(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - محمد حسن عبد الغفار القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح المنظومة البيقونية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: উলূমুল হাদীস
গ্রন্থ: শারহুল মানযূমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক শ্রুতিলিখনকৃত অডিও দরসসমূহ
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১৬টি দরস]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح المنظومة البيقونية -
مدخل إلى علم المصطلحعلم الحديث من أشرف العلوم، وهو أنواع كثيرة فصلها أهل العلم، ومعرفة علومه من أهم ما يجب على طالب العلم، حتى يعرف الصحيح والحسن والضعيف والموضوع، ويعرف أنواع الأسانيد، ومراتب الرواة، وكيفية التحمل والأداء، وغير ذلك مما يدرس في علم مصطلح الحديث.
শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ -
হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার ভূমিকাহাদিস শাস্ত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ইলম। এর অনেকগুলো প্রকার রয়েছে যা ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গ (আহলুল ইলম) বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এই শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করা একজন তালিবে ইলমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে সে সহিহ, হাসান, যয়িফ ও মাওজু হাদিস শনাক্ত করতে পারে এবং সনদের প্রকারভেদ, বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ, হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের পদ্ধতি এবং ইলমুল মুসত্বলাহ বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় পঠিত অন্যান্য বিষয়াবলি সম্পর্কে জানতে পারে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ২)
شرف علم الحديثإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب، الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: فنبدأ في شرح المنظومة البيقونية للشيخ طه بن محمد البيقوني.
قال الناظم رحمه الله: [أبدأ بالحمد مصلياً على محمد خير نبي أرسلا وذي من اقسام الحديث عده وكل واحد أتى وحده أولها الصحيح وهو ما اتصل إسناده ولم يشذ أو يعل يرويه عدل ضابط عن مثله معتمد في ضبطه ونقله] علم الحديث علم شريف، قال علماؤنا: أشرف الناس على الإطلاق هم الذين يكثرون من الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، وهؤلاء هم أهل الحديث، فما من كتابة حديث أو إلقاء حديث أو إملاء حديث إلا وهم يصلون على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من صلى علي مرة صلى الله بها عليه عشراً).
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين)، قال بعض العلماء: هم أهل الحديث، وهم الطائفة المنصورة، وهم الذين يرفع الله ذكرهم.
والحديث له إسناد ومتن، فمثلاً: قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار)، هذا متن وله إسناد.
فعلم الحديث علم دراية ورواية، فعلم الرواية هو علم الإسناد؛ ينظرون في إسناد الحديث من المصنف إلى الصحابي، مثلاً يروي البخاري عن عبد الله بن مسلمة القعنبي عن مالك عن نافع عن ابن عمر.
فهذه سلسلة الإسناد يعتني بها أهل الحديث، وبينوا في علم الرجال حال الرواة من التوثيق والتضعيف حتى يحفظوا حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
والإسناد خصيصة فاضلة لهذه الأمة وليست لغيرها من الأمم السابقة؛ لأن له قيمة كبرى في دين الله عز وجل، ولهذا سميت الأمة الإسلامية بأمة الإسناد، ولا تجد أمة من الأمم لها إسناد، ولا يروون كتابهم عن نبيهم بإسناد متصل، فمثلاً الإنجيل إسناده منقطع بعدة قرون بين الذي يروي الإنجيل وبين عيسى عليه السلام، وكذلك موسى عليه السلام.
ইলমুল হাদিসের মর্যাদানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়েও সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১]
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: আমরা শায়খ ত্বহা বিন মুহাম্মদ আল-বাইকুনি রচিত 'আল-মানজুমাতুল বাইকুনিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যা শুরু করছি।
কাব্যকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আমি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং প্রেরিত শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করছি। এটি হলো হাদিসের প্রকারভেদের একটি বর্ণনা, যার প্রতিটিই স্বতন্ত্রভাবে আগত। এর প্রথমটি হলো সহিহ, যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং যা শায (বিচ্ছিন্ন) বা ত্রুটিযুক্ত (ইল্লাতযুক্ত) নয়। এর বর্ণনাকারী হলেন এমন একজন ন্যায়পরায়ণ ও মুখস্থশক্তিতে পারদর্শী ব্যক্তি, যিনি তার মতোই নির্ভরযোগ্য ও মুখস্থশক্তিতে পারদর্শী ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন।] ইলমুল হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র একটি মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেছেন: সর্বসম্মতিক্রমে শ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন তারা, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করেন। আর তারা হলেন হাদিস বিশারদগণ। কারণ, হাদিস লেখা, বর্ণনা করা বা শ্রুতিলিখনের প্রতিটি পর্যায়ে তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে)। কোনো কোনো আলেম বলেছেন: তারা হলেন আহলে হাদিস বা হাদিস বিশারদগণ; তারাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল এবং তারাই তারা যাদের আলোচনা আল্লাহ উচ্চকিত করেন।
হাদিসের সনদ ও মতন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)। এটি হলো মতন, আর এর একটি সনদ রয়েছে।
ইলমুল হাদিস মূলত দিরায়াহ (তাত্ত্বিক) ও রিওয়ায়াহ (বর্ণনাকেন্দ্রিক) জ্ঞান। রিওয়ায়াহ হলো সনদের জ্ঞান; তারা কিতাব সংকলনকারী থেকে শুরু করে সাহাবী পর্যন্ত হাদিসের সনদের দিকে লক্ষ্য করেন। যেমন, বুখারি বর্ণনা করেন আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নবি থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে।
সনদের এই পরম্পরার প্রতি হাদিস বিশারদগণ অত্যন্ত যত্নশীল থাকেন। তারা বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুর্বলতা যাচাইয়ের জন্য ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান) শাস্ত্র বর্ণনা করেছেন, যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস সংরক্ষিত থাকে।
আর সনদ হলো এই উম্মতের জন্য একটি বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব, যা পূর্ববর্তী অন্য কোনো উম্মতের ছিল না। কেননা আল্লাহর দ্বীনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণেই ইসলামি উম্মাহকে 'সনদের উম্মত' বলা হয়। আপনি অন্য কোনো উম্মত পাবেন না যাদের কোনো সনদ আছে, কিংবা যারা তাদের কিতাবসমূহ তাদের নবীর কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করে। উদাহরণস্বরূপ, ইঞ্জিলের সনদ ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কয়েক শতাব্দীর ব্যবধানে বিচ্ছিন্ন। মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
جهود علماء الحديث في حفظ السنةإن الله امتن على هذه الأمة بأن خلق جهابذة يعيشون لهذه السنة ويحفظونها، قال الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9]، فكانوا يعتنون بالرجال الذين يروون حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فمنهم من أنفق كل ماله، ومنهم من أنفق عمره وجهده، وأسهر ليله، وأتعب نفسه من أجل هذا الإسناد.
فمثلاً يحيى بن معين كان رجلاً فاضلاً فحلاً في علم الأسانيد وعلم النقد والرجال، كان يمتلك ألف ألف درهم أو ألف ألف دينار فأنفقها عن بكرة أبيها في علم الإسناد، وكان يجوب مشارق البلاد ومغاربها حتى ينقي حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ويعلم من الثقة الذي يأخذ منه الحديث ومن الضعيف الذي لا يأخذ منه الحديث.
ومن ذلك القصة المشهورة عن البخاري عندما دخل بغداد، وهذه القصة قال الحافظ ابن حجر: إسنادها فيه كلام، لكن هذه القصة تبين لك أن المحدثين كانوا يعتنون جداً بضبط المحدث وعدالة المحدث.
لما دخل البخاري عليهم قلبوا له الأسانيد والمتون في مائة حديث؛ يأخذون إسناد الحديث الأول ويجعلونه لمتن الثاني، ومتن الثاني يجعلونه في إسناد الأول إلى آخر المائة حديث، والتف الناس حول البخاري يسمعون عنه، فصيته قد وصل إليهم، فوقف أمامهم وكل منهم يسرد عليه عشرة أحاديث، والبخاري في كل حديث يقول: هذا الحديث لا أعرفه، فقال الأغرار الأغمار الذين لا يعرفون عن العلم شيئاً: هذا البخاري من أجهل الناس، ما من حديث يمر عليه إلا ويقول: لا أعرفه! ثم بعدما انتهت المائة قال البخاري: انتهيتم؟ قالوا: نعم، فقال للأول: أما أحاديثك فالأسانيد كذا والمتون كذا، فأخذ متون هذه الأسانيد فركبها تركيباً صحيحاً، ثم أخذ العشرة الثانية ثم الثالثة ثم الرابعة، إلى تمام المائة.
قال الحافظ ابن حجر: ليس العجب من أن البخاري يعلم بأن الأحاديث مركبة في غير أسانيدها؛ لأن له حافظة قوية، وإنما العجب كل العجب أن يحفظ العشرة الأولى والعشرة الثانية والثالثة إلى تمام المائة، ثم يأتي بالمتون الصحيحة فيركبها على الأسانيد الصحيحة!! وقد كان دأب المحدثين اختبار المحدث في ضبطه وإتقانه، من ذلك أن يحيى بن معين عندما دخل على الفضل بن دكين وهو ثقة ثبت حافظ، فسأله يحيى عن بعض الأحاديث، فكان يسرد الأحاديث فانتبه وقال: أدخل علي في حديث، ثم وقف فنظر إلى أحمد بن حنبل فقال له: أنت أورع من أن تفعل ذلك، ثم نظر إلى يحيى بن معين فرفسه برجله فألقاه في الأرض وقال: أنت تجرؤ على ذلك، فلما لامه أحمد بن حنبل قال: دع قولك، والله لرفسته عندي أفضل من مائة حديث أحفظه؛ لأنه تأكد أن هذا جهبذ يحفظ للأمة حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
وللمحدثين طرق يعدلون بها الراوي أو يضعفونه، منها أن ينظروا إلى حفظ الراوي، فأنفقوا الغالي والنفيس من أجل حفظ حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم أبو حاتم وأبو زرعة الرازي وعلي بن المديني ويحيى بن معين ويحيى بن سعيد القطان وشعبة، فهؤلاء وغيرهم اهتموا جداً بعلم الحديث، وصنفوا في ذلك كتب الجرح والتعديل.
فـ علي بن المديني صنف كتباً في علل الحديث، وابن القطان أيضاً له كلام في الجرح والتعديل، وصنف أبو زرعة، وصنف ابن أبي حاتم، ونقل أقوال أبي زرعة وأقوال أبيه أبي حاتم في كتابه الجرح والتعديل، والبخاري صنف كتاب التاريخ الكبير وكتاب التاريخ الصغير.
فكانوا يهتمون برجال الإسناد، وكانوا يقولون: سموا لنا رجالكم، حتى نرى هل هذا الحديث يمكن أن ينسب للنبي صلى الله عليه وسلم أم لا.
قال عبد الله بن المبارك: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.
وقال ابن سيرين: كانوا في الزمن الأول لا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة سألوا عن الإسناد؛ لكي يأخذوا أحاديث أهل السنة ويتركوا أحاديث أهل البدعة.
وقد بذل المحدثون غاية الجهد في تتبع الأسانيد وتقصيها حتى رحلوا من أجلها في البلاد، وجابوا الآفاق لكي يعثروا على الإسناد، وقد لاقوا المشاق والمصاعب في هذه الرحلات.
قال الإمام النووي: علم الحديث علم شريف يناسب مكارم الأخلاق ومحاسن الشيم، وهو من علوم الآخرة لا من علوم الدنيا، ومن حرمه فقد حرم خيراً كثيراً، ومن رزقه الله هذا العلم فقد نال فضلاً جزيلاً.
সুন্নাহ সংরক্ষণে হাদিস শাস্ত্রবিদগণের প্রচেষ্টানিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের প্রতি এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি এমন কিছু বিজ্ঞ মনীষী সৃষ্টি করেছেন যারা এই সুন্নাহর জন্য জীবন অতিবাহিত করেন এবং তা হিফাজত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [হিজর: ৯]। সুতরাং তারা সেই সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত মনোনিবেশ করতেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করতেন। তাদের মধ্যে কেউ তার সমস্ত সম্পদ ব্যয় করেছেন, কেউ তার জীবন ও শ্রম ব্যয় করেছেন, রাত জেগেছেন এবং এই সনদের খাতিরে নিজেকে ক্লান্ত করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ছিলেন একজন নেককার ব্যক্তি এবং সনদ শাস্ত্র, সমালোচনা ও বর্ণনাকারী (রাবি) শাস্ত্রের একজন দিকপাল। তার কাছে দশ লক্ষ দিরহাম বা দশ লক্ষ দিনার ছিল, যার পুরোটাই তিনি সনদ শাস্ত্রের পেছনে ব্যয় করে দিয়েছিলেন। তিনি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তে ভ্রমণ করতেন যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ করতে পারেন এবং জানতে পারেন কে সেই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা হবে আর কে সেই দুর্বল ব্যক্তি যার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা হবে না।
এর মধ্যে ইমাম বুখারি যখন বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন তখনকার সেই বিখ্যাত ঘটনাটিও রয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: এর সনদে কিছুটা কথা (আপত্তি) আছে, তবে এই ঘটনাটি আপনাকে স্পষ্ট করে দেয় যে, মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা (দাবত) ও ন্যায়পরায়ণতার (আদালত) প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।
যখন বুখারি তাদের নিকট আসলেন, তারা একশত হাদিসের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উল্টেপাল্টে দিলেন; তারা প্রথম হাদিসের সনদ নিয়ে দ্বিতীয়টির মতনের সাথে জুড়ে দিলেন এবং দ্বিতীয়টির মতন প্রথমটির সনদের সাথে লাগিয়ে দিলেন—এভাবে একশত হাদিস পর্যন্ত করলেন। মানুষ বুখারিকে ঘিরে ধরল তার থেকে হাদিস শোনার জন্য, কারণ তার খ্যাতি ততক্ষণে তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তিনি তাদের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদের প্রত্যেকে তার কাছে দশটি করে হাদিস পেশ করতে লাগলেন। বুখারি প্রতিটি হাদিস সম্পর্কে বলছিলেন: "এই হাদিসটি আমি চিনি না।" তখন সেই নির্বোধ ও অজ্ঞরা, যারা ইলম সম্পর্কে কিছুই জানত না, তারা বলল: "এই বুখারি তো সবচেয়ে মূর্খ লোক, যে হাদিসই তার সামনে পড়া হচ্ছে সে বলছে আমি জানি না!" এরপর যখন একশত হাদিস শেষ হলো, বুখারি বললেন: "তোমাদের শেষ হয়েছে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তখন তিনি প্রথম ব্যক্তিকে বললেন: "তোমার হাদিসগুলোর সনদ ছিল এমন আর মতন ছিল এমন।" এভাবে তিনি এই সনদগুলোর মতনগুলো নিয়ে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় দশটি, তারপর তৃতীয়, তারপর চতুর্থ—এভাবে একশত হাদিস পূর্ণ করলেন।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: বুখারি যে হাদিসগুলো ভুল সনদে বসানো হয়েছে তা বুঝতে পেরেছেন এটা আশ্চর্যের বিষয় নয়; কারণ তার মুখস্থ শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। বরং চরম আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি যেভাবে প্রথম দশটি, দ্বিতীয় দশটি, তৃতীয় দশটি করে একশতটি হাদিস (যেভাবে ভুল করে শোনানো হয়েছিল সেভাবেই) মুখস্থ করে নিলেন এবং এরপর সঠিক মতনগুলোকে সঠিক সনদের ওপর বিন্যস্ত করলেন!! মুহাদ্দিসগণের অভ্যাসই ছিল কোনো মুহাদ্দিসের নির্ভুলতা ও পারদর্শিতা পরীক্ষা করা। এমনই একটি ঘটনা হলো যখন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ফজল ইবনে দুকাইনের কাছে গেলেন, যিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী স্মৃতিধর হাফিজ ছিলেন। ইয়াহইয়া তাকে কিছু হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি হাদিসগুলো গড়গড় করে বলে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি সচেতন হলেন এবং বললেন: "আমার হাদিসের মধ্যে অন্য হাদিস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।" এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের দিকে তাকিয়ে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বললেন: "তুমি এমন কাজ করার চেয়ে অনেক বেশি পরহেজগার।" এরপর তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের দিকে তাকিয়ে তাকে পা দিয়ে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিলেন এবং বললেন: "তুমি এই দুঃসাহস দেখাও!" আহমদ ইবনে হাম্বল যখন তাকে তিরস্কার করলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমার কথা রাখো, আল্লাহর কসম, আমার কাছে তাকে এই লাথি মারাটি আমার মুখস্থ করা একশত হাদিসের চেয়েও উত্তম; কারণ এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেল যে তিনি একজন বিজ্ঞ মনীষী যিনি উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস হিফাজত করছেন।"
মুহাদ্দিসগণের এমন কিছু পদ্ধতি ছিল যার মাধ্যমে তারা বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করতেন অথবা তাকে দুর্বল বলতেন। এর মধ্যে একটি হলো বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির দিকে লক্ষ্য করা। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস হিফাজতের জন্য মূল্যবান সবকিছু ব্যয় করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হাতিম, আবু যুরআহ আর-রাজি, আলী ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং শুবা। তারা এবং তাদের মতো আরও অনেকে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে 'জারহ ওয়া তাদিল' (সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।
আলী ইবনুল মাদিনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনুল কাত্তানেরও জারহ ওয়া তাদিল বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে। আবু যুরআহ গ্রন্থ রচনা করেছেন, ইবনে আবি হাতিম গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তিনি তার 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' গ্রন্থে আবু যুরআহ ও তার পিতা আবু হাতিমের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারি 'তারিখুল কাবীর' ও 'তারিখুস সাগীর' গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তারা সনদের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিতেন এবং তারা বলতেন: "তোমরা আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো," যাতে আমরা দেখতে পারি এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা সম্ভব কি না।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: "সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। সনদ না থাকলে যে যা খুশি তা-ই বলত।"
ইবনে সিরিন বলেছেন: "প্রথম যুগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন; যাতে তারা আহলুস সুন্নাহর হাদিস গ্রহণ করতে পারেন এবং বিদআতিদের হাদিস বর্জন করতে পারেন।"
মুহাদ্দিসগণ সনদের অনুসন্ধানে এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তালাশ করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, এমনকি এর জন্য তারা দেশ-দেশান্তরে সফর করেছেন। সনদ খুঁজে পাওয়ার জন্য তারা দিগন্ত চষে বেড়িয়েছেন এবং এই সফরে তারা অনেক কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
ইমাম নববী বলেছেন: "হাদিস শাস্ত্র একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান যা মহৎ চরিত্র ও উত্তম বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি পরকালীন জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, দুনিয়াবি জ্ঞান নয়। যে ব্যক্তি এটি থেকে বঞ্চিত হলো সে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, আর আল্লাহ যাকে এই ইলম দান করেছেন সে এক বিশাল শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করল।"
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
تدوين السنة النبويةإن الله امتن على هذه الأمة بأن خلق جهابذة يعيشون لهذه السنة ويحفظونها، قال الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9]، فكانوا يعتنون بالرجال الذين يروون حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فمنهم من أنفق كل ماله، ومنهم من أنفق عمره وجهده، وأسهر ليله، وأتعب نفسه من أجل هذا الإسناد.
فمثلاً يحيى بن معين كان رجلاً فاضلاً فحلاً في علم الأسانيد وعلم النقد والرجال، كان يمتلك ألف ألف درهم أو ألف ألف دينار فأنفقها عن بكرة أبيها في علم الإسناد، وكان يجوب مشارق البلاد ومغاربها حتى ينقي حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ويعلم من الثقة الذي يأخذ منه الحديث ومن الضعيف الذي لا يأخذ منه الحديث.
ومن ذلك القصة المشهورة عن البخاري عندما دخل بغداد، وهذه القصة قال الحافظ ابن حجر: إسنادها فيه كلام، لكن هذه القصة تبين لك أن المحدثين كانوا يعتنون جداً بضبط المحدث وعدالة المحدث.
لما دخل البخاري عليهم قلبوا له الأسانيد والمتون في مائة حديث؛ يأخذون إسناد الحديث الأول ويجعلونه لمتن الثاني، ومتن الثاني يجعلونه في إسناد الأول إلى آخر المائة حديث، والتف الناس حول البخاري يسمعون عنه، فصيته قد وصل إليهم، فوقف أمامهم وكل منهم يسرد عليه عشرة أحاديث، والبخاري في كل حديث يقول: هذا الحديث لا أعرفه، فقال الأغرار الأغمار الذين لا يعرفون عن العلم شيئاً: هذا البخاري من أجهل الناس، ما من حديث يمر عليه إلا ويقول: لا أعرفه! ثم بعدما انتهت المائة قال البخاري: انتهيتم؟ قالوا: نعم، فقال للأول: أما أحاديثك فالأسانيد كذا والمتون كذا، فأخذ متون هذه الأسانيد فركبها تركيباً صحيحاً، ثم أخذ العشرة الثانية ثم الثالثة ثم الرابعة، إلى تمام المائة.
قال الحافظ ابن حجر: ليس العجب من أن البخاري يعلم بأن الأحاديث مركبة في غير أسانيدها؛ لأن له حافظة قوية، وإنما العجب كل العجب أن يحفظ العشرة الأولى والعشرة الثانية والثالثة إلى تمام المائة، ثم يأتي بالمتون الصحيحة فيركبها على الأسانيد الصحيحة!! وقد كان دأب المحدثين اختبار المحدث في ضبطه وإتقانه، من ذلك أن يحيى بن معين عندما دخل على الفضل بن دكين وهو ثقة ثبت حافظ، فسأله يحيى عن بعض الأحاديث، فكان يسرد الأحاديث فانتبه وقال: أدخل علي في حديث، ثم وقف فنظر إلى أحمد بن حنبل فقال له: أنت أورع من أن تفعل ذلك، ثم نظر إلى يحيى بن معين فرفسه برجله فألقاه في الأرض وقال: أنت تجرؤ على ذلك، فلما لامه أحمد بن حنبل قال: دع قولك، والله لرفسته عندي أفضل من مائة حديث أحفظه؛ لأنه تأكد أن هذا جهبذ يحفظ للأمة حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
وللمحدثين طرق يعدلون بها الراوي أو يضعفونه، منها أن ينظروا إلى حفظ الراوي، فأنفقوا الغالي والنفيس من أجل حفظ حديث النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم أبو حاتم وأبو زرعة الرازي وعلي بن المديني ويحيى بن معين ويحيى بن سعيد القطان وشعبة، فهؤلاء وغيرهم اهتموا جداً بعلم الحديث، وصنفوا في ذلك كتب الجرح والتعديل.
فـ علي بن المديني صنف كتباً في علل الحديث، وابن القطان أيضاً له كلام في الجرح والتعديل، وصنف أبو زرعة، وصنف ابن أبي حاتم، ونقل أقوال أبي زرعة وأقوال أبيه أبي حاتم في كتابه الجرح والتعديل، والبخاري صنف كتاب التاريخ الكبير وكتاب التاريخ الصغير.
فكانوا يهتمون برجال الإسناد، وكانوا يقولون: سموا لنا رجالكم، حتى نرى هل هذا الحديث يمكن أن ينسب للنبي صلى الله عليه وسلم أم لا.
قال عبد الله بن المبارك: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.
وقال ابن سيرين: كانوا في الزمن الأول لا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة سألوا عن الإسناد؛ لكي يأخذوا أحاديث أهل السنة ويتركوا أحاديث أهل البدعة.
وقد بذل المحدثون غاية الجهد في تتبع الأسانيد وتقصيها حتى رحلوا من أجلها في البلاد، وجابوا الآفاق لكي يعثروا على الإسناد، وقد لاقوا المشاق والمصاعب في هذه الرحلات.
قال الإمام النووي: علم الحديث علم شريف يناسب مكارم الأخلاق ومحاسن الشيم، وهو من علوم الآخرة لا من علوم الدنيا، ومن حرمه فقد حرم خيراً كثيراً، ومن رزقه الله هذا العلم فقد نال فضلاً جزيلاً.
সুন্নাহ নববী সংকলননিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি এমন কিছু বিজ্ঞ মনীষী সৃষ্টি করেছেন যারা এই সুন্নাহর জন্যই জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং একে সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন ও সুন্নাহ) অবতীর্ণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই তার সংরক্ষক।" [হিজর: ৯]। তাঁরা সেই ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ নিজের সমস্ত সম্পদ ব্যয় করেছেন, কেউ নিজের জীবন ও শ্রম ব্যয় করেছেন, রাত জেগেছেন এবং এই ইসনাদ বা সূত্রের খাতিরে নিজেকে পরিশ্রান্ত করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ছিলেন একজন নেককার ব্যক্তি এবং ইসনাদ শাস্ত্র, সমালোচনা শাস্ত্র ও বর্ণনাকারী বিজ্ঞানে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁর দশ লক্ষ দিরহাম বা দশ লক্ষ দিনার ছিল, যার পুরোটাই তিনি ইসনাদ শাস্ত্রের পেছনে ব্যয় করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে পরিচ্ছন্ন ও বিশুদ্ধ করার জন্য পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভ্রমণ করতেন এবং জানতেন কে সেই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাবে এবং কে সেই দুর্বল ব্যক্তি যার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাবে না।
এর মধ্যে ইমাম বুখারীর সেই বিখ্যাত কাহিনীটি উল্লেখযোগ্য যখন তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন। এই কাহিনী সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: এর ইসনাদে কিছু কথা (দুর্বলতা) আছে, তবে এই কাহিনীটি আপনাকে স্পষ্ট করে দেয় যে মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা এবং ন্যায়পরায়ণতার প্রতি কতটা যত্নবান ছিলেন।
যখন ইমাম বুখারী তাঁদের কাছে আসলেন, তখন তাঁরা তাঁর পরীক্ষার জন্য ১০০টি হাদীসের ইসনাদ ও মতন (মূল পাঠ) উল্টেপাল্টে পেশ করলেন; তাঁরা প্রথম হাদীসের ইসনাদ নিয়ে দ্বিতীয় হাদীসের মতনের সাথে যুক্ত করলেন এবং দ্বিতীয় হাদীসের মতন নিয়ে প্রথম হাদীসের ইসনাদের সাথে যুক্ত করলেন—এভাবে একশ হাদীস পর্যন্ত করলেন। ইমাম বুখারীর কথা শোনার জন্য মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছিল, কারণ তাঁর খ্যাতি পূর্বেই তাঁদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তিনি তাঁদের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাঁদের প্রত্যেকে দশটি করে হাদীস পাঠ করে শোনালেন। ইমাম বুখারী প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে বললেন: "এটি আমার জানা নেই।" তখন যে অল্পজ্ঞানী ও নির্বোধরা ইলম সম্পর্কে কিছুই জানত না, তারা বলতে লাগল: "এই বুখারী তো সবচেয়ে বড় অজ্ঞ ব্যক্তি, যে হাদীসই তার কাছে পেশ করা হচ্ছে সে বলছে সে তা চেনে না!" এরপর যখন একশ হাদীস শেষ হলো, বুখারী বললেন: "তোমাদের শেষ হয়েছে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তখন তিনি প্রথম ব্যক্তিকে বললেন: "তোমার প্রথম হাদীসগুলোর ইসনাদ এমন এবং মতন এমন..." এভাবে তিনি প্রতিটি ভুল ইসনাদ ও মতনকে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করে দিলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় দশটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ—এভাবে একশ হাদীস পূর্ণ করলেন।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: ইমাম বুখারী যে জানতেন হাদীসগুলো তাদের সঠিক ইসনাদের সাথে নেই—তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। বরং পরম আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, তিনি প্রথম দশটি, দ্বিতীয় দশটি, তৃতীয় দশটি—এভাবে একশটি ভুল বিন্যাসও মুখস্থ করে নিলেন এবং পরে সেগুলোর সঠিক মতনকে সঠিক ইসনাদের ওপর স্থাপন করলেন!! মুহাদ্দিসগণের অভ্যাসই ছিল বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা ও সংলক্ষণের পরীক্ষা নেওয়া। যেমন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন যখন ফজল ইবনে দুকাইনের কাছে গেলেন—যিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ—তখন ইয়াহইয়া তাঁকে কিছু হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি হাদীসগুলো পাঠ করছিলেন, তখন তিনি সচেতন হয়ে বললেন: "তুমি আমার একটি হাদীসের ভেতরে অন্যটি ঢুকিয়ে দিয়েছ (পরীক্ষা করার জন্য)।" এরপর তিনি থামলেন এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলের দিকে তাকিয়ে বললেন: "তুমি এমন কাজ করার চেয়ে অনেক বেশি পরহেজগার।" এরপর তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের দিকে তাকিয়ে তাঁকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিলেন এবং বললেন: "তোমারই সাহস হয়েছে এমনটি করার!" যখন আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁকে তিরস্কার করলেন, তখন ইয়াহইয়া বললেন: "থামো, আল্লাহর কসম, তাঁর এই লাথি আমার কাছে আমি মুখস্থ করি এমন একশ হাদীসের চেয়েও উত্তম; কারণ এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেল যে তিনি একজন বিচক্ষণ মনীষী যিনি উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করছেন।"
মুহাদ্দিসদের কাছে এমন কিছু পদ্ধতি ছিল যার মাধ্যমে তাঁরা বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করতেন অথবা তাকে দুর্বল বলতেন। এর মধ্যে একটি হলো বর্ণনাকারীর হেফজ বা স্মৃতিশক্তির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সংরক্ষণের জন্য তাঁরা মূল্যবান সবকিছু এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হাতিম, আবু যুরআহ আর-রাজি, আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং শুবা। তাঁরা এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে হাদীস শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও সত্যায়ন) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।
আলী ইবনুল মাদিনী ইল্লালুল হাদীস (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনুল কাত্তানেরও জারহ ও তাদীল বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে। আবু যুরআহ এবং ইবনে আবু হাতিমও গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনে আবু হাতিম তাঁর 'আল-জারহ ওয়াত তাদীল' গ্রন্থে আবু যুরআহ এবং তাঁর পিতা আবু হাতিমের বক্তব্যসমূহ সংকলন করেছেন। ইমাম বুখারী 'তারিখুল কাবীর' এবং 'তারিখুস সাগীর' গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁরা ইসনাদের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং বলতেন: "তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম আমাদের বলো," যাতে আমরা দেখতে পারি এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা সম্ভব কি না।
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: "ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।"
ইবনে সিরীন বলেছেন: "আগের যুগে লোকেরা ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না। কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করল; যাতে তারা আহলুস সুন্নাহর হাদীস গ্রহণ করতে পারে এবং বিদআতিদের হাদীস বর্জন করতে পারে।"
মুহাদ্দিসগণ ইসনাদ অনুসন্ধান ও তা যাচাই করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, এমনকি এর জন্য তাঁরা বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। ইসনাদ খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁরা দিগন্ত চষে বেড়িয়েছেন এবং এই সফরে তাঁরা অনেক কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
ইমাম নববী বলেছেন: "হাদীস শাস্ত্র একটি মহান শাস্ত্র যা উত্তম চরিত্র ও উন্নত স্বভাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি পরকালীন বিদ্যাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, পার্থিব কোনো বিদ্যা নয়। যে ব্যক্তি এ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। আর আল্লাহ যাকে এই ইলম দান করেছেন, সে এক বিশাল মর্যাদা লাভ করেছে।"
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
أول من دون السنة النبويةأول من اعتنى بجمع الأحاديث النبوية وتدوين الأحاديث محمد بن مسلم الزهري، وكان بحراً في العلوم ثقة، لكن قال العلماء: كان مدلساً، وهذا التدليس الذي نسب للزهري من المرتبة الثانية، وهي طبقة المكثرين؛ لأن الإمام الزهري كان واسع العلم في الحديث، ولما اتهم بالتدليس قال العلماء: هذا التدليس يغتفر في كثرة أحاديثه، فهو أول من دون الأحاديث بأمر من الخليفة عمر بن عبد العزيز.
সুন্নাহ নববী সর্বপ্রথম সংকলনকারীরাসূলুল্লাহর হাদীস সংগ্রহ ও তা সংকলনের কাজে সর্বপ্রথম যিনি মনোনিবেশ করেছিলেন তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি। তিনি ইলমের এক বিশাল সমুদ্র এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন; তবে উলামায়ে কেরাম বলেছেন: তিনি ‘মুদাল্লিস’ ছিলেন। ইমাম জুহরির প্রতি আরোপিত এই ‘তাদলিস’ দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, যা অধিক হাদীস বর্ণনাকারীদের একটি স্তর। কারণ ইমাম আজ-জুহরি হাদীস শাস্ত্রে প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। যখন তাঁর প্রতি ‘তাদলিস’-এর অভিযোগ করা হয়, তখন উলামায়ে কেরাম বলেছিলেন: তাঁর বর্ণিত হাদীসের প্রাচুর্যের কারণে এই ‘তাদলিস’ মার্জনীয়। সুতরাং খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে তিনিই সর্বপ্রথম হাদীস সংকলন করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
نبذة مختصرة عن أهم دواوين السنةالكتب الستة هي البخاري ومسلم وسنن أبي داود وسنن النسائي وسنن الترمذي وسنن ابن ماجة.
والكتب التسعة هي الستة السابقة مع الموطأ ثم المسند ثم سنن الدارمي، ويجمع الكتب التسعة كتاب يساعد المرء على تخريج الأحاديث، وهو كتاب المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي.
وكتاب البخاري يسمى الجامع الصحيح، وصحيح مسلم اسمه الجامع الصحيح المسند، وسنن الترمذي اشتهر على ألسنة الناس تسميته بالسنن، واسمه الحقيقي الجامع الصحيح، والبقية تسمى سنناً: وهي سنن ابن ماجة وسنن النسائي، وسنن أبي داود.
وترتيبها في الصحة: البخاري ثم مسلم، خلافاً للمغاربة الذي يقدمون مسلماً على البخاري، ثم سنن أبي داود ثم الترمذي ثم النسائي ثم ابن ماجة.
قال العلماء: مراتب الصحة كالتالي: ما اتفق عليه الشيخان، ثم ما انفرد به البخاري، ثم ما انفرد به مسلم، ثم ما كان على شرطهما -شرط البخاري ومسلم -، ثم ما كان على شرط البخاري، ثم ما كان على شرط مسلم، ثم ما كان في السنن الأربع.
وسنن أبي داود تقدم على سنن الترمذي، مع أن سنن أبي داود اهتمت بأحاديث الأحكام، وليس فيها أحاديث الفضائل والزهد، وسنن أبي داود تجمع الصحيح والحسن والضعيف.
لكن هناك نكتة في كتاب سنن أبي داود، وهي الأحاديث التي سكت عنها، فـ النووي يعتمد على سكوت أبي داود ويجعله تصحيحاً لما سكت عنه، والصحيح الراجح أن سكوت أبي داود ليس تصحيحاً للحديث، بل لا بد أن يبحث في الأحاديث التي سكت عنها ليحكم عليها بالصحة أو الضعف.
وبعده سنن الترمذي، فقد اهتم الترمذي كثيراً بالعلل؛ لأنه كان تلميذاً للبخاري، والبخاري كان أقوى الناس في مسألة العلل، واستفاد ذلك من شيخه علي بن المديني، فكان الترمذي يأخذ منه هذا العلم؛ ولذلك ترى شرح علل الترمذي لـ ابن رجب مستقى من هذا الكتاب.
وأما النسائي فإنه يأتي بالأسانيد الكثيرة؛ والباحث الذي يريد أن يبحث عن أسانيد كثيرة يجدها في سنن النسائي.
أما سنن ابن ماجة فهو أقل السنن الأربع مرتبة على الإطلاق؛ لكثرة الأحاديث الضعيفة فيه كما ذكر ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية.
أما الموطأ للإمام مالك فقد قال فيه الشافعي: أصح كتاب بعد كتاب الله هو موطأ الإمام مالك، وهو كتاب عظيم جليل لكن فيه بلاغات، والبلاغ هو إسقاط السند فيروي عن ابن عباس أو عن أبي هريرة أو عن نافع، فيقول: بلغني عن نافع، بلغني عن ابن عباس، بلغني عن أبي هريرة، ولا يذكر الإسناد، وهذه البلاغات ضعيفة إلا إذا نظرنا إلى الإسناد فنحكم عليه بالصحة أو الضعف.
وتوجيه قول الشافعي: أصح كتاب بعد كتاب الله هو موطأ الإمام مالك، أن الشافعي من طبقة شيوخ الإمام البخاري، فلم يصنف الإمام البخاري كتابه في حياة الشافعي.
ومسند الإمام أحمد بن حنبل من أجمع الكتب للمسانيد، بدأ فيه بمسند أبي بكر ثم بقية العشرة المبشرين بالجنة، ثم بعد ذلك مسانيد الصحابة، قال أحمد لابنه عبد الله: إن هذا الكتاب سيكون مصدراً يرجع إليه الناس في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان ذلك، لكن أخذ عليه بعض العلماء أن فيه أحاديث موضوعة، وقد ذكرها ابن الجوزي، ورد عليه ابن حجر في كتاب الذب المسدد عن المسند، والصحيح أن فيه الصحيح والحسن والضعيف، ويغلب عليه الصحة والحسن، والمسند فيه كثير من الأحاديث الصحيحة والحسنة، وفيه أيضاً بعض الأحاديث الضعيفة.
وسنن الدارمي فيه الصحيح والحسن والضعيف، ويغلب عليه الحسن والضعيف.
সুন্নাহর প্রধান হাদীস গ্রন্থসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখাছয়টি কিতাব (কুতুবুস সিত্তা) হলো বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে তিরমিযী এবং সুনানে ইবনে মাজাহ।
আর নয়টি কিতাব (কুতুবুত তিসআ) হলো পূর্বোক্ত ছয়টি কিতাব এবং তার সাথে মুয়াত্তা, মুসনাদ ও সুনানে দারেমী। এই নয়টি কিতাব থেকে হাদীস খুঁজে বের করতে সহায়তা করে এমন একটি গ্রন্থ হলো 'আল-মু’জামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদীসিন নাবাবী'।
বুখারীর কিতাবটিকে 'আল-জামেউস সহীহ' বলা হয়। সহীহ মুসলিমের নাম হলো 'আল-জামেউস সহীহুল মুসনাদ'। সুনানে তিরমিযী মানুষের মুখে 'সুনান' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করলেও এর প্রকৃত নাম হলো 'আল-জামেউস সহীহ'। বাকিগুলোকে 'সুনান' বলা হয়; সেগুলো হলো: সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে নাসাঈ এবং সুনানে আবু দাউদ।
বিশুদ্ধতার বিচারে এগুলোর ক্রমধারা হলো: বুখারী, তারপর মুসলিম—মাগরিববাসীদের (উত্তর আফ্রিকা ও স্পেনীয় মুসলিম পণ্ডিতগণ) ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও, যারা মুসলিমকে বুখারীর চেয়ে অগ্রগণ্য মনে করেন—এরপর সুনানে আবু দাউদ, তারপর তিরমিযী, তারপর নাসাঈ এবং পরিশেষে ইবনে মাজাহ।
উলামায়ে কেরাম বলেন: বিশুদ্ধতার স্তরগুলো নিম্নরূপ: যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) উভয়ে বর্ণনা করতে একমত হয়েছেন, তারপর যা বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তারপর যা মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তারপর যা উভয়ের শর্ত অনুযায়ী (বুখারী ও মুসলিমের শর্ত) বিশুদ্ধ, তারপর যা বুখারীর শর্ত অনুযায়ী হয়েছে, তারপর যা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী হয়েছে, এবং এরপর যা চার সুনান গ্রন্থে রয়েছে।
সুনানে আবু দাউদকে সুনানে তিরমিযীর আগে রাখা হয়, যদিও সুনানে আবু দাউদ মূলত আহকামের (শরিয়তের বিধান সংক্রান্ত) হাদীসসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং এতে ফাযায়েল (মর্যাদা) ও যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) সংক্রান্ত হাদীস নেই। সুনানে আবু দাউদে সহীহ, হাসান এবং যঈফ হাদীস একত্রিত রয়েছে।
তবে সুনানে আবু দাউদ কিতাবটিতে একটি বিশেষ বিষয় রয়েছে, আর তা হলো সেই হাদীসগুলো যেগুলোর ব্যাপারে ইমাম আবু দাউদ নীরব থেকেছেন। ইমাম নববী আবু দাউদের এই মৌনতাকে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি যেগুলোর ব্যাপারে নীরব থেকেছেন সেগুলোকে সহীহ হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে সঠিক ও শক্তিশালী মত হলো, আবু দাউদের মৌনতা হাদীস সহীহ হওয়ার অকাট্য প্রমাণ নয়; বরং যে হাদীসগুলোর ব্যাপারে তিনি মৌন থেকেছেন সেগুলোকে সহীহ বা যঈফ হওয়ার মানদণ্ডে বিচার করার জন্য পুনরায় গবেষণা করা আবশ্যক।
এরপর হলো সুনানে তিরমিযী। ইমাম তিরমিযী 'ইলাল' বা হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলোর বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন; কারণ তিনি ছিলেন ইমাম বুখারীর ছাত্র। আর ইমাম বুখারী হাদীসের ত্রুটি নির্ণয়ে সমকালের শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যা তিনি তার উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীর কাছ থেকে অর্জন করেছিলেন। ইমাম তিরমিযী তার কাছ থেকেই এই জ্ঞান গ্রহণ করেছিলেন; এই কারণেই ইবনে রজব কর্তৃক লিখিত 'শারহু ইলালিত তিরমিযী' গ্রন্থটি মূলত এই কিতাব থেকেই উৎসারিত।
আর ইমাম নাসাঈর বৈশিষ্ট্য হলো তিনি অসংখ্য সনদ (বর্ণনাপরম্পরা) নিয়ে আসেন; যে গবেষক অধিক সনদ অনুসন্ধান করতে চান, তিনি সুনানে নাসাঈতে তা খুঁজে পাবেন।
পক্ষান্তরে সুনানে ইবনে মাজাহ হলো চার সুনানের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সবার নিচে; কারণ এতে যঈফ হাদীসের আধিক্য রয়েছে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন।
ইমাম মালিকের মুয়াত্তা সম্পর্কে ইমাম শাফেঈ বলেছেন: আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হলো ইমাম মালিকের মুয়াত্তা। এটি একটি মহান ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাব, তবে এতে কিছু 'বালাগাত' (বিচ্ছিন্ন সনদ) রয়েছে। 'বালাগ' হলো সনদের মধ্যবর্তী অংশ বাদ দিয়ে বর্ণনা করা; যেমন তিনি ইবনে আব্বাস বা আবু হুরায়রা বা নাফে’ থেকে বর্ণনা করার সময় বলেন: "আমার কাছে নাফে’ থেকে পৌঁছেছে", "আমার কাছে ইবনে আব্বাস থেকে পৌঁছেছে", "আমার কাছে আবু হুরায়রা থেকে পৌঁছেছে"—কিন্তু তিনি পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেন না। এই 'বালাগাত'গুলো যঈফ বলে গণ্য, যদি না আমরা অন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ সনদের মাধ্যমে সেটির বিশুদ্ধতা যাচাই করতে পারি।
ইমাম শাফেঈর উক্তি "আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হলো ইমাম মালিকের মুয়াত্তা"—এর যথার্থতা হলো এই যে, ইমাম শাফেঈ ছিলেন ইমাম বুখারীর উস্তাদদের সমপর্যায়ের; ফলে ইমাম বুখারী তখনো ইমাম শাফেঈর জীবদ্দশায় তার কিতাব সংকলন করেননি।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মুসনাদ হলো মুসনাদ গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সুবিন্যস্ত ও ব্যাপক। তিনি এতে আবু বকরের মুসনাদ দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবীর মুসনাদ, এরপর অন্যান্য সাহাবীদের মুসনাদসমূহ নিয়ে এসেছেন। ইমাম আহমদ তার পুত্র আবদুল্লাহকে বলেছিলেন: এই কিতাবটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য একটি প্রধান উৎস হবে, আর বাস্তবেও তাই হয়েছে। তবে কোনো কোনো আলেম এর সমালোচনা করে বলেছেন যে এতে কিছু জাল হাদীস রয়েছে, যা ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন। হাফেয ইবনে হাজার তার 'আয-যাব্বুল মুসাদ্দাদ আনিল মুসনাদ' কিতাবে এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। সঠিক কথা হলো এতে সহীহ, হাসান এবং যঈফ হাদীস বিদ্যমান, তবে সহীহ ও হাসান হাদীসের সংখ্যাই বেশি। মুসনাদে আহমদ প্রচুর সহীহ ও হাসান হাদীস রয়েছে এবং এর পাশাপাশি কিছু যঈফ হাদীসও রয়েছে।
সুনানে দারেমীতে সহীহ, হাসান এবং যঈফ হাদীস রয়েছে; তবে এতে হাসান ও যঈফ হাদীসের হারই তুলনামূলক বেশি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الرد على من يطعن في صحيحي البخاري ومسلمأصح الكتب بعد كتاب الله جل في علاه هما صحيحا البخاري ومسلم، وقد خرج بعض الرعاع الذين لا يعرفون من دين الله شيئاً، يهرفون بما لا يعرفون، وصاروا يطعنون في الجبال التي نستند عليها، يطعنون في البخاري، ويطعنون في مسلم، ويقولون: صحيح البخاري مليء بالأحاديث الضعيفة، ومسلم مليء بالأحاديث الضعيفة.
وبعضهم متنطع أخرج خمسة وعشرين حديثاً زعم أنها موضوعة وهي في صحيح البخاري، وذكر من ذلك حديث أم حرام أن النبي صلى الله عليه وسلم: (كان يدخل على أم حرام فتفلي رأسه)، قال هذا المتنطع: النبي صلى الله عليه وسلم قد صح عنه أنه نهى عن الخلوة بالمرأة الأجنبية، فكيف يخلو بالمرأة الأجنبية؟! والأمر الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهانا عن لمس المرأة الأجنبية وقال: (لأن يطعن أحدكم بمخيط في رأسه خير له من أن يمس امرأة لا تحل له)، وقد مسته هذه المرأة، فكيف نصحح هذا الحديث؟! أيضاً رد حديث لطم موسى لملك الموت، وقال: هو حديث ضعيف جداً؛ لأن موسى لا يستطيع أن يجابه قوة ملك الموت ويلطمه على وجهه.
أيضاً رد أهل البدع حديث الرؤية، ردوه إما بالتأويل وإما بالتضعيف، فهؤلاء خرجوا علينا ليطعنوا في الأسس والثوابت وهي كتب الصحاح وكتب السنن، فكيف نرد عليهم إن لم نعلم هذه الدرجات، ونعلم أن صحيح البخاري هو أصح الكتب بعد كتاب الله جل في علاه؟! منذ مدة قريبة كان الناس يقسمون بـ البخاري، ويحسبونه قرآناً، فعندما يأتي هذا ليهدم علينا هذا الأصل فمعناه أنه لا هوية إسلامية عندنا، ولا قوة لنا في استدلالنا، وهذا يعني أن نرجع إلى القرآنيين ولا نأخذ بأحاديث النبي صلى الله عليه وسلم.
ومنهم خالد الجندي قال: البخاري يروي أن النبي صلى الله عليه وسلم تزوج عائشة في سن السادسة، وأنا عندي عقل يقبل ويرد، فهذا الحديث لا يمكن أن يقبل، ولا يمكن أن يكون صحيحاً؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم الشفوق الرحيم بالأمة لا يمكن أن يتزوج طفلة عمرها ست سنوات! فإذا لم تتعرفوا على هذه الكتب كيف ستردون على هؤلاء المبتدعة الذي تمكنوا الآن، وهم يضربون السنة في قلبها بتضعيف أحاديث في البخاري أو في مسلم.
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সমালোচনাকারীদের খণ্ডনমহা মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাবদ্বয় হলো সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। বর্তমানে এমন কিছু অর্বাচীন লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে কিছুই জানে না। তারা না বুঝেই আবোল-তাবোল বকছে এবং সেই পর্বতসম স্তম্ভগুলোর ওপর আঘাত হানছে যেগুলোর ওপর আমরা নির্ভর করি। তারা বুখারীর সমালোচনা করছে, মুসলিমের সমালোচনা করছে এবং বলছে: সহীহ বুখারী দুর্বল হাদিসে পরিপূর্ণ এবং সহীহ মুসলিমও দুর্বল হাদিসে পরিপূর্ণ।
তাদের মধ্যে জনৈক অতি-তর্কপ্রিয় ব্যক্তি পঁচিশটি হাদিস বের করে দাবি করেছে যে সেগুলো জাল, অথচ সেগুলো সহীহ বুখারীতে বিদ্যমান। এর মধ্যে সে উম্মে হারামের হাদিসটি উল্লেখ করেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হারামের নিকট প্রবেশ করতেন এবং তিনি (উম্মে হারাম) তাঁর মাথা থেকে উকুন বেছে দিতেন। এই অতি-তর্কপ্রিয় ব্যক্তিটি বলেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করতে নিষেধ করেছেন, তাহলে তিনি কীভাবে একজন বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করলেন?! দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বেগানা নারীকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: ‘তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক বিদ্ধ হওয়া তার জন্য এমন নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে উত্তম যা তার জন্য বৈধ নয়’। অথচ এই নারী তাঁকে স্পর্শ করেছেন, সুতরাং আমরা কীভাবে এই হাদিসটিকে সহীহ বলব?! এছাড়াও সে মূসা (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক মৃত্যুর ফেরেশতাকে চড় মারার হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে: এটি অত্যন্ত দুর্বল হাদিস; কারণ মূসা (আলাইহিস সালাম) মৃত্যুর ফেরেশতার শক্তির মোকাবিলা করতে এবং তাঁর মুখে চড় মারতে সক্ষম নন।
একইভাবে বিদআতিরা আল্লাহকে দেখার (রুইয়াত) হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা হয় এগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে অথবা এগুলোকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছে। মূলত এরা আমাদের সামনে এসেছে মূলভিত্তি ও ধ্রুব সত্যসমূহ অর্থাৎ সহীহ ও সুনান গ্রন্থগুলোর ওপর আঘাত হানতে। সুতরাং আমরা যদি হাদিসের এই স্তরগুলো সম্পর্কে না জানি এবং সহীহ বুখারী যে আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব তা না জানি, তবে কীভাবে তাদের প্রতিবাদ করব?! কিছুদিন আগেও মানুষ বুখারীর নামে শপথ করত এবং একে কুরআনের মতোই মর্যাদা দিত। সুতরাং যখন কেউ আমাদের এই মূলভিত্তিটি ধ্বংস করতে আসে, তার অর্থ দাঁড়ায় আমাদের কোনো ইসলামী পরিচয় অবশিষ্ট থাকবে না এবং আমাদের দলিল পেশ করার কোনো শক্তি থাকবে না। আর এর অর্থ হলো আমাদের ‘কুরআনী’ (যারা সুন্নাহ অস্বীকার করে) ফিরকার দিকে ফিরে যেতে হবে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ বর্জন করতে হবে।
তাদের মধ্যে খালিদ আল-জুন্দিও রয়েছে, যে বলেছে: বুখারী বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেছেন, অথচ আমার একটি বিবেক আছে যা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারে। এই হাদিসটি কোনোভাবেই গ্রহণ করা সম্ভব নয় এবং এটি সহীহ হতে পারে না; কারণ উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনোভাবেই ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে বিবাহ করতে পারেন না! এমতাবস্থায় আপনারা যদি এই কিতাবগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ না করেন, তবে কীভাবে এই বিদআতিদের জবাব দেবেন যারা এখন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? তারা বুখারী বা মুসলিমের হাদিসগুলোকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে সুন্নাহর হৃৎপিণ্ডে আঘাত হানছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
مصطلحات حديثية
হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহ
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث النبويالحديث النبوي هو كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلقية أو صفة خلقية.
مثال القول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار).
مثال الفعل: وصف عثمان بن عفان رضي الله عنه وأرضاه لوضوء النبي صلى الله عليه وسلم وفيه: (توضأ فغسل يديه ثلاثاً، ثم مضمض واستنشق ثلاثاً، ثم غسل وجهه ثلاثاً، ثم غسل يديه إلى المرفقين ثلاثاً، ثم مسح برأسه، ثم غسل رجليه ثلاثاً)، وهذا الحديث متفق عليه، وفيه أنه مسح رأسه، وجاءت رواية أنه مسح رأسه ثلاثاً، والصحيح أنها ليست بشاذة، فيصح مسح الرأس ثلاثاً.
ومعنى التقرير: إقرار النبي صلى الله عليه وسلم لصحابي يراه يفعل شيئاً أو يقول شيئاً، مثاله ما في سنن أبي داود بسند صحيح أن عمار بن ياسر وعباد بن بشر كانا مرابطين، فنام عمار وقام عباد بن بشر يصلي الليل، فضربه كافر بسهم فجعل جرحه يثعب دماً ولم يقطع الصلاة، ولم يوقظ عمار بن ياسر حتى انتهى من صلاته، ثم ذهب إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقص عليه القصة، فأقر النبي صلى الله عليه وسلم صلاة عباد بن بشر وهو يثعب دماً.
فهذه سنة تقريرية، حيث قرر النبي صلى الله عليه وسلم الصلاة مع وجود الدماء، وهذه مسألة خلافية فقهية، لكن هذا الحديث فاصل في النزاع، فإن النبي صلى الله عليه وسلم ما أنكر عليه، بل أقره على ذلك.
ومثال الصفة الخلقية حديث أنس رضي الله وأرضاه: (نظرت إلى وجه النبي ونظرت إلى القمر، فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم أجمل من القمر).
وكما وصف علي بن أبي طالب رسول الله فقال: (كان أكحل العينين، وكان ربعة؛ ليس بالطويل البائن، وليس بالقصير).
ومثال الصفة الخُلقية: سئلت عائشة رضي الله عنها وأرضاها عن خلق النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: (كان خلقه القرآن).
হাদিসে নববীহাদিসে নববী হলো ঐসব বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা কথা, কাজ, অনুমোদন, শারীরিক বৈশিষ্ট্য কিংবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হোক।
কথার উদাহরণ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)।
কাজের উদাহরণ: উসমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: (তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর দুই হাত তিনবার ধুইলেন, এরপর কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিলেন, এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুইলেন, এরপর তাঁর দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং তাঁর দুই পা তিনবার ধুইলেন)। এই হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। এতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি তিনবার মাথা মাসাহ করেছেন; সঠিক মতানুসারে এটি শায (বিচ্ছিন্ন) নয়, সুতরাং মাথা তিনবার মাসাহ করা শুদ্ধ।
অনুমোদনের অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীকে কোনো কাজ করতে বা কোনো কথা বলতে দেখে তাঁর মৌন সম্মতি প্রদান। এর উদাহরণ হলো যা সুনানে আবু দাউদে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং আব্বাদ ইবনে বিশর পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। আম্মার ঘুমিয়ে পড়লেন এবং আব্বাদ ইবনে বিশর দাঁড়িয়ে রাতে সালাত আদায় করছিলেন। এমতাবস্থায় এক কাফের তাঁকে লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ল, ফলে তাঁর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করল, কিন্তু তিনি সালাত বিচ্ছিন্ন করেননি এবং সালাত শেষ না করা পর্যন্ত আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে জাগাননি। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্ত প্রবাহিত হওয়া অবস্থায় আব্বাদ ইবনে বিশরের সালাতকে অনুমোদন দিলেন।
এটি একটি তাকরীরি (অনুমোদনমূলক) সুন্নাহ, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্তের উপস্থিতিতে সালাত আদায়কে অনুমোদন করেছেন। এটি একটি ফিকহি মতপার্থক্যের বিষয়, তবে এই হাদিসটি বিরোধ নিষ্পত্তিকারী; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি অস্বীকার করেননি, বরং এর ওপর সম্মতি প্রদান করেছেন।
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ হলো আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস: (আমি নবীর চেহারার দিকে তাকালাম এবং চাঁদের দিকে তাকালাম, আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর)।
যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব রাসূলুল্লাহর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: (তিনি ছিলেন সুরমা মাখা দুই চোখের অধিকারী এবং মধ্যমাকৃতির; অতি দীর্ঘও নন, আবার খাটোও নন)।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: (তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআন)।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১০)
السندالسند لغة: المعتمد، وسمي إسناد الحديث بذلك لأن الحديث يستند إليه ويعتمد عليه، لأن الإنسان لا يستطيع أن يقول حديثاً إلا بنقل السند.
نقل عن الزهري بسند صحيح أنه كان إذا حدث بالحديث قال: حدثني فلان عن فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال: لا أحدث بحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بسند، لا أستطيع أن أرتقي السطح إلا بالدرج، والسطح هو المتن، والدرج هو السند.
সানাদসানাদ-এর শাব্দিক অর্থ হলো: নির্ভরযোগ্য বা অবলম্বনযোগ্য বস্তু। আর হাদিসের ইসনাদকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ হাদিস এর ওপরই নির্ভর করে এবং এর মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা কোনো ব্যক্তি সানাদ বর্ণনা করা ব্যতীত হাদিস বলতে পারে না।
ইমাম যুহরি থেকে সহিহ সানাদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখনই কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: আমাকে অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলতেন: আমি সানাদ ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করি না; আমি সিঁড়ি ছাড়া ছাদে আরোহণ করতে পারি না। আর এখানে ছাদ হলো মতন (মূল পাঠ) এবং সিঁড়ি হলো সানাদ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১১)
المتنالمتن لغة: ما ارتفع من الأرض.
واصطلاحاً: ما ينتهي إليه السند من الكلام، مثاله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يمس القرآن إلا طاهر)، فهذا حكم من الأحكام النبوية أنه لا يجوز لغير المتوضئ أن يمس القرآن، فهذا هو المتن.
فالمتن هو القول الذي خرج من فم النبي صلى الله عليه وسلم.
মাতনমাতন আভিধানিক অর্থে: যমীনের উঁচু অংশ।
পারিভাষিক অর্থে: কথার সেই অংশ যেখানে গিয়ে সনদ (বর্ণনাসূত্র) শেষ হয়। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে)। এটি একটি নববী বিধান যে, ওযুহীন ব্যক্তির জন্য কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়। আর এটিই হলো মাতন।
সুতরাং মাতন হলো সেই বাণী যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে নির্গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسنَدالمسنَد لغة: اسم مفعول من أسند الشيء إليه، بمعنى عزاه ونسبه إليه.
واصطلاحاً: له تعريفات ثلاثة: التعريف الأول: كل كتاب جمع فيه مرويات كل صحابي على حدة، مثل مسند أحمد ابتدأه بمسند أبي بكر.
الثاني: الحديث المرفوع، فيطلق على الحديث الذي اتصل سنده، سواء كان قولاً أو فعلاً أو تقريراً أو صفة خلقية أو صفة خلقية.
وهذا وصف زائد، يعني: كل تلميذ حدث عن شيخه بقوله: سمعت أو حدثني، مثاله: قال مالك: حدثني نافع، حدثني ابن عمر قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم.
هذا معنى اتصال السند.
مثال آخر: قال مالك: حدثني الزهري، حدثني أنس، حدثني النبي صلى الله عليه وسلم.
فهذه سلسلة الإسناد المتصلة.
التعريف الثالث للمسند: أن يراد به السند نفسه، أي سلسلة رجال السند، مثلاً: البخاري يروي الرباعيات عن عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وأعلى شيء عند البخاري الثلاثيات، وتوجد رسالة مطبوعة فيها ثلاثيات البخاري.
আল-মুসনাদআভিধানিক অর্থে: এটি কোনো বিষয়কে কারো দিকে সম্বন্ধ করা বা কারো প্রতি নিসবত করা অর্থে 'আসনাদা' শব্দ থেকে উদ্ভূত কর্মবাচ্যের বিশেষ্য বা ইসমে মাফঊল।
পারিভাষিক অর্থে এর তিনটি সংজ্ঞা রয়েছে: প্রথম সংজ্ঞা: এমন প্রত্যেক কিতাব যাতে প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদীসগুলো পৃথক পৃথকভাবে সংকলন করা হয়েছে, যেমন মুসনাদে আহমাদ; এটি তিনি আবু বকরের মুসনাদ দিয়ে শুরু করেছেন।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: মারফূ হাদীস। অর্থাৎ এমন হাদীসকে মুসনাদ বলা হয় যার সনদ বা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন, চাই তা কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, শারীরিক গঠন বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত হোক।
এটি একটি অতিরিক্ত গুণ, যার অর্থ হলো: প্রত্যেক ছাত্র তার শিক্ষক থেকে বর্ণনা করার সময় ‘আমি শুনেছি’ বা ‘তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন’ শব্দে বর্ণনা করবে। উদাহরণস্বরূপ: ইমাম মালিক বলেন: নাফি’ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি।
এটিই হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা বা সংযোগের অর্থ।
অন্য একটি উদাহরণ: ইমাম মালিক বলেন: যুহরী আমাকে বর্ণনা করেছেন, আনাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।
এটি হলো একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ বা বর্ণনাকারী পরম্পরা।
মুসনাদের তৃতীয় সংজ্ঞা: এর দ্বারা খোদ সনদ বা সূত্রকেই বোঝানো হয়, অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক পরম্পরা। উদাহরণস্বরূপ: ইমাম বুখারী ‘রুবাইয়্যাত’ (চার স্তরের সনদ) বর্ণনা করেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফি’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
ইমাম বুখারীর নিকট সনদের সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘সুলাসিয়্যাত’ (তিন স্তরের সনদ), এবং একটি মুদ্রিত পুস্তিকা বিদ্যমান রয়েছে যেখানে ইমাম বুখারীর সুলাসিয়্যাতসমূহ সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المسنِدالمسنِد بالكسر اسم فاعل، وهو من يروي الحديث بسنده، سواء كان عنده علم به أو ليس له إلا مجرد الرواية، وهو الذي قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم: (نضر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها).
মুসনিদমুসনিদ (কাসরাহ যোগে) হলো ইসমে ফায়েল; তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হাদিসকে তার সনদসহ বর্ণনা করেন, চাই তার কাছে এ সংক্রান্ত জ্ঞান থাকুক কিংবা কেবল বর্ণনাই থাকুক। আর তিনিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা ধারণ করল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিল।”
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المحدثالمحدث، مثل محدث ديار الشام الألباني، ومفخرة المصريين المحدث أحمد شاكر، فما معنى المحدث في الاصطلاح؟ المحدث هو: من تضلع في علم الحديث رواية ودراية، وما علمه من السنة أكثر مما غاب عنه.
মুহাদ্দিসমুহাদ্দিস, যেমন শাম ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস আল-আলবানী এবং মিশরীয়দের গৌরব মুহাদ্দিস আহমাদ শাকির; তবে পরিভাষায় মুহাদ্দিস শব্দের অর্থ কী? মুহাদ্দিস হলেন তিনি, যিনি হাদীস শাস্ত্রে বর্ণনা ও উপলব্ধি উভয় দিক থেকে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন এবং সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর জানা বিষয়ের পরিমাণ অজানা বিষয়ের চেয়ে অধিক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الحافظالحافظ قيل: هو مرادف للمحدث، أي: من تضلع في علم الحديث دراية ورواية، وما علمه أكثر مما غاب عنه.
وعند أهل التحقيق أنه أرفع درجة من المحدث، بحيث يكون ما يعرفه في كل طبقة أكثر بكثير مما يجهله.
আল-হাফিজআল-হাফিজ: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মুহাদ্দিসের সমার্থক; অর্থাৎ, যিনি বর্ণনা (রিওয়ায়াহ) এবং অনুধাবন (দিরায়া) উভয় দিক থেকে হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তার জানা বিষয়গুলো তার অজানা বিষয়ের চেয়ে বেশি।
আর গবেষক আলিমগণের নিকট তিনি মুহাদ্দিসের চেয়ে উচ্চতর স্তরের; যাতে প্রত্যেক স্তরের বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তার জানা বিষয়গুলো তার না জানা বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحاكمالحاكم: هو من أحاط علماً بجميع الأحاديث حتى لا يفوته منها إلا اليسير، وهذه يمكن أن تطلق على الإمام الألباني، وما أحد أطلق عليه ذلك، ونحن نقول: حق له أن يطلق عليه هذا الوصف.
فالحاكم أكثر اطلاعاً من المحدث ومن الحافظ، ويمكن أن يوصف ابن حجر بالحاكم، وكذلك ابن تيمية يمكن أن يطلق عليه ذلك، والذهبي في ترجمة شيخ الإسلام ابن تيمية قال فيه: كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث!
আল-হাকিমআল-হাকিম: তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি সমস্ত হাদিসের জ্ঞান এমনভাবে পরিবেষ্টন করেছেন যে, অতি সামান্য কিছু হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো হাদিসই তার অগোচরে থাকে না। আর এই উপাধিটি ইমাম আলবানীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যদিও ইতিপূর্বে কেউ তাকে এ উপাধিতে ভূষিত করেননি; তবে আমরা বলি: তাকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা সঙ্গত।
কেননা আল-হাকিম হলেন মুহাদ্দিস এবং হাফিযের তুলনায় অধিক পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও পরিব্যপ্ত জ্ঞানের অধিকারী। ইবনে হাজারকেও হাকিম হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে এবং একইভাবে ইবনে তাইমিয়্যাহর ক্ষেত্রেও এটি বলা সম্ভব। আয-যাহাবী শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীতে তার সম্পর্কে বলেছেন: যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, সেটি কোনো (প্রমাণিত) হাদিসই নয়!
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لقب أمير المؤمنين في الحديثلقب أمير المؤمنين في الحديث أطلق على شعبة وسفيان الثوري يقدم على شعبة.
وأمير المؤمنين في الحديث لا بد أن يكون ضابطاً ثقة ثبتاً في الجرح والتعديل، ولا يقال: أمير المؤمنين في الحديث إلا أن يجتمع فيه وصفان: الوصف الأول: سعة الحفظ والاطلاع.
الوصف الثاني: أن يكون ناقداً قوياً ثبتاً في الجرح والتعديل، وهذا الوصف ما قيل إلا في شعبة والثوري، وهما في طبقة واحدة.
হাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মু'মিনীন' উপাধিহাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মু'মিনীন' উপাধিটি শু'বাহ এবং সুফিয়ান আস-সাওরীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, আর এক্ষেত্রে সুফিয়ানকে শু'বাহর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
হাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মু'মিনীন' হওয়ার জন্য শর্ত হলো তাকে অবশ্যই জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে একজন নির্ভুল হিফযকারী, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তি হতে হবে। আর কাউকে হাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মু'মিনীন' বলা হয় না যতক্ষণ না তার মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে: প্রথম বৈশিষ্ট্য: হিফযের ব্যাপকতা এবং প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে একজন শক্তিশালী ও সুদৃঢ় সমালোচক হওয়া। আর এই গুণাবলি কেবল শু'বাহ এবং সুফিয়ান আস-সাওরীর ব্যাপারেই বলা হয়েছে, যারা একই স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثلاثيات والرباعياتكتب السنة فيها الثلاثيات وفيها الرباعيات.
فالثلاثيات في البخاري، والرباعيات في سنن أبي داود وسنن ابن ماجة فقط، والترمذي ليس فيه غير حديث واحد رباعي، ومسلم فيه رباعيات، وليس فيه ثلاثيات.
وفي سنن ابن ماجة ثلاثيات، لكنها كلها بأسانيد ضعيفة، وهذا الذي يميز البخاري عن غيره، فثلاثياته كلها صحاح، ورباعيات أبي داود فيها الضعيف وفيها الحسن.
সুলাসিয়াত ও রুবায়িয়াতসুন্নাহর গ্রন্থসমূহে সুলাসিয়াত এবং রুবায়িয়াত বিদ্যমান রয়েছে।
সুলাসিয়াত রয়েছে বুখারিতে, আর রুবায়িয়াত রয়েছে কেবল সুনানে আবি দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ-তে; তিরমিজিতে একটি মাত্র রুবায়ি হাদিস ছাড়া আর কিছুই নেই, এবং মুসলিমে রুবায়িয়াত থাকলেও কোনো সুলাসিয়াত নেই।
সুনানে ইবনে মাজাহ-তেও সুলাসিয়াত রয়েছে, তবে তার সবগুলোর সনদই দুর্বল। আর এটিই বুখারিকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে; কারণ তাঁর সুলাসিয়াতগুলোর সবগুলোই সহিহ। পক্ষান্তরে আবু দাউদের রুবায়িয়াতগুলোর মধ্যে দুর্বল এবং হাসান—উভয় প্রকার হাদিসই রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - محمد حسن عبد الغفار القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح المنظومة البيقونية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
শারহুল বায়কুনিয়া - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: শারহুল মানজুমা আল-বায়কুনিয়া
লেখক: মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
বইয়ের উৎস: অডিও দরসসমূহ যা ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১৬টি দরস]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح المنظومة البيقونية -
المقدمةاختلف العلماء في تعريف الأثر والخبر، وفي علاقتهما بالحديث الذي أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فالأثر والحديث -على قول بعض أهل العلم- بينهما عموم وخصوص، فكل حديث أثر لا العكس، وأما الخبر فيأتي عاماً على تعريف عند العلماء، ويأتي مرادفاً للحديث في تعريف آخر.
শারহু মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ -
ভূমিকাআসার এবং খবর-এর সংজ্ঞা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হাদিসের সাথে এগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আসার এবং হাদিসের মধ্যে—কিছু আলেমের মতে—সাধারণ ও বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান; সুতরাং প্রতিটি হাদিসই আসার, কিন্তু প্রতিটি আসার হাদিস নয়। আর খবরের বিষয়টি আলেমদের নিকট এক সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, এবং অন্য এক সংজ্ঞা অনুযায়ী তা হাদিসের সমার্থক হিসেবে আসে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ২)
الفرق بين الحديث والأثر والخبر
হাদীস, আসার এবং খবরের মধ্যে পার্থক্য
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
تعريف الأثر وعلاقته بالحديثإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: إخوتي الكرام! انتهينا في التعريفات إلى تعريف الأثر والخبر، فالأثر: بقية الشيء، وله عند علماء الحديث تعريفان: التعريف الأول: كتعريف الحديث.
والتعريف الثاني: هو كل ما جاء عن غير النبي صلى الله عليه وسلم.
فالتعريف الأول كتعريف الحديث، بمعنى أن الأثر: هو كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة وغيره.
(وغيره) يعني: سواء نسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو نسب إلى أبي بكر أو عمر.
ولو قلنا بهذا التعريف الأول لكانت علاقته بالحديث علاقة عموم وخصوص، يعني: أن كل حديث أثر وليس كل حديث أثراً.
والتعريف الثاني: الأثر: كل ما نسب أو أضيف إلى غير النبي صلى الله عليه وسلم من صحابي أو تابعي أو تابع تابعي، فيدخل في ذلك الموقوف والمقطوع، فمثلاً: قال ابن مسعود رضي الله عنه وأرضاه: لا يكن أحدكم إمعة؛ إذا أصلح الناس أصلح، وإذا أفسد الناس أفسد، وليوطن نفسه، إذا أصلح الناس أصلح، وإذا أفسد الناس أصلح.
فهنا نقول: جاء في الأثر عن ابن مسعود.
وجاء في الأثر عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
والفرق بين الأثر والحديث على التعريف الأول للأثر أن ما جاء عن رسول الله يسمى أثراً وهو حديث مرفوع، وما جاء عن ابن مسعود يسمى أثراً لكنه موقوف وليس مرفوعاً، وأيضاً يقال: جاء في الأثر عن سعيد بن المسيب، فالأثر يدخل تحته حديث مرفوع وموقوف ومقطوع، هذا التعريف الأول.
أهل التعريف الثاني قالوا: لا، نختصر، فكل ما جاء عن غير النبي يسمى أثراً، وكل ما أضيف إلى النبي يسمى حديثاً.
إذاً: على هذا إذا قلت: قال علي بن أبي طالب، نقول: جاء في الأثر عن علي، جاء في الأثر عن ابن مسعود.
فمثلاً: قال علي بن أبي طالب: حدثوا الناس بما يعرفون، أتريدون أن يكذب الله ورسوله.
فهذا نقول: جاء في الأثر عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأرضاه.
وروى مسلم عن يحيى بن أبي كثير أنه قال: لا ينال هذا العلم براحة الجسد.
نقول: قد جاء في الأثر عن يحيى بن أبي كثير.
فهذا تعريف الأثر.
‘আসার’ (Athar)-এর সংজ্ঞা এবং হাদীসের সাথে এর সম্পর্কনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: আমার সম্মানিত ভাইয়েরা! আমরা সংজ্ঞাসমূহের আলোচনায় ‘আসার’ (Athar) এবং ‘খবর’ (Khabar)-এর সংজ্ঞায় পৌঁছেছি। আসার হলো: কোনো জিনিসের অবশিষ্টাংশ। হাদীস বিশারদদের নিকট এর দুটি সংজ্ঞা রয়েছে: প্রথম সংজ্ঞা: হাদীসের সংজ্ঞার মতোই।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারো থেকে যা বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং প্রথম সংজ্ঞাটি হাদীসের সংজ্ঞার মতোই, অর্থাৎ: আসার হলো যা কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তা কথা, কাজ, মৌনসম্মতি, গুণাবলী বা অন্য কিছু হোক না কেন।
(এবং অন্য কিছু) অর্থাৎ: চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা হোক অথবা আবু বকর বা উমরের দিকে সম্বন্ধ করা হোক।
যদি আমরা এই প্রথম সংজ্ঞাটি গ্রহণ করি, তবে হাদীসের সাথে এর সম্পর্ক হবে সাধারণ ও বিশেষের (আম-খাস) সম্পর্ক। অর্থাৎ: প্রতিটি হাদীসই আসার, কিন্তু প্রতিটি আসার হাদীস নয়।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: আসার হলো যা কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারো দিকে অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ বা তাবি-তাবিঈর দিকে সম্বন্ধ বা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মাওকুফ’ এবং ‘মাকতু’ অন্তর্ভুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন ‘ইম্মায়া’ (নীতিহীন বা পরমুখাপেক্ষী) না হয়; যে বলে—যদি মানুষ সংশোধন হয় তবে আমিও সংশোধন হব, আর যদি মানুষ মন্দ পথে যায় তবে আমিও মন্দ পথে যাব। বরং সে যেন নিজের নফসকে অভ্যস্ত করে; যদি মানুষ ভালো কাজ করে তবে সেও ভালো কাজ করবে, আর যদি তারা মন্দ কাজ করে তবুও সে নিজেকে সংশোধন রাখবে।
এখানে আমরা বলি: ইবনে মাসউদ থেকে আসারের বর্ণনা এসেছে।
এবং আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে।
আসার-এর প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী হাদীস এবং আসার-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—যা রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয় তাকে আসার বলা হয় এবং তা মারফু হাদীস। আর যা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয় তাকেও আসার বলা হয় কিন্তু তা মাওকুফ, মারফু নয়। একইভাবে বলা হয়: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী মারফু, মাওকুফ এবং মাকতু হাদীস—সবই আসার-এর অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় সংজ্ঞার প্রবক্তাগণ বলেছেন: না, আমরা সংক্ষেপে বলব—নবী ব্যতীত অন্য কারো থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে আসার বলা হয়, আর যা নবীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাকে হাদীস বলা হয়।
সুতরাং, এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আপনি যখন বলবেন: আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন, তখন আমরা বলব: আলী থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে, ইবনে মাসউদ থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ: আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: তোমরা মানুষের সাথে তাদের বোধগম্য কথা বলো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?
এ সম্পর্কে আমরা বলি: আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে।
এবং ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: দেহের আরাম-আয়েশের মাধ্যমে এই জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।
আমরা বলি: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে।
এটিই হলো আসার-এর সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعريف الخبر وعلاقته بالحديثوالخبر له ثلاثة تعريفات: الخبر في اللغة بمعنى: النبأ.
وهو في الاصطلاح بمعنى الحديث؛ يعني: كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم يسمى خبراً.
وقيل: بل هو كل ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أو عن غيره، فأصبح هنا الخبر أعم من الحديث، إذاً كل حديث خبر لا العكس.
التعريف الثالث: الخبر كل ما جاء عن غير النبي صلى الله عليه وسلم فينزل بذلك تعريفه إلى الأثر، ولا مشاحة في الاصطلاح.
খবরের সংজ্ঞা এবং হাদীসের সাথে এর সম্পর্কখবরের তিনটি সংজ্ঞা রয়েছে: অভিধানে খবর অর্থ হলো সংবাদ।
আর পারিভাষিক অর্থে এটি হাদীসের সমার্থক; অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যা কিছু সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাকে খবর বলা হয়।
আবার বলা হয়েছে: বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা অন্য কারও থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা-ই খবর। ফলে এখানে খবর হাদীসের চেয়ে অধিক ব্যাপক অর্থবোধক হয়ে দাঁড়ায়; সুতরাং প্রত্যেক হাদীসই খবর, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়।
তৃতীয় সংজ্ঞা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারও থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা-ই খবর; এমতাবস্থায় খবরের সংজ্ঞা 'আসার'-এর সমপর্যায়ে চলে আসে। আর পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
تعريف الحديث الصحيحتعريف الحديث الصحيح: هو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلقية أو خلقية، واستجمع خمسة شروط: الشرط الأول: اتصال السند.
الشرط الثاني: عدالة الرواة.
الشرط الثالث: ضبط الرواة.
الشرط الرابع: من غير شذوذ.
الشرط الخامس: من غير علة.
فعلم الحديث علم شريف يبحث في قواعد وضوابط الإسناد، أي: سلسلة الإسناد والمتن.
أثره: تنقيح السنة المحمدية من غير المحمدية، أي: التمييز بين قول النبي صلى الله عليه وسلم وبين قول غير النبي صلى الله عليه وسلم.
সহীহ হাদীসের সংজ্ঞাসহীহ হাদীসের সংজ্ঞা: এটি হলো এমন বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, মৌন সম্মতি অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যা পাঁচটি শর্ত পূরণ করে: প্রথম শর্ত: সনদের ধারাবাহিকতা।
দ্বিতীয় শর্ত: বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা।
তৃতীয় শর্ত: বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতা।
চতুর্থ শর্ত: বৈসাদৃশ্যহীনতা।
পঞ্চম শর্ত: সূক্ষ্ম ত্রুটিমুক্ত হওয়া।
হাদীস শাস্ত্র একটি মহান জ্ঞান যা সনদের নিয়ম ও মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করে, অর্থাৎ: সনদ ও মতনের ধারাবাহিকতা।
এর প্রভাব: মুহাম্মাদী সুন্নাহকে অ-মুহাম্মাদী বিষয় থেকে পরিমার্জন করা, অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং অন্য কারো বাণীর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
شرح استهلال نظم البيقونية
মানজুমাহ আল-বাইকুনিয়ার প্রারম্ভিকার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
أقوال العلماء في كون البسملة من القرآنأولاً: الناظم قبل أن يبدأ في نظمه قال: [بسم الله الرحمن الرحيم].
وهذا من ورائع البيان! يبتدئ باسم الله جل في علاه اقتداء بكتاب الله، واقتداء بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.
أما بكتاب الله فقد بدأ الله كتابه بالبسملة، وقد اختلف العلماء هل هي آية من كل سورة، أم هي آية من الفاتحة فقط، أم هي آية مستقلة تفصل بين السور على أقوال ثلاثة؟ القول الأول: قول الشافعية، قالوا: بأن البسملة آية من الفاتحة وآية من كل سورة، واستدلوا على ذلك بأدلة سنبينها بإيجاز.
القول الثاني: قول الأحناف، قالوا: البسملة آية مستقلة تفصل بين السور.
القول الثالث: قول المالكية، قالوا: هي آية من سورة النمل، وهذا بالاتفاق، وأيضاً آية مستقلة تفصل بين السور دون سورة براءة.
الأدلة على ذلك: أما أدلة الشافعية: فقالوا بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (الفاتحة هي السبع المثاني، وبسم الله الرحمن الرحيم آية منها) أو قال (إحدى آياتها)، فدل بالتصريح من قول النبي أن بسم الله الرحمن الرحيم آية من سورة الفاتحة.
كذلك يستدلون بأن الله جل في علاه أنزل بسم الله الرحمن الرحيم وقرأ القارئ الآيات وفصل بين السور ببسم الله الرحمن الرحيم.
أما المالكية والحنفية فاستدلوا بقول ابن عباس رضي الله عنه وأرضاه: إن الله أنزل البسملة يفصل بها بين السور، وهي آية في سورة النمل.
والقول الوسط الصحيح الراجح أن البسملة آية من الفاتحة يجب على كل مصل أن يقرأ هذه البسملة، ومن لم يقرأ البسملة في ركعة من الركعات فعليه أن يعيد هذه الركعة، فهي آية من الفاتحة، وهي آية مستقلة تفصل بين السور، وهذا هو الراجح الصحيح.
فالناظم بدأ بالبسملة اقتداءً بكتاب الله وبرسول الله صلى الله عليه وسلم، فما بعث النبي صلى الله عليه وسلم بكتاب إلى أحد يدعوه إلى الإسلام إلا وهو يقول: (بسم الله الرحمن الرحيم، السلام على من اتبع الهدى)، فكان يصدر الكتاب ببسم الله الرحمن الرحيم، (وفي صلح الحديبية أيضاً قال لـ علي بن أبي طالب: اكتب: بسم الله الرحمن الرحيم).
فهذا الفعل من الناظم اقتداء بكتاب الله وبسنة النبي صلى الله عليه وسلم.
বিসমিল্লাহ কুরআনের অংশ হওয়া বিষয়ে আলেমদের মতামতপ্রথমত: কাব্যকার তার কাব্য শুরু করার পূর্বে বলেছেন: [বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম]।
এবং এটি অত্যন্ত চমৎকার প্রকাশভঙ্গি! তিনি আল্লাহর কিতাব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণে মহান আল্লাহর নামে শুরু করেছেন।
আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, আল্লাহ তাঁর কিতাব বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছেন। আর বিসমিল্লাহ কি প্রতিটি সূরার অংশ, নাকি কেবল সূরা ফাতিহার অংশ, নাকি এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে কাজ করে—এ বিষয়ে আলেমগণ তিনটি মত প্রকাশ করেছেন। প্রথম মত: শাফেয়ীদের মত। তারা বলেন: বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ এবং প্রতিটি সূরারও একটি আয়াত। তারা এর স্বপক্ষে কিছু দলিল পেশ করেছেন যা আমরা সংক্ষেপে বর্ণনা করব।
দ্বিতীয় মত: হানাফীদের মত। তারা বলেন: বিসমিল্লাহ একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা সূরাগুলোর মধ্যে বিভাজনরেখা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।
তৃতীয় মত: মালেকিদের মত। তারা বলেন: এটি সূরা নামলের একটি আয়াত—এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। এছাড়াও এটি সূরা বারাআত (তাওবা) ব্যতীত অন্য সব সূরার মাঝে পার্থক্যকারী একটি স্বতন্ত্র আয়াত।
এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ: শাফেয়ীদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: (ফাতিহা হলো সাবউল মাছানি, আর বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম তার একটি আয়াত) অথবা তিনি বলেছেন (এর অন্যতম একটি আয়াত)। সুতরাং নবীজির এই বাণী স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম সূরা ফাতিহার একটি আয়াত।
তারা আরও দলিল পেশ করেন যে, মহান আল্লাহ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অবতীর্ণ করেছেন এবং পাঠকারী আয়াতগুলো পাঠ করেন ও বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দ্বারা সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্য করেন।
আর মালেকি ও হানাফীগণ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ বিসমিল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন যা দ্বারা তিনি সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্য করেন, আর এটি সূরা নামলের একটি আয়াত।
মধ্যমপন্থী, সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার একটি আয়াত। প্রত্যেক মুসল্লির জন্য বিসমিল্লাহ পাঠ করা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি কোনো রাকাতে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে না, তাকে সেই রাকাত পুনরায় আদায় করতে হবে। এটি সূরা ফাতিহার একটি আয়াত এবং এটি সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্যকারী একটি স্বতন্ত্র আয়াতও। এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত।
সুতরাং কাব্যকার আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই ইসলামের দাওয়াত দিয়ে কারো কাছে কোনো পত্র পাঠাতেন, তখন তিনি বলতেন: (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, হেদায়েত অনুসরণকারীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। এভাবেই তিনি পত্রের শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লিখতেন। (এমনকি হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়ও তিনি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলেছিলেন: লেখো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম)।
অতএব কাব্যকারের এই কাজটি আল্লাহর কিতাব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ মাত্র।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثناء الناظم على الله في أول النظمثم ثنى أدباً مع ربه جل في علاه بالحمد، وهذا أيضاً من الآداب عند كل مصنف، فيبتدئ بالحمد لله جل في علاه، فما من داع يدعو ويريد أن يقبل دعاؤه إلا لا بد أن يصدر دعاءه بالحمد والثناء على الله جل في علاه.
وما من خطيب يخطب إلا ويصدر خطبته بالحمد والثناء على الله جل في علاه.
وما من عامل يعمل إلا ويستفتح عمله بالحمد والثناء على الله جل في علاه، فتأدب المصنف بأن أثنى على الله جل في علاه، فيحمد الله على أشياء كثيرة، يحمد الله أولاً على طلب العلم، ويحمد الله على إتقان هذا العلم، ويحمده هذا على التصنيف الذي يصنفه، فيخرج للناس مصنفاً يكون مداداً لحسناته فيقرؤه وينتفع به الناس، ولا شيء ينفع المرء في قبره مثل العلم الذي ينتشر بين الناس، فيحمد الله على ذلك.
والحمد معناه في اللغة: الثناء.
وفي الشرع: الثناء الجميل على الله جل في علاه بنعوت جماله وجلاله! إذاً: الحمد: هو الثناء الحسن على الله أو على صفات الله اللازمة والمتعدية.
والفرق بين الحمد والشكر: أن الشكر لا يكون إلا للصفة المتعدية، يعني: للإنعام والإفضال، قال النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الشفاعة العظيم: (فيقولون: ألا تشفع لنا؟! فأقول: أنا لها أنا لها! فآتي عرش ربي فأسجد، فأحمد الله بمحامد) يعني: أثني على الله ثناءً ما كنت أعلمه، (فأحمد الله بمحامد ما كنت أعلمها، فأحمد الله بها، علمني الله إياها) يعني: وقت السجود، (فيقال: يا محمد! ارفع رأسك، وسل تعط، واشفع تشفع)، فيثني على الله خيراً.
فالثناء على الله جل في علاه هو الحمد، والشكر هو الثناء بمقابلة النعمة التي أجزلها الله لك أو أنعم عليك بها.
إذاً: الحمد أعم هنا من الشكر، فالشكر للصفة المتعدية، والحمد للصفة اللازمة والمتعدية، أي أنك تحمد الله جل في علاه على كماله وجلاله، وتحمد الله على إفضاله وإنعامه عليك، أما الشكر فتحمده على إفضاله عليك.
وإذا نظرت إلى الآلة وجدت الحمد لا يكون إلا بإقرار القلب واللسان، وأما الشكر فيكون بإقرار القلب، والتلفظ باللسان، والعمل بالجوارح، فهنا يكون الشكر أعم من ناحية الآلة، وقد قال الله تعالى: {اعْمَلُوا آلَ دَاوُدَ شُكْرًا} [سبأ:13]، فتأدب المصنف فبدأ مصنفه بالحمد لله جل في علاه.
কাব্যের শুরুতে আল্লাহর প্রতি কাব্যকারের প্রশংসাঅতঃপর তিনি তাঁর মহান সুউচ্চ রবের প্রতি শিষ্টাচারস্বরূপ হামদ বা প্রশংসার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। এটি প্রত্যেক গ্রন্থকারের একটি শিষ্টাচার যে, তিনি মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করেন। কোনো দোয়াকারী যখন দোয়া করেন এবং চান যে তার দোয়া কবুল হোক, তখন তাকে অবশ্যই মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমে দোয়া শুরু করতে হয়।
প্রত্যেক খতিব যখন খুতবা প্রদান করেন, তখন তিনি মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমেই তাঁর খুতবা শুরু করেন।
প্রত্যেক আমলকারী যখন কোনো কাজ করেন, তখন তিনি মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমেই তাঁর কাজ শুরু করেন। সুতরাং গ্রন্থকার মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসা করার মাধ্যমে শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছেন। তিনি অনেকগুলো বিষয়ের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন; প্রথমত জ্ঞান অন্বেষণের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন, এই জ্ঞানে পারদর্শিতা লাভের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং তিনি যে গ্রন্থটি রচনা করছেন তার জন্যও আল্লাহর প্রশংসা করেন। ফলে এটি মানুষের কাছে এমন একটি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয় যা তাঁর নেক আমলের ভাণ্ডার হবে, যা মানুষ পাঠ করবে এবং এর দ্বারা উপকৃত হবে। মানুষের কবরে জ্ঞান বা ইলমের মতো উপকারী আর কিছু নেই যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তাই তিনি এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন।
শাব্দিক অর্থে হামদ শব্দের অর্থ হলো: স্তুতি বা প্রশংসা।
আর শরীয়তের পরিভাষায়: মহান সুউচ্চ আল্লাহর সৌন্দর্য ও মহত্ত্বের গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর অতি সুন্দর প্রশংসা করা! অতএব, হামদ হলো আল্লাহর প্রতি অথবা আল্লাহর আবশ্যিক ও সংক্রামক গুণাবলির ওপর উত্তম স্তুতি।
হামদ এবং শুকরের মধ্যে পার্থক্য হলো: শুকর কেবল সংক্রামক গুণের ক্ষেত্রে হয়, অর্থাৎ দান ও অনুগ্রহের জন্য। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাফাআতের মহান হাদিসে বলেছেন: (তারা বলবে: আপনি কি আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন না?! আমি বলব: আমিই এর জন্য, আমিই এর জন্য! অতঃপর আমি আমার রবের আরশের কাছে আসব এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। এরপর আমি আল্লাহর এমন সব প্রশংসা করব) অর্থাৎ: আমি আল্লাহর এমন স্তুতি করব যা আমি জানতাম না, (অতঃপর আমি আল্লাহর এমন সব প্রশংসা করব যা আমি জানতাম না, আল্লাহ আমাকে সেগুলো শেখাবেন) অর্থাৎ: সিজদারত অবস্থায়, (অতঃপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা উঠান, চান আপনাকে দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে), তখন তিনি আল্লাহর উত্তম স্তুতি করবেন।
সুতরাং মহান সুউচ্চ আল্লাহর স্তুতিই হলো হামদ, আর শুকর হলো আল্লাহ আপনাকে যে নেয়ামত অঢেলভাবে দান করেছেন বা আপনাকে যা দ্বারা ধন্য করেছেন তার বিনিময়ে প্রশংসা করা।
অতএব, এখানে হামদ শুকরের চেয়ে অধিক ব্যাপক। শুকর কেবল সংক্রামক গুণের জন্য হয়, আর হামদ আবশ্যিক ও সংক্রামক উভয় গুণের জন্যই হয়। অর্থাৎ আপনি মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসা করেন তাঁর পূর্ণতা ও মহত্ত্বের জন্য, আবার আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও নেয়ামতের জন্যও তাঁর প্রশংসা করেন। পক্ষান্তরে, শুকরের ক্ষেত্রে আপনি কেবল আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করেন।
আর যদি আপনি মাধ্যমের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে হামদ কেবল অন্তর এবং জিহ্বার স্বীকৃতির মাধ্যমেই হয়। কিন্তু শুকর হয় অন্তরের স্বীকৃতি, জিহ্বার উচ্চারণ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের মাধ্যমে। সুতরাং মাধ্যমের দিক থেকে শুকর অধিক ব্যাপক। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমল করো} [সাবা: ১৩]। সুতরাং গ্রন্থকার শিষ্টাচার অবলম্বন করে মহান সুউচ্চ আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الصلاة على النبي وفضلهاقال المصنف رحمه الله: [أبدأ بالحمد مصلياً على] فالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم لا بد أن تثني به، ولذلك لما مر النبي صلى الله عليه وسلم على رجل يدعو فحمد الله وما صلى على النبي صلى الله عليه وسلم، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (عجل هذا) أي لا يمكن أن يجاب.
ولما جاءه الآخر يقول: (يا رسول الله! أجعل لك ثلث صلاتي؟ قال: خير.
قال: أجعل لك شطر صلاتي؟ قال: خير.
قال: أجعل لك صلاتي كلها -يعني: دعائي كله صلاة على النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذاً تكفى همك، ويغفر ذنبك)؛ لأنك ابتدأت بالأدب مع الله بالثناء، ثم بعد ذلك بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم لها ست صيغ، وأقل هذه الصيغ أن تقول: صلى الله عليه وسلم، فتكون قد أديت الصلاة كما قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب:56].
وأفضل الصيغ أن تقول: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم في العالمين إنك حميد مجيد.
واختلف العلماء في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم هل هي واجبة أم مستحبة؟ والصحيح الراجح في ذلك أنها واجبة؛ لأنها أمر من الله وأمر من النبي صلى الله عليه وسلم استصحبه عقاب إذا لم يفعله العبد.
أما أمر الله فقد قال تعالى: ((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا))، لفظ أمر، والقاعدة عند الأصوليين تقول: الأمر المجرد عن القرائن يقتضي الوجوب، إذاً: فهو يدل على الوجوب، ولم نعلم ما هي القرينة التي صرفته من الوجوب إلى الاستحباب.
الدليل الآخر: ما جاء في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم صعد وارتقى على المنبر فقال: (آمين! آمين! آمين! فلما سئل عن ذلك، قال: أتاني جبريل فقال: رغم أنف امرئ ذكرت عنده ولم يصل عليك).
ولذلك فأشد الناس قرباً من النبي صلى الله عليه وسلم هم المحدثون، لأنهم من أكثر الناس صلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
وقال أيضاً: (البخيل من ذكرت عنده ولم يصل علي)، صلى الله عليه وسلم.
واختلف العلماء في معنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم على قولين بين جمهور أهل العلم وبين المحققين، أما الجمهور فيرون أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم معناها الرحمة من الله جل في علاه، فهم يقولون: الصلاة من العبد طلب المغفرة، وكذلك الملائكة، والصلاة من الله الرحمة على العبد الذي صلي عليه.
والمحققون يرون أن معنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم الثناء الحسن في الملأ الأعلى، وهذا الراجح الصحيح، كما رواه البخاري عن أبي العالية.
فإذا قلت: صلى الله على محمد كأنك تقول: اللهم اثن على محمد في الملأ الأعلى ثناءً حسناً، والدليل على ذلك التفريق في القرآن بين الصلاة وبين الرحمة، قال الله تعالى: {أُوْلَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ} [البقرة:157]، والأصل في العطف المغايرة، فالرحمة تغاير معنى الصلاة إلا إذا دلت قرينة على أنهما شيء واحد.
وقيل: جاءت للتأكيد، والصحيح الراجح المغايرة، فالصلاة هي الثناء الحسن من الله في الملأ الأعلى، والرحمة غير الصلاة.
قال الناظم: [أبدأ بالحمد مصلياً على محمد خير نبي أرسلا] فذكر أن محمداً خير نبي أرسل، وهذه دلالتها من الكتاب والسنة، فرسول الله صلى الله عليه وسلم سيد ولد آدم ولا فخر، قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ} [الفتح:29]، وبين صفته العظيمة أنه خاتم النبيين: {وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب:40]، وقال الله تعالى: {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الحجر:72]، فما أقسم الله بحياة أحد من خلقه إلا بحياة النبي صلى الله عليه وسلم قال العلماء: دل هذا الأمر على أن أفضل سنين في الدنيا بأسرها هي السنين التي عاشها الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لأنه أفضل خلق الله جل في علاه.
كذلك يدل على فضله الآية التي أخذ الله فيها الميثاق على النبيين أن يتبعوه، ولذا يقول النبي صلى الله عليه وسلم: (أمتهوكون فيها يا ابن الخطاب؟! والله لو كان موسى حياً ما وسعه إلا أن يتبعني).
وأيضاً قال النبي صلى الله عليه وسلم: (أنا سيد ولد آدم ولا فخر).
وكذلك حديث الشفاعة الذي في الصحيحين أراد الله فيه إعظام رسول الله صلى الله عليه وسلم وإظهار كرامته ومكانته، حيث يأتي البشر أجمعون إلى رسول الله فيقول: (أنا لها! أنا لها!) فظهرت له السيادة بذلك.
كذلك النبي صلى الله عليه وسلم أم بالأنبياء ليلة الإسراء والمعراج، وهذا من الدلالة على السيادة، لكن كيف نرد على هذا الإشكال العظيم عندما قال صلى الله عليه وسلم: (لا تفضلوني على يونس بن متى)، وهو سيد البشر أجمعين؟ قال النووي: ممكن أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك قبل أن يوحى إليه أنه سيد البشر أجمعين.
وهذه الإجابة وإن كانت جيدة لكنها غير مرضية؛ لأنه قال: (لا تفضلوني)، والصحيح أن التفضيل المنفي هنا إذا كان على سبيل التنقيص، يعني: لا تفضلوني وتنتقصوا من قدر يونس بن متى، وهذه الإجابة هي المرضية.
أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد.
নবীর প্রতি দরুদ এবং এর ফজিলতগ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আমি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং দরুদ পাঠ করছি]। সুতরাং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসা করা আবশ্যক। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে দেখলেন যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল কিন্তু নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করল না, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (এই ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করল) অর্থাৎ এভাবে তার দোয়া কবুল হওয়া সম্ভব নয়।
যখন অন্য এক ব্যক্তি এসে বলল: (হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার দোয়ার এক-তৃতীয়াংশ আপনার জন্য (দরুদ হিসেবে) নির্ধারণ করব? তিনি বললেন: তা তোমার জন্য কল্যাণকর।
সে বলল: আমি কি আমার দোয়ার অর্ধেক আপনার জন্য নির্ধারণ করব? তিনি বললেন: তা তোমার জন্য কল্যাণকর।
সে বলল: আমি আমার সম্পূর্ণ দোয়া আপনার ওপর দরুদ হিসেবে নির্ধারণ করব—অর্থাৎ: আমার পূর্ণ দোয়াই হবে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ। তখন তিনি বললেন: তাহলে এটি তোমার দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে); কারণ তুমি আল্লাহর প্রশংসা ও আদবের সাথে শুরু করেছ এবং এরপর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করেছ।
নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠের ছয়টি পদ্ধতি বা শব্দবিন্যাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি হলো: "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" বলা। এর মাধ্যমে আপনি দরুদ পাঠের নির্দেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও} [আল-আহযাব: ৫৬]।
আর দরুদ পাঠের শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো এটি বলা: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করা কি ওয়াজিব (আবশ্যক) নাকি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)—এ বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী মত হলো এটি ওয়াজিব; কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকেও এমন নির্দেশ, যার সাথে শাস্তি জড়িত রয়েছে যদি বান্দা তা পালন না করে।
আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে তিনি বলেছেন: ((হে মুমিনগণ! তোমরা দরুদ পাঠ করো)), এটি একটি আদেশসূচক শব্দ। আর উসুলবিদদের নিকট মূলনীতি হলো: কোনো বিশেষ প্রমাণ না থাকলে সাধারণ আদেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতা সাব্যস্ত করে। সুতরাং এটি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, এবং আমাদের জানা নেই এমন কোনো বিশেষ প্রমাণ আছে কি না যা একে ওয়াজিব থেকে সরিয়ে মুস্তাহাবের দিকে নিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় দলিল: সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: (আমিন! আমিন! আমিন! যখন এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে এসে বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যার সামনে আপনার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না)।
এ কারণেই মানুষের মধ্যে যারা মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ), তারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী; কারণ তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করেন।
তিনি আরও বলেছেন: (সেই ব্যক্তিই কৃপণ, যার সামনে আমার নাম নেওয়া হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না), সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ বা সালাত-এর অর্থের ব্যাপারে জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) উলামা এবং মুহাক্কিকদের (গবেষক উলামা) মধ্যে দুটি মত রয়েছে। জুমহুর উলামাগণ মনে করেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর ওপর দরুদের অর্থ হলো আল্লাহর রহমত। তারা বলেন: বান্দার পক্ষ থেকে দরুদ হলো ক্ষমা প্রার্থনা, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকেও তাই, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে দরুদ হলো সেই বান্দার ওপর রহমত যার ওপর দরুদ পাঠ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে মুহাক্কিক উলামাগণ মনে করেন যে, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ বা সালাতের অর্থ হলো "উচ্চ পরিষদে" (মালাউল আ’লা) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অতি উত্তম প্রশংসা। আর এটিই সঠিক ও শক্তিশালী মত, যেমনটি ইমাম বুখারি আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
অতএব, আপনি যখন বলেন: "সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ", এর অর্থ দাঁড়ায়: হে আল্লাহ! আপনি উচ্চ পরিষদে মুহাম্মদের অতি উত্তম প্রশংসা করুন। এর দলিল হলো কুরআনে সালাত (দরুদ) এবং রহমতের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে দরুদ (সালাত) এবং রহমত বর্ষিত হয়} [আল-বাকারা: ১৫৭]। আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী, সংযোজক অব্যয় ভিন্নতা নির্দেশ করে; সুতরাং রহমত এবং সালাতের অর্থ ভিন্ন, যতক্ষণ না কোনো বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় যে তারা একই বস্তু।
কেউ কেউ বলেছেন এটি তাকিদ বা গুরুত্বারোপের জন্য এসেছে, তবে সঠিক ও শক্তিশালী মত হলো উভয়ের মাঝে ভিন্নতা বিদ্যমান। সুতরাং সালাত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে উচ্চ পরিষদে উত্তম প্রশংসা করা, আর রহমত সালাত থেকে ভিন্ন।
কবি (নাজিম) বলেছেন: [আমি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করছি, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ]। এখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুহাম্মদ প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আর এর প্রমাণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সাব্যস্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদম সন্তানের সরদার এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল} [আল-ফাতহ: ২৯]। তিনি তাঁর মহান গুণের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন যে তিনি নবীদের সমাপ্তিকারী: {এবং তিনি নবীদের সিলমোহর/শেষ নবী} [আল-আহযাব: ৪০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আপনার জীবনের কসম, তারা নিজ নেশায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে} [আল-হিজর: ৭২]। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি জগতের কারো জীবনের কসম খাননি একমাত্র নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবন ব্যতীত। উলামাগণ বলেন: এটি প্রমাণ করে যে দুনিয়ার সমস্ত সময়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সময় হলো সেই বছরগুলো যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতিবাহিত করেছেন; কারণ তিনি মহান আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
একইভাবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয় সেই আয়াত, যেখানে আল্লাহ নবীদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (হে খাত্তাব পুত্র! তোমরা কি এই দ্বীনের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত আছ?! আল্লাহর কসম, যদি মুসা জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় থাকত না)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: (আমি আদম সন্তানের সরদার এবং এতে কোনো অহংকার নেই)।
তদ্রূপ সহীহাইন-এ বর্ণিত শাফায়াতের হাদিসে আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর মর্যাদা ও সুউচ্চ স্থানকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। যখন সমস্ত মানুষ রাসূলুল্লাহর নিকট আসবে, তখন তিনি বলবেন: (আমিই এর জন্য! আমিই এর জন্য!)। এর মাধ্যমেই তাঁর নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রকাশিত হয়েছে।
একইভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসরা ও মিরাজের রাতে নবীদের ইমামতি করেছিলেন, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বলেছিলেন: (তোমরা আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তা-র ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না), তখন এই বাহ্যিক বিরোধের নিরসন আমরা কীভাবে করব যখন তিনি নিজেই সমস্ত মানুষের সরদার? ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: হতে পারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি তাঁকে সমস্ত মানুষের সরদার হিসেবে ওহী জানানোর আগে বলেছিলেন।
এই উত্তরটি যদিও ভালো কিন্তু এটি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়; কারণ তিনি বলেছিলেন: (তোমরা আমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না)। প্রকৃতপক্ষে এখানে যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান নিষেধ করা হয়েছে তা হলো অন্য কাউকে খাটো করার উদ্দেশ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া। অর্থাৎ: তোমরা আমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতে গিয়ে ইউনুস ইবনে মাত্তা-র মর্যাদা খাটো করো না। আর এই উত্তরটিই সন্তোষজনক। আমি আমার কথা এখানেই শেষ করছি এবং আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মাদ হাসান আব্দুল গাফফার
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - محمد حسن عبد الغفار القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح المنظومة البيقونية
المؤلف: محمد حسن عبد الغفار
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার বিভাগ: উলূমুল হাদীস
বই: শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা আশ-শাবাকাতুল ইসলামিয়্যাহ ওয়েবসাইট কর্তৃক শ্রুতলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ১৬টি পাঠ ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২