهر، هذا الدليل الأول.

الدليل الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (دم الحيض أسود يعرف)، فإن كان الدم فهو حيض، وإن انقطع ورأت النقاء أو القصة البيضاء فهو طهر، وهذا ما يسميه الفقهاء باللغو، وهو: أن تمتنع عن الصلاة والصيام في اليوم الذي ترى فيه الدم، وتصلي وتصوم في اليوم الذي ترى فيه الطهر.

الحالة الثانية: أن ترى الدم يوماً، ثم في اليوم الثاني لا ترى الدم من غير أن ترى الطهر بالجفاف أو بالقصة البيضاء، لكن ينزل منها صفرة وكدرة، ففي يوم السبت نزل الدم، وفي يوم الأحد صفرة وكدرة، وفي يوم الإثنين نزل الدم، وفي يوم الثلاثاء صفرة وكدرة، ففي هذه الحالة تكون حائضاً في جميع هذه الأيام، وهو ما يسميه الفقهاء بالسحب، والسحب: أن تسحب اليوم الذي ينزل فيه الدم على اليوم الذي لا ينزل فيه الدم، فتكون حائضاً فيهما، فإن استمرت هذه الحالة خمسة عشر يوماً فهي مستحاضة، وترجع لأحكام الأصناف الثلاثة، إما أن تكون مميزة أو معتادة أو مبتدئة، وقد فصلنا القول فيها، فإن كانت معتادة ترجع إلى عادتها، وإن كانت معتادة عشرة أيام فتقضي صلاة خمسة أيام، لأنها كانت طاهرة، وأما الصوم فيُقضى سواء كانت حائضاً أو مستحاضة.
ঋতুবতী নারী যখন একদিন ঋতুস্রাব এবং একদিন পবিত্রতা দেখে

যদি কোনো নারী একদিন ঋতুস্রাব দেখে এবং একদিন পবিত্রতা দেখে, যেমন শনিবার তার ঋতুস্রাব নির্গত হলো এবং রবিবার তা বন্ধ হয়ে গেল, আবার সোমবার নির্গত হলো এবং মঙ্গলবার বন্ধ হয়ে গেল, পুনরায় বুধবার নির্গত হলো এবং বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গেল—তবে এক্ষেত্রে তার জন্য দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: শনিবার রক্ত নির্গত হলো এবং রবিবার সে পবিত্রতা দেখল, অর্থাৎ: সে শ্বেতবর্ণের তরল (শ্বেত চিহ্ন) অথবা পরিচ্ছন্নতা বা শুষ্কতা দেখল। এমতাবস্থায় শনিবার হবে ঋতুস্রাব এবং রবিবার হবে পবিত্রতা, আবার সোমবার ঋতুস্রাব এবং মঙ্গলবার পবিত্রতা—এভাবেই চলতে থাকবে।

বিজ্ঞ আলেমদের নিকট এটিই অধিকতর সঠিক মত। সুতরাং শনিবার সে সালাত আদায় করবে না, সিয়াম পালন করবে না, কুরআন তিলাওয়াত করবে না, স্বামীর জন্য বৈধ হবে না, কুরআন মাজীদ স্পর্শ করবে না এবং মসজিদে প্রবেশ করবে না। আর রবিবার যখন সে শ্বেতবর্ণের তরল বা শুষ্কতা দেখার মাধ্যমে পবিত্রতা লাভ করবে, তখন গোসল করার পর সে সালাত আদায় করবে, সিয়াম পালন করবে এবং পবিত্র নারী যা যা করেন তিনি তাই করবেন।

তারা এর স্বপক্ষে বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন: প্রথম দলিল: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: "তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বল, তা কষ্টদায়ক।" [আল-বাকারা: ২২২]। সুতরাং বিধানটি অশুচিতা অর্থাৎ রক্তের উপস্থিতির সাথে আবর্তিত হয়। যেখানেই রক্ত পাওয়া যাবে সেখানেই সে ঋতুবতী গণ্য হবে, আর পবিত্রতা দেখার পর যখন রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে তখন সে পবিত্র বলে গণ্য হবে—এটিই প্রথম দলিল।

দ্বিতীয় দলিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঋতুস্রাবের রক্ত কালো যা চেনা যায়।" সুতরাং রক্ত থাকলে তা ঋতুস্রাব, আর যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং সে পরিচ্ছন্নতা বা শ্বেতবর্ণের তরল দেখে তবে তা পবিত্রতা। ফকীহগণ একে 'বিচ্ছিন্নতা' (লাগো) পদ্ধতি বলেন; আর তা হলো: যেদিন রক্ত দেখবে সেদিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকবে এবং যেদিন পবিত্রতা দেখবে সেদিন সালাত আদায় ও সিয়াম পালন করবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: একদিন রক্ত দেখা গেল, অতঃপর দ্বিতীয় দিন রক্ত দেখা গেল না ঠিকই কিন্তু শুষ্কতা বা শ্বেতবর্ণের তরল দেখার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হলো না, বরং তার পরিবর্তে হলদেটে বা ঘোলাটে রঙের স্রাব নির্গত হলো। যেমন শনিবার রক্ত এল এবং রবিবার হলদেটে বা ঘোলাটে স্রাব এল, আবার সোমবার রক্ত এল এবং মঙ্গলবার হলদেটে বা ঘোলাটে স্রাব এল। এমতাবস্থায় সে এই সকল দিনেই ঋতুবতী হিসেবে গণ্য হবে। ফকীহগণ একে 'একীভূতকরণ' (সাহাব) পদ্ধতি বলেন। আর একীভূতকরণ হলো: রক্ত প্রবাহিত হওয়ার দিনটিকে রক্ত না আসার দিনের সাথে যুক্ত করা, ফলে উভয় দিনেই সে ঋতুবতী গণ্য হবে। যদি এই অবস্থা পনের দিন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সে রক্তপ্রদর রোগে (ইস্তিহাযা) আক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে তিন প্রকার নারীর বিধানের দিকে ফিরে যাবে—হয়তো সে বৈশিষ্ট্য নির্ণয়কারী, অথবা অভ্যস্ত, অথবা নতুন ঋতুবতী। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যদি সে অভ্যস্ত হয় তবে সে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে ফিরে যাবে। যদি তার অভ্যাস দশ দিন হয়, তবে সে পাঁচ দিনের সালাত কাযা করবে কারণ সে পবিত্র ছিল। আর সিয়ামের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই কাযা করতে হবে, চাই সে ঋতুবতী হোক বা রক্তপ্রদর রোগে আক্রান্ত হোক।
(খণ্ড: ১) তাইসীরু আহকামিল হায়দ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير أحكام الحيض   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تيسير أحكام الحيض

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

হায়েজের বিধানাবলি সহজীকরণ   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল

বই: হায়েজের বিধানাবলি সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

বইয়ের উৎস: ইসলামওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১০টি দরস]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২ হিজরী